(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: -)
جلال الدين السيوطي عصره وحياته وآثاره وجهوده في الدرس اللغوي   (طاهر سليمان حمودة)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: جلال الدين السيوطي عصره وحياته وآثاره وجهوده في الدرس اللغوي

المؤلف: طاهر سليمان حمودة

الناشر: المكتب الاسلامى - بيروت

الطبعة: الأولى، 1410 هـ - 1989م

عدد الصفحات: 426

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 ذو القعدة 1432

জালালুদ্দিন আল-সুয়ূতী: তাঁর যুগ, জীবন, কর্ম এবং ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যয়নে তাঁর অবদান   (তাহের সুলাইমান হামুদা)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: জালালুদ্দিন আল-সুয়ূতী: তাঁর যুগ, জীবন, কর্ম এবং ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যয়নে তাঁর অবদান

লেখক: তাহের সুলাইমান হামুদা

প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামী - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ হিজরী - ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৬

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২১ জিলকদ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ١)
‌‌[هوية الكتاب]

جلال الدّين السّيوطى عصره وحياته وآثاره وجهوده في الدّرس اللغوي

تأليف د. طاهر سليمان حمودة أستاذ العلوم اللغويّة بجامعة الاسكندرية وجامعة الملك سعود بالرياض

ط المكتب الاسلامي
[গ্রন্থ পরিচিতি]

জালালুদ্দীন সুয়ূতী: তাঁর যুগ, জীবন, কর্ম এবং ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণায় তাঁর অবদান

রচনায়: ড. তাহের সুলাইমান হাম্মুদাহ, ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক, আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং রিয়াদের কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়

আল-মাকতাব আল-ইসলামী সংস্করণ
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٢)
جميع الحقوق محفوظة

الطبعة الأولى 1410 هـ- 1989 م

المكتب الإسلامي بيروت: ص. ب 3771/ 11 - هاتف 450638 - برقيا: إسلاميا
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ ১৪১০ হিজরী - ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ

আল-মাকতাবুল ইসলামী বৈরুত: পোস্ট বক্স ৩৭৭১/ ১১ - ফোন ৪৫০৬৩৮ - টেলিগ্রাম: ইসলামিয়া
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌تصدير

بسم الله الرحمن الرحيم كان هذا البحث الذي أقدّمه للنشر اليوم عملا تقدّمت به للحصول على درجة الدكتوراة من قسم اللغة العربية بجامعة الإسكندرية بعنوان «السيوطيّ اللغوي»، وكنت قد أتممت كتابته في شهر المحرم من عام 1391 هـ الموافق مارس 1971 م، وقد تمت المناقشة في مايو من العام نفسه.

وكانت هذه أول دراسة علمية عن السيوطي تقدّم في جامعة من الجامعات العربية، وكان من الواجب عليّ، أو من الأنسب لهذه الدراسة أن أبادر بنشرها صونا وإبرازا لما أتصوره من جهود مضنية بذلتها في البحث والدّراسة عاكفا على التفتيش في المخطوط والمطبوع من آثار السيوطي وآثار الأقدمين.

ولقد ظهرت بعدها دراسات تناولت بعض جوانب السيوطي لا أشك في اعتمادها أو اعتماد بعضها على هذه الدراسة مع إغفال الإشارة إليها.

وقد عاودت النظر قبيل النشر فيما كتبت من قبل، فرأيت أنني قد قمت في هذا البحث بدراسة وافية لعصر السيوطي وحياته وآثاره، وهي في نظري دراسة ضرورية لا تعدّ مقدّمة للدراسة اللغوية فحسب وإنما تزيد على ذلك إذ توفّي معظم جوانب عصر السيوطي وحياته وثقافته ومنهجه العلمي حقّها من الدّراسة، ولذلك رأيت أن أجعل عنوان الكتاب «جلال الدّين السيوطي:

عصره وحياته وآثاره وجهوده في الدرس اللغوي».

وقد قمت بإجراء بعض التصويبات أو التعديلات التي رأيت من الأفضل القيام بها عند المراجعة، وهي قليلة نسبيا، ولم أحاول إجراء تعديلات تتصل بالمنهج أو التصنيف لاقتناعي بسلامتهما ومناسبتهما لموضوع البحث.
উপস্থাপনা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আজ আমি প্রকাশের জন্য যে গবেষণাটি পেশ করছি, সেটি আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভের উদ্দেশ্যে ‘ভাষাবিদ আস-সুয়ূতী’ শিরোনামে জমা দেওয়া একটি অভিসন্দর্ভ। আমি এর রচনা সমাপ্ত করেছিলাম ১৩৯১ হিজরি সালের মহরম মাসে, যা ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের সমসাময়িক। আর একই বছরের মে মাসে এর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এটিই ছিল কোনো আরব বিশ্ববিদ্যালয়ে আস-সুয়ূতী সম্পর্কে উপস্থাপিত প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা। আমার জন্য এই গবেষণাটি দ্রুত প্রকাশ করা আবশ্যক বা অধিক সমীচীন ছিল, যাতে আস-সুয়ূতী এবং পূর্ববর্তীদের পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত রচনাবলি অনুসন্ধানে আমার ব্যয়িত কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা সংরক্ষিত ও প্রকাশিত হয়।

পরবর্তীতে আস-সুয়ূতীর বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও অনেক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, সেগুলোর সবকটি বা কোনো কোনোটি এই গবেষণার ওপর নির্ভর করেই সম্পন্ন হয়েছে, যদিও তারা এর প্রতি নির্দেশ করতে বা ঋণ স্বীকার করতে উপেক্ষা করেছেন।

প্রকাশের পূর্বে আমি আমার পূর্বের লেখার ওপর পুনরায় দৃষ্টিপাত করেছি। আমি দেখেছি যে, এই গবেষণায় আমি আস-সুয়ূতীর যুগ, তাঁর জীবন এবং রচনাবলি সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যয়ন সম্পন্ন করেছি। আমার দৃষ্টিতে এটি একটি অপরিহার্য গবেষণা, যা কেবল ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনার ভূমিকাস্বরূপ নয়; বরং তার চেয়েও বেশি কিছু। কেননা এটি আস-সুয়ূতীর যুগ, জীবন, সংস্কৃতি এবং তাঁর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অধিকাংশ দিকের যথাযথ হক আদায় করেছে। এ কারণে আমি বইটির শিরোনাম স্থির করেছি: ‘জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী:

তাঁর যুগ, জীবন, রচনাবলি এবং ভাষাতাত্ত্বিক পাঠে তাঁর অবদান’।

পরিমার্জনের সময় আমি কিছু সংশোধন বা পরিবর্তন করেছি যা করা আমি উত্তম মনে করেছি; তবে তা পরিমাণে খুবই সামান্য। আমি গবেষণা পদ্ধতি বা বিন্যাস সংক্রান্ত কোনো পরিবর্তনের চেষ্টা করিনি, কারণ আমি সেগুলোর সঠিকতা এবং গবেষণার বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যতার ব্যাপারে পূর্ণ আশ্বস্ত।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٤)
والله أسأل أن يوفقنا لما فيه الصواب في العمل والسّداد في القول.

ربيع الأول 1409 هـ تشرين الأول (اكتوبر) 1988 م

طاهر سليمان حمودة
এবং আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের কর্মে যা সঠিক এবং কথায় যা নির্ভুল তার তাওফীক দান করেন।

রবিউল আউয়াল ১৪০৯ হিজরি, অক্টোবর ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ।

তাহের সুলাইমান হামুদা
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، سيدنا محمد صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وبعد فهذا البحث الذي قصدت به دراسة «السيوطي اللغوي» يتناول شخصية هامة في تاريخ الفكر الاسلامي بعامة، والدرس اللغوي بخاصة، وقد أردت بهذا البحث الذي يتناول شخصية قدر لها أن تحيا في عصر متأخر، وفي بيئة متميزة ورثت البيئات الاسلامية المتقدمة أن أعرض صورة لما آل إليه أمر الدرس اللغوي بعد تدرج طويل مرّ به في أحقاب متتالية، والدرس اللغوي متصل أشد الاتصال بسائر فروع المعرفة الانسانية، لأن اللغة هي أداة التعبير في سائر العلوم، ولأن العلوم الاسلامية من فقه وأصول وحديث وتفسير وغير ذلك تعتمد أشد الاعتماد على اللغة ويهمها ما يصل إليه البحث اللغوي من نتائج، بل إننا لا نبالغ إذا قلنا إن جميع هذه الفروع بما فيها البحث اللغوي قد امتزجت أمشاجها عند أولئك القوم وتأثر بعضها ببعض، ولا يعني ذلك اختلاطها عليهم ولكن يعني إفادة كل فرع من الآخر بالقدر الذي تقتضيه طبيعته.

والسيوطي عالم متعدد الجوانب لم يدع فرعا من فروع المعرفة دون أن يطرقه ويترك لنا فيه آثارا تزيد أو تنقص بمقدار عنايته بذلك الفرع، وقد ترك اهتمامه المتعدد بشتى ألوان البحث أثرا بالغا في تفكيره وطبع عقليته بطابع متميز، كما أن حياته في عصر متأخر وفي البيئة المصرية التي تميزت في عهد المماليك بمميزات خاصة حضارية وثقافية، كل أولئك قد ظهر أثره في إنتاجه وآثاره، لذلك رأيت لزاما علي لكي أستجلي معالم شخصيته وفكره وطابعه العقلي أن أبدأ أولا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবৃন্দ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের ওপর। এরপর: এই গবেষণা প্রবন্ধটি, যার মাধ্যমে আমি ‘ভাষাবিদ সুয়ূতী’ সম্পর্কে অধ্যয়ন করার সংকল্প করেছি, তা সামগ্রিকভাবে ইসলামি চিন্তাধারার ইতিহাসে এবং বিশেষভাবে ভাষাতত্ত্বের পাঠে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে নিয়ে আলোচনা করে। আমি এই গবেষণার মাধ্যমে এমন একজন ব্যক্তিত্বকে উপস্থাপন করতে চেয়েছি যাঁর ভাগ্যে এক পরবর্তী যুগে এবং একটি স্বতন্ত্র পরিবেশে বেঁচে থাকা নির্ধারিত হয়েছিল, যা পূর্ববর্তী ইসলামি পরিবেশসমূহের উত্তরাধিকার লাভ করেছিল; আমি এর মাধ্যমে ভাষাতত্ত্বের পাঠ দীর্ঘ পর্যায়ক্রমিক ধারা অতিক্রম করে অবশেষে যে অবস্থায় উপনীত হয়েছিল, তার একটি চিত্র উপস্থাপন করতে চেয়েছি। ভাষাতত্ত্বের পাঠ মানবজ্ঞানের অন্যান্য সকল শাখার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত, কারণ ভাষা হলো সকল বিজ্ঞানের ভাব প্রকাশের মাধ্যম। আর যেহেতু ফিকহ, উসুল, হাদিস, তাফসির এবং এই জাতীয় অন্যান্য ইসলামি বিজ্ঞানসমূহ ভাষার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল এবং ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার ফলাফলসমূহ এগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বরং আমরা যদি বলি যে, ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণাসহ এই সমস্ত শাখাগুলো সেই সকল মনীষীদের নিকট ওতপ্রোতভাবে মিশে গিয়েছিল এবং একে অপরের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল, তবে তা কোনো অত্যুক্তি হবে না। এর অর্থ এই নয় যে, তাঁদের কাছে বিষয়গুলো গুলিয়ে গিয়েছিল, বরং এর অর্থ হলো প্রতিটি শাখা তার নিজস্ব প্রকৃতি অনুযায়ী অন্যটি থেকে প্রয়োজনীয় উপকার গ্রহণ করেছিল।

সুয়ূতী ছিলেন এক বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আলেম; তিনি জ্ঞানের এমন কোনো শাখা বাকি রাখেননি যেখানে তিনি পদচারণা করেননি এবং সেই বিষয়ের প্রতি তাঁর মনোযোগের মাত্রা অনুযায়ী কমবেশি কোনো না কোনো নিদর্শন আমাদের জন্য রেখে যাননি। গবেষণার নানাবিধ ক্ষেত্রে তাঁর এই বহুমুখী আগ্রহ তাঁর চিন্তাধারায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল এবং তাঁর মননশীলতাকে এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে রঞ্জিত করেছিল। তদুপরি, পরবর্তী যুগে তাঁর জীবন এবং মামলুক শাসনামলে মিশরের সেই পরিবেশ, যা বিশেষ তামাদ্দুনিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যে অনন্য ছিল—এ সবকিছুর প্রভাব তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজ ও রচনাবলিতে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাই তাঁর ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য, চিন্তাধারা এবং মানসিক ধরণকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য আমি প্রথমে শুরু করাকে অপরিহার্য মনে করেছি।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٦)
باستجلاء الصورة العامة لذلك العصر، فمن الخطأ البين أن نحكم على السيوطي بموازين عصرنا اللاحق له ومفاهيمه، كما أنه من الخطأ أيضا أن نقيمه من منظور العصور السابقة، ذلك أن صورة العصر تفسر لنا كثيرا مما نجده عنده.

والسيوطي- في حقيقة الأمر- يعطي أصدق صورة للعلوم الإسلامية بصفة عامة في نهاية تدرجها، كما أننا نلحظ في كتاباته العديدة صورة حية للمجتمع الذي يعيش فيه ويتفاعل معه، وكون الرجل فقيها يحيا في مجتمع مسلم ويرى نفسه من مجتهدي مذهبه أو من المجتهدين على الاطلاق قد حتم عليه أن يكون على صلة وثيقة بالمجتمع وحاجاته العلمية وما ينتابه من أحداث يحتاج فيها الناس إلى حكم الله فيلجئون إليه، وقد طبقت فتاواه البلاد الاسلامية جميعا، وكان لها أثر في حياة المجتمع على عهده.

ويتصل بما قدمنا من تحديد جوانبه العقلية ما نلاحظه في رسائله وكتاباته العديدة التي لم يدع فيها خاطرا يمر به إلا دونه ونبه عليه أو وضع فيه مؤلفا، وكثير من

الموضوعات التي قد نعتبرها تافهة ترك فيها آثارا.

على أن فحص هذه الكثرة الكاثرة من الآثار يبين لنا إلى حد بعيد غلبة الطابع النقلي على منهج الرجل في جميع دراساته، ولكن ذلك لا ينفي الجهود التي بذلها في الترتيب والتنسيق والجمع، ولا ينفي بعض ابتكاراته الهامة، كما أنه يصور في أحيان كثيرة عقليته الواعية ودرايته بما يتعرض له من موضوعات.

وأهم الصعاب التي واجهتها في هذا البحث ما يتصل بآثاره التي لم يطبع جانب كبير منها ولم يصلنا جانب آخر، كما أن هذه الآثار ما بين مختصر ومطول ومتن وشرح ومنظوم وموشح ومقامة، فضلا عن تعدد ما يتناول منها موضوعا واحدا بحيث يخشى المرء من التباس الأمر عليه، كما أن بعض رسائله الصغيرة قد ضمنها في ثنايا كتبه الكبيرة إما تضمينا متميزا أو ممزوجا.

والنقطة الثانية أن الرجل قد غلب عليه الطابع النقلي الذي استلزم مني أن أبحث في دوافع سلوكه هذا المنهج، وأن أنظر في جملة من المصادر التي نقل عنها لكي أحدد منهجه في النقل وأصف أمانته.
সেই যুগের সাধারণ প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করার মাধ্যমে এটি প্রতীয়মান হয় যে, সুয়ূতীকে তাঁর পরবর্তী আমাদের এই বর্তমান যুগের মানদণ্ড ও ধারণার ভিত্তিতে বিচার করা একটি সুস্পষ্ট ভুল। তেমনিভাবে তাঁকে পূর্ববর্তী যুগের দৃষ্টিকোণ থেকেও মূল্যায়ন করাও ভুল; কারণ সেই যুগের চিত্রই আমাদের কাছে তাঁর অনেক বিষয় ব্যাখ্যা করে যা আমরা তাঁর মাঝে দেখতে পাই।

প্রকৃতপক্ষে সুয়ূতী ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানের বিবর্তনের শেষ পর্যায়ে এসে তার এক অত্যন্ত নিঁখুত ও সঠিক চিত্র উপস্থাপন করেন। তাঁর অসংখ্য রচনার মধ্যে আমরা যে সমাজে তিনি বসবাস করতেন এবং যার সাথে মিথস্ক্রিয়া করতেন, সেই সমাজের একটি জীবন্ত ছবি লক্ষ্য করি। যেহেতু তিনি একজন ফকিহ ছিলেন এবং এক মুসলিম সমাজে বাস করতেন এবং নিজেকে নিজের মাযহাবের একজন মুজতাহিদ অথবা সামগ্রিকভাবে মুজতাহিদ হিসেবে গণ্য করতেন, তাই এটি তাঁকে সমাজের সাথে এবং এর ইলমি প্রয়োজনীয়তা ও উদ্ভূত পরিস্থিতিগুলোর সাথে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য করেছিল, যেখানে মানুষের আল্লাহর বিধান জানার প্রয়োজন হতো এবং তারা তাঁর শরণাপন্ন হতো। তাঁর ফতোয়াগুলো সমগ্র ইসলামি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তাঁর সমসাময়িক সমাজের জীবনে এর ব্যাপক প্রভাব ছিল।

তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক দিকগুলো নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো পূর্বে উপস্থাপিত হয়েছে, তার সাথে যুক্ত হয় তাঁর অসংখ্য রিসালাহ এবং রচনার পর্যবেক্ষণ; যেখানে তাঁর মনে উদিত হওয়া প্রতিটি চিন্তাকেই তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন এবং সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন অথবা সে বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। এমন অনেক

বিষয় যা আমরা হয়তো তুচ্ছ মনে করতে পারি, তিনি সেগুলোতেও তাঁর রচনার স্বাক্ষর রেখেছেন।

তবে তাঁর এই বিপুল পরিমাণ রচনাসমগ্র পরীক্ষা করলে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, তাঁর সকল গবেষণায় উদ্ধৃতিমূলক বা বর্ণনাধর্মী বৈশিষ্ট্যেরই প্রাধান্য ছিল। তবে এটি বিন্যাস, সমন্বয় এবং সংকলনের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যয়িত প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করে না এবং তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনী প্রয়াসকেও নাকচ করে না। তদুপরি, এটি অনেক ক্ষেত্রে তাঁর সচেতন মানসিকতা এবং যে সকল বিষয় তিনি আলোচনা করেছেন সে সম্পর্কে তাঁর প্রজ্ঞাকেও চিত্রিত করে।

এই গবেষণায় আমি যেসব প্রধান সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তার মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর রচনাসমগ্রের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো, যার একটি বড় অংশ মুদ্রিত হয়নি এবং অন্য একটি অংশ আমাদের পর্যন্ত পৌঁছায়নি। এ ছাড়া এই রচনাগুলো সংক্ষিপ্ত ও দীর্ঘ, মূল পাঠ ও ব্যাখ্যা, পদ্য, মুওয়াশশাহ এবং মাকামাহ—এই বিভিন্ন ধারায় বিন্যস্ত। তদুপরি, একই বিষয় নিয়ে তাঁর একাধিক রচনার আধিক্যের কারণে বিভ্রান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়। পাশাপাশি তাঁর কিছু ছোট রিসালাহকে তিনি তাঁর বৃহৎ গ্রন্থগুলোর মধ্যে স্বতন্ত্রভাবে অথবা সংমিশ্রিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, তাঁর ওপর বর্ণনাধর্মী বৈশিষ্ট্যের আধিপত্য ছিল, যা আমাকে এই পদ্ধতি অবলম্বনের পেছনে তাঁর অনুপ্রেরণাগুলো অনুসন্ধান করতে বাধ্য করেছে। এবং তিনি যেসব উৎস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়েছে যাতে তাঁর উদ্ধৃতি প্রদানের পদ্ধতি নির্ধারণ এবং তাঁর বিশ্বস্ততা বর্ণনা করা যায়।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٧)
كل أولئك قد جعلني أسير في البحث على النسق الذي رأيته موفيا بما قصدت إليه من أغراض فجعلته في بابين يحوي أولهما ثلاثة فصول يتناول كل فصل جملة من الموضوعات المترابطة ويحوي الثاني فصلين أحدهما في فقه اللغة والثاني في النحو.

أردت في الباب الأول «عصره وحياته وآثاره» أن أخلص إلى الحديث عن منهجه في التفكير موضحا أصول هذا المنهج، وأن أدرس آثاره بصفة عامة، وقد اقتضى ذلك أن أبدأ بالحديث عن عصره، والحديث عن العصر يستلزم من الدارس أن يوضح إطاره السياسي والاجتماعي، فالحياة العقلية ترتبط بالاطارين السياسي والاجتماعي ارتباطا وثيقا، تتأثر بهما وتؤثر فيهما، ولا يمكننا تفسير بعض الظواهر الثقافية إلا إذا رددناها إلى المؤثرات السياسية والاجتماعية الملابسة لها.

لذلك خصصت الفصل الأول لتحديد الاطارين السياسي والاجتماعي لهذه الفترة، فبدأت بالحديث عن الحياة السياسية واقتضى ذلك الرجوع قليلا عبر السنين للتنبيه على حادثة هزت كيان العالم الإسلامي كله، وهي سقوط بغداد وانتقال الخلافة إلى القاهرة، وهذه الحوادث كان لها أثر بعيد في توجيه الحياة في البيئة المصرية طيلة عصر المماليك.

ثم انتقلت إلى الحديث عن السلاطين الذين عاصرهم السيوطي لما كان بينه وبينهم من صلات أثرت في توجيه حياته وفيما ترك من آثار، وانتقلت بعد ذلك إلى الحديث عن خلفاء بني العباس بمصر حياة السيوطي، لما كان له ولأبيه من قبل من حظوة عندهم جعلتهم لا يبخلون عليه بالعون والمؤازرة.

ثم أردت تحديد الاطار الاجتماعي لأتبين المكان الذي تنزله طبقة العلماء أمثال السيوطي من المجتمع، ولم تكن تتضح هذه المكانة إلا بمقارنة هذه الفئة بغيرها من فئات المجتمع ومن ثم فقد عرضت لأنواع هذه الفئات مبينا درجتها في المجتمع وفعلها فيه، كما أوضحت صورة الحياة في المدن وخصصت القاهرة بيئة السيوطي بالتفصيل الكبير، وعرضت لبعض الظواهر الاجتماعية والحيوية الهامة التي تميز بها المجتمع آنذاك وأهمها ظاهرة التصوف، وكل ذلك إنما تناولته لما للسيوطي وآثاره من صلة وثيقة به، فالرجل كما قلت صورة حية لمجتمعه
এই সকল বিষয় আমাকে গবেষণায় এমন এক ধারা অবলম্বন করতে অনুপ্রাণিত করেছে যা আমার অভীষ্ট লক্ষ্যসমূহ পূরণে সক্ষম বলে আমি মনে করেছি। তাই আমি একে দুইটি পর্বে বিন্যস্ত করেছি; যার প্রথমটি তিনটি অধ্যায় সম্বলিত, যেখানে প্রতিটি অধ্যায়ে একগুচ্ছ আন্তঃসম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় পর্বে রয়েছে দুইটি অধ্যায়, যার প্রথমটি ভাষাতত্ত্ব এবং দ্বিতীয়টি ব্যাকরণ বিষয়ক।

প্রথম পর্বে—যা «তাঁর যুগ, জীবন ও কর্ম» শিরোনামে—আমার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর চিন্তাধারার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করা এবং এই পদ্ধতির মূলনীতিসমূহ ব্যাখ্যা করা, আর সাধারণভাবে তাঁর রচনাবলি সম্পর্কে অধ্যয়ন করা। এর জন্য তাঁর সমকালীন যুগ নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রয়োজন ছিল। আর যুগ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে গবেষকের জন্য সেই সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো স্পষ্ট করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কারণ বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত; এটি যেমন এই দুই কাঠামো দ্বারা প্রভাবিত হয়, তেমনি তাদের ওপর প্রভাবও বিস্তার করে। কোনো কোনো সাংস্কৃতিক প্রবণতাকে ব্যাখ্যা করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব, যতক্ষণ না আমরা সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবকসমূহের সাথে সম্পৃক্ত করতে পারছি।

এজন্য আমি প্রথম অধ্যায়টি উক্ত সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট করেছি। ফলে আমি রাজনৈতিক জীবনের আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছি, যার জন্য আমাকে বিগত বছরগুলোর এমন একটি ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করার প্রয়োজনে কিছুটা পেছনে ফিরে যেতে হয়েছে যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল; আর তা হলো বাগদাদের পতন এবং কায়রোতে খেলাফত স্থানান্তর। এই ঘটনাসমূহ মামলুক শাসনামল জুড়ে মিসরের পরিবেশে জীবনযাত্রার গতিপথ নির্ধারণে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল।

এরপর আমি সেই সব সুলতানদের আলোচনায় উপনীত হয়েছি যাঁদের সমসাময়িক ছিলেন সুয়ূতী; কারণ তাঁদের সাথে তাঁর এমন সম্পর্ক ছিল যা তাঁর জীবনের দিকনির্দেশনা এবং তাঁর রেখে যাওয়া রচনাবলির ওপর প্রভাব ফেলেছিল। এরপর আমি সুয়ূতীর জীবদ্দশায় মিসরে আব্বাসীয় খলিফাদের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছি; কারণ খলিফাদের নিকট তাঁর এবং ইতিপূর্বে তাঁর পিতার এমন মর্যাদা ছিল যা তাঁদেরকে তাঁর প্রতি সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদানে কুণ্ঠাবোধ না করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

এরপর আমি সামাজিক কাঠামো নির্ধারণ করতে চেয়েছি যাতে সমাজে সুয়ূতীর মতো আলেম সমাজের অবস্থান নির্ণয় করা যায়। সমাজের অন্যান্য শ্রেণির সাথে এই শ্রেণির তুলনা করা ব্যতীত এই অবস্থান স্পষ্ট হওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে আমি বিভিন্ন শ্রেণির বিবরণ পেশ করেছি এবং সমাজে তাদের মর্যাদা ও ভূমিকা বর্ণনা করেছি। তদুপরি আমি শহরগুলোর জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরেছি এবং সুয়ূতীর বিচরণস্থল কায়রো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এছাড়া সেই সময়ের সমাজের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও জীবনধর্মী বিষয় তুলে ধরেছি, যার মধ্যে অন্যতম হলো তাসাউফ। আমি এই সব বিষয় কেবল সুয়ূতী ও তাঁর কর্মের সাথে এগুলোর নিবিড় সম্পর্কের কারণেই আলোচনা করেছি; কারণ আমি যেমনটি বলেছি— এই ব্যক্তিটি তাঁর সমাজের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٨)
تمثله أصدق تمثيل، وقد نبهت أحيانا على تفاعل السيوطي مع ما عرضت من أحداث وصور سياسية واجتماعية.

وفي الفصل الثاني تناولت الحياة الثقافية وقد أردت أن أوضح الظواهر التي تميز بها التأليف في ذلك العصر، والعرف الذي اتبع في التلقي والتدريس والتأليف حتى يسهل علينا مقارنة آثار السيوطي بما وضع في عصره، وحتى يمكننا رد كثير من الظواهر التي نلحظها في منهجه إلى أصولها، وقد دفعني ذلك إلى بيان نشاط الحركة العقلية ومظاهر هذا النشاط المتمثلة في مراكز العلم بأنواعها المختلفة وفي الكثرة الكاثرة من مؤلفات العصر، وفي كثرة الطلبة والشيوخ، وقد مثلت لكل من هذه المظاهر بمثال أو ببعض الأمثلة وتقصيت عوامل نشاط الحياة الثقافية ثم صببت اهتماما أكثر في الحديث عن الملاحظات التي أمكن لي الوقوف عليها فيما يتصل بمؤلفات العصر بصفة عامة ليساعدني ذلك في الحكم على مؤلفات السيوطي التي طبعت في الغالب بما طبعت به مؤلفات العصر، وقد نبهت على تأثر السيوطي بعصره وروحه بين حين وآخر، ولما كانت الحياة الأدبية جزء لا يتجزأ من الحياة الفكرية بعامة فقد رأيت أن أختم هذا الفصل بالحديث عن هذه الحياة ومميزاتها، لما ذلك من أثر لاحظته على كتابات السيوطي بصفة عامة وعلى إنتاجه الأدبي بصفة خاصة، فأسلوبه متأثر بروح العصر في الكتابة والتي من أهم خصائصها الحرص على ضروب البديع، كما أن إنتاجه يمثل الأنواع الأدبية المتنوعة التي عرفها العصر، ويدل على حرص السيوطي على أن يسهم في جميعها.

وفي الفصل الثالث تناول البحث «حياة السيوطي وثقافته وآثاره» وقد اتضح فيه أهمية الارتكاز على الفصلين السابقين في سبيل استجلاء كثير من جوانب الموضوع، وقد بدأت ببيان مولده ونسبه ونسبته وتحدثت عن والده، ثم عرضت بعد ذلك لنشأته ودراسته وقد اقتضى ذلك أن أترجم باختصار لأهم الأساتذة الذين أخذ عنهم وكان لهم فعل وأثر في عقله وحياته، ثم خلصت بعد ذلك إلى الحديث عن مراحل حياته، وقد أردت بهذا الموضوع أن أبين المراحل التي مرت بها حياة السيوطي العملية، وأهم البواعث والمؤثرات التي وجهت هذه الحياة
এটি তাকে অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করেছে, এবং আমি মাঝে মাঝে উপস্থাপিত রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলি ও পরিস্থিতির সাথে সুয়ূতী-র মিথস্ক্রিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আমি সাংস্কৃতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করেছি এবং সেই যুগের গ্রন্থ রচনার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং জ্ঞানার্জন, পাঠদান ও গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে অনুসৃত রীতিসমূহ স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি; যাতে আমাদের জন্য সুয়ূতী-র রচনাবলিকে তাঁর সমসাময়িক রচনাবলির সাথে তুলনা করা সহজ হয় এবং তাঁর পদ্ধতিতে আমরা যে সকল বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করি, সেগুলোর অনেককেই যেন আমরা তাদের মূল উৎসের দিকে ফিরিয়ে নিতে পারি। এটি আমাকে বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের সক্রিয়তা এবং এর বিভিন্ন বহিঃপ্রকাশ বর্ণনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যা বিভিন্ন প্রকারের জ্ঞানচর্চাকেন্দ্র, সেই যুগের প্রচুর সংখ্যক গ্রন্থরাজি এবং বিপুল সংখ্যক ছাত্র ও শিক্ষকবৃন্দের মাঝে প্রতিফলিত হয়েছে। আমি এই প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি বা একাধিক উদাহরণ পেশ করেছি এবং সাংস্কৃতিক জীবন সক্রিয় হওয়ার কারণসমূহ অনুসন্ধান করেছি। এরপর আমি সেই যুগের সাধারণ গ্রন্থাবলির বিষয়ে আমার পর্যবেক্ষণসমূহ নিয়ে আলোচনার প্রতি অধিক মনোযোগ দিয়েছি, যাতে এটি আমাকে সুয়ূতী-র রচনাবলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে; কারণ তাঁর রচনাবলিও মূলত সেই যুগের রচনাবলির সাধারণ ছাঁচেই তৈরি হয়েছিল। আমি মাঝেমধ্যেই সুয়ূতী তাঁর যুগ ও যুগের চিন্তাচেতনা দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছি। যেহেতু সাহিত্যিক জীবন সামগ্রিকভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই আমি এই পরিচ্ছেদটি সেই জীবন ও তার বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্ত করা সমীচীন মনে করেছি; কারণ সুয়ূতী-র সাধারণ লেখনি এবং বিশেষভাবে তাঁর সাহিত্যিক সৃষ্টির ওপর আমি এর প্রভাব লক্ষ্য করেছি। তাঁর লিখনশৈলী সেই যুগের লিখনরীতির বৈশিষ্ট্যে প্রভাবিত, যার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অলঙ্কারশাস্ত্রের বিভিন্ন প্রকরণের প্রতি অতিশয় আগ্রহ। অধিকন্তু, তাঁর সৃষ্টিসমূহ সেই যুগের পরিচিত বিভিন্ন সাহিত্যিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করে এবং এটি সকল শাখায় অবদান রাখার প্রতি সুয়ূতী-র প্রবল আগ্রহের প্রমাণ দেয়।

তৃতীয় পরিচ্ছেদে গবেষণাটি "সুয়ূতী-র জীবন, সংস্কৃতি ও তাঁর কর্মসমূহ" নিয়ে আলোচনা করেছে। বিষয়টির অনেক দিক উন্মোচনের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী দুটি পরিচ্ছেদের ওপর নির্ভর করার গুরুত্ব এখানে স্পষ্ট হয়েছে। আমি তাঁর জন্ম, বংশ পরিচয় ও নিসবত (সম্পর্ক) বর্ণনা দিয়ে শুরু করেছি এবং তাঁর পিতার বিষয়ে আলোচনা করেছি। এরপর তাঁর বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা গ্রহণ নিয়ে আলোচনা করেছি; যার প্রয়োজনে আমাকে সংক্ষেপে তাঁর প্রধান শিক্ষকদের জীবনী বর্ণনা করতে হয়েছে, যাঁদের কাছ থেকে তিনি শিক্ষা লাভ করেছেন এবং যাঁদের প্রভাব তাঁর চিন্তা ও জীবনে কার্যকর ছিল। এরপর আমি তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে আলোচনায় উপনীত হয়েছি। এই প্রসঙ্গের মাধ্যমে আমি সুয়ূতী-র কর্মময় জীবন যেসব পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং যে সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা ও প্রভাব এই জীবনকে পরিচালিত করেছে, তা স্পষ্ট করতে চেয়েছি।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٩)
ولذلك فقد تحدثت في ختام هذا الموضوع عن وفاته باعتبارها نهاية هذه المراحل التي مر بها. وأردت بعد ذلك أن ألقي الضوء على بعض الموضوعات، فتناولت مكانته في المجتمع وقد أخرتها بعد عرض مراحل حياته وبعد الحديث عن وفاته لأنني حينئذ أتناول بالدراسة تجربة قد انتهت، واكتملت وأصبح من الواضح البين إمكان الحكم على جوانبها المختلفة مع الاستعانة بالحوادث التي مرت في خلال فترة الحياة، وقد بينت في حديثي منزلته الاجتماعية وصلته بالمجتمع وأهم الأحداث العامة التي خاضها

وأثره في مجتمعه. وبعد أن بينت هذا الجانب كان لزاما علي أن أتبعها بالحديث عن خصومات السيوطي التي تعرض لها والتي فرضها عليه مكانه من المجتمع وتبوؤه درجة لها قدرها، وقد عرضت بعض النماذج القولية التي هاجم بها خصومه، كما عرضت نماذج لهجومهم عليه، وحاولت استجلاء طبيعة هذه الخصومات وتلمست القول المنصف فيها، وأهم الموضوعات التي كانت مجالا لهذه الخصومات. وكان لزاما علي بعد عرض الخصومات وما تعرض له السيوطي من قدح وهجوم وما تناول به خصومه من قدح. وما قمت به من استجلاء للحقائق أن أعرض لخلقه وشخصيته نظرا لأن الخلق العلمي والأمانة إنما هما جزء لا يتجزأ من سلوك المرء العام في حياته العملية، وقد عرضت من الحوادث التي مرت به ومن أقواله وأفعاله ما يعين على وصف شخصه وخلقه وصفا دقيقا، ومن هنا خلصت إلى ما أريده من بحث منهجه في التفكير وتحديد أصول هذا المنهج معتمدا على ما سبق أن قدمته، وقد اقتضى بحث أصول منهجه في التفكير أن أتناول ثقافته، ولما كان السيوطي عالما متعدد الجوانب فقد لاحظت أن بعض العلوم قد استحوذ على الجانب الأكبر من اهتمامه وترك بذلك أثرا واضحا في عقله وفكره ومنهجه، ورأيت أن أعرض لصلة السيوطي بعلوم ثلاثة تركت أبلغ الأثر في نفسه ومنهجه، وهي الحديث لما له من أثر في طبع منهجه بالطابع النقلي وحرصه على الأمانة وشدة تحرجه في سائر دراساته، والتصوف الذي سلك فيه مسلكا علميا وعمليا لأنه يفسر لنا تساهل السيوطي في جانب كبير من المرويات التي يقبلها ولا يتعرض لها بالنقد، ثم الفقه لما يطبع به صاحبه من اتصال بالحياة وتعرف على مشكلاتها ودراسة للنص من جميع الوجوه في سبيل الاستنباط والنظر في
আর তাই আমি এই বিষয়ের শেষে তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে আলোচনা করেছি, যা তাঁর অতিক্রান্ত এই পর্যায়গুলোর সমাপ্তি হিসেবে বিবেচিত। এরপর আমি কিছু বিষয়ের ওপর আলোকপাত করতে চেয়েছি, ফলে সমাজে তাঁর অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছি। তাঁর জীবনের পর্যায়সমূহ উপস্থাপন এবং মৃত্যু নিয়ে আলোচনার পরেই আমি এই বিষয়টি রেখেছি; কারণ তখন আমি এমন একটি অভিজ্ঞতা নিয়ে গবেষণা করছি যা সমাপ্ত ও পূর্ণতা লাভ করেছে। ফলে জীবনের সেই সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির সাহায্যে এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিচার-বিশ্লেষণ করা স্পষ্ট ও সহজতর হয়েছে। আমি আমার আলোচনায় তাঁর সামাজিক মর্যাদা, সমাজের সাথে তাঁর সম্পর্ক এবং তিনি যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য ঘটনাবলির সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং সমাজে তাঁর প্রভাব বর্ণনা করেছি।

এই দিকটি বর্ণনা করার পর আমার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছিল সুয়ুতির সেই শত্রুতা ও বিরোধসমূহ নিয়ে আলোচনা করা, যার তিনি সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং সমাজে তাঁর উচ্চ অবস্থান ও একটি মর্যাদাপূর্ণ স্তরে অধিষ্ঠিত হওয়ার কারণেই যা তাঁর ওপর আপতিত হয়েছিল। আমি এমন কিছু বাচনিক নমুনা পেশ করেছি যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বিরোধীদের আক্রমণ করেছেন, আবার তাঁর ওপর তাদের আক্রমণের নমুনাও তুলে ধরেছি। আমি এই বিরোধগুলোর প্রকৃতি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি এবং এ বিষয়ে ইনসাফপূর্ণ বক্তব্য তালাশ করেছি, সেই সাথে এই শত্রুতাগুলোর ক্ষেত্র ছিল এমন প্রধান বিষয়গুলোও চিহ্নিত করেছি। বিরোধসমূহ এবং সুয়ুতির প্রতি যে নিন্দা ও আক্রমণ করা হয়েছে, আর তিনি তাঁর বিরোধীদের প্রতি যে নিন্দা করেছেন—তা উপস্থাপনের পর এবং সত্য উদঘাটনের পর আমার জন্য আবশ্যক ছিল তাঁর চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব তুলে ধরা। কারণ জ্ঞানতাত্ত্বিক নৈতিকতা ও আমানতদারি মূলত মানুষের কর্মজীবনের সামগ্রিক আচরণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি তাঁর জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি এবং তাঁর কথা ও কাজ থেকে এমন কিছু বিষয় পেশ করেছি যা তাঁর ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রকে নিখুঁতভাবে বর্ণনা করতে সহায়ক হবে। এখান থেকেই আমি আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে উপনীত হয়েছি, যা হলো তাঁর চিন্তাপদ্ধতি ও এই পদ্ধতির মূলনীতিসমূহ নির্ধারণ করা, যা আমি ইতিপূর্বে যা পেশ করেছি তার ওপর ভিত্তি করে। তাঁর চিন্তাপদ্ধতির মূলনীতি নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনে তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনার আবশ্যকতা দেখা দেয়। যেহেতু সুয়ুতি ছিলেন একজন বহুমুখী পণ্ডিত, তাই আমি লক্ষ্য করেছি যে কিছু নির্দিষ্ট শাস্ত্র তাঁর মনোযোগের বড় অংশ দখল করে নিয়েছিল এবং তাঁর মেধা, চিন্তা ও পদ্ধতির ওপর একটি স্পষ্ট ছাপ রেখে গেছে। আমি সুয়ুতির এমন তিনটি শাস্ত্রের সাথে সম্পর্কের কথা তুলে ধরার প্রয়োজন মনে করেছি যা তাঁর সত্তা ও পদ্ধতির ওপর সুগভীর প্রভাব ফেলেছে। সেগুলো হলো: হাদিস শাস্ত্র, কারণ তাঁর পদ্ধতিকে বর্ণনাভিত্তিক রূপ দিতে এবং তাঁর আমানতদারির প্রতি গভীর আগ্রহ ও অন্যান্য গবেষণায় চরম সতর্কতা অবলম্বনের ক্ষেত্রে এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এরপর তাসাউফ, যেখানে তিনি তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় পথ অনুসরণ করেছেন; কারণ এটি আমাদের নিকট সুয়ুতির সেই শিথিলতাকে ব্যাখ্যা করে যা তিনি বর্ণনাসমূহের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে প্রদর্শন করেছেন, যেখানে তিনি সেগুলো গ্রহণ করেছেন কিন্তু সমালোচনার সম্মুখীন করেননি। অতঃপর ফিকহ শাস্ত্র, কারণ এটি এর অধিকারীকে জীবনের সাথে সম্পৃক্ত করে, জীবনের সমস্যাগুলো চিনতে শেখায় এবং মাসআলা উদ্ভাবন ও পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে যাবতীয় দিক থেকে মূল পাঠ (নস) অধ্যয়ন করতে উদ্বুদ্ধ করে।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ١٠)
النقول نظرة عقلية واعية، ورأيت أن أختتم صلة السيوطي بهذه العلوم التي أثرت في فكره بالحديث من صلته بالأدب لما له من صلة ببيان أسلوبه التعبيري وذوقه، ولما يعكسه من تأثره بالعصر الذي يعيش فيه، ثم عرضت لصلته بالشعر وقد ابتغيت من ذلك أن أتناول موضوعا يهم البحث وهو المنظومات العلمية التي نظمها السيوطي في جميع الفنون التي تناولها بالتصنيف، ومنها منظومات لغوية ونحوية كثيرة وقد أشرت إلى بعض هذه المنظومات، ولقد دهشت من كثرة هذه المنظومات ومن قوة عارضي الرجل وقدرته العارمة على نظم أدق المسائل وأكثرها جفافا.

وكان أمامي بعد ذلك الحديث عن آثاره، ورأيت أن أعرض لها بصفة عامة، وقد أبديت خلال هذا العرض الملاحظات التي لاحظتها من حيث عددها والمدة التي كان يستغرقها المؤلف، وأوقات صدورها عنه، ومن ناحية أحجامها ووثاقة نسبتها إليه، ولما كان حصر هذه المصنفات من الكثرة بمكان وقد اختلفت في تقديرها المصادر القديمة والحديثة فقد قمت بتصنيف هذه الآثار وترتيبها، ورأيت أن أجعل هذه القائمة في آخر البحث حيث إن كثيرا منها قد اعتمدت عليه وقد نبهت على ما رجعت إليه وما كتبته ولم أتمكن من الوقوف عليه، وقد تجنبت بذلك التكرار في سرد هذه الآثار.

وقد نتج عما قمت به أن استطال البحث بالباب الأول بالرغم من أن قصدي كان الايجاز أكثر من هذا، ولكن ذلك نتج عما سبق بيانه من أهمية دراسة العصر بنواحيه المختلفة وأحداثه لما لها من صلة عميقة وموجهة لحياة السيوطي، كما أنني لم أجد من الدارسين من خص هذه الفترة بدراسة وصل فيها حياة السيوطي بعصره باستثناء دراسة الأستاذ عبد الوهاب حمودة وقد عرضت لكثير من الجوانب التي أغفلها، كما أنني أردت أن أستوضح عقل الرجل وفكره في صنوف إنتاجه المتنوعة، وأن أعرض لحياته وأستجلي بعض جوانب الغموض التي اكتنفتها وأنبه على بعض الأوهام التي وقع فيها المترجمون له، ونظرا لكثرة إنتاج السيوطي وكثرة مؤلفاته فقد استطال الحديث في الباب الأول ولم يكن هناك مندوحة عن ذلك في نظري.
উদ্ধৃতিগুলোর ওপর একটি সচেতন বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আমি সুয়ূতী (রহ.)-এর চিন্তাচেতনাকে প্রভাবিতকারী এই বিজ্ঞানগুলোর সাথে তাঁর সম্পর্কের আলোচনা সমাপ্ত করার সংকল্প করেছি সাহিত্যের সাথে তাঁর সম্পর্কের আলোচনার মাধ্যমে। কারণ এর সাথে তাঁর প্রকাশভঙ্গি ও রুচিবোধের বর্ণনা যুক্ত রয়েছে এবং তিনি যে যুগে বাস করতেন তার প্রভাবও এতে ফুটে ওঠে। এরপর আমি কবিতার সাথে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। এর মাধ্যমে আমি গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা পোষণ করেছি, আর তা হলো সেই সব ইলমি মানজুমা (ছন্দোবদ্ধ গ্রন্থ) যা সুয়ূতী (রহ.) তাঁর শ্রেণীবদ্ধ করা সকল বিষয়ে রচনা করেছেন। এর মধ্যে অসংখ্য ভাষাগত ও ব্যাকরণগত মানজুমা রয়েছে এবং আমি এগুলোর কয়েকটির প্রতি ইঙ্গিত করেছি। আমি এই মানজুমাগুলোর আধিক্য এবং এই ব্যক্তির মেধার প্রখরতা ও অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিরস বিষয়গুলোকে ছন্দোবদ্ধ করার প্রবল সক্ষমতা দেখে বিস্মিত হয়েছি।

এরপর আমার সামনে ছিল তাঁর রচনাবলি সম্পর্কে আলোচনা। আমি সেগুলো সাধারণভাবে উপস্থাপন করা সমীচীন মনে করেছি। এই উপস্থাপনার সময় আমি সেগুলোর সংখ্যা, লেখকের ব্যয় করা সময়, সেগুলো প্রকাশের কাল, সেগুলোর আকার এবং তাঁর সাথে সেগুলোর সম্পৃক্তির নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে আমার পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরেছি। যেহেতু এই গ্রন্থরাজির সংখ্যা অত্যধিক এবং প্রাচীন ও আধুনিক উৎসগুলোতে এর সংখ্যার পরিসংখ্যানে ভিন্নতা রয়েছে, তাই আমি এই রচনাবলিকে শ্রেণিভুক্ত ও বিন্যস্ত করেছি। আমি এই তালিকাটি গবেষণার শেষে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ এর অনেকগুলোর ওপরই আমি নির্ভর করেছি। আমি যেগুলোর শরণাপন্ন হয়েছি এবং যা লিখেছি অথচ বিস্তারিতভাবে আয়ত্ত করতে পারিনি, সে সম্পর্কেও আমি সতর্ক করেছি। এর মাধ্যমে আমি এই রচনাবলির বর্ণনায় পুনরাবৃত্তি এড়িয়ে গেছি।

আমি যা করেছি তার ফলে প্রথম অধ্যায়ের গবেষণা দীর্ঘায়িত হয়েছে, যদিও আমার উদ্দেশ্য ছিল এর চেয়েও সংক্ষিপ্ত করা। কিন্তু পূর্বেই যেমনটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, সমসাময়িক যুগের বিভিন্ন দিক ও ঘটনাবলি পর্যালোচনার গুরুত্বের কারণেই এটি হয়েছে; কারণ সুয়ূতী (রহ.)-এর জীবনের সাথে এর গভীর ও নির্দেশনামূলক সম্পর্ক রয়েছে। অধিকন্তু, আমি এমন কোনো গবেষককে পাইনি যিনি এই বিশেষ সময়কাল নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে সুয়ূতীর জীবনকে তাঁর যুগের সাথে সংযুক্ত করেছেন, কেবল উস্তাদ আব্দুল ওয়াহহাব হামুদার গবেষণাটি ছাড়া। আমি এমন অনেক দিকও উপস্থাপন করেছি যা তিনি এড়িয়ে গেছেন। এছাড়া আমি এই ব্যক্তির বিভিন্নমুখী সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে তাঁর মেধা ও চিন্তাচেতনা স্পষ্ট করতে চেয়েছি এবং তাঁর জীবন সম্পর্কে আলোচনা করে এর সাথে জড়িয়ে থাকা কিছু অস্পষ্ট দিক উন্মোচন করতে চেয়েছি। পাশাপাশি তাঁর জীবনীকারগণ যেসব ভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছেন সে ব্যাপারেও সতর্ক করেছি। সুয়ূতী (রহ.)-এর প্রচুর কর্মতৎপরতা এবং তাঁর অসংখ্য রচনার কারণে প্রথম অধ্যায়ের আলোচনা দীর্ঘ হয়ে গেছে এবং আমার দৃষ্টিতে এর বিকল্প ছিল না।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ١١)
وقد خصصت الباب الثاني لجهوده اللغوية والنحوية، وقد قسمته إلى فصلين أولهما: عنونته بفقه اللغة وعنيت به جميع ما له من دراسات لغوية لا تدخل في المستوى النحوي بمعناه العامّ الذي يشمل الصرف، أي ما يتصل بمستويات الدرس اللغوي الصوتية والمعجمية والدلالية والأبحاث العامّة المتصلة باللغة، والثاني: للنحو، وفي الفصل الذي عقدته لفقه اللغة كان هدفي تحديد دور السيوطي في هذا الميدان وفي تاريخ هذه الدراسات، وكان لزاما أن أقارنه بأسلافه من اللغويين الذي اعتمد عليهم، ومن ثم فقد بدأت باجمال تاريخ الدرس اللغوي وتدرجه قبل السيوطي، وبينت أنواع الدراسات اللغوية التي سبقته وأوضحت أنه لم يظهر في فقه اللغة بمعناه الحديث كتاب قبل كتاب السيوطي «المزهر» أجمع وأوفى منه.

ولما كان للسيوطي عدد من الآثار اللغوية غير المزهر فقد بدأت بدراسة هذه الآثار، وقد آثرت ترتيبها ترتيبا موضوعيا حيث إنني قد وجدت من العسير أن أرتبها ترتيبا تاريخيا دقيقا لأنني وإن تمكنت من معرفة الأوقات التي صرح السيوطي بصدور بعضها فيها فإن هذه المعرفة لا تتيسر في سائرها، كما أن الترتيب الموضوعي يسهل عليّ تناول هذه الآثار بالدراسة دون تكرار ما يمكن تجنبه، وقد عرضت ضمن هذه الآثار اللغوية لبعض مباحث السيوطي اللغوية في كتابه الاتقان، كما أوردت كتابين أحدهما يشرح الأسماء النبوية والآخر يشرح قصيدة كعب بن زهير ليكونا مثالين لشروحه التي توضح مدى إفادته العملية من الدرس اللغوي، كما عرضت لكتاب في علم التاريخ ليكون مثالا لثقافته اللغوية التي تخللت ضروب إنتاجه المتنوعة، وقد بلغ عدد الرسائل والكتب التي سقت الحديث عنها ستة عشر، منها سبعة آثار لم أقف عليها، وقد استطعت بتتبع آثار السيوطي الحديث عن بعضها، وبعضها أمكن لي أن أتكهن بمضمون مبحثه، ولما كان كتاب المزهر أهم هذه الآثار وأكثرها بسطا فقد اقتضى أن يكون الحديث عنه متناسبا مع أهميته، وقد بدأت ببيان أهميته بالنسبة للدرس اللغوي بعامة، وما تميز به عن غيره من الكتب، ثم تناولت منهج السيوطي في مؤلفه من خلال موضوعات ثلاثة: هي مصادر الكتاب، وطريقة صاحبه في النقل والعرض، وكيفية تقسيمه، وقد وجدت من دراستي للكتاب أن أهم ما انفرد به
আমি দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি তাঁর ভাষাতাত্ত্বিক ও ব্যাকরণিক প্রচেষ্টাসমূহের জন্য নির্দিষ্ট করেছি এবং একে দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি। প্রথমটির শিরোনাম দিয়েছি ‘ভাষাতত্ত্ব’ (ফেকহুল লুগাহ) এবং এর দ্বারা আমি তাঁর সেই সকল ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণাকে বুঝিয়েছি যা সাধারণ অর্থে ব্যাকরণিক স্তরের—যা রূপতত্ত্বকেও অন্তর্ভুক্ত করে—অন্তর্ভুক্ত নয়; অর্থাৎ ভাষাতাত্ত্বিক পর্যালোচনার ধ্বনিতাত্ত্বিক, অভিধানতাত্ত্বিক ও অর্থতাত্ত্বিক স্তরের এবং ভাষা সংশ্লিষ্ট সাধারণ গবেষণার সাথে যা যুক্ত। আর দ্বিতীয়টি হলো ব্যাকরণ। ভাষাতত্ত্বের ওপর আমি যে অধ্যায়টি রচনা করেছি, সেখানে আমার লক্ষ্য ছিল এই ময়দানে এবং এসব গবেষণার ইতিহাসে সুয়ূতী-র ভূমিকা নির্ধারণ করা। আর তাঁর পূর্বসূরি যেসব ভাষাতাত্ত্বিকের ওপর তিনি নির্ভর করেছেন, তাঁদের সাথে তাঁর তুলনা করা আবশ্যক ছিল। তাই আমি সুয়ূতী-র পূর্ববর্তী ভাষাতাত্ত্বিক পর্যালোচনার ইতিহাস ও তার ক্রমধারার সারসংক্ষেপ দিয়ে শুরু করেছি। আমি তাঁর পূর্ববর্তী ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার প্রকারভেদগুলো বর্ণনা করেছি এবং এটি স্পষ্ট করেছি যে, আধুনিক অর্থে ভাষাতত্ত্বের ওপর সুয়ূতী-র গ্রন্থ ‘আল-মুযহির’-এর পূর্বে এর চেয়ে অধিক সমৃদ্ধ ও পূর্ণাঙ্গ কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি।

যেহেতু ‘আল-মুযহির’ ছাড়াও সুয়ূতী-র আরও বেশ কিছু ভাষাতাত্ত্বিক কর্ম রয়েছে, তাই আমি সেই কর্মগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে শুরু করেছি। আমি সেগুলোকে বিষয়ভিত্তিক বিন্যাসে সাজানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, কারণ আমার কাছে সেগুলোকে সুক্ষ্ম কালানুক্রমিক বিন্যাসে সাজানো কঠিন মনে হয়েছে। কেননা সুয়ূতী তাঁর কিছু কিতাব রচনার সময় উল্লেখ করলেও অন্যান্য কিতাবের ক্ষেত্রে তা জানা সম্ভব হয়নি। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক বিন্যাস আমার জন্য পরিহারযোগ্য পুনরাবৃত্তি ছাড়াই এই কর্মগুলো নিয়ে আলোচনা করা সহজতর করে দেয়। এই ভাষাতাত্ত্বিক কর্মসমূহের মধ্যে আমি তাঁর ‘আল-ইতকান’ গ্রন্থে উল্লিখিত সুয়ূতী-র কিছু ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা পেশ করেছি। পাশাপাশি আমি দুটি কিতাব উল্লেখ করেছি—যার একটিতে নববী নামসমূহের ব্যাখ্যা এবং অন্যটিতে কা’ব বিন যুহায়েরের কবিতার ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে এই দুটি তাঁর সেই সমস্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থের উদাহরণ হতে পারে যা ভাষাতাত্ত্বিক পর্যালোচনার ব্যবহারিক প্রয়োগ ও ফায়দা ফুটিয়ে তোলে। আমি ইতিহাস শাস্ত্রের একটি কিতাবও পেশ করেছি, যাতে তা তাঁর সেই ভাষাতাত্ত্বিক পাণ্ডিত্যের উদাহরণ হতে পারে যা তাঁর বিচিত্র রচনাবলির পরতে পরতে মিশে আছে। আমি যে সকল রিসালাহ ও কিতাব নিয়ে আলোচনা করেছি তার সংখ্যা ষোলোটিতে পৌঁছেছে, যার মধ্যে সাতটি কর্ম আমি খুঁজে পাইনি। তবে সুয়ূতী-র অন্যান্য রচনার সূত্র ধরে আমি সেগুলোর কয়েকটির ব্যাপারে আলোচনা করতে পেরেছি এবং কোনো কোনোটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে অনুমান করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। যেহেতু ‘আল-মুযহির’ কিতাবটি এসব কর্মের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিস্তৃত, তাই এর আলোচনাটিও এর গুরুত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া আবশ্যক ছিল। আমি সাধারণভাবে ভাষাতাত্ত্বিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব এবং অন্যান্য কিতাব থেকে এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করেছি। এরপর আমি তাঁর এই রচনায় সুয়ূতী-র অনুসৃত পদ্ধতিকে তিনটি বিষয়ের আলোকে আলোচনা করেছি: কিতাবটির উৎসসমূহ, উদ্ধৃতি ও উপস্থাপনায় লেখকের পদ্ধতি এবং এর বিন্যাস পদ্ধতি। এই কিতাবটি অধ্যয়ন করে আমি দেখতে পেয়েছি যে, তিনি যে বিষয়ে অনন্য ছিলেন তা হলো...
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ١٢)
السيوطي وأعانه عليه ثقافته الاسلامية الواسعة بعامة والحديثية بخاصة هو تطبيقه منهج المحدّثين في دراسة اللغة، وقد وضع السيوطي بذلك مهجا لنقد الرواية اللغوية حاول به مضاهاة منهج المحدّثين في نقد الحديث، وهذه محاولة مبتكرة في ميدان اللغة سبق إليها السيوطي محاولا أن يستدرك بعمله نقصا في حقل الدراسة اللغوية، وقد

حاولت أن أستوضح هذه المحاولة مقارنا ما قام به السيوطي بما عرف عند المحدثين من أصول وقواعد ومصطلحات وضعت وتقررت لدراسة الحديث ونقده سندا ومتنا والواقع أن أصول نقد الرواية اللغوية لم تحظ قبل السيوطي ببحث نظري وافر، ولم تكن سوى عرف غير مكتوب تشير إليه مناهج اللغويين العملية وشذرات مقتضبة ومتناثرة في كتب اللغويين وتراجمهم، وللسيوطي فضل إقامة هذه الأصول في إطار نظري منظم واضح المعالم، ونقد الرواية يتمثل في مرحلتين. أولاهما: النقد الخارجي وهي تبحث الرواة والأسانيد، والأخرى تتصل بالنقد الداخلي وقد رأيت أن أنفذ إلى عمل السيوطي من خلال هذا التقسيم فبدأت بالمرحلة الأولى ونظرت في دراسته لرواة اللغة ثم دراسته للأسانيد، ثم تناولت المرحلة الثانية وبحثت فيها ما قام به فيما يتصل بالنقد الداخلي، وقد قارنت صنيعه بصنيع أصحاب أصول الحديث. وكان عليّ بعد ذلك أن أنظر في الموضوعات اللغوية التي ساقها السيوطي في كتابه وأن أحاول التعرف على آرائه تجاه بعض القضايا اللغوية، وفي أحيان غير قليلة كنت أراه يسوق الحديث دون أن يدلي فيه برأي من عنده، وفي أحيان أخرى يقتضب رأيه أو يعلق بتعليقات موجزة، ولكنني كنت أحاول من خلال هذه النقول وطريقة عرضها وموضوعها أن أستوضح وجهة نظره إذا لم أجد له تصريحا بذلك، وقد عرضت لمفهومه للغة وهو يتابع فيه مفهوم ابن جني ومعظم اللغويين العرب، وأردت أن أغطي ما تبقى من مباحث الكتاب لأبين دور السيوطي فيها وآراءه، وقد رأيت أنه من العسير أن أتناول الأنواع التي عرضها في كتابه مفردا كلا منها بالدراسة فذلك ما لا يسمح به المكان فضلا عما به من تكرار لما سبق لي تناوله في بحث آثاره، ولذلك حاولت أن أجمل الحديث بقدر الامكان، ورأيت أن أتناول بقية هذه المباحث تحت ثلاثة أقسام أعرض فيها لمعظم الكتاب، فالقسم الأول للألفاظ وقد عرضت فيه لثلاثة عشر نوعا
আস-সুয়ূতী এবং তাঁকে এ কাজে তাঁর ব্যাপক সাধারণ ইসলামী সংস্কৃতি এবং বিশেষ করে হাদীস শাস্ত্রীয় জ্ঞান সহায়তা করেছে, যা হলো ভাষাতত্ত্বের অধ্যয়নে মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি প্রয়োগ করা। এর মাধ্যমে আস-সুয়ূতী ভাষাতাত্ত্বিক বর্ণনার সমালোচনার একটি পদ্ধতি প্রবর্তন করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি হাদীস সমালোচনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতির অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন। এটি ভাষাতত্ত্বের ময়দানে একটি অভিনব প্রচেষ্টা ছিল যাতে আস-সুয়ূতী তাঁর কাজের মাধ্যমে ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যয়নের ক্ষেত্রে বিরাজমান ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। এবং

আমি এই প্রচেষ্টাকে স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি আস-সুয়ূতী যা করেছেন তার সাথে মুহাদ্দিসগণের নিকট সুপরিচিত সেই সকল উসূল (নীতিমালা), নিয়মাবলি এবং পরিভাষাগুলোর তুলনা করার মাধ্যমে, যা সনদ ও মতনের দিক থেকে হাদীস অধ্যয়ন ও সমালোচনার জন্য নির্ধারিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, আস-সুয়ূতী’র পূর্বে ভাষাতাত্ত্বিক বর্ণনার সমালোচনার মূলনীতিগুলো পর্যাপ্ত তাত্ত্বিক গবেষণার সুযোগ পায়নি। এগুলো ভাষাবিদদের ব্যবহারিক পদ্ধতি এবং তাঁদের রচিত গ্রন্থ ও জীবনীতে বিদ্যমান সংক্ষিপ্ত ও বিক্ষিপ্ত কিছু অংশ দ্বারা নির্দেশিত একটি অলিখিত প্রথা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। একটি সুসংগঠিত এবং সুস্পষ্ট তাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে এই নীতিমালাগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত করার কৃতিত্ব আস-সুয়ূতী’র। বর্ণনার সমালোচনা দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়: প্রথমটি হলো বাহ্যিক সমালোচনা, যা বর্ণনাকারী এবং সনদ নিয়ে আলোচনা করে; আর অন্যটি অভ্যন্তরীণ সমালোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট। আমি এই বিভাজনের মাধ্যমেই আস-সুয়ূতী’র কর্মপদ্ধতি বিশ্লেষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই আমি প্রথম পর্যায় দিয়ে শুরু করেছি এবং ভাষা-বর্ণনাকারীদের বিষয়ে তাঁর অধ্যয়ন ও তারপর সনদ বিষয়ে তাঁর পর্যালোচনার প্রতি দৃষ্টিপাত করেছি। এরপর আমি দ্বিতীয় পর্যায়টি গ্রহণ করেছি এবং সেখানে অভ্যন্তরীণ সমালোচনা সংক্রান্ত তাঁর কার্যাবলি অনুসন্ধান করেছি। আমি তাঁর কর্মপদ্ধতিকে উসূলে হাদীস বিশারদগণের কর্মপদ্ধতির সাথে তুলনা করেছি। এরপর আমার জন্য আবশ্যক ছিল আস-সুয়ূতী তাঁর গ্রন্থে যে সকল ভাষাতাত্ত্বিক বিষয় উপস্থাপন করেছেন সেগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করা এবং কিছু ভাষাতাত্ত্বিক বিষয়ের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিগুলো অনুধাবনের চেষ্টা করা। অনেক ক্ষেত্রেই আমি তাঁকে দেখেছি যে, তিনি নিজের পক্ষ থেকে কোনো মতামত প্রদান না করেই বর্ণনাটি উপস্থাপন করছেন; আবার অন্য সময়ে তিনি অত্যন্ত সংক্ষেপে তাঁর মতামত প্রকাশ করেছেন অথবা সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেছেন। তবে আমি এই উদ্ধৃতিসমূহ, সেগুলোর উপস্থাপনা পদ্ধতি এবং বিষয়ের মাধ্যমে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি যেখানে আমি তাঁর সরাসরি কোনো বক্তব্য পাইনি। আমি ভাষার সংজ্ঞা সম্পর্কে তাঁর ধারণা তুলে ধরেছি, যেখানে তিনি ইবনে জিন্নি এবং অধিকাংশ আরব ভাষাবিদদের ধারণার অনুগামী হয়েছেন। আমি গ্রন্থের অবশিষ্ট পরিচ্ছেদগুলোও অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছি যাতে সেখানে আস-সুয়ূতী’র ভূমিকা ও তাঁর মতামতসমূহ ফুটিয়ে তোলা যায়। আমি উপলব্ধি করেছি যে, তাঁর গ্রন্থে উপস্থাপিত প্রকারগুলোর প্রতিটি পৃথকভাবে অধ্যয়ন করা দুরূহ, কারণ তা যেমন দীর্ঘায়িত হতো তেমনি এতে আমার পূর্ববর্তী গবেষণার পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা ছিল। তাই আমি যথাসম্ভব সংক্ষেপে আলোচনার চেষ্টা করেছি এবং অবশিষ্ট এই পরিচ্ছেদগুলোকে তিনটি ভাগে বিন্যস্ত করা যুক্তিযুক্ত মনে করেছি যার মাধ্যমে গ্রন্থের অধিকাংশ বিষয় উপস্থাপিত হবে। প্রথম ভাগটি হলো শব্দাবলি সংক্রান্ত, যেখানে আমি তেরোটি প্রকার আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ١٣)
ذكر السيوطي أنها تبحث اللغة من حيث ألفاظها، والثاني للدلالة اللغوية أو المعنى وقد جمعت فيه ثلاثة عشر نوعا ذكر أنها تبحث اللغة من حيث المعنى، والثالث يتصل بضبط اللغة وأبنيتها، وقد بينت أن التقسيم الذي وضعه السيوطي لم يكن دقيقا حيث إن بعض المباحث التي وضعها تحت قسم المعاني كان من الأفضل أن توضع في مباحث الألفاظ، ثم رأيت بعد ذلك أنني لم أستوف القضايا اللغوية التي بحثها الكتاب ومن هنا رأيت أن أتناول بعض هذه القضايا محاولا تبين موقف السيوطي منها، فبحثت نشأة اللغة، وقد أخرت البحث في نشأة اللغة إلى هذا المكان على خلاف المعهود لدى الدارسين لأنه في الحقيقة بحث غير عملي بالنسبة للدرس اللغوي الحديث، بل ان بعض القدماء قد تنبه إلى عدم جدوى هذا البحث وقالوا إن ذكر هذه المسألة في الأصول فضول، كما بحثت الوضع اللغوي، وإثبات الأسماء بالقياس، والمعاجم اللغوية، والصلة بين اللفظ والمعنى، وقد قدر اللغويون العرب هذه الصلة وقد وصلت بحوثهم فيها ببحوث المحدثين، والسيوطي من مثبتي هذه الصلة وقد حاول أن يدلل عليها بعدد كبير من الأمثلة.

وفي جميع ما عرضت له حاولت الافادة من الدراسات السابقة التي اعتمد عليها السيوطي، ومن الدراسات الحديثة التي تناولت بعض هذه الموضوعات بيد أنني كنت أقدر أن هدف البحث هو بيان دور السيوطي من هذه الدراسات وموقفه من هذه القضايا لذلك لم أندفع وراء تقصي هذه المباحث وإنما حاولت أن أجعل السيوطي دائما محور الحديث كما هو مقصود البحث.

وفي الفصل الثاني أردت أن أكمل الحديث عن لغوية السيوطي، ورأيت لزاما علي أن أبحث الشق الآخر من البحث اللغوي المتمثل في النحو، ورأيت أن أبدأ ببيان الدور الذي قام به في تاريخ الدرس النحوي فعرضت لآثاره النحوية وقيمتها ومكانها من الدرس النحوي، ولما كان للسيوطي عدد كبير من الآثار النحوية فقد قصدت إلى استقصائها وعرضت بدراسة موجزة ألقيت فيها الضوء على نحو ستة عشر نوعا من هذه الآثار ما بين مطول ومختصر ومنظوم وموشح ومقالة، وسردت بقية الآثار التي ذكرت له ولم أتمكن من الوقوف عليها،
সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন যে, এটি ভাষাকে তার শব্দসমূহের দিক থেকে আলোচনা করে। দ্বিতীয় অংশটি ভাষাগত অর্থ বা তাৎপর্যের জন্য, যেখানে আমি তেরোটি প্রকার বিন্যস্ত করেছি এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে এটি ভাষাকে অর্থের দিক থেকে আলোচনা করে। তৃতীয় অংশটি ভাষার শৃঙ্খলা এবং এর কাঠামোর সাথে সংশ্লিষ্ট। আমি দেখিয়েছি যে সুয়ূতী কর্তৃক নির্ধারিত এই বিভাজনটি পুরোপুরি নির্ভুল ছিল না; কেননা অর্থের অধ্যায়ে তিনি যেসব বিষয় আলোচনা করেছেন, তার কয়েকটি শব্দের অধ্যায়ে স্থান পাওয়া অধিকতর যুক্তিসঙ্গত ছিল। পরবর্তীতে আমি অনুভব করলাম যে, কিতাবটিতে আলোচিত ভাষাতাত্ত্বিক বিষয়গুলো আমি পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থাপন করতে পারিনি, তাই সুয়ূতী এই বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কী অবস্থান গ্রহণ করেছেন তা স্পষ্ট করার লক্ষ্যে আমি কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনার অবতারণা করেছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি ভাষার উদ্ভব সম্পর্কে আলোচনা করেছি। গবেষকদের প্রচলিত রীতির বিপরীতে আমি ভাষার উদ্ভবের আলোচনাটি এই স্থানে পিছিয়ে দিয়েছি, কারণ আধুনিক ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার ক্ষেত্রে এটি প্রকৃতপক্ষে একটি প্রায়োগিক গুরুত্বহীন বিষয়। এমনকি প্রাচীনদের মধ্যে কেউ কেউ এই আলোচনার অসারতা উপলব্ধি করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে, উসূলের (মূলনীতি) আলোচনায় এই প্রসঙ্গের উল্লেখ করা অনর্থক। এছাড়াও আমি ভাষাগত কাঠামো (ওয়াদ'), কিয়াসের (অনুমান) ভিত্তিতে নাম নির্ধারণ, ভাষাতাত্ত্বিক অভিধানসমূহ এবং শব্দ ও অর্থের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি। আরব ভাষাবিদগণ শব্দ ও অর্থের এই গভীর সম্পর্কের মূল্যায়ন করেছিলেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের গবেষণা আধুনিক ভাষাবিদদের গবেষণার মানে উন্নীত হয়েছে। সুয়ূতী এই সম্পর্কের দৃঢ় সমর্থক ছিলেন এবং বিপুল সংখ্যক উদাহরণের মাধ্যমে তিনি তা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন।

আমি যা কিছু উপস্থাপন করেছি, তার সবক্ষেত্রে সুয়ূতী যেসব পূর্ববর্তী গবেষণার ওপর নির্ভর করেছিলেন সেগুলো থেকে এবং এই সকল বিষয়ে রচিত আধুনিক অধ্যয়নসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করেছি। তবে আমার দৃষ্টিতে এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল এসব গবেষণায় সুয়ূতীর ভূমিকা এবং এসব বিষয়ের ওপর তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা। সেই কারণে আমি বিষয়গুলোর বিস্তারিত তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের পেছনে ধাবিত না হয়ে সুয়ূতীকে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রাখতে সচেষ্ট হয়েছি, যেমনটি এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমি সুয়ূতীর ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের আলোচনা সমাপ্ত করতে চেয়েছি। ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার অন্য একটি দিক, যা ব্যাকরণ (নাহু) হিসেবে পরিচিত, তা নিয়ে আলোচনা করা আমি জরুরি মনে করেছি। আমি ব্যাকরণ চর্চার ইতিহাসে তাঁর ভূমিকার আলোচনার মাধ্যমে শুরু করা সমীচীন মনে করেছি। ফলে আমি তাঁর ব্যাকরণ বিষয়ক রচনাবলি, সেগুলোর তাত্ত্বিক গুরুত্ব এবং ব্যাকরণ চর্চার ক্ষেত্রে সেগুলোর অবস্থান বর্ণনা করেছি। সুয়ূতীর যেহেতু ব্যাকরণ বিষয়ে বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার ও অসংখ্য রচনা রয়েছে, তাই আমি সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের প্রয়াস পেয়েছি। একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে আমি তাঁর প্রায় ষোল প্রকারের রচনার ওপর আলোকপাত করেছি, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে বিস্তারিত বর্ণনা, সংক্ষিপ্তসার, পদ্যময় রচনা, আলঙ্কারিক রচনা এবং প্রবন্ধ। এছাড়া তাঁর আরও যেসব রচনার উল্লেখ পাওয়া যায় কিন্তু আমার পক্ষে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি, আমি সেগুলোর একটি তালিকা প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ١٤)
ومعظمها رسائل صغيرة، وما عرضت له ووقفت عليه يمثل معظم جهود السيوطي النحوية.

ثم رأيت بعد ذلك أن أطرق موضوعا يعدّ من مبتكرات السيوطي في الدرس النحوي وهو علم أصول النحو، وقد حاولت بيان الدور الذي قام به السيوطي في سبيل إرساء قواعد هذا العلم فعرضت لتدرج أصول النحو وما كتب فيه قبل السيوطي، ثم عرضت لجهود السيوطي وقارنته بما قام به ابن جني وابن الأنباري، وهما أهم من كتب في الأصول النحوية قبله، وبينت تفرد السيوطي بكثير من المباحث ودوره العظيم الذي قام به والذي يصوره كتابه «الاقتراح» الذي يعدّ أهم كتاب وأجمعه في علم أصول النحو، ولم أنس أن أنتقد صنيع أصوليي النحاة بما فيهم السيوطي، وما شاب أصولهم- في بعض الأحيان- نتيجة لحملها على أصول الفقه.

ثم اختتمت دراسة السيوطي نحويا بحديثي عن مذهبه في النحو، ولما كان السيوطي نحويا مصريا متأخرا، فقد عرضت للمدارس النحوية قبله وللمدرسة المصرية وأهم نحاتها وأهم مميزاتها، ثم بينت منهج السيوطي في النحو، ومثلت ببعض الأمثلة لاختياراته وآرائه الخاصة، وتعليلاته النحوية.

وهذه محاولة قمت بها أرجو أن أكون قد وفقت فيها، والكمال لله وحده، ومنه نستلهم الرشاد والتوفيق.

طاهر سليمان حمورة
এর অধিকাংশ হলো ক্ষুদ্র পুস্তিকা; আর আমি যা উপস্থাপন করেছি এবং যা পর্যালোচনা করেছি তা সুয়ূতীর নাহু বিষয়ক গবেষণার অধিকাংশেরই প্রতিনিধিত্ব করে।

এরপর আমি এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যা নাহু চর্চায় সুয়ূতীর উদ্ভাবনসমূহের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা হয়, আর তা হলো ‘ইলমে উসূলে নাহু’ (নাহুর মূলনীতির জ্ঞান)। সুয়ূতী এই শাস্ত্রের নিয়মাবলি সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে যে ভূমিকা পালন করেছেন তা স্পষ্ট করার প্রয়াস পেয়েছি। এর প্রেক্ষিতে আমি উসূলে নাহুর ক্রমবিকাশ এবং সুয়ূতীর পূর্বে এই বিষয়ে যা কিছু রচিত হয়েছে তা তুলে ধরেছি। অতঃপর আমি সুয়ূতীর প্রচেষ্টাসমূহ উপস্থাপন করেছি এবং সেগুলোকে ইবন জিন্নী ও ইবন আল-আনবারীর কাজের সাথে তুলনা করেছি—যাঁরা তাঁর পূর্বে উসূলে নাহু বিষয়ে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ লেখক ছিলেন। আমি সুয়ূতীর বহু আলোচনার অনন্যতা এবং তাঁর সেই মহান ভূমিকা বর্ণনা করেছি, যা তাঁর ‘আল-ইকতিরাহ’ গ্রন্থে প্রতিফলিত হয়েছে; গ্রন্থটি উসূলে নাহু শাস্ত্রের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সংকলিত কিতাব হিসেবে বিবেচিত। আর আমি সুয়ূতীসহ উসূলবিদ বৈয়াকরণদের কর্মপদ্ধতি এবং তাঁদের মূলনীতিসমূহে—মাঝেমধ্যে—যে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে, যা উসূলে ফিকহের ওপর সেগুলোকে ন্যস্ত করার ফলে সৃষ্টি হয়েছে, তার সমালোচনা করতেও বিমুখ হইনি।

অতঃপর আমি নাহু শাস্ত্রে সুয়ূতীর মাযহাব বা মতাদর্শ আলোচনার মাধ্যমে তাঁর নাহু বিষয়ক অধ্যয়ন সমাপ্ত করেছি। যেহেতু সুয়ূতী পরবর্তী যুগের একজন মিসরীয় বৈয়াকরণ ছিলেন, তাই আমি তাঁর পূর্ববর্তী নাহুর পাঠশালাসমূহ (মাযহাবসমূহ) এবং মিসরীয় পাঠশালা, এর প্রধান বৈয়াকরণবৃন্দ ও এর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর আমি নাহু শাস্ত্রে সুয়ূতীর পদ্ধতি স্পষ্ট করেছি এবং তাঁর নিজস্ব চয়ন, অভিমত ও নাহু বিষয়ক যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যাসমূহের উদাহরণ পেশ করেছি।

এটি আমার একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র, আশা করি আমি এতে সফল হতে পেরেছি। আর পূর্ণতা কেবল আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর নিকট হতেই সঠিক পথ ও তাওফীক প্রার্থনা করি।

তাহের সুলাইমান হামুরা
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌الباب الأول عصر السيوطي وحياته، وآثاره
প্রথম অধ্যায়: সুয়ূতীর যুগ, তাঁর জীবন এবং তাঁর রচনাবলি
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌الفصل الأول

‌‌الحياة السياسية والاجتماعية

لا بد لنا قبل البدء في الحديث عن حياة السيوطي وآثاره أن نتناول بالحديث البيئة التي عاش فيها ونبت بين ربوعها والتي انعكست آثارها ومقوماتها- بلا شك- فيها أنتجه من دراسات متنوعة لغوية كانت أو غير لغوية.

والحديث عن البيئة أعني به إعطاء صورة واضحة لجوانب الحياة المختلفة، فهذه الجوانب مرتبطة متصلة الأمشاج يؤثر بعضها في بعض.

ولئن حاولنا أن نبدأ بأحد هذه الجوانب فإن الأمثل في تصوري أن يكون بالجانب السياسي لهذه البيئة لأنه يمثل الإطار الخارجي لجميع جوانب الحياة الأخرى، وتناول الجانب السياسي يقتضي منا أن نرجع قليلا عبر الزمان لنرى بداية هذا النظام الذي ساد البيئة المصرية وبيئة الشام قرابة ثلاثة قرون من الزمان.

وليست محاولة الرجوع للتعرف على هذه النشأة رغبة في الإطالة فيما قد يبدو بعيد الأثر عن بحث يتناول الجانب اللغوي عند عالم من العلماء ويصب عنايته الجليّ على هذه الناحية، ولكنها في حقيقة الأمر وقفة على حقيقة معينة كانت ذات أثر بالغ في هذا العصر كله، ولا يمكن لمن يتصدى لدراسة أي ناحية فيه أن يغفل هذه الحقيقة.

تلك الحقيقة التي نريد التنبيه إليها هي سقوط بغداد على أيدي التتار الذين اجتاح غزوهم العالم الاسلامي في القرن السابع الهجري، ولقد اتخذت الغزوات المغولية طابعا وحشيا عنيفا يدمر كل ما يجد من حضارات، ويهدم ما يلقى من بناء.
প্রথম অধ্যায়

রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবন

সুয়ূতী-র জীবন ও তাঁর কর্মসমূহ নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগে আমাদের অবশ্যই সেই পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করতে হবে যাতে তিনি বসবাস করেছেন এবং যার আঙিনায় তিনি বেড়ে উঠেছেন। নিসন্দেহে সেই পরিবেশের প্রভাব ও বৈশিষ্ট্যসমূহ তাঁর উৎপাদিত ভাষাতাত্ত্বিক বা অন্যান্য বহুমুখী গবেষণায় প্রতিফলিত হয়েছে।

পরিবেশ সম্পর্কে আলোচনা বলতে আমি জীবনের বিভিন্ন দিকের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরাকে বোঝাচ্ছি, কারণ এই দিকগুলো পরস্পর অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত এবং একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী।

আমরা যদি এই দিকগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটিকে দিয়ে শুরু করার চেষ্টা করি, তবে আমার ধারণায় এই পরিবেশের রাজনৈতিক দিকটি দিয়ে শুরু করাই সর্বোত্তম হবে। কারণ এটি জীবনের অন্যান্য সকল দিকের বাহ্যিক কাঠামোর প্রতিনিধিত্ব করে। আর রাজনৈতিক দিকটি আলোচনার জন্য আমাদের সময়ের প্রবাহে কিছুটা পেছনে ফিরে তাকাতে হবে, যাতে আমরা সেই ব্যবস্থার সূচনা দেখতে পারি যা মিশর ও শামের পরিবেশে প্রায় তিন শতাব্দী ধরে আধিপত্য বিস্তার করেছিল।

এই উৎপত্তির সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য পেছনে ফিরে দেখার এই প্রচেষ্টা কোনো দীর্ঘসূত্রিতার ইচ্ছা থেকে নয়, যা হয়তো কোনো একজন আলেমের ভাষাতাত্ত্বিক দিকের ওপর গবেষণার ক্ষেত্রে আপাতদৃষ্টিতে দূরবর্তী প্রভাব সম্পন্ন মনে হতে পারে এবং যিনি মূলত এই দিকের ওপরই তাঁর প্রখর মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন। বরং এটি প্রকৃতপক্ষে এমন একটি নির্দিষ্ট বাস্তবতাকে উপলব্ধি করার প্রয়াস, যা সমগ্র যুগে গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং এই যুগের কোনো দিক নিয়ে অধ্যয়নে ব্রতী ব্যক্তির পক্ষে এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

যে বাস্তবতার দিকে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই তা হলো তাতারদের হাতে বাগদাদের পতন, যাদের আক্রমণ সপ্তম হিজরি শতাব্দীতে মুসলিম বিশ্বকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল। মোঙ্গল আক্রমণসমূহ একটি পাশবিক ও সহিংস রূপ ধারণ করেছিল, যা যা কিছু সভ্যতা সামনে পেয়েছে তা ধ্বংস করেছে এবং যা কিছু ইমারত সামনে পড়েছে তা ধূলিসাৎ করেছে।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ١٨)
ولقد استطاع التتار قبل وصولهم إلى بغداد أن يقضوا على الدولة الخوارزمية وأن يسيطروا على إيران، وبذلك جاء دور بغداد.

وقد تعرضت بغداد لهجوم التتار في عام 635 هـ وبعث الخليفة بجيش مني بالهزيمة وقتل أكثر جنوده وفر الباقون من وجه المهاجمين «1»، ولم يلبث التتر أن عاودوا هجومهم على بغداد في سنة 656 هـ بقيادة هولاكو الذي استولى على بغداد وقتل الخليفة المستعصم بالله آخر الخلفاء العباسيين ببغداد. «2»

وتفيض المراجع العربية بذكر الفظائع التي ارتكبها المغول بسائر الأقاليم التي تعرضت لغزوهم فقد تعرضت بغداد للتخريب في شتى مرافقها، وجرت الدماء في الطرقات واستمرت إباحة المدينة للغزاة أربعين يوما حتى أمر هولاكو بعدّ القتلى فبلغت الألفي ألف قتيل «3» (أي مليونين من القتلى)، ومهما يكن من أمر هذا العدد ومدى صحته فإنه يعطي صورة لكثرة القتلى وما أقامه المهاجمون من مذابح بشرية.

وهكذا سقطت الخلافة العباسية في بغداد، ولم يكن سقوطها في حقيقة الأمر يعني نهاية حكم العباسيين وحسب بقدر ما كان يعني حدثا خطيرا هز كيان العالم الاسلامي كله، ذلك أن الخلافة الاسلامية التي آل أمرها إلى المستعصم آخر خلفاء بغداد كانت تمثل رمزا دينيا لوحدة المسلمين، على الرغم مما كان عليه هؤلاء الخلفاء من ضعف جعل غيرهم ينفرد بالسلطة الفعلية دونهم، وبالرغم من انقسام الأقاليم الاسلامية إلى دويلات متعددة تخضع لحكام متفرقين متناحرين فيما بينهم على ازدياد النفوذ في كثير من الأحيان.

ولقد شعر المسلمون بمدى الخسارة التي لحقتهم بسقوط بغداد على أيدي التتار الذين دمروا كل ما كان الخلفاء العباسيون قد جمعوه خلال خمسة قرون «4»،

--------------------------------------------

(1) المقريزي: السلوك لمعرفة دول الملوك ج 1 القسم الثاني ص 273.

(2) المقريزي: السلوك ج 1 القسم الثاني ص 409، تاريخ الخلفاء ص 313.

(3) المقريزي: السلوك ج 1 القسم الثاني ص 410.

(4) أبو الفداء: مختصر تاريخ البشر: حوادث عام 656 هـ، ج 3 ص 202.
তাতাররা বাগদাদে পৌঁছানোর পূর্বেই খাওয়ারিজমীয় সাম্রাজ্য নির্মূল করতে এবং ইরান দখল করতে সক্ষম হয়েছিল, আর এর মাধ্যমেই বাগদাদের পালা আসে।

৬৩৫ হিজরি সনে বাগদাদ তাতারদের আক্রমণের শিকার হয় এবং খলিফা একটি বাহিনী প্রেরণ করেন যা পরাজয় বরণ করে এবং এর অধিকাংশ সৈন্য নিহত হয়, আর অবশিষ্টরা আক্রমণকারীদের সামনে থেকে পালিয়ে যায় «১»। এরপর তাতাররা হলাকু খানের নেতৃত্বে ৬৫৬ হিজরি সনে বাগদাদে পুনরায় আক্রমণ করতে দেরি করেনি, যে বাগদাদ দখল করে এবং বাগদাদে আব্বাসীয়দের শেষ খলিফা মুসতাসিম বিল্লাহকে হত্যা করে। «২»

আরবি উৎসগুলো মঙ্গোলরা তাদের আক্রমণের শিকার হওয়া সমস্ত অঞ্চলে যে ভয়াবহ নৃশংসতা চালিয়েছিল তার বিবরণে ভরপুর; বাগদাদ তার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছিল, রাস্তায় রক্তের স্রোত বয়ে গিয়েছিল এবং আক্রমণকারীদের জন্য শহরটি চল্লিশ দিন যাবৎ লুণ্ঠনের জন্য উন্মুক্ত ছিল, যতক্ষণ না হলাকু নিহতদের গণনার নির্দেশ দেন, ফলে নিহতের সংখ্যা বিশ লাখে (অর্থাৎ দুই মিলিয়ন) পৌঁছায় «৩»। এই সংখ্যা এবং এর সঠিকতার মাত্রা যা-ই হোক না কেন, এটি নিহতের বিশাল সংখ্যা এবং আক্রমণকারীরা যে মানব গণহত্যা চালিয়েছিল তার একটি চিত্র তুলে ধরে।

এভাবেই বাগদাদে আব্বাসীয় খিলাফতের পতন ঘটে, এবং এর পতন প্রকৃতপক্ষে কেবল আব্বাসীয় শাসনের সমাপ্তিই ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ভয়াবহ ঘটনা যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের অস্তিত্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কারণ, ইসলামী খিলাফত—যার কর্তৃত্ব বাগদাদের শেষ খলিফা মুসতাসিমের হাতে গিয়ে পৌঁছেছিল—তা ছিল মুসলমানদের ঐক্যের একটি ধর্মীয় প্রতীক, যদিও এই খলিফারা এমন দুর্বল অবস্থায় ছিলেন যার ফলে অন্যরা তাঁদের পরিবর্তে প্রকৃত ক্ষমতা ভোগ করত, এবং যদিও ইসলামী অঞ্চলগুলো একাধিক ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল যা বিভিন্ন শাসকের অধীনে ছিল এবং তারা প্রায়শই প্রভাব বিস্তারের জন্য পরস্পরের সাথে বিবাদে লিপ্ত থাকত।

তাতারদের হাতে বাগদাদের পতনের ফলে মুসলমানরা তাদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা গভীরভাবে অনুভব করেছিল, যারা আব্বাসীয় খলিফারা পাঁচ শতাব্দী ধরে যা কিছু সংগ্রহ করেছিলেন তার সবকিছুই ধ্বংস করে দিয়েছিল «৪»,

--------------------------------------------

(১) মাকরিজি: আস-সুলুক লি-মা'রিফাতি দুওয়ালিল মুলুক, ১ম খণ্ড, ২য় অংশ, পৃষ্ঠা ২৭৩।

(২) মাকরিজি: আস-সুলুক, ১ম খণ্ড, ২য় অংশ, পৃষ্ঠা ৪০৯, তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা ৩১৩।

(৩) মাকরিজি: আস-সুলুক, ১ম খণ্ড, ২য় অংশ, পৃষ্ঠা ৪১০।

(৪) আবুল ফিদা: মুখতাসার তারিখিল বাশার: ৬৫৬ হিজরির ঘটনাবলি, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০২।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ١٩)
ولم يقف الغزو المغولي عند هذا الحد بل تعداه إلى بلاد الشام حيث أخذت مدن الشام تتساقط في أيديهم ويحدث بها من الفظائع والتخريب وسفك الدماء مثلما حدث ببغداد «1».

ولقد كانت هذه الغزوات تسبق بموجات من الفزع تعتري سكان البلاد مثلما حدث بدمشق بعد سقوط حلب حيث ارتحل أغلب سكانها، وارتحل كثيرون من غيرها إلى مصر، وتفيض الكتب العربية بوصف المآسي التي حدثت للناس في هذه الظروف السيئة «2».

ووصل الغزو المغولي إلى غزة وجاء دور مصر التي كان يحكمها المماليك الذين استطاعوا أن يستأثروا بالسلطة دون البيت الأيوبي، وفي هذه الظروف الحرجة استطاع سيف الدين قطز أن يتملك زمام الأمور وأن ينحي سلفه مستندا إلى أن المسلمين في حاجة إلى زعيم قوي يوحد صفوفهم ضد الغزو المغولي «3»، الذي كان يهدد المسلمين فضلا عن مساندته للصليبيين وتقويته جانبهم «4».

وحضر رسل هولاكو يطلبون من السلطان التسليم بكتاب يتهددون فيه ويتوعدون ويطلبون إليه تسليم مصر لهم «5»، وكان أن قبض السلطان على الرسل وقتلهم وأبدى كثيرا من الشجاعة ورباطة الجأش في جمع الصفوف والدعوة إلى الجهاد على الرغم مما كان يحاوله بعض الأمراء من النكوص عن الجهاد والتخاذل «6».

ولم يكن ثمة مناص من حدوث الصدام المسلح بين التتار والمماليك، وقد أظهر الأخيرون تماسكا في وجه عدوهم وتناسوا في تلك المرحلة الحرجة ما كان بينهم من خلافات، وبدءوا في الزحف لملاقاة عدوهم حتى انتهى بهم المسير إلى

--------------------------------------------

(1) المقريزي: السلوك ج 1 القسم الثاني ص 418، 419.

(2) المصدر السابق، ص 415، 416، السيوطي: تاريخ الخلفاء ص 314 - 315.

(3) المقريزي: السلوك ج 1 ص 418، ابو المحاسن: النجوم الزاهرة ج 7 ص 55.

(4) السلوك: ص 425 وسعيد عاشور: العصر المماليكي ص 29.

(5) نص الكتاب بالسلوك ص 427 - 428.

(6) المصدر السابق ج 1 ص 429.
মঙ্গোল আক্রমণ কেবল এখানেই থেমে থাকেনি, বরং তা শামাঞ্চলের (সিরিয়া) দিকেও প্রসারিত হয়েছিল। সেখানে শামের শহরগুলো একে একে তাদের হাতে পতন হতে থাকে এবং সেখানেও সেই একই ধরণের নৃশংসতা, ধ্বংসযজ্ঞ ও রক্তপাত ঘটানো হয়, যেমনটি বাগদাদে ঘটেছিল «১»।

এই আক্রমণগুলোর আগে দেশের অধিবাসীদের মাঝে এক আতঙ্কের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ত; যেমনটি ঘটেছিল হালব (আলেপ্পো) পতনের পর দামেস্কে, যেখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিল। অন্যান্য শহর থেকেও অনেকে মিশরের দিকে হিজরত করেছিল। আরবি গ্রন্থগুলো এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষের ওপর নেমে আসা ট্র্যাজেডি বা দুর্যোগের বর্ণনায় ভরপুর «২»।

মঙ্গোল আক্রমণ গাজা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল এবং এবার মিশরের পালা আসল। তখন মিশর শাসন করছিল মামলুকরা, যারা আইয়ুবী রাজবংশকে সরিয়ে নিজেরা ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সক্ষম হয়েছিল। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সাইফউদ্দীন কুতুজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার লাগাম হাতে নিতে এবং তার পূর্বসূরিকে অপসারণ করতে সক্ষম হন। তিনি এই যুক্তিতে তা করেছিলেন যে, মঙ্গোল আক্রমণের বিরুদ্ধে মুসলমানদের কাতারগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য একজন শক্তিশালী নেতার প্রয়োজন «৩», যে আক্রমণ মুসলমানদের জন্য হুমকি হওয়ার পাশাপাশি ক্রুসেডারদের সমর্থন ও তাদের শক্তি বৃদ্ধি করছিল «৪»।

হালাকু খানের দূতরা সুলতানের কাছে আত্মসমর্পণ দাবি করে একটি পত্র নিয়ে হাজির হয়, যাতে তারা ভয় প্রদর্শন ও হুমকি দিয়েছিল এবং তাদের কাছে মিশর হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছিল «৫»। সুলতান সেই দূতদের আটক করে হত্যা করেন এবং কাতারগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে ও জিহাদের আহ্বান জানাতে অপরিসীম সাহস ও স্থিরচিত্ততার পরিচয় দেন, যদিও কিছু আমির জিহাদ থেকে পিছিয়ে পড়ার এবং কাপুরুষতা প্রদর্শনের চেষ্টা করছিল «৬»।

তাতার ও মামলুকদের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ হওয়া তখন অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। মামলুকরা তাদের শত্রুর মোকাবিলায় দৃঢ় সংহতি প্রদর্শন করেন এবং সেই সংকটময় মুহূর্তে নিজেদের মধ্যকার যাবতীয় মতপার্থক্য ভুলে যান। তারা শত্রুর সাথে মোকাবিলা করার জন্য অগ্রসর হতে শুরু করেন, যতক্ষণ না তাদের যাত্রাপথ গিয়ে শেষ হয়...

--------------------------------------------

(১) আল-মাকরিজি: আস-সুলুক, ১ম খণ্ড, ২য় অংশ, পৃষ্ঠা ৪১৮, ৪১৯।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৪১৫, ৪১৬; আস-সুয়ুতি: তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা ৩১৪ - ৩১৫।

(৩) আল-মাকরিজি: আস-সুলুক, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৮; আবু আল-মাহাসিন: আন-নুজুমুজ জাহেরা, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৫।

(৪) আস-সুলুক: পৃষ্ঠা ৪২৫ এবং সাঈদ আশুর: আল-আসরুল মামলুকি, পৃষ্ঠা ২৯।

(৫) আস-সুলুক গ্রন্থে চিঠির মূল পাঠ, পৃষ্ঠা ৪২৭ - ৪২৮।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪২৯।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
عين جالوت بين بيسان ونابلس حيث حدثت الموقعة التي تعد من أهم معارك المسلمين في تاريخهم بوجه عام، وقد استطاع المسلمون بقيادة السلطان قطز، وبحسن بلاء بيبرس أن يحرزوا انتصارا ساحقا على عدوهم وأن يتابعوا عدوهم قتلا وأسرا ويلحقوا به هزيمة ثانية قاضية عند بيسان. «1»

وقد يبدو أنني قد فصلت إلى حد ما القول في معركة عين جالوت بالرغم من بعدها نسبيا عن العصر الذي نود لو نرسم صورة واضحة لمعالمه ولكن حقيقة الأمور تستدعي أن نلقي الضوء على هذا الحدث لما كان له من أثر في العصر المملوكي بصفة عامة، فلقد ترتب على هذه الموقعة آثار خطيرة منها أن المماليك قد بسطوا نفوذهم على مصر والشام كما أنهم بفضل هذا الانتصار أكسبوا حكمهم صفة الشرعية التي كانوا يفتقرون إليها في نظر الشعب لأنهم مغتصبون للبيت الأيوبي من جهة، وأنهم من أصل غير حر من جهة أخرى، ولقد كانت النقطة الأخيرة سببا في ثورة الأعراب عليهم قبل هذه الموقعة بقليل «2».

وإذا كان أثر هذه المعركة هو استتباب الأمر للمماليك حكاما للبلاد فإن لها آثارا أخرى سياسية وحضارية في البيئة المصرية بوجه عام وفي القاهرة بوجه خاص.

وإذا كانت القاهرة هي المدينة التي نشأ فيها السيوطي وتلقى علمه وتأثر بها وأثر فيها، فإن هذه المدينة قد اكتسبت كثيرا من المميزات على أثر هذا الانتصار، وظلت تتمتع بهذه المميزات طيلة عصر المماليك، فقد احتفظت القاهرة بما لها من حضارة وحيوية حيث لم تمتد إليها معاول التدمير المغولي التي شملت غيرها من مدن الشرق الاسلامي، وأصبحت ملجأ وملاذا للعلماء والمفكرين وسائر الناس الفارين من وجه الغزاة، وبحكم الحالة السياسية فقد أصبحت مصر والشام دولة واحدة قوية تعقد عليها آمال المسلمين في الشرق

--------------------------------------------

(1) نفس المصدر ج 1 ص 431، أبو المحاسن: النجوم الزاهرة ج 7 ص 79، السيوطي: تاريخ الخلفاء ص 316.

(2) المقريزي: السلوك ج 1 ص 386 - 388.
আইন জালুত বায়সান ও নাবলুসের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত, যেখানে এমন এক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল যা সাধারণভাবে মুসলমানদের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ হিসেবে গণ্য হয়। সুলতান কুতুজের নেতৃত্বে এবং বাইবারসের চমৎকার বীরত্বপূর্ণ অবদানের মাধ্যমে মুসলমানরা তাদের শত্রুদের ওপর এক বিধ্বংসী বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল এবং তারা পলায়নপর শত্রুদের হত্যা ও বন্দী করার মাধ্যমে অনুসরণ অব্যাহত রেখেছিল এবং বায়সানের নিকট তাদেরকে দ্বিতীয়বারের মতো চূড়ান্তভাবে পরাজিত করেছিল। «১»

হয়তো মনে হতে পারে যে, আমি আইন জালুতের যুদ্ধের বিষয়ে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করেছি, যদিও আমরা যে যুগের বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি পরিষ্কার চিত্র অঙ্কন করতে চাই, সেই যুগ থেকে এটি তুলনামূলকভাবে কিছুটা দূরবর্তী। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, এই ঘটনার ওপর আলোকপাত করা প্রয়োজন, কারণ সাধারণভাবে মামলুক যুগে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল। প্রকৃতপক্ষে এই যুদ্ধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফলাফল অর্জিত হয়েছিল, যার মধ্যে একটি হলো—মামলুকরা মিশর ও শামের ওপর তাদের প্রভাব বিস্তার করেছিল। এছাড়াও এই বিজয়ের বদৌলতে তারা তাদের শাসনের প্রতি সেই বৈধতা অর্জন করেছিল, জনগণের দৃষ্টিতে যার অভাব ছিল; কারণ তারা একদিকে ছিল আইয়ুবী রাজবংশের ক্ষমতা জবরদখলকারী এবং অন্যদিকে তারা স্বাধীন বংশোদ্ভূত ছিল না। এই শেষোক্ত বিষয়টি এই যুদ্ধের কিছুকাল আগে তাদের বিরুদ্ধে আরব বেদুইনদের বিদ্রোহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। «২»

যদি এই যুদ্ধের প্রভাব হিসেবে দেশের শাসক হিসেবে মামলুকদের শাসনব্যবস্থা সুসংহত হয়ে থাকে, তবে সাধারণভাবে মিশরের পরিবেশে এবং বিশেষভাবে কায়রোতে এর আরও অনেক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব রয়েছে।

যদি কায়রো সেই শহর হয়ে থাকে যেখানে সুয়ূতী লালিত-পালিত হয়েছেন, শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং যা দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছেন ও তাতে নিজের প্রভাব রেখেছেন, তবে এই শহরটি উক্ত বিজয়ের ফলে অনেক বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছিল এবং সমগ্র মামলুক যুগ জুড়ে সেই বৈশিষ্ট্যসমূহ ভোগ করে আসছিল। কায়রো তার সভ্যতা ও প্রাণচাঞ্চল্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল, কারণ মোঙ্গলদের ধ্বংসযজ্ঞের কুড়াল এখানে পৌঁছাতে পারেনি, যা ইসলামী প্রাচ্যের অন্যান্য শহরগুলোকে গ্রাস করেছিল। এটি আক্রমণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে আসা বিজ্ঞানী, চিন্তাবিদ এবং সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল ও নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছিল। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মিশর ও শাম একটি শক্তিশালী একক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল, যাকে ঘিরে প্রাচ্যের মুসলমানদের আশা-আকাঙ্ক্ষা দানা বেঁধেছিল।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস, ১ম খণ্ড, ৪৩১ পৃষ্ঠা; আবুল মাহাসিন: আন-নুজুমুজ জাহিরাহ, ৭ম খণ্ড, ৭৯ পৃষ্ঠা; সুয়ূতী: তারিখুল খুলাফা, ৩১৬ পৃষ্ঠা।

(২) মাকরিযী: আস-সুলুক, ১ম খণ্ড, ৩৮৬ - ৩৮৮ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٢١)
والغرب حيث لم يكن للمسلمين دولة ذات شوكة غيرها، فالعراق في الشرق تحت حوزة المغول وكذلك سائر الممالك الاسلامية الشرقية، والأندلس في الغرب تعاني من التفكك وتلفظ أنفاسها الأخيرة، وهكذا فإن الثقل السياسي والحضاري للمسلمين بصفة عامة قد انتقل إلى القاهرة حيث عاصمة البلاد القادرة على حماية المسلمين.

وحلت القاهرة محل بغداد في كل شيء وأصبحت وارثة لها في تركتها سياسيا وحضاريا وثقافيا، وإكمالا لهذه الصورة فلقد انتقلت الخلافة العباسية كذلك من بغداد إلى القاهرة، وحرص المسلمين على الخلافة التي تمثل وحدتهم جميعا يتضح من حديثهم عن سقوط خلافة بغداد وكيف «أقامت الدنيا بلا خليفة ثلاث سنين ونصف سنة» «1» حتى تولى الخلافة أحد أبناء الخلفاء السابقين ببغداد حيث قصد إلى القاهرة وتلقاه سلطانها الظاهر بيبرس واستقبله العلماء والجند وسائر طوائف الشعب أروع استقبال فرحا بإحياء الخلافة «2». وهكذا انتقلت الخلافة الإسلامية التي كانت في هذا الحين رمزا دينيا سياسيا وحسب إلى القاهرة منذ عهد بيبرس سنة 659 هـ وأصبح أحد مناصب الدولة الرئيسية، وظل الحال على ذلك حتى آخر هذا العصر إلى حين قدوم السلطان سليم العثماني في سنة 923 هـ. وإذا كان الخليفة في العصور الإسلامية المبكرة هو صاحب السلطة الحقيقة في تدبير شئون البلاد التي تتبعه وتولية ولاة الأقاليم وعزلهم وتسيير الجيوش والغزوات فإن ضعف الخلفاء في بغداد أواخر عهدهم قد أفقدهم هذه السلطة كما أن الخلافة الجديدة بمصر لم تكن لديها هذه القوة، وعلى الرغم من ذلك فإن هذه الحقوق كانت لا تزال مكفولة للخلفاء من الناحية الشكلية النظرية، فالخليفة هو الذي يولي السلطان ولا يكون تولي السلطان شرعيا إلا باقرار الخليفة.

وقد روعي ذلك منذ تولي أول خليفة فبعد مبايعة السلطان والعلماء والأمراء للخليفة قام هو بدوره فألبس «السلطان بيده خلعة سوداء وعمامة سوداء وطوقا

--------------------------------------------

(1) السيوطي: حسن المحاضرة ج 2 ص 57.

(2) السلوك: ج 1 ص 499، حسن المحاضرة ج 2 ص 58، تاريخ الخلفاء ص 317.
এবং পশ্চিম (অঞ্চল) যেখানে মুসলমানদের জন্য এটি ছাড়া অন্য কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্র ছিল না; কারণ পূর্বে ইরাক মঙ্গোলদের অধীনে ছিল এবং অন্যান্য পূর্বদিকের ইসলামি রাজ্যগুলোও একই অবস্থায় ছিল। অন্যদিকে পশ্চিমে আন্দালুস তখন বিচ্ছিন্নতার শিকার এবং তা নিজের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছিল। এভাবে মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু সাধারণত কায়রোতে স্থানান্তরিত হয়েছিল, যা ছিল মুসলমানদের রক্ষা করতে সক্ষম দেশের রাজধানী।

সব কিছুতেই কায়রো বাগদাদের স্থলাভিষিক্ত হলো এবং রাজনৈতিক, নাগরিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দিক থেকে এর উত্তরসূরি হয়ে উঠল। এই চিত্র পূর্ণ করতে আব্বাসীয় খিলাফতও বাগদাদ থেকে কায়রোতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। মুসলমানদের ঐক্যের প্রতীক খিলাফতের প্রতি তাদের যে গভীর অনুরাগ ছিল, তা বাগদাদের খিলাফতের পতন এবং কীভাবে «পৃথিবী সাড়ে তিন বছর খলিফাহীন অবস্থায় ছিল» «১» সে সম্পর্কে তাদের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়। অবশেষে বাগদাদের পূর্ববর্তী জনৈক খলিফার এক বংশধর খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তিনি কায়রো অভিমুখে যাত্রা করেন। সেখানে সুলতান জহির বা এবার্স তাকে গ্রহণ করেন এবং খিলাফত পুনরুজ্জীবিত হওয়ার আনন্দে আলেম সমাজ, সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণ তাকে এক চমৎকার সংবর্ধনা প্রদান করেন «২»। এভাবে ইসলামি খিলাফত—যা সেই সময়ে নিছক একটি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রতীক ছিল—৬৫৯ হিজরি থেকে বা এবার্সের আমল থেকে কায়রোতে স্থানান্তরিত হয় এবং এটি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান পদে পরিণত হয়। ৯২৩ হিজরিতে উসমানীয় সুলতান সেলিমের আগমন পর্যন্ত এই অবস্থা বলবৎ ছিল। ইসলামি ইতিহাসের প্রাথমিক যুগে খলিফা যদি তার অধীনস্থ অঞ্চলের বিষয়াদি পরিচালনা, গভর্নরদের নিয়োগ ও অপসারণ এবং সেনাবাহিনী ও অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে থাকেন, তবে বাগদাদের খলিফাদের দুর্বলতা তাদের শাসনকালের শেষ দিকে তাদের সেই ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। একইভাবে মিশরের নতুন খিলাফতেরও সেই শক্তি ছিল না। তা সত্ত্বেও তাত্ত্বিক ও বাহ্যিক দিক থেকে এই অধিকারগুলো খলিফাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। কেননা খলিফাই সুলতানকে নিয়োগ দিতেন এবং খলিফার স্বীকৃতি ছাড়া সুলতানের শাসন বৈধ বলে গণ্য হতো না।

প্রথম খলিফার দায়িত্ব গ্রহণের সময় থেকেই এই প্রথাটি অনুসৃত হয়েছিল। সুলতান, আলেমগণ ও আমিরগণ খলিফার হাতে বায়াত গ্রহণের পর, খলিফা নিজ হাতে «সুলতানকে একটি কালো সম্মানসূচক পোশাক, একটি কালো পাগড়ি ও একটি কণ্ঠহার পরিয়ে দেন...

--------------------------------------------

(১) আস-সুয়ূতী: হুসনুল মুহাদারা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৭।

(২) আস-সুলূক: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৯৯; হুসনুল মুহাদারা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৮; তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা ৩১৭।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
في عنقه من ذهب وقيدا من ذهب في رجليه، وفوض إليه الأمور في البلاد الاسلامية، وما سيفتحه من بلاد الكفر وسماه بقسيم أمير المؤمنين» «1»، وظل هذا التقليد ساريا منذ تولي الظاهر بيبرس وحتى آخر سلاطين المماليك وهو السلطان الغوري. «2»

وهكذا استقرت الخلافة الاسلامية بالقاهرة بالاضافة إلى ما تمتعت به البلاد من قوة سياسية وعسكرية وكان ذلك يعني ما أشرنا إليه من ازدهارها واتجاه المسلمين إليها وهو ما أدركه المؤرخون السابقون المعاصرون لهذه الأحداث الذين ذكروا «أن مصر حين صارت دار الخلافة عظم أمرها وكثرت شعائر الاسلام فيها، وعلت فيها السنة، وعفت منها البدعة وصارت محل سكن العلماء، ومحط رحال الفضلاء» «3».

وإذ كنا قد أوضحنا جانب الخلافة وبداية هذه الدولة فلا يضيرنا هنا أن نشير إلى سلاطينها وخلفائها وأن نتناول توضيح المعالم السياسية لهذه الدولة لا سيما في آخر

عهدها لنخص بالحديث الفترة التي عاصرها السيوطي.

وقد تميز هذا العصر بصفة عامة بالعصبيات بين طوائف المماليك المختلفة والتناحر من أجل الوصول إلى السلطة، وأهم هذه العصبيات ما كان بين طوائف المماليك الترك وطائفة المماليك الجراكسة وما لقيه الأخيرون من اضطهاد في أيام حكم أبناء قلاوون «4». على أن هذا الاضطراب الداخلي قد استمر أيضا بعد تولي برقوق أول المماليك الجراكسة، فقد كان الوصول إلى العرش يتم دائما عن طريق العصبيات وازدياد النفوذ بين أمراء المماليك، ولذلك فإن الفتن السياسية الداخلية لم تنقطع خلال هذه المرحلة «5»، فالأمير القوي الذي يستطيع

--------------------------------------------

(1) السيوطي: حسن المحاضرة ج 2 ص 58.

(2) السيوطي: المصدر السابق ج 2 ص 87.

(3) المصدر السابق: ج 2 ص 86.

(4) سعيد عاشور: العصر المماليكى ص 137 - 145.

(5) عبد الوهاب حمودة: صفحات من تاريخ مصر في عصر السيوطي ص 3 - 4.
তার গলায় একটি স্বর্ণের মালা এবং দুই পায়ে স্বর্ণের বেড়ি পরানো হলো, এবং তাঁর ওপর ইসলামী দেশসমূহের বিষয়াবলি ও কুফর রাষ্ট্রসমূহের মধ্য থেকে তিনি যা যা জয় করবেন তার দায়িত্ব অর্পণ করা হলো, আর তাঁকে 'আমীরুল মু'মিনীন-এর অংশীদার' উপাধি দেওয়া হলো «১»। যাহির বিবারস-এর ক্ষমতা গ্রহণ থেকে শুরু করে মামলুকদের শেষ সুলতান কানসুহ আল-গৌরী পর্যন্ত এই প্রথা প্রচলিত ছিল। «২»

এভাবে কায়রোতে ইসলামী খিলাফত সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, সেই সাথে দেশটি যে রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি উপভোগ করছিল তার সাথে এটি যুক্ত হয়। এর অর্থ দাঁড়ায় সেই সমৃদ্ধি এবং মুসলিমদের এর প্রতি আকৃষ্ট হওয়া—যার প্রতি আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি। সমসাময়িক পূর্ববর্তী ঐতিহাসিকগণ এই ঘটনাগুলো অনুধাবন করেছেন, যাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, «মিশর যখন খিলাফতের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হলো, তখন এর মর্যাদা বৃদ্ধি পেল এবং সেখানে ইসলামের নিদর্শনাদি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেল। সেখানে সুন্নাহ সমুন্নত হলো এবং বিদআত বিলুপ্ত হলো। দেশটি আলেমদের বাসস্থান এবং গুণীজনদের গন্তব্যস্থলে পরিণত হলো» «৩»।

যেহেতু আমরা খিলাফতের দিকটি এবং এই রাষ্ট্রের সূচনালগ্ন স্পষ্ট করেছি, তাই এখানে এর সুলতান ও খলিফাদের কথা উল্লেখ করা এবং এই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট করা আমাদের জন্য অপ্রাসঙ্গিক হবে না, বিশেষ করে এর শেষ যুগে—যাতে আমরা বিশেষভাবে ইমাম সুয়ূতী যে সময়কালটি প্রত্যক্ষ করেছেন তা নিয়ে আলোচনা করতে পারি।

এই যুগটি সাধারণভাবে বিভিন্ন মামলুক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দলাদলি এবং ক্ষমতার লড়াইয়ের দ্বারা চিহ্নিত ছিল। এই দলাদলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল তুর্কি মামলুক এবং সার্কাসীয় মামলুকদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব। শেষোক্ত গোষ্ঠীটি কালাউনের বংশধরদের শাসনামলে ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল «৪»। তবে এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা প্রথম সার্কাসীয় মামলুক সুলতান বারকুকের ক্ষমতা গ্রহণের পরও অব্যাহত ছিল। কারণ সিংহাসন লাভ করার বিষয়টি সর্বদা মামলুক আমীরদের মধ্যে গোষ্ঠীগত প্রভাব ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধির মাধ্যমেই সম্পন্ন হতো। ফলস্বরূপ, এই পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ফিতনা-বিবাদ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে «৫», ফলে যে শক্তিশালী আমীর সক্ষম হতেন...

--------------------------------------------

(১) সুয়ূতী: হুসনুল মুহাদারা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৮।

(২) সুয়ূতী: পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৭।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস: খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৬।

(৪) সাঈদ আশুর: আল-আসরুল মামলুকি, পৃষ্ঠা ১৩৭ - ১৪৫।

(৫) আবদুল ওয়াহাব হামুদা: সাফাহাত মিন তারিখ মিসর ফি আসরিস সুয়ূতী, পৃষ্ঠা ৩ - ৪।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
أن يؤلب طوائف المماليك على غيره وأن يجمع غالبيتهم حوله هو الذي يستطيع الوصول إلى دست السلطنة بعد وفاة السلطان أو بتنحيته عن الحكم.

وهكذا فلقد كانت الفتن الداخلية والمنازعات بين أمراء المماليك من أجل الوصول إلى دست السلطنة هي طابع ذلك العصر «1»، ولم تكن تخمد هذه الفتن إلا في خلال حكم سلطان قوي يستطيع بدهائه وقوته مواجهة هذه الصعاب والتغلب عليها. وفضلا عن هذه الفتن الداخلية فلقد طبع هذا العصر ببعض الاضطرابات الخارجية التي تعود سلاطين المماليك مواجهتها وهي خروج أمراء الشام على طاعتهم، وكذلك تعرض البلاد لغزوات المغول، ولغارات الأعراب المتكررة «2»، ثم ظهرت منافسة سلاطين آل عثمان الذين قويت شوكتهم واتجهوا للغزو توسيعا لرقعة دولتهم وأصبح سلاطين المماليك يجدون فيهم منافسا خطيرا لهم.

وقد عاصر السيوطي في طفولته مجموعة من السلاطين الذين كان لهم حكم البلاد «3»، وقد شهدت هذه الفترة تولية عدد كبير منهم لم يكن يستقر بهم المقام في دست السلطنة طويلا، حتى أقيم «سلطان العصر الملك الأشرف قايتباي المحمودي» «4»، والحقيقة أن أهم السلاطين الذين عاصرهم السيوطي هو قايتباي (872 - 901 هـ)، وهو أطول ملوك هذه الفترة حكما، وأصله من مماليك الأشرف برسباي، وغريب ألا نجد لقايتباي ترجمة في كتاب السيوطي الذي ترجم فيه لأعيان القرن التاسع «5»، بالرغم من أنه لم يغفل كثيرا من معاصريه ومن سلاطين عصره من الأتراك والمغول والمماليك ويبدو أنه قد أفرده بترجمة.

وقد امتدحه كثير من المؤرخين فأشاد بحسن تدينه وحبه للخير وتعففه عن

--------------------------------------------

(1) د. سعيد عاشور: العصر المماليكي ص 323.

(2) المصدر السابق ص 4.

(3) تحدث عنهم في حسن المحاضرة ج 2 ص 106، وهؤلاء السلاطين ذكرهم ابن إياس في حوادث تلك الأعوام، راجع: تاريخ مصر ج 2 ص 29 - 70.

(4) السيوطي: حسن المحاضرة ج 2 ص 106، العصر المماليكي ص 172.

(5) كتاب نظم العقيان في أعيان الأعيان.
মামলুক দলগুলোকে অন্যের বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়া এবং তাদের অধিকাংশকে নিজের চারপাশে সমবেত করাই ছিল সুলতানের মৃত্যুর পর বা তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের পর সালতানাতের সিংহাসনে আরোহণের উপায়।

এভাবেই সালতানাতের সিংহাসনে আরোহণের জন্য মামলুক আমিরদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ ফিতনা ও বিবাদ ছিল সেই যুগের বৈশিষ্ট্য «১», এবং এই ফিতনাগুলো কেবল একজন শক্তিশালী সুলতানের শাসনের মাধ্যমেই প্রশমিত হতো, যিনি তাঁর চতুরতা ও শক্তির মাধ্যমে এই অসুবিধাগুলোর মুখোমুখি হতে এবং সেগুলোর ওপর জয়ী হতে পারতেন। এই অভ্যন্তরীণ ফিতনাগুলো ছাড়াও, এই যুগটি কিছু বাহ্যিক গোলযোগ দ্বারা চিহ্নিত ছিল যা মামলুক সুলতানরা মোকাবেলা করতে অভ্যস্ত ছিলেন, যেমন সিরিয়ার আমিরদের অবাধ্যতা, মঙ্গোলদের আক্রমণ এবং বেদুইনদের বারবার অভিযান «২»; এরপর উসমানীয় সুলতানদের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দেয়, যাদের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং তারা নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে অভিযানের দিকে ঝুঁকেছিলেন, ফলে মামলুক সুলতানরা তাদের মধ্যে এক বিপজ্জনক প্রতিদ্বন্দ্বী দেখতে পান।

সুয়ূতী তাঁর শৈশবে এমন একদল সুলতানের সমসাময়িক ছিলেন যারা দেশ শাসন করেছিলেন «৩», এবং এই সময়টি বিপুল সংখ্যক সুলতানের নিয়োগ প্রত্যক্ষ করেছিল যারা দীর্ঘকাল সালতানাতের সিংহাসনে স্থিতিশীল থাকতে পারেননি, যতক্ষণ না "যুগের সুলতান আল-মালিক আল-আشরাফ কাইতবে আল-মাহমুদী" প্রতিষ্ঠিত হন «৪»। প্রকৃতপক্ষে, সুয়ূতী যে সুলতানদের সমসাময়িক ছিলেন তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলেন কাইতবে (৮৭২ - ৯০১ হিজরি), এবং তিনি ছিলেন এই সময়ের দীর্ঘতম শাসক। তাঁর মূল ছিল আশরাফ বারসবের মামলুকদের থেকে। এটি আশ্চর্যের বিষয় যে, সুয়ূতীর সেই গ্রন্থে কাইতবের কোনো জীবনী পাওয়া যায় না যেখানে তিনি নবম শতাব্দীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী লিখেছেন «৫», যদিও তিনি তাঁর সমসাময়িক তুর্কি, মঙ্গোল ও মামলুক সুলতানদের অনেককেই উপেক্ষা করেননি; ধারণা করা হয় যে তিনি তাঁর জন্য একটি পৃথক জীবনী গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।

অনেক ঐতিহাসিক তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর উত্তম ধার্মিকতা, কল্যাণের প্রতি অনুরাগ এবং বিমুখতার প্রশংসা করেছেন

--------------------------------------------

(১) ড. সাঈদ আশুর: আল-আসর আল-মামলুকি, পৃষ্ঠা ৩২৩।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৪।

(৩) তিনি এগুলো সম্পর্কে হুসনুল মুহাদারাহ খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১০৬-এ আলোচনা করেছেন এবং ইবনে আইয়াস সেই বছরগুলোর ঘটনাপ্রবাহে এই সুলতানদের কথা উল্লেখ করেছেন, দেখুন: তারিখ মিসর খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৯-৭০।

(৪) সুয়ূতী: হুসনুল মুহাদারাহ খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১০৬; আল-আসর আল-মামলুকি পৃষ্ঠা ১৭২।

(৫) কিতাব নাযমুল উকিয়ান ফি আয়ানিল আয়ান।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
الشهوات وكثرة حسناته فضلا عما لا ينكره أحد من كثرة ما أقام من إنشاءات وإصلاحات «1»، ويعتبر أبرز سلاطين دولة المماليك الجراكسة، فقد امتد حكمه طيلة تسعة وعشرين عاما، ومن الجانب السياسي فقد كان ماهرا وموصوفا بأنه كان «كفؤا للسلطنة وافر العقل، سديد الرأي عارفا بأحوال المملكة، يضع الأشياء في محلها … موصوفا بالشجاعة عارفا بأنواع الفروسية» «2» وقد اضطرته حروبه الكثيرة إلى زيادة الضرائب في كثير من الأحيان، وكان ازدياد قوة آل عثمان سببا في حدوث بعض المنازعات بينهم وبين قايتباي وقد انتهت بمهادنة الطرفين في سنة 896 هـ «3».

وفي أيام هذا السلطان في سنة 897 هـ أصاب البلاد وباء شديد وقد عاصر السيوطي هذا الوباء وذكر أنه «جمع في الموت بين كل ألفين، وبلغ عدد الموتى في كل يوم أزيد من ألفين، وقيل أكثر من ذلك .. » «4».

ويفيض السيوطي في وصف هذا الطاعون وما أحدثه بالبلاد من خراب حتى أن نصف سكان القاهرة قد قضوا نحبهم بسببه، كما أن القرى والأقاليم لم تسلم منه ثم كان للاسكندرية نصيب في العام التالي من هذا الطاعون «5»، وكان الوباء المشار إليه ثالث الأوبئة الجارفة التي أصابت البلاد في حكم قايتباي فقد كان أولها في عام 873 هـ، وحدث الثاني في عام 881 هـ، ويبدو أن هذه الأوبئة كانت سمة بارزة في هذا العصر وكانت تعتري الناس في فترات غير متباعدة حتى أن مدة خمس عشرة سنة بين وباءين تعتبر في في نظرهم مدة طويلة «6».

--------------------------------------------

(1) الشوكاني: البدر الطالع ج 2 ص 55 - 56 ترجمة السلطان قايتباي.

(2) ابن إياس: بدائع الزهور ج 2 ص 298، د. سعيد عاشور، العصر المماليكي ص 174.

(3) عبد الوهاب حمودة: صفحات من تاريخ مصر في عصر السيوطي ص 6.

(4) السيوطي: المقامة الطاعونية ضمن مقامات السيوطي ص 69.

(5) المصدر السابق ص 70 - 71.

(6) المصدر السابق ص 69 حيث يقول «وكان للطاعون نحو خمس عشرة سنة لم يطرق هذين المصرين»، انظر ابن اياس ج 2 ص 272 - 276.
প্রবৃত্তি দমন এবং তাঁর অসংখ্য সৎকর্ম, বিশেষ করে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিপুল সংখ্যক স্থাপনা ও সংস্কারের কথা কেউ অস্বীকার করতে পারে না (১)। তিনি চেরকাস মামলুক সালতানাতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুলতান হিসেবে গণ্য হন। তাঁর শাসনকাল দীর্ঘ ঊনত্রিশ বছর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। রাজনৈতিক দিক থেকে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ এবং তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ছিলেন "সুলতান হওয়ার যোগ্য, অত্যন্ত বুদ্ধিমান, সঠিক মত পোষণকারী এবং রাজ্যের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত। তিনি প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ স্থানে রাখতেন … তিনি সাহসিকতার গুণে গুণান্বিত এবং যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন" (২)। তাঁর অসংখ্য যুদ্ধের কারণে তিনি প্রায়ই কর বৃদ্ধি করতে বাধ্য হতেন। উসমানীয় বংশের ক্রমবর্ধমান শক্তি কাইতবায় ও তাদের মধ্যে কিছু বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যা ৮৯৬ হিজরি সনে উভয় পক্ষের মধ্যে সন্ধি স্থাপনের মাধ্যমে শেষ হয় (৩)।

এই সুলতানের শাসনামলে ৮৯৭ হিজরি সনে দেশে এক ভয়াবহ মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। ইমাম আস-সুয়ূতী এই মহামারির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, "এটি মৃত্যুতে হাজারে হাজারে মানুষকে একত্রিত করেছিল এবং প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা দুই হাজারের অধিক পৌঁছেছিল, এমনকি বলা হয়ে থাকে যে সংখ্যাটি তার চেয়েও বেশি ছিল..." (৪)।

আস-সুয়ূতী এই প্লেগ রোগের এবং এর ফলে দেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ সাধিত হয়েছিল তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন, এমনকি কায়রোর অর্ধেক অধিবাসী এর কারণে প্রাণ হারান। গ্রাম ও মফস্বল অঞ্চলগুলোও এর হাত থেকে রেহাই পায়নি। পরবর্তী বছর আলেকজান্দ্রিয়াও এই মহামারির শিকার হয় (৫)। উল্লিখিত এই মহামারিটি ছিল সুলতান কাইতবায়ের শাসনামলে আঘাত হানা তৃতীয় বিধ্বংসী মহামারি। প্রথমটি ঘটেছিল ৮৭৩ হিজরি সনে এবং দ্বিতীয়টি ৮৮১ হিজরি সনে। প্রতীয়মান হয় যে, এই মহামারিগুলো ছিল সেই যুগের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এগুলো মানুষকে আক্রান্ত করত। এমনকি তাদের দৃষ্টিতে দুটি মহামারির মধ্যবর্তী পনেরো বছরের সময়কালকেও অনেক দীর্ঘ মনে করা হতো (৬)।

--------------------------------------------

(১) আশ-শাওকানি: আল-বাদরুত তালি, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫৫-৫৬, সুলতান কাইতবায়ের জীবনী।

(২) ইবনে ইয়াস: বাদায়েউজ জুহুর, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৯৮; ড. সাঈদ আশুর: আল-আসরুল মামলুকি, পৃ. ১৭৪।

(৩) আব্দুল ওয়াহাব হামুদা: আস-সুয়ূতীর যুগে মিশরের ইতিহাসের কিছু পাতা, পৃ. ৬।

(৪) আস-সুয়ূতী: আল-মাকামাতুত তাউনিয়্যাহ, মাকামাতে সুয়ূতী-র অন্তর্গত, পৃ. ৬৯।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ৭০-৭১।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ৬৯; যেখানে তিনি বলেন, "প্লেগ মহামারি প্রায় পনেরো বছর এই দুই প্রধান শহর অভিমুখে আসেনি", দেখুন ইবনে ইয়াস, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৭২-২৭৬।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وإن يكن السيوطي قد أغفل ترجمة السلطان قايتباي على ما يبدو فإنه لم يفته أن ينوه بذكره وأن يمتدحه في كتابه الذي ألفه بعد وفاته فذكر عنه أنه «سار في المملكة بشهامة وصرامة ما سار بها قبله ملك من الملوك من عهد الناصر محمد بن قلاوون .. ومن سيرته الجميلة أنه لم يولّ بمصر صاحب وظيفة دينية كالقضاة والمشايخ والمدرسين إلا أصلح الموجودين لها بعد طول تروية وتمهلة بحيث تستمر الوظيفة شاغرة الأشهر العديدة ولم يولّ قاضيا ولا شيخا بمال قط» «1».

وجدير بالذكر هنا أن السخاوي معاصر السيوطي قد أثنى غاية الثناء على قايتباي في ترجمته له التي يبدو أنه كتبها في حياته فنوه بقوته وحسن تصرفه كما أشاد بحسن تدينه واعتقاده، وسيرته الحسنة في الرعية، وكثرة ما أقام من إصلاحات وانشاءات حتى قال فيه: «وبالجملة فلم يجتمع لملك ممن أدركناه ما اجتمع له، ولا حوى من الحذق والذكاء والمحاسن مجمل ما اشتمل عليه ولا مفصله» «2»، أما ابن اياس الذي كتب تاريخ هذه الحقبة وكان معاصرا لها والذي كتب عن السلطان قايتباي بعيد وفاته فإنه يبدو في تاريخه أكثر اعتدالا وموضوعية حيث يشيد بحسناته ولا يغفل ذكر بعض مساويه ثم يقول: «وكانت محاسنه أكثر من مساويه» «3».

وبالاضافة إلى ما ذكرنا من مميزات الفترة التي حكمها قايتباي من منافسة العثمانيين إلى انتشار الطواعين، فقد تميزت هذه الفترة بكثرة الضرائب وجمع الأموال للحروب وهذا ما جعل مؤرخا كابن إياس يذكر عنه أنه «كان محبا لجمع الأموال ناظرا لما في أيدي الناس ولولا ذلك لكان يعد من خيار الملوك» «4».

كما أن هذه الفترة قد تميزت نسيبا باستقرار الأوضاع السياسية الداخلية وذلك إذا ما قورنت بالفترات السابقة واللاحقة، أو بعبارة أخرى إذا ما قورنت بطابع ذلك العصر الذي اصطبغ بالفتن والمؤامرات والحروب الداخلية بين أمراء

--------------------------------------------

(1) السيوطي: تاريخ الخلفاء ص 342.

(2) السخاوي: الضوء اللامع ج 6 ص 201 - 210.

(3) ابن إياس: بدائع الزهور ج 2 ص 298.

(4) المصدر السابق: ج 2 ص 298.
যদ্যপি মনে হয় যে সুয়ূতী সুলতান কাইতবে-এর জীবনী প্রদান করতে উপেক্ষা করেছেন, তথাপি তিনি তাঁর মৃত্যুর পর রচিত গ্রন্থে তাঁর আলোচনা করতে এবং তাঁর প্রশংসা করতে ভুলেননি। তিনি তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, «তিনি সালতানাতে এমন বীরত্ব ও দৃঢ়তার সাথে পরিচালিত হয়েছেন যা আন-নাসির মুহাম্মদ ইবনে কালাউনের যুগ থেকে তাঁর পূর্ববর্তী কোনো রাজা করতে পারেননি... তাঁর সুন্দর জীবনচরিতের একটি দিক হলো, মিশরে তিনি বিচারক, শাইখ ও শিক্ষকবৃন্দের মতো ধর্মীয় পদসমূহে দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনা ও সময়ক্ষেপণ ব্যতিরেকে বিদ্যমান ব্যক্তিদের মধ্যে যোগ্যতম ব্যক্তি ছাড়া কাউকে নিয়োগ দিতেন না, এমনকি এর ফলে অনেক সময় পদটি কয়েক মাস পর্যন্ত শূন্য পড়ে থাকতো। আর তিনি অর্থের বিনিময়ে কোনোদিন কোনো বিচারক বা শাইখ নিয়োগ দেননি» «১»।

এখানে উল্লেখ করা সঙ্গত যে, সুয়ূতী-এর সমসাময়িক সাখাবী তাঁর রচিত সুলতান কাইতবে-এর জীবনীতে তাঁর অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন, যা সম্ভবত তিনি সুলতানের জীবদ্দশায় লিখেছিলেন। তিনি তাঁর শক্তি ও উত্তম পরিচালনার প্রশংসা করার পাশাপাশি তাঁর সুন্দর ধার্মিকতা ও আকিদা, প্রজাদের সাথে সদাচরণ এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রচুর সংস্কার ও নির্মাণ কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এমনকি তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমরা যাঁদের পেয়েছি তাঁদের মধ্যে কোনো রাজার মাঝে এমন গুণের সমাবেশ ঘটেনি যা তাঁর মাঝে ঘটেছে, এবং তাঁর সামগ্রিক ও বিস্তারিত যে নিপুণতা, মেধা ও মহৎ গুণাবলি ছিল তা অন্য কেউ ধারণ করতে পারেনি» «২»। অন্যদিকে ইবনে ইয়াস, যিনি এই যুগের ইতিহাস লিখেছেন এবং এর সমসাময়িক ছিলেন, এবং যিনি সুলতান কাইতবে-এর মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন, তিনি তাঁর ইতিহাসে অধিক ভারসাম্যপূর্ণ ও বস্তুনিষ্ঠ বলে মনে হয়। কারণ তিনি তাঁর গুণাবলির প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর কিছু দোষ-ত্রুটি উল্লেখ করতেও বিমুখ হননি, অতঃপর বলেছেন: «তাঁর গুণাবলি তাঁর দোষের তুলনায় অধিক ছিল» «৩»।

কাইতবে-এর শাসন আমলের যে বৈশিষ্ট্যসমূহ আমরা উল্লেখ করেছি—উসমানীয়দের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে শুরু করে প্লেগ মহামারীর প্রাদুর্ভাব—তার পাশাপাশি এ সময়টি অতিরিক্ত করারোপ এবং যুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহের কারণেও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। এ কারণেই ইবনে ইয়াসের মতো একজন ঐতিহাসিক তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি «অর্থ সংগ্রহ করতে অতিশয় আগ্রহী ছিলেন এবং মানুষের নিকট যা গচ্ছিত ছিল তার প্রতি দৃষ্টি দিতেন, যদি তা না হতো তবে তাঁকে সর্বোত্তম রাজাদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হতো» «৪»।

তদুপরি এই সময়টি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়গুলোর তুলনায় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দ্বারাও আপেক্ষিকভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। অন্য কথায়, সেই যুগের যে বৈশিষ্ট্য উমারাদের (আমিরদের) মধ্যে ফিতনা, ষড়যন্ত্র এবং অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের দ্বারা রঞ্জিত ছিল, তার তুলনায় এই সময়টি ছিল স্থিতিশীল...

--------------------------------------------

(১) সুয়ূতী: তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা ৩৪২।

(২) সাখাবী: আদ-দউ আল-লামি, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২০১ - ২১০।

(৩) ইবনে ইয়াস: বাদাইউয যুহুর, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৯৮।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস: খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৯৮।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
المماليك الطامعين في السلطنة. وحين طعن السلطان السابق في السن اتفق كبار أمراء المماليك على خلعه وتولية ابنه محمد الذي لقب بالناصر «1»، وقد حاول أحد أمراء المماليك ويدعى قانصوه خمسمائة أن يتولى السلطنة وكاد يتم له الأمر وجمع الخليفة والقضاة الأربعة والأمراء وتمت له البيعة لولا أن تعصب بعض المماليك الجلبان بزعامة قانصوه خال السلطان الناصر واستطاعوا هزيمة خصومهم وبذلك عاد الناصر إلى سلطنته «2»، ولم تطل بالرغم من ذلك سلطنة محمد بن قايتباي فقد تعرض لمؤامرة دبرها له مماليكه أودت بحياته «3».

ويعطي ابن إياس صورة عن حالة الفوضى التي تعرضت لها البلاد فيذكر عن السلطان السابق أنه «كانت مدة سلطنته بالديار المصرية نحوا من سنتين وثلاثة أشهر وتسعة عشر يوما وكانت أيامه كلها فتنا وشرورا وحروبا قائمة» «4»، وتولى بعده خاله قانصوه الأشرفي في ربيع الأول سنة 904 هـ «5»، وقد كانت مدة حكمه سنة وثمانية أشهر، وقد صلحت أحوال البلاد في أيامه إذا ما قورنت بأيام.

سلفه، وقد كان ملكا لين الجانب «6». وقد دفع الطمع في السلطة أحد كبار الأمراء وهو طومان باي إلى أن يثور في وجه السلطان السابق بعد أن جمع حوله المماليك، وحاول السلطان ترضيته ولكنه لم يفلح واستطاع طومان باي ومن معه من الجند أن ينزلوا الهزيمة بمن بقي بالقلعة من الجند عند السلطان بعد حصارها ثلاثة أيام، وكان طومان باي يطمع في السلطنة لولا وجود من هو أحق منه وهو جان بلاط، وهنا تعصب له طومان باي وولاه السلطنة «7»، غير أنه لم يكن يكنّ له الولاء التام إذ لم يلبث أن ثار عليه وخلعه ليتولى مكانه حين آنس من نفسه قوة بمن معه من الجند الذين كان ذاهبا بهم لاخماد ثورة الشام، ولكنه اتفق مع

--------------------------------------------

(1) ابن إياس: بدائع الزهور ج 2 ص 303، العصر المماليكي ص 176.

(2) ابن إياس: بدائع الزهور ج 2 ص 309 - 311.

(3) المصدر السابق ج 2 ص 348.

(4) نفس المصدر ج 2 ص 349.

(5) نفس المصدر ج 2 ص 350.

(6) نفس المصدر ج 2 ص 369.

(7) نفس المصدر ج 2 ص 368، 369.
সুলতান হওয়ার উচ্চাভিলাষী মামলুকগণ। যখন পূর্ববর্তী সুলতান বার্ধক্যে উপনীত হলেন, তখন শীর্ষস্থানীয় মামলুক আমিরগণ তাকে পদচ্যুত করতে এবং তার পুত্র মুহাম্মদকে ক্ষমতায় বসাতে একমত হলেন, যাকে 'আন-নাসির' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল «১»। কানসুহ খামসামিয়াহ নামক একজন মামলুক আমির সুলতান হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং তিনি প্রায় সফলও হয়ে গিয়েছিলেন; তিনি খলিফা, চারজন বিচারপতি এবং আমিরদের একত্রিত করেছিলেন এবং তার প্রতি আনুগত্যের শপথও সম্পন্ন হয়েছিল। তবে সুলতান নাসিরের মামা কানসুহের নেতৃত্বে কিছু 'জুলবান' মামলুক জোটবদ্ধ হয়ে তাদের প্রতিপক্ষকে পরাজিত করতে সক্ষম হওয়ায় নাসির পুনরায় তার সালতানাত ফিরে পান «২»। তা সত্ত্বেও মুহাম্মদ বিন কাইতবে-র শাসনকাল দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, কারণ তার নিজস্ব মামলুকদের দ্বারা পরিকল্পিত এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি প্রাণ হারান «৩»।

ইবনে ইয়াস দেশের সেই অরাজক পরিস্থিতির একটি চিত্র তুলে ধরেছেন। পূর্ববর্তী সুলতান সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন যে, «তার সালতানাতের মেয়াদ ছিল মিশরীয় ভূখণ্ডে প্রায় দুই বছর তিন মাস উনিশ দিন এবং তার পুরো সময়টিই ছিল ফিতনা, অনিষ্ট এবং নিরন্তর যুদ্ধে পরিপূর্ণ» «৪»। তার পর ৯০৪ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে তার মামা কানসুহ আল-আশরাফি ক্ষমতায় বসেন «৫»। তার শাসনকাল ছিল এক বছর আট মাস। তার পূর্বসূরির আমলের তুলনায় তার সময়ে দেশের অবস্থার উন্নতি হয়েছিল এবং তিনি ছিলেন একজন নম্র স্বভাবের শাসক «৬»। ক্ষমতার লোভ শীর্ষস্থানীয় এক আমির তুমান বেকে পূর্ববর্তী সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে প্ররোচিত করে, যখন তিনি তার চারপাশে মামলুকদের একত্রিত করেছিলেন। সুলতান তাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সফল হননি। তুমান বে এবং তার সাথে থাকা সৈন্যরা তিন দিন অবরোধের পর দুর্গে সুলতানের কাছে অবশিষ্ট থাকা সৈন্যদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়। তুমান বে নিজে সুলতান হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন, কিন্তু জানবালাত নামক জনৈক ব্যক্তি তার চেয়ে অধিক যোগ্য হিসেবে উপস্থিত থাকায় তুমান বে তাকে সমর্থন দেন এবং তাকে সালতানাতে আসীন করেন «৭»। অবশ্য তিনি তার প্রতি পূর্ণ অনুগত ছিলেন না; শীঘ্রই তিনি তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং তাকে পদচ্যুত করে স্বয়ং ক্ষমতা দখল করেন যখন তিনি সিরিয়ার বিদ্রোহ দমন করতে যাওয়ার পথে তার সাথে থাকা সৈন্যদের মাধ্যমে নিজের শক্তিমত্তা অনুভব করেন। তবে তিনি একমত হলেন...

--------------------------------------------

(১) ইবনে ইয়াস: বাদায়িউজ জুহুর, ২য় খণ্ড, ৩০৩ পৃষ্ঠা; আল-আসরুল মামলুকি, ১৭৬ পৃষ্ঠা।

(২) ইবনে ইয়াস: বাদায়িউজ জুহুর, ২য় খণ্ড, ৩০৯-৩১১ পৃষ্ঠা।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, ২য় খণ্ড, ৩৪৮ পৃষ্ঠা।

(৪) একই উৎস, ২য় খণ্ড, ৩৪৯ পৃষ্ঠা।

(৫) একই উৎস, ২য় খণ্ড, ৩৫০ পৃষ্ঠা।

(৬) একই উৎস, ২য় খণ্ড, ৩৬৯ পৃষ্ঠা।

(৭) একই উৎস, ২য় খণ্ড, ৩৬৮, ৩৬৯ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
أمراء الشام على خلع السلطان وبويع له هناك بالسلطنة ولم يلبث أن جاء بعسكره إلى مصر واستطاع الاستيلاء على مقاليد الأمور «1».

ولم تطل أيام طومان باي في السلطنة إذ مكث ثلاثة أشهر «وكانت مدة سلطنته كلها شرور وفتن مع قصرها وآخر الأمر هرب واختفى واستمر مختفيا حتى ظهر وقبض عليه وقطعت رأسه» «2»، وقد ثار عليه أمراء المماليك لما رأوا نيته السيئة حيالهم، وآل الأمر إلى أن تولى قانصوه الغوري السلطنة بعد تمنع وإباء خوفا على نفسه أن يحدث له ما حدث لأسلافه «3»، وذلك في مستهل شوال سنة 906 هـ.

وجميع هؤلاء فيما عدا الغوري قد تولوا فترات قصيرة كما بينا مما يصور حالة الفوضى التي عمت الدولة في هذه الحقبة، ويفيض ابن اياس مؤرخ هذه الفترة في شتى المواضع في وصف الفتن والمؤامرات التي كانت لا تلبث تتحرك بين حين وآخر والحروب التي اشتعلت نيرانها أكثر من مرة بين الأمراء الطامعين في السلطنة.

وقد عمل الغوري على إعادة الاستقرار إلى البلاد، ووطّد أركان ملكه وما زال يحتال بمنافسيه حتى أفناهم «4»، وقد حاول أن يملأ خزانة الدولة التي كانت فارغة واتبع في ذلك صنوف المظالم وانتهب أموال الناس وانقطعت بسببه المواريث، فضج أهل مصر ومن تحت طاعته من أخذه لأموالهم «5».

ولم تحدث قلاقل داخلية في الفترة الأولى من حكم الغوري باستثناء بعض ثورات المماليك الجلبان، ولكن الخطر الحقيقي الذي هدد الدولة كان آتيا من ناحية البحر حيث اكتشف البرتغاليون طريق رأس الرجاء الصالح. وتحول مرور التجارة عن مصر وفقدت الدولة بذلك أعظم مورد لها، ولم يكتف البرتغاليون

--------------------------------------------

(1) نفس المصدر ج 2 ص 383، 384.

(2) ابن إياس: بدائع الزهور ج 2 ص 395 - 396.

(3) المصدر السابق ج 4 ص 2 - 4.

(4) الشوكاني: البدر الطالع ج 2 ص 54.

(5) المصدر السابق ص 55.
শামের আমিরগণ সুলতানকে ক্ষমতাচ্যুত করার ব্যাপারে একমত হলেন এবং সেখানেই তাঁর হাতে সুলতানি পদের বায়আত গ্রহণ করা হলো। অনতিবিলম্বে তিনি তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে মিসরে আগমন করেন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চাবিকাঠি হস্তগত করতে সক্ষম হন «১»।

সুলতান হিসেবে তুমান বের দিনগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, কারণ তিনি মাত্র তিন মাস সেখানে অবস্থান করেছিলেন। «তার শাসনের পুরো সময়টি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তা ছিল নানা অনিষ্ট ও ফিতনায় পরিপূর্ণ; শেষ পর্যন্ত তিনি পালিয়ে আত্মগোপন করেন এবং দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর যখন আত্মপ্রকাশ করলেন তখন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর শিরচ্ছেদ করা হয়» «২»। মামলুক আমিরগণ তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন যখন তাঁরা তাঁদের প্রতি তাঁর অসৎ উদ্দেশ্য লক্ষ্য করলেন। অবশেষে বিষয়টি এই পর্যায়ে পৌঁছাল যে, কানসুহ আল-ঘুরি সুলতান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। তবে তিনি প্রথমে নিজের জীবনের প্রতি আশঙ্কা থেকে অস্বীকৃতি ও অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যে, তাঁর পূর্বসূরিদের সাথে যা ঘটেছিল তাঁর ক্ষেত্রেও পাছে তেমন কিছু ঘটে «৩»; আর এটি ছিল ৯০৬ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের শুরুতে।

আল-ঘুরি ব্যতিরেকে এঁদের সকলেই স্বল্প সময়ের জন্য ক্ষমতাসীন ছিলেন যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি, যা এই যুগে রাষ্ট্রের উপর চেপে বসা বিশৃঙ্খলার চিত্র ফুটিয়ে তোলে। এই সময়ের ঐতিহাসিক ইবনে ইয়াস বিভিন্ন স্থানে সেই ফিতনা ও ষড়যন্ত্রের বর্ণনা সবিস্তারে প্রদান করেছেন যা ক্ষণে ক্ষণে মাথাচাড়া দিয়ে উঠত, এবং সেই সকল যুদ্ধের বর্ণনা দিয়েছেন যার আগুন সুলতান হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষী আমিরদের মধ্যে একাধিকবার প্রজ্বলিত হয়েছিল।

আল-ঘুরি দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করেছিলেন এবং তাঁর রাজত্বের স্তম্ভগুলোকে সুদৃঢ় করেছিলেন। তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে নানা কৌশল অবলম্বন করতে থাকেন যতক্ষণ না তিনি তাঁদের নির্মূল করলেন «৪»। তিনি রাষ্ট্রের শূন্য কোষাগার পূর্ণ করার চেষ্টা করেন এবং এই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরণের জুলুমের আশ্রয় নেন, মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করেন এবং তাঁর কারণে উত্তরাধিকার স্বত্ব বণ্টন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মিসরবাসী এবং তাঁর অনুগত প্রজারা তাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়ার কারণে আর্তনাদ করে ওঠে «৫»।

আল-ঘুরির শাসনের প্রথম দিকে 'জুলবান' মামলুকদের কিছু বিদ্রোহ ছাড়া কোনো অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়নি। তবে রাষ্ট্রকে হুমকির মুখে ফেলা প্রকৃত বিপদটি আসছিল সমুদ্রপথ থেকে, যেখানে পর্তুগিজরা 'উত্তমাশা অন্তরীপ' জলপথ আবিষ্কার করেছিল। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ মিসর থেকে ঘুরে যায় এবং রাষ্ট্র তার সবচেয়ে বড় আয়ের উৎসটি হারিয়ে ফেলে। পর্তুগিজরা এতেই ক্ষান্ত হয়নি...

--------------------------------------------

(১) একই উৎস, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৮৩, ৩৮৪।

(২) ইবনে ইয়াস: বাদায়েউজ জুহুর, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৯৫ - ৩৯৬।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২ - ৪।

(৪) শাওকানি: আল-বাদরুত তালি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৪।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৫৫।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
بذلك بل هاجموا السفن المصرية في البحر، وانتصر المماليك في أول الأمر بأسطولهم ولم يلبث البرتغاليون أن ثأروا لأنفسهم في موقعة ديو البحرية وهكذا ضاعت مكانة مصر في الوساطة التجارية بين الشرق والغرب «1»، ولم يكن هذا الخطر بأكبر من خطر بني عثمان الذين قويت دولتهم وعلا شأنهم منذ استولوا على القسطنطينية، وقد حدثت منازعات بينهم وبين السلطان قايتباي، ولم تكن هذه الأحداث ذات نتيجة حاسمة حتى كانت أيام السلطان سليم العثماني الذي كان معاصرا للغوري وانتهى النزاع بينهما إلى انتصار الأتراك في «مرج دابق» سنة 922 هـ، ثم دخولهم مصر في سنة 923 هـ، وذلك بعد وفاة السيوطي التي كانت سنة 911 هـ، ومنذ ذلك الحين فقدت البلاد استقلالها وأضحت تابعة للدولة العثمانية وانتهت بذلك سلسلة السلاطين الشراكسة.

 

‌‌الخلافة:

وإذا ما استعرضنا خلفاء الحقبة الأخيرة من هذا العصر والتي شهدها السيوطي فإن أولهم هو المستكفي بالله أبو الربيع سليمان بن المتوكل المتوفي سنة 855 هـ على ما يذكر ابن اياس في الثاني من المحرم «2»، أو في أواخر عام 854 هـ على ما يذكر السيوطي «3»، ولعل السيوطي قد أدرك هذا الخليفة في طفولته حيث كان أبوه مقربا منه، وهو الذي كتب له نسخة عهد الخلافة الذي عهد له به أخوه داود «4»، وقد ذكر السيوطي عنه أنه كان من صلحاء الخلفاء، كما أشار إلى العلاقة التي كانت بين أبيه كمال الدين وبين هذا الخليفة حيث كان «إماما له وكان عنده بمكان رفيع خصيصا به محترما عنده جدا، وأما نحن فلم ننشأ إلا في بيته وفضله، وآله خير آل دينا وعبادة وخيرا .... ولم يعش والدي بعده إلا أربعين يوما ومشى السلطان في جنازته إلى تربته وحمل نعشه بنفسه» «5»،

--------------------------------------------

(1) د. سعيد عاشور: العصر المماليكي ص 178 - 188.

(2) ابن إياس: بدائع الزهور ج 2 ص 33.

(3) السيوطي: تاريخ الخلفاء ص 341.

(4) المصدر السابق ص 340، 341.

(5) نفس المصدر ص 341، انظر حسن المحاضرة ج 2 ص 84، 85.
এর মাধ্যমে বরং তারা সমুদ্রে মিশরীয় জাহাজগুলোর ওপর আক্রমণ চালায়। মামলুকরা শুরুতে তাদের নৌবহর দিয়ে জয়ী হলেও পর্তুগিজরা দ্রুতই দিউ-এর নৌ-যুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণ করে। এভাবে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে বাণিজ্যিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মিশরের মর্যাদা বিলুপ্ত হয় «১»। এই বিপদ বনু উসমানের (উসমানীয়) বিপদের চেয়ে বড় ছিল না, যাদের রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়েছিল এবং কুস্তুনতিনিয়া বিজয়ের পর থেকে যাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছিল। তাদের এবং সুলতান কাইতবে-এর মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়, তবে সুলতান সেলিম উসমানীর সময় পর্যন্ত এই ঘটনাগুলোর কোনো চূড়ান্ত ফলাফল আসেনি, যিনি সুলতান ঘুরীর সমসাময়িক ছিলেন। তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ৯২২ হিজরিতে ‘মারজ দাবিদ’ যুদ্ধে তুর্কিদের বিজয়ের মাধ্যমে শেষ হয়। অতঃপর ৯২৩ হিজরিতে তারা মিশরে প্রবেশ করে, যা সুয়ূতী-র ইন্তেকালের (৯১১ হিজরি) পরে সংঘটিত হয়েছিল। তখন থেকেই দেশটি তার স্বাধীনতা হারায় এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের অনুগত হয়ে পড়ে এবং এর মাধ্যমে সার্কাসীয় সুলতানদের শাসনের অবসান ঘটে।

 

‌‌খিলাফত:

আমরা যদি এই যুগের শেষ পর্যায়ের খলিফাদের পর্যালোচনা করি যাদের সময়কাল সুয়ূতী প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তবে তাদের মধ্যে প্রথমজন হলেন আল-মুসতাকফি বিল্লাহ আবুল রাবি সুলায়মান ইবনুল মুতাওয়াক্কিল। ইবনে ইয়াস-এর বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ৮৫৫ হিজরির মহরম মাসের ২ তারিখে ইন্তেকাল করেন «২», অথবা সুয়ূতী-র বর্ণনা অনুযায়ী ৮৫৪ হিজরির শেষ দিকে «৩»। সম্ভবত সুয়ূতী শৈশবে এই খলিফাকে পেয়েছিলেন, কারণ তার পিতা খলিফার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনিই তার জন্য খিলাফতের সেই অঙ্গীকারনামার অনুলিপি লিখেছিলেন যা তার ভাই দাউদ তাকে প্রদান করেছিলেন «৪»। সুয়ূতী তার সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি নেককার খলিফাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি তার পিতা কামালুদ্দিন এবং এই খলিফার মধ্যকার সম্পর্কের প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে তিনি খলিফার ইমাম ছিলেন এবং তার নিকট অত্যন্ত উচ্চ ও বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ও অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। (সুয়ূতী বলেন:) "আর আমরা তো তার ঘরে এবং অনুগ্রহেই লালিত-পালিত হয়েছি, তার পরিবার দুনিয়া, ইবাদত এবং কল্যাণের দিক থেকে সর্বোত্তম পরিবার... আমার পিতা তার ইন্তেকালের মাত্র চল্লিশ দিন পর জীবিত ছিলেন এবং সুলতান নিজে তার জানাযার মিছিলে শরীক হয়ে কবরের মাটি পর্যন্ত গিয়েছিলেন এবং নিজ কাঁধে তার খাটিয়া বহন করেছিলেন" «৫»।

--------------------------------------------

(১) ড. সাঈদ আশুর: আল-আসর আল-মামালিকি, পৃষ্ঠা ১৭৮ - ১৮৮।

(২) ইবনে ইয়াস: বাদা’ই-উয-যুহুর, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩।

(৩) আস-সুয়ূতী: তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা ৩৪১।

(৪) প্রাগুক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৩৪০, ৩৪১।

(৫) একই উৎস, পৃষ্ঠা ৩৪১; দেখুন: হুসনুল মুহাদারা, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৪, ৮৫।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وبايع السلطان بالخلافة بعده أخاه أبا البقاء حمزة ولقب بالقائم بأمر الله، وحدثت جفوة بينه وبين السلطان انتهت بخلعه وتولية أخيه مكانه، وقد حكم بخلعه قاضي القضاة علم الدين البلقيني وذلك في سنة 859 هـ «1». وبايع السلطان بعده أخاه يوسف ولقب بالمستنجد بالله وساعده في الوصول إلى منصب الخلافة القاضي البلقيني لكونه زوج ابنته «2»، وقد ظل في الخلافة إلى أن توفي في عام 884 هـ وقد بلغ التسعين أو جاوزها «3»، وقد قلد خمسة من السلاطين آخرهم قايتباي «4»، وقد عهد الخليفة السابق لابن أخيه عبد العزيز الذي تلقب بالمتوكل على الله وقد طالت أيامه في الخلافة وكان كفؤا لذلك «5»، وقد كان هذا الخليفة صديقا للسيوطي وهو آخر من

ترجم لهم السيوطي في تاريخ الخلفاء وقد أشاد بذكره فذكر أنه «نشأ معظما مشارا إليه محبوبا للخاصة والعامة بخصاله الجميلة ومناقبه الحميدة، وتواضعه وحسن سمته وبشاشته لكل أحد وكثرة أدبه، وله اشتغال بالعلم، قرأ على والدي وغيره» «6». وكانت وفاة المتوكل في المحرم سنة 903 هـ، وقد أشاد بذكره ابن اياس وذكر عنه أنه كان من خيار بني العباس وكانت خلافته تسع عشرة سنة وأياما «7»، وقد عهد المتوكل لابنه يعقوب بالخلافة، وقد تولى بعد وفاة أبيه ولقب بالمستمسك بالله ويقال إن الذي كناه ولقبه هو الجلال السيوطي «8»، وقد ذكره السيوطي في تاريخ الخلفاء غير أنه لم يترجم له إذ إن السيوطي قد توفي في حياة هذا الخليفة «9»، وقد شهد الخليفة الأخير مبايعة عدد من السلاطين وامتدت به الحياة إلى أن رأى احتلال العثمانيين للبلاد، وكان ابنه هو آخر الخلفاء العباسيين بمصر.

--------------------------------------------

(1) تاريخ الخلفاء ص 341، حسن المحاضرة ج 2 ص 85، ابن إياس ج 2 ص 52.

(2) حسن المحاضرة ج 2 ص 85، ابن إياس ج 2 ص 52.

(3) السيوطي: تاريخ الخلفاء ص 342.

(4) ابن إياس: بدائع الزهور ج 2 ص 185، 186.

(5) المصدر السابق ج 2 ص 186.

(6) تاريخ الخلفاء ص 341.

(7) ابن إياس: بدائع الزهور ج 2 ص 333.

(8) المصدر السابق ج 2 ص 333، 334.

(9) تاريخ الخلفاء ص 344.
সুলতান তাঁর পর তাঁর ভাই আবু আল-বাকা হামজাকে খিলাফতের জন্য বায়াত দান করেন এবং তিনি আল-কাইম বি-আমরিল্লাহ উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁর ও সুলতানের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়, যার ফলে তাঁকে পদচ্যুত করা হয় এবং তাঁর পরিবর্তে তাঁর ভাইকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। প্রধান বিচারপতি আলম আল-দিন আল-বুলকিনি ৮৫৯ হিজরি সালে তাঁকে পদচ্যুত করার রায় দেন (১)। এরপর সুলতান তাঁর ভাই ইউসুফকে বায়াত দান করেন এবং তিনি আল-মুসতানজিদ বিল্লাহ উপাধি লাভ করেন। কাযি আল-বুলকিনি তাঁর জামাতা হওয়ার কারণে খিলাফতের পদে আসীন হতে তাঁকে সহায়তা করেন (২)। তিনি ৮৮৪ হিজরিতে মৃত্যু পর্যন্ত খিলাফতে আসীন ছিলেন এবং তাঁর বয়স নব্বই বছর বা তার বেশি হয়েছিল (৩)। তিনি পাঁচজন সুলতানকে ক্ষমতা প্রদান করেছিলেন, যাদের মধ্যে সর্বশেষ ছিলেন কাইতবা (৪)। পূর্ববর্তী খলিফা তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আবদুল আজিজের জন্য অঙ্গীকার করেন, যিনি আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ উপাধি ধারণ করেন। খিলাফতে তাঁর সময়কাল দীর্ঘ ছিল এবং তিনি এর উপযুক্ত ছিলেন (৫)। এই খলিফা আল-সুয়ুতির বন্ধু ছিলেন এবং তিনি হলেন শেষ ব্যক্তি যাঁদের সম্পর্কে

সুয়ুতি 'তারিখ আল-খুলাফা' গ্রন্থে জীবনী বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর প্রশংসা করে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি "অত্যন্ত সম্মানিত হিসেবে বেড়ে উঠেছেন, সবার দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু এবং তাঁর সুন্দর স্বভাব ও প্রশংসনীয় গুণাবলি, বিনয়, উত্তম চালচলন, সবার প্রতি সহাস্য মুখ ও গভীর শিষ্টাচারের কারণে বিশিষ্ট ও সাধারণ সবার কাছেই প্রিয় ছিলেন। তিনি জ্ঞানচর্চায় রত ছিলেন, আমার পিতা এবং অন্যদের কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন" (৬)। আল-মুতাওয়াক্কিলের মৃত্যু হয় ৯০৩ হিজরির মহররম মাসে। ইবনে ইয়াস তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আব্বাসীয় বংশের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর খিলাফতকাল ছিল উনিশ বছর কয়েক দিন (৭)। আল-মুতাওয়াক্কিল তাঁর পুত্র ইয়াকুবকে খিলাফতের জন্য মনোনীত করেন, যিনি তাঁর পিতার মৃত্যুর পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আল-মুস্তামসিক বিল্লাহ উপাধি পান। বলা হয় যে, জালাল আল-দিন আল-সুয়ুতিই তাঁর উপনাম ও উপাধি নির্ধারণ করেছিলেন (৮)। সুয়ুতি তাঁর 'তারিখ আল-খুলাফা' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন, তবে তাঁর পূর্ণাঙ্গ জীবনী বর্ণনা করেননি কারণ এই খলিফার জীবদ্দশাতেই সুয়ুতি মৃত্যুবরণ করেন (৯)। এই শেষ খলিফা বেশ কয়েকজন সুলতানের বায়াত প্রত্যক্ষ করেন এবং উসমানীয়দের দেশ দখল করা পর্যন্ত তিনি জীবিত ছিলেন। তাঁর পুত্রই ছিলেন মিসরের শেষ আব্বাসীয় খলিফা।

--------------------------------------------

(১) তারিখ আল-খুলাফা পৃ. ৩৪১, হুসন আল-মুহাদারা খণ্ড ২ পৃ. ৮৫, ইবনে ইয়াস খণ্ড ২ পৃ. ৫২।

(২) হুসন আল-মুহাদারা খণ্ড ২ পৃ. ৮৫, ইবনে ইয়াস খণ্ড ২ পৃ. ৫২।

(৩) আল-সুয়ুতি: তারিখ আল-খুলাফা পৃ. ৩৪২।

(৪) ইবনে ইয়াস: বাদায়ে আল-যুহুর খণ্ড ২ পৃ. ১৮৫, ১৮৬।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস খণ্ড ২ পৃ. ১৮৬।

(৬) তারিখ আল-খুলাফা পৃ. ৩৪১।

(৭) ইবনে ইয়াস: বাদায়ে আল-যুহুর খণ্ড ২ পৃ. ৩৩৩।

(৮) পূর্বোক্ত উৎস খণ্ড ২ পৃ. ৩৩৩, ৩৩৪।

(৯) তারিখ আল-খুলাফা পৃ. ৩৪৪।
(খণ্ড: ১) জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাওয়ী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
والملاحظ أنه لم يكن للخليفة سلطة تذكر بجانب السلطان، وقد كان في مقدور السلطان أن يخلع الخليفة وأن يولي غيره، وكانت مبايعة الخليفة للسلطان تقليدا شكليا واعترافا من قبل الخليفة بالأمر الواقع الذي لم يكن له فيه خيرة، وبالرغم من ذلك فقد كان منصب الخلافة من المناصب الجليلة بالدولة، كما أن السلاطين راعوا حرمة الخليفة وتوقيره في كثير من الأحيان.

وإكمالا للحديث عن الحياة السياسية لا نرى بأسا من أن نشير إلى‌‌ نظم الحكم والقضاء بالدولة لارتباط هذه الأمور بالنواحي السياسية:

 

نظم الحكم:

كانت دولة المماليك إقطاعية كما سبق أن أشرنا، وقد قسمت أراضي مصر إلى أربعة وعشرين قيراطا، اختص السلطان منها بأربعة قراريط ووزعت بقية الأرض على الأمراء وجندهم، وأجناد الحلقة والعربان والتركمان «1».

وكان الاقطاع شخصيا لا دخل لأحكام الوراثة أو الملكية فيه، وبموت المقطع أو إخلاله بشروط الاقطاع يمكن للسلطان أن يخرجه عن إقطاعه ويمنح الاقطاع لغيره، وكان السلطان على رأس الهرم الاقطاعي بالبلاد وكذلك على رأس الهرم الإداري، ووجد إلى جانبه مجلس للمشورة يضم أتابك العسكر والخليفة العباسي والوزير وقضاة المذاهب الأربعة وأمراء المائتين، وقد تعددت اختصاصات ذلك المجلس في شئون الحرب والصلح، وشغل المناصب الكبرى للدولة، على أن السلطان لم يكن ملزما بدعوة هذا المجلس أو الأخذ برأيه فهو صاحب الرأي الأخير بوصفه حاكما مطلقا «2».

وكانت إقامة السلطان والأمراء وأسرهم بقلعة الجبل، وقد كانت بمثابة مدينة صغيرة تضم طباق المماليك السلطانية فضلا عن عديد من دواوين الدولة وأجهزتها، وكان بها كثير من القصور والعمائر والمساجد.

--------------------------------------------

(1) القلقشندي: صبح الأعشى ج 3 ص 453، 454.

(2) د. سعيد عاشور: العصر المماليكي ص 352.
এটা লক্ষ্যণীয় যে, সুলতানের পাশাপাশি খলিফার উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষমতা ছিল না। সুলতান চাইলে খলিফাকে পদচ্যুত করতে এবং অন্য কাউকে নিযুক্ত করতে সক্ষম ছিলেন। সুলতানের প্রতি খলিফার আনুগত্যের শপথ ছিল একটি আনুষ্ঠানিক প্রথা এবং খলিফার পক্ষ থেকে বিদ্যমান বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া মাত্র, যেখানে তাঁর কোনো পছন্দ-অপছন্দের সুযোগ ছিল না। তা সত্ত্বেও, রাষ্ট্রে খিলাফতের পদটি ছিল অত্যন্ত সম্মানিত পদগুলোর একটি, এবং সুলতানগণ অনেক ক্ষেত্রেই খলিফার মর্যাদা ও সম্মানের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন।

রাজনৈতিক জীবনের আলোচনার পূর্ণতা দানে আমরা শাসন ব্যবস্থা ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করাকে সমীচীন মনে করছি, কারণ এই বিষয়গুলো রাজনৈতিক দিকের সাথে সম্পৃক্ত:

 

শাসন ব্যবস্থা:

মামলুক রাষ্ট্র ছিল ইقطاعি (জায়গিরদারি) ভিত্তিক, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। মিশরের ভূমিকে চব্বিশটি কিরাতে বিভক্ত করা হয়েছিল, যার মধ্যে সুলতান নিজের জন্য চার কিরাত নির্দিষ্ট করেছিলেন এবং অবশিষ্ট ভূমি আমির ও তাঁদের সৈন্যবাহিনী, হালকার সৈন্য, আরব এবং তুর্কমেনদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছিল «১»।

এই ইقطاع বা জায়গির ছিল ব্যক্তিগত, এতে উত্তরাধিকার বা মালিকানার বিধানের কোনো সুযোগ ছিল না। জায়গিরদারের মৃত্যুতে বা জায়গিরের শর্ত ভঙ্গ করলে সুলতান তাকে তার জায়গির থেকে বিচ্যুত করতে পারতেন এবং অন্য কাউকে তা দান করতে পারতেন। সুলতান ছিলেন দেশের জায়গিরদারি পিরামিডের শীর্ষে এবং একইভাবে প্রশাসনিক পিরামিডেরও প্রধান। তাঁর পাশে একটি পরামর্শ সভা (মজলিসুল মুশাওয়ারা) ছিল যাতে আতাবাকুল আসকার (প্রধান সেনাপতি), আব্বাসীয় খলিফা, উজির, চার মাযহাবের বিচারক এবং শতপতি আমিরগণ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যুদ্ধ ও শান্তি এবং রাষ্ট্রের বড় বড় পদে নিয়োগের বিষয়ে এই সভার বহুবিধ এখতিয়ার ছিল। তবে সুলতান এই সভা আহ্বান করতে বা এর পরামর্শ গ্রহণ করতে বাধ্য ছিলেন না, কারণ তিনি একজন একচ্ছত্র শাসক হিসেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অধিকারী ছিলেন «২»।

সুলতান, আমির এবং তাঁদের পরিবারবর্গ কালআতুল জাবাল-এ (পাহাড়ের দুর্গ) বসবাস করতেন। এটি ছিল একটি ছোট শহরের মতো যেখানে সুলতানি মামলুকদের ব্যারাক ছাড়াও রাষ্ট্রের অনেক দপ্তর ও সংস্থা ছিল। সেখানে অনেক প্রাসাদ, স্থাপত্য ও মসজিদ বিদ্যমান ছিল।

--------------------------------------------

(১) আল-কালকাশান্দি: সুবহুল আশা, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৫৩, ৪৫৪।

(২) ড. সাঈদ আশুর: আল-আসরুল মামলুকি, পৃষ্ঠা ৩৫২।