(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: -)
المسلم في عالم الاقتصاد القسم: كتب عامة
الكتاب: المسلم في عالم الاقتصاد
المؤلف: مالك بن الحاج عمر بن الخضر بن نبي (ت 1393 هـ)
المحقق: (إشراف ندوة مالك بن نبي)
الناشر: دار الفكر-دمشق سورية
الطبعة: 1420 هـ - 2000 م
عدد الصفحات: 112
أعده للمكتبة الشاملة / العبد الضعيف الراجي عفو ربه: أبو ياسر الجزائري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
.
تاريخ النشر بالشاملة: 21 ذو القعدة 1432
অর্থনীতির জগতে মুসলিম বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: অর্থনীতির জগতে মুসলিম
লেখক: মালেক বিন আল-হজ ওমর বিন আল-খিজির বিন নবী (মৃ. ১৩৯৩ হি.)
গবেষক/সম্পাদক: (মালেক বিন নবী সেমিনারের তত্ত্বাবধানে)
প্রকাশক: দারুল ফিকর-দামেস্ক, সিরিয়া
সংস্করণ: ১৪২০ হি. - ২০০০ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১২
মাকতাবা শামিলা'র জন্য প্রস্তুত করেছেন / স্বীয় প্রভুর ক্ষমা প্রত্যাশী দুর্বল (ضعيف) বান্দা: আবু ইয়াসির আল-জাযাইরি
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
.
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২১ জিলকদ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ১)
مالك بن نبي
مشكلات الحضارة
المسلم في عالم الاقتصاد
دار الفكر المعاصر بيروت - لبنان
دار الفكر دمشق - سورية
মালেক বিন নবী
সভ্যতার সংকটসমূহ
অর্থনীতির জগতে মুসলমান
দারুল ফিকর আল-মুআসির, বৈরুত - লেবানন
দারুল ফিকর, দামেস্ক - সিরিয়া
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
المسلم في عالم الإقتصاد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
অর্থনৈতিক বিশ্বে মুসলিম
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مالك بن نبي
مشكلات الحضارة
المسلم في عالم الإقتصاد
بإشراف ندوة مالك بن نبي
دار الفكر
دمشق - سورية
মালেক বিন নবী
সভ্যতার সংকটসমূহ
অর্থনীতির জগতে মুসলিম
মালেক বিন নবী সেমিনারের তত্ত্বাবধানে
দার আল-ফিকর
দামেস্ক - সিরিয়া
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
إعادة
1420هـ - 2000م
ط3: 1987م
পুনর্মুদ্রণ
১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
৩য় সংস্করণ: ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
في عام 1971م ترك أستاذنا مالك بن نبي- رحمه الله في المحكة الشرعية في طرابلس لبنان، وصية سجلت تحت رقم 275/ 67 في 16 ربيع الثاني 1391 هـ الموافق 10 حزيران 1971م، وقد حملني فيها مسؤولية كتبه المعنوية والمادية.
وتحملاً مني لهذه الرسالة، ووفاءً لندوات سقتنا على ظمأ صافي الرؤية، رأيت تسمية ما يصدر تنفيذاً لوصية المؤلف (ندوة مالك بن نبي).
والتسمية هذه دعوة إلى أصدقاء مالك بن نبي وقارئيه، ليواصلوا نهجاً في دراسة المشكلات، كان قد بدأه.
وهي مشروع نطرحه بوصفه نواة لعلاقات فكرية، كان رحمه الله يرغب في توثيقها.
وإنني لأرجو من أصدقاء مالك وقارئيه، مساعدتنا على حفظ حقوق المؤلف في كل ما ينشر بالعربية أو الفرنسية مترجماً من قبل المترجمين أوغير مترجم. فقد حمّلني- رحمه الله مسؤولية حفظ هذه الحقوق، والإذن بنشر كتبه. فإن وجدت طبعات لم تذكر فيها إشارة إلى إذن صادر من قبلنا، فهذه طبعات غير مشروعة، ونرجو إبلاغنا عنها.
طرابلس لبنان 18 ربيع الأول 1399هـ
15 شباط (فبراير) 1979م
عمر مسقاوي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে আমাদের উস্তাদ মালিক বিন নবী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) লেবাননের ত্রিপোলির শরয়ী আদালতে একটি অসিয়তনামা রেখে গেছেন, যা ১৬ই রবিউস সানি ১৩৯১ হিজরি মোতাবেক ১০ই জুন ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ২৭৫/৬৭ নম্বর অধীনে নিবন্ধিত হয়েছে। এতে তিনি আমাকে তাঁর গ্রন্থরাজির বুদ্ধিবৃত্তিক ও বৈষয়িক দায়বদ্ধতা অর্পণ করেছেন।
এই বার্তার গুরুভার বহন করে এবং সেই সেমিনারগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ যা আমাদের স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির তৃষ্ণা নিবারণ করেছিল, আমি লেখকের অসিয়তনামা বাস্তবায়নে প্রকাশিতব্য উদ্যোগের নাম ‘মালিক বিন নবী সেমিনার’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এই নামকরণ মালিক বিন নবীর সুহৃদ ও পাঠকদের প্রতি একটি আহ্বান, যেন তাঁরা সমস্যাবলি পর্যালোচনার সেই কর্মপন্থা অব্যাহত রাখেন যা তিনি শুরু করেছিলেন।
এটি এমন একটি প্রকল্প যা আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কের একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উপস্থাপন করছি, যা তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন।
আমি মালিকের সুহৃদ ও পাঠকদের নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি যেন আরবি বা ফরাসি ভাষায় অনুবাদকদের দ্বারা অনূদিত অথবা মৌলিকভাবে প্রকাশিত তাঁর সমস্ত রচনার ক্ষেত্রে লেখকের স্বত্ব সংরক্ষণে আমাদের সহায়তা করেন। কেননা তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) আমাকে এই অধিকারগুলো রক্ষা করা এবং তাঁর গ্রন্থাবলি প্রকাশের অনুমোদনের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। যদি এমন কোনো সংস্করণ পাওয়া যায় যাতে আমাদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত অনুমোদনের কোনো উল্লেখ নেই, তবে সেগুলো অবৈধ সংস্করণ হিসেবে গণ্য হবে এবং সেই বিষয়ে আমাদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
ত্রিপোলি, লেবানন, ১৮ই রবিউল আউয়াল ১৩৯৯ হিজরি
১৫ই ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ
ওমর মেসকাউয়ি
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةلم يكن المسلم عندما فتح عينيه في عالم الاقتصاد، بعد أن نالته الصدمة الاستعمارية، سوى قنّ يُسخَّر لكل عمل يريده الاستعمار، فينتج المطاط في حقول الهند الصينية (فيتنام)، والفول السوداني في إفريقيا الاستوائية، والأرز في بورما، والتوابل والكاكاو في جاوه (إندونيسيا)، والخمور في الشمال الإفريقي.
لم تكن له في هذه الأعمال صلة موضوعية بعالم الاقتصاد، ولا تربطه بعمله صلة ذات طابع مشروع، لم يكن (المنتج) الذي يُرعى حقه، ولا (المستهلك) الذي ترعى حاجته؛ لقد كان أداة عمل مستمر فقط، فلم يتكون لديه (وعي اقتصادي)، ولا تجربة ولا خبرة في عالم اقتصاد غريب عليه بكل مفاهيمه، وبنائه ومصالحه الأجنبية. ثم من ناحية أشمل، ومهما كان حظه في محيطه الاستعماري، كان يجري عليه قانون التقليد كما يجري على كل كائن، فقد صلته بعالمه الأصيل ففقد أصالته. فكان عندئذ أميَل لتقليد (الحاجات) منه إلى تقليد (الوسائل) لأنه فقد وعيه الحضاري أيضاً، فيصير في مرحلة أولى مقلداً بقدر استطاعته للحاجة التي أفرزتها حياة غيره، دون أن يفكر في صنع وسيلة إشباعها، ثم في مرحلة ثانية، إذا تحقق استقلال بلاده، يصير إلى تقليد الحاجات الواردة وتقليد الوسائل المستوردة كيفما اتفق له، ولو على حسابا سيادة البلاد.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাএকজন মুসলিম যখন ঔপনিবেশিক আঘাতের শিকার হওয়ার পর অর্থনৈতিক জগতে তার চোখ উন্মীলন করল, তখন সে স্রেফ একজন দাসে পরিণত হয়েছিল যাকে উপনিবেশবাদের কাঙ্ক্ষিত সকল কাজে নিযুক্ত করা হতো। ফলে সে ইন্দোচিন (ভিয়েতনাম)-এর বাগানগুলোতে রবার, নিরক্ষীয় আফ্রিকায় চীনাবাদাম, বার্মায় চাল, জাভা (ইন্দোনেশিয়া)-তে মশলা ও কোকো এবং উত্তর আফ্রিকায় মদ উৎপাদন করত।
এই সকল কর্মতৎপরতায় অর্থনীতির জগতের সাথে তার কোনো বস্তুনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না এবং নিজের কাজের সাথেও তার কোনো আইনগত বা নীতিগত বন্ধন ছিল না। সে না ছিল এমন একজন (উৎপাদক) যার অধিকার রক্ষা করা হয়, আর না ছিল এমন একজন (ভোক্তা) যার চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়; বরং সে ছিল কেবল নিরবচ্ছিন্ন শ্রমের একটি হাতিয়ার মাত্র। এর ফলে তার মধ্যে কোনো (অর্থনৈতিক সচেতনতা) গড়ে ওঠেনি এবং তার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত এই অর্থনৈতিক জগতের ধারণা, কাঠামো ও বৈদেশিক স্বার্থ সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা বা দক্ষতাও তৈরি হয়নি। অতঃপর আরও ব্যাপক প্রেক্ষাপটে, ঔপনিবেশিক পরিবেশে তার অবস্থান যেমনই হোক না কেন, প্রতিটি প্রাণীর মতো তার ওপরেও অনুকরণের নিয়ম কার্যকর ছিল। সে তার আপন মৌলিক জগতের সাথে সম্পর্ক হারিয়ে ফেলেছিল, ফলে সে তার স্বকীয়তাও হারায়। এমতাবস্থায় সে (উপায়-উপকরণ) অনুকরণের চেয়ে (চাহিদা) অনুকরণের প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়েছিল, কারণ সে তার সভ্যতাগত সচেতনতাও হারিয়েছিল। ফলে সে প্রথম পর্যায়ে অন্য কারোর জীবন থেকে উদ্ভূত চাহিদাকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী অনুকরণ করতে থাকে, সেই চাহিদা মেটানোর কোনো উপায় উদ্ভাবনের চিন্তা না করেই। অতঃপর দ্বিতীয় পর্যায়ে, যদি তার দেশ স্বাধীনতা লাভও করে, তবুও সে আমদানিকৃত চাহিদা ও আমদানিকৃত উপায়ের অনুকরণের দিকে ধাবিত হয় যেভাবে তার সুবিধা হয়, এমনকি তা যদি দেশের সার্বভৌমত্বের বিনিময়েও হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وإذا ما تابعنا هذا الوضع في خطوات أخرى، نراه في المجال السياسي يتحول إلى مشكلات سياسية لابد أن تواجهها الحكومات الإسلامية؛ وفي المجال الاقتصادي يتحول إلى قضية نظرية تحاول نخبة مثقفة معالجتها على أسس علم اقتصاد، وضعت على تجارب وخبرات العالم الذي أنجب (آدم سميث) و (كارل ماركس)، وهكذا تبتدئ قصتنا في صورتها الجديدة.
فالإنسان الذي استسلم للتقليد في العادات والأذواق، وبصورة عامة في تقليد ما يكتظ به عالم أشياء شيّده غيره، يصبح في المجال النظري مقلداً للأفكار التي صاغتها تجارب وخبرات غيره. فإذا ما عدنا لموقف نخبتنا المثقفة في المجال الاقتصادي، نرى هذه النخبة تقف مجرد موقف اختيار بين ليبرالية (آدم سميث) ومادية (ماركس)، كأنما ليس للمشكلات الاقتصادية سوى الحلول التي يقدمها هذا أو ذاك، دون وقوف وعبرة عند أسباب الفشل، أو نصف النجاح لخطط التنمية التي طبقت على أساس الليبرالية أو المادية، في العالم الثالث ما عدا الصين، بعد الحرب العالمية الثانية.
بينما نرى تجربة مثل التي أجريت في إندونيسيا قد تضمنت كل شروط النجاح، سواء من ناحية الإمكانيات المادية في أغنى بلاد الله من حيث الثروة الطبيعية والبشرية، أو من الناحية الفنية لأن واضع خطتها الدكتور (شاخت)، الرجل الذي نهض باقتصاد ألمانيا قبيل الحرب العالمية الثانية من نقطة الصفر تقريباً، ومع ذلك نراها فشلت فشلاً ذريعاً.
ولو وقفنا على الأقل متأملين أسباب هذا الفشل لاستفدنا منه درساً اقتصادياً، لا تقدمه لنا الدرسة الليبرالية ولا المدرسة المادية، ولأدركنا أولاً أن المخططات الاقتصادية تتضمن شروطاً ضمنية أو شرطاً ضمنياً على الأقل ليس من اختصاص واضعيها الالتفات إليه، فالدكتور (شاخت) كان بلا جدال، أجدر
আমরা যদি এই পরিস্থিতিকে অন্যান্য ক্ষেত্রেও পর্যবেক্ষণ করি, তবে আমরা একে রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কিছু রাজনৈতিক সমস্যায় রূপান্তরিত হতে দেখি যেগুলোর মোকাবিলা করা মুসলিম সরকারগুলোর জন্য অনিবার্য হয়ে পড়ে; এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এটি একটি তাত্ত্বিক বিষয়ে পরিণত হয় যা একদল সুধীসমাজ অর্থনীতির সেই সব মূলনীতির ভিত্তিতে সমাধান করার চেষ্টা করে, যেগুলো সেই জগতের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার আলোকে রচিত হয়েছে যা অ্যাডাম স্মিথ এবং কার্ল মার্ক্সকে জন্ম দিয়েছে। আর এভাবেই আমাদের কাহিনী তার নতুন রূপে শুরু হয়।
যে মানুষ অভ্যাস ও রুচির ক্ষেত্রে এবং সাধারণভাবে অন্যের দ্বারা বিনির্মিত বস্তুজগতে যা কিছু ঠাসা আছে তার অনুকরণের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েছে, সে তাত্ত্বিক জগতেও অন্যের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে গঠিত চিন্তাধারার একজন অনুকারীতে পরিণত হয়। আমরা যদি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষিত অভিজাত শ্রেণির অবস্থানের দিকে পুনরায় দৃষ্টিপাত করি, তবে দেখি যে এই শ্রেণি কেবল অ্যাডাম স্মিথের উদারতাবাদ এবং মার্ক্সের বস্তুবাদের মধ্য থেকে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। যেন অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান কেবল এদের দেওয়া সমাধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চীন ব্যতীত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে উদারতাবাদ বা বস্তুবাদের ভিত্তিতে যে উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো প্রয়োগ করা হয়েছে, সেগুলোর ব্যর্থতার কারণ বা আংশিক সফলতার বিষয়ে তাদের কোনো পর্যবেক্ষণ বা শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত নেই।
অথচ আমরা ইন্দোনেশিয়ায় পরিচালিত একটি অভিজ্ঞতার দিকে তাকালে দেখি যে, তাতে সফলতার সকল শর্তই বিদ্যমান ছিল; তা প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনশক্তির দিক থেকে আল্লাহর জমিনের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশের বস্তুগত সম্ভাবনার দিক থেকেই হোক, কিংবা কারিগরি দিক থেকেই হোক। কেননা সেই পরিকল্পনার প্রণেতা ছিলেন ডক্টর শাট (Schacht), যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানির অর্থনীতিকে প্রায় শূন্যের কোঠা থেকে পুনর্গঠিত করেছিলেন; তা সত্ত্বেও আমরা দেখি যে সেই প্রচেষ্টা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
আমরা যদি অন্তত এই ব্যর্থতার কারণগুলো নিয়ে কিছুটা চিন্তা করতাম, তবে আমরা এমন একটি অর্থনৈতিক শিক্ষা লাভ করতাম যা আমাদের উদারতাবাদী কিংবা বস্তুবাদী কোনো দর্শনই প্রদান করতে পারে না। এবং আমরা সর্বাগ্রে এটি উপলব্ধি করতে পারতাম যে, অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে কিছু অন্তর্নিহিত শর্তাবলি থাকে যা নিয়ে দৃষ্টিপাত করা পরিকল্পনাকারীদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত নয়। ডক্টর শাট নিঃসন্দেহে ছিলেন সবচেয়ে যোগ্য...
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
من يضع مخططاً اقتصادياً مثل الذي وضعه لبلاده قبيل الحرب، ولكنه خطط لإندونيسيا فوضع ضمناً خطته، على قاعدة (معادلة اجتماعية) خاصة بالشعب الألماني، وأجنبية عن الشعب الإندونيسي (1). فما كان إذن لخططه أن ينجح لأنه فقد منذ لحظته الأولى شرطاً أساسياً.
والآن إذا عدنا للحديث عن مثقفينا في المجال الاقتصادي، نرى أنهم وقفوا موقف اختيار وتفضيل بين (آدم سميث) و (ماركس)، بينما كانت القضية ولا زالت قضية تطعيم ثقافي لمجتمع الإسلامي، يمكّنه من استعمال إمكانياته الذهنية والجسمية؛ وبصورة عامة تجعل كل فرد فيه ينشط على أساس (معادلة اجتماعية) تؤهّله لإنجاح أي مخطط اقتصادي.
أو بعبارة أخرى فالديناميكية الاقتصادية ليست هي هذه النظرية أو تلك الخاصة بعلم الاقتصاد، بل هي مرتبطة بجوهر اجتماعي عام قد نجده، على حد سواء، في تجربة اليابان الرأسمالية أو تجربة الصين الشيوعية بعد 1949، خصوصاً بعد أن عدلت ثورتها الثقافية بين 1966 - 1968، (المعادلة الاجتماعية) في الفرد الصيني ذاته.
ثم إذا عدنا مرة أخرى إلى موقف مثقفينا من القضية الاقتصادية نراهم يصنَّفون صنفين، لا على أساس فني بل على أساس أخلاقي، صنف لا يبالي بعقيدته في انحيازه لنظرية اقتصادية معينة، ويلقَّب أو يلقب نفسه بالتقدمي لأنه يدعي الماركسية، وصنف ينحاز مبدئياً إلى الليبرالية لأنه يتجنب المادية والإلحاد بحافز إسلامه.
فهذا الصنف الأخير هو الذي يهمنا بالذات، لا لأنه مسلم فحسب، بل لأنه كان أخصب من الصنف الأول في الدراسات الاقتصادية، كما يدل على ذلك عدد
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি যুদ্ধের ঠিক আগ মুহূর্তে তার দেশের জন্য তৈরি করা পরিকল্পনার মতো একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন, কিন্তু তিনি তা ইন্দোনেশিয়ার জন্য করেন, তবে তিনি অবধারিতভাবে তার সেই পরিকল্পনাটি জার্মান জাতির জন্য প্রযোজ্য এক বিশেষ ‘সামাজিক সমীকরণ’-এর ভিত্তিতে তৈরি করেছেন, যা ইন্দোনেশীয় জাতির জন্য সম্পূর্ণ বিজাতীয় (১)। তাই তার পরিকল্পনাগুলোর সফল হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না; কারণ তা সূচনালগ্ন থেকেই একটি অপরিহার্য শর্ত হারিয়েছে।
এখন যদি আমরা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের প্রসঙ্গে ফিরে আসি, তবে দেখি যে তারা (অ্যাডাম স্মিথ) এবং (মার্কস)-এর মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়া ও প্রাধান্য দেওয়ার অবস্থান গ্রহণ করেছেন। অথচ মূল বিষয়টি ছিল এবং আজও রয়ে গেছে ইসলামি সমাজের জন্য একটি সাংস্কৃতিক সঞ্চারণের বিষয়, যা তাকে তার মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা ব্যবহারে সমর্থ করবে; এবং সাধারণভাবে এর প্রতিটি ব্যক্তিকে এমন একটি ‘সামাজিক সমীকরণ’-এর ভিত্তিতে সক্রিয় করে তুলবে যা তাকে যেকোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সফল করার যোগ্যতা দান করবে।
অন্য কথায়, অর্থনৈতিক গতিশীলতা বলতে কোনো বিশেষ অর্থনৈতিক তত্ত্বকে বোঝায় না, বরং এটি একটি সাধারণ সামাজিক সত্তার সাথে সম্পৃক্ত যা আমরা একইভাবে জাপানের পুঁজিবাদী অভিজ্ঞতা কিংবা ১৯৪৯-পরবর্তী চীনের সাম্যবাদী অভিজ্ঞতায় লক্ষ্য করি; বিশেষত ১৯৬৬-১৯৬৮ সালের সাংস্কৃতিক বিপ্লব যখন চীনা ব্যক্তির নিজস্ব ‘সামাজিক সমীকরণ’ সংস্কার করেছিল তার পরে।
অতঃপর আমরা যদি অর্থনৈতিক প্রশ্নে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের অবস্থানের দিকে পুনরায় দৃষ্টিপাত করি, তবে দেখি যে তাদেরকে প্রযুক্তিগত নয় বরং নৈতিক ভিত্তিতে দুই শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা যায়। এক শ্রেণী যারা কোনো নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক তত্ত্বের প্রতি তাদের পক্ষপাতের ক্ষেত্রে আকিদার পরোয়া করে না এবং নিজেদেরকে ‘প্রগতিশীল’ মনে করে যেহেতু তারা মার্কসবাদের অনুসারী হওয়ার দাবি করে। আর অন্য একটি শ্রেণী যারা মূলত উদারনীতিবাদের পক্ষপাতী, কারণ তারা তাদের ইসলামি চেতনার তাড়নায় বস্তুবাদ ও নাস্তিকতা এড়িয়ে চলে।
এই শেষোক্ত শ্রেণীটিই আমাদের বিশেষ আলোচ্য বিষয়; কেবল তারা মুসলিম হওয়ার কারণে নয়, বরং এই কারণে যে তারা অর্থনৈতিক গবেষণার ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণীর তুলনায় অধিক ফলপ্রসূ ছিল, যেমনটি সংখ্যা দ্বারা প্রতীয়মান হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الأطروحات ودسامتها، مثل الأطروحة التي قدمها أمام جامعة أميركية طالب مسلم، ذكر لكي اسمه وعنوان أطروحته أثناء رحلتي إلى الولايات المتحدة آخر السنة المنصرمة.
فهذا الطالب ذُكر لكي بإعجاب زملائه وبتقدير أساتذته لأنه تفوق في معالجة موضوع (الاستثمار بلا ربا).
وهذا الموضوع الشائك يستحق فعلاً كل الإعجاب والتقدير، وإنما يبقى لنا أن نلاحظ أن هذا الاجتهاد الفذ قد انصرف ضمناً إلى محاولة توفيق بين الإسلام والرأسمالية، ويا حبذا لو بذله صاحبه في اكتشاف طريق آخر ما عدا الاستثمار المالي، لدفع عجلة الاقتصاد.
وبالتالي نرى الاقتصاديين الإسلاميين وكأنهم بعد أن اختاروا ضمناً المبدأ الليبرالي، يريدون وضع المسحة الإسلامية عليه، لنرى الجهود الحميدة تنصرف بصورة عامة، إلى دراسة النظم المالية في الاقتصاد، كأنما هي الأمر الأساسي في الاقتصاد.
بينما نرى أن هذه النظم Banques سواء أكانت متعاملة على أساس الربا أم لا، ليست إلا جانباً من عالم الاقتصاد الحديث، لأنه لو فقد هذا الجانب أو تضاءل مثلما يحدث الآن في التوجيه الاقتصادي الصيني، فلأن النشاط الاقتصادي يستطيع مواصلة حركته الديناميكية، وسيبقى قائماً أو يعيد قيامه بفضل مقدراته الأخرى، مثلما حدث في ألمانيا بعد الحرب الثانية عندما انطلقت تجربة المستشار (إيرهارت) في خطواتها الأولى بلا رصيد من ذهب أو فضة، أعني بلا تدخل مالي قائم أو غير قائم على الربا.
وهذه الظروف الصعبة التي يواجهها مجتمع ناشئ مثل الصين أو مجتمع يعيد بناءه مثل ألمانيا، هي الظروف المواتية التي تقدم أصدق صورة عن الجوانب
গবেষণাপত্র এবং সেগুলোর গভীরতা; যেমন একটি গবেষণাপত্র যা একজন মুসলিম ছাত্র একটি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থাপন করেছেন। গত বছরের শেষের দিকে আমার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় তার নাম এবং গবেষণাপত্রের শিরোনাম আমার কাছে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এই ছাত্রটির কথা তার সহপাঠীদের বিস্ময় এবং শিক্ষকদের প্রশংসার সাথে আমার কাছে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ তিনি 'সুদহীন (ربا) বিনিয়োগ' বিষয়টি পর্যালোচনায় শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন।
এই জটিল বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে সমস্ত প্রশংসা ও মূল্যায়নের দাবিদার। তবে আমাদের লক্ষ্য করা উচিত যে, এই অনন্য গবেষণালব্ধ প্রয়াস বা ইজতিহাদ (اجتهاد) মূলত ইসলাম ও পুঁজিবাদের মধ্যে একটি সমন্বয় সাধনের প্রচেষ্টায় নিবদ্ধ হয়েছে। অথচ এর প্রণেতা যদি অর্থনীতির চাকা সচল করার জন্য আর্থিক বিনিয়োগ ব্যতিরেকে অন্য কোনো পথ উদ্ভাবনে এই শ্রম ব্যয় করতেন, তবে কতই না উত্তম হতো।
ফলস্বরূপ, আমরা ইসলামি অর্থনীতিবিদদের এমনভাবে দেখি যে, তারা পরোক্ষভাবে উদারবাদী নীতি গ্রহণ করার পর তার ওপর একটি ইসলামি প্রলেপ দিতে চাচ্ছেন। এর ফলে আমরা দেখতে পাই যে, প্রশংসনীয় প্রচেষ্টাগুলো সাধারণত অর্থনীতির আর্থিক ব্যবস্থা পর্যালোচনার দিকেই মোড় নেয়, যেন এটিই অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
অথচ আমরা দেখতে পাই যে, এই ব্যাংক (Banques) ব্যবস্থাগুলো—চাই তা সুদের (ربا) ভিত্তিতে পরিচালিত হোক বা না হোক—আধুনিক অর্থনৈতিক বিশ্বের একটি দিক মাত্র। কারণ, এই দিকটি যদি হারিয়ে যায় বা সংকুচিত হয়—যেমনটি বর্তমানে চীনের অর্থনৈতিক নির্দেশনায় ঘটছে—তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তার গতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে। এটি তার অন্যান্য সক্ষমতার বদৌলতে টিকে থাকবে বা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে। যেমনটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে ঘটেছিল, যখন চ্যান্সেলর 'এরহার্ড'-এর পরীক্ষাটি সোনা বা রূপার কোনো সঞ্চয় ছাড়াই তার প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো শুরু করেছিল। অর্থাৎ, সুদের (ربا) ওপর ভিত্তি করে হোক বা না হোক, কোনো প্রকার আর্থিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই তা পরিচালিত হয়েছিল।
চীন বা জার্মানির মতো একটি উদীয়মান সমাজ বা পুনর্গঠনশীল সমাজ যে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলোই হলো এমন অনুকূল পরিস্থিতি যা প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الأساسية في عالم الاقتصاد، قبل أن تتم بناءاته المكتملة سواء في صورة اقتصاد ليبرالي أو في صورة اقتصاد ماركسي.
يجب إذن على شبابنا المهتم بالاقتصاد أن يخلي أولاً ذهنه من الجوانب الذهبية الإضافية في المنطلق، أو التنظيمية التي تكتسبها القضية الاقتصادية في الطريق، بصفتها وسائل إدارة أو إشراف ورقابة.
وهذه الدراسة بالذات هي مجرد محاولة تصفية لموضوع الاقتصاد في الأذهان من الجوانب الإضافية التي تطرأ عليه سواء في صورة ضرورة فنية تنشأ في الطريق، أو في صورة ضرورة سياسية تتسلط عليه لرقابة عمليتي الإنتاج والتوزيع طبقاً لمبادئ ومسلمات مذهبية معينة.
فإن وفقنا في هذه التصفية فهو ذلك وما أجرنا إلا على الله، وإن كان غير ذلك فلنا أجر من لفت النظر إلى ضرورة هذه التصفية، سواء بالنسبة لمفاهيم أو لبعض النظم الاقتصادية، ويبقى أجران لن يوفق فيها كل التوفيق.
ولا نختم هذه المقدمة دون أن نقول كلمة، (وربما هي تصفية في مجال آخر يتصل بالاقتصاد) بصدد الحوار الذي نشأ في العالم الإسلامي حيث نرى المختصين بالاقتصاد، يوجهون العتاب أو اللوم إلى الفقهاء ويرمونهم أحياناً بالجمود.
يجب أن ننزه فقهاءنا عن هذا العتاب، ونقول إنه ليس من اختصاصهم أن يدلوا على الحلول الاقتصادية سواء مستنبطة من القرآن والسنة أو غير ذلك، وإنما اختصاصهم أن يقولوا في شأن الحلول التي يقدمها أهل الاختصاص، هل هي تطابق أو لا تطابق الشريعة الإسلامية وعلى الله نتوكل وهو حسبنا.
بيروت في 7/ 3/ 1972
م. ب. ن
***
অর্থনৈতিক বিশ্বের মৌলিক বিষয়াবলি, এর পূর্ণাঙ্গ কাঠামো বিনির্মাণের আগে—তা উদারপন্থী অর্থনীতি বা মার্ক্সবাদী অর্থনীতি যে রূপেই হোক না কেন।
অতএব, অর্থনীতিতে আগ্রহী আমাদের যুবসমাজকে শুরুতেই তাদের মন থেকে প্রারম্ভিক অতিরিক্ত তাত্ত্বিক দিকগুলো অথবা অর্থনৈতিক বিষয়াবলি পথিমধ্যে অর্জন করে এমন সাংগঠনিক দিকগুলো ঝেড়ে ফেলতে হবে, যা ব্যবস্থাপনা, তদারকি বা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
আর এই বিশেষ অধ্যয়নটি হলো নিছক চিন্তাজগতে অর্থনীতির বিষয়টিকে সেই অতিরিক্ত দিকগুলো থেকে মুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা, যা এর ওপর আপতিত হয়; হোক তা পথিমধ্যে উদ্ভূত কোনো কারিগরি প্রয়োজনে, অথবা কোনো রাজনৈতিক প্রয়োজনে যা নির্দিষ্ট কোনো আদর্শিক মূলনীতি ও স্বীকৃত মতবাদের ভিত্তিতে উৎপাদন ও বণ্টন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এর ওপর আধিপত্য বিস্তার করে।
যদি আমরা এই পরিমার্জনে সফল হই তবে সেটিই কাম্য এবং আমাদের প্রতিদান (أجر) কেবল আল্লাহর কাছে; আর যদি অন্যথা হয়, তবে এই পরিমার্জনের প্রয়োজনীয়তার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আমরা সওয়াব (أجر) পাব, চাই তা অর্থনৈতিক ধারণা সম্পর্কিত হোক বা কিছু অর্থব্যবস্থা সম্পর্কিত। আর এমন ব্যক্তির জন্য দ্বিগুণ সওয়াব (أجران) রয়ে যায় যে পূর্ণ সফলতা লাভ করতে পারে না।
একটি কথা না বলে আমরা এই ভূমিকার ইতি টানছি না, (সম্ভবত এটি অর্থনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য একটি ক্ষেত্রের পরিমার্জন) যা মুসলিম বিশ্বে সৃষ্ট সেই বিতর্ক সম্পর্কিত যেখানে আমরা দেখি অর্থনীতিবিদরা ফকিহদের (الفقهاء) প্রতি তিরস্কার বা নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং মাঝেমধ্যে তাদেরকে স্থবিরতার দোষে অভিযুক্ত করেন।
আমাদের ফকিহদের (الفقهاء) এই তিরস্কার থেকে পবিত্র রাখা উচিত। আমরা বলতে চাই যে, অর্থনৈতিক সমাধান প্রদান করা তাদের কাজ নয়—চাই তা কুরআন ও সুন্নাহ (السنة) থেকে উদ্ভূত (مستنبطة) হোক বা অন্য কিছু। বরং তাদের কাজ হলো সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পেশকৃত সমাধানগুলোর ক্ষেত্রে এটি বলা যে, তা ইসলামি শরীয়াহর (الشريعة) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। আল্লাহর ওপরই আমরা ভরসা করি এবং তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট।
বৈরুত, ৭/ ৩/ ১৯৭২
এম. বি. এন.
***
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الجزءُ الأوّلُ
عوميات البحثصورة العلاقات الاقتصادية الراهنة في العالم
الاقتصاد والاقتصادانية
حدود الاختيار الإسلامي بين المناهج الموجودة
প্রথম খণ্ডগবেষণার সাধারণ বিষয়াবলীবিশ্বে বর্তমান অর্থনৈতিক সম্পর্কের চিত্র
অর্থনীতি ও অর্থনীতিবাদ
বিদ্যমান পদ্ধতিসমূহের মধ্যে ইসলামি পছন্দের সীমাবদ্ধতা
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
صورة العلاقات الاقتصادية الراهنة في العالمإن النظرية الماركسية التي تَرُدّ المشكلة الإنسانية كلها إلى العوامل الاقتصادية، تغفل بعض الأشياء الجوهرية في الظاهرة الاجتماعية أو تغض من شأنها؛ ولكن هذه النظرية صادقة في الحدود التي يمكن أن تفسر فيها الظاهرة الاجتماعية تفسيراً اقتصادياً.
وفي هذه الحدود الواسعة يعد (الإطار الإنساني) الممتد من طنجة إلى جاكرتا شاشة من المباني والتكوينات الاقتصادية، ويعد (النموذج الاجتماعي) - الجائع العاري- الذي نراه في شرق المحور في كلكتا وفي غرب المحور في تونس ثمرة لهذه المباني وتلك التكوينات.
وعليه فمن الممكن أن نتحدث في هذه الحدود عن حتمية اقتصادية تضغط بثقل قضائها على مصير الشعوب الإسلامية، ولكن هذا القضاء لا دخل فيه للميتافيزيقا، وهو ليس قضاء مطلقاً نهائياً، بل هو عارض طارئ من أعراض التاريخ أو هو بمثابة الزمن الميت في النمو المادي لتلك الشعوب، يتفق مع تلك الأوضاع الشخصية الموروثة التي تتنافى مع الأوضاع الاقتصادية التي حددتها وفرضتها الحضارة الغربية.
ولقد ظهرت الآثار الاجتماعية لهذا التنافي منذ اللحظة التي وقع فيها الرجل المسلم في الأحبولة الاستعمارية، فأصبح العميل المستعبد المستغل للاقتصاد الحديث، دون أن يجد في نفسه، وفي تقاليده وفي عاداته الوسيلة الكافية كما ينتزع نفسه من تورطه، وهكذا بدأ عصر الحتمية الاقتصادية بالنسبة له مع بدء
বিশ্বের সমসাময়িক অর্থনৈতিক সম্পর্কের চিত্রমার্কসবাদী তত্ত্ব, যা সমগ্র মানবিক সমস্যাকে কেবল অর্থনৈতিক উপাদানের ওপর ন্যস্ত করে, তা সামাজিক প্রপঞ্চের কিছু মৌলিক বিষয়কে উপেক্ষা করে অথবা সেগুলোর গুরুত্বকে খর্ব করে; কিন্তু এই তত্ত্বটি সেই সীমা পর্যন্ত সঠিক যেখানে সামাজিক প্রপঞ্চকে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
এই বিস্তৃত পরিসরের মধ্যে, তাঞ্জিয়ার থেকে জাকার্তা পর্যন্ত বিস্তৃত (মানবিক কাঠামোটি) অর্থনৈতিক ভিত্তি ও কাঠামোর একটি প্রদর্শনী হিসেবে গণ্য হয়। আর অক্ষের পূর্বে কলকাতায় এবং অক্ষের পশ্চিমে তিউনিসিয়ায় আমরা যে (সামাজিক নমুনা) —ক্ষুধার্ত ও নগ্ন— দেখতে পাই, তা এই ভিত্তি ও কাঠামোগুলোরই ফসল।
এর ওপর ভিত্তি করে, এই সীমার মধ্যে একটি অর্থনৈতিক অনিবার্যতার (حتمية) কথা বলা সম্ভব যা মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর ভাগ্যের ওপর তার অমোঘ বিধানের (قضاء) বোঝা চাপিয়ে দেয়। তবে এই বিধানে (قضاء) অধিবিদ্যার (الميتافيزيقا) কোনো ভূমিকা নেই এবং এটি কোনো নিরঙ্কুশ ও চূড়ান্ত বিধান (قضاء) নয়; বরং এটি ইতিহাসের লক্ষণসমূহের মধ্যে একটি আকস্মিক লক্ষণ অথবা এটি ঐ জাতিগুলোর বস্তুগত বিকাশের ক্ষেত্রে একটি স্থবির সময়ের (الزمن الميت) মতো। এটি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সেই ব্যক্তিগত অবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যা পাশ্চাত্য সভ্যতার নির্ধারিত ও আরোপিত অর্থনৈতিক অবস্থার সাথে সাংঘর্ষিক।
এই বৈপরীত্যের সামাজিক প্রভাব সেই মুহূর্ত থেকেই প্রকাশ পেয়েছে যখন মুসলিম ব্যক্তি ঔপনিবেশিক জালে আটকা পড়েছে। ফলে সে আধুনিক অর্থনীতির একজন দাসে পরিণত হওয়া শোষিত প্রতিনিধি (عميل) হয়ে পড়ে, অথচ সে নিজের মাঝে, তার ঐতিহ্যে এবং অভ্যাসে এই সংকট থেকে নিজেকে উদ্ধার করার মতো পর্যাপ্ত উপায় খুঁজে পায়নি। এভাবেই তার জন্য অর্থনৈতিক অনিবার্যতার (حتمية) যুগ শুরু হয়েছিল...
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
العصر الاستعماري. ولم يخلصه تحرره السياسي بصفة عامة من التورط الاقتصادي، فإن المشكلة أولاً ذات طابع نفسي؛ لأن المعنى الاقتصادي لم يظفر في ضمير العالم الإسلامي بالنمو نفسه الذي ظفر به في الغرب، في ضمير الرجل المتحضر وفي حياته.
والحق أن الاقتصاد في الغرب قد صار منذ قرون خلت ركيزة أساسية للحياة الاجتماعية، وقانوناً جوهرياً لتنظيمها.
أما في الشرق فقد ظل على العكس من ذلك في مرحلة الاقتصاد الطبيعي غير المنظم، حتى إن النظرية الوحيدة التي تناولت تأثير العوامل الاقتصادية في التاريخ وهي نظرية ابن خلدون قد ظلت حروفاً ميتة في الثقافة الإسلامية، حتى نهاية القرن الأخير.
فلم يُقبل المجتمع الشرقي تحت تأثير احتياجاته الداخلية، على أن يضع نظرية اقتصادية كما حدث في المجتمع الغربي، حين وضع الرأسمالية أو الشيوعية.
إنه لم يقبل على هذا بسبب ما انطوى عليه من نفسية خاصة منعقدة على (الزهد) كمثل أعلى منذ قرون، وإن فقهاً اقتصادياً يستلهم خطته ومفاهيمه من مثل كهذا ويصدر عنه، لا يمكنه بداهة أن يعبر بالدقة العلمية نفسها عن فكرة (المنفعة) الخاصة بالرأسمالية، أو عن فكرة (الحاجة) الخاصة بالنظرية الماركسية؛ فالزهد والمنفعة والحاجة ثلاث حقائق لا يمكن أن تدخل في اطراد اجتماعي واحد، وفي واقع اقتصادي واحد. فقد كان هناك إذن عنصر تنافر أساسي بين الأوضاع الشخصية الموروثة في البلاد الإسلامية وبين التكوينات الاقتصادية التي وضع أسسها العصر الاستعماري.
وهناك عنصرآخر يتمتع بالطابع النفسي نفسه، ويجب أن نحسب له حسابه في هذا التنافي، ذلك العنصر هو فكرة الزمن التي تعد أساسية جداً في تنظيم
ঔপনিবেশিক যুগ। রাজনৈতিক স্বাধীনতা সাধারণত মুসলিম বিশ্বকে অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থেকে মুক্ত করতে পারেনি; কারণ সমস্যাটি মূলত মনস্তাত্ত্বিক প্রকৃতির; কেননা মুসলিম বিশ্বের মানসপটে অর্থনৈতিক বোধের সেই বিকাশ ঘটেনি যা পাশ্চাত্যে সভ্য মানুষের বিবেক ও জীবনে ঘটেছে।
বাস্তবতা এই যে, কয়েক শতাব্দী আগে থেকেই পাশ্চাত্যে অর্থনীতি সামাজিক জীবনের একটি মৌলিক ভিত্তি এবং তা সুসংগঠিত করার এক অপরিহার্য বিধানে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে প্রাচ্যে তা বিপরীতে এক অসংগঠিত প্রাকৃতিক অর্থনীতির পর্যায়েই রয়ে গেছে। এমনকি ইতিহাসের ওপর অর্থনৈতিক উপাদানসমূহের প্রভাব সংক্রান্ত একমাত্র তত্ত্ব—অর্থাৎ ইবনে খালদুনের তত্ত্ব—গত শতাব্দীর শেষ অবধি ইসলামি সংস্কৃতিতে একটি নিছক মৃত অক্ষর হিসেবেই পড়ে ছিল।
ফলে অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনের তাড়নায় প্রাচ্যের সমাজ কোনো অর্থনৈতিক তত্ত্ব প্রণয়ন করতে প্রবৃত্ত হয়নি, যেমনটি পশ্চিমা সমাজে ঘটেছিল যখন তারা পুঁজিবাদ বা সাম্যবাদ প্রবর্তন করেছিল।
যুগ যুগ ধরে 'সংসারবিরাগ' বা যুহদ-কে উচ্চতর আদর্শ হিসেবে আঁকড়ে ধরার বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার কারণে এটি সম্ভব হয়নি। এমন একটি আদর্শ থেকে অনুপ্রাণিত ও উদ্ভূত কোনো অর্থনৈতিক শাস্ত্র বা ফিকহ স্বাভাবিকভাবেই পুঁজিবাদী 'উপযোগ' কিংবা মার্ক্সবাদী তত্ত্বের 'প্রয়োজন'-এর ধারণাটিকে একই বৈজ্ঞানিক সূক্ষ্মতার সাথে প্রকাশ করতে সক্ষম নয়। কারণ সংসারবিরাগ, উপযোগ এবং প্রয়োজন—এই তিনটি এমন বাস্তবতা যা একই সামাজিক ধারা বা একই অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। ফলে মুসলিম দেশগুলোর উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ব্যক্তিগত প্রবণতা এবং ঔপনিবেশিক যুগে প্রতিষ্ঠিত অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে একটি মৌলিক বিরোধ বিদ্যমান ছিল।
সেখানে একই মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের অন্য একটি উপাদানও রয়েছে, যা এই বৈপরীত্যের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে; আর তা হলো সময়ের ধারণা, যা সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত মৌলিক...
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
العمل في العالم الحديث تبعاً لنظرية تايلور Taylor، فقد سيطرت هذه النظرية على مفاهيم المقدرة الإنتاجية، فساعة (الكرونومتر) التي تستخدم في حساب الثواني تستخدم في الوقت نفسه في تسعير الإنتاج. وليس قولهم (الوقت عملة Times is Money) من قبيل اللعب بالكلمات، بل هو تعبير دقيق عن الواقع المادي في نظر الإنجليز. فجميع ألوان النشاط في المجتمع الصناعي الحديث تنمو في حدود الزمن المادي، وتتقوَّم بساعات عمل؛ أما في البلدان المتخلفة فإنهم لم يجربوا هذه العملة الخاصة إذ تنمو ألوان النشاط والعمل بصورة تقليدية، في حدود الزمن الميتافيزيقي أي في نطاق الأبدية، لأنه لا يهدف إلى تشييد صرح (القوة)، ولا يطبق مبادئها المتنافية مع الأوضاع النفسية، كما نرى ذلك في تاريخ الصين، فقد ظلت الثقافة الصينية الكلاسيكية مثلاً تعلن احتقارها البالغ زمناً طويلاً لقواد الحرب، أولئك (الأدوات) التقليدية (للقوة).
وإذن فلقد كان التنافي بين هذه المباني الموروثة، وبين ألوان العمل المنظم الموقت في المجتمع الحديث، كان هذا التنافي أمراً محتوماً.
وبذا نفهم من أول وهلة كيف تتبدد الأوهام أثناء محاولة بعض البلدان الإسلامية تحقيق استقلالها الاقتصادي بعد أن حققت استقلالها السياسي، فأخذت تستشير لهذه الغاية بعض الخبراء الاقتصاديين، ولم تلبث التجربة أن برهنت لهم على أن (الحالة) في علم الأمراض الاقتصادية ليست كما يحدث في الطب من (اختصاص الدكتور). ولقد رأينا في الواقع الدكتور (شاخت) وهو يعطي مثل هذه الاستشارات، ولقد كان بكل تأكيد خير من يقوم بهذه المهمة لما رشحه به نجاحه في (حالة) سابقة، وهو نجاحه الهائل في تخطيط الاقتصاد الذي تحمل جهداً ضخماً لبلد دخل الحرب العالمية الثانية، دون أن يكون لديه رصيد كبير من الذهب.
لقد تمنوا عموماً أن يكرر الدكتور (شاخت) هذه المعجزة خارج بلاده،
আধুনিক বিশ্বে কর্মপ্রক্রিয়া টেলর (Taylor)-এর তত্ত্ব অনুসরণ করে পরিচালিত হয়; এই তত্ত্বটি মূলত উৎপাদন সক্ষমতার ধারণার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে। সেকেন্ড গণনার জন্য ব্যবহৃত ঘড়ি (ক্রোনোমিটার) একই সাথে উৎপাদনের মূল্য নির্ধারণেও ব্যবহৃত হয়। ইংরেজদের দৃষ্টিতে ‘সময়ই মুদ্রা’ (Time is Money) প্রবাদটি কেবল কোনো শব্দচয়ন নয়, বরং এটি বস্তুগত বাস্তবতার একটি নিখুঁত বহিঃপ্রকাশ। আধুনিক শিল্পোন্নত সমাজের সকল প্রকার কর্মকাণ্ড বস্তুগত সময়ের সীমানায় বিকশিত হয় এবং তা শ্রমঘণ্টার মাধ্যমে মূল্যায়িত হয়। অন্যদিকে অনগ্রসর দেশসমূহে তারা এই বিশেষ মুদ্রার ব্যবহার পরখ করে দেখেনি; সেখানে কর্মকাণ্ড ও শ্রম প্রথাগতভাবে অতিপ্রাকৃতিক সময়ের সীমানায় অর্থাৎ অনন্তকালের ব্যাপ্তিতে বিকশিত হয়। কেননা এর লক্ষ্য ‘শক্তির’ সৌধ নির্মাণ নয় এবং এটি এমন কোনো নীতি প্রয়োগ করে না যা মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার সাথে সাংঘর্ষিক। যেমনটি আমরা চীনের ইতিহাসে দেখতে পাই; উদাহরণস্বরূপ, ধ্রুপদী চীনা সংস্কৃতি দীর্ঘকাল ধরে যুদ্ধবাজ সেনাপতিদের প্রতি চরম ঘৃণা পোষণ করে আসছিল, যারা ছিল ‘শক্তির’ চিরাচরিত হাতিয়ার (উপকরণ)।
অতএব, এই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত কাঠামোগুলো এবং আধুনিক সমাজের সুশৃঙ্খল ও সময়াবদ্ধ কর্মপদ্ধতির মধ্যে যে বৈপরীত্য বিদ্যমান, তা ছিল এক অনিবার্য বিষয়।
এর মাধ্যমেই আমরা প্রথম দৃষ্টিতে বুঝতে পারি কীভাবে মোহভঙ্গ ঘটে যখন কিছু মুসলিম দেশ রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা লাভের চেষ্টা করে এবং এই লক্ষ্যে কিছু অর্থনীতিবিদের পরামর্শ গ্রহণ করতে শুরু করে। শীঘ্রই অভিজ্ঞতা তাদের কাছে প্রমাণ করে দেয় যে, অর্থনৈতিক রোগতত্ত্বের ক্ষেত্রে ‘পরিস্থিতি’ বা ‘অবস্থা’ চিকিৎসার মতো কেবল কোনো ‘ডাক্তারের বিশেষত্ব’ বা বিশেষ কারিগরি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমরা প্রকৃতপক্ষে ডাক্তার (শাখত)-কে এ ধরনের পরামর্শ দিতে দেখেছি। আর এই কাজের জন্য তিনি নিশ্চিতভাবেই যোগ্যতম ব্যক্তি ছিলেন, কারণ পূর্ববর্তী একটি ‘ক্ষেত্রে’ তার অভাবনীয় সাফল্য তাকে মনোনীত করেছিল। আর সেটি ছিল এমন একটি দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় তার বিশাল সাফল্য, যে দেশটি স্বর্ণের বড় কোনো মজুদ ছাড়াই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিশাল ধকল সহ্য করেছিল।
তারা মূলত আশা করেছিল যে ডাক্তার (শাখত) তার নিজের দেশের বাইরে এই অলৌকিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন,
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ولكنهم رأوا أنه لم يستطع تكرارها، وإنما رأينا في مقابل ذلك ما يعد أكثر إفادة في نظرنا، وهو أن المعجزة قد تكررت من تلقاء نفسها، أي بدون مساعدة الدكتور (شاخت) في ألمانيا الغربية كما في ألمانيا الشرقية، دون رصيد كاف من الذهب في كلا البلدين، وأيضاً دون الاعتماد على المصانع التي استمد منها الرايخ الثالث قوته، ثم هدمها المنتصرون في الحرب أو فككوها. واليوم وبعد عشر سنوات من الانهيار التام ينهض الاقتصاد الألماني، ويستعيد مكانه في العالم على جانبي ما سمي (بالستار الحديدي)؛ وعليه فلو كان هناك درس نستفيده من هذا البعث الرائع فلن يكون سوى أن نقول: إن مبدأ اقتصادياً لا يمكن أن يكون له أثره، ومقدرته التامة على التأثير إلا في الظروف التي يتفق فيها مع تجربة اجتماعية معينة.
والواقع أن هذه القدرة لا تصدر عن ظروف اقتصادية محضة، كما ترينا التجربة الألمانية، تلك التي بدأت سيرها من الصفر في الناحية الاقتصادية، منذ عشر سنوات. فإن هناك معادلة شخصية هي التي تهمنا إلى أقصى حد في مضمون هذه المقدرة، ولا شك في أن الدكتور (شاخت) قد أعطى في (استشاراته) الأفرسيوية خير آرائه التي يمكن أن تصدر عن معادلته الشخصية، تلك المعادلة التي شكلتها الظروف النفسية والزمنية للوسط الألماني، هذه الظروف التي تكون مقياساً ضمنياً لا تؤتي معها نصائح الخبير واستشاراته تأثيرها الكامل إذا خرجت عن حدوده؛ وأي فن اجتماعي أو مبدأ اقتصادي لا يمكن أن يكون صادقاً إلا إذا وجد في وضع، لا يتعارض فيه مع عناصر المعادلة الشخصية السائدة في الوسط الذي يراد تطبيقه فيه، ولكي تؤتي النظريات الاقتصادية تأثيرها الاجتماعي يجب ألا يقتصر في دراستها على منصة الجامعة بوصفها علماً وقفاً على بعض المتخصصين، بل يجب أن يطبق هذا العلم على التجارب الجماعية التي يقف فيها وعي كل فرد وإدراكه أمام المشاكل المادية، مقدماً بذلك لعلم المتخصصين ظروف صلاحيته للتأثير.
কিন্তু তাঁরা মনে করেছিলেন যে তিনি এর পুনরাবৃত্তি করতে সক্ষম হননি, বরং আমরা এর বিপরীতে এমন কিছু দেখেছি যা আমাদের দৃষ্টিতে অধিক ফলপ্রসূ বলে মনে হয়। আর তা হলো, এই অলৌকিক ঘটনাটি (معجزة) আপন গতিতেই পুনরাবৃত্তি হয়েছে, অর্থাৎ পশ্চিম জার্মানির মতো পূর্ব জার্মানিতেও ডক্টর শখট-এর কোনো সহায়তা ছাড়াই এটি ঘটেছে; উভয় দেশেই পর্যাপ্ত স্বর্ণের মজুদ ছাড়াই এবং সেই কারখানাগুলোর ওপর নির্ভর না করেই এটি সম্ভব হয়েছে যেখান থেকে ‘তৃতীয় রাইখ’ তার শক্তি আহরণ করেছিল, যা পরবর্তীতে যুদ্ধের বিজয়ীরা ধ্বংস করে দিয়েছিল বা ভেঙে ফেলেছিল। আজ পূর্ণাঙ্গ পতনের দশ বছর পর জার্মান অর্থনীতি পুনরায় জাগ্রত হচ্ছে এবং তথাকথিত ‘লৌহ যবনিকা’র উভয় পার্শ্বে বিশ্বে নিজের অবস্থান পুনরুদ্ধার করছে। অতএব, এই চমৎকার পুনর্জাগরণ থেকে যদি আমাদের কোনো শিক্ষা গ্রহণের থাকে, তবে তা কেবল এটাই যে: কোনো অর্থনৈতিক নীতি ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর হতে পারে না এবং তার পূর্ণ প্রভাব বিস্তার করার সক্ষমতা অর্জন করে না, যতক্ষণ না তা এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় যা একটি নির্দিষ্ট সামাজিক অভিজ্ঞতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়।
বাস্তবতা এই যে, এই সক্ষমতা কেবল বিশুদ্ধ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত হয় না, যেমনটি জার্মানির অভিজ্ঞতা আমাদের দেখায়—যা দশ বছর আগে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শূন্যবিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। মূলত এখানে একটি ‘ব্যক্তিগত সমীকরণ’ বিদ্যমান যা এই সক্ষমতার অন্তর্নিহিত উপাদানের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ডক্টর শখট তাঁর ‘আফ্রো-এশীয় পরামর্শ’ সমূহে তাঁর ব্যক্তিগত সমীকরণ থেকে নিঃসৃত সেরা মতামতই দিয়েছিলেন। সেই সমীকরণটি জার্মান পরিবেশের মনস্তাত্ত্বিক ও কালিক পরিস্থিতির মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল। এই পরিস্থিতিগুলো এমন একটি অন্তর্নিহিত মানদণ্ড তৈরি করে যার বাইরে বিশেষজ্ঞের উপদেশ ও পরামর্শ গেলে তা পূর্ণ প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। যেকোনো সামাজিক শিল্প বা অর্থনৈতিক নীতি ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক (صادق) হতে পারে না যতক্ষণ না তা এমন এক অবস্থায় থাকে যেখানে প্রয়োগের উদ্দিষ্ট পরিবেশে বিদ্যমান ব্যক্তিগত সমীকরণের উপাদানগুলোর সাথে কোনো সংঘাত তৈরি না হয়। অর্থনৈতিক তত্ত্বসমূহের সামাজিক প্রভাব নিশ্চিত করার জন্য সেগুলোর অধ্যয়ন কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে নির্দিষ্ট কিছু বিশেষজ্ঞের জন্য সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়; বরং এই বিজ্ঞানকে এমন সব সামষ্টিক অভিজ্ঞতায় প্রয়োগ করতে হবে যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তির সচেতনতা ও উপলব্ধি জাগতিক সমস্যার মুখোমুখি হয় এবং এভাবেই বিশেষজ্ঞদের বিজ্ঞানের কার্যকারিতার জন্য উপযুক্ত প্রভাব বিস্তারের পরিবেশ তৈরি হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وعملياً يجب أن تسير النظرية الاقتصادية جنباً إلى جنب مع النظرية السياسية، كيما تحيل المبدأ النظري إلى قانون للعمل والنشاط، فتضمه بذلك إلى دوافعه وإلى نسقه وأسلوبه. والطريقة الوحيدة التي يصبح بها المبدأ أو الفكرة جزءاً من التاريخ هي أن يتحول إلى (عمل)، إلى دافع عمل، إلى طاقة عملية، إلى إمكانية عمل. ولقد تكوَّن (علم) الاقتصاد الاشتراكي على يد (ماركس) و (أنجلز). ولكن تأثيره بدأ مع تكوين (الضمير) الاشتراكي منذ ثورة تشرين الأول (أكتوبر) عام 1917، فلقد صب نشاط لينين ومدرسته مبدأ الاقتصاد الاشتراكي في نفسية الشعب الروسي وفي عقليته، وفي حركته أو ديناميكيته. فالاقتصاد الاشتراكي إذن هو ثمرة التوفيق بين (علم) هو العلم الماركسي وبين (ضمير) هو وعي الطبقات. وبدون أن نصدر هنا حكماً مطلقاً، أي حكماً على هذا التوفيق بوصفه قيمة إنسانية وإنما بوصفه حقيقة، فإننا نقرر أنه هو الذي ولّد ما يسمونه (الطفرة الإنتاجية Economie de choc) .
فطريقة (الاستخانوفية Stakhnovisme) التي كانت عنصراً جوهرياً في خلق الواقع الاقتصادي الراهن في الاتحاد السوفييتي، هي قبل كل شيء نتيجة للظروف النفسية الجديدة، ونتيجة للبناء العقلي الجديد.
فأي (مشورة) تهدف إلى وضع نظام اقتصادي أو إصلاح نقائصه، ينبغي إذن من حيث المبدأ- ويصعب عند التطبيق- أن تضع في حسابها العناصر غير الاقتصادية، وبهذا نلتقي مرة أخرى مع أسبقية (عالم الحياة الاجتماعي) على (المهندس الاجتماعي)، عندما نبدأ من الأساس؛ وفي هذا المستوى، أي في بداية أي تجربة اجتماعية لا يكون الأمر فقط أن نحل معادلة اقتصادية، بل أن نكيفها طبقاً لمعادلة شخصية معينة. وأي تجربة تغفل في بدايتها هذه العلاقة الأساسية لا تكون سوى تجربة نظرية مقضي عليها بالفشل. ولو أردنا أن نستخلص من هذا الكلام نتيجة صادقة لبناء اقتصاد إسلامي، فمن الضروري أن
ব্যবহারিকভাবে, অর্থনৈতিক তত্ত্বকে অবশ্যই রাজনৈতিক তত্ত্বের পাশাপাশি চলতে হবে, যাতে এটি তাত্ত্বিক নীতিকে কর্ম ও তৎপরতার বিধানে পরিণত করতে পারে এবং এভাবে একে তার প্রেরণা, বিন্যাস ও পদ্ধতির সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। কোনো নীতি বা আদর্শ ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠার একমাত্র উপায় হলো একে (কর্মে), কর্মের প্রেরণায়, ব্যবহারিক শক্তিতে এবং কর্মের সম্ভাবনায় রূপান্তরিত করা। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির (বিজ্ঞান) মার্কস ও এঙ্গেলসের হাতে গঠিত হয়েছিল। কিন্তু এর প্রভাব শুরু হয় ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লবের পর থেকে সমাজতান্ত্রিক (বিবেকের) গঠনের মাধ্যমে। লেনিন এবং তাঁর অনুসারীদের তৎপরতা সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির নীতিকে রুশ জনগণের মনস্তত্ত্ব, মানসিকতা এবং তাদের গতিশীলতার মধ্যে সঞ্চারিত করেছিল। সুতরাং, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি হলো মার্কসীয় (বিজ্ঞান) এবং শ্রেণি-চেতনারূপী (বিবেক)-এর মধ্যকার সমন্বয়ের ফল। এখানে এই সমন্বয়ের ওপর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (حكم) প্রদান না করেই—অর্থাৎ একে মানবিক মূল্যবোধ হিসেবে বিচার না করে বরং একটি বাস্তবতা হিসেবে বিবেচনা করে—আমরা এটিই নিশ্চিত করছি যে, এটিই তথাকথিত ‘উৎপাদনমুখী উল্লম্ফন’ (Economie de choc) সৃষ্টি করেছে।
(স্টাখানোভিজম/Stakhnovisme) পদ্ধতি, যা সোভিয়েত ইউনিয়নের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরির ক্ষেত্রে একটি মৌলিক উপাদান ছিল, তা মূলত নতুন মনস্তাত্ত্বিক পরিস্থিতি এবং নতুন মানসিক কাঠামোরই ফল।
সুতরাং, কোনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রণয়ন বা তার ত্রুটি সংশোধনের লক্ষ্যে দেওয়া যেকোনো (পরামর্শের) ক্ষেত্রে—যা নীতিগতভাবে প্রয়োজনীয় কিন্তু প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠিন—আবশ্যিকভাবে অ-অর্থনৈতিক উপাদানগুলোকে বিবেচনায় নিতে হবে। এর মাধ্যমেই আমরা ভিত্তি থেকে শুরু করার সময় ‘সামাজিক স্থপতি’-এর ওপর ‘সামাজিক জীবন জগতের’ শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি আবারও উপলব্ধি করি। এই স্তরে, অর্থাৎ যেকোনো সামাজিক অভিজ্ঞতার শুরুতে বিষয়টি কেবল একটি অর্থনৈতিক সমীকরণ সমাধান করা নয়, বরং একে একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিক সমীকরণ অনুযায়ী খাপ খাইয়ে নেওয়া। যেকোনো অভিজ্ঞতা যদি শুরুতে এই মৌলিক সম্পর্কের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে অবহেলা করে, তবে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়া একটি তাত্ত্বিক অভিজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি আমরা এই আলোচনা থেকে একটি ইসলামী অর্থনীতি গঠনের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত (حكم) বা ফলাফল বের করতে চাই, তবে এটি জরুরি যে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
نفكر في الشروط الفنية التي يتطلبها التوفيق بين معادلة إنسانية معينة خاصة بالبلدان المتخلفة، وبين المعادلة الاقتصادية للقرن العشرين. إن الاستعمار لم يحاول تحقيق هذا التوفيق في استثماره للبلدان المستعمَرة، فقد كان العمل استرقاقاً وعبودية يستهدف إثراء المستعمِر أكثر من أن يهدف إلى إعاشة المستعمَر، وبذلك انحطت فكرة (العمل) على يديه أخلاقياً واجتماعياً، فليس العمل وسيلة لكسب العيش، بل هو طريقة لإرضاء مطالب السلطة التي توزع الخبز، علماً بأن (الخبز) الذي يحصلون عليه بهذه الكيفية ليس حقاً، وإنما هو منحة؛ وبذلك هدمت تصرفات الاستعمار الوضع التعارَف عليه؛ ولكنها حين أدخلت الرجل المستعمَر في خضم العصر الاقتصادي لم تترك له أي وسيلة لحل مشاكله، وهكذا انحط الاستعمار برجل التأمل والنظر. وبدلاً من أن يدخله في جهاز نظامه الخاص فيجعل منه الرجل ذا الوعي الاقتصادي Homo économicus إذا به يتخذ منه آلة في هذا الجهاز، أي في الاقتصاد الاستعماري، وبهذا ينتقل الرجل المستعمَر فقط من المرحلة التأملية إلى المرحلة النباتية التي لم تكن له فيها (حاجة)، فأصبحت له حاجات لا يملك أي وسيلة منظمة وعادية لإشباعها.
فلقد نمّى الاستعمار في نفسيته خوف الجوع الذي يظهر في جميع طبقات المجتمع المستعمَر، خلق منه الرجل الجائع دائماً، وخلق منه الرجل الذي يخاف دائماً من الجوع، وهاتان الصورتان من صور الخوف، قد حطمتا عند الكائن المستعمَر كل إمكانية للتكيف مع التكوينات والأوضاع الاقتصادية في القرن العشرين.
ففي إفريقيا الشمالية مثلاً تخشى الطبقة البورجوازية الجوع، ويتجلى خوفها في صورة (بطنة Hypergastrisme) تدل عليها حالة تلك الأسرة الجزائرية التي تستهلك لاستعمالها الخاص مئة كيلو من الزبدة في الشهر (عام 1931). ويتجلى خوف الجوع في الطبقة الكادحة في صورة (مسغبة
আমরা সেই প্রযুক্তিগত শর্তাবলি (شروط) নিয়ে চিন্তা করি যা অনুন্নত দেশগুলোর নির্দিষ্ট মানবিক সমীকরণ এবং বিংশ শতাব্দীর অর্থনৈতিক সমীকরণের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য প্রয়োজনীয়। উপনিবেশবাদ তার উপনিবেশিত দেশগুলোর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেনি; সেখানে শ্রম ছিল দাসত্ব ও গোলামি যা উপনিবেশিতদের জীবনযাত্রার সংস্থানের চেয়ে উপনিবেশ স্থাপনকারীর সমৃদ্ধিকেই বেশি লক্ষ্যবস্তু করেছিল। এর ফলে তার হাতে 'শ্রম' এর ধারণাটি নৈতিক ও সামাজিকভাবে অধঃপতিত হয়েছে। শ্রম এখন আর জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি রুটি বিতরণকারী কর্তৃপক্ষের দাবি মেটানোর একটি পন্থায় পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই পদ্ধতিতে তারা যে 'রুটি' পায় তা কোনো অধিকার নয়, বরং একটি দান মাত্র। এভাবে উপনিবেশবাদের কর্মকাণ্ড প্রচলিত রীতিনীতিকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে; কিন্তু যখন এটি উপনিবেশিত মানুষকে অর্থনৈতিক যুগের আবর্তে নিক্ষেপ করেছে, তখন তার সমস্যা সমাধানের কোনো পথ তার জন্য অবশিষ্ট রাখেনি। এভাবেই উপনিবেশবাদ চিন্তাশীল ও দূরদর্শী মানুষকে অধঃপতিত করেছে। তাকে তার নিজস্ব ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করে একজন সচেতন অর্থনৈতিক মানুষ (হোমো ইকোনমিকাস) হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে, সে তাকে এই ব্যবস্থার অর্থাৎ ঔপনিবেশিক অর্থনীতির একটি যন্ত্রে পরিণত করেছে। এর ফলে উপনিবেশিত মানুষটি কেবল তার চিন্তাশীল পর্যায় থেকে এমন এক জড় বা উদ্ভিদতুল্য পর্যায়ে স্থানান্তরিত হয় যেখানে পূর্বে তার কোনো 'প্রয়োজন' ছিল না, কিন্তু এখন তার এমন সব প্রয়োজন তৈরি হয়েছে যা মেটানোর জন্য তার কাছে কোনো সুসংগঠিত ও স্বাভাবিক মাধ্যম নেই।
উপনিবেশবাদ উপনিবেশিত মানুষের মনস্তত্ত্বে ক্ষুধার ভয় জাগিয়ে তুলেছে যা সমাজের সকল স্তরে পরিলক্ষিত হয়। এটি তাকে এক চিরক্ষুধার্ত মানুষে পরিণত করেছে এবং এমন এক মানুষে রূপান্তরিত করেছে যে সর্বদা ক্ষুধার ভয়ে আতঙ্কিত থাকে। ভয়ের এই দুটি রূপ উপনিবেশিত সত্তার মধ্যে বিংশ শতাব্দীর অর্থনৈতিক কাঠামো ও পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার সকল সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, উত্তর আফ্রিকায় বুর্জোয়া শ্রেণি ক্ষুধাকে ভয় পায় এবং তাদের সেই ভয় 'অতিভোজন' (হাইপারগ্যাস্ট্রিসম) হিসেবে প্রকাশ পায়। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ১৯৩১ সালের আলজেরীয় সেই পরিবারটির ক্ষেত্রে যারা নিজেদের ব্যবহারের জন্য মাসে একশ কেজি মাখন ব্যবহার করত। অন্যদিকে শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যে ক্ষুধার ভয় 'তীব্র দুর্ভিক্ষ' হিসেবে প্রকাশ পায়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
hypogastrisme) ولا سيما عند هؤلاء الآلاف من العمال في إفريقيا الشمالية، الذين يذهبون للعمل في فرنسا، ويموتون نتيجة نقص التغذية، الذي لا يتلاءم مع وسائلهم الجديدة أو مع المناخ والعمل في المصانع.
وهكذا لم يقدّم الاستعمار نظاماً للتلمذة الاقتصادية إلى البلاد المستعمَرة، فلم يعدّل في الواقع التكوينات الشخصية طبقاً للتكوينات الاقتصادية الجديدة، بل إنه فرض في هذه البلاد حكم العبودية الاقتصادية فحسب، ذلك الحكم الذي ترك طابعه البارز على نفسية الطبقات البورجوازية، كما تركه على نفسية الطبقات الكادحة.
فاللجوء إلى (استشارات) المتخصصين في هذه الظروف لإنهاض حالة اقتصادية متعثرة أو منهارة، يجعلها استشارات لا أثر لها لأنها لا تكون سوى طريقة (سحرية) تستمد مبدأها من الثقة التي نخلعها على صاحبها (الدكتور). إن من الواجب أن ننظر إلى المشاكل الاقتصادية في طبيعتها البشرية، وإلا انتهى بنا الأمر إلى نتائج نظرية.
فهناك ظاهرة أثارت دهشة المراقبين وهي أن الدخل قد هبط في بعض البلاد التي تحررت من نير الاستعمار بحوالي 16% إثر تحررها، ومن الممكن بلا شك أن نفسر هذا الهبوط بإرجاعه جزئياً إلى الأوضاع والتكوينات الاقتصادية العالمية؛ وبناء على العوامل السياسية التي تؤثر في مرحلة انتقال مضطربة، فإن للعوامل ذات الطابع الاستراتيجي تأثيراً على السوق العالمية. وبالتالي على الأسواق المحلية وهو تأثير لا يمكن إغفاله هنا، ولكن في هذا الهبوط جزءاً متصلاً بالعوامل النفسية، أي بعناصر المعادلة الإنسانية الخاصة بتلك البلاد، التي تتجلى فيها النزعات المحلية وتأثيرها المعطل، الذي لا يظهر طالما وجدت قواها الإنتاجية تحت سيطرة النظام الاستعماري عوامل منشطة أخرى.
hypogastrisme) বিশেষ করে উত্তর আফ্রিকার সেই হাজার হাজার শ্রমিকের ক্ষেত্রে, যারা ফ্রান্সে কাজ করতে যায় এবং পুষ্টিহীনতার ফলে মৃত্যুবরণ করে; যা তাদের নতুন জীবনযাত্রার উপায় কিংবা আবহাওয়া এবং কারখানার কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এভাবে উপনিবেশবাদ উপনিবেশিত দেশগুলোতে কোনো অর্থনৈতিক শিক্ষানবিশ ব্যবস্থা প্রদান করেনি। প্রকৃতপক্ষে এটি নতুন অর্থনৈতিক কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে ব্যক্তিগত কাঠামোগুলোকে বাস্তবসম্মতভাবে পুনর্গঠন করেনি; বরং এই দেশগুলোতে কেবল অর্থনৈতিক দাসত্বের শাসন চাপিয়ে দিয়েছে। এই শাসনব্যবস্থা বুর্জোয়া শ্রেণির মনস্তত্ত্বে যেমন গভীর ছাপ ফেলেছে, তেমনি শ্রমজীবী শ্রেণির মনস্তত্ত্বেও তার সুস্পষ্ট প্রভাব রেখে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে স্থবির বা ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক অবস্থার পুনরুদ্ধারে বিশেষজ্ঞদের (পরামর্শের) দ্বারস্থ হওয়া সেই পরামর্শগুলোকে নিষ্ফল করে দেয়; কারণ এগুলো কেবল একটি (যাদুকরী) পদ্ধতি ছাড়া আর কিছু নয়, যার ভিত্তি হলো সেই আস্থা (ثقة) যা আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির (ডক্টর) প্রতি অর্পণ করি। অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোকে এর মানবিক প্রকৃতির আলোকে দেখা আমাদের জন্য অপরিহার্য, অন্যথায় আমরা কেবল তাত্ত্বিক ফলাফলেই পর্যবসিত হব।
একটি বিশেষ ঘটনা পর্যবেক্ষকদের বিস্মিত করেছে, তা হলো—উপনিবেশবাদের জোয়াল থেকে মুক্ত হওয়া কিছু দেশে স্বাধীনতার পরপরই আয় প্রায় ১৬% হ্রাস পেয়েছে। নিঃসন্দেহে এই অবনমনকে আংশিকভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও কাঠামোর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব; এবং একটি অস্থির রূপান্তরকালীন পর্যায়কে প্রভাবিতকারী রাজনৈতিক উপাদানগুলোর ভিত্তিতে বলা যায় যে, কৌশলগত চরিত্রের উপাদানগুলোর বিশ্ববাজারের ওপর প্রভাব রয়েছে। ফলশ্রুতিতে স্থানীয় বাজারগুলোর ওপরও এর প্রভাব পড়ে, যা এখানে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তবে এই অবনমনের একটি অংশ মনস্তাত্ত্বিক উপাদানগুলোর সাথে সম্পৃক্ত, অর্থাৎ সেই দেশগুলোর নিজস্ব মানবিক সমীকরণের উপাদানসমূহের সাথে যুক্ত; যেখানে স্থানীয় প্রবণতা এবং তাদের স্থবিরকারী প্রভাবগুলো প্রকাশ পায়। যতক্ষণ তাদের উৎপাদনশীল শক্তিগুলো ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার অধীনে অন্যান্য উদ্দীপক উপাদানের নিয়ন্ত্রণে ছিল, ততক্ষণ এই প্রভাবগুলো দৃশ্যমান হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ولا سيما العمل الإجباري الذي ذاقته إندونيسيا، والذي لا زال يطبق في بعض مناطق إفريقيا الغربية الفرنسية على الرغم من صدور (دستور العمل) الجديد.
وتبرز الأهمية الاقتصادية لهذا التعطيل بصورة جلية إذا ما وضعناها بجانب رقم (2%) وهو الذي يمثل النسبة التقريبية المستثمرة من الدخل في تلك البلاد. فمن الواجب إذن أن نتناول المشكلة الاقتصادية في هذه البلاد من أساسها: أي ابتداء من عناصرها النفسية.
وفي هذا المستوى يكون حلها منحصراً في تكوين (وعي اقتصادي) بكل ما يستتبعه في التكوين الشخصي للفرد وفي عاداته، وفي نسق نشاطه وفي مواقفه أمام المشاكل الاجتماعية.
وفي هذا الميدان أكثر من أي ميدان آخر يدخل الرجل المسلم مرغماً، في عالم حديث تسيطر عليه مقاييس معينة لها القدرة على التأثير، وربما احتجنا أن نخفف من حدة هذه المقاييس التي خلقت في المجتمع الصناعي الإنسان الآلي. ولكن القدرة على التأثير كما لاحظ أحد الصحفيين السويسريين إن لم تكن الهدف الأسمى للإنسانية فإن قدراً معيناً منها ضروري على أية حال، إذ بدونه لا يكون المجتمع منتجاً. حتى من الناحية العقلية
… (1)
فالأمر بالنسبة للفرد، كما هو بالنسبة للمجتمع، يتعلق بأن نحقق أقصى حد ممكن من القدرة التأثيرية؛ ولكن العكس يحدث غالباً في البلدان المتخلفة، التي تقل فيها الوسائل بسبب درجة النمو الاجتماعي، وهي فضلاً عن ذلك معطلة عن الاستعمال بفعل بعض النقائص النفسية، ولقد قدمنا هذا المعنى في مكان آخر (2)، حيث بيّنا في ضوء بحث قمنا به إذ ذاك في مدينة جزائرية صغيرة أن نسبة ميزانية
--------------------------------------------
বিশেষ করে সেই বাধ্যতামূলক শ্রম যা ইন্দোনেশিয়া প্রত্যক্ষ করেছে, এবং যা ফরাসি পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে এখনও প্রয়োগ করা হচ্ছে, যদিও নতুন (শ্রম সংবিধান) জারি করা হয়েছে।
এই স্থবিরতার অর্থনৈতিক গুরুত্ব স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যদি আমরা একে ২% (দুই শতাংশ) সংখ্যার পাশে রাখি, যা ওই দেশগুলোতে আয়ের বিনিয়োগকৃত আনুমানিক হারের প্রতিনিধিত্ব করে। সুতরাং, এই দেশগুলোর অর্থনৈতিক সমস্যাকে এর মূল ভিত্তি থেকে মোকাবিলা করা কর্তব্য: অর্থাৎ এর মনস্তাত্ত্বিক উপাদানগুলো থেকে শুরু করে।
এই স্তরে এর সমাধানটি একটি (অর্থনৈতিক সচেতনতা) গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা ব্যক্তির ব্যক্তিগত গঠন, তার অভ্যাস, তার কর্মতৎপরতার ধারা এবং সামাজিক সমস্যার মোকাবিলায় তার অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে।
অন্য যে কোনো ক্ষেত্রের চেয়ে এই ক্ষেত্রে একজন মুসলিম ব্যক্তি বাধ্য হয়ে একটি আধুনিক বিশ্বে প্রবেশ করে, যেখানে প্রভাব বিস্তারে সক্ষম নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড কর্তৃত্ব করে। সম্ভবত শিল্পায়িত সমাজে 'যান্ত্রিক মানুষ' সৃষ্টিকারী এই মানদণ্ডগুলোর তীব্রতা আমাদের কিছুটা হ্রাস করা প্রয়োজন। তবে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা, যেমনটি একজন সুইস সাংবাদিক লক্ষ্য করেছেন, যদি মানবতার সর্বোচ্চ লক্ষ্য নাও হয়, তবুও যে কোনো উপায়ে এর একটি নির্দিষ্ট মাত্রা অপরিহার্য; কারণ এটি ছাড়া সমাজ উৎপাদনশীল হতে পারে না। এমনকি মানসিক দিক থেকেও
… (১)
সুতরাং ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যেমনটি সমাজের ক্ষেত্রেও, বিষয়টি হলো সম্ভাব্য সর্বোচ্চ মাত্রার প্রভাবশালী সক্ষমতা অর্জন করা; কিন্তু অনুন্নত দেশগুলোতে প্রায়ই এর বিপরীতটি ঘটে, যেখানে সামাজিক উন্নয়নের স্তরের কারণে উপায়-উপকরণ কম থাকে এবং তদুপরি কিছু মনস্তাত্ত্বিক ত্রুটির কারণে সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আমরা এই অর্থটি অন্য স্থানে (২) উপস্থাপন করেছি, যেখানে আমরা আলজেরিয়ার একটি ছোট শহরে আমাদের পরিচালিত একটি গবেষণার আলোকে দেখিয়েছি যে বাজেটের অনুপাত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الضروريات إلى الكماليات والتوافه هي نسبة 5% إلى 95%، وربما أدى البحث مع اختلاف الأرقام إلى النتائج النسبية نفسها سواء في المستوى القومي أو في المستوى الفردي. ففي الحالتين كلتيهما نكون قد جمعنا الآثار السلبية التي ينتجها المعامل نفسه Cofficent، لأنه على علاقة بالمعادلة الشخصية التي تبرز فيها مع عناصر النمو في البلاد التي لم يتكوّن فيها بعد (الوعي الاقتصادي). فليست إذن الوسيلة المادية فحسب هي التي تفتقدها هذه البلاد لصناعة (جورب نقودها) بل إنها تفتقد أيضاً الاستعداد العقلي الذي يبلغها هذه الغاية.
فلكي يحدد الرجل المسلم وجهته الاقتصادية يجب أن يتخلص من المعامل (المقلل) الذي يهبط بمقدرة وسائله التأثيرية. ولن يستطيع الدخول في أي اطراد للنمو الاقتصادي إلا إذا حققنا انتقاله غير المشروط من المرحلة النباتية إلى الوضع الإيجابي الفعال، باعتباره مبدأ، فنوفر له دون شرط كمية الوحدات الحرارية اللازمة لهذا الانتقال، والضمان الأولي لكرامته النفسية، أي أن من الواجب أن نضع المشكلة أولاً في مصطلحات (البقاء). ووضع مشكلة الغذاء في هذا الإطار ينتج لنا مشكلة أخرى، هي مشكلة التوظيف الكامل لموارد تلك البلاد المادية والبشرية، فالمسألتان تندمجان منذ البداية في مشكلة واحدة تعبر عن المشكلة الاقتصادية في المجال الإنساني والأخلاقي (1)، فإن أي نظام اقتصادي إنما توجهه القوى الأخلاقية التي تخلع عليه تفسيراً إنسانياً وغاية تاريخية. فهو في بدايته يحمل طابع اختيار بين (المنفعة) و (الحاجة) وفكرة التوزيع فيه، أعني أن وظيفته الاجتماعية الجوهرية تكتسب تحديدها من هذا الاختيار الأولي.
فالمذهب التجاري أو الاحتكاري القائم على أساس المنفعة، أي الذي يقوم
--------------------------------------------
অপরিহার্যতা থেকে বিলাসিতা ও তুচ্ছ বিষয়ের অনুপাত হলো ৫% থেকে ৯৫%। সংখ্যার ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও গবেষণার ফলাফল জাতীয় বা ব্যক্তিগত—উভয় পর্যায়ে সম্ভবত একই আনুপাতিক রূপ পরিগ্রহ করবে। উভয় ক্ষেত্রেই আমরা সেই একই সহগ (Coefficient) থেকে উৎপন্ন নেতিবাচক প্রভাবগুলোকে একত্রিত করি; কারণ এটি সেই ব্যক্তিগত সমীকরণের সাথে সম্পর্কিত, যা এমন দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির উপাদানগুলোর মধ্যে ফুটে ওঠে যেখানে এখনও (অর্থনৈতিক সচেতনতা) তৈরি হয়নি। সুতরাং এই দেশগুলো তাদের (আর্থিক সঞ্চয়ের আধার) তৈরির জন্য কেবল বস্তুগত উপায়েরই অভাব বোধ করছে না, বরং তারা সেই মানসিক প্রস্তুতিরও অভাব বোধ করছে যা তাদের এই লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।
একজন মুসলিম ব্যক্তির অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের জন্য তাকে সেই (হ্রাসকারী) সহগ থেকে মুক্ত হতে হবে, যা তার প্রভাব বিস্তারকারী উপায়গুলোর সক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। তিনি কোনো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় ততক্ষণ প্রবেশ করতে পারবেন না, যতক্ষণ না আমরা তাকে নীতিগতভাবে স্থবির পর্যায় থেকে সক্রিয় ও ইতিবাচক পর্যায়ে নিঃশর্তভাবে উত্তরণ ঘটাচ্ছি। অর্থাৎ, এই রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরি বা শক্তির জোগান এবং তার মানসিক মর্যাদার প্রাথমিক নিশ্চয়তা আমাদের নিঃশর্তভাবে প্রদান করতে হবে। এর অর্থ হলো, এই সমস্যাটিকে আমাদের প্রথমেই (অস্তিত্ব রক্ষা বা টিকে থাকার) পরিভাষায় সংজ্ঞায়িত করা উচিত। আর খাদ্যের সমস্যাকে এই কাঠামোর মধ্যে স্থাপন করলে আমাদের সামনে অন্য একটি সমস্যা সামনে আসে, তা হলো—সেই দেশগুলোর বস্তুগত ও মানবসম্পদকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর সমস্যা। এই দুটি বিষয় শুরু থেকেই একটি একক সমস্যার সাথে মিশে যায়, যা মানবিক ও নৈতিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সমস্যার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় (১)। কেননা যেকোনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মূলত সেই নৈতিক শক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়, যা তাকে মানবিক ব্যাখ্যা ও ঐতিহাসিক লক্ষ্য প্রদান করে। শুরুতে এটি (উপযোগিতা) এবং (প্রয়োজনীয়তা) এর মধ্যে পছন্দের বৈশিষ্ট্য এবং বন্টনের ধারণা ধারণ করে; অর্থাৎ, এর মৌলিক সামাজিক কার্যাবলি এই প্রাথমিক পছন্দ থেকেই নির্ধারিত হয়।
সুতরাং উপযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক বা একচেটিয়া মতবাদ, অর্থাৎ যা প্রতিষ্ঠিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
توازنه على قانون العرض والطلب يتنافس مع الذهب القائم على فكرة (الحاجة)، أي الذي يتوازن على أساس مبدأ الإنتاج والاستهلاك.
فنظرية اقتصاد قائم على أساس (الحاجة) هي التي تقرر في صورة فرض (الحق) غير المشروط لكل فرد، في أن يحصل على خبزه اليومي، وبالتالي تعد العمل في النهاية (واجباً) يومياً عليه.
وهذا الاتجاه للاقتصاد الذي يسود شيئاً فشيئاً جميع البلاد الإسلامية، يؤيده التطور العالمي الذي يتخذ الاتجاه نفسه شيئاً فشيئاً. بل إن هذا الاتجاه قد بدأ يظهر خاصة في بعض البلدان الغربية، فإذا بالإنتاج والتوزيع اللذين كانا يخضعان حتى عهد قريب لمجرد الاعتبارات التجارية الدائرة حول محور المنفعة، إذا بهما ينجرّان نحو مذهب يدور حول فكرة (الحاجة). ويظهر هذا في فرنسا في صورة محاولات تحمل طابع المشاريع الخيرية، ولكن هذه الصورة أيضاً تترجم لنا عن تطور المفهوم الاقتصادي. ولقد كانت الصناعة الفرنسية في عام 1936 تطبق مناهج (مالتوس Malthus) لكي تتخلص من فائض الإنتاج، واليوم نجدها تحاول أن توزعه عن طريق الدولة، تلك التي توزعه دون مقابل، كما حدث أن بدأت توزع في مطلع كل شتاء كيلو جرامين من السكر على الفقراء (1)، وهم يوزعون خمس ليتر من اللبن يومياً على تلاميذ المدارس الابتدائية.
وتلتزم مناجم الفحم أيضاً بضمان توزيع بالمجان للفحم طبقاً لشروط متفق عليها مع السلطات العامة.
ولا شك في أن للبلدان الإسلامية مصلحة خاصة في أن تأخذ بعين الاعتبار هذا التطور، كما يمكنها أن تطابق بين الطفرة الاقتصادية والطفرة الإنتاجية الضرورية لبعثها في الميدان الاقتصادي.
--------------------------------------------
এর ভারসাম্য যোগান ও চাহিদার নিয়মের ওপর ভিত্তি করে যা (প্রয়োজন) ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত স্বর্ণের সাথে প্রতিযোগিতা করে; অর্থাৎ যা উৎপাদন ও ভোগের নীতির ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
সুতরাং (প্রয়োজন)-এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত একটি অর্থনৈতিক তত্ত্ব হলো সেটি, যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তার প্রতিদিনের অন্ন সংস্থানের বিষয়টি একটি নিঃশর্ত (অধিকার)-এর রূপ দান করে, এবং ফলস্বরূপ কাজকে তার ওপর একটি দৈনিক (কর্তব্য) হিসেবে গণ্য করে।
অর্থনীতির এই ধারাটি যা ধীরে ধীরে সমস্ত মুসলিম দেশে আধিপত্য বিস্তার করছে, তা বৈশ্বিক বিবর্তনের মাধ্যমে সমর্থিত হচ্ছে, যা নিজেও ধীরে ধীরে একই দিক গ্রহণ করছে। বরং এই প্রবণতা বিশেষ করে কিছু পশ্চিমা দেশেও দেখা দিতে শুরু করেছে। ফলস্বরূপ উৎপাদন ও বণ্টন, যা এতদিন কেবল মুনাফাকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক বিবেচনার আবর্তে ছিল, তা এখন (প্রয়োজন)-এর ধারণাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত একটি মতবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ফ্রান্সে এটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ছদ্মবেশে পরিলক্ষিত হয়, তবে এই চিত্রটিও আমাদের সামনে অর্থনৈতিক ধারণার বিবর্তনের বার্তাই বহন করে। ১৯৩৬ সালে ফরাসি শিল্পখাত অতিরিক্ত উৎপাদন থেকে মুক্তি পেতে 'ম্যালথাস' (Malthus)-এর পদ্ধতি প্রয়োগ করত, কিন্তু আজ আমরা দেখছি তারা রাষ্ট্রের মাধ্যমে তা বণ্টন করার চেষ্টা করছে, যা কোনো বিনিময় ছাড়াই বিতরণ করা হয়। যেমনটি প্রতি শীতের শুরুতে দরিদ্রদের মাঝে দুই কেজি করে চিনি বিতরণের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল (১), এবং তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিদিন এক পঞ্চমাংশ লিটার দুধ বিতরণ করে থাকে।
কয়লা খনিগুলোও সরকারি কর্তৃপক্ষের সাথে একমত হওয়া শর্তানুযায়ী বিনামূল্যে কয়লা বিতরণের নিশ্চয়তা দিতে বাধ্য থাকে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বিবর্তনটি বিবেচনায় নেওয়া মুসলিম দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে কল্যাণকর। এর মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের পুনর্জাগরণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক উত্তরণ ও উৎপাদনশীল উত্তরণের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فبصرف النظر عن التخلف الناشئ عن عوامل نفسية في هذا الميدان مما يجب على الشعوب أن تتداركه، فإن عليها أن تتدارك تخلفها الناشئ عن عوامل اقتصادية بحتة، وهو التخلف الناشئ عن اقتصاد ما زال في مرحلته الابتدائية، فلكي يصل تجهيزها إلى المرحلة الثانوية أي مرحلة التصنيع، فليس له ما يعتهد عليه سوى الزراعة من ناحية، والمواد الأولية (الخام) من ناحية أخرى، وهذان هما ثديا الاقتصاد الإسلامي على العموم ووسيلتا بعثه.
وإذا قابلنا من الوجهة الفكرية بين الحالين: على محور واشنطن - موسكو من ناحية، وعلى محور طنجة - جاكرتا من ناحية أخرى، حين نعرف المحور الأول بما نسميه (نفسية القوة)، وحين نعبر عن الآخر بلفظ (البقاء)، يمكن أن نقابل بينهما أيضاً مما له صلة بطبيعة وضعهما الاقتصادي. فمن الناحية الاقتصادية نجد أنفسنا أمام محور الصناعة من جهة، ومحور المواد الأولية من جهة أخرى.
فكل برنامج للتصنيع في البلاد الإسلامية يواجه مشكلة الإنتاج الزراعي من جهة، ومشكلة تسويق المواد الأولية من جهة أخرى. ولقد ورد في أحد الأبحاث الحديثة التي وضعت تحت إشراف الأمم المتحدة، أن مشكلة الجوع في العالم تنتج خاصة من نقص الإنتاج الزراعي في البلاد الاستوائية وما وراء الاستوائية، أي على وجه التحديد في البلاد الإسلامية. وبهذا ندرك أن هذا النقص يؤثر أولاً بصفة لا مباشرة على (مشكلات الأساس أو القاعدة) في هذه البلاد نفسها، وعلى نهوض اقتصادها، وخاصة فيما يتصل بإقحام الرجل المسلم في النشاط الاقتصادي مستهلكاً ومنتجاً.
ومن البديهي أن عملية إقحامه تتطلب أن نعطيه أولاً لقمة الخبز قبل أن نسلمه الفأس والمعول.
এই ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো থেকে উদ্ভূত অনগ্রসরতাকে বাদ দিলেও—যা জাতিগুলোর কাটিয়ে ওঠা উচিত—তাদের অবশ্যই বিশুদ্ধ অর্থনৈতিক কারণগুলো থেকে সৃষ্ট অনগ্রসরতাও কাটিয়ে উঠতে হবে। এটি এমন একটি অনগ্রসরতা যা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা একটি অর্থনীতি থেকে উদ্ভূত। অতএব, এর প্রস্তুতিকে মাধ্যমিক পর্যায় তথা শিল্পায়নের পর্যায়ে উন্নীত করার জন্য একদিকে কৃষি এবং অন্যদিকে কাঁচামাল (প্রাথমিক উপাদান) ব্যতীত নির্ভর করার মতো আর কিছুই নেই। আর এই দুটিই হলো সামগ্রিকভাবে ইসলামি অর্থনীতির মূল ভিত্তি এবং এর পুনর্জাগরণের মাধ্যম।
আমরা যদি বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই দুই অবস্থার মধ্যে তুলনা করি: একদিকে ওয়াশিংটন-মস্কো অক্ষ এবং অন্যদিকে তাঞ্জিয়ার-জাকার্তা অক্ষ; যেখানে আমরা প্রথম অক্ষটিকে 'শক্তির মনস্তত্ত্ব' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করি এবং অন্যটিকে 'অস্তিত্ব রক্ষা' শব্দ দ্বারা প্রকাশ করি, তখন আমরা তাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রকৃতির সাথে সম্পর্কিত বিষয়েও তাদের মধ্যে তুলনা করতে পারি। অর্থনৈতিক দিক থেকে আমরা নিজেদের একদিকে শিল্প-অক্ষ এবং অন্যদিকে কাঁচামাল-অক্ষের মুখোমুখি দেখতে পাই।
সুতরাং, মুসলিম দেশগুলোতে শিল্পায়নের প্রতিটি কর্মসূচি একদিকে কৃষি উৎপাদনের সমস্যা এবং অন্যদিকে কাঁচামাল বিপণনের সমস্যার সম্মুখীন হয়। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি আধুনিক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বে ক্ষুধার সমস্যা প্রধানত গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোতে, অর্থাৎ সুনির্দিষ্টভাবে মুসলিম দেশগুলোতে কৃষি উৎপাদনের ঘাটতি থেকে সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, এই ঘাটতি প্রথমত পরোক্ষভাবে এই দেশগুলোর (মৌলিক বা ভিত্তিগত সমস্যাগুলোর) ওপর এবং তাদের অর্থনীতির উত্থানের ওপর প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে ভোক্তা ও উৎপাদক হিসেবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মুসলিম জনশক্তিকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে।
আর এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, তাকে এই কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার প্রক্রিয়ায় তার হাতে কুঠার ও কোদাল তুলে দেওয়ার আগে প্রথমে তাকে এক লোকমা খাবার দেওয়া প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ومن هنا تظهر المصلحة التي تحققها المحاولات التي قامت بها حديثاً بعض الحكومات، مستهدفة علاج أوجه النقص في الإنتاج الزراعي، الناتج عن استعمال وسائل الزراعة العتيقة من ناحية، وعن طبيعة الملكية العقارية من ناحية أخرى، فالمشكلتان مرتبطتان ببعضهما إلى حد بعيد، واستعمال الوسائل العتيقة مثلاً في إفريقيا الشمالية قد كان يفسره لنا إنشاء الاستعمار للإقطاعيات الضخمة، التي لم تدع للفلاح الوطني أي إمكانية مادية لتعديل طريقته العتيقة. ولكننا نجد الفلاح في مصر ذلك الذي ارتبط بالأرض منذ القدم، نجده حتى ثورة تموز (يوليو) 1952 وليس لديه من الإمكانيات المادية ما يكفيه لتعديل وسائله، وربما إلى الآن.
ومن هنا يأتي تفسير مشروع الإصلاح الزراعي الذي قام به القادة الجدد في مصر، وقد كان من نتائجه المباشرة أنه غيّر حالة الفلاح، ذلك الذي كان يعيش في صورة منبوذ مرتبط بالأرض برباط الاسترقاق، فأصبح عاملاً يربطه بالأرض (وعي اقتصادي) لوضعه بوصفه منتجاً ومستهلكاً؛ وإن هذا الإقحام الاقتصادي ليمس 82% من مجموع الشعب المصري، وهو يعد بهذا، الإجراء الأول في تحويل اقتصاد البلاد، والخطوة الأولى الضرورية في طريق التصنيع؛ وفضلاً عن ذلك فإن نتائجه الاقتصادية الخالصة ستؤكد أهميته من الناحية النفسية والأخلاقية.
وإن انتزاع ملكية 500،000 فدان مشتراة من الملاك الكبار، ومصادرة 175،000 فدان من أملاك العائلة المالكة السابقة، ليعد- إلى جانب كونه إجراء للإصلاح الزراعي، يحول الرقيق إلى فلاح- علية تكوين رأسمال تُحَوّل رأس المال العقاري- بما يحتوي من قوة فعالة- إلى ميدان الاستثمار الصناعي، مغيرة بذلك الأوضاع الاقتصادية في البلاد ومحتمة وجهتها الصناعية. وفي حدود التفاصيل الخاصة بكل بلد تعد البلدان الإسلامية في هذه المرحلة من مراحل
এখান থেকেই সেই উপযোগিতা প্রতীয়মান হয় যা সাম্প্রতিককালে কিছু সরকারের গৃহীত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। এই প্রচেষ্টাগুলো একদিকে যেমন প্রাচীন কৃষি পদ্ধতির ব্যবহারের ফলে এবং অন্যদিকে ভূ-সম্পত্তির মালিকানার প্রকৃতির কারণে কৃষি উৎপাদনে সৃষ্ট ঘাটতিগুলো দূর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। মূলত এই সমস্যা দুটি একে অপরের সাথে বহুলাংশে জড়িত। উদাহরণস্বরূপ, উত্তর আফ্রিকায় প্রাচীন পদ্ধতির ব্যবহারকে উপনিবেশবাদ কর্তৃক বিশাল সামন্ততান্ত্রিক ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থার পত্তন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়, যা স্থানীয় কৃষকদের তাদের সেকেলে পদ্ধতি পরিবর্তনের কোনো রূপ আর্থিক সামর্থ্য অবশিষ্ট রাখেনি। তবে আমরা মিশরের কৃষকদের ক্ষেত্রে দেখি—যারা প্রাচীনকাল থেকেই ভূমির সাথে আবদ্ধ ছিল—১৯৫২ সালের জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত তাদের এমন কোনো আর্থিক সক্ষমতা ছিল না যা তাদের কৃষি পদ্ধতির আধুনিকায়নের জন্য যথেষ্ট হতো এবং সম্ভবত এই অবস্থা বর্তমান সময় পর্যন্ত বিদ্যমান।
এখান থেকেই মিশরের নতুন নেতৃবৃন্দের দ্বারা পরিচালিত ভূমি সংস্কার প্রকল্পের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এর একটি প্রত্যক্ষ ফলাফল এই ছিল যে, এটি কৃষকের অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছে; যে কৃষক পূর্বে দাসত্বের বন্ধনে ভূমির সাথে আবদ্ধ থেকে একপ্রকার সমাজচ্যুত ব্যক্তির মতো জীবন যাপন করত, সে এখন এমন এক শ্রমিকে পরিণত হয়েছে যার ভূমির সাথে সম্পর্ক একটি ‘অর্থনৈতিক সচেতনতার’ ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে—যেখানে সে নিজেকে একজন উৎপাদক এবং ভোক্তা হিসেবে দেখতে পায়। এই অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি মিশরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮২ শতাংশ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। একে দেশের অর্থনীতি পরিবর্তনের প্রথম পদক্ষেপ এবং শিল্পায়নের পথে একটি অপরিহার্য প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অধিকন্তু, এর বিশুদ্ধ অর্থনৈতিক ফলাফলগুলো মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এর গুরুত্বকে সুনিশ্চিত করবে।
বড় ভূস্বামীদের কাছ থেকে ক্রয়কৃত ৫,০০,০০০ ফেদান জমির মালিকানা উচ্ছেদ এবং সাবেক রাজপরিবারের সম্পত্তি থেকে ১,৭৫,০০০ ফেদান জমি বাজেয়াপ্তকরণ—ভূমি সংস্কারের একটি পদক্ষেপ হওয়ার পাশাপাশি (যা একজন দাসকে কৃষকে রূপান্তরিত করে)—একটি মূলধন গঠন প্রক্রিয়া হিসেবেও গণ্য হয়। এটি স্থাবর সম্পত্তির মূলধনকে—তার কার্যকর শক্তিসহ—শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানান্তরিত করে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং শিল্পায়নের অভিমুখ সুনির্ধারিত হয়। প্রতিটি দেশের স্বতন্ত্র খুঁটিনাটির নিরিখে, মুসলিম দেশগুলো বর্তমানে এই উন্নয়নের যে পর্যায়ের ধাপসমূহের মধ্যে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
التطور الاقتصادي التي اجتازتها نهائياً البلدان الغربية، حين دخلت العصر الصناعي منذ قرن من الزمان. ولكن ظروف هذا التطور قد تغيرت منذ قرن تحت تأثير بعض العوامل النفسية والصناعية. فلقد تحقق اقتصاد القرن التاسع عشر في الغرب في المستوى القومي، ولقد فات أوان هذا المستوى الآن، أو على الأقل هو في طريقه إلى الزوال. فالاقتصاد يتطور شيئاً فشيئاً نحو صورة (الاتحاد الاقتصادي)، وما (البول Pool) وهو الاتحاد الذي يتشكل من أكثر من قومية، و (الاتحاد الصناعي Combinat) إلا معالم جوهرية لهذا التطور نحو اقتصاد جماعي، يوحد الحاجات والوسائل في عدة بلاد.
ولقد أعطتنا الصين والاتحاد السوفييتي مثالاً فذاً في هذا الميدان، حين بدأتا في دراسة مشروع مشترك وهو يتصل بإنشاء (امبراطورية زراعية Empire agricole) مشتركة في مقاطعة (كازاخستان) السوفييتية ومقاطعة (سنكيانج) الصينية، يقوم الإنتاج فيها على القمح الروسي والقطن الصيني، ويستغلان أساساً لتدعيم اتحاد صناعي تشكل على أساسه وحدة اقتصادية مهمة في العالم الشيوعي (1). وبديهي أن مصلحة البلدان الإسلامية هي في أن تضع نصب أعينها عند أي تخطيط لاقتصادها هذا التطور، سواء لخلق أوضاع اقتصادية متكاملة، كالاتحاد الصيني الروسي الذي تحدثنا عنه، أم لتمويل مشروع ذي مصلحة عامة كخزان أسوان، إذا لم ننظر إليه من وجهة الاقتصاد المصري فحسب، فإن من الممكن أن يفيد هذا المشروع المملكة العربية السعودية من الناحية الزراعية؛ لأن هذا البلد لا يمكنه أن يقيم في أرضه الصحراوية وسائل الإنتاج الزراعي التي يحتاج إليها.
ومن الممكن أن يتكفل اتفاق ثلاثي بين السعودية ومصر والسودان، بِرِيّ
--------------------------------------------
অর্থনৈতিক উন্নয়ন যা পশ্চিমা দেশগুলো এক শতাব্দী আগে শিল্প যুগে প্রবেশের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে অতিক্রম করেছে। কিন্তু কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও শিল্পগত উপাদানের প্রভাবে এক শতাব্দী ধরে এই উন্নয়নের প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বে ঊনবিংশ শতাব্দীর অর্থনীতি জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়েছিল, এবং বর্তমানে সেই পর্যায়ের সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, অথবা অন্তত তা বিলুপ্তির পথে। সুতরাং অর্থনীতি ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক ইউনিয়ন (الاتحاد الاقتصادي)-এর রূপ ধারণ করছে। আর 'পুল' (Pool)—যা একাধিক জাতীয়তার সমন্বয়ে গঠিত একটি ইউনিয়ন—এবং শিল্প ইউনিয়ন (الاتحاد الصناعي) (Combinat) হলো মূলত একটি সামষ্টিক অর্থনীতির দিকে এই উন্নয়নের মৌলিক বৈশিষ্ট্য, যা বিভিন্ন দেশের চাহিদা ও উপায়-উপকরণকে ঐক্যবদ্ধ করে।
চীন এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন এ ক্ষেত্রে একটি অনন্য উদাহরণ পেশ করেছে, যখন তারা সোভিয়েত ইউনিয়নের 'কাজাখস্তান' প্রদেশ এবং চীনের 'সিনচিয়াং' প্রদেশে একটি যৌথ কৃষি সাম্রাজ্য (امبراطورية زراعية) (Empire agricole) প্রতিষ্ঠার লক্ষে একটি সমন্বিত প্রকল্প পর্যালোচনা করতে শুরু করে। সেখানে উৎপাদন রুশ গম ও চীনা তুলার ওপর নির্ভরশীল এবং সেগুলো মূলত একটি শিল্প ইউনিয়নকে শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হয়, যার ভিত্তিতে কমিউনিস্ট বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ইউনিট গঠিত হয়েছিল (১)। এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, মুসলিম দেশগুলোর স্বার্থ নিহিত রয়েছে তাদের অর্থনীতির যেকোনো পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই উন্নয়নকে গুরুত্ব সহকারে দেখার মধ্যে; চাই তা আমাদের আলোচিত চীন-রুশ ইউনিয়নের মতো একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য হোক, অথবা আসওয়ান বাঁধের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য হোক। আমরা যদি বিষয়টিকে কেবল মিশরের অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখি, তবে এই প্রকল্পটি কৃষিগতভাবে সৌদি আরবকেও উপকৃত করতে পারে; কারণ দেশটি তার মরুভূমিতে প্রয়োজনীয় কৃষি উৎপাদনের মাধ্যমগুলো গড়ে তুলতে সক্ষম নয়।
সৌদি আরব, মিশর এবং সুদানের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সেচ কাজের (بِرِيّ)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وإخصاب منخفض (القطارة) الممتد من غرب الاسكندرية إلى حدود ليبيا لمصلحة الدول الثلاث، وذلك خارج نطاق الري المصري.
وعلى كل، فإن فكرة الاقتصاد الموحد تنمو وتزدهر شيئاً فشيئاً في العالم، وهي التي ألهمت في المجال الأفرسيوي واضعي مشروع (كولومبو) (1)، فعلى الرغم من أنه وضع بوصفه ملحقاً اقتصادياً لنظرية الحد من التسرب الشيوعي Containment، ويهدف فضلاً عن ذلك إلى القيام بتحسينات زراعية، فإن هذا المشروع يعد من وجهة خاصة مثلاً مفيداً على التعاون الاقتصادي الإقليمي، والمعروف أن ميزانيته كانت تشكل على خمسة مليارات من الدولارات تدفع 60% منها الدول الخمس عشرة الأعضاء، والباقي وقدره 40% يدفعه البنك الدولي للإنشاء والتعمير. فنظرية الاقتصاد الموحد تقدم إذن أمثلة عملية في صورتين مختلفتين، صورة خاصة بالعالم الشيوعي مثل الاتحاد الصيني السوفييتي الذي ذكرناه آنفاً، وصورة أخرى خاصة بالعالم غير الشيوعي كمشروع كولومبو. وأكثر من ذلك فإن هذه النظرية التي تجد فيما ذكرنا تبريراً عملياً، يمكن أن نجد منها الآن أسسها النظرية في بعض الأبحاث الأخيرة عن اقتصاد البلدان المتخلفة، وبخاصة تلك الأبحاث التي قام بها في فرنسا (معهد علم الاقتصاد التطبيقي I.S.E.A) وهي تعد في هذا الباب نوعاً من التحديد للموضوع، يحلل أصحابها- عن قصد وبصفة منهجية- عوامل نمو البلدان المتخلفة، ولقد استطاعوا أن يبينوا أن من بين الظواهر المعوقة لهذا النمو (إبقاء الاقتصاد في نطاق قومي محدود) فالقومية الاقتصادية كالقومية السياسية، فات أوانها بتأثير الحقائق الراهنة. لأن الاقتصاد يتطور نحو الاشتراكية (2) القومية في الداخل والاشتراكية الدولية في
--------------------------------------------
পশ্চিম আলেকজান্দ্রিয়া থেকে লিবিয়া সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত (কাত্তারা) নিম্নভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি তিনটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর হবে, যা মিশরের সেচ ব্যবস্থার বহির্ভূত।
যাই হোক, সমন্বিত অর্থনীতির ধারণাটি বিশ্বে ক্রমান্বয়ে বিকশিত ও সমৃদ্ধ হচ্ছে। এটিই আফ্রিকা-এশীয় পরিমণ্ডলে (কলম্বো) (1) প্রকল্পের প্রণেতাদের অনুপ্রাণিত করেছিল। যদিও এটি সাম্যবাদ প্রতিরোধের (Containment) তত্ত্বের একটি অর্থনৈতিক পরিশিষ্ট হিসেবে প্রণীত হয়েছিল এবং এর লক্ষ্য ছিল কৃষি উন্নয়ন সাধন করা, তবুও এই প্রকল্পটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি বিশেষ কার্যকর উদাহরণ হিসেবে গণ্য হয়। এটি সর্বজনবিদিত যে, এর বাজেট ছিল পাঁচ বিলিয়ন ডলার, যার ৬০% সদস্য পনেরটি রাষ্ট্র প্রদান করত এবং অবশিষ্ট ৪০% পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক ব্যাংক (বিশ্বব্যাংক) প্রদান করত। সুতরাং, সমন্বিত অর্থনীতির তত্ত্বটি দুটি ভিন্ন রূপে বাস্তব উদাহরণ উপস্থাপন করে; একটি সাম্যবাদী বিশ্বের সাথে সংশ্লিষ্ট যেমনটি আমরা পূর্বে চীন-সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি, এবং অপরটি অ-সাম্যবাদী বিশ্বের সাথে সংশ্লিষ্ট যেমন কলম্বো প্রকল্প। তদুপরি, আমরা যা উল্লেখ করেছি তাতে যে তত্ত্বটির বাস্তব যৌক্তিকতা পাওয়া যায়, বর্তমানে অনুন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি বিষয়ক সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় তার তাত্ত্বিক ভিত্তি খুঁজে পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে ফ্রান্সে (ইনস্টিটিউট অফ অ্যাপ্লাইড ইকোনমিক্স I.S.E.A) কর্তৃক পরিচালিত গবেষণাগুলো এই ক্ষেত্রে বিষয়বস্তুর এক প্রকার সংজ্ঞায়ন হিসেবে বিবেচিত। এর গবেষকগণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এবং পদ্ধতিগতভাবে অনুন্নত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির নিয়ামকসমূহ বিশ্লেষণ করেছেন। তারা এটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে, এই প্রবৃদ্ধির পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারী অন্যতম বিষয় হলো (অর্থনীতিকে একটি সীমিত জাতীয় গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখা)। কারণ অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের মতোই বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে সেকেলে হয়ে পড়েছে। কেননা অর্থনীতি অভ্যন্তরীণভাবে জাতীয় সমাজতন্ত্র (2) এবং আন্তর্জাতিকভাবে আন্তর্জাতিক সমাজতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الخارج، وفضلاً عن ذلك، فإن هاتين المشكلتين تحتفظان باستقلال كلي إزاء السياسة، وأياً ما كانت الحلول التي نرى صلاحيتها لهما، فإن هذه الحلول لا تستتبع بالضرورة أي اتجاه مذهي.
ولسنا نستطيع أن نقوم بفصل قاطع خير من هذا بين الاقتصاد والسياسة، لنحتفظ في الوقت نفسه بحرية الاختيار بين الاتجاهات العالمية، فإن الحجج المذهبية لا تدعم فناً اجماعياً أو صناعياً، ولا تحط من قيمته، إذ الفن يعتمد على قيمته الذاتية، وعلى مقدرته على التأثير في ظروف معينة.
فاشتراكية وسائل الإنتاج لا ترجع إلى أي مبدأ مذهبي، بل إلى ضرورة تحددها ظروف خاصة بالوسط، وبإمكانياته الحالية. وفي هذه الظروف يستطيع الاقتصاد الإسلامي والاقتصاد الأفرسيوي عامة في ميدان التطبيق أن يستلهم سياسة مخططة من نظام المزارع الحماعية Système Kholkhozien توفر له القدرة على التأثير. كذلك لا يمكننا في الميدان النظري أن نغض النظر عن أفكار المهندس الزراعي (تيرانس مالتسيف Térence Maltsev)، الذي تخصص في استغلال الأراضي القاحلة أو نصف القاحلة، تلك الصفة التي تنطبق على مساحات شاسعة من الرقعة الإسلامية وتنطبق على كل حال على أراضي الشمال الإفريقي. لأن عجز الإنتاج الزراعي في هذه المنطقة لا ينتج في الواقع عن استعمال الوسائل العتيقة أو عن التنظيم الزراعي فحسب؛ بل إنه ينتج أحياناً عن الظروف الطبيعية القاسية. وقد لا يكون العلم قد توصل حتى الآن إلى التحكم في هذه الظروف لكي يفرض بطريقة علمية توجيه الأراضي في الزراعة، ولكن البلاد القاحلة- وأغلب البلاد الإسلامية في هذه الحالة- تستفيد كثيراً من متابعة نمو الأفكار التي أبدعها (تيرانس مالتسيف).
وعلى كل، فإن ما تتصف به هذه المشاكل من التسلط على الاقتصاد الإسلامي لا يفتأ يزداد مع ضغط زيادة السكان من ناحية، ومع ضرورات
বাইরে, এবং তদুপরি, এই সমস্যা দুটি রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রতা বজায় রাখে। এদের সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা যে পথই উপযুক্ত মনে করি না কেন, তা আবশ্যিকভাবে কোনো বিশেষ মতাদর্শিক (مذهبي) অভিমুখের অনুগামী হয় না।
অর্থনীতি ও রাজনীতির মাঝে এর চেয়ে বড় কোনো চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, যাতে একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রবণতাগুলোর মধ্য থেকে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা অটুট থাকে। কেননা তাত্ত্বিক বা মতাদর্শিক (مذهبية) যুক্তিগুলো কোনো সামাজিক (إجماعي) বা শিল্পগত কৌশলকে সমর্থন যোগায় না, আবার তার গুরুত্বও হ্রাস করে না; কারণ যে কোনো কৌশল বা পদ্ধতি তার স্বকীয় মূল্য এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল।
সুতরাং উৎপাদন উপকরণের সামাজিকীকরণ কোনো মতাদর্শিক (مذهبي) মূলনীতির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি পরিবেশের বিশেষ পরিস্থিতি এবং বর্তমান সক্ষমতা দ্বারা নির্ধারিত একটি প্রয়োজনীয়তা। এই পরিস্থিতিতে ইসলামি অর্থনীতি এবং সাধারণভাবে আফ্রো-এশীয় অর্থনীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে 'খোলখোজিয়ান সিস্টেম' (Système Kholkhozien) বা যৌথ খামার ব্যবস্থা থেকে একটি পরিকল্পিত নীতি গ্রহণ করতে পারে, যা তাকে প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা প্রদান করবে। তেমনিভাবে, তাত্ত্বিক ময়দানে আমরা কৃষি প্রকৌশলী টেরেন্স মালতসেভ (Térence Maltsev)-এর চিন্তাধারাকে উপেক্ষা করতে পারি না, যিনি অনাবাদী বা আধা-অনাবাদী জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষত্ব অর্জন করেছিলেন। এই বৈশিষ্ট্যটি মুসলিম বিশ্বের এক বিশাল ভূখণ্ডের ওপর প্রযোজ্য এবং বিশেষভাবে উত্তর আফ্রিকার ভূমির ক্ষেত্রে এটি সত্য। কারণ এই অঞ্চলে কৃষি উৎপাদনের ঘাটতি মূলত প্রাচীন পদ্ধতির ব্যবহার কিংবা নিছক কৃষি ব্যবস্থাপনার ত্রুটি থেকে উদ্ভূত নয়; বরং এটি অনেক সময় রূঢ় প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারণে ঘটে থাকে। বিজ্ঞান হয়তো এখনও এই পরিস্থিতিগুলোকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়নি যাতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষিজমির দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা যায়, তবে অনাবাদী দেশগুলো—যাদের কাতারে অধিকাংশ মুসলিম দেশ শামিল—টেরেন্স মালতসেভ উদ্ভাবিত চিন্তাধারার ক্রমবিকাশ পর্যবেক্ষণ করে প্রভূত উপকৃত হতে পারে।
যাই হোক, ইসলামি অর্থনীতির ওপর এই সমস্যাগুলোর যে আধিপত্য, তা একদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ এবং অন্যদিকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তার তাগিদে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الاستثمار من ناحية أخرى، مادام الانتقال إلى المرحلة الصناعية لا يمكن أن يتم دون فائض في الإنتاج الزراعي؛ والمفروض أن هذا الانتقال سيحدث مع تطبيق الاشتراكية على وسائل الإنتاج، ولكننا نصادف هنا المشكلة الثانية في الاقتصاد الإسلامي، وهي مشكلة المواد الأولية؛ وكما حدث في الأولى، يحدث في هذه المشكلة، فتتراكب العناصر الاقتصادية المحضة فوق العناصر النفسية، التي لا نحتاج أن نعود هنا إلى الحديث عنها. ويبقى علينا أن ننظر إلى زيادة الإنتاج الزراعي الذي يشمل بقدر كبير جميع برامج التجهيز الصناعي، من الزاوية الاقتصادية المحضة.
ومن هذه الزاوية تواجهنا مشكلة تسويق المواد الأولية، فالبلاد الإسلامية مضطرة في الظروف التي توجد فيها الآن إلى أن تصدر المواد الخام، تلك التي لا تملك وسائل تغييرها وتصنيعها في بلادها؛ ومن هنا تكون مرحلة جديدة في مواجهة هذه البلاد لمحور واشنطن - موسكو، هنالك حيث تقوم صناعات التحويل والتغيير، وتلك هي المواجهة الاقتصادية التي تظهر نتائجها بصورة طبيعية في الميزان التجاري لتلك البلاد، وخاصة في الخسارة التي بلغت 16% في دخلها الكلي خلال السنوات التي أعقبت تحررها.
ونحن نصادف مرة أخرى هنا مشكلة (الوعي الاقتصادي) والتخصص الفني، أعني مشكلة توجيه الثقافة وتكوين الإطار الاجتماعي. ولكن بصرف النظر عن هذه العناصر الداخلية التي يجب أن نضيف إليها نتائج الأحداث الثورية التي أدت إلى التحرر، مع تفاوت في درجتها الثورية، فإن الخسارة تنتج أيضاً بقدر ما عن ظروف السوق الدولية. وبالنسبة لهذا الجزء من المشكلة تواجهنا مشكلة تسويق المواد الأولية، وهي تواجهنا أولاً بمنطق الأسواق المالية، بكل ما يحمل هذا المنطق من اصطناع ومكيافيلية وتزييف. وبدهي أن تسعير السوق المالية يبدأ من علاقة (المادة الأولية بالعملة) تلك العلاقة التي يحددها
অন্যদিকে বিনিয়োগের বিষয়টি হলো, যতক্ষণ পর্যন্ত কৃষি উৎপাদনে উদ্বৃত্ত অর্জিত না হচ্ছে, ততক্ষণ শিল্প পর্যায়ে উত্তরণ সম্ভব নয়; আর ধারণা করা হয় যে, উৎপাদনের উপকরণের ওপর সমাজতন্ত্র প্রয়োগের মাধ্যমে এই উত্তরণ ঘটবে। কিন্তু এখানে আমরা ইসলামী অর্থনীতির দ্বিতীয় সমস্যার সম্মুখীন হই, আর তা হলো কাঁচামাল সংক্রান্ত সমস্যা; প্রথম সমস্যার মতো এখানেও বিশুদ্ধ অর্থনৈতিক উপাদানগুলো মনস্তাত্ত্বিক উপাদানগুলোর ওপর স্থান পায়, যার আলোচনা এখানে পুনরায় করার প্রয়োজন নেই। এখন আমাদের কেবল বিশুদ্ধ অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে, যা অনেকাংশে শিল্প প্রস্তুতির সকল কর্মসূচীকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা কাঁচামাল বাজারজাতকরণের সমস্যার সম্মুখীন হই; মুসলিম দেশগুলো বর্তমান পরিস্থিতিতে কাঁচামাল রপ্তানি করতে বাধ্য হচ্ছে, কারণ তাদের নিজ দেশে সেগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ বা শিল্পায়নের উপায় নেই। এখান থেকেই ওয়াশিংটন-মস্কো অক্ষশক্তির মোকাবিলায় এই দেশগুলোর জন্য এক নতুন পর্যায়ের সূচনা হয়, যেখানে রূপান্তর ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে ওঠে। এটিই হলো সেই অর্থনৈতিক মোকাবিলা যার ফলাফল স্বাভাবিকভাবেই এই দেশগুলোর বাণিজ্যিক ভারসাম্যে প্রকাশ পায়, বিশেষ করে তাদের স্বাধীনতার পরবর্তী বছরগুলোতে মোট আয়ের ১৬ শতাংশ ক্ষতির মাধ্যমে।
আমরা এখানে পুনরায় (অর্থনৈতিক সচেতনতা) এবং কারিগরি বিশেষায়নের সমস্যার সম্মুখীন হই, অর্থাৎ সংস্কৃতির দিকনির্দেশনা এবং সামাজিক কাঠামো গঠনের সমস্যা। তবে এই অভ্যন্তরীণ উপাদানগুলো বাদেও—যার সাথে স্বাধীনতার দিকে ধাবিত বিপ্লবী ঘটনাবলির ফলাফল (বিপ্লবের মাত্রার ভিন্নতা সত্ত্বেও) যুক্ত করা আবশ্যক—ক্ষতিটি আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কারণেও অনেকাংশে ঘটে থাকে। সমস্যার এই অংশটির ক্ষেত্রে আমাদের সামনে কাঁচামাল বাজারজাতকরণের সমস্যাটি চলে আসে; যা মূলত আর্থিক বাজারের যুক্তির নিরিখে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হয়, যেখানে কৃত্রিমতা, মেকিয়াভেলিইজম এবং জালিয়াতির সংমিশ্রণ থাকে। এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, আর্থিক বাজারের মূল্য নির্ধারণ শুরু হয় (মুদ্রার সাথে কাঁচামালের সম্পর্ক) থেকে, যে সম্পর্কটি নির্ধারিত হয়...
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
سر هذه السوق ولكن السعر لا تحدده العناصر الاقتصادية الخاضعة لقانون العرض والطلب فحسب، بل إنه يتحدد أيضاً بعناصر غير اقتصادية تفصح عن اعتبارات مالية وسياسية واستراتيجية، أعني: الإرادة الخاصة لأحد الأطراف وهو مَن في حوزته العملة، وهذا ينطبق انطباقاً تاماً على البترول مثلاً، فإن هذه العناصر الأخيرة المذكورة هي التي تحدد وحدها أسعاره، دون أن يكون للبلاد المنتجة للمادة حق إبداء رأيها، فإذا انتقلنا عملياً إلى السوق الدولية، وجدنا الأمر قريباً من هذا. إذ تتحدد العلاقة بين المادة الأولية والعملة عملياً من طرف واحد: هو الاحتكار Trusts الذي يحدد الأسعار بنسب تناسبه. وهكذا تخضع سوق المادة الأولية- دون مقابل- لسوق المال ولإرادة رأس المال. وإنه من طبيعة هذا الوضع أن نرى في تلك الإرادة، المقدرة بالدولارات والاسترليني، الفلسفة التي كانت تقود منذ عهد قريب الاستغلال الاستعماري، فهي تحاول اليوم لأسباب مالية واستراتيجية إبقاء (منطقة رهو) في البلاد المنتجة للمادة الأولية، تتفق مع التيارات التجارية ومع التيارات السياسية العالمية أي مع مصالح البلاد ذات الطاقة الاقتصادية العالمية: وتسعير القطن المصري، والكاوتشوك والتوابل في إندونيسيا، والأرز في بورما، إنما يتحدد طبقاً لمقتضيات هذه التيارات، وفي خضم هذه الظروف التي تموج بها السوق العالمية تواجهنا مشكلة تسويق المادة الأولية. والضرر الذي يصاب به الاقتصاد الراهن القائم على أساس النقد إنما يأتي من أن العلاقة بين المادة الأولية والعملة إنما تحددها العملة نفسها.
فمثلاً ليس هناك أي سبب ظاهر لأن يكون سعر (الحلفا) الجزائرية - وهي مادة أولية- أقل ثلاثين أو أربعين مرة من سعر منتجاتها- عجينة السليلوز والورق- المصنوعة في إنجلترا، ليس هناك سوى سبب واحد يتصل بالعلاقة بين الحلفا والجنيه الاسترليني، وذلك هو فائدة الصناعة الإنجليزية والعامل الإنجليزي. وهكذا تكبد ساعة العمل التي يؤديها العامل الإنجليزي
এই বাজারের রহস্য হলো যে, মূল্য কেবল জোগান ও চাহিদার আইনের অধীনস্থ অর্থনৈতিক উপাদানগুলোর মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় না, বরং এটি এমন কিছু অনার্থিক উপাদানের মাধ্যমেও নির্ধারিত হয় যা আর্থিক, রাজনৈতিক এবং কৌশলগত বিবেচনার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। আমি বলতে চাচ্ছি: কোনো এক পক্ষের বিশেষ ইচ্ছা, যার অধিকারে মুদ্রা রয়েছে। এটি উদাহরণস্বরূপ পেট্রোলের ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য। কারণ উল্লেখিত এই শেষোক্ত উপাদানগুলোই এককভাবে এর দাম নির্ধারণ করে, যেখানে কাঁচামাল উৎপাদনকারী দেশগুলোর নিজস্ব মতামত প্রদানের কোনো অধিকার থাকে না। আমরা যদি বাস্তবিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে দেখব যে বিষয়টি এর কাছাকাছি। কেননা কাঁচামাল এবং মুদ্রার মধ্যকার সম্পর্ক কার্যত একতরফাভাবে নির্ধারিত হয়: আর তা হলো একচেটিয়া আধিপত্য (Trusts), যা তার নিজের সুবিধামতো অনুপাতে মূল্য নির্ধারণ করে। আর এভাবেই কাঁচামালের বাজার—কোনো বিনিময় ছাড়াই—অর্থবাজার এবং পুঁজির মর্জির অধীনস্থ হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতির প্রকৃতিই এমন যে, আমরা ডলার এবং স্টার্লিংয়ের মাধ্যমে পরিমাপকৃত সেই মর্জির মাঝে এমন এক দর্শন খুঁজে পাই যা নিকট অতীত পর্যন্ত ঔপনিবেশিক শোষণকে পরিচালিত করত। আজ এটি আর্থিক ও কৌশলগত কারণে কাঁচামাল উৎপাদনকারী দেশগুলোতে একটি ‘স্থবির অঞ্চল’ বজায় রাখার চেষ্টা করছে, যা বাণিজ্যিক ধারা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রবাহ অর্থাৎ বিশ্ব অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশগুলোর স্বার্থের সাথে সংগতিপূর্ণ। মিশরের তুলা, ইন্দোনেশিয়ার রবার ও মশলা এবং বার্মার চালের মূল্য মূলত এই প্রবাহগুলোর চাহিদার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়। বিশ্ববাজারের এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝে আমরা কাঁচামালের বাজারজাতকরণের সমস্যার সম্মুখীন হই। মুদ্রার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান অর্থনীতি যে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তা মূলত কাঁচামাল এবং মুদ্রার মধ্যকার সম্পর্ক খোদ মুদ্রার মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়ার কারণে ঘটে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ, আলজেরীয় ‘হালফা’—যা একটি কাঁচামাল—এর দাম ইংল্যান্ডে উৎপাদিত এর পণ্যসমূহ—সেলুলোজ পাল্প এবং কাগজ—এর দামের চেয়ে ৩০ বা ৪০ গুণ কম হওয়ার কোনো দৃশ্যমান কারণ নেই। হালফা এবং পাউন্ড স্টার্লিংয়ের মধ্যকার সম্পর্কের সাথে যুক্ত কেবল একটি কারণই বিদ্যমান, আর তা হলো ব্রিটিশ শিল্প এবং ব্রিটিশ শ্রমিকের স্বার্থ। এভাবেই একজন ব্রিটিশ শ্রমিকের সম্পাদিত শ্রমঘণ্টা—
(খণ্ড: ১)
আল-মুসলিমু ফী আলামিল ইকতিসাদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
العامل الجزائري كثيراً، إذ أن الأول إنما يفضل الثاني بالعملة. على حين لا يمثل الثاني سوى المادة الأولية.
وقد لفت هذا الشذود أنظار بعض المراقبين لاقتصاد الشمال الإفريقي حين لاحظوا البون الشاسع بين سعر الطن المصدر من المادة الأولية وسعر الطن المستورد من المنتجات المصنوعة إلى بلد من العالم الثالث. وملاحظة هذه الأرقام باعتبارها متوسطاً كلياً لها دلالتها، ولكنها لا تترجم تماماً عن الواقع الاقتصادي في مستوى العامل المسلم، بل في مستوى رجل الأعمال الأوربي الذي يصدّر المادة الأولية بيد، لتغيرها يده الأخرى إلى مادة مصنوعة يشتريها العامل المسلم بالثمن الغالي، ليبخس حقه منتجاً ومستهلكاً.
وأياً ما كان الأمر، فلكي نعالج تسلط العملة على المادة الأولية، فإن من الواجب أن نحرر المادة من العلاقة التي تخضعها لظروف السوق الراهنة.
ويبدو أن بعض البلاد الإسلامية قد عقدت فعلاً عملياتها التجارية الأخيرة، على أساس علاقة لا تنفرد فيها العملة بتحديد قيمة المادة الأولية، فلقد تمت هذه العمليات على أساس مقايضة (مادة أولية بمادة أولية) أو (مادة أولية بتجهيز صناعي)، فبادلت سيلان على هذا الأساس محصول الكاوتشوك مقابل الأرز الصيني، وبادلت مصر قطنها مقابل التجهيز الصناعي، وبصفة عامة تقوم عمليات تبادل البلاد الإسلامية مع الشرق على أساس ذي طبيعة أخرى، وهو ما يمكن أن يتضح بقدر كبير في هذه العلاقة:
مادة أولية - عمل
ومن الممكن أن تتم المبادلات مع الغرب على الأساس نفسه، وإنما هنا نصطدم (بكتلة نقدية)، تلك الكتلة التي كشفت في قضية البترول الإيراني والجزائري أخيراً (1) عن إرادتها في أن تظل سيادة العملة على المادة الأولية، ولكن
--------------------------------------------
আলজেরীয় শ্রমিকের তুলনায় অনেক বেশি, কারণ প্রথমটি মূলত মুদ্রার মাধ্যমেই দ্বিতীয়টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। যেখানে দ্বিতীয়টি কেবল কাঁচামালের প্রতিনিধিত্ব করে।
উত্তর আফ্রিকার অর্থনীতির কিছু পর্যবেক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এই বিচ্যুতি (شذوذ), যখন তারা রপ্তানিকৃত এক টন কাঁচামালের মূল্য এবং তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশে আমদানিকৃত শিল্পজাত পণ্যের এক টনের মূল্যের মধ্যে বিদ্যমান বিশাল ব্যবধান লক্ষ্য করেছেন। এই সংখ্যাগুলো যখন সামগ্রিক গড় হিসেবে দেখা হয়, তখন সেটির একটি বিশেষ তাৎপর্য (دلالة) থাকলেও এটি মুসলিম শ্রমিকের স্তরে অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে পুরোপুরি ফুটিয়ে তোলে না; বরং এটি সেই ইউরোপীয় ব্যবসায়ীর স্তরে প্রতিফলিত হয়, যে এক হাতে কাঁচামাল রপ্তানি করে এবং তার অন্য হাত সেটিকে শিল্পজাত পণ্যে রূপান্তরিত করে, যা মুসলিম শ্রমিক চড়া দামে ক্রয় করে। এভাবে উৎপাদনকারী ও ভোক্তা—উভয় হিসেবেই তার অধিকার খর্ব করা হয়।
পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, কাঁচামালের ওপর মুদ্রার এই আধিপত্য নিরসনের লক্ষ্যে কাঁচামালকে সেই সম্পর্ক থেকে মুক্ত করা আবশ্যক, যা তাকে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির অনুগত করে রাখে।
প্রতীয়মান হয় যে, কিছু ইসলামি দেশ ইতোমধ্যেই তাদের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক লেনদেনগুলো এমন এক সম্পর্কের ভিত্তিতে সম্পন্ন করেছে যেখানে কাঁচামালের মূল্য নির্ধারণে কেবল মুদ্রার একক ভূমিকা নেই। এই লেনদেনগুলো মূলত বিনিময় প্রথার (কাঁচামালের বিনিময়ে কাঁচামাল) অথবা (কাঁচামালের বিনিময়ে শিল্প সরঞ্জাম) ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে। এই ভিত্তিতে সিলন চালের বিনিময়ে রাবার এবং মিশর শিল্প সরঞ্জামের বিনিময়ে তুলা বিনিময় করেছে। সাধারণভাবে, প্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে ইসলামি দেশগুলোর বিনিময় কার্যক্রম ভিন্ন প্রকৃতির, যা এই সম্পর্কের মাধ্যমে অনেকাংশে স্পষ্ট হতে পারে:
কাঁচামাল — শ্রম
পাশ্চাত্যের সাথেও একই ভিত্তিতে বিনিময় সম্পন্ন করা সম্ভব, তবে এখানে আমরা একটি (আর্থিক ব্লকের) সম্মুখীন হই। সেই ব্লকটিই সাম্প্রতিককালে ইরানি ও আলজেরীয় পেট্রোলিয়াম ইস্যুতে (১) নিজেদের এই ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে যে, তারা কাঁচামালের ওপর মুদ্রার সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে চায়। তবে...
--------------------------------------------