(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مختصر اليمانيات المسلولة على الرافضة المخذولة القسم: الفرق والردود
الكتاب: مختصر اليمانيات المسلولة على الرافضة المخذولة
مؤلف الأصل: زين العابدين بن يوسف بن محمد بن زين العابدين بن طاهر بن صدر الدين محمد بن إسماعيل -الكوراني الكردي الحنفي (المتوفى بعد 1066 هـ)
المختصر: مجهول
تنبيه: الأصل مطبوع، بينما هذا المختصر، مخطوط لم يطبع بعد
[ترقيم الكتاب موافق للمخطوط]
تاريخ النشر بالشاملة: 3 ذو القعدة 1432
পরিত্যক্ত রাফেযীদের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত ইয়ামানি তলোয়ারের সংক্ষিপ্তসার বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডন
গ্রন্থ: পরিত্যক্ত রাফেযীদের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত ইয়ামানি তলোয়ারের সংক্ষিপ্তসার
মূল লেখক: যয়নুল আবেদীন ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যয়নুল আবেদীন ইবনে তাহির ইবনে সদরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল -আল-কুরানি আল-কুর্দি আল-হানাফি (মৃত্যু ১০৬৬ হিজরীর পর)
সংক্ষেপকারী: অজ্ঞাত
সতর্কতা: মূল গ্রন্থটি মুদ্রিত, তবে এই সংক্ষিপ্তসারটি একটি পাণ্ডুলিপি যা এখনও মুদ্রিত হয়নি
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন পাণ্ডুলিপির অনুরূপ]
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৩ যিলকদ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: -)
نبذة عن مؤلف الأصلزين العابدين بن يوسف بن محمد بن زين العابدين بن طاهر بن صدر الدين محمد بن إسماعيل الكوراني الكردي الحنفي. مفسر، لغوي، أصولي، متكلم
نشأ في أسرة علمية معروفة في منطقة (كوران) ببلاد الأكراد، في النواحي الشمالية من بغداد، وتعرف هذه المنطقة الآن بـ"كردستان"
شارك في كثير من العلوم، وصنف فيها، وكان رحمه الله سيفا على المبتدعة، شديدا في ذم البدع، خصوصا بدعة الرفض
كانت له صلة قوية مع السلطان محمد خان الرابع بن إبراهيم خان العثماني، وكذلك مع الوزير محمد باشا كوبريلي الصدر الأعظم
وفي سنة 1066 هـ بدأ يؤلف كتابه (اليمانيات المسلولة) للرد على كتاب آخر للرافضة أصدروه، وشحنوه بالشبهات والأكاذيب .. مما يوضح أنه بلغ مرحلة النضج في حياته العلمية في هذا الوقت
[هذا التعريف بالمؤلف، من مقدمة د/ المرابط محمد يسلم المجتبى، لتحقيقه للكتاب]
মূল লেখকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিযায়নুল আবিদীন ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যায়নুল আবিদীন ইবনে তাহির ইবনে সদরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-কুরানি আল-কুরদি আল-হানাফি। তিনি ছিলেন একজন মুফাসসির (কুরআনের ব্যাখ্যাকার), ভাষাবিদ, উসুলবিদ ও কালামশাস্ত্রবিদ।
তিনি বাগদাদের উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দি ভূখণ্ডের ‘কুরান’ নামক এলাকার এক প্রসিদ্ধ ইলমি (বিদ্বান) পরিবারে লালিত-পালিত হন; বর্তমানে এই অঞ্চলটি ‘কুর্দিস্তান’ নামে পরিচিত।
তিনি বহুবিদ শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং সেগুলোতে গ্রন্থ রচনা করেন। রাহিমাহুল্লাহ তিনি ছিলেন বিদআতিদের বিরুদ্ধে এক সুতীক্ষ্ণ তরবারি এবং বিদআতের কঠোর সমালোচক, বিশেষ করে রাফেজি বিদআতের খণ্ডনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর।
উসমানীয় সুলতান চতুর্থ মুহাম্মদ খান ইবনে ইবরাহিম খান এবং উজিরে আজম মুহাম্মদ পাশা কোপরুলির সাথে তাঁর অত্যন্ত সুদৃঢ় সম্পর্ক ছিল।
হিজরি ১০৬৬ সালে তিনি ‘আল-ইয়ামানিয়াত আল-মাসলুলাহ’ গ্রন্থটি রচনা শুরু করেন। রাফেজিদের প্রকাশিত একটি বইয়ের জবাব হিসেবে তিনি এটি লিখেছিলেন, যেটিকে তারা নানা সংশয় ও মিথ্যাচারে পূর্ণ করেছিল। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, তৎকালীন সময়ে তিনি তাঁর ইলমি জীবনের এক পরিপক্ক স্তরে উপনীত হয়েছিলেন।
[গ্রন্থকারের এই পরিচিতিটি ড. আল-মুরাবিত মুহাম্মদ ইয়াসলাম আল-মুজতবা কর্তৃক বইটির সম্পাদিত পাণ্ডুলিপির ভূমিকা থেকে সংগৃহীত।]
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
- بسم الله الرحمن الرحيم -
نحمد الله على أن شرح صدورنا بنور الاهتداء وطهر قلوبنا عن دنس الشبه والادعاء، ونشكره على أن وفقنا لمسالك السعداء وأزاحنا عن وساوس الخذلة الأشقياء. ونصلي على محمد المبعوث من أشرف القرون أشرف الأنبياء المعزز بأصهار وأنصار من البررة الأتقياء، وعلى آله وأزواجه الطاهرات عما تقيح به أهل الأهواء، وأصحابه الهداة في غياهب الضلال كالنجم في السماء.
وبعد، فهذه أبحاث وافية وأقوال كافية في تحقيق ما هو عقيدة وصنيعة للشيعة الشنيعة وبيان أنهم هل يكفرون بتلك العقيدة والصنيعة، مفرغة في قالب الإيجاز والاختصار مستنبطة من مشاهير التفاسير ودواوين الأخبار، مع ما سمحت به آراء أكابر الأئمة وعلماء الأمة الذاهبين في المذاهب الأربعة المستقيمة السالكين منهج السنة القويمة. جمعتها بعد ما شاهدت بعض العلماء يكفر هؤلاء الكافرين وبعضا آخر يكفر المكفرين. وإني وإن عددت إرضاء المنكر أعز من بيض النوق ومناط العيوق، إلا أني لاحظت في ذلك ما رواه الخطيب البغدادي في كتاب جامع الأحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إذا ظهرت البدع وسُب أصحابي فليظهر العالم علمه ومن لم يفعل ذلك فعليه لعنة الله وملائكته والناس أجمعين لا يقبل الله منه صرفا ولا عدلا". فجاءت بحمد الله تعالى رسالة عذراء لم يظفر أحد بمثالها ومجموعة غراء لم ينسج على منوالها. فتوسلت بها إلى عتبة خاقان خواقين الآفاق سلطان السلاطين على الإطلاق مالك رقاب الأمم قهرمان الروم والعرب والعجم حامي بلاد الإسلام ماحي الكفرة الطغام مشيد قواعد الأمن والأمان ممتثل {إن الله يأمر بالعدل والإحسان}
- পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে -
আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি এই জন্য যে, তিনি হিদায়াতের নূরের মাধ্যমে আমাদের বক্ষসমূহ উন্মোচিত করেছেন এবং সংশয় ও মিথ্যা দাবির কলুষতা থেকে আমাদের অন্তরসমূহকে পবিত্র করেছেন; এবং আমরা তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি এই জন্য যে, তিনি আমাদের সৌভাগ্যবানদের পথে চলার তাওফিক দান করেছেন এবং লাঞ্ছিত ও হতভাগ্যদের কুমন্ত্রণা থেকে আমাদের দূরে রেখেছেন। আমরা দরুদ পাঠ করছি শ্রেষ্ঠ যুগের শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যাঁকে পুণ্যবান ও মুত্তাকী বৈবাহিক আত্মীয় এবং সাহায্যকারীদের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়েছে; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সেই পবিত্র স্ত্রীগণের প্রতি, যাঁদের প্রবৃত্তি পূজারীরা কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা করে, এবং তাঁর সেই সাহাবীগণের প্রতি যারা পথভ্রষ্টতার অন্ধকারে আকাশের নক্ষত্ররাজির ন্যায় পথপ্রদর্শক।
অতঃপর, এটি শিয়াদের জঘন্য আকিদা ও কর্মকাণ্ডের প্রকৃত স্বরূপ উদঘাটন এবং সেই আকিদা ও আমলের কারণে তারা কাফির সাব্যস্ত হবে কি না, তার বর্ণনায় এক সমৃদ্ধ গবেষণা ও পর্যাপ্ত বক্তব্য; যা সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ আকারে সংকলিত হয়েছে এবং প্রসিদ্ধ তাফসীরসমূহ ও হাদীসের সংকলন থেকে গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি উম্মাহর মহান ইমামগণ এবং চার মাযহাবের সেই সুদৃঢ় আলেমগণের মতামতও এতে স্থান পেয়েছে যারা সুন্নাহর সঠিক পথে পরিচালিত। আমি এটি তখনই সংকলন করেছি যখন দেখলাম যে, কোনো কোনো আলেম এদেরকে কাফির বলছেন, আবার অন্য কেউ কেউ তাকফিরকারীদেরই কাফির বলছেন। যদিও আমি বিরোধীদের সন্তুষ্ট করাকে উটের ডিম লাভ করা কিংবা আকাশের সর্বোচ্চ নক্ষত্র স্পর্শ করার মতোই অসম্ভব বলে মনে করি, তবুও আমি এক্ষেত্রে খতীব বাগদাদী কর্তৃক ‘জামে’ কিতাবে বর্ণিত নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই হাদিসটির প্রতি লক্ষ্য রেখেছি যেখানে তিনি বলেছেন: "যখন বিদআতের উদ্ভব ঘটবে এবং আমার সাহাবীদের গালি দেওয়া হবে, তখন যেন আলেম তার ইলম প্রকাশ করে। আর যে তা করবে না, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের অভিশাপ; আল্লাহ তার কোনো নফল বা ফরয ইবাদত কবুল করবেন না।" আল্লাহর প্রশংসায় এটি একটি অনন্য পুস্তিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে যার কোনো নজির কেউ পাবে না, এবং এটি এমন এক উজ্জ্বল সংকলন যার বিন্যাস আগে কখনো দেখা যায়নি। অতঃপর আমি একে দিগন্তের সকল সম্রাটের সম্রাট, নিরঙ্কুশ সুলতানদের সুলতান, জাতিসমূহের অধিপতি, রোম, আরব ও অনারবদের শাসনকর্তা, ইসলামী ভূখণ্ডের রক্ষক, নিকৃষ্ট কাফিরদের বিনাশকারী এবং শান্তি ও নিরাপত্তার ভিত্তি স্থাপনকারীর দরবারে পেশ করার অসিলা হিসেবে গ্রহণ করেছি; যিনি মহান আল্লাহর এই আদেশের অনুসারী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা ও সদাচরণের নির্দেশ দিচ্ছেন}।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
السلطان ابن السلطان، السلطان محمد خان بن السلطان إبراهيم خان، لا زال غصن الإقبال بسحائب ميمنته منصورا وما برح مجاهدا في سبيل الله منصورا. وأدام الله تعالى أيام الصدر المكرم والدستور المعظم المستعلي على متقدمي الوزراء استعلاء الشمس على كواكب السماء الفاروق بين السين والشين المهتدي في الدنيا والدين مصداق {ذلك فضل الله يؤتيه من يشاء} الوزير الأعظم أحمد باشا لا زال قائما بمصالح الإسلام.
وهذه دعوة شاملة للأنام، فإن وقعت في حيز القبول فهو منتهى المنى والمأمول. وهي مرتبة على
مقدمة وأربع مقالات وخاتمة. أما المقدمة ففي الاجتهاد والإفتاء. وأما المقالات فالأولى في بيان فرق أهل القبلة وتفصيل عقائد الشيعة منهم. والثانية في الآيات التي أخذ العلماء منها القول بكفر الشيعة والأحاديث الواردة في حقهم. والثالثة في إفتاء العلماء بكفرهم. والرابعة في بيان حال متأخريهم وأنه لا يشتبه في أن دارهم دار كفر حكما وإفتاء العلماء بذلك. وأما الخاتمة ففي تحصيل المقال والتكلم على الإجمال.
مقدمة
الاجتهاد لغة على ما ذكره عضد الملة والدين: تحمل الجهد في أمر واصطلاحا استفراغ الفقيه الوسع لتحصيل ظن بحكم شرعي. قال العلامة التفتازاني في التلويح: وهذا هو المراد بقولهم بذل المجهود لنيل المقصود. وقال الشيخ الإمام البزدوي في أصوله: الكلام في شرطه وحكمه، أما شرطه فأن يحوي علم الكتاب بمعانيه ووجهوهه التي قلنا وعلم السنة بطرقها ومتونها ووجوه معانيها وأن يعرف وجوه القياس على ما تضمنه كتابنا هذا، وأما حكمه فالإصابة بغالب الرأي حتى قلنا إن المجتهد يخطئ أو يصيب، وقالت المعتزلة كل مجتهد مصيب. انتهى. وقال في
সুলতান তনয় সুলতান, সুলতান ইব্রাহিম খানের পুত্র সুলতান মুহাম্মদ খান; তাঁর সৌভাগ্যের শাখা তাঁর কল্যাণময় মেঘমালার বরকতে সর্বদা বিজয়ী থাকুক এবং তিনি আল্লাহর পথে সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত মুজাহিদ হিসেবে বিদ্যমান থাকুন। মহান আল্লাহ সম্মানিত বক্ষ ও মহান নিয়ামক, যিনি পূর্ববর্তী উজিরগণের ওপর সেভাবে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন যেভাবে আসমানের নক্ষত্ররাজির ওপর সূর্য শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে; সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী, দুনিয়া ও দ্বীনের পথে হেদায়েতপ্রাপ্ত এবং 'এ আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন'—এই আয়াতের বাস্তব উদাহরণ, উজির-এ-আজম আহমদ পাশার শাসনকাল দীর্ঘস্থায়ী করুন; তিনি সর্বদা ইসলামের কল্যাণে নিয়োজিত থাকুন।
এটি সর্বসাধারণের জন্য একটি ব্যাপক আহ্বান; যদি তা কবুলিয়তের মর্যাদা লাভ করে, তবে তা-ই হবে পরম আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশিত লক্ষ্য। এটি একটি
ভূমিকা, চারটি প্রবন্ধ এবং একটি উপসংহারের ওপর বিন্যস্ত। ভূমিকাটি ইজতিহাদ ও ইফতা প্রসঙ্গে। আর প্রবন্ধসমূহের মধ্যে প্রথমটি হলো আহলে কিবলা তথা মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন দল এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত শিয়াদের আকিদাহর বিস্তারিত বিবরণ প্রসঙ্গে। দ্বিতীয়টি ওই সকল আয়াত প্রসঙ্গে যেখান থেকে ওলামায়ে কেরাম শিয়াদের কুফরের মত গ্রহণ করেছেন এবং তাদের ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে। তৃতীয়টি শিয়াদের কুফরের বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের ফতোয়া সংক্রান্ত। চতুর্থটি তাদের পরবর্তীদের অবস্থা এবং তাদের ভূখণ্ড যে হুকুমের বিচারে 'দারুল কুফর' হিসেবে গণ্য হওয়ার বিষয়ে কোনো সংশয় নেই এবং এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের ফতোয়া প্রসঙ্গে। আর উপসংহারটি হলো আলোচনার সারসংক্ষেপ এবং সামগ্রিক বক্তব্যের সমাপ্তি প্রসঙ্গে।
ভূমিকা
আদুদুল মিল্লাত ওয়াদ-দ্বীন যে বর্ণনা করেছেন সে অনুযায়ী 'ইজতিহাদ'-এর আভিধানিক অর্থ হলো কোনো কাজে কঠোর পরিশ্রম করা। আর পারিভাষিক অর্থে শরীয়তের কোনো বিধান সম্পর্কে প্রবল ধারণা লাভের উদ্দেশ্যে ফকিহ কর্তৃক তার সাধ্যের সবটুকু ব্যয় করা। আল্লামা তাফতাজানি তাঁর 'আত-তালবিহ' গ্রন্থে বলেছেন: "উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সামর্থ্য বিলিয়ে দেওয়া"—মুজতাহিদগণের এই উক্তি দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য। শেখ ইমাম বাজদাবি তাঁর 'উসুল' গ্রন্থে বলেছেন: এর শর্ত ও বিধান সম্পর্কে আলোচনা; শর্তের ব্যাপারে বলা যায় যে, তাকে কিতাবুল্লাহর ইলম তার অর্থ ও বিভিন্ন দিকসহ আয়ত্ত করতে হবে যা আমরা আলোচনা করেছি; সুন্নাহর ইলম তার সনদ, মতন ও অর্থগত দিকসহ জানতে হবে এবং আমাদের এই কিতাবে বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী কিয়াসের প্রকারসমূহ অবগত হতে হবে। আর এর বিধান হলো—প্রবল মতামতের ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া, যার ফলে আমরা বলি যে মুজতাহিদ ভুলও করতে পারেন আবার সঠিকও হতে পারেন। অন্যদিকে মুতাজিলা সম্প্রদায় বলেছে যে, প্রত্যেক মুজতাহিদই সঠিক। এখানেই সমাপ্ত। এবং তিনি বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
التلويح: المراد بالكتاب قدر ما يتعلق بمعرفة الأحكام والمعتبر هو العلم بمواقعها بحيث يتمكن من الرجوع عند طلب الحكم لا الحفظ عن ظهر قلب. ثم صرح في أسانيد الأحاديث بالاكتفاء بالرجوع إلى كتب الأئمة الموثوق بهم كالبخاري ومسلم والبغوي والصغاني وغيرهم، وخصص السنة بالأحاديث الواردة في الأحكام. وقال السبكي في جمع الجوامع: المجتهد الفقيه هو البالغ العاقل ذو ملكة يدرك بها المعلوم، ذو الدرجة الوسطى لغة وعربية وأصولا وبلاغة ومتعلق الأحكام في الكتاب والسنة وإن لم يحفظ المتون. ثم ذكر اشتراط العلم بالإجماع أهو واقع فيما يجتهد فيه أم لا لئلا يخرقه، وبالنسخ وأحوال روايات الأحاديث. وقال: ويكفي في زماننا الرجوع إلى أئمة ذلك. وقال الإمام في المحصول ما حاصله ما سبق نقلا عن التلويح في كفاية رجوعه إلى كتب الحديث المعتبرة. وقال ابن حجر: أدون أصحابنا فمن بعدهم بلغ ذلك، فأكثر من أفتى في المتأخرين بكفر الروافض والطائفة اليزيدية المرتدين مجتهدون، وقال كثيرون لا يشترط علم الكلام لعدم الحاجة إليه وكذا القياس وفروع الفقه لتوقفها على الاجتهاد ولزوم الدور من توقفها عليها، وقالوا يجوز تجزئ الاجتهاد وهو أن يجتهد الفقيه في بعض المسائل ويجهل كثيرا منها واستدلوا عليه بالعقل والنقل، أما العقل فهو أنه لو اشترط عدم التجزئ لوقع العلم بالجميع واللازم منتف قالملزوم مثله. وأما النقل فهو ما ذكره ابن الحاجب في مختصر المنتهى من أن مالكا رضي الله عنه مع الاتفاق على اجتهاده سئل عن أربعين مسئلة فقال في ستة وثلاثين لا أدري وأفتى في أربع منها. ونقل في التلويح عن الغزالي سبب ذلك. وليس كل من انتحل شبهة كأكثر أهل البدع في زماننا مجتهدا كما صرح به ابن حجر بعد نقله عن كثيرين
আত-তালবীহ: কিতাব (কুরআন) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আহকাম বা বিধান সংক্রান্ত যতটুকু জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন ততটুকু। এক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বিষয় হলো বিধানসমূহের উৎস বা অবস্থান সম্পর্কে অবগতি থাকা, যাতে বিধান অনুসন্ধানের সময় সেখানে প্রত্যাবর্তন করা সম্ভব হয়; মুখস্থ রাখা শর্ত নয়। অতঃপর হাদীসের সনদের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ইমামগণের সংকলিত গ্রন্থসমূহ যেমন বুখারী, মুসলিম, বাগাবী, সাগানী প্রমুখের কিতাবসমূহের শরণাপন্ন হওয়াকেই যথেষ্ট বলে স্পষ্ট করা হয়েছে এবং সুন্নাহকে বিধান সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। ইমাম সুবকী 'জামউল জাওয়ামি' গ্রন্থে বলেন: মুজতাহিদ ফকীহ হলেন এমন একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি, যাঁর মধ্যে এমন এক বিশেষ সামর্থ্য (মালাকাহ) বিদ্যমান যার দ্বারা তিনি বিষয়সমূহ অনুধাবন করতে পারেন। তিনি ভাষা, আরবী সাহিত্য, উসূলে ফিকহ এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে অন্তত মধ্যম স্তরের পাণ্ডিত্য রাখবেন এবং কুরআন ও সুন্নাহর বিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান রাখবেন, যদিও তিনি মূল পাঠসমূহ (মুতুন) মুখস্থ না রাখেন। এরপর তিনি ইজমা বা ঐকমত্য সম্পর্কে জ্ঞান থাকাকে শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন—যাতে মুজতাহিদ যে বিষয়ে ইজতিহাদ করছেন তাতে কোনো ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না তা জানতে পারেন এবং ইজমা লঙ্ঘন না করেন। তদ্রূপ নাসখ (রহিতকরণ) এবং হাদীসের বর্ণনার অবস্থা সম্পর্কেও জ্ঞান থাকা আবশ্যক। তিনি বলেন: আমাদের যুগে এই শাস্ত্রের ইমামগণের শরণাপন্ন হওয়াই যথেষ্ট। ইমাম (ফখরুদ্দীন রাযী) 'আল-মাহসুল' গ্রন্থে যা বলেছেন তার সারমর্ম ইতিপূর্বে 'আত-তালবীহ' থেকে উদ্ধৃত বর্ণনার অনুরূপ, যা নির্ভরযোগ্য হাদীস গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করাকেই যথেষ্ট বলে গণ্য করে। ইবনে হাজার বলেন: আমাদের নিম্নস্তরের আলেমগণ এবং তাঁদের পরবর্তী যারা এই স্তরে পৌঁছেছেন, এমনকি পরবর্তী যুগের ফকীহদের মধ্যে যারা রাফেযী ও মুরতাদ ইয়াযিদী সম্প্রদায়ের কুফরের ফতোয়া দিয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই মুজতাহিদ ছিলেন। অনেক আলিম বলেন যে, কালাম শাস্ত্রের (ধর্মতত্ত্ব) জ্ঞান অর্জন করা শর্ত নয় কারণ এর প্রয়োজন নেই। একইভাবে কিয়াস এবং ফিকহের শাখা-প্রশাখা সম্পর্কে জানাও শর্ত নয়, কারণ এগুলো ইজতিহাদের ওপর নির্ভরশীল; আর ইজতিহাদ যদি এগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয় তবে 'দাওর' বা চক্রাকার যুক্তির ত্রুটি দেখা দেবে। তাঁরা আরও বলেন যে, ইজতিহাদ খণ্ডিত হওয়া (তাজায্যী) বৈধ। এর অর্থ হলো ফকীহ কিছু মাসআলায় ইজতিহাদ করবেন এবং অনেক মাসআলা সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকবেন। তাঁরা এর স্বপক্ষে যুক্তি ও শাস্ত্রীয় উদ্ধৃতি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। যুক্তির বিষয়টি হলো—যদি ইজতিহাদ খণ্ডিত হওয়া অসম্ভব হতো, তবে সমস্ত মাসআলা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অনিবার্য হয়ে পড়ত, যা বাস্তবসম্মত নয়; সুতরাং এর শর্ত হওয়াও নাকচ হয়ে যায়। আর উদ্ধৃতি বা নকলের বিষয়টি হলো ইবনুল হাজিব 'মুখতাসারুল মুনতাহা' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মালিক (রা.) যাঁর ইজতিহাদী যোগ্যতার ব্যাপারে সকলে একমত, তাঁকে চল্লিশটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ছত্রিশটি সম্পর্কে বলেছিলেন 'আমি জানি না' এবং মাত্র চারটি বিষয়ে ফতোয়া দিয়েছিলেন। আত-তালবীহ গ্রন্থে ইমাম গাজালী থেকে এর কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। ইবনে হাজার অনেক আলিমের উদ্ধৃতি দেওয়ার পর স্পষ্ট করেছেন যে, সংশয়পূর্ণ বিষয়ের আশ্রয় গ্রহণকারী প্রত্যেকেই মুজতাহিদ নন, যেমনটি আমাদের সময়ের অধিকাংশ বিদআতীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
ما يؤيده. وقال السبكي بعد ما ذكر المجتهد بالمذهب: ودونه المجتهد وهو المتمكن في تخريج الوجوه على نصوص إمامه، ودونه مجتهد الفتوى وهو المتبحر المتمكن من ترجيح قول على آخر. ثم قال: ونافي الإسلام مخطئ آثم كافر. انتهى، وأراد به في معظمه.
ولا خلاف في صحة فتوى المجتهد. واختلفوا في المقلد. فقال عضد الملة والدين في شرح المختصر ما حاصله إن مذهب الإمام الأغظم والإمام الشافعي رضي الله عنهما صحة فتوى المقلد. وقال في الاستدلال: لما أنه وقع إفتاء العلماء وأنهم يكونوا مجتهدين في جميع الأعصار وتكرر ولم ينكر فصار إجماعا. وقال في الكتاب المذكور: ويجوز الاستفتاء لمن علم اشتهاره بالعلم والعدالة وانتصابه بين الناس ليستفتونه. ووافقه السبكي وغيره في ذلك وقالوا: يجوز تقليد غير الأئمة الأربعة في العمل وكذا في الإفتاء إذا رأى المفتي فيه مصلحة دين مع تبيينه للمستفي قائل ذلك، كما صرح به ابن حجر في أدب القضاء نقلا عن السبكي.
فعلم من هذا التفصيل أن إفتاء العلماء من عصرنا وغيرهم بكفر الرافضة إنما هو بالاجتهاد المقارن للتقوى والاستناد المعتبر في الفتوى، والقدح فيهم من القدح في الدين والضلال المبين.
المقالة الأولى في تفصيل الفرقاعلم أن كبائر الفرق التي ورد فيها الحديث المشهور ثمانية: الشيعة والمعتزلة والخوارج والمرجئة والنجارية والجبرية والمشبهة والناجية.
أما الشيعة فهم اثنتان وعشرون فرقة يكفّر بعضهم بعضا، أصولهم ثلاث فرق: غلاة وزيدية وإمامية.
أما الغلاة فهم ثماني عشرة فرقة.
الأولى السبائية: هم أصحاب عبد الله
যা একে সমর্থন করে। ইমাম সুবকী মাযহাবের মুজতাহিদ সম্পর্কে আলোচনা করার পর বলেন: তাঁর পরবর্তী স্তর হলো সেই মুজতাহিদ, যিনি তাঁর ইমামের উক্তির ওপর ভিত্তি করে শাখা-মাসআলা উদ্ভাবনে (তাখরিজ আল-উজুহ) সক্ষম। তাঁর নিম্নতর স্তর হলো ফতোয়ার মুজতাহিদ (মুজতাহিদ আল-ফাতওয়া), যিনি একজন অগাধ জ্ঞানের অধিকারী এবং এক উক্তির ওপর অন্য উক্তিকে প্রাধান্য (তারজিহ) দিতে সক্ষম। অতঃপর তিনি বলেন: ইসলামের কোনো অকাট্য বিষয় অস্বীকারকারী ব্যক্তি ভুলকারী, পাপী ও কাফির। এখানেই তাঁর বক্তব্য শেষ হলো, এবং তিনি এর দ্বারা এর অধিকাংশ বিষয়কে বুঝিয়েছেন।
মুজতাহিদের ফতোয়া সহীহ হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। তবে মুকাল্লিদ বা অনুসারীর ফতোয়া সম্পর্কে আলেমগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন। আদুদুল মিল্লাত ওয়াদ-দীন 'শারহুল মুখতাসার'-এ বলেছেন, যার সারমর্ম হলো— ইমামে আজম এবং ইমাম শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মাযহাব অনুযায়ী মুকাল্লিদের ফতোয়া প্রদান করা সঠিক। তিনি এর স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন: যেহেতু যুগ যুগ ধরে আলেমদের ফতোয়া প্রদানের ঘটনা ঘটে আসছে অথচ তাঁরা সকল যুগে মুজতাহিদ ছিলেন না, এবং এটি বারবার ঘটা সত্ত্বেও কেউ এর প্রতিবাদ করেননি, তাই এটি ইজমায় (ঐক্যমতে) পরিণত হয়েছে। উক্ত কিতাবে আরও বলা হয়েছে: যে ব্যক্তির ইলম (জ্ঞান) ও ইনসাফের (ন্যায়পরায়ণতা) প্রসিদ্ধি রয়েছে এবং যিনি ফতোয়া প্রদানের জন্য মানুষের মাঝে নিয়োজিত হয়েছেন, তাঁর কাছে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করা জায়েয। ইমাম সুবকী এবং অন্যান্যগণও এ বিষয়ে তাঁর সাথে একমত হয়েছেন এবং বলেছেন: আমল করার ক্ষেত্রে চার ইমাম ব্যতীত অন্যদের অনুসরণ (তাকলিদ) করা জায়েয, এমনকি ফতোয়ার ক্ষেত্রেও তা বৈধ যদি মুফতি এতে দ্বীনি কোনো কল্যাণ দেখেন এবং ফতোয়া গ্রহণকারীকে সেই উক্তির প্রবক্তার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন। ইবনে হাজার তাঁর 'আদাবুল কাজা' গ্রন্থে সুবকী থেকে উদ্ধৃত করে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
এই বিস্তারিত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, আমাদের যুগের এবং অন্যান্য যুগের আলেমগণ রাফেযীদের কাফির হওয়ার ব্যাপারে যে ফতোয়া দিয়েছেন, তা মূলত তাকওয়া-নির্ভর ইজতিহাদ এবং ফতোয়ার গ্রহণযোগ্য দলিলের ভিত্তিতেই প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং তাঁদের সমালোচনা করা মূলত দ্বীনেরই সমালোচনা এবং এটি একটি সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা।
প্রথম প্রবন্ধ: বিভিন্ন দলের বিস্তারিত বর্ণনাজেনে রাখুন যে, প্রসিদ্ধ হাদিসে বর্ণিত বড় বড় দলসমূহ হলো আটটি: শিয়া, মুতাজিলা, খারিজি, মুরজিয়া, নাজ্জারিয়া, জাবরিয়া, মুশাব্বিহা এবং মুক্তিপ্রাপ্ত দল (নাজিয়া)।
শিয়াদের ক্ষেত্রে বলা যায়, তারা মোট বাইশটি উপদলে বিভক্ত যারা একে অপরকে কাফির মনে করে। তাদের মূল শাখা হলো তিনটি: গুলাত (চরমপন্থী), যায়দিয়া এবং ইমামিয়া।
গুলাত বা চরমপন্থীদের মধ্যে আঠারোটি উপদল রয়েছে।
প্রথমটি হলো সাবায়িয়া: তারা আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার অনুসারী।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بن سبأ، قال لعلي: أنت الإله حقا. فنفاه إلى المدائن. وقال لم يمت علي وإنما قتل ابن ملجم شيطانا تصور بصورته وإنه في السحاب والرعد صوته والبرق سطوته وينزل إلى الأرض يملؤها عدلا. وهؤلاء يقولون عند سماع الرعد: عليك السلام يا أمير المؤمنين.
الثانية الكاملية: أصحاب أبي كامل، قال بكفر الصحابة بترك بيعة علي وبكفر علي بترك الحق. وقال بتناسخ الأرواح وتناسخ الإمامة بأنها نور ينتقل من شخص إلى آخر وقد ينقلب نبوة.
الثالثة البنانية: أصحاب بنان بن سمعان، قال إن الله تعالى على صورة إنسان ويهلك كله إلا وجهه وروح الله حلت في علي ثم ابنه محمد بن الحنفية ثم في ابنه هاشم ثم في بنان.
الرابعة المغيرية: أصحاب مغيرة بن سعيد العجلي. قال إن الله تعالى جسم على صورة الخلق على رأسه تاج وإذا أراد إيجاد شيء تكلم بالاسم الأعظم.
الخامسة الجناحية: أصحاب عبد الله بن معاوية بن عبد الله بن جعفر ذي الجناحين، قال بتناسخ الأرواح وكان روح الله تعالى في آدم ثم شيت ثم الأنبياء والأئمة وانتهت النبوة إلى علي وأولاده الثلاثة ثم إلى عبد الله بن معاوية القائل. وقال أصحابه إنه حي مقيم بجبل أصفهان وسيخرج، وأنكروا القيامة واستحلوا المحرمات من الخمر والميتة والزنا وغيرها.
السادسة المنصورية: أصحاب أبي منصور العجلي، صاحب أبا جعفر الباقر فتبرء منه وطرده فادعى الإمامة لنفسه. وزعم أصحابه أنه صعد إلى السماء فمسح الله رأسه بيده فقال: يا بني اذهب فبلّغ عني. وقالوا الرسالة لا تنقطع أبدا والجنة رجل أُمرنا بموالاته والفرائض أيضا رجال كذلك والنار رجل أمرنا بمعاداته والمحرمات أيضا كذلك.
السابعة الخطابية: أصحاب أبي الخطاب الأسدي، صاحب أبا عبد الله جعفر الصادق فلما علم تجاوزه الحد في حقه تبرء منه. ثم ادعى الأمر لنفسه فقال أصحابه: الأئمة أنبياء وأبو الخطاب نبي، ففرضوا طاعته بل زادوا أن الأئمة آلهة والحسن والحسين ابنا الله -
ইবনে সাবা, সে আলীকে বলেছিল: আপনিই প্রকৃত উপাস্য। ফলে তিনি তাকে মাদায়েনে নির্বাসিত করেন। সে বলেছিল যে আলী মৃত্যুবরণ করেননি, বরং ইবনে মুলজাম তাঁর রূপ ধারণকারী এক শয়তানকে হত্যা করেছে; তিনি মেঘমালার মধ্যে অবস্থান করছেন, মেঘের গর্জন তাঁর কণ্ঠস্বর এবং বিদ্যুৎ তাঁর প্রতাপ। তিনি পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং একে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করে দেবেন। এরা মেঘের গর্জন শুনলে বলে: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে আমিরুল মুমিনীন।
দ্বিতীয় দল কামিলিয়া: এরা আবু কামিলের অনুসারী। সে আলীর প্রতি আনুগত্যের বায়াত ত্যাগ করার কারণে সাহাবায়ে কিরামকে কাফির বলেছিল এবং সত্য বর্জন করার কারণে আলীকেও কাফির আখ্যা দিয়েছিল। সে আত্মার পুনর্জন্ম এবং ইমামতের রূপান্তরে বিশ্বাস করত যে, ইমামত হলো একটি নূর যা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে স্থানান্তরিত হয় এবং কখনও কখনও তা নবুয়তেও রূপান্তরিত হতে পারে।
তৃতীয় দল বানানিয়া: এরা বানান ইবনে সামআনের অনুসারী। সে বলেছিল যে, মহান আল্লাহ মানুষের আকৃতিতে এবং তাঁর সত্তা বা চেহারা ব্যতীত সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহর রূহ আলীর মধ্যে আবিষ্ট হয়েছিল, অতঃপর তাঁর পুত্র মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়ার মধ্যে, তারপর তাঁর পুত্র হাশিমের মধ্যে এবং সবশেষে বানানের মধ্যে।
চতুর্থ দল মুগিরিয়া: এরা মুগিরা ইবনে সাঈদ আল-ইজলির অনুসারী। সে বলেছিল যে, মহান আল্লাহ সৃষ্টির আকৃতিতে একটি দেহ এবং তাঁর মাথায় একটি মুকুট রয়েছে। তিনি যখন কোনো কিছু সৃষ্টি করতে চান, তখন মহান নামের মাধ্যমে কথা বলেন।
পঞ্চম দল জানাহিয়া: এরা আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর যুল জানাহাইনের অনুসারী। সে আত্মার পুনর্জন্মে বিশ্বাস করত। তার মতে মহান আল্লাহর রূহ প্রথমে আদমে, অতঃপর শীসে, এরপর অন্যান্য নবী ও ইমামগণের মধ্যে ছিল এবং নবুয়ত আলী ও তাঁর তিন পুত্রের মাধ্যমে শেষ হয়ে এই মতবাদের প্রবক্তা আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়ার নিকট পৌঁছেছে। তাঁর অনুসারীরা বলত যে তিনি জীবিত এবং ইসফাহান পাহাড়ে অবস্থান করছেন এবং অচিরেই আত্মপ্রকাশ করবেন। তারা কিয়ামত অস্বীকার করত এবং মদ, মৃত জন্তু, ব্যভিচার ও অন্যান্য হারাম কাজকে বৈধ মনে করত।
ষষ্ঠ দল মানসুরিয়া: এরা আবু মনসুর আল-ইজলির অনুসারী। সে আবু জাফর আল-বাকিরের সহচর ছিল, কিন্তু তিনি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং তাকে বহিষ্কার করেন। ফলে সে নিজের জন্য ইমামতের দাবি করে। তার অনুসারীরা ধারণা করত যে, সে আকাশে আরোহণ করেছিল এবং আল্লাহ নিজ হাতে তার মাথা স্পর্শ করে বলেছিলেন: হে বৎস! যাও এবং আমার পক্ষ থেকে প্রচার করো। তারা বলত যে রিসালাত কখনো শেষ হবে না। তাদের মতে জান্নাত হলো একজন ব্যক্তি যাকে ভালোবাসা আমাদের জন্য নির্দেশিত হয়েছে এবং ফরজ ইবাদতগুলোও তেমনি কিছু ব্যক্তি। অনুরূপভাবে জাহান্নাম ও হারাম বিষয়গুলোও নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি যাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করতে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সপ্তম দল খাত্তাবিয়া: এরা আবু খাত্তাব আল-আসাদির অনুসারী। সে আবু আবদুল্লাহ জাফর আস-সাদিকের সহচর ছিল। যখন তিনি তার বিষয়ে সীমালঙ্ঘনের কথা জানতে পারলেন, তখন তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। অতঃপর সে নিজের জন্য নেতৃত্বের দাবি করল এবং তার অনুসারীরা বলল: ইমামগণ হলেন নবী এবং আবু খাত্তাবও একজন নবী। তারা তার আনুগত্যকে ফরজ করে নিয়েছিল, এমনকি তারা আরও বাড়াবাড়ি করে বলেছিল যে ইমামগণ হলেন উপাস্য এবং হাসান ও হুসাইন আল্লাহর পুত্র।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
تعالى عن ذلك علوا كبيرا- وجعفر الصادق إله إلا أن أبا الخطاب أفضل منه. وقالوا الجنة نعيم الدنيا والنار آلامها، واستباحوا المحرمات. ومن معتقدات هؤلاء أن شهادة الزور جائزة للموافقين على المخالفين.
الثامنة الغرابية: وهم القائلون بأن عليا أشبه بمحمد من الغراب بالغراب والذباب بالذباب، فاشتبها على جبريل فغلط فبلغ الرسالة إلى محمد وكانت لعلي. وقال شاعرهم في ذلك:
غلط الأمين فصدها عن حيدرا
… والله ما كان الأمين أمينا
ويلعنون صاحب الريش، ويعنون به جبريل.
التاسعة الذمية بفتح المعجمة: سموا كذلك لذمهم محمدا صلى الله عليه وسلم بأن عليا بعثه لدعوة الناس إليه بالعبودية فدعى إلى نفسه، وقال بعضهم بآلهيتهما، واختلفوا في التقديم والتأخير. وزاد بعضهم آلهية الحسنين وفاطمة، وطرحوا التاء من اسمها تحاشيا عن وصمة التأنيث. وقالوا هذه الخمسة شيء واحد والروح فيهم بالسوية.
العاشرة الهشامية: أصحاب هشام بن سالم الجواليقي وهشام بن الحكم. اتفقوا على أن الله تعالى جسد واختلفوا في كيفيته. وقال ابن الحكم: يتساوى طوله وعرضه وعمقه، يتلألأ كالسبيكة البيضاء. وقال ابن سالم: هو على صورة رجل وله حواس وآلات كالأنف والأذن وعلى أذنه وفرة سوداء من الشعر ونصفه الأعلى مجوف. وأثبتوا له القيام والقعود والطعم واللون وسائر الكيفيات.
الحادية عشر الزرارية: أصحاب زرارة بن أعين، قال بحدوث الصفات لله تعالى وبأنه كان قبل حدوثها بلا حياة.
الثانية عشر اليونسية: أصحاب يونس بن عبد الرحمن القمي، قال إن الله تعالى على العرش تحمله الملائكة وهو أقوى منهم كالكركي يحمله رجلاه وهو أقوى منهما.
الثالثة عشر الشيطانية: أصحاب محمد بن نعمان الملقب بشيطان الطاق، والطاق اسم موضع. قال إن الله تعالى نور على صورة إنسان وإنما يعلم الأشياء بعد كونها.
الرابعة عشر الرزامية: قالوا بأمور فاسدة منها أن الله تعالى حل في أبي مسلم، واستحلوا
আল্লাহ তাআলা তাদের এই অপবাদ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে—এবং তারা বিশ্বাস করত যে জাফর আস-সাদিক ইলাহ (উপাস্য), তবে আবু আল-খাত্তাব তাঁর চেয়েও শ্রেষ্ঠ। তারা বলত যে, জান্নাত হলো দুনিয়ার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এবং জাহান্নাম হলো এর দুঃখ-কষ্ট। তারা হারাম বিষয়গুলোকে বৈধ করে নিয়েছিল। তাদের বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত ছিল যে, বিরোধীদের বিরুদ্ধে নিজ মতাদর্শীদের পক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা জায়েজ বা বৈধ।
অষ্টম দল হলো গুরাবিয়্যাহ: তারা বলে যে, আলী (রা.) মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথে কাকের সাথে কাকের এবং মাছির সাথে মাছির সাদৃশ্যের চেয়েও বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। ফলে জিবরাঈল (আ.)-এর কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং তিনি ভুলবশত আলীর পরিবর্তে মুহাম্মদের কাছে ওহী পৌঁছে দেন। এ সম্পর্কে তাদের কবি বলেছে:
বিশ্বস্ত (জিবরাঈল) ভুল করেছেন এবং হায়দার (আলী) থেকে তা সরিয়ে নিয়েছেন
… আল্লাহর কসম, সেই বিশ্বস্ত আসলে বিশ্বস্ত ছিলেন না।
তারা 'পাখাওয়ালা' সত্তাকে অভিশাপ দেয়, আর এর দ্বারা তারা জিবরাঈল (আ.)-কে উদ্দেশ্য করে।
নবম দল হলো যাম্মিয়্যাহ (যাল বর্ণে জবরসহ): মুহাম্মদ (সা.)-এর নিন্দা (যম্ম) করার কারণে তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে। তাদের দাবি হলো, আলী (রা.) তাঁকে (মুহাম্মদ সা.-কে) মানুষের কাছে তাঁর (আলীর) ইবাদতের দাওয়াত দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি নিজের দিকে দাওয়াত দিতে শুরু করেন। তাদের কেউ কেউ উভয়ের উপাস্য হওয়ার কথা বলত এবং কে আগে আর কে পরে—এ নিয়ে তারা মতভেদ করত। তাদের কেউ কেউ হাসান, হুসাইন এবং ফাতিমা (রা.)-কেও ইলাহ মনে করত। এমনকি তারা ফাতিমার নাম থেকে স্ত্রীলিঙ্গ নির্দেশক 'তা' বর্ণটি বর্জন করেছিল যেন নারীত্বের কলঙ্ক থেকে দূরে থাকা যায়। তারা বলত যে, এই পাঁচজন আসলে একই সত্তা এবং তাদের সবার মধ্যে রূহ বা আত্মা সমানভাবে বিদ্যমান।
দশম দল হলো হিশামিয়্যাহ: তারা হিশাম ইবনে সালিম আল-জাওয়ালিকি এবং হিশাম ইবনে আল-হাকামের অনুসারী। তারা এ বিষয়ে একমত ছিল যে আল্লাহ তাআলা দেহধারী, তবে তাঁর দেহের ধরন নিয়ে তারা মতভেদ করত। ইবনুল হাকাম বলত: তাঁর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা সমান এবং তিনি শ্বেত তপ্ত ধাতুর পিন্ডের মতো উজ্জ্বল। ইবনে সালিম বলত: তিনি মানুষের আকৃতিতে এবং তাঁর নাক ও কানের মতো ইন্দ্রিয় ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রয়েছে। তাঁর কানে কালো চুলের গুচ্ছ রয়েছে এবং তাঁর শরীরের উপরিভাগ ফাঁপা। তারা আল্লাহর জন্য দাঁড়ানো, বসা, স্বাদ গ্রহণ, বর্ণ এবং অন্যান্য গুণাবলি সাব্যস্ত করত।
একাদশ দল হলো যুরারিয়্যাহ: তারা যুরারাহ ইবনে আ'ইয়ান-এর অনুসারী। সে বলত যে, আল্লাহ তাআলার গুণাবলি নতুনভাবে সৃষ্ট এবং গুণাবলি সৃষ্টির আগে তিনি জীবনহীন ছিলেন।
দ্বাদশ দল হলো ইউনুসিয়্যাহ: ইউনুস ইবনে আবদুর রহমান আল-কুম্মি-এর অনুসারী। সে বলত যে, আল্লাহ তাআলা আরশের ওপর আছেন এবং ফেরেশতারা তাঁকে বহন করে, অথচ তিনি তাদের চেয়ে শক্তিশালী; যেমন সারস পাখিকে তার দুই পা বহন করে অথচ সে তার পা দুটির চেয়ে শক্তিশালী।
ত্রয়োদশ দল হলো শায়তানিয়্যাহ: তারা মুহাম্মদ ইবনে নু'মান-এর অনুসারী, যাকে 'শায়তানুত তাক' (তাক একটি স্থানের নাম) উপাধি দেওয়া হয়েছিল। সে বলত যে, আল্লাহ তাআলা মানুষের আকৃতিতে এক নূর বা আলো এবং তিনি কোনো বস্তু সৃষ্টি হওয়ার পরেই কেবল তা জানতে পারেন।
চতুর্দশ দল হলো রিযামিয়্যাহ: তারা অনেক ভ্রান্ত মতবাদ পোষণ করত, যার মধ্যে একটি ছিল যে আল্লাহ তাআলা আবু মুসলিমের মধ্যে আবিষ্ট হয়েছেন। তারা আরও বৈধ মনে করত...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المحارم وتركوا الفرائض، ومنهم من ادعى الإلهية.
الخامسة عشر المفوضة: وهم القائلون بأن الله فوّض خلق الدنيا إلى محمد، وشرك بعضهم عليا في ذلك.
السادسة عشر البدائية: وهم القائلون بجواز البداء على الله تعالى لعدم علمه بعواقب الأمور.
السابعة عشر النصيرية والإسحاقية: قالوا بحلول الله تعالى في علي وأولاده. وقد أبطلنا مذهبهم الفاسد ومذهب من يحذوهم في الحلول بالبراهين الدامغة في تفسيرنا لسورة الإخلاص.
الثامنة عشر الإسماعيلية: وهم المنسوبون إلى إسماعيل بن جعفر لإثباتهم الإمامة له. ولهم عقائد فاسدة أعاذنا الله منها، ومن عقائدهم أن الله تعالى ليس بموجود ولا معدوم. وقدحوا في الشريعة بأنه لم وجب الغسل من المني دون البول ولم قضى صوم الحائض دون صلاتها. ومنعوا التكلم في بيت فيه سراج، أي موضع فيه متكلم أو فقيه. فلا يزالون مستهزئين بالنواميس الدينية والأحكام الشرعية حتى ظهرت شوكتهم فأظهروا استحلال المحرمات فصاروا كحيوانات بل هم أضل سبيلا.
وأما الزيدية فهم المنسوبون إلى زيد بن علي زين العابدين، وزيد هذا كان إماما جليلا، ويروى أنه خرج إلى الكوفة وبايعه خلق كثير ومضى إليه الشيعة وقالوا له: تبرأ عن الشيخين ونحن نتابعك، فأبى، فقالوا: إنا نرفضك، فقال: اذهبوا أنتم الرافضة. وسميت شيعته بالزيدية، وهم ثلاث فرق.
الأولى الجارودية: أصحاب أبي الجارود الذي سماه الباقر سرحوبا وفسّره بأنه شيطان يسكُن البحر. قالوا بالنص على إمامة علي وكفروا الصحابة بمخالفتهم لعلي.
الثانية السليمانية: أصحاب سليمان بن جرير. قالوا بكون الإمامة شورى وبانعقادها برجلين من المسلمين، وكفروا عثمان وطلحة والزبير وعائشة.
الثالثة البتيرية: أصحاب بتير القمي، وهم وافقوا السليمانية في أكثر عقائدهم.
وأما الإمامية فقالوا بالنص الجلي على إمامة علي وكفروا الصحابة. وتشعبوا إلى معتزلة وإلى إخبارية يعتبرون ما ورد به ظواهر الأخبار.
তারা হারাম কাজসমূহকে হালাল সাব্যস্ত করেছে এবং ফরজসমূহ বর্জন করেছে, আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ খোদায়ী বা উপাস্য হওয়ার দাবিও করেছে।
পঞ্চদশ দল হলো মুফাউয়িযা: তারা হলো সেই সব লোক যারা বলে যে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া সৃষ্টির কাজ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অর্পণ করেছেন, আর তাদের কেউ কেউ এই কাজে আলীকেও শরিক করেছে।
ষোড়শ দল হলো বাদাঈয়্যাহ: তারা হলো সেই সব লোক যারা আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে ‘বাদা’ (নতুন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা পূর্বের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন) জায়েজ মনে করে, কারণ তাদের মতে আল্লাহ পরিণাম সম্পর্কে জ্ঞাত নন।
সপ্তদশ দল হলো নুসাইরিয়্যাহ ও ইসহাকিয়্যাহ: তারা বলে যে, আল্লাহ তাআলা আলী ও তাঁর সন্তানদের মধ্যে প্রবিষ্ট (হুলুল) হয়েছেন। আমরা সূরা আল-ইখলাসের তাফসিরে অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে তাদের এই ভ্রান্ত মতবাদ এবং যারা তাদের মতো ‘হুলুল’ বা ইনকারনেশনে বিশ্বাসী তাদের মতবাদ বাতিল প্রমাণ করেছি।
অষ্টাদশ দল হলো ইসমাইলিয়্যাহ: তারা ইসমাইল বিন জাফরের সাথে সম্পৃক্ত, কারণ তারা তাঁর ইমামত সাব্যস্ত করে। তাদের অনেক ভ্রান্ত আকিদা রয়েছে—আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন। তাদের আকিদাসমূহের মধ্যে একটি হলো—আল্লাহ তাআলা বিদ্যমানও নন আবার অবিদ্যমানও নন। তারা শরয়ি বিধানের ওপর এই বলে আপত্তি উত্থাপন করে যে, কেন প্রস্রাবের পরিবর্তে বীর্যপাতের কারণে গোসল ওয়াজিব হলো এবং কেন ঋতুবতী নারীর জন্য নামাজের পরিবর্তে কেবল রোজার কাজা করা আবশ্যক হলো। তারা এমন ঘরে কথা বলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে যেখানে চেরাগ রয়েছে, অর্থাৎ এমন স্থান যেখানে কোনো বক্তা বা ফকিহ উপস্থিত থাকেন। তারা এভাবেই দ্বীনি নীতিমালা ও শরয়ি বিধানসমূহ নিয়ে উপহাস করতে থাকে, যতক্ষণ না তাদের প্রতাপ বৃদ্ধি পায়। অতঃপর তারা হারাম কাজসমূহকে হালাল করতে শুরু করে এবং চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় হয়ে যায়, বরং তারা তার চেয়েও বেশি পথভ্রষ্ট।
আর যায়দিয়্যাহ সম্পর্কে বলা যায় যে, তারা যায়দ বিন আলী যায়নুল আবিদীনের সাথে সম্পৃক্ত। এই যায়দ ছিলেন একজন মহান ইমাম। বর্ণিত আছে যে, তিনি কুফার উদ্দেশে বের হলে বহু মানুষ তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করে। তখন শিয়ারা তাঁর কাছে এসে বলল: ‘আপনি শায়খাইন (আবু বকর ও উমর)-এর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিন, তবেই আমরা আপনার অনুসরণ করব।’ তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন। তখন তারা বলল: ‘তাহলে আমরা আপনাকে পরিত্যাগ (রাফয) করলাম।’ তিনি বললেন: ‘তোমরা চলে যাও, তোমরাই তো রাফেজি (পরিত্যাগকারী)।’ তখন থেকেই তাঁর অনুসারী শিয়াদের যায়দিয়্যাহ বলা হয়। তারা তিন ভাগে বিভক্ত।
প্রথম দল জারুদিয়্যাহ: এরা আবুল জারুদের অনুসারী, যাঁকে ইমাম বাকির ‘সারহুব’ নামে অভিহিত করেছিলেন এবং এর ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন এমন শয়তান হিসেবে যে সমুদ্রে বাস করে। তারা আলীর ইমামতের ব্যাপারে স্পষ্ট নস (নির্দেশনা) থাকার কথা বলে এবং আলীর বিরোধিতা করার কারণে সাহাবায়ে কেরামকে কাফের আখ্যা দেয়।
দ্বিতীয় দল সুলাইমানিয়্যাহ: এরা সুলাইমান বিন জারিরের অনুসারী। তারা বলে যে, ইমামত পরামর্শের (শুরা) মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এবং মুসলমানদের মধ্য থেকে দুজন ব্যক্তির সম্মতিতে তা কার্যকর হবে। তারা উসমান, তালহা, জুবাইর ও আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-কে কাফের মনে করে।
তৃতীয় দল বাতীরিয়্যাহ: এরা বাতীর আল-কুম্মির অনুসারী। তারা তাদের অধিকাংশ আকিদায় সুলাইমানিয়্যাহদের সাথে একমত।
আর ইমামিয়্যাহ দল সম্পর্কে বলা যায় যে, তারা আলীর ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নসের দাবি করে এবং সাহাবায়ে কেরামকে কাফের বলে। তারা মুতাজিলা ও আখবারিয়া নামক উপদলে বিভক্ত হয়েছে, যারা খবরের বাহ্যিক দিকসমূহকেই (যাহির) গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ومتأخرو هؤلاء ينقسمون إلى مشبهة وإلى ملتحقة بالفرق الضالة، كذا في المواقف وشرحه. والإمامية عُدت فرقة واحدة لقلة الخلاف بينهم في أول الأمر، إلا أن الشيطان كان لا يزال يغويهم إلى أن تمادى بهم الزمان وتوافر فيهم المعصية فافترقوا على الوجه الذي سبق نقله عن المواقف وشرحه.
وأما المعتزلة فهم عشرون فرقة: الواصلية والعمروية والهذلية والنظامية والأسوارية والإسكافية والجعفرية والبشرية والمزدارية والهشامية والصالحية والخابطية والحدثية والمعمرية والثمامية والخاطئية والجاحظية والكعبية والجبائية والبهشمية.
وأما الخوارج، وهم الذين خرجوا على علي عند التحكيم، فهم عشرون فرقة: المحكمة والبيهسية والأزارقة والعاذرية والأسقرية والإباضية والحفصية واليزيدية والحارثية والقائلون بطاعة لم يقصدها الله تعالى والميمونية والحمزية والشعيبية والحازمية والخلفية والأطرافية والمعلومية والمجهولية والصلتية والثعالبة.
وأما المرجئة، وهم الذين يعتمدون على الرجاء بناء على أن المعصية لا تضر مع الإيمان، فهم خمس فرق: اليونسية والعبيدية والغسانية والثوبانية والتومنية.
وأما النجارية، وهم طائفة بين أهل السنة والمعتزلة، فهم ثلاث فرق: البرغوثية والزعفرانية والمستدركة.
وأما الجبرية، وهم القائلون بأن فعل العبد بجبر من الله تعالى، فهم أربع فرق: الأشعرية والنجارية والضرارية والجهمية.
وأما المشبهة فهم الذين شبهوا الخالق بالمخلوق.
والناجية الذين هم أهل السنة والجماعة فكل واحد منها فرقة واحدة.
وهذه هي الفرق الثلاث والسبعون. وكلامنا في تحقيق حال الشيعة ومعتقدهم دون غيرهم.
المقالة الثانية في الآيات الشاهدة بكفر الشيعة والأحاديث الواردة في حقهموفيها مقصدان
المقصد الأول في الآياتوهي كثيرة، ومنها قوله تعالى في سورة الأنفال: {وَالَّذِينَ (1) آَمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ آَوَوْا وَنَصَرُوا أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ} قال المفسرون: المراد
--------------------------------------------
এদের পরবর্তীগণ মুশাব্বিহা এবং পথভ্রষ্ট দলগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হিসেবে বিভক্ত। 'আল-মাওয়াকিফ' ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। প্রথম দিকে ইমামিয়াদের নিজেদের মধ্যে মতভেদের স্বল্পতার কারণে তাদের একটি দল হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু শয়তান তাদের ক্রমাগত প্ররোচিত করতে থাকে, ফলে সময়ের আবর্তনে তাদের মধ্যে পাপাচার বৃদ্ধি পায় এবং তারা ইতিপূর্বে 'আল-মাওয়াকিফ' ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ হতে বর্ণিত পদ্ধতিতে বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
আর মুতাজিলাদের কথা বলতে গেলে তারা বিশটি দল: ওয়াসিলিয়া, আমরুয়িয়া, হুযায়লিয়া, নাজ্জামিয়া, আসওয়ারিয়া, ইস্কাফিয়া, জাফারিয়া, বিশরিয়া, মুযদারিয়া, হিশামিয়া, সালিহিয়া, খাবিতিয়া, হাদাসিয়া, মুয়াম্মারিয়া, সুমামিয়া, খাতিয়িয়া, জাহিজিয়া, কাবিয়া, জুব্বায়িয়া এবং বাহাশামিয়া।
আর খারিজিগণ—যারা সালিশি (তাহকিম) এর সময় আলী (রা.) এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল—তারাও বিশটি দল: মুহাক্কিমা, বাইহাসিয়া, আযারিকা, আযিরিয়া, আসকারিয়া, ইবাদিয়া, হাফসিয়া, ইয়াযিদিয়া, হারিসিয়া, এবং সেইসব যারা এমন আনুগত্যের প্রবক্তা যা আল্লাহ তাআলা চাননি, মাইমুনিয়া, হামযিয়া, শুয়াইবিয়া, হাযিমিয়া, খালফিয়া, আতরাফিয়া, মালুমিয়া, মাজহুলিয়া, সালতিয়া এবং সালাবা।
আর মুরজিয়াগণ—যারা এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে কেবল আশার ওপর নির্ভর করে যে, ইমানের সাথে পাপাচার কোনো ক্ষতি করে না—তারা পাঁচটি দল: ইউনুসিয়া, উবাইদিয়া, গাসসানিয়া, সাওবানিয়া এবং তুমানিয়া।
আর নাজ্জারিয়া—যারা আহলে সুন্নাত এবং মুতাজিলাদের মধ্যবর্তী একটি গোষ্ঠী—তারা তিনটি দল: বারগুসিয়া, জাফরানিয়া এবং মুস্তাদরাকা।
আর জাবরিয়াগণ—যারা বলে যে বান্দার কাজ আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়—তারা চারটি দল: আশআরিয়া, নাজ্জারিয়া, দিরারিয়া এবং জাহমিয়া।
আর মুশাব্বিহা হলো তারা, যারা স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করে।
আর নাজাতপ্রাপ্ত দল হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, যারা প্রত্যেকেই একটি মাত্র দল।
আর এরাই হলো সেই তিয়াত্তরটি ফেরকা। আমাদের আলোচনা অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল শিয়াদের অবস্থা ও বিশ্বাসের স্বরূপ অন্বেষণ করা।
দ্বিতীয় প্রবন্ধ: শিয়াদের কুফরির সাক্ষ্যদানকারী আয়াতসমূহ এবং তাদের সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গেএতে দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে
প্রথম উদ্দেশ্য: আয়াতসমূহ প্রসঙ্গেএই আয়াতসমূহ অনেক, তার মধ্যে একটি হলো সূরা আনফাল-এ আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর যারা ইমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আর যারা (তাদের) আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারাই হলো প্রকৃত মুমিন; তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজিক।" মুফাসসিরগণ বলেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بالذين آمنوا وهاجروا المهاجرون، وبالذين آووا ونصورا الأنصار. وقال بعضهم: ليت شعري لم بدل هؤلاء الطاعنون المغفرة العظيمة باللعنة الفاحشة والرزق الكريم بالعذاب العظيم، وإن هذا إلا كفر شديد وضلال بعيد.
ومنها قوله تعالى في سورة الفتح في النبي صلى الله عليه وسلم: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا} إلى قوله {لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ} قال ابن حجر: من هذه الآية أخذ الإمام مالك رحمه الله القول بكفر الروافض الذين يبغضون الصحابة وقال: لأن الصحابة يغيظونهم ومن أغاظه الصحابة فهو كافر. ثم قال: وهو مأخذ حسن يشهد له ظاهر الآية ومن ثم وافقه الشافعي رضي الله عنه في قوله بكفرهم ووافقه أيضا جماعة من الأئمة. انتهى.
ومنها قوله تعالى في سورة الفتح: {لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا} فصرح تعالى برضاه على أولئك وهم ألف ونحو أربعمائة. قال ابن حجر: ولا يقع رضاء الله إلا على من يعلم الله موته على الإسلام. ثم قال: ومن لم يصدق ذلك فيهم فهو مكذب بما في القرآن، ومن كذب بما في القرآن مما [لا] يحتمل التأويل كان كافرا جاحدا ملحدا مارقا. وهؤلاء الضالون متفقون على ذلك التكذيب كما نقله بعض المؤلفين من علمائهم في رسالته التي أرسلها إلى العراق حيث صرح فيها بأن أئمتنا متفقون على كفر الصحابة بترك مبايعة علي إلا ستة رجال. فعلم من ذلك اتفاق عامتهم على ذلك بلا شبهة. وأما اتفاق متقدميهم من العلماء على ما زعمه ذلك المؤلف فبهتان عظيم، كيف ومن أعظم علمائهم المرتضى وقد ذكر في بعض تصانيفه: وإني أطيل العجب من أصحابنا ممن يعتقد أن القرآن نزل بذم رجال من الصحابة كما يقولون في قوله تعالى: {وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ} وكيف تقبل عقولهم وتمثل أوهامهم ذلك في قوم قد بلغوا الغاية القصوى في الاختصاص بالنبي صلى الله عليه وسلم والالتباس به والاشتمال عليه، وإنه كان صلى الله عليه وسلم يعظمهم في ظهر الغيب ويجلهم. وأيضا من أعظم علمائهم الطبرسي،
যারা ঈমান এনেছেন এবং হিজরত করেছেন তারা হলেন মুহাজিরগণ, আর যারা আশ্রয় দিয়েছেন ও সাহায্য করেছেন তারা হলেন আনসারগণ। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: হায়! আমি যদি জানতাম কেন এই অপবাদ দানকারীরা মহান ক্ষমা ও সম্মানিত রিজিককে জঘন্য অভিশাপ ও কঠিন আযাব দ্বারা বদলে ফেলল! নিশ্চয়ই এটি চরম কুফরি এবং সুদূরপ্রসারী পথভ্রষ্টতা ছাড়া আর কিছু নয়।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আল-ফাতহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে সহানুভূতিশীল। আপনি তাদের রুকু ও সিজদাহরত অবস্থায় দেখতে পাবেন..." তাঁর বাণী "যাতে তাদের মাধ্যমে তিনি কাফিরদের ক্রোধান্বিত করতে পারেন" পর্যন্ত। ইবনে হাজার বলেন: এই আয়াত থেকে ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি রাফেযীদের কাফির হওয়ার অভিমত গ্রহণ করেছেন, যারা সাহাবায়ে কিরামের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। তিনি বলেছেন: কারণ সাহাবীগণ তাদের ক্ষুব্ধ করেন, আর যাকে সাহাবীগণ ক্ষুব্ধ করেন সে কাফির। অতঃপর তিনি বলেন: এটি একটি উত্তম প্রমাণ যার পক্ষে আয়াতের প্রকাশ্য অর্থ সাক্ষ্য দেয়। এ কারণেই ইমাম শাফেয়ী রাযিয়াল্লাহু আনহু তাদের কুফরির ব্যাপারে তাঁর সাথে একমত হয়েছেন এবং একদল ইমামও তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। সমাপ্ত।
অনুরূপভাবে সূরা আল-ফাতহে মহান আল্লাহর বাণী: "অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা বৃক্ষের নিচে আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করছিল। অতঃপর তিনি তাদের অন্তরে যা ছিল তা জানতেন, তাই তিনি তাদের ওপর প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদের পুরস্কার স্বরূপ এক নিকটবর্তী বিজয় দান করলেন।" এখানে আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি তাঁর সন্তুষ্টির কথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন এবং তারা সংখ্যায় ছিলেন প্রায় এক হাজার চারশ জন। ইবনে হাজার বলেন: আল্লাহর সন্তুষ্টি কেবল তাদের ওপরই বর্ষিত হয় যাদের ব্যাপারে আল্লাহ জানেন যে তারা ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করবেন। অতঃপর তিনি বলেন: যারা তাদের ব্যাপারে এই সত্যকে স্বীকার করে না, তারা কুরআনের বিষয়বস্তুকে অস্বীকারকারী। আর যে ব্যক্তি কুরআনের এমন কোনো বিষয়কে অস্বীকার করে যার ব্যাখ্যার অবকাশ নেই, সে হবে কাফির, সত্যপ্রত্যাখ্যানকারী, ধর্মত্যাগী ও সত্যচ্যুত। এই বিভ্রান্তরা সেই অস্বীকারের ব্যাপারে একমত, যেমনটি তাদের আলেমদের মধ্য থেকে একজন লেখক ইরাকে পাঠানো তার এক পত্রে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, আমাদের ইমামগণ আলী রা.-এর কাছে বায়আত না হওয়ার কারণে মাত্র ছয়জন ব্যতীত সমস্ত সাহাবীর কাফির হওয়ার ব্যাপারে একমত। এর দ্বারা কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই তাদের সাধারণ জনগণের ঐকমত্যের বিষয়টি জানা যায়। তবে সেই লেখকের দাবি অনুযায়ী তাদের পূর্ববর্তী আলেমদের এই বিষয়ে একমত হওয়া একটি বিশাল অপবাদ। কীভাবে এটি সম্ভব যখন তাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম আল-মুরতাদা তার কোনো এক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: "আমি আমাদের সেই সঙ্গীদের ব্যাপারে অত্যন্ত বিস্মিত যারা বিশ্বাস করে যে, কুরআন সাহাবীদের একদল লোকের নিন্দায় অবতীর্ণ হয়েছে, যেমন তারা মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলে: 'আর সেদিন জালেম ব্যক্তি আপন হস্তদ্বয় দংশন করবে'। কীভাবে তাদের বুদ্ধি এটি গ্রহণ করে এবং তাদের কল্পনাপ্রসূত ধারণা এমন এক জাতির ব্যাপারে এ ধরনের চিত্র অঙ্কন করে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ সাহচর্য ও নৈকট্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিলেন এবং তাঁর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অনুপস্থিতিতেও তাদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন?" একইভাবে তাদের অন্যতম প্রধান আলেম হলেন তাবারসী,
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقد اعترف في تصانيفه بعلو شأن الصحابة رضي الله عنهم وصرح بنزول الآيات المذكورة هنا في الثناء عليهم عموما وخصوصا ونقل في ذلك آيات أخر تزيد على عشر آيات. فعلم أن اعتقاد جمهورهم في كفرهم إنما هو عن جهل وعناد من غير علم واستناد.
ومنها قوله تعالى في سورة البقرة: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ} قال الطبرسي من علماء الشيعة: نزلت في حق الصحابة، ونقل الإجماع على دخول أحد عشر صحابيا في ذلك الخطاب من الصحابة الذين يكفرهم جمهور هؤلاء الضالين. وقال ابن حجر: والصحابة هم المشافهون بهذا الخطاب على لسان رسول الله صلى الله عليه وسلم. ثم ذكر في هذه الآية ما ذكره في السابقة آنفا من كفر المنكرين وإلحادهم.
ومنها قوله تعالى في سورة آل عمران: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} فإنه تعالى شهد للصحابة بالخير وهو أعلم بأحوال عباده. قال ابن حجر في هذه الآية: لا شك أنه من ارتاب في حقية شيء مما أخبر الله تعالى به كان كافرا بإجماع المسلمين.
ومنها قوله تعالى في سورة الحشر: {لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ * وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ * وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آَمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} قد عُلم من سياق الآية أن المستحق لمال الفيء من اتصف بالإخراج من الديار والأموال وابتغاء مرضاة الله تعالى، ولا خلاف بين أهل السير أن أول من اتصف بذلك كان أبو بكر رضي الله عنه. وقال ابن كثير في تفسيره: وما أحسن ما استنبط الإمام مالك من هذه الآية أن الرافضي الذي يسب الصحابة ليس له في مال الفيء نصيب لعدم اتصافه بما يمدح
এবং তিনি তাঁর গ্রন্থসমূহে সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) উচ্চ মর্যাদার কথা স্বীকার করেছেন এবং স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এখানে বর্ণিত আয়াতসমূহ সাধারণভাবে এবং বিশেষভাবে তাঁদের প্রশংসায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি দশটিরও অধিক আয়াত উদ্ধৃত করেছেন। সুতরাং এটি প্রমাণিত যে, তাঁদের কুফরীর বিষয়ে তাদের অধিকাংশের বিশ্বাস কেবল অজ্ঞতা ও হঠকারিতা থেকে উদ্ভূত, যার কোনো জ্ঞানগত ভিত্তি বা প্রমাণ নেই।
এর মধ্যে আল্লাহ তাআলার বাণী অন্যতম, যা সূরা আল-বাকারায় রয়েছে: "আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে তৈরি করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হতে পারো।" শিয়া আলেমদের মধ্যে তাবারসী বলেছেন: এটি সাহাবীগণের শানে অবতীর্ণ হয়েছে; এবং তিনি এ বিষয়ে ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে, সেই এগারোজন সাহাবীও এই সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকে এই পথভ্রষ্টদের অধিকাংশ কাফির বলে থাকে। ইবনে হাজার বলেছেন: সাহাবীগণই ছিলেন রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর পবিত্র জবান থেকে এই সম্বোধনের প্রত্যক্ষ শ্রোতা। অতঃপর তিনি এই আয়াতের ক্ষেত্রেও অস্বীকারকারীদের কুফরী ও ধর্মত্যাগ সম্পর্কে পূর্বে যা উল্লেখ করেছিলেন, তারই পুনরাবৃত্তি করেছেন।
এর মধ্যে সূরা আলে-ইমরানে আল্লাহ তাআলার বাণী অন্যতম: " তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে।" কেননা আল্লাহ তাআলা সাহাবীগণের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তিনি তাঁর বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত। ইবনে হাজার এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাআলা যে বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন তার সত্যতা সম্পর্কে যে ব্যক্তি সন্দেহ পোষণ করবে, মুসলিমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সে কাফির গণ্য হবে।
এর মধ্যে সূরা আল-হাশরে আল্লাহ তাআলার বাণী অন্যতম: "(এই সম্পদ) সেই দরিদ্র মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে; তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই সত্যবাদী। আর যারা তাদের আগে এই জনপদে বসবাস করত এবং ঈমান এনেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালোবাসে এবং মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা অন্তরে কোনো আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না, বরং তারা নিজেদের ওপর তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত হয়। যারা নিজেদের মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম। আর যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানে আমাদের অগ্রগামী ছিলেন এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আপনি পরম দয়ালু ও অতি মেহেরবান।" আয়াতের প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায় যে, ফায়-এর সম্পদের অধিকারী হওয়ার যোগ্য সেই ব্যক্তি যে দেশ ও সম্পদ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণের গুণে গুণান্বিত। সীরাত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, সর্বপ্রথম এই গুণে গুণান্বিত ব্যক্তি ছিলেন আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)। ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে বলেছেন: ইমাম মালিক এই আয়াত থেকে কতই না চমৎকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে, যে রাফেযী সাহাবীগণকে গালি দেয়, ফায়-এর সম্পদে তার কোনো অংশ নেই; কারণ সে ওই প্রশংসনীয় গুণাবলি অর্জন করতে পারেনি যার কারণে তাঁদের প্রশংসা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الله به هؤلاء، أي في قوله تعالى: {يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا} الآية المذكورة فافهم. قال الطبرسي من كبار علمائهم: نزلت في أربعمائة من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم حبسوا أنفسهم على طاعة الله ومنعوها التصرف في أسباب الدنيا. وهكذا رواه الطبرسي عن أبي جعفر وعن ابن عباس. وليت شعري من أي وجه يقولون بكفرهم بعد هذه الأوصاف.
والعجب كل العجب من هؤلاء الضالين كيف يتجاسرون على القول بكفر أشراف الصحابة بمجرد ترك المتابعة لعلي كرم الله وجهه ولا يلتفتون إلى أن معتقدهم ومعتمدهم وهو سيدنا علي لم يكفر الصحابة الذين تحاربوا معه في وقعة معاوية رضي الله عنه على ما وقع في نهج البلاغة الذي هو من كتبهم المنسوبة إلى علي، حيث كتب فيه إلى عماله يخبرهم عما وقع بينه وبين معاوية: "أما بعد فإنا التقينا نحن والقوم بصفين، ربنا واحد ونبينا واحد ودعوتنا واحدة، لا نستزيدهم بالإيمان بالله ورسوله ولا يستزيدوننا، الأمر واحد إلا ما اختلفنا عليه في دم عثمان ونحن منه براء". وأيضا في نهج البلاغة مما قاله في الوقعة المذكورة: "إنما أصبحنا نقاتل إخواننا في الإسلام". وأيضا في نهج البلاغة لما نزلت آية {الم * أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آَمَنَّا} قال كرم الله وجهه: قلت: يا رسول الله، هل من بُلي بورك؟ قال صلى الله عليه وسلم: "يا علي إن أمتي سيفتنون من بعدي". فقلت: ما أحملهم يا رسول الله على فتنة أم على ردة؟ قال صلى الله عليه وسلم: "لا بل على فتنة". انتهى. فظهر أنهم في قولهم بارتداد الصحابة رضي الله عنهم تابعون للشيطان وخارجون عن الإيمان، قاتلهم الله أنى يؤفكون. وذلك لأن معتقدهم في المقال مخالف لقول من زعموه إمامهم ومعتمدهم من الرجال.
وأيضا هؤلاء الضالون المسترسلون بعقولهم الضعيفة لا ينظرون
আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে এই প্রশংসা করেছেন, অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: "তারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে" (উল্লিখিত আয়াত পর্যন্ত)। বিষয়টি অনুধাবন করুন। তাদের অন্যতম প্রধান আলেম তাবারসি বলেছেন: এই আয়াতটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চারশ সাহাবীর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা আল্লাহর আনুগত্যের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন এবং জাগতিক উপায়ে লিপ্ত হওয়া থেকে নিজেদের নিবৃত্ত রেখেছিলেন। তাবারসি একইভাবে আবু জাফর এবং ইবনে আব্বাস থেকেও এটি বর্ণনা করেছেন। হায়! আমার বুঝে আসে না, এই মহৎ গুণাবলির বর্ণনার পরও তারা কোন যুক্তিতে তাঁদের কাফের হওয়ার কথা বলে।
এই পথভ্রষ্টদের চরম ধৃষ্টতা দেখে বড়ই বিস্ময় জাগে যে, কেবল আলী (কাররালাল্লাহু ওয়াজহাহু)-র আনুগত্য না করার কারণে তারা কীভাবে শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের কাফের বলার দুঃসাহস দেখায়! তারা এই বাস্তবতার দিকেও ভ্রুক্ষেপ করে না যে, তাদের আকিদার মূল ভিত্তি ও অবলম্বন স্বয়ং আমাদের নেতা আলী (রা.) সেই সাহাবীদের কাফের বলেননি, যারা মুয়াবিয়া (রা.)-এর সাথে সিফফিনের যুদ্ধে তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। এটি তাদেরই কিতাব 'নাহজুল বালাগাহ'-তে বর্ণিত হয়েছে, যা আলীর প্রতি নিসবত করা হয়। সেখানে তিনি তাঁর প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের কাছে লেখা এক পত্রে মুয়াবিয়ার সাথে তাঁর পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে লিখেছিলেন: "অতঃপর কথা এই যে, আমরা এবং সেই কওম সিফফিনে মুখোমুখি হয়েছিলাম। আমাদের রব এক, আমাদের নবী এক এবং আমাদের দাওয়াতও এক। আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমানের বিষয়ে তাদের চেয়ে বেশি দাবি করি না এবং তারাও আমাদের চেয়ে বেশি কিছু দাবি করে না। বিষয়টি একই ছিল, কেবল উসমানের হত্যার বিচার নিয়ে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছিল, অথচ আমরা সেই রক্তপাত থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।" এছাড়াও নাহজুল বালাগাহ-তে উক্ত যুদ্ধের বর্ণনায় তাঁর একটি উক্তি রয়েছে: "আমরা আজ আমাদেরই মুসলিম ভাইদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছি।" আরও নাহজুল বালাগাহ-তে আছে, যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: "আলিফ-লাম-মিম। মানুষ কি মনে করেছে যে, 'আমরা ঈমান এনেছি' এ কথা বললেই তাদের পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া হবে?" তখন আলী (কাররালাল্লাহু ওয়াজহাহু) বললেন: আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এটি কি কোনো পরীক্ষা? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "হে আলী, নিশ্চয়ই আমার উম্মত আমার ইন্তেকালের পর ফিতনায় নিপতিত হবে।" তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এই বিচ্যুতির কারণ কি ফিতনা হবে নাকি ধর্মত্যাগ (মুরতাদ হওয়া)? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "না, বরং কেবল ফিতনা।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-দের ধর্মত্যাগী বা মুরতাদ বলার মাধ্যমে তারা মূলত শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে এবং ঈমান থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা সত্য থেকে কোথায় বিমুখ হচ্ছে! এর কারণ হলো, তাদের মৌখিক বিশ্বাস সেই মহান ব্যক্তির উক্তির সম্পূর্ণ বিপরীত, যাঁকে তারা নিজেদের ইমাম এবং আদর্শ বলে দাবি করে।
তাছাড়া, এই পথভ্রষ্টরা যারা তাদের দুর্বল বিবেক-বুদ্ধির দোহাই দিয়ে চলে, তারা এ বিষয়টি দেখে না...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
إلى أن قدحهم في كبار الصحابة يوجب القدح في معتقدهم وإمامهم الذي هو سيدنا علي بل هو موجب لتخفيف شأن سيد المرسلين وأمير المؤمنين عند سائر الكافرين كالنصارى واليهود. وكيف وهم من أشراف عشيرته وأكابر قبيلته صلى الله عليه وسلم. وبنت أبي بكر كانت عند النبي، وبنتا النبي كانتا عند عثمان، وبنت علي كانت عند عمر رضي الله عنهم أجمعين. وبالجملة هم راجعون إلى حسبه ونسبه صلى الله عليه وسلم رجوع الأغصان إلى الشجرة، فالمدح فيهم مدح فيه صلى الله عليه وسلم، والقدح فيهم قدح فيه ويظهر أن هؤلاء القادحين المعتدين ليس لهم نصيب في الإسلام والدين.
المقصد الثاني في الأحاديثوهي كثيرة. منها ما رواه البيهقي وجماعة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لا يقبل الله لصاحب بدعة صلاة ولا صوما ولا صدقة ولا حجا ولا عمرة ولا جهادا ولا صرفا ولا عدلا، يخرج من الإسلام كما تخرج الشعرة من العجين".
ومنها ما رواه أبو حاتم في حزبه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "أصحاب البدع كلاب النار".
ومنها ما رواه الطبراني عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من وقر صاحب بدعة فقد أعان على هدم الإسلام".
ومنها ما أخرجه الخطيب والديلمي عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إذا مات صاحب بدعة فقد فتح في الإسلام فتح".
وهذه الأحاديث وردت في مطلق المبتدعة، وتشمل الرافضة والشيعة كما صرح به ابن حجر في الصواعق. وقد وردت في هؤلاء أحاديث مخصوصة:
ومنها ما أخرجه أبو ذر الهروي والذهبي عن ابن عباس مرفوعا أنه: "يكون في آخر الزمان قوم يسمون الرافضة يرفضون الإسلام فاقتلوهم فإنهم مشركون".
ومنها ما أخرجه الذهبي عن إبراهيم بن حسن بن حسين بن علي عن أبيه عن جده علي بن أبي طالب رضي الله عنه أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يظهر في أمتي آخر الزمان قوم يسمون الرافضة يرفضون الإسلام".
ومنها ما أخرجه الدارقطني عن علي عن النبي - صلى
জ্যেষ্ঠ সাহাবায়ে কেরামের প্রতি তাদের নিন্দা জ্ঞাপন মূলত তাদের স্বীয় আকীদা এবং তাদের ইমাম—যিনি আমাদের নেতা আলী (রা.)—তাঁর প্রতিই অপবাদ আরোপের নামান্তর। অধিকন্তু, এটি অন্যান্য কাফিরদের—যেমন খ্রিস্টান ও ইহুদি—নিকট রাসূলগণের সর্দার এবং মুমিনদের আমীরের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর তা কীভাবে সম্ভব, অথচ তাঁরা ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশের অভিজাত এবং তাঁর গোত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। হযরত আবু বকর (রা.)-এর কন্যা নবীজির সহধর্মিণী ছিলেন, নবীজির দুই কন্যা হযরত উসমান (রা.)-এর বিবাহবন্ধনে ছিলেন এবং হযরত আলী (রা.)-এর কন্যা হযরত উমর (রা.)-এর বিবাহবন্ধনে ছিলেন—আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। সংক্ষেপে বলতে গেলে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আভিজাত্য ও বংশের সাথে তাঁদের সম্পর্ক ঠিক তেমনি, যেমন বৃক্ষের সাথে তার শাখা-প্রশাখার সম্পর্ক। সুতরাং তাঁদের প্রশংসা করা মানে নবীজিরই প্রশংসা করা, আর তাঁদের নিন্দা করা মানে স্বয়ং নবীজিরই নিন্দা করা। এতে স্পষ্ট হয় যে, এই নিন্দাকারী সীমালঙ্ঘনকারীদের ইসলাম ও দ্বীনের মধ্যে কোনো অংশ নেই।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসসমূহ প্রসঙ্গেএ বিষয়ে হাদিস সংখ্যা অনেক। তন্মধ্যে ইমাম বায়হাকী ও একদল মুহাদ্দিস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এরশাদ করেছেন: "আল্লাহ তাআলা কোনো বিদআতির সালাত, সিয়াম, সদকা, হজ, উমরা, জিহাদ এবং কোনো ফরজ কিংবা নফল ইবাদত কবুল করেন না; সে ইসলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে যায়, যেমন আটা থেকে চুল বের হয়ে আসে।"
আরও একটি বর্ণনা হলো যা আবু হাতিম তাঁর কিতাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "বিদআতিরা হলো জাহান্নামের কুকুর।"
ইমাম তাবারানী কর্তৃক বর্ণিত অপর এক হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো বিদআতিকে সম্মান করল, সে ইসলাম ধ্বংস করার কাজে সহায়তা করল।"
খতিব ও দাইলামী বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন কোনো বিদআতির মৃত্যু হয়, তখন ইসলামের বিজয় সূচিত হয়।"
এই হাদিসগুলো সাধারণভাবে সকল বিদআতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এর মধ্যে রাফেযী ও শিয়াদের অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি ইবনে হাজার তাঁর 'আস-সাওয়ায়েক' গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তবে তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু হাদিসও বর্ণিত হয়েছে:
ইমাম আবু যর আল-হারাবী ও ইমাম যাহাবী হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: "শেষ জমানায় এমন এক কওমের আবির্ভাব ঘটবে যাদের 'রাফেযী' বলা হবে; তারা ইসলামকে প্রত্যাখ্যান করবে, সুতরাং তোমরা তাদের হত্যা করো, কেননা তারা মুশরিক।"
ইমাম যাহাবী ইবরাহীম ইবন হাসান ইবন হুসাইন ইবন আলী থেকে, তিনি তাঁর পিতা ও দাদা আলী ইবন আবী তালিব (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন: "শেষ জমানায় আমার উম্মতের মধ্যে এমন এক দলের আবির্ভাব ঘটবে যাদের 'রাফেযী' নামে অভিহিত করা হবে; তারা ইসলামকে বর্জন করবে।"
ইমাম দারাকুতনী হযরত আলী (রা.)-এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে—
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الله عليه وسلم - أنه قال: "سيأتي زمان من بعدي فيه قوم لهم نبز يقال لهم الرافضة فإن أدركتهم فاقتلهم فإنهم مشركون". قال: قلت يا رسول الله ما العلامة فيهم؟ قال: "يفرطونك بما ليس فيك ويطعنون على السلف". وأخرجه عنه من طرق أخر نحوه وزاد في طريق: "وينتحلون حبنا أهل البيت وليس كذلك، وآية ذلك أنهم يسبون أبا بكر وعمر". وأخرج أيضا من طرق متعددة عن فاطمة الزهراء وعن أم سلمة رضي الله عنهما نحوه. قال: ولهذا الحديث عندنا طرق كثيرة.
ومنها ما وراه ابن حجر أنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يجتمع حب علي وبغض أبي بكر في قلب مؤمن".
ومنها ما أخرجه ابن عساكر عن أنس رضي الله عنه مرفوعا: "إن حب أبي بكر وعمر إيمان وبغضهما كفر".
وعجبا من جمهور هؤلاء الضالين كيف يقحمون أنفسهم في الكفر ببغضهما والقدح فيهما مع كثرة أمثال هذه الروايات في كتبنا وكتبهم من الأحاديث وغيرها.
ومن ذلك ما وقع في كتابهم المسمى بكشف الغمة عن علي بن حسين أنه وفد إليه رجال من أهل العراق فسألوا عن أبي بكر وعمر وعثمان فلما فرغوا قال: هل أنتم من المهاجرين الأولين؟ قالوا: لا، قال: أفأنتم الذين تبؤوا الدار والإيمان؟ قالوا: لا، قال: وأنا أشهد أنكم لستم ممن قال الله فيهم: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آَمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} اخرجوا عني، ثم أشار إلى أنهم خرجوا عن الإيمان.
ومن ذلك أيضا ما وقع في كتابهم المسمى بمطالب السؤل عن ورام عن جفعر الصادق أنه قال لجابر الجعفي: يا جابر، بلغني أن قوما بالعراق يزعمون أنهم يحبوننا ينالون من أبي بكر وعمر ويزعمون أنني أمرتهم بذلك، كذبوا والله، فبلغهم عني أني إلى الله منهم بريء، والذي نفس محمد بيده لو وُليت لتقربت إلى الله
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "আমার পরে এমন এক সময় আসবে যখন একদল লোকের উদ্ভব হবে যাদের একটি বিশেষ উপাধি থাকবে, তাদের 'রাফেজি' বলা হবে। তোমরা যদি তাদের দেখা পাও তবে তাদের হত্যা করো, কারণ তারা মুশরিক।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! তাদের চেনার নিদর্শন কী? তিনি বললেন: "তারা তোমার সম্পর্কে এমন বিষয়ের অতিরঞ্জন করবে যা তোমার মাঝে নেই এবং তারা সালাফদের (পূর্বসূরিদের) নিন্দা করবে।" অন্য সূত্রেও তাঁর থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং একটি সূত্রে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে: "তারা আমাদের অর্থাৎ আহলে বাইতের ভালোবাসার দাবি করবে, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। এর লক্ষণ হলো তারা আবু বকর ও ওমরকে গালমন্দ করবে।" ফাতেমা আজ-জাহরা এবং উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকেও একাধিক সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট এই হাদিসের অনেকগুলো সূত্র রয়েছে।
তন্মধ্যে একটি হলো যা ইবনে হাজার বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো মুমিনের হৃদয়ে আলীর প্রতি ভালোবাসা এবং আবু বকরের প্রতি ঘৃণা একত্রে জমা হতে পারে না।"
আরেকটি হলো যা ইবনে আসাকির আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আবু বকর ও ওমরের প্রতি ভালোবাসা ঈমান এবং তাঁদের প্রতি ঘৃণা কুফর।"
এই পথভ্রষ্টদের অধিকাংশের ব্যাপারে বিস্ময় জাগে যে, আমাদের এবং তাদের কিতাবসমূহে হাদিস ও অন্যান্য বর্ণনার এমন প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তারা তাঁদের উভয়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ ও তাঁদের নিন্দায় লিপ্ত হয়ে নিজেদের কুফরের দিকে ঠেলে দেয়!
এর একটি উদাহরণ হলো তাদের 'কাশফুল গুম্মাহ' নামক কিতাবে আলী ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ইরাক থেকে একদল লোক তাঁর কাছে এসে আবু বকর, ওমর ও ওসমান সম্পর্কে বিরূপ আলোচনা করল। যখন তারা শেষ করল, তিনি বললেন: তোমরা কি প্রথম যুগের মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত? তারা বলল: না। তিনি বললেন: তবে কি তোমরা সেই সব লোক যারা (মদিনার) আবাসভূমি ও ঈমানে জায়গা করে নিয়েছিলে (আনসার)? তারা বলল: না। তখন তিনি বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্তও নও যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের পথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছেন এবং মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়।} তোমরা আমার কাছ থেকে দূর হয়ে যাও। অতঃপর তিনি ইঙ্গিত করলেন যে তারা ঈমান থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে।
অনুরূপ আরও একটি উদাহরণ যা তাদের 'মাতালিবুস সুউল' নামক কিতাবে ওরাম জাফর আস-সাদিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জাবির আল-জুফিকে বলেছিলেন: হে জাবির, আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে ইরাকের একদল লোক আমাদের ভালোবাসার দাবি করে অথচ তারা আবু বকর ও ওমরকে গালমন্দ করে এবং দাবি করে যে আমি তাদের এমন নির্দেশ দিয়েছি। আল্লাহর কসম, তারা মিথ্যা বলছে! তুমি তাদের আমার পক্ষ থেকে জানিয়ে দাও যে, আমি আল্লাহর কাছে তাদের এই কর্ম থেকে দায়মুক্ত। সেই সত্তার কসম যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, যদি আমি ক্ষমতা পেতাম তবে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে (তাদের শাস্তি দিতাম)।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بدمائهم.
ومن ذلك أيضا ما ذكره الطوسي من علمائهم في كتابه المسمى بالشافي من أنه لما بلغ عليا قول من يبغض أبا بكر وعمر فغضب من ذلك غضبا شديدا وخرج إلى المسجد وصعد المنبر فحمد الله ثم قال: ما بال أقوام يذكرون سيدَي قريش وأبوي المسلمين بما أنا بريء منه ومنزه عنه وعلى ما يقولون معاقب، أما والذي فلق الحبة وبرأ النسمة لا يحبهما إلا مؤمن تقي ولا يبغضهما إلا فاجر شقي، صاحبا رسول الله صلى الله عليه وسلم ووزيراه، ثم قال في آخر الخطبة: فمن أبغضني فليبغضهما فأنا منه بريء، ألا وإن خير هذه الأمة بعد نبيها أبو بكر ثم عمر ثم الله أعلم بالخير أين هو. انتهى.
فانظر إلى هؤلاء الكافرين كيف اتفقوا على الكفر العنيد والضلال البعيد مخالفين لكلام أئمتهم وعلمائهم المتقدمين بمجرد العصبة في معاداة أصل الدين.
المقالة الثالثة في إفتاء العلماء بكفرهمقد أفتى بذلك الإمام الشافعي والإمام مالك رضي الله عنهما ووافقهما كثيرون من أئمة المسلمين كما سبق في المقالة الثانية نقلا عن ابن حجر. ونقل القاضي عياض عن الإمام مالك كيفية عقوبتهم من القتل وغيره. وذلك مفصل في كتابه المسمى بالشفاء.
ووقع في الفتاوى البزازية القول بكفرهم لقولهم برجعة الأموات إلى الدنيا وإنكارهم خلافة الشيخين وغير ذلك من قبائحهم.
وقال الشيخ طاهر البخاري من كبار أصحاب الإمام أبي حنيفة رحمه الله في الخلاصة: الرافضي إذا كان يسب الشيخين ويلعنهما فهو كافر، والمعتزلي مبتدع إلا إذا قال باستحالة الرؤية فحينئذ هو كافر. انتهى.
وفي النوع الثالث من الفصل الثالث من كتاب الإسلام والكفر: إذا استخف بسنة أو حديث من أحاديثه عليه الصلاة والسلام كفر. انتهى. وهؤلاء الضالون كم أحرقوا دواوين صحاح الأحاديث استخفافا واستهزاء كما شاهده منهم غير واحد.
তাদের রক্ত দিয়ে।
অনুরূপভাবে তাদের আলেমদের মধ্য থেকে তুসী তার 'আশ-শাফি' নামক কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, যখন আলী (রাযি.)-এর কাছে সেই ব্যক্তিদের কথা পৌঁছাল যারা আবু বকর ও উমর (রাযি.)-কে ঘৃণা করে, তখন তিনি এতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি মসজিদে বের হয়ে মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করার পর বললেন: "সেই সম্প্রদায়ের কী হলো যারা কুরাইশের দুই নেতা এবং মুসলিমদের দুই পিতাকে এমন সব বিষয়ে উল্লেখ করে যা থেকে আমি মুক্ত ও পবিত্র এবং তারা যা বলে তার জন্য আমি শাস্তি প্রদানকারী। সেই সত্তার কসম যিনি শস্যদানা বিদীর্ণ করেছেন এবং আত্মা সৃষ্টি করেছেন, কেবল মুত্তাকী মুমিনই তাদের ভালোবাসবে এবং কেবল পাপিষ্ঠ হতভাগ্যই তাদের ঘৃণা করবে। তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুই সঙ্গী ও দুই উজির।" এরপর তিনি খুতবার শেষে বললেন: "যে আমাকে ঘৃণা করে সে যেন তাদেরও ঘৃণা করে, কেননা আমি তার থেকে মুক্ত। জেনে রেখো, নবীর পরে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু বকর, তারপর উমর, তারপর আল্লাহই ভালো জানেন কল্যাণ কোথায়।" সমাপ্ত।
সুতরাং এই কাফিরদের দিকে তাকাও, কীভাবে তারা ধর্মের মূলের সাথে শত্রুতার বশবর্তী হয়ে নিছক গোঁড়ামির কারণে তাদের পূর্ববর্তী ইমাম ও আলেমদের বাণীর বিরুদ্ধাচরণ করে একগুঁয়ে কুফর ও সুদূরপ্রসারী গোমরাহির ওপর একমত হয়েছে।
তৃতীয় প্রবন্ধ: তাদের কুফর সম্পর্কে আলেমদের ফতোয়া প্রসঙ্গেইমাম শাফিঈ এবং ইমাম মালিক (রাযি.) এ ব্যাপারে ফতোয়া দিয়েছেন এবং মুসলিমদের অনেক ইমাম তাদের সাথে একমত হয়েছেন, যেমনটি ইবনে হাজার-এর বরাতে দ্বিতীয় প্রবন্ধে গত হয়েছে। কাজী আইয়াজ ইমাম মালিক থেকে তাদের মৃত্যুদণ্ডসহ অন্যান্য শাস্তির পদ্ধতির কথা বর্ণনা করেছেন। এটি তার 'আশ-শিফা' নামক কিতাবে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
'ফাতাওয়া বায্যাযিয়া'-তে তাদের কুফরের কথা এসেছে দুনিয়াতে মৃতদের ফিরে আসা (রাজআত) এর মতবাদ এবং শাইখাইন (আবু বকর ও উমর)-এর খিলাফত অস্বীকার করাসহ তাদের অন্যান্য জঘন্য কর্মকাণ্ডের কারণে।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর বিশিষ্ট অনুসারীগণের অন্যতম শায়খ তাহির আল-বুখারী 'আল-খুলাসা' কিতাবে বলেছেন: রাফেযী যদি শাইখাইনকে গালি দেয় এবং লানত করে তবে সে কাফির। আর মুতাযিলা হলো বিদআতী, তবে তারা যদি আল্লাহর দিদার বা দর্শন অসম্ভব বলে দাবি করে, তবে সে ক্ষেত্রে তারা কাফির। সমাপ্ত।
'কিতাবুল ইসলাম ওয়াল কুফর' গ্রন্থের তৃতীয় পরিচ্ছেদের তৃতীয় প্রকারে বর্ণিত হয়েছে: যদি কেউ সুন্নাহ অথবা তাঁর (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাদীসসমূহের মধ্য থেকে কোনো হাদীসকে তুচ্ছজ্ঞান করে, তবে সে কাফির হয়ে যাবে। সমাপ্ত। আর এই পথভ্রষ্টরা অবজ্ঞা ও উপহাসস্বরূপ কত যে সহীহ হাদীসের কিতাব পুড়িয়েছে, যা তাদের মধ্য থেকে অনেকেই প্রত্যক্ষ করেছে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال الإمام البزدوي في كشف الأحكام: وقد صح عن أبي يوسف رحمه الله أنه قال: ناظرت أبا حنيفة رضي الله عنه في مسئلة خلق القرآن ستة أشهر فاتفق رأيي ورأيه على أن من قال بخلق القرآن فهو كافر. وقد صح هذا القول عن محمد رحمه الله. انتهى. وهو صريح في كفر هؤلاء الضالين لاتفاقهم مع المعتزلة على كون القرآن مخلوقا على ما هو مسطور في كتبنا وكتبهم.
ونقل الإمام الرازي في التفسير الكبير القول بكفرهم وكفر الخوارج أيضا.
وقال ابن حجر في الصواعق: لم نكفر القائلين بأفضلية علي على أبي بكر وإن كان خلاف ما أجمعنا عليه في كل عصر منا إلى النبي صلى الله عليه وسلم. ثم قال: ومن كفر الرافضة من الأئمة فلأمور أخر من قبائح انضمت إلى ذلك. انتهى. وقال في موضع آخر: عُلم من حديث الإفك -أراد حديث بهتان عائشة رضي الله عنها أن من نسبها إلى الزنا كان كافرا وهو ما صرح به أئمتنا وغيرهم لأن في ذلك تكذيب النصوص القرآنية ومكذبها كافر بإجماع المسلمين، ومنه يعلم القطع بكفر كثيرين من غلاة الروافض لأنهم ينسبونها إلى ذلك قاتلهم الله أنى يؤفكون. انتهى. وقال في موضع آخر: الروافض أشد ضررا على الدين من اليهود والنصارى. وقال أبو زرعة الرازي من أجلّ شيوخ مسلم: إذا رأيت الرجل ينتقص أحدا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعلم أنه زنديق، وذلك لأن الرسول حق والقرآن حق وما جاء به الرسول حق، وإنما [ما] أدى إلينا ذلك كله إلا الصحابة، فمن جرحهم إنما أراد إبطال الكتاب والسنة. انتهى.
وقد سبق أن هؤلاء الضالين يحكمون بكفر الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين. ومن أباطيل عقائدهم أنهم ينفون إسلام السواد الأعظم. وقد سبق في المقدمة أن نافي الإسلام مخطئ في اجتهاده كافر، مع أن المجتهد في هؤلاء كالكبريت الأحمر بل أعز وأندر لبعدهم عن مطارح إشراق اليقين وحرمانهم من اقتباس أنوار النبوة من الصحابة والتابعين بمنافرتهم عنهم ومخالفتهم لهم
ইমাম পজদউয়ি তাঁর 'কাশফ আল-আহকাম' গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি ইমাম আবু হানিফা (রাযি.)-এর সাথে কুরআন সৃষ্টির মাসআলায় ছয় মাস যাবৎ বিতর্ক করেছি। পরিশেষে আমার এবং তাঁর মতৈক্য হয়েছে যে, যে ব্যক্তি কুরআন সৃষ্টি হওয়ার প্রবক্তা হবে সে কাফির।" ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) থেকেও এই বক্তব্য বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এটি এই পথভ্রষ্টদের কুফরির বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য; কেননা আমাদের এবং তাদের কিতাবসমূহে যা লিপিবদ্ধ রয়েছে সেই অনুযায়ী কুরআন সৃষ্টি হওয়ার বিষয়ে তারা মুতাজিলাদের সাথে একমত হয়েছে।
ইমাম রাযি তাঁর 'তাফসিরে কাবির'-এ তাদের এবং খাওয়ারিজদের কাফির হওয়ার অভিমতটি উদ্ধৃত করেছেন।
ইবনে হাজার তাঁর 'আস-সাওয়াআিক' গ্রন্থে বলেছেন: "আবু বকর (রাযি.)-এর ওপর আলী (রাযি.)-এর শ্রেষ্ঠত্বের প্রবক্তাদের আমরা কাফির বলি না; যদিও তা নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আমাদের যুগ পর্যন্ত চলে আসা উম্মাহর ঐকমত্যের পরিপন্থী।" অতঃপর তিনি বলেন: "আর আইম্মায়ে কেরামদের মধ্যে যারা রাফেজিদের কাফির বলেছেন, তারা তাদের সাথে যুক্ত অন্যান্য জঘন্য বিষয়ের কারণেই তা করেছেন।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: "ইফকের ঘটনা—অর্থাৎ আয়েশা (রাযি.)-এর ওপর অপবাদের ঘটনা—থেকে জানা যায় যে, যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করবে সে কাফির। আমাদের ইমামগণ এবং অন্যান্য উলামায়ে কেরাম এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। কারণ এতে কুরআনি অকাট্য বর্ণনাকে অস্বীকার করা হয় এবং মুসলমানদের ঐকমত্য অনুযায়ী কুরআনকে অস্বীকারকারী কাফির। এ থেকে চরমপন্থী রাফেজিদের একটি বড় অংশের কাফির হওয়ার বিষয়টি অকাট্যভাবে জানা যায়; কারণ তারা তাঁর প্রতি এই অপবাদ আরোপ করে। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা সত্য থেকে কোথায় বিচ্যুত হচ্ছে!" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। তিনি অন্য এক স্থানে আরও বলেছেন: "দ্বীনের জন্য রাফেজিদের ক্ষতি ইহুদি ও নাসারাদের চেয়েও ভয়াবহ।" ইমাম মুসলিমের অন্যতম মহান উস্তাদ আবু জুরআ আর-রাযি বলেছেন: "যখন তুমি কাউকে দেখবে যে সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো সাহাবীর মানহানি করছে, তখন জেনে রেখো যে সে একজন জিন্দিক। কারণ রাসূল সত্য, কুরআন সত্য এবং রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তাও সত্য। আর আমাদের নিকট এসব কিছু সাহাবায়ে কেরামই পৌঁছে দিয়েছেন। সুতরাং যারা সাহাবীদের প্রতি দোষারোপ করে, তারা মূলত কিতাব ও সুন্নাহকে বাতিল করতে চায়।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, এই পথভ্রষ্টরা সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.)-এর কাফির হওয়ার ফয়সালা দেয়। তাদের বাতিল আকিদাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো যে তারা মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর জনসমষ্টির ইসলামকে অস্বীকার করে। আর ভূমিকা অংশে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, ইসলামের অস্তিত্ব অস্বীকারকারী ব্যক্তি তার গবেষণায় ভ্রান্ত এবং কাফির। যদিও তাদের মাঝে প্রকৃত গবেষক বা মুজতাহিদ পাওয়া লাল গন্ধকের মতো দুষ্প্রাপ্য, বরং তার চেয়েও বিরল ও দুর্লভ। কারণ তারা ধ্রুব সত্যের আলোকচ্ছটা থেকে বহু দূরে এবং সাহাবা ও তাবেয়ীদের থেকে নবুওয়াতের নূর আহরণ করা হতে বঞ্চিত; যেহেতু তারা তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং তাদের বিরোধিতা করে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
حتى خابوا عن موارد النقل وآبوا إلى شوارد العقل، أعاذنا الله تعالى من قبائح أفعالهم وأحوالهم وشنائع أقوالهم.
قال ابن حجر: فالحذر الحذر مما يلقونه إليهم -أي إلى أهل البيت- من أباطيل [من أن] من اعتقد تفضيل أبي بكر على علي رضي الله عنهما كان كافرا، لأن مرادهم بذلك أن يقرروا عندهم تكفير الأمة من الصحابة والتابعين ومن بعدهم من أئمة الدين وعلماء الشريعة وعوامهم وأنه لا مؤمن غيرهم، وهذا مؤد إلى هدم قواعد الشريعة من أصلها وإلغاء العمل بكتب السنة وما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم وعن صحابته وأهل بيته، إذ الرواة لجميع آثارهم وأخبارهم وللأحاديث بأسرها بل الناقل للقرآن في كل عصر إلى عصر النبي صلى الله عليه وسلم إلينا وإلى هؤلاء هم الصحابة والتابعون وعلماء الدين، إذ ليس لنحو الرافضة رواية ولا دراية يدرون بها فروع الشريعة. ثم قال: فإذا قدحوا فيهم قدحوا في القرآن والسنة وأبطلوا الشريعة رأسا وصار الأمر كما في زمن الجاهلية، فلعنة الله وأليم عذابه وعظيم نقمته على من يفتري على الله تعالى ورسوله بما يؤدي إلى إبطال ملته وهدم شريعته، وكيف يسع العاقل أن يحكم بكفر السواد الأعظم من أمة محمد صلى الله عليه وسلم. انتهى كلامه رفع مقامه.
ونقل عضد الملة والدين عن الأستاذ أبي إسحاق الإسفرائيني أن كل مخالف يكفرنا فنحن نكفره. وهؤلاء الكفرة قد ضربوا الجزية على المسلمين الساكنين في بلادهم مع ما سبق منه إكفارهم للسواد الأعظم ويقطعون رجل من غسل رجليه كما شاهده الثقات منهم.
المقالة الرابعة في بيان حال المتأخرين منهم وحكم دارهم وإفتاء المسلمين في حقهماعلم أن ما سبق هو بيان حال مطلق الشيعة، فلو تنزلنا عن تكفيرهم جميعا فلا شك أن كثير من متأخري هذه الفرقة سيما الإمامية قد التحقوا بالفرق الضالة كما مر نقله عن المواقف وشرحه. ومن هؤلاء الضالين الطائفة الشاهية كما وصل إلينا من ثقات العلماء العاملين المخالطين لهم وكما شاهدناه منهم
যতক্ষণ না তারা বর্ণনার উৎসসমূহ থেকে বিমুখ হলো এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিচ্যুতিতে ফিরে গেল; মহান আল্লাহ আমাদের তাদের নিকৃষ্ট কর্মকাণ্ড ও অবস্থা এবং তাদের জঘন্য বক্তব্যসমূহ থেকে রক্ষা করুন।
ইবনে হাজার বলেন: তারা তাদের নিকট—অর্থাৎ আহলুল বাইত-এর নিকট—যে সকল মিথ্যাচার উপস্থাপন করে, তা থেকে অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত। যেমন এই দাবি যে, যে ব্যক্তি আলীর (রা.) ওপর আবু বকরের (রা.) শ্রেষ্ঠত্বের বিশ্বাস রাখবে, সে কাফির। কারণ তাদের উদ্দেশ্য হলো এর মাধ্যমে সাহাবী, তাবিঈন এবং পরবর্তীকালের দ্বীনের ইমাম, শরীয়তের আলিম ও সাধারণ মুসলিমদের কাফির সাব্যস্ত করা এবং এটি প্রতিষ্ঠা করা যে, তারা ব্যতীত আর কেউ মুমিন নয়। এটি শরীয়তের মূল ভিত্তিগুলো ধ্বংস করা এবং সুন্নাহর কিতাবসমূহ ও নবী (সা.), তাঁর সাহাবীগণ ও আহলুল বাইত থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর কার্যকারিতা বাতিল করার নামান্তর। কেননা সকল বর্ণনা ও হাদিস, এমনকি প্রত্যেক যুগে নবী (সা.)-এর যুগ থেকে আমাদের পর্যন্ত এবং তাদের পর্যন্ত পবিত্র কুরআনের বাহক তো সাহাবী, তাবিঈন এবং দ্বীনের আলিমগণই। রাফেযীদের তো এমন কোনো বর্ণনা বা বুৎপত্তি নেই যার মাধ্যমে তারা শরীয়তের শাখা-প্রশাখা সম্পর্কে জানতে পারে। অতঃপর তিনি বলেন: তারা যখন তাদের (সাহাবী ও আলিমদের) প্রতি কটাক্ষ করল, তখন তারা মূলত কুরআন ও সুন্নাহর প্রতিই কটাক্ষ করল এবং শরীয়তকে সমূলে বাতিল করে দিল। ফলে বিষয়টি জাহিলিয়াত যুগের মতো হয়ে গেল। সুতরাং যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর এমন মিথ্যা অপবাদ দেয় যা তাঁর দ্বীনকে বাতিল করা এবং শরীয়তকে ধ্বংস করার দিকে ধাবিত করে, তাদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ, যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এবং কঠোর প্রতিশোধ অবতীর্ণ হোক। কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি কীভাবে মুহাম্মাদ (সা.)-এর উম্মতের বিশাল জনগোষ্ঠীর (সওয়াদে আ’যম) ওপর কুফরীর ফতোয়া দিতে পারে? তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত হলো, আল্লাহ তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন।
আদুদুল মিল্লাত ওয়াদ্দীন উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফিরায়িনী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যে কোনো বিরোধী পক্ষ আমাদের কাফির বলবে, আমরাও তাদের কাফির বলব। আর এই কাফিররা তাদের দেশে বসবাসরত মুসলিমদের ওপর জিজিয়া কর আরোপ করেছে, সাথে তো পূর্বোল্লিখিত বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীকে কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়টি রয়েছেই। তারা সেই ব্যক্তির পা কেটে ফেলে যে ব্যক্তি অজু করার সময় তার দুই পা ধৌত করে, যেমনটি তাদের মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ প্রত্যক্ষ করেছেন।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাদের পরবর্তী বংশধরদের অবস্থা, তাদের ভূখণ্ডের বিধান এবং তাদের ব্যাপারে মুসলিমদের প্রতি ফতোয়া বর্ণনায়জেনে রাখুন যে, পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তা সাধারণভাবে শিয়াদের অবস্থার বর্ণনা। আমরা যদি তাদের সকলকে কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়ে ছাড়ও দেই, তবুও এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ফেরকার পরবর্তী প্রজন্মের অনেকে, বিশেষ করে ইমামিয়া গোষ্ঠী, বিভ্রান্ত দলগুলোর সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে; যেমনটি 'আল-মাওয়াকিফ' ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি পূর্বে গত হয়েছে। এই বিভ্রান্তদের মধ্যে একটি হলো 'শাহিয়্যাহ' গোষ্ঠী, যেমনটি আমাদের নিকট সেই সকল নির্ভরযোগ্য ও আমলদার আলিমদের মাধ্যমে পৌঁছেছে যারা তাদের সাথে মেলামেশা করেছেন এবং আমরা নিজেরাও তাদের মাঝে যা প্রত্যক্ষ করেছি।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بعد مخالطتنا لهم ومجالستهم معنا وبحثنا عن عقائدهم لا على سبيل التجسس المنهي عنه بل لتحقيق الحق وإظهار الصواب. حتى إن كثيرا من المتصلفين المتوسمين بالمصنفية فيهم جعلوا سب الصحابة والتبرء منهم وسب عائشة رضي الله عنها ونسبتها إلى الزنا جزءا من الدين، وقد مر حكم ذلك. وجعل هؤلاء الضالون سبها وسب أبيها وسب عمر وسب عثمان رضي الله عنهم شعارا على المنابر والمنارات في بلادهم؛ بل جعلوا ذلك بدلا من الصلوات المفروضات والجمعة والجماعات. وكثير من عوامهم ينكرون صحبة أبي بكر رضي الله عنه، بل يسمون الكلاب بأسماء كبار الصحابة ويكتبون أسماءهم الشريفة تحت النعال. ويحكى أن بعض الأكراد رأى واحدا منهم على طرف سطح مكتوبا تحت نعله اسم واحد من الصحابة الكبار فغضب من قبيح فعله فرماه بسهم فأصاب موضع الاسم وقتله، فأخذوه مهتمين بقتله سائلين عنه لم فعلت ذلك فقال في جوابهم: فعلت ذلك بغضا لصاحب الاسم وإني من جملتكم، فاستحسنوا منه ذلك وأحسنوا عليه.
والسبب الأكثري في هذه الشناعات والقبائح هو معاداة المسلمين ومخالفة أهل الدين، حتى إنهم يخالفونهم في الملابس والمشارب والمجالس والمآكل عنادا وبغضا. وإن بعض عوامهم يفضلون عليا على محمد صلى الله عليه وسلم بمجرد التعصب، كيف ولو كان سبهم للصحابة رضي الله عنهم بأرفع أصواتهم مع رفع الأعلام واجتماع الصبيان والنسوان وعمل الصور ورفعها صادرا عنهم مع غرض ثابت وملاحظة استحقاق لشركوا في ذلك من يستحق اللعن قطعا كأبي لهب وفرعون وهامان ونمرود وإبليس خذلهم الله خذلانا أصيرا وأوصلهم إلى جهنم
তাদের সাথে আমাদের মেলামেশা ও উঠাবসা এবং তাদের আকিদা-বিশ্বাস সম্পর্কে আমাদের অনুসন্ধানের পর—যা নিষিদ্ধ গোয়েন্দাগিরির ছলে নয়, বরং সত্য উদঘাটন ও সঠিক তথ্য প্রকাশের নিমিত্তে—আমরা দেখতে পেয়েছি যে, তাদের মধ্যকার বহু দাম্ভিক ব্যক্তি যারা নিজেদের লেখক হিসেবে জাহির করে, তারা সাহাবীগণকে গালি দেওয়া, তাঁদের থেকে দায়মুক্ত হওয়া এবং আয়েশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)-কে গালি দেওয়া ও তাঁর প্রতি অপবাদ আরোপ করাকে ধর্মের অংশ বানিয়ে নিয়েছে; অথচ এর বিধান ইতিপূর্বেই বর্ণিত হয়েছে। এই পথভ্রষ্টরা আয়েশা (রা.), তাঁর পিতা (আবু বকর), উমর ও উসমান (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হন)-কে গালি দেওয়াকে তাদের দেশের মিম্বর ও মিনারের স্লোগানে পরিণত করেছে; এমনকি তারা একে ফরজ নামাজ, জুমা ও জামাতের স্থলাভিষিক্ত করেছে। তাদের সাধারণ মানুষের অনেকেই আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর সাহচর্য অস্বীকার করে, এমনকি তারা কুকুরের নাম বড় বড় সাহাবীগণের নামে রাখে এবং তাঁদের পবিত্র নামসমূহ জুতোর নিচে লিখে রাখে। বর্ণিত আছে যে, এক কুর্দি ব্যক্তি তাদের একজনকে ছাদের কিনারে দণ্ডায়মান অবস্থায় দেখল, যার জুতোর তলায় একজন মহান সাহাবীর নাম উৎকীর্ণ ছিল। এই জঘন্য কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে সে তাকে লক্ষ্য করে একটি তীর নিক্ষেপ করল, যা ঠিক সেই নামের স্থানে বিদ্ধ হয়ে তাকে হত্যা করল। তখন তারা তাকে হত্যার দায়ে পাকড়াও করে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে উত্তরে বলল: "নামের ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষবশত আমি এটি করেছি এবং আমি তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" তখন তারা তার এই আচরণকে সাধুবাদ জানাল এবং তার প্রতি সদয় হলো।
এই সমস্ত জঘন্য ও কদর্য আচরণের মূল কারণ হলো মুসলমানদের সাথে শত্রুতা এবং ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের বিরোধিতা করা; এমনকি তারা হঠকারিতা ও ঘৃণাবশত পোশাক-পরিচ্ছদ, পানীয়, মজলিস ও আহারের ক্ষেত্রেও তাঁদের বিরোধিতা করে। তাদের সাধারণ মানুষের কেউ কেউ কেবল অন্ধ গোঁড়ামির বশবর্তী হয়ে আলীকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করে। সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) প্রতি তাদের এই উচ্চকণ্ঠ গালিগালাজ, পতাকা উত্তোলন, নারী ও শিশুদের সমাবেশ এবং প্রতিকৃতি নির্মাণ ও তা প্রদর্শন যদি কোনো দৃঢ় সংকল্প ও বৈধতার বিশ্বাস থেকে উৎসারিত হয়, তবে তারা নিশ্চিতভাবেই চূড়ান্ত অভিশপ্ত ব্যক্তিদের ন্যায় হবে, যেমন আবু লাহাব, ফেরাউন, হামান, নমরুদ ও ইবলিস। আল্লাহ তাদের চরম লাঞ্ছিত করুন এবং তাদের জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করুন।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وساءت مصيرا. ونعوذ بالله من حالاتهم الشينة وضلالاتهم البينة.
قال ابن حجر: أما قدحهم فإن خالف دليلا قطعيا كقذف عائشة رضي الله عنها وإنكار صحبة أبيها رضي الله عنه كان كفرا. وصرح بذلك العلامة التفتازاني والعلامة الدواني مع كونهما من أهل الخبرة بمعتقدات هؤلاء الضالين.
وإذا عرفت هذا فما نقل عن الإمام الأعظم أبي حنيفة رضي الله عنه والإمام الشافعي رضي الله عنه في أحد قوليه وأبي حسن الأشعري في كتابه المسمى بمقالات الإسلام وأبي بكر الرازي والكرخي والحاكم صاحب المختصر في كتابه المسمى بالمنتقى وغيرهم من أنهم كانوا لا يكفرون أحدا من أهل القبلة حتى صار ذلك قاعدة لأهل السنة والجماعة ويقبلون شهادتهم: محمول على من خالف في أمور متشابهة كمسئلة الصفات وخلق الأعمال وغيرها بعد اتفاقه على ما هو من ضروريات الدين كحدوث العالم وحشر الأجساد وما أشبه ذلك ككثيرين من متقدمي هؤلاء، كذا حققه بعض المحققين. ثم قال: لا نزاع في كفر أهل القبلة المواظب على الطاعات طول العمر مع اعتقاد قدم العالم ونفي الحشر ونفي العلم بالجزئيات ونحو ذلك وكذا صدور شيء مما يوجب الكفر. انتهى ونسب كلامه من أوله إلى آخره إلى شرح المقاصد.
وعند ذلك يتعجب من استشكال العلامة التفتازاني في شرح العقائد الجمع بين قولهم لا نكفر أحدا من أهل القبلة وقولهم بكفر القائلين بخلق القرآن وسب الشيخين ونحوهما كالمعتزلة والشيعة. والتطبيق بين الكلامين بالاجتهاد وعدمه كما وقع لبعض معاصرينا شطط وفتح لباب الضلالة والكفر، بل التطبيق إنما هو على الوجه الذي سبق آنفا بنقل
এবং অত্যন্ত নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থল। আর আমরা তাদের জঘন্য অবস্থা এবং তাদের সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
ইবনে হাজার বলেন: তাদের নিন্দা করার বিষয়টি যদি কোনো অকাট্য দলিলের বিরোধী হয়—যেমন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার প্রতি অপবাদ আরোপ করা অথবা তাঁর পিতার সাহচর্য (সাহাবী হওয়া) অস্বীকার করা—তবে তা কুফর হিসেবে গণ্য হবে। আল্লামা তাফতাজানী এবং আল্লামা দাওয়ানী বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, অথচ তাঁরা উভয়েই এই পথভ্রষ্টদের বিশ্বাস সম্পর্কে বিশেষভাবে অভিজ্ঞ ছিলেন।
আপনি যখন এটি অবগত হলেন, তখন ইমাম আযম আবু হানীফা রাযিয়াল্লাহু আনহু, ইমাম শাফেয়ী রাযিয়াল্লাহু আনহু (তাঁর দুই মতের একটিতে), আবুল হাসান আশআরী তাঁর 'মাকালাতুল ইসলাম' নামক কিতাবে, আবু বকর আল-জাসসাস আর-রাযী, আল-কারখী, আল-হাকিম (মুখতাসার প্রণেতা) তাঁর 'আল-মুনতাকা' নামক কিতাবে এবং অন্যান্যদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে—তাঁরা আহলে কিবলার কাউকে কাফির বলতেন না, এমনকি এটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের একটি নীতিতে পরিণত হয়েছে এবং তাঁরা তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতেন—তা মূলত ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে অস্পষ্ট ও রূপক বিষয়াবলীতে ভিন্নমত পোষণ করে, যেমন সিফাত (আল্লাহর গুণাবলী) সংক্রান্ত মাসআলা, আমল সৃষ্টি এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয়; তবে শর্ত হলো দ্বীনের অপরিহার্য বিষয়াবলীতে (যরুরিয়াতে দ্বীন) একমত হওয়া, যেমন জগত নশ্বর হওয়া, শারীরিক হাশর হওয়া এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। এদের মধ্য থেকে পূর্ববর্তী অনেকের অবস্থা এমনই ছিল; কিছু মুহাক্কিক আলেম এভাবেই বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: আহলে কিবলার অন্তর্ভুক্ত কোনো ব্যক্তি যদি সারা জীবন ইবাদতে মগ্ন থাকে, কিন্তু জগতকে অনাদি বিশ্বাস করে, হাশর অস্বীকার করে, খুটিনাটি বিষয়ে আল্লাহর জ্ঞান অস্বীকার করে এবং এই জাতীয় কোনো বিশ্বাস পোষণ করে অথবা কুফর সাব্যস্তকারী কোনো কাজ তার থেকে প্রকাশ পায়, তবে তার কাফির হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। তিনি তাঁর এই বক্তব্যটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত 'শারহুল মাকাসিদ'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।
এমতাবস্থায় 'শারহুল আকাঈদ'-এ আল্লামা তাফতাজানী কর্তৃক উত্থাপিত সেই খটকা বা সংশয়ের বিষয়টি বিস্ময়কর মনে হয়, যেখানে তিনি 'আমরা আহলে কিবলার কাউকে কাফির বলি না'—এই নীতির সাথে 'কুরআন সৃষ্টি হওয়ার প্রবক্তা, শাইখাইনকে গালিদানকারী এবং মুতাযিলা ও শিয়াদের মতো ব্যক্তিদের কাফির হওয়া' সংক্রান্ত বক্তব্যের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে জটিলতায় পড়েছেন। আর ইজতিহাদ ও ইজতিহাদ না হওয়ার মানদণ্ডে এই দুই বক্তব্যের মধ্যে যে সমন্বয় আমাদের সমসাময়িক কারো কারো পক্ষ থেকে করা হয়েছে, তা সীমা লঙ্ঘন বৈ কিছু নয় এবং তা পথভ্রষ্টতা ও কুফরের দ্বার উন্মোচনকারী; বরং এদের মধ্যে প্রকৃত সমন্বয় তো সেভাবেই হবে, যা ইতিপূর্বে উদ্ধৃতির মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بعض المحققين عن شرح المقاصد. ثم إن محققي المتأخرين منا لما رأوا متأخري هؤلاء الضالين مجتمعين على ما ذكرنا من العقائد القبيحة والأفعال الشنيعة غيروا اعتذارنا في حقهم وردنا على من أكفرهم كما هو مبسوط في المواقف وشرحه. ألا ترى أن ابن حجر رحمه الله أكفرهم بكثير مما رده أصحابنا وذلك لإمكان التوجيه في الرد في حق متقدميه بخلاف متأخريهم الضالين كالطائفة الشاهية وغيرهم من الذين هم أشد ضرا في الدين من اليهود والنصارى كما سبق.
وممن صرح بكفرهم وأفتى به فيما بلغنا العالم الزاهد المحقق المدقق مفتي الثقلين أستاذ الفريقين أبو السعود قدس الله سره والفاضل الكامل المدقق عصام الدين الإسفرائيني مع كثرة ممارسته لهم وطول مؤانسته بهم. وأفتى به العالم الزاهد الشيخ الصالح الحكاري والمحقق الكامل محمد البرقعلي والمولى البرسفي والمولى حسين الشيفكي. وإن منهم من بلغ الدرجة الوسطى الكافية في الاجتهاد. ولو تنزلنا عن ذلك فمنهم من بلغ التجزء الكافي في الإفتاء كما مر نقلا عن السبكي. ولو تنزلنا عن ذلك أيضا فلا أقل [من] أنهم مقلدون والمقلد يجوز له الإفتاء إن قلد الأئمة الأربعة أو غيرهم ورأى في الإفتاء مصلحة دينية. ولا مصلحة فوق زجر من يكفر السواد الأعظم ومن هو أضر في الدين من اليهود والنصارى. وقد مر كل ذلك في المقدمة وما بعدها.
وأيضا أفتوا بأن دارهم دار كفر، أي دارهم المخصوصة بهم بخلاف الديار التي يداري أهلها مع هؤلاء الضالين مع كونهم على السنة السَّنية وإقامتهم للجماعة والجمعة ومدحهم للصحابة رضي الله
শারহুল মাকাসিদের উদ্ধৃতি দিয়ে কিছু মুহাক্কিক বর্ণনা করেছেন যে, পরবর্তীতে আমাদের মুহাক্কিকগণ যখন এই পথভ্রষ্টদের উত্তরসূরিদের আমাদের উল্লিখিত কদর্য আকিদা ও জঘন্য কর্মকাণ্ডের ওপর ঐক্যবদ্ধ দেখলেন, তখন তারা তাদের স্বপক্ষে আমাদের ওজর এবং যারা তাদের কাফির বলতেন তাদের প্রতি আমাদের কৃত খণ্ডন পরিবর্তন করেছেন, যেমনটি ‘মাওয়াকিফ’ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বিস্তারিত রয়েছে। আপনি কি দেখেন না যে, ইবনে হাজার (রহ.) তাদের এমন অনেক বিষয়ের কারণে কাফির সাব্যস্ত করেছেন যা আমাদের সঙ্গীরা খণ্ডন করেছিলেন? এর কারণ হলো, তাদের পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার মাধ্যমে খণ্ডন করা সম্ভব ছিল, কিন্তু তাদের পথভ্রষ্ট উত্তরসূরিদের ক্ষেত্রে তা নয়—যেমন শাহীয়া সম্প্রদায় ও অন্যান্যরা, যারা ধর্মের জন্য ইহুদি ও খ্রিস্টানদের চেয়েও অধিক ক্ষতিকর, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
যাদের নিকট থেকে আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে তারা স্পষ্টভাবে তাদের কুফরের কথা ব্যক্ত করেছেন এবং ফতোয়া দিয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন জাহিদ আলেম, সূক্ষ্মদর্শী মুহাক্কিক, মানব ও জিনকুলের মুফতি, উভয় দলের উস্তাদ আবুস সাউদ (আল্লাহ তাঁর পবিত্রতা বৃদ্ধি করুন) এবং গুণী ও পূর্ণতাপ্রাপ্ত সূক্ষ্মদর্শী আলেম ইসামুদ্দিন আল-ইসফরাইনি—যদিও তাদের সাথে তাঁর অধিক মেলামেশা ও দীর্ঘদিনের সাহচর্য ছিল। আরও ফতোয়া দিয়েছেন জাহিদ আলেম শায়খ সালিহ আল-হাক্কারী, পূর্ণাঙ্গ মুহাক্কিক মুহাম্মদ আল-বিরকালি, মাওলা আল-বুরসাফি এবং মাওলা হুসাইন আল-শিফকি। তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন যারা ইজতিহাদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত মধ্যম স্তরে পৌঁছেছিলেন। আমরা যদি এর চেয়ে কিছুটা ছাড় দিই, তবে তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যারা ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ‘আংশিক ইজতিহাদ’ বা তাজাজ্জু-এর স্তরে পৌঁছেছিলেন, যা সুবকী (রহ.)-এর উদ্ধৃতিতে বর্ণিত হয়েছে। আর যদি আমরা আরও ছাড় দিই, তবে কমপক্ষে তারা মুকাল্লিদ ছিলেন; আর একজন মুকাল্লিদের জন্য ফতোয়া প্রদান করা জায়েজ যদি তিনি চার ইমাম বা অন্য কারো অনুসরণ করেন এবং ফতোয়া প্রদানের মধ্যে কোনো ধর্মীয় কল্যাণ দেখতে পান। আর যারা মুসলিম উম্মাহর বিশাল জনসমষ্টিকে কাফির সাব্যস্ত করে এবং যারা ধর্মের জন্য ইহুদি ও খ্রিস্টানদের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর, তাদের প্রতিহত করার চেয়ে বড় কোনো কল্যাণ হতে পারে না। এই সব বিষয়ই ভূমিকা ও তার পরবর্তী অংশে আলোচিত হয়েছে।
তাছাড়া তারা এই ফতোয়াও দিয়েছেন যে, তাদের ভূখণ্ড হলো কুফরের ভূমি (দারুল কুফর); অর্থাৎ তাদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ অঞ্চলটি। তবে ঐসব জনপদ এর ব্যতিক্রম যেখানে বসবাসকারীরা এই পথভ্রষ্টদের সাথে সামাজিকতা বজায় রেখে চললেও নিজেরা সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত, জামাআত ও জুমা কায়েম করেন এবং সাহাবায়ে কেরামের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) প্রশংসা করেন।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
عنهم ودعائهم لسلطان الإسلام أيده الله تعالى على المنابر. وأفتى بذلك العالم الزاهد جدي المحقق أبو بكر المشهور بالمصنف ورئيس المفسرين خالي العزيز مولانا عبد الكريم مع تبحره واختباره بحال هؤلاء الضالين، حتى إنه غزاهم مع الأمير المرحوم العادل هلوخان الأردلاني وقتل هو بنفسه منهم نيفا، وكانوا يقولون له إن هذا الفارس علي رضي الله عنه، صالح أهل السنة فيعينهم علينا.
ووقع في كتاب المتفق والمختلف أن مذهب الإمام مالك أن أمارات الكفر إذا ظهرت في بلاد يصير حكمها حكم دار الحرب. وقد سبق أن هؤلاء الكفرة جعلوا أمارات الكفر شعارا فيما بينهم. ونحن تنزلنا إلى أنهم في دراهم كالكفرة الأصلية حكما بلا خلاف، ومن خرج من بلادهم إلى بلادنا فلا بد من بيان حاله، فإن صدر عنه ما يكفر به أجرينا مقتضى كفره، أو لا فلا.
فإن قلت يحتمل أن يكون بينهم من المسلمين رجالا أو يكون في أيديهم من أموالهم شيئا؟ قلت: لا فرق بينهم وبين سائر الحربيين في ذلك الاحتمال.
فإن قلت: يتلفظون بالشهادتين، قلت: لا بد مع ذلك من استبرائهم عما كفروا به كما قرره جمهور الفقهاء. والحال أنهم لا يستبرءون عما كفروا به ولو قطعوا إربا إربا، على أنهم بمثابة الزنادقة كما سبق نقلا عن أبي زرعة الرازي، وتوبة الزنديق لا تقبل. قال النووي: وقال الروياني في الحلية: والعمل على هذا، وعليه الإمام الأعظم أبو حنيفة ومالك وأحمد في أحد روايتيه.
তাদের থেকে এবং মিম্বরসমূহে ইসলামের সুলতানের জন্য তাদের দোয়া—আল্লাহ তাআলা তাঁকে শক্তিশালী করুন। এই মর্মে ফতোয়া দিয়েছেন প্রাজ্ঞ যাহিদ আলেম, আমার পিতামহ গবেষক আবু বকর, যিনি 'আল-মুসান্নিফ' নামে সুপরিচিত এবং মুফাসসিরগণের প্রধান আমার প্রিয় মাতুল মাওলানা আব্দুল কারিম; এই পথভ্রষ্টদের অবস্থা সম্পর্কে তাঁদের গভীর পাণ্ডিত্য ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও। এমনকি তিনি মরহুম ন্যায়পরায়ণ আমির হালুখাঁ আরদালানির সাথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং তিনি নিজে তাদের কয়েকজনকে হত্যা করেছিলেন। তারা তাঁর সম্পর্কে বলত যে, এই অশ্বারোহী হলেন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু, তিনি আহলে সুন্নাতের সাথে সন্ধি করেছেন এবং আমাদের বিরুদ্ধে তাদের সাহায্য করছেন।
'আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুখতালিফ' কিতাবে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম মালিকের মাযহাব অনুযায়ী কোনো ভূখণ্ডে যদি কুফরের আলামত প্রকাশ পায়, তবে তার বিধান দারুল হারবের বিধানে পরিণত হয়। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই কাফিররা কুফরের নিদর্শনসমূহকে নিজেদের মধ্যে প্রতীকে পরিণত করেছে। আমরা এ বিষয়ে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, তাদের ভূখণ্ডে তারা কোনো মতবিরোধ ছাড়াই বিধানগতভাবে আদি কাফিরদের ন্যায়। আর যে ব্যক্তি তাদের দেশ থেকে আমাদের দেশে আসবে, তার অবস্থা স্পষ্ট করা আবশ্যক; যদি তার পক্ষ থেকে এমন কিছু প্রকাশ পায় যা দ্বারা সে কাফির সাব্যস্ত হয়, তবে আমরা তার ওপর কুফরের বিধান প্রয়োগ করব, অন্যথায় নয়।
যদি আপনি বলেন, হতে পারে তাদের মধ্যে কিছু মুসলিম ব্যক্তি রয়েছে অথবা তাদের কাছে তাদের (মুসলিমদের) কিছু সম্পদ রয়েছে? আমি বলব: এই সম্ভাবনার ক্ষেত্রে তাদের এবং অন্যান্য হারবি কাফিরদের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।
যদি আপনি বলেন, তারা তো কালিমা শাহাদাত উচ্চারণ করে; আমি বলব: এর পাশাপাশি তারা যে কারণে কুফরি করেছে তা থেকে দায়মুক্ত হওয়া আবশ্যক, যেমনটি জমহুর ফকীহগণ স্থির করেছেন। বাস্তবতা হলো, তাদের যদি টুকরো টুকরো করে ফেলা হয় তবুও তারা তাদের কুফরি থেকে বিমুক্ত হয় না; তদুপরি তারা যিনদিকদের পর্যায়ভুক্ত যেমনটি আবু যুরআ আর-রাজি থেকে পূর্বে উদ্ধৃত হয়েছে, আর যিনদিকের তওবা কবুল হয় না। ইমাম নববী বলেন: রুইয়ানি 'আল-হিলইয়া' গ্রন্থে বলেছেন যে, আমল এর ওপরই এবং ইমামে আজম আবু হানিফা, মালিক ও আহমাদ—তাঁর এক বর্ণনা অনুযায়ী—এই মতেরই অনুসারী।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
خاتمة في التكلم إجمالا فيما سبق وبيان ما حصل منهاعلم أنا قد بينا في هذه الرسالة معظم عقائد الشيعة بالنقل على الكتب المعتبرة والعلماء المهرة وبيّنا ما أثبت الأئمة والعلماء به كفرهم من الآيات والأحاديث وذكرنا ما كفروا به ومن أفتى بكفرهم من العلماء سيما علماء المذاهب الثلاثة مذهب الإمام الأعظم والإمام الأكمل الشافعي والإمام السالك مالك رضي الله تعالى عنهم مع التحقيق في ذلك كله وأثبتنا كون دار متأخريهم المخصوصة بهم دار كفر بلا شبهة. وهذا الحكم من جملة الباعث لتأليف الرسالة. وأوضحنا أن إفتاء العلماء المتأخرين في حق هؤلاء الضالين إنما كان عن علم وورع واختبار ومن يقدح فيهم ويخطئهم في فتواهم كبعض معاصرينا فهو مخطئ لابن أخت خالته مضر للدين في مقالته. ولعمري إنه يستحق أن يظن ببعض الظن ويقعقع بالشن، فإن هذا ليس منكرا شديدا يرفعه أو ضررا واقعا في الإسلام يدفعه، وهو ليس بمنفرد في العلم بأن الأئمة عدوا المتقدمين من هؤلاء الضالين مسلمين وجوزوا إمامتهم وقبلوا شهادتهم وبأن العلماء ردوا على من كفرهم واعتذروا عنهم بأنهم أصحاب تأويل وبأنهم يتكلمون بالشهادتين وبأنهم من أهل القبلة إلى غير ذلك. على أن كثيرا من أعوامهم الذين هم أهل الخيام لا يعلمون شهادة ولا صلاة ولا قبلة، كحيوانات عجماء بلا وازع ديني ولا ضابط شرعي كما شاهدناهم وأخبرنا من شاهدهم مرارا. وظاهرٌ أن هؤلاء النحارير الفضلاء كانوا أعلم بقوانين الشرع وبعقائد هؤلاء الضالين من غيرهم. كيف والحكم الفاسد يرد فتواهم
উপসংহার: ইতিপূর্বে যা আলোচিত হয়েছে সে সম্পর্কে সারসংক্ষেপ এবং যা অর্জিত হয়েছে তার বর্ণনাজেনে রাখুন, আমরা এই পুস্তিকায় নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ এবং দক্ষ আলেমদের উদ্ধৃতি দিয়ে শিয়াদের অধিকাংশ আকিদা বর্ণনা করেছি। এবং আমরা সেই সকল আয়াত ও হাদিস স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি যার মাধ্যমে ইমামগণ ও ওলামায়ে কেরাম তাদের কুফরি সাব্যস্ত করেছেন। পাশাপাশি আমরা সেই সকল বিষয় উল্লেখ করেছি যার কারণে তাদেরকে কাফের গণ্য করা হয়েছে এবং সেই সকল ওলামায়ে কেরামের কথাও উল্লেখ করেছি যারা তাদের কুফরির ফতোয়া দিয়েছেন, বিশেষ করে তিন মাযহাবের ওলামায়ে কেরাম— ইমামে আজম, ইমামে আকমাল শাফেয়ী এবং ইমাম সালেক মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মাযহাবের আলেমগণ। এই সব কিছু অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের সাথে উপস্থাপন করা হয়েছে। এবং আমরা কোনো প্রকার সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছি যে, তাদের পরবর্তীদের জন্য নির্দিষ্ট ভূখণ্ডটি হলো ‘দারুল কুফর’ (কুফরি রাষ্ট্র)। আর এই হুকুমটিই এই পুস্তিকা রচনার অন্যতম মূল কারণ। আমরা আরও স্পষ্ট করেছি যে, এই পথভ্রষ্টদের ব্যাপারে পরবর্তী ওলামায়ে কেরামের ফতোয়া প্রদান কেবল ইলম, তাকওয়া এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ছিল। আর যারা তাদের প্রতি কটাক্ষ করে কিংবা তাদের ফতোয়াকে ভুল সাব্যস্ত করে—যেমনটা আমাদের সমসাময়িক কেউ কেউ করে থাকেন—তিনি মূলত এক চরম বিভ্রান্তির শিকার এবং নিজ বক্তব্যের মাধ্যমে দ্বীনের ক্ষতি সাধন করছেন। আমার জীবনের শপথ! এমন ব্যক্তি কিছু সন্দেহের পাত্র হওয়ার এবং কঠোর তিরস্কার পাওয়ার যোগ্য; কারণ এটি এমন কোনো বড় অন্যায় নয় যা তিনি মিটিয়ে দিচ্ছেন, কিংবা ইসলামের কোনো বড় ক্ষতি নয় যা তিনি প্রতিহত করছেন। আর তিনি এই জ্ঞানের ক্ষেত্রে একা নন যে, পূর্ববর্তী ইমামগণ এই পথভ্রষ্টদের অগ্রজদের মুসলিম হিসেবে গণ্য করতেন, তাদের ইমামত জায়েজ মনে করতেন এবং তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতেন; এবং ওলামায়ে কেরাম তাদের কুফরির ফতোয়া দানকারীদের প্রতিবাদ করতেন এবং তাদের পক্ষে ওজর পেশ করতেন যে তারা অপব্যাখ্যাকারী (আহলে তাবিল), তারা কালিমাহ পাঠ করে এবং তারা আহলে কিবলার অন্তর্ভুক্ত ইত্যাদি। অথচ তাদের সাধারণ জনগণের অনেকে, যারা যাযাবর বা তাঁবুবাসী, তারা শাহাদাহ, নামাজ কিংবা কিবলা সম্পর্কে কিছুই জানে না। তারা অবলা পশুর মতো, যাদের মধ্যে কোনো ধর্মীয় বিধিনিষেধ নেই এবং নেই কোনো শরয়ি নিয়ন্ত্রণ; যেমনটা আমরা নিজে প্রত্যক্ষ করেছি এবং যারা বারবার তাদের দেখেছেন তারাও আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এটা স্পষ্ট যে, এই বিচক্ষণ ও বিদগ্ধ ওলামায়ে কেরাম শরীয়তের বিধান এবং এই পথভ্রষ্টদের আকিদা সম্পর্কে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি অবগত ছিলেন। এমতাবস্থায় কোনো অসার হুকুম কীভাবে তাদের ফতোয়াকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে?
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল ইয়ামানিয়াতিল মাসলুলাহ আলাল রাফিদাতিল মাখযুলাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وبانحطاطهم عن درجة الفتوى لا يخلو إما أن يكون مع الحكم بكفرهم لإكفارهم المسلمين بزعم الزاعم أو لا يكون كذلك. وعلى الأول فحاشا لجلالة هؤلاء الذين كان كل واحد منهم أفضل أقرانه ووحيد زمانه أن يكونوا كافرين، وحال من يكفرهم لا يخفى في قانون الشرع، وعلى الثاني لا يبقى فرق بين الغواية والرشاد ولا رسم للكفر والارتداد. ومن هنا صح أن البلاهة أدنى إلى الخلاص من فطانة بتراء.
اللهم قنا من التفريط والإفراط واهدنا إلى سواء الصراط. ونسألك السلامة من التطاول في القِصَر وزلات البصيرة والبصر. والحمد لله على التمام وعلى رسوله أفضل الصلاة والسلام وآله وصحبه الأكرام.
তাদের ফতোয়া প্রদানের স্তর থেকে বিচ্যুতি ঘটলে বিষয়টি দুটি অবস্থার বাইরে নয়: হয় কোনো দাবিদারের দাবি অনুযায়ী মুসলমানদের কাফির আখ্যা দেওয়ার কারণে তাদের কাফির হওয়ার হুকুম দেওয়া হবে, অথবা বিষয়টি তেমন হবে না। প্রথম অবস্থার ক্ষেত্রে, এই সুমহান ব্যক্তিত্ববর্গ—যাঁদের প্রত্যেকেই নিজ সমসাময়িকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং নিজ যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন—তাঁদের কাফির হওয়া তো অকল্পনীয়; আর যারা তাঁদের কাফির বলে, শরীয়তের বিধানে তাদের অবস্থা কারো অজানা নয়। দ্বিতীয় অবস্থার ক্ষেত্রে, পথভ্রষ্টতা ও হেদায়েতের মাঝে কোনো পার্থক্য অবশিষ্ট থাকে না এবং কুফর ও ইরতিদাদ (স্বধর্মত্যাগ)-এর কোনো চিহ্নও বিদ্যমান থাকে না। এ কারণেই এটি সত্য বলে প্রমাণিত হয় যে, অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ বিচক্ষণতার চেয়ে সরলতা মুক্তির অধিক নিকটবর্তী।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের শৈথিল্য ও অতিরঞ্জন থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমরা আপনার নিকট ক্ষুদ্রতা সত্ত্বেও ধৃষ্টতা প্রদর্শন এবং প্রজ্ঞা ও দৃষ্টির স্খলন থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি এটি পূর্ণতা দান করেছেন, আর তাঁর রাসূলের প্রতি বর্ষিত হোক সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম এবং তাঁর সম্মানিত পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কেরামের প্রতিও।