(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: -)
التمهيد - شرح مختصر الأصول من علم الأصول القسم: أصول الفقه
الكتاب: التمهيد - شرح مختصر الأصول من علم الأصول
المؤلف: أبو المنذر محمود بن محمد بن مصطفى بن عبد اللطيف المنياوي
الناشر: المكتبة الشاملة، مصر
الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م
عدد الصفحات: 131
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع (الطبعة الورقية)]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 ذو الحجة 1432
আত-তামহিদ - শারহু মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
কিতাব: আত-তামহিদ - শারহু মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
লেখক: আবু আল-মুনজির মাহমুদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুস্তফা ইবনে আব্দুল লতিফ আল-মিনইয়াওয়ি
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুশ শামিলাহ, মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির (কাগজে মুদ্রিত সংস্করণ)] এর সাথে মিল রাখা হয়েছে
শামিলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ১৩ জিলহজ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: -)
التمهيد
شرح مختصر الأصول من علم الأصول
للعلامة محمد بن صالح العثيمين - رحمه الله تعالى -
تأليف:
أبي المنذر محمود بن محمد بن مصطفى المنياوي
عفا الله عنه.
الطبعة الأولى
…1432 هـ/2011 م
المكتبة الشاملة
ভূমিকা
ইলমুল উসূলের মূলনীতির সংক্ষিপ্ত সারের ব্যাখ্যা
আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন - এর মূল রচনার আলোকে
গ্রন্থনায়:
আবু আল-মুনজির মাহমুদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুস্তফা আল-মিনয়াওয়ী
আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।
প্রথম সংস্করণ
…১৪৩২ হিজরী/২০১১ খ্রিস্টাব্দ
আল-মাকতাবাতুশ শামিলা
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
الطبعة الأولى
1432 هـ / 2011 م
رقم الإيداع بالمكتبة الشاملة 2/ 2010
সর্বস্বত্ব লেখকের নিকট সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪৩২ হিজরি / ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
আল-মাকতাবাতুশ শামিলায় নিবন্ধন নম্বর ২/ ২০১০
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلفإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبدُه ورسولُه.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}.
أما بعد
…فهذا شرح مختصر لمختصر رسالة (الأصول من علم الأصول) لفضيلة الشيخ محمد بن صالح العثيمين - رحمه الله تعالى - وهو تقدمة بين يدي كتابي المعتصر وقد جاء تلبية لطلب بعض إخواني بأن أقوم بشرح كتاب الأصول من علم الأصول في دورة مكثفة في يومين على أن تمتاز ببساطة العبارة لتناسب المبتدئين في هذا العلم، وقد اجتهدت في تحقيق ذلك إلا فيما لابد منه.
وسوف أجعل كلام الشيخ بين قوسين وأصدره بقولي: قال الشيخ، ثم أعقبه بشرحي.
وهذا الشرح كالإختصار لشرحي الكبير لمختصر الأصول وقد عزوت الأقوال هناك لقائليها، ولذلك إن لم أنشط هنا للعزو فإنما هو اعتمادا على العزو في أصول هذه المادة.
تنبيه:غالب ما جاء في هذا الشرح إنما هو زيادة لبعض القيود على حدود الشيخ العثيمين رحمه الله، وليس في هذا استدراك على الشيخ؛ لأن الشيخ بداية لم يشترط على نفسه وضع حد جامع مانع - بل كان يرى تحريم تعلم علم المنطق -، وإنما كان غرض الشيخ توصيل المعنى في أبسط عبارة بما يتناسب مع الطلاب المبتدئين الذين ألف لهم هذه الرسالة، وأيضا نظرا لأن لاوصول إلى حد جامع مانع من الصعوبة بمكان، ولذلك فحتى الحدود التي وضعتُها قد يستدرك عليها، وإنما كان الهدف تمرين الطلاب على بعض القواعد والشروط في الحدود، وقد فصلت القول في ذلك في مقدمة الشرح الكبير ببيان واعتذار، فلينظر هناك.
والله الموفق وهو الهادي إلي سواء السبيل.،
أسأل الله العظيم أن يتقبل هذا العمل وأن يجعله خالصا لوجهه الكريم، وأن يدخر لي أجره يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন; এবং আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।}
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।}
অতঃপর …
এটি ফযীলাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-এর 'আল-উসুল মিন ইলমিল উসুল' রিসালাহ-এর সংক্ষিপ্তসারের একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা। এটি আমার 'আল-মু'তাসার' গ্রন্থের ভূমিকা স্বরূপ। এটি আমার কতিপয় ভাইয়ের অনুরোধে প্রস্তুত করা হয়েছে, তাঁরা চেয়েছিলেন যেন আমি দুই দিনের একটি নিবিড় কোর্সে 'আল-উসুল মিন ইলমিল উসুল' বইটির ব্যাখ্যা করি, যাতে এই ইলমে নতুনদের উপযোগী করে সহজ ভাষায় বর্ণনা করার বৈশিষ্ট্য থাকে। আমি অপরিহার্য ক্ষেত্র ব্যতীত তা বাস্তবায়নে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।
আমি শাইখের কথাগুলো বন্ধনীতে রাখব এবং তার শুরুতে 'শাইখ বলেন' এ কথাটি উল্লেখ করব, এরপর আমার ব্যাখ্যা পেশ করব।
এই ব্যাখ্যাটি মূলত 'মুখতাসারুল উসুল'-এর ওপর আমার বড় ব্যাখ্যার সংক্ষিপ্ত রূপের মতো, আর সেখানে আমি বক্তব্যসমূহ তাদের প্রবক্তার নামসহ উল্লেখ করেছি। তাই এখানে যদি আমি প্রবক্তার নাম উল্লেখ করার ব্যাপারে অধিক তৎপর না হই, তবে তা এই বিষয়ের মূল উৎসের উদ্ধৃতির ওপর নির্ভর করার কারণেই।
সতর্কবার্তা:এই ব্যাখ্যায় যা কিছু এসেছে তার অধিকাংশই শাইখ আল-উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সংজ্ঞাসমূহের (হুদুদ) ওপর কিছু শর্ত বা সীমাবদ্ধতার সংযোজন মাত্র। এটি শাইখের ওপর কোনো আপত্তি বা ভুল ধরা নয়; কারণ শাইখ শুরুতেই নিজের ওপর কোনো 'জামে-মানে' (পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক) সংজ্ঞা দেওয়ার শর্তারোপ করেননি—বরং তিনি মানতিক (যুক্তিবিদ্যা) শিক্ষা করাকে হারাম মনে করতেন—শাইখের উদ্দেশ্য ছিল এই রিসালাহটি যাদের জন্য লেখা হয়েছে সেই প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত সহজ ভাষায় অর্থ পৌঁছে দেওয়া। এছাড়া একটি 'জামে-মানে' সংজ্ঞায় পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন কাজ। এই কারণেই আমি যে সংজ্ঞাগুলো প্রদান করেছি সেগুলোর ওপরও আপত্তি আসতে পারে। মূলত উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম ও শর্তের অনুশীলনী করানো। আমি 'বড় ব্যাখ্যা' (আশ-শারহুল কাবীর)-এর ভূমিকায় বর্ণনা ও ওজরখাহির মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, সেখানে দেখা যেতে পারে।
আল্লাহই তৌফিকদাতা এবং তিনিই সঠিক পথের দিশারি।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমল কবুল করেন এবং একে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন। আর একে আমার জন্য সেই দিনের পাথেয় হিসেবে জমা রাখেন যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর কাছে পরিচ্ছন্ন অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৩)
أصُولُ الفِقْه
تعريف الأصول لغة:قال الشيخ: (الأصول: جمع أصل وهو ما يبني عليه غيره).
بدأ الماتن رحمه الله في تعريف أصول الفقه باعتبار مفرديه أي كلمة أصول وكلمة فقه، وذلك لأن معرفة المركب إنما تتأتى من معرفة أفراده، فبدأ بتعريف المضاف وهي كلمة أصول فقال: (الأصول: جمع أصل وهو ما يبني عليه غيره) ومثَّل لها رحمه الله بأصل الجدار وهو أساسه، وأصل الشجرة الذي يتفرع منه أغصانها. وهذا التعريف غير جامع فإننا نلاحظ أن الوالد أصل للولد، ولا يقال: إن الولد ينبني على الوالد.
وعليه فالأولى أن يعرف الأصل لغة بأنه: (ما يتفرع عنه غيره) فيصح أن يقال: الولد فرع عن الوالد.
وتُعقب هذا التعريف أيضا بأن من أصول الشرع ما هو عقيم لا يقبل الفرع ولا يقع به التوصل إلى ما وراءه بحال كدية الجنين والقسامة وتحمل العاقلة فهذه أصول ليست لها فروع.
وعليه فالأولى في تعريف الأصل أنه (ما كان سببا في إيجاد حكم من الأحكام) والأحكام هنا عامة تشمل الأحكام الشرعية، والعادية، والعقلية.
ويدخل في هذا التعريف ما له فرع، كالشجرة فهي أصل لفروعها؛ لأنها سببا في إيجادها، وكالأب فهو أصل لابنه؛ لأنه كان سببا في إيجاده.
ويشمل أيضا ما ليس له فرع، كالقسامة فهي أصل للأيمان التي تقسم على أولياء القتيل إذا ادعوا الدم، وذلك لأنها سبب في إيجاد الأيمان.
ويدخل فيه ما يبنى عليه غيره، كالأساس فهو أصل للجدار؛ لأنه كان سببا في إيجاده.
ويدخل فيه ما لا يبني عليه غيره، كالأب أصل لابنه، ولا يقال: إن الولد يبنى على الوالد، والوالد سبب في إيجاد ابنه، وهكذا.
تعريف الفقهلغة:
ثم ثنى الشيخ بتعريف المضاف إليه وهو كلمة (الفقه) فعرفه بقوله: (والفقه لغة: الفهم).
وتعريف الفقه لغة بالفهم هو قول الأكثرين، والمقصود مطلق الفهم سواء أكان لما ظهر وبان، أو لما دق وخفي، والدليل على ذلك مجيئه في الشرع مرادا به مطلق الفهم قوله
উসুলুল ফিকহ
উসুলের সংজ্ঞা আভিধানিক অর্থে:শায়খ বলেন: (উসুল হলো আসলের বহুবচন। আসল হলো এমন বিষয় যার ওপর অন্য কিছু গড়ে তোলা হয়)।
মাতন-প্রণেতা (রাহিমাহুল্লাহ) উসুলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞা প্রদান শুরু করেছেন এর শব্দদ্বয়ের অর্থাৎ 'উসুল' ও 'ফিকহ' শব্দ দুটির পৃথক বিশ্লেষণের মাধ্যমে। কারণ কোনো যৌগিক বিষয়ের জ্ঞান অর্জন মূলত এর বিশ্লিষ্ট অংশগুলোর জ্ঞানের মাধ্যমেই সম্ভব হয়। তাই তিনি প্রথমে মুদাফ তথা 'উসুল' শব্দটির সংজ্ঞা দিয়ে শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন: (উসুল হলো আসলের বহুবচন। আসল হলো এমন বিষয় যার ওপর অন্য কিছু গড়ে তোলা হয়)। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এর উদাহরণ হিসেবে দেয়ালের ভিত্তিকে উল্লেখ করেছেন যা এর বুনিয়াদ, এবং গাছের গোড়াকে উল্লেখ করেছেন যা থেকে এর শাখা-প্রশাখা বের হয়। তবে এই সংজ্ঞাটি 'জামে' (সবকিছুকে অন্তর্ভুক্তকারী) নয়; কারণ আমরা লক্ষ্য করি যে, পিতা হলেন সন্তানের মূল বা আসল, অথচ বলা হয় না যে সন্তান পিতার ওপর গড়ে ওঠে।
সুতরাং আভিধানিক অর্থে আসলের সংজ্ঞা এভাবে দেওয়া অধিকতর উত্তম: (যা থেকে অন্য কিছু শাখা হিসেবে বের হয়)। ফলে এ কথা বলা সঠিক হবে যে: সন্তান হলো পিতার একটি শাখা।
এই সংজ্ঞার ওপরও আপত্তি তোলা হয়েছে যে, শরীয়তের এমন কিছু মূলনীতি (উসুল) রয়েছে যা বন্ধ্যা, অর্থাৎ তা কোনো শাখা গ্রহণ করে না এবং কোনোভাবেই তার পরবর্তী স্তরে পৌঁছানোর মাধ্যম হয় না। যেমন ভ্রূণের রক্তপণ (দিয়াত), কাসামাহ এবং আকিলাহর (রক্তপণ) দায়িত্ব বহন। এগুলো এমন কিছু উসুল যেগুলোর কোনো শাখা নেই।
এমতাবস্থায় আসলের সংজ্ঞায় অধিকতর উত্তম হলো: (যা কোনো বিধান সৃষ্টির কারণ হয়)। এখানে 'বিধানসমূহ' শব্দটির অর্থ সাধারণ, যা শারঈ, প্রথাগত এবং যৌক্তিক বিধানসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই সংজ্ঞার অধীনে এমন বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত হবে যার শাখা রয়েছে, যেমন গাছ; এটি তার শাখাগুলোর জন্য মূল বা আসল, যেহেতু তা শাখাগুলো সৃষ্টির কারণ। অনুরূপভাবে পিতা তার সন্তানের জন্য মূল; কারণ তিনি সন্তান অস্তিত্বে আসার কারণ।
এটি এমন বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে যার কোনো শাখা নেই, যেমন কাসামাহ; এটি ওই শপথগুলোর মূল ভিত্তি যা নিহতের অভিভাবকদের ওপর বণ্টন করা হয় যখন তারা হত্যার দাবি করে। কারণ এটি শপথগুলো সৃষ্টির কারণ।
এর মধ্যে এমন বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হয় যার ওপর অন্য কিছু গড়ে তোলা হয়, যেমন ভিত্তি; এটি দেয়ালের জন্য মূল বা আসল, কারণ এটি দেয়ালটি তৈরির কারণ।
আবার এমন বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত হয় যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে না, যেমন পিতা তার সন্তানের জন্য মূল বা আসল, অথচ বলা হয় না যে সন্তান পিতার ওপর গড়ে উঠেছে, যদিও পিতা তার সন্তান অস্তিত্বে আসার কারণ। এবং এভাবেই অন্যান্য বিষয়ও।
ফিকহ-এর সংজ্ঞাআভিধানিক অর্থে:
এরপর শায়খ দ্বিতীয়ত মুদাফ ইলাইহি অর্থাৎ 'ফিকহ' শব্দের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তিনি এর সংজ্ঞায় বলেছেন: (আভিধানিক অর্থে ফিকহ হলো উপলব্ধি বা বুঝ)।
আভিধানিক অর্থে ফিকহকে উপলব্ধি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা অধিকাংশ আলিমের মত। এর উদ্দেশ্য হলো সাধারণ উপলব্ধি, চাই তা স্পষ্ট ও প্রকাশ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে হোক কিংবা সূক্ষ্ম ও গোপন বিষয়ের ক্ষেত্রে। শরীয়তের পরিভাষায় এটি সাধারণ উপলব্ধি অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী—
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৪)
تعالى: (وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي. يَفْقَهُوا قَوْلِي) [طه: 27، 28] فقوله: (قَوْلِي) معرف بالإضافة فيشمل ما ظهر وما خفي من قوله، وقوله الله تعالى: (فَمَالِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا) [النساء: 78]، (وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ) [الإسراء: 44]، (مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِمَّا تَقُولُ) [هود: 91]، أي: لا يكادون يفهمون، ولكن لا تفهمون، وما نفهم كثيراً مما تقول.
اصطلاحا:قال الشيخ: (واصطلاحاً: معرفة الأحكام الشرعية العملية بأدلتها التفصيلية).
والمراد بقولنا: "الأحكام الشرعية" الأحكام المتلقاة من الشرع كالوجوب والتحريم، فخرج به الأحكام العقلية كمعرفة أن الكل أكبر من الجزء والأحكام العادية كمعرفة نزول الطل في الليلية الشاتية إذا كان الجو صحواً، والأحكام الوضعية كمعرفة أن كان وأخواتها ترفع المبتدأ وتنصب الخبر، ويخرج أيضا الأحكام الحسية كالعلم أن النار محرقة، وأيضا يخرج الأحكام التجريبية (الثابتة بالتجربة) كالعلم بأن السم قاتل وقد تتداخل هذه الأحكام إلا أن الغرض بيان معنى الشرعية وهو خلاف كل ما سبق.
والمراد بقولنا: " العملية " المتعلقة بعمل المكلف كالصلاة والزكاة، والصوم، والبيع فخرج به ما يتعلق بالاعتقاد (وتسمى العلمية) كتوحيد الله ومعرفة أسمائه وصفاته فلا يسمى ذلك فقهًا في الاصطلاح، ويخرج أيضا علم التصوف، أو السلوك كحرمة الكذب والغيبة ووجوب الصدق، وهكذا فهذا في الاصطلاح لا يدخل في الفقه، ولم يدونه غالب الفقهاء في كتب الفقه.
ولابد من إضافة قيد "المكتسبة" للتعريف أي: المستنبطة عن طريق النظر والاستدلال ليخرج علم الله عزوجل فهو علم لازم لذاته لم يكتسبه.
وليخرج علم الرسول صلى الله عليه وسلم فهو علم مستفاد من الوحي غير مكتسب عن طريق النظر والاستدلال.
ويخرج علم الملائكة فهو علم مستفاد من وحي الله إليهم، أو عن طريق النظر في اللوح المحفوظ، أو غير ذلك، فهو غير مكتسب عن طريق النظر والاستدلال.
ويخرج أيضا علم المقلد؛ لأنه لم يكتسبه عن طريق النظر والاستدلال.
والمراد بقولنا: "بأدلتها التفصيلية " وهي الجزئية كقوله تعالى (وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا) [الإسراء: 32] فهذا دليل جزئي يخص مسألة واحدة معينة وهي الزني ويبين حكمها وهو تحريم الزنى.
মহান আল্লাহ বলেন: (আর আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে) [ত্বহা: ২৭, ২৮]। এখানে তাঁর কথা: (আমার কথা) সম্বন্ধপদ যোগে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যা তাঁর কথার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। এবং মহান আল্লাহর বাণী: (এই কওমের কী হলো যে, তারা কোনো কথা বুঝতে চায় না?) [আন-নিসা: ৭৮], (কিন্তু তোমরা তাদের তসবিহ বুঝতে পারো না) [আল-ইসরা: ৪৪], (আপনি যা বলছেন তার অনেক কিছুই আমরা বুঝতে পারছি না) [হুদ: ৯১]। অর্থাৎ: তারা প্রায় বুঝতেই পারছে না, কিন্তু তোমরা বুঝছো না, এবং আপনি যা বলছেন তার অনেক কিছুই আমরা বুঝতে পারছি না।
পরিভাষায়:শায়খ বলেন: (আর পরিভাষায়: বিস্তারিত দলিল-প্রমাণসহ ব্যবহারিক শরয়ি বিধানসমূহ জানাই হলো ফিকহ)।
আমাদের কথা: "শরয়ি বিধানসমূহ" বলতে উদ্দেশ্য হলো— শরিয়ত থেকে প্রাপ্ত বিধানসমূহ যেমন ওয়াজিব হওয়া এবং হারাম হওয়া। এর মাধ্যমে বুদ্ধিভিত্তিক বিধানসমূহ বাদ পড়ে যায় যেমন এটি জানা যে পূর্ণ অংশটি তার একটি অংশের চেয়ে বড়। আরও বাদ পড়ে অভ্যাসগত বিধানসমূহ যেমন শীতের রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে শিশির পড়ার বিষয়টি জানা। তদ্রূপ পারিভাষিক বিধানসমূহ বাদ পড়ে যায় যেমন এটি জানা যে ‘কানা’ ও তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ মুবতাদাকে রাফা দেয় এবং খবরকে নাসাব দেয়। আরও বাদ পড়ে ইন্দ্রিয়জাত বিধানসমূহ যেমন আগুন দহনকারী হওয়ার জ্ঞান। তদ্রূপ পরীক্ষালব্ধ বিধানসমূহও (যা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রমাণিত) বাদ পড়ে যায় যেমন বিষ যে প্রাণঘাতী—তা জানা। যদিও এসকল বিধানের মাঝে পারস্পরিক কিছু প্রবেশ থাকতে পারে, তবে উদ্দেশ্য হলো ‘শরয়ি’ শব্দের অর্থ স্পষ্ট করা, যা পূর্বোক্ত সবকিছুর বিপরীত।
আমাদের কথা: "ব্যবহারিক" বলতে মুকাল্লাফের (যাকে শরয়ি বিধান পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে) কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ উদ্দেশ্য, যেমন সালাত, জাকাত, সিয়াম ও ক্রয়-বিক্রয়। এর দ্বারা বিশ্বাসগত বিষয়সমূহ বাদ পড়ে যায় (যাকে তাত্ত্বিক জ্ঞান বলা হয়), যেমন আল্লাহর তাওহিদ এবং তাঁর নাম ও গুণাবলি জানা। পরিভাষায় একে ফিকহ বলা হয় না। তদ্রূপ তাসাউফ বা আচরণবিদ্যা শাস্ত্রও এর বাইরে থাকে, যেমন মিথ্যে বলা ও গিবত করার নিষিদ্ধতা এবং সত্য বলার আবশ্যকতা ইত্যাদি। পরিভাষায় এগুলো ফিকহের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং অধিকাংশ ফকিহগণ ফিকহের কিতাবসমূহে এগুলো লিপিবদ্ধ করেননি।
সংজ্ঞার সাথে "অর্জিত" শর্তটি যুক্ত করা আবশ্যক, অর্থাৎ যা চিন্তা-গবেষণা ও দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে আহরিত। যাতে মহান আল্লাহর জ্ঞান এর বাইরে থাকে, কেননা তাঁর জ্ঞান তাঁর সত্তার জন্য চিরন্তন ও আবশ্যিক, তিনি তা অর্জন করেননি।
তদ্রূপ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জ্ঞানও এর বাইরে থাকে, কারণ তাঁর জ্ঞান ওহি থেকে প্রাপ্ত, যা চিন্তা-গবেষণা ও দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে অর্জিত নয়।
আরও বাদ পড়ে ফেরেশতাদের জ্ঞান, কারণ তাদের জ্ঞান তাদের প্রতি আল্লাহর ওহি অথবা লাওহে মাহফুজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে প্রাপ্ত; এটি চিন্তা-গবেষণা ও দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে অর্জিত নয়।
তদ্রূপ মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারীর জ্ঞানও বাদ পড়ে যায়; কারণ সে তা চিন্তা-গবেষণা ও দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে অর্জন করেনি।
আমাদের কথা: "বিস্তারিত দলিল-প্রমাণসহ" বলতে আংশিক বা নির্দিষ্ট দলিলসমূহ উদ্দেশ্য। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না) [আল-ইসরা: ৩২]। এটি একটি আংশিক দলিল যা একটি সুনির্দিষ্ট মাসয়ালা অর্থাৎ ব্যভিচারের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এর বিধান অর্থাৎ ব্যভিচার হারাম হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৫)
فخرج بذلك أصول الفقه؛ لأن البحث فيه إنما يكون في أدلة الفقه الإجمالية. وأما الأدلة الإجمالية فهي كالقواعد الكلية ويندرج تحت كل واحدة منها أحكاما كثيرة وسوف يأتي بإذن الله الكلام عنها قريبا.
تنبيه - الفقه هو نفس الأحكام لا معرفتها ولا العلم بها:عرف البعض الفقه بأنه: معرفة، والبعض بأنه: العلم بالأحكام الشرعية العملية المكتسبة بأدلتها التفصيلية. والصواب تعريف الفقه بأنه نفس الأحكام لا معرفتها ولا العلم بها؛ لأن الأحكام الثابتة في نفسها تسمى فقها سواء وجد من يعرفها أو لم يوجد فالمعرفة ليست هي الفقه.
تعريف أصول الفقه كلقب:قال الشيخ: (الثاني: باعتبار كونه لقباً، فيعرف بأنه: " علم يبحث عن أدلة الفقه الإجمالية وكيفية الاستفادة منها وحال المستفيد ").
شرح التعريف، قوله " الإجمالية " أي غير المعينة، تسمى أيضا الكلية وهي كالقواعد العامة مثل قولهم: الأمر للوجوب والنهي للتحريم، وكالعام والخاص، والمطلق والمقيد، وكالكتاب والسنة، ونحو ذلك، والأدلة الإجمالية خلاف التفصيلية التي سبق وأن تكلمنا عنها في تعريف الفقه.
فعلم الأصول إنما يبحث في هذه الأدلة الإجمالية، كمطلق الأمر، وكالإجماع والقياس فيبحث عن الأول بأنه للوجوب حقيقة أم للاستحباب، وعن الأخيرين بأنهما حجة أم لا، ويبين أقسامهما.
قوله: " وكيفية الاستفادة منها " يعني أن الأصولي يضع القواعد التي عن طريقها يستطيع الفقيه معرفة كيف يستفيد الأحكام من أدلتها الجزئية أو التفصيلية، فيبين له أحكام الألفاظ ودلالاتها من عموم وخصوص وإطلاق وتقييد وناسخ ومنسوخ وغير ذلك.
قوله: " وحال المستفيد " معرفة حال المستفيد وهو المجتهد سمى مستفيداً لأنه يستفيد بنفسه الأحكام من أدلتها لبلوغه مرتبة الاجتهاد فمعرفة المجتهد وشروط الاجتهاد وحكمه ونحو ذلك يبحث في أصول الفقه.
قال المرداوي في التحبير (1/ 177): " الأصح أن أصول الفقه: الأدلة، لا معرفتها "،وقال أيضا: "إذ العلم والمعرفة بأصول الفقه غير أصول الفقه، فلا يكون داخلاً في ماهيتها".
وعليه فالأولى في تعريف أصول الفقه كلقب أن نقول هو: (أدلة الفقه الإجمالية وطرق استفادة جزئياتها وحال مستفيدها).
এর দ্বারা উসূলুল ফিকহ বাদ পড়ে যায়; কারণ সেখানে কেবল ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়। আর সামগ্রিক দলিলসমূহ হলো মৌলিক মূলনীতির মতো, যার প্রত্যেকটির অধীনে অনেক বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় অচিরেই এ সম্পর্কে আলোচনা আসবে।
সতর্কতা - ফিকহ হলো স্বয়ং বিধানসমূহ, তা জানা বা তার ইলম নয়:কেউ কেউ ফিকহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: তা হলো জানা, আবার কেউ বলেছেন: বিস্তারিত দলিলসমূহ হতে আহরিত ব্যবহারিক শরয়ি বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। সঠিক হলো ফিকহের সংজ্ঞা এভাবে দেওয়া যে, তা হলো স্বয়ং বিধানসমূহ, তা জানা বা তার ইলম নয়; কারণ নিজস্বভাবে সাব্যস্ত বিধানসমূহকেই ফিকহ বলা হয়, চাই তা জানার মতো কেউ থাকুক বা না থাকুক। সুতরাং জানাই ফিকহ নয়।
শাস্ত্রীয় নাম হিসেবে উসূলুল ফিকহের সংজ্ঞা:শাইখ বলেন: (দ্বিতীয়ত: এটি একটি শাস্ত্রীয় নাম হওয়ার বিবেচনায়; একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যে: "এটি এমন একটি ইলম যা ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ, সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং আহরণকারীর অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে।")
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা, তাঁর কথা "সামগ্রিক" অর্থ হলো অনির্ধারিত, একে কুল্লি বা মৌলিকও বলা হয়। এগুলো হলো সাধারণ মূলনীতির মতো, যেমন উসূলবিদদের কথা: নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে এবং নিষেধ হারাম হওয়ার দাবি রাখে। এছাড়া যেমন আম ও খাস, মুতলাক ও মুকাইয়্যাদ, কিতাব ও সুন্নাহ এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ। আর সামগ্রিক দলিলসমূহ বিস্তারিত দলিলসমূহের বিপরীত, যা সম্পর্কে আমরা ইতিপূর্বে ফিকহের সংজ্ঞায় আলোচনা করেছি।
সুতরাং উসূল শাস্ত্র কেবল এই সামগ্রিক দলিলসমূহ নিয়েই আলোচনা করে, যেমন সাধারণ নির্দেশ, এবং ইজমা ও কিয়াস। প্রথমটি সম্পর্কে আলোচনা করে যে তা কি প্রকৃতপক্ষে ওয়াজিব হওয়ার জন্য নাকি মুস্তাহাব হওয়ার জন্য? আর শেষোক্ত দুটি সম্পর্কে আলোচনা করে যে সেগুলো দলিল হিসেবে গণ্য কি না, এবং সেগুলোর প্রকারভেদ বর্ণনা করে।
তাঁর কথা: "সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি" এর অর্থ হলো উসূলবিদ এমন সব মূলনীতি প্রণয়ন করেন যার মাধ্যমে ফকিহ ব্যক্তি জানতে পারেন কীভাবে আংশিক বা বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে বিধান আহরণ করতে হয়। ফলে তিনি তাঁর জন্য শব্দের বিধানসমূহ এবং সেগুলোর অর্থবোধকতা স্পষ্ট করেন, যেমন— আম ও খাস, মুতলাক ও মুকাইয়্যাদ, নাসিখ ও মানসূখ এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ।
তাঁর কথা: "আহরণকারীর অবস্থা" এর অর্থ হলো আহরণকারীর অবস্থা জানা, আর তিনি হলেন মুজতাহিদ। তাঁকে আহরণকারী বলা হয় কারণ তিনি ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানোর কারণে স্বয়ং দলিলসমূহ থেকে বিধান আহরণ করেন। সুতরাং মুজতাহিদ সম্পর্কে জানা, ইজতিহাদের শর্তাবলি, এর হুকুম এবং এ জাতীয় বিষয়গুলো উসূলুল ফিকহে আলোচনা করা হয়।
আল-মারদাউয়ি আত-তাহবীর গ্রন্থে (১/১৭৭) বলেন: "অধিকতর সঠিক মত হলো উসূলুল ফিকহ হলো দলিলসমূহ, সেগুলো জানা নয়।" তিনি আরও বলেন: "যেহেতু উসূলুল ফিকহের জ্ঞান ও পরিচয় উসূলুল ফিকহ হতে ভিন্ন বিষয়, তাই তা এর সারসত্তার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না।"
সুতরাং শাস্ত্রীয় নাম হিসেবে উসূলুল ফিকহের সংজ্ঞায় এটি বলাই উত্তম যে, তা হলো: (ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ, সেগুলো থেকে আংশিক বিধানাবলি আহরণের পদ্ধতি এবং আহরণকারীর অবস্থা)।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৬)
فائدة أصول الفقهقال الشيخ: (فائدة أصول الفقه: التمكن من حصول قدرة يستطيع بها استخراج
الأحكام الشرعية من أدلتها على أسس سليمة).
فالمقصود أن هذا العلم هو أساس تكوين ملكة الاستنباط عند المجتهد والتي تؤهله لاستباط الأحكام الشرعية، فهو السبيل القويم للاجتهاد وذلك أن الاجتهاد في الإسلام محكوم بموازين دقيقة يجب اتباعها وإلا كان الاجتهاد بلا ضوابط لوناً من العبث.
أول من صنف فيهقال الشيخ: (وأول من جمعه كفن مستقل الإمام الشافعي رحمه الله.
وقد صنف الإمام الشافعي (204 هـ) عدة رسائل في ذلك، فصنف الرسالة قال الحبش: (وهو عبارة عن محاولة أولى لتحديد طرق الاستنباط ومصادر التشريع وقد كتبه الإمام الشافعي أساساً رداً على جماعة منكري السنة الذين ظهروا في عصره فأثبت فيه حجية السنة ثم توسع فبين مصادر التشريع تفصيلاً ومناهج الاستدلال بها.
وكذلك صنف الشافعي كتباً أخرى في الأصول منها: جماع العلم وهو كتاب قصد منه إثبات وجوب اتباع خبر الآحاد الصحيح وأقام الأدلة على ذلك.
ثم كتب الإمام الشافعيُّ كتابين آخرين وهما: إبطال الاستحسان وكتاب اختلاف الحديث وكلاهما من الكتب المبكرة في علم أصول الفقه).
الأحكام
تعريف الحكم لغة:قال الشيخ: (الأحكام: جمع حكم وهو لغة القضاء).
قال الفيومي: (الْحُكْمُ الْقَضَاءُ وَأَصْلُهُ الْمَنْعُ يُقَالُ حَكَمْتُ عَلَيْهِ بِكَذَا إذَا مَنَعْته مِنْ خِلَافِهِ فَلَمْ يَقْدِرْ عَلَى الْخُرُوجِ مِنْ ذَلِكَ وَحَكَمْتُ بَيْنَ الْقَوْمِ فَصَلْتُ بَيْنَهُمْ فَأَنَا حَاكِمٌ وَحَكَمٌ بِفَتْحَتَيْنِ وَالْجَمْعُ حُكَّامٌ
… ).
تعريف الحكم اصطلاحاً:قال الشيخ: (واصطلاحاً: ما اقتضاه خطاب الشرع المتعلق بأفعال المكلفين من طلب أو تخيير أو وضع).
উসুলুল ফিকহের প্রয়োজনীয়তাশাইখ বলেন: (উসুলুল ফিকহের প্রয়োজনীয়তা হলো: এমন এক সক্ষমতা অর্জন করা, যার মাধ্যমে সঠিক ভিত্তির ওপর ভিত্তি করে দলীলসমূহ থেকে শরয়ী
বিধানাবলি আহরণ করা সম্ভব হয়)।
উদ্দেশ্য হলো, এই শাস্ত্র মুজতাহিদের মধ্যে ইস্তিনবাত বা বিধান আহরণের যোগ্যতা তৈরির মূল ভিত্তি, যা তাকে শরয়ী বিধানাবলি আহরণে সক্ষম করে তোলে। এটিই ইজতিহাদের সঠিক পথ; কেননা ইসলামে ইজতিহাদ সুনির্দিষ্ট ও সূক্ষ্ম মানদণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যা অনুসরণ করা আবশ্যক, অন্যথায় নিয়মনীতিহীন ইজতিহাদ এক প্রকার পণ্ডশ্রমে পরিণত হবে।
এই বিষয়ে সর্বপ্রথম গ্রন্থকারশাইখ বলেন: (যিনি সর্বপ্রথম একে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে সংকলন করেছেন, তিনি হলেন ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি।
ইমাম শাফেয়ী (২০৪ হি.) এই বিষয়ে বেশ কিছু পুস্তিকা রচনা করেছেন। তিনি 'আর-রিসালা' রচনা করেছেন। হাবশ বলেন: (এটি হলো ইস্তিনবাত বা বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং শরীয়তের উৎসসমূহ নির্ধারণের প্রথম প্রচেষ্টা। ইমাম শাফেয়ী মূলত এটি তাঁর সমসাময়িক সুন্নাহ অস্বীকারকারী দলের জবাব হিসেবে লিখেছিলেন। সেখানে তিনি সুন্নাহর প্রামাণিকতা সাব্যস্ত করেন, অতঃপর বিস্তারিতভাবে শরীয়তের উৎসসমূহ এবং সেগুলো থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতিসমূহ বর্ণনা করেন।
অনুরূপভাবে ইমাম শাফেয়ী উসুল শাস্ত্রে আরও কিছু কিতাব রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: 'জিমউল ইলম'। এটি এমন একটি কিতাব যার উদ্দেশ্য হলো সহীহ খবরে ওয়াহিদ অনুসরণ করার আবশ্যকতা সাব্যস্ত করা এবং এর সপক্ষে দলীল পেশ করা।
এরপর ইমাম শাফেয়ী আরও দুটি কিতাব লেখেন, সেগুলো হলো: 'ইবতালুল ইসতিহসান' এবং 'ইখতিলাফুল হাদীস'। এই উভয়টিই উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের প্রাথমিক যুগের কিতাব।)
আহকাম (বিধানাবলি)
আভিধানিক অর্থে হুকুমের সংজ্ঞা:শাইখ বলেন: (আহকাম হলো হুকুম-এর বহুবচন, আভিধানিক অর্থে যার অর্থ হলো ফয়সালা বা বিচার।)
ফাইয়ুমী বলেন: (হুকুম হলো ফয়সালা, যার মূল অর্থ হলো নিষেধ করা। বলা হয় 'আমি তার ওপর এরূপ ফয়সালা করেছি', অর্থাৎ যখন আমি তাকে এর বিপরীত করা থেকে বিরত রাখি, ফলে সে তা থেকে বের হতে সক্ষম হয় না। আমি লোকজনের মধ্যে বিচার করেছি অর্থাৎ তাদের বিবাদ মীমাংসা করেছি। অতএব আমি হলাম 'হাকিম' এবং 'হাকাম', আর এর বহুবচন হলো 'হুক্কাম' ...)।
পারিভাষিক অর্থে হুকুমের সংজ্ঞা:শাইখ বলেন: (পরিভাষায়: মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কার্যাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট শরীয়তের এমন বাণী, যা কোনো কিছু করার বা না করার দাবি জানায় অথবা করার বা না করার স্বাধীনতা প্রদান করে কিংবা কোনো কিছুর কারণ বা শর্ত হিসেবে নির্ধারিত হয়।)
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৭)
شرح التعريف:
- ما اسم موصول بمعنى الذي أي هو الذي اقتضاه.
- الاقتضاء بمعني الطلب.
- خطاب الشرع إما أن يكون مباشرا أو غير مباشر، فالأول الكتاب والثاني السنة.
- أفعال أي أعمال سواء أكانت قولا أم فعلا أم إيجادا أم تركا، فخرج به ما تعلق بالاعتقاد فلا يسمى حكماً بهذا الاصطلاح.
- المكلفين أي ما من شأنهم التكليف فيشمل الصغير والمجنون.
- طلب يدخل فيه الأمر والنهي.
الأمر: طلب للفعل (سواء أكان على سبيل اللزوم أم الأفضلية).
النهي: طلب للترك (سواء أكان على سبيل اللزوم أم الأفضلية).
- أو تخيير يعني أن المكلف مخير بين الفعل والترك.
والمدقق في الأقسام الخمسة السابقة يلاحظ أن الأول هو الواجب إذ أن طلبه من للشارع للمكلف على سبيل الإلزام، والثاني هو المندوب، والثالث هو المحرم، والرابع هو المكروه، والخامس هو المباح (وهذه تسمى الأحكام الطلبية أو التكليفية).
- أو وضع يعني الصحيح والفاسد ونحوهما مما وضعه الشارع من علامات وأوصاف للنفوذ والإلغاء (وهذه تسمى الأحكام الوضعية).
تنبيهات حول التعريف:التنبيه الأول - لاحظ أن تعريف الشيخ هنا منصب على الأحكام الشرعية التي فيها طلب، ولذلك فالأولى حذف القيد الأخير (أو وضع) من التعريف؛ لأن الأحكام الوضعية أحكام إخبارية بصحة العقد وفساده ونصب الأسباب والشروط والموانع، فالشرع بوضع هذه الأمور أخبرنا بوجود أحكامه أو انتفائها عند وجود تلك الأمور أو انتفائها، فكأنه قال مثلا: إذا وجد النصاب الذي هو سبب وجوب الزكاة، والحول الذي هو شرطه، فاعلموا أني أوجبت عليكم أداء الزكاة، وإن وجد الدين الذي هو مانع من وجوبها، أو انتفى السوم الذي هو شرط لوجوبها في السائمة، فاعلموا أني لم أوجب عليكم الزكاة.
وكذا الكلام في القصاص، والسرقة، والزنى، وكثير من الأحكام، بالنظر إلى وجود أسبابها وشروطها، وانتفاء موانعها، وهكذا، وعلى ذلك فالأحكام الوضعية ليس فيها إقتضاء ولا تخيير.
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
- 'মা' হলো একটি সম্বন্ধবাচক সর্বনাম যার অর্থ 'যা', অর্থাৎ এটি তা যা শরীয়ত দাবি করেছে।
- 'ইকতিদা' অর্থ হলো তলব বা চাওয়া।
- শরীয়তের সম্বোধন সরাসরি অথবা পরোক্ষ হতে পারে; প্রথমটি হলো কিতাব (কুরআন) এবং দ্বিতীয়টি হলো সুন্নাহ।
- 'আফ'আল' বা কার্যাবলি বলতে বুঝায় যেকোনো আমল, চাই তা কথা হোক বা কাজ, সম্পাদন করা হোক বা বর্জন করা। এর মাধ্যমে বিশ্বাস বা আকিদাহ সংক্রান্ত বিষয়গুলো বাদ পড়ে গেছে; এই পরিভাষায় সেগুলোকে 'হুকুম' (বিধান) বলা হয় না।
- 'মুকাল্লাফিন' (শরীয়তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) বলতে বুঝায় যাদের স্বভাবগত যোগ্যতা আছে দায়িত্ব পালনের, ফলে এর অন্তর্ভুক্ত শিশু এবং অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিও।
- 'তলব' বা চাহিদার মধ্যে আদেশ এবং নিষেধ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।
আদেশ: কোনো কাজ করার চাহিদা (চাই তা আবশ্যকীয়ভাবে হোক বা উত্তম হিসেবে)।
নিষেধ: কোনো কাজ বর্জন করার চাহিদা (চাই তা আবশ্যকীয়ভাবে হোক বা উত্তম হিসেবে)।
- অথবা 'তাখয়ীর' বা ইচ্ছাধিকার বলতে বুঝায় যে, মুকাল্লাফ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কাজটি করা বা না করার ব্যাপারে স্বাধীন।
পূর্বোক্ত পাঁচটি বিভাগ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, প্রথমটি হলো ওয়াজিব (আবশ্যক), যেহেতু শরীয়ত প্রণেতা মুকাল্লাফের কাছে এটি অপরিহার্যভাবে দাবি করেছেন। দ্বিতীয়টি হলো মানদুব (পছন্দনীয়), তৃতীয়টি হলো হারাম (নিষিদ্ধ), চতুর্থটি হলো মাকরূহ (অপছন্দনীয়) এবং পঞ্চমটি হলো মুবাহ (বৈধ)। (এগুলোকে 'তলবি' বা 'তাকলিফি' বিধান বলা হয়)।
- অথবা 'ওয়াদ' (স্থাপিত বিধান) বলতে সঠিক (সহীহ), বাতিল (ফাসিদ) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোকে বুঝায় যা শরীয়ত প্রণেতা কোনো বিধান কার্যকর হওয়া বা বাতিল হওয়ার চিহ্ন ও বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। (এগুলোকে 'ওয়াদয়ি' বিধান বলা হয়)।
সংজ্ঞা সংক্রান্ত সতর্কতাসমূহ:প্রথম সতর্কতা - লক্ষ্য করুন যে, এখানে শাইখের সংজ্ঞাটি ওই সকল শরীয়তের বিধানের ওপর কেন্দ্রীভূত যাতে চাহিদা (তলব) বিদ্যমান। তাই সংজ্ঞা থেকে শেষ অংশটি (অথবা ওয়াদ) বাদ দেওয়া উত্তম; কারণ ওয়াদয়ি বিধানসমূহ হলো চুক্তির শুদ্ধতা বা অশুদ্ধতা এবং কারণ (সাবাব), শর্ত ও প্রতিবন্ধক (মানি') নির্ধারণ সংক্রান্ত তথ্যমূলক বিধান। শরীয়ত এই বিষয়গুলো স্থাপনের মাধ্যমে আমাদের তার বিধানের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব সম্পর্কে জানিয়ে দেন। যেমন তিনি যেন বলেছেন: যখন নিসাব পরিমাণ সম্পদ পাওয়া যাবে যা জাকাত ওয়াজিব হওয়ার কারণ, এবং এক বছর পূর্ণ হবে যা এর শর্ত, তখন জেনে রাখো যে আমি তোমাদের ওপর জাকাত আদায় করা ওয়াজিব করেছি। আর যদি ঋণ থাকে যা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক, অথবা বিচরণশীল গবাদিপশু হওয়ার শর্তটি অনুপস্থিত থাকে, তবে জেনে রাখো যে আমি তোমাদের ওপর জাকাত ওয়াজিব করিনি।
অনুরুপভাবে কিসাস, চুরি, ব্যভিচার এবং অন্যান্য অনেক বিধানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য—সেগুলোর কারণ, শর্ত এবং প্রতিবন্ধক থাকা বা না থাকার বিবেচনায়। সুতরাং ওয়াদয়ি বিধানের মধ্যে কোনো দাবি (ইকতিদা) বা ইচ্ছাধিকার (তাখয়ীর) থাকে না।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৮)
التنبيه الثاني:
قوله: (المكلفين) غير جامع من ناحية أنه لا يدخل فيه بعض الأفعال الخاصة بمكلف واحد كشهادة خزيمة وخصائص النبي صلى الله عليه وسلم ونحو ذلك.
قال ابن النجار في شرح الكوكب المنير (1/ 337): (وقلنا: "المكلف" بالإفراد ليشمل ما يتعلق بفعل الواحد، كخصائص النبي صلى الله عليه وسلم، وكالحكم بشهادة خزيمة، وإجزاء العناق في الأضحية لأبي بردة
… ).
التنبيه الثالث:
ينبغي التفريق بين طريقة جمهور الأصوليين وطريقة الفقهاء وبعض الأصوليين في تعريف الحكم الشرعي.
قال الشيخ عياض السلمي في " أصول الفقه الذي لا يسع الفقيه جهله" (ص/24): (الحكم في اصطلاح جمهور الأصوليين: «خطاب الله المتعلق بأفعال المكلفين بالاقتضاء أو التخيير أو الوضع». وعند الفقهاء: هو مقتضى خطاب الله المتعلق بأفعال المكلفين الخ، أو مدلول خطاب الله الخ. ومال بعض الأصوليين إلى اختيار هذا التعريف
… ).
وسبب الاختلاف بين الطريقتين أن الأصولي يبحث في الأدلة ذاتها - التي هي موضوع علم الأصول - فيكون نظره لذات الدليل، وأما الفقيه فيبحث في متعلق الأدلة - إذ أن موضوع الفقه أفعال المكلف - فيكون نظره لمتعلق الأدلة ومدلول الخطاب وأثره المترتب عليه.
وتعريف الشيخ للحكم بأنه ما اقتضاه خطاب الشرع إنما هو موافق لطريقة الفقهاء وبعض الأصوليين في تعريف الخطاب، والأولى اعتماد تعريف جمهور الأصوليين، إذ أننا نتكلم في علم الأصول لا فروعها.
ومما سبق نقول أن يمكن صياغة التعريف كتالي (خطاب الله المتعلق بفعل المكلف بالاقتضاء، أو التخيير).
দ্বিতীয় সতর্কতা:
তাঁর উক্তি: (মুকাল্লাফগণ বা দায়ীবদ্ধ ব্যক্তিগণ) এই শব্দটি পূর্ণাঙ্গ নয়, কারণ এতে এমন কিছু কাজ অন্তর্ভুক্ত হয় না যা কেবল একজন দায়ীবদ্ধ ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন খুজাইমার সাক্ষ্য এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।
ইবনুন নাজ্জার 'শারহুল কাওকাবিল মুনির' (১/৩৩৭)-এ বলেন: (এবং আমরা "মুকাল্লাফ" শব্দটি একবচনে ব্যবহার করেছি যাতে এটি একজনের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ, খুজাইমার সাক্ষ্যের মাধ্যমে ফয়সালা করা এবং আবু বুরদাহ-এর জন্য কুরবানিতে বকরির বাচ্চার যথেষ্ট হওয়া
… )।
তৃতীয় সতর্কতা:
শরয়ি হুকুমের সংজ্ঞায় জুমহুর উসুলবিদগণের পদ্ধতি এবং ফকিহগণ ও কিছু উসুলবিদের পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য করা উচিত।
শায়খ আইয়াদ আস-সুলামী "উসুলুল ফিকহ আল্লাজি লা ইয়াসা'উল ফকিহা জাহলুহু" (পৃষ্ঠা/২৪)-এ বলেন: (জুমহুর উসুলবিদদের পরিভাষায় হুকুম হলো: «আল্লাহর সেই সম্বোধন যা দাবি, পছন্দ অথবা নির্ধারণের মাধ্যমে দায়ীবদ্ধ ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট»। আর ফকিহদের মতে: এটি হলো আল্লাহর সম্বোধনের দাবি যা দায়ীবদ্ধ ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট ইত্যাদি, অথবা আল্লাহর সম্বোধনের নির্দেশিত অর্থ ইত্যাদি। এবং কিছু উসুলবিদ এই সংজ্ঞাটি বেছে নেওয়ার দিকে ঝুঁকেছেন
… )।
দুই পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্যের কারণ হলো, উসুলবিদ মূলত দলিলসমূহ নিয়ে গবেষণা করেন—যা উসুল শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়—ফলে তাঁর দৃষ্টি থাকে দলিলের মূল সত্তার দিকে, আর ফকিহ দলিলের সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে গবেষণা করেন—যেহেতু ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো দায়ীবদ্ধ ব্যক্তির কার্যাবলী—ফলে তাঁর দৃষ্টি থাকে দলিলের সংশ্লিষ্ট বিষয়, সম্বোধনের নির্দেশিত অর্থ এবং এর ফলে উদ্ভূত প্রভাবের দিকে।
হুকুমের সংজ্ঞায় শায়খের এই কথা যে, "যা শরিয়তের সম্বোধন দাবি করে", তা মূলত সম্বোধনের সংজ্ঞায় ফকিহগণ এবং কিছু উসুলবিদের পদ্ধতির সাথে সংগতিপূর্ণ। তবে জুমহুর উসুলবিদদের সংজ্ঞা গ্রহণ করাই অধিকতর শ্রেয়, যেহেতু আমরা উসুল শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করছি, এর শাখা-প্রশাখা নিয়ে নয়।
পূর্বের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি যে, সংজ্ঞাটি এভাবে গঠন করা সম্ভব (আল্লাহর সেই সম্বোধন যা দাবি বা পছন্দের মাধ্যমে দায়ীবদ্ধ ব্যক্তির কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট)।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৯)
أقسام الأحكام الشرعيةقال الشيخ: (تنقسم الأحكام الشرعية إلى قسمين: تكليفية ووضعية.
فالتكليفية خمسة:
الواجب والمندوب والمحرَّم والمكروه والمباح).
الواجب
الواجب لغة:قال الشيخ: (الواجب لغة: الساقط واللازم).
الواجب لغة له معان كثيرة منها:
سقوط الشيء لازما محله، ومنه قوله تعالى: (فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا) [الحج: 36] أي سقطت ميتة لازمة محلها، وقوله صلى الله عليه وسلم في الميت: (فإذا وجب فلا تبكين باكية). ومنه قول قيس بن الخطيم
أَطاعَتْ بنُو عَوْفٍ أَمِيراً نَهَاهُمُ
… عن السِّلْمِ، حَتَّى كانَ أَوّلَ وَاجِبِ
واللزوم، قال الفيومي: وَجَبَ الْبَيْعُ وَالْحَقُّ يَجِبُ وُجُوبًا وَجِبَةً لَزِمَ وَثَبَتَ.
الواجب اصطلاحا:قال الشيخ: (واصطلاحاً: ما أمر به الشارع على وجه الإلزام).
شرح التعريف:
وهو واضح بحمد الله، (ما أمر) ليخرج غير المأمور به كالمحرم والمكروه، والمباح لذاته، بقي المندوب يشمله التعريف ولذلك قيده بقوله (على وجه الإلزام) لأن المندوب وإن كان مأمورا به إلا أنه ليس على وجه الإلزام بل الأفضلية.
قال الشيخ: (والواجب يثاب فاعله امتثالًا ويستحق العقاب تاركه).
امتثالًا أي يفعله على وجه الطاعة والقربة، فمن نوى التبرد فغسل أعضاء الوضوء لا يعد متوضئا وهكذا.
وأما قوله (ويستحق) فقال الشيخ ولم نقل (ويعاقب تاركه)؛ لأنه من الجائز أن الله قد يعفو عنه، فهو مستحق للعقاب، لكن قد يعاقب وقد لا يعاقب.
نكتة:يجزم بإثابة فاعل الثواب، وكذا تارك الحرام؛ لأنه وعد كما قال تعالى: (مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا) [الأنعام: 160]، ولكن لابد من تقييده بالامتثال. وذلك بخلاف الوعيد على ترك الواجب، وفعل الحرام فلا يجزم بلحوق العقاب؛ لأنه من الجائز أن الله قد يعفو عنه، فهو مستحق للعقاب، لكن قد يعاقب وقد لا يعاقب.
শরয়ি বিধানসমূহের প্রকারভেদশায়খ বলেন: (শরয়ি বিধানসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত: তাকলিফি (দায়িত্বজ্ঞাপক) এবং ওয়াদয়ি (অবস্থাপক)।
তাকলিফি বিধান পাঁচটি:
ওয়াজিব , মানদুব (পছন্দনীয়), হারাম (নিষিদ্ধ), মাকরূহ (অপছন্দনীয়) এবং মুবাহ (বৈধ)।)
ওয়াজিব
শাব্দিক অর্থে ওয়াজিব:শায়খ বলেন: (শাব্দিক অর্থে ওয়াজিব: পতিত হওয়া এবং আবশ্যক হওয়া)।
শাব্দিক অর্থে ওয়াজিবের অনেকগুলো অর্থ রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম:
কোনো বস্তু তার নিজ স্থানে পতিত হওয়া ও স্থির হওয়া; এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর যখন তাদের পার্শ্বদেশ মাটিতে পড়ে যায়) [হজ: ৩৬] অর্থাৎ মৃত অবস্থায় নিজ স্থানে পতিত হয়। এবং মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: (যখন সে পতিত হবে -অর্থাৎ মারা যাবে- তখন যেন কোনো বিলাপকারিণী বিলাপ না করে)। এ অর্থেই কাইস ইবনে খতিমের উক্তি:
বনু আউফ এমন এক আমিরের আনুগত্য করল যে তাদের সন্ধি স্থাপনে বাধা দিল
… যতক্ষণ না সে নিজেই প্রথম ভূপাতিত ব্যক্তিতে পরিণত হলো।
এবং আবশ্যক হওয়া; আল-ফাইয়ুমি বলেন: ক্রয়-বিক্রয় ও অধিকার ওয়াজিব হয়েছে, অর্থাৎ তা আবশ্যক ও সাব্যস্ত হয়েছে।
পরিভাষায় ওয়াজিব:শায়খ বলেন: (পরিভাষায়: বিধানদাতা যা বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে আদেশ করেছেন)।
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
এটি আল্লাহর প্রশংসায় স্পষ্ট; (যা আদেশ করেছেন) কথাটি দ্বারা আদেশ করা হয়নি এমন বিষয়গুলো বাদ পড়ে যায়, যেমন: হারাম, মাকরূহ এবং স্বতঃসিদ্ধভাবে মুবাহ। বাকি থাকল মানদুব, যা এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, তাই তিনি একে (বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে) কথাটি দ্বারা সীমাবদ্ধ করেছেন; কারণ মানদুব যদিও আদিষ্ট বিষয়, তবে তা বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে নয় বরং শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে আদিষ্ট।
শায়খ বলেন: (ওয়াজিব হলো এমন কাজ যার সম্পাদনকারী আনুগত্যের উদ্দেশ্যে তা করলে সওয়াব পায় এবং বর্জনকারী শাস্তির যোগ্য হয়)।
আনুগত্যের উদ্দেশ্যে অর্থাৎ সে কাজটি ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে করে। সুতরাং যে ব্যক্তি শরীর শীতল করার নিয়তে ওজুর অঙ্গগুলো ধৌত করল তাকে ওজুকারী হিসেবে গণ্য করা হবে না, এবং এভাবেই অন্যান্য বিষয়গুলোও।
আর তার উক্তি (শাস্তির যোগ্য হয়) সম্পর্কে শায়খ বলেন: আমরা বলিনি যে 'বর্জনকারী শাস্তি পায়'; কারণ এটি সম্ভব যে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। সুতরাং সে শাস্তির যোগ্য, তবে তাকে শাস্তি দেওয়া হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।
একটি সূক্ষ্ম বিষয়:পুণ্যের কাজ সম্পাদনকারী সওয়াব পাবে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, অনুরূপভাবে হারাম বর্জনকারীর ক্ষেত্রেও; কারণ এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি প্রতিশ্রুতি (ওয়াদা), যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (যে ব্যক্তি একটি নেক কাজ নিয়ে আসবে, সে তার দশ গুণ প্রতিদান পাবে) [আন'আম: ১৬০], তবে একে অবশ্যই আনুগত্যের নিয়তের সাথে শর্তযুক্ত হতে হবে। এটি ওয়াজিব বর্জন এবং হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার শাস্তির হুমকির (ওয়াইদ) বিপরীত, যার ক্ষেত্রে শাস্তি অবধারিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা যায় না; কারণ এটি সম্ভব যে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। সুতরাং সে শাস্তির যোগ্য, তবে তাকে শাস্তি দেওয়া হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১০)
أسماء الواجب:قوله: (ويسمى فرضاً، وفريضة، وحتماً، ولازماً).
القول بعدم التفريق بين الفرض والواجب عند الحنابلة هو أحد الأقوال الثلاثة المنقولة عن الإمام أحمد في هذه المسألة.
قال مجد الدين في المسودة (ص/ 44): مسألة: الفرض والواجب سواء وهو الذي ذكره في مقدمة المجرد وبه قالت الشافعية وعنه الفرض آكد ونصرها الحلواني وبه قالت الحنفية وهو على قولهم وروايتنا هذه ما ثبت بدليل مقطوع به وقيل هو ما لا يسقط في عمد ولا سهو وحكى ابن عقيل رواية ثالثة أن الفرض ما لزم بالقرآن والواجب ما كان بالسنة وهذه هي ظاهر كلام أحمد في أكثر نصوصه).
المندوب
تعريف المندوب لغة:قال الشيخ: (والمندوب لغة: المدعو).
قال المرداوي في التحبير (2/ 976): {المندوب لغة: المدعو لمهم، من الندب وهو: الدعاء. قال الشاعر:
لا يَسْأَلُونَ أَخَاهُمْ حِينَ يَنْدُبُهُمْ
… فِي النَّائِبَاتِ عَلَى مَا قَالَ بُرْهَانَا).
تعريف المندوب اصطلاحاً:قال الشيخ: (ما أمر به الشارع لا على وجه الإلزام).
شرح التعريف:
(ما أمر) ليخرج غير المأمور به كالمحرم والمكروه، والمباح لذاته، بقي الواجب يشمله التعريف ولذلك قيده بقوله (لا على وجه الإلزام) لأن الواجب مأمور به على وجه الإلزام.
وسوف يأتي في باب الأمر بإذن الله كيفية معرفة أنواع الأوامر ومتى يكون هذا الأمر لازما ومتى يكون على سبيل الفضيلة.
قال الشيخ: والمندوب يثاب فاعله امتثالاً ولا يعاقب تاركه.
ولا يعاقب تاركه في الدنيا ولا في الآخرة، ولكن أفاد الشيخ العثيمين في شرح الأصول أن الإنسان قد يوبخ ويلام على ترك المستحب إذا كان هذا الترك يدل على زهده في الخير ورغبته عنه.
أسماء المندوب:قال الشيخ: ويسمى: سنة، ومسنوناً، ومستحبّاً، ونفلاً.
ওয়াজিবের নামসমূহ:তার কথা: (একে ফরজ, ফরিদা, হাত্ম এবং লাজিম বলা হয়)।
হাম্বলি মাজহাবের মতে ফরজ ও ওয়াজিবের মধ্যে কোনো পার্থক্য না থাকার মতটি এই বিষয়ে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত তিনটি মতের একটি।
মাজদুদ্দীন 'আল-মুসাউয়্যদাহ' (পৃষ্ঠা: ৪৪) গ্রন্থে বলেন: মাসআলা: ফরজ এবং ওয়াজিব একই; আর এটিই তিনি 'আল-মুজাররাদ'-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন এবং শাফেয়িগণও এই কথা বলেছেন। তার (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণিত অপর অভিমত হলো, ফরজ অধিক গুরুত্ববহ; আল-হালওয়ানি এটিকে সমর্থন করেছেন এবং হানাফীগণও এই মত পোষণ করেছেন। তাদের মত এবং আমাদের এই বর্ণনা অনুযায়ী ফরজ হলো তা-ই, যা অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত। আবার বলা হয়েছে: এটি এমন বিষয় যা ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত কোনোভাবেই বর্জন করা যায় না। ইবনে আকিল তৃতীয় একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যে, ফরজ হলো তা যা কুরআনের মাধ্যমে অবহারিত হয়েছে এবং ওয়াজিব হলো যা সুন্নাহর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে; আর ইমাম আহমাদের অধিকাংশ বক্তব্যের প্রকাশ্য মর্মার্থ এটাই।
মানদুব (পছন্দনীয় কাজ)মানদুব-এর শাব্দিক সংজ্ঞা:শাইখ বলেন: (মানদুব শাব্দিক অর্থে: যাকে ডাকা হয়েছে বা আহ্বানকৃত)।
আল-মারদাউয়ি 'আল-তাহবীর' (২/৯৭৬) গ্রন্থে বলেন: {মানদুব শাব্দিক অর্থে: কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাকে আহ্বান করা হয়েছে; এটি 'নদব' থেকে এসেছে যার অর্থ: আহ্বান করা। কবি বলেন:
বিপদ-আপদে তাদের ভাই যখন তাদের আহ্বান করে
… তখন তারা তার দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ চায় না।}
মানদুব-এর পারিভাষিক সংজ্ঞা:শাইখ বলেন: (শারিয়াত প্রণেতা যার আদেশ দিয়েছেন কিন্তু তা আবশ্যিক হিসেবে নয়)।
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
(যার আদেশ দেওয়া হয়েছে) - এর মাধ্যমে অনদিষ্ট বিষয়গুলো বাদ পড়ে যাবে যেমন হারাম, মাকরুহ এবং সয়ংক্রিয়ভাবে মুবাহ। তবে ওয়াজিব এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাই তিনি এটিকে "আবশ্যিক হিসেবে নয়" কথাটি দ্বারা সীমাবদ্ধ করেছেন। কারণ ওয়াজিবের আদেশ দেওয়া হয় আবশ্যিক হিসেবে।
আদেশের প্রকারভেদ এবং কখন এই আদেশটি আবশ্যিক হবে আর কখন এটি কেবল ফজিলতের জন্য হবে, তা 'আদেশ' অধ্যায়ে ইনশাআল্লাহ বিস্তারিত আসবে।
শাইখ বলেন: মানদুব পালনকারী আনুগত্যের কারণে সওয়াব পাবে, কিন্তু বর্জনকারী শাস্তি পাবে না।
বর্জনকারী দুনিয়া বা আখিরাতে শাস্তি পাবে না, তবে শাইখ আল-উসাইমীন 'শারহুল উসুল'-এ উল্লেখ করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় কাজ এমনভাবে বর্জন করে যা কল্যাণের প্রতি তার অনাগ্রহ এবং অনীহা প্রকাশ করে, তবে সে ক্ষেত্রে তাকে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করা যেতে পারে।
মানদুব-এর নামসমূহ:শাইখ বলেন: একে সুন্নাহ, মাসনুন, মুস্তাহাব এবং নফলও বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১১)
المحرم
تعريف المحرم لغة:قال الشيخ المحرم لغة: الممنوع.
قال الجوهري في الصحاح مادة (ح ر م): "حَرَمَهُ الشَّيءَ يَحْرِمُهُ حَرِماً وحِرْمَةً وحَريمة وحِرْماناً، وأَحْرَمَهُ أيضاً، إذا منعَه إيَّاه".اهـ
ومن ذلك قوله تعالى: (وَحَرَّمْنَا عَلَيْهِ الْمَرَاضِعَ مِنْ قَبْلُ) أي منعناه منهن.، وقال: (قَالَ فَإِنَّهَا مُحَرَّمَةٌ عَلَيْهِمْ أَرْبَعِينَ سَنَةً يَتِيهُونَ فِي الْأَرْضِ)، وقال: (إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ) والآيات في هذا المعنى كثيرة.
تعريف المحرم اصطلاحاً:قال الشيخ: (ما نهى عنه الشارع على وجه الإلزام بالترك).
قوله: (ما نهى عنه) خرج ما أمر به كالمندوب والواجب، وما لا يتعلق به أمر ولا نهي لذاته كالمباح.
وقوله: (على وجه الإلزام) أخرج المكروه لأن النهي عنه ليس على سبيل الحتم واللزوم كما سيأتي.
وأما قوله: (بالترك) في آخر هذا التعريف فزيادة لا حاجة لها ويستقيم التعريف بدونها، ويكون جامعا مانعا، فهي لم تضف معنى جديدا بل معناها مضمن في قوله (ما نهى عنه).
قال الشيخ: (المحرم يثاب تاركه امتثالاً ويستحق العقاب فاعله).
فائدة:قد يترك المكلف فعل المحرم ويعاقب، وقد يتركه ولا يثاب ولا يعاقب، وقد يتركه ويثاب:
أما الأول - فإن تركه عجزا كما قال النبي صلى الله عليه وسلم فيما رواه ابن ماجه وأحمد وغيرهما من حديث أبي كبشة الأنماري رضي الله عنه (مثل هذه الأمة مثل أربعة نفر رجل آتاه الله مالا وعلما فهو يعمل به في ماله فينفقه في حقه ورجل آتاه الله علما ولم يؤته مالا فهو يقول لو كان لي مثل ما لهذا عملت فيه مثل الذي يعمل قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فهما في الأجر سواء ورجل آتاه الله مالا ولم يؤته علما فهو يخبط فيه ينفقه في غير حقه ورجل لم يؤته الله مالا ولا علما فهو يقول لو كان لي مال مثل هذا عملت فيه مثل الذي يعمل قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فهما في الوزر سواء) وأيضا كمن سعي في طريق المعصية ولكنه حال بينه وبين فعلها حائل وهكذا.
হারামহারামের শাব্দিক সংজ্ঞা:শায়খ বলেন, হারামের শাব্দিক অর্থ: নিষিদ্ধ বা বারণকৃত।
আল-জাওহারী আস-সিহাহ গ্রন্থে (হা-রা-মি) মূলধাতুর অধীনে বলেন: "সে তাকে কোনো কিছু থেকে বঞ্চিত করল, যখন সে তাকে তা থেকে নিষিদ্ধ করে।" সমাপ্ত।
এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: (এবং আমি আগে থেকেই তার জন্য ধাত্রীদের স্তন্যপান নিষিদ্ধ করেছিলাম) অর্থাৎ আমি তাকে তাদের থেকে বিরত রেখেছিলাম। এবং তিনি বলেছেন: (তিনি বললেন: তবে তা চল্লিশ বছর তাদের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে, তারা পৃথিবীতে বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াবে)। এবং তিনি বলেছেন: (নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করেছেন এবং তার আবাসন হবে জাহান্নাম; আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই)। এই অর্থের ওপর ভিত্তি করে আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
হারামের পারিভাষিক সংজ্ঞা:শায়খ বলেন: (শরয়ি বিধানদাতা বর্জনের আবশ্যকতা আরোপ করে যা নিষেধ করেছেন)।
তাঁর উক্তি: (যা তিনি নিষেধ করেছেন) এর মাধ্যমে এমন বিষয়গুলো বাদ পড়েছে যার আদেশ দেয়া হয়েছে, যেমন মুস্তাহাব ও ওয়াজিব। আর এমন বিষয়গুলোও বাদ পড়েছে যার মূলগতভাবে কোনো আদেশ বা নিষেধের সাথে সংশ্লিষ্টতা নেই, যেমন মুবাহ।
তাঁর উক্তি: (আবশ্যকতা আরোপ করে) এর মাধ্যমে মাকরূহ বাদ পড়েছে, কারণ মাকরূহ বর্জনের নির্দেশ চূড়ান্ত ও আবশ্যকীয় নয়, যেমনটি সামনে আলোচিত হবে।
আর এই সংজ্ঞার শেষে তাঁর উক্তি: (বর্জনের মাধ্যমে) এটি একটি অতিরিক্ত অংশ যার কোনো প্রয়োজন নেই এবং তা ছাড়াও সংজ্ঞাটি সঠিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকে। এটি নতুন কোনো অর্থ যোগ করে না, বরং এর অর্থ "যা তিনি নিষেধ করেছেন" কথাটির মধ্যেই নিহিত রয়েছে।
শায়খ বলেন: (হারাম বর্জনকারী আনুগত্যের উদ্দেশ্যে তা ছেড়ে দিলে সওয়াব লাভ করে এবং তা সম্পাদনকারী শাস্তির যোগ্য হয়)।
ফায়দা:কখনো মুকাল্লাফ (শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) হারামের কাজ বর্জন করেও শাস্তি পেতে পারে, আবার কখনো তা বর্জন করে সওয়াব বা শাস্তি কিছুই পায় না, আবার কখনো বর্জন করার কারণে সওয়াব লাভ করে:
প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে - যদি সে অপারগতার কারণে তা বর্জন করে, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে মাজাহ, আহমাদ এবং অন্যান্যদের বর্ণিত আবু কাবশাহ আল-আনমারী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসে বলেছেন: (এই উম্মতের উদাহরণ চার ব্যক্তির ন্যায়; এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ ও জ্ঞান দান করেছেন, সে তার সম্পদ নিয়ে কাজ করে এবং তা হকের পথে ব্যয় করে। আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ জ্ঞান দিয়েছেন কিন্তু সম্পদ দেননি, সে বলে যদি আমার কাছে এই ব্যক্তির মতো সম্পদ থাকত তবে আমি তার মতোই কাজ করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তারা সওয়াবের ক্ষেত্রে সমান। আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু জ্ঞান দেননি, সে তার সম্পদে অবিবেচকের মতো কাজ করে এবং তা অন্যায়ের পথে খরচ করে। আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদও দেননি, জ্ঞানও দেননি, সে বলে যদি আমার কাছে সম্পদ থাকত তবে আমি এই ব্যক্তির মতোই কাজ করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তারা উভয়েই পাপের ক্ষেত্রে সমান)। এবং অনুরূপভাবে ওই ব্যক্তি যে গুনাহের পথে অগ্রসর হয়েছে কিন্তু কোনো বাধা তার ও সেই গুনাহের মধ্যে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأما الثاني - كمن ترك فعله غافلا فلم يطرأ على باله مطلقا كرجل مشغول في دنياه فما فكر في يوم أن يشرب الخمر، أو إنه ما يعرف شيئا عن هذه المعصية فلم تطرأ على باله فهذا لا يثاب ولا يعاقب.
وأما الثالث فهي الحالة العامة ويشترط أن يتركه امتثالا.
أسماء المحرم:قال الشيخ: (يسمى: محظوراً أو ممنوعاً).
للمحرم أسماء كثيرة قال ابن النجار في شرح الكوكب (1/ 386): ("ويسمى" الحرام "محظورا وممنوعا ومزجورا ومعصية وذنبا وقبيحا وسيئة وفاحشة وإثما وحرجا وتحريجا وعقوبة". فتسميته محظورا من الحظر. وهو المنع. فيسمى الفعل بالحكم المتعلق به، وتسميته معصية للنهي عنه، وذنبا لتوقع المؤاخذة عليه، وباقي ذلك لترتبها على فعله).
المكروه
تعريف المكروه لغة:قال الشيخ: (المكروه لغة: المبغض).
قال الشيخ في شرح الأصول (ص/61): (المكروه اسم مفعول من كره بمعنى أبغض، ومنه قوله تعالى: (وَلَكِنْ كَرِهَ اللَّهُ انْبِعَاثَهُمْ فَثَبَّطَهُمْ) يعني: أبغضهم، فهو إذا في اللغة: المبغض سواء كان عينا أو وصفا أو عملا، فأي شيء تبغضه فهو مكروه عندك).
تعريف المكروه اصطلاحاً:قال الشيخ: (ما نهى عنه الشارع لا على وجه الإلزام بالترك).
قوله: (ما نهى عنه) خرج ما أمر به كالمندوب والواجب، وما لا يتعلق به أمر ولا نهي لذاته كالمباح.
وقوله: (لا على وجه الإلزام) أخرج المحرم لأن النهي عنه على سبيل الحتم واللزوم.
وكما سبق أن قيد بالترك زيادة لا داعي منها.
قال الشيخ: (المكروه: يثاب تاركه امتثالاً ولا يعاقب فاعله).
قال ابن النجار في "شرح الكوكب" (1/ 420) ما مختصره: ((ويقال لفاعله) أي فاعل المكروه (مخالف، ومسيء، وغير ممتثل) مع أنه لا يذم فاعله، ولا يأثم على الأصح. وظاهر كلام بعضهم: تختص الإساءة بالحرام. فلا يقال: أساء إلا لفعل محرم).
আর দ্বিতীয় প্রকার হচ্ছে- যে ব্যক্তি গাফেল বা উদাসীন হয়ে কোনো কাজ করা থেকে বিরত রইল, ফলে বিষয়টি তার মনেই আসেনি; যেমন এমন এক ব্যক্তি যে তার দুনিয়াবি কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে কোনোদিন মদ পান করার কথা চিন্তাই করেনি, অথবা সে এই গুনাহ সম্পর্কে কিছুই জানে না ফলে তা তার মনে উদিত হয়নি, তাকে সওয়াবও দেওয়া হবে না এবং শাস্তিও দেওয়া হবে না।
আর তৃতীয়টি হলো সাধারণ অবস্থা, আর এতে শর্ত হলো যে সে আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে সেটি বর্জন করবে।
হারামের নামসমূহ:শাইখ বলেন: (একে 'মাহযুর' বা 'মামনু' বলা হয়)।
হারামের অনেক নাম রয়েছে। ইবনু নাজ্জার 'শারহুল কাওকাব' (১/৩৮৬) গ্রন্থে বলেছেন: ("হারাম"-কে 'মাহযুর', 'মামনু', 'মাজজুর', 'মাসিয়াত', 'যানব', 'কাবিহ', 'সাইয়িআহ', 'ফাহিশাহ', 'ইসম', 'হারাজ', 'তাহরিজ' এবং 'উকুবাহ' বলা হয়। একে 'মাহযুর' বলা হয় 'হাযর' থেকে, যার অর্থ হলো নিষেধ। সুতরাং কাজটি যে বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট সেই নামেই নামকরণ করা হয়েছে। আর একে 'মাসিয়াত' বা নাফরমানি বলা হয় যেহেতু তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, 'যানব' বা গুনাহ বলা হয় এর ওপর শাস্তির আশঙ্কার কারণে, আর বাকি নামগুলো এর ওপর অর্পিত পরিণতির কারণে দেওয়া হয়েছে)।
মাকরুহ
আভিধানিক অর্থে মাকরুহের সংজ্ঞা:শাইখ বলেন: (আভিধানিক অর্থে মাকরুহ হলো: অপছন্দনীয়)।
শাইখ 'শারহুল উসুল' (পৃষ্ঠা ৬১) গ্রন্থে বলেন: (মাকরুহ শব্দটি 'কারিহা' থেকে 'ইসমুল মাফউল' বা কর্মবাচক বিশেষ্য, যার অর্থ হলো অপছন্দ করা। আল্লাহ তাআলার বাণী এ থেকেই এসেছে: "কিন্তু আল্লাহ তাদের অভিযানে বের হওয়া অপছন্দ করলেন, তাই তিনি তাদের নিবৃত্ত রাখলেন।" অর্থাৎ: তিনি তাদের অপছন্দ করলেন। সুতরাং আভিধানিক অর্থে এটি হলো অপছন্দনীয়, তা কোনো সত্তা হোক বা গুণ হোক কিংবা কাজ হোক; ফলে আপনি যা কিছু অপছন্দ করেন আপনার নিকট তাই মাকরুহ)।
পারিভাষিক অর্থে মাকরুহের সংজ্ঞা:শাইখ বলেন: (শরিয়ত প্রণেতা যা বর্জন করার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু তা ছেড়ে দেওয়াকে আবশ্যকীয় বা বাধ্যতামূলক করেননি)।
তার বক্তব্য: (যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে) এর মাধ্যমে যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা বাদ পড়েছে, যেমন মানদুব ও ওয়াজিব। আর যে কাজের মূল সত্তার সাথে কোনো নির্দেশ বা নিষেধ যুক্ত নেই তা-ও বাদ পড়েছে, যেমন মুবাহ।
আর তার বক্তব্য: (বাধ্যতামূলক নয়) এর মাধ্যমে হারাম বাদ পড়েছে, কারণ হারামের ক্ষেত্রে নিষেধটি সুনিশ্চিত ও বাধ্যতামূলক।
আর ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, 'বর্জন করার' শর্তটি যুক্ত করা একটি অতিরিক্ত বিষয় যার কোনো প্রয়োজন নেই।
শাইখ বলেন: (মাকরুহ হচ্ছে: যা বর্জনকারী আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে বর্জন করলে সওয়াব লাভ করবে, কিন্তু তা সম্পাদনকারীকে শাস্তি দেওয়া হবে না)।
ইবনু নাজ্জার 'শারহুল কাওকাব' (১/৪২০) গ্রন্থে সংক্ষেপে বলেছেন: ((এর সম্পাদনকারীকে বলা হয়) অর্থাৎ মাকরুহ সম্পাদনকারীকে বলা হয় (বিরোধিতাকারী, মন্দ কাজকারী এবং অবাধ্য), যদিও এর সম্পাদনকারী নিন্দিত হবে না এবং সঠিক মতানুযায়ী সে গুনাহগারও হবে না। কারো কারো বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হলো: মন্দ কাজ বা 'ইসাআত' বিষয়টি হারামের সাথে নির্দিষ্ট। সুতরাং হারাম কাজ ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে তাকে 'মন্দ কাজকারী' বলা যাবে না)।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المباح
تعريف المباح لغة:قال الشيخ: (المباح لغة: المعلن والمأذون به).
قال الشيخ في شرح الأصول (ص/64): والمباح لغة المعلن، كقولهم: أباح سرَّه أي أعلنه.
(والمأذون فيه) أي أذنت لك في الانتفاع به، مثل: أبحتك سيارتي هذه الليلة، وأبحتك بيتي لمدة شهر. أي أذنت لك في الانتفاع به.
تعريف المباح اصطلاحاً:قال الشيخ: (ما لا يتعلق به أمر ولا نهي لذاته).
قوله (ما لا يتعلق به أمر) خرج الواجب والمندوب.
قوله (أو نهي) خرج المحرم والمكروه.
قوله (لذاته) أي بقطع النظر عن أمر آخر، فلو نظرنا إلى تناول الطعام أو الشراب لحظ النفس فهو مباح ولكن إن كان للتقوي على الصوم فهو مندوب، وكذلك القيلولة لقوى على قيام الليل فهي مندوبة أيضا.
وأيضا بيع العنب مباح، ولكن إن كان لمن يعصره خمرا فهو محرم.
وعليه فالحكم على الفعل بالإباحة إنما يكون بالنظر إلى لذاته بقطع النظر عن أمر آخر.
وإن كان وسيلة لمحرم فهو محرم، وإن كان وسيلة لمكروه فهو مكروه، وإن كان وسيلة لواجب فهو واجب، وإن كان وسيلة لمندوب فهو مستحب.
أسماء المباح:قال الشيخ: (ويسمى: حلالاً، وجائزاً).
ومن أسماءه أيضا: المأذون فيه، الطِلْق.
الأحكام الوضعية
تعريف الأحكام الوضعية:قال الشيخ: (الأحكام الوضعية: ما وضعه الشارع من أمارات لثبوت، أو انتفاء، أو نفوذ، أو إلغاء).
قال الشيخ في شرح الأصول (ص/69): " ما وضعه الشارع من أمارات" أي علامات.
মুবাহআভিধানিক অর্থে মুবাহ-এর সংজ্ঞা:শায়খ বলেছেন: (আভিধানিক অর্থে মুবাহ হলো: যা প্রকাশ করা হয়েছে এবং যার অনুমতি দেওয়া হয়েছে)।
শায়খ শারহু আল-উসুল (পৃষ্ঠা/৬৪)-এ বলেছেন: আভিধানিক অর্থে মুবাহ হলো প্রকাশ করা, যেমন আরবদের কথা: 'সে তার গোপন কথা মুবাহ করেছে' অর্থাৎ প্রকাশ করেছে।
(এবং যার অনুমতি দেওয়া হয়েছে) অর্থাৎ আমি তোমাকে এটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি, যেমন: আমি তোমাকে আজ রাতে আমার গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি (মুবাহ) দিয়েছি, এবং এক মাসের জন্য আমার ঘর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি। অর্থাৎ আমি তোমাকে তা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি।
পারিভাষিক অর্থে মুবাহ-এর সংজ্ঞা:শায়খ বলেছেন: (স্বীয় সত্তার বিচারে যার সাথে কোনো আদেশ বা নিষেধ সম্পৃক্ত নয়)।
তাঁর উক্তি (যার সাথে কোনো আদেশ সম্পৃক্ত নয়) দ্বারা ওয়াজিব এবং মানদুব (মুস্তাহাব) বহির্ভূত হয়েছে।
তাঁর উক্তি (বা নিষেধ) দ্বারা হারাম এবং মাকরুহ বহির্ভূত হয়েছে।
তাঁর উক্তি (স্বীয় সত্তার বিচারে) অর্থাৎ অন্য কোনো বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে। সুতরাং আমরা যদি নফসের পরিতৃপ্তির জন্য খাদ্য বা পানীয় গ্রহণের দিকে তাকাই তবে তা মুবাহ, কিন্তু যদি তা রোজা রাখার শক্তি অর্জনের উদ্দেশ্যে হয় তবে তা মানদুব, তেমনি রাতের ইবাদতের শক্তি অর্জনের জন্য দুপুরের বিশ্রাম (কায়লুলা)-ও মানদুব।
অনুরূপভাবে আঙ্গুর বিক্রি করা মুবাহ, কিন্তু যদি তা এমন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয় যে তা দিয়ে মদ তৈরি করবে, তবে তা হারাম।
কাজেই, কোনো কাজের ওপর মুবাহ হওয়ার হুকুম কেবল তার নিজস্ব সত্তার দিকে তাকিয়েই প্রদান করা হয়, অন্য কোনো বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে।
আর যদি তা হারামের মাধ্যম হয় তবে তা হারাম, যদি মাকরুহের মাধ্যম হয় তবে মাকরুহ, যদি ওয়াজিবের মাধ্যম হয় তবে ওয়াজিব এবং যদি মানদুবের মাধ্যম হয় তবে তা মুস্তাহাব।
মুবাহ-এর নামসমূহ:শায়খ বলেছেন: (একে হালাল এবং জায়েজ-ও বলা হয়)।
এর অন্যান্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছে: আল-মা'যুন ফিহি (অনুমতিপ্রাপ্ত), আত-তিলক (উন্মুক্ত)।
আহকামে ওয়াদয়িইয়া (নির্ধারণী বিধানসমূহ)আহকামে ওয়াদয়িইয়ার সংজ্ঞা:শায়খ বলেছেন: (আহকামে ওয়াদয়িইয়া হলো: শারিয়াত প্রণেতা কোনো বিধান সাব্যস্ত হওয়া, না হওয়া, কার্যকর হওয়া বা বাতিল হওয়ার জন্য যেসকল আলামত নির্ধারণ করেছেন)।
শায়খ শারহু আল-উসুল (পৃষ্ঠা/৬৯)-এ বলেছেন: "শারিয়াত প্রণেতা যা আলামত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন" অর্থাৎ নিদর্শন বা চিহ্নসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قوله: (لثبوت، أو انتفاء، أو نفوذ، أو إلغاء) مثلا: كون الشهود رجلين، فهذا ثبوت، وإذا كان الشاهد قريبا للمشهود له، فهذا انتفاء، كذلك أيضا القرابة سبب للميراث يثبت به الإرث، واختلاف الدين ينتفي به الميراث.
قوله: (أو نفوذ، أو إلغاء) البيع
الصحيح يقول الشارع أنه نافذ، والبيع الفاسد يقول الشارع أنه ملغي).
تنبيهات وفوائد:وقفات مع تعريف الشيخ:
1 - من نظر في تعريف الشيخ يجد أنه ما سار على طريقة الأصوليين في تعريف الحكم الوضعي فكان الأولى أن يقول: (خطاب الله
… ).
2 - من دقق في التعريف المذكور يجد أنه غامض حيث لم يتبين من عبارة الشيخ أن هذه الأحكام الموضوعة من الشارع كعلامات لثبوت أو انتفاء أو نفوذ أو إلغاء ماذا؟! فمثلا إن قلنا أن هذه الأحكام الوضعية هي (ما وضعه الشارع من أمارات لثبوت) وسكتُ ثم قلتَ لي: لثبوت ماذا؟ لكان سؤالك متجها، وجوابه لثبوت الحكم، وعليه فالأولى إضافته للتعريف فيقال: (ما وضعه الشارع من أمارات لثبوت الحكم الشرعي، أو انتفاءه، أو نفوذه، أو إلغاءه).
3 - ذكر الشيخ كلمة (ما وضع) في تعريفه للحكم الوضعي مما يلزم منه الدَّوْر.
وعلى ذلك فالأولى في صياغة تعريف الشيخ أن نقول: (خطاب الله الدال على ثبوت الحكم، أو انتفاءه، أو نفوذه، أو إلغاءه)، وهذا التعريف غير جامع فلم تدخل فيه بعض أنواع الحكم الوضعي الأخرى: كالرخصة، والعزيمة، والقضاء، والآداء، والإعادة، وإن كان في بعضها خلاف في عدِّه من الخطاب الوضعي، وقد يجاب عن ذلك بأنه اقتصر على الأسباب والشروط والموانع لكونها كليات الحكم الوضعي المتفق عليها.
الصحيح
تعريف الصحيح لغة:قال الشيخ: (الصحيح لغة: السليم من المرض).
قال ابن منظور في لسان العرب مادة (ص ح ح): الصُّحُّ والصِّحَّةُ والصَّحاحُ: خلافُ السُّقْمِ، وذهابُ المرض؛ وقد صَحَّ فلان من علته واسْتَصَحَّ).
تعريف الصحيح اصطلاحاً:
তাঁর উক্তি: (সাব্যস্ত হওয়া, বা না হওয়া, বা কার্যকর হওয়া, বা বাতিল হওয়া) উদাহরণস্বরূপ: সাক্ষীর সংখ্যা দুইজন হওয়া, এটি সাব্যস্ত হওয়া। আর যদি সাক্ষী যার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে তার নিকটাত্মীয় হয়, তবে এটি না হওয়া। একইভাবে আত্মীয়তা উত্তরাধিকারের কারণ যার মাধ্যমে উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হয়, আর ধর্মের ভিন্নতার কারণে উত্তরাধিকার বাতিল হয়ে যায়।
তাঁর উক্তি: (বা কার্যকর হওয়া, বা বাতিল হওয়া) সহীহ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে শারী‘আত প্রণেতা বলেন যে এটি কার্যকর, আর ফাসিদ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে শারী‘আত প্রণেতা বলেন যে এটি বাতিল।
সতর্কতা ও উপকারিতা:শাইখের সংজ্ঞার ওপর কিছু পর্যালোচনা:
১ - যে ব্যক্তি শাইখের সংজ্ঞার দিকে দৃষ্টিপাত করবে সে দেখতে পাবে যে, তিনি হুকুম ওয়াদঈর সংজ্ঞায় উসুলবিদগণের পদ্ধতি অনুসরণ করেননি। তাই এটি বলাই অধিকতর উত্তম ছিল যে: (আল্লাহর বাণী
… )।
২ - যে ব্যক্তি উল্লিখিত সংজ্ঞার ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা করবে সে একে অস্পষ্ট পাবে, কারণ শাইখের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট হয়নি যে শারী‘আত প্রণেতা কর্তৃক নির্ধারিত এই হুকুমগুলো কিসের সাব্যস্ত হওয়া, না হওয়া, কার্যকর হওয়া বা বাতিল হওয়ার চিহ্ন হিসেবে কাজ করে?! উদাহরণস্বরূপ আমরা যদি বলি যে এই হুকুম ওয়াদঈ হলো (যা শারী‘আত প্রণেতা সাব্যস্ত হওয়ার আলামত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন) এবং এরপর আমি চুপ হয়ে গেলাম, তবে আপনি আমাকে বলবেন: কিসের সাব্যস্ত হওয়ার জন্য? আপনার প্রশ্নটি তখন সংগত হতো, আর এর উত্তর হতো হুকুম সাব্যস্ত হওয়ার জন্য। অতএব সংজ্ঞায় একে যুক্ত করাটাই অধিকতর উত্তম, এভাবে বলা: (যা শারী‘আত প্রণেতা শরয়ী হুকুম সাব্যস্ত হওয়া, বা না হওয়া, বা কার্যকর হওয়া, বা বাতিল হওয়ার আলামত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন)।
৩ - শাইখ হুকুম ওয়াদঈর সংজ্ঞায় 'যা নির্ধারণ করেছেন' শব্দটি উল্লেখ করেছেন যা থেকে 'দাওর' (চক্রাকার ত্রুটি) অনিবার্য হয়ে পড়ে।
আর এই কারণে শাইখের সংজ্ঞার বিন্যাসে এটি বলাই অধিকতর উত্তম যে: (আল্লাহর বাণী যা হুকুম সাব্যস্ত হওয়া, বা না হওয়া, বা কার্যকর হওয়া, বা বাতিল হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে), তবে এই সংজ্ঞাটি 'জামে' (সর্বব্যাপী) নয়, কারণ এতে হুকুম ওয়াদঈর অন্যান্য প্রকারগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়নি: যেমন রুখসাত, আযীমত, কাযা, আদা এবং ই'আদাহ (পুনরাবৃত্তি)। যদিও এগুলোর কয়েকটিকে হুকুম ওয়াদঈর অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। তবে এর উত্তর এভাবে দেওয়া যেতে পারে যে, তিনি কেবল কারণ (সবব), শর্ত এবং প্রতিবন্ধকসমূহের (মানি') ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন যেহেতু এগুলো হুকুম ওয়াদঈর সর্বসম্মত মৌলিক বিষয়।
সহীহ (সঠিক)
আভিধানিক অর্থে সহীহ-এর সংজ্ঞা:শাইখ বলেন: (আভিধানিক অর্থে সহীহ হলো: রোগমুক্ত বা সুস্থ)।
ইবনে মানযুর 'লিসানুল আরব'-এর 'সা-হা-হা' মূলধাতুর পরিচ্ছেদে বলেন: সুহহ্, সিহহাত এবং সাহাহ হলো অসুস্থতার বিপরীত এবং রোগ দূর হওয়া; আর অমুক ব্যক্তি তার অসুস্থতা থেকে সুস্থ হয়েছে।
পারিভাষিক অর্থে সহীহ-এর সংজ্ঞা:
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قال الشيخ: (ما ترتبت آثار فعله عليه).
قال في الشرح (ص/70): (فكل شيء تترتب آثار فعله عليه فهو الصحيح، سواء أكان عبادة، أو معاملة، أو عقدًا، فكل شيء تترتب آثاره عليه فهو الصحيح).
وأكد ذلك الشيخ بقوله: (فالصحيح من العبادات: ما برئت به الذمة وسقط به الطلب.
والصحيح من العقود: ما ترتب آثاره على وجوده، كترتب الملك على عقد البيع مثلاً)
ثم أخذ يبين متى يكون الشيء صحيحا فقال: (ولا يكون الشيء صحيحاً إلا بتمام شروطه وانتفاء موانعه).
ومثل لذلك في "الأصل" (1) فقال (ص/72): (مثال ذلك في العبادات: أن يأتي بالصلاة في وقتها تامة شروطها وأركانها وواجباتها.
ومثال ذلك في العقود: أن يعقد بيعًا تامًا شروطه المعروفة مع انتفاء موانعه. فإن فقد شرط من الشروط أو وجد مانع من الموانع امتنعت الصحة.
مثال فقد الشرط في العبادة: أن يصلي بلا طهارة.
ومثال فقد الشرط في العقد: أن يبيع مالا يملك.
ومثال وجود المانع في العبادة: أن يتطوع بنفل مطلق في وقت النهي.
ومثال وجود المانع في العقد: أن يبيع من تلزمه الجمعة شيئاً بعد ندائها الثاني على وجه لا يباح).
فائدة - الفرق بين الصحة والقبول:ذكر ابن النجار في شرح الكوكب (1/ 469) الأقوال في ذلك ثم قال: (قال ابن العراقي - وهو ولي الدين أبو زرعة ابن الحافظ العراقي الشافعي -: ظهر لي في الأحاديث التي نفي فيها القبول ولم تنتف معه الصحة - كصلاة شارب الخمر ونحوه- أنا ننظر فيما نفي، فإن قارنت ذلك الفعل معصية، - كحديث شارب الخمر ونحوه-؛ انتفى، القبول. أي الثواب، لأن إثم المعصية أحبطه، وإن لم تقارنه معصية. كحديث: "لا صلاة إلا بطهور" ونحوه، فانتفاء القبول سببه انتفاء الشرط، وهو الطهارة ونحوها، ويلزم من عدم الشرط عدم المشروط. انتهى). وهو الراجح من الأقوال في المسألة.
--------------------------------------------
শাইখ বলেছেন: (যার কার্যের ফলাফল তার ওপর আপতিত হয়)।
তিনি ব্যাখ্যাগ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ৭০) বলেছেন: (সুতরাং প্রতিটি বিষয় যার কার্যের ফলাফল তার ওপর আপতিত হয় তাই সহিহ, চাই তা ইবাদত হোক, বা মুয়ামালাত (লেনদেন) হোক, অথবা চুক্তি হোক; সুতরাং যারই ফলাফল তার ওপর আপতিত হয় তাই সহিহ)।
শাইখ এটি নিশ্চিত করে তার বক্তব্যে বলেছেন: (ইবাদতের ক্ষেত্রে সহিহ হলো: যার মাধ্যমে জিম্মাদারি মুক্ত হয় এবং দাবি রহিত হয়।
আর চুক্তির ক্ষেত্রে সহিহ হলো: যার অস্তিত্বের ওপর তার ফলাফল আপতিত হয়, যেমন উদাহরণস্বরূপ বিক্রয় চুক্তির ওপর মালিকানা সাব্যস্ত হওয়া)
এরপর তিনি বর্ণনা করতে শুরু করলেন যে কখন একটি বিষয় সহিহ হবে, তিনি বললেন: (কোনো কিছুই সহিহ হবে না যতক্ষণ না তার শর্তাবলি পূর্ণ হবে এবং প্রতিবন্ধকসমূহ দূর হবে)।
আর তিনি "আসল" (মূল গ্রন্থ) (১)-এ এর উদাহরণ দিয়ে (পৃষ্ঠা: ৭২) বলেছেন: (ইবাদতের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো: সালাতকে তার নির্ধারিত সময়ে তার শর্তাবলি, রুকনসমূহ এবং ওয়াজিবসমূহ পূর্ণ করে আদায় করা।
আর চুক্তির ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো: পরিচিত শর্তাবলি পূর্ণ করে এবং প্রতিবন্ধকসমূহ দূর করে একটি বিক্রয় চুক্তি সম্পন্ন করা। যদি শর্তাবলির কোনো একটি শর্ত অনুপস্থিত থাকে অথবা প্রতিবন্ধকসমূহের কোনো একটি বিদ্যমান থাকে, তবে সহিহ হওয়া ব্যাহত হবে।
ইবাদতের ক্ষেত্রে শর্ত অনুপস্থিত থাকার উদাহরণ: পবিত্রতা ছাড়াই সালাত আদায় করা।
চুক্তির ক্ষেত্রে শর্ত অনুপস্থিত থাকার উদাহরণ: নিজের মালিকানাধীন নয় এমন কিছু বিক্রয় করা।
ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক উপস্থিত থাকার উদাহরণ: নিষিদ্ধ সময়ে সাধারণ নফল সালাত আদায় করা।
চুক্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক উপস্থিত থাকার উদাহরণ: যার ওপর জুমুআ ফরজ তার পক্ষ থেকে জুমুআর দ্বিতীয় আজানের পর এমনভাবে কোনো কিছু বিক্রয় করা যা বৈধ নয়)।
ফায়দা - সহিহ হওয়া এবং কবুল হওয়ার মধ্যে পার্থক্য:ইবনুন নাজ্জার 'শারহুল কাওকাব' (১/ ৪৬৯)-এ এই বিষয়ে বিভিন্ন মত উল্লেখ করেছেন, এরপর তিনি বলেছেন: (ইবনুল ইরাকি - তিনি হলেন হাফেজ ইরাকির পুত্র শাফেয়ি মাজহাবের ওলিউদ্দিন আবু জুরআ - বলেছেন: ঐ সকল হাদিসের ক্ষেত্রে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যাতে কবুল হওয়াকে অস্বীকার করা হয়েছে কিন্তু বৈধতা (সহিহ হওয়া) অস্বীকার করা হয়নি - যেমন মদ্যপায়ীর সালাত ও তদ্রূপ বিষয়গুলো - যে আমরা দেখব সেখানে কী অস্বীকার করা হয়েছে; যদি সেই কর্মের সাথে কোনো গুনাহ যুক্ত থাকে - যেমন মদ্যপায়ীর হাদিস ও তদ্রূপ - তবে কবুল হওয়া অস্বীকার করা হয়েছে, অর্থাৎ সাওয়াব, কারণ গুনাহের পাপ তাকে নষ্ট করে দিয়েছে। আর যদি তার সাথে কোনো গুনাহ যুক্ত না থাকে - যেমন "পবিত্রতা ছাড়া কোনো সালাত নেই" শীর্ষক হাদিস ও তদ্রূপ - তবে কবুল না হওয়ার কারণ হলো শর্ত অনুপস্থিত থাকা, আর তা হলো পবিত্রতা বা এই জাতীয় কিছু; আর শর্ত না থাকলে শর্তযুক্ত বিষয়ও (সালাত) অনুপস্থিত থাকা আবশ্যক হয়। সমাপ্ত)। আর এই মাসআলায় এটিই অগ্রগণ্য মত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الشرط والسبب والمانع:أشار الشيخ في الأصل إلى السبب والشرط والمانع، وفي الشرح توسع بعض الشيء في الكلام عليهم.
الشرط عرفه ابن النجار بقوله: (ما يلزم من عدمه العدم ولا يلزم من وجوده وجود ولا عدم لذاته) ويزاد عليه قيد (وكان خارجا عن حقيقة الشيء).فمثلا الوضوء شرط لصحة الصلاة عدم وجوده يلزم منه عدم صحة الصلاة ووجوده لا يلزم منه صحة ولا فساد للصلاة لاحتمال وجود مانع من الصحة غيره.
وأما القيد الأخير فللتفرقة بين الشرط والركن فالركن داخل ماهية الشيء فقراءة الفاتحة ركن من الصلاة بخلاف الوضوء فهو شرط لصحتها.
والسبب عرفه ابن النجار بقوله: (ما يلزم من وجوده الوجود ويلزم من عدمه العدم لذاته).
ومثاله السفر لإباحة الفطر والإسكار لتحريم الخمر والصغر للحجر والولاية عليه، وكالهلال لصيام رمضان والزوال لوجوب الظهر.
والقيد الأخير احترازا مما لو قارن السبب فقدان الشرط، أو وجود المانع كالنصاب قبل تمام الحول، أو مع وجود الدين، فإنه لا" يلزم من وجوده الوجود، لكن لا لذاته، بل لأمر خارج عنه، وهو انتفاء الشرط ووجود المانع.
والمانع: عرفه ابن النجار بقوله: (ما يلزم من وجوده العدم، ولا يلزم من عدمه وجود ولا عدم) ويضاف قيد لذاته احترازا من عدم وجود السبب.
والمنع ينقسم لمانع دوام كالطلاق للنكاح، ومانع ابتداء كالإحرام للنكاح، ومانع دوام وابتداء كالرضاعة للنكاح.
الفاسد
تعريف الفاسد لغة:قال الشيخ: (الذاهب ضياعاً وخسراً).
الفساد نقيض الصلاح، قال الشيخ في شرح الأصول (ص/79): (كل شيء لا يستفاد منه فإنه يسمى في اللغة فاسدا، لو تغير طعم التمر قيل: هذا تمر فاسد؛ لأنه ضاع وخسره الإنسان).
تعريف الفاسد اصطلاحاً:
শর্ত, কারণ এবং প্রতিবন্ধক:শেখ মূল গ্রন্থে কারণ, শর্ত এবং প্রতিবন্ধকের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, এবং ব্যাখ্যায় (শারহ্) তিনি এগুলোর আলোচনায় কিছুটা বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন।
ইবনুন নাজ্জার 'শর্ত'-এর সংজ্ঞায় বলেছেন: (শর্ত এমন বিষয় যার অনুপস্থিতি অনুপস্থিতিকে আবশ্যক করে, কিন্তু এর উপস্থিতি তার সত্তাগত কারণে উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিকে আবশ্যক করে না) এবং এর সাথে অতিরিক্ত একটি শর্ত যোগ করা হয় যে (তা বিষয়ের মূল সত্তার বহির্ভূত হতে হবে)। উদাহরণস্বরূপ, সালাত শুদ্ধ হওয়ার জন্য অজু একটি শর্ত। অজুর অনুপস্থিতি সালাত অশুদ্ধ হওয়াকে আবশ্যক করে, কিন্তু অজুর উপস্থিতির কারণে সালাত শুদ্ধ বা ফাসাদ (নষ্ট) হওয়া আবশ্যক হয় না, কারণ অজু ছাড়া সালাত শুদ্ধ হওয়ার পথে অন্য কোনো প্রতিবন্ধক বিদ্যমান থাকার সম্ভাবনা থাকে।
আর শেষোক্ত শর্তটি (সত্তার বহির্ভূত হওয়া) মূলত শর্ত এবং রুকনের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য। কেননা রুকন বিষয়ের মূল সত্তার অন্তর্ভুক্ত; যেমন সূরা ফাতিহা পাঠ করা সালাতের একটি রুকন, পক্ষান্তরে অজু হলো সালাত শুদ্ধ হওয়ার একটি শর্ত।
ইবনুন নাজ্জার 'সাবাব' বা কারণের সংজ্ঞায় বলেছেন: (যার উপস্থিতি উপস্থিতিকে এবং যার অনুপস্থিতি অনুপস্থিতিকে তার সত্তাগত কারণেই আবশ্যক করে)।
এর উদাহরণ হলো: রোজা ভঙ্গের বৈধতার জন্য সফর, মদ হারামের জন্য মাদকতা, অভিভাবকত্ব ও সম্পদের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপের জন্য অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, রমজানের রোজার জন্য নতুন চাঁদ এবং জোহরের ওয়াজিব হওয়ার জন্য সূর্য ঢলে পড়া।
শেষোক্ত অংশটি (তার সত্তাগত কারণে) সতর্কতাস্বরূপ যোগ করা হয়েছে যাতে যদি কারণের সাথে শর্তের অনুপস্থিতি বা প্রতিবন্ধকের উপস্থিতি যুক্ত হয়, তবে হুকুম কার্যকর হবে না। যেমন বছর পূর্ণ হওয়ার আগে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা, অথবা ঋণ থাকা অবস্থায় নিসাব পূর্ণ হওয়া। এক্ষেত্রে নিসাবের উপস্থিতি (হুকুমের) উপস্থিতিকে আবশ্যক করে না, তবে তা তার নিজের কারণে নয়, বরং বহির্ভূত কোনো বিষয়ের কারণে, যা হলো শর্তের অনুপস্থিতি বা প্রতিবন্ধকের উপস্থিতি।
'মানি' বা প্রতিবন্ধকের সংজ্ঞায় ইবনুন নাজ্জার বলেন: (যার উপস্থিতি অনুপস্থিতিকে আবশ্যক করে, কিন্তু এর অনুপস্থিতি উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি কোনোটিকেই আবশ্যক করে না) এবং এর সাথে সতর্কতাস্বরূপ 'তার সত্তাগত কারণে' কথাটি যোগ করা হয় যাতে কারণের অনুপস্থিতির বিষয়টি এর অন্তর্ভুক্ত না হয়।
প্রতিবন্ধক কয়েক ভাগে বিভক্ত; যেমন: স্থায়িত্বের প্রতিবন্ধক—যেমন বিবাহের জন্য তালাক; সূচনার প্রতিবন্ধক—যেমন বিবাহের জন্য ইহরাম অবস্থা; এবং স্থায়িত্ব ও সূচনা উভয়ের জন্য প্রতিবন্ধক—যেমন বিবাহের জন্য দুগ্ধপান সম্পর্ক।
ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ/বাতিল)অভিধানের আলোকে ফাসিদের সংজ্ঞা:শেখ বলেছেন: (বিনষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হারিয়ে যাওয়া)।
ফাসাদ বা পচন হলো কল্যাণের বিপরীত। শেখ 'শারহুল উসুল'-এ (পৃষ্ঠা-৭৯) বলেছেন: (যে জিনিস দ্বারা কোনো উপকার পাওয়া যায় না, অভিধানে তাকেই ফাসিদ বলা হয়। যদি খেজুরের স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে বলা হয়: এটি একটি ফাসিদ (নষ্ট) খেজুর; কারণ এটি বিনষ্ট হয়েছে এবং মানুষ তা হারিয়েছে)।
পারিভাষিক সংজ্ঞায় ফাসিদ:
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال الشيخ: (ما لا تترتب آثار فعله عليه).
ومن فهم الصحيح ظهر له وجه هذا التعريف وهو واضح فكل مالا يترتب عليه آثاره فهو فاسد سواء كان من العبادات كمن صلى بغير وضوء، أو في المعاملات كمن باع ما لا يملك ونحو ذلك.
ومعنى عدم ترتب الآثار عليه (بيع المجهول مثلا) عدم انتقال الملك إلى المشتري، ولا يباح له انتفاعه بالمبيع، ولا يتصرف فيه، ولا يتملك البائع الثمن وهكذا.
كل فاسد محرم.
قال الشيخ: (وكل فاسد من العبادات والعقود والشروط فإنه محرم).
وهنا قاعدة هامة أن كل فاسد محرم؛ لأن الفساد إنما جاء من نهي الشارع عن هذا الفعل، فطالما أنه فاسد فلابد وأن يكون منهيا عنه ومحرما. والكلام ينسحب على الفرق بين
الفاسد والباطل.
الفاسد والباطل.
قال الشيخ: (والفاسد والباطل بمعنى واحد إلا في موضعين:
الأول: في الإحرام فرقوا بينهما بأن الفاسد ما وطئ فيه المحرم قبل التحلل الأول، والباطل ما ارتد فيه عن الإسلام.
الثاني: في النكاح فرقوا بينهما بأن الفاسد ما اختلف العلماء في فساده كالنكاح بلا ولي، والباطل ما أجمعوا على بطلانه كنكاح المعتدة).
قال المرداوي في التحبير (3/ 1110) بعد أن ذكر مذهب الأحناف بالتفريق بين الفاسد والباطل: (قال بعض أصحابنا: (لم يفرق الأصحاب في صورة من الصور بين الفاسد والباطل في المنهي عنه، وإنما فرقوا بينهما في مسائل لدليل) انتهى (1). قلت: غالب المسائل التي حكموا عليها بالفساد، إذا كانت مختلفا فيها بين العلماء، والتي حكموا عليها بالبطلان إذا كانت مجمعا عليها، أو الخلاف فيها شاذ. ثم وجدت بعض أصحابنا قال: (الفاسد من النكاح: ما يسوغ فيه الاجتهاد، والباطل: ما كان مجمعا على بطلانه. وعبر
طائفة من أصحابنا بالباطل عن النكاح الذي يسوغ فيه الاجتهاد أيضا).
--------------------------------------------
শাইখ বলেছেন: (যার কার্যের প্রতিক্রিয়া এর উপর বর্তায় না)।
সহীহ (সঠিক)-এর অর্থ যে বুঝতে পেরেছে, তার নিকট এই সংজ্ঞার দিকটি স্পষ্ট হয়ে গেছে। আর এটি সুস্পষ্ট যে, যার প্রতিক্রিয়া বা ফলাফল এর ওপর বর্তায় না, তা-ই ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ); চাই তা ইবাদতের ক্ষেত্রে হোক—যেমন অজু ছাড়া সালাত আদায়কারী, অথবা লেনদেনের ক্ষেত্রে হোক—যেমন যে ব্যক্তি এমন কিছু বিক্রি করল যা তার মালিকানাধীন নয় এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
এর ওপর প্রতিক্রিয়া বা ফলাফল না বর্তানোর অর্থ হলো (যেমন অজ্ঞাত বস্তু বিক্রয়): ক্রেতার নিকট মালিকানা হস্তান্তরিত না হওয়া, তার জন্য বিক্রিত বস্তু থেকে উপকৃত হওয়া বৈধ না হওয়া, সে এতে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করতে না পারা এবং বিক্রেতা মূল্যের মালিক না হওয়া ইত্যাদি।
প্রত্যেক ফাসিদ বিষয়ই হারাম।
শাইখ বলেছেন: (ইবাদত, চুক্তি এবং শর্তাবলির মধ্যে যা কিছুই ফাসিদ, তা হারাম)।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি এই যে, প্রত্যেক ফাসিদ বিষয়ই হারাম; কারণ ফাসিদ হওয়া বা ত্রুটিযুক্ত হওয়া তো কেবল এই কাজের প্রতি শারিয়াতদাতার নিষেধ থেকেই এসেছে। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত এটি ফাসিদ, ততক্ষণ অবশ্যই এটি নিষিদ্ধ এবং হারাম হতে হবে। আর এই আলোচনাটি ফাসিদ এবং বাতিলের মধ্যকার পার্থক্যের দিকেও ধাবিত হয়।
ফাসিদ এবং বাতিল।
শাইখ বলেছেন: (দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত ফাসিদ এবং বাতিল একই অর্থে ব্যবহৃত হয়:
প্রথমত: ইহরামের ক্ষেত্রে; তারা এ দুটির মাঝে পার্থক্য করেছেন এভাবে যে, ফাসিদ হলো যাতে মুহরিম (ইহরামকারী) প্রথম হালাল হওয়ার পূর্বে সহবাস করে ফেলে, আর বাতিল হলো যাতে সে ইসলাম থেকে ধর্মত্যাগী হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত: বিবাহের ক্ষেত্রে; তারা এ দুটির মাঝে পার্থক্য করেছেন এভাবে যে, ফাসিদ হলো যার অবৈধ হওয়ার ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন যেমন অভিভাবক ছাড়া বিবাহ, আর বাতিল হলো যার অবৈধ হওয়ার ব্যাপারে তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যেমন ইদ্দত পালনকারী নারীর বিবাহ)।
আল-মারদাওয়ি আত-তাহবির (৩/ ১১১০) গ্রন্থে ফাসিদ ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে হানাফি মাযহাব উল্লেখ করার পর বলেছেন: (আমাদের কিছু সঙ্গী বলেছেন: আমাদের সাথীরা নিষিদ্ধ বিষয়ের কোনো একটি সুরতেও ফাসিদ ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য করেননি, বরং তারা কেবল দলিলের কারণে কিছু মাসআলায় এ দুটির মাঝে পার্থক্য করেছেন) সমাপ্ত (১)। আমি বলি: আলেমদের নিকট যে মাসআলাগুলো মতভেদপূর্ণ, সেগুলোর ওপর তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফাসিদ হওয়ার হুকুম দিয়েছেন। আর যে মাসআলাগুলোর ওপর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অথবা যেখানে মতভেদ অত্যন্ত বিরল, সেগুলোর ওপর তারা বাতিল হওয়ার হুকুম দিয়েছেন। অতঃপর আমি আমাদের কিছু সঙ্গীকে বলতে দেখেছি: (বিবাহের ক্ষেত্রে ফাসিদ হলো: যাতে ইজতিহাদের অবকাশ থাকে, আর বাতিল হলো: যার অসারতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে। আমাদের একদল আলিম ইজতিহাদের অবকাশ রয়েছে এমন বিবাহকেও বাতিল শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
كلام ابن رجب في المسألة:قال ابن رجب في القواعد (ص/12) ما ملخصه: ((القاعدة التاسعة): في العبادات الواقعة على وجه محرم ، إن كان التحريم عائدا إلى ذات العبادة على وجه يختص بها لم يصح ، وإن كان عائدا إلى شرطها فإن كان على وجه يختص بها فكذلك أيضا ، وإن كان - أي الشرط - لا يختص بها ففي الصحة روايتان أشهرهما عدمها (1) ، وإن عاد إلى ما ليس بشرط فيها ففي الصحة وجهان واختار أبو بكر عدم الصحة وخالفه الأكثرون فللأول أمثلة كثيرة: (منها) صوم يوم العيد فلا يصح بحال على المذهب
… وللثاني أمثلة كثيرة: (منها) الصلاة بالنجاسة وبغير سترة وأشباه ذلك وللثالث أمثلة كثيرة: (منها) الوضوء بالماء المغصوب (ومنها) الصلاة في الثوب المغصوب والحرير وفي الصحة روايتان
… ومنها الصلاة في البقعة المغصوبة وفيها الخلاف
… وللرابع أمثلة منها الوضوء من الإناء المحرم ومنها صلاة من عليه عمامة غصب أو حرير أو في يده خاتم ذهب وفي ذلك كله وجهان
… ).
العلم
تعريف العلم:قال الشيخ: (العلم: إدراك الشيء على ما هو عليه إدراكاً جازماً).
معنى التعريف أن العلم هو أن ندرك ونحيط بالشيء على حقيقته يعني إدراكا مطابقا له جازما بلا شك.
وقد وضح الشيخ أن كلمة الشيء عام أريد به الخصوص يعني ما يصلح لأن يدرك فلا يدخل فيها حقيقة صفات الله عز وجل ولا حقيقة ذاته وأهل السنة تفوض في الكيف دون المعنى فتثبت لله صفات لها كيف ومعنى ولكنها لا تعرف حقيقة هذا الكيف.
فخرج بقوله (إدراك الشيء) عدم إدراكه بالكلية ويسمى الجهل البسيط كمن تسأله متى غزوة بدر فيقول: لا أدري.
وخرج بقوله (على ما هو عليه) إدراكه على وجه مخالف لما هو عليه ويسمى الجهل
المركب كمن تسأله متى غزوة بدر فيقول في السنة الثالثة للهجرة فهذا جهل مركب لأن
--------------------------------------------
এই বিষয়ে ইবনে রজবের বক্তব্য:ইবনে রজব আল-কাওয়ায়েদ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১২) এর সারসংক্ষেপ এভাবে বলেছেন: ((নবম নীতি): নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে সম্পাদিত ইবাদত সম্পর্কে। যদি নিষেধাজ্ঞা ইবাদতের সত্তার সাথে এমনভাবে সংশ্লিষ্ট হয় যা তার জন্য নির্দিষ্ট, তবে তা সহীহ হবে না। আর যদি নিষেধাজ্ঞা ইবাদতের শর্তের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় এবং তা যদি ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট হয়, তবে সেক্ষেত্রেও তা সহীহ হবে না। আর যদি শর্তটি—অর্থাৎ সেই শর্তটি—ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট না হয়, তবে এর বৈধতার ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধটি হলো তা সহীহ না হওয়া (১)। আর যদি নিষেধাজ্ঞা এমন কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট হয় যা ইবাদতের শর্ত নয়, তবে এর বৈধতার ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে; আবু বকর একে সহীহ না হওয়ার মতটি গ্রহণ করেছেন, তবে অধিকাংশ আলেম তাঁর বিরোধিতা করেছেন। প্রথমটির অনেক উদাহরণ রয়েছে: (তার মধ্যে একটি হলো) ঈদের দিনে রোজা রাখা, যা মাযহাব অনুযায়ী কোনোভাবেই সহীহ নয়
... দ্বিতীয়টির অনেক উদাহরণ রয়েছে: (তার মধ্যে একটি হলো) নাপাকি অবস্থায় নামাজ পড়া এবং সুতরা ব্যতীত নামাজ পড়া ইত্যাদি। তৃতীয়টির অনেক উদাহরণ রয়েছে: (তার মধ্যে একটি হলো) জবরদখলকৃত পানি দিয়ে অজু করা (এবং আরও একটি হলো) জবরদখলকৃত কাপড় বা রেশমি কাপড় পরে নামাজ পড়া; এ ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে
... এর মধ্যে আরও রয়েছে জবরদখলকৃত স্থানে নামাজ পড়া, যাতে মতভেদ বিদ্যমান
... চতুর্থটির অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেমন: নিষিদ্ধ পাত্র থেকে অজু করা এবং এমন ব্যক্তির নামাজ যার মাথায় জবরদখলকৃত পাগড়ি বা রেশমি কাপড় আছে অথবা তার হাতে সোনার আংটি আছে; এ সবকটিতেই দুটি মত রয়েছে
... )।
ইলম (জ্ঞান)ইলমের সংজ্ঞা:শায়খ বলেছেন: (ইলম হলো: কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত বাস্তবতায় সুদৃঢ়ভাবে উপলব্ধি করা)।
সংজ্ঞার অর্থ হলো, ইলম বা জ্ঞান হচ্ছে কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত রূপ অনুযায়ী উপলব্ধি করা এবং আয়ত্তে আনা। অর্থাৎ, এমন এক উপলব্ধি যা বাস্তবতার সাথে হুবহু মিলে যায় এবং যাতে কোনো সন্দেহ থাকে না।
শায়খ স্পষ্ট করেছেন যে, 'বস্তু' বা 'বিষয়' শব্দটি এখানে ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হলেও তা দ্বারা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ যা উপলব্ধি করা সম্ভব। সুতরাং মহান আল্লাহর গুণাবলির প্রকৃত ধরণ (কাইফিয়াত) এবং তাঁর সত্তার প্রকৃত স্বরূপ এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। আহলুস সুন্নাহ গুণাবলির অর্থের ক্ষেত্রে নয় বরং এর ধরণের (কাইফিয়াত) ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর সোপর্দ (তাফবীজ) করেন। তারা আল্লাহর জন্য এমন সব গুণাবলি সাব্যস্ত করেন যেগুলোর ধরণ ও অর্থ রয়েছে, কিন্তু তারা সেই ধরণের প্রকৃত স্বরূপ জানেন না।
অতএব, (বিষয়টি উপলব্ধি করা) কথাটি দ্বারা কোনো কিছু একেবারেই উপলব্ধি না করা বা না জানা বাদ পড়ে গেল, যাকে 'জাহলে বাসীত' (সাধারণ অজ্ঞতা) বলা হয়। যেমন কোনো ব্যক্তিকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় 'বদর যুদ্ধ কখন হয়েছিল?' আর সে উত্তরে বলে: 'আমি জানি না'।
আর (তার প্রকৃত বাস্তবতায়) কথাটি দ্বারা কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত বাস্তবতার বিপরীতভাবে উপলব্ধি করা বাদ পড়ে গেল, যাকে 'জাহলে মুরাক্কাব' (জটিল অজ্ঞতা) বলা হয়। যেমন কোনো ব্যক্তিকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় 'বদর যুদ্ধ কখন হয়েছিল?' আর সে বলে 'হিজরি তৃতীয় সনে'। এটি হলো জাহলে মুরাক্কাব, কারণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
صاحبه جاهل وجاهل أنه جاهل.
وخرج بقوله: (إدراكاً جازماً) إدراك الشيء إدراكاً غير جازم بحيث يحتمل عنده أن يكون على غير الوجه الذي أدركه فلا يسمى ذلك علماً.
ثم أن ترجح عنده أحد الاحتمالين فالراجح ظن والمرجوح وهم، وإن تساوى الأمران فهو شك.
وبهذا تبين أن تعلق الإدراك بالأشياء كالآتي:
1 - علم وهو: إدراك الشيء على ما هو عليه إدراكاً جازماً.
2 - جهل بسيط: وهو عدم الإدراك بالكلية.
3 - جهل مركب وهو: إدراك الشيء على وجه يخالف ما هو عليه.
4 - ظن وهو: إدراك الشيء مع احتمال ضد مرجوح.
5 - وهم وهو: إدراك الشيء مع احتمال ضد راجح.
6 - شك وهو: إدراك الشيء مع احتمال ضد مساو.
الحد لا يشمل العلم بالمعدوم:
اعترض على الحد بأنه غير جامع لعدم شموله للعلم بالمعدوم فمن المقرر عند أهل السنة والجماعة أن المعدوم ليس بشيء خلافا للمعتزلة، وكونه ليس بشيء فلا يدخل في الحد المذكور. وعليه فالأولى أن نستبدل كلمة الشيء بقولنا مثلا: المراد.
الحد يدخل فيه التقليد:
وذلك أن المقلد قد يدرك الأمر على ما هو عليه إدراكا جازما وليس بعلم؛ لأنه ليس لموجب أي: لمدرك، استند الحكم إليه من عقل أو حس أو ما تركب منهما، وعليه فلابد من إضافة هذا القيد، وهو (لموجب) ليخرج إدراك المقلد.
أقسام العلم:قال الشيخ: (ينقسم العلم إلى قسمين ضروري ونظري:
1 - فالضروري: ما يكون إدراك المعلوم فيه ضروريّاً بحيث يضطر إليه من غير نظر ولا استدلال.
2 - والنظري: ما يحتاج إلى نظر واستدلال).
قال الشنقيطي في "آداب البحث والمناظرة" (ص/10): (فاعلم أن الضروري في
তার অধিকারী অজ্ঞ এবং সে যে অজ্ঞ সে সম্পর্কেও সে অজ্ঞ।
তাঁর উক্তি: (সুনিশ্চিত উপলব্ধি) দ্বারা এমন উপলব্ধি বের হয়ে গেছে যা সুনিশ্চিত নয়, যার ফলে তার কাছে এমন সম্ভাবনা থাকে যে বিষয়টি তার অর্জিত উপলব্ধির বিপরীত হতে পারে; সুতরাং একে জ্ঞান বলা হয় না।
অতঃপর তার নিকট যদি দুটি সম্ভাবনার কোনো একটি প্রবল হয়, তবে প্রবল সম্ভাবনাটি হলো প্রবল ধারণা এবং দুর্বল সম্ভাবনাটি হলো বিভ্রম, আর যদি উভয় বিষয়টি সমান হয় তবে তা হলো সন্দেহ।
এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, বিষয়ের সাথে উপলব্ধির সম্পর্ক নিম্নরূপ:
১ - জ্ঞান: তা হলো কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার ওপর সুনিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করা।
২ - সরল অজ্ঞতা: যা হলো সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধির অনুপস্থিতি।
৩ - জটিল অজ্ঞতা: তা হলো কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতভাবে উপলব্ধি করা।
৪ - প্রবল ধারণা: তা হলো কোনো বিষয়কে উপলব্ধি করা এবং তার সাথে একটি দুর্বল বিপরীত সম্ভাবনা থাকা।
৫ - বিভ্রম: তা হলো কোনো বিষয়কে উপলব্ধি করা এবং তার সাথে একটি প্রবল বিপরীত সম্ভাবনা থাকা।
৬ - সন্দেহ: তা হলো কোনো বিষয়কে উপলব্ধি করা এবং তার সাথে একটি সমান বিপরীত সম্ভাবনা থাকা।
সংজ্ঞাটি অবিদ্যমান বিষয়ের জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে না:
সংজ্ঞাটির ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, এটি সবটুকু অন্তর্ভুক্তকারী নয়, কারণ এটি অবিদ্যমান বিষয়ের জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে না। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট এটি প্রতিষ্ঠিত যে, অবিদ্যমান কোনো 'বস্তু' নয়, যা মুতাযিলাদের মতের বিপরীত। আর যেহেতু তা কোনো 'বস্তু' নয়, তাই তা উক্ত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয় না। এমতাবস্থায় 'বস্তু' শব্দের পরিবর্তে আমাদের বলা উচিত যেমন: কাঙ্ক্ষিত বিষয়।
সংজ্ঞার মধ্যে অন্ধ অনুকরণ অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়:
আর তা এই কারণে যে, একজন অন্ধ অনুসারী কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থায় সুনিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করতে পারে, কিন্তু তা জ্ঞান নয়; কারণ তা কোনো আবশ্যিক ভিত্তি বা প্রমাণের কারণে নয়, অর্থাৎ এমন কোনো উপলব্ধির মাধ্যম থেকে আসেনি যার ওপর বিবেক, ইন্দ্রিয় বা উভয়ের সমন্বয়ে গঠিত কোনো সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। অতএব, এই শর্তটি যোগ করা আবশ্যক, আর তা হলো (প্রমাণের ভিত্তিতে), যাতে অন্ধ অনুসারীর উপলব্ধি বের হয়ে যায়।
জ্ঞানের প্রকারভেদ:শায়খ বলেন: (জ্ঞান দুই ভাগে বিভক্ত: আবশ্যকীয় এবং চিন্তাপ্রসূত:
১ - আবশ্যকীয়: যাতে জ্ঞাত বিষয় উপলব্ধি করা অপরিহার্য হয়, যাতে মানুষ কোনো প্রকার চিন্তা বা প্রমাণ ছাড়াই তা গ্রহণে বাধ্য হয়।
২ - চিন্তাপ্রসূত: যা অর্জনে চিন্তা-গবেষণা ও প্রমাণের প্রয়োজন হয়)।
শানাকীতী "আদাবুল বাহাস ওয়াল মুনাজারা" (পৃষ্ঠা/১০)-এ বলেন: (জেনে রাখুন যে, আবশ্যকীয় বিষয়টি...
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২০)
الاصطلاح هو ما لا يحتاج إدراكه إلى تأمل. والنظري في الاصطلاح هو ما يحتاج إدراكه إلى التأمل. فالتصور (1) الضروري كتصور معنى الواحد ومعنى الاثنين.
والتصديق (2) الضروري كإدراك أن الواحد نصف الاثنين، وأن الكل أكبر من الجزء.
والتصور النظري مثل له بتصور الملائكة، والجنة، فإنه نظري ومن أمثلته تشخيص الطبيب لعين المرض فهو تصور له بعد بحث وتأمل ونظر. والتصديق النظري كقولك: الواحد نصف سدس الاثنى عشر وربع عشر الأربعين).
الكلام
تعريف الكلام:قال الشيخ: (الكلام لغة: اللفظ الموضوع لمعنى).
لغة - أي عند اللغويين -، قال الشيخ في شرح الأصول (ص/99): (كل لفظ موضوع لمعنى يسمى كلاما سواء أكان فعلا، أو حرفا، أو اسما، أو جملة مفيدة، أو جملة غير مفيدة المهم أنه لفظ وضع لمعنى، فأصوات المدافع وإشارة الأخرس لا تسمى كلاما؛ لأنها ليست لفظا).
ثم قال: (أما في اصطلاح النحويين فهو اللفظ المفيد)
قال في "الشرح" (ص/99): (فخرج باللفظ: الإشارة، ولو أفادت معنى فلا تسمى كلامًا، والكتابة لو أفادت معنى لا تسمى كلامًا.
وخرج بقوله: "المفيد" ما لم يفد، كقولك: قام، أكل، شرب، وقولك: زيد، عمرو، خالد، وقولك: في، إلى، عن، كلا. فكل هذا لا يسمى- اصطلاحًا- كلامًا.
وخرج به أيضًا قولك: إن قام زيد. فهذا ليس بكلام؛ لأنه غير مفيد، فإذا قام زيد فما الذي يحصل؟ فالجملة الآن معلقة، فلا تسمى كلامًا).
--------------------------------------------
পরিভাষা অনুযায়ী যা উপলব্ধি করতে কোনো চিন্তাভাবনার প্রয়োজন হয় না, তা-ই স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞান। আর পরিভাষা অনুযায়ী তত্ত্বীয় জ্ঞান হলো যা উপলব্ধি করতে চিন্তাভাবনার প্রয়োজন হয়। সুতরাং স্বতঃসিদ্ধ ধারণা (তাসাউয়ুর) হলো যেমন এক ও দুইয়ের অর্থের ধারণা।
আর স্বতঃসিদ্ধ প্রত্যায়ন (তাসদিক) হলো যেমন এটা উপলব্ধি করা যে, এক হলো দুইয়ের অর্ধেক এবং সমষ্টি তার অংশের চেয়ে বড়।
তত্ত্বীয় ধারণার উদাহরণ হিসেবে ফেরেশতা এবং জান্নাতের ধারণাকে উল্লেখ করা হয়, কারণ এটি চিন্তালব্ধ বিষয়। এর আরেকটি উদাহরণ হলো চিকিৎসকের পক্ষ থেকে রোগের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা; কারণ এটি অনুসন্ধান, চিন্তা ও পর্যালোচনার পর অর্জিত একটি ধারণা। আর তত্ত্বীয় প্রত্যায়ন হলো যেমন তোমার কথা: এক হলো বারো-এর ছয় ভাগের এক ভাগের অর্ধেক এবং চল্লিশের দশ ভাগের এক ভাগের এক চতুর্থাংশ।
কালাম (বাক্য)
কালামের সংজ্ঞা:শায়খ বলেন: (আভিধানিক অর্থে কালাম হলো: কোনো অর্থের জন্য গঠিত শব্দ)।
আভিধানিক অর্থ - অর্থাৎ ভাষাবিদদের নিকট -, শায়খ 'শারহুল উসুল' (পৃষ্ঠা-৯৯)-এ বলেন: (অর্থ প্রকাশের জন্য গঠিত প্রতিটি শব্দকেই কালাম বলা হয়, তা সে শব্দ ক্রিয়া, অব্যয়, বিশেষ্য, অর্থবহ বাক্য কিংবা অর্থহীন বাক্য যা-ই হোক না কেন। মূল বিষয় হলো এটি এমন একটি শব্দ যা কোনো অর্থের জন্য গঠন করা হয়েছে। সুতরাং কামানের গর্জন বা বোবা ব্যক্তির ইশারাকে কালাম বলা যাবে না; কারণ তা শব্দ নয়)।
অতঃপর তিনি বলেন: (আর ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় তা হলো অর্থবোধক শব্দ)।
তিনি 'শারহ' (পৃষ্ঠা-৯৯)-এ বলেন: (শব্দ বলার কারণে 'ইশারা' বা সংকেত কালামের অন্তর্ভুক্ত হবে না, যদিও তা অর্থ প্রকাশ করে। একইভাবে 'লিখনী' যদি অর্থ প্রকাশ করে তবুও তাকে কালাম বলা যাবে না।
আর তাঁর "অর্থবোধক" বলার দ্বারা সেই শব্দগুলো বাদ পড়ে যায় যা পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে না, যেমন তোমার কথা: দাঁড়াল, খেল, পান করল; অথবা তোমার কথা: যায়েদ, আমর, খালিদ; অথবা তোমার কথা: মধ্যে, দিকে, হতে, না। এগুলোর কোনোটিকেই পরিভাষাগতভাবে কালাম বলা হয় না।
এর দ্বারা তোমার এই কথাটিও বাদ পড়ে যায়: "যদি যায়েদ দাঁড়ায়"। কারণ এটি পূর্ণাঙ্গ অর্থবোধক নয়। যদি যায়েদ দাঁড়ায় তবে কী ঘটবে? বাক্যটি এখানে অসম্পূর্ণ অবস্থায় আছে, তাই একে কালাম বলা হবে না)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقد عرف ابن أجروم الكلام بقوله: (اللفظ المركب المفيد بالوضع) فزاد قيدين، وهما: المركب، الوضع.
وقال الشيخ العثيمين في "شرحه على الأجرومية" (ص/56): (المركب: يعني الذي يتركب من كلمتين فأكثر، تحقيقا أو تقديرًا.
فإذا قلت: هل. فهذا لفظ لكنه ليس مركبًا، فلا يسمى كلامًا عند النحويين
…لا بدّ أن يتركب من كلمتين فأكثر تحقيقًا أو تقديرًا.
فمثلاً تحقيقًا إذا قلت: قام زيد. هذا مركب من "قام" و "زيد" تحقيقا.
ومثال تقديرًا إذا قلت: قُم. فهذا لم يتركب من كلمتين تحقيقا، لكن تقديرا؛ لأن قُم فيها ضمير مستتر في قوة البارز فهي مركبة من كلمتين
…قوله (بالوضع) أي بالوضع العربي، بمعنى أنه مطابق للغة العربية، فلو جاءنا كلام يفيد فائدة لا يتشوف السامع بعدها إلى شيء، لكن العرب لا يفهمونه؛ فإنه لا يسمى كلامًا عند النحويين).
وعليه فالكلام عند النحويين يعرف بأنه: (اللفظ المركب المفيد بالوضع).
أقسام الكلمة:الكلمة إما اسم، أو فعل، أو حرف.
1 - الاسم:قال الشيخ في "الشرح" (ص/103): (الاسم: ما دل على معنى في نفسه من غير إشعار بزمن).
"ما دلَّ على معنى" وهذا جنس يدخل فيه الفعل والحرف.
"ما دلَّ على معنى في نفسه " نقول: هذا لا يشمل الحرف؛ لأنه دل على معنى في غيره.
وقولنا: "من غير إشعار بزمن " هذا فصل يخرج الفعل لأنه- أي الفعل- دل على معنى في نفسه مع إشعار بزمن.
وقوله: (وهو ثلاثة أنواع: الأول: ما يفيد العموم كالأسماء الموصولة.
الثاني: ما يفيد الإطلاق، كالنكرة في سياق الإثبات.
الثالث: ما يفيد الخصوص كالأعلام)
وقوله: (منها ما يفيد العموم): يعني الشمول لجميع أفراد ما دل عليه.
وقوله: (كالأسماء الموصولة):الاسم الموصول: اسم دال على العموم، والمحلى بأل غير
ইবনে আজরুম কালামের সংজ্ঞা প্রদান করে বলেছেন: (এমন শব্দ যা যৌগিক, অর্থবোধক এবং আরবি রীতি অনুযায়ী গঠিত)। তিনি এতে দুটি শর্ত বৃদ্ধি করেছেন, সেগুলো হলো: যৌগিক হওয়া এবং আরবি রীতি অনুযায়ী হওয়া।
শায়খ আল-উসাইমিন তাঁর 'শারহুল আজরুমিয়্যাহ' (পৃষ্ঠা: ৫৬)-তে বলেছেন: (যৌগিক: অর্থাৎ যা দুই বা ততোধিক শব্দ দ্বারা গঠিত হয়, তা বাস্তবে হোক কিংবা উহ্যভাবে।
সুতরাং আপনি যখন বললেন: 'হাল' (একটি অব্যয়)। এটি একটি শব্দ কিন্তু এটি যৌগিক নয়, তাই ব্যাকরণবিদদের নিকট একে 'কালাম' বলা হবে না
…অবশ্যই একে বাস্তবে অথবা উহ্যভাবে দুই বা ততোধিক শব্দ দ্বারা গঠিত হতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, বাস্তবের ক্ষেত্রে যেমন আপনি বললেন: 'ক্বামা যাইদুন' (যাইদ দাঁড়িয়েছে)। এটি বাস্তবে 'ক্বামা' এবং 'যাইদ' এই দুটি শব্দ দ্বারা গঠিত।
আর উহ্য হওয়ার উদাহরণ হলো যেমন আপনি বললেন: 'ক্বুম' (দাঁড়াও)। এটি বাস্তবে দুই শব্দ দ্বারা গঠিত হয়নি, তবে উহ্যভাবে হয়েছে; কারণ 'ক্বুম' শব্দের মধ্যে একটি উহ্য সর্বনাম রয়েছে যা প্রকাশ্য সর্বনামের মতোই শক্তিশালী, ফলে এটি দুটি শব্দ দ্বারা গঠিত
…তাঁর উক্তি (আরবি রীতি অনুযায়ী) অর্থাৎ আরবি ব্যবহারের মাধ্যমে, এর অর্থ হলো এটি আরবি ভাষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া। সুতরাং যদি আমাদের সামনে এমন কোনো কথা উপস্থাপিত হয় যা একটি পূর্ণ অর্থ প্রদান করে এবং শ্রোতার মনে আর কোনো প্রশ্ন অবশিষ্ট থাকে না, কিন্তু আরবরা তা বোঝে না; তবে ব্যাকরণবিদদের নিকট তাকে 'কালাম' বলা হবে না)।
সেই অনুযায়ী, ব্যাকরণবিদদের নিকট কালামের সংজ্ঞা হলো: (এমন শব্দ যা যৌগিক, অর্থবোধক এবং আরবি রীতি অনুযায়ী গঠিত)।
শব্দের প্রকারভেদ:শব্দ হয় বিশেষ্য (ইসম), অথবা ক্রিয়া (ফেল), অথবা অব্যয় (হরফ)।
১ - বিশেষ্য (ইসম):শায়খ তাঁর 'শারহ' (পৃষ্ঠা: ১০৩)-তে বলেছেন: (বিশেষ্য: যা সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া ছাড়াই নিজের সত্তাগত অর্থের ওপর নির্দেশ করে)।
"যা কোনো অর্থের ওপর নির্দেশ করে" - এটি একটি সাধারণ সংজ্ঞা যার মধ্যে ক্রিয়া এবং অব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত হয়।
"যা নিজের সত্তাগত অর্থের ওপর নির্দেশ করে" - আমরা বলি: এটি অব্যয়কে অন্তর্ভুক্ত করে না; কারণ অব্যয় অন্য শব্দের সাহায্য ছাড়া (নিজের সত্তায়) অর্থ প্রকাশ করে না।
আর আমাদের উক্তি: "সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া ছাড়া" - এটি একটি পার্থক্যকারী শর্ত যা ক্রিয়াকে বাদ দিয়ে দেয়। কারণ ক্রিয়া নিজের সত্তাগত অর্থের ওপর নির্দেশ করার সাথে সাথে সময়েরও সংকেত দেয়।
এবং তাঁর উক্তি: (আর এটি তিন প্রকার: প্রথমত: যা ব্যাপক অর্থ প্রদান করে, যেমন সাপেক্ষ সর্বনামসমূহ।
দ্বিতীয়ত: যা শর্তহীন অর্থ প্রদান করে, যেমন ইতিবাচক বাক্যে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য।
তৃতীয়ত: যা নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করে, যেমন নামবাচক বিশেষ্যসমূহ)
এবং তাঁর উক্তি: (তার মধ্যে কিছু ব্যাপক অর্থ প্রদান করে): অর্থাৎ যা তার অর্থের অন্তর্ভুক্ত সকল ব্যক্তি বা বস্তুকে শামিল করে।
এবং তাঁর উক্তি: (যেমন সাপেক্ষ সর্বনামসমূহ): সাপেক্ষ সর্বনাম হলো এমন বিশেষ্য যা ব্যাপকতার ওপর নির্দেশ করে, আর আলিফ-লাম যুক্ত বিশেষ্য যা অন্য কোনো...
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২২)
العهدية دال أيضًا على العموم ({وَالْعَصْرِ (1) إِنَّ الْإِنْسَانَ) [العصر: 1، 2] الإِنسان " أي: كل إنسان
…وقوله: (ما يفيد الإطلاق كالنكرة في سياق الإثبات):إذا قلت: أكرم رجلاً: فهذه لا تعم كل رجل، إنما يراد بها رجلاً واحدًا، فهي لا تعم جميع الرجال. لكن النكرة فيها شمول بدلي، وليس شمولاً عموميًا
…وقوله: (ما يفيد الخصوص، كالأعلام): "الأعلام "يعني الأسماء التي وضعت علمًا على مسماها، مثل: محمد، عمر، خالد، زيد، بكر
… إلى آخره. نقول: هذه أسماء تفيد الخصوص، ولهذا تعين مسماها. و"اسم الإشارة" يُعيِّن مسماه، إذًا فهو دال على الخصوص).
2 - الفعل:قال الشيخ "الشرح" (ص/105): (والفعل: ما دل على معنى في نفسه وأشعر بهيئته بأحد الأزمنة الثلاثة: وهو إما ماضٍ: كفهم، أو مضارع: كيفهم، أو أمر: كافهم، والفعل بأقسامه يفيد الإطلاق، فلا عموم له.
قوله: (والفعل مما دل على معنى في نفسه): وهذا جنس يدخل فيه الاسم.
وقوله: (أشعر بهيئته): مثل: "ضرب" يشعر بهيئته بزمن ماضٍ، "اضرب " يشعر بهيئته بزمن مستقبل، "يضرب " يشعر بهيئته بزمن حاضر.
أما ما أشعر بمادته لا بهيئته فإن هذا ليس فعلاً، مثل الصباح، فقول القائل: ما زرتك صباحًا، فهذا يدل على الزمن صباحًا، لكن بمادته، ونقول: زرتك ليلاً، فهذا يدل على الزمن لكن بمادته، ولهذا نقول: "أشعر بهيئته "، ليخرج ما دل على الزمان بمادته كالصباح والمساء، والليل والنهار، وما أشبه ذلك فهذا ليس بفعل.
فإذا قلتَ: أصبح زيد وأمسى زيد، فهو فعل؛ لأن كلمة "أصبح" تدل على الزمن بهيئتها.
وقوله: (بأحد الأزمنة الثلاثة): فالفعل ثلاثة أقسام.
وقوله: (إما ماضٍ كـ "فهم" أو المضارع كـ "يفهم" أو أمر كـ "افهم".
إذًا الماضي كـ "فهم " يشعر بهيئته بزمن مضى، و"يفهم" مضارع يشعر بهيئته بزمن حاضر، و"افهم" أمر يشعر بهيئته بزمن المستقبل).
3 - الحرف:قال الشيخ في "الشرح" (ص/107): (قوله: (الحرف: ما دل على معنى في غيره): أما في نفسه فلا يدل أبدًا، ولهذا إذا قلت: الرجل في المسجد، فـ " في " ما دلت على شيء، فلولا المسجد ما دلت على شيء إطلاقًا، فالظرف هو ما بعد " في " وهو الذي استفدنا منه
'আল' বর্ণটি যখন কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে বুঝানোর জন্য আসে (আহদিয়া), তখন তাও ব্যাপকতা (উমুম) বুঝায়। যেমন: {সময়ের কসম! নিশ্চয়ই সকল মানুষ} [সূরা আল-আসর: ১-২] 'মানুষ' অর্থ: প্রত্যেক মানুষ
…আর লেখকের উক্তি: (যা নিঃশর্ততা বা ইতলাক বুঝায়, যেমন ইতিবাচক বাক্যে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকিরা)): আপনি যদি বলেন: 'একজন ব্যক্তিকে সম্মান করুন'; এটি সকল ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে না, বরং এর মাধ্যমে কেবল একজন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। সুতরাং এটি সকল পুরুষকে অন্তর্ভুক্ত করে না। তবে অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের মধ্যে 'বিকল্প ব্যাপকতা' (শুমুল বদলি) থাকে, 'সামগ্রিক ব্যাপকতা' (শুমুল উমুমি) নয়
…আর লেখকের উক্তি: (যা বিশেষত্ব বুঝায়, যেমন নামবাচক বিশেষ্য (আলাম)): 'আলাম' বলতে ওই সকল নামকে বুঝায় যা নির্দিষ্ট সত্তার জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে, যেমন: মুহাম্মাদ, উমর, খালিদ, যায়েদ, বাকর
… ইত্যাদি। আমরা বলি: এই নামগুলো বিশেষত্ব বুঝায়, আর এ কারণেই তা নির্দিষ্ট সত্তাকে চিহ্নিত করে। এবং 'ইঙ্গিতবাচক সর্বনাম' (ইসমুল ইশারা) তার লক্ষ্যবস্তুকে নির্দিষ্ট করে দেয়, অতএব তা বিশেষত্বের প্রমাণ প্রদানকারী)।
২ - ক্রিয়া (ফিল):শাইখ তার 'শারহ' (পৃষ্ঠা: ১০৫)-এ বলেছেন: (আর ক্রিয়া হলো: যা নিজের সত্তার মধ্যে কোনো অর্থ বুঝায় এবং তার গঠনের মাধ্যমে তিন কালের কোনো একটি কালের অনুভূতি দেয়। তা হয় অতীতকাল: যেমন সে বুঝেছে; অথবা বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল: যেমন সে বুঝছে/বুঝবে; অথবা আদেশসূচক: যেমন তুমি বোঝো। ক্রিয়ার সকল প্রকারই নিঃশর্ততা (ইতলাক) বুঝায়, এর মধ্যে কোনো ব্যাপকতা (উমুম) নেই।
তার উক্তি: (আর ক্রিয়া হলো যা স্বীয় সত্তার মধ্যে কোনো অর্থ প্রকাশ করে): এটি এমন একটি শ্রেণি যার মধ্যে বিশেষ্য (ইসম) অন্তর্ভুক্ত হয়।
আর তার উক্তি: (তার গঠনের মাধ্যমে অনুভূতি দেয়): যেমন: 'প্রহার করেছে' - এর গঠনের মাধ্যমে অতীতকালের অনুভূতি দেয়, 'প্রহার করো' - এর গঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎকালের অনুভূতি দেয়, 'প্রহার করছে' - এর গঠনের মাধ্যমে বর্তমানকালের অনুভূতি দেয়।
তবে যা তার উপাদানের (মাদ্দাহ) মাধ্যমে কাল বুঝায়, গঠনের মাধ্যমে নয়, তা ক্রিয়া নয়। যেমন 'সকাল'। কারো কথা: 'আমি সকালে তোমার সাথে সাক্ষাৎ করিনি' - এটি 'সকাল' সময়ের নির্দেশ করে, তবে তা তার উপাদানের মাধ্যমে। আমরা বলি: 'আমি রাতে তোমার সাথে সাক্ষাৎ করেছি' - এটি সময়ের নির্দেশ করে তবে তার উপাদানের মাধ্যমে। এই কারণেই আমরা বলি: 'তার গঠনের মাধ্যমে অনুভূতি দেয়', যাতে এমন শব্দগুলো বাদ পড়ে যায় যা তার উপাদানের মাধ্যমে সময়ের নির্দেশ করে, যেমন সকাল, সন্ধ্যা, রাত, দিন এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। এগুলো ক্রিয়া নয়।
সুতরাং আপনি যদি বলেন: 'যায়েদ সকালে উপনীত হয়েছে' এবং 'যায়েদ সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছে', তবে তা ক্রিয়া; কারণ 'সকালে উপনীত হওয়া' শব্দটি তার গঠনের মাধ্যমেই কাল নির্দেশ করে।
আর তার উক্তি: (তিন কালের কোনো একটির মাধ্যমে): সুতরাং ক্রিয়া তিন প্রকার।
আর তার উক্তি: (হয় অতীতকাল যেমন 'বুঝেছে', অথবা বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল যেমন 'বুঝছে/বুঝবে', অথবা আদেশসূচক যেমন 'বোঝো')।
অতএব অতীতকাল যেমন 'বুঝেছে' - তার গঠনের মাধ্যমে অতীতকালের অনুভূতি দেয়, 'বুঝছে/বুঝবে' - বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল যা বর্তমান সময়ের অনুভূতি দেয়, এবং 'বোঝো' - আদেশসূচক যা ভবিষ্যৎকালের অনুভূতি দেয়)।
৩ - অব্যয় (হারফ):শাইখ তার 'শারহ' (পৃষ্ঠা: ১০৭)-এ বলেছেন: (তার উক্তি: (অব্যয় হলো: যা অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে অর্থ প্রকাশ করে): কিন্তু এটি নিজ থেকে কোনো অর্থ প্রকাশ করে না। এই কারণেই আপনি যখন বলেন: 'ব্যক্তিটি মসজিদে আছে', তখন 'মধ্যে' (ফি) শব্দটি নিজে কিছু বুঝায় না। যদি 'মসজিদ' শব্দটি না থাকত তবে এটি মোটেও কোনো অর্থ প্রকাশ করত না। সুতরাং আধার বা পাত্র (জরফ) হলো 'মধ্যে' (ফি) এর পরবর্তী শব্দটি, যার থেকে আমরা অর্থ গ্রহণ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الظرفية، كذلك بقية الحروف ليس لها معنى في نفسها، إنما يظهر معناها بما بعدها.
أ- الواو:وتأتي عاطفة فتفيد اشتراك المتعاطفين في الحكم، ولا تقتضي الترتيب ولا تنافيه إلا بدليل.
قال المرداوي في التحبير (2/ 600) ما ملخصه: (قوله: {الواو العاطفة لمطلق الجمع}. أي: للقدر المشترك بين الترتيب والمعية، عند الأئمة الأربعة وغيرهم، وهي تارة تعطف الشيء على مصاحبه كقوله تعالى: (فَأَنْجَيْنَاهُ وَأَصْحَابَ السَّفِينَةِ) [العنكبوت: 15]، وعلى سابقه: (وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا وَإِبْرَاهِيمَ) [الحديد: 26] وعلى لاحقه: (كَذَلِكَ يُوحِي إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ) [الشورى: 3]، وعلى هذا إذا قيل: قام زيد وعمرو، احتمل ثلاثة معان: المعية، والترتيب، وعدمه).
ومن الأدلة التي تدل على أن الواو ليست للترتيب:
قوله تعالى: (كَذَلِكَ يُوحِي إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ اللَّهُ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ) [الشورى: 3]. وما أخرجه أبو داود من قوله صلى الله عليه وسلم: (لا تقولوا ما شاء الله وشاء فلان، ولكن قولوا ما شاء الله ثم شاء فلان)، فلو كانت الواو للترتيب لساوت ثم ولما فرق بينهما عليه الصلاة والسلام.
من الأدلة التي تدل على أن الواو للترتيب:
قوله تعالى: (ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا) [الحج: 77]، وما رواه مسلم في صحيحه: (أن النبي صلى الله عليه وسلم لما دنا من الصفا قرأ: (إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَآئِرِ الله) أبدأ بما بدأ به الله، فبدأ بالصفا فرقى عليه
… ) الحديث.
ب- قال الشيخ:
(الفاء: وتأتي عاطفة فتفيد اشتراك المتعاطفين في الحكم مع الترتيب والتعقيب، وتأتي سببية فتفيد التعليل).
"الفاء العاطفة" تكون "لترتيب" كـ "قام زيد فعمرو"، "و" تأتي الفاء أيضا لـ "تعقيب" والتعقيب لا يلزم منه الفورية تقول: "تزوج فلان فولد له".
والسببية كقوله تعالى: (فَوَكَزَهُ مُوسَى فَقَضَى عَلَيْهِ) [القصص: 15]، وقوله: (فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ) [البقرة: 37].
ج - قال الشيخ:
(اللام الجارَّة: ولها معان منها التعليل، والتمليك، والإباحة).
قال ابن النجار في "شرح الكوكب" (1/ 255): ("تأتي "اللام" الجارة "للملك حقيقة، لا يعدل عنه" أي عن الملك إلا بدليل. قاله أبو الخطاب من أصحابنا في "التمهيد"،"ولها معان كثيرة":
আধেয়তা বা স্থানিকতা, অনুরূপভাবে বাকি অব্যয়গুলোর নিজস্ব কোনো অর্থ নেই, বরং পরবর্তী শব্দের মাধ্যমেই এদের অর্থ প্রকাশ পায়।
ক- ওয়াও (এবং):এটি সংযোজক অব্যয় হিসেবে আসে এবং উভয় পদের জন্য একই বিধানের অংশীদারিত্ব বোঝায়। এটি কোনো নির্দিষ্ট ক্রম বা ধারাবাহিকতা দাবি করে না, আবার দলীল ব্যতীত ধারাবাহিকতাকে অস্বীকারও করে না।
আল-মারদাবি আত-তাহবির গ্রন্থে (২/৬০০) এর সারসংক্ষেপ উল্লেখ করে বলেন: (তার বক্তব্য: {সংযোজক ওয়াও নিরঙ্কুশ একত্রিত করার জন্য}। অর্থাৎ: চার ইমাম ও অন্যদের মতে ধারাবাহিকতা এবং একত্রে হওয়ার মধ্যবর্তী একটি সাধারণ ক্ষমতার জন্য। কখনও এটি কোনো বস্তুকে তার সহযোগীর সাথে যুক্ত করে যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর আমি তাকে ও নৌকাওয়ালাদের রক্ষা করলাম" [আল-আনকাবুত: ১৫], আবার কখনও তার পূর্ববর্তীদের সাথে: "অবশ্যই আমি নূহ ও ইবরাহিমকে পাঠিয়েছি" [আল-হাদিদ: ২৬], আবার কখনও তার পরবর্তীদের সাথে: "এভাবেই আল্লাহ আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি ওহী পাঠান" [আশ-শুরা: ৩]। এই ভিত্তিতে যখন বলা হয়: 'যায়েদ ও আমর দাঁড়িয়েছে', তখন এর তিনটি অর্থ হতে পারে: একসাথে হওয়া, ধারাবাহিকতা থাকা, অথবা ধারাবাহিকতা না থাকা)।
'ওয়াও' যে ধারাবাহিকতা বা ক্রম বোঝানোর জন্য নয়, তার স্বপক্ষে কিছু দলীল হলো:
মহান আল্লাহর বাণী: "এভাবেই মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহ আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি ওহী পাঠান" [আশ-শুরা: ৩]। এবং আবু দাউদে বর্ণিত নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "তোমরা বলো না যে, আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং অমুক যা চেয়েছে; বরং বলো যে, আল্লাহ যা চেয়েছেন অতঃপর অমুক যা চেয়েছে।" যদি 'ওয়াও' ধারাবাহিকতা বা ক্রম বোঝাত, তবে তা 'সুম্মা' (অতঃপর)-এর সমান হতো এবং নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করতেন না।
'ওয়াও' যে ধারাবাহিকতা বা ক্রম বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, তার স্বপক্ষে কিছু দলীল হলো:
মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা রুকু করো ও সিজদা করো" [আল-হজ্জ: ৭৭]। এবং সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীস: "নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সাফার নিকটে পৌঁছালেন তখন পাঠ করলেন: (নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত)। আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন আমিও তা দিয়েই শুরু করছি। অতঃপর তিনি সাফা থেকে শুরু করলেন এবং তার উপরে আরোহণ করলেন …" হাদীসের শেষ পর্যন্ত।
খ- শায়খ বলেন:
(ফা: এটি সংযোজক অব্যয় হিসেবে আসে এবং ধারাবাহিকতা ও অবিলম্বে ঘটা (তা'কীব) সহ উভয় পদের জন্য একই বিধানের অংশীদারিত্ব বোঝায়। আবার এটি কার্যকারণ (সাবাবিয়্যাহ) হিসেবেও আসে যা কারণ দর্শাতে ব্যবহৃত হয়)।
"সংযোজক ফা" ধারাবাহিকতা বা 'ক্রম' বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেমন: "যায়েদ দাঁড়াল, তারপর আমর দাঁড়াল"। এই 'ফা' অব্যয়টি 'তা'কীব' বা 'অবিলম্বে ঘটা'র জন্যও আসে। তবে অবিলম্বে ঘটা বলতে তাৎক্ষণিক হওয়া আবশ্যক নয়; যেমন আপনি বলতে পারেন: "অমুক বিয়ে করল এবং তার সন্তান হলো (অর্থাৎ বিয়ের পর সন্তান হলো)"।
আর কার্যকারণ বা সাবাবিয়্যাহ-এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর মুসা তাকে ঘুষি মারলেন এবং এর ফলে সে মারা গেল" [আল-কাসাস: ১৫], এবং তাঁর বাণী: "অতঃপর আদম তার রবের নিকট থেকে কিছু কালিমা লাভ করলেন, ফলে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করলেন" [আল-বাকারা: ৩৭]।
গ - শায়খ বলেন:
(জের প্রদানকারী লাম: এর একাধিক অর্থ রয়েছে, যার মধ্যে কারণ দর্শানো, মালিকানা এবং বৈধতা প্রদান অন্যতম)।
ইবনুন নাজ্জার "শারহুল কাওকাব" (১/২৫৫) গ্রন্থে বলেছেন: ("জের প্রদানকারী 'লাম' প্রকৃত মালিকানা বোঝাতে আসে, যা দলীল ব্যতীত মালিকানা অর্থ থেকে বিচ্যুত হয় না।" অর্থাৎ আমাদের হাম্বলী মাযহাবের সাথীদের মধ্যে আবুল খাত্তাব 'আত-তামহীদ' গ্রন্থে এটি বলেছেন, "এবং এর আরও অনেক অর্থ রয়েছে"):
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أحدها: التعليل. نحو "زرتك لشرفك"، ومنه قوله تعالى: (لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ) [النساء: 105]، وقوله: "أنت طالق لرضى زيد"، فتطلق في الحال، رضي زيد أو لم يرض، لأنه تعليل لا تعليق
…الخامس: التمليك. نحو: "وهبت لزيد دينارا". ومنه: (إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ) [التوبة: 60]
… ).
ومثل الشيخ في الشرح للإباحة بقوله: (للإِنسان أن يصلي النفل جالسًا مع القدرة على القيام).
د- قال الشيخ:
(على الجارة، ولها معان منها الوجوب).
قال الشيخ في "الشرح" (ص/110): ("، فتقول: "عليك أن تخلص العبادة لله "- يعني: يجب عليك- وفي كلام الفقهاء من هذا كثير، يقولون مثلاً: "وعليه أن يقول كذا"، و"عليه أن يتوب "، و"عليه أن يسجد"، وما أشبه ذلك).
أقسام الكلامبدأ الشيخ بذكر أقسام الكلام من ناحية إمكان وصفه بالصدق أو الكذب فقسمه إلى خبر وإنشاء. وفيه مسائل:
تعريف الخبر:قال الشيخ: (فالخبر: ما يمكن أن يوصف بالصدق، أو الكذب لذاته).
قال الشيخ في الأصل: (فخرج بقولنا: "ما يمكن أن يوصف بالصدق والكذب" الإنشاء؛ لأنه لا يمكن فيه ذلك فإن مدلوله ليس مخبراً عنه حتى يمكن أن يقال إنه صدق، أو كذب.
وخرج بقولنا: " لذاته " الخبر الذي لا يحتمل الصدق أو لا يحتمل الكذب باعتبار المخبر به وذلك أن الخبر من حيث المخبر به ثلاثة أقسام:
الأول: ما لا يمكن وصفه بالكذب كخبر الله ورسوله الثابت عنه.
الثاني: ما لا يمكن وصفه بالصدق كالخبر عن المستحيل شرعاً أو عقلاً فالأول كخبر مدعي الرسالة بعد النبي، صلي الله عليه وسلم، والثاني كالخبر عن اجتماع النقيضين كالحركة والسكون في عين واحدة في زمن واحد.
الثالث: ما يمكن أن يوصف بالصدق والكذب إما على السواء أو مع رجحان أحدهما كإخبار شخص عن قدوم غائب ونحوه).
একটি হলো: কারণ বর্ণনা করা। যেমন: "আপনার মর্যাদার কারণে আমি আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছি"। মহান আল্লাহর বাণী থেকেও এর উদাহরণ পাওয়া যায়: (যাতে আপনি মানুষের মাঝে বিচার করতে পারেন) [আন-নিসা: ১০৫]। এবং তাঁর এই বক্তব্য: "যায়েদের সন্তুষ্টির জন্য তুমি তালাকপ্রাপ্তা", এক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ তালাক কার্যকর হয়ে যাবে, যায়েদ সন্তুষ্ট হোক বা না হোক। কারণ এটি কারণ বর্ণনা (তালী’ল), শর্তারোপ (তালী’ক) নয়
...পঞ্চমটি হলো: মালিকানা প্রদান করা। যেমন: "আমি যায়েদকে একটি দীনার দান করেছি"। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর এই বাণী: (নিশ্চয়ই সদাকাত তো কেবল দরিদ্রদের জন্য) [আত-তাওবাহ: ৬০]
... )।
শাইখ তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বৈধতা (ইবাহাহ) বুঝাতে এই উদাহরণটি দিয়েছেন: (দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও একজন মানুষের জন্য বসে নফল সালাত আদায় করা বৈধ)।
ঘ- শাইখ বলেছেন:
(অব্যয় 'আলা', এর একাধিক অর্থ রয়েছে যার মধ্যে একটি হলো আবশ্যক হওয়া)।শাইখ তাঁর 'শারহ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ১১০) বলেছেন: ("আপনি বলবেন: 'আপনার ওপর আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা আবশ্যক'—অর্থাৎ: আপনার ওপর তা ওয়াজিব। ফকীহগণের কথাতেও এর প্রচুর ব্যবহার রয়েছে, যেমন তাঁরা বলে থাকেন: 'তার ওপর এমনটি বলা আবশ্যক', 'তার ওপর তওবা করা আবশ্যক', 'তার ওপর সিজদা করা আবশ্যক' এবং এই জাতীয় উদাহরণসমূহ)।
কথার প্রকারভেদশাইখ কথাকে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনার দিক থেকে আলোচনা শুরু করেছেন এবং একে সংবাদ (খবর) ও অ-সংবাদমূলক বাক্য (ইনশা) — এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। এতে কয়েকটি মাসয়ালা রয়েছে:
সংবাদের সংজ্ঞা:শাইখ বলেছেন: (সংবাদ বা খবর হলো এমন বাক্য, যা স্বীয় সত্তার বিচারে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে)।
শাইখ মূল গ্রন্থে বলেছেন: (আমাদের এই উক্তি 'যা সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে' এর মাধ্যমে 'ইনশা' বহির্ভূত হয়ে গিয়েছে; কারণ এতে এমন সম্ভাবনা নেই। কেননা এর মর্মার্থ কোনো সংবাদ নয় যে তাকে সত্য বা মিথ্যা বলা সম্ভব হবে।
আর আমাদের উক্তি 'স্বীয় সত্তার বিচারে' এর মাধ্যমে এমন সংবাদ বাদ পড়ে গিয়েছে যা সংবাদের বিষয়বস্তুর প্রেক্ষিতে কেবল সত্য বা কেবল মিথ্যা হওয়ারই সম্ভাবনা রাখে। কারণ সংবাদের বিষয়বস্তুর বিচারে সংবাদ তিন প্রকার:
প্রথম: যা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না, যেমন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত সংবাদ।
দ্বিতীয়: যা সত্য হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না, যেমন শরঈ বা যৌক্তিকভাবে অসম্ভব কোনো বিষয়ে সংবাদ দেওয়া। প্রথমটির উদাহরণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর নবুওয়াত দাবিদারের সংবাদ। আর দ্বিতীয়টির উদাহরণ হলো দুটি বিপরীত বিষয়ের একত্রে অবস্থান সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া, যেমন একই সময়ে একই বস্তুর মধ্যে গতিশীলতা ও স্থবিরতা থাকা।
তৃতীয়: যা সত্য ও মিথ্যা উভয়ই হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, চাই তা সমানভাবে হোক কিংবা কোনো এক দিকের প্রাধান্য থাকুক, যেমন কোনো অনুপস্থিত ব্যক্তির ফিরে আসা বা এই জাতীয় কোনো সংবাদ দেওয়া)।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
اعتراض على هذا الحد:
1 - قال شيخ الإسلام في الرد على المنطقيين (ص/81): (يقال إدخال الصدق والكذب أو التصديق والتكذيب في حد الخبر لا يصلح؛ لأنهما نوعا الخبر وتعريفهما إنما يمكن بالخبر فلو عرف الخبر بهما لزم الدور).
والأولى في تعريف الخبر كما ذكر الآمدي ونقله عنه الطوفي أنه (القول الدال بالوضع على نسبة معلوم إلى معلوم، أو سلبها عنه، مع قصد المتكلم به الدلالة على ذلك، على وجه يحسن السكوت عليه).
وقوله: (الدال بالوضع) يعني أن اللفظ دل على المعني ذاته بنفسه وقد احترز بذلك القيد عن أن يكون اللفظ دالا بجهة الملازمة وهي أن يكون المعنى من لوازم أو مقتضيات اللفظ - مثلا إن قلنا هذا الشراب مسكر، وعللناه بلازم الإسكار وهي الرائحة الفائحة الملازمة للشدة المطربة؛ لأن الرائحة ليست نفس العلة.
وقوله: (على نسبة) أي كقولنا: قام زيد، فنسبنا القيام لزيد واحترز به عن أسماء الأعلام وعن كل ما ليس له دلالة على نسبة.
وقوله (مع قصد المتكلم به الدلالة على ذلك) احتراز عن صيغة الخبر إذا وردت ولا تكون خبرا كالواردة على لسان النائم والساهي والحاكي لها أو لقصد الأمر كقوله تعالى (وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ) [المائدة: 45] وقوله: (وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ) [البقرة: 233] (وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ) [البقرة: 228] (وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آمِنًا) [آل عمران: 97] ونحوه حيث إنه لم يقصد بها الدلالة على النسبة ولا سلبها.
وقوله (معلوم إلى معلوم) حتى يدخل فيه الموجود والمعدوم.
وقوله (أو سلبها عنه) حتى يعم ما مثل قولنا: زيد في الدار، ليس في الدار.
وقوله (يحسن السكوت عليه) احتراز عن اللفظ الدال على المركب التقييدي وهو: المركب من اسمين، أو اسم وفعل، يكون الثاني قيداً في الأول، ويقوم مقامهما لفظ مفرد مثل: حيوان ناطق، وزيد كاتب، فإنه يقوم مقام الأول الإنسان، ومقام الثاني الكاتب. وهذا المركب التقييدي لا يصدق عليه حد الجملة؛ لأنه لم يفد نسبة يحسن السكوت عليها.
تعريف الإنشاء:قال الشيخ رحمه الله: (والإنشاء: ما لا يمكن أن يوصف بالصدق والكذب).
قال الشيخ في شرح الأصول (ص/113): (كل كلام لا يصلح أن يقال عنه صدق أو كذب فهو إنشاء ومنه الأمر والنهي كقوله تعالى (وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا) [النساء:
এই সংজ্ঞার ওপর আপত্তি:
১ - শাইখুল ইসলাম 'আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যীন' গ্রন্থে (পৃ. ৮১) বলেছেন: (বলা হয় যে, খবরের সংজ্ঞায় সত্য ও মিথ্যা অথবা সত্যায়ন ও মিথ্যারোপ অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক নয়; কারণ এই দুটি হলো খবরের প্রকারভেদ এবং এগুলোর সংজ্ঞা কেবল খবরের মাধ্যমেই সম্ভব। সুতরাং খবরকে যদি এ দুটির মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা হয়, তবে তা আবর্তন বা বৃত্তাকার সংজ্ঞায়নের দোষে দুষ্ট হবে)।
আমেদী যা উল্লেখ করেছেন এবং তুফী তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা-ই খবরের সংজ্ঞায় অধিক উত্তম, আর তা হলো (এমন বাক্য যা শব্দপ্রয়োগের মাধ্যমে কোনো পরিচিত বিষয়কে অন্য কোনো পরিচিত বিষয়ের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া বা না হওয়ার ওপর নির্দেশ করে, যেখানে বক্তার উদ্দেশ্য থাকে এর মাধ্যমে সেই বিষয়ের ওপর নির্দেশ করা, এমনভাবে যা শ্রবণের পর নীরব থাকা সমীচীন হয়)।
তাঁর উক্তি: (শব্দপ্রয়োগের মাধ্যমে নির্দেশক) এর অর্থ হলো শব্দটি সরাসরি তার অর্থের ওপর নির্দেশ করে। এই শর্তের মাধ্যমে শব্দ যাতে কেবল অনিবার্য অনুষঙ্গ হিসেবে নির্দেশ না করে তা থেকে সতর্ক করা হয়েছে। আর তা হলো অর্থটি শব্দের অনিবার্য অনুষঙ্গ বা দাবি হওয়া - যেমন উদাহরণস্বরূপ যদি আমরা বলি এই পানীয়টি মাদকদ্রব্য এবং আমরা একে মাদকতার অনিবার্য অনুষঙ্গ তথা সুতীব্র সুগন্ধ দ্বারা সপ্রমাণ করি যা আনন্দদায়ক তীব্রতার সাথে অবিচ্ছেদ্য; কারণ সুগন্ধ নিজেই মূল কারণ নয়।
তাঁর উক্তি: (কোনো সম্বন্ধের ওপর) অর্থাৎ যেমন আমাদের কথা: জায়েদ দাঁড়িয়েছে; এখানে আমরা দাঁড়ানোকে জায়েদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছি। এর মাধ্যমে নামবাচক বিশেষ্য এবং এমন সব শব্দ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যেগুলোর কোনো সম্বন্ধ নির্দেশ করার ক্ষমতা নেই।
তাঁর উক্তি: (বক্তার এর মাধ্যমে সেই বিষয়ের ওপর নির্দেশ করার উদ্দেশ্য থাকা) এটি খবরের এমন রূপ থেকে সতর্ক করার জন্য যা প্রকাশ পেলেও খবর হিসেবে গণ্য হয় না, যেমন ঘুমন্ত ব্যক্তি, বিস্মৃত ব্যক্তি বা কেবল বর্ণনাকারীর মুখ থেকে নিঃসৃত কথা। অথবা আদেশের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বাক্য, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আর জখমের বদলা হলো অনুরূপ জখম) [আল-মায়িদাহ: ৪৫], এবং তাঁর বাণী: (মায়েরা তাদের সন্তানদের দুধ পান করাবে) [আল-বাকারাহ: ২৩৩], (আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা অপেক্ষা করবে) [আল-বাকারাহ: ২২৮], (আর যে কেউ সেখানে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ হবে) [আল ইমরান: ৯৭] এবং এই জাতীয় আয়াতসমূহ; যেখানে এগুলোর মাধ্যমে কোনো বিষয়ের সম্বন্ধ থাকা বা না থাকার ওপর নির্দেশ করার উদ্দেশ্য করা হয়নি।
তাঁর উক্তি: (পরিচিত বিষয় থেকে পরিচিত বিষয়ের প্রতি) যাতে এর মধ্যে বিদ্যমান ও অবিদ্যমান উভয় বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত হয়।
তাঁর উক্তি: (অথবা তা থেকে তা নাকচ করা) যাতে এটি আমাদের বক্তব্যের মতো উদাহরণকেও শামিল করে: জায়েদ ঘরে আছে, সে ঘরে নেই।
তাঁর উক্তি: (যার ওপর নীরব থাকা সমীচীন হয়) এটি এমন শব্দ থেকে সতর্ক করার জন্য যা সীমাবদ্ধ যৌগিক অর্থের ওপর নির্দেশ করে। আর তা হলো: দুই বিশেষ্য অথবা বিশেষ্য ও ক্রিয়ার সমন্বয়ে গঠিত এমন যৌগিক শব্দ যেখানে দ্বিতীয়টি প্রথমটির শর্ত হিসেবে কাজ করে এবং এই দুটির স্থলাভিষিক্ত একটি একক শব্দ হতে পারে। যেমন: বাকশক্তি সম্পন্ন প্রাণী এবং জায়েদ লেখক; প্রথমটির স্থলাভিষিক্ত হলো মানুষ এবং দ্বিতীয়টির লেখক। এই সীমাবদ্ধ যৌগিক শব্দের ওপর পূর্ণাঙ্গ বাক্যের সংজ্ঞা প্রযোজ্য হয় না; কারণ এটি এমন কোনো সম্বন্ধের উপকারিতা প্রদান করে না যার ওপর নীরব থাকা সমীচীন হয়।
ইনশা-এর সংজ্ঞা:
শাইখ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: (আর ইনশা হলো: যাকে সত্য বা মিথ্যা দ্বারা বিশেষায়িত করা সম্ভব নয়)।
শাইখ 'শারহুল উসুল' গ্রন্থে (পৃ. ১১৩) বলেন: (প্রত্যেক এমন কথা যাকে সত্য বা মিথ্যা বলা সঠিক নয় তা-ই হলো ইনশা। আদেশ এবং নিষেধ এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না) [আন-নিসা: ৪৫]
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
36]) الأمر (وَاعْبُدُوا اللَّهَ) والنهي (وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا) فهذا إنشاء وليس بخبر. ومنه الاستفهام والترجي والتمني).
صيغ العقود ونحوها:قال الشيخ: (وقد يكون الكلام خبر وإنشاء باعتبارين كصيغ العقود).
قال الشيخ في " الشرح" (ص/114) ما ملخصه: (مثل صيغ البيع، والإجارة، والوقف، والرهن، والنكاح، وغير ذلك، فكل صيغ العقود لا تصلح أن نطلق عليها أنها خبر، ولا أن نطلق عليها أنها إنشاء؛ لأنها خبر وإنشاء باعتبارين
… فهي خبر باعتبار دلالتها على ما في نفس العاقد، وإنشاء باعتبار ترتب العقد عليها).
وهذا الذي اختاره الشيخ هو اختيار شيخ الإسلام وتلميذه ابن القيم، وهو الراجح على خلاف قول الأصحاب من أنها إنشاء.
مثال تطبيقي:قال ابن النجار في شرح الكوكب (2/ 303): ("ولو قال لرجعية: طلقتك، طَلُقَت" على الصحيح الذي عليه الأكثر؛ لأنه إنشاء للطلاق.
فعلى هذا: لا يقبل قوله: أنه أراد الإخبار، وهو المراد بقوله "وفي وجه وإن ادعى ماضيا" وقد تقدم في خطبة الكتاب "أني متى قلت في وجه: كان المقدم خلافه" فعلم منها: أن الصحيح أنها تطلق، ولو قال: أردت الإخبار وذهب بعضهم إلى أنها لا تطلق، وكأنه يعني أنه قصد الإخبار عن الطلاق الماضي).
والراجح أنه يدان بنيته إن قصد الإخبار عن الطلاق الماضي بالإفهام أو الإسماع أو التأكيد فلا تحسب عليه طلقة جديدة، وإن قصد التأسيس أو لم يكن له نية فطلقة جديدة.
مسألة:قال الشيخ: (وقد يأتي الكلام بصورة الخبر والمراد به الإنشاء وبالعكس لفائدة).
قال الشيخ في "الأصل" (مثال الأول: قول تعالى: (وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ) [البقرة: 228]. فقوله: (يَتَرَبَّصْنَ) بصورة الخبر والمراد به الأمر وفائدة ذلك تأكيد فعل المأمور به حتى كأنه أمر واقع يتحدث عنه كصفة من صفات المأمور.
ومثال العكس: قوله تعالى: (وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا اتَّبِعُوا سَبِيلَنَا وَلْنَحْمِلْ خَطَايَاكُمْ) [العنكبوت: 12].فقوله: (وَلْنَحْمِلْ) بصورة الأمر والمراد بها الخبر أي ونحن نحمل وفائدة ذلك تنزيل الشيء المخبر عنه منزل المفروض الملزم به).
৩৬]) নির্দেশ (তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো) এবং নিষেধ (তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক করো না) - এটি ইনশা (সৃজনমূলক বাক্য), খবর (সংবাদমূলক বাক্য) নয়। প্রশ্নবোধক বাক্য, প্রত্যাশা এবং আকাঙ্ক্ষাও এর অন্তর্ভুক্ত।
চুক্তির শব্দাবলি এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ:শাইখ বলেন: (কখনো কখনো বাক্য দুটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে খবর এবং ইনশা উভয়ই হতে পারে, যেমন চুক্তির শব্দাবলি)।
শাইখ "আশ-শারহ" (পৃষ্ঠা/১১৪) গ্রন্থে এর সারসংক্ষেপ করে বলেন: (যেমন ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা, ওয়াকফ, বন্ধক, নিকাহ এবং এ জাতীয় অন্যান্য শব্দাবলি। চুক্তির সমস্ত শব্দাবলিকে কেবল 'খবর' বলা সঠিক নয়, আবার কেবল 'ইনশা' বলাও সঠিক নয়; কারণ এগুলো দুটি বিবেচনায় খবর ও ইনশা উভয়ই
… কারণ এগুলো চুক্তিকারীর অন্তরে যা আছে তার নির্দেশক হওয়ার দিক থেকে 'খবর', আর এর মাধ্যমে চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিক থেকে এটি 'ইনশা')।
শাইখ যেটি পছন্দ করেছেন, সেটিই শাইখুল ইসলাম এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম পছন্দ করেছেন। এটিই অগ্রগণ্য মত, যদিও ফকীহদের (আসহাবদের) মত এর বিপরীত—তারা মনে করেন এটি কেবলই ইনশা।
ব্যবহারিক উদাহরণ:ইবনু নাজ্জার 'শারহুল কাওকাব' (২/৩০৩) গ্রন্থে বলেন: ("যদি কেউ তার রাজঈ তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বলে: 'আমি তোমাকে তালাক দিলাম', তবে অধিকাংশের নিকট বিশুদ্ধ মতানুসারে তালাক হয়ে যাবে; কারণ এটি তালাকের ইনশা বা কার্যকরকরণ বাক্য।
অতএব: তার এই দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না যে সে কেবল সংবাদ দিতে চেয়েছিল। আর এটিই বুঝানো হয়েছে এই উক্তির মাধ্যমে— "একটি মতে, যদিও সে অতীতের সংবাদ দেওয়ার দাবি করে"। কিতাবের ভূমিকায় ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, "আমি যখনই বলব 'একটি মতে', তখন তার বিপরীত মতটিই অগ্রগণ্য হবে"। এর মাধ্যমে জানা গেল যে, বিশুদ্ধ মত হলো তালাক হয়ে যাবে, যদিও সে বলে: 'আমি সংবাদ দিতে চেয়েছিলাম'। অবশ্য তাদের কেউ কেউ এই মত পোষণ করেছেন যে তালাক হবে না, যেন তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে ব্যক্তিটি অতীত তালাক সম্পর্কে সংবাদ দেওয়ার ইচ্ছা করেছে)।
আর অধিকতর সঠিক মত হলো, তার নিয়তের ওপর ফয়সালা ছেড়ে দেওয়া হবে। যদি সে অন্যকে বুঝানোর জন্য বা শোনানোর জন্য অথবা তাকিদ বা জোর দেওয়ার জন্য অতীত তালাকের সংবাদ দেওয়ার ইচ্ছা করে থাকে, তবে তা নতুন তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। আর যদি সে নতুন করে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা করে অথবা তার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ত না থাকে, তবে তা নতুন তালাক হিসেবে গণ্য হবে।
মাসআলা:শাইখ বলেন: (কখনো কখনো বাক্য খবরের আকৃতিতে আসে কিন্তু তার দ্বারা ইনশা উদ্দেশ্য হয়, আবার কখনো এর বিপরীতটি ঘটে কোনো বিশেষ উপকারিতার জন্য)।
শাইখ 'আল-আসল' গ্রন্থে বলেন (প্রথমটির উদাহরণ: মহান আল্লাহর বাণী: (আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে) [আল-বাকারাহ: ২২৮]। এখানে 'তারা প্রতীক্ষায় রাখবে' কথাটি খবরের আকৃতিতে এসেছে কিন্তু এর দ্বারা নির্দেশ (আমর) উদ্দেশ্য। এর উপকারিতা হলো যাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার ওপর বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিশ্চিত করা, যেন এটি এমন এক বাস্তব বিষয় যা নিয়ে বর্ণনা করা হচ্ছে যেমনটি আদিষ্ট ব্যক্তির একটি গুণ।
আর বিপরীতের উদাহরণ: মহান আল্লাহর বাণী: (আর কাফিররা ঈমানদারদের বলল, তোমরা আমাদের পথ অনুসরণ করো এবং আমরা তোমাদের পাপের ভার বহন করব) [আল-আনকাবূত: ১২]। এখানে 'আমরা বহন করব' কথাটি নির্দেশের আকৃতিতে এসেছে কিন্তু এর দ্বারা সংবাদ (খবর) উদ্দেশ্য। অর্থাৎ— 'আমরা বহন করব'। এর উপকারিতা হলো সংবাদকৃত বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা যেন তা একটি অবধারিত ও বাধ্যতামূলক বিষয়)।
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الحقيقة والمجازبعد أن تكلم الشيخ عن تقسيم الكلام من حيث إمكان وصفه بالصدق وعدمه (خبر، وإنشاء) ثم تكلم عن تقسيم الكلام باعتبار آخر وهو من حيث الاستعمال وقسمه بهذا الاعتبار إلى حقيقة ومجاز.
وقد اختلف العلماء في المجاز بين مجيز، ومانع، ومفصل فالجمهور على الجواز والوقوع مطلقا، وذهب بعض العلماء والمحققين منهم أبو إسحاق الاسفرائيني من الشافعية، وأبو علي الفارسي من أهل اللغة وتقي الدين وتلميذه ابن القيم والشنقيطي إلى المنع مطلقا، وذهب بعض العلماء منهم داود بن علي، ومن الشافعية ابن القاص، ومن المالكية ابن خويز منداد، ومن الحنابلة جمع منهم: أبو الفضل التميمي، وأبو عبد الله بن حامد وأبو الحسن الخرزي، وغيرهم إلى المنع في القرآن وحده دون اللغة، وانفرد داود الظاهري بالقول بالمنع في القرآن والسنة دون غيرهما، وذهب ابن حزم إلى التفصيل بين ما فيه حكم شرعي وغيره، فما فيه حكم شرعي لا مجاز فيه وما لا فلا.
والشيخ العثيمين كان يرى القول الأول وهو الجواز والوقوع مطلقا ثم تبين له قول تقي الدين ووجهه فرجع إليه.
تعريف الحقيقة:قال الشيخ الحقيقة هي: (اللفظ المستعمل فيما وضع له).
قال في شرح الأصول (ص/120): (خرج باللفظ الإشارة، فالإشارة لا توصف بحقيقة ولا مجاز - حتى لو فهمت - لأنها ليست بلفظ، والكتابة أيضا عندهم لا تسمى حقيقة ولا مجازا من حيث الكتابة ولكن من حيث المكتوب قد يكون حقيقة أو مجازا.
وقال: فخرج بقولنا: " المستعمل " المهمل فلا يسمى حقيقة ولا مجازاً.
وخرج بقولنا: " فيما وضع له " المجاز؛ لأن المجاز مستعمل في غير ما وضع له).
الحقيقة اللغوية والشرعية والعرفية:قال الشيخ: (وتنقسم الحقيقة إلى ثلاثة أقسام: لغوية، وشرعية، وعرفية.
فاللغوية هي: اللفظ المستعمل فيما وضع له في اللغة.
والحقيقة الشرعية هي: اللفظ المستعمل فيما وضع له في الشرع.
والحقيقة العرفية هي: اللفظ المستعمل فيما وضع له في العرف).
قال المرداوي في التحبير (1/ 389): (الحقيقة ثلاثة أنواع: أحدها: اللغوية، وهي الأصل، كالأسد على الحيوان المفترس. الثاني: الحقيقة العرفية، وحدها: ما خص عرفاً
হাকীকত ও মাজাযশায়খ কথাকে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকা বা না থাকার দিক থেকে (সংবাদ ও ইনশা) বিভক্ত করার পর, ব্যবহারের দিক বিবেচনা করে কথাকে অন্যভাবে বিভক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং এই বিবেচনায় তিনি কথাকে হাকীকত (প্রকৃত অর্থ) ও মাজায (রূপক অর্থ) এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন।
মাজাযের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে—কেউ একে জায়েয মনে করেন, কেউ নিষেধ করেন, আবার কেউ বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের মতে এটি সাধারণভাবে জায়েয এবং এর অস্তিত্ব বাস্তব। অন্যদিকে, শাফেয়ী মাযহাবের আবু ইসহাক আল-ইসফিরায়ীনি, ভাষাবিদ আবু আলী আল-ফারিসী, তাকীউদ্দীন (ইবনে তাইমিয়া), তাঁর ছাত্র ইবনুল কায়্যিম এবং আশ-শানকীতীসহ কিছু আলেম ও গবেষক একে সর্বতোভাবে অস্বীকার করেছেন। দাউদ বিন আলী, শাফেয়ীগণের মধ্যে ইবনুল কাস, মালেকীগণের মধ্যে ইবনে খুওয়ায়য মানদাদ এবং হাম্বলীগণের মধ্যে একদল আলেম—যাদের মধ্যে আবু আল-ফজল আত-তামীমী, আবু আব্দুল্লাহ বিন হামিদ এবং আবু আল-হাসান আল-খারযী রয়েছেন—তাঁরা মনে করেন এটি শুধুমাত্র কুরআনে নেই, কিন্তু সাধারণ ভাষায় আছে। দাউদ আজ-জাহিরী এককভাবে এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি কুরআন ও সুন্নাহতে নেই, তবে অন্য ক্ষেত্রে আছে। ইবনে হাজম শরয়ী বিধান এবং বিধান নয় এমন বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করার পক্ষপাতী ছিলেন; যে বিষয়ে শরয়ী বিধান আছে তাতে কোনো মাজায নেই, আর যা শরয়ী বিধান নয় তাতে মাজায থাকতে পারে।
শায়খ উসাইমীন প্রথমে প্রথম মতটি অর্থাৎ এটি জায়েয এবং এর বাস্তব অস্তিত্ব আছে বলে মনে করতেন, পরবর্তীতে তাঁর কাছে তাকীউদ্দীন (ইবনে তাইমিয়া)-এর মত ও তার প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হলে তিনি সেই মতের দিকে ফিরে আসেন।
হাকীকতের সংজ্ঞা:শায়খ বলেছেন, হাকীকত হলো: (এমন শব্দ যা তার মূল নির্ধারিত অর্থেই ব্যবহৃত হয়)।
তিনি 'শারহুল উসুল' (পৃষ্ঠা ১২০)-এ বলেছেন: ('শব্দ' বলার মাধ্যমে ইশারা বা ইঙ্গিত বাদ পড়েছে। কারণ ইশারাকে হাকীকত বা মাজায কোনোটিই বলা হয় না—যদিও তা অর্থবোধক হয়—কেননা তা শব্দ নয়। অনুরূপভাবে তাদের মতে লিখন পদ্ধতিকেও লিখনের দিক থেকে হাকীকত বা মাজায বলা হয় না, তবে যা লেখা হয়েছে তার বিচারে তা হাকীকত বা মাজায হতে পারে।
তিনি আরও বলেছেন: আমাদের 'ব্যবহৃত' কথাটি বলার মাধ্যমে মুহমাল বা নিরর্থক শব্দ বাদ পড়েছে, কারণ তাকে হাকীকত বা মাজায বলা হয় না।
আর 'মূল নির্ধারিত অর্থে' বলার মাধ্যমে মাজায বাদ পড়েছে; কারণ মাজায তার মূল নির্ধারিত অর্থ ছাড়া অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়)।
হাকীকতে লুগাবিয়া (ভাষাগত), শরয়ী এবং উরফী:শায়খ বলেছেন: (হাকীকত তিন প্রকার: লুগাবিয়া, শরয়ী এবং উরফী।
লুগাবিয়া বা ভাষাগত হাকীকত হলো: সেই শব্দ যা ভাষায় তার নির্ধারিত অর্থে ব্যবহৃত হয়।
শরয়ী হাকীকত হলো: সেই শব্দ যা শরীয়তে তার নির্ধারিত অর্থে ব্যবহৃত হয়।
উরফী বা প্রচলিত হাকীকত হলো: সেই শব্দ যা প্রচলিত প্রথা বা উরফে তার নির্ধারিত অর্থে ব্যবহৃত হয়)।
আল-মারদাবী 'আত-তাহবীর' (১/৩৮৯) গ্রন্থে বলেছেন: (হাকীকত তিন প্রকার: প্রথমত: লুগাবিয়া, যা মূল ভিত্তি; যেমন 'সিংহ' শব্দটি হিংস্র প্রাণীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হওয়া। দ্বিতীয়ত: উরফী হাকীকত, এর সংজ্ঞা হলো: যা প্রচলিত প্রথায় নির্দিষ্ট করা হয়েছে...)
(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - শারহু মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ببعض مسمياته، يعني: أن أهل العرف خصوا أشياء كثيرة ببعض مسمياتها، وإن كان وضعها للجميع حقيقة، وهي قسمان: عامة، وخاصة. فالعامة: ما انتقلت من مسماها اللغوي إلى غيره للاستعمال العام بحيث هجر الأول، وذلك إما بتخصيص الاسم ببعض مسمياته كالدابة بالنسبة إلى ذات الحافر، فإن الدابة وضعت في أصل اللغة لكل ما يدب على الأرض فخصصها أهل العرف بذات الحافر من الخيل والبغال والحمير
… وإما باشتهار المجاز، كإضافتهم الحرمة إلى الخمر، وإنما المحرم الشرب، وكذلك ما يشيع استعماله في غير موضوعه اللغوي، كالغائط، والعذرة، والراوية، وحقيقتها: المطمئن من الأرض، وفناء الدار (1)، والجمل الذي يستقى عليه الماء (2). والخاصة: ما لكل طائفة من العلماء من الاصطلاحات التي تخصهم، كاصطلاح النحاة، والنظار، والأصوليين، وغيرهم على أسماء خصوها بشيء من مصطلحاتهم، كالمبتدأ، والخبر، والفاعل، والمفعول، والنقض، والكسر، والقلب، وغير ذلك مما اصطلح عليه أرباب كل فن).
والحقيقة الشرعية: هي اللفظ المستعمل فيما وضع له أولا في الشرع كالصلاة للعبادة المخصوصة المفتتحة بالتكبير المختتمة بالتسليم، وكّالإيمان، للاعتقاد والقول والعمل.
أيها يقدم من الحقائق الثلاث:قال الشيخ في "الأصل": (وفائدة معرفة تقسيم الحقيقة إلى ثلاثة أقسام أن نحمل كل لفظ على معناه الحقيقي في موضع استعماله فيحمل في استعمال أهل اللغة على الحقيقة اللغوية، وفي استعمال الشرع على الحقيقة الشرعية، وفي استعمال أهل العرف على الحقيقة العرفية).
تعريف المجاز:قال الشيخ: المجاز هو: (اللفظ المستعمل في غير ما وضع له).
قال في الأصل: (فخرج بقولنا: " المستعمل " المهمل فلا يسمى حقيقة ولا مجازاً.
وخرج بقولنا: " في غير ما وضع له " الحقيقة).
وهذا الحد غير مانع فقد يدخل فيه ما لا يصح أن يكون مجازا على جميع الأقوال لعدم وجود علاقة بين المعنى الحقيقي والمجازي، ولا وجود قرينة للصرف للمعنى المجازي
--------------------------------------------
এর কিছু নামীয় বস্তুর ক্ষেত্রে। অর্থাৎ: প্রচলিত প্রথার অনুসারীরা অনেক বস্তুকে তাদের কিছু বিশেষ সংজ্ঞার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, যদিও মূলগতভাবে তা সবার জন্যই প্রকৃত অর্থ হিসেবে নির্ধারিত ছিল। এটি দুই প্রকার: সাধারণ এবং বিশেষ। সাধারণ হলো: যা তার ভাষাগত অর্থ থেকে অন্য অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে সাধারণ ব্যবহারের কারণে, ফলে পূর্বের অর্থটি পরিত্যক্ত হয়েছে। এটি হয় নামের কোনো একটি বিশেষ সংজ্ঞাকে নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে, যেমন চতুষ্পদ জন্তুর (দাব্বাহ) ক্ষেত্রে খুরবিশিষ্ট প্রাণীকে বোঝানো। কারণ 'দাব্বাহ' শব্দটি ভাষার মূলে জমিনে বিচরণকারী প্রত্যেক প্রাণীর জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু প্রচলিত প্রথার অনুসারীরা একে ঘোড়া, খচ্চর এবং গাধার মতো খুরবিশিষ্ট প্রাণীদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন
… অথবা রূপক ব্যবহারের প্রসিদ্ধির মাধ্যমে, যেমন মদের (খামর) ক্ষেত্রে 'হারাম' হওয়াকে সরাসরি মদের সাথে সম্পৃক্ত করা, অথচ মূলত পান করাই হারাম। অনুরূপভাবে যা তার ভাষাগত মূল অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থে বহুল ব্যবহৃত হয়, যেমন 'গাইত' (মলত্যাগ), 'আযরাহ' (মল) এবং 'রাবিয়াহ' (জলবাহী উট)। এগুলোর প্রকৃত অর্থ যথাক্রমে: নিচু ভূমি, বাড়ির আঙিনা (১), এবং যে উটের পিঠে পানি বহন করা হয় (২)। আর বিশেষ হলো: যা ওলামাদের প্রত্যেক দলের নিজস্ব পরিভাষা, যেমন ব্যাকরণবিদ, তার্কিক, উসূলবিদ এবং অন্যদের পরিভাষা, যারা নির্দিষ্ট কিছু শব্দকে তাদের পরিভাষার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন; যেমন মুবতাদা, খবর, ফায়েল, মাফউল, নাকদ (খণ্ডন), কাসর (ভঙ্গ), কালব (উল্টানো) এবং অন্যান্য পরিভাষা যা প্রত্যেক শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ নির্ধারণ করেছেন।
শরয়ী হাকীকত: এটি এমন শব্দ যা শরীয়তের পরিভাষায় সর্বপ্রথম যার জন্য নির্ধারিত হয়েছে সেই অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন: নির্দিষ্ট ইবাদতের জন্য 'সালাত' শব্দের ব্যবহার, যা তাকবীরের মাধ্যমে শুরু হয় এবং সালামের মাধ্যমে শেষ হয়; এবং বিশ্বাস, কথা ও কাজের সমষ্টির জন্য 'ঈমান' শব্দের ব্যবহার।
তিনটি হাকীকতের মধ্যে কোনটি অগ্রাধিকার পাবে:শাইখ 'আসল' গ্রন্থে বলেছেন: (হাকীকতকে তিন ভাগে বিভক্ত করার জানার উপকারিতা হলো—আমরা প্রতিটি শব্দকে তার ব্যবহারের স্থানে তার প্রকৃত অর্থে প্রয়োগ করব। ফলে ভাষাবিদদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে একে ভাষাগত হাকীকত হিসেবে, শরীয়তের ব্যবহারে শরয়ী হাকীকত হিসেবে এবং প্রচলিত প্রথার অনুসারীদের ব্যবহারে উরফী বা প্রথাগত হাকীকত হিসেবে গণ্য করা হবে।)
মাজাযের সংজ্ঞা:শাইখ বলেছেন: মাজায হলো: (এমন শব্দ যা তার মূল নির্ধারিত অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়)।
'আসল' গ্রন্থে বলা হয়েছে: (আমাদের সংজ্ঞায় "ব্যবহৃত" কথাটি বলার মাধ্যমে "অব্যবহৃত" শব্দ বাদ পড়ে গেছে, তাই তাকে হাকীকত বা মাজায কোনোটিই বলা হয় না।
আর "তার মূল নির্ধারিত অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থে" বলার মাধ্যমে "হাকীকত" বা প্রকৃত অর্থ বাদ পড়ে গেছে।)
তবে এই সংজ্ঞাটি পরিপূর্ণভাবে ত্রুটিমুক্ত নয়, কারণ এতে এমন বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যা কোনো মতেই মাজায হওয়ার যোগ্য নয়, যেহেতু সেখানে প্রকৃত ও রূপক অর্থের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই এবং প্রকৃত অর্থ থেকে রূপক অর্থে সরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো ইঙ্গিত বা প্রমাণ নেই।
--------------------------------------------