(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: -)
السنة ومكانتها للسباعي ط الوراق   (مصطفى السباعي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي

المؤلف: مصطفى بن حسني السباعي (ت 1384هـ)

التاشر: المكتب الإسلامي - دار الوراق للنشر والتوزيع.

الطبعة: الأولى، سنة 2000 م

عدد الصفحات: 521

أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القُريشي، - غفر الله له ولوالديه -.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع].

تاريخ النشر بالشاملة: 6 ذو القعدة 1432

আল-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা - আস-সিবাঈ, আল-ওয়াররাক সংস্করণ   (মুস্তফা আস-সিবাঈ)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: ইসলামী শরিয়তে সুন্নাহ ও তার মর্যাদা

লেখক: মুস্তফা বিন হুসনি আস-সিবাঈ (মৃত্যু ১৩৮৪ হিজরি)

প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি - দারুল ওয়াররাক প্রকাশনা ও বিতরণ.

সংস্করণ: প্রথম، ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২১

আল-মাকতাবাতুশ শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি، - আল্লাহ তাকে ও তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন -.

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ].

শামেলার ওয়েবসাইটে প্রকাশের তারিখ: ৬ জিলকদ ১৪৩২ হিজরি

(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: -)
ـ[السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي]ـ

تأليف الدكتور الشيخ مصطفى السباعي

الطبعة: الثالثة - بيروت: 1402 هـ - 1982 م

المكتب الإسلامي: دمشق - سوريا، بيروت - لبنان

عدد الأجزاء: 1.

أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القُريشي، - غفر الله له ولوالديه -.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
[সুন্নাহ এবং ইসলামী শরিয়তে এর গুরুত্ব]

ডক্টর শেখ মুস্তফা আস-সিবায়ী কর্তৃক রচিত

সংস্করণ: তৃতীয় - বৈরুত: ১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ

আল-মাকতাব আল-ইসলামী: দামেস্ক - সিরিয়া, বৈরুত - লেবানন

খণ্ড সংখ্যা: ১।

আল-মাকতাবা আল-শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, - আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন -।

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি টীকা সংবলিত]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৩)
السُنَّة ومكانتها في التشريع الإسلامي

 

تأليف الدكتور الشيخ مصطفى السباعي
আস-সুন্নাহ (السنة) এবং ইসলামি শরিয়তে এর মর্যাদা

 

রচনা: ডক্টর শায়খ মুস্তফা আস-সিবাঈ
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الإِهْدَاءُ:

إلى:

من حباني من حنانه ما نعمت به وأنا وليد.

ومن إرشاده ما قومني وأنا غصن رطيب

ومن عونه على تحصيل العلم ما مكنني من أن أجدَّ في طلب المعرفة وأنا تلميذ

ومن تأييده لدعوة الإصلاح ما هوّن عليّ تحمل الأذى في سبيل الله

ومن صبره على الشدائد ما حبّب إليّ التضحية وأنا مشرّد، أو موثق بأغلال السجون والمعتقلات.

ومن خفقات قلبه الرحيم ما خففت عني الآلام، وأنا طريح العلل والأمراض.

إلى:

من كان كل أمله أن أكون حلقة في سلسلة بيتنا العلمي منذ مئات السنين، وكل طلبته من ربه: أن يجعلني من حسناته يوم الدين.

إلى أبي الشيخ الجليل

 

حسني السباعي

 

أهدي أول مؤلفاتي العلمية، اعترافاً بفضله وحسن توجيهه، راجياً
উৎসর্গ:

প্রতি:

যিনি শৈশবে আমাকে তাঁর সেই স্নেহে সিক্ত করেছেন যা আমি শিশু অবস্থায় উপভোগ করেছি।

এবং যাঁর নির্দেশনায় আমি নবীন পল্লবের ন্যায় কোমল থাকাকালীন সুগঠিত হয়েছি।

এবং জ্ঞান অর্জনে যাঁর সহায়তা আমাকে ছাত্রাবস্থায় জ্ঞানান্বেষণে সচেষ্ট হতে সক্ষম করেছে।

এবং সংস্কার (إصلاح) আন্দোলনের প্রতি যাঁর সমর্থন আল্লাহর পথে নিগ্রহ সহ্য করাকে আমার জন্য সহজ করে দিয়েছে।

এবং প্রতিকূলতায় যাঁর ধৈর্য আমাকে ত্যাগের প্রতি অনুরাগী করেছে যখন আমি ছিলাম নির্বাসিত, অথবা কারাগার ও বন্দিশিবিরের শৃঙ্খলে আবদ্ধ।

এবং যাঁর দয়াবান হৃদয়ের স্পন্দন আমার বেদনা উপশম করেছে, যখন আমি ছিলাম রোগাক্রান্ত ও শয্যাশায়ী।

প্রতি:

যাঁর একমাত্র আকাঙ্ক্ষা ছিল আমি যেন আমাদের শত বছরের ইলমি ঐতিহ্যের ধারায় একটি যোগসূত্র (حلقة) হই, আর যাঁর প্রতিপালকের কাছে একমাত্র প্রার্থনা ছিল: কিয়ামতের দিন যেন তিনি আমাকে তাঁর পুণ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেন।

আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা শাইখ

 

হুসনি আস-সিবাঈ

 

তাঁর অনুগ্রহ ও উত্তম দিকনির্দেশনার স্বীকৃতিস্বরূপ আমি আমার প্রথম জ্ঞানগর্ভ রচনাটি উৎসর্গ করছি, এই প্রত্যাশায়...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৬)
من الله جل شأنه أن يبارك لي في حياته، ويجزل له من مثوبته، ويتقبل دعاء ولد بارّ لأب كريم، استجابة لأمره تعالى: {وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا} (2)

 

مصطفى

--------------------------------------------

(2) سورة الإسراء، الآية: 24
মহান আল্লাহর সুমহান সত্তার নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমার জন্য তাঁর জীবনে বরকত দান করেন, তাঁকে পূর্ণ প্রতিদান প্রদান করেন এবং এক মর্যাদাবান পিতার অনুকূলে এক অনুগত সন্তানের দোয়া কবুল করেন; মহান আল্লাহর এই বাণীর আনুগত্যস্বরূপ: {আর বলো, হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছিলেন।} (২)

 

মুস্তফা

--------------------------------------------

(২) সুরা আল-ইসরা, আয়াত: ২৪
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة الطبعة الثانية

 

بقلم الدكتور محمد أديب الصالح

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله الذي له ما في السماوات والأرض وهو على كل شيء قدير. والصلاة والسلام على معلم الناس الخير محمد بن عبد الله الذي أوتي القرآن ومثله معه، وجعل الله طاعته من طاعته هو سبحانه، فكانت سُنَّتُهُ صلوات الله عليه وسلامه بيان الكتاب الكريم، والمصدر الثاني من مصادر شريعة الإسلام. وكان من قبِل عن رسول الله فعن الله قبِل.

 

أما بعد،

 

فالبحث في سُنَّةِ النَّبِيّ- صلى الله عليه وسلم، أمر على غاية الأهمية في بنية الإسلام الفكرية، ومصادر التشريع فيه، خصوصاً إذا وضعنا في الحسبان ما ينصب لأمتنا من أحابيل ومكائد، وما يراد لها من إعراض عن هدي النبوة، وتشكك فيما يصل الأجيال بنبيها عليه الصلاة والسلام.

 

ومن خلال ذلك ينظر إلى الفراغ الذي ملأه في هذا الميدان كتاب " السُنّة ومكانتها في التشريع الإسلامي " للأستاذ الدكتور مصطفى السباعي رحمه الله، الذي كان الميدان العلمي واحداً من الميادين التي خاضها دفاعاً عن دعوة الإسلام وشريعة الإسلام.

 

وعلى بركة الله تصدر الطبعة الثانية لهذا الكتاب القيم والحمد لله. وإذا توافر للمؤلف القدرة على البحث العلمي وتتبع الأمور في مظانها، بجانب
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

 

ডক্টর মুহাম্মাদ আদীব আস-সালিহ-এর লেখনীতে

 

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই এবং তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মানুষের কল্যাণকামী শিক্ষক মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, যাঁকে কুরআন ও তাঁর সাথে অনুরূপ আরেকটি (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর আনুগত্যকে স্বয়ং তাঁরই আনুগত্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। ফলে তাঁর সুন্নাহ (سنة) পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা এবং ইসলামি শরিয়াহর উৎসসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসুলের কাছ থেকে গ্রহণ করল, সে মূলত আল্লাহর কাছ থেকেই গ্রহণ করল।

 

অতঃপর,

 

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) নিয়ে গবেষণা ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামো এবং এর বিধান প্রণয়নের উৎসসমূহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশেষ করে যখন আমরা আমাদের উম্মতের জন্য পেতে রাখা বিভিন্ন ফাঁদ ও ষড়যন্ত্রের কথা বিবেচনায় রাখি এবং নবুওয়তের হেদায়েত থেকে বিমুখ করার ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে পরবর্তী প্রজন্মগুলোর যে যোগসূত্র রয়েছে সে ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টির যে অপচেষ্টা চলছে তা লক্ষ্য করি।

 

এই প্রেক্ষাপটেই এই ময়দানে প্রফেসর ডক্টর মুস্তফা আস-সিবাঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচিত ‘আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরিয়িল ইসলামি’ গ্রন্থটি যে শূন্যস্থান পূরণ করেছে তা দৃষ্টিগোচর হয়। ইসলামের দাওয়াত ও শরিয়াহর প্রতিরক্ষায় তিনি যেসব ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন, জ্ঞানতাত্ত্বিক ময়দান ছিল তার অন্যতম।

 

আল্লাহর বরকতে এই মূল্যবান গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ। যদি লেখকের বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট উৎসসমূহ থেকে বিষয়াদি পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণের সক্ষমতা থাকার পাশাপাশি...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৮)
الغيرة الصادقة على دين الله. إن هذا الكتاب صورة حية لهاتين المكرمتين، فأنت واجد أن المضمون منطبق تمام الانطباق على العنوان، مع رد المفتريات والشبه، واقتحام معاقل العادين على السُنَّة من حيث المتن أو السند.

 

وإذا كان قد تناول بعض المباحث برفق وإيجاز، فإنما كان ذلك لأنها ليست من صلب الموضوع، فأعطاها بقدر ما لها من علاقة فحسب.

 

وكم أحسن رحمه الله صنعا في ذلك التتبع التاريخي للأدوار التي مرت بها السُنَّة، ووضع الأصبع على مكمن الداء في الماضي والحاضر، ومواقف العلماء التي ردت الأمور إلى نصابها.

 

وبطريقة منهجية جامعة فنّد آراء المخالفين قديما وحديثا، وعرض لمواقف بعض المستشرقين والمستغربين، وكشف بالروح العلمية المنصفة مواقعهم وما وراء اتجاهاتهم من جهل وتزوير. فكان موقفه في ذلك كله موقف العالم الداعية المجاهد، الذي يقدم لك الفكرة، مؤيدا ما يجنح إليه بالحجة من مظانها .. وتلمس من وراء بحثه - كما أسلفنا - الغيرة الصادقة على السُنّة أن يعدى عليها باسم العلم وتحت عناوين المعرفة.

 

ولعل من الإنصاف أن أشير إلى أن الأستاذ رحمه الله قد ألف الكتاب في ظروف قاسية شهدها الذين يسكنون معه في القاهرة من إخوانه، حين اضطرته تلك الظروف وهو يجمع المادة العلمية للموضوع أن يغادر الشقة إلى مكان آخر حيث لا يجد المراجع إلا بصعوبة، ويتصل ببعض أساتذته بصعوبة أشد، لا يحجز الأذى عنه ومخاطر الاتصال إلا عناية الله .. ولم يطبع الكتاب طباعة رسمية، وإنما خرج رسالة للأستاذية يومذاك - الدكتوراه - في الأزهر على الآلة الطابعة.

 

وشغلت مؤلفنا شؤون الدعوة والقضايا العامة، ومهمات الجامعة والتدريس في كليتي الشريعة والحقوق، مع إرادة كلية الشريعة عن البدء بطبع الكتاب.

 

ويشاء الله أن يفاجئه المرض العضال .. وصدرت الطبعة الأولى وهو على حال صحية غاية في الإرهاق، وإن كان الرضى عن الله، والطمأنينة
আল্লাহর দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ আত্মমর্যাদাবোধ। এই গ্রন্থটি সেই মহান গুণদ্বয়ের একটি জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। আপনি দেখতে পাবেন যে, এর বিষয়বস্তু শিরোনামের সাথে পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে মিথ্যা অপবাদ ও সংশয়গুলোর খণ্ডন করা হয়েছে এবং সুন্নাহর মূলপাঠ (متن) কিংবা সনদ (سند)-এর ওপর আক্রমণকারীদের দুর্গে সজোরে আঘাত হানা হয়েছে।

 

যদি লেখক কিছু আলোচনা অত্যন্ত কোমল ও সংক্ষেপে করে থাকেন, তবে তা ছিল এজন্য যে, সেগুলো মূল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল না; তাই তিনি সেগুলোকে কেবল প্রাসঙ্গিকতার নিরিখেই স্থান দিয়েছেন।

 

সুন্নাহ যে সকল ঐতিহাসিক পর্যায় অতিক্রম করেছে, তা অনুসরণে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) কতই না চমৎকার কাজ করেছেন! তিনি অতীত ও বর্তমানের মূল সমস্যার ওপর আঙুল রেখেছেন এবং উলামায়ে কেরামের সেই অবস্থানগুলো তুলে ধরেছেন, যা বিষয়গুলোকে সঠিক পথে ফিরিয়ে এনেছে।

 

একটি সুসংহত ও বিধিবদ্ধ পদ্ধতিতে তিনি প্রাচীন ও আধুনিক বিরোধীদের মতবাদসমূহ খণ্ডন করেছেন। তিনি কিছু প্রাচ্যবিদ ও পাশ্চাত্যপন্থীদের অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং ইনসাফপূর্ণ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে তাদের স্বরূপ এবং তাদের চিন্তাধারার পেছনে লুকিয়ে থাকা অজ্ঞতা ও জালিয়াতি উন্মোচন করেছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান ছিল একজন আলিম, দায়ি ও মুজাহিদের মতো, যিনি আপনার সামনে সঠিক চিন্তা পেশ করেন এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে প্রমাণের মাধ্যমে নিজের অভিমতকে জোরালো করেন। তাঁর গবেষণার অন্তরালে আপনি খুঁজে পাবেন—যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি—সুন্নাহর প্রতি সেই একনিষ্ঠ আত্মমর্যাদাবোধ, যাতে বিজ্ঞানের নামে কিংবা জ্ঞানের দোহাই দিয়ে এর ওপর কোনোরূপ সীমালঙ্ঘন করা না হয়।

 

সম্ভবত ইনসাফের দাবি হবে এটি উল্লেখ করা যে, উস্তাদ (রহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে এই গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন, যা কায়রোতে তাঁর সাথে অবস্থানরত ভাইয়েরা প্রত্যক্ষ করেছেন। যখন তিনি এই বিষয়ের তাত্ত্বিক উপাদান সংগ্রহ করছিলেন, তখন পরিস্থিতির চাপে তিনি তাঁর বাসা ছেড়ে অন্যত্রে যেতে বাধ্য হন, যেখানে তথ্যসূত্র খুঁজে পাওয়া ছিল অত্যন্ত দুরুহ। তাঁর শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করা ছিল আরও বেশি কঠিন; আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ছাড়া কোনো কিছুই তাঁকে ক্ষতি ও যোগাযোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার ছিল ছিল না। তখন বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে মুদ্রিত হয়নি, বরং তা আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে টাইপরাইটারে লেখা পিএইচডি থিসিস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।

 

পরবর্তীতে দাওয়াতি কার্যক্রম, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি এবং শরিয়াহ ও আইন অনুষদে শিক্ষকতাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা ব্যস্ততা আমাদের লেখককে আবিষ্ট করে রাখে, যদিও শরিয়াহ অনুষদ গ্রন্থটি মুদ্রণের উদ্যোগ নিয়েছিল।

 

অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। যখন প্রথম সংস্করণটি প্রকাশিত হয়, তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক ও ক্লান্তিকর, যদিও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টি ও অন্তরের প্রশান্তি ছিল অটুট।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৯)
لنعمة الابتلاء، مِمَّا كان يزين حياته في تلك الفترة رحمه الله.

وكان الإقبال على الكتاب شديدا خصوصا من أولئك الذين يقدرون هذه الموضوعات حق قدرها وشرع - على قسوة المرض - في تنقيحه وزيادة ما يراه من التعليقات تمهيدا لدفعه إلى المطبعة … حتى وافته المنية - غفر الله له - وأصول الكتاب هي شغله الشاغل، ويرى القارئ ملحقين في هذه الطبعة الثانية، وقد وعد بملحق ثالث حالت وفاته دُونَ إنجازه.

 

وختاما: إن كتاب " السُنّة ومكانتها في التشريع الإسلامي " بما يشتمل عليه من حقائق علمية تضع السُنَّة موضعها من شريعة الإسلام، وما يقع عليه القارئ من نفس طويل في تحليل المواقف مِنَ السُنَّةِ في القديم وفي العصر الحاضر، وما يلمسه من تلك الجولات الموفقة مع أهل الانحراف من مستشرقين وغيرهم من دعاة التغريب.

 

إن ذلك كله يجعل الكتاب جديراً - إن شاء الله - بأن يؤدي الغرض من خدمة الرسالة التي كان يحملها المؤلف رحمه الله .. وأن يحظى بالكثير من اهتمام الباحثين في وقت نجد فيه ليالي الإسلام مثقلات بألوان من مؤامرات الدس في أصولنا ومصادرنا وخصوصاً السُنَّة المُطَهَّرَة .. مِمَّا تشم منه رائحة التضليل في بناء الجيل لإبعاده عن مقومات الوجود الحقيقي لأمَّته في كتاب ربها وسُنَّة نبيها عليه الصلاة والسلام.

 

رحم الله الأستاذ السباعي وأجزل مثوبته في الآخرين، ونفع بآثاره الطيبة التي ضربت في كل ميدان من ميادين الدعوة، وكان من عيونها هذا الكتاب في طبعته الثانية - التي يخرجها المكتب الإسلامي استجابة طبيعية للقراء والباحثين الذين طال انتظارهم له - خاصة - ونرجو أن يكون ذلك كله في كفة حسناته حيث يوزن مداد العلماء بدم الشهداء فيرجح مداد العلماء على دم الشهداء … {يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعَى نُورُهُم بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِم} (*)، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

--------------------------------------------

[تَعْلِيقُ مُعِدِّ الكِتَابِ لِلْمَكْتَبَةِ الشَّامِلَةِ]:

(*) هذه الجملة نص قرآني: [سورة الحديد، الآية: 12].
পরীক্ষার নেয়ামত হিসেবে, যা তাঁর জীবনের সেই সময়টিকে অলঙ্কৃত করেছিল, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

বইটির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ ছিল, বিশেষ করে তাঁদের পক্ষ থেকে যারা এই বিষয়গুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করেন। রোগের তীব্রতা সত্ত্বেও তিনি এটি পরিমার্জন করতে এবং প্রয়োজনীয় টীকা-টিপ্পনী সংযোজন করতে শুরু করেছিলেন যাতে এটি প্রেসে পাঠানো যায়... এমনকি মৃত্যু আসা পর্যন্ত—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন—বইটির মূল পাণ্ডুলিপিই ছিল তাঁর প্রধান ব্যস্ততা। পাঠক এই দ্বিতীয় সংস্করণে দুটি পরিশিষ্ট দেখতে পাবেন; তিনি তৃতীয় একটি পরিশিষ্টের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর মৃত্যু তা সম্পন্ন করতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

পরিশেষে: "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরীয়িল ইসলামী" গ্রন্থটি যেসব বৈজ্ঞানিক সত্যসমূহ ধারণ করে আছে, যা সুন্নাহকে (سنة) ইসলামী শরীয়াহ প্রণয়নে (تشريع) তার যথাযথ অবস্থানে স্থাপন করে এবং পাঠক অতীতে ও বর্তমানে সুন্নাহ (سنة) সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণে যে গভীর পর্যালোচনার দেখা পান, আর প্রাচ্যবিদ ও পাশ্চাত্যকামী পথভ্রষ্টদের সাথে তাত্ত্বিক লড়াইয়ে যে সফল অভিযানগুলো লক্ষ্য করেন।

 

এসব কিছুই ইনশাআল্লাহ এই বইটিকে সেই লক্ষ্য পূরণের যোগ্য করে তুলেছে, যা লেখক (রহিমাহুল্লাহ) প্রচার করতে চেয়েছিলেন। এটি গবেষকদের মাঝে যথেষ্ট গুরুত্ব পাবে এমন এক সময়ে, যখন আমরা দেখছি ইসলামের রাতগুলো আমাদের মূলনীতি (أصول) ও উৎসসমূহে (مصادر), বিশেষ করে পবিত্র সুন্নাহর (السنة المطهرة) ক্ষেত্রে নানাবিধ অনুপ্রবেশের ষড়যন্ত্রে ভারাক্রান্ত। এসব ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে প্রজন্মকে তাদের রবের কিতাব ও নবীর (সা.) সুন্নাহর (سنة) মধ্যে নিহিত উম্মাহর প্রকৃত অস্তিত্বের ভিত্তি থেকে দূরে সরিয়ে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

 

আল্লাহ উস্তাদ সিবায়ীর ওপর রহম করুন এবং নেককারদের মাঝে তাঁর উত্তম প্রতিদান দান করুন। দাওয়াতের প্রতিটি ময়দানে তাঁর যে কল্যাণকর অবদান রয়েছে তা দ্বারা তিনি মানুষকে উপকৃত করুন। দাওয়াতের ময়দানে তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হলো এই বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ—যা পাঠকদের এবং গবেষকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রতি স্বাভাবিক উত্তর হিসেবে আল-মাকতাবুল ইসলামী প্রকাশ করছে—বিশেষ করে আমরা আশা করি এটি তাঁর নেক আমলের পাল্লায় জমা হবে, যেখানে আলেমদের কলমের কালি শহীদদের রক্তের সাথে ওজন করা হয় এবং আলেমদের কলমের কালি শহীদদের রক্তের ওপর প্রাধান্য পায় … "যেদিন আপনি দেখবেন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের, তাদের নূর তাদের সামনে ও ডান দিকে ধাবিত হচ্ছে।" (*), এবং আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

--------------------------------------------

[শামিলা লাইব্রেরির জন্য গ্রন্থ প্রস্তুতকারীর মন্তব্য]:

(*) এই বাক্যটি একটি কুরআনিক উদ্ধৃতি: [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ১২]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ১১)
المقدمة

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله الذي شرع الأحكام لعباده بكتاب مبين، وأناط تفصيل أحكامه بخاتم النبيين والمرسلين، سيدنا محمد بن عبد الله - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ -، نقلة الوحي، والأمناء على الحق، والدعاة إلى الله على هدى وصراط مستقيم، وعلى من تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

 

وبعد: فنحن في عصر اضطربت فيه النظم العالمية المتعددة، وعجزت عن إيجاد السلام والرخاء لشعوب العالم، ومهما يكن في قادة الأمم المسيطرة من عيوب أدت إلى هذا الاضطراب، فإن الذي لا ريب فيه عندنا أن الأسباب المباشرة لشقاء العالم هي تلك النظم التي لم تثبت حتى الآن صلاحها لحل مشاكل الإنسانية على وجه يريحها من الحروب والمنازعات، ويبعدها عن جو القلق الذي تعيش به في أعقاب الحروب العالمية الدامية، بعد أن كانت تعيش خلال الحروب في جو قاتم من الدماء والدمار والخراب.

 

وعقيدتنا، نحن المُسْلِمِينَ، أن لا مناص لهذا العالم - إن أراد لنفسه السعادة والسلام - من الرجوع إلى تعاليم الله الصافية الخالصة من التحريف والتلاعب والتبديل والتغيير، والتي جاءت رسالة الإسلام مُتَمِّمَةً لها وَمُعَبِّرَةً عن رسالتها أوفى تعبير وَأَدَقِّهِ وَأَوْسَعِهِ، وأكثره مراناً ومسايرة للعصور، وتحقيقاً لحاجة بني الإنسان على اختلاف ديارهم وأزمانهم.
ভূমিকা

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট কিতাবের মাধ্যমে বিধানসমূহ প্রবর্তন করেছেন এবং তাঁর বিধানসমূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যার দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন সর্বশেষ নবী ও রাসূল, আমাদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর—তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—যারা ছিলেন ওহীর বাহক, সত্যের আমানতদার এবং সুপথ ও সরল পথের ওপর আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী; আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাদের ওপরও (শান্তি বর্ষিত হোক)।

 

অতঃপর: আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে বিভিন্ন বিশ্বব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং বিশ্বের জাতিসমূহের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি আনয়নে ব্যর্থ হয়েছে। প্রভাবশালী জাতিসমূহের নেতাদের মধ্যে যে ত্রুটিই থাকুক না কেন যা এই অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে, আমাদের নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিশ্বের দুর্ভাগ্যের প্রত্যক্ষ কারণ হলো সেই সকল ব্যবস্থা, যা আজ পর্যন্ত মানবতার সমস্যাবলি এমনভাবে সমাধান করার সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারেনি যা তাদের যুদ্ধ ও বিবাদ থেকে মুক্তি দেবে এবং বিশ্বযুদ্ধের রক্তাক্ত পরিণতির পর তারা যে উদ্বেগময় পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছে তা থেকে তাদের দূরে রাখবে; অথচ যুদ্ধের সময় তারা রক্তপাত, ধ্বংস ও বিনাশের এক অন্ধকারচ্ছন্ন পরিবেশের মধ্যে অতিবাহিত করেছিল।

 

আমাদের মুসলমানদের বিশ্বাস হলো, এই বিশ্ব যদি নিজের জন্য সুখ ও শান্তি চায়, তবে আল্লাহর সেই বিশুদ্ধ ও নির্মল শিক্ষাগুলোর দিকে ফিরে আসা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই, যা বিকৃতি, কারসাজি, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন থেকে মুক্ত। ইসলামের রিসালাত বা বার্তা সেই শিক্ষাগুলোকেই পূর্ণতা দিতে এবং সেগুলোর সবচেয়ে সার্থক, নির্ভুল ও ব্যাপক বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে এসেছে, যা সর্বাপেক্ষা অধিক চর্চিত এবং যুগোপযোগী এবং যা স্থান-কাল নির্বিশেষে মানবজাতির প্রয়োজন পূরণে সক্ষম।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ১২)
وشريعة الإسلام - في مصادرها الأولى - وفي بحوث فقهائها وأئمتها - رحبة الفناء، واسعة النهج، تتسع لكل حادثة، وتحل كل مشكلة، وتقيم موازين القسط بين الأفراد والجماعات والحكومات، وتحقق للشعب الطائع اليقظ الراقي المتحفز، وللدنيا في مختلف أقطارها، الدولة العادلة المسالمة التي تجنح لِلْسِلْمِ حين يجنح له غيرها، وتذود عن كرامة العقيدة والأخلاق والحرية الصادقة، حين يميل إلى العدوان عليها معتد أثيم أو باغ ماكر.

 

ومصادر التشريع الإسلامي معروفة لدى المُسْلِمِينَ موثوقة محفوظة، ولا شك في أن السُنَّةَ المُطَهَّرَةَ، وهي ثانية هذه المصادر، أوسعها فروعا، وأحفلها نظماً، وأرحبها صدراً، إذ كان كتاب الله الكريم متضمناً للقواعد العامة في التشريع وللأحكام الكلية في الغالب، مِمَّا جعله خالداً خلود الحق، بَيْدَ أَنَّ السُنَّةَ الكريمة عنيت بشرح هذه القواعد، وتثبيت تلك النظم، وتفريع الجزئيات على الكليات، مِمَّا يعرفه كل من درس السُنَّةَ دراسة وافية، ومن ثم لم يكن لِلْمُتَشَرِّعِينَ من علماء الإسلام مندوحة من الاعتماد على السُنَّةِ، واللجوء إليها والعناية بها والاسترشاد بأحكامها المنصوصة على أحكام الحوادث الطارئة.

 

ولقد تعرضت السُنَّةُ في القديم لهجمات بعض الفرق الإسلامية الخارجة على سُنَنِ الحق لشبهات طارئة لم تجد في نفوس أتباعها ما يدفعها، كما تعرضت في العصر الحاضر لهجمات بعض المُسْتَشْرِقِينَ المُتَعَصِّبِينَ من دُعاة التَبْشِيرِ وَالاِسْتِعْمَارِ، ابتغاء الفتنة وابتغاء هدم هذا الركن المتين من أركان التشريع الإسلامي الوارف الظلال وتابعهم على ذلك بعض المؤلفين من أبناء أُمَّتِنَا، اغتراراً بما يضفيه أولئك المُسْتَشْرِقُونَ على بحوثهم من زخارف علمية لا تثبت أمام النقد العلمي النزيه أو اندفاعا وراء ميول نفسية وشبهات فكرية لم يحاولوا تخصيصها على ضوء ما بين أيديهم من تراث السلف وبحوث العلماء الراسخين، فصادف رأي المُسْتَشْرِقِينَ في السُنَّةِ هَوًى كامناً في نفوس هؤلاء، فضربوا على الوتر، وغنوا بذلك الحداء.

 

أَتَانِي هَوَاهَا قَبْلَ أَنْ أَعْرِفَ الهَوَى * … * … * فَصَادَفَ قَلْباً خَالِياً فَتَمَكَّنَا
ইসলামী শরীয়ত—তার প্রাথমিক উৎসসমূহে এবং তার ফকীহ ও ইমামগণের গবেষণায়—সুপ্রশস্ত প্রাঙ্গণ ও বিশাল পদ্ধতির অধিকারী, যা প্রতিটি ঘটনার জন্য প্রশস্ত এবং প্রতিটি সমস্যার সমাধান দান করে। এটি ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সরকারগুলোর মধ্যে ইনসাফের পাল্লা প্রতিষ্ঠা করে এবং অনুগত, সজাগ, উন্নত ও উদ্যমী জাতির জন্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জন্য এমন এক ন্যায়পরায়ণ ও শান্তিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে, যা ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তির দিকে ঝুঁকে থাকে যখন অন্যপক্ষও শান্তির দিকে ঝুঁকে থাকে; আর যখন কোনো পাপাচারী আক্রমণকারী বা চতুর বিদ্রোহী তার ওপর চড়াও হয়, তখন তা আকীদা, নৈতিকতা এবং প্রকৃত স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করে।

 

ইসলামী বিধানের উৎসসমূহ মুসলমানদের নিকট সুপরিচিত, নির্ভরযোগ্য (موثوقة) ও সংরক্ষিত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পবিত্র সুন্নাহ—যা এই উৎসসমূহের মধ্যে দ্বিতীয়—তা শাখা-প্রশাখার দিক থেকে সর্বাধিক বিস্তৃত, সুবিন্যস্ত এবং অধিকতর প্রশস্ত। কেননা মহান আল্লাহর কিতাব সাধারণত শরীয়তের সাধারণ মূলনীতি ও সামগ্রিক বিধানাবলি (الأحكام الكلية) ধারণ করে, যা একে সত্যের অবিনশ্বরতার ন্যায় শাশ্বত করেছে। তবে পবিত্র সুন্নাহ এই মূলনীতিসমূহ ব্যাখ্যা করার, সেই সকল নিয়মাবলিকে সুদৃঢ় করার এবং সামগ্রিক বিষয়গুলো থেকে খুঁটিনাটি শাখা বের করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে—যা সুন্নাহ নিয়ে পর্যাপ্ত অধ্যয়নকারী মাত্রই অবগত আছেন। ফলে ইসলামের ফকীহ ও বিধানপ্রণেতাগণের পক্ষে সুন্নাহর ওপর নির্ভর করা, এর আশ্রয় গ্রহণ করা, এর প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়া এবং উদ্ভূত সমস্যাবলির ক্ষেত্রে এর বর্ণিত বিধানসমূহ থেকে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর ছিল না।

 

সুন্নাহ অতীতে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত কিছু দলের (فرق) আক্রমণের শিকার হয়েছিল এমন কিছু আকস্মিক সংশয়ের কারণে, যা তাদের অনুসারীদের অন্তরে তা প্রতিহত করার মতো সামর্থ্য পায়নি। তেমনিভাবে বর্তমান যুগেও তা কিছু কট্টরপন্থী প্রাচ্যবিদ, মিশনারি ও সাম্রাজ্যবাদীদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে; ফিতনা সৃষ্টি এবং ইসলামী শরীয়তের এই সুশীতল ছায়াদানকারী মজবুত স্তম্ভটি ধ্বংস করার হীন উদ্দেশ্যে। আমাদের উম্মতের কিছু লেখকও তাদের অনুসরণ করেছেন, ওইসব প্রাচ্যবিদদের গবেষণার সেই বৈজ্ঞানিক চাকচিক্যে বিভ্রান্ত হয়ে যা নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার (النقد العلمي) সামনে টিকে থাকে না; অথবা এমন কিছু মানসিক ঝোঁক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংশয়ের বশবর্তী হয়ে যা তারা পূর্বসূরিদের (سلف) রেখে যাওয়া ঐতিহ্য এবং সুপ্রতিষ্ঠিত আলিমদের গবেষণার আলোকে যাচাই করার চেষ্টা করেননি। ফলে সুন্নাহ সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের মতামত এসকল লোকের মনে সুপ্ত প্রবৃত্তির (هوى) সাথে মিলে গেছে; তারা যেন সেই সুরেই সুর মিলিয়ে গান গেয়েছে।

 

প্রেম বোঝার আগেই তার প্রেম আমার নিকট এসেছিল * … * … * ফলে তা এক শূন্য হৃদয় পেল এবং সেখানে সুদৃঢ়ভাবে জেঁকে বসল।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد سبق لي في عام 1358 هـ أن عانيت مع بعضهم بعض الشيء في دفع أوهامهم والرد على ما علق بأذهانهم من تَخَرُّصَاتِ المُسْتَشْرِقِينَ. لذلك رأيت أن أبحث في هذه الرسالة عن السُنَّةِ ومكانتها في التشريع الإسلامي، مُبَيِّنًا الأدوار التاريخية التي اجتازتها، وجهود علماء الإسلام في صيانتها وتمحيصها، مناقشًا ما أورد المتحاملون عليها في القديم والحديث بروح علمية هادئة، يستبين بها وجه الحق، وتتضح بها طلعة السُنَّةِ المُطَهَّرَةِ بيضاء مشرقة.

 

وقد ختمتها بشذرات من تاريخ أشهر علماء الإسلام من مُجْتَهِدِينَ وَمُحَدِّثِينَ مِمَّنْ لهم دور بارز في حفظ السُنَّةِ وتدوينها، أو في الرجوع إليها في استنباط الأحكام الشرعية من مصادرها.

 

وقد قَسَّمْتُ الرسالة إلى ثلاثة أبواب وخاتمة:

 

الباب الأول: في معنى السُنَّةِ ونقلها وتدوينها، وفيه فصول:

الفصل الأول: في معنى السُنَّةِ، وتعريفها، وموقف الصحابة مِنَ السُنَّةِ.

الفصل الثاني: كيف نشأ الوضع فيها؟ ومتى؟ وأين؟

الفصل الثالث: في جهود العلماء لتنقيتها وتصحيحها.

الفصل الرابع: في ثمار جهود العلماء ونتائجها بالنسبة لِلْسُنَّةِ.

 

الباب الثاني: فيما تعرضت له السُنَّةُ من شُبَهٍ وخصومة وفيه سبعة فصول:

 

الفصل الأول: السُنَّةُ مع الشِيعَة والخوارج.

الفصل الثاني: السُنَّةُ مع المعتزلة والمُتَكَلِّمِينَ.

الفصل الثالث: السُنَّةُ مع من ينكر حُجِيَّتِهَا قَدِيمًا.

الفصل الرابع: السُنَّةُ مع من ينجر حُجِيَّتِهَا حَدِيثًا.

الفصل الخامس: السُنَّةُ مع من ينكر حُجِيَّة خبر الآحاد.

الفصل السادس: السُنَّةُ مع المُسْتَشْرِقِينَ.

الفصل السابع: السُنَّةُ مع بعض الكَاتِبِينَ حَدِيثًا.
ইতোপূর্বে ১৩৫৮ হিজরি সনে আমি প্রাচ্যবিদদের মিথ্যা অপবাদ (تخرصات) থেকে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসন এবং মানুষের মনে গেঁথে যাওয়া সংশয় দূর করতে কিছুটা প্রয়াস চালিয়েছিলাম। সেই প্রেক্ষাপটে আমি এই গবেষণাপত্রে সুন্নাহ এবং ইসলামি শরিয়ত প্রণয়নে (تشريع) এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে সুন্নাহর বিবর্তনের ঐতিহাসিক পর্যায়গুলো বর্ণনার পাশাপাশি এটি সংরক্ষণ ও যাচাই-বাছাইয়ে (تمحيص) ইসলামি স্কলারদের প্রচেষ্টাসমূহ তুলে ধরা হয়েছে। সুন্নাহর বিরুদ্ধে প্রাচীন ও আধুনিক যুগের বিদ্বেষীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো একটি শান্ত ও তাত্ত্বিক মেজাজে আলোচনা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সত্যের রূপ স্পষ্ট হবে এবং পবিত্র সুন্নাহর জ্যোতির্ময় ও উজ্জ্বল অবয়ব প্রকাশিত হবে।

 

আমি এই গবেষণাপত্রটি প্রখ্যাত ইসলামি স্কলারদের ইতিহাসের কিছু উল্লেখযোগ্য অংশ দিয়ে সমাপ্ত করেছি, যাদের মধ্যে রয়েছেন সেসব মুজতাহিদ (مجتهدين) এবং হাদিস বিশারদ (محدثين) যারা সুন্নাহ সংরক্ষণ ও সংকলনে (تدوين) অথবা এর উৎস থেকে শরিয়তের বিধিবিধান উদ্ভাবনে (استنباط) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

 

আমি গবেষণাপত্রটিকে তিনটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি:

 

প্রথম অধ্যায়: সুন্নাহর অর্থ, এর বর্ণনা এবং সংকলন (تدوين) বিষয়ক। এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর অর্থ, সংজ্ঞা এবং সুন্নাহর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের দৃষ্টিভঙ্গি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর মধ্যে কীভাবে জালকরণ (الوضع) শুরু হয়েছিল? কখন এবং কোথায়?

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহকে কলুষমুক্ত ও বিশুদ্ধকরণে (تصحيح) আলেমদের প্রচেষ্টা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর ক্ষেত্রে আলেমদের এই প্রচেষ্টার ফল ও ফলাফল।

 

দ্বিতীয় অধ্যায়: সুন্নাহর বিরুদ্ধে আনীত সংশয় (شبه) ও শত্রুতা বিষয়ক। এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: শিয়া ও খারেজিদের দৃষ্টিতে সুন্নাহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুতাজিলা ও ইলমুল কালাম চর্চাকারীদের (متكلمين) দৃষ্টিতে সুন্নাহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: প্রাচীনকালে যারা সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) অস্বীকার করত, তাদের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আধুনিক কালে যারা সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) অস্বীকার করে, তাদের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: যারা একক ব্যক্তি বর্ণিত হাদিসের (خبر الآحاد) প্রামাণিকতা (حجية) অস্বীকার করে, তাদের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: প্রাচ্যবিদদের মোকাবিলায় সুন্নাহ।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: আধুনিক কিছু লেখকের মোকাবিলায় সুন্নাহ।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ১৪)
الباب الثالث: في مرتبة السُنَّةِ من التشريع الإسلامي، وفيه ثلاثة فصول:

الفصل الأول: في مرتبتها بالنسبة إلى الكتاب.

الفصل الثاني: كيف اشتمل القرآن على السُنَّة.

الفصل الثالث: نَسْخُ السُنَّة بالقرآن، أو القرآن بِالسُنَّةِ.

 

الخاتمة: في تراجم بعض كبار علماء الإسلام من مُجْتَهِدِينَ وَمُحَدِّثِينَ وهم عشرة:

1 - الإمام أبو حنيفة.

2 - الإمام مالك.

3 - الإمام الشافعي.

4 - الإمام أحمد.

5 - البخاري.

6 - مسلم.

7 - النسائي.

8 - أبو داود.

9 - الترمذي.

10 - ابن ماجه.

 

والله أسأل أن يجنبني العثار ويلهمني الرشد، ويفتح لي خزائن رحمته، ويجعلنا مِمَّنْ يستمعون القول فيتبعون أحسنه.

 

والحمد لله رب العالمين.

 

القاهرة: 6 رجب 1368 هـ / 4 أيار (مايو) 1949 م.

 

مصطفى حسني السباعي
তৃতীয় অধ্যায়: ইসলামি শরিয়তে সুন্নাহর মর্যাদা প্রসঙ্গে, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনের তুলনায় এর মর্যাদা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-কুরআন কীভাবে সুন্নাহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল-কুরআন দ্বারা সুন্নাহর রহিতকরণ (نسخ), অথবা সুন্নাহ দ্বারা আল-কুরআনের রহিতকরণ (نسخ)।

 

উপসংহার: দশজন বিশিষ্ট ইসলামি বিশেষজ্ঞ তথা মুজতাহিদ (مجتهدين) ও মুহাদ্দিসদের (محدثين) জীবনী সম্পর্কে:

১ - ইমাম আবু হানিফা।

২ - ইমাম মালিক।

৩ - ইমাম শাফেয়ি।

৪ - ইমাম আহমাদ।

৫ - বুখারি।

৬ - মুসলিম।

৭ - নাসাঈ।

৮ - আবু দাউদ।

৯ - তিরমিজি।

১০ - ইবনে মাজাহ।

 

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে পদস্খলন থেকে রক্ষা করেন, আমাকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দান করেন, আমার জন্য তাঁর রহমতের ভাণ্ডার উন্মুক্ত করে দেন এবং আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে।

 

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

কায়রো: ৬ রজব ১৩৬৮ হিজরি / ৪ মে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ।

 

মোস্তফা হুসনি আস-সিবায়ি
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌تَمْهِيدٌ:

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد وآله وصحبه وحملة سُنّته والمدافعين عنها إلى يوم الدين، وبعد فهذا الكتاب الذي أقدمه اليوم للطبع، هو الرسالة التي تقدمت بها لنيل الشهادة «العالمية من درجة أستاذ» في الفقه والأصول وتاريخ التشريع الإسلامي من كلية الشريعة في الجامع الأزهر عام 1368 هـ - 1949 م، وقد رغبت عن نشره منذ ذلك الحين حتى الآن لعوامل كثيرة، من أهمها أني ألفت هذا الكتاب في ظروف صعبة كانت تضطرني إلى الإيجاز في كثير من الأبحاث، وكنت أرى من تمام الفائدة التوسع فيها والإكثار من الشواهد لتتضح معالمها، وإضافة أبحاث أخرى متعلقة بالموضوع، ولم يتح لي الوقت الكافي لتحقيق ما كنت أرجو من ذلك.

 

ثم إن بعض أبحاث هذا الكتاب كانت قد نشرت بصورة موجزة في بعض المجلات الإسلامية في القاهرة ودمشق وغيرهما (1)، وكانت تردني الرغبة من كثير من القارئين بطبع هذه الأبحاث، ولكنني كنت أرجئ ذلك إلى وقت أتفرغ فيه لتحقيق ما كنت آمل من التوسع والإفاضة، حتى ظهر كتاب " أضواء على السُنَّةِ المحمدية " لمحمود أَبُو رَيَّةَ، وفيه ما فيه من تحقيق «غير علمي» حول السُنَّةِ وَرُوَّاتِهَا، فَأَلَحَّ عَلَيَّ أولئك الأصدقاء الكرام بطبع الكتاب لشدة الحاجة إلى أبحاثه، وها أنا أقدمه كما كتبته من قبل، إلا ما أضفته على البحث المتعلق بأبي هريرة رضي الله عنه من تعليق موجز

--------------------------------------------

(1) في القاهرة مجلة " الفتح " للأستاذ الكبير محب الدين الخطيب، وفي دمشق مجلة " المُسْلِمُونَ ".
উপক্রমণিকা:

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর সুন্নাহর বাহক ও এর প্রতিরক্ষা দানকারীদের ওপর। অতঃপর, আমি আজ যে বইটি প্রকাশের জন্য পেশ করছি, এটি সেই গবেষণাপত্র, যা আমি ১৩৬৮ হিজরি - ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে জামে আল-আজহারের শরীয়াহ অনুষদ থেকে ফিকহ, উসুল এবং ইসলামি বিধানের ইতিহাসের ওপর 'উস্তাদ' পদমর্যাদার 'আলমিয়াহ' সনদ অর্জনের জন্য পেশ করেছিলাম। অনেকগুলো কারণের পরিপ্রেক্ষিতে আমি তখন থেকে আজ অবধি এটি প্রকাশ করা থেকে বিরত ছিলাম। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল যে, আমি বইটি এমন কিছু কঠিন পরিস্থিতিতে লিখেছিলাম যা আমাকে অনেক গবেষণার ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্তকরণ করতে বাধ্য করেছিল। আমি মনে করতাম যে, উপযোগিতা পূর্ণ করার জন্য সেগুলোতে আরও বিস্তৃতি আনা এবং বিষয়গুলো আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য প্রমাণের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং বিষয় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গবেষণা সংযোজন করা প্রয়োজন। কিন্তু আমি যা আশা করেছিলাম তা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাইনি।

 

অধিকন্তু, এই বইটির কিছু গবেষণা কায়রো, দামেস্ক ও অন্যান্য স্থানের (১) বিভিন্ন ইসলামি সাময়িকীতে সংক্ষিপ্তাকারে প্রকাশিত হয়েছিল। অনেক পাঠকের পক্ষ থেকে এই গবেষণাগুলো ছাপানোর অনুরোধ আসছিল। কিন্তু আমি সেই সময়ের জন্য এটি স্থগিত রাখছিলাম যখন আমি কাঙ্ক্ষিত বিস্তৃতি ও বিশদ আলোচনার জন্য অবসর পাব। শেষ পর্যন্ত মাহমুদ আবু রাইয়্যাহ-এর "আদওয়া আলাস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়াহ" বইটি প্রকাশিত হলো, যাতে সুন্নাহ এবং এর বর্ণনাকারী (رواة)-দের বিষয়ে "অ-বৈজ্ঞানিক" অনুসন্ধান বিদ্যমান। এমতাবস্থায় সেই সম্মানিত বন্ধুগণ এই বইটির গবেষণার তীব্র প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে এটি ছাপানোর জন্য আমাকে তাগিদ দিতে থাকেন। তাই এটি আমি পূর্বের ন্যায় সেভাবেই পেশ করছি যেভাবে লিখেছিলাম, তবে আবু হুরায়রা (রা.) সংক্রান্ত গবেষণায় সংক্ষিপ্ত কিছু টীকা সংযোজন করেছি।

--------------------------------------------

(১) কায়রোতে বিশিষ্ট উস্তাদ মুহিব্বুদ্দীন আল-খাতিব সম্পাদিত "আল-ফাতহ" সাময়িকী এবং দামেস্কে "আল-মুসলিমুন" সাময়িকী।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ১৬)
على ما جاء به كتاب «أَبِي رَيَّةَ» بحق أبي هريرة وإني لأرجو - حين تتيح لي حالتي الصحية - أن أتمكن من تحقيق ما كنت آمل إن شاء الله تعالى.

 

ملاحظات حول كتاب أَبِي رَيَّةَ:

-----------------------------

 

وهنا أجد أنه لا بُدَّ لي من إثبات الملاحظات الآتية حول كتاب «أَبِي رَيَّةَ».

 

- 1 -

لا تخفى مكانة السُنَّةِ النَّبَوِيَّةِ «الحديث» في التشريع الإسلامي وأثرها في الفقه الإسلامي منذ عصر النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم والصحابة حتى عصور أئمة الاجتهاد واستقرار المذاهب الاجتهادية، مِمَّا جعل الفقه الإسلامي ثروة تشريعية لا مثيل لها في الثروات التشريعية لدى الأمم جميعها في الماضي والحاضر، ومن يطلع على القرآن وَالسُنَّةُِ يجد أَنَّ لِلْسُنَّةِ الأثر الأكبر في اتباع دائرة التشريع الإسلامي وعظمته وخلوده، مِمَّا لا ينكره كل عالم بالفقه ومذاهبه.

 

هذا التشريع العظيم الذي بهر أنظار علماء القانون والفقه في جميع أنحاء العالم، وسيزيد إعجابهم به حين اطلاعهم عليه كله مُبَسَّطًا مَعْرُوضًا بأسلوب يألفه أبناء هذا الجيل - و" موسوعة الفقه الإسلامي " في كلية الشريعة بجامعة دمشق دائبة على تحقيق هذا الغرض - هو ما حمل ويحمل أعداء الإسلام في الماضي والحاضر على مهاجمة السُنّةِ والتشكيك في حُجِيَّتِهَا وصدق جَامِعِيهَا وَرُوَّاتِهَا من أعلام الصحابة والتَّابِعِينَ فَمَنْ بَعْدَهُمْ، وعلى هذا الغرض التقى أعداء الإسلام اليوم من المُسْتَشْرِقِينَ ومن لَفَّ لَفَّهُمْ في الحضارة الغربية الحاضرة.

 

إنها سلسلة متتابعة من الجهود، لم تنقطع منذ أربعة عشر قرناً. وستظل قائمة ما دام للإسلام والحق أعداء يغيظهم ويغشي أبصارهم ضوء الإسلام الباهر، فيندفعون بعصبية عمياء حمقاء لتهديم كل ما يتصل به من قُرْآنٍ وَسُنَّةٍ وَاجْتِهَادٍ، ولتشويه كل من حمل لواءه من رسول الله صلى الله عليه وسلم -
আবু হুরাইরা (রা.) সম্পর্কে 'আবু রাইয়্যাহ' এর বইয়ে যা উপস্থাপিত হয়েছে সে প্রসঙ্গে আমি আশা রাখি—যখনই আমার স্বাস্থ্যগত অবস্থা অনুকূলে আসবে—আমি যা আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম তা পূর্ণ করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

 

আবু রাইয়্যাহ-এর বই সম্পর্কে কিছু পর্যবেক্ষণ:

-----------------------------

 

এখানে আমি 'আবু রাইয়্যাহ'-এর বই সম্পর্কে নিম্নোক্ত পর্যবেক্ষণগুলো লিপিবদ্ধ করা আবশ্যক মনে করছি।

 

- ১ -

ইসলামি বিধান প্রণয়নে (التشريع) সুন্নাহ (السنة) তথা হাদিসের গুরুত্ব এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীগণের (الصحابة) যুগ থেকে শুরু করে ইজতিহাদের (الاجتهاد) ইমামগণের যুগ এবং ইজতিহাদভিত্তিক মাযহাবসমূহ (المذاهب) সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত ইসলামি ফিকহের ওপর এর প্রভাব কোনো গোপন বিষয় নয়। এটি ইসলামি ফিকহকে এমন এক আইনি সম্পদে পরিণত করেছে যার কোনো নজির অতীত বা বর্তমানের অন্য কোনো জাতির আইনি ঐতিহ্যে নেই। যারা কুরআন ও সুন্নাহ (السنة) অধ্যয়ন করেন, তারা দেখতে পান যে ইসলামি বিধিব্যবস্থার পরিধি, এর মহত্ত্ব ও শাশ্বত রূপ অনুসরণে সুন্নাহর প্রভাব সবচেয়ে বেশি; যা ফিকহ ও মাযহাব সম্পর্কে অবগত কোনো আলেমই অস্বীকার করতে পারেন না।

 

এই মহান আইনব্যবস্থা যা বিশ্বজুড়ে আইন ও ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিতদের দৃষ্টি কাড়ছে এবং তারা যখন এই প্রজন্মের নিকট সহজবোধ্য উপস্থাপনায় এটি পূর্ণাঙ্গভাবে জানতে পারবে, তখন তাদের বিস্ময় আরও বৃদ্ধি পাবে—আর দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদের "ইসলামি ফিকহ বিশ্বকোষ" এই লক্ষ্য অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে—এটিই অতীত ও বর্তমানের ইসলাম বিদ্বেষীদের সুন্নাহর ওপর আক্রমণ করতে এবং এর প্রমাণযোগ্যতা (حجية) এবং সাহাবী (الصحابة), তাবিঈ (التابعين) ও তাদের পরবর্তী যুগের প্রথিতযশা সংকলক (جامعين) ও বর্ণনাকারীগণের (رواة) সত্যবাদিতা সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করতে প্ররোচিত করেছে। বর্তমান পাশ্চাত্য সভ্যতায় এই লক্ষ্যেই আজ ইসলামের শত্রু প্রাচ্যবিদগণ (المستشرقين) ও তাদের অনুসারীরা একাত্ম হয়েছে।

 

এটি প্রচেষ্টার একটি অবিচ্ছিন্ন শৃঙ্খল যা চৌদ্দশ বছর ধরে বিচ্ছিন্ন হয়নি। এটি ততক্ষণ পর্যন্ত জারি থাকবে যতক্ষণ ইসলাম ও সত্যের এমন শত্রু বিদ্যমান থাকবে যাদেরকে ইসলামের প্রদীপ্ত আলো ক্ষুব্ধ ও অন্ধ করে দেয়। ফলে তারা এক প্রকার অন্ধ ও মূর্খ গোঁড়ামি নিয়ে কুরআন, সুন্নাহ (السنة) ও ইজতিহাদ (الاجتهاد) সংশ্লিষ্ট সবকিছু ধ্বংস করতে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে ইসলামের ঝাণ্ডাবাহী প্রত্যেককে কলঙ্কিত করতে ধাবিত হয়—
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ১৭)
وصحابته، إلى حملته من أعلام السُنَّةِ والتشريع، ولإفساد الحقائق المتصلة به من حضارة وتاريخ.

 

ونحن لا نشك في أن هذه المعارك المتصلة بين الإسلام وخصومه، ستنتهي معركة اليوم منها - كما انتهت معارك الأمس - إلى هزيمتهم وكشف مقاصدهم الخبيئة الخبيثة، وبقاء الإسلام كالطود الشامخ تَرْتَدُّ على سفوحه الرمال والأعاصير لأن المعركة بين الإسلام وخصومه، معركة بين الحق والهوى، وبين العلم والجهل، وبين السماحة والحقد، وبين النور والظلمة، ومن سُنَّةِ اللهِ في الحياة أن ينتصر في هذه المعارك، الحق والعلم والسماحة والنور دائماً وأبداً {بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ} (1).

 

- 2 -

ومن المؤسف أن يسير وراء أعداء الإسلام في الحاضر، فئة مِمَّنْ لا نشك في صدق إسلامهم من العُلَمَاءِ وَالكُتَّابِ، ولكنهم منخدعون بمظهر التحقيق العلمي «الكاذب» الذي يلبسه هؤلاء الأعداء من المُسْتَشْرِقِينَ والمُؤَرِّخِينَ وَالغَرْبِيِّينَ عن حقيقة أهدافهم ومقاصدهم، فإذا هم - وهم مسلمون - ينتهون إلى الغاية التي يسعى إليها أولئك - وَهُمْ يَهُودٌ أَوْ مَسِيحِيُّونَ أَوْ اسْتِعْمَارِيُّونَ - من إشاعة الشك والريبة في الإسلام وَحَمَلَتِهِ من حيث يدرون أو لا يدرون، فالتقى أعداء الإسلام وبعض أبنائه على صعيد واحد لا يُشَرِّفُ هؤلاء ولا أولئك، لا في ميدان العلم، ولا في سِجِلِّ التاريخ.

 

ومن الملاحظ أن هؤلاء الذين ينخدعون من المُسْلِمِينَ بِالمُسْتَشْرِقِينَ والمُؤَرِّخِينَ وَالكَاتِبِينَ من أعداء الإسلام الغَرْبِيِّينَ، لا يوقعهم في الفخ الذي نصبه لهم هؤلاء إلا أحد أربعة أمور غالباً:

1 - إما جهلهم بحقائق التراث الإسلامي وعدم اطلاعهم عليه من ينابيعه الصافية.

2 - وإما انخداعهم بالأسلوب العلمي «المزعوم» الذي يَدَّعِيهِ أولئك الخصوم.

--------------------------------------------

(1) [الأنبياء: 18].
...এবং তাঁর সাহাবীগণ পর্যন্ত, সুন্নাহ ও শরীয়তের পতাকাবাহী মহান ইমামগণের মাধ্যমে, এবং ইসলামের সভ্যতা ও ইতিহাসের সাথে সংশ্লিষ্ট সত্যগুলোকে বিকৃত করার উদ্দেশ্যে।

 

আমরা এতে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না যে, ইসলাম ও তার শত্রুদের মধ্যকার এই ধারাবাহিক লড়াইগুলোর মধ্যে আজকের এই লড়াইটিও—অতীতের লড়াইগুলোর মতো—তাদের পরাজয় এবং তাদের গোপন ও কুৎসিত উদ্দেশ্য উন্মোচনের মাধ্যমেই সমাপ্ত হবে। আর ইসলাম এক সুউচ্চ পাহাড়ের মতো অটল থাকবে, যার পাদদেশে বালুঝড় ও ঘূর্ণিঝড়গুলো আছড়ে পড়ে ফিরে যাবে। কারণ ইসলাম ও তার শত্রুদের মধ্যকার এই লড়াই হলো সত্য ও প্রবৃত্তির লড়াই, জ্ঞান ও মূর্খতার লড়াই, সহনশীলতা ও বিদ্বেষের লড়াই এবং আলো ও অন্ধকারের লড়াই। আর জীবনের ক্ষেত্রে আল্লাহর চিরন্তন নিয়ম হলো এই যে, এই লড়াইগুলোতে সর্বদা সত্য, জ্ঞান, সহনশীলতা এবং আলোই বিজয়ী হয়। {বরং আমি সত্য দিয়ে মিথ্যার ওপর আঘাত হানি, ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা বিলুপ্ত হয়ে যায়} (১)।

 

- ২ -

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো যে, বর্তমানে ইসলামের শত্রুদের পেছনে এমন একদল আলেম ও লেখক চলছেন যাদের ইসলামের প্রতি আন্তরিকতায় আমাদের কোনো সন্দেহ নেই। তবে তারা প্রাচ্যবিদ, ঐতিহাসিক এবং পশ্চিমা শত্রুদের সেই ‘মিথ্যা’ বৈজ্ঞানিক গবেষণার বাহ্যিক আবরণে প্রবঞ্চিত হয়েছেন, যা তারা তাদের প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আড়াল করতে ব্যবহার করে। ফলে মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও তারা অজান্তে বা জেনেশুনেই সেই একই লক্ষ্যে গিয়ে পৌঁছান, যার জন্য ইয়াহুদি, খ্রিস্টান বা সাম্রাজ্যবাদীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে—অর্থাৎ ইসলাম ও এর ধারক-বাহকদের সম্পর্কে সংশয় ও সন্দেহ ছড়িয়ে দেওয়া। এর ফলে ইসলামের শত্রুরা এবং তার কিছু সন্তান এমন এক সমতলে মিলিত হয়েছে যা কারো জন্যই সম্মানজনক নয়; না বিজ্ঞানের ময়দানে, আর না ইতিহাসের পাতায়।

 

লক্ষ্য করার বিষয় হলো যে, যেসব মুসলিম প্রাচ্যবিদ, ঐতিহাসিক এবং ইসলামের শত্রু পশ্চিমা লেখকদের দ্বারা প্রবঞ্চিত হন, তারা মূলত নিচের চারটি বিষয়ের কোনো একটির কারণে তাদের পাতা ফাঁদে পা দেন:

১ - হয় ইসলামি ঐতিহ্যের প্রকৃত সত্য সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা এবং এর বিশুদ্ধ উৎসসমূহ থেকে সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ না করা।

২ - অথবা সেই শত্রুদের দাবি করা তথাকথিত ‘বৈজ্ঞানিক’ পদ্ধতির দ্বারা প্রবঞ্চিত হওয়া।

--------------------------------------------

(১) [আল-আম্বিয়া: ১৮]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ১৮)
- وإما رغبتهم في الشهرة والتظاهر بالتحرر الفكري من ربقة التقليد كما يَدَّعُونَ.

4 - وإما وقوعهم تحت تأثير «أهواء» و «انحرافات» فكرية، لا يجدون مجالاً للتعبير عنها إلا بالتستر وراء أولئك المُسْتَشْرِقِينَ الكَاذِبِينَ.

 

- 3 -

 

في هذا الجو النفسي الذي ذكرناه، أخرج «أَبُو رَيَّةَ» - على ما يبدو - كتابه " أضواء على السُنَّةِ المحمدية "، وقد تصفحت كتابه عند العزم على طبع هذا الكتاب، فرأيت مصادره الأصلية في كل ما خرج به على رأي جمهور المُحَقِّقِينَ من علماء السلف والخلف، لا تتعدى المصادر التالية:

1 - آراء أئمة الاعتزال التي نقلت عنهم في الكتب.

2 - آراء غُلَاةِ الشِيعَةِ التي جهروا بها في مؤلفاتهم.

3 - آراء المُسْتَشْرِقِينَ التي بثوها في كتبهم و" دائرة معارفهم ".

4 - «حكايات» تذكر في بعض كتب الأدب التي كان مؤلفوها موضع الشبهة في صدقهم وتحريهم للحقائق.

5 - «أهواء» دفينة للمؤلف ظلت تحوك في صدره سنين طويلة.

 

أما ما ذكره خلال كتابه من نقول عن مصادر محترمة في الأوساط العلمية الإسلامية، فإنها لا تعدو أن تكون وردت في تلك المصادر في مورد غير الذي أورده المؤلف فوضعها في غير مواضعها، أو أن تكون هي في حد ذاتها حقائق مُسَلَّمَةٍ لدى المُحَقِّقِينَ ولكنهم لا يقصدون منها ما قصده المؤلف، فيذكرها إِيهَامًا للقارئ بأن أصحابها يلتقون معه في فكرته وأهوائه، أو تكون نصوصا «مبتورة» انتزع منها ما يَرُدُّ على المؤلف، ولم يذكر منها إلا ما يريد أن يثبته في البحث الذي يتناوله - وسنرى نموذجا لذلك في بحث أبي هريرة - أو أن تكون من أقوال بعض العلماء نقلاً عن المعتزلة، فينسبها إلى هؤلاء العلماء أنفسهم، كما فعل فيما نقل عن ابن
- অথবা তাদের প্রসিদ্ধির আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের দাবি অনুযায়ী অন্ধ অনুকরণের (تقليد) শৃঙ্খল থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তির ভান করা।

4 - অথবা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ‘প্রবৃত্তি’ ও ‘বিচ্যুতি’র প্রভাবে পড়া, যা প্রকাশ করার জন্য তারা ওইসব মিথ্যাবাদী (كاذبين) প্রাচ্যবিদদের আড়ালে লুকানো ছাড়া আর কোনো পথ খুঁজে পায় না।

 

- 3 -

 

উপরে বর্ণিত এই মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশে ‘আবু রাইয়্যাহ’—যেমনটি প্রতীয়মান হয়—তার ‘আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়া’ বইটি প্রকাশ করেছেন। আমি এই বইটি মুদ্রণের সংকল্প করার সময় তার বইটি তন্ন তন্ন করে দেখেছি। আমি দেখেছি যে, পূর্বসূরি ও উত্তরসূরি আলেমদের মধ্যে অধিকাংশ গবেষকদের (محققين) মতামতের বিরুদ্ধে তিনি যা কিছু উপস্থাপন করেছেন, তার মূল উৎসগুলো নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর বাইরে নয়:

1 - মুতাজিলা (اعتزال) ইমামদের মতামত, যা গ্রন্থাবলীতে তাদের পক্ষ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

2 - চরমপন্থী (غلاة) শিয়াদের মতামত, যা তারা তাদের গ্রন্থাবলীতে প্রকাশ্যভাবে ব্যক্ত করেছে।

3 - প্রাচ্যবিদদের মতামত, যা তারা তাদের বই এবং ‘এনসাইক্লোপিডিয়া’য় ছড়িয়ে দিয়েছে।

4 - কিছু ‘কাহিনী’, যা এমন কিছু সাহিত্যগ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে যাদের লেখকদের সত্যনিষ্ঠা ও তথ্য অনুসন্ধানের বিষয়টি সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়।

5 - লেখকের অন্তরে দীর্ঘকাল ধরে দানা বেঁধে থাকা নিজস্ব ‘প্রবৃত্তি’।

 

আর তিনি তার বইয়ে ইসলামী জ্ঞানতাত্ত্বিক মহলে সমাদৃত উৎসসমূহ থেকে যেসব উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, সেগুলো হয় ওইসব মূল উৎসে এমন প্রসঙ্গে এসেছে যা লেখক যে উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন তার চেয়ে ভিন্ন, অর্থাৎ তিনি সেগুলো ভুল স্থানে প্রয়োগ করেছেন; অথবা সেগুলো গবেষকদের (محققين) নিকট স্বত:সিদ্ধ সত্য, কিন্তু তারা সেগুলো দিয়ে সেই উদ্দেশ্য পোষণ করেননি যা লেখক বুঝাতে চেয়েছেন। ফলে তিনি পাঠককে বিভ্রান্ত করার জন্য সেগুলো উল্লেখ করেছেন যাতে মনে হয় ওইসব গবেষকগণ তার চিন্তা ও প্রবৃত্তির সাথে একমত। অথবা সেগুলো হতে পারে ‘কর্তিত’ (مبتورة) পাঠ্য, যেখান থেকে লেখকের দাবির অসারতা প্রমাণকারী অংশটুকু বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি কেবল ততটুকুই উল্লেখ করেছেন যা তিনি তার আলোচনায় সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন—আমরা আবু হুরায়রা সম্পর্কিত আলোচনায় এর নমুনা দেখতে পাবো—অথবা সেগুলো হতে পারে মুতাজিলাদের থেকে বর্ণিত কিছু আলেমের উক্তি, যেগুলোকে তিনি স্বয়ং ওই আলেমদের উক্তি হিসেবে চালিয়ে দিয়েছেন, যেমনটি তিনি ইবনে... থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ১৯)
قتيبة، وبالجملة فإن أصحاب هذه المؤلفات والنصوص التي نسبها إليهم لا يلتقون معه في آرائه ونزعاته.

 

وأخطر من ذلك أنك بينما تراه ينسب إلى عمر الغفلة مع كعب الأحبار حين أخذ يخبره عن قُرب مقتله، يستدل بما نسب إلى عمر من يقظته حول أحاديث أبي هريرة لِيُشَكِّكَ فيها، وبينما تراه يتظاهر باحترام الأئمة والعلماء وَالمُحَقِّقِينَ، ينسب إليهم الغفلة والتقصير في التحقيق في السُنَّةِ على الأسلوب الذي يدعو إليه.

 

وأكثر من تَسَتَّرَ بأسمائهم وتظاهر بالنقل عنهم - تأييدًا منهم في زعمه لفكرته التي يدور حولها، كشيخ الإسلام ابن تيمية، والشيخ طاهر الجزائري والإمام محمد عبده، والسيد رشيد رضا رحمهم الله جَمِيعاً - لم يقل واحد منهم بما انتهى إليه، بل إنهم ليبرؤون جميعاً مِمَّا قاله، وخاصة من الكلام «البذيء» في حق أبي هريرة، ومن النتائج الخطيرة التي انتهى إليها بحثه.

 

ومن الملاحظ أنه أكثر من «ثبت» المصادر التي رجع إليها في بحثه، لِيُوهِمَ قُرَّاءَهُ بأهمية كتابه، ومنها كتب في التفسير والحديث والفقه، وعلوم القرآن وَالسُنَّةِ، ليس فيها كلمة واحدة من نتائج بحثه الذي انتهى إليه، وكلها تكذّبه في دعاويه، ومنها مصادر تاريخية ليست من المصادر التي يعتبرها العلماء مرجعا للتحقيق في تدوين السُنّة وَرُوَّاتِهَا وعلمائها، ومن المصادر التاريخية مصادر لا يوثق بها أبداً لدى جمهور المُحَقِّقِينَ، ومنها كتب في الأدب واللغة والنحو والشعر لا رابطة بينها وبين هذا الموضوع الخطير.

 

بقي أن نذكر المصادر الجديرة بالاهتمام عنده، وهي التي تدلنا على صحة «تحقيقه العلمي» ومصادر وحيه في هذا التحقيق - {وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ} (1) وإليك هي:

1 - " تاريخ التمدن الإسلامي " لجرجي زيدان.

2 - " العرب قبل الإسلام " لجُرجي زيدان.

--------------------------------------------

(1) [الأنعام: 121].
কুতাইবা; সারকথা হলো, এই সকল গ্রন্থকার এবং যেসব উদ্ধৃতি তিনি তাঁদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, তাঁরা তাঁর মতামত ও ঝোঁকের সাথে একমত নন।

 

এর চেয়েও বিপজ্জনক বিষয় হলো, আপনি যখন দেখছেন যে তিনি উমর (রা.)-এর প্রতি গাফিলতির অভিযোগ তুলছেন যখন কাব আল-আহবার তাঁকে তাঁর আসন্ন শাহাদাত সম্পর্কে অবহিত করছিলেন, তখন আবার তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসগুলোর ব্যাপারে উমর (রা.)-এর যে সতর্কতা বর্ণিত হয়েছে, তা দ্বারা সেই হাদিসগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য দলিল পেশ করছেন। অন্যদিকে তাঁকে দেখা যায় তিনি ইমামগণ, ওলামায়ে কেরাম এবং গবেষক (محققين)-দের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ভান করছেন, অথচ তিনি যে পদ্ধতিতে হাদিস পর্যালোচনার (تحقيق) আহ্বান জানান, সেই অনুযায়ী সুন্নাহ পর্যালোচনায় তাঁদের প্রতি গাফিলতি ও ত্রুটির অভিযোগ উত্থাপন করেন।

 

তিনি যাঁদের নামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং যাঁদের থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার ভান করেছেন—যাতে তাঁর ভ্রান্ত ধারণার পক্ষে সমর্থন পাওয়া যায় বলে তিনি দাবি করেন, যেমন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, শায়খ তাহের আল-জাজাইরি, ইমাম মুহাম্মদ আবদুহু এবং সাইয়্যিদ রশিদ রিদা (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন)—তাঁদের কেউই তাঁর গৃহীত সিদ্ধান্তের মতো কোনো কথা বলেননি। বরং তিনি যা বলেছেন, বিশেষ করে আবু হুরায়রা (রা.)-এর শানে যে ‘অশালীন’ ভাষা প্রয়োগ করেছেন এবং তাঁর গবেষণার মাধ্যমে যেসব বিপজ্জনক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, সেসব থেকে তাঁরা সকলেই সম্পূর্ণ মুক্ত।

 

লক্ষ্যণীয় যে, তিনি তাঁর গবেষণায় যেসব উৎসের উদ্ধৃতি দিয়েছেন তার একটি দীর্ঘ ‘তালিকা’ প্রদান করেছেন, যাতে পাঠকদের কাছে তাঁর বইটির গুরুত্ব সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যায়। এর মধ্যে তাফসির, হাদিস, ফিকহ এবং কুরআন ও সুন্নাহর উলুমের কিতাবসমূহ রয়েছে, অথচ সেগুলোর একটিতেও তাঁর আবিষ্কৃত সিদ্ধান্তের কোনো অস্তিত্ব নেই। বরং এগুলোর প্রতিটিই তাঁর দাবিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। এছাড়া এমন কিছু ঐতিহাসিক উৎস রয়েছে যা সুন্নাহ সংকলন, এর বর্ণনাকারী (رواة) এবং আলিমদের অবস্থা পর্যালোচনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আলেমদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। ঐতিহাসিক উৎসগুলোর মধ্যে এমন কিছু উৎস রয়েছে যা জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ গবেষক (محققين)-দের নিকট মোটেও নির্ভরযোগ্য নয়। এমনকি এর মধ্যে সাহিত্য, ভাষা, ব্যাকরণ ও কবিতার কিতাবও রয়েছে, যেগুলোর সাথে এই গুরুতর বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।

 

এখন তাঁর নিকট গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য উৎসগুলোর কথা বলা বাকি রয়েছে, যা আমাদের তাঁর ‘বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা (تحقيق)’-এর যথার্থতা এবং এই পর্যালোচনায় তাঁর অনুপ্রেরণার উৎসের সন্ধান দেয়—{নিশ্চয়ই শয়তানরা তাদের বন্ধুদের প্ররোচনা দেয় যাতে তারা তোমাদের সাথে বিতর্ক করতে পারে} (১)—আর সেগুলো হলো:

১ - জর্জি জায়দানের "তারিখুত তামাদ্দুন আল-ইসলামি"।

২ - জর্জি জায়দানের "আল-আরব ক্বাবলাল ইসলাম" ।

--------------------------------------------

(১) [আল-আনআম: ১২১]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ২০)
3 - " دائرة المعارف الإسلامية " للمستشرقين.

4 - " الحضارة الإسلامية " لكريمر.

5 - " السيادة العربية " لفلوتن.

6 - " حضارة الإسلام في دار السلام " لإبراهيم اليازجي.

7 - " تاريخ العرب المطول " لفليب حتي، وإدوار جرجس، وجبرائيل جبور.

8 - " تاريخ الشعوب الإسلامية " لكارل بروكلمان.

9 - " المسيحية في الإسلام " للقس إبراهيم لوقا.

10 - " وجهة الإسلام " لجماعة من المُسْتَشْرِقِينَ.

11 - " العقيدة والشريعة في الإسلام " لجولدتسيهر.

 

ومع ذلك فهو يَدَّعِي في آخر كتابه أنه أَيَّدَ بحوثه بأقوم البراهين وأقوى الأسانيد (ص 354) وأنه رجع إلى مصادر ثابتة لا يرقى الشك إليها ولا يدنو الريب منها! (ص 197).

 

ننتقل بعد ذلك إلى إلقاء نظرة على مصادره الرئيسية الخمسة التي ذكرناها آنفا.

 

-4 -

 

أما آراء أئمة الاعتزال - وقد سماهم بأرباب العقول الصريحة - فقد حققنا في بحث موقف المعتزلة مِنَ السُنَّةِ - في هذا الكتاب - أنهم ما بين مُنْكِرٍ لِلْسُنَّةِ كلها، وما بين مشترط في قبولها شروطاً لا يمكن أن تقع، وَرَجَّحْنَا أن رؤساء الاعتزال - وخاصة الذين طعنوا منهم في الصحابة - كانوا من الرقة في الدين بحيث يصف أحدهم - ثمامة بن أشرس - جمهور المسارعين إلى الصلاة بأنهم «حَمِيرٌ»! وكانوا من الشعوبية وَالكُرْهِ للعرب بحيث يقول ثمامة نفسه: «انْظُرْ إِلَى هَذَا العَرَبِيِّ، يَعْنِي (مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم) مَاذَا فَعَلَ بِالنَّاسِ؟» (1) فماذا ننتظر من هذا الشعوبي الماجن أن يقول عن صحابة

--------------------------------------------

(1) [قارن بما ورد في صفحة 162 من هذا الكتاب].
3 - প্রাচ্যবিদদের রচিত "দ্য এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম"।

4 - ক্রেমারের "দ্য ইসলামিক সিভিলাইজেশন"।

5 - ভ্লোটেনের "দ্য অ্যারাবিয়ান সোভারেন্টি" (আরবীয় আধিপত্য)।

6 - ইব্রাহিম আল-ইয়াজিজির "দারুস সালামে ইসলামের সভ্যতা"।

7 - ফিলিপ হিট্টি, এডওয়ার্ড জুরজি এবং জিবরাইল জাব্বুর-এর "হিস্ট্রি অব দ্য অ্যারাবস" (বিস্তারিত)।

8 - কার্ল ব্রোকলম্যান-এর "হিস্ট্রি অব দি ইসলামিক পিপলস"।

9 - পাদ্রী ইব্রাহিম লুকার "ইসলামে খ্রিস্টধর্ম"।

10 - একদল প্রাচ্যবিদের "হুইদার ইসলাম" (ইসলামের লক্ষ্য)।

11 - গোল্ডজিহার-এর "ইসলামে আকিদা ও শরীয়াহ"।

 

তা সত্ত্বেও, তিনি তাঁর গ্রন্থের শেষে দাবি করেছেন যে, তিনি তাঁর গবেষণাকে অত্যন্ত বলিষ্ঠ প্রমাণ এবং সবচেয়ে মজবুত সনদসমূহ (الأسانيد) দ্বারা সমর্থন করেছেন (পৃ. ৩৫৪) এবং তিনি এমন নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহের দিকে ফিরে গেছেন যাতে কোনো প্রকার সন্দেহ পৌঁছাতে পারে না এবং কোনো সংশয়ও তার কাছে আসতে পারে না! (পৃ. ১৯৭)।

 

এরপর আমরা ইতিপূর্বে উল্লিখিত তাঁর পাঁচটি প্রধান উৎসের ওপর নজর দেব।

 

-4 -

 

আর মুতাজিলা ইমামদের মতামতের ব্যাপারে—যাঁদের তিনি সুস্পষ্ট বিবেকের অধিকারী বলে অভিহিত করেছেন—আমরা এই গ্রন্থে 'সুন্নাহর প্রতি মুতাজিলাদের অবস্থান' শীর্ষক গবেষণায় যাচাই করেছি যে, তাঁদের কেউ কেউ সম্পূর্ণ সুন্নাহর অস্বীকারকারী (منكر) এবং কেউ কেউ সুন্নাহ গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন সব শর্তারোপ করেন যা বাস্তবে ঘটা অসম্ভব। আমরা প্রাধান্য দিয়েছি যে, মুতাজিলাদের প্রধানরা—বিশেষ করে যাঁরা সাহাবীদের সমালোচনা করেছেন—দ্বীনের ব্যাপারে এতটাই শিথিল ছিলেন যে তাঁদের একজন—সুমামা ইবনে আশরাস—নামাজের জন্য দ্রুত অগ্রসরমান সাধারণ মুসলিমদের 'গাধা' বলে অভিহিত করতেন! তাঁরা শুউবিয়্যাহ (আরব-বিদ্বেষী) এবং আরবদের প্রতি ঘৃণায় এতই আচ্ছন্ন ছিলেন যে, সুমামা স্বয়ং বলতেন: "এই আরব লোকটির দিকে (অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকাও, তিনি মানুষের সাথে কী করেছেন?" (১) সুতরাং এই লম্পট আরব-বিদ্বেষীর কাছ থেকে সাহাবীদের সম্পর্কে আমরা আর কী-ই বা আশা করতে পারি...

--------------------------------------------

(১) [এই বইয়ের ১৬২ পৃষ্ঠায় যা বর্ণিত হয়েছে তার সাথে তুলনা করুন]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ২১)
رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ وما ننتظر أن يكون رأيه في السُنّةِ التي حَقَّقَهَا أئمة الحديث وَمُحَقِّقُوهُمْ؟

 

والمعتزلة قوم فتنتهم الفلسفة اليونانية والمنطق اليوناني، وما نقل من الفلسفة الهندية والأدب الفارسي. وقد كانوا كلهم أو جمهورهم مِمَّنْ يَمُتُّونَ إلى أصل فارسي فَأَوَّلُوا القرآن لينسجم مع الفلسفة اليونانية، وَكَذَّبُوا الأحاديث التي لا تتفق مع هذه العقلية اليونانية الوثنية، واعتبروا فلاسفة اليونان أنبياء العقل الذي لا خطأ معه، هؤلاء هم الذين قامت المعركة الفكرية بينهم وبين جمهور علماء المُسْلِمِينَ. وَهُمْ الذين يُسَمِّيهِمْ «أَبُو رَيَّةَ» بالعلماء وأصحاب العقول الصريحة، في مقابلة أئمة الحديث وفقهاء الإسلام كمالك والشافعي والبخاري ومسلم وابن المُسَيَّبِ وغيرهم!

 

ومن المعلوم أن أصحاب العقول الراجحة عند «أَبِي رَيَّةَ» الذين اسْتَغَلُّوا سلطة الدولة وحملوا الخلفاء على التنكيل بأئمة المُسْلِمِينَ وتعذيبهم وسجنهم بضعة عشر عَامًا، واستقاء «أَبِي رَيَّةَ» من آراء هؤلاء واضح في كل ما نقله عن ابن قتيبة في " تأويل مختلف الحديث " ومن يرجع إلى ما كتبه ابن قتيبة في كتابه هذا، يجد أن ما نقله أَبُو رَيَّةَ عن ابن قتيبة إنما هو كلام أئمة الاعتزال ضد الصحابة وَالمُحَدِّثِينَ، نقله ابن قتيبة عنهم ثم رَدَّ عليهم بما هو موضوع كتابه كله!! ولكن «أَبَا رَيَّةَ» نسب أقوالهم إلى ابن قتيبة، وهكذا يكون «التحقيق العلمي» و «الأمانة العلمية»!.

 

- 5 -

 

وأما اعتماده على مصادر الشِيعَةِ، فأحب أن أمهد لذلك بكلمة صريحة قبل مؤاخذته على الاعتماد على مصادرهم، نحن نقرأ بالألم الممزوج بالحسرة ما كان من الفتن الدموية بين عَلِيٍّ ومعاوية حول الخلافة، ثم ما جرت وراءها من ذيول لا نزال نلمس آثارها حتى اليوم، وأنا لا أشك في أن أعداء الله واليهود، وكثيرا من الأعاجم الذين استولى الإسلام على بلادهم، كان لهم أثر كبير في إيقاد نار تلك الفتن، ثم في توسيع شقة الخلاف بين المُسْلِمِينَ بالكيد والدسائس واختلاق الأكاذيب على
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম? এবং হাদিসের ইমামগণ ও তাদের যাচাইকারীগণ (محققون) যে সুন্নাহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, সে সম্পর্কে তার অভিমত কী হতে পারে বলে আমরা প্রত্যাশা করি?

 

মুতাজিলা হলো এমন এক সম্প্রদায় যাদেরকে গ্রিক দর্শন, গ্রিক যুক্তিবিদ্যা এবং ভারতীয় দর্শন ও পারস্য সাহিত্য থেকে যা কিছু অনূদিত হয়েছে তা বিভ্রান্ত করেছিল। তারা সবাই বা তাদের অধিকাংশ এমন ছিল যারা পারস্য বংশোদ্ভূত ছিল; ফলে তারা কুরআনকে অপব্যাখ্যা (تأويل) করেছিল যাতে তা গ্রিক দর্শনের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। তারা সেই হাদিসগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন (كذبوا) করেছিল যা এই পৌত্তলিক গ্রিক মনস্তত্ত্বের সাথে খাপ খায় না। তারা গ্রিক দার্শনিকদেরকে ‘বিবেকের নবী’ হিসেবে গণ্য করত যাদের কোনো ভুল হতে পারে না। এরাই ছিল তারা যাদের সাথে মুসলিম আলেমদের সাধারণ সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই সংঘটিত হয়েছিল। আর এরাই সেই লোক যাদেরকে ‘আবু রায়য়াহ’ আলেম এবং স্পষ্ট বুদ্ধিবৃত্তির অধিকারী হিসেবে অভিহিত করেছেন—হাদিসের ইমামগণ এবং মালিক, শাফিঈ, বুখারি, মুসলিম, ইবনুল মুসায়্যিব ও অন্যদের মতো ইসলামের ফকিহদের বিপরীতে!

 

এটি সুবিদিত যে, ‘আবু রায়য়াহ’র দৃষ্টিতে যারা শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবী ছিল, তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে অপব্যবহার করেছিল এবং খলিফাদেরকে মুসলিম ইমামদের ওপর নিপীড়ন চালাতে এবং তাদের দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্যাতন ও কারারুদ্ধ করতে বাধ্য করেছিল। ‘আবু রায়য়াহ’ যে এদের মতাদর্শ থেকে গ্রহণ করেছেন তা ইবনে কুতাইবার "তাওয়িল মুখতালিফুল হাদিস" গ্রন্থ থেকে তিনি যা কিছু উদ্ধৃত করেছেন তার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট। যে ব্যক্তি ইবনে কুতাইবার এই কিতাবটি অধ্যয়ন করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে ‘আবু রায়য়াহ’ ইবনে কুতাইবার বরাতে যা কিছু নকল করেছেন তা মূলত সাহাবি (صحابة) ও হাদিস বিশারদদের (محدثين) বিরুদ্ধে মুতাজিলা ইমামদের বক্তব্য। ইবনে কুতাইবা তাদের থেকে তা উদ্ধৃত করেছেন এবং এরপর তাদের খণ্ডন করেছেন যা মূলত তার সম্পূর্ণ কিতাবেরই আলোচ্য বিষয়!! কিন্তু ‘আবু রায়য়াহ’ তাদের বক্তব্যগুলোকে ইবনে কুতাইবার বক্তব্য হিসেবে চালিয়ে দিয়েছেন; এভাবেই সম্পাদিত হয় ‘বৈজ্ঞানিক গবেষণা’ এবং ‘ইলমি আমানতদারি’!

 

- 5 -

 

আর শিয়াদের উৎসের ওপর তার নির্ভরতার বিষয়ে আমি তাকে অভিযুক্ত করার আগে একটি স্পষ্ট কথার মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে চাই। আমরা অত্যন্ত বেদনা ও আক্ষেপের সাথে সেই রক্তক্ষয়ী ফিতনার কথা পাঠ করি যা খিলাফতকে কেন্দ্র করে আলী ও মুয়াবিয়ার মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল; এরপর তার যে রেশ তৈরি হয়েছিল যার প্রভাব আমরা আজও অনুভব করি। আমার এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে আল্লাহর শত্রু, ইহুদি এবং বহু অনারব—যাদের দেশ ইসলাম বিজিত হয়েছিল—তাদের এই ফিতনার আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল। অতঃপর ষড়যন্ত্র, কুচক্র এবং মিথ্যা (أكاذيب) উদ্ভাবনের মাধ্যমে মুসলিমদের মধ্যকার বিভেদের ফাটলকে আরও প্রশস্ত করার পেছনেও তাদের হাত ছিল।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ২২)
رسول الله صلى الله عليه وسلم في أحاديث ينسبونها إليه، وأعتقد أن جمهور المُسْلِمِينَ - وَهُمْ أَهْلُ السُنَّةِ - كانوا أكثر إنصافاً وتأدباً مع صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهم الذين أثنى الله عليهم في كتابه ورضي عنهم وَنَوََّهَ بفضلهم في الهجرة والنصر، فليس من الجائز ولا المعقول ولا اللائق بكرامة دين الله ورسوله أن ينقلب هؤلاء الأصحاب بعد وفاة الرسول إلى الحالة التي تُصَوِّرُهُمْ بها مصادر الشِيعَةِ، ولو أنك قرأت وسمعت ما يكتبونه ويقولونه في مجالسهم في حق هؤلاء الأصحاب، لقلت: إنهم أشبه ما يكونون بعصابة من اللصوص وَقُطَّاعِ الطُرُقِ، لا دين لديهم ولا ضمائر عندهم تَرْدَعُهُمْ عن الكذب والتآمر والتهالك على الدنيا وحيازة أموالها ولذائذها: (لشدَّ ما تحلَّبا شطريها) (1)، مع أن الثابت الصحيح من تاريخهم أنهم كانوا أتقى للهِ وأكرم في السيرة من كل جيل عرفته الإنسانية في القديم والحديث، ومع أن الإسلام لم ينتشر في العالم إلا على أيديهم وبجهادهم ومفارقتهم الأهل والبلد في سبيل الله والحق الذي آمنوا به.

 

ومن الواضح أن السبب الذي بدأت به الفرقة، وهو النزاع حول الأحق بالخلافة ورئاسة الدولة، لم يعد موجوداً في عصرنا هذا، بل منذ عصور كثيرة، فقد أصبحنا جميعاً تحت سلطة المستعمرين، فلم يبق لنا ملك نتقاتل عليه، ولا خلافة نختلف من أجلها، وذلك مِمَّا يقتضي جمع الشمل وتقريب وجهات النظر، وتوحيد كلمة المُسْلِمِينَ على أمر سواء، وإعادة النظر في كل ما خلفته تلك المعارك من أحاديث مكذوبة على صحابة رسول الله وأصفيائه، وَحَمَلَةِ عرشه وحاملي لوائه.

 

وقد بدأ علماء الفريقين في الحاضر يستجيبون إلى رغبة جماهير المُسْلِمِينَ في التقارب، ودعوة مُفَكِّرِيهِمْ إلى التصافي، وأخذ علماء السُنّةِ بالتقارب عَمَلِيًّا، فاتجهوا إلى دراسة فقه الشِيعَةِ ومقارنته بالمذاهب المعتبرة

--------------------------------------------

(1) كلمة نسبها صاحب " نهج البلاغة " إلى عَلِيٍّ رضي الله عنه في حق أبي بكر وعمر رضي الله عنهما.

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি তারা কিছু হাদিস আরোপ করে। আমি বিশ্বাস করি যে, মুসলিম জনসাধারণের অধিকাংশ—যারা আহলে সুন্নাত—তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের ব্যাপারে অনেক বেশি ইনসাফপূর্ণ ও শিষ্টাচারী। তারা সেই সকল ব্যক্তি যাদের প্রশংসা আল্লাহ তাঁর কিতাবে করেছেন, তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং হিজরত ও নুসরতের ক্ষেত্রে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা ঘোষণা করেছেন। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের পর এই সাহাবীগণ শিয়াদের উৎসসমূহে চিত্রিত অবস্থার ন্যায় পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর রাসূলের মর্যাদার সাথে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ, যুক্তিসঙ্গত বা শোভনীয় নয়। আপনি যদি তাদের মজলিসগুলোতে সাহাবীগণের ব্যাপারে তারা যা লেখে বা বলে তা পড়তেন বা শুনতেন, তবে আপনি বলতেন: তারা যেন একদল চোর ও ডাকাত, যাদের কোনো ধর্ম নেই এবং মিথ্যা বলা, ষড়যন্ত্র করা এবং দুনিয়ার মোহ ও এর সম্পদ ও ভোগ-বিলাসের প্রতি লালায়িত হওয়া থেকে বিরত রাখার মতো কোনো বিবেক তাদের নেই: (উভয়েই শক্তভাবে এর স্তন দুহনের চেষ্টা করেছে) (১), অথচ তাদের ইতিহাসের প্রমাণিত ও সহিহ (صحيح) সত্য হলো যে, তারা প্রাচীন ও আধুনিক যুগে মানবতার দেখা সকল প্রজন্মের চেয়ে বেশি আল্লাহভীরু এবং উন্নত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তাছাড়া বিশ্বে ইসলাম কেবল তাদের হাতে, তাদের জিহাদ এবং তারা যে সত্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন সেই সত্য ও আল্লাহর পথে তাদের পরিবার ও দেশ ত্যাগের মাধ্যমেই প্রসারিত হয়েছে।

 

এটা স্পষ্ট যে, যে কারণে বিভক্তির সূচনা হয়েছিল—অর্থাৎ খিলাফত এবং রাষ্ট্রের নেতৃত্বের অধিকতর দাবিদার কে তা নিয়ে বিরোধ—তা বর্তমান যুগে আর অবশিষ্ট নেই, বরং বহু যুগ আগেই তা বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে আমরা সবাই ঔপনিবেশিক শক্তির অধীনে রয়েছি; লড়াই করার মতো কোনো রাজত্ব আমাদের অবশিষ্ট নেই, কিংবা এমন কোনো খিলাফতও নেই যার জন্য আমরা মতভেদ করব। এটিই দাবি করে যে, আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে কাছাকাছি আনতে হবে এবং মুসলিমদের অবস্থানকে অভিন্ন বিষয়ে সুসংহত করতে হবে। সেই সাথে ঐসব যুদ্ধের ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ, তাঁর একনিষ্ঠ বন্ধুগণ এবং তাঁর দ্বীনের পতাকাধারীদের বিরুদ্ধে যেসব বানোয়াট (مكذوبة) হাদিস সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো পুনঃপর্যালোচনা করতে হবে।

 

বর্তমানে উভয় পক্ষের আলেমগণ মুসলিম জনসাধারণের ঐক্যের আকাঙ্ক্ষায় সাড়া দিতে শুরু করেছেন এবং তাদের চিন্তাবিদগণ ভ্রাতৃত্বের আহ্বান জানাচ্ছেন। আহলে সুন্নাতের আলেমগণ কার্যকরভাবে এই ঐক্যের পথ অবলম্বন করেছেন। তারা শিয়া ফিকহ এবং অন্যান্য স্বীকৃত মাযহাবসমূহের সাথে এর তুলনামূলক অধ্যয়নের দিকে মনোনিবেশ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) "নাহজুল বালাগাহ" গ্রন্থের লেখক এই উক্তিটি আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ব্যাপারে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি আরোপ করেছেন।

(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ২৩)
عند الجمهور، وقد أدخلت هذه الدراسة المقارنة في مناهج الدراسة في الكليات وفي كتب المؤلفين في الفقه الإسلامي، وإنني شخصياً - منذ بدأت التدريس في الجامعة - أسير على هذا النهج في دروسي ومؤلفاتي.

 

ولكن الواقع أن أكثر علماء الشِيعَةِ لم يفعلوا شيئاً عملياً حتى الآن، وكل ما فعلوه جملة من المجاملة في الندوات والمجالس، مع استمرار كثير منهم في سَبِّ الصَحَابَةِ وإساءة الظن بهم، واعتقاد كل ما يروى في كتب أسلافهم من تلك الروايات والأخبار، بل إن بعضهم يفعل خلاف ما يقول في موضوع التقريب، فبينما هو يتحمس في موضوع التقريب بين السُنَّةِ وَالشِيعَةِ، إذا هو يصدر الكتب المليئة بالطعن في حق الصحابة أو بعضهم مِمَّنْ هم موضع الحب والتقدير من جمهور أَهْلِ السُنَّةِ.

 

في عام 1953 زرت عَبْدَ الحُسَيْنَ شَرَفَ الدِّينِ في بيته بمدينة «صور» في جبل عامل، وكان عنده بعض علماء الشِيعَةِ، فَتَحَدَّثْنَا عن ضرورة جمع الكلمة وإشاعة الوئام بين فريقي الشِيعَةِ وَأَهْلِ السُنَّةِ، وأن من أكبر العوامل في ذلك أن يزور علماء الفريقين بعضهم بعضاً، وإصدار الكتب والمؤلفات التي تدعو إلى هذا التقارب. وكان عَبْدُ الحُسَيْن رحمه الله مُتَحَمِّسًا لهذا الغرض، وخرجت من عنده وأنا فرح بما حصلت عليه من نتيجة، ثم زُرْتُ في بيروت بَعْضَ وجوه الشِيعَةِ من سياسيين وَتُجَّارَ وأدباء لهذا الغرض، ولكن الظروف حالت بيني وبين العمل لتحقيق هذه الفكرة، ثم ما هي إلا فترة من الزمن حتى فوجئت بأن عَبْدَ الحُسَيْنِ أصدر كتاباً في أبي هريرة (*) مليئاً بالسباب والشتائم!! ولم يتح لي حتى الآن قراءة هذا الكتاب الذي ما أزال أسعى للحصول على نسخة منه، ولكني علمت بما فيه مِمَّا جاء في كتاب أَبِي رَيَّةَ من نقل بعض محتوياته ومن ثناء الأستاذ عليه، لأنه يتفق مع أَبِي رَيَّةَ في هذا الصحابي الجليل (1)

--------------------------------------------

(*) [طبع كتاب " أبو هريرة " لعبد الحسن شرف الدين الموسوي، الطبعة الثانية: 1375 هـ - 1956 م في 296 صفحة، منشورات الطبعة الحيدرية في النجف].

(1) ذكرت هنا في هذه المقدمة التمهيدية للطبعة الأولى أني لم أكن حين كتابتها أملك
সাধারণ আলেমদের (جمهور) নিকট, এবং এই তুলনামূলক অধ্যয়নটি কলেজগুলোর পাঠ্যসূচিতে এবং ইসলামি ফিকহের লেখকদের বইসমূহে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি—বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করার পর থেকে—আমার পাঠদান এবং রচনাশৈলীতে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছি।

 

কিন্তু বাস্তবতা হলো, শিয়া আলেমদের অধিকাংশ এখন পর্যন্ত বাস্তবে কিছুই করেননি। তারা যা করেছেন তা কেবল সেমিনার এবং সভাগুলোতে কিছু সৌজন্য প্রদর্শন মাত্র। অথচ তাদের অনেকেই সাহাবিদের গালিগালাজ করা এবং তাদের সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করা অব্যাহত রেখেছেন। তাদের পূর্বসূরিদের বইপত্রে বর্ণিত ঐসব বর্ণনা (روايات) ও সংবাদ (أخبار) তারা বিশ্বাস করেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ ঐক্য প্রসঙ্গে যা বলেন, তার উল্টো কাজ করেন। যখন তিনি সুন্নাহ ও শিয়াদের মধ্যে ঐক্যের বিষয়ে উৎসাহ প্রকাশ করেন, ঠিক তখনই তিনি সাহাবিদের সম্মানে অথবা এমন কিছু সাহাবিদের ব্যাপারে বিষোদগারে পূর্ণ বই প্রকাশ করেন, যারা আহলে সুন্নাতের সাধারণ আলেম ও জনগণের (جمهور) কাছে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার পাত্র।

 

১৯৫৩ সালে আমি জাবালে আমেলের ‘সুর’ শহরে আব্দুল হুসাইন শরফুদ্দীনের বাসভবনে তার সাথে সাক্ষাৎ করি। সেখানে কয়েকজন শিয়া আলেম উপস্থিত ছিলেন। আমরা একতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং শিয়া ও আহলে সুন্নাতের মধ্যে সম্প্রীতি প্রসারের বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম। এর অন্যতম বড় উপায় হলো উভয় পক্ষের আলেমদের একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং এমন সব বই ও রচনা প্রকাশ করা যা এই নিকটবর্তিতার আহ্বান জানায়। আব্দুল হুসাইন (রহ.) এই উদ্দেশ্যে বেশ উৎসাহী ছিলেন। আমি তার কাছ থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে আনন্দিত হয়ে বিদায় নিলাম। এরপর আমি এই একই উদ্দেশ্যে বৈরুতে শিয়াদের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী এবং সাহিত্যিকদের সাথে দেখা করি। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমি কাজ করতে পারিনি। তারপর কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আমি বিস্মিত হলাম যে, আব্দুল হুসাইন আবু হুরায়রা সম্পর্কে গালিগালাজ ও অপবাদে পূর্ণ একটি বই প্রকাশ করেছেন!! এখন পর্যন্ত আমার পক্ষে সেই বইটি পড়ার সুযোগ হয়নি, যদিও আমি তার একটি কপির সন্ধানে আছি। তবে আবু রাইয়্যাহর বইয়ে বর্ণিত কিছু উদ্ধৃতি এবং তার ওপর উস্তাদের প্রশংসা থেকে আমি বইটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে পেরেছি; কারণ তিনি এই মহান সাহাবি সম্পর্কে আবু রাইয়্যাহর সাথে একমত পোষণ করেছেন (১)

--------------------------------------------

(*) [আব্দুল হাসান শরফুদ্দীন আল-মুসাবি রচিত "আবু হুরায়রা" বইটি মুদ্রিত হয়েছে, দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৩৭৫ হিজরি - ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯৬ পৃষ্ঠা, নাজাফের আল-মাকতাবাতুল হায়দারিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত]।

(১) আমি প্রথম সংস্করণের এই প্রারম্ভিক ভূমিকায় উল্লেখ করেছি যে, এটি লেখার সময় আমার কাছে ছিল না
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ২৪)
لقد عجبت من موقف عَبْدِ الحُسَيْن في كلامه وفي كتابه معاً، ذلك الموقف الذي لا يدل على رغبة صادقة في التقارب ونسيان الماضي، وأرى الآن نفس الموقف من فريق دُعَاةِ التقريب من علماء الشِيعَةِ، إذ هم بينما يقيمون لهذه الدعوة الدُّورَ، وينشئون المجلات في القاهرة، ويستكتبون فريقاً من علماء الأزهر لهذه الغاية، لم نر أثراً لهم في الدعوة لهذا التقارب بين علماء الشِيعَةِ في العراق وإيران وغيرهما، فلا يزال القوم مُصِرِّينَ على ما في كتبهم من ذلك الطعن الجارح والتصوير المكذوب لما كان بين الصحابة من خلاف، كَأَنَّ المقصود من دعوة التقريب هي تقريب أَهْلِ السُنَّة إلى مذهب الشِيعَةِ، لا تقريب المذهبين كل منهما إلى الآخر.

 

ومن الأمور الجديرة بالاعتبار أن كل بحث علمي في تاريخ السُنَّةِ أو المذاهب الإسلامية مِمَّا لا يتفق مع وجهة نظر الشِيعَة، يقيم بعض علمائهم النكير على من يبحث في ذلك، ويتسترون وراء التقريب، ويتهمون صاحب هذا البحث بأنه متعصب معرقل لجهود المصلحين في التقريب، ولكن كتاباً ككتاب المرحوم الشيخ «عبد الحُسَيْن شرف الدين» في الطعن بأكبر صحابي موثوق في روايته للأحاديث في نظر جمهور أهل السُنَّة، لا يراه أولئك العاتبون أو الغاضبون عملاً مُعرقِلاً لجهود الساعين إلى التقريب! ..

 

ولست أحصر المثال بكتاب " أبي هريرة " وفيها من التشنيع على عائشة أم المؤمنين وعلى جمهور الصحابة ما لا يحتمل سماعه إنسان ذو وجدان وضمير، مِمَّا يُذَكِّّرُ

--------------------------------------------

نسخة من كتاب " أبي هريرة " للشيخ عبد الحُسَيْن شرف الدين. ولكني بعد ذلك استطعت شراء نسخة من الكتاب المذكور في طبعته الثانية التي تمت في حياة المؤلف، وبعد أن قرأته كله تأكد لي ما كنت أظنه. فقد انتهى مؤلفه إلى القول «بأن أبا هريرة رضي الله عنه كان منافقاً كافراً وأن الرسول قد أخبر عنه بأنه من أهل النار!.» ولما كان أَبُو رَيَّةَ قد أثنى على هذا الكتاب ومؤلفه، فإنه يكون موافقاً لمؤلفه في تلك النهاية التي انتهى إليها رأيه في أبي هريرة .. ونعوذ بالله من الخذلان وسوء المصير! ..
আমি আবদুল হুসাইনের বক্তব্য এবং তার কিতাব—উভয় ক্ষেত্রেই তার অবস্থানে বিস্মিত হয়েছি; সেই অবস্থান মোটেও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং অতীতকে ভুলে যাওয়ার কোনো আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে না। বর্তমানে আমি শিয়া আলিমদের মধ্য থেকে যারা সৌহার্দ্য সৃষ্টির প্রবক্তা, তাদের মাঝেও একই অবস্থান দেখতে পাচ্ছি। কারণ, তারা যখন এই আহ্বানের জন্য কায়রোতে কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করছেন, সাময়িকী প্রকাশ করছেন এবং এই উদ্দেশ্যে আল-আজহারের একদল আলিমকে দিয়ে লেখাচ্ছেন, তখন ইরাক, ইরান এবং অন্যান্য স্থানের শিয়া আলিমদের মাঝে এই সৌহার্দ্য সৃষ্টির আহ্বানের কোনো প্রভাব আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বরং তারা এখনো তাদের কিতাবসমূহে সাহাবীগণের মধ্যকার মতভেদ নিয়ে সেই যন্ত্রণাদায়ক আক্রমণ (طعن) এবং মিথ্যা (مكذوب) চিত্রায়নের ওপর অবিচল রয়েছেন। মনে হচ্ছে যেন, সৌহার্দ্যের এই আহ্বানের উদ্দেশ্য হলো আহলে সুন্নাতকে শিয়া মাজহাবের নিকটবর্তী করা, দুই মাজহাবকে একে অপরের নিকটবর্তী করা নয়।

 

বিবেচনাযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো, সুন্নাহর ইতিহাস বা ইসলামি মাজহাবসমূহ নিয়ে এমন কোনো জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণা—যা শিয়াদের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মেলে না—তবে তাদের কিছু আলিম সেই গবেষকের কঠোর সমালোচনা করেন। তারা সৌহার্দ্যের আড়ালে আত্মগোপন করেন এবং এই গবেষণার লেখককে সংকীর্ণমনা ও সংস্কারকদের সৌহার্দ্য প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেন। কিন্তু মরহুম শেখ আবদুল হুসাইন শরাফ উদ্দিনের ‘আবু হুরায়রা’ কিতাবের মতো বই—যাতে এমন একজন মহান সাহাবীকে আক্রমণ (طعن) করা হয়েছে যিনি আহলে সুন্নাত জনসাধারণের দৃষ্টিতে হাদিস বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (موثوق), সেই বইটিকে এই অভিযোগকারীরা বা ক্রুদ্ধ ব্যক্তিরা সৌহার্দ্য অন্বেষীদের প্রচেষ্টায় কোনো প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখেন না! ..

 

আমি এই উদাহরণটি কেবল ‘আবু হুরায়রা’ কিতাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছি না; এতে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা এবং সাধারণ সাহাবীগণের নামে এমন সব কুৎসা রটনা করা হয়েছে যা কোনো বিবেকবান ও সচেতন মানুষের পক্ষে শোনা সম্ভব নয়, যা স্মরণ করিয়ে দেয়...

--------------------------------------------

শেখ আবদুল হুসাইন শরাফ উদ্দিন রচিত ‘আবু হুরায়রা’ কিতাবের একটি কপি। তবে পরবর্তীতে আমি কিতাবটির দ্বিতীয় সংস্করণের একটি কপি ক্রয় করতে সক্ষম হই, যা লেখকের জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়েছিল। পুরো কিতাবটি পড়ার পর আমি যা ধারণা করেছিলাম তা নিশ্চিত হলো। লেখক এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, ‘আবু হুরায়রা একজন মুনাফিক ও কাফির ছিলেন এবং রাসুল সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত!’ যেহেতু আবু রাইয়াহ এই কিতাব এবং এর লেখকের প্রশংসা করেছেন, তাই আবু হুরায়রা সম্পর্কে লেখকের দেওয়া সেই চূড়ান্ত মতামতের সাথে তিনিও একমত.. আমরা আল্লাহর কাছে লাঞ্ছনা এবং মন্দ পরিণতি থেকে পানাহ চাই! ..
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ২৫)
الناس بآثار الماضي، ويؤجج نيران التفرقة من جديد، وكتاب «أبي رية» هو من هذه الكتب التي إن رضي الشِيعَة عما جاء فيه بحق الصحابي الجليل أبي هريرة رضي الله عنه، فإنه - بلا شك - سبب لفتح أبواب العداوة من جديد، أو على الأقل سبب للأخذ والرد وتذكر موقف الشِيعَة من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

 

فإذا كنا نأخذ عليه اعتماده على مصادر الشِيعَة في كتابه المذكور، وإذا كنا نتحدث عن موقف الشِيعَة من الحديث فإنما نبحث ذلك.

 

أَوَلاًً: في حدود النطاق العلمي التاريخي، وحقائق التاريخ لا مجاملة في الحديث عنها حين يكون المجال مجال علم ودراسة وتحقيق.

 

وثَانِياً: لتصحيح الأخطاء التاريخية التي استمدها من كتب الشِيعَة.

 

ولقد كنت كتبت بَحْثَ موقف الشِيعَةِ مِنَ السُنَّةِ في هذا الكتاب - وهو أطروحة علمية تقدم إلى علماء في معهد علمي لنيل شهادة علمية - ومع ذلك فلقد كنت أُرْجِئ نشر هذا الكتاب - المقدم للطبع الآن - لأسباب عديدة:

منها أنني أريد أن أقدم لبحثي ذاك بتمهيد أوضح فيه رأيي بضرورة التقارب بين السُنَّةِ وَالشِيعَةِ في هذا العصر الذي نعيش فيه، وأنني لم أقصد ببحثي الإساءة إلى شعور الشِيعَةِ أو استثارة عداوتهم، لا لشيء إلا لأني كنت وما أزال من دُعَاةِ التقارب الصحيح وتصفية آثار الماضي.

 

ولما أخذت إحدى المجلات العلمية مني النسخة الوحيدة التي عندي من كتابي هذا رغبة في نشر بعض أبحاثه، لَفَتَ نظر المسؤول عنها إلى أن فيه بعض الأبحاث التي أريد التمهيد لها ببعض الإيضاح، ولكنني فوجئت وأنا في بيروت للاستشفاء أن هذه المجلة نشرت البحث المتعلق بموقف الشِيعَةش وَالسُنَّةِ، وأن ذلك ترك أثراً غير مستحب في الأوساط الشِيعِيَّةِ، وَعَلَّقَتْ عليه بعض مجلاتهم، أخبرني بذلك الشاعر الكبير الأستاذ «أحمد الصافي النجفي» الذي أقدر فضله وأدبه، فأوضحت له موقفي من هذا الموضوع وأنه نشر بغير علمي.
এটি মানুষের মাঝে অতীতের রেশসমূহের (آثار) স্মৃতি জাগ্রত করে এবং নতুন করে বিভেদের আগুন উস্কে দেয়। ‘আবু রাইয়্যাহ’-এর বইটি এমন একটি বই যা—মহান সাহাবী (صحابي) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে তাতে যা বর্ণিত হয়েছে তাতে শিয়ারা সন্তুষ্ট হলেও—নিঃসন্দেহে তা নতুন করে শত্রুতার দ্বার উন্মোচনের কারণ হবে, অথবা অন্ততপক্ষে তা পারস্পরিক বিতর্ক এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের (صحابة) প্রতি শিয়াদের অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার উপলক্ষ হবে।

 

যদি আমরা তাঁর উল্লিখিত কিতাবে শিয়া উৎসগুলোর ওপর নির্ভর করার বিষয়ে আপত্তি তুলি এবং যদি আমরা হাদিস সম্পর্কে শিয়াদের অবস্থান নিয়ে কথা বলি, তবে আমরা মূলত তা অনুসন্ধান করি:

 

প্রথমত: বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক সীমারেখার মধ্যে; আর যখন ক্ষেত্রটি বিজ্ঞান, অধ্যয়ন ও যাচাইকরণের (تحقيق) হয়, তখন ইতিহাসের সত্যগুলো নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার তোষামোদ করা চলে না।

 

দ্বিতীয়ত: শিয়াদের কিতাবসমূহ থেকে তিনি যে ঐতিহাসিক ভুলগুলো গ্রহণ করেছেন তা সংশোধনের জন্য।

 

আমি এই কিতাবে সুন্নাহ সম্পর্কে শিয়াদের অবস্থানের বিষয়ে একটি গবেষণা লিখেছিলাম—যা ছিল ডিগ্রি লাভের জন্য একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানে আলেমদের নিকট পেশকৃত একটি বৈজ্ঞানিক অভিসন্দর্ভ—তা সত্ত্বেও, আমি বর্তমান মুদ্রণের জন্য পেশকৃত এই বইটি প্রকাশ করতে বিভিন্ন কারণে বিলম্ব করছিলাম:

তার মধ্যে একটি হলো, আমি আমার সেই গবেষণার শুরুতে এমন একটি ভূমিকা পেশ করতে চেয়েছিলাম যেখানে আমি বর্তমান যুগে সুন্নাহ ও শিয়াদের মধ্যে নৈকট্য স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমার মতামত স্পষ্ট করব। আমি আমার গবেষণার মাধ্যমে শিয়াদের অনুভূতিতে আঘাত দিতে বা তাদের শত্রুতাকে উস্কে দিতে চাইনি; কারণ আমি সবসময়ই সঠিক পদ্ধতিতে নৈকট্য অর্জন এবং অতীতের রেশগুলো (آثار) দূর করার একজন প্রবক্তা ছিলাম এবং আছি।

 

যখন একটি বৈজ্ঞানিক সাময়িকী আমার কাছ থেকে এই কিতাবের একমাত্র পাণ্ডুলিপিটি নিয়েছিল তার কিছু অংশ প্রকাশের আগ্রহে, তখন আমি এর দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে অবহিত করেছিলাম যে এতে এমন কিছু গবেষণা রয়েছে যেগুলোর শুরুতে আমার কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমি বৈরুতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় হঠাৎ জানতে পারলাম যে, সাময়িকীটি সুন্নাহ ও শিয়াদের অবস্থান সংক্রান্ত সেই গবেষণাটি প্রকাশ করে দিয়েছে এবং এটি শিয়া মহলে একটি অনভিপ্রেত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তাদের কিছু সাময়িকী এ নিয়ে মন্তব্যও করেছে। প্রখ্যাত কবি উস্তাদ ‘আহমদ আস-সাফি আন-নাজাফি’—যাঁর মর্যাদা ও সাহিত্যিক প্রজ্ঞাকে আমি অত্যন্ত মূল্যায়ন করি—আমাকে এই বিষয়টি অবহিত করেন। অতঃপর আমি তাঁর কাছে এই বিষয়ে আমার অবস্থান পরিষ্কার করি যে, এটি আমার অজান্তেই প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ২৬)
وهكذا أريد أن ألفت النظر الآن مرة أخرى إلى أن كل ما جاء في هذا الكتاب إنما هو عرض تاريخي لَا بُدَّ منه لكل من يُؤَرِّخُ لِلْسُنَّةِ ويتحدث عن مراحل جمعها وتدوينها. ولا يستطيع أن يغفل ذلك عالم يحترم نفسه ويريد من العلماء أن يحترموا كتابه، ولم أكتب فيه إلا ما أعتقد أن البحث العلمي يؤيده ويثبته.

 

ومع هذا فليس فيما كتبته ما يسيء إلى أية شخصية يحترمها الشِيعَةُ ويُجِلُّونَهَا كما يفعلون هم بالنسبة إلى جمهور الصحابة، ذلك أنا نُحِبُّ عَلِيًّا رضي الله عنه ونُجلُّهُ ونعرف مكانته من الإسلام والعلم والفضل، كما نُحِبُّ أئمة أهل البيت من ذرية عَلِيٍّ رضي الله عنه ونحترم علمهم وفضلهم، وحبذا لو يفعل الشِيعَةُ كما نفعل، فنلتقي على كلمة سواء!.

 

وأعود فأكرر دعوتي للمخلصين من علماء الشِيعَةِ، وفيهم الوَاعُونَ الراغبون في جمع كملة المُسْلِمِينَ، أن نواجه جميعاً المشاكل التي يعانيها العالم الإسلامي اليوم، من انتشار الدعوات الهدامة التي تجتث جذور العقيدة في قلوب شباب السُنَّةِ وشباب الشِيعَةِ على السواء، بل هي أقوى على ذلك بالنسبة لقلوب شباب الشِيعَةِ، ولعل في الحوادث الجارية الآن (1) في بعض بلادنا العربية ما يؤكد ما أقول به، وأكرر دعوتي بوضع أسس التقارب الصحيح العملي لا القولي.

 

وفي مقدمة ذلك الاتفاق على تقدير صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، الذين على أيديهم انتقل هذا الدين إلينا، وبواسطتهم أخرجنا اللهُ من الظلمات إلى النور.

 

- 6 -

 

أما المُسْتَشْرِقُونَ الذين اتَّخَذَ منهم أَبُو رَيَّةَ تكأة لآرائه، فقد كتبت عنهم كلمة موجزة في كتابي هذا، قبل أن أزور أكثر جامعات أوروبا عام 1956 وأختلط بهم وأتحدث إليهم وأناقشهم.

--------------------------------------------

(1) أي في سَنَةِ 1960 عند ظهور الطبعة الأولى للكتاب.
এইভাবে আমি আবারও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, এই বইটিতে যা কিছু এসেছে তা সুন্নাহর ইতিহাস রচয়িতা এবং এর সংগ্রহ ও সংকলনের পর্যায়সমূহ নিয়ে আলোচনাকারীদের জন্য একটি অপরিহার্য ঐতিহাসিক উপস্থাপনা। কোনো আত্মমর্যাদাশীল আলেম—যিনি চান অন্য আলেমগণ তাঁর গ্রন্থকে সম্মান করুক—তিনি এটি উপেক্ষা করতে পারেন না। বৈজ্ঞানিক গবেষণা যা সমর্থন ও প্রমাণ করে, তা ছাড়া আমি এখানে কিছুই লিখিনি।

 

তা সত্ত্বেও, আমি যা লিখেছি তাতে শিয়াদের নিকট শ্রদ্ধেয় এবং মর্যাদাবান কোনো ব্যক্তিত্বের প্রতি অবমাননাকর কিছু নেই, যেমনটি তারা সাহাবায়ে কেরামের (الصحابة) বিশাল গোষ্ঠীর প্রতি করে থাকে। কেননা আমরা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ভালোবাসি, তাঁকে সম্মান করি এবং ইসলাম, জ্ঞান ও মর্যাদার ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে আমরা অবগত। তেমনিভাবে আমরা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধরদের মধ্য থেকে আহলে বাইতের ইমামদের ভালোবাসি এবং তাঁদের জ্ঞান ও মর্যাদাকে সম্মান করি। শিয়ারাও যদি আমাদের মতো করত, তবে কতই না ভালো হতো! তাহলে আমরা এক অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারতাম।

 

আমি পুনরায় শিয়া আলেমদের মধ্যে যারা নিষ্ঠাবান—যাদের মধ্যে সচেতন এবং মুসলিমদের ঐক্য কামনাকারী ব্যক্তিরা রয়েছেন—তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, আসুন আমরা সকলে মিলে বর্তমান মুসলিম বিশ্বের সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করি। বিশেষ করে সেই ধ্বংসাত্মক দাওয়াতগুলোর বিরুদ্ধে, যা সুন্নি এবং শিয়া উভয় যুবসমাজের অন্তর থেকে আকিদার (العقيدة) শিকড় উপড়ে ফেলছে। বরং শিয়া যুবকদের হৃদয়ের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও বেশি শক্তিশালী। বর্তমানে আমাদের কিছু আরব দেশে চলমান ঘটনাবলি (১) সম্ভবত আমার বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করে। আমি কেবল মৌখিক নয়, বরং বাস্তবধর্মী ও সঠিক সমন্বয়ের ভিত্তি স্থাপনের জন্য আমার আহ্বানের পুনরাবৃত্তি করছি।

 

এর অগ্রভাগে রয়েছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবায়ে কেরামের (الصحابة) মর্যাদার ব্যাপারে একমত হওয়া, যাদের মাধ্যমে এই দ্বীন আমাদের নিকট পৌঁছেছে এবং যাদের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন।

 

- 6 -

 

আর সেই প্রাচ্যবিদদের (المستشرقون) কথা, যাদেরকে আবু রাইয়্যাহ তাঁর মতামতের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন; ১৯৫৬ সালে ইউরোপের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণ, তাঁদের সাথে মেলামেশা, কথা বলা এবং আলোচনার পূর্বেই আমি এই বইটিতে তাঁদের সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত কথা লিখেছি।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ ১৯৬০ সালে, যখন বইটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ২৭)
فلما تم لي ذلك ازددت إيمانا بما كتبته عنهم واقتناعاً بخطرهم على تراثنا الإسلامي كله سواء كان تشريعياً أم حضارياً. لما يملأ نفوسهم من عصبية تأكل قلوبهم حقداً ضد الإسلام والعرب والمُسْلِمِينَ.

 

كان أول من اجتمعت بهم هو البروفسور «أَنْدِرْسُونْ» رئيس قسم قوانين الأحوال الشخصية المعمول بها في العالم الإسلامي - في معهد الدراسات الشرقية في جامعة لندن - وهو متخرج من كلية اللاهوت في جامعة كمبردج، وكان من أركان حرب الجيش البريطاني في مصر خلال الحرب العالمية الثانية - كما حدثني هو بذلك عن نفسه - تعلم اللغة العربية من دروس اللغة العربية التي كان يلقيها بعض علماء الأزهر في الجامعة الأمريكية في القاهرة ساعة كل أسبوع لِمُدَّةِ سَنَةٍ واحدة. كما تَعَلَّمَ العَامِيَّةَ المِصْرِيَّةَ من اختلاطه بالشعب المصري حين توليه عمله العسكري الآنف الذكر. وَتَخَصَّصَ في دراسة الإسلام من المحاضرات العامة التي كان يلقيها المرحوم «أحمد أمين» والدكتور «طه حسين» والمرحوم الشيخ «أحمد إبراهيم» .... وبهذه الدراسات العميقة! في اللغة والإسلام استحق لقب «بروفسور» وانتقل من الخدمة العسكرية بعد الحرب إلى رئاسة قسم قوانين الأحوال الشخصية في جامعة «لندن» كما ذكرنا.

 

لا أريد أن أذكر أمثلة عن تعصبه ضد الإسلام - وقد حدثني كثيراً عن ذلك المرحوم الدكتور «حمود غرابة» مدير المركز الثقافي الإسلامي في لندن - حينذاك - ولكني أكتفي بأن أذكر ما حدثني به البروفسور «أَنْدِرْسُونْ» نفسه من أنه أسقط أحد المتخرجين من الأزهر الذين أرادوا نوال شهادة الدكتوراه في التشريع الإسلامي من جامعة لندن لسبب واحد هو أنه قدم أطروحته عن حقوق المرأة في الإسلام وقد برهن فيها على أن الإسلام أعطى المرأة حقوقها الكاملة، فعجبت من ذلك وسألت هذا المستشرق: «وَكَيْفَ أَسْقَطْتَهُ وَمَنَعْتَهُ مِنْ نَوَالِ الدُّكْتُورَاهْ لِهَذَا السَّبَبِ، وَأَنْتُمْ تَدَّعُوْنَ حُرِيَّةِ الفِكْرِ فِي جَامِعَاتِكُمْ؟» قَالَ: «لأَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: " الإِسْلَامِ يُمْنَحُ المَرْأَةَ كَذَا، وَالإِسْلَامُ قَرَّرَ لِلْمَرْأَةِ كَذَا "، فَهَلْ هُوَ نَاطِقٌ رَسْمِيٌّ بِاسْمِ الإِسْلَامِ؟ هَلْ هُوَ أَبُو حَنِيفَةَ أَوْ
যখন আমার নিকট বিষয়টি পূর্ণতা লাভ করল, তখন তাদের সম্পর্কে আমি যা লিখেছিলাম তার প্রতি আমার বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পেল এবং আমাদের সামগ্রিক ইসলামি ঐতিহ্যের—চাই তা তশরিয়ি (আইনি) হোক বা তামাদ্দুনিক (সাংস্কৃতিক)—ওপর তাদের যে ভয়াবহ ঝুঁকি রয়েছে, সে বিষয়ে আমি পূর্ণ নিশ্চিত হলাম। কারণ তাদের অন্তরসমূহ এমন এক গোঁড়ামি দ্বারা পূর্ণ যা ইসলাম, আরব এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে চরম বিদ্বেষের অনলে তাদের হৃদয়কে দগ্ধ করছে।

 

যাদের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল, তাদের মধ্যে প্রথম ছিলেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের অন্তর্ভুক্ত ইসলামি বিশ্বের প্রচলিত ব্যক্তিগত আইন (Personal Law) বিভাগের প্রধান প্রফেসর 'অ্যান্ডারসন'। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিসরে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন—যেমনটি তিনি নিজেই আমাকে বলেছিলেন। তিনি কায়রোর আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে আল-আযহারের জনৈক আলেম কর্তৃক সপ্তাহে এক ঘণ্টা করে প্রদান করা আরবি ভাষার পাঠ থেকে এক বছর মেয়াদে আরবি শিখেছিলেন। এছাড়া উল্লিখিত সামরিক দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মিসরীয় জনগণের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে তিনি কথ্য মিসরীয় উপভাষা শিখেছিলেন। আর মরহুম 'আহমদ আমিন', ডক্টর 'তহা হুসাইন' এবং মরহুম শেখ 'আহমদ ইব্রাহিম' প্রমুখের দেওয়া সাধারণ বক্তৃতাসমূহ থেকে তিনি ইসলামি বিদ্যায় বিশেষত্ব অর্জন করেছিলেন! ভাষা ও ইসলামের ওপর এমন 'গভীর' গবেষণার বদৌলতে তিনি 'প্রফেসর' উপাধির যোগ্য বিবেচিত হন এবং যুদ্ধ শেষে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যক্তিগত আইন বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।

 

ইসলামের বিরুদ্ধে তার গোঁড়ামির বহু উদাহরণ আমি দিতে চাই না—লন্ডনের তৎকালীন ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক মরহুম ডক্টর 'হামুদ গুরাবা' এ সম্পর্কে আমাকে অনেক কিছুই বলেছিলেন—তবে আমি কেবল প্রফেসর অ্যান্ডারসন নিজেই আমাকে যা বলেছিলেন তা উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হব। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি আল-আযহারের জনৈক গ্র্যাজুয়েটকে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামি আইনের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন কেবল একটি কারণে; আর তা হলো—সেই ছাত্র ইসলামে নারীর অধিকারের ওপর তার অভিসন্দর্ভটি পেশ করেছিল এবং তাতে প্রমাণ করেছিল যে, ইসলাম নারীকে তার পূর্ণ অধিকার প্রদান করেছে। আমি এতে বিস্মিত হলাম এবং এই প্রাচ্যবিদকে জিজ্ঞাসা করলাম: "আপনি তাকে কেন ফেল করালেন এবং কেবল এই কারণে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন থেকে বঞ্চিত করলেন, যেখানে আপনারা আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দাবি করেন?" তিনি বললেন: "কারণ সে বলত: 'ইসলাম নারীকে এই অধিকার প্রদান করে, ইসলাম নারীর জন্য এরূপ বিধান করে', সে কি ইসলামের কোনো আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র? সে কি আবু হানিফা নাকি..."
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ২৮)
الشَّافِعِيَّ حَتَّىَ يَقُولَ هَذَا الكَلَامَ وَيَتَكَلَّمُ بِاسْمِ الإِسْلَامِ؟ إِنَّ آراءَهُ فِي حُقُوقِ المَرْأَةِ لَمْ يَنُصَّ عَلَيْهَا فُقَهَاءُ الإِسْلَامِ الأَقْدَمُونَ، فَهَذَا رَجُلٌ مَغْرُورٌ بِنَفْسِهِ حِينَ ادَّعَى أَنَّهُ يَفْهَمُ الإِسْلَامِ أَكْثَرَ مِمَّا فَهِمَهُ أَبُو حَنِيفَةَ وَالشَّافِعِيَّ».

 

هذا هو كلام هذا المستشرق الذي لا يزال حَيًّا يرزق، ولا أدري إن كان لا يزال في عمله في جامعة لندن أم أحيل إلى التقاعد (المعاش).

 

وَزُرْتُ جامعة أدنبرة «أسكتلندا» فكان المستشرق الذي يرأس الدراسات الإسلامية فيها قِسِّيسًا بلباس مدني وقد وضع لقبه الديني مع اسمه على باب بيته، وإني لأشهد أنه كان دمث الأخلاق لطيف الحديث.

 

وفي جامعة «جلاسكو» (أسكتلندا أيضاًً) كان رئيس الدراسات العربية فيه قِسِّيسًا عاش رئيساً للإرسالية التبشيرية في القدس قرابة عشرين سَنَةً حتى أصبح يتكلم العربية كأهلها، وقد حدثني بذلك عن نفسه في هذه الزيارة وكنت قد اجتمعت به قبل ذلك في المؤتمر الإسلامي المسيحي الذين انعقد في «بَحَمْدُونْ» (لبنان) عام 1954.

 

وفي جامعة أكسفورد وجدنا رئيس قسم الدراسات الإسلامية والعربية فيها يَهُودِيًّا يتكلم العربية ببطء وصعوبة وكان أيضاً يعمل في دائرة الاستخبارات البريطانية في ليبيا خلال الحرب العالمية الثانية، وهناك تعلم العربية العامية، وتلك هي مؤهلاته التي بَوَّأَتْهُ هذا القسم، ومن العجيب أني رأيت في منهاج دراساته التي يلقيها على طلاب الاستشراق: تفسير آيات من القرآن الكريم من " الكَشَّافِ " للزمخشري (إي والله وهو لا يحسن فهم عبارة بسيطة من جريدة عادية) ودراسة أحاديث من " البخاري " و" مسلم "، وأبواب من الفقه في أمهات كتب الحَنَفِيَّةِ والحنابلة، وسألته عن مراجع هذه الدراسات، فأخبرني أنها من كتب المُسْتَشْرِقِينَ أمثال: جولدتسيهر، ومرجليوث، وشَاخْتْ، وحسبك بهؤلاء عنواناً على الدراسات المدخولة المدسوسة المُوَجَّهَةِ ضد الإسلام والمُسْلِمِينَ.

 

أما جامعة كمبردج فكانت رئاسة قسم الدراسات العربية والإسلامية
...শাফেয়ী যে তিনি এ ধরণের কথা বলবেন এবং ইসলামের নামে কথা বলবেন? নারীর অধিকার বিষয়ে তার মতামতসমূহ ইসলামের প্রাচীন ফকিহগণ বর্ণনা করেননি। এটি এমন এক ব্যক্তি যে নিজের সম্পর্কে বিভ্রান্ত ও অহংকারী, যখন সে দাবি করে যে সে আবু হানিফা এবং শাফেয়ীর চেয়েও ইসলামকে অধিক অনুধাবন করে।

 

এটি হলো সেই প্রাচ্যবিদের বক্তব্য যিনি এখনো জীবিত আছেন। আমি জানি না তিনি এখনো লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন নাকি তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

 

আমি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে (স্কটল্যান্ড) গিয়েছিলাম। সেখানকার ইসলামী শিক্ষা বিভাগের প্রধান ছিলেন একজন যাজক, যিনি সাধারণ পোশাকে থাকতেন এবং তিনি তার বাড়ির দরজায় তার নামের সাথে ধর্মীয় উপাধিও লিখে রেখেছিলেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি অত্যন্ত অমায়িক চরিত্রের ও সদালাপী ছিলেন।

 

গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়েও (এটিও স্কটল্যান্ডে) আরবি শিক্ষা বিভাগের প্রধান ছিলেন একজন যাজক, যিনি জেরুজালেমে খ্রিস্টান মিশনারি মিশনের প্রধান হিসেবে প্রায় বিশ বছর অতিবাহিত করেছিলেন। ফলে তিনি স্থানীয়দের ন্যায় সাবলীলভাবে আরবি বলতে পারতেন। এই সফরের সময় তিনি নিজেই আমাকে এ কথা বলেছিলেন। এর আগে ১৯৫৪ সালে লেবাননের 'বাহামদুন'-এ অনুষ্ঠিত মুসলিম-খ্রিস্টান সম্মেলনেও তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল।

 

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা ইসলাম ও আরবি শিক্ষা বিভাগের প্রধান হিসেবে একজন ইহুদিকে পেলাম, যিনি অত্যন্ত মন্থর গতিতে ও কষ্টসাধ্যভাবে আরবি বলতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি লিবিয়ায় ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থায়ও কর্মরত ছিলেন এবং সেখান থেকেই তিনি লিবীয় আঞ্চলিক আরবি ভাষা শিখেছিলেন। এগুলোই ছিল তার সেই যোগ্যতা যা তাকে এই বিভাগের প্রধানের আসনে বসিয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, প্রাচ্যতত্ত্বের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত তার পাঠ্যসূচিতে আমি দেখেছি: জামাখশারির 'আল-কাশশাফ' থেকে কুরআনের আয়াতের তাফসির (আল্লাহর কসম! অথচ তিনি একটি সাধারণ সংবাদপত্রের অতি সাধারণ বাক্যও সঠিকভাবে বোঝার সক্ষমতা রাখতেন না) এবং 'বুখারি' ও 'মুসলিম' থেকে হাদিসের পাঠ, আর হানাফি ও হাম্বলি মাজহাবের আকর গ্রন্থসমূহ থেকে ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন অধ্যায়। আমি তাকে এই গবেষণার উৎসসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানালেন যে, এগুলো গোল্ডজিহার, মারগোলিউথ এবং শাখতের মতো প্রাচ্যবিদদের গ্রন্থাবলী থেকে সংগৃহীত। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গবেষণার নিদর্শন হিসেবে এই নামগুলোই যথেষ্ট।

 

আর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে, সেখানে আরবি ও ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রধান ছিলেন
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ২৯)
فيها للمستشرق المعروف «آربري» واختصاصه في اللغة العربية فحسب.

 

وقد قال لي - خلال أحاديثي معه -: «إِنَّنَا - نَحْنُ المُسْتَشْرِقِينَ - نَقْعَ فِيْ أَخْطَاءٍ كَثِيْرَةٍ فِيْ بُحُوثِنَا عَنْ الإِسْلَامِ، وَمِنَ الوَاجِبِ أَنْ لَا نَخُوضَ فِي هَذَا المَيْدَانِ لأَنَّكُمْ - أَنْتُمْ المُسْلِمِينَ العَرَبَ - أَقْدَرُ مِنَّا عَلَىَ الخَوْضِ فِي هَذِهِ الأَبْحَاثِ».

 

وفي مانشستر (إنكلترا) اجتمعت بالبروفسور «رُوبْسُونْ» وكان يقابل " سنن أبي داود " على نسخة مخطوطة، وله كتابات في تاريخ الحديث، يتفق فيها غالباً مع آراء المُسْتَشْرِقِينَ المُتَحَامِلِينَ، وقد حرصت على أن أُبَيِّنَ له أن الدراسات الاستشراقية السابقة فيها تَحَامُلٌ وَبُعْدٌ عَنْ الحَقِيقَةِ، وتعرضت لآراء جولدتسيهر وَأَثْبَتُُّّ له أخطاءه التاريخية والعلمية، فكان مِمَّا أجاب به عنه: «لَا شَكَّ أَنَّ المُسْتَشْرِقِينَ فِي هَذَا العَصْرِ أَكْثَرَ إِطِّلَاعًا عَلَى المَصَادِرِ الإِسْلَامِيَّةِ مِنْ جُوَلْدْتْسِيهِرْ نَظَرًا لِمَا طُبِعَ وَنُشِرَ وَعُرِفَ مِنْ مُؤَلَّفَاتٍ إِسْلامِيَّةٍ كَانَتْ غَيْرَ مَعْلُومَةٍ فِي عَصْرِ جُوَلْدْتْسِيهِرْ»، فَقُلْتُ لَهُ: «أرجو أن تكون أبحاثكم - المُسْتَشْرِقِينَ - في هذا العصر أقرب إلى الحق والإنصاف من جولدتسيهر، ومرجليوث، وأمثالهما، فقال: أرجو ذلك».

 

وفي جامعة «ليدن» بهولندا اجتمعتُ بالمستشرق اليهودي «شَاخْتْ» وهو الذي يحمل في عصرنا هذا رسالة «جولدتسيهر» في الدَسِّ على الإسلام والكيد له وتشويه حقائقه، وباحثته طويلا في أخطاء «جولدتسيهر» وتعمُّدِهِ تحريف النصوص التي ينقلها عن كتبنا، فأنكر ذلك أول الأمر، فضربت له مثلاً واحداً مِمَّا كتبه جولدتسيهر في تاريخ «السُنّة» - وهو ما نقلناه عنه في هذا الكتاب - وكيف حرَّفَ قول الزُّهْرِي: «إِنَّ هَؤُلَاءِ الأُمَرَاءِ أَكْرَهُونَا عَلَى كِتَابَةِ «الأَحَادِيثَ» إلى لفظ «عَلَى كِتَابَةِ أَحَادِيثَ» فاستغرب ذلك، ثم راجع كتاب جولدتسيهر - وكنا نجلس في مكتبته الخاصة - فقال: معك الحق أن جولدتسيهر أخطأ هنا، قلت له: هل هو مجرد خطأ؟ فاحتدَّ وقال: لماذا تسيئون به الظن؟ فانتقلت إلى بحث تحليله لموقف الزُّهْرِي من عبد الملك بن مروان، وذكرت له من الحقائق التاريخية
সেখানে সুপরিচিত প্রাচ্যবিদ "আর্বারি" এবং কেবল আরবি ভাষার ওপর তার বিশেষজ্ঞতার কথা উল্লেখ ছিল।

 

তিনি আমার সাথে আলাপচারিতার সময় বলেছিলেন: "আমরা—প্রাচ্যবিদরা—ইসলাম সম্পর্কে আমাদের গবেষণায় অনেক ভুল করি। আমাদের জন্য এই ময়দানে প্রবেশ না করাই কর্তব্য, কারণ তোমরা—আরব মুসলিমরা—এই বিষয়গুলোতে আমাদের চেয়ে অধিক সক্ষম।"

 

ম্যানচেস্টারে (ইংল্যান্ড) আমি প্রফেসর "রবসন"-এর সাথে সাক্ষাৎ করি। তিনি একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির (نسخة مخطوطة) সাথে "সুনান আবু দাউদ"-এর তুলনা করছিলেন। হাদিসের ইতিহাসের ওপর তার কিছু লেখা রয়েছে, যেগুলোতে তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিদ্বেষী প্রাচ্যবিদদের মতামতের সাথে একমত পোষণ করেন। আমি তাকে এটা স্পষ্ট করে দিতে সচেষ্ট ছিলাম যে, পূর্ববর্তী প্রাচ্যবাদী গবেষণাগুলোতে সত্য থেকে বিচ্যুতি ও পক্ষপাতিত্ব রয়েছে। আমি গোল্ডজিহারের মতামতের ওপর আলোকপাত করি এবং তার সামনে তার ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক ভুলগুলো প্রমাণ করি। জবাবে তিনি যা বলেছিলেন তার মধ্যে একটি ছিল: "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বর্তমান যুগের প্রাচ্যবিদরা গোল্ডজিহারের চেয়ে ইসলামি উৎসসমূহ সম্পর্কে অধিক অবগত; কারণ গোল্ডজিহারের যুগে অজ্ঞাত ছিল এমন অনেক ইসলামি গ্রন্থ বর্তমানে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছে এবং পরিচিতি লাভ করেছে।" আমি তাকে বললাম: "আমি আশা করি বর্তমান যুগের তোমাদের—প্রাচ্যবিদদের—গবেষণাসমূহ গোল্ডজিহার, মারগোলিউথ এবং তাদের মতো অন্যদের চেয়ে সত্য ও ন্যায়ের অধিক নিকটবর্তী হবে।" তিনি বললেন: "আমিও তাই আশা করি।"

 

নেদারল্যান্ডের "লাইডেন" বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ইহুদি প্রাচ্যবিদ "শাষ্ট"-এর সাথে সাক্ষাৎ করি। বর্তমান যুগে তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র এবং এর প্রকৃত রূপ বিকৃত করার ক্ষেত্রে গোল্ডজিহারের মিশনকে বহন করছেন। আমি গোল্ডজিহারের ভুলগুলো এবং আমাদের কিতাব থেকে উদ্ধৃত পাঠ্যসমূহ বিকৃত করার ক্ষেত্রে তার ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টার বিষয়ে তার সাথে দীর্ঘ আলোচনা করি। শুরুতে তিনি তা অস্বীকার করেন। তখন আমি তাকে গোল্ডজিহার "সুন্নাহ (السنة)"-এর ইতিহাসে যা লিখেছেন তা থেকে একটি উদাহরণ দিলাম—যা আমরা এই কিতাবে তার থেকে উদ্ধৃত করেছি। (উদাহরণটি হলো) তিনি কীভাবে ইমাম যুহরীর উক্তি: "নিশ্চয়ই এই আমিরগণ আমাদের হাদিসসমূহ লিখতে বাধ্য করেছেন" এই শব্দগুলোকে বিকৃত করে "কিছু হাদিস লিখতে বাধ্য করেছেন" শব্দে রূপান্তরিত করেছেন। তিনি এটি দেখে বিস্মিত হলেন। অতঃপর তিনি গোল্ডজিহারের বইটি যাচাই করলেন—আমরা তখন তার ব্যক্তিগত পাঠাগারে বসেছিলাম। তিনি বললেন: "আপনার কথাই ঠিক, গোল্ডজিহার এখানে ভুল করেছেন।" আমি তাকে বললাম: "এটা কি শুধুই একটি ভুল?" এতে তিনি উত্তেজিত হয়ে বললেন: "আপনারা কেন তাকে নিয়ে কুধারণা করছেন?" এরপর আমি আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের প্রতি যুহরীর অবস্থানের বিষয়ে তার বিশ্লেষণের আলোচনায় গেলাম এবং তার সামনে ঐতিহাসিক সত্যসমূহ তুলে ধরলাম...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৩০)
ما ينفي ما زعمه جولدتسيهر - وقد ذكرت ذلك في هذا الكتاب - وبعد مناقشة في هذا الموضوع قال: وهذا خطأ أيضاً من جولدتسيهر، ألَا يخطئ العلماء؟ قلتُ له: إن جولدتسيهر هو مؤسس المدرسة الاستشراقية التي تبني حُكمها في التشريع الإسلامي على وقائع التاريخ نفسه، فلماذا لم يستعمل مبدأه هنا حين تكلم عن الزُّهْرِي؟ وكيف جاز له أن يحكم على الزُّهْرِي بأنه وضع حديث فضل المسجد الأقصى إرضاء لعبد الملك ضد ابن الزبير، مع أن الزُّهْرِي لم يلق عبد الملك إلا بعد سبع سنوات من مقتل ابن الزبير؟ وهنا اصفرَّ وجه «شَاخْتْ» وأخذ يفرك يداً بيد. وبدا عليه الغيظ والاضطراب، فأنهيت الحديث معه بأن قلت له: لقد كانت مثل هذه «الأخطاء» كما تسميها أنت، تشتهر في القرن الماضي، ويتناقلها مستشرق منكم عن آخر على أنها حقائق علمية، قبل أن نقرأ - نحن المُسْلِمِينَ - تلك المؤلفات إلا بعد موت مؤلفيها، أما الآن فأرجو أن تسمعوا منا ملاحظاتنا على «أخطائكم» لتصحِّحُوها في حياتكم قبل أن تتقرر كحقائق علمية عندكم.

 

ومن الملاحظ أن هذا المستشرق كان يدرِّسُ في جامعة القاهرة - فؤاد سابقا - وله مؤلف في تاريخ التشريع الإسلامي، وكله دَسٌّ وتحريف على أسلوب أستاذه جولدتسيهر.

 

وفي جامعة «أبسلا» (السويد) التقيت بالشيخ المستشرق «نيبرج» وهو الذي كان قد أشرف على طبع كتاب " الاستبصار " لابن الخياط - على ما أظن - وطبعته قَدِيمًا «لجنة التأليف والترجمة في القاهرة» وجرى بيني وبينه حديث طويل كان أكثره حول أبحاث المُسْتَشْرِقِينَ ومؤلفاتهم عن الإسلام وتاريخه، وجعلت «جولدتسيهر» محور الحديث عن المُسْتَشْرِقِينَ، وذكرت له أمثلة من أخطائه وتحريفه للحقائق، فكان مِمَّا قاله بعد ذلك: إن جولدتسيهر كان في القرن الماضي ذا شهرة علمية ومرجعاً للمستشرقين، أما في هذا العصر - بعد انتشار الكتب المطبوعة في بلادكم عن العلوم الإسلامية - فلم يعد جولدتسيهر مرجعاً كما كان في القرن الماضي .. لقد مضى عهد جولدتسيهر في رأينا! ..
যা গোল্ডজিহারের দাবিকে খণ্ডন করে—এবং আমি তা এই গ্রন্থে উল্লেখ করেছি—আর এই বিষয়ে পর্যালোচনার পর তিনি (শাখত) বললেন, "এটিও গোল্ডজিহারের একটি ভুল; আলেমদের কি ভুল হতে পারে না?" আমি তাকে বললাম, "গোল্ডজিহার হলেন সেই প্রাচ্যতত্ত্ববাদী ধারার প্রতিষ্ঠাতা, যা ইসলামি শরিয়ত সম্পর্কে তাদের সিদ্ধান্ত ইতিহাসের বাস্তব ঘটনাবলির ওপর ভিত্তি করে প্রদান করে। তবে কেন তিনি জহুরি সম্পর্কে কথা বলার সময় তার এই নীতি প্রয়োগ করেননি? আর তার পক্ষে কীভাবে এটি সংগত হলো যে তিনি জহুরির ওপর এই সিদ্ধান্ত আরোপ করলেন যে, তিনি ইবনে জুবায়েরের বিপক্ষে আব্দুল মালিককে সন্তুষ্ট করতে মসজিদুল আকসার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস জাল (وضع) করেছেন? অথচ জহুরি ইবনে জুবায়েরের শাহাদাতের সাত বছর পর ছাড়া আব্দুল মালিকের সাথে সাক্ষাৎই করেননি।" তখন 'শাখত'-এর মুখ বিবর্ণ হয়ে গেল এবং তিনি হাত কচলাতে লাগলেন। তার মধ্যে ক্ষোভ ও অস্থিরতা প্রকাশ পেল। তখন আমি তার সাথে কথা শেষ করলাম এই বলে, "আপনি যাকে 'ভুল' বলছেন, এমন বিষয়গুলো বিগত শতাব্দীতে বেশ প্রসিদ্ধ ছিল এবং আপনাদের একজন প্রাচ্যতত্ত্ববাদী অন্যজনের কাছ থেকে এগুলোকে বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করতেন; অথচ আমরা মুসলমানরা সেগুলো লেখকদের মৃত্যুর আগে পড়ার সুযোগ পাইনি। কিন্তু এখন আমি আশা করি যে, আপনাদের 'ভুলগুলোর' ব্যাপারে আপনারা আমাদের পর্যবেক্ষণগুলো শুনবেন, যাতে সেগুলো আপনাদের কাছে বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই আপনারা নিজ জীবনে তা সংশোধন করে নিতে পারেন।"

 

লক্ষণীয় যে, এই প্রাচ্যতত্ত্ববাদী কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে—যা পূর্বে ফুয়াদ বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত ছিল—শিক্ষকতা করতেন এবং ইসলামি শরিয়তের ইতিহাসের ওপর তার একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে তার শিক্ষক গোল্ডজিহারের অনুসৃত পদ্ধতিতে প্রক্ষিপ্ত তথ্য ও বিকৃতিতে পূর্ণ।

 

সুইডেনের 'আপসালা' বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার প্রবীণ প্রাচ্যতত্ত্ববাদী 'নিবার্গ'-এর সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি ইবনুল খাইয়্যাতের "আল-ইস্তিবসার" গ্রন্থটি—আমার যতটুকু মনে পড়ে—সম্পাদনা ও মুদ্রণের তত্ত্বাবধান করেছিলেন, যা অনেক আগে কায়রোর 'লাজজাতুত তালিফ ওয়াত তারজামা' থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। তার সাথে আমার দীর্ঘ আলাপ হয়, যার অধিকাংশ ছিল ইসলাম ও এর ইতিহাসের ওপর প্রাচ্যতত্ত্ববাদীদের গবেষণা ও গ্রন্থাবলি নিয়ে। আমি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বানালাম 'গোল্ডজিহারকে' এবং তার কিছু ভুল ও সত্য বিকৃতির উদাহরণ তার সামনে পেশ করলাম। তখন তিনি যা বলেছিলেন তার মধ্যে ছিল: "গত শতাব্দীতে গোল্ডজিহারের ব্যাপক বৈজ্ঞানিক খ্যাতি ছিল এবং তিনি প্রাচ্যতত্ত্ববাদীদের কাছে প্রধান তথ্যসূত্র ছিলেন; কিন্তু বর্তমান যুগে—আপনাদের দেশগুলোতে ইসলামি উলুম সংক্রান্ত মুদ্রিত কিতাবাদি ছড়িয়ে পড়ার পর—গোল্ডজিহার আর আগের মতো নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে অবশিষ্ট নেই... আমাদের মতে গোল্ডজিহারের যুগ শেষ হয়ে গেছে!"
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৩১)
وقد أتيح لي خلال تلك الرحلة أن أواصل زيارة الجامعات عدا ما ذكرته منها في عواصم كل من «بلجيكا» و «الدانمارك» و «النرويج» و «فنلندا» و «ألمانيا» و «سويسرا» و «باريس» واجتمعت بمن كان موجوداً حينئذ من المُسْتَشْرِقِينَ فيها.

 

ومِمَّا ذكرته آنفاً وما دوَّنتُه في مذكّراتي عن المُسْتَشْرِقِينَ الذين لقيتهم خلال تلك الرحلة، اتضحت لي الحقائق التالية:

 

أَوَلاً - إن المُسْتَشْرِقِينَ - في جمهورهم - لا يخلو أحدهم من أن يكون قسيساً أو استعمارياً أو يهودياً، وقد يشذ عن ذلك أفراد.

ثَانِياً - إن الاستشراق في الدول الغربية غير الاستعمارية - كالدول السكندنافية - أضعف منه عند الدول الاستعمارية.

ثَالِثاً - إن المُسْتَشْرِقِينَ المعاصرين في الدول غير الاستعمارية يتخلون عن جولدتسيهر وآرائه بعد أن انكشفت أهدافه الخبيثة.

رَابِعاً - إن الاستشراق بصورة عامة ينبعث من الكنيسة، وفي الدول الاستعمارية يسير مع الكنيسة ووزارة الخارجية جنباً إلى جنب، يلقى منهما كل تأييد.

خَامِساً - إن الدول الاستعمارية كبريطانيا وفرنسا ما تزال حريصة على توجيه الاستشراق وجهته التقليدية من كونه أداة هدم للإسلام وتشويه لسمعة المُسْلِمِينَ.

 

ففي فرنسا لا يزال «بْلَاشِيرْ» وَ «مَاسِينْيُونْ» (1) وهما شَيْخَا المُسْتَشْرِقِينَ الفِرَنْسِيِّينَ في وقتنا الحاضر يعملان في وزارة الخارجية الفرنسية كخبيرين في شؤون العرب والمُسْلِمِينَ.

 

وفي إنجلترا رأينا - كما ذكرت - أن الاستشراق له مكان محترم فيه مكان محترم في

--------------------------------------------

(1) كان هذا وقت الطبعة الأولى التي كتب المؤلف رحمه الله هذه المقدمة لها، أما الآن فماسينيون في عداد الأموات منذ سنوات.
সেই সফরের সময় বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড এবং প্যারিসের রাজধানীগুলোর কথা আমি যা উল্লেখ করেছি, তা ছাড়াও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমার সফর অব্যাহত রাখার সুযোগ হয়েছিল এবং সেখানে তৎকালীন অবস্থানরত প্রাচ্যবিদদের (المستشرقين) সাথে আমি সাক্ষাৎ করেছিলাম।

 

পূর্বে আমি যা উল্লেখ করেছি এবং সেই সফরে আমি যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি এমন প্রাচ্যবিদদের (المستشرقين) সম্পর্কে আমার ডায়েরিতে যা লিপিবদ্ধ করেছি, তা থেকে আমার নিকট নিম্নোক্ত সত্যসমূহ স্পষ্ট হয়েছে:

 

প্রথমত - প্রাচ্যবিদদের (المستشرقين) অধিকাংশের অবস্থা এই যে, তাদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে পাদ্রী (قسيس), সাম্রাজ্যবাদী (استعماري) অথবা ইহুদি (يهودي) হওয়ার বিষয়টি থেকে মুক্ত নয়; তবে হাতেগোনা কতিপয় ব্যক্তি এর ব্যতিক্রম হতে পারেন।

দ্বিতীয়ত - অ-সাম্রাজ্যবাদী পশ্চিমা দেশগুলোতে—যেমন স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশসমূহ—প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর তুলনায় দুর্বলতর।

তৃতীয়ত - অ-সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর সমসাময়িক প্রাচ্যবিদগণ (المستشرقين) গোল্ডজিহার এবং তার মতাদর্শ বর্জন করছেন, কারণ তার বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্যসমূহ উন্মোচিত হয়ে পড়েছে।

চতুর্থত - প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) সাধারণত গির্জা থেকেই উদ্ভূত হয় এবং সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে এটি গির্জা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে; সেখানে এটি উভয়ের পক্ষ থেকেই সর্বাত্মক সমর্থন লাভ করে।

পঞ্চমত - ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো প্রাচ্যতত্ত্বকে (الاستشراق) তার প্রথাগত রূপেই বজায় রাখতে এখনো অত্যন্ত আগ্রহী, যেন তা ইসলামকে বিনাশ করার এবং মুসলিমদের (المسلمين) মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

 

যেমন ফ্রান্সে ব্লাশিয়ার এবং মাসিনিয়ন (১)—যারা বর্তমানে ফরাসি প্রাচ্যবিদদের (المستشرقين) প্রধান দুজন ব্যক্তিত্ব—এখনো ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আরব ও মুসলিম (المسلمين) বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন।

 

এবং ইংল্যান্ডে আমরা দেখেছি—যেমনটি আমি উল্লেখ করেছি—যে সেখানে প্রাচ্যতত্ত্বের (الاستشراق) একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থান রয়েছে, সেখানে একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থান রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) এটি ছিল প্রথম সংস্করণের সময়ের কথা যখন লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এই ভূমিকাটি লিখেছিলেন; তবে বর্তমানে মাসিনিয়ন কয়েক বছর আগেই মৃতদের (الأموات) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৩২)
جامعات لندن وأكسفورد وكمبردج وأدنبره وجلاسكو وغيرها، ويشرف عليه يهود وإنجليز استعماريون وَمُبَشِّرُونَ، وهم يحرصون على أن تظل مؤلفات جولدتسيهر ومرجليوث ثم شَاخْتْ من بعدهما، هي المراجع الأصلية لطلاب الاستشراق من الغَرْبِيِّينَ، وللراغبين في حمل شهادة الدكتوراه عندهم من العرب والمُسْلِمِينَ وهم لا يوافقون أبداً على رسالة لطلب الدكتوراه يكون موضوعها إنصاف الإسلام وكشف دسائس أولئك المُسْتَشْرِقِينَ.

 

وقد حدَّثنا الدكتور محمد أمين المصري - وهو خِرِّيج كلية أصول الدين في الأزهر وكلية الآداب ومعهد التربية في جامعة القاهرة - عما لقيه من عناء في سبيل موضوع رسالته التي أراد أن يتقدم بها لأخذ شهادة الدكتوراه في الفلسفة من جامعات إنجلترا.

 

لقد ذهب إليها (في عام 1958 م) لدراسة الفلسفة وأخذ شهادة الدكتوراه بها، وما كاد يطلع على برامج الدراسة - وخاصة دراسة العلوم الإسلامية فيها - حتى هاله ما رآه من تحامل ودَسٍّ في كتب المُسْتَشْرِقِينَ، وخاصة «شَاخْتْ» فقرر أن يكون موضوع رسالته هو نقد كتاب شَاخْتْ.

 

تقدم إلى البروفسور «أَنْدِرْسُونْ» ليكون مشرفاً على تحضير هذه الرسالة وموافقاً على موضوعها، فأبى عليه هذا المستشرق أن يكون موضوع رسالته نقد كتاب «شَاخْتْ»، وعبثاً حاول أن يوافق على ذلك، فلما يئس من جامعة لندن، ذهب إلى جامعة كمبردج وانتسب إليها وتقدم إلى المشرفين على الدراسات الإسلامية فيها برغبته في أن يكون موضوع رسالته للدكتوراه هو ما ذكرناه، فلم يبدوا رضاهم عن ذلك، وظن أن من الممكن موافقتهم أخيراً، ولكنهم قالوا له بصريح العبارة: إذا أردت أن تنجح في الدكتوراه فتجنب انتقاد شَاخْتْ، فإن الجامعة لن تسمح لك بذلك، وعندئذ حَوَّلَ موضوع رسالته إلى " معايير نقد الحديث عند المُحَدِّثِين "، فوافقوا، ونجح في نوال - الدكتوراه - وهو الآن مُدَرِّسٌ في كلية الشريعة بجامعة دمشق.

 

هذه كلمة موجزة عما تحققته بنفسي عن المُسْتَشْرِقِينَ، وخاصة كتب جولدتسيهر وآرائه، وقد أفردت لمناقشته فصلاً خَاصًّاً في هذا الكتاب بينت
লন্ডন, অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, এডিনবরা, গ্লাসগো এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ; এগুলো ইয়াহুদি, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক এবং মিশনারিদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তারা এ বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ থাকে যেন গোল্ডজিহার, মারগোলিউথ এবং তাদের পরবর্তী সময়ে শাখতের রচনাবলিই পশ্চিমা প্রাচ্যতত্ত্বের ছাত্রদের জন্য এবং তাদের অধীনে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনে আগ্রহী আরব ও মুসলিমদের জন্য মূল রেফারেন্স হিসেবে বহাল থাকে। তারা ডক্টরেট ডিগ্রির জন্য এমন কোনো গবেষণাপত্র অনুমোদন করতে মোটেও রাজি হয় না, যার বিষয়বস্তু হবে ইসলামের প্রতি ইনসাফ করা এবং ওইসব প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের ষড়যন্ত্রগুলো উন্মোচন করা।

 

ড. মুহাম্মদ আমিন আল-মিসরি —যিনি আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দিন অনুষদ এবং কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ ও শিক্ষা ইনস্টিটিউটের স্নাতক— আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে দর্শনে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের উদ্দেশ্যে তাঁর গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু নির্ধারণ করতে গিয়ে তিনি যে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিলেন।

 

তিনি সেখানে (১৯৫৮ সালে) দর্শন অধ্যয়ন এবং ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের জন্য গিয়েছিলেন। তিনি যখনই পাঠ্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারলেন —বিশেষ করে সেখানে ইসলামি বিজ্ঞানসমূহের অধ্যয়ন সম্পর্কে— তখন প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের বইগুলোতে, বিশেষ করে ‘শাখত’-এর বইয়ে যে বিদ্বেষ ও বিকৃতি বা অনুপ্রবেশ (دسّ) তিনি দেখলেন, তাতে তিনি হতবাক হয়ে গেলেন। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, তাঁর গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু হবে শাখতের বইয়ের সমালোচনা করা।

 

তিনি এই গবেষণাপত্র প্রস্তুত করতে এবং এর বিষয়বস্তু অনুমোদনের জন্য সুপারভাইজার হিসেবে প্রফেসর ‘অ্যান্ডারসন’-এর কাছে আবেদন করলেন। কিন্তু এই প্রাচ্যতত্ত্ববিদ তাঁর গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু হিসেবে ‘শাখত’-এর বইয়ের সমালোচনাকে মেনে নিতে অস্বীকার করলেন। তিনি তাকে রাজি করানোর বৃথা চেষ্টা করলেন। অতঃপর লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হতাশ হয়ে তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেন এবং সেখানে ভর্তি হলেন। সেখানকার ইসলামি শিক্ষা বিষয়ক সুপারভাইজারদের কাছেও তিনি তাঁর ডক্টরেট গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু হিসেবে পূর্বোক্ত বিষয়টিই প্রস্তাব করলেন। কিন্তু তারাও এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি। তিনি ভেবেছিলেন শেষ পর্যন্ত হয়তো তারা রাজি হবেন, কিন্তু তারা তাঁকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন: “যদি তুমি ডক্টরেট পেতে সফল হতে চাও, তবে শাখতের সমালোচনা পরিহার করো; কারণ বিশ্ববিদ্যালয় তোমাকে এর অনুমতি দেবে না।” তখন তিনি তাঁর গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু পরিবর্তন করে “হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) নিকট হাদিস সমালোচনার (نقد الحديث) মানদণ্ডসমূহ” নির্ধারণ করলেন। তখন তারা রাজি হলেন এবং তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভে সফল হলেন। তিনি বর্তমানে দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদের একজন শিক্ষক।

 

প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের সম্পর্কে, বিশেষ করে গোল্ডজিহারের বই এবং তার মতবাদ সম্পর্কে আমি নিজে যা যাচাই করেছি, এটি ছিল সে সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত কথা। আমি এই বইয়ে তার আলোচনার জন্য একটি বিশেষ অধ্যায় বরাদ্দ করেছি, যেখানে বর্ণনা করেছি...