(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: -)
مقالات الإسلاميين ت ريتر القسم: الفرق والردود
الكتاب: مقالات الإسلاميين واختلاف المصلين
المؤلف: أبو الحسن الأشعري (ت 324هـ)
عنى بتصحيحه: هلموت ريتر
الناشر: دار فرانز شتايز، بمدينة فيسبادن (ألمانيا)
الطبعة: الثالثة، 1400 هـ - 1980 م
عدد الصفحات: 611
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 محرم 1433
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন - রিটার সম্পাদিত বিভাগ: ফেরকা এবং খণ্ডনসমূহ
বই: মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন ওয়া ইখতিলাফুল মুসাল্লিন
লেখক: আবুল হাসান আল-আশআরি (মৃত্যু ৩২৪ হিজরি)
সম্পাদনা ও সংশোধন: হেলমুট রিটার
প্রকাশক: দার ফ্রাঞ্জ স্টাইনার, ওয়িসবাডেন শহর (জার্মানি)
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ অনুযায়ী]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ মুহররম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله ذي العزة والأفضال، والجود والنوال، أحمده على ما خص وعم من نعمه، وأستعينه على أداء فرائضه، وأسأله الصلاة على خاتم رسله.
أما بعد فإنه لا بد لمن أراد معرفة الديانات والتمييز بينها من معرفة المذاهب والمقالات، ورأيت الناس في حكاية ما يحكون من ذكر المقالات، ويصنفون في النحل والديانات، من بين مقصر فيما يحكيه، وغالط فيما يذكره من قول مخالفيه، ومن بين معتمد للكذب في الحكاية إرادة التشنيع على من يخالفه ومن بين تارك للتقصي في روايته لما يرويه من اختلاف المختلفين ومن بين من يضيف إلى قول مخالفيه ما يظن أن الحجة تلزمهم به وليس هذا سبيل الربانيين ولا سبيل الفطناء المميزين، فحداني ما رأيت من ذلك على شرح ما التمست شرحه من أمر المقالات واختصار ذلك وترك الإطالة والإكثار وأنا مبتدئ شرح ذلك بعون الله وقوته.
اختلف الناس بعد نبيهم صلى الله عليه وسلم في أشياء كثيرة ضلل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা প্রতাপ ও অনুগ্রহ এবং দান ও বদান্যতার মালিক আল্লাহর জন্য। আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর সেই সকল নিআমতের জন্য যা তিনি বিশেষ ও সাধারণ সকলকে দান করেছেন; আমি তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি তাঁর অর্পিত ফরযসমূহ আদায়ের লক্ষ্যে এবং প্রার্থনা করি তাঁর সর্বশেষ রাসূলের ওপর রহমত বর্ষণের জন্য।
অতঃপর, যে ব্যক্তি বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে এবং সেগুলোর মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করতে ইচ্ছুক, তার জন্য বিভিন্ন মতাদর্শ ও বক্তব্যসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া অপরিহার্য। আমি লক্ষ্য করেছি যে, মানুষ যখন বিভিন্ন মতাদর্শের উদ্ধৃতি প্রদান ও ধর্মীয় ফেরকাগুলোর বর্ণনায় কিতাব রচনা করে, তখন তাদের কেউ বর্ণনার ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণতা রাখে, আবার কেউ বিরোধীদের বক্তব্য বর্ণনায় ভুলের শিকার হয়। আবার কেউ বিরোধীদের প্রতি ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে বর্ণনায় মিথ্যার আশ্রয় নেয়। কেউ কেউ বিভিন্ন পক্ষের মতভেদ বর্ণনায় পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানে অবহেলা প্রদর্শন করে। আবার কেউ কেউ বিরোধীদের মতামতের সাথে এমন কিছু বিষয় জুড়ে দেয় যার মাধ্যমে তারা মনে করে যে বিরোধীদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হবে; অথচ এটি প্রকৃত নিষ্ঠাবান আলিমদের পদ্ধতি নয় এবং বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তিদেরও পথ নয়। এই পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেই আমি বিভিন্ন মতাদর্শের বর্ণনা সংক্ষেপে এবং দীর্ঘসূত্রিতা বর্জন করে ব্যাখ্যা করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। আল্লাহর সাহায্য ও শক্তিতে আমি এর ব্যাখ্যা শুরু করছি।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তিরোধানের পর মানুষ বহু বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হয়েছে এবং একে অপরকে পথভ্রষ্ট সাব্যস্ত করেছে...
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ২)
فيها بعضهم بعضاً وبرئ بعضهم من بعض فصاروا فرقاً متباينين، وأحزاباً متشتتين، إلا أن الإسلام يجمعهم ويشتمل عليهم.
وأول ما حدث من الاختلاف بين المسلمين بعد نبيهم صلى الله عليه وسلم اختلافهم في الإمامة وذلك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما قبضه الله عز وجل ونقله إلى جنته ودار كرامته اجتمعت الأنصار في سقيفة بني ساعدة بمدينة الرسول صلى الله عليه وسلم وأرادوا عقد الإمامة لسعد بن عبادة وبلغ ذلك أبا بكر وعمر رضوان الله عليهما فقصدا نحو مجتمع الأنصار في رجال من المهاجرين فأعلمهم أبو بكر أن الإمامة لا تكون إلا في قريش واحتج عليهم بقول النبي صلى الله عليه وسلم: الإمامة في قريش فأذعنوا لذلك منقادين، ورجعوا إلى الحق طائعين، بعد أن قالت الأنصار: منا أمير ومنكم أمير وبعد أن جرب الحباب بن المنذر سيفه
وقال: أنا جذيلها المحكك وعديقها المرجب من يبارزني بعد أن قام قيس بن سعد بنصرة أبيه سعد بن عبادة حتى قال عمر بن الخطاب في شأنه ما قال، ثم بايعوا أبا بكر رضوان الله عليه واجتمعوا على إمامته واتفقوا على خلافته وانقادوا لطاعته فقاتل أهل الردة على ارتدادهم كما قاتلهم رسول الله صلى الله عليه وسلم على كفرهم فأظهره الله عز وجل
এতে তারা একে অপরকে দোষারোপ করল এবং একে অপরের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করল। ফলে তারা ভিন্ন ভিন্ন দল এবং বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীতে পরিণত হলো; তবে ইসলাম তাদের সকলকে একত্রিত করে এবং নিজের মধ্যে শামিল রাখে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর মুসলিমদের মধ্যে সর্বপ্রথম যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল, তা হলো ইমামত বা নেতৃত্বের বিষয়ে। আর তা এই যে, যখন মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহ কবজ করলেন এবং তাঁকে তাঁর জান্নাত ও চিরস্থায়ী সম্মানজনক আবাসে স্থানান্তরিত করলেন, তখন আনসাররা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহর মদিনার বনু সায়েদাহর চত্বরে সমবেত হলো। তারা সাদ ইবনে উবাদাহর হাতে নেতৃত্বের বায়আত দিতে চাইল। এই সংবাদ আবু বকর ও ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট পৌঁছালে তাঁরা মুহাজিরদের কিছু ব্যক্তিবর্গসহ আনসারদের সভাস্থলের দিকে রওনা হলেন। আবু বকর তাঁদের অবহিত করলেন যে, ইমামত বা নেতৃত্ব কেবল কুরাইশদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং তিনি তাঁদের সামনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করলেন যে: নেতৃত্ব কুরাইশদের মধ্যে। ফলে তারা অনুগত হয়ে তা মেনে নিলেন এবং স্বেচ্ছায় সত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করলেন; যদিও এর আগে আনসাররা বলেছিল: আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমির থাকবে এবং হুবাব ইবনে মুনযির তাঁর তলোয়ার উন্মুক্ত করেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন: আমি হলাম অভিজ্ঞ ও মজবুত স্তম্ভ এবং ফলবান বৃক্ষের সুদৃঢ় খুঁটি, কে আমার সাথে মোকাবিলা করবে? তখন কায়েস ইবনে সাদ তাঁর পিতা সাদ ইবনে উবাদাহর সহযোগিতায় দাঁড়িয়েছিলেন, এমনকি ওমর ইবনুল খাত্তাব তাঁর সম্পর্কে যা বলার ছিল তা বললেন। অতঃপর তাঁরা সকলে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করলেন, তাঁর নেতৃত্বের ওপর ঐক্যবদ্ধ হলেন, তাঁর খেলাফতের বিষয়ে একমত হলেন এবং তাঁর আনুগত্যের বশ্যতা স্বীকার করলেন। এরপর তিনি মুরতাদদের বিরুদ্ধে তাদের ধর্মত্যাগের কারণে যুদ্ধ পরিচালনা করলেন, ঠিক যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কুফরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন; ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিজয় দান করলেন।
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ৩)
عليهم أجمعين، ونصره على جملة المرتدين، وعاد الناس إلى الإسلام أجمعين، وأوضح الله به الحق المبين، وكان الاختلاف بعد الرسول صلى الله عليه وسلم في الإمامة ولم يحدث خلاف غيره في حياة أبي بكر رضوان الله عليه وأيام عمر إلى أن ولي عثمان بن عفان رضوان الله عليه وأنكر قوم عليه في آخر أيامه أفعالاً كانوا فيما نقموا عليه من ذلك مخطئين، وعن سنن المحجة خارجين، فصار ما أنكروه عليه اختلافاً إلى اليوم، ثم قتل رضوان الله عليه وكانوا في قتله مختلفين، فأما أهل السنة والاستقامة فإنهم قالوا: كان رضوان الله عليه مصيباً في أفعاله قتله قاتلوه ظلماً وعدواناً، وقال قائلون بخلاف ذلك، وهذا اختلاف بين الناس إلى اليوم.
ثم بويع علي بن أبي طالب رضوان الله عليه فاختلف الناس في أمره فمن بين منكر لإمامته ومن بين قاعد عنه ومن بين قائل بإمامته معتقد لخلافته، وهذا اختلاف بين الناس إلى اليوم.
ثم حدث الاختلاف في أيام علي في أمر طلحة والزبير رضوان الله عليهما وحربهما إياه وفي قتال معاوية إياه وصار علي ومعاوية إلى صفين وقاتله علي حتى انكسرت سيوف الفريقين ونصلت رماحهم وذهبت قواهم وجثوا على الركب فوهم بعضهم على بعض فقال معاوية لعمرو بن العاص: يا عمرو ألم تزعم أنك لم تقع في أمر فظيع فأردت الخروج
তাদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক; আল্লাহ তাঁকে ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে বিজয় দান করলেন এবং মানুষ পুনরায় ইসলামের দিকে ফিরে এল। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে সুস্পষ্ট সত্যকে উদ্ভাসিত করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর ইমামত বা নেতৃত্ব নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল, তবে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর জীবনকালে এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে এটি ছাড়া অন্য কোনো বড় বিরোধ সৃষ্টি হয়নি। এরপর যখন উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন, তখন তাঁর শাসনের শেষ সময়ে একদল লোক তাঁর কিছু কর্মের প্রতিবাদ জানাল। তারা যেসব কারণে তাঁর সমালোচনা করেছিল, তাতে তারা ভ্রান্ত ছিল এবং সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছিল। তারা তাঁর যে বিষয়গুলোর বিরোধিতা করেছিল, তা আজ অবধি মতপার্থক্যের বিষয় হয়ে রয়েছে। এরপর তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হন এবং তাঁর শাহাদাত নিয়ে মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বলেন: তিনি তাঁর কর্মকাণ্ডে সঠিক ছিলেন এবং তাঁকে অন্যায় ও শত্রুতাবশত হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে অন্য একদল এর বিপরীতে কথা বলে, যা আজ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে বিদ্যমান একটি মতপার্থক্য।
এরপর আলী বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) গ্রহণ করা হয়, কিন্তু তাঁর বিষয়টি নিয়েও মানুষের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়। তাদের মধ্যে কেউ তাঁর ইমামত অস্বীকার করে, কেউ নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে, আবার কেউ তাঁর ইমামতে বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁকে খলিফা হিসেবে মেনে নেয়। এটিও আজ অবধি মানুষের মধ্যে চলমান একটি মতপার্থক্য।
অতঃপর আলীর শাসনামলে তালহা ও যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর বিষয় এবং তাঁদের সাথে তাঁর যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। সেই সঙ্গে মুয়াবিয়ার সাথেও তাঁর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। আলী ও মুয়াবিয়া সিফফিনের যুদ্ধে মুখোমুখি হলেন এবং আলী তাঁর বিরুদ্ধে ততক্ষণ লড়াই করলেন যতক্ষণ না উভয় পক্ষের তলোয়ারগুলো ভেঙে গেল, বর্শাগুলো অকেজো হয়ে পড়ল, শক্তিক্ষয় হলো এবং তাঁরা ক্লান্তিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন। এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর বিভ্রান্ত বা হতোদ্যম হয়ে পড়ল। তখন মুয়াবিয়া আমর ইবনুল আসকে বললেন: "হে আমর! তুমি কি দাবি করোনি যে, তুমি এমন কোনো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়োনি যেখান থেকে তুমি নিষ্কৃতি পেতে চাওনি?"
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ৪)
منه إلا خرجت قال: بلى قال: فما المخرج مما نزل قال له عمرو بن العاص: فلي عليك أن لا تخرج مصر من يدي ما
بقيت قال: لك ذلك ولك به عهد الله وميثاقه قال: فأمر بالمصاحف فترفع ثم يقول أهل الشام لأهل العراق: يا أهل العراق كتاب الله بيننا وبينكم البقية البقية فإنه إن أجابك إلى ما تريده خالفه أصحابه وإن خالفك خالفه أصحابه وكان عمرو بن العاص في رأيه الذي أشار به كأنه ينظر إلى الغيب من وراء حجاب رقيق فأمر معاوية أصحابه برفع المصاحف وبما أشار به عليه عمرو بن العاص ففعلوا ذلك فاضطرب أهل العراق على علي رضوان الله عليه وأبوا عليه إلا التحكيم وأن يبعث علي حكماً ويبعث معاوية حكماُ فأجابهم علي إلى ذلك بعد امتناع أهل العراق عليه أن لا يجيبهم إليه فلما أجاب علي إلى ذلك وبعث معاوية وأهل الشام عمرو بن العاص حكماً وبعث علي وأهل العراق أبا موسى حكماً وأخذ بعضهم على بعض العهود والمواثيق اختلف أصحاب علي عليه وقالوا: قال الله تعالى: فقاتلوا التي تبغي حتى تفيء إلى أمر الله ولم يقل حاكموهم وهم البغاة فإن عدت إلى قتالهم وأقررت على نفسك بالكفر إذ أجبتهم إلى التحكيم وإلا نابذناك وقاتلناك فقال علي رضوان الله عليه: قد أبيت عليكم في أول الأمر فأبيتم إلا إجابتهم إلى ما سألوا فأجبناهم وأعطيناهم العهود والمواثيق وليس يسوغ لنا الغدر فأبوا إلا خلعه وإكفاره بالتحكيم وخرجوا عليه فسموا خوارج لأنهم
...তা থেকে কি কোনো উত্তরণের পথ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তবে এই উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে নিষ্কৃতির উপায় কী? আমর ইবনুল আস তাঁকে বললেন: আমি যতদিন জীবিত থাকব, মিসরের শাসনভার আমার হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হবে না—এই মর্মে আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তিনি (মুয়াবিয়া) বললেন: আপনার জন্য তাই হবে; আপনার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সুদৃঢ় অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি রইল। তিনি বললেন: তবে কুরআনগুলো (মুসহাফ) তুলে ধরার নির্দেশ দিন। এরপর সিরিয়াবাসী ইরাকবাসীদের বলবে: হে ইরাকবাসী, আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই ফয়সালাকারী; রক্তপাত বন্ধ করো, রক্তপাত বন্ধ করো। কেননা, আলী যদি আপনার প্রস্তাবে সম্মত হন, তবে তাঁর সঙ্গীরা তাঁর বিরোধিতা করবে; আর যদি তিনি আপনার বিরোধিতা করেন, তবুও তাঁর অনুসারীরা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করবে। আমর ইবনুল আস তাঁর এই পরামর্শে যেন এক সূক্ষ্ম পর্দার আড়াল থেকে অদৃশ্য ভবিষ্যৎ অবলোকন করছিলেন। অতঃপর মুয়াবিয়া তাঁর সঙ্গীদের আমর ইবনুল আসের পরামর্শ অনুযায়ী কুরআন তুলে ধরার নির্দেশ দিলেন এবং তারা তাই করল। এতে ইরাকবাসীরা আলী (রা.)-এর বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠল এবং সালিশি (তাহকিম) ব্যবস্থা মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য সব কিছু প্রত্যাখ্যান করল। তারা দাবি করল যে, আলী একজন সালিশ নিযুক্ত করবেন এবং মুয়াবিয়া একজন সালিশ নিযুক্ত করবেন। ইতিপূর্বে ইরাকবাসীরা আলীকে সালিশি মেনে নিতে বাধা দিলেও এখন তারা তাঁকে তা মেনে নিতে বাধ্য করল। যখন আলী সালিশিতে সম্মত হলেন, তখন মুয়াবিয়া ও সিরিয়াবাসী আমর ইবনুল আসকে সালিশ হিসেবে প্রেরণ করলেন এবং আলী ও ইরাকবাসী আবু মুসাকে সালিশ হিসেবে নিযুক্ত করলেন। উভয় পক্ষ একে অপরের নিকট থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করল। তখন আলীর সঙ্গীরা তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করল এবং বলল: মহান আল্লাহ বলেছেন, "তবে তোমরা সেই বিদ্রোহী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে।" তিনি তো তাদের সাথে সালিশি করতে বলেননি, অথচ তারা বিদ্রোহী। অতএব, আপনি পুনরায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং সালিশি মেনে নেওয়ার মাধ্যমে নিজের ওপর যে কুফরি আরোপ করেছেন তা স্বীকার করুন, অন্যথায় আমরা আপনার আনুগত্য ত্যাগ করব এবং আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। আলী (রা.) বললেন: আমি তো যুদ্ধের শুরুতেই তোমাদের বারণ করেছিলাম, কিন্তু তোমরা তাদের আহবানে সাড়া দেওয়ার জন্য জেদ ধরেছিলে। এখন যেহেতু আমরা তাদের আহবানে সাড়া দিয়েছি এবং তাদের সাথে অঙ্গীকার ও চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছি, তাই আমাদের জন্য বিশ্বাসঘাতকতা করা বৈধ নয়। কিন্তু তারা তাঁকে পদচ্যুত করা এবং সালিশি গ্রহণের দায়ে তাঁকে কাফির সাব্যস্ত করা ছাড়া অন্য কিছু মানতে অস্বীকার করল। তারা তাঁর অবাধ্য হয়ে বেরিয়ে গেল, তাই তাদের 'খারিজি' (বিদ্রোহী) নামে অভিহিত করা হয়, কারণ তারা...
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ৫)
خرجوا على علي بن أبي طالب رضوان الله عليه وصار اختلافاً إلى اليوم، وسنذكر أقاويل الخوارج بعد هذا الموضع من كتابنا.
هذا ذكر الاختلافاختلف المسلمون عشرة أصناف: الشيع والخوارج والمرجئة والمعتزلة والجهمية والضرارية والحسينية والبكرية والعامة وأصحاب الحديث والكلابية أصحاب عبد الله بن كلاب القطان.
مقالات الشيعفالشيع ثلاثة أصناف وإنما قيل لهم الشيعة لأنهم شيعوا علياً رضوان الله عليه ويقدمونه على سائر أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم
فمنهم الغالية وإنما سموا الغالية لأنهم غلوا في علي وقالوا فيه قولاً عظيماً وهم خمس عشرة فرقة:
فالفرقة الأولى منهم البيانية أصحاب بيان بن سمعان التميمي يقولون أن الله عز وجل على صورة الإنسان وأنه يهلك كله إلا وجهه وادعى بيان أنه يدعو الزهرة فتجيبه وأنه يفعل ذلك بالاسم الأعظم فقتله خالد بن عبد الله القسري، وحكي عنهم أن كثيراُ منهم يثبت لبيان بن
তারা আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল এবং এর ফলে এমন এক বিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল যা আজও বিদ্যমান। আমাদের এই কিতাবের এই প্রসঙ্গের পরে আমরা খাওয়ারিজদের মতবাদসমূহ উল্লেখ করব।
এটি মতভেদের বিবরণমুসলমানগণ দশটি শ্রেণীতে বিভক্ত হয়েছেন: শিয়া, খাওয়ারিজ, মুরজিয়া, মুতাজিলা, জাহমিয়া, দিরারিয়া, হুসাইনিয়া, বাকরিয়া, সাধারণ জনসমষ্টি ও আসহাবুল হাদিস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে কুল্লাব আল-কাত্তানের অনুসারী কুল্লাবিয়া।
শিয়াদের মতবাদসমূহশিয়ারা মূলত তিন প্রকারের। তাদের শিয়া বলা হয় কারণ তারা আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অনুসারী হয়েছিল এবং তারা তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্যান্য সকল সাহাবীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে।
তাদের মধ্যে রয়েছে গালিয়া (চরমপন্থী)। তাদের গালিয়া বলা হয় কারণ তারা আলীর ব্যাপারে অতিশয়োক্তি করেছে এবং তাঁর সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুতর কথা বলেছে। তারা পনেরোটি উপদলে বিভক্ত:
তাদের প্রথম উপদল হলো বায়ানিয়া, যারা বায়ান ইবনে সামআন আত-তামিমির অনুসারী। তারা বলে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা মানুষের আকৃতিসম্পন্ন এবং তাঁর চেহারা ব্যতীত অন্য সব কিছুই নশ্বর। বায়ান দাবি করত যে, সে শুক্র গ্রহকে আহ্বান করলে তা সাড়া দেয় এবং সে ইসমে আজমের মাধ্যমে তা করে থাকে। ফলে খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাসরি তাকে হত্যা করেন। তাদের সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তাদের অনেকেই বায়ান ইবনে-এর জন্য...
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ৬)
سمعان النبوة، ويزعم كثير من البيانية أن أبا هاشم عبد الله بن محمد بن الحنفية نص على إمامة بيان بن سمعان ونصبه إماماً.
والفرقة الثانية منهم أصحاب عبد الله بن معاوية بن عبد الله بن جعفر ذي الجناحين، يزعمون أن عبد الله بن معاوية كان يدعي أن العلم ينبت في قلبه كما ينبت الكمأة والعشب وأن الأرواح تناسخت وأن روح الله جل اسمه كانت في آدم ثم تناسخت حتى صارت فيه، قال: وزعم أنه رب وأنه نبي فعبده شيعته، وهم يكفرون بالقيامة ويدعون أن الدنيا لا تفنى ويستحلون الميتة والخمر وغيرهما من المحارم ويتأولون قول الله عز وجل: ليس على الذين آمنوا وعملوا الصالحات جناح فيما طعموا إذا ما اتقوا.
والفرقة الثالثة منهم أصحاب عبد الله بن عمرو بن حرب وهم يسمون الحربية يزعمون أن روح أبي هاشم عبد الله بن محمد بن الحنفية تحولت فيه وأن أبا هاشم نص على إمامته.
والفرقة الرابعة منهم المغيرية أصحاب المغيرة بن سعيد يزعمون
সামআনের নবুয়ত; বায়ানীয়াহ সম্প্রদায়ের অনেকে দাবি করে যে, আবু হাশিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ বায়ান ইবনে সামআনের ইমামতের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাকে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।
তাদের দ্বিতীয় দলটি হলো আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর যুল-জানাহাইনের অনুসারী। তারা দাবি করে যে, আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া দাবি করতেন যে, তাঁর অন্তরে জ্ঞান সেভাবেই অঙ্কুরিত হয় যেভাবে মাশরুম ও ঘাস জন্মায়। তারা আরও বিশ্বাস করে যে, আত্মার পুনর্জন্ম ঘটে এবং মহান আল্লাহর রূহ আদমের মধ্যে ছিল, এরপর তা ক্রমাগত স্থানান্তরিত হতে হতে তাঁর মধ্যে আবির্ভূত হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি আরও দাবি করেছিলেন যে তিনি রব এবং তিনি নবী, ফলে তাঁর অনুসারীরা তাঁর উপাসনা করতে শুরু করে। তারা কিয়ামতকে অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে পৃথিবী ধ্বংস হবে না। তারা মৃত জীব, মদ এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ গণ্য করে এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর অপব্যাখ্যা করে: "যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা যা আহার করেছে তাতে তাদের কোনো পাপ নেই, যদি তারা তাকওয়া অবলম্বন করে।"
তাদের তৃতীয় দলটি হলো আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারবের অনুসারী, যাদেরকে হারবিয়্যাহ বলা হয়। তারা দাবি করে যে, আবু হাশিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহর রূহ তাঁর মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং আবু হাশিম তাঁর ইমামতের সপক্ষে অসিয়ত করে গেছেন।
তাদের চতুর্থ দলটি হলো মুগীরা ইবনে সাঈদের অনুসারী মুগীরিয়্যাহ, তারা দাবি করে
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ৭)
أنه كان يقول أنه نبي وأنه يعلم اسم الله الأكبر، وأن معبودهم رجل من نور على رأسه تاج وله من الأعضاء والخلق مثل ما للرجل وله جرف وقلب تنبع منه الحكمة وأن
حروف أبي جاد على عدد أعضائه قالوا: والألف موضع قدمه لاعوجاجها وذكر الهاء فقال: لو رأيتم موضعها منه لرأيتم أمراً عظيماً يعرض لهم بالعورة وبأنه قد رآه لعنه الله، وزعم أنه يحيي الموتى بالاسم الأعظم وأراهم أشياء من النيرنجات والمخاريق، وذكر لهم كيف ابتدأ الله الخلق فزعم أن الله جل اسمه كان وحده لا شيء معه فلما أراد أن يخلق الأشياء تكلم باسمه الأعظم فطار فوقع فوق رأسه التاج قال: وذلك قوله: سبح اسم ربك الأعلى قال: ثم كتب بإصبعه على كفه أعمال العباد من المعاصي والطاعات فغضب من المعاصي فعرق فاجتمع من عرقه بحران أحدهما مالح مظلم والآخر نير عذب ثم اطلع في البحر فأبصر ظله فذهب ليأخذه فطار فانتزع عين ظله فخلق منها شمساً ومحق ذلك الظل وقال: لا ينبغي أن يكون معي إله غيري ثم خلق الخلق كله من البحرين فخلق الكفار من البحر المالح المظلم وخلق
সে দাবি করত যে, সে একজন নবী এবং সে মহান আল্লাহর 'ইসমে আজম' সম্পর্কে অবগত। তাদের মতে, তাদের উপাস্য হলো নূরের তৈরি একজন পুরুষ, যার মস্তকে একটি মুকুট রয়েছে। মানুষের ন্যায় তারও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অবয়ব রয়েছে এবং তার একটি গহ্বর ও একটি হৃদয় আছে যেখান থেকে প্রজ্ঞা উৎসারিত হয়। আর
আবজাদ বর্ণমালার অক্ষরসমূহ তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সংখ্যার সমান। তারা বলে: 'আলিফ' হলো তার চরণের স্থান—তার বক্রতার কারণে। সে 'হা' বর্ণের কথা উল্লেখ করে বলল: যদি তোমরা তার দেহে এই বর্ণটির স্থান দেখতে পেতে, তবে এক অতি ভয়ানক বিষয় প্রত্যক্ষ করতে; এর মাধ্যমে সে লজ্জাস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করত। সে আরও দাবি করত যে, সে তাকে (আল্লাহকে) দেখেছে—আল্লাহর অভিশাপ তার ওপর বর্ষিত হোক। সে দাবি করত যে, সে ইসমে আজমের মাধ্যমে মৃতকে জীবিত করতে পারে এবং সে তাদের কিছু জাদুবিদ্যা ও ভেলকিবাজি দেখাত। সে তাদের কাছে সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে দাবি করত যে, আল্লাহ তাআলা—তাঁর নাম মহিমান্বিত হোক—একাই ছিলেন এবং তাঁর সাথে অন্য কিছুই ছিল না। অতঃপর যখন তিনি বস্তুসমূহ সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি তাঁর ইসমে আজম উচ্চারণ করলেন; ফলে সেটি উড়ে গিয়ে তাঁর মাথার ওপর মুকুট হিসেবে পতিত হলো। সে বলল: মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্ম এটিই— 'আপনার সুউচ্চ রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন'। সে আরও বলল: অতঃপর তিনি তাঁর অঙ্গুলি দিয়ে নিজ হাতের তালুতে বান্দাদের পাপ ও পুণ্যের আমলসমূহ লিখলেন। পাপাচারের কারণে তিনি রাগান্বিত হলেন এবং ঘামতে লাগলেন। ফলে তাঁর ঘাম থেকে দুটি সমুদ্রের সৃষ্টি হলো—যার একটি লবণাক্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং অপরটি উজ্জ্বল ও সুমিষ্ট। অতঃপর তিনি সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে নিজের ছায়া দেখতে পেলেন। তিনি সেটি ধরার জন্য উদ্যত হলেন, কিন্তু তা উড়ে গেল। তখন তিনি তাঁর সেই ছায়ার চোখটি উপড়ে নিলেন এবং তা থেকে সূর্য সৃষ্টি করলেন এবং অবশিষ্ট ছায়াটিকে মিটিয়ে দিলেন। তিনি বললেন: 'আমার সাথে অন্য কোনো উপাস্য থাকা সমীচীন নয়'। অতঃপর তিনি এই দুই সমুদ্র থেকে সমগ্র সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলেন; লবণাক্ত ও অন্ধকার সমুদ্র থেকে কাফিরদের সৃষ্টি করলেন এবং সৃষ্টি করলেন...
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ৮)
المؤمنين من النير العذب، وخلق ظلال الناس فكان أول من خلق منها محمداً صلى الله عليه وسلم قال: وذلك قوله: قل إن كان للرحمن ولد فأنا أول العابدين ثم أرسل محمداً إلى الناس كافة وهو ظل ثم عرض على السموات أن يمنعن علي بن أبي طالب رضوان الله عليه فأبين ثم على الأرض والجبال فأبين ثم على الناس كلهم فقام عمر بن الخطاب إلى أبي بكر فأمره أن يتحمل منعه وأن يغدر به ففعل ذلك أبو بكر وذلك قوله: إنا عرضنا الأمانة على السموات والأرض والجبال قال: وقال عمر: أنا أعينك على علي لتجعل لي الخلافة بعدك وذلك قوله: كمثل الشيطان إذ قال للإنسان اكفر والشيطان عنده عمر، وزعم أن الأرض تنشق عن الموتى فيرجعون إلى الدنيا، فبلغ خبره خالد بن عبد الله فقتله.
قال: وكان جابر الجعفي من أصحابه وأنزله أصحاب المغيرة بمنزلة المغيرة ومات جابر وادعى وصيته بكر الأعور الهجري القتات فصيروه إماماً وقالوا إنه
لا يموت فأكل أموالهم، وكان المغيرة يأمرهم بانتظار محمد بن عبد الله بن الحسن بن الحسن بن علي بن أبي
মুমিনদেরকে তিনি সুমিষ্ট জ্যোতি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষের ছায়া বা রূহানি অবয়ব সৃষ্টি করেছেন। তাদের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন: এটিই হলো আল্লাহর বাণী: “বলুন, যদি দয়াময় আল্লাহর কোনো সন্তান থাকত, তবে আমিই হতাম প্রথম ইবাদতকারী।” অতঃপর তিনি মুহাম্মাদকে সমগ্র মানবজাতির নিকট প্রেরণ করলেন যখন তিনি একটি ছায়া (নূরানি সত্তা) ছিলেন। এরপর আসমানসমূহের নিকট আলী ইবনে আবি তালিবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আনুগত্য ও প্রতিরক্ষার প্রস্তাব পেশ করা হলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করল; এরপর যমিন ও পাহাড়সমূহের নিকট পেশ করা হলে তারাও তা প্রত্যাখ্যান করল। অতঃপর সকল মানুষের নিকট তা পেশ করা হলো। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব আবু বকরের নিকট দাঁড়ালেন এবং তাকে তা (আলীকে প্রতিহত করার ভার) বহন করার ও তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার আদেশ দিলেন; আর আবু বকর তাই করলেন। এটিই হলো আল্লাহর বাণী: “আমি আসমান, যমিন ও পাহাড়সমূহের নিকট আমানত পেশ করেছিলাম।” তিনি আরও বলেন: উমর বললেন, আমি তোমাকে আলীর বিরুদ্ধে সাহায্য করব যেন তুমি তোমার পরে আমার জন্য খিলাফত নির্ধারণ করো। এটিই হলো আল্লাহর বাণী: “শয়তানের উদাহরণের ন্যায়, যখন সে মানুষকে বলে: কুফরি করো।” আর তার মতে শয়তান বলতে উমরকে বোঝানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করতেন যে, মৃতদের জন্য যমিন বিদীর্ণ হবে এবং তারা দুনিয়ায় ফিরে আসবে। এই সংবাদ খালিদ ইবনে আবদুল্লাহর নিকট পৌঁছালে তিনি তাকে হত্যা করেন।
তিনি বলেন: জাবির আল-জু’ফি তাঁর সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং মুগিরার অনুসারীরা জাবিরকে মুগিরার সমমর্যাদায় আসীন করেছিল। জাবির মৃত্যুবরণ করলে বকর আল-আওয়ার আল-হাজরি আল-কাত্তাত নিজেকে তাঁর ওসি বা উত্তরসূরি দাবি করেন। অতঃপর তারা তাকে ইমাম বানিয়ে নেয় এবং তারা বলল যে তিনি
মরবেন না; আর এভাবে তিনি তাদের ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করতে থাকেন। আর মুগিরা তাদের মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনুল হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি-এর প্রতীক্ষা করার নির্দেশ দিতেন।
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ৯)
طالب وذكر لهم أن جبريل وميكائيل عليهما السلام يبايعانه بين الركن والمقام ويحيي له سبعة عشر رجلاً يعطى كل رجل منهم كذا وكذا حرفاً من الاسم الأعظم فيهزمون الجيوش ويملكون الأرض، فلما خرج محمد وقتل قال بعض أصحاب المغيرة: لم يكن الخارج محمد بن عبد الله وإنما كان شيطاناً تمثل في صورته وأن محمداً سيخرج ويملك على ما قال المغيرة، وبرئ بعضهم من المغيرة.
والفرقة الخامسة منهم المنصورية أصحاب أبي منصور يزعمون أن الإمام بعد أبي جعفر محمد بن علي بن الحسين بن علي أبو منصور وأن أبا منصور قال: آل محمد هم السماء والشيعة هم الأرض وأنه هو الكسف الساقط من بني هاشم، وأبو منصور هذا رجل من بني عجل، وزعم أبو منصور أنه عرج به إلى السماء فمسح معبوده رأسه بيده ثم قال له: أي بني اذهب فبلغ عني ثم نزل به إلى الأرض، ويمين أصحابه إذا حلفوا أن يقولوا: ألا والكلمة، وزعم أن عيسى أول من خلق الله من خلقه ثم علي وأن رسل الله سبحانه لا تنقطع أبداً، وكفر بالجنة والنار وزعم أن الجنة رجل وأن النار رجل،
...এবং তিনি তাদের নিকট উল্লেখ করলেন যে, জিবরাঈল ও মিকাইল (আলাইহিমাস সালাম) রুকন ও মাকামের মধ্যস্থলে তাঁর কাছে বায়আত গ্রহণ করবেন এবং আল্লাহ তাঁর জন্য সতেরোজন ব্যক্তিকে পুনর্জীবিত করবেন, যাদের প্রত্যেককে মহান নামের (ইসমে আযম) নির্দিষ্ট কিছু অক্ষর দান করা হবে, যার মাধ্যমে তারা সকল বাহিনীকে পরাজিত করবেন এবং পৃথিবীর শাসনভার গ্রহণ করবেন। যখন মুহাম্মদ (আন-নাফসুন জাকিয়্যাহ) আবির্ভূত হলেন এবং নিহত হলেন, তখন মুগিরার অনুসারীদের কেউ কেউ বলল: 'যিনি বের হয়েছিলেন তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এক শয়তান যে তাঁর রূপ ধারণ করেছিল; মুহাম্মদ অবশ্যই আত্মপ্রকাশ করবেন এবং মুগিরার ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী রাজত্ব করবেন।' আবার তাদের কেউ কেউ মুগিরার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল।
তাদের পঞ্চম দলটি হলো মানসুরিয়্যাহ, যারা আবু মানসুরের অনুসারী। তারা ধারণা করে যে, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলীর পর ইমাম হলেন আবু মানসুর। আবু মানসুর দাবি করতেন যে, আলে মুহাম্মদ (নবী পরিবার) হলো আকাশ এবং শিয়াগণ হলো পৃথিবী, আর তিনি হলেন বনু হাশিমের পক্ষ থেকে আকাশ থেকে খসে পড়া এক খণ্ড মেঘ বা অংশ। এই আবু মানসুর ছিলেন বনু ইজল গোত্রের এক ব্যক্তি। আবু মানসুর দাবি করতেন যে, তাঁকে আসমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাঁর উপাস্য স্বীয় হস্ত দ্বারা তাঁর মাথা স্পর্শ করেছিলেন, অতঃপর তাঁকে বলেছিলেন: 'হে বৎস! যাও এবং আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও,' তারপর তাঁকে পৃথিবীতে নামিয়ে আনা হয়। তাঁর অনুসারীরা যখন শপথ করে তখন বলে: 'সাবধান, সেই বাক্যের কসম!' তিনি আরও দাবি করতেন যে, আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে ঈসা সর্বপ্রথম সৃষ্টি এবং তারপর আলী, আর আল্লাহর রাসূল প্রেরণের ধারা কখনো শেষ হবে না। তিনি জান্নাত ও জাহান্নামকে অস্বীকার করতেন এবং দাবি করতেন যে, জান্নাত হলো একজন ব্যক্তি এবং জাহান্নামও একজন ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ১০)
واستحل النساء والمحارم وأحل ذلك لأصحابه وزعم أن الميتة والدم ولحم الخنزير والخمر والميسر وغير ذلك من المحارم حلال وقال: لم يحرم الله ذلك علينا ولا حرم شيئاً تقوى به أنفسنا وإنما هذه الأشياء أسماء رجال حرم الله سبحانه ولا يتهم وتأول في ذلك قوله تعالى: ليس على الذين آمنوا وعملوا الصالحات جناح فيما طعموا وأسقط الفرائض وقال: هي أسماء رجال أوجب الله ولا يتهم، واستحل خنق المنافقين وأخذ أموالهم، فأخذه يوسف بن عمر الثقفي والي العراق في أيام بني أمية فقتله.
والفرقة السادسة منهم الخطابية أصحاب أبي الخطاب بن أبي زينب، وهم خمس
فرق كلهم يزعمون أن الأيمة أنبياء محدثون ورسل الله وحججه على خلقه لا يزال منهم رسولان واحد ناطق والآخر صامت فالناطق محمد صلى الله عليه وسلم والصامت علي بن أبي طالب فهم في الأرض اليوم طاعتهم مفترضة على جميع الخلق يعلمون ما كان وما هو كائن، وزعموا أن أبا الخطاب نبي وأن أولئك الرسل فرضوا
তিনি নারী ও মাহরামদের (যাদের বিয়ে করা নিষিদ্ধ) সাথে সম্পর্ক স্থাপনকে হালাল করেছিলেন এবং তাঁর অনুসারীদের জন্যও তা বৈধ করে দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, মৃত প্রাণী, রক্ত, শূকরের মাংস, মদ, জুয়া এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ বিষয়গুলো আসলে হালাল। তিনি বলতেন: আল্লাহ আমাদের জন্য এগুলো হারাম করেননি এবং এমন কিছুই হারাম করেননি যা দ্বারা আমাদের আত্মা শক্তিশালী হয়; বরং এই বস্তুগুলো কতিপয় ব্যক্তির নাম যাদের আনুগত্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হারাম করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর অপব্যাখ্যা করেন: "যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারা যা আহার করেছে তাতে তাদের কোনো পাপ নেই।" তিনি ফরজ বিধানসমূহ বাতিল করে দেন এবং বলেন: এগুলো হলো কতিপয় ব্যক্তির নাম যাদের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন আল্লাহ আবশ্যক করেছেন। তিনি মুনাফিকদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা এবং তাদের ধনসম্পদ লুণ্ঠন করাকে বৈধ মনে করতেন। অতঃপর উমাইয়াদের শাসনামলে ইরাকের গভর্নর ইউসুফ বিন উমর আল-সাকাফি তাকে বন্দি করেন এবং হত্যা করেন।
তাদের ষষ্ঠ দলটি হলো খাত্তাবিয়া, যারা আবু খাত্তাব বিন আবি জাইনাবের অনুসারী। তারা পাঁচটি উপদলে বিভক্ত। তারা সকলেই দাবি করে যে, ইমামগণ হলেন নবী, 'মুহাদ্দাস' (যাদের নিকট ইলহাম আসে) এবং আল্লাহর রাসূল ও তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর প্রমাণস্বরূপ। তাদের মধ্যে সর্বদা দুইজন রাসূল বিদ্যমান থাকেন; একজন সবাক এবং অন্যজন মৌন। সবাক রাসূল হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মৌন রাসূল হলেন আলী বিন আবি তালিব। বর্তমানে পৃথিবীতে তাদের আনুগত্য করা সমস্ত সৃষ্টির জন্য ফরজ এবং তারা যা হয়ে গেছে ও যা ভবিষ্যতে ঘটবে—সবই অবগত। তারা আরও দাবি করেছিল যে আবু খাত্তাব একজন নবী এবং ওই সকল রাসূলগণ ফরজ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ১১)
عليهم طاعة أبي الخطاب وقالوا: الأيمة آلهة وقالوا: ولد الحسين أبناء الله وأحباؤه ثم قالوا ذلك في أنفسهم وتأولوا قول الله تعالى: فإذا سويته ونفخت فيه من روحي فقعوا له ساجدين قالوا: فهم آدم ونحن ولده، وعبدوا أبا الخطاب وزعموا أنه إله، وزعموا أن جعفر بن محمد إلههم أيضاً إلا أن أبا الخطاب أعظم منه وأعظم من علي، وخرج أبو الخطاب على أبي جعفر فقتله عيسى بن موسى في سبخة الكوفة، وهم يتدينون بشهادة الزور لموافقيهم.
والفرقة الثانية من الخطابية وهي الفرقة السابعة من الغالية يزعمون أن الإمام بعد أبي الخطاب رجل يقال له معمر وعبدوه كما عبدوا أبا الخطاب، وزعموا أن الدنيا لا تفنى وأن الجنة ما يصيب الناس من الخير والنعمة والعافية وأن النار ما يصيب الناس من خلاف ذلك، وقالوا بالتناسخ وأنهم لا يموتون ولكن يرفعون بأبدانهم إلى الملكوت وتوضع للناس أجساد شبه أجسادهم، واستحلوا الخمر والزنا واستحلوا سائر المحرمات ودانوا بترك الصلاة، وهم يسمون المعمرية ويقال أنهم يسمون العمومية.
তাদের ওপর আবু আল-খাত্তাবের আনুগত্য অবধারিত ছিল। তারা বলত: ইমামগণ হলেন উপাস্য। তারা আরও বলত: হুসাইনের সন্তানরা আল্লাহর পুত্র ও তাঁর প্রিয়পাত্র। পরবর্তীতে তারা নিজেদের ব্যাপারেও একই দাবি করত এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর অপব্যাখ্যা করত: "যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ো।" তারা বলত: আদম মূলত তারাই এবং তারা আদমের বংশধর। তারা আবু আল-খাত্তাবের উপাসনা করত এবং দাবি করত যে সে একজন ইলাহ। তারা আরও দাবি করত যে জাফর বিন মুহাম্মদও তাদের ইলাহ, তবে আবু আল-খাত্তাব তাঁর এবং আলীর চেয়েও মহান। আবু আল-খাত্তাব আবু জাফরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে কুফার নিকটবর্তী সাবখা নামক স্থানে ঈসা বিন মুসা তাকে হত্যা করেন। তারা তাদের মতাদর্শের অনুসারীদের অনুকূলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করাকে ধর্মীয় কর্তব্য মনে করে।
খাত্তাবিয়াদের দ্বিতীয় দলটি হলো চরমপন্থীদের (গালিয়া) সপ্তম দল। তারা দাবি করে যে, আবু আল-খাত্তাবের পর ইমাম হলেন মুয়াম্মার নামক এক ব্যক্তি এবং তারা তার উপাসনা করত ঠিক যেভাবে তারা আবু আল-খাত্তাবের উপাসনা করত। তারা বিশ্বাস করত যে এই পৃথিবী অবিনশ্বর এবং জান্নাত হলো মানুষের প্রাপ্ত কল্যাণ, নিয়ামত ও সুস্থতা; আর জাহান্নাম হলো মানুষের ওপর আপতিত এর বিপরীত বিপদ-আপদ। তারা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস করত এবং মনে করত যে তারা মৃত্যুবরণ করে না, বরং সশরীরে ঊর্ধ্বজগতে উন্নীত হয় এবং মানুষের দৃষ্টির আড়ালে তাদের দেহের সদৃশ কিছু দেহ রেখে যাওয়া হয়। তারা মদ ও ব্যভিচারকে বৈধ করে নিয়েছিল এবং অন্যান্য সকল নিষিদ্ধ বিষয়কেও হালাল মনে করত, সেইসাথে তারা সালাত বর্জন করাকেও ধর্মের অংশ বানিয়ে নিয়েছিল। তাদের মুয়াম্মারিয়া বলা হয় এবং কেউ কেউ বলেন যে তাদের উমুমিয়া নামেও অভিহিত করা হয়।
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ১২)
والفرقة الثالثة من الخطابية وهي الثامنة من الغالية يقال لهم البزيغية أصحاب بزيغ بن موسى يزعمون أن جعفر بن محمد هو الله وأنه ليس بالذي يرون وأنه تشبه للناس بهذه الصورة، وزعموا أن كل ما يحدث في قلوبهم وحي وأن كل مؤمن يوحى إليه وتأولوا في ذلك قول الله تعالى: وما كان لنفس أن تموت إلا بإذن الله أي بوحي من الله وقوله: وأوحى ربك إلى النحل و: إذا أوحيت إلى
الحواريين، وزعموا أن منهم من هو خير من جبريل وميكائيل ومحمد، وزعموا أنه لا يموت منهم أحد وأن أحدهم إذا بلغت عبادته رفع إلى الملكوت، وادعوا معاينة أمواتهم وزعموا أنهم يرونهم بكرة وعشية.
والفرقة الرابعة من الخطابية وهي التاسعة من الغالية يقال لهم العميرية أصحاب عمير بن بيان العجلي وهذه الفرقة تكذب من قال منهم أنهم لا يموتون ويزعمون أنهم يموتون ولا يزال خلف منهم في الأرض أيمة أنبياء، وعبدوا جعفراً كما عبده اليعمريون وزعموا أنه
খাত্তাবিয়াদের তৃতীয় উপদল এবং অতিবাদীদের অষ্টম উপদলকে বাজিগিয়া বলা হয়; তারা বাজিগ ইবনে মুসার অনুসারী। তারা দাবি করে যে জাফর ইবনে মুহাম্মদই আল্লাহ এবং তিনি তেমন নন যেমন মানুষ তাঁকে দেখছে, বরং তিনি মানুষের সামনে এই আকৃতি ধারণ করেছেন। তারা আরও দাবি করে যে, তাদের অন্তরে যা কিছু উদিত হয় তা-ই ওহি এবং প্রত্যেক মুমিনের কাছেই ওহি আসে। তারা এ বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণীর অপব্যাখ্যা করে: "আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোনো প্রাণের মৃত্যু হতে পারে না", অর্থাৎ আল্লাহর ওহি ব্যতীত। এবং তাঁর বাণী: "আপনার প্রতিপালক মৌমাছিকে প্রত্যাদেশ করলেন" এবং: "যখন আমি প্রত্যাদেশ করলাম
হাওয়ারীদের প্রতি", তারা আরও দাবি করে যে, তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে জিবরাঈল, মিকাইল এবং মুহাম্মদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। তারা দাবি করে যে তাদের কেউ মৃত্যুবরণ করে না এবং যখন তাদের কারও ইবাদত নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছায়, তখন তাকে ঊর্ধ্বজগতে তুলে নেওয়া হয়। তারা তাদের মৃতদের সরাসরি দেখার দাবি করে এবং দাবি করে যে তারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের দেখতে পায়।
খাত্তাবিয়াদের চতুর্থ উপদল এবং অতিবাদীদের নবম উপদলকে উমাইরিয়া বলা হয়; তারা উমাইর ইবনে বায়ান আল-ইজলির অনুসারী। এই দলটি তাদের মধ্য থেকে যারা বলে যে তারা মরে না, তাদের মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে এবং দাবি করে যে তারা মৃত্যুবরণ করে, তবে পৃথিবীতে তাদের উত্তরসূরি হিসেবে সর্বদা ইমাম ও নবীগণ বিদ্যমান থাকেন। তারা জাফরের উপাসনা করত যেভাবে ইয়া'মুরিয়াগণ তাঁর উপাসনা করত এবং তারা দাবি করত যে তিনি
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ربهم وقد كانوا ضربوا خيمة في كناسة الكوفة ثم اجتمعوا إلى عبادة جعفر، فأخذ يزيد بن عمر بن هبيرة عمير بن البيان فقتله في الكناسة وحبس بعضهم.
والفرقة الخامسة من الخطابية وهي العاشرة من الغالية يقال لهم المفضلية لأن رئيسهم كان صيرفياً يقال له المفضل يقولون بربوبية جعفر كما قال غيرهم من أصناف الخطابية وانتحلوا النبوة والرسالة وإنما خالفوا في البراءة من أبي الخطاب لأن جعفراً أظهر البراءة منه فجميع من أخرج الأمر من بني هاشم من الإمامية الذين يقولون بالنص على علي وادعى الأمر لنفسه ستة: عبد الله بن عمرو بن حرب الكندي وبيان بن سمعان التميمي والمغيرة بن سعيد وأبو منصور والحسن بن أبي منصور وأبو الخطاب الأسدي وزعم أبو الخطاب أنه أفضل من بني هاشم.
وقد قال في عصرنا هذا قائلون بالبهية سلمان الفارسي.
وفي النساك من الصوفية من يقول بالحلول وأن البارئ يحل في الأشخاص وأنه جائز أن يحل في إنسان وسبع وغير ذلك من الأشخاص، وأصحاب هذه المقالة إذا أرادوا شيئاً يستحسنونه قالوا: لا ندري لعل الله
তাদের পালনকর্তা। তারা কুফার কুনাসাহ নামক স্থানে একটি তাবু স্থাপন করেছিল, অতঃপর জাফরের উপাসনার জন্য সমবেত হয়েছিল। তখন ইয়াজিদ ইবনে উমর ইবনে হুবায়রা উমায়ের ইবনুল বায়ানকে পাকড়াও করে কুনাসাহতে হত্যা করেন এবং তাদের কয়েকজনকে বন্দি করেন।
খাত্তাবিয়্যাহর পঞ্চম উপদল, যা চরমপন্থীদের (গালিয়া) দশম উপদল, তাদের মুফাদদালিয়্যাহ বলা হয়; কারণ তাদের নেতা ছিল মুফাদদাল নামক একজন মুদ্রা বিনিময়কারী। খাত্তাবিয়্যাহর অন্যান্য উপদলের ন্যায় তারাও জাফরের প্রভুত্বে বিশ্বাস করত এবং নবুওয়াত ও রিসালাতের দাবি করত। তারা কেবল আবু আল-খাত্তাবের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করত, কারণ জাফর তার থেকে বিমুখতা প্রকাশ করেছিলেন। বনু হাশিম থেকে ইমামাতের বিষয়টি সরিয়ে যারা নিজেদের জন্য এর দাবি করেছিল—ইমামিয়্যাহদের মধ্য থেকে যারা আলীর জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনার (নস) প্রবক্তা—এমন ব্যক্তি মোট ছয়জন: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারব আল-কিন্দি, বায়ান ইবনে সামআন আত-তামিমি, আল-মুগিরা ইবনে সাঈদ, আবু মানসুর, আল-হাসান ইবনে আবি মানসুর এবং আবু আল-খাত্তাব আল-আসাদি। আবু আল-খাত্তাব দাবি করত যে, সে বনু হাশিমের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
আমাদের এই বর্তমান যুগে কিছু লোক সালমান আল-ফারসির ক্ষেত্রে বাহিয়্যাহ মতবাদের কথা বলেছেন।
সুফি সাধকদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা ‘হুলুল’ বা ঐশ্বরিক অনুপ্রবেশে বিশ্বাস করে এবং মনে করে যে, স্রষ্টা বিভিন্ন ব্যক্তিসত্তার মধ্যে প্রবিষ্ট হন। তাদের মতে মানুষ, হিংস্র প্রাণী কিংবা অন্য কোনো সত্তার মধ্যে তাঁর প্রবিষ্ট হওয়া সম্ভব। এই মতবাদের অনুসারীরা যখন কোনো পছন্দনীয় বস্তু দেখে, তখন তারা বলে: “আমরা জানি না, হয়তো আল্লাহ...”
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
حال فيه ومالوا إلى اطراح الشرائع وزعموا أن الإنسان ليس عليه فرض ولا يلزمه عبادة إذا وصل إلى معبوده.
والصنف الحادي عشر من أصناف الغالية يزعمون أن روح القدس - هو الله عز وجل كانت في النبي صلى الله عليه وسلم ثم في علي ثم في الحسن ثم في الحسين ثم في علي بن الحسين ثم في محمد بن علي ثم في جعفر بن محمد بن علي ثم في موسى بن جعفر ثم في علي بن موسى بن جعفر ثم في محمد بن علي بن موسى ثم في علي بن محمد بن علي بن موسى ثم في الحسن بن علي بن محمد بن علي بن موسى ثم في محمد بن الحسن بن علي بن محمد بن علي وهؤلاء آلهة عندهم كل واحد منهم إله على التناسخ والإله عندهم يدخل في الهياكل.
والصنف الثاني عشر من أصناف الغالية يزعمون أن علياً هو الله ويكذبون النبي صلى الله عليه وسلم ويشتمونه ويقولون أن علياً وجه به ليبين أمره فادعى الأمر لنفسه.
والصنف الثالث عشر من أصناف الغالية هم أصحاب الشريعي يزعمون أن الله حل في خمسة أشخاص: في النبي وفي علي وفي الحسن وفي الحسين وفي فاطمة فهؤلاء آلهة عندهم، وليس يطعن أصحاب
তাতে তিনি (আল্লাহ) অবস্থান করেছেন এবং তারা শরীয়ত বর্জন করার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তারা দাবি করে যে, মানুষ যখন তার মাবুদের (উপাস্য) নিকট পৌঁছে যায়, তখন তার ওপর আর কোনো ফরজ অর্পিত থাকে না এবং কোনো ইবাদতও তার জন্য আবশ্যক হয় না।
চরমপন্থীদের (গালিয়া) একাদশ দলটি দাবি করে যে, রুহুল কুদুস—যিনি স্বয়ং মহান আল্লাহ—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে ছিলেন, অতঃপর আলীর মধ্যে, তারপর হাসানের মধ্যে, তারপর হুসাইনের মধ্যে, তারপর আলী ইবনুল হুসাইনের মধ্যে, তারপর মুহাম্মদ ইবনে আলীর মধ্যে, তারপর জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলীর মধ্যে, তারপর মূসা ইবনে জাফরের মধ্যে, তারপর আলী ইবনে মূসা ইবনে জাফরের মধ্যে, তারপর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মূসার মধ্যে, তারপর আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মূসার মধ্যে, তারপর হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মূসার মধ্যে, অতঃপর মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলীর মধ্যে বিদ্যমান ছিলেন। তাদের নিকট এরা সকলেই উপাস্য; জন্মান্তরবাদের ভিত্তিতে তাদের প্রত্যেকেই একেকজন ইলাহ (উপাস্য) এবং তাদের মতে ইলাহ বিভিন্ন অবয়ব বা মানবদেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন।
চরমপন্থীদের দ্বাদশ দলটি দাবি করে যে, আলীই হলেন আল্লাহ। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং তাঁকে গালিগালাজ করে। তারা বলে যে, আলী তাঁকে নিজের বিষয়টি প্রচারের জন্য পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি (নবী) সেই বিষয়টি নিজের জন্য দাবি করেছিলেন।
চরমপন্থীদের ত্রয়োদশ দলটি হলো শারিঈ-র অনুসারী। তারা দাবি করে যে, আল্লাহ পাঁচজন ব্যক্তির মধ্যে অবতীর্ণ বা বিলীন হয়েছেন: নবী, আলী, হাসান, হুসাইন এবং ফাতেমা। সুতরাং এরা তাদের নিকট উপাস্য। আর শারিঈ-র অনুসারীরা নিন্দা করে না...
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الشريعي على النبي صلى الله عليه وسلم ولا يقولون عنه ما حكيناه عن الصنف الذي ذكرناه قبلهم وقالوا: لهذه الأشخاص الخمسة التي حل فيها الإله خمسة أضداد فالأضداد أبو بكر وعمر عثمان ومعاوية وعمرو بن العاص، وافترقوا في الأضداد على مقالتين: فزعم بعضهم أن الأضداد محمودة لأنه لا يعرف فضل الأشخاص الخمسة إلا بأضدادها فهي محمودة من هذا الوجه، وزعم بعضهم أن الأضداد مذمومة وأنها لا تحمد بحال من الأحوال، وحكي أن الشريعي كان يزعم أن البارئ جل جلاله يحل فيه، وحكي أن فرقة من الرافضة يقال لهم النميرية أصحاب النميري يقولون أن البارئ كان حالاً في النميري.
والصنف الرابع عشر من أصناف الغالية وهم السبائية أصحاب عبد الله بن سبأ يزعمون أن علياً لم يمت وأنه يرجع إلى الدنيا قبل يوم القيامة فيملأ الأرض عدلاً كما ملئت جوراً وذكروا عنه أنه قال لعلي عليه السلام: أنت أنت، والسبائية يقولون بالرجعة وأن الأموات يرجعون إلى الدنيا، وكان السيد الحميري يقول برجعة الأموات وفي ذلك يقول:
إلى يوم يؤب الناس فيه
… إلى دنياهم قبل الحساب
আশ-শারিঈ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিষয়ে এমন কথা বলেন না যা আমরা তাদের পূর্ববর্তী গোষ্ঠী সম্পর্কে উল্লেখ করেছি। তারা বলে: যে পাঁচজন ব্যক্তির মধ্যে উপাস্য অবতীর্ণ হয়েছেন, তাদের বিপরীতে পাঁচজন বিরোধী সত্তা রয়েছেন; এই বিরোধীরা হলেন আবু বকর, উমর, উসমান, মুয়াবিয়া এবং আমর ইবনুল আস। তারা এই বিরোধীদের ব্যাপারে দুটি মতে বিভক্ত হয়েছে: তাদের কেউ কেউ দাবি করে যে, এই বিরোধীরা প্রশংসিত; কারণ সেই পাঁচজন ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব তাদের বিরোধীদের মাধ্যমেই চেনা যায়, তাই এই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা প্রশংসিত। আবার কেউ কেউ দাবি করে যে, এই বিরোধীরা নিন্দনীয় এবং কোনো অবস্থাতেই তারা প্রশংসার যোগ্য নয়। বর্ণিত আছে যে, আশ-শারিঈ দাবি করতেন যে মহান স্রষ্টা তাঁর মধ্যে আবির্ভূত হয়েছেন। আরও বর্ণিত আছে যে, রাফেজিদের একটি দল—যাদের নুমাইরিয়্যাহ বলা হয় এবং যারা নুমাইরির অনুসারী—তারা বলে যে, স্রষ্টা নুমাইরির মধ্যে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
চরমপন্থীদের চতুর্দশ গোষ্ঠী হলো সাবায়িয়্যাহ দল, যারা আব্দুল্লাহ বিন সাবার অনুসারী। তারা দাবি করে যে, আলী মৃত্যুবরণ করেননি এবং কিয়ামতের পূর্বে তিনি পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবেন; অতঃপর তিনি পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করবেন যেভাবে তা জুলুম ও অত্যাচারে ভরে গিয়েছিল। তারা তাঁর সম্পর্কে বর্ণনা করে যে, তিনি আলীকে (আলাইহিস সালাম) উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: 'আপনিই তিনি (অর্থাৎ ইলাহ)'। সাবায়িয়্যাহরা 'রাজ'আ' বা প্রত্যাবর্তনে বিশ্বাস করে এবং মনে করে যে মৃতরা পুনরায় দুনিয়াতে ফিরে আসবে। আস-সাইয়্যিদ আল-হিমইয়ারিও মৃতদের প্রত্যাবর্তনের কথা বলতেন এবং সে সম্পর্কে তিনি বলেন:
সেই দিন পর্যন্ত যখন মানুষ হিসাব-নিকাশের পূর্বে পুনরায় তাদের দুনিয়াতে ফিরে আসবে
… তাদের পার্থিব জীবনে।
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والصنف الخامس عشر من أصناف الغالية يزعمون أن الله عز وجل وكل الأمور وفوضها إلى محمد صلى الله عليه وسلم وأنه أقدره على خلق الدنيا فخلقها ودبرها وأن الله سبحانه لم يخلق من ذلك شيئاً، ويقول ذلك كثير منهم في علي، ويزعمون أن الأيمة ينسخون الشرائع ويهبط عليهم الملائكة وتظهر عليهم الأعلام والمعجزات ويوحى إليهم.
ومنهم من يسلم على السحاب ويقول إذا مرت سحابة به أن علياً رضوان الله عليه فيها وفيهم يقول بعض الشعراء:
برئت من الخوارج لست منهم
… من الغزال منهم وابن باب
ومن قوم إذا ذكروا علياً
… يردون السلام على السحاب
والصنف الثاني من الأصناف الثلاثة التي ذكرنا بأن الشيعة يجمعها ثلاثة أصناف وهم الرافضة وإنما سموا رافضة لرفضهم إمامة أبي بكر وعمر وهم مجمعون على أن النبي صلى الله عليه وسلم نص على استخلاف علي بن أبي طالب باسمه وأظهر ذلك وأعلنه وأن أكثر الصحابة ضلوا بتركهم الاقتداء به بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم وأن الإمامة لا تكون
গালিয়া (চরমপন্থী) সম্প্রদায়সমূহের পনেরোতম গোষ্ঠীটি দাবি করে যে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা সকল বিষয় মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর ন্যস্ত ও অর্পণ করেছেন এবং তিনি তাঁকে পৃথিবী সৃষ্টি করার সামর্থ্য দান করেছেন, ফলে তিনি তা সৃষ্টি করেছেন ও পরিচালনা করেছেন; আর আল্লাহ সুবহানাহু এর কোনো কিছুই সৃষ্টি করেননি। তাদের অনেকে আলীর ক্ষেত্রেও অনুরূপ কথা বলে। তারা আরও দাবি করে যে, ইমামগণ শরীয়তের বিধানাবলি রহিত করে দেন, ফেরেশতারা তাঁদের কাছে অবতরণ করেন, তাঁদের মাধ্যমে নিদর্শন ও মুজিযা প্রকাশ পায় এবং তাঁদের কাছে ওহী আসে।
তাদের মধ্যে এমন একদল আছে যারা মেঘমালাকে সালাম দেয় এবং যখন কোনো মেঘ তাদের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে তখন তারা বলে যে, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার মধ্যে অবস্থান করছেন। তাদের সম্পর্কেই জনৈক কবি বলেছেন:
আমি খারেজিদের থেকে মুক্ত, আমি তাদের কেউ নই
… গাজ্জাল এবং ইবনে বাব থেকেও আমি সম্পর্কহীন।
এবং এমন এক গোষ্ঠী থেকেও (মুক্ত), যারা আলীর কথা উল্লেখ করলে
… মেঘমালার ওপর সালাম পাঠায়।
শিয়াদের অন্তর্ভুক্ত যে তিনটি মূল উপদলের কথা আমরা উল্লেখ করেছি তাদের মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো রাফেজি। আবু বকর ও উমরের ইমামত বা খেলাফতকে প্রত্যাখ্যান করার কারণেই তাদের রাফেজি বলা হয়। তারা এ বিষয়ে একমত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী ইবনে আবি তালিবকে নাম ধরে স্থলাভিষিক্ত করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তিনি তা জনসমক্ষে প্রকাশ ও ঘোষণা করেছেন। তারা আরও মনে করে যে, অধিকাংশ সাহাবী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর অনুসরণ ত্যাগ করার মাধ্যমে পথভ্রষ্ট হয়েছেন এবং তারা মনে করে যে ইমামত...
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إلا بنص وتوقيف وأنها قرابة وأنه جائز للإمام في حال التقية أن يقول أنه ليس بإمام، وأبطلوا جميعاً الاجتهاد في الأحكام، وزعموا أن الإمام لا يكون إلا أفضل الناس، وزعموا أن علياً رضوان الله عليه
كان مصيباً في جميع أحواله وأنه لم يخطئ في شيء من أمور الدين إلا الكاملية أصحاب أبي كامل فإنهم أكفروا الناس بترك الاقتداء به وأكفروا علياً بترك الطلب، وأنكروا الخروج على أيمة الجور وقالوا: ليس يجوز ذلك دون الإمام المنصوص على إمامته، وهم سوى الكاملية أربع وعشرون فرقة وهم يدعون الإمامية لقولهم بالنص على إمامة علي بن أبي طالب.
فالفرقة الأولى منهم وهم القطعية وإنما سموا قطعية لأنهم قطعوا على موت موسى بن جعفر بن محمد بن علي وهم جمهور الشيعة يزعمون أن النبي صلى الله عليه وسلم نص على إمامة علي بن أبي طالب واستخلفه بعده بعينه واسمه وأن علياً نص على إمامة ابنه الحسن بن علي وأن الحسن بن علي نص على إمامة أخيه الحسين بن علي وأن الحسين بن علي نص على إمامة ابنه علي بن الحسين وأن علي بن
ব্যতীত সুস্পষ্ট নির্দেশ ও নির্ধারিত বিধানের মাধ্যমেই কেবল সম্ভব; এবং এটি একটি রক্তসম্পর্কীয় অধিকার। আর তাকিয়ার (সতর্কতামূলক আত্মগোপন) অবস্থায় ইমামের জন্য এটি বলা বৈধ যে তিনি ইমাম নন। তারা সকলেই আহকামের (বিধানের) ক্ষেত্রে ইজতিহাদকে বাতিল ঘোষণা করেছে এবং দাবি করেছে যে, ইমাম অবশ্যই মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হবেন। তারা আরও দাবি করেছে যে, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সকল অবস্থায় সঠিক পথে ছিলেন এবং দ্বীনের কোনো বিষয়েই তিনি কোনো ভুল করেননি।
তবে কামিলিয়া দল—যারা আবু কামিলের অনুসারী—এর ব্যতিক্রম; কেননা তারা আলীর অনুসরণ না করার কারণে মানুষকে কাফির সাব্যস্ত করেছে এবং নিজের অধিকার দাবি না করার জন্য আলীকেই কাফির বলেছে। তারা জালেম শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাকে অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে, যাঁর ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ (নাস) রয়েছে, তাঁর অনুমতি ব্যতীত তা জায়েজ নয়। কামিলিয়া ব্যতীত তারা চব্বিশটি উপদলে বিভক্ত; আলী ইবনে আবি তালিবের ইমামতের সপক্ষে সুস্পষ্ট নির্দেশের প্রবক্তা হওয়ার কারণে তাদেরকে ইমামিয়া বলা হয়।
তাদের মধ্যে প্রথম দলটি হলো কাত'ইয়্যাহ। তাদেরকে কাত'ইয়্যাহ বলা হয় কারণ তারা মুসা ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলীর মৃত্যুর ব্যাপারে সুনিশ্চিত বিশ্বাস পোষণ করে। তারা শিয়াদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ; তারা দাবি করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী ইবনে আবি তালিবের ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং তাঁর নাম ও ব্যক্তিসত্তা নির্দিষ্ট করে তাঁকে তাঁর পরবর্তী স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করেছেন। আলী তাঁর পুত্র হাসান ইবনে আলীর ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, হাসান ইবনে আলী তাঁর ভাই হুসাইন ইবনে আলীর ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, হুসাইন ইবনে আলী তাঁর পুত্র আলী ইবনে হুসাইনের ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন এবং আলী ইবনে...
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الحسين نص على إمامة ابنه محمد بن علي وأن محمد بن علي نص على إمامة ابنه جعفر بن محمد وأن جعفر بن محمد نص على إمامة ابنه موسى بن جعفر وأن موسى بن جعفر نص على إمامة ابنه علي بن موسى وأن علي بن موسى نص على إمامة ابنه محمد بن علي بن موسى وأن محمد بن علي نص على إمامة ابنه علي بن محمد بن علي بن موسى وأن علي بن محمد بن علي بن موسى نص على إمامة ابنه الحسن بن علي بن محمد بن علي بن موسى وهو الذي كان بسامرا وأن الحسن بن علي نص على إمامة ابنه محمد بن الحسن بن علي وهو الغائب المنتظر عندهم الذي يدعون أنه يظهر فيملأ الأرض عدلاً بعد أن ملئت ظلماً وجوراً.
والفرقة الثانية منهم وهم الكيسانية وهي إحدى عشرة فرقة وإنما سموا كيسانية لأن المختار الذي خرج وطلب بدم الحسين بن علي ودعا إلى محمد بن الحنفية كان يقال له كيسان ويقال إنه مولى لعلي بن أبي طالب رضوان الله عليه.
والفرقة الأولى من الكيسانية وهي الثانية من الرافضة يزعمون أن علي بن أبي طالب نص على إمامة ابنه محمد بن الحنفية لأنه دفع إليه الراية بالبصرة.
হোসাইন তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বিন আলীর ইমামতের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেন এবং মুহাম্মদ বিন আলী তাঁর পুত্র জাফর বিন মুহাম্মদের ইমামতের বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করেন। জাফর বিন মুহাম্মদ তাঁর পুত্র মুসা বিন জাফরের ইমামতের বিষয়ে নির্দেশ দেন এবং মুসা বিন জাফর তাঁর পুত্র আলী বিন মুসার ইমামতের বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করেন। আলী বিন মুসা তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসার ইমামতের বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করেন এবং মুহাম্মদ বিন আলী তাঁর পুত্র আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসার ইমামতের বিষয়ে নির্দেশ দেন। আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসা তাঁর পুত্র হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসার ইমামতের বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করেন, যিনি সামারায় অবস্থান করতেন। আর হাসান বিন আলী তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আলীর ইমামতের বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করেন; যিনি তাদের নিকট অদৃশ্য ও প্রতীক্ষিত ইমাম, যার সম্পর্কে তারা দাবি করে যে তিনি আবির্ভূত হয়ে পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পরিপূর্ণ করবেন, যেমনটি তা ইতিপূর্বে জুলুম ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ হয়েছিল।
তাদের মধ্য হতে দ্বিতীয় দলটি হলো কায়সানিয়া, যারা এগারোটি উপদলে বিভক্ত। তাদের কায়সানিয়া নামকরণের কারণ হলো, মুখতার—যিনি বিদ্রোহ করেছিলেন এবং হোসাইন বিন আলীর হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ করেছিলেন ও মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যার ইমামতের দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন—তাঁকে কায়সান বলা হতো। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি আলী বিন আবু তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর একজন মুক্তদাস ছিলেন।
কায়সানিয়াদের প্রথম উপদল—যা রাফেযীদের সামগ্রিক বিন্যাসে দ্বিতীয় দল—তারা দাবি করে যে, আলী বিন আবু তালিব তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যার ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, কারণ তিনি বসরার যুদ্ধে তাঁর হাতেই ঝাণ্ডা বা পতাকা অর্পণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والفرقة الثالثة من الرافضة وهي الثانية من الكيسانية يزعمون أن علي بن أبي طالب نص على إمامة ابنه الحسن بن علي وأن الحسن بن علي نص على إمامة أخيه الحسين بن علي وأن الحسين بن علي نص على إمامة أخيه محمد بن علي وهو محمد بن الحنفية.
والفرقة الرابعة من الرافضة وهي الثالثة من الكيسانية وهي الكربية أصحاب أبي كرب الضرير يزعمون أن محمد بن الحنفية حي بجبال رضوى أسد عن يمينه ونمر عن شماله يحفظانه يأتيه رزقه غدوة وعشية إلى وقت خروجه، وزعموا أن السبب الذي من أجله صبر على هذا الحال أن يكون مغيباً عن الخلق أن لله تعالى فيه تدبيراً لا يعلمه غيره، ومن القائلين بهذا القول كثير الشاعر وفي ذلك يقول:
ألا إن الأيمة من قريش
… ولاة الحق أربعة سواء
علي والثلاثة من بنيه
… هم الأسباط ليس بهم خفاء
فسبط سبط إيمان وبر
… وسبط غيبته كربلاء
وسبط لا يذوق الموت حتى
… يقود الخيل يقدمها اللواء
تغيب لا يرى فيهم زماناً
… برضوى عنده عسل وماء
রাফেজিদের তৃতীয় দলটি—যারা কায়সানিয়াদের দ্বিতীয় শাখা—দাবি করে যে, আলি ইবনে আবি তালিব তার পুত্র হাসান ইবনে আলির ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেছেন, এবং হাসান ইবনে আলি তার ভাই হুসাইন ইবনে আলির ইমামতের ব্যাপারে, আর হুসাইন ইবনে আলি তার ভাই মুহাম্মদ ইবনে আলির—যিনি মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যাহ নামে পরিচিত—ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেছেন।
আর রাফেজিদের চতুর্থ দলটি—যারা কায়সানিয়াদের তৃতীয় শাখা এবং ‘কারবিয়্যাহ’ (আবু কারিব আদ-দারিরের অনুসারী) নামে পরিচিত—তারা দাবি করে যে, মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যাহ রাদওয়া পাহাড়ে জীবিত আছেন। তার ডান দিকে একটি সিংহ এবং বাম দিকে একটি চিতা তাকে পাহারা দেয়। তার পুনরায় আবির্ভাবের সময় পর্যন্ত সকাল-সন্ধ্যা তার নিকট রিজিক পৌঁছে দেওয়া হয়। তারা আরও দাবি করে যে, সৃষ্টির দৃষ্টি থেকে আড়ালে থেকে তিনি যে এই অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করছেন, তার পেছনে কারণ হলো এতে মহান আল্লাহর এমন এক নিগূঢ় পরিকল্পনা রয়েছে যা তিনি ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। এই মতের প্রবক্তাদের মধ্যে কবি কুসাইয়ির অন্যতম এবং এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন:
জেনে রেখো, কুরাইশদের মধ্যেই রয়েছেন ইমামগণ
… সত্যের ন্যায়নিষ্ঠ অভিভাবক তারা চারজন সমান
আলি এবং তার তিন পুত্র
… তারা হলেন মহান বংশধর, যাদের ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই
এক পৌত্র হলেন ইমান ও পুণ্যের আধার
… আর অন্য পৌত্রের অন্তর্ধান ঘটেছে কারবালায়
অপর এক পৌত্র মৃত্যু আস্বাদন করবেন না যতক্ষণ না
… তিনি অশ্বারোহী বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন, যার সম্মুখে উড়বে বিজয় নিশান
তিনি দীর্ঘকাল তাদের নিকট থেকে অদৃশ্য হয়ে আছেন
… রাদওয়া পাহাড়ে তার নিকট রয়েছে মধু ও পানি
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ২০)
والفرقة الخامسة من الرافضة وهي الرابعة من الكيسانية يزعمون أن محمد بن الحنفية إنما جعل بجبال رضوى عقوبة لركونه إلى عبد الملك بن مران وبيعته إياه.
والفرقة السادسة من الرافضة وهي الخامسة من الكيسانية يزعمون أن محمد بن الحنفية مات وأن الإمام بعده ابنه أبو هاشم عبد الله بن محمد بن الحنفية.
والفرقة الثامنة من الرافضة وهي السابعة من الكيسانية يزعمون أن الإمام بعد أبي
هاشم عبد الله بن محمد بن الحنفية ابن أخيه الحسن بن محمد بن الحنفية وأن أبا هاشم أوصى إليه ثم أوصى الحسن إلى ابنه علي بن الحسن وهلك علي ولم يعقب فهم ينتظرون
রাফেজিদের পঞ্চম উপদল—যা কায়সানিয়াদের চতুর্থ উপদল—দাবি করে যে, মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়াহকে রাদওয়া পাহাড়ে আবদ্ধ রাখা হয়েছে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের প্রতি অনুগত হওয়া এবং তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করার কারণে শাস্তি হিসেবে।
রাফেজিদের ষষ্ঠ উপদল—যা কায়সানিয়াদের পঞ্চম উপদল—দাবি করে যে, মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়াহ ইন্তেকাল করেছেন এবং তাঁর পরবর্তী ইমাম হলেন তাঁর পুত্র আবু হাশিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়াহ।
রাফেজিদের অষ্টম উপদল—যা কায়সানিয়াদের সপ্তম উপদল—দাবি করে যে, আবু হাশিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়াহর পরবর্তী ইমাম হলেন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়াহ। আবু হাশিম তাঁর অনুকূলে অসিয়ত করেছিলেন, অতঃপর হাসান তাঁর পুত্র আলী ইবনে হাসানের প্রতি অসিয়ত করেন। আলী কোনো উত্তরাধিকারী না রেখেই মৃত্যুবরণ করেন, ফলে তাঁরা (পরবর্তী ইমামের) প্রতীক্ষায় রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ২১)
رجعة محمد بن الحنفية ويقولون أنه يرجع ويملك فهم اليوم في التيه لا إمام لهم إلى أن يرجع إليهم محمد بن الحنفية في زعمهم.
والفرقة التاسعة من الرافضة وهي الثامنة من الكيسانية يزعمون أن الإمام بعد أبي هاشم محمد بن علي بن عبد الله بن العباس قالوا: وذلك أن أبا هاشم مات بأرض الشراة منصرفه من الشام فأوصى هناك إلى محمد بن علي بن عبد الله بن العباس وأوصى محمد بن علي إلى ابنه إبراهيم بن محمد ثم أوصى إبراهيم بن محمد إلى أبي العباس ثم أفضت الخلافة إلى أبي جعفر المنصور بوصية بعضهم إلى بعض، ثم رجع بعض هؤلاء عن هذا القول وزعموا أن النبي صلى الله عليه وسلم نص على العباس بن عبد المطلب ونصبه إماماً ثم نص العباس على إمامة ابنه عبد الله ونص عبد الله على إمامة ابنه علي بن عبد الله ثم ساقوا الإمامة إلى أن انتهوا بها إلى أبي جعفر المنصور وهؤلاء هم الراوندية، وافترقت هذه الفرقة في أمر أبي مسلم على مقالتين: فزعمت فرقة منهم تدعى الرزامية أصحاب رجل يقال له
মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যাহর প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে তারা বলে যে, তিনি ফিরে আসবেন এবং রাজত্ব করবেন; ফলে তাদের দাবি অনুযায়ী মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যাহ তাদের নিকট ফিরে না আসা পর্যন্ত তারা বর্তমানে বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে এবং তাদের কোনো ইমাম নেই।
রাফেযীদের নবম দলটি—যা কায়সানিয়্যাহর অষ্টম উপদল—দাবি করে যে, আবু হাশিমের পর ইমাম হলেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবদুল্লাহ বিন আব্বাস। তারা বলে: এর কারণ হলো আবু হাশিম সিরিয়া থেকে ফেরার পথে আশ-শারা নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানে তিনি মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবদুল্লাহ বিন আব্বাসের অনুকূলে অসিয়ত করে যান। এরপর মুহাম্মদ বিন আলী তাঁর পুত্র ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদের প্রতি অসিয়ত করেন, অতঃপর ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আবু আল-আব্বাসের প্রতি অসিয়ত করেন এবং পরিশেষে একে অপরের অসিয়তের মাধ্যমে খিলাফত আবু জাফর আল-মানসুরের কাছে এসে পৌঁছায়। পরবর্তীতে তাদের মধ্য থেকে একটি দল এই মত থেকে ফিরে আসে এবং দাবি করে যে, নবী (সালল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিবের নাম সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন এবং তাঁকে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। অতঃপর আব্বাস তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর ইমামতের ব্যাপারে এবং আবদুল্লাহ তাঁর পুত্র আলী বিন আবদুল্লাহর ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেন। এভাবে তারা ইমামতের এই ধারাকে আবু জাফর আল-মানসুর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়; আর এরাই হলো রাওয়ান্দিয়্যাহ সম্প্রদায়। আবু মুসলিমের বিষয়ে এই দলটি দুটি মতে বিভক্ত হয়ে পড়ে: তাদের মধ্যকার একটি দল যাদেরকে রিযামিয়্যাহ বলা হয়—যারা এমন এক ব্যক্তির অনুসারী যাকে বলা হতো—দাবি করে যে...
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ২২)
رزام أن أبا مسلم قتل، وقالت فرقة أخرى يقال لها أبو مسلمية أن أبا مسلم حي لم يمت، ويحكى عنهم استحلال لما لم يحلل لهم أسلافهم.
والفرقة العاشرة من الرافضة وهي الحربية أصحاب عبد الله بن عمرو بن حرب وهي التاسعة من الكيسانية يزعمون أن أبا هاشم عبد الله بن محمد بن الحنفية نصب عبد الله بن عمرو بن حرب إماماً وتحولت روح أبي هاشم فيه، ثم وقفوا على كذب عبد الله بن عمرو بن حرب فصاروا إلى المدينة يلتمسون إماماً فلقوا عبد الله بن معاوية بن عبد الله بن جعفر بن أبي طالب فدعاهم إلى أن يأتموا به فاستجابوا له ودانوا بإمامته وادعوا له الوصية، وافترقوا في أمر عبد الله بم
معاوية ثلاث فرق: فزعمت فرقة منهم أنه قد مات، وزعمت فرقة منهم أخرى أنه بجبال أصبهان وأنه لم يمت ولا يموت حتى يقود بنواصي الخيل إلى رجال من بني هاشم، وزعمت فرقة أخرى أنه حي بجبال أصبهان
রিজাম মনে করেন যে আবু মুসলিম নিহত হয়েছেন। আবু মুসলিমিয়া নামক অন্য একটি দল দাবি করে যে আবু মুসলিম জীবিত আছেন এবং মারা যাননি। তাদের সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তারা এমন কিছু বিষয়কে বৈধ করে নিয়েছে যা তাদের পূর্বসূরীরা হালাল করেননি।
রাফেজিদের দশম দলটি হলো হারবিয়া—যারা আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল হারবের অনুসারী এবং এটি কায়সানিয়াদের নবম উপদল। তারা দাবি করে যে, আবু হাশিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়া আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল হারবকে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন এবং আবু হাশিমের আত্মা তাঁর মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছিল। অতঃপর যখন তারা আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল হারবের মিথ্যাচার বুঝতে পারল, তখন তারা ইমামের সন্ধানে মদিনায় চলে গেল। সেখানে তারা আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবি তালিবের দেখা পেল। তিনি তাদেরকে তাঁর আনুগত্যের আহ্বান জানালে তারা তাতে সাড়া দিল, তাঁর ইমামতকে ধর্মীয় বিশ্বাস হিসেবে গ্রহণ করল এবং তাঁর জন্য অসিয়তের দাবি করল। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে মু
য়াবিয়া-এর ব্যাপারে তারা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে গেল: তাদের এক দল দাবি করল যে তিনি মারা গেছেন; অন্য এক দল দাবি করল যে তিনি আসবাহানের পাহাড়ে আছেন, তিনি মারা যাননি এবং মৃত্যুবরণ করবেন না যতক্ষণ না তিনি ঘোড়ার কেশর ধরে বনু হাশিমের একদল লোকের দিকে অগ্রসর হন; আর অপর এক দল দাবি করল যে তিনি আসবাহানের পাহাড়ে জীবিত আছেন।
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لم يمت ولا يموت حتى يلي أمور الناس وهو المهدي الذي بشر به النبي صلى الله عليه وسلم.
والصنف الحادي عشر من الرافضة وهي البيانية أصحاب بيان بن سمعان التميمي وهو الصنف العاشر من الكيسانية يزعمون أن أبا هاشم أوصى إلى بيان بن سمعان التميمي وأنه لم يكن له أن يوصي بها إلى عقبه.
والصنف الثاني عشر من الرافضة وهو الحادي عشر من الكيسانية يزعمون أن الإمام بعد أبي هاشم عبد الله بن محمد بن الحنفية علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب.
والصنف الثالث عشر من الرافضة وهم الذين يسوقون النص من النبي صلى الله عليه وسلم على إمامة علي حتى ينتهوا بها إلى علي بن الحسين وهم المغيرية أصحاب المغيرة بن سعيد يزعمون أن الإمام بعد علي بن الحسين ابنه محمد بن علي بن الحسين أبو جعفر وأن أبا جعفر أوصى إلى المغيرة بن سعيد فهم يأتمون به إلى أن يخرج المهدي والمهدي فيما زعموا هو محمد بن عبد الله بن الحسن ابن الحسن بن علي بن أبي طالب رضوان الله عليهم وزعموا أنه حي مقيم بجبال ناحية الحاجر وأنه لا يزال مقيماً هناك إلى أوان
তিনি মৃত্যুবরণ করেননি এবং করবেনও না যতক্ষণ না তিনি মানুষের বিষয়াবলির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন; তিনিই সেই মাহদী যার সুসংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রদান করেছেন।
রাফেযীদের একাদশ উপদল হলো বায়ানীয়াহ, যারা বায়ান ইবনে সামআন আত-তামিমীর অনুসারী। এটি কায়সানিয়্যাহদের দশম উপদলও বটে। তারা দাবি করে যে, আবু হাশিম বায়ান ইবনে সামআন আত-তামিমীর অনুকূলে অসিয়ত করে গেছেন এবং নিজের বংশধরদের কাছে অসিয়ত করার অধিকার তার ছিল না।
রাফেযীদের দ্বাদশ উপদল তথা কায়সানিয়্যাহদের একাদশ উপদলটি দাবি করে যে, আবু হাশিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহর পর ইমাম হলেন আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবী তালিব।
রাফেযীদের ত্রয়োদশ উপদল হলো তারাই যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আলীর ইমামতের স্বপক্ষে বর্ণিত বর্ণনাগুলো আলী ইবনুল হুসাইন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে নিয়ে আসে। তারা হলো মুগীরিয়াহ, যারা মুগীরা ইবনে সাঈদের অনুসারী। তারা দাবি করে যে, আলী ইবনুল হুসাইনের পর ইমাম হলেন তার পুত্র আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন। আর আবু জাফর মুগীরা ইবনে সাঈদের অনুকূলে অসিয়ত করে গেছেন। তারা মাহদীর আবির্ভাব পর্যন্ত তাকেই ইমাম মেনে অনুসরণ করে। তাদের দাবি অনুযায়ী মাহদী হলেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনুল হাসান ইবনে আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)। তারা আরও দাবি করে যে, তিনি হাজের অঞ্চলের পাহাড়সমূহে জীবিত অবস্থায় অবস্থান করছেন এবং নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করবেন।
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
خروجه، وإذا قلنا عن صنف أنهم يسوقون الإمامة إلى علي بن الحسين فإنما نعني الذين يقولون أن النبي صلى الله عليه وسلم نص على إمامة علي وأن علياً نص على إمامة الحسن وأن الحسن نص على إمامة الحسين وأن الحسين نص على إمامة علي بن الحسين.
والصنف الرابع عشر من الرافضة يسوقون الإمامة من علي بن أبي طالب حتى ينتهوا بها إلى علي بن الحسين ثم يزعمون أن الإمام بعد علي بن الحسين أبو
جعفر محمد بن علي وأن الإمام بعد أبي جعفر محمد بن عبد الله بن الحسن الخارج بالمدينة وزعموا أنه المهدي وأنكروا إمامة المغيرة بن سعد.
والصنف الخامس عشر من الرافضة يسوقون الإمامة من علي حتى ينتهوا بها إلى علي بن الحسين ويزعمون أن علي بن الحسين نص على إمامة أبي جعفر محمد بن علي وأن أبا جعفر محمد بن علي أوصى إلى أبي منصور ثم اختلفوا فرقتين: فرقة يقال لها الحسينية يزعمون أن أبا منصور أوصى إلى ابنه الحسين بن أبي منصور وهو الإمام بعده، وفرقة أخرى يقال لها المحمدية مالت إلى تثبيت أمر محمد بن عبد الله بن الحسن وإلى القول بإمامته وقالوا: إنما أوصى أبو جعفر
তার বহির্গমন; আর যখন আমরা কোনো একটি দল সম্পর্কে বলি যে তারা ইমামাতকে আলি বিন আল-হুসাইন পর্যন্ত পরিচালনা করে, তখন আমরা কেবল তাদেরকেই বোঝাই যারা বলে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলির ইমামাতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, আর আলি হাসানের ইমামাতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, হাসান হুসাইনের ইমামাতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন এবং হুসাইন আলি বিন আল-হুসাইনের ইমামাতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।
রাফিযাদের চতুর্দশ দলটি ইমামাতকে আলি বিন আবি তালিব থেকে শুরু করে আলি বিন আল-হুসাইন পর্যন্ত নিয়ে যায়। অতঃপর তারা দাবি করে যে, আলি বিন আল-হুসাইনের পর ইমাম হলেন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলি। আর আবু জাফরের পর ইমাম হলেন মদিনায় বিদ্রোহকারী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান; এবং তারা দাবি করে যে তিনিই মাহদী এবং তারা মুগিরা বিন সা'দ-এর ইমামাতকে অস্বীকার করে।
রাফিযাদের পঞ্চদশ দলটি ইমামাতকে আলি থেকে শুরু করে আলি বিন আল-হুসাইন পর্যন্ত নিয়ে যায় এবং তারা দাবি করে যে, আলি বিন আল-হুসাইন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলির ইমামাতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। আর আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলি আবু মনসুরের প্রতি অসিয়ত করেছিলেন। অতঃপর তারা দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে: এক দলকে হুসাইনিয়া বলা হয়, যারা দাবি করে যে আবু মনসুর তার পুত্র হুসাইন বিন আবু মনসুরের প্রতি অসিয়ত করেছেন এবং তিনিই তার পরবর্তী ইমাম। আর অন্য দলটিকে মুহাম্মাদিয়া বলা হয়, যারা মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসানের বিষয়টিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার এবং তার ইমামাতের প্রবক্তা হওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে; তারা বলে যে, আবু জাফর কেবল অসিয়ত করেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
إلى أبي منصور دون بني هاشم كما أوصى موسى صلى الله عليه إلى يوشع بن نون دون ولده ودون ولد هارون ثم إن الأمر بعد أبي منصور راجع إلى ولد علي كما رجع الأمر بعد يوشع بن نون إلى ولد هارون قالوا: وإنما أوصى موسى عليه السلام إلى يوشع بن نون دون ولده ودون ولد هارون لئلا يكون بين البطنين اختلاف فيكون يوشع هو الذي يدل على صاحب الأمر فكذلك أبو جعفر أوصى إلى أبي منصور وزعموا أن أبا منصور قال: إنما أنا مستودع وليس لي أن أضعها في غيري ولكن القائم هو محمد بن عبد الله.
والصنف السادس عشر من الرافضة يسوقون الإمامة إلى أبي جعفر محمد بن علي وأن أبا جعفر نص على إمامة جعفر بن محمد وأن جعفر بن محمد حي لم يمت ولا يموت حتى يظهر أمره وهو القائم المهدي، وهذه الفرقة تسمى الناوسية لقبوا برئيس لهم يقال له عجلان بن ناوس من أهل البصرة.
বনু হাশিমের পরিবর্তে আবু মনসুরের প্রতি অসিয়ত করা হয়েছিল, ঠিক যেমন মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিজের সন্তান এবং হারুনের সন্তানদের বাদ দিয়ে ইউশা ইবনে নূনের প্রতি অসিয়ত করেছিলেন। অতঃপর আবু মনসুরের পর এই বিষয়টি পুনরায় আলীর বংশধরদের নিকট ফিরে যাবে, যেমনিভাবে ইউশা ইবনে নূনের পর তা হারুনের বংশধরদের নিকট ফিরে গিয়েছিল। তারা বলে: মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিজের সন্তান এবং হারুনের সন্তানদের বাদ দিয়ে কেবল এই উদ্দেশ্যেই ইউশা ইবনে নূনের প্রতি অসিয়ত করেছিলেন যাতে দুই শাখার মধ্যে কোনো মতভেদ সৃষ্টি না হয় এবং ইউশা যাতে প্রকৃত নেতার পথপ্রদর্শক হতে পারেন। একইভাবে আবু জাফরও আবু মনসুরের প্রতি অসিয়ত করেছিলেন। তারা আরও দাবি করে যে, আবু মনসুর বলেছিলেন: আমি কেবল একজন আমানতদার মাত্র এবং অন্য কারও কাছে এটি ন্যস্ত করার এখতিয়ার আমার নেই; বরং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ-ই হলেন কায়েম।
রাফেজিদের ষোড়শ দলটি ইমামতকে আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এবং বিশ্বাস করে যে, আবু জাফর তাঁর পরবর্তী ইমাম হিসেবে জাফর ইবনে মুহাম্মদের ইমামত নির্দিষ্ট করে গিয়েছেন। তাদের মতে, জাফর ইবনে মুহাম্মদ জীবিত আছেন, তিনি মৃত্যুবরণ করেননি এবং তাঁর বিজয় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করবেন না; তিনিই হলেন কায়েম মাহদী। এই দলটিকে নাওসিয়া বলা হয়; বসরা নিবাসী তাদের জনৈক নেতা আজলান ইবনে নাওসের নামানুসারে তাদের এই উপাধি দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
والصنف السابع عشر من الرافضة يزعمون أن جعفر بن محمد مات وأن الإمام بعد جعفر ابنه إسماعيل وأنكروا أن يكون إسماعيل مات في حياة أبيه وقالوا: لا يموت حتى يملك لأن أباه قد كان يخبر أنه وصيه والإمام بعده.
والصنف الثامن عشر من الرافضة وهم القرامطة يزعمون أن النبي صلى الله عليه وسلم نص على علي بن أبي طالب وأن علياً نص على إمامة ابنه الحسن وأن الحسن بن علي نص على إمامة أخيه الحسين بن علي وأن الحسين بن علي نص على إمامة ابنه علي بن الحسين وأن علي بن الحسين نص على إمامة ابنه محمد بن علي ونص محمد بن علي على إمامة ابنه جعفر ونص جعفر على إمامة ابن ابنه محمد بن إسماعيل وزعموا أن محمد بن إسماعيل حي إلى اليوم لم يمت ولا يموت حتى يملك الأرض وأنه هو المهدي الذي تقدمت البشارة به واحتجوا في ذلك بأخبار رووها عن أسلافهم يخبرون فيها أن سابع الأئمة قائمهم.
والصنف التاسع عشر من الرافضة يسوقون الإمامة من علي بن أبي
রাফেজিদের সপ্তদশ দলটি দাবি করে যে, জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইন্তেকাল করেছেন এবং জাফরের পর তাঁর পুত্র ইসমাইল ইমাম হয়েছেন। তারা ইসমাইল তাঁর পিতার জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণ করার বিষয়টি অস্বীকার করে এবং বলে: তিনি শাসনভার লাভ না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবেন না, কারণ তাঁর পিতা সংবাদ দিয়েছিলেন যে, তিনিই তাঁর স্থলাভিষিক্ত এবং তাঁর পরবর্তী ইমাম।
রাফেজিদের অষ্টাদশ দলটি হলো কারামিতা। তারা দাবি করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী ইবনে আবি তালিবের ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেছেন; আলী তাঁর পুত্র হাসানের ইমামতের ব্যাপারে, হাসান ইবনে আলী তাঁর ভ্রাতা হুসাইন ইবনে আলীর ইমামতের ব্যাপারে, হুসাইন ইবনে আলী তাঁর পুত্র আলী ইবনে হুসাইনের ইমামতের ব্যাপারে, আলী ইবনে হুসাইন তাঁর পুত্র মুহাম্মদ ইবনে আলীর ইমামতের ব্যাপারে এবং মুহাম্মদ ইবনে আলী তাঁর পুত্র জাফরের ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর জাফর তাঁর পৌত্র মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের ইমামতের নির্দেশ প্রদান করেন। তারা দাবি করে যে, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আজ অবধি জীবিত আছেন, তিনি মারা যাননি এবং পৃথিবী শাসন না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবেন না; তিনিই সেই মাহদি যাঁর আগমনের সুসংবাদ পূর্বেই দেওয়া হয়েছে। তারা এ বিষয়ে তাদের পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণিত এমন কিছু সংবাদের মাধ্যমে দলিল পেশ করে যাতে বলা হয়েছে যে, ইমামগণের মধ্যে সপ্তম ইমামই হবেন তাঁদের ‘কায়েম’।
রাফেজিদের ঊনবিংশ দলটি আলী ইবনে আবি থেকে ইমামতের ধারাটি এগিয়ে নিয়ে যায়...
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
طالب على سبيل ما حكينا عن القرامطة حتى ينتهوا بها إلى جعفر بن محمد ويزعمون أن جعفر بن محمد جعلها لإسماعيل ابنه دون سائر ولده فلما مات إسماعيل في حياة أبيه صارت في ابنه محمد بن إسماعيل وهذا الصنف يدعون المباركية نسبوا إلى رئيس لهم يقال له المبارك وزعموا أن محمد بن إسماعيل قد مات وأنها في ولده من بعده.
والصنف العشرون من الرافضة يسوقون الإمامة من علي على ما حكينا عمن تقدمهم حتى ينتهوا بها إلى جعفر بن محمد ويزعمون أن الإمام بعد جعفر محمد بن جعفر ثم هي في ولده من بعده، وهم السميطية نسبوا إلى رئيس لهم يقال له يحيى بن أبي سميط.
والصنف الحادي والعشرون من الرافضة يسوقون الإمامة من علي إلى جعفر بن محمد على ما حكينا عمن تقدم شرحنا لقوله آنفاً ويزعمون أن الإمام بعد جعفر ابنه عبد الله بن جعفر وكان أكبر من خلف من ولده وهي في ولده، وأصحاب هذه المقالة يدعون
আমরা কারামিতাদের সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছি সেই অনুসারে তারা আলীর বংশধরদের অন্বেষণ করে, যতক্ষণ না তারা জাফর ইবনে মুহাম্মাদ পর্যন্ত পৌঁছায়। তারা দাবি করে যে, জাফর ইবনে মুহাম্মাদ তার অন্যান্য সন্তানদের বাদ দিয়ে তার পুত্র ইসমাইলের জন্য ইমামত নির্দিষ্ট করেছিলেন। অতঃপর যখন ইসমাইল তার পিতার জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণ করেন, তখন তা তার পুত্র মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের নিকট স্থানান্তরিত হয়। এই উপদলটি 'মুবারকিয়া' নামে পরিচিত; তাদের জনৈক নেতা মুবারকের নামানুসারে তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে। তারা দাবি করে যে, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল মৃত্যুবরণ করেছেন এবং ইমামত তার পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে নিহিত রয়েছে।
রাফিযাদের বিংশতম উপদলটি আলী থেকে শুরু করে আমাদের পূর্বোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী ইমামত পরিচালনা করে, যতক্ষণ না তারা জাফর ইবনে মুহাম্মাদ পর্যন্ত পৌঁছায়। তারা দাবি করে যে, জাফরের পরে ইমাম হলেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর, এবং অতঃপর তা তার পরবর্তী সন্তানদের মধ্যে থাকবে। তারা হলো 'সুমাইতিয়া'; তাদের জনৈক নেতা ইয়াহিয়া ইবনে আবি সুমাইতের নামানুসারে তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে।
রাফিযাদের একুশতম উপদলটি আলী থেকে শুরু করে জাফর ইবনে মুহাম্মাদ পর্যন্ত ইমামত পরিচালনা করে, যেমনিভাবে আমরা ইতিপূর্বে অন্যদের বর্ণনার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা করেছি। তারা দাবি করে যে, জাফরের পরবর্তী ইমাম হলেন তার পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে জাফর, যিনি তার রেখে যাওয়া সন্তানদের মধ্যে বয়সে বড় ছিলেন এবং ইমামত তার সন্তানদের মধ্যেই থাকবে। এই মতবাদের অনুসারীদের বলা হয়...
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
العمارية نسبوا إلى رئيس لهم يعرف بعمار ويدعون الفطحية لأن
عبد الله بن جعفر كان أفطح الرجلين، وأهل هذه المقالة يرجعون إلى عدد كثير.
فأما زرارة فإن جماعة من العمارية تدعي أنه كان على مقالتها وأنه لم يرجع عنها، وزعم بعضهم أنه رجع عن ذلك حين سأل عبد الله بن جعفر عن مسائل لم يجد عنده جوابها وصار إلى الائتمام بموسى بن جعفر بن محمد، وأصحاب زرارة يدعون الزرارية ويدعون التميمية.
والصنف الثاني والعشرون من الرافضة يسوقون الإمامة حتى ينتهوا بها إلى جعفر بن محمد ويزعمون أن جعفر بن محمد نص على إمامة ابنه موسى بن جعفر وأن موسى بن جعفر حي لم يمت ولا يموت حتى يملك شرق الأرض وغربها حتى يملأ الأرض عدلاً وقسطاً كما ملئت ظلماً وجوراً، وهذا الصنف يدعون الواقفة لأنهم وقفوا على موسى بن جعفر ولم يجاوزوه إلى غيره، وبعض مخالفي
'আম্মারিয়া' সম্প্রদায় তাদের জনৈক নেতার নামানুসারে পরিচিত যাকে আম্মার বলা হতো এবং তাদের 'ফাতহিয়া' বলা হয় কারণ
আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ছিলেন প্রশস্ত পদযুগলের অধিকারী এবং এই মতবাদের অনুসারীদের সংখ্যা অনেক।
যুরারাহর ব্যাপারে 'আম্মারিয়া' সম্প্রদায়ের একটি দল দাবি করে যে, তিনি তাদের মতাদর্শের ওপরই অটল ছিলেন এবং তা থেকে ফিরে আসেননি। তাদের কেউ কেউ মনে করে যে, তিনি সেই মত থেকে ফিরে এসেছিলেন যখন তিনি আবদুল্লাহ ইবনে জাফরকে এমন কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যেগুলোর উত্তর তিনি তার কাছে পাননি; ফলে তিনি মুসা ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদের ইমামত গ্রহণ করেন। যুরারাহর অনুসারীদের 'যুরারিয়া' এবং 'তামিমিয়া' বলা হয়। রাফেযিদের দ্বাবিংশ উপদলটি ইমামতের ধারাকে জাফর ইবনে মুহাম্মদ পর্যন্ত নিয়ে আসে এবং দাবি করে যে, জাফর ইবনে মুহাম্মদ তাঁর পুত্র মুসা ইবনে জাফরের ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে গেছেন। তারা মনে করে যে, মুসা ইবনে জাফর জীবিত আছেন, তিনি মৃত্যুবরণ করেননি এবং করবেনও না যতক্ষণ না তিনি পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মালিক হন এবং পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফ দ্বারা পূর্ণ করেন যেমনটি তা অন্যায় ও জুলুম দ্বারা পূর্ণ হয়েছিল। এই দলটিকে 'ওয়াকিফিয়া' বলা হয়, কারণ তারা মুসা ইবনে জাফরের ইমামতের ওপরই থেমে গেছে এবং অন্য কারও দিকে অগ্রসর হয়নি। আর বিরোধীদের কেউ কেউ
(খণ্ড: ১)
মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তা. রিটার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
هذه الفرقة يدعوهم الممطورة وذلك أن رجلاً منهم ناظر يونس بن عبد الرحمن ويونس من القطعية الذين قطعوا على موت موسى بن جعفر فقال له يونس: أنتم أهون علي من الكلاب الممطورة فلزمهم هذا النبز.
والقائلون بإمامة موسى بن جعفر يدعون الموسائية لقولهم بإمامة موسى بن جعفر ويدعون المفضلية لأنهم نسبوا إلى رئيس لهم يقال له المفضل بن عمر وكان ذا قدر فيهم، وفرقة من الموسائية وقفوا في أمر موسى بن جعفر فقالوا: لا ندري أمات أم لم يمت إلا أنا مقيمون على إمامته حتى يضح لنا أمر غيره وإن وضحت لنا إمامة غيره كما وضحت لنا إمامته قلنا بذلك وأنقدنا له.
وقد ذكرنا قول القطعية الذين قطعوا على موت موسى بن جعفر في أول ذكرنا لأقاويل الرافضة وشرحنا ذلك وتبيناه.
والصنف الثالث والعشرون من الرافضة يسوقون الإمامة من علي إلى موسى بن جعفر كما حكينا من قول المتقدمين غير أنهم
এই দলটিকে 'মামতুরাহ' (বৃষ্টিস্নাত) বলা হয়। এর কারণ হলো, তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি ইউনুস ইবনে আবদুর রহমানের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল। ইউনুস ছিলেন 'কাতয়িয়্যাহ' গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যারা মুসা ইবনে জাফরের মৃত্যুর বিষয়ে সুনিশ্চিত ছিল। ইউনুস তাকে বলেছিলেন: "তোমরা আমার কাছে বৃষ্টিতে ভেজা কুকুরের চেয়েও তুচ্ছ।" ফলশ্রুতিতে এই ব্যঙ্গাত্মক উপাধিটি তাদের ওপর আরোপিত হয়।
যারা মুসা ইবনে জাফরের ইমামতের প্রবক্তা, তাদের 'মুসায়িয়্যাহ' বলা হয়, কারণ তারা মুসা ইবনে জাফরের ইমামতে বিশ্বাসী। আবার তাদের 'মুফাদদালিয়্যাহ'ও বলা হয়, কারণ তারা তাদের জনৈক নেতার দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করে, যার নাম ছিল মুফাদদাল ইবনে উমর এবং তাদের মধ্যে তার বিশেষ প্রভাব ও মর্যাদা ছিল। মুসায়িয়্যাহদের একটি দল মুসা ইবনে জাফরের বিষয়ে স্থগিতাবস্থা (ওয়াকফ) অবলম্বন করে; তারা বলেছিল: "আমরা জানি না তিনি মারা গেছেন কি না; তবে আমরা তাঁর ইমামতের ওপর অবিচল থাকব যতক্ষণ না অন্য কারও ইমামতের বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়। যদি অন্য কারও ইমামত আমাদের কাছে সেভাবেই স্পষ্ট হয় যেভাবে তাঁর ইমামত স্পষ্ট হয়েছিল, তবে আমরা তা স্বীকার করব এবং তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করব।"
রাফেযিদের মতবাদ আলোচনার প্রারম্ভে আমরা ওই 'কাতয়িয়্যাহ' গোষ্ঠীর বক্তব্য উল্লেখ করেছি যারা মুসা ইবনে জাফরের মৃত্যুর বিষয়ে সুনিশ্চিত ছিল, এবং আমরা বিষয়টি সবিস্তারে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেছি।
রাফেযিদের তেইশতম গোষ্ঠীটি ইমামতকে আলী থেকে মুসা ইবনে জাফর পর্যন্ত পরম্পরাক্রমে বর্ণনা করে, যেমনটি আমরা পূর্ববর্তীদের মত হিসেবে উদ্ধৃত করেছি; তবে তারা