(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
السنة ومكانتها للسباعي ط المكتب الإسلامي   (مصطفى السباعي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي

المؤلف: مصطفى بن حسني السباعي (ت 1384هـ)

الناشر: المكتب الإسلامي: دمشق - سوريا، بيروت - لبنان

الطبعة: الثالثة، 1402 هـ - 1982 م (بيروت)

عدد الأجزاء: 1

أعده للمكتبة الشاملة: توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].

تاريخ النشر بالشاملة: 6 ذو القعدة 1432

আস-সুন্নাহ ও তার মর্যাদা - আস-সিবাঈ কৃত, আল-মাকতাব আল-ইসলামী সংস্করণ   (মোস্তফা আস-সিবাঈ)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: ইসলামী শরিয়তে সুন্নাহর অবস্থান ও গুরুত্ব

লেখক: মোস্তফা ইবনে হুসনী আস-সিবাঈ (মৃত্যু ১৩৮৪ হি.)

প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামী: দামেস্ক - সিরিয়া, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০২ হি. - ১৯৮২ খ্রি. (বৈরুত)

খণ্ড সংখ্যা: ১

মাকতাবা শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, - আল্লাহ তাকে ও তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন -।

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এতে পাদটীকা সংযুক্ত রয়েছে]‌।

মাকতাবা শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ জিলকদ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
ـ[السُنَّةُ وَمَكَانَتُهَا فِي التَشْرِيعِ الإِسْلَامِي]ـ

تَأْلِيفُ الدُكْتُور الشَّيْخ مُصْطَفَى السِّبَاعِي

 

الطبعة الثالثة - بيروت: 1402 هـ - 1982 م

المكتب الإسلامي: دمشق - سوريا، بيروت - لبنان

 

عدد الأجزاء: 1.

أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[সুন্নাহ ও ইসলামি শরিয়তে তার অবস্থান]

রচনা করেছেন ডক্টর শায়খ মুস্তফা আস-সিবাঈ

 

তৃতীয় সংস্করণ - বৈরুত: ১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ

আল-মাকতাব আল-ইসলামি: দামেস্ক - সিরিয়া, বৈরুত - লেবানন

 

খণ্ড সংখ্যা: ১।

এটি আল-মাকতাবা আশ-শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, - আল্লাহ তাকে এবং তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন -।

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الإِهْدَاءُ:

إلى:

من حباني من حنانه ما نعمت به وأنا وليد.

ومن إرشاده ما قومني وأنا غصن رطيب

ومن عونه على تحصيل العلم ما مكنني من أن أجدَّ في طلب المعرفة وأنا تلميذ

ومن تأييده لدعوة الإصلاح ما هَوَّنَ عَلَيَّ تحمل الأذى في سبيل الله

ومن صبره على الشدائد ما حَبَّبَ إِلَيَّ التضحية وأنا مُشَرَّدٌ، أو مُوَثَّقٌ بأغلال السجون والمعتقلات.

ومن خفقات قلبه الرحيم ما خففت عني الآلام، وأنا طريح العلل والأمراض.

إلى:

من كان كل أمله أن أكون حلقة في سلسلة بيتنا العلمي منذ مئات السنين، وكل طلبته من ربه: أن يجعلني من حسناته يوم الدين.

إلى أبي الشيخ الجليل

 

حسني السباعي

 

أهدي أول مؤلفاتي العلمية، اعترافاً بفضله وحسن توجيهه، راجياً من الله جل

 

[ج]
উৎসর্গ:

প্রতি:

যিনি আমাকে তাঁর সেই স্নেহ দান করেছেন যা দ্বারা আমি শৈশবে ধন্য হয়েছিলাম।

এবং যাঁর দিকনির্দেশনা আমাকে সুগঠিত করেছে যখন আমি ছিলাম এক কোমল কিশলয়।

এবং জ্ঞান অর্জনে যাঁর সহায়তা আমাকে ছাত্রজীবনে জ্ঞান অন্বেষণে একনিষ্ঠ হতে সক্ষম করেছে।

এবং সংস্কারের দাওয়াতের ক্ষেত্রে যাঁর সমর্থন আল্লাহর পথে লাঞ্ছনা সহ্য করাকে আমার জন্য সহজ করে দিয়েছে।

এবং কঠিন বিপদে যাঁর ধৈর্য ত্যাগের মহিমাকে আমার নিকট প্রিয় করে তুলেছে যখন আমি ছিলাম উদ্বাস্তু, অথবা জেল ও বন্দিশিবিরের শৃঙ্খলে আবদ্ধ।

এবং যাঁর দয়ালু হৃদয়ের স্পন্দন আমার বেদনাকে লাঘব করেছে যখন আমি রোগ-ব্যাধিতে শয্যাশায়ী ছিলাম।

প্রতি:

যাঁর একমাত্র আকাঙ্ক্ষা ছিল যে আমি আমাদের শত বছরের ইলমি ঐতিহ্যের ধারায় একটি যোগসূত্র হই, এবং তাঁর রবের নিকট যাঁর একমাত্র প্রার্থনা ছিল: যেন তিনি বিচার দিবসে আমাকে তাঁর পুণ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেন।

আমার শ্রদ্ধেয় পিতা শাইখ

 

হুসনি আস-সিবায়ি-এর প্রতি

 

আমি আমার প্রথম জ্ঞানগর্ভ রচনাটি উৎসর্গ করছি, তাঁর অনুগ্রহ ও উত্তম দিকনির্দেশনার স্বীকৃতিস্বরূপ; মহান আল্লাহর নিকট এই প্রার্থনা রেখে...

 

[জ]
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩)
شأنه أن يبارك في لي حياته، ويجزل له من مثوبته، ويتقبل دعاء ولد بارّ لأب كريم، استجابة لأمره تعالى: {وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا} (2)

 

مصطفى

 

[د]

--------------------------------------------

(2) [سورة الإسراء، الآية: 24].
তাঁর শান হলো তাঁর জীবনে বরকত দান করা, তাঁকে প্রচুর প্রতিদান দেওয়া এবং এক দয়ালু পিতার জন্য এক নেককার সন্তানের দোয়া কবুল করা, মহান আল্লাহর নির্দেশের অনুসরণে: {আর বলো, হে আমার প্রতিপালক, তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন যেভাবে তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন} (২)

 

মোস্তফা

 

[দ]

--------------------------------------------

(২) [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ২৪]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الطبعة الثانية

 

بقلم الدكتور محمد أديب الصالح

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله الذي له ما في السماوات والأرض وهو على كل شيء قدير. والصلاة والسلام على معلم الناس الخير محمد بن عبد الله الذي أوتي القرآن ومثله معه، وجعل الله طاعته من طاعته هو سبحانه، فكانت سُنَّتُهُ صلوات الله عليه وسلامه بيان الكتاب الكريم، والمصدر الثاني من مصادر شريعة الإسلام. وكان من قبِل عن رسول الله فعن الله قبِل.

 

أما بعد،

 

فالبحث في سُنَّةِ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، أمر على غاية الأهمية في بنية الإسلام الفكرية، ومصادر التشريع فيه، خصوصاً إذا وضعنا في الحسبان ما ينصب لأمتنا من أحابيل ومكائد، وما يراد لها من إعراض عن هدي النبوة، وتشكك فيما يصل الأجيال بنبيها عليه الصلاة والسلام.

 

ومن خلال ذلك ينظر إلى الفراغ الذي ملأه في هذا الميدان كتاب " السُنّة ومكانتها في التشريع الإسلامي " للأستاذ الدكتور مصطفى السباعي رحمه الله، الذي كان الميدان العلمي واحداً من الميادين التي خاضها دفاعاً عن دعوة الإسلام وشريعة الإسلام.

 

[هـ]
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

 

ড. মুহাম্মদ আদীব আস-সালিহ-এর কলমে

 

পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁরই এবং তিনি সব কিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানুষের জন্য কল্যাণের শিক্ষক মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহর ওপর, যাঁকে কুরআন এবং তাঁর সাথে তদ্রূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর আনুগত্যকে মহান আল্লাহরই আনুগত্যের শামিল করেছেন। ফলে তাঁর সুন্নাহ—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—হলো মহিমান্বিত কিতাবের ব্যাখ্যা এবং ইসলামী শরীয়তের উৎসসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় উৎস। আর যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহর নিকট থেকে গ্রহণ করল, সে মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকেই গ্রহণ করল।

 

অতঃপর,

 

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ নিয়ে গবেষণা ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামো এবং এর বিধানের উৎসসমূহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশেষ করে যখন আমরা আমাদের উম্মাহর বিরুদ্ধে পেতে রাখা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের জাল এবং নবুওয়াতের হেদায়েত থেকে বিমুখ করার প্রচেষ্টার কথা বিবেচনায় নিই; যে চেষ্টার উদ্দেশ্য হলো উত্তরসূরি প্রজন্মের সাথে তাদের নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সম্পর্কের বিষয়ে সন্দেহ ও সংশয় তৈরি করা।

 

এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক ড. মুস্তফা আস-সিবাঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর রচিত "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরিল ইসলামী" (ইসলামী বিধানে সুন্নাহর অবস্থান) গ্রন্থটি এই ময়দানে যে শূন্যতা পূরণ করেছে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জ্ঞানতাত্ত্বিক ময়দান ছিল সেই সব ময়দানগুলোর একটি, যেখানে তিনি ইসলামের দাওয়াত ও ইসলামী শরীয়তের প্রতিরক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

 

[হ]
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৬)
وعلى بركة الله تصدر الطبعة الثانية لهذا الكتاب القيم والحمد لله. وإذا توافر للمؤلف القدرة على البحث العلمي وتتبع الأمور في مظانها، بجانب الغيرة الصادقة على دين الله. إن هذا الكتاب صورة حية لهاتين المكرمتين، فأنت واجد أن المضمون منطبق تمام الانطباق على العنوان، مع رد المفتريات والشبه، واقتحام معاقل العادين على السُنَّة من حيث المتن أو السند.

 

وإذا كان قد تناول بعض المباحث برفق وإيجاز، فإنما كان ذلك لأنها ليست من صلب الموضوع، فأعطاها بقدر ما لها من علاقة فحسب.

 

وكم أحسن رحمه الله صنعا في ذلك التتبع التاريخي للأدوار التي مرت بها السُنَّة، ووضع الأصبع على مكمن الداء في الماضي والحاضر، ومواقف العلماء التي ردت الأمور إلى نصابها.

 

وبطريقة منهجية جامعة فنّد آراء المخالفين قديما وحديثا، وعرض لمواقف بعض المستشرقين والمستغربين، وكشف بالروح العلمية المنصفة مواقعهم وما وراء اتجاهاتهم من جهل وتزوير. فكان موقفه في ذلك كله موقف العالم الداعية المجاهد، الذي يقدم لك الفكرة، مؤيدا ما يجنح إليه بالحجة من مظانها .. وتلمس من وراء بحثه - كما أسلفنا - الغيرة الصادقة على السُنّة أن يعدى عليها باسم العلم وتحت عناوين المعرفة.

 

ولعل من الإنصاف أن أشير إلى أن الأستاذ رحمه الله قد ألف الكتاب في ظروف قاسية شهدها الذين يسكنون معه في القاهرة من إخوانه، حين اضطرته تلك الظروف وهو يجمع المادة العلمية للموضوع أن يغادر الشقة إلى مكان آخر حيث لا يجد المراجع إلا بصعوبة، ويتصل ببعض أساتذته بصعوبة أشد، لا يحجز الأذى عنه ومخاطر الاتصال إلا عناية الله .. ولم يطبع الكتاب طباعة رسمية، وإنما خرج رسالة للأستاذية يومذاك - الدكتوراه - في الأزهر على الآلة الطابعة.

 

[و]
আল্লাহর বরকতে এই মূল্যবান কিতাবটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হচ্ছে এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। লেখকের মাঝে যদি আল্লাহর দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ আত্মমর্যাদাবোধের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট উৎসসমূহ থেকে বিষয়াবলি অনুসরণের সক্ষমতা বিদ্যমান থাকে; তবে এই কিতাবটি সেই দুটি মহৎ গুণেরই একটি জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। আপনি দেখতে পাবেন যে এর বিষয়বস্তু শিরোনামের সাথে পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে মিথ্যাচার ও সংশয়সমূহ খণ্ডন করা হয়েছে এবং মতন (পাঠ) ও সনদ (সূত্র) উভয় দিক থেকে সুন্নাহর ওপর আক্রমণকারীদের দুর্গে আঘাত হানা হয়েছে।

 

আর যদি তিনি কিছু আলোচনা কোমলভাবে ও সংক্ষেপে করে থাকেন, তবে তা কেবল এই কারণে যে সেগুলো মূল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল না; তাই তিনি সেগুলোকে কেবল সংশ্লিষ্টতার পরিমাণ অনুযায়ী স্থান দিয়েছেন।

 

আল্লাহ তাকে রহম করুন, সুন্নাহ যেসব ঐতিহাসিক ধাপ অতিক্রম করেছে সেগুলোর ঐতিহাসিক পর্যালোচনায় তিনি কতই না চমৎকার কাজ করেছেন! তিনি অতীত ও বর্তমানের ব্যাধির মূল উৎসের ওপর আঙুল রেখেছেন এবং আলেমদের সেই সব অবস্থান তুলে ধরেছেন যা বিষয়গুলোকে সঠিক পথে ফিরিয়ে এনেছে।

 

একটি সুশৃঙ্খল ও ব্যাপক পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি প্রাচীন ও আধুনিক বিরোধীদের মতামতসমূহ খণ্ডন করেছেন, কিছু প্রাচ্যবিদ ও পাশ্চাত্যঘেঁষা ব্যক্তিদের অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং ইনসাফপূর্ণ বৈজ্ঞানিক মানসিকতার সাথে তাদের গতিপ্রকৃতি এবং তাদের এই প্রবণতার পেছনে লুকায়িত মূর্খতা ও জালিয়াতি উন্মোচন করেছেন। এ সব ক্ষেত্রে তার অবস্থান ছিল একজন আলেম, দাঈ ও মুজাহিদের মতো, যিনি আপনার সামনে কোনো ধারণা উপস্থাপন করেন এবং তিনি যে মতের দিকে ঝুঁকছেন তার স্বপক্ষে মূল উৎস হতে দলিল প্রদান করেন... আর তার গবেষণার অন্তরালে আপনি অনুভব করবেন—যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি—সুন্নাহর প্রতি সেই একনিষ্ঠ আত্মমর্যাদাবোধ, যাতে বিজ্ঞানের নামে এবং জ্ঞানের শিরোনামে এর ওপর কোনো সীমালঙ্ঘন করা না হয়।

 

ইনসাফের দাবি হবে সম্ভবত এ কথাটি উল্লেখ করা যে, উস্তাদ (আল্লাহ তাকে রহম করুন) এই কিতাবটি এমন কিছু কঠিন পরিস্থিতিতে রচনা করেছিলেন যার সাক্ষী কায়রোতে তার সাথে বসবাসকারী ভাইয়েরা ছিলেন। যখন তিনি এই বিষয়ের বৈজ্ঞানিক উপকরণাদি সংগ্রহ করছিলেন, তখন পরিস্থিতির কারণে তিনি ফ্ল্যাট ছেড়ে অন্য স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, যেখানে তিনি অত্যন্ত কষ্ট ছাড়া তথ্যসূত্র খুঁজে পেতেন না এবং তার কিছু উস্তাদের সাথে যোগাযোগ করা ছিল আরও কঠিন। আল্লাহর বিশেষ যত্ন ছাড়া কোনো কিছুই তার কাছ থেকে কষ্ট ও যোগাযোগের ঝুঁকি দূর করার মতো ছিল না... কিতাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে মুদ্রিত হয়নি, বরং সেই সময় আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি টাইপরাইটারে টাইপকৃত পিএইচডি গবেষণাপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল।

 

[ও]
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৭)
وشغلت مؤلفنا شؤون الدعوة والقضايا العامة، ومهمات الجامعة والتدريس في كليتي الشريعة والحقوق، مع إدارة كلية الشريعة عن البدء بطبع الكتاب.

 

ويشاء الله أن يفاجئه المرض العضال .. وصدرت الطبعة الأولى وهو على حال صحية غاية في الإرهاق، وإن كان الرضى عن الله، والطمأنينة لنعمة الابتلاء، مِمَّا كان يزين حياته في تلك الفترة رحمه الله.

وكان الإقبال على الكتاب شديدا خصوصا من أولئك الذين يقدرون هذه الموضوعات حق قدرها وشرع - على قسوة المرض - في تنقيحه وزيادة ما يراه من التعليقات تمهيدا لدفعه إلى المطبعة … حتى وافته المنية - غفر الله له - وأصول الكتاب هي شغله الشاغل، ويرى القارئ ملحقين في هذه الطبعة الثانية، وقد وعد بملحق ثالث حالت وفاته دُونَ إنجازه.

 

وختاما: إن كتاب " السُنّة ومكانتها في التشريع الإسلامي " بما يشتمل عليه من حقائق علمية تضع السُنَّة موضعها من شريعة الإسلام، وما يقع عليه القارئ من نفس طويل في تحليل المواقف مِنَ السُنَّةِ في القديم وفي العصر الحاضر، وما يلمسه من تلك الجولات الموفقة مع أهل الانحراف من مستشرقين وغيرهم من دعاة التغريب.

 

إن ذلك كله يجعل الكتاب جديراً - إن شاء الله - بأن يؤدي الغرض من خدمة الرسالة التي كان يحملها المؤلف رحمه الله .. وأن يحظى بالكثير من اهتمام الباحثين في وقت نجد فيه ليالي الإسلام مثقلات بألوان من مؤامرات الدس في أصولنا ومصادرنا وخصوصاً السُنَّة المُطَهَّرَة .. مِمَّا تشم منه رائحة التضليل في بناء الجيل لإبعاده عن مقومات الوجود الحقيقي لأمَّته في كتاب ربها وسُنَّة نبيها عليه الصلاة والسلام.

 

[ز]
দাওয়াহর কাজ, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব এবং শরীয়াহ ও আইন অনুষদে অধ্যাপনার পাশাপাশি শরীয়াহ অনুষদ পরিচালনার ব্যস্ততা আমাদের লেখককে বইটির মুদ্রণ শুরু করা থেকে বিরত রেখেছিল।

 

অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছা হলো যে, তাঁকে এক দুরারোগ্য ব্যাধি গ্রাস করল... বইটির প্রথম সংস্করণ এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো যখন তিনি চরম শারীরিক ক্লান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন; যদিও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টি এবং পরীক্ষার নিয়ামতের ওপর প্রশান্তিই ছিল সেই সময়ে তাঁর জীবনের অলঙ্কার, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

বইটির প্রতি ব্যাপক সাড়া পরিলক্ষিত হয়, বিশেষ করে তাদের নিকট যারা এই বিষয়গুলোর যথাযথ কদর করতে জানেন। তিনি—ব্যাধির তীব্রতা সত্ত্বেও—বইটির পরিমার্জন এবং প্রয়োজনীয় টীকা সংযোজনের কাজ শুরু করেন যাতে তা প্রেসে পাঠানো যায় … এমনকি মৃত্যু আসা পর্যন্ত—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন—বইটির মূল পান্ডুলিপিই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। পাঠক এই দ্বিতীয় সংস্করণে দুটি পরিশিষ্ট দেখতে পাবেন; তিনি একটি তৃতীয় পরিশিষ্টের ওয়াদা করেছিলেন যা তাঁর মৃত্যু সম্পন্ন হতে দেয়নি।

 

পরিশেষে: "ইসলামি বিধানে সুন্নাহ ও তার গুরুত্ব" শীর্ষক বইটি এমন সব ইলমি তথ্যাবলি সমৃদ্ধ যা সুন্নাহকে ইসলামি শরীয়াহর সঠিক মর্যাদায় আসীন করে। পাঠক এতে প্রাচীন ও বর্তমান যুগে সুন্নাহর প্রতি বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির দীর্ঘ ও গভীর বিশ্লেষণ খুঁজে পাবেন, এবং প্রাচ্যবিদ ও পাশ্চাত্যকামী পথভ্রষ্টদের বিরুদ্ধে এক সফল বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের স্বরূপ প্রত্যক্ষ করবেন।

 

এই সবকিছুই বইটিকে এই যোগ্য করে তুলেছে যে—ইনশাআল্লাহ—এটি লেখকের লালিত সেই মহান বার্তার খিদমতে তার উদ্দেশ্য সফল করবে, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। এটি গবেষকদের বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে এমন এক সময়ে, যখন আমরা দেখছি যে ইসলামের রজনীগুলো আমাদের মূলভিত্তি ও উৎসগুলোর বিরুদ্ধে নানা প্রকার কুচক্রী ষড়যন্ত্রের ভারে নুয়ে পড়ছে, বিশেষ করে পবিত্র সুন্নাহর ক্ষেত্রে। যা থেকে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার এক অশুভ গন্ধ পাওয়া যায়, যেন তাদেরকে তাদের রবের কিতাব ও নবীর (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) সুন্নাহর মাঝে নিহিত এই উম্মাহর প্রকৃত অস্তিত্বের উপাদানগুলো থেকে বিচ্যুত করা যায়।

 

[যা]
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৭)
رحم الله الأستاذ السباعي وأجزل مثوبته في الآخرين، ونفع بآثاره الطيبة التي ضربت في كل ميدان من ميادين الدعوة، وكان من عيونها هذا الكتاب في طبعته الثانية - التي يخرجها المكتب الإسلامي استجابة طبيعية للقراء والباحثين الذين طال انتظارهم له - خاصة - ونرجو أن يكون ذلك كله في كفة حسناته حيث يوزن مداد العلماء بدم الشهداء فيرجح مداد العلماء على دم الشهداء … {يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعَى نُورُهُم بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِم} (*)، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

 

[ح]

--------------------------------------------

[تَعْلِيقُ مُعِدِّ الكِتَابِ لِلْمَكْتَبَةِ الشَّامِلَةِ]:

(*) هذه الجملة نص قرآني: [سورة الحديد، الآية: 12].
আল্লাহ উস্তাদ সিবায়ীর প্রতি রহম করুন এবং পরবর্তীদের মধ্যে তাঁর প্রতিদানকে সুমহান করুন, এবং তাঁর সেই কল্যাণময় নিদর্শনের দ্বারা উপকৃত করুন যা দাওয়াহর প্রতিটি ময়দানে প্রভাব বিস্তার করেছে। আর সেই সব নিদর্শনের শ্রেষ্ঠতম ছিল এই কিতাবটি—এর দ্বিতীয় সংস্করণে—যা আল-মাকতাব আল-ইসলামী পাঠক ও গবেষকদের স্বাভাবিক চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রকাশ করছে যারা বিশেষত এর জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ছিলেন। আমরা আশা করি যে, এই সবকিছুই তাঁর নেকির পাল্লায় জমা হবে, যেখানে আলেমদের কালিকে শহীদদের রক্তের সাথে ওজন করা হবে এবং আলেমদের কালি শহীদদের রক্তের ওপর ভারী হবে … {সেদিন আপনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের দেখবেন যে, তাদের নূর তাদের সামনে ও তাদের ডান দিকে ধাবিত হচ্ছে} (*), এবং আমাদের শেষ আহ্বান এই যে, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

[হা]

--------------------------------------------

[মাকতাবা শামিলার জন্য কিতাব প্রস্তুতকারীর মন্তব্য]:

(*) এই বাক্যটি কুরআনের বাণী: [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ১২]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৮)
المقدمة

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله الذي شرع الأحكام لعباده بكتاب مبين، وأناط تفصيل أحكامه بخاتم النبيين والمرسلين، سيدنا محمد بن عبد الله - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ -، نقلة الوحي، والأمناء على الحق، والدعاة إلى الله على هدى وصراط مستقيم، وعلى من تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

 

وبعد: فنحن في عصر اضطربت فيه النظم العالمية المتعددة، وعجزت عن إيجاد السلام والرخاء لشعوب العالم، ومهما يكن في قادة الأمم المسيطرة من عيوب أدت إلى هذا الاضطراب، فإن الذي لا ريب فيه عندنا أن الأسباب المباشرة لشقاء العالم هي تلك النظم التي لم تثبت حتى الآن صلاحها لحل مشاكل الإنسانية على وجه يريحها من الحروب والمنازعات، ويبعدها عن جو القلق الذي تعيش به في أعقاب الحروب العالمية الدامية، بعد أن كانت تعيش خلال الحروب في جو قاتم من الدماء والدمار والخراب.

 

وعقيدتنا، نحن المُسْلِمِينَ، أن لا مناص لهذا العالم - إن أراد لنفسه السعادة والسلام - من الرجوع إلى تعاليم الله الصافية الخالصة من التحريف والتلاعب والتبديل والتغيير، والتي جاءت رسالة الإسلام مُتَمِّمَةً لها وَمُعَبِّرَةً عن رسالتها أوفى

 

[ط]
ভূমিকা

 

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের জন্য এক সুস্পষ্ট কিতাবের মাধ্যমে বিধানসমূহ প্রবর্তন করেছেন এবং তাঁর বিধানসমূহের বিস্তারিত বিবরণের দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন নবী ও রাসূলগণের মোহর, আমাদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর—তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—যাঁরা ছিলেন ওহীর বাহক, সত্যের আমানতদার এবং হিদায়াত ও সরল পথের ওপর আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী; আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপরও (শান্তি বর্ষিত হোক)।

 

অতঃপর: আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে বিভিন্ন বিশ্বব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং বিশ্বের জাতিসমূহের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি আনয়নে ব্যর্থ হয়েছে। প্রভাবশালী দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে যে ত্রুটিগুলোই এই বিশৃঙ্খলার কারণ হোক না কেন, আমাদের কাছে যা নিঃসন্দেহে সত্য তা হলো—বিশ্বের এই দুর্দশার প্রত্যক্ষ কারণ হলো সেইসব ব্যবস্থা, যা আজ পর্যন্ত মানবজাতির সমস্যাগুলো এমনভাবে সমাধান করতে সক্ষম বলে প্রমাণিত হয়নি যা তাদের যুদ্ধ ও বিবাদ থেকে মুক্তি দিতে পারে এবং বিশ্বযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী পরিণতির পর যে উদ্বেগের পরিবেশে তারা বাস করছে তা থেকে তাদের দূরে রাখতে পারে; অথচ যুদ্ধের সময় তারা রক্তপাত, ধ্বংস এবং বিনাশের এক অন্ধকারচ্ছন্ন পরিবেশে বাস করছিল।

 

আর আমরা মুসলিমদের বিশ্বাস এই যে, এই বিশ্বের জন্য—যদি সে নিজের জন্য সুখ ও শান্তি চায়—আল্লাহর সেই বিশুদ্ধ ও নির্মল শিক্ষাগুলোর দিকে ফিরে আসা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই, যা বিকৃতি, কারসাজি, রদবদল ও পরিবর্তন থেকে মুক্ত; এবং ইসলামের রিসালাত যা পূর্ণ করতে এবং যার পয়গামকে সর্বোত্তমভাবে প্রকাশ করতে এসেছে।

 

[ত]
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৯)
تعبير وَأَدَقِّهِ وَأَوْسَعِهِ، وأكثره مراناً ومسايرة للعصور، وتحقيقاً لحاجة بني الإنسان على اختلاف ديارهم وأزمانهم.

 

وشريعة الإسلام - في مصادرها الأولى - وفي بحوث فقهائها وأئمتها - رحبة الفناء، واسعة النهج، تتسع لكل حادثة، وتحل كل مشكلة، وتقيم موازين القسط بين الأفراد والجماعات والحكومات، وتحقق للشعب الطائع اليقظ الراقي المتحفز، وللدنيا في مختلف أقطارها، الدولة العادلة المسالمة التي تجنح لِلْسِلْمِ حين يجنح له غيرها، وتذود عن كرامة العقيدة والأخلاق والحرية الصادقة، حين يميل إلى العدوان عليها معتد أثيم أو باغ ماكر.

 

ومصادر التشريع الإسلامي معروفة لدى المُسْلِمِينَ موثوقة محفوظة، ولا شك في أن السُنَّةَ المُطَهَّرَةَ، وهي ثانية هذه المصادر، أوسعها فروعا، وأحفلها نظماً، وأرحبها صدراً، إذ كان كتاب الله الكريم متضمناً للقواعد العامة في التشريع وللأحكام الكلية في الغالب، مِمَّا جعله خالداً خلود الحق، بَيْدَ أَنَّ السُنَّةَ الكريمة عنيت بشرح هذه القواعد، وتثبيت تلك النظم، وتفريع الجزئيات على الكليات، مِمَّا يعرفه كل من درس السُنَّةَ دراسة وافية، ومن ثم لم يكن لِلْمُتَشَرِّعِينَ من علماء الإسلام مندوحة من الاعتماد على السُنَّةِ، واللجوء إليها والعناية بها والاسترشاد بأحكامها المنصوصة على أحكام الحوادث الطارئة.

 

ولقد تعرضت السُنَّةُ في القديم لهجمات بعض الفرق الإسلامية الخارجة على سُنَنِ الحق لشبهات طارئة لم تجد في نفوس أتباعها ما يدفعها، كما تعرضت في العصر الحاضر لهجمات بعض المُسْتَشْرِقِينَ المُتَعَصِّبِينَ من دُعاة التَبْشِيرِ وَالاِسْتِعْمَارِ، ابتغاء الفتنة وابتغاء هدم هذا الركن المتين من أركان التشريع الإسلامي الوارف الظلال وتابعهم على ذلك بعض المؤلفين من أبناء أُمَّتِنَا، اغتراراً بما يضفيه أولئك المُسْتَشْرِقُونَ على بحوثهم من زخارف علمية لا تثبت أمام النقد العلمي النزيه أو اندفاعا وراء

 

[ي]
প্রকাশভঙ্গি, এর সূক্ষ্মতা, এর প্রশস্ততা এবং সমকালের সাথে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে এর সর্বাধিক সক্ষমতা ও অনুশীলন, যা মানবজাতির বাসস্থান ও সময়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও তাদের প্রয়োজন পূরণ করে।

 

ইসলামি শরীয়াহ - তার প্রাথমিক উৎসসমূহে এবং তার ফকীহ ও ইমামগণের গবেষণায় - অত্যন্ত প্রশস্ত প্রাঙ্গণ ও বিস্তৃত কর্মপন্থা বিশিষ্ট। এটি প্রতিটি ঘটনার সংকুলান করে, প্রতিটি সমস্যার সমাধান দেয় এবং ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সরকারসমূহের মধ্যে ন্যায়বিচারের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করে। এটি অনুগত, জাগ্রত, উন্নত ও উদ্যমী জনগণের জন্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জন্য এমন এক ন্যায়পরায়ণ ও শান্তিকামী রাষ্ট্র নিশ্চিত করে, যা অন্য পক্ষ শান্তির দিকে ঝুঁকলে নিজেও শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে। আর যখন কোনো পাপিষ্ঠ সীমালঙ্ঘনকারী বা ধূর্ত বিদ্রোহী আকিদাহ, নৈতিকতা ও সত্য স্বাধীনতার ওপর চড়াও হতে চায়, তখন এটি সেগুলোর মর্যাদা রক্ষা করে।

 

ইসলামি শরীয়াহর উৎসসমূহ মুসলিমদের নিকট সুপরিচিত, নির্ভরযোগ্য ও সংরক্ষিত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পবিত্র সুন্নাহ—যা এই উৎসসমূহের মধ্যে দ্বিতীয়—শাখা-প্রশাখার দিক থেকে সর্বাধিক বিস্তৃত, বিন্যাসে সর্বাধিক সমৃদ্ধ এবং হৃদয়ে সর্বাধিক প্রশস্ত। কেননা আল্লাহর কিতাব সাধারণত শরীয়াহর সাধারণ নীতিমালা ও মৌলিক বিধানসমূহ ধারণ করে, যা তাকে সত্যের ন্যায় চিরন্তন করেছে। তবে পবিত্র সুন্নাহ এই নীতিমালাগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান, সেই পদ্ধতিসমূহকে সুসংহত করা এবং মৌলিক বিষয়গুলো থেকে শাখা-প্রশাখা বের করার দায়িত্ব পালন করেছে; যা সুন্নাহ নিয়ে পর্যাপ্ত অধ্যয়নকারী মাত্রই অবগত। ফলে ইসলামি স্কলার বা শরীয়াহবিদদের পক্ষে সুন্নাহর ওপর নির্ভর করা, এর শরণাপন্ন হওয়া, এর প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি বা ঘটনাবলির ক্ষেত্রে এর বর্ণিত বিধানসমূহ থেকে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর ছিল না।

 

অতীতে সুন্নাহ হকের পথ থেকে বিচ্যুত কিছু ইসলামি উপদলের আক্রমণের শিকার হয়েছে, যা ছিল এমন কিছু আপতিত সংশয়ের কারণে যেগুলোকে প্রতিহত করার মতো সামর্থ্য তাদের অনুসারীদের অন্তরে ছিল না। একইভাবে বর্তমান যুগেও সুন্নাহ কিছু কট্টরপন্থী প্রাচ্যবিদ, মিশনারি প্রচারক এবং সাম্রাজ্যবাদীদের আক্রমণের শিকার হয়েছে; যাদের উদ্দেশ্য হলো ফিতনা সৃষ্টি করা এবং ইসলামি শরীয়াহর এই সুশীতল ছায়া দানকারী মজবুত স্তম্ভটিকে ধ্বংস করা। আমাদের উম্মতের কিছু লেখকও তাদের অনুসরণ করেছেন—হয়তো সেই প্রাচ্যবিদদের গবেষণায় লেপে দেওয়া তথাকথিত বৈজ্ঞানিক চাকচিক্যে প্রতারিত হয়ে, যা নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার সামনে টিকে থাকে না, অথবা মোহের বশবর্তী হয়ে...

 

[ই]
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৯)
ميول نفسية وشبهات فكرية لم يحاولوا تخصيصها على ضوء ما بين أيديهم من تراث السلف وبحوث العلماء الراسخين، فصادف رأي المُسْتَشْرِقِينَ في السُنَّةِ هَوًى كامناً في نفوس هؤلاء، فضربوا على الوتر، وغنوا بذلك الحداء.

 

أَتَانِي هَوَاهَا قَبْلَ أَنْ أَعْرِفَ الهَوَى … فَصَادَفَ قَلْباً خَالِياً فَتَمَكَّنَا

 

وقد سبق لي في عام 1358 هـ أن عانيت مع بعضهم بعض الشيء في دفع أوهامهم والرد على ما علق بأذهانهم من تَخَرُّصَاتِ المُسْتَشْرِقِينَ. لذلك رأيت أن أبحث في هذه الرسالة عن السُنَّةِ ومكانتها في التشريع الإسلامي، مُبَيِّنًا الأدوار التاريخية التي اجتازتها، وجهود علماء الإسلام في صيانتها وتمحيصها، مناقشًا ما أورد المتحاملون عليها في القديم والحديث بروح علمية هادئة، يستبين بها وجه الحق، وتتضح بها طلعة السُنَّةِ المُطَهَّرَةِ بيضاء مشرقة.

 

وقد ختمتها بشذرات من تاريخ أشهر علماء الإسلام من مُجْتَهِدِينَ وَمُحَدِّثِينَ مِمَّنْ لهم دور بارز في حفظ السُنَّةِ وتدوينها، أو في الرجوع إليها في استنباط الأحكام الشرعية من مصادرها.

 

وقد قَسَّمْتُ الرسالة إلى ثلاثة أبواب وخاتمة:

 

الباب الأول: في معنى السُنَّةِ ونقلها وتدوينها، وفيه فصول:

الفصل الأول: في معنى السُنَّةِ، وتعريفها، وموقف الصحابة مِنَ السُنَّةِ.

الفصل الثاني: كيف نشأ الوضع فيها؟ ومتى؟ وأين؟

الفصل الثالث: في جهود العلماء لتنقيتها وتصحيحها.

 

[ك]
মনস্তাত্ত্বিক ঝোঁক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংশয়সমূহ, যা তারা তাদের নিকটস্থ সালাফদের ঐতিহ্য এবং সুপ্রতিষ্ঠিত আলেমদের গবেষণার আলোকে যাচাই করার চেষ্টা করেনি; ফলে সুন্নাহ সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের মতামত এদের মনে লুকায়িত কুপ্রবৃত্তির সাথে মিলে গেল, আর তারা সেই সুরে সুর মেলালো এবং সেই গানেই মত্ত হলো।

 

ভালোবাসা কী তা জানার আগেই তার ভালোবাসা আমার হৃদয়ে এলো … অতঃপর তা একটি শূন্য হৃদয় পেল এবং সেখানে গেঁথে গেল।

 

ইতোপূর্বে ১৩৫৮ হিজরিতে আমি তাদের বিভ্রান্তি দূর করতে এবং প্রাচ্যবিদদের মিথ্যা প্রলাপ যা তাদের মনে গেঁথে ছিল, তার জবাব দিতে গিয়ে কিছুটা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছিলাম। তাই আমি এই পুস্তিকায় সুন্নাহ এবং ইসলামী শরিয়তে এর অবস্থান সম্পর্কে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি; যেখানে সুন্নাহর অতিক্রান্ত ঐতিহাসিক পর্যায়সমূহ এবং তা সংরক্ষণ ও যাচাই-বাছাইয়ে ইসলামের আলেমদের প্রচেষ্টার বর্ণনা থাকবে। সেই সাথে প্রাচীন ও আধুনিককালে বিদ্বেষ পোষণকারীরা সুন্নাহ সম্পর্কে যা কিছু উত্থাপন করেছে, তা একটি শান্ত বুদ্ধিবৃত্তিক মেজাজে আলোচনা করা হয়েছে, যাতে সত্যের রূপ প্রকাশ পায় এবং পবিত্র সুন্নাহর উজ্জ্বল ও শুভ্র অবয়ব স্পষ্ট হয়।

 

আমি এই পুস্তিকাটি শেষ করেছি ইসলামের প্রখ্যাত আলেমদের—মুজতাহিদ ও মুহাদ্দিসগণের—ইতিহাসের কিছু অংশ দিয়ে, যারা সুন্নাহর সংরক্ষণ ও সংকলনে অথবা এর উৎস থেকে শরীয়তের বিধান উদ্ভাবনে এর দিকে প্রত্যাবর্তনে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছেন।

 

আমি এই পুস্তিকাটিকে তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি:

 

প্রথম অধ্যায়: সুন্নাহর অর্থ, এর বর্ণনা এবং সংকলন প্রসঙ্গে, এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর অর্থ, এর সংজ্ঞা এবং সুন্নাহর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর মধ্যে জালিয়াতি কীভাবে শুরু হলো? কখন? এবং কোথায়?

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর বিশুদ্ধিকরণ ও সংশোধনে আলেমদের প্রচেষ্টা।

 

[ক]
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১০)
الفصل الرابع: في ثمار جهود العلماء ونتائجها بالنسبة لِلْسُنَّةِ.

 

الباب الثاني: فيما تعرضت له السُنَّةُ من شُبَهٍ وخصومة وفيه سبعة فصول:

 

الفصل الأول: السُنَّةُ مع الشِيعَة والخوارج.

الفصل الثاني: السُنَّةُ مع المعتزلة والمُتَكَلِّمِينَ.

الفصل الثالث: السُنَّةُ مع من ينكر حُجِيَّتِهَا قَدِيمًا.

الفصل الرابع: السُنَّةُ مع من ينجر حُجِيَّتِهَا حَدِيثًا.

الفصل الخامس: السُنَّةُ مع من ينكر حُجِيَّة خبر الآحاد.

الفصل السادس: السُنَّةُ مع المُسْتَشْرِقِينَ.

الفصل السابع: السُنَّةُ مع بعض الكَاتِبِينَ حَدِيثًا.

 

الباب الثالث: في مرتبة السُنَّةِ من التشريع الإسلامي، وفيه ثلاثة فصول:

الفصل الأول: في مرتبتها بالنسبة إلى الكتاب.

الفصل الثاني: كيف اشتمل القرآن على السُنَّة.

الفصل الثالث: نَسْخُ السُنَّة بالقرآن، أو القرآن بِالسُنَّةِ.

 

الخاتمة: في تراجم بعض كبار علماء الإسلام من مُجْتَهِدِينَ وَمُحَدِّثِينَ وهم عشرة:

1 - الإمام أبو حنيفة.

2 - الإمام مالك.

3 - الإمام الشافعي.

4 - الإمام أحمد.

5 - البخاري.

6 - مسلم.

7 - النسائي.

8 - أبو داود.

9 - الترمذي.

 

[ل]
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টার ফল ও ফলাফল প্রসঙ্গে।

 

দ্বিতীয় অধ্যায়: সুন্নাহ যে সকল সংশয় ও বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে এবং এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: শিয়া ও খারেজীদের সাথে সুন্নাহর অবস্থান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুতাজিলা ও ইলমুল কালামবিদদের সাথে সুন্নাহর অবস্থান।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অতীতে যারা সুন্নাহর প্রামাণ্যতা অস্বীকার করত তাদের সাথে সুন্নাহর অবস্থান।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বর্তমানে যারা সুন্নাহর প্রামাণ্যতা অস্বীকার করে তাদের সাথে সুন্নাহর অবস্থান।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: যারা খবর-এ-ওয়াহিদের প্রামাণ্যতা অস্বীকার করে তাদের সাথে সুন্নাহর অবস্থান।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: প্রাচ্যবিদদের সাথে সুন্নাহর অবস্থান।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: আধুনিক যুগের কিছু লেখকের সাথে সুন্নাহর অবস্থান।

 

তৃতীয় অধ্যায়: ইসলামী শরিয়তে সুন্নাহর মর্তবা এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর কিতাবের তুলনায় এর মর্তবা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন কীভাবে সুন্নাহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন দ্বারা সুন্নাহর নসখ বা সুন্নাহ দ্বারা কুরআনের নসখ।

 

উপসংহার: ইসলামের কিছু মহান মুজতাহিদ ও মুহাদ্দিস আলিমের জীবনী প্রসঙ্গে এবং তাঁরা সংখ্যায় দশ জন:

১ - ইমাম আবু হানিফা।

২ - ইমাম মালিক।

৩ - ইমাম শাফিঈ।

৪ - ইমাম আহমাদ।

৫ - বুখারী।

৬ - মুসলিম।

৭ - নাসাঈ।

৮ - আবু দাউদ।

৯ - তিরমিযী।

 

[ল]
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১১)
10 - ابن ماجه.

 

والله أسأل أن يجنبني العثار ويلهمني الرشد، ويفتح لي خزائن رحمته، ويجعلنا مِمَّنْ يستمعون القول فيتبعون أحسنه.

 

والحمد لله رب العالمين.

 

القاهرة: 6 رجب 1368 هـ / 4 أيار (مايو) 1949 م.

 

مصطفى حسني السباعي

 

[م]
১০ - ইবনে মাজাহ।

 

আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে পদস্খলন থেকে রক্ষা করেন এবং আমাকে সঠিক পথের দিশা দান করেন, আর আমার জন্য তাঁর রহমতের ভাণ্ডার খুলে দেন এবং আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে।

 

আর সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

কায়রো: ৬ রজব ১৩৬৮ হিজরি / ৪ মে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ।

 

মুস্তফা হুসনী আস-সিবাঈ

 

[ম]
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
السنة ومكانتها للسباعي ط المكتب الإسلامي   (مصطفى السباعي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي

المؤلف: مصطفى بن حسني السباعي (ت 1384هـ)

الناشر: المكتب الإسلامي: دمشق - سوريا، بيروت - لبنان

الطبعة: الثالثة، 1402 هـ - 1982 م (بيروت)

عدد الأجزاء: 1

أعده للمكتبة الشاملة: توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].

تاريخ النشر بالشاملة: 6 ذو القعدة 1432

আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা (সিবায়ি), আল-মাকতাব আল-ইসলামি সংস্করণ   (মুস্তাফা আস-সিবায়ি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


বই: ইসলামী বিধানে সুন্নাহ ও তার গুরুত্ব

লেখক: মুস্তাফা বিন হুসনি আস-সিবায়ি (মৃ. ১৩৮৪ হিজরি)

প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি: দামেস্ক - সিরিয়া، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ (বৈরুত)

খণ্ড সংখ্যা: ১

মাকতাবা শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি، - আল্লাহ তাকে এবং তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন -।

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]‌।

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ জিলকদ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌تَمْهِيدٌ:

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد وآله وصحبه وحملة سُنّته والمدافعين عنها إلى يوم الدين، وبعد فهذا الكتاب الذي أقدمه اليوم للطبع، هو الرسالة التي تقدمت بها لنيل الشهادة «العالمية من درجة أستاذ» في الفقه والأصول وتاريخ التشريع الإسلامي من كلية الشريعة في الجامع الأزهر عام 1368 هـ - 1949 م، وقد رغبت عن نشره منذ ذلك الحين حتى الآن لعوامل كثيرة، من أهمها أني ألفت هذا الكتاب في ظروف صعبة كانت تضطرني إلى الإيجاز في كثير من الأبحاث، وكنت أرى من تمام الفائدة التوسع فيها والإكثار من الشواهد لتتضح معالمها، وإضافة أبحاث أخرى متعلقة بالموضوع، ولم يتح لي الوقت الكافي لتحقيق ما كنت أرجو من ذلك.

 

ثم إن بعض أبحاث هذا الكتاب كانت قد نشرت بصورة موجزة في بعض المجلات الإسلامية في القاهرة ودمشق وغيرهما (1)، وكانت تردني الرغبة من كثير من القارئين بطبع هذه الأبحاث، ولكنني كنت أرجئ ذلك إلى وقت أتفرغ فيه لتحقيق ما كنت آمل من التوسع والإفاضة، حتى ظهر كتاب " أضواء على السُنَّةِ المحمدية " لمحمود أَبُو رَيَّةَ، وفيه ما فيه من تحقيق «غير علمي» حول السُنَّةِ وَرُوَّاتِهَا، فَأَلَحَّ عَلَيَّ أولئك الأصدقاء الكرام بطبع الكتاب لشدة الحاجة

--------------------------------------------

(1) في القاهرة مجلة " الفتح " للأستاذ الكبير محب الدين الخطيب، وفي دمشق مجلة " المُسْلِمُونَ ".
ভূমিকা:

সকল প্রশংসা বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী, তাঁর সুন্নাহর বাহক এবং বিচার দিবস পর্যন্ত এর প্রতিরক্ষাকারীদের ওপর। অতঃপর— আজ আমি যে বইটি প্রকাশের জন্য পেশ করছি, এটি সেই অভিসন্দর্ভ যা আমি ১৩৬৮ হিজরি - ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে জামে আল-আযহারের শরীয়াহ অনুষদ থেকে ফিকহ, উসুল এবং ইসলামি আইনের ইতিহাসের ওপর 'প্রফেসর' পদমর্যাদার 'আলিমিয়্যাহ' ডিগ্রি অর্জনের জন্য পেশ করেছিলাম। অনেক কারণে তখন থেকে আজ পর্যন্ত আমি এটি প্রকাশ করা থেকে বিরত ছিলাম। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হলো, আমি এই বইটি এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে রচনা করেছিলাম যা আমাকে অনেক গবেষণায় সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করতে বাধ্য করেছিল। অথচ আমি মনে করতাম যে, এর পূর্ণ উপযোগিতার জন্য বিষয়গুলো আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা এবং সেগুলোর রূপরেখা স্পষ্ট করার জন্য অধিকতর প্রমাণাদি পেশ করা এবং বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গবেষণা সংযোজন করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমি যা আশা করেছিলাম, তা সম্পন্ন করার মতো পর্যাপ্ত সময় আমার হাতে ছিল না।

 

অতঃপর, এই বইটির কিছু গবেষণা কায়রো ও দামেস্কসহ অন্যান্য স্থানের কিছু ইসলামি সাময়িকীতে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশিত হয়েছিল (১)। অনেক পাঠক এই গবেষণাগুলো ছাপানোর জন্য আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করছিলেন, কিন্তু আমি তা এমন এক সময়ের জন্য স্থগিত রাখছিলাম যখন আমি অবসর পাব এবং আমার প্রত্যাশা অনুযায়ী একে আরও বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারব। শেষ পর্যন্ত মাহমুদ আবু রাইয়্যার "আদওয়া আলাস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়া" বইটি প্রকাশিত হয়। এতে সুন্নাহ ও এর বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে যা কিছু "অবৈজ্ঞানিক" বিশ্লেষণ রয়েছে (তা সবার জানা)। ফলে সেই সম্মানিত বন্ধুগণ এই বইটির তীব্র প্রয়োজনীয়তার কারণে এটি মুদ্রণের জন্য আমাকে বিশেষভাবে তাগিদ দেন।

--------------------------------------------

(১) কায়রোতে প্রখ্যাত উস্তাদ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতীবের "আল-ফাতহ" সাময়িকীতে এবং দামেস্কে "আল-মুসলিমুন" সাময়িকীতে।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২)
إلى أبحاثه، وها أنا أقدمه كما كتبته من قبل، إلا ما أضفته على البحث المتعلق بأبي هريرة رضي الله عنه من تعليق موجز على ما جاء به كتاب «أَبِي رَيَّةَ» بحق أبي هريرة وإني لأرجو - حين تتيح لي حالتي الصحية - أن أتمكن من تحقيق ما كنت آمل إن شاء الله تعالى.

 

ملاحظات حول كتاب أَبِي رَيَّةَ:

-----------------------------

 

وهنا أجد أنه لا بُدَّ لي من إثبات الملاحظات الآتية حول كتاب «أَبِي رَيَّةَ».

 

- 1 -

لا تخفى مكانة السُنَّةِ النَّبَوِيَّةِ «الحديث» في التشريع الإسلامي وأثرها في الفقه الإسلامي منذ عصر النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم والصحابة حتى عصور أئمة الاجتهاد واستقرار المذاهب الاجتهادية، مِمَّا جعل الفقه الإسلامي ثروة تشريعية لا مثيل لها في الثروات التشريعية لدى الأمم جميعها في الماضي والحاضر، ومن يطلع على القرآن وَالسُنَّةُِ يجد أَنَّ لِلْسُنَّةِ الأثر الأكبر في اتباع دائرة التشريع الإسلامي وعظمته وخلوده، مِمَّا لا ينكره كل عالم بالفقه ومذاهبه.

 

هذا التشريع العظيم الذي بهر أنظار علماء القانون والفقه في جميع أنحاء العالم، وسيزيد إعجابهم به حين اطلاعهم عليه كله مُبَسَّطًا مَعْرُوضًا بأسلوب يألفه أبناء هذا الجيل - و" موسوعة الفقه الإسلامي " في كلية الشريعة بجامعة دمشق دائبة على تحقيق هذا الغرض - هو ما حمل ويحمل أعداء الإسلام في الماضي والحاضر على مهاجمة السُنّةِ والتشكيك في حُجِيَّتِهَا وصدق جَامِعِيهَا وَرُوَّاتِهَا من أعلام الصحابة والتَّابِعِينَ فَمَنْ بَعْدَهُمْ، وعلى هذا الغرض التقى أعداء الإسلام اليوم من المُسْتَشْرِقِينَ ومن لَفَّ لَفَّهُمْ في الحضارة الغربية الحاضرة.

 

إنها سلسلة متتابعة من الجهود، لم تنقطع منذ أربعة عشر قرناً. وستظل قائمة ما دام للإسلام والحق أعداء يغيظهم ويغشي أبصارهم ضوء الإسلام الباهر،
তার গবেষণাসমূহ; আমি এটি সেভাবেই পেশ করছি যেভাবে ইতিপূর্বে লিখেছিলাম, তবে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সংক্রান্ত গবেষণায় আবু রাইয়্যাহ-এর বইতে আবু হুরায়রা সম্পর্কে যা এসেছে তার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত টীকা যোগ করেছি। আমি আশা করি—যখন আমার স্বাস্থ্য অনুমতি দেবে—আমি যা আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম তা পূর্ণ করতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

 

আবু রাইয়্যাহ-এর বই সম্পর্কে কিছু পর্যবেক্ষণ:

-----------------------------

 

এখানে আমি আবু রাইয়্যাহ-এর বই সম্পর্কে নিম্নোক্ত পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরা আবশ্যক মনে করছি।

 

- ১ -

ইসলামী শরীয়ত প্রণয়নে সুন্নাহর (হাদিস) মর্যাদা এবং ইসলামী ফিকহের ওপর এর প্রভাব নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সাহাবীগণের যুগ থেকে শুরু করে ইজতিহাদকারী ইমামগণের যুগ এবং ইজতিহাদী মাযহাবগুলোর স্থিতিশীলতা পর্যন্ত কারো অজানা নয়। যা ইসলামী ফিকহকে এমন এক বিধিবদ্ধ সম্পদে পরিণত করেছে যার কোনো নজির অতীত ও বর্তমানের সকল জাতির আইনি ঐতিহ্যে নেই। যারা কুরআন ও সুন্নাহ পাঠ করেন, তারা দেখতে পাবেন যে ইসলামী শরীয়তের পরিধি অনুসরণ, এর মহিমা ও শাশ্বত রূপ বজায় রাখার ক্ষেত্রে সুন্নাহর প্রভাবই সবচেয়ে বেশি; যা ফিকহ ও এর মাযহাব সম্পর্কে অবগত কোনো আলেমই অস্বীকার করতে পারবেন না।

 

এই মহান শরীয়ত ব্যবস্থা যা সারা বিশ্বের আইন ও ফিকহ শাস্ত্রবিদদের দৃষ্টিকে মোহিত করেছে এবং যখন তারা একে বর্তমান প্রজন্মের উপযোগী সহজ ও সাবলীল শৈলীতে উপস্থাপিত অবস্থায় দেখবে তখন তাদের বিস্ময় আরও বাড়বে—আর দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের "ইসলামী ফিকহ বিশ্বকোষ" এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নেই নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে—এসব বিষয়ই অতীত ও বর্তমানের ইসলাম বিদ্বেষীদের সুন্নাহর ওপর আক্রমণ করতে এবং এর প্রামাণিকতা ও সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী শ্রেষ্ঠ বর্ণনাকারী ও সংকলকদের সততা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করতে প্ররোচিত করেছে। আর এই উদ্দেশ্যেই বর্তমান প্রাচ্যবিদ এবং বর্তমান পশ্চিমা সভ্যতার অনুসারী তাদের দোসররা একতাবদ্ধ হয়েছে।

 

এটি প্রচেষ্টার এক অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা, যা চৌদ্দশ বছর ধরে কখনো থামেনি। আর যতক্ষণ পর্যন্ত ইসলাম ও সত্যের এমন শত্রু অবশিষ্ট থাকবে যাদেরকে ইসলামের প্রখর আলো ক্রুদ্ধ করে এবং যাদের দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে দেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩)
فيندفعون بعصبية عمياء حمقاء لتهديم كل ما يتصل به من قُرْآنٍ وَسُنَّةٍ وَاجْتِهَادٍ، ولتشويه كل من حمل لواءه من رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحابته، إلى حملته من أعلام السُنَّةِ والتشريع، ولإفساد الحقائق المتصلة به من حضارة وتاريخ.

 

ونحن لا نشك في أن هذه المعارك المتصلة بين الإسلام وخصومه، ستنتهي معركة اليوم منها - كما انتهت معارك الأمس - إلى هزيمتهم وكشف مقاصدهم الخبيئة الخبيثة، وبقاء الإسلام كالطود الشامخ تَرْتَدُّ على سفوحه الرمال والأعاصير لأن المعركة بين الإسلام وخصومه، معركة بين الحق والهوى، وبين العلم والجهل، وبين السماحة والحقد، وبين النور والظلمة، ومن سُنَّةِ اللهِ في الحياة أن ينتصر في هذه المعارك، الحق والعلم والسماحة والنور دائماً وأبداً {بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ} (1).

 

- 2 -

ومن المؤسف أن يسير وراء أعداء الإسلام في الحاضر، فئة مِمَّنْ لا نشك في صدق إسلامهم من العُلَمَاءِ وَالكُتَّابِ، ولكنهم منخدعون بمظهر التحقيق العلمي «الكاذب» الذي يلبسه هؤلاء الأعداء من المُسْتَشْرِقِينَ والمُؤَرِّخِينَ وَالغَرْبِيِّينَ عن حقيقة أهدافهم ومقاصدهم، فإذا هم - وهم مسلمون - ينتهون إلى الغاية التي يسعى إليها أولئك - وَهُمْ يَهُودٌ أَوْ مَسِيحِيُّونَ أَوْ اسْتِعْمَارِيُّونَ - من إشاعة الشك والريبة في الإسلام وَحَمَلَتِهِ من حيث يدرون أو لا يدرون، فالتقى أعداء الإسلام وبعض أبنائه على صعيد واحد لا يُشَرِّفُ هؤلاء ولا أولئك، لا في ميدان العلم، ولا في سِجِلِّ التاريخ.

 

ومن الملاحظ أن هؤلاء الذين ينخدعون من المُسْلِمِينَ بِالمُسْتَشْرِقِينَ والمُؤَرِّخِينَ وَالكَاتِبِينَ من أعداء الإسلام الغَرْبِيِّينَ، لا يوقعهم في الفخ الذي نصبه لهم هؤلاء إلا أحد أربعة أمور غالباً:

1 - إما جهلهم بحقائق التراث الإسلامي وعدم اطلاعهم عليه من ينابيعه الصافية.

--------------------------------------------

(1) [سورة الأنبياء، الآية: 18].
তারা এক অন্ধ ও নির্বোধ গোঁড়ামির বশবর্তী হয়ে ইসলাম সংশ্লিষ্ট কুরআন, সুন্নাহ ও ইজতিহাদ—সবকিছু ধ্বংস করার জন্য এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ থেকে শুরু করে সুন্নাহ ও শরীয়াহর ঝাণ্ডাবাহী বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ পর্যন্ত ইসলামের পতাকাবাহী প্রত্যেককে কলঙ্কিত করার জন্য, আর ইসলাম সংশ্লিষ্ট সভ্যতা ও ইতিহাসের সত্যসমূহকে বিকৃত করার জন্য ধাবিত হয়।

 

আমাদের কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলাম ও তার শত্রুদের মধ্যকার এই নিরবচ্ছিন্ন লড়াইগুলো—আজকের লড়াইটিও গতকালের লড়াইগুলোর মতোই—তাদের পরাজয় এবং তাদের গোপন ও কুটিল উদ্দেশ্যসমূহ উন্মোচনের মাধ্যমে শেষ হবে। আর ইসলাম এক সুউচ্চ পাহাড়ের মতো অটল থাকবে, যার পাদদেশে বালুকা রাশি ও প্রবল ঘূর্ণিবাতাস প্রতিহত হয়ে ফিরে যায়। কেননা ইসলাম ও তার শত্রুদের মধ্যকার এই লড়াই হলো সত্য ও প্রবৃত্তির লড়াই, জ্ঞান ও অজ্ঞতার লড়াই, উদারতা ও বিদ্বেষের লড়াই এবং আলো ও অন্ধকারের লড়াই। জীবনের ক্ষেত্রে এটি আল্লাহর বিধান যে, এই লড়াইগুলোতে সত্য, জ্ঞান, উদারতা এবং আলোই সর্বদা ও চিরকাল জয়ী হয়। {বরং আমি সত্য দিয়ে মিথ্যার ওপর আঘাত হানি, ফলে তা মিথ্যার মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা বিলুপ্ত হয়ে যায়} (১)।

 

- ২ -

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো যে, বর্তমান সময়ে ইসলামের শত্রুদের পেছনে এমন একদল আলেম ও লেখক চলছেন, যাদের ইসলামের একনিষ্ঠতার ব্যাপারে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তারা প্রাচ্যবিদ, ঐতিহাসিক এবং পশ্চিমা শত্রুদের সেই ‘মিথ্যা’ বৈজ্ঞানিক গবেষণার বাহ্যিক রূপ দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন, যা ঐ শত্রুরা তাদের প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ওপর আবৃত করে রেখেছে। ফলে তারা মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও—জেনে বা না জেনে—সেই একই পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন যা ঐ ইহুদি, খ্রিস্টান বা সাম্রাজ্যবাদীরা চায়—অর্থাৎ ইসলাম ও এর বাহকদের সম্পর্কে সংশয় ও সন্দেহ ছড়িয়ে দেওয়া। এভাবে ইসলামের শত্রু এবং তার আপন সন্তানদের একদল একই কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে, যা বিজ্ঞানের ময়দানে কিংবা ইতিহাসের পাতায় তাদের কারো জন্যই সম্মানজনক নয়।

 

এটি লক্ষ্যণীয় যে, যে সমস্ত মুসলিম এই পশ্চিমা প্রাচ্যবিদ, ঐতিহাসিক ও লেখকদের দ্বারা প্রতারিত হন, তারা মূলত চারটি বিষয়ের কোনো একটির কারণেই সাধারণত তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে থাকেন:

১ - হয় ইসলামি ঐতিহ্যের প্রকৃত সত্য সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা এবং এর স্বচ্ছ উৎসসমূহ থেকে সরাসরি জ্ঞান অর্জন না করা।

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১৮]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৪)
2 - وإما انخداعهم بالأسلوب العلمي «المزعوم» الذي يَدَّعِيهِ أولئك الخصوم.

3 - وإما رغبتهم في الشهرة والتظاهر بالتحرر الفكري من ربقة التقليد كما يَدَّعُونَ.

4 - وإما وقوعهم تحت تأثير «أهواء» و «انحرافات» فكرية، لا يجدون مجالاً للتعبير عنها إلا بالتستر وراء أولئك المُسْتَشْرِقِينَ الكَاذِبِينَ.

 

- 3 -

 

في هذا الجو النفسي الذي ذكرناه، أخرج «أَبُو رَيَّةَ» - على ما يبدو - كتابه " أضواء على السُنَّةِ المحمدية "، وقد تصفحت كتابه عند العزم على طبع هذا الكتاب، فرأيت مصادره الأصلية في كل ما خرج به على رأي جمهور المُحَقِّقِينَ من علماء السلف والخلف، لا تتعدى المصادر التالية:

1 - آراء أئمة الاعتزال التي نقلت عنهم في الكتب.

2 - آراء غُلَاةِ الشِيعَةِ التي جهروا بها في مؤلفاتهم.

3 - آراء المُسْتَشْرِقِينَ التي بثوها في كتبهم و" دائرة معارفهم ".

4 - «حكايات» تذكر في بعض كتب الأدب التي كان مؤلفوها موضع الشبهة في صدقهم وتحريهم للحقائق.

5 - «أهواء» دفينة للمؤلف ظلت تحوك في صدره سنين طويلة.

 

أما ما ذكره خلال كتابه من نقول عن مصادر محترمة في الأوساط العلمية الإسلامية، فإنها لا تعدو أن تكون وردت في تلك المصادر في مورد غير الذي أورده المؤلف فوضعها في غير مواضعها، أو أن تكون هي في حد ذاتها حقائق مُسَلَّمَةٍ لدى المُحَقِّقِينَ ولكنهم لا يقصدون منها ما قصده المؤلف، فيذكرها إِيهَامًا للقارئ بأن أصحابها يلتقون معه في فكرته وأهوائه، أو تكون نصوصا «مبتورة» انتزع منها ما يَرُدُّ على المؤلف، ولم يذكر منها إلا ما يريد أن يثبته في البحث الذي يتناوله - وسنرى نموذجا لذلك في بحث أبي هريرة - أو أن تكون من أقوال بعض
2 - অথবা সেই সকল প্রতিপক্ষ যে ‘কথিত’ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির দাবি করে, তার মাধ্যমে তাদের প্রলুব্ধ হওয়া।

3 - অথবা তাদের প্রসিদ্ধি লাভের আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের দাবিমতে তাকলিদ বা অন্ধ অনুকরণের শৃঙ্খল থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তির ভান করা।

4 - অথবা তাদের ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক ‘প্রবৃত্তি’ ও ‘বিচ্যুতি’র প্রভাব পড়ে যাওয়া, যা প্রকাশ করার জন্য তারা সেই মিথ্যাবাদী প্রাচ্যবিদদের আড়ালে লুকানো ছাড়া আর কোনো পথ খুঁজে পায় না।

 

- ৩ -

 

আমরা যে মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করেছি, তার মধ্যেই সম্ভবত ‘আবু রাইয়্যাহ’ তার "আদওয়া আলাস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়াহ" (মুহাম্মাদী সুন্নাহর ওপর আলোকপাত) বইটি প্রকাশ করেছেন। এই বইটি মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমি তার বইটি পড়ে দেখেছি। পূর্বসূরী (সালাফ) এবং উত্তরসূরী (খালাফ) গবেষক আলেমদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের বিরুদ্ধে তিনি যা কিছু উপস্থাপন করেছেন, তার মূল উৎসগুলো নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর বাইরে নয়:

1 - মুতাজিলা ইমামদের মতামত যা বিভিন্ন কিতাবে তাদের পক্ষ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে।

2 - চরমপন্থী শিয়াদের মতামত যা তারা তাদের গ্রন্থাবলীতে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে।

3 - প্রাচ্যবিদদের মতামত যা তারা তাদের বই এবং তাদের "বিশ্বকোষে" প্রচার করেছে।

4 - কিছু সাহিত্যগ্রন্থে বর্ণিত ‘গল্পসমূহ’ যেগুলোর লেখকদের সত্যবাদিতা এবং সত্য অনুসন্ধানের বিষয়টি ছিল সংশয়পূর্ণ।

5 - লেখকের অন্তরে প্রোথিত কিছু ‘প্রবৃত্তি’ যা দীর্ঘ বছর ধরে তার হৃদয়ে ঘুরপাক খাচ্ছিল।

 

আর তিনি তার বইয়ে ইসলামী জ্ঞানতাত্ত্বিক মহলে শ্রদ্ধেয় উৎসগুলো থেকে যে সকল উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেগুলো হয় এমন প্রেক্ষাপটে বর্ণিত হয়েছে যা লেখক যেভাবে উল্লেখ করেছেন তা থেকে ভিন্ন; ফলে তিনি সেগুলোকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করেছেন। অথবা সেগুলো হয়তো গবেষকদের নিকট স্বীকৃত সত্য, কিন্তু তারা এর দ্বারা তা উদ্দেশ্য করেননি যা লেখক বুঝাতে চেয়েছেন। লেখক এগুলো উল্লেখ করেছেন পাঠককে এই বিভ্রান্তিতে ফেলার জন্য যে, এই উদ্ধৃতির মূল লেখকরা তার ধ্যান-ধারণা ও প্রবৃত্তির সাথে একমত। অথবা সেগুলো হতে পারে ‘কর্তিত’ উদ্ধৃতি, যেখান থেকে তিনি সেই অংশগুলো বাদ দিয়েছেন যা লেখকের বক্তব্যের খণ্ডন করে, এবং কেবল সেই অংশটুকুই উল্লেখ করেছেন যা তিনি তার নির্দিষ্ট আলোচনায় প্রমাণ করতে চান—আবু হুরায়রা (রা.) সংক্রান্ত আলোচনায় আমরা এর নমুনা দেখতে পাব—অথবা সেগুলো হতে পারে কিছু ব্যক্তির কথা...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৫)
العلماء نقلاً عن المعتزلة، فينسبها إلى هؤلاء العلماء أنفسهم، كما فعل فيما نقل عن ابن قتيبة، وبالجملة فإن أصحاب هذه المؤلفات والنصوص التي نسبها إليهم لا يلتقون معه في آرائه ونزعاته.

 

وأخطر من ذلك أنك بينما تراه ينسب إلى عمر الغفلة مع كعب الأحبار حين أخذ يخبره عن قُرب مقتله، يستدل بما نسب إلى عمر من يقظته حول أحاديث أبي هريرة لِيُشَكِّكَ فيها، وبينما تراه يتظاهر باحترام الأئمة والعلماء وَالمُحَقِّقِينَ، ينسب إليهم الغفلة والتقصير في التحقيق في السُنَّةِ على الأسلوب الذي يدعو إليه.

 

وأكثر من تَسَتَّرَ بأسمائهم وتظاهر بالنقل عنهم - تأييدًا منهم في زعمه لفكرته التي يدور حولها، كشيخ الإسلام ابن تيمية، والشيخ طاهر الجزائري والإمام محمد عبده، والسيد رشيد رضا رحمهم الله جَمِيعاً - لم يقل واحد منهم بما انتهى إليه، بل إنهم ليبرؤون جميعاً مِمَّا قاله، وخاصة من الكلام «البذيء» في حق أبي هريرة، ومن النتائج الخطيرة التي انتهى إليها بحثه.

 

ومن الملاحظ أنه أكثر من «ثبت» المصادر التي رجع إليها في بحثه، لِيُوهِمَ قُرَّاءَهُ بأهمية كتابه، ومنها كتب في التفسير والحديث والفقه، وعلوم القرآن وَالسُنَّةِ، ليس فيها كلمة واحدة من نتائج بحثه الذي انتهى إليه، وكلها تكذّبه في دعاويه، ومنها مصادر تاريخية ليست من المصادر التي يعتبرها العلماء مرجعا للتحقيق في تدوين السُنّة وَرُوَّاتِهَا وعلمائها، ومن المصادر التاريخية مصادر لا يوثق بها أبداً لدى جمهور المُحَقِّقِينَ، ومنها كتب في الأدب واللغة والنحو والشعر لا رابطة بينها وبين هذا الموضوع الخطير.

 

بقي أن نذكر المصادر الجديرة بالاهتمام عنده، وهي التي تدلنا على صحة «تحقيقه العلمي» ومصادر وحيه في هذا التحقيق - {وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ} (1) وإليك هي:

1 - " تاريخ التمدن الإسلامي " لجرجي زيدان.

2 - " العرب قبل الإسلام " لجُرجي زيدان.

3 - " دائرة المعارف الإسلامية " للمستشرقين.

--------------------------------------------

(1) [سورة الأنعام، الآية: 121].
আলেমগণ মুতাজিলাদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তিনি তা সেই আলেমদের নিজেদের দিকেই আরোপ করেন, যেমনটি তিনি ইবনে কুতায়বাহ থেকে বর্ণিত বর্ণনার ক্ষেত্রে করেছেন। মোদ্দাকথা হলো, এই সকল গ্রন্থ এবং পাঠ্যের রচয়িতাবৃন্দ—যাদের প্রতি তিনি এই বক্তব্যগুলো আরোপ করেছেন—তার চিন্তাধারা ও প্রবণতার সাথে একমত নন।

 

এর চেয়েও বিপজ্জনক বিষয় হলো, আপনি দেখতে পাবেন যে তিনি যখন কা'ব আল-আহবার উমর (রা.)-কে তাঁর আসন্ন মৃত্যু সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছিলেন, তখন উমর (রা.)-এর প্রতি অসাবধানতার অপবাদ আরোপ করছেন; আবার আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসগুলোর ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টির জন্য উমর (রা.)-এর যে সতর্কতা বর্ণিত হয়েছে, সেটিকে তিনি দলীল হিসেবে পেশ করছেন। একদিকে আপনি তাকে ইমাম, আলেম এবং গবেষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ভান করতে দেখেন, আবার অন্যদিকে তিনি সুন্নাহর গবেষণার ক্ষেত্রে তার আহূত পদ্ধতির অনুসরণে তাদের প্রতি অসাবধানতা ও ত্রুটির অভিযোগ আরোপ করেন।

 

তিনি যাদের নামের আড়ালে নিজেকে ঢেকে রেখেছেন এবং যাদের থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার ভান করেছেন—যাতে তার দাবি অনুযায়ী তার চিন্তাধারার সপক্ষে তাদের সমর্থন পাওয়া যায়, যেমন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ, শায়খ তাহের আল-জাজায়িরি, ইমাম মুহাম্মদ আবদুহু এবং সাইয়্যিদ রশিদ রিদা (আল্লাহ তাদের সকলের ওপর রহম করুন)—তাদের মধ্যে কেউই তার উপসংহারের সাথে একমত হননি। বরং তিনি যা বলেছেন তা থেকে তারা সকলেই মুক্ত; বিশেষ করে আবু হুরায়রা (রা.)-এর ব্যাপারে তিনি যে ‘অশালীন’ মন্তব্য করেছেন এবং তার গবেষণার মাধ্যমে যে ভয়াবহ ফলাফল বের করেছেন, তা থেকে তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ।

 

এটিও লক্ষ্যণীয় যে, তিনি পাঠকদের কাছে তার গ্রন্থের গুরুত্ব জাহির করার জন্য গবেষণায় ব্যবহৃত উৎসের একটি দীর্ঘ ‘তালিকা’ প্রদান করেছেন। এর মধ্যে তাফসির, হাদিস, ফিকহ এবং কুরআন ও সুন্নাহর উলুমের কিতাবসমূহ রয়েছে, যেগুলোতে তার গবেষণালব্ধ ফলাফলের একটি শব্দও নেই; বরং এর প্রতিটিই তার দাবিগুলোকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে। এগুলোর মধ্যে এমন কিছু ঐতিহাসিক উৎস রয়েছে যেগুলোকে আলেমগণ সুন্নাহ সংকলন, এর বর্ণনাকারী এবং পণ্ডিতদের সম্পর্কে গবেষণার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য মনে করেন না। আবার ঐতিহাসিক উৎসগুলোর মধ্যে এমন কিছু উৎস রয়েছে যা অধিকাংশ গবেষকের কাছে মোটেও নির্ভরযোগ্য নয়। এছাড়া এমন কিছু সাহিত্য, ভাষা, ব্যাকরণ এবং কবিতার বই রয়েছে যেগুলোর সাথে এই গুরুতর বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।

 

এখন তার কাছে গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য উৎসগুলোর কথা বলা বাকি রয়েছে, যা আমাদের তার ‘বৈজ্ঞানিক গবেষণার’ যথার্থতা এবং এই গবেষণার অনুপ্রেরণার উৎসের সন্ধান দেয়—{আর নিশ্চয়ই শয়তানরা তাদের বন্ধুদের প্রতি ওহী (কুমন্ত্রণা) পাঠায় যাতে তারা তোমাদের সাথে বিতর্ক করে} (১)। আর সেগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১ - জুরজি জিদানের "তারিখুত তামাদ্দুনিল ইসলামি" (ইসলামি সভ্যতার ইতিহাস)।

২ - জুরজি জিদানের "আল-আরব ক্ববলাল ইসলাম" (ইসলামপূর্ব আরব)।

৩ - প্রাচ্যবিদদের "ইসলামি বিশ্বকোষ" (দাইরাতুল মা'আরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ)।

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১২১]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৬)
4 - " الحضارة الإسلامية " لكريمر.

5 - " السيادة العربية " لفلوتن.

6 - " حضارة الإسلام في دار السلام " لإبراهيم اليازجي.

7 - " تاريخ العرب المطول " لفليب حتي، وإدوار جرجس، وجبرائيل جبور.

8 - " تاريخ الشعوب الإسلامية " لكارل بروكلمان.

9 - " المسيحية في الإسلام " للقس إبراهيم لوقا.

10 - " وجهة الإسلام " لجماعة من المُسْتَشْرِقِينَ.

11 - " العقيدة والشريعة في الإسلام " لجولدتسيهر.

 

ومع ذلك فهو يَدَّعِي في آخر كتابه أنه أيد بحوثه بأقوم البراهين وأقوى الأسانيد (ص 354) وأنه رجع إلى مصادر ثابتة لا يرقى الشك إليها ولا يدنو الريب منها! (ص 197).

 

ننتقل بعد ذلك إلى إلقاء نظرة على مصادره الرئيسية الخمسة التي ذكرناها آنفا.

 

-4 -

 

أما آراء أئمة الاعتزال - وقد سماهم بأرباب العقول الصريحة - فقد حققنا في بحث موقف المعتزلة مِنَ السُنَّةِ - في هذا الكتاب - أنهم ما بين مُنْكِرٍ لِلْسُنَّةِ كلها، وما بين مشترط في قبولها شروطاً لا يمكن أن تقع، وَرَجَّحْنَا أن رؤساء الاعتزال - وخاصة الذين طعنوا منهم في الصحابة - كانوا من الرقة في الدين بحيث يصف أحدهم - ثمامة بن أشرس - جمهور المسارعين إلى الصلاة بأنهم «حَمِيرٌ»! وكانوا من الشعوبية وَالكُرْهِ للعرب بحيث يقول ثمامة نفسه: «انْظُرْ إِلَى هَذَا العَرَبِيِّ، يَعْنِي (مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم) مَاذَا فَعَلَ بِالنَّاسِ؟» (*) فماذا ننتظر من هذا الشعوبي الماجن أن يقول عن صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ وما ننتظر أن يكون رأيه في السُنّةِ التي حَقَّقَهَا أئمة الحديث وَمُحَقِّقُوهُمْ؟

--------------------------------------------

[تَعْلِيقُ مُعِدِّ الكِتَابِ لِلْمَكْتَبَةِ الشَّامِلَةِ]:

(*) [قارن بما ورد في صفحة 141 من هذا الكتاب].
৪ - ক্রেমার রচিত "ইসলামি সভ্যতা"।

৫ - ফ্লোটেন রচিত "আরব আধিপত্য"।

৬ - ইব্রাহিম আল-ইয়াজিজি রচিত "দারুস সালামে ইসলামের সভ্যতা"।

৭ - ফিলিপ হিট্টি, এডওয়ার্ড জুরজি এবং জিবরাঈল জাব্বুর রচিত "আরবদের বিস্তারিত ইতিহাস"।

৮ - কার্ল ব্রোকেলম্যান রচিত "মুসলিম জাতিসমূহের ইতিহাস"।

৯ - পাদ্রি ইব্রাহিম লুকা রচিত "ইসলামে খ্রিষ্টধর্ম"।

১০ - একদল প্রাচ্যবিদ রচিত "ইসলামের গতিধারা"।

১১ - গোল্ডজিহার রচিত "ইসলামে আকীদা ও শরীয়াহ"।

 

তা সত্ত্বেও তিনি তার বইয়ের শেষে দাবি করেছেন যে, তিনি তার গবেষণাগুলোকে সুদৃঢ়তম প্রমাণ এবং শক্তিশালী সনদের মাধ্যমে সমর্থন করেছেন (পৃ. ৩৫৪) এবং তিনি এমন সব অকাট্য উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন যেগুলোর ব্যাপারে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই এবং সংশয়ও যার কাছে ঘেঁষতে পারে না! (পৃ. ১৯৭)।

 

এরপর আমরা পূর্বে উল্লিখিত তার পাঁচটি প্রধান উৎসের ওপর নজর দেব।

 

- ৪ -

 

আর ই’তিযালের (মু’তাযিলাদের) ইমামদের মতামতের ব্যাপারে - যাদের তিনি ‘সুস্পষ্ট বিবেকের অধিকারী’ বলে অভিহিত করেছেন - আমরা এই বইয়ে সুন্নাহর প্রতি মু’তাযিলাদের অবস্থানের গবেষণায় নিশ্চিত করেছি যে, তারা হয়তো পুরো সুন্নাহকে অস্বীকারকারী, অথবা সুন্নাহ কবুলের ক্ষেত্রে এমন সব শর্তারোপকারী যা পূরণ হওয়া অসম্ভব। আর আমরা এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছি যে, ই’তিযালের প্রধানরা - বিশেষ করে যারা সাহাবায়ে কেরামদের সমালোচনা করেছেন - দ্বীনের ব্যাপারে এতটাই শিথিল ছিলেন যে, তাদের একজন - সুমামা ইবনে আশরাস - দ্রুত নামাজের দিকে ধাবমান সাধারণ মানুষদের ‘গাধা’ বলে অভিহিত করতেন! তারা ছিল চরম আরব-বিদ্বেষী এবং আরবদের প্রতি ঘৃণায় পূর্ণ, যার কারণে খোদ সুমামা বলতেন: "এই আরবের দিকে তাকাও, অর্থাৎ (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তিনি মানুষের সাথে কী করেছেন?" (*) সুতরাং এই লম্পট আরব-বিদ্বেষী ব্যক্তি থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সম্পর্কে আমরা আর কী আশা করতে পারি? আর হাদিসের ইমামগণ ও গবেষকগণ যে সুন্নাহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, সে সম্পর্কেই বা তার মতামত কী হতে পারে বলে আমরা প্রত্যাশা করি?

--------------------------------------------

[মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য গ্রন্থ প্রস্তুতকারকের মন্তব্য]:

(*) [এই বইয়ের ১৪১ পৃষ্ঠায় যা এসেছে তার সাথে তুলনা করুন]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৭)
والمعتزلة قوم فتنتهم الفلسفة اليونانية والمنطق اليوناني، وما نقل من الفلسفة الهندية والأدب الفارسي. وقد كانوا كلهم أو جمهورهم مِمَّنْ يَمُتُّونَ إلى أصل فارسي فَأَوَّلُوا القرآن لينسجم مع الفلسفة اليونانية، وَكَذَّبُوا الأحاديث التي لا تتفق مع هذه العقلية اليونانية الوثنية، واعتبروا فلاسفة اليونان أنبياء العقل الذي لا خطأ معه، هؤلاء هم الذين قامت المعركة الفكرية بينهم وبين جمهور علماء المُسْلِمِينَ. وَهُمْ الذين يُسَمِّيهِمْ «أَبُو رَيَّةَ» بالعلماء وأصحاب العقول الصريحة، في مقابلة أئمة الحديث وفقهاء الإسلام كمالك والشافعي والبخاري ومسلم وابن المُسَيَّبِ وغيرهم!

 

ومن المعلوم أن أصحاب العقول الراجحة عند «أَبِي رَيَّةَ» الذين اسْتَغَلُّوا سلطة الدولة وحملوا الخلفاء على التنكيل بأئمة المُسْلِمِينَ وتعذيبهم وسجنهم بضعة عشر عَامًا، واستقاء «أَبِي رَيَّةَ» من آراء هؤلاء واضح في كل ما نقله عن ابن قتيبة في " تأويل مختلف الحديث " ومن يرجع إلى ما كتبه ابن قتيبة في كتابه هذا، يجد أن ما نقله أَبُو رَيَّةَ عن ابن قتيبة إنما هو كلام أئمة الاعتزال ضد الصحابة وَالمُحَدِّثِينَ، نقله ابن قتيبة عنهم ثم رَدَّ عليهم بما هو موضوع كتابه كله!! ولكن «أَبَا رَيَّةَ» نسب أقوالهم إلى ابن قتيبة، وهكذا يكون «التحقيق العلمي» و «الأمانة العلمية»!.

 

- 5 -

 

وأما اعتماده على مصادر الشِيعَةِ، فأحب أن أمهد لذلك بكلمة صريحة قبل مؤاخذته على الاعتماد على مصادرهم، نحن نقرأ بالألم الممزوج بالحسرة ما كان من الفتن الدموية بين عَلِيٍّ ومعاوية حول الخلافة، ثم ما جرت وراءها من ذيول لا نزال نلمس آثارها حتى اليوم، وأنا لا أشك في أن أعداء الله واليهود، وكثيرا من الأعاجم الذين استولى الإسلام على بلادهم، كان لهم أثر كبير في إيقاد نار تلك الفتن، ثم في توسيع شقة الخلاف بين المُسْلِمِينَ بالكيد والدسائس واختلاق الأكاذيب على رسول الله صلى الله عليه وسلم في أحاديث ينسبونها إليه، وأعتقد أن جمهور المُسْلِمِينَ - وَهُمْ أَهْلُ السُنَّةِ - كانوا أكثر إنصافاً وتأدباً مع صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهم الذين أثنى الله عليهم في كتابه ورضي عنهم

মুতাজিলা হলো এমন এক দল যাদের গ্রিক দর্শন ও গ্রিক যুক্তিবিদ্যা এবং ভারতীয় দর্শন ও পারস্য সাহিত্য থেকে যা কিছু অনূদিত হয়েছে তা বিভ্রান্ত করেছে। তারা প্রায় সবাই অথবা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ছিল পারস্য বংশোদ্ভূত। তারা কুরআনকে গ্রিক দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য অপব্যাখ্যা করেছে এবং সেই সব হাদিসকে অস্বীকার করেছে যা এই পৌত্তলিক গ্রিক মানসিকতার সাথে মেলে না। তারা গ্রিক দার্শনিকদের নির্ভুল বিবেকের নবী হিসেবে গণ্য করত। এরাই তারা, যাদের সাথে মুসলিম উলামাদের বিশাল জনগোষ্ঠীর বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। আর এরাই তারা, যাদেরকে 'আবু রাইয়্যাহ' আলেম এবং স্বচ্ছ বিবেকের অধিকারী বলে অভিহিত করেছেন—হাদিসের ইমাম ও ইসলামের ফকিহগণ যেমন মালিক, শাফেয়ি, বুখারি, মুসলিম, ইবনুল মুসাইয়িব ও অন্যদের বিপরীতে!

 

এটা সবার জানা যে, 'আবু রাইয়্যাহ'-এর দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ বিবেকের অধিকারী এই ব্যক্তিরাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিল এবং খলিফাদেরকে মুসলিম ইমামদের ওপর নিপীড়ন চালাতে এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁদেরকে নির্যাতন ও কারারুদ্ধ করতে বাধ্য করেছিল। 'তাবিলে মুখতালিফুল হাদিস' গ্রন্থে ইবনে কুতায়বা থেকে আবু রাইয়্যাহ যা কিছু উদ্ধৃত করেছেন, তার সব কিছুতেই এই ব্যক্তিদের মতাদর্শ থেকে তাঁর রসদ গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্ট। যারা ইবনে কুতায়বার এই কিতাবটি দেখবেন, তারা দেখতে পাবেন যে আবু রাইয়্যাহ ইবনে কুতায়বা থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন, তা মূলত সাহাবী ও মুহাদ্দিসগণের বিরুদ্ধে মুতাজিলা ইমামদের বক্তব্য; ইবনে কুতায়বা তাদের পক্ষ থেকে তা উদ্ধৃত করেছেন এবং এরপর সেগুলোর খণ্ডন করেছেন যা তাঁর পুরো কিতাবেরই মূল বিষয়বস্তু!! কিন্তু 'আবু রাইয়্যাহ' তাদের কথাগুলোকে ইবনে কুতায়বার নিজের বক্তব্য হিসেবে চালিয়ে দিয়েছেন; এভাবেই সম্পন্ন হয় তাঁর 'বৈজ্ঞানিক গবেষণা' ও 'জ্ঞানগত আমানতদারি'!.

 

- ৫ -

 

আর শিয়া উৎসগুলোর ওপর তাঁর নির্ভরতার ব্যাপারে আমি তাঁকে অভিযুক্ত করার আগে একটি স্পষ্ট কথা দিয়ে এর ভূমিকা পেশ করতে চাই। আমরা অত্যন্ত বেদনা ও আক্ষেপের সাথে খিলাফতকে কেন্দ্র করে আলী ও মুয়াবিয়ার মধ্যে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী ফিতনাগুলো পাঠ করি, যার পরবর্তী রেশ আমরা আজও অনুভব করি। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহর শত্রু, ইহুদি এবং সেই সব অনারবদের একটি বড় অংশ—যাদের দেশগুলো ইসলাম জয় করেছিল—এই ফিতনার আগুন জ্বালানোর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল। অতঃপর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে মতভেদের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে মিথ্যা হাদিস জাল করে তাঁর দিকে নিসবত করেছিল। আমি বিশ্বাস করি যে, মুসলিমদের বিশাল জনগোষ্ঠী—যারা আহলে সুন্নাত—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ব্যাপারে অনেক বেশি ইনসাফপূর্ণ ও আদব রক্ষা করে চলেন, যারা সেই সব মানুষ যাদের প্রশংসা আল্লাহ স্বয়ং তাঁর কিতাবে করেছেন এবং তাঁদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৮)
وَنَوََّهَ بفضلهم في الهجرة والنصر، فليس من الجائز ولا المعقول ولا اللائق بكرامة دين الله ورسوله أن ينقلب هؤلاء الأصحاب بعد وفاة الرسول إلى الحالة التي تُصَوِّرُهُمْ بها مصادر الشِيعَةِ، ولو أنك قرأت وسمعت ما يكتبونه ويقولونه في مجالسهم في حق هؤلاء الأصحاب، لقلت: إنهم أشبه ما يكونون بعصابة من اللصوص وَقُطَّاعِ الطُرُقِ، لا دين لديهم ولا ضمائر عندهم تَرْدَعُهُمْ عن الكذب والتآمر والتهالك على الدنيا وحيازة أموالها ولذائذها: (لشدَّ ما تحلَّبا شطريها) (1)، مع أن الثابت الصحيح من تاريخهم أنهم كانوا أتقى للهِ وأكرم في السيرة من كل جيل عرفته الإنسانية في القديم والحديث، ومع أن الإسلام لم ينتشر في العالم إلا على أيديهم وبجهادهم ومفارقتهم الأهل والبلد في سبيل الله والحق الذي آمنوا به.

 

ومن الواضح أن السبب الذي بدأت به الفرقة، وهو النزاع حول الأحق بالخلافة ورئاسة الدولة، لم يعد موجوداً في عصرنا هذا، بل منذ عصور كثيرة، فقد أصبحنا جميعاً تحت سلطة المستعمرين، فلم يبق لنا ملك نتقاتل عليه، ولا خلافة نختلف من أجلها، وذلك مِمَّا يقتضي جمع الشمل وتقريب وجهات النظر، وتوحيد كلمة المُسْلِمِينَ على أمر سواء، وإعادة النظر في كل ما خلفته تلك المعارك من أحاديث مكذوبة على صحابة رسول الله وأصفيائه، وَحَمَلَةِ عرشه وحاملي لوائه.

 

وقد بدأ علماء الفريقين في الحاضر يستجيبون إلى رغبة جماهير المُسْلِمِينَ في التقارب، ودعوة مُفَكِّرِيهِمْ إلى التصافي، وأخذ علماء السُنّةِ بالتقارب عَمَلِيًّا، فاتجهوا إلى دراسة فقه الشِيعَةِ ومقارنته بالمذاهب المعتبرة عند الجمهور، وقد أدخلت هذه الدراسة المقارنة في مناهج الدراسة في الكليات وفي كتب المؤلفين في الفقه الإسلامي، وإنني شخصياً - منذ بدأت التدريس في الجامعة - أسير على هذا النهج في دروسي ومؤلفاتي.

--------------------------------------------

(1) كلمة نسبها صاحب " نهج البلاغة " إلى عَلِيٍّ رضي الله عنه في حق أبي بكر وعمر رضي الله عنهما.
তিনি হিজরত ও বিজয়ের ক্ষেত্রে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রশংসা করেছেন। সুতরাং রাসূলের ইন্তেকালের পর এই সাহাবীগণ সেই অবস্থায় পরিবর্তিত হয়ে যাবেন যা শিয়া উৎসগুলো চিত্রিত করে, তা বৈধ নয়, যুক্তিগ্রাহ্য নয় এবং আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর রাসূলের মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণও নয়। আপনি যদি তাদের মজলিসগুলোতে এই সাহাবীদের সম্পর্কে তারা যা লেখে এবং বলে তা পাঠ করেন বা শোনেন, তবে আপনি বলবেন: তারা যেন একদল চোর এবং ডাকাত দল, যাদের কোনো ধর্ম নেই এবং তাদের এমন কোনো বিবেক নেই যা তাদের মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র, দুনিয়ার প্রতি লালসা এবং এর ধন-সম্পদ ও ভোগবিলাস অর্জনের প্রচেষ্টা থেকে বিরত রাখে: (তারা এর উভয় অংশ দোহন করেছে (১)), অথচ তাদের ইতিহাস থেকে প্রমাণিত সত্য হলো, তারা আল্লাহর প্রতি অধিক তাকওয়াবান ছিলেন এবং প্রাচীন ও আধুনিক কালের মানবজাতির পরিচিত সকল প্রজন্মের মধ্যে জীবনচরিতের দিক থেকে অধিক সম্মানিত ছিলেন। উপরন্তু, তাদের হাত ধরেই এবং তাদের জিহাদ ও আল্লাহর পথে এবং তারা যে সত্যে বিশ্বাসী ছিল তার খাতিরে পরিবার ও দেশ ত্যাগের মাধ্যমেই পৃথিবীতে ইসলাম ছড়িয়ে পড়েছিল।

 

এটা স্পষ্ট যে, যে কারণে বিভেদ শুরু হয়েছিল—অর্থাৎ খিলাফত এবং রাষ্ট্রের প্রধান হওয়ার অধিক হকদার কে তা নিয়ে বিবাদ—তা বর্তমান যুগে আর অবশিষ্ট নেই, বরং অনেক যুগ আগে থেকেই নেই। আমরা সকলেই এখন ঔপনিবেশিকদের শাসনের অধীনে চলে এসেছি। ফলে আমাদের আর কোনো রাজত্ব অবশিষ্ট নেই যা নিয়ে আমরা যুদ্ধ করব, আর না কোনো খিলাফত আছে যা নিয়ে আমরা দ্বিমত পোষণ করব। আর এটিই দাবি করে যে, আমরা যেন ঐক্যবদ্ধ হই, দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে কাছাকাছি নিয়ে আসি, মুসলিমদের একই আদর্শে একীভূত করি এবং রাসূলুল্লাহর সাহাবীগণ, তাঁর খাঁটি বন্ধুগণ, তাঁর আরশ বহনকারীগণ এবং তাঁর পতাকা বহনকারীদের সম্পর্কে সেই সমস্ত যুদ্ধের রেখে যাওয়া মিথ্যা বর্ণনাগুলো পুনর্বিবেচনা করি।

 

বর্তমানে উভয় পক্ষের আলেমগণ সাধারণ মুসলিমদের নৈকট্যের আকাঙ্ক্ষায় সাড়া দিতে শুরু করেছেন এবং তাদের চিন্তাবিদদের পারস্পরিক স্বচ্ছতার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন। সুন্নী আলেমগণ কার্যত এই নৈকট্যের পথ গ্রহণ করেছেন। তারা শিয়া ফিকহ অধ্যয়ন এবং জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের নিকট স্বীকৃত মাযহাবগুলোর সাথে তার তুলনামূলক আলোচনার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। এই তুলনামূলক অধ্যয়নটি কলেজগুলোর পাঠ্যসূচিতে এবং ইসলামী ফিকহ বিষয়ক লেখকদের বইপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে—বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করার পর থেকে—আমার পাঠদান এবং রচনায় এই পথ অনুসরণ করে আসছি।

--------------------------------------------

(১) 'নাহজুল বালাগা'র লেখক এই উক্তিটি আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ব্যাপারে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকে সম্পর্কিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৯)
ولكن الواقع أن أكثر علماء الشِيعَةِ لم يفعلوا شيئاً عملياً حتى الآن، وكل ما فعلوه جملة من المجاملة في الندوات والمجالس، مع استمرار كثير منهم في سَبِّ الصَحَابَةِ وإساءة الظن بهم، واعتقاد كل ما يروى في كتب أسلافهم من تلك الروايات والأخبار، بل إن بعضهم يفعل خلاف ما يقول في موضوع التقريب، فبينما هو يتحمس في موضوع التقريب بين السُنَّةِ وَالشِيعَةِ، إذا هو يصدر الكتب المليئة بالطعن في حق الصحابة أو بعضهم مِمَّنْ هم موضع الحب والتقدير من جمهور أَهْلِ السُنَّةِ.

 

في عام 1953 زرت عَبْدَ الحُسَيْنَ شَرَفَ الدِّينِ في بيته بمدينة «صور» في جبل عامل، وكان عنده بعض علماء الشِيعَةِ، فَتَحَدَّثْنَا عن ضرورة جمع الكلمة وإشاعة الوئام بين فريقي الشِيعَةِ وَأَهْلِ السُنَّةِ، وأن من أكبر العوامل في ذلك أن يزور علماء الفريقين بعضهم بعضاً، وإصدار الكتب والمؤلفات التي تدعو إلى هذا التقارب. وكان عَبْدُ الحُسَيْن رحمه الله مُتَحَمِّسًا لهذا الغرض، وخرجت من عنده وأنا فرح بما حصلت عليه من نتيجة، ثم زُرْتُ في بيروت بَعْضَ وجوه الشِيعَةِ من سياسيين وَتُجَّارَ وأدباء لهذا الغرض، ولكن الظروف حالت بيني وبين العمل لتحقيق هذه الفكرة، ثم ما هي إلا فترة من الزمن حتى فوجئت بأن عَبْدَ الحُسَيْنِ أصدر كتاباً في أبي هريرة (*) مليئاً بالسباب والشتائم!! ولم يتح لي حتى الآن قراءة هذا الكتاب الذي ما أزال أسعى للحصول على نسخة منه، ولكني علمت بما فيه مِمَّا جاء في كتاب أَبِي رَيَّةَ من نقل بعض محتوياته ومن ثناء الأستاذ عليه، لأنه يتفق مع أَبِي رَيَّةَ في هذا الصحابي الجليل (1)

--------------------------------------------

(1) ذكرت هنا في هذه المقدمة التمهيدية للطبعة الأولى أني لم أكن حين كتابتها أملك نسخة من كتاب " أبي هريرة " للشيخ عبد الحُسَيْن شرف الدين. ولكني بعد ذلك استطعت شراء نسخة من الكتاب المذكور في طبعته الثانية التي تمت في حياة المؤلف، وبعد أن قرأته كله تأكد لي ما كنت أظنه. فقد انتهى مؤلفه إلى القول «بأن أبا هريرة رضي الله عنه كان منافقاً كافراً وأن الرسول قد أخبر عنه بأنه من أهل النار!.» ولما كان أَبُو رَيَّةَ قد أثنى على هذا الكتاب ومؤلفه، فإنه يكون موافقاً لمؤلفه في تلك النهاية التي انتهى إليها رأيه في أبي هريرة .. ونعوذ بالله من الخذلان وسوء المصير! ..

 

-----------------------

[تَعْلِيقُ مُعِدِّ الكِتَابِ لِلْمَكْتَبَةِ الشَّامِلَةِ]:

(*) [طبع كتاب " أبو هريرة " لعبد الحسن شرف الدين الموسوي، الطبعة الثانية: 1375 هـ - 1956 م في 296 صفحة، منشورات الطبعة الحيدرية في النجف].
কিন্তু বাস্তব বিষয় হলো এই যে, অধিকাংশ শিয়া আলেম এখন পর্যন্ত বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি এবং তারা যা কিছু করেছেন তা হলো বিভিন্ন সেমিনার ও মজলিসগুলোতে কিছু সৌজন্য প্রদর্শন মাত্র। যেখানে তাদের অনেকে সাহাবীগণকে গালিগালাজ করা এবং তাদের ব্যাপারে কুধারণা পোষণ করা অব্যাহত রেখেছেন এবং তাদের পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহে বর্ণিত ঐ সকল বর্ণনা ও সংবাদগুলোর সবকিছুর ওপর বিশ্বাস পোষণ করে যাচ্ছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ ‘তাকরিব’ বা নৈকট্য সৃষ্টির বিষয়ে যা বলেন, তার বিপরীত কাজ করেন। যখন তিনি আহলুস সুন্নাহ ও শিয়াদের মধ্যে নৈকট্য সৃষ্টির বিষয়ে অতি উৎসাহী ভাব দেখান, ঠিক তখনই তিনি সাহাবীগণের হকের ব্যাপারে—অথবা এমন কিছু সাহাবীর ব্যাপারে যারা আহলুস সুন্নাহর জনসাধারণের নিকট ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার পাত্র—নিন্দামন্দ ও কুৎসাভরা বই প্রকাশ করেন।

 

১৯٥৩ সালে আমি জাবালে আমেলের ‘সুর’ শহরে আবদুল হুসাইন শারাফউদ্দীনকে তার বাড়িতে দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে তার কাছে কিছু শিয়া আলেম উপস্থিত ছিলেন। তখন আমরা শিয়া ও আহলুস সুন্নাহ—এই উভয় দলের মধ্যে ঐক্য এবং সম্প্রীতি প্রসারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলি এবং (আমরা বলি যে) এর অন্যতম বড় মাধ্যম হলো উভয় পক্ষের আলেমদের একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং এই নৈকট্যের আহ্বান জানিয়ে বই-পুস্তক ও রচনা প্রকাশ করা। আবদুল হুসাইন (রহিমাহুল্লাহ) এই মহৎ উদ্দেশ্যে বেশ উৎসাহী ছিলেন। আমি সেখান থেকে অর্জিত ফলাফলে সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে আসি। অতঃপর এই উদ্দেশ্যেই বৈরুতে শিয়াদের কিছু বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী ও সাহিত্যিকদের সাথে দেখা করি। কিন্তু পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি আমাকে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা প্রদান করে। তারপর কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আমি হঠাৎ জানতে পেরে অত্যন্ত বিস্মিত হই যে, আবদুল হুসাইন আবু হুরায়রা (*) সম্পর্কে গালিগালাজ ও নিন্দামন্দপূর্ণ একটি কিতাব প্রকাশ করেছেন!! এই বইটি পড়ার সুযোগ এখনও আমার হয়নি, তবে আমি এর একটি কপির সন্ধানে আছি। কিন্তু আমি আবু রাইয়্যাহ-এর কিতাবে এর কিছু উদ্ধৃতি ও লেখকের প্রতি তার প্রশংসা দেখে এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে পেরেছি। কারণ তিনি (আবু রাইয়্যাহ) এই মহান সাহাবীর ব্যাপারে তার (শারাফউদ্দীনের) সাথে একমত পোষণ করেন।(১)

--------------------------------------------

(১) আমি প্রথম সংস্করণের এই প্রাথমিক ভূমিকায় উল্লেখ করেছিলাম যে, এটি লেখার সময় আমার কাছে শেখ আবদুল হুসাইন শারাফউদ্দীনের ‘আবু হুরায়রা’ কিতাবটির কোনো কপি ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে আমি উক্ত কিতাবটির দ্বিতীয় সংস্করণটি ক্রয় করতে সক্ষম হই, যা লেখকের জীবদ্দশাতেই প্রকাশিত হয়েছিল। পুরো বইটি পড়ার পর আমার কাছে সেই বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে যা আমি ধারণা করেছিলাম। কারণ এর লেখক এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ‘আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একজন মুনাফিক ও কাফের ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত!’ যেহেতু আবু রাইয়্যাহ এই কিতাব ও তার লেখকের প্রশংসা করেছেন, সেহেতু আবু হুরায়রা সম্পর্কে লেখকের ঐ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সাথে তিনিও একমত... আমরা লাঞ্ছনা ও মন্দ পরিণাম থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই!

 

-----------------------

[শামেলা লাইব্রেরির জন্য গ্রন্থ প্রস্তুতকারকের মন্তব্য]:

(*) [আবদুল হাসান শারাফউদ্দীন আল-মুসাউয়ীর কিতাব ‘আবু হুরায়রা’ মুদ্রিত হয়েছে, দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৩৭৫ হিজরী - ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৯৬, নাজাফের আল-মাকতাবাতুল হায়দারিয়া থেকে প্রকাশিত।]
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১০)
لقد عجبت من موقف عَبْدِ الحُسَيْن في كلامه وفي كتابه معاً، ذلك الموقف الذي لا يدل على رغبة صادقة في التقارب ونسيان الماضي، وأرى الآن نفس الموقف من فريق دُعَاةِ التقريب من علماء الشِيعَةِ، إذ هم بينما يقيمون لهذه الدعوة الدُّورَ، وينشئون المجلات في القاهرة، ويستكتبون فريقاً من علماء الأزهر لهذه الغاية، لم نر أثراً لهم في الدعوة لهذا التقارب بين علماء الشِيعَةِ في العراق وإيران وغيرهما، فلا يزال القوم مُصِرِّينَ على ما في كتبهم من ذلك الطعن الجارح والتصوير المكذوب لما كان بين الصحابة من خلاف، كَأَنَّ المقصود من دعوة التقريب هي تقريب أَهْلِ السُنَّة إلى مذهب الشِيعَةِ، لا تقريب المذهبين كل منهما إلى الآخر.

 

ومن الأمور الجديرة بالاعتبار أن كل بحث علمي في تاريخ السُنَّةِ أو المذاهب الإسلامية مِمَّا لا يتفق مع وجهة نظر الشِيعَة، يقيم بعض علمائهم النكير على من يبحث في ذلك، ويتسترون وراء التقريب، ويتهمون صاحب هذا البحث بأنه متعصب معرقل لجهود المصلحين في التقريب، ولكن كتاباً ككتاب المرحوم الشيخ «عبد الحُسَيْن شرف الدين» في الطعن بأكبر صحابي موثوق في روايته للأحاديث في نظر جمهور أهل السُنَّة، لا يراه أولئك العاتبون أو الغاضبون عملاً مُعرقِلاً لجهود الساعين إلى التقريب! ..

 

ولست أحصر المثال بكتاب " أبي هريرة " وفيها من التشنيع على عائشة أم المؤمنين وعلى جمهور الصحابة ما لا يحتمل سماعه إنسان ذو وجدان وضمير، مِمَّا يُذَكِّّرُ الناسَ بآثار الماضي، ويؤجج نيران التفرقة من جديد، وكتاب «أَبِي رَيَّةَ» هو من هذه الكتب التي إن رضي الشِيعَةُ عما جاء فيه بحق الصحابي الجليل أبي هريرة رضي الله عنه، فإنه - بلا شك - سبب لفتح أبواب العداوة من جديد، أو على الأقل سبب للأخذ والرد وتذكر موقف الشِيعَةِ من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

 

فإذا كنا نأخذ عليه اعتماده على مصادر الشِيعَةِ في كتابه المذكور، وإذا كنا نتحدث عن موقف الشِيعَةِ من الحديث فإنما نبحث ذلك، أَوَلاًً: في حدود النطاق
আমি আবদ আল-হুসাইনের বক্তব্য এবং তার কিতাব—উভয় ক্ষেত্রেই তার অবস্থানে বিস্মিত হয়েছি; এমন এক অবস্থান যা সম্প্রীতি স্থাপন এবং অতীতকে ভুলে যাওয়ার কোনো আন্তরিক আকাঙ্ক্ষার পরিচয় দেয় না। আমি এখন শিয়া আলেমদের মধ্যকার ‘তাকরিব’ (নৈকট্য) এর প্রবক্তাদের একটি দলের মধ্যেও একই অবস্থান দেখতে পাচ্ছি। কারণ তারা যখন কায়রোতে এই দাওয়াতের জন্য কেন্দ্র স্থাপন করছেন, ম্যাগাজিন প্রকাশ করছেন এবং এই উদ্দেশ্যে আল-আজহারের একদল আলেমকে দিয়ে লেখা করাচ্ছেন, তখন আমরা ইরাক, ইরান এবং অন্যান্য স্থানে শিয়া আলেমদের মধ্যে এই সম্প্রীতির দাওয়াতের কোনো প্রভাব দেখতে পাইনি। বরং তারা এখনো তাদের কিতাবসমূহে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য সম্পর্কে সেই বেদনাদায়ক কুৎসা এবং মিথ্যা চিত্রায়নের ওপর অটল রয়েছেন। মনে হচ্ছে যেন ‘তাকরিব’ বা সম্প্রীতির দাওয়াতের উদ্দেশ্য হলো আহলে সুন্নাতকে শিয়া মাজহাবের নিকটবর্তী করা, উভয় মাজহাবকে একে অপরের নিকটবর্তী করা নয়।

 

আরেকটি প্রণিধানযোগ্য বিষয় হলো, সুন্নাহর ইতিহাস বা ইসলামি মাজহাবসমূহ নিয়ে যেকোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা যা শিয়াদের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মেলে না, তাদের কিছু আলেম সেই গবেষকের কঠোর প্রতিবাদ করেন এবং সম্প্রীতির আড়ালে আত্মগোপন করেন। তারা এই গবেষণার লেখককে ‘গোঁড়া’ এবং সম্প্রীতির ক্ষেত্রে সংস্কারকদের প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টিকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেন। অথচ মরহুম শেখ ‘আবদ আল-হুসাইন শরাফ উদ্দিন’-এর কিতাবের মতো একটি কিতাব—যাতে আহলে সুন্নাত জামাতের নিকট হাদিস বর্ণনায় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মহান সাহাবীর নিন্দা করা হয়েছে—সেটিকে সেই অভিযোগকারী বা ক্রুদ্ধ ব্যক্তিরা সম্প্রীতি অন্বেষণকারীদের প্রচেষ্টায় বাধা হিসেবে দেখেন না! ..

 

আর আমি কেবল ‘আবু হুরাইরা’ কিতাবটিকেই উদাহরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছি না, যাতে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা এবং সাধারণ সাহাবায়ে কেরামের ওপর এমন জঘন্য অপবাদ রয়েছে যা কোনো বিবেকবান ও সচেতন মানুষের পক্ষে শোনা সম্ভব নয়; যা মানুষকে অতীতের স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দেয় এবং নতুন করে বিভেদের আগুন উসকে দেয়। আর ‘আবু রাইয়্যাহ’-এর কিতাবটিও সেই সব কিতাবগুলোর একটি, যাতে মহান সাহাবী আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা যদি শিয়ারা গ্রহণ করে নেয়, তবে তা নিঃসন্দেহে নতুন করে শত্রুতার দ্বার উন্মোচনের কারণ হবে, অথবা অন্ততপক্ষে বাদানুবাদ এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের প্রতি শিয়াদের অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার কারণ হবে।

 

সুতরাং আমরা যদি তার উল্লেখিত কিতাবে শিয়া উৎসগুলোর ওপর নির্ভর করার বিষয়ে আপত্তি জানাই, এবং যদি আমরা হাদিস সম্পর্কে শিয়াদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করি, তবে তা আমরা আলোচনা করি, প্রথমত: নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১১)
العلمي التاريخي، وحقائق التاريخ لا مجاملة في الحديث عنها حين يكون المجال مجال علم ودراسة وتحقيق، وثَانِياً: لتصحيح الأخطاء التاريخية التي استمدها من كتب الشِيعَةِ.

 

ولقد كنت كتبت بَحْثَ موقف الشِيعَةِ مِنَ السُنَّةِ في هذا الكتاب - وهو أطروحة علمية تقدم إلى علماء في معهد علمي لنيل شهادة علمية - ومع ذلك فلقد كنت أُرْجِئ نشر هذا الكتاب - المقدم للطبع الآن - لأسباب عديدة:

منها أنني أريد أن أقدم لبحثي ذاك بتمهيد أوضح فيه رأيي بضرورة التقارب بين السُنَّةِ وَالشِيعَةِ في هذا العصر الذي نعيش فيه، وأنني لم أقصد ببحثي الإساءة إلى شعور الشِيعَةِ أو استثارة عداوتهم، لا لشيء إلا لأني كنت وما أزال من دُعَاةِ التقارب الصحيح وتصفية آثار الماضي.

 

ولما أخذت إحدى المجلات العلمية مني النسخة الوحيدة التي عندي من كتابي هذا رغبة في نشر بعض أبحاثه، لَفَتَ نظر المسؤول عنها إلى أن فيه بعض الأبحاث التي أريد التمهيد لها ببعض الإيضاح، ولكنني فوجئت وأنا في بيروت للاستشفاء أن هذه المجلة نشرت البحث المتعلق بموقف الشِيعَةش وَالسُنَّةِ، وأن ذلك ترك أثراً غير مستحب في الأوساط الشِيعِيَّةِ، وَعَلَّقَتْ عليه بعض مجلاتهم، أخبرني بذلك الشاعر الكبير الأستاذ «أحمد الصافي النجفي» الذي أقدر فضله وأدبه، فأوضحت له موقفي من هذا الموضوع وأنه نشر بغير علمي.

 

وهكذا أريد أن ألفت النظر الآن مرة أخرى إلى أن كل ما جاء في هذا الكتاب إنما هو عرض تاريخي لَا بُدَّ منه لكل من يُؤَرِّخُ لِلْسُنَّةِ ويتحدث عن مراحل جمعها وتدوينها. ولا يستطيع أن يغفل ذلك عالم يحترم نفسه ويريد من العلماء أن يحترموا كتابه، ولم أكتب فيه إلا ما أعتقد أن البحث العلمي يؤيده ويثبته.

 

ومع هذا فليس فيما كتبته ما يسيء إلى أية شخصية يحترمها الشِيعَةُ ويُجِلُّونَهَا كما يفعلون هم بالنسبة إلى جمهور الصحابة، ذلك أنا نُحِبُّ عَلِيًّا رضي الله عنه ونُجلُّهُ ونعرف مكانته من الإسلام والعلم والفضل، كما نُحِبُّ أئمة أهل البيت من
বৈজ্ঞানিক ঐতিহাসিক এবং ইতিহাসের সত্য নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে কোনো শিষ্টাচার বা তোষামোদ নেই যখন বিষয়টি জ্ঞান, গবেষণা এবং সত্যানুসন্ধানের ক্ষেত্র হয়। দ্বিতীয়ত: শিয়াদের কিতাবসমূহ থেকে সংগৃহীত ঐতিহাসিক ভুলগুলো সংশোধন করার জন্য।

 

আমি এই গ্রন্থে সুন্নাহর প্রতি শিয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একটি গবেষণা লিখেছিলাম—যা একটি উচ্চতর ডিগ্রি লাভের উদ্দেশ্যে একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানে আলেমদের কাছে পেশকৃত একটি বৈজ্ঞানিক অভিসন্দর্ভ—তা সত্ত্বেও, বর্তমানে মুদ্রণের জন্য পেশকৃত এই বইটির প্রকাশনা আমি বিভিন্ন কারণে স্থগিত রেখেছিলাম:

তার মধ্যে একটি হলো, আমি আমার সেই গবেষণার শুরুতে এমন একটি ভূমিকা প্রদান করতে চেয়েছিলাম যেখানে আমরা বর্তমানে যে যুগে বাস করছি তাতে সুন্নাহ ও শিয়াদের মধ্যে নিকটবর্তিতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমার মতামত স্পষ্ট করব। আমার গবেষণার উদ্দেশ্য শিয়াদের অনুভূতিতে আঘাত করা বা তাদের শত্রুতাকে উস্কে দেওয়া ছিল না; বরং আমি সঠিক ঐক্য ও অতীতের রেশ দূর করার একজন আহ্বানকারী ছিলাম এবং এখনও আছি।

 

যখন একটি বৈজ্ঞানিক সাময়িকী আমার এই বইটির একমাত্র কপিটি আমার থেকে এর কিছু অংশ প্রকাশের উদ্দেশ্যে নিল, তখন আমি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলকে বিষয়টি নজরে আনলাম যে, এতে এমন কিছু গবেষণা রয়েছে যেগুলোর শুরুতে আমি কিছু স্পষ্টীকরণ দিতে চাই। কিন্তু চিকিৎসার জন্য বৈরুতে থাকাকালীন আমি বিস্মিত হয়ে জানতে পারলাম যে, এই সাময়িকীটি সুন্নাহ ও শিয়াদের অবস্থান সংক্রান্ত সেই গবেষণাটি প্রকাশ করে দিয়েছে এবং তা শিয়া মহলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তাদের কিছু সাময়িকী এর ওপর মন্তব্যও করেছে। এ সম্পর্কে আমাকে প্রখ্যাত কবি উস্তাদ 'আহমাদ আস-সাফি আন-নাজাফি' অবহিত করেন, যার শ্রেষ্ঠত্ব ও সাহিত্যপ্রতিভাকে আমি মূল্যায়ন করি। আমি তার কাছে এই বিষয়ে আমার অবস্থান পরিষ্কার করি এবং জানাই যে, এটি আমার অগোচরে প্রকাশিত হয়েছে।

 

এভাবে আমি এখন পুনরায় দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, এই বইটিতে যা কিছু এসেছে তা মূলত একটি ঐতিহাসিক উপস্থাপনা যা সুন্নাহর ইতিহাস রচনাকারীদের জন্য এবং এর সংকলন ও লিপিবদ্ধকরণের পর্যায়গুলো নিয়ে আলোচনাকারীদের জন্য অপরিহার্য। আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কোনো আলেম যিনি চান যে আলেম সমাজ তার বইটিকে গুরুত্ব দিক, তিনি একে উপেক্ষা করতে পারেন না। বৈজ্ঞানিক গবেষণা যা সমর্থন ও প্রমাণ করে, আমি এতে তা ছাড়া আর কিছুই লিখিনি।

 

তা সত্ত্বেও, আমি যা লিখেছি তাতে শিয়ারা সম্মান ও শ্রদ্ধা করে এমন কোনো ব্যক্তিত্বের অবমাননা করা হয়নি—যেমনটি তারা সাহাবায়ে কেরামের অধিকাংশের ক্ষেত্রে করে থাকে। কারণ আমরা আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ভালোবাসি, তাকে সম্মান করি এবং ইসলাম, জ্ঞান ও মর্যাদার ক্ষেত্রে তার উচ্চস্থান সম্পর্কে অবগত আছি। ঠিক তেমনিভাবে আমরা আহলে বায়তের ইমামদের ভালোবাসি...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১২)
ذرية عَلِيٍّ رضي الله عنه ونحترم علمهم وفضلهم، وحبذا لو يفعل الشِيعَةُ كما نفعل، فنلتقي على كلمة سواء!.

 

وأعود فأكرر دعوتي للمخلصين من علماء الشِيعَةِ، وفيهم الوَاعُونَ الراغبون في جمع كملة المُسْلِمِينَ، أن نواجه جميعاً المشاكل التي يعانيها العالم الإسلامي اليوم، من انتشار الدعوات الهدامة التي تجتث جذور العقيدة في قلوب شباب السُنَّةِ وشباب الشِيعَةِ على السواء، بل هي أقوى على ذلك بالنسبة لقلوب شباب الشِيعَةِ، ولعل في الحوادث الجارية الآن (1) في بعض بلادنا العربية ما يؤكد ما أقول به، وأكرر دعوتي بوضع أسس التقارب الصحيح العملي لا القولي.

 

وفي مقدمة ذلك الاتفاق على تقدير صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، الذين على أيديهم انتقل هذا الدين إلينا، وبواسطتهم أخرجنا اللهُ من الظلمات إلى النور.

 

- 6 -

 

أما المُسْتَشْرِقُونَ الذين اتَّخَذَ منهم أَبُو رَيَّةَ تكأة لآرائه، فقد كتبت عنهم كلمة موجزة في كتابي هذا، قبل أن أزور أكثر جامعات أوروبا عام 1956 وأختلط بهم وأتحدث إليهم وأناقشهم.

 

فلما تم لي ذلك ازددت إيمانا بما كتبته عنهم واقتناعاً بخطرهم على تراثنا الإسلامي كله سواء كان تشريعياً أم حضارياً. لما يملأ نفوسهم من عصبية تأكل قلوبهم حقداً ضد الإسلام والعرب والمُسْلِمِينَ.

 

كان أول من اجتمعت بهم هو البروفسور «أَنْدِرْسُونْ» رئيس قسم قوانين الأحوال الشخصية المعمول بها في العالم الإسلامي - في معهد الدراسات الشرقية في جامعة لندن - وهو متخرج من كلية اللاهوت في جامعة كمبردج، وكان من أركان حرب الجيش البريطاني في مصر خلال الحرب العالمية الثانية - كما حدثني هو بذلك عن نفسه - تعلم اللغة العربية من دروس اللغة العربية التي كان يلقيها بعض علماء الأزهر في الجامعة الأمريكية في القاهرة ساعة كل أسبوع لِمُدَّةِ سَنَةٍ

--------------------------------------------

(1) أي في سَنَةِ 1960 عند ظهور الطبعة الأولى للكتاب.
আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর এবং আমরা তাঁদের জ্ঞান ও মর্যাদাকে সম্মান করি। শিয়াগণ যদি আমাদের মতো করত তবে কতই না ভালো হতো, তাহলে আমরা একটি অভিন্ন অবস্থানে মিলিত হতে পারতাম!.

 

আমি শিয়া আলেমদের মধ্য থেকে সেই সব মুখলিস ব্যক্তিদের প্রতি আমার দাওয়াতের পুনরাবৃত্তি করছি—যাদের মধ্যে এমন সচেতন লোক রয়েছেন যারা মুসলিমদের ঐক্য চান—যেন আমরা সম্মিলিতভাবে সেই সব সমস্যার মোকাবিলা করি যা আজ মুসলিম বিশ্ব ভোগ করছে। এর মধ্যে রয়েছে সেই ধ্বংসাত্মক প্রচারণার বিস্তার যা আহলুস সুন্নাহ ও শিয়া উভয় শ্রেণির যুবকদের অন্তর থেকে আকিদার শিকড় উপড়ে ফেলছে; বরং শিয়া যুবকদের অন্তরের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি শক্তিশালী। সম্ভবত আমাদের কিছু আরব ভূখণ্ডে বর্তমানে চলমান ঘটনাবলী (১) আমার এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করে। আমি কেবল মৌখিক নয়, বরং বাস্তব ও সঠিক নৈকট্য অর্জনের ভিত্তি স্থাপনের জন্য আমার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করছি।

 

আর এর অগ্রভাগে রয়েছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবাগণের মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও ঐকমত্য পোষণ করা, যাঁদের মাধ্যমে এই দীন আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং যাঁদের উসিলায় আল্লাহ আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন।

 

- ৬ -

 

আর সেই সব প্রাচ্যবিদ যাদেরকে আবু রাইয়্যাহ তাঁর মতামতের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন, আমি ১৯৫৬ সালে ইউরোপের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণ করার এবং তাঁদের সাথে মেলামেশা, কথোপকথন ও বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার পূর্বেই এই বইটিতে তাঁদের সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত কথা লিখেছিলাম।

 

যখন আমার সেই সফর সম্পন্ন হলো, তখন তাঁদের সম্পর্কে আমি যা লিখেছিলাম তার প্রতি আমার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হলো এবং আমাদের সমগ্র ইসলামি ঐতিহ্য—চাই তা শরয়ি হোক বা তামাদ্দুনিক—তার ওপর তাঁদের বিপদের বিষয়ে আমার আস্থা আরও বেড়ে গেল। কারণ তাঁদের অন্তরে এমন গোঁড়ামি ও বিদ্বেষ পূর্ণ হয়ে আছে যা ইসলাম, আরব ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাঁদের হৃদয়ে চরম ঘৃণা সৃষ্টি করে।

 

আমি যাঁদের সাথে প্রথম সাক্ষাৎ করেছিলাম তাঁদের মধ্যে একজন হলেন প্রফেসর 'অ্যান্ডারসন', যিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্য শিক্ষা ইনস্টিটিউটে মুসলিম বিশ্বে প্রচলিত ব্যক্তিগত আইন বিভাগের প্রধান ছিলেন। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব (থিওলজি) অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিশরে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন—যেমনটি তিনি নিজেই আমাকে বলেছিলেন। তিনি কায়রোর আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে আল-আজহারের জনৈক আলেমের দেওয়া আরবি ভাষার পাঠ থেকে সপ্তাহে এক ঘণ্টা করে এক বছর মেয়াদে আরবি শিখেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ ১৯৬০ সালে, যখন বইটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৩)
واحدة. كما تَعَلَّمَ العَامِيَّةَ المِصْرِيَّةَ من اختلاطه بالشعب المصري حين توليه عمله العسكري الآنف الذكر. وَتَخَصَّصَ في دراسة الإسلام من المحاضرات العامة التي كان يلقيها المرحوم «أحمد أمين» والدكتور «طه حسين» والمرحوم الشيخ «أحمد إبراهيم» .... وبهذه الدراسات العميقة! في اللغة والإسلام استحق لقب «بروفسور» وانتقل من الخدمة العسكرية بعد الحرب إلى رئاسة قسم قوانين الأحوال الشخصية في جامعة «لندن» كما ذكرنا.

 

لا أريد أن أذكر أمثلة عن تعصبه ضد الإسلام - وقد حدثني كثيراً عن ذلك المرحوم الدكتور «حمود غرابة» مدير المركز الثقافي الإسلامي في لندن - حينذاك - ولكني أكتفي بأن أذكر ما حدثني به البروفسور «أَنْدِرْسُونْ» نفسه من أنه أسقط أحد المتخرجين من الأزهر الذين أرادوا نوال شهادة الدكتوراه في التشريع الإسلامي من جامعة لندن لسبب واحد هو أنه قدم أطروحته عن حقوق المرأة في الإسلام وقد برهن فيها على أن الإسلام أعطى المرأة حقوقها الكاملة، فعجبت من ذلك وسألت هذا المستشرق: «وَكَيْفَ أَسْقَطْتَهُ وَمَنَعْتَهُ مِنْ نَوَالِ الدُّكْتُورَاهْ لِهَذَا السَّبَبِ، وَأَنْتُمْ تَدَّعُوْنَ حُرِيَّةِ الفِكْرِ فِي جَامِعَاتِكُمْ؟» قَالَ: «لأَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: " الإِسْلَامِ يُمْنَحُ المَرْأَةَ كَذَا، وَالإِسْلَامُ قَرَّرَ لِلْمَرْأَةِ كَذَا "، فَهَلْ هُوَ نَاطِقٌ رَسْمِيٌّ بِاسْمِ الإِسْلَامِ؟ هَلْ هُوَ أَبُو حَنِيفَةَ أَوْ الشَّافِعِيَّ حَتَّىَ يَقُولَ هَذَا الكَلَامَ وَيَتَكَلَّمُ بِاسْمِ الإِسْلَامِ؟ إِنَّ آراءَهُ فِي حُقُوقِ المَرْأَةِ لَمْ يَنُصَّ عَلَيْهَا فُقَهَاءُ الإِسْلَامِ الأَقْدَمُونَ، فَهَذَا رَجُلٌ مَغْرُورٌ بِنَفْسِهِ حِينَ ادَّعَى أَنَّهُ يَفْهَمُ الإِسْلَامِ أَكْثَرَ مِمَّا فَهِمَهُ أَبُو حَنِيفَةَ وَالشَّافِعِيَّ».

 

هذا هو كلام هذا المستشرق الذي لا يزال حَيًّا يرزق، ولا أدري إن كان لا يزال في عمله في جامعة لندن أم أحيل إلى التقاعد (المعاش).

 

وَزُرْتُ جامعة أدنبرة «أسكتلندا» فكان المستشرق الذي يرأس الدراسات الإسلامية فيها قِسِّيسًا بلباس مدني وقد وضع لقبه الديني مع اسمه على باب بيته، وإني لأشهد أنه كان دمث الأخلاق لطيف الحديث.

 

وفي جامعة «جلاسكو» (أسكتلندا أيضاًً) كان رئيس الدراسات العربية فيه قِسِّيسًا عاش رئيساً للإرسالية التبشيرية في القدس قرابة عشرين سَنَةً حتى
একটিই। অনুরূপভাবে তিনি তার পূর্বোক্ত সামরিক দায়িত্ব পালনকালে মিসরীয় জনগণের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে আম্মিয়া (আঞ্চলিক) মিসরীয় ভাষা শিখেছিলেন। তিনি মরহুম ‘আহমাদ আমিন’, ডক্টর ‘তহা হুসাইন’ এবং মরহুম শেখ ‘আহমাদ ইব্রাহিম’ প্রদত্ত সাধারণ বক্তৃতামালা থেকে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে বিশেষত্ব অর্জন করেন...। ভাষা ও ইসলাম বিষয়ে এই গভীর গবেষণার মাধ্যমেই তিনি ‘প্রফেসর’ উপাধি পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হন এবং যুদ্ধের পর সামরিক চাকরি থেকে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যক্তিগত আইন (পারসোনাল ল) বিভাগের প্রধান পদে স্থানান্তরিত হন, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।

 

আমি ইসলামের বিরুদ্ধে তার গোঁড়ামির উদাহরণ দিতে চাই না—লন্ডনের তৎকালীন ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক মরহুম ডক্টর ‘হামুদ গারাবা’ আমাকে এ সম্পর্কে অনেক কিছু বলেছেন—তবে প্রফেসর ‘অ্যান্ডারসন’ নিজে আমাকে যা বলেছিলেন আমি শুধু সেটুকুই উল্লেখ করতে চাই। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামি আইনের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি প্রত্যাশী আল-আজহারের একজন স্নাতককে একটি মাত্র কারণে অনুত্তীর্ণ করে দিয়েছিলেন। কারণটি হলো, সেই ছাত্র ইসলামে নারীর অধিকার বিষয়ে তার থিসিস উপস্থাপন করেছিল এবং তাতে প্রমাণ করেছিল যে ইসলাম নারীকে তার পূর্ণ অধিকার দিয়েছে। আমি এতে বিস্মিত হলাম এবং এই প্রাচ্যবিদকে জিজ্ঞাসা করলাম: “আপনারা আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে চিন্তার স্বাধীনতার দাবি করা সত্ত্বেও কেন আপনি তাকে এই কারণে অনুত্তীর্ণ করলেন এবং তাকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে বাধা দিলেন?” তিনি বললেন: “কারণ সে বলছিল: ‘ইসলাম নারীকে এরূপ অধিকার দান করে, এবং ইসলাম নারীর জন্য এরূপ নির্ধারণ করেছে’। সে কি ইসলামের কোনো সরকারি মুখপাত্র? সে কি আবু হানিফা বা শাফিঈ যে সে এই সব কথা বলবে এবং ইসলামের পক্ষ থেকে কথা বলবে? নারীর অধিকার সম্পর্কে তার এই মতামতের কথা ইসলামের প্রাচীন ফকীহগণ বর্ণনা করেননি। সুতরাং সে একজন অহংকারী ব্যক্তি যখন সে দাবি করেছে যে সে আবু হানিফা ও শাফিঈর চেয়েও ইসলামকে বেশি বোঝে।”

 

এটিই হলো সেই প্রাচ্যবিদের কথা, যিনি এখনো জীবিত আছেন। আমি জানি না তিনি এখনো লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন নাকি অবসরে চলে গেছেন।

 

আমি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় (স্কটল্যান্ড) পরিদর্শন করেছি। সেখানে ইসলামি শিক্ষা বিভাগের প্রধান ছিলেন সাধারণ পোশাক পরিহিত একজন পাদ্রি। তিনি তার বাড়ির দরজায় তার নামের সাথে ধর্মীয় উপাধিও লাগিয়ে রেখেছিলেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি অত্যন্ত সদাচারী ও মিষ্টভাষী ছিলেন।

 

আর গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে (এটিও স্কটল্যান্ডে) আরবি শিক্ষা বিভাগের প্রধান ছিলেন একজন পাদ্রি, যিনি প্রায় বিশ বছর জেরুজালেমে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারক মিশনের প্রধান হিসেবে বসবাস করেছেন এমনকি...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৪)
أصبح يتكلم العربية كأهلها، وقد حدثني بذلك عن نفسه في هذه الزيارة وكنت قد اجتمعت به قبل ذلك في المؤتمر الإسلامي المسيحي الذين انعقد في «بَحَمْدُونْ» (لبنان) عام 1954.

 

وفي جامعة أكسفورد وجدنا رئيس قسم الدراسات الإسلامية والعربية فيها يَهُودِيًّا يتكلم العربية ببطء وصعوبة وكان أيضاً يعمل في دائرة الاستخبارات البريطانية في ليبيا خلال الحرب العالمية الثانية، وهناك تعلم العربية العامية، وتلك هي مؤهلاته التي بَوَّأَتْهُ هذا القسم، ومن العجيب أني رأيت في منهاج دراساته التي يلقيها على طلاب الاستشراق: تفسير آيات من القرآن الكريم من " الكَشَّافِ " للزمخشري (إي والله وهو لا يحسن فهم عبارة بسيطة من جريدة عادية) ودراسة أحاديث من " البخاري " و" مسلم "، وأبواب من الفقه في أمهات كتب الحَنَفِيَّةِ والحنابلة، وسألته عن مراجع هذه الدراسات، فأخبرني أنها من كتب المُسْتَشْرِقِينَ أمثال: جولدتسيهر، ومرجليوث، وشَاخْتْ، وحسبك بهؤلاء عنواناً على الدراسات المدخولة المدسوسة المُوَجَّهَةِ ضد الإسلام والمُسْلِمِينَ.

 

أما جامعة كمبردج فكانت رئاسة قسم الدراسات العربية والإسلامية فيها للمستشرق المعروف «آربري» واختصاصه في اللغة العربية فحسب.

 

وقد قال لي - خلال أحاديثي معه -: «إِنَّنَا - نَحْنُ المُسْتَشْرِقِينَ - نَقْعَ فِيْ أَخْطَاءٍ كَثِيْرَةٍ فِيْ بُحُوثِنَا عَنْ الإِسْلَامِ، وَمِنَ الوَاجِبِ أَنْ لَا نَخُوضَ فِي هَذَا المَيْدَانِ لأَنَّكُمْ - أَنْتُمْ المُسْلِمِينَ العَرَبَ - أَقْدَرُ مِنَّا عَلَىَ الخَوْضِ فِي هَذِهِ الأَبْحَاثِ».

 

وفي مانشستر (إنكلترا) اجتمعت بالبروفسور «رُوبْسُونْ» وكان يقابل " سنن أبي داود " على نسخة مخطوطة، وله كتابات في تاريخ الحديث، يتفق فيها غالباً مع آراء المُسْتَشْرِقِينَ المُتَحَامِلِينَ، وقد حرصت على أن أُبَيِّنَ له أن الدراسات الاستشراقية السابقة فيها تَحَامُلٌ وَبُعْدٌ عَنْ الحَقِيقَةِ، وتعرضت لآراء جولدتسيهر وَأَثْبَتُُّّ له أخطاءه التاريخية والعلمية، فكان مِمَّا أجاب به عنه: «لَا شَكَّ أَنَّ المُسْتَشْرِقِينَ فِي هَذَا العَصْرِ أَكْثَرَ إِطِّلَاعًا عَلَى المَصَادِرِ الإِسْلَامِيَّةِ مِنْ جُوَلْدْتْسِيهِرْ نَظَرًا لِمَا طُبِعَ وَنُشِرَ وَعُرِفَ مِنْ مُؤَلَّفَاتٍ إِسْلامِيَّةٍ كَانَتْ غَيْرَ مَعْلُومَةٍ فِي عَصْرِ جُوَلْدْتْسِيهِرْ»، فَقُلْتُ لَهُ:
তিনি এর অধিবাসীদের মতো আরবি বলতে শুরু করেছিলেন। এই সফরের সময় তিনি নিজে আমাকে এ সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। এর আগে ১৯৫৪ সালে লেবাননের 'বাহামদুন'-এ অনুষ্ঠিত ইসলামি-খ্রিস্টান সম্মেলনে তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল।

 

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে আমরা ইসলামি ও আরবি শিক্ষা বিভাগের প্রধান হিসেবে একজন ইহুদিকে পেলাম, যিনি অত্যন্ত ধীরগতিতে এবং কষ্টেসৃষ্টে আরবি বলতেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লিবিয়ায় ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিভাগেও কর্মরত ছিলেন এবং সেখানেই তিনি আঞ্চলিক আরবি শিখেছিলেন। আর এগুলোই ছিল তাঁর যোগ্যতা যা তাঁকে এই বিভাগের উচ্চাসনে বসিয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রাচ্যতত্ত্বের শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর পাঠ্যসূচিতে আমি দেখলাম: যামাখশারির ‘আল-কাশশাফ’ থেকে কুরআনের আয়াতের তাফসির (আল্লাহর কসম, অথচ তিনি একটি সাধারণ সংবাদপত্রের সহজ বাক্যও ভালো করে বোঝার ক্ষমতা রাখতেন না), বুখারি ও মুসলিম থেকে হাদিস পাঠ এবং হানাফি ও হাম্বলি মাযহাবের মূল গ্রন্থগুলো থেকে ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন অধ্যায়। আমি যখন তাঁকে এই শিক্ষা কার্যক্রমের সূত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি জানালেন যে এগুলো গোল্ডজিহার, মারগোলিউথ ও শাখত-এর মতো প্রাচ্যবিদদের কিতাব থেকে নেওয়া। ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পড়াশোনার পরিচয় হিসেবে এই নামগুলোই যথেষ্ট।

 

অন্যদিকে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে আরবি ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগের প্রধান ছিলেন প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ ‘আরবেরি’। তাঁর বিশেষত্ব কেবল আরবি ভাষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

 

তাঁর সাথে কথোপকথনের সময় তিনি আমাকে বলেছিলেন: ‘আমরা—প্রাচ্যবিদরা—ইসলাম সম্পর্কে আমাদের গবেষণায় অনেক ভুল করে থাকি। আমাদের উচিত এই ময়দানে প্রবেশ না করা; কারণ আপনারা—আরব মুসলিমরা—এই বিষয়ে গবেষণায় আমাদের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম।’

 

ম্যানচেস্টারে (ইংল্যান্ড) আমি প্রফেসর ‘রবসন’-এর সাথে দেখা করি। তিনি একটি পাণ্ডুলিপির সাথে ‘সুনানে আবু দাউদ’ মিলিয়ে দেখছিলেন। হাদিসের ইতিহাসের ওপর তাঁর কিছু লেখা রয়েছে, যেখানে তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে পক্ষপাতদুষ্ট প্রাচ্যবিদদের মতামতের সাথে একমত পোষণ করেছেন। আমি তাঁকে এটা বুঝিয়ে বলতে সচেষ্ট হলাম যে, পূর্ববর্তী প্রাচ্যতাত্ত্বিক গবেষণায় পক্ষপাতিত্ব রয়েছে এবং তা সত্য থেকে অনেক দূরে। আমি গোল্ডজিহারের মতামতের সমালোচনা করলাম এবং তাঁর ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক ভুলগুলো তাঁর কাছে প্রমাণ করলাম। এর উত্তরে তিনি যা বললেন তা হলো: ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বর্তমান যুগের প্রাচ্যবিদরা গোল্ডজিহারের তুলনায় ইসলামি উৎসগুলো সম্পর্কে অনেক বেশি অবগত। কারণ এখন অনেক ইসলামি গ্রন্থ মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছে এবং এমন সব রচনা সম্পর্কে জানা গেছে যা গোল্ডজিহারের যুগে অজ্ঞাত ছিল।’ তখন আমি তাঁকে বললাম:
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৫)
«أرجو أن تكون أبحاثكم - المُسْتَشْرِقِينَ - في هذا العصر أقرب إلى الحق والإنصاف من جولدتسيهر، ومرجليوث، وأمثالهما، فقال: أرجو ذلك».

 

وفي جامعة «ليدن» بهولندا اجتمعتُ بالمستشرق اليهودي «شَاخْتْ» وهو الذي يحمل في عصرنا هذا رسالة «جولدتسيهر» في الدَسِّ على الإسلام والكيد له وتشويه حقائقه، وباحثته طويلا في أخطاء «جولدتسيهر» وتعمُّدِهِ تحريف النصوص التي ينقلها عن كتبنا، فأنكر ذلك أول الأمر، فضربت له مثلاً واحداً مِمَّا كتبه جولدتسيهر في تاريخ «السُنّة» - وهو ما نقلناه عنه في هذا الكتاب - وكيف حرَّفَ قول الزُّهْرِي: «إِنَّ هَؤُلَاءِ الأُمَرَاءِ أَكْرَهُونَا عَلَى كِتَابَةِ «الأَحَادِيثَ» إلى لفظ «عَلَى كِتَابَةِ أَحَادِيثَ» فاستغرب ذلك، ثم راجع كتاب جولدتسيهر - وكنا نجلس في مكتبته الخاصة - فقال: معك الحق أن جولدتسيهر أخطأ هنا، قلت له: هل هو مجرد خطأ؟ فاحتدَّ وقال: لماذا تسيئون به الظن؟ فانتقلت إلى بحث تحليله لموقف الزُّهْرِي من عبد الملك بن مروان، وذكرت له من الحقائق التاريخية ما ينفي ما زعمه جولدتسيهر - وقد ذكرت ذلك في هذا الكتاب - وبعد مناقشة في هذا الموضوع قال: وهذا خطأ أيضاً من جولدتسيهر، ألَا يخطئ العلماء؟ قلتُ له: إن جولدتسيهر هو مؤسس المدرسة الاستشراقية التي تبني حُكمها في التشريع الإسلامي على وقائع التاريخ نفسه، فلماذا لم يستعمل مبدأه هنا حين تكلم عن الزُّهْرِي؟ وكيف جاز له أن يحكم على الزُّهْرِي بأنه وضع حديث فضل المسجد الأقصى إرضاء لعبد الملك ضد ابن الزبير، مع أن الزُّهْرِي لم يلق عبد الملك إلا بعد سبع سنوات من مقتل ابن الزبير؟ وهنا اصفرَّ وجه «شَاخْتْ» وأخذ يفرك يداً بيد. وبدا عليه الغيظ والاضطراب، فأنهيت الحديث معه بأن قلت له: لقد كانت مثل هذه «الأخطاء» كما تسميها أنت، تشتهر في القرن الماضي، ويتناقلها مستشرق منكم عن آخر على أنها حقائق علمية، قبل أن نقرأ - نحن المُسْلِمِينَ - تلك المؤلفات إلا بعد موت مؤلفيها، أما الآن فأرجو أن تسمعوا منا ملاحظاتنا على «أخطائكم» لتصحِّحُوها في حياتكم قبل أن تتقرر كحقائق علمية عندكم.

 

ومن الملاحظ أن هذا المستشرق كان يدرِّسُ في جامعة القاهرة - فؤاد سابقا -
«আমি আশা করি যে বর্তমান যুগে আপনাদের—প্রাচ্যবিদদের—গবেষণা গোল্ডজিহার, মারগোলিউথ এবং তাদের সমমনাদের তুলনায় সত্য ও ন্যায়ের অধিক নিকটবর্তী হবে। তখন তিনি বললেন: আমিও তাই আশা করি।»

 

নেদারল্যান্ডসের ‘লাইডেন’ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ইহুদি প্রাচ্যবিদ ‘শাখত’-এর সাথে সাক্ষাৎ করি। তিনি বর্তমান যুগে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত এবং এর সত্যকে বিকৃত করার ক্ষেত্রে ‘গোল্ডজিহার’-এর উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত। আমি গোল্ডজিহারের ভুলভ্রান্তি এবং আমাদের কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত পাঠ্যগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করার বিষয়ে তার সাথে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করি। প্রথমে তিনি তা অস্বীকার করেন। অতঃপর আমি গোল্ডজিহার ‘সুন্নাহর ইতিহাস’ নিয়ে যা লিখেছেন তা থেকে একটি উদাহরণ পেশ করি—যা আমরা এই কিতাবেও উদ্ধৃত করেছি—এবং দেখাই যে তিনি কীভাবে যুহরীর উক্তি: ‘নিশ্চয়ই এই শাসকরা আমাদের "হাদীসসমূহ" লিপিবদ্ধ করতে বাধ্য করেছেন’ বাক্যটিকে ‘হাদীসসমূহ লিপিবদ্ধ করতে’ শব্দে বিকৃত করেছেন। এতে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। অতঃপর তিনি গোল্ডজিহারের বইটি যাচাই করলেন—তখন আমরা তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে বসে ছিলাম—এবং বললেন: আপনার কথাই ঠিক, গোল্ডজিহার এখানে ভুল করেছেন। আমি তাকে বললাম: এটা কি কেবলই একটি ভুল? তখন তিনি উত্তেজিত হয়ে বললেন: আপনারা কেন তার সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করেন? এরপর আমি আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের প্রতি যুহরীর অবস্থানের বিষয়ে গোল্ডজিহারের বিশ্লেষণের আলোচনায় চলে আসি এবং এমন কিছু ঐতিহাসিক সত্য তার সামনে তুলে ধরি যা গোল্ডজিহারের দাবিকে নাকচ করে দেয়—যা আমি এই কিতাবে উল্লেখ করেছি। এই বিষয়ে আলোচনার পর তিনি বললেন: এটিও গোল্ডজিহারের একটি ভুল; আলেমরা কি ভুল করেন না? আমি তাকে বললাম: গোল্ডজিহার হলেন সেই প্রাচ্যতত্ত্ব ঘরানার প্রতিষ্ঠাতা যারা ইসলামী শরীয়তের বিধান সম্পর্কে তাদের সিদ্ধান্ত ইতিহাসের ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই গ্রহণ করে। তাহলে যুহরী সম্পর্কে কথা বলার সময় তিনি কেন তার সেই মূলনীতি ব্যবহার করেননি? আর কীভাবে তিনি যুহরীর ওপর এই অপবাদ দেওয়া বৈধ মনে করলেন যে, তিনি ইবনে যুবায়েরের বিরুদ্ধে আব্দুল মালিককে সন্তুষ্ট করতে মসজিদে আকসার মর্যাদার হাদীসটি জাল করেছেন? অথচ ইবনে যুবায়ের শহীদ হওয়ার সাত বছর পর পর্যন্ত যুহরীর সাথে আব্দুল মালিকের সাক্ষাৎই হয়নি! এই কথা শুনে ‘শাখত’-এর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল এবং তিনি হাত কচলাতে শুরু করলেন। তার ওপর ক্ষোভ ও অস্থিরতা প্রকাশ পেল। তখন আমি এই বলে তার সাথে কথা শেষ করলাম যে: আপনি যেগুলোকে ‘ভুল’ বলছেন, এ জাতীয় ভুলগুলো গত শতাব্দীতে বেশ প্রসিদ্ধ ছিল এবং আপনাদের প্রাচ্যবিদদের একজন অন্যজনের কাছ থেকে এগুলো বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করে আসছিল; অথচ আমরা মুসলমানরা সেই গ্রন্থগুলো পাঠ করার সুযোগ পেয়েছি কেবল লেখকদের মৃত্যুর পর। কিন্তু এখন আমি আশা করি যে, আপনাদের ‘ভুলগুলোর’ ব্যাপারে আমাদের পর্যবেক্ষণ আপনারা শুনবেন, যাতে সেগুলো আপনাদের কাছে বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই আপনারা আপনাদের জীবদ্দশায় তা সংশোধন করে নিতে পারেন।

 

উল্লেখ্য যে, এই প্রাচ্যবিদ কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে—যা পূর্বে ফুয়াদ বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত ছিল—অধ্যাপনা করতেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা লিস-সিবাঈ ত্ব তাবা আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وله مؤلف في تاريخ التشريع الإسلامي، وكله دَسٌّ وتحريف على أسلوب أستاذه جولدتسيهر.

 

وفي جامعة «أبسلا» (السويد) التقيت بالشيخ المستشرق «نيبرج» وهو الذي كان قد أشرف على طبع كتاب " الاستبصار " لابن الخياط - على ما أظن - وطبعته قَدِيمًا «لجنة التأليف والترجمة في القاهرة» وجرى بيني وبينه حديث طويل كان أكثره حول أبحاث المُسْتَشْرِقِينَ ومؤلفاتهم عن الإسلام وتاريخه، وجعلت «جولدتسيهر» محور الحديث عن المُسْتَشْرِقِينَ، وذكرت له أمثلة من أخطائه وتحريفه للحقائق، فكان مِمَّا قاله بعد ذلك: إن جولدتسيهر كان في القرن الماضي ذا شهرة علمية ومرجعاً للمستشرقين، أما في هذا العصر - بعد انتشار الكتب المطبوعة في بلادكم عن العلوم الإسلامية - فلم يعد جولدتسيهر مرجعاً كما كان في القرن الماضي .. لقد مضى عهد جولدتسيهر في رأينا! ..

 

وقد أتيح لي خلال تلك الرحلة أن أواصل زيارة الجامعات عدا ما ذكرته منها في عواصم كل من «بلجيكا» و «الدانمارك» و «النرويج» و «فنلندا» و «ألمانيا» و «سويسرا» و «باريس» واجتمعت بمن كان موجوداً حينئذ من المُسْتَشْرِقِينَ فيها.

 

ومِمَّا ذكرته آنفاً وما دوَّنتُه في مذكّراتي عن المُسْتَشْرِقِينَ الذين لقيتهم خلال تلك الرحلة، اتضحت لي الحقائق التالية:

 

أَوَلاً - إن المُسْتَشْرِقِينَ - في جمهورهم - لا يخلو أحدهم من أن يكون قسيساً أو استعمارياً أو يهودياً، وقد يشذ عن ذلك أفراد.

ثَانِياً - إن الاستشراق في الدول الغربية غير الاستعمارية - كالدول السكندنافية - أضعف منه عند الدول الاستعمارية.

ثَالِثاً - إن المُسْتَشْرِقِينَ المعاصرين في الدول غير الاستعمارية يتخلون عن جولدتسيهر وآرائه بعد أن انكشفت أهدافه الخبيثة.

رَابِعاً - إن الاستشراق بصورة عامة ينبعث من الكنيسة، وفي الدول الاستعمارية يسير مع الكنيسة ووزارة الخارجية جنباً إلى جنب، يلقى منهما كل تأييد.
তাঁর ইসলামী আইনবিধানের ইতিহাসের ওপর একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে তাঁর শিক্ষক গোল্ডজিহারের রীতিতে কারচুপি ও বিকৃতিতে ভরপুর।

 

এবং সুইডেনের ‘উপসালা’ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি প্রাচ্যতত্ত্ববিদ শেখ ‘নিবার্গ’-এর সাথে সাক্ষাৎ করি। তিনি সম্ভবত ইবনুল খাইয়্যাত রচিত ‘আল-ইস্তিবসার’ গ্রন্থটি মুদ্রণের তত্ত্বাবধান করেছিলেন—যেমনটি আমার ধারণা—এবং কায়রোর ‘লাজনাতুত তালিফ ওয়াত তারজামা’ (রচনা ও অনুবাদ কমিটি) এটি প্রাচীনকালে প্রকাশ করেছিল। তাঁর ও আমার মাঝে দীর্ঘ আলাপচারিতা হয়, যার অধিকাংশ ছিল প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের গবেষণা এবং ইসলাম ও এর ইতিহাস নিয়ে তাঁদের রচিত গ্রন্থাবলী সম্পর্কে। আমি প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘গোল্ডজিহার’কে রেখেছিলাম এবং তাঁর ভুলভ্রান্তি ও সত্য বিকৃতির কিছু উদাহরণ তাঁর সামনে তুলে ধরি। এরপর তিনি যা বলেছিলেন তার মধ্যে ছিল: গত শতাব্দীতে গোল্ডজিহারের একটি বৈজ্ঞানিক খ্যাতি ছিল এবং তিনি প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের জন্য একটি রেফারেন্স ছিলেন; কিন্তু বর্তমান যুগে—আপনাদের দেশগুলোতে ইসলামী উলুমের ওপর মুদ্রিত বইপুস্তক ছড়িয়ে পড়ার পর—গোল্ডজিহার আর আগের শতাব্দীর মতো রেফারেন্স হিসেবে গণ্য হন না। আমাদের মতে গোল্ডজিহারের যুগ শেষ হয়ে গেছে! ..

 

সেই সফরের সময় আমার জন্য আরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের সুযোগ হয়—যা আগে উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও—যেমন বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড এবং প্যারিসের রাজধানীসমূহে। সেখানে সে সময়ে উপস্থিত প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের সাথে আমি সাক্ষাৎ করি।

 

উপরে যা উল্লেখ করেছি এবং সেই সফরে আমি যেসব প্রাচ্যতত্ত্ববিদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি তাঁদের সম্পর্কে আমার ডায়েরিতে যা লিপিবদ্ধ করেছি, তা থেকে আমার কাছে নিম্নলিখিত সত্যগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে:

 

প্রথমত: প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের অধিকাংশই হয় কোনো ধর্মযাজক, নতুবা কোনো সাম্রাজ্যবাদী বা কোনো ইহুদি; তবে গুটিকয়েক ব্যক্তি এর ব্যতিক্রম হতে পারেন।

দ্বিতীয়ত: অ-সাম্রাজ্যবাদী পশ্চিমা দেশগুলোতে—যেমন স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশসমূহ—সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর তুলনায় প্রাচ্যতত্ত্বের প্রভাব দুর্বল।

তৃতীয়ত: অ-সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর সমকালীন প্রাচ্যতত্ত্ববিদরা গোল্ডজিহার ও তাঁর মতামত ত্যাগ করছেন, কারণ তাঁর হীন উদ্দেশ্যগুলো এখন উন্মোচিত হয়ে গেছে।

চতুর্থত: সাধারণভাবে প্রাচ্যতত্ত্বের উদ্ভব চার্চ বা গির্জা থেকে। আর সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে এটি গির্জা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে এবং উভয় পক্ষ থেকেই সর্বাত্মক সমর্থন লাভ করে।