(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: -)
قادة الغرب يقولون دمروا الإسلام أبيدوا أهله   (جلال العالم = عبد الودود يوسف)

القسم: كتب عامة


الكتاب: قادة الغرب يقولون «دَمِّرُوا الإِسْلَامَ أَبِيدُوا أَهْلَهُ».

المؤلف: جلال العالم = عبد الودود يوسف الدمشقي (ت 1403هـ)

تاريخ النشر: 1395 هـ - 1974 م

عدد الصفحات: 63

أعده للشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع].

تاريخ النشر بالشاملة: 13 ذو الحجة 1432

পাশ্চাত্যর নেতারা বলেন: ইসলামকে ধ্বংস করো, তার অনুসারীদের নির্মূল করো   (জালাল আল-আলম = আবদুল ওয়াদুদ ইউসুফ)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: পাশ্চাত্যর নেতারা বলেন «ইসলামকে ধ্বংস করো, তার অনুসারীদের নির্মূল করো»।

লেখক: জালাল আল-আলম = আবদুল ওয়াদুদ ইউসুফ আদ-দিমাশকি (মৃ. ১৪০৩ হি.)

প্রকাশকাল: ১৩৯৫ হি. - ১৯৭৪ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩

শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি— আল্লাহ তাঁকে ও তাঁর পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন—।

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]।

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ যিলহজ্জ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: -)
جلال العالم

 

قادة الغرب يقولون: «دَمِّرُوا الإِسْلَامَ أَبِيدُوا أَهْلَهُ».

 

عدد الأجزاء: 1.

أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].

--------------------------------------------

قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: في المراجعة النهائية مع التشكيل وصلت إلى الصفحة (بقية تشكيل في الصفحه) [24].
জালালুল আলম

 

পাশ্চাত্যের নেতারা বলছেন: «ইসলামকে ধ্বংস করো এবং এর অনুসারীদের সমূলে বিনাশ করো»।

 

খণ্ড সংখ্যা: ১।

এটি আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি—আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন—।

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি টীকা সংবলিত]।

--------------------------------------------

শামিলার জন্য গ্রন্থটির প্রস্তুতকারী বলেছেন: হরকত প্রদানের মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্যালোচনার সময় আমি ২৪ নম্বর পৃষ্ঠা পর্যন্ত পৌঁছেছি (পৃষ্ঠার বাকি অংশে হরকত প্রদান অবশিষ্ট আছে)।
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: -)
‌‌ترجمة المؤلف (*) عبد الودود يوسف

بقلم: الدكتور محمد بسام يوسف

 

‌‌أولاً: البطاقة الشخصية

من مواليد مدينة حمص -سورية- عام 1938م .. حيث نشأ وترعرع فيها، وتعلم العلوم المدرسية الأساسية في مدارسها، ونهل علومه الشرعية من مساجدها ومدارسها الشرعية التي كان يقوم عليها أساتذة كبار وعلماء أجلاّء من خيرة علماء سورية .. ومنذ نعومة أظفاره كان عاشقاً للإسلام، محباً للعمل الإسلامي الجماعي في سبيل نصرة دينه العظيم، فكان من شباب الأستاذ الكبير والمربي الدكتور مصطفى السباعي رحمه الله.

 

انتقل (عبد الودود) إلى دمشق العاصمة بعد حصوله على شهادة الدراسة الثانوية /البكالوريا مباشرة، وانتسب إلى جامعة دمشق، حيث سجل في كلية الآداب/قسم التاريخ، وفي كلية الشريعة. وواظب على الدراسة حتى حصل على شهادة البكالوريوس في التاريخ. ثم على شهادة الماجستير من جامعة القاهرة حيث قدّم رسالته هناك .. وقد أنجز رسالة الدكتوراه .. لكن مشاغله الكثيرة في الكتابة والتأليف وتربية الشباب المسلم أخّرته عن مناقشتها في مصر إلى أن تم اعتقاله في آذار 1980م.

 

متزوج منذ عام 1965م، وله بنتان وثلاثة أولاد .. ابنه الأكبر همام تخرج من كلية الهندسة المدنية في جامعة دمشق عام 1993م.

--------------------------------------------

(*) هذه الترجمة عن موقع رابطة أدباء الشام، وليست في المطبوع أضفناها هنا للفائدة
লেখকের জীবনী (ترجمة)(*) আবদুল ওয়াদুদ ইউসুফ

কলমে: ড. মুহাম্মদ বাসসাম ইউসুফ

 

প্রথম: ব্যক্তিগত পরিচিতি

১৯৩৮ সালে সিরিয়ার হোমস শহরে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই তিনি লালিত-পালিত হন এবং সেখানকার বিদ্যালয়গুলোতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি হোমস শহরের বিভিন্ন মসজিদ ও শরিয়াহ মাদরাসা থেকে শরিয়াহর জ্ঞান অর্জন করেন, যা সিরিয়ার শ্রেষ্ঠ ও প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম এবং মহান শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। শৈশব থেকেই তিনি ইসলামের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং মহান দ্বীনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সামষ্টিক ইসলামি দাওয়াতি কাজের প্রতি একনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি প্রখ্যাত উস্তাদ ও মুরুব্বি ড. মুস্তফা আস-সিবাঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর হাতে গড়া তরুণদের অন্যতম ছিলেন।

 

উচ্চ মাধ্যমিক (ব্যাকালোরেট) শিক্ষা সমাপ্ত করার পরপরই (আবদুল ওয়াদুদ) রাজধানী দামেস্কে চলে যান এবং দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে তিনি কলা অনুষদের ইতিহাস বিভাগ এবং শরিয়াহ অনুষদে অধ্যয়ন করেন। নিরবচ্ছিন্ন অধ্যয়নের পর তিনি ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন এবং সেখানেই তার থিসিস জমা দেন। তিনি তার ডক্টরেট গবেষণাপত্রও সম্পন্ন করেছিলেন, কিন্তু লেখালেখি, গ্রন্থনা এবং মুসলিম যুবকদের তারবিয়াতের কাজে অধিক ব্যস্ত থাকায় মিশরে সেটি উপস্থাপন করতে বিলম্ব হয়; অবশেষে ১৯৮০ সালের মার্চ মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

তিনি ১৯৬৫ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তার দুই কন্যা ও তিন পুত্র রয়েছে। তার বড় ছেলে হাম্মাম ১৯৯৩ সালে দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

--------------------------------------------

(*) এই জীবনীটি (ترجمة) ‘রাবিতা আদবা আশ-শাম’ (শামীয় সাহিত্যিক সমিতি)-এর ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া হয়েছে; এটি মূল মুদ্রিত গ্রন্থে ছিল না, উপকারের লক্ষ্যে আমরা এখানে সংযোজন করেছি।
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: -)
‌‌ثانياً: عمله ومهنته:

عمل مفتشاً في مديرية المتاحف والآثار في دمشق، ثم مفتشاً في الهيئة المركزية للرقابة والتفتيش .. إلى أن استقال في عام 1971م وتفرغ كلياً لعمله الإسلامي، وللكتابة والتأليف والنشر .. وهو عضو في اتحاد الكتّاب العرب.

 

‌‌ثالثاً: لمحة عن بعض جوانب شخصيته:

عُرف عنه ثقافته الواسعة جداً، وسعة أفقه، واتزانه الآسر، والتزامه الصارم بدينه .. حازم إلى أبعد الحدود عندما يقتضي الأمر، مرِح لطيف حنون عطوف في المواطن التي تتطلب ذلك، يمتلك قوةً في الشخصية تجعله مهاباً ومؤثراً في كل من حوله، قوي الحجة وعلمي التفكير .. شجاع لا يهاب إلا الله سبحانه وتعالى، ويبذل كل ما بوسعه في سبيل إرضائه دون خوف أو وجل من أي مخلوق، ويسير إلى أهدافه بخطىً ثابتة، وفِكر متّقد، ونضوج ووضوح كبيرين، ونظرة ثاقبة تستفيد من الماضي وتستشف آفاق المستقبل، يعرف عدوّه جيداً، ويمتلك حساسية فائقة تجاهه، وقدرة كبيرة على تحليل واستنتاج خطواته وما وراءها، ومن ثم وضع الحلول الناجعة لمجابهتها .. كما يمتلك درجةً عاليةً من الذكاء، وهمّةً عظيمةً في عمله الدؤوب المستمر، وليس هناك شيء اسمه مستحيل حسب مفهومه، فكل شيءٍ ممكنٌ بالجهد والعمل والتفكير السوي .. اجتماعي إلى أبعد الحدود، ولا يملك من يتعرف عليه إلا أن يحترمه ويجلّه ويحبه، وهو دائماً يمد يد العون والمساعدة بشتى أنواعها إلى من يحتاجها، بسيط في معيشته، كريم في طبعه .. بارّ بوالديه .. يحمل في رأسه كل هموم العالم الإسلامي، يستبشر بالإيجابيات، ويحزن للسلبيات .. قال عن نفسه ذات يوم: إنه بكى في حياته ثلاث مرات: مرة بعد حرب حزيران 67 عندما سيطر اليهود على أجزاء كبيرةٍ وهامةٍ من أراضي المسلمين وأهمها القدس الشريف، وأخرى: بعد دخول الجيش السوفياتي الشيوعي إلى أفغانستان وارتكابه أبشع الفظائع بحق المسلمين الأفغان عام 79 .. وثالثة: عندما لم يستطع المسلمون في سورية أن يتّحدوا ضد الحكم البعثي الظالم، فعمّت الفوضى، واختلط الحابل بالنابل، وأصبح كلٌ يغني على ليلاه .. فكانت مقدمات الخراب والفشل تلوح له قبل اعتقاله عام 1980م، وكان قد حذّر من هذه النتائج المؤسفة كثيراً ..
দ্বিতীয়ত: তাঁর কর্ম ও পেশা:

তিনি দামেস্কের জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরে পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন সংস্থায় পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭১ সালে তিনি পদত্যাগ করেন এবং নিজেকে পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামি দাওয়াহ, লিখনী, গ্রন্থ রচনা ও প্রকাশনার কাজে উৎসর্গ করেন। তিনি ‘আরব লেখক ইউনিয়ন’-এর একজন সদস্য ছিলেন।

 

তৃতীয়ত: তাঁর ব্যক্তিত্বের কিছু দিকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

তিনি তাঁর অত্যন্ত ব্যাপক জ্ঞান ও পাণ্ডিত্য, সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি, আকর্ষণীয় ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ এবং নিজ দ্বীনের প্রতি কঠোর আনুগত্যের জন্য পরিচিত ছিলেন। প্রয়োজনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুদৃঢ় ও কঠোর, আবার ক্ষেত্রবিশেষে ছিলেন প্রফুল্ল, বিনয়ী, স্নেহশীল ও দয়ালু। তাঁর ব্যক্তিত্বে এমন এক গাম্ভীর্য ও প্রভাব ছিল যা তাঁর চারপাশের সবার মনে রেখাপাত করত। তিনি ছিলেন শক্তিশালী যুক্তিসম্পন্ন ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাধারার অধিকারী। তিনি ছিলেন এক নির্ভীক ব্যক্তিত্ব যিনি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ছাড়া অন্য কাউকেই ভয় পেতেন না এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে কোনো সৃষ্টির ভয় বা পরোয়া না করে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যেতেন। তিনি সুদৃঢ় পদক্ষেপ, প্রখর বুদ্ধিমত্তা, গভীর পরিপক্কতা ও স্বচ্ছতার সাথে নিজের লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হতেন। তাঁর ছিল এক তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি যা অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করত এবং ভবিষ্যতের দিগন্ত অনুধাবন করত। তিনি তাঁর শত্রুকে খুব ভালো করে চিনতেন এবং তাদের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও সংবেদনশীল ছিলেন। শত্রুর পদক্ষেপ ও তার নেপথ্যের উদ্দেশ্যগুলো বিশ্লেষণ ও উদঘাটন করার এবং সেগুলো মোকাবেলায় কার্যকর সমাধান বের করার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁর ছিল। এছাড়া তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছিলেন এবং তাঁর নিরবচ্ছিন্ন ও একনিষ্ঠ কর্মতৎপরতায় এক মহান হিম্মত বিদ্যমান ছিল। তাঁর জীবনদর্শনে ‘অসম্ভব’ বলে কিছু ছিল না; বরং তাঁর মতে প্রচেষ্টা, কর্মতৎপরতা এবং সঠিক চিন্তাধারার মাধ্যমে সবকিছুই সম্ভব। তিনি অত্যন্ত সামাজিক মানুষ ছিলেন; তাঁর সাথে যারই পরিচয় হতো সে-ই তাঁকে সম্মান, শ্রদ্ধা ও মহব্বত না করে পারত না। তিনি সর্বদা অভাবগ্রস্তদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন, স্বভাবে ছিলেন দানশীল এবং পিতামাতার প্রতি অতিশয় অনুগত। তিনি অন্তরে মুসলিম বিশ্বের সকল দুঃখ-দুর্দশা লালন করতেন; উম্মাহর ইতিবাচক অর্জনে আনন্দিত হতেন এবং নেতিবাচক পরিস্থিতিতে ব্যথিত হতেন। একদিন তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছিলেন: তিনি জীবনে তিনবার কেঁদেছেন। প্রথমবার ১৯৬৭ সালের জুন যুদ্ধের পর, যখন ইহুদিরা মুসলিম ভূখণ্ডের অনেক বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে নিয়েছিল, যার মধ্যে পবিত্র কুদস শরিফ অন্যতম। দ্বিতীয়বার ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে কমিউনিস্ট সোভিয়েত বাহিনীর প্রবেশের পর, যখন তারা আফগান মুসলমানদের ওপর জঘন্যতম নৃশংসতা চালিয়েছিল। আর তৃতীয়বার: যখন সিরিয়ার মুসলমানরা জালিম বাথিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি, ফলে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। ১৯৮০ সালে তাঁর গ্রেফতারের পূর্বেই ধ্বংস ও ব্যর্থতার অশনিসংকেত তাঁর সামনে প্রতিভাত হয়েছিল এবং তিনি এই শোচনীয় পরিণতির বিষয়ে অনেক আগেই বারবার সতর্ক করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: -)
‌‌رابعاً: فكره:

من خلال عمله في مديرية المتاحف والآثار بدمشق، كتب الكثير من الدراسات التاريخية .. وحقق الكثير من المخطوطات والكراسات والكتيبات، وألقى الكثير من المحاضرات في مجال اختصاصه .. كان ذلك في دمشق، وفي المراكز الثقافية العربية في العديد من المحافظات السورية، وكان له اهتمام خاص بالتاريخ الإسلامي. أما عن فكره .. فهو إسلامي خالص، فكر ناضج هادف، يبحث في الدين والسياسة، والأدب الإسلامي والتنظيم والتربية ..

 

وقد أراد أن يعرض فكره الإسلامي المتطور على الأمة .. صغارها وكبارها، فكتب للصغار مجموعاتٍ قصصيةٍ عديدة، من مثل: حكايات حارثة، وحكايات عن القرآن، وحكايات عن الصلاة .. كما كتب للكبار: بناء الإسلام/ دراسة أيديولوجية، وقادة الغرب يقولون: دمّروا الإسلام .. أبيدوا أهله، وتفسير المؤمنين، وكانوا همجاً (رواية)، وثورة النساء (رواية) وصواريخ عابرة للقارات (رواية)، وهناك العديد من المؤلفات لم تُنشر حتى اليوم منها: القسم الثاني من بناء الإسلام وهو: منهج الحياة (عدة أجزاء) وبعض قصص الأطفال، وبعض الروايات، وتفسير المؤمنين (عرض موسّع)، وحريق لبنان: لماذا؟! .. (تصور عام عن أحداث لبنان وتطورها قبل حدوثها من خلال معالجة إسلامية لهذه القضية) ..
‌‌চতুর্থ: তাঁর চিন্তাধারা:

দামেস্কের জাদুঘর ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে তাঁর কর্মজীবনের মাধ্যমে তিনি অনেক ঐতিহাসিক গবেষণা প্রবন্ধ রচনা করেছেন... এবং বহু পাণ্ডুলিপি (مخطوطات), পুস্তিকা ও ছোট বইয়ের সম্পাদনা ও গবেষণা (تحقيق) করেছেন। এছাড়া তিনি তাঁর বিশেষায়িত ক্ষেত্রে অনেক বক্তৃতা প্রদান করেছেন... যা দামেস্কে এবং সিরিয়ার বিভিন্ন প্রদেশের আরব সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইসলামি ইতিহাসের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল। তাঁর চিন্তাধারার কথা বলতে গেলে—তা ছিল বিশুদ্ধ ইসলামি, এক পরিপক্ক ও উদ্দেশ্যপূর্ণ চিন্তা, যা ধর্ম, রাজনীতি, ইসলামি সাহিত্য, সংগঠন ও শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করে...

 

তিনি উম্মাহর ছোট-বড় সবার কাছে তাঁর উন্নত ইসলামি চিন্তাধারা উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন; ফলে তিনি ছোটদের জন্য বেশ কিছু গল্পের সংকলন রচনা করেন, যেমন: হারিসার গল্পগাথা, কুরআন নিয়ে গল্প এবং সালাত নিয়ে গল্প... বড়দের জন্য তিনি লিখেছেন: ইসলাম বিনির্মাণ/একটি আদর্শিক গবেষণা, পাশ্চাত্যের নেতারা বলেন: ইসলামকে ধ্বংস করো.. এর অনুসারীদের নিশ্চিহ্ন করো, তাফসিরুল মুমিনিন, তারা ছিল বর্বর (উপন্যাস), নারীদের বিপ্লব (উপন্যাস) এবং আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (উপন্যাস)। এছাড়াও তাঁর এমন অনেক রচনাবলি রয়েছে যা আজ অবধি প্রকাশিত হয়নি, যার মধ্যে রয়েছে: ইসলাম বিনির্মাণ-এর দ্বিতীয় খণ্ড অর্থাৎ 'জীবন পদ্ধতি' (কয়েক খণ্ডে), শিশুদের কিছু গল্প, কিছু উপন্যাস, তাফসিরুল মুমিনিন (বিস্তারিত সংস্করণ) এবং লেবাননের অগ্নিকাণ্ড: কেন?!.. (যা লেবাননের ঘটনাবলি এবং তার বিবর্তনের ওপর একটি ইসলামি পর্যালোচনার মাধ্যমে তা ঘটার পূর্বেই একটি সাধারণ রূপরেখা প্রদান করে)।
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: -)
‌‌خامسا: مؤلفاته

1 - حكايات حارثة: مجموعة صدر منها أكثر من عشرة أجزاء قبل أن تُمنع ويُمنع تداولها رسمياً في سورية من قبل الحكومة .. وهي عبارة عن سلسلة يحتوي كل عدد منها على قصةٍ رئيسيةٍ طويلة، ومجموعة قصصٍ مصورةٍ صغيرةٍ إسلاميةٍ هادفة، تعالج قضايا إسلاميةً اجتماعيةً وأخلاقيةً وثقافيةً ضمن مخططٍ تربويٍ هادفٍ للأطفال ..

 

2 - حكايات عن القرآن: صدر منها أكثر من عشرين جزءاً وهي سلسلة من القصص الشائقة المصوّرة، تعمل على توضيح معاني القرآن الكريم بلغةٍ مبسّطة، وصورٍ معبّرة، وهي لون جديد من الأدب الإسلامي .. من عناوينها: اهدنا الصراط المستقيم، أعوذ برب الناس، من شر حاسد إذا حسد، لم يلد ولم يولد، تبت يدا أبي لهب، لكم دينكم ولي دين، نصر الله والفتح، كيف فعل ربك بأصحاب الفيل .. وغيرها ..

 

3 - حكايات عن الصلاة: صدر منها عشرون جزءاً، وهي سلسلة توضح للناشئة كيفية الصلاة: أهدافها مراميها .. من خلال قصصٍ جذابة، وأسلوبٍ سهلٍ مبسّط، وصور ملونة تجتذب الناشئة .. من عناوينها: الأذان نداء الله للمكرمين، الاتجاه نحو القبلة، الوضوء ما أروعه، صلاة الظهر تبارك العمر، النجاة .. النجاة! .. وغيرها ..

 

4 - قادة الغرب يقولون: دمِّروا الإسلام .. أبيدوا أهله:

 

وهو كتيّب يبحث في خطط أعداء الإسلام لتدمير المسلمين، ولإبقاء العالم الإسلامي متخلفاً ضعيفاً .. من خلال عرضٍ مؤثرٍ لأحداثٍ واقعيةٍ وقعت في العصر الحديث، ومن خلال عرضٍ لمواقف زعماء الغرب من الإسلام .. وهذا الكتيّب محاولة لإثارة مشاعر كل المسلمين واستنهاضهم، ليستيقظوا من غفوتهم وكبوتهم، وليفكروا بالأخطار الداهمة التي يضعهم أعداؤهم في أجوائها .. وأين الحل؟! هو السؤال الوحيد الذي يردّده كل من يقرأ الكتاب ويمتلئ تحفزاً وحرارةً وتأثراً وحميّةً لدينه، الذي تتآمر عليه كل القوى في العالم.

 

5 - كانوا همجاً: رواية طويلة من 256 صفحة .. وهي محاولة تعالج واقع البشرية من خلال نظرةٍ تستشف أستار المستقبل، إذ ستقوم الخلافة الراشدة التي ستعم الأرض بلسماً للناس، وشفاءً لجراحات عصور الهمجية في جسد البشرية المعذبة وروحها ..

 

هذه المعالجة أسلوب من أساليب (عبد الودود) لعرض أفكاره بخيالٍ خصبٍ يمتلكه، ورؤيةٍ ناضجةٍ وواضحةٍ لنواحي الحياة: الهمجية منها المتمثلة في عصرنا الحالي الذي نعيشه، وتلك التي يجب أن تكون في ظل الخلافة الراشدة التي سيكون فيها منهج الله هو الحاكم الوحيد لكل جوانب الحياة الإنسانية ..

 

6 - ثورة النساء: رواية طويلة، تعالج قضية المرأة من وجهة نظرٍ إسلامية، كيف تعيش في ظل الحضارة الإنسانية الحالية: مظلومة، مهانة، وسلعةً حقيرة .. وكيف ستكون عليه عندما تتمسك بالإسلام -في ظل حضارةٍ إسلاميةٍ راقية- حرةً كريمة، ومصانةً عفيفة، وأساساً لا غنى عنه لبناء المجتمع الإسلامي القوي ..

 

7 - بناء الإسلام: الأصول والأركان - دراسة أيديولوجية:

 

وقد صدر منه هذا القسم الأول .. أما القسم الثاني الذي يعالج منهج الحياة في أجزاء عدّة .. فلم يصدر منه أي جزء ..

 

في هذا الكتاب تبدّت ذروة النضوج في فكر (عبد الودود) حيث ظهر الوضوح في الرؤية، والواقعي العملية الدقيقة، والفكر العملاق عنده .. لقد أراد من عرض هذا الفكر أن يبث الثقة المطلقة في نفس كل إنسان مسلم، بفكرة الإسلام وببساطتها، بحيث يسهل عليه دخول معترك الصراع العقديّ الإنساني وهو يحمل شعاراتٍ واضحةً محددة، من السهل مقارنتها مع العقائد والأيديولوجيات الأخرى بسرعة ويسر .. ومن ثم إيصال فكرته إلى عقل وقلب كل إنسان شريف .. فيقنعه بأنها هي الخير المحض، والعلم الخالص، والحاجة الملحّة .. فهو يعيد إلى المسلم التصور الصحيح للإسلام، بحيث يبدو بناءً متكاملاً متراصاً محكماً، يأخذ كل جانب منه دوره، مترابطاً مع بقية الأجزاء برباطٍ متين .. وهذا التصور يمكّن المسلم من بناء نفسه بشكل صحي، فلا يفرّط في جانبٍ أساسي، ولا يغلّب جانباً ثانوياً على أصول كبيرة، ومن ثم يقدّم -بخطوات الواثق- إسلامَه إلى مجتمعه المتخلف وإلى الإنسانية جمعاء، كحلٍ جذريٍ لما تعانيه من ضنكٍ وآلامٍ وعذاب .. وليعرف هذا المسلم المؤمن -الذي يدخل معترك الصراع الأيديولوجي- معنى كل جزءٍ من إسلامه، ودوره وأهميته صغيراً كان أم كبيراً، وليكتشف من خلال هذا الوضوح ما إذا كان يتبنى كل الدين أو بعضه، وأهمية هذا التبني في نصرة مسعاه الدائب، لأن النصر مشروط بتنفيذ كل أصول الدين وأسسه، ولأن نصر الله لا يأتي إلا بالفهم الصحيح والوضوح الكامل والتبنّي السليم، ولأن أيّ إهمالٍ أو تقصيرٍ سيؤدي إلى تخلخل البناء المترابط، ومن ثم تهدّمه ..

 

8 - تفسير المؤمنين: وهو تفسير للقرآن الكريم بأسلوبٍ عصريٍ حديث، يفهمه الجيل المعاصر .. وفيه عرض (عبد الودود) أفكاره الدقيقة الواضحة من خلال تفسير القرآن الكريم، بأسلوبه الخاص الذي يركّز فيه على قضايا فكريةٍ أساسية، في الفكر الإسلامي الحديث والحركة الإسلامية المعاصرة، وهو بذلك عالج قضايا في غاية الأهمية، من مثل: الشرك في الإسلام، ومن هو الذي يليق به أن ينظم حياة الناس، والجهاد، والتنظيم، ووحدة المسلمين، والحكم الإسلامي، والحضارة الإسلامية، وأساليب العمل الإسلامي، وموقف المسلم من غيره، والأخلاق الإسلامية في البناء الاجتماعي، والشورى، والإسلام نظاماً عاماً ومنهج حياة، وأعداء الإسلام وأساليبهم، وحقائق علمية في القرآن، واليوم الآخر والجنة والنار، وصفات المؤمنين، وصفات الكافرين، وصفات المنافقين، والأمن الإسلامي، والظلم، والعدل .. إلخ ..
‌পঞ্চম: তাঁর রচনাবলী

১ - হিকায়াতু হারিসাহ (হারিসাহর গল্পসমূহ): এটি একটি সচিত্র গল্প সংকলন যার দশটিরও বেশি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছিল, তবে সিরিয়া সরকার কর্তৃক এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ এবং এর প্রচার বন্ধ করার আগে এটি প্রকাশিত হয়। এটি একটি ধারাবাহিক যার প্রতিটি সংখ্যায় একটি দীর্ঘ প্রধান গল্প এবং কিছু উদ্দেশ্যমূলক ছোট ইসলামি সচিত্র গল্পের সংকলন থাকে। এগুলো শিশুদের জন্য একটি সুপরিকল্পিত শিক্ষামূলক কাঠামোর অধীনে ইসলামি সামাজিক, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো তুলে ধরে।

 

২ - কুরআন সম্পর্কিত গল্পসমূহ: এর বিশটিরও বেশি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। এটি আকর্ষণীয় সচিত্র গল্পের একটি সিরিজ, যা সহজ ভাষা ও ভাববহূল ছবির মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের মর্মার্থ ব্যাখ্যা করে। এটি ইসলামি সাহিত্যের একটি নতুন ধারা। এর কিছু শিরোনাম হলো: ‘আমাদেরকে সরল পথ দেখান’, ‘আমি মানুষের রবের নিকট আশ্রয় চাই’, ‘হিংসুকের অনিষ্ট হতে যখন সে হিংসা করে’, ‘তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি’, ‘আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক’, ‘তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্য আমার দ্বীন’, ‘আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়’, ‘তোমার রব হাতিওয়ালাদের সাথে কী আচরণ করেছিলেন’ ইত্যাদি।

 

৩ - সালাত সম্পর্কিত গল্পসমূহ: এর বিশটি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। এটি কিশোর-কিশোরীদের জন্য সালাতের পদ্ধতি, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করার একটি সিরিজ। এটি আকর্ষণীয় গল্প, সহজ-সরল ভঙ্গি এবং রঙিন ছবির মাধ্যমে কিশোরদের আকৃষ্ট করে। এর কিছু শিরোনাম হলো: ‘আযান: সম্মানীতদের প্রতি আল্লাহর আহ্বান’, ‘কিবলামুখী হওয়া’, ‘অজু কতই না চমৎকার’, ‘যোহরের সালাত জীবনে বরকত আনে’, ‘মুক্তি... মুক্তি!’ ইত্যাদি।

 

৪ - পাশ্চাত্যের নেতৃবৃন্দ বলেন: ইসলামকে ধ্বংস করো... এর অনুসারীদের নিশ্চিহ্ন করো:

 

এটি একটি পুস্তিকা যা মুসলিমদের ধ্বংস করার এবং মুসলিম বিশ্বকে অনগ্রসর ও দুর্বল রাখার জন্য ইসলামের শত্রুদের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করে। এটি আধুনিক যুগে ঘটে যাওয়া বাস্তব ঘটনাপ্রবাহ এবং ইসলামের প্রতি পাশ্চাত্যের নেতাদের অবস্থানের একটি মর্মস্পর্শী উপস্থাপনা। এই পুস্তিকাটি সকল মুসলিমের অনুভূতি জাগ্রত করার এবং তাদের পুনরুজ্জীবিত করার একটি প্রয়াস, যাতে তারা তাদের অচেতনতা ও স্থবিরতা থেকে জেগে ওঠে এবং শত্রুরা তাদের চারপাশে যে আসন্ন বিপদ তৈরি করছে তা নিয়ে চিন্তা করে। সমাধান কোথায়?!—এটিই একমাত্র প্রশ্ন যা এই বইটির প্রত্যেক পাঠক উচ্চারণ করেন এবং তার দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠতা, উত্তাপ, আবেগ ও আত্মমর্যাদায় উদ্বেলিত হন, যে দ্বীনের বিরুদ্ধে বিশ্বের সকল শক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

 

৫ - তারা ছিল বর্বর (কানূ হামাজান): ২৫৬ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ উপন্যাস। এটি মানবতার বাস্তবতাকে ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে দেখার একটি প্রয়াস, যেখানে সঠিক পথপ্রাপ্ত খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে যা সারা বিশ্বে মানুষের জন্য মলম স্বরূপ হবে এবং যন্ত্রণাকাতর মানবদেহে ও আত্মায় বর্বরতার যুগের ক্ষতগুলোর নিরাময় করবে। এই উপস্থাপনাটি (আব্দুল ওয়াদুদ)-এর একটি নিজস্ব শৈলী যার মাধ্যমে তিনি তার উর্বর কল্পনাশক্তি এবং জীবনের বিভিন্ন দিকের প্রতি একটি পরিপক্ক ও স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন: বর্তমান সময়ের বর্বরতা এবং সঠিক পথপ্রাপ্ত খিলাফতের ছায়াতলে যা হওয়া উচিত, যেখানে আল্লাহর বিধানই হবে মানবজীবনের সকল দিকের একমাত্র নিয়ন্ত্রক।

 

৬ - নারীদের বিপ্লব: একটি দীর্ঘ উপন্যাস, যা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে নারী সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে। বর্তমান মানব সভ্যতার ছায়াতলে নারীরা কীভাবে মজলুম, অবমানিত এবং একটি তুচ্ছ পণ্য হিসেবে বেঁচে আছে এবং যখন তারা ইসলামের সুশীতল ছায়ায়—একটি উন্নত ইসলামি সভ্যতায়—নিজেদের আবদ্ধ করবে, তখন তারা কীভাবে স্বাধীন, সম্মানীত, সুরক্ষিত, সতী এবং শক্তিশালী ইসলামি সমাজ গঠনের এক অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে।

 

৭ - ইসলামের কাঠামো: মূলনীতি ও স্তম্ভসমূহ - একটি আদর্শিক অধ্যয়ন:

 

এর প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়েছে। দ্বিতীয় অংশটি, যা জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবে, তার কোনো খণ্ড এখনও প্রকাশিত হয়নি। এই বইটিতে (আব্দুল ওয়াদুদ)-এর চিন্তাধারার পরিপক্কতার শীর্ষবিন্দু ফুটে উঠেছে, যেখানে দৃষ্টিভঙ্গির স্বচ্ছতা, সূক্ষ্ম ব্যবহারিক বাস্তবতা এবং তার গভীর চিন্তাশক্তি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি এই চিন্তাধারা উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রতিটি মুসলিমের মনে ইসলামের আদর্শ ও এর সরলতার প্রতি এক নিরঙ্কুশ আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন, যাতে তার জন্য আদর্শিক সংঘাতের ময়দানে অবতীর্ণ হওয়া সহজ হয়। তিনি কিছু স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট আদর্শ ধারণ করেছেন যা অন্যান্য মতাদর্শের সাথে দ্রুত ও সহজে তুলনা করা সম্ভব। এর ফলে তার চিন্তাধারা প্রতিটি বিবেকবান মানুষের মস্তিষ্ক ও হৃদয়ে পৌঁছে যায় এবং তাদের আশ্বস্ত করে যে, এটিই প্রকৃত কল্যাণ, বিশুদ্ধ জ্ঞান এবং সময়ের অপরিহার্য দাবি। তিনি মুসলিমদের সামনে ইসলামের সঠিক ধারণাটি পুনরায় উপস্থাপন করেন, যাতে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ, সুসংগঠিত ও মজবুত কাঠামো হিসেবে প্রতীয়মান হয়, যার প্রতিটি অংশ একে অপরের সাথে সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ থেকে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করে। এই ধারণাটি মুসলিমকে সুস্থভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম করে, ফলে সে কোনো মৌলিক বিষয়ে অবহেলা করে না এবং বড় মূলনীতিগুলোর ওপর কোনো গৌণ বিষয়কে প্রাধান্য দেয় না। অতঃপর সে আত্মবিশ্বাসের সাথে তার অনগ্রসর সমাজ ও সমগ্র মানবতার সামনে ইসলামকে তাদের দুঃখ-কষ্ট ও যন্ত্রণার আমূল সমাধান হিসেবে পেশ করে। এই মুমিন মুসলিম—যিনি আদর্শিক সংঘাতের ময়দানে প্রবেশ করেন—তিনি যেন তার দ্বীনের প্রতিটি অংশের অর্থ, ভূমিকা ও গুরুত্ব বুঝতে পারেন, তা ছোট হোক বা বড়। এই স্বচ্ছতার মাধ্যমে তিনি আবিষ্কার করতে পারেন যে, তিনি কি পুরো দ্বীন গ্রহণ করেছেন নাকি আংশিক। এই গ্রহণের গুরুত্ব তার নিরন্তর প্রচেষ্টায় বিজয় অর্জনের ক্ষেত্রে অপরিসীম, কারণ বিজয় দ্বীনের সকল মূলনীতি ও ভিত্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর শর্তযুক্ত। আল্লাহর সাহায্য কেবল সঠিক উপলব্ধি, পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং যথাযথ অনুসরণের মাধ্যমেই আসে। যে কোনো অবহেলা বা ত্রুটি এই আন্তঃসংযুক্ত কাঠামোকে শিথিল করে দেবে এবং পরিশেষে তা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।

 

৮ - তাফসিরুল মুমিনিন: এটি একটি আধুনিক শৈলীতে পবিত্র কুরআনের তাফসির, যা বর্তমান প্রজন্ম সহজেই বুঝতে পারবে। এতে (আব্দুল ওয়াদুদ) পবিত্র কুরআনের তাফসিরের মাধ্যমে তার সূক্ষ্ম ও স্পষ্ট চিন্তাধারা উপস্থাপন করেছেন। তার নিজস্ব শৈলীতে তিনি আধুনিক ইসলামি চিন্তা ও সমকালীন ইসলামি আন্দোলনের মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আলোচনা করেছেন, যেমন: ইসলামে শিরক, মানুষের জীবন পরিচালনার যোগ্য কে, জিহাদ, সংগঠন, মুসলিমদের ঐক্য, ইসলামি শাসনব্যবস্থা, ইসলামি সভ্যতা, ইসলামি দাওয়াতের কর্মপদ্ধতি, অন্যদের প্রতি মুসলিমের অবস্থান, সামাজিক কাঠামো গঠনে ইসলামি নৈতিকতা, শুরা (পরামর্শ), একটি সাধারণ ব্যবস্থা ও জীবনবিধান হিসেবে ইসলাম, ইসলামের শত্রু ও তাদের কৌশল, কুরআনের বৈজ্ঞানিক সত্যতা, পরকাল, জান্নাত ও জাহান্নাম, মুমিনদের গুণাবলি, কাফিরদের গুণাবলি, মুনাফিকদের গুণাবলি, ইসলামি নিরাপত্তা, জুলুম, ইনসাফ ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: -)
‌‌خامساً: الفكر التنظيمي عند (عبد الودود):

وهو فكر متطور عملاق، الدقة والوضوح والنضوج سماته الأساسية، وكل ما كتبه في هذا المجال لم يُنشر أبداً .. وهذا الفكر يرتكز على قضايا أساسيةٍ عالجها بعمقٍ وسعة أفقٍ وعلميةٍ رائعة .. فهو يرى أنّ إقامة منهج الله عز وجل في الأرض فرض عينٍ على كل مسلمٍ ما دام هذا المنهج بعيداً عن الحكم، ولا سبيل لتحقيق ذلك إلا بالجهاد في سبيل الله .. فالجهاد بكل أبوابه وأنواعه فرض عين على كل مسلم، وبما أن الجهاد -عملاً متكاملاً- لا يمكن ممارسته في العصر الحديث بشكلٍ منفرد، وإنما من خلال بناء حركةٍ إسلاميةٍ قوية .. فبناء هذه الحركة فرض عينٍ على كل مسلم، وبما أنّ هذه الحركة لن تكون قويةً قادرةً على مجابهة المناهج الأخرى وقواها إلا باتباع الأساليب والخطط التي تُثبت جدواها عملياً، فإنّ أساليب البناء وخطط المجابهة يصبح اتباعها وتبنيها والعمل بها .. فرض عين أيضاً حين ثبوت جدواها، لأنه من غيرها لا يمكن تحقيق النصر، وبالتالي تحكيم منهج الله في الأرض .. ولابد للحركة الإسلامية المتطورة، أن ترتكز على ركائز أساسية عدّةٍ لابد منها، من مثل:

- نظرية واضحة تحكم سيرها.

- خطة مفصلة.

- منهج تربية نظري وعملي متطور حسب الظروف.

- هيكل الحركة بجميع نواحيه وأقسامه المناسبة لبناءٍ قويٍ مترابطٍ متكامل.

- مقياس واضح، يقاس به مدى نجاح أفرادها في تحقيق منهج الله في نفوسهم وفي حركتهم.

- جدول زمني واضح دقيق، لتنفيذ الخطة حتى الوصول إلى الهدف.

- أمن الحركة بأفرادها ومؤسساتها وخططها ومنهجها ونظريتها .. أمر لا يمكن الاستغناء عنه ولا السير بدونه، في ظل المواجهة الحديثة مع الباطل ..

 

وله شروح وكتابات موسعة في كل ما سبق من الأبواب التنظيمية .. ومن يطلع على فكر عبد (الودود) في هذا المجال، لابد أن يقتنع بأنه حجّة في التنظيم والحركة، والتخطيط الإسلاميّ المتطور ..
‌‌পঞ্চম: (আবদুল ওয়াদুদ)-এর সাংগঠনিক চিন্তা-চেতনা:

এটি একটি অত্যন্ত উন্নত ও বিশাল চিন্তাধারা, সূক্ষ্মতা, স্পষ্টতা এবং পরিপক্বতা যার মৌলিক বৈশিষ্ট্য। এই ক্ষেত্রে তিনি যা কিছু লিখেছেন তার কোনোটিই কখনো প্রকাশিত হয়নি। এই চিন্তাধারাটি এমন কিছু মৌলিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যা তিনি গভীরতা, বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি এবং চমৎকার বৈজ্ঞানিক আঙ্গিকে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি মনে করেন যে, পৃথিবীতে মহান আল্লাহর জীবনবিধান প্রতিষ্ঠা করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য (فرض عين), যতক্ষণ না এই বিধান শাসনের বাইরে থাকে। আর আল্লাহর পথে জিহাদ ছাড়া এটি অর্জনের কোনো পথ নেই। সুতরাং জিহাদ তার সকল প্রকার ও স্তরসহ প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য (فرض عين)। যেহেতু বর্তমান যুগে জিহাদ—একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপ্রক্রিয়া হিসেবে—এককভাবে পালন করা সম্ভব নয়, বরং একটি শক্তিশালী ইসলামি আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমেই কেবল তা সম্ভব; তাই এই আন্দোলন গড়ে তোলা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য (فرض عين)। যেহেতু এই আন্দোলন অন্যান্য মতাদর্শ ও তাদের শক্তির মোকাবিলায় ততক্ষণ পর্যন্ত শক্তিশালী ও সক্ষম হতে পারবে না যতক্ষণ না এটি এমন সব পদ্ধতি ও পরিকল্পনা অনুসরণ করে যা বাস্তবে কার্যকর বলে প্রমাণিত, তাই যখন এসব গঠনমূলক পদ্ধতি ও মোকাবিলার পরিকল্পনার কার্যকারিতা প্রমাণিত হবে, তখন সেগুলো অনুসরণ করা, গ্রহণ করা এবং সে অনুযায়ী আমল করাও... ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য (فرض عين) হিসেবে গণ্য হবে। কারণ এগুলো ছাড়া বিজয় অর্জন করা সম্ভব নয়, আর ফলস্বরূপ পৃথিবীতে আল্লাহর বিধানও প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। একটি প্রগতিশীল ইসলামি আন্দোলনকে অবশ্যই বেশ কিছু অপরিহার্য স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, যেমন:

- একটি স্পষ্ট মতবাদ যা এর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করবে।

- একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা।

- পারিপার্শ্বিক অবস্থা অনুযায়ী একটি উন্নত তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি।

- একটি শক্তিশালী, সুসংবদ্ধ ও সুসংহত কাঠামোর জন্য উপযুক্ত আন্দোলনের সকল দিক ও বিভাগ সম্বলিত রূপরেখা।

- একটি স্পষ্ট মানদণ্ড, যার মাধ্যমে এর সদস্যদের নিজেদের জীবনে এবং তাদের আন্দোলনে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে সাফল্যের মাত্রা পরিমাপ করা যাবে।

- লক্ষ্য অর্জনে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি স্পষ্ট ও সূক্ষ্ম সময়সূচি।

- আন্দোলনের সদস্য, প্রতিষ্ঠান, পরিকল্পনা, কর্মপন্থা ও মতবাদের নিরাপত্তা... বাতিলের সাথে আধুনিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এটি এমন একটি বিষয় যা অপরিহার্য এবং এটি ছাড়া পথ চলা অসম্ভব।

 

সাংগঠনিক এই সকল বিষয়ের ওপর তাঁর বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও লেখা রয়েছে। এই ক্ষেত্রে আবদুল ওয়াদুদ-এর চিন্তাধারা সম্পর্কে যে কেউ অবগত হবেন, তিনি অবশ্যই এই বিষয়ে নিশ্চিত হবেন যে, তিনি সংগঠন, আন্দোলন এবং আধুনিক ইসলামি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একজন প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব (حجة)।
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: -)
‌‌سادساً: اعتقاله:

اعتقل مرتين في حياته: الأولى عام 1964م، في أحداث الجامع الأموي بدمشق، عندما كان أمين الحافظ رئيساً للجمهورية العربية السورية، حيث شُنّت حملة اعتقالاتٍ واسعةٍ طالت الكثيرين من الشباب المسلم .. وفيها عانى (عبد الودود) من تعذيبٍ جسديٍ ونفسيٍ شديدَيْن، وخرج من سجن المزّة بدمشق بعد عدة أشهر وقد كُسرت إحدى أضلاع صدره .. وكتب عن هذه الأحداث وعن فترة السجن هذه كتاباتٍ مثيرةً في أحد جوانب مذكراته التي لم تُنشر .. أما الاعتقال الثاني: فكان في 31 آذار من عام 1980م صبيحة يوم الاثنين .. وهو يوم الإضراب العام في سورية تضامناً مع نقابة المحامين، حيث اتّهم بالتنظيم، وبالعمل على إسقاط نظام الحكم، وبالفكر المعادي للسلطة وللحزب (حزب البعث) وباستغلال كونه عضواً في اتحاد الكتّاب العرب في دمشق للتحريض على الحكم ..

 

وبعد أشهرٍ عدّةٍ من اعتقاله في سجن الشيخ حسن بدمشق، نُقل إلى سجن تدمر بعد إدخاله مستشفى المواساة مرتين نتيجة التعذيب .. وانقطعت أخباره منذ ذلك الحين وحتى اليوم .. فرَّج الله عنه إن كان حياً، ورحمه واحتسبه شهيداً عنده إن كان غير ذلك .. إنه سميع قريب مجيب .. (*)

 

(وَلا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتاً بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ) (آل عمران:169) (أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لا يُفْتَنُونَ * وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ) (العنكبوت:2 و3).

 

-صدق الله العظيم-

--------------------------------------------

‌‌وفاته

(*) أقول (أحد منسقي الكتاب للشاملة): أرخ د نزار أباظة [في كتابه (علماء دمشق وأعيانها في القرن الخامس عشر الهجري)] وفاة المؤلف في (1403هـ = 1938 - 1983م)، رحمه الله تعالى
‌‌ষষ্ঠ: তাঁর কারাবরণ:

তিনি তাঁর জীবনে দুবার গ্রেপ্তার হন: প্রথমবার ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কের উমাইয়া মসজিদের ঘটনাপ্রবাহের সময়, যখন আমিন আল-হাফিজ সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। সে সময় এক ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছিল যা অনেক মুসলিম যুবককে আক্রান্ত করেছিল... সেখানে আবদ আল-ওয়াদুদ চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন এবং কয়েক মাস পর দামেস্কের মাজ্জাহ কারাগার থেকে মুক্তি পান, এমতাবস্থায় যে তাঁর একটি পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছিল... তিনি এই ঘটনাগুলো এবং কারাগারের এই সময়কাল সম্পর্কে তাঁর অপ্রকাশিত স্মৃতিকথার একটি অংশে চাঞ্চল্যকর বর্ণনা লিখেছেন... আর দ্বিতীয় গ্রেপ্তার: এটি ছিল ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের ৩১শে মার্চ সোমবার সকালে... যা ছিল আইনজীবী সমিতির সাথে সংহতি প্রকাশে সিরিয়ায় সাধারণ ধর্মঘটের দিন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে গোপন সংগঠন পরিচালনা, শাসনব্যবস্থা উৎখাতের চেষ্টা, কর্তৃপক্ষ ও বাথ পার্টির বিরোধী চিন্তাধারা পোষণ এবং দামেস্কে আরব লেখক ইউনিয়নের সদস্যপদ ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল...

 

দামেস্কের শেখ হাসান কারাগারে কয়েক মাস বন্দি থাকার পর, নির্যাতনের কারণে দুবার আল-মুওয়াসাত হাসপাতালে ভর্তির পর তাঁকে তাদমুর কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়... তখন থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি... তিনি যদি জীবিত থাকেন তবে আল্লাহ তাঁকে মুক্তি দিন, আর যদি অন্য কিছু হয় তবে আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁকে তাঁর কাছে শহিদ (شهيداً) হিসেবে কবুল করুন... নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী ও দুআ কবুলকারী... (*)

 

(আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তুমি তাদের কখনও মৃত মনে করো না; বরং তারা তাদের রবের কাছে জীবিত এবং তারা রিযিকপ্রাপ্ত) (আলে ইমরান: ১৬৯) (মানুষ কি মনে করে যে, তারা ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তারা পরীক্ষার সম্মুখীন হবে না? অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছি; আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং তিনি অবশ্যই জেনে নেবেন কারা মিথ্যাবাদী (الكاذبين)) (আল-আনকাবুত: ২ ও ৩)।

 

-মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন-

--------------------------------------------

‌‌তাঁর ইন্তেকাল

(*) আমি (শামেলা লাইব্রেরির গ্রন্থ সমন্বয়কারীদের একজন) বলছি: ড. নিজার আবাজা [তাঁর ‘পনেরো শতক হিজরির দামেস্কের উলামা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ’ নামক গ্রন্থে] লেখকের ইন্তেকালকাল লিপিবদ্ধ করেছেন (১৪০৩ হিজরি = ১৯৩৮ - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ), আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ২)
الحمد لله وحده …

والصلاة على نبيه وآله ..

اللهم أعز الإسلام فقد ذللنا ..

وعزتك يا رب سنغادر ذلنا ..

سنسير - بتأييدك - على الدرب الذي أمرتنا ..

فاغفر تقصيرنا … وَقَوِّ عزائمنا لنحرر الناس جميعًا.

 

والحمد لله .. والله أكبر.
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য …

এবং সালাত বর্ষিত হোক তাঁর নবী ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর ..

হে আল্লাহ, ইসলামকে সম্মানিত করুন, কেননা আমরা লাঞ্ছিত হয়েছি ..

আপনার সম্মানের কসম হে প্রতিপালক, অবশ্যই আমরা আমাদের এই হীনতা কাটিয়ে উঠব ..

আমরা - আপনার সাহায্যে - সেই পথেই চলব যার নির্দেশ আপনি আমাদের দিয়েছেন ..

অতএব আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করুন … এবং আমাদের সংকল্পসমূহকে সুদৃঢ় করুন যাতে আমরা সকল মানুষকে মুক্ত করতে পারি।

 

এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য .. আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌صَرْخَةٌ:

إلى كل مخلص في هذه الأُمَّةِ:

إلى القادة والزعماء في كل مكانٍ من العالم الإسلامي، والعرب منهم خاصة:

أعداؤنا يقولون: «يَجِبُ أَنْ نُدَمِّرَ الإِسْلَامَ لأَنَّهُ مَصْدَرُ القُوَّةِ الوَحِيدِ لِلْمُسْلِمِينَ، لِنُسَيْطِرَ عَلَيْهِمْ، الإِسْلَامُ يُخِيفُنَا، وَمِنْ أَجْلِ إِبَادَتِهِ نَحْشُدُ كُلَّ قُوَانَا، حَتَّى لَا يَبْتَلِعَنَا».

 

فماذا تفعلون أنتم أيها القادة والزعماء؟!! ..

 

بالإسلام تكتسحون العالم - كما يقول علماء العالم وسياسيوه - فلماذا تترددون .. ؟! خذوه لعزتكم، لا تقاوموه فيهلككم الله بعذابه، ولا بد أن ينتصر المؤمنون به، اقرأوا إن شئتم حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تَكُونُ نُبُوَّةٌ مَا شَاءَ اللهُ لَهَا أَنْ تَكُونَ ثُمَّ تَنْقَضِي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌একটি আর্তনাদ:

এই উম্মাহর প্রত্যেক নিষ্ঠাবান ব্যক্তির প্রতি:

মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের নেতা ও নেতৃবৃন্দের প্রতি, এবং বিশেষ করে আরব নেতাদের প্রতি:

আমাদের শত্রুরা বলছে: «আমাদের অবশ্যই ইসলামকে ধ্বংস করতে হবে, কারণ এটিই মুসলিমদের শক্তির একমাত্র উৎস, যাতে আমরা তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারি। ইসলাম আমাদের আতঙ্কিত করে, আর একে সমূলে বিনাশ করার জন্য আমরা আমাদের সকল শক্তি সঞ্চয় করছি, পাছে এটি আমাদের গ্রাস করে ফেলে।»

 

হে নেতা ও নেতৃবৃন্দ, আপনারা তবে কী করছেন?!! ..

 

ইসলামের মাধ্যমেই আপনারা বিশ্ব জয় করবেন - যেমনটি বিশ্বের পন্ডিত ও রাজনীতিবিদেরা বলে থাকেন - তবে কেন আপনারা ইতস্তত করছেন .. ?! একে আপনাদের সম্মানের জন্য গ্রহণ করুন, এর বিরোধিতা করবেন না, অন্যথায় আল্লাহ তাঁর আজাব দিয়ে আপনাদের ধ্বংস করে দেবেন। আর মুমিনদের বিজয় অবশ্যই সুনিশ্চিত। আপনারা চাইলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস পাঠ করতে পারেন: «তোমাদের মাঝে নবুওয়াত (نبوة) ততক্ষণ থাকবে যতক্ষণ আল্লাহ চাইবেন, তারপর তার সমাপ্তি ঘটবে...
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ৪)
ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً رَاشِدَةً عَلَى مِنْهَاجِ النَّبُوَّةِ مَا شَاءَ اللهُ لَهَا أَنْ تَكُونَ ثُمَّ تَنْقَضِى ثُمَّ يَكُونُ مُلْكًا عَضُوضًا (وِرَاثِيًّا) مَا شَاءَ اللهُ لَهُ أَنْ يَكُونَ ثُمَّ يَنْقَضِى، ثُمَّ تَكُونُ جَبْرِيَّةً (دِيكْتَاتُورِيَاتٌ) مَا شَاءَ اللهُ لَهَا أَنْ تَكُونَ ثُمَّ تَنْقَضِى، ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً رَاشِدَةً عَلَى مِنْهَاجِ النَّبُوَّةِ تَعُمُّ الأَرْضَ».

 

أيها السادة والقادة في دول العالم الإسلامي، والعرب منهم خاصة:

كونوا أعوان الإسلام لا أعداءه .. يرضى الله عنكم، ويرضي الناس عنكم، وتسعدوا .. وتلتف حولكم شعوبكم لتقودوها نحو أعظم ثورة عالمية عرفها التاريخ.

أيها السادة والقادة:

رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يدعو قريشًا لتكون معه، كان يَعِدُ رجالاتها أن يَرِثُوا بالإسلام الأرض، فأبى من أبى، وماتوا تحت أقدام جيوش العدل المنصورة التي انساحت في الأرض … وخلدهم التاريخ، لكن أين … في أقذر مكان منه، يلعنهم الناس إلى يوم الدين، وعذاب جهنم أشد وأنكى …
অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী নবুওয়াতের পদ্ধতির ওপর সঠিক পথে পরিচালিত খিলাফত প্রতিষ্ঠিত থাকবে। অতঃপর আল্লাহ যখন চাইবেন তার সমাপ্তি ঘটবে। এরপর আসবে যুলুমকারী রাজতন্ত্র (উত্তরাধিকারসূত্রে) যতদিন আল্লাহ চাইবেন। অতঃপর তার সমাপ্তি ঘটবে। এরপর আসবে স্বৈরশাসন (একনায়কতন্ত্র) যতদিন আল্লাহ চাইবেন। অতঃপর তার সমাপ্তি ঘটবে। এরপর পুনরায় নবুওয়াতের পদ্ধতির ওপর সঠিক পথে পরিচালিত খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে যা সমগ্র পৃথিবীতে পরিব্যাপ্ত হবে।

 

হে মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের নেতৃবৃন্দ ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, বিশেষ করে তাদের মধ্যে আরবগণ:

আপনারা ইসলামের সহযোগী হোন, তার শত্রু নয়... আল্লাহ আপনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন, মানুষকে আপনাদের প্রতি সন্তুষ্ট করবেন এবং আপনারা সফলকাম হবেন... আর আপনাদের জাতিগুলো আপনাদের ঘিরে সমবেত হবে যাতে আপনারা তাদেরকে ইতিহাসের পরিচিত শ্রেষ্ঠতম বৈশ্বিক বিপ্লবের দিকে পরিচালিত করতে পারেন।

হে নেতৃবৃন্দ ও ব্যক্তিবর্গ:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের তাঁর সাথে থাকার জন্য আহ্বান করেছিলেন। তিনি তাদের ব্যক্তিবর্গকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ইসলামের মাধ্যমে তারা পৃথিবীর উত্তরাধিকার লাভ করবে। কিন্তু যারা অস্বীকার করার ছিল তারা অস্বীকার করল এবং তারা সেই বিজয়ী ন্যায়বিচারের সেনাবাহিনীর পদতলে পিষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করল যা জমিনে ছড়িয়ে পড়েছিল … ইতিহাস তাদের অমর করে রেখেছে, কিন্তু কোথায়? … ইতিহাসের নিকৃষ্টতম স্থানে; বিচার দিবস পর্যন্ত মানুষ তাদের অভিশাপ দেয়, আর জাহান্নামের আজাব তো আরও কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক …
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ৫)
ووعدنا رسول الله أن يعم ديننا الأرض، وسيعم بدون شك.

فلا تكونوا مع من سيكتبهم التاريخ من الملعونين أبد الدهر، بل كونوا مع المنصورين الخالدين.

والله غالب على أمره … ولكن أكثر الناس لا يعلمون.

 

طرابلس في 15/ 8 / 1974 م.
রাসূলুল্লাহ আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে আমাদের দ্বীন সমগ্র পৃথিবীতে বিস্তৃতি লাভ করবে এবং নিঃসন্দেহে তা বাস্তবায়িত হবে।

সুতরাং আপনারা তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না যাদের ইতিহাস চিরকালের জন্য অভিশপ্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করবে, বরং আপনারা সেই সাহায্যপ্রাপ্ত ও চিরঞ্জীব বিজয়ীদের সঙ্গী হোন।

আর আল্লাহ আপন কার্যে বিজয়ী … কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।

 

ত্রিপোলি, ১৫/ ৮ / ১৯৭৪ খ্রি.
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

إن المتتبع لتاريخ العلاقات ما بين الغرب وشعوب الإسلام، يلاحظ حقداً مريراً يملأ صدر الغرب حتى درجة الجنون، يصاحب هذا الحقد خوف رهيب من الإسلام إلى أبعد نقطة في النفسية الأوروبية.

 

هذا الحقد، وذلك الخوف، لا شأن لنا بهما إن كانا مجرد إحساس نفسي شخصي، أما إذا كانا من أهم العوامل التي تبلور مواقف الحضارة الغربية من الشعوب الإسلامية، سياسياً، واقتصاديًا، وحتى هذه الساعة، فإن موقفنا يتغير بشكل حاسم.

 

سوف تشهد لنا أقوال قادتهم أن للغرب، والحضارة الغربية بكل فروعها القومية، وألوانها السياسية موقفاً تجاه الإسلام لا يتغير، إنها تحاول تدمير الإسلام، وإنهاء وجود شعوبه دون رحمة.

 

حاولوا تدمير الإسلام في الحروب الصليبية الرهيبة ففشلت جيوشهم التي هاجمت بلاد الإسلام بالملايين، فعادوا يخططون من جديد لينهضوا .. ثم ليعودوا إلينا،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

নিশ্চয়ই যারা পাশ্চাত্য এবং মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর মধ্যবর্তী সম্পর্কের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করেন, তারা পাশ্চাত্যের অন্তরে উন্মাদনার পর্যায় পর্যন্ত এক তিক্ত বিদ্বেষ লক্ষ্য করেন; এই বিদ্বেষের সাথে রয়েছে ইসলামের প্রতি এক ভয়াবহ ভীতি, যা ইউরোপীয় মনস্তত্ত্বের গভীরতম স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত।

 

এই বিদ্বেষ এবং সেই ভীতি যদি কেবল ব্যক্তিগত মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি হতো তবে আমাদের তাতে কোনো যায় আসত না। কিন্তু যদি তা মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর প্রতি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত পাশ্চাত্য সভ্যতার দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে, তবে আমাদের অবস্থানও চূড়ান্তভাবে পরিবর্তিত হবে।

 

তাদের নেতৃবৃন্দের বক্তব্যই আমাদের নিকট সাক্ষ্য দেয় যে, পাশ্চাত্য এবং তার যাবতীয় জাতীয়তাবাদী শাখা ও রাজনৈতিক বৈচিত্র্যসহ পাশ্চাত্য সভ্যতার ইসলামের প্রতি এক অপরিবর্তনীয় অবস্থান রয়েছে; তারা ইসলামকে ধ্বংস করতে এবং কোনো প্রকার দয়া ছাড়াই এর অনুসারী জাতিসমূহের অস্তিত্ব বিলীন করে দিতে সচেষ্ট।

 

তারা ভয়াবহ ক্রুসেড যুদ্ধের মাধ্যমে ইসলামকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু মুসলিম ভূখণ্ডে আক্রমণকারী তাদের লক্ষ লক্ষ সৈন্যের বাহিনী ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর তারা পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য নতুন করে পরিকল্পনা শুরু করে... যাতে তারা আবারও আমাদের নিকট ফিরে আসতে পারে।
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ৮)
بجيوش حديثة، وفكر جديد .. وهدفهم تدمير الإسلام من جديد ..

 

كان جنديهم ينادي بأعلى صوته، حين كان يلبس بذة الحرب قَادِمًا لاستعمار بلاد الإسلام:

«أُمَّاهُ …

أَتِمِّي صَلَاتَكِ .. لَا تَبْكِي ..

بَلْ اضْحَكِي وَتَأَمَّلِي ..

أَنَا ذَاهِبٌ إِلَى طَرَابُلْسَ …

فَرَحًا مَسْرُورًا ..

سَأَبْذُلُ دَمِي فِي سَبِيلِ سَحْقِ الأُمَّةِ المَلْعُونَةِ …

سَأُحَارِبُ الدِّيَانَةِ الإِسْلَامِيَّةِ …

سَأُقَاتِلُ بِكُلِّ قُوَّتِي لِمَحْوِ القُرْآنِ .... » (1).

 

* * *

 

وانتصرت جيوش الحقد هذه على أُمَّةِ الإسلام التي قادها أسوأ قَادَةٍ عرفهم التاريخ … اضطهدوا أممهم حتى سحقوها ..

انتصرت جيوش الغرب بعد أن ذلل لها هؤلاء الحكام السبيل …

فماذا فعلت هذه الجيوش؟ ..

--------------------------------------------

(1) " القومية والغزو الفكري ": ص 208.
আধুনিক সেনাবাহিনী এবং এক নতুন চিন্তাধারা নিয়ে... তাদের লক্ষ্য ছিল ইসলামকে নতুনভাবে ধ্বংস করা...

 

তাদের সৈনিক যখন রণসজ্জায় সজ্জিত হয়ে মুসলিম ভূখণ্ডগুলো উপনিবেশে পরিণত করতে আসছিল, তখন সে উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলছিল:

«মা গো …

তোমার সালাত পূর্ণ করো.. কেঁদো না..

বরং হাসো এবং ভাবো..

আমি ত্রিপোলির অভিমুখে যাচ্ছি …

পরম হর্ষ ও আনন্দের সাথে..

অভিশপ্ত উম্মাহকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করার পথে আমি আমার রক্ত বিলিয়ে দেব …

আমি ইসলামি ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব …

কুরআনকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করব.... » (১)।

 

* * *

 

ঘৃণা ও বিদ্বেষের এই বাহিনীগুলো মুসলিম উম্মাহর ওপর বিজয় লাভ করল, যাদের নেতৃত্বে ছিল ইতিহাসের নিকৃষ্টতম নেতৃবৃন্দ … তারা নিজ জাতিগুলোকে এমনভাবে নিপীড়ন করেছে যে তাদের চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে..

পাশ্চাত্যের সেনাবাহিনীগুলো তখনই বিজয়ী হয়েছে যখন এই শাসকরা তাদের জন্য পথ সুগম করে দিয়েছিল …

অতঃপর এই সেনাবাহিনীগুলো কী করেছিল? ..

--------------------------------------------

(১) "আল-কাওমিয়্যাহ ওয়াল গাজওয়ুল ফিকরি": পৃষ্ঠা ২০৮।
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ৯)
استباحت الأمة كلها، هدمت المساجد، أو حولتها إلى كنائس، ثم أحرقت مكتبات المسلمين .. ثم أحرقت الشعوب نفسها.

لنقرأ ما كتبه كتّابهم أنفسهم حول ما فعلوه أو يفعلونه بالمسلمين، ولن نستعرض هنا إلا بعض النماذج فقط .. من أنحاء مختلفة من عالمنا الإسلامي المستباح:

 

‌‌1 - فِي الأَنْدَلُسِ:

تقول الدكتورة سيجريد هونكه:

«فِي 2 يَنَايِرْ 1492 م رَفَعَ الكَارْدِينَالْ (دَبِيدَرْ) الصَّلِيبَ عَلَى الحَمْرَاءِ، القَلْعَةَ المَلَكِيَّةَ لِلأُسْرَةِ النَّاصِرِيَّةَ، فَكَانَ إِعْلَانًا بِانْتِهَاءِ حُكْمِ المُسْلِمِينَ عَلَى أَسْبَانِيَا».

 

وبانتهاء هذا الحكم ضاعت تلك الحضارة العظيمة التي بسطت سلطانها على أوروبا طوال العصور الوسطى، وقد احترمت المسيحية المنتصرة اتفاقاتها مع المسلمين لفترة وجيزة، ثم باشرت عملية القضاء على المسلمين وحضارتهم وثقافتهم.

 

لقد حُرِّمَ الإِسْلَامُ على المسلمين، وفرض عليهم تركه، كما حُرِّمَ عليهم استخدام اللغةَ العربية، والأسماء العربية، وارتداء اللباس العربي، ومن يخالف ذلك كَانَ يُحْرَقُ حَيًّا بعد أن يُعَذَّبَ أشد العذاب. (2)

--------------------------------------------

(2) " القومية ": ص 174.
সমগ্র উম্মাহকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, মসজিদসমূহ ধ্বংস করা হয়েছে অথবা সেগুলোকে গির্জায় রূপান্তরিত করা হয়েছে, এরপর মুসলমানদের পাঠাগারসমূহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে... অতঃপর স্বয়ং জাতিসমূহকেও পুড়িয়ে মারা হয়েছে।

আসুন আমরা পড়ি তাদের লেখকরা মুসলমানদের প্রতি তাদের কৃত বা বর্তমান কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কী লিখেছেন। এখানে আমরা আক্রান্ত মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কেবল কয়েকটি নমুনা পর্যালোচনা করব:

 

‌‌১ - আন্দালুসে:

ডক্টর সিগ্রিড হুনকে বলেন:

«২ জানুয়ারি ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দে কার্ডিনাল (ডেবিডার) আল-হামরা তথা নাসরি রাজবংশের রাজকীয় দুর্গের ওপর ক্রুশ উত্তোলন করেন, যা ছিল স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসান ঘটার একটি ঘোষণা।»

 

এই শাসনের অবসানের সাথে সাথে সেই মহান সভ্যতা হারিয়ে যায় যা মধ্যযুগ জুড়ে ইউরোপে নিজ কর্তৃত্ব বিস্তার করেছিল। বিজয়ী খ্রিস্টান শক্তি স্বল্প সময়ের জন্য মুসলমানদের সাথে তাদের চুক্তিগুলো সম্মান করেছিল, কিন্তু এরপর তারা মুসলমানদের এবং তাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে নির্মূল করার প্রক্রিয়া শুরু করে।

 

মুসলমানদের জন্য ইসলামকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং তা ত্যাগ করা তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অনুরূপভাবে তাদের জন্য আরবি ভাষা ব্যবহার, আরবি নাম রাখা এবং আরবি পোশাক পরিধান করা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যে ব্যক্তি এর লঙ্ঘন করত তাকে চরম নির্যাতনের পর জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হতো। (২)

--------------------------------------------

(২) "আল-কাওমিয়্যাহ": পৃষ্ঠা ১৭৪।
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ১০)
وهكذا انتهى وجود الملايين من المسلمين في الأندلس فلم يبق في أسبانيا مسلم واحد يُظْهِرُ دينه.

 

لكن كيف كانوا يعذبون؟!! .. هل سمعت بدواوين التفتيش .. إن لم تكن قد سمعت فتعال أعرفك عليها.

 

بعد مرور أربعة قرون على سقوط الأندلس، أرسل نابليون حملته إلى أسبانيا وأصدر مرسومًا سَنَةَ 1808 م بإلغاء دواوين التفتيش في المملكة الأسبانية.

 

تحدث أحد الضباط الفرنسيين فقال:

«أَخَذْنَا حَمْلَةً لتَفْتِيشِ أَحَدِ الأَدْيِرَةِ التِي سَمِعْنَا أََنَّ فِيهَا دِيوَانَ تَفْتِيشٍ، وَكَادَتْ جُهُودُنَا تَذْهَبُ سُدًى وَنَحْنُ نُحَاوِلُ العُثُورَ عَلَى قَاعَاتِ التَّعْذِيبِ، إِنَّنَا فَحَصْنَا الدَّيْرَ وَمَمَرَّاتِهِ وَأَقْبِيَتِهِ كُلَّهَا. فَلَمْ نَجِدْ شَيْئًا يَدُلُّ عَلَى وُجُودِ دِيوَانٍ لِلْتَفْتِيشِ. فَعَزَمْنَا عَلَى الخُرُوج مِنَ الدَّيْرِ يَائِسِينَ، كَانَ الرُّهْبَانُ أَثْنَاءَ التَفْتِيشِ يُقْسِمُونَ وَيُؤَكِّدُونَ أَنَّ مَا شَاعَ عَنْ دَيْرِهِمْ لَيْسَ إِلَاّ تُهَمًا بَاطِلَةً، وَأَنْشَأَ زَعِيمُهُمْ يُؤَكِّدُ لَنَا بَرَاءَتَهُ وَبَرَاءَةَ أَتْبَاعِهِ بِصَوْتٍ خَافَتٍ وَهُوَ خَاشِعُ الرَّأْسِ، تُوشِكُ عَيْنَاهُ أَنْ تَطْفُرَ بِالدُّمُوعِ، فَأُعْطَِيَتْ الأَوَامِرُ لِلْجُنُودِ بِالاِسْتِعْدَادِ لِمُغَادَرَةِ الدَّيْرِ، لَكِنَّ اللَّفْتِنَانْتْ " دِي لِيلْ " اِسْتَمْهَلَنِي قَائِلاً: " أَيَسْمَحُ لِي الكُولُونِيلْ أَنْ أُخْبِرَهُ أَنَّ مُهِمَّتَنَا لَمْ تَنْتَهِ حَتَّى الآنَ؟!!. قُلْتُ لَهُ: فَتَّشْنَا الدَّيْرَ كُلَّهُ،
এভাবে আন্দালুসে লক্ষ লক্ষ মুসলমানের অস্তিত্বের অবসান ঘটে, ফলে স্পেনে এমন একজন মুসলমানও অবশিষ্ট ছিল না যে প্রকাশ্যে নিজ ধর্ম পালন করতে পারত।

 

কিন্তু তাদের কীভাবে নির্যাতন করা হতো?!! আপনি কি ‘ইনকুইজিশন কোর্ট’ (তদন্ত আদালত) সম্পর্কে শুনেছেন? আপনি যদি না শুনে থাকেন, তবে আসুন আমি আপনাকে সেগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিই।

 

আন্দালুসের পতনের চার শতাব্দী পর, নেপোলিয়ন স্পেনে তার অভিযান প্রেরণ করেন এবং ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে স্পেনীয় সাম্রাজ্যে ইনকুইজিশন কোর্ট বিলুপ্ত করার একটি ফরমান জারি করেন।

 

জনৈক ফরাসি সামরিক কর্মকর্তা বর্ণনা করেন:

«আমরা একটি মঠ তল্লাশির উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করি যেখানে ইনকুইজিশন কোর্ট রয়েছে বলে আমাদের জানা ছিল। নির্যাতন কক্ষগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টায় আমাদের সকল প্রচেষ্টা প্রায় ব্যর্থ হতে চলেছিল; আমরা মঠটি, এর করিডোর এবং এর সকল ভূগর্ভস্থ কক্ষগুলো পরীক্ষা করি। কিন্তু ইনকুইজিশন কোর্টের অস্তিত্বের সপক্ষে কোনো প্রমাণ খুঁজে পাইনি। ফলে আমরা হতাশ হয়ে মঠ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেই। তল্লাশিকালে সন্ন্যাসীরা শপথ করে বলছিলেন যে, তাদের মঠ সম্পর্কে যা রটেছে তা বাতেল (باطل) অপবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের নেতা অবনত মস্তকে এবং অশ্রুসজল চোখে অত্যন্ত ক্ষীণ স্বরে আমাদের নিকট তার ও তার অনুসারীদের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে শুরু করেন। তখন সৈন্যদের মঠ ত্যাগের প্রস্তুতির আদেশ দেওয়া হলো, কিন্তু লেফটেন্যান্ট 'ডি লিল' আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন: 'কর্নেল কি আমাকে বলার অনুমতি দেবেন যে আমাদের অভিযান এখনও শেষ হয়নি?!' আমি তাকে বললাম: আমরা তো পুরো মঠই তল্লাশি করেছি,
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ১১)
وَلَمْ نَكْتَشِفْ شَيْئًا مُرٍيبًا. فَمَاذَا تُرِيدُ يَا لَفِتْنَانْتْ؟!» .. قَالَ: «إِنَّنِي أَرْغَبُ أَنْ أَفْحَصَ أَرْضِيَّةَ هَذِهِ الغُرَفِ فَإِنَّ قَلْبِي يُحَدِّثُنِي بِأَنَّ السِرَّ تَحْتَهَا».

 

«عِنْدَ ذَلِكَ نَظَرَ الرُّهْبَانُ إِلَيْنَا نَظَرَاتٍ قَلِقَةٍ، فَأَذِنْتُ لِلْضَّابِطِ بِالبَحْثِ، فَأَمَرَ الجُنُودَ أَنْ يَرْفَعُوا السَجَاجِيدَ الفَاخِرَةَ عَنْ الأَرْضِ، ثُمَّ أَمَرَهُمْ أَنْ يَصُبَّوا المَاءَ بِكَثْرَةٍ فِي أَرْضِ كُلِّ غُرْفَةٍ عَلَى حِدَةٍ - وَكُنَّا نَرْقُبُ المَاءَ - فَإِذَا بِالأَرْضِ قَدْ اِبْتَلَعَتْهُ فِي إِحْدَى الغُرَفِ. فَصَفَّقَ الضَّابِطُ "دِي لِيلْ" مِنْ شِدَّةِ فَرَحِهِ، وَقَالَ: «هَا هُوَ البَابُ، انْظُرُوا»، فَنَظَرْنَا فَإِذَا بِالبَابِ قَدْ اِنْكَشَفَ، كَانَ قِطْعَةً مِنْ أَرْضِ الغُرْفَةِ، يُفْتَحُ بِطَرِيقَةٍ مَاكِرَةٍ بِوَاسِطَةِ حَلَقَةٍ صَغِيرَةٍ وُضِعَتْ إِلَى جَانِبِ رِجْلِ مَكْتَبِ رَئِيسِ الدِّيرِ.

 

أَخَذَ الجُنُودُ يَكْسِرُونَ البَابَ بِقُحُوفِ البَنَادِقِ، فَاصْفَرَّتْ وُجُوهُ الرُّهْبَانِ، وَعَلَتْهَا الغَبَرَةُ.

وَفُُتِحَ البَابُ، فَظَهَرَ لَنَا سُلَّمٌ يُؤَدِّي إِلَى بَاطِنِ الأَرْضِ، فَأَسْرَعْتُ إِلَى شَمْعَةٍ كَبِيرَةٍ يَزِيدُ طُولُهَا عَلَى مِتْرٍ، كَانَتْ تُضِئُ أَمَامَ صُورَةِ أَحَدِ رُؤَسَاءِ مَحَاكِمِ التَّفْتِيشِ السَّابِقِينَ، وَلَمَّا هَمَمْتُ بِالنُّزُولِ، وَضَعَ رَاهِبٌ يَسُوعِيٌّ يَدَهُ عَلَى كَتِفِي مُتَلَطِّفًا، وَقَالَ لِي: «يَابُنَيَّ، لَا تَحْمِلْ هَذِهِ الشَّمْعَةَ بِيَدِكَ المُلَوَّثَةَ بِدَمِ القِتَالِ، إِنَّهَا شَمْعَةٌ مُقَدَّسَةٌ».
আমরা সন্দেহজনক কিছুই খুঁজে পাইনি। লেফটন্যান্ট, আপনি কী চান?!” .. তিনি বললেন: “আমি এই কক্ষগুলোর মেঝে পরীক্ষা করতে চাই, কারণ আমার মন বলছে যে রহস্যটি এর নিচেই নিহিত রয়েছে।”

 

“তখন সন্ন্যাসীরা আমাদের দিকে উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে তাকাল, ফলে আমি অফিসারকে অনুসন্ধানের অনুমতি দিলাম। তিনি সৈন্যদের মেঝে থেকে দামী গালিচাগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন, এরপর প্রতিটি কক্ষের মেঝেতে আলাদাভাবে প্রচুর পরিমাণে পানি ঢালার আদেশ দিলেন—আমরা পানির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলাম—হঠাৎ দেখা গেল একটি কক্ষে মেঝে পানি শুষে নিয়েছে। অফিসার ‘ডি লিল’ অত্যন্ত আনন্দের আতিশয্যে হাততালি দিয়ে উঠলেন এবং বললেন: ‘এই যে দরজা, দেখুন’। আমরা তাকালাম এবং দেখলাম যে দরজাটি উন্মোচিত হয়েছে; এটি ছিল কক্ষের মেঝের একটি অংশ, যা মঠাধ্যক্ষের ডেস্কের পায়ের পাশে রাখা একটি ক্ষুদ্র আংটার সাহায্যে অত্যন্ত চতুরতার সাথে খোলা যেত।”

 

সৈন্যরা বন্দুকের কুঁদো দিয়ে দরজাটি ভাঙতে শুরু করল, ফলে সন্ন্যাসীদের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল এবং তাদের চেহারা বিষণ্ণতায় ছেয়ে গেল।

দরজাটি উন্মোচিত হলো এবং আমাদের সামনে ভূগর্ভে চলে যাওয়া একটি সিঁড়ি দৃশ্যমান হলো। আমি দ্রুত এক মিটারেরও বেশি লম্বা একটি বড় মোমবাতির দিকে এগিয়ে গেলাম, যা ইনকুইজিশন আদালতের জনৈক প্রাক্তন প্রধানের ছবির সামনে প্রজ্বলিত ছিল। যখন আমি নিচে নামার উদ্যোগ নিলাম, তখন একজন জেসুইট সন্ন্যাসী অত্যন্ত বিনম্রভাবে আমার কাঁধে হাত রাখলেন এবং বললেন: “হে বৎস, যুদ্ধের রক্তে রঞ্জিত হাতে এই মোমবাতিটি স্পর্শ করো না; এটি একটি পবিত্র মোমবাতি।”
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ১২)
قُلْتُ لَهُ: «يَا هَذَا إِنَّهُ لَا يَلِيقُ بِيَدِي أَنْ تَتَنَجَّسَ بِلَمْسِ شَمْعَتِكُمْ المُلَطَّخَةُ بِدَمِ الأَبْرِيَاءِ، وَسَنَرَى مَنْ النَّجِسَ فِينَا، وَمَنْ القَاتِلَ السَفَّاكَ!؟!».

 

وَهَبَطْتُ عَلَى دَرَجِ السُلَّمِ يَتْبَعُنِي سَائِرُ الضُبَّاطِ وَالجُنُودِ، شَاهِرِينَ سُيُوفَهُمْ حَتَّى وَصَلْنَا إِلَى آخِرِ الدَّرَجِ، فَإِذَا نَحْنُ فِي غُرْفَةٍ كَبِيرَةٍ مُرْعِبَةٍ، وَهِيَ عِنْدَهُمْ قَاعَةَ المَحْكَمَةِ، فِي وَسَطِهَا عَمُودٌ مِنَ الرُّخَامِ، بِهِ حَلَقَةٌ حَدِيدِيَّةٌ ضَخْمَةٌ، وَرُبِطَتْ بِهَا سَلَاسِلُ مِنْ أَجْلِ تَقْيِيدِ المُحَاكَمِينَ بِهَا.

 

وَأَمَامَ هَذَا العَمُودِ كَانَتْ المَصْطَبَةُ التِي يَجْلِسُ عَلَيْهَا رَئِيسُ دِيوَانِ التَّفْتِيشِ وَالقُضَاةِ لِمُحَاكَمَةِ الأَبْرِيَاءِ. ثُمَّ تَوَجَّهْنَا إِلَى غُرَفِ التَّعْذِيبِ وَتَمْزِيقِ الأَجْسَامِ البَشَرِيَّةِ التِي اِمْتَدَّتْ عَلَى مَسَافَاتٍ كَبِيرَةٍ تَحْتَ الأَرْضِ.

 

رَأَيْتُ فِيهَا مَا يَسْتَفِزُّ نَفْسِي، وَيَدْعُونِي إِلَى القُشَعْرِيرَةِ وَالتَّقَزُّزِ طِوَالَ حَيَاتِي.

 

رَأَيْنَا غُرَفًا صَغِيرَةً فِي حَجْمِ جِسْمِ الإِنْسَانِ، بَعْضُهَا عَمُودِيٌّ وَبَعْضُهَا أُفُقِيٌّ، فَيَبْقَى سَجِينَ الغُرَفِ العَمُودِيَّةِ وَاقِفًا عَلَى رِجْلَيْهِ مُدَّةَ سِجْنِهِ حَتَّى يَمُوتَ، وَيَبْقَى سَجِينَ الغُرَفِ الأُفُقِيَّةِ مُمَدَّدًا بِهَا حَتَّى المَوْتِ، وَتَبْقَى الجُثَثُ فِي السِّجْنِ الضَيِّقِ حَتَّى تَبْلَى، وَيَتَسَاقَطَ اللَّحْمُ عَنْ العَظْمِ، وَتَأْكُلَهُ الدِّيدَانُ. وَلِتَصْرِيفِ الرَّوَائِحَ الكَرِيهَةِ المُنْبَعِثَةِ
আমি তাকে বললাম: «হে ব্যক্তি, নির্দোষদের রক্তে রঞ্জিত তোমাদের মোমবাতি স্পর্শ করে আমার হাত অপবিত্র করা আমার জন্য শোভনীয় নয়। আমরা শীঘ্রই দেখতে পাব আমাদের মধ্যে কে অপবিত্র এবং কে রক্তপিপাসু খুনি!?!»

 

আমি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেলাম, অন্য সমস্ত অফিসার এবং সৈন্যরা তাদের তলোয়ার উন্মুক্ত করে আমার অনুসরণ করছিল। শেষ ধাপে পৌঁছানোর পর দেখলাম আমরা একটি বিশাল ও ভয়ংকর কক্ষে রয়েছি, যা তাদের কাছে ছিল আদালত কক্ষ। এর মাঝখানে মার্বেল পাথরের একটি স্তম্ভ ছিল, যাতে একটি বিশাল লোহার আংটা লাগানো ছিল এবং বিচারপ্রার্থীদের বেঁধে রাখার জন্য তাতে শিকল যুক্ত ছিল।

 

এই স্তম্ভের সামনে ছিল সেই মঞ্চ, যেখানে ইনকুইজিশন (তদন্ত পরিষদ) প্রধান এবং বিচারকগণ নির্দোষদের বিচার করার জন্য বসতেন। এরপর আমরা নির্যাতন এবং মানবদেহ ছিন্নভিন্ন করার কক্ষগুলোর দিকে অগ্রসর হলাম, যা ভূগর্ভের বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল।

 

সেখানে আমি এমন কিছু দেখলাম যা আমার আত্মাকে বিচলিত করে তুলল এবং সারা জীবনের জন্য আমাকে শিউরে উঠতে ও ঘৃণা বোধ করতে বাধ্য করল।

 

আমরা মানুষের দেহের সমান ছোট ছোট কিছু কক্ষ দেখলাম, যার কিছু ছিল উলম্ব এবং কিছু ছিল আনুভূমিক। উলম্ব কক্ষের বন্দীরা তাদের বন্দিদশার পুরোটা সময় মৃত্যু পর্যন্ত দুই পায়ে দাঁড়িয়ে থাকত এবং আনুভূমিক কক্ষের বন্দীরা মৃত্যু পর্যন্ত সেখানে শুয়ে থাকত। এই সংকীর্ণ কারাগারে লাশগুলো পচে যাওয়া, হাড় থেকে মাংস খসে পড়া এবং পোকা-মাকড় না খাওয়া পর্যন্ত পড়ে থাকত। নির্গত দুর্গন্ধ দূর করার জন্য...
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ১৩)
مِنْ جُثَثِ المَوْتَى فَتَحُوا نَافِذَةً صَغِيرَةً إِلَى الفَضَاءِ الخَارِجِيِّ.

وَقَدْ عَثَرْنَا فِي هَذِهِ الغُرَفِ عَلَى هَيَاكِلَ بَشَرِيَّةٍ مَا زَالَتْ فِي أَغْلَالِهَا.

 

كَانَ السُّجَنَاءُ رِجَالاً وَنِسَاءً، تَتَرَاوَحُ أَعْمَارُهُمْ مَا بَيْنَ الرَّابِعَةَ عَشْرَةَ وَالسَّبْعِينَ. وَقَدْ اِسْتَطَعْنَا إِنْقَاذَ عَدَدٍ مِنَ السُّجَنَاءِ الأَحْيَاءِ، وَتَحْطِيمِ أَغْلَالِهِمْ، وَهُمْ فِي الرَّمَقِ الأَخِيرِ مِنَ الحَيَاةِ.

 

كَانَ بَعْضُهُمْ قَدْ أَصَابَهُ الجُنُونُ مِنْ كَثْرَةِ مَا صَبُّوا عَلَيْهِ مِنْ عَذَابٍ، وَكَانَ السُّجَنَاءُ جَمِيعًا عَرَايَا، حَتَّى اضْطُرَّ جُنُودُنَا إِلَى أَنْ يَخْلِعُوا أَرْدِيَتَهُمْ وَيَسْتُرُوا بِهَا بَعْضَ السُّجَنَاءِ.

 

أَخْرَجْنَا السُّجَنَاءَ إِلَى النُّورِ تَدْرِيجِيًّا حَتَّى لَا تَذْهَبَ أَبْصَارُهُمْ، كَانُوا يَبْكُونَ فَرَحًا، وَهُمْ يُقَبِّلُونَ أَيْدِي الجُنُودِ وَأَرْجُلَهُمْ الذِينَ أَنْقَذُوهُمْ مِنَ العَذَابِ الرَّهِيبِ، وَأَعَادُوهُمْ إِلَى الحَيَاةِ، كَانَ مَشْهَدًا يُبْكِي الصُّخُورَ.

 

ثُمَّ اِنْتَقَلْنَا إِلَى غُرَفٍ أُخْرَى، فَرَأَيْنَا فِيهَا مَا تَقْشَعِرُّ لِهَوْلِهِ الأَبْدَانُ، عَثَرْنَا عَلَى آلَاتٍ رَهِيبَةٍ لِلْتَّعْذِيبِ، مِنْهَا آلَاتٌ لِتَكْسِيرِ العِظَامِ، وَسَحْقِ الجِسْمِ البَشَرِيِّ، كَانُوا يَبْدَأُونَ بِسَحْقِ عِظَامِ الأَرْجُلِ، ثُمَّ عِظَامِ الصَّدْرِ وَالرَّأْسِ وَاليَدَيْنِ تَدْرِيجِيًّا، حَتَّى يُهَشَّمَ الجِسْمُ كُلَّهُ، وَيَخْرُجَ مِنَ
মৃতদেহের স্তূপ থেকে তারা বহির্জগতের দিকে একটি ক্ষুদ্র জানালা উন্মোচন করেছিল।

আমরা এই কক্ষগুলোতে মানুষের কঙ্কাল খুঁজে পেয়েছি, যেগুলো তখনও শৃঙ্খলিত অবস্থায় ছিল।

 

বন্দিরা ছিল নারী ও পুরুষ, যাদের বয়স ছিল চৌদ্দ থেকে সত্তর বছরের মধ্যে। আমরা জীবিত কিছু বন্দিকে উদ্ধার করতে এবং তাদের শিকল ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছি, যখন তারা ছিল জীবনের অন্তিম মুহূর্তে।

 

তাদের ওপর করা অমানুষিক নির্যাতনের আতিশয্যে তাদের কেউ কেউ উন্মাদ হয়ে পড়েছিল এবং সকল বন্দিই ছিল নগ্ন, এমনকি আমাদের সৈন্যরা তাদের পরিধেয় বস্ত্র খুলে কিছু বন্দিকে আবৃত করতে বাধ্য হয়েছিল।

 

আমরা বন্দিদের পর্যায়ক্রমে আলোর দিকে বের করে নিয়ে আসি যাতে তাদের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট না হয়ে যায়; তারা আনন্দে রোদন করছিল এবং সেই সৈন্যদের হাত ও পায়ে চুম্বন করছিল যারা তাদেরকে ভয়ংকর আজাব থেকে উদ্ধার করে জীবনে ফিরিয়ে এনেছিল। এটি এমন এক দৃশ্য ছিল যা পাথরকেও বিদীর্ণ করে কাঁদিয়ে দিত।

 

অতঃপর আমরা অন্য কক্ষগুলোতে প্রবেশ করলাম, সেখানে এমন বীভৎসতা দেখলাম যা দেখে আতঙ্কে শরীর শিউরে ওঠে। আমরা সেখানে নির্যাতনের ভয়ংকর সব যন্ত্রপাতি খুঁজে পেলাম, যার মধ্যে হাড় চূর্ণ করার এবং মানবদেহ পিষ্ট করার যন্ত্রও ছিল। তারা পর্যায়ক্রমে পদযুগলের হাড় গুঁড়ো করার মাধ্যমে শুরু করত, এরপর বক্ষপিঞ্জর, মস্তক এবং হস্তদ্বয়ের হাড় চূর্ণ করত, যতক্ষণ না সমগ্র দেহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেত এবং থেকে...
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ১৪)
الجَانِبِ الآخَرِ كُتْلَةٌ مِنَ العِظَامِ المَسْحُوقَةِ، وَالدِّمَاءِ المَمْزُوجَةِ بِاللَّحْمِ المَفْرُومِ، هَكَذَا كَانُوا يَفْعَلُونَ بِالسُّجَنَاءِ الأَبْرِيَاءِ المَسَاكِينِ.

 

ثُمَّ عَثَرْنَا عَلَى صُنْدُوقٍ فِي حَجْمِ جِسْمِ رَأْسِ الإِنْسَانِ تَمَامًا، يُوضَعُ فِيهِ رَأْسُ الذِي يُرِيدُونَ تَعْذِيبَهُ بَعْدَ أَنْ يَرْبِطُوا يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ بِالسَّلَاسِلِ وَالأَغْلَالِ حَتَّى لَا يَسْتَطِيعَ الحَرَكَةَ، وَفِي أَعْلَى الصُّنْدُوقِ ثُقْبٌ تَتَقَاطَرُ مِنْهُ نُقَطَ المَاءِ البَارِدِ عَلَى رَأْسِ المِسْكِينِ بِانْتِظَامٍ، فِي كُلِّ دَقِيقَةٍ نُقْطَةٌ، وَقَدْ جُنَّ الكَثِيرُونَ مِنْ هَذَا اللَّوْنِ مِنَ العَذَابِ، وَيَبْقَى المُعَذَّبُ عَلَى حَالِهِ تِلْكَ حَتَّى يَمُوتَ.

 

وَآلَةٌ أُخْرَى لِلْتَّعْذِيبِ عَلَى شَكْلِ تَابُوتٍ تُثَبَّتُ فِيهِ سَكَاكِينُ حَادَّةٍ.

كَانُوا يُلْقُونَ الشَّابَّ المُعَذَّبَ فِي هَذَا التَّابُوتِ، ثُمَّ يُطْبِقُونَ بَابَهُ بِسَكَاكِينِهِ وَخَنَاجِرِهِ. فَإِذَا أُغْلِقَ مُزِّقَ جِسْمُ المُعَذَّبِ المِسْكِينِ، وَقَطَّعَهُ إِرَبًا إِرَبًا.

 

كَمَا عَثَرْنَا عَلَى آلَاتٍ كاَلكَلَالِيبِ تُغْرَزُ فِي لِسَانِ المُعَذَّبِ ثُمَّ تُشَدُّ لِيَخْرُجَ اللِّسَانُ مَعَهَا، لِيُقَصَّ قِطْعَةً قِطْعَةً، وَكَلَالِيبَ تُغْرَسُ فِي أَثًدَاءِ النِّسَاءِ وَتُسْحَبَ بِعُنْفٍ حَتَّى تَتَقَطَّعَ الأَثْدَاءُ أَوْ تُبْتَرَ بِالسَّكَاكِينِ.

وَعَثَرْنَا عَلَى سِيَاطٍ مِنَ الحَدِيدِ الشَّائِكِ يُضْرَبُ بِهَا
অপরপার্শ্বে চূর্ণ-বিচূর্ণ অস্থির স্তূপ এবং কিমা করা মাংসের সাথে মিশ্রিত রক্ত; এভাবেই তারা নিরপরাধ ও অসহায় বন্দিদের সাথে আচরণ করত।

 

এরপর আমরা মানুষের মাথার ঠিক সমপরিমাণ একটি সিন্দুকের সন্ধান পেলাম, যাতে ওই ব্যক্তির মাথা রাখা হতো যাকে তারা নির্যাতন করতে চাইত। এর আগে তারা তার হাত ও পা শিকল ও বেড়ি দিয়ে এমনভাবে বেঁধে রাখত যেন সে নড়াচড়া করতে না পারে। সিন্দুকের উপরের অংশে একটি ছিদ্র ছিল যেখান থেকে নিয়মিতভাবে অসহায় লোকটির মাথার ওপর ঠাণ্ডা পানির ফোঁটা পড়ত—প্রতি মিনিটে এক ফোঁটা। নির্যাতনের এই পন্থার কারণে অনেকে পাগল হয়ে যেত এবং নির্যাতিত ব্যক্তিটি তার ওই অবস্থাতেই পড়ে থাকত যতক্ষণ না সে মারা যেত।

 

এবং নির্যাতনের জন্য কফিনের আকৃতির অন্য একটি যন্ত্র ছিল যাতে ধারালো ছুরিগুলো বসানো থাকত।

তারা নির্যাতিত যুবককে এই কফিনের মধ্যে নিক্ষেপ করত, এরপর এর দরজাটি এর ভেতরের ছুরি ও খঞ্জরসহ বন্ধ করে দিত। যখন এটি বন্ধ করা হতো, তখন অসহায় নির্যাতিত ব্যক্তির শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যেত এবং তাকে টুকরো টুকরো করে ফেলত।

 

এছাড়াও আমরা বড় বড় আঁকশির মতো কিছু যন্ত্র খুঁজে পেলাম যা নির্যাতিত ব্যক্তির জিহ্বায় গেঁথে দেওয়া হতো এবং এরপর জোরে টানা হতো যেন এর সাথে জিহ্বাটি বেরিয়ে আসে এবং তা টুকরো টুকরো করে কাটা যায়। আবার এমন সব আঁকশিও ছিল যা নারীদের স্তনে গেঁথে দিয়ে সজোরে টানা হতো যতক্ষণ না স্তন ছিঁড়ে যেত অথবা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করে ফেলা হতো।

এবং আমরা কাঁটাযুক্ত লোহার তৈরি চাবুক খুঁজে পেলাম যা দিয়ে আঘাত করা হতো।
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
المُعَذَّبُونَ وَهُمْ عُرَاةٌ حَتَّى تَتَفَتَّتُ عِظَامُهُمْ، وَتَتَنَاثَرُ لُحُومُهُمْ» (3).

 

هذا العذاب كان مُوَجَّهًا ضد الطوائف المخالفة من المسيحيين فماذا كانوا يفعلون بالمسلمين؟؟ … أشد وأنكى لا شك.

 

* * *

 

‌‌2 - دَوَاوِينُ التَّفْتِيشِ فِي البِلَادِ الإِسْلَامِيَّةِ:

ويبدو أن دواوين التفتيش هذه قد انتقلت إلى بقاع العالم الإسلامي، ليسلطها حكام مجرمون فجرة على شعوبهم. فقد ذكر لي شاهد عيان بعض أنواع التعذيب التي كانت تُنَفَّذُ في أحد البلدان الإسلامية ضد مجموعة من العلماء المجاهدين فقال:

«بَعْدَ يَوْمٍ مِنَ التَّعْذِيبِ الشَّدِيدِ سَاقَنَا الزَّبَانِيَةُ بِالسِّيَاطِ إِلَى زَنْزَانَاتِنَا، وَأَمَرَنَا الجَلَاّدُونَ أَنْ نَسْتَعِدَّ لِيَوْمٍ آخَرَ شَدِيدٍ … صَبَاحَ اليَوْمِ التَّالِي أَمَرَنَا الجَلَاّدُونَ أَنْ نَخْرُجَ فَوْرًا، كُنَّا نَسْتَجْمِعُ كُلَّ قُوَّتِنَا فِي أَقْدَامِنَا الوَاهِنَةِ هَرَبًا

--------------------------------------------

(3) " محاكم التفتيش " للدكتور علي مظهر. نقلاً عن كتاب " التعصب والتسامح " للأستاذ محمد الغزالي. صفحات 311 - 318 باختصار.
«যারা নগ্ন অবস্থায় শাস্তিপ্রাপ্ত হচ্ছিল, যতক্ষণ না তাদের হাড়গুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছিল এবং তাদের গোশত ছিন্নভিন্ন হয়ে ঝরে পড়ছিল» (৩)।

 

এই শাস্তি খ্রিস্টানদের মধ্যকার বিরোধী উপদলগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল; তবে তারা মুসলিমদের সাথে কী করত?? ... নিঃসন্দেহে তা ছিল আরও কঠোর ও মর্মন্তুদ।

 

* * *

 

‌‌২ - ইসলামি ভূখণ্ডসমূহে ইনকুইজিশন বা তদন্ত দপ্তরসমূহ:

প্রতীতি হয় যে, এই ইনকুইজিশন দপ্তরগুলো মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্থানান্তরিত হয়েছে, যাতে অপরাধী ও পাপাচারী শাসকরা তাদের প্রজাদের ওপর তা চাপিয়ে দিতে পারে। জনৈক প্রত্যক্ষদর্শী একটি ইসলামি দেশে একদল সংগ্রামী আলেমদের বিরুদ্ধে পরিচালিত কিছু নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে আমাকে বলেছেন:

«এক দিন কঠোর নির্যাতনের পর কারারক্ষীরা আমাদের চাবুক দিয়ে হাঁকিয়ে কারাকক্ষে নিয়ে গেল এবং জল্লাদগণ আমাদের আরেকটি কঠোর দিনের জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দিল... পরদিন সকালে জল্লাদগণ আমাদের অবিলম্বে বেরিয়ে আসার নির্দেশ দিল, আমরা আমাদের দুর্বল পায়ে পলায়নপর অবস্থায় সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করার চেষ্টা করছিলাম...

--------------------------------------------

(৩) ড. আলী মাজহার রচিত "মাহাকিমুত তাফতিশ (তদন্ত আদালত)"। উস্তাদ মুহাম্মদ আল-গাজালি রচিত "আত-তাআস্সুব ওয়াত তাসামুহ (ধর্মান্ধতা ও সহনশীলতা)" গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত। পৃষ্ঠা ৩১১ - ৩১৮, সংক্ষেপে।
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
مِنَ السِّيَاطِ التِي كَانَتْ تَنْزِلُ عَلَيْنَا مِنْ حَرَسٍ كَانَ عَدَدُهُمْ أَكْبَرَ مِنَّا.

 

وَأَخِيرًا أَوْقَفُونَا فِي سَهْلٍ صَحْرَاوِيٍّ، تَحَتَ أَشِعَّةِ الشَّمْسِ اللَاّهِبَةِ، حَوْلَ كَوْمَةٍ مِنَ الفَحْمِ الجِيرِيِّ، كَانَ يَعْمَلُ الحَرَسُ جَاهِدِينَ لإِشْعَالِهِ، وَقُرْبَ النَّارِ مَصْلَبَةٌ خَشَبِيَّةٌ تَسْتَنِدُ إِلَى ثَلَاثَةِ أَرْجُلٍ.

 

اِشْتَعَلَتْ كَوْمَةُ الفَحْمِ الحَجَرِيِّ حَتَّى اِحْمَرَّتْ، فَجْأَةً سَمِعْنَا شَتَائِمَ تَأْتِي مِنْ بَعِيدٍ، اِلْتَفَتْنَا فَوَجَدْنَا خَمْسَةً مِنَ الحَرَسِ يَقُودُونَ شَابًّا عَرَفَهُ بَعْضُنَا، كَانَ اسْمُهُ "جَاوِيدْ خَانْ إِمَامِي" أَحَدَ عُلَمَاءِ ذَلِكَ البَلَدِ.

 

اِمْتَلأَ الأُفُقُ بِنُبَاحِ كِلَابٍ مَجْنُونَةٍ، رَأَيْنَا عَشْرَةً مِنَ الحَرَسِ يَقُودُونَ كَلْبَيْنِ، يَبْلُغُ ارْتِفَاعُ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِتْرًا، عَلِمْنَا بَعْدَ ذَلِكَ أَنَّهُمَا قَدْ حُرِمَا مِنَ الطَّعَامِ مُنْذُ يَوْمَيْنِ.

اِقْتَرَبَ الحَرَسُ بِالشَابِّ جَاوِيدْ مِنْ كَوْمَةِ النَّارِ الحَمْرَاءِ .. وَعُيُونُهُ مُغْمَضَةٌ بِحِزَامٍ سَمِيكٍ.

 

كُنَّا نَتَفَرَّجُ .. أَكْثَرُ مِنْ مِائَةِ سَجِينٍ، وَمَعَنَا أَكْثَرُ مِنْ مِائَةٍ وَخَمْسِينَ مِنَ الحَرَسِ، مَعَهُمْ البَنَادِقُ وَالرَشَّاشَاتُ. فَجْأَةً اِقْتَرَبَ مِنَ الشَابِّ جَاوِيدْ عَشْرَةً مِنَ الحُرَّاسِ، أَجْلَسُوهُ عَلَى الأَرْضِ، وَوَضَعُوا فِي حُضْنِهِ مُثَلَّثًا خَشَبِيًّا، رَبَطُوهُ إِلَيْهِ رَبْطًا مُحْكَمًا، بِحَيْثُ يَبْقَى قَاعِدًا، لَا يَسْتَطِيعُ
সেই চাবুকগুলো থেকে যা আমাদের ওপর বর্ষিত হচ্ছিল সেই কারারক্ষীদের পক্ষ থেকে যাদের সংখ্যা আমাদের চেয়েও বেশি ছিল।

 

অবশেষে তারা আমাদের একটি মরুপ্রান্তর সমভূমিতে দাঁড় করাল, প্রখর তপ্ত সূর্যের কিরণের নিচে, এক স্তূপ চুনাপাথরের কয়লার চারধারে, যা প্রজ্বলিত করার জন্য কারারক্ষীরা কঠোর পরিশ্রম করছিল। আর আগুনের পাশেই ছিল একটি কাঠের ক্রুশ যা তিনটি পায়ার ওপর দণ্ডায়মান ছিল।

 

পাথুরে কয়লার স্তূপটি প্রজ্বলিত হয়ে লাল বর্ণ ধারণ করল। হঠাৎ আমরা দূর থেকে আসা গালিগালাজ শুনতে পেলাম। আমরা তাকালাম এবং দেখলাম পাঁচজন কারারক্ষী এক যুবককে নিয়ে আসছে যাকে আমাদের কেউ কেউ চিনতেন। তার নাম ছিল "জাওয়ীদ খান ইমামি", তিনি ছিলেন সেই দেশের অন্যতম আলেম।

 

দিগন্ত ক্ষ্যাপা কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠল। আমরা দেখলাম দশজন কারারক্ষী দুটি কুকুরকে নিয়ে আসছে, যাদের প্রত্যেকের উচ্চতা ছিল প্রায় এক মিটার। আমরা পরে জানতে পারলাম যে, তাদেরকে দুই দিন ধরে খাদ্য থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল।

কারারক্ষীরা যুবক জাওয়ীদের নিয়ে সেই লোহিত অগ্নিস্তূপের নিকটে নিয়ে এলো... আর তার চোখ দুটি একটি মোটা বেল্ট দিয়ে শক্তভাবে বাঁধা ছিল।

 

আমরা দেখছিলাম... একশরও বেশি বন্দি, আর আমাদের সাথে ছিল দেড়শরও বেশি কারারক্ষী, যাদের নিকট ছিল রাইফেল ও মেশিনগান। হঠাৎ দশজন কারারক্ষী যুবক জাওয়ীদের নিকটবর্তী হলো, তারা তাকে ভূমিতে বসিয়ে দিল এবং তার কোলে একটি কাঠের ত্রিভুজ স্থাপন করল। তারা তাকে সেটির সাথে অত্যন্ত সুদৃঢ়ভাবে বেঁধে দিল, যাতে সে উপবিষ্ট অবস্থায় থাকে এবং সক্ষম না হয়...
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
أَنْ يَتَمَدَّدَ، ثُمَّ حَمَلُوهُ جَمِيعًا، وَأَجْلَسُوهُ عَلَى الجَمْرِ الأَحْمَرِ، فَصَرَخَ صَرْخَةً هَائِلَةً، ثُمَّ أُغْمِيَ عَلَيْهِ.

 

سَقَطَ مِنَّا أَكْثَرَ مِنْ نِصْفِنَا مُغْمَى عَلَيْهِمْ .. كَانُوا يَصْرُخُونَ مُتَأَلِّمِينَ .. وَعَمَّتْ رَائِحَةُ شِوَاءِ لَحْمِ جَاوِيدْ المِنْطَقَةَ كُلَّهَا، وَمِنْ حُسْنِ حَظِّي أَنَّنِي بَكَيْتُ بُكَاءً مُرًّا. لَكِنَّنِي لَمْ أُصَبْ بِالإِغْمَاءِ .. لأَرَى بَقِيَّةَ القِصَّةِ التِي هِيَ أَفْظَعَ مِنْ أَوَّلِهَا.

 

حُمِلَ الشَابُّ، وَفُكَّتْ قُيُودُهُ وَهُوَ غَائِبٌ عَنْ وَعْيِهِ، وَصُلِبَ عَلَى المَصْلَبَةِ الخَشَبِيَّةِ، وَرُبِطَ بِهَا بِإِحْكَامٍ، وَاقْتَرَبَ الجَلَاّدُونَ بِالكَلْبَيْنِ الجَائِعَيْنِ، وَفَكُّوا القُيُودَ عَنْ أَفْوَاهِهِمَا، وَتَرَكُوهُمَا يَأْكُلَانِ لَحْمَ ظَهْرَ جَاوِيدْ المَشْوِيَّ. بَدَأْتُ أَشْعُرُ بِالاِنْهِيَارِ، وَجُنِنْتُ عِنْدَمَا سَمِعْتُ صَرْخَةً خَافِتَةً تَصْدُرُ عَنْ جَاوِيدْ .. إِنَّهُ لَازَالَ حَيًّا وَالكِلَابُ تَأْكُلُ لَحْمَهُ فَقَدْتُ وَعْيِي بَعْدَهَا ..

 

لَمْ أَفِقْ إِلَاّ وَأَنَا أَصْرُخُ فِي زِنْزَانَتِي كَالمَجْنُونِ .. دُونَ أَنْ أَشْعُرَ .. جَاوِيدْ. . جَاوِيدْ. . أَكَلَتْكَ الكِلَابُ يَا جَاوِيدْ … جَاوِيدْ … كَانَ إِخْوَانِي فِي الزِّنْزَانَةِ قََدْ رَبَطُونِي وَأَحَاطُوا رَأْسِي وَفَمِي بِالأَرْبِطَةِ حَتَّى لَا يَسْمَعَ الجَلَاّدُونَ صَوْتِي فَيَكُونَ مَصِيرِي كَمَصِيرِ جَاوِيدْ، أََوْ كَمَصِيرِ شَاهَانْ خَانِي الذِي أُصِيبَ بِالهِسْتِيرْيَا مِثْلِي، فَأَصْبَحَ
শুইয়ে দেওয়া হলো, তারপর তারা সকলে মিলে তাকে তুলে লাল জ্বলন্ত কয়লার ওপর বসিয়ে দিল। তখন সে এক বীভৎস আর্তনাদ করে উঠল এবং এরপর জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।

 

আমাদের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গিয়েছিল... তারা যন্ত্রণায় চিৎকার করছিল... আর জাভিদের দেহের ঝলসানো মাংসের গন্ধ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। আমার সৌভাগ্য ছিল যে আমি অঝোরে কাঁদছিলাম, কিন্তু আমি অজ্ঞান হয়ে যাইনি... যাতে গল্পের বাকি অংশটুকু দেখতে পারি যা ছিল শুরুর অংশের চেয়েও অনেক বেশি ভয়ংকর।

 

যুবকটিকে বহন করে নিয়ে আসা হলো, অচেতন অবস্থায় তার বাঁধন খুলে দেওয়া হলো এবং কাঠের শূলে চড়ানো হলো। সেখানে তাকে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হলো। জল্লাদগণ দুটি ক্ষুধার্ত কুকুর নিয়ে এগিয়ে এল এবং তাদের মুখ থেকে বাঁধন খুলে দিল। তারা কুকুর দুটিকে জাভিদের পিঠের ঝলসানো মাংস খেতে ছেড়ে দিল। আমি ভেঙে পড়তে শুরু করলাম এবং প্রায় পাগল হয়ে গেলাম যখন জাভিদের কণ্ঠ থেকে একটি ক্ষীণ আর্তনাদ শুনতে পেলাম... কুকুরগুলো যখন তার মাংস খাচ্ছিল, তখনো সে জীবিত ছিল! এরপর আমি আমার জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম...

 

যখন আমার জ্ঞান ফিরল, আমি অবচেতন মনেই পাগলের মতো আমার কারাকক্ষে চিৎকার করছিলাম... জাভিদ... জাভিদ... কুকুরগুলো তোমাকে খেয়ে ফেলল হে জাভিদ … জাভিদ … কারাকক্ষে আমার ভাইয়েরা আমাকে বেঁধে রেখেছিল এবং আমার মাথা ও মুখ কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে দিয়েছিল যাতে জল্লাদগণ আমার কণ্ঠস্বর শুনতে না পায়। অন্যথায় আমার পরিণতিও জাভিদের মতো হতো, অথবা শাহান খানির মতো হতো যে আমার মতোই হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল, ফলে সে হয়ে গিয়েছিল...
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
يَصْرُخُ جَاوِيدْ .. جَاوِيدْ .. فَأَخَذَهُ الجَلَاّدُونَ وَوَضَعُوا فَوْقَهُ نِصْفَ بِرْمِيلٍ مَمْلُوءٌ بِالرَّمْلِ، ثُمَّ سَحَبُوهُ عَلَى الأَسْلَاكِ الشَّائِكَةِ التِي رَبَطُوهَا صَفًّا أُفُقِيًّا، فَمَاتَ بَعْدَ أَنْ تَقَطَّعَ لَحْمُهُ أَلْفَ قِطْعَةٍ، وَهُوَ يَصْرُخُ: اللهُ أَكْبَرُ .. اللهُ أَكْبَرُ .. لَا بُدَّ أَنْ نَدُوسَكُمْ أَيَّهَا الظَّالِمُونَ.

وَأَخِيرًا أُغْمِيَ عَلَيَّ.

 

فَتَحْتُ عُيُونِي .. فُوجِئْتُ أَنَّنِي فِي أَحَدِ المَشَافِي، وَفُوجِئْتُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ بِسَفِيرِ بَلَدِي يَقِفُ فَوْقَ رَأْسِي، قَالَ لِي: «كَيْفَ حَالُكَ؟ .. يَبْدُو أَنَّكَ سَتُشْفَى إِنْ شَاءَ اللهُ. لَوْ لَمْ تَكُنْ غَرِيبًا عَنْ هَذِهِ البِلَادِ لَمَا اِسْتَطَعْتُ إِخْرَاجَكَ .. » فَاجَأَنِي سَائِلاً: «لَكِنْ بِاللهِ عَلَيْكَ، قُلْ لِي، مَنْ هُوَ هَذَا جَاوِيدْ الذِي كُنْتَ تَصْرُخُ بِاسْمِهِ؟». أَخْبَرْتُهُ بِكُلِّ شَيْءٍ، فَامْتَقَعَ لَوْنُهُ حَتَّى خَشِيتُ أْنْ يُغْمَى عَلَيْهِ.

 

لَمْ نُكْمِلْ حَدِيثَنَا إِلَاّ وَالشُّرْطَةُ تَسْأَلُ عَنِّي .. اِقْتَرَبَ مِنْ سَرِيرِي ضَابِطُ بُولِيسٍ، وَسَلَّمَنِي أَمْرًا بِمُغَادَرَةِ البِلَادِ فَوْرًا. وَلَمْ تَنْجَحْ تَدَخُّلَاتِ السَّفِيرِ فِي ضَرُورَةِ إِبْقَائِي حَتَّى أُشْفَى، حَمَلُونِي وَوَضَعُونِي فِي بَاخِرَةٍ أَوْصَلَتْنِي إِلَى مِينَاءِ بَلَدِي، كُنْتُ بِثِيَابِ المُسْتَشْفَى، لَيْسَ مَعِي أَيَّ وَثِيقَةٍ تُثْبِتُ شَخْصِيَّتِي، اِتَّصَلْتُ بِأَهْلِي تِلِيفُونِيًّا، فَلَمَّا حَضَرُوا لَمْ يَعْرِفُونِي لأَوَّلِ وَهْلَةٍ، حَمَلُونِي إِلَى أَوَّلِ مَشْفَى، بَقِيتُ
জাওয়াদ চিৎকার করছিল... জাওয়াদ... এরপর জল্লাদরা তাকে ধরে নিয়ে গেল এবং তার ওপর বালু ভর্তি একটি ড্রামের অর্ধেক অংশ চাপিয়ে দিল। তারপর তারা তাকে কাঁটাতারের ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে গেল, যা তারা সমান্তরালভাবে সারিবদ্ধ করে পেতে রেখেছিল। তার দেহ সহস্র টুকরো হয়ে ছিন্নভিন্ন হওয়ার পর সে মৃত্যু বরণ করল। সে চিৎকার করে বলছিল: আল্লাহু আকবার... আল্লাহু আকবার... হে জালেমরা, আমরা তোমাদের পদদলিত করবই।

অবশেষে আমি অচেতন হয়ে পড়লাম।

 

আমি চোখ খুললাম... আমি অবাক হয়ে দেখলাম যে আমি একটি হাসপাতালে রয়েছি। এর চেয়েও বেশি অবাক হলাম যখন দেখলাম আমার দেশের রাষ্ট্রদূত আমার শিয়রে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি আমাকে বললেন: «আপনার অবস্থা কেমন? .. মনে হচ্ছে ইনশাআল্লাহ আপনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। আপনি যদি এই দেশের জন্য বিদেশি না হতেন, তবে আমি আপনাকে মুক্ত করতে পারতাম না .. » অতঃপর তিনি আমাকে প্রশ্ন করে অবাক করে দিলেন: «কিন্তু আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, আমাকে বলুন, এই জাওয়াদ ব্যক্তিটি কে যার নাম ধরে আপনি চিৎকার করছিলেন?»। আমি তাকে সব কিছু জানালাম, তাতে তার চেহারার রঙ এমন ফ্যাকাশে হয়ে গেল যে আমার ভয় হলো তিনি হয়তো মূর্ছা যাবেন।

 

আমাদের কথোপকথন শেষ হতে না হতেই পুলিশ আমার সম্পর্কে খোঁজ নিতে শুরু করল... একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমার বিছানার কাছে এলেন এবং অবিলম্বে আমাকে দেশত্যাগের একটি আদেশনামা ধরিয়ে দিলেন। আমার সুস্থ হওয়া পর্যন্ত আমাকে রাখার ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতের কোনো সুপারিশই সফল হলো না। তারা আমাকে ধরাধরি করে একটি জাহাজে তুলে দিল, যা আমাকে আমার দেশের বন্দরে পৌঁছে দিল। তখন আমি হাসপাতালের পোশাকে ছিলাম, আমার সাথে নিজের পরিচয় প্রমাণের কোনো দলিলাদি ছিল না। আমি টেলিফোনে আমার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলাম। তারা যখন আসলেন, প্রথম দর্শনে তারা আমাকে চিনতেই পারলেন না। তারা আমাকে একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলেন, সেখানে আমি অবস্থান করলাম...
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
فِيهِ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ فِي بُكَاٍء مُسْتَمِرٍّ، ثُمَّ شَفَانِي اللهُ …

وَأَنْهَى المِسْكِينُ حَدِيثَهُ قَائِلاً: «بَقِيَ أَنْ تَعْرِفَ أَنَّ مُدِيرَ السُّجُونِ يَهُودِيٌّ، وَالمَسْؤُولُ عَنْ التَّعْذِيبِ خَبِيرٌ أَلْمَانِيٌّ نَازِيٌّ، أَطْلَقَتْ تِلْكَ الحُكُومَةُ فِي ذَلِكَ البَلَدِ الإِسْلَامِيِّ يَدَهُ يَفْعَلُ فِي عُلَمَاءِ المُسْلِمِينَ كَيْفَ يَشَاءُ».

 

* * *

 

‌‌3 - وَمِنَ الحَبَشَةِ أَمْثِلَةٌ أُخْرَى:

استولت الحبشة على أرتيريا المسلمة بتأييد من فرنسا وإنكلترا .. فماذا فعلت فيها؟!! ..

صادرت معظم أراضيها، وأسلمتها لإقطاعيين من الحبشة، كان الإقطاعي والكاهن مخولين بقتل أي مسلم دون الرجوع إلى السلطة، فكان الإقطاعي أو الكاهن يشنق فلاحيه أو يعذبهم في الوقت الذي يريد …

 

فُتحت للفلاحين المسلمين سجون جماعية رهيبة، يجلد فيها الفلاحون بسياطٍ تزن أكثر من عشر كيلو غرامات، وبعد إنزال أفظع أنواع العذاب بهم كانوا يلقون في زنزانات بعد أن تربط أيديهم بأرجلهم، ويتركون هكذا لعشر سنين أو أكثر، عندما كانوا يخرجون
সেখানে তিন মাস পর্যন্ত অবিরাম ক্রন্দনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করলাম, অতঃপর আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করলেন …

অসহায় লোকটি তার কথা এই বলে শেষ করল: «অবশেষে তোমার জেনে রাখা প্রয়োজন যে, কারাগারসমূহের পরিচালক ছিল একজন ইহুদি এবং নির্যাতনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি ছিল একজন নাৎসি জার্মান বিশেষজ্ঞ। সেই মুসলিম দেশের সরকার তাকে অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছিল যাতে সে মুসলিম আলেমদের ওপর নিজের ইচ্ছানুযায়ী যথেচ্ছাচার চালাতে পারে»।

 

* * *

 

‌‌৩ - হাবাশা (ইথিওপিয়া) থেকে আরও কিছু উদাহরণ:

ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের সমর্থনে হাবাশা মুসলিম ইরিত্রিয়া দখল করে নিয়েছিল... তবে তারা সেখানে কী করেছিল?!!...

তারা দেশটির অধিকাংশ ভূমি বাজেয়াপ্ত করে হাবাশার ভূস্বামীদের মালিকানায় অর্পণ করে। ভূস্বামী ও পুরোহিতদের প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই যেকোনো মুসলিমকে হত্যা করার অধিকার দেওয়া হয়েছিল। ফলে ভূস্বামী বা পুরোহিত তার কৃষকদের যখন ইচ্ছা ফাঁসি দিত অথবা তাদের ওপর নির্যাতন চালাত …

 

মুসলিম কৃষকদের জন্য ভয়াবহ সব গণ-কারাগার খোলা হয়েছিল, যেখানে কৃষকদের দশ কেজিরও বেশি ওজনের চাবুক দিয়ে প্রহার করা হতো। তাদের ওপর চরম পর্যায়ের নির্যাতন চালানোর পর হাত ও পা একত্রে বেঁধে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নিক্ষেপ করা হতো এবং এভাবে দীর্ঘ দশ বছর বা তারও বেশি সময় ফেলে রাখা হতো; যখন তারা সেখান থেকে বের হতো...
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ২০)
من السجون كانوا لا يستطيعون الوقوف، لأن ظهورهم قد أخذت شكل القوس.

كل ذلك كان قبل استلام هيلاسيلاسي السلطة في الحبشة، فلما أصبح إمبراطور الحبشة وضع خطة لإنهاء المسلمين خلال خمسة عشر عَامًا، وتباهى بخطته هذه أمام الكونغرس الأمريكى.

 

سن تشريعات لإذلال المسلمين منها أن عليهم أن يركعوا لموظفى الدولة وإلا يقتلوا.

 

أمر أن تستباح دماؤهم لأقل سبب، فقد وُجِدَ شُرْطِيٌّ قَتِيلاً قرب قرية مسلمة، فأرسلت الحكومة كتيبة كاملة قتلت أهل القرية كلهم وأحرقتهم مع قريتهم، ثم تبين أن القاتل هو صديق المقتول، الذي اعتدى على زوجته.

حاول أحد العلماء واسمه الشيخ عبد القادر أن يثور على هذه الإبادة فجمع الرجال، واختفى في الغابات، فجمعت الحكومة أطفالهم ونساءهم وشيوخهم في أكواخٍ من الحشيش والقصب، وسكبت عليهم البنزين وأحرقتهم جَمِيعًا.

 

ومن قبضت عليه من الثوار كانت تعذبه عَذَابًا رَهِيبًا قبل قتله، من ذلك إطفاء السجائر في عينيه وأذنيه، وهتك عرض بناته وزوجته وأخواته أمام عينيه، ودق
কারাগার থেকে (মুক্ত হওয়ার পর) তারা দাঁড়াতে পারতেন না, কারণ তাদের পিঠ ধনুকের ন্যায় বক্রাকৃতি ধারণ করেছিল।

এসবই ছিল আবিসিনিয়ায় হেইলে সেলাসির ক্ষমতা দখলের আগের ঘটনা। যখন তিনি আবিসিনিয়ার সম্রাট হলেন, তখন তিনি পনের বছরের মধ্যে মুসলিমদের নিশ্চিহ্ন করার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং মার্কিন কংগ্রেসের সামনে এই পরিকল্পনা নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন।

 

তিনি মুসলিমদের লাঞ্ছিত করার জন্য কিছু আইন প্রণয়ন করেন, যার মধ্যে একটি ছিল যে, তাদের সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে নতজানু হতে হবে, অন্যথায় তাদের হত্যা করা হবে।

 

তিনি নির্দেশ দেন যেন অতি সামান্য কারণেই তাদের রক্তপাত বৈধ করা হয়। একবার একটি মুসলিম গ্রামের কাছে একজন পুলিশ নিহত অবস্থায় পাওয়া গেলে সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ সেনাদল পাঠায়, যারা গ্রামের সকল বাসিন্দাকে হত্যা করে এবং গ্রামসহ তাদের পুড়িয়ে দেয়। পরে প্রকাশ পায় যে, প্রকৃত হত্যাকারী ছিল নিহতেরই এক বন্ধু, যে তার স্ত্রীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছিল।

শায়খ আব্দুল কাদির নামক জনৈক আলেম এই গণহত্যার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার চেষ্টা করেন; তিনি লোক জড়ো করেন এবং বনে আত্মগোপন করেন। তখন সরকার তাদের শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের খড় ও নলখাগড়ার তৈরি কুঁড়েঘরে একত্রিত করে তাদের ওপর পেট্রোল ঢেলে দেয় এবং তাদের সবাইকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে।

 

আর বিদ্রোহীদের মধ্য থেকে যাদের বন্দি করা হতো, হত্যার পূর্বে তাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হতো। তার মধ্যে ছিল তাদের চোখ ও কানে জ্বলন্ত সিগারেট চেপে ধরা, তাদের চোখের সামনেই তাদের কন্যা, স্ত্রী ও বোনদের শ্লীলতাহানি করা এবং আঘাত...
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ২১)
خصيتيه بأعقاب البنادق .. وجره على الأسلاك الشائكة حتى يتفتت، وإلقاؤه جريحًا قبل أن يموت لتأكله الحيوانات الجارحة، بعد أن تربطه بالسلاسل حتى لا يقاوم.

أصدر هيلاسيلاسى أَمْرًا بإغلاق مدارس المسلمين وأمر بفتح مدارس مسيحية وأجبر المسلمين على إدخال أبنائهم فيها ليصبحوا مسيحيين.

 

عَيَّنَ حُكَّامًا فجرة على مقاطعات أرتيريا منهم واحد عَيَّنَهُ على مقاطعة جَمَّة، ابتدأ عمله بأن أصدر أَمْرًا أن لا يقطف الفلاحون ثمار أراضيهم إلا بعد موافقته، وكان لا يسمح بقطافها إلا بعد أن تتلف، وأخيرًا صادر 90% من الأراضي، أخذ هو نصفها وأعطى الإمبراطور نصفها. ونهب جميع ممتلكات الفلاحين المسلمين ..

 

أمرهم أن يبنوا كنيسة كبرى في الإقليم فبنوها .. ثم أمرهم أن يعمروا كنسية عند مدخل كل قرية أو بلدة ولم يكتف بذلك بل بنى دُورًا للعاهرات حول المساجد ومعها الحانات التي كان يسكر فيها الجنود، ثم يدخلون إلى المساجد ليبولوا بها ويتغوطوا، وليراقصوا العاهرات فيها وهم سكارى.

 

كما فرض على الفلاحين أن يبيعوا أبقارهم لشركة
রাইফেলের কুঁদো দিয়ে তার অণ্ডকোষ পিষে ফেলা... এবং তাকে কাঁটাতারের ওপর দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নেওয়া হতো যতক্ষণ না দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়; আর মৃত্যুর পূর্বে তাকে আহত অবস্থায় ফেলে রাখা হতো যাতে হিংস্র পশুরা তাকে খেয়ে ফেলে, আর তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো যাতে সে কোনো প্রতিরোধ করতে না পারে।

হেইল সেলাসি মুসলিমদের স্কুলগুলো বন্ধ করার নির্দেশ জারি করেন এবং খ্রিস্টান স্কুল খোলার আদেশ দেন। তিনি মুসলিমদের বাধ্য করেন তাদের সন্তানদের সেখানে ভর্তি করতে, যাতে তারা খ্রিস্টানে রূপান্তরিত হয়।

 

তিনি ইরিত্রিয়ার প্রদেশগুলোতে পাপিষ্ঠ শাসকদের নিযুক্ত করেছিলেন। তাদের মধ্যে একজনকে তিনি 'জাম্মা' প্রদেশে নিযুক্ত করেন। সে তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেই এই নির্দেশ জারি করে যে, কৃষকরা তার অনুমতি ব্যতীত তাদের জমির ফসল আহরণ করতে পারবে না। আর সে ততক্ষণ পর্যন্ত ফসল সংগ্রহের অনুমতি দিত না, যতক্ষণ না তা নষ্ট হয়ে যেত। অবশেষে সে ৯০ শতাংশ ভূমি বাজেয়াপ্ত করে নেয়; যার অর্ধেক সে নিজে কুক্ষিগত করে এবং বাকি অর্ধেক সম্রাটকে প্রদান করে। এছাড়া সে মুসলিম কৃষকদের সকল সহায়-সম্পত্তি লুণ্ঠন করে...

 

সে তাদের সেই অঞ্চলে একটি বিশাল গির্জা নির্মাণের নির্দেশ দেয় এবং তারা তা নির্মাণ করতে বাধ্য হয়। অতঃপর সে তাদের নির্দেশ দেয় প্রতিটি গ্রাম বা জনপদের প্রবেশমুখে একটি করে গির্জা নির্মাণ করতে। সে কেবল এতেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং মসজিদের চারদিকে পতিতালয় এবং মদের দোকান স্থাপন করেছিল যেখানে সৈন্যরা মদ্যপান করত। এরপর তারা মাতাল অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করে সেখানে প্রস্রাব ও মলত্যাগ করত এবং মাতাল হয়ে পতিতাদের সাথে নিয়ে মসজিদের অভ্যন্তরে নাচানাচি করত।

 

একইভাবে সে কৃষকদের ওপর এই বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিল যে, তারা যেন তাদের গরুগুলো একটি কোম্পানির কাছে বিক্রয় করে...
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ২২)
(أنكودا) اليهودية.

 

كافأه الإمبراطور على أعماله هذه بأن عَيَّنَهُ وزيرًا للداخلية.

 

كانت حكومة الإمبراطور تلاحق كل مثقف مسلم. لتزجه في السجن حتى الموت، أو تجبره على مغادرة البلاد حتى يبقى شعب أرتيريا المسلم مُسْتَعْبَدًا جَاهِلاً. وغير ذلك كثير (4).

 

والأمثلة من كل مكان من العالم الإسلامي، يكاد الصدر يتفجر ضيقًا من تذكرها ..

لكنها بداية الخلاص إن شاء الله .. إنها سياط اليقظة التي سَتُذْهِبُ نوم القرون، وَتُخْرِجَ من تحت الأرض سكان القبور.

وما ذلك على الله بعزيز.

 

نتساءل أَخِيرًا:

هل مواقف الغرب وأتباعه التي رأيناها هي مواقف عاطفية استثنائية؟! …

لا … إنها مواقف مقررة مُسْبَقًا في فكر الغرب

--------------------------------------------

(4) " كفاح دين " للأستاذ محمد الغزالي: ص 60 - 80.
(আনকুডা) ইহুদি।

 

সম্রাট তাকে তার এসব কাজের পুরস্কারস্বরূপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন।

 

সম্রাটের সরকার প্রত্যেক মুসলিম বুদ্ধিজীবীকে খুঁজে খুঁজে হয়রানি করত, যাতে তাদেরকে আমৃত্যু কারাগারে নিক্ষেপ করা যায় অথবা দেশত্যাগে বাধ্য করা যায়; ফলে ইরিত্রিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠী যেন পরাধীন ও মূর্খ থেকে যায়। এ জাতীয় আরও অনেক ঘটনা রয়েছে (৪)।

 

মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি প্রান্ত থেকেই এমন সব উদাহরণ রয়েছে, যা স্মরণ করলে কষ্টে বুক ফেটে যায়...

কিন্তু ইনশাআল্লাহ, এটিই মুক্তির সূচনা... এটি হলো জাগরণের সেই চাবুক যা শতাব্দীর ঘুমকে তাড়িয়ে দেবে এবং মাটির নিচ থেকে কবরের বাসিন্দাদের বের করে আনবে।

আর আল্লাহর পক্ষে এটি মোটেও কঠিন নয়।

 

আমরা পরিশেষে প্রশ্ন করি:

পাশ্চাত্য ও তাদের অনুসারীদের যে অবস্থান আমরা লক্ষ্য করেছি, তা কি আবেগপ্রসূত কোনো ব্যতিক্রমী অবস্থান?! …

না … এগুলো পাশ্চাত্যের চিন্তাধারায় পূর্বনির্ধারিত সুনির্দিষ্ট অবস্থান।

--------------------------------------------

(৪) উস্তাদ মুহাম্মদ আল-গাজালীর "কিফাহু দিন": পৃষ্ঠা ৬০ - ৮০।
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
وعقول قَادَتِهِ .. يمارسها الغربيون وأتباعهم عن تصميم واقتناع كامل، وبإرادة واعية تَمَامًا … وَعَنْ عَمْدٍ ..

 

ولماذا ذلك كله … ؟!! …

 

هَذَا مَا سَنُبَيِّنُهُ بوضوح في هذه الدراسة التي سَنُبَيِّنُهَا على أقوال قادة الغرب فقط .. دون أن نُدْخِلَ فيها أي اجتهاد أو استنتاج لتسهل الحجة، ويظهر الحق، ويستنير طريق المضللين الذين يمارسون بأيديهم إبادة مقومات القوة في أممهم ليسهلوا على العدو الكبير المتربص اِلْتِهَامَهَا.

وما أفظعها من مهمة يمارسها العملاء .. حين يدمرون أممهم، ثم يدفعونها في فم الغول الاستعماري البشع … لِيَلْتَهِمَهَا … فيا رب متى ينتبهون … ؟!! ..

 

* * *
এবং তার নেতৃবৃন্দের বুদ্ধিবৃত্তি... যা পাশ্চাত্য ও তাদের অনুসারীরা সুপরিকল্পিত নকশা ও পূর্ণ দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে, এবং সম্পূর্ণ সচেতন সংকল্পের সাথে চর্চা করে থাকে … এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে...

 

আর এই সবকিছু কেন … ?!! …

 

এটিই আমরা এই গবেষণায় স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলব, যা আমরা কেবল পশ্চিমা নেতাদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত করব... যাতে আমরা কোনো গবেষণালব্ধ ব্যাখ্যা (اجتهاد) বা অনুমানলব্ধ সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করিনি, যেন প্রমাণ (حجة) পেশ করা সহজ হয়, সত্য প্রকাশিত হয় এবং সেই পথভ্রষ্টদের পথ আলোকিত হয় যারা নিজ হাতে তাদের জাতির শক্তির উপাদানগুলো সমূলে বিনাশ করছে, যাতে ওত পেতে থাকা বিশাল শত্রুর জন্য তাদের গ্রাস করা সহজ হয়।

আর এজেন্টরা যে মিশন পরিচালনা করছে তা কতই না ভয়াবহ... যখন তারা তাদের নিজেদের জাতিকে ধ্বংস করে এবং তারপর তাদের সেই কদর্য ঔপনিবেশিক দানবের মুখে ঠেলে দেয় … যেন সে তাদের গ্রাস করতে পারে … হে প্রভু! তারা কবে সচেতন হবে … ?!! ..

 

* * *
(খণ্ড: ১) কাদাতুল গারবি ইয়াকুলুনা দাম্মিরুল ইসলাম আবীদু আহলাহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌مَوْقِفُ الغَرْبِ مِنَ الإِسْلَامِ:

‌‌الحُرُوبُ الصَّلِيبِيَّةُ مُسْتَمِرَّةٌ:

يبنى الغرب علاقاته معنا على أساس أن الحروب الصليبية لا تزال مستمرة بيننا وبينه:

 

‌‌1 - فَسِيَاسَةُ أَمَرِيكَا مَعَنَا تُخَطِّطُ عَلَى هَذَا الأَسَاسِ:

يقول أيوجين روستو رئيس قسم التخطيط في وزارة الخارجية الأمريكية ومساعد وزير الخارجية الأمريكية، ومستشار الرئيس جونسون لشؤون الشرق الأوسط حتى عام 1967م يقول:

«يَجِبُ أَنْ نُدْرِكَ أَنَّ الخِلَافَاتِ القَائِمَةِ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الشُّعُوبِ العَرَبِيَّةِ لَيْسَتْ خِلَافَاتٌ بَيْنَ دُوَلٍ أَوْ شُعُوبٍ، بَلْ هِيَ خِلَافَاتٌ بَيْنَ الحَضَارَةِ الإِسْلَامِيَّةِ وَالحَضَارَةِ المَسِيحِيَّةِ». لقد كان الصراع مُحْتَدِمًا ما بين المسيحية والإسلام منذ القرون الوسطى، وهو مستمر حتى هذه اللحظة، بصور مختلفة. ومنذ قرن ونصف خضع الإسلام لسيطرة
‌‌ইসলামের প্রতি পশ্চিমের দৃষ্টিভঙ্গি:

‌‌ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ চলমান:

পশ্চিমারা আমাদের সাথে তাদের সম্পর্ক এই ভিত্তির ওপর গড়ে তোলে যে, আমাদের ও তাদের মাঝে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ এখনও অব্যাহত রয়েছে:

 

‌‌১ - আমাদের সাথে আমেরিকার নীতি এই ভিত্তির ওপর পরিকল্পিত হয়:

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান, সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রেসিডেন্ট জনসনের উপদেষ্টা ইউজিন রোস্টো বলেন:

«আমাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, আরব জাতিগুলোর সাথে আমাদের বিদ্যমান বিরোধ কোনো রাষ্ট্র বা জাতির মধ্যকার বিরোধ নয়; বরং এটি ইসলামি সভ্যতা ও খ্রিস্টীয় সভ্যতার মধ্যকার বিরোধ।» মধ্যযুগ থেকেই খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের মধ্যে সংঘাত তীব্র ছিল এবং তা বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন রূপে অব্যাহত রয়েছে। দেড় শতাব্দী পূর্ব থেকে ইসলাম আধিপত্যের বশীভূত হয়