(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الاجتهاد في مناط الحكم الشرعي دراسة تأصيلية تطبيقية   (بلقاسم الزبيدي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: الاجتهاد في مناط الحكم الشرعي دراسة تأصيلية تطبيقية

تأليف: بلقاسم بن ذاكر بن محمد الزُّبيدي

أصل الكتاب: رسالة دكتوراة من قسم أصول الفقه بكلية الشريعة والدراسات الإسلامية بجامعة أم القرى عام 1435 هـ

إشراف: أ. د. غازي بن مرشد العتيبي

الناشر: مركز تكوين للدراسات والأبحاث

الطبعة: الأولى، 1435 هـ - 2014 م

عدد الصفحات: 671

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 ربيع الآخر 1439

শরয়ী হুকুমের মানাত (ভিত্তি) নির্ধারণে ইজতিহাদ: একটি তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক অধ্যয়ন   (বেলকাসেম আল-জুবাইদী)

বিভাগ: উসূলে ফিকহ


বই: শরয়ী হুকুমের মানাত (ভিত্তি) নির্ধারণে ইজতিহাদ: একটি তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক অধ্যয়ন

রচনা: বেলকাসেম বিন জাকির বিন মুহাম্মদ আল-জুবাইদী

বইয়ের উৎস: ১৪৩৫ হিজরিতে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের উসূলে ফিকহ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত পিএইচডি থিসিস

তত্ত্বাবধান: প্রফেসর. ডক্টর. গাজী বিন মুরশিদ আল-উতাইবী

প্রকাশক: তাকওয়ীন সেন্টার ফর স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৫ হিজরি - ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৯

(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
المملكة العربية السعودية

وزارة التعليم العالي

جامعة أم القرى

كلية الشريعة والدراسات الإسلامية

قسم الشريعة - تخصص أصول الفقه

 

الاجتهاد في المناط عند الأصوليين

وعلاقته بالأدلة الشرعية

وتطبيقاته في فقه النوازل المعاصرة
সৌদি আরব রাজতন্ত্র

উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়

উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়

শরীআহ ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ

শরীআহ বিভাগ - উসুলুল ফিকহ বিশেষজ্ঞতা

 

উসুলবিদদের নিকট মানাত-এর ক্ষেত্রে ইজতিহাদ

এবং শরয়ী দলীলসমূহের সাথে এর সম্পর্ক

এবং সমকালীন উদ্ভূত পরিস্থিতির ফিকহে এর প্রয়োগসমূহ
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
بحث مقدَّم لنيل درجة الدكتوراه في أصول الفقه

 

إعداد

بلقاسم بن ذاكر بن محمد الزُّبيدي

 

إشراف

أ. د. غازي بن مرشد العتيبي

 

1434 هـ - 1435 هـ
উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে উপস্থাপিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ

 

প্রস্তুতকারী

বেলকাসেম বিন জাকির বিন মুহাম্মদ আল-জুবাইদী

 

তত্ত্বাবধানে

প্রফেসর ডক্টর গাজী বিন মুরশিদ আল-উতয়বী

 

১৪৩৪ হিজরি - ১৪৩৫ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا ، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ، وأشهد أن محمداً عبدُه ورسولُه {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70 - 71].

أما بعد:

فإن من أعظم أوصاف الشريعة المحمدية أنها شريعةٌ عامة ، وهذا الوصف يشمل العموم في خطاب المكلَّفين بها ،كما قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ (28)} [سبأ: 28].

كما يشمل العموم في تناولها لأحكام الواقعات بالنصِّ أو الاجتهاد في كل زمانٍ ومكان، كما قال تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} [النحل: 89].
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২)} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট প্রার্থনা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে (সতর্ক থাকো)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। (১)} [নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল। (৭১)} [আহযাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই মুহাম্মাদী শরীয়তের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য হলো এটি একটি সর্বজনীন শরীয়ত। আর এই বৈশিষ্ট্যটি শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (মুকাল্লাফীন) প্রতি সম্বোধনের ব্যাপকতাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি তো তোমাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যই সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। (২৮)} [সাবা: ২৮]।

তেমনিভাবে এটি প্রত্যেক সময়ে ও স্থানে বাস্তব ঘটনাবলির বিধান বর্ণনার ক্ষেত্রেও ব্যাপকতাকে অন্তর্ভুক্ত করে, চাই তা সরাসরি দলীল (নস) দ্বারা হোক কিংবা ইজতিহাদের মাধ্যমে। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি তোমার প্রতি কিতাবটি অবতীর্ণ করেছি প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে এবং এটি মুসলিমদের জন্য হিদায়াত, রহমত ও সুসংবাদ।} [নাহল: ৮৯]।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
قال الشافعي رحمه الله: " "فليستْ تنزلُ بأحدٍ من أهل دين الله نازلةٌ إلا وفي كتاب الله الدليل على سبيل الهدى فيها." (1).

وقال الخطابي: "الله تعالى لم يترك شيئاً يجب له حكمٌ إلا وقد جعل فيه بياناً، ونصب عليه دليلاً ولكن البيان ضربان، بيانٌ جليٌّ يعرفه عامة الناس كافة، وبيانٌ خفيٌّ لا يعرفه إلا الخاصّ من العلماء الذين عُنوا بعلم الأصول فاستدركوا معاني النصوص، وعرفوا طرق القياس والاستنباط ، وردِّ الشيء إلى المثل والنظير" (2).

ولاريب أن العموم في خطاب المكلَّفين وأحكام الواقعات يستلزم الاجتهاد في استنباط المعاني التي أنيطت بها الأحكام في الكتاب والسُّنَّة ، ثم الاجتهاد في إدراج الأشخاص المعينة والحوادث المستجدة في كل زمانٍ ومكانٍ تحت تلك المعاني التي أنيطت بها أحكامها.

وذلك لأن " الشريعة لم تنصّ على حكم كلِّ جزئيةٍ على حِدتها ، وإنما أتت بأمورٍ كليةٍ وعباراتٍ مطلقةٍ تتناول أعداداً لا تنحصر" (3).

وبناءً على ذلك فإن " كل حكمٍ لله أو لرسوله وُجِدت عليه دلالةٌ فيه أو في غيره من أحكام الله أو رسوله بأنه حُكِم به لمعنىً من المعاني، فنزلت نازلةٌ ليس فيها نصُّ حكمٍ: حُكِم فيها حكمُ النازلة المحكومِ فيها، إذا كانت في معناها" (4).

ويعتبر الاجتهاد في استنباط الأوصاف والمعاني التي أنيطت بها أحكام الشريعة، وتنزيلها على الوقائع والمستجدات المختلفة في كل عصرٍ ومصرٍ من أدقِّ أنواع الاجتهاد في الشريعة.

قال ابن تيمية: " فالكتاب والسُّنة بيَّنا جميعَ الأحكام بالأسماء العامة ، لكن يحتاج إدخال الأعيان في ذلك إلى فهمٍ دقيقٍ ونظرٍ ثاقبٍ لإدخال كلِّ

--------------------------------------------

(1) الرسالة: (20).

(2) معالم السنن مع التهذيب: (3/ 56).

(3) الموافقات: (5/ 14).

(4) الرسالة: (512).
শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: " "আল্লাহর দ্বীনের অনুসারীদের ওপর এমন কোনো সমস্যা আপতিত হয় না যার সমাধানের পথ বা হেদায়াতের দলিল আল্লাহর কিতাবে নেই।" (১)।

খাত্তাবী বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা এমন কিছু বাকি রাখেননি যার বিধান আবশ্যক, অথচ তার কোনো বর্ণনা দেননি এবং তার ওপর দলিল স্থাপন করেননি। তবে বর্ণনা দুই প্রকার: একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা যা সাধারণ সকল মানুষ চেনে, আর একটি প্রচ্ছন্ন বর্ণনা যা কেবল সেই বিশেষ আলেমগণই জানেন যারা উসূল বা মূলনীতি শাস্ত্রের চর্চা করেন। ফলে তাঁরা নসের অর্থসমূহ অনুধাবন করেন এবং কিয়াস ও ইস্তিম্বাত (বিধান উদ্ভাবন) এবং কোনো বিষয়কে তার সদৃশ বিষয়ের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার পদ্ধতিসমূহ অবগত হন।" (২)।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের প্রতি সম্বোধন এবং বাস্তব ঘটনাবলির বিধানসমূহের ব্যাপকতা কুরআন ও সুন্নাহর সেই অর্থগুলো উদ্ভাবনে ইজতিহাদ করাকে অপরিহার্য করে তোলে যার সাথে বিধানগুলো যুক্ত রয়েছে। অতঃপর প্রতিটি যুগে ও স্থানে নির্দিষ্ট ব্যক্তি এবং নতুন উদ্ভূত বিষয়াবলিকে সেই অর্থগুলোর অধীনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইজতিহাদ করা প্রয়োজন যার ভিত্তিতে বিধানসমূহ প্রদান করা হয়েছে।

এর কারণ হলো, "শরিয়ত প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ের বিধান পৃথকভাবে বর্ণনা করেনি, বরং তা কিছু সামগ্রিক মূলনীতি ও ব্যাপক অর্থবোধক শব্দাবলি নিয়ে এসেছে যা অগণিত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।" (৩)।

এর ওপর ভিত্তি করে, "আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের এমন প্রতিটি বিধান যাতে স্বয়ং সেই বিধানে অথবা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অন্য কোনো বিধানে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় যে, কোনো বিশেষ অর্থের কারণে সেই বিধান দেওয়া হয়েছে; এমতাবস্থায় যদি এমন কোনো নতুন সমস্যা দেখা দেয় যার বিধানে কোনো সরাসরি নস বা বক্তব্য নেই: তবে সেই সমস্যার ক্ষেত্রে অনুরূপ পূর্ববর্তী সমস্যার বিধানই কার্যকর হবে, যদি তা একই অর্থবোধক হয়।" (৪)।

শরিয়তের বিধানসমূহ যে সকল বৈশিষ্ট্য ও অর্থের ওপর নির্ভরশীল তা উদ্ভাবন করা এবং প্রতিটি যুগে ও জনপদে বিভিন্ন বাস্তব ঘটনা ও নতুন সমস্যার ওপর সেগুলো প্রয়োগ করার ইজতিহাদকে শরিয়তের অন্যতম সূক্ষ্ম ইজতিহাদ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "কেননা কুরআন ও সুন্নাহ সাধারণ সংজ্ঞার মাধ্যমে সকল বিধান বর্ণনা করেছে, কিন্তু তার অধীনে নির্দিষ্ট বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সূক্ষ্ম বুঝ ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টির প্রয়োজন যাতে করে প্রত্যেকটি বিষয়কে..."

--------------------------------------------

(১) আর-রিসালাহ: (২০)।

(২) মাআলিমুস সুনান মাআত তাহযিব: (৩/ ৫৬)।

(৩) আল-মুওয়াফাকাত: (৫/ ১৪)।

(৪) আর-রিসালাহ: (৫১২)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
معينٍ تحت نوع، وإدخال ذلك النوع تحت نوعٍ آخر بيَّنه الرسول صلى الله عليه وسلم " (1).

ولما كان الاجتهاد في مناطات الأحكام استنباطاً وتنزيلاً من أدقّ أنواع الاجتهاد في الشريعة لقي هذا الموضوع مزيد اعتناءٍ عندي ، ووقع عليه الاختيار دون غيره من الموضوعات.

 

‌‌أسباب اختيار الموضوع:

من أهم الأسباب التي دفعتني لبحث هذا الموضوع -إضافةً إلى ماتقدم- مايأتي:

1 - إن شرف العلم بشرف المعلوم، وشرف البحث بشرف المبحوث، وهذا البحث يتعلق بأهم مباحث أصول الفقه ، وهو الاجتهاد في الأوصاف والمعاني التي أنيطت بها الأحكام استنباطاً وتنقيحاً وتنزيلاً على الأشخاص والأحوال والوقائع المستجدَّة في كل عصرٍ ومصر.

2 - الاجتهاد في المناط يتعلق غالباً بالنظر في أهم ركنٍ من أركان القياس وهو العِلَّة؛ وذلك لأن الأنواع الثلاثة للاجتهاد في المناط تشترك كلها في أنها تَرِدُ على العِلَّة، إما لتنقيحها إذا كانت العِلَّة منصوصةً واقترنت بها أوصافٌ لاتصلح للعليَّة، أو لتخريجها إذا كانت العِلَّة مستنبطة، أو لتحقيقها في الفرع سواءً ثبتت العِلَّة في حكم الأصل بالنصِّ أو الإجماع أو الاستنباط.

ويعتبر الاجتهاد في العِلَّة من أدقِّ مباحث القياس الأصولي، وأكثرها اشتباهاً، وأشدها التباساً ، وهو أمرٌ يستدعي البحث والتحقيق في المطالب المتعلقة بالاجتهاد فيها.

3 - الاجتهاد في المناط يشمل جميع الأحكام الشرعية، فلا يخلو حكمٌ شرعيٌّ من الحاجة إلى النظر في تنقيح المناط أو تحقيقه أو تخريجه.

قال الشاطبي: " ولو فُرِض ارتفاع هذا الاجتهاد - أي: تحقيق المناط - لم تنزَّل الأحكام الشرعية على أفعال المكلَّفين إلا في الذهن؛ لأنها مطلقاتٌ

--------------------------------------------

(1) درء تعارض العقل والنقل: (7/ 342 - 343).
...নির্দিষ্ট (ব্যক্তি বা বিষয়কে) একটি প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করা এবং সেই প্রকারটিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক বর্ণিত অন্য একটি প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করা।" (১)।

আর যেহেতু শরীয়তের বিধানগুলোর ভিত্তি (মানাত) উদ্ঘাটন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করা ইজতিহাদের অত্যন্ত সূক্ষ্ম প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তাই এই বিষয়টি আমার নিকট অধিক গুরুত্ব লাভ করেছে এবং অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় এটিকেই আমি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

 

‌‌বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ:

উল্লিখিত কারণসমূহ ছাড়াও এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণার পেছনে যে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলো রয়েছে তা নিম্নরূপ:

১ - নিশ্চয়ই জ্ঞানের মর্যাদা নির্ভর করে জ্ঞাত বিষয়ের মর্যাদার ওপর, আর গবেষণার মর্যাদা নির্ভর করে গবেষণালব্ধ বিষয়ের মর্যাদার ওপর। আর এই গবেষণাটি উসূলুল ফিকহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো সেই সকল গুণাবলী ও অর্থের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করা, যার সাথে বিধানগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে; চাই তা উদ্ঘাটন (ইস্তিনবাত), পরিশোধন (তানকীহ) কিংবা প্রতিটি যুগে ও স্থানে নতুন উদ্ভূত ব্যক্তি, অবস্থা ও ঘটনাবলির ওপর প্রয়োগের (তানজীল) ক্ষেত্রেই হোক না কেন।

২ - মানাত তথা বিধানের ভিত্তির ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করা সাধারণত কিয়াসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন তথা ‘ইল্লাত’ বা কারণের পর্যালোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট। কারণ মানাত-এর ইজতিহাদের তিনটি প্রকারই ‘ইল্লাত’-এর ওপর কার্যকর হয়; হয় তা পরিমার্জনের (তানকীহ) জন্য—যখন ইল্লাতটি নস (মূল পাঠ) দ্বারা প্রমাণিত হয় এবং এর সাথে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য যুক্ত থাকে যা ইল্লাত হওয়ার যোগ্য নয়; অথবা তা উদ্ভাবনের (তাখরীজ) জন্য—যখন ইল্লাতটি গবেষণালব্ধ (ইস্তিনবাতী) হয়; অথবা শাখার (ফর’) মাঝে তা নিশ্চিত করার (তাহকীক) জন্য—চাই মূল বিষয়ের (আসল) বিধানে ইল্লাতটি নস, ইজমা কিংবা ইস্তিনবাতের মাধ্যমে প্রমাণিত হোক না কেন।

আর ইল্লাতের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করা উসূলী কিয়াসের সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও জটিল আলোচনার অন্তর্ভুক্ত, যা অত্যন্ত সংশয় ও অস্পষ্টতাপূর্ণ বিষয়। আর এটি এমন একটি বিষয় যা এর সাথে সংশ্লিষ্ট ইজতিহাদের ক্ষেত্রগুলো নিয়ে গভীর গবেষণা ও অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

৩ - মানাত-এর ইজতিহাদ সমস্ত শরয়ী বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে। কোনো শরয়ী বিধানই মানাত-এর পরিশোধন, বাস্তবায়ন কিংবা উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত নয়।

ইমাম শাতীবী (রহ.) বলেন: "যদি ধরে নেওয়া হয় যে এই ইজতিহাদ—অর্থাৎ তাহকীকুল মানাত বা ভিত্তি বাস্তবায়ন—রহিত হয়ে গেছে, তবে শরয়ী বিধানগুলো মানুষের আমলের ওপর কেবল কল্পনা ছাড়া আর কোথাও প্রয়োগ করা সম্ভব হতো না; কারণ বিধানগুলো হলো নিঃশর্ত ও সাধারণ..."

--------------------------------------------

(১) দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি: (৭/ ৩৪২-৩৪৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وعمومات، وما يرجع إلى ذلك منزَّلاتٌ على أفعال مطلقاتٍ كذلك ، والأفعال لا تقع في الوجود مطلقة ، وإنما تقع معينةً مشخصةً ، فلا يكون الحكم واقعاً عليها إلا بعد المعرفة بأن هذا المعين يشمله ذلك المطلق أو ذلك العام " (1).

4 - الاجتهاد في المناط يتعلق بجميع الأدلة الشرعية، ولا يخلو دليلٌ شرعيٌّ من تعلُّقٍ بأحد أنواعه الثلاثة.

5 - الاجتهاد في المناط سببٌ من أهم أسباب اختلاف المجتهدين في عامة أبواب الشريعة.

فالناظر في كثيرٍ من المسائل الخلافية بين المجتهدين في القديم والحديث يجد أن من أهم أسباب الاختلاف في تلك المسائل ما يرجع إلى الاختلاف في مناط الحكم ،ومعرفة المحكوم فيه على حقيقته، وما يدخل فيه وما لا يدخل ،ومكونات الأشياء ومميزاتها ،وخصائص الأعيان وأوصافها، وأسباب الأفعال ومآلاتها، ونحو ذلك مما له تأثيرٌ في الحكم حسب نظر المجتهد.

وكما يقول ابن رشد القرطبي: " لربما اتفقوا على مضمون القاعدة الأصولية أو الفقهية إلا أنهم يختلفون في تحققها في الواقعة والنازلة المعروضة " (2).

6 - كثرة الوقائع والحوادث التي تختلف أحكامها بحسب اختلاف مناطاتها، وهو ما يستوجب ضبط الاجتهاد في طلب أحكام تلك الوقائع وتحقيق مناطاتها، والإسهام بجهدٍ تأصيليٍّ وتطبيقيٍّ في هذا الموضوع.

ولا شك أن التقصير في هذا النوع من الاجتهاد يفضي إلى تنزيل الأحكام الشرعية على صورٍ متشابهةٍ في الظاهر متباينةٍ في الحقيقة، كما يفضي إلى صرف الحكم الشرعي عن بعض أفراده المنطبقة عليه.

قال الشاطبي: " الشريعة لم تنصّ على حكم كلِّ جزئيةٍ على حِدتها ،

--------------------------------------------

(1) الموافقات: (5/ 17).

(2) بداية المجتهد: (1/ 458).
এবং সাধারণ মূলনীতিসমূহ, এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ একইভাবে সাধারণ কার্যাবলির ওপর প্রয়োগ করা হয়; আর কার্যাবলি বাস্তবে সাধারণ (মুতলাক) হিসেবে বিদ্যমান থাকে না, বরং তা নির্দিষ্ট ও চিহ্নিত আকারেই সংঘটিত হয়। সুতরাং কোনো হুকুম বা বিধান সেই বিষয়ের ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত পতিত হয় না, যতক্ষণ না জানা যায় যে এই নির্দিষ্ট বিষয়টি সেই সাধারণ বা ব্যাপক বিধানের অন্তর্ভুক্ত। (১)।

৪ - মানাত (বিধির ভিত্তি) নির্ধারণে ইজতিহাদ সমস্ত শরয়ি দলিলের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং কোনো শরয়ি দলিলই এর তিনটি প্রকারের কোনো একটির সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া থেকে মুক্ত নয়।

৫ - মানাত নির্ধারণে ইজতিহাদ শরয়ি বিধানের সকল অধ্যায়ে মুজতাহিদদের মতপার্থক্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

সুতরাং প্রাচীন ও আধুনিক মুজতাহিদদের মধ্যকার অনেক মতভেদপূর্ণ মাসয়ালা পর্যবেক্ষণকারী দেখতে পাবেন যে, সেসব মাসয়ালায় মতভেদের অন্যতম প্রধান কারণ হুকুমের মানাত (ভিত্তি) নির্ধারণে পার্থক্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। এছাড়া যে বিষয়ের ওপর হুকুম দেওয়া হচ্ছে তার প্রকৃত রূপ অনুধাবন করা, তাতে কী অন্তর্ভুক্ত হবে আর কী হবে না তা নির্ধারণ করা, বস্তুর উপাদান ও বৈশিষ্ট্যসমূহ, সত্তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি, কাজের কারণ ও পরিণাম এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা মুজতাহিদের দৃষ্টিতে হুকুমের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

যেমন ইবনে রুশদ আল-কুরতুবি বলেন: "কখনও কখনও তাঁরা উসুলি বা ফিকহি কায়দার মূল বিষয়ের ওপর একমত হন, তবে সামনে আসা কোনো বাস্তব ঘটনা বা সমস্যার ক্ষেত্রে সেটি কতটুকু কার্যকর বা প্রযোজ্য সে ব্যাপারে তাঁরা মতভেদ করেন।" (২)।

৬ - ঘটনা ও পরিস্থিতির আধিক্য যার হুকুম বা বিধান মানাত পরিবর্তনের কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়। এটিই ওইসব ঘটনার হুকুম অনুসন্ধান এবং সেগুলোর মানাত যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ইজতিহাদকে সুসংবদ্ধ করা এবং এই বিষয়ে তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক প্রচেষ্টায় অবদান রাখাকে অপরিহার্য করে তোলে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই প্রকারের ইজতিহাদে শিথিলতা শরয়ি বিধানসমূহকে এমন বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করার দিকে নিয়ে যায় যা বাহ্যত দেখতে এক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে ভিন্ন। একইভাবে এটি শরয়ি বিধানকে তার এমন কিছু ক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দেয় যেখানে তা প্রকৃতপক্ষে প্রযোজ্য ছিল।

ইমাম শাতিবি বলেন: "শরয়ত প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ের বিধান আলাদা আলাদাভাবে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেনি,"

--------------------------------------------

(১) আল-মুওয়াফাকাত: (৫/ ১৭)।

(২) বিদায়াতুল মুজতাহিদ: (১/ ৪৫৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وإنما أتت بأمورٍ كليَّةٍ وعباراتٍ مطلقةٍ تتناول أعداداً لا تنحصر ، ومع ذلك فلكل معينٍ خصوصيةٌ ليست في غيره ولو في نفس التعيين " (1).

بل قد يفضي عدم مراعاة ضوابط الاجتهاد في المناط إلى الابتداع في الدين، والتزيُّد على الشريعة وإدخال ما ليس منها فيها، وقد ذكر الشاطبي أن من خفيات تحريف الكلِم عن مواضعه تحريف الأدلة عن مواضعها ،وذلك بأن يرد الدليل على مناطٍ فيصرف عن ذلك المناط إلى أمرٍ آخر موهماً بأن المناطين واحد (2).

7 - لم أعثر حسب اطلاعي على دراسةٍ أصوليةٍ تُعنَى بموضوع الاجتهاد في المناط تخريجاً وتنقيحاً وتحقيقاً ، وضوابط ذلك الاجتهاد ، ومسالكه ، وعلاقته بالأدلة الشرعية، مع التطبيق على فقه النوازل المعاصرة.

لهذه الأسباب وغيرها رغبت في بحث هذا الموضوع تحت عنوان: ((الاجتهاد في المناط وعلاقته بالأدلة الشرعية وتطبيقاته في فقه النوازل المعاصرة)) استكمالاً لمتطلبات شهادة العالمِية العالية (الدكتوراه) في أصول الفقه.

 

‌‌الدراسات السابقة:

أهم الدراسات السابقة التي لها علاقةٌ مباشرةُ بموضوع البحث ما يأتي:

1 - الاجتهاد بتحقيق المناط وسلطانه في الفقه الإسلامي ، للباحث: عبد الرحمن زايدي ،رسالة ماجستير بالجامعة الأمريكية المفتوحة بالقاهرة، نوقشت سنة 2001 م.

ومما يلحظ على هذه الدراسة:

أولاً: تغليب الأسلوب الثقافي والفكري في لغة البحث على قواعد التأصيل العلمي وتحقيق المسائل والاستدلال لها والتطبيق عليها.

--------------------------------------------

(1) الموافقات: (5/ 14).

(2) ينظر: الاعتصام: (1/ 249).
এটি কেবল কিছু সামগ্রিক বিষয় এবং অবারিত অভিব্যক্তি নিয়ে এসেছে যা অগণিত সংখ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করে। তা সত্ত্বেও, প্রতিটি নির্দিষ্ট বিষয়ের এমন একটি স্বকীয়তা রয়েছে যা অন্যটিতে নেই, এমনকি সেই নির্দিষ্টকরণের ক্ষেত্রেও" (১)।

বরং মানাতের (উপলক্ষে) ইজতিহাদের নীতিমালার প্রতি লক্ষ্য না রাখা দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবন (বিদআত), শরীয়তের ওপর অতিরিক্ত কিছু চাপানো এবং যা শরীয়তের অংশ নয় তাকে এর অন্তর্ভুক্ত করার দিকে ধাবিত করতে পারে। ইমাম শাতিবী উল্লেখ করেছেন যে, শব্দাবলিকে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করার একটি সূক্ষ্ম দিক হলো দলীলসমূহকে তাদের সঠিক ক্ষেত্র থেকে বিচ্যুত করা; আর তা হলো একটি দলীল কোনো একটি নির্দিষ্ট মানাতের জন্য অবতীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সেই মানাত থেকে বিষয়টিকে অন্য দিকে সরিয়ে নেওয়া, যা এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যে উভয় মানাত অভিন্ন (২)।

৭ - আমার জানামতে আমি এমন কোনো উসূলী গবেষণা খুঁজে পাইনি যা মানাতের ইজতিহাদের বিষয়টিকে তাখরীজ (নিরূপণ), তানকীহ (পরিশোধন) এবং তাহকীক (যাচাইকরণ), সেই ইজতিহাদের নীতিমালা, এর পদ্ধতিসমূহ এবং শরয়ী দলীলসমূহের সাথে এর সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা করে, সাথে সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যার (নাওয়াজিল) ফিকহী প্রয়োগও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে।

এই সকল এবং অন্যান্য কারণে আমি নিম্নোক্ত শিরোনামে এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণার ইচ্ছা পোষণ করেছি: ((মানাতের ইজতিহাদ, শরয়ী দলীলসমূহের সাথে এর সম্পর্ক এবং সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যার ফিকহশাস্ত্রে এর প্রয়োগ)) যা উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে আল-আলিমিয়্যাহ আল-আলিয়া (পিএইচডি) ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তার অংশ হিসেবে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

 

‌‌পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

এই গবেষণার বিষয়ের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ নিম্নরূপ:

১ - ইসলামি ফিকহশাস্ত্রে মানাতের তাহকীক এবং এর প্রভাব, গবেষক: আবদুর রহমান জায়েদী, কায়রোস্থ আমেরিকান ওপেন ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স থিসিস, যা ২০০১ খ্রিস্টাব্দে আলোচিত হয়েছে।

এই গবেষণার ওপর যা পরিলক্ষিত হয়:

প্রথমত: গবেষণার ভাষায় বৈজ্ঞানিক মূলনীতি প্রতিষ্ঠা, মাসআলাসমূহের তাহকীক, দলীলাদি উপস্থাপন এবং সেগুলোর প্রয়োগের চেয়ে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শৈলী প্রাধান্য পেয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-মুওয়াফাকাত: (৫/ ১৪)।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-ইতিসাম: (১/ ২৪৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
ثانياً: التوسع والإطالة في بحث موضوعات ليس لها علاقةٌ مباشرةٌ بموضوع البحث مما جعل ثلثي الكتاب خارج صلب الموضوع.

ومن تلك الموضوعات: تجزؤ الاجتهاد ،وشروط المجتهد ، والاجتهاد في زمن النبي صلى الله عليه وسلم ، ومراعاة الخلاف ، وتجديد الاجتهاد ، ونقض الاجتهاد ،والعزائم والرخص وأقسامها وضوابطها ، وأقسام المشقة وضوابطها ، وتتبع رخص الفقهاء ، والكتب المعتمدة في الفتوى ، وتطور الإفتاء ، والفتاوى الجماعية ، وغيرها من الموضوعات التي توسع فيها الباحث ولم يبين وجه علاقتها العلمية أو العملية بموضوع البحث.

ثالثاً: لم تتناول الدراسة كلاً من الموضوعات الآتية:

-مسالك تحقيق المناط ، ومنها: الكتاب ،والسُّنة ،والإجماع ، وقول الصحابي، ولغة العرب، والعُرْف، والحِسّ، وقول أهل الخبرة، والبينات الشرعية، والحساب والعدد.

-ضوابط تحقيق المناط ، ومنها: التصوُّر الصحيح التام للواقعة ،ومراعاة اختلاف الأحوال والأزمنة والأمكنة ، واعتبار مآلات الأفعال ، ومراعاة اختلاف مقاصد المكلفين، والموازنة بين المصالح والمفاسد.

- العلاقة بين تحقيق المناط والأدلة الشرعية المتفق عليها والمختلف فيها.

رابعاً: اقتصرت الدراسة على بحث الاجتهاد في تحقيق المناط ، ولم تتناول الاجتهاد في تخريج المناط ، أو الاجتهاد في تنقيح المناط.

2 - تحقيق المناط وأثره في اختلاف الفقهاء، للباحث: حمادة مصطفى علي القضاة، رسالة ماجستير بالجامعة الأردنية، نوقشت سنة 2000 م.

وهذا البحث يتناول موضوع تحقيق المناط باعتباره سبباً من أسباب اختلاف الفقهاء ، مع بيان أثر ذلك في بعض المسائل الفقهية التراثية ،وهي: زكاة الحلي ، ونكاح التحليل ، والتفريق بين الزوجين قضاءً بسبب إعسار الزوج ، وإقامة الحدّ على النباش ، واشتراك من لايجب عليه القصاص مع من يجب عليه القصاص في القتل.
দ্বিতীয়ত: গবেষণার বিষয়ের সাথে সরাসরি সম্পর্ক নেই এমন বিষয়সমূহের আলোচনায় অতিবিস্তার ও দীর্ঘসূত্রতা, যার ফলে বইটির দুই-তৃতীয়াংশ মূল বিষয়ের বাইরে চলে গেছে।

সেই বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে: ইজতিহাদের বিভাজন, মুজতাহিদের শর্তাবলি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ইজতিহাদ, মতপার্থক্যের প্রতি লক্ষ্য রাখা (মুরাআত আল-খিলাফ), ইজতিহাদের নবায়ন, ইজতিহাদ বাতিলকরণ, আজীমত ও রুখসত এবং এগুলোর প্রকারভেদ ও নীতিমালা, কষ্টের প্রকারভেদ ও নীতিমালা, ফকীহদের রুখসত বা সহজ সুযোগগুলো অনুসন্ধান করা, ফতোয়ার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ, ইফতা বা ফতোয়া প্রদানের বিবর্তন, সামষ্টিক ফতোয়া এবং অন্যান্য বিষয় যেগুলোতে গবেষক বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, কিন্তু গবেষণার বিষয়ের সাথে এগুলোর বৈজ্ঞানিক বা ব্যবহারিক সম্পর্কের দিকটি স্পষ্ট করেননি।

তৃতীয়ত: এই গবেষণায় নিচের বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়নি:

-তাহকীকুল মানাত (উদ্দেশ্য বাস্তবায়নস্থল নির্ধারণ)-এর পদ্ধতিসমূহ, যার মধ্যে রয়েছে: কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা, সাহাবীর বক্তব্য, আরবদের ভাষা, উরফ (প্রথা), ইন্দ্রিয়লব্ধ অনুভূতি, বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, শরয়ি প্রমাণাদি এবং হিসাব ও সংখ্যা।

-তাহকীকুল মানাত-এর নীতিমালা, যার মধ্যে রয়েছে: ঘটনার সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ চিত্রায়ন, অবস্থা, কাল ও স্থানের ভিন্নতার প্রতি লক্ষ্য রাখা, কার্যাবলির পরিণতির বিবেচনা, শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যের ভিন্নতার প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং মাসলাহাত (কল্যাণ) ও মাফাসাদ (অকল্যাণ)-এর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।

- তাহকীকুল মানাত এবং সর্বসম্মত ও মতভেদপূর্ণ শরয়ি দলিলসমূহের মধ্যকার সম্পর্ক।

চতুর্থত: এই গবেষণাটি কেবল 'তাহকীকুল মানাত'-সংক্রান্ত ইজতিহাদের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এতে 'তাখরীজুল মানাত' (উদ্দেশ্য নিরূপণ) সংক্রান্ত ইজতিহাদ অথবা 'তানকীহুল মানাত' (উদ্দেশ্য পরিশোধন) সংক্রান্ত ইজতিহাদ নিয়ে আলোচনা করা হয়নি।

২ - তাহকীকুল মানাত এবং ফকীহদের মতভেদে এর প্রভাব; গবেষক: হামাদাহ মুস্তফা আলী আল-কুদাহ, জর্ডান ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স থিসিস, ২০০০ সালে এটি ডিফেন্ড করা হয়েছে।

এই গবেষণাটি ফকীহদের মতভেদের অন্যতম কারণ হিসেবে 'তাহকীকুল মানাত' বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে, সাথে কিছু ঐতিহ্যবাহী ফিকহি মাসআলায় এর প্রভাব বর্ণনা করেছে; সেগুলো হলো: অলংকারের জাকাত, নিকাহে তাহলীল (হালালা), স্বামীর অসচ্ছলতার কারণে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ, কবর চোরের ওপর দণ্ডবিধি (হদ) কায়েম করা এবং হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে যার ওপর কিসাস ওয়াজিব নয় তার সাথে যার ওপর কিসাস ওয়াজিব তার অংশীদারিত্ব।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ولم تتناول الدراسة: مسالك تحقيق المناط ، أو العلاقة بين تحقيق المناط والأدلة الشرعية ،كما إن الدراسة اقتصرت على بحث الاجتهاد في تحقيق المناط ، ولم تتناول الاجتهاد في تخريج المناط ،أو الاجتهاد في تنقيح المناط.

3 - تحقيق المناط دراسة أصولية تطبيقية ، للباحث: العربي الإدريسي ،بحث منشور في مجلة البحوث الفقهية المعاصرة ،العدد (75) الصادر بتاريخ 1/ 8/2007 م.

ومما يلحظ على هذا البحث:

أولاً: اقتصر البحث على دراسة الاجتهاد في تحقيق المناط ، ولم يتناول الاجتهاد في تخريج المناط ، أو الاجتهاد في تنقيح المناط.

ثانياً: لم يتناول البحث مسالك تحقيق المناط، أو ضوابط تحقيق المناط، أو العلاقة بين تحقيق المناط والأدلة الشرعية.

ثالثاً: خلو البحث من التطبيق على النوازل المعاصرة ، واكتفاء الباحث بالتطبيق على بعض المسائل الفقهية التراثية ، وهي: زكاة الحلي، ونكاح التحليل ، والتفريق بين الزوجين للإعسار بالنفقة ، وحكم النبَّاش.

4 - تحقيق المناط ، للباحث: د. صالح العقيل ،بحث منشور في مجلة العدل الصادرة عن وزارة العدل بالمملكة العربية السعودية، ،العدد (20) شوال 1424 هـ، والعدد (26) ربيع الآخر 1426 هـ.

ومما يلحظ على هذا البحث:

أولاً: اقتصر البحث على دراسة الاجتهاد في تحقيق المناط ،ولم يتناول الاجتهاد في تخريج المناط ، أو الاجتهاد في تنقيح المناط.

ثانياً: لم يتناول البحث كلاً من الموضوعات الآتية:

-ضوابط تحقيق المناط ، ومنها: التصوُّر الصحيح التام للواقعة ،ومراعاة اختلاف الأحوال والأزمنة والأمكنة ، واعتبار مآلات الأفعال ، ومراعاة اختلاف مقاصد المكلفين، والموازنة بين المصالح والمفاسد.
এই গবেষণায় তাহকিকুল মানাত-এর পদ্ধতিসমূহ বা তাহকিকুল মানাত এবং শরয়ি দলিলের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়নি। একইভাবে, গবেষণাটি কেবল তাহকিকুল মানাত-এর ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং তা তাখরিজুল মানাত বা তানকিহুল মানাত-এর ইজতিহাদ সম্পর্কে কোনো আলোচনা করেনি।

৩ - তাহকিকুল মানাত: একটি উসুলি ও ফলিত অধ্যয়ন, গবেষক: আল-আরাবি আল-ইদ্রিসি, মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ফিকহিয়্যাহ আল-মুআসিরাহ (সমকালীন ফিকহি গবেষণা সাময়িকী)-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধ, সংখ্যা (৭৫), প্রকাশের তারিখ: ১/৮/২০০৭ খ্রি.।

এই গবেষণার ওপর যা লক্ষণীয়:

প্রথমত: গবেষণাটি কেবল তাহকিকুল মানাত-এর ইজতিহাদের অধ্যয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং তা তাখরিজুল মানাত বা তানকিহুল মানাত-এর ইজতিহাদ সম্পর্কে কোনো আলোচনা করেনি।

দ্বিতীয়ত: গবেষণাটিতে তাহকিকুল মানাত-এর পদ্ধতিসমূহ, তাহকিকুল মানাত-এর নীতিমালা বা তাহকিকুল মানাত ও শরয়ি দলিলের মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা করা হয়নি।

তৃতীয়ত: গবেষণাটি সমকালীন নতুন উদ্ভূত সমস্যার (নাওয়াজিল) ওপর প্রয়োগ থেকে শূন্য ছিল। গবেষক কেবল কিছু ঐতিহ্যবাহী ফিকহি মাসআলার ওপর প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন, সেগুলো হলো: অলংকারের জাকাত, নিকাহুত তাহলিল (হালালা), ভরণপোষণ দিতে অক্ষমতার কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ এবং কবর খননকারীর বিধান।

৪ - তাহকিকুল মানাত, গবেষক: ড. সালিহ আল-আকিল, সৌদি আরবের বিচার মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত 'মাজাল্লাতুল আদল' (বিচার সাময়িকী)-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধ, সংখ্যা (২০) শাওয়াল ১৪২৪ হিজরি এবং সংখ্যা (২৬) রবিউস সানি ১৪২৬ হিজরি।

এই গবেষণার ওপর যা লক্ষণীয়:

প্রথমত: গবেষণাটি কেবল তাহকিকুল মানাত-এর ইজতিহাদের অধ্যয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং তা তাখরিজুল মানাত বা তানকিহুল মানাত-এর ইজতিহাদ সম্পর্কে কোনো আলোচনা করেনি।

দ্বিতীয়ত: গবেষণাটিতে নিচের প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়নি:

-তাহকিকুল মানাত-এর নীতিমালা, যার মধ্যে রয়েছে: ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক চিত্রায়ন, অবস্থা, কাল ও পাত্রের ভিন্নতার প্রতি লক্ষ রাখা, কাজের পরিণাম বিবেচনা করা, মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যের ভিন্নতার প্রতি লক্ষ রাখা এবং কল্যাণ ও অকল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
-العلاقة بين تحقيق المناط والأدلة الشرعية المتفق عليها والمختلف فيها.

ثالثاً: لم يتضمن البحث دراسةً تطبيقيةً على النوازل المعاصرة، وقد اكتفى بذكر الشواهد دون دراستها.

5 - تحقيق المناط عند الأصوليين وأثره في اختلاف الفقهاء، للباحث: د. عبدالرحمن إبراهيم الكيلاني، بحث منشور في مجلة الشريعة والدراسات الإسلامية ،جامعة الكويت، العدد 58، سنة 1425 هـ -2004 م.

ومما يلحظ على هذا البحث:

أولاً: اقتصر البحث على دراسة الاجتهاد في تحقيق المناط ، ولم يتناول الاجتهاد في تخريج المناط ، أو الاجتهاد في تنقيح المناط.

ثانياً: لم يتناول البحث بعض مسالك تحقيق المناط ،ومنها: الكتاب ،والسُّنة ، والإجماع ، وقول الصحابي ، وقول أهل الخبرة، والبينات الشرعية، والحساب والعدد.

ثالثا: لم يتناول البحث ضوابط تحقيق المناط، أو العلاقة بين تحقيق المناط والأدلة الشرعية.

رابعاً: لم يتضمن البحث دراسةً تطبيقيةً على النوازل المعاصرة.

6 - المناط في أصول الفقه، للباحث: رائد عبدالله نمر بدير، رسالة ماجستير في جامعة النجاح الوطنية في غزة ، نوقشت سنة 1424 هـ، ثم طبعت سنة 1427 هـ، من منشورات دار ابن الجوزي بالقاهرة.

ومما يلحظ على هذا البحث:

أولاً: لم يتناول البحث طرق تنقيح المناط ، أو مسالك تخريج المناط ، أو مسالك تحقيق المناط.

ثانياً: لم يتناول البحث ضوابط تحقيق المناط ، ومنها: التصوُّر الصحيح التام للواقعة ،ومراعاة اختلاف الأحوال والأزمنة والأمكنة ، واعتبار مآلات الأفعال ، ومراعاة اختلاف مقاصد المكلفين، والموازنة بين المصالح والمفاسد.
-তাহক্বীকুল মানাত (বিধানের ভিত্তি প্রয়োগ) এবং সর্বসম্মত ও মতভেদপূর্ণ শরয়ী দলীলসমূহের মধ্যকার সম্পর্ক।

তৃতীয়ত: গবেষণাটিতে সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যার (নাওয়াযিল) ওপর কোনো প্রায়োগিক অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, বরং এটি পর্যালোচনাহীনভাবে কেবল উদাহরণ উল্লেখ করার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছে।

৫ - উসুলবিদগণের নিকট তাহক্বীকুল মানাত এবং ফকীহগণের মতভেদে এর প্রভাব, গবেষক: ড. আবদুর রহমান ইব্রাহিম আল-কিলানী, কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাজাল্লাতুশ শরীয়াহ ওয়াদ দিরাসাত আল-ইসলামিয়্যাহ (শরীয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা সাময়িকী)-তে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ, সংখ্যা ৫৮, বছর ১৪২৫ হিজরী - ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ।

এই গবেষণার ওপর যা লক্ষণীয়:

প্রথমত: গবেষণাটি কেবল তাহক্বীকুল মানাতের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ পর্যালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এবং এটি তাখরীজুল মানাত (ভিত্তি উদ্ভাবন) বা তানকীহুল মানাতের (ভিত্তি সংশোধন) ইজতিহাদ নিয়ে আলোচনা করেনি।

দ্বিতীয়ত: গবেষণাটি তাহক্বীকুল মানাতের কিছু পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেনি, যেমন: কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, সাহাবীর বক্তব্য, বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, শরয়ী প্রমাণাদি এবং হিসাব ও সংখ্যা।

তৃতীয়ত: গবেষণাটি তাহক্বীকুল মানাতের নীতিমালা কিংবা তাহক্বীকুল মানাত ও শরয়ী দলীলাদির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেনি।

চতুর্থত: গবেষণাটিতে সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যার ওপর কোনো প্রায়োগিক অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

৬ - উসুলুল ফিকহে আল-মানাত (বিধানের ভিত্তি), গবেষক: রায়েদ আবদুল্লাহ নিমর বুদাইর, গাজার আন-নাজাহ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একটি মাস্টার্স থিসিস, যা ১৪২৪ হিজরীতে উপস্থাপিত হয় এবং পরবর্তীতে ১৪২৭ হিজরীতে কায়রোর দারু ইবনিল জাওযী থেকে প্রকাশিত হয়।

এই গবেষণার ওপর যা লক্ষণীয়:

প্রথমত: গবেষণাটি তানকীহুল মানাতের পদ্ধতিসমূহ, অথবা তাখরীজুল মানাতের পদ্ধতিসমূহ, কিংবা তাহক্বীকুল মানাতের পদ্ধতিসমূহ আলোচনা করেনি।

দ্বিতীয়ত: গবেষণাটি তাহক্বীকুল মানাতের নীতিমালা আলোচনা করেনি, যার মধ্যে রয়েছে: ঘটনা সম্পর্কে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করা, অবস্থা, সময় ও স্থানের ভিন্নতার প্রতি লক্ষ্য রাখা, কর্মের পরিণতির বিষয়টি বিবেচনা করা, দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (মুকাল্লাফ) উদ্দেশ্যের ভিন্নতার প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং কল্যাণ ও অকল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ثالثاً: لم يتناول البحث العلاقة بين الاجتهاد في المناط والأدلة الشرعية المتفق عليها والمختلف فيها، واكتفى الباحث بدراسة ما أسماه بالخطط التشريعية التي تفرعت على قاعدة تحقيق المناط الخاص ، وهي: الاستحسان ،وسد الذرائع، وفتح الذرائع ، ومراعاة الخلاف.

رابعاً: لم يتضمن البحث دراسةً تطبيقيةً على النوازل المعاصرة.

 

‌‌جوانب الإضافة في هذا البحث على الدراسات السابقة:

بعد الاطلاع على تلك الدراسات التي لها قَصْب السَّبْق في جوانب عدةٍ من هذا الموضوع فإن الإضافة التي أطمح إلى تحقيقها من خلال هذا البحث تتميماً لتلك الجهود المشكورة تتلخص في الجوانب الآتية:

-دراسة موضوع الاجتهاد في المناط بأنواعه الثلاثة وهي: (تخريج المناط، وتنقيح المناط، وتحقيق المناط) وبيان مسالكها ، وأوجه العلاقة بينها.

-دراسة العلاقة بين الاجتهاد في المناط والأدلة الشرعية المتفق عليها والمختلف فيها.

-ربط الجانب التأصيلي للموضوع بالجانب التطبيقي ،وذلك من خلال إفراد بابٍ مستقلٍ يتناول تطبيقات الاجتهاد في المناط على (15) مسألةٍ من فقه النوازل والمستجدات الفقهية تشمل: العبادات، والمعاملات، والنكاح وتوابعه، والحدود والجنايات.

ويهدف هذا الباب إلى ربط المستجدات الفقهية بعلم أصول الفقه وقواعده ، وهو أمرٌ بالغ الأهمية؛ لأنه يسهم في إحياء وظيفة علم أصول الفقه في واقعنا المعاصر ، كما يزيل الغموض عن بعض القواعد والمسائل النظرية التي تبحث في هذا العلم؛ وذلك لأن"معظم الغموض في هذه القواعد منشؤه الاكتفاء بالتراجم والمعاقد ، دون التهذيب بالأمثلة" (1).

كما أن الملكة لاتحصل بمعرفة الشيء مجرداً عن تطبيقاته ، بل لابد

--------------------------------------------

(1) شفاء الغليل للغزالي: (208).
তৃতীয়ত: এই গবেষণায় ‘ইজতিহাদ ফিল মানাত’ (কার্যকারণ নির্ণয়ে গবেষণা) এবং সর্বসম্মত ও মতভেদমূলক শরয়ী দলীলসমূহের মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা করা হয়নি। গবেষক কেবল সেই সকল আইনি পদ্ধতি পর্যালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন, যা ‘তাহকীকুল মানাত আল-খাস’ (বিশেষ কার্যकारण নিশ্চিতকরণ) মূলনীতি থেকে উদ্ভূত হয়েছে। সেগুলো হলো: ইসতিহসান (উত্তম বিবেচনা), সাদ্দুদ যারা’ই (অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করা), ফাতহুদ যারা’ই (কল্যাণের পথ উন্মুক্ত করা) এবং মুরাআতুল খিলাফ (মতভেদ বিবেচনা)।

চতুর্থত: এই গবেষণায় সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যাবলির (নাওয়াজিল) ওপর কোনো প্রায়োগিক অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

 

‌‌পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহের ওপর এই গবেষণার নতুন সংযোজনসমূহ:

এই বিষয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী পূর্বোক্ত গবেষণাসমূহ পর্যালোচনার পর, সেই প্রশংসনীয় প্রচেষ্টাসমূহের পরিপূরক হিসেবে আমি এই গবেষণার মাধ্যমে যে নতুন দিকগুলো অর্জনের প্রত্যাশা রাখি, তা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

- ‘ইজতিহাদ ফিল মানাত’-এর তিনটি প্রকার, যথা: (তাখরিজুল মানাত, তানকিহুল মানাত এবং তাহকীকুল মানাত) অধ্যয়ন করা এবং এগুলোর পদ্ধতিসমূহ ও পারস্পরিক সম্পর্কের দিকগুলো স্পষ্ট করা।

- ‘ইজতিহাদ ফিল মানাত’ এবং সর্বসম্মত ও মতভেদমূলক শরয়ী দলীলসমূহের মধ্যকার সম্পর্কের ওপর অধ্যয়ন।

- একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় বরাদ্দের মাধ্যমে বিষয়ের তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক দিকের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা। এই অধ্যায়ে উদ্ভূত ফেকহী সমস্যাবলি এবং সমসাময়িক নতুন মাসআলাসমূহের ১৫টি বিষয়ের ওপর ‘ইজতিহাদ ফিল মানাত’-এর প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: ইবাদাত, মুয়ামালাত (লেনদেন), নিকাহ (বিবাহ) ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং হুদুদ ও জিনায়াত (দণ্ডবিধি ও অপরাধ)।

এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য হলো সমসাময়িক নতুন ফেকহী বিষয়গুলোকে উসূলুল ফিকহ শাস্ত্র ও এর মূলনীতিসমূহের সাথে সংযুক্ত করা, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আমাদের সমসাময়িক বাস্তবতায় উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের কার্যকারিতাকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করে। তদুপরি, এটি এই শাস্ত্রে আলোচিত কিছু তাত্ত্বিক মূলনীতি ও মাসআলার অস্পষ্টতা দূর করে। কেননা, "এই মূলনীতিসমূহের অধিকাংশ অস্পষ্টতার উৎস হলো উদাহরণ দিয়ে বিশ্লেষণ না করে কেবল শিরোনাম ও মূল সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করা" (১)।

অনুরূপভাবে, কোনো বিষয়কে তার প্রয়োগ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে জানার মাধ্যমে গভীর পাণ্ডিত্য বা যোগ্যতা অর্জিত হয় না, বরং এর জন্য অবশ্যই...

--------------------------------------------

(১) ইমাম গাজ্জালীর শিফাউল গালীল: (২০৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
من الارتياض فيه والدربة عليه كما قال الزركشي: " ليس يكفي في حصول الملكة على شيءٍ تعرُّفُه، بل لا بدَّ مع ذلك من الارتياض في مباشرته " (1).

 

‌‌خطة البحث:

يتكون هذا البحث من مقدمة، وتمهيد، وخمسة أبواب، وخاتمة، وفهارس تفصيلية ،وبيانها على النحو الآتي:

المقدمة ، وتشتمل على: أسباب اختيار الموضوع ، والدراسات السابقة التي لها علاقةٌ مباشرةٌ به، وجوانب الإضافة التي أطمح إليها من خلال بحث هذا الموضوع ، وخطة البحث ، ومنهج البحث، والشكر والتقدير لمشايخي الكرام.

التمهيد: تعريف الاجتهاد في المناط، وبيان أنواعه ، وأوجه الجمع والفرق بينها.

ويشتمل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: تعريف الاجتهاد لغةً واصطلاحاً.

ويشتمل على ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: تعريف الاجتهاد لغةً.

المطلب الثاني: تعريف الاجتهاد اصطلاحاً.

المطلب الثالث: وجه المناسبة بين التعريف اللغوي والاصطلاحي.

المبحث الثاني: تعريف المناط لغةً واصطلاحاً.

ويشتمل على ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: تعريف المناط لغةً.

المطلب الثاني: تعريف المناط اصطلاحاً.

المطلب الثالث: وجه المناسبة بين التعريف اللغوي والاصطلاحي.

المبحث الثالث: تعريف الاجتهاد في المناط، وبيان أنواعه.

--------------------------------------------

(1) البحر المحيط: (6/ 228).
এতে অনুশীলন এবং অভ্যস্ত হওয়া, যেমনটি আল-যারকাশী বলেছেন: "কোনো বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জনের জন্য কেবল তা জানাই যথেষ্ট নয়, বরং এর সাথে সরাসরি অনুশীলনে অভ্যস্ত হওয়া অপরিহার্য" (১)।

 

‌গবেষণা পরিকল্পনা:

এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, পাঁচটি অধ্যায়, একটি উপসংহার এবং বিস্তারিত নির্ঘণ্টের সমন্বয়ে গঠিত, যার বিবরণ নিম্নরূপ:

ভূমিকা, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে: বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ, এর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ, এই বিষয়টি গবেষণার মাধ্যমে আমি যে নতুন দিকগুলো সংযোজন করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি, গবেষণা পরিকল্পনা, গবেষণা পদ্ধতি এবং আমার সম্মানিত উস্তাদগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা।

উপক্রমণিকা: মানাতের (ভিত্তি) ক্ষেত্রে ইজতিহাদের সংজ্ঞা, এর প্রকারভেদের বর্ণনা এবং এগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও পার্থক্যের দিকসমূহ।

এটি চারটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইজতিহাদের শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা।

এটি তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: ইজতিহাদের শাব্দিক সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: ইজতিহাদের পারিভাষিক সংজ্ঞা।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের দিক।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মানাতের শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা।

এটি তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: মানাতের শাব্দিক সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মানাতের পারিভাষিক সংজ্ঞা।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের দিক।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মানাতের ক্ষেত্রে ইজতিহাদের সংজ্ঞা এবং এর প্রকারভেদের বর্ণনা।

--------------------------------------------

(১) আল-বাহরুল মুহিত: (৬/ ২২৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ويشتمل على مطلبين:

المطلب الأول: تعريف الاجتهاد في المناط.

المطلب الثاني: أنواع الاجتهاد في المناط.

المبحث الرابع: أوجه الجمع والفرق بين أنواع الاجتهاد في المناط.

ويشتمل على مطلبين:

المطلب الأول: أوجه الجمع بين أنواع الاجتهاد في المناط.

المطلب الثاني: أوجه الفرق بين أنواع الاجتهاد في المناط.

الباب الأول: الاجتهاد في تنقيح المناط.

ويشتمل على خمسة فصول:

الفصل الأول: تعريف تنقيح المناط لغةً واصطلاحاً.

ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف تنقيح المناط لغةً.

المبحث الثاني: تعريف تنقيح المناط اصطلاحاً.

المبحث الثالث: وجه المناسبة بين التعريف اللغوي والاصطلاحي.

الفصل الثاني: حكم العمل بتنقيح المناط والأدلة على اعتباره.

ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: حكم العمل بتنقيح المناط.

المبحث الثاني: الأدلة على اعتبار العمل بتنقيح المناط.

الفصل الثالث: العلاقة بين تنقيح المناط وإلغاء الفارق.

ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف إلغاء الفارق لغةً واصطلاحاً.

ويشتمل على مطلبين:

المطلب الأول: تعريف إلغاء الفارق لغةً.

المطلب الثاني: تعريف إلغاء الفارق اصطلاحاً.
এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: মানাতের ক্ষেত্রে ইজতিহাদের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মানাতের ক্ষেত্রে ইজতিহাদের প্রকারভেদ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মানাতের ক্ষেত্রে ইজতিহাদের প্রকারভেদের মধ্যে সমন্বয় ও পার্থক্যের দিকসমূহ।

এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: মানাতের ক্ষেত্রে ইজতিহাদের প্রকারভেদের মধ্যে সমন্বয়ের দিকসমূহ।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মানাতের ক্ষেত্রে ইজতিহাদের প্রকারভেদের মধ্যে পার্থক্যের দিকসমূহ।

প্রথম অধ্যায়: তানকিহুল মানাতের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ।

এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে তানকিহুল মানাতের সংজ্ঞা।

এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: শাব্দিক অর্থে তানকিহুল মানাতের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পারিভাষিক অর্থে তানকিহুল মানাতের সংজ্ঞা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞার মধ্যে সামঞ্জস্যের দিক।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তানকিহুল মানাত অনুযায়ী আমল করার বিধান এবং এর নির্ভরযোগ্যতার দলীলসমূহ।

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তানকিহুল মানাত অনুযায়ী আমল করার বিধান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তানকিহুল মানাত অনুযায়ী আমল করার নির্ভরযোগ্যতার দলীলসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তানকিহুল মানাত এবং ইলগাউল ফারেক-এর মধ্যে সম্পর্ক।

এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে ইলগাউল ফারেকের সংজ্ঞা।

এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: শাব্দিক অর্থে ইলগাউল ফারেকের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: পারিভাষিক অর্থে ইলগাউল ফারেকের সংজ্ঞা।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الثاني: أقسام إلغاء الفارق.

المبحث الثالث: العلاقة بين تنقيح المناط وإلغاء الفارق.

الفصل الرابع: العلاقة بين تنقيح المناط والسَّبْر والتقسيم.

ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: تعريف السَّبْر والتقسيم لغةً واصطلاحاً.

ويشتمل على مطلبين:

المطلب الأول: تعريف السَّبْر والتقسيم لغةً.

المطلب الثاني: تعريف السَّبْر والتقسيم اصطلاحاً.

المبحث الثاني: العلاقة بين تنقيح المناط والسَّبْر والتقسيم.

الباب الثاني: الاجتهاد في تخريج المناط.

ويشتمل على ثلاثة فصول:

الفصل الأول: تعريف تخريج المناط لغةً واصطلاحاً.

ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف تخريج المناط لغةً.

المبحث الثاني: تعريف تخريج المناط اصطلاحاً.

المبحث الثالث: وجه المناسبة بين التعريف اللغوي والاصطلاحي.

الفصل الثاني: حكم العمل بتخريج المناط والأدلة على اعتباره.

ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: حكم العمل بتخريج المناط.

المبحث الثاني: الأدلة على اعتبار العمل بتخريج المناط.

الفصل الثالث: مسالك تخريج المناط.

ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تخريج المناط بمسلك المناسبة.

ويشتمل على أربعة مطالب:
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইলগাউল ফারিক (পার্থক্য নিরসন)-এর প্রকারভেদ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তানকিহুল মানাত (কারণ বিশোধন) এবং ইলগাউল ফারিক (পার্থক্য নিরসন)-এর মধ্যে সম্পর্ক।

চতুর্থ অধ্যায়: তানকিহুল মানাত এবং আস-সাবর ওয়াত-তাকসিম (পরীক্ষণ ও বিভাজন)-এর মধ্যে সম্পর্ক।

এটি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে আস-সাবর ওয়াত-তাকসিম-এর সংজ্ঞা।

এটি দুটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে আস-সাবর ওয়াত-তাকসিম-এর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পারিভাষিক অর্থে আস-সাবর ওয়াত-তাকসিম-এর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তানকিহুল মানাত এবং আস-সাবর ওয়াত-তাকসিম-এর মধ্যে সম্পর্ক।

দ্বিতীয় ভাগ: তাখরিজুল মানাত (কারণ উদ্ভাবন)-এর ক্ষেত্রে ইজতিহাদ।

এটি তিনটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:

প্রথম অধ্যায়: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে তাখরিজুল মানাত-এর সংজ্ঞা।

এটি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে তাখরিজুল মানাত-এর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পারিভাষিক অর্থে তাখরিজুল মানাত-এর সংজ্ঞা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞার মধ্যে সামঞ্জস্যের দিকসমূহ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: তাখরিজুল মানাত অনুযায়ী আমল করার বিধান এবং এর গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণাদি।

এটি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাখরিজুল মানাত অনুযায়ী আমল করার বিধান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাখরিজুল মানাত অনুযায়ী আমল করার গ্রহণযোগ্যতার পক্ষে প্রমাণাদি।

তৃতীয় অধ্যায়: তাখরিজুল মানাত-এর পদ্ধতিসমূহ।

এটি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-মুনাসাবাহ (সামঞ্জস্যতা) পদ্ধতির মাধ্যমে তাখরিজুল মানাত।

এটি চারটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
المطلب الأول: تعريف المناسبة لغةً واصطلاحاً.

المطلب الثاني: أقسام المناسب باعتبار شهادة الشرع له بالملائمة وعدمها.

المطلب الثالث: حُجِّية مسلك المناسبة.

المطلب الرابع: صورة تخريج المناط بمسلك المناسبة.

المبحث الثاني: تخريج المناط بمسلك السَّبْر والتقسيم.

ويشتمل على خمسة مطالب:

المطلب الأول: تعريف السَّبْر والتقسيم لغةً واصطلاحاً.

المطلب الثاني: أقسام السَّبْر والتقسيم.

المطلب الثالث: حجية السَّبْر والتقسيم.

المطلب الرابع: شروط صحة السَّبْر والتقسيم.

المطلب الخامس: صورة تخريج المناط بمسلك السَّبْر والتقسيم.

المبحث الثالث: تخريج المناط بمسلك الدوران.

ويشتمل على ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: تعريف الدوران لغةً واصطلاحاً.

المطلب الثاني: حجية مسلك الدوران.

المطلب الثالث: صورة تخريج المناط بمسلك الدوران.

الباب الثالث: الاجتهاد في تحقيق المناط.

ويشتمل على خمسة فصول:

الفصل الأول: تعريف تحقيق المناط لغةً واصطلاحاً.

ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف تحقيق المناط لغةً.

المبحث الثاني: تعريف تحقيق المناط اصطلاحاً.

المبحث الثالث: وجه المناسبة بين التعريف اللغوي والاصطلاحي.
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: মুনাসাবাহ (উপযোগিতা)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: অনুকূল বা প্রতিকূল হওয়ার ক্ষেত্রে শরীয়তের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ‘মুনাসিব’-এর প্রকারভেদ।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: মুনাসাবাহ পদ্ধতির প্রামাণিকতা।

চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: মুনাসাবাহ পদ্ধতির মাধ্যমে তাখরিজুল মানাত (কারণ উদ্ঘাটন)-এর স্বরূপ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সাবর ও তাকসিম (পরীক্ষণ ও বিভাজন) পদ্ধতির মাধ্যমে তাখরিজুল মানাত।

এটি পাঁচটি উপ-অনুচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: সাবর ও তাকসিম-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: সাবর ও তাকসিম-এর প্রকারভেদ।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: সাবর ও তাকসিম-এর প্রামাণিকতা।

চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: সাবর ও তাকসিম সঠিক হওয়ার শর্তাবলি।

পঞ্চম উপ-অনুচ্ছেদ: সাবর ও তাকসিম পদ্ধতির মাধ্যমে তাখরিজুল মানাত-এর স্বরূপ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: দাওয়ারান (আবর্তন) পদ্ধতির মাধ্যমে তাখরিজুল মানাত।

এটি তিনটি উপ-অনুচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: দাওয়ারান-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: দাওয়ারান পদ্ধতির প্রামাণিকতা।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: দাওয়ারান পদ্ধতির মাধ্যমে তাখরিজুল মানাত-এর স্বরূপ।

তৃতীয় অধ্যায়: তাহকিকুল মানাত (কারণ প্রয়োগ)-এর ক্ষেত্রে ইজতিহাদ।

এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাহকিকুল মানাত-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা।

এটি তিনটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাহকিকুল মানাত-এর আভিধানিক সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাহকিকুল মানাত-এর পারিভাষিক সংজ্ঞা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞার মধ্যে সামঞ্জস্যের দিক।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الفصل الثاني: أقسام تحقيق المناط.

ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: أقسام تحقيق المناط بالنظر إلى نوع المناط.

المبحث الثاني: أقسام تحقيق المناط بالنظر إلى وضوحه وخفائه.

المبحث الثالث: أقسام تحقيق المناط بالنظر إلى مراتبه.

الفصل الثالث: حكم العمل بتحقيق المناط والأدلة على اعتباره.

ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: حكم العمل بتحقيق المناط.

المبحث الثاني: الأدلة على اعتبار العمل بتحقيق المناط.

الفصل الرابع: ضوابط تحقيق المناط.

ويشتمل على خمسة مباحث:

المبحث الأول: التصوُّر الصحيح التام للواقعة ومعرفة حقيقتها.

المبحث الثاني: مراعاة اختلاف الأحوال والأزمنة والأمكنة.

المبحث الثالث: اعتبار مآلات الأفعال والأقوال الصادرة عن المكلَّفين.

المبحث الرابع: مراعاة اختلاف مقاصد المكلَّفين.

المبحث الخامس: الموازنة بين المصالح والمفاسد المتعارضة.

الفصل الخامس: مسالك تحقيق المناط.

ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: المسالك النقلية.

المبحث الثاني: المسالك الاجتهادية.

الباب الرابع: علاقة الاجتهاد في المناط بالأدلة الشرعية.

ويشتمل على فصلين:

الفصل الأول: علاقة الاجتهاد في المناط بالأدلة المتفق عليها.

ويشتمل على أربعة مباحث:
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাহকীকুল মানাত-এর প্রকারভেদ।

এটি তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: মানাত-এর ধরনের বিবেচনায় তাহকীকুল মানাত-এর প্রকারভেদ।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মানাত-এর স্পষ্টতা ও অস্পষ্টতার বিবেচনায় তাহকীকুল মানাত-এর প্রকারভেদ।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মানাত-এর স্তরের বিবেচনায় তাহকীকুল মানাত-এর প্রকারভেদ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাহকীকুল মানাত অনুযায়ী আমল করার বিধান এবং এর গ্রহণযোগ্যতার দলীলসমূহ।

এটি দুইটি উপ-পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: তাহকীকুল মানাত অনুযায়ী আমল করার বিধান।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: তাহকীকুল মানাত অনুযায়ী আমল করার গ্রহণযোগ্যতার দলীলসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাহকীকুল মানাত-এর নীতিমালা।

এটি পাঁচটি উপ-পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: উদ্ভূত পরিস্থিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা এবং এর প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: অবস্থা, কাল ও স্থানের ভিন্নতার প্রতি লক্ষ্য রাখা।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মুকাল্লাফদের (শরয়ি দায়িত্বশীলদের) কথা ও কাজের পরিণতির বিবেচনা।

চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: মুকাল্লাফদের উদ্দেশ্যের ভিন্নতার প্রতি লক্ষ্য রাখা।

পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: পরস্পরবিরোধী কল্যাণ ও অকল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য বিধান।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাহকীকুল মানাত-এর পথ ও পদ্ধতিসমূহ।

এটি দুইটি উপ-পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: বর্ণনাভিত্তিক পদ্ধতিসমূহ।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: ইজতিহাদভিত্তিক পদ্ধতিসমূহ।

চতুর্থ অধ্যায়: মানাত-এর ক্ষেত্রে ইজতিহাদের সাথে শরয়ি দলীলসমূহের সম্পর্ক।

এটি দুইটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মানাত-এর ক্ষেত্রে ইজতিহাদের সাথে সর্বসম্মত দলীলসমূহের সম্পর্ক।

এটি চারটি উপ-পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الأول: علاقة الاجتهاد في المناط بالكتاب.

المبحث الثاني: علاقة الاجتهاد في المناط بالسُّنَّة.

المبحث الثالث: علاقة الاجتهاد في المناط بالإجماع.

المبحث الرابع: علاقة الاجتهاد في المناط بالقياس.

الفصل الثاني: علاقة الاجتهاد في المناط بالأدلة المختلف فيها.

ويشتمل على ثمانية مباحث:

المبحث الأول: علاقة الاجتهاد في المناط بالاستصحاب.

المبحث الثاني: علاقة الاجتهاد في المناط بشرع مَنْ قبلنا.

المبحث الثالث: علاقة الاجتهاد في المناط بقول الصحابي.

المبحث الرابع: علاقة الاجتهاد في المناط بالاستحسان.

المبحث الخامس: علاقة الاجتهاد في المناط بالمصلحة المرسلة.

المبحث السادس: علاقة الاجتهاد في المناط بسدِّ الذرائع.

المبحث الثامن: علاقة الاجتهاد في المناط بالعُرْف.

الباب الخامس: تطبيقات الاجتهاد في المناط في فقه النوازل المعاصرة.

ويشتمل على خمسة عشر مبحثاً:

المبحث الأول: استخدام مياه الصرف الصحي المُعالَجة في الطهارة.

المبحث الثاني: تحديد أوقات الصلاة في البلدان الواقعة على خطوط العرض العالية.

المبحث الثالث: زكاة أسهم الشركات.

المبحث الرابع: استخدام الحقن العلاجية أثناء الصيام.

المبحث الخامس: الإحرام بالحج أو العمرة للقادمين جواً بالطائرة.

المبحث السادس: المتاجرة بالهامش في الأسواق المالية.

المبحث السابع: خطاب الضمان البنكي.

المبحث الثامن: التورُّق المصرفي المنظَّم.
প্রথম অনুচ্ছেদ: কিতাবের (আল-কুরআন) সাথে ইজতিহাদ ফিল মানাত-এর সম্পর্ক।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সুন্নাহর সাথে ইজতিহাদ ফিল মানাত-এর সম্পর্ক।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইজমার সাথে ইজতিহাদ ফিল মানাত-এর সম্পর্ক।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: কিয়াসের সাথে ইজতিহাদ ফিল মানাত-এর সম্পর্ক।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মতভেদপূর্ণ দলীলসমূহের সাথে ইজতিহাদ ফিল মানাত-এর সম্পর্ক।

এটি আটটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইস্তিসহাবের সাথে ইজতিহাদ ফিল মানাত-এর সম্পর্ক।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের শরীয়তের সাথে ইজতিহাদ ফিল মানাত-এর সম্পর্ক।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সাহাবীর বক্তব্যের সাথে ইজতিহাদ ফিল মানাত-এর সম্পর্ক।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ইস্তਿਹসানের সাথে ইজতিহাদ ফিল মানাত-এর সম্পর্ক।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: মাসলাহাতে মুরসালাহ-র সাথে ইজতিহাদ ফিল মানাত-এর সম্পর্ক।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: সাদ্দুয যারায়ি (অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করা)-র সাথে ইজতিহাদ ফিল মানাত-এর সম্পর্ক।

অষ্টম অনুচ্ছেদ: উরফ (প্রথা)-র সাথে ইজতিহাদ ফিল মানাত-এর সম্পর্ক।

পঞ্চম অধ্যায়: সমকালীন ফিকহী সমস্যাবলিতে (নাওয়াযিল) ইজতিহাদ ফিল মানাত-এর প্রয়োগ।

এটি পনেরোটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পবিত্রতা অর্জনে শোধিত পয়ঃনিষ্কাশন পানি ব্যবহারের বিধান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: উচ্চ অক্ষাংশের দেশসমূহে সালাতের সময় নির্ধারণ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কোম্পানির শেয়ারের যাকাত।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: সিয়াম পালনকালে চিকিৎসার্থ ইনজেকশন ব্যবহার।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: আকাশপথে বিমানে আগমনকারীদের হজ্জ বা উমরার ইহরাম।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: শেয়ার বাজারে মার্জিন ট্রেডিং (প্রান্তিক ক্রয়-বিক্রয়)।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: ব্যাংক গ্যারান্টি পত্র।

অষ্টম অনুচ্ছেদ: ব্যাংকিং ব্যবস্থার অধীনে সংগঠিত তাওয়াররুক।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث التاسع: تحديد النَّسْل.

المبحث العاشر: إنشاء بنوك الحليب البشري والرضاع منها.

المبحث الحادي عشر: إجراء عمليات التلقيح الصناعي وأطفال الأنابيب.

المبحث الثاني عشر: إسقاط الجنين المشوه خِلْقياً.

المبحث الثالث عشر: رفع أجهزة الإنعاش عن المتوفى دماغياً.

المبحث الرابع عشر: زراعة ونقل الأعضاء التناسلية.

المبحث الخامس عشر: زراعة عضوٍ استُؤصِل في حدٍّ أو قصاص.

خاتمة البحث.

فهرس الآيات القرآنية.

فهرس الأحاديث النبوية.

فهرس الآثار.

فهرس الأعلام.

فهرس المصادر والمراجع.

فهرس الموضوعات.

 

‌‌منهج البحث:

أما منهج البحث الذي سلكته فيتلخص في الآتي:

- الرجوع إلى المصادر الأصلية في البحث والنقل عن أصحابها مباشرةً ما أمكن ذلك.

- الالتزام بقواعد البحث العلمي المتعارَف عليها في النقل والعزو والتوثيق والاقتباس ونحو ذلك.

- عزو الآيات القرآنية إلى سورها مع ذكر أرقامها.

- تخريج الأحاديث النبوية من مصادرها الأصلية ، فإذا كان الحديث في الصحيحين أو في أحدهما اكتفيت بالعزو إلى ذلك ،وإن كان في غيرهما
নবম পরিচ্ছেদ: জন্ম নিয়ন্ত্রণ।

দশম পরিচ্ছেদ: মানুষের দুধের ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং তা থেকে দুগ্ধপান।

একাদশ পরিচ্ছেদ: কৃত্রিম প্রজনন এবং টেস্টটিউব বেবি পদ্ধতি পরিচালনা।

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: জন্মগতভাবে বিকলাঙ্গ ভ্রূণ গর্ভপাত করা।

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: ব্রেইন ডেড বা মস্তিষ্ক-মৃত ব্যক্তি থেকে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম অপসারণ করা।

চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: জননেন্দ্রিয় প্রতিস্থাপন এবং স্থানান্তর।

পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: হদ বা কিসাসের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন অঙ্গের প্রতিস্থাপন।

গবেষণার উপসংহার।

কুরআনের আয়াতের সূচি।

হাদীসে নববীর সূচি।

আসার-এর সূচি।

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সূচি।

উৎস এবং সহায়ক গ্রন্থাবলীর সূচি।

বিষয়সূচি।

 

‌‌গবেষণা পদ্ধতি:

আমি যে গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

- গবেষণায় মূল উৎসগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং সম্ভব হলে সরাসরি মূল গ্রন্থকারদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করা।

- উদ্ধৃতি প্রদান, তথ্যসূত্র উল্লেখ, প্রামাণ্যকরণ এবং সংকলন ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রচলিত স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করা।

- কুরআনের আয়াতগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরার নাম এবং আয়াত নম্বরসহ উল্লেখ করা।

- হাদীসে নববীকে সেগুলোর মূল উৎস থেকে তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) করা; যদি হাদীসটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা এর কোনো একটিতে থাকে, তবে কেবল সেটির উদ্ধৃতি প্রদানই যথেষ্ট মনে করেছি, আর যদি অন্য কিতাবে থাকে...
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
عزوت الحديث إلى أشهر مصادره الأصلية ، ثم نقلت كلام بعض المحققين في بيان درجته.

- وضع ترجمةٍ مختصرةٍ للأعلام الوارد ذكرهم في البحث ، وقد استثنيت من ذلك الخلفاء الأربعة رضي الله عنهم ، وأمهات المؤمنين رضي الله عنهن وأرضاهن؛ وذلك لشهرتهم التي أطبقت الآفاق.

- توضيح الغريب من الألفاظ الواردة في البحث بما يكشف معناها ، ويزيل الغموض عنها.

- الإيجاز في تعريف الاصطلاحات الأصولية التي ليست من صلب البحث ، والاكتفاء في تعريفها بمايناسب المقام دون توسعٍ يخرج عن المقصود.

- الاقتصار في الجانب التطبيقي من الدراسة على بعض النوازل والمستجدات الفقهية التي لها علاقةٌ بموضوع البحث ، والاستناد في أحكام تلك التطبيقات على قرارات الفتوى في بعض مؤسسات الاجتهاد الجماعي الموثوقة ، كالمجامع الفقهية، وهيئة كبار العلماء بالسعودية ، واللجنة الدائمة للإفتاء ، ولم أتعرض إلى ذكر الخلاف في تلك النوازل، أو أدلة المخالفين ومناقشتها؛ لأن إيراد ذلك إنما يناسب أبحاث الفقه المقارن ، أما هذه الدراسة فإنها تهدف إلى إبراز العلاقة بين الجانب النظري والتطبيقي في موضوع البحث ، ولا تهدف إلى بحث أصل المسألة وأقوال المجتهدين فيها وأدلتهم كما هو الحال في الأبحاث الفقهية.

- تذييل البحث بفهارس تفصيليةٍ تسهل الاستفادة من الدراسة ، وقد شملت الآيات القرآنية، والأحاديث النبوية، والآثار، والأعلام ،والمصادر والمراجع ، وفهرس الموضوعات.

 

‌‌صعوبات البحث:

حينما شرعت في بحث هذا الموضوع اعترضتني بعض صعوباتٍ يسَّر الله تجاوزها وذلَّلها بفضله ورحمته ، ومن أهم الصعوبات التي واجهتني في هذا البحث مايأتي:
আমি হাদিসসমূহকে সেগুলোর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মূল উৎসগুলোর দিকে সম্বন্ধ করেছি, অতঃপর এর মান বর্ণনায় কতিপয় গবেষকের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি।

- গবেষণায় উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রদান করেছি; তবে চার খলিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং উম্মাহাতুল মুমিনিনদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না ওয়া আরদাহুন্না) এর ব্যতিক্রম রেখেছি; কারণ তাদের খ্যাতি জগতজুড়ে বিস্তৃত।

- গবেষণায় ব্যবহৃত কঠিন ও অপরিচিত শব্দাবলির অর্থ ব্যাখ্যা করেছি যা সেগুলোর অর্থ উন্মোচন করে এবং অস্পষ্টতা দূর করে।

- উসুল সংক্রান্ত পরিভাষা যা গবেষণার মূল বিষয় নয়, সেগুলোর সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করেছি এবং প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংজ্ঞার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি, যাতে মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুতি না ঘটে।

- গবেষণার প্রায়োগিক দিকের ক্ষেত্রে কেবল বর্তমান সময়ের কিছু নবসৃষ্ট ফিকহি সমস্যার (নাওয়াজিল) ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি যেগুলোর সাথে গবেষণার বিষয়ের সম্পর্ক রয়েছে। এই প্রায়োগিক ক্ষেত্রগুলোর বিধানের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সামষ্টিক ইজতিহাদ প্রতিষ্ঠান যেমন— ফিকহ একাডেমিগুলো, সৌদি আরবের উচ্চ উলামা পরিষদ এবং স্থায়ী ফতোয়া কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেছি। আমি সেই নাওয়াজিলগুলোর ক্ষেত্রে মতপার্থক্য কিংবা ভিন্নমত পোষণকারীদের দলিল ও সেগুলোর পর্যালোচনার অবতারণা করিনি; কারণ তা উল্লেখ করা তুলনামূলক ফিকহি গবেষণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর এই গবেষণার লক্ষ্য হলো গবেষণার বিষয়ের তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক দিকের মধ্যকার সম্পর্ক ফুটিয়ে তোলা; মাসআলার মূল উৎস, মুজতাহিদগণের মতামত ও তাদের দলিল নিয়ে আলোচনা করা এর লক্ষ্য নয়, যেমনটি ফিকহি গবেষণায় হয়ে থাকে।

- গবেষণার শেষে বিস্তারিত নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি যা এই অধ্যয়ন থেকে উপকৃত হওয়া সহজ করবে; এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কুরআনের আয়াত, হাদিস, আছার, ব্যক্তিবর্গের নাম, তথ্যসূত্র ও গ্রন্থপঞ্জি এবং বিষয়সূচি।

 

‌গবেষণার প্রতিকূলতাসমূহ:

যখন আমি এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা শুরু করি, তখন কিছু প্রতিকূলতা আমার সামনে এসেছিল যা আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতে সহজ ও সাবলীল করে দিয়েছেন। এই গবেষণায় আমার সম্মুখীন হওয়া উল্লেখযোগ্য প্রতিকূলতাসমূহ হলো নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
- لمَّا طفقت أجمع مواد البحث من مدونات علمي الأصول والجدل عثرت على مادةٍ علميةٍ نفيسة ، ولكنه اتضح لي فيما بعد أن أكثر هذه المواد عبارةٌ عن جملٍ مقتضبة ،وعباراتٍ دقيقة ،وإشاراتٍ خفيةٍ في جوانب عديدةٍ من هذا الموضوع ، مما كان يستدعي مني التأمل الطويل ،مع التحليل والاستقراء والاستنتاج والتركيب، حتى أظفر بمزيد بيانٍ ووضوحٍ في تلك المسائل وعلائقها بغيرها ، ثم أضعها في موضعها اللائق من هذا البحث.

- التداخل والترابط الكبير بين أجزاء الموضوع ومقدماته ،وعلاقته بالأدلة الشرعية، وتطبيقاته ، مما استدعى كثرة الإحالات إلى متقدمٍ أو متأخر ،والتكرار عند الحاجة إلى ذلك، كتكرار ذكر بعض الأمثلة في مواضع عدةٍ من البحث؛ وذلك لأنه يتجاذبها أكثر من أصل ،ولكل مثالٍ مناسبته التي تليق به من وجهٍ دون آخر ، فلا أجد حينئذٍ بأسا في التكرار؛ إذ المقصود الجانب التأصيلي في تلك المواضع ، لاسيما وأني قد أفردت باباً مستقلاً للتطبيق على موضوع البحث يشتمل على (15) مسألةً معاصرةً من عدة أبوابٍ فقهيةٍ متفرقة.

- جِدَة بعض الموضوعات التي لم أعثر على بحثٍ مفردٍ فيها ، أو إيضاحٍ مقصودٍ يستقل بها ، وهو ما دفعني إلى بذل مزيدٍ من الجهد في التأمل والتحليل والربط والتركيب أكثر من بذل الجهد في جمع المعلومات وتنظيمها ، وذلك مثل موضوع علاقة الاجتهاد في المناط بالأدلة الشرعية المتفق عليها والمختلف فيها.

 

‌‌شكر وتقدير:

في الختام أتقدم بجزيل الشكر والامتنان لشيخي الكريم فضيلة الأستاذ الدكتور /غازي بن مرشد العتيبي الذي أشرف على هذه الرسالة ، وأفادني باستدراكاته الدقيقة، وتنبيهاته النفيسة، وتوجيهاته النيرة ، ومنحني من وقته وجهده -رغم أشغاله العلمية والعملية - ما أسهم في تكميل نواقص البحث ، وتسديد ثغراته، فأسأل الله أن يجزيه خير الجزاء ، وأن يرفع درجاته في عليين إنه سميعٌ قريب.
যখন আমি উসুল (মূলনীতি) এবং জাদল (তর্কশাস্ত্র) সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ থেকে গবেষণার উপকরণসমূহ সংগ্রহ করতে শুরু করলাম, তখন আমি অত্যন্ত মূল্যবান কিছু ইলমি উপকরণের সন্ধান পেলাম। তবে পরবর্তীতে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হলো যে, এই উপকরণগুলোর অধিকাংশ ছিল অতি সংক্ষিপ্ত বাক্য, সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি এবং এই প্রসঙ্গের নানাবিধ বিষয়ে অস্পষ্ট কিছু ইঙ্গিত মাত্র। এ কারণে সেই মাসআলাগুলো এবং অন্যান্য বিষয়ের সাথে এগুলোর আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে অধিকতর স্পষ্ট বর্ণনা ও স্বচ্ছতা লাভের জন্য আমাকে দীর্ঘ চিন্তা-গবেষণা, বিশ্লেষণ, আরোহ পদ্ধতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বয়ের আশ্রয় নিতে হয়েছে; যাতে আমি সেগুলোকে এই গবেষণার উপযুক্ত স্থানে বিন্যস্ত করতে পারি।

আলোচ্য বিষয়ের বিভিন্ন অংশ ও এর উপক্রমণিকাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সংমিশ্রণ ও গভীর সংযোগ এবং শরয়ি দলিলের সাথে এর সম্পর্ক ও প্রয়োগের কারণে পূর্বাপর প্রসঙ্গের অসংখ্য উদ্ধৃতি প্রদানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনের খাতিরে বিষয়বস্তুর পুনরাবৃত্তি করতে হয়েছে; যেমন গবেষণার বিভিন্ন স্থানে কিছু উদাহরণের একাধিকবার উল্লেখ। কারণ একটি উদাহরণ একাধিক মূলনীতির সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে এবং প্রতিটি উদাহরণের এমন কিছু প্রাসঙ্গিক দিক থাকে যা অন্য দিক থেকে ভিন্ন। এমতাবস্থায় আমি পুনরাবৃত্তির মধ্যে কোনো দোষ দেখি না; যেহেতু সেই স্থানগুলোতে মূল উদ্দেশ্য হলো মূলনীতিগত দিকটি ফুটিয়ে তোলা। বিশেষ করে যখন আমি এই গবেষণার বিষয়বস্তু প্রয়োগের জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় বরাদ্দ করেছি, যার মধ্যে বিভিন্ন ফিকহি অধ্যায় থেকে সংগৃহীত ১৫টি সমকালীন মাসআলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এমন কিছু বিষয়ের অভিনবত্ব যেগুলোর ওপর আমি কোনো স্বতন্ত্র গবেষণা কিংবা সেগুলোকে ব্যাখ্যা করার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট আলোচনা খুঁজে পাইনি। আর এটিই আমাকে তথ্য সংগ্রহ ও বিন্যাস করার চেয়ে চিন্তা-ভাবনা, বিশ্লেষণ, সংযোগ স্থাপন ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে অধিক শ্রম দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, 'মানাত' (বিধানের ভিত্তি)-এর ক্ষেত্রে ইজতিহাদের সাথে সর্বসম্মত ও মতভেদপূর্ণ শরয়ি দলিলসমূহের সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।

 

‌‌কৃতজ্ঞতা স্বীকার:

পরিশেষে, আমি আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ফযীলাতুশ শায়খ প্রফেসর ডক্টর গাজী ইবনে মুরশিদ আল-উতাইবি-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি, যিনি এই অভিসন্দর্ভটির তত্ত্বাবধান করেছেন। তিনি তাঁর সূক্ষ্ম সংশোধন, মূল্যবান সতর্কতা এবং উজ্জ্বল দিকনির্দেশনার মাধ্যমে আমাকে উপকৃত করেছেন। তাঁর নানাবিধ ইলমি ও দাপ্তরিক ব্যস্ততা সত্ত্বেও তিনি আমাকে তাঁর মূল্যবান সময় ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, যা এই গবেষণার অপূর্ণতাগুলো কাটাতে এবং ত্রুটিসমূহ দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং ইল্লিয়্যিনে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও অতি নিকটে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
كما لا يفوتني أن أتقدم بالشكر الجزيل إلى جامعة أم القرى منارة العلم في مهبط الوحي ، وأخصّ بالشكر والتقدير كلية الشريعة والدراسات الإسلامية التي يبذل المخلصون فيها وسعهم لبث علوم الشريعة وتأصيلها، وتخريج الكفاءات العلمية المتميزة ، من خلال برامج الدراسات العليا المختلفة ، فجزاهم الله خير الجزاء على ذلك ، وبارك في أوقاتهم وجهودهم ، إنه سميعٌ مجيب.

وأخيرا - كما هو أولاً- أحمد الله تبارك وتعالى حمداً كثيراً يليق بجلاله وكماله على ما أنعم به علي من نعمٍ جليلة ، ومنها إتمام هذا البحث ،فالحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات ،ثم إني أسأله جل في علاه أن يتقبل مني هذا العمل ، وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم ، وأن يعفو عني الزلل فيه ، ويجبر الناقص منه ، وأن يجعله مكمِّلاً لغيره من جهود إخواني الباحثين في بث علوم الشريعة وتحريرها ، إنه ولي ذلك والقادر عليه.

وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد ،وعلى آله ،وصحبه أجمعين ، ومن تبعهم بإحسانٍ إلى يوم الدين.
সেই সাথে আমি ওহী অবতরণের স্থানে জ্ঞানের বাতিঘর উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি শরীয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদকে, যেখানে একনিষ্ঠ ব্যক্তিগণ শরীয়াহর জ্ঞান প্রচার ও তার ভিত্তি সুসংহত করতে এবং বিভিন্ন উচ্চতর শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অসামান্য যোগ্যতাসম্পন্ন আলেম তৈরির লক্ষ্যে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করে যাচ্ছেন। আল্লাহ তাদেরকে এর সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং তাদের সময় ও পরিশ্রমে বরকত দান করুন; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও কবুলকারী।

সবশেষে—যেমনটি ছিল শুরুতে—আমি বরকতময় মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি তাঁর মাহাত্ম্য ও পূর্ণতার উপযোগী অজস্র প্রশংসায়, তিনি আমাকে যেসব মহান নেয়ামত দান করেছেন তার ওপর, যার একটি হলো এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে পারা। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর অনুগ্রহে ভালো কাজগুলো পূর্ণতা পায়। এরপর আমি তাঁর সুউচ্চ সত্তার নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমার এই আমল কবুল করেন, একে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত হিসেবে গণ্য করেন, এর ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন, এর অসম্পূর্ণতাগুলো পূর্ণ করে দেন এবং শরীয়াহর জ্ঞান প্রচার ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমার গবেষক ভাইদের প্রচেষ্টার পরিপূরক হিসেবে একে কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।

আর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে—তাদের সকলের ওপর।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌تمهيد

تعريف الاجتهاد في المناط، وبيان أنواعه، وأوجه الجمع والفرق بينهما

ويشتمل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: تعريف الاجتهاد لغةً واصطلاحاً.

المبحث الثاني: تعريف المناط لغةً واصطلاحاً.

المبحث الثالث: تعريف الاجتهاد في المناط، وبيان أنواعه.

المبحث الرابع: أوجه الجمع والفرق بين أنواع الاجتهاد في المناط.
ভূমিকা

মানাত (ভিত্তি)-এর ক্ষেত্রে ইজতিহাদের সংজ্ঞা, এর প্রকারভেদ বর্ণনা এবং সেগুলোর মধ্যকার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের দিকসমূহ

এটি চারটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ইজতিহাদের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে মানাত-এর সংজ্ঞা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মানাত-এর ক্ষেত্রে ইজতিহাদের সংজ্ঞা এবং এর প্রকারভেদ বর্ণনা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মানাত-এর ক্ষেত্রে ইজতিহাদের প্রকারগুলোর মধ্যকার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের দিকসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
المبحث الأول

تعريف الاجتهاد لغةً واصطلاحاً

ويشتمل على ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: تعريف الاجتهاد لغةً.

المطلب الثاني: تعريف الاجتهاد اصطلاحاً.

المطلب الثالث: وجه المناسبة بين التعريف اللغوي والاصطلاحي.
প্রথম পরিচ্ছেদ

শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে ইজতিহাদ-এর সংজ্ঞা

এটি তিনটি প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত:

প্রথম প্রসঙ্গ: শাব্দিক অর্থে ইজতিহাদ-এর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় প্রসঙ্গ: পারিভাষিক অর্থে ইজতিহাদ-এর সংজ্ঞা।

তৃতীয় প্রসঙ্গ: শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞার মধ্যকার সামঞ্জস্যের দিক।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المبحث الأول

تعريف الاجتهاد لغةً واصطلاحاً

سأتناول في هذا المبحث تعريف الاجتهاد في اللغة، وتعريفه في اصطلاح الأصوليين، وبيان وجه المناسبة بين التعريف اللغوي والاصطلاحي، وذلك من خلال ثلاثة مطالب:

 

‌‌المطلب الأول: تعريف الاجتهاد لغةً.

تكاد تتفق المعاجم اللغوية على أن لفظ"الاجتهاد" مشتقٌ من مادة (جـ هـ د)، وتُطْلَق على: بذل الوسع والطاقة، وبلوغ الغاية في الطلب، وتحمُّل المشقة (1).

قال الله تعالى: {وَالَّذِينَ لَا يَجِدُونَ إِلَّا جُهْدَهُمْ} [التوبة: 79]، أي: طاقتهم (2).

ويقال: جَهَدَ دابته وأجْهَدها، إذا حمل عليها في السير فوق طاقتها (3).

والجهد (بالفتح والضم): الطاقة والوسع، وقيل (بالفتح): المشقة، و (بالضم): الوسع والطاقة (4).

--------------------------------------------

(1) ينظر: الصحاح (2/ 460 - 461)، معجم مقاييس اللغة (1/ 486 - 487)، لسان العرب (3/ 223 - 225)،

تاج العروس (2/ 329 - 330) " مادة: جـ هـ د ".

(2) ينظر: المفردات في غريب القرآن للأصفهاني (208)، معاني القرآن وإعرابه للزجاج (2/ 284)، "مادة: جـ هـ د".

(3) ينظر: الصحاح (2/ 460) "مادة: جـ هـ د".

(4) ينظر: تاج العروس (2/ 329) "مادة: جـ هـ د".
প্রথম পরিচ্ছেদ

আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞায় ইজতিহাদ

আমি এই পরিচ্ছেদে আভিধানিক অর্থে ইজতিহাদের সংজ্ঞা, উসুলবিদদের পরিভাষায় এর সংজ্ঞা এবং আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞার মধ্যকার সামঞ্জস্যের দিকটি তিনটি প্রসঙ্গের মাধ্যমে আলোচনা করব:

 

‌প্রথম প্রসঙ্গ: আভিধানিক অর্থে ইজতিহাদের সংজ্ঞা.

ভাষাতাত্ত্বিক অভিধানগুলো প্রায় একমত যে, "ইজতিহাদ" শব্দটি (জ-হ-দ) মূলধাতু থেকে উদ্ভূত, এবং এটি ব্যবহৃত হয়: সাধ্য ও সামর্থ্য ব্যয় করা, কোনো কিছু অন্বেষণে চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছানো এবং কষ্ট সহ্য করার ক্ষেত্রে (১)।

মহান আল্লাহ বলেন: {এবং যারা তাদের শ্রম (সামর্থ্য) ব্যতিরেকে কিছুই পায় না} [আত-তাওবাহ: ৭৯], অর্থাৎ: তাদের সামর্থ্য (২)।

বলা হয়ে থাকে: সে তার বাহনকে ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত করেছে, যখন সে সেটিকে তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত পথ চলতে বাধ্য করে (৩)।

আর আল-জাহদ ও আল-জুহদ (যবর ও পেশ যোগে): সামর্থ্য ও সাধ্য; আবার বলা হয়েছে (যবর যোগে): কষ্ট, আর (পেশ যোগে): সাধ্য ও সামর্থ্য (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আস-সিহাহ (২/ ৪৬০ - ৪৬১), মু'জাম মাকায়িস আল-লুগাহ (১/ ৪৮৬ - ৪৮৭), লিসান আল-আরব (৩/ ২২৩ - ২২৫),

তাজ আল-আরুস (২/ ৩২৯ - ৩৩০) "মূলধাতু: জ-হ-দ"।

(২) দেখুন: আল-আসফাহানি প্রণীত আল-মুফরাদাত ফি গারিবিল কুরআন (২০৮), আয-যাজ্জাজ প্রণীত মা'আনিল কুরআন ওয়া ইরাবিহ (২/ ২৮৪), "মূলধাতু: জ-হ-দ"।

(৩) দেখুন: আস-সিহাহ (২/ ৪৬০) "মূলধাতু: জ-হ-দ"।

(৪) দেখুন: তাজ আল-আরুস (২/ ৩২৯) "মূলধাতু: জ-হ-দ"।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وقيل: الجُهْدُ (بالضم) لغة أهل الحجاز، و (بالفتح) لغة غيرهم (1).

ومن خلال االنظر في أهم الاستعمالات اللغوية للفظ " الاجتهاد " يمكن تقرير ما يأتي:

أولاً: أن لفظ " الاجتهاد " في اللغة يدور على معنى بذل الوسع والطاقة في طلب الأمر، وتحمُّل المشقة من أجل الوصول له.

ثانياً: أن لفظ " الاجتهاد " في اللغة لا يُطْلَق إلا على مَنْ بذل الوسْعَ في تحصيل ما فيه كلفةٌ ومشقة، ومن طلب أمراً دون أن يتحمَّل في طلبه مشقةً فإنه لا يكون مجتهِداً فيه.

قال الغزالي (2): " وهو - أي: الاجتهاد في اللغة -: عبارةٌ عن بذل المجهود واستفراغ الوسع في فعلٍ من الأفعال، ولا يُسْتَعْمَلُ إلا فيما فيه كلفةٌ وجهد، فيقال: اجتهد في حمل حجر الرَّحا، ولا يقال: اجتهد في حمل خردلة " (3).

وقال الشوكاني (4): " هو في اللغة مأخوذٌ من الجهد وهو المشقة والطاقة، فيختصُّ بما فيه مشقةٌ لِيُخْرِجَ عنه ما لا مشقةَ فيه " (5).

ثالثاً: أن لفظ " الاجتهاد " كما يُسْتَعْمَلُ لغةً في الأمور الحسيَّة كبذل الوسع في حمل الحجر الثقيل فإنه يُسْتَعْمَلُ - أيضاً- في الأمور المعنوية كبذل الوسع في اجتهاد الرأي، ومنه قول معاذ بن جبلٍ (6) رضي الله عنه: " اجتهد رأيي " (7).

--------------------------------------------

(1) ينظر: المصباح المنير (43) " مادة: جـ هـ د".

(2) هو: أبو حامد محمد بن محمد الغزالي الطوسي الشافعي، الملقب بحجة الإسلام، أصولي فيلسوف، وفقيه متكلم، من أنجب تلاميذ إمام الحرمين الجويني، شهرته في الفقه وأصوله، وفي التصوف والسلوك تغني عن الإطناب، له في الأصول: المستصفى (ط)، والمنخول (ط)، وشفاء الغليل (ط)، وأساس القياس (ط)، وفي الفقه: الوجيز (ط)، والوسيط (ط)، وفي التصوف والسلوك: إحياء علوم الدين (ط)، وغيرها، توفي سنة (505 هـ).

ينظر ترجمته في: طبقات الشافعية الكبرى لابن السبكي (6/ 191)، طبقات الشافعية للإسنوي (2/ 242)، الأعلام للزركلي (2/ 242).

(3) المستصفى: (4/ 4).

(4) هو: أبو عبدالله محمد بن علي الشوكاني الخولاني، ثم الصنعاني، ولد بهجرة شوكان باليمن، ونشأ بصنعاء، قرأ على والده وكثيرِ من علماء بلده، عالمٌ محقق، أتقن جملةً من العلوم، من مؤلفاته: فتح القدير (ط) في التفسير، ونيل الأوطار شرح منتقى الأخبار (ط)، وإرشاد الفحول (ط) في أصول الفقه، توفي سنة (1250 هـ).

ينظر في ترجمته: البدر الطالع (2/ 214)، الأعلام للزركلي (6/ 298).

(5) إرشاد الفحول: (2/ 715).

(6) هو: معاذ بن جبل بن عمرو بن أوس الأنصاري، صحابيٌّ جليل، شهد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم غزواته، من علماء الصحابة المشهورين، ومن أعلمهم بالحلال والحرام، بعثه النبي صلى الله عليه وسلم معلماً لأهل اليمن، توفي سنة (18 هـ).

ينظر ترجمته في: سير أعلام النبلاء (1/ 443)، الإصابة (3/ 426 - 427)، الأعلام للزركلي (7/ 258).

(7) أخرجه أحمد في " مسنده "، رقم (22357)، وأبو داود في " سننه "، كتاب الأقضية، باب اجتهاد الرأي في القضاء، رقم (3592)، والترمذي في " جامعه "، كتاب الأحكام، باب ما جاء في القاضي كيف يقضي برقم (1327)، وصححه: الخطيب البغدادي في الفقيه والمتفقه (1/ 472)، وابن عبدالبر في جامع بيان العلم (2/ 894)، وابن القيم في أعلام الموقعين (2/ 354) وهو من الأحاديث التي تلقتها الأمة بالقبول.
বলা হয়েছে: 'জুহদ' (পেশ সহযোগে) হিজাজবাসীদের ভাষা, আর 'জাহদ' (জবর সহযোগে) অন্যদের ভাষা (১)।

"ইজতিহাদ" শব্দের প্রধান ভাষাগত ব্যবহারগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নির্ধারণ করা সম্ভব:

প্রথমত: ভাষাগতভাবে "ইজতিহাদ" শব্দটি কোনো বিষয় অন্বেষণে সামর্থ্য ও শক্তি ব্যয় করা এবং তা অর্জনের জন্য কষ্ট সহ্য করার অর্থের ওপর আবর্তিত হয়।

দ্বিতীয়ত: ভাষাগতভাবে "ইজতিহাদ" শব্দটি কেবল তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়, যে কোনো কষ্টসাধ্য ও শ্রমসাধ্য বিষয় অর্জনে সামর্থ্য ব্যয় করে। যে ব্যক্তি কোনো কষ্ট সহ্য না করেই কিছু অন্বেষণ করে, তাকে সেই বিষয়ে "মুজতাহিদ" বলা হয় না।

গাযালী (২) বলেন: "আর এটি—অর্থাৎ ভাষাগতভাবে ইজতিহাদ—হলো কোনো কাজে প্রচেষ্টা ব্যয় করা এবং পূর্ণ সামর্থ্য ঢেলে দেওয়া; এটি কেবল এমন বিষয়ে ব্যবহৃত হয় যাতে কষ্ট ও শ্রম রয়েছে। তাই বলা হয়: সে যাঁতাকল বহনে ইজতিহাদ (প্রচেষ্টা) করেছে, কিন্তু বলা হয় না: সে সরিষার দানা বহনে ইজতিহাদ করেছে" (৩)।

শাওকানী (৪) বলেন: "এটি ভাষাগতভাবে 'জুহদ' থেকে গৃহীত, যার অর্থ কষ্ট ও সামর্থ্য। ফলে এটি সেই বিষয়ের সাথে খাস (নির্দিষ্ট) যাতে কষ্ট রয়েছে, যাতে এমন বিষয়সমূহ বের হয়ে যায় যাতে কোনো কষ্ট নেই" (৫)।

তৃতীয়ত: "ইজতিহাদ" শব্দটি যেমন ভাষাগতভাবে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ে ব্যবহৃত হয় (যেমন ভারী পাথর বহনে সামর্থ্য ব্যয় করা), তেমনি এটি বিমূর্ত বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়েও ব্যবহৃত হয় (যেমন মত প্রদানের ক্ষেত্রে চিন্তা-গবেষণায় সামর্থ্য ব্যয় করা)। এ থেকেই মু'আয ইবনে জাবাল (৬) রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি: "আমি আমার মতের ইজতিহাদ করব" (৭)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-মিসবাহুল মুনীর (৪৩), "মাদ্দাহ: জী-হা-দাল"।

(২) তিনি হলেন: আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাযালী আত-তুসী আশ-শাফিঈ, 'হুজ্জাতুল ইসলাম' উপাধিতে ভূষিত। তিনি একজন উসূলবিদ, দার্শনিক, ফকীহ এবং কালামশাস্ত্রবিদ। তিনি ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনীর অন্যতম মেধাবী ছাত্র। ফিকহ ও উসূলে ফিকহ এবং তাসাউফ ও আত্মশুদ্ধিতে তাঁর খ্যাতি বর্ণনাতীত। উসূলে ফিকহে তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ: আল-মুস্তাসফা (মুদ্রিত), আল-মানখুল (মুদ্রিত), শিফাউল গালীল (মুদ্রিত), আসাসুল কিয়াস (মুদ্রিত); ফিকহ শাস্ত্রে: আল-ওয়াজীজ (মুদ্রিত), আল-ওয়াসীত (মুদ্রিত); এবং তাসাউফ ও আত্মশুদ্ধিতে: ইহয়াউ উলুমিদ্দীন (মুদ্রিত) ইত্যাদি। তিনি ৫০৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: ইবনে সুবকী রচিত তবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা (৬/১৯১), ইসনাভী রচিত তবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ (২/২৪২), যিরিকলী রচিত আল-আ'লাম (২/২৪২)।

(৩) আল-মুস্তাসফা: (৪/৪)।

(৪) তিনি হলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শাওকানী আল-خাওলানী, অতপর আস-সানআনী। তিনি ইয়ামানের শাওকান নামক জনপদে জন্মগ্রহণ করেন এবং সানআয় বেড়ে ওঠেন। তিনি তাঁর পিতা ও স্বদেশের বহু আলেমের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। তিনি একজন বিজ্ঞ ও মুহাক্কিক আলেম ছিলেন এবং বেশ কিছু শাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জন করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: তাফসীর শাস্ত্রে ফাতহুল কাদীর (মুদ্রিত), মুনতাকাল আখবার-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ নাইলুল আওতার (মুদ্রিত), উসূলে ফিকহে ইরশাদুল ফুহুল (মুদ্রিত)। তিনি ১২৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: আল-বদরুত তালি' (২/২১৪), আল-আ'লাম লিজ যিরিকলী (৬/২৯৮)।

(৫) ইরশাদুল ফুহুল: (২/৭১৫)।

(৬) তিনি হলেন: মু'আয ইবনে জাবাল ইবনে আমর ইবনে আওস আল-আনসারী। তিনি একজন সম্মানিত সাহাবী, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে প্রসিদ্ধ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত এবং হালাল-হারাম বিষয়ে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইয়ামানের অধিবাসীদের শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি ১৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১/৪৪৩), আল-ইসাবাহ (৩/৪২৬-৪২৭), আল-আ'লাম লিজ যিরিকলী (৭/২৫৮)।

(৭) এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ তাঁর 'মুসনাদ'-এ, নং (২২৩৫৭); আবু দাউদ তাঁর 'সুনান'-এ, বিচার অধ্যায়, বিচারকার্যে রায়ের ইজতিহাদ অনুচ্ছেদ, নং (৩৫৯২); তিরমিযী তাঁর 'জামে'-তে, আহকাম অধ্যায়, কাযী কীভাবে বিচার করবেন অনুচ্ছেদ, নং (১৩২৭)। এটিকে সহীহ বলেছেন: খতীব বাগদাদী 'আল-ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ' গ্রন্থে (১/৪৭২), ইবনে আব্দুল বার 'জামেউ বায়ানিল ইলম' গ্রন্থে (২/৮৯৪), এবং ইবনুল কায়্যিম 'আ'লামুল মুয়াক্কিঈন' গ্রন্থে (২/৩৫৪)। এটি এমন একটি হাদীস যা উম্মাহ সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
رابعاً: أن لفظ " الاجتهاد " على وزن " افتعال "، وهذه الصيغة تدل على المبالغة واستفراغ ما في الوسع والطاقة من قولٍ أو فعلٍ لتحصيل أمرٍ من الأمور.

 

‌‌المطلب الثاني: تعريف الاجتهاد اصطلاحاً.

تعدَّدت واختلفت تعريفات الأصوليين للاجتهاد، وحاصل ذلك التعدد والاختلاف يرجع - غالباً - إلى اختلافهم في نوع المجتهَد فيه: هل يشمل القطعيات والظينات أو ينحصر في الظينات دون القطعيات؟

فالقائلون بأنه يشمل القطعي والظني عرَّفوا الاجتهاد وقيدوه بما يفيد العلم الذي هو: مُطْلَق الإدراك الشامل للقطع والظن؛ باعتبار أن الأحكام الثابتة بالاجتهاد منها ما هو قطعي، ومنها ما هو ظنِّي.

ومن تلك التعريفات:

- تعريف الغزالي، وهو: " بَذْلُ المجتهدِ وُسْعَهُ في طلب العلم بأحكام الشرع " (1).

- وتعريف ابن قدامة (2)، وهو: " بذل المجهود في العلم بأحكام الشرع" (3).

- وتعريف علاء الدين البخاري (4) وهو: " بذل المجهود في طلب

العلم بأحكام الشرع " (5).

وقد نصَّ بعض العلماء - من أصحاب هذا الاتجاه - في تعريف " الاجتهاد " على قيد " القطع " و"الظن"، وهو تصريحٌ منهم بدخول الأحكام القطعية والظنية في التعريف.

--------------------------------------------

(1) المستصفى: (4/ 4).

(2) هو: أبو محمد موفق الدين عبدالله بن أحمد بن قدامة الجمَّاعيلي المقدسي ثم الدمشقي الحنبلي، كان فقيهاً وَرِعاً زاهداً، من أئمة المذهب الحنبلي في زمانه، من مؤلفاته: المغني (ط)، والكافي (ط)، والعدة (ط) في الفقه، وروضة الناظر (ط) في أصول الفقه، وغيرها، توفي في دمشق سنة (620 هـ).

ينظر ترجمته في: ذيل طبقات الحنابلة (2/ 133)، شذرات الذهب (7/ 155)، الأعلام للزركلي (4/ 67).

(3) روضة الناظر: (3/ 959).

(4) هو: عبدالعزيز بن أحمد بن محمد، علاء الدين البخاري، فقيهٌ حنفي، أصوليُّ، من مؤلفاته: كشف الأسرار شرح فيه أصول البزدوي (ط)، وغاية التحقيق شرح فيه أصول الأخسيكثي (ط)، توفي سنة (730 هـ).

ينظر ترجمته في: الجواهر المضيئة في طبقات الحنفية (1/ 317)، تاج التراجم في طبقات الحنفية لابن قطلوبغا، (35)، الأعلام للزركلي (4/ 13).

(5) كشف الأسرار: (4/ 26).
চতুর্থত: "ইজতিহাদ" শব্দটি "ইফতি'আল" ছাঁচে গঠিত, আর এই রূপটি কোনো বিষয় হাসিলের জন্য কথা বা কাজের মাধ্যমে নিজের সামর্থ্য ও শক্তির চূড়ান্ত ব্যয় এবং অতিশায়নকে নির্দেশ করে।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পারিভাষিক সংজ্ঞায় ইজতিহাদ.

ইজতিহাদ সম্পর্কে উসুলবিদগণের সংজ্ঞাসমূহ বহুমুখী ও ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। এই বহুত্ব ও পার্থক্যের সারমর্ম মূলত ইজতিহাদ করার বিষয়ের (মুজতাহাদ ফিহি) ভিন্নতার দিকে ফিরে যায়: এটি কি নিশ্চিত বিষয় (কাত'ইয়াত) এবং ধারণাভিত্তিক বিষয় (জান্নিয়াত) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, নাকি নিশ্চিত বিষয় ব্যতীত কেবল ধারণাভিত্তিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ?

সুতরাং যারা মনে করেন এটি নিশ্চিত এবং ধারণাভিত্তিক উভয় বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, তারা ইজতিহাদের সংজ্ঞায় এমন শর্তারোপ করেছেন যা ইলম বা জ্ঞান প্রদান করে, যা হলো: এমন এক নিরঙ্কুশ উপলব্ধি যা নিশ্চিত ও ধারণাভিত্তিক উভয় বিষয়কেই শামিল করে; এই বিবেচনায় যে, ইজতিহাদের মাধ্যমে প্রমাণিত বিধানসমূহের কিছু অংশ নিশ্চিত এবং কিছু অংশ ধারণাভিত্তিক।

সে সকল সংজ্ঞার মধ্যে রয়েছে:

- গাজালির সংজ্ঞা: "শরিয়তের বিধানাবলির জ্ঞান অন্বেষণে মুজতাহিদের পক্ষ থেকে তার চূড়ান্ত সামর্থ্য ব্যয় করা" (১)।

- এবং ইবনে কুদামার সংজ্ঞা (২): "শরিয়তের বিধানাবলির জ্ঞান অর্জনে প্রচেষ্টা ব্যয় করা" (৩)।

- এবং আলাউদ্দিন বুখারির সংজ্ঞা (৪): "শরিয়তের বিধানাবলির জ্ঞান অন্বেষণে প্রচেষ্টা ব্যয় করা" (৫)।

এই মতের অনুসারী কোনো কোনো আলিম "ইজতিহাদ" এর সংজ্ঞায় "নিশ্চয়তা" ও "ধারণা" এর শর্ত স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন। এটি তাদের পক্ষ থেকে সংজ্ঞার মধ্যে নিশ্চিত এবং ধারণাভিত্তিক উভয় প্রকার বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকারই একটি দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা।

--------------------------------------------

(১) আল-মুসতাসফা: (৪/ ৪)।

(২) তিনি হলেন: আবু মুহাম্মদ মুওয়াফফাকুদ্দিন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে কুদামা আল-জাম্মাঈলি আল-মাকদিসি অতঃপর আল-দামেশকি আল-হাম্বলি। তিনি একজন পরহেজগার ও জাহিদ ফকিহ ছিলেন এবং তিনি তার সময়ের হাম্বলি মাযহাবের অন্যতম ইমাম। তার গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: আল-মুগনি, আল-কাফি, আল-উদ্দাহ (ফিকহ শাস্ত্রে) এবং রাওদাতুন নাজির (উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে) ইত্যাদি। তিনি ৬২০ হিজরি সনে দামেশকে ইন্তেকাল করেন।

তার জীবনী দেখুন: যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/ ১৩৩), শাযারাতুয যাহাব (৭/ ১৫৫), আল-আ'লাম লিয যিরিকলি (৪/ ৬৭)।

(৩) রাওদাতুন নাজির: (৩/ ৯৫৯)।

(৪) তিনি হলেন: আব্দুল আজিজ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ, আলাউদ্দিন বুখারি। তিনি হানাফি ফকিহ ও উসুলবিদ ছিলেন। তার গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: কাশফুল আসরার - যাতে তিনি উসুলুল বাযদাবীর ব্যাখ্যা করেছেন, এবং গায়াতুত তাহকীক - যাতে তিনি উসুলুল আখসিকাথির ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি ৭৩০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

তার জীবনী দেখুন: আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ ফি তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ (১/ ৩১৭), তাজাত তারাজিম ফি তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ লি ইবনি কুতলুবুগা (৩৫), আল-আ'লাম লিয যিরিকলি (৪/ ১৩)।

(৫) কাশফুল আসরার: (৪/ ২৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
ومن تلك التعريفات:

- تعريف الشاطبي (1)،

وهو: " استفراغ الوسع لتحصيل العلم أو الظنِّ بالحُكْم " (2).

- وتعريف ابن الهمام الحنفي (3)، وهو: " بذل الطاقة من الفقيه في تحصيل حُكْمٍ شرعيٍّ عقلياً كان أو نقلياً قطعياً كان أو ظنياً " (4).

بينما بعض العلماء أطلق العبارة، ولم ينصّ في تعريف"الاجتهاد "على قيد "القطع" أو "الظن"، وهو إطلاقٌ قد يفيد -ظاهراً- دخول الأحكام القطعية والظنية في التعريف.

ومن تلك التعريفات:

- تعريف البيضاوي (5)، وهو: "استفراغ الجهد في درك الأحكام الشرعية" (6).

أما القائلون بأن الاجتهاد محلُّه الظينات لا القطعيات، فقد عرَّفوا الاجتهاد وقيَّدوه بما لا يلحق المجتهد فيه لومٌ مع استفراغ الوسع فيه أو بما يفيد الظن؛ وذلك باعتبار أن الأحكام الثابتة بالاجتهاد ظنيةٌ غالباً.

ومن تلك التعريفات:

- تعريف الرازي (7)، وهو: "استفراغ الوسع في النظر فيما لايلحقه فيه لومٌ مع استفراغ الوسع فيه" (8).

حيث قال -بعد أن ساق التعريف-: "وهذا سبيل مسائل الفروع، ولذلك تُسمَّى هذه المسائل مسائل الاجتهاد، والناظر فيها مجتهداً" (9).

- وتعريف الآمدي (10)، وهو: "استفراغ الوسع في طلب الظنِّ بشيءٍ من الأحكام الشرعيَّة على وجهٍ يُحِسُّ من النفس العجزَ عن المزيد" (11).

--------------------------------------------

(1) هو: أبو إسحاق إبراهيم بن موسى اللخمي الغرناطي، الشاطبي، عالمٌ مجتهدٌ أصولي، من أئمة المالكية في زمانه، من مؤلفاته: الموافقات في أصول الشريعة (ط)، والاعتصام (ط) في ذم البدع، والإفادات والإنشادات (ط)، وغيرها، توفي سنة (790 هـ).

 

ينظر ترجمته في: دُرَّةْ الحِجَال (1/ 182) نيل الابتهاج (1/ 33)، الأعلام للزركلي (1/ 75).

(2) الموافقات: (5/ 51).

(3) هو: محمد بن عبدالواحد بن عبدالحميد بن مسعود السيواس ثم الإسكندري، كمال الدين، المعروف بابن الهمام، من فقهاء الحنفية، من مؤلفاته: التحرير في أصول الفقه (ط)، وفتح القدير (ط) في الفقه، وزاد الفقير (ط) في الفقه، توفي سنة (861 هـ).

ينظر ترجمته في: الجواهر المضيئة في طبقات الحنفية (2/ 86)، الفوائد البهية (180)، الأعلام للزركلي (6/ 255).

(4) التحرير في أصول الفقه مع شرحه التيسير: (4/ 178).

(5) هو: عبدالله بن عمر بن محمد الشيرازي البيضاوي الشافعي، فقيهٌ أصوليٌّ متكلمٌ مفسِّر، من كبار فقهاء الشافعية، من مؤلفاته: منهاج الوصول (ط) في أصول الفقه، أنوار التنزيل (ط) في التفسير، وغيرهما، توفي سنة (691 هـ).

ينظر ترجمته في: طبقات الشافعية الكبرى لابن السبكي (8/ 157)، طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة (2/ 272)، الأعلام للزركلي (4/ 110).

(6) منهاج الوصول: (247).

(7) هو: أبو عبدالله محمد بن عمر بن الحق بن الحسين التميمي البكري، فخر الدين الرازي، ويقال له: ابن خطيب الرّي، قرشي النسب، عالمٌ باللغة والفقه والأصول والتفسير، شافعي المذهب، من مؤلفاته: المحصول في الأصول (ط)، والمعالم في الأصول (ط)، ومفاتيح الغيب (ط) في التفسير، وغيرها، توفي بهراة سنة (606 هـ).

ينظر ترجمته في: طبقات الشافعية الكبرى (8/ 81)، شذرات الذهب (7/ 40)، الأعلام للزركلي (6/ 313).

(8) المحصول: (6/ 6).

(9) المرجع السابق.

(10) هو: أبو الحسن علي بن أبي علي بن محمد بن سالم التغلبي، سيف الدين، الآمدي، من كبار الأصوليين المتكلمين، كان حنبلياً ثم انتقل إلى مذهب الشافعي، من مؤلفاته: الإحكام في أصول الأحكام (ط)، والمبين في شرح معاني الحكماء والمتكلمين (ط)، توفي بدمشق سنة (631 هـ).

ينظر ترجمته في: طبقات الشافعية الكبرى لابن السبكي (8/ 306)، طبقات الشافعية للإسنوي (1/ 137)، الأعلام للزركلي (4/ 332).

(11) الإحكام: (4/ 197).
সেই সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

- শাতীবীর সংজ্ঞা (১),

তা হলো: "বিধান সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান বা প্রবল ধারণা অর্জনের জন্য সামর্থ্যের সবটুকু বিলিয়ে দেওয়া" (২)।

- এবং ইবনুল হুমাম আল-হানাফীর সংজ্ঞা (৩), যা হলো: "শারঈ বিধান অর্জনে একজন ফকীহ কর্তৃক পূর্ণ শক্তি ব্যয় করা, চাই তা যৌক্তিক হোক বা বর্ণনাভিত্তিক, অকাট্য হোক বা ধারণাপ্রসূত" (৪)।

আবার কিছু আলেম বিষয়টি সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন এবং ‘ইজতিহাদ’-এর সংজ্ঞায় ‘অকাট্য’ বা ‘ধারণাপ্রসূত’ হওয়ার শর্তারোপ করেননি; যা বাহ্যিকভাবে অকাট্য ও ধারণাপ্রসূত উভয় প্রকার বিধানই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে নির্দেশ করে।

সেই সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

- বায়দাবীর সংজ্ঞা (৫), যা হলো: "শারঈ বিধানসমূহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা" (৬)।

পক্ষান্তরে যারা মনে করেন যে ইজতিহাদের ক্ষেত্র কেবল ধারণাপ্রসূত বিষয়সমূহ, অকাট্য বিষয় নয়, তারা ইজতিহাদের সংজ্ঞাকে এমন বিষয়ের সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন যেখানে সামর্থ্য ব্যয়ের পর মুজতাহিদকে কোনো প্রকার তিরস্কার করা যায় না অথবা যা প্রবল ধারণার উদ্রেক করে; এর কারণ হলো, ইজতিহাদের মাধ্যমে প্রমাণিত বিধানসমূহ সাধারণত ধারণাপ্রসূত হয়ে থাকে।

সেই সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

- রাজীর সংজ্ঞা (৭), যা হলো: "এমন বিষয়ে পর্যালোচনায় সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করা যেখানে সামর্থ্য ব্যয়ের পর কোনো প্রকার তিরস্কার করা হয় না" (৮)।

যেখানে তিনি সংজ্ঞাটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: "আর এটিই হলো শাখা-প্রশাখার মাসআলাসমূহের পথ, তাই এই মাসআলাগুলোকে ‘ইজতিহাদি মাসআলা’ এবং এর পর্যালোচনাকারীকে ‘মুজতাহিদ’ বলা হয়" (৯)।

- এবং আমেদীর সংজ্ঞা (১০), যা হলো: "শারঈ বিধানসমূহের কোনো একটির ব্যাপারে প্রবল ধারণা অর্জনে এমনভাবে সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করা, যাতে ব্যক্তি নিজের মধ্যে এর অতিরিক্ত প্রচেষ্টার ব্যাপারে অক্ষমতা অনুভব করে" (১১)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুসা আল-লাখমি আল-গারনাতি, আশ-শাতীবী। একজন মুজতাহিদ আصولী (মূলনীতিশাস্ত্রবিদ) আলেম, তার সময়ের মালেকী মাযহাবের অন্যতম ইমাম। তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: আল-মুয়াফাকাত ফি উসুলিশ শারিয়াহ (মুদ্রিত), বিদআতের নিন্দায় আল-ইতিসাম (মুদ্রিত), আল-ইফাদাত ওয়াল ইনশাদাত (মুদ্রিত) ইত্যাদি। তিনি ৭৯০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

 

তার জীবনী দেখুন: দুররাতুল হিজাল (১/১৮২), নাইলুল ইবতিহাজ (১/৩৩), আল-আলাম লিয-যিরিকলী (১/৭৫)।

(২) আল-মুয়াফাকাত: (৫/৫১)।

(৩) তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল হামিদ বিন মাসুদ আস-সিওয়াসি অতঃপর আল-ইসকান্দারি, কামালুদ্দীন, যিনি ইবনুল হুমাম নামে পরিচিত। তিনি হানাফী ফকীহগণের অন্তর্ভুক্ত। তার গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: উসুলে ফিকহ শাস্ত্রে আত-তাহরীর (মুদ্রিত), ফিকহ শাস্ত্রে ফাতহুল কাদীর (মুদ্রিত), ফিকহ শাস্ত্রে জাদুল ফাকীর (মুদ্রিত)। তিনি ৮৬১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

তার জীবনী দেখুন: আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ ফি তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ (২/৮৬), আল-ফাওয়ায়িদুল বাহিয়্যাহ (১৮০), আল-আলাম লিয-যিরিকলী (৬/২৫৫)।

(৪) আত-তাহরীর ফি উসুলিল ফিকহ সাথে এর শারহ আত-তাইসীর: (৪/১৭৮)।

(৫) তিনি হলেন: আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন মুহাম্মদ আশ-শিরাজি আল-বায়দাবী আল-শাফেয়ী। তিনি একজন ফকীহ, উসূলবিদ, ধর্মতত্ত্ববিদ ও মুফাসসির। শাফেয়ী মাযহাবের শীর্ষস্থানীয় ফকীহগণের অন্যতম। তার গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: উসুলে ফিকহ শাস্ত্রে মিনহাজুল উসুল (মুদ্রিত), তাফসীর শাস্ত্রে আনওয়ারুত তানজীল (মুদ্রিত) ইত্যাদি। তিনি ৬৯১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

তার জীবনী দেখুন: তাবাকাতুশ শাফেয়ীয়াতিল কুবরা লি-ইবনিস সুবকী (৮/১৫৭), তাবাকাতুশ শাফেয়ীয়াহ লি-ইবনি কাদি শুহবাহ (২/২৭২), আল-আলাম লিয-যিরিকলী (৪/১১০)।

(৬) মিনহাজুল উসুল: (২৪৭)।

(৭) তিনি হলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন উমর বিন আল-হাক বিন আল-হুসাইন আত-তামিমি আল-বাকরি, ফখরুদ্দীন আল-রাজী, যাকে ইবনু খাতিবির রায়ও বলা হয়। তিনি বংশসূত্রে কুরাইশী। তিনি ভাষা, ফিকহ, উসুল এবং তাফসীর শাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন। তিনি শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তার গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: আল-মাহসুল ফিল উসুল (মুদ্রিত), আল-মাআলিম ফিল উসুল (মুদ্রিত), তাফসীর শাস্ত্রে মাফাতিহুল গায়েব (মুদ্রিত) ইত্যাদি। তিনি ৬০৬ হিজরি সনে হেরাতে মৃত্যুবরণ করেন।

তার জীবনী দেখুন: তাবাকাতুশ শাফেয়ীয়াতিল কুবরা (৮/৮১), শাযারাতুয যাহাব (৭/৪০), আল-আলাম লিয-যিরিকলী (৬/৩১৩)।

(৮) আল-মাহসুল: (৬/৬)।

(৯) পূর্বোক্ত উৎস।

(১০) তিনি হলেন: আবুল হাসান আলী বিন আবি আলী বিন মুহাম্মদ বিন সালিম আত-তাগলিবি, সাইফুদ্দীন আল-আমেদী। তিনি বড় মাপের উসুলবিদ ও ধর্মতত্ত্ববিদ ছিলেন। প্রথমে হাম্বলী ছিলেন, পরে শাফেয়ী মাযহাবে স্থানান্তরিত হন। তার গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম (মুদ্রিত), আল-মুবীন ফি শারহি মাআনিল হুকামা ওয়াল মুতাকাল্লিমীন (মুদ্রিত)। তিনি ৬৩১ হিজরি সনে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন।

তার জীবনী দেখুন: তাবাকাতুশ শাফেয়ীয়াতিল কুবরা লি-ইবনিস সুবকী (৮/৩০৬), তাবাকাতুশ শাফেয়ীয়াহ লি-আল-ইসনাবী (১/১৩৭), আল-আলাম লিয-যিরিকলী (৪/৩৩২)।

(১১) আল-ইহকাম: (৪/১৯৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজতিহাদু ফী মানাতিল হুকমিশ শারয়ী দিরাসাতুন তাসীলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
- وتعريف ابن الحاجب (1)،

وهو: " استفراغُ الفقيه الوسع لتحصيل ظنِّ بحُكْمٍ شرعي" (2).

- وتعريف تاج الدِّين ابن السبكي (3)، وهو: " استفراغُ الفقيه الوُسْعَ لتحصيل ظنٍّ بحُكْمٍ " (4).

- وتعريف الزركشي (5)، وهو: " بَذْلُ الوُسْعِ في نيل حُكْمٍ شرعيٍّ عمليٍّ بطريق الاستنباط " (6).

التعريف المختار:

التعريف الذي أحسبه جامعاً مانعاً - كما سيظهر في شرحه وبيان محترزاته - هو تعريف ابن الحاجب، وهو أن الاجتهاد:

" استفراغُ الفقيه الوُسْعَ لتحصيل ظنٍّ بحُكْمٍ شرعي" (7)، وفيما يأتي شرحٌ للتعريف، وبيانٌ لأهم محترزاته.

شرحُ التعريف وبيانُ محترزاته:

قوله: " استفراغ الفقيه الوسع " معناه: بذل تمام الطاقة بحيث يُحِسُّ من نفسه العجزَ عن المزيد عليه (8).

واحتُرِزَ به عن اجتهاد المُقَصِّر في اجتهاده مع إمكان الزيادة عليه؛ فإنه لا يُعدُّ في اصطلاح الأصوليين اجتهاداً معتبراً (9).

واستفراغ الفقيه قد يتعلق بالوسع، وقد يتعلق بغير الوسع، فقيد " الوسع" يخرج استفراغ الفقيه غير الوسع (10).

--------------------------------------------

(1) هو: عثمان بن عمر بن أبي بكر، جمال الدين، أبو عمر الكردي، المالكي، إمامٌ في الأصول والفقه والعربية والقراءات، من مؤلفاته: منتهى الوصول والأمل (ط) في الأصول، ومختصره (ط)، والكافية في النحو (ط)، توفي سنة (646 هـ).

 

ينظر ترجمته في: الديباج المذهب (2/ 86)، غاية النهاية في طبقات القراء (1/ 508)، الأعلام للزركلي (4/ 211).

(2) مختصر ابن الحاجب: (2/ 1204).

(3) هو: عبدالوهاب تاج الدِّين بن تقي الدِّين علي بن عبدالكافي الأنصاري السبكي، الشافعي، الأصولي، الفقيه، أبو نصر، انتهى إليه القضاء بالشام، من مؤلفاته: جمع الجوامع في أصول الفقه (ط) اعتنى بشرحه العلماء، ومنع الموانع (ط) تعليق على جمع الجوامع، وطبقات الشافعية الكبرى (ط)، وغيرها، توفي بدمشق سنة (771 هـ).

ينظر ترجمته في: طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة (3/ 104)، الدرر الكامنة (2/ 425)، الأعلام للزركلي (4/ 184).

(4) جمع الجوامع: (118).

(5) هو: محمد بن بهادر بن عبدالله الزركشي، أبو عبدالله، بدر الدين، فقيهٌ شافعي، عالمٌ بالأصول، تركي الأصل، مصري المولد والوفاة، من مؤلفاته: البحر المحيط (ط) في أصول الفقه، وإعلام الساجد بأحكام المساجد (ط)، والمنثور في القواعد (ط)، توفي سنة (794 هـ).

ينظر ترجمته في: الدرر الكامنة (3/ 397)، شذرات الذهب (8/ 572)، الأعلام للزركلي (6/ 60).

(6) البحر المحيط: (8/ 227).

(7) مختصر ابن الحاجب: (2/ 1204).

(8) ينظر: شرح العضد على مختصر ابن الحاجب (2/ 289).

(9) ينظر: الإحكام للآمدي (4/ 198)، إرشاد الفحول (2/ 715).

(10) ينظر: بيان المختصر للأصفهاني (3/ 288).
এবং ইবনুল হাজিবের (১) সংজ্ঞা,

তা হলো: "শারয়ী বিধানের ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা অর্জনের নিমিত্তে ফকীহ কর্তৃক তার পূর্ণ সামর্থ্য ব্যয় করা" (২)।

- এবং তাজউদ্দীন ইবনুস সুবকীর (৩) সংজ্ঞা, তা হলো: "বিধানের ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা অর্জনের নিমিত্তে ফকীহ কর্তৃক তার পূর্ণ সামর্থ্য ব্যয় করা" (৪)।

- এবং যারকাশীর (৫) সংজ্ঞা, তা হলো: "ইস্তিনবাত বা উদ্ঘাটন পদ্ধতিতে আমলযোগ্য শারয়ী বিধান অর্জনে পূর্ণ সামর্থ্য বিলিয়ে দেওয়া" (৬)।

পছন্দনীয় সংজ্ঞা:

যে সংজ্ঞাকে আমি জামে' এবং মানে' (সার্বিক ও পরিবেষ্টক) বলে মনে করি - যা এর ব্যাখ্যা এবং বর্জনীয় বিষয়গুলোর বিবরণে স্পষ্ট হবে - তা হলো ইবনুল হাজিবের সংজ্ঞা। আর তা হলো এই যে, ইজতিহাদ হলো:

"শারয়ী বিধানের ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা অর্জনের নিমিত্তে ফকীহ কর্তৃক তার পূর্ণ সামর্থ্য ব্যয় করা" (৭)। নিচে সংজ্ঞার ব্যাখ্যা এবং এর গুরুত্বপূর্ণ বর্জনীয় দিকগুলোর বর্ণনা দেওয়া হলো।

সংজ্ঞার ব্যাখ্যা ও বর্জনীয় দিকগুলোর বর্ণনা:

তাঁর কথা: "ফকীহ কর্তৃক পূর্ণ সামর্থ্য ব্যয় করা" এর অর্থ হলো: নিজ শক্তির সবটুকু বিলিয়ে দেওয়া, যাতে সে নিজের মধ্যে এর অতিরিক্ত কিছু করার অক্ষমতা অনুভব করে (৮)।

এর মাধ্যমে এমন ব্যক্তির ইজতিহাদকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যে ইজতিহাদের ক্ষেত্রে ত্রুটি করেছে অথচ তার আরও অতিরিক্ত কিছু করার সামর্থ্য ছিল; উসূলবিদদের পরিভাষায় এটি নির্ভরযোগ্য ইজতিহাদ হিসেবে গণ্য নয় (৯)।

আর ফকীহ কর্তৃক পূর্ণ নিবেদন কখনও সামর্থ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, আবার কখনও সামর্থ্যহীন বিষয়ের সাথেও সংশ্লিষ্ট হতে পারে। তাই "সামর্থ্য" শর্তটি ফকীহ কর্তৃক সামর্থ্যহীন নিবেদনকে বাদ দিয়েছে (১০)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: উসমান বিন উমর বিন আবি বকর, জামালুদ্দীন, আবু উমর আল-কুরদি, আল-মালিকি। তিনি উসূল, ফিকহ, আরবি ভাষা এবং ক্বিরাত শাস্ত্রের ইমাম। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: উসূল শাস্ত্রে ‘মুনতাহাল উসূল ওয়াল আমাল’ (মুদ্রিত) এবং এর সংক্ষিপ্ত রূপ (মুদ্রিত), এবং নাহু শাস্ত্রে ‘আল-কাফিয়া’ (মুদ্রিত)। তিনি ৬৪৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

 

তাঁর জীবনী দেখুন: আদ-দীবাজুল মাজহাব (২/ ৮৬), গায়াতুন নিহায়াহ ফি তাবাকাতিল কুররা (১/ ৫০৮), আয-যিরিকলির আল-আ'লাম (৪/ ২১১)।

(২) মুখতাসার ইবনুল হাজিব: (২/ ১২০৪)।

(৩) তিনি হলেন: আব্দুল ওয়াহহাব তাজউদ্দীন বিন তাকীউদ্দীন আলী বিন আব্দুল কাফী আল-আনসারী আস-সুবকী, আশ-শাফিয়ী, উসূলবিদ, ফকীহ, আবু নাসর। সিরিয়ার বিচার বিভাগীয় সর্বোচ্চ পদ তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে ‘জামউল জাওয়ামি’ (মুদ্রিত) যা আলেমদের নিকট অত্যন্ত সমাদৃত ও ব্যাখ্যার দাবিদার, ‘মানউল মাওয়ানি’ (মুদ্রিত) যা জামউল জাওয়ামির ওপর একটি টীকা, এবং ‘তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ আল-কুবরা’ (মুদ্রিত) ইত্যাদি। তিনি ৭৭১ হিজরি সনে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: ইবনু ক্বাযী শুহবাহর তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ (৩/ ১০৪), আদ-দুরারুল কামিনাহ (২/ ৪২৫), আয-যিরিকলির আল-আ'লাম (৪/ ১৮৪)।

(৪) জামউল জাওয়ামি: (১১৮)।

(৫) তিনি হলেন: মুহাম্মাদ বিন বাহাদুর বিন আব্দুল্লাহ আয-যারকাশী, আবু আব্দুল্লাহ, বদরুদ্দীন। তিনি একজন শাফিয়ী ফকীহ এবং উসূল শাস্ত্রে পণ্ডিত। তিনি বংশগতভাবে তুর্কি কিন্তু জন্ম ও মৃত্যু মিশরে। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে ‘আল-বাহরুল মুহিত’ (মুদ্রিত), ‘ইলামুস সাজিদ বি আহকামিল মাসাজিদ’ (মুদ্রিত) এবং ‘আল-মানসুর ফিল কাওয়ায়েদ’ (মুদ্রিত)। তিনি ৭৯৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: আদ-দুরারুল কামিনাহ (৩/ ৩৯৭), শাযারাতুয যাহাব (৮/ ৫৭২), আয-যিরিকলির আল-আ'লাম (৬/ ৬০)।

(৬) আল-বাহরুল মুহিত: (৮/ ২২৭)।

(৭) মুখতাসার ইবনুল হাজিব: (২/ ১২০৪)।

(৮) দেখুন: মুখতাসার ইবনুল হাজিবের ওপর শারহুল আযুদ (২/ ২৮৯)।

(৯) দেখুন: আল-আমিদীর আল-ইহকাম (৪/ ১৯৮), ইরশাদুল ফুহুল (২/ ৭১৫)।

(১০) দেখুন: আল-আসফাহানীর বায়ানুল মুখতাসার (৩/ ২৮৮)।