(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: -)
ردة ولا ابا بكر لها - أبو الحسن الندوي القسم: كتب عامة
الكتاب: رِدَّةٌ وَلَا أَبَا بَكْرَ لَهَا
المؤلف: علي أبو الحسن بن عبد الحي بن فخر الدين الندوي (ت 1420هـ)
الناشر: مكتبة السداوي للنشر والتوزيع - القاهرة، المكتبة المكية. حي الهجرة - مكة المكرمة.
الطبعة: الثانية، 1413 هـ - 1992 م، مطبعة المدني - المؤسسة السعودية بمصر.
توزيع: مكتبة ابن حجر - مكة المكرمة
عدد الصفحات: 27
أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع].
تاريخ النشر بالشاملة: 6 ذو القعدة 1432
রিদ্দাহ কিন্তু তার মোকাবিলায় কোনো আবু বকর নেই - আবুল হাসান নাদভী বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি
বই: রিদ্দাহ কিন্তু তার মোকাবিলায় কোনো আবু বকর নেই
লেখক: আলী আবুল হাসান বিন আব্দুল হাই বিন ফখর উদ্দিন নাদভী (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাদাওয়ী পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - কায়রো، মাকতাবা মাক্কিয়াহ। হাইয়ুল হিজরাহ - মক্কা আল-মুকাররামা।
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ، মাদানী প্রেস - সৌদি ফাউন্ডেশন, মিশর।
পরিবেশনা: মাকতাবা ইবনে হাজার - মক্কা আল-মুকাররামা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭
মাকতাবা শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশী، - আল্লাহ তাকে এবং তার বাবা-মাকে ক্ষমা করুন -।
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]।
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ জিলকদ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[رِدَّةٌ وَلَا أَبَا بَكْرَ لَهَا]ـ
المؤلف: علي أبو الحسن بن عبد الحي بن فخر الدين الندوي (المتوفى: 1420هـ)
الناشر: مكتبة السداوي للنشر والتوزيع - القاهرة، المكتبة المكية. حي الهجرة - مكة المكرمة.
الطبعة: االثانية، 1413 هـ - 1992 م، مطبعة المدني - المؤسسة السعودية بمصر.
توزيع: مكتبة ابن حجر - مكة المكرمة
عدد الأجزاء: 1.
أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
ـ[মুরতাদ হওয়া (رِدَّةٌ) এবং এর দমনের জন্য কোনো আবু বকর নেই]ـ
লেখক: আলী আবুল হাসান বিন আব্দুল হাই বিন ফাখর উদ্দিন নদভী (মৃত্যু: ১৪২০ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাদাউই পাবলিশিং এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন - কায়রো, আল-মাকতাবাতুল মাক্কিয়া। হাই আল-হিজরা - মক্কাতুল মুকাররমা।
সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ, আল-মাদানি প্রেস - আল-মুয়াসসাসাতুস সৌদিয়া ইন ইজিপ্ট।
পরিবেশনায়: মাকতাবাতু ইবনে হাজার - মক্কাতুল মুকাররমা
খণ্ড সংখ্যা: ১।
আল-মাকতাবাতুশ শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি - আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন -।
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এতে পাদটীকা সংযুক্ত রয়েছে]।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: -)
رِدَّةٌ وَلَا أَبَا بَكْرَ لَهَا
এটি একটি ধর্মত্যাগ (ردة) এবং এর জন্য কোনো আবু বকর নেই।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: -)
الطبعة الثانية
1413 هـ - 1992 م
مطبعة المدني
المؤسسة السعودية بمصر.
দ্বিতীয় সংস্করণ
১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ
আল-মাদানি প্রেস
মিসরস্থ সৌদি প্রতিষ্ঠান।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১)
رِدَّةٌ وَلَا أَبَا بَكْرَ لَهَا
بقلم
أبو الحسن علي الحسني الندوي
الناشر
مكتبة السداوي للنشر والتوزيع - القاهرة.
المكتبة المكية. حي الهجرة - مكة المكرمة.
ধর্মত্যাগ (ردة) অথচ তা দমনের জন্য কোনো আবু বকর নেই
লেখনীতে
আবু হাসান আলী আল-হাসানী আন-নাদভী
প্রকাশক
মাকতাবাতুস সাদ্দাবি ফর পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - কায়রো।
আল-মাকতাবাতুল মাক্কিয়া। হাইয়ুল হিজরা - মক্কাতুল মোকাররমা।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
رِدَّةٌ جَدِيدَةٌ
شهدالتاريخ الإسلامي حوادث ردة عديدة، أبرزها وأعنفها ردة القبائل العربية على إثر وفاة الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم، الثورة الكبيرة التي وأدها أبو بكر الصِدِّيقُ في مهدها بإيمانه وعزمه الذي ليس له مثيل في التاريخ، ومنها حركة التنصر التي انتشرت في إسبانيا على إثر جلاء المسلمين، والتي ظهرت في بعض الأقطار التي استولت عليها الدول الغربية المسيحية ونشط فيها القسس و «الإرساليات» ومنها قضايا شاذة من ارتداد بعض ضعاف العقول وصغار النفوس من المسلمين عن دين الإسلام واعتناقهم للبرهمية أو الآرية في الهند، ولكنها حوادث نادرة جِدًّا، وفي الحقيقة أن تاريخ المسلمين لا يعرف الردة العامة - إذا استثنينا إسبانيا البائسة إذا صح أن نسميها ردة - كما اعترف به مُؤَرِّخُو الديانات.
وتتسم هذه الحوادث كلها بسمتين، أولاهما المقت الشديد من المسلمين، والثانية الانفصال عن المجمتع الإسلامي،
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
একটি নতুন ধর্মত্যাগ (ردة)
ইসলামী ইতিহাস বহু ধর্মত্যাগের (ردة) ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে, যার মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রকট ও ভয়াবহ ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের অব্যবহিত পরে আরব গোত্রগুলোর ধর্মত্যাগ (ردة)। এটি ছিল একটি বিশাল বিদ্রোহ যাকে আবু বকর সিদ্দিক তাঁর ঈমান এবং ইতিহাসে বিরল এক দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে অঙ্কুরেই বিনাশ করেছিলেন। এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে স্পেনে মুসলিমদের প্রস্থানের ফলশ্রুতিতে ছড়িয়ে পড়া খ্রিস্টান হওয়ার আন্দোলন, যা পশ্চিমা খ্রিস্টান রাষ্ট্রসমূহের অধিকৃত কিছু জনপদেও পরিলক্ষিত হয়েছিল এবং সেখানে পাদ্রি ও ‘মিশনারি’ কার্যক্রম সক্রিয় ছিল। এছাড়াও ভারতের কতিপয় দুর্বল চিত্ত ও সংকীর্ণমনা মুসলিমের ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে ব্রাহ্মধর্ম বা আর্য সমাজ গ্রহণ করার মতো কিছু বিচ্ছিন্ন (شاذة) ঘটনাও এর অন্তর্ভুক্ত। তবে এগুলো ছিল অত্যন্ত বিরল ঘটনা। প্রকৃতপক্ষে, ধর্মীয় ঐতিহাসিকগণ যেমনটি স্বীকার করেছেন—যদি আমরা দুর্ভাগা স্পেনের ঘটনা বাদ দিই (যদি একে ধর্মত্যাগ (ردة) বলা যথার্থ হয়)—তবে মুসলিম ইতিহাস কোনো সামগ্রিক বা গণ-ধর্মত্যাগের (ردة) দৃষ্টান্ত জানে না।
এই সকল ঘটনার দুটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে; প্রথমটি হলো মুসলিমদের পক্ষ থেকে তীব্র ঘৃণা ও অবজ্ঞা, এবং দ্বিতীয়টি হলো মুসলিম সমাজ হতে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৪)
فكان كل من يرتد عن دينه يستهدف لسخط المسلمين الشديد وينفصل عن المجتمع الإسلامي الذي يعيش فيه بطبيعة الحال وتنقطع بمجرد ارتداده بينه وبين ذوي قرابته الأواصر والأرحام، وكانت الردة انتقالاً من مجتمع إلى مجتمع، ومن حياة إلى حياة، وكانت الأسرة تقاطعه وتهجره وتقصيه، فلا مصاهرة، ولا زواج، ولا إخاء ولا توارث وكانت حركات الردة تثير روح المقاومة في المسلمين والمقارنة بين الديانات، والدفاع عن الإسلامي، وكل قطر من أقطار المسلمين ظهرت فيه حوادث الردة تحمس علماء المسلمين ودعاة الإسلام وحملة الأقلام فيه للرد عليها وتتبع أسبابها، وعرض محاسن الإسلام ومزاياه، واجتاحت المجتمع الإسلامي موجة عنيفة من السخط والاستنكار والقلق، وكانت هذه الحوادث المقيمة المقعدة للمسلمين وكانت الحديث العام والشغل الشاغل للعامة فضلاً عن الخاصة وأهل الغيرة الدينية، هذا ما اتسمت به حوادث الردة، على ندرتها وشذوذها وعلى عدم تأثيرها في الحياة.
ولكن جرب العالم الإسلامي في العهد الأخير ردة اكتسحت عالم الإسلام من أقصاه إلى أقصاه ونبذت جميع حركات الردة التي سبقتها في العنف وفي العموم، وفي العمق، وفي القوة، ولم يخل منها قطر، وَقَلَّمَا خلت منها أسرة من أُسَرِ
ফলে যারা স্বধর্ম ত্যাগ করত, তারা মুসলিমদের তীব্র রোষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতো এবং স্বাভাবিকভাবেই তারা যে ইসলামি সমাজে বসবাস করত তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। তাদের ধর্মত্যাগের সাথে সাথেই তাদের এবং তাদের নিকটাত্মীয়দের মধ্যকার সমস্ত বন্ধন ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যেত। এই ধর্মত্যাগ ছিল এক সমাজ থেকে অন্য সমাজে এবং এক জীবন থেকে অন্য জীবনে রূপান্তর। পরিবার তাকে বর্জন করত, পরিত্যাগ করত এবং দূরে সরিয়ে দিত; ফলে কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক, বিবাহ, ভ্রাতৃত্ব কিংবা উত্তরাধিকারের পথ অবশিষ্ট থাকত না। ধর্মত্যাগের আন্দোলনগুলো মুসলিমদের মধ্যে প্রতিরোধের চেতনা জাগ্রত করত এবং বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা ও ইসলামের সপক্ষে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানের প্রেরণা জোগাত। মুসলিম বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যখনই ধর্মত্যাগের ঘটনা প্রকাশ পেত, সেখানকার মুসলিম আলেম সমাজ, ইসলামের দাঈগণ এবং বিদগ্ধ লেখকগণ তার প্রতিউত্তর দিতে, এর কারণসমূহ অনুসন্ধান করতে এবং ইসলামের সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্বসমূহ উপস্থাপনে অত্যন্ত উদ্দীপ্ত হয়ে উঠতেন। ইসলামি সমাজে তখন ক্ষোভ, নিন্দা ও উদ্বেগের এক প্রচণ্ড ঢেউ আছড়ে পড়ত। এই ঘটনাগুলো মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত বিচলিতকর ছিল এবং তা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মীয় চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাধারণ আলোচনার বিষয় ও প্রধান চিন্তার বিষয়ে পরিণত হতো। ধর্মত্যাগের ঘটনাগুলো অত্যন্ত বিরল ও ব্যতিক্রমী (شذوذ) হওয়া সত্ত্বেও এবং জীবনযাত্রায় কোনো প্রভাব না থাকা সত্ত্বেও এগুলোই ছিল সেই সময়ের ধর্মত্যাগের ঘটনার বৈশিষ্ট্য।
কিন্তু বর্তমান যুগে মুসলিম বিশ্ব এমন এক ধর্মত্যাগের সম্মুখীন হয়েছে যা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম জাহানকে গ্রাস করে নিয়েছে। তীব্রতা, ব্যাপকতা, গভীরতা এবং শক্তির নিরিখে তা পূর্ববর্তী সকল ধর্মত্যাগের আন্দোলনকে ম্লান করে দিয়েছে। কোনো ভূখণ্ডই এ থেকে মুক্ত থাকেনি এবং খুব কম পরিবারই আছে যা এটি থেকে রেহাই পেয়েছে...
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৫)
المسلمين، هي ردة تلت غزو أوروبا للشرق الإسلامي، الغزو السياسي والثقافي، وهي أعظم ردة ظهرت في عالم الإسلام وفي تاريخ الإسلام، منذ عهد الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم إلى يوم الناس هذا.
ماذا تعني الردة في عُرْفِ الإسلام وفي مصطلح الشريعة الإسلامية؟ هي إبدال دين بدين، وعقيدة بعقيدة، وإنكار ما جاء به الرسول وتواتر عنه وثبت بالضرورة من دين الإسلام.
وماذا كان يفعل المرتد؟ ينكر الرسالة المحمدية - - عَلَى صَاحِبِهَا الصَلَاةُ وَالسَّلَامُ - وينتقل إلى المسيحية أو اليهودية أو البرهمية، أو يلحد في الدين وينكر الرسالات والوحي والمعاد، هذا ما كان يعرفه العالم القديم أو المجتمع القديم من معاني الردة، وكان كل من يرتد عن دينه يدخل الكنيسة إذا تنصر أو يدخل الهيكل أو معبد الأصنام إذا اعتنق البرهمية مثلاً فيعرف ذلك الجميع، ويصبح شام بين الناس يشار إليه بالبنان، ويقطع منه المسلمون الأمل، ولا يكون ارتداده - في غالب الأحوال - سِرًّا مِنَ الأَسْرَارِ.
মুসলিমদের মাঝে এটি হলো একটি ধর্মত্যাগ (ردة), যা ইউরোপ কর্তৃক ইসলামি প্রাচ্যের ওপর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অভিযানের পর সংঘটিত হয়েছে। এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইসলামি বিশ্ব এবং ইসলামের ইতিহাসে আবির্ভূত হওয়া সর্ববৃহৎ ধর্মত্যাগ (ردة)।
ইসলামের প্রথা এবং ইসলামি শরিয়তের (شريعة) পরিভাষায় ধর্মত্যাগ (ردة) বলতে কী বোঝায়? এটি হলো এক দ্বীনের বদলে অন্য দ্বীন এবং এক আকিদার বদলে অন্য আকিদা গ্রহণ করা; আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন এবং যা তাঁর থেকে অবিচ্ছিন্নভাবে (تواتر) বর্ণিত ও ইসলামের অপরিহার্য বিষয় হিসেবে প্রমাণিত, তা অস্বীকার করা।
একজন ধর্মত্যাগী (مرتد) কী করত? সে মুহাম্মদী রিসালাতকে—তার অধিকারীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—অস্বীকার করত এবং খ্রিস্টধর্ম, ইহুদি ধর্ম বা ব্রাহ্মণবাদে দীক্ষিত হতো; অথবা সে দ্বীনের ব্যাপারে নাস্তিক্যবাদ গ্রহণ করত এবং রিসালাত, ওহি ও পরকালকে অস্বীকার করত। প্রাচীন বিশ্ব বা প্রাচীন সমাজ ধর্মত্যাগের (ردة) অর্থ এটাই বুঝত। যে কেউ স্বধর্ম ত্যাগ করত, সে যদি খ্রিস্টান হতো তবে গির্জায় প্রবেশ করত, অথবা যদি সে উদাহরণস্বরূপ ব্রাহ্মণবাদ গ্রহণ করত তবে মন্দিরে বা উপাসনালয়ে প্রবেশ করত। ফলে বিষয়টি সবার কাছে জানাজানি হয়ে যেত এবং সে মানুষের মাঝে লোকচক্ষুর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতো। মুসলিমরা তার ব্যাপারে আশাহত হতো এবং তার ধর্মত্যাগ (ردة)—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—গোপন কোনো রহস্য থাকত না।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৬)
الفَلْسَفَةُ التِي حَمَلَتْهَا أُورُوبَا إِلَى الشَّرْقِ:حملت أوروبا إلى الشرق الفلسفات التي قامت على إنكار أسس الدين وإنكار القوة المصرفة لهذا العالم، القوة الواعية التي أخرجت هذا العالم من العدم إلى الوجود وبيدها زمام الكون (الإله، الخلق والأمر) وعلى إنكار عالم الغيب والوحي والنبوات، وإنكار الشرائع السماوية، وإنكار القيم الروحية والخلقية، منها ما تبحث في علم الحياة والنشوة والارتقاء، ومنها ما تتصل بالأخلاق، ومنها ما تدور حول علم النفس، ومنها ما موضوعها الاقتصاد والسياسة، ومهما اختلفت هذه الفلسفات في ألوانها وأهدافها وأسسها، فإنها جميعًا تلتقي على النظرية المادية المحضة إلى الإنسان وإلى الكون والتعليل المادي لظواهرهما وأفعالهما.
غزت هذه الفلسفات المجتمع الشرقي الإسلامي وتغلغلت في أحشائه وكانت أعظمها انتشارًا وأعمقها جذورًا وأقواها سيطرة على العقول والقلوب، وأقبل عليها زهرة البلاد الإسلامية وزبدتها عقلاً وثقافةً، وساغتها وهضمتها ودانت بها كما يدين
ইউরোপ যে দর্শন প্রাচ্যে বহন করে এনেছে:ইউরোপ প্রাচ্যে এমন সব দর্শন বহন করে এনেছে যা ধর্মের মূল ভিত্তি এবং এই বিশ্বের পরিচালক সত্তাকে অস্বীকার করার ওপর প্রতিষ্ঠিত; সেই সচেতন শক্তি যিনি এই জগতকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আনয়ন করেছেন এবং যাঁর হাতে মহাবিশ্বের নিয়ন্ত্রণ (ইলাহ, সৃষ্টি ও আদেশ)। তদুপরি তা অদৃশ্যের জগত, ওহি ও নবুওয়াতকে অস্বীকার করার ওপর এবং আসমানি শরিয়তসমূহ ও আধ্যাত্মিক ও চারিত্রিক মূল্যবোধকে অস্বীকার করার ওপর দণ্ডায়মান। এগুলোর কোনটি জীবনবিজ্ঞান, উৎপত্তি ও বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনা করে, কোনটি নৈতিকতা বিষয়ক, কোনটি মনোবিজ্ঞান কেন্দ্রিক, আবার কোনোটির বিষয়বস্তু হলো অর্থনীতি ও রাজনীতি। এই দর্শনগুলো এদের ধরন, লক্ষ্য ও ভিত্তির দিক থেকে যতই ভিন্ন হোক না কেন, মানুষ ও মহাবিশ্বের প্রতি নিছক বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং এ দুয়ের যাবতীয় বিষয় ও ক্রিয়াকলাপের বস্তুবাদী ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এরা সকলেই একবিন্দুতে মিলিত হয়।
এই দর্শনগুলো প্রাচ্যের মুসলিম সমাজে আগ্রাসন চালিয়েছে এবং এর অভ্যন্তরে গভীরভাবে অনুপ্রবেশ করেছে। এগুলো ছিল সর্বাধিক বিস্তার লাভকারী, সুগভীর শিকড় সম্পন্ন এবং মন ও হৃদয়ের ওপর অত্যন্ত প্রভাবশালী। মুসলিম দেশগুলোর শ্রেষ্ঠ মেধাবী ও সাংস্কৃতিকভাবে অগ্রসর ব্যক্তিবর্গ এর প্রতি ঝুঁকে পড়েছিল; তারা এগুলোকে সাবলীলভাবে গ্রহণ ও আত্মস্থ করেছে এবং এর প্রতি এমনভাবে আনুগত্য প্রকাশ করেছে যেমন আনুগত্য প্রকাশ করা হয়...
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৭)
المسلم بالإسلام والمسيحي بالمسيحية بكل معنى الكلمة، فهي تستميت في سبيلها وتقدس شعارها وتجل قادتها وَدُعَاتِهَا وتدعو إليها في أدبها ومؤلفاتها، وتحتقر كل ما يعارضها من الأديان والنظم والعقليات وتؤاخي كل من يدين بها، فأفرادها أمة واحدة وأسرة واحدة ومعسكر واحد.
الدِّيَانَةُ اللَاّدِينِيَّةُ:وما هي هذه الديانة وإن أبى أصحابها أن يسموها ديانة؟ إنكار لفاطر الكون العليم الخبير الذي قَدَّرَ فهدى، وإنكار للمعاد وحشر الأجساد ووجود الجنة والنار والثواب والعقاب، وإنكار النبوات والرسالات وإنكار الشرائع السماوية والحدود الشرعية وإنكار الرسول الأعظم هو الذي فرض الله طاعته على جميع الخلق وحصر الهداية والسعادة في اتِّبَاعِهِ، وأن الإسلام هو الرسالة الأخيرة الخالدة المتكفلة لجميع السعادات الدنيوية والأخروية ونظام الحياة الأمثل الأفضل، وهو الدين الذي لا يقبل الله غيره ولا يسعد العالم سواه أو إنكار أن الدنيا خلقت للإنسان وأن الإنسان خلق الله.
هذه ديانة الطبقة المثقفة الممتازة التي تملك زمام الحياة في أكثر البلدان الإسلامية، وإن لم تكن كلها طبقة واحدة في
একজন মুসলিম ইসলামের মাধ্যমে এবং একজন খ্রিস্টান খ্রিস্টধর্মের মাধ্যমে—শব্দটির প্রতিটি অর্থেই তারা নিবেদিত; তারা এর পথে জীবন উৎসর্গ করে, এর প্রতীককে পবিত্র জ্ঞান করে, এর নেতৃবৃন্দ ও প্রচারকদের শ্রদ্ধা করে এবং তাদের সাহিত্য ও গ্রন্থাবলিতে এর প্রতিই আহ্বান জানায়। তারা এর পরিপন্থী সকল ধর্ম, ব্যবস্থা ও চিন্তাধারাকে অবজ্ঞা করে এবং যারা এই আদর্শে বিশ্বাসী তাদের সাথে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে। ফলে এর অনুসারীরা যেন একটি জাতি, একটি পরিবার এবং একটি ঐক্যবদ্ধ শিবিরে পরিণত হয়।
ধর্মহীন ধর্ম:আর এই ধর্মটি কী, যদিও এর অনুসারীরা একে 'ধর্ম' হিসেবে অভিহিত করতে অস্বীকার করে? এটি হলো মহাবিশ্বের স্রষ্টা, সর্বজ্ঞ ও সর্বজ্ঞাত সত্তাকে অস্বীকার করা, যিনি সবকিছু পরিমিতভাবে নির্ধারণ করেছেন এবং পথপ্রদর্শন করেছেন। এটি পরকাল, শারীরিক পুনরুত্থান এবং জান্নাত, জাহান্নাম, পুরস্কার ও শাস্তির অস্তিত্বকে অস্বীকার করা। এটি নবুয়ত ও রিসালাতকে অস্বীকার করা; আসমানি শরীয়ত ও শরয়ী বিধানসমূহকে অস্বীকার করা এবং সেই মহান রাসূলকে অস্বীকার করা, যাঁর আনুগত্য আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টির ওপর ফরজ করেছেন এবং যাঁর অনুসরণের মাঝেই হিদায়াত ও সৌভাগ্যকে সীমাবদ্ধ করেছেন। এটি অস্বীকার করা যে, ইসলামই হলো সর্বশেষ ও শাশ্বত পয়গাম যা ইহকালীন ও পরকালীন সকল কল্যাণের নিশ্চয়তা দানকারী এবং যা জীবনের সর্বোত্তম ও শ্রেষ্ঠ জীবনব্যবস্থা। এটি সেই দ্বীন যা ব্যতীত আল্লাহ অন্য কিছু গ্রহণ করেন না এবং যা ব্যতীত বিশ্ববাসী সৌভাগ্য লাভ করতে পারে না। অথবা এটি অস্বীকার করা যে, পৃথিবী মানুষের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে এবং মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।
এটি হলো সেই বিশেষ শিক্ষিত ও অভিজাত শ্রেণীর ধর্ম, যারা অধিকাংশ মুসলিম দেশের জীবনযাত্রার চাবিকাঠি নিয়ন্ত্রণ করছে; যদিও তারা সবাই এক স্তরের নয়...
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৮)
الإيمان بها والتحمس لها، وفيها ولا شك مؤمنون بالله متدينون بالإسلام، ولكن سمة هذه الطبقة التي تغلب عليها وفلسفة الحياة الغربية التي قامت على الإلحاد.
إنها ردة، أعود فأقول: اكتسحت العالم الإسلامي من أقصاه إلى أقصاه وغزت الأُسَرَ والبيوتات، والجامعات والكليات والثانويات والمؤسسات، فما من أسرة مثقفة - إلا من عصم ربك - إلا وفيها من يدين بها أو يحبها أو يجلها وإذا استنطقته أو خلوت به أو أثرته عرفت أنه لا يؤمن بالله، أو لا يؤمن بالآخرة، أو لا يؤمن بِالرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم، أو لا يؤمن بالقرآن كالكتاب المعجز الخالد ودستور الحياة وأفضلهم من يقول أنه لا يفكر في مثل هذه المسائل ولا يهتم بها كبير اهتمام.
إنها ردة ولكنها لم تلفت المسلمين، ولم تشغل خاطرهم، لأن صاحبها لا يدخل كنيسة أو هيكلاً ولا يعلن رِدَّتَهُ وانتقاله من دين إلى دين، ولا تنتبه له الأسرة فلا تقاطعه ولا تقصه بل يظل يعيش فيها ويتمتع بحقوقها وقد يسيطر عليها، ولا ينتبه لها المجتمع فلا يحاسبه ولا يعاتبه ولا يفصله بل يظل يعيش فيه ويتمتع بحقوقه وقد يسيطر عليه.
এর ওপর বিশ্বাস এবং এর প্রতি উৎসাহ-উদ্দীপনা; এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাদের মধ্যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী ও ইসলামের অনুসারী ধর্মপ্রাণ মানুষ রয়েছেন, তবে এই শ্রেণীর ওপর যে বৈশিষ্ট্যটি প্রবল তা হলো পাশ্চাত্য জীবনদর্শন যা নাস্তিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
এটি একটি ধর্মত্যাগ (ردة)। আমি আবারো বলছি: এটি মুসলিম বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ছেয়ে গেছে এবং পরিবার-পরিজন, ঘরবাড়ি, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে হানা দিয়েছে। এমন কোনো শিক্ষিত পরিবার নেই—আপনার রব যাকে রক্ষা করেছেন তিনি ব্যতীত—যাতে এমন কেউ নেই যে একে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করেছে অথবা একে ভালোবাসে বা সম্মান করে। আপনি যদি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তার সাথে একান্তে বসেন অথবা তাকে উদ্দীপিত করেন, তবে জানতে পারবেন যে সে আল্লাহকে বিশ্বাস করে না, অথবা পরকালকে বিশ্বাস করে না, অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিশ্বাস করে না, অথবা কুরআনকে চিরন্তন মুজিজাসম্পন্ন কিতাব ও জীবনবিধান হিসেবে বিশ্বাস করে না। আর তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে বলে যে সে এই ধরণের বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করে না এবং এগুলো নিয়ে তার বিশেষ কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।
এটি একটি ধর্মত্যাগ (ردة), কিন্তু এটি মুসলমানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি এবং তাদের বিচলিতও করেনি। কারণ এর অধিকারী কোনো গির্জা বা মন্দিরে প্রবেশ করে না এবং তার ধর্মত্যাগ (ردة) ও এক ধর্ম থেকে অন্য ধর্মে স্থানান্তরের ঘোষণা দেয় না। পরিবার তার প্রতি লক্ষ্য করে না, তাই তারা তাকে বয়কট করে না বা দূরে সরিয়ে দেয় না; বরং সে তাদের মধ্যেই জীবন অতিবাহিত করে এবং তার সকল অধিকার ভোগ করে, এমনকি তাদের ওপর কর্তৃত্বও করতে পারে। সমাজও এর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করে না, ফলে তাকে কোনো জবাবদিহি বা তিরস্কারের সম্মুখীন হতে হয় না এবং তাকে সমাজচ্যুতও করা হয় না; বরং সে সমাজের ভেতরেই বসবাস করে এবং তার অধিকারসমূহ ভোগ করে, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে সমাজের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৯)
قضية ولا أبا بكر لها.
إنها قضية العالم الإسلامي الكبرى، إنها مشكلة الأُمَّةِ الإسلامية الكبرى، رِدَّةٌ تنتشر وتغزو المجتمع الإسلامي ثم لا ينتبه لها أحد، ولا يفزع لها العلماء ورجال الدين، لقد قالو قديمًا: «قَضِيَّةٌ وَلَا أَبَا حَسَنٍ لَهَا» وأقول: «قَضِيَّةٌ وَلَا أَبَا بَكْرٍ لَهَا».
إنها قضية لا تطلب حربًا ولا تطلب تهييج الرأي العام، ولا تطلب ثورة، ولا تطلب عُنْفًا، بل إن العنف يضرها وَيُهَيِّجُهَا، والإسلام لا يعرف محاكم التفتيش ولا يعرف الاضطهاد، إنها تطلب عزمًا وتطلب حكمة وتطلب صبرًا واحتمالاً وتطلب دراسة.
سِرُّ انْتِشَارِ هَذِِهِ الدِّيَانَةِ:لماذا انتشرت هذه الديانة في الشرق الإسلامي؟
لماذا استطاعت أن تغزو المسلمين في عُقْرِ دارهم؟
ولماذا استطاعت أن تسيطر على العقول والنفوس هذه السيطرة القوية؟. إن كل ذلك يطلب التفكير العميق
এমন এক সমস্যা যার সমাধানের জন্য কোনো আবু বকর নেই।
এটি মুসলিম বিশ্বের এক মহা সংকট, এটি মুসলিম উম্মাহর এক বিরাট সমস্যা; এক ধর্মত্যাগ (ردة) যা ছড়িয়ে পড়ছে এবং মুসলিম সমাজকে গ্রাস করছে, অথচ কেউ সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করছে না, এমনকি আলিম ও ধর্মবেত্তাগণও এর জন্য বিচলিত হচ্ছেন না। প্রাচীনকালে তারা বলতেন: «এমন এক সংকট যার সমাধানের জন্য কোনো আবু হাসান নেই», আর আমি বলছি: «এমন এক সংকট যার সমাধানের জন্য কোনো আবু বকর নেই»।
এটি এমন এক সংকট যা যুদ্ধ দাবি করে না, জনমতকে উত্তেজিত করার আহ্বান জানায় না, কোনো বিপ্লব বা সহিংসতারও দাবি রাখে না; বরং সহিংসতা এর ক্ষতি করে এবং একে আরও উসকে দেয়। ইসলাম কোনো ইনকুইজিশন (ধর্মীয় বিচারসভা) চেনে না এবং কোনো নিপীড়নও জানে না। এটি দাবি করে দৃঢ় সংকল্প, প্রজ্ঞা, ধৈর্য, সহনশীলতা এবং নিবিড় অধ্যয়ন ও গবেষণা।
এই ধর্মের প্রসারের রহস্য:কেন এই ধর্ম মুসলিম প্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ল?
কেন এটি মুসলিমদের খোদ তাদের নিজেদের আঙিনায় এসে আক্রমণ করতে সক্ষম হলো?
আর কেনই বা এটি মানুষের চিন্তা ও অন্তরের ওপর এমন প্রবল আধিপত্য বিস্তার করতে সমর্থ হলো? এই সব কিছুই গভীর চিন্তাভাবনা দাবি করে।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১০)
الدقيق .. والدراسة الواسعة.
ضعف العالم الإسلامي في القرن التاسع عشر المسيحي في الدعوة والعقيدة والعقلية والعلم وبدا عليه الإعياء والشيخوخة، والإسلام لا يعرف الشيخوخة والهرم، إنه جديد كالشمس وقديم كالشمس وشاب كالشمس ولكن المسلمين هم الذين شاخوا وضعفوا، فلا سعة في العلم ولا ابتكار في التفكير والانتاج، ولا عبقرية في العقل، ولا حماسة في الدعوة، ولا عرضًا جميلاً ومؤثرًا للإسلام ومزاياه ورسالته إلا النادر القليل.
ولا صلة بالشباب المثقف والتأثير في عقليتهم وهم أمة الغد والجيل المُرْتَجَى، ولا محاولة لاقناعهم بأن الإسلام هو دين الإنسانية والرسالة الخالدة، وأن القرآن هو الكتاب المعجز الخالد الذي لا تنقضي عجائبه ولا تنفذ ذخائره ولا تَبْلَى جدته، وأن الرسول هو المعجزة الكبرى، ورسول الأجيال كلها وإمام العهود كلها، وأن الشريعة الإسلامية هي الآية في التشريع وهي الصالحة لمسايرة الحياة وقضاء مآربها الصالحة والإشراف عليها، وأن الإيمان والعقيدة والأخلاق والقيم الروحية هي أساس المدنية الفاضلة والمجتمع الكريم، وإن الحضارة الجديدة لا تملك إلا الوسائل والآلات، وإن تعاليم الأنبياء
সূক্ষ্ম... এবং ব্যাপক অধ্যয়ন।
ঊনবিংশ খ্রিস্টীয় শতাব্দীতে দাওয়াহ, বিশ্বাস (عقيدة), মানসিকতা ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্ব দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার মধ্যে ক্লান্তি ও বার্ধক্যের ছাপ ফুটে ওঠে। অথচ ইসলাম বার্ধক্য বা জরা চেনে না; এটি সূর্যের মতো নতুন, সূর্যের মতোই প্রাচীন এবং সূর্যের মতোই চিরতরুণ। কিন্তু মুসলমানরাই বার্ধক্যে উপনীত হয়েছে এবং দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে জ্ঞানে কোনো প্রশস্ততা নেই, চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতায় কোনো নতুনত্ব নেই, বুদ্ধিবৃত্তিক কোনো প্রতিভা নেই, দাওয়াহর কাজে কোনো উদ্যম নেই, আর গুটিকয়েক ব্যতিক্রম ছাড়া ইসলাম, এর বৈশিষ্ট্য ও বার্তার কোনো সুন্দর ও প্রভাবশালী উপস্থাপনাও নেই।
শিক্ষিত যুবসমাজের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই এবং তাদের মানসিকতার ওপর কোনো প্রভাব নেই, অথচ তারাই আগামীর উম্মাহ এবং প্রত্যাশিত প্রজন্ম। তাদের এটি বোঝানোর কোনো চেষ্টা নেই যে, ইসলামই হচ্ছে মানবতার ধর্ম এবং শাশ্বত পয়গাম। আর কুরআন হলো এক চিরন্তন মুজিজাপূর্ণ কিতাব যার বিস্ময় কখনো শেষ হয় না, যার ভাণ্ডার ফুরায় না এবং যার নতুনত্ব কখনো ম্লান হয় না। আর রাসূল হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা, সকল প্রজন্মের রাসূল এবং সকল যুগের ইমাম। আর ইসলামী শরিয়াহ (شريعة) হলো আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এক অনন্য নিদর্শন এবং এটি জীবনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার, এর কল্যাণকর প্রয়োজনগুলো পূরণ করার ও তা পরিচালনা করার জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী। আর ঈমান (إيمان), বিশ্বাস (عقيدة), নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধই হলো আদর্শ সভ্যতা ও মহৎ সমাজের ভিত্তি। আর আধুনিক সভ্যতার কাছে উপকরণ ও যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নেই, এবং নবীদের শিক্ষা...
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১১)
هي مصادر العقيدة والخُلُقِ والغايات، ولا مطمع في المدنية الصالحة المتزنة إلا بالجمع بين الوسائل والغايات.
وفي هذه الساعة هجمت أوروبا بفلسفاتها التي تعب في تدوينها وتهذيبها كبار الفلاسفة ونوابغ العصر، وصبغوها بصبغة علمية فلسفية يخيل إلى الناظر أنها غاية ما يصل إليها التفكير الإنساني ومنتهى الدراسات والاختيارات ونتاج العقول البشرية وعصارة التأملات وكان فيها ما يقوم على الاختبار والمشاهدة وتصدقه التجربة، وما يقوم على الافتراض والتحكم والتخييل والتوهم، وفيها الحق والباطل والعلم والجهل والحقائق الراهنة والتخيلات الشعرية، وليس الشعر محصورًا في النظم والقوافي بل هو في الفلسفة والعلم أيضًا.
ووردت هذه الفلسفات مع الفاتحين الأوروبيين فخضعت لها العقول والنفوس البشرية وأذعنت لها وقبلتها الطبقة المثقفة في الشرق وفيها من يفهمها وهو القلة القليلة وفيها من لا يفهمها وهم الكثرة الكاثرة ولكن كل مؤمن بها مسحور بسحرها يرى الطرفة والكياسة في اعتقادها ويرى ذلك شعار المثقفين الأحرار.
وهكذا انتشر الإلحاد والارتداد في الأوساط الإسلامية من
এগুলো হলো আকিদা, চরিত্র ও লক্ষ্যসমূহের উৎস; আর উপায় ও লক্ষ্যসমূহের সমন্বয় ব্যতিরেকে কোনো সৎ ও ভারসাম্যপূর্ণ সভ্যতার প্রত্যাশা করা যায় না।
ঠিক এই মুহূর্তে ইউরোপ তার সেই দর্শনসমূহ নিয়ে চড়াও হলো, যেগুলোর সংকলন ও পরিমার্জনে বড় বড় দার্শনিক ও যুগের শ্রেষ্ঠ প্রতিভাধররা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তারা এগুলোকে এমন এক বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক রূপ দান করেছেন যা দেখে কোনো পর্যবেক্ষকের মনে হয় যে, এটিই বুঝি মানবীয় চিন্তাধারার চরম উৎকর্ষ, গবেষণা ও অনুসন্ধানের শেষ সীমানা, মানব মস্তিষ্কের সৃজন এবং গভীর ধ্যানের নির্যাস। এর মধ্যে এমন কিছু বিষয় ছিল যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা যাকে সত্য বলে প্রমাণ করে, আবার এমন কিছু ছিল যা কেবল অনুমান, স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত, কল্পনা ও বিভ্রমের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এতে সত্য ও মিথ্যা, জ্ঞান ও অজ্ঞতা, বিদ্যমান বাস্তবতা এবং কাব্যিক কল্পনা—সবই বিদ্যমান। আর কবিতা কেবল ছন্দ ও অন্ত্যমিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা দর্শন ও বিজ্ঞানের মাঝেও বিদ্যমান।
এই দর্শনগুলো ইউরোপীয় বিজয়ীদের সাথে আগত হয়েছে, ফলে মানুষের মন ও মস্তিষ্ক এর প্রতি অবনত হয়েছে এবং বশ্যতা স্বীকার করেছে। প্রাচ্যের শিক্ষিত সমাজ একে গ্রহণ করে নিয়েছে; তাদের মধ্যে যারা এটি বুঝতে পেরেছে তারা সংখ্যায় অতি নগণ্য, আর বিশাল এক অংশ তা না বুঝেই গ্রহণ করেছে। কিন্তু এর প্রতি বিশ্বাসী প্রত্যেকেই এর জাদুতে বিমোহিত; তারা এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করাকে চমৎকারিত্ব ও বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক মনে করে এবং একে মুক্তমনা শিক্ষিতদের ভূষণ হিসেবে গণ্য করে।
এভাবেই মুসলিম সমাজে নাস্তিক্যবাদ ও ধর্মত্যাগ ছড়িয়ে পড়ল...
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১২)
غير أن يبثه له الآباء والأساتذة المربون وأهل الغيرة ولم يسجدوا لصنم ولم يذبحوا لطاغوت، وكان ذلك دليل الارتداد والكفر والزندقة في العهد القديم ز
نِفَاقٌ وَإِلْحَادٌ:وكان المارقون القدماء يخرجون من المجتمع الإسلامي وينضمون إلى مجتمع الديانة التي يدينون بها جديدًا ويعلنون عقيدتهم وَتَحَوُّلِهِمْ بصراحة وشجاعة، ويحتملون كل ما يخسرونه في سبيل عقيدتهم الجديدة ولا يلحون على البقاء في المجتمع القديم ليحافظوا على ما كانوا يتمتعون به من حقوق وحظوظ.
أما الذي يقطع صلته عن دين الإسلام اليوم فلا يريد أن يقطع صلته عن المجتمع الإسلامي، مع أن المجتمع الإسلامي هو المجتمع البشري الوحيد الذي يقوم على العقيدة ولا يتحقق هذا المجتمع من غير عقيدة، ويلحون على أن يعيشوا في مراكزهم متمتعين بثقة هذا المجتمع، متمتعين بالحقوق التي يُخَوِّلُهَا الإسلام، إن هذا وضع شاذ لم يعرفه التاريخ الإسلامي.
তবে এটি পিতা-মাতা, শিক্ষাদানকারী শিক্ষক এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাদের নিকট পৌঁছেছে; তারা কখনো মূর্তিপূজা করেননি এবং কোনো তাগুত (طاغوت)-এর উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করেননি। প্রাচীন যুগে এটি ধর্মত্যাগ (الارتداد), কুফর (الكفر) এবং ধর্মহীনতা (الزندقة)-র প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতো।
কপটতা (نفاق) ও নাস্তিকতা (إلحاد):প্রাচীনকালের ধর্মত্যাগীরা ইসলামী সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়ে যেতেন এবং তারা যে নতুন ধর্মে দীক্ষিত হতেন সেই সমাজের সাথে যুক্ত হয়ে পড়তেন। তারা তাদের আকিদা (عقيدة) ও ধর্মান্তরের বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও সাহসের সাথে ঘোষণা করতেন। তারা তাদের নতুন আকিদা (عقيدة)-র পথে যা কিছু হারাতেন তা বরণ করে নিতেন এবং পূর্বতন সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে পুরনো সমাজে পড়ে থাকার জন্য জোরাজুরি করতেন না।
পক্ষান্তরে, বর্তমানে যারা ইসলাম ধর্মের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তারা ইসলামী সমাজের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় না। অথচ ইসলামী সমাজই হলো একমাত্র মানব সমাজ যা কেবলমাত্র আকিদা (عقيدة)-র ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং আকিদা (عقيدة) ব্যতীত এই সমাজের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। তারা তাদের অবস্থানে বহাল থেকে এই সমাজের আস্থা (ثقة) এবং ইসলামের দেওয়া যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার ব্যাপারে জিদ ধরে। এটি একটি নজিরবিহীন ও অদ্ভুত পরিস্থিতি যা ইতিপূর্বে ইসলামী ইতিহাস কখনো প্রত্যক্ষ করেনি।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
العَصَبِيَّاتُ الجَاهِلِيَّةُ وَدِيَانَاتُهَا:وهنالك نزعات جاهلية ومبادئ جاهلية حاربها الإسلام بكل وضوح وحاربها الرسول بكل قوة، كالعصبية الجاهلية التي تقوم على وحدة الدم أو الوطن أو الجنس، وَتُمَجِّدُ هذه العصبية وتبالغ في تقديسها والدفاع عنها والقتال تحت رايتها وتوزيع المجتمع الإنساني على أساسها حتى تصبح ديانة وعقيدة، وتسيطر على العقول والنفوس والأرواح والآداب وتكون هي المعرفة للحياة، ولا شك أنها في عمقها ورسوخها وقوتها وشمولها تنافس الأديان وتستعبد الإنسان، وتحبط مساعي الأنبياء وتحدد الدين الذي جاء ليحكم على الحياة في العبادات والطقوس وتقسم العالم الإنساني إلى معسكرات متحاربة وَالأًمَّةُ التي قال الله عنها: {وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ} (1) في أمم كثيرة.
لِمَاذَا يُحَارِبُ الإِسْلَامُ هَذِهِ العَصَبِيَّاتِ؟:
لقد حارب الرسول هذه العصبية الجاهلية بكل قوة ومن غير هوادة وأنذر منها وسد منافذها، فلا بقاء للدين العالمي ولا بقاء للأمة الواحدة مع هذه العصبيات، ومصادر الشريعة
--------------------------------------------
জাহিলি গোত্রবাদ (العصبيات الجاهلية) ও এর ধর্মসমূহ:সেখানে এমন কিছু জাহিলি প্রবণতা ও মূলনীতি বিদ্যমান ইসলাম যেগুলোর বিরুদ্ধে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে যুদ্ধ করেছে এবং রাসূল (সা.) পূর্ণ শক্তি দিয়ে মোকাবিলা করেছেন, যেমন জাহিলি গোত্রবাদ (العصبية الجاهلية) যা রক্ত, স্বদেশ বা বর্ণের ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এই গোত্রবাদকে মহিমান্বিত করা হয় এবং একে পবিত্র মনে করা, এর প্রতিরক্ষা করা, এর পতাকাতলে লড়াই করা এবং এর ভিত্তিতেই মানবসমাজকে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে এমন চরম বাড়াবাড়ি করা হয় যে, শেষ পর্যন্ত তা একটি ধর্ম (ديانة) ও আকিদায় (عقيدة) রূপ নেয়। এটি মানুষের বুদ্ধি, নফস, রুহ ও শিষ্টাচারের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে এবং জীবনের সংজ্ঞায় পরিণত হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর গভীরতা, স্থায়িত্ব, শক্তি ও ব্যাপকতায় এটি ধর্মসমূহের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং মানুষকে দাসে পরিণত করে। এটি নবীদের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয় এবং ইবাদত ও ধর্মীয় রীতিনীতির ক্ষেত্রে জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে আসা দ্বীনকে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। এটি মানব বিশ্বকে বিবাদমান শিবিরে বিভক্ত করে এবং সেই উম্মতকে বহু জাতিতে পরিণত করে যার সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমাদের এই উম্মত তো মূলত একই উম্মত (أمة واحدة), আর আমিই তোমাদের রব, অতএব আমাকে ভয় করো} (১)।
কেন ইসলাম এই গোত্রবাদগুলোর (العصبيات) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে?:
রাসূল (সা.) এই জাহিলি গোত্রবাদের (العصبية الجاهلية) বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তি দিয়ে এবং কোনো প্রকার শিথিলতা ছাড়াই যুদ্ধ করেছেন, এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং এর সকল প্রবেশপথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন। কেননা এই গোত্রবাদগুলোর উপস্থিতিতে বিশ্বজনীন দ্বীন বা একক উম্মতের (الأمة الواحدة) অস্তিত্ব টিকে থাকা অসম্ভব। আর শরীয়তের উৎসসমূহ (مصادر الشريعة)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الإسلامية زاخرة بإنكارها وتشنيعها، والنصوص في ذلك أكثر من أن تُسْتَقْصَى وهذا الذي يعرف بداهة من الإسلام والذي عرف طبيعة الإسلام بل عرف الإسلام بل عرف طبيعة الأديان عرف أنها لا تسيغ هذه العصبيات، ومن درس التاريخ متجردًا من الميول والمذاهب السياسية عرف أنها لم تزل ولا تزال من أقوى عوامل الهدم والتخريب والإفساد والتفريق بين الإنسان والإنسان، والمعقول المنتظر من الإنسان الذي جاء لِيُوَحِّدَ العالم ويجمع النوع الإنساني تحت راية واحدة وعلى عقيدة واحدة وَيُكَوِّنَ مجتمعًا جديدًا قائمًا على الدين وعلى الإيمان برب العالمين ويبسط الأمن والسلام وينشر الحب والوئام بين أعضاء الأسرة الإنسانية ويجعلها جسدًا واحدًا إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالسهر والحمى، من المعقول جد من هذا الإنسان أن يحارب هذه العصبيات بكل وضوح وصراحة ويجعلها كلمة باقية في عقبة لعلهم يرجعون.
اِنْدِفَاعُ الشُّعُوبِ الإِسْلَامِيَّةِ إِلَى إِحْيَاءِ هَذِهِ العَصَبِيَّاتِ:ولكن العالم الإسلامي أصبح بعد ما غزته أوروبا سياسيًا وثقافيًا يخضع لهذه العصبيات الدموية والجنسية والوطنية ويؤمن بها كقضية علمية وحقيقية مقررة وواقع لا مفر منه، وأصبحت شعوبه تندفع اندفاعًا غريبًا إلى إحياء هذه
ইসলামি ঐতিহ্য এই গোত্রবাদ বা স্বজাত্যবোধের অস্বীকৃতি এবং নিন্দায় পরিপূর্ণ, এবং এ সংক্রান্ত উদ্ধৃতিসমূহ এতো বেশি যে তা গণনা করে শেষ করা অসম্ভব। আর এটি এমন এক বিষয় যা ইসলামের স্বতঃসিদ্ধ ধারণা থেকেই পরিজ্ঞাত। যিনি ইসলামের প্রকৃতি অবগত হয়েছেন, বরং যিনি প্রকৃত ইসলামকে চিনেছেন, এমনকি যিনি ধর্মের স্বরূপ সম্পর্কে জানেন, তিনি এটি উপলব্ধি করেছেন যে, ধর্মসমূহ এই জাতীয় গোত্রীয় সংকীর্ণতাকে সমর্থন করে না। আর যে ব্যক্তি রাজনৈতিক অনুরাগ ও মতাদর্শ থেকে মুক্ত হয়ে নিরপেক্ষভাবে ইতিহাস অধ্যয়ন করেছেন, তিনি জানেন যে এটি বরাবরই ধ্বংস, বিপর্যয়, বিশৃঙ্খলা এবং মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির অন্যতম শক্তিশালী কারণ হিসেবে কাজ করেছে। সেই মহান সত্তার (রাসূলুল্লাহ সা.) থেকে এটিই যুক্তিসঙ্গত ও প্রত্যাশিত ছিল, যিনি বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং মানবজাতিকে এক পতাকার নিচে ও এক অভিন্ন আকিদাহর ভিত্তিতে একত্রিত করতে এসেছিলেন; যিনি দ্বীন এবং রব্বুল আলামীনের প্রতি ঈমানের ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন সমাজ গঠন করতে চেয়েছিলেন। তিনি নিরাপত্তা ও শান্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করতে এবং মানব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন, যেন তারা একটি দেহে পরিণত হয়—যার একটি অঙ্গ ব্যথিত হলে সমগ্র শরীর অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়। এই মহামানবের পক্ষ থেকে এটিই অত্যন্ত যৌক্তিক যে, তিনি এই গোত্রবাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে লড়াই করবেন এবং একে তাঁর উত্তরসূরিদের জন্য এক চিরন্তন বাণী হিসেবে রেখে যাবেন, যেন তারা সত্যের পথে প্রত্যাবর্তন করে।
এই গোত্রবাদসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতি মুসলিম জাতিসমূহের প্রবণতা:কিন্তু ইউরোপের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার হওয়ার পর মুসলিম বিশ্ব বর্তমানে এই রক্তভিত্তিক, বংশগত ও জাতীয়তাবাদী গোত্রবাদের বশীভূত হয়ে পড়েছে এবং একে একটি ধ্রুব বৈজ্ঞানিক সত্য ও অনিবার্য বাস্তবতা হিসেবে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। ফলে এর অন্তর্ভুক্ত জাতিসমূহ অত্যন্ত অদ্ভুতভাবে এই গোত্রবাদসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
العصبيات التي أماتها الإسلام وَالتَغَنِّي بها وإحياء شعائرها والافتخار بعهدها الذي تقدم على الإسلام وهو الذي يلح الإسلام على تسميته بالجاهلية وليس في معجمه تعبير أهول وأفظع منها، وَيَمُنُّ القرآن على المسلمين بالخروج عنها ويحثهم على شكر هذه النعمة التي لا نعمة أعظم منها: {وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا} (1)، {بَلِ اللَّهُ يَمُنُّ عَلَيْكُمْ أَنْ هَدَاكُمْ لِلْإِيمَانِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} (2)، {هُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ عَلَى عَبْدِهِ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ لِيُخْرِجَكُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَإِنَّ اللَّهَ بِكُمْ لَرَؤُوفٌ رَحِيمٌ} (3).
مَوْقِفُ المُسْلِمِ نَحْوَ الجَاهِلِيَّةِ وَشَعَائِرَهَا:والطبيعي من المؤمن أن لا يذكر جاهلية تقادم عهدها أو قار إلا بمقت وكراهية وامتعاض واقشعرار، وهل يذكر السجين المعذب الذي أطلق سراحه أيام اعتقاله وتعذيبه وامتهانه إلا وعرته قشعريرة وثارت الذكريات الأليمة القاتمة! وهل يذكر البريء من علة شديدة طويلة أشرف منها على الموت أيام سقمه إلا وانكشف بَالُهُ وامتقع لونه، وهل يذكر الإنسان رؤيا فظيعة مفزعة رآها إلا وشكر على أنها حلم زائل وَهَمٌّ
--------------------------------------------
সেই সব গোত্রীয় সংকীর্ণতা যা ইসলাম বিলুপ্ত করেছে এবং তা নিয়ে গর্ব করা, এর রীতিনীতিসমূহকে পুনর্জীবিত করা এবং ইসলামের পূর্ববর্তী যুগ নিয়ে অহংকার করা; অথচ ইসলাম সেই যুগকে ‘জাহিলিয়াত’ নামে অভিহিত করার ওপর জোর দেয় এবং ইসলামের শব্দভাণ্ডারে এর চেয়ে ভয়ংকর ও জঘন্য কোনো অভিব্যক্তি নেই। কুরআন মুমিনদেরকে তা থেকে বের করে আনার জন্য অনুগ্রহ প্রকাশ করে এবং তাদের এই নেয়ামতের শোকর আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করে যার চেয়ে বড় কোনো নেয়ামত নেই: {আর তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো; যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি দান করলেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা আগুনের গর্তের কিনারায় ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের সেখান থেকে উদ্ধার করলেন} (১), {বরং আল্লাহই তোমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তোমাদের ঈমানের দিকে পরিচালিত করেছেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো} (২), {তিনিই তাঁর বান্দার ওপর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ অবতীর্ণ করেন যাতে তোমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি অতি দয়ালু, পরম করুণাময়} (৩)।
জাহিলিয়াত ও এর রীতিনীতির প্রতি মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি:একজন মুমিনের পক্ষে এটাই স্বাভাবিক যে, সে অতীত হয়ে যাওয়া বা বর্তমান কোনো জাহিলিয়াতকে চরম ঘৃণা, অনীহা, বিরক্তি ও শিউরে ওঠা ছাড়া স্মরণ করবে না। মুক্তিপ্রাপ্ত কোনো নির্যাতিত কয়েদি কি তার কারাবাস, নির্যাতন ও লাঞ্ছনার দিনগুলোকে শিহরণ ও যন্ত্রণাদায়ক অন্ধকার স্মৃতি ছাড়া স্মরণ করতে পারে! দীর্ঘ ও কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া কোনো ব্যক্তি, যে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে ছিল, সে কি তার অসুস্থতার দিনগুলোকে বিষণ্ণতা ও বিবর্ণ মুখচ্ছবি ছাড়া স্মরণ করতে পারে? মানুষ কি কোনো ভয়ংকর ও আতঙ্কজনক স্বপ্ন দেখার পর শুকরিয়া আদায় করে না যে, তা ছিল কেবলই এক ক্ষণস্থায়ী দুঃস্বপ্ন ও দুশ্চিন্তা মাত্র!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
راحل، والجاهلية التي تجمع معاني الجهل والضلالة والبعد عن الحقائق وأنواع الخطر والمضار في الدنيا والآخرة أعظم من كل ذلك وجديرة بأن يثير ذكراها المقت الشديد وتحث على الشكر على التخلص منها وانقضاء أيامها ولذلك جاء في الصحيح: «ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الإِيمَانِ، أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَأَنْ يُحِبَّ المَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَاّ لِلَّهِ، وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ».
وقد ذم الله شعائر الجاهلية وأبطالها وعظمائها في غير رفق وتحفظ فقال: {وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يُنْصَرُونَ، وَأَتْبَعْنَاهُمْ فِي هَذِهِ الدُّنْيَا لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ هُمْ مِنَ الْمَقْبُوحِينَ} (1)، ويقول: {وَمَا أَمْرُ فِرْعَوْنَ بِرَشِيدٍ، يَقْدُمُ قَوْمَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَوْرَدَهُمُ النَّارَ وَبِئْسَ الْوِرْدُ الْمَوْرُودُ، وَأُتْبِعُوا فِي هَذِهِ لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ بِئْسَ الرِّفْدُ الْمَرْفُودُ} (2).
تَمْجِيدُ الجَاهِلِيَّةِ فِي الأَقْطَارِ الإِسْلَامِيَّةِ:ولكن كثيرًا من الأقطار الإسلامية والشعوب الإسلامية بتأثير الفلسفات الغربية والتفكير الغربي وحده أصبحت تمجد عهدها العتيق الذي سبق الإسلام وحضارته وتقاليده وَتَحِنُّ إليه.
--------------------------------------------
বিগত হয়েছে; আর জাহেলিয়াত, যা মূর্খতা, পথভ্রষ্টতা, সত্য থেকে বিচ্যুতি এবং দুনিয়া ও আখেরাতের নানা প্রকার বিপদ ও ক্ষতির সমষ্টি, তা এসবের চেয়েও গুরুতর এবং এটি এমন এক বিষয় যা স্মরণ করলে তীব্র ঘৃণা জাগ্রত হওয়া সংগত এবং তা থেকে মুক্তি পাওয়া ও সেই দিনগুলোর অবসানের জন্য শুকরিয়া আদায় করতে উদ্বুদ্ধ করে। একারণেই সহিহ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: «তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে, সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করবে: আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তার নিকট অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হওয়া, কোনো ব্যক্তিকে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা এবং কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে এমন অপছন্দ করা যেমন সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে।»
আল্লাহ তাআলা কোনো প্রকার কোমলতা বা সংকোচ ছাড়াই জাহেলিয়াতের নিশানসমূহ এবং তার বীর ও বড়দের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন: {আমি তাদেরকে এমন নেতা বানিয়েছিলাম যারা জাহান্নামের দিকে আহ্বান করত এবং কিয়ামতের দিন তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। আর আমি এই দুনিয়াতে তাদের পেছনে অভিশাপ লাগিয়ে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিন তারা হবে লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত} (১), এবং তিনি বলেন: {আর ফেরাউনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। কিয়ামতের দিন সে তার কওমের অগ্রভাগে থাকবে এবং তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে পৌঁছাবে; আর তা কতই না নিকৃষ্ট অবতরণস্থল! আর এই দুনিয়াতে তাদের পেছনে অভিশাপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কিয়ামতের দিনও; কতই না নিকৃষ্ট এই পুরস্কার যা তাদের দেওয়া হয়েছে} (২)।
মুসলিম ভূখণ্ডসমূহে জাহেলিয়াতের মহিমা কীর্তন:কিন্তু বর্তমানে বহু মুসলিম দেশ ও মুসলিম জাতি কেবল পশ্চিমা দর্শন এবং পশ্চিমা চিন্তাধারার প্রভাবে তাদের সেই প্রাচীন যুগকে মহিমান্বিত করতে শুরু করেছে যা ইসলামের আবির্ভাব, তার সভ্যতা ও ঐতিহ্যের পূর্ববর্তী ছিল এবং তারা সেই যুগের প্রতি লালায়িত হচ্ছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وتحرص على إحياء شعائره وتخليد عظمائه وأبطاله وملوكه وأمجاده كأنه عهدها الذهبي وكأنه نعمة حرمها الإسلام إياها، وفي ذلك من الجحود والنكران للجميل وقلة تقدير نعمة الإسلام وفضل محمد عليه الصلاة والسلام وتهوين خطب الكفر والوثنية وما اشتملت عليه الجاهلية من خرافات وضلالات وسفاهات ومضحكات ومبكيات ما لا يعقل عن مسلم واع وما يخاف معه الحرمان من نعمة الإسلام وسلب الإيمان والتعرض لسخط الله الشديد وقد قال: {وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ ثُمَّ لَا تُنْصَرُونَ} (1).
التَّحَلُّلُ مِنَ الدِّينِ وَالأَخْلَاقِ:أضف إلى ذلك ما يوجد في العالم الإسلامي اليوم من التهور في الحصول على المادة وإيثار الدنيا على الآخرة والإخلاد إلى الأرض واتباع الهوى وما تبع ذلك من التفسخ والاستهانة بمحارم الله وشيوع الخمر والفسوق في الطبقات الراقية حتى تكاد تكون هذه الطبقة نسخة واحدة وصورة واحدة في كل بلد إسلامي إلا من عصم ربك وقليل ما هم - والتحرر من قيود الإسلام وفرائضه تحررًا
--------------------------------------------
আর তারা (জাহেলিয়াতের) নিদর্শনসমূহ পুনর্জীবিত করতে এবং এর মহাপুরুষ, বীর, রাজা ও গৌরবগাঁথাকে অমর করে রাখতে সচেষ্ট থাকে; যেন এটিই তাদের সোনালী যুগ এবং যেন এটি এমন এক নেয়ামত ছিল যা থেকে ইসলাম তাদের বঞ্চিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অকৃতজ্ঞতা, অনুগ্রহ অস্বীকার করা এবং ইসলামের নেয়ামত ও মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শ্রেষ্ঠত্বের যথাযথ মূল্যায়নের অভাব। এছাড়া কুফর ও মূর্তিপূজার ভয়াবহতাকে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং জাহেলিয়াত যে সকল কুসংস্কার, পথভ্রষ্টতা, নির্বুদ্ধিতা এবং হাস্যকর ও বেদনাদায়ক বিষয়ে পরিপূর্ণ ছিল—একজন সচেতন মুসলিমের পক্ষে তা কল্পনা করাও অসম্ভব। এর ফলে ইসলামের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়া, ঈমান হরণ হওয়া এবং আল্লাহর কঠোর ক্রোধের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অথচ তিনি বলেছেন: {আর তোমরা জালেমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না, অন্যথায় আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে। আর আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই, অতঃপর তোমাদের সাহায্য করা হবে না} (১)।
দ্বীন ও নৈতিকতা থেকে বিচ্যুতি:এর সাথে আরও যোগ করুন বর্তমান মুসলিম বিশ্বে পার্থিব সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে চরম বেপরোয়া ভাব, আখেরাতের চেয়ে দুনিয়াকে প্রাধান্য দেওয়া, পার্থিব মোহে নিমগ্ন হওয়া এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ। এর ফলশ্রুতিতে দেখা দিয়েছে নৈতিক অবক্ষয়, আল্লাহর হারামকৃত বিষয়গুলোর প্রতি অবজ্ঞা এবং উচ্চবিত্ত সমাজে মদ ও পাপাচারের ব্যাপক বিস্তার। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এই উচ্চবিত্ত শ্রেণীটি প্রতিটি মুসলিম দেশে যেন একই রূপ ও ছাঁচে তৈরি একটি সংস্করণে পরিণত হতে চলেছে; কেবল তারা ব্যতীত যাদেরকে আপনার প্রতিপালক রক্ষা করেছেন—আর তারা সংখ্যায় অতি সামান্য—এবং ইসলামের বিধি-বিধান ও ফরজসমূহ থেকে মুক্ত হওয়াকে প্রকৃত মুক্তি মনে করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تَامًّا حتى كأنها لا صلة لها بالإسلام وشريعته، وكأنها شريعة منسوخة وأسطورة خيالية.
أَعْظَمُ خَطَرٍ يُوَاجِهُ العَالَمَ الإِسْلَامِيَّ:هذا تصوير العالم الإسلامي الديني والاعتقادي بالإجمال وهي موجة جاهلية تكتسح العالم الإسلامي من أقصاه إلى أقصاه وهي أعظم موجة واجهها العالم الإسلامي في تاريخه الطويل وهي تفوق كل موجة معارضة عرفها التاريخ الإسلامي سواء في قوتها وفي شمولها وفي تأثيرها في المجتمع الإسلامي، وتمتاز عنها بأن المنتبهين لهذه الأخيرة قلائل، والذين ينقطعون إلى محاربتها ويجندون لها قواهم ومواهبهم أقل، فقد حدث الإلحاد وظهرت الزندقة بتأثير الفلسفة اليونانية في العهد القديم فوجد من يحاربها بعقله الكبير وذكائه النادر وعلمه الغزير ودراسته الواسعة وشخصيته القوية، وظهرت الباطنية والملاحدة فوجد من يحاربها بالعلم والحكمة والبرهان، وبقي الإسلام محتفظًا بنفوذه العقلي ومكانته العلمية ترتد عنه كل موجة عاتية، وينحسر عن طوده كل فيضان وكل سيل جارف.
ليست المسألة انحطاط (1) في الأخلاق، وضعف في العبادات وترك للشعائر، وتقليد للأجانب، وإن كانت مسائل تستحق
--------------------------------------------
পূর্ণাঙ্গভাবে, যেন ইসলাম ও এর শরিয়তের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই, আর যেন এটি একটি রহিত (منسوخ) শরিয়ত এবং একটি কাল্পনিক উপকথা।
মুসলিম বিশ্বের মুখোমুখি হওয়া সবথেকে বড় বিপদ:এটি মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় ও বিশ্বাসগত অবস্থার একটি সামগ্রিক চিত্র। এটি একটি জাহেলি তরঙ্গ যা মুসলিম বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। এটি মুসলিম বিশ্বের সুদীর্ঘ ইতিহাসে মোকাবিলা করা সর্বশ্রেষ্ঠ তরঙ্গ। এটি ইসলামী ইতিহাসের পরিচিত সকল বিরোধী তরঙ্গের চেয়ে এর শক্তি, ব্যাপকতা এবং মুসলিম সমাজে এর প্রভাবের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ। এটি পূর্ববর্তী তরঙ্গগুলো থেকে এই বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র যে, এই শেষোক্ত তরঙ্গের ব্যাপারে সচেতন মানুষের সংখ্যা খুবই কম, আর যারা এটি প্রতিরোধের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে নিজেদের শক্তি ও মেধা নিয়োজিত করেছেন তাদের সংখ্যা আরও নগণ্য। প্রাচীন যুগে গ্রিক দর্শনের প্রভাবে নাস্তিক্যবাদ ও ধর্মদ্রোহিতার আবির্ভাব ঘটেছিল, তখন এমন ব্যক্তিদের পাওয়া গিয়েছিল যারা তাদের অসাধারণ বুদ্ধি, বিরল ধীশক্তি, অগাধ জ্ঞান, ব্যাপক অধ্যয়ন এবং শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব দিয়ে তা মোকাবিলা করেছিলেন। বাতেনি ও নাস্তিকদের উদ্ভব হয়েছিল, তখন জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও প্রমাণের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার লোক পাওয়া গিয়েছিল। ইসলাম তার বুদ্ধিবৃত্তিক আধিপত্য ও বৈজ্ঞানিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখেছিল; প্রতিটি প্রচণ্ড তরঙ্গ এর থেকে প্রতিহত হয়ে ফিরে যেত এবং প্রতিটি প্লাবন ও প্রবল স্রোত এর সুউচ্চ পাহাড়ের পাদদেশে এসে থেমে যেত।
বিষয়টি কেবল নৈতিক অবক্ষয় (১), ইবাদতে দুর্বলতা, ধর্মীয় নিদর্শনসমূহ বর্জন এবং বিদেশিদের অন্ধ অনুকরণ নয়, যদিও এই বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
العناية والجهاد، ولكن مسألة العالم الإسلامي اليوم أعظم وأضخم من كل ذلك، إنها مسألة كفر وإيمان، إنها مسألة بقاء على الإسلام وخلع له، إن المعركة قائمة بين الفلسفة الغربية اللادينية وبين الإسلام آخر الرسالات، وبين المادية والشرائع الإسلامية، ولعلها آخر معركة قامت بين الدين واللادينية وأنها تحدد مصير العالم.
جِهَادُ اليَوْمِ:إن جهاد اليوم وإن خلافة النبوة وإن أعظم القُرُبَاتِ وأفضل العبادات أن تقاوم هذه الموجة اللادينية التي تجتاح العالم الإسلامي وتغزو عقوله ومراكزه، وأن تعاد الثقة المفقودة إلى نفوس الشباب والطبقات المثقفة بمبادئ الإسلام وعقائده وحقائقه وَنُظُمِهِ، وبالرسالة المحمدية، وأن يزال القلق الفكري والاضطراب النفسي اللذان يساوران الشباب المثقف وأن يقنعوا بالإسلام عقليًا وثقافيًا، وأن تحارب المبادئ الجاهلية التي رسخت في النفوس وسيطرت على العقول علميًا وعقليًا وأن يحل محلها المبادئ الإسلامية باقتناع وإيمان وحماسة.
لقد مضى علينا قرن كامل وأوروبا تغتصب شبابنا وعقولنا وتنبت في عقولنا الشك والألحاد، والنفاق وعدم الثقة
যত্ন ও জিহাদ (جهاد), তবে বর্তমান মুসলিম বিশ্বের সমস্যা এসবের চেয়ে অনেক মহৎ ও বিশাল। এটি কুফর (كفر) ও ইমানের (إيمان) বিষয়। এটি ইসলামে অবিচল থাকা অথবা তা বিসর্জন দেওয়ার প্রশ্ন। বর্তমানে এই লড়াই চলছে ধর্মহীন পশ্চিমা দর্শন এবং সর্বশেষ ঐশী বার্তা ইসলামের মধ্যে; বস্তুবাদ এবং ইসলামি শরিয়তের (الشرائع الإسلامية) মধ্যে। সম্ভবত এটিই দ্বীন (الدين) ও ধর্মহীনতার মধ্যে সংঘটিত শেষ যুদ্ধ এবং এটিই বিশ্বের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
আজকের জিহাদ (جهاد):নিশ্চয়ই আজকের জিহাদ (جهاد), নবুওয়াতের খিলাফত (خلافة النبوة), সর্বোত্তম নৈকট্য লাভ (القربات) এবং শ্রেষ্ঠ ইবাদত (العبادات) হলো—মুসলিম বিশ্বকে গ্রাসকারী এবং এর মন-মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রগুলোতে আক্রমণকারী এই ধর্মহীন স্রোতকে প্রতিরোধ করা। আর ইসলামের মূলনীতি, আকিদা (عقائد), সত্যতা, জীবনব্যবস্থা এবং মুহাম্মাদি রিসালাতের প্রতি যুবসমাজ ও শিক্ষিত শ্রেণির অন্তরে হারিয়ে যাওয়া সেই আত্মবিশ্বাস পুনরায় ফিরিয়ে আনা। সেই সাথে শিক্ষিত যুবকদের মনে দানা বাঁধা বুদ্ধিবৃত্তিক সংশয় ও মানসিক অস্থিরতা দূর করা এবং তাদেরকে যৌক্তিকভাবে ও সাংস্কৃতিকভাবে ইসলামের প্রতি আশ্বস্ত করা। এছাড়া অন্তরে গেঁথে যাওয়া এবং মগজে রাজত্ব করা জাহেলি (جاهلية) মতবাদগুলোর বিরুদ্ধে বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিকভাবে লড়াই করা এবং পূর্ণ প্রত্যয়, ইমান (إيمان) ও উদ্দীপনার সাথে সেখানে ইসলামি আদর্শকে প্রতিস্থাপন করা।
আমাদের ওপর দিয়ে পূর্ণ একটি শতাব্দী অতিবাহিত হয়েছে যেখানে ইউরোপ আমাদের যুবসমাজ ও তাদের মেধাকে গ্রাস করেছে এবং আমাদের মগজে সন্দেহ (الشك), নাস্তিকতা (الإلحاد), মুনাফিকি (النفاق) ও আস্থাহীনতার বীজ বপন করেছে।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২০)
بالحقائق الإيمانية والغيبية والإيمان بالفلسفات الجديدة الاقتصادية والسياسية، ونحن معرضون عن مقاومتها ومعتمدون على ما عندنا من ثراء، مضربون عن الانتاج الجديد، معرضون عن فلسفاتها ونظمها ومحاسبتها محاسبة علمية ونقدها وتشريحها كتشريح الأطباء الجراحين، متعللون بالبحوث السطحية المستعجلة بالزيادة في ثروتنا العلمية القديمة حتى فوجئنا في العصر الأخير بانهيار العالم الإسلامي في الإيمان والعقيدة، وملك زمام الأمور في البلاد الإسلامية، جيل لا يؤمن بمبادئ الإسلام وعقيدته ولا يتحمس لها ولا تربطه بالشعب المسلم المؤمن البريء إلا «القومية الإسلامية» أو المصالح السياسية.
وبدأت هذه العقلية أو النفسية اللادينية تتسرب عن طريق الأدب والثقافة والصحافة والسياسة إلى الجماهير حتى أصبحت الشعوب الإسلامية وفيها كل خير وكل صلاح وكل استعداد وهي من أصلح الكتل البشرية في العالم خاضعة لهذه الطبقة بحكم ثقافتها وذكائها ونفوذها، وإذا بقي هذا الوضع يُسَرِّبُ الإلحاد والفساد إلى هذه الشعوب وإلى الطبقات التي تعيش في البادية والقرى وتعمل في المصانع والمزارع وصارت في طريق اللادينية والزندقة.
هذا ما وقع في أوروبا وهو واقع
ঈমানি ও গায়বি (অদৃশ্যের) বাস্তবতাসমূহ এবং নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দর্শনের ওপর বিশ্বাসের বিষয়ে আমরা সেগুলোর মোকাবিলা করা থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছি এবং আমাদের কাছে বিদ্যমান (প্রাচীন) সমৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে বসে আছি। আমরা নতুন জ্ঞানতাত্ত্বিক উৎপাদনের বিষয়ে উদাসীন এবং তাদের দর্শন, শাসনব্যবস্থা ও চিন্তাধারার বৈজ্ঞানিক বিচার-বিশ্লেষণ এবং শল্যচিকিৎসকদের মতো ব্যবচ্ছেদ ও পর্যালোচনার ব্যাপারে বিমুখ। আমরা আমাদের প্রাচীন জ্ঞানভাণ্ডারে কেবল কিছু বৃদ্ধিসাধনের মতো ভাসা-ভাসা ও তড়িঘড়ি করা গবেষণার বাহানা দিচ্ছিলাম, এমনকি শেষ পর্যন্ত সাম্প্রতিককালে আমরা ঈমান ও আকিদা (عقيدة)-এর ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের বিপর্যয়ে আকস্মিকভাবে পর্যুদস্ত হলাম। বর্তমানে মুসলিম দেশগুলোর পরিচালনার চাবিকাঠি এমন এক প্রজন্মের হাতে চলে গেছে যারা ইসলামের মূলনীতি ও আকিদা (عقيدة)-এর ওপর বিশ্বাস রাখে না এবং এর জন্য কোনো উদ্দীপনা অনুভব করে না। সাধারণ নিরপরাধ মুমিন মুসলিম জনগোষ্ঠীর সাথে তাদের সম্পর্ক কেবল 'ইসলামী জাতীয়তাবাদ' অথবা রাজনৈতিক স্বার্থকেন্দ্রিক।
এবং এই ধর্মহীন মানসিকতা বা মনস্তত্ত্ব সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতির মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে অনুপ্রবেশ করতে শুরু করেছে। ফলে মুসলিম জাতিগোষ্ঠী—যাদের মধ্যে যাবতীয় কল্যাণ, সংস্কার ও যোগ্যতা বিদ্যমান এবং যারা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানবগোষ্ঠী—তারা নিজেদের সংস্কৃতি, মেধা ও প্রভাবের কারণে এই (অভিজাত) শ্রেণির অনুগত হয়ে পড়েছে। যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহতভাবে এই জাতিগুলোর মাঝে এবং মরুভূমি ও গ্রামে বসবাসকারী এবং কলকারখানা ও খামারে কর্মরত সামাজিক স্তরগুলোর মাঝে নাস্তিক্যবাদ ও ফাসাদ ছড়িয়ে দিতে থাকে, তবে তারা ধর্মহীনতা ও ধর্মদ্রোহিতা (زندقة)-র পথে ধাবিত হবে।
ইউরোপে যা ঘটেছিল এটি তাই, আর এটিই বর্তমান বাস্তবতা।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২১)
في الشرق إذا جرت الأمور مجراها الطبيعي ولم تحل إرادة الله القاهرة.
إِلَى الإِيمَانِ مِنْ جَدِيدٍ:إن العالم الإسلامي في حاجة شديدة إلى دعوة إسلامية جديدة وإن هتاف الدُّعَاةِ والعاملين فيه وهدفهم اليوم «إلى الإيمان من جديد» ولا يكفي الهتاف أنه لا بد من تصميم حكيم قبل العمل، لا بد من تفكير هادئ عميق كيف نرد الطبقة المثقفة التي تحتكر الحياة وتملك الزمام إلى الإسلام من جديد وكيف نبعث فيها الإيمان والثقة بالإسلام، وكيف نحررها من رق الفلسفات الغربية والحضارة العصرية ونظرياتها اللادينية.
الحَاجَةُ إِلَى المُخْلِصِينَ المُتَجَرِّدِينَ عَنْ الأَغْرَاضِ:إنه في حاجة إلى رجال ينقطعون إلى هذه الدعوة وَيُكَرِّسُونَ عليها علمهم ومواهبهم وكفايتهم، ولا يطمعون في منصب أو جاه أو وظيفة أو حكومة ولا يحملون لأحد حِقْدًا ينفعون ولا ينتفعون ويعطون ولا يأخذون ولا يزاحمون طبقة في شيء تحرص عليه تتهالك حتى لا تكون لها حُجَّةٌ عليهم ولا للشيطان سبيل إليهم، شعارهم الإخلاص والتجرد عن الشهوات والأنانيات والعصبيات.
প্রাচ্যে যদি বিষয়গুলো তার স্বাভাবিক গতিতে চলে এবং আল্লাহর অদম্য ইচ্ছা প্রতিবন্ধক হয়ে না দাঁড়ায়।
নতুন করে ঈমানের দিকে:নিশ্চয়ই মুসলিম বিশ্ব একটি নতুন ইসলামি দাওয়াতের (دعوة) তীব্র মুখাপেক্ষী। বর্তমানে দাঈ (دعاة) ও কর্মীদের স্লোগান ও লক্ষ্য হলো ‘নতুন করে ঈমানের দিকে’। কেবল স্লোগানই যথেষ্ট নয়, বরং কাজের আগে প্রজ্ঞাপূর্ণ পরিকল্পনার প্রয়োজন। শিক্ষিত শ্রেণী যারা জীবনকে কুক্ষিগত করে রেখেছে এবং নেতৃত্বের লাগাম ধারণ করে আছে, তাদেরকে কীভাবে পুনরায় ইসলামের দিকে ফিরিয়ে আনা যায়, কীভাবে তাদের মধ্যে ঈমান ও ইসলামের প্রতি আস্থা জাগ্রত করা যায় এবং কীভাবে তাদেরকে পাশ্চাত্য দর্শন, আধুনিক সভ্যতা ও এর ধর্মহীন মতবাদসমূহের দাসত্ব থেকে মুক্ত করা যায়—সে বিষয়ে শান্ত ও গভীর চিন্তাভাবনা একান্ত প্রয়োজন।
স্বার্থহীন ও একনিষ্ঠ (مخلصين) ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয়তা:মুসলিম বিশ্বের এখন এমন একদল মানুষের প্রয়োজন, যারা নিজেদেরকে এই দাওয়াতের (دعوة) কাজে উৎসর্গ করবেন এবং তাদের জ্ঞান, প্রতিভা ও দক্ষতাকে এর পেছনে ব্যয় করবেন। তারা পদ-পদবি, প্রভাব-প্রতিপত্তি, চাকরি বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার লিপ্সা করবেন না এবং কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবেন না। তারা অন্যের উপকার করবেন কিন্তু নিজেরা উপকৃত হওয়ার প্রত্যাশা করবেন না, দান করবেন কিন্তু গ্রহণ করবেন না। তারা পার্থিব কোনো বিষয়ে কারো সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবেন না, যাতে তাদের বিরুদ্ধে কারো কোনো প্রমাণ (حجة) না থাকে এবং শয়তানের তাদের পর্যন্ত পৌঁছানোর কোনো পথ না থাকে। তাদের মূলমন্ত্র হবে ইখলাস (إخلاص) তথা একনিষ্ঠতা এবং কুপ্রবৃত্তি, অহমিকা ও গোঁড়ামি থেকে বিমুক্তি।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২২)
الحَاجَةُ إِلَى مُنَظَّمَاتٍ عِلْمِيَّةٍ:إن العالم الإسلامي في حاجة إلى منظمات علمية تهدف إلى انتاج الأدب الإسلامي القوي الجديد الذي يعيد الشباب المثقف إلى الإسلام بمعناه الواسع من جديد ويحررهم من رق الفلسفات الغربية التي آمن بها كثير منهم بوعي ودراسة وأكثرهم بتقليد وتسليم، ويقيم في عقولهم أسس الإسلام من جديد، ويغذي عقولهم وقلوبهم، إنه في حاجة إلى رجال في كل ناحية من نواحي عالم الإسلام عاكفين على هذا الجهاد.
إنني لم أكن في فترة من فترات حياتي ممن يقول بفصل الدين عن السياسة وممن يفسر الدين تفسيرًا لا يتصادم مع وضع - مهما انحرف وشذ عن الإسلام - وينسجم مع كل مجتمع، ولا ممن يعتبر السياسة «الشجرة الملعونة في القرآن» بل أنا في مقدمة من يدعو إلى إيجاد الوعي السياسي الصحيح في الشعوب الإسلامية وإيجاد القيادة الصالحة، وممن يعتقد أن المجتمع الديني لا يقوم إلا بالملك الديني الصحيح والحكم الصالح المؤسس على أسس الإسلام ولا أزال أدعو إلى ذلك حتى ألقى الله، إنما المسألة مسألة ترتيب وتقديم وتأخير وما تقتضيه حكمة الدين وفقهه، وما تفرضه الأوضاع.
প্রাতিষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা:নিশ্চয়ই মুসলিম বিশ্ব এমন কিছু বৈজ্ঞানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠনের মুখাপেক্ষী, যাদের লক্ষ্য হবে নতুন ও শক্তিশালী ইসলামি সাহিত্য সৃষ্টি করা; যা শিক্ষিত তরুণ সমাজকে পুনরায় ইসলামের বিস্তৃত অর্থের দিকে ফিরিয়ে আনবে এবং তাদেরকে পাশ্চাত্য দর্শনের দাসত্ব থেকে মুক্ত করবে। এই দর্শনের ওপর তাদের অনেকে সচেতনভাবে ও গবেষণার মাধ্যমে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, আর অধিকাংশ লোক তা গ্রহণ করেছে অন্ধ অনুকরণ ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে। এই সাহিত্য তাদের চিন্তাজগতে ইসলামের ভিত্তিগুলো নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং তাদের মস্তিস্ক ও অন্তরকে পুষ্ট করবে। প্রকৃতপক্ষে মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে এমন একদল একনিষ্ঠ ব্যক্তির প্রয়োজন, যারা এই জিহাদে আত্মনিয়োগ করবেন।
আমি আমার জীবনের কোনো সময়েই ধর্ম থেকে রাজনীতি পৃথকীকরণের প্রবক্তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না এবং আমি তাদের দলেও ছিলাম না যারা ধর্মের এমন ব্যাখ্যা প্রদান করে যা কোনো বিদ্যমান পরিস্থিতির সাথে সাংঘর্ষিক হয় না—তা ইসলাম থেকে যতই বিচ্যুত (شاذ) বা অসংলগ্ন হোক না কেন—এবং যা প্রতিটি সমাজের সাথে মিশে যায়। আমি তাদের অন্তর্ভুক্তও নই যারা রাজনীতিকে ‘কুরআনে বর্ণিত অভিশপ্ত বৃক্ষ’ মনে করে। বরং আমি সেই সকল ব্যক্তিদের অগ্রভাগে রয়েছি যারা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে সঠিক রাজনৈতিক সচেতনতা এবং সৎ নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান জানান। আমি বিশ্বাস করি যে, একটি ধর্মীয় সমাজ কেবলমাত্র সঠিক ধর্মীয় রাজত্ব এবং ইসলামের মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত সৎ শাসনব্যবস্থার মাধ্যমেই গড়ে উঠতে পারে। আমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করা পর্যন্ত এই আহ্বান জানিয়ে যাব। তবে মূল বিষয়টি হলো বিন্যাস এবং অগ্রাধিকার প্রদান ও বিলম্বকরণের ক্রমধারা, আর দ্বীনের প্রজ্ঞা ও ফিকহ যা দাবি করে এবং বিদ্যমান পরিস্থিতি যা অপরিহার্য করে তোলে।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تَجَارِبُ المَاضِي:
إننا بذلنا جهودنا ومواهبنا وما أوتينا من فرص ووسائل في حركات سياسية وتنظيمية وكان كل ذلك على أساس أن الشعب مؤمن وأن من يقوده يملك زمامه - وهي الطبقة المثقفة لا محالة مؤمن مقتنع بالإسلام وعقيدته وبمبادئه متحمس للإسلام وعلوه ونفاذ حدوده، وإذا الأمر بالضد، وإذا الشعب قد ضعف في إيمانه وانحط في أخلاقه من حيث لم نشعر ولم يشعر، وإذا الطبقة المثقفة ذابت في أكثر أفرادها العقيدة الإسلامية وتبخرت بتأثير فلسفات الغرب وسياسته ونفوذه، وكثير من أفرادها ثائر على العقيدة الإسلامية مؤمن بالفلسفات الغربية وما جاءت به من عقائد وأفكار تصادم الدين وينتصر لها، ويتحمس لها ويحرص على نشرها وتنفيذها ويريد أن ينظم الحياة على أساسها وفي ضوئها، ويصل بالشعب إليها، فمنهم مسرع متهور، ومنهم حكيم متدرج، ومنهم منفذ بالقوة يفرضها على الشعب فرضًا، ومنهم هادئ يزينها للشعب، والهدف واحد ولغاية واحدة.
أَقْسَامُ رِجَالِ الدِّينِ فِي مُعَامَلَةِ «المُثَقَّفِينَ»:ورجال الدين - إن صح التعبير إذ ليس في الإسلام
অতীতের অভিজ্ঞতা:
আমরা আমাদের প্রচেষ্টা, মেধা এবং আমাদের প্রদত্ত সুযোগ ও উপায়-উপকরণসমূহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক আন্দোলনে নিয়োজিত করেছি। এ সব কিছুই এই মূলনীতির ভিত্তিতে ছিল যে, এ জাতি মুমিন এবং যারা তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে ও নিয়ন্ত্রণ করছে—অর্থাৎ অনিবার্যভাবে সেই শিক্ষিত সমাজ—তারা ইসলামের প্রতি বিশ্বাসী, এর আকিদা ও মূলনীতির ওপর আস্থাশীল এবং ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও এর বিধানসমূহ বাস্তবায়নে আগ্রহী। কিন্তু বাস্তবতা এর সম্পূর্ণ বিপরীত হিসেবে প্রকাশ পেল। আমরা বা তারা কেউই টের পাইনি যে, জাতির ঈমান কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং তাদের নৈতিকতা কতটা নিম্নগামী হয়েছিল। শিক্ষিত সমাজের অধিকাংশ ব্যক্তির মধ্য থেকে ইসলামি আকিদা বিলীন হয়ে গিয়েছিল এবং পাশ্চাত্য দর্শন, রাজনীতি ও প্রভাবের ফলে তা নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। তাদের অনেকে ইসলামি আকিদার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল এবং পাশ্চাত্য দর্শনের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে পড়েছিল। তারা এমন সব আকিদা ও চিন্তা-চেতনা নিয়ে এসেছিল যা দ্বীনের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক; অথচ তারা এরই পক্ষ নেয়, এর জন্য উদ্দীপনা দেখায় এবং তা প্রচার ও বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকে। তারা এই দর্শনের ভিত্তিতেই জীবনব্যবস্থাকে সুসংগঠিত করতে চায় এবং সেই আলোকেই জনগণকে পরিচালিত করতে চায়। তাদের মধ্যে কেউ হঠকারী ও দ্রুতগামী, কেউ ধীরস্থির ও কৌশলী, কেউ শক্তির জোরে তা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়, আবার কেউ অত্যন্ত শান্তভাবে জনগণের কাছে একে আকর্ষণীয় করে তোলে; তবে সবার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অভিন্ন।
‘শিক্ষিত’ সমাজের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গের শ্রেণিবিভাগ:আর ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ—যদি এই পরিভাষাটি ব্যবহার করা সঠিক হয়, যেহেতু ইসলামে...
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الكهنوت والطبقة الدينية الممتازة - في ذلك فريقان، فريق يحارب هذه الطبقة حربًا شعواء وَيُكَفِّرُهَا ويبتعد عنها، ويعرض عن تتبع أسباب هذا الاتجاه اللاديني، وعن ثقافتها، ولا يعني بإصلاح الأحوال وتغيير هذا الاتجاه المعارض والمحاربة للإسلام بالاختلاط بها وإزالة الوحشة والنفور عن الدين وعن رجال الدين، وتشجيع ما عندها من خير وذرة إيمان وتغذيتها بالأدب الإسلامي الصالح المؤثر، وبالزهد فيما عنده من حياة أو مال وقوة وسلطان، وتقديم النصح الخالص والتوجيه الحكيم.
وفريق يتعاون معها ويساهم في المنافع والخيرات وينتفع بها في دنياه من غير أن ينفعها في دينها، فلا دعوة ولا عقيدة ولا غيرة على الدين، ولا حرص على الإصلاح، ولا رسالة لها في القرب والتعاون.
والفريق الثالث الذي يتألم بهذا الوضع ويتوجع له ويعترف بأن هذه الطبقة مريضة صالحة للتدواي مستعدة للشفاء ويتقدم إليها بالدعوة الرفيقة والرسالة الحكيمة والنصيحة الخالصة يكاد يكون مفقودًا، فلا صلة لهذه الطبقة بالدين وبالجو الديني تعيش في عزلة عنه وفي وحشة منه، ولا تزال إلا بُعْدًا عن الدين وازدراء بكل ما يتصل به ويزيدها
যাজকতন্ত্র এবং বিশেষ ধর্মীয় অভিজাত শ্রেণি—এ বিষয়ে দুটি পক্ষ রয়েছে। এক পক্ষ এই শ্রেণির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করে, তাদেরকে কাফির সাব্যস্ত করে এবং তাদের থেকে দূরে থাকে। তারা এই ধর্মহীন প্রবণতার কারণসমূহ এবং তাদের সংস্কৃতি অনুসন্ধান করা থেকে বিমুখ থাকে। তারা এই ইসলাম-বিরোধী এবং সংঘাতময় প্রবণতার সংস্কার বা পরিবর্তনের জন্য তাদের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে দ্বীন ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের প্রতি বিদ্যমান ভীতি ও অনীহা দূর করার চেষ্টা করে না। তাদের মধ্যে বিদ্যমান কল্যাণের লেশ ও ঈমানের অণুটিকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তাদেরকে ফলপ্রসূ ও নেক ইসলামি শিষ্টাচার দ্বারা গড়ে তোলার ব্যাপারে এবং তাদের জীবন, সম্পদ ও ক্ষমতার প্রতি অনাসক্তি প্রদর্শন করে একনিষ্ঠ নসিহত ও প্রাজ্ঞ দিকনির্দেশনা প্রদানের ব্যাপারে তারা কোনো গুরুত্ব প্রদান করে না।
অন্য একটি পক্ষ তাদের সাথে সহযোগিতা করে এবং বিভিন্ন পার্থিব সুবিধা ও জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নেয়; কিন্তু তাদের দ্বীনি কোনো উপকার করে না। তারা কেবল নিজেদের দুনিয়াবি ফায়দা হাসিল করে। ফলে তাদের এই নৈকট্য ও সহযোগিতার পেছনে কোনো দাওয়াত, আকিদা কিংবা দ্বীনের প্রতি কোনো আত্মমর্যাদাবোধ থাকে না; সংস্কারের কোনো ব্যাকুলতা বা মহৎ কোনো লক্ষ্যও তাতে থাকে না।
আর তৃতীয় পক্ষটি—যারা এই পরিস্থিতিতে ব্যথিত ও মর্মাহত হয় এবং এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে যে, এই শ্রেণিটি মূলত রুগ্ন এবং তারা চিকিৎসার যোগ্য ও আরোগ্য লাভের জন্য প্রস্তুত, আর যারা তাদের প্রতি কোমল দাওয়াত, প্রাজ্ঞ বাণী ও একনিষ্ঠ নসিহত নিয়ে এগিয়ে যায়—তাদের অস্তিত্ব বর্তমানে প্রায় বিলীন। ফলে এই শ্রেণির সাথে দ্বীন ও দ্বীনি পরিবেশের কোনো যোগসূত্র নেই; তারা দ্বীন থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন ও আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করে। এতে দ্বীন থেকে তাদের দূরত্ব কেবল বৃদ্ধিই পায় এবং দ্বীন-সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ের প্রতি তাদের অবজ্ঞা ও তুচ্ছজ্ঞান বেড়েই চলে।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الفريق الذي يحاربها حربًا شعواء لا هوادة فيها، والفريق الذي يتزعم الدين ويريد أن ينزع منها الحكم وينافسها في الجاه والمنصب لا يزيدها الفريقان إلا بُغْضًا للدين وإشفاقًا منه، والإنسان مفطور على بعض من ينافسه في دنياه، إذا كان لا يؤمن إلا بالدنيا، وينتزع منه الحكم والسلطان إذا كان لا يعيش إلا على الحكم والسلطان، ويساهمه في مادته وشهواته إذا كان لا يعرف إلا المادة والشهوات.
الفَرِيقُ المَطْلُوبُ لِلْبَعْثِ الإِسْلَامِيِّ الجَدِيدِ:والأقطار الإسلامية اليوم بحاجة إلى فريق بتجرد عن المطامع ويخلص للدعوة ويبتعد عن كل ما يوهم بأن همه الدنيا والمادة والتغلب على الحكومة لنفسه أو عشيرته أو حزبه، يحل العُقَدَ النفسية والعقلية التي أحدثتها الثقافة الغربية أو أخطاء «رجال الدين» أو سوء التفاهم أو قلة الدراسة والابتعاد عن الإسلام وجوه، بالمقابلات والصداقات والمحادثات والمراسلات والرحلات وبالأدب الإسلامي الصالح المؤثر وبالروابط الشخصية، وبالنزاهة وعلو الأخلاق وقوة الشخصية والزهد في حطام الدنيا والعزوف عن الشهوات وتمثيل أخلاق الأنبياء وخلفائهم.
যে দলটি এর (ইসলামের) বিরুদ্ধে এক সর্বাত্মক ও আপসহীন যুদ্ধে লিপ্ত, এবং যে দলটি ধর্মের নেতৃত্ব দিয়ে এর নিকট থেকে শাসনক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে চায় এবং মান-মর্যাদা ও পদমর্যাদার লড়াইয়ে লিপ্ত হয়—এই উভয় দলই (শাসকগোষ্ঠীর নিকট) ধর্মের প্রতি কেবল ঘৃণা ও আশঙ্কাই বৃদ্ধি করে। মানুষ স্বভাবজাতভাবেই সেই ব্যক্তিকে ঘৃণা করে যে তার পার্থিব বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে—যদি সে কেবল ইহকালেই বিশ্বাসী হয়; এবং যে তার নিকট থেকে শাসন ও কর্তৃত্ব ছিনিয়ে নিতে চায়—যদি তার জীবন কেবল শাসন ও কর্তৃত্বের ওপরই নির্ভরশীল হয়; আর যে তার বস্তুগত স্বার্থ ও কামলালসায় ভাগ বসাতে চায়—যদি সে কেবল বস্তুবাদ ও ভোগবিলাস ছাড়া আর কিছু না চিনে।
নতুন ইসলামী নবজাগরণের জন্য কাঙ্ক্ষিত দল:বর্তমান ইসলামী রাষ্ট্রসমূহ আজ এমন এক কাফেলার মুখাপেক্ষী, যারা যাবতীয় হীনস্বার্থ থেকে মুক্ত হয়ে দাওয়াতের কাজে একনিষ্ঠ হবে এবং এমন প্রতিটি বিষয় থেকে দূরে থাকবে যা এই সংশয় সৃষ্টি করে যে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো পার্থিব স্বার্থ, বস্তুগত লাভ এবং নিজের জন্য অথবা নিজের গোত্র বা দলের জন্য ক্ষমতা দখল করা। এই দলটি সেই সব মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জটিলতা নিরসন করবে, যা পাশ্চাত্য সংস্কৃতি, ‘ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গের’ ভুলভ্রান্তি, পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি, অপর্যাপ্ত অধ্যয়ন এবং ইসলামের মূল চেতনা থেকে বিমুখতার ফলে সৃষ্টি হয়েছে। আর এটি সম্পন্ন হবে পারস্পরিক সাক্ষাৎ, বন্ধুত্ব, সংলাপ, পত্রবিনিময়, সফর এবং গঠনমূলক ও প্রভাবশালী ইসলামী সাহিত্য ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে; সেই সঙ্গে চারিত্রিক নিষ্কলুষতা, উন্নত নৈতিকতা, ব্যক্তিত্বের বলিষ্ঠতা, পার্থিব ভোগবিলাসের প্রতি অনাসক্তি, লালসা বর্জন এবং নবীগণ ও তাঁদের খলিফাগণের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مِنَ التَّارِيخِ المَاضِي:هذا هو الفريق الذي خدم الإسلام في كل عصر، وإليه يرجع الفضل في تغيير اتجاه دولة بني أمية وظهور خامس خلفاء الراشدين «عمر بن عبد العزيز» ونجاحه، وقد أعيد هذا التاريخ في عصر الملك المغولي الأكبر جلال الدين أكبر الذي ثار على الإسلام وصمم على تحويل هذه القارة الإسلامية الواسعة (الهند) التي عاشت في الحكم الإسلامي أربعة قرون جاهلية برهمية، ولكن بفضل هذه الدعوة الحكيمة وبظهور داعية إسلامي مجدد وشخصية إسلامية حكيمة أخلصت للإسلام وأحسنت فقهه وفقه الدعوة، وبتأثير تلاميذه عادت الهند إلى الإسلام أقوى وأفضل، وتوالى على عرش أكبر ملوك يتدرجون في الصلاح وحب الإسلام حتى جاء على العرش ملك يتجمل تاريخ الإسلام وتاريخ الإصلاح بذكره وحديثه.
فَرِيضَةٌ لَا تَحْتَمِلُ التَّأْخِيرَ:إنها فريضة لا تحتمل التأخير ولا تأخير يوم واحد، فالعالم الإسلامي يواجه اليوم موجة ردة عنيفة منتشرة في أعز أبنائه وأقوى أجزائه، إنها ثورة على أعز ما يملك من عقيدة وخلق
অতীত ইতিহাস থেকে:এটি সেই জামাত যারা প্রতিটি যুগে ইসলামের সেবা করেছেন। বনু উমাইয়া রাষ্ট্রের গতিপথ পরিবর্তন এবং পঞ্চম খুলাফায়ে রাশেদিন 'উমর ইবনে আব্দুল আজিজ'-এর আত্মপ্রকাশ ও তাঁর সাফল্যের পেছনে তাঁদেরই অবদান অনস্বীকার্য। এই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল মুঘল সম্রাট জালালুদ্দীন আকবরের যুগে, যিনি ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন এবং এই বিশাল মুসলিম উপমহাদেশকে (ভারত)—যা চার শতাব্দী ধরে ইসলামি শাসনের অধীনে ছিল—এক ব্রাক্ষ্মণ্যবাদী জাহেলিয়াতের দিকে ধাবিত করার সংকল্প করেছিলেন। কিন্তু এই প্রজ্ঞাপূর্ণ দাওয়াতের বদৌলতে এবং এক সংস্কারক ইসলামি দাঈ ও এক প্রজ্ঞাবান ইসলামি ব্যক্তিত্বের আবির্ভাবে—যিনি ইসলামের প্রতি একনিষ্ঠ ছিলেন এবং দ্বীনের ফিকহ ও দাওয়াতের ফিকহ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন—এবং তাঁর শিষ্যদের প্রভাবে ভারত পুনরায় আরও শক্তিশালী ও সুন্দরভাবে ইসলামের পথে ফিরে আসে। আকবরের পর সিংহাসনে একে একে এমন সব রাজা আসলেন যারা সততা ও ইসলামি অনুরাগের ক্ষেত্রে উত্তরোত্তর অগ্রগামী ছিলেন, শেষ পর্যন্ত সিংহাসনে এমন এক রাজা আসলেন যাঁর স্মৃতি ও জীবনকথায় ইসলামের ইতিহাস এবং সংস্কারের ইতিহাস মহিমান্বিত হয়।
একটি অপরিহার্য দায়িত্ব যা বিলম্ব সহ্য করে না:এটি এমন এক অপরিহার্য দায়িত্ব যা বিলম্ব সহ্য করে না, এমনকি একটি দিনের জন্যও নয়। আজ মুসলিম বিশ্ব এক ভয়াবহ ধর্মত্যাগের (ردة) ঢেউয়ের সম্মুখীন, যা এর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের এবং শক্তিশালী অংশগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি মূলত তাদের অতি মূল্যবান সম্পদ আকিদাহ (عقيدة) ও চরিত্রের বিরুদ্ধে এক বিদ্রোহ।
(খণ্ড: ১)
রিদ্দাতুন ওয়ালা আবা বাকরা লাহা - আবুল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقيم، ولا بقاء للعالم الإسلامي بعد ضياع هذه الثروة التي خلفها الرسول وتوارثتها الأجيال وجاهد في سبيلها أبطال الإسلام.
فليكن الموضوع موضع دراسة واهتمام لجميع من يهمهم أمر الإسلام.
...এবং মূল্যবোধ; আর রাসূল যে মহান সম্পদ রেখে গিয়েছেন, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছে এবং যার জন্য ইসলামের বীর সেনানীরা সংগ্রাম করেছেন, সেই সম্পদ বিলীন হওয়ার পর মুসলিম বিশ্বের অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব নয়।
সুতরাং বিষয়টি যেন সেই সকল ব্যক্তির নিকট গভীর অধ্যয়ন ও বিশেষ মনোযোগের বিষয় হয়, যারা ইসলামের বিষয়ে চিন্তাশীল।