(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: -)
الدكتور علي جمعة إلى أين   (طلحة محمد المسير)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الدكتور علي جمعة إلى أين

المؤلف: طلحة محمد المسير

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

رقم الإيداع بدار الكتب المصرية: 14510/ 2011

عدد الصفحات: 190

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 ذو القعدة 1432

ডক্টর আলী জুমা কোন পথে   (তালহা মুহাম্মদ আল-মুসায়্যির)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: ডক্টর আলী জুমা কোন পথে

লেখক: তালহা মুহাম্মদ আল-মুসায়্যির

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

মিশরীয় জাতীয় গ্রন্থাগারে জমাদান নম্বর: ১৪৫১০/ ২০১১

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৫ জিলকদ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: -)
الدكتور علي جمعة

إلى أين؟!!!

 

تأليف

طلحة محمد المسير
ডক্টর আলী জুমা

গন্তব্য কোথায়?!!!

 

রচনা

তালহা মুহাম্মাদ আল-মুসাইয়ির
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ৩)
الطبعة الأولى

1432هـ - 2011م

رقم الإيداع بدار الكتب المصرية

14510/ 2011
প্রথম সংস্করণ

১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

মিসরীয় জাতীয় গ্রন্থাগারে (দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ) জমাদান নম্বর

১৪৫১০/ ২০১১
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مُقَدِّمَة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه، ومن تبعهم بإحسان .. أما بعد؛

فقد تعددت في السنوات الأخيرة أطروحات وأفكار الدكتور علي جمعة، وتتابع ظهورها واحدة تلو أخرى، خاصة في السنوات العشر الأخيرة بعد شغله منصب الإفتاء، وشغلت هذه الأطروحات كثيرًا من المهتمين والباحثين، ودار حولها النقاش في المجالس الخاصة والعامة، بين مؤيد ومعارض، ومادح وقادح، وأصبحت كثير من القضايا التي يطرحها قضايا رأي عام، تضطرب في خضمها حياة المجتمع الثقافية والفكرية بل والسياسية.

وقد عمل الدكتور علي جمعة على الترويج والحشد لأطروحاته عبر عدد كبير من الوسائل؛ منها: أجهزة الدولة ممثلة في دار الإفتاء ووزارة الأوقاف ووسائل الإعلام الرسمية، ومنها: نخبة من المساعدين الذين يروجون له وينافحون عنه، ومنها: مجموعة من رجال الأعمال الذين يدعمون مشاريعه ومقترحاته، ومنها: كثير من المؤسسات والمنظمات الدولية والعالمية.
উপক্রমণিকা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন সকলের ওপর... অতঃপর;

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডক্টর আলী জুমার বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও চিন্তা-চেতনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একের পর এক এগুলোর প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে গত দশ বছরে তাঁর ইফতা (ফতোয়া প্রদান) সংক্রান্ত পদে আসীন হওয়ার পর থেকে। এই প্রস্তাবনাগুলো বহু আগ্রহী ব্যক্তি ও গবেষককে ব্যাপৃত রেখেছে এবং এ নিয়ে ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য মজলিসগুলোতে সমর্থক ও বিরোধী এবং প্রশংসাকারী (مادح) ও সমালোচনাকারী (قادح) দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছে। তাঁর উত্থাপিত বহু বিষয় জনমতের বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যার আবর্তে সমাজের সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এমনকি রাজনৈতিক জীবনও আন্দোলিত হচ্ছে।

ডক্টর আলী জুমা বহুবিধ উপায়ে তাঁর প্রস্তাবনাগুলোর প্রচার ও প্রসারে এবং লোকবল সংগ্রহে কাজ করেছেন; যার মধ্যে রয়েছে: দারুল ইফতা, ওয়াকফ মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সম্বলিত রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো; একদল বিশিষ্ট সহকারী যারা তাঁর পক্ষে প্রচার চালান ও তাঁর পক্ষাবলম্বন করেন; একদল ব্যবসায়ী যারা তাঁর প্রকল্প ও প্রস্তাবনাগুলোকে সমর্থন দেন এবং বহু আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ৬)
لكن المتأمل في المضمون العلمي لآراء وأطروحات الدكتور علي جمعة ووسائل الإقناع التي يتبعها، يجد وسائل عديدة قد تقنع طائفة من الناس وتأخذ بلُبهم، ولكن عند التحقيق والتمحيص لا تثبت كثير من هذه الوسائل على قدم راسخة، وتفتقد التأصيل العلمي، وتجانب المنهج الاستدلالي القويم.

ومع الاستغراق في نقاش الجزئيات المتعددة التي يطرحها الدكتور علي جمعة، غاب في كثير من الأحيان التصور الشامل والعميق للروابط التي تربط بين هذه القضايا التي يطرحها، هذا التصور الشامل الذي يضع لنا ملخصًا للأسس التي اتكأت عليها هذه الأطروحات والقضايا، والهدف الذي يجمع بين شتاتها.

ويأتي هذا الكتاب كدراسة مختصرة في فكر الدكتور علي جمعة، دراسة تجمع الأمور المتشابهة والجزئيات المتناسقة؛ ليقدم تصورًا لمحورين مهمين في نتاج الدكتور علي جمعة الفكري؛ هما:

أولاً: بعض أساليبه في الإقناع.

ثانيًا: رؤيته للتقريب بين الإسلام والوقائع المناقضة له.

والمأمول أن تساهم هذه الدراسة في الوقوف على أرض صلبة، تميز بين الحق والباطل والمقبول والمردود، وتتخطى حالة البلبلة الفكرية التي تصيب المجتمع بين حين وآخر، على إثر نشر بعض الرؤى والأفكار الخاصة.

طلحة محمد المسير

Talha133@gmail.com

القاهرة في 28 رجب 1432هـ
কিন্তু ড. আলী জুমার মতামত ও উপস্থাপনার বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তু এবং তিনি যে প্ররোচনামূলক পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করেন, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এমন অনেক পদ্ধতি পাওয়া যায় যা হয়তো একদল মানুষকে আশ্বস্ত করে এবং তাদের মন জয় করে নেয়। তবে সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাইয়ের সময় এই পদ্ধতিগুলোর অনেকগুলোই সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর টিকে থাকে না, এগুলোতে বৈজ্ঞানিক ভিত্তির অভাব পরিলক্ষিত হয় এবং তা সঠিক প্রামাণিক পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত।

ড. আলী জুমা উপস্থাপিত বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় আলোচনার গভীরে নিমগ্ন থাকার কারণে অনেক সময়ই এই বিষয়গুলোর মধ্যকার পারস্পরিক যোগসূত্রের একটি সামগ্রিক ও গভীর রূপরেখা হারিয়ে যায়; যে সামগ্রিক রূপরেখাটি আমাদের সামনে সেই ভিত্তিগুলোর একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করে যার ওপর এই মতামত ও বিষয়গুলো দাঁড়িয়ে আছে এবং যা তাদের বিচ্ছিন্ন অংশগুলোকে একটি অভিন্ন লক্ষ্যে একত্রিত করে।

এই বইটি ড. আলী জুমার চিন্তাধারার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা সমজাতীয় বিষয় এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছে; যাতে ড. আলী জুমার বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে একটি ধারণা প্রদান করা যায়, সেগুলো হলো:

প্রথমত: প্ররোচনা প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর কিছু কৌশল।

দ্বিতীয়ত: ইসলাম এবং এর সাথে সাংঘর্ষিক বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় সাধনের বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি।

আশা করা যায় যে, এই গবেষণাটি একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে সহায়ক হবে, যা সত্য ও মিথ্যা এবং গ্রহণযোগ্য (مقبول) ও প্রত্যাখ্যাত (مردود) বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করবে। সেইসাথে সমাজ মাঝে মাঝে নির্দিষ্ট কিছু দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তিগত চিন্তাধারার প্রচারের ফলে যে বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রান্তির সম্মুখীন হয়, তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

তালহা মুহাম্মদ আল-মুসাইয়ার

Talha133@gmail.com

কায়রো, ২৮ রজব ১৪৩২ হিজরি
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الفصل الأول

بعض أساليب الدكتور علي جمعة في الإقناع

التطاول على المخالفين

التناقضات

تحريف النقول

الكلام المحتمل والمصطلحات الفضفاضة

ذكر صفات الباطل بدقة ثم التلبس ببعضها

الركون للمبتدعة والأقوال الضعيفة والباطلة

الإبهار

القواعد والأصول المخترعة

ذكر نتائج بلا مقدمات ملائمة

الإكثار من الشبهات
প্রথম অধ্যায়

প্ররোচিত করার ক্ষেত্রে ড. আলি জুমআর কিছু পদ্ধতি

বিরোধীদের প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন

স্ববিরোধিতা

উদ্ধৃতি বিকৃতি

দ্ব্যর্থবোধক কথা এবং অস্পষ্ট পরিভাষা

বাতিলের বৈশিষ্ট্যসমূহ সূক্ষ্মভাবে উল্লেখ করা এবং অতঃপর সেগুলোর কোনোটিতে লিপ্ত হওয়া

বিদআতিদের (المبتدعة) প্রতি ঝুঁকে পড়া এবং দুর্বল (الضعيفة) ও বাতিল (الباطلة) মতামতের ওপর নির্ভর করা

চমকপ্রদ উপস্থাপনা

উদ্ভাবিত নিয়মাবলি ও মূলনীতিসমূহ (الأصول)

উপযুক্ত ভূমিকা ছাড়াই ফলাফল উল্লেখ করা

সংশয়ের আধিক্য
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ৮)
بعض أساليب الدكتور علي جمعة في الإقناع

 

إن الجدال والإقناع أسلوب من أساليب التواصل بين الأفكار، وطريق من طرق اختبارها وتمحيصها؛ والإسلام حريص على سلامة الحجة ونصوعها، بعيدًا عن أساليب التحريف والتزييف التي تحاول جاهدة أن تصد عن سبيل الله باستخدام البراهين المنقوصة والدلائل المطموسة؛ لذا كانت دعوة الأنبياء واضحة صادقة: {قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} (1)، وكانت دومًا حجة الله جل وعلا بالغة ظاهرة، قال تعالى: {قُلْ فَلِلَّهِ الْحُجَّةُ الْبَالِغَةُ فَلَوْ شَاءَ لَهَدَاكُمْ أَجْمَعِينَ} (2) وحجة أهل الباطل داحضة ساقطة قال تعالى: {وَجَادَلُوا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ فَأَخَذْتُهُمْ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ} (3).

وإن المطالع المتبصر لنتاج الدكتور علي جمعة يرى بوضوح عدة أساليب جدلية يحيط بها كلامه، وعموم هذه الأساليب فيه حيدة عن المطلوب، ومحاولة تأييد الرأي الخاطئ بحجج لا تصح عند أدنى تأمل.

وقد افتُتن البعض بهذه الوسائل، وظن أن هذا دليل على رسوخ في العلم وصدق في التوجه، فتقبل كثيرًا من آرائه رغم مصادمتها للحقائق الظاهرة البينة.

وهذا ذكر لبعض الأساليب التي انتشرت في كثير من نتاجه، مع الاستشهاد ببعض الأمثلة التي تدل على استعماله هذه الأساليب؛ لتتضح الحقيقة وتتجلى:

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية 111.

(2) سورة الأنعام، الآية 149.

(3) سورة غافر، الآية 5.
ড. আলী জুমার প্ররোচিত করার কিছু পদ্ধতি

 

নিশ্চয়ই বিতর্ক (جدال) ও প্ররোচনা হলো চিন্তাধারার মধ্যে যোগাযোগের একটি মাধ্যম এবং তা পরীক্ষা ও যাচাই করার একটি পথ; ইসলাম দলিলের বিশুদ্ধতা ও স্বচ্ছতার ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ, এবং বিকৃতি ও জালিয়াতির সেই সব পদ্ধতি থেকে দূরে থাকে যা অসম্পূর্ণ যুক্তি ও অস্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিচ্যুত করার আপ্রাণ চেষ্টা করে। তাই নবীদের দাওয়াত ছিল স্পষ্ট ও সত্যনিষ্ঠ: {বলুন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ (برهان) পেশ করো} (১)। আর মহান আল্লাহর অকাট্য প্রমাণ (حجة) সর্বদা ছিল প্রবল ও প্রকাশ্য, তিনি বলেন: {বলুন, তবে আল্লাহর নিকটই রয়েছে অকাট্য প্রমাণ (حجة); তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকেই হেদায়েত দিতেন} (২)। আর বাতিলপন্থীদের দলিল (حجة) অসার ও পতনশীল, মহান আল্লাহ বলেন: {তারা মিথ্যার সাহায্যে বিতর্ক (جدال) করেছিল যাতে এর মাধ্যমে সত্যকে নস্যাৎ করে দিতে পারে, সুতরাং আমি তাদের পাকড়াও করলাম, তবে কেমন ছিল আমার শাস্তি} (৩)।

ড. আলী জুমার গবেষণাকর্মের একজন প্রাজ্ঞ পাঠক স্পষ্টভাবে দেখতে পান যে, তার কথাগুলো অনেকগুলো বিতর্কমূলক (جدلي) পদ্ধতি দ্বারা পরিবেষ্টিত। এই পদ্ধতির বেশিরভাগই উদ্দিষ্ট বিষয় থেকে বিচ্যুত (حيدة) এবং সামান্য চিন্তাতেই যা অসার বলে প্রমাণিত হয় এমন যুক্তির মাধ্যমে ভুল মতামতকে সমর্থনের একটি প্রচেষ্টা মাত্র।

কেউ কেউ এই কৌশলগুলো দেখে মুগ্ধ হয়েছে এবং মনে করেছে যে এটি জ্ঞানে গভীরতা ও সঠিক দিশার প্রমাণ। ফলে তারা তার অনেক মতামত গ্রহণ করে নিয়েছে, যদিও সেগুলো সুস্পষ্ট ও অকাট্য সত্যের সাথে সাংঘর্ষিক।

এখানে এমন কিছু পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হলো যা তার অধিকাংশ রচনায় ছড়িয়ে রয়েছে, সাথে কিছু উদাহরণ পেশ করা হয়েছে যা এই পদ্ধতিগুলোর ব্যবহারের প্রমাণ দেয়; যাতে সত্য স্পষ্ট ও প্রকাশিত হয়:

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১১১।

(২) সূরা আল-আনআম, আয়াত ১৪৯।

(৩) সূরা গাফির, আয়াত ৫।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌أولا: التطاول على المخالفين

من الآفات التي غالبًا ما يصطحبها المهزومون، ويتاجر بها المفلسون، أنهم عندما تضعف حجتهم، وتتهافت شبهاتهم، وتظهر حقيقتهم، يلجأون إلى رمي أصحاب الحق بما يقع تحت أيديهم، وما يخرج من ألسنتهم، وأحيانًا تتحول هذه الحالة النفسية للمهزومين إلى ديدن وطبع يصعب تغييره، حتى عندما يكون الحق معهم، فيرمون من أخطأ من مخالفيهم بما ليس فيهم، ويكذبون عليهم ويفترون.

وهذه أمثلة من انتقاص د. علي جمعة لمخالفيه، واحتقارهم، والتطاول على أحيائهم وأمواتهم:

أ- تهجم د. علي جمعة على صحابي جليل، وسبه سبًا فظيعًا، وبلغ تجاوز الحد مبلغًا مستبشعًا، فقال: "هذا هو سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي سبه السفلة وأحدهم (قال في الهامش: هو عبد الله بن أبي السرح … قال الحاكم: قد صحت الرواية في الكتابين أن رسول الله أمر قبل دخول مكة بقتل عبد الله بن سعد وعبد الله بن خطل، فمن نظر في مقتل أمير المؤمنين عثمان بن عفان رضي الله عنه وجنايات عبد الله بن سعد عليه بمصر إلى أن كان من أمره ما كان علم أن النبي كان أعرف به) جاءه مستشفعًا بعثمان رضي الله عنه … دخل ذلك السافل مع عثمان وعثمان يتشفع له والنبي يكظم غيظه" (1).

ولا أدري ما الداعي لهذا السباب المقذع لصحابي جليل، ومعلوم أن كثيرًا من الصحابة كانوا قبل إسلامهم من أعدى أعداء الدعوة الإسلامية، فلما شرح الله صدرهم للإسلام أصبحوا أئمة يقتدى بهديهم، وما خبر عمر بن الخطاب وعمرو بن العاص وخالد

--------------------------------------------

(1) كتاب النبي صلى الله عليه وسلم، ص 145 - 146.
প্রথমত: বিরোধীদের প্রতি ঔদ্ধত্য প্রদর্শন

পরাজিত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায়ই যে ব্যাধিগুলো দেখা যায় এবং দেউলিয়া ব্যক্তিরা যা নিয়ে ব্যবসা করে তা হলো—যখন তাদের যুক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাদের সংশয়গুলো অসার প্রমাণিত হয় এবং তাদের প্রকৃত চেহারা উন্মোচিত হয়, তখন তারা সত্যপন্থীদের প্রতি হাতের কাছে যা পায় তা-ই ছুড়ে মারে এবং মুখ দিয়ে যা আসে তা-ই উচ্চারণ করে। কখনও কখনও পরাজিতদের এই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা এমন এক চিরস্থায়ী স্বভাবে পরিণত হয় যা পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়ে; এমনকি সত্য যখন তাদের পক্ষে থাকে তখনও তারা তাদের বিরোধীদের সামান্য ভুলত্রুটির কারণে এমন সব অপবাদ দেয় যা তাদের মধ্যে নেই, তারা তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে এবং কুৎসা রটায়।

বিরোধীদের হেয় প্রতিপন্ন করা, তুচ্ছজ্ঞান করা এবং তাদের জীবিত ও মৃতদের প্রতি ড. আলী জুমার সীমা লঙ্ঘনের কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:

ক- ড. আলী জুমা জনৈক মহান সাহাবীর প্রতি আক্রমণ চালিয়েছেন এবং তাঁকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালি দিয়েছেন। তাঁর এই সীমা লঙ্ঘন অত্যন্ত জঘন্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেছেন: "ইনিই হলেন আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যাঁকে ইতররা গালি দিত এবং তাদেরই একজন (পাদটীকায় বলেছেন: সে হলো আবদুল্লাহ ইবনে আবি সারহ … ইমাম হাকেম বলেন: দুই কিতাবেই বর্ণনা (رواية) বিশুদ্ধ (صحيح) হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ মক্কায় প্রবেশের পূর্বে আবদুল্লাহ ইবনে সাদ এবং আবদুল্লাহ ইবনে খাতালকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সুতরাং যে ব্যক্তি আমিরুল মুমিনিন উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হত্যাকাণ্ড এবং মিশরে তাঁর প্রতি আবদুল্লাহ ইবনে সাদের অপরাধগুলো থেকে শুরু করে তার শেষ পরিণতি নিয়ে চিন্তা করবে, সে বুঝতে পারবে যে নবীজি তার সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন) উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সুপারিশ নিয়ে তাঁর কাছে এসেছিল … সেই ইতরটি উসমানের সাথে প্রবেশ করল যখন উসমান তার জন্য সুপারিশ করছিলেন, আর নবীজি নিজের ক্ষোভ সংবরণ করছিলেন।" (১)।

একজন মহান সাহাবীর প্রতি এহেন কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজের কী প্রয়োজন ছিল তা আমার জানা নেই। এটা তো সবারই জানা যে, অনেক সাহাবী ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ইসলামী দাওয়াতের ঘোরতর শত্রু ছিলেন। অতঃপর আল্লাহ যখন ইসলামের জন্য তাঁদের অন্তর উন্মুক্ত করে দিলেন, তখন তাঁরা এমন ইমামে পরিণত হলেন যাঁদের আদর্শ অনুসরণ করা হয়। ওমর ইবনুল খাত্তাব, আমর ইবনুল আস এবং খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের ঘটনা তো কারো অজানা নয়...

--------------------------------------------

(১) কিতাবুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, পৃষ্ঠা ১৪৫ - ১৪৬।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ১০)
بن الوليد وغيرهم كثير بخاف.

أما سيدنا عبد الله بن سعد بن أبي سرح فلن يضيره هذا التطاول المشين، فله من الفضائل ما اشتهر أمره وذاع خبره، وفتح الله على يديه الفتوح العظيمة في إفريقية وما حولها، قال عنه ابن الأثير: (وأسلم ذلك اليوم فحسن إسلامه، ولم يظهر منه بعد ذلك ما ينكر عليه، وهو أحد العقلاء الكرماء من قريش، ثم ولاه عثمان بعد ذلك مصر سنة خمس وعشرين، ففتح الله على يديه إفريقية وكان فتحًا عظيمًا) (1)، وقال ابن كثير: (حسن إسلام عبد الله بن سعد جدًا) (2).

أما الكلمة التي نقلها د. علي جمعة عن الحاكم النيسابوري وهي قوله: "فمن نظر في مقتل أمير المؤمنين عثمان بن عفان رضي الله عنه وجنايات عبد الله بن سعد عليه بمصر إلى أن كان من أمره ما كان علم أن النبي كان أعرف به" فهي كلمة موهمة، ولكن لم يبلغ فيها التطاول على الصحابي الجليل عبد الله بن سعد بن أبي سرح أن سبه الحاكم بأنه سافل مكررًا هذه البذاءة كما فعل د. علي جمعة، ورغم ذلك فإن الحاكم النيسابوري فيه تشيع، بل زاد البعض فاتهمه بأنه رافضي، ونقل الذهبي قول أبي بكر الخطيب: (كان أبو عبد الله بن البيع الحاكم ثقة، أول سماعه سنة ثلاثين وثلاثمائة، وكان يميل إلى التشيع) (3) ثم نقل الذهبي عن ابن طاهر: (أنه سأل أبا إسماعيل عبد الله بن محمد الهروي، عن أبي عبد الله الحاكم، فقال: ثقة في الحديث، رافضي خبيث) ثم علق الذهبي قائلاً: (كلا ليس هو رافضيًا، بل يتشيع) (4).

--------------------------------------------

(1) كتاب أسد الغابة، ج3، ص156، طبعة دار الفكر- بيروت.

(2) البداية والنهاية، ج5 ص372.

(3) سير أعلام النبلاء، ج17 ص168.

(4) سير أعلام النبلاء، ج17 ص174.
বিন ওয়ালিদ এবং আরও অনেকে ভয়ের সাথে।

পক্ষান্তরে আমাদের সাইয়্যিদ আব্দুল্লাহ বিন সাদ বিন আবি সারহ-এর জন্য এই অপমানজনক ধৃষ্টতা কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কেননা তাঁর এমন অনেক মর্যাদা রয়েছে যা সুপরিচিত এবং তাঁর সংবাদ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর হাতে আফ্রিকা ও এর আশপাশের অঞ্চলে মহান বিজয়সমূহ দান করেছেন। ইবনুল আসির তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি সেদিন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর ইসলাম সুন্দর হয়েছিল (حسن إسلامه), এরপর তাঁর থেকে আপত্তিকর কিছু প্রকাশ পায়নি। তিনি কুরাইশের অন্যতম বুদ্ধিমান ও সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। পরবর্তীতে পঁচিশ হিজরি সনে উসমান (রা.) তাঁকে মিসরের গভর্নর নিযুক্ত করেন এবং আল্লাহ তাঁর হাতে আফ্রিকা জয় করেন, যা ছিল এক বিশাল বিজয়।" (১), এবং ইবনে কাসির বলেছেন: "আব্দুল্লাহ বিন সা'দ-এর ইসলাম অত্যন্ত নিষ্ঠাপূর্ণ ছিল (حسن إسلامه)।" (২)।

আর ড. আলী জুমআ আল-হাকিম আন-নাইসাপুরি থেকে যে কথাটি উদ্ধৃত করেছেন, তা হলো তাঁর এই উক্তি: "যে ব্যক্তি আমিরুল মুমিনিন উসমান বিন আফফান (রা.)-এর শাহাদাত এবং মিসরে তাঁর বিরুদ্ধে আব্দুল্লাহ বিন সা'দ-এর অপরাধসমূহ থেকে শুরু করে তাঁর শেষ পরিণতি পর্যন্ত যা ঘটেছিল তা পর্যবেক্ষণ করবে, সে জানতে পারবে যে নবি (সা.) তাঁর সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন।" এটি একটি বিভ্রান্তিকর (موهمة) শব্দ, তবে এটি এই মহান সাহাবি আব্দুল্লাহ বিন সাদ বিন আবি সারহ-এর প্রতি সেই পর্যায়ের ধৃষ্টতা নয় যে আল-হাকিম তাঁকে 'নীচ' বলে গালি দিয়েছেন, যেমনটি ড. আলী জুমআ এই কুরুচিপূর্ণ শব্দের পুনরাবৃত্তি করে করেছেন। তা সত্ত্বেও, আল-হাকিম আন-নাইসাপুরি-এর মধ্যে শিয়াপ্রীতি (تشيع) ছিল, এমনকি কেউ কেউ আরও বাড়িয়ে তাঁকে রাফেজি (رافضي) হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। আয-যাহাবি আবু বকর আল-খাতিব-এর উক্তি বর্ণনা করেছেন: "আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-বাই আল-হাকিম নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন। তাঁর প্রথম হাদিস শ্রবণ ছিল তিনশ ত্রিশ হিজরি সনে এবং তিনি শিয়াপ্রীতির (تشيع) দিকে ঝুঁকে ছিলেন।" (৩) এরপর আয-যাহাবি ইবনে তাহির থেকে বর্ণনা করেন: "তিনি আবু ইসমাইল আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-হারাবিকে আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (ثقة), কিন্তু তিনি একজন জঘন্য রাফেজি (رافضي)!" এরপর আয-যাহাবি মন্তব্য করে বলেন: "না, তিনি রাফেজি (رافضي) নন, বরং তাঁর মধ্যে শিয়াপ্রীতি (تشيع) ছিল।" (৪)।

--------------------------------------------

(১) উসদুল গাবাহ কিতাব, ৩য় খণ্ড, ১৫৬ পৃষ্ঠা, দারুল ফিকর সংস্করণ- বৈরুত।

(২) আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ৫ন খণ্ড, ৩৭২ পৃষ্ঠা।

(৩) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, ১৭শ খণ্ড, ১৬৮ পৃষ্ঠা।

(৪) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, ১৭শ খণ্ড, ১৭৪ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ১১)
ومن أجمل التعليقات على قصة إسلام عبد الله بن سعد بن أبي سرح في فتح مكة بعد أن أهدر الرسول صلى الله عليه وسلم دمه، وتشفع فيه عثمان بن عفان رضي الله عنه، فقبل الرسول صلى الله عليه وسلم الشفاعة، وعفا عن عبد الله بن سعد بن أبي سرح، قول ابن القيم: (وساعدَ القدرُ السَّابقُ لما يريد الله سبحانه بعبد الله مما ظهر منه بعد ذلك من الفتوح) (1).

ب- قدر الله تعالى أن يموت بعض الحجيج عند رمي الجمرات، وبدلاً من أن يواسي أهالي الضحايا، قام بالتعريض بعقولهم؛ لأنهم لم يستمعوا لفتاوى أمثاله، ممن أفتوا بالفتاوى الشاذة والآراء الغريبة، ولأنهم اتبعوا مذهب جماهير علماء المسلمين عبر مر العصور، وبدلاً من أن يحاول تصحيح الفتوى ليجد علاجًا نابعًا من فقه جمهور العلماء، يتفادى مشكلة الزحام دون تغيير لأوقات الرمي، أصر على مسلكه، وقال عن الضحايا: "وهذه نسبة كبيرة، تشير إلى نوع من الخلل في عقلية المسلمين الذين يصرون على الإعراض عن الحلول والآراء المعتبرة التي تحفظ البلاد والعباد، متمسكين في ذلك بتلك الفتاوى التي لا تراعي الواقع" (2) فالتمسك برأي جماهير العلماء الذين يحددون أوقاتًا لرمي الجمار يعتبر خللا في العقلية!! وكان الأجدى له أن يقترح حلولاً تيسر التنقلات وتضع البدائل، بدل أن يحاول إقناع الجماهير التي تأبى سماع فتاواه، وتنفر عن هذه النوعية من الفهم، ثم يأتي ليسب الأموات والأحياء.

ج- وهذا مثال آخر تعرض فيه لأحد مشايخ الأزهر المعروفين، ورماه بالنقائص واحدة بعد أخرى، وشنع عليه أشد تشنيع، وزاد أن نشر هذا التشنيع على صفحات صحيفة الأهرام، وهي صحيفة رائجة يكتب فيها مسلمون وكافرون وكثير من الزنادقة المنافقين، وذلك أن الدكتور عبد العظيم المطعني رحمه الله كتب مقالاً ينتقد فيه دار الإفتاء

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد في هدي خير العباد، ج3، ص464.

(2) مقال في جريدة الأهرام، بعنوان: الجمرات وأزمة الفكر2، بتاريخ 23 - 1 - 2006م.
মক্কা বিজয়ের পর আব্দুল্লাহ বিন সাদ বিন আবি সারহ-এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনার ওপর সবচেয়ে সুন্দর মন্তব্যগুলোর একটি হলো—যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তার রক্ত বৈধ ঘোষণা করেছিলেন এবং উসমান বিন عفান (রা.) তার জন্য সুপারিশ করেছিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ সেই সুপারিশ গ্রহণ করেন এবং আব্দুল্লাহ বিন সাদ বিন আবি সারহ-কে ক্ষমা করে দেন—ইবনুল কাইয়্যিমের এই উক্তি: (আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আব্দুল্লাহর বিষয়ে যা চেয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন বিজয়ের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল, তাতে পূর্ব নির্ধারিত তাকদির সাহায্য করেছিল) (১)।

খ- আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করেছিলেন যে, পাথর নিক্ষেপের (রমিউল জামারাত) সময় কিছু হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করবেন। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানানোর পরিবর্তে তিনি তাদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কটাক্ষ করেন; কারণ তারা তার মতো লোকদের ফতোয়া শোনেননি, যারা বিচ্ছিন্ন (شاذة) ফতোয়া এবং অদ্ভুত (غريبة) মতামত দিয়ে থাকেন, এবং যেহেতু তারা যুগ যুগ ধরে মুসলিম উলামায়ে কেরামের জমহুর বা সংখ্যাগুরু মতাদর্শ অনুসরণ করে আসছেন। জমহুর উলামাদের ফিকহ থেকে উৎসারিত কোনো সমাধানের মাধ্যমে ফতোয়াটি সংশোধনের চেষ্টা করার পরিবর্তে—যাতে পাথর নিক্ষেপের সময় পরিবর্তন না করেই ভিড়ের সমস্যা এড়ানো যায়—তিনি তার অবস্থানে অনড় থাকেন এবং নিহতদের সম্পর্কে বলেন: "এটি একটি বিশাল অনুপাত, যা সেইসব মুসলিমদের মানসিকতায় এক ধরণের ত্রুটির ইঙ্গিত দেয় যারা দেশ ও জনগণের হেফাজতকারী নির্ভরযোগ্য সমাধান ও মতামতগুলো এড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জেদ ধরে থাকে এবং এমন ফতোয়া আঁকড়ে ধরে থাকে যা বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেয় না" (২)। সুতরাং, জমহুর উলামাদের মতামতের ওপর অটল থাকা, যারা পাথর নিক্ষেপের সময় নির্ধারণ করেন, তাকে মানসিকতার ত্রুটি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে!! তার জন্য বরং এমন সমাধান প্রস্তাব করা উচিত ছিল যা যাতায়াত সহজ করে এবং বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করে, অথচ তিনি সেই জনসাধারণকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যারা তার ফতোয়া শুনতে অস্বীকার করে এবং এ ধরণের উপলব্ধি থেকে দূরে থাকে; আর এরপর তিনি মৃত ও জীবিতদের গালিগালাজ করতে শুরু করেন।

গ- এটি অন্য একটি উদাহরণ যেখানে তিনি আল-আযহারের একজন প্রখ্যাত শাইখকে আক্রমণ করেছেন এবং একের পর এক ত্রুটি তার ওপর আরোপ করেছেন। তিনি তার অত্যন্ত তীব্র নিন্দা করেছেন এবং এই নিন্দা 'আল-আহরাম' পত্রিকার পাতায় প্রকাশ করেছেন। এটি একটি জনপ্রিয় পত্রিকা যেখানে মুসলিম, কাফির এবং অনেক জিন্দিক (زنديق) ও মুনাফিকরা লিখে থাকে। ঘটনাটি ছিল এই যে, ডক্টর আব্দুল আজিম আল-মুতআনি (রহ.) দারুল ইফতাকে সমালোচনা করে একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) যাদুল মাআদ ফি হাদয়ি খাইরিল ইবাদ, ৩য় খণ্ড, ৪৬৪ পৃষ্ঠা।

(২) আল-আহরাম পত্রিকার নিবন্ধ, শিরোনাম: আল-জামারাত ওয়া আজমাতুল ফিকর-২, তারিখ ২৩ - ০১ - ২০০৬ খ্রি.
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ১২)
على نعيها الدكتور زكي بدوي، والدكتور زكي بدوي رجل مصري، عاش جل حياته في بريطانيا، وكان يركز في آرائه على أمور ومصطلحات معاصرة، يكثر فيها الغبش؛ مثل: الدعوة للتسامح، والحوار، والاندماج بين المسلمين والمجتمعات الغربية، وحوار الأديان، وحقوق المرأة السياسية، وطرح مفهومه عن الإسلام البريطاني، عندها قام د. علي جمعة بمهاجمة الدكتور عبد العظيم المطعني رحمه الله، علمًا بأن الدكتور عبد العظيم المطعني في مقام أساتذة د. علي جمعة، وقد نقل عنه د. علي جمعة نقولاً كثيرة عندما تحدث عن المجاز في كتابه البيان لما يشغل الأذهان فتاوى شافية في قضايا عاجلة، الشاهد أن د. علي جمعة طعن في الدكتور المطعني، واتهمه بنشر الكذب والافتراءات، ووصفه بالتهور، ونصحه بالاطلاع على أخلاقيات الإسلام، وإليكم بعض ما قاله: "لقد فوجئت وفجعت عندما رأيت مقالا غريبا في جريدة الآفاق العربية للأستاذ الدكتور عبد العظيم المطعني، يسب فيه الراحل زكي بدوي، ويتهمه بكل قبيح … وكل هذا كذب وافتراء، وإذا كان لا يعرف الرجل، فكيف يسمح لنفسه أن يتقول عليه هذه المقالة بعد رحيله، أليس هذا من المفجعات؟! … وقبل أن يتهور فكر المطعني في الرد على الأزهر كما تهور فطعن في أحد أبنائه الراحلين المجاهدين، نرشده إلى أن يتوثق وأن يطلع، فليطلع على خطاب الأمير، وليطلع على الواقع المعيش، وليطلع قبل ذلك على أخلاقيات الإسلام، وهو قادر على ذلك كله. لو صدر ما صدر من غيره لسكتنا، لكن أخطاء الكبار كبار، وهذه نصيحة نقوم بها لوجه الله تعالى، لا لتلك المقالة فقط، وإنما لهذه الحالة التي عمت فآذت الناس في أعراضهم وفي شعورهم. اللهم اهد قومي فإنهم لا يعلمون" (1).

--------------------------------------------

(1) مقال في جريدة الأهرام، بعنوان: التوثيق يرحمكم الله، بتاريخ 20 - 3 - 2006م.
ড. জাকি বাদাওয়ীর মৃত্যুসংবাদের শোকগাথায় ড. আলী জুমা তাঁর স্মৃতিচারণ করেন। ড. জাকি বাদাওয়ী ছিলেন একজন মিশরীয় ব্যক্তি, যিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় ব্রিটেনে অতিবাহিত করেছেন। তিনি তাঁর মতামতে এমন সব সমসাময়িক বিষয় ও পরিভাষার ওপর আলোকপাত করতেন যাতে অস্পষ্টতা বিদ্যমান; যেমন: সহনশীলতার আহ্বান, সংলাপ, মুসলিম ও পাশ্চাত্য সমাজের মধ্যে সংহতি, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, নারীর রাজনৈতিক অধিকার এবং ব্রিটিশ ইসলাম সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব ধারণা উপস্থাপন করা। সেই সময়ে ড. আলী জুমা ড. আব্দুল আজিম আল-মাতানি (রহ.)-কে আক্রমণ করেন, উল্লেখ্য যে ড. আব্দুল আজিম আল-মাতানি ড. আলী জুমার শিক্ষকদের সমমর্যাদার ছিলেন। এমনকি ড. আলী জুমা তাঁর ‘আল-বায়ান লিমা ইয়াশগালুল আযহান: ফাতাওয়া শাফিয়া ফি কদায়া আজিলা’ গ্রন্থে রূপক (মাজায) প্রসঙ্গে আলোচনা করার সময় ড. আল-মাতানি থেকে বহু উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। মূল বিষয় হলো, ড. আলী জুমা ড. আল-মাতানিকে সমালোচনা (طعن) করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা (كذب) ও বানোয়াট (افتراءات) তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এনেছেন। তিনি তাঁকে হঠকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁকে ইসলামের নৈতিকতা সম্পর্কে অধ্যয়ন করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের কিয়দাংশ এখানে তুলে ধরা হলো: "আমি অত্যন্ত বিস্মিত ও মর্মাহত হয়েছি যখন আমি আল-আফাক আল-আরাবিয়া পত্রিকায় অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিম আল-মাতানির একটি অদ্ভুত নিবন্ধ দেখলাম, যেখানে তিনি মরহুম জাকি বাদাওয়ীকে গালি দিয়েছেন এবং তাঁকে সব ধরণের কদর্য বিশেষণে অভিযুক্ত করেছেন … এসবই হলো মিথ্যা (كذب) ও বানোয়াট (افتراء)। যদি তিনি এই ব্যক্তি সম্পর্কে অবগত না-ই থাকেন, তবে তাঁর মৃত্যুর পর কীভাবে তিনি তাঁর সম্পর্কে এমন কথা বলার ধৃষ্টতা দেখালেন? এটি কি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক নয়?! … আল-আযহারের প্রতি উত্তর দিতে গিয়ে আল-মাতানির চিন্তাচেতনা যেভাবে হঠকারিতা করেছে, ঠিক তেমনি তিনি এর অন্যতম মরহুম ও সংগ্রামী সন্তানের সমালোচনা (طعن) করতে গিয়েও হঠকারিতার পরিচয় দিয়েছেন। আমরা তাঁকে সত্যতা যাচাই (يتوثق) এবং অধ্যয়ন করার পরামর্শ দিচ্ছি। তিনি যেন আমিরের ভাষণ এবং বিদ্যমান বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত হন, আর তার আগে যেন ইসলামের শিষ্টাচার সম্পর্কে পাঠ করেন; আর তিনি এই সব কিছু করতে সক্ষম। যদি অন্য কেউ এটি করত তবে আমরা চুপ থাকতাম, কিন্তু বড়দের ভুল বড়ই হয়ে থাকে। এটি এমন একটি উপদেশ যা আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই দিচ্ছি, কেবল সেই নিবন্ধের খাতিরে নয়; বরং এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানুষের সম্মান ও অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছে। হে আল্লাহ! আমার জাতিকে হেদায়েত দিন, কারণ তারা জানে না" (1).

--------------------------------------------

(1) আল-আহরাম পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধ, শিরোনাম: সত্যতা যাচাই (التوثيق) করুন আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন, তারিখ: ২০ - ৩ - ২০০৬ খ্রি.
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ১৩)
هذا رده على الدكتور الأزهري عبد العظيم المطعني، فكيف بغيره؟؟!!

د- وهذا مثال تجاوز الحدود ورمى جماهير المسلمين بما هم منه براء فقال: "ما الفرق بين الصوفي وغيره؟ هو الفرق بين من سلك في طريق الله وبين من تزندق وخرج" (1).

وأظنه سيقول الصوفية هي الإسلام، وعندها سنقول له: إن كانت هي الإسلام وجماهير المسلمين صوفية دون أن ينتموا لهذه الطرق، فقد كفينا وسرنا على الطريق دون حاجة إليها.

هـ- وهذا مثال آخر يتحدث فيه عن دار نشر نسبت له كتابة مقدمة لكتاب بروتوكولات حكماء صهيون، فأنكر كتابة المقدمة وأنكر على دار النشر ما فعلت وقال: "وتذكرت ما ذكره العلماء من أن نسبة كلام لغير قائله هو كنسبة الولد لغير أبيه، وكأنهم يشيرون إلى ما يمكن أن نسميه بجريمة الزنا الفكري" (2) وما أغنى البلاغة عن هذا التشبيه الفج.

وودافع بشدة عن الاحتفال بمولد النبي صلى الله عليه وسلم حتى قال: "لا يبقى لمن له عقل وفهم وفكر سليم إنكار ما سلكه سلفنا الصالح من الاحتفال بذكرى المولد النبوي الشريف" (3) أي أن العقل والفهم والفكر السليم من خصائص المحتفلين!!.

إن هذه الأمثلة تجعل المرء لا يتعجب مما ينتشر من سب د. علي جمعة لكثير من الأئمة مثل ابن تيمية وابن القيم وغيرهم، لأنه لا يتورع عن سب صحابي جليل، ولا شيخ من شيوخه الأزهريين، ولا جماهير الأمة، ولكنه يتورع عن سب أمثال طه حسين الذي يقول

--------------------------------------------

(1) كتاب الطريق إلى الله، ص130.

(2) مقال في جريدة الأهرام، بعنوان: تحذير واجب، بتاريخ 1 - 1 - 2007م.

(3) كتاب البيان لما يشغل الأذهان مائة فتوى لرد أهم شبه الخارج ولم شمل الداخل، ص 170 - 171.
এটি আল-আযহারের ডক্টর আব্দুল আজিম আল-মুতানি-এর প্রতি তার প্রত্যুত্তর, তাহলে অন্যদের ক্ষেত্রে কেমন হবে??!!

ঘ- এটি সীমা লঙ্ঘনের একটি উদাহরণ যেখানে তিনি সাধারণ মুসলিমদের এমন বিষয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন যা থেকে তারা মুক্ত। তিনি বলেছেন: "সুফি এবং অন্যদের মধ্যে পার্থক্য কী? এটি হলো আল্লাহর পথে বিচরণকারী এবং ধর্মদ্রোহিতায় (تزندق) লিপ্ত হয়ে ছিটকে পড়া ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য" (১)।

আমার ধারণা তিনি বলবেন যে সুফিবাদই হলো ইসলাম। আর তখন আমরা তাকে বলব: যদি এটিই ইসলাম হয় এবং সাধারণ মুসলিমরা এই তরীকাগুলোতে অন্তর্ভুক্ত না হয়েও সুফি হয়, তবে আমাদের জন্য তাই যথেষ্ট এবং আমরা এই তরীকাগুলোর প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই সঠিক পথে চলছি।

ঙ- এটি আরও একটি উদাহরণ যেখানে তিনি একটি প্রকাশনা সংস্থা সম্পর্কে কথা বলছেন যারা 'প্রোটোকলস অফ দ্য এল্ডার্স অফ জায়ন' বইটির ভূমিকা লেখার কৃতিত্ব তার ওপর আরোপ করেছিল। তিনি ভূমিকাটি লেখার কথা অস্বীকার করেন এবং প্রকাশনা সংস্থার কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন: "আলেমগণ যা উল্লেখ করেছেন তা আমার মনে পড়ে গেল যে, কারো কথা অন্যের দিকে সম্পর্কিত করা হলো সন্তানকে তার পিতা ব্যতীত অন্যের দিকে সম্পর্কিত করার মতো; যেন তারা এমন কিছুর দিকে ইঙ্গিত করছেন যাকে আমরা 'বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যভিচার' বলতে পারি" (২)। এই কদর্য উপমার কোনো প্রয়োজন অলঙ্কারশাস্ত্রে ছিল না।

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মবার্ষিকী পালনের পক্ষে এতই জোরালোভাবে সমর্থন দিয়েছেন যে তিনি বলেছেন: "যাদের নূন্যতম বিবেক, বোধ ও সঠিক চিন্তা আছে তাদের জন্য আমাদের পুণ্যবান পূর্বসূরিদের (سلفنا الصالح) অনুসৃত পথ অর্থাৎ পবিত্র মিলাদুন্নবী পালনকে অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই" (৩)। অর্থাৎ বিবেক, বোধ ও সঠিক চিন্তা কেবল উদযাপনকারীদেরই বৈশিষ্ট্য!!

এই উদাহরণগুলো দেখলে ডক্টর আলী জুমার পক্ষ থেকে ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়্যিম এবং অন্যান্য অনেক ইমামদের গালি দেওয়ার বিষয়টি আর আশ্চর্যজনক মনে হয় না। কারণ তিনি একজন মহান সাহাবী (صحابي), তার আযহারী উস্তাদদের কেউ কিংবা উম্মাহর সাধারণ মানুষকে গালি দিতে দ্বিধা বোধ করেন না; কিন্তু তিনি তাহা হোসেনের মতো ব্যক্তিদের সমালোচনা করতে কুণ্ঠাবোধ করেন যারা বলে...

--------------------------------------------

(১) কিতাবুত তরিক ইলাল্লাহ, পৃ. ১৩০।

(২) আল-আহরাম পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, শিরোনাম: তাহযীর ওয়াজিব, তারিখ ১ - ১ - ২০০৭ খ্রি.।

(৩) কিতাবুল বায়ান লিমা ইয়াশগালুল আযহান: মিয়াতু ফাতওয়া লি-রাদ্দি আহাম্মি শুবাহিল খারিজি ওয়া লাম্মি শামলিদ দাখিল, পৃ. ১৭০ - ১৭১।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ১৪)
عنه في رده على جابر عصفور، والفرق بين جابر عصفور وطه حسين: "والفرق بينه وبين دعاة التنوير الأول ممن ضرب بهم المثل كطه حسين رحمه الله تعالى هو أن هؤلاء لم يشغلوا أنفسهم بما لا يتقنون، ولم نر في مرة طه حسين يتكلم عن الأحكام الشرعية أو يناقش فيها، ولكنه كان يتكلم عن ترتيب الفكر، وشروط الثقافة، وكيفية التعامل مع العصر، ونحو ذلك" (1) وهذا يدل على أن د. علي جمعة لا يعرف من هو طه حسين، أو يعرفه ولكن طه حسين له من يدافع عنه من المسئولين والصحفيين .. ، وحسبنا الله ونعم الوكيل.

--------------------------------------------

(1) مقال في جريدة الأهرام، بعنوان: أرضعوا أبناءكم.
জাবির আসফুরের প্রতি তার উত্তরে এবং জাবির আসফুর ও তাহা হোসেনের মধ্যে পার্থক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন: "তার এবং তাহা হোসেনের (রহিমাহুল্লাহ) মতো প্রথম যুগের যে সমস্ত আলোকিত চিন্তাধারার প্রবক্তাদের উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়, তাদের মধ্যে পার্থক্য হলো—এরা এমন বিষয়ে নিজেদের নিয়োজিত করেননি যা তারা যথাযথভাবে আয়ত্ত করতে পারেননি। আমরা কখনো তাহা হোসেনকে শরয়ি বিধান (الأحكام الشرعية) নিয়ে কথা বলতে বা এ বিষয়ে বিতর্ক করতে দেখিনি। বরং তিনি চিন্তার বিন্যাস, সংস্কৃতির শর্তাবলি, সমকালের সাথে মিথস্ক্রিয়ার পদ্ধতি এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতেন।" (১) এটি নির্দেশ করে যে, ড. আলী জুমআ হয়তো জানেন না তাহা হোসেন কে, অথবা তিনি তাকে চিনলেও তাহা হোসেনের এমন সব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সাংবাদিক রয়েছেন যারা তার পক্ষাবলম্বন করেন। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।

--------------------------------------------

(১) আল-আহরাম পত্রিকার একটি নিবন্ধ, শিরোনাম: 'তোমাদের সন্তানদের স্তন্যদান করো'।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ثانيًا: التناقضات

التناقض في الفتيا المبني على غير القواعد العلمية، دليل على الحيدة عن الصواب، وقد يكون محاولة لاسترضاء الأطراف المتعددة، بإيهام الموافقة على مذهب كل فريق.

ومن الظواهر الملفتة وجود كثير من الأقوال المتناقضة في نتاج د. علي جمعة، والأغرب أنها تتناقض بصورة عجيبة؛ فيكون القول باطلاً والحديث ضعيفًا، وبعد قليل يصبح القول قويًا والحديث صحيحًا، وكثير من هذه التناقضات ليست وليدة علم جديد، ولا إعادة نظر، بل ظهرت بعد منصب الإفتاء الذي ابتلي به.

ومن أمثلة التناقضات ما يلي:

أ- أفتى في قضية التوسل بجاه النبي صلى الله عليه وسلم أن هذه مسألة خلافية، ولم يرد في السنة الصحيحة التوسل بجاه النبي صلى الله عليه وسلم، وأرشد إلى التوسل بالعمل الصالح وهو حبنا للنبي صلى الله عليه وسلم، فقال: "السؤال: ما حكم التوسل بجاه النبي صلى الله عليه وسلم في الدعاء؟ الجواب: هذه مسالة اختلف فيها الفقهاء، ولذلك ونحن ندعو ينبغي علينا أن ندعو بما نجد قلوبنا عنده، ولم يرد في السنة الصحيحة التوسل بجاه النبي صلى الله عليه وسلم، وإن كان قد وردت بعض الأحاديث الضعيفة التي يستدل بها كثير من الناس على جواز التوسل بالنبي المصطفى صلى الله عليه وسلم، وصورة أخرى أن يدعو الإنسان الله سبحانه وتعالى ويتوسل إليه بحبه لنبيه صلى الله عليه وسلم؛ لأن حب الله للنبي صفة من صفات الله القديمة التي لا اختلاف بين العلماء في جواز التوسل بها، فإذا كان هو يريد أن يظهر علو مقام النبي صلى الله عليه وسلم في قلبه وحبه إليه، فإنه يتوسل إلى الله بصفة من صفاته سبحانه وتعالى تتعلق بالنبي صلى الله عليه وسلم، وبذلك نخرج من كل هذا الخلاف، ولكن
দ্বিতীয়ত: বৈপরীত্যসমূহ

তাত্ত্বিক বা বৈজ্ঞানিক মূলনীতি বহির্ভূত ফতোয়ার ক্ষেত্রে বৈপরীত্য হলো সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতির প্রমাণ। এটি বিভিন্ন পক্ষকে সন্তুষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে, যার মাধ্যমে প্রতিটি দলের মতাদর্শের সাথে ঐকমত্যের একটি বিভ্রম তৈরি করা হয়।

একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো ড. আলি জুমার রচনারাজিতে অসংখ্য স্ববিরোধী বক্তব্যের উপস্থিতি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো এগুলো অদ্ভুতভাবে বৈপরীত্যপূর্ণ; কখনো কোনো বক্তব্য বাতিল এবং হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত হয়, আবার কিছুক্ষণ পরেই সেই বক্তব্যটি শক্তিশালী এবং হাদিসটি সহিহ (صحيح) হয়ে যায়। এই বৈপরীত্যগুলোর অধিকাংশই নতুন কোনো জ্ঞান বা পর্যালোচনার ফসল নয়, বরং তাঁর ওপর অর্পিত ফতোয়া প্রদানের পদের যে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন তিনি হয়েছেন, তার পরবর্তী ফল।

বৈপরীত্যের কিছু উদাহরণ নিম্নরূপ:

ক- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মানের মাধ্যমে উসিলা ধরার বিষয়ে তিনি ফতোয়া দিয়েছেন যে, এটি একটি মতভেদপূর্ণ মাসআলা। সহিহ (صحيح) সুন্নাহর মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মানের মাধ্যমে উসিলা ধরার কোনো বর্ণনা আসেনি। বরং তিনি নেক আমলের মাধ্যমে উসিলা ধরার নির্দেশনা দিয়েছেন, আর তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আমাদের ভালোবাসা। তিনি বলেছেন: "প্রশ্ন: দোয়ায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মানের মাধ্যমে উসিলা ধরার বিধান কী? উত্তর: এটি এমন একটি মাসআলা যা নিয়ে ফকিহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই আমরা যখন দোয়া করি, তখন আমাদের এমন বিষয়ের মাধ্যমে দোয়া করা উচিত যাতে আমাদের অন্তর প্রশান্তি পায়। সহিহ (صحيح) সুন্নাহর মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মানের মাধ্যমে উসিলা ধরার কোনো বর্ণনা আসেনি। যদিও কিছু দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণিত হয়েছে যার মাধ্যমে অনেক মানুষ নবী মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উসিলা গ্রহণ বৈধ হওয়ার পক্ষে দলিল পেশ করেন। অন্য একটি সুরত হলো—মানুষ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট দোয়া করবে এবং তাঁর নবীর প্রতি নিজের ভালোবাসার উসিলা দেবে; কারণ নবীর প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা হলো আল্লাহর অন্যতম চিরন্তন গুণাবলি, যা দ্বারা উসিলা ধরা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। সুতরাং সে যদি তার অন্তরে নবীর উচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি স্বীয় ভালোবাসা প্রকাশ করতে চায়, তবে সে নবীর সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর গুণাবলির মাধ্যমে আল্লাহর নিকট উসিলা ধরবে। এভাবে আমরা এই সকল মতভেদ থেকে নিষ্কৃতি পাই, কিন্তু...
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ১৬)
هذه مسألة خلافية، ولذلك أنا أنصح السائل ألا يجعلها قضية بينه وبين الآخرين، وأن يتوسل إلى الله بحبه لنبيه صلى الله عليه وسلم" (1).

وفي فتوى أخرى يرد على ما ذكره هنا، ويصف الأحاديث بالصحة، ويشدد على المخالف، وكان مما قاله: "ولكل هذه الأدلة الصريحة الصحيحة من كتاب ربنا وسنة نبينا صلى الله عليه وسلم، أجمع علماء الأمة من المذاهب الأربعة وغيرها على جواز واستحباب التوسل بالنبي صلى الله عليه وسلم في حياته وبعد انتقاله صلى الله عليه وسلم، واتفقوا على أن ذلك لا يحرم قطعًا، وهو ما نراه؛ أن التوسل بالنبي صلى الله عليه وسلم مستحب، وأحد صيغ الدعاء إلى الله عز وجل المندوب إليها، ولا عبرة لمن شذ عن إجماع العلماء كابن تيمية ومن ردد كلامه من بعده" (2)!!!.

ب- أفتى بحرمة نقل الأعضاء، وتتبع حجج المخالفين، ثم بعد ذلك عاد فنقض ما قاله، وها هي فتواه:

قال: "بالنسبة لي أرى أنه لا يجوز نقل الأعضاء البشرية؛ لأن الإنسان لا يملك أعضاء نفسه، والتبرع والبيع إنما يكون بناء على الملك، والإنسان لا يملك أعضاء نفسه؛ لأنها ملك لله، ولذلك لا يجوز الانتحار؛ لأن نفس الإنسان ليست ملكه، وجسده ليس ملكه، ولا يجوز له أن يبيع رجله أو كبده أو كليته، كذا إلى آخره.

الآن يقولون نقل العضو من الميت إلى الحي محال طبيًا إلا ما يتعلق بالعين، وما زال الطب لم يصل إلى القدرة على أن ينقل من الميت إلى الحي.

--------------------------------------------

(1) كتاب فتاوى عصرية، ص 335، وكتاب فتاوى البيت المسلم، ص 420.

(2) كتاب البيان لما يشغل الأذهان مائة فتوى لرد أهم شبه الخارج ولم شمل الداخل، ص189.
এটি একটি মতভেদপূর্ণ (خلافية) মাসআলা, তাই আমি প্রশ্নকারীকে পরামর্শ দিচ্ছি যে তিনি যেন বিষয়টিকে নিজের ও অন্যদের মধ্যে বিবাদের কারণ না বানান এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি ভালোবাসার উসিলায় প্রার্থনা করেন।" (১)。

অন্য একটি ফতোয়ায় তিনি এখানে যা উল্লেখ করেছেন তার বিপরীত জবাব দেন এবং হাদিসগুলোকে সহিহ (صحيح) হিসেবে অভিহিত করেন, আর বিরোধীদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেন। তাঁর বক্তব্যের একাংশ ছিল এমন: "আমাদের রবের কিতাব ও আমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত এই সমস্ত সুস্পষ্ট ও সহিহ (صحيح) দলিলের ভিত্তিতে চার মাজহাবের উলামায়ে কিরাম এবং অন্যান্য উলামাগণ নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবদ্দশায় এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর উসিলা গ্রহণ করা বৈধ (جواز) ও মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার ব্যাপারে ইজমা (إجماع) পোষণ করেছেন। তাঁরা একমত হয়েছেন যে এটি নিশ্চিতভাবেই হারাম নয় এবং আমরাও এটিই মনে করি। সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উসিলা গ্রহণ করা মুস্তাহাব (استحباب) এবং এটি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করার একটি পছন্দনীয় (مندوب) পদ্ধতি। উলামায়ে কিরামের এই ইজমা (إجماع) থেকে যারা বিচ্যুত (شاذ) হয়েছে, যেমন ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং পরবর্তীকালে যারা তাঁর কথার পুনরাবৃত্তি করেছে, তাদের বক্তব্যের কোনো গুরুত্ব নেই।" (২)!!!.

খ- তিনি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্থানান্তরের অবৈধতার ব্যাপারে ফতোয়া দিয়েছিলেন এবং বিরোধীদের যুক্তিগুলো খণ্ডন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তাঁর নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন। তাঁর ফতোয়াটি নিম্নরূপ:

তিনি বলেন: "আমার মতে, মানব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্থানান্তর করা জায়েজ (جائز) নয়; কারণ মানুষ নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মালিক নয়। দান করা বা বিক্রি করা মালিকানার ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে, আর মানুষ নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মালিক নয়; কারণ তা আল্লাহর মালিকানাধীন। একারণেই আত্মহত্যা জায়েজ (جائز) নয়; কারণ মানুষের প্রাণ এবং তার দেহ তার নিজের মালিকানাধীন নয়। তাই তার জন্য তার পা, কলিজা বা কিডনি বিক্রি করা জায়েজ (جائز) নয়, ইত্যাদি।

বর্তমানে বলা হচ্ছে যে, চোখ ব্যতীত মৃত ব্যক্তি থেকে জীবিত ব্যক্তির শরীরে অঙ্গ স্থানান্তর করা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অসম্ভব (محال)। চিকিৎসাবিজ্ঞান এখনও মৃত থেকে জীবিত ব্যক্তির শরীরে অঙ্গ স্থানান্তরের সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।

--------------------------------------------

(১) কিতাব ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩৩৫; এবং কিতাব ফাতাওয়া আল-বাইত আল-মুসলিম, পৃষ্ঠা ৪২০।

(২) কিতাব আল-বায়ান লিমা ইউশগিলুল আদহান: মা-আতু ফাতাওয়া লি-রাদ্দি আহাম্মি শুবাহিল খারিজি ওয়া লাম্মি শামলিদ দাখিল, পৃষ্ঠা ১৮৯।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ১৭)
والقضية الثانية: نقل من الحي إلى الحي، وهذا لا يجوز فيه التبرع أو البيع كما سلف. فماذا نفعل في هذه التي فقدت كليتيها ولا تجد المال الذي سوف تنفقه على الغسيل الكلوي، فنقول للسائل: لا بأس من عدم الغسيل الكلوي؛ لأنها سوف تموت أيضًا إذا نقلنا الكلية، ونسب النجاح بسيطة في نقل الكلية، وإذا استمرت تستمر عامًا أو عامين، ثم بعد ذلك تموت أيضًا، فالخوف من الموت لا يجعلنا نفعل الحرام من أجل درئه؛ ولذا لا أراه جائزًا.

ولا يقاس هذا على مسألة أن كل إصبع من أصابع يد الإنسان له دية؛ لأن الدية إنما تكون عقوبة لفعل المجرم، ولضياع المنفعة، ولا تكون ثمنًا للعضو.

ولا أرى أيضًا أن يقاس على أكل الميتة للمضطر؛ لأن أكل الميتة للمضطر أمر عارض، كما أنه يأكل ميتة غير مقدسة كحيوان أو طير، وما نحن بصدده هو التصرف في الأحياء بتحويلهم إلى قطع غيار بشرية؛ فهذا أمر يقدح في الأخلاق ابتداء ويقدح في الدين انتهاء، وهذا هو ما مال إليه مجمع البحوث الإسلامية بالأزهر الشريف في فتواه، وإن خالف بعض أعضاء المجمع في هذا؛ لأن المسألة محل نظر، ولكن جمهور مشايخنا على أنه حرام، وأننا لا ينبغي أن نفتح هذا الباب.

والذي حدث الآن أنهم يقتلون الناس، بل ويخطفون الأطفال والشباب الصغار، ويأخذون أعضاءهم، ثم يلقونهم في الطرقات، ثم يقومون ببيع هذه الأعضاء.

وسد الذريعة أحد مصادر التشريع الإسلامي.

إذًا أنا أرى والله تعالى أعلم وهذا رأي جمهور العلماء أن هذه المسألة حرام ابتداء، وأنه حتى القائلين بشيء من الجواز ينبغي عليهم أن يقولوا بالحرمة
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: জীবিত ব্যক্তি থেকে জীবিত ব্যক্তিতে অঙ্গ স্থানান্তর। ইতিপূর্বে যেমন আলোচিত হয়েছে, এক্ষেত্রে দান করা বা বিক্রি করা কোনোটিই বৈধ নয়। এখন আমরা সেই নারীর ক্ষেত্রে কী করব, যিনি তার উভয় কিডনি হারিয়েছেন এবং ডায়ালাইসিসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহনে সক্ষম নন? আমরা প্রশ্নকারীকে বলব: ডায়ালাইসিস না করাতে কোনো অসুবিধা নেই; কারণ কিডনি প্রতিস্থাপন করা হলেও তিনি শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবেন। কিডনি প্রতিস্থাপনে সফলতার হার অত্যন্ত নগণ্য, আর এটি কার্যকর হলেও মাত্র এক বা দুই বছর স্থায়ী হয়, এরপর পুনরায় মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে। সুতরাং মৃত্যুর ভয় আমাদের নিষিদ্ধ বিষয়কে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে হারাম (حرام) কাজে লিপ্ত হওয়ার অনুমতি দেয় না; এ কারণেই আমি একে বৈধ মনে করি না।

আর একে মানুষের হাতের প্রতিটি আঙুলের জন্য নির্ধারিত দিয়াত (دية)-এর বিষয়ের ওপর কিয়াস (قياس) করা যাবে না; কারণ দিয়াত (دية) মূলত অপরাধীর কৃতকর্মের দণ্ড এবং অঙ্গের উপযোগিতা নষ্ট হওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হয়, এটি অঙ্গের কোনো মূল্য নয়।

আমি একে নিরুপায় (مضطر) ব্যক্তির জন্য মৃত প্রাণী ভক্ষণের বিষয়ের ওপর কিয়াস (قياس) করাও সমীচীন মনে করি না; কারণ নিরুপায় (مضطر) ব্যক্তির মৃত মাংস খাওয়া একটি সাময়িক বিষয়। তদুপরি, সে কোনো পশুপাখির ন্যায় অগৌরবময় বা অ-মর্যাদাবান মৃত প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করে। কিন্তু আমরা এখন যা নিয়ে আলোচনা করছি তা হলো—জীবিত মানুষদের 'মানবীয় খুচরা যন্ত্রাংশে' রূপান্তর করা। এটি প্রারম্ভিকভাবে নৈতিকতাকে নষ্ট করে এবং চূড়ান্তভাবে দ্বীন বা ধর্মের অবমাননা ঘটায়। আল-আজহার আল-শরিফের ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি (মাজমাউল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ) তাদের ফতোয়ায় এই মতটিই গ্রহণ করেছে, যদিও সেই কাউন্সিলের কিছু সদস্য এতে দ্বিমত পোষণ করেছেন। কারণ বিষয়টি গবেষণাসাপেক্ষ (محل نظر), তবে আমাদের জুমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মাশায়েখগণের অভিমত হলো এটি হারাম (حرام) এবং আমাদের উচিত হবে না এই পথটি উন্মুক্ত করা।

বর্তমানে যা ঘটছে তা হলো—তারা মানুষকে হত্যা করছে, এমনকি শিশু ও কিশোরদের অপহরণ করে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বের করে নিচ্ছে, তারপর তাদের রাস্তায় ফেলে দিয়ে এসব অঙ্গ কেনাবেচা করছে।

আর সাদদুজ জারিয়াহ (سد الذريعة) বা মন্দের পথ রুদ্ধ করা ইসলামি শরিয়ত বা বিধান (تشريع)-এর অন্যতম একটি উৎস।

অতএব আমি মনে করি—এবং আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ—এটিই জুমহুরুল উলামা (جمهور العلماء) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের অভিমত যে, এই বিষয়টি মূলত শুরু থেকেই হারাম (حرام)। এমনকি যারা এর কিছুটা বৈধতার (جواز) পক্ষে কথা বলেন, তাদেরও উচিত এর নিষিদ্ধতার (حرمة) পক্ষেই মত দেওয়া।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ১৮)
سدًا للذريعة، والله أعلم.

وهنا يُطرح سؤال: ماذا لو كان التبرع عن طيب خاطر وعن طيب نفس، كمن تبرع لابنه أو لأبيه أو العكس؟

نقول: هناك شروط شرطها الأطباء ذوو الاختصاص؛ منها أمن المريض على حياته، ونقول أيضا: هذه شروط وهمية، فالأطباء يقولون: إن الإنسان يمكن أن يعيش بكلية واحدة، فماذا يحدث لو تبرع شخص بإحدى كليتيه ثم فشلت الأخرى؟ إذًا، ومن باب سد الذرائع، ومن باب الواقع، ومن باب المفهوم للمسألة، سيتحول الإنسان إلى جزء من الكون كالخشبة والحديدة، يستطيع الآخر أن يتصرف فيه، وأن يقطع الجسد أجزاء، وأن يتبرع، وأن يبيع، وأن يتصرف، ويوصي، وكذا، إلى آخره.

وأنا أظن أنه لا بد علينا أن نقف مع كل الأخلاقيين في العالم في سد هذا الباب" (1).

ولكن المرء تشتد دهشته وعجبه حين يقرأ بعد ذلك فتوى للدكتور علي جمعة مضادة تمامًا لما سبق أن أفتى به؛ حيث يقول: "من الوسائل الطبية التي ثبت جدواها في العلاج والدواء والشفاء بإذن الله تعالى للمحافظة على النفس والذات نقل وزرع بعض الأعضاء البشرية من الإنسان للإنسان؛ سواء من الحي للحي أو من الميت الذي تحقق موته إلى الحي، وهذا جائز شرعًا إذا توافرت فيه شروط معينة تبعد هذه العملية من نطاق التلاعب بالإنسان الذي كرمه الله ولا تحوله إلى قطع غيار تباع وتشترى، بل يكون المقصد منها التعاون على

--------------------------------------------

(1) كتاب فتاوى عصرية، ج2 ص 297.
অনাকাঙ্ক্ষিত পথ বন্ধ করার স্বার্থে (سدًا للذريعة), এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এখানে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়: যদি দানটি স্বেচ্ছায় এবং সানন্দ চিত্তে হয়, যেমন কেউ তার ছেলে বা বাবার জন্য দান করল অথবা এর বিপরীতটি ঘটল, তবে সেক্ষেত্রে বিধান কী?

আমরা বলি: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কিছু শর্তারোপ করেছেন; তার মধ্যে একটি হলো রোগীর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া। আমরা আরও বলি: এগুলো কাল্পনিক শর্ত, কারণ চিকিৎসকরা বলেন: একজন মানুষ একটি কিডনি নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু যদি কেউ তার একটি কিডনি দান করে এবং পরবর্তীতে তার অন্যটিও অকেজো হয়ে যায়, তবে কী ঘটবে? সুতরাং, অনাকাঙ্ক্ষিত পথ রুদ্ধ করার (سد الذرائع) খাতিরে, বাস্তবতার নিরীখে এবং বিষয়ের অন্তর্নিহিত অর্থের প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, মানুষ বিশ্বজগতের একটি জড় বস্তুর ন্যায় কাঠ বা লোহার টুকরোয় পরিণত হবে, যার ওপর অন্য কেউ কর্তৃত্ব করতে পারবে, দেহকে খণ্ড-বিখণ্ড করতে পারবে, দান করতে পারবে, বিক্রি করতে পারবে, হস্তক্ষেপ করতে পারবে এবং অসিয়ত করতে পারবে ইত্যাদি।

এবং আমি মনে করি যে, এই পথটি বন্ধ করার ক্ষেত্রে বিশ্বের সকল নীতিবিদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের জন্য অপরিহার্য" (১)।

কিন্তু একজন মানুষ তখন চরম বিস্মিত ও অবাক হন যখন তিনি এরপর ডক্টর আলী জুমার এমন একটি ফতোয়া পড়েন যা তার পূর্ববর্তী ফতোয়ার সম্পূর্ণ বিপরীত; যেখানে তিনি বলেন: "চিকিৎসা ও রোগমুক্তির ক্ষেত্রে যেসব চিকিৎসা পদ্ধতি আল্লাহর ইচ্ছায় জীবন ও সত্তা রক্ষার জন্য কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো এক মানুষ থেকে অন্য মানুষের দেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপন; চাই তা জীবিত থেকে জীবিতের দেহে হোক অথবা যার মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এমন মৃত ব্যক্তি থেকে জীবিতের দেহে হোক। এটি শরয়িভাবে বৈধ (جائز), যদি এতে এমন কিছু নির্দিষ্ট শর্ত বিদ্যমান থাকে যা এই প্রক্রিয়াকে আল্লাহর সম্মানিত মানুষের সাথে তামাশা করা থেকে দূরে রাখে এবং তাকে কেনাবেচার যোগ্য কোনো যন্ত্রাংশে পরিণত না করে। বরং এর উদ্দেশ্য হতে হবে সহযোগিতার..."

--------------------------------------------

(১) কিতাব ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, ২য় খণ্ড, ২৯৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ১৯)
البر والتقوى وتخفيف آلام البشر، وإذا لم توجد وسيلة أخرى للعلاج تمنع هلاك الإنسان، وقرر أهل الخبرة من الأطباء العدول أن هذه الوسيلة تحقق النفع المؤكد للآخذ، ولا تؤدي إلى ضرر بالمأخوذ منه، ولا تؤثر على صحته وحياته وعمله في الحال أو المآل.

وهذا حينئذ يكون من باب إحياء النفس الوارد في قوله تعالى: {مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا} (1) ويكون من باب التضحية والإيثار أيضًا الذي أمر الله تعالى بهما وحث عليهما في قوله تعالى: {وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ} (2)، وكما يجوز أخذ عضو من الحي إلى الحي لإنقاذه من هلاك محقق حالاً أو مستقبلاً، فإنه يجوز أيضًا الأخذ من الميت إلى الحي لإنقاذه من هلاك محقق أو لتحقيق مصلحة ضرورية له؛ لأن الإنسان الميت وإن كان مثل الحي تمامًا في التكريم وعدم الاعتداء عليه بأي حال لقوله تعالى: {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ} (3)، ولحديث النبي صلى الله عليه وسلم: (كسر عظم الميت ككسره حيًا) رواه ابن ماجه، فإن هذا التكريم لا يؤثر فيه ما يؤخذ منه بعد موته من أجزاء تقوم عليها حياة إنسان آخر أو رد بصره بعده؛ لأن مصلحة الحي مقدمة على مصلحة الميت" (4).

--------------------------------------------

(1) سورة المائدة، الآية 32.

(2) سورة الحشر، الآية 9.

(3) سورة الإسراء، الآية 70.

(4) كتاب فتاوى عصرية، ج2 ص310 - 311.
সততা, তাকওয়া এবং মানুষের কষ্ট লাঘব করার লক্ষ্যে, আর যদি মানুষের মৃত্যু রোধে চিকিৎসার অন্য কোনো বিকল্প মাধ্যম না থাকে এবং বিশেষজ্ঞ ন্যায়পরায়ণ (عدول) চিকিৎসকগণ এই সিদ্ধান্ত দেন যে, এই মাধ্যমটি গ্রহণকারীর জন্য নিশ্চিত উপকার বয়ে আনবে এবং যার থেকে নেওয়া হচ্ছে তার জন্য কোনো ক্ষতির কারণ হবে না, কিংবা বর্তমানে বা ভবিষ্যতে তার স্বাস্থ্য, জীবন ও কর্মের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

আর এটি তখন মহান আল্লাহর বাণী: {যে ব্যক্তি কোনো মানুষকে হত্যা করল—অন্যকে হত্যার অপরাধে কিংবা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির অপরাধে ব্যতীত—সে যেন সকল মানুষকে হত্যা করল; আর যে ব্যক্তি একটি প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করল} (১)-এ বর্ণিত প্রাণ রক্ষার অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া এটি ত্যাগ ও পরার্থপরতারও অন্তর্ভুক্ত হবে, যা মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং উৎসাহিত করেছেন: {তারা নিজেদের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত} (২)। আর যেভাবে কোনো জীবিত ব্যক্তির অঙ্গ নিয়ে অপর জীবিত ব্যক্তিকে আসন্ন বা ভবিষ্যৎ নিশ্চিত ধ্বংস থেকে রক্ষা করা বৈধ, তেমনিভাবে মৃত ব্যক্তি থেকে কোনো অঙ্গ নিয়ে জীবিত ব্যক্তিকে নিশ্চিত ধ্বংস থেকে রক্ষা করা কিংবা তার কোনো অতীব প্রয়োজনীয় কল্যাণ সাধনের জন্য নেওয়াও বৈধ; কারণ মৃত ব্যক্তি সম্মানের দিক থেকে এবং তার ওপর কোনো অবস্থায় চড়াও না হওয়ার দিক থেকে জীবিত ব্যক্তির মতোই—যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি} (৩)। এবং নবী (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী: (মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙা জীবিত ব্যক্তির হাড় ভাঙার মতোই), যা ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। মৃত ব্যক্তি থেকে কোনো অঙ্গ গ্রহণ করার ফলে তার এই সম্মানে কোনো ব্যাঘাত ঘটে না, যার মাধ্যমে অন্য কোনো মানুষের জীবন রক্ষা পায় কিংবা দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসে; কারণ জীবিতের কল্যাণ মৃতের কল্যাণের চেয়ে অগ্রগণ্য (৪)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৩২।

(২) সূরা আল-হাশর, আয়াত ৯।

(三) সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৭০।

(৪) কিতাব ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩১০ - ৩১১।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ২০)
ج- اختلاف تقدير الدية، فذكر في مقالة بالأهرام تقديرًا للدية المغلظة، وذكر في مواطن أخرى تقديرًا للدية يختلف تمامًا عن هذا التقدير، فقال: "المطالبة بدية هؤلاء الشهداء، والدية حينئذ مقومة بمائة من الإبل مغلظة الأسنان؛ لأنه قتل عدوان، وهو ما يسمى في القوانين الحديثة بالتعويض، وقيمته تزيد على نصف مليون دولار على الأقل" (1). ولكنه قال في موضع آخر: "عليه دية مسلمة إلى أهل المتوفى المقتول، والدية تقدر بـ 12 ألف درهم فضة، وهي في زماننا هذا تساوي 36 ألف جنيه مصري تقريبًا، وهذا يعني أنها في حدود 7 آلاف دولار، هذا أقل شيء؛ لأنه في الزمن الأول كان 12 ألف درهم يساوي ألف دينار ولو حسبناها بالدينار يصير 170 ألف جنيه أو مائة من الإبل فيصير 300 ألف جنيه" (2)!!.

د- تناقض قوله في حكم دفع الزكاة في مصالح المسلمين العامة من إنشاء طرق وبناء مستشفيات .. فقال: "فمن المصارف في سبيل الله، والراجح ما عليه جمهور الفقهاء من عدم جواز صرفه إلى عموم مصالح المسلمين؛ من إنشاء الطرق، والمستشفيات، والمدارس، والمساجد، ونحو ذلك، بل هذه المصالح توقف لها الأوقاف أو يتصدق عليها بالصدقات المختلفة سوى الزكاة" (3). وقال: "لم يجوز الفقهاء صرف أموال الزكاة في غير مصارفها؛ فمصارف الزكاة محدودة محصورة في الأصناف الثمانية التي حددها القرآن، ولقد كان للزكاة بيت مال

--------------------------------------------

(1) مقال في جريدة الأهرام، بعنوان: قتل الأسرى، بتاريخ 26 - 3 - 2007م.

(2) كتاب فتاوى عصرية، ج2 ص 375 - 376.

(3) كتاب فتاوى عصرية، ج2 ص123، وكتاب فتاوى البيت المسلم، ص 142 - 143.
গ- দীয়াহ (রক্তপণ) নির্ধারণের ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য: আল-আহরাম পত্রিকার একটি নিবন্ধে তিনি কঠোর দীয়াহর একটি পরিমাণের কথা উল্লেখ করেছেন, আবার অন্য স্থানে দীয়াহর এমন এক পরিমাণ উল্লেখ করেছেন যা এই পরিমাণের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন: "এই শহীদদের দীয়াহ দাবি করা হচ্ছে, আর তৎকালীন দীয়াহ একশটি পূর্ণবয়স্ক (বয়োজ্যেষ্ঠ) উট দ্বারা নির্ধারিত ছিল; কারণ এটি ছিল অন্যায়মূলক হত্যাকাণ্ড, যাকে আধুনিক আইনে ক্ষতিপূরণ বলা হয় এবং এর মূল্য অন্ততপক্ষে আধা মিলিয়ন ডলারের বেশি।" (১) কিন্তু তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: "তাকে নিহত ব্যক্তির পরিবারের নিকট দীয়াহ প্রদান করতে হবে, আর দীয়াহর পরিমাণ হলো ১২ হাজার রৌপ্য দিরহাম, যা আমাদের বর্তমান সময়ে প্রায় ৩৬ হাজার মিশরীয় পাউন্ডের সমান। এর অর্থ হলো এটি প্রায় ৭ হাজার ডলারের কাছাকাছি, এটিই সর্বনিম্ন পরিমাণ; কারণ আদি যুগে ১২ হাজার দিরহাম ১ হাজার দিনারের সমমূল্য ছিল। আমরা যদি দিনারের হিসেবে গণনা করি তবে তা ১ লক্ষ ৭০ হাজার পাউন্ড হয় অথবা একশটি উট হিসেবে ধরলে তা ৩ লক্ষ পাউন্ড হয়।" (২)!!

ঘ- রাস্তাঘাট নির্মাণ ও হাসপাতাল তৈরির মতো মুসলমানদের সাধারণ জনকল্যাণমূলক খাতে যাকাত প্রদানের বিধান সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যের স্ববিরোধিতা: তিনি বলেন: "ব্যয়ের খাতসমূহের একটি হলো 'ফি সাবিলিল্লাহ', আর অধিকাংশ ফকিহ যে মতটি পোষণ করেন সেটিই অগ্রগণ্য; আর তা হলো—রাস্তাঘাট নির্মাণ, হাসপাতাল, বিদ্যালয়, মসজিদ এবং এই জাতীয় সাধারণ জনকল্যাণমূলক কাজে যাকাত ব্যয় করা বৈধ নয়। বরং এই সব জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য ওয়াকফ প্রতিষ্ঠা করা হবে অথবা যাকাত ব্যতীত অন্যান্য বিবিধ সদকা প্রদান করা হবে।" (৩) তিনি আরও বলেন: "ফকিহগণ যাকাতের অর্থ এর নির্ধারিত খাতসমূহ ব্যতীত অন্য কোথাও ব্যয় করা বৈধ করেননি; যাকাতের ব্যয়ের খাতসমূহ সীমাবদ্ধ এবং তা কুরআনে নির্ধারিত আটটি শ্রেণির মধ্যে নিহিত। যাকাতের জন্য একটি বাইতুল মাল ছিল..."

--------------------------------------------

(১) আল-আহরাম পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধ, শিরোনাম: 'ক্বাতলুল আসরা' (যুদ্ধবন্দি হত্যা), তারিখ: ২৬ - ০৩ - ২০০৭ খ্রি.।

(২) ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৭৫ - ৩৭৬।

(৩) ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১২৩ এবং ফাতাওয়া আল-বাইত আল-মুসলিম, পৃ. ১৪২ - ১৪৩।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ২১)
خاص، أي ميزانية مستقلة، فقال الفقهاء: لا يجوز صرف الزكاة إلى غير من ذكر الله تعالى؛ من بناء المساجد، والجسور، والقناطر، والسقايات، والمدارس، وتمهيد الطرق، وشق الأنهار، وسد البثوق" (1).

ثم نراه يقول مخالفًا ذلك: "والفقهاء لهم تعريفات كثيرة لمصرف في سبيل الله، فأفضل ما قيل: كل مصلحة للأمة تتعطل لا يقوم بها بيت المال أو الحكومة ويصلح سدادها؛ لأن هذه المصلحة تخدم الفقير كما تخدم الغني، فإن وضعت في مستشفى كالتي أشير إليها، أو في ملجأ، أو في مكان يخدم الناس عامة؛ لكون جهات البر الأخرى أو جهات بيت المال الأخرى لم تف بهذه الحالة، فقد برئت الذمة وأدت ما عليها من الزكاة إن شاء الله" (2).

هـ - تناقض قوله في حكم الزكاة على النقود المودعة بالبنك، فكان رأيه أولاً موافقا لرأي العلماء في وجوب الزكاة عليها إذا بلغت نصابًا وحال عليها الحول فقال: "وديعة البنك إذا بلغت النصاب الشرعي، بما يساوي خمسة وثمانين جرامًا من الذهب عيار 21، وحال عليه الحول الهجري، فإنه يجب إخراج الزكاة وهي ربع العشر، وبما أن السائل يقول بأن قيمة الوديعة تتناقص بمرور الزمن فكيف يقدر الزكاة؟ فنقول: يأتي في آخر العام وينظر المتبقي منها، فإن بلغت النصاب وجب فيها الزكاة، وإن لم تبلغ النصاب فلا زكاة فيها" (3).

--------------------------------------------

(1) كتاب البيان لما يشغل الأذهان فتاوى شافية في قضايا عاجلة، ص 259.

(2) كتاب فتاوى عصرية، ج2 ص105.

(3) كتاب فتاوى عصرية، ج2 ص 103.
বিশেষ, অর্থাৎ স্বতন্ত্র বাজেট। এমতাবস্থায় ফকিহগণ (فقهاء) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা যাদের কথা উল্লেখ করেছেন তারা ব্যতীত অন্য কোথাও জাকাত ব্যয় করা বৈধ নয়; যেমন—মসজিদ নির্মাণ, সেতু, কালভার্ট, পানীয় জলের ব্যবস্থা, মাদরাসা, রাস্তা প্রশস্তকরণ, নদী খনন এবং বাঁধ নির্মাণ (১)।

এরপর আমরা তাকে এর বিপরীতে বলতে দেখি: "আল্লাহর পথে (في سبيل الله) ব্যয়ের খাতের ক্ষেত্রে ফকিহদের (فقهاء) অনেক সংজ্ঞা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম যা বলা হয়েছে তা হলো: উম্মতের এমন প্রতিটি জনস্বার্থমূলক কাজ যা স্থবির হয়ে আছে এবং বায়তুল মাল (بيت المال) বা সরকার তা সম্পন্ন করছে না, অথচ তা সম্পন্ন করা আবশ্যক; কারণ এই জনস্বার্থ দরিদ্রের পাশাপাশি ধনীদেরও সেবা প্রদান করে। সুতরাং যদি তা এমন কোনো হাসপাতালে ব্যয় করা হয় যার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, অথবা কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে, অথবা সাধারণ মানুষের সেবামূলক কোনো স্থানে; যেহেতু অন্যান্য কল্যাণমূলক খাত বা বায়তুল মালের (بيت المال) অন্যান্য উৎসসমূহ এই প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়নি, তবে জিম্মাদারি মুক্ত হবে এবং ইনশাআল্লাহ তার ওপর অর্পিত জাকাত আদায় হয়ে যাবে" (২)।

ঙ- ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের জাকাতের বিধানের ক্ষেত্রে তার বক্তব্যের বৈপরীত্য। এক্ষেত্রে তার প্রাথমিক অভিমতটি আলেমদের (العلماء) মতের সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল যে, অর্থ যদি নিসাব (نصاب) পরিমাণ হয় এবং তার ওপর এক বছর (الحول) অতিক্রান্ত হয়, তবে তার ওপর জাকাত প্রদান করা ওয়াজিব (واجب)। তিনি বলেছিলেন: "ব্যাংক আমানত যদি শরয়ি নিসাব (نصاب) পরিমাণ হয়, যা ২১ ক্যারেটের ৮৫ গ্রাম স্বর্ণের সমমূল্যের সমান, এবং তার ওপর হিজরি এক বছর (الحول) অতিবাহিত হয়, তবে তার জাকাত আদায় করা ওয়াজিব (واجب), যা হলো মোট অর্থের আড়াই শতাংশ বা এক-চল্লিশাংশ (ربع العشر)। যেহেতু প্রশ্নকারী বলছেন যে, সময়ের পরিক্রমায় আমানতের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে, তবে তিনি কীভাবে জাকাত নির্ধারণ করবেন? আমরা বলব: তিনি বছরের শেষে দেখবেন কতটুকু অবশিষ্ট আছে; যদি তা নিসাব (نصاب) পরিমাণ হয় তবে তাতে জাকাত ওয়াজিব (واجب) হবে, আর যদি নিসাব (نصاب) পরিমাণ না হয় তবে তাতে কোনো জাকাত নেই" (৩)।

--------------------------------------------

(১) কিতাবুল বায়ান লিমা ইয়াশগালুল আজহান: ফাতাওয়া শাফিয়া ফি কাদায়া আজিলা, পৃষ্ঠা ২৫৯।

(২) কিতাব ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১০৫।

(৩) কিতাব ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১০৩।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ২২)
وقال كذلك: "إذا بلغ المال النصاب الشرعي أو أكثر؛ سواء أكان رأس مال، أو عائدًا، أو هما معًا، وجبت فيه الزكاة بعد استيفاء الشروط المنوه عنها سابقًا، بواقع 2.5 %، فإذا كان العائد يضم إلى رأس المال فيبلغان النصاب مع حولان الحول وجبت فيهما الزكاة بنفس النسبة، فإذا كان العائد يصرف على احتياجات صاحب المال ومن يعول فلا يبقى منه شيء يبلغ النصاب مع رأس المال فلا زكاة عليه" (1).

وقال كذلك: "س: ادخرت مبلغًا من المال من مصروف البيت، وعندي سبعة أطفال، وقد ادخرتها لكي نبني لنا بيتًا، فهل تجوز الزكاة على هذه النقود المدخرة أم لا؟

الجواب: إذا كان هذا المال المدخر بلغ نصابًا، وهو ثمن حوالي خمسة وثمانين جرامًا من الذهب، ومر عليه حول ولم ينفق، فتجب فيه الزكاة، ما دام بلغ النصاب، ومر عليه الحول، وتجب الزكاة في آخر الحول، أما إذا لم يكن بلغ النصاب فلا زكاة عليه، وإذا بلغ النصاب ولم يحل عليه فلا زكاة عليه" (2).

ثم في موضع آخر يميل عن هذا الرأي، فيفتي بتخيير السائل بين إخراج زكاة المال وعدم إخراجها، فيقول: "يقول جمهور الفقهاء أن هذا عليه زكاة تعادل اثنين ونصف بالمائة في السنة، وهناك رأي للشيخ عبد الله المشد رحمه الله بأن يزكي بعشرة بالمائة من إيراد الوديعة، فإذا كان التعويض مثلاً خمسين ألف

--------------------------------------------

(1) كتاب فتاوى عصرية، ج2 ص 114.

(2) كتاب فتاوى البيت المسلم، ص 145.
তিনি একইভাবে বলেছেন: "যখন সম্পদ শরয়ি নিসাব পরিমাণ বা তার অধিক হবে; চাই তা মূলধন হোক, বা লভ্যাংশ, অথবা উভয়টি একত্রে হোক, ইতিপূর্বে বর্ণিত শর্তাবলি পূরণ হওয়ার পর তাতে ২.৫% হারে জাকাত প্রদান করা আবশ্যক হবে। সুতরাং যদি লভ্যাংশ মূলধনের সাথে যুক্ত হয়ে বছর পূর্ণ হওয়ার সময় নিসাব পরিমাণ হয়, তবে উভয়টির ওপর একই হারে জাকাত আবশ্যক হবে। আর যদি লভ্যাংশ সম্পদের মালিক ও তার পরিবার-পরিজনের প্রয়োজনে ব্যয় হয়ে যায় এবং মূলধনের সাথে লভ্যাংশের এমন কোনো অংশ অবশিষ্ট না থাকে যা নিসাবে পৌঁছায়, তবে তার ওপর কোনো জাকাত নেই" (১)।

তিনি একইভাবে বলেছেন: "প্রশ্ন: আমি ঘরের খরচ থেকে কিছু টাকা সঞ্চয় করেছি এবং আমার সাতটি সন্তান রয়েছে। আমি এই টাকাগুলো আমাদের একটি বাড়ি তৈরির উদ্দেশ্যে সঞ্চয় করেছি। এখন এই সঞ্চিত অর্থের ওপর কি জাকাত প্রদান করা আবশ্যক হবে নাকি হবে না?

উত্তর: যদি এই সঞ্চিত অর্থ নিসাব পরিমাণ হয়—যা আনুমানিক পঁচাশি গ্রাম স্বর্ণের মূল্যের সমান—এবং তা ব্যয় না হয়ে তার ওপর এক বছর পূর্ণ হয়, তবে তাতে জাকাত আবশ্যক হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তা নিসাব পরিমাণ থাকবে এবং এক বছর পূর্ণ হবে, তখন বছর শেষে জাকাত প্রদান করা আবশ্যক। পক্ষান্তরে, যদি তা নিসাব পরিমাণ না হয়, তবে তাতে কোনো জাকাত নেই। আর যদি নিসাব পরিমাণ হয় কিন্তু এক বছর পূর্ণ না হয়, তবে তার ওপরও কোনো জাকাত নেই" (২)।

অতঃপর অন্য এক স্থানে তিনি এই মত থেকে সরে এসেছেন এবং প্রশ্নকারীকে জাকাত প্রদান করা বা না করার বিষয়ে পছন্দ নির্বাচনের সুযোগ দিয়ে ফতোয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন: "সংখ্যাগরিষ্ঠ ফকীহগণ বলেন যে, এর ওপর বার্ষিক আড়াই শতাংশ হারে জাকাত প্রযোজ্য। তবে শেখ আব্দুল্লাহ আল-মাশাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি মত রয়েছে যে, আমানত থেকে প্রাপ্ত আয়ের দশ শতাংশ জাকাত দিতে হবে। সুতরাং ক্ষতিপূরণ যদি উদাহরণস্বরূপ পঞ্চাশ হাজার হয়...

--------------------------------------------

(১) কিতাবু ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১১৪।

(২) কিতাবু ফাতাওয়া আল-বাইত আল-মুসলিম, পৃষ্ঠা ১৪৫।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ২৩)
جنيه، ويكون ريعها في السنة خمسة آلاف جنيه، وبالتالي فالعشرة بالمائة تساوي خمسمائة جنيه، أما الاثنان ونصف بالمائة فتساوي ألف ومائتين وخمسين جنيه، فالشائع والأكثر إجماعًا عليه هو الاثنان ونصف، وذلك من أجل مصلحة الفقراء، أما إذا ضاقت الظروف فلا مانع من العشرة بالمائة" (1).

ثم أفتى في موضع آخر بعدم دفع الزكاة على الوديعة فقال: "الوديعة التي نضعها في الاستثمار يصعب فكها، فلو وضعنا 100 ألف، هذه الـ 100 ألف محبوسة، ولو سحبت فإنها تضيع، فشبهوا الوديعة الاستثمارية في حكاية الربطة بالأرض، لو بعتها قطعة قطعة تضيع؛ لأنها أصل من الأصول، والعقار أصل من الأصول، والله لم يفرض الزكاة على الأرض، بل فرض الزكاة على الذي يخرج من الأرض، الله لم يفرض الزكاة على العقار أو على البيت، بل فرض الزكاة على الذي يخرج من البيت وهو الإيجار ويمضي عليه سنة كاملة، وعندما جعل الأرض وفرض على الخارج منها فرض العشر، أي عشر ما ينتج من الأرض.

وقد حدد الفقهاء الأشياء التي يجب إخراج الزكاة عليها؛ فقال أبو حنيفة: إنه تجب الزكاة في كل ما يخرج من الأرض …

فنحن نفتي بكلام عمر بن عبد العزيز، ونفتي بكلام الجماعة العلمية المصرية؛ حيث اتفقت ليس كلها ولكن أيام الشيخ عبد الله المشد في لجنة الفتوى على أننا نخرج العشر تقليدًا لعمر بن عبد العزيز في هذه الحالة؛ لأن هذا هو الأوفق في هذه الحالة، حيث شابهت الوديعة وليس النقود السائلة

--------------------------------------------

(1) كتاب فتاوى عصرية، ج2 ص 131 - 132.
পাউন্ড, এবং এর বার্ষিক মুনাফা হয় পাঁচ হাজার পাউন্ড। ফলশ্রুতিতে দশ শতাংশ পাঁচশ পাউন্ডের সমান হয়, আর আড়াই শতাংশ এক হাজার দুইশ পঞ্চাশ পাউন্ডের সমান হয়। অধিক প্রচলিত এবং যে বিষয়ের ওপর ঐকমত্য (إجماع) সবচেয়ে বেশি, তা হলো আড়াই শতাংশ; আর এটি দরিদ্রদের কল্যাণের স্বার্থে। তবে যদি পরিস্থিতি সংকীর্ণ হয়, তবে দশ শতাংশ প্রদানে কোনো বাধা নেই (১)।

অতঃপর তিনি অন্য এক স্থানে আমানতের ওপর জাকাত না দেওয়ার ফতোয়া (فتوى) দিয়ে বলেন: "বিনিয়োগের জন্য আমরা যে আমানত রাখি তা প্রত্যাহার করা কঠিন। আমরা যদি ১০০ হাজার রাখি, তবে এই ১০০ হাজার আটকে যায় এবং তা উত্তোলন করলে লোকসান হয়। তাই তারা বিনিয়োগকৃত আমানতকে জমির সাথে সংশ্লিষ্টতার সাথে তুলনা করেছেন; যদি তা খণ্ড খণ্ড করে বিক্রি করেন তবে তা নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ এটি একটি মূল সম্পদ (أصل من الأصول), আর স্থাবর সম্পত্তিও একটি মূল সম্পদ (أصل من الأصول)। আল্লাহ জমির ওপর জাকাত ফরজ করেননি, বরং জমি থেকে যা উৎপাদিত হয় তার ওপর জাকাত ফরজ করেছেন। আল্লাহ স্থাবর সম্পত্তি বা বাড়ির ওপর জাকাত ফরজ করেননি, বরং বাড়ি থেকে যা অর্জিত হয় অর্থাৎ ভাড়ার ওপর জাকাত ফরজ করেছেন—যদি তার ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হয়। আর যখন তিনি জমি নির্ধারণ করেছেন এবং তা থেকে উৎপাদিত ফসলের ওপর জাকাত ফরজ করেছেন, তখন তিনি উশর (العشر) অর্থাৎ যা জমি থেকে উৎপাদিত হয় তার দশ ভাগের এক ভাগ ফরজ করেছেন।

ফকিহগণ (الفقهاء) সেসব বিষয় নির্ধারণ করে দিয়েছেন যার ওপর জাকাত প্রদান করা আবশ্যক। ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: জমি থেকে যা কিছু উৎপাদিত হয় তার সবকিছুর ওপর জাকাত ওয়াজিব …

সুতরাং আমরা উমর ইবনে আবদুল আজিজের বক্তব্য অনুযায়ী ফতোয়া (فتوى) প্রদান করি এবং মিসরীয় ইলমি জামাতের (الجماعة العلمية) কথা অনুযায়ী ফতোয়া দেই; যেখানে শেখ আবদুল্লাহ আল-মাশাদের সময়ে ফতোয়া কমিটি সব বিষয়ে একমত না হলেও এই বিষয়ে একমত হয়েছিল যে, আমরা এই ক্ষেত্রে উমর ইবনে আবদুল আজিজের অনুসরণ (تقليد) করে উশর বা দশ শতাংশ প্রদান করব। কারণ এটিই এই পরিস্থিতির জন্য অধিকতর উপযোগী, যেহেতু এটি নগদ অর্থের চেয়ে স্থাবর আমানতের সাথেই বেশি সদৃশ।

--------------------------------------------

(১) কিতাব ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৩১ - ১৩২।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ২৪)
الثابتة، أي أننا نخرج الزكاة 10% من الإيراد، فيكون هذا أرفق بك" (1).

وأكد هذا الكلام في نفس الكتاب فقال: "س: سمعت فضيلتكم تقول: إن الوديعة يصح أن تكون زكاة المال على الإيراد بدلاً من الوديعة نفسها، هل ما فهمته صحيح؟

الجواب: نعم ما فهمت صحيح، وهي فتوى عمر بن عبد العزيز، وأخذ بها الشيخ عبد الله المشد من شيوخنا رحمه الله، رئيس لجنة الفتوى، وأخذ بها كثير من الفقهاء" (2).

وتناقض قوله في حكم النمص؛ فمرة يراه حرامًا موافقا لمذهب جماهير العلماء، ومرة يراه مباحًا بإذن الزوج، فيقول: "نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن النمص، فعن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم: (أنه لعن آكل الربا، وموكله، وشاهديه، وكاتبه، والواصلة، والمستوصلة، والواشمة، والموشومة، والنامصة، والمتنمصة، ونهى عن النوح) (3) والنمص في اللغة كما أفاد أهل اللغة هو المتعلق بشعر الحاجبين، وعلى ذلك فاللعن والنهي الممنوع هو الاقتراب من شعر الحاجبين.

وقد أجمع جمهور الأمة على أن هذا النهي عام، ولكن أبا حنيفة يرى أن هذا النهي متعلق بحق الزوج، بمعنى أن الزوج له أن يأذن في مثل هذا.

والراجح هو ما عليه الجمهور، وهو أن النصوص جاءت مطلقة، والنهي جاء مطلقًا؛ فعن علقمة قال: لعن عبد الله الواشمات، والمتنمصات، والمتفلجات للحسن المغيرات خلق الله، فقالت أم يعقوب: ما هذا؟ قال عبد الله: وما لي لا ألعن من لعن رسول الله وفي كتاب الله، قالت: والله لقد

--------------------------------------------

(1) كتاب فتاوى عصرية، ج 1 ص 77.

(2) كتاب فتاوى عصرية، ج1 ص 150.

(3) الظاهر أن هذا جمع بين عدة أحاديث، وردت في كتب السنة.
স্থাবর (সম্পদ), অর্থাৎ আমরা আয় থেকে ১০% জাকাত প্রদান করব, যা আপনার জন্য অধিক সহজতর হবে" (১)।

তিনি একই গ্রন্থে এই কথাটি নিশ্চিত করে বলেছেন: "প্রশ্ন: আমি আপনার মহোদয়কে বলতে শুনেছি যে, মূল আমানতের পরিবর্তে আমানত থেকে প্রাপ্ত আয়ের ওপর জাকাত প্রদান করা বৈধ। আমি যা বুঝেছি তা কি সঠিক?

উত্তর: হ্যাঁ, আপনি যা বুঝেছেন তা সঠিক। এটি উমর ইবনে আবদুল আজিজের ফতোয়া এবং আমাদের শায়খদের মধ্যে ফতোয়া কমিটির প্রধান শায়খ আবদুল্লাহ আল-মাশাদ (রাহিমাহুল্লাহ) এটি গ্রহণ করেছেন এবং অনেক ফকিহ (الفقهاء) এটি গ্রহণ করেছেন" (২)।

ভ্রু উপড়ানো (النمص)-এর বিধানের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যে বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়; কোনো সময় তিনি একে জমহুর (جمهور) উলামায়ে কিরামের মাযহাব অনুযায়ী হারাম (حرام) মনে করেন, আবার কখনও স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে একে বৈধ (مباح) মনে করেন। তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভ্রু উপড়ানো (النمص) থেকে নিষেধ করেছেন। আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (সুদ গ্রহণকারী, সুদ দাতা, এর দুই সাক্ষী, এর লেখক, পরচুলা স্থাপনকারিণী ও স্থাপন গ্রহণকারিণী, উল্কি অঙ্কনকারিণী ও উল্কি গ্রহণকারিণী, ভ্রু উপড়ানকারিণী (النامصة) ও ভ্রু উপড়ানো গ্রহণকারিণীকে (المتنمصة) লানত করেছেন এবং বিলাপ করা থেকে নিষেধ করেছেন) (৩)। ভাষাবিদদের মতে আভিধানিক অর্থে ভ্রু উপড়ানো (النمص) হলো ভ্রুর পশমের সাথে সংশ্লিষ্ট। সেই অনুযায়ী, লানত ও নিষিদ্ধতা হলো ভ্রুর পশমের নিকটবর্তী হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত।

উম্মাহর জমহুর (جمهور) ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা সাধারণ (عام); কিন্তু ইমাম আবু হানিফা মনে করেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা স্বামীর অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ স্বামীর জন্য এই জাতীয় কাজের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অধিক গ্রহণযোগ্য (الراجح) মত হলো জমহুর (جمهور) উলামায়ে কিরামের অভিমত। কারণ নসসমূহ (النصوص) নিঃশর্ত (مطلقة) হিসেবে এসেছে এবং নিষেধাজ্ঞাও নিঃশর্তভাবে (مطلقاً) এসেছে। আলকামা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ (রা.) সেই সমস্ত নারীদের লানত করেছেন যারা উল্কি অঙ্কন করে, যারা ভ্রু উপড়ায় (المتنمصات) এবং যারা সৌন্দর্যের জন্য দাঁতের মাঝে ফাঁক তৈরি করে, যারা আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে। তখন উম্মে ইয়াকুব বললেন: ‘এগুলো কী?’ আবদুল্লাহ (রা.) বললেন: ‘আমি তাকে কেন লানত করব না যাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লানত করেছেন এবং যা আল্লাহর কিতাবে রয়েছে?’ তিনি বললেন: ‘আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই...’

--------------------------------------------

(১) কিতাবু ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, ৭৭ পৃষ্ঠা।

(২) কিতাবু ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, ১৫০ পৃষ্ঠা।

(৩) দৃশ্যত এটি সুন্নাহর গ্রন্থসমূহে বর্ণিত কয়েকটি হাদিসের সমষ্টি।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ২৫)
قرأت ما بين اللوحين فما وجدته، قال: والله لئن قرأته لقد وجدته: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (1) (2) " (3).

وقال: "هناك بعض الأخوات يردن أن يتزين لأزواجهن، هل هناك مانع في مثل هذه التصرفات؟

الجواب: لا تقترب من شعر الحاجبين، حتى لو كان هناك ما يستدعي ذلك، فقد ورد في الأحاديث البعد عن هذا، وعدت الشريعة هذا نوع من أنواع تغيير خلق الله، ولكن مذهب أبي حنيفة الذي يجيز هذا بإذن الزوج فقط، فهذا الحكم ينبغي أن يحذرن فيه غاية الحذر؛ لأن فيه لعن، وبعض العلماء جعل علامة الكبيرة هو وجود اللعن أو الخلود في النار، فينبغي عليها أن تبتعد عن هذا، وأن ترضى بحكم الله في هذا الشأن" (4).

ثم نراه يقول: "لا تشتغل في الحواجب إلا بإذن الزوج، وكلمة بإذن الزوج هذا هو المذهب الفقهي، هكذا يرى أبو حنيفة والشافعي، أنه يجوز للمرأة أن تعمل حواجبها بشرط موافقة الزوج، أي أنهما جعلا الوارد في الحديث متعلقًا بالتجمل والمخادعة لغير الزوج" (5).

وقال: "يجوز لك أن تزيلي شعر الوجه وتزجيج الحواجب، وهذا على مذهب الإمام الشافعي وأبي حنيفة" (6).

--------------------------------------------

(1) سورة الحشر، الآية 7.

(2) رواه البخاري في صحيحه، كتاب تفسير القرآن، باب وما آتاكم الرسول فخذوه، ورواه مسلم في صحيحه، كتاب اللباس والزينة، باب تحريم فعل الواصلة والمستوصلة والواشمة.

(3) كتاب فتاوى عصرية، ج2 ص 343.

(4) كتاب فتاوى البيت المسلم، ص 410.

(5) كتاب فتاوى عصرية، ج1 ص 482 - 483.

(6) كتاب فتاوى البيت المسلم، ص411.
আমি দুই মলাটের মধ্যবর্তী সব পড়েছি কিন্তু তা পাইনি। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, যদি তুমি তা পড়তে তবে অবশ্যই তা পেতে: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (১) (২)" (৩)।

তিনি আরও বলেছেন: "কিছু বোন আছেন যারা তাদের স্বামীদের জন্য সাজসজ্জা করতে চান, এজাতীয় কর্মকাণ্ডে কি কোনো বাধা আছে?

উত্তর: ভ্রুর লোমের নিকটবর্তী হবে না, এমনকি যদি তেমন কোনো প্রয়োজনও দেখা দেয়; কারণ হাদিসসমূহে এ থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা এসেছে এবং শরীয়ত একে আল্লাহর সৃষ্টি পরিবর্তনের একটি ধরণ হিসেবে গণ্য করেছে। তবে ইমাম আবু হানিফার মাযহাব অনুযায়ী কেবল স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে এটি বৈধ। তবে এই বিধানের ক্ষেত্রে নারীদের চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত; কারণ এতে অভিশাপ (لعن) রয়েছে। কোনো কোনো আলেম কোনো গুনাহ কবিরা গুনাহ (كبيرة) হওয়ার আলামত হিসেবে অভিশাপ অথবা চিরস্থায়ী জাহান্নামের শাস্তির কথা উল্লেখ থাকাকে নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং তার উচিত এ থেকে দূরে থাকা এবং এ বিষয়ে আল্লাহর ফয়সালা মেনে নেওয়া" (৪)।

এরপর আমরা তাকে বলতে দেখি: "স্বামীর অনুমতি ছাড়া ভ্রু নিয়ে কোনো কাজ করবে না। 'স্বামীর অনুমতি' কথাটি একটি ফিকহি মাযহাব। ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম শাফিয়ি এমনই মনে করেন যে, স্বামীর সম্মতির শর্তে নারীর জন্য ভ্রুর কাজ করা বৈধ; অর্থাৎ তারা হাদিসে বর্ণিত বিষয়টিকে পরপুরুষের জন্য সাজসজ্জা এবং ধোঁকা দেওয়ার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন" (৫)।

তিনি আরও বলেছেন: "তোমার জন্য মুখের লোম অপসারণ করা এবং ভ্রু চিকন করা জায়েজ, আর এটি ইমাম শাফিয়ি এবং ইমাম আবু হানিফার মাযহাব অনুযায়ী" (৬)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হাশর, আয়াত ৭।

(২) বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (رواه), কিতাবুত তাফসির, পরিচ্ছেদ: 'রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো'। এবং মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (رواه), কিতাবুল লিবাস ওয়াজ জিনাহ, পরিচ্ছেদ: পরচুলা লাগানো, অন্যের সাহায্যে পরচুলা লাগানো এবং উল্কি আঁকার নিষিদ্ধতা (تحريم) সম্পর্কিত।

(৩) কিতাব ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, ২য় খণ্ড, ৩৪৩ পৃষ্ঠা।

(৪) কিতাব ফাতাওয়া আল-বাইত আল-মুসলিম, ৪১০ পৃষ্ঠা।

(৫) কিতাব ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, ৪৮২ - ৪৮৩ পৃষ্ঠা।

(৬) কিতাব ফাতাওয়া আল-বাইত আল-মুসলিম, ৪১১ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ২৬)
ز - تناقض قوله في حكم بقاء المعتمر في مكة من رمضان إلى الحج بدون تأشيرة؛ حيث قال: "هل يجوز الذهاب للعمرة في رمضان، ثم الانقطاع في الحجاز حتى يأتي وقت الحج؟ الإجابة: نعم يجوز هذا" (1).

وقد يقول قائل: إن هذه الإجابة غير صريحة في الانقطاع دون تأشيرة، لكن قرائن الحال في المجتمع، تؤكد أنه يقصد بدون تأشيرة؛ حيث صرح في فتوى أخرى بوجود مائة ألف معتمر مصري تخفى بمكة إلى وقت الحج فقال مناقضًا هذه الفتوى: "ولقد أصدرت فتوى سنة 1426هـ حول هذا الموضوع، وكان المتخلفون بعد عمرة رمضان أكثر من 100 ألف، في حين أن الحجاج المصريين نحو 60 ألفًا، وبذلك فإن نحو ضِعف الحجاج الذين لهم مكان في الأماكن المقدسة يتواجدون في نفس الوقت من غير مكان، وذهبت هذه الفتوى من خلال فقه الأمة إلى تحريم هذا التخلف" (2)!!.

ح- تناقض قوله في صوم أهل البلاد الذين يطول النهار عندهم إلى عشرين ساعة؛ فقال عندما سئل عن صيام رمضان في شمال أوربا؛ حيث تبلغ مدة الصوم تسع عشرة ساعة: "الصوم الشرعي يبدأ من طلوع الفجر وينتهي بغروب الشمس كل يوم، فتختلف مدته باختلاف عروض البلاد، وكيفما كانت المدة فإن مجرد طولها لا يعد عذرًا شرعيًا يبيح الفطر، وإنما يباح الفطر إذا غلب على ظن الناس بإمارة ظهرت، أو تجربة وقعت، أو بإخبار طبيب حاذق، أن صومه هذه المدة يفضي إلى مرضه أو إلى إعياء شديد يضره، كما صرح به أئمة الحنفية، فيكون حكمه حكم المريض الذي يخشى التلف، أو أن

--------------------------------------------

(1) كتاب تيسير النهج في شرح مناسك الحج، ص 104.

(2) مقال في جريدة الأهرام، بعنوان: ما بعد الحج، بتاريخ 7/ 1/2008.
জ - রমজান থেকে হজ পর্যন্ত ভিসা ব্যতীত মক্কায় অবস্থানকারী উমরা পালনকারীর বিধান (حكم) সংক্রান্ত তাঁর বক্তব্যে বৈপরীত্য; যেখানে তিনি বলেছেন: "রমজানে উমরার উদ্দেশ্যে যাওয়া, অতঃপর হজের সময় আসা পর্যন্ত হিজাজে অবস্থান করা কি বৈধ (يجوز)? উত্তর: হ্যাঁ, এটি বৈধ (يجوز)" (১)।

কেউ হয়তো বলতে পারেন: এই উত্তরটি ভিসা ব্যতীত অবস্থানের বিষয়ে স্পষ্ট নয়, তবে সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা (قرائن الحال) নিশ্চিত করে যে, তিনি ভিসা ব্যতীত অবস্থানই বুঝিয়েছেন; যেহেতু তিনি অন্য এক ফতোয়ায় (فتوى) উল্লেখ করেছেন যে, এক লক্ষ মিশরীয় উমরাকারী হজের সময় পর্যন্ত মক্কায় আত্মগোপন করে থাকে। সেখানে তিনি এই ফতোয়ার (فتوى) বিপরীতে বলেছেন: "আমি ১৪২৬ হিজরীতে এই বিষয়টি নিয়ে একটি ফতোয়া (فتوى) প্রদান করেছিলাম, তখন রমজানের উমরার পর অবস্থানকারীদের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষেরও বেশি, যেখানে মিশরীয় হাজীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ হাজার। ফলে পবিত্র স্থানগুলোতে যাদের জায়গা বরাদ্দ আছে, তাদের প্রায় দ্বিগুণ মানুষ একই সময়ে কোনো নির্ধারিত স্থান ছাড়াই সেখানে অবস্থান করছিল। উম্মাহর ফিকহ (فقه) অনুযায়ী এই ফতোয়াটি এই ধরনের অবস্থানকে হারাম (تحريم) সাব্যস্ত করেছে" (২)!!.

হ- সেই সব দেশের অধিবাসীদের রোজা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যে বৈপরীত্য যাদের দিন বিশ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ হয়; উত্তর ইউরোপে রমজানের রোজা সম্পর্কে যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যেখানে রোজার সময় উনিশ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে, তখন তিনি বলেছিলেন: "শরীয়তসম্মত (شرعي) রোজা প্রতিদিন ফজর উদয় (طلوع الفجر) থেকে শুরু হয় এবং সূর্যাস্তের (غروب الشمس) মাধ্যমে শেষ হয়। দেশের অক্ষাংশ ভেদে এর সময়সীমা ভিন্ন ভিন্ন হয়। সময়সীমা যাই হোক না কেন, কেবল দীর্ঘ হওয়া কোনো শরয়ী ওজর (عذر شرعي) হিসেবে গণ্য হয় না যা রোজা ভঙ্গের (الفطر) অনুমতি দেয়। বরং রোজা ভঙ্গের (الفطر) অনুমতি তখনই দেওয়া যাবে যখন কোনো প্রকাশ্য আলামত, বাস্তব অভিজ্ঞতা কিংবা কোনো দক্ষ চিকিৎসকের তথ্যের ভিত্তিতে মানুষের প্রবল ধারণা (غلب على ظن) তৈরি হবে যে, এত দীর্ঘ সময় রোজা রাখা তাকে অসুস্থতার দিকে নিয়ে যাবে অথবা এমন তীব্র ক্লান্তিতে ফেলবে যা তার জন্য ক্ষতিকর; যেমনটি হানাফী ইমামগণ স্পষ্ট করেছেন। এমতাবস্থায় তার বিধান (حكم) সেই অসুস্থ ব্যক্তির মতো হবে যে প্রাণহানি বা ধ্বংসের (التلف) আশঙ্কা করে, অথবা...

--------------------------------------------

(১) কিতাবু তায়সীরিন নাহজ ফী শারহি মানাসিকিল হাজ, পৃষ্ঠা ১০৪।

(২) আল-আহরাম পত্রিকার নিবন্ধ, শিরোনাম: মা বাদাল হাজ, তারিখ: ৭/ ১/ ২০০৮।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ২৭)
يزيد مرضه، أو يبطئ شفاؤه إذا صام.

هذا هو المبدأ العام في رخصة الفطر وفى التيسير على المكلفين، وكل امرئ بصير بنفسه، عليم بحقيقة أمره، يعرف مكانها من حل الفطر وحرمته، فإذا كان صومه المدة الطويلة يؤدي إلى إصابته بمرض أو ضعف وإعياء يقينًا أو في غالب الظن بإحدى الوسائل العلمية التي أومأنا إليها، حلّ له الترخص بالفطر، وإذا كان لا يؤدى إلى ذلك حرُم عليه الفطر، والناس في ذلك مختلفون، ولكل حالة حكمها، والله يعلم السر وأخفى" (1).

وبعد صفحة واحدة فقط توجد له فتوى مخالفة، فقال: "حيث إن النهار يطول في نيوزلاندا عن حد الاعتدال حتى يقارب تسع عشرة ساعة، مما يسبب إرهاقًا شديدًا للمسلمين في صيامهم؛ لذلك فإننا نرى أن يقدر أهل هذه البلاد للصيام وقتًا معتدلاً، فيصوموا قدر الساعات التي يصومها المسلمون في أقرب البلاد المعتدلة إليهم، أو يتخذوا من مواقيت البلاد المعتدلة التي نزل فيها التشريع الإسلامي (مكة والمدينة) معيارًا للصوم قدر الساعات التي يصومها المسلمون في واحدة من هاتين المدينتين، على أن يبدأ الصوم بالنسبة لهم من طلوع الفجر الصادق عندهم، حسب موقعهم في الأرض، دون نطر إلى طول النهار وقصر الليل بالنسبة لهم، وأيضًا دون نظر إلى غروب الشمس أو اختفاء الضوء لدخول الليل، أي يكون مدة صيامهم متساوية مع أقرب البلاد الإسلامية لهم أو مكة والمدينة" (2).

ط- تناقض قوله في حكم مصافحة المرأة الأجنبية؛ فمرة يفتي بما يتوافق مع مضمون

--------------------------------------------

(1) كتاب فتاوى البيت المسلم، ص 98 - 99.

(2) كتاب فتاوى البيت المسلم، ص 90 - 91.
রোজা রাখলে তার অসুস্থতা বেড়ে যায়, অথবা তার আরোগ্য লাভ বিলম্বিত হয়।

রোজা ভঙ্গের অনুমতি (رخصة) এবং শরীয়তের বিধান পালনে আদিষ্ট ব্যক্তিদের (مكلفين) জন্য সহজীকরণের ক্ষেত্রে এটিই সাধারণ মূলনীতি। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে সম্যক অবগত এবং নিজের অবস্থার প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞানী; সে জানে রোজা ভঙ্গের বৈধতা (حل) এবং এর নিষিদ্ধতার (حرمة) প্রেক্ষিত। সুতরাং দীর্ঘ সময় রোজা রাখা যদি তাকে অসুস্থতার দিকে নিয়ে যায় অথবা নিশ্চিতভাবে (يقينًا) কিংবা প্রবল ধারণার (غالب الظن) ভিত্তিতে—যে বৈজ্ঞানিক উপায়গুলোর দিকে আমরা ইঙ্গিত করেছি—শারীরিক দুর্বলতা ও চরম ক্লান্তির কারণ হয়, তবে তার জন্য রোজা ভঙ্গের অনুমতি (رخصة) গ্রহণ করা বৈধ (حل)। আর যদি রোজা রাখা সেই পরিণতির দিকে না নিয়ে যায়, তবে তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা হারাম (حرمة) হবে। এই বিষয়ে মানুষের অবস্থা ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং প্রতিটি অবস্থার জন্য পৃথক বিধান (حكم) রয়েছে। আল্লাহ তাআলা গোপন এবং অতি গোপন বিষয় সম্পর্কেও অবগত।" (১)।

এর মাত্র এক পৃষ্ঠা পরেই তার একটি বিপরীতধর্মী ফতোয়া (فتوى) পাওয়া যায়, যেখানে তিনি বলেন: "যেহেতু নিউজিল্যান্ডে দিন স্বাভাবিক সীমার চেয়ে দীর্ঘ হয়ে প্রায় উনিশ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছায়, যা মুসলমানদের রোজা পালনে চরম ক্লান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়; তাই আমরা মনে করি যে, এই অঞ্চলের অধিবাসীদের রোজার জন্য একটি পরিমিত সময় নির্ধারণ করা উচিত। ফলে তারা তাদের নিকটবর্তী স্বাভাবিক অঞ্চলের দেশগুলোতে মুসলমানরা যত ঘণ্টা রোজা রাখে সেই পরিমাণ সময় রোজা রাখবে, অথবা যেখানে ইসলামি শরীয়ত অবতীর্ণ হয়েছে সেই স্বাভাবিক দেশগুলোর (মক্কা ও মদিনা) সময়সূচীকে রোজার মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করবে এবং এই দুই শহরের যেকোনো একটিতে মুসলমানরা যত ঘণ্টা রোজা রাখে সেই পরিমাণ সময় রোজা পালন করবে। এক্ষেত্রে তাদের রোজা শুরু হবে তাদের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী সুবহে সাদিকের (طلوع الفجر الصادق) উদয় থেকে, দিন দীর্ঘ হওয়া বা রাত ছোট হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা না করেই; একইভাবে সূর্যাস্ত বা রাত প্রবেশের জন্য আলো দূরীভূত হওয়ার দিকে লক্ষ্য না করেই। অর্থাৎ, তাদের রোজার সময়সীমা হবে তাদের নিকটবর্তী কোনো মুসলিম দেশ অথবা মক্কা ও মদিনার সময়ের সমান।" (২)।

৯- পরনারী (অপরিচিত নারী) এর সাথে করমর্দনের বিধান (حكم) সংক্রান্ত তার বক্তব্যের বৈপরীত্য; তিনি কখনো এমন ফতোয়া (فتوى) প্রদান করেন যা বিষয়ের মূলকথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ...

--------------------------------------------

(১) কিতাব ফাতাওয়া আল-বাইত আল-মুসলিম, পৃষ্ঠা ৯৮ - ৯৯।

(২) কিতাব ফাতাওয়া আল-বাইত আল-মুসলিম, পৃষ্ঠা ৯০ - ৯১।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ২৮)
الحديث الذي يحذر من مس امرأة لا تحل؛ فيقول: "لا تجوز مصافحة النساء الأجنبيات وهن من لسن بمحارم، والنساء المحارم هن من لا يجوز للمسلم التزوج بهن مطلقًا كالأم، والأخت، والبنت، والعمة، والخالة، والجدة، والأحفاد من البنات، وأم الزوجة، وزوجة الابن، وبنت الأخ، وبنت الأخت، والأم من الرضاع، وبنت الزوجة، وهن مذكورات في آية النساء رقم 23.

لا تجوز مصافحة الأجنبيات في العمل أو في أي مكان أو زمان، والأجنبيات كالزميلة في العمل أو الدراسة أو الجارة أو ابنة العم أو العمة أو الخال أو الخالة، وغيرهن ممن لسن بمحارم كما أسلفنا.

ومن صافح هؤلاء الأجنبيات فقد وقع في الحرام، وخالف سنة النبي العدنان؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم ما صافح امرأة قط، وعندما كان يبايع النساء كان يبايعهن بالإشارة بيده الشريفة صلى الله عليه وسلم، ويقول محذرا وحاظرًا من هذه المصافحة: (لأن يطعن في رأس أحدكم بمخيط من حديد خير له من أن يمس امرأة لا تحل له) " (1) ومرة يفتي بخلاف ذلك فنجد السؤال التالي: "السؤال: أنا فتاة منتقبة هل يجوز لي السلام على الرجال بحائل؟ الجواب: قال تعالى: {وَإِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا} (2) وبناء على ما سبق فإن سلام المرأة على الرجل إن كان لمجرد التحية دون أي غرض فهو جائز شرعا لدخول النساء في عموم الآية، أما إن كان السلام بالمصافحة بقصد التلذذ وإثارة الشهوة فهو حرام ويجب الابتعاد عنه" (3).

--------------------------------------------

(1) كتاب فتاوى عصرية، ج2، ص17، 18.

(2) سورة النساء، الآية 86.

(3) كتاب فتاوى عصرية، ج1 ص24.
যে হাদিস এমন নারীকে স্পর্শ করা সম্পর্কে সতর্ক করে যার সাথে বিবাহ বৈধ নয়; সেখানে বলা হয়েছে: "গায়রে-মাহরাম (أجنبيات) নারীদের সাথে মুসাফাহা (مصافحة) করা বৈধ (جائز) নয়। মাহরাম (محارم) নারী তারা, যাদেরকে কোনো মুসলিমের জন্য বিবাহ করা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ (حرام), যেমন: মা, বোন, কন্যা, ফুফু, খালা, দাদি, নাতনি, শাশুড়ি, পুত্রবধূ, ভ্রাতুষ্পুত্রী, ভাগনি, দুধমাতা এবং স্ত্রীর পূর্ববর্তী স্বামীর কন্যা (রবীবা); তারা সূরা নিসা-এর ২৩ নম্বর আয়াতে উল্লিখিত হয়েছেন।

কর্মক্ষেত্রে বা অন্য যেকোনো স্থানে বা সময়ে গায়রে-মাহরাম (أجنبيات) নারীদের সাথে মুসাফাহা (مصافحة) করা বৈধ (جائز) নয়। গায়রে-মাহরাম (أجنبيات) বলতে কর্মস্থল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নারী সহকর্মী, প্রতিবেশী, চাচাতো বোন, ফুফাতো বোন, মামাতো বোন বা খালাতো বোন এবং ইতিপূর্বে উল্লিখিত মাহরাম (محارم) ছাড়া অন্য নারীদের বোঝায়।

আর যে ব্যক্তি এই গায়রে-মাহরাম (أجنبيات) নারীদের সাথে মুসাফাহা (مصافحة) করবে, সে নিষিদ্ধ (حرام) কাজে লিপ্ত হলো এবং নবী আদনানের সুন্নাহর (سنة) বিরোধিতা করল; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোনো নারীর সাথে মুসাফাহা (مصافحة) করেননি। তিনি যখন নারীদের নিকট থেকে বায়আত (بيعة) গ্রহণ করতেন, তখন তাঁর পবিত্র হাত মুবারকের ইশারায় বায়আত (بيعة) নিতেন। তিনি এই মুসাফাহা (مصافحة) থেকে সতর্ক ও বারণ করে বলেন: (তোমাদের কারো মাথায় লোহার পেরেক ঠুকে দেওয়া ঐ নারীর স্পর্শের চেয়েও উত্তম, যে নারী তার জন্য বৈধ নয়) (১) তবে অন্য ক্ষেত্রে ভিন্ন ফতোয়া (فتوى) দেওয়া হয়েছে, যেখানে আমরা নিম্নোক্ত প্রশ্নটি পাই: "প্রশ্ন: আমি একজন নিকাবধারী তরুণী। আমার জন্য কি পর্দার আড়ালে থেকে পুরুষদের সালাম দেওয়া বৈধ (جائز) হবে? উত্তর: মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন তোমাদেরকে কোনো অভিবাদন জানানো হয়, তখন তোমরা তার চেয়েও সুন্দর অভিবাদন জানাও অথবা সেটাই ফিরিয়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।} (২) এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, যদি কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছাড়া নিছক অভিবাদনের জন্য কোনো নারী কোনো পুরুষকে সালাম দেয়, তবে তা শরয়িভাবে বৈধ (جائز), কারণ নারীরা এই আয়াতের সাধারণ হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। পক্ষান্তরে, যদি মুসাফাহার (مصافحة) মাধ্যমে তৃপ্তি লাভ বা কুপ্রবৃত্তি জাগানোর উদ্দেশ্যে সালাম বিনিময় হয়, তবে তা নিষিদ্ধ (حرام) এবং তা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক (واجب)।" (৩)।

--------------------------------------------

(১) কিতাব ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৭, ১৮।

(২) সূরা নিসা, আয়াত ৮৬।

(৩) কিতাব ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৪।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌ثالثًا: تحريف النقول

يستلزم النقل عن كتب أهل العلم فهمًا للكلام الذي يستشهد به، وفهما للقضية التي يستشهد عليها، ويستلزم أمانة في النقل، حتى لا تُتقول الأباطيل على الأموات، ويساء الظن بهم.

ومن الملاحظ في نتاج د. علي جمعة أمور تخل بالنقول، وتحرفها عن مقصد أصحابها، وذلك بذكر نقول لا تدل على المعنى الذي يريد، وكذلك بنقل النص بالمعنى مع ذكر معنى لا يمت للنص المنقول منه بصلة، وكذلك بتر النقول حتى لا يتضح المعنى الأصلي للكلام، والبحث في كتب الحواشي عن بعض الكلمات الموهمة فيخرجها عن سياقها ويشرحها شرحًا يحقق مقصوده، أضف إلى ذلك الاختصار المخل، وتعميم القول، فينسب مثلاً قول أحد المالكية للإمام مالك والمالكية، ويصحب ذلك أحيانًا عدم ذكر مصدر النقل، أو نسبة النص لغير قائله، أو ذكر مصدر عام غير محدد بدقة، مما يصعب على الباحث مهمة التأكد من النقل، ومن أمثلة ذلك ما يلي:

أ- أورد فتوى مطولة عن الوصية للوارث، في 4 صفحات (1)، والمنشور في كتاب فتاوى دار الإفتاء، أن السؤال والجواب بنصيهما من فتاوى دار الإفتاء المصرية عام 1985 للشيخ محمد مجاهد، وليست للدكتور علي جمعة، وهذا عمل مستغرب، لا أدري ما تفسيره؟

ب- قال: "يرى الإمام الشافعي أن حلق اللحية مكروه، وهذا معناه أنه يجوز حلقها ولكن مع الكراهة، ومعنى هذا أن الإنسان إذا أطلقها فهذا تقليد للنبي صلى الله عليه وسلم، وإذا حلقها فلا إثم عليه، وهذا نص كلام الشافعي" (2).

--------------------------------------------

(1) كتاب فتاوى البيت المسلم، ص 324 - 327.

(2) كتاب فتاوى البيت المسلم، ص 406.
‌‌তৃতীয়ত: উদ্ধৃতি বিকৃতি

বিদ্বানগণের কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের (نقل) ক্ষেত্রে উদ্ধৃত বক্তব্যের সঠিক অনুধাবন এবং যে বিষয়ের স্বপক্ষে উদ্ধৃতি দেওয়া হচ্ছে সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা অপরিহার্য। পাশাপাশি উদ্ধৃতি প্রদানের (نقل) ক্ষেত্রে আমানতদারিতা বজায় রাখা আবশ্যক, যাতে মৃত ব্যক্তিদের ওপর মিথ্যারোপ করা না হয় এবং তাদের সম্পর্কে কুধারণা সৃষ্টি না হয়।

ডা. আলী জুমার কাজে এমন কিছু বিষয় লক্ষ্য করা যায় যা উদ্ধৃতি প্রদানের (نقل) নীতিকে ক্ষুণ্ণ করে এবং সেগুলোকে রচয়িতার মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করে। এটি ঘটে এমন সব উদ্ধৃতি উল্লেখ করার মাধ্যমে যা কাঙ্ক্ষিত অর্থ নির্দেশ করে না। একইভাবে অর্থের মাধ্যমে উদ্ধৃতি প্রদানের (النقل بالمعنى) ক্ষেত্রে মূল পাঠের (نص) সাথে কোনো সম্পর্ক নেই এমন অর্থ উল্লেখ করা, উদ্ধৃতিকে খণ্ডিত করা (بتر) যাতে বক্তব্যের মূল অর্থ স্পষ্ট না হয় এবং টীকাগ্রন্থসমূহে এমন কিছু বিভ্রান্তিকর শব্দ অনুসন্ধান করা যা তিনি প্রেক্ষাপট (سياق) থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল হয় এমনভাবে ব্যাখ্যা করেন। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ক্ষতিকর সংক্ষিপ্তকরণ এবং বক্তব্যের সাধারণীকরণ; যেমন কোনো একজন মালিকি মাজহাবের আলেমের বক্তব্যকে ইমাম মালিক ও মালিকি মাজহাবের সাধারণ বক্তব্য হিসেবে নিসবত করা। এর সাথে মাঝেমধ্যে উদ্ধৃতির উৎস উল্লেখ না করা, অথবা কোনো বক্তব্যকে তার প্রকৃত বক্তা ব্যতীত অন্য কারো দিকে নিসবত করা, কিংবা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত না করে কোনো সাধারণ উৎসের নাম উল্লেখ করাও লক্ষ্য করা যায়, যা গবেষকের জন্য উদ্ধৃতিটি যাচাই করার কাজকে কঠিন করে তোলে। এর কিছু উদাহরণ নিম্নরূপ:

ক- ওয়ারিশের অনুকূলে অসিয়ত করা সম্পর্কে ৪ পৃষ্ঠা (১) ব্যাপী একটি দীর্ঘ ফতোয়া উল্লেখ করেছেন। অথচ ফাতাওয়া দারুল ইফতা গ্রন্থে যা প্রকাশিত হয়েছে তা অনুযায়ী প্রশ্ন ও উত্তর উভয়ের হুবহু পাঠ (نص) ১৯৮৫ সালের মিশরীয় দারুল ইফতা-এর ফতোয়া থেকে নেওয়া, যা শেখ মুহাম্মদ মুজাহিদের; এটি ডা. আলী জুমার নয়। এটি একটি বিস্ময়কর কাজ, এর ব্যাখ্যা কী তা আমার জানা নেই?

খ- তিনি বলেছেন: "ইমাম শাফিঈর মতে দাড়ি মুণ্ডন করা অপছন্দনীয় (مكروه); আর এর অর্থ হলো দাড়ি মুণ্ডন করা জায়েজ কিন্তু তা অপছন্দনীয়তার সাথে। এর মানে হলো যদি কোনো ব্যক্তি দাড়ি রাখে তবে তা নবী (সা.)-এর অনুসরণ হিসেবে গণ্য হবে, আর যদি সে তা মুণ্ডন করে তবে তার কোনো গুনাহ হবে না। এটিই শাফিঈর বক্তব্যের মূল পাঠ (نص)" (২)।

--------------------------------------------

(১) কিতাব ফাতাওয়া আল-বাইতুল মুসলিম, পৃষ্ঠা ৩২৪ - ৩২৭।

(২) কিতাব ফাতাওয়া আল-বাইতুল মুসলিম, পৃষ্ঠা ৪০৬।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ৩০)
لا أدري أي نص هذا الذي ذكره؟!! لا يوجد البتة نص للشافعي يقول بكراهية حلق اللحية، بل يوجد نص على تحريم حلق اللحية، قال الشافعي في الأم: (ولو حلقه حلاق فنبت شعره كما كان أو أجود لم يكن عليه شيء، والحلاق ليس بجناية؛ لأن فيه نسكا في الرأس، وليس فيه كثير ألم، وهو وإن كان في اللحية لا يجوز فليس فيه كثير ألم ولا ذهاب شعر؛ لأنه يستخلف) (1) فصرح بأن حلق اللحية لا يجوز، وقصارى ما يستطيعه أن يحاول فهم نص من نصوص الشافعي على جواز تقصير بعض اللحية في الحج والعمرة، وشتان بين هذا وذاك.

ج- ومن النقولات العجيبة، أنه رأى فتوى للشيخ عليش يرجح فيها فتوى العز بن عبد السلام بمنع الذكر بصيغة الله الله مقتصرًا عليها، فادعى أمورًا عجيبة؛ ليبرهن على أن العز بن عبد السلام والشيخ عليش رجعا عن ذلك فقال: "والشيخ عليش كان في بدايته وهو عنده 20 سنة، إذ كان لم يسلك طريق أهل الله، ولذلك تراه في هذه الفتاوى يسأل عن الذكر بالاسم المفرد يا الله يا الله يا الله، قال نقلا عن العز بن عبد السلام: إن هذا الذكر لم يرد، فقابل العز بن عبد السلام بعد ذلك أبو الحسن الشاذلي وأخذ عنه الذكر المفرد … ، اقتنع العز بن عبد السلام؛ لأنه كان وقافا عند كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، واقتنع بعد ذلك الشيخ عليش، وأصبح في سند الطريقة الشاذلية!!! " (2) العز بن عبد السلام توفي سنة 660هـ، والشيخ عليش ولد سنة 1217هـ!

د- ومن الأمور العجيبة دعواه نقل الإجماع على استحباب قراءة القرآن عند القبر

--------------------------------------------

(1) كتاب الأم، ج6، ص82 - 83، ط دار المعرفة- بيروت.

(2) كتاب فتاوى عصرية، ج1 ص 227.
তিনি কোন উদ্ধৃতির কথা বলছেন তা আমার জানা নেই?!! ইমাম শাফেয়ীর এমন কোনো বক্তব্য একেবারেই নেই যেখানে তিনি দাড়ি মুণ্ডানোকে অপছন্দনীয় (كراهية) বলেছেন, বরং দাড়ি মুণ্ডানো নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার ব্যাপারে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে। ইমাম শাফেয়ী আল-উম্ম গ্রন্থে বলেছেন: (যদি কোনো নাপিত তা মুণ্ডন করে দেয় এবং চুল আগের মতো বা তার চেয়েও উত্তমভাবে গজায়, তবে তার ওপর কোনো জরিমানা নেই। আর চুল কাটা কোনো অপরাধ নয়; কারণ মাথার ক্ষেত্রে এতে ইবাদতের (نسك) বিধান রয়েছে এবং এতে খুব বেশি ব্যথাও নেই। যদিও দাড়ির ক্ষেত্রে তা জায়েজ নয় (لا يجوز), তবুও এতে অধিক যন্ত্রণা নেই এবং চুলও একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায় না; কারণ তা পুনরায় গজায়) (১)। সুতরাং তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে দাড়ি মুণ্ডানো জায়েজ নয় (لا يجوز)। তিনি (উক্ত বক্তা) বড়জোর যা করতে পারেন তা হলো, হজ ও উমরার সময় দাড়ির কিছু অংশ ছোট করার বৈধতা (جواز) সংক্রান্ত শাফেয়ীর কোনো একটি বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা। অথচ এই দুই বিষয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

গ- একটি অদ্ভুত উদ্ধৃতি এই যে, তিনি শায়খ আলীশের একটি ফতোয়া দেখেছেন যেখানে তিনি এককভাবে 'আল্লাহ আল্লাহ' শব্দে জিকির নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে ইয বিন আব্দুস সালামের ফতোয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অতঃপর তিনি এটি প্রমাণ করার জন্য কিছু অদ্ভুত দাবি করেছেন যে, ইয বিন আব্দুস সালাম এবং শায়খ আলীশ সেই অবস্থান থেকে ফিরে এসেছিলেন। তিনি বলেন: "শায়খ আলীশ যখন ২০ বছরের যুবক ছিলেন তখন তিনি এই পথে (সুফি তরিকায়) প্রবেশ করেননি। এই কারণেই আপনি তাঁকে এই ফতোয়াগুলোতে একক নাম 'ইয়া আল্লাহ, ইয়া আল্লাহ' জিকির সম্পর্কে প্রশ্ন করতে দেখেন। তিনি ইয বিন আব্দুস সালামের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: এই জিকিরটি বর্ণিত হয়নি (لم يرد)। এরপর ইয বিন আব্দুস সালামের সাথে আবুল হাসান শাযলীর সাক্ষাৎ হয় এবং তিনি তাঁর কাছ থেকে একক নামের জিকির গ্রহণ করেন … , ইয বিন আব্দুস সালাম সন্তুষ্ট হয়েছিলেন; কারণ তিনি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর অনুসারী ছিলেন। এরপর শায়খ আলীশও সন্তুষ্ট হন এবং তিনি শাযলী তরীকার সনদে অন্তর্ভুক্ত হন!!!" (২) অথচ ইয বিন আব্দুস সালাম ৬৬০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং শায়খ আলীশ ১২১৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন!

ঘ- আরেকটি বিস্ময়কর বিষয় হলো কবরের পাশে কুরআন পাঠ মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার ব্যাপারে ইজমা (إجماع) বা সর্বসম্মত ঐকমত্যের দাবি করা।

--------------------------------------------

(১) কিতাবুল উম্ম, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৮২ - ৮৩ পৃষ্ঠা, দারুল মারিফাহ সংস্করণ- বৈরুত।

(২) কিতাব ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, ২২৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আদ-দুকতুর আলী জুমআ ইলা আয়না (পৃষ্ঠা: ৩১)
بتحريف عجيب للنقل؛ فقال: "أجمع العلماء على استحباب قراءة القرآن على القبر، كما نقل ذلك الشيخ العثماني في رحمة الأمة في اختلاف الأئمة، وعبارته في ذلك: (وأجمعوا على أن الاستغفار، والدعاء، والصدقة، والحج، والعتق، تنفع الميت ويصل إليه ثوابه، وقراءة القرآن عند القبر مستحبة) " (1)، لكن المفاجأة أن ما حصل تحريف عجيب، فعند الرجوع لكتاب العثماني رحمة الأمة نجد قوله: (وأجمعوا على أن الاستغفار والدعاء والصدقة والحج تنفع الميت ويصل إليه ثوابه، وقراءة القرآن عند القبر مستحبة وكرهها أبو حنيفة) (2) فعبارة وقراءة القرآن عند القبر غير معطوفة على قوله وأجمعوا!!!.

هـ- قال: "وفي مجموع فتاوى ابن تيمية في المجلد الثالث، وهو يحكي عن مناظرة صفي الدين الهندي إمام الأشاعرة لابن تيمية في صفحة 187: قال الصفي الهندي: (قلت له: أنتم ما لكم على الرجل اعتراض؛ فإنه نصر ترك التأويل وأنتم تنصرون قول التأويل، وهما قولان للأشعري). ونقلُ ابنِ تيمية هذا وقبولُه له يدل على أنه كان أشعريًّا ورضي بذلك، ولكن بعضهم يحاول أن يجعله على مذهب ابتدعوه اسمه مذهب السلف" (3).

وهذا الكلام فيه افتئات على ابن تيمية؛ لأمور:

أولاً: موقف ابن تيمية من الأشعرية واضح، وكتبه مليئة بالرد عليهم، ومناقشتهم في كثير من القضايا، وهذا أمر ظاهر بيّن، وما أمر عداوة كثير من أشعرية عصره له،

--------------------------------------------

(1) كتاب فتاوى عصرية، ج2 ص188، ونقل قريبًا من هذا الكلام في نفس الكتاب ص 181، وفي كتاب البيان لما يشغل الأذهان مائة فتوى لرد أهم شبه الخارج ولم شمل الداخل ص 284.

(2) كتاب رحمة الأمة في اختلاف الأئمة، ص70.

(3) مقال في جريدة الأهرام، بعنوان: الأشعرية أهل السنة عبر العصور، بتاريخ 25/ 2/2008.
উদ্ধৃতির এক বিস্ময়কর বিকৃতির মাধ্যমে তিনি বলেছেন: "কবরস্থানে কুরআন পাঠ মুস্তাহাব (مستحبة) হওয়ার ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম ঐকমত্য (أجمعوا) পোষণ করেছেন, যেমনটি শাইখ উসমানি ‘রাহমাতুল উম্মাহ ফী ইখতিলাফিল আইম্মাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তার ইবারত হলো: (উলামায়ে কেরাম একমত (أجمعوا) হয়েছেন যে— ইস্তিগফার, দুআ, সদকা, হজ এবং গোলাম আযাদ করা মৃত ব্যক্তির উপকারে আসে এবং এর সওয়াব তার কাছে পৌঁছায়; আর কবরের নিকট কুরআন পাঠ করা মুস্তাহাব (مستحبة))" (১)। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এখানে এক অদ্ভুত বিকৃতি ঘটেছে। কেননা শাইখ উসমানির ‘রাহমাতুল উম্মাহ’ মূল কিতাবের দিকে ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে সেখানে বলা হয়েছে: (উলামায়ে কেরাম একমত (أجمعوا) হয়েছেন যে— ইস্তিগফার, দুআ, সদকা এবং হজ মৃত ব্যক্তির উপকারে আসে এবং এর সওয়াব তার কাছে পৌঁছায়; আর কবরের নিকট কুরআন পাঠ করা মুস্তাহাব (مستحبة), তবে ইমাম আবু হানিফা একে অপছন্দ করেছেন) (২)। ফলে 'কবরের নিকট কুরআন পাঠ করা' বাক্যটি 'তারা একমত (أجمعوا) হয়েছেন' কথাটির সাথে সংযুক্ত নয়!!!

ঙ- তিনি বলেছেন: "মাজমুউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর তৃতীয় খণ্ডে ১৮৭ পৃষ্ঠায় আশআরী ইমাম সফিউদ্দীন আল-হিন্দীর সাথে ইবনে তাইমিয়্যাহর একটি বিতর্কের বর্ণনা দিতে গিয়ে সফি আল-হিন্দি বলেন: (আমি তাকে বললাম: আপনারা এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি করতে পারেন না; কারণ তিনি তাবিল (تأويل) বর্জন করার মতকে সমর্থন করেছেন আর আপনারা তাবিল (تأويل) করার মতকে সমর্থন করেন, অথচ উভয়টিই ইমাম আশআরীর দুটি মত)। ইবনে তাইমিয়্যাহর এই বর্ণনাটি উল্লেখ করা এবং তা গ্রহণ করা প্রমাণ করে যে, তিনি আশআরী ছিলেন এবং এতে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন। কিন্তু কেউ কেউ তাকে একটি নব উদ্ভাবিত মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত করতে চায়, যার নাম তারা দিয়েছে ‘সালাফদের মাযহাব’" (৩)।

এই বক্তব্যটি ইবনে তাইমিয়্যাহর ওপর একটি অপবাদ; এর কয়েকটি কারণ রয়েছে:

প্রথমত: আশআরী মতাদর্শের ব্যাপারে ইবনে তাইমিয়্যাহর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। তার গ্রন্থসমূহ তাদের খণ্ডন এবং বহু মাসআলায় তাদের সাথে তর্কালাপে পরিপূর্ণ। এটি একটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট বিষয়। এমনকি তার সমসাময়িক বহু আশআরী আলিমের তার প্রতি শত্রুতা পোষণ করার বিষয়টিও সর্বজনবিদিত।

--------------------------------------------

(১) কিতাব ফাতাওয়া আসরিয়্যাহ, ২য় খণ্ড, ১৮৮ পৃষ্ঠা; এই কিতাবেরই ১৮১ পৃষ্ঠায় এবং 'আল-বায়ান লিমা ইউশগিলুল আযহান মিয়াতু ফাতওয়া লি-রাদ্দি আহাম্মি শুবাহিল খারিজি ওয়া লাম্মি শামলিদ দাখিল' কিতাবের ২৮৪ পৃষ্ঠায় অনুরূপ কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) কিতাব রাহমাতুল উম্মাহ ফী ইখতিলাফিল আইম্মাহ, পৃষ্ঠা ৭০।

(৩) আল-আহরাম পত্রিকার একটি নিবন্ধ, শিরোনাম: 'আল-আশআরিয়্যাহ আহলুস সুন্নাহ আবরাল উসুর', তারিখ: ২৫/০২/২০০৮।