(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: -)
أثر الاختلاف في القواعد الأصولية في اختلاف الفقهاء   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: أثر الاختلاف في القواعد الأصولية في اختلاف الفقهاء

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 11 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

ফকিহগণের মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে উসূলি নিয়মাবলির প্রভাব   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি নিয়মাবলি


গ্রন্থ: ফকিহগণের মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে উসূলি নিয়মাবলির প্রভাব

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলামওয়েব সাইট দ্বারা অনুলিখন করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ১১টি পাঠ ]

শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১)
الاختلاف في القواعد الأصولية -‌‌ الحرص على تعلم أصول الفقه

مما يجب على مريد العلم أن يتعلم فن أصول الفقه؛ لأنه مفتاح الفقه وبابه، فيتعرف على بدايات نشأة الخلاف وكيف حصلت، حتى يتمكن من تأصيل المسائل مستنداً في ذلك إلى ركن ركين من المعرفة بأصل المسألة المعينة وجذورها، وعلم الأصول يعنى بالأدلة الإجمالية، وكيفية الاستفادة منها، وحال المستفيد منها، وكيفية تنزيلها على الواقع، فحري بالفقيه خصوصاً وبطالب العلم عموماً ألا يغفل عن دراسته.
উসুল সংক্রান্ত মূলনীতিসমূহের পার্থক্য - উসুলুল ফিকহ শেখার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ

ইলম অন্বেষণকারীর জন্য যা আবশ্যক তা হলো উসুলুল ফিকহ বা ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি শেখা; কেননা এটি হলো ফিকহশাস্ত্রের চাবিকাঠি ও এর প্রবেশদ্বার। এর মাধ্যমে সে মতপার্থক্যের সূচনালগ্ন এবং তা কীভাবে উদ্ভূত হলো সে সম্পর্কে অবগত হতে পারে, যেন সে নির্দিষ্ট কোনো মাসআলার মূল উৎস ও এর শিকড় সম্পর্কে সুদৃঢ় জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে বিষয়গুলোকে তার মূল ভিত্তির ওপর স্থাপন করতে সক্ষম হয়। উসুল শাস্ত্রটি সামগ্রিক দলীলসমূহ, সেগুলো থেকে হুকুম আহরণের পদ্ধতি, আহরণকারীর অবস্থা এবং বাস্তব ক্ষেত্রে সেগুলোর প্রয়োগপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করে। অতএব, ফকীহগণের জন্য বিশেষভাবে এবং জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য সাধারণভাবে এই শাস্ত্রের অধ্যয়ন থেকে বিমুখ না হওয়া বা একে অবহেলা না করা কর্তব্য।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌فضل العلم والعلماء
ইলম ও আলেমগণের ফযীলত
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌فضل طلب العلم ومنزلة العالم عند الله

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار، ثم أما بعد: إخوتي الكرام! مرحباً بوصية رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإن أنساً روى لنا -وإن كانت الأسانيد متكلماً فيها- أنه يستحب أن يقال إذا جاء طالب العلم: مرحباً بوصية رسول الله صلى الله عليه وسلم! وكفى بطالب العلم فخراً، وكفى بمجالس العلم بركة؛ ففي الصحيحين أن النبي صلى الله عليه وسلم ذكر أن الملائكة تصعد بأسماء طلبة العلم إلى الله جل في علاه فيسألهم: ماذا يقولون؟ ماذا يذكرون؟ فيقولون: يسبحونك ويحمدونك ويمجدونك ويكبرونك ويهللونك، وفي آخر الحديث يقول الملك: فيهم فلان ما جاء للعلم وإنما جاء لحاجة، فيقول الله تعالى: هم القوم لا يشقى بهم جليسهم.

وقد جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (إن الملائكة تضع أجنحتها لطالب العلم رضا بما يصنع)، وكفى بحديث النبي صلى الله عليه وسلم فخراً لطلبة العلم.

وقال صلى الله عليه وسلم: (العلماء ورثة الأنبياء، وإن الأنبياء لم يورثوا درهماً ولا ديناراً ولكن ورثوا العلم، فمن أخذه أخذ بحظ وافر).

فأهل العلم لهم المكانة العظمى في هذه الدنيا؛ لأن العلماء هم منارات الهدى، وهم الشموس التي يستضيء بها الناس، بينما نرى الأمة الآن تتخبط يميناً ويساراً، ونرى ما يحدث في البلاد الإسلامية من تعديات على المسلمين، وهذا والله ما حدث إلا بموت العلماء؛ لأن الذي يستنير بنور العلم يعلم أنه إذا هلك فسيهلك عن بينة، وإذا أحياه الله فستكون حياته على بينة، كما قال الله تعالى: {لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَا مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ} [الأنفال:42]، وهذه البينة لا تكون إلا بطلب العلم.
ইলম অন্বেষণের ফজিলত এবং আল্লাহর নিকট আলেমের মর্যাদা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]

{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে অনেক পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} [আল-আহজাব: ৭০-৭১]

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়, প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। অতঃপর: আমার সম্মানিত ভাইয়েরা! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওসিয়তের (উপদেশ বা নির্দেশনার) প্রতি স্বাগতম। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—যদিও এর সনদ নিয়ে কথা আছে—ইলম অন্বেষণকারী যখন আসে তখন তাকে এটি বলা মুস্তাহাব: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওসিয়তের প্রতি স্বাগতম! ইলম অন্বেষণকারীর জন্য গর্বের বিষয়ে এটিই যথেষ্ট এবং ইলমের মজলিসের বরকতের জন্য এটিই যথেষ্ট। কেননা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেছেন, ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীদের নাম নিয়ে সুউচ্চ মহান আল্লাহর দিকে আরোহণ করে। তখন আল্লাহ তাদের জিজ্ঞাসা করেন: তারা কী বলে? তারা কী স্মরণ করে? ফেরেশতারা বলে: তারা আপনার তাসবীহ পাঠ করে, আপনার প্রশংসা করে, আপনার মহিমা বর্ণনা করে, আপনার তাকবীর পাঠ করে এবং আপনার তাহলীল পাঠ করে। হাদীসের শেষে ফেরেশতা বলে: তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি আছে যে ইলম অর্জনের জন্য আসেনি, বরং কোনো প্রয়োজনে এসেছে। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: তারা এমন এক দল যাদের সঙ্গীও দুর্ভাগা হয় না।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়)। ইলম অন্বেষণকারীদের গর্বের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীসটিই যথেষ্ট।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: (আলেমরা নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীরা কোনো দিরহাম বা দীনার উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাঁরা ইলমকে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক বিশাল অংশ লাভ করল)।

সুতরাং আলেমদের এই দুনিয়ায় অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা রয়েছে; কারণ আলেমরা হলেন হেদায়েতের মিনার এবং এমন সূর্য যার মাধ্যমে মানুষ আলো লাভ করে। অথচ বর্তমানে আমরা দেখছি উম্মত ডানে-বামে বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরছে এবং আমরা মুসলিম দেশগুলোতে মুসলিমদের ওপর যে আক্রমণ ও জুলুম হতে দেখছি, আল্লাহর কসম এটি আলেমদের মৃত্যুর কারণেই ঘটছে। কারণ যে ব্যক্তি ইলমের আলোতে আলোকিত হয়, সে জানে যে সে যদি ধ্বংস হয় তবে দলীল ও প্রমাণের ভিত্তিতেই ধ্বংস হবে, আর যদি আল্লাহ তাকে জীবিত রাখেন তবে তার জীবনও দলীল ও প্রমাণের ওপরই প্রতিষ্ঠিত হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যাতে যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে।} [আল-আনফাল: ৪২]। আর এই সুস্পষ্ট প্রমাণ ইলম অন্বেষণ করা ছাড়া অর্জন সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌فضل علم أصول الفقه

وقد بينا فضل أصول الفقه على الفقيه، وقلنا بأن القاعدة عند العلماء تنص على أن الفقيه العاري عن الأصول ليس بفقيه بل هو مقلد.

وترى كثيراً من المقلدين الذين يحفظون الأقوال ويرددونها ممن لا يحق لهم الفتوى، ولا يحق لهم أن يلزموا الناس بشيء؛ لأنهم مقلدون، فإذا سألت: ما الدليل؟ وما هو وجه استدلال العالم الذي قال بهذا القول من هذا الدليل؟ وجدته يضرب أخماسه في أسداسه، فهذا مقلد، ولا يجوز له أن يلزم الناس بشيء، لأنه يقلد غيره.

وقد فرق العلماء تفريقاً عظيماً بديعاً بين المقلد والعالم أو طالب العلم المجد الذي يعرف القول بالدليل، ويعرف كيفية استنباط العالم لهذا الدليل.

وقد سئل كثير من الناس عن الفقهاء أو المجتهدين، فبينوا أن درجات الفقه والعلم متفاوتة، فليس العلم بالدليل فقط، وإنما العلم بالأصل والقاعدة التي يمكن أن يستنبط منها الحكم، وإلا فكثير من الناس حفظة كما هو حال كثير من المحدثين، فقد كان ينقصهم الفقه، وكان الإمام أحمد يقول: كنا نزعم بأن المحدث صيدلاني، وأن الفقيه طبيب، فخرج علينا الشافعي رجلاً طبيباً صيدلانياً.

وقد عاب كثير من المحدثين على يحيى بن معين أنه لم يشتغل بفقه المتن، وقد قررت في المسجد أكثر من مرة قول شيخ الإسلام: إذا جاءك الحديث فلك فيه طريقان: إثبات سنده، وفهم متنه.

والمقصود بفهم المتن: هو الفقه.

كان يحيى بن معين إماماً ترتعش منه فرائص المحدثين، فإذا دخل مجلساً من مجالس التحديث قام له كل المحدثين تعظيماً لعلمه وإجلالاً له، وأخذ كل واحد منهم كتابه فنظر فيه وإن كان ضابطاً ضبط صدر، فلا يتكلم بالحديث الواحد إلا بعد أن يكرره في نفسه مرات عديدة؛ خوفاً من أن يتكلم فيهم بجرح؛ لأنه كان إماماً في الجرح والتعديل.

وكان يحيى بن معين مشهوراً بدخوله على العلماء واختبارهم، فقد دخل مرة على أبي نعيم يختبره ومعه أحمد بن حنبل وكان قريناً له يجلس بجواره، فما تكلم أحمد، وأخذ يحيى بن معين يختبر أبا نعيم بأن لقنه بعضاً من الأحاديث بأسانيد مختلطة ليست من لفظه وليست صحيحة، فسمعها أبو نعيم فانتبه -وكان صاعقة في الحفظ- فنظر إلى أحمد ونظر إلى يحيى بن معين، فقال لـ أحمد: أنت أورع من أن تفعل ذلك، ونظر إلى يحيى بن معين فسكت عنه، ثم ضربه برجله فأوقعه إلى الخلف وقال: أنت أجرأ على ذلك.

فكان يحيى بن معين جهبذاً ونقاداً، وكان وقاد الذهن، يعني: الرواية للحديث وعلم الرجال والإسناد.

ولما لم يكن يحيى بن معين مهتماً بالفقه فقد وقع في أمر جلل عابه عليه كثير من أهل العلم في زمانه، فقد سألته امرأة فقالت: يا إمام! إن زوجي قد مات، وقد أوصى أن أغسله، أفأغسله وأنا حائض؟ فوقف يحيى بن معين واجماً لا يعرف كيف يرد عليها، فمر أبو ثور الكلبي -وهو من أصحاب الشافعي - وكان فقيهاً بارعاً، فقال لها: اسألي هذا الرجل فهو فقيه! فذهبت فسألته فقال لها: غسليه، فهذا رسول الله صلى الله عليه وسلم كان معتكفاً فإذا أراد أن يرجل شعره يخرج رأسه من المسجد فترجله عائشة.

يعني: تغسل رأسه وتنظفه وهي حائض.

فلما قال أبو ثور ذلك قال يحيى: نعم، وهذا الحديث جاءني من طريق فلان وفلان وفلان وفلان عن فلان، فسرد الطرق التي يحفظ منها هذا الحديث.

فقالت له المرأة: ما نفعتك هذه الطرق وأنا أسألك فلا تجيب.

وهذه مزية من تعلم الفقه وعرف كيف يستنبط الحكم من الدليل.
উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের মর্যাদা

আমরা ফকিহ বা আইনবিদের জন্য উসুলুল ফিকহের গুরুত্ব বর্ণনা করেছি এবং বলেছি যে, আলেমদের নিকট এই নীতি সাব্যস্ত হয়েছে যে, উসুল বা মূলনীতি জ্ঞানহীন ফকিহ মূলত প্রকৃত ফকিহ নন, বরং তিনি একজন মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারী।

আপনি অনেক মুকাল্লিদকে দেখবেন যারা শুধু বিভিন্ন বক্তব্য মুখস্থ করেন এবং সেগুলো আউড়ে যান, অথচ তাদের ফতোয়া দেওয়ার কোনো অধিকার নেই এবং কোনো বিষয়ে মানুষকে বাধ্য করারও অধিকার নেই; কারণ তারা মুকাল্লিদ। আপনি যদি জিজ্ঞাসা করেন: এর দলিল কী? এবং যিনি এই কথাটি বলেছেন সেই আলেম এই দলিল থেকে কীভাবে ইস্তিদলাল বা যুক্তি আহরণ করেছেন? তখন দেখবেন সে বিভ্রান্তিতে পড়ে হাত-পা ছুড়ছে (কিংবা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে), সুতরাং সে একজন মুকাল্লিদ, তার জন্য মানুষকে কোনো বিষয়ে বাধ্য করা বৈধ নয়, কারণ সে অন্য কারো অনুকরণ করছে।

আলেমগণ মুকাল্লিদ এবং সেই আলেম বা পরিশ্রমী ইলম অন্বেষণকারীর মধ্যে চমৎকার ও সুস্পষ্ট পার্থক্য করেছেন, যিনি দলিলের ভিত্তিতে বক্তব্য জানেন এবং সেই দলিল থেকে আলেম কীভাবে হুকুম ইস্তিম্বাত বা আহরণ করেছেন তা অবগত আছেন।

ফকিহ বা মুজতাহিদদের সম্পর্কে অনেককেই জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা বর্ণনা করেছেন যে ফিকহ ও ইলমের স্তরসমূহ ভিন্ন ভিন্ন। ইলম মানে কেবল দলিল জানাই নয়, বরং ইলম হলো সেই মূলনীতি ও কায়েদা সম্পর্কে জানা যার মাধ্যমে বিধান আহরণ করা যায়। অন্যথায় অনেক মানুষ কেবল হাফেজ বা মুখস্থকারী মাত্র, যেমনটি অনেক মুহাদ্দিসের ক্ষেত্রে দেখা যেত; তাদের ফিকহের অভাব ছিল। ইমাম আহমাদ বলতেন: আমরা মনে করতাম মুহাদ্দিস হলেন একজন ফার্মাসিস্টের মতো আর ফকিহ হলেন একজন চিকিৎসকের মতো, অতঃপর শাফেয়ী আমাদের সামনে এমন একজন মানুষ হিসেবে আবির্ভূত হলেন যিনি একাধারে চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্ট।

অনেক মুহাদ্দিস ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের সমালোচনা করেছেন কারণ তিনি হাদিসের মতনের ফিকহ বা মর্মার্থ নিয়ে কাজ করতেন না। আমি মসজিদে একাধিকবার শায়খুল ইসলামের এই উক্তিটি উল্লেখ করেছি: যখন তোমার কাছে কোনো হাদিস পৌঁছাবে, তখন তোমার সামনে দুটি পথ থাকবে—এক, এর সনদ বা বর্ণনাপরম্পরা প্রমাণ করা এবং দুই, এর মতন বা মূল পাঠ অনুধাবন করা।

আর মতন অনুধাবন করা বলতে মূলত ফিকহকেই বোঝানো হয়েছে।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এমন একজন ইমাম ছিলেন যাঁর ভয়ে মুহাদ্দিসদের বুক কাঁপত। তিনি যখন হাদিসের কোনো মজলিসে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁর ইলমের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ থেকে সকল মুহাদ্দিস দাঁড়িয়ে যেতেন। প্রত্যেকে নিজ নিজ কিতাব হাতে নিয়ে তা পরীক্ষা করতে শুরু করতেন, এমনকি তিনি যদি মুখস্থ বিদ্যায় পারদর্শীও হতেন। তিনি কোনো একটি হাদিস বলার আগে তা মনে মনে কয়েকবার আওড়ে নিতেন, এই ভয়ে যে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন পাছে তাঁকে 'জারহ' বা ত্রুটিযুক্ত ঘোষণা করে বসেন; কেননা তিনি ছিলেন জারহ ও তা'দিল শাস্ত্রের ইমাম।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আলেমদের কাছে গিয়ে তাঁদের পরীক্ষা করার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। একবার তিনি আবু নুআইমকে পরীক্ষা করার জন্য তাঁর কাছে গেলেন, তখন তাঁর সাথে আহমাদ ইবনে হাম্বলও ছিলেন এবং তিনি তাঁর পাশেই বসা ছিলেন। আহমাদ কোনো কথা বললেন না, আর ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আবু নুআইমকে পরীক্ষা করার জন্য কিছু ভুল ও উলটপালট সনদসহ হাদিস শোনালেন যা আসলে সহিহ ছিল না। আবু নুআইম তা শুনেই সতর্ক হয়ে গেলেন—কেননা তাঁর মুখস্থ শক্তি ছিল তীক্ষ্ণ—তিনি আহমাদ ও ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের দিকে তাকালেন। অতঃপর আহমাদকে উদ্দেশ্য করে বললেন: 'তুমি এ কাজ করার চেয়েও বেশি মুত্তাকী বা পরহেজগার।' এরপর ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের দিকে তাকিয়ে চুপ রইলেন, এবং তাঁকে নিজের পা দিয়ে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পেছনে ফেলে দিলেন, আর বললেন: 'তুমিই এই ধৃষ্টতা দেখানোর যোগ্য।'

সুতরাং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ছিলেন একজন বিজ্ঞ পণ্ডিত ও দক্ষ সমালোচক, এবং তিনি ছিলেন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী; অর্থাৎ হাদিসের বর্ণনা, রিজাল শাস্ত্র এবং সনদ বিষয়ে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল।

যেহেতু ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ফিকহ শাস্ত্রের প্রতি মনোযোগী ছিলেন না, তাই তিনি একটি বড় সংকটে পড়েছিলেন যার কারণে সমসাময়িক অনেক আলেম তাঁর সমালোচনা করেছিলেন। এক মহিলা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: 'হে ইমাম! আমার স্বামী ইন্তেকাল করেছেন এবং তিনি অসিয়ত করেছেন যেন আমি তাঁকে গোসল দেই। এমতাবস্থায় আমি কি ঋতুবতী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে গোসল করাতে পারব?' ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে থমকে দাঁড়ালেন, তিনি বুঝতে পারছিলেন না তাঁকে কী উত্তর দেবেন। তখন আবু সাওর আল-কালবি—যিনি ইমাম শাফেয়ীর ছাত্র এবং একজন দক্ষ ফকিহ ছিলেন—সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। ইয়াহইয়া বললেন: 'এই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করো, কারণ তিনি একজন ফকিহ।' মহিলাটি গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: 'তুমি তাঁকে গোসল দাও। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইতিকাফ অবস্থায় থাকতেন এবং তিনি তাঁর চুল আঁচড়াতে চাইতেন, তখন তিনি তাঁর মাথা মসজিদ থেকে বের করে দিতেন আর আয়েশা (রা.) তা আঁচড়ে দিতেন।'

অর্থাৎ: ঋতুবতী হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর মাথা ধুয়ে পরিষ্কার করে দিতেন।

আবু সাওর যখন এই কথা বললেন, তখন ইয়াহইয়া বললেন: 'হ্যাঁ, এই হাদিসটি আমার কাছে অমুক, অমুক, অমুক এবং অমুকের সূত্রে পৌঁছেছে।' এই বলে তিনি সেই হাদিসের সকল বর্ণনাপরম্পরা গড়গড় করে শুনিয়ে দিলেন যা তাঁর মুখস্থ ছিল।

তখন মহিলাটি তাঁকে বললেন: 'আপনার এই এতসব বর্ণনাপরম্পরার কী মূল্য রইল যখন আমি আপনাকে মাসআলা জিজ্ঞাসা করলাম আর আপনি উত্তর দিতে পারলেন না?'

আর এটাই হলো ফিকহ শেখা এবং দলিল থেকে হুকুম বা বিধান আহরণ করার পদ্ধতি জানার বিশেষত্ব।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌أهمية فهم النص الشرعي

وأقول: كيف استنبط أبو ثور الحكم من هذا الدليل وهو أن عائشة كانت ترجل شعر رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في المسجد يخرج رأسه وهي حائض؟ وما علاقته بامرأة حائض تغسل زوجها؟

و

‌‌الجواب

استنبطه بطريق قياس الأولى، فإذا كان الحي الذي يستطيع بنفسه أن يرجل شعره وأن يغسله قد جعل المرأة وهي حائض تباشر ذلك فالميت من باب أولى؛ لأنه لا يستطيع أن يفعل ذلك بنفسه فهو أحوج إلى ذلك.

وهذه فائدة الفقيه الذي يتعلم أصول الفقه.

وقد سئل الشيخ الإمام محمد بن صالح بن عثيمين وهو على فراش موته فقيل له: هل تستخلف أحداً نسأله بعدك؟ فقال: أما العلماء فكثر ثم لا تكاد تجد عالماً فقيهاً يدرك الحكم في المسألة، أو كيفية استنباط الحكم من الدليل وتنزيله على الواقع المعايش، وهذا فهم عزيز يؤتيه الله من يشاء.

ولذلك أنكر البعض على علي بن أبي طالب عظم بطنه، لأن علي بن أبي طالب كان من أفقه الصحابة إن لم يكن هو أفقههم، وهو أعلم الناس أيضاً بالتفسير، فلو خالف علي بن أبي طالب ابن عباس في تفسير آية قدم قول علي بلا جدال، فـ علي بن أبي طالب وتد في العلم والفقه، فقالوا له: مالك عظيم البطن؟ فقال: أعلاها علم وأسفلها طعام.

رضي الله عنه وأرضاه.

فنقول: إن العالم يعلم الكتاب والسنة، لكن الفقيه يدقق في الكتاب والسنة، ولذلك سئل علي بن أبي طالب: هل ترك لك رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئاً خصك به من هذا العلم الذي ينهال عليك؟ فقال: لا والله ما خصنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، بشيء إلا فهماً يؤتيه الله للمرء في الكتاب أو في سنة النبي صلى الله عليه وسلم، أو كما قال رضي الله عنه وأرضاه، والأثر في الصحيحين.

وهذه كلها مدارها على الإخلاص، فقد كان يقول ابن عباس: يحفظ المرء على قدر نيته.

وهذا الذي فضل به الشافعي عن كثير من الفقهاء لفهمه وتأمله في الأدلة، والعالم الفقيه لا يصل إلى قوة العلم وإلى باطن العلم إلا بقواعد العلم والقاعدة العريضة بأصول العلم، وهذه الأصول هي أصول الفقه.
শরীয়তের বর্ণনা বা পাঠ অনুধাবনের গুরুত্ব

আমি বলব: আবু সাওর এই দলিল থেকে কীভাবে বিধানটি আহরণ করলেন যে, আয়িশা (রা.) আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর চুল আঁচড়ে দিতেন এমতাবস্থায় যে তিনি মসজিদে ছিলেন এবং নিজের মাথা বের করে দিতেন, আর তিনি (আয়িশা রা.) ছিলেন ঋতুবতী? আর এর সাথে ঋতুবতী মহিলার তার স্বামীকে গোসল করানোর কী সম্পর্ক?

ও

উত্তর

তিনি এটি 'কিয়াসুল আওলা' (অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য সাদৃশ্য) পদ্ধতিতে আহরণ করেছেন। কারণ, যে জীবিত ব্যক্তি নিজে নিজের চুল আঁচড়াতে বা ধুতে সক্ষম, তিনি যদি ঋতুবতী হওয়া সত্ত্বেও মহিলাকে এই কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত করেন, তবে মৃত ব্যক্তি তো এর জন্য আরও বেশি উপযুক্ত; কারণ সে নিজে এটি করতে সক্ষম নয়, ফলে সে এর প্রতি অধিক মুখাপেক্ষী।

আর এটিই হলো সেই ফকিহ-এর উপকারিতা যিনি উসূলে ফিকহ শেখেন।

শায়খ ইমাম মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন উসাইমীনকে তাঁর মৃত্যুশয্যায় জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আপনি কি এমন কাউকে স্থলাভিষিক্ত করবেন যাকে আপনার পর আমরা জিজ্ঞাসা করব?" তিনি বললেন: "আলেমদের সংখ্যা অনেক, কিন্তু এমন কোনো আলেম বা ফকিহ খুঁজে পাওয়া কঠিন যিনি কোনো মাসআলার বিধান উপলব্ধি করতে পারেন, অথবা দলিল থেকে বিধান আহরণ করে বাস্তব জীবনের পরিস্থিতির ওপর তা প্রয়োগের পদ্ধতি জানেন। আর এটি হলো এক দুর্লভ প্রজ্ঞা যা আল্লাহ যাকে ইচ্ছা দান করেন।"

এই কারণেই কেউ কেউ আলী বিন আবি তালিবের উদরের স্থূলতার সমালোচনা করেছিলেন; অথচ আলী বিন আবি তালিব সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ফকিহ ছিলেন, যদি না তিনি সবচেয়ে বড় ফকিহ হয়ে থাকেন। তিনি তাফসির শাস্ত্রেও মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। এমনকি কোনো আয়াতের তাফসিরের ক্ষেত্রে যদি আলী বিন আবি তালিব ইবনে আব্বাসের বিরোধিতা করতেন, তবে নির্দ্বিধায় আলীর বক্তব্যকেই অগ্রগণ্য করা হতো। কেননা আলী বিন আবি তালিব ছিলেন ইলম ও ফিকহের এক সুদৃঢ় ভিত্তি। লোকেরা তাঁকে বলেছিল: "আপনার পেট কেন এত বড়?" তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: "এর ওপরের অংশে রয়েছে জ্ঞান আর নিচের অংশে খাবার।"

আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন।

তাই আমরা বলি: আলেম তো কিতাব ও সুন্নাহ জানেন, কিন্তু ফকিহ কিতাব ও সুন্নাহর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করেন। এই কারণেই আলী বিন আবি তালিবকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "রাসূলুল্লাহ (সা.) কি আপনার জন্য বিশেষ কিছু রেখে গেছেন যা আপনাকে এই বিচ্ছুরিত ইলমের জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে?" তিনি বললেন: "না, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের বিশেষ কিছু দেননি, কেবল সেই প্রজ্ঞা বা বুঝ ব্যতিরেকে যা আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে কুরআন বা নবীর (সা.) সুন্নাহর ক্ষেত্রে দান করেন।" অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন (রাযিয়াল্লাহু আনহু), আর এই বর্ণনাটি বুখারি ও মুসলিমে রয়েছে।

আর এই সবকিছুর মূলে রয়েছে ইখলাস বা একনিষ্ঠতা। ইবনে আব্বাস বলতেন: "মানুষকে তার নিয়তের পরিমাপ অনুযায়ী ইলম দান করা হয়।"

আর এ কারণেই ইমাম শাফেয়ী অনেক ফকিহর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, কারণ দলিলাদি নিয়ে তাঁর প্রজ্ঞা ও গভীর চিন্তাশীলতা ছিল অসাধারণ। একজন আলেম ও ফকিহ ইলমের শক্তিতে এবং ইলমের গভীর রহস্যে ততক্ষণ পৌঁছাতে পারেন না, যতক্ষণ না তিনি ইলমের উসূল বা মূলনীতিসমূহ আয়ত্ত করেন। আর এই মূলনীতিসমূহ হলো উসূলে ফিকহ।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌الحث على التمسك بالكتاب والسنة
কিতাব ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার প্রতি আহ্বান
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الأدلة على التمسك بالكتاب والسنة

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:: (خير الناس قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم)؛ لأن الصحابة رضوان الله عليهم كانوا في عصر الرسول صلى الله عليه وسلم يستقون من بحر علم رسول الله صلى الله عليه وسلم ويأخذون بالوحيين: الكتاب والسنة، وقد حث الله الصحابة وألزمهم بنص الكتاب والسنة، فقال الله تعالى: {وَهَذَا كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ} [الأنعام:155].

وقال جل علاه حاثاً الصحابة على التدبر في معرفة مراد الله جل علاه: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافًا كَثِيرًا} [النساء:82]، وقال: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} [محمد:24].

وفي القرآن الكريم وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم الحث على اتباع الوحيين، قال الله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} [الأحزاب:36].

وقال جل علاه: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء:65].

وقال النبي صلى الله عليه وسلم كما في الصحيحين: (كل أمتي يدخلون الجنة إلا من أبى، قالوا: ومن يأبى يا رسول الله؟! قال: من أطاعني دخل الجنة، ومن عصاني فقد أبى)، فمن حاد عن سنة النبي صلى الله عليه وسلم فقد أبى.

وفي الصحيحين عن عائشة رضي الله عنها وأرضاها أنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد) أي: فهو باطل لا يصح ولا يمكن التعويل عليه، ولا يمكن أن نعارض قول رسول الله صلى الله عليه وسلم بقول أحد كائناً من كان.
কুরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার প্রমাণসমূহ

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আমার যুগের লোকজন, তারপর যারা তাদের পরবর্তী, তারপর যারা তাদের পরবর্তী); কারণ সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ছিলেন, তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইলমের সমুদ্র থেকে জ্ঞান আহরণ করতেন এবং দুই ওহী: কুরআন ও সুন্নাহ গ্রহণ করতেন। আল্লাহ সাহাবীগণকে উৎসাহিত করেছেন এবং কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য বিধান পালনে তাঁদের বাধ্য করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর এটি একটি বরকতময় কিতাব যা আমি নাযিল করেছি, অতএব তোমরা এর অনুসরণ করো} [আল-আনআম: ১৫৫]।

মহান আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা জানার লক্ষ্যে সাহাবীগণকে গভীর চিন্তাভাবনা করতে উৎসাহিত করে বলেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা তাতে অনেক অসঙ্গতি দেখতে পেত} [আন-নিসা: ৮২]। তিনি আরও বলেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা লাগানো রয়েছে?} [মুহাম্মদ: ২৪]।

কুরআন কারীম এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহতে ওহীদ্বয় অনুসরণের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের পক্ষ থেকে কোনো পছন্দের সুযোগ থাকে না} [আল-আহযাব: ৩৬]।

মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব না, আপনার রবের কসম! তারা ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না তারা আপনাকে তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে বিচারক মানবে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করবেন সে বিষয়ে নিজেদের অন্তরে কোনো দ্বিধা বোধ করবে না এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে} [আন-নিসা: ৬৫]।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যেমনটি সহীহাইনে বর্ণিত হয়েছে: (আমার উম্মতের সকলে জান্নাতে প্রবেশ করবে তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে অস্বীকার করেছে। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে?! তিনি বললেন: যে আমার আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হবে সে-ই অস্বীকার করল)। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত হলো, সে-ই অস্বীকার করল।

সহীহাইনে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তবে তা প্রত্যাখ্যাত)। অর্থাৎ: তা বাতিল, যা শুদ্ধ নয় এবং যার ওপর নির্ভর করা যায় না। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর বিপরীতে আমরা অন্য কারো কথাকেই গ্রহণ করতে পারি না, তিনি যেই হোন না কেন।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الرد على من يجوز الأخذ بأي قول في المسائل الخلافية

وفي السنن ومسند أحمد أيضاً عن العرباض بن سارية أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافاً كثيراً).

وهذا يرد على من يقول بأن اختلاف الأمة رحمة، وأنه يجوز أن نأخذ بأي قول.

وهذا هو عين الهلاك، ولو قلنا بهذا لصح الزواج مثلاً بتسع نسوة كما قال بهذا ابن حزم، فقد جمع قوله تعالى: {مَثْنَى وَثُلاثَ وَرُبَاعَ} [النساء:3] فصارت تسعة واستدل بها على جواز الزواج بتسع من النساء كما فعل النبي صلى الله عليه وسلم، ولو قلنا بهذا لصح أيضاً وطء المرأة المستأجرة كالأمة تماماً، وأنه يفعل بها ما شاء كيف شاء من غير نكاح، ولجاز الربا مع أهل الكتاب أو في أي بلد حربي، وهذه عين المهلكة.

ولو قلنا بهذا المبدأ لما جاز الإنكار على المخالف، فلو رأيت رجلاً في الشارع يتراقص ويسمع أم كلثوم أو مغنياً من المغنين، فهل لك أن تنكر عليه أم لا؟ فإذا أنكرت عليه قال لك: أنا آخذ بقول الشيخ القرضاوي، وقال بأن اختلاف الأمة رحمة.

وهكذا في أي مسألة أخرى فإنه سيقول لك بأن هذا القول هو قول الإمام الشافعي أو الإمام مالك أو ابن حزم، وقد قال بها شيخ من العلماء المعتمدين وهكذا، فهذه مهلكة لهذه الأمة، فاختلاف الأمة لا يمكن أن يكون رحمة إلا في أمر يسوغ فيه الاجتهاد ولم يتبين فيه الدليل بحال من الأحوال.
‌‌মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহে যেকোনো মত গ্রহণ করাকে যারা বৈধ মনে করে, তাদের খণ্ডন

সুনান গ্রন্থসমূহ এবং মুসনাদে আহমদেও ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে, তারা প্রচুর মতপার্থক্য দেখতে পাবে।"

এটি ঐ ব্যক্তিদের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে, যারা বলে যে উম্মতের মতপার্থক্য রহমত এবং যেকোনো মত গ্রহণ করা জায়েজ।

আর এটিই হচ্ছে ধ্বংসের মূল কারণ। যদি আমরা এই কথা মেনে নিতাম, তবে উদাহরণস্বরূপ নয়জন স্ত্রী গ্রহণ করা বৈধ হয়ে যেত, যেমনটি ইবনে হাজম বলেছিলেন। তিনি মহান আল্লাহর বাণী: "দুই দুই, তিন তিন ও চার চার" [নিসা: ৩] থেকে সংখ্যাগুলো যোগ করে নয় বানিয়েছিলেন এবং এর মাধ্যমে তিনি নয়জন নারী বিয়ে করা জায়েজ হওয়ার পক্ষে দলিল পেশ করেছিলেন, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করেছিলেন। যদি আমরা এই কথা মেনে নিতাম, তবে ভাড়াকৃত নারীর সাথে দাসীর মতো সহবাস করাও বৈধ হয়ে যেত এবং কোনো বিবাহ ছাড়াই তার সাথে ইচ্ছামতো যেকোনো কিছু করা চলত। এছাড়া আহলে কিতাবদের সাথে কিংবা যেকোনো হারবি (যুদ্ধরত) দেশে সুদ গ্রহণ করাও জায়েজ হয়ে যেত; আর এগুলোই হলো ধ্বংসের পথ।

আমরা যদি এই মূলনীতি গ্রহণ করি, তবে কোনো বিরোধিতাকারীকে বাধা প্রদান করাও সম্ভব হবে না। যদি আপনি রাস্তায় কাউকে নাচতে দেখেন এবং উম্মে কুলসুম কিংবা অন্য কোনো গায়কের গান শুনতে দেখেন, তবে আপনি কি তাকে বাধা দিতে পারবেন কি না? আপনি যদি তাকে বাধা দেন, তবে সে বলবে: "আমি শাইখ আল-কারযাভীর মত গ্রহণ করছি।" সে বলবে যে উম্মতের মতপার্থক্য রহমত।

একইভাবে অন্য যেকোনো মাসআলার ক্ষেত্রেও সে আপনাকে বলবে যে এটি ইমাম শাফেয়ী, ইমাম মালিক কিংবা ইবনে হাজমের মত, অথবা কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম এই মত দিয়েছেন—এভাবে চলতে থাকবে। এটি এই উম্মতের জন্য ধ্বংসাত্মক। উম্মতের মতপার্থক্য কেবল সেই বিষয়গুলোতেই রহমত হতে পারে যেখানে ইজতিহাদের অবকাশ রয়েছে এবং কোনোভাবেই কোনো দলিল স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌رجوع الصحابة إلى الكتاب والسنة

والغرض المقصود: أن الصحابة يرجعون إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد بين في حديث العرباض ذلك فقال: (فإنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافاً كثيراً، قالوا: فماذا نفعل يا رسول الله؟! قال: فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين من بعدي).

فإذا قلنا: قال رسول الله، فلا تقل: قال فلان أو قال الشيخ الفلاني أو قال شيخ مشايخه، هو فوق رأسي وهو معلمي ومؤدبي، وإذا رأيته قبلت رأسه ويده، لكن إذا خالف قول النبي فلا، وكذلك شيخ الإسلام حبيب إلينا ولكن الحق أحب إلينا منه.

فلابد أن نقترب من قول النبي صلى الله عليه وسلم: (فإنه يعش منكم من فسيرى اختلافاً كثيراً، فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي، عضوا عليها بالنواجذ).

وفي السنن أيضاً بسند صحيح أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (لا ألفين أحدكم شبعان متكئاً على أريكته يأتيه الأمر من أمري فيقول: نعرضه على كتاب الله فما وجدناه في كتاب الله حلالاً أحللناه، وما وجدناه حراماً حرمناه، فقال النبي صلى الله عليه وسلم منتهراً هذا القول: ألا وإني قد أوتيت القرآن ومثله معه).

وقال النبي صلى الله عليه وسلم في رواية أخرى: (ألا وإن ما حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم كما حرم الله).

فعلى الأمة أن تلتف حول الكتاب وحول سنة النبي صلى الله عليه وسلم، فإن لم يكن فلتلتف حول صحابة رسول الله؛ لأنهم علماء الأمة؛ ولأنهم السلف الصالح.
‌‌কিতাব ও সুন্নাহর দিকে সাহাবায়ে কেরামের প্রত্যাবর্তন

উদ্দেশ্য হলো: সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন। ইরবায ইবনে সারিয়াহ বর্ণিত হাদিসে তিনি তা স্পষ্ট করেছেন এবং বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। তারা জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তবে কী করব? তিনি বললেন: তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত আঁকড়ে ধরবে।"

সুতরাং আমরা যখন বলি: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন", তখন তোমরা বলো না যে: "অমুক বলেছেন" অথবা "অমুক শায়খ বলেছেন" অথবা "তাঁর উস্তাদদের উস্তাদ বলেছেন"। তিনি আমার মাথার তাজ, তিনি আমার শিক্ষক এবং আমার শিষ্টাচার শিক্ষাদানকারী। আমি যখন তাঁকে দেখি, তখন তাঁর মাথা ও হাতে চুম্বন করি। কিন্তু যদি তাঁর বক্তব্য নবীর বাণীর পরিপন্থী হয়, তবে তা মানা হবে না। অনুরূপভাবে শায়খুল ইসলাম আমাদের নিকট অত্যন্ত প্রিয়, কিন্তু সত্য আমাদের নিকট তাঁর চেয়েও অধিক প্রিয়।

তাই আমাদের অবশ্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর নিকটবর্তী হতে হবে: "তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে তারা অচিরেই অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে; একে মাড়ির দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে কামড়ে ধরে থাকবে।"

সুনান গ্রন্থসমূহে সহিহ সনদে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তৃপ্ত হয়ে তার আরামকেদারায় হেলান দিয়ে বসে আছে এবং তার কাছে আমার কোনো নির্দেশ আসার পর সে বলে: 'আমরা এটি আল্লাহর কিতাবের ওপর পেশ করব, তাতে যা হালাল পাব তা-ই হালাল হিসেবে গ্রহণ করব এবং যা হারাম পাব তা-ই হারাম হিসেবে বর্জন করব।' নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বক্তব্যের কঠোর নিন্দা জানিয়ে বললেন: 'সাবধান! আমাকে কুরআন প্রদান করা হয়েছে এবং তার সাথে তার অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে'।"

অন্য এক বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জেনে রেখো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারাম করার মতোই।"

অতএব উম্মতের উচিত কুরআন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর ওপর ঐক্যবদ্ধ থাকা। আর তা সম্ভব না হলে রাসূলুল্লাহর সাহাবায়ে কেরামের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হওয়া; কারণ তাঁরাই এই উম্মতের প্রকৃত আলেম এবং তাঁরাই সালাফে সালেহীন বা সৎকর্মশীল পূর্বসূরি।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الاجتهاد في العصر النبوي
নবী যুগে ইজতিহাদ
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌اجتهاد النبي صلى الله عليه وسلم

قد تقدم أن الله جل وعلا حث عباده على الالتفاف حول السنة، وكذلك رسوله صلى الله عليه وسلم حث على الالتفاف حول سنته، ولذلك فإنه وإن ظهر الاجتهاد في عصر الصحابة لكنه كان في فهم مراد الله وفهم مراد رسول الله صلى الله عليه وسلم، كما قال الشافعي: آمنت بالله وبما جاء عن الله وعلى مراد الله.

ومراد الله لا يعرفه إلا المجتهد الذي يسهر ليله ويظمأ نهاره حتى يصل إلى مراد الله جل في علاه.

فقد اجتهد الصحابة كما اجتهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولكن الاجتهاد ما كان للإتيان بحكم جديد ولكن لفهم مراد الله ومراد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد اختلف الأصوليون في الاجتهاد لرسول الله صلى الله عليه وسلم وإمكانيته، هل له أن يجتهد أم لا؟ والصحيح الراجح أصولياً أنه يجوز له أن يجتهد، لكن إن أخطأ لا يمكن أن يقر على خطئه.

والدليل على اجتهاد النبي صلى الله عليه وسلم قوله تعالى: {وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُوْلِي الأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ} [النساء:83].

والدليل الأوضح من ذلك قوله تعالى: {وَشَاوِرْهُمْ فِي الأَمْرِ} [آل عمران:159] والمشاورة تدل على أنه سيجتهد في الرأي الصائب السليم ثم يعمل به.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইজতিহাদ

পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সুন্নাহর ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও স্বীয় সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকতে উৎসাহিত করেছেন। এ কারণে, যদিও সাহাবায়ে কেরামের যুগে ইজতিহাদ পরিলক্ষিত হয়েছিল, তবে তা ছিল আল্লাহর উদ্দেশ্য এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্য অনুধাবন করার ক্ষেত্রে। যেমনটি ইমাম শাফিঈ বলেছেন: আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যা এসেছে তার প্রতি ঈমান এনেছি আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুযায়ী।

আর আল্লাহর উদ্দেশ্য সেই মুজতাহিদ ব্যতীত অন্য কেউ জানতে পারে না, যিনি রাত জেগে সাধনা করেন এবং দিনে তৃষ্ণার্ত থেকে পরিশ্রম করেন যতক্ষণ না তিনি সুমহান আল্লাহর প্রকৃত উদ্দেশ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন ইজতিহাদ করেছেন, সাহাবায়ে কেরামও অনুরূপভাবে ইজতিহাদ করেছেন। তবে ইজতিহাদ কোনো নতুন বিধান প্রবর্তনের জন্য ছিল না, বরং তা ছিল আল্লাহর উদ্দেশ্য এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্য অনুধাবন করার জন্য। উসুলবিদগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইজতিহাদ এবং এর সম্ভাবনা নিয়ে মতভেদ করেছেন যে, তাঁর জন্য কি ইজতিহাদ করা সম্ভব ছিল কি না? উসুলশাস্ত্রের আলোকে সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো, তাঁর জন্য ইজতিহাদ করা জায়েজ ছিল; তবে যদি তিনি কোনো ভুল করতেন, তবে তাঁকে সেই ভুলের ওপর বহাল রাখা হতো না।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইজতিহাদের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: “আর তারা যদি তা রাসূলের কাছে এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃপক্ষ) কাছে ন্যস্ত করত, তবে তাদের মধ্যে যারা তা উদঘাটন করতে সক্ষম তারা অবশ্যই তা জানতে পারত।” [আন-নিসা: ৮৩]।

এর চেয়েও স্পষ্টতর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: “আর তুমি কাজে তাদের সাথে পরামর্শ করো।” [আল-ইমরান: ১৫৯]। আর এই পরামর্শ প্রদান একথারই প্রমাণ দেয় যে, তিনি সঠিক ও নির্ভুল সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ইজতিহাদ করবেন এবং অতঃপর সে অনুযায়ী আমল করবেন।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌اجتهاد النبي صلى الله عليه وسلم في الإعراض عن الأعمى

والصور التطبيقية لاجتهاد النبي صلى الله عليه وسلم وإقرار الله أو عدم إقراره له في الاجتهاد كثيرة، منها قوله تعالى: {عَبَسَ وَتَوَلَّى} [عبس:1].

وسبب نزولها أن النبي صلى الله عليه وسلم كان جالساً مع صناديد قريش، وكانوا هم الأكابر، ومعروف أن الرعية تتبع الراعي، فلو أن الراعي الكبير مثلاً أبا جهل أو غيره أسلم فإن الرعية كلها ستسلم، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: أنا آتي إلى الراعي وأبين له الإسلام حتى يدخل في الإسلام، فجاءه الأعمى ابن أم مكتوم وكان رجلاً ضعيفاً، فرجح الرسول صلى الله عليه وسلم اجتهاداً أن ينشغل بالصناديد الأكابر حتى تأتي الرعية خلفهم، فلم يقره الله جل علاه على اجتهاده هذا فقال: {عَبَسَ وَتَوَلَّى * أَنْ جَاءَهُ الأَعْمَى * وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّى} [عبس:1 - 3] إلى آخر الآيات.
অন্ধ ব্যক্তির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইজতিহাদ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইজতিহাদের প্রায়োগিক দৃষ্টান্ত এবং সেই ইজতিহাদে আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুমোদন লাভ করা বা না করার উদাহরণ অনেক রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি ভ্রূকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন} [আবাসা: ১]।

এটি নাযিল হওয়ার কারণ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাইশদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বসা ছিলেন, যারা ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, অনুসারীরা তাদের নেতার অনুসরণ করে থাকে। তাই যদি কোনো বড় নেতা, যেমন আবু জাহল বা অন্য কেউ ইসলাম গ্রহণ করত, তবে সমস্ত অনুসারীই ইসলাম গ্রহণ করত। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আমি নেতার নিকট যাই এবং তার কাছে ইসলাম স্পষ্টভাবে বর্ণনা করি যাতে সে ইসলাম গ্রহণ করে। এমন সময় অন্ধ সাহাবী ইবনে উম্মে মাকতূম তাঁর কাছে এলেন, যিনি ছিলেন একজন দুর্বল ব্যক্তি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইজতিহাদের ভিত্তিতে এই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিলেন যে, তিনি কুরাইশ নেতাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন যাতে অনুসারীরা তাদের অনুসরণ করে ইসলামে আসে। কিন্তু মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ তাঁর এই ইজতিহাদকে সমর্থন করেননি, বরং তিনি বললেন: {তিনি ভ্রূকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন * কারণ তাঁর কাছে সেই অন্ধ লোকটি এল * আপনি কী করে জানবেন? হয়তো সে পরিশুদ্ধ হতো} [আবাসা: ১-৩] আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌اجتهاد النبي صلى الله عليه وسلم في العفو عن الكفار والمنافقين

وأيضاً عندما جاء المنافقون، أو ما يسمى في عصرنا: (الطابور الخامس) إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في المدينة يعتذرون له عن عدم الخروج معه في السرية، فكان النبي صلى الله عليه وسلم يقبل عذرهم ويردهم.

وهذا اجتهاد من رسول الله، فعتب عليه الله في هذا الاجتهاد، فقال له: {عَفَا اللَّهُ عَنْكَ لِمَ أَذِنتَ لَهُمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَتَعْلَمَ الْكَاذِبِينَ} [التوبة:43].

وأيضاً عندما اجتهد النبي صلى الله عليه وسلم في أسارى بدر، فقد اختلف النبي صلى الله عليه وسلم وأبو بكر مع عمر: هل يأخذ الفداء ويتركهم أحراراً أم يقتلهم؟ فاجتهد وأخذ برأي أبي بكر فلم يقره الله جل في علاه على هذا الاجتهاد، فقال: {مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الأَرْضِ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا} [الأنفال:67] إلى آخر الآيات.
কাফির ও মুনাফিকদের ক্ষমা করার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইজতিহাদ

এছাড়াও যখন মুনাফিকরা—যাদেরকে আমাদের যুগে 'পঞ্চম বাহিনী' বলা হয়—মদীনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে অভিযানে তাঁর সাথে না যাওয়ার পক্ষে ওজর পেশ করছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের ওজর গ্রহণ করতেন এবং তাদের ছেড়ে দিতেন।

আর এটি ছিল রাসূলুল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ইজতিহাদ, যার কারণে আল্লাহ তাঁকে অনুযোগ করেন। তিনি তাঁকে বললেন: "আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করেছেন; কেন আপনি তাদের অনুমতি দিলেন, যতক্ষণ না আপনার কাছে সত্যবাদীরা স্পষ্ট হয় এবং আপনি মিথ্যাবাদীদের জেনে নেন?" [আত-তাওবাহ: ৪৩]।

একইভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বদরের বন্দীদের ব্যাপারে ইজতিহাদ করেছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আবু বকর উমরের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন যে: তিনি কি মুক্তিপণ গ্রহণ করে তাদের মুক্ত করে দেবেন নাকি তাদের হত্যা করবেন? তখন তিনি ইজতিহাদ করেন এবং আবু বকরের মত গ্রহণ করেন, কিন্তু সুউচ্চ মহান আল্লাহ তাঁর এই ইজতিহাদকে অনুমোদন করেননি। তিনি বলেন: "কোনো নবীর জন্য এটা সংগত নয় যে, তাঁর নিকট যুদ্ধবন্দী থাকবে যতক্ষণ না তিনি যমীনে শত্রুকে সম্পূর্ণরূপে পরাভূত করেন। তোমরা দুনিয়ার নশ্বর সম্পদ কামনা করছ।" [আল-আনফাল: ৬৭] আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌اجتهاد الصحابة في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم

والغرض المقصود: أن النبي صلى الله عليه وسلم قد اجتهد وكذلك الصحابة الكرام في عصر رسول الله صلى الله عليه وسلم، وفي هذا دلالة على أن الاجتهاد لم يمت أبداً، لكن الاجتهاد يكون لمن أعطاه الله الآلة التي يمكن أن يجتهد بها.

أما اجتهاد الصحابة في وجود رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد كان كثيراً جداً، لكن أشهره وأقواه كان في رقاب الناس وإهدار الدماء، كما حصل ذلك في اجتهاد سعد في بني قريظة، وذلك لما جاء سعد بن معاذ رضي الله عنه وأرضاه إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (قوموا إلى سيدكم فأجلسوه، فقال: إنهم يرضون بحكمك؛ فقال لليهود: أترضون بحكمي؟ فقالوا: نرضى بحكمك، ثم نظر إلى مكان رسول الله، وحتى لا يتقدم عليه بين يديه، فقال: أيرضى هؤلاء بحكمي؟ يعني: أترضى يا رسول الله! فكأنه يلمح إليه تأدباً، فقال: اللهم نعم، فقال: أحكم فيهم بضرب أعناق رجالهم وسبى ذراريهم، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لقد حكمت فيهم بحكم الله من فوق سبع سماوات).

فهذا اجتهاد منه رضي الله عنه.

ومن الأمثلة صلاة عمرو بن العاص بالناس وهو جنب بالتيمم مع وجود الماء خشيةً على نفسه من الهلكة، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: (أصليت بالناس جنباً يا عمرو؟! فقال: قد رأيت الله جل وعلا يقول: {وَلا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} [البقرة:195] فأقره النبي صلى الله عليه وسلم على اجتهاده).

وكذلك: عمار بن ياسر عندما تمرغ في التراب جهلاً منه بكيفية التيمم، فلم يقره النبي صلى الله عليه وسلم على الكيفية.

وكذلك حديث الرجلين اللذين سافرا- وهو في السنن وفي الصحيح- ففقدا الماء فتيمما ثم صليا الفرض، فلما سارا وجدا الماء، فقال أحدهما: إذا حضر الماء بطل التيمم، فتوضأ مرة ثانية وأعاد الصلاة، وأما الآخر فقال: إني قد صليت وأديت ما علي فلا أصلي مرة ثانية، فذهبا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأقر رسول الله الاثنين، فقال للذي اكتفى بالتيمم: قد أصبت السنة؛ لأنه عمل بقوله تعالى: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن:16]، {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا} [النساء:43]، وقال للآخر: لك الأجر مرتين؛ وذلك لأن الصلاة الثانية حسبت له نافلة؛ لأنه قد أدى الفريضة بالتيمم.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় সাহাবায়ে কেরামের ইজতিহাদ

আর উদ্দিষ্ট উদ্দেশ্য হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইজতিহাদ করেছেন এবং তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সম্মানিত সাহাবীগণও ইজতিহাদ করেছেন। আর এতে এই প্রমাণ রয়েছে যে, ইজতিহাদ কখনো বিলুপ্ত হয়নি; তবে ইজতিহাদ কেবল তার জন্যই, যাকে আল্লাহ এমন উপকরণ বা যোগ্যতা দান করেছেন যার মাধ্যমে ইজতিহাদ করা সম্ভব।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে সাহাবায়ে কেরামের ইজতিহাদের ঘটনা অনেক ছিল, তবে এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও জোরালো ছিল মানুষের গর্দান ও রক্তপাতের বিষয়ে, যেমনটি বনু কুরাইজার ক্ষেত্রে সা'দ ইবনে মুআযের ইজতিহাদে ঘটেছিল। যখন সা'দ ইবনে মুআয রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (তোমরা তোমাদের নেতার সম্মানে উঠে দাঁড়াও এবং তাঁকে বসাও। এরপর তিনি বললেন: তারা তোমার ফয়সালায় সন্তুষ্ট। তখন তিনি ইহুদিদের উদ্দেশ্য করে বললেন: তোমরা কি আমার ফয়সালায় সন্তুষ্ট? তারা বলল: আমরা আপনার ফয়সালায় সন্তুষ্ট। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহর স্থানের দিকে তাকালেন, যাতে তাঁর সামনে অগ্রগণ্য না হন, এবং বললেন: এরা কি আমার ফয়সালায় সন্তুষ্ট? অর্থাৎ: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি সন্তুষ্ট? তিনি যেন শিষ্টাচারবশত তাঁর দিকে ইঙ্গিত করছিলেন। নবীজি বললেন: হে আল্লাহ, হ্যাঁ। তখন সা'দ বললেন: আমি তাদের ব্যাপারে ফয়সালা দিচ্ছি যে, তাদের পুরুষদের গর্দান উড়িয়ে দেওয়া হবে এবং তাদের সন্তানদের বন্দি করা হবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি তাদের ব্যাপারে সাত আসমানের উপর থেকে আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ী ফয়সালা করেছ)।

এটি ছিল তাঁর পক্ষ থেকে একটি ইজতিহাদ, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন।

অন্যান্য উদাহরণের মধ্যে রয়েছে আমর ইবনুল আস-এর ঘটনা; তিনি নাপাকি অবস্থায় নিজের জীবনের ধ্বংসের আশঙ্কায় পানি থাকা সত্ত্বেও তায়াম্মুম করে লোকদের সালাতে ইমামতি করেছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: (হে আমর, তুমি কি নাপাকি অবস্থায় লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেছ?! তিনি বললেন: আমি দেখেছি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলছেন: {তোমরা নিজেদের হাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না} [আল-বাকারা: ১৯৫]। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইজতিহাদকে অনুমোদন দিলেন)।

তদ্রূপ: আম্মার ইবনে ইয়াসিরের ঘটনা, যখন তিনি তায়াম্মুমের সঠিক পদ্ধতি না জানার কারণে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়েছিলেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই পদ্ধতির অনুমোদন দেননি।

তেমনি সেই দুই ব্যক্তির হাদীস যারা সফরে ছিলেন—যা সুনান ও সহীহ গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে—তারা পানি না পেয়ে তায়াম্মুম করে ফরজ সালাত আদায় করলেন। এরপর যখন তারা পথ চললেন তখন পানি পেলেন। তাদের একজন বললেন: পানি পাওয়া গেলে তায়াম্মুম বাতিল হয়ে যায়, তাই তিনি পুনরায় অজু করে সালাত আদায় করলেন। আর অন্যজন বললেন: আমি সালাত আদায় করেছি এবং আমার দায়িত্ব পালন করেছি, তাই আমি দ্বিতীয়বার সালাত আদায় করব না। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়ের কাজকেই অনুমোদন দিলেন। যিনি তায়াম্মুমে সন্তুষ্ট ছিলেন তাকে বললেন: তুমি সুন্নাহর অনুসারী হয়েছ; কারণ তিনি আল্লাহর বাণীর ওপর আমল করেছেন: {তোমরা আল্লাহকে তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভয় করো} [আত-তাগাবুন: ১৬], {যদি তোমরা পানি না পাও তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো} [আন-নিসা: ৪৩]। আর অন্যজনকে বললেন: তোমার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব; এর কারণ হলো তার দ্বিতীয় সালাতটি নফল হিসেবে গণ্য হয়েছে, যেহেতু তিনি তায়াম্মুমের মাধ্যমেই ফরজ আদায় সম্পন্ন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الاجتهاد في عصر الخلفاء الراشدين

والحاصل أن كثيراً من الصحابة قد اجتهد في عصر رسول الله صلى الله عليه وسلم، فمنهم من أقر ومنهم من أنكر عليه.

لكن هل حدث خلاف بعد موت رسول الله؟ فما من زمن يأتي بعد رسول الله إلا والذي بعده شر منه، فلابد أن يحدث الخلاف، لكن لرحمة الله بالأمة فقد جعل الخيرية في القرون المفضلة بعده صلى الله عليه وسلم؛ وذلك أن الخلاف ضاق جداً في عصر أبي بكر، وضاق جداً في عصر عمر، ثم توسعت الخلافات بين العلماء في عصر الصحابة بعد عمر بن الخطاب.

والسبب في ذلك: أن أبا بكر رضي الله عنه وأرضاه كان في المدينة وكان الصحابة جميعهم مع أبي بكر في المدينة، وكذلك الأمر بالنسبة لـ عمر بن الخطاب، فإذا عمت المسألة نظر أبو بكر في كتاب الله وسنة النبي صلى الله عليه وسلم.

فائدة: هل يقال: كتاب الله وسنة نبيه، أم يقال: كتاب الله ثم سنة نبيه؟ والصحيح الراجح: أن الوحيين معاً، فتقول: انظر في كتاب الله وسنة النبي، وهو الذي جرى عليه المحدثون عندما ضعفوا حديث معاذ، والذي يستدل به الفقهاء والأصوليون دائماً: في أن كتاب الله هو الأول في الترتيب ثم سنة النبي صلى الله عليه وسلم، (عندما بعثه إلى اليمن فقال: بم تحكم؟ قال: أحكم بكتاب الله، قال: فإن لم تجد؟ قال: فإن لم أجد في كتاب الله أحكم بسنة النبي صلى الله عليه وسلم فكأنه جعلها مرتبة بعدية، فقال العلماء: هذا شاذ؛ لأن السنة والكتاب قرينان، فيحكم بكتاب الله وسنة النبي صلى الله عليه وسلم.

فالمقصود: أن أبا بكر كان ينظر في الكتاب والسنة، فإن وجد شيئاً اعتبر الأمر منتهياً، وإن لم يجد جمع الصحابة فجلسوا إليه فتشاور معهم في حل إشكال هذه المسألة، فإذا كان لديهم علم من رسول الله وإلا اجتمعوا على رأي واجتهاد واحد، وسمي ذلك إجماعاً كما هو عند أهل الأصول.

ومثال ذلك: عندما جاءت الجدة إلى أبي بكر فقالت: يا أبا بكر! أين إرثي؟ فقال: إني لا أرى لك في كتاب الله أو سنة النبي صلى الله عليه وسلم شيئاً، ولكن اذهبي حتى أستشير صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فجمع الصحابة لذلك، فقال المغيرة بن شعبة: (قد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يورث الجدة السدس)، ووافق محمد بن مسلمة المغيرة على ذلك، فقضى أبو بكر لها بالسدس عملاً بسنة النبي صلى الله عليه وسلم.

وكان عمر بن الخطاب يجمع الصحابة حوله، ويحرم عليهم الخروج من المدينة، فإذا أشكلت المسألة قال لهم: هل يحفظ أحدكم في هذه المسألة حديثاً عن النبي صلى الله عليه وسلم؟ وقد اختلفوا مرة في مسألة الجنين، يعني: إذا ضرب رجل امرأة وفي بطنها جنين فمات، فما الحكم؟ أقول: قد خفي الحكم في هذا على عمر، فجمع الصحابة جميعاً فقال: ما الحكم في الجنين؟ فقام المغيرة بن شعبة وقال: (يا أمير المؤمنين! قد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يجعل في الجنين الغرة) فنزل عمر على كلام المغيرة، وبهذا ضاق الخلاف بينهم.

ثم بعد ذلك جاء عثمان فانتقل الصحابة إلى الأمصار، فذهب ابن مسعود إلى الكوفة، وذهب ابن عباس إلى مكة، فلما تفرق الصحابة في الأمصار عمت المسائل الجديدة، وأصبح من الواجب إيجاد حلول وأحكام لهذه المسائل الجديدة؛ لضرورة معرفة حكم الله في هذا الشيء.
খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে ইজতিহাদ

সারকথা হলো, অনেক সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ইজতিহাদ করেছেন। তাদের মধ্যে কাউকে তিনি অনুমোদন দিয়েছেন এবং কাউকে বারণ করেছেন।

কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর কি মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছিল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরের প্রতিটি যুগই তার পরবর্তী যুগের চেয়ে মন্দ হবে; সুতরাং মতপার্থক্য সৃষ্টি হওয়া অনিবার্য ছিল। তবে উম্মতের প্রতি আল্লাহর রহমতের কারণে তিনি তাঁর পরবর্তী শ্রেষ্ঠ যুগগুলোতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন। একারণে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর যুগে মতপার্থক্য অত্যন্ত সীমিত ছিল। অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পর সাহাবীদের যুগে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য বিস্তৃত হতে শুরু করে।

এর কারণ হলো: আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু মদিনায় অবস্থান করতেন এবং সাহাবীদের সকলে আবু বকরের সাথে মদিনায় ছিলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই ছিল। যখন কোনো সর্বজনীন সমস্যা দেখা দিত, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর কিতাব ও নবীর সুন্নাহর প্রতি দৃষ্টিপাত করতেন।

একটি জ্ঞাতব্য বিষয়: 'আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ' বলা হবে, নাকি 'আল্লাহর কিতাব অতঃপর তাঁর নবীর সুন্নাহ' বলা হবে? বিশুদ্ধ ও অগ্রগণ্য মত হলো: ওহীর দুটি উৎসই একত্রে। তাই আপনি বলবেন: 'আল্লাহর কিতাব ও নবীর সুন্নাহর প্রতি দৃষ্টি দিন'। মুহাদ্দিসগণ যখন মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করেন, তখন তারা এই নীতিই অনুসরণ করেন। অথচ ফকীহ ও উসূলবিদগণ সর্বদা সেই হাদীসটি দ্বারা এই দলীল পেশ করেন যে, বিন্যাসের দিক থেকে আল্লাহর কিতাব প্রথমে এবং তারপর নবীর সুন্নাহ। (যখন রাসূলুল্লাহ তাকে ইয়ামেনে পাঠান এবং জিজ্ঞাসা করেন: তুমি কিসের ভিত্তিতে ফয়সালা করবে? তিনি বলেন: আমি আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে ফয়সালা করব। রাসূলুল্লাহ বলেন: যদি না পাও? তিনি বলেন: যদি আল্লাহর কিতাবে না পাই তবে আল্লাহর নবীর সুন্নাহর মাধ্যমে ফয়সালা করব)। এটি যেন সুন্নাহকে পরবর্তী স্তরে নির্ধারণ করেছে। তাই আলেমগণ বলেছেন: এই বর্ণনাটি 'শায' বা অগ্রহণযোগ্য; কারণ সুন্নাহ ও কিতাব একে অপরের পরিপূরক। তাই আল্লাহর কিতাব ও নবীর সুন্নাহর মাধ্যমেই ফয়সালা করতে হবে।

মূল উদ্দেশ্য হলো: আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু কিতাব ও সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করতেন। যদি সেখানে কিছু পেতেন তবে বিষয়টি সেখানেই মীমাংসিত বলে গণ্য করতেন। আর যদি না পেতেন, তবে সাহাবীদের একত্রিত করতেন এবং তারা তাঁর কাছে বসতেন। এরপর তিনি এই সমস্যার সমাধানের জন্য তাদের সাথে পরামর্শ করতেন। যদি তাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে কোনো জ্ঞান বা হাদীস থাকত তবে তা গ্রহণ করতেন, অন্যথায় তারা একটি অভিমত ও ইজতিহাদের ওপর ঐক্যমত পোষণ করতেন। আর উসূলবিদদের নিকট একেই 'ইজমা' বলা হয়।

এর উদাহরণ হলো: যখন জনৈক দাদী আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে বললেন: হে আবু বকর! আমার মিরাস কোথায়? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কিতাব বা নবীর সুন্নাহতে তোমার জন্য কোনো অংশ দেখছি না। তবে তুমি ফিরে যাও, যতক্ষণ না আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করি। অতঃপর তিনি সাহাবীদের এ বিষয়ে সমবেত করলেন। তখন মুগীরা ইবনে শু'বা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: (আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাদীকে ষষ্ঠাংশ প্রদান করতে দেখেছি)। মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা রাদিয়াল্লাহু আনহু এ বিষয়ে মুগীরাকে সমর্থন করলেন। ফলে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবীর সুন্নাহ অনুযায়ী তাকে ষষ্ঠাংশ দেওয়ার ফয়সালা করলেন।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু সাহাবীদের তাঁর চারপাশে সমবেত রাখতেন এবং তাদের মদিনা থেকে বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন। কোনো সমস্যা জটিল হলে তিনি তাদের বলতেন: তোমাদের মধ্যে কি কেউ এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদীস মুখস্থ রেখেছ? একবার তারা গর্ভস্থ সন্তানের বিষয়ে মতভেদ করেছিলেন। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি যদি এক নারীকে আঘাত করে এবং তার গর্ভে থাকা সন্তান মারা যায়, তবে তার বিধান কী? আমি বলছি: এই বিধানটি উমরের কাছে অস্পষ্ট ছিল। তিনি সকল সাহাবীকে সমবেত করে বললেন: গর্ভস্থ সন্তানের বিষয়ে বিধান কী? তখন মুগীরা ইবনে শু'বা রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললেন: (হে আমীরুল মুমিনীন! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গর্ভস্থ সন্তানের বিনিময়ে 'গুররাহ' তথা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে দেখেছি)। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মুগীরার কথার ওপর ভিত্তি করে ফয়সালা দিলেন এবং এর ফলে তাদের মধ্যকার মতভেদ দূর হয়ে গেল।

এরপর যখন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু আসলেন, তখন সাহাবীগণ বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়লেন। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু কুফায় গেলেন এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু মক্কায় গেলেন। যখন সাহাবীগণ বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়লেন, তখন নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিতে লাগল। আর এই নতুন সমস্যাগুলোর সমাধান ও বিধান খুঁজে বের করা অপরিহার্য হয়ে পড়ল, কারণ এ বিষয়ে আল্লাহর বিধান জানা আবশ্যক ছিল।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌سبب الخلاف في أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأحوال الصحابة معها
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীসমূহে মতভেদের কারণ এবং সেগুলোর সাথে সাহাবীগণের অবস্থাসমূহ
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌من لم يبلغه الحديث فاجتهد وأصاب

فمنشأ الخلاف ابتدأ منذ تفرق الصحابة في البلدان كما سنبين إجمالاً ثم نفصل بعد ذلك، وقد كان جامع أصول الخلاف عند الفقهاء: هو قول النبي صلى الله عليه وسلم أو فعله.

ولقول النبي حالات: منها أن يكون معللاً، أو أن يكون تعبدياً.

وقول النبي صلى الله عليه وسلم بالنسبة للصحابة له أحوال: فصحابة بلغهم قول النبي صلى الله عليه وسلم، وصحابة لم يبلغهم قول النبي صلى الله عليه وسلم، وصحابة بلغهم قول النبي صلى الله عليه وسلم لكنهم لم يفهموه على وجهه.

فمثال من لم يبلغه حديث النبي صلى الله عليه وسلم: ما حصل لـ ابن مسعود رضي الله عنه في الكوفة، فقد جاءه الناس فقالوا: يا ابن مسعود! امرأة مات عنها زوجها بعد أن عقد عليها ولم يسم لها المهر فما حكمها؟ فنظر ابن مسعود في ذلك فاشتد عليه الأمر، وقال: إليكم عني! فإني لم أجد فيها سنة عن النبي صلى الله عليه وسلم، فتركهم.

ثم جاءوا في اليوم الثاني فقالوا: يا ابن مسعود! إن لم نسألك أنت فمن نسأل؟ فقد علموا لمن يرجعون، فلا يرجعون إلا لأهل العلم المدققين المتقنين المحققين، ولا يأخذون بقول أي أحد، بل يأخذون العلم من أهله، وفي زماننا هذا اختلط الحابل بالنابل، واختلط العالم بالواعظ والداعية، واختلط طالب العلم المدقق بغيره من أشباه طلاب العلم.

والمستفتون مسئولون أمام الله عن الذي يختارونه للسؤال؛ لأن المقلد لا يسأل أمام ربه عن الفتوى، ولكنه يسأل عن اختياره للمفتي، ولكم أن تنظروا إلى الناس في قرون الخيرية، فلم يذهبوا إلا لصحابة رسول الله، مع أن التابعين في هذه العصور كانوا من أدق الناس نظراً في أدلة النبي صلى الله عليه وسلم، لكن إذا كان الصاحب موجوداً فإنه لا يرجع إلا إليه؛ لأنه أفقه وأعلم وأدق نظراً في كلام الله وكلام الرسول.

فقالوا: يا ابن مسعود! إن لم نسألك أنت فمن نسأل؟ فقال: إليكم عني! فإن الأمر خطير، فجاءوه في اليوم الثالث فقال: لم أجد فيها سنة فسأجتهد فيها برأيي، فإن أصبت فمن الله، وإن أخطأت فمن نفسي ومن الشيطان، ثم قال: لها المهر كاملاً ولها الإرث، وعليها العدة أربعة أشهر وعشراً.

فنزلها منزلة الزوجة المدخول بها، إذ إن المطلقة قبل الدخول بها يثبت لها نصف المهر فقط.

فقام رجل فقال: يا ابن مسعود! والله لقد حكم رسول الله صلى الله عليه وسلم في بروع بنت واشق مثل ما حكمت.

فخر ابن مسعود ساجداً وقال: ما فرحت بشيء فرحي بموافقتي لرسول الله صلى الله عليه وسلم.

إذاً: فالصنف الأول: هو من لم يبلغه حديث النبي صلى الله عليه وسلم، فاجتهد برأيه في المسألة، فوافق فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم.
যাঁর কাছে হাদিস পৌঁছেনি অথচ তিনি ইজতিহাদ করেছেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন

মতভেদের উৎপত্তি শুরু হয়েছে যখন থেকে সাহাবায়ে কেরাম বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছেন, যেমনটি আমরা সংক্ষেপে বর্ণনা করব এবং পরে বিস্তারিত আলোচনা করব। আর ফকিহগণের নিকট মতভেদের মূল উৎস ছিল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা অথবা কাজ।

নবীজির বাণীর বিভিন্ন অবস্থা রয়েছে: তার মধ্যে কোনোটি কারণ-নির্ভর, আবার কোনোটি নিরঙ্কুশ ইবাদতগত।

সাহাবায়ে কেরামের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর কয়েকটি অবস্থা ছিল: এমন সাহাবী ছিলেন যাঁদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী পৌঁছেছে; এমন সাহাবীও ছিলেন যাঁদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী পৌঁছেনি; আবার এমন সাহাবীও ছিলেন যাঁদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী পৌঁছেছে কিন্তু তাঁরা তা যথাযথভাবে বুঝতে পারেননি।

যাঁর কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস পৌঁছেনি তাঁর উদাহরণ হলো: কুফায় ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল। লোকেরা তাঁর কাছে এসে বলল: হে ইবনে মাসউদ! জনৈক মহিলার স্বামী বিবাহের আকদ হওয়ার পর এবং মোহর নির্ধারণ করার পূর্বেই মারা গেছেন, এখন তাঁর বিধান কী? ইবনে মাসউদ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করলেন এবং বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত কঠিন মনে হলো। তিনি বললেন: তোমরা আমাকে রেহাই দাও! কারণ এই বিষয়ে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো সুন্নাহ খুঁজে পাচ্ছি না। ফলে তিনি তাঁদের ফিরিয়ে দিলেন।

অতঃপর দ্বিতীয় দিন তাঁরা আবার আসলেন এবং বললেন: হে ইবনে মাসউদ! আমরা যদি আপনাকে জিজ্ঞেস না করি তবে কাকে জিজ্ঞেস করব? তাঁরা জানতেন কার কাছে ফিরে যেতে হয়। তাঁরা সূক্ষ্মদর্শী, দক্ষ ও গবেষক আলেম ছাড়া আর কারো কাছে ফিরে যেতেন না। তাঁরা যে কারো কথা গ্রহণ করতেন না, বরং ইলম গ্রহণ করতেন উপযুক্ত পারদর্শীদের কাছ থেকে। আর আমাদের এই বর্তমান যুগে সত্য-মিথ্যা এবং যোগ্য-অযোগ্যের সংমিশ্রণ ঘটে গেছে; আলেমের সাথে ওয়াজকারী ও দাঈর পার্থক্য একাকার হয়ে গেছে এবং সূক্ষ্মদর্শী ইলম অন্বেষণকারীর সাথে নামধারী ইলম অন্বেষণকারীদের পার্থক্য হারিয়ে গেছে।

ফতোয়া অন্বেষণকারীরা যাঁকে প্রশ্ন করার জন্য নির্বাচন করেন, সে বিষয়ে তাঁরা আল্লাহর সামনে দায়ী থাকবেন। কারণ মুকাল্লিদকে আল্লাহর কাছে ফতোয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে না, বরং মুফতি নির্বাচনের বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে। আপনারা শ্রেষ্ঠ যুগের মানুষের প্রতি লক্ষ্য করলে দেখবেন, তাঁরা কেবল রাসূলুল্লাহর সাহাবীদের কাছেই যেতেন; যদিও ঐ যুগে তাবেঈগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দলিলের প্রতি লক্ষ্য করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সূক্ষ্মজ্ঞানী ছিলেন। কিন্তু সাহাবী উপস্থিত থাকলে তাঁরা কেবল তাঁর কাছেই ফিরে যেতেন; কেননা তিনি আল্লাহর কালাম ও রাসূলের কালাম অনুধাবনে অধিক ফকিহ, অধিক অভিজ্ঞ এবং অধিক সূক্ষ্মজ্ঞানী ছিলেন।

তাঁরা বললেন: হে ইবনে মাসউদ! আমরা যদি আপনাকে জিজ্ঞেস না করি তবে কাকে জিজ্ঞেস করব? তিনি বললেন: তোমরা আমাকে রেহাই দাও! কেননা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। অতঃপর তৃতীয় দিন তাঁরা আবার আসলে তিনি বললেন: আমি এই বিষয়ে কোনো সুন্নাহ খুঁজে পাইনি, তাই আমি নিজের মতামতের মাধ্যমে ইজতিহাদ করব। যদি তা সঠিক হয় তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি ভুল হয় তবে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। এরপর তিনি বললেন: সেই মহিলার জন্য পূর্ণ মোহর ও উত্তরাধিকার রয়েছে এবং তাকে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে।

তিনি তাঁকে সহবাস সম্পন্ন হওয়া স্ত্রীর মর্যাদায় গণ্য করলেন; কেননা সহবাসের পূর্বে তালাকপ্রাপ্তা মহিলার জন্য কেবল অর্ধেক মোহর নির্ধারিত হয়।

তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: হে ইবনে মাসউদ! আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিরওয়া বিনতে ওয়াশিক-এর ব্যাপারে ঠিক তেমনই ফয়সালা দিয়েছিলেন যেমনটি আপনি দিলেন।

তখন ইবনে মাসউদ সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন এবং বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিদ্ধান্তের সাথে আমার মতের মিল হওয়াতে আমি যতটা আনন্দিত হয়েছি, অন্য কোনো কিছুতে ততটা আনন্দিত হইনি।

সুতরাং, প্রথম প্রকার হলো: যাঁর কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস পৌঁছেনি, ফলে তিনি সেই মাসআলায় নিজের মতের মাধ্যমে ইজতিহাদ করেছেন এবং তাতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিদ্ধান্তের সাথে একমত হতে পেরেছেন।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌من لم يبلغه الحديث فاجتهد فأخطأ

والصنف الثاني: هو من لم يبلغه حديث النبي صلى الله عليه وسلم فاجتهد برأيه في المسألة فخالف فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم: ومن أمثلة ذلك أبو هريرة رضي الله عنه وأرضاه؛ فإنه استفتي في الصائم يصبح جنباً، أي: رجل جامع أهله في ليل رمضان كما أباح الله له، فما اغتسل من الجنابة إلا بعد صلاة الفجر، فلما سئل أبو هريرة عن هذا أفتى بسقوط الصيام ولزوم القضاء عليه.

فجعل أبو هريرة الطهارة شرطاً في الصيام، فخالف بذلك حديث النبي صلى الله عليه وسلم عن عائشة: (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصبح جنباً وهو صائم فيغتسل ويتم صومه)؛ فدل هذا الحديث على أن الطهارة ليست شرطاً في الصيام، واستثنيت من ذلك مسألة الحيض؛ لثبوت الدليل فيها.

فهنا اجتهد أبو هريرة برأيه لعدم علمه بهذا الحديث فخالف بذلك حديث رسول الله، ثم بعد ذلك رجع، وقال: أرجع إلى حديث النبي صلى الله عليه وسلم.

ومن هؤلاء الذين لم يبلغهم حديث النبي صلى الله عليه وسلم فاجتهدوا وخالفوا النص الصحيح ثم رجعوا، عبد الله بن عمرو بن العاص أو ابن عمر، والشك مني، فقد كان يأمر كل امرأة لها ظفائر إذا أرادت أن تغتسل أن تحل هذه الظفائر، فكان يأمر النساء أن ينقضن شعورهن أو ظفائرهن عند الاغتسال.

فبلغ ذلك عائشة، وكانت عائشة شديدة على الذي يخالف السنن، وهذا لا يعاب على الشديد، لكن ينبغي له أن يكون شديداً متأدباً.

فقالت عائشة: (أما أمر ابن عمر النساء أن يحلقن رءوسهن؟ والله لقد كنت أغتسل أنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم، فكان يكفيني أن أحثو ثلاث حثيات على رأسي، أو قالت: وكنت أفرغ ثلاث إفراغات على رأسي ولا أنقض شعري).

فاستدلت بهذا الحديث على عدم وجوب نقض المرأة ظفائر شعرها إذا هي اغتسلت، ووجه الدلالة من هذا الحديث: هو إقرار الرسول صلى الله عليه وسلم، فإن الرسول صلى الله عليه وسلم رأى عائشة وهي تفرغ الماء على شعرها فلم يقل لها انقضي هذه الظفائر، فإقرار النبي لها يدل على الجواز.

فلما بلغ هذا الدليل ابن عمر فرجع إلى قول عائشة رضي الله عنها وأرضاها.
যাদের নিকট হাদিস পৌঁছেনি এবং তারা ইজতিহাদ করে ভুল করেছেন

দ্বিতীয় প্রকার হলো: যাদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস পৌঁছেনি, ফলে তারা উক্ত মাসআলায় স্বীয় মতামতের ভিত্তিতে ইজতিহাদ করেছেন এবং এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধাচরণ করেছেন। এর অন্যতম উদাহরণ হলেন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু; তাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে অপবিত্র (জানাবাত) অবস্থায় ভোরে উপনীত হয়েছে—অর্থাৎ, এমন ব্যক্তি যে রমজানের রাতে নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছে যা আল্লাহ তার জন্য বৈধ করেছেন, কিন্তু ফজর নামাজের পর ছাড়া সে জানাবাতের গোসল করেনি। আবু হুরায়রাকে যখন এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি ফতোয়া দিলেন যে তার রোজা বাতিল হয়ে যাবে এবং তার ওপর কাজা করা আবশ্যক।

এভাবে আবু হুরায়রা পবিত্রতাকে রোজার জন্য শর্ত বানিয়ে ফেললেন, ফলে তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই হাদিসের বিরোধিতা করলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্র অবস্থায় ভোরে উপনীত হতেন অথচ তিনি রোজা রাখতেন, এরপর তিনি গোসল করতেন এবং তার রোজা পূর্ণ করতেন)। সুতরাং এই হাদিস প্রমাণ করে যে পবিত্রতা রোজার জন্য কোনো শর্ত নয়; তবে হায়েজের (ঋতুস্রাব) বিষয়টি এর ব্যতিক্রম, কারণ সে বিষয়ে স্বতন্ত্র দলিল বিদ্যমান।

এখানে আবু হুরায়রা উক্ত হাদিসটি না জানার কারণে স্বীয় মতামতের ভিত্তিতে ইজতিহাদ করেছিলেন এবং এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহর হাদিসের বিরোধিতা করেছিলেন। অতঃপর তিনি পরবর্তীতে ফিরে আসেন এবং বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের দিকে ফিরে যাচ্ছি।

যাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস পৌঁছেনি এবং তারা ইজতিহাদ করে সঠিক নসের (মূল পাঠ) বিরোধিতা করেছেন এবং পরবর্তীতে ফিরে এসেছেন, তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস অথবা ইবনে উমর রয়েছেন—এক্ষেত্রে বর্ণনায় আমার কিছুটা সন্দেহ রয়েছে। তিনি প্রত্যেক বেণীধারী নারীকে আদেশ করতেন যে যখন সে গোসল করতে চাইবে তখন যেন এই বেণীগুলো খুলে ফেলে। অর্থাৎ তিনি নারীদের আদেশ করতেন যেন তারা গোসলের সময় তাদের চুল বা বেণী খুলে ফেলে।

এই সংবাদ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে পৌঁছাল। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সুন্নাহর বিরুদ্ধাচরণকারীদের প্রতি কঠোর ছিলেন। আর সত্যের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যক্তির এই কঠোরতা নিন্দনীয় নয়, তবে তার জন্য কঠোর হওয়ার পাশাপাশি শিষ্টাচারী হওয়া উচিত।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন: (ইবনে উমর কেন নারীদের মাথা মুণ্ডন করার আদেশ দিচ্ছেন না? আল্লাহর কসম, আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একসাথে গোসল করতাম, তখন আমার মাথার ওপর তিন আজলা পানি ঢাললেই যথেষ্ট হতো। অথবা তিনি বলেছিলেন: আমি আমার মাথার ওপর তিনবার পানি ঢালতাম এবং আমার চুল খুলতাম না)।

তিনি এই হাদিস দ্বারা প্রমাণ পেশ করলেন যে, কোনো নারী যখন গোসল করবে তখন তার চুলের বেণী খোলা ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়। এই হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণের দিকটি হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৌন সম্মতি। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশাকে তার চুলের ওপর পানি ঢালতে দেখতেন কিন্তু তাকে বলেননি যে এই বেণীগুলো খুলে ফেলো। সুতরাং তার প্রতি নবীর এই মৌন সম্মতি এর বৈধতা প্রমাণ করে।

যখন এই দলিল ইবনে উমরের কাছে পৌঁছাল, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার মতের দিকে ফিরে আসলেন।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌من بلغه الحديث فلم يعمل به لعدم ثبوته عنده

الصنف الثالث: هو من بلغه الحديث في المسألة لكنه لم يفهمه على مراده أو لم يثبت هذا الحديث عنده: مثال ذلك: عمر بن الخطاب: فقد كان يذهب إلى أن المطلقة ثلاثاً تثبت لها النفقة والسكنى، فإذا أراد زوجها أن يرجع إليها لزمه أن يتزوج بها غيره وأن يدخل بها ثم يطلقها بعد ذلك؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: (لا، حتى تذوقي عسيلته ويذوق عسيلتك)، إذاً: فلابد أن يطأها الآخر، وهذا هو الراجح الصحيح.

وقد جاءت فاطمة بنت قيس إلى عمر فقالت: (يا أمير المؤمنين! إني قد طلقني زوجي فبت طلاقي -تعني: طلقني ثلاثاً- فلم يجعل النبي صلى الله عليه وسلم لي سكنى ولا نفقة)، فقال عمر بن الخطاب: والله لا نترك كتاب ربنا وسنة نبينا لامرأة لا ندري أنسيت أم تذكرت.

وهذا يدل على الفهم الصحيح لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (ما أفلح قوم ولوا أمرهم امرأة).

وزيادة: (ولا سنة نبينا)، لا تصح؛ لأن في إسنادها رجلاً هالكاً، والذي ثبت عن عمر بالسند الصحيح هو قوله: (والله لا نترك كتاب ربنا لقول امرأة لا ندري تذكرت أم نسيت)، وهو يشير إلى قول الله تعالى: {أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُمْ مِنْ وُجْدِكُمْ وَلا تُضَارُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ وَإِنْ كُنَّ أُولاتِ حَمْلٍ فَأَنْفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّى يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} [الطلاق:6].

فهو استنبط من هذه الآيات وجوب النفقة والسكنى للمبتوتة على الزوج، ورد حديث فاطمة بنت قيس، وكأنه شكك في صحة ثبوت ذلك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

والمحدثون لا يأخذون بهذا، ولا تضعف أحاديث المرأة بهذه الأقوال أبداً، بل إن فاطمة بنت قيس كانت من أحفظ الصحابيات رضي الله عنها وأرضاها، فقد حفظت حديث الدجال من فم رسول الله صلى الله عليه وسلم مرة واحدة قاله على المنبر، وذلك عندما صعد على المنبر فابتسم وقال: (إن تميماً الداري حدثني).

والعلماء يلغزون بذلك ويقولون: كل الصحابة حدثوا عن رسول الله إلا فلاناً فإنه حدث عنه رسول الله، وهو: تميم الداري، فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: (حدثني تميم الداري بحديث أعجبني كنت قد حدثتكم به)، ثم ذكر حديث الدجال الطويل، ومع ذلك فقد حفظته فاطمة ثم سردته للأمة بأسرها، فنحن نأخذ بقولها ونرد قول عمر الفاروق وزير رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ لأنه خالف قول النبي صلى الله عليه وسلم.

ومن أمثلة الصحابة الذين بلغهم النص ولم يفهموه: عدي بن حاتم رضي الله عنه وأرضاه: فقد بلغه قول الله تعالى: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ} [البقرة:187]، فأخذ خيطاً أبيض ووضعه تحت الوسادة، وأخذ حبلاً أسود ووضعه تحت الوسادة ثم نام، وكان كلما نظر إليهما لم يفرق بينهما فيأكل حتى طلعت الشمس ففرق بين الحبل الأسود والأبيض، فجاء إلى رسول الله فقال: (يا رسول الله! أكلت حتى طلعت الشمس، والله تعالى يقول: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ} [البقرة:187] فقال: أين وضعت الحبل؟ قال: تحت الوسادة، فقال: إن وسادك لعريض).

وبعضهم يقول: إن هذه سبة من الرسول صلى الله عليه وسلم له، وهذا خطأ على رسول الله، فرسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس خلقاً.

والمقصود أن الخيط الأبيض: هو المستعرض في السماء كما بين النبي صلى الله عليه وسلم، والخيط الأسود: هو طلوع الفجر المستطيل في السماء، فإذا ما قست السماء بالوسادة وشبهتها بها صارت الوسادة عريضة بذلك، وهذا معنى قول النبي صلى الله عليه وسلم.

فقد فهم هذا الصحابي النص على خلاف الصحيح، ثم بين له النبي صلى الله عليه وسلم الفهم الصحيح، وبذلك محا الله هذا الخلاف في مسألة الصيام.

فهذا منشأ الخلاف في قوله صلى الله عليه وسلم.
যার নিকট হাদিস পৌঁছেছে কিন্তু তার নিকট তা সাব্যস্ত না হওয়ার কারণে সে অনুযায়ী আমল করেননি

তৃতীয় শ্রেণি: তিনি হলেন এমন ব্যক্তি, যার কাছে কোনো মাসআলায় হাদিস পৌঁছেছে, কিন্তু তিনি এর মর্মার্থ উদ্দেশ্য অনুযায়ী উপলব্ধি করতে পারেননি অথবা হাদিসটি তার নিকট প্রমাণিত বা সাব্যস্ত হয়নি। উদাহরণস্বরূপ: উমর ইবনুল খাত্তাব। তিনি এই মত পোষণ করতেন যে, তিন তালাকপ্রাপ্তা নারী ভরণপোষণ ও আবাসন লাভের অধিকারী হবে। আর তার স্বামী যদি তাকে পুনরায় ফিরিয়ে নিতে চায়, তবে তার জন্য আবশ্যক হলো অন্য কারো সাথে তার বিয়ে হওয়া এবং তার সাথে বাসর যাপন করা, অতঃপর সে তাকে তালাক দেওয়া; কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (না, যতক্ষণ না তুমি তার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে এবং সে তোমার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে)। সুতরাং, অন্য স্বামীর সাথে সহবাস হওয়া অপরিহার্য, আর এটাই অগ্রগণ্য ও সঠিক মত।

ফাতেমা বিনতে কায়েস উমর (রা.)-এর কাছে এসে বললেন: (হে আমিরুল মুমিনীন! আমার স্বামী আমাকে তালাক দিয়েছেন এবং আমার তালাককে চূড়ান্ত করে দিয়েছেন -অর্থাৎ: আমাকে তিন তালাক দিয়েছেন- কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য কোনো আবাসন বা ভরণপোষণের ব্যবস্থা রাখেননি)। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: আল্লাহর কসম! আমরা এমন একজন মহিলার কথার জন্য আমাদের রবের কিতাব এবং আমাদের নবীর সুন্নাহ ত্যাগ করব না, যার সম্পর্কে আমরা জানি না যে সে কি ভুলে গেছে নাকি তার মনে আছে।

আর এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর সঠিক বোধের প্রমাণ দেয়: (সেই জাতি কখনো সফল হবে না যারা তাদের বিষয়াদি পরিচালনার দায়িত্ব কোনো মহিলার ওপর ন্যস্ত করে)।

আর উমরের উক্তিতে (আমাদের নবীর সুন্নাহ) অংশটুকুর সংযুক্তি সহিহ নয়; কারণ এর সনদে একজন ধ্বংসপ্রাপ্ত রাবি রয়েছেন। সহিহ সনদে উমর থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে তা হলো তার এই উক্তি: (আল্লাহর কসম! আমরা একজন মহিলার কথার জন্য আমাদের রবের কিতাব ত্যাগ করব না, যার সম্পর্কে আমরা জানি না যে তার মনে আছে নাকি সে ভুলে গেছে)। আর তিনি এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর এই বাণীর দিকে ইঙ্গিত করেছেন: {তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে তোমরা বসবাস করো, সেখানে তাদেরও বাসের ব্যবস্থা করো এবং তাদের সংকটে ফেলার জন্য উত্ত্যক্ত করো না; আর যদি তারা গর্ভবতী হয়, তবে সন্তান প্রসব পর্যন্ত তাদের জন্য ব্যয় করো।} [আত-তালাক: ৬]।

তিনি এই আয়াতগুলো থেকে চূড়ান্তভাবে তালাকপ্রাপ্তা নারীর জন্য স্বামীর ওপর ভরণপোষণ ও আবাসন ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি উদ্ভাবন করেছিলেন এবং ফাতেমা বিনতে কায়েসের হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। যেন তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর সত্যতা ও বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন।

মুহাদ্দিসগণ এটি গ্রহণ করেন না এবং এই ধরনের উক্তির কারণে কোনো মহিলার বর্ণিত হাদিস কখনোই দুর্বল গণ্য হয় না। বরং ফাতেমা বিনতে কায়েস (রা.) ছিলেন সর্বাধিক মুখস্থকারী নারী সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি একবার মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখনিসৃত বাণী থেকে দাজ্জালের হাদিসটি মুখস্থ করেছিলেন। সেটি ছিল তখন, যখন তিনি মিম্বরে আরোহণ করে মুচকি হাসলেন এবং বললেন: (তামিম দারি আমাকে একটি হাদিস শুনিয়েছেন)।

উলামায়ে কেরাম এ নিয়ে ধাঁধা তৈরি করেন এবং বলেন: সকল সাহাবী রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন কেবল অমুক ব্যতীত, যার থেকে রাসুলুল্লাহ বর্ণনা করেছেন। তিনি হলেন: তামিম দারি। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: (তামিম দারি আমাকে এমন একটি হাদিস শুনিয়েছেন যা আমাকে অভিভূত করেছে, যে সম্পর্কে আমি তোমাদের ইতিপূর্বেই বলেছিলাম)। অতঃপর তিনি দাজ্জাল বিষয়ক দীর্ঘ হাদিসটি উল্লেখ করেন। তা সত্ত্বেও ফাতেমা সেটি মুখস্থ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সমগ্র উম্মতের কাছে তা বর্ণনা করেছেন। সুতরাং আমরা তার কথা গ্রহণ করি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উজির উমর ফারুকের কথা বর্জন করি; কারণ তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর পরিপন্থী হয়েছে।

যাদের কাছে নস (শরয়ী পাঠ) পৌঁছেছে কিন্তু তারা তা বুঝতে পারেননি, এমন সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম উদাহরণ হলেন: আদি ইবনে হাতিম (রা.): তার কাছে মহান আল্লাহর এই বাণী পৌঁছেছিল: {আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না উষার সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়।} [আল-বাকারা: ১৮৭]। তখন তিনি একটি সাদা সুতা নিয়ে বালিশের নিচে রাখলেন এবং একটি কালো দড়ি নিয়ে বালিশের নিচে রাখলেন, অতঃপর ঘুমিয়ে পড়লেন। তিনি যখনই সেগুলোর দিকে তাকাতেন, তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারতেন না, তাই তিনি সূর্য ওঠা পর্যন্ত খেয়ে যেতেন। অবশেষে তিনি কালো ও সাদা দড়ির মধ্যে পার্থক্য করতে পারলেন। তারপর তিনি রাসুলুল্লাহর কাছে এসে বললেন: (হে আল্লাহর রাসুল! আমি সূর্য ওঠা পর্যন্ত খেয়েছি, অথচ মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না উষার সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়।}) তখন নবী বললেন: (তুমি দড়িটি কোথায় রেখেছিলে?) তিনি বললেন: (বালিশের নিচে)। রাসুল বললেন: (তোমার বালিশ তো তবে অনেক প্রশস্ত!)।

কেউ কেউ বলেন যে এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে তাকে তিরস্কার ছিল, কিন্তু রাসুলুল্লাহর প্রতি এমন ধারণা পোষণ করা ভুল। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন চরিত্রের দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।

এর উদ্দেশ্য হলো, সাদা সুতা বলতে আকাশের দিগন্তে ছড়িয়ে পড়া শুভ্র আভা, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন। আর কালো সুতা হলো আকাশের দীর্ঘায়িত অন্ধকার। সুতরাং আপনি যদি আকাশকে বালিশের সাথে তুলনা করেন এবং তার সাথে একে সদৃশ করেন, তবে সেই বালিশ অত্যন্ত প্রশস্ত হয়ে যাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর এটাই প্রকৃত অর্থ।

এই সাহাবী নসটিকে সঠিক অর্থের বাইরে অনুধাবন করেছিলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সঠিক উপলব্ধি বুঝিয়ে দিলেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সিয়ামের মাসআলায় এই মতভেদ দূর করে দিলেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর ক্ষেত্রে মতভেদের এটিই উৎস।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌اختلاف الصحابة في حكم فعل النبي صلى الله عليه وسلم

منشأ الخلاف عند الصحابة في فعل النبي صلى الله عليه وسلم: فبعض الصحابة فهم أن فعل النبي سنة وقربة لابد أن نعمل بها، وبعضهم يرى أن فعل النبي ليس بقربة، بل هو عادة من نوى بها الاقتداء به صلى الله عليه وسلم أجر على ذلك، لكنها ليست بعبادة.

مثال ذلك: عندما نزل النبي صلى الله عليه وسلم بمكان بمكة اسمه الأبطح، فقد قال أبو هريرة: هذا النزول سنة، أي: أن كل من حج ورمى وأراد أن يرجع إلى بلده فعليه أن ينزل بالأبطح؛ لأنها سنة عن النبي صلى الله عليه وسلم، وكذلك فهمه ابن عمر هذا الفهم، وكان أشد الناس تحرياً لسنة النبي صلى الله عليه وسلم فكان ينزل بالأبطح.

لكن عائشة لما سئلت قالت: لا والله ما نزل رسول الله صلى الله عليه وسلم بالأبطح إلا وفاقاً لا قصداً، يعني: وافق مكان نزول النبي صلى الله عليه وسلم، فقد يكون تعب ثم نزل الأبطح لموافقته مكان راحته، فتبين من كلام عائشة أن هذا الفعل ليس بسنة، بل جاء ذلك وفاقاً لا قصداً، وهذا هو الراجح.

فالغرض المقصود أن الصحابة اختلفوا: هل فعل النبي يؤخذ على سبيل القربة أم الإباحة؟ فمن قال بالقربة اختلف مع من قال بالإباحة، وتفرع الخلاف هنا عند الفقهاء، فيقول مالك والشافعي مثلاً: إن هذا النزول في الأبطح سنة، ثم يأتيك الحنفي أو ابن حزم فيقول: ليس بسنة، فهذا الاختلاف منشؤه الاختلاف في فعل النبي صلى الله عليه وسلم هل هو قربة أم لا؟ ومن ذلك أيضاً: أن ينظروا إلى فعل النبي هل هو خاص بالنبي أم لا؟ والذي جرى به قلم العلامة الشوكاني الجهبذ المجتهد المطلق، أنه إذا خالف الفعل القول فإن الفعل خاص.

مثال ذلك: الشرب قائماً، أو استقبال القبلة ببول أو غائط، فقد ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه استقبل القبلة ببول وغائط كما قال ابن عمر: (رقيت على بيت حفصة فوجدت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقضي حاجته مستدبر الكعبة مستقبل بيت المقدس)، وكان قد نهى عن ذلك رسول الله كما سنبين في التعارض، فقال الشوكاني: فعل النبي خاص به، وعندنا النهي العام سواء في المراحيض أو غير المراحيض، فمن استقبل أو استدبر فقد أثم.

هذا كلام الشوكاني.

والشاهد من هذا: أنه يجعل فعل النبي خاصاً به، والجمهور يخالفونه فيرون أن الأصل في فعل النبي هو العموم؛ لأن الأحكام لا تتنزل خاصة بأحد إلا إذا دل الدليل على الخصوصية.

إذاً: فالقاعدة تقول: إن كل قول وكل أمر وكل فعل فهو لعموم الأمة لا يمكن أن يختص به رجل من الأمة ولا حتى رسول الله إلا أن يدل الدليل على التخصيص.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মের হুকুমের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরামের মতভেদ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরামের নিকট মতভেদের উৎস: কিছু সাহাবী বুঝেছিলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম হলো সুন্নাত এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম যার ওপর আমল করা আবশ্যক। আবার তাদের কেউ কেউ মনে করতেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম নৈকট্য লাভের মাধ্যম নয়, বরং তা অভ্যাসগত বিষয়; যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে তাঁর অনুসরণের নিয়ত করবে সে সওয়াব পাবে, কিন্তু এটি ইবাদত নয়।

এর উদাহরণ: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আবতাহ নামক একটি স্থানে অবস্থান করেছিলেন, তখন আবু হুরায়রা বলেছিলেন: এই অবস্থান করা সুন্নাত। অর্থাৎ: যে ব্যক্তিই হজ করবে এবং কঙ্কর নিক্ষেপ করবে এবং নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইবে, তার জন্য আবতাহ-তে অবস্থান করা আবশ্যক; কারণ এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে একটি সুন্নাত। ইবনে উমরও এটি এভাবেই বুঝেছিলেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত অনুসরণে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর অন্বেষণকারী ছিলেন, তাই তিনি আবতাহ-তে অবস্থান করতেন।

কিন্তু আয়িশাকে যখন এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: না, আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবতাহ-তে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অবস্থান করেননি বরং তা ঘটনাক্রমে হয়েছিল। অর্থাৎ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থানের স্থানটি মিলে গিয়েছিল। সম্ভবত তিনি ক্লান্ত ছিলেন, অতঃপর আবতাহ-তে অবস্থান করেছিলেন কারণ তা তাঁর বিশ্রামের স্থানের সাথে মিলে গিয়েছিল। আয়িশার কথা থেকে স্পষ্ট হয় যে, এই কর্মটি সুন্নাত নয়, বরং এটি ঘটনাক্রমে ঘটেছে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে নয়; আর এটিই অগ্রগণ্য মত।

মূল উদ্দেশ্য হলো যে সাহাবীগণ মতভেদ করেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম কি নৈকট্য লাভের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করা হবে নাকি বৈধতা হিসেবে? যারা নৈকট্য লাভের কথা বলেছেন তারা তাদের সাথে মতভেদ করেছেন যারা বৈধতার কথা বলেছেন। এখানে ফকীহগণের নিকট মতভেদটি বিস্তারিত রূপ নিয়েছে। যেমন ইমাম মালিক ও ইমাম শাফিঈ বলেন: আবতাহ-তে এই অবস্থান করা সুন্নাত। আবার হানাফী বা ইবনে হাযম এসে বলবেন: এটি সুন্নাত নয়। এই মতভেদের উৎস হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মের ক্ষেত্রে এই মতভেদ যে তা কি নৈকট্য লাভের বিষয় কি না? এর মধ্যে ইহাও অন্তর্ভুক্ত যে, তারা লক্ষ্য করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম কি তাঁর জন্য নির্দিষ্ট কি না? আর বিজ্ঞ মুজতাহিদে মুতলাক আল্লামা শাওকানী তাঁর লেখনীতে যা ব্যক্ত করেছেন তা হলো, যদি কর্ম বাচনিক নির্দেশের বিপরীত হয়, তবে সেই কর্মটি রাসূলের জন্য নির্দিষ্ট।

এর উদাহরণ: দাঁড়িয়ে পান করা, অথবা পেশাব-পায়খানার সময় কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ দেওয়া। তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত আছে যে তিনি কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ করে হাজত পূরণ করেছিলেন যেমন ইবনে উমর বলেছেন: (আমি হাফসার ঘরের ছাদে উঠেছিলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কা'বাকে পিঠ দিয়ে এবং বাইতুল মাকদিসকে সামনে রেখে হাজত পূরণ করতে দেখেছি)। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি থেকে নিষেধ করেছিলেন যেমনটি আমরা বৈপরীত্যের আলোচনায় বর্ণনা করব। তখন শাওকানী বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মটি তাঁর জন্য নির্দিষ্ট, আর আমাদের জন্য সাধারণ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে—চাই তা শৌচাগারে হোক বা অন্য কোথাও হোক। সুতরাং যে ব্যক্তি কিবলার দিকে মুখ করল বা পিঠ দিল সে গুনাহগার হলো।

এটি শাওকানীর বক্তব্য।

এখান থেকে লক্ষণীয় বিষয় হলো: তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মকে তাঁর জন্য নির্দিষ্ট বলে গণ্য করেন। কিন্তু জমহুর বা অধিকাংশ আলেম তাঁর বিরোধিতা করেন। তারা মনে করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো ব্যাপকতা; কারণ কোনো বিধান কারো জন্য নির্দিষ্ট হয়ে অবতীর্ণ হয় না যতক্ষণ না নির্দিষ্ট হওয়ার কোনো দলিল পাওয়া যায়।

সুতরাং মূলনীতি হলো: প্রতিটি কথা, প্রতিটি আদেশ এবং প্রতিটি কর্ম সমগ্র উম্মতের জন্য ব্যাপক। উম্মতের কোনো ব্যক্তি এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এর মাধ্যমে বিশিষ্ট হতে পারেন না যতক্ষণ না সুনির্দিষ্টকরণের দলিল পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الاختلاف الفقهي الناتج عن الخلاف في حكم فعله صلى الله عليه وسلم

ومن أمثلة هذه القاعدة قوله تعالى: {وَامْرَأَةً مُؤْمِنَةً إِنْ وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ إِنْ أَرَادَ النَّبِيُّ أَنْ يَسْتَنكِحَهَا خَالِصَةً لَكَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ} [الأحزاب:50]، إذ لو كان الفعل للنبي خاصاً به لما احتيج إلى قوله: {خَالِصَةً لَكَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ} [الأحزاب:50].

ثم تتفرع مسائل عن هذه المسألة: وهي فعله صلى الله عليه وسلم هل هو على الوجوب أم على الاستحباب؟ وهل هو على التخصيص أم على العموم؟ فهذا خلاف في الأصل يتفرع عليه الحكم الفقهي.

إذاً: فخلاف القول خلاف للفعل.

الثالث: خلاف القول من ناحية العلة: فيقولون: هذا القول معلل أو هذا القول غير معلل، فيتفرع عن ذلك الخلاف الفقهي، مثال ذلك: غسل الإناء من ولوغ الكلب، قال: (إذا ولغ الكلب في إناء أحدكم فليغسله سبعاً أولاهن بالتراب)، فهل ينطبق حكم الإناء على الثوب فيغسل سبع مرات ويعفر الثامنة بالتراب؟ ف

 

‌‌الجواب

أن العلماء اختلفوا في علة هذا الحكم -وهو الغسل سبعاً من ولوغ الكلب- فقالت المالكية والأحناف: نغسله سبعاً لعلة النجاسة، والزيادة في الغسل على المرة والمرتين مستحبة.

وقال الشافعي وأحمد: بل نغسله سبع مرات وجوباً؛ لعلة التعبد فقط؛ لأن النجاسة أصل واحد، فكونه أمر بهذه الزيادة في الغسل دل ذلك على أن المسألة تعبدية محضة، ومن هنا نشأ الخلاف الفقهي في هذا الحديث: هل هو معلل أم متعبد به؟ والصحيح الراجح: أنها مسألة تعبدية، فلابد من غسل الإناء سبعاً وتعفيره الثامنة بالتراب.

أما الصنف الثاني من مسألة التعليل فيقولون: هو معلل، لكن يختلفون في ضابط العلة، وهل هي علة أم لا؟ مثال ذلك: الاختلاف في علة الربا، فقد قال بعض الفقهاء بالقياس على الأصناف الستة في الربا، وهي: الذهب بالذهب، والفضة بالفضة، والبر بالبر، والملح بالملح، والشعير بالشعير، فلابد في هذه الأصناف من التقابض يداً بيد ومن التماثل.

فهذه أصناف ربوية لا يصح فيها التبادل إلا يداً بيد، فلابد من الحلول في المجلس والتساوي إذا اتفقا في الجنس كذهب بذهب، وإذا اتفقا في الجنس واختلفا صفة كأن كان هذا ذهباً مكسراً محروقاً والآخر نظيفاً مصنوعاً بأرقى المواصفات فلابد من التساوي.

أما إذا اختلفا في الجنس كالذهب والفضة فلا بد أن يكون يداً بيد، ويجوز التفاضل، فلو أتيت بمائة كيلو من الفضة مع كيلو من الذهب فإنه يجوز بشرط أن يكون يداً بيد، وأيضاً في البر والشعير.

فالغرض المقصود: أن بعض العلماء قاسوا على الأصناف الستة غيرها فأدخلوها فيها، وهؤلاء الذين قالوا: بأن هذا الحديث معلل، أي: له علة.

أما ابن حزم وابن عقيل من الحنابلة فقد قالا: بأن هذه الأصناف تعبديه فلا يقاس عليها شيء.

ثم اختلف القائلون بالعلة في ضبط العلة، فالأحناف مثلاً والحنابلة يرون أن العلة في الذهب هي الوزن، ومفاد العلة بالوزن أن الحديد بالحديد لا يصح بيعه إلا كيلو بكيلو.

وهذا غلط، والصحيح الثمنية.

والشافعية والمالكية يرون أنها علة أخرى، وليس هذا باب النظر فيها، لكن الغرض المقصود: أنهم اختلفوا في قول النبي هل هو معلل أم متعبد به؟ فنشأ من هنا الخلاف الفقهي بين العلماء على هذا الأصل الفقهي، فهذا هو الصنف الثاني.

ومن هذا أيضاً: الاختلاف في علة القيام للجنازة، فبعض العلماء يرون أن القيام للجنازة منسوخ، وهذا ليس بصحيح، بل الراجح: أنه ليس بمنسوخ، لكن المدققين نظروا في القيام للجنازة فقالوا: نريد أن نعرف ما هي العلة حتى نقوم أو نقعد؟ فقال بعضهم: العلة في القيام: هي احترام الملائكة، وقد جاء بسند صحيح في سنن النسائي: (أن النبي صلى الله عليه وسلم مرت عليه جنازة يهودي فقام، فقالوا: يا رسول الله! إنه يهودي، فقال: تحفه الملائكة أو قال: تصحبه الملائكة)، فهي إشارة من النبي أن القيام كان تعظيماً للملائكة، وبعضهم يجري ذلك إلى جواز القيام للمعظم وللعالم الجليل وللأب وللأم، خلافاً لما ذهب إليه بعض أهل الظاهر والألباني رحمه الله في عدم جواز القيام، وهذه المسألة ستأتي إن شاء الله.

وجاء في رواية أخرى في سنن أبي داود وسنن النسائي أيضاً بسند صحيح: (لما مرت الجنازة على النبي صلى الله عليه وسلم وقام فقالوا: يا رسول الله! إنه يهودي فقال: إن للموت فزعاً)، أو كما قال صلى الله عليه وسلم، والمعنى: أنه قام تعظيماً وتذكيراً بأمر الموت، فهو يستحضر في قلبه الموت وسؤال الملك، فإن سيسأله ويقول: من ربك؟ ما دينك؟ والصحيح الراجح في هذا: هو الجمع بين العلتين.

وقد ورد أيضاً أن الحسن لما مرت عليه جنازة لم يقم، فاعترضوا عليه وقالوا: مرت جنازة على رسول الله فقام وكانت جنازة يهودي، فقال الحسن: قام رسول الله خشية أن تعلو جنازة اليهودي رأسه صلى الله عليه وسلم.

وفي هذا دلالة: على أن أهل الإسلام لا يقربون إلا أهل الإسلام، ولذلك كان عمر يقول: كيف تقربوهم وقد أبعدهم الله؟ فـ الحسن يقول: مرت الجنازة من فوق رأس رسول الله صلى الله عليه وسلم فخشي ذلك فقام؛ لأن الإسلام يعلو ولا يعلى عليه، والصحيح الراجح: هو الجمع بين العلل، فإنه يجوز أن تقوم، ويجوز ألا تقوم، وهذا شاهد لنا بأن الفقهاء اختلفوا عند النظر في تعليل الدليل.

فالغرض المقصود بهذا الصنف الثالث هو الاختلاف في العلة.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মের বিধান নিয়ে মতভেদের ফলে সৃষ্ট ফিকহি মতভেদ

এই মূলনীতির একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: “এবং কোনো মুমিন নারী যদি নবীর নিকট নিজেকে নিবেদন করে, যদি নবী তাকে বিবাহ করতে চান; এটি বিশেষভাবে আপনার জন্য, মুমিনদের জন্য নয়” [আহযাব: ৫০]। যদি এই কাজটি কেবল নবীর জন্যই নির্দিষ্ট না হতো, তবে “এটি বিশেষভাবে আপনার জন্য, মুমিনদের জন্য নয়” [আহযাব: ৫০] বলার প্রয়োজন হতো না।

অতঃপর এই মাসআলা থেকে আরও কিছু মাসআলা উদ্ভূত হয়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম কি ওয়াজিব (আবশ্যিক) হওয়া বুঝায় নাকি মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) হওয়া বুঝায়? এবং তা কি বিশেষত্বের ওপর ভিত্তি করে নাকি ব্যাপকতার ওপর? এটি উসূল বা মূলনীতির একটি মতভেদ, যার ওপর ফিকহি বিধান নির্ভর করে।

সুতরাং, বাণীর মতভেদ কর্মের মতভেদের মতোই।

তৃতীয়ত: কারণ বা ইল্লতের দিক থেকে বাণীর ক্ষেত্রে মতভেদ: তাঁরা বলেন: এই কথাটি কি কোনো কারণনির্ভর নাকি কারণনির্ভর নয়? এর ওপর ভিত্তি করেই ফিকহি মতভেদ তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ: কুকুরের মুখ দেওয়া পাত্র ধৌত করার বিধান। তিনি বলেছেন: “তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর মুখ দেয়, তবে সে যেন তা সাতবার ধৌত করে, যার প্রথমবার হবে মাটি দিয়ে।” এখন প্রশ্ন হলো, পাত্রের এই বিধান কি কাপড়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে? ফলে কাপড়কেও কি সাতবার ধৌত করতে হবে এবং অষ্টম বার মাটি মাখাতে হবে?

 

‌‌উত্তর

এই বিধানের কারণ—অর্থাৎ কুকুরের মুখ দেওয়া পাত্র সাতবার ধৌত করা—সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। মালিকি ও হানাফি মাযহাবের অনুসারীরা বলেন: আমরা এটি সাতবার ধৌত করি নাপাকির কারণে, আর এক বা দুই বারের অতিরিক্ত ধৌত করা মুস্তাহাব।

ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমাদ বলেন: বরং আমরা এটি সাতবার ধৌত করাকে ওয়াজিব মনে করি; শুধুমাত্র ‘তাআববুদি’ (তথা যুক্তিবহির্ভূত ইবাদতগত) কারণে। কারণ নাপাকি মূলত একই প্রকারের হয়। সুতরাং ধোয়ার ক্ষেত্রে এই আধিক্যের নির্দেশ দেওয়া একথাই প্রমাণ করে যে, বিষয়টি একান্তই ‘তাআববুদি’ বা ইবাদতকেন্দ্রিক। এখান থেকেই এই হাদিসের ক্ষেত্রে ফিকহি মতভেদের সৃষ্টি হয়েছে: এটি কি কারণনির্ভর নাকি ইবাদতগত? সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো: এটি একটি ‘তাআববুদি’ বিষয়, তাই পাত্রটি সাতবার ধৌত করা এবং অষ্টম বার মাটি দিয়ে মাজা আবশ্যক।

কারণ বা ইল্লত নির্ধারণের দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে তারা বলেন: এটি কারণনির্ভর, কিন্তু তারা কারণের মানদণ্ড নিয়ে মতভেদ করেন; এটি কি ইল্লত নাকি নয়? উদাহরণস্বরূপ: সুদের ইল্লত বা কারণ নিয়ে মতভেদ। কিছু ফকিহ সুদের ছয়টি শ্রেণির ওপর কিয়াস (অনুমান) করেছেন। সেগুলো হলো: সোনা সোনার বদলে, রূপা রূপার বদলে, গম গমের বদলে, লবণ লবণের বদলে এবং যব যবের বদলে। এই পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে হাতে হাতে লেনদেন এবং সমপরিমাণ হওয়া আবশ্যক।

এগুলো হলো সুদি পণ্য যেগুলোর ক্ষেত্রে হাতে হাতে বিনিময় ছাড়া লেনদেন বৈধ নয়। যদি সমজাতীয় হয়—যেমন সোনার বদলে সোনা—তবে একই মজলিসে বিনিময় ও সমান সমান হওয়া জরুরি। আবার যদি একই জাতীয় হয় কিন্তু গুণগত মান ভিন্ন হয়—যেমন একটি ভাঙাচোরা সোনা আর অন্যটি উন্নত মানের অলঙ্কার—তবুও সমান সমান হওয়া আবশ্যক।

তবে যদি জাতি ভিন্ন হয়, যেমন সোনা ও রূপা, তবে হাতে হাতে বিনিময় হওয়া আবশ্যক, তবে কম-বেশি করা জায়েজ। আপনি যদি এক কেজি সোনার বিনিময়ে ১০০ কেজি রূপা আনেন, তবে তা জায়েজ হবে, শর্ত হলো তা হাতে হাতে হতে হবে। গম ও যবের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।

মূল উদ্দেশ্য হলো: কিছু আলেম এই ছয়টি শ্রেণির ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য জিনিসকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাঁরা হলেন তাঁরাই যারা বলেছেন যে, এই হাদিসটি ‘মুআল্লাল’ তথা এর পেছনে নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে।

পক্ষান্তরে ইবনে হাজম এবং হাম্বলি মাযহাবের ইবনে আকিল বলেছেন: এই শ্রেণিগুলো ‘তাআববুদি’ (ইবাদতগত), তাই এগুলোর ওপর অন্য কিছুকে কিয়াস করা যাবে না।

অতঃপর যারা কারণ বা ইল্লতের প্রবক্তা, তাঁরা সেই ইল্লত নির্ধারণে মতভেদ করেছেন। যেমন হানাফি ও হাম্বলিরা মনে করেন যে, সোনার ক্ষেত্রে ইল্লত হলো ওজন। ওজনকে ইল্লত ধরার অর্থ হলো লোহার বিনিময়ে লোহা বিক্রি করার সময় কেজি কেজি সমান হওয়া ছাড়া বৈধ হবে না।

আর এটি ভুল; সঠিক মত হলো এর কারণ হলো মূল্যমান।

শাফেঈ ও মালিকিরা মনে করেন এর কারণ অন্য কিছু, যা এখানে আলোচনার বিষয় নয়। তবে মূল উদ্দেশ্য হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী কি কোনো কারণনির্ভর নাকি একান্তই ইবাদতগত—তা নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। এই উসূলি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই আলেমদের মধ্যে ফিকহি মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। এটি হলো দ্বিতীয় প্রকার।

এর আরেকটি উদাহরণ হলো: জানাজার জন্য দাঁড়ানোর কারণ নিয়ে মতভেদ। কিছু আলেম মনে করেন জানাজার জন্য দাঁড়ানোর বিধানটি রহিত হয়ে গেছে, যা সঠিক নয়। বরং অগ্রগণ্য মত হলো এটি রহিত হয়নি। তবে সূক্ষ্মদর্শী আলেমগণ জানাজার জন্য দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং বলেছেন: আমরা এর কারণ জানতে চাই যেন আমরা বুঝতে পারি কখন দাঁড়াব আর কখন বসে থাকব। কেউ কেউ বলেছেন: দাঁড়ানোর কারণ হলো ফেরেশতাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। সুনানে নাসাঈতে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে যে: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে এক ইহুদির জানাজা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটি তো ইহুদির জানাজা। তিনি বললেন: ফেরেশতারা একে বেষ্টন করে আছে অথবা একে সঙ্গ দিচ্ছে।’ এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে একটি ইঙ্গিত যে, দাঁড়ানো ছিল ফেরেশতাদের সম্মানে। কেউ কেউ একে মহৎ ব্যক্তি, বিজ্ঞ আলেম, পিতা ও মাতার জন্য দাঁড়ানো জায়েজ হওয়ার দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন। যা কিছু জাহেরি আলেম এবং আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতের পরিপন্থী, যাঁরা দাঁড়ানোকে না-জায়েজ মনে করেন। এই বিষয়টি সামনে ইনশাআল্লাহ আসবে।

সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে নাসাঈতে সহিহ সনদে অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: ‘যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে জানাজা নিয়ে যাওয়া হলো এবং তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন, তখন তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটি তো ইহুদির জানাজা। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই মৃত্যুর মধ্যে এক প্রকার আতঙ্ক রয়েছে।’ অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন। এর অর্থ হলো: তিনি মৃত্যুকে সম্মান জানাতে এবং মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি নিজের অন্তরে মৃত্যু এবং ফেরেশতার প্রশ্নের কথা স্মরণ করছিলেন যে, ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞেস করবে: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? এই বিষয়ে সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো: উভয় কারণের মধ্যে সমন্বয় করা।

এটিও বর্ণিত হয়েছে যে, হাসান (বসরি)-এর পাশ দিয়ে যখন একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হলো, তখন তিনি দাঁড়ালেন না। লোকেরা এর প্রতিবাদ করে বলল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে ইহুদির জানাজা যাওয়ার সময় তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। হাসান বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়েছিলেন এই আশঙ্কায় যেন ইহুদির জানাজা তাঁর মাথার ওপরে চলে না যায়।

এর মধ্যে একটি দলিল রয়েছে যে: ইসলামের অনুসারীরা কেবল ইসলাম অনুসারীদেরই আপন মনে করে। এই কারণেই ওমর (রা.) বলতেন: তোমরা কীভাবে তাদের নিকটবর্তী করো যাদের আল্লাহ দূরে সরিয়ে দিয়েছেন? হাসান বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাথার ওপর দিয়ে জানাজা যাচ্ছিল বিধায় তিনি তা অপছন্দ করে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন; কারণ ইসলাম বিজয়ী হয়, তাকে পরাজিত করা যায় না। তবে সঠিক ও অগ্রগণ্য মত হলো: সবগুলোর কারণের মধ্যে সমন্বয় করা। কারণ আপনার জন্য দাঁড়ানো যেমন জায়েজ, না দাঁড়ানোও জায়েজ। আর এটি আমাদের জন্য একটি প্রমাণ যে, দলিলের কারণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে ফকিহগণ মতভেদ করেছেন।

সুতরাং এই তৃতীয় প্রকারের মূল উদ্দেশ্য হলো কারণ বা ইল্লত নিয়ে মতভেদ।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌مسألة تعارض الأدلة والجمع بينها

الصنف الرابع: تعارض الأدلة: فقد نتج عنه أيضاً اختلاف بين الفقهاء، وقد يقع التعارض بين القول والقول، أو بين القول والفعل، وقد نظر العلماء إلى هذا التعارض فوجدوا التعارض في القول والفعل، فاختلفوا في الأحكام الفقهية نظراً لهذا التعارض.

ويجب أن نعلم أولاً: أنه لا يجوز لأحد أن يقول: إن كلام النبي صلى الله عليه وسلم متعارض، أو إن كلام الله متعارض والعياذ بالله، فقد خرج كله من مشكاة واحدة، لكن التعارض كما قال ابن حجر وقرره قال: التعارض حاصل في نظر المجتهد وليس التعارض في قول النبي صلى الله عليه وسلم.

فالعلماء ينظرون في الأدلة التي ظاهرها التعارض فيقولون: نجمع بين القولين، أو نرجح، أو ننظر في الناسخ والمنسوخ، وهذا منشأ الخلاف عند الفقهاء، فمنهم من يعرف طريقة الجمع، ومنهم من لا يستطيع فيرجح، ومنهم من ينظر إلى الناسخ والمنسوخ، فينشأ بالتالي الخلاف الفقهي بين العلماء.

مثال ذلك: أن النبي صلى الله عليه وسلم كما في حديث أنس: (مر على رجل يشرب قائماً فقال له: تريد أن يشرب معك الهر؟)، قال: (تريد أن يشرب معك الهر؟ قال: لا، قال: يشرب معك من هو أشر من الهر الشيطان)، ففي هذا دلالة على النهي الأكيد؛ لأن الشيطان يشرب معك.

وفي رواية أخرى في السنن بسند صحيح أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (من شرب قائماً فليستقئ)، وهذه دلالة أخرى: على شدة الحرمة، فهذا قول.

ثم جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم بعد ذلك أنه شرب قائماً: (فقد شرب النبي من شن معلقة -من قربة معلقة- قائماً، وشرب من ماء زمزم وهو قائم).

فهذه أدلة ظاهرها التعارض، فقد ثبت من فعله أنه شرب قائماً، وثبت من قوله أنه نهى عن ذلك، ومن هنا نشأ الخلاف بين أهل العلم، فمنهم من قال: الحاظر يقدم على المبيح، فنرجح ونقول: بأن النهي هو الذي يعمل به، وبالتالي فلا يجوز أن يشرب قائماً.

وقال الشوكاني: بل يكون فعله خاصاً به ويبقى النهي على عمومه.

ومنهم من يقول: إن القاعدة عند العلماء: أن إعمال الدليلين خير من إهمال أحدهما، وأن إعمال الكلام خير من إهماله، فيكون النهي عن الشرب قائماً مصروفاً من التحريم إلى الكراهة، وقد يفعل النبي المكروه تبييناً للأمة وتشريعاً لها وكأنه يقول: من شرب قائماً فليس بآثم، لكنه مكروه فلا يكثر منه.

ومثال ذلك أيضاً: البول قائماً، فقد ورد النهي عنه وورد الجواز فيه بالفعل، ففي سنن الترمذي عن عبد الكريم بن أبي المخارق: (أن عمر بن الخطاب بال قائماً فنهاه النبي صلى الله عليه وسلم عن ذلك، قال: فما بلت قائماً منذ أمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم أو منذ نهاني رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهذا الحديث ضعيف؛ وعلته: ابن أبي المخارق، فهو ضعيف ضعفه المحدثون فالسند ضعيف، لكنه جاء بسند صحيح عن عائشة أنها قالت: ما بال رسول الله قائماً قط، ومن حدثكم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بال قائماً فقد كذب أو أخطأ.

فهذه الآثار تدل على النهي عن التبول قائماً.

لكنه جاء في الصحيح عن المغيرة بن شعبة قال: (أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم سباطة قوم فبال قائماً) والسباطة: هي المزبلة.

فهذه الأدلة ظاهرها التعارض، ومن هنا نشأ الخلاف بين العلماء: فبعضهم يقول بحرمة البول قائماً، وبعضهم يقول بالجواز؛ لأن أصل الخلاف ورد في فهم فعل النبي صلى الله عليه وسلم عند تعارض الأدلة.

ونحن نقول: الراجح الصحيح هو التفصيل؛ فإن كان على أرض صلبة فلا يجوز له أن يبول قائماً؛ لأن الرذاذ سيرجع على ثوبه، فلا يصح أن يبول قائماً في المراحيض الموجودة الآن لصلابتها، إلا إذا أمن الرذاذ أن يرجع عليه، أما إذا كانت الأرض رخوة كالسباطة فيجوز له أن يبول قائماً، والأصل: هو البول قاعداً، وهذا هو الصحيح.

فالغرض المقصود: أن منشأ الخلاف جاء في فعل النبي صلى الله عليه وسلم عند التعارض بين القول والفعل أو بين الفعل والفعل.
‌‌দলীলসমূহের বিরোধ এবং সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাসআলা

চতুর্থ প্রকার: দলীলসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য: এর ফলেও ফকীহগণের মধ্যে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে। কখনও বিরোধ দেখা দেয় একটি বাণীর সাথে অন্য বাণীর, অথবা বাণীর সাথে কার্যের। উলামায়ে কিরাম এই বিরোধের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং তাঁরা কথা ও কাজের মধ্যে বৈপরীত্য দেখতে পেয়েছেন। অতঃপর এই বিরোধের প্রেক্ষিতে তাঁরা ফিকহী বিধানসমূহে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন।

প্রথমত আমাদের জানা আবশ্যক যে: কারোর জন্য এটা বলা বৈধ নয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী পরস্পরবিরোধী, অথবা আল্লাহর কালাম পরস্পরবিরোধী—নাউযুবিল্লাহ। কেননা এ সবই এক উৎস থেকে নির্গত হয়েছে। তবে বিরোধের বিষয়টি যেমনটি ইবনে হাজার উল্লেখ ও সাব্যস্ত করেছেন: বিরোধ পরিলক্ষিত হয় মুজতাহিদের দৃষ্টিতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কোনো বিরোধ নেই।

উলামায়ে কিরাম এমন দলীলগুলোর প্রতি লক্ষ্য করেন যেগুলোর বাহ্যিক রূপ আপাতবিরোধী। তখন তাঁরা বলেন: আমরা উভয় বাণীর মধ্যে সমন্বয় করব, অথবা কোনোটিকে প্রাধান্য দেব, অথবা নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসূখ (রহিত) বিবেচনা করব। এটিই ফকীহগণের নিকট মতভেদের উৎস। তাঁদের মধ্যে কেউ সমন্বয়ের পদ্ধতি জানেন, আবার কেউ তা না পেরে একটিকে প্রাধান্য দেন। আবার কেউ নাসিখ ও মানসূখের দিকে লক্ষ্য করেন। ফলে উলামায়ে কিরামের মধ্যে ফিকহী মতভেদের জন্ম হয়।

এর উদাহরণ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—যেমনটি আনাস বর্ণিত হাদীসে এসেছে: (তিনি দাঁড়িয়ে পানরত এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাকে বললেন: তুমি কি চাও যে তোমার সাথে বিড়াল পান করুক?) তিনি বললেন: (না), নবীজি বললেন: (তোমার সাথে বিড়ালের চেয়েও নিকৃষ্ট সত্তা অর্থাৎ শয়তান পান করছে)। এর মধ্যে সুনিশ্চিত নিষেধাজ্ঞার প্রমাণ রয়েছে; কারণ শয়তান তোমার সাথে পান করছে।

সুনান গ্রন্থসমূহে সহীহ সনদে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে পান করল সে যেন বমি করে দেয়)। এটি কঠোরভাবে হারাম হওয়ার আরেকটি প্রমাণ। এটি হলো একটি বাণী।

অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পরবর্তীতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি দাঁড়িয়ে পান করেছেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝুলন্ত মশক থেকে দাঁড়িয়ে পান করেছেন এবং দাঁড়িয়ে যমযমের পানি পান করেছেন)।

এগুলো এমন দলীল যেগুলোর বাহ্যিক রূপ আপাতবিরোধী। কেননা তাঁর কর্ম দ্বারা প্রমাণিত যে তিনি দাঁড়িয়ে পান করেছেন, আবার তাঁর বাণী দ্বারা প্রমাণিত যে তিনি তা থেকে নিষেধ করেছেন। এখান থেকেই আহলে ইলমদের মধ্যে মতভেদের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ বলেন: নিষেধাজ্ঞা জ্ঞাপক দলীলটি বৈধতা জ্ঞাপক দলীলের ওপর অগ্রাধিকার পাবে। সুতরাং আমরা একে প্রাধান্য দেব এবং বলব: নিষেধাজ্ঞার ওপরই আমল করা হবে, ফলশ্রুতিতে দাঁড়িয়ে পান করা জায়েয হবে না।

শাওকানী বলেছেন: বরং তাঁর এই কাজটি তাঁর জন্য সুনির্দিষ্ট হবে এবং নিষেধাজ্ঞাটি তার ব্যাপকতায় বহাল থাকবে।

আবার তাঁদের মধ্যে কেউ বলেন: উলামায়ে কিরামের নিকট মূলনীতি হলো—উভয় দলীলের ওপর আমল করা একটিকে বর্জন করার চেয়ে উত্তম এবং কোনো বক্তব্যকে কার্যকর করা তাকে অর্থহীন করে দেওয়ার চেয়ে শ্রেয়। এমতাবস্থায় দাঁড়িয়ে পান করার নিষেধাজ্ঞাটি হারাম হওয়া থেকে মাকরূহ হওয়ার দিকে পরিবর্তিত হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের জন্য বিধান বর্ণনা ও শরীয়ত প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কখনও মাকরূহ কাজ করতে পারেন, যেন তিনি এটিই বলছেন: যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে পান করবে সে গুনাহগার হবে না, তবে এটি অপছন্দনীয়, তাই এটি অধিক মাত্রায় করা উচিত নয়।

এর আরেকটি উদাহরণ হলো: দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা। এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে আবার নবীজির কর্ম দ্বারা এর বৈধতাও বর্ণিত হয়েছে। তিরমিযী সুনানে আব্দুল কারীম ইবনে আবিল মুখারিক থেকে বর্ণিত: (উমর ইবনুল খাত্তাব দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তা করতে নিষেধ করলেন। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ বা নিষেধ করার পর থেকে আমি আর কখনো দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করিনি)। এই হাদীসটি দুর্বল; এর ত্রুটি হলো ইবনে আবিল মুখারিক। মুহাদ্দিসগণ তাঁকে দুর্বল বলেছেন, তাই এর সনদ দুর্বল। তবে আয়েশা থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেননি। যে তোমাদের বলবে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন, সে মিথ্যা বলেছে অথবা ভুল করেছে।

এই বর্ণনাগুলো দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার নিষেধাজ্ঞার ওপর প্রমাণ পেশ করে।

কিন্তু সহীহ হাদীসে মুগীরা ইবনে শু'বা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গোত্রের আবর্জনার স্তূপের কাছে আসলেন এবং দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন)। আর সুবাতাহ হলো ময়লা ফেলার স্থান।

এই দলীলসমূহের বাহ্যিক রূপ আপাতবিরোধী। এখান থেকেই উলামায়ে কিরামের মধ্যে মতভেদের উৎপত্তি হয়েছে: কেউ দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করাকে হারাম বলেন, আবার কেউ একে জায়েয বলেন; কারণ মতভেদের মূল কারণ হলো দলীলসমূহের বিরোধপূর্ণ অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম অনুধাবনের ক্ষেত্রে পার্থক্য।

আমরা বলি: সঠিক মত হলো বিষয়টি বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা। যদি ভূমি শক্ত হয় তবে তার জন্য দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা জায়েয হবে না; কারণ প্রস্রাবের ছিটা তার কাপড়ে ফিরে আসবে। বর্তমান সময়ের শৌচাগারগুলো শক্ত হওয়ার কারণে সেখানে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা সঠিক হবে না, যদি না প্রস্রাবের ছিটা নিজের ওপর ফিরে না আসার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে ভূমি যদি নরম হয়—যেমন আবর্জনার স্তূপ—তবে তার জন্য দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা জায়েয। আর মূল নিয়ম হলো বসে প্রস্রাব করা, এটিই সঠিক।

মূল উদ্দেশ্য হলো: বাণী ও কর্মের মধ্যে অথবা কর্ম ও কর্মের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মের ব্যাখ্যার মধ্যেই মতভেদের উৎস নিহিত থাকে।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌معرفة الناسخ والمنسوخ وأثر ذلك على الخلاف الفقهي

ثم يأتي بعد ذلك النسخ: ومثال ذلك: نكاح المتعة، والشيعة يقولون بجوازه أخذاً بقول ابن عباس.

أما جمهور العلماء فيقولون بحرمته؛ لأن نكاح المتعة كان مباحاً في أول الإسلام ثم نسخه النبي صلى الله عليه وسلم وحرمه بعد ذلك، إلى الأبد، يعني إلى يوم القيامة.

والحقيقة أن ابن عباس لم يقل بجواز المتعة مطلقاً، لكنه أجازها عند الضرورة، فإنه لما استفتي في هذه المسألة قال: هي كالميتة، يعني تجوز عند الضرورة.

ويجوز للرجل الذي يعيش في الخارج وخشي على نفسه الوقوع في الزنا أن يتزوج زواجاً بنية الطلاق، فإن عقد النكاح بهذه الصورة يكون صحيحاً بشرط أن تكون من أهل الكتاب، لكن هذا الزواج ليس من المروءة في شيء.

فالغرض المقصود: أن ابن عباس لم يعلم بالناسخ، ولكنه ضيق في زواج المتعة فلم يبحها إلا عند الضرورة، وقد سأله علي بن أبي طالب فقال: تفتي بالمتعة؟ قال: نعم، فقال: إنك رجل تائه.

فغلظ عليه القول لأنه دين الله تعالى؛ ولذلك فإن بعضهم يعيب علينا عندما نقول: إن قول الشيخ الفلاني والعلاني لا يعتبر لأنه خالف قول النبي صلى الله عليه وسلم، فهذا ابن عباس الذي احتضنه رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال: (اللهم فقهه في الدين وعلمه التأويل)، والذي كان يقدمه عمر بن الخطاب على كثير من الصحابة، يقول له علي بن أبي طالب معنفاً: إنك رجل تائه، إن رسول الله حرم نكاح المتعة يوم خيبر.

ليس هذا فحسب، بل عن عبد الله بن الزبير -والذي كان خليفة للمسلمين بالمبايعة لولا ما فعله الحجاج به- فقد قام مرةً خطيباً في الناس فقال: مالي أرى أناساً قد أعمى الله بصائرهم كما أعمى أبصارهم -يعرض بـ ابن عباس، وقد كان عمي في آخر عمره- قال: يفتون بالمتعة، والله لأنكلن بمن يقول ذلك.

فقام ابن عباس وسط الخطبة وقال: مالي أراك جلفاً جافياً كالأعراب -أي: غليظاً- فقال: افعلها! فوالله الذي لا إله إلا هو لأرجمنك بأحجارك.

والحق: أن ابن عباس كان مجتهداً في ذلك، والمشاجرة الكلامية بين عبد الله بن الزبير وابن عباس لا تفسد للود قضية أبداً، وإنما نقلناها حفاظاً على آثار السلف رضوان الله عليهم أجمعين.

فالغرض المقصود أنه عندما لا تبلغ العلماء والفقهاء مسألة الناسخ والمنسوخ اختلفوا في الحكم الفقهي.

وهذا يبين لك أهمية التأصيل العلمي لمثل هذه المسائل، فإن التفصيل هو الذي يجعل الإنسان يعلم كيف يصدر العلماء هذه الأحكام من الأدلة، ونحن سنتكلم في مسائل كمفهوم المخالفة، والقياس، والمصالح المرسلة، والإجماع، فمثلاً: هل من المتصور وقوع الإجماع بعد عصر الصحابة؟ مثال ذلك: مسألة الذهب المحلق التي عارض فيها فقهاء عصرنا الشيخ الألباني فقيل له: خالفت الإجماع، فرد عليهم: بأن الإجماع غير متصور بعد عصر الصحابة، واستدل بقول الإمام أحمد: وما يدريك لعل الناس قد اختلفوا.

وسنبين هذه المسائل التي هي محل خلاف بين فقهائنا وأصل منشأها، فإن أصلها يعود إلى الكلام عن الإجماع والقياس ومفهوم المخالفة وما أشبه ذلك.

أقول قولي هذا، وأستغفر الله لي ولكم، وجزاكم الله خيراً.
নাসিখ ও মানসুখ সম্পর্কে জ্ঞান এবং ফিকহি মতপার্থক্যের ওপর এর প্রভাব

তারপর আসে নাসিখ (রহিতকরণ): এর উদাহরণ হলো মুতআ বিবাহ। শিয়াগণ ইবনে আব্বাসের মত গ্রহণ করে একে বৈধ বলে থাকে।

তবে জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলেমগণ একে হারাম বলেন; কারণ ইসলামের শুরুর দিকে মুতআ বিবাহ বৈধ ছিল, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একে রহিত করেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত চিরতরের জন্য একে হারাম ঘোষণা করেন।

প্রকৃতপক্ষে ইবনে আব্বাস মুতআ বিবাহকে নিঃশর্তভাবে বৈধ বলেননি, বরং তিনি বিশেষ প্রয়োজনে (জরুরত) এর অনুমতি দিয়েছিলেন। যখন তাকে এ বিষয়ে ফতোয়া জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বললেন: এটি মৃত প্রাণীর গোশত খাওয়ার মতো, অর্থাৎ যা কেবল নিরুপায় অবস্থায় বৈধ।

যে ব্যক্তি বিদেশে বসবাস করেন এবং নিজের ব্যাপারে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন, তার জন্য তালাকের নিয়তে বিয়ে করা জায়েজ হতে পারে। এই সুরতে বিবাহের চুক্তিটি সঠিক হবে যদি মহিলাটি আহলে কিতাব হয়; তবে এ ধরনের বিবাহ কোনো বীরত্ব বা মহত্ত্বের (মুরুওয়াহ) পরিচায়ক নয়।

মূল উদ্দেশ্য হলো: ইবনে আব্বাস নাসিখ (রহিতকারী বিধান) সম্পর্কে জানতেন না, তবুও তিনি মুতআ বিবাহকে সীমিত করেছিলেন এবং নিরুপায় অবস্থা ছাড়া এর অনুমতি দেননি। আলী ইবনে আবি তালিব তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: আপনি কি মুতআ বিয়ের ফতোয়া দিচ্ছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন আলী বললেন: আপনি একজন পথহারা মানুষ।

তিনি তার প্রতি কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন কারণ এটি মহান আল্লাহর দ্বীনের বিষয়। এই কারণেই কেউ কেউ আমাদের দোষারোপ করেন যখন আমরা বলি: অমুক বা তমুক শায়খের কথা গ্রহণযোগ্য নয় কারণ তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর পরিপন্থী। এই তো সেই ইবনে আব্বাস যাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন এবং বলেছিলেন: "হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন এবং তাকে কিতাবের ব্যাখ্যা শিখিয়ে দিন।" যাঁর মর্যাদা ওমর ইবনুল খাত্তাব অনেক সাহাবীর ওপরে দিতেন, তাঁকেই আলী ইবনে আবি তালিব ভর্ৎসনা করে বলছেন: আপনি একজন পথহারা মানুষ, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ খায়বারের দিন মুতআ বিবাহ হারাম করেছেন।

শুধু তাই নয়, আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইর—যিনি হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কর্মকাণ্ড না ঘটলে মুসলমানদের বাইয়াতপ্রাপ্ত খলিফা হতেন—একদা মানুষের সামনে খুতবায় দাঁড়িয়ে বললেন: আমার কী হলো যে, আমি এমন কিছু মানুষকে দেখছি যাদের অন্তরকে আল্লাহ অন্ধ করে দিয়েছেন যেমনটি তাদের চোখ অন্ধ হয়ে গেছে—তিনি ইবনে আব্বাসের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন, কারণ জীবনের শেষ দিকে ইবনে আব্বাস অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন—তিনি বলেন: তারা মুতআ বিবাহের ফতোয়া দেয়। আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তি এ কথা বলবে আমি অবশ্যই তাকে কঠোর শাস্তি দেব।

তখন খুতবার মাঝখানে ইবনে আব্বাস দাঁড়িয়ে বললেন: তোমার কী হয়েছে যে, আমি তোমাকে মরুবাসীদের মতো রূঢ় ও কঠোর দেখছি? আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইর বললেন: তুমি ওটা করে দেখাও! সেই আল্লাহর কসম যাঁর কোনো মাবুদ নেই, আমি অবশ্যই তোমাকে পাথর দিয়ে রজম করব।

সত্য কথা হলো: ইবনে আব্বাস এই বিষয়ে মুজতাহিদ ছিলেন। আর আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইর ও ইবনে আব্বাসের মধ্যবর্তী এই বাদানুবাদ তাদের পারস্পরিক হৃদ্যতায় কখনও ফাটল ধরায়নি। আমরা এগুলো বর্ণনা করেছি কেবল সালাফদের (পূর্বসূরীদের) নিদর্শন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে।

মূল উদ্দেশ্য হলো, যখন আলেম ও ফকিহদের কাছে নাসিখ ও মানসুখ সংক্রান্ত বিষয়গুলো পৌঁছায় না, তখনই তারা ফিকহি হুকুমে মতপার্থক্য করেন।

এটি আপনাকে এই জাতীয় বিষয়গুলোর ইলমি বুনিয়াদ গঠনের গুরুত্ব বুঝিয়ে দেয়। কারণ বিস্তারিত বর্ণনাই মানুষকে জানতে সাহায্য করে যে কীভাবে আলেমগণ দলিল থেকে এই হুকুমগুলো আহরণ করেন। আমরা অচিরেই মাফহুমুল মুখালাফাহ (বিপরীত অর্থবোধক ধারণা), কিয়াস (অনুমান), মাসালিহে মুরসালাহ এবং ইজমা (ঐকমত্য) এর মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। উদাহরণস্বরূপ: সাহাবীদের যুগের পরে কি ইজমা হওয়া সম্ভব? যেমন গোলাকার স্বর্ণালঙ্কারের বিষয়টি, যাতে আমাদের সমকালীন ফকিহগণ শায়খ আলবানীর বিরোধিতা করেছেন। তাকে বলা হয়েছিল: আপনি ইজমার বিরোধিতা করেছেন। তিনি তাদের জবাবে বলেছিলেন: সাহাবীদের যুগের পরে ইজমার কল্পনা করা সম্ভব নয়। তিনি ইমাম আহমদের উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেন: "তুমি কীভাবে জানবে? সম্ভবত মানুষ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছে।"

আমরা এই বিষয়গুলো বর্ণনা করব যা আমাদের ফকিহদের মধ্যে মতভেদের ক্ষেত্র এবং এসব মতভেদের মূল উৎস নিয়ে আলোচনা করব। কারণ এগুলোর মূল উৎস হলো ইজমা, কিয়াস এবং মাফহুমুল মুখালাফাহ ও এই জাতীয় বিষয়সমূহ।

আমি আমার এই কথা বলছি এবং আমার ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: -)
أثر الاختلاف في القواعد الأصولية في اختلاف الفقهاء   (محمد حسن عبد الغفار)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: أثر الاختلاف في القواعد الأصولية في اختلاف الفقهاء

المؤلف: محمد حسن عبد الغفار

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 11 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

ফকিহগণের মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে উসূলি মূলনীতিসমূহের মতপার্থক্যের প্রভাব   (মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ


কিতাব: ফকিহগণের মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে উসূলি মূলনীতিসমূহের মতপার্থক্যের প্রভাব

লেখক: মুহাম্মদ হাসান আব্দুল গাফফার

কিতাবের উৎস: ইসলামি নেটওয়ার্ক (ইসলামওয়েব) ওয়েবসাইট কর্তৃক অনুলিপিকৃত অডিও দরসসমূহ

লিঙ্ক://www.islamweb.net

[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো দরস সংখ্যা - ১১টি দরস]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২ হিজরি

(খণ্ড: ২) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১)
الاختلاف في القواعد الأصولية -‌‌ التشريع ومصادره في عهد الرسول

للخلاف بين العلماء أسباب كثيرة، منها: الاختلاف في القراءات، فكل يستدل بقراءة معينة على الحكم الذي يراه، ومن أسبابه: الاختلاف في السنة، وله أسباب منها: عدم الاطلاع على الحديث، والاختلاف في ثبوته ونحو ذلك.
উসূলি নীতিমালার ক্ষেত্রে মতভেদ -‌রাসূলের যুগে শরীয়ত প্রণয়ন এবং এর উৎসসমূহ

আলিমদের মধ্যকার মতভেদের অনেক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: কিরাতসমূহের ভিন্নতা; ফলে প্রত্যেকে নিজের দেখা হুকুমের ওপর নির্দিষ্ট একটি কিরাত দিয়ে দলিল পেশ করেন। আর এর কারণসমূহের মধ্যে একটি হলো: সুন্নাহর ক্ষেত্রে মতভেদ। এরও কিছু কারণ রয়েছে, যেমন: হাদিস সম্পর্কে অবগত না থাকা, এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মতভেদ এবং এজাতীয় অন্যান্য বিষয়।
(খণ্ড: ২) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌الاختلاف في القراءات وأثره في الاختلاف في المسائل الفقهية

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70 - 71].

أما بعد.

فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد.

إن أفضل الأصول الذي يحتج به كل إنسان يشتم رائحة العلم هو كتاب الله جل في علاه، ثم سنة النبي صلى الله عليه وسلم.

فأصل الأصول هو الكتاب، وقد اتفق العلماء على أن القرآن هو كلام الله المبين الحاكم على عباده، فما اختلف العلماء في الكتاب، ولكن اختلفوا في أمر آخر مهم جداً ألا وهو: فهم دلالات الكتاب، وفهم المراد من كتاب الله جل في علاه، وفهم ما هو مراد الله من الآية أو من الحكم الشرعي.

واختلفوا أيضاً في القراءات، أما بالنسبة للاختلاف في الدلالات فسيأتي؛ لأن بابها واسع جداً.

الاختلاف في القراءات قد صح عن نبينا صلى الله عليه وسلم أنه قال: (أتاني جبريل فقال: إن الله يأمرك أن تأمر أصحابك -أو أمتك- أن يقرءوا القرآن على حرف، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: أسأل الله المعافاة! إن أمتي لا تطيق ذلك، فجاءه جبريل في المرة الثانية فقال: إن الله يأمرك أن تأمر أمتك أن يقرءوا القرآن على حرفين، فقال: أسأل الله المعافاة! إن أمتي لا تستطيع ذلك، فقال: إن الله يأمرك -في المرة الثالثة- أن تأمر أصحابك -أو أمتك- أن يقرءوا القرآن على ثلاثة أحرف، فقال: أسأل الله المعافاة! فجاءه في الرابعة فقال: إن الله يأمرك أن تأمر أمتك أن يقرءوا القرآن على سبعة أحرف، فأيما حرف قرءوا عليه فقد أصابوا، أو فمن قرأ بها فقد أجزأته).

فالقرآن نزل على سبعة أحرف، وكل حرف يختلف عن الآخر؛ ولذلك نجد في بعض الروايات أن الله عز وجل يقول: ((فتثبتوا)) وفي قراءة أخرى تقرأ: (فَتَبَيَّنُوا).
কিরাআতসমূহের ভিন্নতা এবং ফিকহী মাসআলাসমূহের মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে তার প্রভাব

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ প্রদর্শন করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সফলতা অর্জন করল} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর।

নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়েত হচ্ছে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হেদায়েত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হচ্ছে (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর কথা হলো।

যে ব্যক্তি ইলমের সামান্যতম ঘ্রাণও পেয়েছে তার নিকট দলিল হিসেবে উপস্থাপনের যোগ্য শ্রেষ্ঠ উৎস হলো মহান সুউচ্চ আল্লাহর কিতাব, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ।

মৌলিক উৎস হলো কিতাব (কুরআন)। ওলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত যে, কুরআন হলো আল্লাহর সুস্পষ্ট বাণী যা তাঁর বান্দাদের ওপর হুকুমদাতা। তাই আলেমগণ কিতাবের বিষয়ে কোনো মতভেদ করেননি, কিন্তু তাঁরা অন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতভেদ করেছেন, আর তা হলো: কিতাবের দালালাত বা নির্দেশনাসমূহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে, এবং মহান সুউচ্চ আল্লাহর কিতাবের উদ্দেশ্য বোঝার ক্ষেত্রে, আর আয়াত বা শারঈ হুকুম থেকে আল্লাহর উদ্দেশ্য কী তা বোঝার ক্ষেত্রে।

তাঁরা কিরাআতসমূহের ক্ষেত্রেও মতভেদ করেছেন। দালালাত বা অর্থগত নির্দেশের মতভেদের বিষয়টি সামনে আসবে; কারণ এর ক্ষেত্র অত্যন্ত প্রশস্ত।

কিরাআতসমূহের ভিন্নতার বিষয়ে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (জিবরীল আমার নিকট এসে বললেন: আল্লাহ আপনাকে আদেশ করছেন যেন আপনি আপনার সাহাবীদের -অথবা আপনার উম্মতকে- নির্দেশ দেন তারা যেন এক 'হরফ' বা রীতিতে কুরআন পাঠ করে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আমি আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি! নিশ্চয়ই আমার উম্মত তা বহন করতে সক্ষম হবে না। জিবরীল দ্বিতীয়বার এসে বললেন: আল্লাহ আপনাকে আদেশ করছেন যেন আপনি আপনার উম্মতকে নির্দেশ দেন তারা যেন দুই 'হরফে' কুরআন পাঠ করে। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি! নিশ্চয়ই আমার উম্মত তা করতে পারবে না। জিবরীল তৃতীয়বার এসে বললেন: আল্লাহ আপনাকে আদেশ করছেন যেন আপনি আপনার সাহাবীদের -অথবা আপনার উম্মতকে- নির্দেশ দেন তারা যেন তিন 'হরফে' কুরআন পাঠ করে। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি! অতঃপর চতুর্থবার এসে জিবরীল বললেন: আল্লাহ আপনাকে আদেশ করছেন যেন আপনি আপনার উম্মতকে নির্দেশ দেন তারা যেন সাত 'হরফে' কুরআন পাঠ করে। সুতরাং তারা এর মধ্যে থেকে যে কোনো হরফেই পাঠ করুক না কেন তারা সঠিক হবে, অথবা যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে পাঠ করবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে)।

সুতরাং কুরআন সাতটি 'হরফ' বা রীতিতে নাজিল হয়েছে, এবং প্রতিটি হরফ একে অপরের থেকে ভিন্ন। এ কারণেই আমরা কিছু বর্ণনায় পাই যে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলছেন: ((তোমরা দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হও)) এবং অন্য একটি কিরাআতে পঠিত হয়েছে: (তোমরা অনুসন্ধান বা যাচাই করো)।
(খণ্ড: ২) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الاختلاف في مسألة غسل الرجل في الوضوء

والاختلاف في فهم القراءات أثمر خلافاً في المسائل الفقهية، مثال ذلك: مسألة غسل الرجل في الوضوء، فنتيجة لأن العلماء اختلفوا في القراءات أثمر ذلك الاختلاف في حكم غسل الرجل أو مسحها، قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ} [المائدة:6] هذه قراءة نافع والكسائي وأبي عمرو، وأما ابن كثير وحمزة فقرأا: ((وامسحوا برءوسكم وأرجلِكم)) بالكسر فالقراءة المعهودة المعروفة عند المصريين: ((وَأَرْجُلَكُمْ)) بالفتح فتكون معطوفة على ((فَاغْسِلُوا وجُوهَكُم)) أي: معطوفة على الغسل.

أما القراءة الثانية، وهي قراءة سبعية، وصلت إلينا بالتواتر، أي: أنها متفق عليها، فقرأت: وأرجلِكم، فتكون معطوفة على المسح، وبذلك نبع من الاختلاف هذا في القراءة اختلاف الفقهاء في الحكم الفقهي.
অজুতে পা ধোয়ার মাসআলায় মতপার্থক্য

কিরাত বা পঠনরীতি বোঝার ভিন্নতা ফিকহি মাসআলার ক্ষেত্রেও মতপার্থক্য তৈরি করেছে। এর উদাহরণ হলো: অজুতে পা ধোয়ার মাসআলা। আলেমগণ কিরাতের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করার ফলেই পায়ের বিধান ধোয়া না কি মাসেহ করা—এ বিষয়ে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত (ধৌত করো)।" [আল-মায়িদাহ: ৬] এটি নাফি‘, কিসায়ি ও আবু আমর-এর কিরাত। আর ইবনে কাসীর ও হামযাহ পাঠ করেছেন: "তোমাদের মাথা ও পা মাসেহ করো" (পায়ের নিচে কাসরা বা জের দিয়ে)। পক্ষান্তরে মিশরীয়দের নিকট সুপরিচিত ও প্রচলিত কিরাত হলো: "পায়ের ওপর ফাতহা বা জবর দিয়ে", যা "তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো"-এর সাথে সংযুক্ত, অর্থাৎ এটি ধৌত করার নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত।

আর দ্বিতীয় কিরাতটি, যা সাব‘আ বা সাতটি কিরাতের অন্তর্ভুক্ত এবং আমাদের নিকট মুতাওয়াতির সূত্রে পৌঁছেছে অর্থাৎ যা সর্বসম্মত, তাতে "পায়ের নিচে কাসরা বা জের দিয়ে" পাঠ করা হয়েছে। ফলে তা মাসেহ করার নির্দেশের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। আর এভাবেই কিরাতের এই ভিন্নতা থেকে ফিকহি বিধানের ক্ষেত্রে ফকিহগণের মধ্যে মতপার্থক্যের সূত্রপাত হয়েছে।
(খণ্ড: ২) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌حكم غسل الرجل في الوضوء

فالجمهور من أهل العلم يرون أن غسل الرجل هو الوارد، وهو الذي يجب، ومعنى ذلك أن المسح عندهم لا يجزئ؛ لأن الواجب معناه هو الذي يجزئ وهو الذي يقبل، واحتجوا بالقراءة المشهورة: {وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ)) [المائدة:6] وعضد ذلك الاستدلال أحاديث كثيرة، منها حديث النبي صلى الله عليه وسلم عندما كانوا في سفرة؛ فنظر إلى أقوام يتوضئون فكانوا يمسحون على أرجلهم، فصرخ فيهم النبي صلى الله عليه وسلم قائلاً: (ويل للأعقاب من النار) فهذه دلالة على أن المسح لا يجزئ.

القول الثاني: قول من أخذ بالقراءة الثانية وهي قراءة: (وأرجلِكم)، وهو قول ذهب إليه أنس بن مالك وابن عباس، وهو قول الشيعة، فقالوا: الواجب هو المسح، ولا بد أن يقولوا: إن الغسل يجزئ؛ لأن الغسل يشمل المسح.

القول الثالث: لـ ابن جرير الطبري، فقد نظر إلى القراءتين فقال: المصلي مخير بين أن يغسل وبين أن يمسح، وهذا كلام جيد جداً، وهو من الحسن بمكان؛ ذلك لأنه يعضد القاعدة التي قعدها العلماء: إعمال الدليلين أولى من إعمال أحدهما، لكن يشكل عليه حديث النبي صلى الله عليه وسلم: (ويل للأعقاب من النار)؛ لأنه لم يرض بالمسح.

القول الرابع: قول ابن حزم، وهو قول عجيب، فقد قال: إنه يجب على المصلي الغسل والمسح، ولا بد أن يجمع بين الغسل وبين المسح، وحجته في قوله أن الله جل وعلا أمر بالغسل وأمر بالمسح، ففي القراءة الأولى أمر بالغسل في قوله: ((وَأَرْجُلَكُمْ))، وفي القراءة الثانية أمر بالمسح، وكلا الأمرين من الله، وهذا القول قريب من كلام ابن جرير.

ولكن الأصل إذا تعارضت القراءات في حكم من الأحكام، أو كان ظاهرها التعارض، فإنه لا بد لنا من الرجوع للسنة والمرجحات.

ومن الأدلة التي تعضد وجوب الغسل: أن جميع الذين رووا ونقلوا صفة وضوء النبي صلى الله عليه وسلم قالوا: (فغسل رجله ثلاثاً)، وفي حديث عثمان المتفق عليه قال: (فغسل رجله إلى الكعبين) ولم يذكر ثلاثاً ولا واحدة.

فالغرض المقصود أن كلاً من زيد أو أسامة أو علي بن أبي طالب أو عثمان أو أنس، وكل من روى لنا وصف وضوء النبي صلى الله عليه وسلم ما قال أنه قد مسح على رجله مرة واحدة، إذاً فعل النبي صلى الله عليه وسلم المداوم عليه دل على أن الواجب هو الغسل.

لكن الأصل في الفعل أنه لا يفيد الوجوب، ولكن الفعل هنا يفيد الوجوب للقاعدة التي تقول: بيان الواجب واجب؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم لما بين لنا الوضوء قد بين لنا ما أوجب الله علينا، والقاعدة عند العلماء: بيان الواجب واجب.

والواجب هو قول الله تعالى: ((فَاغْسِلُوا)) وهذا لفظ أمر، وظاهر الأمر الوجوب، فأوجب علينا الغسل، والقراءة الثانية أوجب المسح، فلو كان المسح هو المراد لمسح مرة واحدة ليبين لنا الجواز؛ لأنه لما حرم الشرب قائماً شرب هو قائماً؛ ليبين لنا أن هذه ليست على التحريم ولكنها على الكراهة.

أما الإجابة عن القراءة الثانية فهي من وجوه: الوجه الأول: أن القراءة بالجر جاءت للجوار، فالجر هنا للجوار، وهذه معروفة في اللغة وفي أشعار العرب؛ بل ورد في القرآن جر ما حقه الرفع من أجل الجوار، قال الله تعالى: {يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌ مِنْ نَارٍ وَنُحَاسٌ} [الرحمن:35]، وقد ورد في القراءة السبعية الأخرى: (يرسل عليكما شواظ من نارٍ ونحاسٍ)، مع أن النحاس مختلف، فقالوا: الجر هنا للمجاورة، والأصل فيها الرفع، وهي القراءة المشهورة: {يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌ مِنْ نَارٍ وَنُحَاسٌ} [الرحمن:35] فلما جرت في القراءة الثانية جرت للمجاورة.

الوجه الثاني: أن قراءة: (وأرجلِكم) خاصة بالخف؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم كما في حديث صحيح عن المغيرة بن شعبة: (قام فبال على سباطة قوم قائماً، ثم توضأ، فلما توضأ أهوى المغيرة لينزع خف النبي صلى الله عليه وسلم فقال: دعهما فإني أدخلتهما طاهرتين، ثم مسح على خفيه) فتكون (وأرجلكم) عطفاً لبيان جواز المسح على الخفين.

والرد على كلام ابن جرير الطبري الذي يقول: يجوز الأخذ بالقراءتين: بأنه لو كان صحيحاً لفعله النبي صلى الله عليه وسلم، لبيان الجواز، ولو كان يجزئ المسح لبينه، ولما أنكر على من مسح وقال: (ويل للأعقاب من النار).
অজু করার সময় পা ধোয়ার বিধান

সংখ্যাগুরু আলেমদের মতে পা ধোয়াই হলো বর্ণিত পদ্ধতি এবং এটিই ওয়াজিব। এর অর্থ হলো, তাদের কাছে মাসেহ করা যথেষ্ট নয়; কারণ ওয়াজিব হওয়ার অর্থই হলো যা পালন করলে যথেষ্ট হয় এবং যা কবুলযোগ্য হয়। তারা প্রসিদ্ধ কিরাআত: {এবং তোমাদের পাগুলোকে টাখনু পর্যন্ত (ধৌত করো)} [আল-মায়িদাহ: ৬] এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। এই দলিলের স্বপক্ষে অনেকগুলো হাদিস শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে, যার মধ্যে একটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস, যখন তারা এক সফরে ছিলেন; তখন তিনি কিছু লোককে দেখলেন যারা অজু করার সময় তাদের পায়ের ওপর মাসেহ করছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উচ্চস্বরে তাদের উদ্দেশে বললেন: (আগুনের কারণে গোড়ালিগুলোর জন্য ধ্বংস)। এটিই প্রমাণ করে যে মাসেহ করা যথেষ্ট নয়।

দ্বিতীয় মত: যারা দ্বিতীয় কিরাআত অনুযায়ী মত দিয়েছেন, আর তা হলো 'যের' যোগে কিরাআত: (তোমাদের পায়ের)। এটি আনাস ইবন মালিক এবং ইবন আব্বাসের অভিমত, যা শিয়াদেরও মত। তারা বলেন: ওয়াজিব হলো মাসেহ করা। আর তাদের অবশ্যই বলতে হবে যে ধোয়াও যথেষ্ট হবে; কারণ ধোয়ার মধ্যে মাসেহ করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

তৃতীয় মত: ইবন জারীর আত-তবারীর। তিনি উভয় কিরাআতের দিকে লক্ষ্য করে বলেছেন: অজুকারী ব্যক্তি ধোয়া অথবা মাসেহ করার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার অধিকার রাখেন। এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি কথা এবং অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান; কারণ এটি আলেমদের প্রতিষ্ঠিত সেই মূলনীতিকে সমর্থন করে যে: একটি দলিলের ওপর আমল করার চেয়ে উভয় দলিলের ওপর আমল করা অধিক উত্তম। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসটি এর ওপর প্রশ্ন সৃষ্টি করে: (আগুনের কারণে গোড়ালিগুলোর জন্য ধ্বংস); কেননা তিনি মাসেহ করার ওপর সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

চতুর্থ মত: ইবন হাযমের মত, যা একটি বিস্ময়কর মত। তিনি বলেছেন: অজুকারীর ওপর ধোয়া এবং মাসেহ করা উভয়ই ওয়াজিব, এবং ধোয়া ও মাসেহের মধ্যে অবশ্যই সমন্বয় করতে হবে। তার দলিল হলো, আল্লাহ جل وعلا ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মাসেহেরও নির্দেশ দিয়েছেন। প্রথম কিরাআতে ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর বাণী: ((এবং তোমাদের পাগুলোকে [পেশ/যবর যোগে])), আর দ্বিতীয় কিরাআতে মাসেহের নির্দেশ দিয়েছেন। উভয় নির্দেশই আল্লাহর পক্ষ থেকে। এই মতটি ইবন জারীরের কথার কাছাকাছি।

কিন্তু মূল কথা হলো, যদি কোনো বিধানের ক্ষেত্রে কিরাআতসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়, অথবা বাহ্যিকভাবে বৈপরীত্য মনে হয়, তবে আমাদের অবশ্যই সুন্নাহ এবং অগ্রাধিকারমূলক প্রমাণের দিকে ফিরে যেতে হবে।

পা ধোয়া ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে শক্তিশালী দলিলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অজুর বিবরণ বর্ণনা ও পেশ করেছেন তারা সবাই বলেছেন: (অতঃপর তিনি তাঁর পা তিনবার ধৌত করলেন)। বুখারি ও মুসলিমের বর্ণিত উসমানের হাদিসে এসেছে: (অতঃপর তিনি তাঁর পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করলেন) এবং সেখানে তিনবার বা একবার ধোয়ার কথা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।

মূল উদ্দেশ্য হলো যায়িদ, উসামা, আলী ইবন আবি তালিব, উসমান বা আনাস—যারা আমাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অজুর বিবরণ বর্ণনা করেছেন, তাদের কেউই বলেননি যে তিনি তাঁর পায়ের ওপর একবারও মাসেহ করেছেন। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল প্রমাণ করে যে পা ধোয়াই হলো ওয়াজিব।

তবে মূলনীতি অনুযায়ী কোনো কাজ বা আমল সরাসরি ওয়াজিব হওয়া বোঝায় না। কিন্তু এখানকার আমলটি এই মূলনীতির ভিত্তিতে ওয়াজিব হওয়া বোঝাচ্ছে যে: "ওয়াজিবের ব্যাখ্যা প্রদান করাও ওয়াজিব"; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন আমাদের সামনে অজুর পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন, তখন তিনি আল্লাহ আমাদের ওপর যা ওয়াজিব করেছেন তা-ই স্পষ্ট করেছেন। আর আলেমদের নিকট মূলনীতি হলো: ওয়াজিবের ব্যাখ্যা প্রদান করাও ওয়াজিব।

আর ওয়াজিব হলো মহান আল্লাহর বাণী: ((তোমরা ধৌত করো))। এটি একটি আদেশের শব্দ, আর আদেশের বাহ্যিক দাবি হলো ওয়াজিব হওয়া। ফলে এটি আমাদের ওপর ধোয়াকে ওয়াজিব করেছে। আর দ্বিতীয় কিরাআত মাসেহ করাকে ওয়াজিব করেছে। যদি মাসেহ করাই উদ্দেশ্য হতো, তবে তিনি এর বৈধতা প্রকাশের জন্য অন্তত একবার হলেও মাসেহ করতেন; ঠিক যেমন তিনি দাঁড়িয়ে পানি পান করা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও নিজে দাঁড়িয়ে পান করেছিলেন এটি বোঝানোর জন্য যে এটি হারাম নয় বরং মাকরুহ।

আর দ্বিতীয় কিরাআতের উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়: প্রথমত: 'যের' যুক্ত কিরাআতটি এসেছে 'মুজাওয়ারাত' বা নৈকট্যের কারণে। এখানে 'যের' প্রদান করা হয়েছে শব্দের নৈকট্যের কারণে, আর এটি আরবি ভাষা ও আরবের কবিতাগুলোতে সুপরিচিত। এমনকি কোরআনেও এমন শব্দের নিচে 'যের' এসেছে যা মূলত 'পেশ' হওয়ার কথা ছিল শুধুমাত্র নৈকট্যের কারণে। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের ওপর অগ্নির শিখা ও তামা পাঠানো হবে} [আর-রাহমান: ৩৫]। অন্য একটি সপ্ত কিরাআতে তামা শব্দটিতে 'যের' যোগে পাঠ করা হয়েছে, যদিও শব্দটি ভিন্ন অবস্থায় ছিল। আলেমগণ বলেছেন: এখানে 'যের' হয়েছে নৈকট্যের কারণে, আর এর মূল রূপ হলো 'পেশ', যা প্রসিদ্ধ কিরাআতে রয়েছে: {তোমাদের ওপর অগ্নির শিখা ও তামা পাঠানো হবে} [আর-রাহমান: ৩৫]। সুতরাং যখন দ্বিতীয় কিরাআতে 'যের' এসেছে, তখন তা মূলত নৈকট্যের কারণেই হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: 'যের' যোগে কিরাআতটি মূলত চামড়ার মোজার (খুফ) ওপর মাসেহ করার বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট। কারণ মুগিরা ইবন শু'বা থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসে এসেছে: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে এক সম্প্রদায়ের আবর্জনার স্তূপের কাছে প্রস্রাব করলেন, তারপর অজু করলেন। যখন তিনি অজু করছিলেন তখন মুগিরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মোজা খোলার জন্য উদ্যত হলেন। তখন তিনি বললেন: এগুলো থাকতে দাও, কারণ আমি পবিত্র অবস্থায় এগুলো পরিধান করেছি। অতঃপর তিনি তাঁর মোজার ওপর মাসেহ করলেন)। সুতরাং এই কিরাআতটি মোজার ওপর মাসেহ করা জায়েজ হওয়ার বিষয়টিকে স্পষ্ট করে।

ইবন জারীর আত-তবারীর কথার উত্তর হলো—যিনি বলছেন যে উভয় কিরাআতই গ্রহণ করা জায়েজ—যদি এটি সঠিক হতো তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৈধতা প্রকাশের জন্য নিজেই অন্তত একবার তা করতেন। মাসেহ করা যদি যথেষ্ট হতো তবে তিনি তা বর্ণনা করতেন এবং যারা মাসেহ করেছিল তাদের এভাবে তিরস্কার করতেন না এবং বলতেন না: (আগুনের কারণে গোড়ালিগুলোর জন্য ধ্বংস)।
(খণ্ড: ২) আসারুল ইখতিলাফ ফিল কাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الخلاف وأسبابه وبعض أمثلته

السنة حدث فيها خلاف، فقد نجم خلاف بين الفقهاء والعلماء في السنة: إما في فهم مراد الرسول صلى الله عليه وسلم، وإما لعدم الثبوت، وإما لعدم الاطلاع.
মতবিরোধ, এর কারণসমূহ এবং এর কিছু উদাহরণ

সুন্নাহর ক্ষেত্রে মতবিরোধ ঘটেছে; কেননা ফকিহ এবং আলেমদের মধ্যে সুন্নাহ নিয়ে মতবিরোধের উদ্ভব হয়েছে: হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্য বোঝার ক্ষেত্রে, অথবা (দলিল) সাব্যস্ত না হওয়ার কারণে, অথবা (দলিল সম্পর্কে) অবগত না হওয়ার কারণে।