(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: -)
جزء تحفة عيد الفطر   (زاهر الشحامي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: جزء تحفة عيد الفطر

المؤلف: زاهر بن طاهر بْنُ مُحَمَّدِ الشحّامي، أبو القاسم (ت 533هـ)

المحقق: د. عبد العزيز مختار إبراهيم

الناشر: جامعة الملك سعود - النشر العلمي والمطابع

عام النشر: 1429 هـ

عدد الصفحات: 190

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 20 ذو الحجة 1432

তুহফাতু ঈদুল ফিতর পুস্তিকা   (জাহির আশ-শাহহামি)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: তুহফাতু ঈদুল ফিতর পুস্তিকা

লেখক: জাহির বিন তাহির বিন মুহাম্মাদ আশ-শাহহামি, আবুল কাসিম (মৃত্যু ৫৩৩ হিজরি)

গবেষক/সম্পাদক: ড. আব্দুল আজিজ মুখতার ইব্রাহিম

প্রকাশক: কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় - বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা ও মুদ্রণালয়

প্রকাশের বছর: ১৪২৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯০

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও

[বইটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২০ জিলহজ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: -)
جُزْءٌ تُحْفَةُ عِيْدِ الْفِطْرِ

 

تَألِيفُ الشَّيخُ الإمامُ أبي الْقَاسِم زَاهِر بنِ طَاهِر بن

مُحَمَّد الشَّحّاَمِيُّ المُعدِّل

(446 - 533)

رِوايةُ الشَّيخ الإمام الحافِظ أبي القاسم

عليِّ بن الحَسَن بن هِبة الله بن عبد الله

(ابْنُ عَسَاكِر)

 

حَقَّقَهُ وَضَبطَ نُصُوصَهُ وَخرَّجَ أحَادِيثَهُ

د. عبد العزيز مختار إبراهيم

 

أستاذُ الحديثِ المُشارِكِ بِكُلِّيةِ التَّربيةِ

جَامِعَةِ المَلِك سُعُود بالرِّياض
ঈদুল ফিতরের উপহার অংশ

 

সংকলন: শাইখ আল-ইমাম আবুল কাসিম জাহির বিন তাহির বিন

মুহাম্মদ আশ-শাহামি আল-মুয়াদ্দিল

(৪৪৬ - ৫৩৩)

বর্ণনায়: শাইখ আল-ইমাম আল-হাফিজ আবুল কাসিম

আলী বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ

(ইবনে আসাকির)

 

পাণ্ডুলিপি যাচাই, পাঠ্য বিন্যাস ও হাদিসের উৎস নির্দেশ করেছেন:

ড. আব্দুল আজিজ মুখতার ইব্রাহিম

 

শিক্ষা অনুষদের হাদিস শাস্ত্রের সহযোগী অধ্যাপক

রিয়াদের কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ٥)
- هـ -

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحَمْدُ لله وَحْدَهُ، وَالصَّلاةُ وَالسَّلامُ عَلى مَنْ لا نبيَّ بعدَهُ، وبَعْدُ:

فَإنَّ مِن أعظمَ ماتُبذلُ فيه الأوَقاتُ والأعَمارُ، إحياء كُتبِ الثُرَاثِ ونَشْرِها، وَخَاصَةً مَاكانَ منها مُتعلِّقاً بحديث الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم، وآثاره المباركة، إذ لاحياةَ للأمَّةِ إلا بالرُّجوعِ إليها، والنَّهلِ من معينها الصَّافي، والعمل بها ظاهراً وباطناً، قَالَ الله تعالى: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً} (النِّسَاء:65)، وقَالَ عليه الصلاة والسلام،: " إنِّي قَد تَركتُ فيكُمْ شيئينِ، لنْ تضِلُّوا بعدهُما: كِتابَ اللهِ، وسُنَّتي، وَلنْ يتَفرَّقا حتَّى يرِدا عليَّ الحَوْضَ" (1).

 

فهذا الكتابُ المبارك الذي نُقدِّمه اليَوْمَ، وهو من كُتُبِ السَّلف الصَّالح، " جُزْء تُحْفَةِ عِيْدِ الْفِطْرِ "، للإمام الحَافظ، زَاهِر بن طَاهِرالشَّحَّاميِّ - يَرْحَمُهُ الله -ويرجعُ الفَضْلُ في تحقيقه وتخريجه -بعد الله- لأخينا الفاضل سعادة الدكتور علي بن عبد العزيز الشِّبل- وَفَّقهُ الله - حيث تفضَّل عليَّ بتصوير أصله المخطوط بالمكتبة الظَّاهرية

--------------------------------------------

(1) أخرجه الحَاكِم ُفي المستدرك، (319)،والبيهقيُّ في الكبرى (20337) والدَّارقُطنيُّ (4525)،من حديث أبي هُرَيرَةَ، وسكت عنه الحاكِمُ والذَّهبيُّ. وله شاهدٌ من حديث ابن عبَّاس، أخرجه الحاكِمُ أيضاً (318،وصححه، ووافقه الذَّهبيُّ. انظر: صحيح الجامع، (2937)،والسلسلة الصحيحة، (1761).
- হ -

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর:

সময় ও জীবন ব্যয় করার জন্য মহানতম কাজগুলোর একটি হলো ঐতিহ্যের কিতাবসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করা ও প্রচার করা, বিশেষ করে যেগুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস এবং তাঁর বরকতময় আছার (স্মৃতিচিহ্ন)-এর সাথে সম্পর্কিত। কারণ, এগুলোর দিকে ফিরে যাওয়া, এদের স্বচ্ছ ঝরনাধারা থেকে পান করা এবং প্রকাশ্য ও গোপনে তদনুসারে আমল করা ব্যতীত উম্মতের কোনো জীবন নেই। মহান আল্লাহ বলেন: “অতএব তোমার রবের শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তোমাকে বিচারক নিযুক্ত করে, অতঃপর তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।” (আন-নিসা: ৬৫)। আর নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম) বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি, যার পরে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ। আর তারা ততক্ষণ পর্যন্ত পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না হাউজে আমার নিকট ফিরে আসে।” (১)।

 

আজ আমরা যে বরকতময় কিতাবটি উপস্থাপন করছি, তা সালাফে সালেহীনদের কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত; ইমাম হাফেজ জহির বিন তাহের আশ-শাহামি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর লেখা ‘জুজ তুহফাতু ঈদুল ফিতর’। আল্লাহর পরে এর তাহকিক (গবেষণা) ও তাখরিজ (সূত্র নির্দেশ)-এর কৃতিত্ব আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় ভাই ড. আলী বিন আব্দুল আজিজ আশ-শিবল —আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন— এর প্রাপ্য। তিনি আল-মাকতাবাতুয যাহিরিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত এর মূল পাণ্ডুলিপির অনুলিপি দিয়ে আমাকে অনুগৃহীত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-হাকিম এটি আল-মুস্তাদরাক-এ (৩১৯), আল-বায়হাকি আল-কুবরা-তে (২০৩৩৭) এবং আদ-দারা কুতনি (৪৫২৫) আবু হুরায়রা-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিম ও আল-জাহাবি এ ব্যাপারে নীরব থেকেছেন। এর সমর্থনে ইবনে আব্বাস-এর একটি হাদিস রয়েছে, যা আল-হাকিমও বর্ণনা করেছেন (৩১৮) এবং একে সহিহ বলেছেন, আর আল-জাহাবি তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। দেখুন: সহিহুল জামে (২৯৩৭) এবং আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ (১৭৬১)।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ٦)
- و -

 

بدمشق، ذي الرَّقم، (81: 190 - 198) (1)، فلما قرأتُه وجدتُه جديراً بالتَّحقيق والتَّخريج، وشجعني على ذلك جودة النُّسخة، حيث كُتبت بخط واضح بيِّن إلا بعض المواضع القليلة الَّتي استدركتها من الأصول عند التَّحقيق، ولله الحمْدُ والمنَّة أولاً وأخيراً، و‌‌يتلخص عملي في الآتي:

(1) نسختُ المخطُوط بالخطِّ العَربيِّ المُعْتاد.

(2) رقمتُ أحاديث الكتاب وآثاره ترقيماً تسلسلياً.

(3) عرَّفتُ بالكتاب، وموضُوعِه، ووصفٌ مُختصر للمخطُوطِ.

(4) كما عرَّفتُ أيضاً بمؤلفه العلَاّمة زَاهِر بن طاهِر الشَّحَّاميِّ.

(5) ضَبطتُ بالشَّكل جميع الأحَادِيثِ والآثاروالأعَلام بالشَّكَّلِ قَدْرالإمكان.

(6) قد يهمِلُ المُصنِّفُ، الصلاةُ علي النَّبيِّ، صلى الله عليه وسلم، والترضي عن الصحابة، رضي الله عنه، لقلة الورق ووسائل الكتابة في عهدهم، فصليتُ على النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، كلما ذُكر اسمه، كما ترضيتُ عن الصحابيِّ كذلك.

(7) خرَّجتُ الأحاديث والآثار الوارِدة في الكتاب، من كُتُب السُّنة، والصحاح والمسانيد، والمُصَنَّفات والمعاجم، والأجزاء الحديثية وغيرها.

(8) قدَّمتُ في التخريج طريق المصنِّف أولاً، إن وُجد، ثم الصحيحين، ثم بقية الكتب الستة، ثم بقية المصادر الأخرى، دون إلتزام معين.

(9) درستُ أسانيد الأحاديث، دارسة وافية بحيث ترجمتُ لكل راوٍ من رواته- سوى الصَّحابة رضوان الله عليهم - ونقلتُ كلام علماء الجرح والتعديل فيه، وذكرتُ ثلاثاً من شيوخه، وتلاميذه (إن وُجِدُوا) لمعرفة الاتصال والانقطاع في السند.

(10) أذكرُ في كل راوٍ من الرواة خلاصة ما قيل فيه من جرحٍ وتعديل، من علماء الاختصاص، مع الإحالة إلى أهم مصادر الترجمة في ذلك.

--------------------------------------------

(1) وانظر: فهرس مخطوطات الظاهرية للشيخ ناصر الألباني، رحمه الله (5/ 317).
- ও -

 

দামেস্কে, যার ক্রমিক নম্বর (৮১: ১৯০ - ১৯৮) (১), যখন আমি এটি পাঠ করলাম, তখন একে তাহকিক (গবেষণা) এবং তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) করার যোগ্য বলে মনে করলাম। পাণ্ডুলিপিটির মান ভালো হওয়া আমাকে এ কাজে উৎসাহিত করেছে, কারণ এটি স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট হস্তাক্ষরে লেখা হয়েছে, কেবল কয়েকটি স্থান ছাড়া যা আমি তাহকিকের সময় মূল উৎসগুলো থেকে সংশোধন করে নিয়েছি। সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রথমে এবং শেষে কেবল আল্লাহরই জন্য। আমার কাজের সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:

(১) আমি পাণ্ডুলিপিটি সাধারণ আরবি হরফে অনুলিখন করেছি।

(২) বইটির হাদিস ও আসারসমূহ (সাহাবীদের বাণী) ধারাবাহিকভাবে নম্বর প্রদান করেছি।

(৩) বইটির পরিচিতি, এর বিষয়বস্তু এবং পাণ্ডুলিপির একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা পেশ করেছি।

(৪) একইভাবে এর লেখক আল্লামা জাহির বিন তাহির আশ-শাহহামিরও পরিচিতি প্রদান করেছি।

(৫) যথাসম্ভব সকল হাদিস, আসার এবং নামসমূহে হরকত (জের-জবর-পেশ) প্রদান করেছি।

(৬) গ্রন্থকার হয়তো তাঁর যুগে কাগজের সল্পতা এবং লিখন পদ্ধতির কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ এবং সাহাবীদের জন্য দোয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সংক্ষেপ করেছেন, তাই আমি যখনই নবীর নাম এসেছে তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করেছি এবং একইভাবে সাহাবীদের জন্য দোয়া উল্লেখ করেছি।

(৭) কিতাবে বর্ণিত হাদিস এবং আসারগুলোর তাখরিজ সুন্নাহর কিতাবসমূহ, সহিহ গ্রন্থাবলি, মুসনাদসমূহ, মুসান্নাফসমূহ, মুজামসমূহ, হাদিসের ছোট সংকলন (আজজা) এবং অন্যান্য উৎস থেকে করেছি।

(৮) তাখরিজের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ধরাবাঁধা নিয়ম ছাড়াই প্রথমে গ্রন্থকারের সূত্র (সনদ) যদি থাকে তা উল্লেখ করেছি, তারপর সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম), এরপর বাকি কুতুবে সিত্তা (ছয়টি কিতাব) এবং সবশেষে অন্যান্য উৎসসমূহ উপস্থাপন করেছি।

(৯) হাদিসের সনদসমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে অধ্যয়ন করেছি, যেখানে সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ব্যতীত প্রতিটি বর্ণনাকারীর জীবনী আলোচনা করেছি এবং তাদের সম্পর্কে জারাহ ও তাদিল (সমালোচনা ও গ্রহণযোগ্যতা) শাস্ত্রের আলেমদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি। এছাড়া সনদের মধ্যে সংযোগ বা বিচ্ছিন্নতা জানার জন্য বর্ণনাকারীদের তিনজন করে উস্তাদ ও ছাত্রের নাম (যদি পাওয়া যায়) উল্লেখ করেছি।

(১০) প্রত্যেক বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ আলেমদের জারাহ ও তাদিল সংক্রান্ত মন্তব্যের সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছি এবং এ সংক্রান্ত জীবনীবিষয়ক প্রধান উৎসগুলোর উদ্ধৃতি দিয়েছি।

--------------------------------------------

(১) এবং দেখুন: শাইখ নাসির আল-আলবানি রাহিমাহুল্লাহ-এর ফাহরাস মাকতুদাত আজ-জাহিরিয়্যাহ (৫/ ৩১৭)।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ٧)
- ز -

 

(11) حكمتُ على كُلِّ حديث أو أثر بما يناسب حاله- حسب ما ظهر لي- من حيث القبول أو الرَّد، مستشهداً ومستأنساً بكلام مَنْ سبق من علماء الحديث.

(12) شرحتُ الألفاظ الغريبة الوارِدة في متن الحديث، وذلك بالرُّجُوع إلى كتب الغريب، وشُروح السُّنَّة.

(13) ختمتُ البحث بذكر أهم النتائج التي توصلتُ إليها.

(14) وأخيراً ذيلتُ الكتاب بفهرس للأحاديث والآثار، مُرتباً على حروف المُعجم، مع بيان درجته، وفهرس للرُّواة المترجم لهم، ذاكراً خلاصة القول فيهم، جرحاً وتعَدِيلاً، وفهرس آخر للمراجع والمصادر، والله الهادي إلى سَواء السَّبيل.
- যা -

 

(১১) আমি প্রত্যেক হাদিস বা আছারের ওপর তার অবস্থা অনুযায়ী—যা আমার নিকট প্রতীয়মান হয়েছে—গ্রহণযোগ্যতা বা বর্জনের দিক থেকে হুকুম প্রদান করেছি। এক্ষেত্রে আমি পূর্ববর্তী হাদিস বিশারদদের বক্তব্যের মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করেছি এবং সাহায্য নিয়েছি।

(১২) হাদিসের মূল পাঠে আসা অপরিচিত বা কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা করেছি; আর তা সম্পন্ন করেছি 'গরীবুল হাদিস' বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এবং সুন্নাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের সাহায্য নিয়ে।

(১৩) আমি এই গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে গবেষণাটি সমাপ্ত করেছি।

(১৪) পরিশেষে আমি গ্রন্থটিতে হাদিস ও আছারসমূহের একটি বর্ণানুক্রমিক নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি এবং সেগুলোর মান বর্ণনা করেছি। এছাড়া যে সকল বর্ণনাকারীর জীবনী আলোচনা করা হয়েছে, তাদের সম্পর্কে জরাহ ও তা'দীল সংক্রান্ত সারকথা উল্লেখ করে একটি সূচি এবং তথ্যসূত্র ও উৎসগ্রন্থের একটি তালিকাও প্রদান করেছি। আল্লাহই সরল পথের দিশারি।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ٩)
- ط -

 

‌‌التَّعرِيف بالبحث:

الجُزءُ في اصطلاح المُحدِّثين: أن يَعمَد المؤلف إلى جمع مروياتِ واحدٍ من الصَّحابة، أو مَنْ بعدهم في جزءٍ، أو يعمد إلى جمع طُرُق حديثِ ما برواياته المتعددة، والحكم عليه ونحو ذلك.

قال الكَتَّانيُّ: " والجزءُ عندهم تأليف الأحاديث المروية عن رجلٍ واحدٍ من الصحابة، أو مَنْ بعدهم" (1).

وقال الدكتور محمُود الطَّحان: "والجزءُ الحديثيّ في اصطلاح المُحدِّثين يعني كتاباً صغيراً يشتمل على أمرين:

1 - إما جمع الأحاديث المروية عن واحدٍ من الصَّحابة، أو مَنْ بعدهم.

2 - وإما جمع الأحاديث المتعلقة بموضوعٍ واحدٍ، على سبيل البسط والاستقصاء" (2).

فالأجزاء الحديثية لها مكانة رفيعة عند أهل هذا الشأن من المختصين في علوم الحديث، لاشتمالها على أحاديثَ وأسانيدَ وطُرق، يندر وجودها في غيرها، كما أنها أيضاً من مصادر السُّنَّة المُطهرة. (3).

--------------------------------------------

(1) انظر: الرسالة المستطرفة (ص86).

(2) انظر: أصول التخريج (ص121).

(3) انظر: أمثلة لذلك الأحاديث (53)، (57)، (58)، (62)، (63).كما أنها أيضاً اشتملت على أحاديث لبعض الأئمة من المصنِّفين في الحديث، رُويت عنهم في هذا الجزء، ولا توجد في مصنَّفاتهم الموجودة، ومن الأمثلة على ذلك، انظر: الحديث (2).
- ত -

 

‌‌গবেষণার পরিচয়:

মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় ‘জুজ’ (অংশ) হলো: কোনো গ্রন্থকার কর্তৃক একজন সাহাবী অথবা তাঁর পরবর্তী স্তরের কারো বর্ণিত হাদীসসমূহকে একটি পুস্তিকায় একত্র করার সংকল্প করা, অথবা কোনো নির্দিষ্ট হাদীসের বহুবিধ বর্ণনা-সূত্র একত্র করা এবং সেগুলোর মান নির্ণয় করা ও এ জাতীয় কাজ করা।

কাত্তানী (রহ.) বলেছেন: "তাদের নিকট ‘জুজ’ হলো কোনো একজন সাহাবী অথবা তাঁর পরবর্তী স্তরের কারো থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহের সংকলন" (১)।

ডক্টর মাহমুদ তাহহান বলেছেন: "মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় ‘হাদীস বিষয়ক জুজ’ বলতে এমন একটি ছোট গ্রন্থকে বোঝায় যা দুটি বিষয়ের কোনো একটিকে অন্তর্ভুক্ত করে:

১ - হয় কোনো একজন সাহাবী অথবা তাঁর পরবর্তী স্তরের কারো থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ একত্র করা।

২ - অথবা কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহ বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংগ্রহ করা" (২)।

হাদীস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের নিকট এই ‘হাদীসের জুজ’ বা অংশগুলোর অত্যন্ত উচ্চমর্যদা রয়েছে; কারণ এতে এমন সব হাদীস, সনদ ও বর্ণনা-সূত্র বিদ্যমান থাকে যা অন্য কোথাও পাওয়া দুষ্কর। পাশাপাশি এগুলো পবিত্র সুন্নাহর অন্যতম উৎস (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ (পৃ. ৮৬)।

(২) দেখুন: উসুলুত তাখরীজ (পৃ. ১২১)।

(৩) দেখুন: এর উদাহরণস্বরূপ হাদীস নং (৫৩), (৫৭), (৫৮), (৬২), (৬৩)। এছাড়া এতে হাদীস সংকলক এমন কিছু ইমামের হাদীসও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা এই জুজে তাঁদের থেকে বর্ণিত হয়েছে, অথচ তাঁদের বর্তমানে বিদ্যমান গ্রন্থগুলোতে তা পাওয়া যায় না। এর উদাহরণের জন্য দেখুন: হাদীস নং (২)।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ١٠)
- ي -

 

وهذا الجُزء،"جُزْء تُحْفَةِ عِيْدِ الْفِطْرِ" للعلَاّمة زَاهِر بن طاهِر الشَّحَّاميِّ-رحمه الله تعالى- قصد به مؤلفه جمع الأحاديث الواردة في عيد الفطر، وقد بلغت الأحاديث والآثار فيه، ثلاثة وستين حديثاً مُسنداً، (63) تناول فيه مؤلفه أحكام العيدين بصفة عامة، وأحكام عيد الفطر بصفة خاصة، مثل ثبوت رؤية هلال شهر شوال، والحكم إذا غُمَّ الهلال، وحكم صيام الستّ من شوال، وكيفية الخروج إلى صلاة العيد، والرجوع منه، وأنَّ السُّنَّة ألا يخرج للفطر إلا بعد أن يطعم، وفي عيد النحر السُّنَّة ألا يطعم حتى يطعم من أضحيته، وحكم زكاة الفطر، ومقدارها، وعلى من تجب، والحكمة من فرضيتها، ووقت إخراجها، ووقت الخروج إلى العيد، وصفة ذلك، والتجمُّل له، ومكان صلاة العيد، وحكم التهليل والتكبير فيه، وتحريم صوم يومي العيدين، والغسل والطيب فيهما، وبيان اللهو المباح فيهما، وصفة صلاة العيدين، وحكم الأذان والإقامة فيهما، والحكم إذا اجتمع العيد والجمعة في يوم واحد، وحكم صلاة العيد، وصفة ذلك، وأحكام ذلك، والقراءة فيهما والسُّنَّة في ذلك، وحكم صلاة النَّافلة قبله وبعده، وكيفية التهنئة بالعيد، وحكم حضور النِّساء لصلاة العيد، وإتيان الإمام النِّساء في المصلى ووعظهنَّ، وحكم الاستماع إلى الخطبة، والإذن لمن أراد أن ينصرف بعد الصلاة، وغير ذلك من أحكام العيد.
- ইয়া -

 

আর এই অংশটি হলো আল্লামা জহির বিন তাহির আশ-শাহহামি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—রচিত "জুযউ তুহফাতিল ঈদুল ফিতর"। এর মাধ্যমে লেখক ঈদুল ফিতর সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ একত্রিত করার উদ্দেশ্য পোষণ করেছেন। এতে বর্ণিত হাদিস ও আসারসমূহের সংখ্যা তেষট্টিটি (৬৩) মুসনাদ (সূত্রযুক্ত) হাদিস পর্যন্ত পৌঁছেছে। এতে লেখক সাধারণভাবে দুই ঈদের বিধানাবলী এবং বিশেষভাবে ঈদুল ফিতরের বিধানাবলী আলোচনা করেছেন; যেমন: শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার বিষয়টি সাব্যস্ত হওয়া, যদি চাঁদ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে তার বিধান, শাওয়ালের ছয় রোজা রাখার বিধান, ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া ও সেখান থেকে ফিরে আসার পদ্ধতি, এবং এটি সুন্নাত যে ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্য কিছু না খেয়ে বের হবে না, আর ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে সুন্নাত হলো নিজের কুরবানির গোশত থেকে খাওয়ার আগে অন্য কিছু খাবে না। আরও রয়েছে জাকাতুল ফিতরের বিধান, এর পরিমাণ, এটি কার ওপর ওয়াজিব, এটি ফরজ হওয়ার হিকমত, এটি আদায়ের সময়, ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময়, এর ধরন ও এর জন্য সৌন্দর্য অবলম্বন করা, ঈদের নামাজের স্থান, তাতে তাহলিল ও তাকবির পাঠের বিধান, দুই ঈদের দিনে রোজা রাখার নিষিদ্ধতা, এই দুই দিনে গোসল করা ও সুগন্ধি ব্যবহার করা, এই দুই দিনে বৈধ বিনোদনের বর্ণনা, দুই ঈদের নামাজের পদ্ধতি, তাতে আজান ও ইকামতের বিধান, যদি একই দিনে ঈদ ও জুমা একত্রিত হয় তবে তার বিধান, ঈদের নামাজের হুকুম, তার পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী, দুই ঈদে কিরাত পাঠ এবং এই সংক্রান্ত সুন্নাত, ঈদের নামাজের আগে ও পরে নফল নামাজের বিধান, ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পদ্ধতি, নারীদের ঈদের নামাজে উপস্থিত হওয়ার বিধান, ঈদগাহে ইমামের নারীদের নিকট গমন ও তাদের নসিহত প্রদান, খুতবা শোনার বিধান, নামাজের পর যারা চলে যেতে চায় তাদের অনুমতি প্রদান এবং ঈদ সংক্রান্ত অন্যান্য বিধানসমূহ।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ١١)
- ك -

 

‌‌المؤلفات في العِيدين:

المُؤلفات التي أفردت بجمع أحاديث العيدين ليست بكثيرة، وإن وُجدت الأحاديث والآثار المتعلقة بالعيدين، في أغلب مؤلفات السُّنَّة المختلفة، من الصححاح، والسُنن، والمسانيد والمصنَّفات، وغيرها من دواوين السُّنة المختلفة، فمن المؤلفات المفردة بأحكام العيدين:

(1) كتاب العِيدين للحافظ ابن أبي الدنيا، عبد الله بن مُحَمَّد بن عُبيد البغداديِّ، المتوفى سنة (281) (1).

(2) كتاب صلاة العِيدين للإمام الحافظ الحُسَيْن بن إسْمَاعِيل أبو عبد الله المَحَامليُّ، المتوفى سنة (330) (2).

(3) كتاب العِيدين للحافظ الهرويِّ، عبد بن أحمد السَّماك، المتوفى

سنة (434) (3).

(4) أحكام العيدين للإمام الحافظ أبي بكر الفريابيّ، جعفر بن مُحَمَّد بن

--------------------------------------------

(1) انظر: السير (13/ 403)،وعمدة القاري (5/ 366).

(2) وكتابه هذا مخطوط، وقد أوقفني على نسخة مصورة من مكتبة الظاهرية، زميلنا سعادة الأستاذ الدكتور محمد التركي.

(3) انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي (17/ 560).
- ক -

 

‌‌দুই ঈদ বিষয়ক সংকলনসমূহ:

দুই ঈদের হাদিসসমূহ একত্রিত করার জন্য স্বতন্ত্রভাবে রচিত সংকলনগুলো সংখ্যায় খুব বেশি নয়, যদিও দুই ঈদ সংশ্লিষ্ট হাদিস ও আছারসমূহ সুন্নাহর বিভিন্ন গ্রন্থের অধিকাংশের মধ্যেই বিদ্যমান রয়েছে, যেমন— সিহাহ, সুনান, মাসানিদ, মুসান্নাফাত এবং সুন্নাহর অন্যান্য বিভিন্ন সংকলনসমূহ। দুই ঈদের বিধানাবলি নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:

(১) হাফিজ ইবনে আবিদ দুনিয়া, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আল-বাগদাদি (মৃত্যু ২৮১ হিজরি) রচিত 'কিতাবুল ঈদাইন' (১)।

(২) ইমাম হাফিজ আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল আবু আবদুল্লাহ আল-মাহামিলি (মৃত্যু ৩৩০ হিজরি) রচিত 'কিতাব সালাতিল ঈদাইন' (২)।

(৩) হাফিজ আল-হারাবি, আবদ ইবনে আহমদ আস-সাম্মাক (মৃত্যু ৪৩৪ হিজরি) রচিত 'কিতাবুল ঈদাইন' (৩)।

(৪) ইমাম হাফিজ আবু বকর আল-ফিরইয়াবি, জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে... রচিত 'আহকামুল ঈদাইন'।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আস-সিয়ার (১৩/ ৪০৩), এবং উমদাতুল কারি (৫/ ৩৬৬)।

(২) তাঁর এই বইটি পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত, এবং আমাদের সহকর্মী মহামান্য অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ আল-তুর্কি আমাকে জাহিরিয়া লাইব্রেরি থেকে প্রাপ্ত একটি ফটোকপি সংস্করণ দেখিয়েছেন।

(৩) দেখুন: আয-যাহাবির সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৭/ ৫৬০)।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ١٢)
- ل -

 

الحسن، المتوفى سنة (301) (1).

(5) تحفة عيد الأضحى للإمام الحافظ الشَّحَّاميِّ، زَاهِر بن طَاهِر

الشَّحّاَمِيُّ، المتوفى عام (533) (2).

 

أمَّا‌‌ المؤلفات المُسَلْسَلة في العِيدين، فليست بكثيرة كذلك، فمنها:

(1) مُسَلْسَل العِيدين للخطيب البغداديِّ، المتوفى سنة (463) (3).

(2) مُسَلْسَل العِيدين للحافِظ مُحَمَّد بن عبد العزيز الكِتَّانيِّ، المتوفى عام (466) (4).

(3) الأحاديث العِيدية المُسَلْسَلة للحافظ أبي طاهر السِّلفيِّ، المتوفى عام (576)، (مخطوط).

(4) مُسَلْسَل العِيدين، لثابت بن مشرف بن أبي سعد البغداديِّ، المعروف بابن شستان المتوفى سنة (619) (5).

(5) مُسَلْسَل العِيدين لابن قدامة المقدسيِّ، المتوفى عام (620) (6)

--------------------------------------------

(1) وهو أشمل هذه الكتب وأكثرها مادة علمية، وقد طبع الكتاب محققاً، مع تخريج أحاديثه وآثاره، قام به الباحث الشَّيخ مُساعد بن سليمان راشد، وطبع الطبعة الأولى بمؤسسة الرسالة ببيروت، عام (1406)،وبلغت أحاديثه وآثاره (184)،ما بين حديث وأثر.

(2) وهو غير كتابنا هذا، انظر: السير (20/ 11).

(3) وهو مطبوع بتحقيق مجدي السيد، ط مكتبتي الفوائد والرشد، ط1 (1416).

(1) انظر: فهرس مخطوطات الظاهرية للشيخ الألباني، رحمه الله (ص:318).

(2) انظر: المصدر السابق.

(3) انظر: المصدر السابق أيضاً (ص:98).
- ল -

 

আল-হাসান, মৃত্যু সাল (৩০১) (১)।

(৫) ইমাম হাফিজ আশ-শাহহামি, জহির ইবনে তাহের আশ-শাহহামি রচিত তুহফাতু ঈদুল আজহা, মৃত্যু বছর (৫৩৩) (২)।

 

আর দুই ঈদের মুসালসাল (পরম্পরাগত) রচনাবলির কথা বলতে গেলে, সেগুলোও খুব বেশি নয়, তার মধ্যে রয়েছে:

(১) আল-খাতিব আল-বাগদাদি রচিত মুসালসালুল ঈদাইন, মৃত্যু সাল (৪৬৩) (৩)।

(২) হাফিজ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ আল-কিত্তানি রচিত মুসালসালুল ঈদাইন, মৃত্যু বছর (৪৬৬) (৪)।

(৩) হাফিজ আবু তাহের আস-সিলাফি রচিত আল-আহাদিসুল ইদিয়্যাহ আল-মুসালসালাহ, মৃত্যু বছর (৫৭৬), (পাণ্ডুলিপি)।

(৪) সাবিত ইবনে মুশাররাফ ইবনে আবু সাদ আল-বাগদাদি, যিনি ইবনে শিস্তান নামে পরিচিত, রচিত মুসালসালুল ঈদাইন, মৃত্যু সাল (৬১৯) (৫)।

(৫) ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি রচিত মুসালসালুল ঈদাইন, মৃত্যু বছর (৬২০) (৬)

--------------------------------------------

(১) এটি এই বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং এতে ইলমি তথ্যও অধিক রয়েছে। বইটি তার হাদিস ও আসারগুলোর তাখরিজসহ সম্পাদিত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে। এর কাজ করেছেন গবেষক শায়খ মুসাঈদ ইবনে সুলাইমান রাশিদ এবং এটি প্রথম প্রকাশিত হয় বৈরুতের মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে, ১৪০৬ হিজরিতে। এতে বর্ণিত হাদিস ও আসারের সংখ্যা ১৮৪টি।

(২) এটি আমাদের বর্তমান আলোচ্য কিতাবটি নয়, দেখুন: আস-সিয়ার (২০/১১)।

(৩) এটি মাজদি আস-সাইয়িদের সম্পাদনায় মাকতাবাতুল ফাওয়াইদ ও আর-রুশদ থেকে মুদ্রিত হয়েছে, ১ম সংস্করণ (১৪১৬)।

(১) দেখুন: শায়খ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) সংকলিত জাহিরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপির নির্ঘণ্ট (পৃষ্ঠা: ৩১৮)।

(২) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) আরও দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা: ৯৮)।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ١٣)
- م -

 

‌‌التَّعرِيف بالمُؤلِّف:

‌‌اسْمُهُ وكُنْيَتهُ:

هو: الإمَامُ الحافظُ أبو الْقَاسِم، زَاهِر بن طَاهِر بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن أَحْمَد بن مُحَمَّد بن يُوسُفِ بن مُحَمَّد بن مَرْزُبان بن عَليِّ النَّيسابُوريُّ الشَّحّاَمِيُّ المُستَّمليُّ الشُّروطِّيُّ (1).

 

‌‌مولده:

وُلد رحمه الله في الرَابع عشر من ذي القعدة سنة سِتّ وأربعين وأربعمائة من الهجرة النَّبوية. (2).

--------------------------------------------

(1) انظر مصادر ترجمته في:

الأعلام للزركلي، (3/ 40)، البداية والنهاية، (16/ 322)، تأريخ الإسلام للذَّهبي، (36/ 316)، تأريخ بروكلمان، (3/ 616)، الرسالة المستطرفة، (ص100)، سير أعلام النبلاء، (20/ 9)، شذرات الذهب، (6/ 168)، العبر في خبر من غبر، (2/ 445)، غاية النهاية (1/ 288)،الكامل في التأريخ، (8/ 365)،كشف الظنون، (1/ 370)،لسان الميزان، (3/ 489)،المستفاد من ذيل تأريخ بغداد (ص:87)، المغني في الضعفاء = = (1/ 360)،المنتخب من السِّياق، (229)،المنتظم لابن الجوزي، (17/ 336)،ميزان الاعتدال، (2/ 64)،هدية العارفين، (6/ 372)،الوافي بالوفيات، (14/ 167)،وغيرها.

(2) انظر: السير، (20/ 9)، والمستفاد، (ص: 88).
- ভূমিকা -

 

‌লেখকের পরিচিতি:

‌তাঁর নাম ও উপনাম:

তিনি হলেন: ইমাম হাফিয আবু আল-কাসিম, যাহির বিন তাহির বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন মারযুবান বিন আলী আন-নাইসাবুরী আশ-শাহ্হামী আল-মুস্তামলী আশ-শুরুতী (১)।

 

‌তাঁর জন্ম:

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) হিজরি ৪৪৬ সনের ১৪ই যিলকদ জন্মগ্রহণ করেন। (২)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী সংক্রান্ত উৎসসমূহের জন্য দেখুন:

যিরিকলির আল-আ'লাম (৩/৪০), আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (১৬/৩২২), আয-যাহাবির তারীখুল ইসলাম (৩৬/৩১৬), ব্রোকলম্যানের ইতিহাস (৩/৬১৬), আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফাহ (পৃষ্ঠা: ১০০), সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (২০/৯), শাযারাতুয যাহাব (৬/১৬৮), আল-ইবার ফি খাবারি মান গাবার (২/৪৪৫), গায়াতুন নিহায়া (১/২৮৮), আল-কামিল ফিত তারীখ (৮/৩৬৫), কাশফুজ যুনুন (১/৩৭০), লিসানুল মীযান (৩/৪৮৯), আল-মুস্তাফাদ মিন যাইলি তারীখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ৮৭), আল-মুগনি ফিদ দুয়াফা (১/৩৬০), আল-মুন্তাখাব মিনাস সিয়াক (২২৯), ইবনুল জাওযির আল-মুনতাযাম (১৭/৩৩৬), মীযানুল ই'তিদাল (২/৬৪), হাদিয়াতুল আরিফীন (৬/৩৭২), আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত (১৪/১৬৭) এবং অন্যান্য।

(২) দেখুন: আস-সিয়ার (২০/৯) এবং আল-মুস্তাফাদ (পৃষ্ঠা: ৮৮)।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ١٤)
- ن -

 

‌‌نشأته:

اعتنى به والدُه (1) منذ الصغر، فسَمَّعه الحديث، وهو في الخامسة من عُمره (2)، قَالَ الدِّمياطيُّ: "بَكَّر به أبُوه، فأسمعه من أبي سَعْد مُحَمَّد بن عبد الرَّحمن الكَنْجَروذِيُّ … " (3).

 

‌‌شيوخه:

تتلمذ الإمامُ زَاهِرُ الشَّحَّاميُّ عَلَى شُيوخ عدَّة، من أشهرهم، والدُه، وأبو يَعْلَى المَوْصِليُّ، وأبو بَكْر البَيهَقِيُّ، وسَعِيد بن منصور القُشيريُّ، وعُثْمَان بن سَعِيد الحِيريُّ، وأبو سَعد الكَنْجَروذِيُّ، ومُحَمَّدُ ابن أَحْمَد بن حَمْدَون، وأبو يَعْلَى الصَّابونيُّ، ومُحَمَّدُ بن الْحَسَن المنقريُّ، وأَحْمَد بن منصورالمغربيُّ، وأبو صالح المؤذِّن، وأَحْمَدُ بن إبراهيم المُقرئ، وغيرهم (4).

 

‌‌تلاميذه:

وتتلمذ عليه جماعةٌ من أكابر العُلماء، منهم أبو موسى المدينيُّ، والسَّمعانيُّ، صاحب كتاب "الأنساب"، وابن عساكرالدِّمشقيُّ، وصاعد ابن رجاء، ومنصور بن

--------------------------------------------

(1) كان من كبارعلماء الحديث، روى عَنْه ابنه زاهركما سيأتي، له ترجمة في سير أعلام النبلاء، (18/ 448).

(2) انظر: السير، (20/ 9).

(3) انظر: المستفاد من ذيل تأريخ بغداد، (ص:78).

(4) انظر: السير، (20/ 10)، وتأريخ الإسلام، (36/ 317)، والمستفادللدمياطي، (ص:87) 0
- ন -

 

‌‌তাঁর লালন-পালন ও বেড়ে ওঠা:

তাঁর পিতা (১) শৈশব থেকেই তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছিলেন, তাই তিনি তাঁকে হাদীস শ্রবণ করান যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর (২)। আদ-দিময়াতি বলেন: "তাঁর পিতা তাঁর ব্যাপারে খুব ভোরে তৎপর হয়েছিলেন, ফলে তিনি তাঁকে আবু সা’দ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-কাঞ্জারুযি থেকে হাদীস শ্রবণ করান..." (৩)।

 

‌‌তাঁর শিক্ষকগণ:

ইমাম যাহির আশ-শাহহামি অনেক শায়খের নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন, তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন: তাঁর পিতা, আবু ইয়া’লা আল-মাওসিলি, আবু বকর আল-বায়হাকি, সাঈদ বিন মনসুর আল-কুশাইরি, উসমান বিন সাঈদ আল-হাইরি, আবু সা’দ আল-কাঞ্জারুযি, মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন হামদুন, আবু ইয়া’লা আস-সাবুনি, মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-মিনকারি, আহমাদ বিন মনসুর আল-মাগরিবি, আবু সালিহ আল-মুআযযিন, আহমাদ বিন ইবরাহিম আল-মুকারি এবং আরও অনেকে (৪)।

 

‌‌তাঁর ছাত্রগণ:

তাঁর নিকট বড় বড় আলেমদের একটি দল শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু মুসা আল-মাদিনি, 'আল-আনসাব' কিতাবের লেখক আস-সামআনি, ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকি, সায়েদ ইবনে রাজা এবং মনসুর বিন...

--------------------------------------------

(১) তিনি হাদীস শাস্ত্রের বড় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাঁর ছেলে যাহির তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যা সামনে আসবে, 'সিয়ারু আ'লামিন নুবালা' গ্রন্থে তাঁর জীবনী রয়েছে, (১৮/ ৪৪৮)।

(২) দেখুন: আস-সিয়ার, (২০/ ৯)।

(৩) দেখুন: আল-মুস্তাফাদ মিন যাইল তারিখ বাগদাদ, (পৃষ্ঠা: ৭৮)।

(৪) দেখুন: আস-সিয়ার, (২০/ ১০), তারিখুল ইসলাম, (৩৬/ ৩১৭), এবং আদ-দিময়াতির আল-মুস্তাফাদ, (পৃষ্ঠা: ৮৭)।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ١٥)
- س -

 

أبي الْحَسَن الطَّبَريُّ، وعليُّ بن الْقَاسِم الثَّقفيُّ، وعبد الباقي بن عُثْمَان الهمدانيُّ، وزاهر بن أَحْمَد الثَّقفيُّ وجماعة (1).

 

‌‌منزلته ومكانته العلمية:

للإمَام الشَّحَّاميِّ منزلةٌ عظيمةٌ، ومكانةٌ عاليةٌ، بين العُلماء، فهو من كبار عُلماء الحديث، قَالَ الذَّهبيُّ:"واستملى على جماعة، وخرَّج وجمع، وانتقى لنفسه السُّباعيات، وأشياء تدلُّ على اعتنائه بالفنِّ … وكان ذا حُبٍّ للرواية، فَرَحل لمَّا شَاخَ، وروى الكثير ببغداد وبهَرَاة، وأصْبهان، وهَمَذان، والحجاز ونَّيسابُور، … وأملى نحواً من ألف مجلس، وكانَ لا يملُّ من التَّسميع" (2).

وقَالَ أيضاً:" وكانَ خبيراً بالشُّروطِ (3)،وعليه العُمدة في مجلس

الحُكم … " (4).

وقَالَ أيضاً: " … وصارَ له أُنس بالحديث، وكانَ ذا نهمة في تسميع حديثه، رحل في بذله كما يرحل غيرُه في طلب الحديث، وكان لايضجر من القراءة" (5).

--------------------------------------------

(1) انظر: السير، (20/ 12)، وتأريخ الإسلام، (36/ 319) 0

(2) انظر: السير، (20/ 11، 10).

(3) والشُّرُوط: علمٌ يبحث عَنْ كيفية ثبت الأحكام عَنْد القاضي، والشُّروطيُّ: من يتولى كتابة الصِّكاك والسِّجِلات، انظر: مفتاح السعادة (1/ 272)، والأنسباب للسمعاني (7/ 321).

(4) انظر: السير، (20/ 12)، وتأريخ الإسلام، (36/ 318) 0

(5) انظر: تأريخ الإسلام، (36/ 318) 0
- স -

 

আবুল হাসান আত-তাবারী, আলী বিন আল-কাসিম আস-সাকাফী, আব্দুল বাকী বিন উসমান আল-হামাদানী, জহির বিন আহমদ আস-সাকাফী এবং একদল (১)।

 

‌‌তাঁর মর্যাদা ও ইলমী অবস্থান:

আলেমদের নিকট ইমাম আশ-শাহহামীর এক মহান মর্যাদা এবং সুউচ্চ স্থান রয়েছে। তিনি হাদীসের বড় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। যাহাবী বলেন: "তিনি একদল (শিক্ষকের) নিকট থেকে শ্রুতলিখন গ্রহণ করেছেন, হাদীস চয়ন ও সংকলন করেছেন এবং নিজের জন্য সুবা'ইয়াত (সাত রাবী বিশিষ্ট হাদীস) নির্বাচন করেছেন, যা এই শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগের প্রমাণ দেয় … বর্ণনার প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোবাসা ছিল, তাই তিনি বৃদ্ধ বয়সেও সফর করেছেন এবং বাগদাদ, হেরাত, ইসফাহান, হামদান, হিজাজ ও নিশাপুরে প্রচুর হাদীস বর্ণনা করেছেন, … তিনি প্রায় এক হাজার মজলিসে শ্রুতলিখন করিয়েছেন এবং তিনি হাদীস শোনানোতে কখনও ক্লান্ত হতেন না" (২)।

তিনি আরও বলেন: "তিনি শর্তাবলী (আইনি দলিল লিখন পদ্ধতি) বিষয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন (৩), এবং বিচার মজলিসে তাঁর ওপরই নির্ভর করা হতো … " (৪)।

তিনি আরও বলেন: " … হাদীসের সাথে তাঁর এক গভীর হৃদ্যতা তৈরি হয়েছিল এবং নিজের বর্ণিত হাদীস শোনানোর প্রতি তাঁর অত্যন্ত আগ্রহ ছিল; অন্যেরা যেভাবে হাদীস অন্বেষণে সফর করে, তিনি তা বিলিয়ে দেওয়ার জন্য সেভাবে সফর করতেন। তিনি (হাদীস) পাঠে কোনো বিরক্তি বোধ করতেন না" (৫)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আস-সিয়ার, (২০/ ১২), এবং তারিখুল ইসলাম, (৩৬/ ৩১৯)।

(২) দেখুন: আস-সিয়ার, (২০/ ১১, ১০)।

(৩) আশ-শুরুত: এমন একটি শাস্ত্র যা বিচারকের নিকট বিচারিক বিধানগুলো সাব্যস্ত করার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করে। আর শুরূতি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি দলিল এবং নথিপত্র লেখার দায়িত্ব পালন করেন। দেখুন: মিফতাহুস সাআদাহ (১/ ২৭২), এবং সামআনীর আল-আনসাব (৭/ ৩২১)।

(৪) দেখুন: আস-সিয়ার, (২০/ ১২), এবং তারিখুল ইসলাম, (৩৬/ ৩১৮)।

(৫) দেখুন: তারিখুল ইসলাম, (৩৬/ ৩১৮)।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ١٦)
- ع -

 

وقَالَ السَّمعانيُّ: " كانَ مُكثراً مُتيقِّظاً، ورَدَ علينا مَرْوَ قصداً للرواية بها، وخرجَ معي إلى أصبهانَ، لاشُغل له إلا الرواية بها، وازدحم عليه الخلقُ، وكانَ يعرف الأجزاء، وجمع ونسخ وعُمِّر … " (1).

وقَالَ أيضاً:"شيخٌ مُتيقظٌ مُكثرٌ، جمع ونسخ بخطه، وكان صاحب أصول، وعُمِّرحتى حمل عَنْه الكثير، ورَحَل في رواية الحديث ونشره، مثل ما يَرَحلُ الطُّلابُ في جمعه … وكان صحيح السَّماع كثيره … " (2).

ووصفه الصَّفديُّ بقوله: "شَّيخُ وقته في عُلو الإسْنَادِ، والتَّفرُّدِ بالرِّوايات … كان صدوقاً من أعيان المُعدِّلين الشُّهود بنيسابُور … " (3).

ووصفه أيضاً العلَاّمة ابن كثير بقوله: "المُحدِّث المكثر الرَّحال الجوَّال، سمع الكثير، وأملى بجامع نيَّسابُور ألف مجلس … " (4).

وقَالَ أبو الْحَسَن الفارسيُّ: "ثقةُ الدِّين، شيخٌ مشهورٌ، ثقةٌ معتمدٌ، من بيت العِلم والزُّهدِ والورعِ والحديثِ، والبراعةِ في عِلمِ الشُّروط والأحكامِ" (5).

وقَالَ الدِّمياطيُّ: "شيخُ وقته في عُلو الإسْنَادِ … " (6).

--------------------------------------------

(1) انظر: السير، (20/ 11)، وتأريخ الإسلام، (36/ 318).

(2) انظر: المستفاد، (ص:87)، ولسان الميزان، (3/ 490) 0

(3) انظر: الوافي بالوفيات، (14/ 360).

(4) انظر: البداية والنهاية له، (16/ 322).

(5) انظر: المنتخب من السِّياق، (229).

(6) انظر: المستفاد، (ص:87).
- আ -

 

আস-সামআনী বলেন: "তিনি ছিলেন একজন অধিক হাদিস বর্ণনাকারী ও সজাগ ব্যক্তি। তিনি হাদিস বর্ণনার উদ্দেশ্যেই আমাদের নিকট মার্ভে এসেছিলেন এবং কেবল হাদিস বর্ণনার কাজেই আমার সাথে ইসফাহানে গিয়েছিলেন। তাঁর নিকট মানুষের ভিড় লেগে থাকত। তিনি (হাদিসের) অংশসমূহ (আজজা) চিনতেন, সংগ্রহ ও প্রতিলিপি করতেন এবং দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন … " (১)।

তিনি আরও বলেন: "তিনি ছিলেন একজন সজাগ ও অধিক বর্ণনাকারী শাইখ। তিনি নিজ হাতে সংগ্রহ ও প্রতিলিপি করেছেন। তিনি মূল পাণ্ডুলিপির অধিকারী ছিলেন। তিনি দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন, এমনকি তাঁর নিকট থেকে প্রচুর হাদিস গ্রহণ করা হয়েছিল। তিনি হাদিস বর্ণনা ও প্রসারের জন্য সফর করতেন, যেমনটি শিক্ষার্থীরা হাদিস সংগ্রহের জন্য সফর করে থাকে … তাঁর হাদিস শ্রবণ (সামা’) সঠিক ও প্রচুর ছিল … " (২)।

আস-সাফাদী তাঁর বর্ণনা দিয়ে বলেন: "তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের উচ্চতর সনদ (উলুউ আল-ইসনাস) এবং একক বর্ণনার ক্ষেত্রে অনন্য শাইখ … তিনি ছিলেন অত্যন্ত সত্যবাদী এবং নিশাপুরের বিশিষ্ট নির্ভরযোগ্য সাক্ষী ও বর্ণনাকারী সংশোধনকারীদের অন্তর্ভুক্ত … " (৩)।

আল্লামা ইবনে কাসীরও তাঁর বর্ণনা দিয়ে বলেন: "তিনি ছিলেন অধিক হাদিস বর্ণনাকারী মুহাদ্দিস ও দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে পরিভ্রমণকারী। তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং নিশাপুরের জামে মসজিদে এক হাজার মজলিসে হাদিস পাঠ করিয়েছেন (ইমলা) … " (৪)।

আবুল হাসান আল-ফারিসী বলেন: "তিনি ছিলেন দ্বীনের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, প্রখ্যাত শাইখ, বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন; ইলম, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), পরহেযগারী ও হাদিসের একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সদস্য। এছাড়াও তিনি শর্তাবলি ও আহকামের ইলমে পারদর্শী ছিলেন।" (৫)।

আদ-দিমইয়াতী বলেন: "তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের উচ্চতর সনদের (উলুউ আল-ইসনাস) শাইখ … " (৬)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আস-সিয়ার, (২০/ ১১), এবং তারিখুল ইসলাম, (৩৬/ ৩১৮)।

(২) দেখুন: আল-মুস্তাফাদ, (পৃষ্ঠা: ৮৭), এবং লিসানুল মিজান, (৩/ ৪৯০)।

(৩) দেখুন: আল-ওয়াফি বিল ওয়াফিয়াত, (১৪/ ৩৬০)।

(৪) দেখুন: তাঁর আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, (১৬/ ৩২২)।

(৫) দেখুন: আল-মুনতাখাব মিনাস সিয়াক, (২২৯)।

(৬) দেখুন: আল-মুস্তাফাদ, (পৃষ্ঠা: ৮৭)।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ١٧)
- ف -

 

وقَالَ ابن النَّجار: " كانَ صدُوقاً، من أعيان الشُّهود" (1).

 

‌‌مؤلفاته:

للعلَاّمة زَاهِر الشَّحَّاميِّ مُؤلفات عَدِيدة، فكانَ رحمه الله ذا حُبٍّ للرِّواية، وله اطَّلاعٌ واسعٌ بالأجزاء الحديثية، وقد ذكر العُلماءُ له من المُصَنَّفات الكثير، فَمِن ذلك (2):

(1) عَوَالي مَالك.

(2) عَوَالي ابن عُيَيْنَة.

(3) عَوَالي ابن خُزَيمَة.

(4) عَوَالي السَّرَّاج.

(5) عَوَالي عبد الرَّحمن بن بشر النَّيسابُوريُّ.

(6) عَوَالي عبد الله بن هاشم.

(7) تُحفتي الْعِيدَيْنِ (3).

(8) المشيخة.

--------------------------------------------

(1) انظر: لسان الميزان، (3/ 490).

(2) انظر: سير أعلام النبلاء، (20/ 11)، وتأريخ الإسلام، (36/ 318)، والأعلام للزركلي، (3/ 40)، والرسالة المستطرفة، (ص:100).

(3) يعني هذا الكتاب، وكتاب آخر، وهو: تحفة عيد الأضحى. انظر: السير (20/ 11).
- ফা -

 

এবং ইবনুন নাজ্জার বলেন: "তিনি ছিলেন অত্যন্ত সত্যবাদী, বিশিষ্ট সাক্ষীদের (প্রমাণ্য ব্যক্তিবর্গের) অন্তর্ভুক্ত" (১)।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

আল্লামা যাহির আশ-শাহহামীর অনেকগুলো রচনা রয়েছে; তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) হাদিস বর্ণনার প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন এবং হাদিসের 'আজযা' (ক্ষুদ্র সংকলনসমূহ) সম্পর্কে তাঁর ব্যাপক পাণ্ডিত্য ছিল। উলামায়ে কিরাম তাঁর অনেকগুলো রচনার কথা উল্লেখ করেছেন, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো (২):

(১) আওয়ালী মালিক।

(২) আওয়ালী ইবনু উইয়াইনাহ।

(৩) আওয়ালী ইবনু খুযায়মাহ।

(৪) আওয়ালী আস-সাররাজ।

(৫) আওয়ালী আবদুর রহমান ইবনু বিশর আন-নিসাবুরী।

(৬) আওয়ালী আব্দুল্লাহ ইবনু হাশিম।

(৭) তুহফাতাইল ঈদাইন (৩)।

(৮) আল-মাশইয়াখাহ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: লিসানুল মিযান, (৩/ ৪৯০)।

(২) দেখুন: সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, (২০/ ১১), তারিখুল ইসলাম, (৩৬/ ৩১৮), আল-আ’লাম লিয-যিরিকলী, (৩/ ৪০), এবং আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ, (পৃষ্ঠা: ১০০)।

(৩) অর্থাৎ এই কিতাবটি এবং অন্য আরেকটি কিতাব, যা হলো: তুহফাতু ঈদুল আযহা। দেখুন: আস-সিয়ার (২০/ ১১)।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ١٨)
- ص -

 

(9) الخُماسِّيات.

(10) السُّداسِّيات.

 

‌‌ما قيل فيه من معايب:

أُخِذَ على الإمَامِ الشَّحَّاميِّ رحمه الله أنَّه كانَ يخِلُّ بالصَّلاة، وَصَفهُ تلميذُهُ السَّمعانيُّ بقوله: "وكان يُكرِمُ الغُرباء ويُعيرُهم الأجزاء، ولكنه كان يُخِلُّ بالصَّلواتِ إخلالاً ظاهراً، وَقْتَ خُرُوجِه مَعي إلى أصبهان … " (1).

وقَالَ الذَّهبيُّ: "صحيح السَّماع، لكنه يخِلُّ بالصَّلاة، فتَرك الرواية عَنْه غَيرُ واحدٍ من الحُفاظ تورعا ً … " (2).

وقَالَ أيضاً: "وانتقى لنفسه السُّباعيات، وأشياء تدلُّ على اعتنائه بالفنِّ، وما هو بالماهر فيه، وهو واهٍ، من قِبَلِ دينه … " (3).

وقد أجاب عن هذا كله ابن الجوزيِّ بقوله: "ومن الجائز أن يكون به مرض، والمريض يجوز له الجمع بين الصَّلوات، فمن قلة فقه هذا القادح رأى هذا الأمرالمحتمل قدحاً" (4).

وقَالَ الصَّفَديُّ: "وعُوتب على ترك الصَّلاة، فقَالَ: لي عُذرٌ، وأنا أجمع الصَّلواتِ كُلِّها، ولعلَّه تاب ورجع آخر عمره" (5).

--------------------------------------------

(1) انظر: السير، (20/ 11)، والمستفاد، (ص:87)، ولسان الميزان، (3/ 490).

(2) انظر: السير، (20/ 10).

(3) انظر: الميزان، (2/ 64)، ولسان الميزان، (3/ 489).

(4) انظر: المنتظم، (17/ 337).

(5) انظر: الوافي بالوفيات، (14/ 167).
- পৃষ্ঠা -

 

(৯) খুমাসিয়াত (পাঁচ-রাবী বিশিষ্ট হাদীসসমূহ)।

(১০) সুদাসিয়াত (ছয়-রাবী বিশিষ্ট হাদীসসমূহ)।

 

‌‌তাঁর সম্পর্কে যেসব ত্রুটির কথা বলা হয়েছে:

ইমাম শাহহামি (রহিমাহুল্লাহ)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তিনি সালাতে অবহেলা করতেন। তাঁর ছাত্র সামআনি তাঁকে বর্ণনা করে বলেছেন: "তিনি আগন্তুকদের সম্মান করতেন এবং তাঁদেরকে পাণ্ডুলিপির অংশসমূহ ধার দিতেন, কিন্তু আমার সাথে আসফাহানে যাওয়ার সময় তিনি সালাতে অত্যন্ত স্পষ্ট অবহেলা করতেন... " (১)।

এবং যাহাবি বলেছেন: "তাঁর হাদীস শ্রবণ বিশুদ্ধ ছিল, কিন্তু তিনি সালাতে অবহেলা করতেন। এ কারণে তাকওয়ার খাতিরে একাধিক হাফেজে হাদীস তাঁর থেকে বর্ণনা করা বর্জন করেছেন... " (২)।

তিনি আরও বলেছেন: "তিনি নিজের জন্য সুবায়িয়াত (সাত-রাবী বিশিষ্ট হাদীসসমূহ) এবং এমন কিছু বিষয় নির্বাচন করেছেন যা এই শিল্পের প্রতি তাঁর আগ্রহ প্রকাশ করে, যদিও তিনি এতে দক্ষ ছিলেন না। আর তিনি তাঁর দ্বীনদারির দিক থেকে দুর্বল... " (৩)।

ইবনুল জাওযি এই সবকিছুর জবাবে বলেছেন: "এটা সম্ভব যে তাঁর কোনো রোগ ছিল, আর অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সালাতসমূহ একত্রে পড়ার (জম্ করার) অনুমতি রয়েছে। সুতরাং এই সমালোচকের ফিকহী জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে তিনি এই সম্ভাব্য বিষয়টিকেই দোষ হিসেবে দেখেছেন" (৪)।

এবং আস-সাফাদি বলেছেন: "সালাত বর্জনের ব্যাপারে তাঁকে তিরস্কার করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: 'আমার ওজর আছে এবং আমি সমস্ত সালাত একত্রে আদায় করি।' সম্ভবত তিনি জীবনের শেষ দিকে তওবা করেছিলেন এবং ফিরে এসেছিলেন" (৫)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আস-সিয়ার, (২০/ ১১), আল-মুস্তাফাদ, (পৃ: ৮৭), এবং লিসানুল মিজান, (৩/ ৪৯০)।

(২) দেখুন: আস-সিয়ার, (২০/ ১০)।

(৩) দেখুন: আল-মিজান, (২/ ৬৪), এবং লিসানুল মিজান, (৩/ ৪৮৯)।

(৪) দেখুন: আল-মুনতাজাম, (১৭/ ৩৩৭)।

(৫) দেখুন: আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত, (১৪/ ১৬৭)।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ١٩)
- ق -

 

وقَالَ الحافظُ ابن كثير: "ويُقَالُ إنَّه كان به مرض يكثر بسببه الجمع بين الصَّلوات … " (1).

وقَالَ الذَّهبيُّ: "ولعله تاب، والله يغفر له" (2).

وقَالَ الحافظُ: "وقد اعتذر زَاهر عَنْ ذلك بأصبهان، وقَالَ: لي عُذرٌ وأنا أجمع، ويُحتمل أنه كان به سَلسَ البول … " (3).

 

‌‌وفاته:

تُوفي العلَاّمة زَاهِر بن طَاهِر الشَّحَّاميُّ بنيسابُور في العاشر من ربيع الآخر، سنة ثلاث وثلاثين وخمسمائة (4).

--------------------------------------------

(1) انظر: البداية والنهاية، (16/ 322).

(2) انظر: السير، (20/ 12).

(3) انظر: لسان الميزان، (3/ 490).

(4) انظر: السير، (20/ 12)، وتأريخ الإسلام، (36/ 319)، والبداية والنهاية، (16/ 322)، والمستفاد، (ص: 88).
- ক -

 

হাফেজ ইবনে কাসীর বলেছেন: "বলা হয় যে, তাঁর এমন এক ব্যাধি ছিল যার কারণে তিনি প্রায়শই দুই সালাত একত্র করতেন … " (১)।

যাহাবী বলেছেন: "সম্ভবত তিনি তওবা করেছিলেন, আর আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন" (২)।

হাফেজ বলেছেন: "যাহির এ ব্যাপারে আসফাহানে ওজর পেশ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: আমার কাছে ওজর আছে তাই আমি একত্র করছি, আর সম্ভাবনা আছে যে তিনি বহুমূত্র রোগে আক্রান্ত ছিলেন … " (৩)।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

আল্লামা যাহির বিন তাহির আশ-শাহামী ৫৩৩ হিজরির ১০ই রবিউস সানি নিশাপুরে ইন্তেকাল করেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, (১৬/ ৩২২)।

(২) দেখুন: আস-সিয়ার, (২০/ ১২)।

(৩) দেখুন: লিসানুল মিযান, (৩/ ৪৯০)।

(৪) দেখুন: আস-সিয়ার, (২০/ ১২), তারিখুল ইসলাম, (৩৬/ ৩১৯), আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, (১৬/ ৩২২), এবং আল-মুস্তাফাদ, (পৃষ্ঠা: ৮৮)।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ٢١)
- ش -

 

‌‌التعريف بعليِّ بن الحُسين:

هو: عليُّ بن الحُسين بن هبة الله ابن الإمام الحافظ ابن عساكر الدِّمشقي، المولود سنة، سبع وعشرين وخمسمائة، وهومُحدِّث مشهورٌ، سمع من أبيه، فأكثرعَنْه، ومن عمه الضياء بن هبة الله، ومن جد أبويه أبي الفضل يحيى بن عليٍّ القُرشيِّ، وجماعة.

وروى عنه أبو الموهب بن صصريِّ، وأبو الحسن بن الفضل، وأبو مُحَمَّد الرُهاويِّ، غيرهم.

رحل في طلب العلم إلى الحجاز ومصر، وبيت المقدس، قال الذَّهبيُّ:" كان مُحدِّثاً صدوقاً، متوسط المعرفة، مُكرماً للغُرباء، له أنسة بالحديث … وصنَّف كتاباً في الجهاد، وأملى مجالس، وخرَّج لنفسه الأبدال العالية، نقاها من مصنَّف والده، وكان يبالغ في التعصُّب لمقالة أبي الحسن الأشعريِّ، من غير أن يحققها، ولي مشيخة الديار النورية بعد أبيه، وإلى أن مات … ". توفي سنة ستمائة. (1).

--------------------------------------------

(1) انظر: السير، (21/ 405)،وتذكرة الحفاظ، (4/ 1367).
- শ -

 

‌আলী ইবনুল হুসাইনের পরিচিতি:

তিনি হলেন: আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনুল ইমাম আল-হাফিজ ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকি। তিনি পাঁচশত সাতাশ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট হতে শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর থেকে প্রচুর হাদিস গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও তিনি তাঁর চাচা আদ-দিয়া ইবনে হিবাতুল্লাহ এবং তাঁর পিতামহ আবুল ফজল ইয়াহইয়া ইবনে আলী আল-কুরাশি ও একদল আলিমের নিকট হতে ইলম অর্জন করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবুল মাওয়াহিব ইবনে সাসারি, আবুল হাসান ইবনুল ফজল, আবু মুহাম্মদ আর-রুহাওয়ি এবং আরও অনেকে।

তিনি ইলম অন্বেষণে হিজাজ, মিসর ও বায়তুল মাকদিস সফর করেন। ইমাম যাহাবি বলেন: "তিনি ছিলেন একজন সত্যবাদী মুহাদ্দিস, তাঁর ইলমি গভীরতা ছিল মধ্যম সারির, তিনি আগন্তুকদের সম্মান করতেন এবং হাদিসের সাথে তাঁর গভীর সখ্যতা ছিল ... তিনি জিহাদ বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছেন, ইলমি মজলিস পরিচালনা করেছেন এবং নিজের জন্য 'আল-আবদালুল আলিয়াহ' সংকলন করেছেন, যা তিনি তাঁর পিতার সংকলন থেকে চয়ন করে পরিমার্জিত করেছেন। তিনি আবুল হাসান আল-আশআরির মতবাদের প্রতি চরম গোঁড়া ছিলেন, যদিও তিনি তা যথাযথভাবে যাচাই করেননি। তিনি তাঁর পিতার পর দিয়ারুন নুরিয়ার মাশায়িখদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত উক্ত পদে আসীন ছিলেন ..."। তিনি ছয়শত হিজরী সনে ইন্তেকাল করেন। (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আস-সিয়ার, (২১/৪০৫), এবং তাযকিরাতুল হুফফাজ, (৪/১৩৬৭)।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ٢٣)
- ث -

 

‌‌التعريف بالإمام ابن عساكر:

هو: الإمام الحافظ الحُجَّة، مُحدِّث الشّام، عليُّ بن الحسن بن هِبة الله بن عساكِر، أبو القاسم، المعروف بابن عساكر الدِّمشقيّ، صاحب كتاب، "تأريخ دمشق"، وُلد سنة، تسع وتسعين وأربعمائة، وارتحل في طلب العلم إلى العراق وخُراسان، وأصبهان، والكوفة ومكة، وغيرها.

روى عن مُحمَّد بن عليِّ بن أبي العلاء المصَّيصيِّ، وطاهر بن زاهر الشَّحَّاميِّ، وتميم بن أبي سعيد المُؤدِّب، وغيرهم.

وروى عنه ابنه القاسم بن عليٍّ، ومَعْمَرُ بن الفاخر، والحافظُ أبو العلاء العطَّار، والحافظُ أبو سعْدٍ السَّمعانيُّ، وغيرهم.

قال السَّمعانيُّ:" كثيرُ العلمِ، غزيرُ الفضلِ، حافظٌ متقنٌ، ديِّنٌ خَيِّرٌ، حسنُ السَّمْتِ، جمعَ بين معرفة المُتُونِ والأسانيد، صحيحُ القراءة، مُتَثَّبِتٌ مُحتاطٌ … جمع ما لم يجمعه غيرُهُ، وأربى على أقرانه، دخل نيسابور قبلي بشهرٍ، سمعتُ منه، وسمع مني … ".

وقال الحافِظ ابن كثير:" أحدُ أكابِر حُفَّاظِ الحديثِ، ومن عُني به سماعاً وجمعاً وتصنيفاً، واطِّلاعاً وحِفظاً لأسانيده ومُتونه، واتقاناً لأساليبه وفنونه .... أكثر في طلب الحديث، من التِّرحال والأسفار، وجاب المُدن والأقاليم والأمصار، وجمع من الكُتب ما لم يجمعه أحدٌ من الحُفَّاظ .... ".
- থ -

 

‌‌ইমাম ইবনে আসাকিরের পরিচিতি:

তিনি হলেন: ইমাম, হাফেজ, হুজ্জাহ (প্রমাণপুরুষ), শামের মুহাদ্দিস, আলী ইবনুল হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আসাকির, আবু কাসিম, যিনি ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকী নামে পরিচিত। তিনি "তারিখে দিমাশক" (দামেস্কের ইতিহাস) গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি চারশত নিরানব্বই হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং জ্ঞান অন্বেষণে ইরাক, খুরাসান, ইসফাহান, কুফা, মক্কা এবং অন্যান্য অঞ্চলে সফর করেন।

তিনি মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবিল আলা আল-মাসসিসি, তাহির ইবনে জাহির আশ-শাহহামি, তামিম ইবনে আবি সাঈদ আল-মুয়াদ্দীব এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর পুত্র কাসিম ইবনে আলী, মা’মার ইবনুল ফাখির, হাফেজ আবুল আলা আল-আত্তার, হাফেজ আবু সাদ আস-সামআনি এবং অন্যান্যেরা।

সামআনি বলেছেন: "তিনি অগাধ ইলমের অধিকারী, অঢেল ফযিলতের মালিক, প্রখর ও সুনিপুণ হাফেজ, ধর্মপ্রাণ ও নেককার এবং সুন্দর স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। তিনি হাদিসের মতন (মূল পাঠ) এবং সনদ (সূত্র) উভয়টির জ্ঞানের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তিনি বিশুদ্ধ কিরাত পাঠকারী এবং অত্যন্ত সুনিশ্চিত ও সতর্ক ছিলেন … তিনি এমন কিছু সংগ্রহ করেছেন যা অন্য কেউ সংগ্রহ করতে পারেনি এবং তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি আমার এক মাস পূর্বে নিশাপুরে প্রবেশ করেছিলেন। আমি তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছি এবং তিনিও আমার নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন … "।

হাফেজ ইবনে কাসির বলেছেন: "তিনি হাদিসের বড় বড় হাফেজদের অন্যতম। হাদিস শ্রবণ, সংগ্রহ, সংকলন, পর্যবেক্ষণ এবং এর সনদ ও মতনের হিফয ও এর কলাকৌশল ও শাস্ত্রীয় সুনিপুণতায় তাঁর বিশেষ গুরুত্ব ছিল .... হাদিস অন্বেষণে তিনি প্রচুর সফর ও ভ্রমণ করেছেন এবং বিভিন্ন শহর, অঞ্চল ও জনপদ পরিভ্রমণ করেছেন। তিনি কিতাবাদির এমন বিশাল ভাণ্ডার সংগ্রহ করেছিলেন যা ইতিপূর্বে অন্য কোনো হাফেজ করতে পারেননি ...."।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ٢٤)
- خ -

 

وصفه الحافظُ الذَّهبيُّ: بالإمام العلَاّمة الحافظُ الكبيرُ المُجوِّدُ، مُحدِّثُ الشَّام، ثقة الدين … كان فَهِماً حافظاً مُتقناً ذكياً بصيراً بهذا الشأن، لايُلحَقُ شأؤه، ولايُشَقُّ غُبارُه، ولاكان له نظير في زمانه". توفي سنة، إحدى وسبعين وخمسمائة. (1).

--------------------------------------------

(1) انظر: المنتظم (18/ 224)،والسير (20/ 554)،وتذكرة الحفاظ، (4/ 1328)،وتأريخ الإسلام (40/ 70)،والبداية والنهاية (16/ 514)،وطبقات الشافعية للسبكي (7/ 215)،وشذرات الذهب (6/ 395).
- খ -

 

হাফিজ আয-যাহাবী তাকে এভাবে বর্ণনা করেছেন: "তিনি ছিলেন ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত (আল্লামা), সুমহান হাফিজ, অত্যন্ত নিপুণ কারী ও বিশেষজ্ঞ, শামের মুহাদ্দিস এবং দ্বীনের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব ... তিনি ছিলেন প্রখর বোধসম্পন্ন, সুসংরক্ষণকারী হাফিজ, অত্যন্ত পারদর্শী, বুদ্ধিমান এবং এই বিষয়ে গভীর অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী; কেউ তার উচ্চতা স্পর্শ করতে পারত না, কেউ তার ধূলিকণা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত না এবং তার যুগে তার কোনো নজির ছিল না।" তিনি পাঁচশত একাত্তর হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুনতাজাম (১৮/ ২২৪), আস-সিয়ার (২০/ ৫৫৪), তাযকিরাতুল হুফফায (৪/ ১৩২৮), তারিখুল ইসলাম (৪০/ ৭০), আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৬/ ৫১৪), সুবকী রচিত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ (৭/ ২১৫) এবং শাযারাতুয যাহাব (৬/ ৩৯৫)।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ٢٥)
- ذ -

 

‌‌التَّعرِيف بالنسخة الخطية (1):

هذا الكتاب "جُزْء تُحْفَة عِيْدِ الْفِطْرِ" للعلَاّمة الشَّحَّاميِّ، رحمه الله تعالى، اشتمل على ثلاث وستين ما بين حديث مسند وأثر، وأحاديثه وآثاره متفاوتة، ففيها الصحيح، والحسن والضَّعيف، والضَّعيف جداً، وغير ذلك.

وأصل هذا المخطوط يوجد بالمكتبة الظاهرية بمدينة دمشق برقم … (81: 190 - 198) (2).

ويقع في عشر ورقات، في الورقة الواحدة ثمانية عشر إلى عشرين سطراً بمقاس (14 - 16) سم تقريباً، وعدد كلماتها ما بين (10، 12)،كلمة في السطر الواحد، وكُتبت بخط جيد واضح، وعليه سماعات، وإجازة لمالكه.

كما كُتب على اللوحة الأولى: وقف بالضيائية بسفح قاسيون.

جُزء تحفة عِيد الفطر، تأليف الشَّيخ الإمام أبي القاسم زاهر بن طاهر بن مُحَمَّد الشَّحَّامي المُعَدِّل.

رواية الشَّيخ الإمام الحافظ أبي القاسم عليّ بن الحسن بن هبة الله بن عبد الله عنه.

رواية ابنه الشَّيخ الفقيه العالم الحافظ أبي مُحَمَّد القاسم عنه.

سماع منه ليُوسف بن أبي الفرج بن المهذَّب التنَّوخيِّ الشِّافعيِّ الحمويِّ.

من كتب محمد بن أبي القاسم بن أبي طالب الأنصاريّ، رحمه الله، وسماعه.

--------------------------------------------

(1) وُجدت بعض الكلمات لم أستطع قراءتها، فتركت مكانها بياضاً.

(2) وانظر: فهرس مخطوطات الظاهرية للشيخ ناصر الألباني، رحمه الله (5/ 317).
- যাল -

 

‌‌পাণ্ডুলিপির পরিচিতি (১):

আল্লামা আশ-শাহহামী (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই কিতাবটি "জুযউ তুহফাতু ঈদুল ফিতর"। এটি সনদসহ বর্ণিত তেষট্টিটি হাদিস ও আসার (সাহাবী বা তাবিঈদের উক্তি) এর ওপর ভিত্তি করে রচিত। এর হাদিস ও আসারগুলোর মান বিভিন্ন পর্যায়ের; এর মধ্যে সহিহ, হাসান, যঈফ, অত্যন্ত যঈফ এবং অন্যান্য প্রকারের বর্ণনা রয়েছে।

এই পাণ্ডুলিপির মূল কপিটি দামেস্ক শহরের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে ... (৮১: ১৯০ - ১৯৮) (২) নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে।

এটি দশটি পাতার ওপর ভিত্তি করে রচিত। প্রতিটি পাতায় আঠারো থেকে বিশটি লাইন রয়েছে, যার মাপ প্রায় (১৪ - ১৬) সেন্টিমিটার। প্রতি লাইনে শব্দের সংখ্যা দশ থেকে বারোটির মতো। এটি অত্যন্ত চমৎকার ও স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লিখিত এবং এতে পাঠ শ্রবণ (সামাআত) ও এর মালিকের জন্য ইজাজত (অনুমতিপত্র) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রথম পাতায় লিখিত আছে: কাসিউন পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত দিয়াইয়াহ মাদরাসায় ওয়াকফকৃত।

জুযউ তুহফাতু ঈদুল ফিতর, রচনায়: শায়খ ইমাম আবুল কাসিম যাহির বিন তাহির বিন মুহাম্মাদ আশ-শাহহামী আল-মুআদ্দিল।

বর্ণনায়: শায়খ ইমাম হাফিজ আবুল কাসিম আলি বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ, তাঁর থেকে।

বর্ণনায়: তাঁর পুত্র শায়খ ফকিহ আলিম হাফিজ আবু মুহাম্মাদ আল-কাসিম, তাঁর থেকে।

তাঁর নিকট থেকে ইউসুফ বিন আবিল ফরাজ বিন আল-মুহাযযাব আত-তানুখি আশ-শাফিয়ি আল-হামাভির শ্রবণকৃত।

মুহাম্মাদ বিন আবুল কাসিম বিন আবু তালিব আল-আনসারী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংগৃহীত কিতাবসমূহ থেকে এবং তাঁর শ্রবণকৃত।

--------------------------------------------

(১) কিছু শব্দ পাওয়া গেছে যা আমি পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হইনি, তাই সেই স্থানগুলো শূন্য রাখা হয়েছে।

(২) আরও দেখুন: শায়খ নাসির আল-আলবানি (রহিমাহুল্লাহ) রচিত 'ফিহরিসু মাখতুতাতিয যাহিরিয়্যাহ' (৫/ ৩১৭)।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ٢٦)
- ض -

 

قرأت جميع هذا الجزء على الشيخين: الإمام العالم الحافظ المفيد جمال الدين أبي حامد مُحَمَّد بن العلامة أبي الحسن علي بن محمود المحموديِّ الصابونيِّ.

والعدل شرف الدين أبي عبد الله مُحَمَّد بن أحمد بن عبد الحي العمري بحق سماعهما من أبي القاسم الحوستاني وبإجازة الأول من أبي روح عبد المعز .... بسماعه من مخرجه، فسمعه صاحبه الولد السعيد المُحدِّث المجتهد نور الدين أبو الحسن علي بن إبراهيم بن داود العطار الدِّمشقيّ، والسيد الشريف شمس الدين أبومُحَمَّد الحسن المظفر بن عبد المطلب الحسيني، وولده مُحَمَّد وشرف الدين عمر بن هلال بن مُوسى الحنفي، ونجم الدين إبراهيم بن محمود بن عامر، وولده علي وكمال الدين أبوعبد الله مُحَمَّد بن عبد الواحد بن أبي بكر الحموي، ونجم الدين يحيى بن عليِّ بن أبي بكر الشَّاطر، وأحمد بن عبد المولى بن حسن الصيرفي، وصح وثبت تحت الساعات بباب جامع دمشق يوم الثلاثاء سلخ شهر رمضان سنة سبع أو تسع وست مئة، وأجازا للجماعة جميع ما يجوز لهما روايته وتلفظا بذلك كتبه عبد الرَّحمن البستي.

صحح ذلك وكتب مُحَمَّد بن عليِّ بن المحمودي … تأريخه، كذلك يقول مُحَمَّد بن أحمد بن عبد الحي العمري في تاريخه.

كما كُتب على اللوحة الأولى أيضاً:

الحَمْدُ لله، مُؤلِّف هذا الجُزء هُو: الإمامُ زَاهِر بن طَاهِر بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن أَحْمَد بن مُحَمَّد بن يُوسُفِ بن مُحَمَّد بن المَرْزُبان

أبُو القَاسِم الشَّحّاَمِيُّ عن جماعة منهم الحافِظ أبُو بكر البيهقيِّ حديث عنه بال … الكبير … عن جماعة من الحُفاظ، منهم أبو القاسِم ابن عساكر الدِّمشقيِّ، والإمام أبو سعد السَّمعانيِّ، وسماعاته صحيحة قال السَّمعانِيُّ: ........... يوم الإثنين الرابع عشر من شهر ربيع الآخر، سنة ست وأربعين وأربع مئة، وتوفي ليلة الرابع عشر من شهر ربيع الآخر سنة ثلاث وثلاثين وخمس مئة.

كما توجد سماعات في آخر الكتاب هكذا.
- য -

 

আমি এই সম্পূর্ণ অংশটি এই দুই শাইখের নিকট পাঠ করেছি: ইমাম, আলিম, হাফিজ, মুফিদ জামালুদ্দীন আবু হামিদ মুহাম্মাদ ইবনুল আল্লামা আবু হাসান আলী বিন মাহমুদ আল-মাহমুদী আস-সাবুনী।

এবং ন্যায়পরায়ণ শরাফুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল হাই আল-উমারী; আবু আল-কাসিম আল-হুস্তানি থেকে তাঁদের উভয়ের শ্রবণের (সামা') অধিকারে এবং প্রথমজনের জন্য আবু রুহ আব্দুল মুইজ থেকে প্রাপ্ত ইজাযতের ভিত্তিতে .... যা তিনি তাঁর সংকলকের নিকট থেকে শুনেছেন। এটি শুনেছেন তাঁর সঙ্গী, সৌভাগ্যবান সন্তান, মুহাদ্দিস, মুজতাহিদ নূরুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন ইবরাহীম বিন দাউদ আল-আত্তার আদ-দিমাশকী, এবং সাইয়্যেদ শরীফ শামসুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান আল-মুজাফফর বিন আব্দুল মুত্তালিব আল-হুসাইনী, এবং তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ, এবং শরাফুদ্দীন উমর বিন হিলাল বিন মূসা আল-হানাফী, এবং নাজমুদ্দীন ইবরাহীম বিন মাহমুদ বিন আমির, এবং তাঁর পুত্র আলী, এবং কামালুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আবু বকর আল-হামাবী, এবং নাজমুদ্দীন ইয়াহইয়া বিন আলী বিন আবু বকর আশ-শাতির, এবং আহমাদ বিন আব্দুল মাওলা বিন হাসান আস-সাইরাফী। এটি ছয়শ সাত অথবা নয় হিজরীর রমজান মাসের শেষ দিনে দামেস্ক জামে মসজিদের দরজার ঘড়িগুলোর নিচে সহীহ ও সাব্যস্ত হয়েছে। তাঁরা উভয়ে উপস্থিত দলকে তাঁদের বর্ণিত সকল রিওয়ায়েতের অনুমতি (ইজাযাহ) প্রদান করেছেন এবং তা মৌখিকভাবে উচ্চারণ করেছেন। এটি লিখেছেন আব্দুর রহমান আল-বুস্তী।

এটি সংশোধন করেছেন এবং লিখেছেন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আল-মাহমুদী … তাঁর তারিখ অনুযায়ী; একইভাবে মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল হাই আল-উমারীও তাঁর ইতিহাসে এরূপ বলেছেন।

যেমনটি প্রথম পৃষ্ঠাতেও লিখিত রয়েছে:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এই খণ্ডের লেখক হলেন: ইমাম যাহির বিন তাহির বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-মারযুবান।

আবু আল-কাসিম আশ-শাহ্হামী একদল বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে রয়েছেন হাফিজ আবু বকর আল-বায়হাকী, তাঁর থেকে বর্ণিত হাদীস রয়েছে ... আল-কাবীর-এ ... তিনি একদল হাফিজ থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আবু আল-কাসিম ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকী এবং ইমাম আবু সা'দ আস-সামআনী। তাঁর শ্রবণসমূহ (সামা'আত) সঠিক। আস-সামআনী বলেন: ........... সোমবার রবিউল আখির মাসের চৌদ্দ তারিখ, চারশ ছেচল্লিশ হিজরীতে, এবং তিনি পাঁচশ তেত্রিশ হিজরীর রবিউল আখির মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন।

তেমনিভাবে কিতাবের শেষেও শ্রুতিসমূহ (সামা'আত) এভাবেই বিদ্যমান রয়েছে।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ٢٧)
- ظ -

 

سمع جميع هذا الجزء من أوله إلى آخره، وهو: تحفة عيد الفطر على سيدنا الشَّيخ الإمام العالم الحافظ بهاء الدين، جمال الإسلام مُحَمَّد بن السامر أبي مُحَمَّد القاسم من لفظه العالم الحافظ شيخ الإسلام أبي القاسم عليُّ بن الحسن بن هبة الله الشَّافعيِّ، بحق سماعه فيه من والده قدس الله روحه، بروايته عن الشَّيخ الإمام أبي القاسم، زاهر بن طاهر بن مُحَمَّد الشَّحَّاميِّ المُعدِّل مُؤلفه، يُوسُف بن أبي الفرج بن مهذب التنَّوخيِّ الشَّافعيِّ، وسمع معي آخرون أسماؤهم مثبتة على أصل الشَّيخ الحافظ، سنة تسعين وخمس مئة للهجرة النَّبوية، وصح وثبت.

وسمع جميع هذا الجزء … الحديث المسلسل على سيدنا الشَّيخ الإمام العالم الورع الثِّقة شرف الدين زين الأمناء أبي البركات الحسن بن مُحَمَّد بن الحسن بن هبة بن عبد الله بن الحُسين بن عساكر الشِّافعيِّ، بحق سماعه من عمه الشِّيخ الفقيه الإمام العالم الحافظ ناصر السُّنَّة مُحدِّث الشَّام أبي القاسم عليِّ بن الحسن بن هبة الله بن عبد الله الشَّافعيِّ قدَّس اللهُ رُوحه: إبنه أبو الحسن عبد الوهاب ومُحَمَّد بن أبي القاسم الحسن بن عليِّ بن الحسن الشَّافعيّ، والشَّيخ الأمين هبة الله بن مُحَمَّد بن عبد الواحد بن رواحة، وكاتب السماع يُوسف بن أبي الفرج بن مهذب الحمويّ التَّنوخيِّ الشَّافعيِّ، وولداه أبو مُحَمَّد عبد العزيز، وأبو العبَّاس أحمد، وذلك في يوم عيد الفطر بعد العصر، بجامع دمشق في الحيط الشماليِّ سنة اثنين وستمائة للهجرة النَّبوية، وصح وثبت على الأصل المعارض به ما ملخصه: سمع جميعه على قاضي القضاة أبي القاسم عبد الصمد بن مُحَمَّد بن أبي الفضل الأنصاريِّ بإجازته من مخرجه أبي القاسم زاهر الشَّحَّاميِّ، بقراءة إسماعيل بن الأنماطيِّ: إبنه أبو بكر مُحَمَّد بن المخافسة، وفتاه صافي، وأبو حامد مُحَمَّد بن عليِّ بن محمود المحموديِّ الصابونيِّ، وأحمد بن عبد القادر بن حسان العامريِّ، ومُحمَّد بن أحمد بن عبدالحي العمري،
- জো -

 

এই সম্পূর্ণ অংশটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শ্রবণ করা হয়েছে, যা হলো: ‘তুহফাতু ঈদুল ফিতর’। এটি শ্রবণ করা হয়েছে আমাদের নেতা শায়খ, ইমাম, আলেম, হাফেজ বাহাউদ্দীন, জামালুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবনে সামির আবু মুহাম্মদ আল-কাসিমের সামনে। এটি তাঁর নিকট পাঠ করেছেন আলেম, হাফেজ, শায়খুল ইসলাম আবু কাসিম আলী ইবনুল হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ আশ-শাফিঈ; তাঁর পিতার নিকট থেকে এই কিতাব শ্রবণের অধিকার মূলে, আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন। আর তিনি এটি বর্ণনা করেছেন শায়খ, ইমাম আবু কাসিম যাহির ইবনে তাহির ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাহহামি আল-মুয়াদ্দিল থেকে, যিনি এর রচয়িতা ইউসুফ ইবনে আবুল ফরাজ ইবনে মুহাযযাব আত-তানুখি আশ-শাফিঈর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আমার সাথে আরও অনেকে শ্রবণ করেছেন যাদের নাম শায়খ হাফেজের মূল কপিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এটি হিজরি পাঁচশ নব্বই সালের ঘটনা, এবং এটি বিশুদ্ধ ও প্রমাণিত হয়েছে।

এই সম্পূর্ণ অংশটি শ্রবণ করা হয়েছে ... আল-হাদিস আল-মুসালসাল, আমাদের নেতা শায়খ, ইমাম, আলেম, পরহেজগার, নির্ভরযোগ্য শরফুদ্দীন যাইনুল উমানা আবু বারাকাত আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে হিবাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হুসাইন ইবনে আসাকির আশ-শাফিঈর সামনে। তাঁর চাচা শায়খ, ফকিহ, ইমাম, আলেম, হাফেজ, সুন্নাহর সাহায্যকারী, শামের মুহাদ্দিস আবু কাসিম আলী ইবনুল হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শাফিঈর (আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন) নিকট থেকে তাঁর শ্রবণের অধিকার মূলে এটি সম্পন্ন হয়েছে। শ্রবণকারীদের মধ্যে ছিলেন: তাঁর পুত্র আবু হাসান আব্দুল ওয়াহহাব এবং মুহাম্মদ ইবনে আবুল কাসিম হাসান ইবনে আলী ইবনে হাসান আশ-শাফিঈ, এবং শায়খ আল-আমিন হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে রাওয়াহা, এবং শ্রবণের লেখক ইউসুফ ইবনে আবুল ফরাজ ইবনে মুহাযযাব আল-হামাভি আত-তানুখি আশ-শাফিঈ, এবং তাঁর দুই পুত্র আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ ও আবুল আব্বাস আহমদ। এটি সংঘটিত হয়েছিল ঈদুল ফিতরের দিন আসরের পর, দামেস্কের জামে মসজিদের উত্তর দিকের প্রাচীরের কাছে, হিজরি ছয়শ দুই সালে। মূল কপির সাথে মিলিয়ে এটি বিশুদ্ধ ও প্রমাণিত হয়েছে যার সারসংক্ষেপ হলো: এই পুরো অংশটি প্রধান বিচারপতি আবু কাসিম আব্দুস সামাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবুল ফজল আনসারীর সামনে শ্রবণ করা হয়েছে, এর সংকলক আবু কাসিম যাহির আশ-শাহহামির পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অনুমতির (ইজাজাহ) ভিত্তিতে। এটি পাঠ করেছেন ইসমাইল ইবনুল আনমাতি; উপস্থিত ছিলেন: তাঁর পুত্র আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল মাখাফিসাহ, তাঁর খাদেম সাফি, আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মাহমুদ আল-মাহমুদি আস-সাবুনি, আহমদ ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে হাসসান আল-আমিরি এবং মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল হাই আল-উমারি।
(খণ্ড: ১) জুযউ তুহফাতি ঈদুল ফিতর (পৃষ্ঠা: ٢٨)
- غ -

 

ومُحَمَّد بن مُحَمَّد بن هبة الله الشِّيرازيِّ، وإبن أخيه، أبو بكر عبد الرَّحمن بن أحمد، وعبد الرَّحمن بن أحمد بن عبَّاس العاقوسيِّ، ومُحَمَّد بن إبراهيم بن عبد الواحد المقدسيِّ و ..... ثامن عشر ذي الحجة سنة ثلاث عشرة وستمائة بالمدرسة المجاهدية بدمشق والسماع بخط الأنماطيِّ، وسمعه منه بقراءة شمس الدِّين أبي الحسن عليِّ بن المطهر .... إبنه أبو بكر مُحَمَّد وأبو حامد مُحَمَّد بن عليِّ ابن مُحَمَّد الصابُونيِّ، وأبو إسحاق إبراهيم بن أبي المحاضر، وإبنه مُحَمَّد بن يُوسف بن تمام بن إسماعيل السُّلميِّ، والسماع بخط عبد الجليل .... سنة سبع وسبعمائة، نقلته من أصله بجامع دمشق.

 

‌‌نسبة الكتاب إليه:

لقد نسب كُلُّ مَنْ ترجَم للعلَاّمة زَاهِر بن طَاهِر الشَّحَّاميِّ هذا الكتاب إليه، منهم الحافظُ شمس الدين الذَّهبيّ (1)، والبغداديُّ (2)، … والعلَاّمةالمُناويُّ (3)، وحُسَام الدِّين الهنَّدي (4)، وحَاجي خَليفة (5)، وبَروكلمان، (6)، والألبانيُّ (7)،واللهُ أعلم.

--------------------------------------------

(1) انظر: السير، (20/ 11)، وتأريخ الإسلام (36/ 318).

(2) انظر: هدية العارفين، (6/ 372).

(3) انظر: فيض القدير، (1/ 94).

(4) انظر: كنز العمال (8/ 580).

(5) انظر: كشف الظنون (1/ 370).

(6) انظر: تأريخ الأدب العربي (3/ 616).

(7) انظر: فهرس مخطوطات الظاهرية، (5/ 455)،والإرواء (3/ 98).
- ঘ -

 

এবং মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন হিবাতুল্লাহ আশ-শিরাজি, এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আবু বকর আব্দুর রহমান ইবন আহমাদ, এবং আব্দুর রহমান ইবন আহমাদ ইবন আব্বাস আল-আকুসি, এবং মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি এবং... ৬১৩ হিজরি সনের ১৮ই জিলহজ দামেস্কের আল-মাদরাসা আল-মুজাহিদিইয়াহ-তে, শ্রবণের অনুলিপিটি আল-আনমাতির হস্তাক্ষরে ছিল। এটি তাঁর নিকট শামসুদ্দিন আবুল হাসান আলী ইবনুল মুতাহহার-এর পাঠের মাধ্যমে শ্রবণ করেছেন... তাঁর পুত্র আবু বকর মুহাম্মদ এবং আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ আস-সাবোনি, এবং আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবন আবিল মুহাজির, এবং তাঁর পুত্র মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ ইবন তাম্মাম ইবন ইসমাঈল আস-সুলামি। শ্রবণের অনুলিপিটি আব্দুল জলিলের হস্তাক্ষরে ছিল... ৭০৭ হিজরি সন, আমি এটি দামেস্কের জামে মসজিদ থেকে মূল পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী অনুলিপি করেছি।

 

‌‌তাঁর প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধ:

আল্লামা জহির ইবন তাহির আশ-শাহহামির জীবনী যারা রচনা করেছেন, তারা সকলেই এই গ্রন্থটিকে তাঁর বলে নিসবত করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাফিজ শামসুদ্দিন আয-যাহাবি (১), আল-বাগদাদি (২), … আল্লামা আল-মুনাউয়ি (৩), হুসামুদ্দিন আল-হিন্দি (৪), হাজি খলিফা (৫), ব্রোকেলম্যান (৬) এবং আলবানি (৭)। আর আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আস-সিয়ার (২০/১১) এবং তারিখুল ইসলাম (৩৬/৩১৮)।

(২) দেখুন: হাদিয়াতুল আরিফিন (৬/৩৭২)।

(৩) দেখুন: ফয়জুল কাদির (১/৯৪)।

(৪) দেখুন: কানযুল উম্মাল (৮/৫৮০)।

(৫) দেখুন: কাশফুজ জুনুন (১/৩৭০)।

(৬) দেখুন: তারিখুল আদাবিল আরাবি (৩/৬১৬)।

(৭) দেখুন: ফিহরিস মাখতুতাত আয-জাহিরিয়্যাহ (৫/৪৫৫) এবং আল-ইরওয়া (৩/৯৮)।