(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
أنظمة الدفع الإلكتروني المعاصر غير الائتماني في الفقه الإسلامي   (صلاح الدين عامر)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: أنظمة الدفع الإلكتروني المعاصر غير الائتماني في الفقه الإسلامي

أطروحة: دكتوراة، كلية الشريعة والقانون (قسم الفقه المقارن) - جامعة أم درمان الإسلامية (السودان)

إعداد الطالب: صلاح الدين أحمد محمد عامر

إشراف: د. الواثق عطاء المنان محمد

العام الجامعي: 1433 هـ - 2012 م

عدد الصفحات: 512

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 23 ربيع الأول 1440

ইসলামি ফিকহে সমকালীন ক্রেডিট-বিহীন ইলেকট্রনিক পেমেন্ট পদ্ধতিসমূহ   (সালাহউদ্দীন আমির)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ

গ্রন্থ: ইসলামি ফিকহে সমকালীন ক্রেডিট-বিহীন ইলেকট্রনিক পেমেন্ট পদ্ধতিসমূহ

অভিসন্দর্ভ: পিএইচডি, শরীয়াহ ও আইন অনুষদ (তুলনামূলক ফিকহ বিভাগ) - উম্মে দোরমান ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (সুদান)

শিক্ষার্থী: সালাহউদ্দীন আহমদ মুহাম্মদ আমির

তত্ত্বাবধানে: ড. আল-ওয়াসিক আতা আল-মান্নান মুহাম্মদ

শিক্ষাবর্ষ: ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১)
جمهورية السودان

وزاة التعليم العالي والبحث العلمي

جامعة أم درمان الإسلامية

كلية الدراسات العليا

كلية الشريعة والقانون

قسم الفقه المقارن

 

بحث مقدم لنيل درجة الدكتوراه في الفقه المقارن بعنوان:

أنظمة الدفع الإلكتروني المعاصر غير الائتماني

في الفقه الإسلامي

 

دراسة مقارنة

مقدم من الطالب/ صلاح الدين أحمد محمد عامر

 

إشراف الاستاذ الدكتور: الواثق عطاء المنان محمد

1433 هـ، 2012 م
সুদান প্রজাতন্ত্র

উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা মন্ত্রণালয়

উম্মু দুরমান ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

উচ্চতর শিক্ষা অনুষদ

শরীয়াহ ও আইন অনুষদ

তুলনামূলক ফিকহ বিভাগ

 

তুলনামূলক ফিকহে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের জন্য পেশকৃত গবেষণা প্রবন্ধ, শিরোনাম:

সমকালীন ইলেকট্রনিক ঋণ-বহির্ভূত পেমেন্ট পদ্ধতিসমূহ

ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রে

 

একটি তুলনামূলক অধ্যয়ন

উপস্থাপনায়: শিক্ষার্থী সালাহউদ্দীন আহমাদ মুহাম্মাদ আমির

 

তত্ত্বাবধানে: প্রফেসর ডক্টর আল-ওয়াসিক আতাউল মান্নান মুহাম্মাদ

১৪৩৩ হিজরি, ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
-[استهلال]-

 

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ}

سورة النساء آية (29)
-[সূচনা]-

 

{হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না; তবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবসা হলে ভিন্ন কথা।}

সূরা আন-নিসা, আয়াত (২৯)
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
-[إهداء]-

 

إلى شباب الأمة الإسلامية

إلى من قدموا دماءهم في سبيل الله تعالى

إلى من رفعوا رايات الحرية خفاقة لتحيا الأمم والشعوب

إلى كل الشباب العربي الذين حلموا بصتع مستقبلٍ وغدٍ أفضل

إلى الذين حولوا الحلم إلى واقع معاش

أهدي هذا الكتاب
-[উৎসর্গ]-

 

ইসলামী উম্মাহর যুবসমাজের প্রতি

যারা আল্লাহ তাআলার পথে নিজেদের রক্ত উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি

যারা মুক্তির পতাকাকে সমুন্নত ও উড্ডীন রেখেছেন যাতে জাতি ও গোষ্ঠীসমূহ জীবিত থাকতে পারে তাদের প্রতি

সেই সকল আরব যুবকদের প্রতি যারা একটি উন্নত ভবিষ্যৎ এবং আগামী নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন

যারা স্বপ্নকে এক জীবন্ত বাস্তবতায় রূপান্তর করেছেন তাদের প্রতি

আমি এই গ্রন্থটি উৎসর্গ করছি
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
-[شكر وعرفان]-

 

أشكر الله وحده على نعمه التي لا عد لها ولا حصرا، ومن بعده أشكر والدي العزيز الذي وضع اللبنات الأولى في مسيرتي العلمية، وأولاني العناية والتشجيع والحث، والنصح، والمال فجزاه الله عني أفضل الجزاء وجعله من ورثة جنة النعيم، كما أشكر أمي الغالية على قلبي التي تحملت سِنيَّ اغترابي وعانت الاشتياق لفلذة كبدها، ولطالما كانت العون بعد الله تعالى لي في مسيرتي العلمية بالدعوات التي كان لها أثرها الواضح في حياتي، كما أشكر زوجتي وأم أولادي التي تحملت عني الأعباء الضخام من تربية الأولاد، والصبر على النأي عنها بعض الوقت، فقد كانت نعم المعين.

كما أشكر جامعة الإيمان ورئيسها الشيخ العلامة عبد المجيد الزنداني الذي تولى سخر نفسه ووقته وماله لخدمة طلاب العلم وتخريج العلماء والدعاة، كما أشكر جامعة أم درمان الإسلامية، التي تولي الدارسين اهتماماً خاصاً، وأشكر كل من أعانني بتوجيهه أو نصحه وأخص منهم بالذكر أستاذي القدير الدكتور: الواثق عطا المنان محمد الذي سهر على هذا البحث وسدد زلل كاتبه، وقوم عود فقاره حتى استوى واشتدَّ، كما أشكر المناقشَين الكريمَين فضيلة الأستاذ الدكتور: إيهاب أحمد محمد، وفضيلة الأستاذ الدكتور: محمد العالم آدم، على ما تفضلا به من مراجعة وتصويب لهذا البحث، فأسأل الله أن يجزيهما خير الجزاء.

ولا أنسى أن أشكر أخي الفاضل الدكتور/ صلاح الجماعي على ما بذله معي من جهد، والله أسأل أن يجزل المثوبة والإنعام لكل من أعانني وسددني.
-[কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি]-

 

আমি একমাত্র আল্লাহর প্রশংসা করছি তাঁর অগণিত ও অসীম নিআমতসমূহের জন্য। এরপর আমি আমার প্রিয় পিতাকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি আমার ইলমি সফরের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন এবং আমাকে যত্ন, উৎসাহ, অনুপ্রেরণা, নসীহত ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁকে জান্নাতুন নাঈমের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। তেমনিভাবে আমি আমার হৃদয়ের প্রিয়জন মাকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি আমার প্রবাস জীবনের দীর্ঘ বছরগুলো ধৈর্য ধরেছেন এবং তাঁর কলিজার টুকরোর বিরহব্যথা সহ্য করেছেন। আল্লাহ তাআলার পরে তিনি সর্বদা তাঁর দোয়ার মাধ্যমে আমার ইলমি সফরে আমার সহায়ক ছিলেন, যে দোয়ার প্রভাব আমার জীবনে অত্যন্ত স্পষ্ট। এছাড়া আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের জননীকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি আমার পক্ষ থেকে সন্তান লালন-পালনের বিশাল বোঝা বহন করেছেন এবং দীর্ঘ সময় আমার সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হওয়া সত্ত্বেও ধৈর্য ধরেছেন; তিনি সত্যিই এক উত্তম সহায়িকা ছিলেন।

আমি ঈমান ইউনিভার্সিটি এবং এর চ্যান্সেলর আল্লামা শায়খ আবদুল মাজীদ আয-যিন্দানীকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি ইলমে দ্বীনের ত্বলিবুল ইলমদের খিদমতে এবং আলেম ও দাঈ তৈরিতে নিজের জীবন, সময় ও সম্পদ উৎসর্গ করেছেন। আমি উম্মু দোরমান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি কেউ ধন্যবাদ জানাই, যারা গবেষকদের বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে। আমি সেই সকল ব্যক্তিবর্গকেও ধন্যবাদ জানাই যারা আমাকে দিকনির্দেশনা বা নসীহত দিয়ে সাহায্য করেছেন। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করছি আমার পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ডক্টর আল-ওয়াসিক আতা আল-মান্নান মুহাম্মাদকে, যিনি এই গবেষণার পেছনে রাত জেগে পরিশ্রম করেছেন, লেখকের ভুলত্রুটি সংশোধন করেছেন এবং এর প্রতিটি অংশকে এমনভাবে সোজা করেছেন যাতে তা সুসংহত ও শক্তিশালী হয়। আমি শ্রদ্ধেয় দুই পরীক্ষক প্রফেসর ডক্টর ইহাব আহমাদ মুহাম্মাদ এবং প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মাদ আল-আলিম আদমকেও তাঁদের মূল্যবান পর্যালোচনা ও এই গবেষণার সংশোধনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।

আমি আমার শ্রদ্ধেয় ভাই ডক্টর সালাহ আল-জামাঈ-র কথা ভুলছি না, যিনি আমার সাথে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে সাহায্যকারী ও দিকনির্দেশনা প্রদানকারী প্রত্যেককে উত্তম প্রতিদান ও নেয়ামত দান করেন।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
-[مستخلص]-

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه وبعد:

فقد تكلمت هذه الدراسة حول أنظمة الإلكتروني المعاصر، دراسة فقهية مقارنة، وقد اشتملت على فصل تمهيدي وخمسة فصول بعده على النحو التالي:

الفصل الأول التمهيدي: تحدثت فيه عن النقود ومراحل تطورها، وعن الدفع الإلكتروني المعاصر وخصائص كل منهما وإيجابيات، وسلبيات الدفع الإلكتروني، وكذا أفقه المستقبلية.

الفصل الثاني: وكان الحديث فيه عن بطاقة الصراف الآلي، ماهيتها وتعريفها وأركانها، وبداية نشأتها، وخصائصها، وسلبياتها، وإيجابياتها، وتكييفها الفقهي، والحكم الشرعي لكل خدمة تقدمها.

الفصل الثالث: وكان عن بطاقة الدفع المسبق ذات المجال المفتوح، ماهيتها وتعريفها وأركانها وخصائصها، وأنواعها، وسلبياتها وإيجابياتها، وتكييفها الفقهي، والحكم الشرعي لكل خدمة تقدمها.

الفصل الرابع: وتحدث عن بطاقات القيمة المخزنة ذات المجال المغلق، وكان الحديث عن ماهيتها وتعريفها، وأركانها، وخصائصها، وسلبياتها، وإيجابياتها، وتكييفها الفقهي، والحكم الشرعي لها.

الفصل الخامس: وأفرد للحديث عن البطاقة الذكية، ماهيتها، وتعريفها، والفرق بينها وبين غيرها من البطاقات الأخرى، وعن خصائصها، إيجابياتها وسلبياتها، وعن تكييفها الشرعي، والحكم الشرعي.
[সারসংক্ষেপ]

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর। অতঃপর:

এই গবেষণাটি সমসাময়িক ইলেকট্রনিক পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে একটি তুলনামূলক ফিকহী পর্যালোচনা। এটি একটি প্রারম্ভিক অধ্যায় এবং পরবর্তী পাঁচটি অধ্যায় নিয়ে নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত হয়েছে:

প্রথম প্রারম্ভিক অধ্যায়: এতে মুদ্রা ও তার বিবর্তনের পর্যায়সমূহ এবং সমসাময়িক ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ও এ দুটির প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য, ইলেকট্রনিক পেমেন্টের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকসমূহ এবং এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে এটিএম কার্ড, এর স্বরূপ, সংজ্ঞা, রুকনসমূহ, উৎপত্তির সূচনা, বৈশিষ্ট্য, নেতিবাচক ও ইতিবাচক দিক, এর ফিকহী স্বরূপ এবং এটি প্রদানকৃত প্রতিটি সেবার শরয়ী বিধান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়: এটি উন্মুক্ত ক্ষেত্রের প্রিপেইড কার্ড, এর স্বরূপ, সংজ্ঞা, রুকনসমূহ, বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ, নেতিবাচক ও ইতিবাচক দিক, এর ফিকহী স্বরূপ এবং এটি প্রদানকৃত প্রতিটি সেবার শরয়ী বিধান সম্পর্কিত।

চতুর্থ অধ্যায়: এতে আবদ্ধ ক্ষেত্রের স্টোর্ড ভ্যালু কার্ডসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এবং এর স্বরূপ, সংজ্ঞা, রুকনসমূহ, বৈশিষ্ট্য, নেতিবাচক ও ইতিবাচক দিক, এর ফিকহী স্বরূপ ও শরয়ী বিধান আলোচিত হয়েছে।

পঞ্চম অধ্যায়: এটি স্মার্ট কার্ড, এর স্বরূপ, সংজ্ঞা, অন্যান্য কার্ডের সাথে এর পার্থক্য, এর বৈশিষ্ট্য, ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক এবং এর শরয়ী স্বরূপ ও শরয়ী বিধানের আলোচনার জন্য নির্ধারিত।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৭)
الفصل السادس: وكان عن الشيكات الإلكترونية، تعريها، وأهميتها، ومقارنة بينها وبين الشيكات الورقية، وبيها وبين بطاقات الائتمان، عن مميزاتها ومخاطرها، والتكييف الفقهي لها، وحكمها الشرعي.

الخاتمة: واحتوت على أهم النتائج والتوصيات، لخصت فيها أبرز ما توصلت إليها الدراسة.

تلا ذلك فهارس البحث العامة والخاصة لتكون عوناً للقارئ للوصول لمبتغاه
ষষ্ঠ অধ্যায়: এটি ছিল ইলেকট্রনিক চেক, এর সংজ্ঞা, এর গুরুত্ব, এবং কাগজের চেক ও ক্রেডিট কার্ডের সাথে এর তুলনামূলক আলোচনা, এর বৈশিষ্ট্য ও ঝুঁকি, এর ফিকহি স্বরূপ এবং এর শরয়ি বিধান সম্পর্কে।

উপসংহার: এতে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে গবেষণার প্রধান অর্জনসমূহ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এরপর গবেষণার সাধারণ ও বিশেষ নির্ঘণ্টসমূহ যুক্ত করা হয়েছে, যাতে পাঠক তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি সহজে খুঁজে পেতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
-[Abstract]-

This study dealt with the contemporary electronic payment using jurisprudential and comparative study approach. The study consisted of introductory chapter followed by five chapters as follow:

Chapter one، the introductory chapter، described money and its developmental stages، the contemporary electronic payment: its characteristics، advantages and disadvantages as well as its future perspectives.

In chapter two، the researcher described ATM card، its concept، definition and principles، its characteristics، advantages، disadvantages، jurisprudential adjustment، in addition to legitimacy rule of its services.

Chapter three، dealt with opened pre-payment card، its concept، definition، principles، characteristics، advantages، disadvantages، jurisprudential adjustment، in addition to legitimacy rule of its services.

Chapter four about the closed stored value card: its concept، definition، principles، characteristics، advantages، disadvantages، jurisprudential adjustment، in addition to legitimacy rule of its services.

Chapter five described the smart card: its concept، definition، differences from other cards in addition to its characteristics، advantages، disadvantages، jurisprudential adjustment، and the legitimacy rule of its services.

Chapter six included the electronic networks، its definition، and importance and compares it to other non-electronic networks، credit cards، as well as its characteristics، advantages، disadvantages، jurisprudential adjustment، in addition to legitimacy rule of its services.

The research came with a conclusion including the most important results of the study and recommendations. The last section contains the contents of the study so as to facilitate help the readers how to find what they seek for.
-[সারসংক্ষেপ]-

এই গবেষণায় ফিকহি ও তুলনামূলক অধ্যয়ন পদ্ধতির মাধ্যমে সমকালীন ইলেকট্রনিক পেমেন্ট বা অর্থপ্রদান ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গবেষণাটি একটি সূচনামূলক অধ্যায় এবং পরবর্তী পাঁচটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত, যা নিম্নরূপ:

প্রথম অধ্যায়, যা সূচনামূলক অধ্যায়; এতে অর্থ বা মুদ্রা এবং এর বিবর্তনের পর্যায়সমূহ, সমকালীন ইলেকট্রনিক পেমেন্ট: এর বৈশিষ্ট্য, সুবিধা ও অসুবিধা এবং এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বর্ণনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে গবেষক এটিএম (ATM) কার্ড, এর ধারণা, সংজ্ঞা ও মূলনীতি, বৈশিষ্ট্য, সুবিধা, অসুবিধা, ফিকহি বিশ্লেষণ, সেইসাথে এর সেবাসমূহের শরয়ী বিধান বর্ণনা করেছেন।

তৃতীয় অধ্যায়ে উন্মুক্ত প্রাক-পরিশোধিত কার্ড (Opened Pre-payment Card), এর ধারণা, সংজ্ঞা, মূলনীতি, বৈশিষ্ট্য, সুবিধা, অসুবিধা, ফিকহি বিশ্লেষণ, সেইসাথে এর সেবাসমূহের শরয়ী বিধান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়টি আবদ্ধ সংরক্ষিত মূল্য কার্ড (Closed Stored Value Card) সম্পর্কিত: এর ধারণা, সংজ্ঞা, মূলনীতি, বৈশিষ্ট্য, সুবিধা, অসুবিধা, ফিকহি বিশ্লেষণ, সেইসাথে এর সেবাসমূহের শরয়ী বিধান।

পঞ্চম অধ্যায়ে স্মার্ট কার্ডের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে: এর ধারণা, সংজ্ঞা, অন্যান্য কার্ডের সাথে এর পার্থক্য, সেইসাথে এর বৈশিষ্ট্য, সুবিধা, অসুবিধা, ফিকহি বিশ্লেষণ এবং এর সেবাসমূহের শরয়ী বিধান।

ষষ্ঠ অধ্যায়ে ইলেকট্রনিক নেটওয়ার্কসমূহ, এগুলোর সংজ্ঞা ও গুরুত্ব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং অন্যান্য নন-ইলেকট্রনিক নেটওয়ার্ক ও ক্রেডিট কার্ডের সাথে এর তুলনা করা হয়েছে, সেইসাথে এর বৈশিষ্ট্য, সুবিধা, অসুবিধা, ফিকহি বিশ্লেষণ এবং এর সেবাসমূহের শরয়ী বিধান আলোচনা করা হয়েছে।

গবেষণাটি একটি উপসংহারের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে, যাতে গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল এবং সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সর্বশেষ অংশে গবেষণার সূচিপত্র রয়েছে, যাতে পাঠকদের কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পেতে সহজ হয়।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، محمد بن عبد الله الصادق الأمين وعلى آله وصحابته ومن تبعهم بإحسان إلى يوم والدين … وبعد

فإننا في هذا العصر، الذي تقدمت فيه البشرية بما أحدثته من تكنولوجيا، ونتج عن ذلك التقدم أمور مستحدثة في شتى المجالات، مما جعل الحاجة إلى الاجتهاد ماسة، والضرورة لبيان أحكام الدين ملحة، فإن هذا الدين هو الدين الخاتم، مما يستلزم صلاح هذا الدين لكل زمان ومكان.

ومن المعلوم أن المال به تقام الحياة قال تعالى: {وَلَا تُؤْتُوا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُمُ الَّتِي جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ قِيَامًا وَارْزُقُوهُمْ فِيهَا وَاكْسُوهُمْ وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلًا مَعْرُوفًا} سورة النساء: آية (5).

وإن الناظر لأكبر الحضارات اليوم ليرى مدى اعتمادها على عنصر المال وتنميته واستثماره بكل الوسائل المتاحة لها، فقد أقامت له البنوك والمصارف، وشركات الاستثمار، والأسواق العالمية الكبرى (البورصات) وغير ذلك، وأصبح اللوبي اليهودي العالمي هو المسيطر في هذا المجال كما هو معلوم لدى المتابع، كل ذلك من أجل الاستحواذ على قرارات الأمم واستعباد العالم.

ولما كانت الطريقة التي تدار به تلك الأموال وتستثمر بها طريقة استغلالية، محاربة للفطر، بعيدة عن الدين، كان من الطبيعي بل من المتوقع أن تنهار
ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ রাসূল, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের সবার ওপর … অতঃপর

নিশ্চয়ই আমরা এমন এক যুগে রয়েছি, যেখানে মানবজাতি তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নতি লাভ করেছে এবং সেই অগ্রগতির ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন নতুন বিষয় উদ্ভূত হয়েছে। এটি ইজতিহাদের প্রয়োজনীয়তাকে তীব্র এবং দ্বীনের বিধানগুলো স্পষ্ট করার আবশ্যকতাকে জরুরি করে তুলেছে। কেননা এই দ্বীন হলো সর্বশেষ ধর্ম, যা প্রতিটি কাল ও স্থানের জন্য এর উপযোগিতাকে অনিবার্য করে তোলে।

এটি সুপরিচিত যে, সম্পদের মাধ্যমেই জীবন পরিচালিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমাদের ধন-সম্পদ, যা আল্লাহ তোমাদের জন্য জীবন ধারণের অবলম্বন করেছেন, তা নির্বোধদের হাতে তুলে দিয়ো না; বরং তা থেকে তাদের আহার ও পরিধেয় দান করো এবং তাদের সাথে সদালাপ করো।} সূরা আন-নিসা: আয়াত (৫)।

বর্তমান সময়ের বৃহৎ সভ্যতাগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় যে, তারা সম্পদের ওপর কতটা নির্ভরশীল এবং বিদ্যমান সকল পন্থায় এর উন্নয়ন ও বিনিয়োগে কতটা সচেষ্ট। এর জন্য তারা ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী সংস্থা, বৃহৎ বৈশ্বিক বাজার (শেয়ার বাজার) ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করেছে। আর পর্যবেক্ষকদের কাছে এটি সুপরিচিত যে, বিশ্বব্যাপী ইহুদি লবি এই ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করেছে; এ সব কিছুই জাতিসমূহের সিদ্ধান্ত দখল করা এবং বিশ্বকে দাসে পরিণত করার উদ্দেশ্যে।

যেহেতু সেই সম্পদগুলো পরিচালনা ও বিনিয়োগের পদ্ধতি ছিল শোষণমূলক, স্বভাবজাত প্রবৃত্তির পরিপন্থী এবং দ্বীন থেকে দূরে, তাই এটি ভেঙে পড়া ছিল স্বাভাবিক, বরং প্রত্যাশিত।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২)
وتسقط، وهذا ما حدث اليوم في النظام العالمي الرأسمالي، معلناً مرة أخرى اعوجاج وشيخوخة هذا النظام.

ولقد اكتوت البشرية اليوم بنار التخبط، وتجرعت مرارة المكابرة، وعاقبة الابتعاد عن الدين القويم، في إدارة المال، وأصبح العالم أجمع يبحث عن البديل، ولقد أفاق المسلمون وهم متأخرون عن الركب، ولعل في هذه الإفاقة بداية أمل تتطلع إليه القلوب المؤمنة، وتستبشر به النفوس المسلمة؛ فأنشأت المصارف والبنوك الإسلامية، وعانت في بدايتها صعوبات جمة تمثلت بالمرجعية الفقهية الشرعية أولاً، وصعوبات التطبيق ثانياً.

وإن مما أحدثته التقنية، وقفزت به البشرية اليوم، التجارة الإلكترونية عبر شبكة المعلومات العالمية، واستلزم ذلك استحداث وسائل دفع تناسب نوع

هذه التجارة، فظهر ما سُمي بأنظمة الدفع الإلكتروني المعاصر (Electronic payment systems، contemporary)؛ ولقد توسعت هذه التجارة وانتشرت في العالم، وانتشر معها وتوسع النقد الذي تتعامل به (النقود الإلكترونية) عبر أنظمة دفع جديدة، بصورة لم تكن متوقعة حتى إن النقود التقليدية أصبحت تمثل عبئاً على حامليها، يتوقع أن تحل محلها النقود الإلكترونية في المستقبل القريب.
এবং পতন ঘটে, আর এটিই আজ বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ঘটেছে, যা আবারও এই ব্যবস্থার বক্রতা ও বার্ধক্য ঘোষণা করছে।

আজ মানবজাতি বিভ্রান্তির আগুনে দগ্ধ হচ্ছে এবং তারা অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে হঠকারিতার তিক্ততা ও সঠিক দ্বীন থেকে দূরে থাকার পরিণাম আস্বাদন করছে। সমগ্র বিশ্ব এখন বিকল্পের সন্ধান করছে। মুসলমানরা যখন সজাগ হয়েছে তখন তারা কাফেলায় পিছিয়ে রয়েছে, তবে সম্ভবত এই সজাগ হওয়ার মধ্যে আশার এক নতুন সূচনা রয়েছে যার দিকে মুমিনদের অন্তরসমূহ তাকিয়ে আছে এবং মুসলিম আত্মাসমূহ এতে সুসংবাদ গ্রহণ করছে। ফলে ইসলামি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং শুরুর দিকে তারা ব্যাপক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছে, যা প্রথমত শরয়ি ফিকহী নির্দেশনার ক্ষেত্রে এবং দ্বিতীয়ত প্রয়োগিক সমস্যার ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়েছে।

প্রযুক্তি যা নতুনভাবে উদ্ভাবন করেছে এবং যার মাধ্যমে আজ মানবজাতি একধাপ এগিয়েছে, তা হলো বিশ্বব্যাপী তথ্য জালের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক বাণিজ্য। আর এটি এই ধরণের বাণিজ্যের উপযোগী পরিশোধের মাধ্যম উদ্ভাবনকে আবশ্যক করে তুলেছে। ফলে বর্তমানে ‘আধুনিক ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম’ (ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমস, কনটেম্পোরারি) নামক ব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে। এই বাণিজ্য বিশ্বজুড়ে সম্প্রসারিত ও বিস্তৃত হয়েছে এবং এর সাথে নতুন পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে লেনদেনকৃত মুদ্রাও (ইলেকট্রনিক মুদ্রা) এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ও বৃদ্ধি পেয়েছে যা ছিল অভাবনীয়। এমনকি প্রচলিত মুদ্রা এখন বহনকারীদের জন্য একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে অদূর ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক মুদ্রা এর স্থলাভিষিক্ত হবে।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩)
ولأن مجال التجارة الإلكتروني طرقه الكثير من الباحثين أحببت أن أتناول الجانب الآخر لهذه التجارة والتي تمثل وسائل الدفع وأنظمته وقد انتشرت بشكل واسع وأصبح لها رواجا كبيراً، وهي لا زالت في تطور مستمر.

ومع التطور المستمر للشبكات المالية Financial Networks وامتلاك بعض البنوك لشبكات خاصة بها، قامت بإصدار بطاقات تمكن حاملها من الوصول إلى حسابه لدى البنك والسحب منه عن طريق أجهزة الصراف «ATM».

ولقد اتسمت هذه البطاقات بأهمية كبيرة، نظرا لما تقدمه من خدمات متنوعة وعديدة ومن أهم هذه الميزات سهولة إجراء المعاملات، واليسر في الدفع، حتى لقد أصبحت البطاقات بديلا عن النقد في الدفع عند الكثير من المحلات والمؤسسات التجارية العالمية اليوم، ولا شك أن الأمر في اتساع وانتشار مستمر، حتى إن حمل النقود الورقية اليوم أصبح يشكل عبئا على مستخدمي هذه البطاقات؛ ناهيك عما تقدمه هذه البطاقات من تأمين ضد السرقة لمن أراد حمل النقود الورقية.

هذا كله مع ما يعود على المصارف المصدرة للبطاقات، والمحلات التجارية والمؤسسات من أرباح؛ لهذا تزايدت وكثرت وتنوعت هذه البطاقات، وانتشرت انتشاراً كبيراً.

وبمرور الزمن فقد أفرزت التقنية أنظمة أخرى من الشيكات الإلكترونية، والنقود الرقمية وغيرها، وتعددت سبل الوفاء وتنوعت طرق الدفع، حتى لقد
যেহেতু ইলেকট্রনিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রটি অনেক গবেষকই আলোচনা করেছেন, তাই আমি এই বাণিজ্যের অপর পার্শ্বটি নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছি, যা অর্থপ্রদান পদ্ধতি ও এর ব্যবস্থাগুলোকে উপস্থাপন করে। এগুলো বর্তমানে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে এবং প্রচুর জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এগুলোতে এখনও নিরন্তর উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে।

আর্থিক নেটওয়ার্কসমূহের (Financial Networks) নিরন্তর উন্নতির সাথে সাথে এবং কিছু ব্যাংকের নিজস্ব নেটওয়ার্ক থাকার সুবাদে তারা এমন সব কার্ড ইস্যু করেছে, যা কার্ডধারীকে ব্যাংকে থাকা তার অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার দেয় এবং ‘এটিএম’ (ATM) মেশিনের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করে।

এই কার্ডগুলো অত্যন্ত গুরুত্ববহ হয়ে উঠেছে, কারণ এগুলো বিভিন্ন ও বহুমুখী সেবা প্রদান করে থাকে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রধানতম হলো লেনদেন সম্পাদনের সহজতা এবং অর্থপ্রদানে স্বাচ্ছন্দ্য; এমনকি আজ বিশ্বের বহু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও দোকানে কার্ড নগদ অর্থের বিকল্প হয়ে উঠেছে। নিঃসন্দেহে এর পরিধি ও প্রসার ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, এমনকি আজ এই কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য কাগুজে মুদ্রা বহন করা একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে; তাছাড়া যারা কাগুজে মুদ্রা বহন করতে চান, তাদের তুলনায় এই কার্ডগুলো চুরির বিরুদ্ধে যে নিরাপত্তা প্রদান করে তা তো বলাই বাহুল্য।

এর সাথে সাথে কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও দোকানসমূহও মুনাফা অর্জন করে থাকে; একারণেই এই কার্ডগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে, এগুলো বহুমুখী হয়েছে এবং ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

সময়ের ব্যবধানে প্রযুক্তি ইলেকট্রনিক চেক, ডিজিটাল কারেন্সি ও অন্যান্য আরও নতুন নতুন ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছে। এভাবে দায় পরিশোধের মাধ্যম ও অর্থ প্রদানের পদ্ধতিগুলো বৈচিত্র্যময় ও বহুমুখী হয়েছে, এমনকি...
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৪)
أصبح المرء يعيش في قرية صغيرة، يستطيع شراء أي سلعة أراد من أي مكان في العالم دون الحاجة إلى السفر، أو عناء الرحيل.

ومع بروز هذه التقنية يقف المسلم متوجساً أمامها، إذ أنها من إفرازات الحضارة الغربية، والتي تحمل في طياتها الغث والسمين، فكما أنه لا غنى له عنها فإنه ليس بإمكانه قبولها بعجرها وبجرها، غثها وسمينها، فكان لزاماً على العلماء والباحثين بيان المفيد النافع منها من الضار السقيم.

 

‌‌أسباب اختيار الموضوع

ولقد كان اختيار هذا الموضوع لأساب عدة أهمها ما يلي:

1) قلة الدراسات في الموضوع وتشتتها، فأحببت أن أجمع أطرافها في عقد واحد، ليسهل الرجوع إليها في سفر.

2) انتشار هذه الأنظمة في العصر الحديث وكثرتها واختلاط الجائز منها بغيره، وكثرة التساؤلات حولها، وحاجة الناس لمعرفة الحكم الشرعي لها، فكانت الحاجة ماسة لبيان الفرق بين كل تلك الأنواع ومعرفة المشروع منها من غير المشروع.

3) المساهمة في إثراء الاقتصاد الإسلامي من خلال تناول جانب مهم من جوانبه.
মানুষ এখন যেন একটি ছোট গ্রামে বাস করছে, যেখানে সে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে তার পছন্দমতো যেকোনো পণ্য ক্রয় করতে পারে, কোনো ভ্রমণ বা সফরের ক্লান্তি ছাড়াই।

এই প্রযুক্তির উত্থানের সাথে সাথে একজন মুসলিম এর সামনে সতর্কভাবে দাঁড়িয়েছেন, কারণ এটি পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্যতম বহিঃপ্রকাশ, যা নিজের ভেতরে অসার ও সারগর্ভ উভয়ই বহন করে। যেমন এটি ছাড়া তাঁর কোনো উপায় নেই, তেমনি তাঁর পক্ষে এর দোষ-ত্রুটিসহ ভালো-মন্দ সবকিছু নির্বিচারে গ্রহণ করাও সম্ভব নয়। তাই আলেম এবং গবেষকদের জন্য এর মধ্যকার উপকারী ও কল্যাণকর দিকগুলোকে ক্ষতিকর ও মন্দ দিকগুলো থেকে পৃথক করে বর্ণনা করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

 

‌‌বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ

এই বিষয়টি নির্বাচনের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো নিম্নরূপ:

১) এই বিষয়ে গবেষণার স্বল্পতা ও বিক্ষিপ্ততা; তাই আমি এর বিভিন্ন দিকগুলোকে একটি সূত্রে গেঁথে সংকলিত করতে চেয়েছি, যাতে একটি গ্রন্থের মাধ্যমে এগুলোর দিকে ফিরে আসা সহজ হয়।

২) বর্তমান যুগে এই ব্যবস্থাগুলোর ব্যাপক বিস্তার ও আধিক্য এবং এগুলোর মধ্যে বৈধ ও অবৈধ বিষয়ের সংমিশ্রণ ঘটে যাওয়া; সেই সাথে এগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসার আধিক্য এবং এগুলোর শরয়ি বিধান জানার ব্যাপারে মানুষের প্রয়োজনীয়তা। ফলে এ সকল প্রকারের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ এবং বৈধ ও অবৈধ বিষয়গুলো চিহ্নিত করার একান্ত প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

৩) ইসলামী অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোচনার মাধ্যমে একে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে অবদান রাখা।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌طبيعة المشكلة التي تعالجها الدراسة:

تعالج هذه الدراسة أنظمة الدفع الإلكتروني من الناحية الشرعية، وتضع الضوابط والمحددات لاستخدامها والتي من خلالها يستطيع المسلم التعامل بها وفق الشرع الحنيف، كما تُبرز إيجابيات وسلبيات هذه الأنظمة على حد سواء من الناحية الاقتصادية، سواءٌ أكانت من جهة المصدر لها، أو من جهة العميل المستخدم لها، كما أنها تستشرف مستقبل النقد وتطوره في ظل التكنلوجيا الحديثة.

 

‌‌أهمية الموضوع

لقد أصبح اليوم البيع له أشكال وأنظمة وطرق متعددة، وأصبحت أسواقه عالمية، ونتج عن ذلك طرق وفاء عديدة، فريدة عما كان معهوداً من قبل، وأصبح المسلم مضطراً للتعامل بها، ليعمر الأرض ويتاجر بما أباحه الله تعالى، بل ليشتري ما يقيم به حياته، ويسد به خلته، كل هذه التقنية أفرزتها الحضارة التي وصل إليها البشر، ومن هذا المنطلق تبرز أهمية التعامل مع هذه الأنظمة ومن خلال النقاط التالية:

أولاً: واجب العلماء والباحثين الذي يحتم عليهم البحث عن حكم الله تعالى في كل نازلة، والكشف عن مراد الله تعالى في كل حادثة. ولا شك أن وسائل وأنظمة الدفع الإلكتروني المعاصر من النوازل العصرية، والمسائل المستحدثة التي تحتاج لبيان الأحكام الشرعية، والضوابط الإسلامية.
গবেষণায় আলোচিত সমস্যার প্রকৃতি:

এই গবেষণাটি শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমগুলো আলোচনা করে এবং এর ব্যবহারের নীতিমালা ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করে, যার মাধ্যমে একজন মুসলিম বিশুদ্ধ শরীয়ত অনুযায়ী লেনদেন করতে সক্ষম হবে। এছাড়াও, এটি অর্থনৈতিক দিক থেকে এই সিস্টেমগুলোর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক তুলে ধরে, চাই তা ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে হোক বা ব্যবহারকারী গ্রাহকের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি এটি আধুনিক প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে মুদ্রার ভবিষ্যৎ ও এর বিবর্তন সম্পর্কে আলোকপাত করে।

 

‌‌বিষয়ের গুরুত্ব

বর্তমানে ক্রয়-বিক্রয়ের বহুবিধ রূপ, পদ্ধতি ও ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে এবং এর বাজারগুলো বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে লেনদেন নিষ্পত্তির এমন অনেক অনন্য উপায় উদ্ভূত হয়েছে যা আগে পরিচিত ছিল না। পৃথিবী আবাদ করতে এবং মহান আল্লাহ তাআলার বৈধ করা পন্থায় ব্যবসা-বাণিজ্য করতে, এমনকি জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় ও অভাব পূরণের জন্য একজন মুসলিম এগুলোর মাধ্যমে লেনদেন করতে বাধ্য হচ্ছে। এই সমস্ত প্রযুক্তি মানুষের অর্জিত সভ্যতারই ফসল। এই প্রেক্ষাপট থেকেই এই সিস্টেমগুলোর মাধ্যমে লেনদেনের গুরুত্ব এবং নিম্নোক্ত বিষয়গুলো প্রকাশ পায়:

প্রথমত: আলেম ও গবেষকদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো প্রতিটি নতুন উদ্ভূত সমস্যায় মহান আল্লাহ তাআলার বিধান অনুসন্ধান করা এবং প্রতিটি ঘটনায় মহান আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য উন্মোচন করা। নি:সন্দেহে সমকালীন ইলেকট্রনিক পেমেন্ট মাধ্যম ও ব্যবস্থাগুলো বর্তমান সময়ের নতুন উদ্ভূত সমস্যা (নাওয়াযিল) এবং আধুনিক মাসআলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা শরয়ী বিধান ও ইসলামী নীতিমালা সুস্পষ্ট করার দাবি রাখে।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৬)
ثانياً: ضرورة التعامل بها وسرعة انتشارها وتوسعها؛ مما يجعل المسلم في حيرة من أمره في ظل غياب الأحكام الشرعية التي تجلي له الرؤية، وتوضح له المباح من غير المباح.

ثالثاً: دقة الموضوع وقلة الدراسات التأصيلية التي تحيط بأغلب جوانبه، وتوضح أبرز معالمه؛ مما يبرز أهمية دراسة الموضوع دراسة تأصيلية.

 

‌‌أهداف الدراسة

تهدف هذه الدراسة إلى الآتي:

- إظهار وكشف حكم الله تعالى في نوازل الدهر، ووقائع العصر.

- إظهار قدرة الاقتصاد الإسلامي على مواكبة الاقتصاد الغربي، بل وتفوقه عليه كمنهج متكامل.

- ضبط هذه الأنظمة من الناحية الشرعية، وبيان معايبها وفوائدها بالنسبة للناس.

- المساهمة في تضييق الفجوة البعيدة بين التقنية الحديثة وثورة المعرفة، وبين ما يعيشه العالم الإسلامي عموماً والعربي خصوصاً.

 

‌‌الدراسات السابقة

بحسب علمي القاصر، ومطالعتي المتواضعة لم أجد من كتب في أنظمة الدفع الإلكتروني المعاصر "غير الإئتماني" من الناحية الفقهية والتأصيلية، كتابة وافية، خلا ما عثرت عليه من فتاوى متناثرة، أو بحوث متواضعة طرقت الجانب التقني والفني، أو تناولت الجانب
দ্বিতীয়ত: এগুলোর সাথে লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা এবং এগুলোর দ্রুত প্রসার ও বিস্তৃতি; যা শরয়ি বিধানের অনুপস্থিতিতে একজন মুসলিমকে তার করণীয় সম্পর্কে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেয়, যে বিধান তার সামনে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচন করত এবং বৈধ ও অবৈধের পার্থক্য স্পষ্ট করত।

তৃতীয়ত: বিষয়টির সূক্ষ্মতা এবং মৌলিক গবেষণার স্বল্পতা যা এর অধিকাংশ দিককে পরিবেষ্টন করে এবং এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহকে স্পষ্ট করে; যা বিষয়টিকে একটি তাত্ত্বিক ও মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে পর্যালোচনার গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলে।

 

‌‌গবেষণার লক্ষ্যসমূহ

এই গবেষণার লক্ষ্যসমূহ হলো নিম্নরূপ:

- যুগের নতুন উদ্ভূত সমস্যা এবং সমসাময়িক ঘটনাবলীতে মহান আল্লাহর বিধান প্রকাশ ও উন্মোচন করা।

- পাশ্চাত্য অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে ইসলামী অর্থনীতির সক্ষমতা, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা।

- শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এই ব্যবস্থাগুলোকে সুসংবদ্ধ করা এবং মানুষের জন্য এগুলোর দোষ-ত্রুটি ও উপকারিতা বর্ণনা করা।

- আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানবিপ্লব এবং সাধারণভাবে মুসলিম বিশ্ব ও বিশেষভাবে আরব বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যকার বিশাল ব্যবধান কমিয়ে আনতে অবদান রাখা।

 

‌‌পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ

আমার সীমাবদ্ধ জ্ঞান এবং সামান্য অধ্যয়ন অনুযায়ী, সমসাময়িক "অ-ক্রেডিট" ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম সম্পর্কে ফিকহী ও তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমি পূর্ণাঙ্গ কোনো রচনা খুঁজে পাইনি; কেবল কিছু বিক্ষিপ্ত ফতোয়া বা সাধারণ কিছু গবেষণা ব্যতীত যা কেবল প্রযুক্তিগত ও কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা করেছে অথবা এমন কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করেছে যা...
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৭)
الاقتصادي المصرفي، أو أنها أغرقت في تفاصيل وتفريعات لم توف حقها من البحث والدراسة، وأيضاً فإن أغلبها لم يستوعب نظرا لما يستجد من أنواع أخر من هذه الأنظمة، ومن هذه الكتب ما يلي:

1) أنظمة الدفع الإلكتروني، تأليف أحمد سفر، طبع منشورات الحلبي، عام (2008 م).

وقد تكلم عن أنظمة الدفع الإلكتروني من الجانب الاقتصادي والإلكتروني، إلا أنه لم يتحدث عن التكييفات الفقهية لخدمات البطاقات المصرفية.

2) أحكام التعامل مع أجهزة الصراف الآلي، تأليف عبدالهادي الخضير، رسالة ماجستير، جامعة الإمام محمد بن سعود، عام (1430 هـ).

وقد تناول الباحث فيها الصراف الآلي وبين أحكامه وطرق التعامل من خلاله وأحكامها الشرعية، إلا أنه اقتصر على خدمة واحدة من خدمات البطاقات المصرفية.

3) البطاقات مسبقة الدفع وأحكامها الفقهية، تأليف عثمان بن ظهير، رسالة ماجستير، عام (1429 هـ).

وقد اقتصر الباحث على الأحكام الفقهية للبطاقات مسبقة الدفع، لكن بحثي شمل أنواع البطاقات المصرفية.
ব্যাংকিং অর্থনীতি, অথবা সেগুলো এমন বিশদ বিবরণ ও শাখাপ্রশাখায় নিমজ্জিত হয়েছে যার যথাযথ গবেষণা ও পর্যালোচনার হক আদায় করা হয়নি। এছাড়াও, এ সকল ব্যবস্থার যে নতুন ধরনগুলো আবির্ভূত হচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে এগুলোর অধিকাংশই পূর্ণাঙ্গ নয়। এই জাতীয় বইগুলোর মধ্যে নিম্নোক্তগুলো অন্তর্ভুক্ত:

১) ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম, লেখক: আহমদ সফর, প্রকাশনী: মানশুরাত আল-হালাবি, সাল (২০০৮ খ্রি.)।

এতে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ে অর্থনৈতিক ও ইলেকট্রনিক দিক থেকে আলোচনা করা হয়েছে, তবে ব্যাংকিং কার্ড সেবাসমূহের ফিকহী বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা করা হয়নি।

২) অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) ব্যবহারের বিধানসমূহ, লেখক: আব্দুল হাদি আল-খুদাইর, মাস্টার্স থিসিস, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, বছর (১৪৩০ হি.)।

গবেষক এতে এটিএম নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এর বিধানসমূহ ও এর মাধ্যমে লেনদেনের পদ্ধতি ও সেগুলোর শরয়ী বিধান বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি ব্যাংকিং কার্ড সেবাসমূহের মধ্য থেকে কেবল একটি সেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন।

৩) প্রিপেইড কার্ড ও এর ফিকহী বিধানসমূহ, লেখক: উসমান বিন জাহির, মাস্টার্স থিসিস, বছর (১৪২৯ হি.)।

গবেষক এতে প্রিপেইড কার্ডের ফিকহী বিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন, কিন্তু আমার গবেষণাটি ব্যাংকিং কার্ডের সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৮)
4) التجارة الإلكترونية وأحكامها في الفقه الإسلامي، تأليف سلطان الهاشمي، طبعة دار الكنوز، أشبيليا، عام (2011 م).

وقد اقتصر الباحث على بيان الأحكام الفقهية للتجارة الإلكترونية، بينما تكلمت عن البطاقات المصرفية وبيان أحكامها في الفقه الإسلامي.

5) كما بحث المجمع الفقه الاسلامي موضوع البطاقات الإئتمانية في أكثر من دورة من الدورة السابعة وحتى الدورة الثانية عشرة بين اعوام (1412 هـ - 1421 هـ)

 

‌‌المشكلات والصعوبات

تمثلت أهم صعوبات هذه الدراسة بمحورين:

الأول: المحور المعرفي والمعلوماتي

1) قلة المعلومات حول هذه الأنظمة، مما تسبب بصعوبات جمة في تصور البعض منها في الواقع المصرفي، واضطرني للتواصل ببعض الزملاء في دول غربية.

2) قلة الدراسات حول هذه الأنظمة، وإن وجدت فمجتزأة وغير مرتبة ولا وافية، أو غير مترجمة للعربية، وذلك تسبب في تضاعف الجهد.

الثاني: المحور الفقهي والشرعي

1) قلة الدراسات الفقهية الشرعية لهذه الأنظمة، وصعوبة الحصول عليها في مظانها.
৪) ই-কমার্স এবং ইসলামি ফিকহে এর বিধানসমূহ, লেখক: সুলতান আল-হাশেমি, দার আল-কুনুজ প্রকাশনী, সেভিল, বছর (২০১১ খ্রিষ্টাব্দ)।

গবেষক নিজেকে ই-কমার্সের ফিকহি বিধানসমূহ বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, অন্যদিকে আমি ব্যাংকিং কার্ড এবং ইসলামি ফিকহে এর বিধানসমূহের বর্ণনা সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

৫) অনুরূপভাবে, ইসলামি ফিকহ একাডেমি সপ্তম অধিবেশন থেকে দ্বাদশ অধিবেশন পর্যন্ত একাধিক অধিবেশনে ক্রেডিট কার্ডের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে, যা ১৪১২ হিজরি থেকে ১৪২১ হিজরি সালের মধ্যবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

 

‌‌সমস্যা ও অসুবিধাসমূহ

এই গবেষণার প্রধান অসুবিধাসমূহ দুটি দিক নিয়ে গঠিত:

প্রথম: জ্ঞানতাত্ত্বিক ও তথ্যগত দিক

১) এই ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কে তথ্যের স্বল্পতা, যা ব্যাংকিং বাস্তবতায় এগুলোর কয়েকটির স্বরূপ অনুধাবন করার ক্ষেত্রে প্রচুর অসুবিধার সৃষ্টি করেছে এবং আমাকে পশ্চিমা দেশগুলোর কিছু সহকর্মীর সাথে যোগাযোগ করতে বাধ্য করেছে।

২) এই ব্যবস্থাগুলোর ওপর গবেষণার অভাব, আর যদি থেকেও থাকে তবে তা আংশিক, অগোছালো ও অপূর্ণাঙ্গ, অথবা আরবিতে অনূদিত নয়; যার ফলে প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে হয়েছে।

দ্বিতীয়: ফিকহি ও শরিয়াহগত দিক

১) এই ব্যবস্থাগুলোর ওপর ফিকহি ও শরিয়াহভিত্তিক গবেষণার স্বল্পতা এবং এগুলোর মূল উৎসসমূহ থেকে তা সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে অসুবিধা।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৯)
2) قلة المتخصصين في هذه المسائل من الاقتصاديين الإسلاميين، وكثرة انشغالاتهم، مما يجعل التواصل معهم أمراً صعباً.

3) كثرة الخدمات التي تقدمها هذه الوسائل مما ينتج عنه كثرة التصورات والتكييفات والتنزيلات الفقهية، وما يصاحب ذلك من افتراض الاستدلالات والمناقشات، وكل ذل يتطلب جهداً ذهنياً.

 

‌‌منهج الدراسة

اعتمد الباحث في هذه الدراسة المنهج الاستقرائي والوصفي التحليلي وقد تم مراعاة الأمور الآتية:

أولاً: اقتصر الباحث في دراسته على المذاهب الأربعة المشهورة، كونها هي المذاهب المعتمدة في ربوع العالم الإسلامي اليوم.

ثانياً: اقتضت الدراسة التأصيلية للبحث أن نصدر كل تكييف فقهي لمسألة ما، بتوضيح العقد الذي ستُكَيَّف به المسألة فقهاً قبل تكييف المسألة وتنزيلها عليه؛ لنؤسس القاعدة أولاً ثم نبني عليها.

ثالثاً: قمت بتصوير المسائل الغامضة تصويراً واضحاً، وشفعت ذلك بضرب مثال لكل مسألة إيغالاً في توضيح المسائل.

رابعاً: كيَّفت المسائل وخرجتها تخريجات فقهية شرعية مختلفة، ذاكراً أغلب التكييفات المذكورة في المسألة مستدلاً لها مناقشاً لأغلبها، مرجحاً ما أراه
২) ইসলামী অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এই বিষয়গুলোতে বিশেষজ্ঞের স্বল্পতা এবং তাদের অত্যধিক ব্যস্ততা, যার ফলে তাদের সাথে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

৩) এই মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে প্রদত্ত সেবাসমূহের আধিক্য, যা থেকে ফিকহী বহুবিধ রূপরেখা, বিশ্লেষণ ও প্রয়োগ তৈরি হয়। সেই সাথে এর আনুষঙ্গিক দালিলিক অনুমান ও পর্যালোচনাও যুক্ত হয়, যার প্রতিটিই মানসিক শ্রমের দাবি রাখে।

 

‌‌গবেষণার পদ্ধতি

গবেষক এই গবেষণায় আরোহী (Inductive) এবং বর্ণনামূলক-বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন এবং এতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা হয়েছে:

প্রথমত: গবেষক তার গবেষণায় কেবল প্রসিদ্ধ চারটি মাযহাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন, কারণ বর্তমান মুসলিম বিশ্বে এই মাযহাবগুলোই নির্ভরযোগ্য ও স্বীকৃত।

দ্বিতীয়ত: গবেষণার তাত্ত্বিক ভিত্তি বা মূলসূত্র নির্ধারণের দাবি অনুযায়ী, কোনো মাসআলার ফিকহী বিশ্লেষণ প্রদানের পূর্বে সংশ্লিষ্ট মাসআলাটি যে চুক্তির ভিত্তিতে ফিকহী রূপ দেওয়া হবে, তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি; যেন আমরা প্রথমে ভিত্তিটি স্থাপন করতে পারি এবং তার ওপর পরবর্তী কাঠামো নির্মাণ করতে পারি।

তৃতীয়ত: আমি অস্পষ্ট মাসআলাগুলোকে স্পষ্টভাবে চিত্রায়িত করেছি এবং বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিটি মাসআলার সাথে উদাহরণ যুক্ত করেছি।

চতুর্থত: আমি মাসআলাগুলোর ফিকহী বিশ্লেষণ করেছি এবং বিভিন্ন শারঈ ফিকহী আহকামের আলোকে তা নির্গত করেছি। সংশ্লিষ্ট মাসআলায় উল্লিখিত অধিকাংশ ফিকহী রূপরেখা দলিলসহ উল্লেখ করে সেগুলোর অধিকাংশের ওপর আলোচনা করেছি এবং আমার কাছে যা অধিক যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে তাকেই প্রাধান্য দিয়েছি।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১০)
راجحاً بالدليل والتعليل، أو ذاكراً للتكييف الراجح إن لم يكن قال به أحد من قبل.

خامساً: لم أترجم للأعلام المشهورة كالفقهاء الأربعة ومشاهير الصحابة؛ لشهرتهم وغناهم عن الترجمة، كما إنني اعتبر ذلك حشواً لا فائدة فيه، كما لم أترجم للمعاصرين.

سادساً: إن كان الحديث خرجه الشيخان (البخاري ومسلم) أو أحدهما، فإنني أكتفي بذلك ولا أطيل بذكر غيرهما ممن خرجه كون الصحيحان يغنيان عن غيرهما، وإن كان ليس فيهما فإنني أذكر المصادر الأخرى، مرتباً لها بحسب تاريخ وفاة مؤلفيها، ذاكراً مَن صححها أو ضعفها بحسب المستطاع.

سابعاً: ذكرت معلومات التوثيق لكل كتاب عند ذكره أول مرة، خلا المراجع الحديثية فإنني أُرجئ ذكرها إلى نهاية البحث خشية الإطالة.

ثامناً: مثلت شبكة المعلومات العالمية (الانترنت) مصدراً من مصادر البحث، كون طبيعة البحث تفرض ذلك وتقتضيه، بل ولا يستغني عنها.

تاسعاً: وضعت فهرسة للآيات القرآنية بحسب السور، والأحاديث النبوية بحسب ورودها في البحث، كما فهرست المصادر والمراجع بحسب المذاهب الفقهية مرتباً لها بحسب الترتيب الزمني ثم الأبجدي، ثم فهارس كتب الاقتصاد ثم الدوريات والمواقع الالكترونية ثم الكتب الأجنبية ثم أخيراً فهرست المحتويات.
দলীল ও যুক্তির নিরিখে যা অগ্রগণ্য তা গ্রহণ করেছি, অথবা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যার (তাকয়িফ) উল্লেখ করেছি যদি তা ইতিপূর্বে কেউ না বলে থাকে।

পঞ্চম: চার ইমাম এবং প্রখ্যাত সাহাবায়ে কেরামের মতো প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের জীবনী আমি উল্লেখ করিনি; কারণ তাঁদের সুখ্যাতি ও পরিচিতি জীবনী আলোচনার মুখাপেক্ষী নয়। এছাড়া আমি একে একটি অনর্থক সংযোজন বলে মনে করি। একইভাবে আমি সমসাময়িকদেরও কোনো জীবনী প্রদান করিনি।

ষষ্ঠ: যদি হাদীসটি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) অথবা তাঁদের কোনো একজন বর্ণনা করে থাকেন, তবে আমি তার ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি। এক্ষেত্রে অন্য বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করে কলেবর বৃদ্ধি করিনি, কারণ সহীহাইন অন্যান্য গ্রন্থ থেকে যথেষ্ট। আর যদি হাদীসটি তাঁদের কিতাবে না থাকে, তবে আমি অন্যান্য মূল উৎসগ্রন্থের উল্লেখ করেছি এবং সেগুলো গ্রন্থকারদের মৃত্যু তারিখ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি। সেই সাথে সাধ্যমতো হাদীসের বিশুদ্ধতা (সহীহ) বা দুর্বলতা (যয়ীফ) সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অভিমত ব্যক্ত করেছি।

সপ্তম: হাদীস শাস্ত্রের উৎসসমূহ ব্যতীত অন্য প্রতিটি কিতাব প্রথমবার উল্লেখ করার সময়ই তার প্রামাণিক তথ্যাদি প্রদান করেছি। দীর্ঘসূত্রতার ভয়ে হাদীসের কিতাবগুলোর তথ্যসূত্র গবেষণার শেষে উল্লেখ করার জন্য স্থগিত রেখেছি।

অষ্টম: বিশ্বব্যাপী তথ্যজাল (ইন্টারনেট) এই গবেষণার অন্যতম উৎস হিসেবে কাজ করেছে; কারণ গবেষণার ধরণই এর দাবি রাখে এবং এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য, বরং এটি ব্যতিরেকে চলা অসম্ভব।

নবম: আমি কুরআনের আয়াতসমূহকে সূরা অনুযায়ী এবং হাদীসসমূহকে গবেষণায় যেভাবে এসেছে সেভাবে বিন্যস্ত করে একটি নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি। একইভাবে উৎস ও রেফারেন্সসমূহকে ফিকহী মাযহাব অনুযায়ী সাজিয়েছি, যা প্রথমে কালানুক্রমিক এবং পরে বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এরপর অর্থনীতির কিতাবসমূহ, সাময়িকী, ওয়েবসাইট এবং বিদেশি বইপত্রের তালিকা প্রদান করেছি। সবশেষে সূচিপত্র যুক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১১)
هيكل البحث

وقد احتوت الدراسة على ستة فصول على النحو التالي:

الفصل التمهيدي: تطور النقود والدفع الإلكتروني

وتحته ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: ماهية النقود

المبحث الثاني: تعريف أنظمة الدفع الإلكتروني وأهدافه

المبحث الثالث: خصائص نظام الدفع الإلكتروني ومخاطره

الفصل الثاني: بطاقة الصراف الآلي

وتحته أربعة مباحث

المبحث الأول: ماهية بطاقة الصراف الآلي

المبحث الثاني: التكييف الشرعي لاستخدام بطاقة الصراف الآلي للسحب من الرصيد

المبحث الثالث: التكييف الشرعي لاستخدام بطاقة الصراف الآلي للإيداع والتحويل

المبحث الرابع: التكييف الشرعي لاستخدام بطاقة الصراف الآلي كنظام دفع في نقاط البيع الطرفية
গবেষণার কাঠামো

অত্র গবেষণাপত্রটি নিম্নোক্ত ছয়টি অধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে:

প্রারম্ভিক অধ্যায়: মুদ্রার বিবর্তন ও ইলেকট্রনিক পেমেন্ট

এর অধীনে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুদ্রার স্বরূপ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সংজ্ঞা ও এর উদ্দেশ্যসমূহ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য ও এর ঝুঁকি

দ্বিতীয় অধ্যায়: এটিএম কার্ড

এর অধীনে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে

প্রথম পরিচ্ছেদ: এটিএম কার্ডের স্বরূপ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ব্যালেন্স থেকে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে এটিএম কার্ড ব্যবহারের শরয়ী বিশ্লেষণ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অর্থ জমা ও স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এটিএম কার্ড ব্যবহারের শরয়ী বিশ্লেষণ

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পয়েন্ট অফ সেল (POS) টার্মিনালে পেমেন্ট ব্যবস্থা হিসেবে এটিএম কার্ড ব্যবহারের শরয়ী বিশ্লেষণ
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১২)
الفصل الثالث: بطاقة الدفع المسبق (ذا المجال المفتوح)

وتحته ثلاثة مباحث

المبحث الأول: ماهية البطاقات مسبقة الدفع

المبحث الثاني: أنواع بطاقات الدفع المسبق

المبحث الثالث: التكييف الفقهي لبطاقات الدفع المسبق

الفصل الرابع: بطاقة القيمة المخزنة (ذات المجال المغلق)

وتحته ثلاثة مباحث

المبحث الأول: ماهية البطاقات ذات القيمة المخزنة

المبحث الثاني: أنواع بطاقات القيمة المخزنة

البحث الثالث: التكييف الفقهي لبطاقات القيمة المخزنة

الفصل الخامس: البطاقة الذكية أو المحفظة الإلكترونية

وتحته ثلاثة مباحث

المبحث الأول: ماهية البطاقة الذكية

المبحث الثاني: خصائص ومميزات البطاقة الذكية

المبحث الثالث: التكييف الشرعي للبطاقة الذكية
তৃতীয় অধ্যায়: প্রি-পেইড কার্ড (উন্মুক্ত ক্ষেত্র বিশিষ্ট)

এর অধীনে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে

প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রি-পেইড কার্ডের স্বরূপ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রি-পেইড কার্ডের প্রকারভেদ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: প্রি-পেইড কার্ডের ফিকহি বিশ্লেষণ

চতুর্থ অধ্যায়: স্টোরড ভ্যালু কার্ড (বদ্ধ ক্ষেত্র বিশিষ্ট)

এর অধীনে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে

প্রথম পরিচ্ছেদ: স্টোরড ভ্যালু কার্ডের স্বরূপ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: স্টোরড ভ্যালু কার্ডের প্রকারভেদ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: স্টোরড ভ্যালু কার্ডের ফিকহি বিশ্লেষণ

পঞ্চম অধ্যায়: স্মার্ট কার্ড বা ইলেকট্রনিক ওয়ালেট

এর অধীনে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে

প্রথম পরিচ্ছেদ: স্মার্ট কার্ডের স্বরূপ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: স্মার্ট কার্ডের বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাসমূহ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: স্মার্ট কার্ডের শরয়ি বিশ্লেষণ
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل السادس: الشيكات الإلكترونية

وتحته ثلاثة مباحث

المبحث الأول: ماهية الشيكات الإلكترونية

المبحث الثاني: مميزات ومخاطر الشيكات الإلكترونية

المبحث الثالث: التكييف الشرعي للشيكات الإلكتروني

ثم الخاتمة واشتملت على:

النتائج

التوصيات

الفهارس وتشتمل على:

فهارس الآيات

فهارس الأحاديث

فهارس المصادر

فهارس المحتويات
ষষ্ঠ অধ্যায়: ইলেকট্রনিক চেক

এর অধীনে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইলেকট্রনিক চেকের স্বরূপ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইলেকট্রনিক চেকের বৈশিষ্ট্য ও ঝুঁকিসমূহ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইলেকট্রনিক চেকের শরয়ি অবস্থান

অতঃপর উপসংহার, যা নিম্নোক্ত বিষয়াবলি সংবলিত:

ফলাফলসমূহ

সুপারিশসমূহ

নির্ঘণ্টসমূহ, যা নিম্নোক্ত বিষয়াবলি সংবলিত:

আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট

হাদিসসমূহের নির্ঘণ্ট

উৎসসমূহের নির্ঘণ্ট

সূচিপত্র
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الفصل التمهيدي:

" تطور النقود والدفع الإلكتروني
"

وتحته ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: ماهية النقود

المبحث الثاني: تعريف أنظمة الدفع الإلكتروني وأهدافه

المبحث الثالث: خصائص نظام الدفع الإلكتروني ومخاطره
‌প্রারম্ভিক অধ্যায়:

"মুদ্রার বিবর্তন এবং ইলেকট্রনিক পেমেন্ট"

এর অধীনে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুদ্রার স্বরূপ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের সংজ্ঞা এবং এর লক্ষ্যসমূহ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং এর ঝুঁকি
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المبحث الأول: ماهية النقود

‌‌المطلب الأول: تعريف النقود

- تعريف النقود لغة

قال ابن فارس (1): النون، والقاف، والدال، أصل صحيح يدل على إبراز شيء وبروزه (2). ثم إن مادة (نقد) عند العرب لها معان عدة، نستطيع إيجاز ما يدل على مقصودنا بأمور أربعة (3):

--------------------------------------------

(1) هو ابن فارس أحمد بن فارس بن زكريا القزويني الإمام، العلامة، اللغوي، المحدث، أبو الحسين أحمد بن فارس بن زكريا بن محمد بن حبيب القزويني، المعروف بالرازي، المالكي، اللغوي، نزيل همذان، وصاحب كتاب (المجمل)، مولده بقزوين، ومرباه بهمذان، وأكثر الإقامة بالري. وكان رأسا في الأدب، بصيرا بفقه مالك، مناظرا متكلما على طريقة أهل الحق، ومذهبه في النحو على طريقة الكوفيين، جمع إتقان العلم إلى ظرف أهل الكتابة والشعر، ومات بالري في صفر سنة خمس وتسعين وثلاث مائة، ووهم من قال: مات سنة تسعين. سير أعلام النبلاء (17/ 103)، شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد الذَهَبي، ط، مؤسسة الرسالة.

‌‌(2) معجم مقاييس اللغة (5/ 467)، وما بعدها، أبي الحسن أحمد بن فارس، تحقيق عبدالسلام هارون، دار النشر دار الجيل، بيروت لبنان، الطبعة الثانية، (1420 هـ/1999 م).

‌‌(3) أنظر العين (5/ 118) وما بعدها مادة نقد، الخليل بن أحمد الفراهيدي، تحقيق د/ مهدي المخزومي د/ إبراهيم السمرائي، دار النشر دار ومكتبة الهلال. وانظر معجم مقاييس اللغة (5/ 467)، وما بعدها، وانظر النهاية (5/ 102)، وما بعدها أبو السعادات المبارك بن محمد الجزري، تحقيق طاهر أحمد الزاوي ـ محمود محمد الطناحي، دار النشر، المكتبة العلمية، بيروت، سنة النشر: (1399 هـ، 1979 م)، وانظر تاج العروس (9/ 230)، وما بعدها، محمد مرتضى الزبيدي، تحقيق مجموعة من المحققين، دار النشر الهداية. وانظر المعجم الوسيط (2/ 944)، وما بعدها ابراهيم مصطفى أحمد الزيات، حامد عبد القادر، محمد النجار، تحقيق مجمع اللغة العربية، دار النشر الدعوة .. وانظر أساس البلاغة (1/ 650)، وما بعدها أبو القاسم محمود بن عمر محمد بن عمر الخوارزمي الزمخشري، دار النشر دار الفكر، (1399 هـ، 1979 م). وانظر مختار الصحاح (1/ 281)، وما بعدها، محمد بن أبي بكر بن عبدالقادر الرازي، تحقيق محمود خاطر، دار النشر= =مكتبة لبنان ناشرون، بيروت (1415 هـ، 1995 م). وانظر لسان العرب (3/ 425)، وما بعدها، محمد بن مكرم بن منظور الأفريقي المصري، دار النشر دار صادر، بيروت، الطبعة الأولى.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: মুদ্রার স্বরূপ

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: মুদ্রার সংজ্ঞা

- মুদ্রার আভিধানিক সংজ্ঞা

ইবনে ফারিস (১) বলেন: নুন, কাফ এবং দাল—এটি একটি সঠিক মূলধাতু যা কোনো কিছু প্রকাশ করা এবং তার দৃশ্যমান হওয়াকে নির্দেশ করে (২)। অতঃপর আরবদের নিকট (নাকদ) ধাতুর বেশ কয়েকটি অর্থ রয়েছে, আমাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে এমন বিষয়গুলো আমরা চারটি পয়েন্টে সংক্ষেপ করতে পারি (৩):

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা, ভাষাবিদ ও মুহাদ্দিস আবু আল-হুসাইন আহমদ বিন ফারিস বিন জাকারিয়া বিন মুহাম্মদ বিন হাবিব আল-কাযউইনি, যিনি আর-রাজি হিসেবে পরিচিত। তিনি ছিলেন হামাদানে বসবাসকারী মালিকি মাযহাবের একজন ভাষাবিদ এবং ‘আল-মুজমাল’ গ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর জন্ম কাযউইনে এবং লালন-পালন হামাদানে হয়েছিল, তবে জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি রেই শহরে অতিবাহিত করেন। তিনি সাহিত্যে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং ইমাম মালিকের ফিকহ শাস্ত্রে গভীর পারদর্শী ছিলেন। তিনি সত্যপন্থীদের তরিকায় একজন বিতার্কিক ও কালামশাস্ত্রবিদ ছিলেন এবং ব্যাকরণ শাস্ত্রে কুফাবাসীদের মতাদর্শ অনুসরণ করতেন। তিনি জ্ঞানগত গভীরতার সাথে লেখক ও কবিদের মার্জিত স্বভাবের সমন্বয় করেছিলেন। তিনি ৩৯৫ হিজরির সফর মাসে রেই শহরে মৃত্যুবরণ করেন। যারা ৩৯০ হিজরিতে তাঁর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছেন তারা ভুল করেছেন। সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৭/ ১০৩), শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ আদ-দাহাবি, প্রকাশনা: মুআসসাসাতুর রিসালাহ।

‌‌(২) মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ (৫/ ৪৬৭) এবং পরবর্তী অংশ, আবু আল-হাসান আহমদ বিন ফারিস, সম্পাদনা: আব্দুস সালাম হারুন, দারুন নাশর দারুল জিল, বৈরুত লেবানন, দ্বিতীয় সংস্করণ, (১৪২০ হি./ ১৯৯৯ খ্রি.)।

‌‌(৩) দেখুন: আল-আইন (৫/ ১১৮) এবং পরবর্তী অংশ, ‘নাকদ’ মূলধাতু, আল-খলিল বিন আহমদ আল-ফারাহিদি, সম্পাদনা: ড. মাহদি আল-মাখযুমি ও ড. ইবরাহিম আস-সামাররায়ি, প্রকাশনী: দারু ওয়া মাকতাবাতুল হিলাল। আরও দেখুন: মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ (৫/ ৪৬৭) এবং পরবর্তী অংশ। আরও দেখুন: আন-নিহায়াহ (৫/ ১০২) এবং পরবর্তী অংশ, আবুস সাআদাত আল-মুবারক বিন মুহাম্মদ আল-জাযারি, সম্পাদনা: তাহের আহমদ আয-যাওয়াভি ও মাহমুদ মুহাম্মদ আত-তানাহি, প্রকাশনী: আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, প্রকাশের বছর: (১৩৯৯ হি., ১৯৭৯ খ্রি.)। আরও দেখুন: তাজুল আরুস (৯/ ২৩০) এবং পরবর্তী অংশ, মুহাম্মদ মুরতাদা আজ-যাবিদি, একদল গবেষক দ্বারা সম্পাদিত, প্রকাশনী: দারুল হিদায়াহ। আরও দেখুন: আল-মু'জামুল ওয়াসিত (২/ ৯৪৪) এবং পরবর্তী অংশ, ইবরাহিম মুস্তফা, আহমদ আজ-যাইয়াত, হামিদ আব্দুল কাদির, মুহাম্মদ আন-নাজ্জার, সম্পাদনা: মাজমাউল লুগাহ আল-আরাবিয়্যাহ, প্রকাশনী: দারুদ দাওয়াহ। আরও দেখুন: আসাসুল বালাগাহ (১/ ৬৫০) এবং পরবর্তী অংশ, আবুল কাসিম মাহমুদ বিন উমর মুহাম্মদ বিন উমর আল-খাওয়ারিজমি আজ-যামাখশারি, প্রকাশনী: দারুল ফিকর, (১৩৯৯ হি., ১৯৭৯ খ্রি.)। আরও দেখুন: মুখতারুস সিহাহ (১/ ২৮১) এবং পরবর্তী অংশ, মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আব্দুল কাদির আর-রাজি, সম্পাদনা: মাহমুদ খাতির, প্রকাশনী: মাকতাবাতু লুবনান নাশিরুন, বৈরুত (১৪১৫ হি., ১৯৯৫ খ্রি.)। আরও দেখুন: লিসানুল আরব (৩/ ৪২৫) এবং পরবর্তী অংশ, মুহাম্মদ বিন মাকরাম বিন মানজুর আল-আফ্রিকি আল-মিসরি, প্রকাশনী: দারু সাদির, বৈরুত, প্রথম সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬)
أولاً: التكشف والظهور، ومن ذلك النقد في الحافر، وهو تقشره؛ والنقد في الضرس تكسره، وذلك يكون بتكشف ليطه عنه؛ ويقال نقد النثر، ونقد الشعر أظهر ما فيهما.

ثانياً: التمييز، يقال نقد الدراهم كشف عن حال جودتها؛ ودرهم نقد وِزَانٌ جيد، كأنه قد كشف عن حاله فعلم؛ ونقد الدراهم وانتقدها أخرج منها الزيف، وقد أنشد سيبويه:

تنفي يداها الحصى في كل هاجرة … ** … نفي الدنانير تنقاد الصياريف

ثالثاً: الإعطاء والقبض، قال الليث النقد تمييز الدراهم وإعطاؤكها إنسانا وأخذها، ونقد له الدراهم أي أعطاه إياها، فانتقدها أي قبضها. وهذا هو المقصود بدراستنا.

رابعاً: تعجيل الثمن، في حديث جابر وجَمَلِه فنقدني الثمن أي أعطانيه نقداً معجلاً؛ وفلاناً الثمن وله الثمن أعطاه إياه نقداً معجلاً، ومنه نقده الثمن ونقده له فانتقده.
প্রথমত: উন্মোচন এবং প্রকাশ পাওয়া। এর অন্তর্ভুক্ত হলো পশুর খুরের ক্ষেত্রে ‘নকদ’ শব্দটির ব্যবহার, যার অর্থ হলো এর উপরিভাগ বা চামড়া উঠে যাওয়া। দাঁতের ক্ষেত্রে ‘নকদ’ মানে হলো তা ভেঙে যাওয়া, আর তা ঘটে থাকে দাঁতের আবরণ উন্মোচিত হওয়ার মাধ্যমে। বলা হয়ে থাকে যে, গদ্যের নকদ করা কিংবা পদ্যের নকদ করা—অর্থাৎ সেগুলোর মধ্যকার বিষয়বস্তুকে প্রকাশ করা।

দ্বিতীয়ত: পার্থক্য নিরূপণ করা। দিরহামের ‘নকদ’ করা বলতে এর গুণগত মান পরীক্ষা করাকে বোঝায়। ‘দিরহামুন নকদ’ অর্থ হলো সঠিক ওজনের উৎকৃষ্ট মুদ্রা, যেন তার প্রকৃত অবস্থা উন্মোচিত হয়েছে এবং তা জানা গেছে। দিরহামের ‘নকদ’ বা ‘ইনতিকাদ’ করা মানে হলো তা থেকে জাল বা ত্রুটিযুক্ত মুদ্রা পৃথক করা। সিবওয়াইহি এই কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন:

সেটির (উটনীর) সামনের পা দুটি প্রখর মধ্যাহ্নে কঙ্করগুলোকে সরিয়ে দিচ্ছিল … ** … যেভাবে মুদ্রা-পরীক্ষকগণ যাচাইয়ের মাধ্যমে দিনারসমূহকে পৃথক করেন।

তৃতীয়ত: প্রদান করা এবং গ্রহণ করা। আল-লায়স বলেছেন, ‘নকদ’ হলো দিরহামসমূহ যাচাই করা এবং তা কাউকে প্রদান করা ও গ্রহণ করা। কাউকে দিরহাম ‘নকদ’ করে দেওয়া মানে তাকে তা প্রদান করা, আর সে তা ‘ইনতিকাদ’ করেছে মানে তা গ্রহণ করেছে। আমাদের এই গবেষণায় এটিই উদ্দেশ্য।

চতুর্থত: মূল্য দ্রুত বা নগদে পরিশোধ করা। জাবির (রা.) এবং তাঁর উটের হাদিসে এসেছে— ‘অতঃপর তিনি আমাকে মূল্য নকদ প্রদান করলেন’, অর্থাৎ তিনি আমাকে তাৎক্ষণিক নগদে মূল্য দিয়ে দিলেন। কাউকে মূল্য ‘নকদ’ করে দেওয়া মানে তাকে তা নগদ বা দ্রুত প্রদান করা। এর থেকেই মূল্য ‘নকদ’ করা এবং তা ‘ইনতিকাদ’ বা গ্রহণ করার বিষয়টি এসেছে।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭)
والنقد هو المصدر ثم أطلق على المنقود، من باب إطلاق المصدر على اسم المفعول واصطلح الناس على ذلك.

- تعريف النقود اصطلاحاً

أولاً: في اصطلاح الفقهاء

اختلفت عبارات الفقهاء في تعريف النقود كأثمان وقِيَم، ونستطيع إيجازها بالآتي:

1) الذهب والفضة (1)

مطلقاً مضروبين كانا أم غير مضروبين، وهو قول بعض الحنفية، ففي شرح فتح القدير قوله: القضاء بالقيمة وهي النقدان والتبر، أي غير المضروب كذلك (2)، وهو المذهب عند المالكية، يقول في شرح مختصر خليل: يعني أن التبر لا يجوز أن يكون رأس مال القراض إذا كان لا يتعامل به في بلد القراض وإلا فيجوز وقيده ابن رشد بما إذا لم يوجد في بلد القراض مسكوك يتعامل به ومثل التبر

--------------------------------------------

(1) من اللطائف: أنه سمي الذهب ذهبا لأنه يذهب ولا يبقى، وسميت الفضة بذلك لأنها تنفض ولا تبقى، وسمي المضروب من الذهب دينارا ومن الفضة درهما لأن الدينار آخره نار، والدرهم آخره هم، وأنشد بعضهم في معنى ذلك فقال:

النار آخر دينار نطقت به … والهم آخر هذا الدرهم الجاري …

المرء بينهما ما لم يكن ورعا … معذب القلب بين الهم والنار

 

انظر حاشية البجيرمي (2/ 27)، سليمان ين عمر بن محمد البجيرمي، المكتبة الإسلامية، ديار بكر، تركيا.

‌‌(2) شرح فتح القدير (6/ 143)، كمال الدين محمد بن عبد الواحد السيواسي، ط، دار الفكر، بيروت، لبنان، الطبعة الثانية.
'নাকদ' (নগদ/মুদ্রা) মূলত একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), যা পরবর্তীতে 'মানকুদ' (মুদ্রিত অর্থ) অর্থে ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে। এটি মাসদারকে ইসমে মাফ'উল হিসেবে ব্যবহারের ব্যাকরণিক নিয়মে হয়েছে এবং মানুষ এ পরিভাষাটি গ্রহণ করে নিয়েছে।

- মুদ্রার পারিভাষিক সংজ্ঞা

প্রথমত: ফকিহগণের পরিভাষায়

বিনিময়মূল্য ও মানদণ্ড হিসেবে মুদ্রার সংজ্ঞায় ফকিহগণের বক্তব্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, আমরা তা নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপ করতে পারি:

১) সোনা ও রুপা (১)

মুদ্রায় রূপান্তরিত হোক বা না হোক উভয় অবস্থায় এটি প্রযোজ্য। এটি কিছু হানাফি আলিমের অভিমত। 'শারহু ফাতহিল কদিরে' বলা হয়েছে: মূল্যের মাধ্যমে দায় পরিশোধ করা, আর তা হলো দুই মুদ্রা (সোনা ও রুপা) এবং তিবর তথা অমুদ্রিত সোনা-রুপাও এর অন্তর্ভুক্ত (২)। এটিই মালিকি মাযহাবের অভিমত। 'শারহু মুখতাসারিল খলিলে' বলা হয়েছে: অর্থাৎ 'তিবর' (অমুদ্রিত সোনা-রুপা) কিরাদ (মুদারাবা) এর মূলধন হওয়া জায়েজ নয়, যদি সেই জনপদে তার মাধ্যমে লেনদেনের প্রচলন না থাকে। অন্যথায় তা জায়েজ হবে। ইবনে রুশদ একে এই শর্তে সীমাবদ্ধ করেছেন যে, যদি উক্ত জনপদে কোনো মুদ্রিত মুদ্রা না থাকে যা দিয়ে লেনদেন করা যায়। আর তিবরের সদৃশ...

--------------------------------------------

(১) একটি সূক্ষ্ম বিষয় হলো: সোনাকে 'যাহাব' বলা হয় কারণ এটি চলে যায় (যাহাব) এবং স্থায়ী হয় না। রুপাকে 'ফিজ্জাহ' বলা হয় কারণ এটি শেষ হয়ে যায় (তানফায্যু) এবং স্থায়ী হয় না। আর স্বর্ণের মুদ্রাকে 'দিনার' এবং রুপার মুদ্রাকে 'দিরহাম' বলা হয় কারণ দিনার শব্দের শেষে রয়েছে 'নার' (আগুন) এবং দিরহাম শব্দের শেষে রয়েছে 'হাম' (চিন্তা)। জনৈক কবি এ প্রসঙ্গে ছন্দ আওড়িয়েছেন:

দিনার উচ্চারণে এর শেষভাগে রয়েছে আগুন … আর প্রচলিত এই দিরহামের শেষে রয়েছে চিন্তা …

মানুষ যদি পরহেযগার না হয়, তবে সে এই চিন্তা ও আগুনের মাঝে হৃদয়ের যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে থাকে।

 

দেখুন: হাশিয়াতুল বুজাইরমি (২/২৭), সুলায়মান বিন উমর বিন মুহাম্মদ আল-বুজাইরমি, আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ, দিয়ার বকর, তুরস্ক।

‌‌(২) শারহু ফাতহিল কদির (৬/১৪৩), কামালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আস-সিওয়াসি, দারুল ফিকর, বৈরুত, লেবানন, দ্বিতীয় সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৮)
الحلي والنقار والمذهب أن حكمها واحد (1). ومثله صاحب الثمر الداني إذ يقول: وهو النقد المضروب وما في حكمه من نقار الذهب والفضة (2).

وهو قول كثير من الشافعية (3).

ففي نهاية المحتاج: وإذا ملكه أي عرض التجارة بنقد وهو الذهب والفضة وإن لم يكونا مضروبين (4). وقال أيضاً: وللنقد إطلاقان: أحدهما على ما يقابل العرض والدين فشمل المضروب وغيره، وهو المراد هنا والثاني على المضروب خاصة (5). وكذلك قال شُرَّاح المنهاج، ففي مغني المحتاج يقول: (وإذا ملكه) أي عرض التجارة (بنقد) وهو الذهب والفضة ولو غير مضروبين (6)؛ وفي السراج

--------------------------------------------

(1) شرح مختصر خليل (6/ 205)، محمد الخرشي المالكي، ط، دار الفكر بيروت لبنان.

‌‌(2) الثمر الداني شرح رسالة القيرواني ج 1 صـ 528، صالح عبدالسميع الآبي الأزهري، ط، المكتبة الثقافية، بيروت، وانظرحاشية العدوي (2/ 267)، علي الصعيدي العدوي المالكيِ، ط، دار الفكر، بيروت لبنان، سنة النشر 1412 هـ، ت حقيق يوسف الشيخ محمد البقاعي.

‌‌(3) انظر فتح الوهاب (1/ 276)، زكريا بن محمد بن أحمد بن زكريا الأنصاري أبو يحيى، ط، دار الكتب العلمية، بيروت، (1418 هـ)، الأولى، وانظر حواشي الشرواني (3/ 263)، عبدالحميد الشرواني، ط، دار الفكر، بيروت. وانظر أيضاً فتح المعين (3/ 12)، زين الدين بن عبدالعزيز المليباري، ط، دار الفكر، بيروت.

‌‌(4) نهاية المحتاج (3/ 104)، شمس الدين محمد بن أبي العباس أحمد بن حمزة بن شهاب الدين الرملي، الشهير بالشافعي الصغير، ط، دار الفكر المعاصر، بيروت، (1404 هـ، 1984 م).

‌‌(5) نهاية المحتاج (3/ 83).

‌‌(6) مغني المحتاح (1/ 398)، محمد الخطيب الشربيني، ط، دار الفكر المعاصر، بيروت لبنان.
অলঙ্কার এবং স্বর্ণ-রৌপ্যের পিণ্ড; মাযহাবের সিদ্ধান্ত হলো এগুলোর বিধান অভিন্ন (১)। 'আস-সামার আদ-দানি' গ্রন্থের লেখকও অনুরূপ কথা বলেছেন, তিনি বলেন: আর তা হলো মুদ্রিত মুদ্রা এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যের পিণ্ডের মতো যা এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত (২)।

এটি অনেক শাফেয়ি ফকীহগণের অভিমত (৩)।

'নিহায়াতুল মুহতাজ' গ্রন্থে রয়েছে: আর যখন কেউ এর অর্থাৎ বাণিজ্যিক পণ্যের মালিক হবে 'নাকদ' বা মুদ্রার বিনিময়ে, আর মুদ্রা হলো স্বর্ণ ও রৌপ্য—যদিও তা মুদ্রিত না হয় (৪)। তিনি আরও বলেন: 'নাকদ' (মুদ্রা) শব্দটির দুটি প্রয়োগ রয়েছে: প্রথমটি হলো যা পণ্য ও ঋণের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়, ফলে এটি মুদ্রিত এবং অ-মুদ্রিত উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, আর এখানে এটিই উদ্দেশ্য। দ্বিতীয়টি হলো বিশেষভাবে মুদ্রিত মুদ্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (৫)। অনুরূপভাবে 'আল-মিনহাজ'-এর ব্যাখ্যাকারগণও বলেছেন। 'মুগনিউল মুহতাজ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: (আর যখন সে এর মালিক হবে) অর্থাৎ বাণিজ্যিক পণ্যের (নাকদ বা মুদ্রার বিনিময়ে) যা হলো স্বর্ণ ও রৌপ্য, যদিও তা মুদ্রিত না হয় (৬); এবং 'আস-সিরাজ' গ্রন্থে...

--------------------------------------------

(১) শারহু মুখতাসার খলীল (৬/ ২০৫), মুহাম্মাদ আল-খারশি আল-মালিকি, প্রকাশনা: দারুল ফিকর বৈরুত, লেবানন।

‌‌(২) আস-সামার আদ-দানি শারহু রিসালাতিল কায়রাওয়ানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫২৮, সালিহ আব্দুল সামি আল-আবি আল-আযহারি, প্রকাশনা: আল-মাকতাবাতুস সাকাফিয়্যাহ, বৈরুত; এবং আল-আদাবির হাশিয়া (২/ ২৬৭) দেখুন, আলী আস-সাঈদি আল-আদাবি আল-মালিকি, প্রকাশনা: দারুল ফিকর, বৈরুত, লেবানন, প্রকাশকাল ১৪১২ হিজরি, তাহকীক: ইউসুফ আল-শাইখ মুহাম্মাদ আল-বিকাঈ।

‌‌(৩) ফাতহুল ওয়াহহাব (১/ ২৭৬) দেখুন, যাকারিয়া বিন মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন যাকারিয়া আল-আনসারী আবু ইয়াহইয়া, প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, (১৪১৮ হি.), প্রথম সংস্করণ। আশ-শিরওয়ানির হাশিয়া (৩/ ২৬৩) দেখুন, আব্দুল হামিদ আশ-শিরওয়ানি, প্রকাশনা: দারুল ফিকর, বৈরুত। আরও দেখুন ফাতহুল মুঈন (৩/ ১২), যাইনুদ্দীন বিন আব্দুল আযীয আল-মালিবারি, প্রকাশনা: দারুল ফিকর, বৈরুত।

‌‌(৪) নিহায়াতুল মুহতাজ (৩/ ১০৪), শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আবিল আব্বাস আহমদ বিন হামজাহ বিন শিহাবুদ্দীন আর-রামলি, যিনি আশ-শাফিঈ আস-সাগীর নামে পরিচিত, প্রকাশনা: দারুল ফিকর আল-মুআসির, বৈরুত, (১৪০৪ হি, ১৯৮৪ খ্রি.)।

‌‌(৫) নিহায়াতুল মুহতাজ (৩/ ৮৩)।

‌‌(৬) মুগনিউল মুহতাজ (১/ ৩৯৮), মুহাম্মাদ আল-খতিব আশ-শিরবিনি, প্রকাশনা: দারুল ফিকর আল-মুআসির, বৈরুত, লেবানন।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৯)
الوهاج يقول: باب زكاة النقد وهو ضد العرض والدين فيشمل المضروب وغيره (1).

2) الذهب والفضة المضروبين، وقد ذهب إلى ذلك بعض الشافعية فقالوا: النقد هو المضروب من الذهب والفضة (2)، ففي حاشيته البجيرمي: والنقد هو المضروب من الذهب والفضة، فلذلك قال دراهم ودنانير وهذا أحد إطلاقين للنقد، والآخر يطلق على ما قابل العرض والدين، فيشمل غير المضروب (3)، وقد ذهب إلى ذلك أيضاً بعض الحنابلة، فقالوا: واشترط كون النقد مضروباً، دراهم ودنانير لأنها قيم المتلفات وأثمان المبيعات وغير المضروب كالعروض (4).

3) يتوقف ذلك بحسب العرف، إذا كان من المعروف والمعتاد بين الناس التعامل بالذهب والفضة غير المسكوكين أي غير المضروبين أي استعمالهما مقام النقود، ويسميان نقرة وهي القطعة المذابة من الذهب والفضة فيكونان في حكم النقود المضروبة والمسكوكة، ويكون

--------------------------------------------

(1) السراج الوهاجج (1/ 124)، محمد الزهري الغمراوي، ط، دار المعرفة، بيروت لبنان.

‌‌(2) انظر حاشية الجمل على شرح المنهاج، (3/ 513)، سليمان الجمل، ط، دار الفكر، بيروت، وانظر كفاية الأخيارج (1/ 184)، تقي الدين أبي بكر محمد الحسيني الحصي الدمشقي الشافعي، ط، دار الفكر، دمشق، الطبعة الأولى، تحقيق علي عبدالحميد بلطجي ومحمد وهبي سليمان.

‌‌(3) حاشية البجيرمي (3/ 146).

‌‌(4) شرح منتهى الإرادات (2/ 208)، منصور بن يونس بن إدريس البهوتي، ط، عالم الكتب، بيروت، 1996 م، الثانية.، وانظر مطالب أولي النهى، (3/ 497)، مصطفى السيوطي الرحيباني، ط، المكتب الإسلامي، دمشق، (1961 م).
'আল-ওয়াহহাজ' বলছে: মুদ্রার যাকাত অধ্যায়; আর এটি আসবাবপত্র ও ঋণের বিপরীত, তাই এটি মুদ্রাঙ্কিত এবং অ-মুদ্রাঙ্কিত উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে (১)।

২) মুদ্রাঙ্কিত স্বর্ণ ও রৌপ্য; কিছু শাফিঈ আলেম এই মত গ্রহণ করেছেন, তাঁরা বলেন: 'নাকদ' (মুদ্রা) হলো স্বর্ণ ও রৌপ্যের মুদ্রাঙ্কিত রূপ (২)। আল-বুজাইরিমির হাশিয়াতে রয়েছে: আর নাকদ হলো স্বর্ণ ও রৌপ্যের মুদ্রাঙ্কিত রূপ, তাই তিনি দিরহাম ও দিনার বলেছেন। এটি নাকদ শব্দের দুটি প্রয়োগের একটি; অন্যটি ব্যবহৃত হয় আসবাবপত্র ও ঋণের বিপরীতে, যা অ-মুদ্রাঙ্কিত স্বর্ণ-রৌপ্যকেও অন্তর্ভুক্ত করে (৩)। কিছু হাম্বলী আলেমও এই মত পোষণ করেছেন, তাঁরা বলেন: নাকদ মুদ্রাঙ্কিত (দিরহাম ও দিনার) হওয়ার শর্তারোপ করা হয়েছে, কারণ এগুলো হলো বিনষ্ট জিনিসের মূল্য এবং বিক্রয়লব্ধ পণ্যের দাম; আর অ-মুদ্রাঙ্কিত সোনা-রুপা আসবাবপত্রের মতো (৪)।

৩) এটি প্রথার (উরফ) ওপর নির্ভর করে; যদি মানুষের মাঝে মুদ্রাঙ্কিত নয় এমন স্বর্ণ ও রৌপ্যের মাধ্যমে লেনদেন করা পরিচিত ও প্রচলিত হয়, অর্থাৎ মুদ্রার পরিবর্তে সেগুলোর ব্যবহার হয়। এগুলোকে 'নুকরাহ' বলা হয়, যা হলো স্বর্ণ ও রৌপ্যের গলিত টুকরো; এমতাবস্থায় সেগুলো মুদ্রাঙ্কিত ও ছাপ মারা মুদ্রার হুকুমেই গণ্য হবে, এবং হবে...

--------------------------------------------

(১) আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ (১/ ১২৪), মুহাম্মাদ আয-যুহরি আল-গামরাওয়ী, প্রকাশনী: দারুল মা'রিফাহ, বৈরুত, লেবানন।

‌‌(২) দেখুন: শারহুল মিনহাজ-এর ওপর হাশিয়াতুল জামাল (৩/ ৫১৩), সুলায়মান আল-জামাল, প্রকাশনী: দারুল ফিকর, বৈরুত; এবং দেখুন: কিফায়াতুল আখইয়ার (১/ ১৮৪), তাকীউদ্দীন আবু বকর মুহাম্মাদ আল-হুসাইনী আল-হিসনী আদ-দিমাশকী আশ-শাফিঈ, প্রকাশনী: দারুল ফিকর, দামেস্ক, প্রথম সংস্করণ, সম্পাদনা: আলী আব্দুল হামিদ বালতাজী ও মুহাম্মাদ ওয়াহবী সুলায়মান।

‌‌(৩) হাশিয়াতুল বুজাইরিমি (৩/ ১৪৬)।

‌‌(৪) শারহু মুনতাহাল ইরাদাত (২/ ২০৮), মানসুর বিন ইউনুস বিন ইদ্রিস আল-বাহুতী, প্রকাশনী: আলমুল কুতুব, বৈরুত, ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ, দ্বিতীয় সংস্করণ; এবং দেখুন: মাতালিবু উলিন নুহা (৩/ ৪৯৭), মুস্তফা আস-সুয়ূতী আর-রুহাইবানী, প্রকাশনী: আল-মাকতাবুল ইসলামী, দামেস্ক, (১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দ)।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২০)
التعامل بهما بمنزلة الضرب وتصلح أن تكون ثمنا ورأس مال. ((1) وقال صاحب الفواكه الدواني من المالكية: وأشار إلى شرط المال بقوله: (بالدنانير والدراهم) ولو كانت مغشوشة حيث تعومل بها، وإن لم ترج كالكاملة ولو مع وجود النقد الخالص، وأما غير المتعامل به فهو كالعرض وقد أرخص أي تسوهل فيه أي القراض بنقار الذهب والفضة والنقار بكسر النون القطع الخالصة من الذهب والفضة، ومثلها التبر والحلي، فإن حكم الجميع واحد في الجواز إن تعومل بها في بلد العمل، ولم يكن فيها مسكوك. وأما إن لم يتعامل بها أو وجد المسكوك فلا يجوز على المعتمد، خلافا لما يوهمه ظاهر المصنف، .. والحاصل أن غير المضروب من تبر ونقار وحلي، لا يجوز جعله رأس مال إلا بشرطين: التعامل به في بلد العمل، وعدم وجود المسكوك ((2).

--------------------------------------------

(1) درر الحكام شرح مجلة الأحكام (3/ 373)، علي حيدر، دار الكتب العلمية، بيروت لبنان، تعريب: المحامي فهمي الحسيني.

‌‌(2) الفواكه الدواني (2/ 122)، أحمد بن عنيم بن سالم النفراوي المالكي، تـ: (1125 هـ)، ط، دار الفكر، بيروت لبنان، (1415 هـ). وانظر شرح مختصر خليل، (6/ 204).
এ দুটির মাধ্যমে লেনদেন করা মুদ্রা তৈরির সমতুল্য এবং এগুলো মূল্য ও মূলধন হওয়ার যোগ্য। ((১) মালিকি মাযহাবের 'আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানি' গ্রন্থের লেখক বলেছেন: তিনি সম্পদের শর্তের দিকে ইঙ্গিত করে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে বলেছেন: (দিনার ও দিরহামের মাধ্যমে) যদিও সেগুলো সংমিশ্রণযুক্ত হয় যতক্ষণ তার মাধ্যমে লেনদেন প্রচলিত থাকে, যদিও সেগুলো নিখুঁত মুদ্রার মতো ব্যাপকভাবে প্রচলিত না হয় এবং খাঁটি মুদ্রা বিদ্যমান থাকে। আর যার মাধ্যমে লেনদেন প্রচলিত নেই তা সাধারণ পণ্যদ্রব্যের ন্যায়। আর সোনা ও রূপার খণ্ড (নিকার) দিয়ে কিরায (মুদারাবা) করাকে সহজ বা শিথিল করা হয়েছে। নুন বর্ণে কাসরাসহ 'নিকার' অর্থ হলো সোনা ও রূপার খাঁটি টুকরো। এর অনুরূপ হলো স্বর্ণরেণু (তিব্র) ও অলঙ্কার। এ সবগুলোর বিধান বৈধতার ক্ষেত্রে একইরূপ যদি সংশ্লিষ্ট শহরে এগুলোর মাধ্যমে লেনদেন প্রচলিত থাকে এবং সেখানে কোনো মুদ্রিত মুদ্রা না থাকে। আর যদি এগুলোর মাধ্যমে লেনদেন না হয় অথবা মুদ্রিত মুদ্রা বিদ্যমান থাকে, তবে নির্ভরযোগ্য মতানুসারে তা বৈধ নয়; যা গ্রন্থকারের বাণীর বাহ্যিক রূপ থেকে তৈরি হওয়া ধারণার বিপরীত। সারকথা হলো, স্বর্ণরেণু, ধাতবখণ্ড এবং অলঙ্কারের মতো অমুদ্রিত বস্তুসমূহকে মূলধন করা বৈধ নয়, কেবল দুটি শর্ত ছাড়া: সংশ্লিষ্ট শহরে এগুলোর মাধ্যমে লেনদেন প্রচলিত থাকা এবং মুদ্রিত মুদ্রার অনুপস্থিতি। ((২).

--------------------------------------------

(১) দুরারুল হুক্কাম শারহু মাজাল্লাতিল আহকাম (৩/ ৩৭৩), আলী হায়দার, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত লেবানন, অনুবাদ: আইনজীবী ফাহমি আল-হুসাইনি।

‌‌(২) আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানি (২/ ১২২), আহমাদ ইবনে গুনাইম ইবনে সালিম আন-নাফরাবি আল-মালিকি, মৃত্যু: (১১২৫ হিজরি), প্রকাশনী: দারুল ফিকর, বৈরুত লেবানন, (১৪১৫ হিজরি)। এবং দেখুন শারহু মুখতাসার খলীল, (৬/ ২০৪)।
(খণ্ড: ১) আনযিমাতুদ দাফইল ইলেকট্রোনি আল-মুআসির গায়রুল ইতিমানি ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২১)
الخلاصة

وسواء أكانت النقود تعني الذهب والفضة مطلقاً، أم تقييدها بالمضروب منهما، فإن الذهب والفضة يبقيان هما أثمان وقيم الأشياء، والذي يتعاطى بهما الناس وعليهما اصطلح الفقهاء بوصفهما نقوداً، ولعل الخلاف بين الفقهاء راجع إلى اختلاف الأزمان والبلدان في تحديد النقد في الأعراف، وهذا ما يتجلى من القول الثالث، فالعرف اليوم ـ كما سنرى في تعريف النقود عند الاقتصاديين ـ يكاد يقصر النقود على تلك الأوراق الصادرة عن البنوك المركزية أو ما يقوم مقامها، وإن كانت في الحقيقة غطاء عن الذهب والفضة.

ثانياً: تعريف النقود في عرف الاقتصاديين

تباينت تعاريف الاقتصاديين، في تعريف النقود وتعددت عباراتهم، واختلفت وجهاتهم، بحسب نظرة كل واحد منهم لها، وتكييفه لماهيتها (1).

يقول الدكتور فؤاد دهمان: "إن التعاريف التي أعطيت للنقد كثيرة ومتباينة، ويزيد في اختلافها تباين نظرات المؤلفين إلى ماهية النقد واختلاف مفهومه لديهم " (2).

--------------------------------------------

(1) ذكرت كتب الاقتصاد تعاريف كثيرة، وأطالت في ذلك جداً، وقد ضربت عنها صفحاً، خاصة أن كثيراً منها لا يتوافق مع بناء الحدود عند المناطقة.

‌‌(2) الاقتصاد السياسي (ص: 5)، فؤاد دهمان، ط، جامعة دمشق، الثانية، (1974 م).
উপসংহার

মুদ্রা বলতে সোনা ও রূপাকে সাধারণভাবে বোঝানো হোক, কিংবা সেগুলোকে শুধুমাত্র টাঁকশালে মুদ্রিত হওয়ার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা হোক না কেন, সোনা ও রূপাই মূলত সকল বস্তুর মূল্য ও মানদণ্ড হিসেবে অবশিষ্ট থাকে। মানুষ এগুলোর মাধ্যমেই লেনদেন পরিচালনা করে এবং ফকিহগণ এ দুটিকেই মুদ্রা হিসেবে পরিভাষাবদ্ধ করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সম্ভবত ফকিহদের মধ্যে বিদ্যমান এই মতভেদ বিভিন্ন সময় ও জনপদে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী মুদ্রার সংজ্ঞা নির্ধারণের ভিন্নতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এটিই তৃতীয় মত থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। বর্তমানে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী—যেমনটি আমরা অর্থনীতিবিদদের নিকট মুদ্রার সংজ্ঞার ক্ষেত্রে দেখতে পাব—মুদ্রা বলতে প্রায় পুরোপুরিভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসমূহ থেকে ইস্যুকৃত সেই সকল কাগজের নোট বা এর স্থলাভিষিক্ত বিষয়গুলোকেই বোঝানো হয়, যদিও প্রকৃতপক্ষে এগুলো সোনা ও রূপারই বিপরীতে সংরক্ষিত মান।

দ্বিতীয়ত: অর্থনীতিবিদদের পরিভাষায় মুদ্রার সংজ্ঞা

মুদ্রার সংজ্ঞার ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদদের সংজ্ঞাসমূহ বৈচিত্র্যময় এবং তাদের অভিব্যক্তির মধ্যে বহুত্ব রয়েছে। প্রত্যেকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি এবং মুদ্রার স্বরূপ সম্পর্কে তাদের ব্যাখ্যার ভিন্নতার কারণে তাদের মতামতের পার্থক্য ঘটেছে (১)।

ড. ফুয়াদ দাহমান বলেন: "মুদ্রার যেসব সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তা বহু এবং বৈচিত্র্যময়। মুদ্রার স্বরূপ সম্পর্কে লেখকদের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা এবং তাদের নিকট এর ধারণার পার্থক্যের কারণে এই মতভেদ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে" (২)।

--------------------------------------------

(১) অর্থনীতির বইগুলোতে অনেক সংজ্ঞা উল্লেখ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে অত্যন্ত দীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছে। আমি সেগুলো এড়িয়ে গিয়েছি, বিশেষ করে সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই যুক্তিবিদদের নিকট সংজ্ঞা গঠনের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

‌‌(২) আল-ইকতিসাদ আস-সিয়াসী (পৃষ্ঠা: ৫), ফুয়াদ দাহমান, দ্বিতীয় সংস্করণ, দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়, (১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দ)।