(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: -)
مقتطفات من كتاب من روائع حضارتنا   (مصطفى السباعي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: مقتطفات من كتاب من روائع حضارتنا

المؤلف: مصطفى بن حسني السباعي (ت 1384هـ)

الناشر: دار الوراق للنشر والتوزيع، بيروت، المكتب الإسلامي

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م

عدد الصفحات: 286

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

(تنبيه): هذا الكتاب الإلكتروني هو مقتطفات من المطبوع وليس المطبوع نفسه

تاريخ النشر بالشاملة: 25 شوّال 1432

আমাদের সভ্যতার অনন্য নিদর্শনাদি গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতাংশ   (মুস্তফা আস-সিবাঈ)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: আমাদের সভ্যতার অনন্য নিদর্শনাদি গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতাংশ

লেখক: মুস্তফা বিন হুসনী আস-সিবাঈ (মৃত্যু ১৩৮৪ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল ওয়াররাক পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, বৈরুত, আল-মাকতাব আল-ইসলামি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৬

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

(সতর্কবার্তা): এই ই-বুকটি মুদ্রিত কপির নির্বাচিত কিছু অংশ মাত্র, এটি সম্পূর্ণ মুদ্রিত গ্রন্থ নয়

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ শাওয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: -)
ـ[مقتطفات من كتاب من روائع حضارتنا]ـ

المؤلف: مصطفى بن حسني السباعي (المتوفى: 1384هـ)

الناشر: دار الوراق للنشر والتوزيع، بيروت، المكتب الإسلامي

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

--------------------------------------------

(تنبيه): هذا الكتاب الإلكتروني هو مقتطفات من المطبوع وليس المطبوع نفسه
ـ[আমাদের সভ্যতার বিস্ময়কর নিদর্শনসমূহ গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত সংকলন]ـ

গ্রন্থকার: মোস্তফা বিন হুসনী আস-সিবাঈ (মৃত্যু: ১৩৮৪ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল ওয়াররাক পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, বৈরুত, আল-মাকতাবুল ইসলামি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯9 খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

--------------------------------------------

(সতর্কতা): এই ইলেকট্রনিক বইটি মুদ্রিত গ্রন্থের নির্বাচিত সংকলন মাত্র, এটি মূল মুদ্রিত গ্রন্থ নয়।
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم

(كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْراً لَّهُم مِّنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ).

آل عمران - 110

 

توحيد المفاهيم

العمل الطلابي

العمل الطلابي عمل رائد، يمثل ذروة الوعي بقضايا الأمة، وطليعة كل تحرك إيجابي لمصلحتها .. ولذا وجب العناية به وتسديده وإرشاده.

وكما هو الحال دائما، فإن العمل الصحيح ينطلق من مفاهيم قويمة وأفكار ناضجة، تهدي العاملين إلى الطريق الصحيح وتقوم أي إعوجاج وتجبر كل تقصير ..

غير أن الامتداد الكبير للعمل الطلابي عبر الزمان والمكان، وانتشار كوادره في أرجاء الدنيا وفي أجيال متتابعة، بالإضافة إلى صعوبة التواصل بين الكوادر العاملة في العمل الطلابي .. هذا الامتداد الواسع والصلات الصعبة أتاح الفرصة لتباين الآراء واختلاف المصطلحات وتنوع المفاهيم، بحيث أصبحت هذه الظاهرة خطرا حقيقيا يحيق بالعمل الطلابي على مستوى العالم.

وحتى لا يترك هذا العمل الهام لاجتهادات محلية قد تصيب وقد تخطئ، أو لتجارب مبتسرة قد تعبر عن كامل الصورة وقد تقصر .. وحتى لا تخضع المفاهيم الأساسية في العمل لتفسيرات متباينة، فينشأ الخلاف وتتسع رقعته .. حتى لا يحدث ذلك كله، كان لا بد من العمل على توحيد المفاهيم الأساسية بين العاملين .. والاتفاق على تعريفات واضحة لما يطلق من كلمات ومصطلحات وأقوال، قد يفهمها الجميع بشكل متباين، حسب الثقافات والمجتمعات والبيئات المختلفة.

 

سلسلة توحيد المفاهيم

وعليه فقد بادر اتحاد المنظمات الطلابية إلى إصدار سلسلة من الكتب تحت مسمى (سلسلة توحيد المفاهيم)، وتم تقسيم المفاهيم المراد توحيدها بين العاملين في المجال الطلابي إلى أربع مجموعات يتضمن كل منها عدداً من المفاهيم.

 

أولا- المفاهيم الدعوية

1 - بين الحق والباطل - عبد الكريم زيدان. وهو بحث في سنة الله الكونية في التدافع بين الحق والباطل وكيفية تسخير هذه السنة لصالح العمل.

2 - الشورى ودورها في إصلاح الفرد والمجتمع.

3 - العمل الجماعي (أهميته ومشروعيته).

4 - بشائر النصر.

5 - فقه الأولويات في ضوء القرآن والسنة - د. يوسف القرضاوي.

6 - من روائع حضارتنا - د. مصطفى السباعي.

7 - الإسلام … والتعامل مع الآخر.

ثانيا- المفاهيم التربوية

8 - جدد حياتك - محمد الغزالي.

9 - آداب السلوك في الإسلام.

ثالثا- المفاهيم الإدارية

10 - إدارة الوقت.

رابعا- المفاهيم السياسية

11 - القدس والتحدي الحضاري.

12 - ماذا بعد أحداث سبتمبر؟

13 - كيف تواجه الأمة المسلمة التحدي الصهيوني؟

مقدمة الكتاب

ضمن سلسلة توحيد المفاهيم الدعوية والتربوية والإدارية والسياسية، التي نقدمها للشباب والطلاب في أنحاء العالم، نقدم اليوم كتاب من روائع حضارتنا للأستاذ الدكتور مصطفى السباعي .. وهو من أهم الكتب التي كتبت في موضوعه .. ويوم نشرها كاتبها كان يقصد أن يلفت الأنظار إلى هذه الروائع كدليل على استطاعتنا بناء حضارة أكمل وأسمى من هذه الحضارة، وأن نذكر الجيل الجديد من أبناء أمتنا بواجبهم في بناء حضارة إنسانية كريمة كما بنى آباؤهم أمثالها، وهذا أنسب الأوقات لمثل هذا التذكير، فأمتنا تدخل الآن باب التاريخ من جديد دخولاً كريماً فيه كل تحضر وانطلاق لبناء مستقبل أفضل وأكمل، وفي أمتنا بقايا من سجايا الآباء والأجداد، فإذا سمعت حديث أمجادهم وآثارهم وحضارتهم هزّها ذلك هزاً عنيفاً ودفعها إلى العمل دفعاً حثيثاً.

ونحن بدورنا .. نعيد نشر هذا الكتاب ليكون دليلاً حضارياً لإخواننا وأبنائنا الطلبة في أنحاء العالم .. فالعمل الطلابي اليوم هو ذروة الوعي بقضايا الأمة، وطليعة كل تحرك إيجابي لإعادة بنائها .. وهو يحتاج إلى توجيه وتذكير وحسن إعداد .. وتقوم سلسلة توحيد المفاهيم بهذا الدور.

والحمد لله رب العالمين.

مصطفى محمد الطحان

26/ 9/2006م
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

(তোমরাই হলে সর্বোত্তম জাতি, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজে বাধা প্রদান করো এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখো। আর আহলে কিতাবগণ যদি ঈমান আনত, তবে তা তাদের জন্য অবশ্যই কল্যাণকর হতো। তাদের মধ্যে কেউ মুমিন এবং তাদের অধিকাংশই ফাসেক।)

আলে ইমরান - ১১০

 

ধারণার ঐক্য

ছাত্র আন্দোলন

ছাত্র আন্দোলন একটি অগ্রগামী কর্মতৎপরতা, যা উম্মাহর বিভিন্ন ইস্যু বা সমস্যাবলি সম্পর্কে সচেতনতার চরম শিখরকে উপস্থাপন করে এবং উম্মাহর স্বার্থে পরিচালিত প্রতিটি ইতিবাচক আন্দোলনের অগ্রসেনানী হিসেবে কাজ করে। তাই এর প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া এবং একে সঠিক পথে পরিচালনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা আবশ্যক।

সর্বদা যেমনটি হয়ে থাকে, সঠিক কর্মতৎপরতা মূলত সুদৃঢ় ধারণা ও পরিপক্ক চিন্তাধারা থেকে উৎসারিত হয়, যা কর্মীদের সঠিক পথের দিশা দেয়, যেকোনো বিচ্যুতি সংশোধন করে এবং সকল ত্রুটি পূর্ণ করে।

তবে কাল ও স্থানের পরিক্রমায় ছাত্র আন্দোলনের ব্যাপক বিস্তৃতি, বিশ্বের নানা প্রান্তে এর জনশক্তির ছড়িয়ে পড়া এবং পর্যায়ক্রমিক প্রজন্মের আগমন, সেই সাথে কর্মরত জনশক্তির মাঝে যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা—এই বিশাল বিস্তৃতি ও যোগাযোগের প্রতিকূলতা মতামতের বৈচিত্র্য, পরিভাষার ভিন্নতা এবং ধারণার বহুমুখিতার সুযোগ তৈরি করেছে। এমনকি এই প্রবণতাটি বিশ্বজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের জন্য একটি প্রকৃত ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

আর এই গুরুত্বপূর্ণ কাজকে যাতে এমন কোনো স্থানীয় ইজতিহাদ (اجتهاد) বা গবেষণার ওপর ছেড়ে দেওয়া না হয় যা সঠিক হতে পারে আবার ভুলও হতে পারে, কিংবা এমন কোনো অসম্পূর্ণ অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করতে হয় যা পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশে ব্যর্থ হতে পারে... এবং আন্দোলনের মৌলিক ধারণাগুলো যাতে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার অধীন না হয়—যার ফলে বিবাদ সৃষ্টি হতে পারে এবং এর পরিধি বৃদ্ধি পেতে পারে—এই সবকিছু রোধ করার জন্য কর্মীদের মাঝে মৌলিক ধারণাগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সংস্কৃতি, সমাজ ও পরিবেশভেদে মানুষ ভিন্ন ভিন্নভাবে বুঝতে পারে এমন শব্দ, পরিভাষা ও বক্তব্যের সুস্পষ্ট সংজ্ঞায়নের ওপর একমত হওয়া প্রয়োজন।

 

ধারণা ঐক্যবদ্ধকরণ সিরিজ

এরই পরিপ্রেক্ষিতে, ছাত্র সংগঠনগুলোর ফেডারেশন 'ধারণা ঐক্যবদ্ধকরণ সিরিজ' (সিলসিলাতু তাওহীদিল মাফাহিম) নামে একগুচ্ছ বই প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। ছাত্র অঙ্গনে নিয়োজিত কর্মীদের মাঝে যে ধারণাগুলোর ঐক্য প্রত্যাশিত, সেগুলোকে চারটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, যার প্রতিটিতে বেশ কিছু ধারণা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

প্রথমত- দাওয়াহ সংক্রান্ত ধারণাসমূহ

১ - সত্য ও মিথ্যার মাঝে — আব্দুল কারীম যায়দান। এটি সত্য ও মিথ্যার সংঘাত সম্পর্কে আল্লাহর জাগতিক নিয়মের (سنة) ওপর একটি গবেষণা এবং কীভাবে এই নিয়মকে (سنة) আন্দোলনের কল্যাণে কাজে লাগানো যায়, সে সংক্রান্ত আলোচনা।

২ - শুরা এবং ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে এর ভূমিকা।

৩ - সম্মিলিত প্রচেষ্টা (এর গুরুত্ব ও বৈধতা)।

৪ - বিজয়ের সুসংবাদ।

৫ - কুরআন ও সুন্নাহর (سنة) আলোকে অগ্রাধিকারের ফিকহ (فقه) — ড. ইউসুফ আল-কারজাভী।

৬ - আমাদের সভ্যতার আলোকচ্ছটা — ড. মোস্তফা সিবায়ী।

৭ - ইসলাম... এবং অন্যের সাথে আচরণ।

দ্বিতীয়ত- তারবিয়াহ বা প্রশিক্ষণমূলক ধারণাসমূহ

৮ - আপনার জীবনকে নবায়ন করুন — মুহাম্মদ আল-গাজালী।

৯ - ইসলামে আচরণের আদব।

তৃতীয়ত- প্রশাসনিক ধারণাসমূহ

১০ - সময় ব্যবস্থাপনা।

চতুর্থত- রাজনৈতিক ধারণাসমূহ

১১ - আল-কুদস ও সভ্যতার চ্যালেঞ্জ।

১২ - সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর কী?

১৩ - মুসলিম উম্মাহ কীভাবে জায়নবাদী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে?

বইয়ের ভূমিকা

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের নিকট আমরা দাওয়াহ, তারবিয়াহ, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ধারণা ঐক্যবদ্ধকরণ সিরিজটি পেশ করছি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা অধ্যাপক ডক্টর মোস্তফা সিবায়ীর 'আমাদের সভ্যতার আলোকচ্ছটা' বইটি উপস্থাপন করছি। এটি এই বিষয়ের ওপর রচিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বই। লেখক যখন এটি প্রকাশ করেছিলেন, তখন তাঁর উদ্দেশ্য ছিল এই শ্রেষ্ঠত্বগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা—যা আমাদের একটি পূর্ণাঙ্গ ও মহান সভ্যতা বিনির্মাণের সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। সেই সঙ্গে আমাদের উম্মাহর নতুন প্রজন্মকে তাদের পূর্বপুরুষদের মতো একটি মর্যাদাশীল মানবিক সভ্যতা গড়ে তোলার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা। এই ধরনের স্মরণের জন্য এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়; কারণ আমাদের উম্মাহ এখন পুনরায় ইতিহাসের দরজায় মর্যাদার সাথে প্রবেশ করছে, যেখানে একটি উন্নত ও পূর্ণাঙ্গ ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য রয়েছে আধুনিকতা ও ইতিবাচক অগ্রযাত্রা। আমাদের উম্মাহর মাঝে এখনও পূর্বপুরুষদের মহান গুণাবলির অবশিষ্টাংশ রয়েছে; তাই যখনই তারা তাদের পূর্বসূরিদের গৌরবগাঁথা, কীর্তি ও সভ্যতার কথা শোনে, তা তাদের প্রবলভাবে আন্দোলিত করে এবং দ্রুত গতিতে কর্মতৎপর হতে অনুপ্রাণিত করে।

আমরা আমাদের পক্ষ থেকে এই বইটি পুনরায় প্রকাশ করছি যাতে এটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আমাদের ছাত্র ভাই ও সন্তানদের জন্য একটি সভ্যতার দিশারি হিসেবে কাজ করে। বর্তমান ছাত্র আন্দোলন হলো উম্মাহর সমস্যাবলি সম্পর্কে সচেতনতার শীর্ষবিন্দু এবং উম্মাহর পুনর্গঠনে প্রতিটি ইতিবাচক পদক্ষেপের অগ্রপথিক। তাই এর প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, সচেতনতা এবং উত্তম প্রস্তুতি; আর 'ধারণা ঐক্যবদ্ধকরণ সিরিজ' সেই দায়িত্বই পালন করছে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর।

মোস্তফা মুহাম্মদ আত-তাহহান

২৬/ ০৯/ ২০০৬ খ্রি.
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: -)
‌‌مقدمة المؤلف

الحمد لله رب العالمين وصلى الله على باني أنبل حضارة عرفها التاريخ سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه الذين بنوا أصرح تلك الحضارة الشامخة بدمائهم وجهودهم فكان لهم الفضل على كل من نَعِمَ بخيراتها إلى يوم الدين.

 

وبعد فموضوع هذا الكتاب هو أحاديث أذعتها من محطة إذاعة دمشق في الفترة الواقعة بين 20 من المحرم 1375هالموافق 8 من أيلول (سبتمبر) 1955م عرضت فيها نماذج من الجوانب الرائعة في حضارتنا، وهي جوانب لا تزال تأخذ بألباب كل باحث منصف، ولم أتقصّ كل مظاهر الروعة في حضارتنا ولا قصدت تحليلها علمياً، لأنني كنت أتحدث إلى جماهير المستمعين ممن يتفاوتون في المستوى الفكري والثقافي، وكان يهمني أن يصغى إليها أولئك الذين يستمعون القول فيتبعون أحسنه، من صفوة شبابنا ورجال الفكر المؤمن بكرامتنا على الله وعلى التاريخ، ولم يتسع لي الوقت لمتابعة هذه الأحاديث، إذ كنت أستعد للسفر في رحلة علمية إلى ديار الغرب تمت عام 1956م، وقد كنت أود أن أتحدث عن روائع كثيرة، منها تلك النماذج الإنسانية للروحانية الإيجابية في تاريخ حضارتنا، ممن كانوا على قدر كبير من الإيمان بالله، والاتباع للحق، والسمو في النفس، والإشراق في الروح، والجمال في الخلق، والرحمة للناس، والعدل في الحكم، هذا مع مساهمتهم في صميم الحضارة ووجودهم في صميم الحياة، سواء كانوا ملوكاً أم علماء، أو زهاداً، أم فلاسفة، أم قواداً، أم حكاماً، أم تجاراً، رجالاً ونساءً، شيوخاً وشباباً، أغنياء وفقراء، إنها نماذج للكمال الإنساني الذي لم يكن يعيش في خيال الفلاسفة والحكماء، بل كان يعيش على ظهر الأرض مع أهل الأرض.

هذه الروحانية الإيجابية بأمثلتها الرائعة هي مما تفردت به حضارتنا عن سائر الحضارات قديمها وحديثها، فلقد عرف التاريخ رجالاً روحانيين في الأمم المختلفة وخاصة في أمم الشرق الأقصى، ويعيش اليوم أناس تغلب عليهم النزعة الروحية الصافية، ولكن هؤلاء وأولئك كانوا سلبيين مع الحضارة، مترفعين عن المساهمة فيها، يعيشون في الأديرة ورؤوس الجبال، أو في المغاور والصحارى، أما نماذجنا الروحية في تاريخ حضارتنا فقد كانوا يخوضون معركة بناء الحياة بكل ما تتطلبه المعركة من عمل وجهد وتضحية وفداء، وهذا هو سر الروعة في هذه النماذج الروحية العجيبة في تاريخ الحضارات.

والقصد اليوم من نشر هذه الأحاديث أن نلفت الأنظار إلى هذه الروائع كدليل على استطاعتنا بناء حضارة أكمل وأسمى من هذه الحضارة، وأن نُذكر الجيل الجديد من أبناء أمتنا بواجبهم في بناء حضارة إنسانية كريمة كما بنى آباؤهم أمثالها، وهذا أنسب الأوقات لمثل هذا التذكير، فأمتنا تدخل الآن باب التاريخ من جديد دخولاً كريماً فيه كل تحفز وانطلاق لبناء مستقبل أفضل وأكمل، وفي أمتنا بقايا من سجايا الآباء والأجداد فإذا سمعت حديث أمجادهم وآثارهم وحضارتهم هزّها ذلك هزاً عنيفاً ودفعها إلى العمل دفعاً حثيثاً.

فلا تُسمعوه ما أقول فإنه شجاع متى يُذكر له الطعن يشتق

ولسنا نقصد من عرض هذه الروائع الادعاء بأن كل ما في حضارتنا جميل ومشرق، فليس في التاريخ حضارة ليست لها هفوات، وإنما القصد أيضاً أن نثبت أن الجوانب الإنسانية الخالدة في حضارتنا أقوى وأجمل، وأن نرد بذلك على افتراء الذين يزعمون لحضارتنا كل عيب ونقيصه، ويتعمدون أن يحذفوها من قائمة الحضارات الأصلية، وأن نحبط بذلك كيد الذين يعملون على أن يصرفوا أنظار جيلنا الحديث عن روائع آثارنا الحضارية، ليجذبوهم إلى حضارة تكشفت مقاتلها للناس، وإلى تاريخ أمم إن كانت لها صفحة واحدة من الفضائل، فإن لها آلاف الصفحات من النقائص والرذائل، وهذا هو هدف الاستعمار الذي يسعى إليه جاهداً، وذلك هو صنيع أذنابه ودعاته الذين ما برحوا على تمجيد حضارته عاكفين.

وإذا كنت قد عرضت في هذا الكتاب (نماذج) من روائع حضارتنا فإني لأرجو أن يتم الدارسون لتاريخ حضارتنا ما بدأته من عرض هذه الروائع، بشكل أتم وبحث أوفى وبيان أبلغ وأنصع، لإعطاء جيلنا الحاضر صورة حقيقية كاملة الروعة عن هذه الحضارة التي كانت تشع النور وتبعث الحياة في القرون الوسطى، فلا حاضر لأمة تجهل ماضيها، ولا مستقبل لأمة تنكر خصائصها وفضائلها، وهي مما تتصل بالحضارة بأوفى سبب وأقوى نسب، وإذا كان الوقوف على الماضي للبكاء عليه والنحيب، هو شغل الكسالى العاطلين، فإن تجاهله وازدراءه مع ما يفيض به من خير واسع ونور رحيب، هو شأن الحاقدين أو الجاهلين. ومن الخير أن نستفيد من كنوزنا في بناء نهضتنا العتيدة، لتكون النهضة مأمونة العواقب، غنية بما يمد لها من أسباب النجاح والبقاء، واضحة الملامح فيما تهدف إليه من كرامة وهناء، متصلة أمجادها بأمجاد الماضي، لتتصل أمجاد المستقبل بأمجادها، فيستمر الموكب، وتنسجم الحلقة ويكتمل البناء.

والله من وراء القصد وهو ولي التوفيق

مصطفى حسني السباعي
লেখকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম সভ্যতার নির্মাতা আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা তাঁদের রক্ত ও প্রচেষ্টার বিনিময়ে সেই সুউচ্চ সভ্যতার সুদৃঢ় প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। কিয়ামত পর্যন্ত যাঁরা এই সভ্যতার কল্যাণ ভোগ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর সাহাবীগণের অনুগ্রহ অনস্বীকার্য।

 

অতঃপর, এই বইটির বিষয়বস্তু হলো সেই হাদিসসমূহ যা আমি ১৩৭৫ হিজরির ২০শে মহররম মোতাবেক ১৯৫৫ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর থেকে দামেস্ক রেডিও স্টেশন থেকে প্রচার করেছিলাম। সেখানে আমি আমাদের সভ্যতার চমৎকার দিকগুলোর কিছু নমুনা তুলে ধরেছিলাম; এই দিকগুলো আজও যেকোনো ইনসাফপ্রিয় গবেষকের মন জয় করে নেয়। আমি আমাদের সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্বের সকল নিদর্শন পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করিনি এবং সেগুলোর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণও আমার উদ্দেশ্য ছিল না। কারণ আমি সাধারণ শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে কথা বলছিলাম, যাদের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক স্তর ছিল ভিন্ন ভিন্ন। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেই সব যুবসমাজ ও চিন্তাশীল ব্যক্তিদের মনোযোগ আকর্ষণ করা—যারা কথা শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে—যারা আল্লাহর নিকট এবং ইতিহাসের পাতায় আমাদের মর্যাদার ওপর বিশ্বাসী। ১৯৫৬ সালে পাশ্চাত্যে একটি বৈজ্ঞানিক সফরে যাওয়ার প্রস্তুতির কারণে এই আলোচনাগুলো চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় আমি পাইনি। আমি আরও অনেক চমৎকার বিষয় নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলাম, যার মধ্যে অন্যতম ছিল আমাদের সভ্যতার ইতিহাসে ইতিবাচক আধ্যাত্মিকতার সেই সব মানবিক দৃষ্টান্ত, যাঁরা আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাস, সত্যের অনুসরণ, আত্মিক উচ্চতা, হৃদয়ের জ্যোতি, চরিত্রের মাধুর্য, মানুষের প্রতি দয়া এবং বিচারে ন্যায়পরায়ণতার এক অনন্য উচ্চতায় আসীন ছিলেন। একই সাথে তাঁরা সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবদান রেখেছেন এবং কর্মচঞ্চল জীবনের মূলধারায় সম্পৃক্ত ছিলেন; তাঁরা রাজা হোন বা আলেম, দুনিয়াবিমুখ তাপস হোন বা দার্শনিক, সেনাপতি, শাসক কিংবা ব্যবসায়ী—নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে। তাঁরা ছিলেন সেই মানবীয় পূর্ণতার উদাহরণ যা কেবল দার্শনিক ও প্রাজ্ঞজনদের কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এই পৃথিবীতেই মানুষের মাঝে বিদ্যমান ছিল।

এই ইতিবাচক আধ্যাত্মিকতা এবং এর চমৎকার উদাহরণসমূহ আমাদের সভ্যতার এমন এক বৈশিষ্ট্য যা প্রাচীন বা আধুনিক অন্য সকল সভ্যতা থেকে একে অনন্য করে তুলেছে। ইতিহাস বিভিন্ন জাতির মধ্যে আধ্যাত্মিক পুরুষদের দেখেছে, বিশেষ করে সুদূর প্রাচ্যের জাতিগুলোর মধ্যে। আজকেও এমন অনেক মানুষ আছে যাদের মধ্যে বিশুদ্ধ আধ্যাত্মিক প্রবণতা প্রবল। কিন্তু তারা সবাই ছিল সভ্যতার প্রতি নেতিবাচক, সামাজিক অবদানে বিমুখ; তারা মঠ, পাহাড়ের চূড়া, গুহা কিংবা মরুভূমিতে জীবন অতিবাহিত করত। পক্ষান্তরে, আমাদের সভ্যতার ইতিহাসের আধ্যাত্মিক আদর্শ ব্যক্তিত্বগণ জীবন গড়ার লড়াইয়ে লিপ্ত ছিলেন এবং সেই লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কর্ম, শ্রম, ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের সকল দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আধ্যাত্মিকতার এই বিস্ময়কর সমন্বয়ই হলো আমাদের সভ্যতার ইতিহাসের রহস্য।

আজ এই আলোচনাগুলো প্রকাশের উদ্দেশ্য হলো এই চমৎকার বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা, যা এই প্রমাণ বহন করে যে আমরা বর্তমানের চেয়ে আরও পূর্ণাঙ্গ ও মহৎ সভ্যতা গড়ার সক্ষমতা রাখি। সেই সাথে আমাদের উম্মাহর নতুন প্রজন্মকে তাদের পূর্বপুরুষদের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ মানবিক সভ্যতা গড়ার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। এই ধরনের স্মরণের জন্য বর্তমান সময়টিই সবচেয়ে উপযুক্ত। কারণ আমাদের উম্মাহ এখন পুনরায় ইতিহাসের পাতায় মর্যাদার সাথে প্রবেশ করছে, যেখানে একটি সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ ভবিষ্যৎ গড়ার দৃঢ় সংকল্প ও উদ্দীপনা বিদ্যমান। আমাদের জাতির মাঝে এখনও পূর্বপুরুষদের মহান চরিত্রের অবশিষ্টাংশ টিকে আছে; তাই তারা যখন তাদের পূর্বপুরুষদের গৌরব, কীর্তি ও সভ্যতার কথা শোনে, তখন তা তাদের প্রবলভাবে আন্দোলিত করে এবং নিরন্তর কাজ করে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

সুতরাং আমি যা বলি তা তাকে শুনিও না, কেননা সে তো সেই সাহসী, যাকে আঘাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে সে লড়াইয়ের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে।

এই চমৎকার দিকগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে আমাদের উদ্দেশ্য এমন দাবি করা নয় যে আমাদের সভ্যতার সবকিছুই সুন্দর ও উজ্জ্বল ছিল। ইতিহাসের এমন কোনো সভ্যতা নেই যার কোনো বিচ্যুতি নেই। বরং উদ্দেশ্য হলো এটি প্রমাণ করা যে, আমাদের সভ্যতার চিরন্তন মানবিক দিকগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুন্দর। এর মাধ্যমে আমরা সেই অপবাদ দানকারীদের জবাব দিতে চাই যারা আমাদের সভ্যতার কেবল দোষ-ত্রুটিই খুঁজে বেড়ায় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একে মৌলিক সভ্যতার তালিকা থেকে বাদ দিতে চায়। এছাড়াও যারা আমাদের বর্তমান প্রজন্মের দৃষ্টিকে ঐতিহ্যের গৌরবোজ্জ্বল নিদর্শন থেকে সরিয়ে এমন এক সভ্যতার দিকে আকর্ষণ করতে চায় যার ধ্বংসাত্মক দিকগুলো মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে, তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করাও আমাদের উদ্দেশ্য। সেই জাতিগুলোর ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের যদি একটি গুণ থাকে তবে বিপরীতে হাজারো দোষ ও পঙ্কিলতা রয়েছে। এটিই সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্য যা অর্জনে তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছে এবং এটিই তাদের অনুসারী ও প্রচারকদের কাজ যারা আজও সাম্রাজ্যবাদী সভ্যতার গুণগানে মগ্ন।

আমি যদি এই বইটিতে আমাদের সভ্যতার কিছু চমৎকার 'নমুনা' তুলে ধরে থাকি, তবে আমি আশা করি সভ্যতার ইতিহাস গবেষকগণ এই কাজটিকে আরও পূর্ণাঙ্গভাবে, গভীর গবেষণার মাধ্যমে এবং আরও স্পষ্ট ও সাবলীল ভাষায় সমাপ্ত করবেন। যাতে বর্তমান প্রজন্মের সামনে এই সভ্যতার এক প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ ছবি ফুটে ওঠে, যা মধ্যযুগে আলো ছড়িয়েছিল এবং জীবনের স্পন্দন জাগিয়েছিল। যে জাতি তার অতীত জানে না তার কোনো বর্তমান নেই, আর যে জাতি তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করে তার কোনো ভবিষ্যৎ নেই। আর এই বৈশিষ্ট্যগুলোই সভ্যতার সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও শক্তিশালী বন্ধনে আবদ্ধ। অতীতের স্মৃতিচারণ করে কেবল রোদন ও বিলাপ করা যদি অলস ও কর্মহীনদের কাজ হয়, তবে অতীতের অফুরন্ত কল্যাণ ও প্রশস্ত আলোকে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করা হলো বিদ্বেষী বা জ্ঞানহীনদের কাজ। আমাদের আগামীর পুনর্জাগরণ বিনির্মাণে আমাদের এই ধনভাণ্ডার থেকে উপকৃত হওয়া অত্যন্ত কল্যাণকর, যাতে সেই জাগরণ নিরাপদ হয়, সাফল্যের উপকরণে সমৃদ্ধ হয় এবং এর লক্ষ্য ও মর্যাদা স্পষ্ট হয়। এই জাগরণ তার অতীত গৌরবের সাথে মিশে গিয়ে ভবিষ্যতের গৌরবকে বর্তমানের সাথে সংযুক্ত করবে। এভাবেই কাফেলা এগিয়ে চলবে, যোগসূত্র স্থাপিত হবে এবং নির্মাণ কাজ পূর্ণতা লাভ করবে।

আল্লাহই একমাত্র লক্ষ্য এবং তিনিই তাওফিক দাতা।

মোস্তফা হোসনি আস-সিবায়ী
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৬৯)
‌‌خصائص حضارتنا

يعرِّف الحضارة بعض الكاتبين في تاريخها بأنها (نظام اجتماعي يعين الإنسان على الزيادة من إنتاجه الثقافي) وتتألف الحضارة من العناصر الأربعة الرئيسية: الموارد الاقتصادية، والنظم السياسية، والتقاليد الخلقية، ومتابعة العلوم والفنون. ولإطراد الحضارة وتقدمها عوامل متعددة من جغرافية وإقتصادية ونفسية كالدين واللغة والتربية، ولانهيارها عوامل هي عكس تلك العوامل التي تؤدي إلي قيامها وتطورها، ومن أهمها الإنحلال الخلقي والفكري، واضطراب القوانين والأنظمة، وشيوع الظلم والفقر، وانتشار التشاؤم واللامبالاة، وفقدان الموجهين الأكفاء والزعماء المخلصين .. وقصة الحضارة تبدأ مند عُرف الإنسان، وهي حلقة متصلة تسلمها الأمة المتحضرة إلي من
আমাদের সভ্যতার বৈশিষ্ট্যসমূহ

সভ্যতার ইতিহাসের কতিপয় লেখক সভ্যতাকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি হলো (একটি সামাজিক ব্যবস্থা যা মানুষকে তার সাংস্কৃতিক উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে)। সভ্যতা চারটি প্রধান উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত: অর্থনৈতিক সম্পদ, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, নৈতিক ঐতিহ্য এবং বিজ্ঞান ও কলার অনুসরণ বা চর্চা। সভ্যতার ধারাবাহিকতা ও অগ্রগতির পেছনে ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক—যেমন ধর্ম, ভাষা ও শিক্ষা—ইত্যাদি নানাবিধ অনুষঙ্গ রয়েছে। আর এর পতনের কারণগুলো হলো সেই সব অনুষঙ্গের বিপরীত যা একে প্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত হতে সহায়তা করে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবক্ষয়, আইন ও ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা, জুলুম ও দারিদ্র্যের ব্যাপকতা, নিরাশা ও উদাসীনতার বিস্তার এবং যোগ্য পথপ্রদর্শক ও একনিষ্ঠ নেতাদের অভাব। সভ্যতার ইতিহাস মানুষের পরিচিতি লাভের সময় থেকেই শুরু হয়েছে, আর এটি একটি অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা যা এক সভ্য জাতি পরবর্তী জাতির নিকট হস্তান্তর করে...
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৭০)
بعدها، ولا تختص بأرض ولا عرق، وإنما تنشأ من العوامل السابقة التي ذكرناها. ولا تكاد أمة تخلو من تسجيل بعض الصفحات في تاريخ الحضارة، غير أن ما تمتاز به حضارة عن حضارة إنما هو قوة الأسس التي تقوم عليها، والتأثير الكبير الذي يكون لها، والخير العميم الذي يصيب الإنسانية من قيامها، وكلما كانت الحضارة عالمية في رسالتها، إنسانية في نزعتها، خلقية في اتجاهاتها، واقعية في مبادئها، كانت أخلد في التاريخ، وأبقي علي الزمن، وأجدر بالتكريم.

وحضارتنا حلقة من سلسلة الحضارات الإنسانية، سبقتها حضارات وستتبعها حضارات. وقد كان لقيام حضارتنا عوامل، ولانهيارها أسباب، ليست هي ما تعنيه هذه السلسلة من أحاديثنا، وإنما نريد قبل أن نبدأ الحديث عن روائع هذه الحضارة، أن نتحدث عن دورها الخطير في تاريخ التقدم الإنساني، ومدي ما قدمته في ميدان العقيدة والعلم والخلق والحكم والفن والأدب من أياد خالدة علي الإنسانية في مختلف شعوبها وأقطارها.

إن أبرز ما يلفت نظر الدارس لحضارتنا أنها تميزت بالخصائص التالية:

1 - أنها قامت علي أساس الوحدانية المطلقة في
এরপর, এটি কোনো বিশেষ ভূখণ্ড বা বংশের সাথে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আমাদের উল্লিখিত পূর্ববর্তী কারণসমূহ থেকেই উদ্ভূত হয়। সভ্যতার ইতিহাসে কিছু অধ্যায় লিপিবদ্ধ করা থেকে কোনো জাতিই প্রায় বাদ যায় না, তবে এক সভ্যতা থেকে অন্য সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্ব ও অনন্যতা মূলত তার ভিত্তিমূলের শক্তি, তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব এবং তার প্রতিষ্ঠার ফলে মানবতার যে প্রভূত কল্যাণ সাধিত হয় তার ওপর নির্ভর করে। একটি সভ্যতা তার বাণীতে যত বেশি বৈশ্বিক হবে, তার প্রবণতায় মানবিক হবে, তার অভিমুখিতায় নৈতিক হবে এবং তার নীতিমালায় বাস্তবমুখী হবে, ইতিহাসে তা তত বেশি অমর হবে, কালের বিবর্তনে দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং অধিকতর সম্মানের যোগ্য হবে।

আমাদের সভ্যতা মানব সভ্যতার ধারাক্রমের একটি যোগসূত্র মাত্র; এর পূর্বে বহু সভ্যতা গত হয়েছে এবং এর পরেও বহু সভ্যতা আসবে। আমাদের সভ্যতার উত্থানের যেমন কিছু নিয়ামক ছিল, তেমনি এর পতনেরও কিছু কারণ ছিল; তবে আমাদের এই হাদিসসমূহের ধারাক্রমের উদ্দেশ্য সেসব নয়। বরং এই সভ্যতার বিস্ময়কর দিকগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগে আমরা মানব অগ্রগতির ইতিহাসে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং আকিদাহ, বিজ্ঞান, নৈতিকতা, শাসনব্যবস্থা, শিল্প ও সাহিত্যের ময়দানে বিভিন্ন জাতি ও ভূখণ্ডের মানবতার কল্যাণে এটি যে অক্ষয় অবদান রেখেছে, তা নিয়ে আলোচনা করতে চাই।

আমাদের সভ্যতার কোনো গবেষকের দৃষ্টিতে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে যা ধরা পড়ে তা হলো, এটি নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে স্বতন্ত্র হয়েছে:

১ - এটি নিরঙ্কুশ একত্ববাদের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা...
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৭১)
العقيدة، فهي أول حضارة تنادي بالإله الواحد الذي لا شريك له في حكمه وملكه، وهو وحده الذي يعبد، وهو وحده الذي يقصد {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} وهو الذي يعز ويذل ويعطي ويمنح، وما من شيء في السموات والأرض إلا وهو تحت قدرته وفي متناول قبضته.

هذا السمو في فهم الوحدانية كان له أثر كبير في رفع مستوي الإنسان وتحرير الجماهير من طغيان الملوك والأشراف والأقوياء ورجال الدين، وتصحيح العلاقة بين الحاكمين والمحكومين، وتوجيه الأنظار إلي الله وحده وهو خالق الخلق ورب العالمين .. كما كان لهذه العقيدة أثر كبير في الحضارة الإسلامية تكاد تتميز به عن كل الحضارات السابقة واللاحقة، وهي خلوها من كل مظاهر الوثنية وآدابها وفلسفتها في العقيدة والحكم والفن والشعر والأدب، وهذا هو سر إعراض الحضارة الإسلامية عن ترجمة الإلياذة وروائع الأدب اليوناني الوثني، وهو سر تقصير الحضارة الإسلامية في فنون النحت والتصوير مع تبريزها في فنون النقش والحفر وزخرفة البناء. إن الإسلام الذي أعلن الحرب العوان علي الوثنية ومظاهرها لم يسمح لحضارته أن تقوم فيها مظاهر الوثنية وبقاياها المستمرة من أقدم عصور التاريخ،
আকিদা (العقيدة) বা বিশ্বাস; এটিই প্রথম সভ্যতা যা এমন এক অদ্বিতীয় ইলাহ-এর দিকে আহ্বান জানায়, যাঁর সার্বভৌমত্ব ও রাজত্বে কোনো শরিক নেই। কেবল তাঁরই ইবাদত করা হয় এবং কেবল তাঁরই সান্নিধ্য কামনা করা হয়: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি}। তিনিই সম্মান দান করেন ও লাঞ্ছিত করেন এবং তিনিই দান ও অনুগ্রহ প্রদান করেন। আসমান ও জমিনে এমন কিছুই নেই যা তাঁর কুদরত বা ক্ষমতার অধীনে এবং তাঁর করায়ত্তের বাইরে।

একত্ববাদের (الوحدانية) উপলব্ধিতে এই সুউচ্চ মর্যাদা মানুষের মানোন্নয়নে এবং জনতাকে রাজা-বাদশাহ, অভিজাত শ্রেণি, ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও ধর্মীয় যাজকতন্ত্রের জুলুম থেকে মুক্ত করতে এক বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। এটি শাসক ও শাসিতের মধ্যকার সম্পর্ককে সঠিক রূপ দান করেছে এবং মানুষের দৃষ্টিকে নিবদ্ধ করেছে কেবল আল্লাহর দিকে, যিনি সমস্ত সৃষ্টির স্রষ্টা এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালক। একইভাবে এই আকিদার (العقيدة) ইসলামি সভ্যতায় এমন এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল যার কারণে এটি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল সভ্যতা থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছে; আর তা হলো—আকিদা (العقيدة), শাসনব্যবস্থা, শিল্পকলা, কাব্য ও সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে মূর্তিপূজার (الوثنية) যাবতীয় নিদর্শন, শিষ্টাচার ও দর্শন থেকে এর মুক্ত থাকা। আর এটাই হলো ইসলামি সভ্যতা কর্তৃক ইলিয়াড ও গ্রিক পৌত্তলিক সাহিত্যের শ্রেষ্ঠকর্মগুলো অনুবাদ করা থেকে বিমুখ থাকার রহস্য। স্থাপত্যের অলঙ্করণ ও নকশা শিল্পে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা সত্ত্বেও ভাস্কর্য ও চিত্রশিল্পে ইসলামি সভ্যতার অনাগ্রহের রহস্যও এখানেই নিহিত। নিশ্চয়ই ইসলাম, যা মূর্তিপূজা (الوثنية) ও এর নিদর্শনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সংগ্রাম ঘোষণা করেছে, তা নিজের সভ্যতায় পৌত্তলিকতার (الوثنية) কোনো বহিঃপ্রকাশ কিংবা ইতিহাসের প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা এর কোনো অবশিষ্টাংশ টিকে থাকার অনুমতি দেয়নি।
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৭২)
كتماثيل العظماء والصالحين والأنبياء والفاتحين. وقد كانت التماثيل من أبرز مظاهر الحضارات القديمة والحضارة الحديثة، لأن واحدة منها لم تذهب في عقيدة الوحدانية إلي المدى الذي وصلت إليه الحضارة الإسلامية.

وهذه الوحدة في العقيدة تطبع كل الأسس والنظم التي جاءت بها حضارتنا، فهنالك الوحدة في الرسالة، والوحدة في التشريع، والوحدة في الأهداف العامة، والوحدة في الكيان الإنساني العام، والوحدة في وسائل المعيشة وطراز التفكير، حتى أن الباحثين في الفنون الإسلامية قد لحظوا وحدة الأسلوب والذوق في أنواعها المختلفة، فقطعة من العاج الأندلسي، وأخري من النسيج المصري، وثالثة من الخزف الشامي، ورابعة من المعادن الإيرانية، تبدو رغم تنوع أشكالها وزخرفتها ذات أسلوب واحد وطابع واحد.

2 - وثاني خصائص حضارتنا أنها إنسانية النزعة والهدف، عالمية الأفق والرسالة، فالقرآن الذي أعلن وحدة النوع الإنساني رغم تنوع أعراقه ومنابته ومواطنه، في قوله تعالي: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ
যেমন মহীয়ান ব্যক্তি, পুণ্যবান (صالحين), নবী ও বিজেতাদের মূর্তিসমূহ। প্রাচীন ও আধুনিক সভ্যতাসমূহের অন্যতম প্রধান নিদর্শন ছিল এসব ভাস্কর্য; কেননা তাদের কোনোটিই একত্ববাদের আকিদার (عقيدة الوحدانية) ক্ষেত্রে সেই উচ্চতায় পৌঁছেনি যেখানে ইসলামি সভ্যতা পৌঁছেছে।

আকিদাগত এই ঐক্য আমাদের সভ্যতার আনীত সকল ভিত্তি ও ব্যবস্থার ওপর ছাপ ফেলেছে। ফলে সেখানে বিদ্যমান রয়েছে বার্তার ঐক্য, বিধান প্রণয়নের (تشريع) ঐক্য, সামষ্টিক লক্ষ্যের ঐক্য, সাধারণ মানবিক সত্তার ঐক্য এবং জীবনযাত্রার উপকরণ ও চিন্তাধারার ঐক্য। এমনকি ইসলামি শিল্পকলার গবেষকগণ এর বিভিন্ন শাখার মধ্যে শৈলী ও রুচির একরূপতা লক্ষ্য করেছেন। তাই আন্দালুসিয়ার একটি হস্তিদন্ত নির্মিত শিল্পকর্ম, মিশরের একটি বস্ত্রখণ্ড, শামের একটি মৃৎপাত্র এবং ইরানের একটি ধাতব সামগ্রী—তাদের গঠন ও অলঙ্করণের বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও অভিন্ন শৈলী ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বলে মনে হয়।

2 - আমাদের সভ্যতার দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো এটি মানবিক প্রবণতা ও লক্ষ্যসম্পন্ন এবং এটি বিশ্বজনীন দিগন্ত ও বার্তার অধিকারী। পবিত্র কুরআন মানবজাতির একত্বের ঘোষণা দিয়েছে, তাদের বংশধারা, উৎস ও আবাসস্থলের বৈচিত্র্য সত্ত্বেও। মহান আল্লাহর বাণীতে: {হে মানুষ! নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের পরিচয় জানতে পারো। নিশ্চয়...}
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৭৩)
أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} (1). إن القرآن حين أعلن هذه الوحدة الإنسانية العالمية علي صعيد الحق والخير والكرامة جعل حضارته عقدا تنتظم فيه جميع العبقريات للشعوب والأمم التي خفقت فوقها راية الفتوحات الإسلامية، ولذلك كانت كل حضارة تستطيع أن تفاخر بالعباقرة من أبناء جنس واحد وأمة واحدة، إلا الحضارة الإسلامية فإنها تفاخر بالعباقرة الذين أقاموا صرحها من جميع الأمم والشعوب، فأبو حنيفة ومالك والشافعي وأحمد والخليل وسيبويه والكندي والغزالي، والفارابي، وابن رشد وأمثالهم ممن اختلفت أصولهم وتباينت أوطانهم، ليسوا إلا عباقرة قدمت فيهم الحضارة الإسلامية إلي الإنسانية أروع نتاج الفكر الإنساني السليم.

3 - وثالث خصائص حضارتنا أنها جعلت للمبادئ الأخلاقية المحل الأول في كل نظمها ومختلف ميادين نشاطها، وهي لم تتخل عن هذه المبادئ قط، ولم تجعلها وسيلة لمنفعة دولة أو جماعة، أو أفراد .. في الحكم، وفي العلم وفي التشريع، وفي الحرب، وفي السلم، وفي الاقتصاد، وفي الأسرة .. روعيت

--------------------------------------------

(1) الحجرات- 13.
{আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী} (১)। নিশ্চয়ই কুরআন যখন সত্য, কল্যাণ ও মর্যাদার এই বিশ্বজনীন মানবিক ঐক্যের ঘোষণা দিয়েছে, তখন সে আপন সভ্যতাকে এমন এক সূত্রে গেঁথেছে যাতে সেই সকল জাতি ও গোষ্ঠীর সকল প্রতিভা একত্রিত হয়েছে, যাদের ওপর ইসলামি বিজয়ের পতাকা উড্ডীন হয়েছিল। এই কারণেই প্রতিটি সভ্যতা কেবল একটি নির্দিষ্ট বংশ বা জাতির প্রতিভাবান ব্যক্তিদের নিয়ে গর্ব করতে পারে; তবে ইসলামি সভ্যতা ব্যতিক্রম, কারণ এটি সেই সকল মনীষীদের নিয়ে গর্ব করে যারা বিশ্বের সকল জাতি ও গোষ্ঠীর মধ্য থেকে এসে এর ভিত্তি স্থাপন করেছেন। সুতরাং আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ, আহমদ, খলিল, সিবওয়াইহি, আল-কিন্দি, আল-গাযালি, আল-ফারাবি, ইবনে রুশদ এবং তাদের মতো অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ—যাদের বংশীয় উৎস ভিন্ন ছিল এবং স্বদেশ ছিল পৃথক—তারা মূলত এমন সব প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব, যাদের মাধ্যমে ইসলামি সভ্যতা মানবতার নিকট সুস্থ মানবচিন্তার সর্বোত্তম ফসল উপস্থাপন করেছে।

৩ - আমাদের সভ্যতার তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো—এটি এর সকল ব্যবস্থা এবং কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নৈতিক আদর্শকে সর্বোচ্চ স্থান প্রদান করেছে। এটি কখনোই এই নীতিগুলো বর্জন করেনি এবং কোনো রাষ্ট্র, দল বা ব্যক্তির স্বার্থসিদ্ধির মাধ্যম হিসেবে এগুলোকে ব্যবহার করেনি। শাসনব্যবস্থা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইনপ্রণয়ন, যুদ্ধ, শান্তি, অর্থনীতি এবং পারিবারিক ক্ষেত্র—সর্বত্রই এই আদর্শসমূহ রক্ষা করা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) আল-হুজুরাত- ১৩।
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৭৪)
المبادئ الأخلاقية تشريعا وتطبيقا، وبلغت في ذلك شأوا ساميا بعيدا لم تبلغه حضارة في القديم والحديث. ولقد تركت الحضارة الإسلامية في ذلك آثارا تستحق الإعجاب وتجعلها وحدها من بين الحضارات التي كفلت سعادة الإنسانية سعادة خالصة لا يشوبها شقاء ..

4 - ورابع هذه الخصائص أنها تؤمن بالعلم في أصدق أصوله، وترتكز علي العقيدة في أصفي مبادئها، فهي خاطبت العقل والقلب معا، وأثارت العاطفة والفكر في وقت واحد. وهي ميزة لم تشاركها فيها حضارة في التاريخ. وسر العجب في هذه الخاصة من خصائص حضارتنا أنها استطاعت أن تنشئ نظاما للدولة قائما علي مبادئ الحق والعدالة، مرتكزا إلي الدين والعقيدة دون أن يقيم الدين عائقا من دون رقي الدولة واطراد الحضارة، بل كان الدين من أكبر عوامل الرقي فيها، فمن بين جدران المساجد في بغداد ودمشق والقاهرة وقرطبة وغرناطة انطلقت أشعة العلم إلي أنحاء الدنيا قاطبة. إن الحضارة الإسلامية هي الوحيدة التي لم يُفصل فيها الدين عن الدولة مع نجاتها من كل مآسي المزج بينهما كما عرفته أوروبا في القرون الوسطى. لقد كان رئيس الدولة خليفة وأميرا للمؤمنين، لكن الحكم عنده للحق، والتشريع للمختصين فيه، ولكل فئة من
नैतिक আদর্শসমূহ বিধান প্রণয়ন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে এক সুউচ্চ শিখরে উন্নীত হয়েছে, যা প্রাচীন বা আধুনিক কোনো সভ্যতা কখনো অর্জন করতে পারেনি। ইসলামি সভ্যতা এই ক্ষেত্রে এমন সব অনন্য কীর্তি রেখে গেছে যা প্রশংসার দাবি রাখে এবং একে এমন এক অদ্বিতীয় সভ্যতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যা মানবতার জন্য এক অনাবিল ও বিশুদ্ধ সুখ নিশ্চিত করেছে, যেখানে কোনো দুঃখ-কষ্টের সংমিশ্রণ নেই...

৪ - এই বৈশিষ্ট্যগুলোর চতুর্থটি হলো এটি বিজ্ঞানের ওপর তার বিশুদ্ধতম মূলনীতিতে বিশ্বাস রাখে এবং এর ভিত্তিমূল প্রোথিত তার স্বচ্ছতম আকিদাহ বা বিশ্বাসের ওপর। এটি একাধারে বুদ্ধি ও হৃদয়ের সাথে সম্বোধন করেছে এবং একই সাথে আবেগ ও চিন্তাশক্তিকে জাগ্রত করেছে। এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যাতে ইতিহাসের অন্য কোনো সভ্যতা এর অংশীদার হতে পারেনি। আমাদের সভ্যতার এই বৈশিষ্ট্যের বিস্ময়কর রহস্যটি হলো যে, এটি ধর্ম ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সত্য ও ন্যায়বিচারের মূলনীতির আলোকে এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল, যেখানে ধর্ম রাষ্ট্রের অগ্রগতি ও সভ্যতার বিকাশে কোনো অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং ধর্মই ছিল উন্নতির অন্যতম প্রধান প্রভাবক। ফলে বাগদাদ, দামেস্ক, কায়রো, কর্ডোভা ও গ্রানাডার মসজিদগুলোর প্রাঙ্গণ থেকে বিজ্ঞানের আলো বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। ইসলামি সভ্যতা হলো একমাত্র সভ্যতা যেখানে ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়নি, অথচ মধ্যযুগে ইউরোপে ধর্ম ও রাষ্ট্রের সংমিশ্রণে যে করুণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকে এটি সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। রাষ্ট্রের প্রধান ছিলেন খলিফা ও আমিরুল মুমিনিন, কিন্তু তাঁর নিকট শাসনকর্তৃত্ব ছিল সত্যের অনুগামী এবং আইন প্রণয়নের দায়িত্ব ছিল এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের ওপর, আর প্রতিটি শ্রেণির জন্য...
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৭৫)
العلماء اختصاصهم والجميع يتساوون أمام القانون، والتفاضل بالتقوى والخدمة العامة للناس (والله لو أن فاطمة بنت محمد سرقت لقطع محمد يدها) (1) (الخلق كلهم عيال الله فأحبهم إليه أنفعهم لعياله) (2) هذا هو الدين الذي قامت عليه حضارتنا، ليس فيه امتياز لرئيس، ولا لرجل دين، ولا لشريف ولا لغني .. {قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ} (3).

5 - وآخر ما نذكر من خصائص حضارتنا هذا التسامح الديني العجيب الذي لم تعرفه حضارة مثلها قامت علي الدين. إن الذي لا يؤمن بدين ولا بإله، لا يبدو عجيبا إذا نظر إلي الأديان كلها علي حد سواء، وإذا عامل أتباعها بالقسطاس المستقيم، ولكن صاحب الدين الذي يؤمن بأن دينه حق وأن عقيدته أقوم العقائد وأصحها، ثم يتاح له أن يحمل السيف، ويفتح المدن، ويستولي علي الحكم، ويجلس علي منصة القضاء، ثم لا يحمله إيمانه بدينه، واعتزازه بعقيدته، علي أن يجور في الحكم، أو أن ينحرف عن سنن العدالة، أو يحمل الناس على اتباع دينه .. إن رجلا مثل هذا لعجيب أن

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري وسلم.

(2) رواه البزار.

(3) الكهف- 110.
আলেমগণের নিজস্ব বিশেষত্ব রয়েছে এবং আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান; শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয় তাকওয়া (পরহেজগারী) এবং জনসেবার মাধ্যমে। (আল্লাহর কসম, যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে মুহাম্মাদ অবশ্যই তার হাত কেটে দিত) (১)। (সমগ্র সৃষ্টিজগত আল্লাহর পরিজন, তাই তাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক প্রিয়, যে তাঁর পরিজনের জন্য অধিক উপকারী) (২)। এটিই সেই দীন যার ওপর আমাদের সভ্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান, ধর্মীয় গুরু, অভিজাত কিংবা ধনীর জন্য কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নেই... {বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ} (৩)।

৫ - আমাদের সভ্যতার বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে সর্বশেষ আমরা যেটির কথা উল্লেখ করব তা হলো এই বিস্ময়কর ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, যা ধর্মের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অন্য কোনো সভ্যতায় দেখা যায় না। যে ব্যক্তি কোনো ধর্ম বা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না, সে যদি সব ধর্মকে সমান চোখে দেখে এবং তাদের অনুসারীদের সাথে ইনসাফের সাথে আচরণ করে, তবে তা বিস্ময়কর মনে হয় না। কিন্তু একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি, যে বিশ্বাস করে যে তার ধর্মই সত্য এবং তার আকিদাহ সবচেয়ে সুদৃঢ় ও সঠিক (أصح), অতঃপর যখন সে তলোয়ার ধারণ করার, দেশ জয় করার, ক্ষমতা দখল করার এবং বিচারকের আসনে বসার সুযোগ লাভ করে, তখনো তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও আকিদাহর প্রতি গর্ব তাকে বিচারে অবিচার করতে, ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত হতে কিংবা মানুষকে তার ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করতে প্ররোচিত করে না... এমন ব্যক্তি সত্যিই বিস্ময়কর যে-

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি বাজ্জার বর্ণনা করেছেন।

(৩) আল-কাহাফ- ১১০।
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৭৬)
يكون في التاريخ، فكيف إذا وجد في التاريخ حضارة قامت علي الدين وشادت قواعدها علي مبادئه، ثم هي من أشد ما عرف التاريخ تسامحا وعدالة ورحمة وإنسانية! .. هذا ما صنعته حضارتنا وسنجد له عشرات الأمثلة فيما نذكره في أحاديثنا المقبلة. وحسبنا أن نعرف أن حضارتنا تنفرد في التاريخ بأن الذي أقامها دين واحد، ولكنها كانت للأديان جميعا.
ইতিহাসে এমনটি হয়ে থাকে; তবে ইতিহাসে যদি এমন এক সভ্যতার সন্ধান পাওয়া যায় যা ধর্মের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং স্বীয় মূলনীতিসমূহের ওপর তার ভিত্তি সুদৃঢ় করেছে, তবে তা কেমন হবে? অধিকন্তু, ইতিহাস এযাবত যা কিছু প্রত্যক্ষ করেছে তার মধ্যে এটি ছিল সহনশীলতা, ন্যায়বিচার, দয়া ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত! এটিই আমাদের সভ্যতার অবদান এবং আমাদের আগামী দিনের হাদিসসমূহে আমরা এর অসংখ্য উদাহরণ খুঁজে পাব। আমাদের জানার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, ইতিহাসে আমাদের সভ্যতা এই দিক থেকে অনন্য যে, একে একটিমাত্র ধর্ম প্রতিষ্ঠিত করেছে, কিন্তু তা ছিল সকল ধর্মের মানুষের জন্য।
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৭৯)
وبعد فأعتقد أني بلغت ما أريد من لفت الأنظار إلى دراسة حضارتنا وإن لم أبلغ ما أريد من توفية هذا البحث حقه، وحسبي أن أعرض في الأحاديث التالية نماذج من روائع حضارتنا نستدل بها على خلود الحضارة التي شادتها الأمة التي وصفها أعدل حاكم وأصدق قائل بأنها: (خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ) (1).

--------------------------------------------

(1) آل عمران- 110.
অতঃপর, আমি মনে করি যে আমাদের সভ্যতা অধ্যয়নের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার যে লক্ষ্য আমার ছিল, আমি তা অর্জন করেছি; যদিও এই গবেষণার যথাযথ হক আদায়ের ক্ষেত্রে আমি আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। আর আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আমি পরবর্তী হাদিসগুলোতে আমাদের সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্বের কিছু নমুনা উপস্থাপন করব, যার মাধ্যমে আমরা সেই সভ্যতার অবিনশ্বরতার প্রমাণ পেশ করতে পারব যা এমন এক জাতি নির্মাণ করেছে, যাদের সম্পর্কে শ্রেষ্ঠ বিচারক ও সর্বাধিক সত্যবাদী সত্তা ঘোষণা করেছেন: "তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের বের করা হয়েছে" (১)।

--------------------------------------------

(১) আল ইমরান- ১১০।
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৮০)
‌‌آثار حضارتنا في التاريخ

تكلمنا في الحديث الماضي عن الخصائص البارزة لحضارتنا، وقلنا إن الحضارات إنما تخلد بمقدار ما تقدمه في تاريخ الإنسانية من آثار خالدة في مختلف النواحي الفكرية والخلقية، والمادية، وأن حضارتنا لعبت دوراً خطيراً في تاريخ التقدم الإنساني، وتركت في ميادين العقيدة والعلم والحكم والفلسفة والفن والأدب وغيرها آثاراً بعيدة المدى قوية التأثير فيما وصلت إليه الحضارة الحديثة، فما هي الآثار؟ وما هي أهميتها؟

نستطيع أن نجمل الآثار الخالدة لحضارتنا في ميادين خمسة رئيسية:

أولاً- في ميدان العقيدة والدين: فقد كان
ইতিহাসে আমাদের সভ্যতার নিদর্শনসমূহ

আমরা গত আলোচনায় আমাদের সভ্যতার অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আমরা বলেছি যে, সভ্যতাগুলো মানব ইতিহাসে বুদ্ধিবৃত্তিক, নৈতিক ও বস্তুগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে পরিমাণ শাশ্বত নিদর্শন রেখে যায়, ঠিক সেই পরিমাণেই তারা অমরত্ব লাভ করে। আমাদের সভ্যতা মানব সভ্যতার অগ্রগতির ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং আকিদাহ (عقيدة) বা বিশ্বাস, বিজ্ঞান, শাসন ব্যবস্থা, দর্শন, শিল্পকলা, সাহিত্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এমন সুদূরপ্রসারী ও শক্তিশালী প্রভাবের নিদর্শন রেখে গেছে যা আধুনিক সভ্যতার বর্তমান স্তরে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। তাহলে সেই নিদর্শনগুলো কী? এবং সেগুলোর গুরুত্বই বা কী?

আমরা আমাদের সভ্যতার শাশ্বত নিদর্শনগুলোকে পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে সারসংক্ষেপ করতে পারি:

প্রথমত— আকিদাহ (عقيدة) বা বিশ্বাস এবং ধর্মের ক্ষেত্রে: কেননা...
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৮১)
لمبادئ الحضارة الإسلامية أثر كبير في حركات الإصلاح الدينية التي قامت في أوروبا منذ القرن السابع حتى عصر النهضة الحديثة، فالإسلام الذي أعلن وحدة الله وانفراده بالسلطان وتنزيهه عن التجسيم والظلم والنقص، كما أعلن استقلال الإنسان في عبادته وصلته مع الله وفهمه لشرائعه دون وساطة رجال الدين، كان عاملاً كبيراً في تفتح أذهان الشعوب إلى هذه المبادئ القوية الرائعة، وقد كانت الشعوب يومئذ ترسف في أغلال من الخصام المذهبي العنيف والخضوع لسلطان رجال الدين على أفكارهم وآرائهم وأموالهم وأبدانهم! فمن الطبيعي وقد وصلت فتوحاته في الشرق والغرب إلى ما وصلت إليه، أن تتأثر الأمم المجاورة له بمبادئه في العقيدة قبل كل شيء.

وهذا ما حدث فعلاً، إذ قام في القرن السابع الميلادي في الغربيين من ينكر عبادة الصور، ثم قام بعدهم من ينكر الوساطة بين الله وعباده، ويدعو إلى الاستقلال في فهم الكتب المقدسة بعيداً عن سلطان رجال الدين ومراقبتهم. ويؤكد كثير من الباحثين أن (لوثر) في حركته الإصلاحية كان متأثراً بما قرأه للفلاسفة العرب والعلماء المسلمين من آراء في الدين والعقيدة والوحي، وقد كانت الجامعات الأوروبية في عصره لا تزال
ইসলামী সভ্যতার মূলনীতিসমূহের ইউরোপের ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনগুলোর ওপর ব্যাপক প্রভাব ছিল, যা সপ্তম শতাব্দী থেকে আধুনিক রেনেসাঁ যুগ পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছিল। ইসলাম—যা আল্লাহর একত্ববাদ, তাঁর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব এবং তাঁকে মানবীয় রূপারোপ, অন্যায় ও ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র রাখার ঘোষণা দিয়েছে, এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে মানুষের স্বাধীনতা, আল্লাহর সাথে সরাসরি সম্পর্ক ও ধর্মীয় যাজকদের মধ্যস্থতা ব্যতিরেকেই তাঁর বিধানাবলি অনুধাবনের সক্ষমতার ঘোষণা দিয়েছে—তা এই শক্তিশালী ও চমৎকার মূলনীতিগুলোর প্রতি জনগণের চিন্তা-চেতনা উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে এক বিরাট নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছিল। তৎকালীন জাতিসমূহ উগ্র মাযহাবী কলহ এবং তাদের চিন্তা, মতামত, সম্পদ ও শরীরের ওপর ধর্মীয় যাজকদের কর্তৃত্বের নিগড়ে আবদ্ধ ছিল! সুতরাং এটিই স্বাভাবিক যে, যখন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ইসলামের বিজয় বিস্তৃতি লাভ করেছিল, তখন প্রতিবেশী জাতিসমূহ অন্য সবকিছুর আগে এর আকিদাগত মূলনীতিসমূহ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল।

আর বাস্তবেও তা-ই ঘটেছিল; কেননা সপ্তম খ্রিস্টীয় শতাব্দীতে পশ্চিমাদের মধ্যে এমন একদল আবির্ভূত হয়েছিল যারা মূর্তিপূজা অস্বীকার করেছিল। অতঃপর তাদের পরে এমন একদল আসে যারা আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মধ্যে কোনো মধ্যস্থতা অস্বীকার করে এবং যাজকদের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ মুক্ত হয়ে স্বতন্ত্রভাবে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ অনুধাবনের আহ্বান জানায়। অনেক গবেষকই এটি নিশ্চিত করে বলেন যে, লুথার তাঁর সংস্কার আন্দোলনে ধর্ম, আকিদা ও ওহি সম্পর্কিত আরব দার্শনিক এবং মুসলিম পণ্ডিতদের যে সকল মতামত পাঠ করেছিলেন, তা দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। এমনকি তাঁর যুগেও ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তখন পর্যন্ত
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৮২)
تعتمد على كتب الفلاسفة المسلمين التي ترجمت منذ عهد بعيد إلى اللاتينية، ونستطيع أن نؤكد بأن حركة الفصل بين الدين والدولة التي أُعلنت في الثورة الفرنسية كانت وليد الحركات الفكرية العنيفة التي سادت أوروبا ثلاثة قرون أو أكثر، وكان لحضارتنا فضل في إيقاد جذوتها عن طريق الحروب الصليبية والأندلس.

ثانيا- في ميدان الفلسفة والعلوم: من طب ورياضيات وكيمياء وجغرافيا وفلك. أفاقت أوروبا على صوت علمائنا وفلاسفتنا يدرّسون هذه العلوم في مساجد إشبيلية وقرطبة وغرناطة وغيرها، وكان رواد الغربيين الأُول إلى مدارسنا شديدي الإعجاب والشغف بكل ما يستمعون إليه من هذه العلوم في جو من الحرية لا يعرفون له مثيلاً في بلادهم. ففي الوقت الذي كان فيه علماؤنا يتحدثون في حلقاتهم العلمية ومؤلفاتهم عن دوران الأرض وكرويتها، وحركات الأفلاك والأجرام السماوية، كانت عقول الأوروبيين تمتلئ بالخرافات والأوهام عن هذه الحقائق كلها! ومن ثم ابتدأت عند الغربيين حركة الترجمة من العربية إلى اللاتينية وغدت كتب علمائنا تُدرّس في الجامعات الغربية. فقد تُرجم كتاب (القانون) في الطب لابن سينا في القرن الثاني عشر، كما تُرجم كتاب (الحاوي) للرازي وهو
এটি মুসলিম দার্শনিকদের সেই সকল গ্রন্থের ওপর নির্ভরশীল যা অনেক পূর্বেই ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যে, ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে ধর্ম ও রাষ্ট্র পৃথকীকরণের যে আন্দোলন ঘোষিত হয়েছিল, তা ছিল সেই প্রখর বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনেরই ফসল যা ইউরোপে তিন শতাব্দী বা তারও বেশি সময় ধরে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। ক্রুসেড যুদ্ধ এবং আন্দালুসের মাধ্যমে এই চেতনার শিখা প্রজ্বলিত করার ক্ষেত্রে আমাদের সভ্যতার বিশেষ অবদান ছিল।

দ্বিতীয়ত- দর্শন ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে: চিকিৎসা শাস্ত্র, গণিত, রসায়ন, ভূগোল এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান। ইউরোপ আমাদের আলেম ও দার্শনিকদের কণ্ঠস্বরে সজাগ হয়ে উঠেছিল যখন তাঁরা সেভিল, কর্ডোভা, গ্রানাডা এবং অন্যান্য শহরের মসজিদগুলোতে এই বিজ্ঞানসমূহ শিক্ষা দিচ্ছিলেন। আমাদের বিদ্যাপীঠগুলোতে আগত প্রাথমিক পশ্চিমা অভিযাত্রীরা স্বাধীনতার এমন এক পরিবেশে এই সকল বিজ্ঞান সম্পর্কে যা কিছু শ্রবণ করতেন, তাতে তাঁরা অত্যন্ত মুগ্ধ ও অনুরাগী হয়ে পড়তেন—এমন স্বাধীনতার দৃষ্টান্ত তাঁদের নিজ দেশে ছিল বিরল। এমন এক সময়ে যখন আমাদের আলেমগণ তাঁদের জ্ঞানতাত্ত্বিক মজলিস এবং গ্রন্থসমূহে পৃথিবীর আবর্তন, এর গোলাকৃতি এবং মহাকাশীয় কক্ষপথ ও জ্যোতিষ্কের গতিবিধি নিয়ে আলোচনা করতেন, তখন ইউরোপীয়দের মস্তিষ্ক এই সকল ধ্রুব সত্য সম্পর্কে নানা কুসংস্কার ও অলীক ভাবনায় আচ্ছন্ন ছিল! ফলশ্রুতিতে, পশ্চিমাদের মাঝে আরবি থেকে ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদের আন্দোলন সূচিত হয় এবং আমাদের আলেমদের রচিত গ্রন্থসমূহ পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্য হিসেবে গৃহীত হয়। দ্বাদশ শতাব্দীতে ইবনে সিনার চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ আল-কানুন অনূদিত হয়, অনুরূপভাবে আল-রাজীর আল-হাবি গ্রন্থটিও অনূদিত হয়, যা...
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৮৩)
أوسع من القانون وأضخم، في نهاية القرن الثالث عشر، وظل هذان الكتابان عمدة لتدريس الطب في الجامعات الأوروبية حتى القرن السادس عشر، أما كتب الفلسفة فقد استمرت أكثر من ذلك، ولم يعرف الغرب فلسفة اليونان إلا عن طريق مؤلفاتنا وترجماتنا.

 

ومن هنا يعترف كثير من الغربيين المنصفين بأننا كنا في القرون الوسطى أساتذة أوروبا مدةً لا تقل عن ستمائة سنة.
তেরো শতকের শেষ দিকে এটি (ইবনে সিনার) 'কানুন' অপেক্ষা অধিক বিস্তৃত ও বিশাল ছিল। এই কিতাবদ্বয় ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে চিকিৎসাশাস্ত্র পাঠদানের মূল ভিত্তি হিসেবে পরিগণিত হতো। আর দর্শনের কিতাবসমূহের প্রভাব তো এর চেয়েও দীর্ঘকাল বিদ্যমান ছিল। বস্তুত গ্রিক দর্শন সম্পর্কে পাশ্চাত্য আমাদের রচনাবলি ও অনুবাদসমূহের মাধ্যমেই জানতে পেরেছে।

 

এ কারণেই অনেক ন্যায়নিষ্ঠ পশ্চিমা পণ্ডিত স্বীকার করেন যে, মধ্যযুগে অন্তত ছয়শত বছর ধরে আমরাই ছিলাম ইউরোপের শিক্ষক।
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৮৫)
يقول العلامة المستشرق سيديو: (كان العرب وحدهم حاملين لواء الحضارة الوسطى فدحروا بربرية أوروبا التي زلزلتها غارات قبائل الشمال، وسار العرب إلى (منابع فلسفة اليونان الخالدة) فلم يقفوا عند حد ما اكتسبوه من كنوز المعرفة بل وسعوه وفتحوا أبواباً جديدة لدرس الطبيعة)، ويقول أيضاً: (والعرب حين زاولوا علم الهيأة عنوا عناية خاصة بالعلوم الرياضية كلها فكان لهم فيها القدح المعلّي، فكانوا أساتذة لنا في هذا المضمار بالحقيقة).

وإذا كان روجر الأول قد شجع على تحصيل علوم العرب في صقلية ولاسيما كتب الإدريسي، فإن الإمبراطور فردريك الثاني لم يبدو أقل حضاً على دراسة علوم العرب وآدابهم، وكان أبناء ابن رشد يقيمون ببلاط هذا الإمبراطور فيعلمونه تاريخ النباتات والحيوانات الطبيعي.

 

ويقول هومبلد في كتابه عن الكون: والعرب هم الذين أوجدوا الصيدلية الكيماوية، ومن العرب أتت الوصايا المحكمة الأولى التي انتحلتها مدرسة (ساليرم) فانتشرت في جنوب أوروبا بعد زمن، وأدّت الصيدلة ومادة الطب اللتان يقوم عليهما فن الشفاء إلى دراسة علم النبات والكيمياء في وقت واحد، ومن طريقين مختلفين، وبالعرب فتح عهد جديد لذلك العلم.

ويقول سيديو عن الرازي وابن سينا بأنهما: سيطرا بكتبهما على مدارس الغرب زمناً طويلاً. وعُرف ابن سينا في أوروبا طبيباً فكان له على مدارسها سلطان مطلق مدة ستة قرون تقريباً، فتُرجم كتابه (القانون) المشتمل على خمسة أجزاء
বিশিষ্ট প্রাচ্যবিদ পণ্ডিত সিডিও বলেন: (একমাত্র আরবরাই ছিল মধ্যযুগের সভ্যতার পতাকাবাহী। তারা ইউরোপের সেই বর্বরতাকে পরাভূত করেছিল যা উত্তরের উপজাতিদের আক্রমণে প্রকম্পিত ছিল। আরবরা গ্রিসের শাশ্বত দর্শনের উৎসমূলের দিকে ধাবিত হয়েছিল; ফলে তারা কেবল অর্জিত জ্ঞানভাণ্ডারের সীমানায় থমকে থাকেনি, বরং তাকে আরও বিস্তৃত করেছে এবং প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের নতুন নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে)। তিনি আরও বলেন: (আরবরা যখন জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে, তখন তারা সামগ্রিক গণিতশাস্ত্রের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিল এবং এই ক্ষেত্রে তারা অনন্য শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল। প্রকৃতপক্ষে এই ময়দানে তারা ছিল আমাদের শিক্ষক)।

যদি প্রথম রজার সিসিলিতে আরবদের জ্ঞান অর্জনে, বিশেষ করে আল-ইদ্রিসির কিতাবসমূহ সংগ্রহে উৎসাহ দিয়ে থাকেন, তবে সম্রাট দ্বিতীয় ফ্রেডরিক আরব বিজ্ঞান ও সাহিত্য অধ্যয়নে কোনো অংশেই কম অনুরাগী ছিলেন না। ইবনে রুশদের পুত্রগণ এই সম্রাটের রাজদরবারে অবস্থান করতেন এবং তাঁকে উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রাকৃতিক ইতিহাস শিক্ষা দিতেন।

 

হামবোল্ড তাঁর মহাবিশ্ব বিষয়ক গ্রন্থে বলেন: আরবরাই রাসায়নিক ঔষধালয় বা ফার্মেসি প্রতিষ্ঠা করেছে। আরবদের থেকেই সেই সুসংহত দিকনির্দেশনাগুলো এসেছে যা পরবর্তীতে 'সালেরনো' স্কুল গ্রহণ করেছিল এবং তা দক্ষিণ ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিল। ভেষজ ও চিকিৎসাবিদ্যা—যার ওপর আরোগ্য দান শিল্প প্রতিষ্ঠিত—একই সময়ে দুটি ভিন্ন পথে উদ্ভিদবিদ্যা ও রসায়ন শাস্ত্রের গবেষণাকে ত্বরান্বিত করেছে। আর আরবদের মাধ্যমেই সেই বিজ্ঞানের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।

রাজি ও ইবনে সিনা সম্পর্কে সিডিও বলেন যে: তাঁরা তাঁদের কিতাবসমূহের মাধ্যমে দীর্ঘকাল পাশ্চাত্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। ইবনে সিনা ইউরোপে চিকিৎসক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন এবং প্রায় ছয় শতাব্দী ধরে সেখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তাঁর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব বজায় ছিল। তাঁর পাঁচ খণ্ডে সমাপ্ত 'আল-কানুন' কিতাবটি অনূদিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৮৬)
فطُبع عدة مرات، لعدّه أساساً للدراسات في جامعات فرنسا وإيطاليا.

ثالثاً- في ميدان اللغة والأدب: فقد تأثر الغربيون وخاصة شعراء الأسبان بالأدب العربي تأثراً كبيراً، فقد دخل أدب الفروسية والحماسة والمجاز والتخيلات الراقية البديعة إلى الآداب الغربية عن طريق الأدب العربي في الأندلس على الخصوص. يقول الكاتب الإسباني المشهور أبانيز: (إن أوروبة لم تكن تعرف الفروسية ولا تدين بآدابها المرعية ولا نخوتها الحماسية قبل وفود العرب إلى الأندلس وانتشار فرسانهم وأبطالهم في أقطار الجنوب).
এটি বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, কারণ এটিকে ফ্রান্স ও ইতালির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তৃতীয়ত- ভাষা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে: পশ্চিমা সমাজ, বিশেষ করে স্প্যানিশ কবিরা আরবি সাহিত্যের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছে। বিশেষ করে আন্দালুসের আরবি সাহিত্যের মাধ্যমে বীরত্বগাঁথা (الفروسية), উদ্দীপনা (الحماسة), রূপক (المجاز) এবং চমৎকার উন্নত কল্পনাপ্রসূত সাহিত্য পশ্চিমা সাহিত্যে প্রবেশ করেছে। বিখ্যাত স্প্যানিশ লেখক ইবানেজ বলেন: (আন্দালুসে আরবদের আগমন এবং দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোতে তাদের বীর ও যোদ্ধাদের বিস্তারের পূর্বে ইউরোপ বীরত্বগাঁথা (الفروسية) সম্পর্কে জানত না এবং এর প্রচলিত শিষ্টাচার বা উদ্দীপনামূলক আভিজাত্যের (نخوتها) প্রতিও অনুগত ছিল না)।
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৮৭)
ومن عباقرة الأدب في أوروبا في القرن الرابع عشر وما بعده من لا شك أبداً في تأثير الآداب العربية على قصصهم وآدابهم، ففي سنة 1349هكتب بوكاشيو حكاياته المسماة (بالصباحات العشرة) وهي تحذو حذو ألف ليلة وليلة، ومنها اقتبس شكسبير موضوع مسرحيته
চতুর্দশ শতাব্দী এবং পরবর্তীকালের ইউরোপীয় সাহিত্যের এমন অনেক বিদগ্ধ প্রতিভা রয়েছেন, যাদের গল্প ও সাহিত্যে আরবি সাহিত্যের প্রভাবের বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। ১৩৪৯ সালে বোক্কাচ্চিও তাঁর 'দশটি সকাল' নামক কাহিনীসমূহ রচনা করেন, যা 'আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা'-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে লিখিত এবং এখান থেকেই শেক্সপিয়র তাঁর নাটকের বিষয়বস্তু গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৮৮)
(العبرة بالخواتيم) كما اقتبس لسنغ الألماني مسرحيته (ناتان الحكيم).

وكان شوسر إمام الشعر الحديث في اللغة الإنكليزية أكبر المقتبسين من بوكاشيو في زمانه، فقد لقيه في إيطاليا ونظم بعد ذلك قصصه المشهورة باسم (حكايات كانتربري).

أما (دانتي) فيؤكد كثير من النقاد أنه كان في (القصة الإلهية) التي يصف فيها رحلته إلى العالم الآخر متأثراً برسالة الغفران للمعري ووصف الجنة لابن عربي.

وقد تأثرت القصة الأوروبية في نشأتها بما كان عند
"শেষ পরিণামই বিচার্য (العبرة بالخواتيم)", যেভাবে জার্মান নাট্যকার লেসিং তাঁর ‘নাথান দ্য ওয়াইজ’ নাটকে উদ্ধৃত করেছেন।

ইংরেজি সাহিত্যে আধুনিক কবিতার পথিকৃৎ চসার তাঁর সমসাময়িক বোক্কাচিওর রচনাবলি থেকে সবচেয়ে বেশি উপাদান গ্রহণ করেছিলেন; তিনি ইতালিতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং এরপর তাঁর বিখ্যাত ‘ক্যান্টারবেরি টেলস’ গল্পগুচ্ছটি রচনা করেন।

দান্তের বিষয়ে অনেক সমালোচকই এটি নিশ্চিত করেন যে, তাঁর ‘ডিভাইন কমেডি’—যেখানে তিনি পরকাল ভ্রমণের বর্ণনা দিয়েছেন—তা আল-মা'আররির ‘রিসালাতুল গুফরান’ এবং ইবনে আরবির জান্নাতের বর্ণনার দ্বারা প্রভাবিত ছিল।

ইউরোপীয় গল্পের সূচনাপর্ব সেই সকল উপাদানের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল যা বিদ্যমান ছিল...
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৮৯)
العرب من فنون القصص في القرون الوسطى، وهي المقامات وأخبار الفروسية ومغامرات الفرسان في سبيل المجد والعشق، وكان لألف ليلة وليلة بعد ترجمتها إلى اللغات الأوروبية في القرن الثاني عشر أثر كبير جداً في هذا المجال حتى أنها طُبعت منذ ذلك الحين حتى الآن أكثر من ثلاثمائة طبعة في جميع لغات أوروبا، حتى ليرى عدد من النقاد الأوروبيين أن رحلات (جليفر) التي ألفها (سويفت) ورحلة (روبنسون كروزو) التي ألفها (ديفوه) مدينة لألف ليلة وليلة، ولرسالة حي بن يقظان للفيلسوف العربي ابن طفيل.

ولا حاجة بنا إلى أن نذكر ما دخل اللغات الأوروبية على اختلافها من كلمات عربية في مختلف نواحي الحياة حتى أنها لتكاد تكون كما هي في اللغة العربية، كالقطن، والحرير الدمشقي، والمسك، والشراب، والجرة، والليمون، والصِّفر، وغيرها مما لا يُحصى.
মধ্যযুগে আরবদের কথাসাহিত্যের বিবিধ শিল্পরীতি ছিল, যেমন— মাকামাত, বীরত্বগাথা এবং মর্যাদা ও প্রেমের সন্ধানে বীর যোদ্ধাদের দুঃসাহসিক অভিযান। দ্বাদশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় ভাষাগুলোতে অনূদিত হওয়ার পর 'আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা' এই ক্ষেত্রে এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল, যার ফলে তখন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইউরোপের সকল ভাষায় এর তিন শতাধিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি অনেক ইউরোপীয় সমালোচক মনে করেন যে, সুইফটের রচিত 'গালিভার্স ট্রাভেলস' এবং ডিফোর রচিত 'রবিনসন ক্রুসো' মূলত 'আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা' এবং আরব দার্শনিক ইবনে তুফাইলের 'হাই ইবনে ইয়াকজান' নামক রিসালাহর নিকট ঋণী।

ইউরোপীয় ভাষাগুলোতে জীবনযাত্রার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সকল আরবি শব্দ প্রবেশ করেছে তা উল্লেখ করার বিশেষ প্রয়োজন নেই, কারণ সেগুলো প্রায় আরবি ভাষার মতোই অবিকৃত রয়ে গেছে; যেমন— তুলা, দামেস্কি রেশম, কস্তুরী, শরবত, কলস, লেবু, শূন্য এবং এ জাতীয় অগণিত শব্দ।
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৯০)
رابعاً- في ميدان التشريع: فقد كان لاتصال الطلاب الغربيين بالمدارس الإسلامية في الأندلس وغيرها أثر كبير في نقل مجموعة من الأحكام الفقهية والتشريعية إلى لغاتهم، ولم تكن أوروبا في ذلك الحين علي نظام متقن ولا قوانين عادلة.

حتى إذا كان عهد نابليون في مصر ترجم أشهر كتب الفقه المالكي إلى اللغة الفرنسية. ومن أوائل هذه الكتب (كتاب خليل) الذي كان نواة القانون المدني الفرنسي، وقد جاء متشابها إلى حد كبير مع أحكام الفقه المالكي، يقول العلامة سيديو: (والمذهب المالكي هو الذي يستوقف نظرنا على الخصوص لما لنا من الصلات بعرب إفريقية، وعهدت الحكومة الفرنسية إلى الدكتور بيرون في أن يترجم إلى الفرنسية كتاب المختصر في الفقه للخليل بن اسحاق بن يعقوب المتوفى سنة 1422م)

خامساً- في مفهوم الدولة وعلاقة الشعب بالحكومة: فقد كان العالم القديم والوسيط ينكر على الشعب حقه في الإشراف على أعمال حكامه، كما
চতুর্থত- আইনপ্রণয়নের (التشريع) ক্ষেত্রে: আন্দালুস ও অন্যান্য অঞ্চলের ইসলামি বিদ্যাপীঠগুলোর সাথে পশ্চিমা শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতা তাদের নিজস্ব ভাষায় একগুচ্ছ ফিকহশাস্ত্রীয় ও আইনি বিধানসমূহ (الأحكام الفقهية والتشريعية) স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। অথচ সেই সময়ে ইউরোপে কোনো সুসংগঠিত ব্যবস্থা কিংবা ন্যায়ানুগ আইন বিদ্যমান ছিল না।

এমনকি মিশরে নেপোলিয়নের শাসনামলে মালিকি ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলো ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়। এই গ্রন্থসমূহের মধ্যে প্রাথমিক একটি গ্রন্থ ছিল ‘কিতাবুল খলিল’, যা ফরাসি দেওয়ানি আইনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং এটি মালিকি ফিকহের বিধানসমূহের (أحكام الفقه المالكي) সাথে বহুলাংশে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রখ্যাত পণ্ডিত সিডিও বলেন: "মালিকি মাজহাব (المذهب)-ই আমাদের বিশেষভাবে কৌতূহলী করে তোলে, কারণ উত্তর আফ্রিকার আরবদের সাথে আমাদের বিশেষ যোগাযোগ রয়েছে। ফরাসি সরকার ডক্টর পেরনের ওপর খলিল ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াকুব (মৃত্যু ১৪২২ খ্রি.)-এর রচিত ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রীয় গ্রন্থ ‘আল-মুখতাসার’-এর ফরাসি অনুবাদের দায়িত্ব অর্পণ করেছিল।"

পঞ্চমত- রাষ্ট্রের ধারণা এবং সরকারের সাথে জনগণের সম্পর্কের ক্ষেত্রে: প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বিশ্ব জনগণের শাসকদের কর্মকাণ্ড তদারকি করার অধিকারকে অস্বীকার করত, যেমন...
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৯১)
يجعلون الصلة بينه وبين الحاكم صلة بين العبد وسيده، فالحاكم هو السيد المطلق يتصرف بالشعب كما يشاء وكانت المملكة تعتبر ملكا خاصا للملك تورث عنه كما تورث بقية أمواله، ويستبيحون من أجل ذلك أن تقوم الحرب بين دولة وأخرى من أجل المطالبة بحصة أميرة في العرش، أو للخلاف على ميراث الأصهار!

أما العلاقة بين الأمم المتحاربة فهي استباحة الغالب لكل ما في يد المغلوب وما في وطنه من مال وعرض وحرية وكرامة، وظل الأمر كذلك حتى قامت الحضارة الإسلامية تعلن فيما تعلن من مبادئها أن الشعب هو صاحب الحق في الإشراف على حكامه، وأن هؤلاء ليسوا إلا أجراء يسهرون على مصالح الشعب وكرامته بأمانة ونزاهة، وفى هذا يقع لأول مرة في التاريخ أن يحاسب فرد من أفراد الشعب حاكمه عما يلبس، من أين جاء به، فلا يحكم عليه بالإعدام، ولا يقاد إلى السجن، ولا ينفى من الأرض، ولكن يقدم له الحاكم حسابه حتى يقتنع ويقتنع الناس! ولأول مرة في التاريخ يقول أحد أفراد الرعية لحاكمه الأكبر: السلام عليك أيها الأجير! فيعترف الحاكم بأنه أجير الشعب، عليه ما على الأجير من حق الخدمة بإخلاص، والنصح بأمانة. أعلنت الحضارة الإسلامية هذا فيما أعلنته وطبقته
তারা ব্যক্তি ও শাসকের মধ্যকার সম্পর্ককে দাস ও তার প্রভুর সম্পর্কের ন্যায় গণ্য করত; যেখানে শাসক ছিলেন নিরঙ্কুশ অধিপতি যিনি প্রজাদের সাথে নিজের ইচ্ছানুযায়ী আচরণ করতেন। রাজত্বকে রাজার ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো যা তার অন্যান্য সম্পদের ন্যায় উত্তরাধিকার সূত্রে বণ্টিত হতো। আর এই লক্ষ্যেই তারা এক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অন্য রাষ্ট্রের যুদ্ধকে বৈধ মনে করত—কেবল সিংহাসনে কোনো রাজকুমারীর অংশ দাবি করার জন্য অথবা বৈবাহিক সম্পর্কের উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধের জেরে।

পক্ষান্তরে যুদ্ধরত জাতিসমূহের মধ্যকার সম্পর্ক ছিল এমন যে, বিজয়ী পক্ষ বিজিত পক্ষের হস্তগত সকল সম্পদ, সম্মান, স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে লুণ্ঠন করা বৈধ মনে করত। ইসলামী সভ্যতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই বিরাজমান ছিল। ইসলামী সভ্যতা তার ঘোষিত মূলনীতিসমূহের মাধ্যমে ঘোষণা করল যে, প্রজাসাধারণই তাদের শাসকদের তদারকি করার প্রকৃত অধিকার রাখে। শাসকরা কেবল কর্মচারী বৈ কিছু নয়, যারা সততা ও স্বচ্ছতার সাথে জনগণের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় নিয়োজিত থাকে। ইতিহাসের পাতায় এটিই ছিল প্রথম ঘটনা যেখানে সাধারণ জনগণের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি তার শাসককে তার পরিধেয় বস্ত্র সম্পর্কেও জবাবদিহি করতে বলেছিলেন যে, এটি তিনি কোথা থেকে পেয়েছেন। এর বিনিময়ে সেই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি, কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়নি কিংবা দেশ থেকেও নির্বাসিত করা হয়নি; বরং শাসক নিজের পক্ষ থেকে তার হিসাব পেশ করেছেন যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট হয়েছেন। ইতিহাসের পাতায় প্রথমবারের মতো সাধারণ জনগণের একজন তার মহান শাসককে সম্বোধন করে বলেছিলেন: "হে কর্মচারী, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক!" তখন শাসকও স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে তিনি জনগণের একজন কর্মচারী, যার ওপর একনিষ্ঠভাবে সেবা করার এবং বিশ্বস্ততার (أمانة) সাথে কল্যাণকামিতা করার দায়িত্ব অর্পিত। ইসলামী সভ্যতা এই আদর্শগুলো যেমন ঘোষণা করেছে, তেমনি তার বাস্তবায়নও করেছে।
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৯২)
بعد ذلك، فما هي إلا نسمة الحرية والوعي تهب في الشعوب المجاورة للمجتمع الإسلامي فتتململ ثم تتحرك، ثم تثور، ثم تتحرر.

وكان مما أعلنته حضارتنا في حروبها احترام العهود، وصيانة العقائد، وترك المعابد لأهلها، وضمان حريات الناس وكرامتهم، فأثارت في الشعوب المغلوبة لحكمها روح العزة والكرامة، ونبهت فيهم معاني الإنسانية الكريمة العزيزة.

وكان في التاريخ لأول مرة أن يشكو والد مغلوب، الحاكم الغالب إلى رئيس الدولة الأعلى من أن ولد
এরপর, স্বাধীনতা ও সচেতনতার এক মৃদু সমীরণ ইসলামি সমাজের নিকটবর্তী জাতিগুলোর মধ্যে প্রবাহিত হওয়া মাত্রই তারা অস্থিরতা বোধ করে, এরপর তৎপর হয়, তারপর বিদ্রোহ করে এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা লাভ করে।

আমাদের সভ্যতা তার যুদ্ধসমূহে যে বিষয়গুলো ঘোষণা করেছিল তার অন্যতম ছিল অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, আকিদাহ বা বিশ্বাসের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, উপাসনালয়গুলো তার অনুসারীদের জন্য অটুট রাখা এবং মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদার নিশ্চয়তা প্রদান। ফলস্বরূপ, এটি তাদের শাসনাধীন বিজিত জাতিগুলোর মাঝে আত্মমর্যাদা ও সম্মানের প্রেরণা সঞ্চার করেছিল এবং তাদের মাঝে সুমহান ও মর্যাদাপূর্ণ মানবতার বোধ জাগ্রত করেছিল।

ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম ঘটনা যে, জনৈক বিজিত পিতা বিজয়ী শাসকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রধানের কাছে এই মর্মে নালিশ করেন যে, তার সন্তান...
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৯৩)
الحاكم قد ضرب ولده الصغير خفقتين بالسوط على رأسه من غير حق .. ويغضب رئيس الدولة الأعلى ويحاسب ولد الحاكم ويقتص منه، ويقرع الحاكم ويؤنبه ويقول له: متى استعبدتم الناس وقد ولدتهم أمهاتهم أحرارا؟! إن هذه روح جديدة تبعثها حضارتنا في الأفراد والشعوب.
শাসক অন্যায়ভাবে তার নাবালক পুত্রকে চাবুক দিয়ে মাথায় দুটি আঘাত করেছিলেন... এতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রধান অত্যন্ত রাগান্বিত হন এবং শাসকের পুত্রকে জবাবদিহিতার আওতায় আনেন ও তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন। তিনি শাসককে কঠোরভাবে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করেন এবং তাকে বলেন: "তোমরা কবে থেকে মানুষকে দাসে পরিণত করেছ, অথচ তাদের মায়েরা তাদের স্বাধীন হিসেবে জন্ম দিয়েছে?!" এটি এক নতুন প্রাণশক্তি যা আমাদের সভ্যতা ব্যক্তি ও জাতিগোষ্ঠীর মাঝে সঞ্চার করে।
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৯৪)
وبعد، فهذه هي بعض الآثار الخالدة لحضارتنا في خمسة ميادين رئيسية هي أبرز مظاهر الحياة في الأمم والحضارات .. ومن أجل ذلك كان لنا نحن أبناء هذه الحضارة دَين على الشعوب التي حررتها حضارتنا، يجب أن نسترده لا بالتفاخر الكاذب، ولا بالأماني والأباطيل، بل بمعرفتنا، لقدر أنفسنا، وقيمة حضارتنا وسمو تراثنا، واستحقاقنا لأن نكون الأمة الوسط التي تشهد على الناس، وتقودهم إلى الخير والحق والكرامة ولعلنا فاعلون إن شاء الله.

অতঃপর, আমাদের সভ্যতার পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে এগুলিই হলো কিছু কালজয়ী নিদর্শন, যা জাতি ও সভ্যতাগুলোর জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এ কারণেই এই সভ্যতার সন্তান হিসেবে সেই সকল জাতির কাছে আমাদের একটি ঋণ পাওনা রয়েছে যাদেরকে আমাদের সভ্যতা মুক্ত করেছিল। আমাদের সেই ঋণ পুনরুদ্ধার করতে হবে; তবে তা মিথ্যা দম্ভ কিংবা অলীক আশা ও অসারতার মাধ্যমে নয়, বরং আমাদের নিজেদের মর্যাদা, সভ্যতার মূল্য ও ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান এবং আমাদের সেই যোগ্যতার মাধ্যমে যার ফলে আমরা মধ্যমপন্থী উম্মাহ (الأمة الوسط) হতে পারি, যারা মানবজাতির ওপর সাক্ষী হবে এবং তাদের কল্যাণ, সত্য ও মর্যাদার দিকে পরিচালিত করবে। ইনশাআল্লাহ, সম্ভবত আমরা তা করতে সক্ষম হবো।

(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৯৫)
‌‌النزعة الإنسانية

لا يسع الباحث في حضارتنا الخالدة وآثارها إلا أن يعني بالنزعة الإنسانية التي تميزت بها حضارتنا عن كل الحضارات، فنقلت الإنسانية من أجواء الحقد والكراهية والتفرقة والعصبية إلى أجواء الحب والتسامح والتعاون والتساوي أمام الله، ولدى القانون، وفى كيان المجتمع تساويا لا أثر فيه لاستعلاء عرق على عرق، أو فئة على فئة، أو أمة على أمة .. وإن هذه النزعة لتتجلى في مبادئ حضارتنا وتشريعها وواقعها.

أما النزعة الإنسانية في مبادئها فذلك حين يعلن الإسلام أن الناس جميعا خلقوا من نفس واحدة {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا
মানবিক চেতনা (النزعة الإنسانية)

আমাদের শাশ্বত সভ্যতা ও এর নিদর্শনাদি সম্পর্কে গবেষণারত কোনো গবেষকের পক্ষে সেই মানবিক চেতনাকে (النزعة الإنسانية) গুরুত্ব না দিয়ে উপায় নেই, যার মাধ্যমে আমাদের সভ্যতা অন্যান্য সকল সভ্যতা থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে। এটি মানবতাকে ঘৃণা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও সংকীর্ণ গোত্রপ্রীতির পরিবেশ থেকে ভালোবাসা, সহনশীলতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আল্লাহ ও আইনের দৃষ্টিতে এবং সামাজিক কাঠামোতে এমন এক সমতার পরিবেশে উন্নীত করেছে, যেখানে এক বর্ণের ওপর অন্য বর্ণের, এক গোষ্ঠীর ওপর অন্য গোষ্ঠীর অথবা এক জাতির ওপর অন্য জাতির শ্রেষ্ঠত্বের কোনো স্থান নেই। এই মানবিক ঝোঁকটি (النزعة الإنسانية) আমাদের সভ্যতার মূলনীতি, এর বিধিব্যবস্থা (تشريع) এবং বাস্তব জীবনের পরতে পরতে ফুটে ওঠে।

মূলনীতির ক্ষেত্রে মানবিক চেতনা (النزعة الإنسانية) তখন প্রকাশ পায় যখন ইসলাম ঘোষণা করে যে, সকল মানুষ এক সত্তা (نفس واحدة) থেকে সৃষ্টি হয়েছে: {হে মানবমণ্ডলী, তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা (نفس واحدة) থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন...}
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৯৬)
وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً} (1). فالأصل البشري لأبناء البشرية قاطبة هو أصل واحد. ومهما تفرق الناس بعد ذلك إلى أمم وقبائل وبلدان وأجناس، فإنما هو كتفرق البيت الواحد والأخوة من أب واحد وأم واحدة. وما كان كذلك فسبيل هذا الاختلاف في أجناسهم وبلدانهم أن يؤدي إلى تعاونهم وتعارفهم وتلاقيهم على الخير، ومن ذلك انبثق المبدأ الإنساني الخالد {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا} (2) والكل سواء، سواء عند الله في آدميتهم وإنسانيتهم لا تمايز بينهم إلا بالتقوى {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} (3)، وهم سواء أمام القانون في الخضوع له، لا تمايز بينهم إلا بالحق {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ} (4)، وهم سواء في كيان المجتمع، يتأثر قويهم بضعيفهم، ومجموعهم لعلم أفراد منهم (مثل المؤمنين في توادَهم وتراحمهم كمثل الجسد الواحد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الأعضاء بالحمى والسهر) (5).

--------------------------------------------

(1) النساء- 1.

(2) الحجرات- 13.

(3) الحجرات- 13.

(4) الزلزلة- (7 - 8).

(5) رواه مسلم وأحمد.
...এবং তাদের উভয় হতে অসংখ্য নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন} (১)। সুতরাং সমগ্র মানবজাতির আদি উৎস মূলত এক ও অভিন্ন। পরবর্তীতে মানুষ বিভিন্ন জাতি, গোত্র, দেশ ও বর্ণে বিভক্ত হলেও তা মূলত একই পরিবারের এবং একই পিতা-মাতার সন্তানদের বিভক্তির ন্যায়। আর তাদের এই জাতিগত ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের গতিপথ এমন হওয়া উচিত যা তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, পরিচিতি এবং কল্যাণের পথে মিলন ঘটায়। সেখান থেকেই সেই শাশ্বত মানবিক মূলনীতি উৎসারিত হয়েছে: {হে মানবমন্ডলী! আমি তোমাদের এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পারো} (২)। আল্লাহর কাছে তাদের আদমিয়াত (মনুষ্যত্ব) ও মানবিকতার বিচারে সকলেই সমান; তাদের মধ্যে তাকওয়া ব্যতীত কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি} (৩)। আইনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও তারা সমান; ন্যায় ও সত্য ব্যতিরেকে তাদের মাঝে কোনো ভেদাভেদ নেই: {অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ মন্দকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে} (৪)। তারা সামাজিক কাঠামোর ক্ষেত্রেও সমান, যেখানে সবলরা দুর্বলদের দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং কতিপয় সদস্যের বিষয়ের কারণে তাদের সমষ্টিগত সত্তা সংবেদনশীল হয়ে ওঠে: (মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার উদাহরণ একটি দেহের ন্যায়; যখন তার কোনো অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন শরীরের অবশিষ্টাংশ জ্বর ও অনিদ্রার মাধ্যমে তাতে সাড়া দেয়) (৫)।

--------------------------------------------

(১) আন-নিসা- ১।

(২) আল-হুজুরাত- ১৩।

(৩) আল-হুজুরাত- ১৩।

(৪) আয-যিলযাল- (৭ - ৮)।

(৫) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ও আহমদ।
(খণ্ড: ১) মুক্বতাত্বাফাতুন মিন কিতাবি মিন রাওয়ায়িই হাদ্বারাতিনা (পৃষ্ঠা: ৯৭)
وأما النزعة الإنسانية في تشريعنا الحضاري، فإنك لتلمس ذلك واضحا في كل باب من أبواب التشريع، في
আর আমাদের তামাদ্দুনিক বিধানসমূহে মানবিক প্রবণতার যে দিকটি রয়েছে, আপনি শরয়ি বিধানের প্রতিটি অধ্যায়েই তা স্পষ্টভাবে অনুভব করবেন, যথা-