(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
موقف الجمهوريين من السنة النبوية القسم: علوم الحديث
الكتاب: مَوْقِفُ الجُمْهُورِيِّينَ مِنَ السُنَّةِ النَّبَوِيَّةِ
المؤلف: شوقي بشير عبد المجيد
الناشر: مطبوعات رابطة العالم الإسلامي، مجلة دعوة الحق- سلسلة شهرية تصدر مع مطلع كل شهر عربي
السنة السابعة - العدد 71 - صفر 1408 هـ - سبتمبر 1987 م.
عدد الصفحات: 61
أعده للشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع].
تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو الحجة 1432
সুন্নাহর প্রতি রিপাবলিকানদের দৃষ্টিভঙ্গি বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
বই: সুন্নাহর প্রতি রিপাবলিকানদের দৃষ্টিভঙ্গি
লেখক: শওকী বশীর আব্দুল মাজিদ
প্রকাশক: রাবেতাত আল-আলম আল-ইসলামী প্রকাশনা, দাওয়াতুল হক সাময়িকী- একটি মাসিক ধারাবাহিক যা প্রতি আরবি মাসের শুরুতে প্রকাশিত হয়
সপ্তম বর্ষ - সংখ্যা ৭১ - সফর ১৪০৮ হিজরি - সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ।
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১
শামেলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন।
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]।
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ জিলহজ ১৪৩২ হিজরি
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مَوْقِفُ الجُمْهُورِيِّينَ مِنَ السُنَّةِ النَّبَوِيَّةِ
بقلم الدكتور: شوقي بشير
عدد الأجزاء: 1.
أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
রাসূলের সুন্নাহর (السنة) প্রতি রিপাবলিকানদের অবস্থান
লিখেছেন ডক্টর: শওকী বশীর
খণ্ড সংখ্যা: ১।
আল-মাকতাবা আল-শামিলার জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশী, আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন।
[গ্রন্থটির বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সম্বলিত]।
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
{وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا}
[مطبوعات رابطة العالم الإسلامي]
دعوة الحق:
سلسلة شهرية تصدر مع مطلع كل شهر عربي
السنة السابعة - العدد 71 - صفر 1408 هـ - سبتمبر 1987 م.
مَوْقِفُ الجُمْهُورِيِّينَ مِنَ السُنَّةِ النَّبَوِيَّةِ
بقلم الدكتور: شوقي بشير
{তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।}
[রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামীর প্রকাশনা]
দাওয়াতুল হক:
প্রতি হিজরি মাসের শুরুতে প্রকাশিত একটি মাসিক ধারাবাহিক
সপ্তম বর্ষ - সংখ্যা ৭১ - সফর ১৪০৮ হিজরি - সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ।
রাসূলের সুন্নাহর প্রতি রিপাবলিকানদের অবস্থান
কলমে ডক্টর: শওকি বশির
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدِّمَةٌ:إن أول نواة لفرقة الجمهوريين هم مجموعة من السودانيين الذين انتموا إلى الحزب الجمهوري الاشتراكي السوداني للمساهمة والاشتراك في الحياة السياسية قبل استقلال السودان.
وكانت بداية نشأة الحزب الجمهوري الاشتراكي في أواخر أكتوبر 1945 م بزعامة محمود محمد طه، وقد نشأ الحزب نتيجة لظروف معينة مشابهة للظروف التي أسهمت كثيرًا في ظهور الأحزاب السياسية في السودان، إلا أن الحزب الجمهوري كان حزبًا علمانيًّا بصورة واضحة.
ومع أن اتجاه الحزب الجمهوري الاشتراكي كان واضحًا منذ البداية إلا أن زعيمه محمود حاول أن يصبغه بصبغة دينية حتى يجد سَنَدًا شَعْبِيًّا، وحتى يظل أعضاء الحزب تحت سيطرة زعيمهم.
وبدأ الحزب الجمهوري في التحول إلى فرقة باطنية لها اتجاهها الباطني المخالف للإسلام في عام 1952 م العام الذي أعلن فيه زعيمهم بأنه قد استقام له أمر نفسه وأصبح على مشارف الوصول للمعية بالذات الإلهية.
وخرج من الحزب عدد من الرجال بعد قيام رئيس الحزب بتلطيخ الشعارات الإسلامية والسياسية العامة التي رفعها الحزب بمنهج الفكر الباطني، كما دخل في الحزب آخرون، وقد نجح محمود
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:রিপাবলিকান ফিরকার (فرقة) আদি বীজ ছিল একদল সুদানী নাগরিক, যারা সুদানের স্বাধীনতার পূর্বে রাজনৈতিক জীবনে অংশগ্রহণ ও অবদান রাখার লক্ষ্যে 'সুদানিজ সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান পার্টি'র অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন।
মাহমুদ মুহাম্মদ তাহার নেতৃত্বে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসের শেষভাগে সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান পার্টির জন্ম হয়। সুদানের রাজনৈতিক দলসমূহের আত্মপ্রকাশে যেসব পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল, অনেকটা অনুরূপ কিছু পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই এই দলটির উদ্ভব ঘটেছিল। তবে রিপাবলিকান পার্টিটি ছিল একটি সুস্পষ্ট ধর্মনিরপেক্ষ দল।
যদিও সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান পার্টির আদর্শিক অভিমুখ শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, তথাপি এর নেতা মাহমুদ এটিকে একটি ধর্মীয় আবরণে আবৃত করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন যাতে তিনি জনসমর্থন অর্জন করতে পারেন এবং দলের সদস্যদের ওপর স্বীয় কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পারেন।
১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে রিপাবলিকান পার্টি একটি বাতিনী (باطنية) ফিরকায় রূপান্তরিত হতে শুরু করে, যার বাতিনী (باطني) ঝোঁক ছিল ইসলামের পরিপন্থী। এটি সেই বছর, যখন তাদের নেতা ঘোষণা করেন যে, তার আত্মিক বিষয়াবলি সুসংহত হয়েছে এবং তিনি খোদায়ী সত্তার সান্নিধ্য লাভের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছেন।
দলের সভাপতি যখন দলের উত্থাপিত সাধারণ ইসলামি ও রাজনৈতিক স্লোগানগুলোকে বাতিনী (باطني) চিন্তাচেতনার মাধ্যমে কলঙ্কিত করেন, তখন বেশ কিছু ব্যক্তি দল ত্যাগ করেন; আবার অন্য অনেকে এই দলে প্রবেশ করেন। মাহমুদ সফল হয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
في ملء فراغ أتباعه الفكري بفكره التلفيقي الذي جمعه من أفكار الفرق الباطنية في القديم والحديث ومن الفلسفات الإلحادية وقام على أصول فلسفية منها:
(أ) مذهب وحدة الوجود.
(ب) المعدوم هو عين الله بمعناه البعيد.
(ج) عقائد النحل الباطنية في القديم والحديث.
(د) عقيدة التجسد البهائية.
(هـ) الفلسفة الوجودية.
(و) الفلسفة الشيوعية.
(ز) النظرية الداروينية.
(ح) نظرية فرويد النفسية.
وفرقة الجمهوريين تتخذ أساليب وَحِيَلاً لاستدراج مجموعة من المسلمين لاخراجهم عن الإسلام الذي عرفوه، وجعلهم أتباعًا للمذهب الجمهوري، لأن التصريح بحقيقة مذهبهم لا يجذب أحدًا من المسلمين.
ولقد اعتمد الجمهوريون في معظم حيلهم وأساليبهم على الحيل والأساليب التي اعتمد عليها دعاة الباطنية خاصة في استخدامهم لِلْسُنَّةِ النَّبَوِيَّةِ.
وفي هذا الكتاب سوف أُنَبِّهُ على المآخذ التي نراها في أسلوب الجمهوريين في استخدام السُنَّةِ النَّبَوِيَّةِ لكي تحذر وتتقى مع أن حصرها يصعب على الإنسان لأن طرق أهل الباطل متعددة وليست
তিনি তার অনুসারীদের বুদ্ধিবৃত্তিক শূন্যতা পূরণ করতে চেয়েছেন এমন এক সমন্বয়বাদী চিন্তাধারার মাধ্যমে, যা তিনি প্রাচীন ও আধুনিক বাতেনী (গূঢ়তাত্ত্বিক) দলসমূহের ধ্যান-ধারণা এবং নাস্তিক্যবাদী দর্শন থেকে সংগ্রহ করেছেন। এটি এমন কিছু দার্শনিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার মধ্যে রয়েছে:
(ক) ওয়াহদাতুল উজুদ (অস্তিত্বের অদ্বৈতবাদ) মতবাদ।
(খ) অবিদ্যমান সত্তাই হলো আল্লাহর প্রকৃত স্বরূপ (সুদূরপ্রসারী অর্থে)।
(গ) প্রাচীন ও আধুনিক বাতেনী ফেরকাগুলোর আকিদা।
(ঘ) বাহায়ী মতবাদের অবতারবাদ সংক্রান্ত আকিদা।
(ঙ) অস্তিত্ববাদী দর্শন।
(চ) সাম্যবাদী দর্শন।
(ছ) ডারউইনবাদ তত্ত্ব।
(জ) ফ্রয়েডের মনস্তাত্ত্বিক তত্ত্ব।
আর জুমহুরি দলটি একদল মুসলিমকে প্রলুব্ধ করার জন্য নানা কৌশল ও চাতুর্য অবলম্বন করে, যাতে তাদেরকে তাদের পরিচিত ইসলাম থেকে বিচ্যুত করে জুমহুরি মতবাদের অনুসারী বানানো যায়; কারণ তাদের মতবাদের প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করলে কোনো মুসলিমই সেদিকে আকৃষ্ট হবে না।
জুমহুরিরা তাদের অধিকাংশ কৌশল ও পদ্ধতির ক্ষেত্রে সেই সব কৌশলের ওপর নির্ভর করেছে, যা বাতেনী মতবাদের প্রচারকরা অবলম্বন করত; বিশেষ করে নববী সুন্নাহ ব্যবহারের ক্ষেত্রে।
এই বইটিতে আমি জুমহুরিদের নববী সুন্নাহ ব্যবহারের পদ্ধতির ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করব, যাতে সেগুলো সম্পর্কে সতর্ক ও সচেতন থাকা যায়; যদিও এগুলো পুরোপুরি সীমাবদ্ধ করা মানুষের জন্য কঠিন, কারণ বাতিলপন্থীদের পথ বহুমুখী এবং তা কেবল...
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
واحدة وطريق أهل الحق واحد لا طريق غيره فالحق أمر ثابت في نفسه لا بغيره قول أهل الباطل فيه ومحاولاتهم لتفهيم الناس أنه ليس حقًا. وفيما يلي نبين موقف الجمهوريين وآراءهم بالنسبة لِلْسُنَّةِ ونناقشهم في ذلك.
شوقي بشير المجيد
جامعة أُمْ دُرْمَانْ الإسلامية.
সত্য একক এবং সত্যপন্থীদের (أهل الحق) পথও অভিন্ন, এ ব্যতীত অন্য কোনো পথ নেই। সত্য (الحق) তার স্বীয় সত্তায় প্রতিষ্ঠিত একটি বিষয়; সত্যের ব্যাপারে বাতিলপন্থীদের (أهل الباطل) বক্তব্য কিংবা এটি সত্য নয় বলে মানুষকে বোঝানোর অপচেষ্টার মাধ্যমে সত্যের বাস্তবতা পরিবর্তিত হয় না। নিম্নে আমরা সুন্নাহর (السنة) ব্যাপারে রিপাবলিকানদের (الجمهوريين) অবস্থান ও তাদের মতামতসমূহ বর্ণনা করব এবং এ প্রসঙ্গে তাদের সাথে আলোচনা করব।
শওকি বশির আল-মাজিদ
উম্মে দোরমান ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়।
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفَصْلُ الأَوَّلُ: زَعْمُ الجُمْهُورِيِّينَ بِأَنَّ السُنَّةَ هِيَ مَا هُمْ عَلَيْهَا اليَوْمَ:يرى الجمهوريون أنهم أتباع السُنَّةِ النَّبَوِيَّةِ وأنصارها اليوم، وما يَتَّبِعُهُ غيرهم من المسلمين ليس بِسُنَّةٍ - وإن كانت سنة قبل ظهور فرقتهم - فالسنة في رأيهم هم ما داوم عليه الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم من عمل في خاصة نفسه، وإنها هي التي عليها هم اليوم في بداية طريقهم إلى الله - مرحلة التقليد - فهي - في رأيهم - الحق المنظور في طلب الحقيقة، والحقيقة عند الجمهوريين - هي سُنَّةُ الله - سبحانه وتعالى.
ويرى الجمهوريون أن علماء الحديث والأصول قد أخطأوا في جعلهم سُنَّةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هي عمله وقوله وإقراره بينما هي ليست كذلك.
جاء في كتاب " الرسالة الثانية من الإسلام " ما يلي:
«إن مما ألف الناس أن سُنَّةَ النَّبِيِّ هي قوله وإقراره وعمله، والحق أن هذا خطأ، فإن قول النبي وإقراره ليسا سُنَّةً (1)، وإنما هو شريعة، وأما عمله في خاصة نفسه فهو سُنَّةٌ
… ».
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: রিপাবলিকানদের দাবি যে, সুন্নাহ হলো তা-ই যার ওপর তারা বর্তমানে রয়েছে:রিপাবলিকানরা মনে করে যে, তারাই আজ সুন্নাহ-এ-নববীর অনুসারী ও সাহায্যকারী। তাদের ব্যতীত অন্য মুসলমানরা যা অনুসরণ করে তা সুন্নাহ নয়—যদিও তাদের দলের আত্মপ্রকাশের পূর্বে তা সুন্নাহ হিসেবে গণ্য ছিল। তাদের মতে সুন্নাহ হলো তা-ই, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ব্যক্তিগত জীবনে সর্বদা পালন করেছেন। আর এটিই হলো সেই পথ যার ওপর তারা আজ আল্লাহর দিকে যাত্রার শুরুতে—অনুকরণ বা তাকলিদ (تقليد) এর স্তরে—রয়েছে। তাদের দৃষ্টিতে এটিই হলো হাকিকত বা পরম সত্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান সত্য। আর রিপাবলিকানদের নিকট হাকিকত হলো—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সুন্নাহ।
রিপাবলিকানরা মনে করে যে, হাদিস ও উসুল শাস্ত্রের পন্ডিতগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম (عمل), বাণী (قول) ও মৌনসম্মতিকে (إقرار) সুন্নাহ হিসেবে গণ্য করে ভুল করেছেন; অথচ বিষয়টি তেমন নয়।
"আর-রিসালাতুস সানিয়াহ মিনাল ইসলাম" গ্রন্থে নিম্নোক্ত বক্তব্য এসেছে:
«মানুষ সাধারণত যে বিষয়ে অভ্যস্ত তা হলো নবীর সুন্নাহ বলতে তাঁর বাণী (قول), মৌনসম্মতি (إقرار) ও কর্মকে (عمل) বোঝায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ভুল ধারণা। কেননা নবীর বাণী (قول) ও মৌনসম্মতি (إقرار) সুন্নাহ নয় (১), বরং তা হলো শরিয়ত (شريعة)। পক্ষান্তরে তাঁর ব্যক্তিগত আমল বা কর্মই (عمل) হলো সুন্নাহ... »।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
نعم هناك من قوله قول يلحق بالسنة وذلك القول الذي يَنِمُّ عن حال قلبه
… السُنَّةُ هي عمل النبي في خاصة نفسه والشريعة هي تنزل من مستوى عمله في خاصة نفسه إلى مستوى أمته، ليعلمهم فيما يطيقون وليكلفهم فيما يستطيعون، فالسنة هي نبوته والشريعة هي رسالته، وإنما في مضمار رسالته هذه قال: «نَحْنُ مَعَاشِرَ الأَنْبِيَاءِ أُمِرْنَا أَنْ نُخَاطِبَ النَّاسَ عَلَى قَدْرِ عُقُولِهِمْ» (1) فقول النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ليس بِسُنَّةٍ عند الجمهوريين إلا إذا كان يتحدث عن حال قلبه، فقوله هو شريعته المحمدية التي قال بها كَمُشَرِّعٍ لأمة الأصحاب، فالصحابي يُصَدِّقُهُ في هذه المسألة كما يُصَدِّقُ غيره من المُسْتَيْقِنِينَ، ويتبعه فيما يقول عن ربه وما يبلغ من أوامره ونواهيه (2). ويستدل الجمهوريون في هذه المسألة بقول نسبوه إلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم «حَالِي حَقِيقَةٌ وَعَمَلِي طَرِيقَةٌ وَقَوْلِي شَرِيعَةٌ» (3).
قال محمود محمد طه: «وأما قوله فمنه ما هو شريعة ومنه ما هو سُنَّةٌ
… فالقول المراد به إلى تعليم الأُمَّةِ وتنظيمها والتشريع لها فهو شريعة، مثال ذلك
--------------------------------------------
হ্যাঁ, তাঁর এমন কিছু কথা রয়েছে যা সুন্নাহর (السنة) অন্তর্ভুক্ত এবং সেই কথাগুলো তাঁর অন্তরের অবস্থাকে প্রকাশ করে
… সুন্নাহ (السنة) হলো নবীজির নিজস্ব আমল, আর শরিয়াহ (الشريعة) হলো তাঁর ব্যক্তিগত আমলের স্তর থেকে তাঁর উম্মতের স্তরে অবতরণ করা, যাতে তিনি তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শিক্ষা দিতে পারেন এবং তাদের সাধ্য অনুযায়ী দায়িত্ব অর্পণ করতে পারেন। সুতরাং সুন্নাহ (السنة) হলো তাঁর নবুওয়াত আর শরিয়াহ (الشريعة) হলো তাঁর রিসালাত। তাঁর এই রিসালাতের পরিমণ্ডলে তিনি বলেছেন: «আমরা নবীদের জামাত মানুষের সাথে তাদের বুদ্ধি অনুযায়ী কথা বলতে আদিষ্ট হয়েছি» (১)। রিপাবলিকানদের (জুমহুরিয়্যিন) নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা সুন্নাহ (السنة) নয়, যতক্ষণ না তিনি তাঁর অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে কথা বলেন। তাঁর কথা হলো তাঁর মুহাম্মদী শরিয়াহ (الشريعة) যা তিনি সাহাবীদের উম্মতের জন্য একজন বিধানদাতা হিসেবে বলেছেন। সুতরাং সাহাবীগণ এই বিষয়ে তাঁকে বিশ্বাস করতেন যেমনটি তিনি অন্যান্য দৃঢ়বিশ্বাসীদের বিশ্বাস করতেন এবং তাঁর প্রতিপালক সম্পর্কে তিনি যা বলতেন এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধ যা তিনি প্রচার করতেন তাতে তারা তাঁর অনুসরণ করতেন (২)। রিপাবলিকানরা এই বিষয়ে একটি উক্তি দ্বারা দলিল প্রদান করেন যা তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি নিসবত করেছেন: «আমার অবস্থা হলো হাকিকত, আমার আমল হলো তরিকত এবং আমার কথা হলো শরিয়াহ» (৩)।
মাহমুদ মুহাম্মদ ত্বহা বলেন: «আর তাঁর বাণীর মধ্যে কোনটি শরিয়াহ (الشريعة) এবং কোনটি সুন্নাহ (السنة) ... সুতরাং যে বাণীর উদ্দেশ্য হলো উম্মতকে শিক্ষা দান, সুসংগঠিত করা এবং তাদের জন্য বিধান প্রণয়ন করা, তা হলো শরিয়াহ (الشريعة)। এর উদাহরণ হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
حديث «كُنْتُ قَدْ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ أَلَا فَزُورُوهَا» (1).
وأما القول العامي إلى تعليم الأُمَّةِ، والدال على حال قلب النبي من المعرفة بربه فهو السُنَّةُ ولا حق بها، مثال ذلك:
«إن الله قد احتجب عن الأبصار .. وإن الملأ الأعلى ليطلبونه كما تطلبونه» هذا الحديث لاحق بِالسُنَّةِ في الحقيقة ينم عنها القول وينم عنها العمل، ولذلك «قلنا إن السُنَّةَ هي عمل النبي في خاصة نفسه» (2).
فَسُنَّةُ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم - عند الجمهوريين - هي عمله في خاصة نفسه، وهي الفكر، وهي حال قلب النبي في الحقيقة، وهي المسؤولية الفردية - الخاصة بالنبي - وهي حريته الفردية المطلقة التي تمتع بها بعد أن أصبح أصيلاً في سُنَّتِهِ التي لم يقلد فيها أحدًا من الأنبياء قبله.
ويستدل الجمهوريون على قولهم بأن السُنَّةَ هي الفكر، وأنهم هم الذين يتبعونها في العبادة وَالسُنَّةِ التي يتبعونها هي التي تحارب أن تصبح العبادات عادات، فالعبادات وسائل كلفوا بها لتربية نفوسهم ومعرفتها بربها.
--------------------------------------------
হাদিস: «আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন থেকে তোমরা কবর জিয়ারত করো» (১)।
আর উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলা সাধারণ কথা, যা আপন রবের পরিচয় সম্পর্কে নবীর হৃদয়ের অবস্থা নির্দেশ করে, তা হলো সুন্নাহ এবং তা এরই অন্তর্ভুক্ত; উদাহরণস্বরূপ:
«নিশ্চয়ই আল্লাহ দৃষ্টির অন্তরালে রয়েছেন... আর উর্ধ্বজগতের ফেরেশতামণ্ডলী তাঁকে ঠিক তেমনই অনুসন্ধান করে যেমন তোমরা তাঁকে অন্বেষণ করো» এই হাদিসটি বাস্তবে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে কথা ও কাজ উৎসারিত হয়। আর একারণেই «আমরা বলেছি যে, সুন্নাহ হলো নবীর নিজস্ব সত্তার আমল» (২)।
জুমহুরিদের (রিপাবলিকান) নিকট রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ হলো তাঁর নিজস্ব সত্তার আমল, আর তা হলো চিন্তা (ফিকর), এবং তা প্রকৃত অর্থে নবীর হৃদয়ের অবস্থা। এটি হলো নবীর ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা—যা কেবল নবীর সাথে বিশেষিত—এবং তাঁর সেই নিরঙ্কুশ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা যা তিনি তাঁর সুন্নাহর ক্ষেত্রে স্বকীয়তা অর্জনের পর লাভ করেছিলেন, যাতে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী কোনো নবীকে অনুসরণ করেননি।
জুমহুরিরা তাদের এই বক্তব্যের স্বপক্ষে দলিল পেশ করেন যে, সুন্নাহ হলো চিন্তা (ফিকর)। তাঁরাই ইবাদতে একে অনুসরণ করেন। তাঁরা যে সুন্নাহ অনুসরণ করেন, তা ইবাদতসমূহকে অভ্যাসে পরিণত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সংগ্রাম করে। কেননা ইবাদতসমূহ হলো নফসের (আত্মার) পরিশুদ্ধি এবং আপন রবের পরিচয় লাভের জন্য নির্দেশিত মাধ্যম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَ «مَنْ عَرَفَ نَفْسَهُ فَقَدْ عَرَفَ رَبَّهُ» (1).
وَالسُنَّةُ النَّبَوِيَّةُ التي يتبعها الجمهوريون يتبعونها في مرحلة التقليد، وبعدها يتمتعون بحريتهم الفردية المطلقة فليس في مرحلة الأصالة تقليد وإنما هو تأس (2).
وقد أخطأ الجمهوريون في زعمهم أن السُنَّةَ هي ما يتبعونه، فما يتبعونه ليس هو السُنَّةُ وإنما يتبعون ما شرعه لهم زعيمهم محمود محمد طه، الذي أمرهم بالتأسي بِالرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم واتخاذه قدوة فيما هو من خصائصه، بينما منعهم من اتباع السُنَّةِ الحقيقية بِحُجَّةِ أن السُنَّةَ الحقيقية ليست سُنَّةً، كما أخطأ الجمهوريون في فصلهم بين الشريعة وَالسُنَّةِ وزعمهم أن قول النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شريعة وأنه مُخَالِفٌ لِلْسُنَّةِ، وأن إقراره شريعة مُخَالِفٌ لِلْسُنَّةِ، فَالسُنَّةُ لغة هي الطريقة المتبعة.
وشرعًا هي ما شرعه الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم بإذن الله تعالى لأُمَّتِهِ من طرق وسبل الخير، وما انتدبها من الآداب والفضائل لتكمل وتسعد.
«فإذا كان ما سَنَّهُ النَّبِيُّ قد أمر بالقيام به والتزامه فذلك من السُّنَنِ الواجبة التي لا يسع المسلم تركها، وإلا فهي من السُّنَنِ
--------------------------------------------
وَ «যে ব্যক্তি নিজেকে চিনেছে, সে তার প্রতিপালককে চিনেছে» (১)।
রিপাবলিকানরা যে সুন্নাহ-এ-নববী অনুসরণ করে, তা তারা অন্ধ অনুসরণ বা অনুকরণের (تقليد) স্তরে থাকাকালীন অনুসরণ করে; এরপর তারা তাদের নিরঙ্কুশ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা উপভোগ করে। ফলে মৌলিকত্বের (أصالة) স্তরে আর কোনো অন্ধ অনুসরণ (تقليد) থাকে না, বরং তা হয় নিছক অনুসরণ (تأس) (২)।
রিপাবলিকানরা তাদের এই দাবিতে ভুল করেছে যে, তারা যা অনুসরণ করছে তা-ই সুন্নাহ। তারা যা অনুসরণ করছে তা আসলে সুন্নাহ নয়, বরং তারা তাদের নেতা মাহমুদ মুহাম্মদ তহা তাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ করেছেন তা-ই অনুসরণ করছে। তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন বিষয়ে অনুসরণ (تأس) করতে এবং আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে যা কেবল তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহের (خصائصه) অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে তিনি তাদের প্রকৃত সুন্নাহ অনুসরণ করতে বাধা দিয়েছেন এই অজুহাতে যে, প্রকৃত সুন্নাহ আসলে সুন্নাহ নয়। একইভাবে রিপাবলিকানরা শরিয়ত ও সুন্নাহর মধ্যে পার্থক্য করতে গিয়ে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীকে শরিয়ত এবং তা সুন্নাহ-বিরোধী বলে দাবি করে ভুল করেছে। তাদের মতে তাঁর মৌন সম্মতি বা অনুমোদনও (إقرار) শরিয়ত যা সুন্নাহর পরিপন্থী; অথচ আভিধানিক অর্থে সুন্নাহ হলো অনুসৃত পদ্ধতি।
আর শরিয়তের পরিভাষায় (شرعًا), সুন্নাহ হলো আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য কল্যাণের যেসব পথ ও পন্থা বিধিবদ্ধ করেছেন এবং যেসব আদব ও গুণাবলি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা পূর্ণতা ও সৌভাগ্য লাভ করতে পারে।
«নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা প্রবর্তন করেছেন তা যদি তিনি পালন ও আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তবে তা আবশ্যিক সুন্নাহ (السنن الواجبة) এর অন্তর্ভুক্ত যা ত্যাগ করা একজন মুসলিমের জন্য সম্ভব নয়। অন্যথায় তা সেই সব সুন্নাহর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
المستحبة التي يثاب فاعلها ولا يعاقب تاركها» (1).
فَالسُنَّةُ هي قول النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وفعله وتقريره فهو كما يسن بفعله يسن بقوله وتقريره.
وقد أخطأ الجمهوريون في قولهم بأن إقرار النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ليس بِسُنَّةٍ، فإقرار النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سُنَّةٌ.
فمن «مقتضى ما تقرر من عصمته صلى الله عليه وسلم وأمانته في التبليغ أن لا يقر أحدًا على أمر غير مأذون فيه شرعًا، فيكون إقراره للأمر دليلاً على أنه لا حرج في فعله سواء شاهده بنفسه فسكت أو بلغه فلم ينكره وما لا حرج فيه يشمل الواجب والمندوب والمباح، فيحمل على أقل مراتبه وهو الجواز حتى يقول الدليل على الندب أو الوجوب» (2).
«ولا يدل الإقرار على جواز الفعل في حق من أَقَرَّهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم من أُمَّةِ أصحابه ومن معه حتى قيام فرقتهم، وأن عمومه لا يشمل من عاش في القرن العشرين وما بعده، وإنما يشمل فقد أُمَّة الأصحاب، فإقرار النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم على جواز الفعل لا يدل على جوازه في حق من أقره النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، " بل يكون الجواز حُكْمًا شاملاً لجميع المكلفين، أخذًا بالأصل الذي هو استواء الناس في أحكام الشريعة "» (3).
--------------------------------------------
মুস্তাহাব (المستحبة) হলো তা যার সম্পাদনকারী সওয়াব লাভ করে এবং বর্জনকারী শাস্তিযোগ্য হয় না» (১)।
সুন্নাহ (السنة) হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কাজ ও মৌনসম্মতি (تقرير); সুতরাং তিনি যেভাবে তাঁর কাজের মাধ্যমে সুন্নাহ প্রবর্তন করেন, তেমনি তাঁর কথা ও মৌনসম্মতির (تقرير) মাধ্যমেও সুন্নাহ প্রবর্তন করেন।
রিপাবলিকানরা (الجمهوريون) তাদের এই দাবিতে ভুল করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৌনসম্মতি (إقرار) সুন্নাহ (سنة) নয়; বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৌনসম্মতি (إقرار) একটি সুন্নাহ (سنة)।
কেননা «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিষ্পাপতা (عصمة) এবং তাবলীগের ক্ষেত্রে তাঁর আমানতদারিতার অনিবার্য দাবি হলো, তিনি শরীয়তসম্মত নয় এমন কোনো বিষয়ে কাউকে মৌনসম্মতি প্রদান করবেন না। সুতরাং কোনো বিষয়ের প্রতি তাঁর মৌনসম্মতি (إقرار) এই দলিল (دليل) হিসেবে গণ্য হয় যে, কাজটি করাতে কোনো বাধা নেই—চাই তিনি তা সচক্ষে দেখে নীরব থেকেছেন অথবা তা তাঁর নিকট পৌঁছেছে কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেননি। আর যাতে কোনো বাধা নেই তা ওয়াজিব (الواجب), মানদুব (المندوب) এবং মুবাহ (المباح) এই সব কিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। তাই একে এর সর্বনিম্ন স্তর তথা বৈধতার (الجواز) ওপর প্রয়োগ করা হবে, যতক্ষণ না সেটি মানদুব বা ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে কোনো দলিল (دليل) পাওয়া যায়» (২)।
«নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের অনুমোদন দিয়েছেন তাদের জন্য আমলের বৈধতা (جواز) নির্দেশকারী এই মৌনসম্মতি (الإقرار) কেবল সাহাবী ও তাঁর সমসাময়িকদের সেই দলটির অস্তিত্ব থাকা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়; এর ব্যাপকতা কেবল সাহাবী প্রজন্মের জন্য নির্দিষ্ট করে বিশ শতক বা তার পরের মানুষদের বাদ দেয় না। বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আমলের বৈধতার ওপর মৌনসম্মতি (إقرار) কেবল যার ক্ষেত্রে এটি প্রদান করা হয়েছে তার জন্যই নির্দিষ্ট নয়; "বরং সেই বৈধতা (الجواز) হবে সকল মুকাল্লাফের (المكلفين) জন্য একটি ব্যাপক বিধান (حكمًا), যা শরীয়তের বিধানে মানুষের সমতার মূলনীতির ভিত্তিতে গৃহীত"» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
كما أخطأ الجمهوريون في زعمهم أن قول الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم ليس بِسُنَّةٍ، كما أن الحُجَّةَ التي اعتمدوا عليها في هذه المسألة ليست بِحُجَّةٍ فلا يعني القول بأن قول النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شريعة أنه ليس بِسُنَّةٍ أو أن النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لا يعمل بقوله إلا على سبيل التعليم لأمته، وأما أصحابه فيعملون به طَمَعًا في الارتفاع من مستوى رسالتهم المحمدية إلى الأحمدية، أو الارتفاع من سُنَّتِهِمْ التي يتبعونها إلى سُنَّةِ النَّبِيُّ في خاصة نفسه ثم إلى سُنَّةِ الله.
فالحق أن قول النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الذي هو من سُنَّتِهِ المتعبد بها والتي شرعها الرَّسُُولُ صلى الله عليه وسلم بإذن الله تعالى لأمته، واتبعته في ذلك، فقد شَرَّعَ الرَّسُُولُ صلى الله عليه وسلم للمسلمين بأقواله وأفعاله وتقريره فقد حدثت حوادث وخصومات قضى فيها النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بالحديث لا بالقرآن (فكان قضاؤه تشريعًا) كما أن الرَّسُُولَ صلى الله عليه وسلم قد بَيَّنَ كثيرًا من آيات القرآن الكريم بأقواله كبيانه للصلاة والزكاة وسائر العبادات.
«فكل ما قاله النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أو فعله أو حدث أمامه واستحسنه كان تشريعًا» (1). ولا يعني كونه تشريعًا أنه ليس بِسُنَّةٍ كما ذهب إلى ذلك الجمهوريون.
كما أخطأ الجمهوريون في زعمهم أن فعل النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ليس بِسُنَّةٍ إلا ما كان خالصًا به وأخطأوا في جعلهم هذه هي السُنَّةَ كما أخطأوا في حصرهم لِلْسُنَّةِ في عمل الرَّسُُولِ صلى الله عليه وسلم في خاصة نفسه، فالأفعال التي يعلم المسلم أنها من اختصاص النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كالوصال في
--------------------------------------------
তেমনিভাবে রিপাবলিকানরা তাদের এই দাবিতে ভুল করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী সুন্নাহ (سنة) নয়। ঠিক তেমনিভাবে তারা এই বিষয়ে যে প্রমাণের (حجة) ওপর নির্ভর করেছেন তাও কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ (حجة) নয়। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী শরিয়ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তা সুন্নাহ (سنة) নয় কিংবা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে নিজ বাণীর ওপর আমল করেন না। আর তাঁর সাহাবীগণ তাঁর বাণীর ওপর আমল করেন তাদের মুহাম্মাদি রিসালাতের স্তর থেকে আহমাদি স্তরে উন্নীত হওয়ার আশায়, অথবা তাদের অনুসৃত সুন্নাহ (سنة) থেকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিগত সুন্নাহর (سنة) দিকে এবং অতঃপর আল্লাহর সুন্নাহর (سنة) দিকে উন্নীত হওয়ার আকাঙ্ক্ষায়।
প্রকৃত সত্য হলো, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী তাঁর সেই ইবাদতযোগ্য (المتعبد بها) সুন্নাহর (سنة) অন্তর্ভুক্ত যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর উম্মতের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন এবং উম্মতও সে বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণী, কাজ এবং মৌনসম্মতির (تقرير) মাধ্যমে মুসলিমদের জন্য বিধান প্রণয়ন করেছেন। এমন অনেক ঘটনা ও বিবাদ সংঘটিত হয়েছে যেখানে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের পরিবর্তে হাদিস দ্বারা ফয়সালা করেছেন (ফলে তাঁর ফয়সালা ছিল বিধানস্বরূপ)। ঠিক যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণীর মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, যেমন সালাত, জাকাত ও অন্যান্য ইবাদতের বর্ণনার ক্ষেত্রে।
«নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু বলেছেন, করেছেন বা তাঁর সামনে যা কিছু ঘটেছে এবং তিনি তা পছন্দ করেছেন, তা-ই ছিল বিধানস্বরূপ» (১)। আর এটি বিধান হওয়ার অর্থ এই নয় যে, এটি সুন্নাহ (سنة) নয়, যেমনটি রিপাবলিকানরা মনে করেন।
তেমনিভাবে রিপাবলিকানরা তাদের এই দাবিতে ভুল করেছেন যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম সুন্নাহ (سنة) নয় কেবল তা ব্যতীত যা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। তারা একে সুন্নাহ (سنة) হিসেবে গণ্য করতে ভুল করেছেন, যেমন তারা সুন্নাহকে (سنة) কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিগত কার্যাবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতেও ভুল করেছেন। সুতরাং যেসব কাজ সম্পর্কে একজন মুসলিম জানেন যে তা কেবল নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নির্দিষ্ট, যেমন বিরতিহীন রোজা (الوصال) এর ক্ষেত্রে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الصوم أو الزيادة في النكاح على أربع ليست محلاً للتأسي ولا يجب على أحد أن يقتدي به فيما هو من خصائصه فقط (1). فكيف ينادي محمود محمد طه بجعل ما اختص به الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم شريعة عامة لأتباعه في مرحلة التقليد ويسميها (شريعة النبوة) ومما لا شك فيه أن هذه مخالفة صريحة للإسلام والمسلمين، وإن حاول الجمهوريون في سبيل إرضاء عدد كبير من الناس التنازل عن اتِّبَاعِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم في بعض المسائل الواضحة جِدًّا أنها من خصائصه، والتي تفيدهم التنازل عنها، فقد حرموا التعدد والزيادة في النكاح على أربع لإرضاء المرأة وكسبها لجانبهم، كما هربوا من صيام المواصلة بحجة أن الرَّسُولَ صلى الله عليه وسلم قد فداهم كل التفدية، والحقيقة أن نفوسهم لا تطيق الصيام الذي يصومه المسلمون فكيف تطيق صيام المواصلة، وما ذهابهم إلى القول بأن الرَّسُولَ صلى الله عليه وسلم فداهم كل التفدية إلا محاولة لفتح الباب للقول بسقوط الصيام.
ولا ندري ماذا يقصد الجمهوريون بقوله إن السُنَّةَ هي الفكر، فكلمة فكر كلمة عامة عندما تطلق يُرَادُ بها الفكر الإغريقي والهندي والفارسي والعلماني الأوروبي، وغير ذلك من أنواع الفكر، أم أنهم يقصدون الفكر الإسلامي، وعلى العموم قد أخطأ الجمهوريون في هذه المسألة أيضًا لان الفكر فيما يبدو مرادف عندهم لِسُنَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم في خاصة نفسه، بينما الفكر هو محاولات علماء المسلمين العقلية لشرح الإسلام في مصادره الأصلية: القرآن
--------------------------------------------
রোজা রাখা কিংবা চারের অধিক বিয়ে করা অনুসরণের (التأسي) বিষয় নয় এবং কারো জন্য তাঁর সেই বিষয়গুলোতে অনুসরণ করা আবশ্যক নয় যা কেবলমাত্র তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্যাবলীর (خصائصه) অন্তর্ভুক্ত (১)। তাহলে মাহমুদ মুহাম্মদ তাহা কীভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহকে তাঁর অনুসারীদের জন্য অনুকরণের (التقليد) স্তরে একটি সাধারণ শরিয়ত হিসেবে ঘোষণা করেন এবং সেটিকে 'নবুওয়াতের শরিয়ত' বলে অভিহিত করেন? নিঃসন্দেহে এটি ইসলাম ও মুসলিমদের সাথে এক স্পষ্ট সংঘাত। যদিও রিপাবলিকানরা (জুমহুরিয়ুন) অধিক সংখ্যক মানুষকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের (اتباع) ক্ষেত্রে এমন কিছু সুস্পষ্ট বিষয় পরিত্যাগ করার চেষ্টা করেছে যা কেবল তাঁরই বৈশিষ্ট্যাবলীর (خصائصه) অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং যেগুলোর বিলোপ সাধন তাদের জন্য সুবিধাজনক ছিল। তারা নারীদের সন্তুষ্ট করা এবং নিজেদের পক্ষে টানার জন্য বহুবিবাহ এবং চারের অধিক বিয়েকে নিষিদ্ধ করেছে। একইভাবে তারা বিরতিহীন রোজা (صيام المواصلة) পালন করা থেকে এই অজুহাতে পলায়ন করেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য চূড়ান্ত আত্মত্যাগ করেছেন। অথচ বাস্তবতা হলো তাদের প্রবৃত্তি সাধারণ মুসলিমরা যে রোজা পালন করে তা-ই সহ্য করতে পারে না, তবে তারা বিরতিহীন রোজা (صيام المواصلة) কীভাবে সহ্য করবে? আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য চূড়ান্ত আত্মত্যাগ করেছেন—তাদের এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য রোজা রহিত হওয়ার (سقوط) দাবি উত্থাপনের পথ প্রশস্ত করা ছাড়া আর কিছুই নয়।
রিপাবলিকানরা যখন বলে 'সুন্নাহ (السنة) হলো চিন্তা', তখন তারা কী বোঝাতে চায় তা আমাদের বোধগম্য নয়। কারণ 'চিন্তা' শব্দটি একটি ব্যাপক শব্দ; যখন এটি সাধারণভাবে ব্যবহার করা হয়, তখন এর দ্বারা গ্রিক, ভারতীয়, পারস্য ও ইউরোপীয় ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তা বা অন্য কোনো ধরনের চিন্তা বোঝানো হতে পারে। নাকি তারা ইসলামি চিন্তা বোঝাতে চাচ্ছেন? মোটের ওপর, রিপাবলিকানরা এই মাসআলাতেও ভুল করেছে। কারণ তাদের নিকট 'চিন্তা' শব্দটি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিগত সুন্নাহর (السنة) সমার্থক বলে মনে হয়। অথচ 'চিন্তা' হলো ইসলামের মূল উৎস যথা—কুরআন... এর ব্যাখ্যায় মুসলিম আলেমদের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والسُنَّةُ الصحيحة ويشمل:
(أ) استنباط الأحكام الدينية في صلة الإنسان بخالقه في العبادة.
(ب) الدفاع عن العقيدة والرد العقائدي (1).
فكيف يجعل محمود محمد طه الفكر الإسلامي الغني هو فكرهم الجمهوري بحجة أنهم هم الذي يَتَّبِعُونَ السُنَّةَ وأن السُنَّةَ هي الفكر، والذي نعرفه في هذا المجال أن سُنَّةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هي الحكمة التي أنزلها الله سبحانه وتعالى على رسوله مع الكتاب والتي كانت أزواج النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يذكرنها في بيوتهن مع آيات الله (2).
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ» (3).
--------------------------------------------
এবং সহিহ (الصحيحة) সুন্নাহ; যা অন্তর্ভুক্ত করে:
(ক) ইবাদতের ক্ষেত্রে স্রষ্টার সাথে মানুষের সম্পর্কের ধর্মীয় বিধানাবলি আহরণ।
(খ) আকীদা রক্ষা এবং বিশ্বাসগত বিষয়ে উত্তর প্রদান (১)।
অতএব, মাহমুদ মুহাম্মদ তাহা কীভাবে সমৃদ্ধ ইসলামি চিন্তাধারাকে তাদের নিজস্ব ‘জমহুরি’ (প্রজাতান্ত্রিক) চিন্তাধারায় রূপান্তরিত করেন এই অজুহাতে যে, তারাই সুন্নাহর অনুসরণকারী এবং সুন্নাহই হলো একটি চিন্তা? অথচ এই ক্ষেত্রে আমরা যা জানি তা হলো—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ হলো সেই হিকমাহ বা প্রজ্ঞা (الحكمة), যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর রাসূলের ওপর কিতাবের সাথে অবতীর্ণ করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীগণ আল্লাহর আয়াতের সাথে তাঁদের ঘরে তা আলোচনা করতেন (২)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু প্রদান করা হয়েছে” (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الفَصْلُ الثَّانِي: اِعْتِمَادُ الجُمْهُورِيِّينَ عَلَى الأَحَادِيثِ المَوْضُوعَةِ:لقد اعتمد الجمهوريون على الأحاديث الموضوعة فقد حفلت كتيباتهم بعدد كبير من الأحاديث الموضوعة و «التي لا أصل لها في الدين، والتي وضعت أساسًا واختلفت لدعم قضايا فرغ منها سلفًا، ثم بحث لها بعد ذلك عن السند الذي تقوم عليه، وقد قام بهذه المهمة في السابق فريق من الباطنيين والروافض والزنادقة الذين خرجوا بمقررات جديدة خالفوا فيها إجماع الأُمَّةِ ومعلومها من الدين بالضرورة، فلم يجدوا إلا أن يضعوا الحديث كذبًا على رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وهو منه براء» (1).
«وقد جاء في الحديث المتواتر عن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ» (2). وقال أبو محمد الجويني والد إمام الحرمين بتكفير كل من وضع على رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وقد هب علماء الحديث يدافعون عن مصدر الشريعة الثاني - بعد القرآن -
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জাল (موضوعة) হাদিসের ওপর রিপাবলিকানদের নির্ভরতা:রিপাবলিকানরা জাল (موضوعة) হাদিসের ওপর নির্ভর করেছে। তাদের পুস্তিকাগুলো প্রচুর সংখ্যক জাল (موضوعة) হাদিসে পরিপূর্ণ এবং "সেগুলোর দ্বীনে কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له), যা মূলত পূর্বনির্ধারিত বিষয়গুলোকে সমর্থন করার জন্যই তৈরি ও উদ্ভাবন করা হয়েছে। এরপর সেগুলোর জন্য এমন সনদ (سند) অনুসন্ধান করা হয়েছে যার ওপর তা ভিত্তি করে দাঁড়াতে পারে। অতীতে এই কাজটি বাতেনি, রাফেজি এবং জিন্দিকদের একটি দল সম্পন্ন করেছিল, যারা এমন কিছু নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছিল যা উম্মাহর ঐকমত্য (إجماع) এবং দ্বীনের অকাট্যভাবে প্রমাণিত বিষয়গুলোর পরিপন্থী ছিল। ফলে তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপ করে হাদিস জাল করা ছাড়া অন্য কোনো পথ খুঁজে পায়নি, অথচ তিনি এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত" (১)।
"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: 'যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়' (২)। ইমামুল হারামাইনের পিতা আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর হাদিস জালকারীকে কাফির সাব্যস্ত করার মত পোষণ করেছেন। আর হাদিস বিশারদগণ কুরআনের পর শরীয়তের দ্বিতীয় উৎসকে রক্ষা করার জন্য সচেষ্ট হয়েছেন-"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فوضعوا علم الجرح والتعديل ونصبوا الموازين الصارمة لقبول الرواية وتقويم الرواة .. ولم يتركوا ثغرة يأتي منها حديث ضعيف أو موضوع إلا ورصدوا لها من يقف عليها، وتعقبوا الأحاديث الموضوعة والضعيفة وَأَلَّفُوا فيها مجلدات كاملة .. كان من أروعها في القديم " اللآلئ المصنوعة " للإمام السيوطي.
ولعل من أروعها في الحديث " سلسلة الألباني عن الأحاديث الضعيفة والموضوعة " (1).
وقد اعتمد الجمهوريون في مذهبهم على عدد كبير من الأحاديث الموضوعة المكذوبة على رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وعلى عدد من الأحاديث الضعيفة من حيث السند والضعيفة من حيث المتن، وَبَنَوْا على كل ذلك بنيان عقيدتهم ومذهبهم، وجعلوا هذه الأحاديث أدلة يعتمدون عليها، مع أن الأحاديث المعروفة الكذب لا يسند إليها حكم ولا يعتمد عليها كدليل، كما أن الأحاديث الضعيفة الإسناد لا يغلب على الظن أن النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قالها فلا يمكن أن يسند إليها حكم أيضًا خاصة إذا عارض الحديث الضعيف السند أصلاً من أصول الشريعة (2). كما أن الأحاديث الموضوعة والضعيفة في كتيبات الجمهوريين تبين لنا الأسس الواهية التي بنى عليها الجمهوريون مذهبهم، فالحقيقة الواضحة هي أن الدافع لاعتماد الأحاديث المكذوبة في المذهب الجمهوري هو الهوى والجهل وحرية زعيمهم الفردية المطلقة من كل قيد.
--------------------------------------------
তারা জরাহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছেন এবং বর্ণনা (الرواية) গ্রহণ ও বর্ণনাকারীদের (الرواة) মূল্যায়নের জন্য কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন। তারা এমন কোনো ছিদ্রপথ অবশিষ্ট রাখেননি যেখান থেকে একটি দুর্বল (ضعيف) বা জাল (موضوع) হাদিস আসতে পারে, বরং প্রতিটি পথের জন্য তারা প্রহরী নিযুক্ত করেছেন। তারা জাল (الموضوعة) ও দুর্বল (الضعيفة) হাদিসগুলো অনুসন্ধান করেছেন এবং এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ খণ্ডসমূহ রচনা করেছেন। প্রাচীন কিতাবসমূহের মধ্যে ইমাম সুয়ুতির রচিত "আল-লাআলি আল-মাসনুয়াহ" ছিল অন্যতম চমৎকার একটি গ্রন্থ।
আর আধুনিক কালের হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে সম্ভবত আলবানি-র "সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দইফাহ ওয়াল-মাউদুয়াহ" অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ (১)।
রিপাবলিকানরা তাদের মতাদর্শে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আরোপিত বিপুল সংখ্যক জাল (الموضوعة) ও মিথ্যা (المكذوبة) হাদিসের ওপর নির্ভর করেছে। এছাড়াও তারা এমন অনেক হাদিসের ওপর নির্ভর করেছে যা সনদ (السند)-এর দিক থেকে দুর্বল (الضعيفة) এবং মতন (المتن)-এর দিক থেকেও দুর্বল (الضعيفة)। তারা এই সবকিছুর ওপর ভিত্তি করেই তাদের আকিদা ও মতবাদের ইমারত গড়ে তুলেছে এবং এই হাদিসগুলোকে দলিল (أدلة) হিসেবে গ্রহণ করেছে। অথচ সর্বজনবিদিত মিথ্যা হাদিসের ওপর কোনো বিধান (حكم) আরোপ করা যায় না এবং তা দলিল হিসেবেও গণ্য হয় না। একইভাবে দুর্বল সনদবিশিষ্ট (الضعيفة الإسناد) হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বলেছেন বলে প্রবল ধারণা হয় না, তাই এগুলোর ওপর ভিত্তি করে কোনো বিধান (حكم) প্রদান করা সম্ভব নয়; বিশেষ করে যখন কোনো দুর্বল সনদসম্পন্ন (الضعيف السند) হাদিস শরিয়তের মৌলিক মূলনীতিসমূহের (أصول الشريعة) কোনোটির সাথে সাংঘর্ষিক হয় (২)। তদুপরি রিপাবলিকানদের পুস্তিকাগুলোতে বিদ্যমান জাল (الموضوعة) ও দুর্বল (الضعيفة) হাদিসসমূহ আমাদের সামনে সেই ভঙ্গুর ভিত্তিগুলো উন্মোচিত করে দেয়, যার ওপর রিপাবলিকানরা তাদের মতবাদ দণ্ডায়মান করেছে। সুস্পষ্ট সত্যটি হলো, রিপাবলিকান মতবাদে মিথ্যা (المكذوبة) হাদিস গ্রহণের মূল চালিকাশক্তি হলো খেয়ালখুশি (الهوى), অজ্ঞতা (الجهل) এবং সকল প্রকার বিধি-নিষেধ থেকে তাদের নেতার নিরঙ্কুশ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ويكفي أن نذكر عددًا من الأمثلة لتأكيد صحة ما نقول.
[المثال الأول: «رَجَعْنَا مِنَ الجِهَادِ الأَصْغَرِ إِلَى الجِهَادِ الأَكْبَرِ». قِيلَ وَمَا الجِهَادُ الأَكْبَرُ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: «جِهَادُ النَّفْسِ»]:حديث ضعيف من جهة السند.
«رَجَعْنَا مِنَ الجِهَادِ الأَصْغَرِ إِلَى الجِهَادِ الأَكْبَرِ». قِيلَ وَمَا الجِهَادُ الأَكْبَرُ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: «جِهَادُ النَّفْسِ» (1).
هذا القول اعتمد عليه الجمهوريون في مذهبهم، وذكروا كثيرًا في كتيباتهم، كما ذكره محمود دائمًا في محاضراته، وقد بنى عليه الجمهوريون عقيدتهم في مسألة الهجرة التي يدعون إليها وفي مسألة ترك الجهاد.
قال الجمهوريون: «وقد جاء في الأثر أن النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كان يرجع من إحدى الغزوات يقول: " رَجَعْنَا مِنَ الجِهَادِ الأَصْغَرِ إِلَى الجِهَادِ الأَكْبَرِ " ونحن الآن نستشرق علم الجهاد الأكبر بالحاجة له».
ويستدل الجمهوريون بهذا القول على ضرورة الجهاد الأكبر وأهميته في العصر وحاجة الإنسان له، وعدم حاجته للجهاد الأصغر جهاد الكفار.
قال الجمهوريون: «والمسلمون اليوم مواجهون حقًا بأمر الجهاد الأكبر ليغيروا أنفسهم وينهضوا من حال الضياع الذي نعيش فيه، لقد جاء في الأثر أن أحد الأصحاب سأل النَّبِيَّ الكرِيمَ: " مَتَى السَّاعَةَ
--------------------------------------------
আমরা যা বলছি তার সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য কয়েকটি উদাহরণ উল্লেখ করাই যথেষ্ট।
[প্রথম উদাহরণ: «আমরা ছোট জিহাদ থেকে বড় জিহাদের দিকে ফিরে এসেছি।» জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল, বড় জিহাদ কী? তিনি বললেন: «নফসের (প্রবৃত্তির) জিহাদ»]:হাদিসটি সনদের (سند) দিক থেকে দুর্বল (ضعيف)।
«আমরা ছোট জিহাদ থেকে বড় জিহাদের দিকে ফিরে এসেছি।» জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল, বড় জিহাদ কী? তিনি বললেন: «নফসের (প্রবৃত্তির) জিহাদ» (১)।
এই উক্তিটির ওপর রিপাবলিকানরা তাদের মতাদর্শে নির্ভর করেছে এবং তাদের পুস্তিকাগুলোতে এটি প্রচুর পরিমাণে উল্লেখ করেছে, যেমন মাহমুদ তার বক্তৃতাগুলোতে সর্বদা এটি উল্লেখ করতেন। রিপাবলিকানরা তাদের হিজরতের আহ্বান এবং জিহাদ ত্যাগের মাসআলায় তাদের আকিদাহ এই উক্তির ওপর ভিত্তি করেই গড়ে তুলেছে।
রিপাবলিকানরা বলেছে: «বর্ণনায় (الأثر) এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো এক যুদ্ধ থেকে ফেরার সময় বলতেন: "আমরা ছোট জিহাদ থেকে বড় জিহাদের দিকে ফিরে এসেছি" এবং আমরা এখন এর প্রয়োজনীয়তার কারণে বড় জিহাদের ইলম অন্বেষণ করছি।»
রিপাবলিকানরা এই উক্তিটি দিয়ে বর্তমান যুগে বড় জিহাদের আবশ্যকতা ও গুরুত্ব এবং মানুষের এর প্রতি মুখাপেক্ষিতার সপক্ষে দলিল পেশ করে থাকে; আর কাফেরদের বিরুদ্ধে ছোট জিহাদের (জিহাদে আসগর) কোনো প্রয়োজন নেই বলে মনে করে।
রিপাবলিকানরা বলেছে: «নিজেদের পরিবর্তন করতে এবং বর্তমানে আমরা যে পথভ্রষ্ট অবস্থার মধ্যে বাস করছি তা থেকে উত্তরণ ঘটাতে মুসলমানরা আজ প্রকৃতপক্ষে বড় জিহাদের নির্দেশের মুখোমুখি। বর্ণনায় (الأثر) এসেছে যে, একজন সাহাবী মহান নবীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "কিয়ামত কখন হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يَا رَسُولَ اللهِ؟ فَقَالَ: وَمَاذَا أَعْدَدْتَ لَهَا» وهذا هو الاتجاه الإيجابي الذي تُلْزِمُنَا به السُنَّةُ. (1).
وهذا الحديث الذي يعتمد عليه الجمهوريون في بيان عقيدتهم في ترك الجهاد «قد ضعفه غير واحد من أهل العلم من حيث السند، وهو غير صحيح من حيث المعنى أيضًا، وكل من علم مكانة الجهاد في سبيل الله، وأجر من استشهدوا في سبيل إعلاء كلمة الله الذين هم {أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ} [آل عمران: 169] يدرك تمامًا أن البون شاسع بين هذا الجهاد الذي هذه مكانته، وبين الجهاد الثاني الذي هو مخالفة الهوى، وحمل النفس على الطاعة، مع العلم أن من قام بجهاد الكفار، وخاض المعركة لإعلاء كلمة الله فقد جمع بين الجهادين والأمر واضح» (2).
قال المُلَاّ علي القاري في كتابه المعروف بـ " الموضوعات الكبرى ": «قال العسقلاني في " تسديد القوس ": " هو مشهور على الألسنة، وهو من كلام إبراهيم بن [أبي] عبلة (3) في " الكنى " للنسائي "».
قال المُلَاّ: «ذكر الحديث في " الإحياء " (ونسبه العراقي إلى البيهقي
--------------------------------------------
হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেন: «তুমি এর জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ?» আর এটিই হলো সেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি যা পালনে সুন্নাহ আমাদের বাধ্য করে। (১)।
আর এই হাদিসটি, যার ওপর জমহুররা (প্রজাতন্ত্রীরা) জিহাদ বর্জনের বিষয়ে তাদের আকিদা বর্ণনায় নির্ভর করে, «তা সনদের (السند) দিক থেকে একাধিক আলেম দুর্বল (ضعفه) সাব্যস্ত করেছেন এবং অর্থের দিক থেকেও এটি অসহিহ (غير صحيح)। আর যারা আল্লাহর পথে জিহাদের মর্যাদা এবং আল্লাহর কালেমাকে সমুন্নত করার পথে শহীদদের প্রতিদান সম্পর্কে জানেন—যারা {তাদের রবের নিকট জীবিত এবং রিযিকপ্রাপ্ত} [আল-ইমরান: ১৬৯]—তারা পুরোপুরি উপলব্ধি করেন যে, এই মহান মর্যাদার জিহাদ এবং দ্বিতীয় প্রকারের জিহাদ (যা হলো প্রবৃত্তির বিরোধিতা করা এবং নফসকে আনুগত্যে বাধ্য করা) এর মধ্যে ব্যবধান অনেক বেশি। এর সাথে এটিও জানা আবশ্যক যে, যে ব্যক্তি কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করল এবং আল্লাহর কালেমা উঁচু করার জন্য যুদ্ধে লিপ্ত হলো, সে মূলত উভয় জিহাদকেই একত্রিত করল এবং বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট» (২)।
মোল্লা আলী কারী তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ "আল-মাওদুআত আল-কুবরা"-তে বলেছেন: «আসকালানী "তাসদিদ আল-ক্বাউস"-এ বলেছেন: "এটি লোকমুখে প্রসিদ্ধ (مشهور), আর এটি নাসায়ীর 'আল-কুনা' গ্রন্থে বর্ণিত ইব্রাহিম ইবনে [আবি] আবলা (৩)-এর উক্তি"»।
মোল্লা (আলী কারী) বলেন: «হাদিসটি "ইহয়া" (উলুম আদ-দ্বীন)-এ উল্লেখ করা হয়েছে (এবং ইরাকী একে বায়হাকীর দিকে নিসবত করেছেন)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
من حديث جابر وقال: هذا إسناد ضعيف. وقال السيوطي: روى الخطيب في " تاريخه " من حديث جابر قَالَ قَدِمَ النَّبِيُّ عليه الصلاة والسلام مِنْ غَزَاةٍ لَهُمْ، فَقَالَ عليه الصلاة والسلام «قَدِمْتُمْ خَيْرَ مَقْدَمٍ وَقَدِمْتُمْ مِنَ الجِهَادِ الأَصْغَرِ إِلَى الجِهَادِ الأَكْبَرِ» قَالُوا: وَمَا الْجِهَادُ الأَكْبَرُ قَالَ: «مُجَاهَدَةُ الْعَبْدِ هَوَاهُ» (1).
[المثال الثاني: «تَخَلَّقُوا بِأَخْلَاقِ اللهِ، إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ»]:حديث لا أصل له:
«تَخَلَّقُوا بِأَخْلَاقِ اللهِ، إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ» (2).
هذا القول ذكره محمود محمد طه في كتيبه " رسائل ومقالات "، واستدل به على أنه إشارة من النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إلى أن العبادة هي محاولة لقطع المسافة التي تفصل بين الإنسان والرب، بين صفات النقص وصفات الكمل، وهي مسافة لا تقطع إلا بتقريب الصفات من الصفات، فالفرق بين الله والإنسان - عند محمود - هو أن صفات الله في جانب الكمال وصفات الإنسان في جانب النقص، والإنسان الكامل لا يستطيع تحقيق صفات الكمال، واستدلال محمود بهذا القول يهدف منه إلى بيان عقيدته في وحدة الوجود (3) فأخلاق الله - في مذهبه - كامنة فينا، فالعلم المطلق كامن في قلوب الناس والغيب كامن في قلوب الناس ولا يحتاج الإنسان لأكثر من أن
--------------------------------------------
জাবির (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি দুর্বল (ضعيف) সনদ (إسناد)। এবং সুয়ূতী বলেছেন: আল-খাতিব তাঁর "তারিখ"-এ জাবির (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি যুদ্ধ থেকে ফিরে আসলেন এবং বললেন: "তোমাদের ফিরে আসা উত্তম ফিরে আসা। তোমরা ছোট জিহাদ থেকে বড় জিহাদে ফিরে এসেছ।" সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: "বড় জিহাদ কী?" তিনি বললেন: "বান্দার নিজ প্রবৃত্তির সাথে জিহাদ করা।" (১)।
[দ্বিতীয় উদাহরণ: "তোমরা আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হও, নিশ্চয়ই আমার রব সরল পথে আছেন"]:এমন একটি হাদিস যার কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له):
«তোমরা আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হও, নিশ্চয়ই আমার রব সরল পথে আছেন» (২)।
এই উক্তিটি মাহমুদ মুহাম্মদ ত্বহা তার "রাসায়েল ওয়া মাকালাত" নামক পুস্তিকায় উল্লেখ করেছেন। তিনি এর মাধ্যমে দলীল পেশ করেছেন যে, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে একটি ইঙ্গিত যে ইবাদত হলো মানুষ এবং রবের মধ্যকার দূরত্ব অতিক্রম করার একটি প্রচেষ্টা, যা মানুষ এবং রবের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায়—অর্থাৎ ত্রুটিপূর্ণ গুণাবলি এবং পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির মধ্যকার দূরত্ব। আর এই দূরত্ব কেবল গুণাবলিকে গুণাবলির নিকটবর্তী করার মাধ্যমেই অতিক্রম করা সম্ভব। মাহমুদের মতে, আল্লাহ এবং মানুষের মধ্যে পার্থক্য হলো আল্লাহর গুণাবলি পূর্ণতার দিকে এবং মানুষের গুণাবলি ত্রুটির দিকে। আর পূর্ণাঙ্গ মানুষ পূর্ণতার গুণাবলি অর্জন করতে পারে না। মাহমুদ এই উক্তিটির মাধ্যমে তার সত্তার একত্ববাদ (وحدة الوجود) সংক্রান্ত আকিদা স্পষ্ট করার লক্ষ্য স্থির করেছেন। তার মতাদর্শ অনুযায়ী, আল্লাহর গুণাবলি আমাদের মাঝে নিহিত রয়েছে। সুতরাং পরম জ্ঞান মানুষের অন্তরে নিহিত, আর অদৃশ্যের জ্ঞান মানুষের অন্তরে নিহিত। মানুষের এর চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
يظهره، وإظهاره يكون بأدب الوقت.
ولا شك أن هذه العقيدة فاسدة، واستدلال محمود بهذا القول خطأ، وبيان أن المراد «بالأخلاق الصفات قطعًا، فالله موصوف بالعظمة والكبرياء وأنه يُحْيِي وَيُمِيتُ، وهل يجوز للعبد أن يتصف بهذه الصفات؟ الجواب السليم: لا .. وقد يقول قائل هنا أليس العبد يوصف بالعلم والقدرة والحياة والوجود وهذه من صفات الله؟ الجواب أن يقال: إن علم الخالق تعالى غير علم المخلوق وكذلك قدرته وحياته ووجوده». فعلم المخلوق علم مخلوق مثله «يناسب حاله كان مسبوقًا بجهل، ويطرأ عليه النسيان ما أكثر ما نعلم شيئًا ثم ننساه فهو ناقص غير محيط بكل شيء؟ أما الرب سبحانه وتعالى فعلمه قديم - قِدَمَ ذَاتِهِ - غير مسبوق بجهل ولا يطرأ عليه نسيان ولا غفلة، وهو محيط بجميع المعلومات وهكذا يقال في سائر صفاته التي فيها الاشتراك في اللفظ كالكرم والرحمة والمحبة والعفو .. وهكذا نزول الشبهة».
[المثال الثالث: «مَنْ عَمِلَ بِمَا يَعْلَمْ وَرَّثَهُ اللهُ عِلْمَ مَا لَمْ يَعْلَمْ»]:حديث موضوع.
«مَنْ عَمِلَ بِمَا يَعْلَمْ وَرَّثَهُ اللهُ عِلْمَ مَا لَمْ يَعْلَمْ» (1).
هذا القول ورد به الاستدلال كثيرًا في كتيبات الجمهوريين تدعيمًا لغلوهم في قضية الإلهام والعلم والمخاطبة الكفاحية وإمكانية تحصيل الإنسان للعلم الإلهي المطلق - الذي يزعم الجمهوريون أنه
--------------------------------------------
প্রকাশ করা এবং এই প্রকাশ হবে সময়ের শিষ্টাচারের সাথে।
নিঃসন্দেহে এই আকিদা ভ্রান্ত এবং মাহমুদের পক্ষ থেকে এই উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করা ভুল। এটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, 'চরিত্র' বলতে এখানে নিশ্চিতভাবে গুণাবলি (صفات) বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের গুণে গুণান্বিত এবং তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। বান্দার জন্য কি এই গুণাবলি (صفات) দ্বারা গুণান্বিত হওয়া বৈধ? সঠিক উত্তর হলো: না। এখানে কেউ প্রশ্ন করতে পারে যে, বান্দাও তো জ্ঞান, ক্ষমতা, জীবন এবং অস্তিত্বের গুণ দ্বারা গুণান্বিত হয়, আর এগুলো তো আল্লাহরও গুণ? উত্তর হলো: স্রষ্টা তাআলার জ্ঞান সৃষ্টিজীবের জ্ঞানের মতো নয়, তেমনিভাবে তাঁর ক্ষমতা, জীবন এবং অস্তিত্বও ভিন্ন।
সৃষ্টিজীবের জ্ঞান তার নিজের মতোই সৃষ্টি করা জ্ঞান, যা তার অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; যা পূর্বে অজ্ঞতা দ্বারা বেষ্টিত ছিল এবং যার ওপর বিস্মৃতি আপতিত হয়। কত কিছুই তো আমরা জানি এবং পরে তা ভুলে যাই; সুতরাং এটি অপূর্ণাঙ্গ এবং সবকিছুকে পরিবেষ্টনকারী নয়। পক্ষান্তরে মহান রবের জ্ঞান তাঁর সত্তার মতোই অনাদি (قديم)—যা অজ্ঞতা দ্বারা বেষ্টিত নয় এবং তাঁর ওপর বিস্মৃতি বা অসতর্কতা আসে না। তিনি সমস্ত তথ্য সম্পর্কে পরিবেষ্টনকারী। একই কথা তাঁর অন্যান্য গুণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যেগুলোর শব্দের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে, যেমন: দানশীলতা, দয়া, ভালোবাসা, ক্ষমা... এবং এভাবেই সংশয় দূর হয়।
[তৃতীয় উদাহরণ: «যে ব্যক্তি তার জানা অনুযায়ী আমল করে, আল্লাহ তাকে অজানা বিষয়ের জ্ঞান দান করেন»]:এটি একটি জাল (موضوع) হাদিস।
«যে ব্যক্তি তার জানা অনুযায়ী আমল করে, আল্লাহ তাকে অজানা বিষয়ের জ্ঞান দান করেন» (১)।
এই উক্তিটি রিপাবলিকানদের পুস্তিকাগুলোতে ইলহাম, ইলম এবং সরাসরি ঐশ্বরিক সম্বোধন এবং মানুষের পক্ষে আল্লাহর পরম জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব—এমন দাবির সপক্ষে তাদের অতিরঞ্জনকে সমর্থন করার জন্য প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়েছে—যা রিপাবলিকানরা দাবি করে যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
مغروس في كل قلب ويمكن لأي إنسان أن يسعى في تحصيله وقد يحصله إذا عمل بما علم، وهذا القول - «مَنْ عَمِلَ بِمَا يَعْلَمْ وَرَّثَهُ اللهُ عِلْمَ مَا لَمْ يَعْلَمْ» - هو حديث موضوع أورده الشيخ الألباني في " سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة " تحت رقم [422] وقد أخرجه أبو نعيم ثم قال: «ذكر أحمد بن حنبل هذا الكلام عن بعض التابعين عن عيسى ابن مريم عليه السلام فوهم بعض الرواة أنه من ذكره عن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم».
[المثال الرابع: «كُنْتُ كَنْزًا لَا أَعْرِفُ، فَأَحْبَبْتُ أَنْ أَعْرِفَ فَخَلَقْتُ خَلْقًا فَعَرَّفْتُهُمْ بِي، فَعَرَفُونِي»]:حديث موضوع:
«كُنْتُ كَنْزًا لَا أَعْرِفُ، فَأَحْبَبْتُ أَنْ أَعْرِفَ فَخَلَقْتُ خَلْقًا فَعَرَّفْتُهُمْ بِي، فَعَرَفُونِي».
يستدل الجمهوريون بهذا القول دائمًا في حديثهم عن عقيدتهم القائلة بتجسد الذات الإلهية، وتنزلها في مراتب الوجود، بل هو عمدة مذهبهم في هذه المسألة، وهذا القول، ليس من كلام النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، ولا يعرف له سند صحيح ولا ضعيف، قال شيخ الإسلام ابن تيمية أنه موضوع وتبعه الزركشي والعسقلاني (1).
[المثال الخامس: «مَا وَسِعَنِي أَرْضِي وَلَا سَمَائِي، وَلَكِنْ وَسِعَنِي قَلْبُ عَبْدِي الْمُؤْمِنِ»]:حديث لا أصل له:
«مَا وَسِعَنِي أَرْضِي وَلَا سَمَائِي، وَلَكِنْ وَسِعَنِي قَلْبُ عَبْدِي الْمُؤْمِنِ».
يعتمد الجمهوريون على هذا القول في عقيدتهم القائلة بأن القلب بيت الرب، وأن جسد الإنسان الكامل كله قلب ولذلك
--------------------------------------------
এটি প্রতিটি হৃদয়ে প্রোথিত এবং যে কোনো মানুষ এটি অর্জনের চেষ্টা করতে পারে এবং সে তা অর্জন করতে পারে যদি সে যা জানে সে অনুযায়ী আমল করে। আর এই কথাটি - "যে ব্যক্তি যা জানে সে অনুযায়ী আমল করে, আল্লাহ তাকে এমন বিষয়ের জ্ঞান দান করেন যা সে জানত না" - একটি বানোয়াট (موضوع) হাদিস। শেখ আলবানী এটি "সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দাইফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ" গ্রন্থে [৪২২] নম্বর অধীনে উল্লেখ করেছেন। আবু নুয়াইম এটি বর্ণনা করেছেন এবং তারপর বলেছেন: "আহমাদ বিন হাম্বল এই কথাটি ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত কিছু তাবেয়ীর উক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু কিছু বর্ণনাকারী (رواة) ভুলবশত (وهم) মনে করেছেন যে তিনি এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।"
[চতুর্থ উদাহরণ: "আমি এক অজানা গুপ্তভাণ্ডার ছিলাম, অতঃপর আমি পরিচিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করলাম, তাই আমি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলাম এবং তাদের কাছে আমার পরিচয় দিলাম, ফলে তারা আমাকে চিনতে পারল"]:বানোয়াট (موضوع) হাদিস:
«আমি এক অজানা গুপ্তভাণ্ডার ছিলাম, অতঃপর আমি পরিচিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করলাম, তাই আমি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলাম এবং তাদের কাছে আমার পরিচয় দিলাম, ফলে তারা আমাকে চিনতে পারল»।
জুমহুরিরা (রিপাবলিকানরা) সর্বদা এই উক্তিটি তাদের আকিদাহ বর্ণনায় দলিল হিসেবে ব্যবহার করে, যা ঐশ্বরিক সত্তার দেহধারী হওয়া এবং অস্তিত্বের বিভিন্ন স্তরে তার অবতরণ সম্পর্কে বলে। বরং এটিই এই বিষয়ে তাদের মতবাদের মূল ভিত্তি। অথচ এই কথাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী নয় এবং এর কোনো সঠিক (صحيح) বা দুর্বল (ضعيف) সূত্র (سند) জানা নেই। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন যে এটি বানোয়াট (موضوع) এবং যারকাশি ও আসকালানি তাকে অনুসরণ করেছেন (১)।
[পঞ্চম উদাহরণ: "আমার জমিন বা আমার আসমান আমাকে ধারণ করতে পারে না, কিন্তু আমার মুমিন বান্দার অন্তর আমাকে ধারণ করে"]:ভিত্তিহীন (لا أصل له) হাদিস:
«আমার জমিন বা আমার আসমান আমাকে ধারণ করতে পারে না, কিন্তু আমার মুমিন বান্দার অন্তর আমাকে ধারণ করে»।
জুমহুরিরা এই উক্তির ওপর তাদের আকিদাহর ক্ষেত্রে নির্ভর করে যে, অন্তর হলো রবের ঘর এবং পূর্ণাঙ্গ মানুষের পুরো শরীরই হলো অন্তর, আর এ কারণেই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فهو بيت الرب.
وهذا القول لا أصل له في كتب الحديث الست الصحاح.
قال المُلَاّ علي القاري في كتابه المعروف بـ " الموضوعات الكبرى ": «ذكره في " الإحياء ".
وقال العراقي: لم أر له أصلاً.
وقال ابن تيمية: هو مذكور في الإسرائيليات وليس له إسناد معروف عن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وفي " الذيل " وهو كما قال» (1).
وقال العجلوني في " كشف الخفاء ": قال العراقي في تخريجه: لم أر له أصلاً، ثم أورد العجلوني كلام ابن تيمية في الحديث بأنه لا أصل له، بل هو في الإسرائيليات (2).
[المثال السادس: «القَلْبُ بَيْتُ الرَّبِّ»]:حديث موضوع:
«القَلْبُ بَيْتُ الرَّبِّ».
يعتمد الجمهوريون على هذا القول اعتمادًا كاملاً في بيان مذهبهم القائل بأن الإنسان الكامل هو الله - بمعناه القريب -، وهذا القول - «القَلْبُ بَيْتُ الرَّبِّ» - حديث موضوع، فقد نقل [ابن عراق] (*) عن ابن تيمية أنه حديث موضوع (3).
وقال السخاوي: ليس له أصل في المرفوع.
وقال الزركشي: لا أصل له.
--------------------------------------------
অতঃপর তা রবের ঘর।
আর এই বক্তব্যটির ছয়টি সহিহ হাদিস গ্রন্থে কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।
মোল্লা আলী কারী তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'আল-মাওদুআত আল-কুবরা'-তে বলেছেন: «এটি 'এহয়াউল উলূম' গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে।
আর ইরাকি বলেছেন: আমি এর কোনো ভিত্তি (أصل) পাইনি।
ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: এটি ইসরাইলি বর্ণনাসমূহের মধ্যে উল্লিখিত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর কোনো পরিচিত সনদ (إسناد) নেই, আর 'আয-যাইল' গ্রন্থেও বিষয়টি তেমনই রয়েছে যেমনটি তিনি বলেছেন» (১)।
আজলুনি 'কাশফুল খাফা' গ্রন্থে বলেছেন: ইরাকি এর তাখরিজ (تخريজ) করতে গিয়ে বলেছেন: আমি এর কোনো ভিত্তি (أصل) পাইনি। অতঃপর আজলুনি হাদিসটি সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়্যাহর মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যে, এর কোনো ভিত্তি (أصل) নেই; বরং এটি ইসরাইলি বর্ণনাসমূহের অন্তর্ভুক্ত (২)।
[ষষ্ঠ উদাহরণ: «অন্তর হলো রবের ঘর»]:জাল (موضوع) হাদিস:
«অন্তর হলো রবের ঘর»।
জমহুরিরা তাদের এই মতবাদ বর্ণনায় এই বক্তব্যের ওপর পূর্ণরূপে নির্ভর করে যে—নিকটবর্তী অর্থে—মানুষই হলো আল্লাহ। অথচ 'অন্তর হলো রবের ঘর'—এই বক্তব্যটি একটি জাল (موضوع) হাদিস। ইবনে ইরাক ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, এটি একটি জাল (موضوع) হাদিস (৩)।
সাখাবি বলেছেন: মারফু (مرفوع) বর্ণনা হিসেবে এর কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।
যারকাশি বলেছেন: এর কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال ابن تيمية: هو موضوع. وفي " الذيل " هو كما قال (1)، وقال المُلَاّ علي القاري: لكن له معنى صحيح (2).
[المثال السابع: «مَنْ عَرَفَ نَفْسَهُ فَقَدْ عَرَفَ رَبَّهُ»]:حديث موضوع:
«مَنْ عَرَفَ نَفْسَهُ فَقَدْ عَرَفَ رَبَّهُ».
ذكر الجمهوريون هذا القول كثيرًا (3)، واستدلوا به على أن الإنسان يعرف الله عن طريق معرفته لنفسه، ومعرفة النفس - عندهم - هي معرفة حقيقة أن الإنسان صاحب فردية متميزة لا يشبهه فيها أحد، فالتكرار ممتنع في توحيدهم، وبهذه المعرفة يتم للانسان - عند الجمهوريين - لقاء الله ومعرفة الله، ولا يتم لقاء الله في الزمان والمكان، وإنما يلقاه الإنسان في نفسه، فما وسعت الله السماء ولا الأرض وإنما يسعه قلب عبده المسلم - أو جسد الإنسان الكامل - وبلقاء الإنسان بربه يصل الإنسان حياته
--------------------------------------------
এবং ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: এটি জাল (موضوع)। আর "আয-যাইল"-এ এটি তাঁর বর্ণনার মতোই (১), এবং মোল্লা আলী আল-কারী বলেছেন: তবে এর একটি সঠিক (صحيح) অর্থ রয়েছে (২)।
[সপ্তম উদাহরণ: «যে নিজেকে চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে»]:জাল (موضوع) হাদিস:
«যে নিজেকে চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে»।
জমহুরিবাদীগণ এই কথাটি প্রচুর উল্লেখ করেছেন (৩), এবং তারা এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যে, মানুষ নিজের পরিচয়ের মাধ্যমে আল্লাহকে চিনতে পারে। তাদের মতে আত্মপরিচয় হলো এই বাস্তবতা জানা যে, মানুষ একটি স্বতন্ত্র ব্যক্তিসত্তার অধিকারী যার সাথে কেউ সাদৃশ্য রাখে না। তাই তাদের তাওহীদ দর্শনে পুনরাবৃত্তি অসম্ভব। জমহুরিবাদীদের মতে, এই পরিচয়ের মাধ্যমেই মানুষের সাথে আল্লাহর সাক্ষাৎ ও আল্লাহর পরিচয় লাভ সম্পন্ন হয়। আর আল্লাহর সাথে এই সাক্ষাৎ সময় বা স্থানে সম্পন্ন হয় না, বরং মানুষ তার নিজের মধ্যেই তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করে। আসমান বা জমিন আল্লাহকে ধারণ করতে পারেনি, বরং কেবল তাঁর মুসলিম বান্দার অন্তরই—অথবা পূর্ণ মানবের দেহ—তাঁকে ধারণ করে। আর নিজের রবের সাথে মানুষের এই সাক্ষাতের মাধ্যমেই মানুষ তার জীবন লাভ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بمصدرها فتتهيأ له أسباب الكمال وأسباب البقاء.
قال المُلَاّ علي القاري (1) في كتابه المعروف بـ " الموضوعات الكبرى ": «مَنْ عَرَفَ نَفْسَهُ فَقَدْ عَرَفَ رَبَّهُ بِالعِلْمِ، وَمَنْ عَرَفَ نَفْسَهُ بِالفَنَاءِ فَقَدْ عَرَفَ نَفْسَهُ بِالبَقَاءِ، وَمَنْ عَرَفَ نَفْسَهُ بِالعَجْزِ وَالضَّعْفِ فَقَدْ عَرَفَ رَبَّهُ بِالقُدْرَةِ وَالقُوَّةِ
… » (2).
[المثال الثامن: «كُنْتُ نَبِيًّا وَآدَمُ بَيْنَ المَاءِ وَالطِّينِ»]:«كُنْتُ نَبِيًّا وَآدَمُ بَيْنَ المَاءِ وَالطِّينِ»
يستدل الجمهوريون بهذا القول في حديثهم عن «الحقيقة المحمدية».
قَالَ السَّخَاوِيُّ: لَمْ أَقِفْ عَلَيْهِ بِهَذَا اللَّفْظِ، فَضْلاً عَنْ زِيَادَةِ «وَكُنْتُ نَبِيًّا وَلَا آدَمَ وَلَا مَاءَ وَلَا طِينَ».
وقال الزركشي: «لا أصل له بهذا اللفظ» (3).
[المثال التاسع: «يَا دَاوُدُ إِنَّكَ تُرِيدُ وَأُرِيدُ وَيَكُونُ مَا أُرِيدُ، فَإِنْ سَلَّمْتَ لِمَا أُرِيدُ … »]:
حديث لا أصل له:
«يَا دَاوُدُ إِنَّكَ تُرِيدُ وَأُرِيدُ وَيَكُونُ مَا أُرِيدُ، فَإِنْ سَلَّمْتَ لِمَا
--------------------------------------------
এর উৎসের মাধ্যমে তার জন্য পূর্ণতা ও স্থায়িত্বের উপকরণসমূহ সুগম হয়।
মোল্লা আলী আল-কারী (১) তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ "আল-মাওদুআত আল-কুবরা"-তে বলেছেন: «যে ব্যক্তি নিজেকে চিনেছে, সে তার রবকে জ্ঞানের মাধ্যমে চিনেছে। আর যে নিজেকে বিলীন হওয়ার মাধ্যমে চিনেছে, সে নিজেকে স্থায়িত্বের মাধ্যমে চিনেছে। আর যে নিজেকে অক্ষমতা ও দুর্বলতার মাধ্যমে চিনেছে, সে তার রবকে ক্ষমতা ও শক্তির মাধ্যমে চিনেছে
… » (২)।
[অষ্টম উদাহরণ: «আমি তখনো নবী ছিলাম যখন আদম পানি ও মাটির মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন»]:«আমি তখনো নবী ছিলাম যখন আদম পানি ও মাটির মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন»
জমহুরিরা (একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক-ধর্মীয় গোষ্ঠী) তাদের «হাকিকতে মুহাম্মাদিয়া» সংক্রান্ত আলোচনায় এই উক্তিটি দ্বারা দলিল পেশ করে থাকে।
সাখাভী বলেন: আমি এই শব্দে হাদিসটি পাইনি, আর «আমি নবী ছিলাম যখন আদম ছিলেন না, পানি ছিল না এবং মাটিও ছিল না»—এই অতিরিক্ত অংশটির তো প্রশ্নই আসে না।
যারকাশী বলেন: «এই শব্দে এর কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له)» (৩)।
[নবম উদাহরণ: «হে দাউদ! নিশ্চয়ই তুমি চাও এবং আমিও চাই, আর তাই হয় যা আমি চাই। সুতরাং তুমি যদি আমার ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করো … »]:
ভিত্তিহীন (لا أصل له) হাদিস:
«হে দাউদ! নিশ্চয়ই তুমি চাও এবং আমিও চাই, আর তাই হয় যা আমি চাই। সুতরাং তুমি যদি আত্মসমর্পণ করো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أُرِيدُ كَفَيْتُكَ مَا تُرِيدُ، وَإِنْ لَمْ تُسَلِّمْ لِمَا أُرِيدُ أَتْعَبْتُكَ فِيمَا تُرِيدُ، ثُمَّ لَا يَكُونُ إِلَاّ مَا أُرِيدُ».
يعتمد الجمهوريون على هذا الحديث اعتمادًا كاملاً في حديثهمه عن الإرادة، وأن المريد واحد والإرادة واحدة، وكل ما عدا ذلك وَهْمٌ تمليه الممارسة الجمهورية وتجارب الأنبياء السابقين خاصة داود عليه السلام وقد استدل به (الجمهوري) صلاح محمد عثمان في تقديمه لقصيدة (1) عبد الغني النابلسي التي أنشدها المنشد الجمهوري علي موسى في جلسة الإنشاد الجمهوري التي عقدت بمنزل محمود محمد طه بمدينة المهدية - أم درمان - في الساعة الثامنة إلا رُبْعًا من مساء يوم الأربعاء الثاني من جمادى الأولى عام 1397 م.
ويرى الجمهوريون أن معنى الحديث يُبَيِّنُ أن داود عليه السلام قد تبين له ذَوْقًا وَيَقِينًا أن إرادته المتوهمة هي إرادة الله، وأنه ليس له إرادة منفصلة، فأسلم إرادته المتوهمة لإرادة الله.
وقد ذكر الشيخ محمد نجيب المطيعي - رئيس قسم السُنَّةِ بجامعة أم درمان الإسلامية سابقًا - أن هذا الحديث ليس له أصل في الأحاديث القدسية (2).
--------------------------------------------
«আমি যা ইচ্ছা করি (সেটির জন্য) আমিই তোমার জন্য যথেষ্ট হব যা তুমি ইচ্ছা করো। আর তুমি যদি আমার ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ না করো, তবে আমি তোমাকে তোমার কামনার বিষয়ে পরিশ্রান্ত করে দেব। অতঃপর যা আমি ইচ্ছা করি তা ছাড়া আর কিছুই হবে না।»
রিপাবলিকানরা (আল-জুমহুরিয়্যুন) ইচ্ছাশক্তি সম্পর্কে তাদের আলোচনায় এই হাদিসের ওপর পূর্ণরূপে নির্ভর করে। তারা বিশ্বাস করে যে, ইচ্ছাকারী মূলত একজনই এবং ইচ্ছাও একটিই। এর বাইরে আর যা কিছু আছে তা স্রেফ একটি ধারণা বা বিভ্রম, যা রিপাবলিকান চর্চা এবং পূর্ববর্তী নবীগণের অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে দাউদ (আ.)-এর অভিজ্ঞতা দ্বারা নির্ধারিত হয়। রিপাবলিকান সালাহ মুহাম্মদ উসমান আব্দুল গনি আন-নাবলুসির একটি কবিতার (১) ভূমিকায় এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। কবিতাটি আবৃত্তি করেছিলেন রিপাবলিকান আবৃত্তিকার আলী মুসা। এটি ওমদুরমান শহরের আল-মাহদিয়া এলাকায় মাহমুদ মুহাম্মদ তাহার বাসভবনে ১৩৯৭ হিজরির ২রা জুমাদাল উলা, বুধবার সন্ধ্যা পৌনে আটটায় অনুষ্ঠিত একটি রিপাবলিকান মাহফিলে পরিবেশিত হয়েছিল।
রিপাবলিকানরা মনে করেন যে, এই হাদিসের অর্থ এটিই স্পষ্ট করে—দাউদ (আ.)-এর কাছে আধ্যাত্মিক স্বাদ ও দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে এটি প্রতিভাত হয়েছিল যে, তাঁর ধারণাকৃত ইচ্ছা মূলত আল্লাহরই ইচ্ছা। তাঁর স্বতন্ত্র কোনো ইচ্ছা নেই। ফলে তিনি তাঁর ধারণাকৃত ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করেছিলেন।
শায়খ মুহাম্মদ নাজিব আল-মুতিয়ি—যিনি ওমদুরমান ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্নাহ বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ছিলেন—উল্লেখ করেছেন যে, হাদিসে কুদসিগুলোর মধ্যে এই হাদিসটি ভিত্তিহীন (ليس له أصل) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
[المثال العاشر: «الدِّينُ المُعَامَلَةُ»]:«الدِّينُ المُعَامَلَةُ» (1)
قال الشيخ محمد نجيب (2) المطيعي: «لَا أَصْلَ لَهُ».
[المثال الحادي عشر: «سُوءُ الخُلُقِ ذَنْبٌ لَا يُغْتَفَرُ وَسُوءُ الظَنِّ خَطِيئَةٌ تَفُوحُ»]:«سُوءُ الخُلُقِ ذَنْبٌ لَا يُغْتَفَرُ وَسُوءُ الظَنِّ خَطِيئَةٌ تَفُوحُ»
ذكر الشيخ محمد نجيب المطيعي أن هذا القول ليس من كلام النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَرَجَّحَ أن يكون من نسيج محمود محمد طه.
[المثال الثاني عشر: «نِيَّةُ المَرْءِ خَيْرٌ مِنْ عَمَلِهِ»]:حديث إسناده ضعيف.
«نِيَّةُ المَرْءِ خَيْرٌ مِنْ عَمَلِهِ».
قال السخاوي: «قال البيهقي: إسناده ضعيف» (3).
قال الشيخ محمد نجيب المطيعي: «في إسناد هذا الحديث يونس بن عطية وهو متروك الحديث لكذبه» (4).
وقد أورد السخاوي بعض الأحاديث التي تقوي الحديث (5).
--------------------------------------------
[দশম উদাহরণ: «ধর্মই হলো আচরণ»]:«ধর্মই হলো আচরণ» (১)
শেখ মুহাম্মদ নাজীব (২) আল-মুতিয়ী বলেছেন: «এর কোনো ভিত্তি নেই (لَا أَصْلَ لَهُ)»।
[একাদশ উদাহরণ: «দুশ্চরিত্র এমন এক পাপ যা ক্ষমা করা হয় না এবং কুধারণা এমন এক অপরাধ যা ছড়িয়ে পড়ে»]:«দুশ্চরিত্র এমন এক পাপ যা ক্ষমা করা হয় না এবং কুধারণা এমন এক অপরাধ যা ছড়িয়ে পড়ে»
শেখ মুহাম্মদ নাজীব আল-মুতিয়ী উল্লেখ করেছেন যে, এই উক্তিটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা নয়; বরং তিনি মত প্রকাশ করেছেন যে এটি মাহমুদ মুহাম্মদ তাহা-এর মনগড়া হতে পারে।
[দ্বাদশ উদাহরণ: «ব্যক্তির নিয়ত তার আমলের চেয়ে উত্তম»]:এমন একটি হাদিস যার সনদ দুর্বল (ضعيف)।
«ব্যক্তির নিয়ত তার আমলের চেয়ে উত্তম»।
সাখাভী বলেন: «বায়হাকী বলেছেন: এর সনদ দুর্বল (إسناده ضعيف)» (৩)।
শেখ মুহাম্মদ নাজীব আল-মুতিয়ী বলেছেন: «এই হাদিসের সনদে ইউনুস বিন আতিয়্যাহ রয়েছেন, আর তিনি তার মিথ্যাচারের (كذب) কারণে পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (متروك الحديث)» (৪)।
সাখাভী এমন কিছু হাদিস উদ্ধৃত করেছেন যা এই হাদিসটিকে শক্তিশালী করে (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
[المثال الثالث عشر: «يَا عِيسَى عِظْ نَفْسَكَ فَإِنْ اِتَّعَظْتَ فَعِظْ النَّاسَ وَإِلَاّ فَاسْتِحِي مِنِّي»]:«يَا عِيسَى عِظْ نَفْسَكَ فَإِنْ اِتَّعَظْتَ فَعِظْ [النَّاسَ] (*) وَإِلَاّ فَاسْتِحِي مِنِّي»
قال الشيخ محمد نجيب المطيعي: «لَا أَصْلَ لَهُ».
[المثال الرابع عشر: «لَا يَعْرِفُ اللهَ إلَاّ اللهُ وَلَا يَدْخُلُ فِي مُلْكِهِ إِلَاّ مَا يُرِيدُ»]:«لَا يَعْرِفُ اللهَ إلَاّ اللهُ وَلَا يَدْخُلُ فِي مُلْكِهِ إِلَاّ مَا يُرِيدُ»
قال الشيخ محمد نجيب: «لَا أَصْلَ لَهُ».
[المثال الخامس عشر: «مَنْ آمَنَ فَقَدْ آمَنَ بِقَضَاءٍ وَقَدَرٍ وَمَنْ كَفَرَ فَقَدْ كَفَرَ بِقَضَاءٍ وَقَدَرٍ»]:«مَنْ آمَنَ فَقَدْ آمَنَ بِقَضَاءٍ وَقَدَرٍ وَمَنْ كَفَرَ فَقَدْ كَفَرَ بِقَضَاءٍ وَقَدَرٍ».
قال المطيعي: «لَا أَصْلَ لَهُ» (1).
[المثال السادس عشر: «كُلُّ مَا يَخْطُرُ بِبَالِكَ فَاللهُ بِخِلَافِ ذَلِكَ»]:«كُلُّ مَا يَخْطُرُ بِبَالِكَ فَاللهُ بِخِلَافِ ذَلِكَ».
قال المطيعي: «لَا أَصْلَ لَهُ».
[المثال السابع عشر: «لَيْلَةَ عُرِجَ بِي اِنْتَسَخَ بَصَرِي فِي بَصِيرَتِي»]:«لَيْلَةَ عُرِجَ بِي اِنْتَسَخَ بَصَرِي فِي بَصِيرَتِي».
وهذا الحديث موضوع ومنكر (2) وقد ورد كثيرًا في كتيبات الفكر الجمهوري وينسبونه إلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ويقولون: إنه حَدَّثَ بِهِ ليلة معراجه صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
[ত্রয়োদশ উদাহরণ: «হে ঈসা, নিজের আত্মাকে উপদেশ দাও; যদি তুমি উপদেশ গ্রহণ করো তবে মানুষকে উপদেশ দাও, অন্যথায় আমার থেকে লজ্জা করো»]:«হে ঈসা, নিজের আত্মাকে উপদেশ দাও; যদি তুমি উপদেশ গ্রহণ করো তবে [মানুষকে] (*) উপদেশ দাও, অন্যথায় আমার থেকে লজ্জা করো»
শেখ মুহাম্মাদ নাজিব আল-মুতিয়ী বলেছেন: «এটি ভিত্তিহীন (لا أصل له)»।
[চতুর্দশ উদাহরণ: «আল্লাহ ছাড়া আল্লাহকে কেউ চেনে না এবং তাঁর রাজত্বে তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই ঘটে না»]:«আল্লাহ ছাড়া আল্লাহকে কেউ চেনে না এবং তাঁর রাজত্বে তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই ঘটে না»
শেখ মুহাম্মাদ নাজিব বলেছেন: «এটি ভিত্তিহীন (لا أصل له)»।
[পঞ্চদশ উদাহরণ: «যে ব্যক্তি ঈমান এনেছে সে মূলত ফয়সালা ও তাকদীরের ওপরই ঈমান এনেছে এবং যে কুফরি করেছে সে মূলত ফয়সালা ও তাকদীরের ওপরেই কুফরি করেছে»]:«যে ব্যক্তি ঈমান এনেছে সে মূলত ফয়সালা ও তাকদীরের ওপরই ঈমান এনেছে এবং যে কুফরি করেছে সে মূলত ফয়সালা ও তাকদীরের ওপরেই কুফরি করেছে»।
আল-মুতিয়ী বলেছেন: «এটি ভিত্তিহীন (لا أصل له)» (১)।
[ষোড়শ উদাহরণ: «তোমার মনে যা কিছুই উদিত হয়, আল্লাহ তা থেকে ভিন্ন»]:«তোমার মনে যা কিছুই উদিত হয়, আল্লাহ তা থেকে ভিন্ন»।
আল-মুতিয়ী বলেছেন: «এটি ভিত্তিহীন (لا أصل له)»।
[সপ্তদশ উদাহরণ: «যে রাতে আমাকে ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, আমার দৃষ্টি আমার অন্তর্দৃষ্টিতে বিলীন হয়ে গিয়েছিল»]:«যে রাতে আমাকে ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, আমার দৃষ্টি আমার অন্তর্দৃষ্টিতে বিলীন হয়ে গিয়েছিল»।
এই হাদিসটি জাল (موضوع) এবং অস্বীকৃত (منكر) (২) এবং এটি রিপাবলিকান থট (আল-ফিকর আল-জুমহুরি) এর পুস্তিকাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে এসেছে। তারা এটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে এবং বলে যে: তিনি তাঁর মেরাজের রাতে এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ويقول النص الذي أورده:
«لَيْلَةَ عُرِجَ بِي اِنْتَسَخَ بَصَرِي فِي بَصِيرَتِي، فَرَأَيْتُ اللهَ! رَأَيْتُهُ فِي صُورَةِ شَابٍّ أَمْرَدَ فَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى كَتِفِي، فَشَعُرْتُ بِبُرُودَتِهَا عَلَى ثَدْيِي، فَقَالَ: " يَا مُحَمَّدُ: أَلَا تَرَى فِيمَا يَخْتَصِمُ المَلأُ الأَعْلَى؟ " قُلْتُ: " أَنْتَ رَبِّي أَعْلَمُ، فَعَلَّمَنِي عِلْمَ الأَوَائِلِ وَالأَوَاخِرِ وَأُوتِيتُ ثَلَاثَ عُلُومٍ: عِلْمًا أُمِرْتُ بِتَبْلِيغِهِ، وَعِلْمًا خُيِّرْتُ فِي تَبْلِيغِهِ، وَعِلْمًا نُهِيتُ عَنْ تَبْلِيغِهِ، لأَنَّهُ يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا يُطِيقُهُ أَحَدٌ غَيْرِي».
«وعلى هذا الحديث الموضوع بُنِيَتْ إحدى قضايا العقيدة الجمهورية الداخلية، وهي عقيدة أن محمود إنما هو ذلك الرجل الأمرد بعينه .. ولذلك فهو أمرد .. رغم أنه تجاوز عهود الشباب .. وتقدم كثيرًا في السن» (1).
ولذلك أيضًا جعلوا الأحاديث التي تتحدث عن اللحية أحاديث عادة غير مطالب بها الجمهوريون.
وهناك قصة طريفة ختم بها الأستا> محمد وقيع الله مبحثًا في بحثه المخطوط عن الجمهوريين نختم به حديثنا عن المأخذ الثاني، وهي قصة الأخ (محمد عثمان محجوب) مع محمود طه (ذهب الأخ محمد عثمان محجوب إلى محمود محمد طه في داره يحمل جهازًا للتسجيل، ليحصي خبر هذه الواقعة وَيُوَثِّقَهَا. فسأل محمد (محمود) بدقة قائلاً:
--------------------------------------------
তার বর্ণিত পাঠে বলা হয়েছে:
«যে রাতে আমাকে মি’রাজে নিয়ে যাওয়া হলো, আমার চাক্ষুষ দৃষ্টি আমার অন্তর্দৃষ্টিতে বিলীন হয়ে গেল, ফলে আমি আল্লাহকে দেখলাম! আমি তাঁকে একজন দাড়িহীন যুবকের অবয়বে দেখলাম। অতঃপর তিনি আমার কাঁধের ওপর তাঁর উভয় হাত রাখলেন, যার শীতলতা আমি আমার বক্ষস্থলে অনুভব করলাম। তিনি বললেন: "হে মুহাম্মদ! ঊর্ধ্বজগতের ফেরেশতারা কী বিষয়ে বিতর্ক করছে তা কি তুমি জানো?" আমি বললাম: "হে আমার রব! আপনিই সর্বাধিক অবগত।" তখন তিনি আমাকে আদি ও অন্তের জ্ঞান শিক্ষা দিলেন। আমাকে তিনটি জ্ঞান দান করা হলো: এক প্রকার জ্ঞান যা প্রচার করার জন্য আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে, দ্বিতীয় প্রকার জ্ঞান যা প্রচার করার ব্যাপারে আমাকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, আর তৃতীয় প্রকার জ্ঞান যা প্রচার করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে; কারণ তিনি জানতেন যে, আমি ব্যতীত অন্য কেউ তা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না»।
«আর এই জাল (موضوع) হাদিসটির ওপর ভিত্তি করেই রিপাবলিকানদের অভ্যন্তরীণ আকিদার একটি বিষয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আর তা হলো এই বিশ্বাস যে— মাহমুদ মূলত সেই দাড়িহীন যুবকটিই... আর এই কারণেই সে দাড়িহীন... যদিও সে যৌবনকাল অতিবাহিত করেছে এবং যথেষ্ট বার্ধক্যে উপনীত হয়েছে» (১)।
এই কারণেই তারা দাড়ি সংক্রান্ত হাদিসগুলোকে নিছক অভ্যাসের হাদিস হিসেবে গণ্য করে, যা পালন করা রিপাবলিকানদের জন্য আবশ্যক নয়।
এখানে একটি চমৎকার গল্প রয়েছে যার মাধ্যমে অধ্যাপক মুহাম্মদ ওয়াকিউল্লাহ তাঁর পাণ্ডুলিপি গবেষণার একটি পরিচ্ছেদ সমাপ্ত করেছেন। এর মাধ্যমেই আমরা আমাদের দ্বিতীয় আপত্তির আলোচনা শেষ করব। আর তা হলো মাহমুদ তাহার সাথে ভাই মুহাম্মদ উসমান মাহজুবের একটি ঘটনা (মুহাম্মদ উসমান মাহজুব এই ঘটনার বিবরণ সংগ্রহ ও তা নথিবদ্ধ করার জন্য একটি রেকর্ডিং যন্ত্র নিয়ে মাহমুদ তাহার বাড়িতে যান। তিনি মাহমুদকে সূক্ষ্মভাবে প্রশ্ন করে বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল জুমহুরিয়্যীন মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
«عليكم آخر الزمان رجل ينسخ المحكوم، ويحكم المنسوخ، ويأخذ من الله كفاحًا فاحذروه». ما رأيكم في هذا الحديث؟ فقال محمود: «هَذَا حَدِيثٌ أَدَرْتُهُ عَلَى عَقْلِي»، وهو لا ينكره.
فأكذ له عند ذلك الأخ (محمد عثمان محجوب) أن هذا النص الذي قدمه ليس حديثًا وإنما هو من تأليفه هو، وضعه ليتأكد من قضية أخذ الجمهوريين للحديث أخذ حاطب ليل وقضية استعدادهم للوضع وتقبل الوضع.
«والناحية المهمة التي لم يفطن لها محمود في هذا النص .. هي الناحية اللغوية، وهي كفيلة بأن تكون دليلاً حاسمًا على فساد الذوق وأهلية الاجتهاد في الدين عند زعيم الجمهوريين، فكيف يقبل نصًا مثل هذا على أنه حديث شريف، وفيه خطأ لغوي تعبيري، تمثل في كلمة (محكوم) والتي وضعها الأخ محمد عثمان هكذا لمزيد من الاختبار والتوريط، وليس هنالك ما يُسَمَّى (المحكوم) في الحديث ولا في القرآن وإنما هنالك المُحْكَمَ وحسب» (1).
--------------------------------------------
«শেষ যুগে তোমাদের নিকট এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে যে রহিত হওয়া বিধানকে (المحكوم) পুনরায় রহিত করবে এবং যা রহিত (المنسوخ) হয়ে গেছে তাকে বলবৎ করবে, আর সে সরাসরি আল্লাহর কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করবে; সুতরাং তোমরা তার থেকে সতর্ক থাকো।» এই হাদিসটি সম্পর্কে আপনাদের মতামত কী? তখন মাহমুদ বললেন: «এটি এমন এক হাদিস যা আমি আমার বুদ্ধিবৃত্তিক মাপকাঠিতে যাচাই করেছি», এবং তিনি এটি অস্বীকার করেননি।
তখন ভাই (মুহাম্মদ উসমান মাহজুব) তার নিকট নিশ্চিত করলেন যে, তিনি যে পাঠটি পেশ করেছেন তা কোনো হাদিস নয়, বরং এটি তার নিজের রচনা। তিনি এটি তৈরি করেছিলেন যাতে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, জুমহুরিরা (রিপাবলিকান) বাছবিচারহীনভাবে হাদিস গ্রহণ করে এবং জালকরণ (الوضع) ও জাল (الموضوع) বিষয় গ্রহণে তাদের মানসিক প্রস্তুতি কতটুকু।
«আর এই পাঠের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক যা মাহমুদ বুঝতে পারেননি... তা হলো এর ভাষাগত দিক। জুমহুরি বা রিপাবলিকান নেতার রুচির বিকৃতি এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (الاجتهাদ)-এর যোগ্যতাহীনতার বিষয়ে এটি একটি চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট। তিনি কীভাবে এমন একটি পাঠকে হাদিস হিসেবে গ্রহণ করলেন যাতে ভাষাগত প্রকাশভঙ্গিতে ভুল রয়েছে? যা 'মাহকুম' (محكوم) শব্দটির মধ্যে ফুটে উঠেছে। ভাই মুহাম্মদ উসমান এটি অধিকতর পরীক্ষা ও তাকে বিভ্রান্ত করার জন্য ব্যবহার করেছিলেন। অথচ হাদিসে কিংবা কুরআনে 'মাহকুম' (المحكوم) নামে কোনো পরিভাষা নেই, সেখানে কেবল সুস্পষ্ট/মুহকাম (المحكم) পরিভাষাটিই রয়েছে» (১)।
--------------------------------------------