(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
جماليات المفردة القرآنية   (أحمد ياسوف)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: جماليات المفردة القرآنية

المؤلف: أحمد ياسوف

الناشر: دار المكتبى - دمشق

عدد الصفحات: 353

الطبعة: الثانية، 1419 هـ - 1999م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 ذو القعدة 1432

কুরআনের শব্দের নান্দনিকতা   (আহমদ ইয়াসুফ)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি


বই: কুরআনের শব্দের নান্দনিকতা

লেখক: আহমদ ইয়াসুফ

প্রকাশক: দার আল-মাকতাবি - দামেস্ক

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫৩

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ

[বইয়ের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ যিলকদ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شكر واهداء

أشكر الله عز وجل أن قدّر لي العمل في خدمة القرآن الكريم والسنة الشريفة، كما أشكر جميع أساتذتي في كلية الآداب الذين دأبوا في تشجيعي على البحث العلمي وأرجو أن أكون عند حسن ظن أساتذتي، وأن يتقبل الله عني هذا العمل.

وأهدي هذا البحث إلى أستاذي الفاضل الدكتور نور الدين عتر الذي سدّد خطاي وأضاء لي سبيل العلم، وزرع في أعماقي حب البحث العلمي والتفاني فيه، وأرجو من الله تعالى أن يجزيه الخير الكثير.
কৃতজ্ঞতা ও উৎসর্গ

আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে, তিনি আমাকে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর খিদমতে কাজ করার তাওফিক দান করেছেন। পাশাপাশি আমি কলা অনুষদের আমার সকল শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যারা আমাকে জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণায় উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন ভূমিকা পালন করেছেন। আমি আশা করি আমি আমার শিক্ষকদের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে পারব এবং আল্লাহ যেন আমার পক্ষ থেকে এই কর্মটি কবুল করেন।

আমি এই গবেষণাটি আমার সম্মানিত উস্তাদ ডক্টর নুর উদ্দিন ইতর-কে উৎসর্গ করছি, যিনি আমার পথচলাকে সুসংহত করেছেন এবং আমার জন্য ইলমের পথকে আলোকিত করেছেন, আর আমার অন্তরের গভীরে জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণার প্রতি ভালোবাসা ও এতে একনিষ্ঠ হওয়ার বীজ বপন করেছেন; আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে প্রচুর কল্যাণ দান করেন।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌التقريظ بقلم الأستاذ الدكتور نور الدين عتر

بسم الله الرّحمن الرّحيم رئيس قسم علوم القرآن والسنة في جامعة دمشق الأستاذ في كليات الشريعة والآداب بجامعتي دمشق وحلب الحمد لله الذي أنزل القرآن، معجزة باقية على مدى الزمان، وأفضل الصلاة والسلام على سيدنا محمد المؤيد بأعظم الدلائل والبينات وعلى آله وصحبه والتابعين لهم باحسان.

أما بعد:

فإن القرآن الكريم قد اختص بأنه معجزة بالغة تتحدى كل إنسان في كل زمان ومكان، أيا كانت ثقافته وأدبه، وقد أفادتنا الدراسات المتعددة التي قام بها أئمة البيان على مر العصور أن إعجاز القرآن لا يقتصر على مقياس فني معين في عصر من العصور، وأن أي عصر مهما تقدم في الدراسة الأدبية لا يحيط بإعجاز القرآن، بل إن القرآن معجز وفق أي مقياس فني أدبي صحيح وذوق جمالي سليم في كل عصر وزمان.

ومن هنا يزداد إدراك القارئ لأهمية هذه الرسالة «جماليات المفردة القرآنية» التي أعدّها تلميذنا النبيه الأستاذ أحمد ياسوف معيدنا في كلية الآداب بجامعة حلب، لما أنه وفّى دراسة بحثه في ضوء الدراسات القديمة، كما وفى بسدّ حاجة القارئ وثقافة العصر من دراسات الأدب المعاصر.

وقد استكمل الباحث دراسته، وأحاط بالموضوع في ضوء خطة شاملة جوانب الدراسة، فتناول فيها دراسة الجوانب الجمالية للمفردة القرآنية بصورة
প্রফেসর ডক্টর নূরুদ্দীন ইতর এর প্রশংসা বাণী

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআন ও সুন্নাহ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এবং দামেস্ক ও আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ ও কলা অনুষদের অধ্যাপক। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কুরআন নাযিল করেছেন, যা সর্বকালের জন্য এক চিরস্থায়ী মুজিযা; এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সালাত ও সালাম আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি মহান নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণাদির মাধ্যমে সমর্থিত, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই কুরআনুল কারীম এই বৈশিষ্ট্যে অনন্য যে, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মুজিযা যা প্রত্যেক যুগে ও স্থানে প্রতিটি মানুষকে চ্যালেঞ্জ করে, চাই তার সংস্কৃতি ও সাহিত্য যে স্তরেরই হোক না কেন। যুগ যুগ ধরে অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমামগণ কর্তৃক পরিচালিত বহুমুখী গবেষণা আমাদের এই তথ্য প্রদান করে যে, কুরআনের মুজিযা বা অলৌকিকত্ব কোনো নির্দিষ্ট যুগের কোনো বিশেষ শৈল্পিক মানদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এবং কোনো যুগই সাহিত্যিক গবেষণায় যতই অগ্রসর হোক না কেন, তা কুরআনের মুজিযাকে পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারে না। বরং কুরআন প্রতিটি যুগে ও সময়ে যেকোনো সঠিক শৈল্পিক-সাহিত্যিক মানদণ্ড এবং নির্মল নান্দনিক রুচি অনুযায়ী এক মুজিযা।

আর এখান থেকেই পাঠকের কাছে এই গবেষণাপত্র "জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআ নিয়্যাহ" (কুরআনের শব্দাবলির নান্দনিকতা)-এর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়, যা আমাদের মেধাবী ছাত্র উস্তাদ আহমদ ইয়াসুফ প্রস্তুত করেছেন, যিনি আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের আমাদের একজন শিক্ষক। কারণ তিনি প্রাচীন গবেষণাসমূহের আলোকে তার এই গবেষণাকর্মকে যেমন পূর্ণতা দান করেছেন, তেমনি সমসাময়িক সাহিত্যের গবেষণার মাধ্যমে আধুনিক যুগের সংস্কৃতি ও পাঠকের চাহিদাও পূরণ করেছেন।

গবেষক তার অধ্যয়ন সম্পন্ন করেছেন এবং একটি ব্যাপক পরিকল্পনার আলোকে বিষয়ের সকল দিক পরিবেষ্টন করেছেন, যেখানে তিনি কুরআনের শব্দাবলির নান্দনিক দিকগুলো এমন এক পদ্ধতিতে আলোচনা করেছেন যা...
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
عامة، ثم درس إسهام المفردة القرآنية في الجمال البصري، ثم أتبعه بجمال المفردة السمعي، ثم أكمل الجوانب ببحث الظلال التي تضفيها المفردة على المعنى .. إلى آخر ما هناك من دراسات فنية جمعت بين القديم والحديث، بالإضافة إلى فنون البلاغة واللغة والإعراب، وغير ذلك مما يحتاج إلى مزيد من الصبر والثبات لتقديم دراسة مبتكرة تفيد من دراسات القدامى ومن نظريات المحدثين.

وهذا مسرد مراجع الرسالة يضع أمامنا ذخيرة من المصادر الواسعة والمتنوعة قديمة وحديثة: في التفسير، والحديث، وعلوم القرآن، واللغة، والبلاغة، وفقه اللغة، والإعراب، والتجويد، ودراسات القرآن، وعلم الجمال، والتنظير الفني والأدبي، والنقد الأدبي، وعلم النفس، وعلم التربية، بالإضافة إلى التاريخ، وتاريخ الأدب، وأصوله، أي ما يزيد على خمسة عشر علما وفنا رجع إليها الباحث، وأعمل ذهنه في أدواتها واستخدامها، لكي يقدم لنا هذا الكتاب، مما يدل ولا شك على تمكن وعلى مقدرة عالية في الدراسة والبحث.

وقد خرج الكتاب بنتائج هامة في الدراسات القرآنية، في مقدمتها قضية على غاية الخطورة والأهمية، وهي أن المفردة لها مكانتها في إعجاز القرآن، ولها جوانبها المتعددة الثرية، وأن إعجاز القرآن ليس قاصرا على مفهوم عصر معين للجمال أو مقياس عصر ما في سمو الأدب، بل هو معجز وفق أي ذوق سليم وأي مقياس فني جمالي صحيح، يتجدد عبر العصور، فهو معجزة بيانية لا تنتهي على مدى الأعوام ولا على مدى الأزمان، تدعو الناس إلى تأمل جمالها المعجز، لتسير بهم من طريقه إلى الإيمان.
সাধারণভাবে, এরপর তিনি চাক্ষুষ সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে কুরআনের একক শব্দের অবদান নিয়ে আলোচনা করেছেন। অতঃপর এর সাথে যুক্ত করেছেন শব্দের শ্রবণগত সৌন্দর্য। এরপর শব্দের অর্থের ওপর যে আবহ বা ছায়া তৈরি হয়, তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে তিনি অন্যান্য দিকগুলো পূর্ণ করেছেন... প্রাচীন ও আধুনিকের সমন্বয়কারী শিল্পতাত্ত্বিক পর্যালোচনার শেষ পর্যন্ত; এর পাশাপাশি অলঙ্কারশাস্ত্র, ভাষা ও বাক্য বিশ্লেষণ এবং আরও এমন অনেক বিষয় যা একটি উদ্ভাবনী গবেষণা উপস্থাপনের জন্য চরম ধৈর্য ও দৃঢ়তার দাবি রাখে, যা প্রাচীনদের গবেষণা এবং আধুনিকদের তত্ত্বসমূহ থেকে সমানভাবে উপকৃত।

গবেষণাপত্রটির এই রেফারেন্স তালিকা আমাদের সামনে প্রাচীন ও আধুনিক প্রচুর ও বৈচিত্র্যময় উৎসের এক বিশাল ভাণ্ডার তুলে ধরে: তাফসির, হাদিস, কুরআনুল কারিমের জ্ঞান, ভাষা, অলঙ্কারশাস্ত্র, ভাষাতত্ত্ব, বাক্য বিশ্লেষণ, তাজবিদ, কুরআন বিষয়ক গবেষণা, নন্দনতত্ত্ব, শৈল্পিক ও সাহিত্যিক তাত্ত্বিকতা, সাহিত্য সমালোচনা, মনোবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান এবং এর সাথে ইতিহাস, সাহিত্যের ইতিহাস ও এর মূলনীতিসমূহ। অর্থাৎ পনেরোটিরও বেশি জ্ঞান ও শিল্পের শাখা, যেখানে গবেষক প্রত্যাবর্তন করেছেন এবং এ বইটিকে আমাদের সামনে পেশ করার জন্য তিনি এগুলোর উপকরণ ও প্রয়োগে স্বীয় মেধা নিয়োগ করেছেন। এটি সন্দেহাতীতভাবে গবেষণা ও অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে তাঁর গভীর দখল ও উচ্চতর সক্ষমতার প্রমাণ দেয়।

বইটি কুরআনুল কারিমের গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফলাফল নিয়ে এসেছে, যার অগ্রভাগে রয়েছে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; তা হলো কুরআনের অলৌকিকত্বের ক্ষেত্রে একক শব্দের একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে এবং এর বহুমুখী ও সমৃদ্ধ দিক রয়েছে। কুরআনুল কারিমের এই অলৌকিকত্ব কোনো নির্দিষ্ট যুগের সৌন্দর্যের ধারণা বা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সাহিত্যের উচ্চমানের মাপকাঠির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা যেকোনো সুস্থ রুচিবোধ এবং সঠিক শৈল্পিক ও নন্দনতাত্ত্বিক মাপকাঠিতেই অলৌকিক। এটি যুগের বিবর্তনে নবায়নযোগ্য। সুতরাং এটি একটি বর্ণনামূলক অলৌকিকতা, যা বছর বা কালের আবর্তে শেষ হয়ে যায় না। এটি মানুষকে এর অলৌকিক সৌন্দর্য নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান জানায়, যাতে তা এর মাধ্যমে মানুষকে ঈমানের পথে পরিচালিত করে।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

بسم الله الرّحمن الرّحيم الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

وبعد فإن دراسة جمال المفردة القرآنية تعدّ عناية فائقة بجزئيات النصوص القرآنية وتدبّرها وتأملها واستنباط المنهج الفني الذي يسري في نسقها، وجوانب الجمال الذي تتسم به.

وقد وجدت للدارسين- قدامى ومعاصرين- جهدا مبذولا في جمال المفردة القرآنية، وذلك في كتب الإعجاز والتفسير البياني، ولم يفرد الباحثون كتابا يجمع هذه النظرات الفنية ويناقشها، ويوضّح سمات هذا الجمال وعناصره، ولهذا أردت أن أجمع هذه النظرات من فصول كتبهم وتفسيرهم، وأبين ميزات هذا الجمال وأسسه، والمعيار الذي اعتمده الدارسون، وأوازن بين جهود القدامى وجهود المعاصرين، وقد وجدت أن المعاصرين يقتبسون غالبا من القديم، ولم يدرسوا نظرة الباحث القديم في جمال المفردة، كما أنهم خصّصوا الفصل أو الفقرة الصغيرة لجمال المفردة، وربّما يشمل الفصل الصغير كل جوانب جمالها في القرآن.

ولقد حاولت أن أستقصي جمالية المفردة القرآنية في كتب البلاغة القرآنية والتفسير البياني خاصة، في العصور القديمة والعصر الحاضر، وقد تمخّض عن هذا الاستقصاء وجود صعوبات كبيرة، وذلك لأن مادة البحث لا تقتصر على كتب التفسير- على ضخامتها-، بل تشمل كتب الإعجاز، وهذا ما تطلب البحث في جزئيات فصول البلاغة القرآنية، فلا يوجد عنوان محدد نلجأ إليه، ونقتبس مادة البحث منه، ولم ندرس المادة في فصول جمال المفردة، بل سعينا إلى توضيح شأن المفردة في الصورة والنغم، فأوضحنا إسهامها في جميع فنون البلاغة القرآنية، كالتشبيه والكناية والاستعارة والإيجاز وغير هذا.
উপক্রমণিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। যাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর, কুরআনিক শব্দের সৌন্দর্য বিষয়ক গবেষণা মূলত কুরআনের পাঠ্যসমূহের সূক্ষ্ম অংশগুলোর প্রতি গভীর মনোযোগ প্রদান, সেগুলো নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করা এবং এর বিন্যাসে প্রবহমান শৈল্পিক পদ্ধতি ও এর সৌন্দর্যের দিকসমূহ উদ্ঘাটন করারই নামান্তর।

আমি প্রাচীন ও সমসাময়িক গবেষকদের মাঝে কুরআনিক শব্দের সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রচেষ্টা লক্ষ্য করেছি, যা প্রধানত আলৌকিকত্ব (ইজায) এবং আলংকারিক তাফসিরের কিতাবসমূহে বিদ্যমান। তবে গবেষকগণ এই শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে একত্রিত করে আলোচনা করা এবং এই সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্য ও উপাদানসমূহ স্পষ্ট করার জন্য কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেননি। এই কারণেই আমি তাদের গ্রন্থ ও তাফসিরের বিভিন্ন অধ্যায় থেকে এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো সংগ্রহ করার সংকল্প করেছি। আমি এই সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্য ও ভিত্তি এবং গবেষকগণ যে মানদণ্ড অবলম্বন করেছেন তা স্পষ্ট করতে চেয়েছি এবং প্রাচীন ও সমসাময়িক গবেষকদের প্রচেষ্টার মধ্যে তুলনামূলক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। আমি লক্ষ্য করেছি যে, সমসাময়িক গবেষকগণ প্রায়শই প্রাচীনদের থেকেই উদ্ধৃতি গ্রহণ করেন এবং শব্দের সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে গবেষণা করেননি। তদুপরি তারা শব্দের সৌন্দর্যের জন্য কেবল একটি ছোট অধ্যায় বা অনুচ্ছেদ নির্ধারণ করেছেন, অথচ সেই সংক্ষিপ্ত পরিসরেই হয়তো কুরআনের শব্দশৈলীর সকল দিক অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আমি বিশেষভাবে প্রাচীন ও বর্তমান যুগের কুরআনিক অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) এবং আলংকারিক তাফসিরের কিতাবগুলোতে কুরআনিক শব্দের সৌন্দর্য অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছি। এই অনুসন্ধানের ফলে অনেক বড় বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, কারণ গবেষণার বিষয়বস্তু কেবল বিশাল আয়তনের তাফসিরের কিতাবসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মধ্যে আলৌকিকত্ব (ইজায) সংক্রান্ত কিতাবগুলোও অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে কুরআনিক বালাগাতের অধ্যায়গুলোর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কারণ এমন কোনো নির্দিষ্ট শিরোনাম নেই যা দেখে আমরা সেখান থেকে গবেষণার উপাদান সংগ্রহ করতে পারি। আমরা কেবল শব্দের সৌন্দর্যের অধ্যায়গুলোতে এই বিষয়বস্তু আলোচনা করিনি, বরং রূপক ও ছন্দের ক্ষেত্রে শব্দের ভূমিকা স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি। আমরা কুরআনিক বালাগাতের সকল শাখা যেমন—উপমা (তাশবিহ), লক্ষণা (কিনায়া), রূপক (ইস্তিআরা), সংক্ষিপ্তকরণ (ইজায) এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে শব্দের অবদান ফুটিয়ে তুলেছি।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
كما أننا تلمّسنا هذا الجمال في كتب اختصت بالبلاغة العربية، وبحثنا فيها عن لمحات الدارسين لدى الاستشهاد بالقرآن الكريم، ويضاف إلى هذا شمول البحث لجهود الدارسين منذ العصور الإسلامية الأولى، وهذا ما جعلنا نرجع إلى معظم المصادر في الشاهد الواحد، لإجراء موازنة في كثير من الأحيان، ولتوضيح إضافات اللاحقين على السابقين، واختلاف منحى كلّ دارس عن غيره.

وتمثّلت الصعوبة كذلك في الرجوع إلى كتب ذات اختصاصات مختلفة، كان لها إشارات جيدة إلى بلاغة القرآن، وكتب الجاحظ خير مثال على هذا، وقد ألمّ العلماء المسلمون بفنون البلاغة على الرغم من اختلاف اختصاصاتهم، إذ كان القرآن الكريم الركيزة الثابتة في تكوين ثقافتهم، فلا يخلو واحدهم من الإلمام بفن القرآن الكريم، وإن كان دارسا للتوحيد، أو العلوم الطبيعية أو غير هذا.

وموضوع هذا البحث ليس تقليدا مطروقا، بل فيه تجديد وابتكار، لأنه يقدّم دراسة فنية لنظرات الباحثين، ويقيمها وفق مبادئ الفن، ويحدد المعايير التي اعتمدها الباحثون من خلال مفهوم الجمال الفني. وبما أنني اتبعت المنهج التاريخي في دراسة كل جانب من جمال المفردة القرآنية، فكان لا بد من رصد هذه الجمالية في أوائل كتب الإعجاز مثل رسالة «البيان في إعجاز القرآن» للخطّابي، ورسالة «النّكت في إعجاز القرآن» للرّمّاني، إضافة إلى نظرات الجاحظ في كتابيه: «البيان والتبيين» و «الحيوان»، وكذلك اعتمدت على الباقلّاني صاحب «إعجاز القرآن»، وابن سنان في «سرّ الفصاحة»، وضياء الدين بن الأثير في «المثل السائر»، وسرت وفق هذا السرد التاريخي، لأتبين معالم جمالية المفردة في «بديع القرآن» لابن أبي الاصبع، و «الطراز» ليحيى العلوي، ووقعت على تأملات رفيعة في كتب تتحدث عن علوم القرآن مثل «البرهان» للزركشي و «الإتقان» للسيوطي.

أما كتب التفسير، فقد اقتصرت على التفاسير التي عنيت بالجوانب البلاغية في القرآن، فكان «الكشاف» للزمخشري أهمّ مصدر لي، وكذلك تفسير النّسفي
আমরা এই সৌন্দর্যকে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) জন্য নির্ধারিত গ্রন্থগুলোতে খুঁজেছি এবং পবিত্র কুরআনের উদ্ধৃতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গির অনুসন্ধান করেছি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে প্রাথমিক ইসলামি যুগ থেকে গবেষকদের প্রচেষ্টাসমূহের ব্যাপকতা। এটিই আমাদের একটি মাত্র নিদর্শনের (শাহেদ) ক্ষেত্রে অধিকাংশ মূল উৎসের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে, যাতে প্রায়ই একটি ভারসাম্যপূর্ণ তুলনা করা যায় এবং পূর্ববর্তীদের ওপর পরবর্তীদের সংযোজন ও একেকজন গবেষকের ভিন্ন ভিন্ন কর্মপন্থা স্পষ্ট করা যায়।

অনুরূপভাবে, বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞগণের লেখা গ্রন্থগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করার ক্ষেত্রেও জটিলতা ছিল, যেগুলোতে কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রতি চমৎকার ইঙ্গিত ছিল। আল-জাহিজের গ্রন্থসমূহ এর সর্বোত্তম উদাহরণ। মুসলিম পন্ডিতগণ তাদের বিষয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও অলঙ্কারশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি রাখতেন; যেহেতু পবিত্র কুরআন ছিল তাদের সংস্কৃতি গঠনের অবিচল ভিত্তি। তাই তাদের কেউই পবিত্র কুরআনের শৈল্পিক জ্ঞান থেকে মুক্ত ছিলেন না, চাই তিনি তাওহীদের ছাত্র হোন কিংবা প্রাকৃতিক বিজ্ঞান অথবা অন্য কোনো বিষয়ের।

আর এই গবেষণার বিষয়টি কোনো গতানুগতিক অনুকরণ নয়, বরং এতে রয়েছে নতুনত্ব ও উদ্ভাবন। কারণ এটি গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গির একটি শৈল্পিক অধ্যয়ন উপস্থাপন করে এবং শিল্পের মূলনীতি অনুযায়ী সেগুলোর মূল্যায়ন করে। এছাড়া শৈল্পিক সৌন্দর্যের ধারণার মাধ্যমে গবেষকদের গ্রহণকৃত মানদণ্ডসমূহ নির্ধারণ করে। যেহেতু আমি কুরআনিক শব্দের সৌন্দর্যের প্রতিটি দিক পর্যালোচনায় ঐতিহাসিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, তাই 'ইজাজ' বা অলৌকিকত্ব বিষয়ক প্রাথমিক গ্রন্থগুলোতে এই সৌন্দর্যতত্ত্ব অনুসন্ধান করা আবশ্যক ছিল; যেমন— খাত্তাবির «আল-বায়ান ফি ইজাজিল কুরআন», রুমমানির «আন-নুকাত ফি ইজাজিল কুরআন»। এর পাশাপাশি জাহিজের তাঁর দুই গ্রন্থ: «আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন» ও «আল-হায়াওয়ান»-এর দৃষ্টিভঙ্গিও নেওয়া হয়েছে। একইভাবে আমি «ইজাজুল কুরআন»-এর লেখক বাকিল্লানি, «সিররুল ফাসাহাহ»-এর লেখক ইবনু সিনান এবং «আল-মাসালুস সায়ির»-এর লেখক জিয়াউদ্দীন ইবনুল আসিরের ওপর নির্ভর করেছি। আমি এই ঐতিহাসিক ধারাক্রম অনুযায়ী অগ্রসর হয়েছি যাতে ইবন আবিল ইসবাহ্-র «বাদিউল কুরআন» এবং ইয়াহইয়া আল-আলাউয়ির «আত-তিরাজ» গ্রন্থে শব্দের সৌন্দর্যমণ্ডিত বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুধাবন করতে পারি। এছাড়া উলূমুল কুরআন বা কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের কিতাবসমূহ— যেমন যারকাশির «আল-বুরহান» এবং সুয়ুতির «আল-ইতকান» গ্রন্থে উচ্চাঙ্গের চিন্তাধারা খুঁজে পেয়েছি।

তাফসির গ্রন্থগুলোর ক্ষেত্রে আমি কেবল সেই সব তাফসিরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি যা কুরআনের আলঙ্কারিক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে। এক্ষেত্রে জামাখশারির «আল-কাশশাফ» ছিল আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং সেই সাথে নাসাফির তাফসির।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
«مدارك التنزيل وحقائق التأويل»، ثم تفسير العلّامة أبي السّعود المسمّى «إرشاد العقل السليم إلى مزايا القرآن الكريم».

أما المصادر الحديثة، فقد كان كتاب أحمد بدوي «من بلاغة القرآن» في مقدمة الكتب في معرفة نظرات المعاصرين، وكذلك سيّد قطب في تفسيره «في ظلال القرآن»، وكتابيه: «التصوير الفني في القرآن» و «مشاهد القيامة»، وهناك كوكبة من المعاصرين أفدت من كتبهم، مثل «إعجاز القرآن» للرافعي، خصوصا في مجال موسيقا القرآن، و «إعجاز القرآن» لعبد الكريم الخطيب، و «بيّنات المعجزة» لحسن ضياء الدين عتر، وكتاب «من روائع القرآن» لمحمد سعيد رمضان البوطي وغيرهم.

واستعنت لتقييم نظرات الدارسين ببعض المراجع في النقد الأدبي، وعلم الجمال، وبعض المباحث اللغوية، خصوصا في مجال فقه اللغة، وقدّمت لي هذه المراجع مادة وفيرة تواكب نظرة الدارسين، ولا سيما القدامى منهم، وسمو تذوقهم للبيان القرآني.

وإن هذا البحث يمثّل محاولة لرصد تأملات الدارسين في مفردات القرآن، وأرجو أن يكون هذا الرصد شاملا لتأملات كل الدارسين، وأن يكون عادلا، بحيث لا يجحف بكلّ من القدامى والمعاصرين.

وقد وقع البحث في أربعة فصول، مهّد لها بمدخل حول مفهوم الجميل ووسائل تذوقه عند المسلمين، وذلك لنثبت أنّ للمسلمين نظرات واقعيّة في الجميل، وما يقترن به من مفاهيم جمالية، فعرضنا لرأي كلّ من الجاحظ وأبي حيان التوحيدي والغزالي، فقد أكّد هؤلاء أن وسائل تذوق الجميل هي السمع والبصر، وأنهما منفذان إلى القلب، والحق أن القرآن الكريم كثيرا ما يربط بين القلب أو الفؤاد أو العقل والسمع والبصر كقوله عز وجل: إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤادَ كُلُّ أُولئِكَ كانَ عَنْهُ مَسْؤُلًا «1». وبيّنت في هذا التمهيد ارتباط الجميل الموضوعي بالنافع في منظور المسلمين.

تناول الفصل الأول مفهوم المفردة في الأدب، والجوانب الجمالية فيها،

--------------------------------------------

(1) سورة الإسراء، الآية: 36.
‘মাদারিকুত তানজিল ওয়া হাকায়িকুত তাবিল’, এরপর আল্লামা আবুস সাউদের তাফসির যার নাম ‘ইরশাদুল আকলিস সালিম ইলা মাযায়াল কুরআনিল কারিম’।

আধুনিক উৎসসমূহের ক্ষেত্রে, সমসাময়িকদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য আহমদ বাদাবীর গ্রন্থ ‘মিন বালাগাতিল কুরআন’ কিতাবসমূহের অগ্রভাগে ছিল। একইভাবে সাইয়্যেদ কুতুব তাঁর তাফসির ‘ফি যিলালিল কুরআন’ এবং তাঁর দুটি বই: ‘আত-তাসউয়িরুল ফান্নি ফিল কুরআন’ ও ‘মাশাহেদুল কিয়ামা’। এছাড়াও সমসাময়িক গবেষকদের একটি দল রয়েছেন যাদের গ্রন্থসমূহ থেকে আমি উপকৃত হয়েছি, যেমন রাফেয়ির ‘ইজাযুল কুরআন’, বিশেষ করে কুরআনের সুরের ক্ষেত্রে; আব্দুল কারিম আল-খাতিবের ‘ইজাযুল কুরআন’; হাসান যিয়াউদ্দিন আতারের ‘বাইয়্যিনাতুল মুজিযা’ এবং মুহাম্মদ সাঈদ রমজান আল-বুতির ‘মিন রওয়ায়িল কুরআন’ সহ আরও অন্যান্য।

গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি মূল্যায়নের জন্য আমি সাহিত্য সমালোচনা, নন্দনতত্ত্ব এবং ভাষাতত্ত্বের কিছু বিষয়ের সাহায্য নিয়েছি, বিশেষত ভাষাবিজ্ঞানের (ফিকহুল লুগাহ) ক্ষেত্রে। এই উৎসগুলো আমাকে পর্যাপ্ত উপকরণ সরবরাহ করেছে যা গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, বিশেষ করে প্রাচীন গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং কুরআনের বর্ণনাশৈলীর প্রতি তাঁদের উচ্চতর রুচিবোধের সাথে।

এই গবেষণাটি কুরআনের শব্দাবলির ওপর গবেষকদের চিন্তাভাবনা পর্যালোচনার একটি প্রচেষ্টামাত্র। আমি আশা করি এই পর্যালোচনা যেন সকল গবেষকের চিন্তাভাবনাকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তা যেন ইনসাফপূর্ণ হয়, যাতে প্রাচীন ও সমসাময়িক কারও প্রতিই অবিচার করা না হয়।

গবেষণাটি চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত, যার শুরুতে মুসলমানদের কাছে সৌন্দর্যের ধারণা এবং তা উপভোগের উপায়সমূহ সম্পর্কে একটি ভূমিকা প্রদান করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো এটি প্রমাণ করা যে, সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট নান্দনিক ধারণাগুলোর ক্ষেত্রে মুসলমানদের বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এতে আমরা জাহিজ, আবু হাইয়ান আত-তাওহিদী এবং আল-গাজালির মতামতের অবতারণা করেছি; তারা নিশ্চিত করেছেন যে সৌন্দর্য উপভোগের মাধ্যম হলো শ্রবণ ও দর্শন, এবং এই দুটিই হৃদয়ের প্রবেশপথ। বাস্তব সত্য এই যে, পবিত্র কুরআন প্রায়ই অন্তর বা হৃদয় বা বিবেককে শ্রবণ ও দর্শনের সাথে যুক্ত করে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: “নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করা হবে।” (১)। এই ভূমিকাতে আমি মুসলমানদের দৃষ্টিতে বস্তুনিষ্ঠ সৌন্দর্যের সাথে উপযোগিতার সম্পর্কের বিষয়টিও ব্যাখ্যা করেছি।

প্রথম অধ্যায়ে সাহিত্যে শব্দের ধারণা এবং এর নান্দনিক দিকসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩৬।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وعرضت لآراء بعض النقاد المعاصرين، لتكون هذه الآراء كشفا فنيا لوجهة نظر البحث والدارسين، وهنا لا تقدّم تعاريف جافة صارمة، بل يسعى البحث إلى توضيح وظيفة المفردة في النص الأدبي وفق لبوسها الجديد، وعرضت المسألة تجاوزها لحياد المعجم، وخصوصية دلالتها في القرآن، ثم عرضت لعلاقة المفردة بالنظم، وما يتوهم من تناقض بينهما، وأكدت أهمية الطرفين: المفردة والنظم في بنية الآية، وبيّنت الحجج التي ردّ بها على غلوّ الجرجاني إذ نبذ هذا الغلوّ بآراء جديدة تسعفها تطبيقات من القرآن، وكان لا بد أيضا من نفي الترادف في القرآن، لتأكيد تمكّن المفردة القرآنية من المقام عن غيرها، وقد بدأت الفقرة بتوضيح مصطلح الترادف، واقتبست بعضا من أقوال من يؤيد الترادف مثل ابن السّكّيت، وأقوال من يؤيد الفروق مثل أبي هلال العسكري وأبي منصور الثعالبي، وكانت هناك إضاءات للتنظير بالعودة إلى النص القرآني للبرهنة على دقة الفروق، وتوصلت إلى إمكانية وجود الترادف في اللغة، ونفيه من السياق القرآني.

وختم الفصل بفقرة حول الأثر الموسيقى للقرآن، فعرضت للآيات التي تدعو إلى تذوق موسيقا حروفه ونسقه، وشفع هذا بما ورد في السّنّة النبوية الشريفة، ثم بينت مظاهر تعلق الرعيل الأول بالنسق الموسيقى، ثم بيّنت مسألة تشبيه القرآن بالشعر ومعارضة القرآن، وخصوصية الفن القرآني.

وتناول الفصل الثاني إسهام المفردة القرآنية في الصورة البصرية، فقد أكدت أهميتها في الصورة، ودرست في الفقرة الأولى إسهام المفردة القرآنية في تجسيم المجردات والمعنويات عن طريق مصطلح الاستعارة أو التشبيه، وبدأت الفقرة بتعريف التجسيم لغة واصطلاحا، ثم عرضت لجهود القدامى والمعاصرين، وتبين لي أن

القدامى أدركوا هذه الجمالية، وأهمية المفردة على أنّها العامل الأساسي الذي يضفي على المعاني صفات محسوسة تتجلّى للبصر، وفي الفقرة الثانية عرضت لمفردات الطبيعة التي ساعدت على جمال التصوير، وبدئت الفقرة بتوضيح مفهوم الطبيعة في القرآن، والانسجام بينها وبين الإنسان، على أنها مخلوق مسخّر له، وانقسمت الطبيعة إلى جمادات كالشجر والحجر، وإلى طبيعة متحركة حيوانية كالجراد والعنكبوت، وبينت مدى تفهم
আমি সমসাময়িক কিছু সমালোচকের মতামতের অবতারণা করেছি, যাতে এই মতামতগুলো গবেষণা ও গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গির এক শৈল্পিক উন্মোচন হতে পারে। এখানে কোনো শুষ্ক বা কঠোর সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি, বরং গবেষণাটি তার নতুন আঙ্গিকে সাহিত্যিক পাঠে শব্দের কার্যকারিতা স্পষ্ট করার প্রয়াস চালিয়েছে। বিষয়টি অভিধানের নিরপেক্ষতাকে অতিক্রম করা এবং কুরআনে এর অর্থের বিশেষত্বকে তুলে ধরেছে। এরপর আমি শব্দের সাথে বিন্যাস-শৈলীর সম্পর্ক এবং তাদের মধ্যে কল্পিত বৈপরীত্যের বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমি আয়াতের কাঠামোতে শব্দ এবং বিন্যাস-শৈলী—উভয় পক্ষের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছি। আল-জুরজানি-র চরমপন্থার জবাবে যেসব যুক্তি প্রদান করা হয়েছে তা বর্ণনা করেছি, যেখানে কুরআনের প্রয়োগের সাহায্যে নতুন মতামতের মাধ্যমে সেই চরমপন্থা বর্জন করা হয়েছে। কুরআনের শব্দের নির্দিষ্ট অবস্থানে অন্য শব্দের চেয়ে তার শ্রেষ্ঠত্ব বা সক্ষমতা প্রমাণের জন্য কুরআনে সমার্থকতা (তারাদুফ) অস্বীকার করাও অপরিহার্য ছিল। এই অনুচ্ছেদটি সমার্থকতা পরিভাষার স্পষ্টীকরণের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং ইবনুল সিক্কিত-এর মতো যারা সমার্থকতা সমর্থন করেন তাদের কিছু উক্তি এবং আবু হিলাল আল-আসকারি ও আবু মনসুর আল-সালাবি-র মতো যারা সূক্ষ্ম পার্থক্যের সমর্থক তাদের উক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে। কুরআনের মূল পাঠে ফিরে গিয়ে এর তাত্ত্বিক কাঠামোর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে যাতে সূক্ষ্ম পার্থক্যের নির্ভুলতা প্রমাণ করা যায়। আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, ভাষায় সমার্থকতা থাকা সম্ভব হলেও কুরআনের প্রেক্ষাপটে তা নেই।

অধ্যায়টি কুরআনের সাঙ্গীতিক প্রভাব বিষয়ক একটি অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে। এতে এমন সব আয়াত উপস্থাপন করা হয়েছে যা এর অক্ষরের সুর এবং বিন্যাস আস্বাদন করতে আহ্বান জানায়। একে পবিত্র সুন্নাহর বর্ণনার মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে। এরপর সুরের বিন্যাসের প্রতি প্রথম প্রজন্মের অনুরাগের দিকগুলো বর্ণনা করা হয়েছে। তারপর কুরআনকে কবিতার সাথে তুলনা করার প্রসঙ্গ এবং কুরআনের মুআরাদা (অনুকরণের অপচেষ্টা), এবং কুরআনিক শিল্পের অনন্য বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে দৃশ্যমান চিত্রায়নে কুরআনের শব্দের অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে চিত্রের ক্ষেত্রে শব্দের গুরুত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রথম অনুচ্ছেদে আমি রূপক বা উপমার মাধ্যমে বিমূর্ত ও আত্মিক বিষয়গুলোকে মূর্ত করার (তাজসিম) ক্ষেত্রে কুরআনের শব্দের অবদান নিয়ে গবেষণা করেছি। অনুচ্ছেদটি শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে ‘তাজসিম’-এর সংজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে, তারপর প্রাচীন ও আধুনিক পণ্ডিতদের প্রচেষ্টা তুলে ধরা হয়েছে। আমার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে—

প্রাচীনরা এই নান্দনিকতা এবং শব্দের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন যে, এটিই হলো প্রধান নিয়ামক যা অর্থের ওপর এমন সব ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বৈশিষ্ট্য আরোপ করে যা দৃষ্টির সামনে উদ্ভাসিত হয়। দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে আমি প্রকৃতির সেই সব শব্দ উপস্থাপন করেছি যা চিত্রায়নের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। অনুচ্ছেদটি কুরআনে প্রকৃতির ধারণা এবং মানুষের সাথে তার সামঞ্জস্যের আলোচনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে, যেখানে প্রকৃতিকে মানুষের জন্য অনুগত এক সৃষ্টি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। প্রকৃতিকে জড় পদার্থ যেমন গাছ ও পাথর, এবং গতিশীল প্রাণিকুল যেমন পঙ্গপাল ও মাকড়সা—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এবং আমি এর বোধগম্যতার সীমা স্পষ্ট করেছি...
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
الدارسين لملاءمة هذه المفردات لإخراج الصورة الفنية، ومدى تذوقهم للإشعاع النفسي المتوخّى في هذه المفردات، وقد أضفت شواهد متممة لنظرة الدارسين. وفي الفقرة الثالثة بحثت في إسهام المفردة القرآنية في تشخيص المعاني والمجرّدات، وقد تقدم الفكرة تعريف التشخيص لغة واصطلاحا، ووجدت أن القدامى قدّموا جهدا وفيرا لاهتمامهم الكبير بانتقال المفردة من مجال إلى آخر، وقد عرضوا تأملاتهم الفنية مؤكدين أهمية الكلمة المشخّصة وفق مصطلح الاستعارة أو المجاز، وأدركوا أن إضفاء الصفات الآدمية على الجمادات والمعنويات وبثّ الحركة فيها يعطي تأثيرا كبيرا في المتلقي، ودرست في الفقرة الرابعة تصوير المفردات للحركة، وهي حركة سريعة قوية كالزلزلة، وحركة بطيئة، وكانت هذه المفردات تعبّر عن مضمون الموقف، وقد وجدت أن الزمخشري خاصة تملى هذه الجمالية بذوق فريد، وأردفت الفقرة بلمحة عن تجسيم الحركة بوساطة التشكيل الصوتي للمفردة، وهذا ما دعي بالأونوماتوبيا التي تحدثت عنها بالتفصيل في الفصل الثالث.

وتناول الفصل الثالث الجمال الموسيقى لمفردات القرآن، ودرست في الفقرة الأولى منه مسألة تلاؤم المخارج بدءا من الرماني، ثم عرضت نظرة ابن سنان وابن الأثير، ثم ذكرت رأي بعض المحدثين في هذا الشأن، وتوصلت إلى أن العبرة بطبيعة الصوت نفسه. ودرست في الفقرة الثانية جمالية المدود والحركات في المفردات، وحاولت أن أبين العلاقة الوشيجة بين شكل المفردة والموقف الشعوري، وفي الفقرة الثالثة درست طول المفردات وفق نظرة ابن سنان الذي قبّح طول المفردات، وفنّد هذا بمسلّمات الموسيقا اللغوية وطبيعة مفردات القرآن، وذكرت رأي ابن الأثير، ثم توضيح الرافعي، وانتهيت إلى أن جزئيات الكلمة في القرآن تنفي عيب الطول عنها، وفي الفقرة الرابعة بحثت مفهوم الرقة والمغالطة التي وقع فيها بعض الدارسين لتفسير الرّقة، وهنا استعين بطبيعة الأصوات اللغوية في فقه اللغة، وقورنت الرقة بالجزالة، ثم بينت أن الموضوع هو الذي يحدّد قوة الألفاظ وشدّتها أو رقتها، وربطت الصفة النّغمية للحرف بالموقف الشعوري، ودرست في الفقرة الخامسة مظاهر تجسيم الصوت للمعاني، أو ما يدعى «الأونوماتوبيا»، وقدمت لهذه الفقرة تنظيرا لغويا
শৈল্পিক চিত্রকল্প ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এই শব্দমালার উপযোগিতা এবং এই শব্দগুলোর মধ্যে অন্বেষিত মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব আস্বাদনের ক্ষেত্রে গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমি গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিপূরক হিসেবে কিছু অতিরিক্ত প্রমাণাদি যোগ করেছি। তৃতীয় পরিচ্ছেদে আমি অর্থ ও বিমূর্ত বিষয়গুলোকে মূর্ত করার ক্ষেত্রে কুরআনিক শব্দাবলীর অবদান নিয়ে গবেষণা করেছি। এই আলোচনার শুরুতে আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞায় 'মূর্তকরণ' (Tashkhis)-এর পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। আমি লক্ষ্য করেছি যে, প্রাচীন পণ্ডিতগণ এক ক্ষেত্র থেকে অন্য ক্ষেত্রে শব্দের রূপান্তরের বিষয়ে গভীর আগ্রহের কারণে ব্যাপক শ্রম দিয়েছেন। তাঁরা রূপক (Isti'ara) বা অলঙ্কার (Majaz)-এর পরিভাষা অনুযায়ী মূর্ত শব্দের গুরুত্ব নিশ্চিত করে তাঁদের শৈল্পিক চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছেন। তাঁরা উপলব্ধি করেছিলেন যে, জড় পদার্থ ও ভাবগত বিষয়ের ওপর মানবিক গুণাবলী আরোপ করা এবং সেগুলোর মধ্যে গতির সঞ্চার করা শ্রোতার ওপর ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি করে। চতুর্থ পরিচ্ছেদে আমি শব্দাবলীর মাধ্যমে গতির চিত্রায়ন নিয়ে আলোচনা করেছি, যা ভূমিকম্পের মতো দ্রুত ও শক্তিশালী গতি এবং ধীর গতির সমন্বয়ে গঠিত। এই শব্দগুলো পরিস্থিতির বিষয়বস্তুকে সার্থকভাবে প্রকাশ করত। আমি লক্ষ্য করেছি যে, বিশেষ করে যামাখশারী অনন্য রুচির মাধ্যমে এই নান্দনিকতাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। আমি এই পরিচ্ছেদে শব্দের ধ্বনিগত কাঠামোর মাধ্যমে গতির মূর্তকরণের একটি সংক্ষিপ্ত আভাস দিয়েছি, যাকে 'অনোম্যাটোপিয়া' (শব্দানুকৃতি) বলা হয়; যার সম্পর্কে আমি তৃতীয় অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

তৃতীয় অধ্যায়ে কুরআনের শব্দাবলীর সংগীতময় সৌন্দর্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর প্রথম পরিচ্ছেদে আমি রুম্মানী থেকে শুরু করে বর্ণোচ্চারণস্থলের (মাখরাজ) সামঞ্জস্যের বিষয়টি অধ্যয়ন করেছি। এরপর ইবনে সিনান ও ইবনুল আসিরের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছি এবং এই বিষয়ে কিছু আধুনিক গবেষকের মতামত উল্লেখ করেছি। আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, মূল বিবেচ্য বিষয় হলো খোদ ধ্বনির প্রকৃতি। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আমি শব্দাবলীতে মদ্দ (দীর্ঘস্বর) ও হরকতের (স্বরচিহ্ন) নান্দনিকতা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং শব্দের গঠন ও আবেগীয় পরিস্থিতির মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি। তৃতীয় পরিচ্ছেদে ইবনে সিনানের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী শব্দের দীর্ঘতা নিয়ে আলোচনা করেছি, যিনি শব্দের দীর্ঘতাকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করতেন। আমি ভাষাতাত্ত্বিক সংগীতের স্বীকৃত মূলনীতি এবং কুরআনের শব্দাবলীর প্রকৃতির মাধ্যমে এই মত খণ্ডন করেছি এবং ইবনুল আসিরের মতামত ও পরবর্তীতে রাফেয়ীর ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছি। আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, কুরআনের শব্দের গঠনগত উপাদানসমূহ দীর্ঘতার ত্রুটিকে নাকচ করে দেয়। চতুর্থ পরিচ্ছেদে আমি 'কোমলতা' (Riqqa) এর ধারণা এবং এটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কিছু গবেষক যে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন তা নিয়ে আলোচনা করেছি। এখানে আমি ভাষাতত্ত্বের ধ্বনিপ্রকৃতির সাহায্য গ্রহণ করেছি এবং কোমলতাকে গাম্ভীর্যের (Jazala) সাথে তুলনা করেছি। অতঃপর আমি স্পষ্ট করেছি যে, বিষয়বস্তুই শব্দের শক্তি, তীব্রতা বা কোমলতা নির্ধারণ করে। আমি বর্ণের সুরভিত বৈশিষ্ট্যকে আবেগীয় পরিস্থিতির সাথে যুক্ত করেছি। পঞ্চম পরিচ্ছেদে আমি ধ্বনির মাধ্যমে অর্থের মূর্তকরণের বহিঃপ্রকাশ নিয়ে আলোচনা করেছি, যাকে 'অনোম্যাটোপিয়া' (শব্দানুকৃতি) বলা হয় এবং এই পরিচ্ছেদের জন্য একটি ভাষাতাত্ত্বিক তত্ত্ব পেশ করেছি।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
بمنزلة تأصيل عربي لهذه الفكرة خصوصا في «الخصائص» لابن جني، وتوصلت إلى أن القدامى ربطوا النظرة بمعيار لغوي واضح، وأن بعض المحدثين اعتمد التوهم والمبالغة، وقد جنحت في بعض الأمكنة إلى تفسير محاكاة الصوت للمعنى والصور بمعطيات فقه اللغة وعلم التجويد لمعرفة صفات الحروف.

وتناول الفصل الرابع الظلال النفسية التي توصّل إليها الدارسون في توضيح العلاقة بين المفردة والموضوع أو الفكرة، ودرست في الفقرة الأولى جهود الدارسين في دلائل صيغة المفردة، حيث ذكر البيان القرآني صيغا لمفردات تمتلك معاني لا تكون في صيغ أخرى، وهنا كانت للقدامى جولات رائعة لعلوّ فصاحتهم، وكثرة اهتماهم باللغويات، وهذا مهّد لهم لتبيين الجوانب الفنية في هذا المضمار، فقد أدركوا العلاقة بين التشكيل الداخلي ومعالم الموضوع، وفي الفقرة الثانية درست الجوانب التهذيبية السامية في اختيار مفردات القرآن، ودرست في القسم الأول من الفقرة التهذيب في اختيار مفردات تعبر عن المرأة وعلاقتها بالرجل، ثم درست في القسم الثاني التهذيب في الأمور العامة التي دل فيها القرآن على سمو خطابه، وهذا الإيماء الرفيع نجده في تأملات الدارسين تحت عنوان الكناية أو المجاز أو التلميح، وفي الفقرة الثالثة بينت وجه الإيجاز في المفردة، وأطلقت عليه اسم اختزان المفردة للمعاني الكثيرة، وبدأت الفقرة بإشارة الجاحظ، ثم وضحت الاختزان في صيغة المفردة، فالاختزان في جانب التهذيب، وختمت الفقرة بإضافة بعض الشواهد وتحليلها تأكيدا لنظرة الدارسين. وفي الفقرة الرابعة عرضت لجهود الدارسين في اختيار المفردة للموضوع، أي مناسبة المقام، وتضمنت الفقرة بعض الأفكار، مثل ملاءمة الغريب للموقف، والمنهج الذاتي والمنهج الموضوعي عند الدارسين، وفكرة مناسبة المقام من خلال الفروق اللغوية، وهنا يبرز جهد الخطيب الإسكافي الذي سار على نهجه الكثيرون، وكذلك قدّم لي الكشاف مادّة وفيرة، وختمت الفقرة بظلال الدلالة الخاصة لبعض المفردات القرآنية، إذ أضفى القرآن على بعض المفردات دلالة خاصة نتيجة صدورها عن الخالق عز وجل، وهذا مستفاد من إشارة للباقلاني. وفي الفقرة الخامسة بحثت في تمكن
এই ধারণার জন্য এটি একটি আরবি মূলভিত্তি স্থাপনের পর্যায় হিসেবে কাজ করেছে, বিশেষ করে ইবনে জিন্নি-র «আল-খাসাইস» গ্রন্থে। আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, প্রাচীন পণ্ডিতগণ এই দৃষ্টিভঙ্গিকে একটি সুস্পষ্ট ভাষাতাত্ত্বিক মানদণ্ডের সাথে যুক্ত করেছিলেন, এবং আধুনিকদের কেউ কেউ কাল্পনিক ধারণা ও অতিরঞ্জনের ওপর নির্ভর করেছেন। কোনো কোনো স্থানে আমি শব্দের মাধ্যমে অর্থ ও চিত্রের অনুকরণের ব্যাখ্যা দিতে ভাষাতত্ত্ব ও ইলমুত তাজবিদের তথ্যাবলির দিকে ঝুঁকেছি, যাতে হরফের বৈশিষ্ট্যসমূহ জানা যায়।

চতুর্থ অধ্যায়ে সেই মনস্তাত্ত্বিক আবহসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা গবেষকগণ শব্দ এবং বিষয় বা ধারণার মধ্যকার সম্পর্ক স্পষ্ট করতে গিয়ে লাভ করেছেন। প্রথম পরিচ্ছেদে আমি শব্দের কাঠামোর নিহিতার্থ সম্পর্কে গবেষকদের প্রচেষ্টা নিয়ে অধ্যয়ন করেছি, যেখানে কুরআনের বর্ণনাভঙ্গি এমন সব শব্দের রূপ উল্লেখ করেছে যা এমন অর্থ বহন করে যা অন্য রূপে পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে প্রাচীন পণ্ডিতদের চমৎকার বিচরণ ছিল তাঁদের উচ্চতর সাবলীলতা ও ভাষাতত্ত্বের প্রতি অধিক গুরুত্ব প্রদানের কারণে, যা তাঁদের জন্য এই অঙ্গনের শৈল্পিক দিকসমূহ ফুটিয়ে তোলার পথ সুগম করে দিয়েছিল। তাঁরা অভ্যন্তরীণ গঠন ও বিষয়ের বৈশিষ্ট্যের মধ্যকার সম্পর্ক অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আমি কুরআনের শব্দ চয়নের সুউচ্চ মার্জিত ও পরিশীলিত দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এই পরিচ্ছেদের প্রথম অংশে আমি নারী ও পুরুষের সাথে তার সম্পর্কের বর্ণনায় ব্যবহৃত শব্দ চয়নের পরিশীলিত রূপ নিয়ে আলোচনা করেছি। অতঃপর দ্বিতীয় অংশে সাধারণ বিষয়াবলির ক্ষেত্রে সেই পরিশীলন নিয়ে আলোচনা করেছি, যেখানে কুরআন তার বাচনভঙ্গির শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। এই উচ্চমার্গের ইঙ্গিতসমূহ গবেষকদের চিন্তাধারায় রূপক, লক্ষণা বা ইশারা শিরোনামে পাওয়া যায়। তৃতীয় পরিচ্ছেদে আমি শব্দের সংক্ষিপ্ততার দিকটি স্পষ্ট করেছি এবং একে 'শব্দের মাঝে বহু অর্থের সঞ্চয়ন' হিসেবে অভিহিত করেছি। পরিচ্ছেদটি আমি আল-জাহিজের উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করেছি, অতঃপর শব্দের কাঠামোর মধ্যে অর্থের সঞ্চয়ন এবং পরিশীলিত করার ক্ষেত্রে এই সঞ্চয়নের ভূমিকা ব্যাখ্যা করেছি। গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গিকে সুদৃঢ় করতে কিছু দৃষ্টান্ত ও সেগুলোর বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিচ্ছেদটি সমাপ্ত করেছি। চতুর্থ পরিচ্ছেদে আমি বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে গবেষকদের প্রচেষ্টাগুলো তুলে ধরেছি, অর্থাৎ প্রেক্ষাপটের উপযোগিতা। এই পরিচ্ছেদে কিছু ধারণা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেমন পরিস্থিতির সাথে বিরল শব্দের সামঞ্জস্যতা, গবেষকদের আত্মকেন্দ্রিক ও বস্তুনিষ্ঠ পদ্ধতি এবং ভাষাগত পার্থক্যের আলোকে প্রেক্ষাপটের উপযোগিতার ধারণা। এখানে আল-খতিব আল-ইস্কাফির প্রচেষ্টা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যাঁর পথ অনেকে অনুসরণ করেছেন। একইভাবে «আল-কাশশাফ» গ্রন্থটিও আমাকে প্রচুর তথ্য সরবরাহ করেছে। পরিচ্ছেদটি আমি কুরআনের কিছু শব্দের বিশেষ অর্থগত আভার আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি, কেননা কুরআন কিছু শব্দের ওপর বিশেষ তাৎপর্য আরোপ করেছে যেহেতু সেগুলো মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে; এই বিষয়টি আল-বাকিললানির একটি ইঙ্গিত থেকে গৃহীত। পঞ্চম পরিচ্ছেদে আমি শব্দের সক্ষমতা নিয়ে অনুসন্ধান করেছি...
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
الفاصلة، وهي الكلمة الأخيرة من الآية، وبدئت الفقرة بتعريفها لغة واصطلاحا، فتضمنت الفقرة فكرة ملاءمة الفاصلة لما قبلها من خلال مصطلحات القدامى، مثل الإيغال والتصدير والتوشيح، وفكرة استقلالها بمعنى جديد، وأهميته في الآية، وهنا يبرز جهد الخطيب الإسكافي، وابن أبي الاصبع خاصة، وانتهى البحث بخاتمة تلخص النتائج التي توصّل إليها.

لقد كان الترتيب التاريخي عونا لي في توضيح تطور التذوق الفني لدى الدارسين، وقد عمدت في بعض الأحيان إلى إجراء موازنة بين علمين في شاهد قرآني واحد، لأبيّن تفاوت النظرات والمؤثرات في هذا التفاوت، وكذلك حرصت على أن تكون النماذج المقتبسة وافية، وألا يكون البحث انتقاصا من كلّ من القدامى والمعاصرين في مسلكهم، وأرجو أن أكون موفقا في جمع شتات جمال المفردة القرآنية، وتحديد المعيار، وتبيين عناصر هذا الجمال في كتب الإعجاز والتفسير، كما أرجو أن يكون هذا البحث جهدا مقبولا في خدمة القرآن الكريم والله من وراء القصد.

أحمد ياسوف
ফাসিলা, যা আয়াতের সর্বশেষ শব্দ; অনুচ্ছেদটি এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এতে প্রাচীন আলিমদের পরিভাষা—যেমন ঈগাল, তাসদীর ও তাওশীহ-এর আলোকে তার পূর্ববর্তী অংশের সাথে ফাসিলার সামঞ্জস্যের ধারণা এবং একটি নতুন অর্থে এর স্বতন্ত্রতা ও আয়াতে এর গুরুত্বের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এখানে বিশেষভাবে খতীব আল-ইস্কাফী এবং ইবন আবিল ইসবা-এর প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গবেষণাটি একটি উপসংহারের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে যা অর্জিত ফলাফলসমূহকে সারসংক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে।

ঐতিহাসিক ক্রমধারা গবেষকদের শৈল্পিক রুচিবোধের বিবর্তন স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে আমার জন্য সহায়ক হয়েছে। অনেক সময় আমি একটি একক কুরআনিক নিদর্শনে দুইজন আলিমের মাঝে তুলনামূলক পর্যালোচনার আশ্রয় নিয়েছি, যাতে দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রভাবকসমূহের বৈচিত্র্য ব্যাখ্যা করা যায়। একইভাবে আমি উদ্ধৃত দৃষ্টান্তগুলো পর্যাপ্ত করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম, যাতে এই গবেষণা প্রাচীন কিংবা আধুনিক—কারও অনুসৃত পদ্ধতির প্রতি অবমূল্যায়ন না হয়। আমি আশা করি যে, কুরআনিক শব্দের সৌন্দর্যের বিক্ষিপ্ত দিকগুলো একত্রিত করতে, মানদণ্ড নির্ধারণ করতে এবং ই'জায ও তাফসীরের কিতাবসমূহে এই সৌন্দর্যের উপাদানগুলো ফুটিয়ে তুলতে সফল হব। আমি আরও আশা করি যে, পবিত্র কুরআনের সেবায় এই গবেষণাটি একটি গ্রহণযোগ্য প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে। আর আল্লাহই আমাদের লক্ষ্য।

আহমদ ইয়াসূফ
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مدخل في مفهوم الجميل عند العلماء المسلمين

إن مسألة الجمال وإدراكه قضية فطرية، فطر الله الخلق عليها، وخلق صفة الجمال وصفة القبح، غير أن الفكر الإنساني تعرّض لهذه القضية بالدراسة، وكانت الفلسفة اليونانية قد عنيت بدراسة الجمال أو فن الجمال، وكان لهذه الدراسة اتجاهان: مثالي ومادي، ثم جاء المسلمون، وقدّموا أفكارا جديدة في هذا المضمار.

ويجدر بنا هنا التوقف عند نظرات علماء مسلمين، لنبيّن وجهة نظرهم واهتمامهم بالمفاهيم الجمالية، لتكون هذه النظرات تمهيدا لفهم الجمال في المفردة القرآنية، فقد قدم المسلمون جهدا واضحا إلى الفكر الإنساني، ولم يكونوا بمعزل عن الحضارات بكل ما تتضمنه، كما أنهم أبدوا فاعلية كبرى في الفكر، يشهد لها التاريخ والنظرة العادلة.

فالجاحظ «1» مثلا ارتبط مفهوم الجميل عنده بالنافع، فقد جاء في كتابه «الحيوان» عن حسن النار: «ولولا معرفتهم بقتلها وإتلافها، والألم والحرقة المولّدين عنها لتضاعف الحسن عندهم، وإنّهم ليرونها في الشتاء بغير العين التي يرونها بها في الصيف، ليس ذلك إلا ما حدث من الاستغناء عنها» «2».

فالمنفعة تزيد من حسن الجميل في نظر الإنسان، والدّفء المولّد عن النار

--------------------------------------------

(1) هو عمرو بن بحر، مولده ووفاته بالبصرة، معتزلي له مصنفات كثيرة في التوحيد وإثبات النبوة. وفضائل المعتزلة، توفي سنة 255 هـ أيام خلافة المهدي، من كتبه «الحيوان» و «البيان والتبيين» وله رسائل مطبوعة، انظر الأعلام: للزّركلي:

2/ 729.

(2) الجاحظ، 1952، الحيوان، تح: عبد السلام هارون، ط/ 1، مكتبة الخانجي القاهرة، 4/ 96 - 97.
মুসলিম পণ্ডিতদের নিকট সুন্দরের ধারণার পরিচিতি

সৌন্দর্য এবং এর উপলব্ধি একটি স্বভাবজাত বিষয়, যার ওপর আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৌন্দর্যের গুণ এবং কদর্যতার গুণ উভয়ই সৃষ্টি করেছেন। তবে মানবচিন্তা গবেষণার মাধ্যমে এই বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে। গ্রিক দর্শন সৌন্দর্য বা শিল্পকলার সৌন্দর্য নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে যত্নশীল ছিল এবং এই গবেষণার দুটি ধারা ছিল: আদর্শবাদী ও বস্তুবাদী। অতঃপর মুসলিমগণ এলেন এবং তাঁরা এই ক্ষেত্রে নতুন চিন্তাধারা পেশ করলেন।

মুসলিম পণ্ডিতদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর এখানে আলোকপাত করা সমীচীন হবে, যাতে আমরা নান্দনিক ধারণার প্রতি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারি, যেন এই পর্যবেক্ষণসমূহ কুরআনের শব্দাবলিতে বর্ণিত সৌন্দর্যের উপলব্ধির জন্য একটি উপক্রমণিকা হতে পারে। মুসলিমগণ মানবচিন্তায় এক সুস্পষ্ট অবদান রেখেছেন এবং তাঁরা সভ্যতা ও এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদি থেকে বিচ্ছন্ন ছিলেন না। অধিকন্তু, তাঁরা চিন্তাজগতে এক ব্যাপক সক্রিয়তা প্রদর্শন করেছেন, যার সাক্ষ্য ইতিহাস এবং ন্যায়নিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।

উদাহরণস্বরূপ, আল-জাহিজ «১»-এর নিকট সুন্দরের ধারণাটি উপকারের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তাঁর «আল-হায়াওয়ান» গ্রন্থে আগুনের সৌন্দর্য সম্পর্কে এসেছে: «যদি আগুনের ধ্বংস করার ও বিনাশ করার ক্ষমতা এবং তা থেকে উদ্ভূত যন্ত্রণা ও দাহিকা শক্তি সম্পর্কে তাদের জানা না থাকত, তবে তাদের নিকট এর সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেত। তারা শীতকালে আগুনকে যে চোখে দেখে, গ্রীষ্মকালে সে চোখে দেখে না; এটি কেবল গ্রীষ্মে এর প্রয়োজনীয়তা না থাকার কারণেই হয়ে থাকে» «২»।

সুতরাং মানুষের দৃষ্টিতে উপকারিতা সুন্দরের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয় এবং আগুন থেকে উৎপন্ন উষ্ণতা

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আমর ইবনে বাহর, তাঁর জন্ম ও মৃত্যু বসরায়। তিনি একজন মুতাজিলী ছিলেন; তাওহীদ, নবুওয়াত প্রমাণ এবং মুতাজিলাদের গুণাবলি বিষয়ে তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে। তিনি ২৫৫ হিজরি সালে খলিফা মাহদীর শাসনামলে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে «আল-হায়াওয়ান» এবং «আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন» উল্লেখযোগ্য এবং তাঁর কিছু মুদ্রিত পত্রাবলিও রয়েছে। দেখুন আল-আ'লাম: যিরিকলী রচিত:

২/ ৭২৯।

(২) আল-জাহিজ, ১৯৫২, আল-হায়াওয়ান, সম্পাদনা: আবদুস সালাম হারুন, ১ম সংস্করণ, মাকতাবাতুল খানজী কায়রো, ৪/ ৯৬ - ৯৭।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
يزيدها حسنا، وهكذا نجد أنه يربط الجمال- أو الحسن على حدّ تعبيره- بالمنفعة خلافا للمدرسة الغربية المعاصرة، والجميل عنده موضوعي، ينبغ جماله من شكله، وتركيب أعضائه وجزئياته، إذ يقول: «وربّ شيء إنما الأعجوبة فيه إنما هي في صورته وصنعته وتركيب أعضائه وتأليف أجزائه، كالطاوس في تعاريج ريشه وتهاويل ألوانه، وكالزّرافة في عجيب تركيبها ومواضع أعضائها .. أو يكون العجب فيما أعطي في حنجرته من الأغاني العجيبة والأصوات الشّجية المطربة والمخارج الحسنة» «1».

فقضية استيعاب الجميل تعتمد على الحسّ، لأن الجميل هنا موضوعي محسوس، فهو يدل على حاسّة البصر في جمال شكل الطاوس والزّرافة، وعلى حاسة السمع في جمال أصوات الطيور المغرّدة، وكذلك يدلّ على تناسق الشكل الذي ترتاح إليه العين، ولا تختلف مدارس علم الجمال في اختصاص هاتين الحاستين بإدراك الجمال.

ولا يكتفي بالحواس الظاهرة، إنما يعدّها سبيلا إلى مكمن المشاعر أو القلب حسب تعبيره، إذ يقول: «وإذا رفعت القينة عقيرة حلقها تغنّي حدّق إليها الطّرف، وأصغى نحوها السمع، وألقى إليها القلب الملك، فاستبق السمع والبصر أيهما يؤدّي إلى القلب ما أفاد منها قبل صاحبه» «2».

ولا يقتصر الجمال عنده على المحسوس المرئي أو المسموع، فهناك جمال معنوي مجرّد يتملّاه العقل أو القلب، ونحن نلتمس هذا من خلال حديثه عن القبيح، إذ يقول عنه: «الضيق في الملوك، والغدر في ذوي الأحساب، والحاجة في العلماء، والكذب في القضاء، والشّح في الأغنياء» «3».

وهذا الجمال المعنوي الأخلاقي لا يبتعد عن الشريعة الإسلامية، كالوفاء والعفّة والصدق والكرم والشجاعة، إلا أنه يريد شدة القبح في حالات معينة.

--------------------------------------------

(1) الجاحظ، الحيوان: 5/ 150 - 151.

(2) الجاحظ، 1964، رسائل الجاحظ تحقيق عبد السلام هارون، مكتبة الخانجي، القاهرة 2/ 170.

(3) الجاحظ، البيان والتبيين، دار الكتب العلمية، بيروت، بلا تاريخ: 3/ 233.
এটি এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে তিনি সৌন্দর্যকে—অথবা তাঁর ভাষায় 'হুসন'কে—উপযোগিতার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, যা সমসাময়িক পাশ্চাত্য মতবাদের বিপরীত। তাঁর মতে সৌন্দর্য হলো বস্তুনিষ্ঠ, যা তার রূপ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন এবং এর উপাদানসমূহ থেকে উৎসারিত হয়। তিনি বলেন: «এমন অনেক বস্তু রয়েছে যার বিস্ময়কর রহস্য নিহিত থাকে কেবল তার রূপ, শিল্পশৈলী, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন এবং এর অংশসমূহের বিন্যাসে; যেমন ময়ূরের পাখার কারুকাজ ও রঙের বৈচিত্র্য, এবং জিরাফের বিস্ময়কর গঠন ও এর অঙ্গসমূহের বিন্যাস... অথবা বিস্ময় থাকতে পারে তার কণ্ঠনালিতে প্রদত্ত সেই অদ্ভুত গান, সুললিত সুর এবং সুন্দর স্বর নির্গমন পদ্ধতির মধ্যে» «১»।

সৌন্দর্য অনুধাবনের বিষয়টি ইন্দ্রিয়ের ওপর নির্ভরশীল, কারণ এখানে সৌন্দর্য বস্তুনিষ্ঠ ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য। এটি ময়ূর ও জিরাফের অবয়বের সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে দর্শনেন্দ্রিয়কে নির্দেশ করে এবং গায়ক পাখিদের কণ্ঠের সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে শ্রবণেন্দ্রিয়কে নির্দেশ করে। অনুরূপভাবে এটি রূপের সেই সুষমাকে নির্দেশ করে যা চোখের প্রশান্তি ঘটায়; নন্দনতত্ত্বের বিভিন্ন মতবাদ সৌন্দর্য উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে এই দুটি ইন্দ্রিয়কে সুনির্দিষ্ট করার ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করে না।

তিনি কেবল বাহ্যিক ইন্দ্রিয়গুলোতেই ক্ষান্ত হন না, বরং এগুলোকে অনুভূতির কেন্দ্রস্থল বা তাঁর ভাষায় 'কলব' (অন্তর) পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ হিসেবে গণ্য করেন। তিনি বলেন: «যখন কোনো গায়িকা উচ্চকণ্ঠে গান গায়, তখন দৃষ্টি তার দিকে নিবদ্ধ হয়, শ্রবণ তার দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং সম্রাট সমতুল্য অন্তর তার প্রতি নিবিষ্ট হয়। তখন শ্রবণ ও দর্শন শক্তি একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় যে, কে তার সঙ্গীর আগে অন্তরের কাছে প্রাপ্ত সুফল পৌঁছে দিতে পারে» «২»।

তাঁর কাছে সৌন্দর্য কেবল দৃশ্যমান বা শ্রবণযোগ্য ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সেখানে এক বিমূর্ত আত্মিক সৌন্দর্য রয়েছে যা বুদ্ধি বা অন্তর দ্বারা উপলব্ধি করা যায়। কুশ্রীতা সম্পর্কে তাঁর আলোচনার মাধ্যমে আমরা এর সন্ধান পাই; তিনি এটি সম্পর্কে বলেন: «রাজাদের মধ্যে সংকীর্ণতা, উচ্চ বংশীয়দের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা, আলেমদের মধ্যে পরমুখাপেক্ষিতা, বিচারকদের মধ্যে মিথ্যা এবং ধনীদের মধ্যে কৃপণতা» «৩»।

এই নৈতিক ও আত্মিক সৌন্দর্য ইসলামি শরিয়ত থেকে মোটেও দূরে নয়, যেমন—ওয়াদা পালন, চারিত্রিক পবিত্রতা, সত্যবাদিতা, উদারতা এবং বীরত্ব। তবে তিনি বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে কুশ্রীতার চরম অবস্থাকে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-জাহিজ, আল-হায়াওয়ান: ৫/১৫০ - ১৫১।

(২) আল-জাহিজ, ১৯৬৪, রাসাইলুল জাহিজ, তাহকিক: আবদুস সালাম হারুন, মাকতাবাতুল খানজি, কায়রো ২/১৭০।

(৩) আল-জাহিজ, আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, তারিখ বিহীন: ৩/২৩৩।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وإذا كان الجاحظ يكتفي بالحديث عن الجميل الموضوعي والمعنوي الأخلاقي فإن أبا حيّان التوحيدي «1» يركّز على الجمال المعنوي، ويضع العقل معيارا لفهمه، ويبسط القول على صفات الله قائلا: «وهي من الحسن في غاية لا يجوز أن يكون فيها وفي درجتها شيء من المستحسنات، لأنها هي سبب كل حسن، وهي التي تفيض بالحسن على غيرها «2».

فالخالق عز وجل هو الجميل المطلق، وهو خالق الجمال النسبي في الكون، فصفات الله هي أصل الحسن في المخلوقات، وأبو حيان يتحدث عن الجميل المعنوي، ويربطه بالخير، ويجعل العقل وحده معيارا في تذوقه واستيعابه، يقول: «إن العقل لا يستحسن ولا يستقبح شيئا من الأشياء إلا بقرائن وشرائط، وهكذا الحال في الأشياء التي تعرف بالخير والشر، إن القصاص إذا وقع عليه هذا الاسم لما فيه من حياة الناس، وإذا وقع عليه اسم القتل بغير هذا الاعتبار صار قبيحا لما فيه من تلف الحيوان» «3».

فالفعل لا يتّصف بالجمال أو القبح، حتى يتضح أثره وفائدته، أو ضرره في المجتمع، أو دلالة الشّرع، وهذا ما رامه بقوله: شرائط وقرائن، وبما أن الجميل هنا معنوي، فتناسب ربطه بالخير، على حين ربط الجاحظ الجميل الحسي بالمنفعة.

ومعيار العقل مستمر في حكمه لا يتغير بتغير الأحوال، فهو يقول:

«ما يستحسنه العقل، فهو أبدى الاستحسان له، وما يستقبحه، فهو أبدى الاستقباح له، ولا يتغير ذلك بتغير الأحوال» «4».

--------------------------------------------

(1) هو علي بن محمد بن العباس التوحيدي المتوفى سنة 400 هـ، فيلسوف متصوف معتزلي، أحرق كتبه في آخر حياته، ومن كتبه «المقابسات» و «الإمتاع والمؤانسة» و «الصداقة والصديق» و «الهوامل

والشوامل» اتّهم في دينه، انظر الأعلام:

5/ 144.

(2) التوحيدي، أبو حيان، 1952، الهوامل والشوامل، تح: أحمد أمين وأحمد صقر ط/ 1، لجنة التأليف والنشر والترجمة»، القاهرة، ص: 43.

(3) المصدر السابق، ص: 147.

(4) المصدر السابق، ص: 316.
যেখানে আল-জাহিজ কেবল বাহ্যিক এবং আধ্যাত্মিক-নৈতিক সৌন্দর্যের আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন, সেখানে আবু হাইয়ান আত-তাওহিদী (১) আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং একে বোঝার জন্য বিবেককে মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেন। তিনি আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে বলেন: "এগুলো সৌন্দর্যের এমন এক চরম শিখরে যে, এর সমপর্যায়ে অন্য কোনো সৌন্দর্যমন্ডিত বিষয় থাকা সম্ভব নয়। কারণ এই গুণাবলিই হলো সকল সুন্দরের উৎস এবং এগুলোই অন্যকিছুর ওপর সৌন্দর্য বর্ষণ করে (২)।"

সুতরাং মহান স্রষ্টা হলেন পরম সুন্দর এবং তিনিই মহাবিশ্বের আপেক্ষিক সৌন্দর্যের স্রষ্টা। তাই আল্লাহর গুণাবলিই হলো সৃষ্টিজগতের সৌন্দর্যের মূল উৎস। আবু হাইয়ান আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য নিয়ে কথা বলেন এবং একে কল্যাণের সাথে সম্পৃক্ত করেন। তিনি একে উপলব্ধি ও অনুধাবনের জন্য একমাত্র বিবেককে মানদণ্ড বানান। তিনি বলেন: "বিবেক কোনো কিছুকেই সুন্দর বা কুৎসিত মনে করে না যতক্ষণ না এর পেছনে কোনো প্রমাণ ও শর্ত থাকে। অনুরূপ অবস্থা সেইসব জিনিসের ক্ষেত্রেও যা ভালো ও মন্দ হিসেবে পরিচিত। যেমন কিসাস বা দণ্ডবিধিকে যখন এই নামে ডাকা হয় কারণ এর মাঝে মানুষের জীবন নিহিত রয়েছে (তখন তা সুন্দর), কিন্তু যখন একে কেবল বিচার-বিবেচনা ছাড়া হত্যার নাম দেওয়া হয়, তখন তা বীভৎস হয়ে ওঠে কারণ এর ফলে প্রাণের বিনাশ ঘটে (৩)।"

অতএব কোনো কাজ যতক্ষণ পর্যন্ত সৌন্দর্য বা বীভৎসতার বিশেষণে বিশেষিত হয় না, যতক্ষণ না সমাজে এর প্রভাব ও উপকারিতা কিংবা ক্ষতি স্পষ্ট হয়, অথবা শরীয়তের নির্দেশ স্পষ্ট হয়। আর এটিই তিনি ‘শর্ত ও প্রমাণ’ কথাটি দ্বারা বুঝিয়েছেন। যেহেতু এখানকার সৌন্দর্যটি আধ্যাত্মিক, তাই একে কল্যাণের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে; যেখানে আল-জাহিজ বাহ্যিক সৌন্দর্যকে উপযোগিতার সাথে সম্পৃক্ত করেছিলেন।

বিবেকের মানদণ্ড এর বিচারের ক্ষেত্রে অবিচল থাকে যা অবস্থার পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না। তিনি বলেন:

"বিবেক যা কিছুকে সুন্দর বলে সাব্যস্ত করে, তা চিরকালের জন্যই সুন্দর। আর যাকে কুৎসিত বলে সাব্যস্ত করে, তা চিরকালই কুৎসিত; অবস্থার পরিবর্তনে এর কোনো পরিবর্তন ঘটে না (৪)।"

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্বাস আত-তাওহিদী, যিনি ৪০০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি একজন দার্শনিক, সুফি ও মুতাজিলি ছিলেন। জীবনের শেষভাগে তিনি নিজের কিতাবসমূহ পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। তার রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে ‘আল-মুকাবাসাত’, ‘আল-ইমতা ওয়াল মুয়ানাসা’, ‘আস-সাদাকা ওয়াস সাদিক’ এবং ‘আল-হাওয়ামিল

ওয়ালশ শাওয়ামিল’। তার দ্বীনদারির ব্যাপারে অভিযোগ তোলা হয়েছে। দেখুন আল-আলাম:

৫/ ১৪৪।

(২) আত-তাওহিদী, আবু হাইয়ান, ১৯৫২, আল-হাওয়ামিল ওয়ালশ শাওয়ামিল, তাহকিক: আহমাদ আমিন ও আহমাদ সাক্কার, ১ম সংস্করণ, লাজজাতুত তালিফ ওয়ান নাশরি ওয়াত তারজামা, কায়রো, পৃষ্ঠা: ৪৩।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা: ১৪৭।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা: ৩১৬।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ويفصل أبو حامد الغزالي «1» بين الجميل والنافع، بيد أنه لا يلغي لذّة النافع، إنما يقدّر له لذّته الخاصة به، فهو يقول: «كل جمال محبوب عند مدرك الجمال، وذلك لعين الجمال، لأن إدراك الجمال فيه عين اللذة، واللذة محبوبة لذاتها لا لغيرها، ولا تظنّنّ أن حب الصور الجميلة لا يتصور إلا لأجل قضاء الشهوة، فإنّ قضاء الشهوة لذّة أخرى قد تحبّ الصور الجميلة لأجلها، وإدراك نفس الجمال أيضا لذيذ، فيجوز أن يكون محبوبا لذاته، وكيف ينكر ذلك والخضرة والماء الجاري محبوب لا ليشرب الماء، وتؤكل الخضرة، أو ينال منها حظ سوى نفس الرؤية» «2».

يذكر الغزالي هذا في حديثه عن المحبة، وهنا يتحدث عن حبّ الأشياء المحسوسة، ويذكر حاسّة الرؤية، ويمكننا أن نعدّ كلامه تفسير لقوله عز وجل عن الإبل: وَلَكُمْ فِيها جَمالٌ حِينَ تُرِيحُونَ وَحِينَ تَسْرَحُونَ «3». إذ ينص البيان القرآني على أن الأشياء ليست جميلة لذاتها بل لمنفعتها للإنسان في الوقت نفسه، وتمتع الإنسان بالصفات الجميلة يؤدي إلى تسبيح الخالق عز وجل. فالموقف الجمالي بحسب المنهج القرآني يقول بالغائية، إلا أنه يدعو إلى الترفع عن المنفعة المادية المباشرة، فلا يرتبط بالنافع مباشرة كما في فلسفة سقراط، كما نجد هذا في الحواريات التي نقلها عنه تلميذه أفلاطون.

والإبل مفيدة بلحمها وركوبها، وهنالك هنيهات تأملية سامية يتجلّى للبصر حينها جمال شكل الإبل، وهذا يدعو إلى تسبيح الخالق، فالشعور بالجمال يتكون بعد إشباع الحاجة المادية، فالظمآن لا يشعر بجمال خرير النهر، كما أن الجائع لا يشعر بجمال الثمار، لأن الجميل يعني إثارة وجدانية

--------------------------------------------

(1) هو محمد بن محمد حجّة الإسلام، فيلسوف متصوف له نحو مائتي مصنف، ولد في طوس بخراسان، ورحل إلى نيسابور، ثم بغداد فالحجاز، فبلاد الشام، وتوفي في طوس سنة 505 هـ، ونسبه إلى غزالة اسم قرية بخراسان، من كتبه «إحياء علوم الدين» و «تهافت الفلاسفة» و «المنقذ من الضلال» وله كتب بالفارسية. الأعلام: 3/ 972.

(2) أبو حامد الغزالي، 1986، إحياء علوم الدين، ط/ 1، دار الكتب العلمية، بيروت: 4/ 316.

(3) سورة النحل: الآية: 6.
আবু হামিদ আল-গাজ্জালী (১) সুন্দর ও উপকারী বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন, তবে তিনি উপকারীর আনন্দকে নাকচ করেননি, বরং এর জন্য এর নিজস্ব স্বাদের মূল্যায়ন করেছেন। তিনি বলেন: "সৌন্দর্যের প্রতিটি রূপই সৌন্দর্য উপলব্ধিকারীর কাছে প্রিয়, আর তা খোদ সৌন্দর্যের কারণেই। কারণ সৌন্দর্য উপলব্ধির মধ্যেই মূল আনন্দ নিহিত, আর আনন্দ তার নিজের সত্তার কারণেই প্রিয়, অন্য কিছুর জন্য নয়। তুমি এমনটা মনে করো না যে, সুন্দর অবয়বের প্রতি ভালোবাসা কেবল প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যেই হতে পারে; কেননা প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা হলো ভিন্ন আরেকটি আনন্দ, যার খাতিরে কখনো সুন্দর অবয়বকে পছন্দ করা হতে পারে। তবে খোদ সৌন্দর্যের উপলব্ধিও আনন্দদায়ক, তাই একে নিজের সত্তার কারণেই ভালোবাসা বৈধ। আর এটি অস্বীকার করা যাবেই বা কী করে, যেখানে সবুজ প্রকৃতি এবং প্রবহমান পানি প্রিয় হয়ে থাকে—তা পানি পান করা কিংবা সবুজ খেয়ে ফেলার জন্য নয়, অথবা কেবল তা দেখার আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো স্বার্থ উদ্ধারের জন্যও নয়" (২)।

গাজ্জালী এটি উল্লেখ করেছেন ভালোবাসা সম্পর্কে তাঁর আলোচনায়। এখানে তিনি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কথা বলছেন এবং দর্শনেন্দ্রিয়ের কথা উল্লেখ করছেন। আমরা তাঁর এই বক্তব্যকে উট সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য করতে পারি: "তোমাদের জন্য তাতে সৌন্দর্য রয়েছে যখন তোমরা সেগুলোকে গোধূলিলগ্নে ঘরে নিয়ে আসো এবং যখন সকালে চারণভূমিতে নিয়ে যাও" (৩)। কারণ কুরআনের বর্ণনা এ কথাটি সুপ্রতিষ্ঠিত করে যে, বস্তুসমূহ কেবল তার নিজ সত্তার কারণেই সুন্দর নয়, বরং একই সাথে মানুষের উপকারের দিক থেকেও সুন্দর। আর মানুষের এই সুন্দর বৈশিষ্ট্যসমূহ উপভোগ করা তাকে মহান স্রষ্টার মহিমা বর্ণনার (তাসবিহ) দিকে ধাবিত করে। সুতরাং কুরআনের পদ্ধতি অনুযায়ী সৌন্দর্যতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিটি একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের কথা বলে, তবে এটি সরাসরি বস্তুগত উপযোগিতার ঊর্ধ্বে ওঠার আহ্বান জানায়। ফলে এটি সরাসরি 'উপকারী'র সাথে এমনভাবে যুক্ত নয় যেমনটি সক্রেটিসের দর্শনে দেখা যায়, যা আমরা তাঁর ছাত্র প্লেটোর বর্ণিত কথোপকথনগুলোতে খুঁজে পাই।

উট তার গোশত এবং আরোহণের দিক থেকে যেমন উপকারী, ঠিক তেমনি সেখানে এমন কিছু উচ্চতর ধ্যানমগ্ন মুহূর্ত রয়েছে যখন মানুষের চোখের সামনে উটের অবয়বের সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়, আর এটি স্রষ্টার মহিমা বর্ণনার আহ্বান জানায়। মূলত সৌন্দর্যের অনুভূতি তৈরি হয় বস্তুগত প্রয়োজন মেটানোর পরে; কারণ তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি নদীর কলতানের সৌন্দর্য অনুভব করতে পারে না, যেমনটি ক্ষুধার্ত ব্যক্তি ফলের সৌন্দর্য অনুভব করতে পারে না। কেননা 'সুন্দর' বলতে একটি আত্মিক ও আবেগীয় উদ্দীপনাকে বোঝায়।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম, একজন সুফি দার্শনিক। তাঁর প্রায় দুইশটি রচনা রয়েছে। তিনি খোরাসানের তুসে জন্মগ্রহণ করেন এবং নিশাপুর, অতপর বাগদাদ, হিজাজ ও শাম দেশে ভ্রমণ করেন। তিনি ৫০৫ হিজরিতে তুসে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর নিসবত 'গাজালা' নামক খোরাসানের একটি গ্রামের নাম থেকে এসেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'ইহয়াউ উলুমিদ্দিন', 'তাহাফুতুল ফালাসিফাহ', 'আল-মুনকিজ মিনাদ দলাল' এবং ফারসি ভাষায়ও তাঁর কিছু কিতাব রয়েছে। আল-আলাম: ৩/৯৭২।

(২) আবু হামিদ আল-গাজ্জালী, ১৯৮৬, ইহয়াউ উলুমিদ্দিন, ১ম সংস্করণ, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত: ৪/৩১৬।

(৩) সূরা আন-নাহল: আয়াত: ৬।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
لمشاعر راقية.

وفي منظور الغزالي يتمتع الجمال الموضوعي بصفة الجمال عند ما تحضر فيه الصفات اللائقة به كما خلقها الله عز وجل، إذ يقول: «كلّ شيء فجماله وحسنه في أن يحضر كماله اللائق به الممكن له، فإذا كانت جميع كمالاته الممكنة حاضرة، فهو في غاية الجمال، وإن كان الحاضر بعضها فله من الحسن والجمال بقدر ما حضر- ولكل شيء كمال يليق به، وقد يليق بغيره ضدّه، فحسن كل شيء في كماله الذي يليق به، فلا يحسن الإنسان بما يحسن به الفرس» «1».

وهذا يذكّرنا بتأليف الأعضاء كما جاء عند الجاحظ، فالجمال متفاوت، لأن هناك نسبا مختلفة في حضور الصفات الجميلة، وهذا يصل بالغزالي إلى أن الكمال لله وحده، إذ يقول: «وأما كل مخلوق فلا يخلو عن نقص وعن نقائص، بل كونه عاجزا مخلوقا مسخّرا هو عين العيب والنقص فالكمال لله عز وجل وحده، وليس لغيره كمال إلا بقدر ما أعطاه الله» «2».

وهذا أيضا يذكّرنا بفيض الحسن من الخالق على المخلوقات، كما ورد عند أبي حيان التوحيدي.

وبما أن المقصد من ذكر حب الجميل أخلاقي ديني عند الغزالي، فإنه لا ينسى أن يذكر الجمال المعنوي، إذ يقول: «إن الجمال والحسن موجود في غير المحسوسات، إذ يقال: هذا خلق حسن وهذا علم حسن، وهذه سيرة حسنة، وهذه أخلاق حسنة، وشيء من هذه الصفات لا يدرك بالحواس الخمس بل يدرك بنور البصيرة الباطنة» «3».

فالجميل عند الغزالي مطلق، وهو الخالق عز وجل، ومنه يفيض الجمال على الأشياء، وجمال موضوعي محسوس يعتمد على الحواس، وجميل معنوي يعتمد على البصيرة، كحبّ العلماء والعلم والطاعات والأخلاق

--------------------------------------------

(1) أبو حامد الغزالي، إحياء علوم الدين: 4/ 316.

(2) أبو حامد الغزالي، إحياء علوم الدين: 4/ 322.

(3) المصدر نفسه: 4/ 316 - 317.
উন্নত অনুভূতির জন্য।

আল-গাযালীর দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়গত সৌন্দর্য সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্য লাভ করে তখন, যখন তাতে তার জন্য উপযুক্ত গুণাবলি উপস্থিত থাকে যেভাবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সেগুলো সৃষ্টি করেছেন। কেননা তিনি বলেন: «প্রত্যেক জিনিসের সৌন্দর্য ও লাবণ্য হলো তার জন্য উপযুক্ত ও সম্ভবপর পূর্ণতা উপস্থিত হওয়া। সুতরাং যখন তার সকল সম্ভবপর পূর্ণতা উপস্থিত থাকে, তখন তা সৌন্দর্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকে। আর যদি তার কিছু অংশ উপস্থিত থাকে, তবে যতটুকু উপস্থিত হয়েছে সেই পরিমাণ তার রূপ ও সৌন্দর্য থাকে। প্রতিটি জিনিসের জন্য একটি উপযুক্ত পূর্ণতা রয়েছে, আর যা একজনের জন্য উপযুক্ত অন্যটির জন্য তার বিপরীতটি উপযুক্ত হতে পারে। অতএব প্রতিটি জিনিসের সৌন্দর্য তার উপযুক্ত পূর্ণতার ওপর নির্ভরশীল; সুতরাং মানুষের সৌন্দর্য সেই গুণ দ্বারা হবে না যা দ্বারা ঘোড়ার সৌন্দর্য প্রকাশ পায়» (১)।

এটি আমাদের জাহিজের বর্ণনানুসারে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুসমন্বয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কেননা সৌন্দর্য ভিন্ন ভিন্ন হয়, কারণ সুন্দর গুণাবলির উপস্থিতির ভিন্ন ভিন্ন অনুপাত রয়েছে। এটি গাযালীকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত করে যে, পূর্ণতা কেবল আল্লাহর জন্যই। তিনি বলেন: «আর প্রতিটি সৃষ্টিই ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত নয়; বরং তার অক্ষম, সৃষ্ট এবং পরাধীন হওয়াই মূলত দোষ ও ত্রুটির পরিচয়। সুতরাং পূর্ণতা কেবল আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্যই এককভাবে নির্ধারিত, আর আল্লাহ তাকে যতটুকু দান করেছেন তা ছাড়া অন্যের জন্য কোনো পূর্ণতা নেই» (২)।

এটি স্রষ্টার পক্ষ থেকে সৃষ্টিজগতের ওপর সৌন্দর্যের বিচ্ছুরণের কথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, যেমনটি আবু হাইয়ান আল-তাওহীদী উল্লেখ করেছেন।

যেহেতু গাযালীর নিকট সুন্দরের প্রতি অনুরাগের উদ্দেশ্য নৈতিক ও ধর্মীয়, তাই তিনি আত্মিক সৌন্দর্য উল্লেখ করতে ভোলেননি। তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই সৌন্দর্য ও লাবণ্য ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর বাইরেও বিদ্যমান। যেমন বলা হয়: এটি সুন্দর চরিত্র, এটি সুন্দর জ্ঞান, এটি সুন্দর জীবনধারা এবং এটি সুন্দর আখলাক। এই গুণাবলির কোনোটিই পঞ্চেন্দ্রিয় দ্বারা অনুধাবন করা যায় না, বরং তা অন্তরের অন্তর্দৃষ্টির আলো দ্বারা অনুধাবন করা যায়» (৩)।

সুতরাং গাযালীর নিকট সুন্দর হলেন পরম সত্তা, আর তিনি হলেন স্রষ্টা আযযা ওয়া জাল্লা। তাঁর থেকেই বস্তুনিচয়ের ওপর সৌন্দর্য বিচ্ছুরিত হয়। এছাড়া রয়েছে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়গত সৌন্দর্য যা ইন্দ্রিয়ের ওপর নির্ভরশীল এবং আত্মিক সৌন্দর্য যা অন্তর্দৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল, যেমন আলিমদের প্রতি ভালোবাসা, জ্ঞান, ইবাদত এবং সচ্চরিত্র।

--------------------------------------------

(১) আবু হামিদ আল-গাযালী, ইহয়াউ উলূমিদ্দীন: ৪/৩১৬।

(২) আবু হামিদ আল-গাযালী, ইহয়াউ উলূমিদ্দীন: ৪/৩২২।

(৩) একই উৎস: ৪/৩১৬ - ৩১৭।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الحميدة.

لقد تحدّث علماؤنا بوضوح عن المفاهيم الجمالية خلافا لتعقيد الفلاسفة الغربيين وتناقضهم أحيانا، كما نجد هذا في الجمال عند هيغل ومسألة المطلق والروح وأمثال هذه المصطلحات الغامضة، أو تعلق الجمال بالحدس كما هي الحال عند كروتشه.

وقد ذكروا أمثلة من الواقع الملموس تثبت صحة نظرهم، ونخلص مما سلف إلى أن الجميل الموضوعي يعتمد على جزئيات هذا الجميل، وهذا يقترب من مفهوم الجميل في البحث، إذ يعتمد على حاستي البصر والسمع إضافة إلى القلب، وهذا ما تتفق فيه الدراسات الجمالية كلّها.

ولا بدّ من الإشارة إلى أن اقتران الحب بالجمال في الفلسفة اليونانية لا يمتّ بصلة إلى ما جاء عند الغزالي، لأن الغاية عنده دينية، ليس فيها التجريد الفلسفي وما سمي بالمثل، كما أن حديث المسلمين عن الجمال البصري يتحدّد في الأشكال، وفي الصور المرئية، وليس فيه ترّهات الغرب، وتجسيد المثل أو الفكرة المطلقة، وما يتبع هذا من خطل وتعقيد، وكذلك لا نحب أن نربط بين ما ذكره التوحيديّ والغزالي عن فيض الجمال على المخلوقات بما جاء في نظرية الفيض عند أفلوطين، فنظرة علمائنا تتّسم بالأصالة، لأنها تنبع من أصول العقيدة الإسلامية.

وإذا كانت المذوقات والمشمومات والملموسات أدخل في الالتذاذ الجسدي من المرئيات والسمعيات، فإن الجمال القرآني يثير هذه الأحاسيس أيضا، لأنه فن قولي يتمتّع بطابع زماني لاعتماده الكلمة والنسق الموسيقى، ومكاني بمشاهده المؤثرة في المشاعر، ولأجل الإيغال في التأثير الحسي يحرك كلّ الحواس، حتى إن سماع بعض الكلمات يشبه الإدراك المرئي، فيتخذ بعدا مكانيا.

والجمال القرآني متكامل من حيث الانسجام بين الشكل والمضمون فيه، وهو لا يقدّم شكلا فارغا، بل إن ما فيه مسخّر في نهاية الأمر لرفع مستوى الوعي الجمالي، ومن ثمّ لتحقيق الهداية، ومن يقرأ آياته يدرك أن الشكل
প্রশংসনীয়।

আমাদের আলেমগণ নন্দনতাত্ত্বিক ধারণাগুলো সম্পর্কে পশ্চিমা দার্শনিকদের জটিলতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে তাদের স্ববিরোধিতার বিপরীতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আলোচনা করেছেন; যেমনটি আমরা লক্ষ্য করি হেগেলের নন্দনতত্ত্ব, পরম সত্তা ও আত্মার প্রসঙ্গের ন্যায় অস্পষ্ট পরিভাষাগুলোর ক্ষেত্রে, কিংবা ক্রোচের ন্যায় সৌন্দর্যের সাথে সজ্ঞার সম্পৃক্ততার বিষয়ে।

তাঁরা বাস্তব জগত থেকে এমন সব উদাহরণ উল্লেখ করেছেন যা তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির সঠিকতা প্রমাণ করে। পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, বস্তুনিষ্ঠ সৌন্দর্য সেই সৌন্দর্যের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশের ওপর নির্ভরশীল, যা গবেষণার ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের ধারণার নিকটবর্তী; কেননা এটি হৃদয়ের পাশাপাশি দৃষ্টি ও শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের ওপর নির্ভর করে। আর এ বিষয়টিই সমস্ত নন্দনতাত্ত্বিক গবেষণায় ঐকমত্যপূর্ণ।

এ কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, গ্রীক দর্শনে সৌন্দর্যের সাথে ভালোবাসার যে সম্পৃক্ততা দেখা যায়, তার সাথে ইমাম গাজালির বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই। কেননা তাঁর লক্ষ্য হলো ধর্মীয়; যেখানে কোনো দার্শনিক বিমূর্তায়ন বা তথাকথিত 'আদর্শ রূপ'-এর স্থান নেই। তেমনিভাবে দৃষ্টিগ্রাহ্য সৌন্দর্য সম্পর্কে মুসলিমদের আলোচনা কেবল আকার ও দৃশ্যমান রূপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ; এতে পাশ্চাত্যের অসারতা, আদর্শের মূর্তরূপ দান কিংবা 'পরম ধারণা'-এর ন্যায় বিষয় এবং এর ফলে সৃষ্ট ভুল ও জটিলতার কোনো স্থান নেই। তদ্রূপ তাওহিদী ও গাজালি কর্তৃক সৃষ্টির ওপর সৌন্দর্যের বিচ্ছুরণ সংক্রান্ত আলোচনার সাথে প্লোটিনাসের 'বিচ্ছুরণ তত্ত্ব'-এর যোগসূত্র স্থাপন করাও আমরা সমীচীন মনে করি না। কারণ আমাদের আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি স্বকীয়তায় ভাস্বর, যেহেতু তা ইসলামি আকিদার মূল উৎস থেকে উৎসারিত।

যদিও দৃশ্যমান ও শ্রবণযোগ্য বিষয়ের তুলনায় স্বাদ, ঘ্রাণ ও স্পর্শের বিষয়গুলো শারীরিক উপভোগের সাথে বেশি সম্পৃক্ত, তথাপি কুরআনিক সৌন্দর্য এই অনুভূতিগুলোকেও জাগ্রত করে। কারণ এটি একটি বাচনিক শিল্প যা শব্দ ও ছন্দময় বিন্যাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে একটি 'কালিক' বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, আবার অনুভূতিতে নাড়া দেওয়া দৃশ্যাবলির কারণে তা 'স্থানিক' বৈশিষ্ট্যেও ভাস্বর। ইন্দ্রিয়গত প্রভাবকে সুগভীর করার লক্ষ্যে এটি সমস্ত ইন্দ্রিয়কে আলোড়িত করে, এমনকি কোনো কোনো শব্দের শ্রবণ দৃশ্যগত উপলব্ধির সদৃশ হয়ে দাঁড়ায় এবং একটি স্থানিক মাত্রা লাভ করে।

কুরআনিক সৌন্দর্য এর রূপ ও বিষয়বস্তুর মধ্যকার সুসমন্বয়ের দিক থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ। এটি কোনো শূন্য কাঠামো উপস্থাপন করে না, বরং এর মধ্যকার সবকিছুই শেষ পর্যন্ত নন্দনতাত্ত্বিক সচেতনতার মান বৃদ্ধি এবং ফলশ্রুতিতে হিদায়াত অর্জনের জন্য নিয়োজিত। যে ব্যক্তি এর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে সে উপলব্ধি করতে পারে যে, এর রূপ
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
يحتوي المضمون ويتّحد به، وبحيث لا ينفصمان، وما الإعجاز البياني إلا الشكل الراقي لدعوة البشر إلى الحق.

ويمكننا أن نقول إن الجميل في القرآن هو كلّ ما ترتاح إليه النفس بعد مروره بالحواس، وذلك في الطبيعة والحياة الاجتماعية، وفق ما يقتضي الخير والشر من مظاهر وعلاقات إنسانية، وذلك بالإضافة إلى جمال الأفكار والمشاعر الذي ينسكب في الباطن، ويحدث لذة جمالية معنوية وفق طبيعة النفس الإنسانية كما فطرها الخالق عز وجل.

والجميل في القرآن كل ما يخاطب المشاعر، وما يتصف بمعنى المؤثّر في أرقى أشكاله، إن في تصوير ما ترتاح إليه العين والأذن، أو في ما ينفّر عنه التصوير من خلال دقّة بارعة لتصوير القبيح، كما في رسم مشاهد الكفار، ولذلك نقول: إن الغائية الأخيرة في الجمال القرآني غائية دينية، هي هداية البشر بالترغيب والترهيب، وإن هذه الغائية تعتمد على فنون اللغة بغناها، وتبثّ فيها روح السموّ، فالقرآن معجزة بيانية.

ولا بدّ هنا من توضيح المقصود من كلمة، «مفردة»، فهي ذلك الكائن الذي يساهم في الفن القولي في أسلوب القرآن، وهو موضوع البحث، ولا ترادف مصطلح الكلمة، لأن الكلمة قد تعني أحيانا كل العمل الأدبي، فهي أداته الفنية، كما أن النغمات أداة الموسيقا، وتعني بالتالي المادة التي ينسج منها النصّ، وهي تشتمل حسب تقسيم النحاة على الاسم والفعل والحرف، إلا أن الحروف تخرج عن نطاق هذا البحث، لأنها أعلق بمسألة النظم أي ما يربط بين المفردات، وقد أفاض الجرجاني في هذا.

فالمفردة تعني الاسم، وتعني الفعل حين يرتبط الاسم بعامل زمني معيّن، ويدلنا المعجم على أن المفردة تلتقي مع الفرد والإفراد والمفرد والفرديّة والجوهرة الفريدة والانفراد، وتدل على العدد واحد، وهذا كله نقيض التثنية والجمع، يقول تعالى على لسان النبي زكريا عليه الصلاة والسلام: رَبِّ لا تَذَرْنِي فَرْداً وَأَنْتَ خَيْرُ الْوارِثِينَ «1».

--------------------------------------------

(1) سورة الأنبياء، الآية: 89 وانظر المعجم الوسيط، 2/ 686.
विषयवस्तु को ধারণ করে এবং তার সাথে একীভূত হয়, এমনভাবে যে তারা অবিচ্ছেদ্য। আর ভাষাগত অলৌকিকতা হলো মানুষকে সত্যের দিকে ডাকার এক উন্নত রূপ।

আমরা বলতে পারি যে, কুরআনের সৌন্দর্য হলো সেই সবকিছু যা ইন্দ্রিয় অনুভূতির মাধ্যমে অতিক্রান্ত হওয়ার পর আত্মা প্রশান্তি লাভ করে। এটি প্রকৃতি ও সামাজিক জীবনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যা ভালো ও মন্দের বিভিন্ন বহিঃপ্রকাশ ও মানবিক সম্পর্কের দাবি অনুযায়ী হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি রয়েছে চিন্তা ও অনুভূতির সৌন্দর্য যা অন্তরে প্রবাহিত হয় এবং মহান স্রষ্টা মানুষের আত্মার যে প্রকৃতি সৃষ্টি করেছেন, সেই অনুযায়ী একটি আধ্যাত্মিক ও নন্দনতাত্ত্বিক আনন্দ সৃষ্টি করে।

কুরআনের সৌন্দর্য হলো সেই সবকিছু যা অনুভূতির সাথে কথা বলে এবং যা তার সর্বোচ্চ রূপের প্রভাব দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। চাই তা চোখ ও কানের প্রশান্তিদায়ক বিষয়ের চিত্রায়নের ক্ষেত্রে হোক, অথবা কোনো কুৎসিত বিষয়কে নিপুণ সূক্ষ্মতার সাথে ফুটিয়ে তুলে তার প্রতি বিতৃষ্ণা সৃষ্টির ক্ষেত্রে হোক—যেমনটি কাফিরদের দৃশ্য চিত্রায়নের ক্ষেত্রে দেখা যায়। তাই আমরা বলি: কুরআনিক সৌন্দর্যের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ধর্মীয় লক্ষ্য, যা হলো উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষের হিদায়াত। এই লক্ষ্যটি ভাষার সমৃদ্ধ শৈলীর ওপর নির্ভর করে এবং তাতে শ্রেষ্ঠত্বের প্রাণশক্তি সঞ্চার করে। সুতরাং কুরআন হলো একটি ভাষাগত অলৌকিক নিদর্শন।

এখানে 'মুফরাদাহ' (শব্দ) বলতে কী বোঝানো হয়েছে তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এটি হলো সেই সত্তা যা কুরআনের শৈলীর বাচনিক শিল্পে ভূমিকা রাখে এবং এটিই এই গবেষণার মূল বিষয়। এটি 'কালিমা' পরিভাষার সমার্থক নয়, কারণ 'কালিমা' কখনও কখনও সমগ্র সাহিত্যকর্মকে বোঝাতে পারে। এটি কুরআনের শৈল্পিক উপকরণ, যেমন সুর হলো সঙ্গীতের উপকরণ। অর্থাৎ এটি সেই উপাদান যা দিয়ে মূল পাঠ্যবুনন করা হয়। ব্যাকরণবিদদের বিভাজন অনুযায়ী এটি বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে অব্যয়সমূহ এই গবেষণার আওতার বাইরে, কারণ এগুলো 'নাজম' বা বিন্যাস পদ্ধতির সাথে অধিক সংশ্লিষ্ট যা শব্দাবলিকে সংযুক্ত করে। জুরজানী এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন।

সুতরাং 'মুফরাদাহ' দ্বারা বিশেষ্যকে বোঝায়, এবং এটি ক্রিয়াকেও বোঝায় যখন বিশেষ্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের সাথে যুক্ত হয়। অভিধান আমাদের নির্দেশ করে যে, 'মুফরাদাহ' শব্দটি ফর্দ (ব্যক্তি), ইফরাদ (একক করা), মুফরাদ (একক), ফারদিয়্যাহ (এককত্ব), জাওহারা ফারিদাহ (অতুলনীয় রত্ন) এবং ইনফিরাদ (নিঃসঙ্গতা) শব্দগুলোর অর্থের সাথে মিলিত হয় এবং এটি 'এক' সংখ্যা নির্দেশ করে। এর প্রতিটিই দ্বিবচন ও বহুবচনের বিপরীত। আল্লাহ তাআলা নবী যাকারিয়া (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর জবানীতে বলেন: হে আমার রব! আমাকে একা রেখো না, আর তুমিই তো শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী। «১»

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৮৯ এবং দেখুন আল-মু'জামুল ওয়াসিত, ২/৬৮৬।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
ويمكن القول إن المفردة هي المجموعة الصوتية التي تدلّ على معنى، وهذه المجموعة هي وحدة كلامية تقوم مقام الجزء من الكل في الجملة، وهي الجزء الأوّلي في بناء النظم والوحدة المكوّنة له، فلا يغني أحدهما عن الآخر، كما سيتّضح في طيّات البحث، وهي ليست كائنا معجميا، إذ يتبين لقارئ القرآن أنها تمتاز بدلالة جديدة يضفيها الموضوع على حياد المعجم.

أما المراد ب «جمالية المفردة»، فنقصد به الجمال الموضوعي الذي ينشأ من أجزاء الموضوع الجميل وتركيبه، وهو موضوعي لأنه يستند إلى فن الأدب وطبيعة النفس البشرية، فجمال المفردة في هذا البحث موضوعي لأنه واضح الأسباب ويعتمد على جزئيات المفردات.

أي أن المراد القيمة الفنية للمفردة في سياق البلاغة القرآنية، واستقلالها بأهمية كبيرة في مجال التأثير الوجداني.

فهو جمال حسي بصري يبين أثر الكلمة المفردة في توصيل الصورة الفنية إلى الذهن، ويشمل تجسيم المعنويات وتشخيص الأشياء، وبثّ الحركة والحيوية في الصورة.

وهو جمال حسي سمعي يبيّن جوانب موسيقية في المفردة، من حيث وقع حروفها وصفات هذه الحروف، وملاءمتها للمقام، وما تمتعت به المفردة من مدود وحركات.

كما أنه جمال نفسي للقلب فيه النصيب الأكبر في تلقّيه، وهذا الجمال ينشأ من علاقة المفردة بالموضوع أي علاقة الدال بالمدلول، وتفردها بالموضوع واستيعابها له، واتسامها بالغاية القصوى في التأثير من خلال صيغتها، وظلالها الخاصة في القرآن، وإيجازها للمعاني الكثيرة، ورفعتها في مخاطبة الإنسان، وهكذا نجد أن جمال المفردة القرآنية تصويري وصوتي وفكري معنوي.

ويعني «الجماليّ» في دراسات علم الجمال الظواهر الجميلة والقبيحة، وما يتفرّع عنهما من قيم إنسانية، إن في الحياة، أو في الفن، وقد درجت دراسات فنية على استعمال صيغة «جمالية» التي تجمع على جماليات، فقالوا:
বলা যেতে পারে যে, একক শব্দ হলো একটি ধ্বনিগত সমষ্টি যা একটি অর্থের নির্দেশ করে। এই সমষ্টিটি একটি বাক্যালাপের একক যা বাক্যের মধ্যে সমগ্রের একটি অংশ হিসেবে অবস্থান করে। এটি বিন্যাস নির্মাণের প্রাথমিক অংশ এবং এর গঠনকারী একক, ফলে একটি অন্যটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, যেমনটি এই গবেষণার ভাঁজে ভাঁজে স্পষ্ট হবে। এটি নিছক কোনো আভিধানিক সত্তা নয়; কারণ কুরআন পাঠকারীর কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, অভিধানের নিরপেক্ষতার ওপর বিষয়বস্তু যে নতুন অর্থারোপ করে, এর মাধ্যমে শব্দটি এক অনন্য বৈশিষ্ট্য লাভ করে।

আর 'একক শব্দের সৌন্দর্য' বলতে আমরা সেই বস্তুনিষ্ঠ সৌন্দর্যকে বোঝাচ্ছি যা কোনো সুন্দর বিষয়বস্তুর অংশসমূহ এবং তার গঠন থেকে উৎপন্ন হয়। এটি বস্তুনিষ্ঠ কারণ এটি সাহিত্যকলা এবং মানবাত্মার প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং এই গবেষণায় একক শব্দের সৌন্দর্য বস্তুনিষ্ঠ, কারণ এর কারণসমূহ সুস্পষ্ট এবং এটি শব্দের সূক্ষ্ম অংশসমূহের ওপর নির্ভরশীল।

অর্থাৎ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুরআনিক অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রেক্ষাপটে একক শব্দের শৈল্পিক মূল্য এবং আবেগীয় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে এর সুমহান গুরুত্ব ও স্বকীয়তা।

এটি একটি ইন্দ্রিয়জাত চাক্ষুষ সৌন্দর্য, যা মনের মাঝে শৈল্পিক চিত্র ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে একক শব্দের প্রভাবকে স্পষ্ট করে। এর মধ্যে রয়েছে বিমূর্ত ভাবকে মূর্ত রূপ দান করা এবং জড় বস্তুকে প্রাণবন্ত করা, সেই সাথে চিত্রের মধ্যে গতি ও সজীবতা সঞ্চার করা।

এটি একটি ইন্দ্রিয়জাত শ্রবণভিত্তিক সৌন্দর্য, যা শব্দের মধ্যে বিদ্যমান সংগীতময় দিকগুলোকে পরিস্ফুট করে—অক্ষরের বিন্যাস, অক্ষরের বৈশিষ্ট্য, পরিস্থিতির সাথে এর সামঞ্জস্য এবং শব্দটিতে বিদ্যমান দীর্ঘস্বর ও হরকতের ব্যবহারের মাধ্যমে।

তেমনি এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক সৌন্দর্য, যা গ্রহণে হৃদয়ের অংশই সবচেয়ে বেশি। এই সৌন্দর্যটি বিষয়বস্তুর সাথে একক শব্দের সম্পর্ক থেকে উদ্ভূত হয়, অর্থাৎ নির্দেশক ও নির্দেশিতের মধ্যকার সম্পর্ক। এছাড়া বিষয়বস্তুর সাথে এর অনন্যতা ও সামগ্রিকতা, এর রূপকাঠামোর মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চরম শিখরে পৌঁছানো, কুরআনে এর বিশেষ ব্যঞ্জনা, অনেক অর্থের সংক্ষিপ্ত প্রকাশ এবং মানুষকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে এর উচ্চমর্যাদা থেকে এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়। এভাবেই আমরা দেখতে পাই যে, কুরআনের একক শব্দের সৌন্দর্য চিত্রগত, ধ্বনিগত এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও অর্থগত।

নন্দনতত্ত্বের গবেষণায় 'সৌন্দর্যতাত্ত্বিক' বলতে সুন্দর ও কুৎসিত উভয় প্রপঞ্চকে এবং জীবন বা শিল্পকলায় এ থেকে উদ্ভূত মানবীয় মূল্যবোধকে বোঝানো হয়। বিভিন্ন শিল্পতাত্ত্বিক গবেষণায় 'জামালিয়্যাহ' (সৌন্দর্যতত্ত্ব) শব্দটি ব্যবহারের প্রচলন হয়েছে, যার বহুবচন হলো 'জামালিয়্যাত', তারা বলেছেন:
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
جمالية الفن العربي وجمالية الأسلوب وغير هذا، وهم يريدون الصّفات الجميلة فقط.

أما ما نعنيه في هذا البحث بالجماليات فهي سمات جمال المفردة القرآنية، ولذلك قلنا جماليات لوجود التعدّد، وهو مصطلح يشتمل على الجميل وعلى القبيح من خلال تصوير القرآن له، كأشكال الكافرين وأعمالهم ومظاهر تعذيبهم.

وقد عمدنا إلى استخدام مصطلح- المفردة، ولم تذكر اللفظة، لكي نؤكّد من خلال الاشتقاق انفراد الكلمة الواحدة بالجمال الفني، ولا نرى مانعا من ذكر الألفاظ إلا هذا السبب، وقد استخدم مصطلح «المفردة» في الأدب واللغة وكتب الإعجاز إلى جانب مصطلح الألفاظ.

وقصدنا بكتب التفسير التفسير البياني، أي ما عني بالجوانب البلاغية، وتتبّعنا هذا في التفاسير الكاملة، وفي بعض الكتب المفسرة لبعض السور أو بعض الآيات فكلّ هذا نعدّه كتب تفسير بياني.
আরবি শিল্পের সৌন্দর্য, শৈলীর সৌন্দর্য এবং এর বাইরেও অন্যান্য বিষয়, তবে তারা কেবল সুন্দর গুণাবলিই বোঝাতে চান।

পক্ষান্তরে, এই গবেষণায় নান্দনিকতা বলতে আমরা যা বুঝিয়েছি, তা হলো কুরআনের একক শব্দের সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ। এজন্যই আমরা নান্দনিকতার বহুবচন রূপটি ব্যবহার করেছি কারণ এখানে বৈচিত্র্য ও বহুত্বের উপস্থিতি রয়েছে; এটি এমন একটি পরিভাষা যা কুরআনের চিত্রায়নের মাধ্যমে সুন্দর এবং কুৎসিত উভয় বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন—কাফিরদের অবয়ব, তাদের কর্মকাণ্ড এবং তাদের শাস্তির বিভিন্ন স্বরূপ।

আমরা 'মুফরাদাহ' (একক শব্দ) পরিভাষাটি ব্যবহার করার সংকল্প করেছি এবং 'লাফজাহ' (উচ্চারিত শব্দ) শব্দটি ব্যবহার করিনি, যাতে শব্দমূলের ব্যুৎপত্তির মাধ্যমে শৈল্পিক সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে একটি একক শব্দের অনন্যতাকে নিশ্চিত করা যায়। কেবল এই কারণটি ছাড়া 'আলফাজ' (শব্দসমূহ) পরিভাষাটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা অন্য কোনো বাধা দেখি না। সাহিত্য, ভাষা এবং ইজায (অলৌকিকত্ব) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে 'আলফাজ' পরিভাষার পাশাপাশি 'মুফরাদাহ' পরিভাষাটিও ব্যবহৃত হয়েছে।

আর তাফসির গ্রন্থ বলতে আমরা 'তাফসির আল-বায়ানি' (আলংকারিক তাফসির) বুঝিয়েছি, অর্থাৎ যা অলঙ্কারশাস্ত্রীয় দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করে। আমরা পূর্ণাঙ্গ তাফসির গ্রন্থসমূহ এবং নির্দিষ্ট কিছু সুরা বা আয়াতের ব্যাখ্যা সম্বলিত কিতাবসমূহে এটি অনুসন্ধান করেছি; এই সবকটিকেই আমরা আলংকারিক তাফসিরের গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করি।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الفصل الأول الجوانب الجمالية في المفردة القرآنية
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনিক শব্দের নান্দনিক দিকসমূহ
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌1 - جمال المفردة في الأدب

ما من إنتاج فكري إلّا احتاج إلى الكلمة مسموعة أو مكتوبة، حتى إنهم يعدّون التفكير كلاما صامتا، والكلمة تميّز وعي البشر، وسموّهم على مخلوقات الله، لأنها نتاج فكر.

والأدب هو الحقل الفكري الذي تغرس فيه الكلمات طمعا في ثمرة التأثير الوجداني، وهو يتخذ من الكلمة الوسيلة الجمالية، لأن غايته لا تقتصر على الإفهام والتعبير المباشر، بل تتعدّى هذا إلى مستوى فاعلية في المتلقي، إذ يوجد تعامل خاص مع الكلمات يختلف عن المجالات الأخرى.

وفي دراستنا للقرآن في هذا البحث ننطلق من كونه نصا أدبيا انكبّ على تأمل جماله اللغوي مجموعة من الدارسين مخلصين له النية، وكانت لهم نظرات شتى، وسبل مختلفة، فالقرآن كتاب هداية، ولكنّ الجانب الديني ليس المعنيّ هنا إلا في قدرة اللغة على توصيله في أرقى صور التعبير.

وقد أشرنا سابقا إلى تعريف المفردة في المعجم، وهاهنا نقدم نبذة يسيرة حول مفهومها في النقد الحديث، وهو تنظير تؤيده استشهادات دارسي الإعجاز، فتكون هذه الآراء عونا لنا في مناقشتهم للبيان القرآني، وليست غايتنا إلحاق الكلم الربانية بقوانين بشرية مختلفة المناهج، بل هي مفاتيح نلجأ إليها، لتفسر لنا البيان القرآني، فلا ضير في أن نسوق بعض الآراء التي سنجد لها تطبيقا في جهود الدارسين قديما وحديثا، وجلّ هذا الكتاب أن يحصر في قوالب نقد قد تولّد نتيجة معايشة عميقة لنتاج الفن الأدبي البشري.

 

-‌‌ تجاوز المرحلة المعجمية:

من المسلّم به أن المفردة الأدبية كائن جديد متميز من المفردة المعجمية، فهي في الأدب تلبس لبوسا فريدا مع شحنة روحية، مما يجعلها تتجاوز كونها أصوات مادة معجمية، وهي ترسم وتشخّص وتجسّم حالة شعورية، فتتسع دلالتها الإشارية الضيقة، وتحمل دلالة أخرى في حالة الاتساع.
১ - সাহিত্যে শব্দের সৌন্দর্য

এমন কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক উৎপাদন নেই যা শ্রুত বা লিখিত শব্দের মুখাপেক্ষী নয়, এমনকি তারা চিন্তাকে নিঃশব্দ কথোপকথন হিসেবে গণ্য করেন। শব্দই মানুষের চেতনাকে স্বতন্ত্র করে এবং আল্লাহর অন্যান্য সৃষ্টির ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করে, কারণ শব্দ হলো চিন্তারই ফসল।

আর সাহিত্য হলো সেই বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্র যেখানে আবেগীয় প্রভাবের ফলের আশায় শব্দ রোপণ করা হয়। এটি শব্দকে একটি নান্দনিক মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে, কারণ এর লক্ষ্য কেবল কোনো কিছু বুঝানো এবং সরাসরি প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ছাড়িয়ে গ্রাহকের ওপর প্রভাব বিস্তারের স্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কেননা এখানে শব্দের সাথে এমন এক বিশেষ আচরণ করা হয় যা অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে ভিন্ন।

এই গবেষণায় কুরআন অধ্যয়নের ক্ষেত্রে আমরা একে একটি সাহিত্যিক পাঠ হিসেবে বিবেচনা করে অগ্রসর হব, যার ভাষাগত সৌন্দর্য নিয়ে একদল গবেষক একনিষ্ঠ নিয়তে গভীর মনোনিবেশ করেছেন। তাদের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভিন্ন ভিন্ন পথ ছিল। কুরআন মূলত হিদায়াতের কিতাব, তবে এখানে ধর্মীয় দিকটি আমাদের মূল আলোচ্য নয়—কেবল প্রকাশের সর্বোচ্চ নিপুণতায় তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাষার সক্ষমতার দিকটি ছাড়া।

অভিধানে শব্দের সংজ্ঞার দিকে আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি। এখানে আমরা আধুনিক সাহিত্য সমালোচনায় এর ধারণা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ পেশ করছি। এটি এমন এক তাত্ত্বিক রূপরেখা যা আল-কুরআনের মুজিযা বা অলৌকিকতা বিষয়ক গবেষকদের উদ্ধৃতি দ্বারা সমর্থিত। ফলে এই মতগুলো কুরআনি বয়ান বা অলঙ্কারের আলোচনায় আমাদের জন্য সহায়ক হবে। আমাদের উদ্দেশ্য ঐশী বাণীকে বিভিন্ন মতবাদের মানবীয় আইনের অনুগামী করা নয়; বরং এগুলো এমন কিছু চাবিকাঠি যা আমরা কুরআনি বয়ান ব্যাখ্যা করার জন্য অবলম্বন করছি। সুতরাং এমন কিছু মত তুলে ধরায় কোনো দোষ নেই যা আমরা প্রাচীন ও আধুনিক গবেষকদের প্রচেষ্টায় প্রয়োগ হিসেবে খুঁজে পাব। এই বইয়ের সিংহভাগই এমন কিছু সমালোচনামূলক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ যা মানবীয় সাহিত্যিক শিল্পের নিবিড় সান্নিধ্য ও অভিজ্ঞতার ফলে জন্ম নিয়েছে।

 

-‌‌ অভিধানতাত্ত্বিক পর্যায় অতিক্রম:

এটি স্বীকৃত যে, সাহিত্যিক শব্দ হলো অভিধানতাত্ত্বিক শব্দ থেকে স্বতন্ত্র এক নতুন সত্তা। সাহিত্যে এটি একটি আধ্যাত্মিক আবেশের সাথে অনন্য রূপ পরিধান করে, যা একে অভিধানের নিছক শব্দগত ধ্বনি হওয়ার ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়। এটি একটি আবেগীয় অবস্থাকে চিত্রিত, মূর্ত ও মূর্তমান করে তোলে, ফলে এর সংকীর্ণ নির্দেশক অর্থটি প্রশস্ত হয় এবং প্রসারণের অবস্থায় এক নতুন অর্থ বহন করে।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
لا تقف المفردة الأدبية في حياد المعجم، فإن غزت موضوعها واستوعبته تملّكته، فكانت آية في الجمال، وإن خسرت معركتها اقتربت من الفوضى والهذيان، وصارت إلى زوال وابتذال، يقول بختين في هذا الصّدد: «الكلمة في الفكر الأسلوبي التقليدي لا تعرف إلا ذاتها أي سياقها هي، وموضوعها هي، وتعبيريتها المباشرة ولغتها الواحدة الوحيدة، أما الكلمة الأخرى الموجودة خارج سياقها، فلا تعرفها إلا بوصفها كلمة محايدة من كلمات اللغة، إلا كلمة لا تخصّ أحدا، إلا مجرد إمكانية كلامية» «1».

ولعل هذه المعجمية هي التي نفّرت الدارسين- ولا سيّما القدامى منهم- من استقلال المفردة بالجمال، وحقّها بالمقام الرفيع، لأنها في نظر بعضهم موجودة في الصفات نفسها قبل أن يشملها التشكيل اللغوي، وترعاها الفنون من هنا وهناك، وفي هذا تقصير، لأن المفردة أثبتت جدارتها في حاجة التشكيل إلى مادة بعينها، وليس إلى غيرها من ذلك الرّصيد الواسع في نطاق المعجم، ليكمل التشكيل بناءه الجمالي.

وهذا هو الفرق بين الكتابة العلمية والكتابة الأدبية، فالأولى لا تهتمّ بالانتقاء، لأنها لا تعنى بالاعتبارات الوجدانية، فتقلع عن جمال النحو بعلائقه المؤثرة، كما تقلع عن جمال الصرف الذي يعطي الصيغة الفاعلية الجمالية، وتتجاهل الفروق الدقيقة بين المفردات، كل ذلك لأنها كتابة مباشرة لا تخاطب الشعور، والمفردة في مضمارها إن هي إلا وسيلة لمخاطبة العقل مباشرة.

أما الكتابة الأدبية فهي بناء لغوي جميل، والأديب يرى أن المفردة كائن حي ودلالة حيوية، تقوم بوظيفة نقل المشاعر في صيغ مغايرة للاستعمال المعهود، ولا تنتهي غايته عند صياغة الفكرة فقط، بل عند بثّ الروح في حنايا الكلمات، فتغدو بدائل عنه، وهذه المعايشة بين المفردة والمبدع تحتاج إلى وقفة ذوقية لأجل عملية الانتقاء، لأن الكلمة سترسم صاحبها بملامح جسدية، وملامح ذهنية في سجلّ خيالي، وهذا ما يحوجه إلى التأمل في المفردة قبل

--------------------------------------------

(1) بختين، ميخائيل، 1988، الكلمة في الرواية، ط/ 1، تر: يوسف حلاق، وزارة الثقافة، دمشق، ص 29.
সাহিত্যিক শব্দ নিছক অভিধানের নিরপেক্ষতায় সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি যখন তার বিষয়বস্তুকে আক্রমণ করে এবং তা আয়ত্ত করে নেয়, তখন সেটিকে নিজের অধিকারে নিয়ে আসে এবং সৌন্দর্যের এক অনুপম নিদর্শন হয়ে ওঠে। আর যদি এই লড়াইয়ে সে হেরে যায়, তবে তা বিশৃঙ্খলা ও প্রলাপের নিকটবর্তী হয় এবং বিলুপ্তি ও তুচ্ছতায় পর্যবসিত হয়। বাখতিন এই প্রসঙ্গে বলেন: «ঐতিহ্যবাহী শৈলীগত চিন্তাধারায় শব্দ কেবল নিজেকেই চেনে, অর্থাৎ তার নিজস্ব প্রেক্ষাপট, বিষয়বস্তু, প্রত্যক্ষ প্রকাশভঙ্গি এবং তার একমাত্র ভাষাকেই চেনে। আর তার প্রেক্ষাপটের বাইরে বিদ্যমান অন্য শব্দের ক্ষেত্রে সেটিকে ভাষার একটি নিরপেক্ষ শব্দ হিসেবেই চেনে, যা কারো নিজস্ব নয় বরং কেবল একটি বাচনিক সম্ভাবনা মাত্র» «১»।

সম্ভবত এই আভিধানিকতাই গবেষকদের—বিশেষ করে প্রাচীনদের—শব্দের নিজস্ব সৌন্দর্য এবং এর সুউচ্চ মর্যাদার অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। কারণ তাদের কারো কারো মতে, ভাষাগত কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার এবং শিল্পকলার পরিচর্যা পাওয়ার আগেই শব্দগুলো একই গুণাবলির মধ্যে বিদ্যমান থাকে। আর এতে একটি ত্রুটি রয়েছে, কারণ শব্দ তার যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে কাঠামোর প্রয়োজনে একটি নির্দিষ্ট উপাদান হিসেবে, অভিধানের সেই বিশাল ভাণ্ডারের অন্য কিছুর পরিবর্তে নয়, যাতে কাঠামোটি তার নান্দনিক গঠন পূর্ণ করতে পারে।

বৈজ্ঞানিক রচনা ও সাহিত্যিক রচনার মধ্যে পার্থক্য এখানেই। প্রথমটি শব্দ নির্বাচনের প্রতি গুরুত্ব দেয় না, কারণ এটি আবেগীয় বিষয়ের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না। ফলে এটি ব্যাকরণের সৌন্দর্য ও তার প্রভাব বিস্তারকারী সম্পর্ক থেকে দূরে থাকে, যেমনটি দূরে থাকে রূপতত্ত্বের সৌন্দর্য থেকে যা শব্দরূপকে নান্দনিক কার্যকারিতা দান করে। এটি শব্দের মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলোকেও উপেক্ষা করে। এসব কিছুর কারণ হলো, এটি একটি প্রত্যক্ষ রচনা যা অনুভূতিকে সম্বোধন করে না; বরং এক্ষেত্রে শব্দ কেবল সরাসরি বুদ্ধিবৃত্তিকে সম্বোধন করার একটি মাধ্যম মাত্র।

পক্ষান্তরে সাহিত্যিক রচনা হলো একটি সুন্দর ভাষাগত কাঠামো। সাহিত্যিক মনে করেন যে, শব্দ হলো একটি জীবন্ত সত্তা এবং প্রাণবন্ত অর্থবহ বস্তু, যা প্রচলিত ব্যবহারের চেয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে অনুভূতি স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করে। তার উদ্দেশ্য কেবল ধারণাকে রূপ দেওয়ার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় না, বরং শব্দের অন্তরালে প্রাণ সঞ্চার করার মধ্যেও নিহিত থাকে, ফলে শব্দগুলো তার বিকল্প হয়ে ওঠে। শব্দ ও স্রষ্টার মধ্যকার এই সহাবস্থানের জন্য শব্দ নির্বাচনের ক্ষেত্রে রুচিশীল অবস্থানের প্রয়োজন হয়। কারণ শব্দ তার রচয়িতাকে একটি কাল্পনিক নথিতে শারীরিক ও মানসিক অবয়বে চিত্রিত করবে। আর এটিই তাকে শব্দের প্রতি গভীরভাবে মনোনিবেশ করতে বাধ্য করে...

--------------------------------------------

(১) বাখতিন, মিখাইল, ১৯৮৮, উপন্যাসে শব্দ, ১ম সংস্করণ, অনুবাদ: ইউসুফ হাল্লাক, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, দামেস্ক, পৃষ্ঠা ২৯।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وصولها إلى النص، فيغربل المفردات، لأنه يخشى زللها.

يقول برتيليمي مشيدا برفعة الكتابة الأدبية: «في الوقت الذي يهتم فيه الفيلسوف بالحقائق والأفكار فحسب، ويقف فيما وراء الألفاظ، يقف الشاعر فيما قبلها، لأنها ليست بالنسبة إليه علامات فحسب، بل هي كذلك- وقبل كل شيء- كائنات ينظر إليها، ويفحصها ويتأمل فيها، ويعجب بها، كما يعجب الإنسان بحصاة أو بحشرة أو بطير ما» «1».

فالكلمة تترك ساحة دلالتها اللغوية عند ما تكون في الأدب، وإذا كنا نحن إزاء دراستها في القرآن، فهل يطبّق هذا الرأي عليها؟. هنا تتجلى ميزة القرآن، فهو كتاب هداية وعلم، وليس يقصد الفن الأدبي وحده فيه، فهو موجود ليتمم الفكرة الدينية، ويوصلها في أجمل وأبهى صورة، وهو كتاب علم وعقيدة وتشريع سماوي، ومواعظ وأخبار، وعلى الرغم من هذا لم تؤثر فيه علميته في أن يبقى منها بلاغيا، ونصا أدبيا راقيا.

ومن يطوّف في رحاب التفاسير اللغوية البلاغية يجد وقفات طويلة في مفردات السور المدنية التي كان طابعها التشريع، لأن التشريع قد عني أيضا بنفسية المؤمن، ومن خلال رسم السلوك البشري السّوي، وإلقاء الأوامر الإلهية، إذ برزت للدارسين جماليات في مناسبة المقام بمفردات تختزن طاقة وجدانية كبرى.

ولا شكّ في أن المفردة تكتسب هذه الميزة الجديدة من الظلال الروحية التي تحيط بها داخل النص، فتتخذ لها معاني ثانوية يجود بها الموضوع المرتجى، وهذا ما أسماه أحمد الشائب بالصفات الهامشيّة، إذ قال عن كلمة «الربيع»: «حين تقتصر على المعنى المعجمي المحايد، فهي تعني هذا الفصل من العام، وما فيه من اعتدال الجو، وكثرة الخضرة، وهذا ما يدعى بالدّلالات المركزية، وهي تليق بعلماء الطبيعة .. ولكن الربيع لدى الأديب حين يستغل عاطفته، ويشحن دلالته بصفات هامشية، يكون الربيع مبعث حزن أو فرح

--------------------------------------------

(1) برتيليمي، جون، 1970 - بحث في علم الجمال، ط/ 1، تر: د. أنور عبد العزيز، مؤسسة فرنكلين للطباعة والنشر، القاهرة- نيويورك، ص/ 286.
পাঠ্যটিতে এর প্রবেশের ক্ষেত্রে, তখন তিনি শব্দগুলোকে যাচাই-বাছাই করেন, কারণ তিনি সেগুলোর বিচ্যুতিকে ভয় পান।

বার্তেলেমি সাহিত্যিক রচনার শ্রেষ্ঠত্বের প্রশংসা করে বলেন: «যে সময় দার্শনিক কেবল সত্য ও চিন্তার প্রতি গুরুত্ব দেন এবং শব্দের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন, সেই সময় কবি শব্দের গণ্ডির ভেতরে অবস্থান করেন; কারণ শব্দগুলো তার কাছে কেবল কোনো চিহ্ন নয়, বরং সেগুলো হচ্ছে—সবার আগে—সত্তা, যেগুলোর দিকে তিনি দৃষ্টিপাত করেন, সেগুলোকে পরীক্ষা করেন, সেগুলোতে নিমগ্ন হন এবং সেগুলোকে নিয়ে সেভাবেই বিস্ময় প্রকাশ করেন, যেমন কোনো মানুষ একটি নুড়ি পাথর বা কোনো পতঙ্গ কিংবা কোনো পাখির প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করে» (১)।

সুতরাং শব্দটি যখন সাহিত্যে স্থান পায়, তখন তা তার আভিধানিক অর্থের পরিমণ্ডল ত্যাগ করে। আর যখন আমরা কুরআনের শব্দ নিয়ে অধ্যয়ন করছি, তখন কি এই দৃষ্টিভঙ্গি তার উপর প্রয়োগ করা হবে? এখানেই কুরআনের বৈশিষ্ট্য মূর্ত হয়ে ওঠে; কারণ এটি হিদায়াত ও জ্ঞানের কিতাব, এতে কেবল সাহিত্যিক শিল্প লক্ষ্য নয়। বরং এটি ধর্মীয় চেতনাকে পূর্ণতা দান করতে এবং তা সুন্দর ও উজ্জ্বলতম রূপে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিদ্যমান। এটি জ্ঞান, আকিদা, আসমানি শরিয়ত, উপদেশ ও সংবাদের কিতাব। তা সত্ত্বেও এর বৈজ্ঞানিক রূপটি একে আলংকারিক এবং উচ্চমানের সাহিত্যিক পাঠ্য হিসেবে টিকে থাকার ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি।

যারা ভাষাগত ও অলংকারিক তাফসিরের অঙ্গনে বিচরণ করেন, তারা মাদানি সুরাগুলোর শব্দাবলির ক্ষেত্রে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ খুঁজে পান, যেগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য ছিল শরিয়ত ও বিধান। কারণ বিধানসমূহ মুমিনের মনস্তত্ত্বের দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে; এটি মানবীয় সঠিক আচরণের চিত্র অঙ্কন এবং খোদায়ী আদেশ প্রদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। ফলে গবেষকদের কাছে এখানে পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমন সব শব্দে নান্দনিকতা প্রকাশ পেয়েছে, যা এক বিশাল আবেগীয় শক্তি সঞ্চিত করে রাখে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, একটি শব্দ পাঠ্যের অভ্যন্তরে থাকা আধ্যাত্মিক আবহ থেকে এই নতুন বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। ফলে এটি এমন কিছু গৌণ অর্থ পরিগ্রহ করে যা কাঙ্ক্ষিত বিষয়বস্তুকে সমৃদ্ধ করে। আহমদ আল-শায়েব একেই 'পার্শ্ববর্তী গুণাবলি' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি «বসন্ত» শব্দটি সম্পর্কে বলেন: «যখন এটি নিরপেক্ষ আভিধানিক অর্থে সীমাবদ্ধ থাকে, তখন এর অর্থ হয় বছরের এই নির্দিষ্ট ঋতু, এর নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া এবং প্রচুর সবুজায়ন। একেই বলা হয় 'কেন্দ্রীয় অর্থ', যা প্রকৃতিবিজ্ঞানীদের জন্য উপযুক্ত... কিন্তু সাহিত্যিকের কাছে বসন্ত যখন তার আবেগকে ব্যবহার করে এবং এর অর্থের মধ্যে পার্শ্ববর্তী গুণাবলির সঞ্চার করে, তখন বসন্ত হয় দুঃখ বা আনন্দের উৎস...»

--------------------------------------------

(১) বার্তেলেমি, জিন, ১৯৭০ - নন্দনতত্ত্ব বিষয়ক গবেষণা, ১ম সংস্করণ, অনুবাদক: ড. আনোয়ার আব্দুল আজিজ, ফ্র্যাঙ্কলিন পাবলিশিং অ্যান্ড প্রিন্টিং কর্পোরেশন, কায়রো-নিউ ইয়র্ক, পৃ. ২৮৬।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وينبوع رجاء» «1».

ولا ريب في أن اختلاف المواقف يتأتّى منه اختلاف الصفات الهامشية، فالكلمة رهينة تلك الحالة الشعورية، وقد كسرت قيود الدلالة اللغوية المركزية، وهذه مقولة يتفق عليها كل النقاد، فهي في عداد النواميس الأدبية.

وقد ذكر لاسل آبر كرمبي ما يشبه كلام الشائب، فجعل المركزية نواة، والمعاني الأدبية تطوف حولها، وذلك يتحدد في قدرتها على ملائمة قرائنها في الموضوع «2»، ومخزونها التأثيري في المتلقّي بهذه الطائفة من المعاني الثانوية، ولكنّ التفاوت يعود في رأيه إلى تخصيص المكان المناسب للمفردة، وهذا من صلب نظرية النظم للجرجاني «3» الذي أطنب في شرحها.

بيد أن الخطوة الأولى التي تسبق ذلك التركيب الإبداعي تتعيّن في اختيار المفردة، وسوف نعود إلى توفيق الدارسين بين المفردة والنظم وعدم الإجحاف بطرف منهما في مكان لاحق، وفي هذا يقول الزيات: «وفي اختيار الكلمة الخاصة بالمعنى إبداع وخلق، لأن الكلمة ميتة ما دامت في المعجم، فإذا وصلها الفنان الخالق بأخواتها في التركيب، ووضعها موضعها الطبيعي من الجملة، دبّت فيها الحياة، وسرت فيها الحرارة» «4».

يسعى الأديب إلى اختيار أسلوب فريد لمادته الكلامية، وذلك حفاظا على منحى الإبداع، وعدم الدّوران في فلك الآخرين، والاتكاء على تعابيرهم، فيبثّ إيحاءه الشخصي، ليجتاز إيحاءات غيره، وفي هذا يقول بختين: «إن

--------------------------------------------

(1) الشائب، أحمد، 1973، أصول النقد الأدبي، ط/ 8 مكتبة النهضة المصرية، القاهرة ص/ 62.

(2) كرمبي، لاسل آبر، 1936، قواعد النقد الأدبي، ط/ 1، تر: د. محمد عوض محمد. سلسلة المعارف العامة، القاهرة، ص/ 40.

(3) هو عبد القاهر بن عبد الرحمن الجرجاني، واضع أصول البلاغة، كان من أئمة اللغة، وله شعر رقيق. من كتبه «أسرار البلاغة» و «دلائل الإعجاز» و «الجمل» في النحو و «العمدة» في التصريف، توفي سنة 471 هـ، انظر الأعلام: 4/ 174.

(4) الزيّات، أحمد حسن، 1945، دفاع عن البلاغة، ط/ 1، مطبعة الرسالة، القاهرة، ص/ 82.
এবং আশার উৎস» «১»।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পরিস্থিতির ভিন্নতা থেকে আনুষঙ্গিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা তৈরি হয়। সুতরাং শব্দটি সেই আবেগীয় অবস্থার কাছে দায়বদ্ধ থাকে এবং এটি কেন্দ্রীয় ভাষাতাত্ত্বিক অর্থের সীমাবদ্ধতাকে ভেঙে ফেলে। এটি এমন একটি উক্তি যার ওপর সকল সমালোচক একমত এবং এটি সাহিত্যের চিরন্তন নিয়মের অন্তর্ভুক্ত।

লাসেল আবর ক্রামবি (Lascelles Abercrombie) আশ-শায়েবের কথার অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় অর্থকে মূল কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করেছেন এবং সাহিত্যিক অর্থসমূহকে তার চারদিকে পরিভ্রমণশীল রেখেছেন। এটি বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অনুষঙ্গগুলোর সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার ক্ষমতার ওপর এবং গৌণ অর্থসমূহের মাধ্যমে পাঠকের ওপর তার প্রভাবের ওপর নির্ভর করে। তবে তাঁর মতে, পার্থক্যের বিষয়টি শব্দের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের ওপর নির্ভর করে। আর এটিই আল-জুরজানির ‘নাজম’ (বিন্যাস) তত্ত্বের মূল কথা «৩», যা তিনি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

তবে সেই সৃজনশীল গঠনের পূর্ববর্তী প্রথম ধাপটি হলো সঠিক শব্দ নির্বাচন। আমরা পরবর্তীতে গবেষকদের সেই প্রচেষ্টার দিকে ফিরে আসব যেখানে তাঁরা শব্দ এবং বিন্যাসের (নাজম) মধ্যে সমন্বয় করেছেন এবং কোনো পক্ষকেই অবজ্ঞা করেননি। এ বিষয়ে আয-যাইয়াত বলেন: "অর্থের জন্য বিশেষ শব্দ নির্বাচনের মধ্যে সৃজনশীলতা ও সৃষ্টিশীলতা নিহিত। কেননা অভিধানে থাকা পর্যন্ত শব্দটি মৃত থাকে; কিন্তু যখন সৃজনশীল শিল্পী বিন্যাসের মাধ্যমে একে তার সমজাতীয় শব্দগুলোর সাথে সংযুক্ত করেন এবং বাক্যের স্বাভাবিক স্থানে স্থাপন করেন, তখন তার মধ্যে প্রাণ সঞ্চারিত হয় এবং উষ্ণতা প্রবাহিত হয়" «৪»।

সাহিত্যিক তাঁর ভাষাগত উপকরণের জন্য একটি অনন্য শৈলী বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন, যাতে সৃজনশীলতার ধারা বজায় থাকে এবং অন্যের বলয়ে ঘূর্ণায়মান হওয়া বা অন্যের অভিব্যক্তির ওপর নির্ভর করতে না হয়। তিনি তাঁর নিজস্ব ব্যঞ্জনা ছড়িয়ে দেন যাতে অন্যদের ব্যঞ্জনাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন। এ বিষয়ে বাখতিন বলেন: "নিশ্চয়

--------------------------------------------

(১) আশ-শায়েব, আহমদ, ১৯৭৩, উসুলুন নাকদিল আদাবি, ৮ম সংস্করণ, মাকতাবাতুন নাহদাতিল মিসরিয়্যাহ, কায়রো, পৃষ্ঠা ৬২।

(২) ক্রামবি, লাসেল আবর, ১৯৩৬, কাওয়ায়িদুল নাকদিল আদাবি, ১ম সংস্করণ, অনুবাদক: ড. মুহাম্মদ আওয়াদ মুহাম্মদ, সিলসিলাতুল মাআরিফ আল-আম্মাহ, কায়রো, পৃষ্ঠা ৪০।

(৩) তিনি হলেন আব্দুল কাহির ইবনে আব্দুর রহমান আল-জুরজানি, অলঙ্কারশাস্ত্রের মূলনীতির প্রবক্তা। তিনি ভাষাবিজ্ঞানের ইমামদের একজন ছিলেন এবং তাঁর সূক্ষ্ম ও সাবলীল কবিতা রয়েছে। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে ‘আসরারুল বালাগাহ’, ‘দালাইলুল ইজায’, নাহু শাস্ত্রের ‘আল-জুমাল’ এবং সরফ শাস্ত্রের ‘আল-উমদাহ’। তিনি ৪৭১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন আল-আলাম: ৪/১৭৪।

(৪) আয-যাইয়াত, আহমদ হাসান, ১৯৪৫, দিফাউ আনিল বালাগাহ, ১ম সংস্করণ, মাতবাআতুর রিসালাহ, কায়রো, পৃষ্ঠা ৮২।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الوعي اللغوي النشيط أدبيا كان يجد في كل زمان ومكان «لغات» وليس لغة، كان يجد نفسه أمام ضرورة اختيار اللغة» «1».

واختيار اللغة هاهنا يبدأ من اختيار المادة ثم الصّيغة، وهذا مبدأ كل من ابن سنان وابن الأثير «2»، إذ يبدأ جمال اللغة في كتابيهما: «سرّ الفصاحة» و «المثل السائر» بباب طويل السّرد والشرح عن جمال المفردة، يليه باب جمال النظم، وباب جمال الحروف، وتبعهما رجال البلاغة في هذا الترتيب.

ولا مندوحة لنا من أن نضيف إلى كلام «بختين» أن المبدع يجتاز حياد المعجم، ويجتاز نشاطات الغير إن وقفوا على مادة نصه نفسها، أو خطرت على قلوبهم التجربة الشعورية نفسها، وهذا لا يعني أن تفقد المفردة حدّ المعقول، فيجنح الشاعر إلى موقف هزلي بين المادة والموضوع، فيصاب أدبه بداء الإغراب، لأنه لا يطالب ببديل عن الواقع، إنما يطالب بتلوينه بعيدا عن الخطل قدر المستطاع، بحيث لا يخفق في استدامة العلاقة بينه وبين المتلقي، مما يعود بالمفردة جثّة هامدة لا تمتّ بصلة إلى الوضع

الاجتماعي.

 

-‌‌ خصوصية المفردة القرآنية:

لقد أثبت البيان القرآني جدارته بصفة الربط بين المتلقّى والنص بوشائج متينة، وهذا الاستحقاق يكمن في ديمومة ربط المرء بالواقع: الواقع النفسي في القدرة على إثارته على مرّ العصور، فتنبش مكوّنات أساسية في السلوك

--------------------------------------------

(1) بختين، الكلمة في الرواية، تر: يوسف حلاق، ص: 54.

(2) عبد الله بن محمد بن سعيد بن سنان الخفاجي الحلبي، شاعر، أخذ الأدب عن أبي العلاء المعري وغيره، وكانت له ولاية بقلعة «عزاز» من أعمال حلب، وعصي بها، فاحتيل عليه ومات مسموما سنة 466 هـ، له ديوان شعر مطبوع وكتاب «سر الفصاحة». انظر الأعلام: 4/ 266.

- ضياء الدين نصر الله بن محمد الجزري، وزير من العلماء الكتاب، ولد في الموصل، وكان وزير الملك الأفضل بن صلاح الدين، مات ببغداد سنة 637 هـ له «المعاني المخترعة» في صناعة الإنشاء و «الوشي المرقوم في حل المنظوم» و «المثل السائر» و «الجامع الكبير في صناعة المنظوم والمنثور» و «ديوان رسائل» الأعلام: 3/ 110.
সাহিত্যিকভাবে সক্রিয় ভাষাগত চেতনা প্রতিটি কাল ও স্থানে 'ভাষাসমূহ' খুঁজে পেত, একটি মাত্র ভাষা নয়; সে নিজেকে ভাষা নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার সামনে দেখতে পেত।

আর এখানে ভাষা নির্বাচন শুরু হয় উপাদান নির্বাচন এবং তারপর রূপ কাঠামো নির্বাচনের মাধ্যমে। এটিই ইবনে সিনান এবং ইবনে আল-আসির উভয়ের নীতি ছিল। কারণ তাদের দুই গ্রন্থ: 'সিররুল ফাসাহাহ' এবং 'আল-মাসালুস সাইর'-এ ভাষার সৌন্দর্য শুরু হয়েছে একক শব্দের সৌন্দর্য বিষয়ক একটি দীর্ঘ বর্ণনা ও ব্যাখ্যার অধ্যায় দিয়ে, এর পর ক্রমান্বয়ে এসেছে বিন্যাসের সৌন্দর্য এবং বর্ণের সৌন্দর্যের অধ্যায়। অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণও এই বিন্যাস অনুসরণ করেছেন।

বখতিনের বক্তব্যের সাথে আমাদের এটি যোগ করার বিকল্প নেই যে, সৃজনশীল ব্যক্তি অভিধানের নিরপেক্ষতা অতিক্রম করেন এবং অন্যদের সক্রিয়তাকে অতিক্রম করেন যদি তারা তার পাঠ্যের একই উপাদানের ওপর অবস্থান করেন অথবা তাদের অন্তরে একই অনুভূতিমূলক অভিজ্ঞতা জাগ্রত হয়। এর অর্থ এই নয় যে, একক শব্দটি তার যৌক্তিক সীমা হারাবে এবং কবি উপাদান ও বিষয়ের মধ্যে একটি হাস্যকর অবস্থানে ঝুঁকে পড়বেন, ফলে তার সাহিত্য 'অদ্ভুত শব্দচয়ন' রোগে আক্রান্ত হবে। কারণ তিনি বাস্তবের বিকল্প দাবি করেন না, বরং তিনি সাধ্যমতো ভুলভ্রান্তি থেকে দূরে থেকে বাস্তবকে রঙিন করার দাবি করেন, যাতে তার এবং গ্রাহকের মধ্যকার সম্পর্কের স্থায়িত্ব ব্যাহত না হয়, যা শব্দটিকে একটি প্রাণহীন লাশে পরিণত করতে পারে যার সামাজিক স্থিতির সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।

নিচে সামাজিক সম্পর্কহীন শব্দকে মৃতদেহের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

 

-‌‌ কুরআনিক শব্দের বৈশিষ্ট্য:

কুরআনিক অলঙ্কারশাস্ত্র সুদৃঢ় বন্ধনের মাধ্যমে গ্রাহক এবং পাঠ্যের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। এই শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত রয়েছে মানুষের সাথে বাস্তবের সংযোগের স্থায়িত্বের মধ্যে: মানসিক বাস্তবতা যা যুগ যুগ ধরে তাকে উদ্দীপ্ত করার ক্ষমতা রাখে, ফলে তা আচরণের মৌলিক উপাদানসমূহকে উন্মোচন করে।

--------------------------------------------

(১) বখতিন, উপন্যাসে শব্দ, অনু: ইউসুফ হাল্লাক, পৃ: ৫৪।

(২) আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে সিনান আল-খাফাজি আল-হালাবি, একজন কবি। তিনি আবুল আলা আল-মাআররি ও অন্যদের কাছ থেকে সাহিত্য শিক্ষা লাভ করেন। তিনি আলেপ্পোর অন্তর্গত 'আযায' দুর্গের শাসনকর্তা ছিলেন এবং সেখানে বিদ্রোহ করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয় এবং ৪৬৬ হিজরিতে বিষ প্রয়োগে তার মৃত্যু হয়। তার একটি মুদ্রিত কাব্যগ্রন্থ এবং 'সিররুল ফাসাহাহ' নামক গ্রন্থ রয়েছে। দেখুন আল-আলাম: ৪/২৬৬।

- যিয়াউদ্দীন নাসরুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-জাযারি, একজন উজির এবং আলেম ও লেখক। তিনি মসুলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সুলতান সালাহউদ্দিনের পুত্র মালিক আল-আফদালের উজির ছিলেন। ৬৩৭ হিজরিতে বাগদাদে তার মৃত্যু হয়। তার রচিত গ্রন্থসমূহ হলো: ইনশা শিল্পে 'আল-মাআনী আল-মুখতারাআ', 'আল-ওয়াশয়ুল মারকুম ফি হাল্লিল মানযুম', 'আল-মাসালুস সাইর', 'আল-জামি আল-কাবীর ফি সিনাআতিল মানযুম ওয়াল মানসুর' এবং 'দিওয়ানুর রাসায়িল'। আল-আলাম: ৩/১১০।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
البشري، وهاهنا مخاطبة الخالق لما خلق، وكذلك الواقع المحسوس في تصوير جزئياته في الطبيعة الصامتة والمتحركة، والمشاهد المألوفة، وتقريب ما هو ليس بمألوف بإثارة الحواسّ والبصيرة، واستدامة صورته الفنية هي نتيجة ثبات الحواسّ وتأكيده على ربط الصورة بالحواسّ، وهكذا لم يرفض الواقع، بل نهض به ولوّنه.

ولغة القرآن الكريم عربية، ولا نحبّ أن نثبت له الصّفة الدينية فقط، أو الجهة العلوية، لنقرنه بالسّموّ، فهذا لا يدحض كلام جاحد، ولا يدفع هجوم منكر، والصحيح أن هذا الكتاب العظيم استخدام المفردات العربية أحيانا في غير مجالها المعهود، ففي مجال المضمون قلّص دلالات كثيرة، وبثّ فيها المعاني المغايرة بصبغتها الدينية، والشواهد كثيرة على هذا كالمصطلحات الدينية في العقيدة والتشريع «صلاة، نفاق، صراط .. ».

وإذا كان جمال مفرداته من مصدر إلهي، فهذا يعني بالضبط سموّ الفن القرآني في مضمار الفن الأدبي، وحجّته الأولى هي اللسان العربي الفصيح، وطبيعة الفن، وليس الدافع الديني، فنحن نلمس السرّ الإلهي في الكلام المبين من خلال الآثار الجليّة التي تدلّ على وجوب الاعتراف بالبيان لمن علّم البيان، يقول عبد الكريم الخطيب: «أفاض الله سبحانه عليها- الكلمات- هذا الفيض، ونفخ فيها من روحه، كما نفخ في عصا موسى، لكنه مع ذلك أبقى على تلك الكلمات طبيعتها التي يعرفها الناس منها، كما أبقى على عصا موسى طبيعتها كذلك» «1».

وهذا السر الإلهي ليس خفيّا على متذوق للعربية وفنّ الكلام، وهذه الخاصية للمفردة القرآنية تسري في الآيات في تلاؤم تام، ولا يمكن أن نعدّها تفضّلا أو ترفا ذهنيا، كما هي الحال في كثير من الأدب، وهي- المفردة- سامية بنسبتها إلى منزلها في إطار من البيان الذي يعيه العرب خاصة، فعلى قدر ما تكون الجهة المبدعة قوية، تخرج الكلمات قوية مؤثرة، وقريب من هذا ما يقوله لا سل آبر كرمبي: «إن المهارة في الأدب لا تتناول سوى الألفاظ التي

--------------------------------------------

(1) الخطيب، عبد الكريم، 1964 - إعجاز القرآن، ط/ 1، دار الفكر العربي بمصر، 2/ 295.
মানবীয়, এবং এখানে সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর সৃষ্টির প্রতি সম্বোধন রয়েছে। অনুরূপভাবে, স্থির ও গতিশীল প্রকৃতির খুঁটিনাটি চিত্রায়নে এবং পরিচিত দৃশ্যসমূহে অনুভূত বাস্তবতা বিদ্যমান। আর যা পরিচিত নয়, তাকে ইন্দ্রিয় ও অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত করার মাধ্যমে নিকটবর্তী করা এবং তার শৈল্পিক রূপের স্থায়িত্ব হলো ইন্দ্রিয়ের স্থিরতা এবং ইন্দ্রিয়ের সাথে চিত্রের সংযোগ স্থাপনের গুরুত্বারোপের ফলাফল। এভাবে এটি বাস্তবতাকে অস্বীকার করেনি, বরং তাকে উন্নত ও রঞ্জিত করেছে।

পবিত্র কুরআনের ভাষা হলো আরবি। আমরা এর জন্য কেবল ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য বা ঊর্ধ্বলোকীয় দিকটিই সাব্যস্ত করতে চাই না যাতে একে শ্রেষ্ঠত্বের সাথে যুক্ত করা যায়; কারণ এটি কোনো অস্বীকারকারীর কথাকে খণ্ডন করে না এবং কোনো প্রত্যাখ্যানকারীর আক্রমণকেও প্রতিহত করে না। সঠিক কথা হলো, এই মহান গ্রন্থটি অনেক ক্ষেত্রে আরবি শব্দসমূহকে তাদের প্রচলিত ক্ষেত্রের বাইরে ব্যবহার করেছে। বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে এটি অনেক অর্থকে সংকুচিত করেছে এবং সেগুলোতে ধর্মীয় রঙে রঞ্জিত ভিন্নতর অর্থ সঞ্চারিত করেছে। এর প্রমাণ অনেক, যেমন আকীদা ও শরীয়তের পরিভাষাগুলো «সালাত, নিফাক, সিরাত ..»।

আর যদি এর শব্দশৈলীর সৌন্দর্য কোনো ঐশ্বরিক উৎস থেকে হয়, তবে এর সুনির্দিষ্ট অর্থ হলো সাহিত্য শিল্পের ময়দানে কুরআনিক শিল্পের শ্রেষ্ঠত্ব। এর প্রধান দলিল হলো প্রাঞ্জল আরবি ভাষা এবং শিল্পের প্রকৃতি, কোনো ধর্মীয় প্রেরণা নয়। আমরা এই সুস্পষ্ট বাণীর মধ্যে ঐশ্বরিক রহস্য খুঁজে পাই সেই সব উজ্জ্বল নিদর্শনের মাধ্যমে, যা 'যিনি বয়ান (প্রকাশভঙ্গি) শিখিয়েছেন' তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নেওয়ার আবশ্যকতা নির্দেশ করে। আব্দুল কারীম আল-খাতিব বলেন: «আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই শব্দগুলোর ওপর তাঁর অনুগ্রহের বারিধারা বর্ষণ করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যে তাঁর রূহ থেকে ফুঁক দিয়েছেন, যেমনটি তিনি মূসার লাঠিতে ফুঁক দিয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি সেই শব্দগুলোর এমন প্রকৃতি অবশিষ্ট রেখেছেন যা মানুষ চেনে, যেমন তিনি মূসার লাঠির প্রকৃতিকেও তেমনি বহাল রেখেছিলেন» «১»।

আর এই ঐশ্বরিক রহস্য আরবি ভাষা ও বাগশিল্পের রসগ্রাহীদের কাছে গোপন নয়। কুরআনের শব্দাবলীর এই বৈশিষ্ট্য আয়াতসমূহের মধ্যে এক পূর্ণ সামঞ্জস্যের সাথে বহমান। একে আমরা নিছক কোনো বাড়তি সুবিধা বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিলাসিতা হিসেবে গণ্য করতে পারি না, যেমনটি অনেক সাহিত্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়। শব্দসমূহ এর অবতীর্ণকারীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে এক উচ্চতর মহিমায় ভাস্বর, যা বিশেষত আরবরা অনুধাবন করে। সৃজনশীল সত্তা যতটুকু শক্তিশালী হন, শব্দসমূহ ততটুকু শক্তিশালী ও প্রভাববিস্তারী হয়ে থাকে। ল্যাসেলস অ্যাবারক্রম্বি যা বলেছেন তা এর কাছাকাছি: «সাহিত্যের দক্ষতা কেবল সেই শব্দগুলো নিয়েই কাজ করে যা...

--------------------------------------------

(১) আল-খাতিব, আব্দুল কারীম, ১৯৬৪ - ইজাজুল কুরআন, ১ম সংস্করণ, দারুল ফিকর আল-আরাবি, মিশর, ২/ ২৯৫।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
يستخدمها الكاتب، بينما مهارة الحديث تتناول أيضا ما للمحدّث من شخصية قد يكون أثرها أكبر وأعمق من أثر الألفاظ» «1».

والقرآن كلام الله عز وجل، وهو أقرب من حبل الوريد، فلا عجب في أن يضاف إلى حيّز الأدب سموّ المحدّث تبارك وتعالى، وهذا سيتّضح في دلالات خاصة للمفردات في فقرة لا حقة، قال تعالى: فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِثْلِهِ إِنْ كانُوا صادِقِينَ «2».

 

-‌‌ الشكل والمضمون:

تتمتع الكلمة في المضمار الأدبي بثنائية الشكل والمضمون، وفي الأدب الراقي يتضح أن الشكل ليس زخرفة بالية، بل يساند المضمون الفكريّ، ومؤيدات هذا التلاحم، وهذا التلاؤم المنسجم بين الطرفين تنبع من النص نفسه، وتنطلق الأحكام من خلال جوّ المفردة في خضمّ المفردات، وهي تصافح حاسة السمع قبل أن تطرق باب المشاعر، أي ترجمتها في سجلّ الوعي، ذلك لأنها صوت أولا، ومعنى في الدرجة الثانية.

لقد جنح الشعر الحديث إلى الموسيقا الداخلية المتوخّاة في طيّات الكلمات، إذ استعاض بها عن الوزن والقافية، والأديب البارع من يوظّف القيمة الصوتية في رسم المعاني، ويشخصها للمتلقي، لأنّ الإيقاع يجب أن يمثّل الحالة الشعورية، ولن يبلغ الشّعر شأو القرآن.

والاهتمام بجمال صوت الكلمة- أي صورتها الأولى- قديم قدم الأدب العربي، ولطالما جنح النقاد ودارسو الإعجاز القرآني إلى استحباب ألفاظ لمجرّد حلاوة نغمها، وذلك دونما توهم يربط بين الصوت والمعنى، كما سنجد في كثير من تعليقات الدارسين.

والحق أن «رقة اللفظ، وحلاوة الحروف، والسّلاسة والسّهولة والعذوبة، إشارات مصيبة، ووعي سابق على عصرنا، وهي تدلّ على تذوق أسلافنا

--------------------------------------------

(1) كرمبي، لاسل آبر، قواعد النقد الأدبي، تر: محمد عوض محمد، ص: 40.

(2) سورة الطور، الآية: 34.
যা লেখক ব্যবহার করেন, পক্ষান্তরে বাক-দক্ষতা বক্তার ব্যক্তিত্বের সেই দিকটিও অন্তর্ভুক্ত করে যার প্রভাব শব্দের প্রভাবের চেয়ে অধিকতর শক্তিশালী ও গভীর হতে পারে। (১)

আর কুরআন হলো মহান আল্লাহর বাণী, এবং তিনি ঘাড়ের শাহরগের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। সুতরাং সাহিত্যের পরিমণ্ডলে মহান বক্তার (আল্লাহর) মাহাত্ম্য যুক্ত হওয়া কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। এটি পরবর্তী এক অনুচ্ছেদে শব্দাবলীর বিশেষ অর্থদ্যোতকতার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। মহান আল্লাহ বলেন: "অতএব তারা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবে তারা এর অনুরূপ কোনো বাণী নিয়ে আসুক।" (২)

 

-‌‌ রূপ ও বিষয়বস্তু:

সাহিত্য অঙ্গনে শব্দ রূপ ও বিষয়বস্তুর দ্বৈত বৈশিষ্ট্যে ভূষিত। উচ্চমার্গের সাহিত্যে এটি স্পষ্ট যে, রূপ বা আঙ্গিক কোনো জীর্ণ অলঙ্করণ নয়, বরং তা বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়বস্তুকে সুদৃঢ় করে। এই সংহতি এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান সামঞ্জস্যপূর্ণ মিলনের প্রমাণাদি স্বয়ং মূল পাঠ (টেক্সট) থেকেই উৎসারিত হয়। শব্দপুঞ্জের ভিড়ে নির্দিষ্ট শব্দের আবহের মাধ্যমেই বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়। শব্দ অনুভূতির দ্বারে করাঘাত করার আগেই শ্রবণেন্দ্রিয়কে স্পর্শ করে, অর্থাৎ চেতনার দপ্তরে তা অনুদিত হওয়ার আগেই; কারণ শব্দ প্রথমত একটি ধ্বনি এবং দ্বিতীয়ত একটি অর্থ।

আধুনিক কবিতা শব্দের ভাঁজে থাকা প্রত্যাশিত অন্তর্নিহিত সুরের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যেখানে ছন্দ ও অন্ত্যমিলের পরিবর্তে এই সুরকেই স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। দক্ষ সাহিত্যিক তিনিই যিনি অর্থ চিত্রায়ণে ধ্বনিগত মানকে সদ্ব্যবহার করেন এবং পাঠকের সামনে তা মূর্ত করে তোলেন; কারণ ছন্দকে অবশ্যই আবেগীয় অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করতে হয়। তবে কবিতা কখনোই কুরআনের সুউচ্চ মর্যাদায় পৌঁছাতে পারবে না।

শব্দের ধ্বনিগত সৌন্দর্য—অর্থাৎ তার প্রাথমিক রূপ—এর প্রতি গুরুত্বারোপ করার বিষয়টি আরবি সাহিত্যের মতোই প্রাচীন। সমালোচক এবং কুরআনের অলৌকিকত্ব (ইজায) বিষয়ের গবেষকগণ দীর্ঘকাল ধরে কেবল সুরের মাধুর্যের কারণে নির্দিষ্ট শব্দাবলীকে পছন্দ করে এসেছেন, এবং তা ধ্বনি ও অর্থের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনকারী কোনো কাল্পনিক ধারণা ছাড়াই; যেমনটি আমরা অনেক গবেষকের মন্তব্যে দেখতে পাব।

প্রকৃতপক্ষে "শব্দের কমনীয়তা, অক্ষরের মাধুর্য, সাবলীলতা, সহজবোধ্যতা ও স্নিগ্ধতা" হলো যথার্থ ইঙ্গিত এবং আমাদের যুগের পূর্ববর্তী এক সচেতনতা। এটি আমাদের পূর্বসূরিদের রুচিবোধকেই নির্দেশ করে।

--------------------------------------------

(১) লাসেলস অ্যাবারক্রম্বি, সাহিত্যের সমালোচনার মূলনীতি, অনুবাদ: মুহাম্মদ আওয়াদ মুহাম্মদ, পৃষ্ঠা: ৪০।

(২) সূরা আত-তূর, আয়াত: ৩৪।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
للجمال السمعي.

ولا ريب في أن كلا الطرفين: الصوت والمعنى في تلازم دائم، وأن التعلّق بالصوت مرحلة أوّلية يجب أن تجتاز، وفي هذا يقول جيروم ستولينتز: «إن الكلمة ليست مجرد شكل على الورق، أو صوتا نسمعه إذا كانت منطوقة، وإنما هي لا تكون كذلك إلا بالنسبة إلى الطفل الصغير، أو شخص لا يعرف اللغة، … ولكن على الرغم من ذلك يظلّ التمييز قائما بين اللون والصوت الذي لا يقدّم للوعي إلا ذاته، وبين الكلمة التي يكون معناها أكثر من مجرد المظهر الذي تتخذه للإحساس» «1».

وقد يكون من هذا الباب كره ابن سنان وابن الأثير لطوال الكلمات في الشعر واستحبابها في القرآن، والقضية لم تكن في الطول بقدر ما تكون في التشكيل الصوتي ومادّته ونغمته.

أما أن الصوت لا يقدّم للوعي إلا ذاته، كما يقول ستولينتز، فهذا لا ينطبق على كلمات القرآن، فهي وعاء للمعنى في البعد الأول، حسب الوضع الاجتماعي، وهو يواكب المعنى في تصوير المطلوب من الأشياء في عملية محاكاة للحدث، فله أحيانا وظيفتان.

ولا بأس أن نستشهد بآية قرآنية، وندع ما قاله الدارسون إلى مكانه من البحث، إذ يقول تعالى عن سليمان عليه الصلاة والسلام: فَسَخَّرْنا لَهُ الرِّيحَ تَجْرِي بِأَمْرِهِ رُخاءً «2»، ففي كلمة «رخاء» جزئيات الحركة المعنيّة، وتصوير للحدث، وذلك بعيدا عن المعنى، فالصوت هو الذي يوحي الآن، ويرسم الحركة في عملية نطق تحاكي الحدث، فإنّ الضمة على الراء تعني انضمام الشفتين على حرف ليس من حروف اللّين، واستدارة الشفتين تتطلب جهدا، وفي هذا قوّة الريح، ثم يأتي الانتقال من الضمّ إلى الفتح على حرف حلقي ليدعو إلى تصوّر بدء سهولة، وتكثر السهولة في مدّ الألف، فليس هناك انقباض ولا انكماش، بل تدرّج من الصّعب إلى السهل، مما يمثّل طواعية الريح للنبي

--------------------------------------------

(1) ستولينتز، جيروم، 1974 - النقد الفني: دراسة جمالية وفلسفية، ط/ 2، تر:

د. فؤاد زكريا، مطبعة جامعة عين شمس، ص/ 84.

(2) سورة ص، الآية: 36.
শ্রুতিমাধুর্যের জন্য।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে শব্দ এবং অর্থ—উভয় দিকই সর্বদা একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। শব্দের প্রতি অনুরক্ত হওয়া একটি প্রাথমিক পর্যায় যা অবশ্যই অতিক্রম করতে হবে। এ প্রসঙ্গে জেরোম স্টোলনিটজ বলেন: «শব্দটি কেবল কাগজের ওপর কোনো রেখাচিত্র নয়, অথবা এটি কেবল এমন কোনো আওয়াজ নয় যা উচ্চারিত হলে আমরা শুনতে পাই; বরং এটি কেবল একটি ছোট শিশু বা এমন একজন ব্যক্তির কাছে এমন হতে পারে যে সেই ভাষা জানে না, … তবে তা সত্ত্বেও বর্ণ এবং শব্দের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান থাকে, যা চেতনার কাছে কেবল নিজেকেই উপস্থাপন করে; আর শব্দের মধ্যে পার্থক্য থাকে যার অর্থ তার বাহ্যিক রূপের চেয়েও গভীরতর হয়ে থাকে» «১»।

সম্ভবত এ কারণেই ইবনে সিনান এবং ইবনে আল-আসির কবিতায় দীর্ঘ শব্দের ব্যবহার অপছন্দ করেছেন এবং কুরআনে একে পছন্দনীয় বলেছেন। বিষয়টি কেবল দীর্ঘ হওয়া নিয়ে ছিল না, বরং তা ছিল ধ্বনিগত গঠন, এর উপাদান এবং সুরের মূর্ছনা নিয়ে।

স্টোলনিটজ যেমনটি বলেছেন যে শব্দ চেতনার কাছে কেবল নিজেকেই উপস্থাপন করে, এই বিষয়টি কুরআনের শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ কুরআনের শব্দ হলো সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী প্রথম স্তরে অর্থের আধার, আর এটি ঘটনার অনুকরণ প্রক্রিয়ায় উদ্দিষ্ট বিষয়সমূহ ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে অর্থের সাথে তাল মিলিয়ে চলে; ফলে কখনও কখনও এর দ্বিমুখী কাজ থাকে।

আমরা একটি কুরআনিক আয়াত উদ্ধৃত করতে পারি এবং গবেষকদের বক্তব্য আলোচনার নিজ স্থানে রেখে দিতে পারি। আল্লাহ তাআলা সুলাইমান (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সম্পর্কে বলেন: «অতঃপর আমি বাতাসকে তার অনুগত করে দিলাম, যা তার আদেশে মৃদুভাবে প্রবাহিত হতো যেখানে তিনি চাইতেন» «২»। সুতরাং «রুখা-আন» শব্দটির মাঝে সংশ্লিষ্ট গতির সূক্ষ্ম দিকগুলো এবং ঘটনার চিত্রায়ন বিদ্যমান রয়েছে, যা অর্থের ঊর্ধ্বে। এখানে মূলত ধ্বনিই ইঙ্গিত প্রদান করছে এবং উচ্চারণের প্রক্রিয়ায় ঘটনার অনুকরণ করে গতির চিত্র অঙ্কন করছে। কারণ ‘রা’ বর্ণের ওপর পেশ থাকা মানে হলো এমন একটি বর্ণের উচ্চারণে ঠোঁটদ্বয় কুঞ্চিত হওয়া যা কোমল বর্ণের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর ঠোঁট গোলাকার করার জন্য শ্রমের প্রয়োজন হয়, যার মধ্যে বাতাসের শক্তির প্রতিফলন ঘটে। এরপর পেশ থেকে কণ্ঠনালীয় বর্ণের ওপর জবর আসার মাধ্যমে এক প্রকার সাবলীলতা শুরু হওয়ার বিষয়টি কল্পনায় চলে আসে। আর এই সাবলীলতা আলিফ-এর টানে আরও বৃদ্ধি পায়। ফলে সেখানে কোনো সংকোচন বা সংকীর্ণতা থাকে না, বরং কঠিন থেকে সহজের দিকে একটি ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, যা নবীর প্রতি বাতাসের আনুগত্যকে ফুটিয়ে তোলে।

--------------------------------------------

(১) স্টোলনিটজ, জেরোম, ১৯৭৪ - শৈল্পিক সমালোচনা: একটি নান্দনিক ও দার্শনিক অধ্যয়ন, ২য় সংস্করণ, অনুবাদ:

ড. ফুয়াদ জাকারিয়া, আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, পৃ. ৮৪।

(২) সূরা সোয়াদ, আয়াত: ৩৬।
(খণ্ড: ১) জামালিয়াতুল মুফরাদাহ আল-কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بأمر الخالق ولا يكون هذا في كلمة سوى «رخاء».

بسط المحدثون القول في هذه الناحية مضيفين إلى إشارات القدامى نظرات عميقة، وتحليلا مقنعا أحيانا، مثل الرافعي، وبدوي، وحفني شرف، وغيرهم، وقد طرق القدامى هذه المسألة، وعلى وجه الخصوص قدامى علماء اللغة، كابن جني «1» في «الخصائص» وهي تدعى ب «الأونوماتوبيا» أي محاكاة الوضع اللغوي لمظاهر الطبيعة، وفي العربية الكثير من المفردات المحاكية، وقد استخدم القرآن مثل هذه المفردات عند ما بثّ الحركة فيها، وجسّم معانيه، وخاطب الحواسّ عند تقديم الذهنيات.

وأخيرا نستنتج أن الاهتمام بالشكل الذي يطمس المعنى، هو تعلّق زائف لا يجدي نفعا، كما في مذهب الرمزية المغرقة في الشعر، والكلمات أصوات ومعان، ولا يمكن التفريق بينهما إلا على سبيل الافتراض عند الدراسة النقدية، والصوت والمعنى وجهان لورقة واحدة في الأدب، ولا تظهر للعيان الارتباطات الموسيقية في الكلمة إلا وهي داخل النص.

ولا تتكشف هذه المساندة لأي قارئ، فالأمر يتطلّب تمحيصا، وسلامة ذوق، وتدبرا عميقا.

ونحن لا ندّعي مساندة الشكل للمضمون في مفردات القرآن إلى درجة المحاكاة التي لم تحظ برضى الكثير من اللغويين، بل نرى في القرآن مناسبة تامة بين الشكل والمضمون، فلا أقلّ من العودة إلى القرآن الذي قدّم الحالة النفسية، وتصوير أجواء المواقف في المدود والغنّات والتنكير والسّكنات والحركات، فالمواقف مختلفة، والتشكيل الصوتي تبعا لها مختلف، وكأنّ الحرف يمثّل ويرسم، والحركات تضيف الأطر اللازمة للصورة، فالهمس في مواقف اللّين والهوادة، والإطباق والشّدّة في مواقف التهديد والوعيد، ومثل

--------------------------------------------

(1) هو عثمان بن جني الموصليّ، أبو الفتح، من أئمة الأدب والنحو، وله شعر، ولد بالموصل، وتوفي ببغداد سنة 392 هـ، كان أبوه مملوكا روميا، من كتبه «الخصائص» و «المبهج» في اشتقاق أسماء رجال الحماسة، و «التصريف المملوكي» و «المقتضب من كلام العرب» وقد شرح ديوان المتنبي، وكان معتزليا غير مغال في رأيه، انظر الأعلام: 4/ 364.
স্রষ্টার আদেশে এবং এটি ‘রাখা’ শব্দ ছাড়া অন্য কোনো শব্দে হয় না।

আধুনিকগণ এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং প্রাচীনদের ইঙ্গিতগুলোর সাথে গভীর অন্তর্দৃষ্টি এবং কখনো কখনো সন্তোষজনক বিশ্লেষণ যুক্ত করেছেন, যেমন রাফেয়ী, বাদায়ী, হাফনি শরাফ এবং অন্যান্যরা। প্রাচীনরা এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন, বিশেষ করে প্রাচীন ভাষাবিদগণ, যেমন ইবনে জিন্নি (১) তাঁর ‘আল-খাসাইস’ গ্রন্থে; একে ‘অনোমাটোপিয়া’ বলা হয়, অর্থাৎ প্রাকৃতিক ঘটনাবলির সাথে ভাষাগত অবস্থার সাদৃশ্যবিধান। আরবি ভাষায় এ ধরনের অনেক সাদৃশ্যপূর্ণ শব্দ রয়েছে এবং কুরআন এই ধরনের শব্দগুলো ব্যবহার করেছে যখন সেগুলোতে গতি সঞ্চার করেছে, অর্থকে মূর্ত করেছে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়গুলো উপস্থাপনের সময় ইন্দ্রিয়গুলোকে সম্বোধন করেছে।

পরিশেষে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, কাঠামোর প্রতি এমন মনোযোগ যা অর্থকে আড়াল করে দেয়, তা একটি অলীক আসক্তি যা কোনো কাজে আসে না, যেমনটি কবিতায় অতি-প্রতীকীবাদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। শব্দ হলো ধ্বনি ও অর্থের সমষ্টি, এবং সমালোচনামূলক অধ্যয়নের সময় কেবল অনুমানমূলকভাবেই তাদের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব। সাহিত্যে ধ্বনি এবং অর্থ একই পাতার দুটি পিঠের মতো, এবং শব্দের মধ্যে বিদ্যমান সংগীতময় সম্পর্কগুলো পাঠ্যের ভেতরে না থাকা পর্যন্ত স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় না।

আর এই যোগসূত্র যেকোনো পাঠকের কাছে উন্মোচিত হয় না; বিষয়টি সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, পরিশীলিত রুচিবোধ এবং গভীর অনুধাবনের দাবি রাখে।

আমরা কুরআনের শব্দাবলীতে বিষয়বস্তুর প্রতি কাঠামোর সমর্থনের ক্ষেত্রে এমন পর্যায়ের সাদৃশ্যের দাবি করি না যা অনেক ভাষাবিদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। বরং আমরা কুরআনে কাঠামো এবং বিষয়বস্তুর মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সামঞ্জস্য দেখতে পাই। অন্তত কুরআনের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, যা মানসিক অবস্থা এবং পরিস্থিতির পরিবেশকে দীর্ঘস্বর (মাদ্দ), অনুনাসিক ধ্বনি (গুন্নাহ), অনির্দিষ্টকরণ (তানকির), বিরতি (সাকানাত) এবং স্বরচিহ্নের (হারাকাত) মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে। পরিস্থিতি ভিন্ন ভিন্ন হয়, আর সেই অনুযায়ী ধ্বনিবিন্যাসও ভিন্ন হয়; যেন প্রতিটি অক্ষর চিত্রায়ন ও অঙ্কন করছে এবং স্বরচিহ্নগুলো চিত্রের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো প্রদান করছে। যেমন কোমলতা ও নম্রতার ক্ষেত্রে ‘হামস’ (ফিসফিসানি) এবং হুমকি ও সতর্কবাণীর ক্ষেত্রে ‘ইতবাক’ (সংবৃতি) ও ‘শিদ্দাহ’ (কাঠিন্য), এবং অনুরূপ...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ওসমান বিন জিন্নি আল-মাওসিলি, আবু আল-ফাতহ, সাহিত্য ও ব্যাকরণ শাস্ত্রের অন্যতম ইমাম, তাঁর কাব্যগ্রন্থও রয়েছে। তিনি মোসেলে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৯২ হিজরিতে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন রোমান ক্রীতদাস। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আল-খাসাইস’, হামাসার বীরদের নামের ব্যুৎপত্তি বিষয়ক ‘আল-মুবহিজ’, ‘আত-তাসরিফ আল-মামলুকি’ এবং ‘আল-মুকতাদাব মিন কালামিল আরব’। তিনি মুতানাব্বির দিওয়ানের ব্যাখ্যাগ্রন্থও লিখেছেন। তিনি মতাদর্শে মুতাজিলা ছিলেন তবে চরমপন্থী ছিলেন না। দেখুন: আল-আ’লাম ৪/৩৬৪।