(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: -)
دفاع عن السنة ورد شبه المستشرقين ط مجمع البحوث   (محمد أبو شهبة)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: دفاع عن السُنَّة ورد شبه المُسْتَشْرِقِينَ والكتاب المعاصرين

المؤلف: محمد بن محمد بن سويلم أبو شُهبة (ت 1403هـ)

الناشر: مجمع البحوث الإسلامية - القاهرة

الطبعة: الثانية، 1406 هـ - 1985 م.

عدد الصفحات: 285

أَعَدَّهُ للشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع].

تاريخ النشر بالشاملة: 16 محرم 1433

সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং প্রাচ্যবিদদের সংশয়ের নিরসন (মাজমাউল বুহুস সংস্করণ)   (মুহাম্মদ আবু শাহবাহ)

বিভাগ: হাদীস শাস্ত্র


বই: সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং প্রাচ্যবিদ ও আধুনিক লেখকদের সংশয়ের নিরসন

লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুওয়াইলাম আবু শাহবাহ (মৃত্যু ১৪০৩ হিজরি)

প্রকাশক: ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি - কায়রো

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৫

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাকে ও তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন.

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ].

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ মুহররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: -)
دِفَاعٌ عَنْ السُنَّةِ وَرَدِّ شُبَهِ المُسْتَشْرِقِينَ وَالكُتَّابِ المُعَاصِرِينَ

تأليف الدكتور محمد محمد أبو شهبة

من علماء الأزهر الشريف

 

مجمع البحوث الإسلامية - الأزهر الشريف.

المؤتمر العاشر: القاهرة.

الطبعة الثانية: صفر 1406 هـ - نوفمبر 1985 م

 

عدد الأجزاء: 1.

أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং প্রাচ্যবিদ ও সমসাময়িক লেখকদের সংশয় নিরসন

রচনা: ডক্টর মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু শাহবাহ

আল-আজহার আল-শরীফের আলিমগণের অন্তর্ভুক্ত

 

ইসলামী গবেষণা একাডেমি - আল-আজহার আল-শরীফ।

দশম সম্মেলন: কায়রো।

দ্বিতীয় সংস্করণ: সফর ১৪০৬ হিজরি - নভেম্বর ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ

 

খণ্ড সংখ্যা: ১।

আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন।

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে মিল রাখা হয়েছে এবং এতে পাদটীকা সংযুক্ত রয়েছে]।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله تعالى مالك الملك لا شريك له في ملكه ولا معبود بحق سواه والصلاة والسلام على سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم الذي أكرمنا الله برسالته وفضلنا بتلك الرسالة على سائر الأمم فجل من قال:

{كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ} [آل عمران، الآية: 110]

 

ورسالة محمد صلى الله عليه وسلم -مرجعها إلى أصلين شريفين هما: القرآن الكريم والسُنَّة النبوية المطهَّرة.

والقرآن أصل الدين ومنبع الصراط المستقيم ومعجزة النَّبِي صلى الله عليه وسلم -العظمى وآياته الباقية على وجه الدهر، والسُنَّة بيان للقران وشرح لأحكامه وبسط لأصوله واتمام لتشريعاته والسُنَّة متى ثبتت عن المعصوم صلى الله عليه وسلم -فهي تشريع وهداية واجبة الاتباع ولا محالة.

والسُنَّة بعضها بوحي جلي عن طريق جبريل عليه السلام وبعضها بالإلهام والقذف في القلب وبعضها بالاجتهاد حسب ما علم النَّبِي صلى الله عليه وسلم -من علوم القرآن وقواعد الشريعة وما امتلأ به قلبه من فيوضات الوحي الذي لا يتوقف على قراءة وكتابة وكسب وبحث.

وقد عنيت الأُمَّة الإسلامية بتتبع هذين الأصلين القرآن والسُنَّة عناية فائقة لم تعهد في أمة من الأمم نحو ما أثر عن أنبيائها وملوكها وعظمائها.

فقد حفظ الصحابة - رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِمْ - القرآن وتدبروه وفهموه وبلغزه كما أنزله الله إلى من جاء بعدهم من التابعين وحمله التابعين وبلغوه كما تلقوه إلى من جاء بعدهم وهكذا تداوله الجم الغفير الذين لا يحصون في
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা মহিমান্বিত আল্লাহর জন্য, যিনি রাজত্বের মালিক, তাঁর রাজত্বে কোনো অংশীদার নেই এবং তিনি ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যাঁর রিসালাতের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের সম্মানিত করেছেন এবং সেই রিসালাতের মাধ্যমে আমাদের অন্য সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। মহান সেই সত্তা যিনি বলেছেন:

{তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজ হতে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো। আর আহলে কিতাবগণ যদি ঈমান আনত, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো; তাদের মধ্যে কিছু মুমিন আছে, তবে তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।} [আলে ইমরান, আয়াত: ১১০]

 

এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালাতের উৎস হলো দুটি মহান মূলনীতি: পবিত্র কুরআন এবং পবিত্র সুন্নাহ।

কুরআন হলো দ্বীনের মূল ভিত্তি, সিরাতুল মুস্তাকিমের উৎস এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা ও মহাকালের পাতায় চিরস্থায়ী এক নিদর্শন। আর সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যা, এর বিধানাবলির বিশদ বিবরণ, এর মূলনীতিসমূহের সম্প্রসারণ এবং এর শরিয়ত বিধির পূর্ণতা। যখনই কোনো সুন্নাহ মাসুম (নিষ্পাপ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত হয়, তা শরিয়ত ও হিদায়াত হিসেবে পরিগণিত হয় যা অনুসরণ করা অপরিহার্য ও অনস্বীকার্য।

সুন্নাহর কিছু অংশ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে স্পষ্ট ওহী হিসেবে অবতীর্ণ, কিছু অংশ ইলহাম এবং হৃদয়ে প্রক্ষিপ্ত ভাবনার মাধ্যমে, আবার কিছু অংশ ইজতিহাদের মাধ্যমে—যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআনের জ্ঞান ও শরিয়তের মূলনীতি থেকে এবং ওহীর সেই অফুরন্ত ধারা থেকে অর্জন করেছিলেন যা তাঁর হৃদয়কে পূর্ণ করে রেখেছিল, যা পঠন, লিখন, জাগতিক চেষ্টা বা গবেষণার ওপর নির্ভরশীল নয়।

আর মুসলিম উম্মাহ এই দুটি মূল উৎস—কুরআন ও সুন্নাহ—সংরক্ষণে এমন ব্যাপক গুরুত্বারোপ করেছে, যা অন্য কোনো উম্মতের ক্ষেত্রে তাদের নবী, রাজা-বাদশাহ বা মহাপুরুষদের ঐতিহ্যের সংরক্ষণে দেখা যায়নি।

সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কুরআন মুখস্থ করেছেন, এতে চিন্তা-গবেষণা করেছেন, এটি অনুধাবন করেছেন এবং আল্লাহ যেভাবে এটি নাজিল করেছেন ঠিক সেভাবেই তা তাঁদের পরবর্তী তাবিয়ীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাবিয়ীগণ তা গ্রহণ করেছেন এবং যেভাবে তাঁরা এটি লাভ করেছেন ঠিক সেভাবেই তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এভাবেই এটি এমন এক বিশাল জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে যাদের সংখ্যা গণনা করা অসম্ভব।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ২)
كل عصر إلى أهل العصر الذين يلونهم وسيظلون إن شاء الله تعالى إلى أن تقوم الساعة مصداقا لقول الله سبحانه:

{إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [سورة الحجر، الآية: 9] وأما السُنَّة فهي وحي الله وإلهامه إلى نبيه صلى الله عليه وسلم وصدق الله حيث يقول:

{وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى} [سورة النجم، الآية: 1]

وفا نعن نزف البشرى الى قواء العربية وعئاق السمة ومحبيها ذوى الغيرة عليها والى طلاب الحقيقة ومحبى المعرفة فى كل بقعة من بقاع العالم الاسلامى واعربى بل للعالم كله إعادة طبع.

كتاب دفاع عن السُنَّة ورد شبه المسمشرقين والكاب المعاصرين لعالم فضيلة الدكورمحمد محمد أبو شهبة وذلك رَدًّا للشبه وتصحيقا للعقيدة عنل من وصلت إلى عقيدته شبهة آو زيتى وتبيت لمن ثبت لديه اليقين وحب القرآن الكرم والسة النبوية المشرفة.

والله من وراء القصد وهو الهادي إلى سواء السبيل

 

الأمين العام لمجمع البحوث الإسلامية

سامي محمد متولي الشعراوي
প্রতিটি যুগ থেকে তার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এবং ইনশাআল্লাহ কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত তারা এভাবেই অবশিষ্ট থাকবে, মহান আল্লাহর বাণীর সত্যতাস্বরূপ:

"নিশ্চয়ই আমি উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।" [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৯]। আর সুন্নাহ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহী ও ইলহাম। আল্লাহ সত্য বলেছেন যখন তিনি বলেন:

"শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়।" [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ১]

অতএব, আমরা আরবি ভাষার পাঠক, সুন্নাহর অনুরাগী ও এর প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন প্রেমিকদের নিকট এবং ইসলামি ও আরব বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের সত্যের অন্বেষী ও জ্ঞানপিপাসুদের নিকট, বরং সমগ্র বিশ্বের নিকট এই সুসংবাদ প্রদান করছি যে, গ্রন্থটি পুনর্মুদ্রণ করা হয়েছে।

বিশিষ্ট আলিম ডক্টর মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু শাহবার রচিত "সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং প্রাচ্যবিদ ও সমকালীন লেখকদের সংশয় নিরসন" নামক গ্রন্থটি। এটি সংশয়সমূহ খণ্ডন করার জন্য এবং যাঁদের আকিদাহ বা বিশ্বাসে কোনো সংশয় বা বিচ্যুতি প্রবেশ করেছে তাঁদের আকিদাহ সংশোধন করার জন্য। আর যাঁদের নিকট ইয়াকিন বা ধ্রুববিশ্বাস ও পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা রয়েছে, তাঁদের সেই বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য।

আর আল্লাহই সকল উদ্দেশ্যের পেছনে এবং তিনিই সরল পথের দিশারী।

 

ইসলামি গবেষণা কমপ্লেক্সের মহাসচিব

সামি মুহাম্মদ মুতাওয়াল্লি আশ-শারাওয়ী
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: -)
دفاع عن السنة ورد شبه المستشرقين ط مجمع البحوث   (محمد أبو شهبة)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: دفاع عن السُنَّة ورد شبه المُسْتَشْرِقِينَ والكتاب المعاصرين

المؤلف: محمد بن محمد بن سويلم أبو شُهبة (ت 1403هـ)

الناشر: مجمع البحوث الإسلامية - القاهرة

الطبعة: الثانية، 1406 هـ - 1985 م.

عدد الصفحات: 285

أَعَدَّهُ للشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع].

تاريخ النشر بالشاملة: 16 محرم 1433

সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং প্রাচ্যবিদদের আপত্তির খণ্ডন (ইসলামি গবেষণা একাডেমি সংস্করণ)   (মুহাম্মদ আবু শাহবাহ)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


বই: সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং প্রাচ্যবিদ ও আধুনিক লেখকদের আপত্তির খণ্ডন

লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুওয়াইলাম আবু শাহবাহ (মৃত্যু: ১৪০৩ হিজরি)

প্রকাশক: ইসলামি গবেষণা একাডেমি - কায়রো

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৫

শামেলার জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি، আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন.

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ].

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ মহররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مُقَدِّمَةُ الكِتَابِ:

الحمد لله الذي كرم الإنسان، وميزه على كثير من خلقه بنعمة العقل والبيان، والصلاة والسلام على نبينا محمد الذي آتاه الله الحكمة وفصل الخطاب، وعلى آله وصحابته ومن تبعهم بإحسان.

 

أما بعد: فمرجع الشريعة الإسلامية إلى أصلين شريفين:

القرآن الكريم، والسُنَّة النبوية.

والقرآن أصل الدين، ومنبع الصراط المستقيم، ومعجزة النَّبِي العظمى، وآياته الباقية على وجه الدهر.

 

والسُنَّة بيان للقرآن، وشرح لأحكامه، وبسط لأصوله، وتمام لتشريعاته، والسُنَّة متى تثبت عن المعصوم - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ - فهي تشريع وهداية، وواجبة الاتباع ولا محالة.

 

والسُنَّة بعضها بوحي جلي عن طريق أمين الوحي جبريل عليه السلام (1) وبعضها بالإلهام والقذف في القلب (2) وبعضها بالاجتهاد على

--------------------------------------------

(1) كما في قصة من أحرم بعمرة وهو متضمخ وهي مروية في " الصحيحين ".

(2) كما يدل على ذلك الحديث المرفوع «إِنَّ رُوحَ الْقُدُسِ نَفَثَ فِي رَوْعِي، لَنْ تَمُوتُ نَفْسٌ حَتَّى تَسْتَكْمِلَ رِزْقَهَا، فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ» رواه الحاكم عن ابن مسعود وصَحَّحَهُ، وأبو نعيم والطبراني عن أبي أمامة والبزار عن حذيفة، ورواه صاحب " مسند الفردوس " عن جابر.
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌গ্রন্থের ভূমিকা:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষকে সম্মানিত করেছেন এবং তাকে তাঁর সৃষ্টির অনেকের ওপর বিবেক ও ভাবপ্রকাশের নিআমত দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর, যাঁকে আল্লাহ প্রজ্ঞা ও সুস্পষ্ট ভাষণ দান করেছেন, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন সকলের ওপর।

 

অতঃপর: ইসলামী শরীয়তের উৎস হলো দুটি মহান মূল ভিত্তি:

আল-কুরআনুল কারীম এবং সুন্নাহুন নববিয়্যাহ।

আর কুরআন হলো দ্বীনের মূল, সরল পথের উৎস, নবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিযা এবং মহাকালের বুকে এর আয়াতসমূহ চিরস্থায়ী।

 

আর সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যা, এর বিধানাবলির বিশ্লেষণ, এর মূলনীতিসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং এর বিধিবিধানের পূর্ণতা। সুন্নাহ যখনই মাসুম (নিষ্পাপ নবী)—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—থেকে প্রমাণিত হয়, তখনই তা শরীয়ত ও হেদায়েত হিসেবে গণ্য হয় এবং তা অনুসরণ করা অনিবার্যভাবে আবশ্যক।

 

সুন্নাহর কিছু অংশ জিবরীল আলাইহিস সালাম নামক ওহীর আমানতদারের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রকাশ্য ওহী (১), কিছু অংশ ইলহাম এবং হৃদয়ে সঞ্চারিত করার মাধ্যমে (২), এবং কিছু অংশ ইজতিহাদের ভিত্তিতে...

--------------------------------------------

(১) যেমনটি সেই ব্যক্তির ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে যে সুগন্ধি মাখা অবস্থায় উমরার ইহরাম বেঁধেছিল এবং এটি "সহীহাইন"-এ বর্ণিত হয়েছে।

(২) যেমনটি মারফু হাদীসটি নির্দেশ করে: "নিশ্চয়ই রুহুল কুদুস (জিবরীল) আমার হৃদয়ে ফুঁকে দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণ তার নির্ধারিত রিজিক পূর্ণ না করা পর্যন্ত কখনোই মৃত্যুবরণ করবে না। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং উপার্জনের সন্ধানে উত্তম পন্থা অবলম্বন করো।" এটি হাকিম ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন; আর আবু নুআইম ও তাবারানি আবু উমামা থেকে, বাজ্জার হুযাইফা থেকে এবং "মুসনাদুল ফিরদাউস" এর লেখক জাবির থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ৪)
حسب ما علم النَّبِي من علوم القرآن، وقواعد الشريعة، وما امتلأ به قلبه من فيوضات الوحي والتعليم الإلهي الذي لا يتوقف على قراءة وكتابة وكسب وبحث، وصدق الله حيث يقول: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ، خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ، اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ، الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ، عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} (1) فالتعليم بالقلم إشارة إلى العلم الكسبي، وما بعدها إشارة إلى العلم الوهبي الذي يضعه الله حيث شاء.

 

ومتى اجتهد النَّبِي صلى الله عليه وسلم وسكت الوحي عن اجتهاده اعتبر هذا إقرارا من الله سبحانه وتعالى له واكتسب صفة ما أوحى إليه به وبهذا المعنى يعتبر كل ما صدر عن النَّبِي وحيا، وصدق الله حيث يقول: {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى، مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى، وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} (2)

 

وقد عنيت الأُمَّة الإسلامية بتبليغ هذين الأصلين عناية فائقة لم تعهد في أمَّة من الأمم نحو ما أثر عن أنبيائها وملوكها وعظمائها، فقد حفظ الصحابة القرآن وتدبروه وفقهوه، وبلغوه كما أنزله الله إلى من جاء بعدهم من التابعين وحمله التابعون وبلغوه - كما تلقوه - إلى من جاء بعدهم، وهكذا تداوله الجم الغفير الذين لا يحصون في كل عصر إلى أهل العصر الذين يلونهم، وانضم إلى الحفظ والتلقي الشفاهي التقييد بالكتابة في عصر النَّبِي صلى الله عليه وسلم وبعد عصر النَّبِي صلى الله عليه وسلم، حتى وصل إلينا لا تزيد فيه ولا اختلاق ولا تحريف ولا تبديل، مصداقا لقول الله سبحانه: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (3).

--------------------------------------------

(1) [سورة العلق، الآيات: 1 - 5].

(2) [سورة النجم، الآيتان: 3 - 4].

(3) [سورة الحجر، الآية: 9].
নবী কুরআনুল কারীমের জ্ঞান, শরীয়তের নীতিমালা এবং তাঁর অন্তর ওহীর অফুরন্ত ধারা ও ঐশী শিক্ষার মাধ্যমে যা প্রাপ্ত হয়েছিলেন, যা কোনো পাঠ, লিখন, অর্জন বা গবেষণার ওপর নির্ভরশীল ছিল না; এবং মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার পালনকর্তা মহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।} (১) সুতরাং কলমের মাধ্যমে শিক্ষা অর্জনমূলক জ্ঞানের প্রতি ইঙ্গিত দেয়, আর এর পরবর্তী অংশটি সেই দানকৃত ঐশী জ্ঞানের প্রতি ইঙ্গিত দেয় যা আল্লাহ যেখানে ইচ্ছা প্রদান করেন।

 

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই কোনো ইজতিহাদ করতেন এবং ওহী সে ব্যাপারে নীরব থাকত, তখন তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সমর্থন হিসেবে গণ্য হতো এবং ওহীর বৈশিষ্ট্য লাভ করত। এই অর্থে নবী যা কিছু প্রকাশ করতেন তার সবই ওহী হিসেবে গণ্য হয়। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়, তোমাদের সঙ্গী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি। আর তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।} (২)

 

মুসলিম উম্মাহ এই মৌলিক দু’টি উৎস প্রচারের ক্ষেত্রে এমন অসাধারণ গুরুত্ব প্রদান করেছে যা অন্য কোনো জাতির মাঝে তাদের নবী, রাজা বা মহাপুরুষদের ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। সাহাবীগণ কুরআন মুখস্থ করেছিলেন, তা অনুধাবন করেছিলেন এবং তার জ্ঞান অর্জন করেছিলেন; আর আল্লাহ যেভাবে তা নাযিল করেছিলেন ঠিক সেভাবেই তাঁদের পরবর্তী তাবেয়ীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাবেয়ীগণ তা ধারণ করেছিলেন এবং যেভাবে গ্রহণ করেছিলেন ঠিক সেভাবেই তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এভাবেই প্রতি যুগে অগণিত মানুষের এক বিশাল দল পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এটি হস্তান্তর করেছেন। মুখস্থ করা এবং মৌখিকভাবে গ্রহণের পাশাপাশি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে এবং তাঁর পরবর্তী যুগেও এটি লিখে সংরক্ষণের প্রক্রিয়া যুক্ত হয়েছিল। ফলস্বরূপ এটি আমাদের কাছে এমনভাবে পৌঁছেছে যাতে কোনো সংযোজন, জালিয়াতি, বিকৃতি বা পরিবর্তন নেই। এটি মহান আল্লাহর বাণীরই প্রতিফলন: {নিশ্চয়ই আমি এই যিকির নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।} (৩)।

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-আলাক, আয়াত: ১ - ৫]।

(২) [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩ - ৪]।

(৩) [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৯]।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ৫)
وكذلك عني الصحابة بالسُنَّة المحمدية حفظاً وفهماً وفقهاً وبلغوها بلفظها - وهو الغالب والأصل - أو بمعناها إلى من جاء بعدهم من التابعين، وبلغها التابعون لتابعي التابعين وهَلُمَّ جراً.

 

ولم تكن السنن والأحاديث مدوَّنة بصفة عامة في القرن الأول وذلك لما ورد من النهي عن ذلك خشية اختلاطها بالقرآن أو اشتغال الصحابة بها عن القرآن وبذلك انتهى القرن الأول والكاتبون للسُنَّة قليلون وإنْ كان الحافظون لها المقيِّدُون لها في الصدور كثيرين.

 

ولم يكد يبدأ القرن الثاني حتى بدأ التدوين بصفة عامة، ونشط العلماء لهذا العمل المشكور نشاطاً قوياً، وقد اقترنت حركة التدوين بحركة النقد والتعديل والتجريح والتحرِّي عن الحق والصدق والصواب، ووضع أئمة الحديث وصيارفته لهذا أدقَّ قواعد النقد وآصلها وأعدلها سواء أكان ذلك يتعلق بنقد الأسانيد أم المتون.

 

وقد تمخضت هذه الحركة التدوينية عن كتب قيمة، وموسوعات ضخمة اشتملت على الأحاديث النبوية التي تصلح للاحتجاج، أو للتقوية والاستشهاد، ومن هذه الكتب ما هو خاص بالصحيح، ومنها ما هو مشتمل على الصحيح والحسن والضعيف، ومنها ما هو خاص بالحديث النبوي، ومنها ما يشتمل على أقوال الصحابة والتابعين.

 

وقد مني الإسلام من قديم الزمان بأعداء لا ينامون. يُضْمِرُونَ له الكيد وينسجون الخيوط ويحيكون المؤامرات لذهاب دولته وسلطانه.

 

وهؤلاء لما لم يتمكنوا من المجاهرة بالعداوة لجأوا إلى الدسِّ والخديعة واتبعوا في سبيل ذلك وسائل متعددة: فَطَوْراً عن طريق إظهار الحب
একইভাবে সাহাবীগণ মুহাম্মদী সুন্নাহর হিফজ (সংরক্ষণ), অনুধাবন ও ফিকহ (গভীর জ্ঞান)-এর ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন এবং তাঁরা তা হুবহু শব্দে - যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়েছে এবং এটিই মূল ভিত্তি - অথবা মর্মার্থে তাঁদের পরবর্তী তাবিঈদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। আর তাবিঈগণ তা তাবি-তাবিঈদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন এবং এভাবেই তা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে।

 

প্রথম শতাব্দীতে সাধারণত সুন্নাহ ও হাদীসসমূহ সংকলিত ছিল না। এর কারণ ছিল এ সংক্রান্ত যে নিষেধ বর্ণিত হয়েছিল, যাতে কুরআনের সাথে হাদীস মিশে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল অথবা সাহাবীগণ কুরআন বাদ দিয়ে হাদীস নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ার ভয় ছিল। এভাবেই প্রথম শতাব্দী সমাপ্ত হয় এবং তখন সুন্নাহ লিপিবদ্ধকারী ব্যক্তিগণ ছিলেন সংখ্যায় নগণ্য, যদিও তা মুখস্থকারী এবং অন্তরে গেঁথে রাখা ব্যক্তিদের সংখ্যা ছিল অনেক।

 

দ্বিতীয় শতাব্দী শুরু হতে না হতেই সাধারণভাবে হাদীস সংকলন শুরু হয় এবং আলিমগণ এই প্রশংসনীয় কাজে অত্যন্ত জোরালোভাবে তৎপর হয়ে ওঠেন। এই সংকলন প্রক্রিয়ার সাথে সমালোচনা, সংশোধন, জরাহ-তাদীল (ত্রুটি-বিচ্যুতি বিশ্লেষণ) এবং সত্য, সততা ও সঠিকতা অনুসন্ধানের আন্দোলনও যুক্ত হয়। হাদীসশাস্ত্রের ইমাম ও বিশেষজ্ঞগণ এর জন্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম, মৌলিক ও ন্যায়নিষ্ঠ সমালোচনার নীতিমালা প্রণয়ন করেন, যা সনদের (বর্ণনাসূত্র) সমালোচনা কিংবা মতন (মূল পাঠ)-এর সমালোচনা—উভয় ক্ষেত্রের সাথেই সংশ্লিষ্ট।

 

এই সংকলন আন্দোলনের ফলে বহু মূল্যবান কিতাব ও বিশাল বিশ্বকোষ তৈরি হয়েছে, যাতে এমন সব হাদীস স্থান পেয়েছে যা দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য অথবা অন্য বর্ণনাকে শক্তিশালী করার জন্য কিংবা সাক্ষী হিসেবে পেশ করার উপযোগী। এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে কোনটি কেবল সহীহ হাদীসের জন্য নির্ধারিত, আবার কোনটি সহীহ, হাসান ও যঈফ হাদীসের সমষ্টি। আবার কোনোটি কেবল নববী হাদীসের জন্য নির্দিষ্ট, আবার কোনোটিতে সাহাবী ও তাবিঈগণের বাণীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

প্রাচীনকাল থেকেই ইসলাম এমন সব শত্রুর সম্মুখীন হয়েছে যারা অতন্দ্র। তারা ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ লালন করে, ষড়যন্ত্রের জাল বোনে এবং ইসলামের রাষ্ট্র ও কর্তৃত্ব বিলুপ্ত করার জন্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়।

 

এরা যখন প্রকাশ্যে শত্রুতা করতে সক্ষম হলো না, তখন তারা অনুপ্রবেশ ও প্রতারণার আশ্রয় নিল এবং এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করল: কখনো মহব্বত বা ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ৬)
والتودد لآل بيت الرسول كما فعل السبئيون (1) وطوراً عن طريق التأويل في النصوص الدينية تأويلاً لا يشهد له لغة ولا شرع، ومحاولة إبطال التكاليف الدينية كما فعل الباطنية والقرامطة وأضرابهم.

 

وقد حاول هؤلاء الأعداء أن يُشَكِّكُوا المسلمين في أساس دينهم وهو القرآن الكريم وذلك بالتشكيك في تواتره وإعجازه وسلامته من الاختلاف والتناقض وصلاحية إحكامه لكل عصر ولكل بيئة، وفي سبيل هذه الغاية اختلقوا الروايات وحرَّفوا معاني الآيات.

 

وكذلك حاولوا أنْ يُشَكِّكُوا المسلمين في الأصل الثاني وهو السُنَّةُ النبوية وقد اتَّخذوا للوصول إلى هذه الغاية الدنيئة أساليب متعددة، فتارة عن طريق التشكيك في ثبوتها، وأنها آحادية وليست متواترة.

 

وتارة أخرى عن طريق اختلاق الروايات التي تظهر الأحاديث بمظهر السطحية والسذاجة في التفكير ومخالفة الواقع المحسوس أو العقل الصريح أو النقل الصحيح أو التجربة المُسَلَّمَةِ إلى غير ذلك من الأساليب، وقد حمل لواء هذا التهجُّم من قديم الزمان «النظَّام» ومن على شاكلته من أعداء السُنَن النبوية، وقد عرض للكثير من مقالاتهم في الأحاديث العلَاّمة «ابن قتيبة» في كتابه " تأويل مختلف الحديث ".

 

وقد جاء القساوسة والمُسْتَشْرِقُونَ في العصور الحديثة فأخذوا هذه الطعون والشبهات فنفخوا فيها وزادوا فيها ما شاء لهم هواهم أنْ يزيدوا وحملوها أكثر مِمَّا تحمل وطلعوا بها على الناس.

 

ومِمَّا يؤسف له غاية الأسف أنَّ بعض الذين يثقون بكل ما يرد عن

--------------------------------------------

(1) هم أتباع عبد الله بن سبأ اليهودي الذي أظهر الإسلام واستبطن الكفر.
এবং রাসূলের আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের মাধ্যমে, যেমনটি সাবায়ি সম্প্রদায় (১) করেছিল; আর কখনও ধর্মীয় পাঠ্যসমূহের এমন অপব্যাখ্যার মাধ্যমে যার পক্ষে ভাষা বা শরীয়ত কোনো সাক্ষ্য দেয় না; এবং ধর্মীয় বিধিবিধানগুলো বাতিল করার প্রচেষ্টার মাধ্যমে, যেমনটি বাতেনি, কারামতি এবং তাদের সমগোত্রীয়রা করেছিল।

 

এই শত্রুরা মুসলমানদেরকে তাদের দ্বীনের ভিত্তি তথা পবিত্র কুরআন সম্পর্কে সংশয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। তারা কুরআনের নিরবচ্ছিন্নতা (তواتর), এর অলৌকিকতা, বৈচিত্র্য ও বৈপরীত্য থেকে এর পবিত্রতা এবং প্রতিটি যুগ ও পরিবেশের জন্য এর বিধানসমূহের উপযোগিতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার চেষ্টা করেছে। এই উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তারা মনগড়া বর্ণনা তৈরি করেছে এবং আয়াতের অর্থ বিকৃত করেছে।

 

একইভাবে তারা দ্বিতীয় উৎস তথা সুন্নাহ সম্পর্কেও মুসলমানদের সংশয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। এই হীন উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য তারা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছে। কখনও সুন্নাহর প্রামাণিকতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টির মাধ্যমে এবং দাবি করার মাধ্যমে যে, এগুলো একক বর্ণনা (আহাদ), নিরবচ্ছিন্ন (মুতাওয়াতির) নয়।

 

আবার কখনও এমন সব বানোয়াট বর্ণনা তৈরির মাধ্যমে যা হাদীসগুলোকে চিন্তার ক্ষেত্রে অগভীর ও সেকেলে হিসেবে উপস্থাপন করে এবং যা দৃশ্যমান বাস্তবতা, স্পষ্ট বিবেক, বিশুদ্ধ বর্ণনা কিংবা স্বীকৃত অভিজ্ঞতার পরিপন্থী হিসেবে দেখায়—এ ছাড়াও আরও নানা কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই সুন্নাহর শত্রুদের মধ্য থেকে 'নাজ্জাম' এবং তার অনুসারীরা এই আক্রমণের ঝাণ্ডা বহন করে আসছে। আল্লামা 'ইবনে কুতাইবাহ' তাঁর "তাউইলু মুখতালিফিল হাদীস" গ্রন্থে হাদীসের বিষয়ে তাদের অনেক বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

 

আধুনিক যুগে ধর্মযাজক ও প্রাচ্যবিদরা এসে এই বিদ্রূপ ও সংশয়গুলো গ্রহণ করেছেন। এরপর তারা সেগুলোতে নতুন করে হাওয়া দিয়েছেন এবং নিজেদের খেয়ালখুশি মতো তাতে অনেক কিছু যোগ করেছেন। তারা বিষয়গুলোকে তার ভার বহনের ক্ষমতার চেয়েও বেশি পল্লবিত করেছেন এবং তা নিয়ে মানুষের সামনে হাজির হয়েছেন।

 

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, যারা এমন কিছু লোকের নিকট থেকে আগত সব বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেন যারা...

--------------------------------------------

(১) তারা হলো আবদুল্লাহ ইবনে সাবার অনুসারী; সেই ইহুদি যে ইসলাম প্রকাশ করেছিল কিন্তু অন্তরে কুফর লুকিয়ে রেখেছিল।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ৭)
الغربيين من آراء ومذاهب قد تلقفوا هذه الشبهات والطعون ونسبها بعضهم إلى نفسه زوراً فكان كلابس ثوبي زور، والبعض الآخر لم ينتحلها لنفسه ولكنه ارتضاها وجعل من نفسه بوقاً لترَدًّادها، ومن هؤلاء من ضَمَّنَ كُتُبَهُ هذه الشبهات بل وقَوَّى من أمرها وذلك كما فعل الأستاذ أحمد أمين رحمه الله في كتابيه " فجر الإسلام " و " ضُحى الإسلام " وهو وإنْ كان جَارَى المُسْتَشْرِقِينَ في كثير مِمَّا زعموا فقد خالفهم في بعض ما حدسوا، وكان عفيفاً في عبارته، مترفِّقاً في نقده.

 

وبعض هؤلاء المتلقفين كانوا أشد من المُسْتَشْرِقِينَ وَالمُبَشِّرِينَ هوى وعصبية وعداءً ظاهراً للسُنَّة وأهلها وزاد عليهم الإسفاف في العبارة وأتى في تناوله للصحابة ولا سيما الصحابي الجليل «أبو هريرة» رضي الله عنه بألفاظ نابية عارِيَّةَ من كل أدب ومروءة، وذلك كما صنع الشيخ محمود أَبُو رَيَّةَ في كتابه " أضواء على السُنَّة المحمدية ".

 

وشتان ما بين صنيع الأستاذ أحمد أمين، وبين ما صنع أَبُو رَيَّةَ، والفرق بينهما فرق ما بين العالم والمُدَّعِي، والباحث الأصيل والمتعلق بأذيال الباحثين.

 

والبحث في السُنَّة وعلومها ليس هيِّناً ولا سهلاً، وإنما يحتاج إلى صبر وأناة، وإعمال رويَّة وإطالة نظر، والنظر السطحي والبحث الخاطف لا يؤديان إِلَاّ إلى آراء مبتسرة ونتائج فاسدة.

 

وقد تكشَّف لي أنَّ بعض الأخطاء التي وقع فيها المُسْتَشْرِقُونَ ومتابعوهم جاءت مِنْ أنهم لم يستكنهوا الأمور، ولم يصلوا إلى الأعماق والجذور، ولم يَسْتَشِفُّوا ما وراء الظواهر، ولم يتمثَّلوا حق التمثل البيئة والعصر
পাশ্চাত্য মতবাদ ও মতাদর্শের অনুসারী একদল লোক এই সংশয় ও অপবাদগুলো লুফে নিয়েছে। তাদের কেউ কেউ মিথ্যাচার করে এগুলোকে নিজেদের বলে চালিয়ে দিয়েছে, ফলে সে যেন মিথ্যার দুটি পোশাক পরিধানকারী ব্যক্তির ন্যায় হয়েছে। আবার অন্যরা এগুলোকে নিজের বলে দাবি করেনি, কিন্তু তা গ্রহণ করেছে এবং তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। তাদের মধ্যে এমন লোকও আছেন যারা তাদের কিতাবসমূহে এই সংশয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছেন, এমনকি এগুলোর গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। যেমনটি করেছেন অধ্যাপক আহমদ আমিন (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'ফাজরুল ইসলাম' এবং 'দুহাল ইসলাম' নামক গ্রন্থদ্বয়ে। তিনি যদিও প্রাচ্যবিদদের অনেক দাবির সাথে একমত হয়েছেন, তবে তাদের কিছু অনুমানের ক্ষেত্রে তিনি তাদের বিরোধিতা করেছেন। তিনি তাঁর শব্দচয়নে মার্জিত এবং সমালোচনায় নম্র ছিলেন।

 

এই সব গ্রহণকারীদের মধ্যে কেউ কেউ সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের প্রতি কুপ্রবৃত্তি, গোঁড়ামি এবং প্রকাশ্য শত্রুতায় প্রাচ্যবিদ ও মিশনারিদের চেয়েও চরমপন্থী ছিলেন। তদুপরি তারা অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে—বিশেষ করে মহান সাহাবী আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে—অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও অভদ্র শব্দ ব্যবহার করেছেন, যাতে শিষ্টাচার ও মনুষ্যত্বের লেশমাত্র ছিল না। যেমনটি করেছেন শায়খ মাহমুদ আবু রাইয়াহ তাঁর 'আদওয়াউ আলাস সুন্নাহিল মুহাম্মাদিয়াহ' গ্রন্থে।

 

অধ্যাপক আহমদ আমিনের কর্ম এবং আবু রাইয়াহর কর্মের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। তাদের দুইজনের মধ্যকার পার্থক্য হলো একজন প্রকৃত আলিম ও একজন দাবিদারের মধ্যে যে পার্থক্য থাকে, কিংবা একজন মূল গবেষক এবং গবেষকদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী ব্যক্তির মধ্যে যে পার্থক্য থাকে।

 

সুন্নাহ এবং এর শাস্ত্রসমূহ নিয়ে গবেষণা করা কোনো তুচ্ছ বা সহজ বিষয় নয়; বরং এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, স্থিরতা, গভীর অভিনিবেশ ও দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ। ভাসাভাসা দৃষ্টি এবং ত্বরিত গবেষণা কেবল অপরিপক্ক মত ও ভ্রান্ত ফলাফলের দিকেই পরিচালিত করে।

 

আমার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রাচ্যবিদ এবং তাদের অনুসারীরা যেসব ভুলের শিকার হয়েছেন তার মূল কারণ হলো তারা বিষয়গুলোর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে পারেননি, তারা এর গভীরতা ও শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি, বাহ্যিক রূপের অন্তরালে যা রয়েছে তা তারা পর্যবেক্ষণ করতে পারেননি এবং তৎকালীন পরিবেশ ও যুগকে তারা যথাযথভাবে হৃদয়াঙ্গম করতে সক্ষম হননি।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ৮)
والملابسات التي جمعت فيها الأحاديث، والصفات التي كانت مِنْ ملازمات أئمة الحديث من دين، وعلم، وتثبُّت، وحذر بالغ، وأمانة فائقة، ومراقبة لله في السرِّ والعلن.

 

وقد قيَّض الله - سُبْحَانَهُ - للسنن والأحاديث من نافح عنها وردَّ كيد الكائدين لها، ولن يخلو عصر من العصور من عالم ينفي عنها تحريف الغالين، وانتحال المُبطلين، وتأويل الجاهلين.

 

ورحم الله الإمام «ابن قتيبة» فقد عرض لكثير من الشُبَهِ التي أوردها أعداء الأحاديث، وكان له في ردِّها جهاد مشكور مذكور بالإكبار والإعظام.

 

ولا يزال في كل قُطْرٍ من أقطار الإسلام من شغف بالسُنن والأحاديث، وتعمَّق في دراستها، وجاهد في ردِّ الشبهات عنها، وألَّفُوا في هذا السبيل المؤلفات القيِّمة، من علماء الأزهر وغيرهم من علماء الحجاز والشام والهند والمغرب.

 

وقد شاء الله سُبْحَانَهُ لي - ولله الحمد والمِنَّة - أنْ أكون من المتشرفين بدراسة السُنَّة والمدافعين عن ساحتها الطاهرة دفاعاً عن علم وتثبت، ودراسة واقتناع، لا عن عصبية وعاطفة، وقد عرضت لبعض هذه الشُبُهَات وَرَدِّهَا رَدًّا علمياً صحيحاً في كتابي الذي نلت به درجة الأستاذية «الدكتوراه» وسمَّيْتُهُ " الوضع في الحديث، وردِّ شُبَه المُسْتَشْرِقِينَ والكُتَّاب المعاصرين " (1).

--------------------------------------------

(1) ألَّفتُهُ عام 1365 هـ الموافق سنة 1946 م.
সেই পারিপার্শ্বিক অবস্থা যাতে হাদীসসমূহ সংগৃহীত হয়েছিল, এবং হাদীসের ইমামগণের অবিচ্ছেদ্য গুণাবলি যেমন—দীনদারী, ইলম, নির্ভরযোগ্যতা, চরম সতর্কতা, অনন্য আমানতদারি এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর পর্যবেক্ষণ।

 

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সুন্নাহ ও হাদীসের জন্য এমন সব ব্যক্তিত্ব নির্ধারণ করেছেন যারা একে রক্ষা করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছেন। কোনো যুগই এমন আলেম থেকে শূন্য থাকবে না যিনি অতিরঞ্জনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে একে মুক্ত রাখবেন।

 

আল্লাহ ইমাম ‘ইবনে কুতাইবা’-এর ওপর রহম করুন; তিনি হাদীসের শত্রুদের উত্থাপিত অনেক সংশয় পর্যালোচনা করেছেন এবং সেসব খণ্ডনে তাঁর জিহাদ অত্যন্ত প্রশংসিত এবং সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয় হয়ে আছে।

 

ইসলামের প্রতিটি প্রান্তেই এখনো এমন ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন যারা সুন্নাহ ও হাদীসের প্রতি অনুরাগী, এর গবেষণায় গভীরভাবে নিবিষ্ট এবং এর থেকে সংশয় দূরীকরণে জিহাদরত। তাঁরা এ পথে মূল্যবান গ্রন্থাবলি রচনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আজহারের উলামায়ে কিরাম এবং হিজাজ, শাম, ভারত ও মাগরিবের অন্যান্য আলেমগণ।

 

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমার জন্য ইচ্ছা করেছেন—এবং সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই—যাতে আমি সুন্নাহ অধ্যয়নের এবং এর পবিত্র প্রাঙ্গণকে জ্ঞান ও সতর্কতার সাথে, গবেষণা ও আত্মপ্রত্যয়ের ভিত্তিতে রক্ষা করার গৌরব অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি; কোনো গোঁড়ামি বা আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়। আমি এই সংশয়গুলোর মধ্য হতে কিছু সংশয় এবং তার সঠিক বৈজ্ঞানিক খণ্ডন আমার সেই গ্রন্থে উপস্থাপন করেছি যার মাধ্যমে আমি ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি লাভ করেছি এবং যার নামকরণ করেছি “হাদীসের জালকরণ এবং প্রাচ্যবিদ ও সমসাময়িক লেখকদের সংশয় নিরসন” (১)।

--------------------------------------------

(১) আমি এটি রচনা করেছি ১৩৬৫ হিজরি মোতাবেক ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ৯)
ولما صدر كتاب " أضواء على السُنَّة المحمدية " وجدت مؤلفه تلقف فيه كل ما قاله الأقدمُون والمُحَدِّثُونَ من طُعُون في الأحاديث، ورجالها، وما قاله المُسْتَشْرِقُونَ والمُبَشِّرُونَ، وأذنابهم، وحرص أشدَّ الحرص على أنْ يُظْهِرَ السُنَّة بمظهر الاختلاف والتناقض، والتحريف والتبديل، والسذاجة والتخريف، وفي سبيل هذا الغرض زَيَّفَ الصحيح، وصَحَّحَ المختلق المكذوب، وقد رأيت أنَّ الرَدِّ على هذا الكتاب يعتبر رَدًّا لكل ما أثير حول السُنَّة من طُعُونٍ ولغط فمن ثَمَّ أسميته " دِفَاعٌ عَنْ السُنَّةِ، وَرَدِّ شُبَهِ المُسْتَشْرِقِينَ وَالكُتَّابِ المُعَاصِرِينَ ".

 

وقد بدأت الرَدِّ على صفحات " مجلة الأزهر "، وكتبت فيها سبع مقالات متوالية (1)، ثم جدت أحوال وملابسات توقفت بسببها عن الرَدِّ على صفحات هذه المجلة، ثم أخذت في إكمال الرُدُود وتفرَّغت لذلك، وقد يسَّر اللهُ - وله الحمد والمنَّة - وأعان، فكان هذا الكتاب.

 

ولا يفوتني أنْ أُنَوِّهَ بما قام به في هذا المضمار أخوان كريمان وشيخان جليلان، هما الأستاذان: عبد الرحمن بن يحيى المعلَّمي اليماني، ومحمد عبد الرزاق حمزة.

 

فقد أخرج كل منهما في ذلك كتاباً حافلاً، فلهما من الله سبحانه الجزاء الأوفى، ومن الناس الثناء والدعاء.

--------------------------------------------

(1) من المُحرَّم إلى شعبان عام 1387 هـ. يعني قبل أنْ يُقدِّمَ الدكتور مصطفى السباعي رحمه الله كتابه " السُنَّة ومكانتها في التشريع الإسلامي " بعام لأنَّ تاريخ كتابته لمقدمة الطبعة الأولى لكتابه: 15 شعبان 1379 هـ - 12 شباط 1960 م وقد ذكر السباعي رحمه الله في كتابه: ص 460 (*) أنَّ كتابه صدر في عام 1961 م حين كان يستشفي بالقاهرة.

----------------------

[تَعْلِيقُ مُعِدِّ الكِتَابِ لِلْمَكْتَبَةِ الشَّامِلَةِ]:

في ذكر الرجوع إلى كتاب الدكتور مصطفى السباعي " السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي " ذكر في هذه الطبعة، وكذلك طبعة دار السنة (هنا رقم الصفحة 460 وفي طبعة دار السنة: 46) وهو خطأ (وإنما هي الصفحة 465). انظر " السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي "، ص 465، الطبعة الثالثة - بيروت: 1402 هـ - 1982 م، المكتب الإسلامي: دمشق - سوريا، بيروت - لبنان.
যখন "আদওয়া আলাস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ" (মুহাম্মদী সুন্নাহর উপর আলোকপাত) বইটি প্রকাশিত হলো, তখন আমি দেখলাম যে এর লেখক হাদীস এবং এর বর্ণনাকারীদের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমালোচকদের করা সকল অপবাদ, এবং প্রাচ্যবিদ, ধর্মপ্রচারক ও তাদের অনুসারীদের সকল অভিযোগ এখানে কুড়িয়ে একত্রিত করেছেন। তিনি সুন্নাহকে মতভেদ, বৈপরীত্য, বিকৃতি, পরিবর্তন, মূর্খতা ও রূপকথার রূপ দেওয়ার জন্য চরম প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এই উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তিনি সহীহ হাদীসকে জাল প্রতিপন্ন করেছেন এবং বানোয়াট মিথ্যা বর্ণনাকে সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আমি মনে করি যে, এই বইটির প্রতিবাদ মূলত সুন্নাহর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ ও বিভ্রান্তিরই দাঁতভাঙ্গা জবাব। তাই আমি এর নামকরণ করেছি "সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং প্রাচ্যবিদ ও আধুনিক লেখকদের সংশয় নিরসন"।

 

আমি "মাজাল্লাতুল আযহার" (আযহার ম্যাগাজিন)-এর পাতায় এই প্রতিবাদ শুরু করেছিলাম এবং সেখানে ধারাবাহিকভাবে সাতটি প্রবন্ধ লিখেছিলাম (১), এরপর কিছু পরিস্থিতি ও অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় উক্ত ম্যাগাজিনের পাতায় প্রতিবাদ লিখা বন্ধ করে দিই। এরপর আমি এই প্রতিবাদগুলো পূর্ণ করার কাজে মনোনিবেশ করি এবং এর জন্য নিজেকে নিয়োজিত করি। মহান আল্লাহ এটি সহজ করে দিয়েছেন—সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ তাঁরই—এবং তিনি সাহায্য করেছেন, যার ফলে এই গ্রন্থটি পূর্ণ হয়েছে।

 

এই ময়দানে আমার দুই মহান ভাই এবং উচ্চমর্যাদাবান শায়খ যে কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন, তা উল্লেখ না করা আমার জন্য অনুচিত হবে। তাঁরা হলেন—উস্তায আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমী আল-য়ামানী এবং উস্তায মুহাম্মদ আব্দুল রাযযাক হামযাহ।

 

তাঁরা প্রত্যেকেই এ বিষয়ে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন। মহান আল্লাহর কাছে তাঁদের জন্য রয়েছে সর্বোত্তম প্রতিদান এবং মানুষের পক্ষ থেকে প্রশংসা ও দোয়া।

--------------------------------------------

(১) ১৩৮৭ হিজরীর মুহররম মাস থেকে শাবান মাস পর্যন্ত। অর্থাৎ ডক্টর মুস্তফা আস-সিবাঈ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরী' আল-ইসলামী" গ্রন্থটি পেশ করার এক বছর আগে। কারণ তাঁর গ্রন্থের প্রথম সংস্করণের ভূমিকা লেখার তারিখ হলো: ১৫ শাবান ১৩৭৯ হিজরী - ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ। সিবাঈ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর বইয়ের ৪৬০ পৃষ্ঠায় (*) উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর বইটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল যখন তিনি কায়রোতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

----------------------

[মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য গ্রন্থ প্রস্তুতকারীর টীকা]:

ডক্টর মুস্তফা আস-সিবাঈ এর "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরী' আল-ইসলামী" গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সংস্করণে এবং দারুস সুন্নাহ সংস্করণেও (এখানে পৃষ্ঠা নম্বর ৪৬০ এবং দারুস সুন্নাহ সংস্করণে ৪৬) উল্লেখ করা হয়েছে, যা ভুল (মূলত এটি ৪৬৫ নম্বর পৃষ্ঠা)। দেখুন: "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরী' আল-ইসলামী", পৃষ্ঠা ৪৬৫, তৃতীয় সংস্করণ - বৈরুত: ১৪০২ হিজরী - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ, আল-মাকতাবুল ইসলামী: দামেস্ক - সিরিয়া, বৈরুত - লেবানন।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ১০)
وها أنذا أزف كتابي إلى قراء العربية، وعُشَّاق السُنَّة ومُحِبِّيهَا ذوي الغيرة عليها، وإلى طلَاّب الحقيقة، ومُحِبِّي المعرفة في كل قطر من أقطار الإسلام والعروبة، وسأقدِّم بين يدي الرَدِّودَ بحوثاً في منزلة السُنَّة من الدين، والاحتجاج بها، وموجزاً في الأطوار التي مَرَّتْ بها، والأصول والقواعد التي وضعها علماء الرواية وأئمة النقد في الإسلام.

 

فإنَّ كل ما قلته صواباً فمن الله، وإنْ كانت الأخرى فالحقَّ أردتُ، والصوابَ قصدْتُ «وَمَا تَوْفِيقِي إِلَاّ بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ».

 

كتبه أبو محمد محمد بن محمد أبو شهبة

 

من علماء الأزهر الشريف
আর আমি এখন আমার এই গ্রন্থটি আরবি ভাষার পাঠকবৃন্দ, সুন্নাহর অনুরাগী ও এর প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন প্রেমিকদের নিকট এবং ইসলাম ও আরব বিশ্বের প্রতিটি ভূখণ্ডের সত্যের সন্ধানী ও জ্ঞানানুরাগীদের উদ্দেশ্যে পেশ করছি। আমি এই খণ্ডনমূলক আলোচনার পূর্বে দ্বীনের মধ্যে সুন্নাহর মর্যাদা, এর প্রামাণিকতা, এটি যেসব পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে তার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা এবং রিওয়ায়াতশাস্ত্রের উলামায়ে কেরাম ও ইসলামের সমালোচনা শাস্ত্রের ইমামগণ যেসব মূলনীতি ও কানুন প্রণয়ন করেছেন, সে সম্পর্কে কিছু গবেষণা উপস্থাপন করব।

 

আমার বক্তব্যের যা কিছু সঠিক তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি অন্য কিছু হয় তবে আমি সত্যকেই অন্বেষণ করেছি এবং সঠিক লক্ষ্যই স্থির করেছি। ‘আমার তাওফিক কেবল আল্লাহরই সাহায্যে, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই অভিমুখে আমি প্রত্যাবর্তন করি।’

 

লিখেছেন আবু মুহাম্মদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আবু শাহবাহ

 

আল-আযহার আশ-শরীফের আলিমদের অন্তর্ভুক্ত
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مَنْزِلَةُ السُنَّةِ مِنَ الدِّينِ:

القرآن الكريم هو الأصل الأول للدين، والسُنَّة هي الأصل الثاني، ومنزلة السُنَّة من القرآن أنها مبيِّنة وشارحة له تُفَصِّلُ مُجْمَلَهُ، وتوضِّحُ مُشْكِلَهُ، وتُقَيِّدُ مطلقه، وتُخَصِّصُ عامَّه، وتبسط ما فيه من إيجاز، قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (1) وقال: {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ، صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ أَلَا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الْأُمُورُ} (2).

 

وقد كان النَّبِي - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ - يُبَيِّنُ تارة بالقول وتارة بالفعل وتارة بهما، وقد ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه فسَّر الظلم في قوله سبحانه: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ} (3) بالشرك، وفسَّرَ الحساب اليسير بالعرض في قوله سبحانه: {فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ، فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا، وَيَنْقَلِبُ إِلَى أَهْلِهِ مَسْرُورًا} (4).

 

وأنه قال: «صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي» رواه البخاري وأنه قال في حُجَّة الوداع: «لِتَأْخُذُوا مَنَاسِكَكُمْ، فَإِنِّي لَا أَدْرِي لَعَلِّي أَنْ لَا أَحُجَّ بَعْدَ حَجَّتِي هَذِهِ» وفي رواية «خُذُوا عَنِّي مَنَاسِكَكُمْ»

رواه مسلم وأبو داود والنسائي.

 

وروى أحمد ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه عن عُبادة بن الصامت في قوله تعالى: {أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلاً} (5).

--------------------------------------------

(1) [سورة النحل، الآية: 44].

(2) [سورة الشورى، الآيتان: 52، 53].

(3) [سورة الأنعام، الآية: 82].

(4) [سورة الانشقاق، الآيات: 7 - 9].

(5) [سورة النساء، الآية: 15].
দীনের মধ্যে সুন্নাহর মর্যাদা:

পবিত্র কুরআন হলো দীনের প্রথম মূল উৎস এবং সুন্নাহ হলো দ্বিতীয় মূল উৎস। কুরআনের সাপেক্ষে সুন্নাহর মর্যাদা হলো তা কুরআনের ব্যাখ্যাকারী ও বিশদ বর্ণনাকারী; এটি কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে বিস্তারিত করে, এর অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করে, এর শর্তহীন বিষয়গুলোকে শর্তযুক্ত করে, এর সাধারণ বিষয়গুলোকে নির্দিষ্ট করে এবং এতে যা সংক্ষেপে আছে তা সবিস্তারে বর্ণনা করে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকির নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে} (১)। তিনি আরও বলেন: {নিশ্চয় আপনি সরল পথের দিকে হেদায়াত দান করেন। সেই আল্লাহর পথ, যাঁর অধিকারে আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সব রয়েছে। জেনে রেখো, সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই ফিরে যায়} (২)।

 

নবী —তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক— কখনো কথার মাধ্যমে, কখনো কাজের মাধ্যমে এবং কখনো উভয়টির মাধ্যমে ব্যাখ্যা প্রদান করতেন। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি মহান আল্লাহর বাণী: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলমের সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই সুপথপ্রাপ্ত} (৩)—এখানে 'যুলম'-এর ব্যাখ্যা শিরক দ্বারা করেছেন। আর তিনি সহজ হিসাবের ব্যাখ্যা করেছেন (আমলনামা) পেশ করা দ্বারা, যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: {অতঃপর যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, অচিরেই তার হিসাব অত্যন্ত সহজভাবে নেওয়া হবে এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে আনন্দিত মনে ফিরে যাবে} (৪)।

 

তিনি আরও বলেছেন: «তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছো» (বুখারি)। বিদায় হজ্জে তিনি বলেছিলেন: «তোমরা তোমাদের হজ্জের নিয়মাবলী শিখে নাও, কারণ আমি জানি না সম্ভবত এই হজ্জের পর আমি আর হজ্জ করতে পারব না।» অন্য বর্ণনায় এসেছে «তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের হজ্জের নিয়মাবলী গ্রহণ করো।»

মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসায়ি এটি বর্ণনা করেছেন।

 

আহমাদ, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ উবাদাহ ইবনুস সামিত থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন: {অথবা আল্লাহ তাদের জন্য কোনো পথ করে দেন} (৫)।

--------------------------------------------

(১) [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৪৪]।

(২) [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৫২, ৫৩]।

(৩) [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ৮২]।

(৪) [সূরা আল-ইনশিকাক, আয়াত: ৭ - ৯]।

(৫) [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৫]।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ১২)
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «خُذُوا عَنِّي، خُذُوا عَنِّي، خُذُوا عَنِّي، قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلاً، الْبِكْرُ بِالْبِكْرِ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ، وَالثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ جَلْدُ مِائَةٍ وَالرَّجْمُ» (1).

 

‌‌مَثَلٌ مِنْ بَيَانِ السُنَّةِ لِلْقُرْآنِ:

قال الله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} (2) ولكنه لم يبين عدد الصلوات ولا كيفيتها ولا أوقاتها ولا فرائضها من واجباتها من سُننها فجاءت السُنَّة المُحمَّدية فبيَّنت كل ذلك، وكذلك لم يبين متى تجب الزكاة؟ وأنصبتها ومقدار ما يخرج فيها وفي أي شيء تجب؟ فجاءت السُنَّة فبيَّنت كل ذلك.

 

وكذلك قال الله تعالى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالَا مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} (3) ولم يبين ما هي السرقة؟ وما النصاب الذي يحد فيه السارق؟ وما المراد بالأيدي؟ ومن أي موضع يكون القطع؟ فبينت السُنَّة كل ذلك.

 

وقال الله تعالى: {إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (4) ولم يبين الحد فجاءت السُنَّة فَبَيَّنَتْهُ.

 

وقال الله تعالى: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ} (5) ولم يبين لمن هذا الحُكْم فبينت السُنَّة أنَّ هذا الحُكْم للزاني غير المحصن أما المحصن فَحَدُّهُ الرجم.

 

وقال تعالى: {وَعَلَى الثَّلاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنْفُسُهُمْ … } (6) ولم يبين قصتهم وجنايتهم فجاءت السُنَّة فبينت قصتهم غاية البنيان، إلى غير ذلك من المثل الكثيرة التي

--------------------------------------------

(1) أخذ بظاهر الحديث بعض الفُقَهَاء، وذهب إلى نسخ التغريب في البكر والجلد في الثيب آخرون.

(2) [سورة البقرة، الآيات: 43، 83، 110]، [سورة النساء، الآية: 77]، [سورة النور، الآية: 56]، [سورة المزمل، الآية: 20].

(3) [سورة المائدة، الآية: 38].

(4) [سورة المائدة، الآية: 90].

(5) [سورة النور، الآية: 2].

(6) [سورة التوبة، الآية: 118].
নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আমার নিকট থেকে গ্রহণ করো, তোমরা আমার নিকট থেকে গ্রহণ করো, তোমরা আমার নিকট থেকে গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের জন্য একটি পথ নির্ধারণ করেছেন। অবিবাহিত পুরুষের সাথে অবিবাহিত নারীর (ব্যভিচারের শাস্তি) হলো একশ চাবুক এবং এক বছরের নির্বাসন, আর বিবাহিত পুরুষের সাথে বিবাহিত নারীর (শাস্তি) হলো একশ চাবুক ও রজম (পাথর নিক্ষেপ)।" (১)।

 

‌‌কুরআনের বর্ণনায় সুন্নাহর ভূমিকার একটি উদাহরণ:

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো} (২) কিন্তু তিনি সালাতের সংখ্যা, তার পদ্ধতি, তার সময়সমূহ এবং তার ওয়াজিব ও সুন্নাতসমূহ থেকে তার ফরজগুলো বর্ণনা করেননি। ফলে মুহাম্মদী সুন্নাহ এসে এই সব কিছু বর্ণনা করেছে। অনুরূপভাবে জাকাত কখন ওয়াজিব হয়? তার নিসাবসমূহ এবং তাতে কী পরিমাণ প্রদান করতে হবে এবং কোন কোন বস্তুতে তা ওয়াজিব হবে তাও তিনি বর্ণনা করেননি। ফলে সুন্নাহ এসে এই সব কিছু বর্ণনা করেছে।

 

অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর চোর পুরুষ ও চোর নারী, তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে তাদের হাত কেটে দাও। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (৩) কিন্তু চুরি কী? চোরের দণ্ড দেওয়ার জন্য সম্পদের নিসাব কতটুকু? হাত বলতে কী বোঝানো হয়েছে? এবং কোন স্থান থেকে কাটা হবে—এসব তিনি বর্ণনা করেননি। ফলে সুন্নাহ এসব কিছু বর্ণনা করেছে।

 

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা তা পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো} (৪) কিন্তু তিনি এর হদ্দ (নির্ধারিত শাস্তি) বর্ণনা করেননি, ফলে সুন্নাহ এসে তা বর্ণনা করেছে।

 

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে তোমরা একশ করে চাবুক মারো। আল্লাহর বিধান পালনে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত না করে, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো} (৫) কিন্তু এই বিধান কাদের জন্য তা তিনি বর্ণনা করেননি। অতঃপর সুন্নাহ বর্ণনা করেছে যে, এই বিধান অবিবাহিত ব্যভিচারীর জন্য; আর বিবাহিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার হদ্দ হলো রজম।

 

এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং সেই তিন ব্যক্তির প্রতিও, যাদেরকে পেছনে রাখা হয়েছিল। এমনকি যখন পৃথিবী তার প্রশস্ততা সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকুচিত হয়ে গেল এবং তাদের জীবন তাদের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠল...} (৬) কিন্তু তিনি তাদের কাহিনী এবং তাদের অপরাধ বর্ণনা করেননি। ফলে সুন্নাহ এসে তাদের কাহিনী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। এই জাতীয় আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে যা...

--------------------------------------------

(১) কিছু ফকিহ এই হাদিসের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করেছেন, আবার অন্য কেউ কেউ অবিবাহিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে নির্বাসন এবং বিবাহিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে চাবুক মারার বিধান রহিত হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

(২) [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪৩, ৮৩, ১১০], [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৭৭], [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫৬], [সূরা আল-মুয্যাম্মিল, আয়াত: ২০]।

(৩) [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৩৮]।

(৪) [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৯০]।

(৫) [সূরা আন-নূর, আয়াত: ২]।

(৬) [সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ১১৮]।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ১৩)
تفوق الحصر، والتي لولا بيان السُنَّة لها لاستعجم علينا القرآن وتعذَّر فهمه وتدبُّره، وقد كان الصحابة ومن جاء بعدهم يعلمون هذه الحقيقة.

روى ابن المبارك عن عمران بن حصين أنه قال لرجل: «إنك رجل أحمق أتجد الظهر في كتاب الله أربعاً لا يجهر فيها بالقراءة، ثم عَدَّدَ عليه الصلاةً والزكاةً ونحو هذا، ثم قال: أتجده في كتاب الله مفسَّراً؟ إنَّ كتاب الله أبهم هذا وإنَّ السُنَّة تُفَسِّرُهُ». وروى الأوزاعي عن حسان بن عطية قال: كان الوحي ينزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويحضره «جبريل» بالسُنَّة التي تُفَسِّرُ ذلك.

 

وعن مكحول قال: «القرآن أحوج إلى السُنَّة من السُنَّة إلى القرآن». وقال الإمام أحمد: «إن السُنَّة تُفَسِّرُ الكتاب وتُبَيِّنُهُ»

 

‌‌اسْتِقْلَالُ السُنَّةِ بِالتَشْرِيعِ:

وقد تستقل السُنَّة بالتشريع أحياناً وذلك كتحريم الجمع بين المرأة وعمَّتها أو خالتها، وتحريم سائر القرابات من الرضاعة - عدا ما نص عليه في القرآن - إلحاقاً لهن بالمحرَّمات من النسب، وتحريم كل ذي ناب من السباع ومخلب من الطير، وتحليل ميتة البحر، والقضاء باليمين مع الشاهد إلى غير ذلك من الأحكام التي زادتها السُنَّة عن الكتاب (1).

 

‌‌حُجِيَّةُ السُنَّةِ:

وقد اتفق العلماء الذين يعتد بهم على حُجية السُنَّة، سواء منها ما كان على سبيل البيان أو على سبيل الاستقلال، قال الإمام الشوكاني: «إنَّ ثبوت حُجية السُنَّة المطهَّرة واستقلالها بتشريع الأحكام ضرورة دينية، ولا يخالف في ذلك إِلَاّ مَنْ لا حظ له في الإسلام» (2).

--------------------------------------------

(1) " مقدمة تفسير القرطبي ": 1/ 37 - 39.

(2) " إرشاد الفحول " للشوكاني: ص 29.
যা গণনার অতীত, এবং যদি সুন্নাহর ব্যাখ্যা না থাকত তবে আমাদের কাছে কুরআন দুর্বোধ্য হয়ে পড়ত এবং তা বোঝা ও তা নিয়ে গবেষণা করা অসম্ভব হয়ে যেত। সাহাবীগণ এবং তাদের পরবর্তীগণ এই সত্যটি জানতেন।

ইবনুল মুবারক ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এক ব্যক্তিকে বললেন: «নিশ্চয়ই তুমি এক নির্বোধ লোক। তুমি কি আল্লাহর কিতাবে যোহরের নামায চার রাকাত পাবে যাতে উচ্চৈঃস্বরে তিলাওয়াত করা হয় না? এরপর তিনি তার সামনে সালাত, যাকাত এবং অনুরূপ বিষয়গুলো গণনা করলেন। এরপর বললেন: তুমি কি আল্লাহর কিতাবে এসবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাও? নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাব একে সংক্ষেপে রেখেছে এবং সুন্নাহ একে ব্যাখ্যা করে।» আওযাঈ হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ওহী নাযিল হতো এবং জিবরাঈল তাঁর কাছে সুন্নাহ নিয়ে আসতেন যা একে ব্যাখ্যা করত।

 

মাকহুল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «সুন্নাহর প্রতি কুরআন যতটা মুখাপেক্ষী, কুরআনের প্রতি সুন্নাহ ততটা নয়।» ইমাম আহমাদ বলেন: «নিশ্চয়ই সুন্নাহ কিতাবকে (কুরআনকে) ব্যাখ্যা করে এবং তা সুস্পষ্ট করে।»

 

‌‌শরীয়ত প্রণয়নে সুন্নাহর স্বতন্ত্রতা:

সুন্নাহ মাঝে মাঝে স্বতন্ত্রভাবে বিধান প্রদান করে, যেমন—কোনো মহিলা এবং তার ফুফু অথবা তার খালাকে একত্রে বিবাহ করা হারাম করা; কুরআন যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে তা বাদে অন্যান্য দুগ্ধসম্পর্কীয় আত্মীয়দেরও বংশীয় হারাম সম্পর্কের অন্তর্ভুক্ত করে তাদের বিবাহ হারাম করা; হিংস্র পশুদের মধ্যে যাদের ছেদন দাঁত রয়েছে এবং পাখিদের মধ্যে যাদের শিকারি নখ রয়েছে তাদের হারাম করা; সমুদ্রের মৃত প্রাণী হালাল করা; এবং একজন সাক্ষীর সাথে শপথের ভিত্তিতে ফয়সালা করা—ইত্যাদি আরও অনেক বিধান যা সুন্নাহ কুরআনের অতিরিক্ত হিসেবে প্রদান করেছে (১)।

 

‌‌সুন্নাহর প্রামাণ্যতা:

নির্ভরযোগ্য আলিমগণ সুন্নাহর প্রামাণ্যতার বিষয়ে একমত হয়েছেন, তা ব্যাখ্যামূলক হোক বা স্বতন্ত্র বিধান দানকারী। ইমাম শাওকানী বলেন: «নিশ্চয়ই পবিত্র সুন্নাহর প্রামাণ্যতা এবং বিধান প্রণয়নে এর স্বতন্ত্র অবস্থানের বিষয়টি সাব্যস্ত হওয়া একটি দ্বীনি আবশ্যকতা, এবং এতে কেবল সেই ব্যক্তিই দ্বিমত পোষণ করে ইসলামে যার কোনো অংশ নেই» (২)।

--------------------------------------------

(১) "মুকাদ্দিমা তাফসীর আল-কুরতুবী": ১/ ৩৭ - ৩৯।

(২) শাওকানী রচিত "ইরশাদুল ফুহুল": পৃ. ২৯।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ১৪)
وصدق «الشوكاني» فإنه لم يخالف في الاحتجاج بالسُنَّة إِلَاّ الخوارج والروافض، فقد تمسَّكوا بظاهر القرآن وأهملوا السُنن، فضلُّوا وأضلُّوا، وحادوا عن الصراط المستقيم.

وقد استفاض القرآن والسُنَّة الصحيحة الثابتة بحُجية كل ما ثبت عن الرسول صلى الله عليه وسلم، قال تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} (1) وقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ} (2).

 

. قال ميمون بن مهران: الرَدِّ إلى الله هو الرجوع إلى كتابه، والرَدِّ إلى الرسول هو الرجوع إليه في حياته وإلى سُنَّتِهِ بعد وفاته.

 

وقال سبحانه: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} (3) وما قضى به النَّبِي صلى الله عليه وسلم يشمل ما كان بقرآن أو بسُنَّة، وقد دلَّت الآية على أنه لا يكفي في قبول ما جاء به القرآن والسُنَّة الإذعان الظاهري بل لا بُدَّ من الاطمئنان والرضا القلبي.

 

وقال: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} (4) فقد جعل سبحانه وتعالى طاعة الرسول من طاعته، وحذَّر من مخالفته فقال - عَزَّ شَأْنُهُ -: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (5) فلولا أنَّ أمره حُجَّة ولازم لما تَوَعَّدَ على مخالفته بالنار.

وقال: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ} (6).

--------------------------------------------

(1) [آل عمران، الآية: 31].

(2) [سورة النساء، الآية: 59].

(3) [سورة النساء، الآية: 65].

(4) [سورة النساء، الآية: 80].

(5) [سورة النور، الآية: 63].

(6) [سورة الأحزاب، الآية: 21].
আশ-শাওকানি সত্যই বলেছেন, কারণ খারিজি এবং রাফেজিরা ছাড়া সুন্নাহর প্রামাণিকতার বিষয়ে আর কেউ দ্বিমত পোষণ করেনি। তারা কুরআনের বাহ্যিক দিক আঁকড়ে ধরেছে এবং সুন্নাহকে বর্জন করেছে; ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছে ও অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করেছে এবং তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু সাব্যস্ত হয়েছে তার প্রামাণিকতার বিষয়ে কুরআন এবং সুপ্রতিষ্ঠিত সহীহ সুন্নাহর প্রমাণাদি সুস্পষ্ট ও ব্যাপক। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} (১) এবং তিনি বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (নেতৃস্থানীয়দের)। তারপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর ঈমান রাখো} (২)।

 

মাইমুন ইবনে মাহরান বলেন: আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো তাঁর কিতাবের দিকে প্রত্যাবর্তন করা, আর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর কাছে ফিরে আসা এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা।

 

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {কিন্তু না, তোমার রবের শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে তোমাকে বিচারক মানবে, তারপর তোমার দেওয়া ফয়সালের বিষয়ে তাদের মনে কোনো দ্বিধা থাকবে না এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে} (৩)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা ফয়সালা করেছেন তার মধ্যে কুরআন বা সুন্নাহ যা-ই হোক তা অন্তর্ভুক্ত। এই আয়াতটি একথাই নির্দেশ করে যে, কুরআন ও সুন্নাহ যা নিয়ে এসেছে তা গ্রহণের ক্ষেত্রে কেবল বাহ্যিক আনুগত্যই যথেষ্ট নয়, বরং অন্তরের প্রশান্তি ও সন্তুষ্টি থাকা আবশ্যক।

 

তিনি আরও বলেন: {যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল} (৪)। মহান আল্লাহ রাসূলের আনুগত্যকে তাঁর নিজের আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধাচরণ থেকে সতর্ক করে দিয়ে তাঁর সুমহান শানে বলেছেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক থাকে যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে} (৫)। সুতরাং তাঁর আদেশ যদি দলিল এবং পালনীয় না হতো, তবে এর বিরোধিতার জন্য শাস্তির ধমক দেওয়া হতো না।

তিনি আরও বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ} (৬)।

--------------------------------------------

(১) [আলে ইমরান, আয়াত: ৩১]।

(২) [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৯]।

(৩) [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৫]।

(৪) [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮০]।

(৫) [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬৩]।

(৬) [সূরা আল-আহজাব, আয়াত: ২১]।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال سبحانه: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (1) فقد جعل سبحانه أمر رسوله واجب الاتباع له، ونهيه واجب الانتهاء عنه.

 

وأما الأحاديث فكثيرة منها: ما رواه أبو داود في " سننه " عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَلَا إِنَّنِي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ، أَلَا يُوشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانٌ مُتَّكِئٌ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ: عَلَيْكُمْ بِالْقُرْآنِ، فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلَالٍ فَأَحِلُّوهُ، وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ، أَلَا لَا يَحِلُّ لَكُمْ لَحْمُ الْحِمَارِ الْأَهْلِيِّ، وَلَا كُلُّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ، وَلَا لُقَطَةُ مُعَاهَدٍ إِلَاّ أَنْ يَسْتَغْنِيَ عَنْهَا صَاحِبُهَا، وَمَنْ نَزَلَ بِقَوْمٍ، فَعَلَيْهِمْ أَنْ يَقْرُوهُ، فَإِنْ لَمْ يَقْرُوهُ، فَعَلَيْهِ أَنْ يُعْقِبَهُمْ (2) بِمِثْلِ قِرَاهُ». قال الإمام الخطابي: قوله: «أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ» يحتمل وجهين:

أحدهما: أنَّ معناه أنه أوتي من الوحي الباطن غير المتلوِّ مثل ما أعطي من الظاهر المتلوِّ

والثاني: أنه أوتي الكتاب وحياً يُتلى، وأوتي من البيان مثله أي أذن له أن يُبَيِّنَ ما في الكتاب فيعم ويخص، ويزيد عليه ويشرح ما في الكتاب، فيكون في وجوب العمل به ولزوم قبوله كالظاهر المتلو من القرآن».

 

وقوله: «يوشك رجل شبعان … » يحذِّر بهذا القول من مخالفة السُنن التي سنَّها مِمَّا ليس له من القرآن ذكر، على ما ذهبت إليه الخوارج والروافض فإنهم تمثَّلوا بظاهر القرآن وتركوا السُنن التي قد ضمنت بيان الكتاب فتحيَّروا وضلُّوا، وأراد بقوله: «متكئ على أريكته» أنه من أصحاب الترفه والدعة الذين لزموا البيوت ولم يطلبوا العلم من مظانه (3).

--------------------------------------------

(1) [سورة الحشر، الآية: 7].

(2) روي مشدَّداً ومخفَّفاً من المعاقبة أي يأخذ من أموالهم بقدر قراه.

(3) " تفسير القرطبي ": 1/ 38.
এবং তিনি (আল্লাহ) সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" (১) সুতরাং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূলের আদেশ পালন করাকে ওয়াজিব এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকাকে আবশ্যক করেছেন।

 

আর এই বিষয়ে হাদিস অনেক, তার মধ্যে একটি হলো: যা ইমাম আবু দাউদ তার "সুনান" গ্রন্থে মিকদাম ইবনে মাদি কারিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক পেটভরা লোক দেখা যাবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বলবে: তোমরা শুধু এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল মানবে এবং এতে যা হারাম পাবে তাকেই হারাম মানবে। সাবধান! তোমাদের জন্য গৃহপালিত গাধার মাংস হালাল নয়, এবং হিংস্র প্রাণীদের মধ্যে শিকারি দাঁত বিশিষ্ট কোনো প্রাণীও নয়। আর কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের হারানো বস্তুও হালাল নয়, যতক্ষণ না তার মালিক তা থেকে অমুখাপেক্ষী হয় (অর্থাৎ মালিকের আর প্রয়োজন না থাকে)। আর কেউ যদি কোনো কওমের নিকট মেহমান হয়, তবে তাদের ওপর তাকে আপ্যায়ন করা আবশ্যক। যদি তারা তাকে আপ্যায়ন না করে, তবে মেহমানের অধিকার রয়েছে তাদের থেকে তার আপ্যায়নের সমপরিমাণ আদায় করে নেওয়ার।" ইমাম খাত্তাবি বলেছেন: তাঁর বাণী: "আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ প্রদান করা হয়েছে" এর দুটি অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে:

প্রথমটি: এর অর্থ হলো তাকে অপ্রকাশ্য ওহী (সুন্নাহ) যা তিলাওয়াত করা হয় না, তা প্রদান করা হয়েছে ঠিক যেমন তাকে প্রকাশ্য ওহী (কুরআন) যা তিলাওয়াত করা হয় তা প্রদান করা হয়েছে।

দ্বিতীয়টি: তাকে কিতাব দেওয়া হয়েছে এমন ওহী হিসেবে যা তিলাওয়াত করা হয়, এবং এর ব্যাখ্যার জন্যও অনুরূপ বিষয় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তাকে কিতাবে যা আছে তা বর্ণনা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে; ফলে তিনি ব্যাপক বিধানকে নির্দিষ্ট করবেন, বিশেষ বিধানকে সাধারণ করবেন, অতিরিক্ত বিধান দেবেন এবং কিতাবে যা আছে তা ব্যাখ্যা করবেন। সুতরাং আমল করা এবং তা গ্রহণ করার আবশ্যিকতার ক্ষেত্রে এটি কুরআনের তিলাওয়াতকৃত প্রকাশ্য ওহীর মতোই।

 

আর তাঁর বাণী: "অচিরেই এমন এক পেটভরা লোক … " এর মাধ্যমে তিনি সেই সব সুন্নাহর বিরোধিতা করা থেকে সতর্ক করেছেন যা তিনি প্রবর্তন করেছেন কিন্তু কুরআনে তার সরাসরি উল্লেখ নেই। যেমনটি খাওয়ারিজ ও রাফেজিরা করে থাকে; তারা কুরআনের বাহ্যিক রূপকে আঁকড়ে ধরেছে এবং সেই সব সুন্নাহ বর্জন করেছে যা কিতাবের ব্যাখ্যার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, ফলে তারা বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট হয়েছে। আর "তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে" কথাটি দ্বারা তিনি সেই বিলাসপ্রিয় ও আয়েশি লোকদের বুঝিয়েছেন যারা ঘরে বসে থাকে এবং জ্ঞানের প্রকৃত উৎসসমূহ থেকে ইলম অনুসন্ধান করে না (৩)।

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭]।

(২) এটি শব্দে তাশদীদসহ এবং তাশদীদ ছাড়াও বর্ণিত হয়েছে, যার অর্থ হলো প্রতিফল নেওয়া; অর্থাৎ সে তাদের সম্পদ থেকে তার আপ্যায়নের সমপরিমাণ মূল্য আদায় করে নেবে।

(৩) "তাফসীরে কুরতুবী": ১/৩৮।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد دلَّ الحديث على معجزة لِلْنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم -فقد ظهرت فئة في القديم والحديث إلى هذه الدعوة الخبيثة وهي الاكتفاء بالقرآن عن الأحاديث، وغرضهم هدم نصف الدين أو إنْ شئت فقل: تقويض الدين كله، لأنه إذا أهملت الأحاديث والسُنن فسيؤدِّي ذلك - ولا ريب - إلى استعجام كثير من القرآن على الأمَّةِ وعدم معرفة المراد منه، وإذا أهملت الأحاديث واستعجم القرآن فَقُلْ: على الإسلام العفاء.

 

وفي حديث العرباض بن سارِيَّةَ مرفوعاً: «عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ مِنْ بَعْدِي عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ». رواه أبو داود والترمذي وقال: حديث حسن صحيح.

 

وروى الحاكم عن ابن عباس رضي الله عنهما أنَّ النَّبِي صلى الله عليه وسلم خطب في حُجَّة الوداع فقال: «إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ يَئِسَ أَنْ يُعْبَدَ بِأَرْضِكُمْ، وَلَكِنْ رَضِيَ أَنْ يُطَاعَ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ مِمَّا تَحْقِرُونَ مِنْ أَمْرِكُمْ فَاحْذَرُوا، إِنِّي تَرَكْتُ مَا إِنِْ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ فَلَنْ تَضِلُّوا أَبَدًا: كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ». وروى مثله الإمام مالك في " الموطأ ".

 

وهي صريحة في أنَّ السُنَّة كالكتاب يجب الرجوع إليها في استنباط الأحكام وقد أجمع الصحابة - رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِمْ - على الاحتجاج بالسُنن والأحاديث والعمل بها ولو لم يكن لها أصل على الخصوص في القرآن ولم نعلم أحداً خالف ذلك قط فكان الواحد منهم إذا عرض له أمر طلب حكمه في كتاب الله، فإن لم يجده طلبه في السُنَّة، فإن لم يجده اجتهد في حدود القرآن والسُنَّة وأصول الشريعة.

 

وقد وضع لهم النَّبِي صلى الله عليه وسلم -هذا الأساس القويم
এই হাদীসটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একটি মুজিজার প্রমাণ বহন করে। কারণ প্রাচীন ও বর্তমান উভয় কালেই এমন একটি দলের উদ্ভব ঘটেছে যারা এই খবিস (নিকৃষ্ট) দাওয়াতের দিকে আহ্বান করে, আর তা হলো হাদীসের বদলে কেবল কুরআনকেই যথেষ্ট মনে করা। তাদের উদ্দেশ্য হলো দ্বীনের অর্ধেক ধ্বংস করা, অথবা আপনি চাইলে বলতে পারেন: পুরো দ্বীনকেই সমূলে উপড়ে ফেলা। কেননা যদি হাদীস ও সুন্নাহকে অবহেলা করা হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে উম্মতের নিকট কুরআনের অনেক অংশের অর্থকে দুর্বোধ্য করে তুলবে এবং এর উদ্দেশ্য ও মর্ম জানা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আর যদি হাদীসকে ত্যাগ করা হয় এবং কুরআন দুর্বোধ্য হয়ে যায়, তবে ইসলামের বিদায় ও বিলুপ্তি অবধারিত।

 

ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মারফূ হাদীসে এসেছে: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো; একে তোমাদের মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখো।" আবু দাউদ ও তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিযী) বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ।

 

হাকিম ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জের সময় খুতবা দিয়ে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের এই জমিনে তার ইবাদত করা হবে—এ ব্যাপারে নিরাশ হয়েছে, তবে এর বাইরে তোমাদের যে কাজগুলোকে তোমরা তুচ্ছ মনে করো সেগুলোতে তার আনুগত্য করা হবে বলে সে সন্তুষ্ট হয়েছে। সুতরাং তোমরা সতর্ক থেকো। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ।" ইমাম মালিক তাঁর "মুওয়াত্তা"-তেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

 

আর এটি এই বিষয়ে সুস্পষ্ট যে, হুকুম বা বিধান আহরণের ক্ষেত্রে কুরআনের ন্যায় সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করাও ওয়াজিব। সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সুন্নাহ ও হাদীসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা এবং সে অনুযায়ী আমল করার বিষয়ে ইজমা (ঐক্যমত) পোষণ করেছেন, যদিও কুরআনে বিশেষভাবে সেটির কোনো মূল ভিত্তি না থাকে। আমরা এমন কাউকে চিনি না যিনি কখনো এর বিরোধিতা করেছেন। তাদের কারো সামনে যখন কোনো বিষয় উপস্থিত হতো, তখন তিনি আল্লাহর কিতাবে এর বিধান খুঁজতেন; যদি সেখানে না পেতেন তবে সুন্নাহর মধ্যে তা তালাশ করতেন; আর যদি সেখানেও না পেতেন তবে কুরআন, সুন্নাহ এবং শরীয়তের মূলনীতির সীমানার মধ্যে থেকে ইজতিহাদ করতেন।

 

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের জন্য এই সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ১৭)
بإقراره لمعاذ حين بعثه إلى اليمن فقد قال له: «بِمَ تَقْضِي إِنْ عَرَضَ قَضَاءٌ؟ قَالَ: «بِكِتَابِ اللَّهِ». قَالَ: «فَإِنْ لَمْ تَجِدْ؟» قَالَ: «بِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم». قَالَ: «فَإِنْ لَمْ تَجِدْ؟» قَالَ: «أَجْتَهِدُ رَأْيِي وَلَا آلُو». فَضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَدْرَهُ وَقَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللَّهِ لِمَا يُرْضِي اللَّهَ وَرَسُولَهُ» ..

وقد فهم الصحابة رجوع جميع ما جاءت به السُنَّة إلى القرآن من قوله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (1).

 

روى البخاري في " صحيحه " عن عبد الله بن مسعود قال: «لَعَنَ اللَّهُ الوَاشِمَاتِ وَالمُوسْتَشِمَاتِ، وَالمُتَنَمِّصَاتِ وَالمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ المُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللَّهِ»، فقالت أم يعقوب: «ما هذا؟» فقال عبد الله: «وما مالي لا ألعن من لعن رسول الله، وفي كتاب الله» قالت: «والله لقد قرأت ما بين اللوحين فما وجدته»، فقال: «والله لئن كنت قرأتيه لقد وجدتيه قال الله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (2)».

 

وهذه الآية تعتبر أصلاً لكل ما جاءت به السُنَّة مِمَّا لم يرد له في القرآن ذكر وعلى هذا الدرب والطريق الواضح من جاء بعد الصحابة من أئمة العلم والدين، روي عن الإمام الشافعي - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - أنه كان جالساً في المسجد الحرام يُحَدِّثُ الناس فقال: «لا تسألوني عن شيء إِلَاّ أجبتكم فيه من كتاب الله»، فقال الرجل: «ما تقول في المُحْرِمِ إذا قتل الزنبور؟» فقال: «لا شيء عليه»، فقال الرجل: «أين هذا من كتاب الله؟» فقال: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (3).

 

ثم ذكر إسناداً إلى سيدنا عمر أنه قال: «للمحرم قتل الزنبور».

--------------------------------------------

(1) و (2) و (3) [سورة الحشر، الآية: 7].
যখন তিনি মুআযকে ইয়ামানে প্রেরণ করেন তখন তাকে অনুমোদন দেওয়ার মাধ্যমে (এটি প্রমাণিত হয়), কেননা তিনি তাকে বলেছিলেন: «তোমার কাছে কোনো বিচারকার্য উপস্থিত হলে তুমি কিসের মাধ্যমে ফয়সালা করবে?» তিনি বললেন: «আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে।» তিনি বললেন: «যদি তুমি তা (কিতাবে) না পাও?» তিনি বললেন: «আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহর মাধ্যমে।» তিনি বললেন: «যদি তুমি সেখানেও না পাও?» তিনি বললেন: «আমি আমার মেধা দিয়ে ইজতিহাদ করব এবং কোনো ত্রুটি করব না।» তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বুকে চাপড় দিলেন এবং বললেন: «সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আল্লাহর রাসূলের প্রতিনিধিকে এমন বিষয়ের তাওফিক দিয়েছেন যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সন্তুষ্ট করে» ..

আর সাহাবীগণ সুন্নাহ যা কিছু নিয়ে এসেছে সেগুলোর প্রত্যাবর্তন আল্লাহর এই বাণী থেকে কুরআনের দিকেই হবে বলে বুঝেছিলেন: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং তিনি যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (১)।

 

বুখারী তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আল্লাহ লানত করেছেন ঐসব নারীদের যারা উল্কি অংকন করে এবং যারা উল্কি অংকন করায়, আর যারা ভ্রু উপড়ে ফেলে এবং যারা সৌন্দর্যের জন্য দাঁতের মাঝে ফাঁক তৈরি করে, যারা আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে», তখন উম্মে ইয়াকুব বললেন: «এটি কী?» আবদুল্লাহ বললেন: «আমার কী হয়েছে যে আল্লাহর রাসূল যাকে লানত করেছেন আমি তাকে লানত করব না? অথচ এটি আল্লাহর কিতাবেই আছে।» তিনি বললেন: «আল্লাহর কসম, আমি তো দুই মলাটের মাঝখানের সবকিছু পড়েছি কিন্তু আমি তা পাইনি», তখন তিনি বললেন: «আল্লাহর কসম, যদি তুমি তা পড়তে তবে অবশ্যই তা পেতে; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং তিনি যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (২)»।

 

আর এই আয়াতটি সুন্নাহ যা কিছু নিয়ে এসেছে—যার উল্লেখ কুরআনে নেই—তার সবকিছুর জন্য একটি মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। সাহাবীদের পরবর্তী ইলম ও দ্বীনের ইমামগণও এই স্পষ্ট পথ ও পন্থার ওপরই ছিলেন। ইমাম শাফিঈ —রাহিমাহুল্লাহু তাআলা— থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি মসজিদে হারামে বসে মানুষকে দ্বীন শিক্ষা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: «তোমরা আমাকে যা কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে আমি আল্লাহর কিতাব থেকেই তোমাদের উত্তর দেব», এক ব্যক্তি বলল: «মুহরিম (ইহরাম অবস্থায়) ব্যক্তি যদি ভীমরুল হত্যা করে তবে সে সম্পর্কে আপনি কী বলেন?» তিনি বললেন: «তার ওপর কোনো দণ্ড নেই», লোকটি বলল: «এটি আল্লাহর কিতাবের কোথায় আছে?» তিনি বললেন: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং তিনি যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (৩)।

 

অতঃপর তিনি সাইয়্যিদুনা উমর পর্যন্ত একটি সনদ উল্লেখ করলেন যে তিনি বলেছেন: «মুহরিম ব্যক্তির জন্য ভীমরুল হত্যা করা বৈধ।»

--------------------------------------------

(১), (২) ও (৩) [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭]।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ১৮)
وذكر ابن عبد البر في كتاب العلم (1) له عن عبد الرحمن بن يزيد: أنه رأى مُحرما

عليه ثيابه، فقال: «ائتني بآية من كتاب الله تنزع ثيابي، قال: فقرأ عليه: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (2).

 

‌‌حَدِيثُ عَرْضِ السُنَّةِ عَلَى القُرْآنِ مَكْذُوبٌ:

أما الحديث الذي يرويه القائلون بعدم استقلال السُنَّةِ بالتشريع، وهو: «إذا جاءكم عني حديث فاعرضوه على كتاب الله فما وافق فخذوه وما خالف فاتركوه» فقد بَيَّنَ أئمة الحديث وصيارفته أنه موضوع مُختلق على النَّبِي صلى الله عليه وسلم وضعته الزنادقة كي يصلوا إلى غرضهم الدنيء من إهمال الأحاديث ، وقد عارض هذا الحديث بعض الأئمة فقالوا: عرضنا هذا الحديث الموضوع على كتاب الله فوجدناه مخالفاً له، لأنَّا وجدنا في كتاب الله: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (3) ووجدنا فيه: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} (4) ووجدنا فيه: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} (5)، (6).

 

وهكذا نرى أنَّ القرآن الكريم يُكَذِّبُ هذا الحديث ويرُدُّهُ.

وقد حاول بعض المُسْتَشْرِقِينَ وأتباعهم الذين صنعهم الاستعمار على يديه أنْ يُحْيُوا ما اندرس من هذه الدعوة الخبيثة، ولكن الله سبحانه قَيَّضَ لهؤلاء في الحديث - كما قَيَّضَ لأسلافهم في القديم - من وضع الحق في نصابه، وردَّ كيدهم في نُحُورهم: {وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَاّ أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} (7)

 

‌‌عِنَايَةُ الصَّحَابَةِ بِالأَحَادِيثِ وَالسُّنَنِ:

ولمكانة السُنَّة من الدين، ومنزلتها من القرآن الكريم عُني الصحابة بالأحاديث النبوية عناية فائقة، وحرصوا عليها حرصهم على القرآن، فحفظوها بلفظها أو بمعناها وفهموها، وعرفوا مغازيها ومراميها بسليقتهم وفطرتهم العربية، وبما كانوا يسمعونه من أقوال النَّبِي - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ

--------------------------------------------

(1) [أي " جامع بيان العلم وفضله "].

(2) و (3) [سورة الحشر، الآية: 7].

(4) [آل عمران، الآية: 31].

(5) [سورة النساء، الآية: 80].

(6) " إرشاد الفحول ": ص 29.

(7) [سورة التوبة، الآية: 32].
ইবনে আবদ আল-বারর তাঁর ‘কিতাবুল ইলম’ (১)-এ আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি এক ইহরামকারী ব্যক্তিকে তার পোশাকে আবৃত অবস্থায় দেখলেন। তখন লোকটি বলল: «আল্লাহর কিতাব থেকে আমার সামনে এমন একটি আয়াত পেশ করুন যা আমার শরীর থেকে পোশাক খুলে ফেলবে (অর্থাৎ ইহরাম অবস্থায় সেলাই করা পোশাক নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ দিবে)।’ তিনি (আবদুর রহমান) তার সামনে তিলাওয়াত করলেন: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (২)।

 

‌‌কুরআনের সাথে সুন্নাহকে মিলিয়ে দেখার হাদীসটি বানোয়াট:

যারা বিধান প্রণয়নে সুন্নাহর স্বতন্ত্র কর্তৃত্বে বিশ্বাস করে না, তারা যে হাদীসটি বর্ণনা করে—অর্থাৎ: «যখন তোমাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো হাদীস পৌঁছাবে, তখন তা আল্লাহর কিতাবের সাথে মিলিয়ে দেখো; যা তার সাথে মিলবে তা গ্রহণ করো আর যা তার বিরোধী হবে তা বর্জন করো»—হাদীস শাস্ত্রের ইমাম ও বিশারদগণ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে একটি বানোয়াট ও মিথ্যা উদ্ভাবিত কথা। হাদীসকে উপেক্ষা করার হীন উদ্দেশ্যে যিন্দীকরা (ধর্মদ্রোহীরা) এটি তৈরি করেছে। কোনো কোনো ইমাম এই হাদীসটির প্রতিবাদ করে বলেছেন: আমরা এই বানোয়াট হাদীসটিকে আল্লাহর কিতাবের সাথে মিলিয়ে দেখেছি এবং একে কুরআনের পরিপন্থী পেয়েছি। কারণ আমরা আল্লাহর কিতাবে পেয়েছি: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (৩) এবং আমরা এতে আরও পেয়েছি: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} (৪) এবং আরও পেয়েছি: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} (৫), (৬)।

 

এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, কুরআনুল কারীম এই হাদীসটিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং একে প্রত্যাখ্যান করে।

কোনো কোনো প্রাচ্যবিদ এবং উপনিবেশবাদ যাদেরকে তাদের নিজেদের হাতে গড়ে তুলেছিল, সেই অনুসারীরা এই বিলুপ্তপ্রায় মন্দ দাওয়াতকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যেমন অতীতে তাদের পূর্বসূরিদের বিরুদ্ধে সত্যকে যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লোক তৈরি করেছিলেন, তেমনি হাদীসের ক্ষেত্রেও এদের বিরুদ্ধে সত্য প্রতিষ্ঠাকারী ব্যক্তিদের নিয়োজিত করেছেন, যারা তাদের চক্রান্ত তাদের দিকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন: {আর আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করা ছাড়া আর কিছু চান না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে} (৭)

 

‌‌হাদীস ও সুন্নাহর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের যত্ন:

দ্বীনের মধ্যে সুন্নাহর অবস্থান এবং কুরআনুল কারীমের নিকট এর মর্যাদার কারণে সাহাবায়ে কেরাম নববী হাদীসের প্রতি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের যত্নশীল ছিলেন। কুরআনের প্রতি তাদের যেমন গভীর অনুরাগ ছিল, সুন্নাহর প্রতিও তারা তেমনই আগ্রহী ছিলেন। তাই তাঁরা হাদীসগুলো এর শব্দে শব্দে অথবা এর মর্মে মুখস্থ করেছিলেন এবং তা অনুধাবন করেছিলেন। তাঁদের সহজাত আরবীয় মেজাজ ও প্রকৃতি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে যা শুনতেন তার মাধ্যমে তাঁরা এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ অনুধাবন করতেন—

--------------------------------------------

(১) [অর্থাৎ “জামি’উ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি”]।

(২) ও (৩) [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭]।

(৪) [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১]।

(৫) [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮০]।

(৬) “ইরশাদুল ফুহুল”: পৃষ্ঠা ২৯।

(৭) [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৩২]।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَسَلَّمَ -، وما كانوا يشاهدون من أفعاله وأحواله، وما كانوا يعلمونه من الظروف والملابسات التي قيلت فيها هذه الأحاديث، وما كان يشكل عليهم منها ولا يدركون المراد منه يسألون عنه الرسول صلى الله عليه وسلم.

 

وقد بلغ من حرصهم على سماع الوحي والسُنن من رسول الله أنهم كانوا يتناوبون في هذا السماع، روى البخاري في " صحيحه " عن عمر رضي الله عنه قال: «كنت أنا وجار لي من الأنصار في بني أمية بن زيد (1)، وهي من عوالي المدينة، وكنا نتناوب النزول على رسول الله صلى الله عليه وسلم ينزل يوماً وأنزل يوماً فإذا نزلت جئته بخبر ذلك اليوم من الوحي وغيره، وإذا نزل فعل مثل ذلك … » (2) الحديث.

 

وبذلك جمعوا بين خيري الدين والدنيا، فما شغلهم دينهم عن دنياهم ولا شغلتهم دنياهم عن دينهم.

 

وإذا علمنا أنَّ القرآن والسُنَّة استفاضا ببيان فضل العلم والعلماء، وأنَّ الصحابة كانوا يعلمون أنَّ السُنَّة هي الأصل الثاني للدين، وأنهم كانوا يُحِبُّونَ رسول الله أكثر من حُبِّهِمْ لأنفسهم، وأنهم كانوا يجدون في الاستماع إليه لَذَّةً وروحاً. وأنهم كانوا يعتقدون أنه ما ينطق عن الهوى إنْ هو إِلَاّ وحي يوحى، وأنهم كانوا يجدون فيما يسمعونه منه غذاء الإيمان وزاد التقوى (3)، وأنه سبيل إلى الجنة (4).

 

إذا علمنا كل هذا أدركنا مبلغ حرص الصحابة على استماع السُنن والأحاديث وأنَّ ذلك أمر يكاد يكون من المُسَلَّمَات البدهيات.

 

وكذلك عنوا بتبليغ السُنن لأنهم يعلمون أنها دين واجبة البلاغ للناس

--------------------------------------------

(1) أي ناحية بني أمية، سميت البقعة باسم من نزلها.

(2) " صحيح البخاري " - كتاب العلم - باب التناوب في العلم.

(3) كان الواحد منهم يقول لصاحبه وهو ذاهب إلى مجلس الرسول: «تَعَالَ نُؤْمِنْ سَاعَةً».

(4) في الحديث الذي رواه مسلم: «مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ».
—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—, এবং তারা তাঁর কাজ ও অবস্থা যা প্রত্যক্ষ করতেন, আর যে সকল পরিস্থিতি ও অনুষঙ্গের প্রেক্ষাপটে এই হাদিসগুলো বলা হয়েছে সে সম্পর্কে তারা যা জানতেন; আর এর মধ্য থেকে যা কিছু তাদের নিকট অস্পষ্ট হতো কিংবা যার উদ্দেশ্য তারা অনুধাবন করতে পারতেন না, সে সম্পর্কে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করে নিতেন।

 

রাসূলুল্লাহর নিকট থেকে ওহী ও সুন্নাহ শোনার প্রতি তাদের আগ্রহ ও একাগ্রতা এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তারা এ শোনার কাজে পালাবদল করতেন। ইমাম বুখারী তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি এবং আনসারদের মধ্য থেকে আমার এক প্রতিবেশী বনু উমাইয়া ইবনে জায়েদ পল্লীতে ছিলাম (১), যা মদীনার উচ্চভূমি এলাকায় অবস্থিত। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে যাওয়ার ব্যাপারে পালাবদল করতাম। সে একদিন যেত আর আমি একদিন যেতাম। আমি যখন যেতাম, তখন ঐ দিনের ওহী বা অন্য যা কিছু খবর থাকত তা নিয়ে আসতাম। আর সে যখন যেত, সেও তদ্রূপ করত … » (২) হাদিস শেষ পর্যন্ত।

 

এর মাধ্যমে তারা দ্বীন ও দুনিয়া উভয় জগতের কল্যাণকে একত্রিত করেছিলেন। তাদের দ্বীন যেমন তাদের দুনিয়ার কাজ থেকে বিমুখ করেনি, তেমনি তাদের দুনিয়াও তাদের দ্বীন থেকে বিমুখ করতে পারেনি।

 

আমরা যখন জানি যে, কুরআন ও সুন্নাহ ইলম ও আলেমদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় ব্যাপকভাবে সয়লাব হয়ে আছে, এবং সাহাবীগণ জানতেন যে সুন্নাহ হলো দ্বীনের দ্বিতীয় মূল উৎস; আর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজেদের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন এবং তাঁর কথা শোনার মধ্যে তৃপ্তি ও প্রশান্তি খুঁজে পেতেন; আর তারা বিশ্বাস করতেন যে তিনি নিজের খেয়াল-খুশি মতো কথা বলেন না, বরং তা কেবল ওহী যা তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়; এবং তারা তাঁর থেকে যা শুনতেন তাতে ঈমানের খোরাক ও তাকওয়ার পাথেয় খুঁজে পেতেন (৩), আর তা জান্নাতে যাওয়ার পথ (৪)।

 

আমরা যদি এই সবকিছু জানি, তবে সুন্নাহ ও হাদিস শোনার ব্যাপারে সাহাবীদের আগ্রহের মাত্রা কতটুকু ছিল তা উপলব্ধি করতে পারব। আর এটি এমন এক বিষয় যা প্রায় স্বতঃসিদ্ধ ও অনস্বীকার্য বাস্তবতার অন্তর্ভুক্ত।

 

অনুরূপভাবে তারা সুন্নাহ প্রচারের ব্যাপারেও সচেষ্ট ছিলেন, কারণ তারা জানতেন যে এটি এমন এক দ্বীন যা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া ওয়াজিব বা আবশ্যক।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ বনু উমাইয়া এলাকা; যে স্থানে যারা বসবাস করত তাদের নামেই স্থানটির নামকরণ করা হয়েছে।

(২) "সহীহ বুখারী" - ইলম অধ্যায় - ইলম অর্জনে পালাবদল অনুচ্ছেদ।

(৩) তাদের কেউ কেউ রাসূলুল্লাহর মজলিসের দিকে যাওয়ার সময় তার সাথীকে বলতেন: «এসো, আমরা কিছুক্ষণ ঈমান বৃদ্ধি করি (ঈমান আনি)»।

(৪) ইমাম মুসলিম বর্ণিত হাদিসে আছে: «যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন»।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ২০)
كافة، وكثيراً ما كان النَّبِي - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ - يحضهم على الأداء لغيرهم بمثل قوله: «نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مَقَالَتِي فَوَعَاهَا فَأَدَّاهَا كَمَا سَمِعَهَا فَرُبَّ مُبَلِّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ»

وفي رواية بلفظ: «فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرِ فَقِيهٍ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ»

رواه الشافعي والبيهقي في " المدخل ".

 

وفي خطبته المشهورة في حُجَّة الوداع قال: «لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ، فَإِنَّ الشَّاهِدَ عَسَى أَنْ يُبَلِّغَ مَنْ هُوَ أَوْعَى مِنْهُ» رواه البخاري في " صحيحه ".

 

وكان إذا قدم عليه وفد وعلَّمهم من القرآن والسُنَّة أوصاهم أنْ يحفظوه ويبلِّغوه، ففي " صحيح البخاري " أنه قال لوفد عبد القيس: «احْفَظُوهُ وَأَخْبِرُوهُ مَنْ وَرَاءَكُمْ» وفي قصة أخرى قال: «ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِكُمْ فَعَلِّمُوهُمْ» (1).

 

وكثيراً ما كان يقرع أسماعهم بقوله: «مَنْ كَتَمَ عِلْمًا أُلْجِمَ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» فمن ثم كانوا جد حريصين على حفظ السُنن والحفاظ عليها وتبليغها بلفظها أو بمعناها.

 

‌‌النَّهْيُ عَنْ كِتَابَةِ الأَحَادِيثِ فِي العَصْرِ النَّبَوِيِّ:

ولم تكن الأحاديث مُدَوَّنَةً في عصر النَّبِي صلى الله عليه وسلم -لأمرين:

1 - أحدهما: الاعتماد على قوة حفظهم وسيلان أذهانهم وعدم توفُّر أدوات الكتابة فيهم.

2 - ثانيهما: لما ورد من النهي عن كتابة الأحاديث والإذن في كتابة القرآن الكريم.

 

روى مسلم في " صحيحه " عن أبي سعيد الخُدْرِي أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لَا تَكْتُبُوا عَنِّي شَيْئًا إِلَاّ الْقُرْآنَ، وَمَنْ كَتَبَ عَنِّي شَيْئًا فَلْيَمْحُهُ» ولهذا كره بعض السلف كتابة الحديث والعلم.

--------------------------------------------

(1) " فتح الباري ": ج 1 ص 128، 149.
সকলে, এবং নবী —তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক— প্রায়শই তাঁদেরকে অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখুন যে আমার কথা শুনল, অতঃপর তা মুখস্থ করল এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা পৌঁছে দিল। কারণ অনেক সময় যার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় সে শ্রবণকারীর চেয়ে বেশি সমঝদার হয়ে থাকে।»

অন্য এক বর্ণনায় শব্দগুলো হলো: «অনেক সময় জ্ঞানের বাহক নিজে ফকীহ হয় না, আবার অনেক সময় সে এমন ব্যক্তির কাছে জ্ঞান পৌঁছে দেয় যে তার চেয়েও বেশি সমঝদার।»

এটি শাফিঈ এবং বায়হাকী "আল-মাদখাল" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

 

বিদায় হজের তাঁর প্রসিদ্ধ ভাষণে তিনি বলেন: «উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়; কারণ হতে পারে উপস্থিত ব্যক্তি এমন কারো কাছে পৌঁছে দেবে যে তার চেয়ে বেশি সমঝদার বা সংরক্ষণকারী।» এটি বুখারী তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

 

যখনই তাঁর কাছে কোনো প্রতিনিধি দল আসত এবং তিনি তাঁদেরকে কুরআন ও সুন্নাহ শিক্ষা দিতেন, তখন তাঁদেরকে তা মুখস্থ রাখতে এবং পৌঁছে দিতে অসিয়ত করতেন। "সহীহ বুখারী"-তে এসেছে যে, তিনি আবদুল কায়েস প্রতিনিধি দলকে বলেছিলেন: «তোমরা এটি মুখস্থ করো এবং তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদের জানিয়ে দাও।» অন্য এক ঘটনায় তিনি বলেন: «তোমরা তোমাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাঁদেরকে শিক্ষা দাও।» (১)।

 

তিনি প্রায়শই তাঁদের কানে এই সতর্কবাণী পৌঁছে দিতেন: «যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান গোপন করল, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে।» ফলে তাঁরা সুন্নাহসমূহ মুখস্থ করা, তা সংরক্ষণ করা এবং শব্দে শব্দে বা অর্থের ভিত্তিতে তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।

 

‌‌নবী যুগে হাদীস লিখে রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে হাদীসসমূহ সংকলিত বা গ্রন্থিত ছিল না—দুটি কারণে:

১ - প্রথমত: তাঁদের প্রখর মুখস্থ শক্তি ও মেধার ওপর নির্ভরতা এবং তাঁদের নিকট লেখার উপকরণের অপর্যাপ্ততা।

২ - দ্বিতীয়ত: হাদীস লিখে রাখার ব্যাপারে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞা এবং কেবল কুরআনুল কারীম লিখে রাখার অনুমতির কারণে।

 

মুসলিম তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আমার পক্ষ থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখো না; আর যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে (কুরআন ছাড়া) কিছু লিখেছে সে যেন তা মুছে ফেলে।» এ কারণে সালাফদের কেউ কেউ হাদীস ও ইলম লিখে রাখাকে অপছন্দ করতেন।

--------------------------------------------

(১) "ফাতহুল বারী": ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২৮, ১৪৯।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ২১)
والظاهر أنَّ نهي النَّبِي صلى الله عليه وسلم عن كتابة الأحاديث كان خشية أنْ يلتبس على البعض بالقرآن الكريم، أو أنْ يكون شاغلاً لهم عنه ولا سيما أنَّ القوم كانوا أُمِيِّينَ، أو أنَّ النهي كان بالنسبة لمن يوثق بحفظه، أما مَنْ أمن عليه اللبس بأنْ كان قارئاً كاتباً، أو خيف عليه النسيان وعدم الضبط لما سمع فلا حرج عليه في الكتابة، وعلى هذا يحمل ما ورد من الروايات الثابتة الدالة على الإذن في الكتابة لبعض الصحابة.

 

روى أبو داود والحاكم وغيرهما عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو بْنِ العَاصِ قَالَ: «قلت يا رسول الله: إني أسمع منك الشيء فأكتبه»، قال: «نعم»، قلت: «في الغضب والرضا؟» قال: «نَعَمْ، فَإِنِّي لَا أَقُولُ فِيهِمَا إِلَاّ حَقًّا» وروى البخاري عن أبي هريرة قال: «لَمْ يَكُنْ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكْثَرُ مِنِّي حَدِيثًا إِلَاّ مَا كَانَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو بْنِ العَاصِ ، فَإِنَّهُ كَانَ يَكْتُبُ ، وَكُنْتُ لَا أَكْتُبُ». ومثل عبد الله مِمَّنْ يُؤْمَنُ عليه الالتباس، وروى الترمذي عن أبي هريرة قال: «كان رجل من الأنصار يجلس إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فيسمع منه الحديث فيعجبه ولا يحفظه فشكا ذلك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «اسْتَعِنْ بِيَمِينِكَ. وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى اِلْخَطِّ» وروى البخاري ومسلم في " صحيحيهما ": «أنَّ أبا شاه اليَمَنِي التمس من النَّبِي صلى الله عليه وسلم أنْ يكتب له شيئاً سمعه من خطبته عام الفتح فقال: «اكْتُبُوا لأبِي شَاهٍ». وروى البخاري في " صحيحه ": «أنَّ علياً - رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ - سئل: هَلْ عِنْدَكُمْ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْءٌ سِوَى الْقُرْآنِ؟ فَقَالَ: «لَا وَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ، وَبَرَأَ النَّسَمَةَ إِلَاّ أَنْ يُعْطِيَ اللَّهُ عَبْدًا فَهْمًا فِي كِتَابِهِ، وَمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ»، قُلْتُ: «وَمَا فِي الصَّحِيفَةِ؟» قَالَ: «العَقْلُ، وَفَكَاكُ الأَسِيرِ، وَأَنْ لَا يُقْتَلَ مُسْلِمٌ بِكَافِرٍ». وثبت أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كتب كتاب الصدقات والديات والفرائض والسنن لعمرو بن حزم وغيره.

 

ومن العلماء من يرى أن أحاديث الإذن ناسخة لأحاديث النهي،
প্রতীয়মান হয় যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে নিষেধ করার কারণ ছিল এই আশঙ্কা যে, তা কারো কারো কাছে পবিত্র কুরআনের সাথে মিশে যেতে পারে, অথবা তা তাদের কুরআন থেকে বিমুখ করে দিতে পারে, বিশেষ করে যখন সেই সম্প্রদায় ছিল নিরক্ষর। অথবা এই নিষেধ ছিল তাদের জন্য যাদের মুখস্থ রাখার ওপর পূর্ণ আস্থা ছিল। পক্ষান্তরে যার ক্ষেত্রে সংশয়ের আশঙ্কা ছিল না, অর্থাৎ যিনি ছিলেন পাঠক ও লেখক, কিংবা যার ভুলে যাওয়া ও যা শুনেছেন তা যথাযথভাবে সংরক্ষণে অক্ষম হওয়ার ভয় ছিল, তার জন্য লিখে রাখার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আর এর ওপর ভিত্তি করেই সাহাবীগণের কাউকে কাউকে লেখার অনুমতি দেওয়ার যে সকল বিশুদ্ধ বর্ণনা রয়েছে তা প্রযোজ্য হবে।

 

আবু দাউদ, আল-হাকিম এবং আরও অনেকে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার থেকে কোনো কিছু শুনে তা লিখে ফেলি», তিনি বললেন: «হ্যাঁ», আমি বললাম: «রাগ এবং তুষ্টি উভয় অবস্থায়?» তিনি বললেন: «হ্যাঁ, কারণ আমি এই উভয় অবস্থায় সত্য বৈ কিছুই বলি না।» বুখারী আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস ছাড়া আমার চেয়ে অধিক হাদীস বর্ণনাকারী আর কেউ ছিল না। কারণ সে লিখত, আর আমি লিখতাম না।» আর আবদুল্লাহর মতো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংমিশ্রণের আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকা যায়। তিরমিযী আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আনসারদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মজলিসে বসতেন এবং তাঁর থেকে হাদীস শুনে তা তাকে মুগ্ধ করত কিন্তু তিনি তা মুখস্থ রাখতে পারতেন না। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে তিনি বললেন: «তুমি তোমার ডান হাতের সাহায্য নাও।» এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে লেখার প্রতি ইশারা করলেন।» বুখারী ও মুসলিম তাদের "সহীহ" গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন: «আবু শাহ আল-ইয়ামানী মক্কা বিজয়ের বছর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবা থেকে যা শুনেছিলেন তা তাঁর জন্য লিখে দেওয়ার অনুরোধ জানালেন। তখন তিনি বললেন: «আবু শাহর জন্য লিখে দাও।» বুখারী তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: «আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে পবিত্র কুরআন ছাড়া আর কিছু আছে কি? তিনি বললেন: «না, সেই সত্তার শপথ যিনি বীজ বিদীর্ণ করেছেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেছেন, তবে আল্লাহ যদি কোনো বান্দাকে তাঁর কিতাব সম্পর্কে কোনো বিশেষ সমঝ দান করেন তা স্বতন্ত্র, আর যা এই সহীফায় (পান্ডুলিপিতে) আছে।» আমি বললাম: «সহীফায় কী আছে?» তিনি বললেন: «রক্তপণ, বন্দীর মুক্তি এবং কোনো কাফিরের বিনিময়ে কোনো মুসলিমকে হত্যা না করা।» এবং এটি প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনে হাযম ও অন্যদের জন্য সদকা, দিয়াত (রক্তপণ), ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) ও সুন্নাত সম্বলিত পত্র লিখে দিয়েছিলেন।

 

কোনো কোনো আলিম মনে করেন যে, অনুমতি বিষয়ক হাদীসগুলো নিষেধ বিষয়ক হাদীসগুলোকে রহিতকারী,
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ২২)
، إذ النهي كان في مبدأ الأمر حين خيف اشتغالهم عن القرآن بالأحاديث أو خيف اختلاط غير القرآن بالقرآن، ثم لما أَمِنَ ذلك نسخ النهي ولعلَّ مِمَّا يُؤَيِّدُ القول بالنسخ أنَّ بعض أحاديث الإذن متأخِّرة التاريخ، فأبو هريرة راوي حديث الكتابة أسلم عام سبع، وقصة أبي شاه كانت في السَنَةِ الثامنة عام الفتح.

 

ومهما يكن من شيء فقد انقضى العهد النبوي والذين كتبوا الحديث من الصحابة عدد غير كثير.

 

‌‌كِتَابَةُ الأَحَادِيث بَعْدَ وَفَاةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم -:

وما أنْ توفي الرسول صلى الله عليه وسلم وجاور الرفيق الأعلى حتى كثر عدد من كان يكتب الحديث من الصحابة، وكذلك كتب التابعون وأكثروا، روي عن سعيد بن جُبير أنه كان يكون مع ابن عباس فيسمع منه الحديث فيكتبه في واسطة الرحل فإذا نزل نسخه، وعن عبد الرحمن بن أبي الزناد عن أبيه قال: «كنا نكتب الحلال والحرام، وكان ابن شهاب يكتب كل ما سمع فلما احتيج إليه علمت أنه أعلم الناس» وعن هشام بن عروة أنه احترقت كتبه يوم الحرة في خلافة يزيد بن معاوية وكان يقول: «لو أنَّ عندي كتبي بأهلي ومالي».

 

وَقَدْ هَمَّ الفَارُوقُ عٌمَرَ رضي الله عنه أَنْ يَجْمَعَ الأَحَادِيثَ وَيُقَيِّدَهَا بِالكِتَابَةِ وَاسْتَشَارَ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَشَارُوا عَلَيْهِ بِكِتَابَتِهَا، وَطَفِقَ يَسْتَخِيرُ اللَّهَ فِي ذَلِكَ مُدَّةً وَلَكِنَّ اللهَ لَمْ يُرِدْ لَهُ، روى البيهقي في " المدخل " عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْر: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَرَادَ أَنْ يَكْتُبَ السُّنَنَ فَاسْتَشَارَ فِي ذَلِكَ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَشَارُوا عَلَيْهِ [أَنْ يَكْتُبَهَا] فَطَفِقَ عُمَرُ يَسْتَخِيرُ اللَّهَ فِيهَا شَهْرًا، ثُمَّ أَصْبَحَ [يَوْمًا] وَقَدْ عَزَمَ اللَّهُ لَهُ قَالَ: «إِنِّي كُنْتُ أَرَدْتُ أَنْ أَكْتُبَ السُّنَنَ، وَإِنِّي ذَكَرْتُ قَوْمًا كَانُوا قَبْلَكُمْ كَتَبُوا كُتُبًا فَأَكَبُّوا عَلَيْهَا وَتَرَكُوا كِتَابَ اللَّهِ وَإِنِّي وَاللَّهِ لَا أَلْبَسُ كِتَابَ اللَّهِ بِشَيْءٍ أَبَدًا».
কেননা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ছিল শুরুর দিকে, যখন আশঙ্কা করা হয়েছিল যে তারা কুরআনের পরিবর্তে হাদিস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে অথবা কুরআনের সাথে কুরআন বহির্ভূত কিছু মিশে যাওয়ার ভয় ছিল। পরবর্তীতে যখন সেই ভয় দূর হলো, তখন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি রহিত করা হলো। সম্ভবত রহিতকরণের মতটিকে যা সমর্থন করে তা হলো, অনুমতির কিছু হাদিস পরবর্তী সময়ের। যেমন, হাদিস লিখে রাখার বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা হিজরি সপ্তম বর্ষে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং আবু শাহ-এর ঘটনাটি ছিল মক্কা বিজয়ের বছর অর্থাৎ অষ্টম হিজরিতে।

 

যাই হোক না কেন, নবিজির যুগ যখন শেষ হলো, তখন সাহাবিদের মধ্যে যারা হাদিস লিখেছিলেন তাদের সংখ্যা খুব বেশি ছিল না।

 

‌‌নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর হাদিস লিখন -:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকাল এবং তাঁর মহান রফিকের (আল্লাহর) সান্নিধ্যে চলে যাওয়ার পর থেকে হাদিস লিপিবদ্ধকারী সাহাবিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। একইভাবে তাবেয়িগণও হাদিস লিখেছেন এবং প্রচুর পরিমাণে লিখেছেন। সাঈদ ইবনে জুবায়ের সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি ইবনে আব্বাসের সাথে থাকতেন এবং তাঁর কাছ থেকে হাদিস শুনে উটের পিঠের গদির কাষ্ঠখণ্ডে লিখে রাখতেন, অতঃপর যখন তিনি নিচে নামতেন তখন তা চূড়ান্তভাবে নকল করে নিতেন। আব্দুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা হালাল ও হারাম সম্পর্কিত বিষয়গুলো লিখতাম, আর ইবনে শিহাব যা শুনতেন তার সবই লিখে রাখতেন; যখন তাঁর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী।" হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে বর্ণিত যে, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার খেলাফতকালে হাররার যুদ্ধের দিন তাঁর কিতাবগুলো পুড়ে গিয়েছিল। তিনি বলতেন: "যদি আমার কিতাবগুলো আমার কাছে থাকত, তবে তা আমার পরিবার ও সম্পদের চেয়েও প্রিয় হতো।"

 

ফারুক ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হাদিসগুলো সংগ্রহ করে কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করার সংকল্প করেছিলেন এবং এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। তাঁরা তাঁকে তা লিখে রাখার পরামর্শ দিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় আল্লাহর কাছে এ বিষয়ে ইস্তিখারা করতে থাকলেন, কিন্তু আল্লাহ তা তাঁর জন্য চাননি। বায়হাকি তাঁর "আল-মাদখাল" গ্রন্থে উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন: ওমর ইবনুল খাত্তাব সুন্নাহসমূহ লিখে রাখার ইচ্ছা করলেন এবং এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করলেন। তাঁরা তাঁকে তা [লিখে রাখার] পরামর্শ দিলেন। এরপর ওমর এক মাস পর্যন্ত এ বিষয়ে আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলেন। অতঃপর একদিন ভোরে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যা আল্লাহ তাঁর জন্য নির্ধারিত করেছিলেন। তিনি বললেন: "আমি সুন্নাহসমূহ লিখে রাখার ইচ্ছা করেছিলাম, কিন্তু আমার পূর্ববর্তী এক জাতির কথা মনে পড়ে গেল যারা কিছু কিতাব লিখেছিল এবং তার ওপরই নিবিষ্ট হয়েছিল আর আল্লাহর কিতাব ত্যাগ করেছিল। আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর কিতাবের সাথে কখনোই অন্য কোনো কিছু মিশ্রিত করব না।"
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌تَدْوِينُ الأَحَادِيثِ تَدْوِينًا عَامًّا:

واستمر الأمر على ذلك، البعض يكتب والبعض لا يكتب إلى أنْ كان عهد الخليفة الراشد عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه فرأى جَمْعَ السُنن وتدوينها خشية أنْ يضيع منها شيء أو يلتبس الحق بالباطل، وكان ذلك على رأس المائة الأولى فكتب إلى بعض المبرزين من العلماء في الأمصار الإسلامية وأمرهم بجمع الأحاديث، وكتب إلى عُمَّاله في الأمصار يأمرهم بذلك، روى مالك في " الموطأ " - رواية محمد بن الحسن - أنَّ عمر بن عبد العزيز كتب إلى أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم: «أَنْ انْظُرْ مَا كَانَ مِنْ حَدِيثِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ سُنَنِهِ أَوْ حَدِيثِ عُمَرَ أَوْ نَحْوِ هَذَا فَاكْتُبْهُ فَإِنِّي خِفْتُ دُرُوسَ العِلْمِ، وَذَهَابِ العُلَمَاءِ» وأوصاه أنْ يكتب ما عند عَمْرَةَ بنت عبد الرحمن الأنصارِيَّةَ، والقاسم بن محمد بن أبي بكر.

 

وعَلَّقَهُ (1) البخاري في " صحيحه " فقال: «وكتب عمر بن عبد العزيز إلى أبي بكر بن حزم (2): أنْ انظر ما كان عندك أي في بلدك من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فاكتبه فإني خفت دروس العلم، وذهاب العلماء».

 

وأخرج أبو نعيم في " تاريخ أصبهان " عن عمر بن عبد العزيز أنه كتب إلى أهل الآفاق:

«انْظُرُوا إِلَى حَدِيثِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَاجْمَعُوهُ».

 

ومِمَّنْ كتب إليه الخليفة العادل الإمام محمد بن مسلم بن شهاب الزُّهْرِي المدني أحد الأئمة الأعلام، وعالم أهل الحجاز والشام المتوفى سنة 124 هـ.

--------------------------------------------

(1) التعليق هو أن يُحذف من مبتدأ الإسناد راوٍ أو أكثر وقد أكثر من التعليقات البخاري في " صحيحه " وذلك في التراجم والشواهد لا في أصول الكتاب فإنا كلها متصلة مسندة.

(2) نسب إلى جد أبيه ولجده عمرو صحبة ولأبيه محمد رؤية وهو فقيه تابعي استعمله عمر بن عبد العزيز على إمارة المدينة وولَاّهُ قضاءها ولا يعرف له اسم سوى أبي بكر، وقيل كُنيته أبو عبد الملك واسمه أبو بكر توفي سنة 120 هـ.
হাদিসসমূহের সাধারণ সংকলন ও লিপিবদ্ধকরণ:

বিষয়টি এভাবেই চলতে থাকে; কেউ লিখতেন আবার কেউ লিখতেন না, যতক্ষণ না খলিফায়ে রাশিদ উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগ এলো। তিনি সুন্নাহসমূহ একত্রিত ও লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন এই ভয়ে যে, পাছে এর কিছু অংশ হারিয়ে যায় অথবা সত্য মিথ্যার সাথে মিশে যায়। আর এটি ছিল প্রথম হিজরি শতকের শেষভাগে। ফলে তিনি ইসলামী ভূখণ্ডগুলোর প্রথিতযশা আলেমদের কাছে পত্র লিখলেন এবং তাঁদের হাদিস সংগ্রহের নির্দেশ দিলেন। তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের তাঁর শাসনকর্তাদের কাছেও এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে পত্র লিখলেন। ইমাম মালেক তাঁর 'মুওয়াত্তা' গ্রন্থে —মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের বর্ণনা অনুযায়ী— উল্লেখ করেছেন যে, উমর ইবনে আবদুল আজিজ আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযমের নিকট লিখেছিলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস, তাঁর সুন্নাহ কিংবা উমরের বর্ণিত হাদিস বা এই জাতীয় যা কিছু পাও তা লিখে নাও; কেননা আমি ইলম মিটে যাওয়ার এবং আলেমদের বিদায় নেওয়ার আশঙ্কা করছি।» তিনি তাকে আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান আনসারিয়া এবং কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরের নিকট যা (ইলম) আছে তা-ও লিখে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

ইমাম বুখারী তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এটি মুয়াল্লাক হিসেবে (১) উল্লেখ করে বলেন: «উমর ইবনে আবদুল আজিজ আবু বকর ইবনে হাযমের (২) কাছে লিখেছিলেন: তোমার কাছে অর্থাৎ তোমার শহরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে সব হাদিস আছে তা দেখ এবং লিখে নাও; কেননা আমি ইলম মিটে যাওয়ার এবং আলেমদের বিদায় নেওয়ার আশঙ্কা করছি।»

 

আবু নুআইম 'তারিখে আসবাহান' গ্রন্থে উমর ইবনে আবদুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দিগদিগন্তের মানুষের নিকট লিখেছিলেন:

«তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের প্রতি দৃষ্টি দাও এবং তা সংগ্রহ করো।»

 

যাঁদের কাছে ন্যায়পরায়ণ খলিফা পত্র লিখেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রখ্যাত ইমামদের একজন এবং হিজাজ ও সিরিয়াবাসীদের আলেম ইমাম মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আজ-জুহরি আল-মাদানি, যিনি ১২৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

(১) তালীক হলো সনদের শুরু থেকে একজন বা একাধিক রাবীকে বাদ দেওয়া। ইমাম বুখারী তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে অনেক তালীক উল্লেখ করেছেন; তবে তা করেছেন অধ্যায়ের শিরোনাম এবং শাহেদ (সমর্থনমূলক বর্ণনা) হিসেবে, মূল কিতাবের হাদিস হিসেবে নয়। কেননা মূল কিতাবের সকল হাদিসই মুত্তাসিল (অবিচ্ছিন্ন) ও মুসনাদ।

(২) তাকে তার প্রপিতামহের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। তাঁর দাদা আমরের সাহচর্য (সাহাবী হওয়া) এবং তাঁর পিতা মুহাম্মদের দেখার (রুইয়াত) সুযোগ হয়েছিল। তিনি একজন ফকিহ তাবেয়ি। উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাকে মদিনার শাসনকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং সেখানকার বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আবু বকর ছাড়া তাঁর অন্য কোনো নাম জানা যায় না। তবে বলা হয় যে, তাঁর কুনিয়াত বা উপনাম হলো আবু আবদুল মালিক এবং নাম হলো আবু বকর। তিনি ১২০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌نَشَاطُ حَرَكَةِ التَّدْوِينِ:

وقد قام العلماء في كل مِصْرٍ بما ندبوا إليه خير قيام، وأقبلوا على جمع الأحاديث والسُنن وتمحيصها، وتمييز صحيحها من سقيمها، ومقبولها من مردودها، ولم يعد أحد من السلف يتحرَّجُ من الكتابة، وبذلك ارتفع الخلاف الذي كان بينهم أولاً في كتابة الأحاديث، واستقرَّ الأمر، وانعقد الإجماع على جواز كتابته، بل على استحبابه، بل لا يبعد وجوبه على من خشي عليه النسيان مِمَّنْيتعين عليه تبليغ العلم (1).

 

وقد أخذت الحركة العلمية التدوينية في الحديث في الإزدهار، وتجرَّد لهذا العمل الجليل قوم عرفوا بالأمانة والصدق والتحري والتثبت، وأخذوا أنفسهم بمجافاة المضاجع، ولازموا الدفاتر والمحابر، وحرصوا على لقاء الأشياخ، والأخذ من الأفواه، وسهروا في سبيل ذلك الليالي الطوال، وقطعوا الفيافي والقفار، وطوفوا في البلدان والأقاليم، وضربوا في سبيل العلم والرواية، على ما كانوا عليه من قلة المؤنة وعسر وسائل السفر والارتحال، مُثُلاً عليا تجعلهم في عداد العلماء الخالدين.

 

وما زال العلماء يجمعون الأحاديث، وينقدون ويمحصون، ويؤلفون الصحاح والسنن والمسانيد حتى جمعت الأحاديث كلها تقريبا في القرن الثالث الذي يعتبر العصر الذهبي للأحاديث والسنن، وبانتهاء هذا القرن كاد ينتهي الجمع والابتكار في التأليف، والاستقلال في النقد والتعديل والتجريح، وبدأت عصور الترتيب والتهذيب، أو الاستدراك والتعقيب، وذلك في العصر الرابع وما تلاه من العصور.

 

وهكذا نخلص إلى هذه النتيجة:

وهي أن السُنَّة لم يطل العهد بعدم تدوينها، وأنَّ التدوين بدأ بصفة خاصة في عصر النَّبِي، وأنه قوي وغلظ عوده في عصر الصحابة وأوائل عصر

--------------------------------------------

(1) " فتح الباري ": ج 1 ص 165.
সংকলন আন্দোলনের তৎপরতা:

প্রত্যেক জনপদের আলেমগণ তাঁদের অর্পিত দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেছেন এবং তাঁরা হাদীস ও সুন্নাহ সংগ্রহ, সেগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং সহীহ থেকে যয়ীফ ও গ্রহণযোগ্য থেকে অগ্রহণযোগ্য হাদীসকে পৃথকীকরণে মনোনিবেশ করেছেন। সালাফদের মধ্যে আর কেউ হাদীস লিপিবদ্ধ করতে দ্বিধাবোধ করেননি। এর মাধ্যমে হাদীস লিখনের ব্যাপারে তাঁদের মাঝে শুরুতে বিদ্যমান মতপার্থক্য দূরীভূত হয় এবং বিষয়টি স্থির হয়। হাদীস লিপিবদ্ধ করা জায়েয হওয়ার ব্যাপারে ইজমা (ঐক্যমত) প্রতিষ্ঠিত হয়, বরং এটি মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য হয়। এমনকি যার ওপর ইলম প্রচার করা অপরিহার্য এবং যে ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা করে, তার জন্য এটি ওয়াজিব হওয়াও অসম্ভব কিছু নয় (১)।

 

হাদীসের ইলমী সংকলন আন্দোলন সমৃদ্ধ হতে শুরু করে এবং এই মহান কাজের জন্য একদল নিবেদিতপ্রাণ লোক আত্মনিয়োগ করেন, যাঁরা বিশ্বস্ততা, সততা, পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান এবং দৃঢ়তার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তাঁরা আরাম-আয়েশ ও শয্যা ত্যাগ করেন, খাতা ও কালির দোয়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন, উস্তাদদের সাথে সাক্ষাৎ করতে ও সরাসরি তাঁদের মুখ থেকে ইলম গ্রহণ করতে উন্মুখ ছিলেন। এই উদ্দেশ্যে তাঁরা দীর্ঘ রজনী বিনিদ্র কাটিয়েছেন, বিস্তীর্ণ মরুভূমি ও প্রান্তর পাড়ি দিয়েছেন এবং বিভিন্ন দেশ ও জনপদে পরিভ্রমণ করেছেন। পাথেয় স্বল্পতা এবং সফর ও যাতায়াতের চরম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁরা ইলম ও রেওয়ায়েতের পথে এমন উচ্চতর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা তাঁদেরকে ইতিহাসের অমর আলেমদের অন্তর্ভুক্ত করেছে।

 

আলেমগণ ক্রমাগত হাদীস সংগ্রহ, সমালোচনা ও যাচাই-বাছাই করতে থাকেন এবং সহীহ, সুনান ও মাসানীদ গ্রন্থসমূহ রচনা করেন। অবশেষে তৃতীয় হিজরী শতাব্দীর মধ্যে প্রায় সমস্ত হাদীস সংগৃহীত হয়ে যায়, যাকে হাদীস ও সুন্নাহর স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই শতাব্দী শেষ হওয়ার সাথে সাথে হাদীস সংগ্রহ, রচনার ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবনী ধারা এবং জারহ-তাদীল ও হাদীস সমালোচনার ক্ষেত্রে মৌলিক ধারার এক প্রকার সমাপ্তি ঘটে। এরপর চতুর্থ শতাব্দী ও পরবর্তী যুগগুলোতে শুরু হয় বিন্যাস ও সংস্কার, কিংবা আগের কাজগুলোর পরিপূরক ও পর্যালোচনার যুগ।

 

এভাবে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই:

আর তা হলো, সুন্নাহ অ-সংকলিত থাকার সময়কাল দীর্ঘ ছিল না এবং সংকলন কাজ বিশেষভাবে নবী (সা.)-এর যুগেই শুরু হয়েছিল। সাহাবায়ে কেরামের যুগে এবং এর পরবর্তী যুগের শুরুর দিকে তা শক্তিশালী ও সুদৃঢ় রূপ লাভ করে।

--------------------------------------------

(১) "ফাতহুল বারী": খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬৫।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ২৫)
التابعين، وأنه أخذ صفة العموم في أواخر عصر التابعين، ولم يزل يقوى ويشتد حتى بلغ عنفوانه واستوى على سوقه في القرن الثالث الهجري خاتمة القرون الثلاثة المشهود لها بالخيرِيَّةَ، خيرِيَّةَ الإيمان والعلم والعمل، والهُدَى والفلاح والاستقامة على الجادة.

 

‌‌الرِّحْلَةُ فِي سَبِيلِ العِلْمِ:

لعل ما يتميَّز به أئمة العلم في الإسلام، ولا سيما أئمة الحديث وجامعوه كثرة الارتحال، وملازمة الأسفار، وقد جَرَوْا في ذلك على سُنَنِ الصحابة والتابعين لهم بإحسان، لقد كان الواحد منهم يبلغه الحديث بطريق الرُواة الثقات فلا يكتفي بهذا، بل يرحل الأيام والليالي حتى يأخذ الحديث عمَّنْ رواه بلا واسطة، وقد ثبت في " صحيح البخاري " تعليقاً بصفة الجزم أنَّ جابر بن عبد الله الأنصاري رحل مسيرة شهر إلى عبد الله بن أُنَيْسٍ (1) في حديث واحد، والقصة بتمامها - كما أخرجها البخاري في: " الأدب المفرد " وأحمد وأبو يعلى في " مُسْنَدَيْهِمَا " - من طريق عبد الله بن محمد بن عقيل أنه سمع جابر بن عبد الله يقول: «بلغني عن رجل حديث سمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم فاشتريت بعيراً، ثم شددت رحلي فَسِرْتُ إليه شهراً حتى قدمت الشام فإذا عبد الله بن أُنَيْسٍ»، فقلت للبوَّاب: «قل له: جابر على الباب»، فقال: «ابن عبد الله؟» قلت: «نعم»، فخرج فاعتنقني فقلتُ: «حديث بلغني عنك أنك سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم -فخشيت أنْ أموت قبل أنْ أسمعه» فقال: «سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «يَحْشُرُ اللَّهُ النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عُرَاةً … » الحديث.

 

وَرُوِيَ عن جابر أيضاً أنه قال: «كان يبلغني عن النَّبِي صلى الله عليه وسلم حديث في القِصَاصِ، وكان صاحب الحديث بمصر فاشتريت بعيراً فَسِرْتُ حتى وردت مصر فقصدت إلى باب الرجل فذكر نحو القصة الأولى».

--------------------------------------------

(1) بضم الهمزة مصغراً، وهو جهني حليف للأنصار.
তাবেঈগণ, এবং তাবেঈ যুগের শেষের দিকে এটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। এটি ক্রমাগত শক্তিশালী ও বেগবান হতে থাকে যতক্ষণ না হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে তা পূর্ণতায় পৌঁছে স্বীয় কাণ্ডের ওপর মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই শতাব্দীটিই হলো সেই তিন যুগের সমাপ্তি যাদের ব্যাপারে কল্যাণময় হওয়ার সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে—যা ঈমান, ইলম, আমল, হিদায়াত, সফলতা এবং সঠিক পথের ওপর অবিচলতার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম।

 

‌‌জ্ঞানের সন্ধানে সফর:

সম্ভবত ইসলামের ইলমের ইমামগণ, বিশেষ করে হাদিসের ইমাম এবং সংকলকগণ যে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য ছিলেন, তা হলো প্রচুর পরিমাণে দেশভ্রমণ এবং সফরের ধারাবাহিকতা। এক্ষেত্রে তারা সাহাবী এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেঈগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। তাঁদের কেউ যখন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে কোনো হাদিস প্রাপ্ত হতেন, তখন তিনি তাতেই সন্তুষ্ট হতেন না; বরং তিনি দিনের পর দিন এবং রাতের পর রাত সফর করতেন যাতে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি মূল বর্ণনাকারীর কাছ থেকে হাদিসটি গ্রহণ করা যায়। 'সহীহ বুখারী'-তে দৃঢ়তার সাথে সউক্তি (তালীক) হিসেবে এটি প্রমাণিত যে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী মাত্র একটি হাদিসের জন্য আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইসের (১) উদ্দেশ্যে এক মাসের পথ সফর করেছিলেন। পূর্ণ ঘটনাটি—যেমনটি ইমাম বুখারী তাঁর 'আল-আদাবুল মুফরাদ' গ্রন্থে এবং আহমাদ ও আবু ইয়ালা তাঁদের 'মুসনাদ'দ্বয়ে বর্ণনা করেছেন—আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আকীলের সূত্রে বর্ণিত, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: «আমি এক ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে পারলাম যে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে একটি হাদিস শুনেছেন। তখন আমি একটি উট কিনলাম, তারপর আমার হাওদা কষলাম এবং এক মাস পথ চলে সিরিয়ায় পৌঁছলাম। সেখানে গিয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইসকে পেলাম।» আমি দারোয়ানকে বললাম: «তাঁকে বলো যে জাবির দরজায় দাঁড়িয়ে আছে।» সে বলল: «ইবনে আব্দুল্লাহ?» আমি বললাম: «হ্যাঁ।» তখন তিনি বেরিয়ে এসে আমাকে আলিঙ্গন করলেন। আমি বললাম: «আপনার সম্পর্কে আমার কাছে একটি হাদিস পৌঁছেছে যা আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শুনেছেন। আমার আশঙ্কা হলো যে আমি সেটি আপনার থেকে সরাসরি শোনার আগেই মারা যাব।» তখন তিনি বললেন: «আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'কিয়ামতের দিন আল্লাহ মানুষকে নগ্ন অবস্থায় হাশরের মাঠে সমবেত করবেন...’» (হাদিসটি)।

 

জাবির থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কিসাস (প্রতিশোধ) সংক্রান্ত একটি হাদিস আমার কাছে পৌঁছেছিল, আর সেই হাদিসের বর্ণনাকারী মিশরে অবস্থান করছিলেন। ফলে আমি একটি উট ক্রয় করলাম এবং সফর শুরু করে মিশরে পৌঁছলাম। অতঃপর আমি সেই ব্যক্তির দরজার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম...» এরপর তিনি প্রথম ঘটনার অনুরূপ বর্ণনা করেন।

--------------------------------------------

(১) হামযাহ বর্ণে পেশ সহযোগে (উনাইস), এটি তাসগির বা ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ। তিনি ছিলেন জুহায়নী গোত্রের এবং আনসারদের মিত্র।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ২৬)
وأخرج الطبراني من حديث مسلمة بن مخلد قال: أتاني جابر فقال لي: «حديث بلغني أنك ترويه في الستر على المسلم فذكره»، والظاهر أنها قصص مُتَعَدِّدَةٌ رحل فيها جابر رضي الله عنه مَرَّاتٍ مُتَعَدِّدَة.

 

ورحل السيد الجليل أبو أيوب الأنصاري إلى عُقبة بن عامر الجُهَنِي بسبب حديث يرويه في الستر على المسلم، رواه أحمد بسند منقطع، وروى أبو داود في " سننه " من طريق عبد الله بن بُريدة أنَّ رجلاً من الصحابة رحل إلى فُضالة بن عبيد وهو بمصر في حديث.

 

وعلى هذا الدرب الواضح سار التابعون ومن جاء بعدهم من أئمة العلم والدين، روى الخطيب عن عبيد الله بن عدي قال: «بلغني حديث عند عليٍّ فخفت إنْ مات أنْ لا أجده عند غيره، فرحلت حتى قدمت عليه العراق». وروى الإمام مالك عن يحيى بن سعيد عن سعيد بن المسيب قال: «إِنْ كُنْت لأَرْحَلُ الأَيَّام وَاللَّيَالِي فِي طَلَبِ الْحَدِيثِ الْوَاحِدِ». وأخرج الخطيب عن أبي العالية قال: «كنا نسمع عن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فلا نرضى حتى خرجنا إليهم فسمعنا منهم» (1) وقال الشَعْبِي في مسألة أفتى فيها: «أعطيناكها بغير شيء، كان يرحل فيما دونها إلى المدينة» وقد روى الدارمي بسند صحيح عن بُسر بن عبيد الله قال: «إنْ كنت لأركب إلى المصر من الأمصار في الحديث الواحد» وقال أبو قلابة: «لقد أقمت بالمدينة ثلاثة أيام ما لي حاجة إِلَاّ رجل يقدم عنده حديث فأسمعه».

 

وقيل للإمام أحمد: «رجل يطلب العلم، يلزم رجلاً عنده علم كثير أو يرحل؟ قال: يرحل يكتب عن علماء الأمصار».

 

ومِمَّنْ ارتحل في سبيل العلم والرواية الأئمة أبو حنيفة ومالك والشافعي وأحمد وغيرهم ومن المُحَدِّثِينَ جَمٌّ غفير، ويأتي في الرعيل الأول منهم الأئمة

--------------------------------------------

(1) " فتح الباري " ج 1 ص 141 - 142.
ইমাম তাবারানি মাসলামাহ ইবনে মুখাল্লাদের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাবির আমার কাছে আসলেন এবং আমাকে বললেন: "একটি হাদিস আমার কাছে পৌঁছেছে যে আপনি সেটি এক মুসলিমের দোষ গোপন রাখার বিষয়ে বর্ণনা করেন," অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করলেন। আর এটি স্পষ্ট যে এগুলো একাধিক ঘটনা ছিল যেগুলোর জন্য জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একাধিকবার সফর করেছিলেন।

 

এবং মহান জনাব আবু আইয়ুব আনসারি উকবাহ ইবনে আমির আল-জুহানির কাছে সফর করেছিলেন এক মুসলিমের দোষ গোপন রাখার বিষয়ে একটি হাদিসের জন্য, যা ইমাম আহমাদ একটি বিচ্ছিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন। এবং আবু দাউদ তাঁর "সুনান"-এ আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, সাহাবীদের মধ্যে এক ব্যক্তি মিশরে ফুদালাহ ইবনে উবাইদের কাছে একটি হাদিসের জন্য সফর করেছিলেন।

 

আর এই সুস্পষ্ট পথেই তাবিঈগণ এবং তাঁদের পরবর্তী ইলম ও দ্বীনের ইমামগণ চলেছেন। খাতিব (বাগদাদি) উবাইদুল্লাহ ইবনে আদি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট একটি হাদিসের খবর আমার কাছে পৌঁছাল, তখন আমি ভয় পেলাম যে তিনি যদি মারা যান তবে হয়তো অন্য কারো কাছে তা পাব না; তাই আমি সফর করে ইরাকে তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম।" ইমাম মালিক ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে এবং তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি একটি মাত্র হাদিসের খোঁজে দিনরাত সফর করতাম।" খাতিব আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের থেকে (হাদিস) শুনতাম, কিন্তু যতক্ষণ না আমরা তাঁদের কাছে গিয়ে সরাসরি শুনতাম ততক্ষণ আমরা সন্তুষ্ট হতাম না।" এবং ইমাম শাবি একটি মাসআলায় ফতোয়া দিয়ে বলেছিলেন: "আমি তোমাকে এটি কোনো বিনিময় ছাড়াই দিয়ে দিলাম, অথচ এর চেয়ে সামান্য বিষয়ের জন্য মদিনা পর্যন্ত সফর করা হতো।" দারেমি সহিহ সনদে বুসর ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি একটি মাত্র হাদিসের জন্য বিভিন্ন শহরের কোনো একটিতে সফর করতাম।" এবং আবু কিলাবাহ বলেন: "আমি মদিনায় তিন দিন অবস্থান করেছি যেখানে আমার কোনো প্রয়োজন ছিল না, কেবল এমন এক ব্যক্তির অপেক্ষা করা ছাড়া যার কাছে একটি হাদিস রয়েছে এবং আমি তা শুনব।"

 

এবং ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞেস করা হলো: "এক ব্যক্তি ইলম অন্বেষণ করছে, সে কি এমন এক ব্যক্তির সাথে লেগে থাকবে যার কাছে প্রচুর ইলম রয়েছে নাকি সে সফর করবে? তিনি বললেন: সে বিভিন্ন শহরের আলেমদের থেকে লেখার জন্য সফর করবে।"

 

আর ইলম ও হাদিস বর্ণনার পথে যারা সফর করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ, আহমাদ এবং আরও অনেকে। আর মুহাদ্দিসদের মধ্য থেকে এক বিশাল দল। তাঁদের প্রথম সারিতে রয়েছেন ইমামগণ—

--------------------------------------------

(১) "ফাতহুল বারি" খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪১ - ১৪২।
(খণ্ড: ১) দিফাউন আনিস সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবাহিল মুস্তাশরিকীন ত মাযমাউল বুহুস (পৃষ্ঠা: ২৭)
البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه والحاكم، وإنَّ منهم من لم يذق طعم الراحة والإقامة والاستقرار طوال حياته.

 

‌‌الأَطْوَارُ التِي مَرَّ بِهَا تَدْوِينُ الحَدِيثِ:

قلنا إنَّ التدوين العام بدأ في آخر القرن الأول من الهجرة وإنَّ العلماء في الأمصار استجابوا لدعوة الخليفة الراشد عمر بن عبد العزيز، وتجرَّد لجمع الأحاديث في الأمصار أناس لهم قدم ثابتة في الدين والعلم، وتبارى العلماء في هذا المضمار الفسيح فألف الإمام مالك (م 179) بالمدينة، وألف أبو محمد عبد العزيز بن جريج (م 150) بمكة والأوزاعي (م 156) بالشام، ومعمر بن راشد (م 153) باليمن، وسعيد بن أبي عروبة (م 156) وحماد بن سلمة (م 176) بالبصرة، وسفيان الثوري (م 161) بالكوفة، وعبد الله بن المبارك (م 181) بخراسان، وهُشيم بن بشير (م 188) بواسط، وجرير بن عبد الحميد (م 188) بالري وغير هؤلاء كثيرون، وكلهم من أهل القرن الثاني الهجري.

 

وكان منهج المؤلفين في هذا القرن جمع الأحاديث مختلطة بأقوال الصحابة وفتاوى التابعين، ويظهر ذلك بجلاء في " موطأ الإمام مالك ".

 

ثم حدث طور آخر في تدوين الحديث، وهو إفراد حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم -خاصة وكانت تلك الخطوة على رأس المائتين، وهؤلاء الذين خطوا هذه الخطوة، منهم من ألَّف على المسانيد، وذلك بأنْ يجمع أحاديث كل صحابي على حدة من غير تقيد بوحدة الموضوع فحديث صلاة بجانب حديث زكاة بجانب حديث في الجهاد وهكذا، وذلك كـ " مسند الإمام أحمد " وعثمان بن شيبة واسحق بن راهويه وغيرهم، وأصحاب المسانيد لم يتقيَّدوا بالصحيح بل خَرَّجُوا الصحيح والحسن والضعيف.

 

ومنهم من ألَّف على الأبواب الفقهية كأصحاب " الكتب الستة " المشهورة وهؤلاء منهم من تقيد في جمعه الأحاديث بالصحاح كالإمامين البخاري
বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ ও আল-হাকিম; তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন ছিলেন যারা সারাজীবনে বিশ্রাম, স্থায়িত্ব বা স্থিতিশীলতার স্বাদ আস্বাদন করেননি।

 

‌‌হাদিস সংকলন যে সকল স্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে:

আমরা বলেছি যে, হিজরি প্রথম শতাব্দীর শেষভাগে সাধারণ সংকলন শুরু হয়েছিল এবং বিভিন্ন জনপদের আলেমগণ খোলাফায়ে রাশেদিন উমর ইবনে আবদুল আজিজের আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন। দ্বীন ও ইলমের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় অবস্থানের অধিকারী একদল ব্যক্তি বিভিন্ন জনপদে হাদিস সংগ্রহের জন্য আত্মনিয়োগ করেছিলেন। এই বিশাল ক্ষেত্রে আলেমগণ একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করেছিলেন; ফলে মদিনায় ইমাম মালিক (মৃত্যু ১৭৯), মক্কায় আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ ইবনে জুরাইজ (মৃত্যু ১৫০), শামে আওজায়ি (মৃত্যু ১৫৬), ইয়েমেনে মা'মার ইবনে রাশিদ (মৃত্যু ১৫৩), বসরায় সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ (মৃত্যু ১৫৬) ও হাম্মাদ ইবনে সালামাহ (মৃত্যু ১৭৬), কুফায় সুফিয়ান আস-সাওরি (মৃত্যু ১৬১), খুরাসানে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (মৃত্যু ১৮১), ওয়াসিতে হুশাইম ইবনে বাশির (মৃত্যু ১৮৮), রাই-তে জারির ইবনে আবদুল হামিদ (মৃত্যু ১৮৮) এবং আরও অনেকে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাঁরা সকলেই ছিলেন হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর অধিবাসী।

 

এই শতাব্দীতে লেখকদের পদ্ধতি ছিল সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্য ও তাবেয়িদের ফতোয়ার সাথে মিশ্রিত অবস্থায় হাদিস সংগ্রহ করা। এটি "ইমাম মালিকের মুয়াত্তা"-য় স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

 

এরপর হাদিস সংকলনের আরেকটি পর্যায় আসে, যা ছিল বিশেষভাবে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসসমূহকে পৃথক করা। এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছিল দুই শত হিজরির শুরুতে। যারা এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ 'মুসনাদ' পদ্ধতিতে গ্রন্থ রচনা করেছেন। অর্থাৎ বিষয়ের একতা বজায় না রেখে প্রত্যেক সাহাবির হাদিস পৃথকভাবে সংগ্রহ করা; ফলে দেখা যায় সালাতের হাদিসের পাশে জাকাতের হাদিস, তার পাশে জিহাদের হাদিস—এভাবেই সংকলিত হয়েছে। যেমন: "ইমাম আহমদের মুসনাদ", উসমান বিন শাইবাহ, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ এবং অন্যান্যদের সংকলন। মুসনাদ রচয়িতাগণ কেবল সহিহ হাদিসের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তাঁরা সহিহ, হাসান এবং জয়িফ (দুর্বল) সব ধরণের হাদিসই উদ্ধৃত করেছেন।

 

আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন প্রসিদ্ধ "কুতুবে সিত্তা"-র (ছয়টি কিতাব) লেখকগণ। তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাদিস সংগ্রহের ক্ষেত্রে কেবল সহিহ হাদিসের শর্তারোপ করেছিলেন, যেমন ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম।