(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: -)
الشرح المختصر لنخبة الفكر   (أبو المنذر المنياوي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الشرح المختصر لنخبة الفكر لابن حجر العسقلاني

المؤلف: أبو المنذر محمود بن محمد بن مصطفى بن عبد اللطيف المنياوي

الناشر: المكتبة الشاملة، مصر

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 116

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع (الطبعة الورقية)]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو الحجة 1432

নুখবাতুল ফিকারের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা   (আবু আল-মুনজির আল-মিনিয়াউই)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: ইবনে হাজার আল-আসকালানি রচিত নুখবাতুল ফিকারের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

লেখক: আবু আল-মুনজির মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা বিন আব্দুল লতিফ আল-মিনিয়াউই

প্রকাশক: আল-মাকতাবা আশ-শামিলা، মিশর

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ (কাগজের সংস্করণ)]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ জিলহজ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ১)
الشرح المختصر لنخبة الفكر

للإمام المحدث الحافظ أحمد بن علي ابن حجر العسقلاني

المتوفى سنة 852 هجرية

تأليف الفقير إلى عفو ربه الغني:

أبي المنذر: محمود بن محمد بن مصطفى المنياوي

عفا الله عنه.

الطبعة الأولى

1432 هـ/2011 م

المكتبة الشاملة
নুখবাতুল ফিকার-এর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

ইমাম, মুহাদ্দিস (المحدث), হাফিজ (الحافظ) আহমাদ বিন আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানী-এর মূল রচনার

মৃত্যু ৮৫২ হিজরি

রচনায় তাঁর অভাবমুক্ত রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী দরিদ্র বান্দা:

আবু আল-মুনযির: মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-মিনইয়াউয়ি

আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।

প্রথম সংস্করণ

১৪৩২ হিজরি/২০১১ খ্রিষ্টাব্দ

আল-মাকতাবাতুশ শামিলা
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف

الطبعة الأولى

1432 هـ / 2011 م

رقم الإيداع بالمكتبة الشاملة 3/ 2011
প্রকাশনা স্বত্ব লেখকের নিকট সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪৩২ হিজরি / ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

মাকতাবা শামিলায় ভুক্তি নম্বর ৩/ ২০১১
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ৩)
الشرح المختصر لنخبة الفكر

 

‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}.

أما بعد …

فهذا شرح مختصر لنخبة الفكر للحافظ ابن حجر العسقلاني ضمن فعاليات الدورة المكثفة، والله أسأل الإعانة والقبول والسداد.

ومنهجي في شرح النخبة توضيح وتحليل عباراتها في صورة مسائل وحواشي، وإن كان هناك ثمَّ اعتراض على الحافظ من بعض تلامذته فإنني أذكره وأذكر الجواب عنه إن كان غير وجيه، وفي ذلك فائدة كبيرة بتثبيت المعاني، وشحذ الأذهان.

ولما كانت طبيعة هذه الدورات المكثفة - والتي تتطلب الانتهاء من المتون موضع الدراسة في فترة وجيزة - تتطلب عدم التوسع بذكر المتعلقات الخارجة عن صلب المتن فقد التزمت بذلك إلا فيما لابد منه مما يخدم المتن.

والله أسأل أن يتقبل هذا العلم وأن يدخر لي أجره، وأن ينفع به، إنه ولي ذلك وهو القادر عليه.

 

‌‌التعريف بالماتن (1):

صاحب المتن هو: أحمد بن علي بن محمد بن محمد بن علي بن محمود بن حجر الكناني الشافعي ولقب بالعسقلاني نسبة إلى عسقلان (من مدن فلسطين) وابن حجر لقب لبعض آبائه. برع في علوم الحديث بجميع فنونه، وتصدى لنشر الحديث ونظرا لإتقان حفظه صار يعرف بالحافظ. ومن أهم مصنفاته: الإصابة في أسماء الصحابة، تهذيب التهذيب، التقريب، فتح الباري شرح صحيح البخاري، بلوغ المرام، تعجيل المنفعة،

--------------------------------------------

(1) وسوف يأتي التعريف بالمتن ضمن كلام الماتن قريبا بإذن الله.
নুখবাতুল ফিকার-এর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

 

‌‌ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং সতর্ক থাকো রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।}

অতঃপর …

এটি নিবিড় কোর্সের (Daurah) অন্তর্ভুক্ত হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার আসকালানী রচিত 'নুখবাতুল ফিকার'-এর একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা। আল্লাহর কাছে আমি সাহায্য, কবুলিয়ত ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি।

নুখবাতুল ফিকার ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি হলো এর বাক্যগুলোকে বিভিন্ন মাসআলা (مسائل) ও টীকা (حواشي) আকারে বিশ্লেষণ ও স্পষ্ট করা। যদি হাফেজের ওপর তাঁর কোনো ছাত্রের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থেকে থাকে, তবে আমি সেটি উল্লেখ করেছি এবং যদি তা যুক্তিসঙ্গত না হয় তবে তার উত্তরও প্রদান করেছি। এর ফলে অর্থসমূহ সুদৃঢ় করার এবং মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ফায়দা অর্জিত হবে।

যেহেতু এই নিবিড় কোর্সগুলোর প্রকৃতি এমন যে এখানে খুব অল্প সময়ের মধ্যে নির্ধারিত পাঠ্য সমাপ্ত করার প্রয়োজন হয়, তাই আমি মূলপাঠ (متن)-এর বাইরের অপ্রাসঙ্গিক আলোচনার দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করেছি; তবে মূলপাঠের (متন) সেবার জন্য যতটুকু না বললেই নয়, তা উল্লেখ করেছি।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই ইলমকে কবুল করেন, এর সওয়াব আমার জন্য সঞ্চিত রাখেন এবং এর দ্বারা কল্যাণ দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং তিনি এর ওপর ক্ষমতাবান।

 

‌‌মূল গ্রন্থকার (الماتن) পরিচিতি(১):

মূল গ্রন্থের রচয়িতা হলেন: আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন হাজার আল-কিনানী আশ-শাফিঈ। ফিলিস্তিনের অন্যতম শহর আসকালানের অধিবাসী হওয়ার কারণে তাঁকে 'আসকালানী' উপাধি দেওয়া হয়েছে এবং 'ইবনে হাজার' তাঁর কোনো এক পূর্বপুরুষের উপাধি। তিনি হাদিস শাস্ত্রের সকল শাখায় পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং হাদিস প্রচারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তাঁর প্রখর স্মৃতিশক্তির কারণে তিনি হাফেজ (الحافظ) হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: আল-ইসাবাহ ফি আসমাইস সাহাবা (الصحابة), তাহযীবুত তাহযীব, তাকরীবুত তাহযীব, সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারী, বুলুগুল মারাম এবং তা'জীলুল মানফায়া।

--------------------------------------------

(১) মূল গ্রন্থ (متن) সম্পর্কে আলোচনা অচিরেই গ্রন্থকারের আলোচনার মধ্যেই ইনশাআল্লাহ আসবে।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ৪)
تلخيص الحبير في تخريج أحاديث الرافعي الكبير، إتحاف المهرة وله ديوان شعر وديوان خطب ونخبة الفكر وهي موضوع دراستنا. مولده:773هـ بالقاهرة (مصر القديمة). ووفاته:852هـ ودفن بالقاهرة، وقد ترجم له تلميذه السخاوي ترجمة حافلة في مجلد ضخم، وقد طبع في ثلاث مجلدات بدار ابن حزم بعنوان (الجواهر والدرر في ترجمة شيخ الإسلام ابن حجر).

 

‌‌مقدمة الماتن (1):

قال الإمام الحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني- رحمه الله تعالى-: (بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله الذي لم يزل عليماً قديراً وصلى الله على سيدنا محمد الذي أرسله إلى الناس كافةً بشيراً ونذيراً، وعلى آل محمد وصحبه وسلم تسليماً كثيراً).

فيه مسائل ومنها:

الأولى - بدأ الماتن كغيره من المصنفين بالبسملة لأمور منها:- التأسي بفعل الصحابة

رضي الله عنهم في افتتاحهم المصحف الإمام بالتسمية وتبعهم جميع من كتب المصحف

بعدهم في جميع الأمصار، سواء من يقول بأن البسملة آية من الفاتحة، ومن لا يقول ذلك.

ومنها - الإقتداء بالرسول صلى الله عليه وسلم في مكاتباته إلى الملوك وغيرهم، كما في رسالته صلى الله عليه وسلم إلى هرقل، في الحديث المتفق عليه.

ومنها - العمل بحديث: (كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الرحيم فهو أبتر)، أي ذاهب البركة، والحديث لا يثبت، وقد نقل السخاوي، والسيوطي، وغيرهما عن الحافظ ابن حجر صراحة أنه يجوز العمل بالضعيف في فضائل الأعمال بشروط.

الثانية - بدأ بالحمدلة وفيها نحو الوجوه الثلاث السابقة فقد ابتدأ الصحابة كتابة المصحف الإمام بالفاتحة، وهي تبدأ بالحمد بعد البسملة، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يبدأ خطبته بالحمد، وأيضاً قد ورد في ذلك حديث مرسل لا يثبت، رواه أبو داود (4840) (4/ 262) وقال: (رواه يونس، وعقيل، وشعيب وسعيد بن عبدالعزيز عن الزهري عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلاً)، وكذا صوب الدارقطني الإرسال في الحديث في سننه (1/ 229) ولفظه: (كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه بالحمد لله فهو أقطع)، وقد اشتهر الكلام على هذا الحديث وانظر الإرواء (2) (1/ 32) وعلى فرض ثبوت الحديثين فالأولية في البدء بالبسملة أولية حقيقية مطلقة، وأما الأولية في البدء بالحمدلة

--------------------------------------------

(1) وهذه العناوين من وضعي.
তালখিসুল হাবির ফি তাখরিজি আহাদিসি রাফেয়িল কাবির, ইতহাফুল মাহারা এবং তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ ও একটি খুতবা সংকলন রয়েছে এবং নুখবাতুল ফিকার, যা আমাদের এই আলোচনার বিষয়বস্তু। তাঁর জন্ম: ৭৭৩ হিজরিতে কায়রোতে (পুরাতন মিশর)। তাঁর মৃত্যু: ৮৫২ হিজরিতে এবং কায়রোতে সমাহিত করা হয়। তাঁর ছাত্র সাখাভী তাঁর একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী একটি বিশাল খণ্ডে রচনা করেছেন, যা দার ইবনুল হাজম থেকে তিন খণ্ডে 'আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ফি তারজামাতি শায়খিল ইসলাম ইবনে হাজার' শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।

 

‌মূল লেখকের (الماتن) ভূমিকা (১):

ইমাম হাফিজ (الحافظ) আহমদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সর্বদা সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান ছিলেন এবং দরুদ বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর, যাকে তিনি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে সমগ্র মানবজাতির কাছে প্রেরণ করেছেন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর অনেক অনেক সালাম বর্ষিত হোক)।

এতে কিছু মাসআলা রয়েছে, তার মধ্যে:

প্রথমত - মূল লেখক (الماتن) অন্যান্য গ্রন্থকারদের মতো 'বিসমিল্লাহ' দিয়ে শুরু করেছেন কিছু কারণে, যার মধ্যে রয়েছে: - সাহাবীগণ (رضي الله عنهم) যখন 'ইমাম মাসহাফ' (মূল কপি) শুরু করেছিলেন, তখন শুরুতে 'তাসমিয়া' (বিসমিল্লাহ) লিখেছিলেন এবং তাঁদের পরবর্তী সকল শহরের মাসহাফ লেখকরা তাঁদের অনুসরণ করেছেন। চাই তিনি বিসমিল্লাহকে সুরা ফাতিহার একটি আয়াত মনে করুন বা না করুন।

অন্য কারণ হলো - রাজা-বাদশাহ ও অন্যদের কাছে চিঠিপত্র আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করা, যেমনটি ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه) হাদিসে বর্ণিত রোম সম্রাট হেরাক্লিয়াসের কাছে পাঠানো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিঠিতে ছিল।

অন্য কারণ হলো - এই হাদিসের ওপর আমল করা: (প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর নাম দিয়ে শুরু করা হয় না তা লেজকাটা), অর্থাৎ বরকতহীন। তবে হাদিসটি সাব্যস্ত (يثبت) নয়। সাখাভী, সুয়ূতী এবং অন্যান্যরা হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার থেকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, নেক আমলের ফযিলতের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে দুর্বল (الضعيف) হাদিসের ওপর আমল করা জায়েজ।

দ্বিতীয়ত - তিনি 'হামদ' (আল্লাহর প্রশংসা) দিয়ে শুরু করেছেন এবং এতেও পূর্বোক্ত তিনটি কারণ রয়েছে। সাহাবীগণ ইমাম মাসহাফ লেখা শুরু করেছিলেন সুরা ফাতিহা দিয়ে, যা বিসমিল্লাহর পরেই হামদ দিয়ে শুরু হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবা হামদ দিয়ে শুরু করতেন। এছাড়া এ বিষয়ে একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা সাব্যস্ত (يثبت) নয়। আবু দাউদ (৪৮৪০) (৪/ ২৬২) এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: (ইউনুস, আকিল, শুআইব এবং সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ এটি যুহরি থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্নভাবে (مرسلاً) বর্ণনা করেছেন)। একইভাবে দারাকুতনি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে (১/ ২২৯) হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (الإرسال) হওয়াকে সঠিক বলেছেন এবং এর শব্দ হলো: (প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করা হয় না তা বিচ্ছিন্ন বা অসম্পূর্ণ)। এই হাদিসের ওপর আলোচনা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, দেখুন আল-ইরওয়া (২) (১/ ৩২)। যদি উভয় হাদিসকে সাব্যস্ত (ثبوت) ধরে নেওয়া হয়, তবে বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করা হলো প্রকৃত ও নিরঙ্কুশ প্রারম্ভিকা, আর হামদ দিয়ে শুরু করা হলো...

--------------------------------------------

(১) এই শিরোনামগুলো আমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ৫)
فهي أولية نسبية، أي بالنسبة لما يأتي بعدها.

الثالثة- وزاد في الشرح بعد قوله: (عليما قديرا) قوله: (حيا قيوما مريدا سميعا بصيرا).

والصفات السبع الثبوتية عند الأشاعرة هي قسمان:

الصفات العقلية، وضابطها: ما تتوقف عليه المعجزة من الصفات وهي (القدرة والإرادة والعلم والحياة).

والصفات السمعية، وضابطها: ما لا تتوقف عليه المعجزة من الصفات وهي: (السمع والبصر والكلام). وطريقة إثباتهم لهذه الصفات تختلف عن طريقة السلف الصالح في إثباتها، بيان الفرق بين الطريقتين مما لا يتسع المجال لذكره الآن.

والأشاعرة لا ينفون بقية الصفات لكنهم يقولون بأنه لا يلزم المسلم أن يثبت سوى هذه الصفات السبع. أما غيرها فهو غير ملزم بإثباتها لأنها تابعة لهذه الصفات السبع. ولكن حقيقة مذهبهم هو إثباتها مجازاً فقط لا حقيقة.

وأما بالنسبة لصفة القيومية فهي ليست عندهم من الصفات المعنوية السبع التي يثبتونها، بل هي من الصفات النفسية أو الذاتية عندهم. والصفات النفسية عندهم هي: الوجود والقدم والبقاء والوحدانية والقيام بالذات والمخالفة للحوادث.

وبالنظر لعبارة ابن حجر في النزهة نجد أنه قد أثبت ستا من الصفات السبع الثبوتية وهي: (العلم والقدرة والحياة والإرادة والسمع والبصر) ولم يثبت صفة الكلام، وأضاف صفة القيومية.

وهذا مما دفع الكثيرين إلى إثبات تأثر ابن حجر بالأشاعرة واضطرابه في مسألة الأسماء والصفات.

قال د. سفر الحوالي في كتابه منهج الأشاعرة في العقيدة: (والذي أراه أن الحافظ رحمه الله أقرب شيء إلى عقيدة مفوضة الحنابلة كأبي يعلى ونحوه ممن ذكرهم شيخ الإسلام في درء تعارض العقل والنقل ووصفهم بمحبة الآثار والتمسك بها لكنهم وافقوا بعض أصول المتكلمين وتابعوهم ظانين صحتها عن حسن نية. ولو قيل إن الحافظ رحمه الله كان متذبذبا في عقيدته لكان ذلك أقرب الى الصواب كما يدل عليه شرحه لكتاب التوحيد والله اعلم).

ويقول الشيخ أبو عبد الله ربيع بن محمد السعودي في مقدمة تحقيقه لكتاب اليواقيت والدرر شرح نخبة الفكر للمناوي عندما ترجم للحافظ ابن حجر: (لا يختلف اثنان في
এটি একটি আপেক্ষিক অগ্রাধিকার (أولية نسبية), অর্থাৎ যা এর পরে আসবে তার তুলনায়।

তৃতীয়- তিনি ব্যাখ্যায় তাঁর উক্তি: (সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান)-এর পর তাঁর উক্তি: (চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক, ইচ্ছাকারী, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা) কথাটি যুক্ত করেছেন।

আশাইরাদের নিকট সাতটি ইতিবাচক গুণাবলি (الصفات السبع الثبوتية) দুই প্রকার:

যৌক্তিক গুণাবলি (الصفات العقلية), এর সংজ্ঞা হলো: যেসব গুণাবলির ওপর মুজিজা (অলৌকিক ঘটনা) নির্ভর করে এবং সেগুলো হলো (ক্ষমতা, ইচ্ছা, জ্ঞান এবং জীবন)।

এবং শ্রুতিগত গুণাবলি (الصفات السمعية), এর সংজ্ঞা হলো: যেসব গুণাবলির ওপর মুজিজা নির্ভর করে না এবং সেগুলো হলো: (শ্রবণ, দর্শন এবং কথা)। এই গুণাবলি প্রমাণের ক্ষেত্রে তাদের পদ্ধতি সালাফে সালেহীন (السلف الصالح)-দের পদ্ধতির চেয়ে ভিন্ন। এই দুই পদ্ধতির পার্থক্য বর্ণনার সুযোগ এখানে নেই।

আশাইরাগণ অবশিষ্ট গুণাবলিকে অস্বীকার করেন না, তবে তারা বলেন যে, একজন মুসলিমের জন্য এই সাতটি গুণাবলি ছাড়া অন্য কিছু সাব্যস্ত করা আবশ্যক নয়। আর অন্যান্য গুণাবলি সাব্যস্ত করা তার জন্য বাধ্যতামূলক নয় কারণ সেগুলো এই সাতটি গুণের অনুগামী। কিন্তু তাদের মাযহাবের প্রকৃত হাকিকত হলো এগুলোকে কেবল রূপকভাবে সাব্যস্ত করা, প্রকৃত অর্থে নয়।

আর 'কাইয়ুমিয়্যাহ' (সবকিছুর ধারক) গুণের ব্যাপারে বলা যায় যে, এটি তাদের নিকট সাব্যস্তকৃত সাতটি অর্থবাচক গুণাবলি (الصفات المعنوية)-র অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এটি তাদের নিকট সত্তাগত গুণাবলি (الصفات النفسية) বা স্বকীয় গুণের অন্তর্ভুক্ত। তাদের নিকট সত্তাগত গুণাবলি (الصفات النفسية) হলো: অস্তিত্ব, অনাদিত্ব, অমরত্ব, একত্ববাদ, স্বীয় সত্তায় বিদ্যমান থাকা এবং সৃষ্টির সাথে বৈসাদৃশ্য।

নুঝাহ-তে ইবনে হাজারের বক্তব্য পর্যবেক্ষণ করলে আমরা দেখতে পাই যে, তিনি সাতটি ইতিবাচক গুণাবলি (الصفات الثبوتية)-র মধ্যে ছয়টি সাব্যস্ত করেছেন, সেগুলো হলো: (জ্ঞান, ক্ষমতা, জীবন, ইচ্ছা, শ্রবণ এবং দর্শন) এবং তিনি 'কালাম' (কথা) গুণটি সাব্যস্ত করেননি, বরং 'কাইয়ুমিয়্যাহ' গুণটি যোগ করেছেন।

আর এটিই অনেককে এই সিদ্ধান্তে উপনীত করেছে যে, ইবনে হাজার আশাইরাদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন এবং আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলি) সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর মধ্যে অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল।

ড. সাফার আল-হাওয়ালি তাঁর 'মানহাজুল আশাইরা ফিল আকিদা' গ্রন্থে বলেন: (আমার দৃষ্টিতে হাফিজ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—আকিদার ক্ষেত্রে হাম্বলিদের মুফাওবিদা (مفوضة الحنابلة)-দের আকিদার সবচেয়ে নিকটবর্তী ছিলেন, যেমন আবু ইয়ালা এবং তাঁর মতো অন্যরা যাঁদের কথা শায়খুল ইসলাম 'দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদেরকে আসার (الآثار)-এর প্রতি ভালোবাসা ও তা আঁকড়ে ধরার গুণের দ্বারা বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাঁরা মুতাকাল্লিমিন (المتكلمين)-দের কিছু মূলনীতির সাথে একমত হয়েছিলেন এবং সেগুলোকে সঠিক মনে করে সরল বিশ্বাসে অনুসরণ করেছিলেন। যদি বলা হয় যে, হাফিজ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—তাঁর আকিদাগত অবস্থানে দোদুল্যমান ছিলেন, তবে সেটিই সত্যের অধিক নিকটবর্তী হবে, যেমনটি কিতাবুত তাওহীদের ওপর তাঁর ব্যাখ্যা থেকে প্রতীয়মান হয়। আল্লাহই ভালো জানেন)।

শায়খ আবু আবদুল্লাহ রবি বিন মুহাম্মদ আল-সাউদি মুনাওয়ী রচিত নুখবাতুল ফিকার-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-ইয়াওয়াকিত ওয়াদ দুরার-এর তাহকিকের ভূমিকায় হাফিজ ইবনে হাজারের জীবনী আলোচনা করার সময় বলেন: (এ বিষয়ে দুজন দ্বিমত করবেন না যে...
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ৬)
مكانة ابن حجر وعلمه غير أن الكمال المطلق لله عز وجل وحده ولم تخل حياة ابن حجر من بعض الهنات. والذي يهمنا أن ننبه عليه أن ابن حجر كان يميل إلى تأويل الصفات ولاشك أن ذلك يخلف منهج السلف الذين كانوا يأخذون الصفات على ظاهرها من غير تأويل ولا تعطيل وقد تكون هذه سمة العصر الذي نشأ فيه ابن حجر ولعل عتب العلماء عليه كحافظ ثاقب الفهم واسع المعرفة متمكن في اخص العلوم ونسأل الله أن يتجاوز عنه وأن يغفر لنا وله).

وقد ألفت بعض الكتب التي تناولت المخالفات العقدية للحافظ في فتح الباري ومنها:

رسالة جامعية بعنوان: (منهج ابن حجر في العقيدة من خلال كتابه فتح الباري) في ثلاث مجلدات.

ومنها: المخالفات العقدية في الفتح للشيخ البراك.

ومنها: التنبيه على المخالفات العقدية في فتح الباري للشيخ علي الشبل.

 

‌‌سبب تأليف الرسالة:

قال رحمه الله: -[(أما بعد فان التصانيفَ في اصطلاح أهل الحديثِ قد كثرتْ وبُسطتْ واخْتُصرتْ فسألني بعضُ الإخوانِ أن ألخصَ له المُهِمَّ من ذلك فأجبتُه إلى سؤالِهِ؛ رجاءَ الاندراجِ في تلكَ المسالِكِ)]-.

فيه مسائل ومنها:

الأولى - قوله: (فسألني بعضُ الإخوانِ) قال على القاري في "شرح النخبة" (ص:148): (قيل: هو عز الدين بن جماعة. وقيل: هو الشيخ شمس الدين محمد بن محمد الزركشي)،وجزم السخاوي في "الضوء اللامع" بأن الزركشي في الذي أبهمه الشيخ هنا.

الثانية - مميزات النخبة (1):

- الاختصار، قال ابن حجر في النزهة (ص/35): (لخصته في أوراق لطيفة، سميتها: "نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر" على ترتيب ابتكرته، وسبيل انتهجته، مع ما ضممت إليه من شوارد الفرائد، وزوائد الفوائد).

- التحرير، وهذا ظاهر من اسمها فنخبة الشيء ما ينتخب منه ويختار، والفكر جمع

فكرة والفكرة هي النشاط الذهني من تحليل وتركيب وتنسيق.

- جودة الترتيب الميسر للفهم والحفظ، كما قال أنه رتبها على ترتيب ابتكره، وسبيل

--------------------------------------------

(1) انظر مقدمة الشيخ نور الدين عتر لشرح النخبة (ص/22).
ইবনে হাজারের মর্যাদা ও জ্ঞান অনস্বীকার্য, তবে পরিপূর্ণতা কেবল একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য এবং ইবনে হাজারের জীবনও কিছু বিচ্যুতি থেকে মুক্ত ছিল না। আমাদের যা সজাগ করা প্রয়োজন তা হলো, ইবনে হাজার সিফাত বা গুণাবলির অপব্যাখ্যার (تأويل) দিকে ঝুঁকেছিলেন এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি সালাফদের মানহাজ বা পদ্ধতির পরিপন্থী, যারা গুণাবলিকে কোনো অপব্যাখ্যা (تأويل) কিংবা অর্থহীন (تعطيل) করা ছাড়াই সেগুলোর বাহ্যিক অর্থের (ظاهر) ওপর গ্রহণ করতেন। সম্ভবত এটি সেই যুগের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল যাতে ইবনে হাজার বেড়ে উঠেছিলেন। সম্ভবত তীক্ষ্ণ বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন, ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী এবং বিশেষ বিদ্যায় পারদর্শী একজন হাফিজ (حافظ) হিসেবেই আলেমগণ তাঁর সমালোচনা করেছেন। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে ক্ষমা করেন এবং আমাদের ও তাঁকে মার্জনা করেন।

ফাতহুল বারীতে হাফিজের আকিদাগত বিরোধসমূহ নিয়ে কিছু কিতাব রচিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

একটি একাডেমিক থিসিস যার শিরোনাম: (ফাতহুল বারীর আলোকে ইবনে হাজারের আকিদাগত মানহাজ), তিন খণ্ডে।

আরও রয়েছে: শায়খ বাররাক রচিত 'আল-মুখালাফাত আল-আকিদিয়াহ ফিল ফাতহ'।

আরও রয়েছে: শায়খ আলী আশ-শিবল রচিত 'আত-তানবিহ আলা আল-মুখালাফাত আল-আকিদিয়াহ ফি ফাতহিল বারী'।

 

‌‌রিসালাটি রচনার কারণ:

তিনি (রহ.) বলেন: -[(অতঃপর, হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষার (اصطلاح) বিষয়ে কিতাবসমূহ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে এবং সংক্ষেপিত হয়েছে। তাই কিছু ভাই আমাকে এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে সংকলন করে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। ফলে আমি তাঁদের সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছি; এই বিষয়ের পথচারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশায়।)]-

এতে কিছু মাসয়ালা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

প্রথম - তাঁর উক্তি: (কিছু ভাই আমাকে অনুরোধ করেছেন)। মোল্লা আলী কারী 'শারহুন নুখবা' (পৃষ্ঠা: ১৪৮)-এ বলেন: (বলা হয় যে, তিনি হলেন ইজ্জুদ্দীন ইবনে জামাআহ। আবার বলা হয় যে, তিনি হলেন শায়খ শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-জারকাশি)। আর সাখাবী 'আদ-দাও আল-লামি' গ্রন্থে নিশ্চিত করেছেন যে, শায়খ এখানে যাকে অস্পষ্ট রেখেছেন তিনি হলেন জারকাশি।

দ্বিতীয় - নুখবার বৈশিষ্ট্যসমূহ (১):

- সংক্ষিপ্ততা, ইবনে হাজার 'নুজহাতুন নাজার' (পৃষ্ঠা: ৩৫)-এ বলেন: (আমি একে কিছু সংক্ষিপ্ত পাতায় সারসংক্ষেপ করেছি এবং এর নাম দিয়েছি: 'নখবাতুল ফিকার ফি মুসতালাহ আহলিল আসার'। এটি আমি আমার উদ্ভাবিত এক সুশৃঙ্খল বিন্যাস ও নতুন পদ্ধতিতে সাজিয়েছি এবং এতে কিছু দুর্লভ ও বাড়তি উপযোগিতা যুক্ত করেছি)।

- পরিমার্জন (تحرير), আর এটি এর নাম থেকেই স্পষ্ট। কোনো জিনিসের সারসংক্ষেপ বা সেরা অংশ (نخبة) হলো যা তা থেকে নির্বাচিত ও শ্রেষ্ঠ অংশ। আর 'ফিকার' হলো 'ফিকরাহ' বা চিন্তার বহুবচন, আর চিন্তা হলো বিশ্লেষণ, গঠন ও বিন্যাসের মানসিক প্রক্রিয়া।

- অনুধাবন ও মুখস্থ করার জন্য সহজতর বিন্যাস, যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি তাঁর উদ্ভাবিত এক সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন শায়খ নূরুদ্দীন ইতর এর শারহুন নুখবার ভূমিকা (পৃষ্ঠা: ২২)।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ৭)
انتهجه.

- الشمول، قال الحافظ في "النزهة" (ص/39) بعد أن ذكر طائفة من كتب المتقدمين والمحدثين في هذا العلم: (إلى أن جاء الحافظ الفقيه تقي الدين أبو عمرو عثمان بن الصلاح عبد الرحمن الشهرزوري نزيل دمشق، فجمع لما ولي تدريس الحديث بالمدرسة الأشرفية - كتابه المشهور، فهذب فنونه، وأملاه شيئا بعد شيء، فلهذا لم يحصل ترتيبه على الوضع المناسب، واعتنى بتصانيف الخطيب المتفرقة، فجمع شتات مقاصدها، وضم إليها من غيرها نخب فوائدها، فاجتمع في كتابه ما تفرق في غيره، فلهذا عكف الناس عليه وساروا بسيره، فلا يحصى كم ناظم له ومختصر، ومستدرك عليه ومقتصر، ومعارض له ومنتصر)، وقال السخاوي في "الجواهر والدرر" (2/ 677): (نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر، كراسة فيها مقاصد الأنواع لابن الصلاح وزيادة أنواع لم يذكرها، فاحتوت على أكثر من مائة نوع من أنواع علوم الحديث).

- أنها خلاصة علم هذا العلم في علم أصول الحديث، وقد قال السخاوي في " الجواهر" (2/ 659): (سمعته يقول: لست راضيا عن شيء من تصانيفي لأني عملتها في ابتداء الأمر. ثم لم يتهيأ لي من يحررها معي سوى شرح البخاري ومقدمته والمشتبه والتهذيب ولسان الميزان. بل كان يقول: لو استقبلت من أمري ما استدبرت لم أتقيد بالذهبي، ولجعلته كتابا مبتكرا، بل رأيته في مواضع أثنى على شرح البخاري، والتغليق والنخبة).

وقد انتهي ابن حجر في تأليفها علم 818 هـ أي وهو ابن خمس وأربعين سنة، وقد أقرأ هذا الكتاب قراءة بحث ودرس قبل وفاته بسنة واحدة أي عام (851 هـ) وقرأها عليه أحد علماء دمشق وهو ابن الأخصاصي ونسخته عليها توقيع ابن حجر.

 

‌‌تقسيم الخبر باعتبار طرقه والمتواتر:

قال رحمه الله: -[(فأقول: الخبر إما أن يكون له: طرق بلا عدد معين، أو مع حصر بما فوق الاثنتين، أو بهما، أو بواحد. فالأول: المتواتر المفيد للعلم اليقيني بشروطه).]-

فيه مسائل منها:

 

‌‌الأولى - الخبر والحديث.

قال ابن حجر في "النزهة" (ص/35): (الخبر: عند علماء هذا الفن مرادف للحديث.

وقيل: الحديث: ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم، والخبر: ما جاء عن غيره، ومن
বিকাশ ঘটিয়েছেন।

- ব্যাপকতা, হাফেজ (ইবনে হাজার) ‘নুজহা’ গ্রন্থে (পৃ. ৩৯) এই শাস্ত্রে পূর্বসূরি (المتقدمين) এবং হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) একদল লেখকের কিতাবসমূহ উল্লেখ করার পর বলেন: (পরবর্তীতে হাফেজ ফকিহ তাকিউদ্দীন আবু আমর ওসমান ইবনুস সালাহ আবদুর রহমান আশ-শাহরাযুরি দামেস্কের অধিবাসী হয়ে সেখানে আগমন করেন। যখন তিনি আশরাফিয়া মাদরাসায় হাদিসের পাঠদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাবটি সংকলন করেন। তিনি এর বিষয়বস্তুগুলোকে সুবিন্যস্ত করেন এবং ধারাবাহিকভাবে সেগুলো শ্রুতিলিপি প্রদান করেন। এই কারণে এর বিন্যাস যথাযথ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়নি। তিনি খতিব বাগদাদীর বিক্ষিপ্ত রচনাবলির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন এবং সেগুলোর উদ্দেশ্যগুলোকে একত্রিত করেন। অন্যান্য উৎস থেকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ নির্যাসগুলো এতে যোগ করেন। ফলে অন্যান্য কিতাবে যা যা বিক্ষিপ্ত ছিল, তা তাঁর এই কিতাবে একত্রিত হয়েছে। একারণেই মানুষ এই কিতাবের প্রতি ঝুঁকে পড়ে এবং তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে। ফলে এই কিতাবকে কতজন যে পদ্যে রূপান্তর করেছেন, সংক্ষেপ করেছেন (مختصر), এর পরিপূরক (مستدرক) লিখেছেন এবং পরিমার্জন করেছেন, কিংবা এর বিরোধিতা করেছেন অথবা সমর্থন করেছেন, তা গণনা করা সম্ভব নয়)। আস-সাখাভী ‘আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার’ গ্রন্থে (২/৬৭৭) বলেন: (নুখবাতুল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার এমন একটি পুস্তিকা যাতে ইবনুস সালাহ বর্ণিত প্রকারগুলোর (أنواع) মূল উদ্দেশ্য এবং অতিরিক্ত আরও কিছু প্রকার (أنواع) রয়েছে যা তিনি উল্লেখ করেননি। ফলে এটি হাদিস বিজ্ঞানের একশোরও বেশি প্রকারকে (أنواع) অন্তর্ভুক্ত করেছে)।

- এটি হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث) শাস্ত্রের এই ইলমের একটি সারসংক্ষেপ (خلاصة)। আস-সাখাভী ‘আল-জাওয়াহির’ গ্রন্থে (২/৬৫৯) বলেন: (আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: আমি আমার কোনো রচনাবলি নিয়ে সন্তুষ্ট নই, কারণ আমি সেগুলো প্রাথমিক অবস্থায় লিখেছিলাম। এরপর সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এর ভূমিকা, আল-মুশতাবিহ, আত-তাহযীব এবং লিসানুল মিজান ছাড়া অন্য কোনো কিতাব আমার সাথে পরিমার্জন করার সুযোগ হয়নি। বরং তিনি বলতেন: আমি যদি বিষয়গুলো আগে অনুধাবন করতে পারতাম তবে আমি আয-যাহাবীর অনুসরণে সীমাবদ্ধ থাকতাম না এবং একে একটি মৌলিক (مبتكرا) কিতাব হিসেবে তৈরি করতাম। বরং আমি তাঁকে বিভিন্ন স্থানে সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আত-তাগলিক এবং আন-নুখবা-এর প্রশংসা করতে দেখেছি)।

ইবনে হাজার ৮১৮ হিজরিতে এটি রচনা শেষ করেন, অর্থাৎ তখন তাঁর বয়স ছিল পঁয়তাল্লিশ বছর। তিনি তাঁর মৃত্যুর এক বছর আগে অর্থাৎ ৮৫১ হিজরিতে এই কিতাবটি গবেষণা ও পাঠের মাধ্যমে পড়িয়েছেন। দামেস্কের অন্যতম আলেম ইবনুল আখসাসি তাঁর কাছে এটি পাঠ করেন এবং তাঁর কপির ওপর ইবনে হাজারের স্বাক্ষর রয়েছে।

 

‌‌সূত্রসমূহ (طرق) এবং নিরবচ্ছিন্নতার (المتواتر) ভিত্তিতে সংবাদ (الخبر) বিন্যাস:

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: -[(আমি বলি: সংবাদ (الخبر) হয় এমন হবে যে যার নির্দিষ্ট সংখ্যা ছাড়াই অনেকগুলো সূত্র (طرق) রয়েছে, অথবা দুইয়ের অধিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ, অথবা দুইটির মধ্যে, অথবা একটির মধ্যে। প্রথম প্রকারটি হলো নিরবচ্ছিন্ন (المتواتر), যা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে নিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقيني) প্রদান করে)]।-

এতে কয়েকটি মাসয়ালা (مسائل) রয়েছে, যার মধ্যে:

 

‌‌প্রথম - সংবাদ (الخبر) এবং হাদিস।

ইবনে হাজার ‘নুজহা’ গ্রন্থে (পৃ. ৩৫) বলেন: (এই শাস্ত্রের আলেমগণের নিকট সংবাদ (الخبر) হলো হাদিসের সমার্থক (مرادف)।

বলা হয়ে থাকে: হাদিস হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর সংবাদ (الخبر) হলো যা অন্য কারো থেকে বর্ণিত হয়েছে, এবং
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ৮)
ثمة قيل لمن يشتغل بالتواريخ وما شاكلها: "الإخباري"، ولمن يشتغل بالسنة النبوية: "المحدث". وقيل: بينهما عموم وخصوص مطلق (1): فكل حديث خبر، من غير عكس، وعبر هنا بـ"الخبر" ليكون أشمل).

قوى الحافظ القول بالترادف، وضعف القولين الآخرين، فإن قيل لماذا عبر بالخير مع أنه مرادف للحديث وقال: ليكون أشمل.

فالجواب أن الخبر بالنسبة للقول الأول مرادف للحديث فكلما استعمل الخبر دل على استعماله الحديث لترادفهما.

وأما على القول الثالث فشمولية الخبر ظاهرة؛ لأنه أعم يشمل المرفوع والموقوف والمقطوع بخلاف الحديث فهو خاص بالمرفوع.

وأما على القول الثاني (2) فالمقصود أنه إذا اعتبرت هذه الأمور في الخبر الذي هو وارد عن غير النبي صلى الله عليه وسلم فبالأولى اعتبارها في المرفوع.

 

‌‌الثانية - المتواتر:

اشترط الحافظ للمتواتر شروطا وهي:

الشرط الأول كثرة العدد:

صرح الحافظ بأن العدد الذي يتحقق به التواتر غير محصور بعدد حيث قال في "النزهة" (ص/37): (وتلك الكثرة أحد شروط التواتر إذا وردت بلا حصر عدد معين).

قال الشيخ السماحي في الرواية (ص/50): (وقوله: (بلا حصر عدد معين) أي إذا وردت الطرق فغير معتبر فيها عدد معين يحصر أفرادها، بخلاف المحصور بواحد أو باثنين أو بأقل من ثلاثة، فمراده (بلا حصر عدد معين) عدم اشتراطه، لأنه في مقابلة المحصور بعدد معين، ولأنه أراد الرد على من حصره في عدد، لا أن شرطه ألا يكون محصورا بعدد معين).

إلا أنه قد يفهم من كلام الحافظ الآتي أن هذه الكثرة تبدأ من العشرة حيث قال في "النزهة" (ص/37): (فهو _ أي الخبر _ باعتبار وصوله إلينا إما أن يكون له طرق أي أسانيد كثيرة، لأن طُرُقاً جمع طريق، وفعيل في الكثرة يجمع على فُعُل بضمتين، وفي

--------------------------------------------

(1) المقصود منه هو أن يكون هناك لفظان: أحدهما دال على معنى الآخر كله وزيادة، مثل: إنسان، ومؤمن، فإنسان تشمل المؤمن وغير المؤمن؛ فنقول: بينهما عموم وخصوص مطلق، وهكذا: حديث وخبر. انظر: حاشية عتر على هذا الموضع (ص/41).

(2) انظر قضاء الوطر (1/ 454).
অতঃপর ইতিহাস এবং এই জাতীয় বিষয় নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের "ইতিহাসবিদ (الإخباري)" বলা হয়, আর যারা নববী সুন্নাহ নিয়ে কাজ করেন তাদের "হাদিস বিশারদ (المحدث)" বলা হয়। এবং বলা হয়েছে: তাদের উভয়ের মধ্যে সাধারণ ও বিশেষের নিরঙ্কুশ সম্পর্ক বা 'আম ও খাস মুতলাক (عموم وخصوص مطلق) (১) বিদ্যমান: ফলে প্রত্যেক হাদিসই খবর (সংবাদ), কিন্তু এর বিপরীতটি (অর্থাৎ প্রত্যেক খবর হাদিস হওয়া) আবশ্যক নয়। এখানে "খবর (الخبر)" শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে যেন তা অধিকতর ব্যাপক (أشمل) হয়।

হাফিজ (ইবনে হাজার) শব্দদ্বয় সমার্থক হওয়ার মতটিকে শক্তিশালী বলেছেন এবং অন্য দুটি মতকে দুর্বল (ضعف) সাব্যস্ত করেছেন। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, হাদিসের সমার্থক হওয়া সত্ত্বেও কেন তিনি খবর শব্দটি ব্যবহার করলেন? উত্তরে তিনি বলেছেন: যেন তা অধিকতর ব্যাপক হয়।

এর উত্তর হলো—প্রথম অভিমত অনুযায়ী 'খবর' শব্দটি হাদিসের সমার্থক; তাই যখনই 'খবর' শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তাদের সমার্থকতা হেতু তা 'হাদিস' ব্যবহারের অর্থই প্রদান করে।

আর তৃতীয় অভিমত অনুযায়ী 'খবর'-এর ব্যাপকতা স্পষ্ট; কারণ তা অধিকতর সাধারণ (أعم), যা মারফু (المرفوع), মাওকুফ (الموقوف) এবং মাকতু (المقطوع) বর্ণনাকে অন্তর্ভুক্ত করে। পক্ষান্তরে হাদিস কেবল মারফু (المرفوع) বর্ণনার সাথে সুনির্দিষ্ট।

আর দ্বিতীয় অভিমত (২) অনুযায়ী উদ্দেশ্য হলো, যদি নবী (সা.) ব্যতীত অন্য কারো থেকে বর্ণিত 'খবর'-এর ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো বিবেচিত হয়, তবে মারফু (المرفوع) বর্ণনার ক্ষেত্রে তা বিবেচনা করা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত।

 

‌‌দ্বিতীয় - মুতাওয়াতির (المتواتر):

হাফিজ মুতাওয়াতির (المتواتر) হাদিসের জন্য কিছু শর্তারোপ করেছেন, আর সেগুলো হলো:

প্রথম শর্ত—বর্ণনাকারীর আধিক্য (كثرة العدد):

হাফিজ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যে সংখ্যার মাধ্যমে তাওয়াতুর (التواتر) অর্জিত হয় তা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। তিনি "নুজহাতুন নাযার" (পৃ. ৩৭)-এ বলেছেন: (এবং সেই আধিক্যই তাওয়াতুর-এর অন্যতম শর্ত যখন তা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ না হয়ে বর্ণিত হয়)।

শায়খ সামাহি "আর-রিওয়ায়াহ" (পৃ. ৫০)-এ বলেছেন: (তার উক্তি: "কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ না হয়ে" অর্থাৎ যখন সূত্রগুলো (الطرق) বর্ণিত হয়, তখন তার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় যা তাদের সংখ্যাকে সীমাবদ্ধ করবে। এটি এক, দুই বা তিনের কম সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার বিপরীত। তার "কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ না হওয়া" বলার উদ্দেশ্য হলো এটি শর্ত না করা; কারণ তিনি তাদের প্রতিবাদ করতে চেয়েছেন যারা একে নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করেছেন। এর অর্থ এই নয় যে, তার শর্ত হলো একে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ হতে দেওয়া যাবে না)।

তবে হাফিজের নিম্নোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যেতে পারে যে, এই আধিক্য দশ থেকে শুরু হয়। তিনি "নুজহাতুন নাযার" (পৃ. ৩৭)-এ বলেছেন: (সুতরাং খবর—আমাদের কাছে পৌঁছানোর বিবেচনায়—হয়তো তার বহু সূত্র (طرق) তথা সনদ (أسانيد) থাকবে; কারণ 'তুরুক' হলো 'তারিক'-এর বহুবচন, আর 'ফাঈল' (فعيل) ছন্দটি আধিক্য বুঝাতে 'ফাউল' (فُعُل) ছন্দে বহুবচন হয়। আর...

--------------------------------------------

(১) এর উদ্দেশ্য হলো এমন দুটি শব্দ থাকা: যাদের একটি অন্যটির পূর্ণ অর্থ এবং অতিরিক্ত অর্থও প্রদান করে। যেমন: মানুষ এবং মুমিন; 'মানুষ' শব্দটি মুমিন এবং কাফির উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। তাই আমরা বলি: তাদের উভয়ের মধ্যে 'আম ও খাস মুতলাক (عموم وخصوص مطلق) সম্পর্ক রয়েছে। একইভাবে: হাদিস এবং খবর। দেখুন: এই বিষয়ের ওপর ইতর-এর হাশিয়া (পৃ. ৪১)।

(২) দেখুন: কাজাউল ওয়াতার (১/ ৪৫৪)।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ৯)
القلة على أفعلة. والمراد بالطرق الأسانيد) وقال في الفتح (1/ 463): (العشرة آخر جمع القلة وأول جمع الكثرة)، ولعله لهذا الذي ذكره ابن حجر حداً بين القلة والكثرة بالعشرة ذهب السيوطي إلى أن أقل المتواتر عشرة، وعلله بأنه أول جموع الكثرة (1).

وهنا‌‌ ملاحظة وهي أن ابن حجر قد رد هذا المفهوم حيث قال في "النزهة" (ص/37): (لا معنى لتعيين العدد على الصحيح، ومنهم من عينه في الأربعة، وقيل في الخمسة وقيل في السبعة، وقيل في العشرة، وقيل في الاثنى عشر … وتمسك كل قائل بدليل جاء فيه ذكر ذلك العدد فأفاد العلم وليس بلازم أن يطرد في غيره لاحتمال الاختصاص) والجمع بين كلامه هنا أنه إنما رد التعيين والحصر في العشرة لا الإمكان فلا مانع من أن يكون عدد طرق المتواتر عشرة إذا حصل بخبرهم العلم، وإنما لم يحده بهذا الحد لأنه غير مطرد بمعنى أن هذا الحد قد يقيد العلم عند بعض الناس دون بعض تبعاً للقرائن.

الشرط الثاني: أن تحيل العادة تواطؤهم، وتوافقهم على الكذب:

قال الحافظ في "النزهة" (ص/37): (وتلك الكثرة أحد شروط التواتر، إذا وردت بلا حصر عدد معين، بل تكون العادة قد أحالت تواطؤهم على الكذب، وكذا وقوعه منهم اتفاقا من غير قصد).

قال الشيخ الحلبي في نكته على النزهة (ص/56): (نُقِل عن المصنف أنه قال في

الفرق بينهما: إن التواطؤ هو أن يتفق قوم على اختراع معين، بعد المشاورة والتقرير، بأن لا يقول أحد خلاف صاحبه. والتوافق: حصول هذا الاختراع من غير مشاورة بينهم ولا اتفاق؛ يعني: سواء كان عن سهو، أو غلط، أو عن قصد - أي للاختراع والكذب -) كما في حاشية لقط الدرر (ص/26)).

وبيَّن الشيخ السماحي في الرواية (ص/51) بعض القرائن التي قد يستدل بها على عدم التواطؤ أو التوافق على الكذب عادة فقال: (بأن يكونوا مثلا من بلدان متفرقة، وصنائع مختلفة، وأوساط متباينة، لا يجمعهم هوى، ولا يحويهم مكان، ولا تشملهم إمرة سلطان له هوى في جمعهم فأمرهم بالخبر، وهكذا … وقلنا (عادة) أي إن العقل يستند في حكمه على جريان العادة، وسنة الله في خلقه على عدم إمكان اجتماعهم على هذا الأمر، وتواطئهم عليه).

 

ملاحظة:

ذهب قوم إلى اشتراط هذه القرائن في حد التواتر، وهو خطأ، قال طاهر الجزائري في توجيه النظر إلى أصول الأثر (1/ 152): (وأما ذكر العدالة وتباين الأماكن فتأكيد لعدم تواطئهم على الكذب وليس بشرط في التواتر).

الشرط الثالث: تحقق الكثرة من ابتداء الإسناد إلى انتهائه:

قال الحافظ في "النزهة" (ص/38): (فإذا ورد الخبر كذلك، وانضاف إليه أن يستوي

الأمر فيه في الكثرة المذكورة من ابتدائه إلى انتهائه -والمراد بالاستواء: أن لا تنقص الكثرة المذكورة في بعض المواضع، لا أن لا تزيد؛ إذ الزيادة مطلوبة هنا من باب أولى).

ومعنى هذا الشرط أنه لابد من تحقق الكثرة التي توجب العلم من ابتداء السند إلى الانتهاء إلى مَن أخبرهم بالواقعة القولية أو الفعلية؛ لأن خبر كل طبقة وعصر مستقل بنفسه؛ فلابد فيه من ذلك، وليس المراد التماثل في ذكر العدد.

الشرط الرابع: أن يكون مستند انتهائهم الحس، لا ما ثبت بقضية العقل الصِّرف:

قال الحافظ في "النزهة" (ص/38): (وأن يكون مستند انتهائه الأمر المشاهد أو المسموع، لا ما ثبت بقضية العقل الصِّرف).

قال الشيخ السماحي في الرواية (ص/51): (أي يكون الخبر مخبرا عن أمر حسي لا عقلي، ويكون سند المخبرين هو الإحساس به على وجه اليقين. وذلك مثل أن يقولوا: رأينا كذا، أو سمعنا كذا، ونحو ذلك، مما يدرك بحاسة من الحواس الخمس، فإن كان الخبر مما لا يدرك بالحس لا يسمى متواترا، ولا يفيد العلم، وإن كان المخبرون به لا يحصون كثرة، فلو استدل مستدل على قدم العالم أو حدوثه بأن أكثر الخليقة تقول به، فإنه لا يعتبر بمثل هذا الاستدلال. لأنه لم يكن خبرا عن أمر محسوس).

قال القاري في "شرح النخبة" (ص: 170): ((لا ما ثبت بقضية العقل الصرف) كوجود الصانع وقدمه، وقدم صفاته، وحدوث العالم، ومفرداته ومركباته، وكزيادة عدد الاثنين بالنسبة إلى الواحد).

الشرط الخامس: أن يصحب خبرهم إفادة العلم لسامعه:

قال ابن حجر في "النزهة" (ص/38): (فإذا جمع هذه الشروط الأربعة … وانضاف إلى ذلك أن يصحب خبرهم إفادة العلم لسامعه. فهذا هو المتواتر).

اعلم أن حصول العلم هو ثمرة لتحقق الشروط الأربعة وليس هو شرطا زائداً عليها. واعلم أيضا أنهما متلازمان، بمعنى أن حصول العلم تابع ولازم لتحقق الشروط الأربعة

--------------------------------------------

(1) أنظر تدريب الراوي (2/ 176).
'কিল্লাত' (স্বল্পতা) শব্দটি 'আফইলাহ' ছাঁচে গঠিত। আর 'তুরুক' (সূত্রসমূহ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সনদসমূহ। ফাতহুল বারীতে (১/ ৪৬৩) বলা হয়েছে: (দশ হলো স্বল্পতাবাচক বহুবচনের শেষ এবং আধিক্যবাচক বহুবচনের শুরু)। ইবনু হাজার দশকে স্বল্পতা ও আধিক্যের মধ্যে যে সীমা নির্ধারণ করেছেন, সম্ভবত সেই কারণেই সুয়ূতী এই মত পোষণ করেছেন যে, মুতাওয়াতির (متواتر)-এর সর্বনিম্ন সংখ্যা হলো দশ। তিনি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, এটিই আধিক্যবাচক বহুবচনের প্রথম স্তর (১)।

এখানে একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, ইবনু হাজার এই ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি "নুঝহাতুন নাযর"-এ (পৃ. ৩৭) বলেছেন: (বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করার কোনো অর্থ নেই। কেউ কেউ এটি চারে নির্ধারণ করেছেন, কেউ পাঁচে, কেউ সাতে, আবার কেউ দশে, কেউ বা বারোতে … প্রত্যেক প্রবক্তাই এমন দলীল আঁকড়ে ধরেছেন যেখানে সেই সংখ্যার উল্লেখ রয়েছে এবং যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করেছে। তবে এটি অন্য ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক নয়, কারণ এটি বিশেষ কোনো ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে)। তাঁর এখানে বক্তব্যের সমন্বয় হলো, তিনি দশে সীমাবদ্ধ করা বা নির্দিষ্ট করাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, সম্ভাবনাকে নয়। সুতরাং মুতাওয়াতির (متواتر)-এর সূত্রের সংখ্যা দশ হতে কোনো বাধা নেই যদি তাদের সংবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয়। তিনি একে এই সীমার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করেননি কারণ এটি সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; অর্থাৎ এই সীমা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নিশ্চিত জ্ঞানের উদ্রেক করতে পারে কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে তা নাও করতে পারে, যা পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

দ্বিতীয় শর্ত: বাস্তব ক্ষেত্রে তাদের পক্ষে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া বা আপসে মিলে যাওয়া অসম্ভব হওয়া:

হাফিজ ইবনু হাজার "নুঝহাতুন নাযর"-এ (পৃ. ৩৭) বলেছেন: (সেই আধিক্য মুতাওয়াতির (متواتر)-এর অন্যতম শর্ত, যখন তা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ না হয়ে বরং বাস্তবতার নিরিখে তাদের পক্ষে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব হয় এবং তেমনিভাবে কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই তাদের পক্ষ থেকে তা অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে যাওয়াও অসম্ভব হয়)।

শাইখ হালাবী নুঝহাতুন নাযর-এর ওপর তাঁর টীকায় (পৃ. ৫৬) বলেন: (গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে যে, তিনি এই

দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে গিয়ে বলেছেন: 'তাওয়াতু' (একমত হওয়া) হলো কোনো নির্দিষ্ট বানোয়াট বিষয়ে পরামর্শ ও সিদ্ধান্তের পর একদল লোকের ঐক্যবদ্ধ হওয়া, যাতে কেউ তার সঙ্গীর বিপরীতে কোনো কথা না বলে। আর 'তাওয়াফুক' (আপসে মিলে যাওয়া) হলো তাদের মধ্যে কোনো পরামর্শ বা চুক্তি ছাড়াই এই বানোয়াট বিষয়টির উদ্ভব হওয়া; চাই তা ভুলবশত হোক, বিভ্রান্তিবশত হোক বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে (অর্থাৎ বানোয়াট ও মিথ্যার উদ্দেশ্যে) হোক—যেমনটি লুকাতুদ দুরার-এর হাশিয়ায় (পৃ. ২৬) বর্ণিত হয়েছে)।

শাইখ সামাহি "আর-রিওয়ায়াহ" গ্রন্থে (পৃ. ৫১) কিছু পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (قرائن) বর্ণনা করেছেন যা দ্বারা সাধারণত মিথ্যার ওপর একমত না হওয়া বা আপসে না মেলার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেন: (যেমন তারা বিভিন্ন শহরের অধিবাসী হওয়া, বিভিন্ন পেশার হওয়া, ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশের হওয়া, যাদের কোনো প্রবৃত্তি এক জায়গায় জড়ো করেনি, কোনো স্থান তাদের একত্রিত করেনি এবং কোনো শাসকের নির্দেশ তাদের ওপর কার্যকর ছিল না যার কোনো নির্দিষ্ট সংবাদ প্রচারের স্বার্থ রয়েছে ইত্যাদি … এবং আমরা 'বাস্তব ক্ষেত্রে' (عادة) বলেছি, অর্থাৎ বিবেক তার রায়ে বাস্তবতার প্রবাহ এবং সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর সুন্নাতের ওপর নির্ভর করে যে, এই বিষয়ে তাদের একত্রিত হওয়া এবং একমত হওয়া অসম্ভব)।

 

দ্রষ্টব্য:

একদল লোক মুতাওয়াতির (متواتر)-এর সংজ্ঞায় এই পারিপার্শ্বিক প্রমাণগুলোর শর্তারোপ করেছেন, যা ভুল। তাহের জাযাইরি "তাওজিহুন নাযার ইলা উসুলিল আসার" (১/ ১৫২)-এ বলেছেন: (আর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং অবস্থানের ভিন্নতার উল্লেখ মূলত তাদের মিথ্যার ওপর একমত না হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করে, এটি মুতাওয়াতির (متواتر)-এর জন্য কোনো শর্ত নয়)।

তৃতীয় শর্ত: সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিক্য বিদ্যমান থাকা:

হাফিজ ইবনু হাজার "নুঝহাতুন নাযর"-এ (পৃ. ৩৮) বলেছেন: (যদি সংবাদটি এভাবেই বর্ণিত হয় এবং এর সাথে যোগ হয় যে, শুরু থেকে

শেষ পর্যন্ত উল্লিখিত আধিক্যের বিষয়টি সমান থাকে। সমতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—উল্লিখিত আধিক্য যেন কোনো স্তরে কমে না যায়; তবে বৃদ্ধি পাওয়া দোষের নয়, বরং বৃদ্ধি পাওয়াই এখানে কাম্য)।

এই শর্তের অর্থ হলো—নিশ্চিত জ্ঞান দানকারী আধিক্য সনদের শুরু থেকে সেই ব্যক্তি পর্যন্ত বিদ্যমান থাকতে থাকতে হবে যিনি কোনো কথা বা কাজের সংবাদ দিয়েছেন। কারণ প্রত্যেক স্তরের এবং প্রত্যেক যুগের সংবাদ স্বয়ংসম্পূর্ণ, তাই এতে সেই আধিক্য থাকা জরুরি। তবে এর অর্থ এই নয় যে বর্ণনাকারীর সংখ্যা সব স্তরে হুবহু সমান হতে হবে।

চতুর্থ শর্ত: তাদের সংবাদের ভিত্তি যেন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় হয়, নিছক যুক্তিনির্ভর বিষয় নয়:

হাফিজ ইবনু হাজার "নুঝহাতুন নাযর"-এ (পৃ. ৩৮) বলেছেন: (এবং তাদের সংবাদের শেষ প্রান্ত যেন দেখার বা শোনার মতো বিষয় হয়, কেবল বিবেকপ্রসূত কোনো বিষয় না হয়)।

শাইখ সামাহি "আর-রিওয়ায়াহ" গ্রন্থে (পৃ. ৫১) বলেছেন: (অর্থাৎ সংবাদটি কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় সম্পর্কে হবে, বিবেকপ্রসূত নয়। আর বর্ণনাকারীদের ভিত্তি হবে তা নিশ্চিতভাবে অনুভব করা। যেমন তারা বলবে: আমরা এমন দেখেছি, অথবা আমরা এমন শুনেছি ইত্যাদি—যা পঞ্চইন্দ্রিয়ের কোনো একটির মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়। সংবাদটি যদি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য না হয়, তবে তাকে মুতাওয়াতির (متواتر) বলা হয় না এবং তা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না, যদিও তার বর্ণনাকারীদের সংখ্যা অগণিত হয়। যদি কেউ পৃথিবীর অনাদিত্ব বা এর সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পর্কে এই মর্মে দলীল পেশ করে যে অধিকাংশ সৃষ্টিই এটি বলে থাকে, তবে এ জাতীয় দলীল গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ এটি কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের সংবাদ নয়)।

ক্বারি "শারহু নুখবাতিল ফিকার"-এ (পৃ. ১৭০) বলেছেন: ((নিছক যুক্তিনির্ভর বিষয় নয়) যেমন স্রষ্টার অস্তিত্ব ও তাঁর অনাদিত্ব, তাঁর গুণাবলীর অনাদিত্ব, মহাবিশ্বের সৃষ্টি এবং এর প্রতিটি অংশ ও সমষ্টির উদ্ভব, অথবা একের তুলনায় দুইয়ের আধিক্য)।

পঞ্চম শর্ত: তাদের সংবাদের সাথে শ্রবণকারীর নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হওয়া:

ইবনু হাজার "নুঝহাতুন নাযর"-এ (পৃ. ৩৮) বলেছেন: (যখন এই চারটি শর্ত পূর্ণ হয় … এবং এর সাথে যোগ হয় যে, তাদের সংবাদের মাধ্যমে শ্রবণকারীর নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয়, তবে তাকেই মুতাওয়াতির (متواتر) বলা হয়)।

জেনে রাখুন যে, জ্ঞান অর্জিত হওয়া মূলত চারটি শর্ত পূর্ণ হওয়ার ফলাফল, এটি কোনো অতিরিক্ত শর্ত নয়। আরও জেনে রাখুন যে, এ দুটি বিষয় অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত; অর্থাৎ নিশ্চিত জ্ঞান অর্জন হওয়া চারটি শর্ত পূর্ণ হওয়ার অনুগামী ও আবশ্যকীয় ফল।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাদরীবুর রাবী (২/ ১৭৬)।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ১১)
، وهو أيضا علامة عليها بمعنى أنه متى حدث هذا العلم اليقيني عند السامع علمنا لزوم تحقق هذه الشروط.

 

‌‌الثالثة - إفادته العلم:

قال الحافظ: -[(فالأول: المتواتر المفيد للعلم اليقيني بشروطه).]-

وقال في "النزهة" (ص/41): (وهو المفيد للعلم اليقيني - فأخرج النظري- بشروطه التي تقدمت. واليقين: هو الاعتقاد الجازم المطابق. وهذا هو المعتمد أن خبر التواتر يفيد العلم الضروري. وهو: الذي يضطر الإنسان إليه بحيث لا يمكنه دفعه).

 

‌‌المشهور:

قال الحافظ: -[(والثاني: المشهور وهو المستفيض على رأي).]-

وقال في "النزهة" (ص/49): (والثاني - وهو أول أقسام الآحاد-: ما له طرق محصورة بأكثر من اثنين، وهو المشهور عند المحدثين. سمي بذلك لوضوحه (1)، وهو المستفيض على رأي جماعة من أئمة الفقهاء، سمي بذلك لانتشاره، من: فاض الماء يفيض فيضا، ومنهم من غاير بين المستفيض والمشهور، بأن المستفيض يكون في ابتدائه وانتهائه سواء (2)، والمشهور أعم من ذلك (3) … ثم المشهور يطلق: على ما حرر هنا، وعلى ما اشتهر على الألسنة؛ فيشمل ما له إسناد واحد فصاعدا، بل ما لا يوجد له إسناد أصلا (4)).

 

‌‌العزيز:

قال الحافظ:-[(والثالث: العزيز، وليس شرطاً للصحيح خلافاً لمن زعمه).]-

وقال في "النزهة" (ص/50): (والثالث: العزيز: وهو أن لا يرويه أقل من اثنين عن

اثنين. وسمي بذلك إما لقلة وجوده، وإما لكونه عز، أي قوي بمجيئه من طريق أخرى.

--------------------------------------------

(1) قال المناوي في "اليواقيت والدرر" (1/ 270): (أشار بذلك إلى المناسبة المصححة لنقله من المعنى اللغوي إلى الاصطلاحي. قال البقاعي: ولو قال لظهوره كان أبلغ لأهل اللغة، فإنهم قالوا: المشهور ظهور الشيء، والشهير معروف).

(2) قال اللقاني في "قضاء الوطر" (1/ 552): (بأن لا ينقص فيهما عن ثلاثة، قال البقاعي: "وكذلك فيما بين ذلك". قلت: فكان الأولى للمصنف: من ابتدائه إلى انتهائه).

(3) وقال اللقاني: (يشمل ما أوله منقول عن الواحد ن كما صرح به شيخ الإسلام الأنصاري).

(4) الشهرة عموماً سواء أكانت اصطلاحية أو غير اصطلاحية لا تلازم بينها وبين الصحة، وحتى ما اشتهر بين أهل الحديث فينبغي أن ينظر في إسناده.
এবং এটি সেগুলোর একটি আলামতও বটে, যার অর্থ হলো—যখনই শ্রবণকারীর মধ্যে এই নিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقيني) অর্জিত হবে, তখন আমরা এই শর্তসমূহ পূরণ হওয়ার আবশ্যকতা সম্পর্কে জানতে পারব।

 

‌‌তৃতীয় - এটি জ্ঞান প্রদান করে:

আল-হাফিজ বলেন: -[(প্রথমটি হলো: মুতাওয়াতির (المتواتر), যা তার নির্দিষ্ট শর্তানুসারে নিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقيني) প্রদান করে)]-।

তিনি "নুজহাহ" (পৃ. ৪১) গ্রন্থে বলেন: (আর এটিই নিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقيني) প্রদান করে—এর মাধ্যমে চিন্তাপ্রসূত জ্ঞান (النظري) বাদ পড়ে যায়—তার পূর্বে বর্ণিত শর্তাবলির আলোকে। আর নিশ্চিত বিশ্বাস (اليقين) হলো: বাস্তবসম্মত সুদৃঢ় বিশ্বাস। আর এটিই নির্ভরযোগ্য মত যে, মুতাওয়াতির (التواتر) সংবাদ আবশ্যিক জ্ঞান (العلم الضروري) প্রদান করে। আর এটি এমন জ্ঞান যা গ্রহণে মানুষ বাধ্য হয় এবং তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় না)।

 

‌‌মশহুর (المشهور):

আল-হাফিজ বলেন: -[(দ্বিতীয়টি হলো: মশহুর (المشهور); আর এক অভিমত অনুযায়ী একে মুস্তাফিদ (المستفيض)-ও বলা হয়)]-।

তিনি "নুজহাহ" (পৃ. ৪৯) গ্রন্থে বলেন: (দ্বিতীয়টি—যা একসূত্রীয় (الآحاد) হাদিসের প্রকারভেদের মধ্যে প্রথম—হলো সেই হাদিস যার দুইয়ের অধিক সীমিত সূত্র বা সনদ (إسناد) রয়েছে; মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) নিকট এটিই মশহুর (المشهور) নামে পরিচিত। এর স্পষ্টতার কারণে একে এই নামকরণ করা হয়েছে (১)। ফকিহ (الفقهاء) ইমামগণের এক জামাআতের মতে এটিই মুস্তাফিদ (المستفيض); এর ব্যাপক প্রসারের কারণে একে এই নামকরণ করা হয়েছে, যা পানি উপচে পড়া (فاض) শব্দ থেকে উদ্ভূত। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মুস্তাফিদ (المستفيض) এবং মশহুর (المشهور)-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন এই মর্মে যে, মুস্তাফিদ (المستفيض)-এর শুরু ও শেষ উভয় দিকে বর্ণনাকারীর সংখ্যা সমান হতে হয় (২), আর মশহুর (المشهور) এর চেয়েও ব্যাপক (৩) … অতঃপর মশহুর (المشهور) শব্দটি এখানে বর্ণিত পারিভাষিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, আবার যা মানুষের মুখে মুখে প্রসিদ্ধ তার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়; ফলে এটি একটি বা ততোধিক সনদ (إسناد) যুক্ত হাদিসকে যেমন অন্তর্ভুক্ত করে, তেমনি যার কোনো মূল সনদ (إسناد) নেই তাকেও অন্তর্ভুক্ত করে (৪))।

 

‌‌আজিজ (العزيز):

আল-হাফিজ বলেন: -[(তৃতীয়টি হলো: আজিজ (العزيز); আর এটি সহিহ হওয়ার জন্য কোনো শর্ত নয়, যারা একে শর্ত হিসেবে দাবি করেছেন এটি তাদের বিরুদ্ধ মত)]-।

তিনি "নুজহাহ" (পৃ. ৫০) গ্রন্থে বলেন: (তৃতীয়টি হলো: আজিজ (العزيز): আর তা হলো কোনো স্তরেই বর্ণনাকারীর সংখ্যা দুজনের কম হবে না। একে এই নামে অভিহিত করার কারণ হলো হয় এর দুষ্প্রাপ্যতা, অথবা এটি শক্তিশালী হওয়ার কারণে; অর্থাৎ অন্য সূত্রের মাধ্যমে আসার কারণে এটি শক্তিশালী (عز) হয়।

--------------------------------------------

(১) আল-মুনাউয়ি "আল-ইয়াওয়াকিত ওয়াদ-দুরার" (১/২৭০) গ্রন্থে বলেন: (এর মাধ্যমে তিনি শাব্দিক অর্থ থেকে পারিভাষিক অর্থে স্থানান্তরের যৌক্তিকতা নির্দেশ করেছেন। আল-বিকাঈ বলেন: যদি তিনি এর প্রকাশ (ظهوره) শব্দটি বলতেন তবে তা ভাষাবিদদের নিকট অধিক জুতসই হতো। কেননা তাঁরা বলেন: মশহুর (المشهور) মানে কোনো বিষয়ের প্রকাশ হওয়া, আর শাহির (الشهير) মানে হলো সুপরিচিত)।

(২) আল-লাক্কানি "কাদাউল ওয়াতার" (১/৫৫২) গ্রন্থে বলেন: (অর্থাৎ উভয় প্রান্তেই বর্ণনাকারীর সংখ্যা তিনের কম হবে না। আল-বিকাঈ বলেন: "এবং এর মধ্যবর্তী স্তরেও"। আমি বলি: গ্রন্থকারের জন্য 'এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত' বলাটাই অধিক উত্তম ছিল)।

(৩) আল-লাক্কানি বলেন: (এটি এমন হাদিসকেও অন্তর্ভুক্ত করে যার শুরুতে মাত্র একজন থেকে বর্ণিত, যেমনটি শাইখুল ইসলাম আল-আনসারি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন)।

(৪) সাধারণ প্রসিদ্ধি—তা পারিভাষিক (اصطلاحية) হোক বা অপারিভাষিক (غير اصطلاحية) হোক—তার সাথে হাদিস সহিহ হওয়া বা বিশুদ্ধতার (الصحة) কোনো আবশ্যিক সম্পর্ক নেই। এমনকি যা হাদিস বিশারদদের মাঝে প্রসিদ্ধ, সেটির সনদের (إسناد) দিকেও দৃষ্টি দেওয়া আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ১২)
وليس شرطا للصحيح، خلافا لمن زعمه).

 

‌‌الغريب:

قال الحافظ: -[(والرابع: الغريب).]-

وقال في "النزهة" (ص/54): (والرابع: الغريب: وهو ما يتفرد بروايته شخص واحد في أي موضع وقع التفرد به من السند).

قال اللقاني في "قضاء الوطر" (1/ 593): (لفظ "ما" فيه عموم، فيشمل كل المتن وبعضه وبعض السند، فالأول: كانفراد عبدالله بن دينار بحديث: "النهي عن بيع الولاء وهبته" فإنه لم يصح إلا من حديثه.

والثاني: كانفراد مالك بزيادة من المسلمين في حديث: "زكاة الفطر" عن سائر رواته.

ومثال الثالث: انفراد الدراوردي برواية حديث أم زرع عن هشام عن أبيه بلا واسطة،

والمحفوظ فيه رواية عيسى بن يونس وغيره عن هشام بن عروة عن أخيه عبدالله عن

أبيهما). وسوف يأتي الكلام على أنواع الغرابة قريبا بإذن الله - تعالى -.

 

‌‌تتمة:

قال الحافظ: -[(وكلها - سوى الأول - آحاد، وفيها المقبول والمردود لتوقف الاستدلال بها على البحث عن أحوال رواتها دون الأول، وقد يقع فيها ما يفيد العلم النظري بالقرائن على المختار)]-

وفيه مسائل منها:

 

‌‌الأولى - أنواع الآحاد:

قال في "النزهة" (ص/55): (وخبر الواحد في الاصطلاح: ما لم يجمع شروط التواتر).

وهذا التعريف من ابن حجر يتمشى مع اصطلاحه حيث لم يجعل واسطة بين المتواتر والآحاد، ويدخل فيه مع الآحاد المشهور والعزيز.

إلا أن قوله (ص/17): (وقد يقال: إن الشروط الأربعة إذا حصلت استلزمت حصول العلم، وقد وضح بهذا تعريف المتواتر. وخلافه قد يرد بلا حصر أيضاً، لكن مع فقد بعض الشروط، (أو مع حصر بما فوق الاثنين)؛ أي بثلاثة فصاعدا ما لم يجمع شروط المتواتر … ).

واختار اللقاني في "قضاء الوطر" (1/ 492) أن المقصود بقوله: (وخلافه قد يرد بلا حصر أيضاً، لكن مع فقد بعض الشروط) هو قسم من المشهور قد يلتبس بالمتواتر لعدم حصر الرواة في طبقاته ولكنه فقد باقي الشروط الأخرى للمتواتر أو بعضها، واستشهد
এবং এটি সহিহ (صحيح) হওয়ার জন্য কোনো শর্ত নয়, যারা এমন দাবি করেছেন তাদের মতের বিপরীতে।

 

‌‌গরিব (غريب):

হাফিজ (রহ.) বলেন: -[(এবং চতুর্থ প্রকার হলো: গরিব (غريب))।]-

তিনি "নুজহাতুন নাযার" (পৃ. ৫৪) গ্রন্থে বলেন: (এবং চতুর্থ প্রকার হলো গরিব (غريب): এটি এমন বর্ণনা যার বর্ণনায় কোনো একজন ব্যক্তি একক হয়ে যান, সনদের (سند) যে কোনো পর্যায়ে সেই একাকীত্ব ঘটুক না কেন)।

আল-লাক্কানি "কাদা আল-ওয়াতার" (১/৫৯৩) গ্রন্থে বলেন: ("মা" শব্দটিতে ব্যাপকতা রয়েছে, ফলে এটি সম্পূর্ণ মতন (متن), তার অংশবিশেষ এবং সনদের (سند) অংশবিশেষকেও অন্তর্ভুক্ত করে। প্রথমটির উদাহরণ: "ওয়ালা (দাসমুক্তির অধিকার) বিক্রয় বা দান করা নিষেধ" এই হাদিস বর্ণনায় আব্দুল্লাহ ইবনে দিনারের একক হয়ে যাওয়া, কারণ এটি কেবল তাঁর হাদিস হিসেবেই সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে।

দ্বিতীয়টির উদাহরণ: "যাকাতুল ফিতর" সংক্রান্ত হাদিসে অন্যান্য বর্ণনাকারীদের বিপরীতে ইমাম মালিকের "মুসলিমদের মধ্য থেকে" কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনায় একক হওয়া।

তৃতীয়টির উদাহরণ: হিশাম তাঁর পিতা থেকে সরাসরি (কোনো মাধ্যম ছাড়া) উম্মে যার-এর হাদিস বর্ণনায় আদ-দারওয়ার্দীর একক হয়ে যাওয়া,

অথচ এর বিপরীতে সংরক্ষিত (محفوظ) বর্ণনা হলো হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে ঈসা ইবনে ইউনুস ও অন্যদের বর্ণনা, যা তিনি তাঁর ভাই আব্দুল্লাহ থেকে এবং তিনি তাঁদের পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন)। ইনশাআল্লাহ তাআলা শীঘ্রই গরিব (غرابة) হওয়ার প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা আসবে।

 

‌‌পরিশিষ্ট:

হাফিজ (রহ.) বলেন: -[(প্রথমটি ছাড়া বাকি সব কটিই হলো আহাদ (آحاد); এগুলোর মধ্যে গ্রহণযোগ্য (مقبول) এবং বর্জনীয় (مردود) উভয়ই রয়েছে। কারণ প্রথমটি ছাড়া এগুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়টি বর্ণনাকারীদের অবস্থা যাচাইয়ের ওপর নির্ভরশীল। আর নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী, পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে এগুলোর মধ্যে এমন কিছু থাকতে পারে যা তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করে)]-

এতে বেশ কিছু মাসআলা বা আলোচনা রয়েছে, তন্মধ্যে:

 

‌‌প্রথম - আহাদ (آحاد)-এর প্রকারভেদ:

তিনি "নুজহাতুন নাযার" (পৃ. ৫৫) গ্রন্থে বলেন: (পারিভাষিক অর্থে খবরে ওয়াহিদ (خبر الواحد) হলো: যা মুতাওয়াতির (تواتر)-এর শর্তাবলি পূরণ করে না)।

ইবনে হাজারের এই সংজ্ঞাটি তাঁর নিজস্ব পরিভাষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে তিনি মুতাওয়াতির (متواتر) এবং আহাদ (آحاد)-এর মাঝে অন্য কোনো স্তর রাখেননি। এর ফলে আহাদ (آحاد)-এর মধ্যে মশহুর (مشهور) এবং আজিজ (عزيز)-ও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তবে তাঁর (পৃ. ১৭) উক্তিটি হলো: (বলা হয়ে থাকে: চারটি শর্ত পাওয়া গেলে তা নিশ্চিত জ্ঞান অর্জনের দাবি রাখে, এর মাধ্যমেই মুতাওয়াতির (متواتر)-এর সংজ্ঞা স্পষ্ট হয়। এর বিপরীত বর্ণনাটিও সংখ্যার সীমাবদ্ধতা ছাড়াই বর্ণিত হতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে মুতাওয়াতির-এর কিছু শর্ত অনুপস্থিত থাকে; (অথবা দুইয়ের অধিক সংখ্যার সীমাবদ্ধতা সহকারে), অর্থাৎ তিন বা ততোধিক, যতক্ষণ না তা মুতাওয়াতির (متواتر)-এর শর্তাবলি পূরণ করে … )।

আল-লাক্কানি "কাদা আল-ওয়াতার" (১/৪৯২) গ্রন্থে এই মত গ্রহণ করেছেন যে, তাঁর উক্তি: (এর বিপরীত বর্ণনাটিও সংখ্যার সীমাবদ্ধতা ছাড়াই বর্ণিত হতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে কিছু শর্ত অনুপস্থিত থাকে) — এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মশহুর (مشهور)-এর এমন একটি প্রকার যা মুতাওয়াতির (متواتر)-এর সাথে গুলিয়ে যেতে পারে। কারণ এর স্তরে বর্ণনাকারীদের সংখ্যা সীমাবদ্ধ নয়, কিন্তু এটি মুতাওয়াতির (متواتر)-এর অন্যান্য শর্তাবলির সব কটি বা কোনোটি হারিয়েছে। তিনি প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন...
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ১৩)
بقول السخاوي بأن المشهور قسمان: قسم لم يرتق إلى التواتر وهو الأغلب فيه، وقسم يرتقي إليه. وهذا هو الأقرب فغير هذا النوع من الآحاد رواته محصورين.

فتحصل مما سبق أن الآحاد يشمل المشهور بقسميه، والعزيز، والغريب.

 

‌‌الثانية - المتواتر لا يبحث عن أحوال رواته.

قوله: (وفيها المقبول والمردود لتوقف الاستدلال بها على البحث عن أحوال رواتها دون الأول). يفهم منه أن المتواتر كله صحيح وأن الاستدلال به لا يتوقف على البحث عن أحوال رواته، وصرح بذلك فقال في "النزهة" (ص/42): (وإنما أبهمت شروط المتواتر في الأصل؛ لأنه على هذه الكيفية ليس من مباحث علم الإسناد، إذ علم الإسناد يبحث فيه عن صحة الحديث أو ضعفه؛ ليعمل به أو يترك من حيث: صفات الرجال وصيغ الأداء، والمتواتر لا يبحث عن رجاله، بل يجب العمل به من غير بحث).

 

‌‌الثالثة - خبر الآحاد المحتف بالقرائن.

قوله: (وقد يقع فيها ما يفيد العلم النظري بالقرائن على المختار).

وقال في "النزهة" (ص/58): (وقد يقع فيها- أي في أخبار الآحاد المنقسمة إلى:

مشهور، وعزيز، وغريب- ما يفيد العلم النظري بالقرائن على المختار، خلافا لمن أبى ذلك. والخلاف في التحقيق لفظي، لأن من جوز إطلاق العلم قيده بكونه نظريا، وهو الحاصل عن الاستدلال، ومن أبى الإطلاق خص لفظ العلم بالمتواتر، وما عداه عنده ظني، لكنه، لا ينفي أن ما احتف بالقرائن أرجح مما خلا عنها.

 

‌‌والخبر المحتف بالقرائن أنواع:

أ - منها: ما أخرجه الشيخان في صحيحيهما، مما لم يبلغ التواتر، فإنه احتفت به قرائن، منها:

- جلالتهما في هذا الشأن.

- وتقدمهما في تمييز الصحيح على غيرهما.

- وتلقي العلماء لكتابيهما بالقبول، وهذا التلقي وحده أقوى في إفادة العلم من مجرد كثرة الطرق القاصرة عن التواتر.

إلا أن هذا:

يختص بما لم ينتقده أحد من الحفاظ مما في الكتابين.

وبما لم يقع التخالف بين مدلوليه مما وقع في الكتابين، حيث لا ترجيح؛ لاستحالة أن يفيد المتناقضان العلم بصدقهما من غير ترجيح لأحدهما على الآخر، وما عدا ذلك
সাখাভীর উক্তি অনুযায়ী প্রসিদ্ধ (المشهور) দুই প্রকার: এক প্রকার হলো যা মুতাওয়াতির (التواتر) পর্যায়ে উন্নীত হয়নি এবং এটাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, আর অপর প্রকারটি সেই পর্যায়ে উন্নীত হয়। এটিই অধিকতর সঠিক মত, কারণ এই প্রকার ব্যতীত অন্যান্য আহাদ (الآحاد) হাদিসের বর্ণনাকারীগণ সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে সীমাবদ্ধ।

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, আহাদ (الآحاد) হাদিস তার উভয় প্রকারের প্রসিদ্ধ (المشهور), আজিজ (العزيز) এবং গারিব (الغريب)-কে অন্তর্ভুক্ত করে।

 

‌‌দ্বিতীয় - মুতাওয়াতির (المتواتر) হাদিসের বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান করা হয় না.

তাঁর উক্তি: (এবং এতে গৃহীত (المقبول) এবং প্রত্যাখ্যাত (المردود) উভয়ই রয়েছে, কারণ প্রথম প্রকার ব্যতীত অন্যান্য বর্ণনার মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়টি বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল)। এর থেকে বোঝা যায় যে, সকল মুতাওয়াতির (المتواتر) হাদিসই সহিহ (صحيح) এবং এর দ্বারা দলিল পেশ করার বিষয়টি বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি 'নুজহাহ' (পৃ. ৪২) গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে বলেছেন: (মূলে মুতাওয়াতির (المتواتر)-এর শর্তাবলি অস্পষ্ট রাখা হয়েছে; কারণ এই অবস্থায় এটি ইলমে ইসনাদের আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা ইলমে ইসনাদে হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) বা দুর্বলতা (ضعفه) নিয়ে আলোচনা করা হয়; যাতে বর্ণনাকারীদের গুণাবলি এবং বর্ণনা পদ্ধতির প্রেক্ষিতে তা আমলযোগ্য হওয়া বা বর্জন করার বিষয়টি নির্ণয় করা যায়। আর মুতাওয়াতির (المتواتر)-এর বর্ণনাকারীদের নিয়ে অনুসন্ধান করা হয় না, বরং কোনো প্রকার অনুসন্ধান ছাড়াই এর ওপর আমল করা আবশ্যক)।

 

‌‌তৃতীয় - আলামত বা পারিপার্শ্বিকতা দ্বারা পরিবেষ্টিত আহাদ (الآحاد) সংবাদ.

তাঁর উক্তি: (মনোনীত মতানুসারে, আলামত বা পারিপার্শ্বিকতার কারণে এতে এমন কিছু থাকতে পারে যা অর্জিত জ্ঞান প্রদান করে)।

তিনি 'নুজহাহ' (পৃ. ৫৮) গ্রন্থে বলেছেন: (মনোনীত মতানুসারে এতে—অর্থাৎ প্রসিদ্ধ (مشهور), আজিজ (عزيز) ও গারিব (غريب)-এ বিভক্ত আহাদ (الآحاد) সংবাদগুলোর মধ্যে—এমন কিছু থাকতে পারে যা আলামত বা পারিপার্শ্বিকতার কারণে অর্জিত জ্ঞান প্রদান করে, যারা এটি অস্বীকার করেছেন তাদের মতের বিপরীতে। পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এই মতবিরোধটি শাব্দিক; কেননা যারা 'ইলম' বা 'জ্ঞান' শব্দটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন, তারা একে অর্জিত বা তাত্ত্বিক জ্ঞান হিসেবে শর্তযুক্ত করেছেন, যা দলিলের মাধ্যমে অর্জিত হয়। আর যারা এই শব্দের প্রয়োগ অস্বীকার করেছেন, তারা 'ইলম' শব্দটিকে কেবল মুতাওয়াতির (المتواتر)-এর জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং তাদের মতে এটি ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা ধারণাযোগ্য; তবে এটি অস্বীকার করে না যে, যা আলামত দ্বারা পরিবেষ্টিত তা আলামতহীন বর্ণনার চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য বা শক্তিশালী।

 

‌‌আলামত বা পারিপার্শ্বিকতা দ্বারা পরিবেষ্টিত সংবাদ কয়েক প্রকার:

ক - এর মধ্যে রয়েছে: শাইখাইন তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে যা বর্ণনা করেছেন, যা মুতাওয়াতির (التواتر) পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এটি কয়েকটি আলামত দ্বারা পরিবেষ্টিত, যার মধ্যে রয়েছে:

- এই শাস্ত্রে তাঁদের উভয়ের সুমহান মর্যাদা।

- সহিহ হাদিস নিরূপণে অন্যদের তুলনায় তাঁদের উভয়ের অগ্রগণ্যতা।

- আলেমগণের পক্ষ থেকে তাঁদের গ্রন্থদ্বয়কে কবুল বা গ্রহণ করে নেওয়া। মুতাওয়াতির (التواتر) পর্যায়ে পৌঁছাতে অক্ষম নিছক বহু সূত্রের তুলনায় কেবল এই সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা জ্ঞান প্রদানের ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী।

তবে এটি:

উভয় গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ঐসব হাদিসের সাথে নির্দিষ্ট যা হাফেজগণের (মুহাদ্দিস) কেউ সমালোচনা করেননি।

এবং সেই সব বর্ণনার সাথে নির্দিষ্ট যেগুলোর অর্থের মধ্যে গ্রন্থদ্বয়ে কোনো বৈপরীত্য দেখা দেয়নি, যেখানে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব নয়; কারণ কোনো একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া ব্যতিরেকে দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয় থেকে সত্যতার নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা অসম্ভব। এবং এর বাইরে যা কিছু আছে...
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ১৪)
فالإجماع حاصل على تسليم صحته.

فإن قيل: إنما اتفقوا على وجوب العمل به لا على صحته، منعناه، وسند المنع: أنهم متفقون على وجوب العمل بكل ما صح، ولو لم يخرجه الشيخان؛ فلم يبق للصحيحين في هذا مزية، والإجماع حاصل على أن لهما مزية فيما يرجع إلى نفس الصحة.

وممن صرح بإفادة ما خرجه الشيخان العلم النظري:

- الأستاذ أبو إسحاق الإسفرائيني.

- ومن أئمة الحديث: أبو عبد الله الحميدي.

- وأبو الفضل بن طاهر، وغيرهما. ويحتمل أن يقال: المزية المذكورة كون أحاديثهما أصح الصحيح.

ب - ومنها: المشهور إذا كانت له طرق متباينة سالمة من ضعف الرواة والعلل، وممن صرح بإفادته العلم النظري الأستاذ أبو منصور البغدادي، والأستاذ أبو بكر بن فورك، وغيرهما.

جـ - ومنها: المسلسل بالأئمة الحفاظ المتقنين، حيث لا يكون غريبا، كالحديث الذي

يرويه أحمد بن حنبل، مثلا، ويشاركه فيه غيره عن الشافعي ويشاركه فيه غيره عن مالك بن أنس، فإنه يفيد العلم عند سامعه بالاستدلال من جهة جلالة رواته وأن فيهم من الصفات اللائقة الموجبة للقبول ما يقوم مقام العدد الكثير من غيرهم، ولا يتشكك من له أدنى ممارسة بالعلم وأخبار الناس أن مالكا، مثلا، لو شافهه بخبر أنه صادق فيه، فإذا انضاف إليه من هو في تلك الدرجة ازداد قوة، وبعد ما يخشى عليه من السهو.

وهذه الأنواع التي ذكرناها لا يحصل العلم بصدق الخبر منها إلا للعالم بالحديث المتبحر فيه العارف بأحوال الرواة، المطلع على العلل. وكون غيره لا يحصل له العلم بصدق ذلك لقصوره عن الأوصاف المذكورة لا ينفي حصول العلم للمتبحر المذكور.

ومحصل الأنواع الثلاثة التي ذكرناها أن:

الأول: يختص بالصحيحين.

والثاني: بما له طرق متعددة.

والثالث: بما رواه الأئمة.

ويمكن اجتماع الثلاثة في حديث واحد، ولا يبعد حينئذ القطع بصدقه، والله أعلم).

 

‌‌أنواع الغريب:

قال الحافظ: (ثم الغرابة: إما أن تكون في أصل السند، أو لا. فالأول: الفرد المطلق. والثاني: الفرد النسبي، ويقل إطلاق الفرد عليه). وفيه مسائل منها:

 

‌‌الأولى - الفرد المطلق والنسبي.

قال في "النزهة" (ص/64): (ثم الغرابة إما أن تكون: في أصل السند: أي في الموضع الذي يدور الإسناد عليه ويرجع، ولو تعددت الطرق إليه، وهو طرفه الذي فيه الصحابي (1). أو لا يكون كذلك، بأن يكون التفرد في أثنائه، كأن يرويه عن الصحابي أكثر من واحد، ثم ينفرد بروايته عن واحد منهم شخص واحد.

فالأول: الفرد المطلق: كحديث النهي عن بيع الولاء وعن هبته، تفرد به عبد الله بن دينار عن ابن عمر، وقد ينفرد به راو عن ذلك المنفرد، كحديث شعب الإيمان، تفرد به أبو صالح عن أبي هريرة، وتفرد به عبد الله بن دينار عن أبي صالح، وقد يستمر التفرد في جميع رواته أو أكثرهم. وفي مسند البزار، والمعجم الأوسط، للطبراني أمثلة كثيرة لذلك.

والثاني: الفرد النسبي: سمي بذلك لكون التفرد فيه حصل بالنسبة إلى شخص معين، وإن كان الحديث في نفسه مشهورا (2)).

وقال في "النكت" (2/ 705): (وأما النسبي فيتنوع - أيضا - أنواعا:

أحدهما: تفرد شخص عن شخص.

ثانيها: تفرد أهل بلد عن شخص.

ثالثها: تفرد شخص عن أهل بلد.

رابعها: تفرد أهل البلد عن أهل بلد أخرى.

مثال الأول: حديث عبد الواحد بن أيمن عن أبيه عن جابر رضي الله عنه في قصة الكُدْيَة التي عرضت لهم يوم الخندق أخرجه البخاري، وقد تفرد به عبد الواحد عن أبيه. وقد روي من غير حديث جابر رضي الله عنه.

ومثال الثاني: حديث "القضاة ثلاثة". تفرد به أهل مرو، عن عبد الله بن بريدة عن أبيه رضي الله عنه.

ومثال الثالث: وهو عكس الذي قبله، فهو قليل جدا وصورته أن ينفرد شخص عن جماعة بحديث تفردوا به.

ومثال الرابع: ما رواه أبو دواد من حديث جابر رضي الله عنه في قصة المشجوج: "إنما كان يكفيه أن يتيمم ويصعب على جرحه خرقة".قال ابن أبي داود: فيما حكاه الدارقطني في "السنن": "هذه سنة تفرد بها أهل مكة، وحملها عنهم أهل الجزيرة").

 

‌‌الثانية - الفرد والغريب.

قال الحافظ عن الفرد النسبي: (ويقل إطلاق الفرد عليه).

وقال في "النزهة" (ص/66): (ويقل إطلاق الفردية عليه (3)؛ لأن الغريب والفرد

--------------------------------------------

(1) قال القاري في "شرح النخبة" (1/ 233): (وكون الغرابة في هذا الطرف هو أن يروي تابعي واحد عن صحابي، ولا يتابعه غيره في روايته عن ذلك الصحابي، سواء تعدد الصحابي في تلك الرواية أو لا. وأما انفراد الصحابي عن النبي صلى الله عليه وسلم، فليس غرابة إذ ليس في الصحابة ما يوجب قدحا، فانفراد الصحابي يوجب تعادل تعدد غيره، بل يكون أرجح. قال تلميذه: قوله: وهو طرفه الذي فيه الصحابي. قال المصنف: أي الذي يروي عن الصحابي، وهو التابعي، وإنما لم يتكلم في الصحابي، لأن المقصود ما يترتب عليه من القبول والرد. والصحابة كلهم عدول … فقوله: طرفه أراد به التابعي، وأما الصحابي وإن كان من رجال الإسناد، إلا أن المحدثين لم يعدوه منهم لأن كلهم عدول على الإطلاق من خالط الفتن وغيرهم … فقوله: فيه الصحابي، أي في ذلك الطرف، مسامحة أي، ينتهي ذلك الطرف إلى الصحابي، ويتصل به).

(2) قال القاري (1/ 238): (أنه إنما سمي نسبيا لأن التفرد إنما حصل فيه بالنسبة إلى شخص معين من طريق واحد، وإن كان مشهورا في نفسه لكونه مرويا من طرق أخرى، ففرديته بالنسبة إلى الطريق الأولى، ومشهوريته باعتبار الطريق الأخرى).

(3) استشكل البعض ظاهر هذه العبارة وخاصة أنه عللها بوقوع الترادف بين الغريب والفرد لغة واصطلاحا؛ فالترادف يسوغ كثرة إطلاق الفردية على الغريب لا قلتها.

قال المناوي في " اليواقيت والدرر" (1/ 327): (قال البقاعي: ليت شعري هذا التعليل لماذا؟ إن كان لعلة إطلاق الفردية لم يصح، لأن الترادف إن لم يقتض التسوية في الإطلاق لم يقتض ترجيح أحد المترادفين فيه، وإن كان تعليلا لإطلاق الفرد المطلق والفرد النسبي على الغريب لم يصح أيضا، لأن الترادف إنما هو بين مطلق الغريب ومطلق الفرد (لا بين الفرد) المقيد بالإطلاق أو بالنسبة بينه وبين الغريب). وأجاب عن ذلك اللقاني في "شرح النخبة" (1/ 652) بأن مراده بقلة الإطلاق أي قلة الاستعمال لا أصل الإطلاق الذي يستلزمه الترادف فقال: (قوله:"ويقل إطلاق الفردية عليه" أي: ويقل استعمال ذي الفردية فيه، فالإطلاق بمعنى الاستعمال و"على" بمعنى "في" مثل: {وَدَخَلَ الْمَدِينَةَ عَلَى حِينِ غَفْلَةٍ مِنْ أَهْلِهَا} [القصص: 15]، وبهذا يسقط الاعتراض بخفاء العبارة في إفادة المراد).
সুতরাং এর বিশুদ্ধতা (صحة) মেনে নেওয়ার ব্যাপারে ইজমা (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

যদি বলা হয়: তারা কেবল এর ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, এর বিশুদ্ধতার (صحة) ওপর নয়; তবে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করব। প্রত্যাখ্যানের দলিল হলো: তারা এমন প্রত্যেকটি হাদিসের ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে একমত যা বিশুদ্ধ (صحيح), যদিও তা শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা না করেন; ফলে সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিমের সংকলন)-এর আর কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য বাকি থাকে না। অথচ ইজমা (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, খোদ বিশুদ্ধতার (صحة) ক্ষেত্রে এই দুই কিতাবের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

শায়খাইন যা বর্ণনা করেছেন তা তাত্ত্বিক জ্ঞান (العلم النظري) প্রদান করে - এ কথা যারা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:

- উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনি।

- এবং হাদিসের ইমামদের (أئمة الحديث) মধ্যে: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদি।

- এবং আবু আল-ফজল বিন তাহির ও অন্যান্যরা। এমনটিও বলা সম্ভব যে: উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যটি হলো এই যে, তাদের বর্ণিত হাদিসগুলো হচ্ছে বিশুদ্ধতম বিশুদ্ধ (أصح الصحيح)।

খ - এগুলোর মধ্যে রয়েছে: মশহুর (المشهور) হাদিস, যখন এর এমন বিভিন্ন স্বতন্ত্র সূত্র (طرق) থাকে যা বর্ণনাকারীদের দুর্বলতা (ضعف) এবং ইল্লত (العلل - সূক্ষ্ম ত্রুটি) থেকে মুক্ত থাকে। এটি তাত্ত্বিক জ্ঞান (العلم النظري) প্রদান করে বলে যারা স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে উস্তাদ আবু মনসুর আল-বাগদাদি, উস্তাদ আবু বকর বিন ফুরাক এবং অন্যান্যরা রয়েছেন।

গ - এগুলোর মধ্যে রয়েছে: সেই মুসালসাল (المسلسل) হাদিস যা অত্যন্ত দক্ষ ও সুসংরক্ষণকারী ইমামদের (الأئمة الحفاظ المتقنون) মাধ্যমে বর্ণিত, যেখানে সেটি গরিব (غريب) নয়; যেমন সেই হাদিস যা

উদাহরণস্বরূপ আহমাদ বিন হাম্বল বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সাথে অন্যরাও ইমাম শাফেয়ি থেকে বর্ণনায় শরিক হয়েছেন, আর শাফেয়ি থেকে বর্ণনায় অন্যরাও ইমাম মালিক বিন আনাসের সাথে শরিক হয়েছেন। এটি শ্রোতার নিকট বর্ণনাকারীদের শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। কারণ তাদের মধ্যে এমন সব গুণাবলি বিদ্যমান যা কবুল করার (القبول) ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় বিশাল সংখ্যার স্থলাভিষিক্ত হয়। যে ব্যক্তির ইলম এবং মানুষের খবরাখবর সম্পর্কে সামান্যতম ধারণা আছে, সে এ বিষয়ে সন্দেহ করবে না যে, মালিক যদি তাকে কোনো সংবাদ সরাসরি প্রদান করেন তবে তিনি তাতে সত্যবাদী। আর যখন তাঁর সাথে তাঁর সমপর্যায়ের কেউ যুক্ত হন, তখন তা আরও শক্তিশালী হয় এবং ভুল হওয়ার আশঙ্কা দূর হয়ে যায়।

আমরা যে প্রকারগুলো উল্লেখ করেছি, সেগুলো থেকে খবরের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) কেবল হাদিস শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্যসম্পন্ন (المتبحر) আলিমেরই অর্জিত হয়, যিনি বর্ণনাকারীদের অবস্থা (أحوال الرواة) সম্পর্কে অবগত এবং ইল্লত (العلل) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। অন্য কারো এই সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত না হওয়া - তাদের মাঝে উল্লিখিত গুণাবলির অভাবের কারণে - সেই পাণ্ডিত্যসম্পন্ন ব্যক্তির জ্ঞান অর্জনকে নাকচ করে না।

উল্লিখিত তিন প্রকারের সারকথা হলো:

প্রথমটি: সহিহাইনের সাথে খাস।

দ্বিতীয়টি: যার একাধিক সূত্র (طرق) রয়েছে।

তৃতীয়টি: যা ইমামগণ বর্ণনা করেছেন।

একই হাদিসে এই তিনটির সমন্বয় ঘটা সম্ভব এবং তখন এর সত্যতা সম্পর্কে অকাট্য নিশ্চয়তা থাকা অসম্ভব নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌গরিব (الغريب) এর প্রকারভেদ:

হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: (অতঃপর গরিব (الغرابة) হওয়া হয় সনদের মূলে (أصل السند) হবে, অথবা হবে না। প্রথমটি হলো: ফরদে মুতলাক (الفرد المطلق - নিরঙ্কুশ একক)। আর দ্বিতীয়টি হলো: ফরদে নিসবি (الفرد النسبي - আপেক্ষিক একক), এবং এর ক্ষেত্রে 'ফর্দ' (الفرد) শব্দের প্রয়োগ কম হয়ে থাকে)। এতে বেশ কিছু মাসআলা রয়েছে, তার মধ্যে:

 

‌‌প্রথম - ফরদে মুতলাক (الفرد المطلق) এবং ফরদে নিসবি (الفرد النسبي)।

নুজহাতুন নজর (পৃ. ৬৪)-এ বলা হয়েছে: (অতঃপর গরিব (الغرابة) হওয়া হয় সনদের মূলে (أصل السند) হবে: অর্থাৎ সেই স্থানে যেখানে সনদটি (الإسناد) আবর্তিত হয় এবং শেষ হয়, যদিও সে পর্যন্ত পৌঁছানোর একাধিক পথ থাকুক না কেন। আর এটি হলো সনদের সেই প্রান্ত যেখানে সাহাবি (الصحابي) থাকেন। অথবা বিষয়টি এমন হবে না, বরং একক হওয়াটা সনদের মাঝখানে হবে; যেমন সাহাবি থেকে একাধিক ব্যক্তি সেটি বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তাদের একজনের কাছ থেকে বর্ণনায় মাত্র একজন ব্যক্তি একক হয়ে গেছেন।

প্রথমটি হলো: ফরদে মুতলাক (الفرد المطلق): যেমন 'ওয়ালা' বিক্রি করা এবং তা দান করা নিষেধ হওয়া সংক্রান্ত হাদিসটি। ইবনে উমর থেকে এটি বর্ণনায় আব্দুল্লাহ বিন দিনার একক (تفرد) হয়ে গেছেন। কখনও কখনও সেই একক ব্যক্তি থেকেও অন্য কোনো বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করতে পারেন, যেমন 'ঈমানের শাখা' সংক্রান্ত হাদিসটি; আবু সালেহ থেকে এটি বর্ণনায় আবু হুরায়রা একক (تفرد) হয়ে গেছেন এবং আবু সালেহ থেকে আব্দুল্লাহ বিন দিনার একক হয়ে গেছেন। কখনও কখনও এই একাকীত্ব (التفرد) সমস্ত বর্ণনাকারীদের মধ্যে বা তাদের অধিকাংশের মধ্যে বজায় থাকে। মুসনাদে বাজার এবং তাবারানির আল-মু'জাম আল-আওসাত-এ এর অনেক উদাহরণ রয়েছে।

দ্বিতীয়টি হলো: ফরদে নিসবি (الفرد النسبي): একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে একক হওয়াটা (التفرد) কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাপেক্ষে হয়েছে, যদিও হাদিসটি নিজে মশহুর (مشهور))।

আন-নুকাত (২/৭০৫) গ্রন্থে বলা হয়েছে: (আর ফরদে নিসবি (النسبي) আবার কয়েক প্রকারের হয়:

১. এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির একক বর্ণনা (تفرد)।

২. কোনো এক ব্যক্তি থেকে নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের অধিবাসীদের একক বর্ণনা।

৩. একটি অঞ্চলের অধিবাসীদের থেকে কোনো এক ব্যক্তির একক বর্ণনা।

৪. এক অঞ্চলের অধিবাসীদের থেকে অন্য অঞ্চলের অধিবাসীদের একক বর্ণনা।

প্রথমটির উদাহরণ: জাবির (রা.) থেকে তাঁর পিতা থেকে আব্দুল ওয়াহিদ বিন আয়মানের হাদিস; খন্দকের যুদ্ধের দিন তাদের সামনে আসা শক্ত পাথরের ঘটনার বর্ণনায়। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর পিতা থেকে আব্দুল ওয়াহিদ এটি বর্ণনায় একক (تفرد) হয়ে গেছেন। তবে এটি জাবির (রা.)-এর হাদিস ছাড়াও অন্যভাবে বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয়টির উদাহরণ: "বিচারক তিন প্রকার" হাদিসটি। এটি আব্দুল্লাহ বিন বুরাইদা থেকে তাঁর পিতা (রা.)-এর সূত্রে মার্ভের অধিবাসীরা এককভাবে (تفرد) বর্ণনা করেছেন।

তৃতীয়টির উদাহরণ: এটি আগেরটির বিপরীত, যা অত্যন্ত বিরল। এর রূপ হলো এই যে, কোনো একটি হাদিস একদল লোক এককভাবে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাদের সকলের থেকে আবার মাত্র একজন ব্যক্তি সেটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

চতুর্থটির উদাহরণ: জাবির (রা.) থেকে আবু দাউদ বর্ণিত মস্তকে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির ঘটনা সংক্রান্ত হাদিস: "তার জন্য তায়াম্মুম করাই যথেষ্ট ছিল এবং সে তার ক্ষতের ওপর কাপড় বেঁধে নেবে।" ইবনে আবু দাউদ বলেন - যা দারাকুতনি তাঁর সুনান-এ উল্লেখ করেছেন: "এটি এমন একটি সুন্নাহ যা মক্কাবাসীরা এককভাবে (تفرد) বর্ণনা করেছে এবং তাদের নিকট থেকে জাজিরাবাসীরা তা গ্রহণ করেছে।")

 

‌‌দ্বিতীয় - ফর্দ (الفرد) এবং গরিব (الغريب)।

হাফেজ (ইবনে হাজার) ফরদে নিসবি (الفرد النسبي) সম্পর্কে বলেন: (এবং এর ক্ষেত্রে ফর্দ (الفرد) শব্দের প্রয়োগ কম হয়ে থাকে)।

নুজহাতুন নজর (পৃ. ৬৬) গ্রন্থে তিনি বলেন: (এর ওপর ফর্দিয়্যাত (الفردية) শব্দের প্রয়োগ কম হয়ে থাকে; কারণ গরিব (الغريب) এবং ফর্দ (الفرد)

--------------------------------------------

(১) মোল্লা আলি কারি শারহুন নুখবাহ (১/২৩৩) গ্রন্থে বলেন: (সনদের এই প্রান্তে গরিব (الغرابة) হওয়া বলতে বুঝায় যে, একজন তাবেয়ি (تابعي) একজন সাহাবি (صحابي) থেকে বর্ণনা করবেন এবং সেই সাহাবি থেকে বর্ণনায় অন্য কেউ তাঁর অনুসরণ (متابعة) করবে না, চাই সেই বর্ণনায় সাহাবির সংখ্যা একাধিক হোক বা না হোক। আর নবী (সা.) থেকে সাহাবির একক হওয়া কোনো গরিব (غرابة) বিষয় নয়; কেননা সাহাবিদের মধ্যে এমন কিছু নেই যা ত্রুটিযুক্ত করে। সাহাবির একক হওয়া অন্যদের বহু সংখ্যার সমান, বরং এটি অধিক অগ্রগণ্য। তাঁর ছাত্র বলেন: তাঁর কথা "এটি হলো সনদের সেই প্রান্ত যেখানে সাহাবি থাকেন", লেখক (ইবনে হাজার) এর দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছেন যিনি সাহাবি থেকে বর্ণনা করেন, অর্থাৎ তাবেয়ি। তিনি সাহাবিকে নিয়ে আলোচনা করেননি কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো এর ওপর ভিত্তি করে হাদিস কবুল (القبول) বা প্রত্যাখ্যান (الرد) করা। আর সাহাবিদের সকলেই ন্যায়পরায়ণ (عدول)... সুতরাং তাঁর কথা "সনদের প্রান্ত" দ্বারা তিনি তাবেয়িকে বুঝিয়েছেন। আর সাহাবি যদিও সনদের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু মুহাদ্দিসগণ তাঁদের সেই গণনায় ধরেননি, কারণ ফিতনায় (الفتن) জড়িত বা না জড়ানো নির্বিশেষে সকলেই নিরঙ্কুশভাবে ন্যায়পরায়ণ (عدول)... সুতরাং তাঁর কথা "তাতে সাহাবি আছেন" অর্থাৎ সেই প্রান্তে; এটি একটি প্রশস্ত অর্থবোধক কথা, যার অর্থ হলো সেই প্রান্তটি সাহাবি পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে এবং তাঁর সাথে মিলিত হয়েছে)।

(২) কারি (১/২৩৮) বলেন: (একে নিসবি বা আপেক্ষিক বলা হয়েছে কারণ এতে একক হওয়াটা (التفرد) কেবল একটি সূত্রের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাপেক্ষে হয়েছে, যদিও অন্য অনেক সূত্র থেকে বর্ণিত হওয়ার কারণে হাদিসটি স্বয়ং মশহুর (مشهور)। সুতরাং এর এককত্ব প্রথম সূত্রের সাপেক্ষে এবং মশহুর হওয়া অন্য সূত্রের বিবেচনায়)।

(৩) কেউ কেউ এই ইবারতের বাহ্যিক দিক নিয়ে আপত্তি তুলেছেন, বিশেষ করে যেহেতু তিনি এর কারণ হিসেবে ভাষা ও পরিভাষার দিক থেকে গরিব (الغريب) এবং ফর্দ (الفرد) এর মধ্যে সমার্থকতা (الترادف) হওয়াকে উল্লেখ করেছেন; অথচ সমার্থকতা তো গরিবের ওপর ফর্দ শব্দের প্রয়োগ বেশি হওয়ার দাবি রাখে, কম হওয়ার নয়। আল-মুনাবি আল-ইয়াওয়াকিত ওয়া আদ-দুরার (১/৩২৭) গ্রন্থে বলেন: (বাকায়ি বলেন: আমার জানা নেই এই কারণটি কিসের জন্য? যদি তা ফর্দিয়্যাত শব্দ প্রয়োগের কারণ হয় তবে তা সঠিক নয়, কারণ সমার্থকতা যদি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমতা দাবি নাও করে, তবে তো কোনো একটিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিও রাখে না। আর যদি তা ফরদে মুতলাক ও ফরদে নিসবির ওপর গরিব শব্দ প্রয়োগের কারণ হয় তবে তাও সঠিক নয়, কারণ সমার্থকতা কেবল নিরঙ্কুশ গরিব এবং নিরঙ্কুশ ফর্দের মধ্যে (ফর্দের মধ্যে নয় যা মুতলাক বা নিসবি দ্বারা সীমাবদ্ধ)। এর উত্তরে আল-লাক্কানি শারহুন নুখবাহ (১/৬৫২) গ্রন্থে বলেন যে, তাঁর উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারের স্বল্পতা, মূল প্রয়োগ নয় যা সমার্থকতা দাবি করে। তিনি বলেন: (তাঁর কথা "এর ওপর ফর্দিয়্যাত শব্দের প্রয়োগ কম" অর্থাৎ এতে ফর্দিয়্যাত শব্দের ব্যবহার (استعمال) কম। এখানে 'ইতলাক' (إطلاق) অর্থ হলো ব্যবহার এবং 'আলা' (على) অর্থ হলো 'ফি' (في)... এর মাধ্যমে ইবারতের অস্পষ্টতা নিয়ে করা আপত্তিটি দূর হয়ে যায়)।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ১৭)
مترادفان لغة (1) واصطلاحا، إلا أن أهل الاصطلاح غايروا بينهما من حيث كثرة الاستعمال وقلته، فالفرد أكثر ما يطلقونه على الفرد المطلق، والغريب أكثر ما يطلقونه على الفرد النسبي، وهذا من حيث إطلاق الاسم عليهما، وأما من حيث استعمالهم الفعل المشتق فلا يفرقون، فيقولون في المطلق والنسبي تفرد به فلان، أو أغرب به فلان).

 

‌‌الصحيح لذاته:

قال الحافظ: -[(وخبر الآحاد بنقل عدل تام الضبط، متصل السند، غير معلل ولا شاذ: هو الصحيح لذاته. وتتفاوت رتبه، أي الصحيح، بسبب تفاوت هذه الأوصاف. ومن ثم قدم صحيحُ البخاري، ثم مسلم، ثم شرطُهُما)]-.

قال في "النزهة" (ص/70): (قوله: وخبر الآحاد: كالجنس، وباقي قيوده كالفصل) وهذا تأكيد من الحافظ لكون المتواتر ليس من علم الدراية ولا يبحث عن إسناده، وأنه كله مقبول إذا توفرت فيه شروطه.

خرج بقوله: (خبر الآحاد) المتواتر، وبقوله (عدل) غير العدل كالكاذب، وبقوله (تام الضبط) خفيف الضبط وفاحش الغلط ونحوه، وبقوله (متصل السند) المنقطع على أي وجه كان انقطاعه، وبقوله (غير معلل ولا شاذ) المعلل والشاذ.

وهذا الحد غير مانع ولابد من إضافة قيد: (عن مثله إلى منتهاه) ليخرج ما كان فقط أحد رواته على صفة الصحيح دون باقي رواته.

وعليه فالصحيح لذاته (خبر الآحاد متصل السند بنقل عدل تام الضبط، عن مثله إلى منتهاه، ولم يكن معللا ولا شاذا).

 

‌‌شرح قيود التعريف:

العدالة: قال الحافظ في "شرح النخبة" (ص/69): (والمراد بالعدل من له ملكة تحمله

على ملازمة التقوى والمروءة. والمراد بالتقوى اجتناب الأعمال السيئة من شرك أو فسق أو بدعة).

واعترض الصنعاني في "ثمرات النظر في علم الأثر" على هذا التعريف بعدة اعتراضات، واختار أن مدار العدالة على مظنة صدق الراوي دون بقية الشروط المذكورة في تعريف العدالة، وقد ذكرت اعتراضاته في شرح الموقظة، فلا داعي للتكرار.

 

‌‌تعريف الضابط:

قال الصنعاني في "توضيح الأفكار" (1/ 8): (الضابط عندهم من يكون حافظا متيقظا غير مغفل ولا ساه ولا شاك في حالتي التحمل والأداء وهذا الضبط التام وهو المراد هنا). أي في تعريف الحديث الصحيح.

 

‌‌بمَّ يعرف الضبط؟

قال ابن الصلاح في "مقدمته" (ص/61): (يعرف كون الراوي ضابطا بأن نعتبر روايته بروايات الثقاة المعروفين بالضبط والإتقان. فإن وجدنا رواياته موافقة - ولو من حيث المعنى - لرواياتهم، أو موافقة لها في الأغلب، والمخالفة نادرة، عرفنا حينئذ كونه ضابطا ثبتا. وإن وجدناه كثير المخالفة لهم عرفنا اختلال ضبطه، ولم نحتج بحديثه، والله أعلم).

 

‌‌أقسام الضبط:

قال الحافظ في "المزهة" (ص/69): (والضبط: ضبط صدر: وهو أن يثبت ما سمعه بحيث يتمكن من استحضاره متى شاء. وضبط كتاب: وهو صيانته لديه منذ سمع فيه وصححه إلى أن يؤدي منه. وقيد بالتام إشارة إلى الرتبة العليا في ذلك).

وقال الصنعاني في "توضيح الأحكام" (1/ 19): (فالذي ذكر المحدثون أربع صور: تام الضبط، خفيفه، كثير الغلط، من غلطه أكثر من حفظه، فالأوليان مقبول من اتصف بهما، والأخريان مردود من اتصف بهما).

 

‌‌اتصال السند:

وقال المليباري في رسالته علوم الحديث في ضوء تطبيقات المحدثين النقاد: (وأما العنصر الثاني - أي اتصال السند - فيعرف بما يلي:

1 - تصريح كل من سلسلة الإسناد بما يدل على سماعه للحديث من مصدره الذي

--------------------------------------------

(1) قال المناوي (1/ 326): (قال الكمال بن أبي شريف: فيما زعمه من كونهما مترادفين لغة نظر، أي لأن الفرد في اللغة الوتر، وهو الواحد. والغريب من بعد عن وطنه، وأغرب فلان جاء بشيء غريب أو كلام غريب بعيد عن الفهم. هذا كلام أهل اللغة، فالقول بالترادف لغة باطل. ولهذا قال الشيخ قاسم: الله أعلم بمن حكى هذا الترادف، وقد قال ابن فارس في " المجمل ": عزب بعد، والغربة الاغتراب عن الوطن. والفرد: الوتر، والفرد المنفرد هذا كلام أهل اللغة، وليس فيه ما يقتضي الترادف ولا يوهمه).وأفاد الشيخ عبدالله السمين أن الجواب أنهما مترادفان بحسب المآل؛ لأن الغريب عن وطنه كأنه انفرد. وانظر اللقاني (1/ 656).
আভিধানিকভাবে (১) এবং পারিভাষিকভাবে উভয়টি সমার্থক (مترادفان), তবে পরিভাষা বিশারদগণ ব্যবহারের আধিক্য ও স্বল্পতার ভিত্তিতে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তারা 'ফরাদ' শব্দটি সাধারণত একক স্বতন্ত্র (فرد مطلق) এর ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার করেন, আর 'গরিব' শব্দটি বেশি ব্যবহার করেন আপেক্ষিক একক (فرد نسبي) এর ক্ষেত্রে। এটি হলো তাদের নামকরণের ক্ষেত্রে নাম ব্যবহারের দিক থেকে পার্থক্য। কিন্তু তারা যখন এদের থেকে উদ্ভূত ক্রিয়াপদ ব্যবহার করেন, তখন কোনো পার্থক্য করেন না। তারা একক স্বতন্ত্র (مطلق) এবং আপেক্ষিক একক (نسبي) উভয়ের ক্ষেত্রেই বলেন: 'অমুক এর মাধ্যমে একক হয়েছেন' (تفرد به فلان), অথবা 'অমুক এর মাধ্যমে বিরল বর্ণনা করেছেন' (أغرب به فلان)।

 

‌‌স্বয়ং সহিহ (الصحيح لذاته):

হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: -[(আর আহাদ সংবাদ (خبر الآحاد) যা ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (تام الضبط) বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত, সংযুক্ত সনদ (متصل السند) বিশিষ্ট এবং যা ত্রুটিমুক্ত (غير معلل) ও বিচ্ছিন্নতা মুক্ত (غير شاذ), তা-ই হলো স্বয়ং সহিহ (الصحيح لذاته)। এই গুণাবলির তারতম্যের কারণে সহিহ (صحيح) হাদিসের স্তর ভিন্ন ভিন্ন হয়। এ কারণেই সহিহ বুখারিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, এরপর সহিহ মুসলিম এবং এরপর তাদের শর্তানুযায়ী বর্ণিত হাদিসসমূহকে)]-।

তিনি "নুজহাতুন নজর" (পৃ. ৭০) গ্রন্থে বলেন: (তার উক্তি: "আর আহাদ সংবাদ (خبر الآحاد)" এটি সাধারণ সংজ্ঞার মতো, আর বাকি শর্তগুলো হলো বিশেষ ব্যবচ্ছেদক)। হাফেজ ইবনে হাজারের এই উক্তিটি এ কথারই সমর্থন যে, মুতাওয়াতির (المتواتر) হাদিস 'দিরয়াহ' বা বর্ণনা-তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এর সনদ নিয়ে গবেষণা করা হয় না; বরং শর্ত পূরণ হলে এর সবই গ্রহণযোগ্য।

তার উক্তি "আহাদ সংবাদ (خبر الآحاد)" দ্বারা মুতাওয়াতির (المتواتر) বাদ পড়েছে। "ন্যায়পরায়ণ (عدل)" দ্বারা অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তি যেমন মিথ্যাবাদী (كاذب) বাদ পড়েছে। "পূর্ণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (تام الضبط)" দ্বারা স্বল্প স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (خفيف الضبط), মারাত্মক ভুলকারী (فاحش الغلط) এবং এই পর্যায়ের অন্যান্যরা বাদ পড়েছে। "সংযুক্ত সনদ (متصل السند)" দ্বারা বিচ্ছিন্ন (المنقطع) সনদ বাদ পড়েছে, চাই সেই বিচ্যুতি যে প্রকারেরই হোক না কেন। আর "ত্রুটিমুক্ত ও শায-মুক্ত" (غير معلل ولا شاذ) দ্বারা ত্রুটিযুক্ত (المعلل) এবং বিচ্ছিন্ন (الشاذ) হাদিস বাদ পড়েছে।

এই সংজ্ঞাটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; এর সাথে একটি শর্ত যোগ করা প্রয়োজন: "(অনুরূপ বর্ণনাকারী থেকে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত)", যাতে করে সেই বর্ণনা বাদ পড়ে যায় যার কেবল একজন বর্ণনাকারী সহিহ (صحيح) এর গুণসম্পন্ন কিন্তু বাকি বর্ণনাকারীরা তেমন নন।

সুতরাং, স্বয়ং সহিহ (الصحيح لذاته) হলো: (আহাদ সংবাদ (خبر الآحاد) যা সংযুক্ত সনদ (متصل السند) সহকারে ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (تام الضبط) বর্ণনাকারীর মাধ্যমে তার অনুরূপ বর্ণনাকারী থেকে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বর্ণিত হয়, এবং যা ত্রুটিযুক্ত (معللا) ও বিচ্ছিন্ন (شاذا) নয়)।

 

‌‌সংজ্ঞার শর্তাবলির ব্যাখ্যা:

ন্যায়পরায়ণতা: হাফেজ ইবনে হাজার "শরহু নুখবা" (পৃ. ৬৯) গ্রন্থে বলেন: (ন্যায়পরায়ণ (العدل) বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যার মধ্যে এমন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান যা তাকে তাকওয়া ও মুরুওয়াত (ভদ্রতা) বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। আর তাকওয়া বলতে শিরক, ফাসেকী বা বিদআত জাতীয় মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকাকে বোঝায়)।

সানআনী "সামারাতুন নজর ফি ইলমিল আসার" গ্রন্থে এই সংজ্ঞার ওপর বেশ কিছু আপত্তি তুলেছেন এবং তিনি মত প্রকাশ করেছেন যে, ন্যায়পরায়ণতার মূল ভিত্তি হলো বর্ণনাকারীর সত্যবাদিতার সম্ভাবনা, ন্যায়পরায়ণতার সংজ্ঞায় উল্লেখিত অন্যান্য শর্তাবলি নয়। তার আপত্তিগুলো "শরহুল মুকিজাহ" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই এখানে পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই।

 

‌‌স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তির (الضابط) সংজ্ঞা:

সানআনী "তাওদিহুল আফকার" (১/৮) গ্রন্থে বলেন: (মুহাদ্দিসগণের মতে স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (الضابط) হলেন তিনি, যিনি মুখস্থ রাখার ব্যাপারে যত্নশীল ও জাগ্রত হৃদয়ের অধিকারী; শ্রবণ ও বর্ণনার উভয় অবস্থায় তিনি অসতর্ক, বিস্মৃতিপরায়ণ বা সন্দিহান নন। আর এটিই হলো পূর্ণ স্মৃতিশক্তি (الضبط التام), যা এখানে উদ্দেশ্য)। অর্থাৎ সহিহ হাদিসের সংজ্ঞায়।

 

‌‌কীভাবে স্মৃতিশক্তি (الضبط) যাচাই করা যায়?

ইবনে সালাহ তার "মুকাদ্দিমাহ" (পৃ. ৬১) গ্রন্থে বলেন: (বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (ضابط) হওয়ার বিষয়টি জানা যায় তার বর্ণনাকে সেই সকল নির্ভরযোগ্য (الثقاة) বর্ণনাকারীদের বর্ণনার সাথে তুলনা করার মাধ্যমে, যারা তাদের স্মৃতিশক্তি ও নিখুঁত বর্ণনার জন্য সুপরিচিত। যদি আমরা দেখি যে তার বর্ণনাগুলো তাদের বর্ণনার সাথে মিলে যাচ্ছে—চাই তা অর্থের দিক থেকেই হোক—অথবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মিলে যাচ্ছে এবং অমিল হওয়াটা বিরল, তবে আমরা বুঝতে পারব যে তিনি একজন স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন ও সুদৃঢ় (ثبتا) বর্ণনাকারী। আর যদি আমরা দেখি যে তিনি তাদের সাথে প্রায়ই ভিন্নমত পোষণ করছেন, তবে আমরা তার স্মৃতিশক্তির ত্রুটি (اختلال ضبطه) সম্পর্কে নিশ্চিত হব এবং তার হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণ করব না। আল্লাহই ভালো জানেন)।

 

‌‌স্মৃতিশক্তির (الضبط) প্রকারভেদ:

হাফেজ ইবনে হাজার "নুজহাতুন নজর" (পৃ. ৬৯) গ্রন্থে বলেন: (স্মৃতিশক্তি দুই প্রকার: মুখস্থ স্মৃতিশক্তি (ضبط صدر): তা হলো যা শুনেছেন তা এমনভাবে অন্তরে গেঁথে নেওয়া যাতে যখন ইচ্ছা তখন তা স্মরণ করতে পারেন। কিতাব বা লেখনীর স্মৃতিশক্তি (ضبط كتاب): তা হলো হাদিস শোনার পর কিতাবে লিখে তা শুদ্ধ করার পর থেকে বর্ণনা করা পর্যন্ত নিজের কাছে সুরক্ষিত রাখা। আর 'পূর্ণ' (التام) শব্দটি দ্বারা এর সর্বোচ্চ স্তরকে নির্দেশ করা হয়েছে)।

সানআনী "তাওদিহুল আহকাম" (১/১৯) গ্রন্থে বলেন: (মুহাদ্দিসগণ চারটি অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন: পূর্ণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (تام الضبط), স্বল্প স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (خفيفه), অধিক ভুলকারী (كثير الغلط), এবং যার ভুলের পরিমাণ মুখস্থ রাখার চেয়ে বেশি। প্রথম দুই গুণের অধিকারী বর্ণনাকারীদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য (مقبول), আর শেষোক্ত দুই গুণের অধিকারী বর্ণনাকারীদের বর্ণনা বর্জনীয় (مردود))।

 

‌‌সনদ সংযুক্ত হওয়া (اتصال السند):

মালিবারী তার "উলূমুল হাদিস ফি দাউই তাত্বিকাতিল মুহাদ্দিসিন আন-নুাক্কাদ" নামক রিসালায় বলেন: (আর দ্বিতীয় উপাদানটি—অর্থাৎ সংযুক্ত সনদ (اتصال السند)—নিম্নোক্ত উপায়ে জানা যায়:

1 - সনদ পরম্পরার প্রত্যেকে এমন শব্দ স্পষ্ট করে ব্যক্ত করা যা তার মূল উৎস থেকে হাদিসটি শোনার প্রমাণ বহন করে...

--------------------------------------------

(১) মানাবী (১/৩২৬) বলেন: (কামাল ইবনে আবি শরিফ বলেছেন: এই দুটি শব্দ আভিধানিকভাবে সমার্থক হওয়ার দাবির ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে। কারণ অভিধানে 'ফরাদ' (الفرد) মানে বেজোড় বা একক। আর 'গরিব' (الغريب) মানে যে নিজ স্বদেশ থেকে দূরে। আবার 'আগরবা' মানে সে কোনো অদ্ভুত বিষয় নিয়ে এসেছে বা অস্পষ্ট কথা বলেছে। এটি ভাষাবিদদের বক্তব্য, তাই আভিধানিকভাবে একে সমার্থক (مترادفين) বলা ভুল। এ কারণেই শেখ কাসিম বলেছেন: আল্লাহ ভালো জানেন কে এই সমার্থবোধকতার কথা বর্ণনা করেছেন। ইবনে ফারিস "আল-মুজমাল" গ্রন্থে বলেছেন: 'আযবা' মানে দূরে যাওয়া, আর 'গুরবাতুন' মানে স্বদেশ ত্যাগ করা। 'ফরাদ' মানে বেজোড় বা একক। এটি ভাষাবিদদের বক্তব্য, এতে এমন কিছু নেই যা সমার্থবোধকতাকে আবশ্যক করে বা তার ধারণা দেয়)। শেখ আব্দুল্লাহ আস-সামিন উল্লেখ করেছেন যে, এর উত্তর হলো—পরিণতির দিক থেকে তারা সমার্থক; কারণ যে ব্যক্তি স্বদেশ থেকে দূরে থাকে সে যেন একাকী হয়ে পড়ে। দেখুন আল-লাক্কানী (১/৬৫৬)।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ১৯)
روى عنه ذلك الحديث، كقوله ك (سمعت فلاناً) أو (سمعنا فلاناً) أو (حدثني فلان) أو (حدثنا) أو (قرأت عليه) أو (حدثني قراءة عليه) أو (حدثنا قراءة عليه) أو (أخبرني) أو (أخبرنا) أو (أنبأني) أو (أنبأنا) أو (قال لي) أو (قال لنا)، أو نحو ذلك من العبارات الدالة على أن الراوي قد لقي من فوقه، وأنه سمع منه ذلك الحديث.

2 - عنعنة الراوي، إذا لم يكن مدلساً، أو مرسلاً، فتفيد عنعنته الاتصال، وأما إن كان الراوي المعنعن مدلساً، فعنعنته تحمل على الانقطاع لقوة احتمال تدليسه في الإسناد بإسقاط شيخه الذي سمع منه هذا الحديث.

وكذا الأمر إذا اختلف العلماء في سماع الراوي ممن فوقه عموماً، ولم يتبين الراجح في ذلك، فإن الحكم على الإسناد باتصاله حينئذ متوقف على ما يزول به احتمال الانقطاع، من القرائن … ).

وسوف يأتي بإذن الله الكلام على الشاذ والمعلل.

 

‌‌رتب الصحيح:

قال الحافظ: -[(وتتفاوت رتبه، أي الصحيح، بسبب تفاوت هذه الأوصاف. ومن ثم قدم صحيحُ البخاري، ثم مسلم، ثم شرطُهُما).]-

وقال في "النزهة" (ص/71): (وتتفاوت رتبه؛ أي: الصحيح، بسبب تفاوت هذه الأوصاف المقتضية للتصحيح في القوة؛ فإنها لما كانت مفيدة لغلبة الظن الذي عليه مدار الصحة؛ اقتضت أن يكون لها درجات بعضها فوق بعض بحسب الأمور المقوية.

وإذا كان كذلك فما يكون رواته في الدرجة العليا من العدالة والضبط وسائر الصفات التي توجب الترجيح؛ كان أصح مما دونه.

فمن المرتبة العليا في ذلك ما أطلق عليه بعض الأئمة أنه أصح الأسانيد:

كالزهري عن سالم بن عبد الله بن عمر عن أبيه.

وكمحمد بن سيرين عن عبيدة بن عمرو السلماني عن علي.

وكإبراهيم النخعي عن علقمة عن ابن مسعود.

ودونها في الرتبة: كرواية بريد بن عبد الله بن أبي بردة عن جده عن أبيه أبي موسى.

وكحماد بن سلمة عن ثابت «البناني» عن أنس.

ودونها في الرتبة:

كسهيل بن أبي صالح عن أبيه عن أبي هريرة.

وكالعلاء بن عبد الرحمن عن أبيه عن أبي هريرة.
তিনি তার থেকে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, যেমন তার উক্তি (আমি অমুকের থেকে শুনেছি) অথবা (আমরা অমুকের থেকে শুনেছি) অথবা (অমুক আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন) অথবা (আমাদেরকে হাদিস শুনিয়েছেন) অথবা (আমি তার কাছে পাঠ করেছি) অথবা (আমি তার কাছে পাঠ করার মাধ্যমে তিনি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন) অথবা (আমাদের কাছে পাঠ করার মাধ্যমে তিনি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন) অথবা (তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন) অথবা (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) অথবা (আমাকে অবহিত করেছেন) অথবা (আমাদের অবহিত করেছেন) অথবা (আমাকে বলেছেন) অথবা (আমাদের বলেছেন), কিংবা এ জাতীয় অন্যান্য শব্দগুচ্ছ যা প্রমাণ করে যে বর্ণনাকারী তার ঊর্ধ্বতন শাইখের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তিনি তার থেকে উক্ত হাদিসটি শ্রবণ করেছেন।

২ - বর্ণনাকারীর ‘আনআনা’ (عنعنة), যদি তিনি মুদাল্লিস (مدلس) বা মুরসাল (مرسل) প্রদানকারী না হন, তবে তার ‘আনআনা’ নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) বুঝাবে। কিন্তু যদি ‘আনআনা’ ব্যবহারকারী বর্ণনাকারী মুদাল্লিস (مدلس) হন, তবে তার ‘আনআনা’ বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) ওপর গণ্য হবে। কারণ সনদে (إسناد) তার পক্ষ থেকে তাদলিস (تدليس) করার প্রবল সম্ভাবনা থাকে, যেখানে তিনি নিজের শাইখকে বাদ দিয়ে দেন যার থেকে তিনি হাদিসটি শুনেছেন।

অনুরূপভাবে, যদি আলেমগণ বর্ণনাকারীর তার ঊর্ধ্বতন থেকে সাধারণভাবে হাদিস শ্রবণের (سماع) বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন এবং এ বিষয়ে কোনটি প্রাধান্যযোগ্য (راجح) তা স্পষ্ট না হয়, তবে সনদের (إسنাদ) নিরবচ্ছিন্নতার (اتصال) ওপর হুকুম (حكم) প্রদান করা তখন এমন সব আলামতের (قرائن) ওপর নির্ভরশীল হবে যার মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) সম্ভাবনা দূরীভূত হয়...।

ইনশাআল্লাহ অচিরেই শায (شاذ) এবং মুআল্লাল (معلل) সম্পর্কে আলোচনা আসবে।

 

‌‌সহিহ (صحيح) হাদিসের স্তরসমূহ:

হাফিজ (حافظ) বলেন: -[(এর স্তরসমূহ—অর্থাৎ সহিহ (صحيح) হাদিসের স্তরসমূহ—এই গুণাগুণগুলোর ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। একারণেই সহিহ বুখারিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, তারপর সহিহ মুসলিম, অতঃপর তাদের উভয়ের শর্তানুযায়ী (شرط) বর্ণিত হাদিসসমূহকে)]।-

এবং তিনি "নুঝাহ" (পৃষ্ঠা: ৭১)-এ বলেন: (এর স্তরসমূহ—অর্থাৎ সহিহ (صحيহ) হাদিসের স্তরসমূহ—পরস্পর ভিন্ন হয়ে থাকে; আর তা সহিহ (تصحيح) হওয়ার দাবি রাখে এমন গুণাগুণগুলোর শক্তির ভিন্নতার কারণে। কেননা এই গুণাগুণগুলো যখন প্রবল ধারণার (غلبة الظن) ফায়দা দেয়, যার ওপর সহিহ (صحة) হওয়ার ভিত্তি নির্ভর করে; তখন এটি দাবি করে যে, এর বিভিন্ন স্তর থাকবে যা শক্তিশালী করার বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে একটি অন্যটির উপরে হবে।

আর বিষয়টি যখন এরূপ, তখন যেসব বর্ণনাকারী ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), নির্ভুলতা (ضبط) এবং অন্যান্য গুণাবলীর উচ্চস্তরে রয়েছেন যা অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদান করাকে আবশ্যক করে, তাদের বর্ণনা তার নিম্নস্তরের বর্ণনার চেয়ে অধিক সহিহ (أصح) হবে।

উচ্চস্তরের সেই সনদগুলোর মধ্যে রয়েছে যা কোনো কোনো ইমামের মতে সবচেয়ে সহিহ সনদ (أصح الأسانيد):

যেমন: যুহরি, তিনি সালেম বিন আব্দুল্লাহ বিন ওমর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে।

যেমন: মুহাম্মদ বিন সিরিন, তিনি উবাইদাহ বিন আমর আস-সালমানি থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে।

যেমন: ইবরাহিম আন-নাখয়ি, তিনি আলকামাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে।

এর পরবর্তী স্তরের সনদ: যেমন বুরাইদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি বুরদাহ-এর বর্ণনা তার দাদা থেকে, তিনি তার পিতা আবু মুসা (রা.) থেকে।

যেমন: হাম্মাদ বিন সালামাহ, তিনি সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে।

এরও পরবর্তী স্তরের সনদ:

যেমন: সুহাইল বিন আবি সালেহ, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে।

যেমন: আলা বিন আব্দুর রহমান, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ২০)
فإن الجميع يشملهم اسم العدالة والضبط؛ إلا أن للمرتبة الأولى من الصفات المرجحة ما يقتضي تقديم روايتهم على التي تليها، وفي التي تليها من قوة الضبط ما يقتضي تقديمها على الثالثة، وهي مقدمة على رواية من يعد ما ينفرد به حسنا؛ كمحمد بن إسحاق عن عاصم بن عمر عن جابر، وعمرو بن شعيب عن أبيه عن جده.

وقس على هذه المراتب ما يشبهها.

والمرتبة الأولي هي التي أطلق عليها بعض الأئمة أنها أصح الأسانيد، والمعتمد عدم الإطلاق لترجمة معينة منها.

نعم؛ يستفاد من مجموع ما أطلق الأئمة عليه ذلك أرجحيته على ما لم يطلقوه.

ويلتحق بهذا التفاضل ما اتفق الشيخان على تخريجه بالنسبة إلى ما انفرد به أحدهما، وما انفرد به البخاري بالنسبة إلى ما انفرد به مسلم؛ لاتفاق العلماء بعدهما على تلقي كتابيهما بالقبول، واختلاف بعضهم على أيهما أرجح، فما اتفقا عليه أرجح من هذه الحيثية مما لم يتفقا عليه.

وقد صرح الجمهور بتقديم «صحيح البخاري» في الصحة، ولم يوجد عن أحد التصريح بنقيضه.

وأما ما نقل عن أبي علي النيسابوري أنه قال: ما تحت أديم السماء أصح من كتاب مسلم؛ فلم يصرح بكونه أصح من صحيح البخاري؛ لأنه إنما نفى وجود كتاب أصح من كتاب مسلم؛ إذ المنفي إنما هو ما تقتضيه صيغة أفعل من زيادة صحة في كتاب شارك كتاب مسلم في الصحة، يمتاز بتلك الزيادة عليه، ولم ينف المساواة.

وكذلك ما نقل عن بعض المغاربة أنه فضل صحيح مسلم على صحيح البخاري؛ فذلك فيما يرجع إلى حسن السياق وجودة الوضع والترتيب.

ولم يفصح أحد منهم بأن ذلك راجع إلى الأصحية، ولو أفصحوا به لرده عليهم شاهد الوجود، فالصفات التي تدور عليها الصحة في كتاب البخاري أتم منها في كتاب مسلم وأشد، وشرطه فيها أقوى وأسد.

أما رجحانه من حيث الاتصال؛ فلاشتراطه أن يكون الراوي قد ثبت له لقاء من روى عنه ولو مرة، واكتفى مسلم بمطلق المعاصرة، وألزم البخاري بأنه يحتاج إلى أن لا يقبل العنعنة أصلا!

وما ألزمه به ليس بلازم؛ لأن الراوي إذا ثبت له اللقاء مرة؛ لا يجري في رواياته احتمال أن لا يكون «قد» سمع منه؛ لأنه يلزم من جريانه أن يكون مدلسا، والمسألة
প্রকৃতপক্ষে তাঁদের সকলের মধ্যেই আদালত (العدالة) এবং দাবত (الضبط) এর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান; তবে প্রথম স্তরের বর্ণনাকারীদের এমন কিছু অগ্রাধিকারমূলক গুণাবলী রয়েছে যা পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের ওপর তাঁদের বর্ণনাকে প্রধান্য দেওয়ার দাবি রাখে। আবার দ্বিতীয় স্তরের বর্ণনাকারীদের দাবত (الضبط) বা স্মৃতিশক্তির প্রখরতা এমন যা তাঁদেরকে তৃতীয় স্তরের ওপর প্রাধান্য দান করে। আর তৃতীয় স্তরটি তাঁদের বর্ণনার ওপর প্রাধান্য পায় যাঁদের একক বর্ণনাকে হাসান (حسنا) গণ্য করা হয়; যেমন: আসিম বিন উমর-এর সূত্রে মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে জাবির-এর বর্ণনা এবং আমর বিন শুয়াইব-এর সূত্রে তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার বর্ণনা।

আর এই স্তরগুলোর ওপর ভিত্তি করে তদ্রূপ অন্যান্য স্তরগুলোকেও অনুমান করে নিতে হবে।

প্রথম স্তরটিই হলো সেই স্তর যাকে কোনো কোনো ইমাম 'সর্বাপেক্ষা বিশুদ্ধ সনদসমূহ' (أصح الأسانيد) হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে নির্ভরযোগ্য মত হলো, কোনো নির্দিষ্ট সানাদ পরম্পরার (ترجمة) ক্ষেত্রে সাধারণভাবে এই উপাধিটি ব্যবহার না করা।

হ্যাঁ; ইমামগণ যে সকল সনদকে এই বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন, তার সমষ্টি থেকে এটি বুঝা যায় যে, এগুলো অন্যগুলোর তুলনায় অধিকতর অগ্রগণ্য।

বর্ণনার এই শ্রেষ্ঠত্বের ধারাবাহিকতায় সেই বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত হবে যার ওপর শায়খাইন একমত হয়েছেন, সেই বর্ণনার তুলনায় যা তাঁদের কোনো একজন এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আবার যা সহিহ বুখারি-তে এককভাবে বর্ণিত হয়েছে তা সহিহ মুসলিম-এর একক বর্ণনার চেয়ে অগ্রগণ্য; কারণ তাঁদের পরবর্তী ওলামায়ে কিরাম তাঁদের গ্রন্থদ্বয়কে গ্রহণ করে নেওয়ার (تلقي بالقبول) ব্যাপারে একমত হয়েছেন। যদিও তাঁদের মধ্যে কোনটি অধিকতর অগ্রগণ্য তা নিয়ে কারো কারো মাঝে মতভেদ রয়েছে। সুতরাং যে হাদিসটির ওপর তাঁরা উভয়ে একমত হয়েছেন তা এই দিক থেকে অধিকতর অগ্রগণ্য যার ওপর তাঁরা একমত হননি।

জুমহুর বা অধিকাংশ আলিম বিশুদ্ধতার বিচারে সহিহ বুখারি-কে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং এর বিপরীতে কারো পক্ষ থেকেই কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আবু আলি আন-নিসাবুরি থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আসমানের নিচে সহিহ মুসলিম-এর চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ কোনো কিতাব নেই"—তিনিও এটি সহিহ বুখারি-র চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে বলেননি। কারণ তিনি কেবল সহিহ মুসলিম-এর চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ কোনো কিতাব থাকাকে অস্বীকার করেছেন। কেননা এখানে অতিশয়বাচক শব্দের মাধ্যমে যে আধিক্য অস্বীকার করা হয়েছে, তা হলো সহিহ মুসলিম-এর সাথে বিশুদ্ধতায় অংশীদার হয়ে তাতে অতিরিক্ত কোনো গুণ থাকা যা তাকে অনন্য করে তুলে। তিনি এর মাধ্যমে সমকক্ষতাকে অস্বীকার করেননি।

অনুরূপভাবে কোনো কোনো মাগরিবী আলিম থেকে যে সহিহ মুসলিম-কে সহিহ বুখারি-র ওপর প্রধান্য দেওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে, তা মূলত উপস্থাপনার চমৎকারিত্ব এবং বিন্যাস ও সংকলনের উৎকর্ষতার বিচারে।

তাঁদের মধ্যে কেউই এটি বিশুদ্ধতার আধিক্যের (أصحية) প্রেক্ষিতে বলেননি। যদি তাঁরা তা বলতেনও, তবে বাস্তব প্রমাণ তা প্রত্যাখ্যান করত। কেননা সহিহ বুখারি-তে বিশুদ্ধতার (الصحة) ভিত্তি যে সকল গুণের ওপর আবর্তিত হয়, তা সহিহ মুসলিম-এর চেয়েও অধিক পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী এবং এতে বুখারির শর্তাবলি অধিকতর কঠোর ও সুদৃঢ়।

ইত্তিসাল (الاتصال) বা নিরবচ্ছিন্নতার দিক থেকে এর শ্রেষ্ঠত্ব হলো, ইমাম বুখারি শর্তারোপ করেছেন যে, বর্ণনাকারী যাঁর থেকে বর্ণনা করছেন তাঁর সাথে অন্তত একবার সাক্ষাৎ (اللقاء) প্রমাণিত হতে হবে। অন্যদিকে ইমাম মুসলিম কেবল সমসাময়িক (المعاصرة) হওয়াকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। আর তিনি বুখারির ওপর এই বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছেন যে, এমনটি হলে তিনি যেন আনআনা (العنعنة) একেবারেই গ্রহণ না করেন!

তিনি যে বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছেন তা জরুরি নয়; কারণ বর্ণনাকারীর সাথে যদি একবার সাক্ষাৎ (اللقاء) প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর বর্ণনাগুলোতে এই সম্ভাবনা থাকে না যে তিনি তাঁর থেকে শোনেননি; কারণ এমন সম্ভাবনা থাকলে তাঁকে মুদাল্লিস (مدلسا) হওয়া আবশ্যক করে দেয়, আর বিষয়টি...
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ২১)
مفروضة في غير المدلس.

وأما رجحانه من حيث العدالة والضبط؛ فلأن الرجال الذين تكلم فيهم من رجال مسلم أكثر عددا من الرجال الذين تكلم فيهم من رجال البخاري، مع أن البخاري لم يكثر من إخراج حديثهم، بل غالبهم من شيوخه الذين أخذ عنهم ومارس حديثهم، بخلاف مسلم في الأمرين.

وأما رجحانه من حيث عدم الشذوذ والإعلال؛ فلأن ما انتقد على البخاري من الأحاديث أقل عددا مما انتقد على مسلم، هذا مع اتفاق العلماء على أن البخاري كان أجل من مسلم في العلوم وأعرف بصناعة الحديث منه، وأن مسلما تلميذه وخريجه، ولم يزل يستفيد منه ويتتبع آثاره حتى «لقد» قال الدارقطني: لولا البخاري لما راح مسلم ولا جاء.

ومن ثم؛ أي: «و» من هذه الحيثية - وهي أرجحية شرط البخاري على غيره - قدم «صحيح البخاري» على غيره من الكتب المصنفة في الحديث.

ثم صحيح مسلم؛ لمشاركته للبخاري في اتفاق العلماء على تلقي كتابه بالقبول أيضا، سوى ما علل.

ثم يقدم في الأرجحية من حيث الأصحية ما وافقه شرطهما؛ لأن المراد به رواتهما مع باقي شروط الصحيح، ورواتهما قد حصل الاتفاق على القول بتعديلهم بطريق اللزوم، فهم مقدمون على غيرهم في رواياتهم، وهذا أصل لا يخرج عنه إلا بدليل.

فإن كان الخبر على شرطهما معا؛ كان دون ما أخرجه مسلم أو مثله.

وإن كان على شرط أحدهما؛ فيقدم شرط البخاري وحده على شرط مسلم وحده تبعا لأصل كل منهما.

فخرج لنا من هذا ستة أقسام تتفاوت درجاتها في الصحة.

وثمة قسم سابع، وهو ما ليس على شرطهما اجتماعا وانفرادا.

وهذا التفاوت إنما هو بالنظر إلى الحيثية المذكورة.

أما لو رجح قسم على ما «هو» فوقه بأمور أخرى تقتضي الترجيح؛ فإنه يقدم على ما فوقه - إذ قد يعرض للمفوق ما يجعله فائقا -.

كما لو كان الحديث عند مسلم مثلا، وهو مشهور قاصر عن درجة التواتر، لكن حفته قرينة صار بها يفيد العلم؛ فإنه يقدم «بها» على الحديث الذي يخرجه البخاري إذا كان فردا مطلقا. وكما لو كان الحديث الذي لم يخرجاه من ترجمة وصفت بكونها أصح الأسانيد كمالك عن نافع عن ابن عمر؛ فإنه يقدم على ما انفرد به أحدهما مثلا، لا سيما
এটি তাদলীসকারী নয় এমন বর্ণনাকারীর (غير المدلس) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

আর বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা (عدالة) ও মুখস্থশক্তির প্রখরতার (ضبط) দিক থেকে এর শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হলো, মুসলিম-এর ঐ সকল বর্ণনাকারী যাদের ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে (تكلم فيهم), তাঁদের সংখ্যা বুখারি-র সমালোচিত বর্ণনাকারীদের তুলনায় অধিক। তদুপরি বুখারি তাঁদের থেকে খুব বেশি হাদিস বর্ণনা করেননি, বরং তাঁদের অধিকাংশ ছিলেন তাঁর ঐ সকল শিক্ষক যাদের থেকে তিনি হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং যাদের বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে তিনি বিশেষভাবে অভিজ্ঞ ছিলেন। ইমাম মুসলিম-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি উভয় দিক থেকেই ভিন্ন।

আর বিচ্ছিন্নতা (شذوذ) ও ত্রুটিমুক্ত (إعلال) হওয়ার দিক থেকে এর শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হলো, বুখারি-র যে সকল হাদিস সমালোচিত হয়েছে সেগুলোর সংখ্যা মুসলিম-এর সমালোচিত হাদিসগুলোর চেয়ে কম। তদুপরি উলামায়ে কিরাম এ বিষয়ে একমত যে, ইলমি ময়দানে বুখারি ইমাম মুসলিম অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান এবং হাদিস শাস্ত্রের নিগূঢ় তত্ত্ব (صناعة الحديث) সম্পর্কে তাঁর প্রজ্ঞা মুসলিমের চেয়ে বেশি। ইমাম মুসলিম ছিলেন তাঁর ছাত্র ও শিষ্য, তিনি সর্বদা তাঁর থেকে উপকৃত হতেন এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন। এমনকি দারা কুতনি বলেছেন: "বুখারি না থাকলে মুসলিমের কোনো অস্তিত্বই থাকতো না।"

সেই সূত্র ধরেই, অর্থাৎ এই দিক বিবেচনা করে—যা হলো অন্যান্যদের তুলনায় বুখারি-র শর্তের (شرط) শ্রেষ্ঠত্ব—হাদিস বিষয়ক অন্যান্য সংকলিত গ্রন্থের ওপর 'সহীহ বুখারি'-কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

এরপর 'সহীহ মুসলিম'-এর স্থান; কেননা বুখারি-র ন্যায় মুসলিম-এর কিতাবটিও সর্বসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্যতা (تلقي بالقبول) লাভের ক্ষেত্রে অংশীদার, তবে যে সকল বর্ণনার ত্রুটি (علل) চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো ব্যতিরেকে।

অতঃপর বিশুদ্ধতার (أصحية) দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব বিচারে ঐ সকল হাদিসকে প্রাধান্য দেওয়া হয় যা তাঁদের উভয়ের শর্তের (شرط) অনুকূলে; কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সহিহ (صحيح) হাদিসের অন্যান্য শর্তাবলি পূরণসহ তাঁদের বর্ণনাকারীগণ। আর তাঁদের বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য (تعديل) হওয়ার ব্যাপারে আবশ্যিকভাবে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই তাঁদের বর্ণিত হাদিসগুলো অন্যের বর্ণনার ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য এবং এটি এমন এক মূলনীতি (أصل) যা কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া বর্জন করা যাবে না।

যদি কোনো খবর (خبر) তাঁদের উভয়ের শর্ত অনুযায়ী হয় (কিন্তু তাঁরা তা সংকলন করেননি); তবে সেটি মুসলিম-এর সংকলিত হাদিসের চেয়ে নিম্নমানের অথবা তার সমমানের হবে।

আর যদি তা তাঁদের যেকোনো একজনের শর্তানুযায়ী হয়; তবে উভয়ের নিজস্ব মূলনীতির অনুসরণে শুধুমাত্র মুসলিম-এর শর্তের চেয়ে এককভাবে বুখারি-র শর্তকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

এভাবে আমাদের সামনে ছয়টি স্তর উন্মোচিত হলো, যেগুলোর বিশুদ্ধতার (صحة) মান ভিন্ন ভিন্ন।

এছাড়া সপ্তম একটি স্তর রয়েছে, যা সম্মিলিতভাবে বা এককভাবে তাঁদের শর্ত অনুযায়ী নয়।

আর এই তারতম্য কেবল উল্লিখিত দিকসমূহ বিবেচনার ভিত্তিতেই করা হয়েছে।

তবে কোনো একটি স্তর যদি এমন কিছু বিষয়ের কারণে তার ওপরের স্তরের তুলনায় অগ্রাধিকার লাভের যোগ্য হয় যা শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে; তবে সেটি তার ওপরের স্তরের তুলনায় অগ্রগণ্য হবে—কেননা কখনো কখনো নিম্নবর্তী বিষয়ের সাথে এমন কিছু অনুষঙ্গ যুক্ত হতে পারে যা তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে।

যেমন ধরুন, কোনো একটি হাদিস মুসলিম-এ আছে এবং সেটি প্রসিদ্ধ (مشهور) পর্যায়ের, যা মুতাওয়াতির (تواتر) পর্যায়ের নিচে। কিন্তু এর সাথে এমন কোনো পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (قرينة) যুক্ত হয়েছে যার ফলে তা নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে; এমতাবস্থায় তা বুখারি-র বর্ণিত এমন হাদিসের ওপর প্রধান্য পাবে যা একক বর্ণনার (فردا مطلقا) পর্যায়ে পড়ে। তদ্রূপ যে হাদিসটি তাঁরা সংকলন করেননি কিন্তু তা এমন কোনো সনদ পরম্পরায় বর্ণিত যা সবচাইতে বিশুদ্ধ সনদ (أصح الأسانيد) হিসেবে স্বীকৃত, যেমন: মালিক-নাফে-ইবনে উমর; এমতাবস্থায় এটি তাঁদের কোনো একজনের এককভাবে বর্ণিত হাদিসের ওপর প্রাধান্য পাবে, বিশেষত...
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ২২)
إذا كان في إسناده من فيه مقال).

 

‌‌الحسن لذاته:

قال الحافظ: -[(فإن خف الضبط فالحسن لذاته).]-

وقال في "النزهة" (ص/78): (فإن خف الضبط؛ أي: قل - يقال: خف القوم خفوفا: قلوا والمراد مع بقية الشروط المتقدمة في حد الصحيح؛ فهو الحسن لذاته لا لشيء خارج، وهو الذي يكون حسنه بسبب الاعتضاد، نحو حديث المستور إذا تعددت طرقه. وخرج باشتراط باقي الأوصاف الضعيف. وهذا القسم من الحسن مشارك للصحيح في الاحتجاج به، وإن كان دونه، ومشابه له في انقسامه إلى مراتب بعضها فوق بعض).

وعليه فتعريف الحسن هو: (خبر الآحاد متصل السند بنقل العدل الذي خف ضبطه عن مثله أو أضبط منه إلى منتهاه ولم يكن معللا ولا شاذا).

 

‌‌الصحيح لغيره:

قال الحافظ: -[(وبكثرة طرقه يصحح).]-

وقال في النزهة (ص/78): (وبكثرة طرقه يصحح، وإنما نحكم له بالصحة عند تعدد الطرق؛ لأن للصورة المجموعة قوة تجبر القدر الذي قصر به ضبط راوي الحسن عن راوي الصحيح، ومن ثم تطلق الصحة على الإسناد الذي يكون حسنا لذاته لو تفرد إذا تعدد).

 

‌‌الأحكام المركبة:

قال الحافظ: -[(فإن جمعا فللتردد في الناقل حيث التفرد، وإلا فباعتبار إسنادين).]-

وقال في "النزهة" (ص/79): (فإن جمعا، أي الصحيح والحسن، في وصف واحد، كقول الترمذي وغيره: "حديث حسن صحيح"، فللتردد الحاصل من المجتهد في الناقل: هل اجتمعت فيه شروط الصحة أو قصر عنها، وهذا حيث يحصل منه التفرد بتلك الرواية.

وعرف بهذا جواب من استشكل الجمع بين الوصفين؛ فقال: الحسن قاصر عن الصحيح؛ ففي الجمع بين الوصفين إثبات لذلك القصور ونفيه!.

ومحصل الجواب: أن تردد أئمة الحديث في حال ناقله اقتضى للمجتهد أن لا يصفه بأحد الوصفين، فيقال فيه: حسن باعتبار وصفه عند قوم، صحيح باعتبار وصفه عند قوم، وغاية ما فيه أنه حذف منه حرف التردد؛ لأن حقه أن يقول: "حسن أو صحيح"، وهذا كما حذف حرف العطف من الذي بعده. وعلى هذا فما قيل فيه: "حسن صحيح" دون ما قيل فيه صحيح؛ لأن الجزم أقوى من التردد، وهذا حيث التفرد.
যদি এর সনদে (إسناد) এমন কেউ থাকে যার সম্পর্কে সমালোচনা (مقال) রয়েছে।

 

‌‌স্বকীয়ভাবে হাসান (الحسن لذاته):

হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেন: -[(যদি বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তির প্রখরতা (ضبط) কিছুটা কম হয়, তবে তা স্বকীয়ভাবে হাসান (الحسن لذاته)।)]-

তিনি "নোজহাতুন নাজর" (পৃ. ৭৮) গ্রন্থে বলেন: (যদি স্মৃতিশক্তির প্রখরতা (ضبط) কিছুটা কম হয়; অর্থাৎ হ্রাস পায় - বলা হয়: 'কাওম হালকা হয়েছে', অর্থাৎ তাদের সংখ্যা কমেছে। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সহিহ (صحيح) হাদিসের সংজ্ঞায় পূর্বে বর্ণিত অন্যান্য শর্তাবলি বিদ্যমান থাকা; এমতাবস্থায় তা স্বকীয়ভাবে হাসান (الحسن لذاته), অন্য কোনো বাহ্যিক কারণে নয়। আর সেটি (লি-গাইরিহি) হলো যার হাসান হওয়া অন্য সূত্রের সমর্থনের (الاعتضاد) কারণে হয়, যেমন অজ্ঞাতপরিচয় বর্ণনাকারীর (المستور) হাদিস যখন তার একাধিক সূত্র (طرق) থাকে। আর অন্যান্য শর্তের উপস্থিতির আবশ্যকতা দ্বারা দুর্বল (ضعيف) হাদিস বাদ পড়ে গেছে। হাসানের এই প্রকারটি দলিল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج) ক্ষেত্রে সহিহ (صحيح) হাদিসের অংশীদার, যদিও তা এর তুলনায় নিম্নমানের; আর বিভিন্ন স্তরে (مراتب) বিভক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এটি সহিহ-এর সদৃশ, যার একটি স্তর অপরটির ঊর্ধ্বে)।

সেই অনুযায়ী হাসানের সংজ্ঞা হলো: (এটি এমন একক সংবাদ (خبر الآحاد) যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন (متصل السند), যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যার স্মৃতিশক্তির প্রখরতা (ضبط) কিছুটা কম, তিনি তার অনুরূপ বা তার চেয়েও বেশি প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন বর্ণনাকারী থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন, এবং তা ত্রুটিযুক্ত (معلل) বা শায (شاذ) নয়)।

 

‌‌অন্য কারণে সহিহ (الصحيح لغيره):

হাফেজ রহ. বলেন: -[(সূত্রের (طرق) আধিক্যের কারণে একে সহিহ সাব্যস্ত করা হয়।)]-

তিনি "নোজহাতুন নাজর" (পৃ. ৭৮) গ্রন্থে বলেন: (সূত্রের (طرق) আধিক্যের কারণে একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করা হয়। আর আমরা একাধিক সূত্রের উপস্থিতিতেই একে সহিহ হওয়ার হুকুম দেই; কারণ সমষ্টিগত রূপটি এমন এক শক্তির জন্ম দেয় যা হাসান (حسن) হাদিসের বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তির (ضبط) সেই ঘাটতি পূরণ করে দেয় যা তাকে সহিহ (صحيح) হাদিসের বর্ণনাকারীর তুলনায় নিম্নমানের করেছিল। এই কারণে এমন কোনো সনদের (إسناد) ওপর সহিহ হওয়ার হুকুম প্রয়োগ করা হয় যা এককভাবে থাকলে স্বকীয়ভাবে হাসান (الحسن لذاته) হতো, কিন্তু তা একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে)।

 

‌‌যৌগিক হুকুমসমূহ (الأحكام المركبة):

হাফেজ রহ. বলেন: -[(যদি উভয় বিশেষণকে একত্রে ব্যবহার করা হয়, তবে বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সংশয়ের (التردد) কারণে যখন বর্ণনাকারী একক (التفرد) হন, অন্যথায় তা দুটি ভিন্ন সনদের (إسناد) বিবেচনায় হয়।)]-

তিনি "নোজহাতুন নাজর" (পৃ. ৭৯) গ্রন্থে বলেন: (যদি সহিহ (صحيح) এবং হাসান (حسن) শব্দ দুটিকে একটি বর্ণনায় একত্রে ব্যবহার করা হয়, যেমন ইমাম তিরমিযী ও অন্যান্যদের উক্তি: "হাদিসটি হাসান সহিহ", তবে তা বর্ণনাকারীর ব্যাপারে মুজতাহিদের (المجتهد) মনে উদিত সংশয়ের (التردد) কারণে: তার মধ্যে কি সহিহ হওয়ার শর্তাবলি পূর্ণ হয়েছে নাকি কিছুটা কমতি রয়েছে। আর এটি তখনই হয় যখন সেই বর্ণনাটি এককভাবে (التفرد) বর্ণিত হয়।

এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তির আপত্তির জওয়াব জানা গেল যিনি উভয় বিশেষণ একত্রে ব্যবহারের বিষয়টিকে জটিল মনে করেছেন; তিনি বলেছেন: হাসান (حسن) তো সহিহ (صحيح) এর চেয়ে নিম্নমানের; সুতরাং উভয় বিশেষণের একত্রীকরণের অর্থ হলো সেই ঘাটতিকে একই সাথে সাব্যস্ত করা আবার অস্বীকার করা!

জওয়াবের সারসংক্ষেপ হলো: হাদিস বিশারদগণের (أئمة الحديث) মনে বর্ণনাকারীর অবস্থা সম্পর্কে সংশয় মুজতাহিদকে (المجتهد) কোনো একটি নির্দিষ্ট বিশেষণে বিশেষায়িত না করতে বাধ্য করেছে। ফলে সেই হাদিস সম্পর্কে বলা হয়: একদলের নিকট বর্ণনাকারীর অবস্থা অনুযায়ী তা হাসান (حسن), আবার অন্য দলের নিকট তা সহিহ (صحيح)। এর চূড়ান্ত বিষয় হলো এখানে সংশয়সূচক অব্যয়টি বিলুপ্ত করা হয়েছে; কারণ মূলত কথাটি ছিল "হাসান অথবা সহিহ", যেমনটি পরবর্তী শব্দ থেকে সংযোজক অব্যয় (حرف العطف) বিলুপ্ত করা হয়েছে। এই ভিত্তিতে যে হাদিসকে "হাসান সহিহ" বলা হয়েছে তা "সহিহ" বলা হাদিসের তুলনায় নিম্নমানের; কারণ সংশয়ের (التردد) চেয়ে দৃঢ়তা (الجزم) অধিক শক্তিশালী। আর এটি একক বর্ণনার (التفرد) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ২৩)
وإلا إذا لم يحصل التفرد فإطلاق الوصفين معا على الحديث يكون باعتبار إسنادين:

أحدهما صحيح، والآخر حسن.

وعلى هذا فما قيل فيه: "حسن صحيح" فوق ما قيل فيه: "صحيح" فقط -إذا كان فردا- لأن كثرة الطرق تقوي).

والوجه الثاني عند الحافظ وارد عليه إشكال فيما يقول فيه الترمذي: حسن صحيح لا نعرفه إلا من هذا الوجه. قال الحافظ الذهبي في "الموقظة" (ص: 29) فقال: (وقول الترمذي: (هذا حديث حسن، صحيح) عليه إشكال: بأن الحسن قاصر عن الصحيح، ففي الجمع بين السمتين لحديث واحد مجاذبة! وأجيب عن هذا بشيء لا ينهض أبدا، وهو أن ذلك راجع إلى الإسناد: فيكون قد روي بإسناد حسن، وبإسناد صحيح. وحينئذ لو قيل: (حسن، صحيح، لا نعرفه إلا من هذا الوجه)، لبطل هذا الجواب! وحقيقة ذلك - أن لو كان كذلك - أن يقال: (حديث حسن وصحيح). فكيف العمل في حديث يقول فيه: (حسن، صحيح، لا نعرفه إلا من هذا الوجه)؟ فهذا يبطل قول من قال: أن يكون ذلك بإسنادين).

واعلم أن اختلاف العلماء في بيان مراد الإمام الترمذي بهذه الاصطلاحات وهذا الاختلاف يرجع إلى عدة أمور منها:

1 - أن الإمام الترمذي لم يفصح عن مراده من هذه الاصطلاحات إلا ما سبق ذكره من تعريفه للحديث الحسن، وأيضاً ما ذكر من أسباب استغراب العلماء للحديث.

2 - صعوبة تحديد قول الترمذي في حكمه على الحديث، وذلك لكثرة اختلاف النسخ فتجد أن الترمذي يقول عن حديث (حسن صحيح) وفي نسخة (حسن) وفي نسخة (صحيح) وهكذا، وعليه فلتحقيق صحة نسبة حكم للترمذي على حديث لابد من مراجعة عدة أصول.

3 - نظراً لأن الترمذي لم يفصح عن مقصوده من هذه الاصطلاحات فإنه يصعب الجزم بأن مقصوده من هذه الأحكام الحكم على الأسانيد، أم الحكم على المتن من أنه معمول به، كما قال عقب حديث: (المسلمون على شروطهم) حسن صحيح، مع أن في إسناده كثير بن عبد الله بن عمرو بن عوف المزني قد أغلظ فيه العلماء القول حتى قال عنه الإمام الشافعي: أحد الكذابين أو أحد أركان الكذب.

4 - أن كل من قام بتفسير أحكام الترمذي المركبة إنما أصدر أحكاماً أغلبية، صادرة عن تتبع واستقراء جزئي لبعض الأحاديث، لذلك فالمتأمل لكلام العلماء الذين خاضوا في
অন্যথায়, যদি একক সূত্র (التفرد) না হয়, তবে হাদিসের ক্ষেত্রে উভয় বিশেষণ একত্রে ব্যবহার হওয়া দুটি সনদের (إسنادين) বিবেচনায় হয়ে থাকে:

যার একটি সহিহ (صحيح), এবং অন্যটি হাসান (حسن)।

এই প্রেক্ষাপটে, যে হাদিস সম্পর্কে 'হাসান সহিহ' (حسن صحيح) বলা হয়েছে, তা কেবল 'সহিহ' (صحيহ) বলা হাদিসের ঊর্ধ্বে—যদি তা একক সূত্রবিশিষ্ট (فرد) হয়—কেননা সূত্রের আধিক্য হাদিসকে শক্তিশালী করে।

হাফিজের (ইবনে হাজার) নিকট দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটির ক্ষেত্রে একটি আপত্তি রয়েছে যা ইমাম তিরমিজি-এর এই উক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: "হাসান সহিহ (حسن صحيح), আমরা এটি এই একটি সূত্র ছাড়া জানি না।" হাফিজ আল-জাহাবি তার 'আল-মুওয়াকিজাহ' (পৃষ্ঠা: ২৯) গ্রন্থে বলেছেন: (তিরমিজি-এর এই উক্তি: "এই হাদিসটি হাসান সহিহ (حسن صحيح)" এর ওপর আপত্তি রয়েছে: কারণ হাসান (حسن) মর্যাদা সহিহ (صحيح) এর চেয়ে কম, তাই একটি হাদিসে উভয় বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটানোতে বৈপরীত্য রয়েছে! এর উত্তরে এমন কিছু বলা হয়েছে যা মোটেও শক্তিশালী নয়, আর তা হলো—এটি সনদের (الإسناد) দিকে প্রত্যাবর্তিত: অর্থাৎ এটি একটি হাসান সনদ (إسناد حسن) এবং একটি সহিহ সনদ (إسناد صحيح) দ্বারা বর্ণিত হয়েছে। এমতাবস্থায়, যদি বলা হয়: "হাসান সহিহ (حسن صحيح), আমরা একে কেবল এই এক সূত্রেই জানি", তবে এই উত্তরটি বাতিল হয়ে যায়! এর বাস্তবতা হলো—যদি বিষয়টি এমনই হতো—তবে বলা হতো: "হাদিসটি হাসান এবং সহিহ (حسن وصحيح)"। সুতরাং এমন হাদিসের ক্ষেত্রে কী করা হবে যে সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "হাসান সহিহ (حسن صحيح), আমরা একে কেবল এই এক সূত্রেই জানি"? এটি সেই ব্যক্তির কথাকে বাতিল করে দেয় যে বলে যে: এটি দুটি সনদের (إسنادين) কারণে হয়েছে)।

জেনে রাখুন যে, ইমাম তিরমিজি-এর এই পরিভাষাগুলোর (اصطلاحات) উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে এবং এই মতভেদ কয়েকটি বিষয়ের দিকে ফিরে যায়, যার মধ্যে রয়েছে:

1 - ইমাম তিরমিজি হাসান (حسن) হাদিসের যে সংজ্ঞা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আলেমদের হাদিসকে বিরল (استغراب) গণ্য করার যে কারণগুলো বর্ণিত হয়েছে, তা ছাড়া এই পরিভাষাগুলোর (الاصطلاحات) উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলেননি।

2 - কোনো হাদিসের ওপর তিরমিজি-এর হুকুম বা সিদ্ধান্তের বিষয়টি নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ পাণ্ডুলিপিগুলোর (النسخ) মধ্যে প্রচুর পার্থক্য রয়েছে। আপনি দেখবেন তিরমিজি একটি হাদিস সম্পর্কে বলেছেন হাসান সহিহ (حسن صحيح), আবার অন্য পাণ্ডুলিপিতে (نسخة) রয়েছে হাসান (حسن) এবং অন্যটিতে সহিহ (صحيح)। অতএব, তিরমিজি-এর কোনো একটি হাদিসের হুকুমের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য একাধিক মূল উৎস পর্যালোচনা করা আবশ্যক।

3 - যেহেতু তিরমিজি এই পরিভাষাগুলোর (الاصطلاحات) উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেননি, তাই এটি নিশ্চিত করে বলা কঠিন যে, এই হুকুম বা সিদ্ধান্তগুলো দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য কি সনদসমূহের (الأسانيد) ওপর হুকুম দেওয়া, নাকি মতন (المتن) বা মূল পাঠটি আমলযোগ্য হওয়ার ওপর হুকুম দেওয়া। যেমন তিনি "মুসলমানরা তাদের শর্তাবলীতে অটল থাকবে" হাদিসটির শেষে বলেছেন হাসান সহিহ (حسن صحيح), যদিও এর সনদে (إسناده) কাসীর বিন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আউফ আল-মুজানি রয়েছেন, যার সম্পর্কে আলেমগণ অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করেছেন, এমনকি ইমাম শাফেঈ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি মিথ্যাবাদীদের (الكذابين) একজন" অথবা "মিথ্যার অন্যতম স্তম্ভ"।

4 - তিরমিজি-এর এই যৌগিক হুকুমগুলোর ব্যাখ্যা যারা প্রদান করেছেন, তারা মূলত আধিক্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যা কিছু হাদিসের আংশিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের (استقراء) মাধ্যমে অর্জিত। তাই আলেমদের বক্তব্যের ওপর গভীরভাবে চিন্তা করলে যারা এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ২৪)
هذا الشأن دائماً يصرحون بأن أحكامهم أغلبية، ونجد كذلك أن التعقب عليهم يكون له وجه.

5 - اختلاف العلماء في الحكم على الترمذي نفسه بالتشدد، أو التساهل في التصحيح

والتضعيف (1)، والصحيح عندي أن هذا الاختلاف ناتج عن عدم تحرير أحكام الترمذي، ومنهجه في الحكم على الأحاديث، فينبغي تحرير ذلك أولاً.

((لما سبق، ولغيره فإنني أرى الآتي:

عدم جدوى التفسير القاصر لأحكام الترمذي.

ضرورة سبر وتتبع أحكام الترمذي في سننه بالاستقراء التام حتى يكون الحكم كلي، لا أغلبي.

وبعد فإنني قد وقفت على جملاً كثيرة مما كتب العلماء، وطلاب العلم حول تفسير أحكام الترمذي المركبة، وأرى أن الأقرب في تفسير قول الترمذي: "حسن صحيح" من الناحية النظرية - إن كان لابد من ذلك - أن الطرق التي ذكرها تقوت وارتفعت لدرجة الصحة، فيكون كالمنزلة التي يقول عنها ابن حجر: صحيح لغيره، وهذا إنما يتجه على كلا الاحتمالين الذين قد سبق وأن ذكرتهما قريباً في تفسير قول الترمذي: لا يكون في إسناده من يتهم بالكذب. فعلى كلام الحافظ ابن رجب فظاهر لدخول الراوي الثقة الذي يقل، أو يكثر في حديثه الغلط، وكذلك الراوي الصدوق. وعلى كلام الحافظ ابن حجر من اقتصاره على الرواة الذين فيهم ضعف محتمل دون الثقات، فيكون التقوي بالهيئة الاجتماعية.

وإنما يتأتى هنا إشكالاً- على كلام ابن حجر - فيما يقول فيه الترمذي: حسن صحيح لا نعرفه إلا من حديث فلان، أو من هذا الوجه، والجواب عندي على هذا الإشكال أن يقال: لعل التقوي هنا إنما يتجه للمتن، لا للإسناد، كأن يشهد لمتن الحديث ظاهر القرآن، أو كأن يكون عليه العمل عند العلماء، كما قال في حديث: (الظهر يركب إذا كان مرهونا ولبن الدر يشرب إذا كان مرهونا وعلى الذي يركب ويشرب نفقته) فقد ساقه مرفوعاً من طريق أبي كريب ويوسف بن عيسى قالا حدثنا وكيع عن زكريا عن عامر عن أبي

--------------------------------------------

(1) انظر دفاع د. نور الدين عتر عن اتهام الترمذي بالتساهل في كتابه (الإمام الترمذي والموازنة بين جامعه والصحيحين) (237 - 265) فإنه قد أجاد فيه وأحسن الدفاع، واستقصى الكلام.
এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা সর্বদা ব্যক্ত করেন যে তাঁদের সিদ্ধান্তসমূহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (أغلبية), এবং আমরা এটিও দেখতে পাই যে তাঁদের ওপর করা আপত্তিরও (التعقب) যৌক্তিক দিক রয়েছে।

৫ - ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর নিজের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোরতা (التشدد), অথবা সহিহ সাব্যস্ত করার (التصحيح) ক্ষেত্রে শিথিলতা (التساهل)

ও দুর্বল সাব্যস্ত করার (التضعيف) (১) বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মতভেদ। আমার নিকট সঠিক কথা এই যে, এই মতভেদটি ইমাম তিরমিজির হুকুমসমূহ এবং হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর মানহাজ বা কর্মপন্থা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ না করার ফল। তাই প্রথমে সেটি বিশ্লেষণ করা আবশ্যক।

((পূর্বোক্ত এবং অন্যান্য কারণে আমি নিম্নরূপ মনে করি:

ইমাম তিরমিজির হুকুমসমূহের অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যার কোনো কার্যকারিতা নেই।

সুনান গ্রন্থে ইমাম তিরমিজির হুকুমসমূহকে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের (الاستقراء التام) মাধ্যমে তন্নতন্ন করে তালাশ করা জরুরি, যাতে হুকুমটি সামগ্রিক (كلي) হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্র ভিত্তিক (أغلبي) না হয়।

অতঃপর, ইমাম তিরমিজির যৌগিক হুকুমসমূহের (أحكام الترمذي المركبة) ব্যাখ্যার বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম এবং ইলম অন্বেষণকারীদের লিখিত অনেক বক্তব্যের সাথে আমি পরিচিত হয়েছি। তাত্ত্বিক দিক থেকে ইমাম তিরমিজির উক্তি: "হাসান সহিহ (حسن صحيح)"-এর ব্যাখ্যায় আমার কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য মনে হয় যে—যদি এর ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়—তবে তিনি যেসব সূত্রের (الطرق) কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলো শক্তিশালী হয়েছে এবং সহিহ হওয়ার (الصحة) স্তরে উন্নীত হয়েছে। ফলে এটি এমন এক স্তরের হবে যেটিকে ইবনে হাজার: সহিহ লি-গাইরিহি (صحيح لغيره) বলেছেন। এটি সেই দুটি সম্ভাবনার (الاحتمالين) ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যা আমি ইতিপূর্বে ইমাম তিরমিজির উক্তি: "তার সনদে (إسناده) মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (يتهم بالكذب) কেউ নেই" এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছি। হাফেজ ইবনে রজবের বক্তব্য অনুযায়ী এটি স্পষ্ট, কারণ এতে সেই নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারী অন্তর্ভুক্ত হন যাঁর বর্ণিত হাদিসে ভুল (الغلط) কম বা বেশি হয়ে থাকে, আর তদ্রূপ সত্যবাদী (الصدوق) বর্ণনাকারীও এর অন্তর্ভুক্ত হন। আর হাফেজ ইবনে হাজারের বক্তব্য অনুযায়ী এটি কেবল সেই বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ যাদের মধ্যে সম্ভাব্য দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে, নির্ভরযোগ্যদের (الثقات) ক্ষেত্রে নয়; ফলে এখানে শক্তির আধিক্য ঘটে সমষ্টিগত অবস্থার (الهيئة الاجتماعية) কারণে।

তবে হাফেজ ইবনে হাজারের বক্তব্যের ওপর এখানে একটি সংশয় (إشكالاً) দেখা দেয় যখন তিরমিজি বলেন: "হাসান সহিহ (حسن صحيح), আমরা এটি অমুকের হাদিস ব্যতীত বা এই দিক ব্যতীত জানি না।" এই সংশয়ের উত্তরে আমার পক্ষ থেকে বলা যায়: সম্ভবত এখানে শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি মতন (المتن)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সনদ বা ইসনাদ (الإسناد)-এর ক্ষেত্রে নয়; যেমন হাদিসের মতন (متن)-এর সপক্ষে কুরআনের বাহ্যিক অর্থ সাক্ষ্য দেয়, অথবা ওলামায়ে কেরামের নিকট সেটির ওপর আমল বিদ্যমান থাকে।

যেমনটি তিনি এই হাদিসের ক্ষেত্রে বলেছেন: (বন্ধকী পশুর পিঠে আরোহণ করা যাবে যখন তা বন্ধক থাকে এবং দুগ্ধবতী পশুর দুধ পান করা যাবে যখন তা বন্ধক থাকে, আর যে আরোহণ করবে ও পান করবে তার ওপরই এর ব্যয়ভার বর্তাবে)। তিনি এটি আবু কুরাইব ও ইউসুফ ইবনে ঈসার সূত্রে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন, আমাদের নিকট ওয়াকি বর্ণনা করেছেন জাকারিয়া থেকে, তিনি আমের থেকে, তিনি আবু...

--------------------------------------------

(১) ইমাম তিরমিজির প্রতি শিথিলতার (التساهل) যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তার জবাবে ড. নূরুদ্দিন ইতর-এর প্রতিরক্ষা দেখুন তাঁর 'আল-ইমাম আত-তিরমিজি ওয়াল মুওয়াজানাতু বাইনা জামিইহি ওয়াস সহিহাইন' কিতাবে (পৃষ্ঠা ২৩৭-২৬৫); তিনি এতে অত্যন্ত নিপুণভাবে ও চমৎকারভাবে প্রতিরক্ষা করেছেন এবং আলোচনাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ২৫)
هريرة مرفوعاً به، ثم قال: (هذا حديث حسن صحيح لا نعرفه مرفوعا إلا من حديث عامر الشعبي عن أبي هريرة وقد روى غير واحد هذا الحديث عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة موقوفا والعمل على هذا الحديث عند بعض أهل العلم وهو قول أحمد وإسحاق وقال بعض أهل العلم ليس له أن ينتفع من الرهن بشيء) والله أعلم.

وقد وسعت الكلام في: شرحي الموقظة على أحكام الترمذي المركبة.

 

‌‌زيادة الثقة والشاذ:

قال الحافظ: -[(وزيادة راويهما مقبولة ما لم تقع منافية لمن هو أوثق، فإن خولف بأرجح فالراجح المحفوظ، ومقابله الشاذ)]-.

المقصود أن زيادة راوي الحديث المقبول - سواء أكان تام الضبط أم خفيف الضبط - مقبولة ما لم تقع منافية لمن هو أولى منه، أما إن خولف هذا الراوي بأرجح منه عددا أو صفة فالراجح يقال له المحفوظ، والمخالف يقال له شاذ.

قال الحافظ في "النزهة" (ص/82): (وزيادة راويهما، أي: الصحيح والحسن، مقبولة، ما لم تقع منافية لرواية من هو أوثق ممن لم يذكر تلك الزيادة؛ لأن الزيادة: إما أن تكون لا تنافي بينها وبين رواية من لم يذكرها؛ فهذه تقبل مطلقا؛ لأنها في حكم الحديث المستقل الذي ينفرد به الثقة ولا يرويه عن شيخه غيره. وإما أن تكون منافية، بحيث يلزم من قبولها رد الرواية الأخرى؛ فهذه التي يقع الترجيح بينها وبين معارضها؛ فيقبل الراجح ويرد المرجوح.

واشتهر عن جمع من العلماء القول بقبول الزيادة مطلقا، من غير تفصيل، ولا يتأتى ذلك على طريق المحدثين الذين يشترطون في الصحيح أن لا يكون شاذا، ثم يفسرون الشذوذ بمخالفة الثقة من هو أوثق منه.

والمنقول عن أئمة الحديث المتقدمين: كعبد الرحمن بن مهدي، ويحيى القطان، وأحمد بن حنبل، ويحيى بن معين، وعلي بن المديني، والبخاري، وأبي زرعة، وأبي حاتم، والنسائي، والدارقطني، وغيرهم، اعتبار الترجيح فيما يتعلق بالزيادة وغيرها، ولا يعرف عن أحد منهم إطلاق قبول الزيادة … فإن خولف بأرجح منه: لمزيد ضبط، أو كثرة عدد، أو غير ذلك من وجوه الترجيحات، فالراجح يقال له: "المحفوظ". ومقابله، وهو المرجوح، يقال له: "الشاذ" مثال ذلك: ما رواه الترمذي، والنسائي، وابن ماجة، من طريق ابن عيينة، عن عمرو بن دينار، عن عوسجة، عن ابن عباس: "أن رجلا توفي على عهد النبي صلى الله عليه وسلم، ولم يدع وارثا إلا مولى هو أعتقه … "، الحديث، وتابع ابن عيينة على
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত এটি মারফু (مرفوعًا) হাদিস। এরপর তিনি (তিরমিযি) বলেন: (এটি একটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস। আবু হুরায়রা থেকে আমির আশ-শা’বি-এর বর্ণনা ছাড়া অন্য কোনো সূত্রে আমরা এটি মারফু (مرفوعًا) হিসেবে জানি না। অথচ একাধিক রাবি আবু সালেহ-এর সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে আমাশের মাধ্যমে হাদিসটি মাওকুফ (موقوفًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিছু আহলে ইলমের নিকট এই হাদিস অনুযায়ী আমল রয়েছে এবং এটিই আহমাদ ও ইসহাকের অভিমত। আবার কিছু আহলে ইলম বলেছেন যে, বন্ধকি বস্তু থেকে কোনোভাবেই উপকৃত হওয়া যাবে না।) আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আমি ‘আল-মুয়কিজাহ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘শরহুল মুয়কিজাহ আলা আহকামিত তিরমিযিল মুরাক্কাবাহ’-তে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

 

‌‌নির্ভরযোগ্য রাবির অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) এবং শায (الشاذ):

হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: -[(উভয় প্রকার হাদিসের রাবির অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য (مقبولة), যতক্ষণ না তা অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) কোনো রাবির বর্ণনার পরিপন্থী হয়। যদি তা অধিক অগ্রগণ্য বর্ণনার বিরোধী হয়, তবে অগ্রগণ্য (الراجح) বর্ণনাটিকে মাহফুজ (المحفوظ) বলা হয় এবং এর বিপরীত বর্ণনাটিকে শায (الشاذ) বলা হয়।)]-।

উদ্দেশ্য হলো, গ্রহণযোগ্য (المقبول) হাদিসের রাবির অতিরিক্ত বর্ণনা—তিনি পূর্ণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (تام الضبط) হোন কিংবা শিথিল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (خفيف الضبط) হোন—তা গ্রহণযোগ্য (مقبولة), যতক্ষণ না তা তার চেয়ে অধিক যোগ্য রাবির বর্ণনার বিপরীত হয়। কিন্তু যদি এই রাবি সংখ্যাগত দিক থেকে কিংবা গুণগত দিক থেকে অধিক অগ্রগণ্য কারো বিরোধিতা করেন, তবে অগ্রগণ্য (الراجح) বর্ণনাটিকে মাহফুজ (المحفوظ) বলা হয় এবং বিরোধিতাকারী বর্ণনাটিকে শায (الشاذ) বলা হয়।

হাফেজ ‘নুজহাতুন নজর’ (পৃ. ৮২) গ্রন্থে বলেন: (উভয় প্রকার অর্থাৎ সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) হাদিসের রাবির অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য (مقبولة), যতক্ষণ না তা এমন কোনো অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) রাবির বর্ণনার পরিপন্থী হয় যিনি ওই অতিরিক্ত অংশটুকু উল্লেখ করেননি। কারণ অতিরিক্ত বর্ণনাটি হয় এমন হবে যে তার সাথে অন্য বর্ণনার কোনো বিরোধ নেই; এমতাবস্থায় তা নিঃশর্তভাবে গ্রহণযোগ্য। কারণ এটি তখন এমন এক স্বতন্ত্র হাদিসের পর্যায়ভুক্ত হয় যা একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তার উস্তাদ থেকে অন্য কেউ তা বর্ণনা করেননি। অথবা এটি পরিপন্থী হবে, যার ফলে তা গ্রহণ করা অন্য বর্ণনাটি প্রত্যাখ্যান করার নামান্তর হবে; এক্ষেত্রে উভয় বর্ণনার মধ্যে অগ্রগণ্যতা (তারজিহ) বিবেচনা করা হবে এবং অগ্রগণ্য (الراجح) বর্ণনাটি গ্রহণ করা হবে ও অনগ্রগণ্য (المرجوح) বর্ণনাটি প্রত্যাখ্যান করা হবে।

একদল আলিমের মাঝে কোনো বিশ্লেষণ ছাড়াই ঢালাওভাবে অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণের মতটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তবে মুহাদ্দিসগণের মানহাজ অনুযায়ী এটি সম্ভব নয়, যারা সহিহ (صحيح) হওয়ার জন্য শর্ত আরোপ করেন যে হাদিসটি শায (شاذ) হতে পারবে না। অতঃপর তারা ‘শুজুজ’ বা বিচ্যুতির ব্যাখ্যা দেন এভাবে যে, একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি কর্তৃক তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) কারো বিরোধিতা করা।

পূর্বসূরি মুহাদ্দিস ইমামগণ—যেমন আবদুর রহমান ইবনুল মাহদি, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মায়িন, আলি ইবনুল মাদিনি, বুখারি, আবু জুর’আহ, আবু হাতিম, নাসায়ি, দারা কুতনি প্রমুখ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, অতিরিক্ত বর্ণনা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা যাচাই-বাছাই বা অগ্রগণ্যতা (তারজিহ) বিবেচনা করতেন। তাদের কারো থেকেই ঢালাওভাবে অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণের কথা জানা যায় না … অতএব, যদি অধিক স্মৃতিশক্তি (ضبط), রাবিদের আধিক্য অথবা অন্য কোনো মানদণ্ডে অধিকতর অগ্রগণ্য বর্ণনার বিরোধিতা করা হয়, তবে অগ্রগণ্য (الراجح) বর্ণনাটিকে ‘মাহফুজ’ (المحفوظ) বলা হয়। আর এর বিপরীত তথা অনগ্রগণ্য (المرجوح) বর্ণনাটিকে ‘শায’ (الشاذ) বলা হয়। এর উদাহরণ হলো: যা তিরমিযি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ ইবনে উইয়াইনাহ-এর সূত্রে, আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি আওসাজাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে এক ব্যক্তি ইন্তেকাল করলেন এবং তিনি তার মুক্ত করা দাস ছাড়া অন্য কোনো ওয়ারিশ রেখে যাননি … ” হাদিসটি। ইবনে উইয়াইনাহর এই বর্ণনায় অনুসরণ (متابعة) করেছেন:
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ২৬)
وصله ابن جريج وغيره، وخالفهم حماد بن زيد؛ فرواه عن عمرو بن دينار، عن عوسجة. ولم يذكر ابن عباس. قال أبو حاتم: "المحفوظ حديث ابن عيينة". انتهى.

فحماد بن زيد من أهل العدالة والضبط، ومع ذلك، رجح أبو حاتم رواية من هم أكثر عددا منه.

وعرف من هذا التقرير أن الشاذ: ما رواه المقبول مخالفا لمن هو أولى منه، وهذا هو

المعتمد في تعريف الشاذ، بحسب الاصطلاح).

 

‌‌تتمة:

المثال الذي ذكره الحافظ كمثال للزيادة في الإسناد ظاهره أنه مثال للزيادة المقبولة وليست الشاذة فزيادة الوصل مقبولة.

ويجاب عن هذا كما قال اللقاني (1/ 380) بأن إطلاق المخالفة في كلام الحافظ شاملة للزيادة والنقص، سواء كانت في السند، أم المتن.

وهذا المثال الذي ذكره الحافظ مثال للمخالفة بالنقص في السند.

ومن أمثلة الزيادة الشاذة في الإسناد ما رواه الحاكم من طريق عبيد بن محمد العجلي، حدثني العباس بن عبد العظيم العنبري، حدثني إسحاق بن منصور، ثنا هُرَيْمُ بن سفيان، عن إبراهيم بن محمد بن المنتشر، عن قيس بن مسلم، عن طارق بن شهاب، عن أبي موسى، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: " الجمعة حق واجب على كل مسلم في جماعة إلا أربعة: عبد مملوك، أو امرأة، أو صبي، أو مريض" وذكر أبي موسى فيه شاذ.

قال الحافظ في "إتحاف المهرة" (ذكر أبي موسى فيه وهم فقد أخرجه أبو داود: عن عباس بن عبد العظيم، بهذا الإسناد بدون ذكره. والحاكم، وشيخه أبو بكر بن إسحاق، وشيخه عبيد بن محمد حفاظ لكنها زيادة شاذة، فقد أخرجه الدارقطني من وجه آخر: عن إسحاق بن منصور كما قال أبو داود. وكذا أخرجه الطبراني من وجه آخر: عن إسحاق).

ومن أمثلة الزيادة المقبولة في المتن:

ما رواه النسائي في "الكبرى" من طريق أبي داود الحفري، وفي "الكبرى" و"عمل اليوم والليلة" من طريق القاسم بن يزيد الجرمي، والدارمي من طريق محمد بن يوسف الفريابي، ثلاثتهم عن سفيان الثوري، عن سلمة، عن عبد الله بن عبد الرحمن بن أبزى، عن أبيه: أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول إذا أصبح: " أصبحنا على فطرة الإسلام، وعلى كلمة الإخلاص، وعلى دين نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، وعلى ملة أبينا إبراهيم حنيفا مسلما، وما كان من المشركين ". ورواه أحمد عن وكيع عن سفيان به
ইবনে জুরাইজ এবং অন্যগণ একে সংযুক্ত করেছেন (وصله), আর হাম্মাদ বিন যায়েদ তাদের বিরোধিতা করেছেন; তিনি এটি আমর বিন দিনার থেকে, তিনি আওসাজা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি ইবনে আব্বাসের উল্লেখ করেননি। আবু হাতিম বলেন: "ইবনে উয়াইনাহ-এর হাদিসটিই সংরক্ষিত (المحفوظ)।" সমাপ্ত।

সুতরাং হাম্মাদ বিন যায়েদ ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) এবং নির্ভুলতা (الضبط) সম্পন্ন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, তা সত্ত্বেও আবু হাতিম তাদের বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন যারা সংখ্যায় তাঁর চেয়ে বেশি।

আর এই বিশ্লেষণ থেকে জানা গেল যে, শায বা বিচ্যুতিপূর্ণ (الشاذ) হলো: যা কোনো গ্রহণযোগ্য (المقبول) বর্ণনাকারী তার চেয়ে অধিকতর অগ্রগণ্য কারো বিরোধিতা করে বর্ণনা করেন। পরিভাষা (الاصطلاح) অনুযায়ী এটিই শায বা বিচ্যুতিপূর্ণ (الشاذ)-এর সংজ্ঞায় নির্ভরযোগ্য মত।

 

‌‌পরিশিষ্ট:

হাফেজ (ইবনে হাজার) সনদের (الإسناد) মধ্যে অতিরিক্ত বর্ণনাকারী হিসেবে যে উদাহরণটি উল্লেখ করেছেন, তার বাহ্যিক দিক থেকে মনে হয় যে এটি গ্রহণযোগ্য অতিরিক্তের উদাহরণ, কোনো বিচ্যুতিপূর্ণ (الشاذة) উদাহরণ নয়; কেননা সনদ সংযুক্তকরণের (الوصل) ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বর্ণনাটি গ্রহণযোগ্য।

এর উত্তরে আল-লাক্কানী (১/৩৮০) যেমনটি বলেছেন যে, হাফেজের বক্তব্যে 'বিরোধিতা' শব্দটি অতিরিক্ত বা বিয়োজন উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, তা সনদে (السند) হোক কিংবা মতনে (المتن)।

আর হাফেজ কর্তৃক উল্লেখিত এই উদাহরণটি হলো সনদে (السند) বিয়োজনজনিত বিরোধিতার উদাহরণ।

আর সনদের (الإسناد) মধ্যে বিচ্যুতিপূর্ণ (الشاذة) অতিরিক্তের উদাহরণ হলো যা হাকেম উবায়দ বিন মুহাম্মদ আল-ইজলি সূত্রে বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাকে আব্বাস বিন আব্দুল আজিম আল-আনবারি বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাকে ইসহাক বিন মনসুর বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাদের কাছে হুরইম বিন সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুনতাশির থেকে, তিনি কায়েস বিন মুসলিম থেকে, তিনি তারিক বিন শিহাব থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "জুমুআ প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জামাতের সাথে আদায় করা একটি অপরিহার্য হক, তবে চার ব্যক্তি ব্যতীত: মালিকানাধীন দাস, নারী, শিশু অথবা অসুস্থ ব্যক্তি।" আর এতে আবু মুসার উল্লেখ করাটি বিচ্যুতিপূর্ণ (شاذ)।

হাফেজ ইবনে হাজার 'ইতহাফুল মাহারা' গ্রন্থে বলেন: (এতে আবু মুসার উল্লেখ একটি ভ্রম (وهم)। কেননা আবু দাউদ একে আব্বাস বিন আব্দুল আজিম থেকে এই একই সনদে (الإسناد) তাঁর উল্লেখ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন। হাকেম, তাঁর উস্তাদ আবু বকর বিন ইসহাক এবং তাঁর উস্তাদ উবায়দ বিন মুহাম্মদ সকলেই হাফেজগণ (حفاظ), কিন্তু এটি একটি বিচ্যুতিপূর্ণ (الشاذة) অতিরিক্ত বর্ণনা। কেননা দারাকুতনি একে অন্যভাবে ইসহাক বিন মনসুর থেকে বর্ণনা করেছেন যেমনটি আবু দাউদ বলেছেন। অনুরূপভাবে তাবারানিও একে অন্যভাবে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন)।

আর মতনে (المتن) গ্রহণযোগ্য অতিরিক্তের একটি উদাহরণ হলো:

যা নাসাঈ 'আস-সুনান আল-কুবরা' গ্রন্থে আবু দাউদ আল-হাফরি-র সূত্রে বর্ণনা করেছেন, এবং 'আস-সুনান আল-কুবরা' ও 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে কাসিম বিন ইয়াজিদ আল-জারমি-র সূত্রে, এবং দারেমি মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি-র সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা তিনজনেই সুফিয়ান সাওরি থেকে, তিনি সালামাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আবযা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ভোরে উপনীত হতেন তখন বলতেন: "আমরা ইসলামের স্বভাবজাত ধর্মের ওপর, একনিষ্ঠতার বাণীর ওপর, আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীনের ওপর এবং আমাদের পিতা ইব্রাহিমের মিল্লাতের ওপর ভোরে উপনীত হয়েছি, যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।" আর আহমদ একে ওয়াকি থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ২৭)
وزاد وكيع: "وإذا أمسى"، وهي زيادة ثقة مقبولة غير منافية.

ومن أمثلة الزيادة الشاذة في المتن ما رواه أحمد من طريق حماد بن سلمة، عن محمد بن عمرو، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة، مرفوعا: (من صام رمضان إيمانا واحتسابا، غفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر).

وهذه الزيادة شاذة أيضا فقد انفرد بها حماد بن سلمة، وخالف غيره ممن رواها عن محمد بن عمرو بدونها قال الأرناؤوط في "هامش المسند": (أخرجه الترمذي من طريق عَبْدَة بن سليمان وعبد الرحمن بن محمد المحاربي، وابن ماجه من طريق محمد بن بشر العبدي، وابن حبان من طريق ثابت بن يزيد الأحول، والبغوي من طريق النضر بن شُمَيْل، خمستهم عن محمد بن عمرو، بهذا الإسناد - دون قوله: "وما تأخر"، فقد انفرد بها حماد بن سلمة، عن محمد بن عمرو، فهي زيادة شاذة).

- وقال اللقاني (1/ 834) في تفسير المخالفة في تعريف الشاذ: (قوله: "مخالفا" أي مخالفة بتعذر معها الجمع، وفي مقدمة الشارح: "يكفي التعذر بغير الوجوه المتكلفة جدا").

 

‌‌‌‌تنبيه:

وأما إن وقعت الزيادة منافية لرواية من هو مساو له في الوثوق فلا تقبل بل يتوقف فيها (1).

 

‌‌المنكر:

قال الحافظ: -[(ومع الضعف فالراجح المعروف، ومقابله المنكر).]-

وقال في "النزهة" (ص/86): (وإن وقعت المخالفة له (2) مع الضعف فالراجح يقال له: "المعروف"، ومقابله يقال له: "المنكر".

مثاله: ما رواه ابن أبي حاتم من طريق حبيب بن حبيب - وهو أخو حمزة بن حبيب الزيات المقرئ- عن أبي إسحاق عن الْعَيْزَارِ بْنِ حُرَيْث عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من أقام الصلاة، وآتى الزكاة، وحج، وصام، وقرى الضيف دخل الجنة". قال أبو حاتم: هو منكر؛ لأن غيره من الثقات رواه عن أبي إسحاق موقوفا وهو المعروف).

تنبيه:

ظاهر قول الحافظ: (وإن وقعت المخالفة له) أن المخالفة هنا وقعت من ضعيف لراوي الحديث المقبول سواء أكان ثقة أم خفيف الضبط، ويؤيد ذلك المثال الذي ذكره، فقد نقل عن أبي حاتم تعليل النكارة بقوله: (لأن غيره من الثقات رواه عن أبي إسحاق موقوفا).

وعلى ذلك يأتي إشكال لماذا سمى الحديث الراجح بالمعروف وهناك بالمحفوظ، وهذا الاحتمال في حمل كلامه عليه صرح بعض تلامذته عنه بخلافه من أن المقصود هنا أن يكون الضعف من الجانبين مع رجحان أحدهما بأن يكون أحسن حالا من الآخر.

قال اللقاني (1/ 841): قوله: "وإن وقعت المخالفة … " إلخ: نقل بعض تلامذة المصنف عنه أنه قال: "المراد بقولي: وإن وقعت المخالفة مع الضعف: أن يكون الضعف في الجانبين مع رحجان أحدهما" انتهى.

قلت: والمعنى: أن الضعيف إذا روى حديثا، وخالف في إسناده أو متنه ضعيفا أرجح منه؛ لكونه أقل منه وأحسن منه حالا، فما رواه الضعيف (الراجح يقال له: المعروف، ومقابله - وهو ما رواه الضعيف) المرجوح - يقال له: المنكر، والتمثيل الآتي يشكل عليه.

فخرج بقيد الضعيف في كل منهما: المحفوظ والشاذ؛ لأن كل واحد منهما راويه مقبول).

توجيه المثال المذكور:

قال اللقاني (1/ 848): (قول أبي حاتم: "لأن غيره من الثقات رووه" لا يناسب ما مر عن المصنف من أنه لابد في المنكر من ضعف كلٍّ من راوييه المخالِف والمخالَف، لذا قال بعض تلامذة المصنف: أنه أوقفه على هذا، فقال له: إن اللائق التمثيل بغيره، وإنه روجع مرة أخرى، فقال: يعتبر الضعف في راوي المنكر المخالِف.

نعم لو وجد فيهما كان كذلك في التسمية، بأن يقال لمن قل ضعفه: معروف وللآخر منكر. انتهى).

ولا خلاف بين الجوابين، فكان الأولى به أن يذكر مثالا يجمع فيه بين المعروف والمنكر، والمثال الذي ذكره مثال صحيح للمنكر دون المعروف.

فتحصل من ذلك أن مخالفة الضعيف منكرة مطلقا، والمخالَف قد يكون معروفا إن كان أقرب في الضعف من المخالِف، وقد يكون مقبولا إن كان راويه مقبولا.

إشكال:

بقي الجواب عن ظاهر قوله: (وزيادة راويهما - أي الصحيح والحسن - مقبولة ما لم تقع منافية لمن هو أوثق. فإن خولف - أي راويهما - بأرجح فالراجح المحفوظ، ومقابله الشاذ، وإن وقعت المخالفة له مع الضعف فالراجح المعروف، ومقابله المنكر) فظاهر قوله المخالَف من الضعيف هو راوي الصحيح والحسن.

قال اللقاني (1/ 849): (وأما أن موضوع التقسيم راوي الحسن والصحيح؛ فجوابه: أن في الكلام شبه استخدام (3) لقصد الاستطراد).

والمقصود أن الظاهر هنا غير مراد وإنما ألجأ الماتن لذلك طريقة اللف والنشر المرتب التي سلكها وهي قريبة من طريقة السبر والتقسيم عند الأصوليين ليلتزم نظاما دقيقا، يستوعب كل مجموعة من علوم الحديث في ظل قسم واحد يجمعها في موضع واحد فيبدأ بذكر الأجناس ثم يفصل بذكر الأنواع مرتبة.

 

‌‌تتمة:

قال اللقاني (1/ 843): (اعلم أن المنكر فردان:

أحدهما: ما خالف فيه المستور، أو الضعيف الذي ينجبر بمتابعة مثله.

وثانيهما: ما تفرد به الضعيف الذي لا ينجبر بمتابعة مثله.

 

وقد قدمنا في الشاذ أنه: ما خالف فيه الثقة من هو أوثق منه، أو تفرد به قليل الضبط، فله فردان - أيضا -، فظهر أنهما متميزان، وأن كلا منهما قسمان، وان المقابل للشاذ:‌‌ المحفوظ، والمنكر: المعروف …

ثم قال: عُلِمَ من كلام المصنف: أن الشاذ ما خالف الثقةُ الأوثقَ منه، وأن المحفوظ: ما خالف فيه الأوثق للثقة، وأن المنكر: ما خالف فيه الأضعف للضعيف، وأن المعروف: ما خالف فيه الضعيف الأضعف.

 

‌‌مثال المخالفة في المتن:

ما رواه أحمد وأبو داود وغيرهما من طريق أبي عقيل زهرة بن معبد، عن ابن عمه، عن عقبة بن عامر عن عمر رضي الله عنهما مرفوعا: " من توضأ فأحسن الوضوء، ثم رفع بصره إلى السماء - أو قال نظره إلى السماء - فقال: أشهد أن لا إله

--------------------------------------------

(1) انظر شرح القاري (ص/315).

(2) هذه الزيادة مذكورة في بعض النسخ دون بعض.

(3) جاء في حاشية قضاء الوطر: الاستخدام: هو أن يأتي المتكلم بلفظة لها معنيان، ثم يأتي بلفظتين يستخدم كل منهما في معنى من معاني تلك اللفظة المتقدمة. نهاية الأرب.
এবং ওকী’ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "এবং যখন সে সন্ধ্যা উপনীত করে", আর এটি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর গ্রহণযোগ্য (مقبولة) অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة), যা মূল পাঠের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

হাদিসের মূল পাঠে (المتن) বিচ্যুত অতিরিক্ত বর্ণনার (الزيادة الشاذة) একটি উদাহরণ হলো যা ইমাম আহমাদ হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-এর সূত্রে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু (مرفوعا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: (যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার পূর্বের এবং পরের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে)।

এই অতিরিক্ত অংশটি (زيادة) বিচ্যুত (شاذة); কারণ হাম্মাদ ইবনে সালামাহ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন (انفرد), এবং তিনি সেই সমস্ত বর্ণনাকারীদের বিরোধিতা (خالف) করেছেন যারা মুহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে এই অংশটি ছাড়াই বর্ণনা করেছেন। আরনাউত "হামিশুল মুসনাদ"-এ বলেছেন: (তিরমিজি এটি আবদাহ ইবনে সুলাইমান ও আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুহারিবি-এর সূত্রে, ইবনে মাজাহ মুহাম্মাদ ইবনে বিশর আল-আবদি-এর সূত্রে, ইবনে হিব্বান সাবিত ইবনে ইয়াজিদ আল-আহওয়াল-এর সূত্রে এবং বাগাউয়ী নাদর ইবনে শুমাইল-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন—তারা পাঁচজনই মুহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে এই সনদ (الإسناد) সহ বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে "এবং পরের" কথাটি উল্লেখ নেই। হাম্মাদ ইবনে সালামাহ মুহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তাই এটি একটি বিচ্যুত অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة شاذة))।

- আল-লাকানি (১/৮৩৪) বিচ্যুত (الشاذ) হাদিসের সংজ্ঞায় বিরোধিতার ব্যাখ্যায় বলেছেন: (তার উক্তি: "বিরোধিতাকারী (مخالفا)" অর্থাৎ এমন বিরোধিতা যার ফলে সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর ব্যাখ্যাকারীর মুখবন্ধে রয়েছে: "অতি কৃত্রিম পন্থা অবলম্বন ছাড়া সমন্বয় অসম্ভব হওয়াই যথেষ্ট")।

 

‌‌‌‌সতর্কবার্তা:

কিন্তু যদি অতিরিক্ত বর্ণনাটি (الزيادة) নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে তার সমপর্যায়ের কারো বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে তা গ্রহণ করা হবে না; বরং সে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে (يتوقف) (১)।

 

‌‌অস্বীকৃত (المنكر):

হাফিয (ইবনে হাজার) বলেছেন: -[(দুর্বলতার (الضعف) সাথে যদি কোনো বর্ণনা অধিকতর অগ্রগণ্য বর্ণনার বিপরীত হয়, তবে সেই অগ্রগণ্য বর্ণনাটিকে সুপরিচিত (المعروف) বলা হয় এবং এর বিপরীতটিকে অস্বীকৃত (المنكر) বলা হয়)]-।

তিনি "নুজহাতুন নাযার" (পৃ. ৮৬)-এ বলেছেন: (যদি বর্ণনাকারীর দুর্বলতার (الضعف) সাথে বিরোধিতা (المخالفة) প্রকাশ পায়, তবে অধিকতর অগ্রগণ্য (الراجح) বর্ণনাটিকে "সুপরিচিত (المعروف)" বলা হয় এবং এর বিপরীতটিকে "অস্বীকৃত (المنكر)" বলা হয়।

উদাহরণস্বরূপ: ইবনে আবি হাতিম হাবিব ইবনে হাবিব—যিনি কারী হামজা ইবনে হাবিব আজ-জায়্যাত-এর ভাই—তার সূত্রে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আইজার ইবনে হুরিছ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি নামাজ কায়েম করবে, জাকাত দেবে, হজ করবে, রোজা রাখবে এবং মেহমানের আপ্যায়ন করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" আবু হাতিম বলেছেন: এটি অস্বীকৃত (منكر); কারণ অন্যান্য নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীগণ একে আবু ইসহাক থেকে মাওকুফ (موقوفا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সেটিই সুপরিচিত (المعروف))।

সতর্কবার্তা:

হাফিযের উক্তি: (যদি তার বিরোধিতা প্রকাশ পায়) এর প্রকাশ্য অর্থ হলো, এখানে বিরোধিতাটি একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী কর্তৃক একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারীর বিরুদ্ধে হয়েছে, চাই সেই গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة) হোন বা শিথিল স্মরণশক্তি সম্পন্ন (خفيف الضبط)। আবু হাতিম থেকে উদ্ধৃত "অস্বীকৃতি" (النكارة)-এর কারণটি এই বিষয়টিকে সমর্থন করে, যেখানে তিনি বলেছেন: (কারণ অন্যান্য নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীগণ এটি আবু ইসহাক থেকে মাওকুফ (موقوفا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন)।

এর ভিত্তিতে একটি প্রশ্ন দেখা দেয় যে, কেন তিনি এখানে অগ্রগণ্য হাদিসটিকে সুপরিচিত (المعروف) নামে অভিহিত করেছেন, অথচ সেখানে সংরক্ষিত (المحفوظ) নামে অভিহিত করেছিলেন। তার কথার এই সম্ভাব্য ব্যাখ্যার বিপরীতে তার কোনো কোনো ছাত্র বর্ণনা করেছেন যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো দুর্বলতা উভয় পক্ষ থেকেই হতে হবে, তবে একটি পক্ষ অন্যটির তুলনায় উত্তম হওয়ার কারণে অগ্রগণ্য বিবেচিত হবে।

আল-লাকানি (১/৮৪১) বলেছেন: তার উক্তি: "আর যদি দুর্বলতার সাথে বিরোধিতা প্রকাশ পায়..." ইত্যাদি: গ্রন্থকারের কোনো কোনো ছাত্র তার পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমার উক্তি: 'দুর্বলতার সাথে বিরোধিতা হওয়া' এর অর্থ হলো দুর্বলতা উভয় পক্ষেই থাকবে, তবে একটি পক্ষ অধিকতর অগ্রগণ্য হবে এবং অন্যটির তুলনায় ভালো অবস্থায় থাকবে।" সমাপ্ত।

আমি বলি: এর অর্থ হলো একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী যখন কোনো হাদিস বর্ণনা করে এবং তার সনদ (إسناده) বা মূল পাঠে (متنه) এমন একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করে যে তার চেয়ে অধিকতর অগ্রগণ্য (أرجح); কারণ সে তার চেয়ে কম দুর্বল এবং তুলনামূলক ভালো অবস্থায় আছে। এমতাবস্থায় সেই দুর্বল কিন্তু অধিকতর অগ্রগণ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনাটিকে বলা হয়: সুপরিচিত (المعروف), এবং এর বিপরীতটি—অর্থাৎ যা অপেক্ষাকৃত দুর্বল (المرجوح) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছে—তাকে বলা হয়: অস্বীকৃত (المنكر)। তবে পরবর্তী উদাহরণটি এই ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করে।

সুতরাং উভয় বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে দুর্বল (الضعيف) হওয়ার শর্তারোপের ফলে সংরক্ষিত (المحفوظ) এবং বিচ্যুত (الشاذ) এই সংজ্ঞার বাইরে চলে গেল; কারণ এই দুটির প্রত্যেকটির বর্ণনাকারীই গ্রহণযোগ্য (مقبول)।

উল্লিখিত উদাহরণের ব্যাখ্যা:

আল-লাকানি (১/৮৪৮) বলেছেন: (আবু হাতিমের উক্তি: "কারণ অন্যান্য নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীগণ এটি বর্ণনা করেছেন" এটি গ্রন্থকারের পূর্ববর্তী সেই বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় যেখানে বলা হয়েছে যে, অস্বীকৃত (المنكر) হওয়ার জন্য বিরোধিতাকারী ও যার বিরোধিতা করা হয়েছে—উভয় বর্ণনাকারীর মধ্যেই দুর্বলতা থাকা আবশ্যক। এই কারণে গ্রন্থকারের কোনো কোনো ছাত্র বলেছেন: তিনি তাকে এ বিষয়ে অবগত করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: এটি বাদ দিয়ে অন্য উদাহরণ দেওয়াই উপযুক্ত ছিল। পরে পুনরায় তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: অস্বীকৃত (المنকর) হাদিসের ক্ষেত্রে বিরোধিতাকারী বর্ণনাকারীর দুর্বলতাই (الضعف) মূল বিবেচ্য বিষয়।

হ্যাঁ, যদি উভয়ের মধ্যেই দুর্বলতা পাওয়া যায়, তবে নামকরণের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমনই হবে যে, যার দুর্বলতা কম তাকে সুপরিচিত (معروف) এবং অপরজনকে অস্বীকৃত (منكر) বলা হবে। সমাপ্ত)।

উভয় উত্তরের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। লেখকের জন্য এমন একটি উদাহরণ দেওয়া অধিকতর উত্তম ছিল যা সুপরিচিত (المعروف) ও অস্বীকৃত (المنكر) উভয়কে একত্রিত করে। আর তিনি যে উদাহরণটি দিয়েছেন তা সুপরিচিত (المعروف) বাদ দিয়ে কেবল অস্বীকৃত (المنكر) হাদিসের জন্য একটি সঠিক উদাহরণ।

সারকথা হলো, দুর্বল (الضعيف) বর্ণনাকারীর বিরোধিতা সর্বাবস্থায় অস্বীকৃত (منكرة); আর যার বিরোধিতা করা হয়েছে সে সুপরিচিত (معروف) হতে পারে যদি সে বিরোধিতাকারীর তুলনায় দুর্বলতায় নিকটতর হয়, অথবা সে গ্রহণযোগ্য (مقبول) হতে পারে যদি সেই বর্ণনাকারী গ্রহণযোগ্য (مقبول) স্তরের হয়।

আপত্তি:

তার বক্তব্যের প্রকাশ্য অর্থের একটি উত্তর বাকি থেকে যায়: (এবং তাদের উভয়ের—অর্থাৎ সহিহ ও হাসান হাদিসের—বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য (مقبولة) যতক্ষণ না তা অধিকতর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর সাথে সাংঘর্ষিক হয়। যদি সে—অর্থাৎ সেই বর্ণনাকারী—অধিকতর অগ্রগণ্য কারো বিরোধিতার সম্মুখীন হয়, তবে অগ্রগণ্য বর্ণনাটি সংরক্ষিত (المحفوظ) এবং এর বিপরীতটি বিচ্যুত (الشاذ)। আর যদি দুর্বলতার সাথে সেই বিরোধিতা প্রকাশ পায়, তবে অগ্রগণ্য বর্ণনাটি সুপরিচিত (المعروف) এবং এর বিপরীতটি অস্বীকৃত (المنكر))। তার বক্তব্যের প্রকাশ্য অর্থ হলো, দুর্বল বর্ণনাকারী যার বিরোধিতা করছে সে মূলত সহিহ ও হাসান হাদিসেরই বর্ণনাকারী।

আল-লাকানি (১/৮৪৯) বলেছেন: (আর বিষয়টি যে হাসান ও সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারীদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কিত, তার উত্তর হলো: এই আলোচনায় প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে 'ইস্তিখদাম' (৩) নামক অলঙ্কারিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে)।

উদ্দেশ্য হলো, এখানে প্রকাশ্য অর্থটি উদ্দিষ্ট নয়, বরং মূল লেখককে বিন্যাস ও শ্রেণিবিন্যাসের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণে বাধ্য করেছে। এটি উসুলবিদদের নিকট 'সাবর ওয়া তাকসিম' (পরীক্ষণ ও বিভাজন) পদ্ধতির কাছাকাছি, যাতে একটি সূক্ষ্ম নিয়ম বজায় থাকে এবং হাদিস বিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয়কে একটি সাধারণ শ্রেণির অধীনে একই স্থানে বিন্যস্ত করা যায়। তাই তিনি প্রথমে মূল শ্রেণিগুলো উল্লেখ করেন এবং পরে বিন্যাস অনুযায়ী প্রকারভেদগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন।

 

‌‌পরিশিষ্ট:

আল-লাকানি (১/৮৪৩) বলেছেন: (জেনে রাখুন যে, অস্বীকৃত (المنكر) হাদিস দুই প্রকার:

প্রথমত: যাতে এমন একজন মাসতুর (المستور) বা দুর্বল (الضعيف) বর্ণনাকারী বিরোধিতা করে যার দুর্বলতা তার মতো অন্য কোনো বর্ণনাকারীর সমর্থক বর্ণনার (متابعة) মাধ্যমে ক্ষতিপূরণযোগ্য (ينجبر)।

দ্বিতীয়ত: যে হাদিস বর্ণনায় এমন দুর্বল (الضعيف) বর্ণনাকারী একক হয়ে যায়, যার দুর্বলতা সমর্থক বর্ণনার (متابعة) মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব নয়।

 

আমরা বিচ্যুত (الشاذ) হাদিসের আলোচনায় উল্লেখ করেছি যে: এটি এমন হাদিস যাতে নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারী তার চেয়ে অধিকতর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করে, অথবা এমন বর্ণনাকারী এটি বর্ণনায় একক হয়ে যায় যার স্মরণশক্তি দুর্বল (قليل الضبط)। সুতরাং এরও দুটি প্রকার রয়েছে। এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, বিচ্যুত ও অস্বীকৃত হাদিস দুটি ভিন্ন বিষয় এবং প্রত্যেকেরই দুটি করে প্রকার রয়েছে। আর বিচ্যুত (الشاذ)-এর বিপরীতে রয়েছে সংরক্ষিত (المحفوظ) এবং অস্বীকৃত (المنكر)-এর বিপরীতে রয়েছে সুপরিচিত (المعروف)...

অতঃপর তিনি বলেন: লেখকের বক্তব্য থেকে জানা গেল যে: বিচ্যুত (الشاذ) হলো যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তার চেয়ে অধিকতর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিপরীতে বর্ণনা করে। সংরক্ষিত (المحفوظ) হলো যা অধিকতর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী সাধারণ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিপরীতে বর্ণনা করে। অস্বীকৃত (المنكر) হলো যা অপেক্ষাকৃত বেশি দুর্বল বর্ণনাকারী একজন দুর্বল বর্ণনাকারীর বিপরীতে বর্ণনা করে। আর সুপরিচিত (المعروف) হলো যা একজন দুর্বল বর্ণনাকারী অপেক্ষাকৃত বেশি দুর্বল বর্ণনাকারীর বিপরীতে বর্ণনা করে)।

 

‌‌মূল পাঠে (المتن) বিরোধিতার উদাহরণ:

যা ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ এবং অন্যান্যরা আবু আকিল জোহরা ইবনে মাবাদ-এর সূত্রে, তিনি তার চাচাতো ভাইয়ের সূত্রে, তিনি উকবা ইবনে আমির থেকে, তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফু (مرفوعا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করে, অতঃপর আকাশের দিকে তার দৃষ্টি উত্তোলন করে—অথবা তিনি বলেছেন আকাশের দিকে তাকায়—এবং বলে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই..."

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শারহুল কারী (পৃ. ৩১৫)।

(২) এই অতিরিক্ত অংশটি কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে, আবার কোনোটিতে নেই।

(৩) 'কাদাউল ওয়াতার' নামক টীকাগ্রন্থে এসেছে: ইস্তিখদাম হলো বক্তা এমন একটি শব্দ ব্যবহার করবেন যার দুটি অর্থ রয়েছে, অতঃপর এমন দুটি শব্দ আনবেন যার প্রত্যেকটি সেই পূর্ববর্তী শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হবে। (নিহায়াতুল আরীব)।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ৩০)
إلا الله وحده لا شريك له. وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، فتحت له ثمانية أبواب الجنة يدخل من أيهن شاء " وزيادة رفع البصر إلى السماء منكرة فقد زادها ابن عم أبي عقيل وهم ومجهول، وقد رواه مسلم في "صحيحه" من طريق أبي إدريس الخولاني وجبير بن نفير عن عقبة عن عمر به دون هذه الزيادة.

 

‌‌المتابعة:

قال الحافظ: -[(والفرد النسبي إن وافقه فهو المتابع).]-

وقال في "النزهة" (ص/87): (وما تقدم ذكره من الفرد النسبي، إن وجد بعد ظن كونه فردا قد وافقه غيره فهو المتابِع بكسر الموحدة.

والمتابعة على مراتب: لأنها إن حصلت للراوي نفسه فهي التامة. وإن حصلت لشيخه فمن فوقه فهي القاصرة، ويستفاد منها التقوية.

مثال المتابعة: ما رواه الشافعي في "الأم"، عن مالك، عن عبد الله بن دينار، عن ابن عمر، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "الشهر تسع وعشرون، فلا تصوموا حتى تروا الهلال، ولا تفطروا حتى تروه، فإن غم عليكم فأكملوا العدة ثلاثين". فهذا الحديث، بهذا اللفظ، ظن قوم أن الشافعي تفرد به عن مالك، فعدوه في غرائبه؛ لأن أصحاب مالك رووه عنه بهذا الإسناد بلفظ: "فإن غم عليكم فاقدروا له". لكن وجدنا للشافعي متابعا، وهو عبد الله بن مسلمة القعنبي، كذلك أخرجه البخاري عنه، عن مالك، وهذه متابعة تامة.

ووجدنا له، أيضا، متابعة قاصرة في صحيح ابن خزيمة من رواية عاصم بن محمد، عن أبيه محمد بن زيد عن جده عبد الله بن عمر، بلفظ: "فكملوا ثلاثين"، وفي صحيح مسلم من رواية عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر، بلفظ: "فاقدروا ثلاثين".

ولا اقتصار في هذه المتابعة - سواء كانت تامة أم قاصرة - على اللفظ، بل لو جاءت بالمعنى كفى، لكنها مختصة بكونها من رواية ذلك الصحابي).

 

‌‌تنبيهات:

- قال اللقاني (1/ 860): (قوله: "النسبي" إنما قيد به لأن الفرد المطلق لا يتأتى فيه المتابعة؛ لأن الذي ينفرد بروايته واحد عن الصحابي فما وُجِدَ له متابع لم يكن فردا مطلقا.

كذا قيل، وفيه نظر؛ لأنه ليس الكلام مفروضا فيما أثبت فرديته، بل فيما يشك في فرديته، وأي متابع من ظن فردية مطلقة لحديث؛ فيسبر ويعتبر فيوجد غير فرد مطلق كما أن الفرد النسبي كذلك، ولعل التقييد باعتبار الكثير، وظاهر كلام ابن الصلاح
إلا الله وحده لا شريك له. وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، فتحت له ثمانية أبواب الجنة يدخل من أيهن شاء " আর আকাশের দিকে দৃষ্টি উত্তোলনের অতিরিক্ত অংশটি প্রত্যাখ্যাত (منكرة); কেননা আবু আকিলের চাচার পুত্র তা বৃদ্ধি করেছেন, তিনি ভ্রমকারী ও অজ্ঞাত (مجهول)। মুসলিম তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি ও জুবায়ের বিন নুফাইর-এর সূত্র ধরে উকবা থেকে, তিনি উমর থেকে এই অতিরিক্ত অংশ ব্যতিরেকেই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌অনুগমন (المتابعة):

হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন: -[(এবং আপেক্ষিক একক (الفرد النسبي) বর্ণনার সাথে যদি অন্য কেউ একমত হয়, তবে তাকে অনুগামী (المتابع) বলা হয়।)]-

তিনি "নুজহা" (পৃ./৮৭) গ্রন্থে বলেছেন: (পূর্বে উল্লেখিত আপেক্ষিক একক (الفرد النسبي) বর্ণনার ক্ষেত্রে যদি একে একক মনে করার পর দেখা যায় যে অন্য কেউ তার সাথে একমত হয়েছে, তবে তাকে শেষ বর্ণের নিচে কাসরা দিয়ে অনুগামী (المتابِع) বলা হয়।

অনুগমন (المتابعة)-এর কয়েকটি স্তর রয়েছে: কারণ যদি তা সরাসরি মূল বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে ঘটে, তবে তা পূর্ণাঙ্গ (تامة)। আর যদি তা তাঁর উস্তাদ বা তাঁর উপরের স্তরের কারও ক্ষেত্রে ঘটে, তবে তা অপূর্ণাঙ্গ (القاصرة)। আর এর মাধ্যমে হাদিসের শক্তি বৃদ্ধি (التقوية) পায়।

অনুগমন (المتابعة)-এর উদাহরণ: ইমাম শাফেয়ি "আল-উম্ম" গ্রন্থে মালেক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মাস উনত্রিশ দিনে হয়, তাই তোমরা চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোজা রেখো না এবং চাঁদ না দেখা পর্যন্ত ইফতার (ঈদ) করো না। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে সংখ্যা ত্রিশ পূর্ণ করো।" এই হাদিসটি সম্পর্কে একদল লোক মনে করেছিলেন যে শাফেয়ি এটি মালেকের নিকট থেকে বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন, তাই তারা একে তাঁর বিরল (غريب) বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত করেছেন; কারণ মালেকের (অন্যান্য) সাথীরা তাঁর থেকে এই সনদে "তার জন্য হিসাব করো" শব্দে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আমরা শাফেয়ির একজন অনুগামী (متابع) পেয়েছি, তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন মাসলামাহ আল-কা'নবি। ইমাম বুখারি তাঁর থেকে এবং তিনি মালেক থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন; আর এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অনুগমন (متابعة تامة)।

আমরা তাঁর জন্য একটি অপূর্ণাঙ্গ অনুগমন (متابعة قاصرة)-ও পেয়েছি সহিহ ইবনে খুজায়মাহ-তে আসিম বিন মুহাম্মদের বর্ণনা থেকে, তিনি তাঁর পিতা মুহাম্মদ বিন জায়েদ থেকে, তিনি তাঁর দাদা আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে "ত্রিশ পূর্ণ করো" শব্দে। এছাড়া সহিহ মুসলিম-এ উবায়দুল্লাহ বিন উমর-এর বর্ণনা থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে "ত্রিশ হিসাব করো" শব্দে।

এই অনুগমন (المتابعة)-এর ক্ষেত্রে—তা পূর্ণাঙ্গ হোক বা অপূর্ণাঙ্গ—হুবহু শব্দ হওয়া জরুরি নয়, বরং অর্থগত মিল থাকলেও যথেষ্ট হবে। তবে শর্ত হলো এটি সেই একই সাহাবির বর্ণনা হতে হবে)।

 

‌‌সতর্কতাসমূহ:

- লাকানি (১/৮৬০) বলেন: (তাঁর উক্তি: "আপেক্ষিক" (النسبي) শব্দটি যুক্ত করার কারণ হলো, নিরঙ্কুশ একক (الفرد المطلق) বর্ণনায় অনুগমন (المتابعة) হওয়া সম্ভব নয়; কারণ সাহাবি থেকে যে বর্ণনাটি কেবল একজনই বর্ণনা করেছেন, তাতে যদি কোনো অনুগামী (متابع) পাওয়া যায় তবে তা আর নিরঙ্কুশ একক (الفرد المطلق) থাকে না।

এরূপ বলা হয়েছে, তবে এতে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে; কেননা আলোচনাটি এমন হাদিস নিয়ে নয় যার একাকীত্ব (ফর্দ হওয়া) নিশ্চিত, বরং যা একক হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। যে ব্যক্তি কোনো হাদিসকে নিরঙ্কুশ একক (الفرد المطلق) মনে করবেন, তিনি যখন অনুসন্ধান ও বিবেচনা (اعتبار) করবেন, তখন তিনি হয়তো একে নিরঙ্কুশ একক নয় বলে গণ্য করবেন, যেমনটি আপেক্ষিক একক (الفرد النسبي)-এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। সম্ভবত এই সীমাবদ্ধতা অধিকাংশের বিবেচনার ভিত্তিতে করা হয়েছে। ইবনে সালাহ-এর বক্তব্যের বাহ্যিক রূপও এমনটি প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ৩১)
والعراقي الإطلاق بل صريحهما ذلك).

- قوله: (وافقه غيره) يشمل الثقة وغيره ممن يعتبر حديثه، وممن لا يعتبر، وإن كانت متابعة الواهي لا تفيد الحجية (1).

- سميت المتابعة التامة بذلك لمشاركته في رجال السند كلهم، ويقال لها أيضا متابعة حقيقية. وأما القاصرة فسميت بذلك لقصورها عن مشاركته هو وكلما بعد المتابع كانت أقصر.

 

‌‌الشاهد:

قال الحافظ: -[(وإن وجد متن يشبهه فهو الشاهد).]-

وقال في "النزهة" (ص/90): (وإن وجد متن يروى من حديث صحابي آخر يشبهه في اللفظ والمعنى، أو في المعنى فقط فهو "الشاهد". ومثاله في الحديث الذي قدمناه: ما رواه النسائي من رواية محمد بن حنين، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم فذكر مثل حديث عبد الله بن دينار عن ابن عمر سواء، فهذا باللفظ.

وأما بالمعنى فهو ما رواه البخاري من رواية محمد بن زياد، عن أبي هريرة، بلفظ: "فإن غمي عليكم فأكملوا عدة شعبان ثلاثين").

 

‌‌الاعتبار:

قال الحافظ: -[(وتتبع الطرق لذلك هو الاعتبار).]-

وقال في "النزهة" (ص/90): (واعلم أن تتبع الطرق: من الجوامع، والمسانيد، والأجزاء، لذلك الحديث الذي يظن أنه فرد؛ ليعلم: هل له متابع أم لا؟ هو "الاعتبار").

--------------------------------------------

(1) انظر اللقاني لهذا التنبيه وتاليه (1/ 863، 864).
এবং ইরাকি নিঃশর্ত প্রয়োগ (الإطلاق) করেছেন, বরং তাঁদের উভয়ের বক্তব্য এটিই স্পষ্ট করে।)

- তাঁর বক্তব্য: (অন্য কেউ তাঁর সাথে একমত হয়েছেন) - এটি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে যাদের হাদিস গ্রহণযোগ্য (يعتبر), আবার যাদের হাদিস গ্রহণযোগ্য নয় তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করে। যদিও অত্যন্ত দুর্বল (الواهي) বর্ণনাকারীর সমর্থনমূলক বর্ণনা (متابعة) দলিলযোগ্যতা (الحجية) প্রদান করে না (১)।

- পূর্ণাঙ্গ সমর্থনমূলক বর্ণনাকে (المتابعة التامة) এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি সনদের (السند) সমস্ত বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে মূল বর্ণনার সাথে অংশীদার হয়; একে প্রকৃত সমর্থনমূলক বর্ণনাও (متابعة حقيقية) বলা হয়। আর অসম্পূর্ণ (القاصرة) বর্ণনাকে এই নামে ডাকা হয় কারণ এটি মূল বর্ণনাকারীর সাথে অংশীদার হওয়ার ক্ষেত্রে অপূর্ণাঙ্গ থাকে, এবং সমর্থনকারী (المتابع) মূল সূত্র থেকে যত দূরে যাবে, এটি তত সংক্ষিপ্ত বা অসম্পূর্ণ হবে।

 

‌‌শাহিদ বা সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা (الشاهد):

হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: -[(এবং যদি এমন কোনো মূল পাঠ (متن) পাওয়া যায় যা এর সদৃশ, তবে সেটিই হলো সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা (الشاهد))।]-

তিনি 'নুজহাতুন নজর' (পৃষ্ঠা/৯০)-এ বলেছেন: (এবং যদি এমন কোনো মূল পাঠ (متن) পাওয়া যায় যা অন্য কোনো সাহাবীর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং তা শব্দ ও অর্থে অথবা কেবল অর্থগতভাবে সদৃশ হয়, তবে সেটিই হলো সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা (الشاهد)। আমাদের পূর্বে উল্লেখিত হাদিসে এর উদাহরণ হলো: যা নাসায়ি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হুনাইন-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার কর্তৃক ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত হাদিসের মতোই অবিকল উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এটি শব্দগত মিলের উদাহরণ।

আর অর্থগত মিলের উদাহরণ হলো যা বুখারি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জিয়াদ-এর সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে, যার শব্দ হলো: "যদি তোমাদের ওপর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে তোমরা শাবান মাসের গণনা ত্রিশ দিন পূর্ণ করো")।

 

‌‌ই’তিবার বা পর্যবেক্ষণ (الاعتبار):

হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: -[(এবং এর জন্য বিভিন্ন সূত্রসমূহ (الطرق) অনুসন্ধান করাই হলো পর্যবেক্ষণ (الاعتبار))।]-

তিনি 'নুজহাতুন নজর' (পৃষ্ঠা/৯০)-এ বলেছেন: (জেনে রাখুন যে, যে হাদিসটিকে একক বর্ণনা (فرد) বলে ধারণা করা হয়, তার জন্য জামে, মুসনাদ এবং জুজ গ্রন্থসমূহ থেকে সেই হাদিসের বিভিন্ন সূত্রসমূহ (الطرق) অনুসন্ধান করা—যাতে জানা যায় যে এর কোনো সমর্থনকারী (متابع) আছে কি না—তা-ই হলো পর্যবেক্ষণ (الاعتبار))।

--------------------------------------------

(১) এই সতর্কীকরণ এবং পরবর্তী বর্ণনার জন্য দেখুন আল-লাকানি (১/ ৮৬৩, ৮৬৪)।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ৩২)
المقبول

 

‌‌المحكم:

قال الحافظ: -[(ثم المقبول: إن سلم من المعارضة فهو المحكم)]-.

وقال في "النزهة" (ص/216): (ثم المقبول: ينقسم، أيضا، إلى معمول به وغير معمول به؛ لأنه إن سلم من المعارضة، أي: لم يأت خبر يضاده، فهو "المحكم"، وأمثلته كثيرة).

قال اللقاني في "قضاء الوطر" (1/ 879): (أشار إلى أن المراد بالمعارضة: المضادة، وهو قريب من قول الجدليين وغيرهم، معناها: إقامة الدليل على خلاف ما أقام الخصم عليه الدليل، فلابد بقرينة المقام في الخبر المضاد له من كونه مقبولا وفي مرتبته أيضا. وفي كلامه إشاره إلى أنه لابد من تعذر الجمع الغير متكلَّف حال الاعتبار أيضا).

ومفاد كلامه أن المحكم هو: الحديث المقبول الذي سلم من معارضة مثله في القبول. وأنه يعمل به بلا شبهة.

وقوله: (وأمثلته كثيرة) فقد مثل له الحاكم بحديث «إن أشد الناس عذابا يوم القيامة الذين يشبهون بخلق الله عز وجل»، وحديث «لا يقبل الله صلاة بغير طهور، ولا صدقة من غلول»، وحديث «إذا وضع العشاء، وأقيمت الصلاة فابدءوا بالعشاء» … وعقب الحاكم على كل حديث بقوله: (هذه سنة صحيحة لا معارض لها) ثم قال: (وقد صنف عثمان بن سعيد الدارمي فيه كتابا كبيرا) وهذا الكتاب اسمه " لا معارض له"، وقد أورد فيه كل حديث لا معارض له (1).

 

‌‌مختلف الحديث:

قال الحافظ: -[(وإن عورض - أي المقبول - بمثله: فإن أمكن الجمع فمختلف الحديث).]-

ومفاد كلامه أن المختلف هو: الحديث المقبول المعارض بمثله مع إمكان الجمع.

قوله: (عورض) أي معارضة ظاهرية أو صورية من وجهة نظر المجتهد وليست معارضة حقيقة، فالأدلة لا يكون بينها تعارض حقيقي.

لا فرق بين الأدلة الظنية والقطعية (2) في امتناع وقوع التعارض بينهما بمعنى أنه يمتنع

--------------------------------------------

(1) انظر "التحبير في المعجم الكبير" (1/ 123).

(2) المقصود بما كان قطعيا من الأدلة، هو ما كان قطعيا في دلالته وثبوته، وما كان ظنيا أي في

دلالته أو في ثبوته.
গ্রহণযোগ্য (المقبول)

 

‌‌অকাট্য (المحكم):

হাফিজ (ইবনে হাজার) রহ. বলেছেন: -[(অতঃপর গ্রহণযোগ্য (المقبول): যদি তা বিরোধিতা (المعارضة) থেকে মুক্ত থাকে তবে তা অকাট্য (المحكم))]-।

তিনি "নুজহাতুন নাযার" (পৃ. ২১৬)-এ বলেছেন: (অতঃপর গ্রহণযোগ্য (المقبول): এটিও আমলযোগ্য (معمول به) এবং আমলযোগ্য নয় এমন (غير معمول به) — এই দুই ভাগে বিভক্ত; কারণ যদি তা বিরোধিতা (المعارضة) থেকে মুক্ত থাকে, অর্থাৎ: এর বিপরীতে কোনো বৈপরীত্যপূর্ণ (المضادة) বর্ণনা (خبر) না আসে, তবে তা হলো "অকাট্য (المحكم)", আর এর উদাহরণ অনেক)।

আল-লাকানী "কাদা আল-ওয়াতার" (১/ ৮৭৯) গ্রন্থে বলেছেন: (তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, বিরোধিতা (المعارضة) বলতে বৈপরীত্য (المضادة) বোঝানো হয়েছে, যা তার্কিক ও অন্যদের সংজ্ঞার কাছাকাছি; এর অর্থ হলো: প্রতিপক্ষ যে বিষয়ের ওপর দলিল পেশ করেছে, তার বিপরীতে দলিল উপস্থাপন করা। সুতরাং প্রসঙ্গের পারিপার্শ্বিকতায় এর বিপরীতে বিদ্যমান বর্ণনাটি (خبر) অবশ্যই গ্রহণযোগ্য (مقبول) এবং সমপর্যায়ের হওয়া আবশ্যক। তার বক্তব্যে এ বিষয়েরও ইঙ্গিত রয়েছে যে, পর্যালোচনাকালে কোনো কষ্টকল্পিত (متكلَّف) উপায় ছাড়াই সমন্বয় (الجمع) করা অসম্ভব হতে হবে)।

তার বক্তব্যের নির্যাস হলো, অকাট্য (المحكم) হলো: সেই গ্রহণযোগ্য (المقبول) হাদিস যা সমপর্যায়ের গ্রহণযোগ্য বর্ণনার বিরোধিতা (المعارضة) থেকে মুক্ত। এবং এর ওপর কোনো সংশয় ছাড়াই আমল করা হয়।

তার কথা: (এর উদাহরণ অনেক), এ প্রসঙ্গে ইমাম হাকিম উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন: «কেয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে তারা, যারা আল্লাহর সৃষ্টির সদৃশ কিছু তৈরি করে», এবং হাদিস: «পবিত্রতা ব্যতীত আল্লাহ সালাত কবুল করেন না এবং খিয়ানতের মালের সদকা কবুল করেন না», এবং হাদিস: «যখন রাতের খাবার উপস্থিত করা হয় এবং সালাতের ইকামত হয়ে যায়, তখন আগে খাবার শুরু করো» … ইমাম হাকিম প্রতিটি হাদিসের পর মন্তব্য করেছেন: (এটি একটি সহিহ সুন্নাহ যার কোনো বিরোধিতাকারী (المعارض) নেই)। অতঃপর তিনি বলেছেন: (উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি এই বিষয়ে একটি বড় কিতাব সংকলন করেছেন)। এই কিতাবটির নাম হলো "লা মুআরিদা লাহু", এবং এতে তিনি এমন প্রতিটি হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছেন যার কোনো বিরোধিতাকারী নেই (১)।

 

‌‌বিরোধপূর্ণ হাদিস (مختلف الحديث):

হাফিজ (ইবনে হাজার) রহ. বলেছেন: -[(আর যদি গ্রহণযোগ্য (المقبول) হাদিসটির সমপর্যায়ের কোনো বর্ণনার মাধ্যমে বিরোধিতা (المعارضة) করা হয়: তবে যদি সমন্বয় (الجمع) করা সম্ভব হয়, তবে তা বিরোধপূর্ণ হাদিস (مختلف الحديث))]-।

তার বক্তব্যের নির্যাস হলো, বিরোধপূর্ণ (المختلف) হাদিস হলো: সেই গ্রহণযোগ্য (المقبول) হাদিস যা সমপর্যায়ের বর্ণনার মাধ্যমে বিরোধিতাপ্রাপ্ত হয়েছে, তবে যার সমন্বয় (الجمع) করা সম্ভব।

তার কথা: (বিরোধিতা করা হয়েছে) অর্থাৎ মুজতাহিদের দৃষ্টিতে বাহ্যিক বা দৃশ্যত বিরোধিতা, কোনো প্রকৃত বিরোধিতা নয়; কারণ দলিলসমূহের মধ্যে কোনো প্রকৃত বৈপরীত্য থাকতে পারে না।

ধারণাপ্রসূত (الظنية) এবং সুনিশ্চিত (القطعية) দলিলসমূহের (২) মধ্যে বৈপরীত্য ঘটা অসম্ভব হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই, অর্থাৎ এটি অসম্ভব যে

--------------------------------------------

(১) দেখুন "আত-তাহবীর ফিল মুজামিল কাবীর" (১/ ১২৩)।

(২) দলিলসমূহের মধ্যে যা সুনিশ্চিত (قطعي) বলা হয়েছে, তার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা তার অর্থগত নির্দেশনায় এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সুনিশ্চিত। আর যা ধারণাপ্রসূত (ظني), তা হলো যা তার

অর্থগত নির্দেশনায় অথবা প্রমাণের ভিত্তিতে ধারণাপ্রসূত।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ৩৩)
حدوث تعارض حقيقي بين الأدلة، وأنه إذا حدث تعارض بين الأدلة فإنه يكون صوريا أي

من وجهة نظر المجتهد فقط، وذلك لأن كتاب الله سالم من الاختلاف والاضطراب والتناقض؛ لأنه تنزيل من حكيم حميد فهو حق من حق، قال تعالى: (أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا) [النساء: 82] ولهذا مدح الله تعالى الراسخين في العلم حيث قالوا: (آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا) [آل عمران: 7]؛ أي: محكمه ومتشابهه حق. وقال صلى الله عليه وسلم: (إن القرآن لم ينزل يكذب بعضه بعضًا، بل يصدق بعضه بعضًا، فما عرفتم منه فاعملوا به، وما جهلتم منه فردوه إلى عالمه) (1). كما أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم الصحيحة مبرأة من التناقض والاختلاف؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم معصوم من التناقض والاختلاف بإجماع الأمة، لا فرق في ذلك بين المتواتر والآحاد، قال تعالى: (وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى* إِنْ هُوَ إِلا وَحْيٌ يُوحَى) [النجم: 3، 4]. وكل هذه الأدلة تشمل الظني والقطعي منهما.

قوله: (بمثله) أي في القبول وليس في القوة، فلا يشترط التساوي في القوة فيمكن أن يقع التعارض بين المتواتر والآحاد، أو الصحيح والحسن، ونحو ذلك.

قوله: (أمكن الجمع) أي بين مدلوليهما بغير تعسف (2).

قال اللقاني في "قضاء الوطر" (1/ 886): (قوله: "بغير تعسف" أي: بأن يكون موافقا للقوانين اللغوية، أو الشرعية، أو العقلية، بحيث لا يخالف القواطع منها).

قال القاري في "شرح النخبة" (ص:362): ((إما أن يمكن الجمع) أي بتأويل، أو تقييد، أو تخصيص (بين مدلوليهما) أي معنييهما، (بغير تعسف) متعلق بالجمع، والتعسف: أزيد من التكلف، لأنه خروج عن الجادة. قال المصنف: لأن ما كان بتعسف فللخصم أن يرده، وينتقل إلى ما بعده من المراتب).

 

‌‌أمثلته:

قال المناوي في "اليواقيت والدرر" (1/ 452): (ومثل له جمع بحديث الترمذي وغيره: "أيما إهاب دبغ فقد طهر" مع حديث أبي داود والترمذي وغيرهما: "لا تنتفعوا من الميتة بإهاب ولا عصب". الشامل للإهاب المدبوغ وغيره حملناه على غيره جمعا بين

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد وغيره من حديث عمرو بن شعيب عن أبي عن جده، وصححه الشيخ الألباني والشيخ الأرناؤوط.

(2) انظر "النزهة" (1/ 216).
প্রমাণসমূহের (أدلة) মধ্যে প্রকৃত বিরোধ (تعارض) ঘটা; আর যদি প্রমাণসমূহের (أدلة) মধ্যে কোনো বিরোধ (تعارض) ঘটে, তবে তা কেবল বাহ্যিক, অর্থাৎ শুধুমাত্র মুজতাহিদের দৃষ্টিকোণ থেকে। কারণ আল্লাহর কিতাব মতভেদ, বিশৃঙ্খলা এবং পরস্পরবিরোধিতা থেকে মুক্ত; কেননা এটি প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, তাই এটি হকের পক্ষ থেকে আসা পরম সত্য। মহান আল্লাহ বলেন: "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ দেখতে পেত" [নিসা: ৮২]। এজন্যই আল্লাহ তাআলা ইলমের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন যখন তারা বলে: "আমরা এতে ঈমান এনেছি, সব কিছুই আমাদের রবের পক্ষ থেকে" [আল ইমরান: ৭]; অর্থাৎ এর মুহকাম ও মুতাশাবিহ উভয়ই সত্য। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই কুরআন একে অপরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য অবতীর্ণ হয়নি, বরং এটি একে অপরকে সত্যায়ন করে। সুতরাং এর যা তোমরা বুঝতে পারো, সে অনুযায়ী আমল করো; আর যা তোমরা বুঝতে না পারো, তা তার বিজ্ঞ আলেমের কাছে সোপর্দ করো" (১)। তেমনিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহও পরস্পরবিরোধিতা ও মতভেদ থেকে মুক্ত; কারণ উম্মতের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরস্পরবিরোধিতা ও বৈচিত্র্য থেকে নিষ্পাপ (معصوم), এক্ষেত্রে মুতাওয়াতির (متواتر) এবং আহাদ (آحاد) বর্ণনার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং তিনি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কথা বলেন না। ওটা তো ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয়" [নাজম: ৩, ৪]। আর এই সকল প্রমাণ সেগুলোর অকাট্য (قطعي) ও ধারণাপ্রসূত (ظني) উভয় প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করে।

তাঁর উক্তি: "তার সমপর্যায়ের দ্বারা" (بمثله) অর্থাৎ গ্রহণযোগ্যতার (قبول) ক্ষেত্রে, শক্তির ক্ষেত্রে নয়। সুতরাং শক্তির ক্ষেত্রে সমান হওয়া শর্ত নয়; ফলে মুতাওয়াতির (متواتر) ও আহাদ (آحاد)-এর মধ্যে অথবা সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن)-এর মধ্যে বিরোধ (تعارض) ঘটা সম্ভব, এবং এই জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রেও।

তাঁর উক্তি: "সমন্বয় করা সম্ভব হলে" (أمكن الجمع) অর্থাৎ কোনো প্রকার জবরদস্তি বা টানাাহেঁচড়া (تعسف) ব্যতিরেকে তাদের উভয় নির্দেশনার মধ্যে সমন্বয় করা (২)।

আল-লাক্বানি "ক্বাদাউল ওয়াতার" (১/ ৮৮৬) গ্রন্থে বলেছেন: (তাঁর উক্তি: "জবরদস্তি ব্যতিরেকে" অর্থাৎ এটি ভাষাগত, শরয়ি অথবা যৌক্তিক নিয়মের সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে, যাতে এর কোনোটিই অকাট্য প্রমাণের পরিপন্থী না হয়)।

মোল্লা আলী আল-ক্বারী "শারহুন নুখবা" (পৃষ্ঠা: ৩৬২) গ্রন্থে বলেছেন: (("হয়তো সমন্বয় করা সম্ভব হবে") অর্থাৎ ব্যাখ্যা (تأويل), সীমাবদ্ধকরণ (تقييد) অথবা সুনির্দিষ্টকরণের (تخصيص) মাধ্যমে ("তাদের উভয় নির্দেশনার মধ্যে") অর্থাৎ তাদের উভয় অর্থের মধ্যে, ("জবরদস্তি ব্যতিরেকে") এটি সমন্বয়ের সাথে সম্পৃক্ত; আর জবরদস্তি (تعسف) হলো কষ্টসাধ্য প্রচেষ্টার (تكلف) চেয়েও বেশি কিছু, কারণ এটি মূল পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া। গ্রন্থকার বলেছেন: কারণ যা জবরদস্তিমূলক হয়, প্রতিপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রাখে এবং পরবর্তী স্তরে চলে যায়)।

 

‌‌উদাহরণসমূহ:

আল-মুনাওয়ী "আল-ইয়াওয়াকিত ওয়াদ দুরার" (১/ ৪৫২) গ্রন্থে বলেছেন: (অনেকেই এর উদাহরণ দিয়েছেন তিরমিযি ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হাদিস দ্বারা: "যে কোনো চামড়া যখনই ট্যান করা হয়, তখনই তা পবিত্র হয়ে যায়", এর পাশাপাশি আবু দাউদ, তিরমিযি ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হাদিসের সাথে বিরোধ দেখা যায়: "তোমরা মৃত জন্তুর চামড়া ও রগ থেকে কোনো উপকার গ্রহণ করো না"। এটি ট্যান করা চামড়া এবং অন্যান্য সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে, তাই সমন্বয় করার লক্ষ্যে আমরা এটিকে ট্যান করা ব্যতীত অন্য চামড়ার ওপর প্রয়োগ করেছি...

--------------------------------------------

(১) আহমদ ও অন্যান্যরা আমর ইবনে শুয়াইবের সূত্রে তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং শেখ আলবানি ও শেখ আরনাউত এটিকে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।

(২) দেখুন "আন-নুযহা" (১/ ২১৬)।
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الدليلين … ).

قال السخاوي في "فتح المغيث" (4/ 66): (وهو من أهم الأنواع، تضطر إليه جميع الطوائف من العلماء، وإنما يكمل للقيام به من كان إماما جامعا لصناعتي الحديث والفقه، غائصا على المعاني الدقيقة ; ولذا كان إمام الأئمة أبو بكر بن خزيمة من أحسن الناس فيه كلاما، لكنه توسع حيث قال: (لا أعرف حديثين صحيحين متضادين، فمن كان عنده شيء من ذلك فليأتني به لأؤلف بينهما). وانتقد عليه بعض صنيعه في توسعه، فقال البلقيني: إنه لو فتحنا باب التأويلات لاندفعت أكثر العلل.

وأول من تكلم فيه إمامنا الشافعي، وله فيه مجلد جليل، ولكنه لم يقصد استيعابه، بل هو مدخل عظيم لهذا النوع، يتنبه به العارف على طريقه. وكذا صنف فيه أبو محمد بن قتيبة، وأتى فيه بأشياء حسنة، وقصر باعه في أشياء قصر فيها. وأبو جعفر بن جرير الطبري، وأبو جعفر الطحاوي في كتابه (مشكل الآثار)، وهو من أجل كتبه، ولكنه قابل للاختصار غير مستغن عن الترتيب والتهذيب، وقد اختصره ابن رشد، وممن صنف فيه أيضا أبو بكر بن فورك، وأبو محمد القصري، وابن حزم، وهو نحو عشرة آلاف ورقة).

 

‌‌الناسخ والمنسوخ:

قال الحافظ: -[(أو لا، وثبت المتأخر فهو الناسخ، والآخر المنسوخ.)]-

فإن لم يمكن الجمع بين الحديثين المقبولين المتعارضين، أو أمكن الجمع ولكن بتعسف، فهنا إن ثبت تأخر أحدهما فهو الناسخ والآخر هو المنسوخ.

قال في "النزهة" (ص/217): (ويعرف النسخ بأمور: أصرحها ما ورد في النص، كحديث بريدة في صحيح مسلم: "كنت نهيتكم عن زيارة القبور، فزوروها فإنها تذكر الآخرة". ومنها ما يجزم الصحابي بأنه متأخر، كقول جابر: كان آخر الأمرين من رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ترك الوضوء مما مست النار"، أخرجه أصحاب السنن. ومنها ما يعرف بالتاريخ، وهو كثير (1)، وليس منها ما يرويه الصحابي المتأخر الإسلام معارضا لمتقدم عنه؛ لاحتمال أن يكون سمعه من صحابي آخر أقدم من المتقدم المذكور، أو مثله

--------------------------------------------

(1) مثل له الشيخ العثيمين رحمه الله في "الأصول" (ص/54) بقوله تعالى: (الْآنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنْكُمْ) [الأنفال: 66]. الآية، فقوله: (الْآنَ) - قال في شرح الأصول (ص/413): (الآن ظرف للحاضر، وهذا يقتضي أن ما قبله مغاير لما بعده) - يدل على تأخر هذا الحكم وكذا لو ذكر أن النبي، صلى الله عليه وسلم، حكم بشيء قبل الهجرة ثم حكم بعدها بما يخالفه فالثاني ناسخ).
الدليلين … ).

আস-সাখাভী 'ফাতহুল মুগিস' (৪/ ৬৬) গ্রন্থে বলেন: (এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকার, যা সকল শ্রেণীর আলেমদের প্রয়োজন হয়। এটি সম্পাদনে কেবল সেই ইমামই পূর্ণতা লাভ করেন, যিনি হাদিস এবং ফিকহ উভয় শিল্পে ব্যুৎপত্তি রাখেন এবং সূক্ষ্ম অর্থ উদ্ধারে সক্ষম। একারণেই ইমামুল আইম্মাহ আবু বকর ইবন খুজাইমাহ এই বিষয়ে শ্রেষ্ঠ বক্তব্য প্রদান করেছেন, তবে তিনি কিছুটা প্রশস্ততা অবলম্বন করেছেন যখন তিনি বলেন: "আমি এমন দুটি সহিহ (صحيح) হাদিস জানি না যা পরস্পর বিরোধী; কারো নিকট এমন কিছু থাকলে সে যেন তা আমার কাছে নিয়ে আসে যাতে আমি তাদের মধ্যে সমন্বয় করতে পারি।" তবে তাঁর এই প্রশস্ততার বিষয়ে কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন। আল-বালকিনি বলেছেন: যদি আমরা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের দুয়ার এভাবে উন্মুক্ত করে দেই, তবে অধিকাংশ সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) রহিত হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করেছেন আমাদের ইমাম শাফেয়ী; এই বিষয়ে তাঁর একটি বিশাল গ্রন্থ রয়েছে, তবে তিনি তাতে সবকিছুর বিস্তারিত আলোচনা করতে চাননি, বরং এটি এই বিষয়ের একটি মহান প্রবেশদ্বার যা বিজ্ঞ পণ্ডিতদের সঠিক পথ দেখায়। একইভাবে আবু মুহাম্মদ ইবন কুতাইবাহ এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তাতে অনেক সুন্দর (حسن) বিষয় নিয়ে এসেছেন, যদিও কিছু ক্ষেত্রে তিনি সীমাবদ্ধ ছিলেন। এছাড়াও আবু জাফর ইবন জারির আত-তাবারী এবং আবু জাফর আত-তহাবী তাঁর ‘মুশকিলুল আসার’ গ্রন্থে এটি নিয়ে আলোচনা করেছেন; এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর অন্যতম, তবে এটি সংক্ষেপযোগ্য এবং বিন্যাস ও পরিমার্জনের প্রয়োজন থেকে মুক্ত নয়; ইবন রুশদ এটি সংক্ষেপ করেছেন। এই বিষয়ে আরও যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাঁরা হলেন আবু বকর ইবন ফুরাক, আবু মুহাম্মদ আল-কাসরি এবং ইবন হাজম; যা প্রায় দশ হাজার পৃষ্ঠার সমান)।

 

‌‌রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ):

হাফিজ বলেন: -[(অথবা না, এবং পরবর্তীটি প্রমাণিত হয়, তবে সেটি হবে রহিতকারী (ناسخ) এবং অপরটি হবে রহিত (منسوخ)।)]-

যদি দুটি গ্রহণযোগ্য (مقبول) পরস্পরবিরোধী হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব না হয়, অথবা সমন্বয় করা সম্ভব হলেও তা কষ্টকল্পিত (تعسف) হয়, তবে এক্ষেত্রে যদি তাদের একটি পরবর্তী সময়ের বলে প্রমাণিত হয় তবে সেটি রহিতকারী (ناسخ) এবং অপরটি রহিত (منسوخ) হিসেবে গণ্য হবে।

'নুজহাতুন নজর' (পৃ/ ২১৭) গ্রন্থে বলা হয়েছে: (রহিতকরণ (نسخ) কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে জানা যায়: সবচেয়ে স্পষ্ট হলো যা উদ্ধৃতিতে (نص) উল্লেখ থাকে, যেমন সহিহ মুসলিম-এ বুরাইদাহ বর্ণিত হাদিস: "আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা করো, কারণ তা আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।" এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা সাহাবী পরবর্তী সময়ের বলে নিশ্চিত করেছেন, যেমন জাবিরের উক্তি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশেষ দুটি বিষয়ের একটি ছিল "আগুন স্পর্শ করা খাবারে অজু না করা," যা সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে কিছু ইতিহাসের মাধ্যমে জানা যায় যা সংখ্যায় অনেক (১)। তবে ইসলাম গ্রহণে পরবর্তী কোনো সাহাবীর বর্ণনা যদি তাঁর পূর্ববর্তী কোনো সাহাবীর বর্ণনার বিরোধী হয়, তবে তা রহিতকরণের প্রমাণ হবে না; কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি এটি অন্য কোনো সাহাবীর কাছ থেকে শুনেছেন যিনি পূর্বোল্লিখিত সাহাবীর সমসাময়িক বা তাঁর চেয়েও আগের।

--------------------------------------------

(১) শেখ উসাইমিন (রহ.) ‘আল-উসুল’ (পৃ/ ৫৪) গ্রন্থে এর উদাহরণ দিয়েছেন মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: "এখন আল্লাহ তোমাদের ভার লাঘব করলেন" [আল-আনফাল: ৬৬]। আয়াতের "এখন" শব্দটি প্রসঙ্গে তিনি ‘শারহুল উসুল’ (পৃ/ ৪১৩) গ্রন্থে বলেন: ("এখন" শব্দটি বর্তমান সময়ের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা দাবি করে যে এর পূর্ববর্তী বিষয়টি পরবর্তী বিষয় থেকে ভিন্ন হবে) - যা এই বিধানটি পরবর্তী সময়ের হওয়ার প্রমাণ দেয়। একইভাবে যদি উল্লেখ করা হয় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের আগে কোনো বিধান দিয়েছিলেন এবং হিজরতের পরে এর বিপরীত কোনো বিধান দিয়েছেন, তবে দ্বিতীয়টি রহিতকারী (ناسخ) হবে।)
(খণ্ড: ১) আশ-শারহুল মুখতাসার লি-নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فأرسله (1)، لكن إن وقع التصريح بسماعه له من النبي صلى الله عليه وسلم فيتجه أن يكون ناسخا (2)، بشرط أن يكون لم يتحمل عن النبي صلى الله عليه وسلم شيئا قبل إسلامه (3). وأما الإجماع فليس بناسخ، بل يدل على ذلك (4)).

 

‌‌الترجيح والتوقف بين المتعارضين:

قال ابن حجر: -[(وإلا فالترجيح، ثم التوقف.)]-

وقال في "النزهة" (ص/218): (وإن لم يعرف التاريخ فلا يخلو: إما أن يمكن ترجيح أحدهما على الآخر، بوجه من وجوه الترجيح المتعلقة بالمتن، أو بالإسناد (5)، أو لا. فإن أمكن الترجيح تعين المصير إليه، وإلا فلا.

فصار ما ظاهره التعارض واقعا على هذا الترتيب: الجمع إن أمكن، فاعتبار الناسخ

والمنسوخ، فالترجيح إن تعين، ثم التوقف (6) عن العمل بأحد الحديثين. والتعبير بالتوقف أولى من التعبير بالتساقط؛ لأن خفاء ترجيح أحدهما على الآخر إنما هو بالنسبة للمعتبر في الحالة الراهنة، مع احتمال أن يظهر لغيره ما خفي عليه).

 

‌‌المردود

‌‌‌‌المعلق والمرسل:

قال الحافظ: (ثم المردود: إما أن يكون لسقط، أو طعن، والسقط إما أن يكون من مبادئ السند من مصنف أو من آخره بعد التابعي، أو غير ذلك. فالأول: المعلق، والثاني: المرسل).

 

المعلق:

قال في "النزهة" (ص/218): (والسقط إما أن يكون من مبادئ السند من تصرف مصنف (7) فهو المعلق، سواء كان الساقط واحدا، أم أكثر (8).

ومن صور المعلق: أن يحذف جميع السند ويقال مثلا: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم. ومنها: أن يحذف إلا الصحابي، أو إلا التابعي والصحابي معا. ومنها: أن يحذف من حدثه، ويضيفه إلى من هو فوقه، فإن كان من فوقه شيخا لذلك المصنف فقد اختلف فيه: هل يسمى تعليقا، أو لا؟ والصحيح في هذا التفصيل: فإن عرف بالنص أو الاستقراء أن فاعل ذلك مدلس قضي به، وإلا فتعليق.

وإنما ذكر التعليق في قسم المردود للجهل بحال المحذوف. وقد يحكم بصحته إن عرف، بأن يجيء مسمى من وجه آخر. فإن قال: جميع من أحذفه ثقات، جاءت مسألة

--------------------------------------------

(1) قال المناوي في "اليواقيت والدرر" (1/ 472): (قال - ابن حجر -: وإنما قلته لأن المصطفى قال ليلة العقبة أن المصائب للذنوب كفارة لأهلها فمن أصاب من ذلك شيئا فعوقب به فهو كفارة له. وروى أبو هريرة وهو متأخر الإسلام عن ليلة العقبة بنحو سبع سنين أن المصطفى قال: " لا أدري الحدود كفارة لأهلها أو لا ". وهذا خبر لا يجوز النسخ فيه) وقد أعل البخاري في "تاريخه" حديث أبي هريرة بالإرسال.

(2) روى الشيخان وغيرهما عن جرير رضي الله عنه أنه بال، ثم «توضأ فمسح على الخفين» وقال: ما يمنعني أن أمسح وقد «رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يمسح»، قالوا: إنما كان ذلك قبل نزول المائدة، قال: ما أسلمت إلا بعد نزول المائدة) واللفظ لأبي داود.

(3) قال المناوي في "اليواقيت والدرر" (1/ 474): (قال الكمال بن أبي شريف: ويشترط - أيضا - أن يكون متقدم الإسلام سمع الحديث المعارض قبل سماع متأخر الإسلام، بأن يعلم ذلك بنقل أو قرينة. قال البقاعي: ولا بد من الاحتراز عن هذا، لأن المتقدم الصحبة يحتمل أن يسمع حديثا بعد ما سمعه فيها المتأخر).

(4) قال ابن النجار في "شرح الكوكب" (3/ 563): (ومثله ما ذكر الخطيب البغدادي: أن زر بن حبيش قال لحذيفة (أي ساعة تسحرت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: هو النهار، إلا أن الشمس لم تطلع) وأجمع المسلمون على أن طلوع الفجر يحرم الطعام والشراب، مع بيان ذلك من قوله تعالى: (وَكُلُوا وَاشْرَبُوا) [البقرة: 187] الآية قال العلماء في مثل هذا: إن الإجماع مبين للمتأخر، وإنه ناسخ لا إن الإجماع هو الناسخ).

(5) قال اللقاني (1/ 919): (والمتعلق بالمتن كسماعه من الشيخ وقراءته عليه، مع أخذ مقابله عرضا، أو إجازة. وبالإسناد كزيادة الضبط وزيادة العدالة) ومن المرجحات المتعلقة بالسند ترجيح صاحب القصة على غيره كترجيح ما رواه الترمذي عن أبي رافع أن النبي صلى الله عليه وسلم نكح ميمونة رضي الله عنها وهو حلال على ما رواه الشيخان من حديث ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم نكح ميمونة وهو محرم. بقرينة قول أبو رافع: وكنت الرسول بينهما، فرجح بكون راويه صاحب الواقعة فهو أدرى بذلك.

(6) والقول بالتوقف هو المتعين؛ لأن الحق واحد لا يتعدد، وقال البعض بالتخيير بين أيهما، وذلك يستلزم تعدد الحق، وأنه ليس محصورا في واحد منهما.

(7) أي أن الحديث له سند حذفه المصنف لعلة، وفيه احتراز مما لا أصل له، أو ما لا يعرف مسندا.

(8) وقد عرف الحافظ المعلق في "النكت" (1/ 97) بقوله: (هو الذي حذف من أول إسناده واحد فأكثر).
তবে তিনি তা বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন (১), কিন্তু যদি তাঁর পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি শোনার স্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়, তবে তা রহিতকারী (ناسخ) হওয়ার অভিমুখ গ্রহণ করবে (২), এই শর্তে যে, তিনি ইসলাম গ্রহণের পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করেননি (৩)। আর সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) কোনো রহিতকারী নয়, বরং এটি রহিত হওয়ার বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে (৪))।

 

‌‌পরস্পর বিরোধী বর্ণনার মধ্যে অগ্রাধিকার প্রদান ও সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা:

ইবনে হাজার বলেন: -[(অন্যথায় অগ্রাধিকার প্রদান (ترجيح), এরপর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা (توقف)।)]-

এবং তিনি "নুজহাতুন নজর" (পৃষ্ঠা ২১৮)-এ বলেন: (আর যদি ইতিহাস জানা না যায়, তবে বিষয়টি এমন হতে পারে: হয় মতন (متن) অথবা সনদ (إسناد) (৫) সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকার প্রদানের কোনো পন্থায় একটিকে অপরটির উপর অগ্রাধিকার প্রদান (ترجيح) করা সম্ভব হবে, অথবা হবে না। যদি অগ্রাধিকার প্রদান সম্ভব হয়, তবে সেটিই গ্রহণ করা নির্ধারিত হবে, অন্যথায় নয়।

ফলে আপাতদৃষ্টিতে যা পরস্পর বিরোধী (تعارض) মনে হয়, তা এই ধারাবাহিকতায় বিন্যস্ত হবে: সম্ভব হলে সমন্বয় (جمع), এরপর রহিতকারী ও রহিতকৃত (الناسخ والمنسوخ) বিবেচনা করা, তারপর সুনির্দিষ্ট হলে অগ্রাধিকার প্রদান (ترجيح), অতঃপর উভয় হাদিসের কোনোটির ওপর আমল করা থেকে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা (توقف) (৬)। সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা (توقف) শব্দটি বাতিল হয়ে যাওয়া (تساقط) শব্দের চেয়ে অধিক উত্তম; কারণ বর্তমান অবস্থায় বিচারকের নিকট একটির ওপর অপরটির অগ্রাধিকার প্রকাশ না পাওয়াটা আপেক্ষিক বিষয়, সাথে এই সম্ভাবনাও থাকে যে, তার নিকট যা অস্পষ্ট রয়ে গেছে তা অন্য কারো নিকট স্পষ্ট হতে পারে)।

 

‌‌প্রত্যাখ্যাত (مردود)

‌‌‌‌ঝুলন্ত (معلق) এবং বিচ্ছিন্ন (مرسل):

হাফিয ইবনে হাজার বলেন: (অতঃপর প্রত্যাখ্যাত (مردود) হাদিস: হয় তা সনদে বিচ্যুতি (سقط) থাকার কারণে হবে, অথবা বর্ণনাকারীর কোনো ত্রুটির কারণে (طعن)। আর বিচ্যুতি (سقط) হয় সনদের (سند) শুরু থেকে কোনো গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে হবে, অথবা তাবেয়ি (تابعي)-এর পরবর্তী শেষ অংশ থেকে হবে, অথবা অন্য কোথাও থেকে হবে। প্রথম প্রকার হলো ঝুলন্ত (معلق), এবং দ্বিতীয় প্রকার হলো বিচ্ছিন্ন (مرسل))।

 

মুআল্লাক (معلق):

তিনি "নুজহাতুন নজর" (পৃষ্ঠা ২১৮)-এ বলেন: (আর বিচ্যুতি (سقط) যদি কোনো গ্রন্থকারের হস্তক্ষেপের কারণে সনদের (سند) শুরু থেকে হয় (৭) তবে সেটিই হলো মুআল্লাক (معلق), বিচ্যুত বর্ণনাকারী একজন হোক কিংবা একাধিক হোক (৮)।

মুআল্লাক (معلق)-এর বিভিন্ন সুরতের মধ্যে একটি হলো: পুরো সনদ (سند) বাদ দিয়ে উদাহরণস্বরূপ বলা যে, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন'। আরেকটি হলো: কেবল সাহাবী (صحابي) ব্যতীত বাকি সবাইকে বাদ দেওয়া, অথবা তাবেয়ি (تابعي) ও সাহাবী (صحابي) উভয়কে রেখে বাকি সবাইকে বাদ দেওয়া। আরেকটি হলো: যার থেকে হাদিস শুনেছেন তাকে বাদ দিয়ে তার ওপরের স্তরের কারো দিকে হাদিসটিকে সম্বন্ধযুক্ত করা; যদি সেই ওপরের স্তরের ব্যক্তি ওই গ্রন্থকারের শায়খ বা শিক্ষক হন, তবে সে ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে: তাকে কি তালীক (تعليق) বলা হবে নাকি নয়? এই বিভাজনের ক্ষেত্রে সঠিক কথা হলো: যদি কোনো উদ্ধৃতি বা অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা যায় যে, এর কর্তা একজন মুদাল্লিস (مدلس), তবে তা তদলীস হিসেবে গণ্য হবে, অন্যথায় তা তালীক (تعليق)।

আর মুআল্লাক (معلق) হাদিসকে প্রত্যাখ্যাত (مردود) বিভাগে উল্লেখ করা হয়েছে মূলত বিচ্যুত বর্ণনাকারীর অবস্থা অজ্ঞাত হওয়ার কারণে। তবে যদি অন্য কোনো সূত্রে সেই বর্ণনাকারীর নাম জানা যায়, তবে হাদিসটিকে সহিহ (صحيح) হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। আর যদি বর্ণনাকারী বলেন: 'যাদের আমি বাদ দিয়েছি তারা সবাই নির্ভরযোগ্য (ثقات)', তবে সে ক্ষেত্রে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

--------------------------------------------

(১) আল-মুনাউয়ী "আল-ইয়াওয়াকীত ওয়াদ-দুরার" (১/ ৪৭২) গ্রন্থে বলেন: (ইবনে হাজার বলেছেন: আমি এটি বলেছি কারণ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাবার রাতে বলেছিলেন যে, বিপদ-আপদ মানুষের গুনাহের কাফফারা স্বরূপ; ফলে যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ করে এবং তার জন্য শাস্তি পায়, তা তার জন্য কাফফারা হয়ে যায়। অথচ আবু হুরায়রা, যিনি ইসলামের দিক থেকে পরবর্তী সময়ের এবং আকাবার রাতের প্রায় সাত বছর পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তিনি বর্ণনা করেন যে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি জানি না হদ বা দণ্ডবিধিগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য কাফফারা হবে কি না"। আর এটি এমন একটি সংবাদ যাতে রহিতকরণ (نسخ) চলে না)। ইমাম বুখারি তাঁর "তারিখ"-এ আবু হুরায়রার হাদিসটিকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হওয়ার কারণে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন।

(২) শায়খাইন এবং অন্যান্যরা জারীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি প্রস্রাব করলেন, তারপর «অজু করলেন এবং মোজার ওপর মাসাহ করলেন» এবং বললেন: আমি মাসাহ করা থেকে কেন বিরত থাকব যখন আমি «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মাসাহ করতে দেখেছি»। লোকেরা বলল: তা তো সূরা মায়েদাহ অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ছিল। তিনি বললেন: আমি তো সূরা মায়েদাহ অবতীর্ণ হওয়ার পরই ইসলাম গ্রহণ করেছি)। শব্দগুলো আবু দাউদের।

(৩) আল-মুনাউয়ী "আল-ইয়াওয়াকীত ওয়াদ-দুরার" (১/ ৪৭৪) গ্রন্থে বলেন: (কামাল বিন আবি শরীফ বলেন: এটিও শর্ত যে, ইসলাম গ্রহণে অগ্রবর্তী ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে ইসলাম গ্রহণকারীর শোনার আগে সেই বিরোধী হাদিসটি শুনেছেন—এটি কোনো বর্ণনা বা আলামত দ্বারা জানা যেতে হবে। আল-বিকায়ী বলেন: এ বিষয়ে সতর্কতা জরুরি, কারণ যে সাহাবীর সাহচর্য প্রাচীন, তার এমন কোনো হাদিস শোনার সম্ভাবনা থাকে যা পরবর্তী সময়ের সাহাবীর শোনার পরে তিনি শুনেছেন)।

(৪) ইবনুন নাজ্জার "শারহুল কাওকাব" (৩/ ৫৬৩) গ্রন্থে বলেন: (এর উদাহরণ হলো যা খতিব বাগদাদী উল্লেখ করেছেন যে, যির বিন হুবাইশ হুযাইফাকে বললেন (আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোন সময় সাহরি খেয়েছিলেন? তিনি বললেন: তা ছিল দিনের বেলা, তবে সূর্য তখনও উদিত হয়নি)। অথচ মুসলিমগণ একমত হয়েছেন যে, ফজর উদিত হওয়া খাবার ও পানীয়কে হারাম করে দেয়, যার স্পষ্ট বর্ণনা আল্লাহর বাণী: (এবং তোমরা পানাহার করো...) [বাকারা: ১৮৭] আয়াতে রয়েছে। ওলামাগণ এমন ক্ষেত্রে বলেন: ইজমা (إجماع) পরবর্তী বিষয়ের বর্ণনাকারী এবং সেটিই রহিতকারী হিসেবে বিবেচিত হবে, ইজমা নিজে কোনো স্বতন্ত্র রহিতকারী নয়)।

(৫) আল-লাক্কানী (১/ ৯১৯) বলেন: (মতন (متن) সংশ্লিষ্ট বিষয় যেমন শায়খের কাছ থেকে সরাসরি শোনা (سماع) বা তাঁর কাছে পাঠ করা (قراءة), সাথে বিপরীত পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা (عرض) অথবা অনুমতি (إجازة) গ্রহণ করা। আর সনদ (إسنাদ) সংশ্লিষ্ট বিষয় যেমন মুখস্থ ও হেফাযত করার শক্তির (ضبط) আধিক্য এবং ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) আধিক্য)। সনদের সাথে সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকার প্রদানের মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কোনো ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনাকে অন্যের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া, যেমন আবু রাফে থেকে তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত হাদিসকে অগ্রাধিকার দেওয়া যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে ইহরাম বিহীন হালাল অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন, যা শায়খাইন বর্ণিত ইবনে আব্বাসের হাদিসের বিপরীত যেখানে বলা হয়েছে যে তিনি ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন। এর কারণ হলো আবু রাফে-এর উক্তি: "আমিই তাঁদের উভয়ের মধ্যে দূত ছিলাম", ফলে বর্ণনাকারী যেহেতু ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, তাই তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অধিক অবগত হওয়ার কারণে তাঁর বর্ণনা অগ্রাধিকার পেয়েছে।

(৬) সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার (توقف) কথাটিই সুনির্দিষ্ট; কারণ হক বা সত্য একটিই হয়, তা একাধিক হয় না। কেউ কেউ যে কোনোটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার বা সুযোগের কথা বলেছেন, কিন্তু তা হকের বহুত্বকে অপরিহার্য করে তোলে এবং তা যে কেবল একটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এমন ধারণা তৈরি করে।

(৭) অর্থাৎ হাদিসটির একটি সনদ (سند) আছে যা গ্রন্থকার কোনো কারণে বাদ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ওইসব বর্ণনা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে যার কোনো ভিত্তি নেই অথবা যা সনদযুক্ত হিসেবে পরিচিত নয়।

(৮) হাফিয ইবনে হাজার "আন-নুকাত" (১/ ৯৭) গ্রন্থে মুআল্লাক (معلق)-এর সংজ্ঞায় বলেছেন: (এটি এমন হাদিস যার সনদের (إسناد) শুরু থেকে একজন বা একাধিক বর্ণনাকারীকে বাদ দেওয়া হয়েছে)।