(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: -)
تحقيق المطالب بشرح دليل الطالب - المنياوي - قطعة من الطهارة   (أبو المنذر المنياوي)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: تحقيق المطالب بشرح دليل الطالب

المؤلف: أبو المنذر محمود بن محمد بن مصطفى بن عبد اللطيف المنياوي

الناشر: المكتبة الشاملة، مصر

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 155

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع (الطبعة الورقية)]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 ذو الحجة 1432

তাহকিকুল মাতালিব বি-শারহি দালিলিত তালিব - আল-মিনিয়াউয়ি - পবিত্রতা অধ্যায়ের অংশ   (আবু আল-মুনজির আল-মিনিয়াউয়ি)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


বই: তাহকিকুল মাতালিব বি-শারহি দালিলিত তালিব

লেখক: আবু আল-মুনজির মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা বিন আব্দুল লতিফ আল-মিনিয়াউয়ি

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুশ শামিলা، মিসর

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৫

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ (কাগজে মুদ্রিত সংস্করণ)]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ জিলহজ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১)
تحقيق المطالب

بشرح

دليل الطالب

للعلامة الفقيه الأصولي زين الدين مرعي بن يُوسُف الكرْمي الحنبلي.

(ت: 1033 هـ)

رحمه الله تعالى

المياه - الآنية

 

تأليف الفقير إلى عفو ربه الغني

أبي المنذر: محمود بن محمد بن مصطفى المنياوي

عفا الله - تعالى - عنه
তাহকীকুল মাতালিব (উদ্দেশ্যসমূহের বিশ্লেষণ)

ব্যাখ্যায়

দালীলুত তালিব (শিক্ষার্থীর পথপ্রদর্শক)

আল্লামা, ফকীহ ও উসূলবিদ যয়নুদ্দীন মারঈ ইবনে ইউসুফ আল-কারমী আল-হাম্বলীর।

(মৃত্যু: ১০৩৩ হিজরী)

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন

পানি - পাত্রসমূহ

 

তাঁর অমুখাপেক্ষী রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী দাসের সংকলন

আবুল মুনযির: মাহমুদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুস্তাফা আল-মিনইয়াউয়ী

আল্লাহ তাআলা তাঁকে ক্ষমা করুন
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف

الطبعة الأولى

1432 هـ / 2011 م

رقم الإيداع بالمكتبة الشاملة 6/ 2011
সকল স্বত্ব লেখকের নিকট সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪৩২ হিজরি / ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

আল-মাকতাবা আল-শামেলায় জমাদান নম্বর ৬/ ২০১১
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة المؤلف

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبدُه ورسولُه.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}.

أما بعد …

فنبدأ بعون الله وتوفيقه في شرح متن "دليل الطالب لنيل المطالب" للعلامة مرعي بن يوسف الكرمي رحمه الله.

ونرجوا من الله القبول والسداد، وأن يمن علينا بإتمام هذا الشرح، وأن يتقبله وينفع به إنه ولي ذلك وهو القادر عليه.

نبدأ بالتعريف بالمؤلف.

 

‌‌التعريف بالماتن

ترجم له الدكتور: عبد الله بن سليمان الغفيلي في بحث بعنوان "العلامة مرعي بن يوسف الحنبلي آثاره العلمية، وقد نشر في مجلة البحوث الإسلامية العدد: (52/ 337: 365).

وأيضا أعد ترجمةَ له الشيخ حسام عفانة.

وترجم له في بعض المصادر ومنها: خلاصة الأثر (4/ 358)، الأعلام للزركلي (7/ 203)، معجم المؤلفين لكحالة (12/ 219) اللباب (3/ 246)، ومختصر طبقات الحنابلة (106) السحب الوابلة (467)، وعنوان المجد (1/ 33)، والنعت الأكمل (216)، هدية العارفين 2/ 331، الموسوعة الفلسطينية 4/ 193.

وسوف ألخص جملا مما ذكروا في ترجمته.
লেখকের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।}

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।}

অতঃপর …

আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকে আমরা আল্লামা মারঈ বিন ইউসুফ আল-কারমী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "দালিলুত তালিব লি-নাইলিল মাতালিব" মাতনটির ব্যাখ্যা শুরু করছি।

আমরা আল্লাহর কাছে কবুলিয়াত ও সঠিকতার প্রার্থনা করছি, এবং তিনি যেন আমাদের এই ব্যাখ্যাটি সম্পন্ন করার অনুগ্রহ দান করেন, এটি কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং তিনি এর ওপর সক্ষম।

আমরা গ্রন্থকারের পরিচিতি দিয়ে শুরু করছি।

 

মূল গ্রন্থকারের পরিচিতি

ডক্টর আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-গুফাইলি "আল-আল্লামা মারঈ বিন ইউসুফ আল-হানবালি: আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ" (আল্লামা মারঈ বিন ইউসুফ আল-হানবালি: তাঁর ইলমি অবদান) শীর্ষক একটি গবেষণাপত্রে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন, যা 'মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ' (ইসলামি গবেষণা সাময়িকী) এর ৫২তম সংখ্যায় (৩৩৭-৩৬৫ পৃষ্ঠা) প্রকাশিত হয়েছে।

এছাড়াও শেখ হুসাম আফানা তাঁর একটি জীবনী প্রস্তুত করেছেন।

তাঁর জীবনী আরও কিছু উৎসে বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: খুলাসাতুল আছার (৪/৩৫৮), আল-আ’লাম লিয-যিরিকলি (৭/২০৩), মু’জামুল মুআল্লিফীন লি-কাহহালা (১২/২১৯), আল-লুবাব (৩/২৪৬), মুখতাসার তাবাকাতুল হানাবিলা (১০৬), আস-সুহুবুল ওয়াবিলা (৪৬৭), উনওয়ানুল মাজদ (১/৩৩), আন-না’তুল আকমাল (২১৬), হাদিয়্যাতুল আরিফীন (২/৩৩১), এবং আল-মাওসুআতুল ফিলিস্তিনিয়্যাহ (৪/১৯৩)।

আমি তাঁদের বর্ণিত জীবনী থেকে কিছু বিষয় সংক্ষেপে সারসংক্ষেপ করব।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌1 - اسمه ونسبه ولقبه وكنيته:

هو الإمام العلامة زين الدين مرعي بن يوسف بن أبي بكر بن أحمد بن أبي بكر بن يوسف بن أحمد الكرمي المقدسي المصري الأزهري الحنبلي.

فالكرمي: بسكون الراء نسبة إلى قرية طور كرم وهي مدينة معروفة في فلسطين حيث ولد ونشأ فيها.

المقدسي: بفتح الميم وسكون القاف وكسر الدال والسين، نسبة إلى بيت المقدس، ونسب المؤلف إليه؛ لأن أول طلبه للعلم كان فيه، وقد تتلمذ على بعض علمائه.

 

‌‌2 - ولادته:

ولد المصنف رحمه الله تعالى في بلدة طور كرم في فلسطين، ولم تشر كتب التراجم التي ترجمت له إلى تاريخ ولادته ولم تحدد عدد سني عمره عند وفاته حتى يتسنى معرفة تاريخ ولادته.

 

‌‌3 - نشأته وطلبه للعلم وثقافته:

نشأ المؤلف رحمه الله تعالى في بلدته طور كرم، وتعلم فيها مبادئ القراءة والكتابة، وتلقى مبادئ العلوم، وحفظ القرآن الكريم، ساعده على ذلك حافظته الجيدة وموهبته الفذة التي جعلته يسارع إلى تحصيل العلوم بجد واجتهاد حيث رحل إلى بيت المقدس ونهل من معين العلم فيها وجالس العلماء واستفاد من العلوم التي لديهم، ثم رحل بعد ذلك إلى القاهرة التي كانت مركزا للعلم والعلماء يفد إليها طلاب العلم من كل حدب وصوب، فأخذ العلم عن كثير من علمائها ومشايخها في الفقه والحديث والتفسير حتى أصبح يشار إليه بالبنان في مكانته العلمية فتصدر للتدريس والإفتاء، وقد طاب له المقام في القاهرة فآثر البقاء فيها وقد بقي يفيد ويستفيد ويستقي من علوم علمائها ويعلم الناس فيها حتى توفي رحمه الله.

قال المحبي: " دخل مصر واستوطنها وأخذ بها عن الشيخ محمد حجازي الواعظ والمحقق أحمد الغنيمي وكثير من مشايخ المصريين وأجازه شيوخه وتصدر للإقراء والتدريس بجامع الأزهر، وكان منهمكا على تحصيل العلوم انهماكا كليا فقطع زمانه بالإفتاء والتدريس والتحقيق والتصنيف فسارت بتآليفه الركبان.
‌‌১ - তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপাধি ও উপনাম:

তিনি হলেন ইমাম আল্লামা যয়নুদ্দীন মারঈ ইবনে ইউসুফ ইবনে আবু বকর ইবনে আহমদ ইবনে আবু বকর ইবনে ইউসুফ ইবনে আহমদ আল-কারমি আল-মাকদিসি আল-মিসরি আল-আজহারি আল-হাম্বলি।

আল-কারমি: 'রা' বর্ণে সুকুনসহ, এটি ফিলিস্তিনের তুলকারম গ্রামের নিসবত, যা একটি সুপরিচিত শহর যেখানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং বেড়ে ওঠেন।

আল-মাকদিসি: মিম বর্ণে ফাতাহ, ক্বাফে সুকুন এবং দাল ও সিনে কাসরাসহ, এটি বায়তুল মুকাদ্দাসের সাথে সম্পর্কিত নিসবত। লেখককে এই নিসবতে ডাকা হয় কারণ তাঁর জ্ঞান অন্বেষণের সূচনা সেখানেই হয়েছিল এবং তিনি সেখানকার কিছু ওলামায়ে কেরামের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।

 

‌‌২ - তাঁর জন্ম:

লেখক (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) ফিলিস্তিনের তুলকারম শহরে জন্মগ্রহণ করেন। যে সকল জীবনী গ্রন্থ তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছে সেগুলোতে তাঁর জন্মতারিখের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না এবং তাঁর ইন্তেকালের সময় বয়স কত ছিল তাও নির্দিষ্ট করা হয়নি, যার মাধ্যমে তাঁর জন্মসাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

 

‌‌৩ - তাঁর বেড়ে ওঠা, জ্ঞান অন্বেষণ ও পাণ্ডিত্য:

লেখক (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) তাঁর নিজ শহর তুলকারমে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানে পঠন ও লিখনের প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করেন। তিনি বিজ্ঞানের বুনিয়াদি পাঠ গ্রহণ করেন এবং পবিত্র কুরআন হিফজ করেন। এক্ষেত্রে তাঁর প্রখর স্মৃতিশক্তি এবং অনন্য প্রতিভা তাঁকে বিশেষভাবে সাহায্য করেছিল, যা তাঁকে গভীর একাগ্রতা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনে গতিশীল করে তোলে। অতঃপর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস অভিমুখে যাত্রা করেন এবং সেখানে জ্ঞানের প্রস্রবণ থেকে তৃষ্ণা মেটান, আলেমদের সাহচর্যে বসেন এবং তাঁদের নিকট থাকা জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হন। এরপর তিনি কায়রোর উদ্দেশ্যে রওনা হন, যা ছিল জ্ঞান ও আলেমদের প্রাণকেন্দ্র এবং যেখানে সকল দিক থেকে জ্ঞানান্বেষী শিক্ষার্থীরা ভিড় করত। তিনি কায়রোর অনেক আলেম ও শায়খের নিকট থেকে ফিকহ, হাদিস ও তাফসির শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন, এমনকি তাঁর পাণ্ডিত্যের জন্য তিনি সবার নিকট অত্যন্ত খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তিনি অধ্যাপনা ও ফতোয়া প্রদানের আসনে আসীন হন। কায়রোতে অবস্থান তাঁর কাছে পছন্দনীয় হওয়ায় তিনি সেখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ইন্তেকাল পর্যন্ত সেখানকার আলেমদের জ্ঞান থেকে উপকৃত হতে থাকেন ও মানুষের মাঝে ইলম প্রচার করতে থাকেন (রাহিমাহুল্লাহ)।

আল-মুহিব্বি বলেন: "তিনি মিসরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলেন। সেখানে তিনি ওয়ায়েজ শায়খ মুহাম্মদ হিজাজি, গবেষক আহমদ আল-গুনাইমি এবং মিসরের বহু শায়খের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। তাঁর শায়খগণ তাঁকে এজাজত বা অনুমতি প্রদান করেন এবং তিনি জামে আজহারে ক্বিরাত ও পাঠদানে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি জ্ঞান অর্জনে এমনভাবে নিমগ্ন ছিলেন যে তাঁর পুরো সময়টি ফতোয়া প্রদান, পাঠদান, গবেষণা ও গ্রন্থ রচনায় অতিবাহিত হতো। ফলে তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ দেশ-দেশান্তরে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।"
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌4 - شيوخه:

من أبرز العلماء الذين أخذ عنهم:

1 - الشيخ الإمام محمد بن أحمد المرداوي نزيل القاهرة، شيخ الحنابلة في عصره ومرجعهم، كان جبلا من جبال العلم وبحرا من بحور الإتقان، وشاركه في الأخذ عنه: الشيخ منصور البهوتي، والشيخ عثمان الفتوحي وغيرهما.

2 - الشيخ الإمام محمد حجازي بن محمد بن عبد الله الواعظ الأكراوي الشافعي القلقشندي المعروف بمحمد حجازي.

3 - الشيخ الإمام أحمد بن محمد بن علي شهاب الدين الغنيمي الأنصاري الحنفي الخزرجي، كان شافعي المذهب ولكن بعد تعلمه للمذهب الحنفي انتقل إليه وأصبح بحرا من بحور العلم.

4 - الإمام الفرضي يحيى بن موسى بن أحمد بن موسى بن سالم الحجاوي المقدسي الدمشقي الصالحي القاهري الحنبلي، وهو ابن: شرف الدين موسى الحجاوي.

 

‌‌5 - ثناء العلماء عليه:

أثنى على الإمام مرعي الكرمي كل من ترجم له حيث اجتمعت فيه الصفات الحميدة والخصال الحسنة إلى جانب منزلته العلمية وسعة اطلاعه وإلمامه بشتى أنواع العلوم والفنون مما جعل له ذكرا حميدا.

قال المحبي في خلاصة الأثر (4/ 358): " أحد أكابر علماء الحنابلة بمصر، وكان محدثا فقيها ذا اطلاع واسع على نقول الفقه ودقائق الحديث، ومعرفة تامة بالعلوم المتداولة ".

وقال الغزي في " النعت الأكمل " (190): " شيخ مشايخ الإسلام، أوحد العلماء المحققين الأعلام واحد عصره وأوانه، ووحيد دهره وزمانه، صاحب التآليف العديدة، والفوائد الفريدة، والتحريرات المفيدة، خاتمة أعيان العلماء المتأخرين، من سمت بعلومه سماء المفاخر، فهو العلامة على التحقيق، والفهامة عند أهل التحقيق.
‌‌৪ - তাঁর শিক্ষকগণ:

যাঁদের নিকট থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন এমন বিশিষ্ট ওলামাদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - শাইখ আল-ইমাম মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মারদাভী, কায়রোর অধিবাসী, তাঁর যুগের হাম্বলী মাযহাবের শাইখ ও নির্ভরযোগ্য উৎস। তিনি ছিলেন ইলমের সুউচ্চ পাহাড় এবং গভীর পাণ্ডিত্যের সমুদ্র। তাঁর সাথে তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন: শাইখ মানসুর আল-বুহুতী, শাইখ উসমান আল-ফুতুহী ও অন্যান্যগণ।

২ - শাইখ আল-ইমাম মুহাম্মদ হিজাজী বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-ওয়ায়েজ আল-আকরাভী আশ-শাফেয়ী আল-কালকাশান্দি, যিনি মুহাম্মদ হিজাজী নামে পরিচিত।

৩ - শাইখ আল-ইমাম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী শিহাবুদ্দীন আল-গুনাইমী আল-আনসারী আল-হানাফী আল-খাযরাজী; তিনি প্রথমে শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, কিন্তু হানাফী মাযহাব শিক্ষার পর তিনি সেদিকে স্থানান্তরিত হন এবং ইলমের এক বিশাল সমুদ্রে পরিণত হন।

৪ - ইমাম আল-ফারদী (উত্তরাধিকার আইন বিশেষজ্ঞ) ইয়াহইয়া বিন মুসা বিন আহমদ বিন মুসা বিন সালেম আল-হাজ্জাভী আল-মাকদিসী আদ-দিমাশকী আস-সালেহী আল-কাহিরী আল-হাম্বলী; তিনি হলেন শরফুদ্দীন মুসা আল-হাজ্জাভীর পুত্র।

 

‌‌৫ - তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:

ইমাম মারয়ী আল-কারমী-র জীবনী যিনিই রচনা করেছেন তিনিই তাঁর প্রশংসা করেছেন। কেননা তাঁর মধ্যে ইলমী উচ্চমর্যাদা, গভীর অধ্যয়ন এবং বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিদ্যায় পারদর্শিতার পাশাপাশি প্রশংসনীয় গুণাবলী ও উত্তম আচরণের সমন্বয় ঘটেছিল, যা তাঁকে সুখ্যাতি দান করেছে।

আল-মুহিব্বী 'খুলাসাতুল আসার' (৪/৩৫৮) গ্রন্থে বলেন: "তিনি মিশরের হাম্বলী আলেমদের অন্যতম বড় আলেম ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন মুহাদ্দিস ও ফকীহ, ফিকহী বর্ণনা এবং হাদিসের সূক্ষ্ম বিষয়াবলীতে যার ছিল অগাধ পাণ্ডিত্য এবং সমকালীন প্রচলিত শাস্ত্রসমূহে ছিল পূর্ণ জ্ঞান।"

আল-গাযযী 'আন-নাতুল আকমাল' (১৯০) গ্রন্থে বলেন: "শাইখ মাশায়েখুল ইসলাম (ইসলামের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের শিক্ষক), প্রখ্যাত মুহাক্কিক আলেমদের মধ্যে অদ্বিতীয়, তাঁর যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং সময়ের শ্রেষ্ঠ আলেম; বহু গ্রন্থের প্রণেতা, অনন্য তত্ত্ব ও উপকারী গবেষণার অধিকারী, পরবর্তী যুগের শ্রেষ্ঠ আলেমদের সমাপ্তিকারী, যাঁর জ্ঞান ইলমের গৌরবময় আকাশকে স্পর্শ করেছে। অতএব তিনি প্রকৃতপক্ষেই আল্লামা এবং সত্যনিষ্ঠ গবেষকদের নিকট মহা-বিজ্ঞানী।"
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
قال ابن حميد في السحب الوابلة (463): " العالم العلامة، البحر الفهامة، المدقق المحقق، المفسر المحدث، الفقيه، الأصولي، النحوي، أحد أكابر علماء الحنابلة بمصر ".

وقال ابن بشر في عنوان المجد (/38): " الشيخ العالم العلامة، كانت له اليد الطولى في معرفة الفقه وغيره، صنف مصنفات عديدة في فنون العلم ".

وقال ابن بدران في " المدخل " (442): " العلامة، بقية المجتهدين، أحد أكابر علماء هذا المذهب بمصر ".

وقال المؤرخ محمد جميل الشطي في مختصر طبقات الحنابلة (108):" شيخ الإسلام، أوحد العلماء الأعلام فريد عصره وزمانه، ووحيد دهره وأوانه، صاحب التآليف العديدة، والتحريرات المفيدة، العلامة بالتحقيق والفهامة بالتدقيق ".

وقال الزركلي في الأعلام (7/ 203): " مؤرخ أديب، من كبار الفقهاء ".

وقال عمر كحالة في معجم المؤلفين (12/ 218): " محدث، فقيه، مؤرخ، أديب ".

وصفه الشيخ بكر أبو زيد بأنه من مجتهدي المذهب المتأخرين، وقال عنه: [ … العلامة الفقيه … ].

 

‌‌6 - عقيدته:

المؤلف رحمه الله تعالى يحب السلف الصالح رحمهم الله تعالى، ويعلن التزامه بمنهجهم وعقيدتهم، ويحث على ذلك، ويكثر النقل من كتبهم وخصوصا شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله فقد استفاد منه كثيرا، خاصة فيما يتعلق بآيات الصفات وأخبارها، وقد ألف في ذلك كتابه (أقاويل الثقات في تأويل الأسماء والصفات والآيات المحكمات والمشتبهات)، وقال فيه (ص/45): (ومن السلامة للمرء في دينه اقتضاء طريقة السلف الذين أمر أن يقتدي بهم من جاء بعدهم من الخلف، فمذهب السلف أسلم، ودع ما قيل من أن مذهب الخلف أعلم، فإنه من زخرف الأقاويل وتحسين الأباطيل، فإن أولئك قد شاهدوا الرسول صلى الله عليه وسلم والتنزيل وهم أدرى بما نزل به الأمين جبريل … ).
ইবনে হুমাইদ ‘আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ’ (৪৬৩) গ্রন্থে বলেছেন: “বিরাট আলেম ও সুপণ্ডিত, প্রখর প্রজ্ঞার অধিকারী জ্ঞানসমুদ্র, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকিহ, উসুলি, ব্যাকরণবিদ এবং মিশরের হাম্বলি মাযহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম।”

ইবনে বিশর ‘উনওয়ানুল মাজদ’ (৩৮) গ্রন্থে বলেছেন: “শায়খ, প্রখ্যাত আলেম, ফিকহ ও অন্যান্য বিদ্যায় তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল, তিনি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন।”

ইবনে বাদ্রান ‘আল-মাদখাল’ (৪৪২) গ্রন্থে বলেছেন: “সুবিখ্যাত আলেম, মুজতাহিদগণের অবশিষ্টাংশ, মিশরে এই মাযহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম।”

ঐতিহাসিক মুহাম্মদ জামিল আশ-শাত্তি ‘মুখতাসার তবাকাতিল হানাবিলাহ’ (১০৮) গ্রন্থে বলেছেন: “শায়খুল ইসলাম, বরেণ্য আলেমদের মধ্যে অনন্য, আপন যুগ ও সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, বহু কিতাব ও উপকারী গবেষণার রচয়িতা, গবেষণায় সিদ্ধহস্ত ও প্রজ্ঞায় সূক্ষ্মদর্শী সুপণ্ডিত।”

আয-যিরিকলি ‘আল-আলাম’ (৭/২০৩) গ্রন্থে বলেছেন: “ঐতিহাসিক, সাহিত্যিক এবং প্রথিতযশা ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত।”

উমর কাহহালা ‘মু’জামুল মুআল্লিফীন’ (১২/২১৮) গ্রন্থে বলেছেন: “মুহাদ্দিস, ফকিহ, ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক।”

শায়খ বকর আবু যাইদ তাকে মাযহাবের পরবর্তী যুগের মুজতাহিদদের একজন হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তার সম্পর্কে বলেছেন: [ … প্রখ্যাত আলেম ও ফকিহ … ]।

 

‌‌৬ - তাঁর আকিদা:

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) সালাফে সালেহীনকে (রহিমাহুমুল্লাহ) ভালোবাসতেন এবং তাদের মানহাজ ও আকিদার প্রতি নিজের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতেন। তিনি এর প্রতি উৎসাহিত করতেন এবং তাঁদের কিতাবসমূহ থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিতেন, বিশেষ করে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে তিনি অনেক উপকৃত হয়েছেন, বিশেষ করে সিফাত সংক্রান্ত আয়াত ও সেগুলোর বর্ণনা সম্পর্কিত বিষয়ে। এই বিষয়ে তিনি তাঁর (আকাউয়িলুথ থিকাত ফী তাউয়িলিল আসমা ওয়াস-সিফাত ওয়াল-আয়াতিল মুহকামাত ওয়াল-মুতাশাবিহাত) নামক কিতাবটি রচনা করেছেন। সেখানে তিনি (পৃ. ৪৫) বলেছেন: (একজন ব্যক্তির জন্য তার দ্বীনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার পথ হলো সালাফদের পদ্ধতির অনুসরণ করা, যাদের অনুসরণ করার নির্দেশ পরবর্তীকালের খালাফদের দেওয়া হয়েছে। সালাফদের মাযহাবই অধিক নিরাপদ; খালাফদের মাযহাব অধিক জ্ঞানগর্ভ—এই কথাটি বর্জন করুন, কারণ এটি কেবল কথার কারুকার্য এবং বাতিলকে সুন্দর করে উপস্থাপন মাত্র। কেননা তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও ওহী অবতীর্ণ হওয়া প্রত্যক্ষ করেছেন এবং আমীন জিবরাঈল যা নিয়ে অবতীর্ণ হতেন সে সম্পর্কে তাঁরাই অধিক অবগত ছিলেন … )।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
إلا أنه مع ذلك قد جانبه الصواب في بعض المسائل، ومن ذلك (1):

لعل كثيرًا من طلبة العلم قرأ رسالة الشيخ مرعي الكرمي رحمه الله " أقاويل الثقات في تأويل الأسماء والصفات "، التي حققها الشيخ شعيب الأرنؤوط، وطبعتها مؤسسة الرسالة عام 1406هـ. ولقد تبين لي من قراءتها:

1 - أن الشيخ مرعي يخلط بين مذهب السلف في الصفات (تفويض الكيفية)، ومذهب المفوضة (تفويض المعنى)، وهو مذهب كثير من الأشاعرة، ولهذا اضطربت عباراته ونقولاته.

مثلا: في ص 61 يقول: (إن مذهب السلف هو عدم الخوض في مثل هذا، والسكوت عنه، وتفويض علمه إلى الله تعالى). وفي ص 65 يقول: (وجمهور أهل السنة، منهم السلف وأهل الحديث على الإيمان بها، وتفويض معناها المراد منها إلى الله تعالى، ولا نُفسرها، مع تنزيهنا له عن حقيقتها)، وفي ص 200 ينقل عن البيهقي قوله: ( .. التفويض أسلم)، ثم يُتبعه بقوله: (قلتُ: وبمذهب السلف أقول، وأدين الله تعالى به، وأسأله سبحانه الموت عليه). وانظر: ص 118و181و197.

2 - أنه - رغم ذلك - يُجيز التأويل! فينقل - مثلا - عن ابن الهمام الحنفي ص 132قوله عن صفة الاستواء: (أما كون الاستواء بمعنى الاستيلاء على العرش مع نفي التشبيه فأمر جائز … - إلى أن قال - إذا خيف على العامة عدم فهم الاستواء إلا بالاتصال ونحوه من لوازم الجسمية، فلا بأس بصرف فهمهم إلى الاستيلاء)!!

3 - أنه ينقل تأويلات بعض الأشاعرة كابن فورك وغيره دون تعقب. انظر مثلا: ص 141 و 151 و155.

4 - أنه يجعل صفات الله من المتشابه، انظر: ص 149و 173و182.

5 - أنه ينقل كلامًا خطيرًا لابن الجوزي مؤيدًا له. وهو قوله ص 210: (وأكثر الخلق لا يعرفون من الإثبات إلا بما يعلمون من الشاهد، فيُقنع منهم بذلك

--------------------------------------------

(1) انظر مقال كتبه الشيخ الخراشي في موقع الألوكة.
তবে তা সত্ত্বেও তিনি কিছু বিষয়ে সঠিক পথ থেকে দূরে সরে গেছেন, এবং এর মধ্যে রয়েছে (১):

সম্ভবত অনেক ইলম অন্বেষণকারী শাইখ মারঈ আল-কারমি (রহিমাহুল্লাহ)-এর পুস্তিকা "আকাউয়িলুস সিকাত ফি তাওয়িলিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত" পড়েছেন, যা শাইখ শুয়াইব আল-আরনাউত সম্পাদনা করেছেন এবং ১৪০৬ হিজরিতে মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে। এটি পাঠ করার পর আমার কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো:

১ - শাইখ মারঈ সিফাত বা গুণাবলির ক্ষেত্রে সালাফদের মাযহাব (কাইফিয়াত বা পদ্ধতির সোপর্দ করা) এবং মুফাওয়িদাহদের মাযহাবের (অর্থ সোপর্দ করা) মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছেন, যা অনেক আশআরীদের মাযহাব। এই কারণেই তাঁর বক্তব্য এবং উদ্ধৃতিসমূহে অস্থিরতা দেখা যায়।

উদাহরণস্বরূপ: ৬১ পৃষ্ঠায় তিনি বলেন: (নিশ্চয়ই সালাফদের মাযহাব হলো এই জাতীয় বিষয়ে লিপ্ত না হওয়া, এ ব্যাপারে নীরব থাকা এবং এর জ্ঞান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করা)। ৬৫ পৃষ্ঠায় তিনি বলেন: (এবং জমহুর আহলুস সুন্নাহ, যাঁদের মধ্যে সালাফ এবং আহলুল হাদীস অন্তর্ভুক্ত, তাঁরা এগুলোর প্রতি ঈমান আনার এবং এগুলোর উদ্দেশ্যকৃত অর্থ আল্লাহর কাছে সোপর্দ করার ওপর রয়েছেন; আমরা এগুলোর ব্যাখ্যা করি না, যদিও আমরা আল্লাহকে এর হাকিকত বা প্রকৃত অবস্থা থেকে পবিত্র ঘোষণা করি)। আর ২০০ পৃষ্ঠায় তিনি বায়হাকী থেকে তাঁর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: (...সোপর্দ করাই অধিক নিরাপদ), এরপর তিনি এর সাথে যুক্ত করে বলেন: (আমি বলি: আমি সালাফদের মাযহাবের কথাই বলি, এটি দিয়ে আল্লাহর ইবাদত করি এবং তাঁর কাছে এর ওপর মৃত্যু কামনা করি)। এবং দেখুন: ১১৮, ১৮১ ও ১৯৭ পৃষ্ঠা।

২ - তিনি — তা সত্ত্বেও — রূপক ব্যাখ্যা বা তাবীল করা জায়েয মনে করেন! উদাহরণস্বরূপ, তিনি ১৩২ পৃষ্ঠায় ইবনুল হুমাম আল-হানাফী থেকে ইস্তিওয়া (আরশের ওপর উঠা) সিফাত সম্পর্কে তাঁর উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: (আরশের ওপর উঠার অর্থ যদি সাদৃশ্য অস্বীকার করার সাথে সাথে আরশের ওপর কর্তৃত্ব গ্রহণ করা অর্থে ধরা হয়, তবে তা জায়েয … - তিনি আরও বলেন - যদি সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই ভয় থাকে যে, তারা আরশের ওপর উঠা বলতে শারীরিক সংযোগ বা এ জাতীয় কোনো দৈহিক অনুষঙ্গ ছাড়া অন্য কিছু বুঝবে না, তবে তাদের বোঝাপড়াকে কর্তৃত্ব গ্রহণের দিকে ঘুরিয়ে দিতে কোনো অসুবিধা নেই)!!

৩ - তিনি ইবনে ফুরাক এবং অন্যদের মতো কিছু আশআরী পণ্ডিতের রূপক ব্যাখ্যাগুলো কোনো প্রকার সমালোচনা ছাড়াই উদ্ধৃত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ দেখুন: ১৪১, ১৫১ এবং ১৫৫ পৃষ্ঠা।

৪ - তিনি আল্লাহর গুণাবলিকে মুতাশাবিহাত (অস্পষ্ট অর্থবোধক) এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। দেখুন: ১৪৯, ১৭৩ এবং ১৮২ পৃষ্ঠা।

৫ - তিনি ইবনুল জাওযীর একটি বিপজ্জনক বক্তব্য সমর্থন করে তা উদ্ধৃত করেছেন। তা হলো ২১০ পৃষ্ঠায় তাঁর এই উক্তি: (অধিকাংশ সৃষ্টি কোনো কিছু সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে যা প্রত্যক্ষ জগতের মাধ্যমে জানে তা ছাড়া অন্য কিছু চেনে না, তাই তাদের কাছ থেকে তাতেই সন্তুষ্ট থাকা হবে...

--------------------------------------------

(১) আলুকা ওয়েবসাইটে শাইখ আল-খাররাশি লিখিত একটি নিবন্ধ দেখুন।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
إلى أن يفهموا معنى التنزيه)!! والتنزيه عنده هو التأويل. وهذا يُذكرني بمذهب بعض فلاسفة المسلمين، الذين يجعلون للشريعة ظاهرًا للعوام، وباطنًا لأهل الحكمة!

 

‌‌7 - مذهبه:

درس المؤلف المذهب الحنبلي وتفقه فيه، ولذا فهو يعد من علماء الحنابلة الكبار، وقد قام بتدريس الفقه الحنبلي بجامع ابن طولون بالقاهرة فترة من الزمن، وألف فيه الكتب والرسائل، مثل: كتاب " دليل الطالب، وكتاب غاية المنتهى في جمع الإقناع والمنتهى "

وقال:

لَئِنْ قلَّدَ الناسُ الأئمَّةَ إنني … لَفي مذهبِ الحَبْر ابن حنبل راغبُ

أُقلِّدُ فتواهُ وأعشقُ قولَهُ … وللناسِ فيما يعشقُونَ مذَاهبُ

 

‌‌8 - تلامذته:

منهم:

1 - الشيخ الفقيه ابن أخيه أحمد بن يحيى بن يوسف بن أبي بكر الحنبلي أبو العباس المقدسي، كان أحد العباد الزاهدين والعلماء العاملين، ولد في بيت المقدس سنة 1000 هـ، وتعلم بها وحفظ القرآن الكريم ثم رحل إلى القاهرة وأخذ العلم عن عمه المصنف مرعي الكرمي، والعلامة منصور البهوتي، وغيرهم، وكان حسن السيرة قليل الكلام، توفي بالقاهرة سنة 1091 هـ خلاصة الأثر (1/ 367)، والنعت الأكمل (249)، والسحب الوابلة (117)، ومختصر طبقات الحنابلة (125). .

2 - الشيخ الإمام محمد بن موسى بن محمد الجمازي الحسيني المالكي نسبة إلى مذهب مالك، كان فقيها أديبا شاعرا، تولى القضاء بمصر، وأخذ العلم عن المصنف وغيره من مشايخ عصره، من مصنفاته (التحفة الوفية) و (الحجة) توفي بمصر سنة 1065 هـ خلاصة الأثر (4/ 234)، والأعلام (7/ 119)، وهدية العارفين (2/ 286)، ومعجم المؤلفين (12/ 63).
যতক্ষণ না তারা তানজিহ (পবিত্রতা বর্ণনা)-এর অর্থ বুঝতে পারে)!! আর তাঁর নিকট তানজিহ হলো তাবিল (ব্যাখ্যা)। এটি আমাকে কিছু মুসলিম দার্শনিকদের মতবাদের কথা মনে করিয়ে দেয়, যারা শরীয়তের একটি বাহ্যিক রূপ সাধারণ মানুষের জন্য এবং একটি অভ্যন্তরীণ রূপ প্রজ্ঞাবানদের জন্য নির্ধারণ করেন!

 

‌‌৭ - তাঁর মাযহাব:

লেখক হাম্বলি মাযহাব অধ্যয়ন করেছেন এবং এতে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন। এই কারণে তাঁকে বড় হাম্বলি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়। তিনি কায়রোর ইবনে তুলুন মসজিদে দীর্ঘকাল হাম্বলি ফিকহ পাঠদান করেছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন গ্রন্থ ও রিসালা রচনা করেছেন, যেমন: "দালিলুত তালিব" কিতাব এবং "গায়াতুল মুনতাহা ফি জামইল ইকনা ওয়াল মুনতাহা" কিতাব।

তিনি বলেছেন:

যদি মানুষ ইমামদের অনুকরণ করে, তবে আমি … মহাজ্ঞানী ইবনে হাম্বলের মাযহাবের প্রতিই আগ্রহী।

আমি তাঁর ফতোয়ার অনুসরণ করি এবং তাঁর উক্তিকে ভালোবাসি … আর মানুষ যা ভালোবাসে সে বিষয়ে তাদের ভিন্ন ভিন্ন পথ রয়েছে।

 

‌‌৮ - তাঁর ছাত্রগণ:

তাদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - ফকিহ শায়খ এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন ইউসুফ বিন আবু বকর আল-হাম্বলি আবু আব্বাস আল-মাকদিসি। তিনি ইবাদতগুজার, দুনিয়াবিমুখ এবং আমলকারী আলেমদের অন্যতম ছিলেন। তিনি ১০০০ হিজরিতে বায়তুল মুকাদ্দাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে শিক্ষালাভ ও পবিত্র কুরআন হিফজ করেন। অতঃপর তিনি কায়রোতে পাড়ি জমান এবং তাঁর চাচা তথা গ্রন্থকার মারয়ি আল-কারমি, আল্লামা মানসুর আল-বাহুতি ও অন্যদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেন। তিনি সচ্চরিত্র ও স্বল্পভাষী ছিলেন। ১০৯১ হিজরিতে কায়রোতে তাঁর মৃত্যু হয়। খুলাসাতুল আসার (১/৩৬৭), আন-নাতুল আকমাল (২৪৯), আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ (১১৭), মুখতাসার তাবাকাতিল হানাবিলাহ (১২৫)।

২ - শায়খ ইমাম মুহাম্মদ বিন মুসা বিন মুহাম্মদ আল-জাম্মাজি আল-হুসাইনি আল-মালিকি, মালিকি মাযহাবের অনুসারী। তিনি ফকিহ, সাহিত্যিক ও কবি ছিলেন। তিনি মিসরে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন এবং গ্রন্থকার ও তাঁর সমসাময়িক অন্যান্য শায়খদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে (আত-তুহফাতুল ওয়াফিয়্যাহ) এবং (আল-হুজ্জাহ)। তিনি ১০৬৫ হিজরিতে মিসরে মৃত্যুবরণ করেন। খুলাসাতুল আসার (৪/২৩৪), আল-আলাম (৭/১১৯), হাদিয়াতুল আরিফিন (২/২৮৬), মুজামুল মুআল্লিফিন (১২/৬৩)।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
3 - العلامة المفتي عبد الباقي بن عبد الباقي بن عبد القادر بن إبراهيم بن عمر البعلي الحنبلي الأزهري الدمشقي، مفتي الحنابلة في دمشق، تعلم في الأزهر، وكان يعرف ب (ابن فقيه فصه) له مصنفات منها: (رياض أهل الجنة في آثار أهل السنة)، (العين والأثر في عقائد أهل الأثر)، توفي بدمشق سنة 1071 هـ النعت الأكمل (223)، ومختصر طبقات الحنابلة (120)، والأعلام (3/ 272)، وهدية العارفين (1/ 497).

 

‌‌9 - مؤلفاته (1):

برع في مختلف العلوم الشرعية في الفقه والتفسير والحديث والعقائد وغيرها، وكذا في علوم العربية كالنحو والصرف والبلاغة والأدب والشعر، وعلوم السيرة والتاريخ والسلوك وغيرها. ومؤلفاته كثيرة بلغت حوالي الثمانين تأليفاً ما بين كتاب كبير ورسالة صغيرة ومن أهمها:

 

‌‌أولا - المؤلفات المطبوعة، ومنها:

- إحكام الأساس في قوله تعالى. (إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ) حققه الدكتور حسين الدراويش.

- إخلاص الوداد في صدق الميعاد) طبع في دار البشائر الاسلامية - بيروت لعام 1422هـ.

- إرشاد ذوي الأفهام لنزول عيسى عليه السلام، حققه د. عطية الزهراني.

- إرشاد ذوي العرفان لما للعمر من الزيادة والنقصان. نشر دار عمار. الأردن، 1408 هـ تحقيق: مشهور حسن محمود سلمان.

- أقاويل الثقات في تأويل الأسماء والصفات. مؤسسة الرسالة - الطبعة الأولى - بيروت سنة 1406 هـ تحقيق شعيب الأرناؤوط.

--------------------------------------------

(1) استقصى عد مؤلفات الشيخ مرعي كل من: المحبي في خلاصة الأثر (4/ 358: 360)، والشطي في مختصر طبقات الحنابلة (ص / 98 - 100)، والبغدادي في هدية العارفين (2/ 331 - 332)، وفي إيضاح المكنون أيضاً، وابن حميد في السحب الوابلة (ص/ 464: 466). وبعض محققي كتبهم كالشيخ شعيب في تحقيق تأويل أقاويل الثقات.
৩ - আল্লামা মুফতি আব্দুল বাকী বিন আব্দুল বাকী বিন আব্দুল কাদির বিন ইবরাহিম বিন উমর আল-বালি আল-হাম্বলি আল-আযহারি আদ-দিমাশকি; দামেস্কের হাম্বলিদের মুফতি। তিনি আল-আযহারে শিক্ষা লাভ করেন এবং তিনি 'ইবনে ফকিহ ফাসসাহ' নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম: (রিয়াজু আহলিল জান্নাহ ফি আসারু আহলিস সুন্নাহ), (আল-আইনু ওয়াল আসারু ফি আকাইদি আহলিল আসার)। তিনি ১০৭১ হিজরি সনে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। আন-নাতুল আকমাল (২২৩), মুখতাসার তাবাকাতিল হানাবিলাহ (১২০), আল-আলাম (৩/২৭২), হাদিয়াতুল আরিফিন (১/৪৯৭)।

 

‌‌৯ - তাঁর রচনাবলি (১):

তিনি ফিকহ, তাফসির, হাদিস, আকাইদ সহ বিভিন্ন শরয়ী বিজ্ঞানে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তেমনিভাবে আরবি ভাষা ও সাহিত্য যেমন নাহু, সরফ, বালাগাত, আদব ও কবিতা এবং সীরাত, ইতিহাস, সুলুক ও অন্যান্য বিষয়েও তিনি দক্ষ ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা অনেক, যা বড় বড় কিতাব এবং ছোট ছোট রিসালা মিলিয়ে প্রায় আশির কাছাকাছি পৌঁছেছে। তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

 

‌‌প্রথমত - মুদ্রিত গ্রন্থাবলি, যার মধ্যে রয়েছে:

- ইহকামুল আসাস ফি কাওলিহি তাআলা: (নিশ্চয়ই মানুষের জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছে...) এটি ডক্টর হুসাইন আদ-দারাবিশ কর্তৃক সম্পাদিত।

- ইখলাসুল বিদাদ ফি সিদকিল মিয়াদ। ১৪২২ হিজরিতে বৈরুতের দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে মুদ্রিত।

- ইরশাদু যাবিল আফহাম লি নুযুলি ঈসা আলাইহিস সালাম। এটি ড. আতিয়্যাহ আয-যাহরানি কর্তৃক সম্পাদিত।

- ইরশাদু যাবিল ইরফান লিমা লিল উমরি মিনায যিয়াদাতি ওয়ান নুকসান। দার আম্মার, জর্ডান থেকে ১৪০৮ হিজরিতে প্রকাশিত। সম্পাদনায়: মাশহুর হাসান মাহমুদ সালমান।

- আকাবিলুস সিকাত ফি তাউয়িলিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত। মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - প্রথম সংস্করণ - বৈরুত, ১৪০৬ হিজরি। সম্পাদনায়: শুআইব আল-আরনাউত।

--------------------------------------------

(১) শায়খ মারঈ-এর রচনাবলির পূর্ণ তালিকা নিরূপণ করেছেন: আল-মুহিব্বী 'খুলাসাতুল আসার' গ্রন্থে (৪/৩৫৮: ৩৬০), আশ-শাত্তী 'মুখতাসার তাবাকাতিল হানাবিলাহ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ৯৮-১০০), আল-বাগদাদি 'হাদিয়াতুল আরিফিন' গ্রন্থে (২/৩৩১-৩৩২) এবং 'ইদাহুল মাকনুন' গ্রন্থেও, এবং ইবনে হুমাইদ 'আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ৪৬৪-৪৬৬)। এছাড়াও তাদের কোনো কোনো গ্রন্থের সম্পাদকবৃন্দ, যেমন শায়খ শুআইব 'আকাবিলুস সিকাত' গ্রন্থের সম্পাদনায় এটি করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
- بديع الإنشاء والصفات في المكاتبات والمراسلات، ويعرف بإنشاء مرعي. طبع طبعات كثيرة، ومنها طبعة الشيخ عبد الرزاق بمصر سنة 1299 هـ.

- بهجة الناظرين وآيات المستدلين، مطبوع بالآلة الكاتبة، رسالة دكتوراه بالجامعة الإسلامية - قسم العقيدة - تقدم به الباحث / خليل إبراهيم أحمد.

- تحقيق البرهان في إثبات حقيقة الميزان. مطبعة المدني - الطبعة الأولى - 1409 هـ. تحقيق الدكتور سليمان الخزي.

- تحقيق البرهان في شأن الدخان. نشر دار عمار - الطبعة الأولى - تحقيق مشهور حسن.

- تحقيق الخلاف في أصحاب الأعراف. نشر دار الصحابة - الطبعة الأولى - تحقيق مشهور حسن.

- تحقيق الرجحان في صوم يوم الشك من رمضان. طبع بتحقيق الدكتور / عبد الكريم العمري - مطابع ابن تيمية القاهرة - الطبعة الأولى.

- توقيف الفريقين على خلود أهل الدارين طبع بدار ابن حزم - بيروت، لعام 1419هـ، بتحقيق خليل بن عثمان الجبور السبيعي، وتقديم عبدالله بن عبدالرحمن الجبرين.

- دليل الطالب لنيل المطالب، وهو موضع دراستنا.

- دفع الشبهة والغرر عمن يحتج على فعل المعاصي بالقدر، طبع بتحقيق عبد الله بن سليمان الغفيلي.

- سلوان المصاب بفرقة الأحباب طبع بدار الحرمين - القاهرة - عام 1420هـ، بعناية ابراهيم عزت المرسي، وابراهيم اسماعيل القاضي.

- الشهادة الزكية في ثناء الأئمة على ابن تيمية. نشر مؤسسة الرسالة، بيروت 1404 هـ الطبعة الأولى. تحقيق الدكتور / نجم عبد الرحمن خلف.

- غاية المنتهى في الجمع بين الإقناع والمنتهى - في الفقه الحنبلي ويقع في ثلاثة أجزاء. نشر دار السلامة - دمشق - الطبعة الأولى 1959 م.

- غذاء الأرواح في المحادثة والمزاح طبع بدار ابن حزم بتحقيق بسام عبدالوهاب الجابي.
- বাদিউল ইনশা ওয়াস-সিফাত ফিল মুকাতাবাত ওয়াল মুরাসালত, যা ইনশায়ে মারয়ি নামে পরিচিত। এটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে ১২৯৯ হিজরিতে মিশরে শেখ আব্দুর রাজ্জাক কর্তৃক প্রকাশিত সংস্করণটি অন্যতম।

- বাহজাতুন নাজিরিন ওয়া আয়াতুল মুস্তাদিল্লিন, এটি টাইপরাইটারে মুদ্রিত, যা মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আকীদা বিভাগের একটি পিএইচডি গবেষণাপত্র - এটি গবেষক খলিল ইব্রাহিম আহমদ পেশ করেছেন।

- তাহকিকুল বুরহান ফি ইসবাত হাকিকাতিল মিজান। মাদানি প্রেস - প্রথম সংস্করণ - ১৪০৯ হিজরি। ডক্টর সুলাইমান আল-খুজি কর্তৃক সম্পাদিত।

- তাহকিকুল বুরহান ফি শানিদ দুখান। দার আম্মার কর্তৃক প্রকাশিত - প্রথম সংস্করণ - মাশহুর হাসান কর্তৃক সম্পাদিত।

- তাহকিকুল খিলাফ ফি আসহাবিল আরাফ। দারুস সাহাবাহ কর্তৃক প্রকাশিত - প্রথম সংস্করণ - মাশহুর হাসান কর্তৃক সম্পাদিত।

- তাহকিকুর রুজহান ফি সওমি ইয়াওমিশ শাক্কি মিন রামাদান। ডক্টর আব্দুল করিম আল-উমারি কর্তৃক সম্পাদিত - ইবনে তাইমিয়া প্রেস, কায়রো - প্রথম সংস্করণ।

- তাওকিফুল ফারিকাইন আলা খুলুদি আহলিদ দারাইন। বৈরুতের দার ইবনে হাজম থেকে ১৪১৯ হিজরিতে মুদ্রিত, খলিল বিন উসমান আল-জাবুর আস-সুবাইয়ি কর্তৃক সম্পাদিত এবং আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরিন কর্তৃক উপস্থাপিত।

- দালিলুত তালিব লি নাইলিল মাতালিব, যা আমাদের বর্তমান গবেষণার বিষয়।

- দাফউশ শুবহা ওয়াল গুরার আম্মান ইয়াহতাাজ্জু আলা ফিলিল মায়াসি বিল কদর, এটি আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-গুফাইলি কর্তৃক সম্পাদিত হয়ে মুদ্রিত।

- সিলওয়ানুল মুসাব বিফুরকাতিল আহবাব। কায়রোর দারুল হারামাইন থেকে ১৪২০ হিজরিতে মুদ্রিত, ইব্রাহিম ইজ্জাত আল-মুরসি এবং ইব্রাহিম ইসমাইল আল-কাদি-এর তত্ত্বাবধানে।

- আশ-শাহাদাতুয যাকিইয়াহ ফি সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়াহ। মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ কর্তৃক প্রকাশিত, বৈরুত ১৪০৪ হিজরি, প্রথম সংস্করণ। ডক্টর নাজম আব্দুর রহমান খালাফ কর্তৃক সম্পাদিত।

- গায়াতুল মুনতাহা ফিল জাময়ি বাইনাল ইকনাই ওয়াল মুনতাহা - হাম্বলী ফিকহের এই গ্রন্থটি তিন খণ্ডে বিভক্ত। দারুস সালামাহ কর্তৃক প্রকাশিত - দামেস্ক - প্রথম সংস্করণ ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ।

- গিজাউল আরওয়াহ ফিল মুহাদাসাত ওয়াল মুজাহ। বাসসাম আব্দুল ওয়াহহাব আল-জাবি কর্তৃক সম্পাদিত হয়ে দার ইবনে হাজম থেকে মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
- الفوائد الموضوعة في الأحاديث الموضوعة. نشر المكتب الإسلامي سنة 1397 هـ بيروت - الطبعة الثانية- تحقيق الدكتور / محمد الصباغ.

- قلائد المرجان في بيان الناسخ والمنسوخ من القرآن، نشر دار القرآن الكريم - الكويت - سنة 1400 هـ. الطبعة الأولى تحقيق سامي عطا حسن.

- قلائد العقيان في فضائل بني عثمان طبع بدار غراس.

- القول البديع في علم البديع طبع بدار كنوز اشبيليا - الرياض، 1425هـ، تحقيق ودراسة محمد بن علي الصامل.

- الكواكب الدرية في مناقب المجتهد ابن تيمية. مطبعة دار الغرب الإسلامي - بيروت 1406 هـ - الطبعة الأولى تحقيق الدكتور / نجم عبد الرحمن خلف.

- اللفظ الموطأ في بيان الصلاة الوسطى. نشر وتوزيع دار البخاري - بريدة - المدينة، الطبعة الأولى 1412 هـ، تحقيق الدكتور / عبد العزيز بن مبروك الأحمدي.

- ما يفعله الأطباء والداعون لدفع شر الطاعون طبع بدار البشائر الاسلامية، بيروت عام 1421هـ، تقديم خالد بن العربي مدرك.

- مسبوك الذهب في فضل العرب وشرف العلم على شرف النسب. نشر دار عمار - الأردن - الطبعة الأولى 1408 هـ، تحقيق / علي حسن علي عبد الحميد.

 

‌‌ثانيا: مؤلفاته المخطوطة، ومنها:

- الآيات المحكمات والمتشابهات خلاصة الأثر (4/ 358)، وإيضاح المكنون (1/ 7)، والسحب الوابلة (464). .

- إتحاف ذوي الألباب في قوله تعالى: يَمْحُوا اللَّهُ مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ وَعِنْدَهُ أُمُّ الْكِتَابِ) يوجد له نسخة خطية في مكتبة الأوقاف العامة بالموصل برقم (3/ 125)، وأخرى بمكتبة أسعد أفندي بتركيا - استانبول برقم (1300).

- الأدلة الوفية بتصويب قول الفقهاء والصوفية السحب الوابلة (465)، وإيضاح المكنون (1/ 52)، ومختصر طبقات الحنابلة (109).
- জাল হাদিসসমূহের বিষয়ে সংকলিত উপকারিতা। আল-মাকতাবুল ইসলামী কর্তৃক ১৩৯৭ হিজরিতে বৈরুত থেকে প্রকাশিত - দ্বিতীয় সংস্করণ - সম্পাদনা: ডক্টর মুহাম্মদ সাব্বাগ।

- কুরআনের নাসিখ ও মানসুখ বর্ণনায় প্রবালের হার, দারুল কুরআনিল কারীম - কুয়েত কর্তৃক ১৪০০ হিজরিতে প্রকাশিত। প্রথম সংস্করণ, সম্পাদনা: সামি আতা হাসান।

- উসমানি বংশের মর্যাদায় স্বর্ণের হার, দারু গিরাস থেকে মুদ্রিত।

- বাদি' (অলঙ্কার) শাস্ত্রে অনন্য বক্তব্য, কুনুযু ইশবিলিয়া - রিয়াদ থেকে ১৪২৫ হিজরিতে মুদ্রিত, সম্পাদনা ও গবেষণা: মুহাম্মদ বিন আলী আস-সামিল।

- মুজতাহিদ ইবনে তাইমিয়ার গুণাবলীতে উজ্জ্বল নক্ষত্রসমূহ। দারুল গারবিল ইসলামী প্রেস - বৈরুত ১৪০৬ হিজরি - প্রথম সংস্করণ, সম্পাদনা: ডক্টর নাজমু আবদুর রহমান খালাফ।

- সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তী নামাজ) বর্ণনায় সহজ শব্দাবলি। দারুল বুখারি - বুরাইদাহ - মদিনা কর্তৃক প্রকাশিত ও বিতরিত, প্রথম সংস্করণ ১৪১২ হিজরি, সম্পাদনা: ডক্টর আবদুল আজিজ বিন মাবরুক আল-আহমাদি।

- প্লেগের অনিষ্ট দূর করতে চিকিৎসক ও আহ্বানকারীদের করণীয়, দারুল বাশাইরিল ইসলামিয়া - বৈরুত থেকে ১৪২১ হিজরিতে মুদ্রিত, উপস্থাপনা: খালিদ বিন আল-আরাবি মুদরিক।

- আরবের মর্যাদা এবং বংশীয় শ্রেষ্ঠত্বের ওপর জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ে স্বর্ণ ঢালাই। দারু আম্মার - জর্ডান কর্তৃক প্রকাশিত - প্রথম সংস্করণ ১৪০৮ হিজরি, সম্পাদনা: আলী হাসান আলী আব্দুল হামিদ।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: তাঁর পাণ্ডুলিপিসমূহ, যার মধ্যে রয়েছে:

- মুহকাম ও মুতাশাবিহ আয়াতসমূহ, খুলাসাতুল আসার (৪/ ৩৫৮), ইদাহুল মাকনুন (১/ ৭) এবং আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ (৪৬৪)।

- মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা বহাল রাখেন, আর তাঁর নিকটেই রয়েছে মূল কিতাব" প্রসঙ্গে জ্ঞানীদের উপহার। এর একটি পাণ্ডুলিপি মসুলের আওকাফ পাবলিক লাইব্রেরিতে (৩/ ১২৫) নম্বরে এবং অন্যটি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আসআদ এফেন্দি লাইব্রেরিতে (১৩০০) নম্বরে বিদ্যমান।

- ফকিহ ও সুফিদের বক্তব্য সঠিক প্রমাণের পূর্ণাঙ্গ দলিলসমূহ, আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ (৪৬৫), ইদাহুল মাকনুন (১/ ৫২) এবং মুখতাসার তাবাকাতিল হানাবিলাহ (১০৯)।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
- إرشاد من كان قصده لا إله إلا الله السحب الوابلة (464)، وإيضاح المكنون (2/ 426)، ومختصر طبقات الحنابلة (109).

- أرواح الأشباح في الكلام على الأرواح إيضاح المكنون (1/ 64)، والأعلام (7/ 203)، وهدية العارفين (2/ 426).

- أزهار الفلاة في آية قصر الصلاة خلاصة الأثر (4/ 359)، وإيضاح المكنون (1/ 66)، وهدية العارفين (2/ 426).

- الأسئلة في مسائل مشكلة إيضاح المكنون (1/ 159)، وقد ذكره المؤلف في أقاويل الثقات (75) بهذا الاسم.

- إيقاظ العارفين على حكم أوقاف السلاطين.

- البرهان في تفسير القرآن، لم يتمه خلاصة الأثر (4/ 359)، والسحب الوابلة (464)، ومختصر طبقات الحنابلة (109).

- بشرى ذوي الإحسان لمن يقضي حوائج الإخوان النعت الأكمل (193)، وإيضاح المكنون (1/ 184)، ومختصر طبقات الحنابلة (110).

- بشرى من استبصر وأمر بالمعروف ونهى عن المنكر مختصر طبقات الحنابلة (110)، وهدية العارفين (2/ 426)، والسحب الوابلة (466).

- تحسين الطرق والوجوه في قوله عليه السلام اطلبوا الخير عند حسان الوجوه

له نسخة خطية في مكتبه المصغرات الفيلمية بقسم المخطوطات بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة برقم حفظ (4813).

- تحقيق الظنون بأخبار الطاعون يوجد له نسخ خطية في المكتبه المركزيه بالرياض برقم حفظ (1650)، وفي المكتبه الوطنيه بباريس برقم حفظ [2026 (2)]، وفي المكتبة الملكيه (مكتبه الدوله) بالمانيا - برلين - برقم حفظ (6373).

- تحقيق المقالة هل الأفضل في حق النبي عليه الصلاة والسلام الولاية أو النبوة أو الرسالة؟ إيضاح المكنون (1/ 267)، وهدية العارفين (2/ 426)، ومختصر طبقات الحنابلة (110).

- تسكين الأشواق بأخبار العشاق إيضاح المكنون (1/ 267)، والنعت الأكمل (193).
- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ যার লক্ষ্য তার জন্য নির্দেশনা: আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ (৪৬৪), ঈদ্বাহুল মাকনুন (২/ ৪২৬), এবং মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (১০৯)।

- রুহ বা আত্মা বিষয়ক আলোচনায় দেহসমূহের আত্মা: ঈদ্বাহুল মাকনুন (১/ ৬৪), আল-আ’লাম (৭/ ২০৩), এবং হাদিয়াতুল আরিফীন (২/ ৪২৬)।

- নামাজ কসর করার আয়াত বিষয়ক মরুভূমির ফুলসমূহ: খুলাসাতুল আসার (৪/ ৩৫৯), ঈদ্বাহুল মাকনুন (১/ ৬৬), এবং হাদিয়াতুল আরিফীন (২/ ৪২৬)।

- জটিল মাসআলাসমূহ সংক্রান্ত প্রশ্নাবলী: ঈদ্বাহুল মাকনুন (১/ ১৫৯); লেখক এটি 'আকাউয়িলুস সিকাত' (৭৫) গ্রন্থে এই নামেই উল্লেখ করেছেন।

- সুলতানদের ওয়াকফকৃত সম্পত্তির বিধান সম্পর্কে আরিফদের জাগ্রতকরণ।

- কুরআনের তাফসীরে অকাট্য দলিল: এটি তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি; খুলাসাতুল আসার (৪/ ৩৫৯), আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ (৪৬৪), এবং মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (১০৯)।

- ভাইদের প্রয়োজন পূরণকারীর জন্য সদাচারীদের পক্ষ থেকে সুসংবাদ: আন-নাতুল আকমান (১৯৩), ঈদ্বাহুল মাকনুন (১/ ১৮৪), এবং মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (১১০)।

- যে ব্যক্তি সত্য উপলব্ধি করেছে এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করেছে তার জন্য সুসংবাদ: মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (১১০), হাদিয়াতুল আরিফীন (২/ ৪২৬), এবং আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ (৪৬৬)।

- 'তোমরা সুন্দর চেহারাধারীদের নিকট কল্যাণ তালাশ করো'—নবী (আলাইহিস সালাম)-এর এই বাণীর সূত্র ও দিকসমূহের উৎকর্ষ সাধন।

মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগের মাইক্রোফিল্ম লাইব্রেরিতে এর একটি হাতে লেখা কপি বা পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যার সংরক্ষণ নম্বর (৪৮১৩)।

- প্লেগ মহামারীর সংবাদ নিয়ে সংশয় নিরসন: এর পাণ্ডুলিপি রিয়াদের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সংরক্ষণ নম্বর (১৬৫০), প্যারিসের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে সংরক্ষণ নম্বর [২০২৬ (২)], এবং জার্মানি-বার্লিনের রয়্যাল লাইব্রেরিতে (স্টেট লাইব্রেরি) সংরক্ষণ নম্বর (৬৩৭৩) অনুযায়ী বিদ্যমান রয়েছে।

- নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ক্ষেত্রে বেলায়েত, নবুওয়াত না রেসালাত কোনটি শ্রেষ্ঠ—এ বিষয়ক বক্তব্যের বিশ্লেষণ: ঈদ্বাহুল মাকনুন (১/ ২৬৭), হাদিয়াতুল আরিফীন (২/ ৪২৬), এবং মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (১১০)।

- প্রেমিকদের সংবাদ বর্ণনার মাধ্যমে অনুরাগের প্রশমন: ঈদ্বাহুল মাকনুন (১/ ২৬৭), এবং আন-নাতুল আকমান (১৯৩)।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
- تشويق الأنام إلى حج بيت الله الحرام يوجد له نسخة خطية في خدا بخش (1/ 290)، وعنه صورة بمخطوطات الجامعة الإسلامية برقم (1536 / ف).

- تلخيص أوصاف المصطفى وذكر من بعده من الخلفا يوجد له نسخة في مكتبة شهيد علي باشا برقم (1861)، وفي مكتبة الخزانه الملكية بالرباط برقم حفظ (4894)، وفي مكتبة مركز البحث العلمي واحياء التراث الاسلامي بمكه المكرمه برقم حفظ (128) عن مكتبه الحرم النبوي 25/ 219، 57 عن مكتبه الحرم المكي 60 سيره.

- تنبيه الماهر على غير ما هو المتبادر من الأحاديث الواردة في الصفات هدية العارفين (2/ 427)، وإيضاح المكنون (1/ 327)، والنعت الأكمل (192). .

- تنوير بصائر المقلدين في مناقب الأئمة المجتهدين له نسخة خطية في بدار الكتب برقم حفظ (7/ 146)، وفي مكتبة شستربيتي بايرلندا - دبلن برقم حفظ (5/ 4324).

- تهذيب الكلام في حكم أرض مصر والشام إيضاح المكنون (1/ 342)، ومختصر طبقات الحنابلة (110)، والسحب الوابلة (465).

- توضيح البرهان في الفرق بين الإسلام والإيمان يوجد له نسخة خطية في المكتبة التيمورية بالقاهرة برقم (397)، ومكتبة سليم آغا - بتركيا- برقم 657.

- جامع الدعاء وورد الأولياء ومناجاة الأصفياء يوجد له نسخة خطية، في دار الكتب المصرية برقم (6/ 190).

- الحجج البينة في إبطال اليمين مع البينة.

- الحكم الملكية والكلم الأزهرية له نسخة خطية في المكتبه الوطنيه بباريس

برقم حفظ [2026 (5)].

- دليل الحكام في الوصول إلى دار السلام إيضاح المكنون (1/ 478)، والنعت الأكمل (193)، ومختصر طبقات الحنابلة (110).

- دليل الطالبين لكلام النحويين يوجد له نسخة خطية بجامعة السليمانية بالعراق برقم (186).
- তাশউইকুল আনাম ইলা হাজজি বাইতিল্লাহিল হারাম (সৃষ্টিজগতকে আল্লাহর পবিত্র ঘর হজ্জের প্রতি উৎসাহিতকরণ): খুদা বখশ লাইব্রেরিতে (১/ ২৯০) এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে এবং এর একটি অনুলিপি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগে ১৫৩৬/ফা নম্বর সংগ্রহে সংরক্ষিত আছে।

- তালখিসু আওসাফিল মুস্তফা ওয়া যিকরু মান বা’দাহু মিনাল খুলাফা (মুস্তফা (সা.)-এর গুণাবলির সারসংক্ষেপ এবং তাঁর পরবর্তী খলিফাদের বর্ণনা): শহীদ আলী পাশা লাইব্রেরিতে ১৮৬১ নম্বরে, রাবাতের আল-খিজানা আল-মালিকিয়া লাইব্রেরিতে ৪৮৯৪ সংরক্ষণ নম্বরে এবং মক্কা মুকাররামায় বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইসলামি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কেন্দ্রের লাইব্রেরিতে ১২৮ সংরক্ষণ নম্বরে এর অনুলিপি রয়েছে; যা মসজিদে নববী লাইব্রেরির ২৫/ ২১৯ এবং মসজিদে হারাম লাইব্রেরির ৬০ সীরাত বিভাগ হতে সংগৃহীত।

- তানবিহুল মাহির আলা গাইরি মা হুয়াল মুতাবাদির মিনাল আহাদিসিল ওয়ারিদাতা ফিস সিফাত (গুণাবলি সংক্রান্ত হাদিসসমূহের আপাত অর্থ ব্যতীত প্রকৃত অর্থের বিষয়ে দক্ষদের সতর্কীকরণ): হাদিয়্যাতুল আরিফিন (২/ ৪২৭), ইদাহুল মাকনুন (১/ ৩২৭) এবং আন-নাতুল আকমাল (১৯২)।

- তানউইরু বাসাইরিল মুকাল্লিদিন ফি মানাকিবিল আইম্মাতিল মুজতাহিদিন (মুজতাহিদ ইমামগণের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় অনুসারীদের অন্তর্দৃষ্টির আলোকায়ন): দারুল কুতুব-এ ৭/ ১৪৬ সংরক্ষণ নম্বরে এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে অবস্থিত চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে ৫/ ৪৩২৪ সংরক্ষণ নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

- তাহযিবুল কালাম ফি হুকমি আরদি মিসর ওয়াশ শাম (মিসর ও শামের ভূমির বিধান সম্পর্কে আলোচনার পরিমার্জন): ইদাহুল মাকনুন (১/ ৩৪২), মুখতাসার তাবাকাতিল হানাবিলা (১১০) এবং আস-সুহুবুল ওয়াবিলা (৪৬৫)।

- তাওদিহুল বুরহান ফি আল-ফারকি বাইনাল ইসলামি ওয়াল ইমান (ইসলাম ও ঈমানের পার্থক্যের বিষয়ে প্রমাণের স্পষ্টীকরণ): কায়রোর তাইমুরিয়া লাইব্রেরিতে ৩৯৭ নম্বরে এবং তুরস্কের সেলিম আগা লাইব্রেরিতে ৬৫৭ নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

- জামিউদ দুআ ওয়া উইরদুল আউলিয়া ওয়া মুনাজাতুল আসফিয়া (দোয়ার সংকলন, ওলীদের আমল এবং পুণ্যবানদের মুনাজাত): মিশরের দারুল কুতুব-এ ৬/ ১৯০ নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

- আল-হুজাজুল বাইয়্যিনাহ ফি ইবাতালিল ইয়ামিন মাআল বাইয়্যিনাহ (প্রমাণের উপস্থিতিতে শপথ বাতিলের অকাট্য দলিলসমূহ)।

- আল-হিকামুল মলিকিয়্যাহ ওয়াল কালিমুল আযহারিয়্যাহ (রাজকীয় প্রজ্ঞা ও উজ্জ্বল বাণীসমূহ): প্যারিসের জাতীয় গ্রন্থাগারে ২০২৬ (৫) সংরক্ষণ নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

- দালিলুল হুক্কাম ফি আল-উসুল ইলা দারিস সালাম (শান্তির আলয়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বিচারকদের পথপ্রদর্শক): ইদাহুল মাকনুন (১/ ৪৭৮), আন-নাতুল আকমাল (১৯৩) এবং মুখতাসার তাবাকাতিল হানাবিলা (১১০)।

- দালিলুত তালিবিন লি-কালামিন নাহউইয়্যিন (ব্যাকরণবিদদের আলোচনার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পথপ্রদর্শক): ইরাকের সুলায়মানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৬ নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
- ديوان الكرمي إيضاح المكنون (1/ 526)، وهدية العارفين (2/ 427)، والسحب الوابلة (466). وهو ديوان شعر للمؤلف.

- رسالة في السماع يوجد له صورة بمخطوطات الجامعة الإسلامية بالمدينة ضمن مجموع تحت رقم (1551 / ف).

- رسالة فيما وقع في كلام الصوفيين من ألفاظ موهمة للتكفير يوجد له نسخة خطية بالقاهرة - فهرس الكتبخانة - (7/ 546).

- رفع التلبيس عمن توقف فيما كفر به إبليس يوجد له نسخة بدار الكتب المصرية برقم (216) مجاميع.

- روض العارفين وتسليك المريدين إيضاح المكنون (1/ 589)، وخلاصة الأثر (4/ 359)، ومختصر طبقات الحنابلة (110).

- الروض النضر في الكلام على الخضر.

- رياض الأزهار في حكم السماع والأوتار والغناء والأشعار.

- السراج المنير في استعمال الذهب والحرير.

- سلوك الطريقة في الجمع بين كلام أهل الشريعة والحقيقة إيضاح المكنون (2/ 25)، والنعت الأكمل (192).

- شفاء الصدور في زيارة المشاهد والقبور طبع بمطابع الحميضي، بالرياض، عام 1418هـ تحقيق جمال بن حبيب صلاح.

- فتح المنان بتفسير آية الامتنان إيضاح المكنون (1/ 174)، والنعت الأكمل (192)، ومختصر طبقات الحنابلة (110).

- فرائد فوائد الفكر في الإمام المهدي المنتظر يوجد له نسخة في دار الكتب المصرية فهرس الكتبخانة (6/ 161).

- فم الوكاء في كلام السفيان من ألفاظ المهملات في التكفير. تاريخ الأدب لبروكلمان (2/ 484).

- قرة عين الودود بمعرفة المقصور والممدود إيضاح المكنون (2/ 225)، خلاصة الأثر (4/ 358).

- قلائد العقيان في قوله تعالى: (إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ).
- দিওয়ানুল কারমি; ইদাহুল মাকনুন (১/ ৫২৬), হাদিয়াতুল আরিফিন (২/ ৪২৭), এবং আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ (৪৬৬)। এটি লেখকের একটি কাব্যগ্রন্থ।

- সামা (শ্রবণ) সংক্রান্ত একটি রিসালা; মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের (১৫৫১/ ফা) নম্বর সংকলনে এর একটি প্রতিলিপি রয়েছে।

- সুফিদের বক্তব্যে তাকফিরের সংশয় সৃষ্টিকারী শব্দাবলি সম্পর্কে একটি রিসালা; কায়রোতে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে - কুতুবখানা সূচি - (৭/ ৫৪৬)।

- রাফউল তালবিস আম্মান তাওয়াক্ক্বাফা ফিমা কাফারা বিহি ইবলিস (ইবলিস যে কারণে কাফির হয়েছে সে বিষয়ে যারা দ্বিধাগ্রস্ত, তাদের বিভ্রান্তি নিরসন); মিশরের দারুল কুতুবে (২১৬) নম্বর সংকলনে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

- রওদুত আরিফিন ওয়া তাসলিকুল মুরিদিন (আরিফদের উদ্যান ও মুরিদদের পথপ্রদর্শন); ইদাহুল মাকনুন (১/ ৫৮৯), খুলাসাতুল আসার (৪/ ৩৫৯), এবং মুখতাসার তাবাক্বাতিল হানাবিলা (১১০)।

- আর-রওদুন নাদর ফি আল-কালাম আলাল খাদির (খিজির আলাইহিস সালামের বর্ণনায় প্রস্ফুটিত বাগান)।

- রিয়াদুল আজহার ফি হুকমিস সামা' ওয়াল আউতার ওয়াল গিনা ওয়াল আশআর (সামা, বাদ্যযন্ত্র, গান ও কবিতার বিধান বর্ণনায় পুষ্পকানন)।

- আস-সিরাজুল মুনির ফি ইসতি'মালিজ জাহাব ওয়াল হারির (সোনা ও রেশম ব্যবহারের বিধানে উজ্জ্বল প্রদীপ)।

- সুলুকুত ত্বরিকাহ ফিজ জাম'ই বাইনা কালামি আহলিশ শারিয়াহ ওয়াল হাক্বিক্বাহ (শরিয়ত ও হাকিকতপন্থীদের বক্তব্যের সমন্বয়ে তরিকতের পথচলা); ইদাহুল মাকনুন (২/ ২৫) এবং আন-নাতুল আকমাল (১৯২)।

- শিফাউস সুদুর ফি যিয়ারাতিল মাশাহেদি ওয়াল কুবুর (মাযার ও কবর জিয়ারতে অন্তরের আরোগ্য); এটি ১৪১৮ হিজরিতে রিয়াদের আল-হুমাইদি প্রেসে জামাল বিন হাবিব সালাহ-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।

- ফাতহুল মান্নান বি-তাফসিরি আয়াতিল ইমতিনান (অনুগ্রহের আয়াতের তাফসির বর্ণনায় পরম দয়াময় আল্লাহর দান); ইদাহুল মাকনুন (১/ ১৭৪), আন-নাতুল আকমাল (১৯২), এবং মুখতাসার তাবাক্বাতিল হানাবিলা (১১০)।

- ফিরাইদু ফাওয়াইদিল ফিকর ফিল ইমামিল মাহদিয়্যিল মুনতাজার (প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদি সম্পর্কে চিন্তার দুর্লভ মুক্তাসমূহ); মিশরের দারুল কুতুবের কুতুবখানা সূচিতে (৬/ ১৬১) এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

- ফামুল উইকা ফি কালামিস সুফিয়ান মিন আলফাজিল মুহামালাতি ফিত তাকফির (তাকফিরের ক্ষেত্রে অবহেলিত শব্দের আলোচনায় সুফিদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা)। ব্রোকলম্যানের ইতিহাস সংকলন ‘তারিখুল আদাব’ (২/ ৪৮৪)।

- কুররাতু আইনিল ওয়াদুদ বি-মা'রিফাতিল মাকসুর ওয়াল মামদুদ (মাকসুর ও মামদুদ ব্যাকরণবিধি পরিচয়ে প্রেমিকের নয়নজুড়ানো প্রশান্তি); ইদাহুল মাকনুন (২/ ২২৫) এবং খুলাসাতুল আসার (৪/ ৩৫৮)।

- কালাইদুল উক্বিয়ান ফি ক্বাউলিহি তা'আলা: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও ইহসানের (সদাচরণের) নির্দেশ দেন।"
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
- القول المعروف في فضائل المعروف يوجد له نسخة خطية في المكتبة التيمورية ضمن مجموع رقم (272).

- الكلمات البينات في قوله تعالى: وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ. يوجد له صورة بمكتبة المخطوطات بالجامعة الإسلامية برقم (1158 / ف).

- لطائف المعارف إيضاح المكنون (2/ 405)، والنعت الأكمل (193).

- محرك سواكن الغرام إلى حج بيت الله الحرام يوجد له نسخة خطية في مكتبة المخطوطات بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية تحت رقم (2572).

- المختصر في علم الصرف يوجد له نسخة خطية في مكتبة طوب كابي سراي باستانبول برقم (180).

- مرآة الفكر في المهدي المنتظر إيضاح المكنون (2/ 461)، وخلاصة الأثر (4/ 359).

- المسائل اللطيفة في فسخ الحج والعمرة الشريفة خلاصة الأثر (4/ 360)، والنعت الأكمل (193)، وإيضاح المكنون (2/ 427).

- المسرة والبشارة في فضل السلطنة والوزارة يوجد له نسخة في مكتبة الكونجرس بواشنطن رقم (65)، فهرس المخطوطات العربية بالكونجرس (49).

- مقدمة الخائض في علم الفرائض إيضاح المكنون (2/ 543)، والسحب الوابلة (464).

- منية المحبين وبغية العاشقين يوجد له نسخة في مكتبة الإسكندرية تحت رقم (4564).

- نزهة المتفكر إيضاح المكنون (2/ 641)، وخلاصة الأثر (4/ 360).

- نزهة الناظرين في تاريخ من ولي مصر من الخلفاء والسلاطين له نسخة خطية في دار الكتب المصريه، رقم الحفظ 5/ 389 (2076) ، (2269).

- نزهة الناظرين في فضائل الغزاة والمجاهدين إيضاح المكنون (2/ 642)، وهدية العارفين (2/ 427)، ومختصر طبقات الحنابلة (110).

- نزهة نفوس الأخيار ومطلع مشارق الأنوار يوجد له نسخة في مكتبة الأزهر برقم (2419).
- আল-কাউলুল মারূফ ফি ফাদাইলিল মারূফ; এর একটি পাণ্ডুলিপি তাইমুরিয়া লাইব্রেরিতে মাজমুআ নম্বর (২৭২) এর অধীনে রয়েছে।

- আল্লাহ তাআলার বাণী: "এবং যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তাদেরকে সুসংবাদ দাও"-এর ব্যাখ্যায় আল-কালিমাতুল বাইয়িনাত। ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি লাইব্রেরিতে এর একটি অনুলিপি (১১৫৮ / ফা) নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে।

- লাতাইফুল মাআরিফ; ঈজাহুল মাকনুন (২/ ৪০৫) এবং আন-নাতুল আকমাল (১৯৩)।

- মুহররিকু সাওয়াকিনিল গারাম ইলা হাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম; ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি লাইব্রেরিতে ২৫৭২ নম্বরের অধীনে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

- আল-মুখতাসার ফি ইলমিস সরফ; ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদের লাইব্রেরিতে ১৮০ নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

- মিরআতুল ফিকর ফিল মাহদিল মুনতাজার; ঈজাহুল মাকনুন (২/ ৪৬১) এবং খুলাসাতুল আসার (৪/ ৩৫৯)।

- আল-মাসাইলুল লাতিফা ফি ফাসখিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতিশ শরিফাহ; খুলাসাতুল আসার (৪/ ৩৬০), আন-নাতুল আকমাল (১৯৩) এবং ঈজাহুল মাকনুন (২/ ৪২৭)।

- আল-মাসাররাতু ওয়াল বিশারাতু ফি ফাদলিস সালতানাত ওয়াল উইজারাত; ওয়াশিংটনের লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে এর একটি কপি (৬৫) নম্বরে এবং লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের আরবি পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগে (৪৯) নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে।

- মুকাদ্দিমাতুল খাইদ ফি ইলমিল ফারায়িদ; ঈজাহুল মাকনুন (২/ ৫৪৩) এবং আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ (৪৬৪)।

- মুনইয়াতুল মুহিব্বিন ওয়া বুগয়াতুল আশিকিন; আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরিতে ৪৫৬৪ নম্বরের অধীনে এর একটি কপি রয়েছে।

- নুজহাতুল মুতাফাক্কির; ঈজাহুল মাকনুন (২/ ৬৪১) এবং খুলাসাতুল আসার (৪/ ৩৬০)।

- নুজহাতুন নাজিরিন ফি তারিখি মান ওয়ালিয়া মিসরা মিনাল খুলাফা ওয়াস সালাতিন; মিশরীয় দারুল কুতুব-এ এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যার সংরক্ষণ নম্বর ৫/ ৩৮৯ (২০৭৬), (২২৬৯)।

- নুজহাতুন নাজিরিন ফি ফাদাইলিল গুজাত ওয়াল মুজাহিদিন; ঈজাহুল মাকনুন (২/ ৬৪২), হাদিয়াতুল আরিফিন (২/ ৪২৭) এবং মুখতাসার তাবাকাতিল হানাবিলাহ (১১০)।

- নুজহাতু নুফুসিল আখইয়ার ওয়া মাতলাউ মাশারিকিল আনওয়ার; আল-আজহার লাইব্রেরিতে ২৪১৯ নম্বরে এর একটি কপি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
- النادرة الغريبة والواقعة العجيبة إيضاح المكنون (2/ 614)، ومختصر طبقات الحنابلة (110)، والسحب الوابلة (466).

- نصيحة يوجد نسخة منه في برلين برقم (5415).

 

‌‌10 - وفاته:

توفي الإمام العلامة بعد حياة حافلة بالعلم والتعليم والتدريس والإفتاء في القاهرة في شهر ربيع الأول سنة ثلاث وثلاثين وألف من الهجرة.

وهذا التاريخ ذكره جميع من ترجم له إلا ابن حميد انفرد عنهم وحدد تاريخ وفاته بضحى يوم الأربعاء في الخامس والعشرين من شهر ذي القعدة سنة اثنتين وثلاثين وألف من الهجرة حيث قال: " رأيت في ظهر الغاية بخط شيخ مشايخنا العمدة الضابط الشيخ محمد بن سلوم نقلا أن وفاته ضحوة يوم الأربعاء لخمس بقيت من ذي القعدة سنة 1032 هـ السحب الوابلة (467). . ولا شك أن ما اتفق عليه المترجمون في تاريخ وفاته هو الصحيح.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين، والتابعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

 

‌‌التعريف بالمتن

التعريف بكتاب " دليل الطالب لنيل المطالب ".

دليل الطالب متن مشهور في الفقه الحنبلي اختصره الشيخ مرعي الكرمي من كتاب ابن النجار " منتهى الإرادات في جمع المقنع والتنقيح وزيادات "

وقد أشار إلى ذلك في مقدمة كتابه دليل الطالب حيث قال: [وأشهد أن محمداً عبده ورسوله … الفائز بمنتهى الإرادات من ربه … ]

وصرح الشيخ محمد بن مانع في حاشيته على دليل الطالب بأن دليل الطالب اختصره مؤلفه من شرح المنتهى.

وكذلك صرح به الشيخ صالح بن حسن البُهوتي في مقدمة شرحه " مسلك الراغب شرح دليل الطالب": لما رأيت مختصر منتهى الإرادات الموسوم بدليل الطالب … الخ.
আন-নাদিরাতুল গারিবা ওয়াল ওয়াকিআতুল আজিবা; ইজাহুল মাকনুন (২/৬১৪), মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলা (১১০), এবং আস-সুহুবুল ওয়াবিলা (৪৬৬)।

নাসিহা (উপদেশ), এর একটি পাণ্ডুলিপি বার্লিনে ৫৪১৫ নম্বর সংগ্রহে রয়েছে।

 

‌‌১০ - তাঁর ইন্তেকাল:

ইলম, শিক্ষা প্রদান, অধ্যাপনা ও ফতোয়া প্রদানের এক কর্মমুখর জীবন অতিবাহিত করার পর ইমাম আল্লামা হিজরি এক হাজার তেত্রিশ সালের রবিউল আউয়াল মাসে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর জীবনী লেখকদের সকলেই এই তারিখটি উল্লেখ করেছেন, কেবল ইবনে হুমাইদ ব্যতীত; তিনি এককভাবে তাঁর ইন্তেকালের তারিখ হিজরি এক হাজার বত্রিশ সালের যিলকদ মাসের পঁচিশ তারিখ বুধবার চাশতের সময় নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমি 'আল-গায়াহ' গ্রন্থের পৃষ্ঠদেশ বা পেছনে আমাদের শায়খদের শায়খ, নির্ভরযোগ্য ও সুসংরক্ষিত পণ্ডিত শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সাল্লুমের হাতের লেখায় একটি উদ্ধৃতি দেখেছি যে, তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১০৩২ হিজরির যিলকদ মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকতে বুধবার চাশতের সময়।" আস-সুহুবুল ওয়াবিলা (৪৬৭)। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জীবনীকারগণ তাঁর ইন্তেকালের তারিখের ব্যাপারে যে বিষয়ে একমত হয়েছেন সেটিই সঠিক।

আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সকল সাহাবী, তাবিঈ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের উপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

 

‌‌মূল পাঠের পরিচিতি

"দালীলুত তালিব লি-নাইলিল মাতালিব" কিতাবটির পরিচিতি।

'দালীলুত তালিব' হাম্বলী ফিকহ শাস্ত্রের একটি প্রসিদ্ধ মূল পাঠ (মাতন), যা শায়খ মারঈ আল-কারমি ইবনে নাজ্জারের কিতাব "মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি ওয়াত তানকিহ ওয়া যিয়াদাত" থেকে সংক্ষেপিত করেছেন।

তিনি তাঁর 'দালীলুত তালিব' কিতাবের ভূমিকায় এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: [এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল... যিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে চরম আকাঙ্ক্ষা (মুনতাহাল ইরাদাত) লাভে ধন্য...] …

শায়খ মুহাম্মদ ইবনে মানি' 'দালীলুত তালিব'-এর ওপর তাঁর টীকায় (হাশিয়া) স্পষ্ট করে বলেছেন যে, গ্রন্থকার 'দালীলুত তালিব' গ্রন্থটিকে 'শারহুল মুনতাহা' থেকে সংক্ষেপিত করেছেন।

অনুরূপভাবে শায়খ সালিহ ইবনে হাসান আল-বুহুতি তাঁর ভাষ্যগ্রন্থ "মাসলাকুর রাগিব শারহু দালীলিত তালিব"-এর ভূমিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন: যখন আমি 'মুনতাহাল ইরাদাত'-এর সংক্ষেপিত রূপটি দেখলাম যা 'দালীলুত তালিব' নামে পরিচিত … ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ومنتهى الإرادات وهو أصل كتابنا من متون المذهب المعتمدة، قال ابن بدران: [رحل إلى الشام - ابن النجار - فألف بها كتابه المنتهى ثم عاد إلى مصر بعد أن حرر مسائله على الراجح من المذهب واشتغل به عامة الطلبة في عصره واقتصروا عليه].

وقال أيضاً: [عكف الناس عليه وهجروا ما سواه من كتب المتقدمين كسلاً منهم ونسياناً لمقاصد علماء هذا المذهب].

[وهذا الكتاب اعتمده المتأخرون من عصر المؤلف حتى كان والد المؤلف يقرؤه للطلاب ويثني عليه وكاد الكتاب لشهرته ينسي ما قبله من متون المذهب المطولة فعكف الناس عليه شرحاً وتحشيةً واختصاراً وجمعاً له مع غيره وهو والإقناع عليهما مدار الفتيا ومرجع القضاء فإذا اختلفا رجع الأصحاب إلى غاية المنتهى]

[فبعد أن وضع أبو محمد موفق الدين ابن قدامة متنه المشهور " المقنع " لقي قبولاً كبيراً داخل المذهب لكونه جاء على قول واحد هو الراجح في المذهب وتميز عن الكتب التي سبقته بأنه أوضح منها إشارة وأسلس عبارة وأجمع تقسيماً وتنويعاً كما أنه حوى غالب أمهات مسائل المذهب على توسط حجمه ومن هنا تناوله الحنابلة بالتآليف كالشروح والتعليقات التي تبيّنه وكتب اللغة التي توضح مصطلحاته وحدوده، وكتب التخريج التي تخرج أدلته وهذا الكتاب - وإن كان يعتبر نقلة علمية في المذهب - إلا أنه كان بحاجة إلى تحرير أكثر وتصحيح، فقد أطلق مؤلفه رحمه الله الخلاف في كثير من مسائله بصيغ متفاوتة أوصلها بعضهم إلى ما يزيد على ثلاثين صيغة ولم يفصح فيها بتقديم حكم. كما أنه قطع بمسائل وقدمها على أنها المذهب وهي غير الراجح في المذهب وأخلّ ببعض القيود والشروط الصحيحة في المذهب إضافة إلى أن عبارته كانت بحاجة إلى إعادة نظر لما فيها من عموم أو إطلاق أو خلل لهذه الأسباب وغيرها كانت الحاجة ماسة لأن يوجد كتاب يتمم ويكمل النقص الذي في هذا المتن الشهير.

فجاء مجدد المذهب القاضي علي بن سليمان المرداوي ليسد هذا النقص بكتابه " التنقيح المشبع في تحرير أحكام المقنع "
মুনতাহাল ইরাদাত হলো আমাদের এই কিতাবের মূল ভিত্তি, যা মাজহাবের নির্ভরযোগ্য মতনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে বদরান বলেছেন: [ইবনুন নাজ্জার শামে ভ্রমণ করেছিলেন এবং সেখানে তাঁর কিতাব 'আল-মুনতাহা' রচনা করেন। এরপর তিনি এর মাসআলাগুলোকে মাজহাবের অগ্রগণ্য মতানুসারে পরিমার্জিত করে মিশরে ফিরে আসেন। তাঁর যুগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এটি নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তারা কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।]

তিনি আরও বলেছেন: [মানুষ এর প্রতি নিবিষ্ট হলো এবং অলসতাবশত ও এই মাজহাবের আলেমদের উদ্দেশ্যসমূহ বিস্মৃত হওয়ার কারণে পূর্ববর্তীদের অন্যান্য কিতাব বর্জন করল।]

[আর এই কিতাবটির উপর লেখকের যুগ থেকে পরবর্তী উলামাগণ নির্ভর করেছেন, এমনকি লেখকের পিতাও শিক্ষার্থীদের এটি পড়াতেন এবং এর প্রশংসা করতেন। কিতাবটি তার খ্যাতির কারণে মাজহাবের পূর্ববর্তী দীর্ঘ মতনগুলোকে প্রায় ভুলিয়ে দিয়েছিল। ফলে মানুষ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, টীকা, সংক্ষিপ্তকরণ এবং অন্য কিতাবের সাথে সমন্বয় করার কাজে আত্মনিয়োগ করল। এই কিতাব এবং 'আল-ইকনা'—এই দুটির উপরেই ফতোয়া ও বিচারকার্যের ভিত্তি আবর্তিত হয়। যদি এই দুই কিতাবের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়, তবে মাজহাবের অনুসারীগণ 'গায়াতুল মুনতাহা'র দিকে প্রত্যাবর্তন করেন।]

[আবু মুহাম্মদ মুওয়াফফাকুদ্দীন ইবনে কুদামা যখন তাঁর বিখ্যাত মতন "আল-মুকনি" রচনা করেন, তখন তা মাজহাবের অভ্যন্তরে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়। কারণ এটি মাজহাবের অগ্রগণ্য একটি মতের ভিত্তিতে রচিত হয়েছিল এবং এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর তুলনায় অধিক স্পষ্ট ইঙ্গিতবাহী, প্রাঞ্জল ভাষার অধিকারী এবং অধিকতর সুবিন্যস্ত বিভাজন ও বৈচিত্র্যের কারণে অনন্য ছিল। মাঝারি আয়তনের হওয়া সত্ত্বেও এটি মাজহাবের মৌলিক মাসআলাগুলোর অধিকাংশকেই ধারণ করেছিল। এ কারণেই হাম্বলিগণ এর উপর বিভিন্ন রচনা কার্যে আত্মনিয়োগ করেন, যেমন: ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকা যা কিতাবটিকে স্পষ্ট করে, অভিধানগ্রন্থ যা এর পরিভাষা ও সংজ্ঞাগুলোকে পরিষ্কার করে এবং দলিল যাচাইকরণ (তাখরীজ) গ্রন্থসমূহ যা এর দলিলগুলোকে উদ্ধৃত করে। এই কিতাবটি—যদিও মাজহাবের ক্ষেত্রে একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক অগ্রগতি হিসেবে গণ্য হয়—তবুও এটি আরও অধিক পরিমার্জন ও সংশোধনের মুখাপেক্ষী ছিল। এর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) অনেক মাসআলায় মতভেদকে বিভিন্ন ভঙ্গিতে উল্লেখ করেছেন, যা কেউ কেউ ত্রিশটিরও বেশি শৈলীতে গণনা করেছেন, কিন্তু সেখানে কোনো নির্দিষ্ট বিধানকে প্রাধান্য দিয়ে স্পষ্ট করেননি। তেমনিভাবে তিনি কিছু মাসআলায় অকাট্য মত দিয়েছেন এবং সেগুলোকে মাজহাব হিসেবে পেশ করেছেন, অথচ সেগুলো মাজহাবের অগ্রগণ্য মত ছিল না। এছাড়া তিনি মাজহাবের কিছু সঠিক শর্ত ও সীমাবদ্ধতা পালনেও ত্রুটি করেছেন। এর পাশাপাশি এর ভাষাশৈলীতেও পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন ছিল, কারণ তাতে কিছু সাধারণীকরণ, অস্পষ্টতা বা অসংগতি ছিল। এসব কারণে এবং অন্যান্য কারণে এই প্রসিদ্ধ মতনের ঘাটতিগুলো পূরণ ও সম্পন্ন করার জন্য একটি কিতাবের তীব্র প্রয়োজন অনুভূত হয়েছিল।

অতঃপর মাজহাবের সংস্কারক কাযী আলী ইবনে সুলায়মান আল-মারদাওয়ী তাঁর "আত-তানকীহুল মুশবি' ফি তাহরীরি আহকামিল মুকনি" কিতাবটির মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করতে এগিয়ে আসেন।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فعالج أغلب ما كان ينتقد على متن المقنع حتى كان كما قال عنه الشويكي رحمه الله: " أجل كتاب اجتهد في جمعه وأتى بالصواب وأراح كل قاض ومفت من الأتعاب وسهّل لهم معرفة المذهب وقرّب لهم المقصد والمطلب " ومن هنا اشتهر هذا الكتاب لدى أعيان المذهب باسم " التصحيح " وسمي مؤلفه " بالمصحح " لأنه صحح المقنع في مسائله وعباراته ومع هذا العمل الجليل الذي قدمه المرداوي للمذهب إلا أنه رحمه الله ترك مسائل كثيرة في كتابه فلم يتناولها في التصحيح، كما أنه أسقط من كلام موفق الدين ابن قدامة أشياء كان يجب المحافظة عليها وبقاؤها مثل الشروط والقيود والاستثناءات الصحيحة في المذهب.

كما أنه رحمه الله كان يحيل الحكم في بعض الأحيان على المقنع ويطلقه من غير تقييد.

فلهذه المقتضيات وغيرها ظهرت الحاجة الشديدة للجمع بين هذين الكتابين حتى يتم المقصود في وجود متن يعتمد القول الصحيح في المذهب بعبارة سليمة واضحة المقصود. فظهرت لهذه المهمة الشاقة - الجمع بين المقنع والتنقيح - فيما أعلم ثلاث محاولات:

الأولى: قام بها العلامة أحمد بن عبد الله بن أحمد العسكري الصالحي (توفي910 هـ) تلميذ المصحح المرداوي رحمه الله، في كتابه (المنهج في الجمع بين المقنع والتنقيح) إلا أنه توفي قبل أن يتم كتابه فقد وصل فيه إلى الوصايا، ومع هذا اهتم به العلماء ونقلوا منه وأشاروا إليه. وقد رأيت في بعض التراجم أنه كان يجلس رحمه الله للتدريس في حل الجمع بين المقنع والتنقيح الأمر الذي يشعر بمدى أهمية هذا الأمر وحاجة الحنابلة الشديدة إليه.

الثانية: قام بها الشيخ أحمد الشويكي رحمه الله (875 - 939 هـ) في كتابه " التوضيح في الجمع بين المقنع والتنقيح " وقد وصف كتابه هذا بوضوح العبارة حتى قيل إنه متن كالشرح.

الثالثة: قام بها تقي الدين محمد بن أحمد الفتوحي الشهير بـ " ابن النجار " (؟ - 972 هـ) في كتابه " منتهى الإرادات في الجمع بين المقنع والتنقيح وزيادات "
তিনি 'আল-মুকনি'র মূল পাঠের ওপর আসা অধিকাংশ সমালোচনা নিরসন করেছেন, শেষ পর্যন্ত এটি তেমন হয়েছে যেমনটি আল-শুওয়াইকি (রহিমাহুল্লাহ) এর ব্যাপারে বলেছেন: "এটি সংকলনের ক্ষেত্রে আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে এমন এক শ্রেষ্ঠ কিতাব যা সঠিক বিষয়কে তুলে ধরেছে এবং প্রতিটি বিচারক ও মুফতিকে ক্লান্তি থেকে মুক্তি দিয়েছে, তাদের জন্য মাযহাবের জ্ঞান অর্জনকে সহজ করেছে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে নিকটবর্তী করেছে।" এখান থেকেই মাযহাবের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট এই কিতাবটি "আত-তাসহিহ" নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং এর লেখককে "আল-মুসাহহিহ" (সংশোধনকারী) বলা হয়, কারণ তিনি আল-মুকনি'র মাসআলা ও ইবারতসমূহ সংশোধন করেছেন। ইমাম আল-মারদাভি মাযহাবের জন্য এই মহান কাজ পেশ করা সত্ত্বেও তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তার কিতাবে অনেক মাসআলা ছেড়ে দিয়েছেন যা তিনি 'তাসহিহ'-তে আলোচনা করেননি। একইভাবে তিনি মুওয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা-এর বক্তব্য থেকে এমন কিছু বিষয় বাদ দিয়েছেন যা সংরক্ষণ ও বহাল রাখা আবশ্যক ছিল, যেমন মাযহাবের সঠিক শর্তাবলি, বিধিনিষেধ এবং মাযহাবের বিশুদ্ধ ব্যতিক্রমী বিষয়সমূহ।

অনুরূপভাবে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) মাঝে মাঝে কোনো হুকুমের ক্ষেত্রে 'আল-মুকনি'র ওপর হাওয়ালা দিতেন এবং কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ ছাড়াই তা সাধারণভাবে উল্লেখ করতেন।

এই সমস্ত প্রেক্ষাপট ও অন্যান্য কারণে এই দুটি কিতাবকে একত্রিত করার তীব্র প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, যাতে একটি সঠিক ও স্পষ্ট অভিব্যক্তিসমপন্ন এমন একটি মূল পাঠ (মাতন) বিদ্যমান থাকার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় যা মাযহাবের সঠিক মতের ওপর নির্ভরশীল। এই সুকঠিন কাজের জন্য—অর্থাৎ 'আল-মুকনি' এবং 'আত-তানকিহ'-এর সমন্বয় সাধনে—আমার জানামতে তিনটি প্রচেষ্টা লক্ষ করা গেছে:

প্রথম: এটি সম্পন্ন করেছেন আল্লামা আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-আসকারি আল-সালিহি (মৃত্যু ৯১০ হিজরী), যিনি আল-মুসাহহিহ আল-মারদাভি (রহিমাহুল্লাহ)-এর ছাত্র ছিলেন। তাঁর কিতাবটির নাম (আল-মানহাজ ফি আল-জাম' বায়না আল-মুকনি' ওয়া আল-তানকিহ)। তবে তিনি কিতাবটি সম্পন্ন করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন; তিনি এতে 'অসিয়ত' অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। তাসত্ত্বেও ওলামায়ে কেরাম এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, এর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আমি কোনো কোনো জীবনীগ্রন্থে দেখেছি যে, তিনি (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-মুকনি' ও 'আত-তানকিহ'-এর সমন্বয়ের জটিলতা নিরসনে পাঠদানের জন্য বসতেন, যা এই বিষয়ের গুরুত্ব এবং হাম্বলিদের এর প্রতি তীব্র প্রয়োজনীয়তার কথা জানান দেয়।

দ্বিতীয়: এটি সম্পন্ন করেছেন শেখ আহমদ আল-শুওয়াইকি (রহিমাহুল্লাহ) (৮৭৫ - ৯৩৯ হিজরী) তাঁর কিতাব "আত-তাওদিহ ফি আল-জাম' বায়না আল-মুকনি' ওয়া আল-তানকিহ"-এ। তিনি তাঁর এই কিতাবকে বর্ণনার এমন স্পষ্টতায় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন যে, বলা হতো এটি একটি মূল পাঠ যা ব্যাখ্যার (শরহ) ন্যায়।

তৃতীয়: এটি সম্পন্ন করেছেন তাক্বিউদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ফুতুহি, যিনি "ইবনে আল-নাজ্জার" নামে প্রসিদ্ধ (? - ৯৭২ হিজরী) তাঁর কিতাব "মুনতাহাল ইরাদাত ফি আল-জাম' বায়না আল-মুকনি' ওয়া আল-তানকিহ ওয়া যিয়াদাত"-এ।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ووصف علماء المذهب هذا الكتاب بأنه معقد العبارة ومع هذا فهو عمدة المتأخرين وقد لقي قبولاً كبيراً وحظي بالشروح والتعليقات].

وبعد ذلك جاء الشيخ مرعي فاختصر منتهى الإرادات في كتابه دليل الطالب لنيل المطالب.

 

‌‌أهمية الكتاب وميزاته:

يعتبر كتاب دليل الطالب لنيل المطالب من المتون المختصرة المعتمدة عند متأخري علماء المذهب الحنبلي.

لا يذكر فيه مؤلفه خلافاً في المسائل، وإنما يقتصر على رواية واحدة وهي ما صححه المحققون من علماء المذهب وما صار عليه مدار الفتوى عند المرجحين المتقنين كأمثال ابن قدامة والمرداوي وابن النجار.

وقد أشار الشيخ مرعي في مقدمة كتابه دليل الطالب إلى ذلك فقال: (وبعد فهذا مختصر في الفقه على المذهب الأحمد مذهب الإمام أحمد بالغت في إيضاحه رجاء الغفران وبينت فيه الأحكام أحسن بيان لم أذكر فيه إلا ما جزم بصحته أهل التصحيح والعرفان وعليه الفتوى فيما بين أهل الترجيح والإتقان).

وقال ابن بدران: [ … حرر مسائله على الراجح من المذهب].

وقال د. بكر أبو زيد: [ … بناه على الراجح من المذهب].

 

وعليه فمن أهم ميزات كتاب دليل الطالب:

1 - متن مختصر.

2 - مشهور بين أتباع المذهب.

3 - دقيق العبارة.

4 - سهل العبارة يخلو من التعقيد والإلغاز.

5 - يخلو من ذكر الدليل وهذا شأن المختصرات.

6 - اقتصر على رواية واحدة وهي الراجحة في المذهب.

7 - المسائل مرتبة ترتيباً جيداً.
মাযহাবের আলেমগণ এই কিতাবটিকে জটিল বাক্যশৈলীসম্পন্ন বলে বর্ণনা করেছেন, তা সত্ত্বেও এটি পরবর্তী যুগের আলেমদের প্রধান অবলম্বন এবং এটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে এবং এর ওপর অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকা লেখা হয়েছে।

এরপর শেখ মারঈ আসলেন এবং তিনি তার 'দালীলুত তালিব লি-নাইলিল মাতালিব' গ্রন্থে 'মুনতাহাল ইরাদাত'কে সংক্ষেপিত করলেন।

 

‌‌কিতাবটির গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্যসমূহ:

'দালীলুত তালিব লি-নাইলিল মাতালিব' কিতাবটি হাম্বলি মাযহাবের পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট নির্ভরযোগ্য সংক্ষিপ্ত পাঠ্যবইগুলোর (মুতুন) অন্যতম হিসেবে বিবেচিত।

লেখক এতে মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ উল্লেখ করেননি, বরং তিনি কেবল একটি বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, যা মাযহাবের গবেষক আলেমগণ বিশুদ্ধ বলে গণ্য করেছেন এবং যা ইবনে কুদামা, মারদাউয়ি ও ইবনে নাজ্জারের মতো দক্ষ ফতোয়া প্রদানকারী আলেমদের নিকট ফতোয়ার মূল ভিত্তি হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

শেখ মারঈ তার 'দালীলুত তালিব' কিতাবের ভূমিকায় সেদিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: (অতঃপর, এটি ইমাম আহমদের সুমহান মাযহাব অনুযায়ী ফিকহশাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন। ক্ষমা লাভের আশায় আমি এটি স্পষ্ট করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং এতে আহকামসমূহ সর্বোত্তমভাবে বর্ণনা করেছি। আমি এতে কেবল তা-ই উল্লেখ করেছি যা বিশুদ্ধকরণ ও উচ্চতর জ্ঞানের অধিকারী আলেমগণ দৃঢ়ভাবে বিশুদ্ধ বলেছেন এবং যা প্রাধান্যদানকারী ও দক্ষ আলেমদের নিকট ফতোয়া প্রদানের ভিত্তি।)

ইবনে বাদরান বলেন: [ … তিনি এর মাসআলাগুলোকে মাযহাবের অগ্রগণ্য মতানুসারে বিন্যস্ত করেছেন।]

ড. বকর আবু যাইদ বলেন: [ … তিনি একে মাযহাবের অগ্রগণ্য মতের ভিত্তিতে রচনা করেছেন।]

 

সেই অনুযায়ী, 'দালীলুত তালিব' কিতাবটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:

১ - এটি একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ্যবই (মাতন)।

২ - মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।

৩ - শব্দচয়ন অত্যন্ত সূক্ষ্ম।

৪ - বাক্যশৈলী সহজ এবং জটিলতা ও রহস্যময়তা থেকে মুক্ত।

৫ - দলিল উল্লেখ করা থেকে মুক্ত, যা সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোর বৈশিষ্ট্য।

৬ - কেবল একটি বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে, যা মাযহাবের অগ্রগণ্য মত।

৭ - মাসআলাগুলো সুবিন্যস্তভাবে সাজানো।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
8 - يفصل بذكر الشروط والأركان والفروض والواجبات والسنن والمحرمات والمكروهات والمبطلات والقيود والاستثناءات.

 

‌‌الأعمال العلمية على دليل الطالب:

وقد عُني به المتأخرون من الحنابلة دراسةً وشرحاً وتحشيةً ونظماً وذلك لما عرفوه من غزارة علمه وكثرة فوائده … وما عنوا به إلا لجلالة قدره عندهم ومعرفتهم بما تضمنه من التحقيق

كما يلي:

1 - نيل المآرب بشرح دليل الطالب للفقيه الفرضي عبد القادر بن عمر التغلبي الشيباني المتوفى سنة 1135 هـ وهو مطبوع.

قال ابن بدران: [وشرحه هذا متداول مطبوع لكنه غير محرر وليس بواف بمقصود المتن].

وقال الشيخ محمد بن مانع: [وهو مطبوع متداول مشهور ولكنه يعوزه التحقيق].

وحقق الشرح المذكور د. محمد سليمان الأشقر وهو مطبوع في مجلدين.

2 - وعلى هذا الشرح حاشية للشيخ مصطفى الدومي المعروف بالدوماني ثم الصالحي المتوفى سنة 1200 هـ، وكان مفتي رواق الحنابلة في مصر.

3 - وعليه حاشية اسمها تيسير المطالب إلى فهم وتحقيق نيل المآرب شرح دليل الطالب، للشيخ عبد الغني بن إسماعيل اللبدي النابلسي المتوفى سنة 1319 هـ.

قال الشيخ ابن مانع عنها: [مفيدة جدا]، وأشار د. بكر أبو زيد إلى وجود نسخة خطية لبعضها ضمن مكتبة الملك فهد الوطنية بالرياض.

4 - مسلك الراغب شرح دليل الطالب للشيخ صالح بن حسن البُهوتي المتوفى سنة 1121 هـ. وذكر د. محمد الأشقر أنه اطلع على نسخة منه بدار الكتب المصرية انتهت إلى باب الوكالة.

5 - شرح الدليل للشيخ محمد بن أحمد السفاريني المتوفى سنة 1189 هـ وصل فيه إلى كتاب الحدود ولم يكمله.

وقال الشيخ ابن بدران: [ورأيت في ترجمة الشيخ محمد بن أحمد السفاريني أن له شرحاً على دليل الطالب ولم نره ولم نجد من أخبرنا أنه رآه].
৮ - শর্তাবলী, আরকান (মৌলিক রুকন), ফরজসমূহ, ওয়াজিবসমূহ, সুন্নাতসমূহ, হারামসমূহ, মাকরুহসমূহ, বাতিলকারী বিষয়সমূহ, সীমাবদ্ধতা এবং ব্যতিক্রমসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

 

‌‌'দালীলুত তালিব'-এর ওপর ইলমী কাজসমূহ:

পরবর্তী যুগের হাম্বলী ফকীহগণ এটি অধ্যয়ন, ব্যাখ্যা (শারহ), টীকা (হাশিয়া) এবং কাব্যরূপ (নাজম) দেওয়ার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। এর কারণ ছিল তাঁদের নিকট এর জ্ঞানের গভীরতা ও প্রচুর উপকারিতা সম্পর্কে অবগতি... আর তাঁরা এর প্রতি মনোনিবেশ করেছেন কেবল তাঁদের নিকট এর উচ্চ মর্যাদা এবং এর অন্তর্ভুক্ত তাহকীক (গবেষণালব্ধ সূক্ষ্মতা) সম্পর্কে তাঁদের অবগতির কারণে

যা নিম্নরূপ:

১ - নাইলুল মাআরিবি বি-শারহি দালীলিত তালিব; এটি ফকীহ ও ফারায়েয শাস্ত্রবিদ আবদুল কাদির বিন উমর আত-তাগলাবি আশ-শায়বানি (মৃত্যু ১১৩৫ হিজরী) কর্তৃক রচিত এবং এটি মুদ্রিত হয়েছে।

ইবন বাদরান বলেন: [তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি বহুল প্রচলিত ও মুদ্রিত, কিন্তু এটি সুবিন্যস্ত নয় এবং মূল পাঠ্যের (মতন) উদ্দেশ্য পূর্ণরূপে ফুটিয়ে তোলে না]।

শায়খ মুহাম্মাদ বিন মানি' বলেন: [এটি মুদ্রিত ও বহুল প্রচলিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থ, তবে এটি তাহকীকের মুখাপেক্ষী]।

উল্লিখিত ব্যাখ্যাগ্রন্থটি ড. মুহাম্মাদ সুলায়মান আল-আশকার তাহকীক করেছেন এবং এটি দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

২ - এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর শায়খ মুস্তফা আদ-দুমি'র একটি হাশিয়া (টীকা) রয়েছে, যিনি আদ-দুমানি এবং পরবর্তীতে আস-সালিহি নামে পরিচিত (মৃত্যু ১২০০ হিজরী)। তিনি মিশরে হাম্বলী রিওয়াকের মুফতি ছিলেন।

৩ - এর ওপর একটি হাশিয়া আছে যার নাম 'তাইসীরুল মাতালিব ইলা ফাহমি ওয়া তাহকীকি নাইলিল মাআরিবি শারহি দালীলিত তালিব', যা শায়খ আবদুল গনি বিন ইসমাইল আল-লাবাদি আন-নাবুলুসি (মৃত্যু ১৩১৯ হিজরী) কর্তৃক রচিত।

শায়খ ইবন মানি' এটি সম্পর্কে বলেন: [অত্যন্ত উপকারী]। ড. বকর আবু যায়িদ রিয়াদের বাদশাহ ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগারে এর কিছু অংশের একটি পাণ্ডুলিপি থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।

৪ - মাসলাকুর রাগিব শারহু দালীলিত তালিব; এটি শায়খ সালিহ বিন হাসান আল-বুহুতি (মৃত্যু ১১২১ হিজরী) কর্তৃক রচিত। ড. মুহাম্মাদ আল-আশকার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মিশরের দারুল কুতুব-এ এর একটি পাণ্ডুলিপি দেখেছেন যা 'বাবুল ওয়াকালা' (প্রতিনিধিত্ব অধ্যায়) পর্যন্ত পৌঁছে শেষ হয়েছে।

৫ - শারহুদ দালীল; এটি শায়খ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আস-সাফফারিনি (মৃত্যু ১১৮৯ হিজরী) কর্তৃক রচিত। এতে তিনি 'কিতাবুল হুদুদ' (দণ্ডবিধি অধ্যায়) পর্যন্ত পৌঁছেছেন কিন্তু তা সম্পন্ন করতে পারেননি।

শায়খ ইবন বাদরান বলেন: [আমি শায়খ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আস-সাফফারিনির জীবনীতে দেখেছি যে, দালীলুত তালিব-এর ওপর তাঁর একটি শারহ রয়েছে, কিন্তু আমরা তা দেখিনি এবং এমন কাউকেও পাইনি যিনি এটি দেখেছেন বলে আমাদের সংবাদ দিতে পারেন]।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
6 - شرح دليل الطالب لإسماعيل بن عبد الكريم الجراعي الدمشقي المتوفى سنة 1202 هـ. وقال ابن بدران: [ولم يتمه].

7 - منار السبيل شرح الدليل للشيخ إبراهيم بن محمد بن سالم بن ضويان المتوفى سنة 1353 هـ، مطبوع متداول قال في مقدمته: [ذكرت فيه ما حضرني من الدليل والتعليل ليكون وافياً بالغرض من غير تطويل، وزدت في بعض الأبواب مسائل يحتاج إليها النبيل وربما ذكرت روايةً ثانيةً أو وجهاً ثانياً لقوة الدليل نقلته من كتاب الكافي لموفق الدين عبدالله بن أحمد بن محمد بن قدامة المقدسي ثم الدمشقي ومن شرح المقنع الكبير لشمس الدين عبد الرحمن بن أبي عمر بن قدامة وغالب نقلي من مختصره ومن فروع ابن مفلح وقواعد ابن رجب وغيرها من الكتب].

قال د. بكر أبو زيد: [ويظهر أنه ملخص من الكافي لابن قدامة وهو قليل المسائل ومن مزاياه ذكر الدليل وسياق اختيارات شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى].

وقد قام الشيخ العلامة محمد ناصر الدين الألباني محدث هذا العصر بتخريج أحاديث منار السبيل في كتابه القيم إرواء الغليل في تخريج أحاديث منار السبيل وقد ذكر في مقدمته: [ثم إن الباعث على هذا التخريج كان أموراً أذكر أهمها:

الأول: إن أصله " منار السبيل " هو من أمهات كتب مذهب الإمام أحمد إمام السنة الذي جمع من الأحاديث مادة غزيرة قلما تتوفر في كتاب فقهي آخر في مثل حجمه - إذ هو جزءان فقط - حتى بلغ عددها ثلاثة آلاف حديث أو زادت جلها مرفوعة إلى النبي صلى الله عليه وسلم.

الثاني: أنه لا يوجد بين أيدي أهل العلم وطلابه كتاب مطبوع في تخريج كتاب في الفقه الحنبلي كما للمذاهب الأخرى خذ مثلاً كتاب " نصب الراية لأحاديث الهداية " في الفقه الحنفي للحافظ جمال الدين الزيلعي و" تلخيص ابن حجر العسقلاني " فرأيت أن من واجبي تجاه إمام السنة ومن حقه عليَّ أن أقوم بخدمة متواضعة لمذهبه وفقهه رحمه الله تعالى وذلك بتخريج هذا الكتاب].
6 - ১২০২ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইসমাঈল বিন আব্দুল কারীম আল-জারায়ি আদ-দিমাশকি রচিত 'শারহ দালিলুত তালিব'। ইবনে বাদরান বলেছেন: [তিনি এটি সমাপ্ত করেননি]।

7 - ১৩৫৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী শায়খ ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সালিম বিন দুউইয়ান রচিত 'মানারুস সাবিল শারহুদ দালিল'। এটি বর্তমানে মুদ্রিত ও প্রচলিত। তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: [আমি এতে যতটুকু সম্ভব দলিল ও যুক্তি উল্লেখ করেছি যেন তা দীর্ঘ না হয়েই মূল উদ্দেশ্য পূরণে সক্ষম হয়। কিছু অধ্যায়ে আমি এমন কিছু মাসআলা যোগ করেছি যা একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তির প্রয়োজন হয়। দলিলের সবলতার কারণে সম্ভবত আমি দ্বিতীয় কোনো বর্ণনা বা দ্বিতীয় কোনো অভিমতও উল্লেখ করেছি; যা আমি মুয়াফ্ফাকুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি আল-দিমাশকি-এর 'আল-কাফি' কিতাব থেকে এবং শামসুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আবি উমর বিন কুদামা-এর 'শারহুল মুকনি আল-কাবির' থেকে গ্রহণ করেছি। আর আমার অধিকাংশ উদ্ধৃতি এর সংক্ষিপ্তসার এবং ইবনে মুফলিহ-এর 'আল-ফুরু', ইবনে রজব-এর 'আল-কাওয়ায়িদ' ও অন্যান্য কিতাব থেকে সংগৃহীত]।

ড. বাকর আবু যায়েদ বলেন: [প্রতিভাত হয় যে, এটি ইবনে কুদামা-এর 'আল-কাফি' কিতাবের সারসংক্ষেপ। এতে মাসআলা কম থাকলেও এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দলিলের উল্লেখ এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর পছন্দকৃত অভিমতগুলো ক্রমানুসারে বর্ণনা করা]।

এই যুগের হাদিস বিশারদ শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানি তাঁর মূল্যবান কিতাব 'ইরওয়াউল গালিল ফি তাখরিজি আহাদিসি মানারিস সাবিল'-এ 'মানারুস সাবিল'-এর হাদিসসমূহের তাখরিজ করেছেন। তিনি এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন: [অতঃপর এই তাখরিজের পেছনে কিছু কারণ ছিল, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণগুলো আমি উল্লেখ করছি:

প্রথমত: এর মূল কিতাব 'মানারুস সাবিল' সুন্নাহর ইমাম, ইমাম আহমাদ-এর মাযহাবের অন্যতম মৌলিক কিতাব। এটি এমন বিপুল পরিমাণ হাদিস সংগ্রহ করেছে যা এর সমআকারের অন্য কোনো ফিকহি কিতাবে পাওয়া দুষ্কর—যেহেতু এটি মাত্র দুই খণ্ডে সমাপ্ত—এমনকি এর হাদিস সংখ্যা তিন হাজার বা তার বেশি পৌঁছেছে, যার অধিকাংশ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে মারফু হিসেবে বর্ণিত।

দ্বিতীয়ত: আলেম ও তালিবে ইলমদের নিকট হাম্বলি ফিকহের কোনো কিতাবের ওপর এমন কোনো মুদ্রিত তাখরিজের কিতাব নেই যেমনটি অন্যান্য মাযহাবের ক্ষেত্রে রয়েছে; উদাহরণস্বরূপ হানাফি ফিকহের হাদিসসমূহের জন্য হাফেজ জামালুদ্দীন আল-যায়লায়ি-এর 'নাসবুর রায়াহ' এবং ইবনে হাজার আল-আসকালানির 'আত-তালখিস'। তাই আমি মনে করলাম যে, সুন্নাহর ইমামের প্রতি আমার দায়িত্ববোধ এবং আমার ওপর তাঁর যে হক রয়েছে সেই জায়গা থেকে তাঁর মাযহাব ও ফিকহের একটি বিনম্র খিদমত আঞ্জাম দেই (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), আর তা হলো এই কিতাবটির তাখরিজ করা]।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ثم قال: [من أجل ذلك فإني قد جريت في هذا التخريج كغيره على بيان مرتبة كل حديث في أول السطر ثم أتبع ذلك بذكر من خرجه ثم بالكلام على إسناده تصحيحاً أو تضعيفاً وهذا إذا لم يكن في مخرجه الشيخان أو أحدهما وإلا استغنيت بذلك عن الكلام]. وإرواء الغليل مطبوع في ثمانية مجلدات مع مجلد تاسع للفهارس.

وقد قام الشيخ صالح بن عبد العزيز بن محمد آل الشيخ بتخريج عدد من الأحاديث والآثار التي جاءت في منار السبيل شرح الدليل مما لم يقف على مخرجها العلامة الشيخ محمد ناصر الدين الألباني كما ذكر في مقدمة كتابه الذي سماه التكميل لما فات تخريجه من إرواء الغليل.

والشيخ عبد العزيز الطريفي في كتابه التحجيل في تخريج ما لم يخرج من الأحاديث والآثار في إرواء الغليل.

8 - فتح وهاب المآرب على دليل الطالب لنيل المطالب تأليف: أحمد بن أحمد عوض المقدسي الحنبلي تحقيق: فيصل يوسف العلي من إصدارات: وقفية لطائف لنشر الكتب العلمية - دولة الكويت.

9 - حاشية الدليل لأحمد بن محمد بن عوض المرداوي المتوفى سنة 1101 هـ، وتقع هذه الحاشية في نحو ثلاثين كراساً.

10 - حاشية دليل الطالب لنيل المطالب تأليف: مصطفى بن أحمد الدوماني الحنبلي تحقيق: نور الدين طالب من إصدارات: وقفية لطائف لنشر الكتب العلمية - دولة الكويت.

11 - حاشية على دليل الطالب للشيخ صالح بن عثمان القاضي المتوفى سنة 1351 هـ.

12 - حاشية على دليل الطالب للشيخ عثمان بن صالح بن عثمان القاضي المتوفى سنة 1366 هـ.

13 - حاشية على دليل الطالب للشيخ محمد بن عبد العزيز بن مانع المتوفى سنة 1385 هـ مطبوعة مع الدليل.
এরপর তিনি বলেন: [এই কারণে আমি এই তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) গ্রন্থে অন্যান্য গ্রন্থের ন্যায় প্রতিটি হাদিসের মান পঙ্ক্তির শুরুতে বর্ণনা করার নীতি অবলম্বন করেছি, এরপর তার সংকলনকারীর উল্লেখ করেছি, অতঃপর তার সনদের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করেছি। আর এটি কেবল তখনই করা হয়েছে যখন তার সংকলনকারীদের মধ্যে শায়খাইন বা তাঁদের কোনো একজন না থাকেন। অন্যথায় তাঁদের বিদ্যমান থাকাই বর্ণনার জন্য যথেষ্ট মনে করেছি]। ইরওয়াউল গালিল সূচিপত্রের একটি নবম খণ্ডসহ মোট আট খণ্ডে মুদ্রিত।

শায়খ সালেহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-শায়খ 'মানারুস সাবিল শারহুদ দালিল'-এ বর্ণিত বেশ কিছু হাদিস ও আসারের তাখরিজ করেছেন, যেগুলোর উৎস আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি খুঁজে পাননি, যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন, যার নাম দিয়েছেন 'আত-তাকমিল লিমা ফাতা তাখরিজুহু মিন ইরওয়াউল গালিল'।

এবং শায়খ আব্দুল আজিজ আত-তুরিফি তাঁর 'আত-তাহজিল ফি তাখরিজি মা লাম ইউখরাজ মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসার ফি ইরওয়াউল গালিল' গ্রন্থে (অনুরূপ কাজ করেছেন)।

৮ - ফাতহু ওয়াহাবিল মাআরিব আলা দালিলিত তালিব লিনাইলিল মাতালিব, রচনা: আহমদ বিন আহমদ আওয়াদ আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি, তাহকিক: ফয়সাল ইউসুফ আল-আলি, প্রকাশনা: ওয়াকফিয়া লাতাইফ লিনাশরিল কুতুবিল ইলমিয়া - কুয়েত রাষ্ট্র।

৯ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আওয়াদ আল-মারদাউয়ি (মৃত্যু ১১০১ হিজরি) রচিত 'হাশিয়াতুদ দালিল'; এই হাশিয়াটি প্রায় ত্রিশটি পুস্তিকা সম্বলিত।

১০ - হাশিয়া দালিলিত তালিব লিনাইলিল মাতালিব, রচনা: মুস্তাফা বিন আহমদ আদ-দুমানি আল-হাম্বলি, তাহকিক: নুর উদ্দিন তালিব, প্রকাশনা: ওয়াকফিয়া লাতাইফ লিনাশরিল কুতুবিল ইলমিয়া - কুয়েত রাষ্ট্র।

১১ - দালিলিত তালিবের ওপর হাশিয়া, রচয়িতা শায়খ সালেহ বিন উসমান আল-কাদি (মৃত্যু ১৩৫১ হিজরি)।

১২ - দালিলিত তালিবের ওপর হাশিয়া, রচয়িতা শায়খ উসমান বিন সালেহ বিন উসমান আল-কাদি (মৃত্যু ১৩৬৬ হিজরি)।

১৩ - দালিলিত তালিবের ওপর হাশিয়া, রচয়িতা শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মানি (মৃত্যু ১৩৮৫ হিজরি), এটি মূল দালিল গ্রন্থের সাথেই মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
14 - نيل المطالب بحاشية ابن جراح على دليل الطالب جمع وترتيب مع ضبط المتن: الدكتور وليد عبد الله المنيس من إصدارات: وقفية لطائف لنشر الكتب العلمية - دولة الكويت.

15 - إدراك المطالب بحاشية ابن عقيل على دليل الطالب حاشية للشيخ عبد الله بن عقيل على دليل الطالب لمرعي الكرمي جمع الدكتور/ وليد بن عبد الله المنيس الطبعة الأولى - 1431هـ دار النوادر.

 

‌‌منظوماته:

1 - نظم الدليل لمحمد بن ابراهيم بن عريكان النجدي المتوفى بعد سنة 1271 هـ، يقع في ثلاثة آلاف بيت.

2 - نظم البيوع من الدليل لسليمان بن عطية المزيني المتوفى سنة 1363 هـ ويقع في 160 بيتاً وسماه الحائلية.

3 - نظم دليل الطالب للشيخ عبد الرحمن بن ناصر السعدي المتوفى سنة 1376 هـ، ويقع في أربعمئة بيت.

4 - منظومة الذهب المنجلي في الفقه الحنبلي لدليل الطالب للشيخ موسى محمد شحادة الرحيبي من المعاصرين.

 

‌‌منهجي في الشرح:

1 - أعنون لما ترك المؤلف عنونته من الفصول أو لما يستجد من مسائل في أثناء الشرح.

2 - أبدأ بإذن الله بضبط عبارة المتن وقد وقفت على ثلاث نسخ خطية للكتاب الأولى نسخة المكتبة الأزهرية برقم (341496) وتقع في 88 لوحة وفي كل لوحة صفحتان إلا الأولى.

النسخة الثانية: نسخة مكتبة البلدية بالإسكندرية - 2248 ج، وتقع في 142 لوحة في كل لوحة 18 سطر ومكتوبة بخط نسخي جيد.

النسخة الثالثة وهي نسخة ملفقة وتقع في مائة وثلاثين لوحة.

وأثبت الفروق بين النسخ إن وجدت مشيرا للنسخة الأولى بالحرف (ز) والثانية (ب) والثالثة (م).
১৪ - দালিলুত তালিবের উপর ইবনে জাররাহের টীকাসহ নীলুল মাতালিব, মূল পাঠের তাহকীকসহ সংগ্রহ ও বিন্যাস: ডক্টর ওয়ালিদ আব্দুল্লাহ আল-মুনাইস। প্রকাশনায়: ওয়াকফিয়া লাতাইফ লিনাশরিল কুতুবিল ইলমিয়া - কুয়েত রাষ্ট্র।

১৫ - দালিলুত তালিবের উপর ইবনে আকিলের টীকাসহ ইদলাকুল মাতালিব। মারঈ আল-কারমি রচিত দালিলুত তালিবের উপর শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আকিলের একটি টীকা। সংগ্রহ করেছেন ডক্টর ওয়ালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুনাইস। প্রথম সংস্করণ - ১৪৩১ হিজরী। দারুন নাওয়াদির।

 

‌‌তাঁর পদ্যসমূহ:

১ - মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন উরাইকান আন-নাজদি (মৃত্যু ১২৭১ হিজরীর পরে) রচিত নাযমুত দালিল। এটি তিন হাজার পংক্তি বিশিষ্ট।

২ - সুলাইমান বিন আতিয়্যাহ আল-মুযাইনি (মৃত্যু ১৩৬৩ হিজরী) রচিত দালিলুত তালিবের ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ের পদ্য। এটি ১৬০ পংক্তি বিশিষ্ট এবং তিনি এর নাম দিয়েছেন আল-হাইলিয়্যাহ।

৩ - শায়খ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সা’দী (মৃত্যু ১৩৭৬ হিজরী) রচিত নাযমু দালিলিত তালিব। এটি চারশত পংক্তি বিশিষ্ট।

৪ - বর্তমান সময়ের শায়খ মুসা মুহাম্মাদ শিহাদা আল-রুহাইবি রচিত দালিলুত তালিবের আলোকে হাম্বলী ফিকহ বিষয়ক পদ্য ‘আল-যাহাবুল মুনজালি’।

 

‌‌ব্যাখ্যায় আমার পদ্ধতি:

১ - লেখক যে সকল পরিচ্ছেদের শিরোনাম দেননি আমি সেগুলোর শিরোনাম প্রদান করি অথবা ব্যাখ্যা চলাকালীন নতুন কোনো মাসআলা আসলে তার শিরোনাম দেই।

২ - আল্লাহর রহমতে আমি মূল পাঠের (মাতন) শব্দ বিন্যাস ও শুদ্ধিকরণের মাধ্যমে কাজ শুরু করি। আমি কিতাবটির তিনটি পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। প্রথমটি আল-আযহারিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি, যার নম্বর (৩৪১৪৯৬); এটি ৮৮টি পত্রে (ফোলিও) বিন্যস্ত এবং প্রথম পত্রটি ব্যতীত প্রতিটি পত্রে দুটি করে পৃষ্ঠা রয়েছে।

দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি: আলেকজান্দ্রিয়া মিউনিসিপাল লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি - ২২৪৮ জে; এটি ১৪২টি পত্রে বিন্যস্ত, প্রতিটি পত্রে ১৮টি লাইন রয়েছে এবং এটি চমৎকার নাসখ লিপিতে লিখিত।

তৃতীয় পাণ্ডুলিপি: এটি একটি সংকলিত সংস্করণ এবং ১৩০টি পত্রে বিন্যস্ত।

আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকলে তা সাব্যস্ত করেছি, যেখানে প্রথম পাণ্ডুলিপিকে (য), দ্বিতীয়টিকে (ব) এবং তৃতীয়টিকে (ম) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
بالإضافة إلى بعض النسخ المطبوعة كـ: النسخة التي حققها الشيخ الفاريابي، والنسخة التي حشى عليها الشيخ ابن مانع، وغير ذلك من الشروحات المطبوعة.

3 - أشرح عبارة المؤلف بما يزيل ما فيها من إبهام إن كانت مستغلقة مؤيدا كلامي بالنقل عن كتب المذهب المعتمدة.

4 - أستخرج من عبارة الماتن المسائل التي يحتملها كلامه منطوقا، ومفهوما مع تضمين ذلك لما أراه ملحا من التطبيقات الفقهية المعاصرة.

5 - أبدأ بنقاش كل مسألة من هذه المسائل بوضع تصور لها إن كانت غامضة بما يجليها - بإذن الله -.

6 - أحرر المذهب وأذكر باقي الروايات، وأعزوها لأصحابها.

7 - أستدل لروايات المذهب وأناقش بين الأدلة - مستخدما القواعد الأصولية والحديثية المتعارف عليها بين أهل الشأن - حتى أصل للرأي الراجح الذي يدل عليه الدليل.

8 - وقد أتطرق في بعض المسائل لرض الخلاف بين المذاهب - إن كانت المسألة خلافية والخلاف فيها معتبر - مع عزو كل قول لأهله وتوثيق ذلك من كتبهم الأصلية ما استطعت إلى ذلك سبيلا.

وهذا أوان الشروع في المقصود.

والله المستعان وعليه البلاغ ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

 

‌‌تنبيه:

وبعد أن انتهيت من الكلام على المياه، وجزء من باب الآنية شغلت عن إتمام هذا الشرح بشرح آخر مختصر، وهو التحرير شرح الدليل، ولحين الانتهاء من التحرير والعمل مرة أخرى على إنجاز هذا الشرح المطول بإذن الله سوف أكمل باب الآنية من التحرير.

المؤلف

غفر الله له ولوالديه

مصر - المنيا في 12 من شهر ذي القعدة لعام

1431هـ، الموافق 20 من أكتوبر لعام 2010 م.
সেই সাথে কিছু মুদ্রিত সংস্করণ যেমন: শেখ আল-ফারইয়াবি সম্পাদিত সংস্করণ, শেখ ইবনে মানি'র টীকাযুক্ত সংস্করণ এবং অন্যান্য মুদ্রিত ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ।

৩ - আমি মূল লেখকের বক্তব্যের এমন ব্যাখ্যা প্রদান করি যা এর অস্পষ্টতা দূর করে—যদি তা জটিল হয়—এবং মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে আমার বক্তব্যকে শক্তিশালী করি।

৪ - আমি মূল পাঠের শব্দাবলী থেকে এমন সব মাসআলা উদ্ভাবন করি যা তার শাব্দিক ও অর্থগত দিক থেকে নির্দেশিত হয়, পাশাপাশি আমি যা অত্যন্ত জরুরি মনে করেছি এমন সমসাময়িক ফিকহী প্রয়োগগুলোকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

৫ - আমি এই মাসআলাগুলোর প্রত্যেকটি নিয়ে আলোচনার শুরুতে সেটির একটি স্পষ্ট চিত্র বা রূপরেখা তুলে ধরি—যদি তা অস্পষ্ট হয়—যা সেটিকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে, ইনশাআল্লাহ।

৬ - আমি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য অভিমতটি চূড়ান্ত করি, অন্যান্য বর্ণনাগুলো উল্লেখ করি এবং সেগুলো সংশ্লিষ্ট প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করি।

৭ - আমি মাযহাবের বর্ণনাগুলোর স্বপক্ষে দলিল পেশ করি এবং দলিলগুলোর মধ্যে পর্যালোচনা করি—এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট পরিচিত উসূলী ও হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ ব্যবহার করে—যাতে আমি সেই দালিলিক ও অগ্রগণ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যার প্রতি দলিল পথপ্রদর্শন করে।

৮ - কোনো কোনো মাসআলায় আমি মাযহাবগুলোর মধ্যকার মতপার্থক্য তুলে ধরি—যদি মাসআলাটি মতভেদপূর্ণ হয় এবং সে মতভেদটি গ্রহণযোগ্য হয়—সেক্ষেত্রে প্রতিটি বক্তব্যকে তার প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করি এবং সাধ্যমতো তাদের মূল কিতাবসমূহ থেকে সেটির প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করি।

আর এটাই হলো মূল বিষয়ে প্রবেশের উপযুক্ত সময়।

আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী এবং তাঁরই ওপর ভরসা, আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।

 

‌‌সতর্কবাণী:

পানির বিবরণ এবং পাত্রের অধ্যায়ের কিছু অংশ সমাপ্ত করার পর, আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সম্পন্ন করার পরিবর্তে অন্য একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থের কাজে ব্যাপৃত হয়ে পড়ি, যা হলো ‘আত-তাহরীর শারহুদ দালীল’। ইনশাআল্লাহ, এই তাহরীর শেষ করা এবং পুনরায় এই দীর্ঘ ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সম্পন্ন করার কাজে আত্মনিয়োগ করার আগ পর্যন্ত আমি তাহরীর থেকেই পাত্রের অধ্যায়টি পূর্ণ করব।

লেখক

আল্লাহ তাকে এবং তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন

মিশর - মিনিয়া, ১২ যিলকদ, ১৪৩১ হিজরী, যা ২০ অক্টোবর, ২০১০ খ্রিস্টাব্দের সমসাময়িক।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

كتاب‌‌ الطهارة

قال الماتن رحمه الله: (كتاب الطهارة، وهي: رفع الحدث وزوال الخبث).

فيه مسائل:

 

‌‌الأولى قوله: (كتاب) قال ابن أبي الفتح في "المطلع" (ص/5): (مصدر سمي به المكتوب كالخلق بمعنى المخلوق … قال سالم بن دارة:

لا تَأْمَنَنَّ فَزارِيَّاً خَلَوْتَ بهِ … على قَلُوصِك واكْتُبْها بأَسْيارِ

ومنه كتبت الكتاب أي جمعت فيه الحروف والمعاني المحتاج إليها.

وهو الاصطلاح اسم لجنس من الأحكام ونحوها تشتمل على أنواع مختلفة كالطهارة مشتملة على المياه والوضوء والغسل والتيمم وإزالة النجاسة وغيرها وهو خبر مبتدأ محذوف أي هذا كتاب الطهارة أي الجامع لأحكامها).

 

‌‌الثانية - قوله: (الطهارة) وقال ابن أبي الفتح: (هي في اللغة النزاهة والنظافة عن الأقذار يقال طَهُرَت المرأة من الحيض والرجل من الذنوب بفتح الهاء وضمها وكسرها).

قال إبراهيم بن مفلح في " المبدع " (1/ 30): (معناها لغة النظافة والنزاهة عن الأقذار ومادة ن ز هـ ترجع إلى البعد وفي الصحيح عن ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا دخل على مريض قال: (لا بأس طهور إن شاء الله) أي مطهر من الذنوب وهي أقذار معنوية).

 

‌‌المسألة الثالثة - تعريف الطهارة اصطلاحا:

عرفها الماتن بقوله: (رفع الحدث وزوال الخبث).

 

‌‌أولا - شرح التعريف:

رفع جنس في التعريف، ويشمل كل رفع، ولكنه قيده بالحدث وسيأتي - بإذن الله - الفرق بين الرفع والارتفاع.

الحدث: وهو معنى يقوم بالبدن تمتنع معه الصلاة ونحوها (1).

--------------------------------------------

(1) شرح العمدة (1/ 60)، وانظر: كشاف القناع (1/ 29)، وشرح منتهى الإرادات (1/ 14)، مطالب أولي النهى (1/ 26).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

পবিত্রতা বিষয়ক অধ্যায়

মূল গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (পবিত্রতা বিষয়ক অধ্যায়: আর এটি হলো— হাদাস বা অপবিত্রতা দূর করা এবং খবাস বা নাপাকি দূরীভূত করা।)

এতে বেশ কিছু মাসআলা রয়েছে:

 

‌প্রথম মাসআলা— তাঁর উক্তি: (অধ্যায়) ইবনুল ফাতহ 'আল-মুতলি' (পৃ. ৫) গ্রন্থে বলেন: (এটি এমন একটি মাসদার বা মূল শব্দ যা দ্বারা লিখিত বিষয়কে বোঝানো হয়, যেমন ‘খালক’ (সৃষ্টি) শব্দ দ্বারা ‘মাখলুক’ (সৃষ্ট বস্তু) বোঝানো হয়... সালিম ইবনে দারাহ বলেছেন:

তুমি যখন কোনো ফাজারী ব্যক্তির সাথে একান্তে থাকো, তখন তোমার মাদী উটটির ব্যাপারে তাকে বিশ্বাস করো না; বরং সেটাকে চামড়ার ফিতা দিয়ে বেঁধে রাখো।

আর এ থেকেই ‘কাতাবতুল কিতাব’ (আমি কিতাব লিখেছি) বাক্যটি এসেছে, অর্থাৎ আমি এতে প্রয়োজনীয় বর্ণমালা ও অর্থসমূহকে একত্রিত করেছি।

পারিভাষিক অর্থে এটি এমন এক জাতীয় বিধিবিধানের নাম যা বিভিন্ন প্রকারভেদকে অন্তর্ভুক্ত করে; যেমন পবিত্রতা অধ্যায়টি পানি, অজু, গোসল, তায়াম্মুম, নাপাকি দূর করা ইত্যাদিকে শামিল করে। এটি একটি উহ্য মুবতাদা বা উদ্দেশ্যের খবর বা বিদেহ; অর্থাৎ ‘এটি পবিত্রতার অধ্যায়’, যার অর্থ— এটি তার বিধিবিধানসমূহের সংকলন।)

 

‌দ্বিতীয় মাসআলা— তাঁর উক্তি: (পবিত্রতা) ইবনুল ফাতহ বলেন: (অভিধানে এর অর্থ হলো নোংরামি থেকে পবিত্র হওয়া এবং পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। বলা হয়ে থাকে যে, নারী ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হয়েছে এবং পুরুষ গুনাহ থেকে পবিত্র হয়েছে— এখানে ‘হা’ বর্ণে ফাতহা, দাম্মা ও কাসরা তিনভাবেই পড়া যায়।)

ইব্রাহিম ইবনে মুফলিহ 'আল-মুবদি' (১/৩০) গ্রন্থে বলেন: (আভিধানিক অর্থ হলো পরিচ্ছন্নতা এবং অপবিত্রতা থেকে মুক্ত থাকা। ‘ন-জ-হ’ (نزاهة) মূল ধাতুটি দূরত্ব বজায় রাখার অর্থে ব্যবহৃত হয়। সহিহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোনো রোগীর কাছে প্রবেশ করতেন, তখন বলতেন: ‘কোনো ভয় নেই, ইনশাআল্লাহ এটি (রোগটি) পবিত্রকারী হবে’; অর্থাৎ গুনাহ থেকে পবিত্রকারী, আর গুনাহ হলো আত্মিক অপবিত্রতা।)

 

‌তৃতীয় মাসআলা— পারিভাষিক অর্থে পবিত্রতার সংজ্ঞা:

মূল গ্রন্থকার এর সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন: (হাদাস বা অপবিত্রতা দূর করা এবং খবাস বা নাপাকি দূরীভূত করা।)

 

‌প্রথমত— সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:

‘দূর করা’ বা ‘রাফউ’ শব্দটি সংজ্ঞার মাঝে একটি সাধারণ শব্দ, যা সব ধরনের দূর করাকে শামিল করে; তবে তিনি একে ‘হাদাস’ এর সাথে শর্তযুক্ত করেছেন। ইনশাআল্লাহ ‘রাফউ’ (দূর করা) এবং ‘ইরতিফাউ’ (দূর হওয়া) এর মধ্যকার পার্থক্য সামনে আলোচনা করা হবে।

হাদাস (অপবিত্রতা): এটি এমন একটি অবস্থা যা শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, যার ফলে সালাত এবং এই জাতীয় ইবাদত করা নিষিদ্ধ হয়ে যায় (১)।

--------------------------------------------

(১) শরহুল উমদাহ (১/৬০); আরও দেখুন: কাশশাফুল কিনা' (১/২৯), শরহু মুনতাহাল ইরাদাত (১/১৪), মাতালিবু উলিন নুহা (১/২৬)।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال البهوتي في "كشاف القناع" (1/ 28): (ويطلق الحدث على نفس الخارج).

 

‌‌فائدة:

وتعريف الحدث متعلق بالتيمم هل هو رافع أم مبيح؟ والمشهور في المذهب أنه مبيح، وفي رواية عند أحمد ورجحها تقي الدين (1)، وأبو بكر محمد الجوزي أنه رافع.

قال ابن دقيق العيد في "شرح العمدة" (1/ 20 - 21): (الوجه الثاني: في تفسير معنى: " الحدث " فقد يطلق بإزاء معان ثلاثة: أحدها: الخارج المخصوص الذي يذكره الفقهاء في باب نواقض الوضوء. ويقولون: الأحداث كذا وكذا. الثاني: نفس خروج ذلك الخارج. الثالث: المنع المرتب على ذلك الخروج. وبهذا المعنى يصح قولنا " رفعت الحدث " و " نويت رفع الحدث " فإن كل واحد من الخارج والخروج قد وقع … وأما المنع المرتب على الخروج: فإن الشارع حكم به. ومد غايته إلى استعمال المكلف الطهور ، فباستعماله يرتفع المنع. فيصح قولنا " رفعت الحدث " و " ارتفع الحدث " أي ارتفع المنع الذي كان ممدودا إلى استعمال المطهر. وبهذا التحقيق يقوى قول من يرى أن التيمم يرفع الحدث. ; لأنا لما بينا أن المرتفع: هو المنع من الأمور المخصوصة ، وذلك المنع مرتفع بالتيمم. فالتيمم يرفع الحدث. غاية ما في الباب: أن رفعه للحدث مخصوص بوقت ما ، أو بحالة ما. وهي عدم الماء. وليس ذلك ببدع ، فإن الأحكام قد تختلف باختلاف محالها. وقد كان الوضوء في صدر الإسلام واجبا لكل صلاة ، على ما حكوه ولا نشك أنه كان رافعا للحدث في وقت مخصوص. وهو وقت الصلاة. ولم يلزم من انتهائه بانتهاء وقت الصلاة في ذلك الزمن: أن لا يكون رافعا للحدث. ثم نسخ ذلك الحكم عند الأكثرين. ونقل عن بعضهم ; أنه مستمر. ولا شك أنه لا يقول: إن الوضوء لا يرفع الحدث. نعم ههنا معنى رابع ، يدعيه كثير من الفقهاء ، وهو أن الحدث وصف حكمي مقدر قيامه بالأعضاء على مقتضى الأوصاف الحسية. وينزلون ذلك الحكمي منزلة الحسي في قيامه بالأعضاء. فما نقول: إنه يرفع الحدث -

--------------------------------------------

(1) مع أنه عرفه في "شرح العمدة" (1/ 60) بأنه: (معنى يقوم بالبدن تمتنع معه الصلاة والطواف) ولكنه رحمه الله يرى الخلاف لفظي.
আল-বাহুতি 'কাশশাফুল কিনা' (১/ ২৮)-এ বলেছেন: (এবং নির্গত বস্তুর ওপরও 'হাদাস' শব্দটির প্রয়োগ হয়)।

 

‌‌জ্ঞাতব্য:

হাদাস-এর সংজ্ঞায়ন তায়াম্মুমের সাথে সংশ্লিষ্ট যে, এটি কি হাদাস দূরকারী নাকি (সালাত ইত্যাদির) বৈধতাদানকারী? মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো এটি বৈধতাদানকারী। ইমাম আহমাদ-এর একটি বর্ণনা অনুযায়ী এটি দূরকারী, আর এই মতটিকে তাকীউদ্দীন (১) এবং আবু বকর মুহাম্মদ আল-জাওযী প্রাধান্য দিয়েছেন।

ইবনুদ দাকীকুল ঈদ 'শারহুল উমদাহ' (১/ ২০ - ২১)-এ বলেছেন: (দ্বিতীয় দিক: 'হাদাস' শব্দের অর্থের ব্যাখ্যা। এটি তিনটি অর্থের বিপরীতে ব্যবহৃত হতে পারে: প্রথমটি: বিশেষ নির্গত বস্তু যা ফকীহগণ অজুর নাওয়াকিজ বা অজু ভঙ্গকারী অধ্যায়ে উল্লেখ করেন। তাঁরা বলেন: হাদাসসমূহ হলো এই এই। দ্বিতীয়টি: সেই বস্তু নির্গত হওয়ার প্রক্রিয়া। তৃতীয়টি: সেই নির্গত হওয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা। এই অর্থেই আমাদের এ কথা বলা শুদ্ধ হয় যে, "আমি হাদাস দূর করলাম" এবং "আমি হাদাস দূর করার নিয়ত করলাম"। কেননা নির্গত বস্তু এবং নির্গত হওয়া—উভয়টিই তো ঘটে গেছে … আর নির্গত হওয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কথা হলো: শারীআত প্রণেতা এর বিধান দিয়েছেন। এর সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তির পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ ব্যবহার করা পর্যন্ত। সুতরাং তা ব্যবহারের মাধ্যমে সেই নিষেধাজ্ঞা দূর হয়ে যায়। তাই আমাদের এই কথা বলা সঠিক যে, "আমি হাদাস দূর করলাম" এবং "হাদাস দূর হয়েছে", অর্থাৎ সেই নিষেধাজ্ঞা দূর হয়েছে যা পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ ব্যবহার করা পর্যন্ত দীর্ঘায়িত ছিল। এই তাহকীক বা বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের মত শক্তিশালী হয় যারা মনে করেন যে, তায়াম্মুম হাদাস দূর করে। কারণ আমরা যখন স্পষ্ট করেছি যে, যা দূরীভূত হয় তা হলো নির্দিষ্ট কিছু কাজের নিষেধাজ্ঞা, আর সেই নিষেধাজ্ঞা তায়াম্মুমের মাধ্যমে অপসারিত হয়। অতএব তায়াম্মুম হাদাস দূরকারী। বড়জোর এই বলা যেতে পারে যে, এর মাধ্যমে হাদাস দূর হওয়াটি একটি নির্দিষ্ট সময় বা নির্দিষ্ট অবস্থার সাথে খাস, আর তা হলো পানির অনুপস্থিতি। এটি কোনো নজিরবিহীন বিষয় নয়, কারণ প্রেক্ষিতের ভিন্নতায় বিধান ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। ইসলামের শুরুর যুগে বর্ণনা অনুযায়ী প্রত্যেক সালাতের জন্য অজু করা ওয়াজিব ছিল। আমাদের এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তা একটি নির্দিষ্ট সময়ে অর্থাৎ সালাতের সময়ে হাদাস দূরকারী ছিল। সেই যুগে সালাতের সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথে এর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে এটি আবশ্যক হয় না যে, সেটি হাদাস দূরকারী ছিল না। পরবর্তীতে অধিকাংশের মতে সেই বিধান রহিত হয়ে যায়। কারো কারো থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি অব্যাহত রয়েছে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি এ কথা বলবেন না যে অজু হাদাস দূর করে না। হ্যাঁ, এখানে একটি চতুর্থ অর্থও রয়েছে যা অনেক ফকীহ দাবি করেন, আর তা হলো: হাদাস একটি হুকমী বা শরঈ গুণ যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য গুণের ন্যায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিদ্যমান বলে ধরে নেওয়া হয়। তাঁরা সেই হুকমী বিষয়টিকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিদ্যমান থাকার ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত করেন। সুতরাং আমরা যা বলি যে, তা হাদাস দূর করে—

--------------------------------------------

(১) যদিও তিনি 'শারহুল উমদাহ' (১/ ৬০)-এ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: (শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন একটি বিষয় যার উপস্থিতিতে সালাত ও তাওয়াফ নিষিদ্ধ হয়ে যায়), তবে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) মনে করেন যে এই মতপার্থক্যটি কেবল শাব্দিক।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
كالوضوء والغسل - يزيل ذلك الأمر الحكمي. فيزول المنع المرتب على ذلك الأمر المقدر الحكمي. وما نقول بأنه لا يرفع الحدث ، فذلك المعنى المقدر القائم بالأعضاء حكما باق لم يزل. والمنع المرتب عليه زائل. فبهذا الاعتبار نقول: إن التيمم لا يرفع الحدث ، بمعنى أنه لم يزل ذلك الوصف الحكمي المقدر وإن كان المنع زائلا. وحاصل هذا: أنهم أبدوا للحدث معنى رابعا ، غير ما ذكرناه من الثلاثة المعاني. وجعلوه مقدرا قائما بالأعضاء حكما ، كالأوصاف الحسية ، وهم مطالبون بدليل شرعي يدل على إثبات هذا المعنى الرابع ، الذي ادعوه مقدرا قائما بالأعضاء ، فإنه منفي بالحقيقة ، والأصل موافقة الشرع لها ، ويبعد أن يأتوا بدليل على ذلك. وأقرب ما يذكر فيه: أن الماء المستعمل قد انتقل إليه المانع ، كما يقال ، والمسألة متنازع فيها. فقد قال جماعة بطهورية الماء المستعمل. ولو قيل بعدم طهوريته أو بنجاسته: لم يلزم منه انتقال مانع إليه. فلا يتم الدليل. والله أعلم).

قوله: وزوال، أولى ممن عبر بإزالة؛ وذلك لأن تطهير النجاسة لا يشترط لها النية فإن زالت بنفسها بدون قصد من المكلف طهرت.

وقد نقل ابن عبد البر الإجماع على ذلك فقال في " التمهيد" (22/ 101): (الإجماع على إزالة النجاسات من الأبدان والثياب بغير نية).

قال ابن مفلح في "الفروع" (1/ 259): (غسالة النجاسة مع النية وعدمها سواء).

قال تقي الدين في " شرح العمدة " (1/ 166): (إزالة النجاسة من باب المتروك ولهذا لا يحتاج إلى عمل أصلا).

قال البهوتي في " كشاف القناع" (1/ 48): (إزالة النجاسة لا يعتبر لها نية).

وقال ابن رجب في جامع العلوم والحكم (ص/20): (وأما الطهارة فالخلاف في اشتراط النية لها مشهور وهو يرجع إلى أن الطهارة للصلاة هل هي عبادة مستقلة أم هي شرط من شروط الصلاة كإزالة النجاسة وستر العورة فمن لم يشترط لها النية جعلها كسائر شروط الصلاة ومن اشترط لها النية جعلها عبادة مستقلة فإذا كانت عبادة في نفسها لم تصح بدون النية وهذا قول جمهور العلماء ويدل على صحة ذلك تكاثر النصوص الصحيحة عن النبي صلى الله عليه وسلم أن الوضوء يكفر الذنوب والخطايا وأن من توضأ كما أمر كان كفارة لذنوبه وهذا يدل على أن
যেমন অজু ও গোসল - এটি সেই হুকমি (আইনি) বিষয়টিকে দূরীভূত করে। ফলে সেই নির্ধারিত হুকমি বিষয়ের ওপর আরোপিত প্রতিবন্ধকতাও অপসারিত হয়। আর যে ক্ষেত্রে আমরা বলি যে তা হদস (নাপাকি) দূর করে না, সেখানে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিদ্যমান সেই নির্ধারিত হুকমি বিষয়টি অবশিষ্ট থাকে, তা বিলীন হয় না; তবে তার ওপর আরোপিত প্রতিবন্ধকতা অপসারিত হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বলি: তায়াম্মুম হদস দূর করে না, অর্থাৎ সেই নির্ধারিত হুকমি বৈশিষ্ট্যটি বিলীন হয় না যদিও প্রতিবন্ধকতা অপসারিত হয়। এর সারকথা হলো: তারা হদসের জন্য চতুর্থ একটি অর্থ প্রকাশ করেছেন, যা আমাদের বর্ণিত তিনটি অর্থ ব্যতীত অন্য কিছু। তারা একে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিদ্যমান একটি নির্ধারিত হুকমি বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন, যেমনটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য গুণাবলির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তারা এই চতুর্থ অর্থটি প্রমাণের জন্য শরয়ী দলিলের দাবিদার, যা তারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিদ্যমান বলে দাবি করেছেন; কেননা প্রকৃতপক্ষে এটি অস্তিত্বহীন এবং মূলনীতি হলো শরীয়ত বাস্তবতার অনুকূলে হওয়া, আর তারা এর পক্ষে কোনো দলিল আনতে সক্ষম হওয়া সুদূরপরাহত। এ বিষয়ে সবচেয়ে নিকটবর্তী যা উল্লেখ করা হয় তা হলো: ব্যবহৃত পানির দিকে নাপাকি বা প্রতিবন্ধকতা স্থানান্তরিত হয়েছে—যেমনটি বলা হয়ে থাকে—তবে বিষয়টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একদল আলিম ব্যবহৃত পানি পবিত্রকারী হওয়ার কথা বলেছেন। আর যদি একে অপবিত্রকারী না হওয়া বা নাপাক হওয়ার কথা বলাও হয়, তাহলেও এর দ্বারা প্রতিবন্ধকতা স্থানান্তরিত হওয়া আবশ্যক হয় না। ফলে দলিলটি পূর্ণতা পায় না। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত)।

তাঁর উক্তি: 'এবং দূরীভূত হওয়া' (যাওয়া), এটি 'দূর করা' শব্দ ব্যবহারকারীর চেয়ে অধিক উত্তম; কারণ নাপাকি পবিত্র করার জন্য নিয়ত শর্ত নয়। সুতরাং যদি তা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির উদ্দেশ্য ছাড়াই নিজে থেকে দূরীভূত হয়ে যায়, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে।

ইবনুল বার এ বিষয়ে ইজমা (ঐক্যমত) বর্ণনা করেছেন; তিনি 'আত-তামহীদ' (২২/১০১) গ্রন্থে বলেছেন: (শরীর ও কাপড় থেকে নিয়ত ছাড়াই নাপাকি দূর করার ব্যাপারে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে)।

ইবনু মুফলিহ 'আল-ফুরু' (১/২৫৯) গ্রন্থে বলেছেন: (নিয়ত থাকা বা না থাকা উভয় অবস্থাতেই নাপাকি ধৌত করা পানি সমান)।

তাকিউদ্দীন 'শারহুল উমদাহ' (১/১৬৬) গ্রন্থে বলেছেন: (নাপাকি দূর করা বর্জনীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, তাই এর জন্য মূলত কোনো আমল বা কর্মের প্রয়োজন নেই)।

আল-বাহূতী 'কাশশাফুল কিনা' (১/৪৮) গ্রন্থে বলেছেন: (নাপাকি দূর করার জন্য নিয়ত বিবেচনা করা হয় না)।

ইবনু রাজাব 'জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম' (পৃ. ২০) গ্রন্থে বলেছেন: (পক্ষান্তরে পবিত্রতার ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত হওয়া নিয়ে মতভেদ প্রসিদ্ধ। এটি মূলত এই বিষয়ের দিকে ফিরে যায় যে, সালাতের জন্য পবিত্রতা অর্জন কি একটি স্বতন্ত্র ইবাদত, নাকি তা সালাতের শর্তসমূহের মধ্যে একটি শর্ত—যেমন নাপাকি দূর করা ও সতর ঢাকা? সুতরাং যারা এর জন্য নিয়ত শর্ত করেননি, তারা একে সালাতের অন্যান্য শর্তের মতো গণ্য করেছেন। আর যারা এর জন্য নিয়ত শর্ত করেছেন, তারা একে একটি স্বতন্ত্র ইবাদত হিসেবে গণ্য করেছেন। অতএব যদি তা নিজেই একটি ইবাদত হয়, তবে নিয়ত ব্যতীত তা শুদ্ধ হবে না। এটিই জমহুর (অধিকাংশ) আলিমের অভিমত। এর শুদ্ধতার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত অসংখ্য সহীহ দলিল প্রমাণ বহন করে যে, অজু গুনাহ ও পাপসমূহ মোচন করে দেয় এবং যে ব্যক্তি নির্দেশিত পন্থায় অজু করবে তা তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়। এটি প্রমাণ করে যে...
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الوضوء المأمور به في القرآن عبادة مستقلة بنفسها حيث رتب عليه تكفير الذنوب والوضوء الخالي من النية لا يكفر شيئا من الذنوب بالاتفاق فلا يكون مأمورا به ولا تصح به الصلاة ولهذا لم يرد في شيء من بقية شرائط الصلاة كإزالة النجاسة وستر العورة ما ورد في الوضوء من الثواب).

 

‌‌الخبث، والمقصود به هنا النجاسة الحسية.

قال الرحيباني في "مطالب أولي النهى" (1/ 27): (الخبث عرفا (النجاسة العينية ولا تطهر بحال) فلا يرد نحو الخمرة والماء المتنجس لأنه عين حرم تناولها لما طرأ عليها.

تتمة: النجس لغة: ما يستقذره ذو الطبع السليم (1) وعرفا كل عين حرم تناولها لذاتها مع إمكان التناول ليخرج مالا يمكن تناوله كالصوان لأن المنع من الممتنع مستحيل لا لحرمتها ليخرج صيد الحرم والإحرام ولا لاستقذارها ليخرج نحو البصاق والمخاط فالمنع منه لاستقذاره لا لنجاسته ولا لضرر بها في بدن أو عقل ليخرج نحو السميات والبنج).

 

‌‌ثانيا - مناقشة التعريف:

1 - الأولى أن يقول: (ارتفاع الحدث) بدلا من قوله: (رفع الحدث)، قال البهوتي في كشاف القناع (1/ 23 - 24) تعليقا على قول الحجاوي في الإقناع في تعريف الطهارة شرعا (ارتفاع الحدث): (وعبر بالارتفاع ليطابق بين المفسَّر والمفسِّر (2) ، ولم يعبر بالرفع - كما عبر به جمع ; لأنه تعريف للتطهير لا الطهارة ، ولكن سهله كون الطهارة أثره وناشئة عنه).

وقوله: (ولكن سهله كون الطهارة أثره وناشئة عنه) فيه نظر لعدم اطراد هذه الملازمة، بمعنى أنه لا يلزم من كل رفع ارتفاع، فالرفع بدون ارتفاع لا يستلزم تخلص الجسد من الحدث، بعكس الارتفاع فإنه لا يرتفع إلا إذا رفع ففيها إثبات الرفع مع إثبات تخلص الجسد من الحدث، وعلى ذلك فالأولى التعبير بالارتفاع.

--------------------------------------------

(1) انظر: الإنصاف (1/ 26)، كشاف القناع (1/ 29)،

(2) قال البهوتي في " شرح منتهى الإرادات" (1/ 13): (الارتفاع مصدر ارتفع ففيه المطابقة بين المفسَّر والمفسِّر في اللزوم).
কুরআনে নির্দেশিত অজু একটি স্বতন্ত্র ইবাদত, কেননা এর মাধ্যমে গুনাহ মাফের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আর নিয়তবিহীন অজু ঐকমত্যের ভিত্তিতে কোনো গুনাহ মোচন করে না, তাই তা নির্দেশিত অজু নয় এবং এর দ্বারা সালাতও শুদ্ধ হবে না। এই কারণেই সালাতের অন্যান্য শর্তাবলি যেমন—নাজাসাত (নাপাকি) দূর করা এবং সতর ঢাকা—এগুলোর ক্ষেত্রে অজুর মতো সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়নি।

 

‌‌খাবাছ, আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দৃশ্যমান অপবিত্রতা.

আল-রুহায়বানী 'মাতালিবু উলিুন নুহা' (১/২৭) গ্রন্থে বলেছেন: (পরিভাষায় খাবাছ হলো ‘জাতগত নাপাকি’ যা কোনো অবস্থাতেই পবিত্র হয় না)। সুতরাং মদ এবং অপবিত্র পানি এর অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ এগুলো এমন বস্তু যার সেবন হারাম করা হয়েছে তার উপর আপতিত অন্য কোনো কারণে।

পরিশিষ্ট: শাব্দিক অর্থে নাপাক হলো: সুস্থ রুচিবোধসম্পন্ন ব্যক্তি যা অপছন্দ করে (১)। আর পারিভাষিক অর্থে এমন প্রতিটি বস্তু যার সত্তাগত কারণে তা গ্রহণ করা হারাম, অথচ তা গ্রহণ করা সম্ভব। ‘গ্রহণ করা সম্ভব’ বলার মাধ্যমে এমন বিষয় বাদ পড়েছে যা গ্রহণ করা অসম্ভব যেমন—পাথর, কারণ অসম্ভব বিষয় হতে বারণ করা নিরর্থক। ‘হারাম হওয়ার কারণে নয়’ বলার মাধ্যমে হারাম শরিফের শিকার এবং ইহরাম অবস্থায় শিকার করা পশু বাদ পড়েছে। ‘ঘৃণ্য হওয়ার কারণে নয়’ বলার মাধ্যমে থুতু এবং সর্দি বাদ পড়েছে; কারণ এগুলো বারণ করার কারণ হলো এগুলো ঘৃণা উদ্রেককারী হওয়া, নাপাক হওয়া নয়। ‘দেহ বা মস্তিষ্কের ক্ষতির আশঙ্কায় নয়’ বলার মাধ্যমে বিষাক্ত দ্রব্য ও চেতনানাশক বস্তু বাদ পড়েছে।

 

‌‌দ্বিতীয়ত - সংজ্ঞা পর্যালোচনা:

১ - 'রাফউল হাদাস' (অপবিত্রতা দূর করা) বলার চেয়ে 'ইরতিফাউল হাদাস' (অপবিত্রতা অপসারিত হওয়া) বলা অধিক উত্তম। আল-বাহূতী 'কাশশাফুল কিনা' (১/২৩-২৪) গ্রন্থে ইকনাহ গ্রন্থে হিজ্জাবীর দেওয়া পবিত্রতার শরয়ী সংজ্ঞায় 'ইরতিফাউল হাদাস' (অপবিত্রতা অপসারিত হওয়া) কথার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: (তিনি 'ইরতিফা' শব্দ ব্যবহার করেছেন যাতে 'মুফাসসার' (সংজ্ঞায়িত বস্তু) এবং 'মুফাসসির' (সংজ্ঞা)-এর মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় থাকে (২)। তিনি 'রাফ' শব্দ ব্যবহার করেননি—যেমনটি একদল আলেম করেছেন—কারণ এটি হলো 'তাতহীর' বা পবিত্রকরণের সংজ্ঞা, 'তাহারাত' বা পবিত্রতার নয়। তবে বিষয়টিকে সহজ করেছে এই যে, পবিত্রতা হলো পবিত্রকরণের ফল এবং এর থেকে উৎপন্ন একটি অবস্থা)।

আর তাঁর বক্তব্য: (তবে বিষয়টিকে সহজ করেছে এই যে, পবিত্রতা হলো পবিত্রকরণের ফল এবং এর থেকে উৎপন্ন একটি অবস্থা)—এতে সংশয়ের অবকাশ রয়েছে, কারণ এই আবশ্যকতা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এর অর্থ হলো, প্রতিটি 'রাফ' (দূর করার চেষ্টা) থেকেই 'ইরতিফা' (অপসারিত হওয়া) আবশ্যক হয় না। সুতরাং 'ইরতিফা' ব্যতীত 'রাফ' শরীরকে হাদাস (অপবিত্রতা) থেকে মুক্ত করাকে আবশ্যক করে না। পক্ষান্তরে 'ইরতিফা'র বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ যতক্ষণ না 'রাফ' (দূর) করা হয় ততক্ষণ তা 'ইরতিফা' (অপসারিত) হয় না। সুতরাং এতে 'রাফ' সাব্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি শরীর হাদাস থেকে মুক্ত হওয়াও সাব্যস্ত হয়। তাই 'ইরতিফা' শব্দ ব্যবহার করাই অধিক উত্তম।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইনসাফ (১/২৬), কাশশাফুল কিনা (১/২৯),

(২) বাহূতী 'শারহু মুনতাহাল ইরাদাত' (১/১৩) গ্রন্থে বলেন: (ইরতিফা হলো ইরতাফা-এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল, সুতরাং এতে অপরিহার্যতার ক্ষেত্রে মুফাসসার এবং মুফাসসির-এর মধ্যে সামঞ্জস্য বিদ্যমান)।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাতালিব বি-শারহি দালীলিত তালিব - আল-মিনইয়াভী - কিতআতুম মিনাত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ولا يقال أن الخلاف لفظي فلا فرق عند الحنابلة بين الرفع والارتفاع وذلك لأن الحدث عندهم أمر معنوي وهذا الفرق إنما يكون في المحسوسات، وذلك لقولهم المعروف في سلب الاستعمال لقليل الماء لطهوريته كما يأتي بيانه - إن شاء الله - فهم ينزلون ذلك الحكمي منزلة الحسي في قيامه بالأعضاء وانتقاله عنها.

وعكس الشيخ الحمد في "شرح الزاد" فقال: (وعلى هذا فلو أن المؤلف قال: (رفع الحدث) لكان الأولى - أي من قوله ارتفاع -؛ لأن الحدث لابد في رفعه من نية).

قلت: بل التعبير بالارتفاع أولى؛ لأن الارتفاع يستلزم الرفع الذي يشترط له النية، كما أن التعريف بالرفع تعريف للتطهير لا الطهارة كما سبق.

2 - حذف الماتن من التعريف ما يحصل به الرفع للحدث أو النجس، وصرح ابن النجار في "المنتهى" (ص/7) حيث عرف الطهارة بقوله: (ارتفاع حدث وما في معناه بماء طهور مباح، وزوال خبث به ولو لم يُبَح، أو مع تراب طهور أو نحوه، أو بنفسه، أو: ارتفاع حكمهما بما يقوم مقامه).

ونص عليه ابن قدامة أيضا في "المغني" حيث قال (1/ 21): (رفع ما يمنع الصلاة من حدث أو نجاسة بالماء أو رفع حكمه بالتراب).

وتعقب الحجاوي زيادة ذكر الماء والتراب، وما يقوم مقامهما في التعريف بأن ما ذكر من المحدود لا من الحد، فقال في "حواشي التنقيح" (ص/69): (لا حاجة إلى ذكره لأنه من المحدود فما باله يذكر في الحد، وعلى هذا يلزمه أن يقول ارتفاع الحدث بنية من مكلف أو مميز إلى غير ذلك، وأن يقول بماء طهور مباح وزوال الخبث بسبع غسلات أو ثلاث ونحو ذلك وهذا كله من المحدود ولا حاجة إلى ذكر شيء منه).

3 - اعترض على الماتن بأن تعريفه غير جامع فقد ترك أنواعا من الطهارة لم يذكرها وهي الطهارة مما هو في معنى الحدث كتغسيل الميت فإنه لا عن حدث، وكالوضوء والغسل المستحبين، ولم يذكر الطهارة الحكمية كالتيمم والاستجمار.

 

‌‌التعريف المختار:

أجود الحدود للطهارة أنها: (ارتفاع الحدث وما في معناه وزوال النجس أو
এবং বলা যাবে না যে, এই মতভেদটি নিছক শাব্দিক; কেননা হাম্বলি মাযহাবের ফকিহদের নিকট 'রাফ' (অপসারণ করা) এবং 'ইরতিফা' (অপসারিত হওয়া)-এর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ তাদের নিকট হদস (অশুচিতা) একটি বিমূর্ত বিষয়, আর এই পার্থক্য কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এটি তাদের সেই সুপরিচিত মতের কারণে, যা তারা অল্প পানি ব্যবহারের ফলে তার পবিত্রকারী গুণ (তহুরিয়্যাত) বিলুপ্ত হওয়ার বিষয়ে পোষণ করেন—যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হবে। তারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অশুচিতার অবস্থান এবং তা থেকে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিধানগত (হুকমি) বিষয়কে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (হিসসি) বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত মনে করেন।

পক্ষান্তরে শায়খ আল-হামাদ 'শারহুয যাদ'-এ এর বিপরীত মত ব্যক্ত করে বলেছেন: (এর ভিত্তিতে, গ্রন্থকার যদি 'রাফউল হদস' [অশুচিতা দূর করা] বলতেন, তবে তা 'ইরতিফা' বলার চেয়ে উত্তম হতো; কারণ অশুচিতা দূর করার জন্য নিয়ত বা সংকল্প থাকা অপরিহার্য)।

আমি বলি: বরং 'ইরতিফা' শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করাই অধিক উত্তম; কেননা 'ইরতিফা' (অপসারিত হওয়া) 'রাফ' (অপসারণ করা)-কে আবশ্যক করে, যার জন্য নিয়ত শর্ত। যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, 'রাফ' বা অপসারণ করার মাধ্যমে 'তাতহির' বা পবিত্রকরণের সংজ্ঞা সম্পন্ন হয়, 'তাহারাত' বা পবিত্রতার নয়।

২ - গ্রন্থকার (মাতন) সংজ্ঞা থেকে ওইসব বিষয় বাদ দিয়েছেন যা দ্বারা অশুচিতা বা নাপাকি দূরীভূত হয়। ইবনে নাজ্জার 'আল-মুনতাহা' (পৃ. ৭) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি পবিত্রতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: (পবিত্র ও বৈধ পানি দ্বারা অশুচিতা এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় অপসারিত হওয়া এবং নাপাকি দূরীভূত হওয়া—যদিও তা বৈধ পানি না হয়, অথবা পবিত্র মাটি বা অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে, অথবা নিজে নিজে; অথবা এ দুটির বিধান এমন কিছু দ্বারা দূরীভূত হওয়া যা সেগুলোর স্থলাভিষিক্ত হয়)।

ইবনে কুদামা-ও 'আল-মুগনি' (১/২১) গ্রন্থে এটি ব্যক্ত করেছেন যেখানে তিনি বলেন: (পানি দ্বারা অশুচিতা বা নাপাকিজনিত সালাতের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, অথবা মাটি দ্বারা তার বিধান দূর করা)।

আল-হিজ্জাবি সংজ্ঞার মধ্যে পানি, মাটি এবং এগুলোর স্থলাভিষিক্ত বিষয়ের উল্লেখ করার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন যে, এই উল্লিখিত বিষয়গুলো 'মাহদুদ' (সংজ্ঞায়িত বিষয়ের বৈশিষ্ট্য)-এর অন্তর্ভুক্ত, 'হাদ্দ' (সংজ্ঞা)-এর নয়। তিনি 'হাওয়াশিত তানকিহ' (পৃ. ৬৯) গ্রন্থে বলেন: (এটি উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ এটি মাহদুদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং সংজ্ঞায় এটি কেন উল্লেখ করা হবে? এর ভিত্তিতে তাকে এটাও বলতে হতো যে, অশুচিতা দূরীভূত হওয়া কোনো মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত) বা মুমায়্যিয (বিবেচনাবোধ সম্পন্ন) ব্যক্তির নিয়তের মাধ্যমে হতে হবে—ইত্যাদি। এবং তাকে এটাও বলতে হতো যে, তা পবিত্র ও বৈধ পানি দ্বারা হতে হবে এবং নাপাকি দূর হতে হবে সাতবার ধৌত করার মাধ্যমে বা তিনবার ধৌত করার মাধ্যমে—অনুরূপ আরও অনেক কিছু। এগুলোর সবই মাহদুদের অন্তর্ভুক্ত এবং এর কোনোটিই উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই)।

৩ - গ্রন্থকারের ওপর এই আপত্তি করা হয়েছে যে, তার সংজ্ঞাটি জামে (সার্বিক) নয়; তিনি পবিত্রতার এমন কিছু প্রকার ছেড়ে দিয়েছেন যা তিনি উল্লেখ করেননি। যেমন—অশুচিতার সমার্থক পবিত্রতা, যেমন মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো, কেননা এটি কোনো হদস বা অশুচিতার কারণে নয়। অনুরূপভাবে মুস্তাহাব ওযু ও গোসল। তিনি বিধানগত পবিত্রতা যেমন তায়াম্মুম ও ইস্তিজমার-এর কথাও উল্লেখ করেননি।

 

‌‌নির্বাচিত সংজ্ঞা:

পবিত্রতার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা হলো: (অশুচিতা এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় অপসারিত হওয়া এবং নাপাকি দূরীভূত হওয়া অথবা...