(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: -)
مشكلة الأفكار في العالم الإسلامي القسم: كتب عامة
الكتاب: مشكلة الأفكار في العالم الإسلامي
المؤلف: مالك بن الحاج عمر بن الخضر بن نبي (ت 1393هـ)
إشراف وتقديم: المحامي عمر مسقاوي
الناشر: دار الفكر المعاصر- بيروت لبنان / دار الفكر-دمشق سورية
الطبعة: 1423هـ = 2002م / ط1: 1988م
عدد الصفحات: 182
أعده للمكتبة الشاملة / أبو ياسر الجزائري.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 ذو الحجة 1432
মুসলিম বিশ্বে চিন্তার সংকট বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
গ্রন্থ: মুসলিম বিশ্বে চিন্তার সংকট
লেখক: মালিক বিন আল-হাজ ওমর বিন আল-খিজির বিন নবী (মৃত্যু ১৩৯৩ হি.)
তত্ত্বাবধান ও উপস্থাপনা: আইনজীবী ওমর মিসকাউই
প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-মুআসির- বৈরুত লেবানন / দারুল ফিকর-দামেস্ক সিরিয়া
সংস্করণ: ১৪২৩ হি. = ২০০২ খ্রি. / ১ম সং: ১৯৮৮ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮২
মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন / আবু ইয়াসির আল-জাজায়েরি।
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
মাকতাবাতুশ শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ জিলহজ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১)
مالك بن نبي
مشكلات الحضارة
***************
مشكلة الأفكار
في العالم الإسلامي
دار الفكر المعاصر- بيروت لبنان
دار الفكر-دمشق سورية
মালেক বিন নবী
সভ্যতার সমস্যাবলি
***************
চিন্তাধারার সমস্যা
মুসলিম বিশ্বে
দার আল-ফিকর আল-মুআসির - বৈরুত, লেবানন
দার আল-ফিকর - দামেস্ক, সিরিয়া
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২)
مالك بن نبي
مشكلات الحضارة
مشكلة الأفكار
في العالم الإسلامي
ترجمة:
الدكتور بسام بركة
الدكتور أحمد شعبو
إشراف وتقديم المحامي عمر مسقاوي
دار الفكر المعاصر- بيروت لبنان
دار الفكر-دمشق سورية
মালিক বিন নবী
সভ্যতার সংকট
মুসলিম বিশ্বে চিন্তার সমস্যা
অনুবাদ:
ডক্টর বাসসাম বারাকাহ
ডক্টর আহমদ শাবু
তত্ত্বাবধান ও উপস্থাপনায়: অ্যাডভোকেট উমর মেসকাউই
দারুল ফিকর আল-মুআসির - বৈরুত, লেবানন
দারুল ফিকর - দামেস্ক, সিরিয়া
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩)
إعادة
1423هـ = 2002م
ط1: 1988م
পুনঃমুদ্রণ
১৪২৩ হিজরি = ২০০২ খ্রিষ্টাব্দ
প্রথম সংস্করণ: ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
في عام 1971، ترك أستاذنا مالك بن نبي، رحمه الله، في المحكمة الشرعية في طرابلس لبنان، وصية سجلت تحت رقم 275/ 67 في 16 ربيع الثاني 1391 الموفق 10 حزيران 1971، وقد حملني فيها مسؤولية كتبه المعنوية والمادية.
وتحملاً مني لهذه الرسالة، ووفاء لندوات سقتنا على ظمأ صافي الرؤية، رأيت تسمية ما يصدر تنفيذاً لوصية المؤلف بـ (ندوة مالك بن نبي).
وهي مشروع نطرحه كنواة لعلاقات فكرية، كان رحمه الله يرغب في توثيقها.
وإنني لأرجو من أصدقاء مالك وقارئيه، مساعدتنا على حفظ حقوق المؤلف في كل ما ينشر بالعربية أو الفرنسية مترجماً من قبل المترجمين أو غير مترجم. فقد حمّلني، رحمه الله، مسؤولية حفظ هذه الحقوق، والإذن بنشر كتبه. فإن وجدت طبعات لم تذكر فيها إشارة إلى إذن صادر من قبلنا، فهذه طبعات غير مشروعة، ونرجو إبلاغنا عنها.
طرابلس لبنان
18 ربيع الأول 1399
15 شباط (فبراير) 1979
عمر مسقاوي
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
১৯৭১ সালে, আমাদের উস্তাদ মালিক বিন নবী (রহমতুল্লাহি আলাইহি), লেবাননের ত্রিপোলির শরীয়াহ আদালতে একটি অসিয়তনামা রেখে গেছেন, যা ১৩৯১ হিজরির ১৬ই রবিউস সানি মোতাবেক ১৯৭১ সালের ১০ই জুন ২৭৫/৬৭ নম্বর অধীনে নিবন্ধিত হয়েছিল। উক্ত অসিয়তনামায় তিনি আমাকে তার গ্রন্থসমূহের বুদ্ধিবৃত্তিক ও বৈষয়িক সকল দায়-দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।
এই মহান আমানত বহন এবং সেই জ্ঞানসভাগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ—যা আমাদের তৃষ্ণার্ত হৃদয়ে স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির সেচন করেছিল—লেখকের অসিয়তনামা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকাশিতব্য সকল কার্যক্রমকে আমি ‘মালিক বিন নবী সেমিনার’ হিসেবে নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এটি এমন একটি প্রকল্প যা আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কের একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পেশ করছি, যা তিনি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন।
আমি মালিকের সকল বন্ধু ও পাঠকদের নিকট অনুরোধ করছি, তারা যেন আরবি বা ফরাসি ভাষায় অনুবাদকগণের মাধ্যমে অনূদিত কিংবা মূল ভাষায় প্রকাশিত সকল রচনার ক্ষেত্রে লেখকের স্বত্ব সংরক্ষণে আমাদের সহায়তা করেন। কেননা তিনি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) আমাকে এই অধিকারগুলো সংরক্ষণ এবং তার গ্রন্থাবলি প্রকাশের অনুমতি প্রদানের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। যদি এমন কোনো সংস্করণ পাওয়া যায় যেখানে আমাদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত অনুমতির কোনো উল্লেখ নেই, তবে সেগুলো অবৈধ প্রকাশনা হিসেবে গণ্য হবে এবং এই বিষয়ে আমাদের অবহিত করার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।
ত্রিপোলি, লেবানন
১৮ই রবিউল আউয়াল ১৩৯৯ হিজরি
১৫ই ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯
ওমর মিসকাউয়ি
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديمهذا الكتاب
نقدمه في ترجمته الجديدة وثوبه الجديد. قد اعتمدنا أصله الفرذسي الذي استلمته مكتوباً على الآلة الكاتبة من المؤلف رحمه الله، مصححاً بخطه مراجعاً منه.
لقد طلبت إلى كل من الدكتور بسام بركة والدكتور أحمد شعبو، أستاذَي الأدب الفرنسي في الجامعة اللبنانية، العناية بترجمته من جديد.
ثم إني راجعت الترجمة، فقابلت بينها وبين أصلها باللغة الفرنسية، فتخيرت لنسقها أسلوباً موحداً هو أقرب إلى نهج الأستاذ مالك في الكتابة، مستعيناً بخبرة اكتسبتها من مصاحبتي له في القاهرة، حين توفر على إخراج كتبه بالعربية، وهو يشرف ويدقق في أعمال الترجمة في نهاية الخمسينات، بل حين اختار أخيراً الكتابة باللغة العربية مباشرة.
ولقد رغبنا في مزيد من توضيح أفكار الكتاب، فأضفنا إلى كل فصل حواشيَ تُعَرِّف بالأعلام والمواقع، وتضيف إلى تحليلات بن نبي خلفية تسبر مراميها، وتكشف أحداثها.
فعسى أن يكون عملنا مع الزميلين المترجمين قد أوفى بالمهمة، وأوسع للهدف الذي من أجله وضع الكتاب.
ولسائل أن يسأل عن الفائدة من إعادة الترجمة، بعدما قام بترجمته في مصر
উপস্থাপনাএই গ্রন্থটি
আমরা এর নতুন অনুবাদ ও নতুন আঙ্গিকে পেশ করছি। আমরা এর মূল ফরাসি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা আমি লেখকের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) নিকট থেকে টাইপরাইটারে লিখিত অবস্থায় গ্রহণ করেছিলাম এবং যা তাঁর স্বহস্তে সংশোধিত ও পরিমার্জিত ছিল।
আমি লেবানিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরাসি সাহিত্যের দুই অধ্যাপক ডক্টর বাসাম বারাকা এবং ডক্টর আহমদ শাবুকে গ্রন্থটি নতুন করে অনুবাদ করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম।
অতঃপর আমি অনুবাদটি পর্যালোচনা করি এবং এর মূল ফরাসি পাঠের সাথে মিলিয়ে দেখি। আমি এর বিন্যাসের ক্ষেত্রে এমন একটি অভিন্ন শৈলী গ্রহণ করেছি যা উস্তাদ মালেকের লিখন পদ্ধতির অধিকতর নিকটবর্তী। এক্ষেত্রে আমি কায়রোতে তাঁর সাহচর্যে থাকাকালীন অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকে সহায়তা নিয়েছি, যখন তিনি পঞ্চাশের দশকের শেষভাগে তাঁর গ্রন্থসমূহ আরবিতে প্রকাশের কাজ করছিলেন এবং অনুবাদের কাজগুলো নিজে তদারকি ও সূক্ষ্মভাবে নিরীক্ষণ করছিলেন; বরং শেষদিকে তিনি সরাসরি আরবি ভাষাতেই লেখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন।
আমরা বইটির চিন্তাধারা আরও সুস্পষ্ট করার লক্ষ্যে প্রতিটি অধ্যায়ে টীকা যুক্ত করেছি যা ব্যক্তিবর্গ ও স্থানসমূহের পরিচয় প্রদান করে এবং বিন নবীর বিশ্লেষণের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্যসমূহ নিবিড়ভাবে উন্মোচন করে।
আশা করা যায় যে, দুই অনুবাদক সহকর্মীর সাথে আমাদের এই প্রচেষ্টা অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে সম্পন্ন করেছে এবং যে মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বইটি রচিত হয়েছিল তা প্রসারে সহায়ক হবে।
মিশরে এর অনুবাদ সম্পন্ন হওয়ার পর পুনরায় অনুবাদের উপযোগিতা সম্পর্কে কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারেন-
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৬)
الأستاذ محمد عبد العظيم علي، وتولت طبعه دارالفكر في بيروت عام 1971م.
وجوابي على ذلك أنني منذ توليت الاضطلاع بمسؤولية إنتاج بن نبي بناء لوصيته، واتفقت مع دار الفكر في دمشق على إخراج مؤلفات بن نبي في ثوب جديد، كنت أطمع في ترجمة جديدة لهذا الكتاب تلتزم أصوله ونصوصه، ولا تجحد جهود الترجمة السابقة وأمانتها.
وقد زكى هذا الاتجاه ما انتشر من طبعات متناثرة لتلك الترجمة عبر دور نشر غير مأذون لها. فأردنا أن نمنح هذا الكتاب حلة جديدة وجهداً جديداً يرفد وضوح الأفكار التي اشتمل عليها.
ولأن المؤلف- رحمه الله كان متأثراً في شرح أفكار هـ ببعض معطيات أحاطت به زمن التأليف، وأدلت بها أحداث نهاية الستينات، فقد بدت الإشارة إلى بعض الأشخاص من الأحياء حكماً يجلو للقارئ نسق تحليله لمشكلة الأفكار في العالم الإسلامي، التي هي المحور الذي يجمع أطراف الكتاب.
ولأنه لم يكن لتلك الأحكام معنىً أبعد من ضرب الأمثال، لم نجد فائدة من العودة إلى ذكر الأسماء ذاتها، إلا ما كان لابد منه لاستقامة السياق ووضوح التحليل.
نقول هذا ونحن في فسحة مما تركه المؤلف لنا من خيار؛ خيار لا يجاوز بحالٍ وفاءنا لأفكار هـ والتزامنا بتبليغها كما تركها نَقِيَّةً من كل تحريف غَنيَّةً بكل توضيح.
فالقارئ هدف المؤلف أينما كان وفي أي موقع كان. وهو لذلك هدفنا نبلغه فكر بن نبي من أقرب السبل وأوثقها أتصالاً وأبعدها مرمىً في ضميره. فكل ما يشوب سبلنا إليه مما يعلق بالفكرة ولا يمازجها فنحن في سعة من أمرنا فيه.
উস্তাদ মুহাম্মদ আবদুল আজিম আলী, এবং ১৯৭১ সালে বৈরুতের দারুল ফিকর এটি প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে আমার উত্তর হলো, বিন নবীর অসিয়ত অনুযায়ী যখন থেকে আমি তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক কাজগুলো প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি এবং দামেস্কের দারুল ফিকরের সাথে বিন নবীর রচনাবলি নতুন আঙ্গিকে প্রকাশের ব্যাপারে একমত হয়েছি, তখন থেকেই আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল এই বইটির একটি নতুন অনুবাদের, যা এর মূলনীতি (أصول) ও পাঠের প্রতি অনুগত থাকবে এবং পূর্ববর্তী অনুবাদের প্রচেষ্টা ও বিশ্বস্ততাকে অস্বীকার করবে না।
অননুমোদিত প্রকাশনীগুলোর মাধ্যমে সেই অনুবাদের বিক্ষিপ্ত সংস্করণগুলো ছড়িয়ে পড়া এই প্রবণতাকে আরও জোরালো করেছে। তাই আমরা এই বইটিকে একটি নতুন রূপ এবং নতুন প্রচেষ্টা উপহার দিতে চেয়েছি যা এতে অন্তর্ভুক্ত চিন্তাধারার স্পষ্টতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
যেহেতু লেখক—রহিমাহুল্লাহ—তাঁর চিন্তাধারা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে রচনার সময়ের পারিপার্শ্বিক কিছু উপাত্ত এবং ষাটের দশকের শেষের দিকের ঘটনাবলি দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, তাই তৎকালীন জীবিত কিছু ব্যক্তির প্রতি ইঙ্গিত করা এমন এক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা দিয়েছিল যা পাঠকের কাছে মুসলিম বিশ্বের 'চিন্তার সংকট' বিষয়ক তাঁর বিশ্লেষণের ধারাকে স্পষ্ট করে তোলে, যা এই বইটির মূল প্রতিপাদ্য।
আর যেহেতু সেই মন্তব্যগুলোর উদ্দেশ্য উদাহরণ পেশ করার চেয়ে বেশি কিছু ছিল না, তাই সেই নামগুলো পুনরায় উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজনীয়তা আমরা অনুভব করিনি, কেবল সেটুকু ছাড়া যা প্রসঙ্গের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং বিশ্লেষণের স্পষ্টতার জন্য অপরিহার্য ছিল।
আমরা এ কথা বলছি লেখক আমাদের জন্য যে সুযোগ রেখেছেন তার আলোকে; এমন এক সুযোগ যা কোনোভাবেই তাঁর চিন্তাধারার প্রতি আমাদের আনুগত্য এবং সেগুলোকে কোনো প্রকার বিকৃতি (تحريف) থেকে মুক্ত ও প্রতিটি ব্যাখ্যাসহ সমৃদ্ধ রেখে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে অতিক্রম করে না।
পাঠক যেখানেই এবং যে অবস্থানেই থাকুন না কেন, তিনি ছিলেন লেখকের মূল লক্ষ্য। তাই তিনিও আমাদের লক্ষ্য, যাতে আমরা বিন নবীর চিন্তাধারাকে নিকটতম ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথে এবং তাঁর অন্তরাত্মায় সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে পৌঁছে দিতে পারি। সুতরাং তাঁর কাছে পৌঁছানোর পথে যা কিছু চিন্তার সাথে সংশ্লিষ্ট কিন্তু এর অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়, তা বর্জনের ব্যাপারে আমাদের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৭)
ثم إن هذا الكتاب قد جمع زبدة ما أنتج بن نبي، إذ طالما كانت الإرادة الحضارية طوع الفكرة كما يقول في تضاعيف مؤلفاته، فإننا إزاء عصر التلقين المستبد بتصوراتنا ومفاهيهنا نواجه انهيار هذه الإرادة حتى لا تقوى على احتضان المصير.
والصراع الفكري يجد إطاره الأوسع في البلاد المحكومة بشبكة من الإيحاءات، تُدْلي بها مراصد الاستعمار، لتصنع مُتَقلَّبَ الأحداث وسوء مُنْقَلبها حيال كل نهضة فاعلة في عالمنا الإسلامي.
فالمشكلة مشكلة أفكار في النهاية، بها ننظم خطانا في ثبات الأديم، وندفع طاقتنا في مضاء العزيمة، ونحشد وسائلنا في وثيق الإنجاز.
والحضارة إذا كانت في عناصرها الأساسية: الإنسان، التراب، الزمن. كما يشرح بن نبي في مؤلفاته. والثقافة إذا كانت في مهمتها أسلوب حضارة تحرك الإنسان ووسائله عبر القنوات الأربع: المبدأ الأخلاقي، الذوق الجمالي، المنطق العملي، التقنية، فإن مسيرة الحضارة هذه تسير بالمجتمع قُوّةً وضعفاً، دَفْعاً وهَوْناً، صُعوداً وهبوطاً، تبعاً لدرجة تمحوره حول الأفكار أو حول الأشياء المحيطة به.
إن لكل حضارة نمطها وأسلوبها وخيارها. وخيار العالم الغربي ذي الأصول الرومانية الوثنية قدى جَنَح بصرُهُ إلى ما حوله مما يحيط به: نحو الأشياء.
بينما الحضارة الإسلامية عقيدة التوحيد المتصل بالرسل قبلَها، سَبَح خيارُها نحو التطلع الغيبي وما وراء الطبيعة: نحو الأفكار.
وتستوي الحضارة على ظَهْرِ التاريخ كلما كانت في تَوازنٍ فَعَّال يدلي بنتائجه في أفكار موضوعة تستلهم أصوله ونماذجه. أي أفكار هـ المطبوعة الأصيلة. فإذا ما فقدت الأفكار المطبوعة في نَماذِجها الأساسية إلهامَها، وافتقدت الأفكار ُ الموضوعة
বস্তুত এই গ্রন্থটি বিন নবীর চিন্তাধারার সারনির্যাস সংকলন করেছে। যেহেতু তাঁর রচনাবলির পরতে পরতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সভ্যতা বিনির্মাণের সংকল্প সর্বদা চিন্তার অনুগামী হয়, সেহেতু আমরা এমন এক আধিপত্যবাদী দীক্ষায়নের যুগের সম্মুখীন—যা আমাদের কল্পনা ও ধারণাসমূহকে নিয়ন্ত্রণ করে—যেখানে আমরা এই সংকল্পের এমন এক বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করছি যা নিয়তিকে ধারণ করার সক্ষমতা রাখে না।
বুদ্ধিবৃত্তিক দ্বন্দ্ব তার প্রশস্ত ক্ষেত্র খুঁজে পায় সেইসব জনপদে যেগুলো প্ররোচনার এক জালের মাধ্যমে শাসিত হয়। সাম্রাজ্যবাদের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো এই প্ররোচনাগুলো ছড়িয়ে দেয়, যাতে আমাদের মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি কার্যকর জাগরণের বিপরীতে ঘটনাবলির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ এবং তার অশুভ পরিণতি তৈরি করা যায়।
সুতরাং সমস্যাটি মূলত চিন্তার সমস্যা। এর মাধ্যমেই আমরা জমিনের অটলতায় আমাদের পদক্ষেপগুলোকে সুবিন্যস্ত করি, সুদৃঢ় সংকল্পের সাথে আমাদের শক্তিকে পরিচালিত করি এবং সুনিশ্চিত সাফল্যের লক্ষ্যে আমাদের উপায়-উপকরণগুলো সংহত করি।
বিন নবী তাঁর রচনাবলিতে যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, সভ্যতার মৌলিক উপাদানসমূহ হলো: মানুষ, মাটি এবং সময়। আর সংস্কৃতি যদি তার লক্ষ্য অর্জনে সভ্যতার এমন এক পদ্ধতি হয় যা চারটি মাধ্যমের—নৈতিক মূলনীতি, নান্দনিক রুচি, ব্যবহারিক যুক্তি এবং প্রযুক্তি—সাহায্যে মানুষ ও তার উপায়-উপকরণকে সচল রাখে, তবে সভ্যতার এই অগ্রযাত্রা সমাজকে তার শক্তি ও দুর্বলতা (ضعيف), গতি ও মন্থরতা এবং উত্থান ও পতনের দিকে নিয়ে যায়। এটি নির্ভর করে সমাজ কতটা তার চিন্তার জগতকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে অথবা তার পরিপার্শ্বের বস্তুসমূহকে কেন্দ্র করে।
নিশ্চয়ই প্রতিটি সভ্যতার নিজস্ব ধরণ, পদ্ধতি ও ঝোঁক রয়েছে। পৌত্তলিক রোমান বংশোদ্ভূত পাশ্চাত্য বিশ্বের ঝোঁক তার পরিপার্শ্বের দৃশ্যমান জগতের প্রতি—অর্থাৎ বস্তুর অভিমুখে।
পক্ষান্তরে ইসলামি সভ্যতা—যা তার পূর্ববর্তী রাসুলগণের তাওহিদের আকিদাহর সাথে সম্পৃক্ত—তার ঝোঁক বা অভিমুখ হলো অতীন্দ্রিয় জগতের আকাঙ্ক্ষা ও পরাপ্রকৃতির প্রতি—অর্থাৎ চিন্তার অভিমুখে।
ইতিহাস পরিক্রমায় একটি সভ্যতা তখনই সুসংহত হয়, যখন তা এমন এক কার্যকর ভারসাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে যা তার মূলনীতি ও আদর্শ থেকে অনুপ্রাণিত সংস্থাপিত (موضوع) চিন্তার ফলাফল প্রদান করে। অর্থাৎ তার সেই মৌলিক সহজাত চিন্তা। যখন এই সহজাত চিন্তাগুলো তাদের মৌলিক আদর্শে অনুপ্রেরণা হারিয়ে ফেলে এবং সংস্থাপিত (موضوع) চিন্তাগুলো যখন হারিয়ে যায়...
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৮)
استلهامها لتلك النماذج، أصاب الخلل المسيرة وجَمَح بها ظهْرُ التاريخ فأصبحت شروداً تغالي في الانحراف.
((فالفكر الغربي يجنح على ما يبدو أساساً إلى الدوران حول مفهوم الوزن والكم، وهو عندما ينحرف نحو المغالاة يصل حتماً إلى الماديَّة في شكليها: الشكل البورجوازي للمجتمع الاستهلاكي، والشكل الجدلي للمجتمع السوفياتي.
وحينما يكون الفكر الإسلامي في أفوله كما هو شأنه اليوم، فإن المغالاة تدفعه إلى التصوف والمبهم والغامض وعدم الدقة والتقليد الأعمى والافتتان بأشياء الغرب)).
غير أن هذه النتيجة ليست هي المدار الأصلي في اندفاع الحضارة الإسلامية، كما وضعها القرآن الكريم. فالإسلام دفع الرؤية الغيبيّة في إطار الحياةِ لِتوثيق الروابط الاجتماعية وتمحورها حول فكرة الخيْر، التي يجب أن تُقارِنَ كُلَّ قواها وكل فعل. وهذا ما يعطي للرابط الاجتماعي النابع من الفكر الإسلامي طابعاً خاصاً يجعل وجود ما يسمى ((التناقضات في وسط الجماهير ظاهرة غير قابلة للتفسير في المجتمع الإسلامي ".
فلكي ندرك واقع المجتمع الإسلامي المعاصر علينا أن نحدد مرحلته التاريخية وموقعه من دورة الحضارة. وهذا ما فات الكتّاب الغربيين الذين يجهلون لحظات انبثاق الحضارة وَسكَرات أفولها.
فهناك مرحلة يكون المجتمع فيها بدائياً فقير الوسائل، فإذا ما أدركته فكرة جوهرية تستقطب روحه، اندمج في دورة التاريخ واندفع جهده اليومي نحو مثل أعلى يجعل لأفكار هـ دوراً وظيفياً ((لأن الحضارة هي القدرة على القيام بوظيفة أو مهمة معيّنة)) وهناك مرحلة يخرج فيها المجتمع من دورة الحضارة، ويصبح ما بعد الحضارة مُثْقَلاً بديون خَلَّفتها عصور حضارته السابقة، وهي
সেই মডেলগুলোর অনুপ্রেরণা গ্রহণের ফলে যাত্রাপথে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে এবং ইতিহাসের বিবর্তন তাকে বিপথগামী করেছে, ফলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে চরম বিচ্যুতির দিকে ধাবিত হয়েছে।
((পাশ্চাত্য চিন্তাধারা আপাতদৃষ্টিতে মূলত ওজন ও পরিমাণের ধারণাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হওয়ার প্রবণতা রাখে। আর যখন এটি অতিশয্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন তা অনিবার্যভাবে বস্তুবাদী দর্শনের দুটি রূপ লাভ করে: ভোগবাদী সমাজের বুর্জোয়া রূপ এবং সোভিয়েত সমাজের দ্বন্দ্বমূলক রূপ।
আর যখন ইসলামী চিন্তাধারা তার পতন যুগে অবস্থান করে, যেমনটি বর্তমানে পরিলক্ষিত হচ্ছে, তখন অতিশয্য ও বাড়াবাড়ি তাকে সূফীবাদ (التصوف), অস্পষ্টতা, রহস্যময়তা, সূক্ষ্মতার অভাব, অন্ধ অনুকরণ এবং পাশ্চাত্য বিষয়াদির প্রতি মোহাচ্ছন্ন হওয়ার দিকে ঠেলে দেয়।))
তবে এই পরিণাম ইসলামী সভ্যতার অগ্রযাত্রার মূল কেন্দ্রবিন্দু নয়, যেভাবে পবিত্র কুরআন একে বিন্যস্ত করেছে। ইসলাম মূলত সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং সেগুলোকে ‘কল্যাণ’-এর ধারণাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত করতে জীবনের পরিকাঠামোয় অদৃশ্যের বিশ্বাস (الرؤية الغيبية) বা পারলৌকিক দৃষ্টিভঙ্গির সঞ্চার করেছে, যা তার প্রতিটি শক্তি ও কর্মের সমান্তরাল হওয়া বাঞ্ছনীয়। আর এটিই ইসলামী চিন্তা থেকে উৎসারিত সামাজিক বন্ধনকে এমন এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করে, যা মুসলিম সমাজে তথাকথিত 'জনসাধারণের মধ্যস্থ দ্বন্দ্বসমূহকে' একটি ব্যাখ্যাতীত বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
অতএব, সমসাময়িক মুসলিম সমাজের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হলে আমাদের এর ঐতিহাসিক পর্যায় এবং সভ্যতার আবর্তনে এর অবস্থান সুনির্দিষ্ট করতে হবে। আর এটিই সেই বিষয় যা পাশ্চাত্য লেখকদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে, যারা সভ্যতার উন্মেষের মুহূর্ত এবং এর পতনের মত্ততা সম্পর্কে অনবগত।
এখানে এমন একটি পর্যায় থাকে যখন সমাজ আদিম ও উপকরণহীন অবস্থায় থাকে; অতঃপর যখন কোনো মৌলিক ধারণা তার আত্মাকে কেন্দ্রাভিমুখী করে, তখন সে ইতিহাসের আবর্তনে শামিল হয় এবং তার দৈনন্দিন প্রচেষ্টা এক উচ্চতর আদর্শের দিকে ধাবিত হয়, যা তার চিন্তাগুলোকে একটি প্রায়োগিক ভূমিকা প্রদান করে। ((কেননা সভ্যতা হলো কোনো নির্দিষ্ট কাজ বা দায়িত্ব সম্পাদনের সক্ষমতা))। আবার এমন একটি পর্যায় আসে যখন সমাজ সভ্যতার আবর্তন থেকে বিচ্যুত হয় এবং 'সভ্যতা-পরবর্তী' (ما بعد الحضارة) স্তরে উপনীত হয়, যা তার অতীত সভ্যতার রেখে যাওয়া ঋণের ভারে জর্জরিত থাকে এবং তা হলো...
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৯)
تتصرف برصيدها الروحي. هنا تصبح المشكلة أشد تعقيداً لأن علينا أن نتخلص من تلك الديون التي أفلس بها مخزون المجتمع الروحي ومخزونه التِقَنِيُّ حيال وسائله، وهذه هي مرحلة مجتمعنا الإسلامي.
فإرادة الفرد تنبع دائماً من الإطار العام للمجتمع الذي هو جزء منه، وكلما كان المجتمع متماسكاً وللأفكار فيه دور وظيفي انتظمت إرادة الفرد في اطِّرادها وتنافست الجهود في مسيرتها المتناغمة. وهكذا فإن المجتمع وقدرته ((تُضيفان صفة الموضوعية على وظيفة الحضارة)).
فالطاقة الحيوية في غرائز الفرد شَرودٌ لا تندمج بطبيعتها في مسيرة الجماعة.
وهي من ناحية أخرى لابد لها من اندماج اجتماعي تجد فيه خِصْبَ إشباعها. فالعمل الجماعي والغريزة المطلقة متناقضان، لكننا لا نستطيع أن نلغي الطاقة الحيوية من ناحية ولا المجتمع من ناحية أخرى ((فعندما نلغي الطاقة الحيوية فإننا نهدم المجتمع، وعندما نحررها تحريراً كاملاً فإنها تهدم المجتمع. لذلك يتوجب على الطاقة الحيوية أن تعمل بالضرورة ضمن هذين الحدين)).
فوظيفة الحضارة هي العمل ضمن هذين الحدين اللذيْن فيهما تَتَكَيَّفُ الطاقة الحيوية لتتأهب للانطلاق في دورة التاريخ.
هنا إذن ندخل في عالم الأفكار الذي يَرْبِطُ على الغريزة، لِتُرابِطَ الطاقة الحيوية في خدمة المجتمع والتاريخ.
فهناك أفكار رائدة تحتضن نشاط المجتمع، وهي في مرحلة انبثاق مخزونه الأخلاقي الذي توظفه الفكرة الدينيّة الملهمة. وهناك أفكار عملية توجه النشاط، وهي في ساعة الاندفاع وسائله التقنية المتاحة له في وسطه ((فعلى عتبة حضارة ما، ليس هو عالم الأشياء الذي يتبدل، بل بصورة أساسية عالم الأشخاص)) وشبكة العلاقات الجديدة هي التي تضع للطاقة الحيوية الغرِيزية حدود نشاطها.
এটি তার আধ্যাত্মিক সঞ্চয় নিয়ে পরিচালিত হয়। এখানে সমস্যাটি আরও জটিলতর হয়ে ওঠে কারণ আমাদের সেই ঋণসমূহ থেকে মুক্তি পেতে হবে যার মাধ্যমে সমাজের আধ্যাত্মিক ভাণ্ডার এবং তার উপকরণের ক্ষেত্রে তার কারিগরি ভাণ্ডার দেউলিয়া হয়ে পড়েছে; আর এটাই হলো আমাদের ইসলামি সমাজের পর্যায়।
ব্যক্তির ইচ্ছা সর্বদা সমাজের সেই সাধারণ কাঠামো থেকে উৎসারিত হয় যার সে একটি অংশ। সমাজ যত বেশি সুসংহত হয় এবং সেখানে চিন্তাধারার একটি কার্যকারী ভূমিকা থাকে, ব্যক্তির ইচ্ছা ততই তার ধারাবাহিকতায় সুশৃঙ্খল হয় এবং প্রচেষ্টাগুলো তাদের ছন্দময় অগ্রযাত্রায় প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। এভাবেই সমাজ এবং তার সামর্থ্য ((সভ্যতার কার্যাবলির ওপর বস্তুনিষ্ঠতার বৈশিষ্ট্য আরোপ করে))।
ব্যক্তির সহজাত প্রবৃত্তির মধ্যকার জীবনীশক্তি অত্যন্ত অবাধ্য, যা স্বভাবগতভাবে সমষ্টির অগ্রযাত্রার সাথে একীভূত হয় না।
অন্যদিকে, এর জন্য এমন একটি সামাজিক সংহতি প্রয়োজন যেখানে এটি তার পরিতৃপ্তির উর্বরতা খুঁজে পায়। সুতরাং সামষ্টিক কর্ম এবং নিরঙ্কুশ প্রবৃত্তি পরস্পরবিরোধী, কিন্তু আমরা একদিকে যেমন জীবনীশক্তিকে বিলুপ্ত করতে পারি না, তেমনি অন্যদিকে সমাজকেও অস্বীকার করতে পারি না। ((কেননা যখন আমরা জীবনীশক্তিকে বিলুপ্ত করি তখন আমরা সমাজকে ধ্বংস করি, আর যখন আমরা একে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করি তখনও এটি সমাজকে ধ্বংস করে। অতএব, জীবনীশক্তিকে অবশ্যই এই দুই সীমার মধ্যে থেকে কাজ করতে হয়))।
সুতরাং সভ্যতার কাজ হলো এই দুই সীমার মধ্যে কাজ করা, যেখানে জীবনীশক্তি ইতিহাসের আবর্তে যাত্রার জন্য প্রস্তুত হতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়।
সুতরাং এখানে আমরা চিন্তার এমন এক জগতে প্রবেশ করি যা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে, যাতে জীবনীশক্তি সমাজ ও ইতিহাসের সেবায় নিয়োজিত থাকতে পারে।
সেখানে এমন কিছু অগ্রগামী চিন্তা রয়েছে যা সমাজের কর্মকাণ্ডকে ধারণ করে, আর তা তার নৈতিক ভাণ্ডারের বিচ্ছুরণ পর্যায়ে থাকে যা অনুপ্রেরণাদায়ক ধর্মীয় চিন্তা দ্বারা পরিচালিত হয়। আবার সেখানে কিছু ব্যবহারিক চিন্তা রয়েছে যা কর্মকাণ্ডকে দিকনির্দেশনা দেয়, আর তা হলো উদ্দীপনার মুহূর্তে তার পরিবেশে বিদ্যমান কারিগরি মাধ্যমসমূহ। ((প্রকৃতপক্ষে কোনো সভ্যতার দ্বারপ্রান্তে বস্তুজগৎ পরিবর্তিত হয় না, বরং মৌলিকভাবে ব্যক্তিজগৎ পরিবর্তিত হয়)) এবং সম্পর্কের নতুন জালই সহজাত জীবনীশক্তির কর্মকাণ্ডের সীমা নির্ধারণ করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১০)
والإنسان حينما ينَظِّم شبكة علاقاته الاجتماعية بوحي الفكرة في انبثاقها، فإنه يتحرك في مسيرته عبر الأشخاص والأشياء المحيطة به فيتخذ العالم الثقافي إطاره في إنجاز هذه المسيرة، ويأخذ طابعه تبعاً للعلاقة بين العناصر الثلاثة المتحركة: الأشياء، الأشخاص، الأفكار.
فهناك توازن لابد منه بين هذه العناصر الثلاثة يسكب مزيجها في قوالب الإنجاز الحضاري، فإذا ما استبدَّ واحد من هذه العناصر وطغى على حساب العنصرين الآخرين فثمة أزمة حقيقيَّة في مسيرة الحضارة تلقي بها خارج التاريخ فريسة طغيان الشيء أو طغيان الشخص.
((ففي بلد متخلف يفرض الشيء طغيانه بسبب ندرته، تنشأ فيه عقد الكبت والميل نحو التكديس الذي يصبح في الإطار الاقتصادي إسرافاً محضاً.
أما في البلد المتقدم وطبقاً لدرجة تقدمه، فإن الشيء يسيطر بسبب وفرته ويُنْتِج نوعاً من الإشباع. إنه يفرض شعوراً لا يُحتمل من الشؤم البادي من رتابة ما يرى حوله، فيولد ميلاً نحو الهروب إلى الأمام الذي يدفع الإنسان المتحضر دائماً إلى تغيير إطار الحياة و (الموضة))).
لكن طغيان الشخص يؤدي إلى نتائج في الإطار السياسي والاجتماعي تهدم في بنيان الفكرة حينما تتجسد فيه. وكثيراً ما تعمد مراصدُ الرقابة في حركة العالم الثالث إلى دفع هذا الاتجاه المرضي إلى نهايته في عقول الجماهير لتُحَطِّم الفكرة البَنَّاءة من وراء سقوط الأشخاص الذين يمثلونها في النهاية، وتدفع الجماهير للبحث عن بديل للفكرة الأصيلة من الشرق والغرب عبر بطل جديد.
فعدم التوازن بين العناصر الثلاثة يفضي إلى انهيار المجتمع ((والمجتمع الإسلامي يعاني في الوقت الحاضر بصورة خاصة من هذه الاتجاهات، لأن نهضته لم يُخَطَّط لها، ولم يفكر بها بطريقة تأخذ باعتبارها عوامل التبديد والتعويق، فمثقفو
মানুষ যখন কোনো একটি চিন্তার উন্মেষের অনুপ্রেরণায় তার সামাজিক সম্পর্কের জাল বিন্যস্ত করে, তখন সে তার অগ্রযাত্রায় তার পারিপার্শ্বিক ব্যক্তি ও বস্তুর মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে এই যাত্রা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক জগৎটি তার নিজস্ব কাঠামো লাভ করে এবং চলমান তিনটি উপাদানের—বস্তু, ব্যক্তি ও চিন্তা—পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়।
এই তিনটি উপাদানের মধ্যে একটি অনিবার্য ভারসাম্য থাকা আবশ্যক, যা তাদের সংমিশ্রণকে সভ্যতার অর্জনের ছাঁচে ঢেলে দেয়। যদি এই উপাদানগুলোর কোনো একটি একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে এবং অন্য দুটি উপাদানের ওপর চড়াও হয়, তবে সভ্যতার অগ্রযাত্রায় এক প্রকৃত সংকট দেখা দেয়, যা তাকে ইতিহাসের গতিপথের বাইরে বস্তু বা ব্যক্তির আধিপত্যের শিকারে পরিণত করে।
((একটি অনগ্রসর দেশে বস্তুর দুষ্প্রাপ্যতার কারণে তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়; ফলে সেখানে অবদমনজনিত মানসিক জটিলতা এবং সঞ্চয় বা পুঞ্জীভূত করার প্রবণতা তৈরি হয়, যা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নিছক অপচয়ে পরিণত হয়।
পক্ষান্তরে, একটি উন্নত দেশে তার অগ্রগতির মাত্রা অনুযায়ী বস্তুর প্রাচুর্যের কারণে তা কর্তৃত্ব বিস্তার করে এবং এক প্রকার অতি-তৃপ্তি উৎপাদন করে। এটি চারপাশের দৃশ্যমান একঘেয়েমি থেকে এক অসহনীয় অশুভ অনুভূতির জন্ম দেয়, যা সম্মুখপানে পলায়নের একটি প্রবণতা তৈরি করে। এটিই সভ্য মানুষকে সর্বদা জীবনের কাঠামো এবং 'ফ্যাশন' পরিবর্তনের দিকে ধাবিত করে।))
কিন্তু ব্যক্তির আধিপত্য রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এমন সব ফলাফল বয়ে আনে, যা কোনো চিন্তার কাঠামোর বিনাশ ঘটায় যখন তা ব্যক্তির মধ্যে মূর্ত হয়ে ওঠে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে প্রায়শই পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো জনসাধারণের মনে এই রোগাক্রান্ত প্রবণতাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, যাতে শেষ পর্যন্ত সেই চিন্তার ধারক ব্যক্তিদের পতনের মাধ্যমে গঠনমূলক চিন্তাটিকে ধ্বংস করা যায়। এর ফলে জনসাধারণ প্রাচ্য বা পাশ্চাত্যের কোনো নতুন নায়কের মাধ্যমে মূল চিন্তার বিকল্প খুঁজতে প্ররোচিত হয়।
সুতরাং এই তিনটি উপাদানের মধ্যে ভারসাম্যের অভাব সমাজের পতনের দিকে নিয়ে যায়। ((বিশেষ করে বর্তমান সময়ে মুসলিম সমাজ এই প্রবণতাগুলোর শিকার হচ্ছে, কারণ এর জাগরণের জন্য সুপরিকল্পিত কোনো নকশা তৈরি করা হয়নি এবং অপচয় ও প্রতিবন্ধকতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এটি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হয়নি। ফলে বুদ্ধিজীবীরা...
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১১)
المجتمع الإسلامي لم ينشئوا في ثقافتهم جهازا للتحليل والنقد إلا ما كان ذا اتجاه تمجيديّ يهدف إلى إعلاء قيمة الإسلام)).
والمجتمع الإسلامي لا يدرك بالتالي حركته وأصالة مصادره. فهو لذلك يعيش في حالة نفسية تخلط بين الأصالة والفعالية.
ذلك أن العالم الصناعي الغربي اليوم فَعَّال وتمتد فعاليَّته لتحتويَ العالم بأسره، لكنه ليس أصيلاً؛ أي أنه لا يرتكز إلى مبادئ صحيحة موضوعياً. وهذا سر أزمته في العالم المعاصر.
((فالأصالة ذاتية وعينيَّة وهي مستقلة عن التاريخ))، وبالتالي فليس بالضرورة أن تُدْلِيَ صِحَّتُها إلى فعَّالِيَّة مستمرة في مسيرة التاريخ.
((فحين تبصر النور الأفكار ُ التي صنعت تاريخ العالم، فإنها دائماً فعالة طالما أنها أثارت العواصف وشيَّدت شيئاً أو هدمته، أو أنها اكتفت بقلب صفحة من تاريخ الإنسانية. وليست هذه الأفكار بالضرورة صحيحة بأكملها فالفكرة تكون صحيحة أو باطلة في المجال العقيدي والمنطق العلمي والاجتماعي)).
ولأن النخبة المسلمة لا تملك جهازاً يُميِّز بين فعالية الفكرة وأصالتها سواء في الإطار العلمي والتقني، حيث تكتسب العلم من جامعات الغرب، عبر الكتاب لا عبر الحياة وأصالة المعرفة، أو في الإطار الاجتماعي السياسي حيث تُقَلِّدُ تجارب الآخرين واطراد مسيرتهم الخاصة بهم، فإن في تكوينها ((خلطاً يُرثى له بين مظهرين متميزين لفكرة واحدة: أصالتها وفعاليتها)) ((والأساتذة الكبار الذين يمسكون بأسرار ووسائل هذا الصراع يعرفون تماماً كيف يستفيدون من هذا اللَّبْس حين يُقابلون أمام أنظار شبابنا الجامعي بين أصالة الفكرة الإسلامية وفعَّاليَّتها)).
মুসলিম সমাজ তাদের সংস্কৃতিতে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার এমন কোনো পদ্ধতি গড়ে তোলেনি যা কেবল ইসলামের মূল্যবোধকে উচ্চে তুলে ধরার গৌরবময় উদ্দেশ্য সংবলিত ধারার বাইরে কাজ করে))।
ফলস্বরূপ, মুসলিম সমাজ তাদের নিজস্ব গতিশীলতা এবং তাদের উৎসের মৌলিকত্ব সম্পর্কে সচেতন নয়। তাই তারা এমন এক মনস্তাত্ত্বিক অবস্থায় বাস করছে যা মৌলিকত্ব এবং কার্যকারিতার মধ্যে পার্থক্য গুলিয়ে ফেলে।
এর কারণ হলো, আজকের পশ্চিমা শিল্পোন্নত বিশ্ব অত্যন্ত কার্যকর এবং এর কার্যকারিতা সমগ্র বিশ্বকে গ্রাস করার জন্য বিস্তৃত, কিন্তু এটি মৌলিক নয়; অর্থাৎ, এটি বস্তুনিষ্ঠভাবে সঠিক (صحيح) কোনো মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। আর আধুনিক বিশ্বে পশ্চিমা সংকটের গোপন রহস্য এখানেই।
((মৌলিকত্ব হলো সত্তাগত এবং সুনির্দিষ্ট যা ইতিহাসের প্রভাব থেকে মুক্ত)), সুতরাং, কোনো বিষয়ের সঠিকতা (صحة) ইতিহাসের যাত্রাপথে নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতা বয়ে আনবে—এমন কোনো আবশ্যকতা নেই।
((বিশ্ব ইতিহাস সৃষ্টিকারী চিন্তাগুলো যখন আলোর মুখ দেখে, তখন সেগুলো সর্বদাই কার্যকর থাকে যতক্ষণ না সেগুলো আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কোনো কিছু নির্মাণ বা ধ্বংস করে, অথবা মানব ইতিহাসের পাতায় নিছক একটি পরিবর্তন নিয়ে আসে। আর এই চিন্তাগুলো পুরোপুরি সঠিক (صحيح) হওয়া আবশ্যক নয়। কেননা আকীদা, বিজ্ঞান বা সমাজতাত্ত্বিক যুক্তির ক্ষেত্রে একটি ধারণা সঠিক (صحيح) কিংবা বাতিল (باطل) হতে পারে))।
যেহেতু মুসলিম বুদ্ধিজীবী শ্রেণির কাছে কোনো ধারণার কার্যকারিতা এবং এর মৌলিকত্বের মধ্যে পার্থক্য করার মতো কোনো পদ্ধতি নেই—তা সে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত কাঠামোর ক্ষেত্রেই হোক, যেখানে তারা জীবনের অভিজ্ঞতা বা জ্ঞানের মৌলিকত্বের পরিবর্তে বইয়ের মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জ্ঞান অর্জন করে, অথবা আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর ক্ষেত্রেই হোক যেখানে তারা অন্যদের অভিজ্ঞতা এবং তাদের নির্দিষ্ট পথকে অনুকরণ করে—তাই তাদের গঠন প্রক্রিয়ায় ((একটি ধারণার দুটি স্বতন্ত্র দিক: এর মৌলিকত্ব এবং কার্যকারিতার মধ্যে এক শোচনীয় বিভ্রান্তি)) ((আর সেই মহান শিক্ষকগণ যারা এই সংগ্রামের রহস্য ও কৌশলগুলো জানেন, তারা খুব ভালো করেই জানেন যে কীভাবে এই অস্পষ্টতাকে কাজে লাগাতে হয়, যখন তারা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের সামনে ইসলামী চিন্তার মৌলিকত্ব এবং এর কার্যকারিতাকে মুখোমুখি অবস্থায় উপস্থাপন করেন))।
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১২)
لذا فإن على المجتمع الإسلامي في مواجهة العصر أن يعطي لأصالة فكرته فعَّالِيَّةً تضمن لها النجاح. إنه مدعو لأن يستعيد تقاليده العليا ومعها حِسُّ الفعالية.
وبدلاً من أن يغرق في تمجيد أصالة فكرته، لابد له أن يبحث عن وسائل فعاليتها في عصرنا الحديث. والمسألة مسألة مناهج وأفكار، وإن لنا في نهضة الدول؛ كاليابان في منتصف القرن التاسع عشر، والصين في منتصف القرن العشرين، مثالاً على كيفية الاقتباس من العلوم الغربية وتوظيف حركة المجتمع في فعالية تَستَمِدُّ أصالتها من نماذجها الخاصة بها.
وإذا كان لابد لنهضتنا من ثورة تحرّك الطاقة، فالثورة ليست كل شيء، إذ يمكن أن يكون مصيرها عابراً غير محقق، إذا لم تمتلك جهاز رقابة وتصحيح يَسْتَمدُّ من أصالة الفكرة وموضوعية فعاليتها سُبُلَ تصحيحها.
فحينما يصبح الهدف في حركة الثورة: الحقيقة وأصالةَ الاتحاه: ((فإنَّ العلم الذي ينشد الحقيقة يصبح نظامًا أخلاقياً، لا يطيق الصبر على الخطأ من غير أن يجري التصحيح المطلوب. ويبدو أن البلاد الإسلامية لا يَروقُها أن تلقي نظرة خلفها)).
فالمشكلة مشكلة أفكار. والعالم الإسلامي منذ انحطاطه ما بعد عصر الموحدين يواجه مشكلة أفكار لا مشكلة وسائل.
فتراثه الذي ورثه من عصور الحضارة الإسلامية غدا أفكار اً ميتة. أما نماذجه الروحية التي تعود إلى العهد الأول فقد خانتها أفكار هـ الموضوعة التي خالفت عن نسق النموذج المطبوع الذي أرساه العصر الأول.
وحينما افتقد الإحاطة بمشاكل وولّى وجهه شطر العالم الغربي؛ فإن أفكار هـ
তাই আধুনিক যুগের মোকাবেলায় ইসলামী সমাজকে তার চিন্তাধারার মৌলিকত্বের এমন একটি কার্যকারিতা দান করতে হবে যা তার সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয়। একে তার সুউচ্চ ঐতিহ্য এবং সেই সাথে কার্যকারিতার চেতনা পুনরুদ্ধার করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আর নিজের চিন্তাধারার মৌলিকত্বের গুণগানে নিমজ্জিত হওয়ার পরিবর্তে, আমাদের আধুনিক যুগে তার কার্যকারিতার উপায়গুলো অনুসন্ধান করা অপরিহার্য। বিষয়টি মূলত পদ্ধতি এবং চিন্তাধারার; উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জাপান এবং বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে চীনের মতো দেশগুলোর পুনর্জাগরণের মধ্যে আমাদের জন্য উদাহরণ রয়েছে যে, কীভাবে পশ্চিমা বিজ্ঞান থেকে গ্রহণ করতে হয় এবং সমাজের গতিশীলতাকে এমন এক কার্যকারিতায় নিয়োজিত করতে হয় যা তার নিজস্ব আদর্শ থেকে তার মৌলিকত্ব আহরণ করে।
আর আমাদের পুনর্জাগরণের জন্য যদি শক্তি সঞ্চারক কোনো বিপ্লবের প্রয়োজন হয়, তবে বিপ্লবই সব কিছু নয়। কারণ এর পরিণতি ক্ষণস্থায়ী এবং লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হতে পারে, যদি এতে এমন কোনো পর্যবেক্ষণ ও সংশোধন ব্যবস্থা না থাকে যা চিন্তাধারার মৌলিকত্ব এবং এর কার্যকারিতার বস্তুনিষ্ঠতা থেকে সংশোধনের পথ খুঁজে পায়।
যখন বিপ্লবের আন্দোলনের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় সত্য এবং লক্ষ্যের মৌলিকত্ব: ((তখন যে বিজ্ঞান সত্যের সন্ধান করে তা একটি নৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়, যা প্রয়োজনীয় সংশোধন না করে ভুলের প্রতি ধৈর্য ধারণ করতে পারে না। আর মনে হয় যে, মুসলিম দেশগুলো তাদের পেছনের দিকে ফিরে তাকানো পছন্দ করে না))।
সুতরাং সমস্যাটি হলো চিন্তাধারার সমস্যা। মুওয়াহহিদুন যুগের পরবর্তী অবক্ষয়কাল থেকে মুসলিম বিশ্ব উপায়-উপকরণের সমস্যার পরিবর্তে চিন্তাধারার সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
ইসলামী সভ্যতার স্বর্ণযুগ থেকে সে যে ঐতিহ্য উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, তা আজ মৃত চিন্তাধারায় পরিণত হয়েছে। আর তার যে আধ্যাত্মিক আদর্শগুলো প্রথম যুগের সাথে সম্পর্কিত ছিল, সেগুলো তার জাল (موضوعة) চিন্তাধারা দ্বারা প্রতারিত হয়েছে, যা প্রথম যুগের প্রতিষ্ঠিত আদর্শিক কাঠামোর পরিপন্থী ছিল।
যখন সে তার সমস্যাগুলো অনুধাবনে ব্যর্থ হলো এবং পশ্চিমা বিশ্বের দিকে মুখ ফেরালো; তখন তার চিন্তাধারা...
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المقتولة بفعل الانحطاط قد استقدمت من الحضارة الغربية أفكار اً انبتّتْ عن جذورها وامتصتها مع سمومها القاتلة. فلا هي أدركت نمط الحضارة الغربية في اندفاعه التطوري الفَعَّال المستمد من أصالته المقيمة في حدودها الجغرافية، ولا هي أحيَت نماذجها الأصلية في انبثاقها الروحي.
وهكذا تضافرت أفكار ها الموروثة الميتة، والأفكار القاتلة المجتثة من جذورها الغربية، لتنتقم من هذا العالم كما ينتقم جسر سيِّءُ البناء بالانهيار على من بناه.
هذه الفكرة المحورية تجد تأصيلها في هذا الكتاب وهو يجمع زبدة التجربة التي خاضها، بن نبي عبر كتاباته وقد تمحورت حول مشكلة الحضارة في العالم الإسلامي والعالم الثالث على سواء.
فمالك بن نبي وقف فكره على مشكلة النهضة؛ النهضة التي تُقيل عثرة عالم أضرحى رهين إنتاج الآلة، قد طغت وفرة الإنتاج على طفرة الروح، فاستعبدت الإنسان وأحْكمت القيد.
وأخيرًا:
فإنني أشكر الزميلين الدكتور بسام البركة وأحمد شعبو، كما أشكر كل من عاونني على إخراج هذا الكتاب في حلته الجديدة وبالخصوص الصديق الدكتور محمد نديم الجسر.
طرابلس 25/ 12/ 1986 عمر مسقاوي
অবক্ষয়ের ক্রিয়ায় মৃত (সমাজ) পাশ্চাত্য সভ্যতা থেকে এমন সব চিন্তাধারা আমদানী করেছে যা তার নিজস্ব শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন এবং সেগুলোকে তার মরণঘাতী বিষসহ শোষণ করেছে। সে না পেরেছে পাশ্চাত্য সভ্যতার সেই কার্যকর বিবর্তনীয় গতির স্বরূপ উপলব্ধি করতে যা তার ভৌগোলিক সীমানায় বিদ্যমান নিজস্ব মৌলিকত্ব থেকে উৎসারিত, আর না পেরেছে তার স্বীয় মৌলিক আদর্শসমূহকে আধ্যাত্মিক উন্মেষের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করতে।
এভাবেই তার মৃত ঐতিহ্যগত চিন্তাধারা এবং পাশ্চাত্য উৎস থেকে উৎপাটিত মরণঘাতী চিন্তাসমূহ একত্রিত হয়েছে এই বিশ্বের ওপর প্রতিশোধ নিতে, ঠিক যেমন একটি ত্রুটিপূর্ণভাবে নির্মিত সেতু তার নির্মাতাদের ওপর ধসে পড়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করে।
এই কেন্দ্রীয় ধারণাটি এই গ্রন্থে তার তাত্ত্বিক ভিত্তি খুঁজে পায়, যা বিন নবী তাঁর রচনারাজির মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতার নির্যাস ধারণ করে আছে। এটি সমানভাবে মুসলিম বিশ্ব এবং তৃতীয় বিশ্বের সভ্যতা সংক্রান্ত সমস্যার ওপর আলোকপাত করেছে।
মালেক বিন নবী তাঁর চিন্তাধারাকে রেনেসাঁ বা নবজাগরণের সমস্যার ওপর উৎসর্গ করেছেন; এমন এক নবজাগরণ যা সেই বিশ্বের পতন রোধ করবে যা বর্তমানে যন্ত্র-উৎপাদনের হাতে বন্দী হয়ে পড়েছে। সেখানে উৎপাদনের প্রাচুর্য আধ্যাত্মিক স্ফুরণের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে, ফলে মানুষকে দাসে পরিণত করেছে এবং তার শৃঙ্খলকে সুদৃঢ় করেছে।
পরিশেষে:
আমি আমার দুই সহকর্মী ডক্টর বাসসাম আল-বারাকা এবং আহমদ শাবুকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে এই গ্রন্থটিকে তার নতুন বিন্যাসে প্রকাশ করতে যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই, বিশেষ করে বন্ধু ডক্টর মুহাম্মদ নাদিম আল-জিসরকে।
ত্রিপোলি ২৫/ ১২/ ১৯৮৬ উমর মিসকাভি
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مقدمةهذا كتابٌ شرعت في تأليفه منذ عشرة أعوام، وكنت أُقيم في القاهرة، وما أن استجمعت له في نفسي ومن حولي العناصر الضروريَّة لإتمامه، حتى أوقفني ظرف مفاجئ، لا مجال لروايته هنا خاصة في مقدمة كتاب. إنما يكفي أنْ أقول: إنّه ظرفٌ يتّصل بالصراع الفكريّ، وإنه اضطرني إلى تغيير برنامج عملي حين ألزمني بتأليف كتابٍ آخر لأواجه بالذات ذلك الظرف.
منذ ذلك الزمن توالت الأعوام، وكان استئناف العمل يُؤَجَّلُ عاماً بعد عام. حتى إذا زارني منذ عهد قريب صديقي الدكتور (عمّار طالبي) الذي عاد من مصر بعد أن أتمَّ دراسته فيها، وكان يعْلم حين كان طالباً في القاهرة الحال التي تركت عليها هذه الدراسة، فأقنعني إلحاحُه بأهمية إتمام ما بدأت به من عمل.
كنت أُدرك حينما قررت العودة إلى هذا العمل مقدار ما ضاع إلى الأبد من المسَوَّدة القديمة التي جَبَّرتُها على عَجَلٍ في القاهرة. بيد أني حينما تناولت مدوّناتي وجدت كلماتي بعينها رغم أني لم أجد فيها الموضوع الذي أردت أن أُضَمِّنَه إيَّاها.
كانت هذه مدوناتٍ ضَمَّنتها نقاطَ إرشادٍ، أو علاماتٍ تعينني على الاهتداء إلى العناصر الكامنة في نفسي؛ والتي كانت تتكامل بمن يحيط بي أو بما أستشفُّه على رفِّ مكتبة، أو أستقيه من مكان آخر.
لذا كانت مدوناتي ميِّتةً في مجملها؛ كعظامٍ نعثر عليها عند نبش قبرٍ قديم، وكان مضمونها يبدو لي بعيداً، وغامضاً غير أكيد، وأفضِّل أن أتركها للذكرى
…
ভূমিকাএটি এমন একটি গ্রন্থ যা আমি আজ থেকে দশ বছর পূর্বে রচনা করতে শুরু করেছিলাম যখন আমি কায়রোতে অবস্থান করছিলাম। যখনই আমি আমার অন্তরে এবং আমার পরিপার্শ্বে এটি সমাপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ সংগ্রহ করলাম, তখনই একটি আকস্মিক পরিস্থিতি আমাকে থামিয়ে দিল, যার বর্ণনা এখানে—বিশেষ করে একটি গ্রন্থের ভূমিকায় দেওয়ার অবকাশ নেই। কেবল এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, এটি ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক দ্বন্দ্ব সংশ্লিষ্ট একটি পরিস্থিতি এবং এটি আমাকে আমার কর্মপরিকল্পনা পরিবর্তনে বাধ্য করেছিল, কারণ সেই বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আমাকে অন্য একটি গ্রন্থ রচনা করতে হয়েছিল।
সেই সময় থেকে বছরের পর বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং কাজ পুনরায় শুরু করার বিষয়টি বছরের পর বছর পিছিয়ে গেছে। অবশেষে যখন সম্প্রতি আমার বন্ধু ডক্টর (আম্মার তালবি) আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন—যিনি মিশরে তাঁর পড়াশোনা শেষ করে ফিরেছেন এবং কায়রোতে ছাত্র থাকাকালীন এই গবেষণাকর্মটি আমি যে অবস্থায় রেখে এসেছিলাম সে সম্পর্কে জানতেন—তখন তাঁর একান্ত আগ্রহ আমাকে আমার শুরু করা কাজটি সম্পন্ন করার গুরুত্ব সম্পর্কে আশ্বস্ত করল।
যখন আমি এই কাজে পুনরায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম, তখন আমি উপলব্ধি করলাম যে কায়রোতে তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা পুরনো খসড়াটির কতটা অংশ চিরতরে হারিয়ে গেছে। তবুও আমি যখন আমার নোটগুলো হাতে নিলাম, তখন আমি সেখানে আমার সেই শব্দগুলোই খুঁজে পেলাম, যদিও আমি তাতে সেই বিষয়বস্তুটি খুঁজে পাইনি যা আমি এতে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলাম।
এগুলো ছিল এমন কিছু টীকা যাতে আমি কিছু নির্দেশনামূলক বিন্দু বা চিহ্ন অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম, যা আমাকে আমার ভেতরে সুপ্ত উপাদানগুলোর দিশা পেতে সাহায্য করত; যা আমার চারপাশে যারা ছিল তাদের মাধ্যমে অথবা লাইব্রেরির তাকে আমি যা খুঁজে পেতাম কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে যা আহরণ করতাম তার মাধ্যমে পূর্ণতা পেত।
তাই আমার এই নোটগুলো সামগ্রিকভাবে ছিল প্রাণহীন; ঠিক যেন কোনো পুরনো কবর খনন করে পাওয়া হাড়গোড়। এগুলোর বিষয়বস্তু আমার কাছে দূরবর্তী, অস্পষ্ট ও অনিশ্চিত মনে হচ্ছিল এবং আমি সেগুলোকে কেবল স্মৃতি হিসেবে রেখে দেওয়াকেই শ্রেয় মনে করছি
…
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وربما استطاع يومًا قارئها الصبور أن يكتشف في ثنايا صفحاتها الْمُصْفَرَّةِ خَيْطها المقطوع حين يتأمل صفحات هذا الكتاب وما وراءها، إذ سيكون له بمثابة خيط (أريان) (1) الذي يقوده بثقةٍ في مشكلة الأفكار في المجتمع الإسلامي.
فنحن هنا أبعد من أن نُقدِّم دراسة شاملة لهذه المشكلة، ولكن بسبرنا لغورها ولِبُناها الخاصَّة نعتقد أنَّ هذا الكتاب سيعطينا عن أهميتها فكرة أوضح، ليس فقط في المجتمع الإسلامي بل في كل مجتمع.
وبقَدْر ما نوفَّق في إبراز هذه الفكرة فإن الغاية المنشودة من هذا الكتاب تكون قد تحققت.
الجزائر 22 نوفبر 1970م
مالك بن نبي
--------------------------------------------
সম্ভবত কোনো একদিন এর ধৈর্যশীল পাঠক এই বইটির পৃষ্ঠাগুলো এবং এর অন্তরালে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করার সময় এর জীর্ণ পৃষ্ঠাগুলোর ভাঁজে এর বিচ্ছিন্ন (مقطوع) সূত্রটি খুঁজে পেতে সক্ষম হবেন; কারণ এটি তার জন্য ‘আরিয়ান’-এর (১) সুতোর মতো হবে, যা তাকে মুসলিম সমাজের চিন্তাগত সমস্যার গোলকধাঁধায় নির্ভরযোগ্যতার (ثقة) সাথে পথ দেখাবে।
আমরা এখানে এই সমস্যার একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যয়ন উপস্থাপন করা থেকে অনেক দূরে, তবে এর গভীরতা এবং এর বিশেষ কাঠামোগুলো অনুসন্ধান (سبر) করার মাধ্যমে আমরা বিশ্বাস করি যে, এই বইটি এর গুরুত্ব সম্পর্কে কেবল মুসলিম সমাজেই নয়, বরং প্রতিটি সমাজেই একটি স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করবে।
আমরা এই ধারণাটি ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে যতটুকু সফল হব, এই বইটির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ততটুকুই অর্জিত হবে।
আলজেরিয়া, ২২ নভেম্বর ১৯৭০ খ্রি.
মালেক বিন নবী
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الأولالإجابتان عن الفراغ الكوني- موقف الإنسان في عزلته: ماديّ (الثقافة الغربية) أو فكريّ (الثقافة الإسلاميّة).
- المسلم مكلَّف بحمل فكرة واحدة: حبِّ الخير، وكُرْهِ الشرّ.
ــ
إذْ يعتزل الإنسان وحيداً، ينتابه شعورٌ بالفراغ الكوني، لكنَّ طريقته في مَلْء هذا الفراغ؛ هي التي تحدِّد طُرُزَ ثقافته وحضارته؛ أي سائر الخصائص الداخلية منها والخارجية لوظيفته التاريخية.
هناك أساساً طريقتان لملء الفراغ.
فإما أنْ ينظر المرء حول قدميه، أي نحو الأرض.
وإما أنْ يرفع بصرَه نحو السماء.
فالطريقةُ الأولى تملأ وحدَته بالأشياء حيث يَجْمَح بَصَرُه المتسلِّط لامتلاكها.
والطريقة الثانية تملأ وحدته بالأفكار ويبحث عن الحقيقة بنظره المتسائل.
هكذا ينشأ عبر الطريقتين نموذجان من الثقافة:
ثقافةُ سيطرةٍ ذات جذور تقنية.
وثقافة حضارةٍ ذات جذور أخلاقية وغَيْبيَّة.
প্রথম পরিচ্ছেদমহাজাগতিক শূন্যতা বিষয়ক দুটি উত্তর- নির্জনতায় মানুষের অবস্থান: বস্তুগত (পাশ্চাত্য সংস্কৃতি) অথবা বুদ্ধিবৃত্তিক (ইসলামি সংস্কৃতি)।
- একজন মুসলিম একটিমাত্র আদর্শ ধারণ করতে আদিষ্ট: কল্যাণের প্রতি ভালোবাসা এবং অকল্যাণের প্রতি ঘৃণা।
—
যখন মানুষ নির্জনে একাকী হয়, তখন সে মহাজাগতিক শূন্যতা অনুভব করে; তবে এই শূন্যতা পূরণে তার অনুসৃত পদ্ধতিই তার সংস্কৃতি ও সভ্যতার ধরন নির্ধারণ করে; অর্থাৎ, তার ঐতিহাসিক ভূমিকার যাবতীয় অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যসমূহ এর মাধ্যমেই নিরূপিত হয়।
মূলত এই শূন্যতা পূরণের দুটি পথ রয়েছে।
হয় মানুষ তার নিজের পায়ের কাছে অর্থাৎ মাটির দিকে দৃষ্টিপাত করবে।
অথবা সে আকাশের দিকে তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে।
প্রথম পদ্ধতিটি তার একাকীত্বকে বিভিন্ন বস্তু দিয়ে পূর্ণ করে, যেখানে তার কর্তৃত্বপরায়ণ দৃষ্টি সেগুলো অধিকার করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।
আর দ্বিতীয় পদ্ধতিটি তার একাকীত্বকে বিভিন্ন চিন্তা ও আদর্শ দিয়ে পূর্ণ করে এবং সে তার অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টির মাধ্যমে সত্যের সন্ধান করে।
এভাবেই এই দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে সংস্কৃতির দুটি আদর্শ রূপ তৈরি হয়:
প্রযুক্তিগত মূল ভিত্তি সম্পন্ন আধিপত্যবাদী সংস্কৃতি।
এবং নৈতিক ও অতীন্দ্রিয় মূল ভিত্তি সম্পন্ন সভ্যতার সংস্কৃতি।
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فالظاهرة الدينية تبدو حين يُوَجِّه الإنسان بصرَه نحوَ السماء. هنا يظهرُ الرسول: صاحب الدعوة والرسالة، أيْ ذلك الإنسان الذي يملك أفكار اً يريد تبليغها إلى الناس مثل أرمية، وعيسى، ومحمد صلى الله عليه وسلم.
فأوروبة، مهدُ عديد من الرجال العظماء، تبدو مع ذلك خارج الظاهرة الدينية في مستوى تلك الرسالات، كما لو أن طبيعة الأوربي الممتلئة بآدميّته لا تدع مجالاً للألوهيَّة.
بالمقابل فإنّ الرجل الساميَّ يبدو مُهَيَّئاً للفكرة الغيبية؛ بحيث لم تدع الألوهيَّةُ في ذاته غير قليل من المشاغل الأرضيَّة.
ويأْتي في منتصف الطريق بين الساميَّة والآريَّة الشماليَّة، اليونان الذي يشغل عالَمه بالأشكال ويملأ وحدته بمشاعر الجمال حتى إنه ليسميه (الخير) كما لاحظ تولستوي في تأملاته العميقة حول الفن (1).
بالإجمال فإن أوربة رَكَّبت في مضمون ثقافتها مزيجاً من الأشياء والأشكال من التقنيّة والجماليَّة. بينما الشرقُ الإسلاميُّ رَكَّب في ثقافته مزيجاً من فكرتين: الحقيقةِ والخيرِ.
هذه الخطَّة لا تتوافق مع مرحلة معينة من التاريخ فحسب، بل مع سائر مراحله التي فيها يتداول كرقاص الساعة في دقاته المزدوجة، صعودُ الحضارة العالميَّة إلى القمة وهبوطها إلى الحضيض.
--------------------------------------------
ধর্মীয় প্রপঞ্চ তখনই দৃশ্যমান হয় যখন মানুষ আকাশের দিকে তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। এখানেই রাসূলের আবির্ভাব ঘটে: যিনি দাওয়াত (الدعوة) ও রিসালাতের (الرسالة) অধিকারী, অর্থাৎ সেই মানুষ যিনি এমন কিছু চিন্তাধারা ধারণ করেন যা তিনি মানুষের নিকট পৌঁছে দিতে (تبليغ) চান; যেমন ইয়ারমিয়া, ঈসা এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
ইউরোপ, যা বহু মহান ব্যক্তির সূতিকাগার, তা সত্ত্বেও এই সকল রিসালাতের স্তরে ধর্মীয় প্রপঞ্চের বাইরে বলে প্রতীয়মান হয়; যেন ইউরোপীয়দের প্রকৃতি তাদের মানবিক সত্তায় এতটাই মগ্ন যে তা ঐশ্বরিকতার (الألوهية) জন্য কোনো অবকাশ রাখে না।
এর বিপরীতে, সেমিটিক মানুষ অতীন্দ্রিয় ধারণার জন্য প্রস্তুত বলে মনে হয়; ফলে ঐশ্বরিকতা তার সত্তায় পার্থিব ব্যস্ততার জন্য খুব সামান্যই সুযোগ রেখেছে।
আর সেমিটিক এবং উত্তর আর্যদের মাঝামাঝি অবস্থানে আসে গ্রিকরা, যারা তাদের জগতকে বিভিন্ন রূপ ও আকৃতি দ্বারা ব্যাপৃত রাখে এবং তাদের নির্জনতাকে সৌন্দর্যের অনুভূতি দিয়ে পূর্ণ করে, এমনকি তারা একে ‘কল্যাণ’ নামে অভিহিত করে, যেমনটি তলস্তোয় শিল্পের ওপর তাঁর গভীর চিন্তামূলক আলোচনায় (১) লক্ষ্য করেছেন।
সামগ্রিকভাবে, ইউরোপ তার সংস্কৃতির উপাদানে প্রযুক্তি ও নান্দনিকতার নিরিখে বস্তু ও রূপের এক মিশ্রণ তৈরি করেছে। অপরদিকে, মুসলিম প্রাচ্য তার সংস্কৃতিতে দুটি ধারণার সমন্বয় ঘটিয়েছে: সত্য এবং কল্যাণ।
এই পরিকল্পনা কেবল ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের সাথেই সংগতিপূর্ণ নয়, বরং ইতিহাসের সেই সকল পর্যায়ের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ যেখানে ঘড়ির পেন্ডুলামের দ্বৈত স্পন্দনের মতো বৈশ্বিক সভ্যতার শিখরে আরোহণ এবং পতনের আবর্তন ঘটে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فحيناً تكون القمة لثقافة من تلك الثقافتين والحضيض للأخرى، وحيناً يكون العكس، وبينهما في المراحل الوسيطة نسجِّل فتراتِ إخصابٍ متبادل يَكتنفها لحظات اختلاط في البابليَّات التاريخية كما هو عصر بابل القرن العشرين (1).
تلكم هي الحضارة في أحيانها وتقلباتها: تكون في الأوج حضارةً تتركز فيها الأشياء حول فكرة حيناً، وحيناً تبلغ الأوج حضارةً أخرى تتركز فيها الأفكار حول الشيء.
وتبدو هذه الظاهرة بجلاء عندما يعبر الفكر عن نفسه بحرية كاملة، وتِلْقائيَّة تامة، دون مواربة أو سراديب بلاغية، وبتواصلٍ مباشر مع جذور الثقافة.
والأدب الشعبي كاشف في هذا المجال. بل الأدب في عمومه حتى المتَكلَّفُ منه يحمل مع ذلك تلك الخاصيَّة الشعبيَّة في طبيعة موضوعه.
وليس كالقصة تُجَلِّي عُمْقَ تلك الجذور.
ويمكن لتوضيح ما أسلفنا أن نأخذ نموذجاً: قصتين: الأولى (روبنسون كروزو) والأخرى (حي بن يقظان).
فبطلا القصتين المنعزلان؛ هما في الحقيقة المثلان اللذان يُعبِّران بوضوح عن نَمَطَي الثقافة.
--------------------------------------------
কখনও কখনও এই দুই সংস্কৃতির মধ্যে একটি থাকে উৎকর্ষের শীর্ষে আর অন্যটি থাকে অবক্ষয়ের নিম্নতলে, আবার কখনও ঘটে এর বিপরীত; আর এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পর্যায়গুলোতে আমরা পারস্পরিক সমৃদ্ধির এমন কিছু সময়কাল চিহ্নিত করি যা ঐতিহাসিক ব্যাবিলনীয় বৈচিত্র্যের সংমিশ্রণে ঘেরা, ঠিক যেমন বিংশ শতাব্দীর ব্যাবিলনীয় যুগ (১)।
এটাই হলো সভ্যতা তার কালপরিক্রমা ও পটপরিবর্তনের ধারায়: কখনও তা উৎকর্ষের এমন এক পর্যায়ে থাকে যখন যাবতীয় বস্তু একটি নির্দিষ্ট ধারণাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, আবার কখনও অন্য একটি সভ্যতা শিখরে পৌঁছায় যখন যাবতীয় ধারণা একটি নির্দিষ্ট বস্তুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
এই প্রপঞ্চটি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয় যখন চিন্তা কোনো প্রকার কৃত্রিমতা বা আলঙ্কারিক মারপ্যাঁচ ছাড়াই পূর্ণ স্বাধীনতা ও স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে এবং সংস্কৃতির শিকড়ের সাথে সরাসরি সংযোগ বজায় রেখে নিজেকে প্রকাশ করে।
লোকসাহিত্য এই ক্ষেত্রে সত্য উন্মোচনকারী হিসেবে কাজ করে। বরং সামগ্রিকভাবে সাহিত্য, এমনকি তার কৃত্রিম রূপটিও তার বিষয়ের প্রকৃতিতে সেই লৌকিক বৈশিষ্ট্য বহন করে।
আর গল্পের মতো অন্য কোনো মাধ্যম এই শিকড়গুলোর গভীরতাকে এমন স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে না।
পূর্বোক্ত বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আমরা একটি উদাহরণ গ্রহণ করতে পারি, আর তা হলো দুটি গল্প: প্রথমটি 'রবিনসন ক্রুসো' এবং অন্যটি 'হাই বিন ইয়াকজান'।
এই দুই গল্পের নিঃসঙ্গ নায়কদ্বয় মূলত এমন দুটি আদর্শিক দৃষ্টান্ত যা সংস্কৃতির দুটি ভিন্ন ধরণকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২০)
فالأولى ينطلق بها دانيال دي فوي من محوٍ كاملٍ للوسائل (أي الأشياء) حينما يبدأ بطلُ قصته المغامرة (1).
والثانية ينطلق بها ابن طفيل من محوٍ كاملٍ للأفكار، حينما يتدرج في مراحل أحداثها.
ففي كلا القصتين تكمن العبقرية في الطريقة التي ملأ بها مؤلفاهما وقت عزلة بطليهما.
وهاكم طريقة استخدام الزمن ليومٍ واحدٍ، في حياة (روبنسون كروزو) على الجزيرة التي نجا بنفسه إليها بعد غرق سفينته:
((بدأت أُنظِّم وقت عملي وخروجي، وقت راحتي ونُزهاتي، وانطلاقاً من هذه القاعدة التي واظبت على مراعاتها، كنت أخرج في الصباح إذا لم يكن الطقس ممطراً، ومعي بندقيتي لمدة ساعتين أو ثلاث، ثم أعمل بعد ذلك إلى ما يقارب الساعة الحادية عشرة، ثم آكل ما كنت أستطيع الحصول عليه، وكنت أنام من الظهر حتى الساعة الثانية بسبب الحرّ المضني. وفي المساء كنت أستأنف العمل. لقد أنفقت وقتي كلَّه في ذلك اليوم، وفي اليوم التالي في صنع طاولةٍ لنفسي، ذلك أنني لم أكن آنذاك سوى عاملٍ بائسٍ، ولكن الزمن والحاجة جعلاني فيما بعد صانعاً ممتازاً)).
تلك شريحة من زمن (روبنسون كروزو) في عزلته في الجزيرة. فالوقت يجري منذ البداية في وقائع محسوسة. أكْل- نوْم- عَمَل. وهي وقائع تكمن في
--------------------------------------------
প্রথম দিকটি ড্যানিয়েল ডিফো উপকরণের (অর্থাৎ বস্তুসামগ্রীর) পূর্ণ বিলোপন থেকে শুরু করেন, যখন তাঁর গল্পের নায়ক দুঃসাহসিক অভিযান (১) আরম্ভ করে।
আর দ্বিতীয় দিকটি ইবনে তুফাইল চিন্তাধারার পূর্ণ বিলোপন থেকে শুরু করেন, যখন তিনি ক্রমান্বয়ে গল্পের ঘটনাবলির বিভিন্ন পর্যায়ে পদার্পণ করেন।
উভয় গল্পেই সেই পদ্ধতির মাঝে পাণ্ডিত্য নিহিত রয়েছে, যার মাধ্যমে লেখকদ্বয় তাঁদের নায়কদের নির্জনবাসের সময়কে অতিবাহিত করেছেন।
জাহাজ ডুবির পর যে দ্বীপে তিনি প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন, সেখানে ‘রবিনসন ক্রুসো’-এর জীবনের একটি দিনের সময় ব্যবহারের পদ্ধতি এখানে তুলে ধরা হলো:
“আমি আমার কাজ ও বাইরে যাওয়ার সময়, এবং বিশ্রাম ও বিনোদনের সময় সুবিন্যস্ত করতে শুরু করলাম। এই নিয়মের অনুসরণে আমি অত্যন্ত যত্নবান ছিলাম; যদি আবহাওয়া বৃষ্টির না হতো, তবে আমি সকালে আমার বন্দুক হাতে নিয়ে দুই বা তিন ঘণ্টার জন্য বের হতাম। এরপর বেলা প্রায় এগারোটা পর্যন্ত কাজ করতাম, তারপর যা সংগ্রহ করতে পারতাম তা আহার করতাম। প্রচণ্ড উত্তাপের কারণে দুপুর থেকে দুইটা পর্যন্ত ঘুমিয়ে নিতাম। বিকেলে পুনরায় কাজ শুরু করতাম। সেদিন এবং তার পরের দিন সম্পূর্ণ সময় আমি নিজের জন্য একটি টেবিল তৈরিতে ব্যয় করেছি। তখন আমি কেবল একজন আনাড়ি শ্রমিক ছিলাম, কিন্তু সময় ও প্রয়োজন আমাকে পরবর্তীতে একজন দক্ষ কারিগরে পরিণত করেছে।”
এটি নির্জন দ্বীপে ‘রবিনসন ক্রুসো’-এর অতিবাহিত সময়ের একটি খণ্ডচিত্র। সেখানে সময় শুরু থেকেই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বাস্তবতার নিরিখে অতিবাহিত হচ্ছে; যেমন—আহার, নিদ্রা ও কাজ। আর এগুলো এমন সব বাস্তবতা যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২১)
طبيعة خاصة، تضع ثواني الزمن في خدمة اقتصادٍ شخصيٍّ نفعيٍّ بحْت.
فروبنسون كروزو يتغلّب على كآبة الوحدة بالعمل. وخلال هذا الوقت من ذلك اليوم فإنّ عالمَ أفكار هـ كلَّه يتركز حول (شيء): إنّها الطاولة التي كان يريد صنعها لنفسه.
أما بالنسبة لحي بن يقظان فإنّ مغامرة الوحدة تتخذ لها اتجاهاً مختلفاً تماماً. فهي لا تبدأ في الواقع إلا بعد أن نَفَقَتِ الغزالةُ التي تَبَنَّت الطفلَ المنعزل كأمّ ترعاه: ((فكان يرتاد بها المراعي الخصبة، ويجتني لها الثمرات الحلوة، ويطعمها. وما زال الهزال والضعف يستولي عليها ويتوالى، إلى أن أدركها الموت، فسكنت حركاتها بالجملة، وتعطلت جميع أفعالها، فلما رآها الصبيُّ على تلك الحالة، جزع جزعاً شديداً، وكادت نفسه تفيض أسفاً عليها. [
… ] فكان ينظر إلى أذنيها وإلى عينيها فلا يرى بها آفة ظاهرة، وكذلك كان ينظر إلى جميع أعضائها فلا يرى بشيءٍ منها آفة. فكان يطمع أن يعثر على موضع الآفة فيزيلها عنها، فترجع إلى ما كانت عليه فلم يتأتَّ له شيء من ذلك ولا استطاعة)) (1).
لم يعثر حي بن يقظان على موطن الداء: لكن ابن طفيل يجعلنا نتتبع صعود ذهنه كيما يكتشف شيئاً فشيئاً (الروح) ثم (خلود الروح) وأخيراً (فكرة خالق).
منذ تلك اللحظة تتتابع المغامرة تأملاً يسمح لابن يقظان أن يَدْلُفَ بعد عدة محاولات فاشلة إلى إدراك النظام الإلهي؛ إلى رؤيةٍ داخليةٍ للإله، وإلى مفهومِ صفاته.
--------------------------------------------
একটি বিশেষ প্রকৃতি, যা সময়ের প্রতিটি মুহূর্তকে নিছক ব্যক্তিগত উপযোগবাদী অর্থনীতির সেবায় নিয়োজিত করে।
রবিনসন ক্রুসো কাজের মাধ্যমে একাকীত্বের বিষণ্ণতাকে জয় করেন। সেই দিনের সেই সময়ে তার চিন্তাজগৎ সম্পূর্ণভাবে একটি (বস্তু)-কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছিল: তা ছিল একটি টেবিল যা তিনি নিজের জন্য তৈরি করতে চেয়েছিলেন।
পক্ষান্তরে হাই ইবনে ইয়াকজানের ক্ষেত্রে একাকীত্বের এই অভিযান সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পথ বেছে নেয়। প্রকৃতপক্ষে এটি শুরু হয় সেই হরিণীটির মৃত্যুর পর, যেটি এই বিজনবাসী শিশুটিকে দত্তক নিয়ে মায়ের মতো লালন-পালন করেছিল: ((সে তাকে নিয়ে উর্বর চারণভূমিতে যেত, তার জন্য মিষ্টি ফল সংগ্রহ করত এবং তাকে খাওয়াত। কিন্তু তার ওপর ক্রমাগত শীর্ণতা এবং দুর্বলতা (ضعف) জেঁকে বসতে থাকে, যতক্ষণ না মৃত্যু তাকে গ্রাস করে। ফলে তার সকল নড়াচড়া থেমে যায় এবং তার সমস্ত কাজ অচল হয়ে পড়ে। বালকটি যখন তাকে এই অবস্থায় দেখল, তখন সে প্রচণ্ড মর্মাহত হলো এবং তার প্রতি দুঃখে ও শোকে তার প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে উঠল। [
… ] সে তার কানের দিকে এবং চোখের দিকে তাকাচ্ছিল কিন্তু সেখানে কোনো দৃশ্যমান ত্রুটি দেখতে পাচ্ছিল না। একইভাবে সে তার সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দিকে তাকাচ্ছিল কিন্তু কোথাও কোনো ত্রুটি পাচ্ছিল না। সে মনেপ্রাণে চাচ্ছিল যদি সেই ত্রুটির স্থানটি খুঁজে পেত, তবে তা দূর করে দিত এবং সে (হরিণীটি) পূর্বাবস্থায় ফিরে আসত। কিন্তু সে এর কিছুই করতে পারল না এবং তার সে সামর্থ্যও ছিল না।)) (১)।
হাই ইবনে ইয়াকজান রোগের মূল আস্তানা খুঁজে পায়নি; কিন্তু ইবনে তোফায়েল আমাদের তার চিন্তার সেই আরোহণের পথটি দেখান যাতে সে ধাপে ধাপে (রূহ) বা আত্মা, তারপর (রূহের অমরত্ব) এবং পরিশেষে (এক স্রষ্টার ধারণা) আবিষ্কার করতে পারে।
সেই মুহূর্ত থেকে এই দুঃসাহসিক অভিযানটি এমন এক ধ্যানে পর্যবসিত হয়, যা ইবনে ইয়াকজানকে বেশ কিছু ব্যর্থ চেষ্টার পর খোদায়ী ব্যবস্থার উপলব্ধি, স্রষ্টার এক অন্তর্দৃষ্টি এবং তাঁর গুণাবলির ধারণার দিকে ধাবিত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২২)
إنَّ الزمن يجري هنا في مراحل من ذلك الصعود بالفكر إلى لحظة شبيهة بلحظة (زرادشت) عند (نيتشة) حينما نزل من جبله حاملاً رسالته. فحي بن يقظان سيذهب مع رفيق الصدفة ((آسال))؛ حاملاً إلى مواطني ورعايا الحكيم (سلمان) ثمرة تفكيره.
إن العالم هنا؛ عالم تتركز فيه الأشياء حول الفكرة. فحي بن يقظان لا يتغلّب على كآبة الشعور بالوحدة بصنع طاولة؛ بل ببناء الأفكار واكتشافها. إنَّه عالمٌ لا يتحدَّد فيه الزمنُ لصالح شيءٍ ما.
في مؤتمر علم الاجتماع الذي عُقد مؤخراً في (فارنا) لم يكن الأستاذ (سيكار) على خطأ تام، رغم أنه لم يكن على صواب تام، في تفسيره حينما لاحظ ((أن الزمن الصناعي المتواصل؛ لا يدع على الإطلاق للإنسان المنعزل أن يواجه نفسه وذلك في مقابل الزمن غير المتواصل في بلاد العالم الثالث)).
فكلُّ من وجد نفسه منخرطاً في اطِّراد الإنتاج الصناعي يدرك في الواقع أن الآلةَ التي تنتج والشيء المنْتَجَ لا يدعان للإنسان (لحظةً للذات) ولا أيِّ إحساسٍ بالزهو، أو سُكونٍ إلى النفس.
لقد امتلأ يوم (روبنسون كروزو) بصنع (طاولة).
بيد أن الأستاذ (سيكار) إذا كان على حق في ملاحظته، فإنّه على خطأ في تفسيره.
إذْ لا جدال في أنه في مقابل وتيرة الزمن المحيطة بالإنتاج في البلاد الصناعية؛ هناك الزمن متقطع الوتيرة في البلاد المتخلِّفة.
ويبدو هذا التقطع في الوتيرة عند سيكار في شكل ((فراغات لا حصر لها تربط- إذا صح التعبير- بين لحظات الحياة)).
সময় এখানে চিন্তার সেই উত্তরণের স্তরগুলোর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা নিটশের জরাথুস্ট্রের সেই মুহূর্তটির সদৃশ, যখন তিনি তাঁর বার্তা নিয়ে পাহাড় থেকে নেমে এসেছিলেন। হাই ইবনে ইয়াকজান তার আকস্মিক বন্ধু ‘আসাল’-এর সাথে যাত্রা করবেন; প্রাজ্ঞ ‘সালমান’-এর দেশবাসী ও প্রজাদের নিকট তার চিন্তার ফসল বহন করে নিয়ে যাবেন।
এখানকার জগতটি এমন একটি জগত যেখানে যাবতীয় বিষয় ধারণাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। হাই ইবনে ইয়াকজান একটি টেবিল তৈরির মাধ্যমে একাকীত্বের বিষণ্ণ অনুভূতিকে জয় করেন না; বরং তা করেন চিন্তা নির্মাণ ও তা আবিষ্কারের মাধ্যমে। এটি এমন এক জগত যেখানে কোনো বিশেষ বস্তুর অনুকূলে সময় নির্ধারিত হয় না।
সম্প্রতি ভার্নায় অনুষ্ঠিত সমাজবিজ্ঞান সম্মেলনে অধ্যাপক সিকার তার ব্যাখ্যায় সম্পূর্ণ ভুল ছিলেন না, যদিও তিনি পুরোপুরি সঠিকও ছিলেন না; যখন তিনি লক্ষ্য করেন যে, "অবিরাম শিল্পায়িত সময় একাকী মানুষকে নিজের মুখোমুখি হওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেয় না, যা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর বিচ্ছিন্ন গতির সময়ের সম্পূর্ণ বিপরীত।"
মূলত শিল্প উৎপাদনের নিরবচ্ছিন্ন ধারায় নিমগ্ন যে কেউ বাস্তবে অনুধাবন করতে পারেন যে, উৎপাদনকারী যন্ত্র এবং উৎপাদিত পণ্য—উভয়ই মানুষকে ‘নিজস্ব মুহূর্ত’ কিংবা কোনো প্রকার আত্মতৃপ্তি বা মানসিক প্রশান্তি লাভের অবকাশ দেয় না।
রবিনসন ক্রুসোর দিনগুলো একটি ‘টেবিল’ তৈরির কাজে পূর্ণ ছিল।
তবে অধ্যাপক সিকার তার পর্যবেক্ষণে সঠিক হলেও তার ব্যাখ্যায় ভুল করেছেন।
কেননা এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই যে, শিল্পোন্নত দেশগুলোর উৎপাদন-সংক্রান্ত সময়ের গতির বিপরীতে অনুন্নত দেশগুলোতে একটি বিচ্ছিন্ন গতির সময় বিদ্যমান।
সিকারের কাছে গতির এই বিচ্ছিন্নতা প্রকাশ পায় ‘অগণিত শূন্যতা’ হিসেবে, যা—যদি বলা সঠিক হয় তবে—জীবনের মুহূর্তগুলোর মাঝে সংযোগ স্থাপন করে।
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وهنا نقول عن طيب خاطر- إذا سمح لنا الأستاذ سيكار-: إن تحليله صحيح في موضوعيته، وقد أشرنا نحن أيضاً في دراسة سابقة إلى ظاهرة تَقَطُّع الزمن في العالم الإسلامي المعاصر (1). لذا فهو يكشف لنا بدقة عن الجذور التي سبق أن ألمحنا إليها.
فالزمن في نظر الأستاذ (سيكار) لا اعتبار له إلا في عالم الأشياء. والحياة نفسها لا معنى لها إلا حينما تنساب لحظاتها في طاولة (روبنسون كروزو) على سبيل المثال.
لكن هذا في الحقيقة غُلوٌّ في تقدير الأمور عبر الزمن، والمجتمع الغربي يستطيع اليوم حساب نتائجه المدمّرة.
وإذا كان ينبغي على البلاد الإسلاميّة أن تعرف كيف تقدّر في (ثقافتها) الحاضرة- إذا جاز التعبير- الآثار السلبية للتفريط بقيمة الزمن في نشاطها، فإنَّ عليها بالمقابل أن لا تغلو في الإفراط في تقديره حيث نستطيع أن نرى بسهولة نتائجه السلبيَّة في البلاد الصناعية.
والإشارة إلى المغالاة في جانبَي الإفراط والتفريط لا تحجب عنا حقيقةً أساسيَّةً؛ هي أننا نتناول ثقافتين في لحظة أُفولها. وهذا ما فات الأستاذ (سيكار) في مؤتمر علم الاجتماع بفارنا. فالفكر الأوربي يجهل قانون التداول بين الأوج والحضيض في مسيرة الحضارة.
ذلك أنَّ أوربة كانت قبل (لوكراس) (2) وبعده. وقبل (بلانك) (3) وبعده
--------------------------------------------
এবং এখানে আমরা সানন্দে বলছি—যদি অধ্যাপক সিকার আমাদের অনুমতি প্রদান করেন—যে, তাঁর বিশ্লেষণটি এর বস্তুনিষ্ঠতায় সঠিক (صحيح); আমরাও পূর্ববর্তী একটি গবেষণায় সমসাময়িক মুসলিম বিশ্বে সময়ের বিচ্ছিন্নতার প্রপঞ্চের (১) দিকে ইঙ্গিত করেছি। সুতরাং, তিনি আমাদের সামনে সেই শিকড়গুলো নিখুঁতভাবে উন্মোচন করেছেন যেগুলোর দিকে আমরা ইতিপূর্বে আভাস দিয়েছিলাম।
অধ্যাপক (সিকার)-এর দৃষ্টিতে সময়ের কোনো গুরুত্ব নেই কেবল বস্তুর জগত ছাড়া। আর জীবন নিজেই অর্থহীন হয়ে পড়ে যখন তার মুহূর্তগুলো উদাহরণস্বরূপ (রবিনসন ক্রুসো)-র তালিকায় প্রবাহিত হয়।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি সময়ের নিরিখে বিষয়গুলো মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি বাড়াবাড়ি, এবং পশ্চিমা সমাজ আজ এর ধ্বংসাত্মক ফলাফল গণনা করতে সক্ষম।
যদি মুসলিম দেশগুলোর জন্য এটি জানা আবশ্যক হয় যে কীভাবে তাদের বর্তমান (সংস্কৃতিতে)—যদি এভাবে বলা যায়—তাদের কর্মতৎপরতায় সময়ের মূল্যের অবহেলার নেতিবাচক প্রভাবগুলো মূল্যায়ন করতে হবে, তবে বিপরীতে তাদের উচিত হবে এর মূল্যায়নে অতিশয়োক্তি না করা, যার নেতিবাচক ফলাফল আমরা শিল্পোন্নত দেশগুলোতে সহজেই দেখতে পাচ্ছি।
আধিক্য এবং অবহেলার—উভয় দিকের বাড়াবাড়ির প্রতি এই ইঙ্গিত আমাদের কাছ থেকে একটি মৌলিক সত্যকে আড়াল করে না; আর তা হলো আমরা দুটি সংস্কৃতিকে তাদের পতনের মুহূর্তে আলোচনা করছি। আর অধ্যাপক (সিকার) ভার্নাতে অনুষ্ঠিত সমাজবিজ্ঞান সম্মেলনে এই বিষয়টিই অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কেননা ইউরোপীয় চিন্তা সভ্যতার অগ্রযাত্রায় উত্থান ও পতনের মধ্যবর্তী আবর্তনের নিয়ম সম্পর্কে অবগত নয়।
তা এই কারণে যে, ইউরোপ ছিল (লুক্রেটিয়াস) (২)-এর পূর্বে ও পরে, এবং (প্লাঙ্ক) (৩)-এর পূর্বে ও পরে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأرض المختارة للفكر الكمِّي ولوضعيَّة (أوجست كونت) (1) وماديَّة (ماركس) (2).
فالفكر الغريي يجنَح على ما يبدو أساساً إلى الدوران حول مفهوم الوزن والكمِّ. وهو عندما ينحرف نحو المغالاة فهو يصل حتماً إلى المادية في شكلَيْها:
الشكلِ البورجوازيِّ للمجتمع الاستهلاكي.
والشكلِ الجدلِّي للمجتمع السوفياتي.
وحينما يكون الفكر الإسلاميُّ في أُفوله كما هو شأنه اليوم فإن المغالاة تدفعه إلى التصوُّفِ، والمبهم، والغامض، وعدم الدقة، والتقليد الأعمى، والافتتان بأشياء الغرب.
لكن هذا ليس مداره الأصليّ. ففي الأصل حينما أعطاه القرآن اندفاعه الأَوَّليَّ اتَّخذ الفكرُ الإسلاميّ مداره أساساً حول فكرةٍ واحدة تكون حيناً ((حبَّ الخير))، وحيناً آخرَ ((كره الشر)).
تلك هي رسالة الفكر الإسلامي عَبَّر عنها القرآن الكريم بقوله {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ .. } [آل عمران: 3/ 110].
--------------------------------------------
পরিমাণগত চিন্তাধারা এবং (অগাস্ট কোঁৎ)-এর দৃষ্টবাদ (১) ও (মার্কস)-এর বস্তুবাদ (২)-এর জন্য এটি একটি নির্বাচিত বিচরণভূমি।
পাশ্চাত্য চিন্তাধারা আপাতদৃষ্টিতে মূলত ওজন ও পরিমাণের ধারণাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। যখন এটি চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন এটি অনিবার্যভাবে বস্তুবাদের দুটি রূপের দিকে ধাবিত হয়:
ভোগবাদী সমাজের বুর্জোয়া রূপ।
এবং সোভিয়েত সমাজের দ্বান্দ্বিক রূপ।
আর ইসলামি চিন্তাধারা যখন তার পতনের যুগে থাকে—যেমনটি আজ দেখা যাচ্ছে—তখন অতিশয়োক্তি একে সুফিবাদ, অস্পষ্টতা, রহস্যময়তা, অসংলগ্নতা, অন্ধ অনুকরণ এবং পশ্চিমা জিনিসের প্রতি মোহাচ্ছন্নতার দিকে ঠেলে দেয়।
কিন্তু এটি এর প্রকৃত কক্ষপথ নয়। প্রকৃতপক্ষে, যখন কুরআন একে প্রাথমিক গতিবেগ প্রদান করেছিল, তখন ইসলামি চিন্তাধারা মূলত একটি একক ধারণাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো, যা কখনো ছিল 'কল্যাণের প্রতি ভালোবাসা' এবং কখনো 'অকল্যাণের প্রতি ঘৃণা'।
এটিই হলো ইসলামি চিন্তাধারার মূল বার্তা, যা পবিত্র কুরআন এই বাণীর মাধ্যমে ব্যক্ত করেছে: {তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও এবং মন্দ (المنكر) কাজে বাধা দাও এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো...} [আলে ইমরান: ৩/১১০]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فالمسلم مكلّف بحملِ تلك الرسالة؛ في الجليل من الأُمور والصغير منها. فتقسيم التَّرِكة عند وفاة صاحبها هي بلا ريب ظرف اجتماعيٌّ عاديٌّ. لكن انظر ما يقول القرآن فيه {وَإِذَا حَضَرَ الْقِسْمَةَ أُولُو الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينُ فَارْزُقُوهُمْ مِنْهُ
… } [النساء: 4/ 8].
قد يقال لنا: إنَّ هذا حكمٌ يمكن أنْ يرِدَ في كلِّ قانونٍ مدنيٍّ تقدميٍّ. هذا صحيح؛ لكنّ القرآن يُرَغِّب بأكثرَ من هذا. فهو لا يريد أنْ يقومَ المجتمع بتقسيم المال كآلةِ توزيع القِطَعِ المعدنية، فهذا شيءٌ يستطيع المجتمع الاستهلاكي أن يفعله.
لكن ينبغي على المجتمع الإسلاميّ أن يفعل أكثر من توزيع أموال تركة، وذلك بأنْ يوزِّع في الوقت نفسه الخير.
فالآية التي استشهدنا بها قد تَعمّدْنا ذكرها ناقصةً لنبيِّن ما يمكن أن تشترك فيه مع تشريع مدني لكنّ الآية تنتهي بتوصيةٍ أخرى، بحكمٍ آخر: { .. وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلًا مَعْرُوفًا} [النساء: 4/ 8].
الآن اكتملت الآية: وزِّعوا أموالاً طبعاً، لكن أضيفوا إليها فكرةً، أو كلمةً، أو لفتة تعبِّر عن شعوركم، عن مفهومكم، عن فكرة (الخير) عندكم.
إنَّ هذه التكملة ذات الصبغة الروحية الخالصة؛ لا يمكن تصوُّرها في أيِّ تشريع مدنيٍّ.
إنَّها تُعطي للرابط الاجتماعي النابع من الفكر الإسلاميّ طابعاً خاصّاً يجعل وجودَ ما يُسَمَّى (التناقضات في وسط الجماهير) ظاهرةً غير قابلة للتفسير في المجتمع الإسلامي.
একজন মুসলিম সেই বার্তা বহনের জন্য দায়বদ্ধ; বিষয়ের বিশালতা কিংবা ক্ষুদ্রতা—সর্বক্ষেত্রেই। কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সম্পদ বণ্টন নিঃসন্দেহে একটি সাধারণ সামাজিক পরিস্থিতি। কিন্তু দেখুন কুরআন এ বিষয়ে কী বলে: {আর যখন বণ্টনের সময় আত্মীয়স্বজন, এতিম ও অভাবী লোক উপস্থিত হয়, তখন তোমরা তাদেরকে তা থেকে কিছু দান করো
… } [আন-নিসা: ৪/ ৮]।
আমাদের বলা হতে পারে: এটি এমন এক বিধান যা প্রতিটি প্রগতিশীল দেওয়ানি আইনে থাকতে পারে। এটি সঠিক; তবে কুরআন এর চেয়েও বেশিকিছুর প্রতি উৎসাহিত করে। কুরআন চায় না যে, সমাজ কেবল একটি মুদ্রা বণ্টনকারী যন্ত্রের মতো সম্পদ বণ্টন করুক, কারণ এটি একটি ভোগবাদী সমাজও করতে পারে।
তবে ইসলামি সমাজের উচিত উত্তরাধিকার সম্পদ বণ্টনের চেয়েও বেশি কিছু করা, আর তা হলো একই সাথে কল্যাণ বিতরণ করা।
আমরা যে আয়াতটি উদ্ধৃত করেছি, তা উদ্দেশ্যমূলকভাবেই অসম্পূর্ণ রেখেছিলাম যাতে দেওয়ানি আইনের সাথে এর সম্ভাব্য সাদৃশ্যটুকু ফুটিয়ে তোলা যায়। কিন্তু আয়াতটি অন্য একটি নির্দেশনা বা বিধানের মাধ্যমে শেষ হয়েছে: { .. এবং তাদের সাথে সদালাপ করো} [আন-নিসা: ৪/ ৮]।
এখন আয়াতটি পূর্ণতা পেল: অবশ্যই অর্থ-সম্পদ বণ্টন করুন, তবে তার সাথে একটি ভাবনা, একটি কথা কিংবা একটি ভঙ্গি যুক্ত করুন যা আপনাদের অনুভূতি, আপনাদের উপলব্ধি এবং আপনাদের নিকট ‘কল্যাণ’-এর যে ধারণা রয়েছে তা প্রকাশ করে।
এই যে বিশুদ্ধ আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত পরিপূরক অংশ; এটি কোনো দেওয়ানি আইনের ক্ষেত্রে কল্পনা করাও সম্ভব নয়।
এটি ইসলামি চিন্তা থেকে উদ্ভূত সামাজিক বন্ধনকে এমন এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করে, যা ইসলামি সমাজে (জনগণের মাঝে বিদ্যমান দ্বন্দ্ব) নামক বিষয়টিকে একটি ব্যাখ্যাতীত প্রপঞ্চে পরিণত করে।
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الفصل الثانيالطفل والأفكار1 - الطفل يتدرج في عوالم ثلاثة: الأشياء- الأشخاص- الأفكار.
2 - الأفكار وسيلة اندماج الفرد في المجتمع وتتقايس فيه العوالم الثلاثة جنباً إلى جنب وتتفوق إحداها على الأخرى وفق نمط الثقافة.
3 - الشيخوخة انحدار من عالم الأفكار إلى الأشخاص إلى الأشياء {ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ ضَعْفًا}.
4 - الفرد يدفع ضريبة اندماجه الاجتماعي وكلما كان المجتمع مختلاً في نموه ارتفعت قيمة الضريبة.
ــ
لا يستطيع الإنسان المنعزل أن يعيش طويلاً في وحدته؛ دون أن يصنع لنفسه وفي فترةٍ من الزمن محدودة بالضرورة، التجربة الأزليّة التي بها يتكيّف المجتمع مع بيئته (1).
فإمّا أنْ تبدأ مغامرتُه انطلاقاً من صفحة بيضاء خاليةٍ من الأفكار مثل (حي بن يقظان)، وإما انطلاقاً من صفحة بيضاء خالية من الوسائل والأشياء
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়শিশু ও চিন্তাধারা১ - শিশু তিনটি জগতের মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়: বস্তুসমূহ- ব্যক্তিবর্গ- চিন্তাধারা।
২ - চিন্তাধারা হলো সমাজে ব্যক্তির একীভূতকরণের মাধ্যম; সেখানে এই তিনটি জগত পাশাপাশি অবস্থান করে এবং সংস্কৃতির ধরন অনুযায়ী একটি অন্যটির ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে।
৩ - বার্ধক্য হলো চিন্তাধারার জগত থেকে ব্যক্তিবর্গের জগত হয়ে বস্তুসমূহের জগতের দিকে এক নিম্নমুখী যাত্রা {অতঃপর তিনি শক্তির পর দুর্বলতা দান করেন}।
৪ - ব্যক্তি তার সামাজিক একীভূতকরণের মূল্য পরিশোধ করে; সমাজ তার বিকাশের ক্ষেত্রে যতটা ভারসাম্যহীন হয়, এই মূল্যের পরিমাণও তত বৃদ্ধি পায়।
--
বিচ্ছিন্ন কোনো মানুষ দীর্ঘকাল তার নির্জনতায় বেঁচে থাকতে পারে না; যতক্ষণ না সে নিজের জন্য—অপরিহার্যভাবেই একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে—সেই শাশ্বত অভিজ্ঞতার অবতারণা করে, যার মাধ্যমে সমাজ তার পরিবেশের সাথে সংগতি বিধান করে (১)।
হয় তার এই অভিযাত্রা শুরু হবে চিন্তাধারা বিবর্জিত এক শূন্য ক্যানভাস থেকে—যেমন (হাই ইবনে ইয়াকজান), অথবা তার এই যাত্রা শুরু হবে উপকরণ ও বস্তুসামগ্রীহীন এক শূন্য ক্যানভাস থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
إذا كان قد حمل معه (عالم أفكار هـ) كما فعل (روبنسون كروزو) قبل غرق سفينته.
ولكن مهما تكن درجةُ تجريده ونموذج الثقافة التي يمثّل، فإنّ نشاطه يخضع دائماً في ضمانِ بقائه لتطوراتٍ نفسيَّةٍ- بدنيَّةٍ، نرى مثلها في سائر أشكال النشاط البشريِّ.
والشكل الأبسط لهذا النشاط يتجلَّى في عملِ الحرفيِّ المنكبِّ على عمله والمقصُّ في يده، بالحارث المنحني على محراثه، بالجنديِّ المسلَّح ببندقيته.
في سائر هذه الحالات، فالعمل: الحرفي، الزراعي، أو الحربيُّ يتمّ انطلاقاً من عنصريْن ظاهرين:
الإنسانِ والآلةِ.
لكن هذين العنصرين يحجبان حقيقةً أخرى أكثر تعقيداً، ذلك أنَّ العمل لا يتم فعليّاً إلا في ظروفٍ تتوافق بالضرورة مع سؤالِ (كيف) و (لماذا).
فنحن لا نعمل كيفما اتَّفق حتى لا يصبح العمل مستحيلاً. ولا نعمل بغير سببٍ حتى لا نمارس عملاً عابثاً.
فالعمل لا يمكن إذن أن يتحدَّد خارج خطة تحتوي إضافة إلى عناصره الظاهرة، عنصراً فكرياً مُمَثلاً لمُسَوِّغاته، ولأنماطه التنفيذية التي تلَخِّص كل تقدم اجتماعي وتقني، لمجتمع ما، بما يُميِّزه عن غيره من المجتمعات.
وباعتباره عامل تمييزٍ في المستوى البشريِّ؛ فإنّ عنصر الفكرة ألْهم (ماركس) هذا التأمل الرائع:
((إن ما يميز من الوهلة الأولى أسوأ مهندس معمار عن أمهر نحلة هو أنَّ
যদি তিনি তার সাথে (এক চিন্তাজগত) বহন করে থাকেন, যেমনটি করেছিলেন (রবিনসন ক্রুসো) তার জাহাজ ডুবির পূর্বে।
তবে তার বিমূর্তকরণের মাত্রা এবং তিনি যে সাংস্কৃতিক আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করেন তা যাই হোক না কেন, আপন অস্তিত্বের নিশ্চয়তার স্বার্থে তার কর্মকাণ্ড সর্বদা কিছু মনস্তাত্ত্বিক-শারীরিক বিবর্তনের অধীন থাকে, যেমনটি আমরা মানবীয় কর্মকাণ্ডের অন্যান্য সকল রূপের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করি।
এই কর্মকাণ্ডের সরলতম রূপটি প্রতিফলিত হয় আপন কাজে নিবিষ্ট কারিগরের মাঝে যার হাতে রয়েছে কাঁচি, আপন লাঙলের ওপর ঝুঁকে থাকা কৃষকের মাঝে এবং আপন মারণাস্ত্রে সজ্জিত সৈনিকের মাঝে।
এই সকল পরিস্থিতিতে কাজ—তা কারুশিল্প, কৃষি বা যুদ্ধবিগ্রহ যা-ই হোক না কেন—দুটি দৃশ্যমান উপাদানের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়:
মানুষ এবং যন্ত্র।
কিন্তু এই উপাদানদ্বয় আরও জটিল এক বাস্তবতাকে প্রচ্ছন্ন রাখে; কেননা কাজ প্রকৃতপক্ষে কেবল তখনই সম্পাদিত হয় যখন তা আবশ্যিকভাবে ‘কীভাবে’ এবং ‘কেন’—এই প্রশ্নদ্বয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ পরিস্থিতির অনুকূলে থাকে।
আমরা লক্ষ্যহীনভাবে কাজ করি না যাতে কাজ অসম্ভব হয়ে না পড়ে, আর আমরা কারণহীনভাবেও কাজ করি না যাতে আমরা কোনো নিরর্থক কাজে লিপ্ত না হই।
সুতরাং কাজকে এমন এক পরিকল্পনার বাইরে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয় যা এর দৃশ্যমান উপাদানসমূহ ছাড়াও একটি বুদ্ধিবৃত্তিক উপাদানকে ধারণ করে; যা তার যৌক্তিক ভিত্তি এবং সেই সব প্রায়োগিক পদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করে যা কোনো সমাজের সামাজিক ও কারিগরি উৎকর্ষের সারসংক্ষেপ প্রদান করে এবং তাকে অন্য সমাজ থেকে পৃথক করে।
মানবীয় স্তরে একে একটি স্বাতন্ত্র্যসূচক প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করে চিন্তার এই উপাদানটি (মার্কস)-কে এই চমৎকার অনুধ্যানে অনুপ্রাণিত করেছিল:
((প্রথম দৃষ্টিতে একজন নিকৃষ্টতম স্থপতিকে একজন অতি নিপুণ মৌমাছি থেকে যা পৃথক করে তা হলো এই যে...
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المهندس يبني الخليَّة في رأسه قبل أن يبنيها في القفير، وأن العمل ينتهي إلى نتيجة موجودة مسبقاً فكرياً في خيال العامل)).
هكذا إذن تتضمن عناصر العمل في نهاية التحليل ثلاث فئاتٍ: فئة الأشياء، وفئة الأشخاص، وفئة الأفكار.
وجميع الخصائص الاجتماعيّة والاقتصادية والسياسيّة لعملٍ ما تطْبع بالضرورة في مجموعته الخاصة؛ التي حيكت هن خيوط تلك الفئات الثلاث على الشبكة العامة لكل عمل.
هذه المجموعة تكون بسيطة التركيب في حالة الفرد المنعزل. وهي بالضرورة بسيطة؛ إمّا لنقصٍ في الوسائل (في الأشياء) في حال (روبنسون كروزو)، وإمّا لنقصٍ في الأفكار في حال (حي بن يقظان).
ولكن بمقدار ما يندمج الفرد في المجتمع الذي باشر في تقسيم العمل، فإن العنصر الفكريّ يأخذ شيئاً فشيئاً أهميته. وتبدو هذه الأهمية في عملٍ لابدَّ أن يكون متخصصاً، يحترم القواعد، ويراعي الأصول؛ من أجل اندماجه في العمل الجماعي.
أما الشروط الأخلاقيَّة والتقنيّة لهذا الاندماج فتندرج في سياقاتٍ نفسيَّةٍ جسديَّةٍ لا يتم تمثلها بسهولةٍ، كما لاحظ (روبنسون) عند قيامه بصناعة الطاولة.
والطفلُ إنسان منعزل في طريقه إلى الاندماج، ولابد له أن يمرَّ بهذه السياقات؛ كيما يحقق اندماجه المناسب. وغنيٌّ عن البيان أن العائلة والمدرسة تساعدانه في ذلك.
هذه المساعدة الاجتماعية تستطيع، بل ويجب أن تعمل بطريقةٍ تختصر وتكمِّل عملية اندماج الطفل، فهي لا تستطيع أن تلغيه.
একজন প্রকৌশলী মৌমাছির চাক নির্মাণের পূর্বেই তা নিজের মস্তিস্কে নির্মাণ করেন এবং যেকোনো কাজ এমন এক পরিণতির দিকে ধাবিত হয় যা কর্মীর কল্পনায় বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান থাকে।
সুতরাং, চূড়ান্ত বিশ্লেষণের শেষে কর্মের উপাদানসমূহ তিনটি শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করে: বস্তুগত শ্রেণি, ব্যক্তিবর্গ সংক্রান্ত শ্রেণি এবং চিন্তাধারা সংক্রান্ত শ্রেণি।
যেকোনো কাজের যাবতীয় সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ অপরিহার্যভাবে তার নিজস্ব কাঠামোর ওপর প্রভাব বিস্তার করে; যা প্রতিটি কাজের সাধারণ বিন্যাসে সেই তিনটি শ্রেণির তন্তু দ্বারা বুনন করা হয়।
বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সমন্বয়টি গঠনগতভাবে অত্যন্ত সরল হয়ে থাকে। আর এটি অপরিহার্যভাবেই সরল; হয় তা উপকরণের (বস্তুর) স্বল্পতার কারণে যেমনটি (রবিনসন ক্রুসো)-র ক্ষেত্রে ঘটেছে, অথবা চিন্তাধারার স্বল্পতার কারণে যেমনটি (হাই ইবনে ইয়াকজান)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে।
কিন্তু ব্যক্তি যখন শ্রমবিভাগ চর্চাকারী সমাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করে, তখন বুদ্ধিবৃত্তিক উপাদানটি ক্রমান্বয়ে গুরুত্ব পেতে শুরু করে। এই গুরুত্ব এমন একটি কর্মে প্রকাশিত হয় যাকে অবশ্যই বিশেষায়িত হতে হয়, যা নিয়ম-কানুনকে মান্য করে এবং মূলনীতিসমূহ (الأصول) অনুসরণ করে; যাতে তা সামষ্টিক কর্মে বিলীন হতে পারে।
আর এই সম্মিলনের নৈতিক ও কারিগরি শর্তাবলি এমন কিছু মনোদৈহিক প্রেক্ষাপটের অন্তর্ভুক্ত যা সহজে আয়ত্ত করা যায় না, যেমনটি (রবিনসন) একটি টেবিল তৈরির সময় লক্ষ্য করেছিলেন।
শিশু মূলত একজন বিচ্ছিন্ন মানুষ যে সামাজিক সম্মিলনের পথে অগ্রসরমান, এবং যথাযথ সম্মিলন নিশ্চিত করতে তাকে অবশ্যই এই প্রেক্ষাপটগুলোর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এটা বলাই বাহুল্য যে, পরিবার এবং বিদ্যালয় তাকে এই কাজে সহায়তা করে।
এই সামাজিক সহায়তা শিশুর সম্মিলন প্রক্রিয়াকে সংক্ষিপ্ত ও পরিপূরণ করার পদ্ধতিতে কাজ করতে পারে এবং করা উচিত, তবে তা এই প্রক্রিয়াকে বাতিল করতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فلْنتابع ببساطة خطواته كي ندرك مراحل ذلك الاطراد:
عندما يرى الطفل النور؛ تكون الأشياء والأشخاص والأفكار منتظمةً حوله؛ في ثلاثة عوالم غريبةٍ عنه.
فيده بالنسبة إليه شيءٌ. تُسَلِّيهِ كما يسليه المصباح المتدلِّي فوق سريره. إنّها تدعه يخدش خده، وذلك شيء آخر لم يندمج بعد في ذاته.
غير أنه يبدأ على الأقل يشعر حوله بعالم من الأشياء ممثلاً بيده، بأصابعه، بمصاصته، وبالصباح المتدلي فوق سريره.
في هذه المرحلة، ليس لديه بعدُ أيُّ إدراك لعالم الأشخاص، حيث لا يتعرف على وجه أمِّه التي ليست بالنسبة إليه سوى الثدي الذي يغذّيه، شيء يمكن للرضّاعة أن تَحُلَّ مَحَلَّه بسهولة؛ إذا ما افتقد الأم لحادث سوء. إنه لا يتعرَّف على نفسه ككيان مكتملٍ؛ لأنه ليس لديه بَعْدُ أيُّ إحساس محدَّد عن (أناه).
وشيئاً فشيئاً يكتسب خبرة في عالم الأشياء، فبصره يبدأ يتعرف الوجوه.
إنَّه يعرف وجه أمه أولاً بالطبع، ووجه أبيه، ووجه إخوته وأخواته، وهذه الوجوه جميعها تبدأ في أن تشكل من حوله عالم الأشخاص الغريب.
بيد أنَّ اطمئنَانه إلى هذا العالم لم يأخذ مداه بعد، حتى حين يكون له من العمر ثلاث أو أربع سنوات. ويكفي أن ندعه وحيداً على الرصيف بالقرب من عتبة منزل العائلة؛ لنرى كيف ترتسم في الحال على وجهه علاماتُ كآبة الوحدة التي يشعر بها أمام المارَّة الذين لا يعرفهم.
وحتّى في السنة السادسة؛ يُعَدُّ يومُ دخولِ المدرسة بالنسبة إليه تجربةً قاسية جداً في عالم كل من الأشخاص غريبٍ عنه. وهو لا يندمج إلا تدريجياً، وشيئاً فشيئاً، وتبعاً لنقطة تحددها درجة ألفته الاجتماعية، إذ هذه الدرجة تتفاوت بين
আসুন আমরা সহজভাবে তার পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করি যাতে সেই পর্যায়ক্রমিক ধারার ধাপগুলো অনুধাবন করতে পারি:
যখন একটি শিশু পৃথিবীর আলো দেখে; তখন বস্তুসমূহ, ব্যক্তিবর্গ এবং ধারণাসমূহ তার চারপাশে বিন্যস্ত থাকে; যা তার কাছে তিনটি অপরিচিত জগতের সমতুল্য।
তার কাছে তার নিজস্ব হাতটি একটি বস্তু মাত্র। এটি তাকে বিনোদিত করে যেমনটি তার বিছানার ওপর ঝুলন্ত প্রদীপ তাকে বিনোদিত করে। এটি তাকে নিজের গাল আঁচড়াতে দেয়, যা অন্য একটি বিষয় যা তখনও তার নিজস্ব সত্তার সাথে একীভূত হয়নি।
তবে সে অন্তত তার চারপাশে বস্তুর জগত সম্পর্কে অনুভব করতে শুরু করে যা তার হাত, আঙুলসমূহ, চুষনি এবং বিছানার ওপর ঝুলন্ত প্রদীপের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব লাভ করে।
এই পর্যায়ে, ব্যক্তিবর্গের জগত সম্পর্কে তার কোনো উপলব্ধি থাকে না, যেখানে সে তার মায়ের মুখমণ্ডল চিনতে পারে না, যা তার কাছে কেবল তাকে আহার জোগানো স্তন ছাড়া আর কিছু নয়—এমন একটি বস্তু যার স্থলাভিষিক্ত ফিডার খুব সহজেই হতে পারে; যদি কোনো দুর্ঘটনার কারণে সে মাকে হারায়। সে নিজেকে একটি পূর্ণাঙ্গ সত্তা হিসেবে চিনতে পারে না; কারণ তখনও পর্যন্ত তার নিজের 'অহং' সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট অনুভূতি তৈরি হয় না।
ধীরে ধীরে সে বস্তুর জগত সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করে, ফলে তার দৃষ্টি মুখমণ্ডলসমূহ চিনতে শুরু করে।
সে অবশ্যই প্রথমে তার মায়ের মুখ চেনে, তারপর বাবার মুখ এবং তার ভাই-বোনদের মুখমণ্ডল; আর এই সকল মুখমণ্ডল তার চারপাশে অপরিচিত ব্যক্তিবর্গের জগত গঠন করতে শুরু করে।
তবে এই জগতের প্রতি তার আশ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি তখনও পূর্ণতা পায় না, এমনকি যখন তার বয়স তিন বা চার বছর হয়। তাকে পরিবারের আঙিনার কাছে ফুটপাতে একা রেখে আসাই যথেষ্ট; তখন দেখা যায় অপরিচিত পথচারীদের সামনে তার চেহারায় একাকীত্বের বিষণ্ণতার ছাপ কীভাবে তৎক্ষণাৎ ফুটে ওঠে যা সে অনুভব করে।
এমনকি ষষ্ঠ বছরেও; তার জন্য বিদ্যালয়ে প্রবেশের দিনটি অপরিচিত ব্যক্তিদের জগতে একটি অত্যন্ত কঠিন অভিজ্ঞতা হিসেবে গণ্য হয়। সে কেবল পর্যায়ক্রমে এবং ধীরে ধীরে এতে একীভূত হয়, যা তার সামাজিক সখ্যতার মাত্রার ওপর নির্ভর করে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর অনুসারী হয়; যেহেতু এই মাত্রাটি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুল আফকার ফিল আলামিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الأطفال لأسباب لا يمكن حصرها بأجمعها. ولكن يمكن أن نصنفها ربما وفقاً لنظرية (يونغ) في علم النفس بالنسبة لنموذجيها (1).
فالمنفتح يكْتشف عالم الأشخاص بسرعة أكثر من النموذج المنغلق، وهذا الأخير يكتشف ربما بسرعة أكبر عالم الأفكار، ولكن دون أن يختصر المراحل.
غير أنَّ اكتشاف عالم الأفكار يأتي دائماً بالنسبة لكلا النموذجين بعد اكتشاف عالم الأشخاص.
واطراد اندماج الطفل في المجتمع هو بيولوجي ومنطقي في آن. إنه يشكل على أعمارٍ ثلاثة:
1 - العمر الذي يكتشف فيه تلقائياً عالم الأشياء، وهو يلعب بأصابعه وبمصاصته.
2 - العمر الذي يكتشف فيه تدريجياً عالم الأشخاص، وهو يتعرف فيه على وجه أمه بادئ الأمر.
3 - العمر الذي يكتشف فيه أخيراً عالم الأفكار. وهذا الكشف الأخير هو الذي يهمُّنا أن نتناوله هنا بالتحليل.
إنَّنا نعلم أنّ اكتشاف الأشياء عند الطفل إنما يتم بامتلاكها. والرابطة التي
--------------------------------------------
শিশুদের ক্ষেত্রে এমন অসংখ্য কারণ রয়েছে যা সম্পূর্ণভাবে গণনা করা সম্ভব নয়। তবে সম্ভবত আমরা এগুলোকে মনোবিজ্ঞানে ইউং-এর তত্ত্ব অনুযায়ী তাঁর বর্ণিত দুটি ধরন (১) অনুসারে বিন্যস্ত করতে পারি।
ফলে বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তি অন্তর্মুখী ধরনের তুলনায় অধিক দ্রুততার সাথে মানুষের জগতকে আবিষ্কার করে; আর শেষোক্ত ধরনটি সম্ভবত চিন্তাজগতকে অধিক দ্রুততার সাথে আবিষ্কার করে, তবে বিকাশের পর্যায়গুলোকে সংক্ষিপ্ত না করেই।
তবে চিন্তাজগত আবিষ্কারের বিষয়টি উভয় ধরনের ক্ষেত্রেই সর্বদা মানুষের জগত আবিষ্কারের পরে আসে।
আর সমাজে শিশুর ক্রমাগত সংহতি বা অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি একই সাথে জৈবিক ও যৌক্তিক। এটি তিনটি বয়সের স্তরে বিন্যস্ত হয়:
১ - এমন বয়স যখন সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বস্তুজগতকে আবিষ্কার করে এবং সে তার আঙুল ও চুষনি নিয়ে খেলা করে।
২ - এমন বয়স যখন সে ক্রমান্বয়ে মানুষের জগতকে আবিষ্কার করে এবং শুরুতে সে তার মায়ের চেহারা চিনতে পারে।
৩ - এমন বয়স যখন সে পরিশেষে চিন্তাজগতকে আবিষ্কার করে। এই শেষোক্ত আবিষ্কারটিই আমাদের জন্য এখানে বিশ্লেষণের বিষয়।
আমরা জানি যে, শিশুর নিকট বস্তু আবিষ্কারের বিষয়টি তা আয়ত্ত করার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। আর যে বন্ধনটি...
--------------------------------------------