(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: -)
الوجوه والنظائر لأبي هلال العسكري - معتزلي   (أبو هلال العسكري)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الوجوه والنظائر لأبي هلال العسكري (معتزلي)

المؤلف: أبو هلال الحسن بن عبد الله بن سهل بن سعيد بن يحيى بن مهران العسكري (ت نحو 395هـ)

حققه وعلق عليه: محمد عثمان

الناشر: مكتبة الثقافة الدينية، القاهرة

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 512

أعده للشاملة: أبو إبراهيم حسانين

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو الحجة 1432

আবু হিলাল আল-আসকারি রচিত আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর - মুতাজিলি   (আবু হিলাল আল-আসকারি)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন এবং উসূলুত তাফসীর


বই: আবু হিলাল আল-আসকারি রচিত আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর (মুতাজিলি)

লেখক: আবু হিলাল আল-হাসান বিন আব্দুল্লাহ বিন সাহল বিন সাঈদ বিন ইয়াহইয়া বিন মিহরান আল-আসকারি (মৃত্যু আনুমানিক ৩৯৫ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা প্রদান: মুহাম্মদ উসমান

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দীনিয়্যাহ, কায়রো

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১২

আল-শামেলা-এর জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইবরাহিম হাসানাইন

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

আল-শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৯ যিলহজ্জ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم

ـ[الوجوه والنظائر لأبي هلال العسكري (معتزلي)]ـ

المؤلف: أبو هلال الحسن بن عبد الله بن سهل بن سعيد بن يحيى بن مهران العسكري (المتوفى: نحو 395هـ)

الناشر: مكتبة الثقافة الدينية - القاهرة -.

عدد الأجزاء: 1

أعده للشاملة/ أبو إبراهيم حسانين

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

--------------------------------------------

قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة:

يحتوي هذا الكتاب على اعتزاليات كثيرة، تبعا لمذهب المؤلف - غفر الله لنا له - وقد نبَّهنا عليها في مواضعها. فتأمَّلها.

كما توجد بالكتاب تصحيفات وأخطاء فاقت الحصر، تم تصويبها إلا مواضع يسيرة حال بيننا وبين تصويبها وجازة العبارة، وللأسف لم أجد أي جهد يذكر لمحقق الكتاب - سامحه الله - ولم يردَّ على شيء من اعتزاليات المؤلف.

والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات

اهـ (مصحح النسخة الإلكترونية)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

—[আবু হিলাল আল-আসকারি (মুতাজিলি) রচিত আল-উজুহ ওয়া আন-নাজাইর]—

লেখক: আবু হিলাল আল-হাসান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাহল ইবনে সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মিহরান আল-আসকারি (মৃত্যু: প্রায় ৩৯৫ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দিনিইয়াহ - কায়রো -।

খণ্ড সংখ্যা: ১

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন/ আবু ইব্রাহিম হাসানাইন

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

--------------------------------------------

শামেলার জন্য কিতাবটি প্রস্তুতকারী বলেছেন:

এই বইটিতে লেখকের মাযহাব অনুযায়ী অনেক মুতাজিলি চিন্তাধারা রয়েছে - আল্লাহ আমাদের এবং তাকে ক্ষমা করুন - আমরা নির্দিষ্ট স্থানে সেগুলো সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি। সুতরাং সেগুলো লক্ষ্য করুন।

এছাড়াও বইটিতে অসংখ্য বানান ভুল ও ত্রুটি ছিল যা গণনা করা কঠিন, সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে কেবল অল্প কিছু স্থান ছাড়া, যেখানে বাক্যের সংক্ষিপ্ততার কারণে আমরা তা সংশোধন করতে পারিনি। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, বইটির সম্পাদকের (মুহাক্কিক) কোনো উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা আমি খুঁজে পাইনি - আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন - এবং তিনি লেখকের মুতাজিলি মতবাদগুলোর কোনো প্রত্যুত্তর দেননি।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।

সমাপ্ত (ইলেকট্রনিক সংস্করণের সংশোধক)
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌مقدة المصنف.

بسم الله الرحمن الرحيم

وبهِ أسْتعينُ، وعَلَيه أتوكلُ

الحمدُ للَّه ذي النعمِ الجليلةِ والمِنَنِ الجزيلةِ، الداعي إلى الرشادِ، والهادِي إلى السدادِ، ذي الفَضْلِ الجسيمِ والإحسانِ العميمِ، الشاملِ لطفُه، الكريمِ عطفُه، الغالبِ سلطانُه، الواضحِ برهانُه، المتم نورَه: (وَلَو كرِه الْكافِرُونَ)، المعلي دينه ولو رغم المنافقون.

وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، الذي له الأسماء الحسنى والصفات العلى، وبيده الآخرة والأولى، وما عنده خير وأبقى، لا يجلب الخير إلا بمعوته، ولا يدفع الضر إلا بمغوثته.

وأشهد أن محمدا عبده المجتبى ورسوله المرتضى، صلى الله عليه وعلى آله الذين اصطفى، وبعد،

فإنك - سددك الله - ذكرت أنك طالعت الكتب المصنفة في الوجوه والنظائر من كتاب الله جل ثناؤه، فوجدت فيها تأويلات تطرد على أصول أهل الحق من القائلين بالتوحيد والعدل.

فأردت أن يرد كل شيء منها إلى حقه، وألفيت في معانيها ما يدخل بعضه في بعض، فالتمست إيراد كل نوع منها على وجهه، وترخيت أن يكون ما تفرق منها مجموعا في كتاب واحد على وجه يقرب استخراج ما يراد منه عند الحاجة إليه، ويزاد عليه ما كان من جنه مما لم تتكلم فيه السلف.

فعملت كتابي هذا مشتملا على أنواع هذا الفن، محمولا على ما طلبت، ومسلوكا به طريق ما سألت، قد نفي اللبس عن جميعه، ويبين الصواب في صنوفه، وميزت وجوهه تمييزا صحيحا، وقسمت أبوابه تقسيما مليحا.

وذكر أصل كل كلمة منه واشتقاقها في العربية؛ لتكثر فائدتك به، ونظم على نسق حروف المعجم؛ ليتيسر الوصول إلى المطلوب من أنواعه، ويتسهل نيل ما ينبغي من أصنافه.
গ্রন্থকারের ভূমিকা.

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই ওপর ভরসা করছি।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সুমহান নিয়ামত ও প্রচুর অনুগ্রহের অধিকারী; যিনি সত্যপথের দিকে আহ্বানকারী এবং সঠিক ও সুদৃঢ় পথের দিশারী। তিনি সুমহান করুণা ও ব্যাপক অনুগ্রহের অধিকারী; যাঁর দয়া সর্বব্যাপী এবং যাঁর মমতা অতীব মহান। যাঁর কর্তৃত্ব পরাক্রমশালী এবং যাঁর প্রমাণ সুস্পষ্ট। যিনি তাঁর নূরকে পূর্ণতা দানকারী: (যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে), এবং যিনি তাঁর দ্বীনকে সমুন্নতকারী, যদিও মুনাফিকরা তা ঘৃণা করে।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; যাঁর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলি। আল্লাহর হাতেই রয়েছে পরকাল ও ইহকাল, আর তাঁর কাছে যা আছে তা-ই সর্বোত্তম ও চিরস্থায়ী। তাঁর সাহায্য ব্যতীত কোনো কল্যাণ অর্জিত হয় না এবং তাঁর সাহায্য ব্যতীত কোনো অনিষ্ট দূর হয় না।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর মনোনীত বান্দা ও পছন্দনীয় রাসুল। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর সেই পরিবারের ওপর যাদের আল্লাহ মনোনীত করেছেন। অতঃপর,

নিশ্চয়ই আপনি — আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথে রাখুন — উল্লেখ করেছেন যে, আপনি মহান আল্লাহর কিতাব থেকে 'উজুহ ও নাযাইর' (শব্দার্থ ও অনুষঙ্গ) বিষয়ে রচিত কিতাবসমূহ পাঠ করেছেন। ফলে আপনি তাতে এমন কিছু ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছেন যা তাওহিদ ও ন্যায়ের প্রবক্তা সত্যপন্থীদের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তাই আপনি চেয়েছেন যেন এগুলোর প্রত্যেকটি তার সঠিক হকের দিকে ফিরিয়ে আনা হয়। আপনি এগুলোর অর্থের মধ্যে একটির সাথে অন্যটির অনুপ্রবেশ বা সংমিশ্রণ লক্ষ্য করেছেন; তাই আপনি এগুলোর প্রতিটি প্রকারকে তার যথাযথরূপে উপস্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছেন। আপনি আশা করেছেন যে, বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো যেন একটি কিতাবে এমনভাবে একত্রিত করা হয় যা প্রয়োজনের সময় কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পাওয়া সহজ করে দেবে এবং এর সাথে এমন সব আনুষঙ্গিক বিষয় যোগ করা হবে যা নিয়ে পূর্বসূরিগণ (সালাফ) আলোচনা করেননি।

অতএব, আমি আমার এই কিতাবটি এই শিল্পের বিভিন্ন প্রকারের ওপর ভিত্তি করে আপনার চাহিদা অনুযায়ী এবং আপনার জিজ্ঞাসিত পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রণয়ন করেছি। এর সমস্ত অংশ থেকে অস্পষ্টতা দূর করা হয়েছে এবং এর বিভিন্ন প্রকারে সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। আমি এর দিকগুলোকে সঠিকভাবে পৃথক করেছি এবং এর অধ্যায়গুলোকে চমৎকারভাবে বিন্যস্ত করেছি।

এতে প্রতিটি শব্দের মূল এবং আরবি ভাষায় এর ব্যুৎপত্তি উল্লেখ করা হয়েছে; যাতে আপনার উপকার বৃদ্ধি পায়। আর এটি অভিধানের বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতিতে সাজানো হয়েছে; যাতে এর বিভিন্ন প্রকার থেকে কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পাওয়া সহজ হয় এবং এর বিভিন্ন শ্রেণী থেকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা সহজতর হয়।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ২৬)
فابتدئ منه بما كان في أوله ألف أصلية أو زائدة، ثم بما كان في أوله باء، ثم كذلك إلى آخر الحروف.

والله المعين على ما فيه رضاه، وهو حسبنا ونعم الحسيب.
অতএব আমি তা থেকে সেই শব্দগুলো দ্বারা শুরু করছি যার শুরুতে মূল অথবা অতিরিক্ত আলিফ রয়েছে, এরপর যার শুরুতে বা রয়েছে, এভাবে বর্ণমালার শেষ পর্যন্ত।

আর আল্লাহ তাঁর সন্তুষ্টির কাজে সাহায্যকারী, এবং তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও কতই না উত্তম হিসাবগ্রহণকারী।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الباب الأول

 

في ما جاء من الوجوه والنظائر في أوله ألف
‌‌إمام

قال - الشيخ أبو هلال الحسن بن عبد اللَّه بن هلال رحمه الله:

الإمَام أصله القصد.
প্রথম অধ্যায়

 

যেসকল শব্দের শুরুতে আলিফ রয়েছে এবং যেগুলোর একাধিক অর্থ ও সাদৃশ্য বর্ণিত হয়েছে
ইমাম

শাইখ আবু হিলাল আল-হাসান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হিলাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

ইমাম শব্দের মূল অর্থ হলো সংকল্প বা উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ২৮)
وسمي الإمام إماما؛ لأنك تقصد قصده في أفعاله.

وقيل للخليفة: إمام؛ لأنك تقصد قصد أوامره، أو لأنه يتقدم، فتتبع أثره.

والطريق: إمام؛ لأنه يقصد. وقد أممت، إذا قصدت.

وأصل التيمم: التأمم، وهو تفعل من ذلك. وأمر أمم: قصد، وهو ما بين القريب والبعيد.

وأم الشيء: أصله، ترجع إلى هذا؛ لأن كل من يريد الشيء فإنما يقصد أصله، فيبتدئ به في أكثر الحال.

وأم الدماغ: الجلدة الرقيقة التي تجمعه.

وسميت الأم أما؛ لأن ولدها يتبعها.

وسميت سورة الحمد: أم الكتاب؛ لأنها تتقدم الكتاب، فهو تابع لها كما يتبع الولد أمه.

والإمام في القرآن على أربعة أوجه:

أولها: بمعنى القائد، قال الله تعالى: (إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا)، أي: قائدا في الخير مقتدى بك.
ইমামকে ইমাম বলা হয়; কারণ আপনি তাঁর কার্যাবলিতে তাঁরই অনুসরণ করার সংকল্প করেন।

খলিফাকে ইমাম বলা হয়; কারণ আপনি তাঁর নির্দেশের উদ্দেশ্য পোষণ করেন, অথবা এজন্য যে তিনি অগ্রে থাকেন এবং আপনি তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন।

পথকেও ইমাম বলা হয়; কারণ তাকে লক্ষ্য করা হয়। আর আপনি যখন কোনো সংকল্প করেন, তখন বলা হয় 'আমামতু'।

তায়াম্মুম-এর মূল হলো 'তাআম্মুম', যা এই ধাতু থেকেই উদ্ভূত। আর 'আমাম' বিষয়টি হলো সংকল্প, যা নিকটবর্তী ও দূরবর্তী বিষয়ের মাঝামাঝি।

কোনো বস্তুর 'উম্ম' (মা) হলো তার মূল, যা এই অর্থের দিকেই ফিরে যায়; কারণ যে ব্যক্তি কোনো কিছু চায়, সে মূলত তার মূলটিই সংকল্প করে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা দিয়েই শুরু করে।

মস্তিষ্কের 'উম্ম' হলো সেই পাতলা ঝিল্লি যা তাকে আবৃত করে রাখে।

মাতাকে 'উম্ম' বলা হয়; কারণ তাঁর সন্তান তাঁকে অনুসরণ করে।

সূরা আল-হামদ-কে 'উম্মুল কিতাব' বলা হয়; কারণ এটি কিতাবের অগ্রে অবস্থান করে, ফলে কিতাব এর অনুগামী হয় যেমন সন্তান তার মায়ের অনুগামী হয়।

কুরআনে 'ইমাম' শব্দটি চারটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে:

প্রথমটি: নেতা বা পথপ্রদর্শক অর্থে, মহান আল্লাহ বলেছেন: (আমি আপনাকে মানুষের জন্য ইমাম নিযুক্ত করছি), অর্থাৎ কল্যাণের পথে এমন এক নেতা যাঁকে অনুসরণ করা হবে।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ২৯)
والجعل هاهنا بمعنى القضاء، أي: قاض لك بالتقدم على الناس بالنبوة ليقتدوا بك،: (قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي)، يجوز أن يكون سؤالا: (أن يجعل من ذريته أنبياء، ويجور أن يكون استخبارا، فقال: (قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ)، أيِ: - ينال عهدي المؤمنين من ذريتك دون الظالمين لأنفسهم.

والعهد هاهنا: النبوة والوحي، وقيل: الرحمة، وقيل: الوعد، والأول الوجه.

ْ .. ومثله: (وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا)، أي: الطُف بنا حتى

نصير من التقوى والصلاح بحيث يقتدي بنا المتقون. ويجوز أن يكون المعنى: حتى نكون يوم القيامة في أئمة المتقين نتقدمهم في المضي إلى الجنة ويتبعوننا.

وقال: إماما،، وأراد أئمة، سمَّاهم بالمصدر.

أمَّ يؤم إماما وإمامة، كما تقول: جل جلالا وجلالة، ومثله: الكتاب والكتابة، وقيل: معناه: اجعلنا للمقين بالائتمام بهم، أي: اجعلنا أتباعا لهم.

ونحوه قوله تعالى: (وَمِنْ قَبْلِهِ كِتَابُ مُوسَى إِمَامًا وَرَحْمَةً)،، يعني: التوراة يقتدى بها.

الثاني: الكتاب، قال الله تعالى: (يَوْمَ نَدْعُو كُلَّ أُنَاسٍ بِإِمَامِهِمْ)، أي: بكتابهم الذي فيه أعمالهم. وقيل: بداعيهم الذي دعاهم إلى الهدى أو الضلالة. وقيل بدينهم.

الثالث: قوله تعالى: (وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُبِينٍ)، يعني: اللوح المحفوظ، والشاهد قوله: (وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ)، أي: نكتب ما سلف من أعمالهم، وما أثروه في الدنيا من سنن الخير أو الشر، ثم قال: (وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُبِينٍ) أي: وكتبنا كل شيء في اللوح المحفوظ؛ لتعتبر الملائكة بما يكون من ذلك لأوقاته، لا لمخافة النسيان؛ لأن النسيان لا يجوز على الله.
এখানে 'জাআল' বা নির্ধারণ করা অর্থ হচ্ছে ফয়সালা করা। অর্থাৎ: আপনার জন্য ফয়সালা করা হয়েছে যে আপনি নবুওয়াতের মাধ্যমে মানুষের অগ্রবর্তী হবেন যাতে তারা আপনাকে অনুসরণ করে। তিনি বললেন: (এবং আমার বংশধরদের থেকেও কি?), এটি একটি প্রার্থনা হতে পারে: (যাতে তিনি তাঁর বংশধরদের মধ্য থেকে নবী বানান), আবার এটি সংবাদ তলব করাও হতে পারে। এরপর তিনি বললেন: (আমার অঙ্গীকার জালিমদের নিকট পৌঁছাবে না)। অর্থাৎ: আপনার বংশধরদের মধ্য থেকে যারা মুমিন তারা আমার অঙ্গীকার লাভ করবে, কিন্তু যারা নিজেদের প্রতি জুলুমকারী তারা নয়।

এখানে 'আহদ' বা অঙ্গীকার বলতে নবুওয়াত ও ওহী বোঝানো হয়েছে। কারো মতে এটি রহমত, আবার কারো মতে এটি প্রতিশ্রুতি। তবে প্রথম মতটিই প্রধান।

অনুরূপভাবে আল্লাহর বাণী: (আর আমাদের মুত্তাকীদের জন্য ইমাম বানিয়ে দিন)। অর্থাৎ: আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন যাতে আমরা তাকওয়া ও নেক আমলের এমন স্তরে পৌঁছাতে পারি যে মুত্তাকীরা আমাদের অনুসরণ করবে। এর অর্থ ইহাও হতে পারে: যেন আমরা কিয়ামতের দিন মুত্তাকীদের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি, জান্নাতের পথে যাত্রায় আমরা তাদের অগ্রগামী হব এবং তারা আমাদের অনুসরণ করবে।

তিনি বলেছেন: ইমামান (একবচন), অথচ তিনি 'আইম্মাহ' (বহুবচন) উদ্দেশ্য করেছেন; তিনি তাদের মাসদার বা ক্রিয়ামূলের মাধ্যমে নামকরণ করেছেন।

আম্মা-ইয়াউম্মু থেকে ইমামান ও ইমামাতান মাসদার গঠিত হয়, যেমন আপনি বলে থাকেন: জাল্লা জালালান ও জালালাতান। এর অনুরূপ হলো: কিতাব ও কিতাবাত। আবার কেউ বলেছেন এর অর্থ হলো: আমাদের মুত্তাকীদের অনুসারী করে দিন, অর্থাৎ আমাদের তাদের অনুগামী বানান।

এর অনুরূপ মহান আল্লাহর বাণী: (এর আগে ছিল মূসার কিতাব পথপ্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ)। অর্থাৎ: তাওরাত, যা অনুসরণ করা হয়।

দ্বিতীয় অর্থ: কিতাব বা আমলনামা। আল্লাহ তাআলা বলেন: (স্মরণ করো সেই দিনকে, যখন আমি প্রত্যেক দলকে তাদের ইমামসহ আহ্বান করব)। অর্থাৎ: তাদের সেই কিতাব বা আমলনামাসহ যাতে তাদের কর্মকাণ্ড লিপিবদ্ধ আছে। কারো মতে এর অর্থ: তাদের সেই আহ্বানকারীর সাথে যে তাদের হিদায়াত বা গোমরাহীর দিকে ডেকেছিল। আবার কারো মতে: তাদের দ্বীন বা ধর্মের সাথে।

তৃতীয় অর্থ: মহান আল্লাহর বাণী: (আর আমি প্রত্যেকটি বিষয় এক স্পষ্ট ইমামে সংরক্ষিত রেখেছি)। অর্থাৎ: লাওহে মাহফুজ। এর প্রমাণ হলো আল্লাহর বাণী: (আমি লিখে রাখি যা তারা অগ্রে প্রেরণ করে এবং তাদের পদচিহ্নসমূহ)। অর্থাৎ: আমি তাদের অতীতের আমলসমূহ লিখে রাখি এবং তারা দুনিয়াতে কল্যাণ বা অকল্যাণের যে আদর্শ বা চিহ্ন রেখে যায় তাও লিখে রাখি। এরপর তিনি বলেছেন: (আর আমি প্রত্যেকটি বিষয় এক স্পষ্ট ইমামে সংরক্ষিত রেখেছি) অর্থাৎ: আমি সবকিছু লাওহে মাহফুজে লিখে রেখেছি; যেন ফেরেশতারা নির্দিষ্ট সময়ে যা ঘটবে তা থেকে শিক্ষা নিতে পারে। এটি ভুলে যাওয়ার ভয়ে নয়; কারণ আল্লাহর ক্ষেত্রে বিস্মৃতি বা ভুলে যাওয়া অসম্ভব।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৩০)
الرابع: الطريق، قال الله تعالى: (وَإِنَّهُمَا لَبِإِمَامٍ مُبِينٍ). أي: بطريق واضح تمرون عليها في أسفاركم، يعني: القريتين المهلكتين؛ قرية قوم - لوط وأصحاب الأيكة.
চতুর্থত: পথ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (এবং নিশ্চয়ই তারা উভয়ই সুস্পষ্ট জনপথের ওপর অবস্থিত)। অর্থাৎ: এমন এক সুস্পষ্ট পথে যার ওপর দিয়ে তোমরা তোমাদের ভ্রমণের সময় অতিক্রম করো। অর্থাৎ: ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদদ্বয়; লূত-এর কওম এবং আইকার অধিবাসীদের জনপদ।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الأمة

راجعة إلى القصد، وهي: الجماعة التي تقصد الأمر بتضافر وتعاون. وقولنا: أمة محمد صلى الله عليه وسلم، معناه: الجماعة القاصدة لتصديقه، المتفقة في أصول دينه، وإن اختلفت في الفروع.

ويجوز أن يكون أصل الكلمة الجمع. فقيل للرجل: (أمة؛ لأنه يسد مسد الجماعة.

والإمام: إمام؛ لاجتماع القوم عليه. والأم؛ لجمعها أمر الولد.

- والأمة: الدهر؛ لأنَّهَا جماعة شهور وأعوام، وهو قوله: (وَادَّكَرَ بَعْدَ أُمَّةٍ). وقيل: يريد بعد حين أمة فحذف.

وأمه: إذا قصد الاجتماع معه. وفلان حسن الأمة، أي: القامة؛ وذلك لاجتماع خلقه عل الاستواء.

والأمي: قيل: عن الأمة الجماعة، أي: على أصل ما عليه الأمة، وقيل: هو من الأم. وهي في القرآن على عشرة أوجه:
উম্মাহ

এটি সংকল্প বা উদ্দেশ্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আর তা হলো: এমন একটি জনসমষ্টি যারা পারস্পরিক সংহতি ও সহযোগিতার মাধ্যমে কোনো বিষয়ের সংকল্প করে। আমাদের কথা: ‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মাহ’—এর অর্থ হলো: সেই জনসমষ্টি যারা তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করার সংকল্প করেছে এবং তাঁর দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলোতে একমত হয়েছে, যদিও শাখা-প্রশাখা বা গৌণ বিষয়গুলোতে তাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে।

এটিও সম্ভব যে শব্দটির মূল উৎস হলো একত্রিত হওয়া। কোনো ব্যক্তিকে ‘উম্মাহ’ বলা হয়; কারণ সে একাই একটি জনসমষ্টির স্থলাভিষিক্ত হয়।

আর ইমামকে ইমাম বলা হয় তার ওপর মানুষের একত্রিত হওয়ার কারণে। আর মাকে মা বলা হয় সন্তানের সকল বিষয়কে নিজের মাঝে একত্রিত করার কারণে।

—আর উম্মাহর অর্থ সময় বা কাল; কারণ এটি মাস ও বছরগুলোর সমষ্টি। আর এটিই হলো মহান আল্লাহর বাণী: (এবং এক দীর্ঘকাল পর তার স্মরণ হলো)। বলা হয়েছে: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এক সময়কাল অতিবাহিত হওয়ার পর, তাই এখানে সময় শব্দটি উহ্য রাখা হয়েছে।

তাকে লক্ষ্য করে যাত্রা করল: যখন সে তার সাথে একত্রিত হওয়ার সংকল্প করল। আর অমুক ব্যক্তি সুন্দর দৈহিক গঠনসম্পন্ন; আর তা হলো তার দৈহিক গঠন সুসামঞ্জস্যপূর্ণ ও সোজা হওয়ার কারণে।

আর উম্মি: বলা হয়েছে এটি উম্মাহ বা জনসমষ্টি থেকে এসেছে, অর্থাৎ উম্মাহর আদি ও মূল অবস্থার ওপর বহাল থাকা। আবার বলা হয়েছে এটি মা থেকে এসেছে। পবিত্র কুরআনে উম্মাহ শব্দটি দশটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৩২)
أولها؛ الجماعة، قال الله تعالى: (وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ)، أي: جماعة، ومثله: (تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ)، وقوْله تعالى: (أُمَّةٌ قَائِمَةٌ)، وقوله: (مِنْهُمْ أُمَّةٌ مُقْتَصِدَةٌ)، وقوله: (وَمِنْ قَوْمِ مُوسَى أُمَّةٌ).

الثاني: الملة، قال الله تعالى: (كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً).

يعني: (أهل أمة واحدة، أي: ملة؛ فحذف لبيان المعنى، كما قال: (وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ).

وسُمِّيتْ الملة أمة؛ لاجتماع أهلها عليها، ويجوز أن يقال: إنها سميت أمة؛ لأنَّهَا تقصد وتتبع.

والمراد أن الناس كانوا على الكفر فيما بين آدم ونوح، أو ما بين نوح وإبراهيم، فبعث الله النبيين عليهم السلام بالأوامر والنواهي والبشارات والزواجر،: (وَأَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ): - الذي فيه الحق؛ لكون فصلا بين المختلفين بما فيه من التمييز بين الصواب والخطأ، وهو مثل قولك: ذهب به، وخرج به، وما أشبهه.
এর প্রথমটি হলো; জামাত (দল), মহান আল্লাহ বলেছেন: "এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে আপনার অনুগত একদল (উম্মত) তৈরি করুন", অর্থাৎ: জামাত। এর অনুরূপ হলো: "তারা এমন এক দল যারা অতিবাহিত হয়ে গেছে", এবং মহান আল্লাহর বাণী: "একটি সুপ্রতিষ্ঠিত দল", এবং তাঁর বাণী: "তাদের মধ্যে একদল পরিমিতিবোধ সম্পন্ন", এবং তাঁর বাণী: "মুসার সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি দল রয়েছে।"

দ্বিতীয়টি: মিল্লাত (ধর্মাদর্শ), মহান আল্লাহ বলেছেন: "মানুষ ছিল একই উম্মাহভুক্ত (একই ধর্মাদর্শের অনুসারী)।"

অর্থাৎ: (এক উম্মতের অন্তর্ভুক্ত লোক, তথা: মিল্লাত; এখানে অর্থ স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে কিছু অংশ উহ্য রাখা হয়েছে, যেমনটি তিনি বলেছেন: "এবং জনপদকে (বাসিন্দাদের) জিজ্ঞেস করুন।")

আর মিল্লাতকে উম্মত বলা হয়েছে কারণ এর অনুসারীরা এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়। আবার এমনটিও বলা যেতে পারে যে, একে উম্মত বলা হয়েছে কারণ এটি অনুসরণীয় এবং মানুষ এর দিকেই ধাবিত হয়।

আর এর উদ্দেশ্য হলো আদম ও নূহের মধ্যবর্তী সময়ে, অথবা নূহ ও ইব্রাহীমের মধ্যবর্তী সময়ে মানুষ কুফরির ওপর লিপ্ত ছিল। অতঃপর আল্লাহ নবীগণকে (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) আদেশ, নিষেধ, সুসংবাদ এবং সতর্কবাণী প্রদানপূর্বক প্রেরণ করেন: "এবং তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব নাজিল করেছেন" - যাতে সত্য রয়েছে; যা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্যের মাধ্যমে বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে ফয়সালা করে দেয়। এটি অনেকটা আপনার এই কথার মতো: "সে তাকে নিয়ে গেল", "সে তাকে নিয়ে বের হলো" এবং এর সদৃশ শব্দসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الثالث: أهل الإسلام بعينه، قال الله تعالى: (وَمَا كَانَ النَّاسُ إِلَّا أُمَّةً وَاحِدَةً فَاخْتَلَفُوا)، يعني:. حالهم على عهد آدم، وما كانوا عليه في سفية نوح. ومثله: (وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً)، ومثله في المائدة، أي: لو شاء الله لجعلكم متفقين على الإسلام قهرا، كما قال تعالى: (فَظَلَّتْ أَعْنَاقُهُمْ لَهَا خَاضِعِينَ).

الرابع: قوله: (إِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً). أي: ملتكم، فهي هاهنا الملة بعينها، وفي الأول: الجماعة المتفقة على الملة الواحدة كما بينا.

قال الزجاج: (إِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً): (أُمَّتُكُمْ)، رفع؛ لأنه خبر هذه، المعنى: (أن هذه أمتكم في حال اجتماعها على الحق، فإذا افترقت فليس من خالف الحق داخلا فيها، فنصب: (أُمَّةً وَاحِدَةً) على الحال.

وقرئ: (أمة واحدة) على أنها خبر بعد خبر، ومعناه: إن هذه أمة واحدة [ليست أمما]، ويجوز أن يكون نصب: (أمتكُم)، على التوكيد كأنه قال: إن أمتكم كلها أمة واحدة.

الخامس: قوله تعالى: (وَلَئِنْ أَخَّرْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ إِلَى أُمَّةٍ مَعْدُودَةٍ). يعني: سنين.

ومثله قوله تعالى: (وَادَّكَرَ بَعْدَ أُمَّةٍ). أي: بعد حين ..

وسمي الحين أمة؛ لأنه جماعة أوقات وشهور. وقيل: هو على حذف: (أي: بعد حين أمة، أي: جماعة.
তৃতীয়ত: নির্দিষ্টভাবে ইসলামের অনুসারীগণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "মানুষ তো কেবল একই জাতি ছিল, অতঃপর তারা বিভেদ সৃষ্টি করল।" অর্থাৎ: আদম (আ.)-এর আমলের অবস্থা এবং নূহ (আ.)-এর নৌকায় তারা যে অবস্থার ওপর ছিল। এর অনুরূপ হলো: "যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তিনি তোমাদের সবাইকে একই জাতিভুক্ত করতেন।" সূূরা আল-মায়িদাহতেও অনুরূপ রয়েছে। অর্থাৎ: আল্লাহ যদি চাইতেন তবে তিনি জোরপূর্বক তোমাদের সবাইকে ইসলামের ওপর ঐক্যবদ্ধ করে দিতেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "ফলে তাদের ঘাড়সমূহ তার প্রতি অবনত হয়ে যেত।"

চতুর্থত: তাঁর বাণী: "নিশ্চয় তোমাদের এই জাতি তো একই জাতি।" অর্থাৎ: তোমাদের দ্বীন বা আদর্শ। সুতরাং এখানে 'উম্মাহ' দ্বারা হুবহু 'মিল্লাত' বা দ্বীন উদ্দেশ্য। আর প্রথমটিতে ছিল: একক দ্বীনের ওপর ঐক্যবদ্ধ একদল মানুষ, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি।

আয-যাজ্জাজ বলেছেন: "নিশ্চয় তোমাদের এই জাতি তো একই জাতি": এখানে 'উম্মাতুকুম' শব্দটি রাফ' অবস্থায় রয়েছে; কারণ এটি 'হাযিহি'-এর খবর। এর অর্থ হলো: নিশ্চয় এটি তোমাদের জাতি সত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ থাকা অবস্থায়, সুতরাং যখন তারা বিভক্ত হয়ে গেল, তখন সত্যের বিরোধীরা এর অন্তর্ভুক্ত থাকল না। ফলে 'উম্মাতান ওয়াহিদাতান' শব্দটি 'হাল' (অবস্থা) হিসেবে নসব প্রাপ্ত হয়েছে।

আর 'উম্মাতুন ওয়াহিদাতুন' (পেশ দিয়ে) কিরাত হিসেবেও পড়া হয়েছে খবরের পর খবর হিসেবে। এর অর্থ হলো: নিশ্চয় এটি এক জাতি [বহু জাতি নয়]। আর 'উম্মাতাকুম' নসব দিয়ে পড়া জায়েজ রয়েছে তাকিদ হিসেবে, যেন তিনি বলেছেন: নিশ্চয় তোমাদের পুরো জাতিই এক জাতি।

পঞ্চমত: আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর যদি আমি তাদের থেকে আজাব এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পিছিয়ে দেই।" অর্থাৎ: কতগুলো বছর।

এর অনুরূপ আল্লাহ তাআলার বাণী: "এবং এক দীর্ঘকাল পরে সে স্মরণ করল।" অর্থাৎ: এক দীর্ঘ সময় পর...

আর সময় বা কালকে 'উম্মত' নামে অভিহিত করা হয়েছে; কারণ তা অনেক মুহূর্ত ও মাসের সমষ্টি। বলা হয়ে থাকে যে, এখানে কিছু শব্দ ঊহ্য রয়েছে, অর্থাৎ: 'উম্মত' বিশিষ্ট সময়ের পর, অর্থাৎ এক সমষ্টির পর।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقرئ: بعد أمه، أي: بعد نسيان. وقيل: (إِلَى أُمَّةٍ مَعْدُودَةٍ)، أي: جماعة معدودة، بأنه ليس فيها من يؤمن، فإذا صارت كذلك أهلكت بالعذاب.

السادس: قوله ئعالى: (أَنْ تَكُونَ أُمَّةٌ هِيَ أَرْبَى مِنْ أُمَّةٍ)، يعني: قوما يكونون أربى من قوم؛ أيْ: (أكثر عددا، ومنه الربا؛ لأنه زيادة في أصل المال.

ومثله (وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا). أراد أنه جعل لكل أمة من الأمم التي خلت فيها الرسل مَنْسَكًا؛ وهو الذبائح التي كان أمرهم أن يتقربوا بها إلى الله - ونتكلم في ذلك فيما بعد إنْ شاء الله - ولم يرد جميع الأمم؛ لأنه لم يجعل للمجوس وعباد الأصنام مناسك.

السابع: الإمام، قال الله تعالى: (إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتًا لِلَّهِ).

أي.: إماما يقتدى به في الخير.

وقيل الأمة الرجل العظيم، وسمي بذلك؛ لأنه يؤم في الحوائج؛ أي: يقصد.
এবং পঠিত হয়েছে: বিস্মৃতির পর, অর্থাৎ: ভুলে যাওয়ার পর। আর বলা হয়েছে: (একটি নির্দিষ্ট সময় বা জাতি পর্যন্ত), অর্থাৎ: একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী; কারণ তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে ঈমান আনবে, তাই যখন তারা এমন অবস্থায় পৌঁছায় তখন তাদের আজাবের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।

ষষ্ঠ: মহান আল্লাহর বাণী: (যাতে এক জাতি অন্য জাতি অপেক্ষা অধিক বর্ধিষ্ণু হয়), অর্থাৎ: এক সম্প্রদায় যারা অন্য সম্প্রদায়ের চেয়ে অধিক বর্ধিষ্ণু হবে; অর্থাৎ: সংখ্যায় অধিক হবে, আর এ থেকেই 'রিবা' (সুদ) শব্দটি এসেছে; কারণ এটি মূল মালের অতিরিক্ত বা বৃদ্ধি।

এবং এর অনুরূপ হলো (আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য ইবাদতের নিয়ম বা কুরবানির বিধান নির্ধারণ করেছি)। তিনি উদ্দেশ্য নিয়েছেন যে, বিগত যেসব উম্মতের নিকট রাসুলগণ প্রেরিত হয়েছিলেন, তাদের প্রত্যেকের জন্য তিনি কুরবানির বিধান নির্ধারণ করেছিলেন; আর তা হলো সেই জবেহকৃত পশু যার মাধ্যমে তাদের আল্লাহর নৈকট্য লাভের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল - ইনশাআল্লাহ আমরা এ বিষয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করব - এবং এখানে সকল উম্মতকে বোঝানো হয়নি; কারণ তিনি অগ্নিপূজক ও মূর্তিপূজকদের জন্য কোনো ইবাদতের বিধান রাখেননি।

সপ্তম: ইমাম বা নেতা, মহান আল্লাহ বলেছেন: (নিশ্চয়ই ইবরাহিম ছিলেন এক উম্মত, আল্লাহর প্রতি অনুগত)।

অর্থাৎ: এমন একজন নেতা বা ইমাম যাঁর কল্যাণের পথে অনুসরণ করা হয়।

আর বলা হয়েছে যে, 'উম্মত' হলেন একজন মহান ব্যক্তি, তাঁকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে তাঁর অভিমুখী হওয়া হয়; অর্থাৎ তাঁর শরণাপন্ন হওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الثامن: أمة كل رسول؛ يعني: من بعث إليه الرسل من أمثال عاد، وثمود، وقوم لوط " وهو قوله تعالى: (مَا تَسْبِقُ مِنْ أُمَّةٍ أَجَلَهَا)؛. يعني: من هذه الأمم لم تبق أجلها في العذاب.

وقوله تعالى: (وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ). يعني: الأمة من هذه الأمم؛ لأن الفرس والسند والهند والزنج أمم ولم يبعث فيها نذير، وإنما كانوا متعبدين بتصديق من بعث في غيرهم من الأنبياء، " على حسب ما يعبدوا بتصديق محمد صلى الله عليه وسلم، ولم يعت فيهم.

التاسع: قوله: (كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ).

يعني: أمة محمد صلى الله عليه وسلم خاصة.

وقوله تعالى: (وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا). أي: عدلا.

وهو من واسطة القلادة، وليس من قولهم: هذا شيء وسط. إذا كان بين العالي والمنحط، ومنه قول النبي صلى الله عليه وسلم: " أنا أوسط قريش نسبا ".

وله وجه آخر: وهو أن الوسط: العدل، وسمي بذلك؛ لأنه بين غلو الغالي وتقصير المقصر.
অষ্টম: প্রত্যেক রাসূলের উম্মত; অর্থাৎ যাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করা হয়েছিল, যেমন আদ, সামুদ এবং লূতের সম্প্রদায়। আর এটি মহান আল্লাহর বাণী: (কোনো উম্মত তার নির্ধারিত সময়ের অগ্রগামী হতে পারে না)। অর্থাৎ: এই উম্মতসমূহের জন্য আযাবের ক্ষেত্রে তাদের নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত কোনো অবকাশ রাখা হয়নি।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: (এবং এমন কোনো উম্মত নেই যার নিকট কোনো সতর্ককারী অতিবাহিত হয়নি)। অর্থাৎ: এই জাতিসমূহের মধ্য থেকে কোনো উম্মত; কারণ পারস্য, সিন্ধু, হিন্দু এবং জাঞ্জ হলো বিভিন্ন উম্মত এবং তাদের নিকট কোনো (স্বতন্ত্র) সতর্ককারী পাঠানো হয়নি, বরং তারা তাদের ছাড়া অন্যদের মাঝে প্রেরিত নবীদের সত্যয়ন করার মাধ্যমে ইবাদত করতে আদিষ্ট ছিল, ঠিক যেভাবে তারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সত্যয়নের মাধ্যমে ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছে, অথচ তিনি তাদের মাঝে প্রেরিত হননি।

নবম: তাঁর বাণী: (তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে)।

অর্থাৎ: বিশেষভাবে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মত।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: (আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক ন্যায়নিষ্ঠ উম্মত বানিয়েছি)। অর্থাৎ: ন্যায়পরায়ণ।

আর এটি কণ্ঠহারের মধ্যমণি (সবচেয়ে মূল্যবান অংশ) থেকে গৃহীত, এটি তাদের এই কথা থেকে নয় যে: "এটি একটি মধ্যম বা সাধারণ মানের বস্তু", যা উচ্চ এবং নিম্নের মাঝামাঝি হয়। আর এ থেকেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "বংশমর্যাদার দিক থেকে আমি কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও অভিজাত।"

এর আরেকটি দিক রয়েছে: আর তা হলো 'ওয়াসাত' অর্থ ন্যায়পরায়ণতা; আর এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি বাড়াবাড়িকারীর অতিরঞ্জন এবং শিথিলকারীর অবহেলার মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ومعنى الآية على هذا: إنكم لم تغلوا في الأنبياء. كغلو النصارى في عيسى، إذ قالوا: إنه إله. ولم تقصروا فيهم تقصير اليهود؛ إذ قالوا: إنه كذاب.

ومن الأول قولهم: فلان وسيط في حسبه، أي: هو الكامل المتناهي.

وفي الآية دليل على أن الأمة لا تجتمع على الباطل.

والوسط بالإسكان: الموضع.

والوسط بالتحريك: ما بين طرفي كل شيء، وأصل الكلمة العدل، فالمكان لا يمتد إلى المسافة إلى أطرافه.

والرجل الأوسط في قومه: الذي تكللُه الشرف من نواحيه.

العاشر: قوله تعالى: (كَذَلِكَ أَرْسَلْنَاكَ فِي أُمَّةٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهَا).

يعنى: الكفار من أمة محمد صلى الله عليه وسلم، وقد تقدم ذكر الأمم والرسل في القرآن، فعطف قوله: (كَذَلِكَ أَرْسَلْنَاكَ). على أولئك الرسل، فكأنه قال: كما أرسلنا إلى أمم رسلا من قبل أرسلناك إلى أمة، يعنى: هذه الأمة، و: (خَلَتْ) أي: مضت ولم تبق منهم باقية.

وفي هذا التزهيد في الدنيا والحث على الاعتبار بمن سلف. ثم قال: (لِتَتْلُوَ عَلَيْهِمُ الَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ). أي: لتتلوه عليهم وتدعوهم إلى العمل به فحذف ذلك.

وقوله: (وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَنِ) موصول بقوله (أَرْسَلْنَاكَ فِي أُمَّةٍ). الكفر بالرحمن دينهم.

والأصل في هذا كله واحد إلا أن موضع الاستعمال يختلف.
এই অনুযায়ী আয়াতের অর্থ হলো: তোমরা নবীদের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করোনি, যেমনটি খ্রিস্টানরা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ব্যাপারে অতিরঞ্জন করেছিল যখন তারা বলেছিল যে তিনি ইলাহ। আর তোমরা তাদের ব্যাপারে ইহুদিদের মতো অবজ্ঞা বা ঘাটতিও করোনি; যখন তারা বলেছিল যে তিনি একজন মিথ্যাবাদী।

আর প্রথমটির (শ্রেষ্ঠত্ব) উদাহরণ হলো আরবদের কথা: অমুক ব্যক্তি তার বংশমর্যাদায় মধ্যম বা শ্রেষ্ঠ, অর্থাৎ: সে পূর্ণতা ও মর্যাদার উচ্চ শিখরে পৌঁছেছে।

আর এই আয়াতে এর দলিল রয়েছে যে, এই উম্মত কখনো ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না।

আর 'ওয়াসত' (সুকুন সহকারে) অর্থ হলো: স্থান।

আর 'ওয়াসাত' (হরকত বা যবর সহকারে) অর্থ হলো: প্রতিটি জিনিসের দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী অংশ। আর এই শব্দের মূল অর্থ হলো ন্যায়পরায়ণতা, কেননা মধ্যবর্তী স্থান তার দুই প্রান্তের দূরত্ব থেকে বিচ্যুত হয় না।

আর নিজ কওমের মধ্যে 'সর্বশ্রেষ্ঠ' ব্যক্তি হলো সেই ব্যক্তি যাকে সবদিক থেকে মর্যাদা বেষ্টন করে রেখেছে।

দশম: মহান আল্লাহর বাণী: (এভাবেই আমি আপনাকে এমন এক উম্মতের নিকট পাঠিয়েছি যার পূর্বে আরও অনেক উম্মত অতিবাহিত হয়েছে)।

অর্থাৎ: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতের মধ্যকার কাফেররা। আর কুরআনে ইতিপূর্বে বিভিন্ন উম্মত ও রাসুলগণের আলোচনা এসেছে, তাই মহান আল্লাহর বাণী: (এভাবেই আমি আপনাকে পাঠিয়েছি) কথাটিকে ঐ সকল রাসুলগণের কাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে। বিষয়টি যেন এমন: যেভাবে আমি ইতিপূর্বে বিভিন্ন উম্মতের নিকট রাসুল পাঠিয়েছিলাম, সেভাবেই আমি আপনাকে এক উম্মতের নিকট পাঠিয়েছি, অর্থাৎ: এই উম্মত। আর 'খালাত' অর্থ: অতিবাহিত হয়েছে এবং তাদের কেউ আর অবশিষ্ট নেই।

আর এর মধ্যে দুনিয়ার প্রতি বিমুখতা এবং পূর্ববর্তীদের অবস্থা থেকে শিক্ষা গ্রহণের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এরপর তিনি বলেছেন: (যাতে আপনি তাদের নিকট তা পাঠ করেন যা আমি আপনার প্রতি ওহী করেছি)। অর্থাৎ: যাতে আপনি তাদের নিকট তা তিলাওয়াত করেন এবং তার ওপর আমল করার দিকে তাদের আহ্বান জানান, তবে পরবর্তী অংশটি উহ্য রাখা হয়েছে।

আর মহান আল্লাহর বাণী: (অথচ তারা পরম করুণাময় রহমানকে অস্বীকার করে) এই অংশটি (আমি আপনাকে এক উম্মতের নিকট পাঠিয়েছি) তাঁর এই বাণীর সাথে সংযুক্ত। পরম করুণাময়কে অস্বীকার করাই তাদের ধর্ম।

আর এই সবকিছুর মূল ভিত্তি এক, তবে ব্যবহারের ক্ষেত্রভেদে এর প্রয়োগ ভিন্ন হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وهاهنا وجه آخر، وهو قوله: (وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ). لما جعلها أمثالهم في الخلق والموت والبعث جعلها أمما.

আর এখানে অন্য একটি দিক রয়েছে, আর তা হলো তাঁর বাণী: (আর জমিনে বিচরণকারী কোনো প্রাণী নেই এবং এমন কোনো পাখি নেই যা তার দুই ডানা দিয়ে ওড়ে, যারা তোমাদের মতো একেকটি জাতি নয়)। যেহেতু তিনি সেগুলোকে সৃষ্টি, মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের ক্ষেত্রে তাদের মতো করেছেন, তাই তিনি সেগুলোকে জাতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌الأخذ

أصله: الجمع، ومنه يقال للموضع الذي مجتمع فيه ماء السماء: الأخذ، والجمع إخاذ، ويقال له؛ وخذ - أيضا، ويقال: ولي على الشام وما أخذ إخذه؛ أي: اجتمع مع أعماله. ومآخذ الطير: مصائدها؛ لأنَّهَا تجتمع فيها، والاتخاذ: أخذ الشيء لأمر يستمر.

واستعمل في القرآن على ستة أوجه:

أولها: القبول، قال اللَّه تعالى: (إِنْ أُوتِيتُمْ هَذَا فَخُذُوهُ). أي: اقبلوه. وقوله: (وَيَأْخُذُ الصَّدَقَاتِ)، أي: يقبلها، ومعنى قبوله لها إثابته عليها. وقوله تعالى: (وَإِنْ تَعْدِلْ كُلَّ عَدْلٍ لَا يُؤْخَذْ مِنْهَا). أي: لا يقبل منها فدية، والعدل: الفدية، وسنذكره إن شاء الله.

ومثله قوله: (خُذِ الْعَفْوَ). أي: اقبل الفضل من أموالهم.
আল-আখয (গ্রহণ করা)

এর মূল অর্থ: একত্রিত করা। এ কারণেই যেখানে বৃষ্টির পানি জমা হয় সেই স্থানকে 'আখয' বলা হয়, যার বহুবচন হলো 'ইখায'। একে 'ওয়াখয'-ও বলা হয়ে থাকে। আরও বলা হয়: "তিনি শাম (সিরিয়া) এবং এর সাথে যা সংশ্লিষ্ট তা গ্রহণ করেছেন"; অর্থাৎ সেটি তার প্রশাসনিক কার্যাবলির সাথে একত্রিত হয়েছে। পাখিদের 'মাআখিজ' বলতে তাদের শিকারের ফাঁদকে বোঝায়; কেননা তারা সেখানে একত্রিত হয়। আর 'ইত্তিখায' হলো কোনো কিছুকে দীর্ঘস্থায়ী কোনো উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা।

কুরআনে এটি ছয়টি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে:

প্রথমটি: কবুল করা বা গ্রহণ করা। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদেরকে যদি এটি দেওয়া হয় তবে তা গ্রহণ করো।" অর্থাৎ: তা কবুল করো। এবং তাঁর বাণী: "আর তিনি সদকা গ্রহণ করেন", অর্থাৎ: তিনি তা কবুল করেন। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সদকা কবুল করার অর্থ হলো এর জন্য সওয়াব বা প্রতিদান প্রদান করা। মহান আল্লাহর বাণী: "আর যদি সে বিনিময়ে সবকিছুই দিতে চায়, তবুও তা থেকে গ্রহণ করা হবে না।" অর্থাৎ: তার পক্ষ থেকে কোনো মুক্তিপণ বা বিনিময় কবুল করা হবে না। এখানে 'আদল' অর্থ হলো মুক্তিপণ বা বিনিময়, যা আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে আলোচনা করব।

অনুরূপ একটি উদাহরণ হলো আল্লাহর বাণী: "আপনি ক্ষমা (বা উদ্বৃত্ত অংশ) গ্রহণ করুন।" অর্থাৎ: তাদের ধন-সম্পদ থেকে যা অতিরিক্ত তা কবুল করুন।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৪০)
قال ابن عبَّاس: العفو ما عفا من أموالهم؛ وهو الفضل منها بعد الكل والعيال، ثم نزلت آية الزكاة، وهو قول مقاتل:

وقال الحسَن ومجاهد: أمر النبي صلى الله عليه وسلم أن نأخذ العفو من أخلاق الناس.

والعفو هو التيسير والتسهيل، والمعنى: استعمال العفو، وقبول ما سهل من الأخلاق، وترك الاستقصاء في المعاملات، وقبول العذر من المذنب، وإلى نحو هذا ذهب أبو علي رضي الله عنه

وقال بعضهم: خذ ما أتاك عفوا من إيمان قومك وغيرهم، وينبغي أن يكون هنا قبل فرض السيف.

وقوله: (وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ). أي: اقبلوه واعملوا به.

الثاني: الحبس، قال اللَّه تعالى: (فَخُذْ أَحَدَنَا مَكَانَهُ). أي: احبس،: (قَالَ مَعَاذَ اللَّهِ أَنْ نَأْخُذَ). أي: نحبس، ومثله: (مَا كَانَ لِيَأْخُذَ أَخَاهُ فِي دِينِ الْمَلِكِ). وذلك أنه إذا حبس فقد حصل محصل الأسير، والأسير، يقال له: الأخيذ.

الثالث: العقاب، قال اللَّه تعالى: (فَأَخَذْتُهُمْ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ). أي: عاقبتهم. وقوله: (وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى). أي: عقابه. وقوله: (فَكُلًّا أَخَذْنَا بِذَنْبِهِ). أي: عاقبنا، وفي هذا دليل على أن من لم يفعل ما وجب عليه فقد فعل ذنبا.

الرابع: القتل، قال الله تعالى: (وَهَمَّتْ كُلُّ أُمَّةٍ بِرَسُولِهِمْ لِيَأْخُذُوهُ). أي: ليقتلوه. كذا قيل، والصواب: ليتمكنوا منه، فإما أن يقتلوه، أو يخرجوه، أو يحبسوه، وذلك أن ما أخذته فقد تمكنت منه.
ইবনে আব্বাস বলেন: উদ্বৃত্ত (আল-আফওয়ু) হলো যা তাদের সম্পদ থেকে অতিরিক্ত থাকে; আর তা হলো নিজের এবং পরিবারের ভরণপোষণের পর অবশিষ্ট অংশ। এরপর যাকাতের আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। এটি মুকাতিলেরও অভিমত:

হাসান ও মুজাহিদ বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন মানুষের আচরণের সহজসাধ্য অংশ গ্রহণ করা হয়।

আর 'আফওয়ু' হলো সহজীকরণ ও সাবলীলতা অবলম্বন করা। এর অর্থ হলো: ক্ষমাশীলতা প্রয়োগ করা, আচরণের যা কিছু সহজসাধ্য তা গ্রহণ করা, লেনদেনের ক্ষেত্রে কঠোর চুলচেরা বিশ্লেষণ বর্জন করা এবং অপরাধীর ওজর (অজুহাত) কবুল করা। আবু আলী (রাদিআল্লাহু আনহু) এর অভিমতও এমনই।

কেউ কেউ বলেন: তোমার সম্প্রদায়ের এবং অন্যদের ঈমানের মধ্য থেকে যা অনায়াসে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসে তা গ্রহণ করো। এটি যুদ্ধের বিধান আবশ্যিক হওয়ার আগের ঘটনা হওয়া সমীচীন।

আর তাঁর বাণী: (আর রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন, তা তোমরা গ্রহণ করো)। অর্থাৎ: তা কবুল করো এবং সে অনুযায়ী আমল করো।

দ্বিতীয়: বন্দি করা (আটক রাখা)। আল্লাহ তাআলা বলেন: (অতএব আমাদের একজনকে তার স্থলে গ্রহণ করুন)। অর্থাৎ: বন্দি রাখুন। (তিনি বললেন: আল্লাহর পানাহ যে আমরা গ্রহণ করব)। অর্থাৎ: বন্দি করব। অনুরূপ আয়াত: (রাজার আইনে তিনি নিজ ভাইকে গ্রহণ করতে পারতেন না)। এর কারণ হলো, যখন কাউকে বন্দি করা হয় তখন সে যুদ্ধবন্দির পর্যায়ভুক্ত হয়; আর যুদ্ধবন্দিকে 'আখীয' বলা হয়।

তৃতীয়: শাস্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন: (অতঃপর আমি তাদের পাকড়াও করলাম, সুতরাং আমার শাস্তি কেমন ছিল!) অর্থাৎ: আমি তাদের শাস্তি প্রদান করেছি। আর তাঁর বাণী: (তোমার রবের পাকড়াও এমনই হয়, যখন তিনি জনপদগুলোকে পাকড়াও করেন)। অর্থাৎ: তাঁর শাস্তি। আর তাঁর বাণী: (আমি প্রত্যেককেই তার পাপের কারণে পাকড়াও করেছি)। অর্থাৎ: আমি শাস্তি দিয়েছি। এর মধ্যে দলিল রয়েছে যে, যে ব্যক্তি তার ওপর ওয়াজিব কাজ সম্পাদন করেনি, সে পাপে লিপ্ত হয়েছে।

চতুর্থ: হত্যা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর প্রত্যেক জাতি তাদের রাসূলকে পাকড়াও করার সংকল্প করেছিল)। অর্থাৎ: তাকে হত্যা করার জন্য। এমনটিই বলা হয়েছে। তবে সঠিক হলো: তাকে বাগে পাওয়ার বা তার ওপর ক্ষমতা লাভ করার জন্য; যাতে হয় তারা তাকে হত্যা করবে, অথবা নির্বাসিত করবে, অথবা বন্দি করবে। কারণ, তুমি যা কিছু পাকড়াও করো, তার ওপরই তুমি ক্ষমতা লাভ করো।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৪১)
الخامس: الأسر، قال الله تعالى: (وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ). أي: أسروهم واحبسوهم عن وجوههم فإن أسلموا وإلا فاقتلوهم، وإنما أمر بقتلهم وأسرهم وحبسهم ليخافوا النكال فيؤمنوا.

والأشهر الحرم في هذه الآية: رجب، وذو القعدة، وذو الحجة، والمحرم؛ فواحد منها فرد، وثلاثة متوالية، وليست هذه الأشهر الأربعة المذكورة في قوله تعالى: (فَسِيحُوا فِي الْأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ). لأن آخر تلك انقضاء عشر من شهر ربيع الأول، وانقضاء الأشهر الحرم انقضاء المحرم والأربعة الأشهر الأولى، وهي أشهر العهد، والكلام في هذا طويل ليس ذا موضع ذكره.

السادس: الإصابة بالمكروه، قال. اللَّه تعالى (فَأَخَذَتْهُمُ الصَّيْحَةُ).

كذا قيل، والصحيح أنه بمعنى الإهلاك؛ أي أهلكتهم هذه الصيحة، ويجوز أن يكون نظير قوله: (فَأَخَذْتُهُمْ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ)؛ لأن الصيحة عقاب.
পঞ্চম: বন্দিকরণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (তাদেরকে ধরো এবং তাদেরকে অবরুদ্ধ করো)। অর্থাৎ: তাদেরকে বন্দি করো এবং তাদের গন্তব্যস্থল থেকে বিরত রাখো; অতঃপর যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে (তবে ভালো), অন্যথায় তাদেরকে হত্যা করো। মূলত তাদেরকে হত্যা করা, বন্দি করা এবং অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা কঠোর শাস্তির ভয়ে ভীত হয়ে ঈমান আনয়ন করে।

এই আয়াতে উল্লিখিত হারাম মাসসমূহ হলো: রজব, যিলকদ, যিলহজ এবং মুহাররম। এর মধ্যে একটি একক এবং তিনটি ধারাবাহিক। এই চারটি মাস আল্লাহ তাআলার সেই বাণীতে উল্লিখিত চার মাস নয় যেখানে বলা হয়েছে: (সুতরাং তোমরা জমিনে চার মাস বিচরণ করো)। কারণ সেই মাসগুলোর সময়সীমা রবিউল আউয়াল মাসের দশ তারিখ অতিবাহিত হওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়, আর হারাম মাসসমূহের সময়সীমা মুহাররম মাস অতিবাহিত হওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়। প্রথমোক্ত চারটি মাস হলো চুক্তির মাস। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা দীর্ঘ, যা এখানে উল্লেখ করার সঠিক স্থান নয়।

ষষ্ঠ: কোনো অনিষ্ট বা বিপদে নিপতিত হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (অতঃপর এক বিকট শব্দ তাদেরকে পাকড়াও করল)।

এমনটি বলা হয়েছে, তবে সঠিক মত হলো এটি বিনাশ করার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ এই বিকট শব্দ তাদেরকে বিনাশ করে দিয়েছে। এটি তাঁর এই বাণীর অনুরূপ হওয়াও সম্ভব: (অতঃপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম, সুতরাং কেমন ছিল আমার শাস্তি?); কারণ বিকট শব্দ হচ্ছে এক প্রকার শাস্তি।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌الاعتداء

أصله تجاوز الحد، ومنه قيل عداء جاوزه إذا جاوز قدره، وسمي العدو عدوا لتجاوز حد السعي والمشي، ويجوز أن يكون أصله من الميل، ومنه قيل: عدوة الوادي وهي جانبه، وفي القرآن: (إِذْ أَنْتُمْ بِالْعُدْوَةِ الدُّنْيَا وَهُمْ بِالْعُدْوَةِ الْقُصْوَى).
সীমালঙ্ঘন

এর মূল অর্থ হলো সীমা অতিক্রম করা। এ থেকেই বলা হয় যে, কোনো কিছু তার মাত্রা অতিক্রম করলে তাকে অতিক্রম করা বলা হয়। আর দ্রুত দৌড়কে এই নামে অভিহিত করা হয় সাধারণ হাঁটা ও চলার গতিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কারণে। এটিও হওয়া সম্ভব যে, এর মূল উৎস হলো পার্শ্ব বা একদিক; এ থেকেই উপত্যকার এক ধার বা পাশকে এই শব্দে ব্যক্ত করা হয়। পবিত্র কুরআনে এসেছে: (যখন তোমরা ছিলে নিকটবর্তী প্রান্তে আর তারা ছিল দূরবর্তী প্রান্তে)।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
ومن ذلك قيل: العلو لميله عمن يعاديه، وسمي الظلم اعتداء؛ لأنه ميل عن الحق، كما سمي جورا؛ لأنه ميل.

وهو في القرآن على وجهين:

أولهما: التجاوز، قال الله تعالى: (تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا). أي: لا تجاوزوها إلى غيرها،: (وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ)، أي: يتجاوزها، ومثله: (وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ).

الثاني: الظلم، قال اللَّه تعالى: (فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ). أي: فمن ظلمكم فجازر. بظلمه، سمي الجزاء على الظلم ظلما.

قال الشاعر:

ألَا لَا يجهَلَن أحَدْعَلينَا … فنجهَلُ فَوقَ جَهلِ الجاهِلِينَا

لم يفتخر هنا الشاعر بالجهل وإنما أراد الجزاء على الجهل.

والجهل هاهنا: ركون الرأس في السر، وليس هو ضد العلم.

وأول الآية: (الشَّهْرُ الْحَرَامُ بِالشَّهْرِ الْحَرَامِ وَالْحُرُمَاتُ قِصَاصٌ).

والمعنى: أن المشركين سألوا النبي صلى الله عليه وسلم عن القتال في الشهر الحرام، فأنزل اللَّه: (يَسْأَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ وَصَدٌّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ).

فأرادوا أن يغزوه في الشهر الحرام طمعا أن تكف عنهم فسألوا منه، فأنزل الله: (الشَّهْرُ الْحَرَامُ بِالشَّهْرِ الْحَرَامِ): إن استحلوا منك في الشهر الحرام شيئا فاستحل منهم مثله فيه، وأكد ذلك بقوله: (وَالْحُرُمَاتُ قِصَاصٌ). أي: لا يجوز ذلك بالمسلمين إلا قصاصا. ثم قال: (فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ). والمعنى: إنهم إن اعتدوا فقاتلوكم في الشهر الحرام فلا تقصروا عن قتالهم فيه، فيكون الاعتداء من المشركين الظلم، ومن المسلمين الانتقام.
এ থেকেই বলা হয়েছে: ‘উলু’ (উদ্ধত হওয়া) বলা হয় শত্রুর প্রতি ঝোঁকের কারণে। আর জুলুমকে ‘ইতিদা’ (সীমালঙ্ঘন) নামকরণ করা হয়েছে; কারণ তা সত্য থেকে বিচ্যুতি বা বিমুখতা, যেমনভাবে একে ‘জাওর’ (অবিচার) বলা হয়; যেহেতু তা সত্যপথ থেকে বিচ্যুতি।

আর কুরআনে এটি দুটি অর্থে এসেছে:

প্রথমটি: অতিক্রম করা বা ছাড়িয়ে যাওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন: (এগুলো আল্লাহর সীমারেখা, সুতরাং তোমরা তা অতিক্রম করো না)। অর্থাৎ: এগুলো ছেড়ে অন্য কিছুর দিকে যেয়ো না। (আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে), অর্থাৎ: তা অতিক্রম করে। এর অনুরূপ হলো: (আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, সে অবশ্যই নিজের ওপর জুলুম করল)।

দ্বিতীয়টি: জুলুম। আল্লাহ তাআলা বলেন: (সুতরাং যে তোমাদের ওপর জুলুম করে, তোমরাও তার ওপর অনুরূপ জুলুম করো)। অর্থাৎ: যে তোমাদের প্রতি অবিচার করে, তাকে তার অবিচারের প্রতিদান দাও। এখানে জুলুমের প্রতিদানকে ‘জুলুম’ (বা ইতিদা) নামকরণ করা হয়েছে।

কবি বলেছেন:

সাবধান! কেউ যেন আমাদের প্রতি মূর্খতা না দেখায় … নতুবা আমরা মূর্খদের মূর্খতার চেয়েও অধিক মূর্খতা প্রদর্শন করব।

এখানে কবি মূর্খতা নিয়ে গর্ব করেননি, বরং তিনি মূর্খতার প্রতিদান দেওয়া বুঝিয়েছেন।

আর এখানে ‘জাহল’ (মূর্খতা) অর্থ হলো গোপনে অন্তরের হঠকারিতা, এটি ইলম বা জ্ঞানের বিপরীত শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি।

আয়াতের শুরুর অংশ হলো: (সম্মানিত মাস সম্মানিত মাসের বিনিময়ে এবং সকল পবিত্র জিনিসের অবমাননার জন্য রয়েছে কিসাস বা অনুরূপ প্রতিশোধ)।

এর অর্থ হলো: মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মানিত মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: (তারা আপনাকে সম্মানিত মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, তাতে যুদ্ধ করা বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে বাধা প্রদান করা...)।

তারা সম্মানিত মাসে আক্রমণ করার ইচ্ছা করেছিল এই আশায় যে, তিনি হয়তো যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবেন, তাই তারা এ বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেছিল। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: (সম্মানিত মাস সম্মানিত মাসের বিনিময়ে): অর্থাৎ যদি তারা সম্মানিত মাসে তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বৈধ মনে করে, তবে তুমিও তাদের বিরুদ্ধে অনুরূপ করা বৈধ মনে করো। আর তিনি এর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এই বাণীর মাধ্যমে: (এবং সকল পবিত্র জিনিসের অবমাননার জন্য কিসাস বা প্রতিশোধ রয়েছে)। অর্থাৎ: মুসলমানদের জন্য প্রতিশোধ গ্রহণ ব্যতীত এটি বৈধ নয়। এরপর তিনি বলেন: (সুতরাং যে তোমাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করে, তোমরাও তার ওপর অনুরূপ সীমালঙ্ঘন করো)। এর অর্থ হলো: তারা যদি সীমালঙ্ঘন করে এবং সম্মানিত মাসে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, তবে তোমরাও তাদের সাথে যুদ্ধ করতে দ্বিধা কোরো না। সুতরাং এক্ষেত্রে মুশরিকদের পক্ষ থেকে সীমালঙ্ঘন হলো জুলুম, আর মুসলমানদের পক্ষ থেকে তা হলো প্রতিশোধ।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وقوله: (فَمَنِ اعْتَدَى بَعْدَ ذَلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ). أي: فمن قَبِل الدية ثم قتل فله العذاب؛ لأنه ظالم. وفي قوله تعالى: (فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ). دليل على أن الحر يقتل بالعبد؛ لأن من قتل وليه فقد اعتدى عليه.

এবং তাঁর বাণী: (অতঃপর এরপরও যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করবে, তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি)। অর্থাৎ: যে ব্যক্তি রক্তপণ গ্রহণ করার পর পুনরায় হত্যা করবে, তার জন্য শাস্তি নির্ধারিত; কারণ সে জালিম। আর মহান আল্লাহর বাণী: (সুতরাং যে তোমাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করবে), এর মধ্যে এই প্রমাণ রয়েছে যে, দাসের বিনিময়ে স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে; কারণ যে ব্যক্তি কারো অধীনস্থ ব্যক্তিকে হত্যা করল, সে মূলত তার ওপরই সীমালঙ্ঘন করল।

(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
‌‌الأمر بالمعروف

يعبر عن كل شيء بالأمر، وأصله في اللغة؛ الظهور، ومنه قيل، للعلامة: أمارة؛ لظهورهما، والإمرة، لظهور أمرها، والأمير ظاهر على ما يعلم، وأمر الشيء إذا كثر، ومع الكثرة ظهور الشأن.

والمعروف كله: ما تقبله النفس وتحبه، والمنكر كل ما تكرهه وترده.

وأصل العرفان والمعروف واحد؛ وهو الطمأنينة والسكون، وذلك أنك إذا عرفت الشيء سكنت إليه إن كان محبوبا، وإن كان مكروها عملت في إزالته لتسكن.

والعرف الريح الطيبة؛ لأن النفس تسكن إليها.

والعرف. الصبر؛ لأنه يعقب ما يسكن معه، ورجل عروف: صبور، والعرف والمعروف سواء، والعرف، عرف الدابة معروف.
সদ্বিষয়ে আদেশ

প্রত্যেক বিষয়কে ‘আমর’ (আদেশ) শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। ভাষাতত্ত্বে এর মূল উৎস হলো— প্রকাশ পাওয়া বা দৃশ্যমান হওয়া। এ কারণেই কোনো চিহ্ন বা আলামতকে ‘আমারা’ বলা হয়; কারণ চিহ্ন এবং চিহ্নিত বিষয় উভয়ই দৃশ্যমান। নেতৃত্ব বা কর্তৃত্বকে ‘ইমরাহ’ বলা হয় এর নির্দেশাবলি প্রকাশ পাওয়ার কারণে। নেতা (আমীর) তার পরিচিত বা নিয়ন্ত্রণাধীন বিষয়ের ওপর প্রকাশ্য ও প্রভাবশালী থাকেন। কোনো বস্তু যখন সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় তখন ‘আমারা’ ক্রিয়ামূল ব্যবহৃত হয়, আর সংখ্যার আধিক্যের সাথে সাথে সেই বিষয়ের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য প্রকাশ পায়।

যাবতীয় ‘মারুফ’ (সদ্বিষয়) হলো তা-ই যা মানুষের আত্মা গ্রহণ করে এবং পছন্দ করে। আর ‘মুনকার’ (অসদ্বিষয়) হলো তা-ই যা আত্মা অপছন্দ করে এবং প্রত্যাখ্যান করে।

পরিচয় (ইরফান) এবং সদ্বিষয় (মারুফ)-এর মূল ভিত্তি একই; আর তা হলো প্রশান্তি ও স্থিরতা। এর কারণ হলো, আপনি যখন কোনো কিছু চিনতে পারেন, তখন তার প্রতি আপনি স্থিরতা অনুভব করেন— যদি তা প্রিয় বস্তু হয়। আর যদি তা অপ্রিয় হয়, তবে আপনি প্রশান্তি লাভের উদ্দেশ্যে তা দূর করতে সচেষ্ট হন।

‘উর্ফ’ অর্থ হলো সুগন্ধি; কারণ আত্মা এতে প্রশান্তি লাভ করে।

‘উর্ফ’ অর্থ ধৈর্যও হয়; কারণ ধৈর্য এমন পরিণাম বয়ে আনে যা মানুষের মাঝে স্থিরতা ও প্রশান্তি তৈরি করে। অত্যন্ত ধৈর্যশীল ব্যক্তিকে ‘আরুফ’ বলা হয়। ‘উর্ফ’ এবং ‘মারুফ’ উভয়ই সমার্থক। এছাড়া পশুর ঘাড়ের কেশরকেও ‘উর্ফ’ বলা হয়— যা সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
وهو في القرآن على وجهين:

الوجه الأول: الأمر بتوحيد اللَّه، [والنهي عن] الشرك، قال الله تعالى: (كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ). جاء في التفسير أنه أراد توحيد الله،: (وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ)،. يعني: الشرك باللَّه، ومثله قوله: (يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ). أي: بتوحيد الله: (وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ) أي: عن الشرك.

الوجه الثاني: قيل: هو اتباع الرسول، قال اللَّه تعالى: (لَيْسُوا سَوَاءً مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ أُمَّةٌ قَائِمَةٌ يَتْلُونَ آيَاتِ اللَّهِ آنَاءَ اللَّيْلِ)، ثم قال: (وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ). أي: باتباع الرسول، (وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ)، أي: عن التكذيب به، هكذا قالوا.

قال أبو هلال رحمه الله: وعندنا أن أحد هذين الوجهين داخل في الآخر، وهما جميعا يكونان الأمر بوجوه المحاسن والطاعات كلها.

والنهي عن المنكر: النهي عن المعاصي والقبائح بيعها.
এটি কুরআনে দুইটি অর্থে এসেছে:

প্রথম অর্থ: আল্লাহর তাওহীদের আদেশ করা এবং শিরক থেকে নিষেধ করা। মহান আল্লাহ বলেন: (তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও)। তাফসীরে এসেছে যে, এর দ্বারা আল্লাহর তাওহীদকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে: (এবং তোমরা অসৎকাজ থেকে নিষেধ করো)। অর্থাৎ: আল্লাহর সাথে শিরক করা। অনুরূপ তাঁর বাণী: (হে বৎস! সালাত কায়েম করো এবং সৎকাজের আদেশ দাও)। অর্থাৎ: আল্লাহর তাওহীদের; (এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করো) অর্থাৎ: শিরক থেকে।

দ্বিতীয় অর্থ: বলা হয়েছে, এটি হলো রাসূলের অনুসরণ। মহান আল্লাহ বলেন: (তারা সবাই সমান নয়; আহলে কিতাবদের মধ্যে একদল নিষ্ঠাবান লোক রয়েছে যারা রাতের গভীরে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে), এরপর তিনি বলেন: (এবং তারা সৎকাজের আদেশ দেয়)। অর্থাৎ: রাসূলের অনুসরণের; (এবং তারা অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে), অর্থাৎ: তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা থেকে; তাঁরা এভাবেই বলেছেন।

আবু হিলাল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমাদের মতে এই দুইটি অর্থের একটি অন্যটির অন্তর্ভুক্ত, আর এই উভয়টিই সকল প্রকার উত্তম কাজ এবং আনুগত্যের নির্দেশের নামান্তর।

এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা হলো: সকল প্রকার পাপাচার ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌أدنى

أفعل، من الدنو وهو القرب، وتأنيث أدنى: دنيا، وتجمع: دنى، مثل: كبرى وكبر، وسميت الدنيا دنيا؛ لأنَّهَا تؤدي إلى آخرة.

وهو في القرآن على أربعة أوجه:

أحدها: بمعنى: (أجدر، قال اللَّه تعالى: (وَأَدْنَى أَلَّا تَرْتَابُوا). أي: أجدر أن لا تشكلوا إذا رأيتم خطوطكم يخاطب الشهود. وقال: (ذَلِكُمْ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ). يعني: الكتب .. وأقسط: (أعدل؛ لأنه أبعد من التظالم وَأَقْوَمُ لِلشَّهَادَةِ؛ يعني: أنها إذا كانت مكتوبة كانت أثبت وأبعد من اعتراض شك فيه؛ لأن صاحبها إذا رأي خطه بها لم يشك في صحتها في أكثر الحال.

- ومثله: (أدنى ألا تَعُولُوا). أي: أجدر ألا تجوروا وتميلوا، والعول: الميل عن الحق، والعول؛ النفقة على العيال، عالهم عولا.

وأول الآية: (وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ)، الآية، والمراد؛ أن أحدهم كان فيما مضى يتزوج عشر نسوة فتعظم المؤونة عليه، فيمد يده إلى مال اليتامى الذي يلي أمرهم وهو مشفق من ذلك، فقيل له: كما خفت على نفسك في أموال اليتامى فخف عليها في حقوق النساء، فإنهن أيضا إلى الضعف والحاجة إلى مالهن، ولا يتزوج منهن أكثر مما يتسع له، ثم قال: (ذَلِكَ أدنى ألا تَعُولُوا). أي: تزوجكم الواحدة أقرب ألا تجوروا.

وقيل: كانوا يتزوجون العشر من اليتامى رغبة في مالهن، فربما عجزوا عن التسوية بينهن في النفقه والفراش، فقال الله: (وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى)
আদনা (সবচেয়ে নিকটবর্তী বা উপযুক্ত)

এটি 'আফআলু' ওযনে 'দুনুও' ধাতু থেকে আগত, যার অর্থ হলো নিকটবর্তী হওয়া। আদনা-এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো 'দুনিয়া' এবং এর বহুবচন হলো 'দুনা', যেমন 'কুবরা' এর বহুবচন 'কুবার'। আর দুনিয়াকে 'দুনিয়া' নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি আখেরাতের দিকে নিয়ে যায়।

পবিত্র কুরআনে এটি চারটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে:

প্রথমটি: 'সবচেয়ে উপযুক্ত' অর্থে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এটি তোমাদের সংশয়ে না পড়ার জন্য অধিকতর উপযুক্ত।" অর্থাৎ: যখন তোমরা তোমাদের দস্তাবেজ বা লেখাগুলো দেখবে, তখন তোমাদের মনে কোনো অস্পষ্টতা তৈরি না হওয়ার জন্য এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি; এখানে সাক্ষীদের সম্বোধন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন: "আল্লাহর নিকট এটি অধিক ন্যায়সঙ্গত।" অর্থাৎ: লিখে রাখা। আর 'আকসাতু' অর্থ: অধিক ন্যায়নিষ্ঠ; কারণ এটি জুলুম থেকে দূরে রাখে এবং "সাক্ষ্যদানের জন্য অধিকতর সুদৃঢ়।" অর্থাৎ: বিষয়গুলো যদি লিখিত থাকে তবে তা অধিক শক্তিশালী হয় এবং কোনো প্রকার সন্দেহের উদ্রেক থেকে দূরে থাকে। কেননা দলিলের মালিক যখন সেখানে নিজের হাতের লেখা দেখে, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটির সঠিকতা নিয়ে তার মনে কোনো সন্দেহ থাকে না।

অনুরূপভাবে: "এটি অধিকতর উপযুক্ত যাতে তোমরা অন্যায় না করো।" অর্থাৎ: যাতে তোমরা জুলুম ও সত্য থেকে বিচ্যুত না হও। আর 'আউল' অর্থ হলো সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়া। আবার 'আউল' অর্থ পরিবারের ভরণপোষণ বহন করা; যেমন: তিনি তাদের ভরণপোষণ প্রদান করেছেন।

আয়াতের প্রথমাংশ হলো: "আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে ইয়াতিমদের প্রতি ইনসাফ করতে পারবে না, তবে তোমাদের পছন্দমতো নারীদের বিয়ে করো..."—আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এর মর্মার্থ হলো: অতীতে তাদের কেউ দশজন স্ত্রী গ্রহণ করত, ফলে তার ওপর সাংসারিক ব্যয়ভার অনেক বেড়ে যেত। তখন সে তার তত্ত্বাবধানে থাকা ইয়াতিমদের সম্পদের দিকে হাত বাড়াত, অথচ সে বিষয়ে সে ছিল শঙ্কিত। এমতাবস্থায় তাকে বলা হলো: যেমন তুমি ইয়াতিমদের সম্পদের ব্যাপারে নিজের নফসের ওপর ভয় পাচ্ছ, তেমনই নারীদের অধিকারের ব্যাপারেও নফসকে ভয় করো। কারণ তারাও দুর্বল এবং তাদের সম্পদের মুখাপেক্ষী। সুতরাং সামর্থ্যের অতিরিক্ত কাউকে যেন বিয়ে না করা হয়। অতঃপর তিনি বললেন: "এটি অধিকতর উপযুক্ত যাতে তোমরা অবিচার না করো।" অর্থাৎ: তোমাদের একজন স্ত্রী গ্রহণ করাটা জুলুম না করার অধিকতর নিকটবর্তী।

বলা হয়ে থাকে: তারা ইয়াতিম মেয়েদের সম্পদের লোভে তাদের দশজনকে বিয়ে করত। ফলে ভরণপোষণ ও শয্যা বণ্টনের ক্ষেত্রে সমতা রক্ষায় তারা অনেক সময় অক্ষম হয়ে পড়ত। তখন আল্লাহ বললেন: "আর যদি তোমরা ইয়াতিমদের প্রতি ইনসাফ করতে না পারার আশঙ্কা করো..."
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
أي: في نكاح اليتامى؛ صنف النكاح ودل عليه بقوله: (فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ). يعني: من هؤلاء اليتامى، ولم يقل: ما طاب لكم منهن؛ لأن لا يظن أن الخطاب مقصور عليهن دون سائر النساء، وأراد أن يبين أن هذا ينبغي أن يستعمل فيهن وفي غيرهن من النساء، وإذا ذكر النساء دخل اليتامى فيهن، وإذا ذكر اليتامى لم يدخل فيه غيرهن.

الثاني: بمعنى: أقرب، قال الله تعالى: (وَلَنُذِيقَنَّهُمْ مِنَ الْعَذَابِ الْأَدْنَى). يعني: الجوع والضر والخوف في الدنيا،: (دُونَ الْعَذَابِ الْأَكْبَرِ) في الآخرة وهي النار. هكذا قالوا.

وهو عندنا بمعنى أيسر؛ لأنه جعله مع كبر، وقوله تعالى: (فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى). أي: أقرب لا غير.

الثالث: بمعنى: أقل؛ قال الله تعالى: (وَلَا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْثَرَ) أي: أقل.

الرابع: بمعنى: أدون، قال الله تعالى: (أَتَسْتَبْدِلُونَ الَّذِي هُوَ أَدْنَى بِالَّذِي هُوَ خَيْرٌ). أي: الأرفع وهو المن والسلوى بالأوضع، هو ما طلبوه من نبات
অর্থাৎ: ইয়াতীমদের বিয়ের বিষয়ে; তিনি বিয়ের প্রকারভেদ করেছেন এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তা নির্দেশ করেছেন: (তবে তোমরা নারীদের মধ্য থেকে যাদের তোমাদের পছন্দ হয়, তাদের বিয়ে করো)। অর্থাৎ: এই ইয়াতীমদের মধ্য থেকে। তিনি ‘তাদের মধ্য থেকে তোমাদের যাদের পছন্দ হয়’ বলেননি; যাতে এই ধারণা না হয় যে, এই সম্বোধন কেবল তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং অন্য নারীদের জন্য নয়। তিনি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, এটি তাদের ক্ষেত্রে এবং অন্য নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যখন ‘নারী’ শব্দ উল্লেখ করা হয়, তখন ইয়াতীমগণও তার অন্তর্ভুক্ত হয়, কিন্তু যখন কেবল ‘ইয়াতীম’ উল্লেখ করা হয়, তখন অন্যরা তার অন্তর্ভুক্ত হয় না।

দ্বিতীয়: ‘নিকটতর’ অর্থে। মহান আল্লাহ বলেছেন: (আমি অবশ্যই তাদেরকে আস্বাদন করাব নিকটতর শাস্তি)। অর্থাৎ: দুনিয়াতে ক্ষুধা, কষ্ট ও ভয়; (মহাতম শাস্তির পূর্বে), যা হলো আখিরাতের আগুন বা জাহান্নাম। তাঁরা এভাবেই বলেছেন।

আর আমাদের নিকট এটি ‘সহজতর’ বা ‘লঘুতর’ অর্থে; কারণ তিনি একে ‘মহাতম’ এর সাথে তুলনা করেছেন। আর মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর তাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব ছিল দুই ধনুকের পরিমাপ কিংবা তার চেয়েও কম)। অর্থাৎ: এখানে ‘নিকটতর’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, অন্য কিছু নয়।

তৃতীয়: ‘অল্পতর’ অর্থে। মহান আল্লাহ বলেছেন: (এর চেয়ে কম হোক কিংবা বেশি)। অর্থাৎ: অল্পতর।

চতুর্থ: ‘নিকৃষ্টতর’ বা ‘নিম্নমানের’ অর্থে। মহান আল্লাহ বলেছেন: (তোমরা কি যা উত্তম তার পরিবর্তে এমন কিছু গ্রহণ করতে চাও যা নিকৃষ্টতর?)। অর্থাৎ: উচ্চমর্যাদাপূর্ণ ‘মান্না ও সালওয়া’র পরিবর্তে নিম্নমানের বস্তু গ্রহণ করা, যা তারা উদ্ভিদজাত সামগ্রীর মধ্য থেকে চেয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৪৯)
الأرض، و: (خَيْرٌ) هاهنا بمعنى أفعل؛ وجعل المن والسلوى أرفع من غيرهما، إذ لم يكن في نيلهما تعب ولا إثم.
জমিন, এবং: (খাইরুন) এখানে অধিকতর শ্রেষ্ঠত্ববোধক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; আর তিনি মান্না ও সালওয়াকে অন্য সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ করেছেন, যেহেতু সেগুলো লাভে কোনো ক্লান্তি বা পাপ ছিল না।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৫০)
‌‌الإسلام

أصله السكون، ومنه قِيل: السلم خلاف الحرب؛ لما فيه من السكون. ثم استعمل في الخضوع، فقيل: أسلم الرجل واستسلم إذا خضع وتواضع؛ لأن مع الخضوع سكون الأطراف، ومنه قوله تعالى: (وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا).
ইসলাম

এর মূল অর্থ হলো স্থিরতা। আর এ কারণেই বলা হয়: শান্তি হলো যুদ্ধের বিপরীত; কারণ শান্তিতে স্থিরতা থাকে। এরপর এটি আনুগত্য ও বিনয় প্রকাশের অর্থে ব্যবহৃত হতে শুরু করে; তাই বলা হয়: কোনো ব্যক্তি যখন অনুগত ও বিনয়ী হয় তখন সে ইসলাম গ্রহণ করেছে বা আত্মসমর্পণ করেছে। কেননা আনুগত্যের সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্থিরতা বজায় থাকে। আর এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: (বরং তোমরা বলো, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি)।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৫১)
ثم استعمل في الإخلاص، فيقال: أسلم الرجل إذا أخلص للَّه، وسلم الغلام في صناعة كذا إذا أخلصه لها، وسلم فلان على فلان كأنَّه عرفه خلوص سريرته، وقد سلم العبد أمره؛ أي -: فوضه إليه وأخلص التوكل فيه عليه.

والسلامة: الخلاص من الشر، وقوله: (أَسْلَمْتُ وَجْهِيَ لِلَّهِ) أي: أخلصت ديني.

ومثله: (وَمَنْ يُسْلِمْ وَجْهَهُ إِلَى اللَّهِ). أي: يخلص دينه له. وهو في القرآن على ثلاثة أوجه:

أولها: الإخلاص، قال الله تعالى (إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ). أي: أخلص: (قَالَ أَسْلَمْتُ). أي: أخلصت.

الثاني: الإقرار، قال الله تعالى: (وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا).

أي: أقر بالعبادة طوعا. باللسان أو كرها؛ لما فيه من الدلالة على صنع الله فيه، على سبيل ما قال الحكماء: كل صامت ناطق. وهذا يقوم مقام الإقرار وإن لم يكن به.

وقال تعالى: (وَكَفَرُوا بَعْدَ إِسْلَامِهِمْ). أي: إقرارهم بالإسلام؛ يعني: المنافقين، فسمى الإقرار إسلاما؛ لأنه من شرائط الإسلام.
অতঃপর এটি ইখলাস বা একনিষ্ঠতার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। বলা হয়: কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে যখন সে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয়। কোনো কিশোর অমুক পেশায় নিজেকে সোপর্দ করেছে বলা হয় যখন সে নিজেকে তার জন্য নিবেদিত করে। অমুক ব্যক্তি অমুককে সালাম দিয়েছে—যেন সে তার অন্তরের পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে অবগত হয়েছে। আর বান্দা তার বিষয়কে সোপর্দ করেছে; অর্থাৎ সে তা আল্লাহর নিকট অর্পণ করেছে এবং তাঁর ওপর ভরসায় একনিষ্ঠ হয়েছে।

সালামাহ বা নিরাপত্তা হলো মন্দ থেকে মুক্তি পাওয়া। আল্লাহর বাণী: ‘আমি আমার সত্তাকে আল্লাহর জন্য সমর্পণ করেছি’ এর অর্থ হলো: আমি আমার দ্বীনকে একনিষ্ঠ করেছি।

অনুরূপভাবে: ‘এবং যে আল্লাহর নিকট নিজেকে সোপর্দ করে’। অর্থাৎ: যে আল্লাহর জন্য তার দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে। কুরআনে এটি তিনটি অর্থে এসেছে:

প্রথমটি: ইখলাস বা একনিষ্ঠতা। মহান আল্লাহ বলেন: ‘যখন তার প্রতিপালক তাকে বললেন, তুমি একনিষ্ঠ হও’। তিনি বললেন: ‘আমি একনিষ্ঠ হলাম’।

দ্বিতীয়টি: ইকরার বা স্বীকৃতি প্রদান। মহান আল্লাহ বলেন: ‘আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তারা স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁরই নিকট আত্মসমর্পণ করেছে’।

অর্থাৎ: তারা স্বেচ্ছায় রসনার সাহায্যে ইবাদতের স্বীকৃতি দিয়েছে অথবা অনিচ্ছায় (স্বীকৃতি দিয়েছে); কারণ এতে তার মধ্যে আল্লাহর কারিগরির প্রমাণ বিদ্যমান। যেমন প্রজ্ঞাবানগণ বলেন: ‘প্রত্যেক নিথর বস্তু কথা বলে’। এটি স্বীকৃতির স্থলাভিষিক্ত হয় যদিও তা সরাসরি মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমে না ঘটে।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: ‘এবং তারা তাদের ইসলাম গ্রহণের পর কুফরি করেছে’। অর্থাৎ: তাদের ইসলামের স্বীকৃতির পর; এখানে মুনাফিকদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এখানে স্বীকৃতিকে ইসলাম নামকরণ করা হয়েছে; কারণ এটি ইসলামের অন্যতম শর্ত।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৫২)
الثالث: الخضوع والاستسلام، قال الله تعالى: (قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا)؛ وخضعنا مخافة السبي والقتل، وهذه الآية خاصة في قوم من الأعراب، وإن كان لفظها عاما فيهم، إذ كان فيهم من أخلص، كما قال: (الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ). وإنما. قال لهم ذلك نفر، وقيل: بل رجل واحد.
তৃতীয়: বিনয় ও আত্মসমর্পণ। মহান আল্লাহ বলেন: (বলো, তোমরা ঈমান আনোনি; বরং বলো, আমরা আত্মসমর্পণ করেছি); অর্থাৎ আমরা বন্দিত্ব ও হত্যার ভয়ে অনুগত হয়েছি। এই আয়াতটি একদল মরুবাসীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট, যদিও এর শব্দপ্রয়োগ তাদের সবার ব্যাপারে ব্যাপক, কারণ তাদের মাঝে এমন লোকও ছিলেন যারা একনিষ্ঠ ছিলেন। যেমন তিনি বলেছেন: (যাদের প্রতি লোকেরা বলেছিল যে, নিশ্চয়ই মানুষেরা তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে)। অথচ তাদের নিকট এই কথাটি একটি ক্ষুদ্র দল বলেছিল, আবার বলা হয়েছে যে বরং মাত্র একজন লোক বলেছিল।
(খণ্ড: ১) আল উজুহু ওয়ান নাযাইর লি আবি হিলালিল আসকারী - মুতাযিলী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌الإيمان

أصل الإيمان السكون والطمانينة، ومن أمنك فقد سكن إليك، ولهذا لا يصح أن يقال: إن الله يأتمن أنبيائه إذ لا يوصف بأنه يسكن إليهم، ولا يوصف الأنبياء بأنهم يأتمنونه، كما لا يوصفون بأنهم يسكنون إليه.

وقوله تعالى: (وَمَا أَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَنَا)، أي: بساكن إلينا.

والمؤمن في أسماء الله بمعنى أنه يؤمن عباده من ظلمه، ويسكن قلوبهم حتى لا يخافوا ذلك منه.

ثم استعمل الإيمان بمعنى التصديق؛ لأنك لا تصدق الرجل إلا وقد سكنت إلى خبره.

ويكون المؤمن في أسماء الله تعالى بمعنى أنه مصدق لأوليائه، وتصديقه لهم تسكين عباده إلى قولهم، ويقال: آمنت لرجل إذا صدقته، ومنه قول الشاعر:

وَمِن قبلُ آمنَّا وَقَد كانَ قو … مُنَا يُصلُّونَ الأَوثَانَ قبلَ مُحَمَّدَا

ويجوز أن يكون معنى قوله: (وَمَا أَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَنَا). أي: بمصدق قولنا.

وقوله تعالى: (آمَنتُمْ لَهُ)، مفارق لقوله: (آمَنتُمْ بِه). معنى: (آمَنتُمْ بِه): صدقتموه. ومعنى: (آمَنتُمْ لَهُ): أظهرتم ما أظهرتموه من عجزكم عن معارضته إعانة له لأمر توافقتم عليه، ولستم تعرفون صدقه.
ঈমান

ঈমানের মূল উৎস হলো স্থৈর্য ও প্রশান্তি। যে ব্যক্তি আপনাকে বিশ্বাস করে, সে আপনার প্রতি আশ্বস্ত হয়েছে। এই কারণেই এটি বলা সঠিক নয় যে, আল্লাহ তাঁর নবীদের বিশ্বাস (ই'তিমান) করেন; কারণ তাঁকে এমনভাবে বিশেষিত করা যায় না যে তিনি তাদের প্রতি আশ্বস্ত হন। আবার নবীদের সম্পর্কেও এটি বলা যায় না যে তাঁরা তাঁকে বিশ্বাস (ই'তিমান) করেন, যেমনটি তাঁদের ক্ষেত্রে এটিও বলা যায় না যে তাঁরা তাঁর প্রতি আশ্বস্ত হন।

আর মহান আল্লাহর বাণী: (এবং আপনি আমাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী নন), অর্থাৎ: আমাদের প্রতি আশ্বস্ত হওয়ার নন।

আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে 'মুমিন' অর্থ হলো—তিনি তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে হতে পারার জুলুম থেকে নিরাপত্তা দান করেন এবং তাদের অন্তরকে আশ্বস্ত করেন যেন তারা তাঁর পক্ষ থেকে এমন কোনো ভয় না পায়।

অতঃপর ঈমান শব্দটিকে 'সত্যায়ন' অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে; কারণ আপনি কোনো ব্যক্তিকে ততক্ষণ সত্যবাদী বলেন না যতক্ষণ না আপনি তার খবরের প্রতি আশ্বস্ত হন।

মহান আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে 'মুমিন' শব্দের অর্থ এটিও হতে পারে যে, তিনি তাঁর বন্ধুদের সত্যায়নকারী। তাঁদের প্রতি তাঁর এই সত্যায়ন হলো—তাঁর বান্দাদেরকে তাঁদের বাণীর প্রতি আশ্বস্ত করা। কোনো ব্যক্তিকে সত্যবাদী বলে স্বীকার করলে বলা হয়: 'আমি লোকটির প্রতি ঈমান এনেছি'। এ প্রসঙ্গে কবির উক্তি:

আমরা তো পূর্বে ঈমান এনেছি, অথচ আমাদের সম্প্রদায় … মুহাম্মাদ (সা.)-এর আগে মূর্তিপূজা করত।

এটিও সম্ভব যে আল্লাহর এই বাণীর অর্থ: (আর আপনি আমাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী নন) হলো: আপনি আমাদের বাণীর সত্যায়নকারী নন।

মহান আল্লাহর বাণী: (তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছ [লাহু]), এটি (তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছ [বিহি]) বাক্য হতে ভিন্ন। (তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছ [বিহি])-এর অর্থ হলো: তোমরা তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করেছ। আর (তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছ [লাহু])-এর অর্থ হলো: তোমরা তাঁর বিরোধিতা করতে তোমাদের অক্ষমতা প্রকাশ করেছ কোনো একটি বিষয়ে তাঁর সাথে একমত হয়ে তাঁকে সাহায্য করার জন্য, অথচ তোমরা তাঁর সত্যতা সম্পর্কে জানো না।