(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: -)
الإسلام بين جهل أبنائه وعجز علمائه   (عبد القادر عودة)

القسم: كتب عامة


الإسلام بين جهل أبنائه وعجز علمائه

المؤلف: عبد القادر عودة (ت 1373هـ)

الناشر: الاتحاد الإسلامي للمنظمات الطلابية IIFSO

الطبعة: الخامسة، 1405 هـ - 1985 م

عدد الصفحات: 80

أعده للشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 صفر 1433

ইসলাম: সন্তানদের অজ্ঞতা এবং আলেমদের অক্ষমতার মাঝে   (আবদুল কাদের আওদাহ)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী


ইসলাম: সন্তানদের অজ্ঞতা এবং আলেমদের অক্ষমতার মাঝে

গ্রন্থকার: আবদুল কাদের আওদাহ (মৃ. ১৩৭৩ হিজরি)

প্রকাশক: ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফেডারেশন অফ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনস (IIFSO)

সংস্করণ: পঞ্চম، ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি، - আল্লাহ তাঁকে ও তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন -

[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ সফর ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ১)
الاتحاد الإسلامي العالمي للمنظمات الطلابية IIFSO

 

الإسلام بين جهل أبنائه وعجز علمائه

الشهيد عبد القادر عودة

عدد الأجزاء: 1.

أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফেডারেশন অব স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনস (IIFSO)

 

ইসলাম: আপন সন্তানদের অজ্ঞতা ও আলেমদের অক্ষমতার মাঝে

শহীদ আব্দুল কাদের আওদাহ

খণ্ড সংখ্যা: ১।

আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি — আল্লাহ তাকে ও তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন।

[গ্রন্থটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ৩)
الطبعة الأولى: 1970 م

 

الطبعة الثانية: 1974 م

 

الطبعة الثالثة: 1977 م

 

الطبعة الرابعة: 1980 م

 

الطبعة الخامسة: 1985 م
প্রথম সংস্করণ: ১৯৭০ খ্রি.

 

দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৯৭৪ খ্রি.

 

তৃতীয় সংস্করণ: ১৯৭৭ খ্রি.

 

চতুর্থ সংস্করণ: ১৯৮০ খ্রি.

 

পঞ্চম সংস্করণ: ১৯৮৫ খ্রি.
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ৪)
الإسلام بين جهل أبنائه وعجز علمائه

 

الشهيد عبد القادر عوده

 

الطبعة الخامسة

 

الاتحاد الإسلامي للمنظمات الطلابية

 

1405 هـ - 1985 م
সন্তানদের অজ্ঞতা ও আলেমদের অক্ষমতার মাঝে ইসলাম

 

শহীদ আব্দুল কাদির আউদাহ

 

পঞ্চম সংস্করণ

 

ছাত্র সংগঠনসমূহের আন্তর্জাতিক ইসলামি ইউনিয়ন

 

১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة:

الحمد لله الذي علم بالقلم، علم الإنسان ما لم يعلم، والصلاة والسلام على محمد النبي الأمي الذي اختاره الله لهداية خلقه فأرسله للناس كافة وداعيًا ومعلمًا، يدعوهم إلى الله، ويعلمهم كتابه ويردد عليهم قوله - جَلَّ شَأْنُهُ -: {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ، يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} (1).

 

وبعد، فإنه مما يحزن المسلم أنْ يرى المسلمين يسيرون من ضعف إلى ضعف، ويخرجون من جهل إلى جهل، وهم لا يدرون أنَّ العلة الحقيقية لما هُمْ فيه إنما هي الجهل بالشريعة الإسلامية، وإهمال تطبيقها على كمالها وسموها، ولا يعلمون أنَّ تشبُّثهم بالقوانين الوضعية الفاسدة هو الذي أفسدهم، وأورثهم الضعف والذلة.

 

وإني لأعتقد أننا لن نترك أحكام الشريعة الإسلامية إلَاّ لجهلنا

--------------------------------------------

(1) [سورة المائدة، الآيتان: 15، 16].
ভূমিকা:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে তা শিখিয়েছেন যা সে জানত না। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক উম্মী নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যাকে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির হিদায়াতের জন্য মনোনীত করেছেন এবং সকল মানুষের নিকট একজন আহ্বানকারী ও শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তিনি তাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন এবং তাদের তাঁর কিতাব শিক্ষা দেন ও তাদের কাছে তাঁর মহান প্রতিপালকের বাণী পুনরাবৃত্তি করেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট এক নূর ও উজ্জ্বল কিতাব এসেছে; যার মাধ্যমে আল্লাহ ঐ সকল ব্যক্তিকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টি অনুসরণ করে এবং তাঁর অনুমতিক্রমে তাদের অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদের সরল পথে পরিচালিত করেন} (১)।

 

অতঃপর, একজন মুসলিমের জন্য এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, সে মুসলিমদের এক দুর্বলতা থেকে অন্য দুর্বলতার দিকে ধাবিত হতে দেখছে এবং এক অজ্ঞতা থেকে অন্য অজ্ঞতার দিকে ধাবিত হতে দেখছে। অথচ তারা জানে না যে, তাদের এই শোচনীয় অবস্থার প্রকৃত কারণ হলো ইসলামি শরিয়ত সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং এর পূর্ণাঙ্গতা ও শ্রেষ্ঠত্ব অনুযায়ী তা অনুশীলনে অবহেলা। তারা জানে না যে, মানবরচিত ভ্রান্ত আইনের প্রতি তাদের আসক্তিই তাদের কলুষিত করেছে এবং তাদের মধ্যে দুর্বলতা ও লাঞ্ছনা বয়ে এনেছে।

 

আমি বিশ্বাস করি যে, আমরা ইসলামি শরিয়তের বিধানসমূহ কেবল আমাদের অজ্ঞতার কারণেই বর্জন করি...

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ১৫, ১৬]।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ৬)
بها، وقعود علمائنا أو عجزهم عن تعريفنا بها، ولو أنَّ كل مسلم عرف واجبه نحو الشريعة لما تأخر عن القيام به، ولتسابقنا في العمل لخدمة الشريعة، وتطبيق أحكامها.

 

ولقد رأيت أن خير ما يخدم به المسلم أخاه أن يبصره بأحكام الشريعة الإسلامية، وأن يبين له ما خفي عليه منها.

 

وتلكم رسالة صغيرة جمعت فيها من أحكام الشريعة ما لا غنى عنه لمسلم مثقف، وبينت وجه الحق فيما يدعيه بعض الجهال على الشريعة من دعاوى غريبة، لا منطق لها ولا سند يسندها، وإني لأرجو أن تصحح هذه الرسالة بعض أوضاع الإسلام المقلوبة في أذهان إخواننا المتعلمين تعليما مدنيا، كما أرجو أن يكون فيها ما يحفز علماء الإسلام على أن يغيروا طريقهم، وأن ينهجوا نهجا جديدا في خدمة الإسلام، وهم ورثة الأنبياء، والمبلغون عن الرسل.

 

والله أسأل أن يهدينا جميعا سواء السبيل.

 

المؤلف
...তাতে আমাদের আলেমদের নিষ্ক্রিয়তা অথবা আমাদেরকে সে সম্পর্কে অবহিত করতে তাদের অক্ষমতা। যদি প্রত্যেক মুসলিম শরীয়তের প্রতি তার দায়িত্ব জানত, তবে সে তা পালনে বিলম্ব করত না এবং আমরা শরীয়তের সেবা ও এর বিধানাবলী প্রয়োগের কাজে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতাম।

 

আমি মনে করি, একজন মুসলিম তার ভাইয়ের জন্য সর্বোত্তম যে সেবাটি করতে পারে তা হলো তাকে ইসলামি শরীয়তের বিধান সম্পর্কে সচেতন করা এবং তার কাছে শরীয়তের যা কিছু অস্পষ্ট তা স্পষ্ট করে দেওয়া।

 

এটি একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা যাতে আমি শরীয়তের এমন কিছু বিধান সংকলন করেছি যা একজন শিক্ষিত মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। শরীয়ত সম্পর্কে কিছু মূর্খ ব্যক্তি যেসব অদ্ভুত দাবি করে—যার কোনো যুক্তি নেই এবং কোনো সুদৃঢ় সূত্র (سند) নেই—তার বিপরীতে আমি সত্যের দিকটি স্পষ্ট করেছি। আমি আশা করি এই পুস্তিকাটি আমাদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ভাইদের মনে ইসলামের যে কিছু বিকৃত ধারণা রয়েছে তা সংশোধন করবে। আমি আরও আশা করি যে, এটি ইসলামের আলেমদের তাদের কর্মপন্থা পরিবর্তন করতে এবং ইসলামের সেবায় নতুন পথ অবলম্বনে উদ্বুদ্ধ করবে; অথচ তাঁরাই হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী এবং রাসূলগণের বাণী প্রচারকারী।

 

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সকলকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।

 

লেখক
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الفَصْلُ الأَوَّلُ: مَا يَجِبُ عَلَى المُسْلِمِ أَنْ يَعْرِفَهُ:

نحن معشر المسلمين يسرنا أن ننتسب للإسلام ونفخر به، ولكنا للأسف نجهل أهم أحكام الإسلام، ونهمل أعظم مقوماته.

 

‌‌أَحْكَامُ الإِسْلَامِ وَمُقَوِّمَاتُهُ:

وأحكام الإسلام هي المبادئ والنظريات التي نزل بها القرآن، وأتانا بها الرسول صلى الله عليه وسلم. ومجموع هذه المبادئ والنظريات هو ما نسميه الشريعة الإسلامية، فالشريعة إذن هي مجموعة المبادئ والنظريات التي شرعها الإسلام، في التوحيد، والإيمان، والعبادات، والأحوال الشخصية، والجرائم، والمعاملات، والإدارة، والسياسة، وفي غير ذلك من الأغراض، والاتجاهات.

 

وأعظم مقومات الإسلام هو العمل بأحكامه، إذ الإسلام لم يوجد إلا لتعرف أحكامه، وتقام شرائعه وشعائره، وعلى هذا فمن أهمل العمل بالشريعة الإسلامية أو عطلها فقد أهمل الإسلام وعطله.
প্রথম পরিচ্ছেদ: যা জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য আবশ্যক:

আমরা মুসলিম সম্প্রদায় ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত হতে পেরে আনন্দিত এবং এর জন্য গর্ববোধ করি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, আমরা ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ণ বিধানাবলি সম্পর্কে অজ্ঞ এবং এর মহান ভিত্তিগুলোকে উপেক্ষা করি।

 

ইসলামের বিধান ও এর ভিত্তিস্তরসমূহ:

ইসলামের বিধানাবলি হলো সেই সকল মূলনীতি ও তত্ত্ব যা কুরআন অবতীর্ণ করেছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট নিয়ে এসেছেন। এই সকল মূলনীতি ও তত্ত্বের সমষ্টিকেই আমরা ইসলামি শরিয়াহ বলে অভিহিত করি। সুতরাং, শরিয়াহ হলো সেই সকল মূলনীতি ও তত্ত্বের সমাহার যা ইসলাম বিধিবদ্ধ করেছে—তাওহিদ, ইমান, ইবাদত, পারিবারিক আইন, দণ্ডবিধি, লেনদেন, প্রশাসন, রাজনীতি এবং অন্যান্য বিষয় ও অভিমুখের ক্ষেত্রে।

 

ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ভিত্তি হলো এর বিধান অনুযায়ী আমল করা। কেননা, ইসলামের অস্তিত্বই কেবল এর বিধানাবলি জানার জন্য এবং এর শরিয়ত ও নিদর্শনসমূহ প্রতিষ্ঠার জন্য। এমতাবস্থায়, যে ব্যক্তি ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী আমল করা বর্জন করল অথবা একে অকার্যকর করে রাখল, সে মূলত ইসলামকেই বর্জন করল এবং একে অকেজো করে দিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌أَحْكَامُ الإِسْلَامِ شُرِّعَتْ لِلْدِّينِ وَالدُّنْيَا:

والأحكام التي جاء بها الإسلام على نوعين: أحكام يراد بها إقامة الدين، وهذه تشمل أحكام العقائد والعبادات، وأحكام يراد بها تنظيم الدولة والجماعة، وتنظيم علاقات الأفراد والجماعات بعضهم ببعض، وهذه تشمل أحكام المعاملات، والعقوبات، والأحوال الشخصية، والدستورية، والدولية، … إلخ، فالإسلام يمزج بين الدين والدنيا، وبين المسجد والدولة، فهو دين ودولة وعبادة وقيادة، وكما أن الدين جزء من الإسلام فالحكومة جزؤه الثاني، بل هي الجزء الأهم، وصدق عثمان رضي الله عنه حيث قال: «إِنَّ اللهَ لَيَزَعُ بِالسُلْطَانِ مَا لَا يَزَعُ بِالقُرْآنِ».

 

وأحكام الإسلام على تنوعها وتعددها أنزلت بقصد إسعاد الناس في الدنيا والآخرة، ومن ثم كان لكل عمل دنيوي وجه أخروي، فالفعل التعبدي، أو المدني، أو الجنائي أو الدستوري، أو الدولي له أثره المترتب عليه في الدنيا من أداء الواجب، أو إفادة الحل والملك، أو إنشاء الحق أو زواله، أو توقيع العقوبة، أو ترتيب المسؤولية، ولكن هذا الفعل الذي يترتب عليه أثره في الدنيا له أثر آخر مترتب عليه في الآخرة، هو المثوبة أو العقوبة الأخروية.

 

ويبنى على كون الشريعة مقصودا بها إسعاد الناس في الدنيا والآخرة أن تعتبر وحدة لا تقبل التجزئة، أو جملة لا تقبل
ইসলামের বিধানসমূহ দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য প্রবর্তিত হয়েছে:

ইসলাম যে বিধানসমূহ নিয়ে এসেছে তা দুই প্রকার: এমন সব বিধান যার উদ্দেশ্য দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা, যা আকিদা ও ইবাদত সংক্রান্ত বিধানসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এমন সব বিধান যার উদ্দেশ্য রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনা এবং ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করা; যা লেনদেন, দণ্ডবিধি, পারিবারিক আইন, সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক আইন ইত্যাদিকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং ইসলাম দ্বীন ও দুনিয়া এবং মসজিদ ও রাষ্ট্রের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। এটি একাধারে দ্বীন ও রাষ্ট্র এবং ইবাদত ও নেতৃত্ব। দ্বীন যেমন ইসলামের অংশ, সরকার বা শাসনব্যবস্থাও তেমনি এর দ্বিতীয় অংশ, বরং এটিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উসমান (রা.) সত্যই বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রাষ্ট্রশক্তির মাধ্যমে এমন বিষয় প্রতিরোধ করেন যা কুরআনের মাধ্যমে করেন না।»

 

ইসলামের বিধানসমূহ এর বৈচিত্র্য ও সংখ্যাধিক্য সত্ত্বেও দুনিয়া ও আখেরাতে মানুষের সুখ ও কল্যাণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই অবতীর্ণ হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি পার্থিব কার্যের একটি পরকালীন দিক রয়েছে। সুতরাং ইবাদতকেন্দ্রিক, দেওয়ানি, ফৌজদারি, সাংবিধানিক বা আন্তর্জাতিক—যেকোনো কার্যেরই দুনিয়াতে নির্দিষ্ট প্রভাব রয়েছে; যেমন দায়িত্ব পালন, কোনো বিষয় বৈধ হওয়া বা মালিকানা লাভ করা, কোনো অধিকার সৃষ্টি হওয়া বা বিলুপ্ত হওয়া, দণ্ড কার্যকর করা কিংবা দায়বদ্ধতা নিরূপণ করা। তবে দুনিয়াতে যে কার্যের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়, আখেরাতেও তার একটি ভিন্ন প্রভাব রয়েছে, আর তা হলো পরকালীন পুরস্কার বা শাস্তি।

 

শরিয়ত যেহেতু দুনিয়া ও আখেরাতে মানুষের সুখের উদ্দেশ্যে প্রণীত, তাই একে এমন একটি অবিভাজ্য একক হিসেবে গণ্য করা হয় যা খণ্ডনযোগ্য নয়, অথবা এমন এক পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা যা আংশিক গ্রহণের সুযোগ নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ৯)
الانفصام لأن أخذ بعضها دون بعض، لا يؤدي إلى تحقيق الغرض منها.

 

ومن تتبع آيات الأحكام في القرآن يجد كل حكم منها يترتب على مخالفته جزاءان: جزاء دنيوي، وجزاء أخروي. فقطع الطريق جزاؤه القتل، والصلب، والنفي، عقوبة دنيوية، والعذاب العظيم عقوبة أخروية، وذلك قوله تعالى: {إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ} (1) وإشاعة الفاحشة، ورمي المحصنات له عقوبة في الدنيا، وعقوبة الآخرة حيث يقول - جَلَّ شَأْنُهُ -: {إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ} (2) وحيث يقول: {إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ، يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ، يَوْمَئِذٍ يُوَفِّيهِمُ اللَّهُ دِينَهُمُ الْحَقَّ وَيَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ الْمُبِينُ} (3).

--------------------------------------------

(1) [سورة المائدة، الآية: 33].

(2) [سورة النور، الآية: 19].

(3) [سورة النور، الآيات: 23 - 25].
বিচ্ছিন্নতা, কারণ এর কিছু অংশ গ্রহণ করা এবং অন্য অংশ বর্জন করা এর উদ্দেশ্য হাসিলের পথে অন্তরায়।

 

আর যে ব্যক্তি কুরআনের বিধান সম্বলিত আয়াতসমূহ অনুসন্ধান করবে, সে দেখতে পাবে যে প্রতিটি বিধান লঙ্ঘনের ফলে দুটি শাস্তি অবধারিত হয়: পার্থিব শাস্তি এবং পরকালীন শাস্তি। সুতরাং পথরোধ বা ডাকাতির শাস্তি হলো হত্যা, ক্রুশবিদ্ধকরণ এবং নির্বাসন—যা একটি পার্থিব দণ্ড; আর মহা আজাব হলো পরকালীন শাস্তি। আর তা মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ: {নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি কেবল এই যে, তাদের হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদের দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এটি তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি} (১)। আর অশ্লীলতা প্রচার করা এবং সচ্চরিত্রা নারীদের অপবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও পার্থিব দণ্ড ও পরকালীন শাস্তি রয়েছে, যেখানে আল্লাহ—তাঁর শান সুউচ্চ—বলেন: {নিশ্চয় যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে} (২)। এবং যেখানে তিনি বলেন: {নিশ্চয় যারা সচ্চরিত্রা, সরলমনা মুমিন নারীদের অপবাদ দেয়, তারা দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা আজাব। যেদিন তাদের বিরুদ্ধে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে। সেদিন আল্লাহ তাদের যথার্থ পাওনা পূর্ণরূপে প্রদান করবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, আল্লাহই সুস্পষ্ট সত্য} (৩)।

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৩৩]।

(২) [সূরা আন-নূর, আয়াত: ১৯]।

(৩) [সূরা আন-নূর, আয়াত: ২৩ - ২৫]।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ১০)
والقتل العمد له عقوبتان: القصاص في الدنيا والعذاب في الآخرة. وذلك قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى} (1)، وقوله: {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا} (2).

 

وهكذا لا نكاد نجد حكمًا لم ترتب عليه الشريعة الإسلامية عقوبة أخروية والجزاء الدنيوي، وإن وجدنا شيئًا من ذلك فإنه يدخل تحت عموم قوله تعالى: {أَفَمَنْ كَانَ مُؤْمِنًا كَمَنْ كَانَ فَاسِقًا لَا يَسْتَوُونَ، أَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَلَهُمْ جَنَّاتُ الْمَأْوَى نُزُلًا بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ، وَأَمَّا الَّذِينَ فَسَقُوا فَمَأْوَاهُمُ النَّارُ كُلَّمَا أَرَادُوا أَنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا أُعِيدُوا فِيهَا وَقِيلَ لَهُمْ ذُوقُوا عَذَابَ النَّارِ الَّذِي كُنْتُمْ بِهِ تُكَذِّبُونَ} (3)، وقوله: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ، {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ} (4).

 

ولم تشرع أحكام الشريعة الإسلامية للدنيا والآخرة عبثًا،

--------------------------------------------

(1) [البقرة: 178].

(2) [النساء: 93].

(3) [السجدة: 18 - 20].

(4) [النساء: 13، 14].
ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের জন্য দুটি দণ্ড রয়েছে: দুনিয়াতে কিসাস (প্রতিশোধ) এবং আখিরাতে আজাব। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কিসাস বিধিবদ্ধ করা হয়েছে} (১), এবং তাঁর বাণী: {আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার প্রতিফল হবে জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে} (২)।

 

এভাবে আমরা এমন কোনো বিধানই পাই না যার ওপর ইসলামি শরিয়ত পরকালীন আজাব এবং দুনিয়াবি প্রতিফল নির্ধারণ করেনি। আর যদি আমরা এর ব্যতিক্রম কিছু পাইও, তবে তা মহান আল্লাহর এই সাধারণ বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে: {তবে কি মুমিন ব্যক্তি পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির ন্যায়? তারা সমান নয়। যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ আপ্যায়নের জন্য রয়েছে জান্নাতুল মাওয়া। আর যারা পাপাচার (فسق) করেছে, তাদের আবাস হবে আগুন; যখনই তারা তা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইবে, তখনই তাদেরকে সেখানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদের বলা হবে, তোমরা আগুনের সেই আজাব আস্বাদন করো যা তোমরা অস্বীকার করতে} (৩), এবং তাঁর বাণী: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে এবং এটিই মহা সাফল্য। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর সীমা লঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে চিরস্থায়ী হবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আজাব} (৪)।

 

আর ইসলামি শরিয়তের বিধানসমূহ দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য অহেতুক বিধিবদ্ধ করা হয়নি,

--------------------------------------------

(১) [আল-বাকারা: ১৭৮]।

(২) [আন-নিসা: ৯৩]।

(৩) [আস-সাজদাহ: ১৮ - ২০]।

(৪) [আন-নিসা: ১৩, ১৪]।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ১১)
وإنما اقتضى ذلك منطق الشريعة، فهي أصلها تعتبر أن الدنيا دار ابتلاء وفناء، وأن الآخرة دار بقاء وجزاء، وأن الإنسان مسؤول عن أعماله في الدنيا، مَجْزِيٌّ عنها في الآخرة. فإن فعل خيرًا فلنفسه، وإن أساء فعليها، والجزاء الدنيوي لا يمنع من الجزاء الأخروي، ولا يسقطه إلا إذا تاب الإنسان وأناب.

 

وتمتاز الشريعة الإسلامية عن القانون الوضعي، بأنها مزجب بين الدين والدنيا، وشرعت للدنيا والآخرة وهذا هو السبب الوحيد الذي يحمل المسلمين على طاعتها في السر والعلن، والسراء والضراء لأنهم لا يؤمنون - طبقًا لأحكام الشريعة - بأن الطاعة نوع من العبادة يقربهم إلى الله، وأنهم يثابون على هذه الطاعة، ومن استطاع منهم أن يرتكب جريمة، ويتفادى العقاب فإنه لا يرتكبها مخافة العقاب الأخروي، وغضب الله عليه، وكل ذلك مما يدعو إلى قلة الجرائم وحفظ الأمن، وصيانة نظام الجماعة بعكس الحال في القوانين الوضعية فإنها ليس لها في نفوس من تطبق عليهم ما يحملهم على طاعتها، وهم لا يطيعونها إلا بقدر ما يخشون من الوقوع تحت طائلتها، ومن استطاع أن يرتكب جريمة ما - وهو آمن من سطوة القانون - فليس ثمة ما يمنعه من ارتكابها من خُلُقٍ أودين ولذلك تزداد الجرائم زيادة مطردة في البلاد التي تطبق القوانين، وتضعف الأخلاق، ويكثر المجرمون في الطبقات المستنيزة تبعًا لزيادة الفساد الخُلُقِي في هذه الطبقات، ولمقدرة أفرادها على التهرب من سلطان القانون.
মূলত শরীয়তের যুক্তি এটাই দাবি করে; শরীয়ত তার মূলে এই বিবেচনা রাখে যে, দুনিয়া হলো পরীক্ষা ও নশ্বরতার আবাস এবং আখিরাত হলো স্থায়িত্ব ও প্রতিদানের আবাস। মানুষ দুনিয়াতে তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী এবং আখিরাতে সে এর প্রতিদান প্রাপ্ত হবে। সুতরাং কেউ ভালো কাজ করলে তা তার নিজের কল্যাণের জন্যই, আর কেউ মন্দ কাজ করলে তার ভার তার ওপরই বর্তাবে। দুনিয়াবী প্রতিদান বা শাস্তি আখিরাতের প্রতিদানকে বাধাগ্রস্ত করে না এবং তা রহিতও করে না, যতক্ষণ না মানুষ তওবা করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।

 

ইসলামী শরীয়ত মানব রচিত আইনের তুলনায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; কারণ এটি দ্বীন ও দুনিয়ার এক অপূর্ব সমন্বয় এবং এটি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতের জন্যই বিধান প্রদান করেছে। আর এটিই একমাত্র কারণ যা মুসলমানদেরকে গোপনে ও প্রকাশ্যে, সুখে ও দুঃখে এর আনুগত্য করতে উদ্বুদ্ধ করে। কেননা তারা—শরীয়তের বিধান অনুযায়ী—বিশ্বাস করে যে, এই আনুগত্য এক প্রকার ইবাদত যা তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য দান করে এবং তারা এই আনুগত্যের বিনিময়ে সওয়াব লাভ করবে। তাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অপরাধ করতে সক্ষম হয় এবং পার্থিব শাস্তি এড়ানোর পথও খুঁজে পায়, তবুও সে আখিরাতের শাস্তি ও আল্লাহর ক্রোধের ভয়ে সেই অপরাধ করে না। এই সামগ্রিক ব্যবস্থাই অপরাধের সংখ্যা হ্রাস করতে, নিরাপত্তা রক্ষা করতে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এর বিপরীত চিত্র দেখা যায় মানব রচিত আইনের ক্ষেত্রে; যাদের ওপর এই আইন প্রয়োগ করা হয় তাদের অন্তরে এমন কোনো আধ্যাত্মিক প্রেরণা থাকে না যা তাদের এই আইনের প্রতি অনুগত করবে। তারা কেবল আইনের দণ্ডবিধি বা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ার ভয়েই তা মেনে চলে। ফলে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো অপরাধ করার সামর্থ্য রাখে এবং আইনের কঠোরতা থেকে নিরাপদ বোধ করে, তবে নৈতিকতা বা ধর্মীয় কোনো বোধই তাকে সেই অপরাধ করা থেকে বিরত রাখতে পারে না। এই কারণেই যেসব দেশে মানব রচিত আইন কার্যকর রয়েছে, সেখানে অপরাধের হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, নৈতিকতা দুর্বল হচ্ছে এবং তথাকথিত শিক্ষিত ও আলোকপ্রাপ্ত শ্রেণির মাঝে অপরাধীর সংখ্যা বাড়ছে। এর মূলে রয়েছে এই শ্রেণির মানুষের মধ্যে চারিত্রিক অবক্ষয়ের বিস্তার এবং আইনের শাসন থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ সক্ষমতা।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌أَحْكَامُ الشَّرِيعَةِ لَا تَتَجَزَّأُ:

وأحكام الشريعة لا تتجزأ ولا تقبل الانفصال، وليس ذلك فقط لما ذكرناه من أن التجزئة تخالف الغرض من الشريعة، وإنما لأن نصوص الشريعة نفسها تمنع من العمل ببعضها، وإهمال البعض الآخر كما تمنع من الإيمان ببعضها والكفر ببعض، وتوجب العمل بكل أحكامها والإيمان إيمانًا تامًا بكل ما جاءت به، فمن لم يؤمن بهذا ويعمل به دخل تحت قوله تعالى: {أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ، فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ} (1).

 

والنصوص الواردة بتحريم العمل ببعض الشريعة دون بعضها كثيرة منها قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ، إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُولَئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} (2).

--------------------------------------------

(1) [سورة البقرة، الآية: 85].

(2) [سورة البقرة، الآيتان: 159، 160].
শরীয়তের বিধানসমূহ অবিভাজ্য:

শরীয়তের বিধানসমূহ অবিভাজ্য এবং এগুলো কোনোভাবেই বিচ্ছিন্নতা গ্রহণ করে না। এটি কেবল এই কারণে নয় যে—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—বিধানের আংশিক বিভাজন শরীয়তের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী, বরং শরীয়তের নসসমূহ (نصوص) নিজেই এর কিছু অংশের ওপর আমল করা এবং অন্য অংশকে উপেক্ষা করতে নিষেধ করে; যেভাবে এটি কিছু অংশের ওপর ঈমান আনা এবং অন্য অংশকে অস্বীকার করতে নিষেধ করে। শরীয়ত তার সকল বিধানের ওপর আমল করা এবং যা কিছু শরীয়ত নিয়ে এসেছে তার সবকিছুর ওপর পূর্ণাঙ্গ ঈমান আনা অপরিহার্য করে। সুতরাং যে ব্যক্তি এতে ঈমান আনবে না এবং সে অনুযায়ী আমল করবে না, সে মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে: {তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো আর কিছু অংশকে অস্বীকার করো? তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে, তাদের একমাত্র প্রতিফল পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা এবং কিয়ামত দিবসে তাদেরকে কঠোরতম আজাবের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।} (১)।

 

শরীয়তের কিছু অংশের ওপর আমল করা এবং অন্য অংশ বর্জন করা হারাম হওয়ার বিষয়ে বর্ণিত নসসমূহ (نصوص) অনেক, যার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণী অন্যতম: {নিশ্চয়ই যারা গোপন করে আমাদের অবতীর্ণ উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ ও হেদায়াত, আমরা কিতাবে মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার পর; আল্লাহ তাদেরকে লানত করেন এবং লানতকারীরাও তাদেরকে লানত করে। তবে যারা তওবা করে, নিজেদের সংশোধন করে এবং সত্য প্রকাশ করে দেয়, আমি তাদের তওবা কবুল করি। আর আমি অধিক তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।} (২)।

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৮৫]।

(২) [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৯, ১৬০]।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ১৩)
والكتمان معناه العمل ببعض الأحكام دون بعضها الآخر والاعتراف ببعضها وإنكار البعض الآخر. ومنها قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ إِلَّا النَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ، أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَى وَالْعَذَابَ بِالْمَغْفِرَةِ فَمَا أَصْبَرَهُمْ عَلَى النَّارِ} (1).

 

ومنها قوله تعالى: {فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} (2)، وقوله: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيُرِيدُونَ أَنْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ اللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيَقُولُونَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَنَكْفُرُ بِبَعْضٍ وَيُرِيدُونَ أَنْ يَتَّخِذُوا بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا، أُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ حَقًّا} (3).

--------------------------------------------

(1) [سورة البقرة، الآيتان: 174، 175].

(2) [سورة المائدة، الآية: 44].

(3) [سورة النساء، الآيتان: 150، 151].
গোপন করার (الكتمان) অর্থ হলো কিছু বিধান অনুযায়ী আমল করা এবং অন্যগুলো বর্জন করা, এবং কিছু বিধান স্বীকার করা ও অন্যগুলোকে অস্বীকার করা। এর অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ কিতাবের যা নাজিল করেছেন তা গোপন করে এবং তার বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, তারা নিজেদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছুই ভক্ষণ করে না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এরাই তারা, যারা হিদায়াতের বিনিময়ে পথভ্রষ্টতা এবং ক্ষমার বিনিময়ে আজাব ক্রয় করেছে। তারা জাহান্নামের আগুনের ওপর কতই না ধৈর্যশীল!} (১)।

 

এর অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা মানুষকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো এবং আমার আয়াতসমূহের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করো না। আর যারা আল্লাহ যা নাজিল করেছেন সেই অনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই কাফির (الكافرون)} (২), এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলগণের সাথে কুফরি করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলগণের মধ্যে পার্থক্য করতে চায় এবং বলে, 'আমরা কিছুর ওপর ঈমান আনি এবং কিছু অস্বীকার করি' এবং তারা এর মাঝামাঝি কোনো পথ অবলম্বন করতে চায়; তারাই প্রকৃত কাফির (الكافرون)} (৩)।

--------------------------------------------

(১) [সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৭৪, ১৭৫]।

(২) [সুরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৪৪]।

(৩) [সুরা আন-নিসা, আয়াত: ১৫০, ১৫১]।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ১৪)
ومنها قوله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} إلى قوله: {وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ وَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ، أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ} (1).

 

‌‌الشَّرِيعَةُ الإِسْلَامِيَّةُ شَرِيعَةٌ عَالَمِيَّةٌ:

وتمتاز الشريعة الإسلامية بأنها شريعة عالمية، أنزلها الله - جَلَّ شَأْنُهُ - على رسوله محمد صلى الله عليه وسلم، لِيُبَلِّغَهَا إلى الناس كافة من عرب وعجم، شرقيين وغربيين على اختلاف مشاربهم، وتباين عاداتهم وتقاليدهم وتاريخهم. فهي شريعة كل أسرة، وشريعة كل قبيلة، وشريعة كل جماعة، وشريعة كل دولة بل هي الشريعة العالمية التي استطاع علماء القانون أن يَتَخَيَّلُوهَا.

--------------------------------------------

(1) [سورة المائدة، الآيات: 48 - 50].
এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী ও সেগুলোর সংরক্ষণকারী। অতএব, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন আপনি সে অনুযায়ী তাদের মাঝে বিচার-ফয়সালা করুন এবং আপনার নিকট আসা সত্যকে ত্যাগ করে তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শরীয়ত ও পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি...} মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {আর আপনি তাদের মাঝে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করুন এবং তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। আর তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন যেন আল্লাহ আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তার কোনো কোনো বিষয় থেকে তারা আপনাকে বিচ্যুত করতে না পারে। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখুন যে, আল্লাহ কেবল তাদের কোনো কোনো পাপের কারণে তাদের শাস্তি দিতে চান। আর মানুষের মধ্যে অনেকেই তো পাপাচারী (فاسق)। তবে কি তারা জাহেলিয়াতের বিধান কামনা করে? আর দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম?} (১)।

 

‌‌ইসলামী শরীয়ত একটি বিশ্বজনীন শরীয়ত:

ইসলামী শরীয়ত একটি বিশ্বজনীন শরীয়ত হিসেবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। আল্লাহ — তাঁর মহিমা সুউচ্চ — এটি তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি তা আরব ও অনারব, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য নির্বিশেষে সকল মানুষের নিকট পৌঁছে দেন, তাদের রুচি ও মতাদর্শের ভিন্নতা এবং প্রথা, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও। এটি প্রতিটি পরিবারের শরীয়ত, প্রতিটি গোত্রের শরীয়ত, প্রতিটি গোষ্ঠীর শরীয়ত এবং প্রতিটি রাষ্ট্রের শরীয়ত; বরং এটিই সেই বিশ্বজনীন শরীয়ত যা আইন বিশেষজ্ঞগণ কেবল কল্পনা করতে সক্ষম হয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৪৮ - ৫০]।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ১৫)
ولكنهم لم يستطيعوا أن يوجدوها، واقرأ قوله تعالى: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا} (1) وقوله: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ} (2).

 

‌‌الشَّرِيعَةُ الإِسْلَامِيَّةُ شَرِيعَةٌ كَامِلَةٌ دَائِمَةٌ:

وقد أنزلت الشريعة من عند الله شريعة كاملة شاملة، وتم نزولها في فترة قصيرة، بدأت ببعثة الرسول، وانتهت بوفاته، أو انتهت يوم نزل قوله - جَلَّ شَأْنُهُ -: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} (3). وهذا النص قاطع في كمال الشريعة ودوامها، بعد أن قطعت نصوص الشريعة بأن محمدًا صلى الله عليه وسلم خاتم الأنبياء: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} (4).

 

ومن يراجع أحكام الشريعة يجد أنها جاءت كاملة لا نقص فيها شاملة لأمور الأفراد والجماعات والدول، فهي تنظم الأحوال

--------------------------------------------

(1) [سورة الأعراف، الآية: 158].

(2) [سورة التوبة، الآية: 33]، [سورة الفتح، الآية: 28]، [سورة الصف، الآية: 9].

(3) [سورة المائدة، الآية: 3].

(4) [سورة الأحزاب، الآية: 40].
কিন্তু তাঁরা তা উদ্ভাবন করতে সক্ষম হননি। আর মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করুন: {বলুন, হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল} (১) এবং তাঁর বাণী: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দীনের ওপর বিজয়ী করেন} (২)।

 

‌‌ইসলামী শরিয়াহ একটি পূর্ণাঙ্গ ও শাশ্বত জীবনব্যবস্থা:

আল্লাহর পক্ষ থেকে এই শরিয়াহ একটি পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক জীবনবিধান হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। এর অবতরণ একটি স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা রাসূলের নবুওয়াত লাভের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এবং তাঁর ওফাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে, অথবা সেই দিন শেষ হয়েছে যেদিন তাঁর—যাঁর শান সুমহান—এই বাণী নাযিল হয়েছিল: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করলাম} (৩)। এই পাঠ্যপ্রমাণটি (النص) শরিয়াহর পূর্ণাঙ্গতা ও স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে অকাট্য (قطعي), যেহেতু শরিয়াহর অন্যান্য দলিলসমূহ (نصوص) অকাট্যভাবে (قطعي) সাব্যস্ত করেছে যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন সর্বশেষ নবী: {মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী} (৪)।

 

আর যে ব্যক্তি শরিয়াহর বিধানাবলি পর্যালোচনা করবে, সে দেখতে পাবে যে এটি পূর্ণাঙ্গরূপে এসেছে যাতে কোনো অপূর্ণতা নেই; এটি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের যাবতীয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি ব্যক্তিগত অবস্থাকে সুশৃঙ্খল করে...

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৫৮]।

(২) [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৩৩], [সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ২৮], [সূরা আস-সাফ, আয়াত: ৯]।

(৩) [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৩]।

(৪) [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪০]।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ১৬)
الشخصية، والمعاملات، وكل ما يتعلق بالأفراد، وتنظيم شؤون الحكم والإدارة والسياسة، وغير ذلك مما يتعلق بالجماعة كما تنظم علاقة الدول بعضها ببعض في الحرب والسلم.

 

ولم تأت الشريعة الإسلامية لوقت دون وقت، أو لعصر دون عصر، أو لزمن دون زمن، وإنما هي شريعة كل وقت، وشريعة كل عصر، وشريعة الزمن كله، حتى يرث الله الأرض ومن عليها.

وقد صيغت نصوص الشريعة بحيث لا يؤثر على نصوصها مرور الزمن، ولا يبلى جدتها، ولا يقتضي تغيير قواعدها العامة، ونظرياتها الأساسية، فجاءت نصوصها من العموم والمرونة بحيث تحكم كل حالة جديدة، ولو لم يكن في الإمكان توقعها، ومن ثم كانت نصوص الشريعة غير قابلة للتغيير والتبديل، كما تتغير نصوص القوانين وتتبدل.

 

‌‌مُقَارَنَةٌ بَيْنَ نَشْأَةِ الشَّرِيعَةِ وَنَشْأَةِ القَانُونِ:

عرفنا فيما سبق كيف نشأت الشريعة الإسلامية، أما القانون الوضعي فينشأ في الجماعة التي ينظمها ويحكمها ضئيلاً محدود القواعد ثم يتطور بتطور الجماعة، فتزداد قواعده، وتتسامى نظرياته كلما ازدادت حاجات الجماعة وتنوعت، وكلما تقدمت الجماعة في تفكيرها وعلومها، ويضع قواعد القانون الأشخاص المسيطرون على الجماعة وهم الذين يقومون بتهذيب هذه القواعد وتغييرها،
ব্যক্তিগত বিষয়াবলি, লেনদেন এবং ব্যক্তিদের সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছু, শাসন পরিচালনা, প্রশাসন ও রাজনীতির ব্যবস্থাপনা এবং সমাজ ও সমষ্টির সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়; যেমনিভাবে এটি যুদ্ধ ও শান্তিকালীন সময়ে রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ককেও সুসংগঠিত করে।

 

ইসলামি শরিয়ত কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আসেনি, বা কোনো নির্দিষ্ট যুগের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি প্রতিটি সময়ের জন্য শরিয়ত, প্রতিটি যুগের জন্য শরিয়ত এবং সমগ্র মহাকালের জন্য শরিয়ত, যে পর্যন্ত না আল্লাহ পৃথিবী ও এর ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হন।

শরিয়তের নস বা মূল পাঠসমূহকে (نصوص) এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে সময়ের আবর্তন এর ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে, এর নতুনত্ব ম্লান না হয় এবং এর সাধারণ মূলনীতি (قواعد عامة) ও মৌলিক তত্ত্বসমূহের (نظريات أساسية) পরিবর্তনের প্রয়োজন না পড়ে। এর নস বা পাঠসমূহ (نصوص) এতটাই ব্যাপক ও নমনীয় যে তা প্রতিটি নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর বিধান প্রয়োগ করতে সক্ষম, যদিও তা আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব না হয়ে থাকে। ফলে শরিয়তের নসসমূহ (نصوص) পরিবর্তন ও রদবদলের যোগ্য নয়, যেভাবে প্রচলিত আইনের পাঠসমূহ (نصوص) পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত হয়ে থাকে।

 

‌‌শরিয়তের উদ্ভব এবং আইনের উদ্ভবের মধ্যে একটি তুলনা:

আমরা পূর্বে জেনেছি কীভাবে ইসলামি শরিয়ত উদ্ভূত হয়েছে। অন্যদিকে, মানব রচিত আইন (القانون الوضعي) এমন একটি সমাজের মধ্যে জন্ম নেয় যা সেটিকে সুসংগঠিত ও পরিচালিত করে। শুরুতে এটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও সীমিত মূলনীতি (قواعد) বিশিষ্ট থাকে, এরপর সমাজের বিবর্তনের সাথে সাথে এটিও বিবর্তিত হয়। সমাজের প্রয়োজন বৃদ্ধি ও বহুমুখী হওয়ার সাথে সাথে এবং সমাজের চিন্তা-চেতনা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে এর নিয়মাবলি বৃদ্ধি পায় এবং এর তত্ত্বসমূহ আরও উন্নত হয়। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই আইনের এই নিয়মগুলো প্রণয়ন করে থাকেন এবং তারাই এই নিয়মগুলোর পরিমার্জন ও পরিবর্তন সাধন করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ১৭)
فالجماعة إذن هي التي تخلق القانون، وتصنعه على الوجه الذي يسد حاجتها، وهو تابع لها، وتقدمه مرتبط بتقدمها.

 

وقد بدأ القانون يتكون كما يقول علماء القانون مع تَكَوُّنِ الأسرة في العصور الأولى، ثم تطور بِتَكَوُّنِ القبيلة، ثم تطور بِتَكَوُّنِ الدولة، ثم بدأ المرحلة الأخيرة من التطور في أعقاب القرن الثامن عشر، على هدى النظريات الفلسفية والاجتماعية، فتطور القانون الوضعي من ذلك الوقت حتى الآن تطورًا عظيمًا، وأصبح قائمًا على نظريات ومبادئ، لم يكن لها وجود في العصور السابقة.

 

‌‌طَبِيعَةُ الشَّرِيعَةِ تَخْتَلِفُ عَنْ طَبِيعَةِ القَانُونِ:

ونستطيع بعد أن استعرضنا نشأة الشريعة، ونشأة القانون أن نقول بحق: إن الشريعة لا تماثل القانون، وإن طبيعة الشريعة تختلف تمام الاختلاف عن طبيعة القانون لما جاءت على الشكل الذي جاءت به، وعلى الوصف الذي أسلفنا، ولوجب أن تأتي شريعة أولية، تأخذ طريق القانون في التطور مع الجماعة، وما كان يمكن أن تأتي بالنظريات الحديثة التي لم تعرفها القوانين إلا أخيرًا بل ما كان يمكن أن تصل إلى مثل هذه إلا بعد أن تعرفها القوانين وبعد مرور آلاف السنين.
সুতরাং সমাজই আইন সৃষ্টি করে এবং একে এমনভাবে তৈরি করে যা তার প্রয়োজন পূরণ করে। আইন হলো সমাজের অনুগামী এবং এর অগ্রগতি সমাজের অগ্রগতির সাথে সম্পৃক্ত।

 

আইনবিদদের মতে, আদি যুগে পরিবার গঠনের সাথে সাথে আইনের ক্রমবিকাশ শুরু হয়। এরপর গোত্র গঠনের মাধ্যমে এটি বিবর্তিত হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে এর আরও উন্নতি ঘটে। অতঃপর আঠারো শতকের শেষভাগে দার্শনিক ও সামাজিক তত্ত্বের আলোকে বিবর্তনের চূড়ান্ত পর্যায় শুরু হয়। ফলে সেই সময় থেকে আজ অবধি মানব রচিত আইনের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে এবং এটি এমন সব তত্ত্ব ও মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার অস্তিত্ব পূর্ববর্তী যুগে ছিল না।

 

‌‌শরীয়তের প্রকৃতি আইনের প্রকৃতি থেকে ভিন্ন:

শরীয়ত ও আইনের উৎপত্তি পর্যালোচনার পর আমরা যথার্থই বলতে পারি যে: শরীয়ত আইনের সমতুল্য নয়। শরীয়তের প্রকৃতি আইনের প্রকৃতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন; কারণ এটি এমন এক অবয়বে এবং বৈশিষ্ট্যে অবতীর্ণ হয়েছে যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। যদি এটি (আইনের ন্যায় হতো), তবে শরীয়তকে একটি প্রাথমিক শরীয়ত হিসেবে আসতে হতো যা সমাজের সাথে বিবর্তনের ক্ষেত্রে আইনের পথ অনুসরণ করত। সেক্ষেত্রে শরীয়তের পক্ষে এমন সব আধুনিক তত্ত্ব নিয়ে আসা সম্ভব হতো না যা আইন কেবল নিকট অতীতে জানতে পেরেছে; বরং আইন তা জানার পর এবং হাজার বছর অতিবাহিত হওয়ার আগে শরীয়তের পক্ষে এমন পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الاخْتِلَافَاتِ الأَسَاسِيَّةِ بَيْنَ الشَّرِيعَةِ وَالقَانُونِ:

تختلف الشريعة الإسلامية عن القوانين الوضعية اختلافًا أساسيًا من ثلاثة وجوه:

 

‌‌الوَجْهُ الأَوَّلُ:

أن الشريعة من عند الله، أما القانون فمن صنع البشر، وكلا الشريعة والقانون يتمثل فيه بجلاء صفات صانعه، فالقانون من صنع البشر، ويتمثل فيه نقص البشر وعجزهم وضعفهم، فالقانون من صنع البشر، ويتمثل فيه نقص البشر وعجزهم وضعفهم وقلة حيلتهم ومن ثم كان القانون عرضة للتغيير، أو ما نسميه التطور كلما تطورت الجماعة إلى درجة لم تكن متوقعة، أوجدت حالات لم تكن منتظرة، فالقانون ناقص دائمًا، ولا يمكن أن يبلغ حد الكمال ما دام صانعه لا يمكن أن يوصف بالكمال، ولا يستطيع أن يحيط بما سيكون، وإن استطاع الإلمام بما كان.

 

أما الشريعة، فصانعها هو الله، وتتمثل فيها قدرة الخالق وكماله وعظمته وإحاطته بما كان، وبما هو كائن، ومن ثم صاغها العليم الخبير بحيث تحيط بكل شيء في الحال والاستقبال.

 

‌‌الوَجْهُ الثَّانِي:

أن القانون عبارة عن قواعد مؤقتة، تضعها الجماعة، لتنظيم شؤونها وسد حاجتها، فهي قواعد متأخرة عن الجماعة، أو هي في مستوى الجماعة اليوم، ومتخلفة عنه غدًا، لأن القوانين لا تتغير.
‌‌শরীয়াহ ও আইনের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যসমূহ:

ইসলামি শরীয়াহ মানবরচিত আইনসমূহ হতে তিনটি দিক থেকে মৌলিকভাবে পৃথক:

 

‌‌প্রথম দিক:

শরীয়াহ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, পক্ষান্তরে আইন মানুষের তৈরি। শরীয়াহ ও আইন—উভয়ের মধ্যেই এর নির্মাতার বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। আইন যেহেতু মানুষের তৈরি, তাই এতে মানুষের অপূর্ণতা, অক্ষমতা, দুর্বলতা ও দূরদর্শিতার অভাব প্রতিফলিত হয়। এ কারণেই আইন পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়, অথবা যাকে আমরা বিবর্তন বলি; যখনই কোনো জনসমষ্টি এমন এক পর্যায়ে উন্নীত হয় যা আগে প্রত্যাশিত ছিল না, তখন এমন সব পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে যা আগে অনুমিত ছিল না। ফলে আইন সর্বদা অপূর্ণ থেকে যায় এবং এটি কখনো পূর্ণতার (كمال) স্তরে পৌঁছাতে পারে না, যতক্ষণ এর নির্মাতাকে পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত করা সম্ভব না হয়। মানুষ যা ঘটে গেছে তা অবগত হতে পারলেও ভবিষ্যতে কী হবে তা পরিবেষ্টন করতে সক্ষম নয়।

 

পক্ষান্তরে শরীয়াহর নির্মাতা হলেন স্বয়ং আল্লাহ। এতে স্রষ্টার কুদরত, পূর্ণতা, মহিমা এবং যা ছিল ও যা হবে—সবকিছুর ওপর তাঁর পরিবেষ্টনকারী জ্ঞানের প্রতিফলন ঘটে। ফলশ্রুতিতে, সর্বজ্ঞ (العليم) ও সম্যক অবগত (الخبير) সত্তা একে এমনভাবে প্রণয়ন করেছেন যাতে এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে।

 

‌‌দ্বিতীয় দিক:

আইন হলো কতকগুলো অস্থায়ী নিয়মাবলির সমষ্টি, যা কোনো সমাজ তাদের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজন পূরণের জন্য প্রণয়ন করে। সুতরাং এই নিয়মগুলো সমাজ থেকে পিছিয়ে থাকে, অথবা বর্তমান সমাজের সমপর্যায়ে থাকে; কিন্তু ভবিষ্যতে তা সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, কারণ আইনসমূহ পরিবর্তিত হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ১৯)
بسرعة تطور الجماعة، وهي قواعد مؤقتة تتفق مع الجماعة المؤقتة، وتستوجب التغيير كلما تغيرت حال الجماعة.

 

أما الشريعة فقواعدها وضعها الله على سبيل الدوام، لتنظيم شؤون الجماعة، فالشريعة تتفق مع القانون في أن كليهما وضع لتنظيم الجماعة، ولكن الشريعة تختلف عن القانون في أن قواعدها دائمة لا تقبل التعبير والتبديل، وهذه الميزة التي تمتازها الشريعة تقتضي منطقيًا:

أولاً: أن تكون قواعد الشريعة ونصوصها من المرونة والعموم بحيث تتسع لحاجات الجماعة مهما طالت في الأزمان، وتطورت الجماعة، وتعددت الحاجات وتنوعت.

 

ثانيًا: أن تكون قواعد الشريعة ونصوصها من السمو والارتفاع بحيث لا يمكن أن تتأخر في وقت عصر ما عن مستوى الجماعة.

 

والواقع أن ما يقتضيه المنطق متوفر بوجهيه في الشريعة، بل هو أهم ما يميز الشريعة، فقد جاءت نصوص الشريعة عامة ومرنة إلى آخر حدود العموم والمرونة، كما أنها وصلت من السمو درجة لا يتصور بعدها سمو.

 

ولقد مر على الشريعة أكثر من ثلاثة عشر قرنًا، تغيرت في خلالها الأوضاع أكثر من مرة، وتطورت الآراء والعلوم
সমাজের দ্রুত বিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে; এগুলো হলো সাময়িক (مؤقتة) নিয়ম যা সাময়িক সমাজের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং সমাজের অবস্থা পরিবর্তনের সাথে সাথে এগুলোর পরিবর্তনের আবশ্যকতা দেখা দেয়।

 

পক্ষান্তরে শরিয়তের নিয়মসমূহ আল্লাহ তাআলা স্থায়ীভাবে (على سبيل الدوام) নির্ধারণ করেছেন যাতে সমাজের বিষয়াবলি সুসংগঠিত করা যায়। সুতরাং শরিয়ত ও প্রচলিত আইন এই দিক থেকে এক যে, উভয়ই সমাজ পরিচালনার জন্য প্রণীত। তবে শরিয়ত ও আইনের মধ্যে পার্থক্য হলো যে, শরিয়তের নিয়মসমূহ স্থায়ী (دائمة), যা কোনো পরিবর্তন ও রদবদল গ্রহণ করে না। শরিয়তের এই অনন্য বৈশিষ্ট্যটি যৌক্তিকভাবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দাবি করে:

প্রথমত: শরিয়তের বিধিবিধান ও এর মূল পাঠসমূহ (نصوص) নমনীয়তা (مرونة) ও ব্যাপকতার (عموم) এমন স্তরে হতে হবে যাতে কালের বিবর্তনে সমাজের দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োজনীয়তা, সমাজের ক্রমবিকাশ এবং চাহিদার আধিক্য ও বৈচিত্র্য যাই হোক না কেন, তা সবকিছুকে ধারণ করতে সক্ষম হয়।

 

দ্বিতীয়ত: শরিয়তের বিধিবিধান ও এর মূল পাঠসমূহ (نصوص) শ্রেষ্ঠত্ব (سمو) ও উচ্চতার এমন পর্যায়ে হতে হবে যাতে কোনো যুগের কোনো পর্যায়েই এটি সমাজের মান থেকে পিছিয়ে না পড়ে।

 

বস্তুত যুক্তি যা দাবি করে তা শরিয়তের মাঝে উভয় দিক থেকেই বিদ্যমান, বরং এটিই শরিয়তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। শরিয়তের মূল পাঠসমূহ (نصوص) ব্যাপকতা (عموم) ও নমনীয়তার (مرونة) চূড়ান্ত সীমা পর্যন্ত ব্যাপক ও নমনীয় হিসেবে এসেছে। তেমনিভাবে এটি শ্রেষ্ঠত্বের (سمو) এমন স্তরে পৌঁছেছে যার পরে আর কোনো উচ্চতা কল্পনা করা যায় না।

 

শরিয়তের ওপর তেরো শতাব্দীরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে, এর মাঝে পরিস্থিতির বহুবার পরিবর্তন ঘটেছে এবং চিন্তা ও বিজ্ঞানের বিবর্তন হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ২০)
تطورًا كبيرًا، واستحدث من الصناعات والمخترعات ما لم يكن يخطر على خيال إنسان، وتغيرت قواعد القانون الوضعي ونصوصه أكثر من مرة، لتتلاءم مع الحالات الجديدة والظروف الجديدة بحيث انقطعت العلاقة بين قواعد القانون الوضعي التي تطبق اليوم، وبين قواعده التي كانت تطبق يوم نزلت الشريعة، وبالرغم من هذا كله، ومن أن الشريعة الإسلامية، لا تقبل التغيير والتبديل، ظلت مبادؤها ونصوصها أسمى من مستوى الجماعات، وأكفل بتنظيم وسد حاجاتهم، وأقرب إلى طبائعهم وأحفظ لأمتهم وطمأنينتهم.

 

هذه هي شهادة التاريخ الرائعة، يقف بها في جانب الشريعة الإسلامية، وليس ثمة ما هو أروع منها إلا شهادة النصوص ومنطقها وخذ مثلاً قوله تعالى: {وَشَاوِرْهُمْ فِي الأَمْرِ} (1). وقوله: {وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ} (2). وقوله: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ} (3). وقول الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم: «لَا ضَرَر وَلَا ضِرَارَ فِي الإِسْلَامِ» فهذه نصوص من القرآن وَالسُنَّةِ، بلغت من العموم والمرونة الحد الأقصى. وهي تقرر «الشُّورَى» قاعدة للحكم على الوجه

--------------------------------------------

(1) [سورة آل عمران، الآية: 159].

(2) [سورة الشورى، الآية: 38].

(3) [سورة المائدة، الآية: 2].
এক বিশাল বিবর্তন ঘটেছে, এবং এমন সব শিল্প ও উদ্ভাবন সূচিত হয়েছে যা মানুষের কল্পনাতেও ছিল না। মানবরচিত আইনের (القانون الوضعي) নিয়ম ও পাঠসমূহ (نصوص) নতুন পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিকতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বারবার পরিবর্তিত হয়েছে, ফলে বর্তমানে প্রয়োগকৃত মানবরচিত আইনের নিয়মাবলী এবং শরীয়াহ অবতীর্ণ হওয়ার সময়কার নিয়মাবলীর মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। এতদসত্ত্বেও, এবং ইসলামি শরীয়াহ কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন গ্রহণ না করা সত্ত্বেও, এর মূলনীতি ও পাঠসমূহ (نصوص) মানবীয় স্তরের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেছে এবং তাদের প্রয়োজন পূরণ ও সুশৃঙ্খল করতে অধিকতর সক্ষম বলে প্রমাণিত হয়েছে। এগুলো মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির অধিকতর অনুকূল এবং তাদের জাতীয় সংহতি ও প্রশান্তি রক্ষায় অধিকতর কার্যকর।

 

এটিই ইতিহাসের এক চমৎকার সাক্ষ্য যা ইসলামি শরীয়াহর সপক্ষে বিদ্যমান। আর এর চেয়ে মহৎ কেবল মূলপাঠ বা পাঠের (نصوص) সাক্ষ্য ও তার যৌক্তিকতা। উদাহরণস্বরূপ আল্লাহ তাআলার বাণী লক্ষ্য করুন: {এবং কার্যাবলীতে তাদের সাথে পরামর্শ করুন} (১)। এবং তাঁর বাণী: {এবং তাদের কার্যাবলী তাদের পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়} (২)। এবং তাঁর বাণী: {তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো, এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না} (৩)। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «ইসলামে কারোর ক্ষতি করা বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নেই»। এগুলো কুরআন ও সুন্নাহর এমন সব পাঠ (نصوص), যা ব্যাপকতা (العموم) ও নমনীয়তার (المرونة) চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে। এগুলো 'শুরা' বা পরামর্শকে (الشورى) শাসনের ভিত্তি হিসেবে এমনভাবে সাব্যস্ত করে...

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৫৯]।

(২) [সূরা আশ-শুরা, আয়াত: ৩৮]।

(৩) [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ২]।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ২১)
الذي ينتفي معه الضرر والإثم، ويحقق التعاون على البر التقوى، وبهذا بلغت الشريعة من السمو ما يعجز البشر عن الوصول لمستواه.

 

‌‌الوَجْهُ الثَّالِثُ:

إن الغرض من الشريعة هو تنظيم الجماعة وتوجيهها، وخلق الأفراد الصالحين، وإيجاد الدولة المثالية، والعالم المثالي، ومن أجل هذا جاءت نصوصها أرفع من مستوى العالم كله وقت نزولها، ولا تزال كذلك حتى اليوم، وجاء فيها من المبادئ والنظريات ما لم يتهيأ العالم غير الإسلامي لمعرفته، والوصول إليه، إلا بعد قرون طويلة، وما لم يتهيأ هذا للعالم لمعرفته، أو يصل إليه حتى الآن ومن أجل هذا تولى الله - جَلَّ شَأْنُهُ - وضع الشريعة، وأنزلها نموذجًا من الكمال، ليوجه الناس إلى الطاعات والفضائل ويحملهم على التسامي والتكامل، حتى يصلوا أو يقتربوا من مستوى الشريعة الكامل.

 

أما القانون، فالأصل فيه أنه يوضع لتنظيم الجماعة، ولا يوضع لتوجيهها، ومن ثم كان القانون متأخرًا عن الجماعة، وتابعًا لتطورها، ولكن القانون قد تحول في القرن الحالي عن أصله فصار يوضع لتوجيه الجماعة وتنظيمها، حيث بدأت الدول التي تدعو لدعوات جديدة تستخدم القانون لتوجيه الشعوب وجهات معينة، كما تستخدمه لتنفيذ أغراض معينة، كما فعلت روسيا وتركيا
যার মাধ্যমে ক্ষতি ও পাপ অপসারিত হয় এবং পুণ্য ও তাকওয়ার ওপর পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত হয়; আর এভাবেই শরীয়ত এমন এক উচ্চমার্গে পৌঁছেছে যেটির স্তরে পৌঁছাতে মানুষ অক্ষম।

 

‌‌তৃতীয় দিক:

নিশ্চয়ই শরীয়তের উদ্দেশ্য হলো সমাজকে সুসংগঠিত করা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা, সৎ ব্যক্তি গঠন করা এবং একটি আদর্শ রাষ্ট্র ও আদর্শ বিশ্ব বিনির্মাণ করা। আর এই উদ্দেশ্যেই এর মূল পাঠসমূহ অবতীর্ণ হওয়ার সময় সমগ্র বিশ্বের মানদণ্ডের তুলনায় অনেক উচ্চতর ছিল এবং আজও তা তেমনই আছে। এতে এমন সব মূলনীতি ও তত্ত্ব সন্নিবেশিত হয়েছে যা অমুসলিম বিশ্ব দীর্ঘ শতাব্দী অতিক্রান্ত হওয়ার আগে উপলব্ধি করতে বা তাতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি, বরং এমন কিছু বিষয়ও রয়েছে যা বিশ্ব আজও জানতে পারেনি বা সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। এই কারণেই মহান আল্লাহ তাআলা স্বয়ং শরীয়ত প্রণয়নের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং একে পূর্ণতার এক আদর্শ হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন, যাতে মানুষকে আনুগত্য ও সচ্চরিত্রের দিকে পরিচালিত করা যায় এবং তাদেরকে উৎকর্ষ ও পূর্ণতার পথে ধাবিত করা যায়, যেন তারা পূর্ণাঙ্গ শরীয়তের স্তরে পৌঁছাতে পারে বা তার নিকটবর্তী হতে পারে।

 

পক্ষান্তরে প্রচলিত আইনের মূল প্রকৃতি হলো এটি সমাজকে সুসংগঠিত করার জন্য প্রণীত হয়, দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য নয়। ফলে আইন সমাজের পেছনে পড়ে থাকে এবং সমাজের বিবর্তনের অনুগামী হয়। কিন্তু বর্তমান শতাব্দীতে আইন তার এই মূল প্রকৃতি থেকে পরিবর্তিত হয়ে সমাজকে দিকনির্দেশনা দান ও সুসংগঠিত করার মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে যেসব রাষ্ট্র নতুন নতুন আদর্শের দিকে আহ্বান জানাচ্ছে, তারা জনগণকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করতে এবং বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে আইনকে ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যেমনটি রাশিয়া ও তুরস্ক করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ২২)
وألمانيا وإيطاليا وغيرها. وهكذا انتهى القانون الوضعي إلى ما بدأت به الشريعة، وأخذ بما سبقته إليه من ثلاثة عشر قرنًا.

 

‌‌المُمَيِّزَاتُ الجَوْهَرِيَّةُ التِي تُمَيِّزُ الشَّرِيعَةَ عَنْ القَانُونِ:

ونستطيع أن نستخلص مما سبق أن الشريعة الإسلامية تمتاز على القوانين الوضعية بثلاث ميزات جوهرية هي:

1 - الكمال: تمتاز الشريعة على القوانين الوضعية بالكمال أي بأنها استكملت كل ما تحتاجه الشريعة الكاملة من مبادئ ونظريات، وأنها غنية بالمبادئ والنظريات التي تكفل سد حاجات الجماعة في الحاضر القريب، والمستقبل البعيد.

2 - السمو: تمتاز الشريعة بأن قواعدها ومبادئها أسمى دائمًا من مستوى الجماعات. وأن فيها من المبادئ والنظريات ما يحفظ لها هذا المستوى السامي. مهما ارتفع مستوى الناس.

3 - الدوام: تمتاز الشريعة عن القوانين الوضعية بالدوام فنصوصها لا تقبل التعديل أو التبديل مهما مرت الأعوام وطالت الأزمان وهي مع ذلك تظل حافظة لصلاحياتها في كل زمان ومكان.

 

‌‌طَرِيقَةُ الشَّرِيعَةِ الإِسْلَامِيَّةِ فِي التَّشْرِيعِ:

الأصل في الشريعة أنها جاءت للناس لتحكمهم في كل حالاتهم وليحكموها في شؤون دنياهم وآخرتهم. ولكن الشريعة مع هذا
জার্মানি, ইতালি এবং অন্যান্য দেশ। এভাবেই মানবীয় আইন সেখানে এসে পৌঁছেছে যেখান থেকে শরিয়ত শুরু হয়েছিল এবং শরিয়ত তেরো শতাব্দী আগেই যা অর্জন করেছিল, এটি তা গ্রহণ করেছে।

 

‌‌শরিয়ত ও আইনের মধ্যে পার্থক্যকারী মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

আমরা পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে এই উপসংহারে পৌঁছাতে পারি যে, মানবীয় আইনের তুলনায় ইসলামি শরিয়তের তিনটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, সেগুলো হলো:

১ - পূর্ণতা: মানবীয় আইনের তুলনায় শরিয়ত পূর্ণতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, অর্থাৎ এটি একটি পূর্ণাঙ্গ শরিয়তের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত মূলনীতি ও তত্ত্বের দিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এটি এমন সব মূলনীতি ও তত্ত্বে সমৃদ্ধ যা নিকট বর্তমান এবং সুদূর ভবিষ্যতে সমাজের প্রয়োজন মেটানোর নিশ্চয়তা প্রদান করে।

২ - শ্রেষ্ঠত্ব: শরিয়তের বৈশিষ্ট্য হলো এর বিধিবিধান ও মূলনীতিসমূহ সর্বদা জনসমষ্টির স্তরের চেয়ে উচ্চতর। এতে এমন সব মূলনীতি ও তত্ত্ব রয়েছে যা মানুষের মান যতই উন্নত হোক না কেন, এর এই উচ্চমান অক্ষুণ্ণ রাখে।

৩ - স্থায়িত্ব: মানবীয় আইনের তুলনায় শরিয়ত স্থায়িত্ব দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। বছরের পর বছর বা দীর্ঘ কাল অতিবাহিত হলেও এর পাঠসমূহ কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন গ্রহণ করে না। তা সত্ত্বেও এটি সর্বকালে ও সর্বস্থানে নিজের উপযোগিতা বজায় রাখতে সক্ষম।

 

‌‌আইন প্রণয়নে ইসলামি শরিয়তের পদ্ধতি:

শরিয়তের মূলনীতি হলো এটি মানুষের জন্য অবতীর্ণ হয়েছে যাতে তাদের সকল অবস্থায় তাদের শাসন পরিচালনা করে এবং তারা যেন তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে শরিয়তকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে। কিন্তু শরিয়ত এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ২৩)
لم تأت بنصوص تفصيلية تبين حكم كل الحالات الجزئية والفرعية كما تفعل القوانين الوضعية اليوم. وإنما اكتفت الشريعية في أغلب الأحوال بإيراد الأحكام الكلية في نصوص عامة مرنة فإذا تعرضت لحكم فرعي. فنصت عليه فإنما تنص عليه. لأنه يعتبر حكمًا كليًا بالنسبة لما يدخل تحته من فروع.

 

والأحكام الكلية التي نصت عليها الشريعة تعتبر بحق القواعد العامة للتشريع الإسلامي، والهيكل الذي يمثل معالم التشريع الإسلامي، والضوابط التي تحكم التشريع الإسلامي، وقد تركت الشريعة لأولي الأمر أن يتموا بناء التشريع على أساس هذه القواعد. وأن يستكملوا هذا الهيكل. فيبينوا دقائقه وتفاصيله في حقوق المبادئ والضوابط التي جاءت بها الشريعة.

 

والطريقة التي التزمتها الشريعة في التشريع هي الطريقة الوحيدة التي تتلاءم مع مميزات الشريعة. وما تتصف به من السمو والكمال والدوام، فالسمو والكمال يقتضيان النص على كل المبادئ والنظريات الإنسانية والاجتماعية التي تكفل حياة سعيدة للجماعة. وتحقق العدل والمساواة والتراحم بين أفرادها وتوجههم إلى الخير، وتدعوهم إلى التفوق، وصفة الدوام تقتضي أن لا ينص على حالات مؤقتة تتغير أحكامها بتغيير الظروف وتوالي الأيام.

 

‌‌حَقُّ أُولِي الأَمْرِ فِي التَّشْرِيعِ:

وإذا كانت الشريعة قد أعطت أولي الأمر حق التشريع
শরিয়ত বর্তমানকালের মানবরচিত আইনের (قوانين وضعية) মতো প্রতিটি আংশিক (جزئية) ও শাখাগত (فرعية) বিষয়ের বিধান বর্ণনার জন্য বিস্তারিত কোনো পাঠ (নস) নিয়ে আসেনি। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে শরিয়ত নমনীয় ও সাধারণ বর্ণনার মাধ্যমে সামষ্টিক বিধানসমূহ (الأحكام الكلية) প্রদান করেই ক্ষান্ত হয়েছে। তবে যখনই কোনো শাখাগত বিধানের (حكم فرعي) অবতারণা করা হয়েছে এবং সেটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, তখন তা এ কারণেই করা হয়েছে যে, উক্ত বিধানটি তার অধীনে থাকা শাখা-প্রশাখাগুলোর জন্য একটি সামষ্টিক বিধান (حكم كلي) হিসেবে গণ্য।

 

শরিয়ত কর্তৃক নির্দেশিত এই সামষ্টিক বিধানসমূহ (الأحكام الكلية) প্রকৃতপক্ষে ইসলামি আইনের সাধারণ মূলনীতি (القواعد العامة), ইসলামি আইনের রূপরেখা সৃষ্টিকারী কাঠামো এবং ইসলামি আইনকে নিয়ন্ত্রণকারী নীতিমালা (الضوابط) হিসেবে বিবেচিত। শরিয়ত উলিল আমরের (أولي الأمر) ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করেছে যে, তারা এই মূলনীতিগুলোর ভিত্তিতে আইনি কাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন করবেন এবং এই কাঠামোকে পূর্ণতা দান করবেন। ফলে তারা শরিয়ত প্রদত্ত মূলনীতি ও নীতিমালাসমূহের (الضوابط) আলোকে এর সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা করবেন।

 

শরিয়ত আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, তা শরিয়তের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একমাত্র পদ্ধতি; যা শরিয়তের শ্রেষ্ঠত্ব, পূর্ণতা ও স্থায়িত্বকে প্রকাশ করে। শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতার দাবি হলো—এমন সব মানবিক ও সামাজিক মূলনীতি ও তত্ত্বের অবতারণা করা, যা সমাজের সুখী জীবন নিশ্চিত করে এবং এর সদস্যদের মধ্যে ন্যায়বিচার, সাম্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করে, তাদের কল্যাণের দিকে পরিচালিত করে এবং উৎকর্ষ সাধনে উদ্বুদ্ধ করে। আর স্থায়িত্বের গুণটির দাবি হলো—এমন কোনো সাময়িক পরিস্থিতির বিধান বর্ণনা না করা, যার বিধানসমূহ পরিস্থিতি পরিবর্তন ও কালের বিবর্তনে পরিবর্তিত হয়ে যায়।

 

‌‌আইন প্রণয়নে উলিল আমরের (أُولِي الأَمْرِ) অধিকার:

শরিয়ত যেহেতু উলিল আমরকে (أولي الأمر) আইন প্রণয়নের অধিকার প্রদান করেছে...
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ২৪)
فإنها لم تعطهم هذا الحق مطلقًا من كل قيد. فحق أولى الأمر في التشريع مقيد بأن يكون ما يضعونه من التشريعات متفقًا مع نصوص الشريعة ومبادئها العامة وروحها التشريعية وتقييد حقهم في التشريع على هذا الوجه يجعل حقهم مقصورًا على نوعين من التشريع.

[أ] تشريعات تنفيذية: يقصد منها ضمان تنفيذ نصوص الشريعة الإسلامية، والتشريع على هذا الوجه يعتبر بمثابة اللوائح والقرارات التي يصدرها الوزراء اليوم كل في حدود اختصاصه لضمان تنفيذ القوانين.

[ب] تشريعات تنظيمية: يقصد بها تنظيم الجماعة وحمايتها وسد حاجتها على أساس مبادئ الشريعة فلم تأت فيه بنصوص خاصة ويشترط في هذا النوع من التشريعات أن يكون قبل كل شيء متفقًا مع مبادئ الشريعة العامة وروحها التشريعية.

 

‌‌حُكْمُ خُرُوجِ أُولِي الأَمْرِ عَنْ حُدُودِ حَقِّهِمْ:

من المتفق عليه أن عمل أولي الأمر صحيح طالما كان في حدود حقه. باطل فيما خرج على هذه الحدود. فإذا أتى أولو الأمر بما يتفق مع نصوص الشريعة ومبادئها العامة وروحها التشريعية فعملهم صحيح تجب له الطاعة، وإذا أتوا بما يخالف
কারণ এটি তাদেরকে এই অধিকার কোনো শর্ত ছাড়াই নিরঙ্কুশভাবে প্রদান করেনি। সুতরাং আইন প্রণয়নে উলিল আমর বা শাসকগোষ্ঠীর অধিকার এই শর্তে সীমাবদ্ধ যে, তাদের প্রণীত আইনসমূহ শরিয়তের সুস্পষ্ট পাঠ (نصوص), এর সাধারণ মূলনীতি এবং এর আইনগত চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এইভাবে তাদের আইন প্রণয়নের অধিকারকে সীমাবদ্ধ করার ফলে তাদের এই অধিকার কেবল দুই প্রকারের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়।

[ক] নির্বাহী আইনসমূহ: এর উদ্দেশ্য হলো ইসলামী শরিয়তের সুস্পষ্ট পাঠসমূহের (نصوص) বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। এই পর্যায়ের আইন প্রণয়ন বর্তমানকালের মন্ত্রীদের দ্বারা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আইন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জারিকৃত বিধিমালা ও সিদ্ধান্তের সমতুল্য গণ্য হয়।

[খ] সাংগঠনিক আইনসমূহ: এর উদ্দেশ্য হলো শরিয়তের মূলনীতির ভিত্তিতে সমাজকে সুসংগঠিত করা, সুরক্ষা প্রদান করা এবং তাদের প্রয়োজন পূরণ করা, যে বিষয়ে শরিয়তে কোনো বিশেষ সুস্পষ্ট পাঠ (نصوص) বর্ণিত হয়নি। এই ধরনের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে শর্ত হলো যে, এটি সর্বোপরি শরিয়তের সাধারণ মূলনীতি এবং এর আইনগত চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

 

‌‌উলিল আমর বা শাসকগোষ্ঠীর নিজ অধিকারের সীমা লঙ্ঘনের বিধান:

এটি সর্বসম্মত বিষয় যে, উলিল আমরের কর্মকাণ্ড ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক (صحيح) বলে গণ্য হবে যতক্ষণ তা তাদের অধিকারের সীমার মধ্যে থাকবে। আর যা এই সীমার বাইরে যাবে তা বাতিল (باطل) বলে গণ্য হবে। সুতরাং উলিল আমর যদি এমন কিছু নিয়ে আসেন যা শরিয়তের সুস্পষ্ট পাঠ (نصوص), এর সাধারণ মূলনীতি এবং আইনগত চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে তাদের সেই কাজ সঠিক (صحيح) এবং তার আনুগত্য করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। আর যদি তারা এমন কিছু নিয়ে আসেন যা এর পরিপন্থী হয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ২৫)
الشريعة فعملهم باطل وكل ما كان باطلاً لا يصح العمل به ولا يجب له الطاعة.

 

والأصل في قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} (1) وقوله: {وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ} (2)، فالله جل شأنه يوجب علينا طاعة أوامره كما يوجب علينا طاعة الرسول، وأولي الأمر والطاعة لله تجب بأمر الله، والطاعة للرسول وأولي الأمر تجب بأمر الله لا بأمر الرسول: ولا بأمر أولي الأمر. فإذا خرج ولي الأمر على ما أنزل الله فأمره باطل ولا تجب طاعته.

 

ولقد أكد الرسول صلى الله عليه وسلم هذه المعاني في قوله: «لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الخَالِقِ». وفي قوله: «إِنَّمَا الطَّاعَة فِي المَعْرُوف». وفيما قاله في أولي الأمر: «مَنْ أَمَرَكُمْ مِنْهُمْ بِمَعْصِيَةٍ فَلَا سَمْعَ وَلَا طَاعَةَ».

 

‌‌هَلْ اِسْتَعْمَلَ أُولُو الأَمْرِ حَقَّهُمْ فِي حُدُودِهِ؟:

أخذ ولاة الأمور في أكثر البلدان الإسلامية يضعون من القرن

--------------------------------------------

(1) [سورة النساء، الآية: 59].

(2) [سورة الشورى، الآية: 10].
শরীয়ত (الشريعة); এমতাবস্থায় তাদের কর্ম বাতিল (باطل) এবং যা কিছু বাতিল (باطل) তার ওপর আমল করা শুদ্ধ (صحيح) নয় এবং তার আনুগত্য করাও আবশ্যক (واجب) নয়।

 

এর মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্যে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল), তাদেরও। এরপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও} (১) এবং তাঁর বাণী: {তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ করো না কেন, তার ফয়সালা আল্লাহর নিকট} (২)। সুতরাং মহান আল্লাহ আমাদের ওপর তাঁর নির্দেশের আনুগত্য করা যেমন আবশ্যক (واجب) করেছেন, তেমনি আমাদের ওপর রাসুল ও উলুল আমরের আনুগত্য করাও আবশ্যক (واجب) করেছেন। আল্লাহর আনুগত্য আল্লাহর নির্দেশেই আবশ্যক (واجب) হয়। আর রাসুল ও উলুল আমরের আনুগত্যও আল্লাহর নির্দেশেই আবশ্যক (واجب) হয়, রাসুলের নির্দেশে কিংবা উলুল আমরের নির্দেশে নয়। অতএব, যদি কোনো উলুল আমর আল্লাহর অবতীর্ণ বিধানের বাইরে চলে যান, তবে তার নির্দেশ বাতিল (باطل) এবং তার আনুগত্য করা আবশ্যক (واجب) নয়।

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই অর্থগুলো তাঁর বাণীতে সুনিশ্চিত করেছেন: "সৃষ্টিকর্তার পাপাচারের (معصية) কাজে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই।" এবং তাঁর বাণী: "আনুগত্য কেবল সৎ কাজের (المعروف) ক্ষেত্রেই।" আর উলুল আমরের ব্যাপারে তিনি যা বলেছেন: "তাদের মধ্যে যে তোমাদের পাপাচারের (معصية) নির্দেশ দেবে, তার কথা শোনা যাবে না এবং আনুগত্যও করা যাবে না।"

 

‌‌উলুল আমরগণ কি তাদের অধিকার সীমার মধ্যে ব্যবহার করেছেন?:

অধিকাংশ মুসলিম দেশে উলুল আমরগণ শতাব্দী থেকে নির্ধারণ করতে শুরু করেন...

--------------------------------------------

(১) [সুরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৯]।

(২) [সুরা আশ-শূরা, আয়াত: ১০]।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ২৬)
الماضي لبلادهم مجموعات قانونية في مختلف التشريعات على غرار ما فعلت البلاد الأوروبية، ولكنهم عمدوا إلى القوانين الأوروبية فنقلوا عنها نقلاً مجموعات دستورية وجنائية ومدنية وتجارية وغير ذلك، ولم يرجعوا إلى الشريعة الإسلامية إلا في بعض المسائل القليلة، كالوقف والشفعة.

 

ومن الحق أن نقرر أن معظم نصوص هذه المجموعات يتفق مع نصوص الشريعة، ولا يخرج على مبادئها العامة. ولكن من الحق أن نقرر أيضًا أن بعض نصوص هذه المجموعات جاء على خلاف أحكام الشريعة، وقام على مبادئ تخالف مبادئها، ومن الأمثلة على ذلك بعض نصوص قوانين العقوبات، فإنها تبيح الزنا في بعض الأحوال، كما تبيح شرب الخمر، بينما الشريعة تحرم الزنا وشرب الخمر تحريمًا مطلقًا، بينما تبيحه القوانين الأوروبية، ولو أن الإباحة ليست مطلقة، ومقيدة بحد معين.

 

‌‌عِلَّةُ نَقْلِ القَوَانِينِ الأُورُوبِيَّةِ لِلْبِلَادِ الإِسْلَامِيَّةِ:

قد يظن البعض أن ولاة الأمور في البلاد الإسلامية نقلوا لها القوانين الأوروبية لأنهم لم يجدوا في الشريعة غناء، وهذا ظن خاطئ أساسه الجهل الفاضح بالشريعة، فإن في الشريعة الإسلامية، وفي الفقه الإسلامي من المبادئ والنظريات والأحكام ما لو جمع في مجموعات لكان مثلاً أعلى في المجموعات التشريعية وأعتقد أنه لو وضعت هذه المجموعات الإسلامية لنقلت البلاد
অতীতে তাদের দেশসমূহের জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর আদলে বিভিন্ন আইনের ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ আইনসমূহ প্রণয়ন করা হয়েছিল, কিন্তু তারা সরাসরি ইউরোপীয় আইনের দিকে ঝুঁকেছিলেন এবং সেখান থেকে সাংবিধানিক, দণ্ডবিধি, দেওয়ানি, বাণিজ্যিক এবং অন্যান্য আইনের সংকলনগুলো হুবহু নকল করেছিলেন। তারা ওয়াকফ (الوقف) এবং শুফআ (الشفعة)-এর মতো অল্প কিছু বিষয় ছাড়া ইসলামি শরিয়তের দিকে ফিরে তাকাননি।

 

এটি অনস্বীকার্য যে, এই আইন সংহিতাগুলোর অধিকাংশ ধারা শরিয়তের ভাষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর সাধারণ মূলনীতিগুলোর বহির্ভূত নয়। তবে এটিও সত্য যে, এই সংহিতাগুলোর কিছু ধারা ইসলামি শরিয়তের বিধান (أحكام)-এর পরিপন্থী এবং এমন কিছু মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি যা শরিয়তের পরিপন্থী। এর একটি উদাহরণ হলো দণ্ডবিধির কিছু ধারা, যা কিছু ক্ষেত্রে ব্যভিচারকে বৈধতা দেয়, তেমনিভাবে মদ্যপানকেও বৈধ করে; অথচ শরিয়ত ব্যভিচার এবং মদ্যপানকে চূড়ান্তভাবে হারাম বা নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় আইন এগুলোকে বৈধতা দেয়, যদিও এই বৈধতা নিরঙ্কুশ নয় বরং একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

 

‌‌ইসলামি দেশগুলোতে ইউরোপীয় আইন আমদানির কারণ (علة):

কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, ইসলামি দেশগুলোর শাসকগণ ইউরোপীয় আইনগুলো তাদের দেশে গ্রহণ করেছিলেন কারণ তারা শরিয়তের মধ্যে পর্যাপ্ত সমাধান পাননি; এটি একটি ভুল ধারণা যার মূলে রয়েছে শরিয়ত সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা। প্রকৃতপক্ষে ইসলামি শরিয়ত এবং ইসলামি ফিকহ (الفقه)-এর মধ্যে এমন সব মূলনীতি, তত্ত্ব ও বিধান (أحكام) রয়েছে যা যদি আইন সংহিতায় রূপ দেওয়া হতো, তবে তা আইনি সংকলনের ক্ষেত্রে এক অনন্য ও আদর্শ মানে উন্নীত হতো। আমার বিশ্বাস, যদি এই ইসলামি সংকলনগুলো প্রণয়ন করা হতো, তবে দেশগুলো...
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ২৭)
غير الإسلامية أحكامها قبل جيل واحد، وأهملت ما لديها من مجموعات تعتز بها ز

 

والعلة الحقيقية في نقل القوانين الأوروبية للبلاد الإسلامية هي الاستعمار، والنفوذ الأوروبي، وقعود علماء المسلمين، فبعض البلاد الإسلامية أدخلت لها القوانين الأوروبية بقوة المستعمر وسلطانه، كالهند، وشمال أفريقيا، وبعض البلاد الإسلامية دخلتها القوانين الأوروبية لضعها، وقوة النفوذ الأجنبي فيها من ناحية ومحاولة حكامها تقليد البلاد الأوروبية من ناحية أخرى، ومن هذا القس مصر وتركيا.

 

ومن الثابت تاريخيًا أن القوانين الأوروبية نقلت إلى مصر في عهد الخديوي إسماعيل. وأنه كان يود أن يضع لمصر مجموعات تشريعية مأخوذة من الشريعة ومذاهب الفقه الإسلامي المختلفة وقد طلب من علماء الأزهر أن يضعوا هذه المجاميع، ولكنهم رفضوا إجابة طلبه، لأن التعصب المذهبي منعهم من أن يتعاونوا على إظهار الشريعة في أجمل صورها، فضحوا بالشريعة جميعها، واحتفظ كل بمذهبه والتعصب له وأضاعوا على العالم الإسلامي فرصة طالما بكوا على ضياعها، وحق لهم أن يبكوا عليها حتى تعود.

 

وأحب أن أنبه إلى أن بعض البلاد الإسلامية التي أخذت مختارة إلى حد ما بالقوانين الأوروبية لم تكن تقصد إطلاقًا مخالفة الشريعة الإسلامية، وليس أدل على ذلك من أن قانون العقوبات
অ-ইসলামিক বিধানসমূহ এক প্রজন্ম আগেও বিদ্যমান ছিল এবং তারা তাদের কাছে থাকা গর্বিত সংকলনগুলোকে অবহেলা করেছিল।

 

মুসলিম দেশগুলোতে ইউরোপীয় আইন স্থানান্তরের প্রকৃত কারণ হলো উপনিবেশবাদ, ইউরোপীয় প্রভাব এবং মুসলিম আলেমদের নিষ্ক্রিয়তা। ফলে কিছু মুসলিম দেশে উপনিবেশবাদীদের শক্তি ও কর্তৃত্বের মাধ্যমে ইউরোপীয় আইন প্রবর্তিত হয়েছে, যেমন ভারত ও উত্তর আফ্রিকা। আবার কিছু মুসলিম দেশে ইউরোপীয় আইন প্রবেশ করেছে একদিকে তাদের দুর্বলতা ও সেখানে বিদেশি প্রভাবের কারণে এবং অন্যদিকে তাদের শাসকদের ইউরোপীয় দেশগুলোকে অনুকরণ করার প্রচেষ্টার ফলে; মিশর ও তুরস্ক এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

 

ঐতিহাসিকভাবে এটি প্রমাণিত (ثابت) যে, খেদিভ ইসমাইলের শাসনামলে মিশরে ইউরোপীয় আইন স্থানান্তরিত হয়েছিল। তিনি চেয়েছিলেন মিশরের জন্য শরিয়ত এবং ইসলামি ফিকহের বিভিন্ন মাজহাব থেকে গৃহীত আইনি সংকলন তৈরি করতে। তিনি আল-আজহারের আলেমদের এই সংকলনগুলো তৈরি করতে অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তারা তাঁর অনুরোধ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। কেননা মাজহাবগত গোঁড়ামি তাদের শরিয়তকে তার সুন্দরতম রূপে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহযোগিতা করতে বাধা দিয়েছিল। ফলে তারা সামগ্রিকভাবে শরিয়তকে বিসর্জন দিলেন এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ মাজহাব ও তার প্রতি অন্ধভক্তি বজায় রাখলেন। এভাবে তারা মুসলিম বিশ্বের জন্য এমন এক সুযোগ নষ্ট করলেন যার বিয়োগফলে তারা দীর্ঘকাল রোদন করেছেন, আর এটি ফিরে না আসা পর্যন্ত তাদের জন্য রোদন করা সংগত।

 

আমি এটি সতর্ক করতে চাই যে, কিছু মুসলিম দেশ যারা অনেকটা স্বেচ্ছায় ইউরোপীয় আইন গ্রহণ করেছিল, তাদের উদ্দেশ্য মোটেও ইসলামি শরিয়তের বিরোধিতা করা ছিল না। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর নেই যে, দণ্ডবিধি
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ২৮)
المصري الصادر في سَنَةِ 1883 نص في المادة الأولى منه على أن «من خصائص الحكومة أن تعاقب على الجرائم التي تقع على أفراد الناس بسبب ما يترتب عليهامن تكدير الراحة العمومية وكذل الجرائم التي تحصل ضد الحكومة مباشرة. وبناء على ذلك فقد تعينت في هذا القانون درجات العقوبة التي لأولياء الأمر شرعًا تقريرها. وهذا بدون إخلال في أي حال من الأحوال بالحقوق المقررة لكل شخص بمقتضى الشريعة الغراء». وهذا النص مأخوذ من القانون التركي الصادر في: 5/ 6 / 1853.

 

وكذلك أستطيع أن أقول بحسب اعتقادي: إن أولى الأمر في معظم البلاد الإسلامية لم يخطر على بالهم أن يخالفوا الشريعة لا قديمًا ولا حديثًا، ولكن القوانين جاءت مخالفة للشريعة بالرغم من ذلك، وبالرغم من حرص بعضهم على منع التخالف ولعل السر في ذلك هو أن واضعي القوانين إما أوروبيون ليس لهم صلة بالشريعة أو مسلمون درسوا القوانين ولم يدرسوا الشريعة.

 

‌‌أَثَرُ القَوَانِينِ عَلَى الشَّرِيعَةِ مِنَ الوِجْهَةِ العِلْمِيَّةِ:

ترتب على إدخال القوانين الأوروبية في البلاد الإسلامية أن أنشأت في تلك البلاد محاكم خاصة لتطبيق هذه القوانين. وعين لهذه الحاكم أوروبيون، أو قضاة وطنيون درسوا هذه القوانين، ولم يدرسوا الشريعة، وقد اعتبرت المحاكم
১৮৮৩ সালে জারি করা মিশরীয় আইনের প্রথম অনুচ্ছেদে বিধান রাখা হয়েছে যে, «জনসাধারণের শান্তি বিঘ্নিত করার কারণে ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ এবং সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধসমূহের শাস্তি প্রদান করা সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এরই ভিত্তিতে এই আইনে শাস্তির সেই স্তরগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে যা শাসনকর্তাদের জন্য শরিয়ত মোতাবেক স্থির করার অধিকার রয়েছে। এটি কোনো অবস্থাতেই মহিমান্বিত শরিয়ত অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত অধিকারসমূহ ক্ষুণ্ণ না করেই হতে হবে»। এই পাঠটি ৫/৬/১৮৫৩ তারিখে জারি করা তুর্কি আইন থেকে গৃহীত।

 

অনুরূপভাবে আমি আমার বিশ্বাস অনুযায়ী বলতে পারি যে: অধিকাংশ মুসলিম ভূখণ্ডের শাসনকর্তাদের মনে অতীতে বা বর্তমানে কখনো শরিয়তের বিরোধিতা করার চিন্তা আসেনি, কিন্তু তা সত্ত্বেও আইনগুলো শরিয়ত বিরোধী হয়ে পড়েছে। যদিও তাদের মধ্যে কেউ কেউ বৈপরীত্য রোধে সচেষ্ট ছিলেন, তথাপি সম্ভবত এর পেছনের রহস্য হলো এই যে, আইন প্রণেতারা ছিলেন হয় ইউরোপীয় যাদের শরিয়তের সাথে কোনো সম্পর্ক ছিল না, অথবা এমন মুসলিম যারা প্রচলিত আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন কিন্তু শরিয়ত নিয়ে পড়াশোনা করেননি।

 

‌‌তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে শরিয়তের ওপর আইনের প্রভাব:

মুসলিম দেশগুলোতে ইউরোপীয় আইন প্রবর্তনের ফলে সেই দেশগুলোতে এই আইনগুলো প্রয়োগের জন্য বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। এই আদালতগুলোর জন্য ইউরোপীয় অথবা এমন দেশীয় বিচারকদের নিযুক্ত করা হয় যারা এই আইনগুলো অধ্যয়ন করেছিলেন কিন্তু শরিয়ত অধ্যয়ন করেননি। এই আদালতসমূহকে বিবেচনা করা হতো...
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু বাইনা জাহলি আবনাইহি ওয়া আজযি উলামাইহি (পৃষ্ঠা: ২৯)
الجديدة نفسها مختصة بكل شيء تقريبًا، فترتب على ذلك تعطيل الشريعة تعطيلاً عمليًا لأن المحاكم الجديدة لا تطبق إلا قوانينها.

 

كذلك أنشأت السلطة القائمة على التعليم مدارس خاصة لتدريس القوانين، وقد جرت هذه المدارس على الاهتمام بدراسة القوانين، وإهمال الشريعة إلا في مسائل قليلة كالوقف، فأدى ذلك إلى نتيجة مخزية. إذ أصبح رجال القانون تقريبًا - وهم من صفوةالمثقفين - يجهلون كل الجهل أحكام الشريعة الإسلامية واتجاهاتها العامة، أي أنهم يجهلون بكل أسف أحكام الإسلام وهو الدين الذي تتدين به الدول الإسلامية.

 

ولقد أدى الجهل بالشريعة إلى تفسير النصوص القليلة المأخوذة عن الشريعة تفسيرًا يتفق مع القوانين الوضعية ويختلف عن الشريعة في بعض الأحوال، من ذلك أن قانون العقوبات المصري ينص على أن أحكام قانون العقوبات لا تخل في أي حال من الأحوال بالحقوق المقررة لكل شخص في الشريعة الإسلامية، وبالرغم من قيام هذا النص الصريح فإن الشراح المصريين لم يدرسوا هذه الحقوق كما هي موجودة في الشريعة، واكتفوا بأن يدرسوا من الحقوق ما يقره القانون الفرنسي، وأن يدرسوه على طريقة الشراح الفرنسيين، وأن يعللوه بقواعد القانون، كلما علله الفرنسيون، ولقد اندفع الشراح المصريون في هذا الطريق تحت تأثير عاملين:
নতুন এই আধুনিক ব্যবস্থা নিজেই প্রায় সকল বিষয়ে বিশেষায়িত ছিল, যার ফলে শরিয়তের বিধানসমূহ কার্যত স্থগিত হয়ে পড়ে; কারণ নতুন আদালতসমূহ তাদের নিজস্ব আইন ব্যতীত অন্য কিছু প্রয়োগ করত না।

 

তেমনিভাবে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন পাঠদানের জন্য বিশেষ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই বিদ্যালয়গুলো আইন অধ্যয়নের প্রতি গুরুত্বারোপ এবং ওয়াকফ (الوقف) এর মতো সামান্য কিছু বিষয় ব্যতীত শরিয়তকে অবহেলা করার নীতি অনুসরণ করেছিল, যা এক লজ্জাজনক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। এমনকি আইনজ্ঞগণ — যারা বুদ্ধিজীবী সমাজের শ্রেষ্ঠাংশ — তারা ইসলামি শরিয়তের বিধান এবং এর সাধারণ লক্ষ্যসমূহ সম্পর্কে প্রায় সম্পূর্ণ অজ্ঞ হয়ে পড়েছেন। অর্থাৎ, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, তারা ইসলামের বিধান সম্পর্কেই অজ্ঞ, অথচ এটি এমন একটি দ্বীন যা মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের অনুসৃত ধর্ম।

 

শরিয়ত সম্পর্কে এই অজ্ঞতা শরিয়ত থেকে গৃহীত যৎসামান্য পাঠের (النصوص) এমন ব্যাখ্যার দিকে ধাবিত করেছে যা মানব রচিত আইনসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও কিছু ক্ষেত্রে শরিয়তের পরিপন্থী। উদাহরণস্বরূপ, মিশরের দণ্ডবিধি আইনে উল্লেখ রয়েছে যে, দণ্ডবিধির বিধানসমূহ কোনো অবস্থাতেই ইসলামি শরিয়তে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত অধিকারসমূহের কোনো হানি ঘটাবে না। এই সুস্পষ্ট পাঠ (النص الصريح) বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও মিশরীয় ব্যাখ্যাকারগণ (الشراح) এই অধিকারগুলো শরিয়তে যেভাবে বিদ্যমান সেভাবে অধ্যয়ন করেননি। তারা কেবল ফরাসি আইন দ্বারা স্বীকৃত অধিকারগুলো অধ্যয়ন করেই ক্ষান্ত হয়েছেন এবং ফরাসি ব্যাখ্যাকারদের (الشراح) পদ্ধতি অনুসরণ করে তা পাঠ করেছেন। ফরাসিরা যেভাবে আইনের মূলনীতি দিয়ে এর কারণ দর্শিয়েছেন, তারাও ঠিক সেভাবেই করেছেন। মূলত মিশরীয় ব্যাখ্যাকারগণ (الشراح) দুটি প্রভাবকের বশবর্তী হয়ে এই পথে ধাবিত হয়েছেন: