(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: -)
فكرة كمنويلث إسلامي القسم: كتب عامة
الكتاب: فكرة كمنويلث إسلامي
المؤلف: مالك بن الحاج عمر بن الخضر بن نبي (ت 1393هـ)
تَرْجَمَة: الطَّيّب الشَّرِيفْ
الناشر: دار الفكر المعاصر بيروت-لبنان / دار الفكر دمشق-سورية
الطبعة: إعادة الطبعة الثانية 1431هـ = 2000م - ط1: 1960م
عدد الصفحات: 94
أعده للشاملة: العبد الضعيف الراجي عفو ربه أبو ياسر الجزائري.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو الحجة 1432
ইসলামি কমনওয়েলথ ধারণা বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: ইসলামি কমনওয়েলথ ধারণা
লেখক: মালেক বিন আল-হাজ ওমর বিন আল-খদর বিন নবী (মৃ. ১৩৯৩ হি.)
অনুবাদ: আত-তায়্যিব আশ-শরীফ
প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-মুয়াসির, বৈরুত-লেবানন / দারুল ফিকর, দামেস্ক-সিরিয়া
সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণের পুনর্মুদ্রণ ১৪৩১ হি. = ২০০০ খ্রি. - ১ম সংস্করণ: ১৯৬০ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪
শামেলা’র জন্য প্রস্তুত করেছেন: তাঁর রবের ক্ষমার প্রত্যাশী দুর্বল (الضعيف) বান্দা আবু ইয়াসির আল-জাজায়েরি.
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলা’য় প্রকাশের তারিখ: ১৯ জিলহজ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১)
مالك بن نبي
مشكلات الحضارة
فكرة كمنويلث إسلامي
دار الفكر المعاصر بيروت-لبنان
دار الفكر دمشق-سورية
মালেক বিন নবী
সভ্যতার সমস্যাবলি
ইসলামি কমনওয়েলথ-এর ধারণা
দারুল ফিকর আল-মুআসির, বৈরুত-লেবানন
দারুল ফিকর, দামেস্ক-সিরিয়া
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২)
مالك بن نبي
- مفكر إسلامي بارز
- ولد فى مدينة قسنطينة بالجزائر عام 1323هـ / 1905م.
- درس القضاء بالمعهد الإسلامي المختلط.
- انتقل إلى باريس فنال شهادة الهندسة الكهربائية من المعهد العالي للهندسة. وهناك أصدر عددٌ من كتبه المهمة.
- أعطته ثقافته المنهجية قدرة على إبراز مشكلات العالم المتخلف بوصفها قضية حضارية، فوضع كتبه كلها تحت عنوان (مشكلات الحضارة).
- لجأ إلى القاهرة عام 1956 فأقام بها، وأصدر فيها بعضاً من كتبه، وكان غالب ما يكتب بالفرنسية.
- عاد إلى الجزائر بعد استقلالها، فعين مديراً عاماً للتعليم العالي وأصدر فيها بقية كتبه.
- استقال من منصبه عام 1967، ليتفرغ للعمل الفكري .. حتى توفي سنة 1393 هـ/1973 م.
মালেক বিন নবী
- একজন প্রথিতযশা ইসলামি চিন্তাবিদ
- তিনি ১৩২৩ হিজরি / ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে আলজেরিয়ার কন্সটানটাইন শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ‘ইনস্টিটিউট ইসলামিক মিক্সড’-এ বিচার বিভাগীয় শাস্ত্রে অধ্যয়ন করেন।
- তিনি প্যারিসে পাড়ি জমান এবং উচ্চতর প্রকৌশল ইনস্টিটিউট থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে তাঁর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর পদ্ধতিগত জ্ঞানতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অনুন্নত বিশ্বের সমস্যাগুলোকে একটি সভ্যতার সংকট হিসেবে চিহ্নিত করার সক্ষমতা দান করেছিল; তাই তিনি তাঁর সকল গ্রন্থকে ‘সভ্যতার সমস্যাবলি’ শিরোনামের অধীনে বিন্যস্ত করেন।
- ১৯৫৬ সালে তিনি কায়রোতে পাড়ি জমান এবং সেখানে বসবাস শুরু করেন। তিনি সেখানে তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশ করেন; তাঁর অধিকাংশ রচনাই ছিল ফরাসি ভাষায়।
- আলজেরিয়ার স্বাধীনতার পর তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং উচ্চশিক্ষার মহাপরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। সেখানে তিনি তাঁর অবশিষ্ট গ্রন্থগুলো প্রকাশ করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেন যেন নিজেকে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে পূর্ণরূপে নিয়োজিত করতে পারেন; অবশেষে ১৩৯৩ হিজরি / ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩)
مالك بن نبي
فكرة كمنويلت إسلامي
تَرْجَمَة الطَّيّب الشَّرِيفْ
دار الفكر المعاصر بيروت-لبنان
دار الفكر دمشق-سورية
মালিক বিন নবী
ইসলামী কমনওয়েলথ ধারণা
অনুবাদে: আত-তায়্যিব আল-শরীফ
দারুল ফিকর আল-মুয়াসির, বৈরুত-লেবানন
দারুল ফিকর, দামেস্ক-সিরিয়া
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৪)
إعادة الطبعة الثانية
1431هـ = 2000م
ط1: 1960م
দ্বিতীয় সংস্করণের পুনর্মুদ্রণ
১৪৩১ হিজরি = ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
প্রথম সংস্করণ: ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
في عام 1971، ترك أستاذنا مالك بن نبي رحمه الله في المحكمة الشرعية في طرابلس لبنان، وصية سجلت تحت رقم 275/ 67 في 16 ربيع الثاني 1391هـ الموفق لـ 10 حزيران 1971، وقد حملني فيها مسؤولية كتبه المعنوية والمادية.
وتحملاً مني لهذه الرسالة، ووفاءً لندوات سقتنا على ظمأ صافي الرؤية، رأيت تسمية ما يصدر تنفيذاً لوصية المؤلف (ندوة مالك بن نبي).
والتسمية هذه، دعوة إلى أصدقاء مالك بن نبي وقارئيه، ليواصلوا نهجاً في دراسة المشكلات، كان قد بدأه.
وهي مشروع نطرحه بوصفه لعلاقات فكرية، كان رحمه الله يرغب في توثيقها.
وإنني لأرجو من أصدقاء مالك وقارئيه، مساعدتنا على حفظ حقوق المؤلف في كل ما ينشر بالعربية، أو الفرنسية مترجماً من قبل المترجمين، أو غير مترجم. فقد حملني رحمه الله مسؤولية حفظ هذه الحقوق، والإذن بنشر كتبه. فإن وجدت طبعات لم تذكر فيها إشارة إلى إذن صادر من قبلنا، فهذه طبعات غير مشروعة، ونرجو إبلاغنا عنها.
طرابلس لبنان
18 ربيع الأول 1399
15 شباط (فبراير) 1979
عمَر مسْقاوي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
১৯৭১ সালে, আমাদের উস্তাদ মালিক বিন নবী (রহিমাহুল্লাহ) লেবাননের ত্রিপোলির শরীয়াহ আদালতে ১৬ই রবিউস সানি ১৩৯১ হিজরি মোতাবেক ১০ই জুন ১৯৭১ তারিখে ২৭৫/৬৭ নম্বর অধীনে একটি অসিয়তনামা (وصية) নথিভুক্ত করে রেখে গিয়েছেন, যাতে তিনি তাঁর বইপত্রের নৈতিক ও বস্তুগত দায়িত্বভার আমার ওপর অর্পণ করেছেন।
এই অর্পিত দায়িত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং সেইসব সেমিনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ যা আমাদের স্বচ্ছ চিন্তার পিপাসা মিটিয়েছিল, আমি লেখকের অসিয়তনামা (وصية) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যা কিছু প্রকাশিত হবে তার নাম 'মালিক বিন নবী সেমিনার' রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এই নামকরণটি মূলত মালিক বিন নবীর বন্ধুদের এবং পাঠকদের প্রতি একটি আহ্বান, যাতে তাঁরা সমস্যাসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর শুরু করা সেই পদ্ধতিটি বজায় রাখেন।
এটি এমন একটি প্রকল্প যা আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কের রূপরেখা হিসেবে পেশ করছি, যা তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সুদৃঢ় (توثيق) করতে চেয়েছিলেন।
আমি মালিকের সকল বন্ধু ও পাঠকদের কাছে অনুরোধ করছি যে, আরবি বা ফরাসি ভাষায় অনুবাদক কর্তৃক অনূদিত অথবা মূল ভাষায় প্রকাশিত সকল রচনার ক্ষেত্রে লেখকের স্বত্ব সংরক্ষণে আমাদের সহায়তা করুন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আমাকে এই স্বত্বসমূহ সংরক্ষণ এবং তাঁর বই প্রকাশের অনুমোদনের দায়িত্ব দিয়েছেন। যদি এমন কোনো মুদ্রণ পাওয়া যায় যেখানে আমাদের পক্ষ থেকে জারিকৃত অনুমোদনের কোনো উল্লেখ নেই, তবে সেগুলো অবৈধ (غير مشروعة) মুদ্রণ হিসেবে গণ্য হবে এবং সে সম্পর্কে আমাদের অবহিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
ত্রিপোলি, লেবানন
১৮ই রবিউল আউয়াল ১৩৯৯
১৫ই ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯
ওমর মেসকাউয়ি
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة
فكرة كمنويلث إسلاميكان مفكرنا الأستاذ مالك بن نبي قد وضع الخطوط العامة لمشروع فكرته في نهاية الخمسينات. وقد أعطاني المشروع حينما كنت طالباً في القاهرة لأطبعه على الآلة الكاتبة. وحينما راجع الطباعة صحح بخطه كلمة (الكمنويلث) ولم أكن أدري أن هذا الصنيع سيعطي بعد ثلاثين عاماً لهذه الوثيقة قيمة تاريخية، باعتبارها أثراً من آثار هذا المفكر الكبير.
لذا وفي معرض إعادة طبع كتاب (فكرة كملنويلث إسلامي) أرى من الملائم أن ننشر الخطوط العريضة التي كان قد وضعها لمؤلفه، وأن أضيف إلى هذه الوثيقة وثيقة أخرى أعتز بها كثيراً، هي كلمة الإهداء التي وجهها إلي إثر صدور الطبعة الأولى من هذا الكتاب، والتي ننشرها بخط المرحوم مالك بن نبي. فعسى أن يكون مالك بن نبي قد أجيبت دعوته بما نقوم به من الإشراف على طبع مؤلفاته، وعسانا أن نكون قد بلغنا الأمانة ما استطعنا إلى ذلك سبيلاً.
وكتاب (فكرة كمنويلث إسلامي) يستمد مسوغاته من الخريطة السياسية والحضارية التي نشرت رقعتها على الكرة الأرضية حيث تركزت القوة في محور واشنطن- موسكو واستتبع ذلك وحدات جغرافية سياسية كمنطقة حلف الأطلنطي والمنطقة السوفياتية ومنطقة الصين الشعبية ومنطقة الوحدة الهندية.
وقد بدا العالم الإسلامي في إطار الجغرافيا السياسية في نهاية الخمسينات خارج الألوان التي تميز كل وحدة عن سواها على خريطة العالم. وقد لاحظ
ভূমিকা
একটি ইসলামিক কমনওয়েলথের ধারণাআমাদের চিন্তাবিদ উস্তাদ মালিক বিন নবী পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে তাঁর এই প্রকল্প-ধারণার একটি রূপরেখা তৈরি করেছিলেন। আমি যখন কায়রোতে ছাত্র ছিলাম, তখন তিনি আমাকে প্রকল্পটি টাইপরাইটারে টাইপ করার জন্য দিয়েছিলেন। যখন তিনি টাইপকৃত অংশটি পর্যালোচনা করছিলেন, তখন তিনি নিজ হাতে ‘কমনওয়েলথ’ শব্দটি সংশোধন করেন। আমি তখন জানতাম না যে তাঁর এই সামান্য কাজটি ত্রিশ বছর পর এই দলিলটিকে একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রদান করবে, যা এই মহান চিন্তাবিদের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হবে।
তাই, ‘একটি ইসলামিক কমনওয়েলথের ধারণা’ গ্রন্থটির পুনঃমুদ্রণ উপলক্ষে, আমি মনে করি তাঁর পাণ্ডুলিপির জন্য তৈরি করা সেই রূপরেখাগুলো প্রকাশ করা এবং এই দলিলের সাথে আরও একটি দলিল যুক্ত করা সমীচীন হবে যা আমার কাছে অত্যন্ত গৌরবের; আর সেটি হলো এই বইটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশের পর আমার প্রতি তাঁর সেই উৎসর্গবাণী, যা আমরা মরহুম মালিক বিন নবীর হস্তাক্ষরেই প্রকাশ করছি। আশা করা যায় যে, তাঁর রচনাবলি প্রকাশের এই তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে মালিক বিন নবীর আহ্বান আজ সাড়া পেয়েছে, এবং আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্পিত আমানত পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি।
‘একটি ইসলামিক কমনওয়েলথের ধারণা’ গ্রন্থটি মূলত সেই রাজনৈতিক ও তামাদ্দুনিক মানচিত্র থেকে তার যৌক্তিকতা গ্রহণ করে যা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ছিল, যেখানে শক্তি ওয়াশিংটন-মস্কো অক্ষশক্তিতে কেন্দ্রীভূত ছিল। এর ফলে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) অঞ্চল, সোভিয়েত অঞ্চল, গণচীন অঞ্চল এবং ভারতীয় ইউনিয়ন অঞ্চলের মতো ভূ-রাজনৈতিক এককগুলো গড়ে উঠেছিল।
পঞ্চাশের দশকের শেষে ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বকে বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিটি একককে অন্যটি থেকে পৃথককারী রঙের সীমানার বাইরে দেখা গিয়েছিল। এবং লক্ষ্য করা গিয়েছিল...
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৮)
بن نبي أن المسلم المنتمي إلى رقعته الجغرافية يستبطن هامشيته على خريطة العالم وهذا يدفعه إلى أحد احتمالين:
فإما أنه يقوم بثورة تستجيب للعوامل النفسية والاجتماعية الخاصة به.
وإما أنه يستجيب لثورة تأتيه من الخارج في غياب قيادة حكيمة ترسم له خطة سيره.
كانت هذه أفكاراً ورؤى، تشغل فكر مالك بن نبي ذلك الزمن، وهو يتطلع إلى سير التطورات الثورية والشعارات التي تنوش فكر النخبة والجيل الصاعد، فتوزعه بدداً إلى تيارات تضج بها نهاية الخمسينات، وتُوَرِّثُ الانقسامات الحادة والتناقضات على سطح المجتمع الواحد، وتركس الإرادة عن خطى الغد.
لذا كان كتابه هذا إشارات في ضباب ذلك الزمن، تضيء سبل التطلع إلى غدٍ بانت معالمه اليوم، حين يعاد رسم الخريطة السياسية للشرق والغرب. فتبرز وحدة أوروبا كحقيقة ترتد إلى عمق أصولها وترأب صدع (البيت الأوروبي) على حد تعبير غورباتشوف.
هكذا يصحو العالم الإسلامي، الذي قسمته الثورات المستوردة، على حقيقة واقعه: إنه مطرود من المعسكر الاشتراكي في ظل (البروستريكا)، ومنهوب من المعسكر الرأسمالي، خالي الوفاض رسالةً وثروةً بل تربك خطاه النزاعات الطائفية والعرقية والمذهبية. وتتخذ الأصولية سبلاً لها في ضباب جديد تنثره في أجوائنا رياح العصر الإسرائيلي لتعثر به الأقدام، حين تشتد الانقسامات مرة جديدة على سطح المجتمع.
فإذا كنا اليوم نطوي صفحة يمين الأمس ويساره، فها نحن نعيد سيرتنا في الدوران حول أنفسنا، حين نفتح صفحة الأصولية المتشددة الرافضة، والاعتدال
বিন্নবী মনে করেন যে, তার ভৌগোলিক ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত মুসলিম তার নিজের বিশ্বমানচিত্রে প্রান্তিক হওয়াকে অন্তরে লালন করে এবং এটি তাকে দুটি সম্ভাবনার একটির দিকে ধাবিত করে:
হয় সে এমন এক বিপ্লব গড়ে তোলে যা তার নিজস্ব মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারকগুলোর প্রতি সাড়া দেয়।
অথবা সে এমন এক বিপ্লবে সাড়া দেয় যা বাহির থেকে তার কাছে আসে, যখন এমন কোনো প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের অভাব থাকে যা তার চলার পথরেখা অঙ্কন করে দিবে।
এগুলো ছিল সেই সময়কার মালিক বিন্নবীর চিন্তাধারা ও দৃষ্টিভঙ্গি, যখন তিনি বৈপ্লবিক বিবর্তন ও সেইসব স্লোগানগুলোর গতিপ্রকৃতির দিকে তাকিয়ে ছিলেন যা অভিজাত শ্রেণি এবং উদীয়মান প্রজন্মের চিন্তাকে গ্রাস করছিল। ফলে এটি তাদেরকে পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে বিভিন্ন স্রোতধারায় বিভক্ত করে দিচ্ছিল, যা একটি সমাজের অভ্যন্তরে তীব্র বিভাজন ও বৈপরীত্যের উত্তরাধিকার তৈরি করছিল এবং আগামী দিনের পদক্ষেপ থেকে ইচ্ছাশক্তিকে বিচ্যুত করছিল।
তাই তার এই বইটি ছিল সেই সময়ের কুয়াশার মাঝে কিছু সংকেত, যা এমন এক আগামীর প্রত্যাশার পথকে আলোকিত করে যার স্বরূপ আজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যখন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক মানচিত্র পুনরায় অঙ্কন করা হচ্ছে। ফলে ইউরোপের ঐক্য একটি বাস্তবতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে যা তার মূল শিকড়ের গভীরতায় ফিরে যায় এবং গর্বাচেভের ভাষায় 'ইউরোপীয় ঘর'-এর ফাটল মেরামত করে।
এভাবেই মুসলিম বিশ্ব—যাকে আমদানিকৃত বিপ্লবগুলো বিভক্ত করেছে—তার বাস্তব অবস্থার ওপর জাগ্রত হচ্ছে: এটি 'পেরেস্ত্রোইকা'-এর ছায়ায় সমাজতান্ত্রিক শিবির থেকে বিতাড়িত, এবং পুঁজিবাদী শিবির দ্বারা লুণ্ঠিত, আদর্শ ও সম্পদের দিক থেকে রিক্তহস্ত; বরং সাম্প্রদায়িক, জাতিগত ও মাযহাবী (المذهبية) দ্বন্দ্বসমূহ তার চলার পথকে বিভ্রান্ত করছে। আর মৌলবাদ (الأصولية) নতুন এক কুয়াশার মাঝে নিজের পথ করে নিচ্ছে, যা ইসরায়েলি যুগের বাতাস আমাদের পরিবেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে যেন পা পিছলে যায়, যখন সমাজের ওপর পুনরায় বিভাজন তীব্রতর হচ্ছে।
সুতরাং আজ যদি আমরা গতকালের ডান ও বামপন্থার পৃষ্ঠা উল্টাই, তবে দেখা যায় যে আমরা নিজেদের কক্ষপথেই ঘুরপাক খাচ্ছি, যখন আমরা উগ্র ও প্রত্যাখ্যানকারী মৌলবাদ (الأصولية) এবং মধ্যপন্থা (الاعتدال)-এর পৃষ্ঠা উন্মোচন করি।
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৯)
المتسربل بحتميات الواقع، بينما المشروع الإسرائيلي يستكمل طريقه برؤية تزن الخطى وتحكم وسائلها.
مالك بن نبي في (فكرة كمنويلث إسلامي) يرسم إطاراً لمشروع يمنح العالم الإسلامي موقعاً له في خريطة العالم المعاصر، يستمد رسالته من وسطية عقيدته كشاهد على الناس جميعاً.
ومن الطبيعي أن الشهادة وعي وإدراك لدقائق مسيرة العالم الحديث. وهي فوق ذلك قدوة في السلوك والمبادرات والحضور المؤثر في هذه المسيرة.
فالمجتمع المتخلف عن الحضارة وخطى الغد لا تقبل له شهادة أبداً. وهو كالفرد المنحرف والمتخلف عن مسيرة السلوك الاجتماعي تسقط شهادته في ميزان العدالة.
تلك قضية الحضارة ومشكلتها التي يطرح لها مالك بن نبي إطارها الجغرافي في (فكرة كمنويلث إسلامي) وهو كان قد حدد إطارها الفكري في مختلف كتبه.
وهذا الكتاب الذي نصدره اليوم سوف يجد له في كتابات مالك بن نبي اللاحقة، عبر الستينات وحتى وفاته، توضيحاً أكبر لمداه خصوصاً في كتاب (المسلم في عالم الاقتصاد) وكتاب (مشكلة الأفكار في العالم الإسلامي).
والتطورات التي نشهدها اليوم في عالمنا المعاصر سوف ترفد القارئ بفهم أعمق لفكرة ابن نبي التي عرضها في نهاية الخمسينات واستمدت مسوغاتها من تلك الحقبة.
عمر مسقاوي
دمشق 4 شباط 1990 م
বাস্তবতার অনিবার্যতায় আচ্ছন্ন, যেখানে ইসরায়েলি প্রকল্পটি একটি সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে তার পথ পূর্ণ করছে যা প্রতিটি পদক্ষেপকে পরিমাপ করে এবং এর উপায়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে।
মালেক বিন নবী তার ‘ইসলামী কমনওয়েলথ ধারণা’ গ্রন্থে এমন একটি প্রকল্পের রূপরেখা অঙ্কন করেছেন যা মুসলিম বিশ্বকে সমসাময়িক বিশ্বের মানচিত্রে একটি সম্মানজনক অবস্থান দান করে; এটি তার আকিদাহর মধ্যপন্থা (وسطية) থেকে নিজের বার্তা গ্রহণ করে যা সমস্ত মানুষের উপর সাক্ষী (شاهد) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক যে, সাক্ষ্য প্রদান (شهادة) হলো আধুনিক বিশ্বের অগ্রযাত্রার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো সম্পর্কে গভীর সচেতনতা ও উপলব্ধি। তদুপরি, এটি হলো আচরণ, উদ্যোগ এবং এই অগ্রযাত্রায় প্রভাবশালী উপস্থিতির ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় আদর্শ।
বস্তুত সভ্যতা ও আগামীর পদক্ষেপ থেকে পিছিয়ে পড়া কোনো সমাজের সাক্ষ্য (شهادة) কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। সে তো সেই বিচ্যুত এবং সামাজিক আচরণের ধারা থেকে ছিটকে পড়া ব্যক্তির মতো, ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) মানদণ্ডে যার সাক্ষ্য (شهادة) বাতিল হয়ে যায়।
এটিই হলো সভ্যতার মূল প্রশ্ন ও তার সংকট, যার ভৌগোলিক রূপরেখা মালেক বিন নবী তার ‘ইসলামী কমনওয়েলথ ধারণা’ গ্রন্থে উপস্থাপন করেছেন, অথচ তিনি তার বিভিন্ন গ্রন্থে পূর্বেই এর বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামো নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।
আজ আমরা যে বইটি প্রকাশ করছি, তা ষাটের দশক থেকে শুরু করে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত মালেক বিন নবীর পরবর্তী লেখনিগুলোতে আরও বিস্তৃত ব্যাখ্যা ও পরিধি খুঁজে পাবে, বিশেষ করে ‘অর্থনীতির বিশ্বে মুসলিম’ এবং ‘মুসলিম বিশ্বে চিন্তার সংকট’ গ্রন্থদ্বয়ে।
বর্তমান সমসাময়িক বিশ্বে আমরা যে পরিবর্তনগুলো প্রত্যক্ষ করছি, তা পাঠককে ইবনে নবীর সেই ধারণার আরও গভীর উপলব্ধি প্রদান করবে যা তিনি পঞ্চাশের দশকের শেষে উপস্থাপন করেছিলেন এবং যা সেই সময়ের প্রেক্ষাপট থেকে তার যৌক্তিকতা গ্রহণ করেছিল।
ওমর মেসকাউই
দামেস্ক, ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১০)
ـ[لوحة: فكرة كمنويلث إسلامي]ـ
ـ[শিরোনাম: ইসলামী কমনওয়েলথ-এর ধারণা]ـ
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১১)
ـ[لوحة: رسم دراسة لفكرة كمنويلث إسلامي]ـ
ـ[চিত্র: ইসলামী কমনওয়েলথ ধারণার একটি গবেষণামূলক নকশা]ـ
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১২)
الخطوط العامة للكتابفكرة ((الكمنويلث)) الإسلامي
1 -
المبررات الجغرافية السياسية:أ - هناك ناحية جديدة أصبح يتسم بها العالم في الوقت الحاضر: فتحت تأثير العامل ((الفني)) الذي أدى إلى تركيز ((القوى)) في محور واشنطن- موسكو ظهرت مناطق متسعة مخططة تمثل وحدات جغرافية سياسية تركزت في كل منها القوى، وأصجت على وشك التركيز مثل المنطقة الأطلنطية (الخاضعة لتخطيط مارشال). والمنطقة السوفياتية، ومنطقة الصين الشعبية، ومنطقة الوحدة الهندية.
ب - وفي غمار هذا العالم المخطط يشعر الرجل المسلم بعدم جدواه. وبأن أحداث التاريخ تسجل دون أن يكون له دخل فيها (كعضو في منطقة جغرافية سياسية غير مخطّطة) يرى أن تطور العالم قد سبقه.
2 -
مبررات سيكولوجية:أ - وبما أنه يستبطن هذه المعطيات يصبح المسلم يفكر بمقتضاها بمصير العالم الإسلامي فتراه يحمل بين جنباته بذور ثورة.
ومن ثم يجد نفسه أمام احتمالين:
1 - هل بوسع العالم الإسلامي أن يقوم بثورة طبقاً لتطورات معينة؟ أي طبعة تخطيط يراعى فيه العوامل النفسية والاجتماعية الخاصة به.
2 - أم في حالة عدم وجود قيادة حكيمة ترسم له خطته يرى العالم الإسلامي نفسه مندفعاً (بضرورة انسجامه في التطور العالمي الذي لا زالت سرعته تتزايد) إلى ثورة تأتيه من الخارج أي ثورة لن يكون في مقدوره التحكم فيها.
গ্রন্থের রূপরেখাইসলামি 'কমনওয়েলথ' এর ধারণা
১ -
ভূ-রাজনৈতিক যৌক্তিকতা:ক - বর্তমানে বিশ্ব এক নতুন বৈশিষ্ট্যে আবির্ভূত হয়েছে: 'কারিগরি' উপাদানের প্রভাবে যা ওয়াশিংটন-মস্কো অক্ষের ওপর 'শক্তির' কেন্দ্রীভবন ঘটিয়েছে, তার ফলে কিছু পরিকল্পিত বিস্তৃত অঞ্চল আবির্ভূত হয়েছে। এগুলো এমন ভূ-রাজনৈতিক একক হিসেবে কাজ করছে যেখানে শক্তিগুলো কেন্দ্রীভূত হয়েছে অথবা কেন্দ্রীভূত হওয়ার পথে রয়েছে; যেমন—আটলান্টিক অঞ্চল (যা মার্শাল প্ল্যানের অন্তর্ভুক্ত), সোভিয়েত অঞ্চল, গণচীন অঞ্চল এবং ভারতীয় ঐক্য অঞ্চল।
খ - এই পরিকল্পিত বিশ্বের আবহে মুসলিম ব্যক্তি আজ নিজেকে অপ্রাসঙ্গিক অনুভব করছেন। তিনি মনে করেন যে, ইতিহাসের ঘটনাবলি তাকে বাদ দিয়েই রচিত হচ্ছে (একটি অপরিকল্পিত ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চলের সদস্য হিসেবে), এবং বিশ্বের বিবর্তন তাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে।
২ -
মনস্তাত্ত্বিক যৌক্তিকতা:ক - যেহেতু মুসলিম ব্যক্তি এই বাস্তবতাকে নিজের অন্তরে অনুধাবন করেন, সেহেতু তিনি এর আলোকে মুসলিম বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করেন। এর ফলে তার অন্তরে বিপ্লবের বীজ উপ্ত হতে দেখা যায়।
এমতাবস্থায় তিনি নিজেকে দুটি সম্ভাবনার সামনে দেখতে পান:
১ - নির্দিষ্ট বিবর্তনের ধারায় মুসলিম বিশ্ব কি কোনো বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম? অর্থাৎ এমন এক পরিকল্পনার রূপরেখা, যেখানে তার নিজস্ব মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক উপাদানসমূহ বিবেচনায় রাখা হবে।
২ - অথবা, সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য যদি কোনো প্রজ্ঞাবান নেতৃত্ব না থাকে, তবে মুসলিম বিশ্ব নিজেকে (ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক বিবর্তনের সাথে তাল মেলানোর অনিবার্য প্রয়োজনে) বাইরে থেকে আসা এমন এক বিপ্লবের দিকে ধাবিত হতে দেখবে, যা নিয়ন্ত্রণ করা তার সামর্থ্যের বাইরে থাকবে।
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ب - ومن هنا فإن ضرورة تكتل العالم الإسلامي تبدو أول ما تبدو كضرورة نفسية أي كوسيلة تخفف من تهويل القضية في الضمير الإسلامي وبالتالي وسيلة فعالة للحد من بعض النزعات المفرقة التي يمكنها دفع العالم الإسلامي إلى ثورة تأتيه من الخارج.
3 -
مبررات فنية:ولكن ما نكاد أن نحاول مواجهة التخطيط من الناحية الفنية حتى نجد موضوع التخطيط نفسه كأنه انعدم، لأننا نحاول التخطيط لعالم إسلامي، فنجد أنفسنا أمام عوالم إسلامية.
الخلاصة:فيترتب إذن على ما سبق شيآن:
أ - ضرورة التخطيط للعالم الإسلامي.
ب - ولكن لا يمكن هذا التخطيط إلا عن قاعدة اتحادية بعيدة عن فكرة (الإسلامستان) التي ينادي بها قادة الباكستان أحياناً، ولا يمكن وضعها موضع التنفيذ إلا إذا كانت في صورة كمنويلثية.
খ - এখান থেকেই মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা প্রথমত একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রয়োজনীয়তা হিসেবে পরিলক্ষিত হয়; অর্থাৎ এমন একটি উপায় যা মুসলিম জনমানসে এই বিষয়ের ভয়াবহতাকে প্রশমিত করবে এবং এর ফলে এমন কিছু বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রবণতা রোধ করার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে যা মুসলিম বিশ্বকে বাইরের প্ররোচনায় কোনো বিপ্লবের দিকে ধাবিত করতে পারে।
৩ -
কারিগরি বা পদ্ধতিগত যৌক্তিকতা:কিন্তু আমরা যখনই পদ্ধতিগত দিক থেকে পরিকল্পনার সম্মুখীন হওয়ার চেষ্টা করি, তখনই দেখি যে পরিকল্পনার বিষয়টিই যেন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। কারণ আমরা একটি অখণ্ড মুসলিম বিশ্বের জন্য পরিকল্পনা করতে চাই, অথচ নিজেদেরকে একাধিক মুসলিম বিশ্বের সামনে দেখতে পাই।
সারসংক্ষেপ:সুতরাং পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে দুটি বিষয় অনিবার্য হয়ে পড়ে:
ক - মুসলিম বিশ্বের জন্য পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা।
খ - তবে এই পরিকল্পনা কেবলমাত্র একটি ইউনিয়ন বা ফেডারেল ভিত্তির মাধ্যমেই সম্ভব, যা 'ইসলামিস্তান' ধারণা থেকে মুক্ত থাকবে—যেটির ডাক পাকিস্তানের নেতারা মাঝেমধ্যে দিয়ে থাকেন। আর একে বাস্তবায়ন করা তখনই সম্ভব হবে যখন তা একটি কমনওয়েলথ কাঠামোর আদলে হবে।
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
رسم دراسة لفكرة كمنويلث إسلامي
ملاحظة:إذا تعرضا لفكرة كمنويلت إسلامي باعتبارها موضوع بحث يرمي إلى تخطيط وحدة جغرافية سياسية معينة أو إلى مجرد معرفة نظرية للوقوف على معلومات أوسع بشأن هذه الوحدة يوجب أن يتضمن هذا البحث بعض الحقائق الأساسية والمقتضيات المنطقية التي تميز موضوع البحث وتبرر الحل الذي يراد إيجاده.
1 -
حقائق أساسية:أ - لقد احتفظ العالم الإسلامي في المرحلة التي يجتازها الآن بوحدته الروحية التي تعد له عاملاً جامعاً أساسياً ومبدأ موحداً يجب أن يطبق، في أي محاولة لتخطيطه تطبيقاً يناسب تجانس المشروع من الناحية السيكولوجية وتناسق عناصره من الناحية الفنية.
ب - لكن بجانب وحدته الروحية يبدو العالم الإسلامي في مرحلته الحاضرة متعدد الجوانب كأنه ليس عالماً واحداً بل عوالماً:
1 - العالم الإسلامي الزنجي أو الإفريقي.
2 - العالم الإسلامي العربي.
3 - العالم الإسلامي الإيراني (فرس، أفغان، باكستان).
4 - العالم الإسلامي الملايو (أندونسيا، ملايو).
5 - العالم الإسلامي الأصفر.
একটি ইসলামি কমনওয়েলথ ভাবনার রূপরেখা প্রণয়ন
দ্রষ্টব্য:যদি একটি ইসলামি কমনওয়েলথ ভাবনার বিষয়টি গবেষণার বিষয় হিসেবে উত্থাপন করা হয়, যার লক্ষ্য একটি নির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক ইউনিটের পরিকল্পনা করা অথবা এই ইউনিট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য লাভের উদ্দেশ্যে নিছক তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করা, তবে এই গবেষণায় এমন কিছু মৌলিক বাস্তবতা ও যৌক্তিক প্রয়োজনীয়তা অন্তর্ভুক্ত থাকা আবশ্যক যা গবেষণার বিষয়টিকে বিশিষ্ট করে তোলে এবং যে সমাধানটি খুঁজে বের করতে চাওয়া হচ্ছে তার যৌক্তিকতা প্রমাণ করে।
১ -
মৌলিক বাস্তবতা:ক - মুসলিম বিশ্ব বর্তমান যে পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে, সেখানে সে তার আধ্যাত্মিক ঐক্য বজায় রেখেছে। একে একটি মৌলিক ঐক্যবদ্ধকারী ফ্যাক্টর এবং একটি সমন্বিত নীতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা এই বিশ্বের রূপরেখা প্রণয়নের যেকোনো প্রচেষ্টায় এমনভাবে প্রয়োগ করা উচিত যেন তা প্রকল্পটির মনস্তাত্ত্বিক সমজাতীয়তা এবং এর উপাদানগুলোর কারিগরি সুসামঞ্জস্যের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।
খ - তবে আধ্যাত্মিক ঐক্যের পাশাপাশি মুসলিম বিশ্ব তার বর্তমান পর্যায়ে বহুমাত্রিক হিসেবে প্রতিভাত হয়; যেন এটি কেবল একটি বিশ্ব নয়, বরং অনেকগুলো বিশ্বের সমন্বয়:
১ - নিগ্রো বা আফ্রিকান মুসলিম বিশ্ব।
২ - আরব মুসলিম বিশ্ব।
৩ - ইরানি মুসলিম বিশ্ব (পারস্য, আফগান, পাকিস্তান)।
৪ - মালয় মুসলিম বিশ্ব (ইন্দোনেশিয়া, মালয়)।
৫ - পীত (মঙ্গোলীয়) মুসলিম বিশ্ব।
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
جـ - ونظرا لوحدته من ناحية وتعدده من ناحية أخرى يبدو أن العالم الإسلامي أصبح في مرحلة ينسجم فيها جانبه الروحي ويتشعب جانبه الدنيوي حتى أننا في هذه الظروف لو تعرضنا لمشكلة الخلافة مثلاً- لما كان في وسعنا أن نتغافل عن لزوم تحديد قانوني جديد لمعنى الإمامة في الإسلام.
2 -
المقتضيات المنطبقة:أ - لكي ينتظم الكمنويلث الإسلامي طبقاً لأوضاعه الخاصة ولانسجامه مع تطور العالم المخطط، يجب أن يخطط ككتلة للعوالم الإسلامية يرأسها المؤتمر الإسلامي كجهاز ((فدرالي)).
ب - ودستور الاتحاد يجب أن يقوم على دراسة جديدة للإمامة مع استخدام الرابطة الاقتصادية حيثما وجدت بطبيعتها مثلاً بين مصر والسودان والرابطة القومية مثلاً في البلاد العربية.
جـ - تحديد مهمة الكمنويلث الإسلامي في العالم.
গ- একদিকে এর ঐক্য এবং অন্যদিকে এর বৈচিত্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে এটি প্রতীয়মান হয় যে, মুসলিম বিশ্ব বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যেখানে এর আধ্যাত্মিক দিকটি সংগতিপূর্ণ হয়েছে এবং এর পার্থিব দিকটি বহুমুখী ধারায় বিস্তৃত হয়েছে। এমনকি এই পরিস্থিতিতে আমরা যদি উদাহরণস্বরূপ খিলাফতের (الخلافة) সমস্যার সম্মুখীন হই—তবে ইসলামে ইমামত (الإمامة) শব্দের অর্থের জন্য একটি নতুন আইনি রূপরেখা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।
২ -
প্রযোজ্য আবশ্যকতাগুলো:ক- ইসলামী কমনওয়েলথকে তার নিজস্ব পরিস্থিতি এবং পরিকল্পিত বিশ্বের বিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে একে মুসলিম বিশ্বের একটি ব্লক হিসেবে পরিকল্পনা করা আবশ্যক, যার নেতৃত্বে থাকবে একটি "ফেডারেল" সংস্থা হিসেবে ইসলামিক কনফারেন্স (المؤتمر الإسلامي)।
খ- এই জোটের সংবিধান অবশ্যই ইমামত (الإمامة) সংক্রান্ত নতুন পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে হতে হবে, যেখানে প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে কাজে লাগাতে হবে—যেমন মিসর ও সুদানের ক্ষেত্রে—এবং আরব দেশগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান জাতীয় সংহতিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
গ- বিশ্বে ইসলামী কমনওয়েলথের লক্ষ্য ও মিশন নির্ধারণ করা।
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ـ[لوحة: غلاف الطبعة الأولى]ـ
ـ[চিত্র: প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ]ـ
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مدخلفي هذه الصفحات التي نتناول فيها موضوع: (كملنويلث إسلامي) ( Commonwealth islamique) ليس للقارئ أن ينتظر وجود حل جاهز، بينما المشكلة التي تستدعي حلاًّ كهذا، ما تزال هي نفسها لم توضع بعد تماماً. وسوف يتاح للقارئ- خلال تتبعه لنا- أن يعرف البعض من أسباب هذه الثغرة. ولكن ينبغي علينا منذ الآن، أن نحدد الحدود المفروضة التي نستطيع تناول الموضوع في نطاقها، فالعالم الإسلامي، وهو في المرحلة الراهنة من تطوره، ليس مجهزاً لهذا النوع من العمل؛ فتجهيزه في هذا النطاق ليس كافياً، لأسباب عديدة: منها ما هو ذو صبغة نفسية، ومنها ما هو ذو صبغة مادية. وسنعود لتناول هذه المسألة التي تمثل مظهراً من المظاهر الأساسية فيما ندعوه بـ (اللافعالية)، التي أشرنا إليها في مناسبات شتى، والتي نرجئ تحليلها إلى ما بعد.
ومهما يكن من شيء، فموضوعنا لا يتطلب عملاً إدارياً، أو مجرد مقايسة نظرية ( Spéculation)، ولكنه يستدعي عملاً دقيقاً، على مجال القضية نفسها، وتحقيقاً مُعَمَّقاً على صعيد العالم الإسلامي؛ مضافاً إلى ذلك أن تحقيقاً من هذا النوع، لا يمكن أن يقوم به فرد منعزل، لأنه من مهام هيئة مشتركة من الأخصائيين، الذين يتقاسمون فيما بينهم المظاهر والقطاعات المختلفة لهذه المهمة، كل في دائرة اختصاصه، بنفس الطريقة التي سارت على منوالها هيئات العلماء الذين تقاسموا أعمال السنة الجغرافية- الطبيعية ( Géo-physique) الجارية على مساحة الكرة الأرضية لدراسة خصائصها. وهذا يعني أن دراستنا يجب أن تتناول
ভূমিকাএই পৃষ্ঠাগুলোতে আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি তা হলো: ‘ইসলামি কমনওয়েলথ’ (Commonwealth islamique)। এখানে পাঠকের কোনো তৈরি সমাধান প্রত্যাশা করা উচিত হবে না; কারণ যে সমস্যার জন্য এ ধরনের সমাধানের প্রয়োজন, সেই সমস্যাটিই এখন পর্যন্ত পুরোপুরি সংজ্ঞায়িত বা উপস্থাপিত হয়নি। পাঠক—আমাদের আলোচনা অনুসরণের মাধ্যমে—এই শূন্যতার কিছু কারণ জানতে পারবেন। তবে বর্তমানে আমাদের সেই সীমাবদ্ধতাগুলো সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন, যার গণ্ডির মধ্যে আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারি। কারণ মুসলিম বিশ্ব তার উন্নয়নের বর্তমান পর্যায়ে এই ধরনের কাজের জন্য সুসজ্জিত নয়; বিভিন্ন কারণে এই ক্ষেত্রে তাদের প্রস্তুতি পর্যাপ্ত নয়: যার কিছু মনস্তাত্ত্বিক প্রকৃতির এবং কিছু বস্তুগত প্রকৃতির। আমরা পুনরায় এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব, যা আমাদের কথিত ‘অকার্যকারিতা’র অন্যতম মৌলিক দিক হিসেবে গণ্য; যে বিষয়ের প্রতি আমরা বিভিন্ন সময়ে ইঙ্গিত করেছি এবং যার বিশ্লেষণ আমরা পরবর্তী সময়ের জন্য স্থগিত রাখছি।
যাই হোক না কেন, আমাদের আলোচ্য বিষয়টি কোনো প্রশাসনিক কাজ বা কেবল তাত্ত্বিক অনুমান (Spéculation) দাবি করে না; বরং এটি খোদ বিষয়ের ওপর নিখুঁত কাজ এবং মুসলিম বিশ্বের প্রেক্ষাপটে একটি গভীর অনুসন্ধান দাবি করে। অধিকন্তু, এই ধরনের অনুসন্ধান কোনো একাকী ব্যক্তির পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব নয়; কারণ এটি বিশেষজ্ঞগণের একটি যৌথ সংস্থার কাজ, যারা এই অভিযানের বিভিন্ন দিক ও বিভাগ নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেবেন—প্রত্যেকেই নিজ নিজ বিশেষজ্ঞতার ক্ষেত্রে। এটি ঠিক সেই পদ্ধতির মতো, যা সেইসব বিজ্ঞানী সংস্থাগুলো অনুসরণ করেছিল যারা ভূপৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্যসমূহ অধ্যয়নের জন্য পরিচালিত ‘আন্তর্জাতিক ভূ-পদার্থবিজ্ঞান বর্ষ’ (Géo-physique)-এর কার্যাবলি নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিয়েছিলেন। এর অর্থ হলো আমাদের এই অধ্যয়নকে অবশ্যই আলোচনা করতে হবে...
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تحت إشراف (مركز للبحوث) لَمَّا يوجد بعد في العالم الإسلامي، حيث المنشآت التي تستطيع أن تقم بهذا الدور لا تعدو أحد أمرين:
إما أن تكون قد شاخت وهرمت، كما هو الحال في يومنا هذا بالنسبة إلى الهيئات التي سبق أن لعبت دوراً هاماً في الحياة العقلية للعالم الإسلامي، وإما أنها لا تزال حديثة وشابة، ومن ثَمَّ فهي لم تتكيف بعد مع عمل علميّ واسع النطاق.
صحيح أن جهوداً قيمة تبذل في مصر، بقصد التكيف مع ضرورات البحث، في مجالات عدة، ولكن العالم الإسلامي بصفة عامة يجتاز فترة تحول و (حَمْلٍ)؛ فبعض الأشياء قد أصبح ميتاً، ولم يعد صالحاً للاستعمال، وبعضها الآخر لما يولد بعد. ومن هنا نجمت فترة من (اللاتكيف)، يتعين على المنشآت والأفراد؛ الأشياء والأفكار، أن تجتازها جميعها بالضرورة، لكي تتكيف مع عالم جديد، لما تزل مقاييسه بعيدة عن متناولنا حتى الآن. إنها فترة ذات صبغة طفولية يمكن أن يعوِّق فيها فعل الإنسان المسلم وفكره، من جرات مركبات معينة، خاصة بوشطه. وفيما عدا ذلك، فالمسلم- لكي يتفوّق على بعض مركبات نقصه بإزاء عالم راضخ للتصميم، وللمنهج (التيلوري)؛ المنهج الذي يعمد إلى تنظيم العمل بشكل مُنَمٍّ لحصوله، حيث يستشعر نفسه، بطريقة غامضة، أنه غير متكيف مع هذا العالم- قد اتخذ بالنسبة له، وبسهولة مرموقة، بعض الدعاوى التي تترجم عموماً عن حقائق معينة. ونحن عندما نواصل تحليل الأشياء أبعد من ذلك، نلاحظ التأثير التنويميّ لهذه الدعاوى التي تخدر وعينا، في نوع من الانقياد المترفع بإزاء العالم الراضخ للتصميم
… فنحن على سبيل المثال، نتقبل على حق ما هو متعارَف من أن المادة تحظى في العالم المخطط، بمرتبة القيمة العليا، وأحسب أننا متفقون على هذه النقطة؛ ولكن لنواصل أبعد من ذلك: فالحق أننا نرى المجتمع الإسلامي الراهن- كما سلف أن أشرت إلى ذلك منذ عشر
(গবেষণা কেন্দ্র)-এর তত্ত্বাবধানে যা এখনও মুসলিম বিশ্বে বিদ্যমান নেই, যেখানে এই ভূমিকা পালন করতে সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল দুটি অবস্থার একটির বাইরে নয়:
হয় সেগুলো প্রাচীন ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, যেমনটি আজ আমাদের বর্তমান সময়ে সেই সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় যারা অতীতে মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল; অথবা সেগুলো এখনও নতুন ও নবীন, যার ফলে সেগুলো এখনও বৃহৎ পরিসরের বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ডের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি।
এটি সত্য যে, মিশরে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মূল্যবান প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তবে মুসলিম বিশ্ব সাধারণভাবে একটি রূপান্তর ও (গর্ভকালীন) সময়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে; ফলে কিছু বিষয় মৃত হয়ে গেছে এবং ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, আর কিছু বিষয় এখনও জন্মলাভ করেনি। এখান থেকেই (অ-অভিযোজন বা অসামঞ্জস্যতার) একটি সময়কাল উদ্ভূত হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি; বস্তু ও ধারণা—সকলেরই অতিক্রম করা আবশ্যক, যাতে তারা এমন এক নতুন বিশ্বের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে যার মানদণ্ড এখনও আমাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। এটি শৈশবসুলভ বৈশিষ্ট্যের একটি সময়কাল যেখানে একজন মুসলিমের কর্ম ও চিন্তাভাবনা তার পরিবেশের সাথে সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট কিছু মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া, সুপরিকল্পিত বিশ্ব এবং (টেলরীয়) পদ্ধতির—এমন এক পদ্ধতি যা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করে—বিপরীতে মুসলিমরা তাদের কিছু হীনম্মন্যতাকে কাটিয়ে ওঠার জন্য, যেখানে সে অস্পষ্টভাবে অনুভব করে যে সে এই বিশ্বের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে না, অত্যন্ত অনায়াসে কিছু দাবি গ্রহণ করে যা সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু বাস্তবতাকে প্রকাশ করে। যখন আমরা বিষয়গুলোর বিশ্লেষণ আরও গভীরে নিয়ে যাই, তখন আমরা এই দাবিগুলোর সম্মোহনী প্রভাব লক্ষ্য করি যা আমাদের চেতনাকে অসাড় করে দেয় এবং এটি সুপরিকল্পিত বিশ্বের প্রতি এক ধরনের উচ্চাভিলাষী আনুগত্যে পরিণত হয়
… উদাহরণস্বরূপ, আমরা সঠিকভাবে এটি মেনে নেই যে, পরিকল্পিত বিশ্বে বস্তুগত বিষয়গুলোই সর্বোচ্চ মূল্য লাভ করে এবং আমি মনে করি আমরা এই বিন্দুতে একমত; কিন্তু চলুন বিষয়টি আরও সামনে নিয়ে যাই: সত্য হলো, আমরা বর্তমান মুসলিম সমাজকে দেখতে পাচ্ছি—যেমনটি আমি দশ বছর আগেই উল্লেখ করেছি—
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
سنوات، في كتابي (وجهة العالم الإسلامي) - يتخذ بالنسبة إلى المادة موقفاً غريباً:
فالواقع أن المادة قد واكبت تياراً. فكرياً مزدوجاً، ففي العالم الراضخ للتصيم، وللمنهج التيلوري، توجد نزعة مادية رأسمالية أو (بورجوازية) نوعياً، ونزعة مادية ماركسية أو (بروليتارية) نوعياً كذلك. فالنزعة الأولى تلتقي في الغرب، مع رفاهية طبقة مالكة لمصالحها وأذواقها وأشيائها. والنزعة الثانية، تمثل مذهب نضال طبقة كادحة، وتلتقي مع أصول هذا النضال، وتصوراته وأفكاره. وإذا بالعالم الإسلامي، الذي يريد الانفلات من أسر المادة - متخذاً من وجهة نظرية نفس التحفظ بالنسبة إلى كل من النزوعين اللذين تواكبهما- يسقط لا شعورياً في النزغة الأولى، ذلك أنه في الحقيقة منحصر التعلق - في المرحلة الراهنة من تطوره- (بالأشياء) لا (بالأفكار). ونحن نستطيع أن نفهم هذا الميل، على ضوء السيكولوجية الصبيانية: فالطفل لا يرى في العالم أفكاراً، ولكنه يرى أشياء؛ فكومة من قطع الحلوى، أثمن لديه بكثير من كومة من الجواهر! .. وكل المجتمعات البشرية تمر بهذه المرحلة من الصبيانية؛ وليس لغير ما سبب، أن يكون (لينين) قد كرَّس أحد كتبه (لأمراض الماركسية الصبيانية). غير أن هذا النزوع الفكري قد واكب، في العالم الإسلامي، استمراء السهولة. وإنه لمن المؤكد، أن شراء سيارة (كدلاك) أو ثلاجة، أسهل بكثير من الحصول على (الأفكار) الضرورية لصنعهما. ومن ثَمَّ نصل إلى هذا التقرير المتميز، المُتَمَثِّل في أن المادة التي كان من نتائجها في العالم المصمِّم التنمية من كمية (الأفكار)، كان من نتائجها العكسية في العالم الإسلامي، مضاعفة (الأشياء) فحسب .. ولا أحب أن أدفع بهذا التحليل الذي نجازف معه بالخروج عن الإطار الضيق المرصود لهذا المدخل، إلى أبعد من ذلك؛ مع أننا لو واصلنا أشواطاً أخرى، لعثرنا على تقريرات غير منتظرة. إلا أن هناك خلاصة لها أهميتها
বহু বছর আগে, আমার ‘ওয়াজহাতুল আলামিল ইসলামি’ (ইসলামি বিশ্বের অভিমুখে) গ্রন্থে বস্তু সম্পর্কে একটি অদ্ভুত অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছিল:
বাস্তবতা হলো এই যে, বস্তু একটি দ্বিমুখী চিন্তাধারার সাথে সহাবস্থান করে আসছে। সুপরিকল্পিত বিশ্ব এবং টেলরবাদী পদ্ধতির অনুসারী বিশ্বে একদিকে যেমন গুণগতভাবে পুঁজিবাদী বা ‘বুর্জোয়া’ বস্তুবাদী প্রবণতা রয়েছে, তেমনি গুণগতভাবে মার্ক্সবাদী বা ‘সর্বহারা’ বস্তুবাদী প্রবণতাও বিদ্যমান। প্রথম প্রবণতাটি পাশ্চাত্যে এমন এক মালিক শ্রেণির বিলাসিতার সাথে মিশে যায়, যাদের নিজস্ব স্বার্থ, রুচি ও বিষয়বস্তু রয়েছে। দ্বিতীয় প্রবণতাটি মেহনতি শ্রেণির সংগ্রামের মতাদর্শকে তুলে ধরে এবং এই সংগ্রামের মূলনীতি (أصول), কল্পনা ও চিন্তাধারার সাথে একীভূত হয়। এদিকে মুসলিম বিশ্ব, যারা বস্তুর বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে চায়—এবং তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই উভয় প্রবণতার ব্যাপারে সমান সতর্কতা অবলম্বন করে—তারা অবচেতনভাবেই প্রথম প্ররোচনার শিকার হয়ে পড়ে। কারণ প্রকৃতপক্ষে মুসলিম বিশ্ব তার বিবর্তনের বর্তমান পর্যায়ে ‘চিন্তাধারার’ পরিবর্তে কেবল ‘বস্তুর’ মোহে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আমরা এই প্রবণতাকে শিশুসুলভ মনোবিজ্ঞানের আলোকে বুঝতে পারি: একটি শিশু জগতের মধ্যে কোনো আদর্শ বা চিন্তা দেখে না, বরং সে শুধু বস্তু দেখে; তার কাছে এক স্তূপ মিছরি এক স্তূপ মণিরত্নের চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান! এবং মানবজাতির প্রতিটি সমাজই এই শিশুসুলভ পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়; আর সঙ্গত কারণেই লেনিন তার একটি গ্রন্থ ‘মার্ক্সবাদের শিশুসুলভ রোগসমূহ’-এর জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। তবে এই বুদ্ধিবৃত্তিক ঝোঁকটি মুসলিম বিশ্বে আরামপ্রিয়তাকে প্রশ্রয় দেওয়ার সাথে যুক্ত হয়েছে। এটি নিশ্চিত যে, একটি ক্যাডিলাক গাড়ি বা একটি ফ্রিজ কেনা সেই বস্তুগুলো তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ‘চিন্তা’ বা ‘জ্ঞান’ অর্জন করার চেয়ে অনেক বেশি সহজ। ফলে আমরা এই বিশেষ সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, বস্তু যা পরিকল্পিত বিশ্বে ‘চিন্তাধারার’ পরিমাণের উন্নতি ঘটিয়েছে, তা মুসলিম বিশ্বে বিপরীত ফলাফল হিসেবে কেবল ‘বস্তুর’ সংখ্যাই বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। আমি এই বিশ্লেষণটিকে আর দীর্ঘ করতে চাই না, কারণ তাতে এই ভূমিকার জন্য নির্ধারিত সংকীর্ণ গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে; যদিও আমরা যদি আরও অগ্রসর হতাম, তবে অনেক অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তের দেখা পেতাম। তবুও এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সারসংক্ষেপ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২০)
بالنسبة إلى موضوعنا وهي: أن (الفكرة) ليس لها فعاليتها الكافية في العالم الإسلامي، أو هي لا تلعب دورها فيه. ولا ريب في أن فحص كل العوامل التي كان لها مفعول ما، في هذا القصور، سيكون ذا أهية بالغة. ولكن المؤكد، أن أحد مظاهر هذا القصور، هو ما نلاحظه في التطور الراهن للعالم الإسلامي، من تخلف بالنسبة إلى التطور العام. وإن هذا المظهر بالذات، لهو الذي تتضمنه بصفة خاصة، دراستنا هذه، لأنه يتصل بكل العوامل النفسية- الزمنية، التي تبرر فكرة (الكمنويلث).
আমাদের আলোচ্য বিষয়বস্তু হলো: ইসলামি বিশ্বে ‘চিন্তা’ বা ‘ধারণা’র পর্যাপ্ত কার্যকারিতা নেই, অথবা এটি সেখানে নিজের যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না। নিঃসন্দেহে, এই সীমাবদ্ধতার পেছনে প্রভাব বিস্তারকারী প্রতিটি অনুষঙ্গ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্ববহ হবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, এই সীমাবদ্ধতার অন্যতম একটি বহিঃপ্রকাশ হলো মুসলিম বিশ্বের বর্তমান অগ্রগতির ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উন্নয়নের তুলনায় যে অনগ্রসরতা আমরা লক্ষ্য করি। মূলত এই দিকটিই আমাদের বর্তমান গবেষণার বিশেষ আলোচ্য বিষয়; কারণ এটি এমন সকল মনস্তাত্ত্বিক ও কালগত অনুষঙ্গের সাথে সম্পৃক্ত, যা ‘কমনওয়েলথ’ ধারণার যৌক্তিকতা নিরূপণ করে।
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২১)
القسم الأول:مشروع دراسة شاملة
প্রথম ভাগ:একটি সামগ্রিক গবেষণা প্রকল্প
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২২)
أ - تأريخ الفكرة:1 -
المحيط الجديد:إن الحاج المسلم- الذي تضعه (الحافلة)، أثناء وقفة من وقفاتها، في إحدى المحطات، تحت صوامع حي الأزهر، التي طاما اختلطت بأحلامه كإنسان ذي عقيدة- يغتنم فرصة نزوله غالباً، لزيارة القاهرة. وبقدر ما يمكث داخل الدائرة التي حافظت فيها الحياة على طابعها التقليدي في قليل أو كثير- في حي (الموسكي) وما يجاوره على سبيل المثال- تحتفظ ارتساماته بلونها العادي، مع مرتفعات ومنخفضات يتلقاها انفعاله، من حب استطلاع طبيعي لديه. إنه يوجد في محيط توقظ فيه كل خطوة يخطوها، ذكرى تركتها في وعيه، حكايات أجيال الحجيج السابقة له من أسرته. فهو المحيط الذي ترعرت فيه طفولته بأحلامها الملونة، وتكونت فيه شخصيته كذلك؛ إن له روابط لا مرئية، ووشائج من القرابة الخفية، مع هذا العالم من الصوامع، والتوابيت المطعَّمة بالعاج، والأخشاب الثمينة؛ حيث لا يقاس الزمن بغير الفواصل بين الصلوات، أو بمواعيد الوجبات الغذائية الثلاث! .. فآلاف الأشياء الصغيرة، المعروضة على جنبات الدكاكين، وهذه الأشباح المارة من السكك الصغيرة، وتلك الجماعات التي تتجاذب الأحاديث أمام المقاهي الشعبية المنبثة كما اتفق في أي زاوية أو ركن، وهذا الظل الظليل حول المساجد التي ينتظر المتسوّلون أمام أبوابها إحسان المحسنين، مرددين أدعيتهم وصلواتهم الخالدة! .. وكذلك المرأة التي تدفع - لا شعورياً- بطرفٍ من برقعها فوق رأسها
… كل هؤلاء يتكلمون مع هذا الحاج لغة مألوفة. إنه عالم يعرفه حق المعرفة، لأنه يحمل صورته في أفكاره الحميمة، في أحاسيسه وردود أفعاله. وهو العالم الذي فُصِّلَ على مقاسه، فوضع في
ক - চিন্তাধারার ইতিহাস:১ -
নতুন পরিমণ্ডল:একজন মুসলিম হজ্জযাত্রী—যাকে কোনো এক যাত্রাবিরতির সময় বাস আল-আজহার এলাকার মিনারগুলোর নিচে একটি স্টেশনে নামিয়ে দেয়, যা একজন আকিদাপূর্ণ মানুষ হিসেবে দীর্ঘকাল তার স্বপ্নের সাথে মিশে ছিল—সে সাধারণত তার এই অবতরণের সুযোগটি কায়রো ভ্রমণের জন্য গ্রহণ করে। এবং যতক্ষণ সে এমন এক বৃত্তের মধ্যে অবস্থান করে যেখানে জীবন তার ঐতিহ্যগত রূপকে অল্পবিস্তর বজায় রেখেছে—উদাহরণস্বরূপ আল-মুসকি এলাকা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ—ততক্ষণ তার অনুভূতিগুলো এক স্বাভাবিক কৌতূহলজাত আবেগীয় উত্থান-পতনের সাথে সাথে তার সাধারণ বৈশিষ্ট্য ধরে রাখে। সে এমন এক পরিবেশে অবস্থান করে যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ তার মধ্যে সেই স্মৃতির জাগরণ ঘটায়, যা তার পরিবারের পূর্ববর্তী প্রজন্মের হজ্জযাত্রীদের গল্পগুলো তার চেতনায় রেখে গিয়েছিল। কারণ এটিই সেই পরিবেশ যেখানে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে তার শৈশব বিকশিত হয়েছিল এবং একইভাবে তার ব্যক্তিত্ব গঠিত হয়েছিল; এই মিনারের জগত, হাতির দাঁত ও মূল্যবান কাষ্ঠ খচিত সিন্দুকগুলোর সাথে তার এক অদৃশ্য বন্ধন এবং নিগূঢ় আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে; যেখানে সালাতের মধ্যবর্তী বিরতি কিংবা আহারের সময়সূচি ছাড়া অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমে সময় পরিমাপ করা হয় না! দোকানের দুই পাশে সাজানো হাজারো ক্ষুদ্র বস্তু, সরু গলি দিয়ে যাতায়াতকারী এই ছায়াবদ অবয়বগুলো, এবং যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা সাধারণ ক্যাফেগুলোর সামনে আলাপচারিতায় মগ্ন সেই দলগুলো, আর মসজিদের চারপাশের সেই সুশীতল ছায়া—যার দরজায় ভিক্ষুকেরা তাদের চিরন্তন দোয়া ও প্রার্থনা উচ্চারণ করতে করতে দানশীলদের অনুগ্রহের প্রতীক্ষায় থাকে! একইভাবে সেই নারী, যে অবচেতনভাবেই তার বোরকার এক প্রান্ত মাথার উপর তুলে দেয়
… এই সবাই সেই হজ্জযাত্রীর সাথে এক পরিচিত ভাষায় কথা বলে। এটি এমন এক জগত যা সে খুব ভালো করেই চেনে, কারণ সে তার নিভৃত চিন্তা, অনুভূতি এবং প্রতিক্রিয়ার মধ্যে এর প্রতিচ্ছবি বহন করে। এটি এমন এক জগত যা তার মাপে তৈরি করা হয়েছে, এবং সে সেখানে স্থান পেয়েছে...
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ذاته صورته الحميمة، وأمده بالمعايير الأساسية للحكم على الأفراد والأشياء، وانطبع على مصيره .. ومن جراء هذه الاعتبارات ذاتها، فهو لا يمثل بالنسبة إليه أيَّ إلْغازٍ، ولا يضع أمامه أيَّ معضل يضايقه. فهذا الحاج المسلم، لا يكاد ينتبه إلى الطوابير التي تجمع أطلال هذا العالم، وتحملها بعيداً، لتهيئ مكاناً لطرقات جديدة، وحركة مرور أخرى، ولإيقاع حياتيّ جديد كذلك.
ولكنه إذا ما اقتادته الصدفة في نفس صبيحة هذا اليوم، خارج دائرة حي الأزهر، ودفعت به خطاه إلى المدينة الحديثة .. اختلفت انطباعاته شيئاً فشيئاً - وبطريقة غير محسوسة- باختلاف الزخرف الجديد. إنه في محيط آخر، قد رأته عيناه في أمكنة أخرى، ولكن وعيه لما يتمثله بعد. فرجلاه تنضويان تقدُّمياً، في عالم يتبدَّى له منه: أن قلبه وفكره ووعيه، لما تصل إليه بعد كلية. ويستشعر ارتساماته، ومشاعره وأفكاره، تتبدل في لونها. فهو في عالم من الأشياء، والأشباح، والمظاهر، التي تراها باصرتاه، ولا تعتدها بصيرته بعد تماماً. إنه المحيط الجديد، الذي يُؤَطِّرُ حياته، ولكن (أناهُ) لم تتقبله بعد في (إنَّيَّتِهِ) أو ذاتيته، ولا تمثلت بنوده، ومواضعاته، ولا عرفت مقاييسه ومعاييره؛ وإن لغته لتبدو له غريبة كذلك، فالمرأة المرتدية (للشوال)، يذكره رداؤها عرضاً بغرابته، فهو يحس بطريقة غامضة، أن بينه وبين هذا العالم، تخلُّفاً وانقطاعاً معيَّنين، من غير أن يعرف بالضبط، كيف يحدد سببهما الحقيقي. فهذه الجولة الصباحية أو المسائية في أحياء القاهرة، تلخص على نحو من الأنحاء، بالنسبة إلى الحاج المسلم، تاريخه الاجتماعي الخاص. فقد ولد في عالم أخذت عربات النقل تحمل منه آخر بقاياه! ..
وإذا ما اقتادته جولته إلى (ميدان التحرير)، فإن حب استطلاعه سيستوقفه أمام بناية (المجمَّع)، التي تهيمن كل الميدان بأدوارها الثلاثة عشر. ثم ينزلق بصره نحو المسجد الصغير، الذي يبرز بشبحه الأنيق، محاذياً لكتلة البناية
তার সত্তাই হলো তার অন্তরঙ্গ রূপ, যা তাকে ব্যক্তি ও বস্তু সম্পর্কে বিচারের মৌলিক মানদণ্ড প্রদান করেছে এবং তার নিয়তির ওপর মুদ্রিত হয়েছে। এই সকল বিবেচনার ফলেই তা তার কাছে কোনো জটিল রহস্য হিসেবে প্রতীয়মান হয় না এবং তার সামনে এমন কোনো সংকটের সৃষ্টি করে না যা তাকে বিচলিত করতে পারে। এই মুসলিম হাজি সেই দীর্ঘ সারির প্রতি প্রায় ভ্রূক্ষেপই করেন না, যারা এই জগতের ধ্বংসাবশেষ কুড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং নতুনের জন্য জায়গা করে দিতে সেগুলোকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, যাতে সেখানে নতুন রাস্তা, নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং জীবনের এক নতুন ছন্দ তৈরি করা যায়।
কিন্তু আজ সকালে যদি দৈবক্রমে তিনি আল-আযহার এলাকা ছাড়িয়ে আধুনিক শহরের দিকে অগ্রসর হন, তবে নতুন চাকচিক্যের প্রভাবে তার অনুভূতিগুলো ধীরে ধীরে—অগোচরে—পরিবর্তিত হতে থাকবে। তিনি এমন এক পরিবেশে প্রবেশ করবেন যা তার চক্ষু অন্য কোথাও দেখেছে সত্য, কিন্তু তার চেতনা এখনও তা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেনি। তার পদযুগল ক্রমশ এমন এক জগতের দিকে ধাবিত হচ্ছে যেখানকার প্রতিটি বিষয় তার হৃদয়, চিন্তা ও চেতনার কাছে এখনও পুরোপুরি বোধগম্য হয়নি। তিনি অনুভব করেন যে, তার অনুভূতি, আবেগ ও চিন্তাগুলোর বর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে। তিনি এমন এক বস্তু, ছায়া ও বাহ্যিক রূপের জগতের মধ্যে রয়েছেন যা তার চর্মচক্ষু প্রত্যক্ষ করলেও তার অন্তর্দৃষ্টি এখনও তা পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারছে না। এটি একটি নতুন পরিবেশ যা তার জীবনকে পরিবেষ্টন করে আছে, কিন্তু তার 'সত্তা' এখনও তাকে তার আত্মপরিচয়ের গভীরে গ্রহণ করতে পারেনি; না এর নিয়ম ও প্রথাগুলো সে আত্মস্থ করতে পেরেছে, আর না এর মানদণ্ড ও পরিমাপগুলো সে চিনতে পেরেছে। এমনকি এর ভাষাও তার কাছে অপরিচিত মনে হয়। বস্তাসদৃশ পোশাক পরিহিত কোনো নারী দেখলে তার পোশাকটি তাকে হঠাৎ করেই এক অদ্ভুত পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি এক রহস্যময় উপায়ে অনুভব করেন যে, তার ও এই জগতের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট অনগ্রসরতা ও বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) বিদ্যমান, যদিও এর প্রকৃত কারণ তিনি সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারেন না। কায়রোর মহল্লাগুলোতে এই সকাল বা সন্ধ্যার ভ্রমণ যেন কোনোভাবে এই মুসলিম হাজির ব্যক্তিগত সামাজিক ইতিহাসেরই এক সংক্ষিপ্ত রূপ। তিনি এমন এক বিশ্বে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যার শেষ অবশিষ্টাংশগুলো মালবাহী গাড়িগুলো এখন বয়ে নিয়ে যাচ্ছে! ..
যদি তার এই ভ্রমণ তাকে (তাহরির চত্বরে) নিয়ে যায়, তবে তার কৌতূহলী দৃষ্টি তাকে (মুজাম্মা) ভবনের সামনে থামিয়ে দেবে, যা তার তেরোটি তলা নিয়ে পুরো চত্বরে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। এরপর তার দৃষ্টি নিবদ্ধ হবে সেই ছোট মসজিদের দিকে, যা ভবনটির বিশালত্বের পাশেই তার চমৎকার অবয়ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الإدارية الضخمة فيَبْدَهُ نظرَه التباين البَيِّن بين العمارتين؛ إذ يتعين توافر عشرين مكعباً في حجم ذلك المسجد تقريباً، لكي تضارع حجم بناية (المجمَّع)! .. وإذن فهناك انقلاب واضح في سُلَّم الأشياء؛ إذ أن الحاج، قد ولد في عالم تقاس فيه الأطوال، على مستوى المساجد- كمسجد (ابن طولون) أو (الجامع الأزهر) - وهو يحيا الآن في عالم، تقاس فيه الأطوال على مستوى بناية إدارية .. وهذا الانقلاب، يمثل عَرَضاً من أعراض تطور العالم الإسلامي، منذ نصف قرن، ويعني أن سُلَّمَ الأشياء عندنا قد تبدل. ولكننا. يجب أن نضع الإنسان المسلم هو الآخر، في هذا المستوى نفسه- (المسلم المقود كإنسان بضرورات اجتماعية، والمدفوع كإنسان عقيدي برغائب أخلاقية معينة) - لنفهم ما يَعْتَمِلُ في داخله؛ ويمر بوعيه
… 2 -
أوَّلية المعيار الاجتماعي:إن الإنسان المسلم لما يعرف بعد تماماً، عالم الضرورات، لأنه لم يصنعه بنفسه. إنه عالم مستورد، تدخل في حياته بفعل تقلُّبات تاريخه الخاص. لقد كان لا يزال نائماً، عندما وجد نفسه منْضَوياً فيه، حوالي منتصف القرن التاسع عشر، عندما فرضته النزعة الاستعمارية عليه وعلى نشاطاته، وعلى أذواقه أيضاً، بالتدريج. فهو يستطيع المعارضة في طابعه الخاص، لأنه في باطن الأمر، عندما يفحص تلك الضرورات عن كثب، لا تبدو لعينيه جد ضرورية. فأي ضرورة يا ما ترى في رقص (الروك آندرول Rock and roll) أو في ارتداء (الشوال)
… ؟ ولكن عالم الضرورات- الحقيقية أو المزيفة- يبلغ حداً من التعقيد، لا يبدو من السهل إزاءه عملياً، أن نقيم على عتبة كل (مَوْئِل) مصفاةً لا تسمح بالعبور لغير الضرورات الحقيقية. فهذا النوع من التكرير أو التصفية يمكن أن يحدث لا على عتبة كل أسرة بمفردها، ولكن على عتبة المجتمع نفسه. وهذا هو الذي لم يحدث بالفعل كما هي الحال بالنسبة إلى رب الأسرة الذي يريد
বিশাল প্রশাসনিক ভবনটির সামনে দাঁড়ালে দুই স্থাপত্যশৈলীর মধ্যকার সুষ্পষ্ট বৈসাদৃশ্য তার দৃষ্টিকে বিস্ময়াভিভূত করে; কারণ (মজমা) বা প্রশাসনিক কমপ্লেক্স ভবনের বিশালতার সাথে পাল্লা দিতে হলে উক্ত মসজিদের আয়তনের প্রায় বিশটি ঘনকের প্রয়োজন হবে! সুতরাং, বস্তুনিষ্ঠ ক্রমবিন্যাসে এখানে একটি স্পষ্ট আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়; কেননা একজন হাজি এমন এক বিশ্বে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যেখানে দৈর্ঘ্যের পরিমাপ করা হতো মসজিদের মাপকাঠিতে—যেমন (ইবনে তুলুন) মসজিদ কিংবা (আল-জামিউল আজহার)—অথচ তিনি এখন এমন এক বিশ্বে বসবাস করছেন যেখানে দৈর্ঘ্যের পরিমাপ করা হয় একটি প্রশাসনিক ভবনের মাপকাঠিতে। এই পরিবর্তনটি গত অর্ধ শতাব্দী ধরে ইসলামী বিশ্বের বিবর্তনের একটি অন্যতম লক্ষণ হিসেবে গণ্য হয়। এর অর্থ হলো, আমাদের কাছে বস্তুনিষ্ঠ ক্রমবিন্যাসের মানদণ্ড পরিবর্তিত হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের মুসলিম ব্যক্তিকেও এই একই পর্যায়ে বিবেচনা করতে হবে—(সামাজিক প্রয়োজনের তাগিদে পরিচালিত একজন মানুষ এবং সুনির্দিষ্ট নৈতিক আকাঙ্ক্ষা দ্বারা চালিত একজন বিশ্বাসী মানুষ হিসেবে)—যাতে তার অভ্যন্তরে কী ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে এবং তার চেতনার মধ্য দিয়ে কী অতিবাহিত হচ্ছে তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি
… ২ -
সামাজিক মানদণ্ডের অগ্রাধিকার:মুসলিম ব্যক্তি এখনও 'প্রয়োজনের জগত' সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন, কারণ তিনি নিজে এটি তৈরি করেননি। এটি একটি আমদানিকৃত জগত, যা তার নিজস্ব ইতিহাসের বিবর্তনের ফলে তার জীবনে প্রবেশ করেছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি নিজেকে এর অন্তর্ভুক্ত দেখতে পান, তখন তিনি প্রকৃতপক্ষে সুপ্তাবস্থায় ছিলেন। তখন ঔপনিবেশিক মানসিকতা ক্রমান্বয়ে তা তার ওপর, তার কর্মকাণ্ডের ওপর এবং এমনকি তার রুচির ওপরও চাপিয়ে দিয়েছিল। তাই তিনি এর স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের বিরোধিতা করতে সক্ষম, কারণ প্রকৃতপক্ষে যখন তিনি এই প্রয়োজনগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করেন, তখন সেগুলো তার দৃষ্টিতে খুব একটা অপরিহার্য বলে মনে হয় না। 'রক অ্যান্ড রোল' (Rock and roll) নাচ কিংবা 'শোয়াল' (এক ধরণের ঢিলেঢালা পোশাক) পরিধানের মধ্যে আপনি কী এমন আবশ্যকতা খুঁজে পান...? কিন্তু প্রয়োজনের জগত—তা প্রকৃতই হোক কিংবা কৃত্রিম—জটিলতার এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রতিটি 'আশ্রয়স্থল'-এর প্রবেশদ্বারে এমন একটি ছাঁকুনি স্থাপন করা কার্যত সহজ নয়, যা প্রকৃত প্রয়োজন ব্যতীত অন্য কিছুকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেবে না। এই ধরণের পরিশোধন বা পরিশ্রুতকরণের প্রক্রিয়া প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় এককভাবে ঘটা সম্ভব নয়, বরং তা সমাজের দোরগোড়ায় সংঘটিত হতে পারে। আর এটিই বাস্তবে ঘটেনি, যেমনটি ঘটে থাকে সেই গৃহকর্তার ক্ষেত্রে যিনি চান
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
توجيه تربية أطفاله وحياتهم إذ يجد نفسه محمولاً على إعداد حساب معين للضرورات الزائفة
… هكذا غزت الحياة الإسلامية- بدون تصفية أو بنصف تصفية- أشياءُ عديدة ليست ضرورية مطلقاً، ظلَّت تقلب التقاليد والأفكار والرغائب التي كانت تحرك تلك الحياة حتى يومنا هذا
…ونحن ندرك أن الوعي الإسلامي، قد- أصبح ممزقاً منذئذ، بإن الرغبة في استدراك تأخر يعرف شدة وقعه في المجال السياسي- ونعني به التأخر الذي حاق به على الصعيد الاجتماعي- وبين الرغبة في إنقاذ تراث أخلاقي يعرف مدى قيته. وإذا كان يمكن لهذا التوق المزدوج أن يجد- في شكل من أشكال التطور الموجه- تعبيره في صورة تركيب يتم فيه التوفيق بين الحدود المتضاربة والمتنافرة، فإنه على العكس من ذلك تماماً قد أنتج تناقضاً صريحاً في التطور الحقيقي المتَّبَع من طرف البلاد الإسلامية منذ نصفه قرن. فقد مُزَّق وعي الإنسان المسلم في يومنا هذا من جراء التناقض، لأن هذا الإنسان لم يعرف كيف يندمج في عالم زمني هو مرغم على الحياة فيه، وإن كان لم يتمثل بعد معاييره. وهذا حدث من أحداث تطور (إعوازيّ entropique) كان قد زاد من حجم الأشياء أكثر مما زاد في حجم الأفكار
… وقد ترتب على ذلك في الفكر الإسلامي. (تقاطب polarisation) مزدوج، شطر حياته النفسية إلى عالمين منفصلين: فالمسلم يعيش في عالم غريب له منه (أشياؤه) وليس- (أفكاره)؛ وتلك خاصية النفسية الصبيانية، عندما يبدأ الطفل بوضع يده على الأشياء من غير استعداد لفهمها، فإذا بنا نراه أحياناً يمد يده إلى القمر جاداً في طلابه ولكن من غير طائل بطبيعة الحال! فهذه الحركة. تبدو لنا جذابة، لدى الطفل الذي تضحكنا منه هذه البادرة الدالة على براءته، عندما يندفع في أول تجاربه، لالتقاط. عود ثقاب مثلاً، أشْعِل بغية إثارة حبوره .. ولكننا ندرك كم يكون مثل هذه الحركة فاجعاً، في مجتمع مندفع وراء (الأشياء)، وكم يمكن أن تكون حروق هذا المجتمع نفسه شديدة الإيلام!.
তাঁর সন্তানদের লালন-পালন এবং তাদের জীবনের দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে মেকি প্রয়োজনের (الضرورات الزائفة) জন্য একটি নির্দিষ্ট হিসাব মেলাতে বাধ্য হিসেবে দেখেন
… এভাবেই ইসলামি জীবন ব্যবস্থায়—পরিশোধন (تصفية) ব্যতিরেকে বা আংশিক পরিশোধনের মাধ্যমে—এমন অনেক বিষয় অনুপ্রবেশ করেছে যা মোটেও প্রয়োজনীয় নয়। এগুলো সেই সব ঐতিহ্য, চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষাকে ওলটপালট করে দিচ্ছে যা আজ পর্যন্ত সেই জীবনকে পরিচালিত করে আসছিল
…আমরা বুঝতে পারছি যে, ইসলামি চেতনা তখন থেকেই দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনগ্রসরতা কাটিয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা—যার তীব্র প্রভাব সুপরিচিত, এবং যার দ্বারা আমরা সামাজিক স্তরে যে অনগ্রসরতা তাকে গ্রাস করেছে তা-ই বুঝাচ্ছি—আর অন্যদিকে একটি নৈতিক ঐতিহ্য (تراث أخلاقي) রক্ষার আকাঙ্ক্ষা যার গুরুত্ব অপরিসীম। যদি এই দ্বিমুখী ব্যাকুলতা কোনো এক প্রকার নির্দেশিত বিবর্তনের মাধ্যমে এমন এক সমন্বিত রূপ লাভ করত যেখানে পরস্পরবিরোধী ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে মেলবন্ধন ঘটানো সম্ভব হতো, তবে তা হতে পারত সার্থক; কিন্তু বাস্তবে এর সম্পূর্ণ বিপরীত ঘটেছে। গত অর্ধশতাব্দী ধরে মুসলিম দেশগুলোর অনুসৃত প্রকৃত বিবর্তনের ধারায় এটি এক সুস্পষ্ট বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সময়ের মুসলিম মানস এই বৈপরীত্যের কারণে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে; কারণ এই মানুষটি জানে না যে কীভাবে সেই জাগতিক বিশ্বের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয় যেখানে সে বসবাস করতে বাধ্য, যদিও সে এখনো সেই জগতের মানদণ্ডগুলোকে আত্মস্থ করতে পারেনি। এটি ছিল এক এনট্রপিক বা ক্ষয়িষ্ণু (إعوازيّ) বিবর্তনের ফল, যা চিন্তার প্রসারের তুলনায় বস্তুর পরিমাণকে অনেক বেশি বাড়িয়ে দিয়েছিল
… এর ফলে ইসলামি চিন্তাধারায় এক দ্বিমুখী মেরুকরণ (تقاطب) তৈরি হয়েছে, যা তার মনস্তাত্ত্বিক জীবনকে দুটি বিচ্ছিন্ন জগতে বিভক্ত করে দিয়েছে: একজন মুসলিম এক অদ্ভুত জগতে বাস করছে যেখানে তার কাছে কেবল ‘বস্তুসমূহ’ আছে, কিন্তু কোনো ‘চিন্তা’ নেই। আর এটি হলো শিশুসুলভ মনস্তত্ত্বের বৈশিষ্ট্য, যখন শিশু কোনো কিছু বোঝার সক্ষমতা অর্জন ছাড়াই বস্তুর ওপর হাত রাখতে শুরু করে; তাই আমরা কখনো কখনো তাকে দেখি যে সে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চাঁদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে, যদিও স্বাভাবিকভাবেই তা নিষ্ফল! শিশুর এই ভঙ্গিটি আমাদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয় এবং তার এই সরল অভিব্যক্তি আমাদের হাসায়, যখন সে তার প্রথম অভিজ্ঞতায় একটি জ্বলন্ত দিয়াশলাইয়ের কাঠি ধরার জন্য দ্রুত এগিয়ে যায়, যা হয়তো তাকে আনন্দ দেওয়ার লক্ষ্যেই জ্বালানো হয়েছিল... কিন্তু আমরা উপলব্ধি করি যে, ‘বস্তুর’ পেছনে ছুটতে থাকা একটি সমাজের ক্ষেত্রে এই ধরনের আচরণ কতটা বিয়োগান্তক হতে পারে এবং সেই সমাজের নিজেরই দহন কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে!
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
3 -
التقليد و (التمثُّل assimilation):إن الذي يحصل بالفعل، هو أن المجتمع الإسلامي، يقوم بتجربة مؤلمة، منذ نصف قرن، وإذا أردنا الدقة قلنا منذ منتصف القرن التاسع عشر. فهذا المجتمع قد انضوى- منذ أن استيقظ على ضربات النزعة الاستعمارية، وعلى نداء رجال من أمثال جمال الدين الأفغاني والشيخ محمد عبده- في حركة (النهضة)؛ وقد تعورف على تسمية هذه المرحلة بالنهضة- وهي المرحلة التي تبدأ منذ اليقظة الأولى لهذا المجتمع حوالي سنة 1858، وتستمر حتى وضعه الراهن- ولكننا إذا ماحللنا هذه المرحلة لإبراز خصائص الفكر الإسلامي، طوال هذا القرن من تطوره، نجدها تنقسم إلى ثلاثة عصور متميزة:
أ - عصر النوم الذي استمر قروناً عديدة.
ب - وعصر الانتباه أو استرداد الوعي.
بر- وعصر الفوضى والذبذبة الراهنة.
وهذه العصور الثلاثة تتطابق بدقة، مع الأطوار الثلاثة لتجربة الطفل:
أ - الطور الأمومي: حيث لا يكون لدى الرضيع المتشبث بثدي أمه أيُّ مفهوم لعالم الأشياء.
ب - والطور (قبل الاجتماعي) حيث يبدأ الطفل في الدخول إلى عالم الأشياء، وإن كان لا يزال يجهل كل شيء عن عالم الأفكار.
جـ - والطور الاجتماعي (المدرسي وما بعد المدرسي) حيث يحاول الطفل أن يقيم في داخله الصلة بين عالم الأشياء وعالم الأفكار.
ولو حاول موجهو العالم الإسلامي تأمل هذا التخطيط البسيط، لتفهموا بكل تأكيد، وبطريقة أفضل، الآليةَ النفسية المهيمنة على تجربة الجيل الإسلامي
3 -
অনুকরণ (تقليد) এবং (সাঙ্গীকরণ assimilation):বাস্তবে যা ঘটছে তা হলো, মুসলিম সমাজ গত অর্ধশতাব্দী ধরে এক বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। যদি আমরা আরও নির্ভুলভাবে বলতে চাই, তবে বলতে হবে উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে। এই সমাজ যখন থেকে ঔপনিবেশিক মানসিকতার আঘাত এবং জামালুদ্দিন আফগানি ও শেখ মুহাম্মদ আবদুহর মতো ব্যক্তিদের আহ্বানে জাগ্রত হয়েছে, তখন থেকেই এটি জাগরণ (نهضة) আন্দোলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই পর্যায়কে 'নাহদাহ' বা জাগরণ হিসেবে অভিহিত করা সর্বজনবিদিত—এটি সেই পর্যায় যা এই সমাজের প্রথম জাগরণ অর্থাৎ ১৮৫৮ সালের কাছাকাছি সময় থেকে শুরু হয়ে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে আমরা যদি ইসলামের চিন্তাচেতনার বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটিয়ে তোলার জন্য এই বিবর্তনের শতাব্দীকাল বিশ্লেষণ করি, তবে আমরা একে তিনটি স্বতন্ত্র যুগে বিভক্ত দেখতে পাই:
ক - নিদ্রার যুগ, যা বহু শতাব্দী ধরে চলেছিল।
খ - সতর্কতা বা সচেতনতা ফিরে পাওয়ার যুগ।
গ - বর্তমান বিশৃঙ্খলা ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের যুগ।
আর এই তিনটি যুগ সুনির্দিষ্টভাবে একটি শিশুর অভিজ্ঞতার তিনটি পর্যায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ:
ক - মাতৃক পর্যায়: যেখানে মায়ের স্তন আঁকড়ে ধরে থাকা স্তন্যপায়ী শিশুর বস্তুজগৎ সম্পর্কে কোনো ধারণা থাকে না।
খ - (প্রাক-সামাজিক) পর্যায়: যেখানে শিশু বস্তুজগতে প্রবেশ করতে শুরু করে, যদিও সে ভাবজগৎ সম্পর্কে তখনো সম্পূর্ণ অজ্ঞ থাকে।
গ - সামাজিক পর্যায় (বিদ্যালয় এবং বিদ্যালয় পরবর্তী): যেখানে শিশু নিজের অভ্যন্তরে বস্তুজগৎ এবং ভাবজগতের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করে।
মুসলিম বিশ্বের পথপ্রদর্শকগণ যদি এই সরল নকশাটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার চেষ্টা করতেন, তবে তারা নিশ্চিতভাবে এবং আরও উত্তম পন্থায় মুসলিম প্রজন্মের অভিজ্ঞতার ওপর প্রভাবশালী মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটি অনুধাবন করতে পারতেন।
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الراهن، والصعوبات التي يتعين على هذا الجيل التفوُّق عليها، وكذلك المشاكل الناتجة عن هذه الصعوبات في المجال السياسي والاجتماعي.
ومهما يكن من شيء فنحن إذا طبقنا كل دراستنا التخطيط المتعلق بنفسية الطفل، علمنا أن الطفل يجتاز مرحلة من التقليد يسلك أثناءها سلوك كبار الأشخاص، أمثال أمه وأبيه والكبار من إخوته، من غير أن يفهمهم. إنه يقلدهم وكفى. فهو يقلدهم أولاً في اللغة، وبتقليده للأصوات التي لا يفهمها، يتعلم الحديث. ولكن لنفرض أنه لسبب ما قد واصل تقليد هذه الأصوات حتى سن الثامنة والعاشرة
… إننا نرى في هذا بالتأكيد حالة شاذة؛ أعني على وجه الدقة حالة مرضية يكون لأهل الطفل إزاءها الحق ولا شك في التحير، واللجوء إلى أحد الأخصائيين. وهناك ملاحظة أخرى يجب مراعاتها أيضا في نفسية الطفل قبل تطبيقها على المجتمع الإسلامي: فالأهل يعرفون جيداً، وبدقة كافية من جراء ظاهرة التقليد نفسها، خطرَ القدوة أو المثال السيء بالنسبة. إلى طفلهم، ولذلك نراهم يعدّون لهذا الأخير رقابة معينة في المنزل والمدرسة والشارع، لأنهم لا يرون من الضروري ولا من المفيد، أن يقوم الطفل بكل تجربة يقع عليها بصره .. فهناك حتى التجارب المؤذية التي يمكنها أن تعطل لديه كل تقدم أخلاقي وعقلي. ولهذا السبب عينه ولا شك أخذ التحليل النفسي منذ (فرويد Freud) يبحث، في حالة شذوذ البالغ، عن الأسباب المرضية في التجارب البعيدة لهذا البالغ نفسه، عندما كان طفلاً ..
والآن فلننتقل بهذه الملاحظة المزدوجة- المتعلقة بالطفل المتأخر في تكوينه اللغوي، والبالغ الذي اختل سلوكه، من جراء تجربة بعيدة، لننتقل بها إلى موضوعنا لكي نتفهم ماهية المشاكل التي تعترض المجتمع الإسلامي حالياً. ولكي يزداد تفهمنا لمدى الاعتبار الأول، المنصَبِّ على نزعة التقليد، لنحاول تأمله على ضوء مثال محسوس، يضفي على ذلك الاعتبار كل دلالته الاجتماعية. لقد أرخنا
বর্তমান পরিস্থিতি এবং এই প্রজন্মকে যেসব প্রতিবন্ধকতা জয় করতে হবে, সেই সাথে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এই সকল প্রতিবন্ধকতা থেকে উদ্ভূত সমস্যাসমূহ।
যাই হোক না কেন, আমরা যদি শিশুমনস্তত্ত্ব বিষয়ক আমাদের সকল পরিকল্পিত অধ্যয়ন প্রয়োগ করি, তবে জানতে পারি যে, শিশু অনুকরণের (تقليد) এমন একটি পর্যায় অতিক্রম করে যেখানে সে তার মা, বাবা এবং বড় ভাই-বোনদের মতো বড়দের ন্যায় আচরণ করে, যদিও সে তাদের বুঝতে পারে না। সে কেবল তাদের অনুকরণ করে। সে প্রথমত ভাষার ক্ষেত্রে তাদের অনুকরণ করে এবং যে শব্দগুলো সে বোঝে না সেগুলো অনুকরণের মাধ্যমে কথা বলা শেখে। কিন্তু ধরা যাক, কোনো কারণে সে আট বা দশ বছর বয়স পর্যন্ত এই শব্দগুলোর অনুকরণ চালিয়ে গেল
… তবে আমরা এতে নিশ্চিতভাবেই একটি ব্যতিক্রমী (شاذة) অবস্থা দেখতে পাব; অর্থাৎ সুনির্দিষ্টভাবে এটি একটি রোগাক্রান্ত অবস্থা যার ফলে শিশুর অভিভাবকদের বিভ্রান্ত হওয়া এবং কোনো বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া নিঃসন্দেহে যুক্তিসঙ্গত। ইসলামি সমাজের ওপর প্রয়োগ করার আগে শিশুমনস্তত্ত্বে আরও একটি বিষয় লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন: অভিভাবকরা অনুকরণের (تقليد) এই প্রক্রিয়ার কারণেই তাদের শিশুর জন্য মন্দ আদর্শ বা কুদৃষ্টান্তের বিপদ সম্পর্কে যথেষ্ট ভালোভাবে এবং স্পষ্টভাবে অবগত থাকেন। একারণেই আমরা দেখি যে তারা শিশুর জন্য ঘর, বিদ্যালয় এবং পথে-ঘাটে নির্দিষ্ট নজরদারির ব্যবস্থা করেন। কারণ তারা শিশুর চোখের সামনে আসা প্রতিটি বিষয়ের অভিজ্ঞতা নেওয়াকে তার জন্য আবশ্যকীয় বা উপকারী মনে করেন না। সেখানে এমনকি এমন কিছু ক্ষতিকারক অভিজ্ঞতাও থাকতে পারে যা শিশুর নৈতিক ও মানসিক উন্নতিকে ব্যাহত করতে পারে। এই একই কারণে নিঃসন্দেহে ফ্রয়েড (Freud) থেকে শুরু করে মনোবিশ্লেষণ বিদ্যা প্রাপ্তবয়স্কদের বিচ্যুতি বা অস্বাভাবিক (شذوذ) অবস্থার ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির শৈশবের অতীত অভিজ্ঞতাগুলোর মাঝে রোগতাত্ত্বিক কারণগুলো অনুসন্ধান করতে শুরু করেছে...
এখন ভাষার বিকাশে পিছিয়ে পড়া শিশু এবং অতীত অভিজ্ঞতার ফলে আচরণে ভারসাম্য হারানো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সংক্রান্ত এই দ্বিমুখী পর্যবেক্ষণকে আমরা আমাদের মূল বিষয়ে নিয়ে আসি, যাতে বর্তমানে ইসলামি সমাজের সামনে আসা সমস্যাগুলোর স্বরূপ বুঝতে পারি। অনুকরণের (تقليد) প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা প্রথম বিবেচ্য বিষয়টির গুরুত্ব আরও গভীরভাবে বোঝার জন্য, আসুন আমরা একটি বাস্তব উদাহরণের আলোকে এটি চিন্তা করার চেষ্টা করি, যা সেই বিবেচ্য বিষয়টিকে পূর্ণ সামাজিক তাৎপর্য দান করবে। আমরা ইতিহাস রচনা করেছি...
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
طفولة العالم الإسلامي الراهن، بسنة 1858، بغية تتبع تطورها بمدى معين من الدقة. ولنأخذ تاريخاً آخر، وليكن سنة 1868، التي تسجل ميلاد مجتمع آخر: هو المجتمع الياباني الحديث. ها نحن إذن، وبفارق عشر سنوات تقريباً- وهو فارق غير معدود، أو لا يعتد به كثيراً، في حياة المجتمعات البشرية- أمام ظاهرتين معاصرتين لطفلين توأمين. ولكن العجيب أن نلاحظ، بأيِّ مدى من السرعة، استطاع الطفل الياباني، اجتياز الطور الذي أطلقنا عليه اسم (الطور ما قبل الاجتماعي) في نفسية الطفل. فهو قد قلد (الكبار) كسائر الأطفال، لكي يتعلم أول الأمر إنشاء الألفاظ، ولقد قلد أوروبا في هذا المجال بطبيعة الحال، فاشترى له (الأشياء) من غير ما فهم (للأفكار) التي تمثلها. ومع ذلك، فالعجيب حقاً، هو تلك السرعة التي تعوَّد بها هذا الطفل، على لغة الكبار من الأشخاص، حتى لقد اعْتُرِفَ له سنة 1905، بأنه قد أصبح يجيد الكلام بإطلاق المدافع في موقعة (ميناء أرثير Port Arthur)، وهي لغة سيئة بالتأكيد، ولكننا ندرس هنا حالة اجتماعية، وليس حالة أخلاقية! .. وهذه الحالة تبلور لنا حالتنا نحن، بصورة مميزة؛ إذ أننا، وحتى بعد مرور قرن من الزمان، لما نتعود بعد، على لغة كبار الأشخاص؛ فاليابان قد تمثلت (الأفكار)، بينما المجتمع الإسلامي لا يزال يشتري (الأشياء)!.
4 -
فوضى (الأشياء) و (الأفكار):على أن هذا المجتمع ليس منغلقاً على ذاته: فهو يكون جزءاً من مجتمع عالمي (فوق صياغي Supertechnique)، يبيعه (الأشياء)، ويفرض عليه في الوقت نفسه مقاييسه، ويرغمه على إعداد اعتبار لمعاييره، وعلى تمثل ((أفكاره)) حسنها ورديئها. ولقد كان تطوره منذ نصف القرن، مشروطاً بهذه الرابطة المادية الصرف، والحتمية كذلك. ولقد ردّ المجتمع الإسلامي على مفعول هذه الرابطة، باعتبارها إلزاماً في الحقل الاقتصادي، و (فوق الإلزام) في المجال الفكري،
বর্তমান মুসলিম বিশ্বের শৈশবকাল ১৮৫৮ সাল থেকে শুরু হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো একটি নির্দিষ্ট মাত্রার সূক্ষ্মতার সাথে এর বিবর্তন অনুসরণ করা। চলুন অন্য একটি তারিখ নেওয়া যাক, ধরা যাক ১৮৬৮ সাল, যা অন্য একটি সমাজের জন্মের মুহূর্তকে চিহ্নিত করে: সেটি হলো আধুনিক জাপানি সমাজ। সুতরাং এখানে আমরা প্রায় দশ বছরের ব্যবধানে—যা মানবসমাজের জীবনে নগণ্য বা গুরুত্বহীন এক ব্যবধান—দুটি সমসাময়িক ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছি, যারা যেন যমজ দুই শিশু। তবে আশ্চর্যজনকভাবে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, জাপানি শিশুটি কত দ্রুত সেই পর্যায়টি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিল, যাকে আমরা শিশুর মনস্তত্ত্বে 'সামাজিক-পূর্ব পর্যায়' বলে অভিহিত করেছি। সে অন্যান্য শিশুদের মতোই শব্দ গঠন শেখার প্রাথমিক পর্যায়ে 'বড়দের' অনুকরণ করেছিল; স্বভাবতই এই ক্ষেত্রে সে ইউরোপকে অনুকরণ করেছে এবং সেগুলোর অন্তর্নিহিত 'ধারণাসমূহ' অনুধাবন না করেই কেবল 'বস্তুসমূহ' ক্রয় করেছে। তা সত্ত্বেও, সত্যিই বিস্ময়কর হলো সেই ক্ষিপ্রতা যার মাধ্যমে এই শিশুটি বড়দের ভাষার সাথে অভ্যস্ত হয়েছে, এমনকি ১৯০৫ সালে এটি স্বীকৃত হয়েছিল যে সে 'পোর্ট আর্থার' (Port Arthur) যুদ্ধে কামান গর্জনের মাধ্যমে কথা বলায় পারদর্শী হয়ে উঠেছে। এটি নিশ্চিতভাবেই একটি মন্দ ভাষা, কিন্তু আমরা এখানে একটি সামাজিক পরিস্থিতি অধ্যয়ন করছি, নৈতিক পরিস্থিতি নয়! .. এই পরিস্থিতি আমাদের নিজস্ব অবস্থাকে স্পষ্টভাবে মূর্ত করে তোলে; কেননা এক শতাব্দী অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আমরা বড়দের ভাষার সাথে অভ্যস্ত হতে পারিনি; জাপান যেখানে 'ধারণাসমূহ' আত্মস্থ করেছে, সেখানে মুসলিম সমাজ আজও কেবল 'বস্তুসমূহ' ক্রয় করে চলেছে!
4 -
'বস্তু' ও 'ধারণার' বিশৃঙ্খলা:তবে এই সমাজ স্বয়ংসম্পূর্ণ বা রুদ্ধদ্বার নয়: বরং এটি একটি বৈশ্বিক সমাজের অংশ (সুপার-টেকনিক্যাল Supertechnique), যা তার কাছে 'বস্তু' বিক্রয় করে এবং একই সঙ্গে তার ওপর নিজস্ব মানদণ্ড আরোপ করে, তাকে বাধ্য করে সেই মানদণ্ডগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে এবং তার ভালো-মন্দ সকল 'ধারণা' আত্মস্থ করতে। অর্ধশতাব্দীকাল ধরে এর বিবর্তন ছিল এই নিছক বস্তুগত এবং অনিবার্য সম্পর্কের দ্বারা শর্তযুক্ত। মুসলিম সমাজ এই সম্পর্কের প্রতিক্রিয়ায় সাড়া দিয়েছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একে একটি বাধ্যবাধকতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে 'বাধ্যবাধকতার ঊর্ধ্বে' কিছু হিসেবে গণ্য করে,
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فكان رده هذا، لكي يتمكن من تحمل الثقل الساحق، لكومات (الأشياء) التي أدلخها في حياته، ولكي يستوعب الضغط الضخم (للأفكار) التي تهدد شخصيته وبقاءه: بالإلزام من طرف الأشياء، وما فوق الإلزام من طرف الأفكار؛ فما أن يقذف أحد مصمِّمي الأزياء في باريس بموضة خارجة عن العرف، حتى تثار مشكلة (الشوال) الأخلاقية بخطورة في العواصم الإسلامية، حيث يستدعي الحدث استفتاء المشايخ الموقرين في هذا الموضوع! وهكذا يمدنا المجتمع الإسلامي بمفاجآت تضيء لنا بوضوح طوراً غريباً من تطوره؛ وإننا لنلتقي في هذا المجتمع أحياناً بلمحات أكثر بهاء، وأشد جاذبية في الوقت ذاته، لدى بعض البلاد التي لا تزال في حداثة ذلك التطور، حيث لم يتخلص الجيل الراهن بعد، من الطور الاجتماعي السابق للطور الذي نحن بصدده. فنحن نرى؛ على سبيل المثال، الشرطة السعودية، تنظم حركة مرور هامة لقوافل السيارات التي تتضخم بشكل مفرط أثناء موسم الحج، حتى ليؤول الأمر بطبيعة الحال إلى تكاثر الزحام في بعض مراكز هذا المرور الوقتي، وبالخصوص في مكة وعرفات و (مِنَى)، وإذا بنا نرى الشرطي المنهمك بضخامة طابور العربات، يتصرف تماماً كما لو كان أمام قافلة من العير. لقد صادف أن كنت أؤدي فريضة الحج منذ حوالي ثلاث سنوات، فرأيت الشرطي، وهو منهمك لبعض الوقت، وإن كانت البسمة لا تفارق محياه، يطرق بضربات عصاه التي يمسكها في يده إذ ذاك، على ظهر العربة التي أوجد داخلها، تماماً كما لو كان يعطي نفس الضربات لأحد العير، كي يجعله يمر مسرعاً، ويدع القافلة تتقدم في سيرها! ولا ريب في أن هذه الصورة مفرطة في البساطة، باعتبارها علامة من علامات التطور الاجتماعي للعالم الإسلامي، ولكنها تترجم بدقة كافية عن طور من أطوار تطوره النفسي .. وإننا لنستطيع جمع صور أخرى، لها الدلالة العَرَضِيَّة نفسها، بالنسبة إلى الحالة الاجتماعية والنفسية الراهنة. ففي أثناء موسم الحج ذاته، يمكننا أن نشاهد على سبيل المثال، أحد الشبان (يطوف) في شوارع (المدينة) المزدحمة، على دراجة
তাঁর এই প্রতিক্রিয়াটি ছিল মূলত তাঁর জীবনে প্রবেশ করানো বস্তুনিচয়ের সেই পিষ্টকারী ভার বহন করতে সক্ষম হওয়ার জন্য এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব ও অস্তিত্বের প্রতি হুমকিস্বরূপ চিন্তাধারার প্রচণ্ড চাপকে আত্মস্থ করার জন্য; যা ছিল একদিকে বস্তুর বাধ্যবাধকতা এবং অন্যদিকে চিন্তার জগতের সেই অতি-বাধ্যবাধকতার এক সমন্বয়। প্যারিসের কোনো এক ফ্যাশন ডিজাইনার যখনই প্রথা-বহির্ভূত কোনো নতুন ফ্যাশন সামনে নিয়ে আসেন, অমনি মুসলিম দেশগুলোর রাজধানীগুলোতে ‘শাওয়াল’ (বস্তাসদৃশ পোশাক) সংক্রান্ত নৈতিক সমস্যাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উত্থাপিত হয়; যেখানে পরিস্থিতিটি এই বিষয়ে শ্রদ্ধেয় শায়খগণের নিকট থেকে বিধান জানার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে! এভাবেই মুসলিম সমাজ আমাদের সামনে এমন কিছু বিস্ময় উপস্থাপন করে যা আমাদের কাছে তাদের বিবর্তনের এক অদ্ভুত পর্যায়কে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। আমরা কখনো কখনো এই সমাজে অধিকতর উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় কিছু দিক দেখতে পাই, বিশেষ করে সেইসব দেশে যারা বিবর্তনের এই ধারায় এখনো নতুন; যেখানে বর্তমান প্রজন্ম এখনো সমাজ-বিবর্তনের সেই পূর্ববর্তী পর্যায়টি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি, যা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।
উদাহরণস্বরূপ, আমরা সৌদি পুলিশকে দেখতে পাই, যারা হজ মৌসুমে অতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পাওয়া মোটরযানের কাফেলার গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে; এমনকি পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ট্রাফিকের এই অস্থায়ী কেন্দ্রগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়, বিশেষ করে মক্কা, আরাফাত এবং মিনাতে। সেখানে আমরা দেখতে পাই যে, সেই পুলিশ সদস্য—যিনি গাড়ির বিশাল লাইনের চাপে অত্যন্ত ব্যস্ত—ঠিক তেমনি আচরণ করছেন যেন তিনি উটের কোনো কাফেলার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। প্রায় তিন বছর আগে আমার হজ পালন করার সৌভাগ্য হয়েছিল; তখন আমি সেই পুলিশ সদস্যকে দেখেছিলাম—যিনি বেশ কিছুক্ষণ অত্যন্ত ব্যস্ত থাকলেও তাঁর মুখমণ্ডল থেকে হাসির রেখা ম্লান হচ্ছিল না—তিনি হাতে থাকা লাঠি দিয়ে সেই গাড়ির ছাদে আঘাত করছিলেন যেটির ভেতরে আমি ছিলাম। ঠিক যেভাবে উটকে দ্রুত চালিয়ে নেওয়ার জন্য এবং কাফেলাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য উটের পিঠে আঘাত করা হয়! কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসলিম বিশ্বের সামাজিক বিবর্তনের নিদর্শন হিসেবে এই চিত্রটি অত্যন্ত সরল মনে হতে পারে, কিন্তু এটি তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিবর্তনের একটি পর্যায়কে যথেষ্ট নির্ভুলভাবে ফুটিয়ে তোলে। বর্তমান সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে আমরা একই রকম আনুষঙ্গিক তাৎপর্যপূর্ণ আরও কিছু চিত্র সংগ্রহ করতে পারি। যেমন—হজ মৌসুমেই আমরা দেখতে পাই যে, কোনো এক তরুণ মদিনার জনাকীর্ণ রাস্তায় বাইসাইকেলে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
ফিকরতু কমনওয়েলথ ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مزخرفة، كما لو أعدت ليوم مهرجان، وقد جهزت دراجته الصغيرة، بقصاصات من الأوراق الزاهية الألوان، وغطيت العجلتان بالقطن (الكرتوني) المزهر؛ وعندما يمر في المساء، نرى في مؤخرة دراجته ثلاثة أو أربعة أضواء حمراء، وطاقماً كاملاً من الفنارات الأمامية .. فهذا الشاب كما هو مشاهد، مدفوع بشعور الغيرة لمنافسة مُلَاّك سيارات (الكدلاك Cadillacs)! .. وإن هذا النوع من الغيرة، ليجعلنا نبتسم بعض الشيء لسذاجته. ولكن لننتقل بنظرنا إلى أعلى من ذلك بقليل، وليكن في هذه المرة حول المناقشات الجارية في حياتنا الفكرية، حيث نرى الكثير من الجهود الكبيرة، والجديرة بالتقدير، تحاول أن تشق طريقاً أمام المجتمع الإسلامي؛ إننا نشاهد أحياناً بعض المحاولات المتميزة الرامية إلى أقْلَمَةِ أفكار يمكن أن تكون شديدة الأصالة بالنسبة إلى وسطها الأصلي، ولكنها تبدو في وسطنا نحن، قريبة الشبه بتلك الطُّرَفِ العصرية التي (تبعثرها) الصدفة أحياناً، في قرانا الجزائرية، والتي نجهل تاريخها واستعمالها. وبهذه الطريقة عينها، تبث الصدفة أحياناً، في أدبنا مواضيع غير منتظرة. فهؤلاء المولعون بالشعر والبدع الخرقاء، ربما وجدوا لذة مستعذبة في بابها، تضمنها مقطع شعري من شعر (الزهاوي)، أراد به الشاعر أن يعطينا نوعاً من التفسير لنشأة الكون، فذكر أن أصل الخليقة هو (الأثير)! .. وهذا أمر حسن ولا شك من ناحية (القافية)! .. ولكن الشاعر الكبير، لم يتصور. أن الإله الذي وضعه أصلاً لنظريته في نشأة الكون حوالي سنة 1925م، قد هلك منذ أكثر من عشر سنوات قتيلاً على يد (فيزياء) القرن العشرين؛ إلا أن هذا الإله الهالك، لا يزال يجر خطاه في عدد لا يستهان به من مباحثنا الأدبية والفلسفية: فقد دخل في عالم (أفكارنا)، في الوقت نفسه الذي لفظه فيه العلم من عالمه! ..
وفي أيامنا هذه تُدَاعَبُ النزعة الوجودية في العالم الإسلامي، حيث يبذل - أو على الأصح- بذل مجهود معين، لأقلَمة بعض الأفكار (السارترية
সুসজ্জিত, যেন কোনো উৎসবের দিনের জন্য তা প্রস্তুত করা হয়েছে; তার ছোট সাইকেলটিকে উজ্জ্বল রঙের কাগজের টুকরো দিয়ে সাজানো হয়েছে এবং চাকা দুটিকে ফুলকাটা কার্টুন সদৃশ তুলা দিয়ে আবৃত করা হয়েছে। সন্ধ্যায় যখন সে যাতায়াত করে, আমরা তার সাইকেলের পেছনে তিন বা চারটি লাল বাতি এবং সামনে সার্চলাইটের একটি পূর্ণ সেট দেখতে পাই। এই যুবক স্পষ্টতই ক্যাডিলাক (Cadillacs) গাড়ির মালিকদের সাথে পাল্লা দেওয়ার এক তীব্র শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের আকাঙ্ক্ষা দ্বারা তাড়িত! এই ধরনের প্রতিযোগিতা তার সরলতার কারণে আমাদের কিছুটা হাস্যরসের উদ্রেক করে। কিন্তু আসুন আমরা আমাদের দৃষ্টিকে এর চেয়ে কিছুটা উপরে নিবদ্ধ করি, এবং এবার তা হোক আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনে চলমান বিতর্কগুলোর বিষয়ে, যেখানে আমরা অনেক মহতী এবং প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা দেখতে পাই যা মুসলিম সমাজের সামনে একটি পথ উন্মোচন করার চেষ্টা করছে। আমরা মাঝেমধ্যে এমন কিছু স্বতন্ত্র প্রচেষ্টা লক্ষ্য করি যার লক্ষ্য হলো এমন কিছু ধারণার অভিযোজন ঘটানো যা তাদের আদি পরিবেশে অত্যন্ত মৌলিক (أصالة) হতে পারে, কিন্তু আমাদের পরিবেশে সেগুলোকে সেই সব আধুনিক বিলাসদ্রব্যের মতো মনে হয় যা মাঝেমধ্যে আকস্মিকভাবে আমাদের আলজেরীয় গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে, অথচ আমরা সেগুলোর ইতিহাস বা ব্যবহার সম্পর্কে অজ্ঞাত। ঠিক একইভাবে, কাকতালীয়ভাবে মাঝেমধ্যে আমাদের সাহিত্যে কিছু অপ্রত্যাশিত বিষয়বস্তু সঞ্চারিত হয়। কবিতা এবং অমার্জিত উদ্ভাবনগুলোর প্রতি যারা অনুরাগী, তারা হয়তো 'যাহাউই'-এর কবিতার একটি পঙ্ক্তিতে এক ধরনের চমৎকার স্বাদ খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে কবি মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্বের এক প্রকার ব্যাখ্যা দিতে চেয়েছিলেন; তিনি উল্লেখ করেছেন যে সৃষ্টির মূল (أصل) হলো 'ইথার'! এটি ছন্দের বিচারে নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার বিষয়! কিন্তু এই মহান কবি কল্পনাও করতে পারেননি যে, ১৯২৫ সালের দিকে তিনি তাঁর মহাবিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্বের জন্য যে সত্তাকে ভিত্তি হিসেবে স্থাপন করেছিলেন, তা দশ বছরেরও বেশি সময় আগে বিংশ শতাব্দীর পদার্থবিজ্ঞানের হাতে প্রাণ হারিয়েছে। তবে এই মৃত সত্তা এখনও আমাদের সাহিত্যিক ও দার্শনিক গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য অংশে তার পদচিহ্ন রেখে চলেছে: এটি আমাদের চিন্তার জগতে এমন এক সময়ে প্রবেশ করেছে যখন বিজ্ঞান তাকে তার জগত থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে!
আর বর্তমান দিনগুলোতে মুসলিম বিশ্বে অস্তিত্ববাদের প্রতি এক প্রকার অনুরাগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে সার্ত্রেীয় কিছু ধারণার অভিযোজন ঘটানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে - বা আরও সঠিকভাবে বললে - চালানো হয়েছিল।