(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: -)
إلى الإسلام من جديد   (أبو الحسن الندوي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: إلى الإسلام من جديد

المؤلف: علي أبو الحسن بن عبد الحي بن فخر الدين الندوي (ت 1420هـ)

الناشر: دار القلم للنشر والتوزيع، دمشق

الطبعة: الرابعة، 1399 هـ - 1979 م

عدد الصفحات: 190

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 شوّال 1432

নতুন করে ইসলামের পথে   (আবুল হাসান নদভী)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: নতুন করে ইসলামের পথে

গ্রন্থকার: আলী আবুল হাসান বিন আব্দুল হাই বিন ফখরউদ্দীন নদভী (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কলম পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, দামেস্ক

সংস্করণ: চতুর্থ, ১৩৯৯ হিজরি - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৫ শাওয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمات

 

‌‌مقدمة الطبعة الأولى

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله تعالى على خير خلقه محمد وآله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فهذه المحاضرات التي يجدها القارئ في هذه المجموعة كتبت وألقيت في مناسبات مختلفة، تختلف في الزمان والمكان، والعنوان والألوان، وتجتمع في غاية واحدة وهي: إيقاظ الشعور الديني في المسلمين، وإعادة الثقة الى نفوسهم بمركزهم ومبدئهم وغايتهم في الحياة ورسالتهم للعالم البشري، وتهيئة النفوس لحمل هذه الرسالة وتبوء مركز القيادة والامامة للعالم الحائر الثائر، وتجديف سفينة الحياة الضائعة بين الملاحين العابثين والركاب النائمين.

وقد خوطبت في هذه المحاضرات والمقالات الأمة الاسلامية بصفة عامة، إذا هي الأمة الأخيرة التي أخرجت للناس، وصاحبة الرسالة الأخيرة التي وجهت الى الناس، وعنيت بها الأمة العربية بصفة خاصة، فمن أفقها طلعت شمس الإسلام في العصر الأول وأسفر الصبح الصادق، وقد أسكنها الله في خير مركز في العالم لتوجيه الدعوة الاسلامية، وازجاء الرسالة الاسلامية الى الأمم المتحضرة والعالم المتمدن، وتبوء مكان القيادة العالمية.
উপোদঘাতসমূহ

 

‌‌প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

এই সংকলনে পাঠক যে বক্তৃতাগুলো পাবেন, সেগুলো বিভিন্ন সময়ে ও স্থানে, ভিন্ন ভিন্ন শিরোনাম ও বৈচিত্র্যে লিখিত এবং পরিবেশিত হয়েছে। তবে এগুলোর উদ্দেশ্য অভিন্ন, আর তা হলো: মুসলিমদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করা এবং তাদের অবস্থান, আদর্শ, জীবনের লক্ষ্য ও মানবজাতির প্রতি তাদের যে মহান বার্তা রয়েছে সে সম্পর্কে তাদের হৃদয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। সেই সঙ্গে এই বার্তা বহন করার জন্য তাদের প্রস্তুত করা এবং এই বিভ্রান্ত ও বিক্ষুব্ধ পৃথিবীর নেতৃত্ব ও ইমামতের আসন গ্রহণ করার যোগ্য করে তোলা; আর উদাসীন নাবিক এবং ঘুমন্ত যাত্রীদের মাঝে দিকভ্রান্ত জীবন-তরীকে সঠিক পথে চালিত করা।

এই বক্তৃতা ও প্রবন্ধগুলোতে সাধারণভাবে মুসলিম উম্মাহকে সম্বোধন করা হয়েছে, যেহেতু এটিই মানবজাতির কল্যাণে আবির্ভূত সর্বশেষ উম্মাহ এবং এটিই মানুষের প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ ঐশী বার্তার ধারক। বিশেষভাবে আমি আরব জাতিকে গুরুত্ব দিয়েছি, কারণ তাদের দিগন্ত থেকেই ইসলামের প্রথম যুগে ইসলামের সূর্য উদিত হয়েছিল এবং সুবহে সাদেক উদ্ভাসিত হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত পরিচালনা এবং সভ্য জাতি ও আধুনিক বিশ্বের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এবং বিশ্ব নেতৃত্বের আসন গ্রহণের লক্ষ্যে বিশ্বের সর্বোত্তম কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ৪)
ولما كانت هذه المحاضرات كتبت في ظروف مختلفة كنت أشك في وجود وحدة تربط بينها، لذلك لما اقترح على نشر هذه الرسائل في مجموعة ترددت بعض الزمن في اجابة هذا الطلب، ونظرت فيها من جديد فإذا بوحدة تجمع بينها وغاية تشترك فيها وهي: الدعوة الى الاسلام من جديد، فقبلت هذا الاقتراح وجمعتها في مجموعة أسميتها "إلى السلام من جديد" وادعو الله سبحانه وتعالى أن ينفع بها القراء، وأن يحرك بها سواكن القلوب، ويحيي بها موات النفوس، إنه على كل شيء قدير.

أبو الحسن على الحسني الندوي

نزيل القاهرة

1370 هـ … 1951 م

***
যেহেতু এই বক্তৃতাগুলো বিভিন্ন পরিস্থিতিতে লিখিত হয়েছিল, তাই আমি এগুলোর মাঝে কোনো যোগসূত্র বিদ্যমান থাকার বিষয়ে সন্দিহান ছিলাম। এ কারণে যখন এই প্রবন্ধগুলো একটি সংকলন আকারে প্রকাশের প্রস্তাব করা হলো, তখন আমি সেই আহ্বানে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুকাল ইতস্তত করেছিলাম। অতঃপর আমি পুনরায় এগুলোর ওপর দৃষ্টিপাত করলাম এবং দেখলাম যে, এগুলোর মাঝে একটি ঐক্য বিদ্যমান এবং এগুলোর লক্ষ্যও অভিন্ন; আর তা হলো: নতুন করে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানানো। তাই আমি এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করলাম এবং সেগুলোকে একটি সংকলনে একত্রিত করে তার নাম দিলাম "ইলাস সালামি মিন জাদিদ" (নতুন করে শান্তির পথে)। আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন এর মাধ্যমে পাঠকদের উপকৃত করেন, হৃদয়ের সুপ্ত অনুভূতিগুলোকে আলোড়িত করেন এবং মৃতপ্রায় আত্মাসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

আবুল হাসান আলী আল-হাসানী আন-নাদভী

কায়রো অবস্থানকালীন

১৩৭০ হিজরী … ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ

***
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمات

 

‌‌مقدمة الطبعة الثانية

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، أما بعد:

فقد ظهرت الطبعة الأولى لكتاب "إلى الإسلام من جديد" في القاهرة سنة 1370 هـ، وكانت طبعة مشوهة ممسوخة، كثر فيها التصحيف والتحريف، حتى كان المؤلف نفسه يحار في فهم كثير من الكلمات وردها الى أصلها، ويظهر أن الناشر لم يعتن بتصحيح الكتاب، واتقان الطباعة وحسن المظهر اعتناءا ما، وبالرغم من ذلك كان للكتاب انتشار وذيوع في الأوساط الإسلامية، ونفد الطبع في وقت قريب.

واتفق بعد ذلك أن جمعت مقالاتي في مجاميع مختلفة أخذت بعضها من "الى الاسلام من جديد" ومن هذه المجاميع "العرب والإسلام" و "الطريق الى المدينة" وكتبت بعض مقالات أخرى، وألقيت بعض محاضرات تدخل في موضوع "الى الاسلام من جديد" وتستحق أن تضم اليها، يفقدها القارئ في الطبعة الأولى ويجدها في هذه الطبعة، وبذلك تكونت مجموعة أكثرها قديم، وقليل منها جديد، يجمعها اسم واحد، وغرض واحد هو "الى الاسلام من جديد" ورغب بعض الاصدقاء في طبعها ونشرها، فأذنت لهم بذلك شاكراً فضلهم وعنايتهم بنشر الفكر
ভূমিকা

 

‌‌দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। অতঃপর:

১৩৭০ হিজরি সনে কায়রোতে "ইলাল ইসলামি মিন জাদিদ" গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল, যা ছিল একটি ত্রুটিপূর্ণ ও বিকৃত সংস্করণ। এতে শব্দের ভুল পাঠ (تصحيف) এবং বিকৃতি (تحريف) এত বেশি ছিল যে, খোদ লেখক নিজেও অনেক শব্দ বুঝতে এবং সেগুলোকে মূল রূপের দিকে ফিরিয়ে নিতে বিভ্রান্ত হতেন। প্রতীয়মান হয় যে, প্রকাশক বইটির সংশোধন, মুদ্রণের সূক্ষ্মতা এবং এর বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করেননি। তা সত্ত্বেও ইসলামি পরিমণ্ডলে বইটির ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটেছিল এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এর কপিগুলো শেষ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে এমন হলো যে, আমার নিবন্ধসমূহ বিভিন্ন সংকলনে একত্রিত করা হলো, যার কিছু অংশ "ইলাল ইসলামি মিন জাদিদ" থেকে নেওয়া হয়েছে। এই সংকলনগুলোর মধ্যে রয়েছে "আল-আরবু ওয়াল ইসলাম" ও "আত-তারিকু ইলাল মাদিনাহ"। এছাড়া আমি আরও কিছু নতুন নিবন্ধ লিখেছি এবং এমন কিছু বক্তৃতা প্রদান করেছি যা "ইলাল ইসলামি মিন জাদিদ"-এর বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত এবং এই গ্রন্থে যুক্ত হওয়ার যোগ্য। পাঠক এগুলো প্রথম সংস্করণে পাননি কিন্তু এই সংস্করণে পাবেন। এর ফলে এমন একটি সংকলন তৈরি হয়েছে যার অধিকাংশই পুরাতন এবং সামান্য কিছু নতুন, যা একটি নাম ও একটি উদ্দেশ্য অর্থাৎ "ইলাল ইসলামি মিন জাদিদ"-এর অধীনে সংগৃহীত হয়েছে। কয়েকজন বন্ধু এটি মুদ্রণ ও প্রকাশের আগ্রহ প্রকাশ করলে আমি তাদের অনুমতি প্রদান করি এবং তাদের এই অনুগ্রহ ও চিন্তাধারা প্রসারের প্রতি বিশেষ যত্নের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ৬)
الاسلامي، والدعوة الاسلامية، منتهزا هذه الفرصة لصدور هذا الكتاب من جديد وعلى الله قصد السبيل (1).

دائرة الشيخ علم الله الحسني رحمه الله أبو الحسن علي الحسني الندوي

01/ 01/1387 هـ

10/ 04/1967 م

--------------------------------------------

(1) استأذنا سماحة استاذنا الكريم أبي الحسن في أن نحذف من هذه الطبعة الكلمتين التاليتين:

1 - العوامل الأساسية لكارثة فلسطين.

2 - ارتباط قضية فلسطين بالوعي الإسلامي.

وذلك لورودهما في كتابه اللاحق "المسلمون وقضية فلسطين" ولكونهما أليق به، فأذن لنا بذلك مشكوراً. (الناشر)
ইসলামি বিশ্ব এবং ইসলামি দাওয়াতের সেবায়, এই গ্রন্থটি নতুনভাবে প্রকাশের এই সুযোগটি গ্রহণ করছি; আর আল্লাহর ওপরই সরল পথের দিশা (১)।

দায়েরা শেখ আলমুল্লাহ আল-হাসানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, আবুল হাসান আলী আল-হাসানী আন-নাদভী

০১/ ০১/ ১৩৮৭ হিজরি

১০/ ০৪/ ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ

--------------------------------------------

(১) আমরা আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ আবুল হাসানের নিকট এই সংস্করণ হতে নিম্নোক্ত দুটি প্রবন্ধ বাদ দেওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেছি:

১ - ফিলিস্তিন বিপর্যয়ের মৌলিক কারণসমূহ।

২ - ইসলামি চেতনার সাথে ফিলিস্তিন ইস্যুর সম্পর্ক।

যেহেতু এই দুটি বিষয় তার পরবর্তী গ্রন্থ "আল-মুসলিমুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলিস্তিন" (মুসলিম উম্মাহ ও ফিলিস্তিন ইস্যু)-এ বর্ণিত হয়েছে এবং সেখানে তা অধিকতর মানানসই, তাই তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে আমাদের অনুমতি প্রদান করেছেন। (প্রকাশক)
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ৭)
المحتويات

 

‌‌إلى ممثلي البلاد الإسلامية

عرجت الى المؤتمر الثقافي (1) العام، الذي قد اشترك فيه ممثلو البلاد وبعثات الامم ووفود النوادي، فرأيت معرضا للجنسيات والوطنيات والحضارات، ورأيتكم أيها السادة المسلمون شامة بين الناس، لا لأنكم تمتازون عن زملاءكم في الشارة واللباس، بل لأنكم تمثلون تلك الأمة العظيمة التي كانت ولا تزال شامة بين الأمم.

كان العالم قبل ثلاثة عشر قرنا سائرا سيره الطبيعي لا ينكر من أمره شيء، فكانت القرى والمدن عامرة بالسكان، وكانت العواصم الكبرى زاخرة العمران، شامخة البنيان، وكانت الحرف البشرية ووجوه المعاش في ازدهار وانتشار. كانت الزراعة وكانت التجارة وكانت الصناعة، فبينما كانت سكة الفلاح في شغل

--------------------------------------------

(1) المؤتمر الثقافي الآسيوي الذي عقد في دهلي في أبريل 1947 م، واشترك فيه ممثلو: مصر، ولبنان، وأفغانستان، وإيران، وتركيا وأندونيسيا من الأقطار الإسلامية.
সূচিপত্র

 

‌‌মুসলিম দেশসমূহের প্রতিনিধিদের প্রতি

আমি সাধারণ সাংস্কৃতিক সম্মেলনে (১) উপস্থিত হয়েছিলাম, যাতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, জাতিসমূহের মিশন এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেছিল। সেখানে আমি বিভিন্ন জাতীয়তা, দেশপ্রেম ও সভ্যতার এক প্রদর্শনী দেখতে পেলাম। হে মুসলিম সুধীবৃন্দ! আমি আপনাদের মানুষের মাঝে সৌন্দর্যের এক অনন্য তিলক হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছি। এটি এজন্য নয় যে, আপনারা পোশাক-পরিচ্ছদ বা বাহ্যিক চিহ্নে আপনাদের সহকর্মীদের চেয়ে স্বতন্ত্র, বরং এজন্য যে আপনারা সেই মহান উম্মাহর প্রতিনিধিত্ব করছেন যা জাতিসমূহের মাঝে সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে ছিল এবং আজও বিদ্যমান রয়েছে।

তেরো শতাব্দী পূর্বে বিশ্ব তার স্বাভাবিক গতিতে চলছিল, তার কোনো কিছুই অস্বাভাবিক ছিল না। গ্রাম ও শহরগুলো ছিল জনাকীর্ণ, বড় বড় রাজধানীগুলো ছিল স্থাপত্যশৈলীতে সমৃদ্ধ ও সুউচ্চ ভবনে পরিপূর্ণ। মানুষের পেশা ও জীবন-জীবিকার মাধ্যমগুলো ছিল সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত। সেখানে কৃষি ছিল, বাণিজ্য ছিল এবং শিল্পও ছিল। এমতাবস্থায় যখন কৃষকের লাঙল তার কাজে ব্যস্ত ছিল...

--------------------------------------------

(১) এশীয় সাংস্কৃতিক সম্মেলন যা ১৯৪৭ সালের এপ্রিলে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মিশর, লেবানন, আফগানিস্তান, ইরান, তুরস্ক এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ৮)
ونشاط كانت القوافل التجارية غادية رائحة بين الشرق والغرب، وكانت الأسواق مشحونة بالمتاجر والبضائع، وكان الصناعون مكبيِّن على أعمالهم. وكانت الحكومات والامارات والدول غنية بأموالها ورجالها، لكل وظيفة رجل كفؤ بل رجال أكفاء، وكان على وجه الأرض كل نوع من البشر، وكل لون من الحياة، وكل مظهر من مظاهر المدنية، لا يرى في الحياة الانسانية المادية عوز أو فراغ. ولم تكن في المدينة وظيفة شاغرة يترشح لها مترشح جديد، وكانت كأس الحياة مترعة لا تطلب المزيد.

في هذه الحال ظهرت أمة في جزيرة العرب ووجد نوع جديد من البشر، وكأني بالامم المعاصرة وهي تتسائل: أي داع الى ظهور أمة جديدة والامم على وجه الأرض كثيرة منتشرة، وما شغل هذه الأمة الحديثة، وما مهمتها في العالم؟

وكأني بها تقول: إذا كانت هذه الأمة إنما بعثت للزراعة وعمارة الأرض فقد كان في فلاحي الطائف، وأكَّاري مدينة يثرب، وزراع وادي الفرات والنيل وربوع الكنج وجمنا، غنى عن أمة زراعية جديدة، فقد أصبحت أراضي هؤلاء الفلاحين وبلادهم جنة تدر لبنا وعسلا، وإذا كان المسلمون إنما بعثوا ليشتغلوا بالزراعة فقط، فلماذا لم يبعثوا في العراق، وفي مصر،
পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে বাণিজ্যিক কাফেলাগুলো অবিরাম যাতায়াত করছিল এবং বাজারগুলো পণ্যসামগ্রীতে ছিল ঠাসা। কারিগররা তাদের কাজে গভীরভাবে নিমগ্ন ছিল। সরকার, আমিরাত এবং রাষ্ট্রগুলো তাদের ধন-সম্পদ ও লোকবলে ছিল সমৃদ্ধ; প্রতিটি পদের জন্য যোগ্য ব্যক্তি, বরং একাধিক সুযোগ্য ব্যক্তি বিদ্যমান ছিল। পৃথিবীতে সব শ্রেণির মানুষ, জীবনের প্রতিটি বৈচিত্র্য এবং সভ্যতার প্রতিটি রূপ বিদ্যমান ছিল; বস্তুগত মানবজীবনে কোনো অভাব বা শূন্যতা দৃশ্যমান ছিল না। নাগরিক জীবনে এমন কোনো শূন্য পদ ছিল না যার জন্য নতুন কোনো প্রার্থীর প্রয়োজন হয়। জীবনের পেয়ালা ছিল পূর্ণ, যা নতুন কিছুর আকাঙ্ক্ষা করছিল না।

এই পরিস্থিতিতে আরব উপদ্বীপে এক নতুন জাতির আবির্ভাব ঘটল এবং এক নতুন ধরনের মানবগোষ্ঠীর উন্মেষ হলো। তৎকালীন জাতিগুলো যেন বিস্ময়ে একে অপরকে জিজ্ঞাসা করছিল: পৃথিবীতে যখন অসংখ্য জাতি ছড়িয়ে আছে, তখন নতুন একটি জাতির আবির্ভাবের কী প্রয়োজন? এই আধুনিক জাতির কর্মব্যস্ততা কী হবে এবং বিশ্বে তাদের মূল লক্ষ্যই বা কী?

তারা যেন বলছিল: এই জাতি যদি কেবল কৃষিকাজ ও ভূমি আবাদের জন্যই প্রেরিত হয়ে থাকে, তবে তায়েফের কৃষক, ইয়াসরিবের ভূমিশ্রমিক এবং ফোরাত ও নীল নদের অববাহিকা এবং গঙ্গা ও যমুনার জনপদের কৃষকরাই তো একটি নতুন কৃষিভিত্তিক জাতির অভাব মোচনের জন্য যথেষ্ট ছিল। এই কৃষকদের ভূমি ও জনপদগুলো তো এমন উদ্যানে পরিণত হয়েছিল যা থেকে দুধ ও মধু নিঃসৃত হচ্ছিল। আর যদি মুসলমানদের কেবল কৃষিকাজে আত্মনিয়োগের জন্যই পাঠানো হতো, তবে কেন তাদের ইরাক ও মিশরে পাঠানো হলো না?
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ৯)
والهند، وهي بلاد مخصبة زراعية، ولماذا كان مبعثهم في واد غير ذي زرع؟

وإذا كانت هذه الأمة إنما بعثت للتجارة، فقد كان في يهود يثرب وفي أنباط الشام وفي أقباط مصر وتجار السند كفاية، فقد أحكموا فن التجارة وانتشروا في العالم، وإذا كانوا قد بعثوا ليشتغلوا بالتجارة حقا فلماذا لم يبعثوا على طريق القوافل التجارية، وبقرب من أسواق التجارة الكبرى؟

وإذا كانت هذه الأمة إنما بعثت للصناعة وأعمال اليد، فقد كان في قيُون البلاد المتمدنة، وأصحاب الصنائع والحرف - وإنهم لكثير - غنى وكفاية!.

وإذا كانت هذه الأمة إنما بعثت لتنضم الى الحكومات الرومية والايرانية، وتشغل أفرادها وظائف هذه الحكومات ومناصبها، فقد كان في أهل الشام وفارس غنى وكفاية في الادارة، وإنهم يزاحمون الأجانب بالمناكب ويدفعونهم بالراح.

وإذا كانت هذه الأمة بعثت لعيش هنيء، ومطعم شهي، ومشرب مريء، وملبس وضيء، ومسكن بهي، لا لشيء آخر وإنما مناها وهمها أن تلقى لبوسا ومطعما، لم تكن بدعا من الأمم، وكانت منافسة لنا في ميدان الحياة، فحق
এবং ভারত, যা একটি উর্বর কৃষিনির্ভর ভূখণ্ড; তবে কেন তাদের উত্থান ঘটল এমন এক উপত্যকায় যেখানে কোনো শস্য জন্মে না?

আর যদি এই উম্মাহর আবির্ভাব কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যই হতো, তবে ইয়াসরিবের ইহুদি, শামের নাবাতীয়, মিসরের কিবতি এবং সিন্ধুর বণিকরাই যথেষ্ট ছিল। তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের কৌশলে অত্যন্ত দক্ষ ছিল এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। আর যদি তারা সত্যিই ব্যবসার কাজে নিয়োজিত হওয়ার জন্যই আবির্ভূত হতো, তবে কেন তাদের বাণিজ্য কাফেলার পথে এবং বড় বড় বাণিজ্যিক বাজারগুলোর নিকটবর্তী স্থানে পাঠানো হলো না?

আর যদি এই উম্মাহর উত্থান কেবল শিল্প ও কায়িক শ্রমের জন্য হতো, তবে সভ্য দেশগুলোর কারিগর ও শ্রমিক এবং বিভিন্ন পেশাজীবীরাই—যাদের সংখ্যা ছিল অগণিত—যথেষ্ট ছিল!

আর যদি এই উম্মাহ কেবল রোমান ও পারস্য সরকারের সাথে যুক্ত হতে এবং তাদের ব্যক্তিবর্গ সেই সরকারগুলোর দাপ্তরিক কাজ ও উচ্চপদ লাভ করতে প্রেরিত হতো, তবে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে শাম ও পারস্যের অধিবাসীরাই যথেষ্ট ছিল; যারা বিদেশিদের সাথে সমানে সমান পাল্লা দিত এবং তাদের প্রতিহত করত।

আর যদি এই উম্মাহর আবির্ভাব ঘটত কেবল স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন, সুস্বাদু আহার, তৃপ্তিদায়ক পানীয়, উজ্জ্বল পোশাক এবং মনোরম বাসস্থানের জন্য—অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়—এবং তাদের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা ও লক্ষ্য কেবল উত্তম পরিচ্ছদ ও আহার লাভই হতো, তবে তারা অন্যান্য জাতি থেকে স্বতন্ত্র কিছু হতো না এবং জীবন-সংগ্রামে আমাদের কেবল একজন প্রতিযোগীই হতো; ফলে...
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ১০)
لنا أن نقاتلها ونذودها عن مناهلنا، وقد ضاقت بنا، فكيف تسع أمة جديدة؟

وإذا كانت هذه الأمة إنما تحاول ملكا، أو تريد أن تؤسس دولة، فيجب أن تصرح بذلك، وتتخذ له طريق الملوك والفاتحين، ولا تتظاهر بالدين.

وإن الطريق الى كل ذلك - من زراعة، وتجارة، وصناعة، ووظيفة، وحياة بذخ وترف، وملك وشرف - غير الطريق التي سلكتها هذه الأمة الجديدة، فقد سفَّهت أحلامنا، وعابت آلهتنا، ونعت على عقائدنا وأخلاقنا وأعمالنا، ودعت الى دين جديد، وسارت في سبيل ذلك في شوك وقتاد، وجاهدت في غير جهاد.

لقد كان الطريق الى الرفاهية أو الحكومة مسلوكة معبدة، قد سلكتها الأمم من قبل، ومشى عليها الملوك، وأصحاب الطموح في عصرهم، فمن حال بينها وبين هذه الطريق؟ وما الذي عدل بها عن جادة الحياة، وهي معلومة واضحة؟!

هذا ما أظنه تناجى به ضمير الإنسان العاقل في فجر الاسلام ولا ألومه ولا أستغرب هذا السؤال، فإن هذا السؤال طبعي ينبغي أن يهجس في قلب الإنسان، وينطق

আমাদের অধিকার আছে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার এবং আমাদের পানীয় উৎসসমূহ থেকে তাদের বিতাড়িত করার, কেননা এটি আমাদের জন্যই সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে; তবে এটি একটি নতুন জাতিকে কীভাবে সংকুলান করবে?

আর যদি এই জাতি কেবল রাজত্ব পেতে চায় অথবা একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবে তাদের উচিত তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা এবং এর জন্য রাজা ও বিজয়ীদের পথ অবলম্বন করা, ধর্মের আবরণে নিজেকে প্রকাশ না করা।

বস্তুত এই সবকিছুর পথ—কৃষি, বাণিজ্য, শিল্প, কর্মসংস্থান, ভোগ-বিলাস ও ঐশ্বর্যের জীবন এবং রাজত্ব ও সম্মান—সেই পথ থেকে ভিন্ন যা এই নতুন জাতি অনুসরণ করেছে। তারা আমাদের স্বপ্নগুলোকে মূর্খতা বলেছে, আমাদের উপাস্যদের নিন্দা করেছে, আমাদের আকিদা (عقيدة), চরিত্র ও কর্মের সমালোচনা করেছে এবং এক নতুন দ্বীনের (دين) দিকে আহ্বান জানিয়েছে। তারা এই পথে চলতে গিয়ে কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়েছে এবং এক অনন্য জিহাদ (جهاد) করেছে।

বিলাসিতা বা শাসনের পথ তো সুগম ও প্রশস্ত ছিল, যা পূর্ববর্তী জাতিসমূহ অতিক্রম করেছে এবং রাজন্যবর্গ ও সমসাময়িক উচ্চাভিলাষী ব্যক্তিরা সেই পথে চলেছে। তবে কে তাদের এবং সেই পথের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালো? আর কোন বিষয়টি তাদের জীবনের সেই রাজপথ থেকে বিচ্যুত করল, অথচ তা ছিল সুপরিচিত ও সুস্পষ্ট?!

ইসলামের উষালগ্নে একজন বিবেকবান মানুষের অন্তরাত্মা সম্ভবত এই আলাপই করছিল বলে আমি মনে করি। আমি তাকে দোষারোপ করি না এবং এই প্রশ্নে বিস্ময়ও প্রকাশ করি না, কারণ এই প্রশ্নটি স্বাভাবিক যা মানুষের হৃদয়ে উদিত হওয়া এবং উচ্চারিত হওয়া সংগত।

(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ১১)
به اللسان، عند كل ناشئة فلماذا لا ينشأ هذا السؤال عند ظهور أمة بأسرها؟

ما هو الجواب؟ إذا كان الجواب في الاثبات، وإذا كان مبعث هذه الأمة في الحقيقة بشيء مما ذكرناه ولم تكن لهذه الأمة مهمة جديدة في العالم ورسالة خاصة الى الأمم، كانت هذه الأمة حقا من فضول الأمم، ومن المتطفلين على مائدة العالم.

ولكن الله لم يبعثها لهذا أو لذاك، والأمة والأشخاص لا يبعثون لشيء من هذا، وإنما هي من طبائع البشر، لا تحتاج الى نبوة نبي، ولا بعثة أمة، وجهاد طويل وزلزال عالمي لم يُسبق في التاريخ، زلزال في المعتقد والاخلاق والميول والنزعات، وفي نظام الفكر ومنهاج الحياة.

لقد كان مبعثها لغرض سام جداً، لمهمة غريبة طال عهد الانسانية بها، وتشاغلت أمم الأنبياء عنها حتى نسيتها، وذلك ما خاطب به الله سبحانه وتعالى هذه الأمة: {كنتم خير أمة أخرجت للناس، تأمرون بالمعروف، وتنهون عن المنكر، وتؤمنون بالله} [آل عمران: 110]! فنبه على أن هذه الأمة ليست نابتة نبتت في الأرض كأشجار برية أو حشائش شيطانية، بل إنها أمة أخرجت ولامر ما أخرجت! وإنها لم تظهر لمصلحتها فحسب كسائر الأمم، بل إنها أخرجت للناس، وذلك ما تمتاز به الأمة في
কথায় মুখে মুখে ফিরে আসে, প্রতিটি নতুন উন্মেষের প্রাক্কালে; তবে সমগ্র একটি উম্মাহর আবির্ভাবকালে কেন এই প্রশ্ন উত্থাপিত হবে না?

এর উত্তর কী? উত্তরটি যদি ইতিবাচক (إثبات) হয়, এবং যদি এই উম্মাহর আবির্ভাবের প্রেক্ষাপট প্রকৃতপক্ষে আমাদের উল্লেখ করা সেই সাধারণ বিষয়গুলোর কারণেই হয়ে থাকে এবং বিশ্বের দরবারে এই উম্মাহর নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও জাতিসমূহের প্রতি কোনো বিশেষ পয়গাম না থাকে, তবে প্রকৃতপক্ষে এই উম্মাহ হবে জাতিসমূহের মধ্যে এক অনর্থক সত্তা এবং বিশ্ব-দস্তরখানের এক অনাহূত পরজীবী।

কিন্তু আল্লাহ তাআলা একে এই বা ওই তুচ্ছ কারণে প্রেরণ করেননি; আর উম্মাহ বা ব্যক্তিরা এমন কোনো বিষয়ের জন্য প্রেরিত হয় না যা কেবলই মানবীয় সাধারণ স্বভাবজাত বিষয়, যার জন্য কোনো নবীর নবুয়ত, কোনো উম্মাহর উত্থান, সুদীর্ঘ জিহাদ কিংবা ইতিহাসে নজিরবিহীন কোনো বৈশ্বিক মহা-আলোড়নের প্রয়োজন পড়ে না—এমন এক আলোড়ন যা বিশ্বাস, নৈতিকতা, রুচি ও ঝোঁক এবং চিন্তা-কাঠামো ও জীবনপদ্ধতির আমূল পরিবর্তন ঘটায়।

প্রকৃতপক্ষে এর উত্থান ছিল এক সুমহান উদ্দেশ্যে এবং এক বিরল দায়িত্ব পালনের জন্য, যা থেকে মানবজাতি দীর্ঘকাল বিচ্ছিন্ন ছিল এবং পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতগণ সে বিষয়ে উদাসীন হতে হতে একসময় তা বিস্মৃত হয়ে গিয়েছিল। আর এটিই সেই লক্ষ্য যা সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই উম্মাহকে সম্বোধন করে বলেছেন: {তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মাহ, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে; তোমরা সৎকাজের (معروف) আদেশ দাও এবং অসৎকাজ (منكر) থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো} [আলি ইমরান: ১১০]! অতঃপর তিনি এই মর্মে সতর্ক করেছেন যে, এই উম্মাহ জমিনে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কোনো বন্য বৃক্ষ বা আগাছার মতো নয়; বরং এটি এমন এক উম্মাহ যাকে সযত্নে বের করে আনা হয়েছে এবং এক বিশেষ মহৎ উদ্দেশ্যেই বের করা হয়েছে! এটি অন্যান্য জাতির মতো কেবল নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য আত্মপ্রকাশ করেনি, বরং একে মানবজাতির সামগ্রিক কল্যাণের জন্যই বের করা হয়েছে। আর এটিই সেই বৈশিষ্ট্য যা দ্বারা এই উম্মাহ স্বাতন্ত্র্য মণ্ডিত হয়...
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ১২)
التاريخ، فما من أمة إلا وهي وليد أغراضها، ورهين بطنها وشهواتها، تعيش لأجلها وتموت في سبيلها. أما الامة الإسلامية فهي أمة أخرجت للناس، تأمر بالمعروف، وتنهى عن المنكر، وتؤمن بالله، وتجاهد في سبيل الله.

ظهرت نواة هذه الأمة في مكة - قلب جزيرة العرب - فقام العقلاء من قريش - وهم الآخذون بزمام الحياة في البلاد - ونثروا كنانة فكرهم، وقاسوا الناشئة الجديدة بمقاييسهم التي عرفوها وألفوها، ووزنوها في ميزان الانسانية الذي طالما وزنوا فيه أصحاب الطموح، فوجدوهم خفاف الوزن، طائشي الكفة، وذهبوا الى امام الدعوة الاسلامية، وأول المسلمين في العالم صلى الله عليه وسلم فقال قائلهم:

"إنك قد أتيت قومك بأمر عظيم، فرّقت به جماعتهم، وسفَّهت به أحلامهم، وعبت به آلهتهم ودينهم، وكفرت به من مضى من آبائهم، فاسمع مني أعرض عليك أمورا تنظر فيها، لعلك تقبل مناه بعضها".

فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: "قل يا أبا الوليد أسمع".

قال: "يا بن أخي، إن كنت تريد بما جئت به من هذا الأمر مالا، جمعنا لك من أموالنا حتى تكون أكثرنا مالا. وإن كنت تريد شرفا، سودناك علينا
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিটি জাতিই তার বৈষয়িক লক্ষ্যসমূহের ফসল এবং নিজ উদরপূর্তি ও প্রবৃত্তির লালসায় আবদ্ধ; তারা এগুলোর জন্যই বেঁচে থাকে এবং এগুলোর পথেই মৃত্যুবরণ করে। পক্ষান্তরে মুসলিম উম্মাহ হলো এমন এক জাতি যাকে মানবজাতির কল্যাণের তরে আবির্ভূত করা হয়েছে; তারা সৎকাজ (معروف)-এর আদেশ দেয়, অসৎকাজ (منكر)-এ বাধা প্রদান করে, আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করে।

এই উম্মাহর বীজ আরবের হৃদপিণ্ড মক্কায় অঙ্কুরিত হয়েছিল। তখন কুরাইশদের প্রাজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ—যারা এ ভূখণ্ডের জীবনযাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন—তৎপর হয়ে উঠলেন এবং তাদের চিন্তার তূণীর থেকে সকল কলাকৌশল প্রয়োগ করলেন। তারা এই নবীন দলটিকে তাদের পরিচিত ও অভ্যস্ত মানদণ্ড দিয়ে পরিমাপ করলেন। তারা তাদের মানবতার সেই তুলাদণ্ড দিয়ে ওজন করলেন, যাতে তারা দীর্ঘকাল ধরে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদের পরিমাপ করে আসছিলেন; কিন্তু তারা তাদের পাল্লায় হালকা ও গুরুত্বহীন হিসেবে দেখতে পেলেন। অতঃপর তারা ইসলামি দাওয়াতের ইমাম এবং বিশ্বের প্রথম মুসলিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমীপে উপস্থিত হলেন এবং তাদের মুখপাত্র বললেন:

"নিশ্চয়ই আপনি আপনার সম্প্রদায়ের কাছে এক গুরুতর বিষয় নিয়ে এসেছেন, যার মাধ্যমে আপনি তাদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছেন, তাদের বিবেক-বুদ্ধিকে নির্বুদ্ধিতা বলে সাব্যস্ত করেছেন, তাদের উপাস্য ও ধর্মের নিন্দা করেছেন এবং তাদের অতীত হয়ে যাওয়া পিতৃপুরুষদের কাফের আখ্যা দিয়েছেন। অতএব আমার কথা শ্রবণ করুন, আমি আপনার নিকট কিছু বিষয় উপস্থাপন করছি যাতে আপনি সেগুলো বিবেচনা করতে পারেন; সম্ভবত আপনি আমাদের পক্ষ থেকে এর কোনো কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করবেন।"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: "হে আবুল ওয়ালিদ! আপনি বলুন, আমি শ্রবণ করছি।"

তিনি বললেন: "হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আপনি যা নিয়ে এসেছেন, এই বিষয়ের মাধ্যমে যদি আপনি ধন-সম্পদ কামনা করেন, তবে আমরা আমাদের সম্পদ থেকে আপনার জন্য এত বিপুল পরিমাণ সম্পদ সংগ্রহ করব যে আপনি আমাদের মধ্যে সর্বাধিক ধনাঢ্য ব্যক্তিতে পরিণত হবেন। আর যদি আপনি মর্যাদা ও আভিজাত্য কামনা করেন, তবে আমরা আপনাকে আমাদের ওপর নেতৃত্ব প্রদান করব।
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
حتى لا نقطع أمرا دونك. وإن كنت إنما تريد ملكا ملكناك علينا (1).

سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم كل ذلك في هدوء وتأن، ثم رفضه في غير شك وتأخير، ولم يكن هذا العرض من قريش على شخص الرسول صلى الله عليه وسلم فحسب، بل كان على هذه الأمة التي يمثلها ويقودها. ولم يكن رفض رسول الله صلى الله عليه وسلم لما عرضت قريش، رفضا عن نفسه الكريمة فقط، بل كان رفضا عن أمته الى آخر الأبد.

اقتنعت قريش بهذه المحاورة، ويئست من مساومة هذه الأمة، ولم تعد تعرض على رسول الله صلى الله عليه وسلم مباشرة وعلى هذه الأمة بواسطة ما عرضته من قبل، وقطعت منها أملها.

وكان بعد ذلك صراع مستمر، ونزاع طويل، ولم يكن نزاعا في أغراض المادة وشهوات البطن، والاستئثار بموارد الرزق، والتغلب على الأسواق، بل كان نزاعا بين الإسلام والجاهلية بمعنى الكلمتين، نزاعا بين حياة العبودية والانقياد لله تعالى ورسوله، وبين الحياة الحرة المطلقة التي لا تعرف قيدا أو لا تخشى معادا ولا حسابا.

--------------------------------------------

(1) البداية والنهاية لابن كثير.
যাতে আপনার উপস্থিতি ব্যতীত আমরা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করি। আর আপনি যদি কেবল রাজত্বই চেয়ে থাকেন, তবে আমরা আপনাকে আমাদের রাজা বানিয়ে নেব (১)।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসব কিছু অত্যন্ত ধীরস্থির ও শান্তভাবে শ্রবণ করলেন, অতঃপর কোনো প্রকার দ্বিধা ও বিলম্ব ছাড়াই তা প্রত্যাখ্যান করলেন। কুরাইশদের এই প্রস্তাব কেবল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যক্তি-সত্তার প্রতি সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল এই উম্মতের প্রতি যার প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব তিনি দিচ্ছিলেন। কুরাইশরা যা প্রস্তাব করেছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই প্রত্যাখ্যান কেবল তাঁর নিজের সম্মানিত সত্তার পক্ষ থেকে ছিল না, বরং তা ছিল অনন্তকাল পর্যন্ত তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে এক চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যান।

কুরাইশরা এই আলোচনার মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করল এবং এই উম্মতের সাথে কোনো প্রকার আপস করার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেল। ইতিপূর্বে তারা যা প্রস্তাব করেছিল, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সরাসরি এবং তাঁর উম্মতের নিকট কোনো মাধ্যমে তারা সেই প্রস্তাব পুনরায় পেশ করেনি এবং এ ব্যাপারে তারা সম্পূর্ণ আশাহত হলো।

অতঃপর শুরু হলো এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম এবং সুদীর্ঘ দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব নিছক বৈষয়িক উদ্দেশ্য, উদরপূর্তি, রিযিকের উৎসের ওপর একক আধিপত্য বিস্তার কিংবা বাজার দখলের কোনো লড়াই ছিল না; বরং তা ছিল শব্দদ্বয়ের প্রকৃত অর্থেই ইসলাম ও জাহিলিয়াতের মধ্যকার এক সংঘাত। এটি ছিল মহান আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের প্রতি পূর্ণ দাসত্ব ও আনুগত্যের জীবনের সাথে এমন এক বলগাহীন জীবনের লড়াই, যা কোনো বিধি-নিষেধ স্বীকার করে না কিংবা পরকাল ও হিসাব-নিকেশের পরোয়া করে না।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীর রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া।
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وكان من نتيجة ذلك معركة بدر الحاسمة، وقد قاد النبي صلى الله عليه وسلم الى ساحة القتال جيشا لا يزيد عدد المقاتلين فيه على ثلاثمائة وثلاثة عشر رجلا، والجيش المنافس فيه ألف محارب، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يعلم يقينا أن لو وكل المسلمون إلى أنفسهم وقوتهم المادية، فالنتيجة معلومة واضحة، نتيجة كل قليل ضعيف أمام قوي كثير العدد.

فزع الرسول الى الله تعالى في إنابة نبي، والحاح عبد، ودعاء مضطر، وشفع لهذه العصابة في كلمات صريحة واضحة، نيرة خالدة، هي خير تعريف لهذه الأمة، وبيان لمهمتها وغرضها الذي خلقت له.

لم يقل رسول الله صلى الله عليه وسلم، لو هلكت هذه العصابة، وكانت فريسة للعدو، أقفرت المدينة، وأوحشت أسواقها، وكسدت التجارة، وبطلت الزراعة، أو تعطل شغل من أشغال الحياة، أو وقفت ادارة الحكومات. لم يقل رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئا من ذلك، لأن شيئا منها لم يتوقف على المسلمين ولم يقم بهم، بل كان قبل وجود المسلمين ولا يزال في غنى عنهم، ولكن الرسول صلى الله عليه وسلم ذكر شيئا بعث المسلمون لأجله، وقام بالمسلمين وحدهم، فقال: "اللهم إن تهلك هذه العصابة لن تُعبد".
এর ফলশ্রুতিতে সংঘটিত হয়েছিল বদরের চূড়ান্ত যুদ্ধ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধক্ষেত্রে এমন একটি বাহিনী পরিচালনা করেছিলেন যার যোদ্ধা সংখ্যা তিনশ তেরো জনের বেশি ছিল না, অথচ প্রতিপক্ষ বাহিনীতে ছিল এক হাজার যোদ্ধা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চিতভাবে জানতেন যে, যদি মুসলমানদেরকে তাদের নিজেদের ওপর এবং তাদের বস্তুগত শক্তির ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে ফলাফল অত্যন্ত স্পষ্ট ও জানা ছিল; তা হতো বিপুল সংখ্যক শক্তিশালী শক্তির বিপরীতে স্বল্পসংখ্যক দুর্বল (ضعيف) দলের অবধারিত পরিণতি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন নবীর একনিষ্ঠতা, একজন দাসের আকুতি এবং একজন নিরুপায়ের দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সমীপে ফরিয়াদ জানালেন। তিনি এই ক্ষুদ্র দলের জন্য এমন কিছু সুস্পষ্ট, স্বচ্ছ, উজ্জ্বল ও চিরন্তন শব্দের মাধ্যমে সুপারিশ করলেন, যা এই উম্মতের সর্বোত্তম পরিচয় এবং তাদের সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বর্ণনা যার জন্য তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে, যদি এই দলটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং শত্রুর শিকারে পরিণত হয়, তবে মদিনা জনশূন্য হয়ে যাবে, এর বাজারগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা দেখা দেবে, কৃষি কাজ পণ্ড হবে অথবা জীবনযাত্রার কোনো ব্যস্ততা বা রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা থমকে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ জাতীয় কোনো কথাই বলেননি, কারণ এর কোনো কিছুই মুসলমানদের অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল ছিল না এবং তাদের মাধ্যমে তা সূচিতও হয়নি। বরং এগুলো মুসলমানদের আগমনের পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিল এবং তাদের ছাড়াও এসব চলতে পারত। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন যার জন্য মুসলমানদের প্রেরণ করা হয়েছে এবং যা কেবল মুসলমানদের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। তাই তিনি প্রার্থনা করেছিলেন: "হে আল্লাহ! যদি এই ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে তোমার ইবাদত আর করা হবে না।"
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
أجاب الله دعاء الرسول صلى الله عليه وسلم، وقضى بانتصار المسلمين على عدوهم، وبقائهم، فكأنما كان بقاء المسلمين مشروطا بقيام حياة العبودية بهم، وقيامهم بها، فلو انقطعت الصلة بينهم وبين العبادة ورواجها وازدهارها في العالم، انقطعت الصلة بينهم وبين الحياة ولم يبق على الله لهم حق وذمة، وأصبحوا كسائر الأمم خاضعين لنواميس الحياة وسنن الكون، بل كانوا أشد جريمة، وأقل قيمة من الأمم الأخرى، إذ لم يشترط لبقائها وحياتها مثل ما اشترط لهم، وكان كما أخبر الله تعالى: {قل ما يعبؤ بكم ربي لولا دعائكم، فقد كذبتم فسوف يكون لزاما} [الفرقان: 77].

وقد حافظ المسلمون على هذا الشرط، وبروا بهذا العهد، وتذكروا أنهم إنما نُصروا على عدوهم - وقد كان يأتي عليهم ويستأصلهم في ساحة بدر - وتركوا على ظهر الأرض لأن عبادة الله منوطة بهم على أرض الله.

… بهذه الرسالة انبثوا في العالم، وحملوها الى الملوك والسوقة والأمم، وفي سبيل ذلك هاجروا وجاهدوا، ولأجل ذلك حاربوا وعاهدوا، ولم يزالوا يعتقدون أنهم مبعثون من الله إلى الأمم، وحاملو راية الاسلام في العالم.

أرسل سعد قبل القادسية ربعي بن عامر الى رستم - قائد
আল্লাহ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রার্থনা বা দুআ (دعاء) কবুল করেছেন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে মুসলিমদের বিজয় ও তাদের টিকে থাকার ফয়সালা করেছেন। মনে হচ্ছিল যেন মুসলিমদের অস্তিত্ব বজায় থাকাটা তাদের মাঝে দাসত্ব (عبودية) বা বন্দেগির জীবন প্রতিষ্ঠা এবং তার ওপর অটল থাকার শর্তের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সুতরাং তাদের এবং ইবাদত (عبادة) ও বিশ্বে এর প্রচার ও সমৃদ্ধির মধ্যকার সম্পর্ক যদি ছিন্ন হয়ে যায়, তবে জীবনের সাথেও তাদের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য আর কোনো নিরাপত্তা বা দায়বদ্ধতা অবশিষ্ট থাকবে না। তখন তারা অন্যান্য জাতির মতোই পার্থিব জীবনের নিয়মাবলি ও মহাবিশ্বের প্রাকৃতিক বিধানের (سنن الكون) অধীন হয়ে পড়বে; বরং তারা অন্যান্য জাতির চেয়েও অধিক অপরাধী এবং মূল্যহীন হিসেবে গণ্য হবে। কারণ অন্যান্য জাতির টিকে থাকার জন্য এমন কোনো শর্তারোপ করা হয়নি যা তাদের জন্য করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা যেমনটি সংবাদ দিয়েছেন: "বলুন, আমার পালনকর্তা তোমাদের পরোয়াই করবেন না যদি না তোমরা তাঁকে ডাকতে (دعاء); যেহেতু তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছ, তাই অচিরেই তোমাদের ওপর আজাব অনিবার্য হয়ে পড়বে।" [সূরা আল-ফুরকান: ৭৭]

মুসলিমগণ এই শর্ত যথাযথভাবে পালন করেছেন এবং এই অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন। তারা স্মরণে রেখেছিলেন যে, তারা তাদের শত্রুদের ওপর বিজয়ী হয়েছিলেন—যে শত্রু বদরের ময়দানে তাদের ওপর চড়াও হয়েছিল এবং তাদের সমূলে উৎখাত করতে চেয়েছিল—আর তাদের জমিনে টিকিয়ে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র এ কারণে যে, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর ইবাদত (عبادة) বন্দেগি করার দায়িত্ব তাদের ওপরই ন্যস্ত।

… এই বার্তা বা রিসালাত (رسالة) নিয়েই তারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং রাজা-বাদশাহ, সাধারণ প্রজা ও বিভিন্ন জাতির কাছে তা বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই লক্ষ্যেই তারা হিজরত (هجرة) ও জিহাদ (جهاد) করেছেন এবং এই উদ্দেশ্যেই তারা যুদ্ধ করেছেন ও সন্ধি করেছেন। তারা সর্বদা এই বিশ্বাস পোষণ করতেন যে, তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিভিন্ন জাতির নিকট প্রেরিত হয়েছেন এবং তারা বিশ্বে ইসলামের পতাকাবাহী।

কাদিসিয়ার যুদ্ধের পূর্বে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) রিবঈ ইবনে আমির (রা.)-কে পারস্য সেনাপতি রুস্তমের নিকট প্রেরণ করেন—
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الجيوش الفارسية وأميرهم - فدخل عليه وقد زينوا مجلسه بالنمارق المذهبة، والزرابي، وأظهروا اليواقيت واللآلي الثمينة، والزينة العظيمة، وعليه تاجه وغير ذلك من الأمتعة الثمينة، وقد جلس على سرير من ذهب، ودخل ربعي بثياب صفيقة، وسيف وترس، وفرس قصيرة، ولم يزل راكبها حتى داس بها على طرف البساط، ثم نزل وربطها ببعض تلك الوسائد، وأقبل وعليه سلاحه ودرعه، وبيضته على رأسه، فقالوا له:

"ضع سلاحك" فقال: "إني لم آتكم وإنما جئتكم حين دعوتموني، فإن تركتموني هكذا، وإلا رجعت"، فقال رستم: "ائذنوا له" فأقبل يتوكأ على رمحه فوق النمارق، فخرّق عامتها، فقالوا له: "ما جاء بكم؟ " فقال: "الله ابتعثنا لنخرج من شاء من عبادة العباد الى عبادة الله، ومن ضيق الدنيا الى سعتها، ومن جور الأديان الى عدل الإسلام، فأرسلنا بدينه الى خلقه لندعوهم، فمن قبل ذلك قبلنا منه ورجعنا عنه، ومن أبى قاتلناه أبدا، حتى نفضي الى موعود الله" قالوا: "وما موعود الله"؟ قال: "الجنة لمن مات على قتال من أبى، والظفر لمن بقي (1) ".

أباح الله للمسلمين الطيبات، وفسح لهم في طرق الكسب ووجوه المعاش، ولم يضيق عليهم في ذلك، فقال: "قل: من حرم زينة الله التي أخرج لعباده والطيبات من الرزق، قل: {هي للذين آمنوا في الحياة الدنيا خالصة يوم

--------------------------------------------

(1) البداية والنهاية لابن كثير.
পারস্য বাহিনী এবং তাদের সেনাপতি—অতঃপর তিনি (রিবঈ) তার নিকট প্রবেশ করলেন। তারা তাদের সভাকক্ষকে স্বর্ণখচিত রেশমি গালিচা ও কার্পেট দ্বারা সুসজ্জিত করেছিল এবং মূল্যবান মণি-মুক্তা ও রত্নরাজি আর আড়ম্বরপূর্ণ জাঁকজমক প্রদর্শন করেছিল। সেনাপতি স্বর্ণের সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিলেন এবং তার মাথায় মুকুট ও চারপাশে অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিল। রিবঈ মোটা কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঢাল, তলোয়ার এবং একটি ছোট ঘোড়ায় চড়ে প্রবেশ করলেন। তিনি ঘোড়ায় আরোহী থাকা অবস্থাতেই গালিচার এক প্রান্ত মাড়িয়ে আসলেন, অতঃপর নামলেন এবং ঘোড়াটিকে একটি বালিশের সাথে বাঁধলেন। তিনি তার অস্ত্র, বর্ম এবং মাথায় শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় অগ্রসর হলেন। তারা তাকে বলল:

"তোমার অস্ত্র রেখে দাও।" তিনি বললেন: "আমি তোমাদের নিকট নিজ থেকে আসিনি, বরং তোমরা আমাকে ডেকেছ বলে এসেছি। যদি তোমরা আমাকে এভাবেই থাকতে দাও তবে থাকব, অন্যথায় আমি ফিরে যাব।" রুস্তম বলল: "তাকে আসার অনুমতি দাও।" অতঃপর তিনি তার বর্শায় ভর দিয়ে গালিচার ওপর দিয়ে অগ্রসর হলেন এবং এর ফলে গালিচার অধিকাংশ ছিঁড়ে গেল। তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল: "তোমাদের আসার উদ্দেশ্য কী?" তিনি বললেন: "আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন যেন আমরা যাকে ইচ্ছা বান্দার দাসত্ব থেকে আল্লাহর ইবাদতের দিকে, দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে এর প্রশস্ততার দিকে এবং ধর্মসমূহের অবিচার থেকে ইসলামের ইনসাফের দিকে বের করে নিয়ে আসি। সুতরাং তিনি আমাদের তাঁর দ্বীনসহ তাঁর সৃষ্টির নিকট পাঠিয়েছেন যেন আমরা তাদের দাওয়াত দেই। যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে, আমরা তার থেকে তা কবুল করব এবং ফিরে যাব। আর যে অস্বীকার করবে, আমরা তার বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাব, যতক্ষণ না আল্লাহর ওয়াদাকৃত লক্ষ্যে উপনীত হই।" তারা জিজ্ঞাসা করল: "আল্লাহর ওয়াদাকৃত লক্ষ্য কী?" তিনি বললেন: "অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যারা প্রাণ হারাবে তাদের জন্য জান্নাত এবং যারা জীবিত থাকবে তাদের জন্য বিজয়।" (১)

আল্লাহ মুসলিমদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ বৈধ করেছেন এবং তাদের জন্য উপার্জনের পথ ও জীবিকার উপায়সমূহ প্রশস্ত করে দিয়েছেন। তিনি এই বিষয়ে তাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা আরোপ করেননি। তিনি বলেছেন: "বলুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিজিকসমূহ সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে? বলুন, এগুলি পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্য এবং কিয়ামতের দিন কেবল তাদের জন্যই নির্ধারিত..."

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া।
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
القيامة} [الأعراف: 32].

وقال: {فإذا قضيت الصلاة فانتشروا في الأرض وابتغوا من فضل الله} [الجمعة: 10].

ولكن الله لم يبعثهم لذلك أمة، ولم يرضه لهم غاية ومهمة، بل خلقهم للسعي للآخرة، وخلق أسباب الحياة لهم، "إن الدنيا خلقت لكم، وإنكم خلقتم للآخرة" وجعل الحياة وأسبابها خاضعة لمهمتهم التي بعثوا لأجلها، فإذا زاحمتهم في سبيل مهمتهم أو غلبتهم عليها، رفضوها وإذا تلكأ المسلمون في ذلك عاتبهم الله عتابا شديدا وقال:

{قل إن كان آباؤكم، وأبناؤكم، وإخوانكم، وأزواجكم، وعشيرتكم، وأموال اقترفتموها، وتجارة تخشون كسادها، ومساكن ترضونها، أحب إليكم من الله ورسوله وجهاد في سبيله، فتربصوا حتى يأتي الله بأمره، والله لا يهدي القوم الفاسقين} [التوبة: 24].

أراد الأنصار رضي الله عنهم أن يتفرغوا لإصلاح أموالهم، لأيام، اكتفاء بأنصار الإسلام، فعاتبهم الله على ذلك وأنزل: {ولا تلقوا بأيديكم إلى التهلكة} [البقرة: 195].

… قال سيدنا أبو أيوب الأنصاري رضي الله عنه: "إنما نزلت فينا معشر الأنصار، إنا لما أعز الله دينه وكثر ناصروه قلنا في ما بيننا: لو أقبلنا على أموالنا فأصلحناها، فأنزل هذه الآية (1) ".

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود في سننه.
কিয়ামত} [আরাফ: ৩২]।

এবং তিনি বলেছেন: {অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো} [জুমুআহ: ১০]।

কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে কেবল সেই উদ্দেশ্যে একটি উম্মত হিসেবে প্রেরণ করেননি এবং তিনি একে তাদের জন্য চূড়ান্ত লক্ষ্য ও মিশন হিসেবে পছন্দ করেননি; বরং তিনি তাদেরকে আখেরাতের অন্বেষণে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জন্য জীবনের উপকরণসমূহ তৈরি করেছেন। "নিশ্চয়ই দুনিয়া তোমাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে আখেরাতের জন্য।" আর তিনি জীবন ও এর উপকরণসমূহকে সেই মিশনের অধীন করে দিয়েছেন যার জন্য তাদের প্রেরণ করা হয়েছে। সুতরাং যখন এই বিষয়গুলো তাদের মূল দায়িত্বের পথে অন্তরায় হতো অথবা তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করত, তখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করতেন। আর যখনই মুসলিমগণ এই ক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শন করেছেন, তখনই আল্লাহ তাদের কঠোরভাবে তিরস্কার করেছেন এবং বলেছেন:

{বলুন, যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের স্বগোত্রীয় পরিজন, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের সেই ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার আশঙ্কা তোমরা করো এবং তোমাদের পছন্দনীয় বাসগৃহ—আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও তাঁর পথে জিহাদ অপেক্ষা তোমাদের নিকট অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত। আর আল্লাহ পাপাচারী (فاسقين) সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না} [তাওবাহ: ২৪]।

আনসারগণ (রা.) চেয়েছিলেন কিছু দিনের জন্য নিজেদের ধন-সম্পদ সংস্কারের কাজে আত্মনিয়োগ করতে, এই ধারণায় যে এখন ইসলামের সাহায্যকারী পর্যাপ্ত রয়েছে। তখন আল্লাহ এ বিষয়ে তাদের তিরস্কার করেন এবং অবতীর্ণ করেন: {আর তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না} [বাকারাহ: ১৯৫]।

… আমাদের নেতা আবু আইয়ুব আল-আনসারি (রা.) বলেন: "নিশ্চয়ই এই আয়াতটি আমাদের আনসারদের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে। যখন আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে শক্তিশালী করলেন এবং এর সাহায্যকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন আমরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলাম: আমরা যদি আমাদের ধন-সম্পদের দিকে মনোনিবেশ করতাম এবং তা সংস্কার করতাম! তখন আল্লাহ এই আয়াতটি (১) অবতীর্ণ করেন।"

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ولكن مع الأسف الشديد، قد تشاغل المسلمون اليوم بالدنيا كالأمم الجاهلية وسَعَوا وراءها، وعقدوا حياتهم بها، فإذا أشرفتم على مدنهم وبلادهم من مرقب عال لم تميزوا بينهم وبين أفراد أمة جاهلية، سعي وراء المادة في غير اقتصاد، واكتساب من غير احتساب، سهر في غير طاعة، وعمل في غير نية، وتجارة في لهو عن ذكر الله، وحرقة في جهل عن دين الله، ووظيفة في الاخلاص لغير الله، وحكومة في مشاقة الله، شغل في ضلالة، وقعود في بطالة، وحياة في غفلة وجهالة.

هل اذا اطلعتم - يا سادتي - على بلاد اسلامية، ورأيتم هذه الأمة في غداوتها وروحاتها الى الأسواق والإدارات، ومصالح الحكومة، عرفتم أنها أمة خلقت لشيء آخر، وبعثت لغرض آخر، أسمى من هذه الأغراض التي يسعى لها الكافر والمؤمن.

إن هذا الأسلوب من الحياة لحجة ظاهرة لأهل الجاهلية على المسلمين، فلو نطقوا لقالوا: "ما ذنبنا، أيها المسلمون! إذ عرضنا على نبيكم المال، والسيادة، والملك، فأبى ورفض كل ذلك؟! ألا نراكم تسعون اليوم وراء الذي رفضه نبيكم بالأمس، كأنما خلقتم لأجله؟ فأي الفريقين أشد ذنبا، أمن عرض على محمد صلى الله عليه وسلم المال والسيادة والملك، تفاديا من الخلاف والنزاع، فأبى ورفض، أو من تهافت على ما رفضه سيده تهافت الظمآن على الماء، والفراش على النور؟. وإذا كنتم اليوم لا يهمكم إلا المال، أو الحياة، أو
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, মুসলিমরা আজ জাহেলি জাতিসমূহের ন্যায় পার্থিব দুনিয়ায় মগ্ন হয়ে পড়েছে এবং এর পেছনেই হন্যে হয়ে ছুটছে। তারা নিজেদের জীবনকে এই দুনিয়ার সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। আপনি যদি কোনো উচ্চ পর্যবেক্ষণ স্থান থেকে তাদের শহর ও জনপদগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, তবে তাদের এবং জাহেলি সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারবেন না; পরিমিতিবোধহীন বস্তুবাদী লালসা, পরকালীন প্রতিদান প্রত্যাশাহীন উপার্জন, ইবাদত বিহীন রাত্রি জাগরণ, সঠিক নিয়ত বিহীন কর্ম, আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হয়ে ক্রীড়া-কৌতুকের ন্যায় ব্যবসা-বাণিজ্য, আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতাপ্রসূত আবেগ, আল্লাহ ব্যতিরেকে অন্যের প্রতি একনিষ্ঠতা প্রদর্শনপূর্বক চাকরি, আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত শাসনব্যবস্থা, পথভ্রষ্টতায় নিমগ্ন থাকা, আলস্য ও নিষ্ক্রিয়তায় সময় অতিবাহিত করা এবং উদাসীনতা ও অজ্ঞতাঘেরা জীবন।

হে সুধীগণ! আপনারা যখন কোনো মুসলিম ভূখণ্ডের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং এই উম্মতকে বাজার, দপ্তর ও সরকারি কার্যালয়সমূহে সকাল-সন্ধ্যায় যাতায়াত করতে দেখেন, তখন কি আপনারা বুঝতে পারেন যে, এটি এমন এক জাতি যাদের অন্য কোনো মহান উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং অন্য কোনো মহিমান্বিত লক্ষ্যের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে—যা কাফির ও মুমিন উভয়ের সাধারণ জাগতিক প্রচেষ্টার ঊর্ধ্বে?

প্রকৃতপক্ষে, জীবনযাপনের এই ধরণ মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাহেলিয়াতের অনুসারীদের জন্য এক সুস্পষ্ট প্রমাণ। তারা যদি আজ কথা বলতে পারত, তবে বলত: "হে মুসলিমরা! আমাদের অপরাধ কী ছিল যখন আমরা তোমাদের নবীর সামনে ধন-সম্পদ, নেতৃত্ব ও রাজত্ব পেশ করেছিলাম, আর তিনি তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন? আজ আমরা তোমাদের সেই সবকিছুর পেছনেই হন্যে হয়ে ছুটতে দেখছি যা তোমাদের নবী ইতিপূর্বে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন; যেন তোমরা এই পার্থিব লাভের জন্যই সৃষ্টি হয়েছ! তবে এই দুই দলের মধ্যে অধিক অপরাধী কে? যে ব্যক্তি বিবাদ ও সংঘাত এড়ানোর জন্য মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সম্পদ, নেতৃত্ব ও রাজত্বের প্রস্তাব দিয়েছিল আর তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন; নাকি সেই ব্যক্তি, যে তার নেতার প্রত্যাখ্যাত বস্তুর ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে, যেমন তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি পানির ওপর কিংবা পতঙ্গ আলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে? আর যদি আজ তোমাদের নিকট ধন-সম্পদ বা জীবন অথবা... ব্যতীত অন্য কিছুর গুরুত্ব না থাকে..."
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الشرف، أو حكم على قطعة أرض، فلماذا تظاهرتم بالأمس بالدين، وأقمتم الدنيا وأقعدتموها لأجله، وكدرتم علينا صفو العيش، لقد كنتم وكنا في غنى عن هذه الحروب الطاحنة التي أيتمت البنين، وأيئمت النساء، وأجلت الناس عن الأوطان!.

أعيدوا إلينا إذا تلك الدماء التي أريقت في ساحة بدر وأحد، وخيبر وحنين، واليرموك والقادسية، وأعيدوا إلينا تلك النفوس التي قتلت باسم الدين، وأعيدوا إلينا تلك الأيام التي كنا نعيش فيها في وئام وهدوء، لا نعرف فيها إلا الأكل والشرب وقضاء مآرب النفس!.

وماذا يكون جوابنا لو تعرض أحد من أخلافهم الأحياء وقال: "ما غَناؤكم أيها المسلمون؟! لقد ساهمتمونا في أسباب الحياة، وخلقتم لنا فوق ذلك مشكلات كثيرة في الحياة السياسية والاجتماعية، ولا نراكم تسدون عوزا، أو تصلحون خللا، وتلمون شعثا، أو تقيمون زيفا في الحياة".

عفوا أيها القراء، وسماحا أيها الكرام، فقد طال العتاب، وقديما قال الشاعر العربي:

وفي العتاب حياة بين أقوام

من المعلوم أن حياة الأمم بالرسالة والدعوة، وإن الأمة التي لا تحمل رسالة ولا تستصحب دعوة، حياتها مصطنعة غير طبعية، وإنها
মর্যাদা, কিংবা কোনো ভূখণ্ডের কর্তৃত্ব; তবে কেন তোমরা ইতিপূর্বে ধর্মের নাম নিয়ে দণ্ডায়মান হয়েছিলে এবং এর জন্য কেনই বা পৃথিবীকে তোলপাড় করেছিলে? কেন আমাদের প্রশান্ত জীবনকে বিষাদময় করে তুলেছিলে? তোমরা এবং আমরা এই বিধ্বংসী যুদ্ধবিগ্রহ থেকে অমুখাপেক্ষী থাকতে পারতাম, যা সন্তানদের এতিম করেছে, নারীদের বিধবা করেছে এবং মানুষকে তাদের স্বদেশ ভূমি থেকে বিতাড়িত করেছে!

তবে আমাদের নিকট ফিরিয়ে দাও সেই রক্ত, যা বদর, উহুদ, খয়বর, হুনাইন, ইয়ারমুক ও কাদিসিয়ার রণক্ষেত্রে প্রবাহিত হয়েছে। ফিরিয়ে দাও সেই প্রাণগুলো, যা ধর্মের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। ফিরিয়ে দাও আমাদের সেই দিনগুলো, যখন আমরা পরম শান্তি ও সম্প্রীতির মাঝে জীবন অতিবাহিত করতাম; যেখানে আহার-পান আর নফসের চাহিদা মেটানো ভিন্ন অন্য কিছু আমরা জানতাম না!

আর আমাদের জবাবই বা কী হবে, যদি তাদের জীবিত উত্তরসূরিদের কেউ সামনে এসে প্রশ্ন করে: "হে মুসলিমগণ! তোমাদের সার্থকতা কী?! তোমরা তো কেবল জীবনধারণের উপকরণের ক্ষেত্রে আমাদের অংশীদার হয়েছ, তদুপরি রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে আমাদের জন্য নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি করেছ। আমরা তো দেখছি না যে তোমরা কোনো অভাব পূরণ করছ, কিংবা কোনো বিচ্যুতি সংশোধন করছ, অথবা কোনো বিশৃঙ্খলা গুছিয়ে দিচ্ছ কিংবা জীবনের কোনো মিথ্যাকে অপসারিত করছ।"

হে পাঠকবর্গ এবং সুধীজন, মার্জনা করবেন; অনুযোগ হয়তো দীর্ঘ হয়ে গেল। প্রাচীনকালের এক আরব কবি বলেছেন:

অনুযোগের মাঝেই নিহিত থাকে সম্প্রদায়ের প্রাণ

এটি সুবিদিত যে, জাতিসমূহের জীবন টিকে থাকে তাদের মিশন ও দাওয়াতের মাধ্যমে; আর যে জাতি কোনো মিশন বহন করে না এবং দাওয়াতকে সঙ্গী করে না, তার জীবন কৃত্রিম ও অস্বাভাবিক; আর তা
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ২০)
كورقة انفصلت من شجرتها، فلا يمكن أن تحيا بسقي أو ري: {فأما الزبد فيذهب جفاء، وأما ما ينفع الناس فيمكث في الأرض} [الرعد: 17].

إننا - أيها الفقراء - أمة الحاضر وأمة المستقبل، قد كتب لنا الخلود والنصر، لأننا أصحاب دعوة ورسالة نبوية، وهي الرسالة الأبدية التي قضى الله بخلودها وظهورها. فلسنا تحت سيطرة المادة وحكم الزمان، بشرط أن نقوم بدعوتنا، ولنستقبل برسالتنا، ونعود أمة دعوة نبوية كما بدأنا، دعوة في ما بيننا معشر المسلمين، ودعوة في غيرنا من الأجانب في الدين.

لقد تخلفنا عن الأمم المعاصرة في العلوم الطبيعية، والأسباب الحربية، وفي الأخذ بأسباب الرقي المادي بعدة قرون، وقد كانت المسابقة بيننا وبينهم كمسابقة الأرنب والسلحفاة، إلا أن الأرنب كان ساهرا مع خفته وسرعته، والسلحفاة نائمة رغم بطئها وثقلها، فلو حاربنا هذه الأمم اليوم لاستغرق ذلك قرونا، ثم كانت المقارنة بحساب دقيق، فإذا أفاق العدو وسبقنا بشعرة في القوة المادية والعدد الحربية رجحت كفته، لأن المادة عمياء وهي من القساوة والحياد التام بمكان لا تفرق فيه بين المحق والمبطل والشريف والوضيع.

ولكن الدعوة والرسالة - وهي الروح التي تقهر المادة وتسخِّر الأسباب وتستنزل النصر - تأتي بخوارق ومعجزات، وطالما قهرت القاهر وفتحت الغالب، وطالما خضعت الحكومات القاهرة، ودانت الملوك الجبابرة بقوة الدعوة والرسالة للمماليك والصعاليك، وقد جربت ذلك هذه الأمة مرتين بوضوح في التاريخ:

مرة: لما خرج العرب من جزيرتهم الى البلاد الرومية والفارسية في ثياب صفيقة مرقعة، وفي نعال وضيعة مخصوفة، يحملون سيوفا بالية الأجفان، رثة المحامل، على خيل قصيرة، متقطعة الغرز، وسرعان ما
একটি পাতার মতো যা তার বৃক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, ফলে সেচন বা জলদান দ্বারা তার বেঁচে থাকা সম্ভব নয়: {অতঃপর ফেনা তো নিঃশেষ হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিনে টিকে থাকে} [রা'দ: ১৭]।

হে নিঃস্বগণ! নিশ্চয়ই আমরা বর্তমান ও ভবিষ্যতের উম্মাহ। আমাদের জন্য অবিনশ্বরতা ও বিজয় নির্ধারিত হয়েছে, কারণ আমরা দাওয়াত ও নবুওয়তি বার্তার ধারক; আর এটিই সেই শাশ্বত বার্তা যার স্থায়িত্ব ও বিজয়ের ফয়সালা আল্লাহ করেছেন। সুতরাং আমরা বস্তুবাদ কিংবা কালের শাসনের অধীন নই, শর্ত হলো—আমাদের এই দাওয়াতের দায়িত্ব পালন করতে হবে, আমাদের বার্তাকে গ্রহণ করতে হবে এবং আমরা যেভাবে শুরু করেছিলাম ঠিক সেভাবে পুনরায় একটি নবুওয়তি দাওয়াতের উম্মাহতে পরিণত হতে হবে; যা হবে আমাদের মুসলিমদের অভ্যন্তরীণ দাওয়াতি কার্যক্রম এবং যারা দ্বীনের বহির্ভূত তাদের নিকট ইসলামের দাওয়াতি আহ্বান।

আমরা সমসাময়িক জাতিগুলোর তুলনায় প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, যুদ্ধ সরঞ্জাম এবং বস্তুগত উন্নতির উপকরণসমূহ গ্রহণে কয়েক শতাব্দী পিছিয়ে রয়েছি। আমাদের এবং তাদের মধ্যকার প্রতিযোগিতাটি ছিল খরগোশ ও কচ্ছপের প্রতিযোগিতার মতো; পার্থক্য শুধু এই যে, খরগোশ তার ক্ষিপ্রতা ও দ্রুতগতি থাকা সত্ত্বেও সজাগ ছিল, আর কচ্ছপ তার ধীরগতি ও স্থবিরতা সত্ত্বেও ছিল নিদ্রামগ্ন। আজ যদি আমরা এই জাতিগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হই, তবে তা শতাব্দীকাল সময় নিয়ে নেবে; আর যদি সূক্ষ্ম হিসাবের নিরিখে তুলনা করা হয়, তবে শত্রু যদি বস্তুগত শক্তি ও যুদ্ধ সরঞ্জামের দিক থেকে আমাদের চেয়ে সামান্য ব্যবধানেও এগিয়ে যায়, তবে পাল্লা তাদের দিকেই ঝুঁকে পড়বে। কেননা বস্তুবাদ অন্ধ, এবং এটি কঠোরতা ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার এমন এক স্থানে অবস্থান করে যেখানে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে কিংবা মহৎ ও নীচ ব্যক্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয় না।

কিন্তু দাওয়াত ও রিসালাত—যা এমন এক রুহ যা বস্তুকে পরাজিত করে, জাগতিক উপায়সমূহকে বশীভূত করে এবং বিজয় ত্বরান্বিত করে—তা অলৌকিক ও বিস্ময়কর নিদর্শন নিয়ে আসে। এটি বহুবার পরাক্রমশালীকে পরাজিত করেছে এবং বিজয়ীকে জয় করেছে; আর বহুবার প্রতাপশালী সরকারগুলো নতি স্বীকার করেছে এবং স্বৈরাচারী রাজারা কৃতদাস ও নিঃস্বদের এই দাওয়াত ও বার্তার শক্তির সামনে আনুগত্য প্রকাশ করেছে। এই উম্মাহ ইতিহাসে দুইবার স্পষ্টভাবে এর অভিজ্ঞতা লাভ করেছে:

একবার: যখন আরবরা তাদের উপদ্বীপ থেকে রোমান ও পারস্য অঞ্চলের দিকে বের হয়েছিল জীর্ণ তালি দেওয়া পোশাকে এবং অতি সাধারণ সেলাই করা জুতো পরিহিত অবস্থায়; তারা বহন করছিল এমন তলোয়ার যার খাপ ছিল জরাজীর্ণ এবং ঝুলানোর ফিতা ছিল পুরনো, আর তাদের ঘোড়াগুলো ছিল খর্বকায় এবং জিনের রেকাব ছিল ছিন্নভিন্ন; কিন্তু অতি দ্রুতই তারা...
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ২১)
قهرت دعوتهم ورسالتهم وحياتهم الأمم الرومية والفارسية، التي كانت كدمى كُسيت حللا فاخرة، وأعوادا أسندت الى الجدار، لحرمانها من رسالة، وقعودها عن دعوة، وكان الانتصار في الآخر للرسالة على النظام، وللروح على المادة، وللمعنى على الظاهر.

ومرة ثانية: لما قهر التتر - ذلك الجراد المنتشر - العالم الاسلامي من أقصاه الى أقصاه، وخضدوا شوكة المسلمين، فلم تقم لهم قائمة، ولم يقف في وجههم واقف، وكاد المسلمون يصبحون أثرا بعد عين، واستولى اليأس على قلوبهم حتى كان من الأمثال السائرة: "إذا قيل لك أن التتر انهزموا، فلا تصدق" هنالك فعلت الدعوة الإسلامية فعلها، ونفذت فيهم. فإذا القاهر يصبح مقهورا، وإذا الفاتح مفتوح لدين المفتوحين، وإذا التتر يتلفظون بكلمة الإسلام، ويدينون برسالة محمد عليه الصلاة والسلام، ويصبحون أمة إسلامية.

وإن الرسالة الإسلامية لتأتي بالمعجزات اليوم، وتقهر الأمم طوعا - لا كرها - بسلطانها الروحي ونفوذها العجيب.

إن آباءكم - أيها السادة المسلمون - قد انتشروا في عواصم الجاهلية الأولى، ومراكزها الكبرى، يقولون: "الله ابتعثنا لنخرج من شاء من عبادة العباد الى عبادة الله، ومن ضيق الدنيا الى سعتها، ومن جور الأديان الى عدل الإسلام" وخلصوا الأمة الرومية من عبادة المسيح والصليب والأحبار والرهبان والملوك، وخلصوا الأمة الفارسية من عبادة النار وعبودية البيت الكياني، والأمة الطورانية من عبادة الذئب الأبيض، والأمة الهندية من عبادة البقر، وأخرجوها الى عبادة الله وحده، وأخرجوها فعلا من ضيق الدنيا الى سعتها، ومن جور الأديان الى عدل الإسلام، والعالم ينتظر منذ زمان، رسل المسلمين ينتشرون في عواصم الجاهلية الثانية، يهتفون: "الله ابتعثنا لنخرج العباد من عبادة المادة والبطن، الى عبادة الله وحده، ومن ضيق عالم التنافس والأثرة والجشع المادي الى سعة عالم القناعة والإيثار والزهد، ونعيم
তাদের দাওয়াত, রিসালাত এবং জীবনব্যবস্থা রোমান ও পারসিক জাতিগুলোকে পরাভূত করেছিল, যারা ছিল মূলত বিলাসবহুল পোশাকে সজ্জিত পুতুলের ন্যায় এবং দেয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে রাখা কাঠের স্তূপের মতো; কারণ তারা কোনো ঐশী বার্তা থেকে বঞ্চিত ছিল এবং দাওয়াত বিমুখ হয়ে পড়েছিল। পরিশেষে বিজয় হয়েছিল ব্যবস্থার ওপর বাণীর, জড়বাদের ওপর আত্মার এবং বাহ্যিক চাকচিক্যের ওপর অন্তর্নিহিত সত্যের।

আবার দ্বিতীয়বার: যখন তাতাররা—সেই বিস্তীর্ণ পঙ্গপাল সদৃশ বাহিনী—মুসলিম বিশ্বকে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত পদানত করেছিল এবং মুসলিমদের শক্তি চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল, ফলে তাদের আর মাথা তুলে দাঁড়ানোর ক্ষমতা ছিল না এবং তাদের সামনে রুখে দাঁড়ানোর মতো কেউ অবশিষ্ট ছিল না; মুসলিমরা প্রায় অস্তিত্বহীন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল এবং তাদের হৃদয়ে হতাশা এমনভাবে জেঁকে বসেছিল যে একটি প্রবাদ প্রচলিত হয়ে গিয়েছিল: "যদি তোমাকে বলা হয় তাতাররা পরাজিত হয়েছে, তবে তা বিশ্বাস করো না।" ঠিক তখনই ইসলামি দাওয়াত তার প্রভাব বিস্তার করল এবং তাদের মাঝে অনুপ্রবেশ করল। ফলে বিজয়ী নিজেই বিজিত হয়ে পড়ল, আর বিজয়ীরা বিজিতদের দ্বীনের কাছেই নতি স্বীকার করল; তাতাররা ইসলামের কালিমা উচ্চারণ করল, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রিসালাতের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করল এবং তারা একটি মুসলিম উম্মাহয় পরিণত হলো।

নিশ্চয়ই ইসলামি রিসালাত আজও অলৌকিকতা প্রদর্শন করতে পারে এবং জাতিগুলোকে কোনো বলপ্রয়োগ ছাড়াই—স্বেচ্ছায়—তার আধ্যাত্মিক কর্তৃত্ব ও বিস্ময়কর প্রভাবের মাধ্যমে জয় করতে পারে।

হে মুসলিম সুধীবৃন্দ! আপনাদের পূর্বপুরুষগণ আদি জাহেলিয়ার রাজধানী ও বড় বড় কেন্দ্রগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং বলতেন: "আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন যাতে আমরা যাকে তিনি চান তাকে বান্দার দাসত্ব থেকে আল্লাহর ইবাদতের দিকে, দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে তার প্রশস্ততার দিকে এবং ধর্মসমূহের জুলুম থেকে ইসলামের ইনসাফের দিকে বের করে আনি।" তারা রোমান জাতিকে মসীহ, ক্রুশ, ধর্মযাজক, সন্ন্যাসী ও রাজাদের উপাসনা থেকে মুক্ত করেছিলেন; পারসিক জাতিকে অগ্নিপূজা ও কায়ানি রাজবংশের দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছিলেন; তুর্কি জাতিকে শ্বেত নেকড়ের পূজা থেকে এবং ভারতীয় জাতিকে গো-পূজা থেকে মুক্ত করে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে নিয়ে এসেছিলেন। তারা বাস্তবেই মানুষকে দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে প্রশস্ততার দিকে এবং ধর্মসমূহের অবিচার থেকে ইসলামের ন্যায়ের দিকে বের করে এনেছিলেন। বিশ্ব আজ দীর্ঘকাল ধরে প্রতীক্ষা করছে সেই মুসলিম প্রতিনিধিদের জন্য, যারা দ্বিতীয় জাহেলিয়ার রাজধানীগুলোতে ছড়িয়ে পড়বে এবং উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করবে: "আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন যাতে আমরা বান্দাদের জড়বাদ ও উদরপূজা থেকে সরিয়ে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে এবং বস্তুগত প্রতিযোগিতা, স্বার্থপরতা ও লোভের সংকীর্ণ বিশ্ব থেকে অল্পেতুষ্টি, পরোপকার ও দুনিয়াবিমুখতার (زهد) প্রশস্ত জগতের নেয়ামত ও কল্যাণের দিকে বের করে নিয়ে আসি।"
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ২২)
الروح وطمأنينة القلب، ومن جور النظم السياسية والاجتماعية، الى عدل الإسلام".

هذه هي الدعوة التي تهيب بكم يا رجال العالم الإسلام، وهذه الإنسانية البائسة تستصرخكم وتستغيثكم على أعداءها. وليس العالم اليوم بأقل ظمأ وأقل فاقة الى الدعوة الإسلامية الصحيحة منه بالأمس، وإنه لا يختلف عما كان عليه في القرن السادس المسيحي، فهو غني اليوم في كل ناحية من نواحي الحياة، وفي جميع الحرف والصناعات، وقد ضاق بالأمم والحكومات، وطفح بالاعلام والرايات، وفاض بالحركات والدعوات، وضجر بطغيان الأهواء والنزعات، وثورة الأغراض والشهوات، فهو في ذلك لا يقبل علاوة، ولا يسمح بزيادة، فإذا لم يكن المسلمون إلا أمة من الأمم ليست لهم دعوة الى الله، ولا رسالة للإنسانية المحتضرة، ولم يكن لهم هم إلا أنفسهم وبطونهم، لم يكن هنالك ما يبرر تاريخهم الماضي الذي افتتح بالدعوة الدينية والجهاد في سبيلها، ولا يبرر وجودهم في هذا العصر، فإنما نُصِرُوا واستبقوا بشريطة القيام بالعبادة والدعوة إليها.

والدعوة الى الله هي الناحية الوحيدة التي لا تزال فارغة في خارطة العالم، لا تشغلها أمة ولا دعوة، فإذا عمرها المسلمون أحسنوا الى الإنسانية وإلى أنفسهم، وأمسكوا هذا العالم المتمدن الذي قد كاد يهوي في الهاوية.

…
"আত্মার প্রশান্তি ও হৃদয়ের স্থিরতা, আর রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার জুলুম হতে ইসলামের ইনসাফের দিকে।"

এটিই সেই দাওয়াত যা আপনাদেরকে আহ্বান করছে হে মুসলিম বিশ্বের ব্যক্তিবর্গ! আর এই বিপন্ন মানবতা তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে আপনাদের নিকট আর্তনাদ ও সাহায্য প্রার্থনা করছে। আজকের বিশ্ব বিশুদ্ধ (صحيحة) ইসলামী দাওয়াতের প্রতি গতকালের তুলনায় কোনো অংশেই কম তৃষ্ণার্ত বা কম মুখাপেক্ষী নয়। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ষষ্ঠ খ্রিস্টীয় শতাব্দীর প্রেক্ষাপট থেকে কোনোভাবেই ভিন্ন নয়; আজ জীবনের প্রতিটি দিকে এবং সকল পেশা ও শিল্পে বিশ্ব সমৃদ্ধ। রাষ্ট্র ও সরকারসমূহে তা সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে, পতাকা ও নিশানায় তা সয়লাব, আর বিভিন্ন আন্দোলন ও আহ্বানে তা প্লাবিত। প্রবৃত্তির প্রাবল্য ও ঝোঁকের আধিক্য এবং হীন উদ্দেশ্য ও লালসার উন্মাদনায় বিশ্ব আজ ক্লান্ত-বিপর্যস্ত। এই অবস্থায় বিশ্ব আর নতুন কোনো কিছুর সংযোজন গ্রহণ করতে বা কোনো পরিবৃদ্ধি মেনে নিতে রাজি নয়। এমতাবস্থায় মুসলিমরা যদি কেবল অন্যান্য জাতিসমূহের মতো একটি সাধারণ জাতিতে পরিণত হয়—যাদের আল্লাহর পথে কোনো দাওয়াত নেই, মুমূর্ষু মানবতার তরে কোনো পয়গাম নেই, আর নিজেদের নফস ও উদরপূর্তি ব্যতীত অন্য কোনো চিন্তা নেই—তবে তাদের সেই অতীত ইতিহাস যা ধর্মীয় দাওয়াত ও সেই পথে জিহাদের মাধ্যমে সূচিত হয়েছিল, তার কোনো যৌক্তিকতা থাকবে না; আর এই যুগে তাদের অস্তিত্বেরও কোনো সার্থকতা থাকবে না। কেননা, তাদের সাহায্য করা হয়েছে এবং টিকিয়ে রাখা হয়েছে কেবল ইবাদত কায়েম ও তার দিকে দাওয়াত প্রদানের শর্তেই।

আল্লাহর দিকে দাওয়াতের এই দিকটিই বিশ্বের মানচিত্রে একমাত্র শূন্য স্থান যা এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে; কোনো জাতি বা কোনো মতবাদ তা পূরণ করছে না। যদি মুসলিমরা এই শূন্যতা পূরণ করে, তবে তারা মানবতার প্রতি এবং নিজেদের প্রতি ইহসান করবে এবং এই সভ্য বিশ্বকে রক্ষা করবে যা ধ্বংসের অতল গহ্বরে পতনের উপক্রম হয়েছে।

…
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
المحتويات

 

‌‌مَعْقِل الإنسانية

كان وجود الأمة الإسلامية في كل ناحية من نواحي العالم رمزا لحقيقة غير الحقائق المادية واللذات الجسدية، وكان كل فرد من أفراد هذه الأمة يعلن للعالم - وليدا أو ميتا - أن وراء القوى المادية قوة سماوية ووراء الحياة الفانية حياة خالدة، فإذا ولد وليد صرخ في أذنه بهذه الحقيقة، وإذا مات فارق الدنيا بهذه الشهادة.

… إذا ساد على هذا العالم جمود أشبه بالموت، وغاص الناس في بحر الحياة إلى أذقانهم، واختفت كل حقيقة وراء الحقائق المادية، إذا بصوت يدوي "حيّ على الصلاة، حيّ على الفلاح" فينكسر طلسم العالم المادي، وتتجلى الحقيقة الروحية، ويجري الناس وراء هذا الصوت، وقد نفضوا أيديهم من أشغالهم وخروا أمام ربهم. وإذا ضرب الليل رواقه، ومد النوم أطنابه على هذا العالم الحي الصاخب، فإذا هو مقبرة واسعة ليس بها داع ولا مجيب، إذا بمعين الحياة ينصب في وادي
সূচিপত্র

 

‌‌মানবতার দুর্গ

বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব ছিল পার্থিব বাস্তবতা ও দৈহিক ভোগ-বিলাসের ঊর্ধ্বে এক পরম সত্যের প্রতীক। এই উম্মাহর প্রতিটি সদস্য—চাই সে নবজাতক হোক কিংবা মৃত—বিশ্বের নিকট এ কথাই ঘোষণা করত যে, বস্তুগত শক্তির পশ্চাতে এক আসমানি শক্তি এবং এই নশ্বর জীবনের অন্তরালে এক অনন্ত জীবন বিদ্যমান। তাই যখন কোনো শিশু ভূমিষ্ঠ হতো, তার কানে এই সত্যটি উচ্চস্বরে উচ্চারণ করা হতো; আর যখন কেউ মৃত্যুবরণ করত, সে এই সাক্ষ্য (شهادة) প্রদান করেই পৃথিবী হতে বিদায় নিত।

… যখন এই জগতের ওপর মৃত্যুর ন্যায় এক জড়তা আধিপত্য বিস্তার করে, মানুষ জীবন-সমুদ্রের অতল গহ্বরে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয় এবং প্রতিটি সত্য বস্তুগত বাস্তবতার অন্তরালে ঢাকা পড়ে যায়; ঠিক তখনই এক আওয়ায প্রতিধ্বনিত হয়—"সালাতের দিকে এসো, কল্যাণের দিকে এসো"। ফলে জড় জগতের মায়াজাল ছিন্ন হয়ে যায় এবং আধ্যাত্মিক সত্য উদ্ভাসিত হয়। মানুষ তাদের যাবতীয় কর্মতৎপরতা ত্যাগ করে এই আহ্বানের দিকে ধাবিত হয় এবং তাদের রবের সম্মুখে সিজদাবনত হয়। আর যখন রাত তার চাদর বিছিয়ে দেয় এবং এই জীবন্ত কোলাহলমুখর বিশ্বের ওপর নিদ্রার নিস্তব্ধতা নেমে আসে, তখন এটি যেন এক বিশাল সমাধিক্ষেত্রে পরিণত হয় যেখানে কোনো আহ্বানকারী নেই, নেই কোনো উত্তরদাতা। তখনই জীবনের প্রস্রবণ প্রবাহিত হয় সেই উপত্যকায়...
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الموت، فينبلج الصبح الصادق في الليل الغاسق، وتتلقى الانسانية الناعسة من مؤذن الفجر درسا في الحياة والنشاط والكدح والكفاح، والشكر والعبادة، وإذا اعتز أحد بقوته وسلطانه، وزها بكثرة ملئِه واعوانه، وقال بلسان المقال أو بلسان الحال: "أنا ربكم الأعلى" أو "ما لكم من إله غيري" قام رجل متواضع على منصة عالية في كل بقعة من بقاع مملكته، أو نفوذه، ونادى "الله أكبر الله أكبر" فينادي بحكم الله في مملكته ويرغم أنف الاله الكاذب في سلطانه.

إذا هاجرت جالية مسلمة من رقعة من رقاع هذه الأرض، أو أجليت منها، لم يصب نظام المعيشة بشلل أو خلل، وظل الناس يتكسبون ويأكلون كما تأكل الأنعام، وظلت رحى الحياة تدور دورها الطبيعي، ولكن روح ذلك المجتمع الانساني تفارق جسده فيصير جثة هامدة لا حياة فيها ولا روح، كذلك كان في أسبانيا، وكذلك كان في كل بقعة انسحب منها المسلمون أو أجلاهم عنها أهلها، وهل اسبانيا الحاضرة إلا مدنية بلا روح، وحياة بلا مبدأ، وأمة بغير رسالة للعالم!.

إن المؤمن وحده هو صاحب عاطفة في هيكل العقل والمادة الذي لا يعبد فيه الا النفس والبطن، وهل الحياة الا بالعاطفة؟ وهل الدنيا إذا ماتت العاطفة، وغلب العقل، وحكمت المادة، الا سوق تجارة أو
মৃত্যু, অতঃপর ঘোর রজনীর বক্ষ বিদীর্ণ করে সুবহে সাদিক (الصبح الصادق) উদিত হয় এবং তন্দ্রাচ্ছন্ন মানবজাতি ফজরের মুয়াজ্জিনের নিকট হতে জীবন, প্রাণচাঞ্চল্য, কঠোর পরিশ্রম, সংগ্রাম, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক অনন্য পাঠ গ্রহণ করে। যখন কোনো ব্যক্তি আপন শক্তি ও ক্ষমতার দম্ভ করে এবং তার জনবল ও সহযোগীদের আধিক্যে গর্বিত হয় এবং মুখে কিংবা কর্মে ঘোষণা দেয়: "আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ পালনকর্তা" অথবা "আমি ব্যতীত তোমাদের কোনো ইলাহ নেই", তখন তার সাম্রাজ্য বা প্রভাবাধীন অঞ্চলের প্রতিটি উচ্চ মঞ্চে একজন বিনয়ী ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার"। এর মাধ্যমে তিনি সেই জনপদে আল্লাহর কর্তৃত্ব ঘোষণা করেন এবং সেই মিথ্যা (كاذب) উপাস্যের দর্প চূর্ণ করে দেন।

যদি পৃথিবীর কোনো ভূখণ্ড থেকে মুসলিম জনপদ হিজরত করে অথবা তাদের সেখান থেকে বহিষ্কার করা হয়, তবে তাদের জীবনযাত্রার স্বাভাবিক প্রবাহে কোনো স্থবিরতা বা বিঘ্ন ঘটে না। মানুষ গবাদি পশুর ন্যায় উপার্জন ও আহার অব্যাহত রাখে এবং জীবনচক্র আপন নিয়মে আবর্তিত হতে থাকে। কিন্তু সেই মানবসমাজের রুহ তার দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফলে তা এক প্রাণহীন নিথর দেহে পরিণত হয়। স্পেনের ক্ষেত্রে এমনটিই হয়েছিল এবং সেই প্রতিটি ভূখণ্ডের ক্ষেত্রেও একই কথা সত্য যেখান থেকে মুসলিমরা প্রস্থান করেছে কিংবা সেখানকার অধিবাসীরা তাদের বিতাড়িত করেছে। বর্তমান স্পেন তো আত্মা বিহীন এক সভ্যতা, আদর্শহীন এক জীবন এবং বিশ্ববাসীর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বার্তা বিহীন এক জাতি ছাড়া আর কিছুই নয়!

নিশ্চয়ই বুদ্ধি ও বস্তুবাদের এই কাঠামোতে—যেখানে প্রবৃত্তি ও উদর ব্যতিরেকে অন্য কিছুর উপাসনা করা হয় না—কেবল মুমিন (مؤمن) ব্যক্তিই হৃদয়ানুভূতির অধিকারী। অনুভূতিহীন কি কোনো জীবন হতে পারে? আর যখন হৃদয়ের আবেগ ও অনুভূতি নিঃশেষ হয়ে যায়, বুদ্ধিবৃত্তি প্রবল হয় এবং বস্তুবাদ কর্তৃত্বশীল হয়, তখন এই পৃথিবী কি কেবল একটি বাণিজ্য কেন্দ্র অথবা
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ميدان حرب؟ فإذا ثار المؤمن للحق كسر طلاسم العقل، وفك سلاسل الكون، وحطم أصنام المادة، وأملى على العالم ارادة الله، فإذا هو مطيع خاضع وإذا هو متواضع خاشع، قلب تيار الحياة وغير وجه التاريخ، وأرغم الكون على أن يسير سيرته.

حالت دجلة في سبيل المسلمين دون المدائن، وكانت السنة كثيرة المدود، ودجلة تقذف بالزبد، فجمع سعد الناس فحمد الله وأثنى عليه وقال: "ألا إني قد عزمت على قطع هذا البحر اليهم" فقالوا جميعا: "عزم الله لنا ولك على الرشد، فافعل" فندب الناس الى العبور، واذن لهم في الاقتحام، وقال: "قولوا: نستعين بالله ونتوكل عليه، حسبنا الله ونعم الوكيل، والله لينصرن الله وليه، وليظهرن دينه، وليهزمن عدوه، ولا قوة إلا بالله العلي العظيم"، وتلاحق الناس في دجلة، وهم يتحدثون كما يتحدثون في البر، وطبقوا دجلة حتى ما يرى من الشاطئ شيء (1).

نزل طارق بالأندلس، والبحر وراءه والعدو أمامه، والمستقبل رهيب، والطريق مظلم، والأرض كفة حابل، والعدد زهيد والمدد بعيد، فهزئ بأشباح المادة المخيفة، وعاند العقل، وأمر باحراق السفن التي ترجع به الى بلاده (2)، وعزم على الفتح وأيقن بالنصر، فهزم العدو، وملك الجزيرة الخضراء للمسلمين.

أراد عقبة بن نافع أن يتخذ مدينة في افريقية، يكون بها عسكر المسلمين وأهلهم وأموالهم ليأمنوا من ثورة

--------------------------------------------

(1) الكامل لابن الاثير (ج 3 ص 198).

(2) نفح الطيب (ج 1 ص 131).
মيدান حرب؟ فإذا ثار المؤمن للحق كسر طلاسم العقل، وفك سلاسل الكون، وحطم أصنام المادة، وأملى على العالم ارادة الله، فإذا هو مطيع خاضع وإذا هو متواضع خاشع، قلب تيار الحياة وغير وجه التاريخ، وأرغم الكون على أن يسير سيرته।

মাদায়েন অভিমুখে অগ্রযাত্রায় দজলা নদী মুসলমানদের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেটি ছিল প্রবল বন্যার বছর, দজলা তখন ফেনিল জলরাশি নিক্ষেপ করছিল। সাদ লোকজনকে সমবেত করলেন, আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন এবং বললেন: "জেনে রাখো, আমি তাদের কাছে পৌঁছাতে এই সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প করেছি।" তারা সকলে বলল: "আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে সঠিক পথের ওপর সংকল্পবদ্ধ রাখুন, আপনি অগ্রসর হোন।" অতঃপর তিনি লোকজনকে পার হওয়ার আহ্বান জানালেন এবং তাদের ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুমতি দিলেন। তিনি বললেন: "তোমরা বলো: আমরা আল্লাহর সাহায্য চাই এবং তাঁর ওপরই ভরসা করি, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আল্লাহর শপথ, আল্লাহ নিশ্চয়ই তাঁর প্রিয়ভাজনকে সাহায্য করবেন, তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করবেন এবং তাঁর শত্রুকে পরাজিত করবেন; সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তি নেই।" অতঃপর মানুষজন একের পর এক দজলায় নেমে পড়ল, তারা একে অপরের সাথে এমনভাবে কথা বলছিল যেন তারা স্থলভাগে কথা বলছে। তারা দজলার বুক এমনভাবে ছেয়ে ফেলল যে তীরের কিছুই আর দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল না (১)।

তারিক আন্দালুসে অবতরণ করলেন, তখন সমুদ্র ছিল তার পেছনে আর শত্রু ছিল তার সম্মুখে। ভবিষ্যৎ ছিল ভয়াবহ, পথ ছিল অন্ধকারময়, ভূমি ছিল শিকারির ফাঁদসদৃশ, সৈন্য সংখ্যা ছিল যৎসামান্য এবং সাহায্য ছিল সুদূরপরাহত। এমতাবস্থায় তিনি জড়বাদের বিভীষিকাময় প্রেতাত্মাকে উপহাস করলেন, জাগতিক যুক্তিকে অগ্রাহ্য করলেন এবং যে জাহাজগুলো তাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেত সেগুলো পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন (২)। তিনি বিজয়ের দৃঢ় সংকল্প করলেন এবং সাফল্যের ব্যাপারে সুনিশ্চিত হলেন। অতঃপর তিনি শত্রুকে পরাজিত করলেন এবং মুসলমানদের জন্য ‘আল-জাজিরা আল-খাদরা’ জয় করলেন।

উকবা ইবনে নাফি আফ্রিকায় (ইফ্রিকিয়া) এমন একটি শহর গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যেখানে মুসলিম সেনাবাহিনী, তাদের পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ নিরাপদে অবস্থান করতে পারে, যাতে তারা বিদ্রোহ থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারে...

--------------------------------------------

(১) ইবনুল আসিরের আল-কামিল (৩য় খণ্ড, ১৯৮ পৃষ্ঠা)।

(২) নাফহুত তিব (১ম খণ্ড, ১৩১ পৃষ্ঠা)।
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
تكون من أهل البلاد، فقصد موضع القيروان، وكانت وحلة مشتبكة، بها من أنواع الحيوان من السباع والحيات وغير ذلك، فدعا الله وكان مستجاب الدعوة ثم نادى: أيتها الحيات والسباع، إنّا أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ارحلوا عنا، فإنا نازلون، ومن وجدناه بعد ذلك قتلناه، فنظر الناس ذلك اليوم الى الدواب تحمل أولادها، وتنتقل فرآه قبيل كثير من البربر فأسلموا (1).

خرج محمد بن القاسم - وهو ابن سبع عشرة سنة - لغزو الهند، ومعه حفنة من الناس، والبحار حائلة، وبلاد العدو واسعة الأطراف وعرة المسالك لم يجربها العرب، فهزئ بالمعوقين والمرهبين، وغلب الإيمان القوة وغلب الروح المادة، وإذا بالهند - من السند الى الملتان - خاضعة للمسلمين.

إن العالم كله مدينة الأوهام، والمؤمن وحده هو صاحب يقين لا يزول، وعقيدة لا تتحول، وهو في يقينه في عالم الأوهام، كمصباح الراهب في الغابة المظلمة، ومنارة النور في بحر الظلمات، والجزيرة التي يأوي إليها اليائسون، والطود الذي لا تزحزحه السيول، ولا تزلزله العواصف وقد يتمسك بيقينه، ولا يوافقه على ذلك أحد، ولا يصدقه أحد، فلا تخور عزيمته، ولا تلين عريكته، ولا يرتاب ولا يتلدد، والناس بين معارض ومنتقد، ومطيع كاره، أو مخالف معتزل،

--------------------------------------------

(1) الكامل لابن الاثير (ج 3 ص 334).
তিনি যখন এই ভূখণ্ডের অধিবাসী হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন কায়রাওয়ানের স্থানের দিকে মনোনিবেশ করলেন। স্থানটি ছিল ঝোপঝাড় ও কাদা-জঙ্গলে পূর্ণ, যেখানে হিংস্র প্রাণী ও সর্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির জীবজন্তু ছিল। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন—আর তিনি ছিলেন দোয়া কবুল হওয়া (مستجاب الدعوة) ব্যক্তি। এরপর তিনি আহ্বান করে বললেন: ‘হে সর্প ও হিংস্র প্রাণীকুল! আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী (أصحاب), তোমরা আমাদের থেকে চলে যাও, কেননা আমরা এখানে বসতি স্থাপন করছি। এরপর যাকে আমরা পাব তাকে আমরা হত্যা করব।’ সেদিন মানুষ দেখল যে, পশুগুলো তাদের বাচ্চাদের বহন করে অন্যত্রে চলে যাচ্ছে। অনেক বারবার গোত্র এটি প্রত্যক্ষ করে ইসলাম গ্রহণ করল (১)।

মুহাম্মদ বিন কাসিম মাত্র সতেরো বছর বয়সে ভারত অভিযানের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তাঁর সাথে ছিল একদল মানুষ। সমুদ্র ছিল অন্তরায় এবং শত্রুর ভূখণ্ড ছিল দিগন্তবিস্তৃত ও দুর্গম পথবিশিষ্ট, যা আরবদের পূর্ব-অভিজ্ঞতায় ছিল না। তিনি বাধা প্রদানকারী ও ভীতি প্রদর্শনকারীদের উপহাস করলেন। ফলে ঈমান শক্তির ওপর এবং রূহ জড়বাদের ওপর বিজয় লাভ করল। দেখতে দেখতে সিন্ধু থেকে মুলতান পর্যন্ত সমগ্র ভারত মুসলমানদের পদানত হলো।

নিশ্চয়ই সমগ্র পৃথিবী হলো এক বিভ্রমের নগরী। একমাত্র মুমিনই হলো এমন অটল বিশ্বাসের অধিকারী যা কখনো বিলীন হয় না এবং এমন এক আকিদার অধিকারী যা পরিবর্তিত হয় না। বিভ্রমের এই জগতে মুমিনের দৃঢ় বিশ্বাস হলো অন্ধকার অরণ্যে সন্ন্যাসীর প্রদীপের মতো, অন্ধকার সমুদ্রে আলোকবর্তিকার মতো, এবং সেই দ্বীপের মতো যেখানে হতাশ ব্যক্তিরা আশ্রয় গ্রহণ করে। এটি এমন এক বিশাল পাহাড় যা প্লাবনে বিচলিত হয় না এবং ঝড়ে প্রকম্পিত হয় না। সে তার অটল বিশ্বাসের ওপর অবিচল থাকে, যদিও তার সাথে কেউ একমত না হয় কিংবা কেউ তাকে সত্য বলে স্বীকার না করে। তবুও তার সংকল্প দমে যায় না, তার স্বভাবজাত দৃঢ়তা শিথিল হয় না এবং সে সংশয়গ্রস্ত বা দ্বিধাগ্রস্ত হয় না; অথচ মানুষ তখন তার বিরোধী ও সমালোচক, অথবা অনিচ্ছুক অনুগত কিংবা বিচ্ছিন্ন বিরোধী।

--------------------------------------------

(১) আল-কামিল লি ইবনিল আসির (৩য় খণ্ড, ৩৩৪ পৃষ্ঠা)।
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وهو لا يحفل بذلك، ويمضي كالسيف، حتى يهزم يقينه ألف جند من الشك، وينقشع سحاب الأوهام، ويظهر يقينه مثل فلق الصبح.

استعمل النبي صلى الله عليه وسلم أسامة بن زيد على جيش وأمره بالتوجه إلى الشام، وتوفي النبي صلى الله عليه وسلم ولم يسر الجيش، وارتدت العرب اما عامة أو خاصة من كل قبيلة، وظهر النفاق واشرأبت يهود والنصرانية، وبقي المسلمون كالغنم في الليلة المطيرة، لفقد نبيهم وقلتهم وكثرة عدوهم، فقال الناس لأبي بكر: ان هؤلاء - يعنون جيش أسامة - جند المسلمين، والعرب على ما ترى فقد انتقضت بك، فلا ينبغي أن تفرق جماعة المسلمين عنك، فقال أبو بكر: "والذي نفسي بيده، لو ظننت أن السباع تختطفني، لانفذت جيش أسامة، كما أمر النبي صلى الله عليه وسلم" فخاطب الناس وأمرهم بالتجهز للغزو، وأن يخرج كل من هو من جيش أسامة إلى معسكره بالجرف، فخرجوا كما أمرهم، وحبس أبو بكر من بقي من تلك القبائل التي كانت لهم الهجرة في ديارهم، فصاروا مسالح حول قبائلهم وهم قليل، فلما خرج الجيش الى معسكرهم بالجرف وتكاملوا، أرسل أسامة عمر بن الخطاب وكان معه في جيشه الى أبي بكر، يستأذنه أن يرجع بالناس، وقال: إن معي وجوه الناس وجلدتهم، ولا آمن على خليفة رسول الله وحرم رسول الله
তিনি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করেন না এবং তলোয়ারের মতো অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যান, যতক্ষণ না তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস (يقين) সংশয়ের সহস্র বাহিনীকে পরাস্ত করে, ভ্রান্তির মেঘপুঞ্জ বিদূরিত হয় এবং তাঁর সুনিশ্চিত বিশ্বাস (يقين) প্রভাতী আলোকচ্ছটার মতো প্রকাশিত হয়।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উসামা ইবনে যায়িদকে একটি বাহিনীর সেনাপতি নিযুক্ত করেন এবং তাঁকে শাম অভিমুখে গমনের নির্দেশ দেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করেন, অথচ তখনো সেনাবাহিনী যাত্রা করেনি। এদিকে আরবরা ধর্মত্যাগী (مرتد) হতে শুরু করে—চাই তা ব্যাপকভাবে হোক কিংবা প্রতিটি গোত্র থেকে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি। মুনাফিকি (نفاق) প্রকাশ পায় এবং ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা ষড়যন্ত্রের মস্তক উত্তোলন করে। তাদের নবীর চিরবিদায়, সংখ্যাস্বল্পতা এবং শত্রুর আধিক্যের কারণে মুসলমানদের অবস্থা বৃষ্টির রাতে মেষপালের মতো হয়ে যায়। তখন লোকেরা আবু বকরকে বলল: “এরা—অর্থাৎ উসামার সেনাবাহিনী—হলো মুসলিম সৈন্যদল, আর আপনি তো দেখতেই পাচ্ছেন যে আরবরা আপনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (انتقاض) করেছে। সুতরাং মুসলমানদের এই জামাতকে আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা উচিত হবে না।” তখন আবু বকর বললেন: “সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি আমি মনে করতাম যে হিংস্র প্রাণীরা আমাকে ছিঁড়ে নিয়ে যাবে, তবুও আমি উসামার বাহিনীকে অবশ্যই পাঠাতাম, যেভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছিলেন।” এরপর তিনি মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং তাদের যুদ্ধের (غزو) জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিলেন। উসামার সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেককে ‘জুরুফ’-এ অবস্থিত তাদের সামরিক ছাউনিতে যাওয়ার আদেশ দিলেন। ফলে তাঁর আদেশ অনুযায়ী তারা বেরিয়ে পড়ল। আর আবু বকর হিজরতকারী (هجرة) গোত্রসমূহের যারা অবশিষ্ট ছিল তাদের নিজ নিজ এলাকায় আটকে রাখলেন। ফলে তারা নিজ নিজ গোত্রের চারপাশে প্রহরী (مسالح) হিসেবে নিয়োজিত হলো, যদিও তাদের সংখ্যা ছিল অতি নগণ্য। সেনাবাহিনী যখন জুরুফ-এর ছাউনিতে গিয়ে পূর্ণতা লাভ করল, তখন উসামা তাঁর বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত উমর ইবনুল খাত্তাবকে আবু বকরের নিকট পাঠালেন যেন তিনি মানুষকে নিয়ে ফিরে আসার অনুমতি (استئذان) চান। তিনি বললেন: “আমার সাথে গণ্যমান্য ও অগ্রগণ্য ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন; আমি আল্লাহর রাসূলের খলিফা (خليفة) এবং আল্লাহর রাসূলের পবিত্র পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তার ব্যাপারে আশঙ্কামুক্ত নই।”
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
والمسلمين أن يتخطفهم المشركون، وقال من مع أسامة من الأنصار لعمر بن الخطاب: إن أبا بكر خليفة رسول الله، ألا فامض فأبلغه عنا، واطلب اليه أن يولي أمرنا أقدم سنا من أسامة، فخرج عمر بأمر أسامة الى أبي بكر، فأخبره بما قال أسامة، فقال: لو خطفتني الكلاب والذئاب لانفذته كما أمر به رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا أرد قضاء قضى به رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولو لم يبق في القرى غيري لانفذته، قال عمر: فان الأنصار تطلب رجلا أقدم سنا من أسامة، فوثب أبو بكر - وكان جالسا - وأخذ بلحية عمر وقال: ثكلتك أمك يا ابن الخطاب، استعمله رسول الله صلى الله عليه وسلم وتأمرني أن أعزله؟!

وسار أسامة، وأوقع بناس من قبائل قضاعة التي ارتدت، وغنم وعاد، وكانت غيبته أربعين يوماً، وقيل سبعين، وكان انفاذ جيش أسامة أعظم الأمور نفعا للمسلمين، فان العرب قالوا: لو لم يكن بهم قوة لما أرسلوا هذا الجيش، فكفوا عن كثير مما كانوا يريدون أن يفعلوه (1). إن العالم سوق لا رحمة فيها ولا شفقة، ولا مسامحة فيها ولا

--------------------------------------------

(1) الكامل لابن الاثير (ج 3 ص 137 - 138).
...এবং মুশরিকরা যেন মুসলমানদের ওপর ঝাঁপিয়ে না পড়ে। উসামার সাথে থাকা আনসাররা উমর ইবনুল খাত্তাবকে বললেন: "আবু বকর আল্লাহর রাসূলের খলিফা; আপনি তার কাছে যান এবং আমাদের পক্ষ থেকে বার্তা পৌঁছে দিন এবং তাকে অনুরোধ করুন যেন তিনি আমাদের নেতৃত্বের দায়িত্বে উসামার চেয়ে বয়স্ক কাউকে নিয়োগ দেন।" অতঃপর উমর উসামার নির্দেশে আবু বকরের কাছে গেলেন এবং উসামা যা বলেছিলেন তা জানালেন। আবু বকর বললেন: "যদি কুকুর এবং নেকড়েরা আমাকে ছিঁড়েও ফেলে, তবুও আমি তা কার্যকর করব যেমনটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ফয়সালা (قضاء) দিয়েছেন তা আমি বাতিল করব না। যদি জনপদগুলোতে আমি ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট না থাকে, তবুও আমি তা কার্যকর করব।" উমর বললেন: "আনসাররা উসামার চেয়ে বয়স্ক কোনো ব্যক্তি চাচ্ছে।" তখন আবু বকর—যিনি বসা ছিলেন—লাফিয়ে উঠলেন এবং উমরের দাড়ি ধরে বললেন: "হে খাত্তাবের পুত্র! তোমার মা তোমাকে হারাক! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিযুক্ত করেছেন, আর তুমি আমাকে তাকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিচ্ছ?!"

অতঃপর উসামা যাত্রা করলেন এবং কুযাআ গোত্রের যারা ধর্মত্যাগী (مرتد) হয়েছিল তাদের ওপর আক্রমণ করলেন, গনীমত লাভ করলেন এবং ফিরে এলেন। তার এই অনুপস্থিতিকাল ছিল চল্লিশ দিন, মতান্তরে সত্তর দিন। উসামার বাহিনী প্রেরণ ছিল মুসলমানদের জন্য সর্বাধিক কল্যাণকর বিষয়। কারণ আরবরা বলাবলি করতে লাগল: "যদি তাদের শক্তি না থাকত, তবে তারা এই বাহিনী প্রেরণ করত না।" ফলে তারা যা করার সংকল্প করেছিল তার অনেক কিছু থেকেই বিরত রইল (১)। নিশ্চয়ই পৃথিবী এমন এক বাজার যেখানে কোনো দয়া বা করুণা নেই, নেই কোনো সহানুভূতি কিংবা...

--------------------------------------------

(১) ইবনুল আসিরের আল-কামিল (৩য় খণ্ড, পৃ. ১৩৭ - ১৩৮)।
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
كرم، والمؤمن وحده هو الذي يؤثر على نفسه، ولو كان به خصاصة، ويسامح مدينه وعدوه، ويتنازل عن ملك واسع وعرض قريب، طمعا في الأجر، ومحافظة على الكرم.

تغلب ملك كافر على دولة إسلامية في بلاد مالوه بالهند سنة ثلاث وعشرين وتسع مئة، وخرج محمود شاه الخلجي صاحب مالوه من بلاده هاربا عنه الى كجرات، فنهض السلطان مظفر الحليم - وكان الخلجي لا يزال على القلعة - وشرع في المحاصرة وجد في أسباب الفتح، ودخل القلعة عنوة، ووضع السيف فيهم، وكان آخر أمرهم أنهم دخلوا مساكنهم، وغلقوا الأبواب، وأشعلوها نارا واحترقوا وأهليهم، وبلغ عدد القتلى من الكفرة تسعة عشر الفا، سوى من أغلق بابه واحترق، وسوى أتباعهم، فلما وصل السلطان الى دار سلطنة الخلجي التفت اليه، وهنأه بالفتح، ودعا بالبركة في ملكه، وقال له: بسم الله ادخلوها بسلام آمنين، وعطف عنانه خارجا من القلعة الى القباب، وهيأ الخلجي الضيافة، ونزل الى مظفر شاه السلطان وسأله التشريف بالطلوع، فأجابه، فلما فرغ من الضيافة دخل به في الابنية التي هي من آثار أبيه وجده، فأعجب بها وترحم عليهم، ثم جلسا في جانب منه، وشكره الخلجي، وقال: الحمد لله الذي أراني بهمتك ما كنت أتمناه بأعدائي، ولم يبق لي الآن أرب
উদারতা; আর মুমিনই কেবল সেই ব্যক্তি যে অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও অন্যকে নিজের ওপর প্রাধান্য দেয়, এবং সে তার ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ও শত্রুকে ক্ষমা করে দেয়, আর সওয়াবের প্রত্যাশায় ও মহানুভবতা বজায় রাখতে বিশাল রাজত্ব ও নিকটবর্তী পার্থিব সম্পদ বিসর্জন দেয়।

৯২৩ হিজরি সনে ভারতের মালব অঞ্চলের একটি ইসলামী রাষ্ট্রের ওপর এক কাফের রাজা আধিপত্য বিস্তার করে। তখন মালবের অধিপতি মাহমুদ শাহ খিলজি তার রাজ্য থেকে পলায়ন করে গুজরাটে চলে যান। অতঃপর সুলতান মুজাফফর আল-হালিম অগ্রসর হন—তখন খিলজি দুর্গের দখল ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন—এবং তিনি দুর্গ অবরোধ শুরু করেন ও বিজয়ের উপকরণসমূহ সুসংহত করেন। তিনি শক্তি প্রয়োগে দুর্গে প্রবেশ করেন এবং শত্রুদের ওপর তরবারি চালনা করেন। তাদের চূড়ান্ত পরিণতি এই হয়েছিল যে, তারা নিজ নিজ বাসস্থানে প্রবেশ করে দ্বার রুদ্ধ করে দেয় এবং অগ্নিসংযোগ করে, ফলে তারা ও তাদের পরিবার-পরিজন দগ্ধ হয়। যারা দ্বার রুদ্ধ করে দগ্ধ হয়েছিল এবং তাদের অনুসারীগণ ব্যতিরেকে নিহত কাফেরদের সংখ্যা উনিশ হাজারে পৌঁছেছিল। সুলতান যখন খিলজির সালতানাত প্রাসাদে পৌঁছালেন, তখন তিনি তার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং বিজয় লাভে তাকে অভিনন্দন জানালেন ও তার রাজত্বে বরকতের দোয়া করলেন। তিনি তাকে বললেন: "আল্লাহর নামে আপনারা এতে পরম শান্তিতে ও নিরাপদে প্রবেশ করুন।" এরপর তিনি ঘোড়ার লাগাম ঘুরিয়ে দুর্গ থেকে বাইরে গম্বুজাকৃতি শিবিরের দিকে প্রস্থান করলেন। খিলজি আতিথেয়তার ব্যবস্থা করলেন এবং সুলতান মুজাফফর শাহের সমীপে উপস্থিত হয়ে তাকে প্রাসাদে পদার্পণ করে ধন্য করার অনুরোধ জানালেন। তিনি তার অনুরোধ রক্ষা করলেন। আতিথেয়তা পর্ব শেষ হলে তিনি তাকে নিয়ে সেই সকল প্রাসাদে প্রবেশ করলেন যেগুলো ছিল তার পিতা ও পিতামহের স্মৃতিচিহ্ন। সুলতান সেগুলো দেখে অভিভূত হলেন এবং তাদের জন্য রহমতের দোয়া করলেন। অতঃপর তারা এক পার্শ্বে উপবেশন করলেন এবং খিলজি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বললেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আপনার উচ্চসাহসিকতার মাধ্যমে আমাকে তা দেখিয়েছেন যা আমি আমার শত্রুদের ব্যাপারে আকাঙ্ক্ষা করতাম; এখন আমার আর কোনো জাগতিক কামনা অবশিষ্ট নেই।"
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
في شيء من الدنيا، والسلطان أولى بالملك مني، وما كان له فهو لي، فأسألك قبول ذلك، وللسلطان أن يقيم به من شاء، فالتفت السلطان اليه، وقال له: ان أول خطوة خطوتها الى الجهة كانت لله تعالى، والثانية كانت لنصرتك، وقد نلتها فالله يبارك لك فيه، ويعينك عليه، وسأله أركان دولته، أن يستأثر بدولة الخلجي، فالتفت الى محمود، وقال له: احفظ باب القلعة برجال لا يَدَعو أحدا يدخلها بعد نزولي، حتى من ينتسب إلي، وانصرف الى بلاده (1).

العالم بلاد لا يعيش فيها الا من يحمل في جنبه قلبا كأنما قُد من حجر، لا يعرف الحنان والرحمة، ولا يعرف معنى الحب والايثار، والمؤمن وحده هو الذي يحمل في جنبه قلبا يفيض حنانا ورحمة للبشر، ويجمع بين الرحمة والشدة، والصلابة والرقة، وشكيمة الاسد وحنان الام، تخلق بأخلاق الله فجمع بين الرأفة والعزة، والجمال والجلال، وتخلق بأخلاق الرسول صلى الله عليه وسلم فلا يغضب لنفسه، حتى اذا تُعدي الحق لم يقم لغضبه شيء، فبينما تراه في ساحة الجهاد كأنه نار في حطب، أو منجل في حقل، ليس له عاطفة ولا قلب، اذا به تراه في الصلاة تهمل عيناه، ويغلي صدره كالمرجل، وتراه يرق للضعيف، ويحنو على الأرملة واليتيم، قد جمع بين حلاوة العسل ومرارة الحنظل، الا أن الأولى له سجية وطبيعة، والثانية له وسيلة وذريعة، فهو ينشد بلسان الحال: واني لحلو تعتريني مرارة (2)، لا يدع السماحة والكرم

--------------------------------------------

(1) نزهة الخواطر للعلامة عبد الحي الحسني ج 4.

(2) شطر بيت لسيدنا حسان بن ثابت.
পার্থিব কোনো তুচ্ছ বিষয়ে নয়, আর সুলতান আমার চেয়ে রাজত্বের অধিক হকদার। যা তাঁর ছিল তা আমারই, তাই আমি আপনার কাছে এটি কবুল করার আবেদন করছি। সুলতান সেখানে যাকে ইচ্ছা নিযুক্ত করতে পারেন। তখন সুলতান তাঁর দিকে ফিরে বললেন: এই অভিযানের (الجهة) উদ্দেশ্যে আমি যে প্রথম কদমটি বাড়িয়েছিলাম তা ছিল মহান আল্লাহর জন্য, আর দ্বিতীয়টি ছিল আপনার সাহায্যের জন্য। আমি তা অর্জন করেছি, সুতরাং আল্লাহ আপনাকে এতে বরকত দান করুন এবং আপনাকে এ বিষয়ে সাহায্য করুন। তাঁর রাষ্ট্রের অমাত্যগণ তাঁকে খিলজি রাষ্ট্রটি নিজের অধিকারে রাখার জন্য অনুরোধ করলে তিনি মাহমুদের দিকে ফিরে বললেন: দুর্গের ফটক এমন সব লোক দিয়ে পাহারা দাও যেন আমার প্রস্থানের পর আমার বংশীয় লোক হলেও কেউ সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। এরপর তিনি নিজ দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন (১)।

পৃথিবী এমন এক দেশ যেখানে এমন ব্যক্তি ছাড়া কেউ টিকে থাকতে পারে না যার বক্ষপিঞ্জরে রয়েছে পাথর খোদাই করা হৃদয়ের মতো এক হৃদয়, যা মায়া-মমতা চেনে না এবং ভালোবাসা ও ত্যাগের অর্থ বোঝে না। কিন্তু একমাত্র মুমিনই সেই ব্যক্তি যার বক্ষপিঞ্জরে এমন এক হৃদয় রয়েছে যা মানুষের জন্য দয়া ও মায়ার সিক্ততায় পরিপূর্ণ। সে দয়া ও কঠোরতা, দৃঢ়তা ও কোমলতা এবং সিংহের তেজ ও মায়ের মমতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটায়। সে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হয়, ফলে দয়া ও মর্যাদা এবং সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্যের সমন্বয় সাধন করে। সে রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদর্শে উজ্জীবিত হয়, ফলে নিজের জন্য রাগান্বিত হয় না; কিন্তু যখন সত্য লঙ্ঘিত হয় তখন তার ক্রোধের সামনে কিছুই টিকে থাকে না। জিহাদের (جهاد) ময়দানে যখন আপনি তাকে দেখেন তখন তাকে শুষ্ক কাঠে আগুনের মতো অথবা ফসলের ক্ষেতে কাস্তের মতো মনে হয়, যেন তার কোনো আবেগ বা হৃদয় নেই। আবার যখন আপনি তাকে সালাতে দেখেন, তখন তার দুচোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে এবং তার বুক ডেকচির মতো টগবগ করে ফুটতে থাকে। আপনি দেখবেন সে দুর্বলের প্রতি কোমল এবং বিধবা ও এতিমের প্রতি দয়াবান। সে মধুর মিষ্টতা ও হুনজালের (حنظل) তিক্ততার সমন্বয় ঘটিয়েছে, তবে প্রথমটি তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য আর দ্বিতীয়টি তার একটি মাধ্যম ও কৌশল মাত্র। সে তার অবস্থার জবানিতে এই পঙক্তিটি আবৃত্তি করে: "আমি অত্যন্ত মিষ্টি হওয়া সত্ত্বেও মাঝেমধ্যে আমার মধ্যে তিক্ততা দেখা দেয়" (২), সে উদারতা ও দানশীলতা পরিত্যাগ করে না।

--------------------------------------------

(১) আল্লামা আব্দুল হাই আল-হাসানি রচিত নুজহাতুল খাওয়াতির, ৪র্থ খণ্ড।

(২) সাইয়্যিদুনা হাসসান বিন সাবিত (রা.)-এর কবিতার একটি চরণের অংশ।
(খণ্ড: ১) ইলাল ইসলাম মিন জাদীদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
حتى مع العدو، ولا يترك التمسك بالأخلاق العالية حتى في ساحة القتال.

هذا صلاح الدين الذي سار مثلا في شدته وجلادته، تستغيث به امرأة اختطف ولدها، فهي تبكي بكاء الثكلى، فيرق لها بطل حطين، ويطوف بها على القبائل والمنازل، حتى تعرف ابنها، وتضمه الى صدرها (1)، ويهدي الى قِرنِه، وأعدى عدوه في العالم "رتشارد" الثلج، والفواكه في مرضه (2).

الناس من خوف الموت في الموت، وأشد من الموت، يعدون هذه الحياة رأس مالهم ومنتهى آمالهم، فليس من الغريب أن يود أحدهم لو يعمر ألف سنة، حتى إذا جاءه الموت، خرج من الدنيا حزينا متلهفا على ما يفارقه، كارها مستبشعا لما يستقبله. أما المؤمن فهو دائم الحنين الى ربه، شديد الشوق الى جنته، لا يبالي أوقع عليه الموت أم على الموت وقع، يستقبل الموت باسم الثغر جذل القلب، فرحا مستبشرا كأنما هو خارج من السجن، أو عائد الى الوطن.

لما طعن جبار بن سلمى عامر بن فهيرة يوم بئر معونة، فأنفذه، قال عامر: "فزت ورب الكعبة" (3) ولما ضرب ابن ملجم علي بن أبي طالب، قال: "فزت ورب الكعبة" (4).

--------------------------------------------

(1) الفتح القسي في الفتح القدسي: لعماد الدين الكاتب.

(2) الفتح القسي في الفتح القدسي: لعماد الدين الكاتب.

(3) طبقات ابن سعد.

(4) كتاب المتفجعين لمحمود بن محمد بن الفضل.
এমনকি শত্রুর সাথেও, আর যুদ্ধের ময়দানেও তিনি উচ্চতর নৈতিকতা অবলম্বন ত্যাগ করেন না।

ইনি সেই সালাহুদ্দীন, যিনি তাঁর কঠোরতা ও বীরত্বে এক দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন। তাঁর কাছে এক নারী সাহায্য প্রার্থনা করে যার সন্তান অপহৃত হয়েছিল, সে সন্তানহারা মায়ের মতো রোদন করছিল। তখন হিত্তিনের বীরের হৃদয়ে তাঁর প্রতি দয়া জাগে এবং তিনি তাকে নিয়ে বিভিন্ন গোত্র ও বাসস্থানে ঘুরে বেড়ান যতক্ষণ না সে তার সন্তানকে চিনতে পারে এবং তাকে বুকে জড়িয়ে নেয় (১)। এমনকি তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এবং পৃথিবীর বুকে তাঁর ঘোর শত্রু "রিচার্ড"-এর অসুস্থতার সময় তাকে বরফ ও ফলমূল উপহার পাঠান (২)।

মানুষ মৃত্যুর ভয়ে সর্বদা মৃত্যুর মধ্যেই নিমজ্জিত থাকে, যা খোদ মৃত্যু অপেক্ষাও কঠিন। তারা এই পার্থিব জীবনকে তাদের মূলধন ও পরম লক্ষ্য মনে করে। ফলে তাদের কেউ যদি হাজার বছর বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা করে তবে তা আশ্চর্যজনক নয়। অবশেষে যখন তার কাছে মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন সে যা কিছু ছেড়ে যাচ্ছে তার জন্য বিষণ্ণ ও লোলুপ চিত্তে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় এবং যা তার সামনে আসছে তাকে ঘৃণা ও বিভীষিকা হিসেবে গণ্য করে। পক্ষান্তরে মুমিন সর্বদা তার রবের সান্নিধ্যের ব্যাকুলতায় বিভোর থাকে এবং তাঁর জান্নাতের তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। মৃত্যু তার ওপর আপতিত হলো না কি সে নিজেই মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হলো—তাতে সে ভ্রুক্ষেপ করে না। সে হাস্যোজ্জ্বল মুখে ও প্রফুল্ল হৃদয়ে মৃত্যুকে স্বাগত জানায়; আনন্দিত ও উৎফুল্ল মনে—যেন সে কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছে অথবা নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যাচ্ছে।

যখন বি'রে মাউনার দিনে জাব্বার ইবনে সালমা আমির ইবনে ফুহাইরাকে বর্শাবিদ্ধ করলেন এবং তা তাঁর শরীর ভেদ করে গেল, তখন আমির বললেন: "কাবার রবের কসম, আমি সফল হয়েছি" (৩)। আর যখন ইবনে মুলজাম আলী ইবনে আবি তালিবকে আঘাত করল, তখন তিনি বললেন: "কাবার রবের কসম, আমি সফল হয়েছি" (৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতহুল কুসসি ফিল ফাতহিল কুদসি: ইমাদুদ্দিন আল-কাতিব কর্তৃক।

(২) আল-ফাতহুল কুসসি ফিল ফাতহিল কুদসি: ইমাদুদ্দিন আল-কাতিব কর্তৃক।

(৩) তাবাকাতে ইবনে সাদ।

(৪) কিতাবুল মুতাফাজিইন: মাহমুদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফাযল কর্তৃক।