(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
فكرة الإفريقية الآسيوية   (مالك بن نبي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: فكرة الإفريقية الآسيوية

المؤلف: مالك بن الحاج عمر بن الخضر بن نبي (ت 1393هـ)

المحقق: (إشراف ندوة مالك بن نبي)

الناشر: دار الفكر-دمشق سورية

الطبعة: الثالثة، 1422 هـ - 2001 م

عدد الصفحات: 271

أعده للمكتبة الشاملة/ العبد الضعيف الراجي عفو ربه: أبو ياسر الجزائري.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 ذو القعدة 1432

আফ্রো-এশীয় ধারণা   (মালেক বিন নবী)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি


বই: আফ্রো-এশীয় ধারণা

লেখক: মালেক বিন আল-হাজ উমর বিন আল-খিজর বিন নবী (মৃত্যু ১৩৯৩ হিজরি)

গবেষক: (নাদওয়াতু মালেক বিন নবী-এর তত্ত্বাবধানে)

প্রকাশক: দারুল ফিকর-দামেস্ক, সিরিয়া

সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭১

মাকতাবা শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন/ তার রবের ক্ষমা প্রত্যাশী দুর্বল (ضعيف) বান্দা: আবু ইয়াসির আল-জাযাইরি.

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ যিলকদ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
مالك بن نبي

مشكلات الحضارة

***************

فكرة الإفريقية الآسيوية

في ضوء مؤتمر باندونغ

 

ترجمة عبد الصبور شاهين

إعداد ندوة مالك بن نبي

 

دار الفكر المعاصر- بيروت لبنان

دار الفكر-دمشق سورية
মালেক বিন নবী

সভ্যতার সংকটসমূহ

***************

আফ্রো-এশীয় ধারণা

বান্দুং সম্মেলনের আলোকে

 

অনুবাদ: আব্দুস সবুর শাহীন

প্রস্তুতি: মালেক বিন নবী সিম্পোজিয়াম

 

দারুল ফিকর আল-মুয়াসির- বৈরুত, লেবানন

দারুল ফিকর- দামেস্ক, সিরিয়া
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
فكرة الافريقية الآسيوية: في ضوء مؤتمر باندونغ تأليف مالك بن نبي

ترجمة عبد الصبور شاهين.
আফ্রো-এশীয় চিন্তা: বান্দুং সম্মেলনের আলোকে, রচনায় মালেক বিন নবী

অনুবাদে আবদুস সবুর শাহীন।
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
مشكلات الحضارة

تأليف

مالك بن نبي

ترجمة عبد الصبور شاهين

***************

فكرة الإفريقية الآسيوية

في ضوء مؤتمر باندونغ

 

دار الفكر المعاصر- بيروت لبنان

دار الفكر-دمشق سورية
সভ্যতার সমস্যাসমূহ

রচনায়

মালেক বিন নবী

অনুবাদ: আবদুস সবুর শাহীন

***************

আফ্রো-এশীয় ধারণা

বান্দুং সম্মেলনের আলোকে

 

দারুল ফিকর আল-মুয়াসির- বৈরুত, লেবানন

দারুল ফিকর- দামেস্ক, সিরিয়া
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
الطبعة الثالثة

1422 هـ = 2001 م

ط2: 1981م
তৃতীয় সংস্করণ

১৪২২ হিজরি = ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

২য় সংস্করণ: ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المحتوى

--------------------------------------------

الموضوع ..................................................... الصفحة

_________

المحتوى ....................................................... 5

الإهداء ........................................................ 9

الوصية ........................................................ 11

مقدمة الطبعة الثانية ............................................ 13

المقدمة ......................................................... 17

تنبيه ........................................................... 20

تمهيد .......................................................... 21

 

الجزء الأول .................................................... 29

الرجل الأفرسيوي في عالم الكبار

1 - أبناء المستعمرات الأفرسيوية وعالم الكبار ................... 31

2 - (التعايش) أو الوجود المشترك والاستعمار المشترك .......... 55

3 - مشكلة الرجل الأفرسيوي ................................... 75

 

الجزء الثاني .................................................... 93

بناء الفكرة الأفرسيوية

1 - صفحة من التاريخ ........................................ 95

2 - أوان المسؤولية ............................................ 109

3 - الكتلة العربية الَاسيوية .................................... 121

4 - مشكلة الحضارة ........................................... 129

5 - نظرات عامة في الثقافة الأفرسيوية ........................ 141

6 - مبادئ اقتصاد أفرسيوي فعال .............................. 155

 

الجزء الثالث .................................................. 175

رسالة فكرة الأفرسيوية

1 - فكرة الأفرسيوية والتعايش ................................. 177

2 - فكرة الأفرسيوية والعالمية ................................. 199

3 - العالم الإسلامي وفكرة الأفرسيوية ......................... 225
সূচিপত্র

--------------------------------------------

বিষয় ..................................................... পৃষ্ঠা

_________

সূচিপত্র ....................................................... ৫

উৎসর্গ ........................................................ ৯

অসিয়তনামা ........................................................ ১১

দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা ............................................ ১৩

ভূমিকা ......................................................... ১৭

বিশেষ দ্রষ্টব্য ........................................................... ২০

উপক্রমণিকা .......................................................... ২১

 

প্রথম খণ্ড .................................................... ২৯

বড়দের বিশ্বে আফ্রো-এশীয় মানুষ

১ - আফ্রো-এশীয় উপনিবেশের সন্তানগণ ও বড়দের বিশ্ব ................... ৩১

২ - (সহাবস্থান) অথবা অভিন্ন অস্তিত্ব এবং অভিন্ন উপনিবেশবাদ .......... ৫৫

৩ - আফ্রো-এশীয় মানুষের সমস্যা ................................... ৭৫

 

দ্বিতীয় খণ্ড .................................................... ৯৩

আফ্রো-এশীয় ভাবধারার বিনির্মাণ

১ - ইতিহাসের একটি পাতা ........................................ ৯৫

২ - দায়বদ্ধতার সময় ............................................ ১০৯

৩ - আরব-এশীয় জোট .................................... ১২১

৪ - সভ্যতার সমস্যা ........................................... ১২৯

৫ - আফ্রো-এশীয় সংস্কৃতির সাধারণ রূপরেখা ........................ ১৪১

৬ - কার্যকর আফ্রো-এশীয় অর্থনীতির মূলনীতি .............................. ১৫৫

 

তৃতীয় খণ্ড .................................................. ১৭৫

আফ্রো-এশীয় ভাবধারার বার্তা

১ - আফ্রো-এশীয় ভাবধারা ও সহাবস্থান ................................. ১৭৭

২ - আফ্রো-এশীয় ভাবধারা ও বিশ্বজনীনতা ................................. ১৯৯

৩ - মুসলিম বিশ্ব ও আফ্রো-এশীয় ভাবধারা ......................... ২২৫
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)

--------------------------------------------

الموضوع ..................................................... الصفحة

_________

4 - أوربا وفكرة الأفرسيوية ........................................ 255

5 - نتيجة البحث ................................................ 269

--------------------------------------------

বিষয় ..................................................... পৃষ্ঠা

_________

৪ - ইউরোপ এবং আফ্রিকা-এশীয় মতবাদ ........................................ ২৫৫

৫ - গবেষণার ফলাফল ................................................ ২৬৯

(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
من أجل الشعوب المكافحة في سبيل الحرية والسلام
স্বাধীনতা ও শান্তির পথে সংগ্রামরত জাতিসমূহের তরে।
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ .... }

قرآن كريم

 

طوبى لصانعي السَّلام ..... لأنهم أبناءَ الله يُدْعَون

إنجيل متى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

{হে মুমিনগণ! তোমরা ইসলামে পূর্ণরূপে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না .... }

পবিত্র কুরআন

 

ধন্য তারা যারা শান্তি স্থাপনকারী ..... কারণ তারা আল্লাহর সন্তান হিসেবে অভিহিত হবে

ইঞ্জিল মাত্তা
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الإهداء

إلى قيادة الثورة الثقافية التي بدأت فصولها تجري في العالم الإسلامي منذ تركزت فيه بعض المجهودات الموفقة لتضع الشعوب والأفكار في مكانها القيادي
উৎসর্গ

সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সেই নেতৃত্বের প্রতি, মুসলিম বিশ্বে যার অধ্যায়সমূহ তখন থেকেই সূচিত হয়েছে, যখন থেকে জাতি ও চিন্তাধারাকে তাদের নেতৃত্বের আসনে আসীন করার লক্ষ্যে সেখানে কিছু সফল প্রচেষ্টা কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
* نظراً لكثرة ورود عبارة الافريقية الآسيوية في صفحات الكتاب آثرنا أن نرمز إلى مضمون هذه العبارة بتركيب (الأفرسيوية) تجنباً للإطالة والملل وذلك بقطع النظر عن قاعدة النحت اللغوي.

গ্রন্থের পাতাসমূহে 'আফ্রিকান-এশীয়' শব্দসমষ্টির আধিক্যের কারণে, দীর্ঘসূত্রতা ও একঘেয়েমি পরিহারের লক্ষ্যে আমরা এই শব্দগুচ্ছের মূল বিষয়বস্তুকে 'আফ্রো-এশীয়' শব্দে রূপান্তর করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি; এক্ষেত্রে ভাষাগত শব্দ-সংক্ষেপণ বা সন্ধির ব্যাকরণগত নিয়মের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি।

(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

في عام 1971م ترك أستاذنا مالك بن نبي- رحمه الله في المحكمة الشرعية في طرابلس لبنان، وصية سجلت تحت رقم 275/ 67 في 16 ربيع الثاني 1391هـ الموافق 10 حزيران 1971م، وقد حملني فيها مسؤولية كتبه المعنوية والمادية.

وتحملاً مني لهذه الرسالة، ووفاءً لندوات سقتنا على ظمأ صافي الرؤية، رأيت تسمية ما يصدر تنفيذاً لوصية المؤلف بـ (ندوة مالك بن نبي).

والتسمية هذه، دعوة إلى أصدقاء مالك بن نبي وقارئيه، ليواصلوا نهجاً في دراسة المشكلات، كان قد بدأه.

وهي مشروع نطرحه بوصفه نواة لعلاقات فكرية، كان رحمه الله، يرغب في توثيقها.

وإنني لأرجو من أصدقاء مالك وقارئيه، مساعدتنا على حفظ حقوق المؤلف في كل ما ينشر بالعربية أو الفرنسية مترجماً من قبل المترجمين أو غير مترجم. فقد حمّلني- رحمه الله مسؤولية حفظ هذه الحقوق، والإذن بنشر كتبه. فإن وجدت طبعات لم تذكر فيه إشارة إلى إذن صادر من قبلنا، فهذه طبعات غير مشروعة، ونرجو إبلاغنا عنها.

 

طرابلس لبنان 18 ربيع الأول 1399هـ

15 شباط (فبراير) 1979م

عمر مسقاوي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

১৯৭১ সালে আমাদের উস্তাদ মালিক বিন নবী—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন (رحمه الله)—লেবাননের ত্রিপোলির শরীয়াহ আদালত (المحكمة الشرعية)-এ একটি অসিয়ত (وصية) রেখে যান, যা ১৬ রবিউস সানি ১৩৯১ হিজরি মোতাবেক ১০ জুন ১৯৭১ সালে ২৭৫/৬৭ নম্বর অধীনে নিবন্ধিত হয়। সেখানে তিনি আমাকে তাঁর বইসমূহের বুদ্ধিবৃত্তিক ও বস্তুগত সত্ত্ব সংরক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

এই মহান দায়িত্ব পালন এবং সেই সকল সেমিনারের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ যা আমাদের স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির তৃষ্ণা নিবারণ করেছিল, আমি লেখকের অসিয়ত (وصية) বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে যা কিছু প্রকাশিত হবে তার নাম ‘মালিক বিন নবী সেমিনার’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এই নামকরণটি মূলত মালিক বিন নবীর সুহৃদ এবং পাঠকদের প্রতি একটি আহ্বান, যাতে তাঁরা সমস্যাসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর সূচিত ধারা অব্যাহত রাখেন।

এটি এমন একটি প্রকল্প যা আমরা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পেশ করছি, যা তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন (رحمه الله)—সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন।

আমি মালিকের সুহৃদ এবং পাঠকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি যে, আরবি বা ফরাসি ভাষায় অনুবাদক কর্তৃক অনূদিত হোক কিংবা অনূদিত না হোক, যা কিছু প্রকাশিত হবে তার গ্রন্থস্বত্ব সংরক্ষণে আমাদের সহায়তা করবেন। তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন (رحمه الله)—আমাকে এই স্বত্ব সংরক্ষণ এবং তাঁর বই প্রকাশের অনুমতি প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। যদি এমন কোনো সংস্করণ পাওয়া যায় যেখানে আমাদের পক্ষ থেকে অনুমতির কোনো উল্লেখ নেই, তবে সেই সংস্করণসমূহ অবৈধ (غير مشروعة) বলে গণ্য হবে; আমরা অনুরোধ করছি যেন সেই সম্পর্কে আমাদের অবহিত করা হয়।

 

ত্রিপোলি, লেবানন ১৮ রবিউল আউয়াল ১৩৯৯ হিজরি

১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ

ওমর মেসকাউই
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدِمَة الطبعَة الثانية

لو كنت أنا مقدم الطبعة العربية الأولى لهذا الكتاب في أواخر 1957م، لكنت لا شك مهتماً بإظهار كل التوقعات المتشائمة التي كانت تعبر عنها الصحافة والتصريحات الرسمية في بعض العواصم الغربية تجاه الفكرة الأفرسيوية التي كانت تمثل كماً وكيفاً تكتلاً هائلاً من الطاقات البشرية والمادية.

وكيف لا يهتم بظاهرة مثل هذه من يعيش من واشنطن إلى موسكو على محور القوة، ويخضع كل مقاييسه السياسية والثقافية أولاً إلى مبدأ ترجيح كفته، ما يمكن، بفائض من الطاقة على الآخرين.

ولكنني أكتب هذه المقدمة اليوم، أي بعدما يقرب من خمس عشرة سنة من ظهور الطبعة العربية الأولى؟

فماذا سأقول؟

إنني لا أريد أن أتورط في دراسة تحليلية لكل العوامل التي تدخلت، منذ مؤتمر باندونغ سنة 1955م، لإفشال الفكرة الأفرسيوية. بينما نرى، في نظرة شاملة، أن هذه العوامل تتوزع على الخريطة العالمية بطريقة متساوية. إذ عملت في الحقيقة كل يد، على إفشال الفكرة الخطيرة.

ولو كنت، رغم تحفظي، متورطاً في مثل هذه الدراسة، لما زدت سوى أن أذكر قصة هذا الكتاب ذاته بكل تفاصيلها، ولكنها قصة نتركها لشاهد القرن إن شاء أن يتورط فيها.
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 

‌‌দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

আমি যদি ১৯৫৭ সালের শেষভাগে এই গ্রন্থের প্রথম আরবি সংস্করণের ভূমিকা লেখক হতাম, তবে নিঃসন্দেহে আমি সেই সকল হতাশাবাদী পূর্বাভাসের স্বরূপ উন্মোচনে সচেষ্ট হতাম, যা তৎকালীন পশ্চিমা বিশ্বের রাজধানীগুলোর সংবাদমাধ্যম ও সরকারি বিবৃতিতে আফ্রো-এশীয় চিন্তা বা আদর্শের বিরুদ্ধে প্রকাশিত হয়েছিল। এই চিন্তাটি পরিমাণগত ও গুণগত উভয় দিক থেকে মানবীয় ও বৈষয়িক শক্তির এক বিশাল সমাহারকে উপস্থাপন করেছিল।

ওয়াশিংটন থেকে মস্কো পর্যন্ত বিস্তৃত ক্ষমতার অক্ষশক্তির ওপর যারা জীবন অতিবাহিত করে এবং যারা তাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সকল মানদণ্ডকে মূলত অন্যের ওপর শক্তিমত্তার প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পাল্লা ভারী করার নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা করে, তাদের পক্ষে এমন একটি বিষয় বা ঘটনার প্রতি গুরুত্বারোপ না করে থাকা কীভাবে সম্ভব?

কিন্তু আমি এই ভূমিকাটি আজ লিখছি, অর্থাৎ প্রথম আরবি সংস্করণ প্রকাশের প্রায় পনেরো বছর পর।

এমতাবস্থায় আমি কী বলব?

১৯৫৫ সালের বান্দুং সম্মেলনের পর থেকে আফ্রো-এশীয় আদর্শকে নস্যাৎ করার জন্য যে সকল প্রভাবক কার্যকর ছিল, আমি সেগুলোর কোনো বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনায় লিপ্ত হতে চাই না। যদিও আমরা সামগ্রিক দৃষ্টিতে দেখতে পাই যে, এই সকল প্রভাবক বিশ্ব মানচিত্রে সমানভাবে ছড়িয়ে ছিল। প্রকৃতপক্ষে, প্রতিটি শক্তিই এই বিপজ্জনক চিন্তাটিকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে সক্রিয় ছিল।

আমার এই সতর্কতা সত্ত্বেও আমি যদি এ ধরনের কোনো পর্যালোচনায় লিপ্ত হতাম, তবে এই গ্রন্থের ইতিহাসের যাবতীয় খুঁটিনাটি বর্ণনা ছাড়া অতিরিক্ত আর কিছুই বলতাম না। তবে এই কাহিনী বা ইতিহাস আমরা ‘শতাব্দীর সাক্ষী’র জন্য রেখে দিচ্ছি, যদি তিনি এটি নিয়ে কাজ করতে চান।
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وحسبي هنا أن أذكر فحسب، وبإيجاز وتلميح فقط، الجانب الذي قد يفيد من الناحية النظرية، كمزيد من التجربة والخبرة، بعض شبابنا الملتزم.

إن مؤتمر باندونج كان قطعاً في نظر المختصين بالسياسة العالمية، أخطر ظاهرة برزت (في العالم الثالث) بعد الحرب العالمية الثانية. الظاهرة التي كانت تحمل في طياتها الصواعق والبراكين التي كان يخشى المستر جون فوستر دلاس، حتى قبره، عواقبها بالنسبة إلى كل المخططات التي رحمت من أجل تسيير العالم، كما سار خصوصاً في البلاد العربية.

ولكن، ما كان للطاقات البشرية والمادية التي تجمعت في باندونج، أن تطلق تلقائياً الصواعق وتفجر البراكين، في صورة ثورة للعالم الثالث على النظم الاقتصادية والسياسية والثفافية التي وضعت في القرن التاسع عشر لتسييره، طبقاً لمصالح عليا معينة.

يقول المفكر الفرنسي، دي بونالد، المعاصر للثورة الفرنسية، والمقاوم لها: ((إن ما صنع الثورات هو دوماً الكتاب من الإنجيل إلى الميثاق الاجتماعي)).

إذا صحت هذه النظرة في الأشياء البشرية، وإنني أعتقدها صحيحة، نقول:

إن مؤتمر باندونج سنة 1955م، وبعده مؤتمر القاهرة سنة 1957م، قد جمعا فعلاً كل شروط ثورة العالم الثالث، إلا شرطاً واحداً، وهو شرط إطلاق الشرارة الفكرية الضرورية لإضرامها.

بل نقول، ونحن بصدد تقديم الطبعة الثانية لهذا الكتاب: إن كل الاحتياطات قد اتخذت، داخل العالم الثالث وخارجه، حتى لا تنطلق هذه الشرارة.

ويكفينا دليلاً على صحة هذا التقرير أن نقول للقارئ الكريم: إن مؤتمر القاهرة، كان من بين تقاريره إنشاء ((جائزة أفرسيوية)) على غرار جائزة نوبل أو جائزة لينين.
আমার জন্য এখানে কেবল সংক্ষেপে ও ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে সেই দিকটি উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে, যা তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের কিছু প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তরুণের জন্য বাড়তি অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার উৎস হিসেবে সহায়ক হতে পারে।

বিশ্ব রাজনীতির বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে বান্দুং সম্মেলন ছিল নিশ্চিতভাবেই (তৃতীয় বিশ্বে) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উদ্ভূত সবচেয়ে বিপজ্জনক ঘটনা। এমন এক ঘটনা যা তার ভেতরে এমন বজ্র ও আগ্নেয়গিরি ধারণ করেছিল, যার পরিণতি সম্পর্কে মিস্টার জন ফস্টার ডালস আমৃত্যু শঙ্কিত ছিলেন—বিশেষ করে সেই সকল মহাপরিকল্পনার ক্ষেত্রে যা বিশ্বকে, বিশেষ করে আরব দেশগুলোকে নির্দিষ্ট পথে পরিচালনার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল।

কিন্তু বান্দুং-এ পুঞ্জীভূত মানবীয় ও বৈষয়িক শক্তির পক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই বজ্র নিক্ষেপ করা বা আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব ছিল না—তৃতীয় বিশ্বের এমন এক বিপ্লবের রূপ ধরে, যা ঊনবিংশ শতাব্দীতে নির্দিষ্ট কিছু উচ্চতর স্বার্থ রক্ষায় বিশ্ব পরিচালনার জন্য প্রণীত অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।

ফরাসি বিপ্লবের সমসাময়িক এবং এর বিরোধী ফরাসি চিন্তাবিদ দ্য বোন্যাল্ড বলেন: "বিপ্লবগুলো সর্বদা কিতাব বা গ্রন্থসমূহই তৈরি করেছে—ইঞ্জিল থেকে শুরু করে সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট (সামাজিক চুক্তি) পর্যন্ত।"

মানুষের বিষয়াবলির ক্ষেত্রে যদি এই দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক (صحيح) হয়—আর আমি একে সঠিক (صحيح) বলেই মনে করি—তবে আমরা বলব:

১৯৫৫ সালের বান্দুং সম্মেলন এবং তার পরবর্তী ১৯৫৭ সালের কায়রো সম্মেলন প্রকৃতপক্ষে তৃতীয় বিশ্বের বিপ্লবের সকল শর্তই পূরণ করেছিল, কেবল একটি শর্ত ব্যতীত; আর তা হলো এই বিপ্লবের অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বুদ্ধিবৃত্তিক স্ফুলিঙ্গ।

বরং আমরা এই গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ পেশ করার প্রাক্কালে বলব: তৃতীয় বিশ্বের ভেতরে ও বাইরে এমন সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যাতে এই স্ফুলিঙ্গ বিচ্ছুরিত হতে না পারে।

এই বক্তব্যের সঠিকতা (صحة)-র প্রমাণ হিসেবে সম্মানিত পাঠকের উদ্দেশ্যে এটুকু বলাই যথেষ্ট যে: কায়রো সম্মেলনের প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে নোবেল পুরস্কার বা লেনিন পুরস্কারের আদলে একটি "আফ্রো-এশীয় পুরস্কার" প্রবর্তনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল।
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ولكن الواقع يضطرنا أن نقول: إن جائزة نوبل وُزعت، منذ مؤتمر القاهرة، سبع عشرة مرة، دون أن توزع الجائزة الآفرسيوية مرة واحدة.

ولعل شر ما قدم خدمة للفكرة الأفرسيوية، هو هذا الكتاب ذاته، لأنه صدر من … عربي!!

وليس بأيدينا، ولا في رغبتنا اليوم، أن نقدم خدمة لفكرة ماتت، بل قتلت في المهد، وقتلتُها جاهلون.

وإنما الغرض الوحيد من هذه الطبعة هو أن نعطي للشاب المسلم العربي صورة صحيحة، بقدر الإمكان، عن الخطوط العريضة للتطور في العالم تحت تأثير العامل التكنولوجي، نحو العالمية.

وأن نقدم له، على وجه الخصوص، الملاحظات التي ضمناها فصل الاقتصاد الأفرسيوي، وفصل ((العالم الإسلامي والفكرة الأفرسيوية)).

 

بيروت 14 يونيو 1971

م. ب. ن.
কিন্তু বাস্তবতা আমাদের বলতে বাধ্য করছে যে: কায়রো সম্মেলনের পর থেকে নোবেল পুরস্কার সতেরো বার বিতরণ করা হয়েছে, অথচ আফ্রো-এশীয় পুরস্কার একবারও বিতরণ করা হয়নি।

সম্ভবত আফ্রো-এশীয় চিন্তাধারার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেবাটি হয়েছে স্বয়ং এই বইটির মাধ্যমেই, কারণ এটি একজন … আরবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছে!!

আজ আমাদের সাধ্যেও নেই এবং আমাদের ইচ্ছাও নেই এমন একটি মৃত ধারণার সেবা করা, যা বরং সূতিকাগারেই নিহত হয়েছে এবং অজ্ঞরাই একে হত্যা করেছে।

এই সংস্করণের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আরব মুসলিম তরুণদের প্রযুক্তিগত উপাদানের প্রভাবে বিশ্বায়নের দিকে বিশ্বের বিবর্তনের রূপরেখা সম্পর্কে যথাসম্ভব একটি সঠিক চিত্র প্রদান করা।

এবং বিশেষভাবে তার সামনে সেই পর্যবেক্ষণগুলো উপস্থাপন করা যা আমরা আফ্রো-এশীয় অর্থনীতি এবং "ইসলামি বিশ্ব ও আফ্রো-এশীয় চিন্তা" নামক অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

 

বৈরুত ১৪ জুন ১৯৭১

ম. ব. ন.
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة

ظللت أحمل القلم في يدي ساعات طوالاً وأنا أحاول أن أبدأ كتابة مقدمة هذا المؤلف العجيب، وكلما تقدم بي الوقت كنت أحس مزيداً من التردد، وهممت أكثر من مرة أن أعتذر لمؤلفه الفيلسوف العربي الجزائري عن كتابة المقدمة شاكراً له حسن ثقته، لولا أنني خشيت ألا يصدق الأخ الفيلسوف أن سبب اعتذاري عن الكتابة هو أنني أحسست بالعجز، مما جعلني أحس بالرهبة، وأشعر بالتردد كلما أوغلت في قراءة المؤلف سطراً بعد سطر، وصفحة بعد صفحة ..

والمؤلَّف بحث علمي، ولكنك ستشعر بالدفء، وتستمتع بالطلاوة، وكأنك تقرأ قصة متسلسلة محبوكة، تنساب حوادثها في رفق ولين ثم لا تلبث أن تجري في عنف وهدير، وهي بين هذا وذاك قصة حقيقية يفوق واقعها كل ما يمكن أن يبدعه خيال الفنان ..

إنها قصة كتلة الشعوب المتحضرة التي تسكن أوربا وأمريكا، وكتلة الشعوب المستعمَرة التي تسكن آسيا وإفريقية ..

وفيلسوفنا صاحب هذا المؤلف من الكتلة الثانية، كتلة الشعوب المستعمَرة التي تسكن آسيا وإفريقية، وعلى التحديد من الجزائر العربية التي تدور على أرضها اليوم أعنف وأقدس معركة من أجل تقرير مصير الجنس البشري كله، ومن أجل الحفاظ على القيم الإنسانية العليا، التي داستها دول الكتلة الأولى
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

 

‌ভূমিকা

আমি দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে হাতে কলম নিয়ে বসে ছিলাম এই বিস্ময়কর গ্রন্থের ভূমিকা লেখা শুরু করার প্রচেষ্টায়। সময় যত অতিবাহিত হচ্ছিল, আমি তত বেশি দ্বিধা অনুভব করছিলাম। আমি একাধিকবার এই আলজেরীয় আরব দার্শনিকের নিকট তাঁর সুগভীর আস্থা (ثقة)-র জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভূমিকা লেখার বিষয়ে ক্ষমা প্রার্থনার সংকল্প করেছি। কেবল এই আশঙ্কায় আমি তা করিনি যে, আমাদের এই দার্শনিক ভাই হয়তো বিশ্বাস করবেন না যে আমার এই অপারগতার মূল কারণ ছিল আমার অক্ষমতাবোধ। এর ফলে আমি এক গভীর ভীতি ও দ্বিধা অনুভব করছিলাম, যা গ্রন্থটি ছত্রে ছত্রে এবং পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা পাঠ করার সাথে সাথে আরও ঘনীভূত হচ্ছিল।

এই গ্রন্থটি একটি তাত্ত্বিক গবেষণা, তবে আপনি এতে প্রাণের উষ্ণতা খুঁজে পাবেন এবং এর চমৎকার সাবলীলতা উপভোগ করবেন, যেন আপনি কোনো নিপুণভাবে গাঁথা ধারাবাহিক গল্প পড়ছেন। এর ঘটনাপ্রবাহ কখনো অত্যন্ত কোমল ও ধীরলয়ে প্রবাহিত হয়, আবার কখনো তা প্রচণ্ড গতি ও গর্জনে ফেটে পড়ে। এই সবকিছুর মাঝে এটি একটি বাস্তব কাহিনী, যার বাস্তবতা শিল্পীর কল্পনার যে কোনো সৃষ্টিকেও হার মানায়।

এটি ইউরোপ ও আমেরিকায় বসবাসকারী তথাকথিত সভ্য জাতিগোষ্ঠী এবং এশিয়া ও আফ্রিকায় বসবাসকারী উপনিবেশিত জাতিগোষ্ঠীর কাহিনী।

আমাদের এই লেখক দার্শনিক হলেন দ্বিতীয় দলভুক্ত; অর্থাৎ এশিয়া ও আফ্রিকায় বসবাসকারী উপনিবেশিত জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে, তিনি আরব আলজেরিয়ার সন্তান, যার ভূমিতে আজ সমগ্র মানবজাতির ভাগ্য নির্ধারণের লক্ষ্যে এবং প্রথম পক্ষভুক্ত দেশগুলোর দ্বারা পদদলিত উচ্চতর মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার তরে এক অতি কঠোর ও পবিত্র সংগ্রাম চলছে।
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
المتحضرة، ومع ذلك فإن فيلسوفنا وهو يخاطب في قصته برابرة الكتلة المتحضرة إنما يتحدث حديث العالم الذي ينفذ إلى أعماق الحقيقة بالسند والبرهان، ويثبت لهم بمنطق العلم الذي اعتقدوا أنه وقف عليهما مدى الحضيض الذي تردوا فيه، على الرغم من أنهم يملكون المصانع والآلات وقنابل الذرة والصواريخ الأيدروجينية.

إن كل إنسان في إفريقية وآسيا، وكل كائن حي في إفريقية وآسيا سيسعد حينما يرى وجهه في هذه المرآة التي صنعها هذا الفيلسوف الذي ينتمي إلى محور طنجة - جاكرتا واستمع إليه معي وهو يصف دخول الكتلة الآسيوية الإفريقية على مسرح السياسة الدولية، إنه يقول:

((إن دخول الشعوب الأفرسيوية على المصرح قد أعاد الازدواج الجغرافي السياسي بطريقة معينة، ولكن في الوقت نفسه أتت هذه الشعوب معها بمبدأ تركيب للعالم، وبإمكانيات تعايش جديد يحمل بوضوح طابع عبقريتها، أعني الشروط الأخلاقية لحضارة لا تكون تعبيراً عن القوة أو الصناعة … )).

وكل إنسان في كتلة الشعوب المتحضرة في أوروبا وأمريكا لا بد أن يفيق على صرخة فيلسوفنا وهو يشخص لهم أصل الداء الذي يفتك بهم، حين يقول لهم في هدوء الواثق، وروعة الموقن:

((في هذه الحالة الخاصة بالعقل الغربي يجب أن نبحث عن مبعث هذه الجهود المنحرفة، التي لا يكفون عن أن يقفوا بها في وجه الاتجاه الطبيعي للعالم، وفي سبيل التطور السلمي الأفرسيوي. وإن إرادة الكبار بما تتمتع به من حق الاعتراض (الفيتو) في المناقشات الدولية لتعتبر في الواقع التيار المضاد لاطراد التاريخ، تياراً مضاداً بكل العناصر السلبية التي تملكها حضارة لم تستطع أن تتغلب على مصاعبها الأخلاقية، وهذا الجمود الأخلاقي كله هو الذي يضغط بثقله على المصير الإنساني، معطلاً التاريخ، تاركاً الأحداث تجري في مكانها .. )).
সভ্য, তবুও আমাদের এই দার্শনিক যখন তাঁর কাহিনীতে সভ্য ব্লকের বর্বরদের সম্বোধন করেন, তখন তিনি এমন এক জ্ঞানীর ন্যায় কথা বলেন যিনি সূত্র (سند) ও প্রমাণের মাধ্যমে সত্যের গভীরে প্রবেশ করেন। তিনি তাদের সেই বিজ্ঞানের যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেন—যা তারা মনে করত কেবল তাদেরই একক সম্পদ—যে তারা কতটা চরম অধঃপাতে নিমজ্জিত হয়েছে; যদিও তাদের মালিকানায় রয়েছে কল-কারখানা, যন্ত্রপাতি, পারমাণবিক বোমা এবং হাইড্রোজেন ক্ষেপণাস্ত্র।

আফ্রিকা ও এশিয়ার প্রতিটি মানুষ এবং আফ্রিকা ও এশিয়ার প্রতিটি জীবন্ত সত্তা আনন্দিত হবে যখন তারা এই আয়নায় নিজেদের প্রতিচ্ছবি দেখবে, যা তৈরি করেছেন এই দার্শনিক—যিনি তাঞ্জিয়ার-জাকার্তা অক্ষের অন্তর্ভুক্ত। আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে এশীয়-আফ্রিকীয় ব্লকের প্রবেশের বর্ণনা দেওয়ার সময় আমার সাথে তাঁর কথাগুলো লক্ষ্য করুন, তিনি বলেন:

((নিশ্চয়ই মঞ্চে আফ্রো-এশীয় জাতিগুলোর প্রবেশ একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ভূ-রাজনৈতিক দ্বৈততাকে পুনরায় ফিরিয়ে এনেছে। কিন্তু একই সাথে, এই জাতিগুলো নিজেদের সাথে বিশ্ব পুনর্গঠনের একটি মূলনীতি এবং নতুন সহাবস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে, যা স্পষ্টভাবে তাদের মেধার স্বাক্ষর বহন করে। আমি বলতে চাচ্ছি সেই সভ্যতার নৈতিক শর্তাবলির কথা, যা কেবল শক্তি বা শিল্পের বহিঃপ্রকাশ হবে না … ))।

এবং ইউরোপ ও আমেরিকার সভ্য জাতিগোষ্ঠীর প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই আমাদের দার্শনিকের এই আর্তনাদ শুনে সজাগ হতে হবে, যখন তিনি তাদের সেই ব্যাধির মূল কারণ নির্ণয় করছেন যা তাদের তিলে তিলে ধ্বংস করছে। তখন তিনি এক আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তির প্রশান্তি এবং এক নিশ্চিত বিশ্বাসীর চমৎকারিত্ব নিয়ে তাদের বলেন:

((পাশ্চাত্য মস্তিষ্কের এই বিশেষ অবস্থায় আমাদের অবশ্যই সেই বিচ্যুত প্রচেষ্টাসমূহের উৎস অনুসন্ধান করতে হবে, যার মাধ্যমে তারা বিশ্বের স্বাভাবিক গতিধারা এবং আফ্রো-এশীয় অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করা থেকে বিরত হয় না। আন্তর্জাতিক আলোচনা সভায় বড় শক্তিগুলোর যে ভেটো (Veto) প্রদানের ক্ষমতা রয়েছে, তা মূলত ইতিহাসের অমোঘ ধারার বিপরীতে এক প্রতিকূল স্রোত হিসেবেই গণ্য। এটি এমন এক প্রতিকূল স্রোত যা সেই সভ্যতার সকল নেতিবাচক উপাদানে পরিপূর্ণ, যে সভ্যতা তার নৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়নি। আর এই সামগ্রিক নৈতিক স্থবিরতা মানব ভাগ্যের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে আছে, যা ইতিহাসকে অচল করে দিচ্ছে এবং ঘটনাপ্রবাহকে এক জায়গাতেই স্থির করে রাখছে...))।
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ولا يلبث فيلسوفنا أن يحذرقائلاً:

((وهكذا يبدو التاريخ في ربع قرن وكأنه يعيد نفسه، دالاً بذلك على أن شيئاً لم يتغير في الواقع في نفسية الحضارة الغربية ..

ولكن على الرغم من المظاهر فإن التاريخ لا ينضغط ولا يعود إلى الوراء، وليست هناك قوة في الأرض تستطيع أن تحد مجراه أو تعيد اطراده، والواقع أن الذي تكرر في سنة 1919م وسنة 1945م لم يكن التاريخ، وإنما هو محاولة العالم الغربي أن يعيد صنعه لتحقيق مصالحه .. )).

وهكذا يسجل فيلسسوفنا في كل صفحة من صفحات هذا المؤلف تاريخ أكبر ملحمة عرفتها البشرية، سجلها حارة امتزجت فيها دماء شهداء الجزائر بدماء شهداء عمان، وبدماء شهداء حرب الاستقلال في الهند، وفي كينيا وفي إندونيسيا، وفي الكمرون، وفي الصين ..

بالدماء التي تسيل اليوم في قلب قارتنا إفريقية وشرقيها وغربيها .. وبدماء سالت أيضاً على أرض فلسطين، وعلى ربى سورية، وتحت أنقاض بور سعيد ..

وهي بعد قصة انتصار الحق على الباطل، وقصة انتصار قوانين الخلق تتمسك بها شعوب إفريقية وآسيا العزلاء على شريعة الغاب التي فشلت أوروبا وأمريكا في أن تفرضها بالأساطيل، والقنابل، والذرة، وكل أدوات الفتك والدمار.

تهنئة لفيلسوفنا على هذا الجهد الرائع المشرف.

وتهنئة لشعوبنا في آسيا وإفريقية المتضامنة من أجل الحق والسلام.

 

أ. س

18/ 12/ 1957م
শীঘ্রই আমাদের দার্শনিক সতর্ক করে দিয়ে বলেন:

“এভাবেই এক শতাব্দীর এক চতুর্থাংশে ইতিহাসকে মনে হয় যেন সে নিজেকে পুনরাবৃত্তি করছে, যা নির্দেশ করে যে পশ্চিমা সভ্যতার মনস্তত্ত্বের বাস্তবতায় আসলে কিছুই পরিবর্তিত হয়নি...

কিন্তু বাহ্যিক রূপ সত্ত্বেও ইতিহাস সংকুচিত হয় না এবং পেছনে ফিরে যায় না। পৃথিবীতে এমন কোনো শক্তি নেই যা এর গতিপথকে সীমাবদ্ধ করতে পারে কিংবা এর ধারাবাহিকতাকে ফিরিয়ে আনতে পারে। প্রকৃতপক্ষে ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দ এবং ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে যা পুনরাবৃত্ত হয়েছিল তা ইতিহাস ছিল না, বরং তা ছিল পশ্চিমা বিশ্বের নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য ইতিহাসকে পুনর্নির্মাণের একটি প্রচেষ্টা মাত্র...”।

এভাবেই আমাদের দার্শনিক এই গ্রন্থের প্রতিটি পৃষ্ঠায় মানবজাতির পরিচিত সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকাব্যের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন; এমন এক তপ্ত নথিপত্র যেখানে আলজেরিয়ার শহীদদের রক্ত ওমানের শহীদদের রক্তের সাথে এবং ভারত, কেনিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ক্যামেরুন ও চীনের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের রক্তের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে...

সেই রক্তের সাথে যা আজ আমাদের আফ্রিকা মহাদেশের হৃদয়ে এবং এর পূর্ব ও পশ্চিমে প্রবাহিত হচ্ছে... এবং সেই রক্তের সাথে যা ফিলিস্তিনের মাটিতে, সিরিয়ার পাহাড়ে এবং পোর্ট সাইদের ধ্বংসস্তূপের নিচে ঝরেছে...

পরিশেষে এটি মিথ্যার ওপর সত্যের বিজয়ের গল্প, এবং সৃষ্টির সেই সব অমোঘ বিধানের বিজয়ের কাহিনী যা আফ্রিকা ও এশিয়ার নিরস্ত্র জাতিসমূহ আঁকড়ে ধরে আছে—জঙ্গলের সেই আইনের বিরুদ্ধে যা ইউরোপ ও আমেরিকা তাদের নৌবহর, বোমা, পারমাণবিক অস্ত্র এবং ধ্বংস ও হত্যার যাবতীয় উপকরণ দিয়ে চাপিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

আমাদের দার্শনিককে এই চমৎকার ও সম্মানজনক প্রচেষ্টার জন্য অভিনন্দন।

এবং সত্য ও শান্তির লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ এশিয়া ও আফ্রিকার জাতিসমূহকে অভিনন্দন।

 

আ. স.

১৮/ ১২/ ১৯৫৭ খ্রি.
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌تَنْبِيهٌ

لجأ المؤلف أثناء اشتغاله بتأليف هذا الكتاب إلى تصريحات لبعض المسؤولين، وإلى شخصيات سياسية بدت له آراؤها صالحة، لتدعيم موضوعات فكرة الإفريقية الآسيوية. ومع ذلك فهو لم يعمد إلى ربط هذه الموضوعات بالأشخاص، وإنما بالأفكار وحدها. فإن الآشخاص قد تدفعهما بعض الأسباب - وخاصة ما يتصل بسياسة الدولة- إلى أن يتوقفوا أو يتراجعوا، وبرغم هذا فإن التاريخ لا يكف عن التقدم، ولا يعود مطلقاً إلى المواقف التي سبق أن سجلها.

وفكرة الافريقية الآسيوية هي أحد هذه المواقف، التي لن يتخلى عنها التاريخ، فهي تمثل- بالنسبة إلى جزء من الإنسانية- قاعدة للانطلاق نحو تقرير مصيره.

 

م. ب. ن.

القاهرة في 6/ 11/ 1956م
সতর্কীকরণ (تنبيه)

এই গ্রন্থটি রচনার সময় লেখক কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিবৃতি এবং এমন কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের শরণাপন্ন হয়েছেন যাদের মতামত তাঁর নিকট গ্রহণযোগ্য (صالحة) বলে প্রতীয়মান হয়েছে, যাতে আফ্রো-এশীয় চিন্তাধারার বিষয়বস্তুসমূহ সুদৃঢ় করা যায়। তা সত্ত্বেও, তিনি এই বিষয়বস্তুগুলোকে ব্যক্তিদের সাথে সম্পৃক্ত করতে চাননি, বরং কেবল ভাবাদর্শের সাথেই সংশ্লিষ্ট করেছেন। কারণ বিভিন্ন কারণে—বিশেষত রাষ্ট্রীয় নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ফলে—ব্যক্তিরা থমকে যেতে পারে বা পিছু হটতে পারে; তবে তা সত্ত্বেও ইতিহাস তার অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয় না এবং অতীতে রেকর্ডকৃত অবস্থানে কখনোই পুনরায় ফিরে যায় না।

আর আফ্রো-এশীয় চিন্তাধারা হলো ইতিহাসের এমন এক অবস্থান যা ইতিহাস কখনো বর্জন করবে না; কেননা এটি মানবজাতির একটি অংশের জন্য তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ভাগ্য নির্ধারণের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি ভিত্তি স্বরূপ।

 

মা. বি. না.

কায়রো, ৬/১১/১৯৫৬ খ্রি.
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌تمهيد

هناك فلسفة، منذ عهد (كلوزفتز) ( Clausevitz) (1) ترى أن الحرب ((استمرار للسياسة بوسائل أخرى))، وذلك يعني في منطق الفعالمية- الذي يعدّ إحدى خصائص العقل الغربي- ضرورة حسم المشكلات الإنسانية بوسائل السياسة أو بوسائل الحرب، أي حسمها على أي حال.

ولكن نار هذه الحقيقة قد خمدت، فإن جيلنا يواجه مشكلات استعصى حلها على سياسة نصف قرن، وعلى حربين عالميتين، وكان الإخفاق في كلا الطريقين مدوياً.

وكان طابع هذه الفترة، هو أن سياسة غير مثمرة- لأنها مجافية للأخلاق- تقود حتماً إلى حرب مجافية للأخلاق، وبالتالي غير مثمرة، وهذه تؤول مرة أخرى إلى سياسة ترى أن (الخطأ) أقبح من (الجريمة) على ما ذهب إليه مفسرها الأعظم- تاليران ( Talleyrand) (2) .

والأزمة التي ما زال العالم يتخبط فيها، تتصل بواقع يبدو أنه لا يخرج فلكي يحاول أن نرى من أي مهرب يخرج العالم من هذه الحلقة المفرغة، يجب أن نقول أولاً: من أي الطرق دخل إليها.

فمما لا نزاع فيه، أن العالم قد خضع لسيطرة أوروبا الأخلاقية والسياسية منذ قرنين من الزمان، والمشكلات التي لم تستطع السياسة والحروب خلال

--------------------------------------------

(1) كارل فون كلورفتز Karle von Clausevitz، قائد ألماني (1785 - 1831م)، وهو صاحب كتاب مشهور في فلسفة الحرب، عنوانه ((في الحرب De la Guerre)) .

(2) تاليران Talleyrand سياسى فرنسى (1754 - 1838م) دخل ميدان السياسة إبان الثورة الفرنسية، ولعب دورًا هاماً في تخطيط السياسة الخارجية التي اتبعها نابليون الأول.
‌ভূমিকা

ক্লজউইটজ (Clausevitz) (১)-এর সময় থেকে এমন একটি দর্শন বিদ্যমান, যা মনে করে যে যুদ্ধ হলো "অন্যান্য উপায়ে রাজনীতিরই ধারাবাহিকতা"। কার্যকারিতার যুক্তিতে—যা পাশ্চাত্য চিন্তাধারার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত—এর অর্থ হলো মানবিক সমস্যাগুলোকে রাজনৈতিক উপায়ে অথবা যুদ্ধের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা অপরিহার্য, অর্থাৎ যে কোনোভাবেই হোক তার সমাধান করা।

কিন্তু এই বাস্তবতার আগুন এখন স্তিমিত হয়ে এসেছে; কেননা আমাদের প্রজন্ম এমন সব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে যা গত অর্ধ-শতাব্দীর রাজনীতি কিংবা দুটি বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমেও সমাধান করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে এবং উভয় পথেই ব্যর্থতা ছিল অত্যন্ত প্রকট।

এই সময়ের বৈশিষ্ট্য ছিল একটি নিষ্ফল রাজনীতি—কারণ তা ছিল নৈতিকতা বিরোধী—যা অনিবার্যভাবে একটি নৈতিকতা বর্জিত যুদ্ধের দিকে পরিচালিত করে এবং ফলস্বরূপ তা নিষ্ফল হয়ে পড়ে। এটি পুনরায় এমন এক রাজনীতিতে পর্যবসিত হয় যা মনে করে যে "ভুল" করা "অপরাধ"-এর চেয়েও জঘন্য; যেমনটি এর প্রধান ব্যাখ্যাদাতা তালিরঁ (Talleyrand) (২) উল্লেখ করেছেন।

বিশ্ব বর্তমানে যে সংকটের আবর্তে হাবুডুবু খাচ্ছে, তা এমন এক বাস্তবতার সাথে সম্পৃক্ত যেখান থেকে উত্তরণের কোনো পথ দৃশ্যমান নয়। বিশ্ব এই দুষ্টচক্র থেকে কোন পথে মুক্তি পেতে পারে তা অনুসন্ধান করার আগে আমাদের অবশ্যই বলতে হবে: বিশ্ব কোন পথে এতে প্রবেশ করেছিল।

এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই যে, গত দুই শতাব্দী ধরে বিশ্ব ইউরোপের নৈতিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অধীনে ছিল। আর যে সকল সমস্যা রাজনীতি ও যুদ্ধের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হয়নি...

--------------------------------------------

(১) কার্ল ফন ক্লজউইটজ (Karle von Clausevitz), একজন জার্মান সেনাপতি (১৭৮৫ - ১৮৩১ খ্রি.), তিনি যুদ্ধদর্শন বিষয়ক একটি বিখ্যাত গ্রন্থের রচয়িতা, যার শিরোনাম "অন ওয়ার" (De la Guerre)।

(২) তালিরঁ (Talleyrand), একজন ফরাসি রাজনীতিবিদ (১৭৫৪ - ১৮৩৮ খ্রি.), যিনি ফরাসি বিপ্লবের সময় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং প্রথম নেপোলিয়ান কর্তৃক অনুসৃত পররাষ্ট্র নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
نصف قرن أن تضع لها حلاً مؤثراً، إنما تنتج عن هذه السيطرة الأوروبية العليا على الشؤون الإنسانية. فموطن الأزمة موجود في الضمير الأوروبي نفسه، في علاقته بالمأساة الإنسانية.

وهذا يعود إلى القول بأن الأزمة تتصل بتفسير المشكلات أكثر من اتصالها بطبيعة هذه المشكلات. فهي ليست أزمة في الوسائل، وإنما في الأفكار.

وينبغي على أي سياسة- لكي تكون فعالة- أن تكيف وسائلها تبعاً لبعض المفاهيم الإنسانية.

ولكن أوروبا التي استطاعت خلال قرنين من الزمان أن تتحكم في موارد العالم كله، قد وضعت هذه الموارد تحت تصرف النظام الأوروبي فحسب، محتكرة بذلك- من أجل فائدتها وحدها- الحرية والسلام والعمل، فلقد أحدثت في العالم المتحضر تفرقة بين الأخلاق والسياسة، ثم كانت هذه التفرقة بين الرجل الأبيض والرجل الملون.

وهكذا خصص الغرب نظرته بالنسبة إلى المبادئ كما خصصها بالنسبة إلى الرجال، فإذا بنظرته إلى ما هو أوروبي تختلف عما ليس كذلك، فهو يرى بصورة طبيعية مشكلات أوروبا ورجالها، أما حين ينظر إلى مشكلات الشعوب الأخرى، أو حين ينظر إلى هذه الشعوب نفسها فإنه يضع نظارة على عينيه، وإذا بهذه النظرة غير المباشرة لا تتصل بقيم الأخلاق أو بقيم السياسة، وإنما ببعض ما يشبه من قريب جمعية جرامونت ( Société Gramont) التي أنشئت في فرنسا من أجل الرفق بالحيوان.

ولقد تمثلت هذه التفرقة في بعض الأحداث المعاصرة في الحياة الدولية، حيث اعتمدت سياسة أمريكا في نهاية الحرب الأخيرة مشروع إرسال مارشال- للشعوب الغربية، كيما تعين هذه الشعوب على النهوض بعد التحرر. واعتمدت لهم أخلاقها المن والسلوى في مشروع ( U.N.R.W.A) لإسعافهم مؤقتاً، فكأنها بهذا قد اعتمدت لهم الحرية والعمل والخبز، أو الوسائل الضرورية لكسبها. وفي
গত অর্ধশতাব্দী ধরে এর কোনো কার্যকর সমাধান বের করতে না পারা মূলত মানবিক বিষয়াবলির ওপর ইউরোপীয় উচ্চতর আধিপত্যেরই এক অবধারিত ফল। এই সংকটের মূল উৎস খোদ ইউরোপীয় বিবেকের ভেতরেই নিহিত, বিশেষত মানবিক বিপর্যয়ের সাথে এর সম্পর্কের ক্ষেত্রে।

এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এই সংকট সমস্যার প্রকৃত স্বরূপের চেয়ে বরং সমস্যার ব্যাখ্যার সাথেই অধিকতর সংশ্লিষ্ট। এটি উপায়ের সংকট নয়, বরং এটি চিন্তাধারার সংকট।

যেকোনো রাজনীতিকে কার্যকর হতে হলে তাকে সুনির্দিষ্ট কিছু মানবিক ধারণার আলোকে নিজের কর্মপন্থাকে অভিযোজিত করতে হয়।

কিন্তু ইউরোপ, যা গত দুই শতাব্দীকাল ধরে বিশ্বব্যাপী সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, তারা সেই সম্পদরাশিকে কেবল ইউরোপীয় ব্যবস্থার অধীনেই ন্যস্ত করেছে। এভাবে তারা কেবল নিজেদের স্বার্থেই স্বাধীনতা, শান্তি ও শ্রমকে একচেটিয়া করে নিয়েছে। তারা সভ্য বিশ্বে নৈতিকতা ও রাজনীতির মধ্যে এক বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং পরবর্তীতে এই বিভেদ শ্বেতাঙ্গ ও অশ্বেতাঙ্গ মানুষের মাঝেও প্রতিফলিত হয়েছে।

এভাবে পাশ্চাত্য মানুষের ক্ষেত্রে যেমন, মূলনীতির ক্ষেত্রেও তেমনি তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে বিশেষায়িত করেছে। ফলে ইউরোপীয় বিষয়ের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনইউরোপীয় বিষয়ের চেয়ে ভিন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা ইউরোপের সমস্যা ও এর জনগণকে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখে; কিন্তু যখন অন্য জাতির সমস্যা বা স্বয়ং সেই জাতিগুলোর দিকে তাকায়, তখন তারা চোখে এক বিশেষ চশমা এঁটে নেয়। এই পরোক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নৈতিক বা রাজনৈতিক মূল্যবোধের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি ফ্রান্সে পশুদের প্রতি দয়া প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত 'সোসাইটি গ্রামন্ট' (Société Gramont)-এর কার্যক্রমের সদৃশ।

আন্তর্জাতিক জীবনের কিছু সমসাময়িক ঘটনায় এই বৈষম্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। যেমন—বিগত যুদ্ধের শেষে মার্কিন নীতি পশ্চিমা দেশগুলোর স্বাধীনতার পর তাদের পুনর্গঠনে সহায়তার লক্ষ্যে 'মার্শাল প্ল্যান' গ্রহণ করেছিল। আর অন্যদের জন্য তারা 'ইউএনআরডব্লিউএ' (U.N.R.W.A) প্রকল্পের মাধ্যমে সাময়িক সাহায্যের ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ অনুগ্রহ ও বদান্যতার নীতি গ্রহণ করেছে; যেন এর মাধ্যমেই তারা তাদের জন্য স্বাধীনতা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা অথবা তা অর্জনের প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। আর...
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
مقابل لك نجدها قد ابتدعت للشعوب المتخلفة مشروعاً آخر أطلقت عليه اسم (النقطة الرابعة)، أي إنها لم تعتمد لهم الخبز ولا العمل ولا الحرية.

هذه التفرقة المتجلية في مثال من أمثلة كثيرة، هي السبب الذي يفسر الأزمة الأساسية للقرن العشرين. إنه يفسرها ويغذيها في الوقت نفسه حيث إن نظرة الغرب لا تدرك من هذه الأزمة سوى وجهها الغربي، أي عندما تصل في أوروبا إلى درجة الانفجار، بأن تصبح على شفا حرب عالمية، وحينئذ يتهمون الأسباب الطارئة، فيسوقون إلى المقصلة أفكار النازية أو الفاشية.

وعلى الرغم من هذا، فإن نظرة الغرب قد بدأت تلحظ قوى غير أوروبية تقف في ساحة التاريخ، فقد برزت المشكلات الحقيقية، أو قلْ الموضوعات الجوهرية مع العاصفة الأخيرة في الضمير الإنساني، وفي حلبة السياسة الدولية، أبرزتها الحرب العالمية الثانية حين هب ثلاثة أرباع الإنسانية يطالبون للمرة الأولى منذ قرنين بحقهم في الحرية وفي العمل، وفي الخبز.

لقد جند الغرب في الحرب العالمية الأخيرة كل قواه المادية، ولكن الشعوب الأخرى كانت قد علقت على تلك الحرب آمالها، تلك التي ما كان لها أن تختلط بأهداف الحرب بين المتخاصمين. فلم يعد السلام على هذا مجرد (سلام أوروبي) ( Pax Europa) كالذي قرره مؤتمر، فرساي، إثر الحرب العالمية الأولى، فقد تغيرت النفسية العالمية، والعبقرية الغربية قد ساهمت بنفسها في هذا التغيير حين وضعت الإنسانية أمام استحالة جديدة لبلوغ أهدافها، فلم يعد من الممكن أن يحكم العالم بمنطق علم حديت يوجه الإنسانية في العصر الذري، وبعقلية العصور الوسطى- التي ترى أن تبقيه في أوضاع خاصة- هي التي خلقت الاستعمار والقابلية للاستعمار. لقد جعلت هذه الاستحالة من الضروري إحداث تغير عميق، إحداث طفرة من الحالة التي نطلق عليها (بادرة الحضارة) إلى الحضارة أو (من yin إلى yan ) حسب تعبير توينبي ( Toynbee) الذي استخدم من جديد هذين الرمزين الصينيين، ليعبر عن الانتقال من الحالة السابقة على
এর বিপরীতে আমরা দেখতে পাই যে, এটি অনগ্রসর জাতিগুলোর জন্য অন্য একটি প্রকল্প উদ্ভাবন করেছে যার নাম দেওয়া হয়েছে 'চতুর্থ দফা' (Point Four)। অর্থাৎ, এটি তাদের জন্য অন্ন, কর্মসংস্থান বা স্বাধীনতা—কোনোটিকেই নিশ্চিত করেনি।

বহু উদাহরণের মধ্যে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠা এই বৈষম্যই বিংশ শতাব্দীর মৌলিক সংকটের ব্যাখ্যা প্রদান করে। এটি একই সাথে সংকটকে ব্যাখ্যা করে এবং একে পুষ্ট করে; কারণ পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি এই সংকটের কেবল পশ্চিমা রূপটিই অনুধাবন করতে পারে—অর্থাৎ যখন এটি ইউরোপে বিস্ফোরণোন্মুখ পর্যায়ে পৌঁছায় এবং একটি বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। তখন তারা আপতকালীন কারণসমূহকে অভিযুক্ত করে এবং নাৎসিবাদ বা ফ্যাসিবাদের চিন্তাধারাকে গিলোটিনে পাঠায়।

তা সত্ত্বেও পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি ইতিহাসের মঞ্চে ইউরোপীয় নয় এমন শক্তিগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করতে শুরু করেছে। মানবীয় বিবেক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির অঙ্গনে সাম্প্রতিক ঝড়ের সাথে সাথে প্রকৃত সমস্যাসমূহ—কিংবা বলা যায় মৌলিক বিষয়সমূহ—উত্থিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে, যখন গত দুই শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবারের মতো মানবজাতির তিন-চতুর্থাংশ তাদের স্বাধীনতা, কর্মসংস্থান এবং অন্নের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে।

পশ্চিমারা গত বিশ্বযুদ্ধে তাদের সমস্ত বৈষয়িক শক্তিকে নিয়োজিত করেছিল, কিন্তু অন্যান্য জাতিসমূহ সেই যুদ্ধের ওপর তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে নিবদ্ধ করেছিল—যা যুদ্ধরত পক্ষগুলোর লক্ষ্যের সাথে মিশ্রিত হওয়ার মতো ছিল না। ফলে শান্তি আর কেবল একটি 'ইউরোপীয় শান্তি' (Pax Europa) হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি, যেমনটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভার্সাই সম্মেলনে নির্ধারিত হয়েছিল। কেননা বৈশ্বিক মনস্তত্ত্বে পরিবর্তন এসেছে এবং পশ্চিমা মেধা নিজেই এই পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে যখন তারা মানবতাকে তার লক্ষ্য অর্জনে এক নতুন অসম্ভবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে। পারমাণবিক যুগে মানবতাকে দিকনির্দেশনা প্রদানকারী আধুনিক বিজ্ঞানের যুক্তি এবং মধ্যযুগীয় মানসিকতা—যা বিশ্বকে বিশেষ অবস্থায় আটকে রাখতে চায় এবং যা উপনিবেশবাদ ও উপনিবেশযোগ্যতা (القابلية للاستعمار) সৃষ্টি করেছে—তা দিয়ে বিশ্ব পরিচালনা করা আর সম্ভব নয়। এই অসম্ভবতা একটি গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাকে অনিবার্য করে তুলেছে; একটি উল্লম্ফন যা আমাদের 'সভ্যতার পূর্বাভাস' (بادرة الحضارة) থেকে 'সভ্যতা'র দিকে কিংবা টয়েনবি (Toynbee)-এর অভিব্যক্তি অনুযায়ী 'ইন' (Yin) থেকে 'ইয়াং' (Yang)-এ উত্তরণ ঘটাবে। টয়েনবি পূর্ববর্তী অবস্থা থেকে রূপান্তর বোঝাতে এই চীনা প্রতীক দুটি পুনরায় ব্যবহার করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الحضارة إلى حالة الحضارة الكاملة، وربما كان هذا الانتقال المرتبط بالحقائق العلمية والأخلاقية للقرن العشرين هو مشكلة الساعة، ولكن مصاعب هذا التطور ليست واحدة في كل مكان، لأن قشور التقاليد التي تغلف الضمير، ليست دائماً بالثخانة أو الكثافة نفسها.

ولعل من الغريب أن نقول: إن الرجل المتحضر تزيد لديه هذه الأغلفة أو القشور. والإنجيل لم يدع شيئاً غريباً حين وجه إلى الفرنسيين الذين طبعتهم على الحرمان ثقافتهم وخرافتهم، هذه الآية الشهورة التي قال فيها: ((طوبى لبسطاء العقول فإن لهم ملكوت السموات)) (1).

إن الوسط المثقف أقل الأوساط انطباعاً بالتغيرات الكبرى، المفاجئة، ولذلك فإن الانتقال من حالة (الـ yin الى yan) من أشق الأمور عليه، لأن الخط الذي ترسمه عبقرية ما في التاريخ، قد ينقلب إلى حفرة من الرمال تغوص فيها. أما الرجل الفطري، (البسيط العقل) فهو أحياناً أقدر على اجتياز منعطفات التاريخ، وربما كان للرجل الفطري في إفريقية وآسيا رسالته الخاصة في القرن العشرين، وهي أن يعين الإنسانية على اجتياز هذا المنعطف، فيما لو نجح هو في هذا الاجتياز، وربما لم تكن هذه هي المرة الأولى التي تقرر فيها الإنسانية مصيرها فيما بين النيل إلى نهر الجانج ( Le Gange) بالهند، فإن آثارها الأولى في التاريخ قد ظهرت هنالك، حيث عبرت المرحلة من العصر الفردوسي إلى العصر الاقتصادي، إبان الثورة الزراعية في العصر الحجري الجديد، تلك الثورة التي أتاحت للإنسانية أن تحل الاستحالة الأولى في طريق السعي إلى مصيرها منذ سبعة آلاف عام.

ومؤتمر باندونج هو بكل تأكيد دليل على الانتقال التاريخي الذي سيتم هذه المرة من النظام الصناعي إلى النظام الأخلاقي. فلقد اتفق وقوع هذا الحدث الدولي مع لحظة حاسمة، تفصل بين أزمة رهيبة وبين حلها الضروري. والتفسير

--------------------------------------------

(1) إنحيل لوقا إصحاح الخطاب على الجبل،
সভ্যতা থেকে পূর্ণাঙ্গ সভ্যতার স্তরে উত্তরণ, এবং সম্ভবত বিংশ শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক বাস্তবতার সাথে সম্পৃক্ত এই রূপান্তরই বর্তমান সময়ের প্রধান সমস্যা। তবে এই বিবর্তনের প্রতিকূলতা সব জায়গায় সমান নয়; কারণ বিবেকের ওপর ঐতিহ্যের যে আবরণ বা আস্তরণ থাকে, তা সব সময় একই রকম পুরু বা ঘন হয় না।

সম্ভবত এটি বলা অদ্ভুত শোনাবে যে, একজন সভ্য মানুষের মধ্যেই এই আবরণ বা আস্তরণগুলো অধিকতর বৃদ্ধি পায়। ইনজিল কোনো অদ্ভুত কথা বলেনি যখন সে তার সংস্কৃতি ও কুসংস্কারে বঞ্চনার শিকার ফরাসিদের প্রতি এই বিখ্যাত বাণীটি পেশ করেছিল: "ধন্য সেই সহজ-সরল চিত্তের অধিকারীরা, কারণ আসমানি বাদশাহি তাদেরই জন্য।" (১)।

শিক্ষিত সমাজ বড় ও আকস্মিক পরিবর্তনগুলোর দ্বারা সবচেয়ে কম প্রভাবিত হয়। ফলে 'ইন' (yin) থেকে 'ইয়ান' (yan) অবস্থায় রূপান্তর তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন বিষয়। কারণ ইতিহাসের কোনো প্রতিভাশীল ব্যক্তি যে পথরেখা অঙ্কন করেন, তা অনেক সময় বালুকাময় গর্তে পরিণত হতে পারে যাতে মানুষ তলিয়ে যায়। পক্ষান্তরে, স্বভাবজাত ও সরলমনা মানুষ কখনো কখনো ইতিহাসের বাঁকগুলো অতিক্রম করতে অধিক সক্ষম হয়। সম্ভবত বিংশ শতাব্দীতে আফ্রিকা ও এশিয়ার স্বভাবজাত মানুষের একটি বিশেষ বার্তা রয়েছে, আর তা হলো মানবতাকে এই সন্ধিক্ষণটি অতিক্রম করতে সহায়তা করা—যদি সে নিজে এই উত্তরণে সফল হয়। সম্ভবত এটিই প্রথমবার নয় যে, মানবতা নীল নদ থেকে ভারতের গঙ্গা (Le Gange) নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে নিজের ভাগ্য নির্ধারণ করছে। কারণ ইতিহাসে এর প্রথম নিদর্শনগুলো সেখানেই প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে মানবতা 'স্বর্গীয় যুগ' থেকে 'অর্থনৈতিক যুগে' পদার্পণ করেছিল—নব্য প্রস্তর যুগের কৃষি বিপ্লবের সময়। সেই বিপ্লবই সাত হাজার বছর আগে মানবতাকে তার গন্তব্যের পথে প্রথম অসম্ভবকে সম্ভব করার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল।

বান্দুং সম্মেলন নিশ্চিতভাবেই সেই ঐতিহাসিক রূপান্তরের প্রমাণ, যা এবার শিল্প ব্যবস্থা থেকে নৈতিক ব্যবস্থায় সম্পন্ন হবে। এই আন্তর্জাতিক ঘটনাটি এমন এক চূড়ান্ত মুহূর্তে সংঘটিত হয়েছে, যা একটি ভয়াবহ সংকট এবং তার প্রয়োজনীয় সমাধানের মধ্যে পার্থক্য রেখা টেনে দেয়। আর এর ব্যাখ্যা হলো—

--------------------------------------------

(১) লুক লিখিত ইনজিল, 'পাহাড়ে উপদেশ' অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
المنطقي لهذا الحدث يصدر أساساً عن وقوعه بين هذين القطبين: بادرة الحضارة والحضارة في القرن العشرين.

ولقد كشف مؤتمر باندونج عن أهمية تتجاوز أهدافه العاجلة، وذلك دون أن يلتزم باستخلاص مضمون مذهبي، حيث قد نحى جانباً المشكلات النظرية، لكي يصفي المشكلات الواقعية الملحة. ولقد قال لي أحد الدبلوماسيين الهنود قبيل الذهاب إلى المؤتر: ((ليس لدينا من الخشوع ما يكفينا ونحن ذاهبون إلى باندونج)).

في هذا التقديس والإجلال يكمن التفسير الحق للمؤتمر، أكثر من أن يكون في تلك الواقعية التي لا ترى فيه سوى حادث عارض في الحياة الدولية، حيث أصبح من المستطاب منذ عام (1945م) أن نتكهن بتوزيع الأصوات بين الكتلتين، ونعكف على لعبة عد الأصوات لكي نكتشف هكذا .. سر أبي الهول.

إن خلاص الإنسانية والمشكلات التي أثارها المؤتمر من أجل هذا الخلاص، قد خلعا عليه طبيعة وصفة تدفع إلى التقديس أكثر مما تدفع إلى لعبة عد الأصوات .. إلى لعبة ..

ويدَع أحد المراقبين الغربيين لمؤرخ سنة (2000م) مهمة القول، بأن: ((مؤتمر باندونج لم يحقق أي نتيجة عاجلة، ولكنه كان مجمَعاً للقوى التي خطّت الطريق لتطور التاريخ، وشكلت العالم الذي نعيش فيه اليوم)).

هذه الشهادة التي تهمنا باعتبارها حكماً على المستقبل البعيد لهذا الحادث الدولي، تهمنا أيضاً باعتبارها دليلاً على تأثيره السريع في الضمير الغربي، الذي رأى تحت الغلالة الرقيقة ((الأفرسيوية)) مضمونها الإنساني ومغزاها العالمي.

وفضلاً عن ذلك .. فقد كان لهذا المؤتمر تأثيره العاجل، إذ دفع -على الأقل- ذلك الضمير الغربي إلى امتحان جديد.
এই ঘটনার যৌক্তিক ভিত্তি মূলত বিংশ শতাব্দীতে সভ্যতার উন্মেষ এবং সভ্যতা—এই দুই মেরুর মধ্যবর্তী স্থানে এর অবস্থানের ফলে উদ্ভূত।

বান্দুং সম্মেলন এমন এক গুরুত্ব উন্মোচিত করেছে যা এর তাৎক্ষণিক লক্ষ্যসমূহকেও ছাড়িয়ে যায়, এবং তা কোনো সুনির্দিষ্ট মতাদর্শগত বিষয়বস্তু আহরণের দায়বদ্ধতা ছাড়াই; কেননা এটি জরুরি বাস্তব সমস্যাবলির সমাধানের লক্ষ্যে তাত্ত্বিক জটিলতাগুলোকে একপাশে সরিয়ে রেখেছিল। সম্মেলনের প্রাক্কালে জনৈক ভারতীয় কূটনীতিক আমাকে বলেছিলেন: “আমরা যখন বান্দুং যাচ্ছি, তখন আমাদের মাঝে যতটুকু বিনয় থাকা প্রয়োজন তা নেই।”

এই পবিত্রজ্ঞান ও শ্রদ্ধাবোধের মধ্যেই সম্মেলনের প্রকৃত ব্যাখ্যা নিহিত, সেই বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির চেয়েও বেশি যা একে আন্তর্জাতিক জীবনের নিছক একটি আকস্মিক ঘটনা হিসেবে গণ্য করে। ১৯৪৫ সাল থেকে এটি একটি সাধারণ রীতিতে পরিণত হয়েছে যে, আমরা দুই ব্লকের মধ্যে ভোট বণ্টনের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করি এবং ভোট গণনার খেলায় মগ্ন হই যাতে এর মাধ্যমে ‘স্ফিংসের’ রহস্য উন্মোচন করা যায়।

মানবতার মুক্তি এবং এই মুক্তির লক্ষ্যে সম্মেলনটি যেসব সমস্যার অবতারণা করেছে, তা একে এমন এক প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য দান করেছে যা ভোট গণনার খেলার চেয়ে বরং একে পবিত্রজ্ঞানের দিকেই বেশি ধাবিত করে... এক খেলার দিকে...

জনৈক পশ্চিমা পর্যবেক্ষক ২০০০ সালের ঐতিহাসিকের জন্য এই কথা বলার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন যে: “বান্দুং সম্মেলন কোনো তাৎক্ষণিক ফলাফল অর্জন করতে না পারলেও এটি ছিল এমন এক শক্তির মিলনস্থল যা ইতিহাসের বিবর্তনের পথরেখা অঙ্কন করেছিল এবং আমাদের বর্তমান বিশ্বকে রূপ দান করেছিল যেখানে আমরা আজ বাস করছি।”

এই সাক্ষ্য যা এই আন্তর্জাতিক ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাবের ওপর একটি রায় (حكم) হিসেবে আমাদের নিকট গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পশ্চিমা বিবেকের ওপর এর তাৎক্ষণিক প্রভাবের প্রমাণ হিসেবেও তাৎপর্যপূর্ণ; যে বিবেক সেই পাতলা ‘আফ্রো-এশীয়’ আবরণের নিচে এর মানবিক সারমর্ম এবং বৈশ্বিক গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিল।

তদুপরি, এই সম্মেলনের একটি তাৎক্ষণিক প্রভাবও ছিল, কারণ এটি—অন্ততপক্ষে—সেই পশ্চিমা বিবেককে এক নতুন পরীক্ষার সম্মুখীন করেছিল।
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
دفع في الواقع بعض المسؤولين مثل مستر- دلاس- إلى مراجعة ضميره، فلم يكن تبريره الذي صرح به عن إخفاق هيئة الأمم المتحدة، إلا لأن الرئيس جمال عبد الناصر كان بالأمس قد وجه في خطبته الأولى من منبر باندونج بعض الانتقادات إلى المنظمة الدولية. فلم يكن هذا التبرير إلا دليلاً على هذه المراجعة.

وجملة القول، إن المؤتمر (الأفرسيوي) قد افتتح أعماله بالنسبة إلى العالم (الكبار) بـ (لحظة الحقيقة) وبالساعة التي وجب أن يدافع فيها عن نفسه. وكان عالم الكبار قد وجهت إليه دعوة ليبدي رأيه بصراحة في موضوعات المؤتمر الأساسية في إطارها الإنساني، وليس فقط في الإطار الغربي.

وهكذا سجل أسبوع باندونج تفوق الجانب الإنساني في السياسة العالمية، إنه سجل في التاريخ حدثاً، واطراداً، فأما الحدث فقد أنطبع في الواقع الراهن في الأحداث المضطرمة لأسبوع حافل بالتاريخ. وأما الاطراد، فإنه يخص النتائج المتوقعة القريبة أو البعيدة.

وأهمية المؤتمر تتجلى في هذه الأرقام: فقد جمع تسعاً وعشرين دولة تمثل قارتين بما تقلان من جموع بشرية، وما تضمان من تراث فكري متفاوت، بحيث تقف روحانية الإسلام على طرف، وماركسية الصين الشعبية على الطرف الآخر. وإن هذا الاطراد ليتجاوز في الواقع رقعة إفريقية وآسيا، إذ هو يمتد اجتماعياً من طنجة إلى جاكرتا. وأخلاقياً من واشنطن إلى موسكو. وينحو نحو تكامل مزدوج يرفع الرجل ((الأفرسيوي)) إلى المستوى الاجتماعي للحضارة، ويرفع الرجل المتحضر إلى المستوى الأخلاقي للإنسانية. وبهذا التكامل المزدوج يكون الاطراد قد أسهم في خلق نموذج عالمي يحقق وحدة النوع التي وضعت لها العبقرية الغربية شروطها المادية.

لقد كدنا ونحن أمام التوقعات التي نراها خلال هذا الحادث، أن نتحدث عن معجزة المؤتمر، تلك التي ستتيح للإنسانية أن ترد على التحدي الجديد الذي تجده في طريقها، وعلى الاستحالة الجديدة التي وضعها التطور أمامها، وخاصة إذا ما
প্রকৃতপক্ষে মিস্টার ডালেসের মতো কিছু কর্মকর্তাদের বিবেক জাগ্রত করতে বাধ্য করেছিল; তাই জাতিসংঘের ব্যর্থতা সম্পর্কে তিনি যে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তা মূলত এ কারণেই ছিল যে, প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসের ইতিপূর্বে বান্দুংয়ের মঞ্চে তাঁর প্রথম ভাষণে এই আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি কিছু সমালোচনা ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। এই ত্বরিত ব্যাখ্যাটি ছিল সেই বিবেক জাগ্রত হওয়ারই এক অকাট্য প্রমাণ।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আফ্রিকা-এশীয় সম্মেলনটি (বিশ্বের শক্তিধরদের) প্রেক্ষিতে একটি ‘সত্যের মুহূর্ত’ এবং এমন এক মাহেন্দ্রক্ষণে এর কার্যক্রম শুরু করেছিল যখন তাকে নিজের অস্তিত্বের সপক্ষে দাঁড়াতে হচ্ছিল। বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রবর্গকে একটি আহ্বান জানানো হয়েছিল যাতে তারা সম্মেলনের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে কেবল পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, বরং মানবিক কাঠামোর আলোকে তাদের সুষ্পষ্ট অভিমত ব্যক্ত করে।

এভাবেই বান্দুং সপ্তাহ বিশ্ব রাজনীতিতে মানবিক দিকের শ্রেষ্ঠত্বকে ইতিহাসের পাতায় উৎকীর্ণ করেছে। এটি ইতিহাসে একটি ঘটনা এবং একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়েছে। যেখানে ‘ঘটনা’টি ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহের সমকালীন উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও ঘটনাবলির ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে; আর ‘ধারাবাহিকতা’ বা পারম্পর্যটি এর নিকটবর্তী কিংবা সুদূরপ্রসারী প্রত্যাশিত ফলাফলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

সম্মেলনের গুরুত্ব এই সংখ্যাতত্ত্বের মাধ্যমে সুষ্পষ্ট হয়: এটি ঊনত্রিশটি রাষ্ট্রকে একত্রিত করেছিল যারা দুটি মহাদেশের বিশাল জনসমষ্টির প্রতিনিধিত্ব করছিল এবং যাদের ছিল বৈচিত্র্যময় বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য। সেখানে এক প্রান্তে ছিল ইসলামের আধ্যাত্মিকতা এবং অন্য প্রান্তে গণচীনের মার্ক্সবাদ। প্রকৃতপক্ষে এই ধারাবাহিকতা বা অগ্রযাত্রা আফ্রিকা ও এশিয়ার ভৌগোলিক সীমানাকে ছাপিয়ে সামাজিক পরিমণ্ডলে তানজিয়ার থেকে জাকার্তা এবং নৈতিক পরিমণ্ডলে ওয়াশিংটন থেকে মস্কো পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি এমন এক দ্বিমুখী পূর্ণতা বা সমন্বয়ের দিকে ধাবিত হয় যা আফ্রিকা-এশীয় মানুষকে সভ্যতার সামাজিক মানে উন্নীত করে এবং তথাকথিত সভ্য মানুষকে মানবতার নৈতিক স্তরে আসীন করে। এই দ্বিমুখী সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই ধারাবাহিকতা একটি বিশ্বজনীন আদর্শ সৃষ্টিতে অবদান রেখেছে, যা সেই মানবীয় ঐক্যের বাস্তবতা নিশ্চিত করে যার বস্তুগত শর্তাবলি পশ্চিমা প্রতিভা নির্ধারণ করে দিয়েছিল।

এই ঘটনার আলোকে আমরা যে প্রত্যাশাগুলো প্রত্যক্ষ করছি, তাতে আমরা প্রায় এই সম্মেলনের ‘অলৌকিকতা’ সম্পর্কে আলোচনা করার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিলাম; যা মানবতাকে তার অগ্রযাত্রার পথে আসা নতুন চ্যালেঞ্জ এবং বিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নবতর অসম্ভবতার মোকাবিলা করার শক্তি জোগাবে, বিশেষ করে যদি...
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
أخذنا في اعتبارنا أن مؤتمر باندونج قد انعقد بدعوة دول كولومبو الخمسة. التي نعرف عن اختلافاتها ما نعرف.

والواقع أن المعجزة قد تحققت بمجهود الرجل الذي جمع في يديه مصائر الهند.

لقد حمل ((نهرو)) مع أمانة الحكم، رسالة (عدم العنف) التي حمّله إياها غاندي عند موته.

وقد استطاع بفضل إخلاصه لهذه الرسالة- التي لم يضح بأقل جزء منها أمام ضرورات الحكم- أو ما يسمونه (الواقعية السياسية)، أن يسمو بسياسة بلاده الخارجية إلى درجة دستور أخلاقي دولي، دستور لا يسمح ببيِع مبدأ بكمية من القمح، أو شحنة من المعدات الحربية. وكانت باندونج أولاً الثمرة (الأفرسيوية) لهذا الدستور الذي تبهرنا دون شك (مثاليته) السامية، بينما يلزمنا أن نعترف في خاتمة الحساب بأنه يضع السياسة (الواقعية) الخالصة، السياسة التي تدرك غاياتها ووسائلها.

ونحن ندين له أولاً بمنطق جديد للسلام، فرض نفسه تماماً في مناقشات المؤتمر (الأفرسيوي) وفي ضوئه الخاص لم تعد مشكلة السلام محصورة في نطاق ما يسمى (مراكز القوة) ( Positions de force)، وإنما في نطاق مبادئ معينة مستوحاة من أحدث التجارب الإنسانية وأمضاها في الميدان السياسي. فالقوة التي حررت الهند ليست قوة السلاح، ولكنها قوة المبدأ الذي كسب مكانة قيمة إنسانية، ومقياساً عالمياً هو: عدم العنف، على حين أن (القوة) التي انطلقت خلال حربين عالميتين لم تحرر إلا الموتى.

ويعرف الناس منذ ذلك الحين من خلال التجارب التي عاشوها، أن فرص السلام لا تتكاثر مع الميزانيات الحربية، بل فرص الحرب. وأن الأزمة لا تخف مع تزايد هذه الميزانيات، بل على العكس من ذلك تحتد؛ إذ إن كل اختلال ينشأ
আমরা বিবেচনায় রেখেছি যে, বান্দুং সম্মেলন কলম্বো গ্রুপভুক্ত পাঁচটি দেশের আহ্বানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাদের মধ্যকার মতভেদ সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি, তা স্পষ্ট।

প্রকৃতপক্ষে, সেই ব্যক্তির প্রচেষ্টায় এই অলৌকিক ঘটনাটি বাস্তবায়িত হয়েছে, যার হাতে ভারতের ভাগ্য কেন্দ্রীভূত ছিল।

'নেহরু' শাসনকার্যের আমানতের পাশাপাশি (অহিংসার) বার্তা বহন করেছিলেন, যা গান্ধী তাঁর মৃত্যুর সময় তাঁকে অর্পণ করেছিলেন।

তিনি এই বার্তার প্রতি তাঁর একনিষ্ঠতার কারণে—যার সামান্যতম অংশও তিনি শাসনের প্রয়োজন বা তথাকথিত (রাজনৈতিক বাস্তবতা)-এর সামনে বিসর্জন দেননি—নিজের দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে একটি আন্তর্জাতিক নৈতিক সংবিধানের স্তরে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলেন; এমন এক সংবিধান যা সামান্য কিছু গম বা এক জাহাজ সমরাস্ত্রের বিনিময়ে কোনো নীতিকে বিক্রি করতে দেয় না। আর বান্দুং ছিল মূলত এই সংবিধানের প্রথম (আফ্রো-এশীয়) ফল, যার সুউচ্চ (আদর্শবাদ) আমাদের নিঃসন্দেহে মুগ্ধ করে; অথচ দিনশেষে আমাদের এটিও স্বীকার করতে হবে যে, এটি একটি বিশুদ্ধ (বাস্তববাদী) রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করে, যা নিজের লক্ষ্য ও উপায় সম্পর্কে সচেতন।

আমরা প্রথমত তাঁর কাছে শান্তির এক নতুন যুক্তির জন্য ঋণী, যা (আফ্রো-এশীয়) সম্মেলনের আলোচনায় নিজেকে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এর আলোকে শান্তির সমস্যাটি আর তথাকথিত (শক্তির কেন্দ্রবিন্দু) (Positions de force)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা রাজনৈতিক অঙ্গনে আধুনিক ও কার্যকর মানবিক অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতির আওতাভুক্ত হয়েছে। কারণ ভারতকে যে শক্তি স্বাধীন করেছিল তা অস্ত্রের শক্তি নয়, বরং তা ছিল সেই আদর্শের শক্তি যা মানবিক মূল্যবোধের মর্যাদা লাভ করেছে এবং যার বিশ্বজনীন মাপকাঠি হলো: অহিংসা; অথচ দুটি বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে যে (শক্তি) বিচ্ছুরিত হয়েছিল, তা কেবল মৃতদেরই মুক্ত করতে পেরেছে।

মানুষ তখন থেকেই নিজেদের অর্জিত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানে যে, যুদ্ধের বাজেটের সাথে শান্তির সুযোগ বৃদ্ধি পায় না, বরং যুদ্ধের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। আর এই বাজেট বৃদ্ধির সাথে সংকটের উপশম হয় না, বরং উল্টো তা আরও তীব্রতর হয়; কারণ এর ফলে যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়...
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
على حساب الوضع الاجتماعي لصالح الوضع الحربي، يقوي عواملها الاقتصادية والسياسية.

هذه الحالة التي توجه أخصب موارد البلاد نحو استثمار غير منتج لها- ولا شك- حسابها الذي يشمل ميزانيات الحرب؛ ولها تخطيطها الجغرافي: فهي تتفق على الخريطة مع تخطيط (منطقة الحرب) التي ترسمها المواثيق العسكرية. وعلى هذا يمكننا أولاً أن نقيس أهمية المؤتمر (الأفرسيوي) بالنسبة إلى هذه الحالة، فقد كان أحد أهدافه الأساسية إيجاد (منطقة سلام) على الخريطة، لتكون للإنسانية في حالة أي طوفان ذري سفينة نوح الجديدة؛ وملجأها الأخير.

وكان من نتائجه أن أنشأ في مواجهة محور (القوة) الممتد من واشنطن إلى موسكو محوراً ذا أساس أخلاقي هو محور (عدم العنف) الممتد من طنجة إلى جاكرتا.

وبدهي أن كسب أسبوع بملابساته المؤسفة أحياناً، لا يعد الميزانية النهائية لمؤتمر لا يمكنه أن يختم ميزانيته مع مناقشاته، فإن أهم نتائجه ما زالت في ضمير الغيب، إنها في ذلك التركيب التكويني التاريخي الذي جمع المؤتمر- بلا جدال- عناصره النفسية والزمنية.

وربما تحقق الهدف من هذه الدراسة لو أن القارئ رأى فيها بعض الحقائق عن هذا التركيب الذي قد يغير وجه العالم.

***
সামাজিক পরিস্থিতির বিনিময়ে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সুবিধার্থে এটি তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উপাদানসমূহকে শক্তিশালী করে।

এই পরিস্থিতি, যা দেশের সবচেয়ে উর্বর সম্পদগুলোকে অনুৎপাদনশীল বিনিয়োগের দিকে পরিচালিত করে—এবং নিঃসন্দেহে—এর হিসাবের মধ্যে যুদ্ধের বাজেটও অন্তর্ভুক্ত থাকে; আর এর রয়েছে নিজস্ব ভৌগোলিক পরিকল্পনা: যা মানচিত্রে সামরিক চুক্তি দ্বারা নির্ধারিত (যুদ্ধ অঞ্চল)-এর পরিকল্পনার সাথে সংগতিপূর্ণ। এর ওপর ভিত্তি করে আমরা প্রথমত এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে (আফ্রো-এশীয়) সম্মেলনের গুরুত্ব পরিমাপ করতে পারি; কেননা এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল মানচিত্রে একটি (শান্তি অঞ্চল) গড়ে তোলা, যাতে যেকোনো পারমাণবিক প্রলয়ের মুহূর্তে তা মানবতার জন্য এক নতুন ‘নূহের কিশতি’ এবং সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হতে পারে।

এর অন্যতম ফলাফল ছিল এই যে, এটি ওয়াশিংটন থেকে মস্কো পর্যন্ত বিস্তৃত (শক্তি)-র অক্ষের বিপরীতে একটি নৈতিক ভিত্তি সম্পন্ন অক্ষ তৈরি করেছে, যা হলো তাঞ্জিয়ার থেকে জাকার্তা পর্যন্ত বিস্তৃত (অহিংসা)-র অক্ষ।

এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, কখনো কখনো দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত একটি সপ্তাহের অর্জনকে এমন একটি সম্মেলনের চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, যা তার আলোচনার সমাপ্তির সাথে সাথে নিজের হিসাব চুড়ান্ত করতে সক্ষম নয়। কারণ এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো এখনও অদৃশ্যের গর্ভে নিহিত; যা সেই ঐতিহাসিক গঠনমূলক কাঠামোর মধ্যে বিদ্যমান যেখানে এই সম্মেলন—নিঃসন্দেহে—তার মনস্তাত্ত্বিক এবং কালানুক্রমিক উপাদানগুলোকে সমন্বিত করেছে।

সম্ভবত এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য সফল হবে যদি পাঠক এর মধ্যে সেই গঠনকাঠামো সম্পর্কে কিছু সত্য উপলব্ধি করতে পারেন যা পৃথিবীর চেহারা বদলে দিতে সক্ষম।

***
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الجزء الأول

الرَّجل الأفرسيَوي في عَالَمِ الكِبَار

 

- أبناء المستعمرات الأفرسيوية وعالم الكبار

- (التعايش) أو الوجود المشترك والاستعمار المشترك

- مشكلة الرجل الأفرسيوي
প্রথম খণ্ড

বড়দের দুনিয়ায় আফ্রো-এশীয় মানুষ

 

- আফ্রো-এশীয় উপনিবেশের সন্তানরা এবং বড়দের দুনিয়া

- (सहাবস্থান) অথবা যৌথ অস্তিত্ব এবং যৌথ উপনিবেশবাদ

- আফ্রো-এশীয় মানুষের সমস্যা
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌أبناء المستعمَرات الأفرسيَوية وَعَالم الكِبَار

((وعينه دائماً تنادي … مجرم عالم الكبار))

((شاعر))

 

لقد تأصلت فكرة (الأفرسيوية) في الأزمة التي تحكم التطور الإنساني منذ نصف قرن. فهي تنم عن أحد مظاهرها، وعن إحدى نتائجها. وهي تمثل أيضاً وسائل حلها. ولقد وُلدت هذه الأزمة من النظم الأخلاقية والاجتماعية والسياسية للقرن العشرين، مقدمة بذلك إلى من تنبؤوا بها- مثل ديستويفسكي ونيتشه- موضوعات عن قيام الحضارة وانهيارها.

ولكن ما إن حل عام 1914م حتى تجاوزت الأزمة هذا المظهر الفكري والميتافيزيقي لكي تمس مباشرة شعوب الأرض؛ وأفراد البشر؛ تمس دماءهم وجلودهم. وبلغت الأزمة منتهى شدتها حين وجد العالم- الذي تورط في مأساة لا حل لها- نفسه على حدود تاريخه في عام 1939م، فلم يستطع أن يمضي في طريقه إلى أبعد من هذه الحدود، لأنه كان قد استنفد قدراً كبيراً من زاده بالحرب العالمية الأولى. فلم يستطع أن يتقوت خلال حرب عالمية ثانية في إطار تلك النظم البالية والتنظيمات الجغرافية والسياسية التي قسمته إلى كتلتين متميزتين: كتلة (الشعوب المتحضرة) التي تسكن أوروبا وأمريكا، وكتلة (الشعوب المستعمرة) التي تسكن آسيا وإفريقية.

كان العالم إذن قد استنفد كل إمكانياته، فإذا به يجد نفسه عام 1939م في نهاية مرحلة حاسمة. لقد قادته القوى التي مزقته داخلياً إلى مصير واحد على الرغم من تعارضها، قادته إلى التحلل، قاده الاستعمار والعنصرية إلى النهاية المحتومة: إلى الحرب العالمية الثانية.
আফ্রো-এশীয় উপনিবেশের সন্তান ও বড়দের জগত

((এবং তার চোখ সর্বদা চিৎকার করে বলছে … বড়দের জগতের অপরাধী))

((কবি))

 

গত অর্ধশতাব্দী ধরে মানব বিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণকারী সংকটের মধ্যে ‘আফ্রো-এশীয়বাদ’-এর ধারণাটি বদ্ধমূল হয়েছে। এটি সেই সংকটের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ এবং অন্যতম পরিণতির জানান দেয়। এটি সেই সংকট সমাধানের উপায়গুলোকেও উপস্থাপন করে। বিংশ শতাব্দীর নৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে এই সংকটের জন্ম হয়েছে; যা দস্তয়েভস্কি ও নিটশের মতো ভবিষ্যদ্বক্তাদের কাছে সভ্যতার উত্থান ও পতন সম্পর্কিত বিষয়বস্তুগুলো পেশ করেছে।

কিন্তু ১৯১৪ সাল আসার সাথে সাথে সংকটটি এই বুদ্ধিভিত্তিক ও অধিবিদ্যক রূপকে অতিক্রম করে সরাসরি পৃথিবীর জাতিসমূহ এবং ব্যক্তিবর্গকে স্পর্শ করে; এটি তাদের রক্ত ও চামড়াকে স্পর্শ করে। সংকটটি চরম তীব্রতায় পৌঁছায় যখন বিশ্ব—যা এক সমাধানহীন ট্র্যাজেডিতে জড়িয়ে পড়েছিল—১৯৩৯ সালে নিজেকে তার ইতিহাসের প্রান্তে খুঁজে পায়। তখন এটি তার পথে এই সীমানার চেয়ে আর সামনে এগিয়ে যেতে পারেনি, কারণ এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে তার পাথেয় বা রসদ অনেকটা নিঃশেষ করে ফেলেছিল। ফলে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেই জরাজীর্ণ ব্যবস্থা এবং ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর অধীনে টিকে থাকতে পারেনি, যা বিশ্বকে দুটি স্বতন্ত্র ব্লকে বিভক্ত করেছিল: ইউরোপ ও আমেরিকায় বসবাসকারী ‘সভ্য জাতিসমূহের’ ব্লক এবং এশিয়া ও আফ্রিকায় বসবাসকারী ‘উপনিবেশিত জাতিসমূহের’ ব্লক।

বিশ্ব তখন তার সমস্ত সক্ষমতা নিঃশেষ করে ফেলেছিল, ফলে ১৯৩৯ সালে সে নিজেকে এক চূড়ান্ত পর্যায়ের শেষ প্রান্তে দেখতে পায়। যে শক্তিগুলো একে অভ্যন্তরীণভাবে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল, তাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও সেগুলো একে একই পরিণতির দিকে নিয়ে যায়; অর্থাৎ বিলুপ্তির দিকে। ঔপনিবেশিকতা ও বর্ণবাদ একে অবধারিত পরিণতির দিকে নিয়ে গিয়েছিল: আর তা হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
(খণ্ড: ১) ফিকরতুল ইফরিকিয়্যাহ আল-আসিউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وهكذا لعب القدر دوره، فإذا بالعالم المستعمر نصفه والمتحضر نصفه الآخر، العالم الذي خطا فيه جيلنا خطواته الأولى، وحققت فيه الطائرة محاولاتها الأولى، العالم الذي كان فيه الاستعمار والقابلية للاستعمار بمثابة الشاشة التي تتابع عليها أحداثه المهمة مثل (حادثة فاشودة) أو (حادثة أغادير)، هذا العالم الذي كان يؤمن بانقسامه الجغرافي السياسي، كأنه هو وضعه الطبيعي، كأنه فصل بين فصيلتين من فصائل الحيوان: إذا بهذا العالم لم يعد له وجود.

ولكن كان على حرب عام 1939م- حين محته- أن تلد عالماً جديداً مطابقاً لحاجات الإنسانية التي بلغت رشدها، مطابقاً لمطامحها، ومع ذلك فإنها لم تلده.

ففي عام 1945م- السنة التي كان يتوقع فيها هذا الحادث السعيد- أخرج التاريخ سقطاً مشوهاً، حين أجهض على يد (قوابل) من الأشرار، لقد ساقوا البشارة بمولود جديد اصطنعوه من لفائف منتفخة، رغبة في تغيير معالم الجريمة، وفي تضليل الشعوب التي كانت تنتظر ميلاده، كان هذا المولود الجديد هو (عالم الأربعة الكبار). ولم يكن للمزورين حيلة تنجيهم من أن يسيئوا الظن بأنفسهم، ومن أن يقلقوا على مستقبل الوليد الجديد المصنوع .. !

ونحن نجد انعكاسات لهذا القلق البالغ في دراسات حديثة، ظهرت في الغرب عن المشكلات الجغرافية السياسية، كذلك الانعكاس الذي يبدو أن صاحبه أراد أن يعبر عن قلقه ويصفيه في الوقت نفسه، حين لفت نظرنا إلى أن ((تصفية التأثير الغربي لم تتم في الأعوام العشرة الماضية كما قدر ذلك في عام 1945م)) ها هوذا (القابل) الشرير، وقد استعاد ثقته القديمة في العالم القديم أو على الأقل في أنقاض العالم القديم.

لقد دفع الضمير المضطرب أبطال الحضارة إلى بعض المحاولات خلال الحرب العالمية الثانية، وكان ميثاق الأطلنطي إحدى هذه المحاولات لوضع أسس عالم جديد، ولكن حين ذهب الخطر اكتفى هؤلاء الأبطال بأن يستقروا بين أطلال
এভাবেই নিয়তি তার ভূমিকা পালন করেছে, যার ফলে দেখা গেল বিশ্বের অর্ধেক অংশ উপনিবেশিক শাসনের অধীনে এবং বাকি অর্ধেক সভ্য; যে বিশ্বে আমাদের প্রজন্ম তাদের প্রথম পদচিহ্ন রেখেছিল এবং যেখানে বিমান তার প্রাথমিক উড্ডয়ন প্রচেষ্টা সফল করেছিল। এই বিশ্বে উপনিবেশবাদ এবং উপনিবেশিত হওয়ার মানসিকতা ছিল এমন একটি পর্দা, যার ওপর 'ফাশোদা সংকট' বা 'আগাদির সংকট'-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি প্রদর্শিত হতো। এই বিশ্বটি তার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিভাজনে এমনভাবে বিশ্বাসী ছিল, যেন এটাই তার স্বাভাবিক অবস্থা, যেন এটি প্রাণিজগতের দুটি ভিন্ন প্রজাতির মধ্যে একটি ব্যবধান। অথচ এই বিশ্বের এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই।

কিন্তু ১৯৩৯ সালের যুদ্ধের পরিণতিতে—যা সেই বিশ্বকে বিলুপ্ত করে দিয়েছিল—এমন এক নতুন বিশ্বের জন্ম দেওয়ার কথা ছিল যা পূর্ণতা প্রাপ্ত মানবতার প্রয়োজন এবং তার আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে; তা সত্ত্বেও, সেই যুদ্ধের মাধ্যমে তেমন কোনো বিশ্বের জন্ম হয়নি।

১৯৪৫ সালে—যে বছর এই আনন্দদায়ক ঘটনার প্রত্যাশা করা হয়েছিল—ইতিহাস একটি বিকৃত অকালজাত সত্তার জন্ম দিল, যখন একদল দুষ্ট 'ধাত্রী'র হাতে তার গর্ভপাত ঘটল। তারা এক নতুন নবজাতকের সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল, যাকে তারা তৈরি করেছিল কিছু কৃত্রিম আবরণ দিয়ে; তাদের উদ্দেশ্য ছিল অপরাধের চিহ্ন পরিবর্তন করা এবং সেইসব জাতিকে বিভ্রান্ত করা যারা এর জন্মের প্রতীক্ষায় ছিল। এই নতুন নবজাতকটি ছিল 'চার পরাশক্তির বিশ্ব'। জালিয়াতি চক্রের পক্ষে নিজেদের ওপর সংশয় পোষণ করা কিংবা এই কৃত্রিম নবজাতকের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া ছাড়া আত্মরক্ষার আর কোনো উপায় ছিল না...!

আমরা ভূ-রাজনৈতিক সমস্যাবলি নিয়ে পাশ্চাত্যে প্রকাশিত সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় এই গভীর উদ্বেগের প্রতিফলন দেখতে পাই। তেমনি একটি প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় যেখানে লেখক তার উদ্বেগ প্রকাশ করতে এবং একই সাথে তা নিরসন করতে চেয়েছেন; তিনি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন যে: "পাশ্চাত্য প্রভাবের বিলুপ্তি গত দশ বছরে সেভাবে ঘটেনি যেভাবে ১৯৪৫ সালে ধারণা করা হয়েছিল"। এই সেই দুষ্ট 'ধাত্রী', যে প্রাচীন বিশ্বের প্রতি অথবা অন্ততপক্ষে প্রাচীন বিশ্বের ধ্বংসাবশেষের ওপর তার পূর্বের আস্থা (ثقة) পুনরায় ফিরে পেয়েছে।

বিক্ষুব্ধ বিবেক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সভ্যতার নায়কদের কিছু প্রচেষ্টার দিকে ধাবিত করেছিল এবং 'আটলান্টিক চার্টার' ছিল একটি নতুন বিশ্বের ভিত্তি স্থাপনের তেমনই একটি প্রচেষ্টা। কিন্তু যখন বিপদ কেটে গেল, এই নায়করা ধ্বংসাবশেষের মধ্যেই থিতু হতে সন্তুষ্ট থাকলেন...