(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث القدسية الأربعينية ت عبد العزيز مختار   (الملا على القاري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الأحاديث القدسية الأربعينية

المؤلف: علي بن (سلطان) محمد، أبو الحسن نور الدين الملا الهروي القاري (ت 1014هـ)

المحقق: أ. د عبد العزيز مختار إبراهيم الأمين، أستاذ الحديث وعلومه - كلية التربية والآداب/قسم الدراسات الإسلامية -جامعة تبوك

الناشر: دار التوحيد للنشر والتوزيع - الرياض

عدد الصفحات: 101

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 ذو القعدة 1432

আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবাঈনিয়্যাহ, আব্দুল আজিজ মুখতার কর্তৃক সম্পাদিত   (আল-মোল্লা আলী আল-কারী)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবাঈনিয়্যাহ

লেখক: আলী বিন (সুলতান) মুহাম্মদ، আবুল হাসান নূরুদ্দিন মোল্লা হারাবী কারী (মৃত্যু ১০১৪ হিজরি)

সম্পাদক: প্রো. ড. আব্দুল আজিজ মুখতার ইব্রাহিম আল-আমিন، হাদিস ও হাদিস শাস্ত্রের অধ্যাপক - শিক্ষা ও সাহিত্য অনুষদ/ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ - তাবুক বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশক: দারুত তাওহীদ প্রকাশনা ও বিতরণ - রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৫ জিলকদ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ١)
الأَحَادِيثُ الْقُدُسِيَّةُ الأَرْبَعِينِيَّةُ

لِلعَلاّمة أبي الحَسن

مُلا عَليِّ بَنِ سُلْطَان القَارِي الهَرويِّ

المُتَوفىَ سنة (1014)

 

حَقَّقهُ وَضَبَطَ نُصُوصَهُ وَخرََّجَ أَحَادِيثَهُ

أ. دُ. عَبدُ الْعَزِيزِ مُختَار إِبرَاهِيم الأَمِين

أُسْتَاذُ الحَدِيثِ وعُلُومِهِ

كُلِّيةُ التَّربيةِ والآدَابِ/قِسْمُ الدِّرَاسَاتِ الإسْلامِيةِ

 

جَامِعةِ تَبُوك
চল্লিশটি কুদসি হাদিস

আল্লামা আবুল হাসানের প্রণীত

মোল্লা আলী বিন সুলতান আল-কারি আল-হারাউয়ি

মৃত্যু: ১০১৪ হিজরি

 

সম্পাদনা, পাঠ্য বিন্যাস এবং হাদিসের উৎস নির্দেশ করেছেন

প্রফেসর ড. আব্দুল আজিজ মুখতার ইব্রাহিম আল-আমিন

হাদিস ও হাদিসশাস্ত্রের অধ্যাপক

শিক্ষা ও কলা অনুষদ/ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

 

তাবুক বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٥)
الصفحة الأولى والثانية من المخطوط رقم (2130/ 2)
পাণ্ডুলিপি নম্বর (২১৩০/ ২) এর প্রথম এবং দ্বিতীয় পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٦)
الصفحة الأخيرة من المخطوط رقم (2130/ 2)
২১৩০/ ২ নম্বর পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٧)
الصفحة الأولى من المخطوط رقم (14232/ 2)
পাণ্ডুলিপি নম্বর (১৪২৩২/ ২)-এর প্রথম পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٨)
الصفحة الأخيرة من المخطوط رقم (14232/ 2)
পাণ্ডুলিপি নম্বর (১৪২৩২/ ২) এর শেষ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٩)
الصفحة الأولى من المخطوط رقم (10071/ 2)
পাণ্ডুলিপি নম্বর (১০০৭১/ ২)-এর প্রথম পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌[مقدمة المحقق]

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحْمدُ لِلهِ نَحِمِدَهُ ونَستِعِنُهُ ونَعُوذُ بِهَ مِن شُرُورِ النَّفس، وَمُضِّلاةِ الفِتَن، ونَزَغاتِ الشْيَاطِينِ وَتَهْوِينِهِ، وَبَعْدُ.

فَهذِهِ رِسالَةٌ نَافِعةٌ مُفِيدةٌ، في الأَرْبَعِينِ القُدُسِيَّةِ، والكَلِماتِ الأُنْسِيَّةِ، جَمعَها العَلاّمةٌ مُلا عَلِي بنِ سُلْطانِ القَاري المَكِّيِّ، المُتَوفَى بِمكَّةَ المُكرَّمَةِ، حَرَسَها اللهُ سنة (1014).

فعَزمتُ على تَحقِيقَهَا وضَبِطِ نُصُوصِها قَدْرِ الطَاقةِ سائلاً اللهَ تَعالىَ التَّوْفِيقَ والسَّدادَ، وحُسْنَ المَقْصَدِ، واللهُ مِن وراءِ القْصْدِ.

وتُوْجَدُ لَها خَمْسُ نُسْخٍ، بِمركَز المَلِكِ فَيْصَل بالرَّيَاض، وهي عَلى النَحو الآتِي:

الأُولى: برقم (2130/ 2)، وهِي نُسْخَةٌ جَيِّدةٌ وكُتِبت بخطٍ جيِّدٍ، وتَقعُ في إحدى عشر لَوحَة، فِي الواحِدةِ منها (21) سطراً بِمِقاس (14×16) سم تَقرِيباً، وعدد كلِماتِها ما بين (8 - 10) كلِمة في السَّطر الواحد.
[মুহাক্কিকের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং নফসের অনিষ্টতা, পথভ্রষ্টকারী ফিতনা ও শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্ররোচনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। অতঃপর:

এটি একটি উপকারী ও ফলপ্রসূ পুস্তিকা, যা চল্লিশটি হাদিসে কুদসি ও আধ্যাত্মিক বাণী সম্বলিত; এটি সংকলন করেছেন আল্লামা মোল্লা আলী বিন সুলতান আল-কারি আল-মাক্কি, যিনি ১০১৪ হিজরি সনে মক্কা মুকাররমায় (আল্লাহ একে রক্ষা করুন) ইন্তেকাল করেছেন।

আমি সাধ্যমতো এর তাহকিক ও মূল পাঠ্য সংশোধনের সংকল্প করেছি এবং মহান আল্লাহর নিকট তাওফিক, সঠিকতা ও নেক মকসুদ প্রার্থনা করছি; আর আল্লাহই মূল লক্ষ্য।

রিয়াদের কিং ফয়সাল সেন্টারে এর পাঁচটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যা নিম্নরূপ:

প্রথমটি: নম্বর (২১৩০/ ২); এটি একটি উন্নতমানের পাণ্ডুলিপি এবং সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখিত। এটি এগারোটি পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত, যার প্রতি পৃষ্ঠায় প্রায় ১৪×১৬ সেমি পরিমাপের ২১টি করে লাইন রয়েছে এবং প্রতি লাইনে শব্দের সংখ্যা ৮ থেকে ১০টি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٢)
وِلِجودَتِها جَعْلتُها هي الأَصل، وبيّنتُ الفُرُوقَ بينَها وَبَين غَيرِها في الحَاشِية، وهِي فُرُوقٌ قلِيلَة، وأَكْثَرُها فِي المُقدِّمة.

الثَّانِيةُ: بِرقم (14232/ 2)، وهي أَيضَاً نُسخَةٌ جَيَّدةٌ، وتَقعُ في ثَمانِ لوحَاتِ، فِي الواحِدةِ منها (25) سطراً، مقاس (20×13) سم تَقرِيباً، وعدد الكَلِمات فِيها ما بين (8 - 10)، وعلى الورقةِ الأُولى تعلِيقٌ فيه تَعرِيفٌ بالحديثِ القُدُسيِّ وَطُرُقِ رِوايَتِه، والفُرُوقِ بَينَهُ وَبَينَ القُرْآنِ الكَرِيمِ، وبَيْنَهُ وَبَيْنَ الحَدِيثِ النَّبَويِّ، ولَعلَ ذلِك مِن النَّاسِخ.

الثَّالِثة: وهِي بِرقم (14155/ 4)، وهِي كذلِكَ نُسخَةٌ جَيِّدةٌ، وتَقعُ في عشر لَوحَاتٍ، فِي كُلِّ لَوحَةٍ فِيها (19) سطراً بِمِقاس (16×11) سم تَقرِيباً، وعدد كلِماتِها ما بين (8 - 10) كلِمة في السَّطر الواحد.

الرَّابِعة: وهِي برقم (10071/ 1)، وهِي لا بَأَسَ بِها، وهِي مَقرُوءةٌ إلا فِي مَواضِعَ قَلِيلَةٍ وَيَسِيرِةٍ جِداً، وتَقعُ فِي سَبْع لَوحَاتٍ، فِي كُلِّ لَوَّحةٍ (21) سطراً بِمِقاس (21×15) سم تَقرِيباً، وعدد كلِماتِها ما بين (10 - 12) كلِمة في السطر الواحد.
এর গুণগত উৎকর্ষের কারণে আমি একেই মূল হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং এর সাথে অন্যান্য পাণ্ডুলিপির পার্থক্যসমূহ টীকায় বর্ণনা করেছি। এ পার্থক্যসমূহ সামান্য এবং এর অধিকাংশ প্রস্তাবনা অংশে রয়েছে।

দ্বিতীয়টি: নম্বর (14232/ 2), এটিও একটি উত্তম সংস্করণ। এটি আটটি ফলক ব্যাপী বিস্তৃত, যার প্রতিটিতে (25)টি করে লাইন রয়েছে। এর পরিমাপ প্রায় (20×13) সেন্টিমিটার এবং এতে শব্দের সংখ্যা (8 - 10) এর মধ্যে। প্রথম পৃষ্ঠায় একটি টীকা রয়েছে যাতে হাদিসে কুদসি, এর বর্ণনা পদ্ধতি এবং পবিত্র কুরআন ও হাদিসে নববীর সাথে এর পার্থক্যের পরিচয় প্রদান করা হয়েছে; সম্ভবত এটি লিপিকারের পক্ষ থেকে।

তৃতীয়টি: এটি নম্বর (14155/ 4), এটিও অনুরূপ একটি উন্নত সংস্করণ। এটি দশটি ফলক ব্যাপী বিস্তৃত, যার প্রতিটি ফলকে (19)টি করে লাইন রয়েছে। এর পরিমাপ প্রায় (16×11) সেন্টিমিটার এবং প্রতি লাইনে শব্দের সংখ্যা (8 - 10)টির মধ্যে।

চতুর্থটি: এটি নম্বর (10071/ 1), এটিও মন্দ নয়। খুব সামান্য কিছু স্থান ব্যতীত এটি পাঠযোগ্য। এটি সাতটি ফলক ব্যাপী বিস্তৃত, যার প্রতিটি ফলকে (21)টি করে লাইন রয়েছে। এর পরিমাপ প্রায় (21×15) সেন্টিমিটার এবং প্রতি লাইনে শব্দের সংখ্যা (10 - 12)টির মধ্যে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٣)
الخَامِسة: بِرقَم (6789/ب)، وهِي نُسْخَةٌ رَدِيئةٌ جِداً، فيها طمسٌ كَثِيرٌ، وتَقَعُ في سَبْعِ لَوَّحَاتٍ، وعدد أسْطُرِها (25) سطراً، وعدد كَلِماتِها (10 - 11)، كَلِمة في السَّطْرِ الواحِد.

 

‌‌عَملي في هَذا الكِتابِ:

أولاً: عرَّفتُ بالعلاّمة أَبِي الحَسن مُلا عليِّ بن سُلطان القَاريِّ الهَرويِّ، من حيثُ اسمه، ومَولده، ونشأته، وشُيوخه، ومكانته العِلمية، وثناء العُلماء عليه، وبعض مُؤلفاته، ووفاته.

ثانياً: عرَّفَتُ وبإيجاز بالحَدِيث القُدسيِّ فِي الاصطلاح، وبيان الفُروقِ بين الحديث القُدسيِّ والقُرآن الكريم، وبينه وبين الحديثِ النَّبويِّ.

ثالثاً: ضَبطتُ بالشَّكل جَميع الأحَادِيثِ والأعَلام قَدْر الإمكان.

رابعاً: خرَّجتُ الأحَاديث الوَارِدة في الكتابِ، مِن مَصَادِرِها الأَصلِيَّةِ من كُتُب السُّنة، مِن الصِحاحٍ والمَسانيدِ، والمُصَنَّفاتِ والمَعاجِم، والأجزَاء الحَديثيَّة وغيرها.

خامساً: حَكمتُ على كُلِّ حديثٍ "غير أحاديث الصحيحين أو مَا كان في أحدهما " بما يناسبُ حاله من صحة وضعف، مشيراً إلى عِلّة الضعف
পঞ্চম: (৬৭৮৯/ব) নম্বরযুক্ত, এটি অত্যন্ত নিম্নমানের একটি পাণ্ডুলিপি, এতে অনেক অস্পষ্টতা রয়েছে, এটি সাতটি পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত, এর প্রতি পৃষ্ঠায় (২৫)টি লাইন এবং প্রতি লাইনে (১০ - ১১)টি শব্দ রয়েছে।

 

এই কিতাবে আমার কাজ:

প্রথমত: আল্লামা আবুল হাসান মোল্লা আলী বিন সুলতান আল-কারি আল-হারওয়ীর নাম, জন্ম, বেড়ে ওঠা, শিক্ষকবৃন্দ, ইলমি মর্যাদা, তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা, তাঁর কিছু রচনা এবং মৃত্যু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক অর্থে হাদিসে কুদসির সংক্ষিপ্ত পরিচয় প্রদান করেছি এবং হাদিসে কুদসি ও পবিত্র কুরআনের মধ্যে পার্থক্য এবং হাদিসে কুদসি ও হাদিসে নববীর মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করেছি।

তৃতীয়ত: যথাসম্ভব সকল হাদিস এবং ব্যক্তিনামের হরকত (যের-যবর-পেশ) নির্ধারণ করেছি।

চতুর্থত: কিতাবে বর্ণিত হাদিসগুলো সুন্নাহর মূল উৎসসমূহ যথা—সহীহ গ্রন্থসমূহ, মাসানিদ, মুসান্নাফাত, মাআজিম, হাদিসের সংকলনসমূহ (আজযা) এবং অন্যান্য উৎস থেকে তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) করেছি।

পঞ্চমত: সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা এই দুটির কোনো একটির হাদিস ব্যতীত প্রতিটি হাদিসের অবস্থা অনুযায়ী সেটির বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার মান নির্ধারণ করেছি এবং দুর্বলতার কারণগুলো নির্দেশ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٤)
باختصار، إن كان الحديث ضعيفاً، وأذكر كلام أهل العلم في ذلك بأوجز عبارة.

سادساً: نَسختُ المخطُوط بالخطِّ العَربيِّ المُعْتاد.

سابعاً: عرَّفتُ بالكتاب، وموضُوعِه، مع وصفٌ مُختصر للمخطُوطِ ونُسخِهِ.

ثامناً: قدَّمتُ في التخريج طريق المصنِّف أولاً، ثم الصحيحين، ثم بقية الكُتُب السِّتة، ثم بقية المصادر الأخرى، دون التزام مُعين.

تاسِعاً: وأخيراً ذيلتُ الكتاب بفهرس لأحاديث الكِتاب مُرتباً على حُروف الهِجاء، مع ذكر راوي الحديث من الصَّحابة، ومع بيان درجته.

هذا وقد بذلتُ غاية جهدي في إخراج هذا الكتاب بما يناسب حاله، فإن أصبتُ فمن اللهَ وحدهُ، وله المنَّةُ والفضلُ، وإنْ كَانَ غير ذلك فمني ومن الشَّيطان واللهُ الهادي إلى سَواء السَّبيل.
সংক্ষেপে, যদি হাদিসটি দুর্বল হয়, তবে আমি সে বিষয়ে ইলম অর্জনকারী ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করেছি।

ষষ্ঠত: আমি পাণ্ডুলিপিটি প্রচলিত আরবি লিপিতে অনুলিখন করেছি।

সপ্তমত: আমি গ্রন্থটি এবং এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিচয় প্রদান করেছি, সাথে পাণ্ডুলিপি ও এর কপিগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছি।

অষ্টমত: হাদিস চয়নের ক্ষেত্রে আমি প্রথমে গ্রন্থকারের সূত্র, এরপর সহিহাইন, এরপর অবশিষ্ট কুতুবে সিত্তা, এবং সবশেষে অন্যান্য উৎসগুলো উল্লেখ করেছি, কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা ব্যতিরেকে।

নবমত: পরিশেষে আমি গ্রন্থের হাদিসসমূহের একটি নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি যা বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত, যেখানে বর্ণনাকারী সাহাবীর নাম এবং হাদিসের মান বর্ণনা করা হয়েছে।

গ্রন্থটিকে এর উপযুক্ত মানে প্রকাশ করার জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। যদি আমি সঠিক করে থাকি তবে তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ তাঁরই। আর যদি অন্য কিছু হয়ে থাকে তবে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আল্লাহই সঠিক পথের দিশারী।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌التعريف بالمُؤلِّف (1)

‌‌اسمه:

هو العلاّمةٌ الحافظُ المُقرئ مُلا (2) علي بن سُلطان بن مُحَمَّد القَاري (3) … الهَرويُّ (4)، ثُّم المكيُّ (5)، الحنفيّ (6) يُكنى بأبي الحَسن.

 

‌‌مَولده ونشأته:

وُلد العلاّمةُ عليِّ القاري بمدينة هَرَاة، وهي مدينة بخُراسان، بجُمهورية أفغانستان الإسلامية الآن.

--------------------------------------------

(1) انظر بعض مصادر ترجمته في سمط النجوم العوالي (4/ 394)، وخلاصة الأثر (3/ 185)، والبدر الطالع (1/ 445)، والتاج المكلل (398)، وهدية العارفين (1/ 753)، والفوائد البهية (8)، والأعلام للزركلي (5/ 12)، المُلا علي القاري، فهرس مُؤلفاته وما كُتب عنه، لمحمد عبد الرحمن الشماع (مجلة آفاق الثقافة والتراث العدد:1).للعام (1414).ومُلا علي القاري وآراؤه الاعتقادية في الإلهيات عرض ونقد، لمساعد المطرفي (رسالة ماجستير، جامعة أم القرى، كلية أصول الدين).

(2) () " مُلا" وهي كلمة فارسية، ومعناها عندهم، العالم المُتبحِّر الكبير الشأن.

(3) () نسبة إلى قراءة القُرآن، لأنه اشتغل بعلم القرآن الكريم.

(4) () نسبة إلى " هَرَاة" التي انتقل منها.

(5) () نسبة إلى " مكة المُكرمة" التي سكنها، وبها مات.

(6) () نسبة إلى مذهبه الفقهي، وهو مذهب الإمام أبي حنيفة، رحمه الله.
লেখকের পরিচিতি (১)

‌তাঁর নাম:

তিনি হলেন প্রখ্যাত আলেম, হাফেজ, ক্বারি মোল্লা (২) আলী বিন সুলতান বিন মুহাম্মদ আল-ক্বারি (৩) … আল-হিরাওয়ি (৪), অতঃপর আল-মাক্কি (৫), আল-হানাফি (৬), তাঁর উপনাম আবু হাসান।

 

‌তাঁর জন্ম ও লালন-পালন:

আল্লামা আলী আল-ক্বারি হিরাত শহরে জন্মগ্রহণ করেন, যা খোরাসানের একটি শহর এবং বর্তমানে আফগানিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর কিছু উৎস দেখুন: সিমতুয নুজুমিল আওয়ালি (৪/৩৯৪), খুলাসাতুল আসার (৩/১৮৫), আল-বাদরুত তালি (১/৪৪৫), আত-তাজুল মুকাল্লাল (৩৯৮), হাদিয়াতুল আরিফিন (১/৭৫৩), আল-ফাওয়ায়িদুল বাহিয়্যাহ (৮), আয-যিরিকলির আল-আলাম (৫/১২)। মোল্লা আলী আল-ক্বারি: তাঁর রচনাবলির তালিকা এবং তাঁকে নিয়ে যা লেখা হয়েছে, লেখক: মুহাম্মদ আব্দুর রহমান আশ-শাম্মা (মাজাল্লাতু আ-ফাকিত সাকাফাহ ওয়াত তুরাস, সংখ্যা: ১, ১৪১৪ হিজরি)। এবং মোল্লা আলী আল-ক্বারি ও ইলাহিয়াত বিষয়ে তাঁর আকিদাগত মতাদর্শ: উপস্থাপন ও পর্যালোচনা, লেখক: মুসায়িদ আল-মুতরাফি (মাস্টার্স থিসিস, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, উসুলুদ্দিন অনুষদ)।

(২) () "মোল্লা" এটি একটি ফার্সি শব্দ, তাদের নিকট এর অর্থ হলো সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী সুপ্রসিদ্ধ মহান আলেম।

(৩) () কুরআন পাঠের (ক্বিরাত) দিকে সম্বন্ধযুক্ত, কারণ তিনি পবিত্র কুরআনের ইলম নিয়ে চর্চায় নিয়োজিত ছিলেন।

(৪) () "হিরাত" শহরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত যেখান থেকে তিনি স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।

(৫) () "মক্কা মুকাররমা"র দিকে সম্বন্ধযুক্ত যেখানে তিনি বসবাস করেছেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

(৬) () তাঁর ফিকহি মাযহাবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٦)
ولم يُعرف لدى مَنْ ترجم لهُ تحديداً لسنة ولادته.

ثمَّ انتقل من هَراة إلى مَكة المُكرَّمة، حين تغلَّب على هَراة إسماعيل الصفويِّ الرَّافِضِيِّ، وحصل منه فتنةٌ عظيمةٌ، وحمل النَّاس على إلزامهم بشعائر دينهم المُخالفة للسُّنَّة، وقد ذكر هذا بنفسه، حيثُ قال:" الحمدُ لله على ما أعطاني من التَّوفيق والقُدرة على الهجرة من دار البدعة إلى خير دار السُّنَّة، التي هي مهبط الوحي، وظهور النُّبُوة، وأثبتني على الإقامة من غير حول مني ولا قوة" (1)

‌‌شُيُوخُهُ:

 

طلب العلم ببلدة هَراة، وحفظ القُرآن الكريم في صغره على الشَّيخ، معين الدِّين بن زين الدِّين الهرويِّ، ثم رحل إلى مكة المُكرَّمة، وتتلمذ على أشهر شيوخها، والواردين إليها، منهم الشيخ مُحمَّد بن عليِّ ابن أحمد الجُناحيِّ، وشهاب الدين أبو العبَّاس أحمد بن مُحمَّد بن عليِّ السَّعديِّ، المشهُور بابن حجر الهيَّتَّميِّ، صاحب كتاب الزواجر،

--------------------------------------------

(1) انظر: شم العواض (94).
যারা তাঁর জীবনী গ্রন্থনা করেছেন, তাঁদের নিকট তাঁর জন্মসাল নির্দিষ্টভাবে জানা নেই।

অতঃপর তিনি হেরাত থেকে মক্কা মুকাররমায় হিজরত করেন, যখন রাফেজি ইসমাইল সাফাভি হেরাত দখল করে নিয়েছিল এবং তার মাধ্যমে এক মহান ফিতনার সৃষ্টি হয়েছিল। সে মানুষকে সুন্নাহ-বিরোধী তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে বাধ্য করেছিল। তিনি স্বয়ং এটি উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে বিদআতের দেশ থেকে সর্বোত্তম সুন্নাহর দেশে হিজরত করার তাওফিক ও সামর্থ্য দান করেছেন, যা ওহী নাজিলের স্থান এবং নবুওয়াতের আবির্ভাবস্থল। তিনি আমার নিজস্ব কোনো শক্তি বা সামর্থ্য ছাড়াই আমাকে এখানে অবস্থানের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন।" (১)

‌‌তাঁর উস্তাদগণ:

 

তিনি হেরাত শহরে ইলম অর্জন করেন এবং শৈশবে শায়খ মুঈনুদ্দীন বিন যাইনুদ্দীন আল-হারাবীর কাছে পবিত্র কুরআন হিফজ করেন। এরপর তিনি মক্কা মুকাররমায় পাড়ি জমান এবং সেখানে অবস্থানরত ও সেখানে আগত প্রখ্যাত উস্তাদদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ আল-জুনাহি এবং শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আস-সাদি, যিনি ‘আয-যাওয়াজির’ গ্রন্থের রচয়িতা ইবনে হাজার আল-হায়তামী নামে প্রসিদ্ধ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শামুল আওয়াজ (৯৪)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٧)
والعلامة المُحدِّث عليِّ بن حُسام الدين القاضي المُتَّقي الهنَّدي، صاحب كتاب" كنز العُمال في سنن الأقوال والأفعال". ومُفسر مكة المُكرمة الشَّيخ عطية بن عليِّ السُّلميِّ المكِّيِّ، أخذ عنه علم الحديث والتفسير. والشَّيخ المُحدِّث عبد الله بن سعد الدين العُمَريِّ السِّنديِّ، والشَّيخ شمس الدين مُحمَّد بن عليِّ الجُناحيِّ الأزهريِّ، وغيرهم.

 

‌‌مكانته العلمية وثناء العُلماء عليه:

العلاّمةُ مُلا علي القاري يُعد من كبار عُلماء عصره المُبرِّزين في عُلوم شتى كثيرة، وخاصة في عُلوم القُرآن والسُّنة.

وكان عالماً زاهداً ورعاً مُتعففاً، يأكل من عمل يده، قالوا عنه:

" كان يكتُبُ كل عام مُصحفاً، بخط جميل، وعليه طُرَرٌ من القرآءات والتفسير، فيبيعه فيكفيه قوته من العام" (1).

قال عنه المحبيِّ:" أحد صدور العلم، في عصره، الباهر في التَّحقيق وتنقيح العبارات، وشهرته كافية عن الإطراء بوصفه".

--------------------------------------------

(1) () انظر: الأعلام للزركلي (5/ 12).
এবং আল্লামা মুহাদ্দিস আলী ইবনে হুসামুদ্দিন আল-ক্বাদি আল-মুত্তাকি আল-হিন্দি, 'কানজুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল' গ্রন্থের প্রণেতা। এবং মক্কা মুকাররমার মুফাসসির শায়খ আতিয়্যাহ ইবনে আলী আস-সুলামি আল-মাক্কি, যাঁর নিকট হতে তিনি হাদিস ও তাফসির শাস্ত্র গ্রহণ করেছেন। এবং শায়খ মুহাদ্দিস আবদুল্লাহ ইবনে সাদউদ্দিন আল-উমারি আস-সিন্ধি এবং শায়খ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-জুনাহি আল-আযহারি ও অন্যান্যগণ।

 

‌‌তাঁর ইলমি মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা:

আল্লামা মোল্লা আলী কারী তাঁর সময়ের বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্যতম হিসেবে পরিগণিত হন, বিশেষ করে কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞানে।

তিনি ছিলেন একজন সংসারবিরাগী, পরহেযগার ও আত্মমর্যাদাবান আলেম, যিনি নিজের হাতের শ্রমে উপার্জিত খাদ্য গ্রহণ করতেন। তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে:

"তিনি প্রতি বছর সুন্দর হস্তাক্ষরে একটি মুসহাফ লিখতেন এবং তাতে কিরাত ও তাফসিরের টীকা সংযোজন করতেন। অতঃপর সেটি বিক্রি করতেন এবং তা তাঁর পুরো বছরের জীবিকার জন্য যথেষ্ট হতো" (১)।

আল-মুহিব্বি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি তাঁর যুগের ইলমের অন্যতম শীর্ষব্যক্তিত্ব, তাহকিক ও ইবারত বা ভাষ্য পরিমার্জনে অত্যন্ত দক্ষ; তাঁর খ্যাতিই তাঁর গুণের বর্ণনায় অতিশয়োক্তি থেকে বিমুক্ত রাখার জন্য যথেষ্ট।"

--------------------------------------------

(১) () দেখুন: আল-আলাম লিয-যিরিকলি (৫/ ১২)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٨)
وقال أيضاً:" واشتهر ذكرهُ وطار صِيتهُ، وألَّف التآليف الكثيرة اللَّطيفة التأدية المحتوية على الفوائد الجليلة" (1).

ووصفه العصامي بقوله:" الجامع للعلوم العقلية والنقلية، والمتضلع من السُّنَّة النَّبوية، أحد جماهير الأعلام، ومشاهير أولي الحِفظ والأفهام ..... ". (2)

وقال اللَّكنويُّ:"وقد طالعتُ تصانيفه ..... وكلّها مُفيدة، بلَّغته إلى مرتبة المُجدِّدية على رأس الألف". (3).

وقال عنه سُليمان المقرئ:" هو: علامة زمانه وواحد عصره وأوانه، والمفرد الجامع لأنواع العلوم العقلية والنقلية، والمتضلع في علوم

--------------------------------------------

(1) () انظر: خلاصة الأثر (3/ 185).

(2) () انظر: البدر الطالع (1/ 445)، وسمط النجوم (4/ 394)، وبقية كلامه:" لكنه امتحِن بالاعتراض على الأئمة، لا سيما الشافعي وأصحابه .... ولهذا تجد مُؤلفاته ليس عليها نُور العلم، ومن ثمَّ نهى عن مُطالعتها كثير من العُلماء والأولياء".

قال العلامة الشوكاني مُعترضاً على ما قاله العصامي، فقال:" أقول هذا دليل على عُلُو منزلته، فإن المُجتهد شأنه أن يُبيِّن ما يخالف الأدلة الصحيحة ويعترضه، سواء كان قائله عظيماً أو حقيراً".انظر: البدر الطالع (1/ 446).

(3) () انظر: الفوائد البهية (25).
তিনি আরও বলেছেন: "তার আলোচনা প্রসিদ্ধ হয়েছে এবং তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বহু চমৎকার উপস্থাপনার গ্রন্থ রচনা করেছেন যা মহান উপকারসমূহ সংবলিত।" (১)।

ইসামি তাকে এই বলে বর্ণনা করেছেন: "আকলি (যৌক্তিক) ও নাকলি (বর্ণনামূলক) শাস্ত্রসমূহের সংগ্রাহক, সুন্নাতে নববীতে পারদর্শী, প্রখ্যাত ইমামদের অন্যতম এবং প্রখর স্মৃতিশক্তি ও গভীর বোধসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে সুপ্রসিদ্ধ.....।" (২)

লখনউভি বলেছেন: "আমি তার রচনাবলি অধ্যয়ন করেছি..... এবং সেগুলো সবই উপকারী, যা তাকে সহস্রাব্দের শুরুতে মুজাদ্দিদ বা সংস্কারকের মর্তবায় পৌঁছে দিয়েছে।" (৩)।

সুলাইমান আল-মুকরি তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি তার সময়ের আল্লামা (মহাজ্ঞানী) এবং নিজ যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্ব। তিনি আকলি ও নাকলি শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখার অনন্য সংগ্রাহক এবং পারদর্শী ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) () দেখুন: খুলাসাতুল আসার (৩/ ১৮৫)।

(২) () দেখুন: আল-বাদরুত তালি (১/ ৪৪৫), এবং সিমতুন নুজুম (৪/ ৩৯৪)। তার বক্তব্যের বাকি অংশ হলো: "তবে তিনি ইমামদের ওপর, বিশেষ করে শাফেয়ি ও তার অনুসারীদের ওপর আপত্তির মাধ্যমে পরীক্ষিত হয়েছেন.... এ কারণেই আপনি তার রচনাগুলোতে ইলমের নূর বা জ্যোতি পাবেন না। ফলে অনেক আলেম ও ওলি সেগুলো পাঠ করতে নিষেধ করেছেন।"

আল্লামা শাওকানি ইসামির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন: "আমি বলি, এটি তার উচ্চ মর্যাদারই প্রমাণ। কেননা মুজতাহিদের কাজই হলো সহিহ দলিলের পরিপন্থী বিষয়সমূহ স্পষ্ট করা এবং সেটির বিরোধিতা করা, চাই তার প্রবক্তা মর্যাদাবান হোন বা নগণ্য।" দেখুন: আল-বাদরুত তালি (১/ ৪৪৬)।

(৩) () দেখুন: আল-ফাওয়ায়েদুল বাহিয়্যাহ (২৫)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ١٩)
القرآن والسُّنَّة، وعالم البلد الحرام، والمشاعر العظام، وأحد جماهير الأعلام، ومقدَّم مشاهير أولي التَّحقيق والأفهام، شُهرته كافية في إطراء وصفه، قرأ ببلده ثُمَّ رحل إلى مكة" (1).

 

‌‌مُؤلفاته:

للعلامة مُلا علي القاري مُؤلفات كثيرة، تزيد على المئتين، ما بين كبير في مجلدات، ومتوسط وصغير (2) فمن ذلك:

(1) أربعون حديثاً قُدسياً. وهو موضُوع دراستنا.

(2) أنوار القرآن وأسرار الفرقان. (في ثلاث مجلدات).

(3) الأثمار الخبية في أسماء الحنفية.

(4) مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح.

(5) شرح الأربعين النووية.

(6) الرد على ابن عربي في كتابه الفُصُوص وعلى القائلين بالحُلُول والاتحاد.

--------------------------------------------

(1) () انظر: مجلة آفاق الثقافة (4).

(2) () ذكر له الأستاذ مُحمَّد عبد الرحمن الشماع في فهرس مُؤلفاته (263) مُؤلفاً.
কুরআন ও সুন্নাহর পণ্ডিত, পবিত্র নগরীর আলেম, মহান নিদর্শনাবলির গবেষক, অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিকপাল এবং খ্যাতিমান সত্যানুসন্ধানী ও বিজ্ঞজনদের অগ্রজ। তাঁর সুখ্যাতিই তাঁর গুণকীর্তনের জন্য যথেষ্ট। তিনি নিজ দেশে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তীতে মক্কায় হিজরত করেন" (১)।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

আল্লামা মোল্লা আলী আল-কারীর অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে, যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কয়েক খণ্ডে সমাপ্ত বৃহৎ গ্রন্থ এবং মাঝারি ও ছোট আকারের পুস্তিকা (২)। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

(১) চল্লিশটি হাদিসে কুদসি; যা আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু।

(২) আনোয়ারুল কুরআন ওয়া আসরারুল ফুরকান (তিন খণ্ডে)।

(৩) আল-আসমারুল জাবিয়্যাহ ফি আসমাইল হানাফিয়্যাহ।

(৪) মিরকাতুল মাফাতিহ শারহু মিশকাতিল মাসাবিহ।

(৫) শারহুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ।

(৬) ইবনে আরাবির 'ফুসুস' গ্রন্থের এবং যারা হুলুল (সৃষ্টিতে স্রষ্টার অনুপ্রবেশ) ও ইত্তিহাদ (স্রষ্টা ও সৃষ্টির একত্ব) মতবাদে বিশ্বাসী, তাদের খণ্ডন।

--------------------------------------------

(১) () দ্রষ্টব্য: মাজাল্লাতু আ-ফাকিত সাকাফাহ (৪)।

(২) () উস্তাদ মুহাম্মদ আবদুর রহমান আশ-শাম্মা' তাঁর গ্রন্থ-তালিকায় ২৬৩টি রচনার কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٠)
(7) سلالة الرسالة في ذم الروافض من أهل الضلالة.

(8) الأسرار المرفوعة في الأخبار الموضوعة.

(9) منح الروض الأزهر في شرح الفقه الأكبر.

(10) شرح الشاطبية.

(11) أربعُون حديثاً في النكاح.

 

‌‌وفاته:

كانت وفاته رحمه الله بمكة المُكرَّمة في شهر شوال سنة أربع عشرة وألف (1014)، ودُفن بمقبرة المعلاة، رحمه الله رحمةً واسعةً، وجمعنا الله وإياه ووالدِينا والمُسلمين في دَار كَرامته وصَلىَ اللهُ على نَبيِّنا مُحَمَّدٍ وَعلَى آلِهِ وَصَحبه وسَلَّم.
(৭) পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত রাফেজিদের নিন্দায় সুলালাতুর রিসালাহ।

(৮) জাল হাদিসসমূহের বর্ণনায় আল-আসরারুল মারফুআহ।

(৯) ফিকহুল আকবরের ব্যাখ্যায় মিনহুল রাওদিল আজহার।

(১০) শারহুশ শাতবিয়্যাহ (শাতবিয়্যাহর ব্যাখ্যা)।

(১১) বিবাহ সংক্রান্ত চল্লিশটি হাদিস।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

তাঁর মৃত্যু (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মক্কাতুল মুকাররমায় এক হাজার চৌদ্দ (১০১৪) হিজরি সনের শাওয়াল মাসে হয়েছিল এবং তাঁকে আল-মুয়াল্লা কবরস্থানে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন এবং আল্লাহ আমাদের, তাঁকে, আমাদের পিতামাতা ও সকল মুসলিমকে তাঁর সম্মানজনক আবাসে একত্রিত করুন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌تعريف الحديث القُدُسيِّ لُغةً:

القُدُسيُّ نسبة إلى "القُدْسِ"وهو الطُّهر. قَالَ ابن مَنظُور: التَّقديسُ: تنزيهُ اللهِ، والتَّقديسُ التَطَّهيرُ والتبريكُ، وتقدَّسَ: تطَّهر. وفي التنزيل:

"وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ" (1).

وقَالَ الزَّجاجُ: معنى نُقدِّسُ لَكَ، أي: نُطهِّرُ أنفُسنا لَكَ.

ومن هذا قيل للسَّطل (2) "القدس" لأنه يتقدس منه. أي: يتطهر. ومنه بيت المقدس: أي البيت المُطَهّر، أي المكان الذي يُتَطّهر به من الذُنُوب.

ومنه رُوحُ القُدُس: أي جبريل عليه السلام، وفي الحديث:"إنَّ رُوحَ القُدُسُ نَفَثَ في رُوعِي … " (3) يعني جبريل؛ لأنه خُلِقَ من طهارة.

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، آية (30).

(2) وهو: الطّسْتُ. كما في القاموس مادة (سطل) ص (1311).

(3) أخرجه الحاكم في المستدرك (2/ 4)، وابن حبان (1084 موارد) من حديث جابر بن عبد الله. وأخرجه البغوي في شرح السنة (14/ 303)، والحاكم في المستدرك (2/ 4) وغيرهما من حديث عبد الله بن مَسْعُود، وصححه الألباني في صحيح الجامع (3085)، والأرناؤوط في جامع الأصول (10/ 117)، وفي شرح السنة للبغوي (14/ 305)، وقوله (في رُوعي) أي: في خَلدي ونفسي. ومعناه: أوحى إليَّ. انظر شرح السنة للبغوي (14/ 305).
হাদিসে কুদসীর শাব্দিক সংজ্ঞা:

'কুদসী' শব্দটি 'কুদস' এর সাথে সম্পর্কিত, যার অর্থ পবিত্রতা। ইবনে মানযুর বলেছেন: তাকদিস অর্থ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা। তাকদিস হলো পবিত্র করা এবং বরকত দান করা। আর 'তাকাদ্দাসা' মানে হলো পবিত্র হওয়া। পবিত্র কুরআনে এসেছে:

"আমরা আপনার প্রশংসা সহকারে তাসবিহ পাঠ করি এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি।" (১)।

যাজ্জাজ বলেছেন: 'আপনার জন্য পবিত্রতা বর্ণনা করি' এর অর্থ হলো: আমরা আপনার জন্য নিজেদের পবিত্র করি।

এ থেকেই বালতিকে (২) 'কুদস' বলা হয়, কারণ এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা হয়। অর্থাৎ, পরিচ্ছন্ন হওয়া যায়। এর থেকেই 'বাইতুল মুকাদ্দাস' নাম রাখা হয়েছে: অর্থাৎ পবিত্র ঘর, তথা এমন স্থান যার মাধ্যমে গুনাহ থেকে পবিত্রতা লাভ করা যায়।

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো 'রুহুল কুদুস': অর্থাৎ জিবরাঈল আলাইহিস সালাম। হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই রুহুল কুদুস আমার অন্তরে ফুঁকে দিয়েছেন..." (৩) অর্থাৎ জিবরাঈল; কেননা তাকে পবিত্রতা থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত (৩০)।

(২) এটি হলো: বড় গামলা বা পাত্র। যেমনটি আল-কামুস গ্রন্থের 'সাতল' পরিচ্ছেদে ১৩১১ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

(৩) এটি আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক (২/৪) গ্রন্থে এবং ইবনে হিব্বান (১০৮৪ মাওয়ারিদ) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-বাগভী শারহুস সুন্নাহ (১৪/৩০৩) গ্রন্থে, আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক (২/৪) গ্রন্থে এবং আরও অনেকে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আলবানী সহীহুল জামি' (৩০৮৫) গ্রন্থে এবং আল-আরনাউত জামি'উল উসুল (১০/১১৭) ও বাগভীর শারহুস সুন্নাহ (১৪/৩০৫) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। তার উক্তি (আমার রু'য়ি-তে) অর্থাৎ: আমার হৃদয়ে ও মনে। এর অর্থ: তিনি আমার প্রতি ওহী করেছেন। দেখুন: বাগভীর শারহুস সুন্নাহ (১৪/৩০৫)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٢)
وقَالَ اللهُ في صفة عيسى عليه وعلى نبيِّنا الصَّلاةُ والسَّلام:

"وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ" (1)، وهو جبريل، ومعناه رُوح الطهارة.

وفي الحديث "لا قُدِّ سَتْ أمّةٌ لا يُؤخذُ لضعيفها من قويها" (2)، أي: لا طُهِّرت (3).

وقَالَ في القامُوس: القُدُسُ: الطُّهرُ اسم مصدر … والبيت

المُقدَّس، وجبريل، كرُوح القُدُس … والقُدُّوسُ من أسماء الله تَعَالىَ … والتَّقديس التَّطهير، ومنه الأرضُ المقدَّسة وبيت المقدس … وتَقَدَّس: تَطهَّر (4).

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، آية (253).

(2) أخرجه ابن ماجه من حديث جابر بن عبد الله (2/ 138) رقم (4010)، وحسنه البوصيري في الزوائد (3/ 243)، وانظر صحيح الجامع (4597) و (4598).

(3) انظر: لسان العرب لابن منظور (3/ 33) مادة (قدس)، ومختار الصحاح ص (524)، والصحاح في اللغة والعلوم (2/ 284) المادة نفسها.

(4) انظر: القاموس المحيط ص (728)، والمعجم الوسيط (2/ 719) مادة (قدس).
আর আল্লাহ ঈসা —তাঁর ওপর এবং আমাদের নবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক— এর বর্ণনায় বলেছেন:

"এবং আমি তাঁকে পবিত্র আত্মা দ্বারা শক্তিশালী করেছি" (১), আর তিনি হলেন জিবরাঈল, এবং এর অর্থ হলো পবিত্রতার আত্মা।

আর হাদীসে এসেছে: "সেই জাতি পবিত্র হতে পারে না যাদের দুর্বলের প্রাপ্য অধিকার তাদের শক্তিশালী ব্যক্তিদের থেকে আদায় করা হয় না" (২), অর্থাৎ: তারা পবিত্র হতে পারে না (৩)।

আর কামূস গ্রন্থে বলা হয়েছে: কুদুস হলো পবিত্রতা, এটি একটি ইসমে মাসদার (ক্রিয়ামূল বিশেষ্য) … এবং বাইতুল মুকাদ্দাস, এবং জিবরাঈল—যেমন রূহুল কুদুস … আর আল-কুদ্দুস আল্লাহ তাআলার নামসমূহের অন্যতম … এবং তাকদীস হলো পবিত্র করা, আর তা থেকেই পবিত্র ভূমি এবং বাইতুল মাকদিস এসেছে … আর তাকাদদাসা অর্থ হলো পবিত্র হওয়া (৪)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত (২৫৩)।

(২) এটি ইবনে মাজাহ জাবির ইবনে আবদুল্লাহর বর্ণিত হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন (২/১৩৮), হাদীস নম্বর (৪০১০); আল-বূসীরী 'আয-যাওয়ায়েদ' গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন (৩/২৪৩), আরও দেখুন: সহীহুল জামি' (৪৫৯৭) ও (৪৫৯৮)।

(৩) দেখুন: ইবনুল মানযূর প্রণীত লিসানুল আরাব (৩/৩৩), শব্দমূল: ‘কুদুস’; মুখতারুস সিহাহ পৃষ্ঠা (৫২৪), এবং আস-সিহাহ ফিল লুগাহ ওয়াল উলূম (২/২৮৪), একই শব্দমূল।

(৪) দেখুন: আল-কামূস আল-মুহীত পৃষ্ঠা (৭২৮), আল-মুজাম আল-ওয়াসীত (২/৭১৯), শব্দমূল: ‘কুদুস’।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌تعريف الحديث القُدُسيِّ اصطلاحاً:

وله عدة تسميات كلها لا تخرج عن مضمونها اللُّغوي، فيُسمى بالأحاديث (القُدُسية)، وبالأحاديث "الإلهية" نسبة إلى الذات الإلهية وهو الله. ويُسمى أيضاً بالأحاديث "الرَّبانية" نسبة إلى الرَّب عز وجل. (1).

وقد عَرَّفه الحافظُ ابن حجر الهيثميِّ فقَالَ: "هو مَا نُقل إلينا آحاداً عنه صلى الله عليه وسلم، مع إسناده عن رَّبه" (2).

وقد عرَّفه بعضُهم بقوله:"هو الحديثُ الذي يسنده النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إلى الله، فيرويه النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم على أنه كلام الله تَعَالىَ".

وقيل هو: "ما أُضِيفَ إلى الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم، وأسنده إلى ربه عز وجل" (3)، وهذه التعريفات كلها كما ترى مُتقاربة. والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) انظر: فتح المبين لابن حجر الهيثمي ص (201)، والحديث والمحدِّثون لأبي زهو ص (16)، وعلوم الحديث ومصطلحه لصبحي الصالح ص (11)، ومنهج النقد للدكتور نور الدين عِتْر ص (323) وغيرها.

(2) انظر: فتح المبين للهيثمي ص (200).

(3) انظر: الحديث النبوي مصطلحه وبلاغته للصباغ ص (160)، ومنهج النقد ص (323).
পারিভাষিক অর্থে হাদিসে কুদসির সংজ্ঞা:

এর বেশ কিছু নাম রয়েছে যার সবকটিই এর আভিধানিক অর্থের বাইরে নয়। একে হাদিসে (কুদসি), এবং আল্লাহর পবিত্র সত্তার দিকে নিসবত বা সম্বন্ধ করে একে হাদিসে "ইলাহি" বলা হয়। আবার মহান রবের দিকে সম্বন্ধ করে একে হাদিসে "রব্বানি"-ও বলা হয়। (১)।

হাফেজ ইবনে হাজার হাইতামি এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "এটি এমন বিষয় যা একক সূত্রে (আহাদ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি একে তাঁর রবের থেকে বর্ণনা করেছেন।" (২)।

কেউ কেউ এর সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন: "এটি এমন হাদিস যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বর্ণনা করেন এই মর্মে যে, এটি মহান আল্লাহর বাণী।"

আবার বলা হয়েছে: "যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত এবং তিনি তা তাঁর মহান রবের দিকে সম্বন্ধ করেছেন।" (৩)। আপনি যেমনটি দেখছেন, এই সকল সংজ্ঞা পরস্পর অত্যন্ত নিকটবর্তী। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে হাজার হাইতামি রচিত ফাতহুল মুবিন, পৃষ্ঠা (২০১); আবু জাহু রচিত আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন, পৃষ্ঠা (১৬); সুবহি সালেহ রচিত উলুমুল হাদিস ওয়া মুসতলাহুহু, পৃষ্ঠা (১১); ডক্টর নূরুদ্দিন ইতর রচিত মানহাজুন নাকদ, পৃষ্ঠা (৩২৩) এবং অন্যান্য।

(২) দেখুন: হাইতামি রচিত ফাতহুল মুবিন, পৃষ্ঠা (২০০)।

(৩) দেখুন: সাববাগ রচিত আল-হাদিসুন নববী: মুসতলাহুহু ওয়া বালাগতুহু, পৃষ্ঠা (১৬০); মানহাজুন নাকদ, পৃষ্ঠা (৩২৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌الفُروق بين القُرآن الكريم وبين الحديث القُدُسيِّ:

لقد ذكر العُلماء رحمهم الله فُرُوقاً كثيرة بين القُرآن الكريم والحديث القُدُسيِّ. ويتلخص كلام أهل العلم، في الفُرُوق بين القُرآن الكريم والحديث القُدُسيِّ في الآتي:

(1) أن القُرآن الكريم لفظه ومعناه من عند الله تَعَالىَ، وليس للنبيِّ صلى الله عليه وسلم منه إلا مجُرد التبليغ، وأما الحديث القُدُسيِّ فمعناه من عند الله تَعَالىَ، ولفظه من عند الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم.

(2) القُرآن الكريم مُعجزةُ الله تَعَالىَ الباقية، على مرِّ الدُهور، محفوظٌ من التغيير والتبديل، تحدى اللهُ به العربَ جميعاً. أما الحديث القُدُسيِّ فهو بخلاف ذلك، فهو غير متحدٍ به، ولم يَسلم من الوضع فيه، من قِبل الوضّاعين والزنادقة، وأصحاب الأهواء المختلفة.
‌আল-কুরআনুল কারীম এবং হাদীসে কুদসীর মধ্যে পার্থক্যসমূহ:

উলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুল্লাহ) আল-কুরআনুল কারীম এবং হাদীসে কুদসীর মধ্যে অনেক পার্থক্য উল্লেখ করেছেন। আল-কুরআনুল কারীম এবং হাদীসে কুদসীর পার্থক্যের বিষয়ে আহলে ইলম বা জ্ঞানীদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:

(১) আল-কুরআনুল কারীমের শব্দ এবং অর্থ উভয়ই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে; এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভূমিকা কেবল তা পৌঁছে দেওয়া মাত্র। আর হাদীসে কুদসীর অর্থ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, তবে এর শব্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে।

(২) আল-কুরআনুল কারীম মহান আল্লাহর চিরস্থায়ী মুজিজা (অলৌকিক নিদর্শন), যা যুগ যুগ ধরে পরিবর্তন ও পরিমার্জন থেকে সংরক্ষিত; আল্লাহ এর মাধ্যমে সমস্ত আরব জাতিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। পক্ষান্তরে হাদীসে কুদসী এর বিপরীত; এর মাধ্যমে কোনো চ্যালেঞ্জ করা হয়নি এবং এটি মিথ্যুক বর্ণনাকারী, জিন্দিক ও বিভিন্ন প্রবৃত্তি পূজারীদের পক্ষ থেকে জাল হওয়া থেকে সুরক্ষিত থাকেনি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٥)
(3) القُرآن الكريم لا يجوز روايته بالمعنى؛ لأنه مُتعبد بلفظه ومعناه، في الوقت الذي يجوز رواية الحديث القُدُسيِّ -والنبويِّ أيضاً- بالمعنى (1)

(4) يتعين قراءة القرآن الكريم في الصلوات كلها "سواء كانت الجهرية منها أو السرية، الواجبة منها أو السنة".إذ لا تصح الصلاة إلا بها، بخلاف الحديث القُدُسيِّ، فإنه لا تجوز أصلاً قراءته في الصلاة.

(5) تسميته قُرآناً بخلاف الحديث القُدُسيِّ، فلا يُسمى قرآناً.

(6) القُرآن الكريم نُقل إلينا بالتواتر، بخلاف الحديث القُدُسيِّ إذ فيه المتواتر والآحاد.

(7) تسمية الجملة منه آية، ومقداراً من الآيات سُورة، بخلاف الحديث القُدُسيِّ، فلا يُسمى آية، واللفظ منه لا يُسمى آية.

--------------------------------------------

(1) أجاز جمهور السَّلف من المحدِّثين والفُقهاء، والأصُوليين، رواية الحديث بالمعنى ووضعوا لذلك ضوابط وشُروطاً منها، أن يكونَ الراوي عالماً بما يُحيلُ المعنى، وخبيراً بالألفاظ ومقاصدها، ونحو ذلك. انظر: الكفاية للخطيب ص (198)، وفتح المغيث (3/ 49)، وتدريب الراوي (2/ 151)، والباعث الحثيث (2/ 399).
(৩) কুরআনুল কারীম অর্থগতভাবে বর্ণনা করা জায়েজ নয়; কারণ এর শব্দ এবং অর্থ উভয়ই ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। পক্ষান্তরে হাদীসে কুদসী—এবং হাদীসে নববীও—অর্থগতভাবে বর্ণনা করা জায়েজ। (১)

(৪) সকল সালাতে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করা আবশ্যক, "চাই তা উচ্চস্বরে হোক বা নিশব্দে, ফরজ হোক বা সুন্নত"। কারণ কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া সালাত সহীহ হয় না। হাদীসে কুদসীর বিষয়টি এর বিপরীত, সালাতে এটি পাঠ করা মোটেও জায়েজ নয়।

(৫) একে 'কুরআন' নামকরণ করা হয়েছে, হাদীসে কুদসীর বিষয়টি এর বিপরীত; একে কুরআন বলা হয় না।

(৬) কুরআনুল কারীম আমাদের নিকট মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্ন জনশ্রুতি) সূত্রে পৌঁছেছে, হাদীসে কুদসীর বিষয়টি এর বিপরীত; কেননা তার মধ্যে মুতাওয়াতির এবং আহাদ (একক বর্ণনা) উভয়ই রয়েছে।

(৭) এর বাক্যকে 'আয়াত' এবং আয়াতের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণকে 'সূরা' নামকরণ করা হয়, হাদীসে কুদসীর বিষয়টি এর বিপরীত; একে আয়াত বলা হয় না এবং এর কোনো শব্দকেও আয়াত বলা হয় না।

--------------------------------------------

(১) মুহাদ্দিসীন, ফুকাহা এবং উসুলিয়্যীনদের মধ্য থেকে জমহুর সালাফ (পূর্বসূরিগণ) হাদীসকে অর্থগতভাবে বর্ণনা করা জায়েজ বলেছেন এবং এর জন্য কিছু মূলনীতি ও শর্ত নির্ধারণ করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো— বর্ণনাকারীকে এমন বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে হবে যা অর্থকে পরিবর্তন করে দেয় এবং শব্দ ও তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে ইত্যাদি। দেখুন: আল-খতিব এর আল-কিফায়া পৃ. (১৯৮), ফাতহুল মুগীস (৩/ ৪৯), তাদরীপুর রাবী (২/ ১৫১), এবং আল-বাইসুল হাসীস (২/ ৩৯৯)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٦)
(8) حرمة مس القُرآن الكريم للمُحْدِث، وحرمة تلاوته للجُنب ونحوه، بخلاف الحديث القُدُسيِّ، فلا يحرم مسه للمحدث ولا قراءته للجنُب وغيره.

(9) التعبد بقراءة القُرآن، وأن بكل حرف منه عشر حسنات، بخلاف الحديث القُدُسيِّ فلا يُتعبد بقراءته، وليس فيه بكل حرف منه عشر حسنات.

(10) القُرآن الكريم يحرم بيعه في رواية عند الإمام أحمد، ويكره عند الامام الشافعيِّ، بخلاف الحديث القُدُسيِّ، فلا يمنع بيعه.

(11) القُرآن الكريم أُوحي إلى الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم بوحي جَلّي بخلاف الحديث القُدُسيِّ فقد نُقل بالوحي الجلي والإلهامي، والرُؤية المنامية، وقد يكون باجتهاد منه صلى الله عليه وسلم غير أنه صلى الله عليه وسلم لا يُقر على الخطأ.

(12) أن القُرآن الكريم لا يُنسب إلا إلى الله تَعَالىَ، أما الحديث القُدُسي فيُنسب إلى الله تَعَالىَ نسبة إنشاء، ويُروى مضافاً إلى الرسُول صلى الله عليه وسلم نسبة إخبار، فيُقَالُ: قَالَ رسُولُ الله صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن رَّبه.
(৮) অপবিত্র ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরআন স্পর্শ করা হারাম এবং জুনুব (গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি) ও অনুরূপ ব্যক্তিদের জন্য তা তিলাওয়াত করা হারাম। পক্ষান্তরে হাদীসে কুদসীর বিষয়টি ভিন্ন; অপবিত্র ব্যক্তির জন্য তা স্পর্শ করা হারাম নয় এবং জুনুব বা অন্যদের জন্য তা পাঠ করাও নিষিদ্ধ নয়।

(৯) কুরআন তিলাওয়াত করা ইবাদত হিসেবে গণ্য এবং এর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি করে নেকি রয়েছে। পক্ষান্তরে হাদীসে কুদসীর বিষয়টি ভিন্ন; এর পাঠ স্বতন্ত্র ইবাদত হিসেবে গণ্য নয় এবং এর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি করে নেকি পাওয়ার বিষয়টিও নেই।

(১০) ইমাম আহমাদের এক বর্ণনা অনুযায়ী পবিত্র কুরআন বিক্রয় করা হারাম এবং ইমাম শাফিয়ীর মতে তা মাকরুহ। পক্ষান্তরে হাদীসে কুদসীর বিষয়টি ভিন্ন; তা বিক্রয় করতে কোনো বাধা নেই।

(১১) পবিত্র কুরআন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট স্পষ্ট ওহীর (ওহী জালী) মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়েছে। পক্ষান্তরে হাদীসে কুদসী স্পষ্ট ওহী, ইলহাম এবং স্বপ্নের মাধ্যমেও স্থানান্তরিত হয়েছে। আবার কখনো তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইজতিহাদ বা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের মাধ্যমেও হতে পারে, তবে ভুল হলে তাঁকে সে অবস্থায় বহাল রাখা হতো না।

(১২) পবিত্র কুরআন কেবল আল্লাহ তাআলার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। তবে হাদীসে কুদসী রচনার নিরিখে আল্লাহ তাআলার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় এবং সংবাদের নিরিখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করে বর্ণনা করা হয়। সেক্ষেত্রে বলা হয়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রব থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌الفُروق بين الحديث النَّبويِّ والقُدُسيِّ:

بالتتبع والبحث تبين لي أن الفُروق بين الحديث النبويِّ، والقُدُسيِّ هي كالآتي:

الأولى: أن الحديث يشمل أقوال الرسُول صلى الله عليه وسلم وأفعاله وتقريراته وصفاته الخَلقية والخُلُقية، بخلاف الحديث القُدُسيِّ فإنه خاص بأقواله صلى الله عليه وسلم.

الثانية: الاختلاف في صيغة الرواية، فالحديث القُدُسيِّ: ما أضافه النبيُّ صلى الله عليه وسلم إلى ربه عز وجل، أو قيل فيه: قَالَ الله عز وجل فيما رَواهُ عنه الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم.

قَالَ الكِرمانيُّ: " الفرق - أي بين القُدُسيِّ والنبويِّ- بأن القُدُسيِّ مُضاف إلى الله، ومروي عنه بخلاف غيره … " (1).

الثالثة: هو ما ذكره القاسميُّ عن الشيخ عبد العزيز الدَّباغ قَالَ:

" إذا تكلم النبيُّ صلى الله عليه وسلم، وكان الكلامُ بغير اختياره فهو "القُرآن"وإن كان باختياره، فإن سطعت حينئذٍ أنوار عارضةٌ، فهو

--------------------------------------------

(1) انظر: الكواكب الدراري (9/ 75)، وفتح الباري (407).
নবী ও কুদসি হাদিসের মধ্যে পার্থক্যসমূহ:

অনুসন্ধান ও গবেষণার মাধ্যমে আমার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, নবী ও কুদসি হাদিসের মধ্যকার পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ:

প্রথমত: হাদিস (নবী হাদিস) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ, অনুমোদন এবং তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর বিপরীতে হাদিসে কুদসি শুধুমাত্র তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর সাথে নির্দিষ্ট।

দ্বিতীয়ত: বর্ণনার রীতির ক্ষেত্রে ভিন্নতা। কুদসি হাদিস হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান রবের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, অথবা যার ব্যাপারে বলা হয়েছে: আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তা বলেছেন যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন।

কিরমানি বলেছেন: "পার্থক্যটি হলো—অর্থাৎ কুদসি ও নবী হাদিসের মধ্যে—যে কুদসি হাদিস আল্লাহর সাথে সম্বন্ধযুক্ত এবং তাঁর থেকে বর্ণিত, অন্যটির বিষয়টি এর বিপরীত … " (১)।

তৃতীয়ত: এটি কাসিমি শেখ আব্দুল আজিজ আদ-দাব্বাগ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেন:

"যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলতেন এবং সেই কথাটি যদি তাঁর নিজের ইচ্ছাধীন না হতো, তবে তা হলো 'কুরআন'। আর যদি তা তাঁর ইচ্ছাধীন হতো এবং সেই সময়ে যদি কোনো বিশেষ আলোকছটা উদ্ভাসিত হতো, তবে তা হলো

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কাওয়াকিব আদ-দারারি (৯/ ৭৫) এবং ফাতহুল বারি (৪০৭)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٨)
الحديث القُدُسي، وإن كانت الأنوار الدائمة، فهو الحديث الذي ليس بقُدُسي، ولأجل أن كلامه صلى الله عليه وسلم لابد أن تكون معه أنوارُ الحق سُبحانه … " (1).

--------------------------------------------

(1) انظر: قواعد التحديث للقاسمي ص (68). قلت: وهذا الذي ذكره عن الدباغ ليس له أصلٌ ولا دليل يسنده من كتاب ولا سنة، والدباغ من الأشراف الحسينيين متوفى سنة "1132". ترجم له الزركلي في الأعلام (4/ 28) وقَالَ: "كان أمياً لا يقرأ ولا يكتب، ولأتباعه مبالغةٌ في الثناء عليه، ونقل الخوارق عنه".
হাদিসে কুদসি, যদিও তা চিরস্থায়ী নূর হয়ে থাকে, তবে সেটি এমন হাদিস যা কুদসি নয়; আর যেহেতু তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীর সাথে অবশ্যই মহান সত্য সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নূর থাকা আবশ্যক … " (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কাসিমী রচিত কাওয়ায়িদুল তাহদিস, পৃষ্ঠা (৬৮)। আমি বলছি: আদ-দাব্বাগ সম্পর্কে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই এবং কুরআন বা সুন্নাহ থেকে এর সপক্ষে কোনো দলিল নেই। আদ-দাব্বাগ ছিলেন হুসাইনি আশরাফ বংশোদ্ভূত এবং ১১৩২ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। আয-যিরিকলি 'আল-আ'লাম' গ্রন্থে (৪/২৮) তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি নিরক্ষর ছিলেন, পড়তে বা লিখতে পারতেন না। তাঁর অনুসারীরা তাঁর প্রশংসায় অতিরঞ্জন করত এবং তাঁর থেকে অলৌকিক ঘটনাবলি বর্ণনা করত।"
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌[مقدمة المصنف]

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الأحَادِيثُ القُدُسيَّةِ الأَربَعِينِيَّةِ

 

الحَمْدُ للهِ العَليِّ العَظيمِ، والبَّرُ الكَريمِ، والصَّلاةُ والسَّلامُ الأتَمَّانِ الأَكمَلانِ عَلى سَيِّد وَلدِ عَدْنَانَ، وعَلى آلِه وأصْحَابِه حَملةِ عُلُومهِ وآدابِه، وعَلى التَّابِعِين وأتباعِهِم إلى يَومِ الدِّينِ وبَعْدُ.

فَقَد نَسخ (1) في خاطِر المُفتقِر إلى رَحمة ربِّه المُقتدِرِ (2) عليِّ بن سُلْطان مُحَمَّدٍ القَارئ، عَلَيه رَحمةِ الباري أنَ يَجمعَ الأحَادِيث القُدُسِيَّةِ، والكَلمَاتِ الأُنسيَّة أرْبِعِينَ حَدِيثاً يَرويه، صَدرُ الرُوَّاةِ وبدرُ الثِّقاتِ عليه أفضل الصَّلَواتِ وأكملُ التَّحيات، عَنِ اللهِ تبارك وتعالى، تَارةً بِواسطة جبريلَ عَليه الصَّلاةُ السَّلامُ، وتارةً بالوحيِّ والإلهامِ والمَنامِ، مُفَوِّضَاً إليه التَّعبير، بَأيِّ عِبارة شَاء من أنواع الكَلام، وهي تُغايرُ القُرآنَ الحَميد، والفُرقانِ

--------------------------------------------

(1) في نسخة (14332/ 2) سنح.

(2) في نسخة (14332/ 2) الباري.
[লেখকের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

চল্লিশটি হাদিসে কুদসি

 

সুউচ্চ ও সুমহান এবং পরম কল্যাণময় ও অতিশয় দয়ালু আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা। আর পূর্ণাঙ্গতম ও শ্রেষ্ঠতম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আদনান-সন্তানদের সরদারের প্রতি, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর জ্ঞান ও আদব বহনকারী সাথীদের প্রতি, আর কিয়ামত পর্যন্ত আসা তাবেঈন ও তাঁদের অনুসারীদের প্রতি। এরপর:

তাঁর ক্ষমতাবান (২) প্রতিপালকের করুণার মুখাপেক্ষী আলী বিন সুলতান মুহাম্মদ আল-ক্বারী—তাঁর ওপর তাঁর স্রষ্টার রহমত বর্ষিত হোক—এর মনে এই ইচ্ছা জাগ্রত হয়েছে (১) যে, তিনি চল্লিশটি হাদিসে কুদসি ও আত্মিক বাণী একত্রিত করবেন, যা বর্ণনা করেছেন বর্ণনাকারীদের শিরোমণি ও বিশ্বস্তদের উজ্জ্বল নক্ষত্র—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গতম সালাম বর্ষিত হোক—আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা থেকে। কখনো জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে, আবার কখনো ওহী, ইলহাম ও স্বপ্নের মাধ্যমে, যার ভাবপ্রকাশের দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করা হয়েছে যেন তিনি বাক্যের যে কোনো প্রকারের মধ্য হতে পছন্দমতো শব্দের মাধ্যমে তা ব্যক্ত করেন। আর তা প্রশংসিত কুরআন ও ফুরকান থেকে ভিন্ন

--------------------------------------------

(১) ১৪৩৩২/ ২ পাণ্ডুলিপিতে 'উদিত হওয়া' শব্দ রয়েছে।

(২) ১৪৩৩২/ ২ পাণ্ডুলিপিতে 'স্রষ্টা' শব্দ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٣٠)
المَجيد، بأن نُزُوله لا يكُونُ إلَاّ بواسطة الرُوحِ الأمينِ، ويكُونُ مُقَيَّداً باللَّفظ المُنَزَّلِ من اللَّوح المَحفٌوظِ على وَجه التَّعيين.

ثُمَّ يَكُونُ نَقْلُهُ مُتوَاتر (1) قطعِياً في كُلِّ طبقةٍ وعصرٍ وحينٍ، ويتفرع عليه فروعٌ كثيرةٌ عند العُلماء، بها شَهيرة منها.

عدمُ صحةِ الصَّلاة بقراءة الأحَاديث القُدُسيَّة، ومنها عدمُ حُرمة لمسها وقراءتها للجُنُبِ، والحائضِ والنُفساء، ومنها عدمُ كُفْرِ جاحِدِها، ومنها عدمُ تعلُق الإعجاز بها.

رجاءَ أن أكُونَ في الدُّنيا داخلاً تحتَ شَرطية:" مَنْ حَفِظَ عَلَى أُمَّتِى أَرْبَعِينَ حَدِيثاً مِن السُّنَة ........ " (2) وفي الأُخرى أنسْلِكُ في جزاء كُنتُ له شهيداً وشفيعاً يومَ القِيامة.

--------------------------------------------

(1) في نسخة (14332/ 2) متواتراً. (وهو الصواب).

(2) الحَدِيث رُوِي بألفاظ كثيرة، منها " مَنْ حَفِظَ عَلَى أُمَّتِيْ أَرْبَعِيْنَ حَدِيْثًا يَنْتَفِعُوْنَ بِهَا بَعَثَهُ اللهُ يَوْم الْقِيَامَة فَقِيْهًا عَالِمًا"، وفِي لَفظٍ:"وَكُنْتُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةَ شَافِعَاً وَشَهِيدَاً "، وفِي أُخرى:"أَدْخَلْتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي شَفَاعَتِي".

وَهُو حديثٌ ضَعِيفٌ، بإتِفاق أهلِ المعرِفة، قال النَّوويُّ طُرقه كلِّها ضعيفةٌ وليس بثابتٍ"، وقال الحافظُ ابن حجر:" جمعتُ طُرُقهُ في جُزءٍ، ليس فيها طريقُ تَسلمُ من عِلَّةٍ قادحةٍ" = =انظر: العلل المتناهية (1/ 199)، وجامع بيان العلم وفضله (1/ 77)، وتلخيص الحبير (3/ 94)، والمقاصد الحسنة (1/ 216)، والدُّرر المُنتثرة (1/ 18)، وتذكرة الموضُوعات (1/ 27)، وأسنى المطالب (1/ 268)، واللالئ المنثُورة (1/ 193)، والفوائد المجموعة (1/ 133)، وكشف الخفاء (1/ 33)، والسلسلة الضعيفة (4589)، وضعيف الجامع (5560).
মহান, কারণ এর অবতরণ কেবল রুহুল আমীন (জিবরাঈল)-এর মাধ্যমেই হয় এবং এটি সুনির্দিষ্টভাবে লাওহে মাহফুজ থেকে অবতীর্ণ শব্দের সাথে সীমাবদ্ধ।

অতঃপর প্রতিটি স্তর, যুগ ও সময়ে এর বর্ণনা অকাট্যভাবে মুতাওয়াতির (১) হয়ে থাকে। আলেমদের নিকট এর ওপর ভিত্তি করে অনেক শাখা-উপশাখা তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো:

হাদীসে কুদসী পাঠ করে সালাত সহীহ না হওয়া; জুনুবী (অপবিত্র), ঋতুমতী এবং নিফাসগ্রস্তদের জন্য তা স্পর্শ করা ও পাঠ করা হারাম না হওয়া; হাদীসে কুদসী অস্বীকারকারী কাফির না হওয়া এবং এর সাথে মুজেযা (অলৌকিকত্ব) সংশ্লিষ্ট না থাকা।

দুনিয়াতে এই শর্তের অধীনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশায় যে: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য সুন্নাহ থেকে চল্লিশটি হাদীস সংরক্ষণ করবে..." (২) এবং আখেরাতে যেন আমি সেই প্রতিদানের অন্তর্ভুক্ত হই যেখানে কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সাক্ষী ও সুপারিশকারী হব।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি (১৪৩৩২/২)-তে 'মুতাওয়াতিরান' রয়েছে (এবং এটিই সঠিক)।

(২) হাদীসটি অনেক শব্দে বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের উপকারের জন্য চল্লিশটি হাদীস সংরক্ষণ করবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন ফকীহ ও আলেম হিসেবে পুনরুত্থিত করবেন।" অন্য শব্দে আছে: "কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সুপারিশকারী ও সাক্ষী হব।" আবার অন্য শব্দে আছে: "কিয়ামতের দিন আমি তাকে আমার সুপারিশের অন্তর্ভুক্ত করব।"

এটি বিশেষজ্ঞদের ঐকমত্যে একটি যঈফ (দুর্বল) হাদীস। ইমাম নববী বলেছেন: "এর সকল সূত্রই দুর্বল এবং এটি সাব্যস্ত নয়।" হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন: "আমি এর সূত্রগুলো একটি পুস্তিকায় জমা করেছি, যার মধ্যে এমন কোনো সূত্র নেই যা গুরুতর দোষমুক্ত।" দেখুন: আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ (১/ ১৯৯), জামি বায়ানি ইলমি ওয়া ফাদলিহি (১/ ৭৭), তালখিসুল হাবীর (৩/ ৯৪), আল-মাকাসিদুল হাসানা (১/ ২১৬), আদ-দুরারুল মুনতাসিরা (১/ ১৮), তাযকিরাতুল মাওযুআত (১/ ২৭), আসনা আল-মাতালিব (১/ ২৬৮), আল-লাআলী আল-মানসূরা (১/ ১৯৩), আল-ফাওয়ায়েদুল মাজমুআহ (১/ ১৩৩), কাশফুল খাফা (১/ ৩৩), আস-সিলসিলাতুয যাঈফাহ (৪৫৮৯), যাঈফুল জামি (৫৫৬০)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌الحَدِيْثُ الأَوَّلُ:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رَضِيَ اللهُ تَعَالىَ عَنْهُ- عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَاْلَ اللَّهُ تَعَالَى:"قَسَمْتُ الصَّلاةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ، فَإِذَا قَاْلَ الْعَبْدُ: الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، قَاْلَ اللَّهُ تَعَالَى: حَمِدَنِي عَبْدِي، فَإِذَا قَاْلَ: الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، قَاْلَ اللَّهُ تَعَالَى: أَثْنَى عَلَيَّ عَبْدِي، فَإَِذَا قَاْلَ: مَالِكِ يَوْمِِ الدِّينِ، قَاْلَ: مَجَّدَنِي عَبْدِي، فَإَِذَا قَاْلَ: إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ، قَاْلَ: هَذَا بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ، فَإِذَا قَاْلَ: اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ، صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ، قَاْلَ اللَّهُ تَعَالَى: هَذَا لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ". رَواهُ أحْمَد، وأصْحَابُ السِّتَّ، مَاعَدا البُخَارِيِّ.
প্রথম হাদিস:

আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি সালাতকে (সুরা ফাতিহা) আমার ও আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি এবং আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তা-ই পাবে। সুতরাং যখন বান্দা বলে: 'সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য', তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল'। যখন সে বলে: 'যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু', তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আমার বান্দা আমার গুণকীর্তন করল'। যখন সে বলে: 'বিচার দিবসের মালিক', তখন তিনি বলেন: 'আমার বান্দা আমাকে মহিমান্বিত করল'। যখন সে বলে: 'আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই', তখন তিনি বলেন: 'এটি আমার ও আমার বান্দার মাঝে, আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করেছে তা-ই পাবে'। অতঃপর যখন সে বলে: 'আমাদেরকে সরল সঠিক পথ দেখান, তাদের পথ যাদের আপনি নেয়ামত দান করেছেন, তাদের পথ নয় যারা আপনার ক্রোধের শিকার এবং যারা পথভ্রষ্ট', তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: 'এটি আমার বান্দার জন্য, আর আমার বান্দা যা চাইল তা-ই সে পাবে'।" এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ এবং বুখারি ব্যতীত সিহাহ সিত্তার সংকলকগণ।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٣٢)
صَحِيحٌ:

أخرجهُ الإمامُ أحْمَد (2/ 241)، ومُسْلِم في الصَّلاة: بابُ قراءة الفاتحة في كُلِّ ركعة … رقم: (395)، وأبُو دَاوُد في الصَّلاة: بابُ مَنْ تَرَكَ القراءة في صلاته بفاتحة الكتاب، رقم: (821)، والتِّرمذيُّ في التَّفَسِير: باب تَفَسِير سُورة الفاتحة، والنَّسائيُّ في الافتتاح: بابُ تَرك قرَاءةِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيم في فاتِحة الكتَاب، رقم: (910)، وابنُ مَاجه في الأدب: بَابُ ثَواب القُرآن، رقم (3784)، والبُخَارِيُّ في القراءة خلف الإمام (12، 43، 45، 47، 49، 52، 53)، وفي خَلْق أفعال العباد (1/ 48)، والنَّسائيُّ في الكُبرى (1/ 316)، والنَّسائيُّ أيضاً في فضائل القُرآن (1/ 88)، والامامُ مالكٌ في مُوطئه (1/ 84)، والحُمَيدِيُّ (973)، وابنُ خُزَيَمةَ (502)، وابنُ حِبَّانَ (3/ 54) رقم: (776) وعبدالرَّزاق في المُصنَّف (2767)، وأبوعَوانة (2/ 126)، وابنُ أبِي شَيْبَة (1/ 360)، والبَيْهَقِيُّ في الكُبرى (2/ 39، 166، 167)، وفي الصُغرى (360)، وفي مَعرفة السُّنن والآثار (761)، وفي شُعَب الإيمان (2271)، وفي الأسماء والصِّفات (441)، وفي القراءة خلف
সহীহ:

ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন (২/ ২৪১), এবং মুসলিম সালাত অধ্যায়ে: প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠের পরিচ্ছেদ … নম্বর: (৩৯৫), এবং আবু দাউদ সালাত অধ্যায়ে: যে ব্যক্তি তার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ বর্জন করে তার পরিচ্ছেদ, নম্বর: (৮২১), এবং তিরমিযী তাফসীর অধ্যায়ে: সূরা ফাতিহার তাফসীর পরিচ্ছেদ, এবং নাসায়ী ইফতিতাহ অধ্যায়ে: সূরা ফাতিহার শুরুতে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম পাঠ বর্জন করার পরিচ্ছেদ, নম্বর: (৯১০), এবং ইবনে মাজাহ আদব অধ্যায়ে: কুরআনের সওয়াবের পরিচ্ছেদ, নম্বর (৩৭৮৪), এবং বুখারী ‘আল-কিরাআত খালফাল ইমাম’ গ্রন্থে (১২, ৪৩, ৪৫, ৪৭, ৪৯, ৫২, ৫৩), এবং ‘খালকু আফআলিল ইবাদ’ গ্রন্থে (১/ ৪৮), এবং নাসায়ী ‘আল-কুবরা’ গ্রন্থে (১/ ৩১৬), এবং নাসায়ী আরও ‘ফাযায়িলুল কুরআন’ গ্রন্থে (১/ ৮৮), এবং ইমাম মালিক তার ‘মুয়াত্তা’ গ্রন্থে (১/ ৮৪), এবং হুমাইদী (৯৭৩), এবং ইবনে খুযায়মাহ (৫০২), এবং ইবনে হিব্বান (৩/ ৫৪) নম্বর: (৭৭৬), এবং আবদুর রাজ্জাক ‘আল-মুসান্নাফ’ গ্রন্থে (২৭৬৭), এবং আবু আওয়ানাহ (২/ ১২৬), এবং ইবনে আবি শায়বাহ (১/ ৩৬০), এবং বায়হাকী ‘আল-কুবরা’ গ্রন্থে (২/ ৩৯, ১৬৬, ১৬৭), এবং ‘আস-সুগরা’ গ্রন্থে (৩৬০), এবং ‘মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার’ গ্রন্থে (৭৬১), এবং ‘শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থে (২২৭১), এবং ‘আল-আসমা ওয়াস সিফাত’ গ্রন্থে (৪৪১), এবং ইমামের পেছনে কিরাআত পাঠ গ্রন্থে
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ আল-আরবায়িনিয়্যাহ তা তায়লীক আব্দুল আযীয মুখতার (পৃষ্ঠা: ٣٣)
الإمام (40، 43)، والدَّارَقُطنِيُّ (1/ 312)، وإسْحاقُ بن رَاهَويْه في مُسنده (323)، والقَاسمُ بن سلاّم في فضائل القُرآن (332)، والطَّبَرانِيُّ في مُسند الشَّاميين (161)، وابنُ حزم في المُحلَّى (11/ 248)، وابنُ بشْران في الأمَالي (917)، والبَغْوِيُّ في شَرح السُّنَة (578) وفي التَّفَسِير (1/ 57).

ولهُ شَاهدٌ من حَديث جَابر بن عبد الله، أخرجهُ ابنُ أبي حَاتِم في تَفَسِيره (1/ 33)، وابنُ جَريرالطَّبَرِيُّ في التَفَسِير (1/ 201)، والإسْماعيلي في مُعجم شُيوخ أبي بكر (244)، والبَيْهَقِيُّ في القراءة خلف الإمام (78).

ولهُ شاهدٌ آخر أيضاً من حديث ابن عبَّاس: أخرجهُ ابنُ خُزَيَمةَ (2720)، والبَيْهَقِيُّ في شُعَب الإيمان (2272).

 

‌‌الحَدِيْثُ الثَّانِي:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رَضِيَ اللهُ تَعَالىَ عَنْهُ - قَاْلَ: قَاْلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاْلَ اللَّهُ تَعَالَى:"كَذَّبَنِي ابْنُ آدَمَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ، وَشَتَمَنِي وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ، فَأَمَّا تَكْذِيبُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ: لَنْ يُعِيدَنِي كَمَا بَدَأَنِي، وَلَيْسَ أَوَّلُ الْخَلْقِ بِأَهْوَنَ عَلَيَّ مِنْ إِعَادَتِهِ، وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ: اتَّخَذَ اللهُ
আল-ইমাম (৪০, ৪৩), আদ-দারাকুতনি (১/৩১২), তাঁর মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (৩২৩), ফাদাইলুল কুরআনে আল-কাসিম বিন সাল্লাম (৩৩২), মুসনাদুশ শামিয়্যিনে আত-তাবারানি (১৬১), আল-মুহাল্লায় ইবনে হাজম (১১/২৪৮), আল-আমালিতে ইবনে বিশরান (৯১৭), এবং শারহুস সুন্নাহ (৫৭৮) ও তাফসীরে (১/৫৭) আল-বাগাওয়ি এটি বর্ণনা করেছেন।

জাবির বিন আব্দুল্লাহর হাদীস থেকে এর একটি সাক্ষ্য (শাহেদ) রয়েছে, যা ইবনে আবি হাতিম তাঁর তাফসীরে (১/৩৩), ইবনে জারির আত-তাবারানি তাঁর তাফসীরে (১/২০১), আল-ইসমাঈলি ‘মুজামু শুইউখি আবি বকর’-এ (২৪৪) এবং আল-বায়হাকি ‘আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম’-এ (৭৮) বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আব্বাসের হাদীস থেকেও এর আরও একটি সাক্ষ্য রয়েছে, যা ইবনে খুজাইমাহ (২৭২০) এবং আল-বায়হাকি শুআবুল ঈমানে (২২৭২) বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌দ্বিতীয় হাদীস:

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যে, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আদম সন্তান আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, অথচ তা তার জন্য সংগত ছিল না; এবং সে আমাকে গালি দিয়েছে, অথচ তাও তার জন্য উচিত ছিল না। তার আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার বিষয়টি হলো তার এই কথা বলা যে, 'তিনি আমাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন না যেভাবে তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন।' অথচ প্রথমবার সৃষ্টি করা তাকে পুনরায় সৃষ্টি করার চেয়ে আমার নিকট অধিক সহজ নয়। আর তার আমাকে গালি দেওয়া হলো তার এই উক্তি: 'আল্লাহ গ্রহণ করেছেন..."