(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: -)
تأخير نصر الدين لطف بالمؤمنين ومكر بالكافرين والمنافقين   (الكريم بن صالح الحميد)

القسم: كتب عامة


الكتاب: تأخير نصر الدين لطف بالمؤمنين ومكر بالكافرين والمنافقين

المؤلف: أبو محمد عبد الكريم بن صالح بن عبد الكريم الحميد

الناشر: دار الصفوة للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 23

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 ذو الحجة 1432

দ্বীনের বিজয় বিলম্বিত হওয়া মুমিনদের প্রতি এক বিশেষ অনুগ্রহ এবং কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে এক কৌশল   (আল-কারিম ইবনে সালিহ আল-হুমাইদ)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি


গ্রন্থ: দ্বীনের বিজয় বিলম্বিত হওয়া মুমিনদের প্রতি এক বিশেষ অনুগ্রহ এবং কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে এক কৌশল

লেখক: আবু মুহাম্মদ আব্দুল কারিম ইবনে সালিহ ইবনে আব্দুল কারিম আল-হুমাইদ

প্রকাশক: দার আস-সাফওয়াহ প্রকাশনী ও বিতরণ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ জিলহজ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[المقدمة]

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد.

 

أما بعد …

 

فإن لله سبحانه وتعالى عادة لوْ تغيّر وتبدل كل شيء لم تتغير ولم تتبدل، نافذة في ممالكه بلا ممانع، قاهرة لخلقه بلا مدافع، مصدرها الحكمة والرحمة وشمول القدرة مع القيام بالقسط … فمنها ما يظهر العلم به لكثير من الخلق، ومنها ما لا يعلمه إلا القليل منهم، ومنها ما لا يعلمه سواه سبحانه.

 

فمن أمثلة ما يخفى على كثير من الناس من عادة الرب وسنته - لا سيما أهل النفاق - تأخير نصر الدين
[ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর।

 

অতঃপর …

 

নিশ্চয়ই মহান সুবহানাহু ওয়া তাআলার এমন এক শাশ্বত রীতি রয়েছে, যা অন্য সবকিছু পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত হলেও কখনও পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হয় না। তা কোনো বাধা ছাড়াই তাঁর রাজত্বে কার্যকর এবং কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই তাঁর সৃষ্টির ওপর প্রবল। এর উৎস হলো প্রজ্ঞা, করুণা এবং ন্যায়বিচারের সাথে তাঁর ক্ষমতার ব্যাপকতা … এর কিছু বিষয় এমন রয়েছে যা অধিকাংশ সৃষ্টির নিকট প্রকাশ পায়, আবার কিছু বিষয় এমন যা কেবল অল্প সংখ্যক লোকই জানে, আবার এমন কিছুও আছে যা তিনি ব্যতীত আর কেউ জানে না।

 

প্রতিপালকের রীতি ও বিধানের যে বিষয়গুলো অনেক মানুষের কাছে—বিশেষ করে মুনাফিকদের কাছে—অস্পষ্ট থেকে যায়, তার একটি উদাহরণ হলো দ্বীনের বিজয় বিলম্বিত হওয়া।
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ৪)
وأهله، وهو على الحقيقة بالرغم من شدة وَطْأته وثقل حمله؛ نصر خفي مَوْصول بالنصر الجلي، فلا بد من هذا للمؤمنين إذا قاموا بنصرة الدين، وهو لطف بهم كما حصل في غزوة أُحد.

 

وتأمل كلام الإله وتعرّف على سننه التي لا تتبدل، ترى أنها تشتد الحال ويعظم الكرب حتى يقول الرسول والمؤمنون معه: {متى نصر الله}؟ فيكون الجواب من الولي النصير: {ألا إن نصر الله قريب}، ومثله: {حتى إذا استيئس الرسل وظنوا أنهم قد كُذبوا}، فيقول تعالى: {جَاءَهُمْ نَصْرُنَا} -يوسف 110 - .

 

وهُنا يَرِدُ سؤال يكون في جوابه كشف المستور المخبأ
এবং তাঁর পরিবারবর্গ। প্রকৃতপক্ষে এর প্রচণ্ড আঘাত ও গুরুভার হওয়া সত্ত্বেও এটি একটি গোপন সাহায্য যা প্রকাশ্য সাহায্যের সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে যুক্ত। মুমিনরা যখন দ্বীনের সাহায্যে দণ্ডায়মান হয়, তখন তাদের জন্য এটি অপরিহার্য; আর এটি তাদের প্রতি এক বিশেষ অনুগ্রহ, যেমনটি ওহুদ যুদ্ধে ঘটেছিল।

 

মহান আল্লাহর কালাম নিয়ে চিন্তা করুন এবং তাঁর অপরিবর্তনীয় নীতিমালা বা সুন্নতসমূহ সম্পর্কে জানুন; আপনি দেখবেন যে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংঙ্কটময় হয়ে পড়ে এবং বিপদ চরম আকার ধারণ করে, এমনকি রাসূল এবং তাঁর সাথে থাকা মুমিনগণ বলে ওঠেন: {আল্লাহর সাহায্য কবে আসবে?} তখন অভিভাবক ও সাহায্যকারীর পক্ষ থেকে উত্তর আসে: {জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।} এর অনুরূপ: {এমনকি যখন রাসূলগণ হতাশ হয়ে পড়লেন এবং তাঁরা ধারণা করলেন যে তাঁদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছে,} তখন মহান আল্লাহ বলেন: {তাদের নিকট আমার সাহায্য এসে পৌঁছাল} — ইউসুফ ১১০।

 

আর এখানেই একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, যার উত্তরের মাঝে নিহিত রয়েছে অপ্রকাশিত ও গুপ্ত রহস্যের উন্মোচন।
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ৫)
عن علم أكثر الخلق، والسؤال هو: هل الرب عز وجل كان خاذلاً لرسله وعباده المؤمنين في شدتهم ثم إنه بدا لَهُ بعد أن ينصرهم حينما قال تعالى: {ألا إن نصر الله قريب}، وحينما قال: {أتاهم نصرنا}.

 

الجواب: تعالى عن ذلك علواً كبيراً، وإنما من أسرار الأقدار أن يكون الابتلاء خفياً والمحنة مستورة، {ليميز الله الخبيث من الطيب} -الانفال 37 - ، وإلا فالرب سبحانه لا يستجد له جديد كان خافٍ عليه قبل ولا يؤثر في قدرته مؤثّر من دونه، كيف ومقاديره جارية على سنته، سابقة لخلقه.

 

وتمام جواب السؤال؛ هو أن الرب سبحانه وتعالى لم يتخل عن رسله وعباده المؤمنين، ولم يخذلهم وقت شدتهم ووقت الغلبة التغريرية الاستدراجية لعدوهم والتي هي غير مستقرة ولا مستمرة، وإنما ليظهر معلومة
সৃষ্টিজগতের অধিকাংশের জ্ঞানের প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটি হলো: মহান প্রতিপালক কি তাঁর রাসুলগণ এবং মুমিন বান্দাদের বিপদের সময় একাকী ছেড়ে দিয়েছিলেন? অতঃপর তাদের সাহায্য করার বিষয়টি কি তাঁর নিকট নতুন করে প্রতিভাত (بدا له) হয়েছে যখন মহান আল্লাহ বলেছেন: {জেনে রেখো, আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী} এবং যখন তিনি বলেছেন: {তাদের নিকট আমাদের সাহায্য পৌঁছেছে}।

 

উত্তর: আল্লাহ তাআলা এই ধারণা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে এবং সুমহান। বরং তকদিরের (الأقدار) রহস্যসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো পরীক্ষা (الابتلاء) নিভৃতে হওয়া এবং বিপদ প্রচ্ছন্ন থাকা; যাতে {আল্লাহ অপবিত্রকে পবিত্র থেকে পৃথক করে দেন} — [আনফাল: ৩৭]। অন্যথায়, মহান প্রতিপালকের নিকট এমন নতুন কোনো বিষয়ের উদ্ভব ঘটে না যা ইতিপূর্বে তাঁর নিকট অস্পষ্ট ছিল এবং তাঁর ক্ষমতার ওপর তিনি ব্যতীত অন্য কোনো প্রভাবক প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। এটি কীভাবে সম্ভব, যখন তাঁর নির্ধারিত ফয়সালাসমূহ তাঁরই সুন্নাত অনুযায়ী প্রবহমান এবং সৃষ্টির পূর্বেই তা সুনির্ধারিত?

 

প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর হলো: মহান প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসুলগণ ও মুমিন বান্দাদের ত্যাগ করেননি এবং তাদের কঠিন সময়ে কিংবা শত্রুদের বিভ্রান্তিকর ও সাময়িক প্ররোচনামূলক (استدراجية) বিজয়ের সময়েও তাদের অপদস্থ করেননি—যে বিজয় প্রকৃতপক্ষে অস্থিতিশীল এবং দীর্ঘস্থায়ী নয়। বরং এটি করা হয় যাতে একটি বিষয় প্রকাশিত হয়...
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ৬)
وآياته وعجائب قدرته، وحيث إن الكمائن تظهر عند المحن، فمن أعظم ذلك ظهور كمائن المنافقين وظنهم السوء برب العالمين؛ ألا ينصر من نصر دينه.

 

وحِكَمٌ غيرها عظيمة القدْر ذكرها ابن القيم رحمه الله في كتابه "زاد المعاد" في كلامه على غزوة أحد أحببت نقلها هنا لما فيها من العبرة والعِظة ولِمشابهة الحال - وإن لم يكن من كل وجه - {ليحيى من حي عن بينة ويهلك من هلك عن بينة} -الانفال 42 - .

 

قال رحمه الله تحت عنوان:

 

"‌‌فصل في ذكر بعض الحِكَم والغايات المحمودة التي كانت في وقعة أُحد":

(فمنها:

 

‌‌تعريفهم بسوء عاقبة المعصية والفشل والتنازع، وأن
এবং তাঁর নিদর্শনাবলি ও তাঁর কুদরতের বিস্ময়কর কার্যাবলি; আর যেহেতু বিপদের সময়ই গোপন বিষয়গুলো প্রকাশ পায়, তাই এর অন্যতম মহান দিক হলো মুনাফিকদের গোপন অভিসন্ধি প্রকাশ পাওয়া এবং রাব্বুল আলামীন সম্পর্কে তাদের এই কুধারণা পোষণ করা যে, তিনি তাঁর দ্বীনের সাহায্যকারীকে সাহায্য করবেন না।

 

এছাড়া আরও অনেক মহান হিকমত রয়েছে যা ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) ওহুদ যুদ্ধ সম্পর্কে তাঁর কিতাব "যাদুল মাআদ"-এ উল্লেখ করেছেন। আমি সেগুলো এখানে উদ্ধৃত করা পছন্দ করেছি কারণ তাতে শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতির সাথে এর সাদৃশ্য রয়েছে—যদিও তা সব দিক থেকে এক নয়—যাতে "যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই বেঁচে থাকে" (আল-আনফাল: ৪২)।

 

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) নিম্নোক্ত শিরোনামের অধীনে বলেন:

 

"‌‌পরিচ্ছেদ: ওহুদ যুদ্ধে নিহিত কিছু হিকমত ও প্রশংসনীয় উদ্দেশ্যসমূহ প্রসঙ্গে":

(তার মধ্যে অন্যতম হলো:

 

‌‌অবাধ্যতা, ব্যর্থতা ও বিবাদের মন্দ পরিণতি সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করা, এবং যে...
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ৭)
الذي أصابهم إنما هو بشؤم ذلك، كما قال تعالى: {ولقد صدقكم الله وعده إذ تحسونهم بإذنه حتى إذا فشلتم وتنازعتم في الأمر وعصيتم من بعد ما أراكم ما تحبون منكم من يريد الدنيا ومنكم من يريد الآخرة ثم صرفكم عنهم ليبتليكم ولقد عفا عنكم} -آل عمرآن 152 - .

 

فلما ذاقوا عاقبة معصيتهم للرسول وتنازعهم وفشلهم كانوا بعد ذلك أشد حذراً ويقظة وتحرزاً من أسباب الخذلان - ولم تكن معصيتهم إلا مخالفة الرماة مَوْضعهم الذي أمرهم الرسول صلى الله عليه وسلم بلزومه فبسبب تلك المخالفة جرت الأمور الكبيرة من إدالة العدو وغير ذلك من الأمور المحزنة، فكيف بمخالفاتنا التي لا تحصي؟
তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল তা মূলত সেই কার্যের অশুভ পরিণামেই ছিল, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের সাথে তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্যে পরিণত করেছিলেন, যখন তোমরা তাঁর অনুমতিক্রমে তাদেরকে ধ্বংস করছিলে; এমনকি যখন তোমরা সাহস হারালে এবং নির্দেশ সম্পর্কে মতভেদে লিপ্ত হলে এবং যা তোমরা ভালোবাস তা তোমাদের দেখানোর পর তোমরা অবাধ্যতা করলে। তোমাদের মধ্যে কেউ দুনিয়া কামনা করছিল এবং তোমাদের কেউ আখেরাত কামনা করছিল। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তাদের থেকে ফিরিয়ে দিলেন যেন তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন; আর নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের ক্ষমা করেছেন} -আলে ইমরান ১৫২-।

 

অতঃপর যখন তারা রাসূলের প্রতি অবাধ্যতা, পারস্পরিক বিবাদ ও সাহস হারানোর পরিণাম আস্বাদন করলেন, তখন তারা এর পরে লাঞ্ছনা ও পরাজয়ের কারণসমূহ থেকে অত্যন্ত সতর্ক, সজাগ ও সাবধানী হয়ে উঠলেন। আর তাদের সেই অবাধ্যতা তো কেবল তিরন্দাজদের নিজ স্থান ত্যাগ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সুতরাং সেই অবাধ্যতার কারণেই শত্রুর বিজয় ও অন্যান্য দুঃখজনক বড় বড় ঘটনাগুলো ঘটেছিল। এমতাবস্থায় আমাদের সেই সব অবাধ্যতার কী পরিণাম হবে যা গণনা করে শেষ করা যায় না?
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ৮)
ومنها:

 

‌‌أن حكمة الله وسنته في رسله وأتباعهم جَرَتْ بأن يُدَالوا مرة ويُدال عليهم أخرى لكن تكون لهم العاقبة، فإنهم لو انتصروا دائماً دخل معهم المسلمون وغيرهم ولم يتميّز الصادق من غيره، ولوْ انْتُصِرَ عليهم دائماً لم يحصل المقصود من البعثة والرسالة، فاقتضت حكمة الله أن جمع لهم بين الأمرين ليتميَّز من يتبعهم ويطيعهم للحق وما جاءوا به ممن يتبعهم على الظهور والغَلبة خاصة.

ومنها:

 

‌‌أن هذا من أعلام الرسل كما قال هرقل لأبي سفيان: هل قاتلتموه؟ قال: نعم، قال: كيف الحرب بينكم وبينه؟ قال: سجال، ندال عليه ويُدال علينا، قال: كذلك الرسل تبتلى ثم تكون لهم العاقبة.
আর এর মধ্যে রয়েছে:

 

‌‌আল্লাহর হিকমত এবং তাঁর রাসূলগণ ও তাঁদের অনুসারীদের ক্ষেত্রে তাঁর সুন্নাহ বা রীতি হলো এই যে, কখনো তাঁরা বিজয়ী হবেন আবার কখনো তাঁদের ওপর অন্যদের বিজয় দেওয়া হবে, তবে চূড়ান্ত পরিণাম তাঁদের পক্ষেই থাকে। কেননা তাঁরা যদি সর্বদা বিজয়ী হতেন, তবে মুসলিমদের সাথে অন্যদের সংমিশ্রণ ঘটত এবং সত্যবাদীদের অন্যদের থেকে পৃথক করা সম্ভব হতো না। আবার যদি তাঁরা সর্বদা পরাজিত হতেন, তবে নবুয়ত ও রিসালতের উদ্দেশ্যই অর্জিত হতো না। তাই আল্লাহর হিকমত এই উভয় বিষয়ের সমন্বয়কে অবধারিত করেছে যাতে যারা কেবল সত্য এবং তাঁদের আনীত আদর্শের প্রতি আনুগত্যের কারণে তাঁদের অনুসরণ করে, তাদেরকে ঐসব ব্যক্তি থেকে পৃথক করা যায় যারা কেবল প্রভাব-প্রতিপত্তি ও বিজয়ের আশায় তাঁদের অনুসরণ করে।

আর এর মধ্যে আরও রয়েছে:

 

‌‌নিশ্চয়ই এটি রাসূলগণের অন্যতম নিদর্শন যেমন হিরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ানকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "তোমরা কি তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছ?" তিনি উত্তর দিলেন: "হ্যাঁ।" হিরাক্লিয়াস জিজ্ঞেস করলেন: "তোমাদের ও তাঁর মধ্যকার যুদ্ধের অবস্থা কেমন?" তিনি বললেন: "তা হলো পর্যায়ক্রমিক বা পাল্লা সদৃশ; কখনো আমরা তাঁর ওপর জয়লাভ করি আবার কখনো তিনি আমাদের ওপর জয়লাভ করেন।" হিরাক্লিয়াস বললেন: "রাসূলগণ এমনই হয়ে থাকেন; তাঁরা পরীক্ষায় নিপতিত হন, কিন্তু চূড়ান্ত বিজয় তাঁদেরই হয়।"
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ৯)
ومنها:

 

‌‌أن يتميز المؤمن الصادق من المنافق الكاذب فإن المسلمين لما أظهرهم الله على أعدائهم يوم بدر وطارَ لهم الصّيت دخل معهم في الإسلام ظاهراً من ليس معهم فيه باطناً، فاقتضت حكمة الله عز وجل أن سبّب لعباده محنة ميّزت بين المؤمن والمنافق فأطلع المنافقون رؤسهم في هذه الغزوة وتكلموا بما كانوا يكتمونه وظهرت مخبآتهم وعاد تلويحهم صريحاً، وانقسم الناس إلى كافر ومؤمن ومنافق انقساماً ظاهراً، وعرف المؤمنون أن لهم عدواً في نفس دُورهم وهم معهم لا يفارقونهم فاستعدوا لهم وتحرزوا منهم.

قال الله تعالى: {ما كان الله ليذر المؤمنين على ما أنتم عليه حتى يميز الخبيث من الطيب وما كان الله ليطلعكم على الغيب ولكن الله يجتبي من رسله من يشاء}، أي ما كان الله
এর মধ্যে রয়েছে:

 

‌‌মিথ্যাবাদী (الكاذب) মুনাফিক থেকে সত্যবাদী (الصادق) মুমিনের পৃথক হওয়া কেননা আল্লাহ যখন বদরের দিন মুসলিমদেরকে তাদের শত্রুদের ওপর বিজয়ী করলেন এবং তাদের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল, তখন বাহ্যিকভাবে এমন কিছু লোক ইসলামে প্রবেশ করল যারা অভ্যন্তরীণভাবে মুসলিমদের সাথে ছিল না। ফলে মহান আল্লাহর প্রজ্ঞা দাবি করল যে, তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য এমন এক পরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন যা মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্য করে দেবে। ফলে এই যুদ্ধে মুনাফিকরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল এবং তারা যা গোপন করত তা প্রকাশ করে দিল। এতে তাদের লুকায়িত বিষয়গুলো প্রকাশ পেল এবং তাদের অস্পষ্ট ইঙ্গিতগুলো স্পষ্ট উক্তিতে পরিণত হলো। আর মানুষ প্রকাশ্যভাবে কাফির, মুমিন এবং মুনাফিক—এই তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল। মুমিনগণ বুঝতে পারলেন যে, তাদের নিজেদের ঘরের ভেতরেই শত্রু রয়েছে যারা তাদের সাথেই থাকে এবং তাদের ছেড়ে যায় না। ফলে তারা তাদের ব্যাপারে সতর্ক হলেন এবং তাদের থেকে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নিলেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ মুমিনদেরকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেবেন না যাতে তোমরা রয়েছ, যতক্ষণ না তিনি অপবিত্রকে পবিত্র থেকে পৃথক করেন। আর আল্লাহ তোমাদেরকে অদৃশ্যের সংবাদ জানানোর নন; তবে আল্লাহ তাঁর রাসূলদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা বেছে নেন}। অর্থাৎ আল্লাহ এমন ছিলেন না যে...
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ১০)
ليذركم على ما أنتم عليه من التباس المؤمنين بالمنافقين حتى يميز أهل الإيمان من أهل النفاق كما ميّزهم بالمحنة يوم أحد، {وما كان الله ليطلعكم على الغيب}، الذي يميز به بين هؤلاء وهؤلاء فإنهم متميزون في علمه وغيبْه وهو سبحانه يريد أن يميزهم تمييزاً مشهوداً فيقع معلومه الذي هو غيب شهادة، وقوله: {ولكن الله يجتبي من رسله من يشاء}؛ استدراك لما نفاه من اطلاع خلقه على الغيب، كما قال: {عالم الغيب فلا يظهر على غيبه أحداً إلا من ارتضى من رسول}، فحظكم أنتم وسعادتكم في الإيمان بالغيب الذي يُطلع عليه رسله، فإن آمنتم به واتقيتم كان لكم أعظم الأجر والكرامة - ومن هذا الغيب أن يسْتيقن المؤمن أن الله ينصر دينه لا محالة.

আল্লাহ তোমাদেরকে মুমিনদের সাথে মুনাফিকদের মিশ্রিত অবস্থার ওপর ছেড়ে দেবেন না, যতক্ষণ না তিনি ঈমানদারদেরকে মুনাফিকদের থেকে পৃথক করেন; যেমনটি তিনি ওহুদ যুদ্ধের পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদেরকে পৃথক করেছিলেন। "আর আল্লাহ তোমাদেরকে অদৃশ্যের (الغيب) বিষয় অবগত করবেন না", যার মাধ্যমে তিনি এদের ও তাদের মাঝে পার্থক্য করেন; কেননা তারা তাঁর জ্ঞান ও অদৃশ্যের (الغيب) মধ্যে পূর্ব থেকেই পৃথক হয়ে আছেন। তিনি (সুবহানাহু) চান তাঁদেরকে এমনভাবে পৃথক করতে যা দৃশ্যমান হবে, ফলে তাঁর অদৃশ্যের (الغيب) জ্ঞানটি দৃশ্যের (شهادة) বাস্তবতায় পরিণত হবে। আর তাঁর বাণী: "কিন্তু আল্লাহ তাঁর রাসূলদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন"—এটি সৃষ্টির জন্য অদৃশ্যের (الغيب) জ্ঞান লাভের বিষয়টি তিনি যা অস্বীকার করেছেন, তার একটি সংশোধনী (استدراك); যেমন তিনি বলেছেন: "তিনি অদৃশ্যের (الغيب) পরিজ্ঞাতা, তিনি তাঁর অদৃশ্যের (الغيب) জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না, তবে তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত।" সুতরাং তোমাদের অংশ ও সৌভাগ্য নিহিত রয়েছে সেই অদৃশ্যের (الغيب) প্রতি ঈমান আনার মাঝে যা তিনি তাঁর রাসূলদেরকে অবগত করেন। অতএব তোমরা যদি তাঁর প্রতি ঈমান আনো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তোমাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার ও সম্মান। আর এই অদৃশ্যের (الغيب) অন্তর্ভুক্ত হলো মুমিনের এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ অবশ্যই তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করবেন।

(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ১১)
ومنها:

 

‌‌استخراج عبودية أوليائه وحزبه في السّراء والضراء وفيما يحبون وما يكرهون وفي حال ظفرهم وظفر أعدائهم بهم، فإذا ثبتوا على الطاعة والعبودية فيما يحبون وما يكرهون فهم عبيده حقاً، وليسوا كمن يعبد الله على حرف واحد من السراء والنعمة والعافية.

ومنها:

 

‌‌أنه إذا امتحنهم بالغلبة والكسرة والهزيمة ذلّوا وانكسروا وخضعوا فاسْتوْجبوا منه العز والنصر، فإن خلعة النصر إنما تكون مع وَلاية الذل والانكسار، قال تعالى: {ولقد نصركم الله ببدر وأنتم أذلة} وقال: {ويوم حنين إذْ أعجبتكم كثرتكم فلم تغن عنكم شيئاً}.
এর মধ্যে একটি হলো:

 

‌সুখ ও দুঃখের অবস্থায় এবং তাদের পছন্দ ও অপছন্দের বিষয়ে তাঁর ওলি ও দলভুক্তদের দাসত্ব (عبودية) প্রকাশ করা এবং তাদের বিজয় ও তাদের ওপর শত্রুদের বিজয়ের সময়। যদি তারা তাদের পছন্দ ও অপছন্দের উভয় অবস্থায় আনুগত্য (طاعة) ও দাসত্বের (عبودية) ওপর অবিচল থাকে, তবে তারাই প্রকৃতপক্ষে তাঁর প্রকৃত বান্দা; তারা তাদের মতো নয় যারা কেবল সুখ, নেয়ামত ও সুস্থতার মতো একপাক্ষিক অবস্থায় আল্লাহর ইবাদত করে।

এর মধ্যে আরেকটি হলো:

 

‌যখন তিনি তাদের পরাজয়, বিপর্যয় ও হারের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন, তখন তারা বিনয়ী হয়, মরমীভাবে ভেঙে পড়ে এবং নতিস্বীকার (خضوع) করে; ফলে তারা তাঁর পক্ষ থেকে সম্মান ও সাহায্যের (نصر) যোগ্য হয়ে ওঠে। কেননা সাহায্যের (نصر) ভূষণ কেবল হীনম্মন্যতা ও মরমী দীনতার নিবিড় সম্পর্কের (ولاية) মাধ্যমেই অর্জিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের বদরের যুদ্ধে সাহায্য (نصر) করেছিলেন যখন তোমরা ছিলে অত্যন্ত হীনবল।" এবং তিনি আরও বলেন: "আর হুনাইনের যুদ্ধের দিন, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি।"
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ১২)
فهو سبحانه إذا أراد أن يُعز عبده ويجبره وينصره كَسَرَهُ أولاً، ويكون جبره له ونصره على مقدار ذله وانكساره.

 

ومنها:

 

‌‌أنه سبحانه هيأ لعباده المؤمنين منازل في دار كرامته لم تبلغها أعمالهم ولم يكونوا بالِغيها إلا بالبلاء والمحنة، فقيّض لهم الأسباب التي توصلهم إليها من ابتلائه وامتحانه، كما وفقهم للأعمال الصالحة التي هي من جملة أسباب وصولهم إليها.

ومنها:

 

‌‌أن النفوس تكتسب من العافية الدائمة والنصر والغنى طغياناً وركوناً إلى العاجلة، وذلك مرض يعوقها عن جدّها في سيرها إلى الله والدار الآخرة فإذا أراد بها
তিনি মহাপবিত্র, যখন তিনি তাঁর কোনো বান্দাকে সম্মানিত করতে, তার অবস্থার সংশোধন করতে এবং তাকে সাহায্য করতে চান, তখন তাকে প্রথমে চূর্ণ-বিচূর্ণ করেন; আর তাঁর পক্ষ থেকে বান্দার অবস্থার সংশোধন ও সাহায্য করা হয় তার হীনম্মন্যতা ও ভাঙনের মাত্রা অনুযায়ী।

 

আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

 

‌‌তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য তাঁর সম্মান-আলয়ে এমন কিছু মর্যাদা প্রস্তুত করে রেখেছেন যেখানে তাদের আমলসমূহ পৌঁছাতে পারত না, এবং তারা বিপদ-আপদ ও পরীক্ষা ব্যতীত সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হতো না। তাই তিনি তাদের জন্য সেখানে পৌঁছানোর উপায়স্বরূপ পরীক্ষা ও বিপত্তি নির্ধারণ করেছেন, যেমনটি তিনি তাদের এমন সব নেক আমলের তাওফিক দিয়েছেন যা সেখানে পৌঁছানোর মাধ্যমসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

আর এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো:

 

‌‌মানুষের আত্মা নিরবচ্ছিন্ন সুস্থতা, বিজয় এবং সচ্ছলতা থেকে ঔদ্ধত্য ও নশ্বর দুনিয়ার প্রতি আসক্তি লাভ করে; আর এটি এমন এক ব্যাধি যা তাকে আল্লাহ ও পরকালের পথে চলার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থেকে বাধাগ্রস্ত করে। সুতরাং যখন তিনি তাদের প্রতি (কল্যাণের) ইচ্ছা করেন...
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
ربها ومالكها وراحمها كرامته قيّض لها من الابتلاء والامتحان ما يكون دواء لذلك المرض العائق عن السير الحثيث إليه فيكون ذلك البلاء والمحنة بمنزلة الطبيب يسقي العليل الدواء الكريه ويقطع منه العروق المؤلمة لاستخراج الأدواء منه، ولوْ تركه لغلبته الأدواء حتى يكون فيها هلاكه.

 

ومنها:

 

‌‌أن الشهادة عنده أعلى مراتب أوليائه، والشهداء هم خوَاصّه والمقربون من عباده وليس بعد درجة الصّدّيقية إلا الشهادة، وهو سبحانه يحب أن يتخذ من عباده شهداء تُراق دماؤهم في محبته ومرضاته ويؤثرون رضاه ومحابه على نفوسهم، ولا سبيل إلى نيْل هذه الدرجة إلا بتقدير الأسباب المفضية إليها من تسليط العدو - هذا فيه شَبَه من السور الذي باطنه فيه الرحمة وظاهرة من
তার প্রতিপালক, মালিক এবং পরম দয়ালু [আল্লাহ] তাঁকে সম্মানিত করার নিমিত্তে তাঁর জন্য এমন পরীক্ষা (ابتلاء) ও সংকটের (امتحان) ব্যবস্থা করেছেন যা সেই রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে, যা তাঁর অভিমুখে দ্রুত গমনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে এই বালা-মুসিবত ও পরীক্ষা একজন চিকিৎসকের ন্যায়, যিনি রোগীকে তিক্ত ঔষধ পান করান এবং দেহ থেকে ব্যাধি দূর করার জন্য যন্ত্রণাদায়ক শিরা কর্তন করেন। আর তিনি যদি তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দিতেন, তবে ব্যাধিগুলো তাকে পরাভূত করত এবং শেষ পর্যন্ত তাতে তাঁর ধ্বংস অনিবার্য হতো।

 

আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

 

‌‌নিশ্চয়ই তাঁর নিকট শাহাদাত (الشهادة) হলো তাঁর ওলিদের (أولياء) সর্বোচ্চ স্তর, আর শহীদগণ (الشهداء) হলেন তাঁর বিশেষ এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাগণ। সত্যবাদিতার (الصديقية) স্তরের পর শাহাদাত (الشهادة) ব্যতীত অন্য কোনো উচ্চতর মাকাম নেই। তিনি পবিত্র সত্তা, তিনি পছন্দ করেন তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে এমন সব শহীদ (شهداء) গ্রহণ করতে, যাদের রক্ত তাঁর মহব্বত ও সন্তুষ্টির পথে প্রবাহিত হয় এবং যারা নিজেদের প্রাণের ওপর তাঁর সন্তুষ্টি ও পছন্দনীয় বিষয়সমূহকে অগ্রাধিকার দেয়। আর এই সুউচ্চ মর্যাদা লাভের কোনো পথ নেই সেই সব কারণসমূহ নির্ধারিত হওয়া ব্যতীত যা এর দিকে পৌঁছে দেয়, যেমন শত্রুর আধিপত্য প্রদান করা—এটি সেই প্রাচীরের সদৃশ যার অভ্যন্তরে রয়েছে রহমত এবং যার বহির্ভাগে...
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
قِبَله العذاب، فتأمل حال المؤمن والمنافق هنا.

 

ومنها:

 

‌‌أن الله سبحانه إذا أراد أن يهلك أعداءه ويمحقهم قَيّض لهم الأسباب التي يسْتوجبون بها هلاكهم ومحقهم، ومن أعظمها بعد كفرهم وطغيانهم مُبالغتهم في أذى أوليائه ومحاربتهم وقتالهم والتسلّط عليه فيتمحص بذلك أولياؤه من ذنوبهم وعيوبهم ويزداد بذلك أعداؤه من أسباب محْقهم وهلاكهم.

- تأمل هذا وترقّب فعل رب العالمين بأعدائه، وقد ظهرت ولله الحمد علامات ذلك واضحة من قَوَارِعِه المتوالية عليهم ونحن نسأله المزيد، وتدبّر قوله سبحانه عن فرعون وقومه: {فلما آسفونا انتقمنا منهم} فالطغاة يتمادوْن بطغيانهم والرب يمهلهم
তার সম্মুখে রয়েছে আযাব; সুতরাং এখানে মুমিন ও মুনাফিকের অবস্থা নিয়ে গভীর চিন্তা করো।

 

এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

 

‌‌মহান আল্লাহ যখন তাঁর শত্রুদের ধ্বংস ও সমূলে বিনাশ করার ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাদের জন্য এমন সব কারণ তৈরি করে দেন যার মাধ্যমে তারা ধ্বংস ও বিলুপ্তির যোগ্য হয়ে পড়ে। আর তাদের কুফরি ও ঔদ্ধত্যের পর এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো আল্লাহর বন্ধুদের ওপর অতিমাত্রায় নির্যাতন করা, তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং তাঁদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা। এর মাধ্যমে তাঁর বন্ধুগণ তাঁদের গুনাহ ও ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পরিশুদ্ধ হন এবং শত্রুদের ধ্বংস ও বিনাশের কারণসমূহ বৃদ্ধি পায়।

- এটি নিয়ে চিন্তা করো এবং তাঁর শত্রুদের প্রতি রব্বুল আলামীনের কর্মের প্রতীক্ষা করো। আল্লাহর প্রশংসা যে, তাদের ওপর আল্লাহর একের পর এক কঠোর আঘাতের মাধ্যমে এর সুস্পষ্ট লক্ষণসমূহ প্রকাশিত হয়েছে এবং আমরা তাঁর কাছে এর ধারাবাহিকতা প্রার্থনা করছি। ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণীটি অনুধাবন করো: "অতঃপর তারা যখন আমাকে ক্রুদ্ধ করল, তখন আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম।" সুতরাং জালিমরা তাদের ঔদ্ধত্যে মত্ত থাকে আর প্রতিপালক তাদের অবকাশ দিয়ে থাকেন।
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
ويظنون أنه مهملهم حتى إذا استكمل غضبه عليهم أخذهم أخذ عزيز مقتدر، وهذا معنى الآية … وقد بيّنت في "جواب الأمريكيين" وغيرهم عظم فساد هؤلاء الكفرة في الأرض وأنه أعظم من إفسادهم بالمحاربة وتقتيل المسلمين، فنحن نتربّص بهم سنن شديد المِحال -

 

ثم إن ابن القيم رحمه الله ذكر كلاماً، ثم قال في قُبح طاعة الكفار: (وحذّرهم سبحانه من طاعة عدوهم وأخبر أنهم إن أطاعوهم خسروا الدنيا والآخرة، وفي ذلك تعريض بالمنافقين الذين أطاعوا المشركين لما انتصروا وظفروا يوم أُحد، ثم أخبر سبحانه أنه مولى المؤمنين وهو خير الناصرين، فمن وَالاه فهو المنصور، ثم أخبر أنه سيلقي في قلوب أعدائهم الرعب الذي يمنعهم من الهجوم عليهم والإقدام على حربهم، فإنه
তারা মনে করে যে তিনি তাদের অবকাশ দিচ্ছেন, এমনকি যখন তাদের ওপর তাঁর ক্রোধ পূর্ণ হয় তখন তিনি তাদের এমনভাবে পাকড়াও করবেন যেমন এক মহাপরাক্রমশালী ও শক্তিধর পাকড়াও করেন। আর এটাই এই আয়াতের অর্থ … আমি 'জওয়াবুল আমরিকিয়্যিন' ও অন্যান্য স্থানে পৃথিবীতে এই কাফিরদের ফাসাদের ভয়াবহতা বর্ণনা করেছি এবং এটি যুদ্ধ ও মুসলিম হত্যার মাধ্যমে তাদের ফাসাদ সৃষ্টির চেয়েও গুরুতর; সুতরাং আমরা তাদের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর কঠোর রীতিনীতির অপেক্ষা করছি -

 

অতঃপর ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) কিছু কথা উল্লেখ করেছেন, তারপর কাফিরদের আনুগত্যের কদর্যতা সম্পর্কে বলেছেন: (আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা তাদেরকে তাদের শত্রুদের আনুগত্য করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা যদি তাদের আনুগত্য করে তবে তারা দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর এর মধ্যে সেই সব মুনাফিকদের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে যারা ওহুদ যুদ্ধে মুশরিকদের বিজয় ও সফলতার সময় তাদের আনুগত্য করেছিল। এরপর সুবহানাহু তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মুমিনদের অভিভাবক এবং তিনি শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী। সুতরাং যাকে তিনি অভিভাবকত্ব প্রদান করেন, সে-ই সাহায্যপ্রাপ্ত হয়। অতঃপর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি অচিরেই তাদের শত্রুদের অন্তরে এমন ত্রাস নিক্ষেপ করবেন যা তাদেরকে মুমিনদের ওপর আক্রমণ করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে বাধা প্রদান করবে, কেননা তিনি
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
يؤيد حزبه بجند من الرعب ينتصرون به على أعدائهم، وذلك الرعب بسبب ما في قلوبهم من الشرك بالله، وعلى قدْر الشرك يكون الرعب، فالمشرك بالله أشد شيء خوفاً ورعباً، والذين آمنوا ولم يلبسوا إيمانهم بالشرك لهم الأمن والهدى والفلاح، والمشرك له الخوف والضلال والشقاء) - تأمل رعب أعداء الله -

 

وذكر كلاماً ثم قال عن المنافقين أنهم يظنون بالله غير الحق ظن الجاهلية وقد فُسّر هذا الظن الذي لا يليق بالله بأنه سبحانه لا ينصر رسوله وأن أمره سيضمحل وأنه يُسْلمه للقتل، وقد فُسّر بظنهم أن ما أصابهم لم يكن بقضائه وقدره ولا حكمة له فيه، فَفُسّر بإنكار الحكمة وإنكار القدر وإنكار أن يُتم أمر رسوله ويُظهره على الدين كله.

 

انظر قوله في معنى ظن السوء: (وأن أمره
তিনি তাঁর বাহিনীকে ভীতির এক বিশেষ শক্তি দ্বারা সাহায্য করেন, যার মাধ্যমে তারা তাদের শত্রুদের ওপর বিজয়ী হয়। আর এই ভীতির কারণ হলো তাদের অন্তরে বিদ্যমান আল্লাহর সাথে শিরক। শিরকের মাত্রা অনুযায়ী এই ভীতির সঞ্চার হয়। সুতরাং আল্লাহর সাথে শিরককারী ব্যক্তি ভয় ও শঙ্কার দিক থেকে সবচেয়ে অসহায়। আর যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে শিরকের সাথে কলুষিত করেনি, তাদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা, হেদায়েত ও সফলতা। পক্ষান্তরে শিরককারীর জন্য রয়েছে ভয়, পথভ্রষ্টতা ও দুর্ভাগ্য।) - আল্লাহর শত্রুদের ভীতির কথা চিন্তা করুন -

 

তিনি কিছু আলোচনার পর মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেন যে, তারা আল্লাহ সম্পর্কে সত্যের পরিপন্থী জাহেলি ধারণা পোষণ করে। আল্লাহর সুমহান সত্তার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এই ধারণাটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর রাসূলকে সাহায্য করবেন না, তাঁর দ্বীন বিলীন হয়ে যাবে এবং তিনি তাঁকে হত্যার জন্য শত্রুর হাতে সোপর্দ করবেন। আরও ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, তাদের ধারণা অনুযায়ী তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছে তা আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদির অনুযায়ী হয়নি এবং এতে তাঁর কোনো প্রজ্ঞা নেই। সুতরাং একে প্রজ্ঞা অস্বীকার করা, তাকদির অস্বীকার করা এবং রাসূলের দ্বীনকে পূর্ণতা দান ও সকল দ্বীনের ওপর তা বিজয়ী করার বিষয়টিকে অস্বীকার করার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

 

মন্দ ধারণা বা কুধারণার অর্থ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য দেখুন: (এবং নিশ্চয়ই তাঁর বিষয়
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
سيضمحل)، واعلم أن هذا ظن أكثر الخلق اليوم، وهو ظن المنافقين لأن طغيان الباطل وطوفانه الذي تفجّر في وقتنا قد طغى على العقول وزيّفها، ولما جاء الابتلاء بتكالب الكفار على المسلمين وحصول نوع هزيمة هي على الحقيقة ابتلاء للمنافقين ولطفاً بالمؤمنين ظهرت الكمائن الخبيثة ممن لم يقْدر الله قدره ولا يعرف حكمته، فتكلم من تكلم وعمل من عمل وظنوا أن الدين لن تقوم له قائمة، وكانت قد امتلات أذهانهم الخاوية المظلمة أن الدين لا يصلح لهذا الزمان، اللهم إلا دين مُلَقّح بمادة كفرية ونحْلة طاغوتية، فيبقى اسم ورسم في غاية الذلة والهوان، قطع الله دابر كل من ظن هذا الظن وأراد هذه الإرادة من نوّاب إبليس ووكلائه من الكفرة والمنافقين الذين {نسوا الله فنسيهم} والذين؛ (هانوا على الله فعصوْه ولوْ عَزّوا عليه
(তা বিলীন হয়ে যাবে), আর জেনে রাখুন যে এটিই বর্তমানে অধিকাংশ মানুষের ধারণা, এবং এটি মুনাফিক (المنافقين)-দের ধারণা। কেননা বাতিলের যে উদ্ধত প্রকাশ ও প্লাবন আমাদের যুগে দেখা দিয়েছে, তা মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন ও কলুষিত করে ফেলেছে। আর যখন কাফেরদের সম্মিলিত আক্রমণের মাধ্যমে মুসলিমদের ওপর পরীক্ষা এল এবং এক প্রকার পরাজয় সংঘটিত হলো—যা প্রকৃতপক্ষে মুনাফিক (المنافقين)-দের জন্য পরীক্ষা এবং মুমিন (المؤمنين)-দের প্রতি এক প্রকার করুণা ছিল—তখন সেই সব কদর্য গোপন অভিসন্ধিগুলো প্রকাশ পেল যারা আল্লাহকে তাঁর যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি এবং তাঁর প্রজ্ঞা সম্পর্কেও অবগত নয়। ফলে যার যা বলার ছিল সে তা বলল এবং যার যা করার ছিল সে তা করল; তারা ধারণা করে নিল যে, এই দ্বীন আর কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। তাদের শূন্য ও অন্ধকারাচ্ছন্ন মগজ এ ধারণায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল যে, বর্তমান যুগের জন্য এই দ্বীন আর উপযোগী নয়। হে আল্লাহ! তারা কেবল এমন এক দ্বীন কামনা করে যা কুফরি (كفرية) উপাদান ও তাগুতি (طاغوتية) মতাদর্শের সংমিশ্রণে তৈরি; যার ফলে কেবল নাম ও অবয়বই অবশিষ্ট থাকবে, যা হবে চরম লাঞ্ছনা ও অবমাননাকর। আল্লাহ ইবলিসের সেই সব প্রতিনিধি ও অনুসারীদের মূল উৎপাটন করে দিন—যারা কাফের ও মুনাফিক (المنافقين) এবং যারা এমন ভ্রান্ত ধারণা ও সংকল্প পোষণ করে; যারা ‘আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে, তাই আল্লাহও তাদের ভুলে গিয়েছেন’ এবং যারা ‘আল্লাহর কাছে তুচ্ছ প্রতিপন্ন হয়েছে বলেই তারা তাঁর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়েছে; যদি তারা আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান হতো, তবে তিনি তাদের পাপাচার থেকে রক্ষা করতেন’।
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
لعصمهم).

 

أيظن المنافق أن الله تخلى عن ملكه وَوَكل دينه وعباده إلى غيره وأنه يخذل من نصر دينه؟ لا، وعزته، فتعْساً للظانين بالله ظن السوء عليهم دائرة السوء، والله غالب على أمره.

 

ثم قال ابن القيم: (وهذا هو ظن السوء الذي ظنه المنافقون والمشركون به سبحانه وتعالى في سورة الفتح حيث يقول: {ويعذب المنافقين والمنافقات والمشركين والمشركات الظانين بالله ظن السوء عليهم دائرة السوء وغضب الله عليهم ولعنهم وأعد لهم جهنم وساءت مصيرا}، وإنما كان هذا ظن السوء وظن الجاهلية المنسوب إلى أهل الجهل وظن غير الحق، لأنه ظَنُّ غير ما يليق بأسمائه الحسنى وصفاته العليا وذاته المبرأة من كل عيب وسوء، بخلاف ما يليق بحكمته
তাদের সুরক্ষার জন্য)।

 

মুনাফিক কি মনে করে যে আল্লাহ তাঁর রাজত্ব পরিত্যাগ করেছেন এবং তাঁর দ্বীন ও বান্দাদের অন্যের হাতে সঁপে দিয়েছেন এবং যারা তাঁর দ্বীনের সাহায্য করে তিনি তাদের লাঞ্ছিত করবেন? না, তাঁর মহিমার কসম! সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে যারা মন্দ ধারণা পোষণ করে তাদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য, অকল্যাণ তাদেরই বেষ্টন করবে, আর আল্লাহ তাঁর নিজ বিষয়ে বিজয়ী ও প্রবল।

 

অতঃপর ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: (আর এটিই সেই মন্দ ধারণা যা মুনাফিক ও মুশরিকরা মহান আল্লাহ সম্পর্কে পোষণ করেছিল সূরা আল-ফাতহ-এ, যেখানে তিনি বলেন: {আর যাতে তিনি মুনাফিক পুরুষ ও নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও নারীদের শাস্তি প্রদান করেন, যারা আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করে। অকল্যাণের চক্র তাদের উপরই আপতিত হোক; আল্লাহ তাদের প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন, তাদের অভিশপ্ত করেছেন এবং তাদের জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত রেখেছেন; আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য}। এটি ছিল মন্দ ধারণা এবং জাহেলিয়াতের ধারণা যা মূর্খদের সাথে সম্পৃক্ত এবং সত্য বিবর্জিত ধারণা। কেননা এটি এমন এক ধারণা যা তাঁর সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তাঁর সেই পবিত্র সত্তার জন্যও শোভনীয় নয় যা সকল প্রকার দোষ ও মন্দ থেকে বিমুক্ত; অধিকন্তু এটি তাঁর প্রজ্ঞার পরিপন্থী।)
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
وحمْده وتفرده بالربوبية والإلهية وما يليق بوعده الصادق الذي لا يخلفه ولكلمته التي سبقت لرسله أنه ينصرهم ولا يخذلهم، ولجنده بأنهم هم الغالبون.

 

فمن ظن أنه لا ينصر رسوله ولا يُتم أمره ولا يؤيده ويؤيد حزبه ويُعْليهم ويظفرهم بأعدائه ويظهرهم عليهم وأنه لا ينصر دينه وكتابه، وأنه يُديل الشرك على التوحيد والباطل على الحق إدالة مستقرة يضمحل معها التوحيد والحق اضمحلالاً لا يقوم بعده أبداً؛ فقد ظن بالله ظن السوء ونَسَبَهُ إلى خلاف ما يليق بكماله وجلاله وصفاته ونعوته، فإن حمْده وعزته وحكمته وإلهيته تأبى ذلك وتأبى أن يُذل حزبه وجنده وأن تكون النصرة المستقرة والظفر الدائم لأعدائه المشركين به العادلين به فمن ظن ذلك فما عرفه ولا عرف أسماءه ولا عرف صفاته وكماله).
তাঁর প্রশংসা এবং রুবুবিয়্যাহ ও ইলাহিয়্যাহ-তে তাঁর এককত্ব, আর তাঁর সেই সত্য প্রতিশ্রুতির মাহাত্ম্য যা তিনি কখনও ভঙ্গ করেন না; এবং তাঁর রাসুলদের প্রতি তাঁর সেই পূর্বঘোষিত বাণী যে, তিনি তাঁদের সাহায্য করবেন এবং তাঁদের অপদস্থ করবেন না, আর তাঁর বাহিনীই হবে বিজয়ী।

 

যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আল্লাহ তাঁর রাসুলকে সাহায্য করবেন না, তাঁর কার্য পূর্ণ করবেন না, তাঁকে ও তাঁর দলকে শক্তিশালী ও সমুন্নত করবেন না এবং শত্রুদের ওপর তাঁদের বিজয়ী ও প্রভাবশালী করবেন না; আর তিনি তাঁর দ্বীন ও কিতাবকে সাহায্য করবেন না, বরং শিরককে তাওহিদের ওপর এবং বাতিলকে হকের ওপর এমন স্থায়ী আধিপত্য দান করবেন যার ফলে তাওহিদ ও হক সমূলে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং পুনরায় কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না—সে আল্লাহর প্রতি অত্যন্ত মন্দ ধারণা পোষণ করল এবং তাঁকে তাঁর পূর্ণতা, মর্যাদা ও গুণাবলির পরিপন্থী বিষয়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করল। কেননা তাঁর মহিমা, প্রতাপ, হিকমত এবং ইলাহিয়্যাহ একে অস্বীকার করে যে, তিনি তাঁর দল ও বাহিনীকে লাঞ্ছিত করবেন এবং তাঁর সাথে শিরককারী ও সমকক্ষ নির্ধারণকারী শত্রুদের চিরস্থায়ী বিজয় ও আধিপত্য দান করবেন। অতএব, যে ব্যক্তি এরূপ ধারণা পোষণ করে, সে আল্লাহকে যথার্থভাবে চিনতে পারেনি এবং তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও পূর্ণতা সম্পর্কেও তাঁর কোনো সম্যক জ্ঞান নেই)।
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ২০)
تأمله فإنه كلام نفيس للغاية منطبق على ما نحن فيه من وجوه عديدة حيث ظن أكثر الخلق برب العالمين سبحانه ظن السوء وظن الجاهلية حيث اعتقدوا أن الله يُضَيّع للأفغان والعرب الذين معهم سعْيهم بإقامة دينه وشرعه ومُنابذتهم أعدائه وجهادهم إياهم وأنه يخذلهم وينصر الكفار عليهم.

 

ثم قال رحمه الله: (ثم أخبر سبحانه عن حكمة أخرى في هذا التقدير؛ وهو ابتلاء ما في صدورهم، وهو اختبار ما فيها من الإيمان والنفاق، فالمؤمن لا يزداد بذلك إلا إيماناً وتسليماً، والمنافق ومَن في قلبه مرض لابد أن يظهر مافي قلبه على جوارحه ولسانه).

 

لقد ظهر من كثيرين مكنونات سوء يصعب حصر ما ظهر منها وما خفي أكثر، ومن ذلك ما كتب بعض المعتوهين عن المجاهدين في بعض الجرائد من قوله في
এটি গভীরভাবে অনুধাবন করুন, কারণ এটি অত্যন্ত মূল্যবান এক বক্তব্য যা বহু দিক থেকে আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কেননা অধিকাংশ মানুষ জগতসমূহের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সম্পর্কে কু-ধারণা ও জাহেলি যুগের ধারণা পোষণ করেছে; যেখানে তারা বিশ্বাস করে নিয়েছে যে, আল্লাহ আফগান এবং তাদের সাথে থাকা আরবদের দ্বীন ও শরীয়ত প্রতিষ্ঠা, শত্রুদের বিরোধিতা এবং তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের প্রচেষ্টাকে বিফলে যেতে দেবেন এবং তিনি তাদের সাহায্যহীন অবস্থায় ছেড়ে দেবেন ও তাদের ওপর কাফেরদের বিজয়ী করবেন।

 

এরপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই ফয়সালার মাঝে নিহিত অন্য একটি হিকমতের কথা জানিয়েছেন; আর তা হলো তাদের অন্তরে যা আছে তার পরীক্ষা, অর্থাৎ তাদের অন্তরে বিদ্যমান ঈমান ও মুনাফেকির যাচাই। ফলে মুমিনের ঈমান ও আত্মসমর্পণ এর মাধ্যমে কেবল বৃদ্ধিই পায়। আর মুনাফিক ও যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তাদের অন্তরের লুকায়িত বিষয়গুলো তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও জিহবায় প্রকাশ পাওয়া অনিবার্য)।

 

অনেকের মাঝেই এমন সব অনিষ্টকর গোপন বিষয় প্রকাশ পেয়েছে যা গণনা করা দুঃসাধ্য, আর যা অপ্রকাশিত রয়ে গেছে তা আরও অনেক বেশি। এরই অংশ হিসেবে কিছু নির্বোধ ব্যক্তি মুজাহিদদের সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদপত্রে যা লিখেছে, তার মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ২১)
إجابته المعترضين عليه لما يظهر من بغضه للمجاهدين، يقول: (أحسن الله عزاءك في أُسامتك وطالبانك)، ويقول أهلكه الله ساخراً: (فلا طالبان ولا حالِمان).

 

وأهل الإيمان - ولله الحمد - على يقين لا يتزعزع أن الله سوف يُخلف ظنون المنافقين ومرضى القلوب الظانين بالله الظن الذي لا يليق به سبحانه كما أخلف ظنون إخوانهم مِن قبل بنصره للحق ولمن قام به وكبْته لأعدائه وخذلانهم وموتهم بغيظهم.

 

وقد ظهرت ولله الحمد بشائر النصر وتحقق قول الله عزل وجل في الكفار والمنافقين: {ولن تغني عنكم فئتكم شيئاً ولوْ كثرت وأن الله مع المؤمنين}، فما زالت ولله الحمد القوارع الإلهية والآيات الربانية تتابع على أعداء الله مثل الرعب، وهو جند من جند الإله العظيم، وغير ذلك من الخسران
মুজাহিদদের প্রতি তার বিদ্বেষ প্রকাশের কারণে প্রতিবাদকারীদের প্রতি তার উত্তর হলো, সে বলে: (তোমার ওসামা ও তালেবানের শোকে আল্লাহ তোমাকে উত্তম সান্ত্বনা দান করুন), এবং সে উপহাস করে বলে—আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন: (না আছে কোনো তালেবান, না আছে কোনো স্বপ্নবিলাসী)।

 

আর মুমিনগণ—সকল প্রশংসা আল্লাহর—এই মর্মে অটল বিশ্বাসের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত যে, আল্লাহ অবশ্যই মুনাফিক ও অন্তরে ব্যাধিগ্রস্তদের ধারণাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবেন, যারা আল্লাহ সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করে যা তাঁর মহান সত্তার জন্য সমিচীন নয়; ঠিক যেভাবে তিনি ইতিপূর্বে সত্যকে সাহায্য করার মাধ্যমে এবং সত্যের ধারক-বাহকদের বিজয়ী করার মাধ্যমে তাদের ভাইদের ধারণাকে ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন এবং তাঁর শত্রুদের লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করে ক্রোধে জর্জরিত অবস্থায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন।

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, বিজয়ের শুভলক্ষণসমূহ প্রকাশিত হয়েছে এবং কাফির ও মুনাফিকদের ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী বাস্তবায়িত হয়েছে: {তোমাদের দল তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না, যদিও তা সংখ্যায় অধিক হয়; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন}। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহর শত্রুদের ওপর ক্রমাগত ঐশ্বরিক আঘাত ও রব্বানী নিদর্শনসমূহ আপতিত হচ্ছে, যেমন—আতঙ্ক, যা মহান আল্লাহর বাহিনীসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি বাহিনী, এবং এছাড়া অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি।
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ২২)
والخذلان والأمراض والجراد والطوفان والأعاصير والحرائق والزلازل واختلافهم فيما بينهم وغير ذلك مما يؤيّد الله به عباده المؤمنين ويخذل أعداءه الكافرين، وما زلنا في انتظار المزيد من الولي الحميد، قال تعالى: {وإذ تأذن ربكم لئن شكرتم لأزيدنكم}.

 

ثم قال ابن القيم قدّس الله روحه: (ثم أخبر عن حكمة هذا التقدير؛ وهي أن يعلم المؤمنين من المنافقين علم عيان ورؤية يتيمز فيه أحد الفريقين من الآخر تميّزاً ظاهراً، وكان من حكمة هذا التقدير تكلُّم المنافقين بما في نفوسهم فسمعه المؤمنون وسمعوا رَدّ الله عليهم وجوابه لهم وعرفوا مؤدّى النفاق وما يؤول إليه، وكيف يحرم صاحبه سعادة الدنيا والآخرة فيعود عليه بفساد الدنيا والآخرة، فلله كم من حكمة في ضمن هذه القصة بالغة، ونعمه على المؤمنين سابغة وكم
এবং লাঞ্ছনা, ব্যাধি, পঙ্গপাল, প্লাবন, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক বিবাদ ও অন্যান্য বিষয়—যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের সাহায্য করেন এবং তাঁর কাফের শত্রুদের লাঞ্ছিত করেন। আমরা মহান প্রশংসিত অভিভাবকের পক্ষ থেকে আরও অনুগ্রহের অপেক্ষায় আছি। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করলেন যে, যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব}।

 

অতঃপর ইবনুল কায়্যিম (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) বলেন: (অতঃপর তিনি এই নির্ধারণের হিকমত সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন; আর তা হলো—সাক্ষ্যপ্রমাণ ও চাক্ষুষ দর্শনের মাধ্যমে মুমিনদের থেকে কপটদের (المنافقين) পৃথক করা, যাতে এক দল অন্য দল থেকে স্পষ্টভাবে আলাদা হয়ে যায়। এই নির্ধারণের অন্যতম হিকমত ছিল কপটদের (المنافقين) নিজেদের অন্তরের কথা ব্যক্ত করা, যা মুমিনরা শুনতে পায়। তারা তাদের প্রতি আল্লাহর প্রত্যাখ্যান ও তাঁর পক্ষ থেকে প্রদত্ত উত্তর শুনতে পায় এবং তারা কপটতার (النفاق) পরিণাম ও শেষ ফল সম্পর্কে জানতে পারে; আর কীভাবে তা তার অধিকারীকে দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত করে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের ধ্বংস ডেকে আনে। আল্লাহর কতই না সুদূরপ্রসারী হিকমত এই কাহিনীর অভ্যন্তরে নিহিত রয়েছে এবং মুমিনদের ওপর তাঁর নিয়ামতসমূহ কতই না পরিপূর্ণ এবং কত...
(খণ্ড: ১) তাখীরু নাসরিদ দ্বীন লুতফুম বিল মুমিনীন ওয়া মাকুরুম বিল কাফিরীন ওয়াল মুনাফিকীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
فيها من تحذير وتخويف وإرشاد وتنبيه وتعريف بأسباب الخير والشر ومآلهما وعاقبتهما)، انتهى باختصار.

 

وإن من عرف بعض حِكَم تأخير النصر للمؤمنين على أعدائهم لم يظن بربه ظن سوء ولم يقنط من رحمته ويعلم أن تأخيره سبحانه لنصره نصر لهم وإن رغمت أنوف أعداء الله من الكفرة والمنافقين.

 

وإن في هذا الكلام البليغ لابن القيم كفاية كافية لمن كان له قلب أو ألقى السمع وهو شهيد، أما المنافق المطبوع على قلبه فلوْ تناطحت الجبال وكلمه الموتى فإنه لا يزداد إلا عتواً ونفوراً، فلْيمت بغيظه.

 

وتأمل قول ابن القيم: (فلله كم من حكمة في هذه القصة بالغة، ونعمة سابغة)، مع أنه حصل في غزوة أحد ما حصل على النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه، فتأمل كيف جاءت المِنن عن طريق المِحن، واعلم أن رب الزمانين واحد وأنه رقيب على عباده شهيد عليهم.

 

فالحذر كل الحذر من عزل المالك الحق عن ملكه والتعوّض بالسياسات الطاغوتية المنتنة، فإن هذا بحر قد غرق فيه أكثر الخلق على اختلاف طبقاتهم في هذا الزمان المُوَطئ للدجال والأمور العظيمة، {ولا تحسبن الله غافلاً عما يعمل الظالمون} و {سيعلم الذين ظلموا أي منقلب ينقلبون}.

 

والحمد لله

وصلى الله على نبينا محمد

 

كتبه؛ عبد الكريم بن صالح الحميد

أواخر ربيع الأول، 1423 هـ
এতে রয়েছে সতর্কবাণী, ভীতি প্রদর্শন, সঠিক পথনির্দেশনা, হুশিয়ারি এবং কল্যাণ ও অকল্যাণের কারণসমূহ ও সেগুলোর গন্তব্য ও পরিণাম সম্পর্কে সম্যক ধারণা।), সংক্ষেপে সমাপ্ত।

 

আর যে ব্যক্তি মুমিনদের শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভে বিলম্ব হওয়ার পেছনের কিছু প্রজ্ঞা সম্পর্কে অবগত হবে, সে তার প্রতিপালক সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করবে না এবং তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হবে না। সে জানবে যে, মহান আল্লাহর সাহায্য বিলম্বিত হওয়াটা মূলত তাদের জন্যই এক প্রকার বিজয়, যদিও আল্লাহর শত্রু কাফির ও মুনাফিকদের নাসিকা ধূলিধূসরিত হোক না কেন।

 

নিশ্চয়ই ইবনুল কাইয়্যিমের এই প্রাঞ্জল বাণীর মাঝে সেই ব্যক্তির জন্য পর্যাপ্ত পাথেয় রয়েছে যার একটি সজাগ অন্তর রয়েছে অথবা যে একাগ্রচিত্তে শ্রবণ করে। আর যে মুনাফিকের অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে, তার সামনে যদি পাহাড়গুলোও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় কিংবা মৃত ব্যক্তিরাও তার সাথে কথা বলে, তবুও তার অবাধ্যতা ও বিমুখতা কেবল বৃদ্ধিই পাবে; সুতরাং সে তার ক্ষোভেই ধ্বংস হোক।

 

ইবনুল কাইয়্যিমের এই উক্তিটি গভীরভাবে লক্ষ্য করুন: (এই ঘটনার মাঝে আল্লাহর কতই না সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞা এবং কতই না পূর্ণাঙ্গ নেয়ামত নিহিত রয়েছে), যদিও উহুদ যুদ্ধে নবী (সা.) এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর যা আপতিত হওয়ার তা হয়েছিল। সুতরাং লক্ষ্য করুন, কীভাবে বিপদের পথ ধরেই অনুগ্রহের আগমন ঘটে। জেনে রাখুন যে, উভয় সময়ের প্রতিপালক একজনই এবং তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর সদা পর্যবেক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শী।

 

অতএব পরম সত্য মালিককে তাঁর রাজত্ব থেকে পৃথক করা এবং তার বদলে দুর্গন্ধযুক্ত তাগুতি রাজনৈতিক ব্যবস্থার আশ্রয় গ্রহণ করা থেকে অত্যন্ত সতর্ক থাকুন। কেননা এটি এমন এক সমুদ্র যেখানে বর্তমান সময়ের অধিকাংশ মানুষ তাদের বিভিন্ন স্তর নির্বিশেষে নিমজ্জিত হয়েছে; যে সময়টি দাজ্জালের আগমন ও ভয়াবহ ঘটনাবলির ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে। {আর আপনি কখনোই মনে করবেন না যে, আল্লাহ জালিমদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গাফেল} এবং {জালিমরা অচিরেই জানতে পারবে তারা কোন পরিণতির দিকে ফিরে যাবে}।

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য

আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক

 

লিখেছেন: আব্দুল কারীম বিন সালেহ আল-হুমাইদ

রবিউল আউয়াল মাসের শেষাংশ, ১৪২৩ হিজরি