(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: -)
إنتاج المستشرقين وأثره في الفكر الإسلامي الحديث   (مالك بن نبي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: إنتاجُ المستشرقينْ وأثَره في الفِكر الإسلاميّ الحَدِيث

المؤلف: مالك بن الحاج عمر بن الخضر بن نبي (ت 1393هـ)

الناشر: دار الإرشاد للطباعة والنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1388هـ - 1969م

عدد الصفحات: 48

أعده للمكتبة الشاملة / أبو ياسر الجزائري.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 ذو الحجة 1432

প্রাচ্যবিদদের অবদান এবং আধুনিক ইসলামি চিন্তাধারায় এর প্রভাব   (মালিক বিন নবী)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


গ্রন্থ: প্রাচ্যবিদদের অবদান এবং আধুনিক ইসলামি চিন্তাধারায় এর প্রভাব

লেখক: মালিক বিন আল-হাজ ওমর বিন আল-খিজির বিন নবী (মৃত্যু ১৩৯৩ হি.)

প্রকাশক: দার আল-ইরশাদ লিত-তিবাআ ওয়ান-নাশর ওয়াত-তাওজি

সংস্করণ: প্রথম، ১৩৮৮ হি. - ১৯৬৯ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮

আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / আবু ইয়াসির আল-জাযায়েরি.

[গ্রন্থটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ যুল হিজ্জাহ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ১)
مفاهيم إسلامية

 

إنتاجُ المستشرقينْ

وأثَره في الفِكر الإسلاميّ الحَدِيث

مالك بن نبي

 

دار الإرشاد للطباعة والنشر والتوزيع
ইসলামি ধারণাসমূহ

 

প্রাচ্যবিদদের বুদ্ধিবৃত্তিক উৎপাদন

এবং আধুনিক ইসলামি চিন্তাধারায় এর প্রভাব

মালিক বিন নবী

 

দার আল-ইরশাদ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ২)
إنتاج المستشرقين
প্রাচ্যবিদদের বুদ্ধিবৃত্তিক রচনাবলি
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩)
حقوق الطبع محفوظة

الطبعة الأولى 1388هـ - 1969م
স্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ ১৩৮৮ হিজরি - ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ৪)
مفاهيم إسلاميّة

 

إنتاجُ المستشرقينْ

وأثَره في الفِكر الإسلاميّ الحَدِيث

مالك بن نبي

 

دار الإرشاد للطباعة والنشر والتوزيع

-بيروت-
ইসলামি ধারণাসমূহ

 

প্রাচ্যবিদদের জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদান

এবং আধুনিক ইসলামি চিন্তাধারায় এর প্রভাব

মালেক বিন নবী

 

দার আল-ইরশাদ প্রকাশনী ও মুদ্রণালয়

-বৈরুত-
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

يجب أولاً أن نحدد المصطلح: إننا نعني بالمستشرقين الكتاب الغربيين الذين يكتبون عن الفكر الإسلامي وعن الحضارة الاسلامية.

 

ثم علينا أن‌‌ نصنف أسماءهم في شبه ما يسمى ((طبقات)) على صنفين:

أ- من حيث الزمن: طبقة القدماء مثل جربر دوريياك والقديس توماس الاكويني وطبقة المحدثين مثل كاره دوقو وجولدتسهير.

ب- من حيث الاتجاه العام نحو الإسلام والمسلمين لكتابتهم: فهناك طبقة المادحين للحضارة الاسلامية وطبقة المنتقدين لها المشوهين لسمعتها.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

প্রথমে আমাদের পারিভাষিক শব্দটি সুনির্দিষ্ট করা আবশ্যক: প্রাচ্যবিদ বলতে আমরা সেই সকল পশ্চিমা লেখককে বুঝিয়ে থাকি যারা ইসলামী চিন্তাধারা ও ইসলামী সভ্যতা সম্পর্কে লিখে থাকেন।

 

অতঃপর আমাদের উচিত তাদের নামসমূহকে অনেকটা তথাকথিত‌‌ 'স্তর' (طبقات) এর ন্যায় দুই শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা:

ক- সময়ের নিরিখে: প্রাচীনদের স্তর (طبقة القدماء) যেমন জারবার্ট ডি অরিয়াক ও সেন্ট থমাস অ্যাকুইনাস এবং আধুনিকদের স্তর (طبقة المحدثين) যেমন কারা ডি ভক্স ও গোল্ডজিহার।

খ- ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি তাদের লেখনীর সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গির নিরিখে: এক্ষেত্রে একদল রয়েছেন যারা ইসলামী সভ্যতার প্রশংসাকারী এবং অপর দল হলো এর সমালোচনাকারী যারা এর ভাবমূর্তিকে বিকৃতকারী।
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬)
هكذا وعلى الترتيب يجب أن تقوم كل دراسة شاملة لموضوع الاستشراق، إلا أننا، من الوجهة الاجتماعية الخاصة التي تهمنا في هذا البحث وفي النطاق الضيق المحدد لهذه السطور، نختار عن قصد فصلاً خاصاً، اختياراً تبرره مبررات إلغائنا للفصول الأخرى.

إنه لمن الواضح أن المستشرقين القدماء أثروا وربما لا يزالون يؤثرون على مجرى الأفكار في العالم الغربي دون أيما تأثير على أفكارنا، نحن معشر المسلمين، ان ما كتبوا كان قطعاً المحور الذي تحركت حوله الأفكار التي نشأت عنها حركة النهضة في أوروبا، بينما لا نرى لهم أي أثر فيما نسميه النهضة الإسلامية اليوم. فلنترك إذاً قضيتهم جانباً لمن تهمه دراسة التاريخ العام كما نترك أيضاً قضية المنتقدين على الحضارة الإسلامية المحدثين حتى ولو كان لهم بعض الأثر في تحريك أقلامنا أو كان لهم بعض الصيت في زمنهم وبلادهم مثلاً الأب لامانس، انهم لا يدخلون في موضوع بحثنا لأن انتاجهم، على فرض انه مس ثقافتنا الى حد ما، إلا أنه لم يحرك ولم يوجه بصورة شاملة مجموعة أفكارنا، لما كان في نفوسنا من استعداد لمواجهة أثره تلقائيا، مواجهة تدخلت فيها عوامل الدفاع الفطرية عن الكيان الثقافي، كما وقع ذلك في العهد الذي نشر فيه طه حسين كتابه في الشعر ((الجاهلي)) على غرار
এভাবেই এবং ক্রমানুসারে প্রাচ্যতত্ত্ব বিষয়ের প্রতিটি ব্যাপক অধ্যয়ন সম্পন্ন হওয়া উচিত; তবে আমরা এই গবেষণায় আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এবং এই চরণের জন্য নির্ধারিত সংকীর্ণ পরিসরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি বিশেষ অধ্যায় বেছে নিচ্ছি, যা অন্যান্য অধ্যায় বর্জন করার যুক্তি দ্বারা সমর্থিত।

এটা স্পষ্ট যে, প্রাচীন প্রাচ্যতাত্ত্বিকগণ পশ্চিমা বিশ্বের চিন্তাধারার গতিপথের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন এবং সম্ভবত এখনও করছেন, অথচ মুসলিম হিসেবে আমাদের চিন্তাধারার ওপর তাদের কোনো প্রভাব নেই। তারা যা লিখেছিলেন তা নিশ্চিতভাবেই সেই কেন্দ্রবিন্দু ছিল যার চারপাশে ইউরোপের রেনেসাঁ আন্দোলনের জন্মদাত্রী চিন্তাসমূহ আবর্তিত হয়েছিল; পক্ষান্তরে আজ আমরা যাকে ইসলামি রেনেসাঁ বলছি, তাতে তাদের কোনো প্রভাব লক্ষ্য করি না। সুতরাং, যারা সাধারণ ইতিহাস অধ্যয়নে আগ্রহী তাদের জন্য আমরা তাদের বিষয়টি একপাশে সরিয়ে রাখি। ঠিক তেমনিভাবে ইসলামি সভ্যতার আধুনিক সমালোচকদের প্রসঙ্গটিও বাদ দিই, যদিও আমাদের লেখনিকে সচল করার ক্ষেত্রে তাদের কিছুটা প্রভাব ছিল অথবা তাদের নিজ দেশ ও সময়ে তারা কিছুটা প্রসিদ্ধ ছিলেন—যেমন ফাদার ল্যামেন্স। তারা আমাদের আলোচনার বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নন, কারণ তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ—যদি ধরেও নেওয়া হয় যে তা আমাদের সংস্কৃতিকে কিছুটা স্পর্শ করেছে—তবুও তা সামগ্রিকভাবে আমাদের চিন্তাসমষ্টিকে আন্দোলিত বা পরিচালিত করতে পারেনি। এর কারণ হলো তাদের প্রভাবের মোকাবিলা করার জন্য আমাদের অন্তরে এক প্রকার স্বয়ংক্রিয় প্রস্তুতি বিদ্যমান ছিল; এমন এক মোকাবিলা যেখানে সাংস্কৃতিক সত্তার সুরক্ষায় সহজাত প্রতিরক্ষা উপাদানসমূহ সক্রিয় হয়েছিল। যেমনটি ঘটেছিল সেই যুগে যখন ত্বহা হুসাইন তার ‘জাহেলি’ কবিতার ওপর বইটি [অন্য কোনো কিছুর] আদলে প্রকাশ করেছিলেন...
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭)
مما تقتضيه مسلمة قدمها المستشرق مرجليوث قبل سنة من صدور كتاب طه حسين الذي اثار تلك الزوبعة من السخط التي تخللتها الصواعق المنطلقة من قلم مصطفى صادق الرافعي رحمه الله وأكرم مثواه.

ولكننا على عكس ذلك نحد للمستشرقين المادحين الأثر الملموس الذي يمكننا تصوره بقدر ما ندرك انه لم يجد في نفوسنا أي استعداد لرد الفعل حيث لم يكن هناك، في بادىء الأمر، مبرر للدفاع الذي فقد جدواه وكأنما أصبح جهازه معطلاً لهذا السبب في نفوسنا.

 

وموضوعنا هنا، هو أن نبين ما كان لهذه الثغرة في جهازنا للدفاع عن الكيان الثقافي، من‌‌ أثر في تطور أفكار المجتمع الاسلامي منذ قرن، وأثناء هذا القرن العشرين على وجه الخصوص.

ولا شك أن المستشرقين المادحين مثل رينو الذي ترجم جغرافية أبي الفداء في أواسط القرن الماضي ومثل دوزي الذي بعث قلمه قرون الأنوار العربية في إسبانيا ومثل سيدييو الذي جاهد جهاد الأبطال طول حياته من أجل أن يحقق للفلكي والمهندس العربي ألبي الوفاء لقب المكتشف لما يسمى في علم الهيأة ((القاعدة الثانية لحركة القمر)) ومثل آسين
এটি প্রাচ্যবিদ মারগোলিউথ কর্তৃক উপস্থাপিত একটি স্বতঃসিদ্ধের (مسلمة) দাবি ছিল, যা তাহা হোসেনের সেই বিতর্কিত বইটি প্রকাশের এক বছর আগে পেশ করা হয়েছিল। সেই বইটি এক প্রচণ্ড অসন্তোষের ঝড় তুলেছিল, যাতে মোস্তফা সাদিক আল-রাফেয়ি (রহ.)-এর কলম থেকে বিচ্ছুরিত বজ্রসম আক্রমণসমূহ প্রবহমান ছিল।

তবে এর বিপরীতে, আমরা প্রশংসাকারী প্রাচ্যবিদদের ক্ষেত্রে একটি বাস্তব প্রভাব লক্ষ্য করি যা আমরা ঠিক ততটাই কল্পনা করতে পারি যতটা আমরা উপলব্ধি করি যে, আমাদের অন্তরে এর কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি ছিল না। কারণ প্রাথমিকভাবে সেখানে প্রতিরক্ষার কোনো যুক্তি ছিল না, যা তার উপযোগিতা হারিয়ে ফেলেছিল; যেন আমাদের অন্তরে এই কারণেই সেই রক্ষণাত্মক ব্যবস্থাটি অকেজো হয়ে পড়েছিল।

 

আমাদের বর্তমান আলোচনার বিষয় হলো, সাংস্কৃতিক সত্তার প্রতিরক্ষায় আমাদের এই ব্যবস্থার ছিদ্রপথ বা দুর্বলতাটির প্রভাব নিরূপণ করা, যা গত এক শতাব্দী ধরে এবং বিশেষ করে এই বিংশ শতাব্দীতে মুসলিম সমাজের চিন্তা-চেতনার বিবর্তনের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সেই প্রশংসাকারী প্রাচ্যবিদদের মধ্যে রয়েছেন রিনো, যিনি গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে আবুল ফিদার ভূগোল অনুবাদ করেছিলেন; রয়েছেন দোজি, যাঁর কলম স্পেনে আরবীয় আলোকোজ্জ্বল যুগকে পুনর্জীবিত করেছিল; এবং রয়েছেন সেডিলট, যিনি তাঁর সারা জীবন বীরোচিত সংগ্রাম চালিয়েছেন যাতে আরব জ্যোতির্বিদ ও প্রকৌশলী আবুল ওয়াফার জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান (علم الهيئة) শাস্ত্রে যাকে 'চাঁদের গতির দ্বিতীয় সূত্র' বলা হয়, তার আবিষ্কারক হিসেবে খেতাবটি সুনিশ্চিত করা যায়; এবং রয়েছেন আসিন...
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ৮)
بلاثيوس الذي كشف عن المصادر العربية لكوميدية الإلهية، لا شك أن هؤلاء العلماء كتبوا لنصرة الحقيقة العلمية، وللتاريخ، وكل ذلك من أجل مجتمعهم الغربي.

ولكننا نجد أن أفكارهم كان لها وقع أكبر في المجتمع الإسلامي، في طبقاته المثقفة.

إن الجيل المسلم الذي أنتسب اليه يدين الى هؤلاء المستشرقين الغربيين بالوسيلة التي كانت بين يديه لمواجهة مركب النقص الذي اعترى الضمير الإسلامي أمام ظاهرة الحضارة الغربية.

ولكننا إذا تصفحنا هذه القضية في ضوء خبرتنا الحديثة وفي ضوء تجاربنا القريبة نجد أن هذه الوسيلة لم تقتصر نتائجها على الأثر المحمود في تطور أفكارنا وثقافتنا، بل كان لها أثر مرضي هو الذي نريد طرحه كموضوع البحث في هذه السطور.

فلكي نتصور هذا الأثر على صورته الحقيقية في مجتمعنا الإسلامي، يجب أن نعيد هذا النوع من الاستشراق الى مصادره التاريخية.

إن أوروبا اكتشفت الفكر الإسلامي في مرحلتين من تاريخها فكانت في مرحلة القرون الوسطى، قبل وبعد طوماس الأكويني، تريد اكتشاف هذا الفكر
পালাসিওস, যিনি 'ডিভাইন কমেডি'র আরবি উৎসগুলো উন্মোচন করেছিলেন; এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই পণ্ডিতগণ বৈজ্ঞানিক সত্যের সমর্থনে এবং ইতিহাসের স্বার্থে লিখেছিলেন এবং এ সমস্তই ছিল তাঁদের পশ্চিমা সমাজের কল্যাণে।

তবে আমরা দেখতে পাই যে, তাঁদের চিন্তাধারা মুসলিম সমাজের শিক্ষিত শ্রেণির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।

আমি যে মুসলিম প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত, তারা পশ্চিমা সভ্যতার প্রভাবে ইসলামি মানসে যে হীনম্মন্যতাবোধ দানা বেঁধেছিল, তা মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে এই পশ্চিমা প্রাচ্যবিদদের নিকট সেই উপায়ের জন্য ঋণী যা তাদের হাতে ছিল।

তবে আমরা যদি আমাদের আধুনিক অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার আলোকে এই বিষয়টি পর্যালোচনা করি, তবে দেখতে পাব যে, এই উপায়ের ফলাফল কেবল আমাদের চিন্তা ও সংস্কৃতির বিকাশে প্রশংসনীয় প্রভাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এর একটি রুগ্ন প্রভাবও ছিল, যা আমরা এই গবেষণার বিষয়বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাই।

আমাদের মুসলিম সমাজে এই প্রভাবের প্রকৃত স্বরূপটি অনুধাবন করার জন্য আমাদের উচিত এই ধরনের প্রাচ্যতত্ত্বকে এর ঐতিহাসিক উৎসের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া।

ইউরোপ তার ইতিহাসের দুটি পর্যায়ে ইসলামি চিন্তাধারাকে আবিষ্কার করেছিল; মধ্যযুগে—টমাস অ্যাকুইনাসের আগে ও পরে—তারা এই চিন্তাধারাকে আবিষ্কার করতে চেয়েছিল
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ৯)
وترجمته من أجل اثراء ثقافتها بالطريقة التي أتاحت لها فعلا تلك الخطوات الموفقة التي هدتها الى حركة النهضة منذ أواخر القرن الخامس عشر.

وفي المرحلة العصرية والاستعمارية فإنها تكتشف الفكر الاسلامي مرة أخرى لا من أجل تعديل ثقافي بل من أجل تعديل سياسي، لوضع خططها السياسية مطابقة لما تقتضيه الأوضاع في البلاد الإسلامية من ناحية، ولتسيير هذه الأوضاع طبق ما تقتضيه هذه السياسات في البلاد الإسلامية لتسيطر على الشعوب الخاضعة فيها لسلطانها وربما انطبقت هذه المجهودات العلمية، في نفس أصحاجها، على مجرد الإعتراف بفضل تلك الشعوب وبمساهمتها في تكوين الرصيد الحضاري الإنساني، ولا شك أن المستشرق سيدييو والعلامة غسطاف لوبون يتسمان في انتاجهما بميزة العلم الخالص والاجتهاد المخلص للحقيقة العلمية.

ولكن تجب هنا الملاحظة بأن هذا اللقاء الجديد وقع في ملابسات تاريخية لم يكن فيها العلم الاسلامي علماً حياً ينقل من أفواه الأساتذة مباشرة ومن كتبهم المعاصرة بل أصبح أشبه شيء بعلم الآثار يكتشفه الباحثون الأوروبيون بحكم الصدفة ويصدقون أولا يصدقون في نقله، ثم ينسبونه لأصحابه من العلماء
এবং তাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেই এর অনুবাদ করা হয়েছে এমন এক পদ্ধতিতে, যা প্রকৃতপক্ষে তাদের সেই সফল পদক্ষেপগুলোর সুযোগ করে দিয়েছিল, যা পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে তাদের রেনেসাঁ বা নবজাগরণ আন্দোলনের দিকে পরিচালিত করেছিল।

আধুনিক ও ঔপনিবেশিক যুগে তারা পুনরায় ইসলামী চিন্তাধারাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে। তবে এটি কোনো সাংস্কৃতিক সংস্কারের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কারের উদ্দেশ্যে; যাতে একদিকে মুসলিম দেশগুলোর পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তাদের রাজনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যায়, অন্যদিকে এই নীতিগুলো অনুযায়ী পরিস্থিতিকে এমনভাবে পরিচালিত করা যায় যাতে তাদের শাসনের অধীনে থাকা জাতিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হয়। সম্ভবত এই জ্ঞানগত প্রচেষ্টাগুলো তাদের রচয়িতাদের দৃষ্টিতে কেবল সেই জাতিগুলোর শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি এবং মানব সভ্যতার ভাণ্ডার গঠনে তাদের অবদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রাচ্যবিদ সেডিলট এবং বিজ্ঞ পণ্ডিত গুস্তাভ লে বন তাঁদের কাজের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ জ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক সত্যের প্রতি একনিষ্ঠ গবেষণার (اجتهاد) বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল।

তবে এখানে লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে, এই নতুন সংযোগটি এমন এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয়েছিল যখন ইসলামী জ্ঞান কোনো জীবন্ত জ্ঞান ছিল না যা সরাসরি শিক্ষকদের মুখ থেকে এবং তাঁদের সমসাময়িক গ্রন্থসমূহ থেকে বর্ণিত (نقل) হত। বরং এটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছিল যা ইউরোপীয় গবেষকরা আকস্মিকভাবে আবিষ্কার করেছিলেন এবং তারা এর বর্ণনায় (نقل) কখনও সত্যনিষ্ঠ ছিলেন আবার কখনও ছিলেন না। অতঃপর তারা তা এর প্রকৃত রচয়িতা আলেমদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করতেন।
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ১০)
المسلمين، أو ينسبونه لأنفسهم أو لأحد الأوروبيين، فهكذا كانت اكتشافات كبرى تنسب لغير أصحابها، مثل دورة الدم الصغرى للانجليزي وليام هرفي بينما كان صاحبها، الطبيب المسلم ابن النفيس يعيش قبله بأربعة قرون.

كما تجب الملاحظة أيضاً أن العالم الإسلامي أصبح في هذه الملابسات يعاني الصدمة التي أصابته بها الثقافة الغربية، ويعاني بسببها على وجه الخصوص أثرين: مواجهة مركب نقص محسوس من ناحية، ومحاولة التغلب عليه من ناحية أخرى حتى بالوسائل التافهة.

لقد أحدثت هذه الصدمة، عند قبيل من المثقفين المسلمين، شبه شلل في جهاز حصانتهم الثقافية، حتى أدى بهم مركب النقص الى أن ولوا مدبرين أمام الزحف الثقافي الغربي، وألقوا أسلحتهم في الميدان، كأنهم فلول جيش منهزم في اللحظة التي بدأ فيها الصراع الفكري يحتدم بين المجتمع الإسلامي والغرب، فأصبح هذا القبيل من المثقفين يبحث عن نجاته في التزي بالزي الغربي، وينتحل في أذواقه وسلوكه كل ما يتسم بالطابع الغربي حتى ولو كان هذا الطابع ليس إلاّ مظهراً لا شيء وراءه من القيم الحضارية الغربية الحقيقية.
মুসলমানদের, অথবা তারা তা নিজেদের প্রতি কিংবা কোনো ইউরোপীয়র প্রতি সম্পৃক্ত করে; এভাবেই বড় বড় আবিষ্কারগুলো সেগুলোর প্রকৃত অধিকারীদের পরিবর্তে অন্যদের নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে। যেমন রক্তের ক্ষুদ্র সংবহনতন্ত্রের আবিষ্কারকে ইংরেজ উইলিয়াম হার্ভির প্রতি সম্পৃক্ত করা হয়েছে, অথচ এর প্রকৃত উদ্ভাবক মুসলিম চিকিৎসক ইবনে আল-নাফিস তাঁর চার শতাব্দী পূর্বে জীবিত ছিলেন।

এটিও লক্ষ্য করা আবশ্যক যে, এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্ব পাশ্চাত্য সংস্কৃতির মাধ্যমে সৃষ্ট এক প্রচণ্ড অভিঘাতের শিকার হয়েছে এবং এর ফলে তারা বিশেষভাবে দুটি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে: একদিকে একটি দৃশ্যমান হীনম্মন্যতাবোধের মোকাবিলা করা এবং অন্যদিকে অতি নগণ্য উপায়ে হলেও তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা।

এই অভিঘাত মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের একটি গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় এক প্রকার অসাড়তা তৈরি করেছে। এমনকি এই হীনম্মন্যতাবোধ তাদের এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, তারা পাশ্চাত্য সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের সামনে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছে এবং রণক্ষেত্রে নিজেদের অস্ত্র ত্যাগ করেছে; যেন তারা কোনো এক পরাজিত বাহিনীর ছিন্নভিন্ন অবশিষ্টাংশ—ঠিক সেই মুহূর্তে যখন মুসলিম সমাজ ও পাশ্চাত্যের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই তীব্রতর হতে শুরু করেছিল। ফলে এই শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীরা পাশ্চাত্য পোশাক-পরিচ্ছদ অনুকরণের মাঝে নিজেদের মুক্তি অন্বেষণ করতে শুরু করল এবং তাদের রুচি ও আচরণে এমন সব বিষয়কে গ্রহণ করতে লাগল যা পাশ্চাত্য ভাবধারার পরিচায়ক; যদিও সেই ভাবধারা বা বৈশিষ্ট্য কেবল এক বাহ্যিক আবরণ মাত্র, যার অন্তরালে পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রকৃত কোনো মূল্যবোধের অস্তিত্ব নেই।
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ১১)
وبدأت تظهر في الأفق الثقافي الإسلامي الفكرة الجديدة التي حركت، بعد حرب السباي (1858) بالهند، تأسيس جامعة عليكرة، وحركت، من جانب آخر وضد هذا المشروع، باعث النهضة الإسلامية السيد جمال الدين الأفغاني.

وهكذا أصبح الفكر الإسلامي على اثر الصدمة الثقافية التي اجتاحته وما تسبب عنها من موكب نقص. ينحاز الى معسكرين: أحدهما يدعو لتمثل الفنون والعلوم والأشياء الغربية- حتى اللباس- والآخر يحاول التغلب على مركب النقص بتناول حقنة اعتزاز يعلل بها النفس.

فالتيار الأول كان من الناحية العقلية، والسياسية والاجتماعية له أثره في لونين، اللون الذي يتمثل في تأسيس جامعة عليكرة، واللون الذي يتمثل في دعوة جمال الدين الافغاني مع تباين الأهداف وتشابه الوسائل التي كانت تفرض على العالم الإسلامي في كلتا الحالتين تطوراً يؤدي به الى ((الشيئية)) و ((التكديس)).

وأما التيار الثاني- وهو موضوع حديثنا لاتصاله بإنتاج المستشرقين- فإنه وجد منحدره الطبيعي في أدب الفخر والتمجيد الذي نشأ منذ القرن التاسع عشر على أثر ما نشره علماء مستشرقون، أمثال
এবং ইসলামি সাংস্কৃতিক দিগন্তে সেই নতুন ভাবধারার উদয় হতে শুরু করেছিল যা ভারতে সিপাহি বিপ্লবের (১৮৫৮) পর আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রেরণা জুগিয়েছিল এবং অন্য দিকে এই প্রকল্পের বিপরীতে ইসলামি জাগরণের অগ্রদূত সৈয়দ জামালুদ্দীন আফগানিকেও অনুপ্রাণিত করেছিল।

এভাবেই ইসলামি চিন্তাধারা তার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক অভিঘাত এবং তার ফলে সৃষ্ট হীনম্মন্যতার প্রভাবে দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে: একটি শিবির পশ্চিমা শিল্পকলা, বিজ্ঞান এবং বিষয়াদি—এমনকি পোশাক-পরিচ্ছদকেও—অনুকরণ করার আহ্বান জানায়; আর অন্যটি আত্মগৌরবের এক দাওয়াই গ্রহণের মাধ্যমে সেই হীনম্মন্যতাকে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে, যা দিয়ে সে নিজের মনকে সান্ত্বনা দেয়।

প্রথম ধারাটির বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব দুইভাবে পরিলক্ষিত হয়; একটি রূপ যা আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রতিফলিত হয়, আর অন্য রূপটি যা জামালুদ্দীন আফগানির আহ্বানে প্রকাশ পায়। যদিও তাদের লক্ষ্য ভিন্ন ছিল, কিন্তু উভয়ের মাধ্যম ছিল প্রায় একই, যা উভয় ক্ষেত্রেই মুসলিম বিশ্বের ওপর এমন এক বিবর্তন চাপিয়ে দিয়েছিল যা একে 'বস্তুসত্তা' এবং 'পুঞ্জীভূতকরণ'-এর দিকে ধাবিত করে।

আর দ্বিতীয় ধারাটি—যা প্রাচ্যবিদদের গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু—তা উনবিংশ শতাব্দী থেকে প্রাচ্যবিদ পণ্ডিতদের প্রকাশিত রচনার প্রভাবে গড়ে ওঠা গৌরবগাথা ও মহিমা কীর্তনের সাহিত্যে তার স্বাভাবিক গতিপথ খুঁজে পায়; যেমন...
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ১২)
دوزي، عن الحضارة الاسلامية.

ولا يمكننا، على أية حال، أن نجعل بإن التيارين فاصلاً قاطعاً، لأن الثاني منهما لا يكون مدرسة مستقلة عن الأول، بل نجده يخامر الفكر الاسلامي على العموم ويتخلل اتجاهه العام كفكر يبحث عن حقنة اعتزاز للتغلب على المهانة التي أصابته من الثقافة الغربية المنتصرة، كما يبحث المدمن عن حقنة المخدر التي يستطيع بها مؤقتاً اشباع حاجته المرضية.

وهذا لا يجعلنا ننفي لهذا التيار، ولنوع الأدب الذي نتج عنه كل أثر حسن في مصير المجتمع الاسلامي، لأنه كان له نصيب لا يزهد فيه في الحفاظ على شخصيته، والجيل الذي أنا منه يدين له بذلك النصيب على الأقل في المحافظة عالى شخصيته الاسلامية.

انني على سبيل المثال، قد أكتشفت وأنا بين الخامسة عشر والعشرين من العمر، أمجاد الحضارة الاسلامية في ترجمة دوسلان لمقدمة ابن خلدون وفيما كتب دوزي عنها وأحمد رضا بعد الحرب العالمية الأولى.

وانني على إدراك تام لما أدين به لهذه المطالعات وقد ذكرت ذلك في الجزء الأول من ((مذكرات شاهد القرن))، ولآن، وأنا قد تجاوزت الستين من العمر، أستطيع أكثر من ذي قبل تقدير هذا العلاج للفكر
ডৌজি, ইসলামি সভ্যতা প্রসঙ্গে।

আমরা কোনো অবস্থাতেই এই দুই ধারার মধ্যে একটি চূড়ান্ত বিচ্ছেদ রেখা টানতে পারি না; কারণ দ্বিতীয় ধারাটি প্রথমটি থেকে কোনো স্বতন্ত্র ঘরানা হিসেবে গড়ে ওঠেনি। বরং আমরা দেখতে পাই যে, এটি সাধারণভাবে ইসলামি চিন্তাধারার গভীরে প্রোথিত এবং এর সামগ্রিক অভিমুখের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে। এটি এমন এক চিন্তা যা বিজয়ী পাশ্চাত্য সংস্কৃতির দ্বারা আরোপিত হীনম্মন্যতা কাটিয়ে ওঠার জন্য আত্মমর্যাদার এক সঞ্জীবনী সুধা খুঁজে বেড়ায়, ঠিক যেমন একজন আসক্ত ব্যক্তি তার সাময়িক ব্যাধিগ্রস্ত চাহিদা মেটানোর জন্য মাদকের নেশা খুঁজে থাকে।

এটি আমাদের জন্য এই চিন্তা এবং এর থেকে উদ্ভূত সাহিত্যের সেই ইতিবাচক প্রভাবগুলোকে অস্বীকার করার পথ উন্মুক্ত করে না যা ইসলামি সমাজের ভাগ্যে জোরালো ভূমিকা রেখেছিল। কেননা, স্বকীয়তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এর এমন এক অনস্বীকার্য অবদান ছিল যা অবহেলার যোগ্য নয়। অন্তত আমি যে প্রজন্মের প্রতিনিধি, তারা নিজেদের ইসলামি পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখার ক্ষেত্রে এই ধারার কাছে ঋণী।

উদাহরণস্বরূপ, পনেরো থেকে বিশ বছর বয়সের মধ্যে আমি ইবনে খালদুনের মুকাদ্দিমার ডি স্লেন কৃত অনুবাদে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এ প্রসঙ্গে ডৌজি ও আহমদ রেযা যা লিখেছিলেন, তাতে ইসলামি সভ্যতার গৌরবদীপ্ত ইতিহাস খুঁজে পেয়েছিলাম।

এই অধ্যয়নগুলোর কাছে আমার ঋণের বিষয়ে আমি পূর্ণ অবগত এবং মুজাক্কিরাতু শাহিদিন আল-কারন-এর প্রথম খণ্ডে আমি তা উল্লেখ করেছি। আজ যখন আমার বয়স ষাট অতিক্রম করেছে, তখন আমি চিন্তাধারার এই উপশমের গুরুত্ব পূর্বের চেয়ে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারছি।
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৩)
وللضمير لا في النطاق الشخصي فحسب بل في النطاق الشامل للمجتمع الاسلامي طيلة أربعين سنة بعد تجربتي، فأرى أن أقرر هنا، مع الاختصار اللازم في هذا الغرض ان مساوئ طريقة هذا العلاج تظهر لي بالتالي أكثر من حسناتها وذلك لأسباب متعددة.

فالسبب الأول لأنه بديهي نلاحظه في الآثار النفسية لأسلوب التكوين، أي البيداغوجية، بالنحو الذي نشير اليه بمثل بسيط:

اننا عندما نتحدث إلى فقير، لا يجد ما يسد به الرمق اليوم، عن الثروة الطائلة التي كانت لآبائه وأجداده إنما نأتيه بنصيب من التسلية عن متاعبه بوسيلة مخدر يعزل فكره مؤقتاً وضميره عن الشعور بها: إننا قطعاً لا نشفيها.

فكذلك لا نشفي أمراض مجتمع بذكر أمجاد ماضيه، ولاشك أن أولئك الماهرين في فن القصص قد قصوا للأجيال المسلمة في عهد ما بعد الموحدين قصة ألف ليلة وليلة وتركوا يذلك اثر كل سمر، نشوة تخامر مستمعيهم حتى يناموا فتنغلق أجفانهم على صورة ساحرة لماض مترف.

ولكن سوف تستيقظ هذه الجماهير في الغد فتنفتح أبصارهم من جديد على مشهد الواقع القاسي
বিবেকের নিকট—কেবল ব্যক্তিগত গণ্ডিতেই নয়, বরং দীর্ঘ চল্লিশ বছরের অভিজ্ঞতালব্ধ মুসলিম সমাজের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটেও—আমি এখানে সংক্ষেপে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সমীচীন মনে করি যে, এই নিরাময় পদ্ধতির মন্দ দিকগুলো আমার নিকট এর ভালো দিকগুলোর তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যার পেছনে নানাবিধ কারণ রয়েছে।

প্রথম কারণটি অত্যন্ত স্বতঃসিদ্ধ, যা আমরা গঠনশৈলীর—অর্থাৎ শিক্ষাতত্ত্বের—মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবে লক্ষ্য করি। বিষয়টিকে আমরা একটি সহজ উদাহরণের মাধ্যমে নির্দেশ করতে পারি:

যখন আমরা এমন একজন অভাবী মানুষের সাথে কথা বলি, যার আজকের ক্ষুধা নিবারণের ন্যূনতম সংস্থান নেই, এবং তাকে তার পূর্বপুরুষদের অগাধ ধন-সম্পদের কিচ্ছা শোনাই, তখন মূলত আমরা তাকে তার যাতনার মাঝে কিছুটা বিনোদনের খোরাক জোগাই। এটি একটি নেশাজাতীয় উপাদানের ন্যায় কাজ করে যা সাময়িকভাবে তার চিন্তা ও বিবেককে বাস্তবতা অনুভব করা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে; কিন্তু নিশ্চিতভাবেই আমরা এর দ্বারা তার দুঃখ লাঘব করছি না।

একইভাবে, কেবল অতীতের গৌরবগাথা বর্ণনা করে আমরা কোনো সমাজের ব্যাধি নিরাময় করতে পারি না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কাহিনীর শিল্পকলায় পারদর্শী ব্যক্তিরা মুওয়াহহিদুন-পরবর্তী যুগের মুসলিম প্রজন্মের নিকট ‘আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা’র কিচ্ছা শুনিয়েছেন এবং প্রতিটি সান্ধ্যকালীন আড্ডার রেশ হিসেবে শ্রোতাদের মাঝে এমন এক মোহাবিষ্টতা রেখে গেছেন যা তাদের আচ্ছন্ন করে রাখত; যতক্ষণ না তারা ঘুমিয়ে পড়ত এবং অতীতের এক ঐশ্বর্যমণ্ডিত মায়াবী চিত্রের ঘোরে তাদের চোখের পাতা মুদে আসত।

কিন্তু পরদিন যখন এই জনতা জাগ্রত হবে, তখন তাদের দৃষ্টি পুনরায় রূঢ় বাস্তবতার দৃশ্যের সম্মুখীন হবে।
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৪)
الذي يحيط بها في وضعها الذي لا تغبط عليه اليوم.

فالأدب الذي ينشد ((عصور الأنوار)) للحضارة الاسلامة يؤدي أولاً هذين الدورين، انه أتاح في مرحلة معينة الجواب اللائق للتحدي الثقافي الغربي وحفظ هكذا مع عوامل أخرى على الشخصية الاسلامية، ولكنه من ناحية أخرى، صب في هذه الشخصية الاعجاب بالشيء الغريب ولم يطبعها بما يطابق عمر الفعالية والميكانيك.

وليست هذه الملاحظة مجرد شيء عابر نمر عليه في هذا العرض مر الكرام، بل يجب أن نقف عندها بكل اهتمام وتأمل، ولذا كانت أهميتها تلوح لنا من الجانب الاجتماعي من دون أي تردد، فانها تتخذ صورة أوضح اذا ما طرحناها على صعيد معركة الأفكار التي تجتاح العالم اليوم بصورة عامة والمجتمع الاسلامي بصورة خاصة.

وهنا تجب كلمة عن هذا المفهوم الذي نعنيه بـ ((الصراع الفكري)) في العالم الاسلامي، يجب أن نقرر مبدئياً هذه القاعدة العامة، الا وهي أنه عندما يطرح مسلم أو بعض المسلمين مشكلة ما تهم مجتمعهم، فان هذه المشكلة تكون قد طرحت أو ستطرح عاجلاً في أوساط المتخصصين في هذه الدراسات لحساب وتحت اشراف الاستعمار.
যা বর্তমান সময়ে একে এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বেষ্টন করে রেখেছে যার জন্য আজ ঈর্ষা করা যায় না।

সুতরাং ইসলামি সভ্যতার ‘আলোকিত যুগ’ অন্বেষণকারী সাহিত্য প্রথমত এই দুটি ভূমিকা পালন করে; এটি একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পাশ্চাত্য সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জের উপযুক্ত উত্তর প্রদানের সুযোগ করে দিয়েছে এবং এভাবে অন্যান্য অনুষঙ্গের সাথে ইসলামি ব্যক্তিসত্তাকে রক্ষা করেছে। কিন্তু অন্যদিকে, এটি এই ব্যক্তিসত্তার মাঝে বিজাতীয় বিষয়ের প্রতি মুগ্ধতা সঞ্চার করেছে এবং একে কর্মতৎপরতা ও যান্ত্রিক যুগের সাথে সংগতিপূর্ণ করে গড়ে তোলেনি।

এই পর্যবেক্ষণটি কেবল কোনো তুচ্ছ বিষয় নয় যা আমরা এই আলোচনায় উপেক্ষা করে যাব, বরং আমাদের অত্যন্ত গুরুত্ব ও গভীর অভিনিবেশের সাথে এখানে থামা উচিত। তাই এর গুরুত্ব সামাজিক দিক থেকে আমাদের সামনে দ্বিধাহীনভাবে ফুটে ওঠে; এটি আরও স্পষ্ট রূপ পরিগ্রহ করে যদি আমরা একে বিশ্বব্যাপী এবং বিশেষভাবে মুসলিম সমাজে বর্তমানে চলমান ‘চিন্তার লড়াইয়ের’ প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করি।

মুসলিম বিশ্বে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক দ্বন্দ্ব’ বলতে আমরা যা বোঝাচ্ছি, সে সম্পর্কে এখানে কিছু বলা প্রয়োজন। আমাদের প্রাথমিকভাবে এই সাধারণ মূলনীতি (القاعدة) নির্ধারণ করতে হবে যে, যখনই কোনো মুসলিম বা কয়েকজন মুসলিম তাদের সমাজ সংশ্লিষ্ট কোনো সমস্যা উত্থাপন করে, তখন সেই সমস্যাটি সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে এবং তাদের তত্ত্বাবধানে এই বিষয়ক গবেষণায় নিয়োজিত বিশেষজ্ঞদের মহলে ইতিমধ্যে উত্থাপিত হয়েছে অথবা অচিরেই হবে।
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৫)
وكلما يتقدم هذا المفكر المسلم أو هؤلاء المسلمون بحل لهذه المشكلة، يسرع من طرفهم أولئك الاخصائيون لدراسة هذا الحل، فان كان خاطئاً، زادوا في شحنة خطئه بطريقة أو أخرى، وان كان فيه بعض ما يفيد حاولوا كل جهدهم للتقليل من شأنه، وتخفيض قيمته حتى لا يفيد.

هذه هي القاعدة العامة في الصراع الفكري الذي نشير اليه. ويترتب على هذا، انه كلما لاحت في العالم الإسلامي أي بادرة ذات مغزى، ولو كانت لا تبصرها أعيننا، فان مجهر أولئك الاخصائيين يلتقطها على الفور، ليجري عليها كل طرق التحليل، واذا وجدوا فيها أي اتصال بحركة الأفكار في العالم الاسلامي، تجري عليها كل عمليات التشريح، وتمر بكل أصناف التقطير، حتى يبقى في محتواها الاجتماعي أقل ما يمكن من عوامل التيسير لصلاحيتها وأكثر ما يمكن من عوامل التعسير وانتفاء الصلاحية.

ومن الواضحأن من أكثر البوادر دلالة على اتجاه مجتمع ما، هو اتجاه افكاره: فاما ان تكون متجهة الى الامام، إلى المستقبل، أو إلى الخلف، اتجاهاً متقهقراً، اتجاهاً ملتفتاً إلى الماضي بصورة مرضية.

ومن دون ان نستمر إلى أبعد من هذا في تحليل هذه
যখনি এই মুসলিম চিন্তাবিদ বা এই মুসলিমগণ এই সমস্যার কোনো সমাধান উপস্থাপন করেন, তখনই তাদের পক্ষ থেকে সেই বিশেষজ্ঞরা এই সমাধানটি পর্যালোচনার জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন; যদি তা ত্রুটিপূর্ণ হয়, তবে তারা কোনো না কোনোভাবে সেই ত্রুটির মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেন। আর যদি তাতে কল্যাণকর কিছু থাকে, তবে তারা তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় সেটির গুরুত্ব খাটো করার এবং সেটির মূল্য কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন যাতে তা কার্যকর না হয়।

আমরা যে বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের প্রতি ইঙ্গিত করছি, এটিই তার সাধারণ নিয়ম। এর ফলশ্রুতিতে দেখা যায়, মুসলিম বিশ্বে যখনই কোনো তাৎপর্যপূর্ণ লক্ষণ দেখা দেয়—এমনকি তা যদি আমাদের সাধারণ দৃষ্টিতে ধরা নাও পড়ে—তখন সেই বিশেষজ্ঞদের অণুবীক্ষণ যন্ত্র তাৎক্ষণিকভাবে তা শনাক্ত করে ফেলে যাতে এর ওপর বিশ্লেষণের সব ধরণের পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়। আর যদি তারা এতে মুসলিম বিশ্বের চিন্তা-আন্দোলনের কোনো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়, তবে এর ওপর ব্যবচ্ছেদের যাবতীয় প্রক্রিয়া চালানো হয় এবং তা বিভিন্ন স্তরের শোধন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়, যতক্ষণ না এর সামাজিক আধেয়তে এর উপযোগিতার অনুকূল উপাদানগুলো সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায় এবং প্রতিকূল ও অকেজো উপাদানগুলো সর্বোচ্চ রূপ পরিগ্রহ করে।

এটি সুস্পষ্ট যে, কোনো সমাজের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণী লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো তার চিন্তাধারার গতিমুখ: হয় তা সম্মুখপানে ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হবে, নতুবা তা হবে পশ্চাদমুখী গতি—যা রুগ্নভাবে অতীতের দিকে নিবদ্ধ।

এর বিশ্লেষণে এর চেয়ে বেশি অগ্রসর না হয়ে...
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৬)
الاحكامات الدقيقة للصراع الفكري فلنلق هذه الاعتبارات على موضوعنا بالذات، نعني اثر هذا النوع من أدب المدح والتمجيد والاطراء على سير الأفكار، واتجاهها في المجتمع الاسلامي المعاصر، فنرى على الفور الجانب الآخر لهذا الأدب، عندما يصير بين يدي أولئك الأخصائيين وسيلة عمل حهنمي في تحريك رحا الصراع الفكري المحتدم في بلادنا.

اننا نرى اليوم مرأى العين هذا العمل الفتاك، ونرى أثره في كل تفاصيل حياتنا الفكرية والسياسية والاجتماعية، وفي البلاد العربية حيث تكونت تجربتي وخبرتي كمواطن وككاتب وكصحافي.

وليس كتاب كامل بكافي لسرد هذه التجربة. ولنذكر منها فقط، على سبيل المثال آخر تفصيل من تفاصيلها: انعقد أخيراً بباريس مؤتمر العمال الجزائريين بأوروبا وبهذه المناسبه تقرر من لدن المشرفين على المؤتمر توزيع كتيب لصاحب هذا العرض، تناول فيه مشكلة من مشاكلنا اليوم، بالخصوص في الجزائر، البلد الذي اتخذ من كلمة ((الديمقراطية)) شعاره الدستوري.

ولكن أصحاب الاختصاص في الصراع الفكري لم يهملوا هذه المناسبة من اهتمامهم، ولم يفتهم ما تقرر توزيعه بهذه المناسبة، ولكن كيف يسدون الذريعة،
বুদ্ধিবৃত্তিক সংঘাতের সূক্ষ্ম বিধানাবলি (إحكامات); আসুন আমরা এই বিচার্য বিষয়গুলো আমাদের সুনির্দিষ্ট আলোচ্য বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো সমকালীন ইসলামি সমাজে চিন্তার গতিধারা ও অভিমুখের ওপর এই ধরনের স্তুতি, মহিমা কীর্তন ও অতিশয়োভক্তিমূলক সাহিত্যের প্রভাব বিশ্লেষণ করা। তখন আমরা অবিলম্বে এই সাহিত্যের অন্য দিকটি দেখতে পাই, যখন এটি সেই বিশেষজ্ঞদের হাতে আমাদের দেশগুলোতে চলমান তীব্র বুদ্ধিবৃত্তিক সংঘাতের চাকাকে ঘোরানোর জন্য একটি নারকীয় কর্মপদ্ধতিতে পরিণত হয়।

আজ আমরা স্বচক্ষে এই বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড দেখতে পাচ্ছি এবং আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ে এর প্রভাব লক্ষ্য করছি; বিশেষ করে আরব দেশগুলোতে, যেখানে একজন নাগরিক, লেখক ও সাংবাদিক হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা অর্জিত হয়েছে।

এই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেওয়ার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থও যথেষ্ট নয়। উদাহরণস্বরূপ আমরা এর সর্বশেষ একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করতে পারি: সম্প্রতি প্যারিসে ইউরোপে অবস্থানরত আলজেরীয় শ্রমিকদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই উপলক্ষে সম্মেলনের আয়োজকগণ এই উপস্থাপকের লেখা একটি পুস্তিকা বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যেখানে আমাদের বর্তমান সময়ের একটি সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে; বিশেষ করে আলজেরিয়া প্রসঙ্গে, যে দেশটি ‘গণতন্ত্র’ শব্দটিকে তার সাংবিধানিক স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করেছে।

কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক সংঘাতের বিশেষজ্ঞরা এই সুযোগটির প্রতি মনোযোগ দিতে অবহেলা করেননি এবং এই উপলক্ষে যা বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি। তবে তারা কীভাবে পথ রুদ্ধ (سد الذريعة) করবেন?
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৭)
أعني كيف يسدون الطريق على الأفكار المعروضة في الكتيب الذي سيوزع أثناء المؤتمر، حتى لا يصل مدها إلى رؤوس المؤتمرين، أو على الأقل حتى يكون لها أقل مد ممكن؟

ولذا بنا نرى الدعوة توجه إلى تلك السيدة الألمانية المقربة التي وضعت أو وضع اسمها على ذلك الكتاب ذي العنوان الجذاب "شمس الله تشرق على الغرب " وفيه ما فيه من مدح وتمجيد الحضارة الاسلامية.

وتقدمت السيدة، وقدمت كتابها إلى المؤتمر، فانتقل على الفور بروحه من مجال المشكلات الحادة القائمة اليوم، إلى أبهة وأمجاد الماضي الخلاب! ولم يكن الصديق الذي كان يذكر لي هذه القصة يخطر على باله أي شيء من صلتها "بالصراع الفكري " وهو يقول: وفي الأخير قامت القاعة كلها لتحيي السيدة!

ولا شك أن القصة تكشف عن جانبين: الجانب الذي يبرز حساسية الجماهير المسلمة لأمجاد ماضيها، والجانب الذي يكشف عن امكان استغلال هذه الحساسية لالفات تلك الجماهير عن حاضرها.

وهذا الجانب هو الذي يهمنا لأنه يلتقي في الزمن مع أوج الموجة العارمة التي تكتسح اليوم العالم، من أمواج الصراع الفكري، ولأنها فعلاً موجهة في أوجها
আমি বলতে চাচ্ছি, সম্মেলনে বিতরণকৃত পুস্তিকায় উপস্থাপিত চিন্তাধারাগুলোর পথ তারা কীভাবে রুদ্ধ করে, যাতে সেগুলোর প্রভাব অংশগ্রহণকারীদের মস্তিস্ক পর্যন্ত না পৌঁছায়, অথবা অন্ততপক্ষে যাতে এর প্রভাব ন্যূনতম পর্যায়ে থাকে?

এ কারণেই আমরা দেখি যে, সেই ঘনিষ্ঠ জার্মান ভদ্রমহিলাকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে, যার নাম "পাশ্চাত্যে আল্লাহর সূর্য উদিত হচ্ছে" নামক আকর্ষণীয় শিরোনামের সেই বইটির সাথে জড়িয়ে আছে এবং যাতে ইসলামি সভ্যতার প্রশংসা ও মহিমা কীর্তন করা হয়েছে।

ভদ্রমহিলা এগিয়ে এলেন এবং সম্মেলনে তার বইটি পেশ করলেন; ফলে সভার পরিবেশ তাৎক্ষণিকভাবে বর্তমানের বিদ্যমান জটিল সমস্যাবলির ক্ষেত্র থেকে অতীতের মোহনীয় জাঁকজমক ও গৌরবের বলয়ে স্থানান্তরিত হলো! যে বন্ধুটি আমার কাছে এই ঘটনাটি বর্ণনা করছিলেন, তিনি যখন বলছিলেন যে—"পরিশেষে পুরো মিলনায়তন দাঁড়িয়ে সেই ভদ্রমহিলাকে অভিবাদন জানাল"—তখন "বুদ্ধিবৃত্তিক সংঘাতের" সাথে এর কোনো সম্পর্কের কথা তার কল্পনাতেও আসেনি!

নিঃসন্দেহে এই ঘটনাটি দুটি দিক উন্মোচন করে: একটি দিক যা মুসলিম জনসাধারণের তাদের অতীত গৌরবের প্রতি সংবেদনশীলতাকে ফুটিয়ে তোলে, আর অন্য দিকটি সেই সংবেদনশীলতাকে পুঁজি করে তাদের বর্তমান অবস্থা থেকে বিমুখ করার সম্ভাবনাকে প্রকাশ করে।

আর এই দিকটিই আমাদের নিকট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী চলমান বুদ্ধিবৃত্তিক সংঘাতের প্রবল জোয়ারের চরম শিখরের সাথে সময়ের পরিক্রমায় একীভূত হয় এবং যেহেতু এটি প্রকৃতপক্ষে তার পূর্ণ শক্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে।
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৮)
بالخصوص في البلاد الاسلامية،- حتى وان كانت لا تشعر بها أحياناً. إنما نرى كيف يتصرف أولي الاختصاص في الصراع الفكري، في ظرف خاص من ظروفه، عندما تعرض فكرة عمل وتأمل على الجماهير الاسلامية، كيف يستطيعون لفت الأبصار عنها بعرض أفكار أخرى في المناسبه ذاتها، أفكار جذابة، تدعو للأحلام السعيدة، أفكار مقتبسة من قصص ألف ليلة وليلة.

هذه هي القاعدة العامة التي يجب علينا أن نجعلها دوماً نصب أعيننا: اننا كلما طرحنا مشكلة وعرضنا لها حلاً من الحلول فان قادة الصراع الفكري يأتون على الفور بما يلفت عنه الأبصار أو ما يزيفه تزييفاً.

وما الحلول التي تعرض علينا في المجال السياسي، مثل البعثية، والبربرية، والافريقية والشيوعية- تلك الشيوعية التي يرعاها الاستعمار ويسهر على نباتها في مدفآته وما ذلك الأدب المطنب في المدح والتمجيد لماضينا الا وسائل الفات في المجال السياسي أو في المجال الفكري، حتى يلتفت العالم الاسلامي عن أم مشكلاته، الا وهي مشكلة حضارته، حتى يلفتوه عنها، ويربطوا اهتمامه يمشكلات وهمية، ويلهوه بحلول وهمية، يتجلى عبثها بصورة مفجعة في ظرف من الظروف الخطيرة غداة افلاس مصقع، وهزيمة شنيعة، وفضيحة مخجلة، مثل
বিশেষত মুসলিম দেশগুলোতে—এমনকি যদি তা কখনো কখনো অনুভূত না-ও হয়। আমরা দেখতে পাই যে, বৌদ্ধিক সংগ্রামের বিশেষজ্ঞগণ এর কোনো এক বিশেষ পরিস্থিতিতে কীভাবে আচরণ করেন; যখন মুসলিম জনসাধারণের কাছে কোনো কর্মপন্থা ও চিন্তার বিষয় উপস্থাপন করা হয়, তখন তারা কীভাবে একই সময়ে আকর্ষণীয় সব ধ্যান-ধারণা পেশ করার মাধ্যমে তাদের দৃষ্টি সরিয়ে দিতে সক্ষম হন, যা কেবল সুখস্বপ্নের হাতছানি দেয় এবং যা 'আরব্য রজনী'-র রূপকথা থেকে গৃহীত।

এটিই হলো সেই সাধারণ নীতি যা আমাদের সর্বদা চোখের সামনে রাখা উচিত: আমরা যখনই কোনো সমস্যা উত্থাপন করি এবং তার কোনো সমাধান পেশ করি, তখনই বৌদ্ধিক সংগ্রামের নেতৃবৃন্দ তৎক্ষণাৎ এমন কিছু নিয়ে আসে যা তার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দেয় অথবা বিষয়টিকে বিকৃত করে ফেলে।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের সামনে যেসব সমাধান পেশ করা হয়—যেমন বাথবাদ, বার্বারিজম, আফ্রিকানিজম এবং সাম্যবাদ—সেই সাম্যবাদ যাকে সাম্রাজ্যবাদ লালন করে এবং তার নিজস্ব উষ্ণ কক্ষে তার বিকাশে সজাগ দৃষ্টি রাখে—এবং আমাদের অতীত সম্পর্কে অতিশয়োক্তিপূর্ণ প্রশংসা ও মহিমা কীর্তনকারী সেই সাহিত্য—এসবই হলো রাজনৈতিক কিংবা বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে দৃষ্টি সরানোর মাধ্যম। উদ্দেশ্য হলো যাতে মুসলিম বিশ্ব তার মূল সমস্যা—যা মূলত তার সভ্যতার সমস্যা—তা থেকে বিমুখ থাকে, যাতে তারা তাকে তা থেকে সরিয়ে নিতে পারে এবং তার মনোযোগকে কাল্পনিক কোনো সমস্যার সাথে যুক্ত করতে পারে এবং তাকে অলীক সমাধানে লিপ্ত রাখতে পারে। যার অসারতা কোনো এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে চরম দেউলিয়াগ্রস্ততা, জঘন্য পরাজয় এবং লজ্জাজনক কেলেঙ্কারির পর অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে প্রকাশ পায়, যেমন—
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৯)
غداة 5 يونيو 1967.

والواقع أن قضية عمليات الالفات والتسلية كانت قائمة منذ قبل الحرب العالمية الأولى، غير أنها تطرح اليوم والعالم الاسلامي يمر، في هذه الآونة بالذات، بأخطر أزمة في تاريخه، حتى أننا نستطيع القول- اذا ما طرحنا جانباً بعض المظاهر من تطوره- أنه كان قبل أربعين سنة أقرب إلى الحل الرشيد لمشكلته وهو مستعمَر، لأنَّ وحدته الروحية أو الايديولوجية كانت أمتن منها اليوم فهو الآن، وهو مستقل، كأنما يبتعد عن هدفه لأن وحدته هذه قد تصدعت من عملية التقسيم التي أجريت عليه منذ أربعين سنة.

هذا هو الوضع الحقيقي، اذا ما طرحنا جانباً بعض المظاهر الخادعة- بحيث اننا اذا حكمنا بأن المجتمع الاسلامي- ككل يواجه نفس المشكلة- قد تخلف منذ ربع قرن، وتقهقر، فليس في حكمنا أي اجحاف بالحقيقة، وانما الخطأ في هذه النقطة بالذات يعود إلى أننا تعودنا تقدير الأشياء بالمقياس السياسي، ذلك المقياس الذي يجعلنا نقارن الوضع في حالتين مرت بها الدولة الإسلامية على ضفتين قريبتين من التاريخ، قبيل الحرب العالمية الثانية، وهي في نير الاستعمار، وبعد تلك الحرب، وهي متحررة سياياً في أغلبها، دون أن نقف بالتأمل
৫ জুন ১৯৬৭-এর প্রত্যুষে।

বস্তুত মনোযোগ ভিন্নমুখী করা এবং চিত্তবিনোদনের প্রক্রিয়াসমূহ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিল; তবে বর্তমানে এটি এমন এক সময়ে উপস্থাপিত হচ্ছে যখন সমগ্র মুসলিম বিশ্ব তার ইতিহাসের চরম সংকটাপন্ন এক মুহূর্ত অতিবাহিত করছে। এমনকি আমরা এ কথাও বলতে পারি—যদি তার উন্নতির কিছু বাহ্যিক দিককে উপেক্ষা করি—চল্লিশ বছর পূর্বে উপনিবেশ শাসিত থাকা অবস্থায় মুসলিম বিশ্ব তার সমস্যাবলির সঠিক সমাধানের অনেক বেশি নিকটবর্তী ছিল। কারণ তখন তার আধ্যাত্মিক বা আদর্শিক ঐক্য বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি সুদৃঢ় ছিল। বর্তমানে স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও সে যেন আপন লক্ষ্য থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে; কারণ চল্লিশ বছর আগে তার ওপর যে বিভাজন প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল, তার ফলে এই ঐক্য আজ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এটাই হলো প্রকৃত পরিস্থিতি, যদি আমরা কিছু বিভ্রান্তিকর বাহ্যিক দিককে একপাশে সরিয়ে রাখি—ফলে আমরা যদি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, একটি সামগ্রিক সত্তা হিসেবে একই সমস্যার মুখোমুখি হওয়া মুসলিম সমাজ গত এক চতুর্থাংশ শতাব্দী ধরে পশ্চাৎপদ হয়েছে এবং পিছু হটেছে, তবে আমাদের এই বিচারে সত্যের কোনো অপলাপ হবে না। মূলত এই বিশেষ বিন্দুতে ভুলের কারণ হলো, আমরা বিষয়সমূহকে রাজনৈতিক মানদণ্ডে মূল্যায়ন করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি; এমন এক মানদণ্ড যা আমাদের ইতিহাসের নিকটবর্তী দুটি ভিন্ন অবস্থায় থাকা মুসলিম উম্মাহর পরিস্থিতিকে তুলনা করতে উদ্বুদ্ধ করে—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক পূর্বে যখন সে ছিল উপনিবেশবাদের নিগড়ে আবদ্ধ, এবং সেই যুদ্ধের পরে যখন সে রাজনৈতিকভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বাধীন, কোনো গভীর চিন্তাশীলতা ছাড়াই...
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ২০)
عند حقيقة هذا التحرر الذي لم يحم تلك الدول حتى من غيلة دويلة اسرائيل، بينما يكشف لنا هذا السير أو التطور منذ ربع قرن على أن المجتمع الاسلامي ضيع فيه، بين ضفتي التاريخ المشار اليها، أثمن ما عنده كزاد طريق، نعني الشعور بوحدة المصير، وضرورة الحل الواحد الذي لا تجزي عنه بعثية، ولا بربرية، ولا نزعة افريقية، ولا شيوعية مصطنعة، ولا خرافات ألف ليلة وليلة.

واليوم تعترض العالم الاسلامي هذه المشكلة في صورة متحارجة، شكسبيرية: هل نكون أو لا نكون؟ بينما تلمح ريشة الساعة إلى الاحتمال الثاني، منذ أتت أحداث يونيو 1967 معبرة بلغتها القاصية على عبث تلك التشييدات السياسية والعسكرية التي تستند على ظاهرة الشيئية نعني تكديس تلك الأشياء التي جمعت في عشرين سنة من أجل الدفاع عن النفس، والتي ذابت في أول ساعة عند هجوم اسرائيل، وليس بمجدٍ، لمواجهة الدويلة الصهيونية، أن نكدس من جديد، دخيرة وزاداً وعتاداً، ليس بمجد تجديد الأشياء، بل تجديد الأفكار، ولكن تجديدها بصورة جذرية، بحيث تعوض تلك التي تؤدي إلى الهزيمة الهائلة وإلى الفضيحة الشنعاء، لأنها تفقد الروح التي ترفع الانسان إلى مستوى مهماته،
এই কথিত স্বাধীনতার প্রকৃত স্বরূপ যখন উন্মোচিত হয়, যা এই রাষ্ট্রগুলোকে এমনকি ইসরায়েল নামক ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের চোরাগোপ্তা আক্রমণ থেকেও রক্ষা করতে পারেনি, তখন গত পঁচিশ বছরের এই পরিক্রমা বা বিবর্তন আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দেয় যে, ইতিহাসের উল্লিখিত দুই তীরের মধ্যবর্তী সময়ে মুসলিম সমাজ তার পথচলার পাথেয় হিসেবে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটি হারিয়ে ফেলেছে। আমরা বলতে চাচ্ছি—অভিন্ন ভাগ্যের চেতনা এবং একটি একক সমাধানের অপরিহার্যতা; যার বিকল্প বাথবাদ, বারবারবাদ, আফ্রিকান জাতীয়তাবাদ, কৃত্রিম সাম্যবাদ কিংবা 'আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা'র উপকথা হতে পারে না।

আজ মুসলিম বিশ্ব এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে এক চরম সংকটাপন্ন শেক্সপিয়রীয় আবহে: "আমরা কি টিকে থাকব, নাকি থাকব না?" যেখানে সময়ের কাঁটা দ্বিতীয় সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করছে। বিশেষ করে ১৯৬৭ সালের জুনের ঘটনাবলি তার রূঢ় ভাষায় সেইসব রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর অসারতাকে ফুটিয়ে তুলেছে, যা 'বস্তু-সর্বস্বতা'র ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। আমরা বলতে চাচ্ছি—সেইসব উপকরণের স্তূপীকরণ যা আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে দীর্ঘ বিশ বছর ধরে জমা করা হয়েছিল, কিন্তু ইসরায়েলি আক্রমণের প্রথম প্রহরেই তা বিলীন হয়ে যায়। সেই জায়নবাদী ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের মোকাবিলা করার জন্য পুনরায় গোলাবারুদ, রসদ ও সমরসম্ভার স্তূপ করা কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না। কেবল বস্তুর নবায়ন ফলপ্রসূ নয়, বরং প্রয়োজন চিন্তার নবায়ন। তবে এই নবায়ন হতে হবে আমূল ও মৌলিক, যাতে তা সেইসব চিন্তাকে প্রতিস্থাপন করতে পারে যা শোচনীয় পরাজয় ও জঘন্য কলঙ্কের দিকে ধাবিত করে; কারণ সেই চিন্তাগুলো সেই প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলেছে যা মানুষকে তার সুমহান দায়িত্ব পালনের স্তরে উন্নীত করে।
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ২১)
بالأفكار الحية، المحيية التي تعطي الانسان تلك الدفعة الجبارة التي ترفعه إلى قمة واجباته أمام الأحداث الكبرى.

يجب أن نقف عند هذه الحقيقة، أن ما ينوب مجتمعاً ما في منعطفات التاريخ الخطير. ليس من قلة أشيائه ولكن من فقر أفكاره.

وما فاجعة سيناء، في غرة يونيو 1967، الا المحك العملي الذي يبرز هذه الحقيقه العامه، في ظرف خاص للأمة العربية، ولعلي يجدر بنا أن نقف عند الظرف لنستخلص منه عبرة أخرى ألا وهي أن النصر الخاطف الذي أحرزته اسرائيل في هذا الظرف على كوم جامد من الأشياء التي كانت بيد العرب، أصبح يواجه على نفس الأرض صعوبات لم يتوقعها، لأنه يواجه اليوم رجالاً تحركهم أفكار جديدة، بل رجالاً تجددوا هم بهذه الأفكار: أن قصف باخرة ((ايلات)) والموقف البطولي للفدائيين الفلسطينيين على حدود الأردن، وداخل الأراضي المحتلة، ليسا الا تعبيراً واحداً على التحول الذي حدث، اثر النكبة، لا في عالم الأشياء بالنسبة للعرب، بل في عالم أفكارهم.

ولست أتعرض هنا لقضية الأفكار بالنسبة لمجتمعنا الا بصورة عابرة، تاركاً هذا الموضوع المهم الى فرصة أخرى.
সজীব ও সঞ্জীবনদানকারী সেইসব চিন্তার মাধ্যমে যা মানুষকে সেই শক্তিশালী প্রেরণা দান করে, যা তাকে মহৎ ঘটনাবলির মোকাবিলায় নিজ কর্তব্যের শিখরে উন্নীত করে।

আমাদের এই সত্যটি অনুধাবন করা উচিত যে, ইতিহাসের বিপজ্জনক সন্ধিক্ষণে কোনো সমাজ যে সংকটের সম্মুখীন হয়, তা তার কাছে থাকা সহায়-সম্বল বা বস্তুর স্বল্পতার কারণে নয়, বরং তার চিন্তা ও দর্শনের দারিদ্র্যের কারণে।

১৯৬৭ সালের জুনের শুরুতে সংঘটিত সিনাই ট্র্যাজেডি মূলত সেই বাস্তব কষ্টিপাথর যা আরব উম্মাহর এক বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সাধারণ সত্যটিকেই পরিস্ফুট করে। সম্ভবত এই বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন যাতে অন্য একটি শিক্ষা আহরণ করা যায়। আর তা হলো—ইসরায়েল আরবের হাতে থাকা প্রাণহীন জড়বস্তুর স্তূপের ওপর যে ত্বরিত বিজয় অর্জন করেছিল, আজ সেই একই মাটিতে তারা এমন অভাবনীয় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে যা তারা কল্পনাও করেনি। কারণ আজ তারা এমন একদল মানুষের মুখোমুখি হচ্ছে যারা নতুন চিন্তায় উজ্জীবিত, বরং যারা এই চিন্তার মাধ্যমেই নতুন করে জেগে উঠেছে। জাহাজ ‘আইলাত’ ধ্বংস এবং জর্ডান সীমান্ত ও অধিকৃত ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ফিলিস্তিনি ফিদায়ী যোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ অবস্থান—নাকবা পরবর্তী সেই পরিবর্তনেরই একেকটি বহিঃপ্রকাশ, যা আরবদের বস্তু জগতে নয় বরং তাদের চিন্তা জগতে সঙ্ঘটিত হয়েছে।

আমি এখানে আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপটে এই চিন্তা বা ভাবাদর্শের বিষয়টি কেবল সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করছি এবং এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অন্য কোনো সময়ের জন্য তুলে রাখছি।
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ২২)
وحاصل الأمر أن الصدمة التي حصلت للضمير الاسلامي في القرن التاسع عشر وفي هذا القرن، تجاه الحضارة الغربية، كانت محسوسة في عالم أفكارنا على وجه الخصوص، وفي مجال الأفكار العلمية بالذات، بحيث كان لهذه الصدمة أثرها حتى في ميدان تفسير القرآن الكريم، ولا شك أن عملاً جباراً مثل تفسير طنطاوي جوهري، ذلك التفسير الذي لا نجد فيه كثيراً من الجدوى، يعزى قطعاً إلى هذا التأثير العلماني على أفكارنا، مع الملاحظة أنه يعبر في نفس الوقت على ظاهرة التكديس، تكديس المعلومات طبعاً، بحيث يصبح هذا العمل الشاق كله أقرب إلى دائرة معارف منه إلى تفسير القرآن، كما أنه يعبر عن ظاهرة جديدة، هي تلك العلمانية العقيمة التي ليست بالنسبة للفكر الاسلامي الا عملية تعويض في الميدان الذي شعر فيه أكثر بتحدي الحضارة الغربية.

والآن نستطيع القول أن هذا الميدان بالذات كان التربة الخصبة الذي وجدها الأدب الاستشراقي، من النوع الذي يتصف بالمدح والتمجيد، ليزرع فيها كل تلك المخدرات التي يتقبلها بكل شغف مجتمعنا لأنها تخدر ضميره وتسليه، ولكن هذا الضمير لا زال في صراع داخلي تسكنه أحياناً مؤلفات مشارقة مثل طنطاوي جوهري، وأحمد رضا وفريد وجدي أو مستشرقين مثل دوزي
পরিশেষে সারকথা হলো, ঊনবিংশ শতাব্দীতে এবং বর্তমান শতাব্দীতে পাশ্চাত্য সভ্যতার বিপরীতে মুসলিম মানসে যে অভিঘাত সৃষ্টি হয়েছিল, তা বিশেষভাবে আমাদের চিন্তা জগতে এবং সুনির্দিষ্টভাবে বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার ক্ষেত্রে অনুভূত হয়েছিল। এই অভিঘাতের প্রভাব এমনকি পবিত্র কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তানতাভী জওহরীর তাফসিরের মতো একটি বিশাল কর্ম—যে তাফসিরে আমরা বিশেষ কোনো উপযোগিতা খুঁজে পাই না—তা নিশ্চিতভাবেই আমাদের চিন্তাধারার ওপর এই ধর্মনিরপেক্ষ প্রভাবের ফল। এর পাশাপাশি লক্ষ্যণীয় যে, এটি একই সঙ্গে তথ্য পুঞ্জীভূতকরণের (তথ্যের স্তূপীকরণ) এক নতুন প্রবণতাকে প্রকাশ করে; ফলে এই কঠোর পরিশ্রমলব্ধ পুরো কাজটি কুরআনের তাফসিরের চেয়ে একটি বিশ্বকোষের অনেক বেশি নিকটবর্তী হয়ে পড়েছে। তদুপরি এটি একটি নতুন প্রবণতাকেও প্রকাশ করে, আর তা হলো সেই বন্ধ্যা ধর্মনিরপেক্ষতা, যা ইসলামি চিন্তাধারার প্রেক্ষাপটে একটি ক্ষতিপূরণমূলক প্রক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই নয়, বিশেষত সেই ক্ষেত্রে যেখানে মুসলিম সমাজ পাশ্চাত্য সভ্যতার চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে বেশি অনুভব করেছিল।

এখন আমরা বলতে পারি যে, এই ক্ষেত্রটিই ছিল সেই উর্বর ভূমি যা প্রাচ্যতত্ত্ব বিষয়ক এমন এক শ্রেণির সাহিত্য খুঁজে পেয়েছিল যা প্রশংসা ও গুণগানে বিশেষিত। তারা সেখানে এমন সব মোহাবিষ্টকারী উপাদান রোপণ করতে চেয়েছিল যা আমাদের সমাজ অত্যন্ত আগ্রহের সাথে গ্রহণ করে, কারণ তা তাদের বিবেককে আচ্ছন্ন করে রাখে এবং বিনোদিত করে। কিন্তু এই বিবেক এখনও একটি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে লিপ্ত, যা মাঝে মাঝে তানতাভী জওহরী, আহমদ রেজা ও ফরিদ ওয়াজদির মতো প্রাচ্যের লেখকদের রচনা অথবা ডোজির মতো প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের লেখার মাধ্যমে শান্ত হয়।
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৩)
وجوستاف لوبون أو تثير، مؤلفات أخرى لمشارقة ومستشرقين آخرين في صورة استثارات وتحديات جديدة لما تستصغر هذه الطائفة أو تلك ما ساهم به العرب في تنمية العلوم، ابان حضارتهم، قاصرين دور هذه الحضارة على مجرد تبليغ ما أنتجه اليونان والرومان.

واذا أردنا أن نخص احدى هاتين الطائفتين بالذكر، نقول أن بعض هؤلاء المشارقة المتتلمذين للمستشرقين يخفون عملهم التخريبي ضد الاسلام، بإيعاز واضح من أوساط استعمارية، تحت رداء تقدمية جوفاء تحاول سلب الاسلام من كل قيمة حضارية، بل تنسب له حالة التخلف الراهنة في العالم الإسلامي.

ولا شك أن كتاب ((الايديولوجيات العربية في محضر الغرب))، الذي ظهر منذ بضعة أشهر بتقديم مكسيم رودنسون، لا شك أن هذا الكتاب المبني على منطق سفسطائي، ذو صلة متينة بهذا التيار، وأن صاحبه، التلميذ المراكشي لصاحب المقدمة، من هذه الشجرة التي يجوز لنا أن ننسب لها أيضاً من تلامذة المستشرقين حتى أولئك الأبرياء الذين يضعون أقدامهم عن غير شعور في ثقافة الغرب بل في سياسته أيضاً ويتقدمون هكذا بأنصاف الحلول لأنصاف المشكلات التي يعتقدونها المشكلات الرئيسية للعالم الاسلامي غير أنهم يختلفون
গুস্তাভ লো বোন অথবা প্রাচ্যদেশীয় (مشارقة) এবং অন্যান্য প্রাচ্যবিদদের (مستشرقين) অন্যান্য রচনাবলি নতুন এক উদ্দীপনা ও চ্যালেঞ্জের উদ্রেক (تثير) করে; যখন এই গোষ্ঠী বা ওই গোষ্ঠী আরবরা তাদের সভ্যতার চরমোৎকর্ষের যুগে বিজ্ঞানের বিকাশে যে অবদান রেখেছিল তাকে তুচ্ছজ্ঞান করে এবং এই সভ্যতার ভূমিকাকে কেবল গ্রিক ও রোমানদের উৎপাদিত জ্ঞান প্রচারের (تبليغ) মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলে।

যদি আমরা এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে কোনো একটিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, তবে বলব যে প্রাচ্যবিদদের (مستشرقين) নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণকারী এই প্রাচ্যদেশীয়দের কেউ কেউ ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের ধ্বংসাত্মক তৎপরতা গোপন করে রাখে, যা মূলত ঔপনিবেশিক মহলের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় ঘটে থাকে। তারা এক অন্তঃসারশূন্য প্রগতিশীলতার আবরণে ইসলামকে তার যাবতীয় সভ্যতাগত মূল্যবোধ থেকে রিক্ত করার অপচেষ্টা চালায়, এমনকি মুসলিম বিশ্বের বর্তমান অনগ্রসরতার জন্য ইসলামকেই দায়ী করে।

নিঃসন্দেহে ‘পাশ্চাত্যের সম্মুখে আরব মতাদর্শসমূহ’ নামক গ্রন্থটি, যা কয়েক মাস পূর্বে মাক্সিম রডিনসনের মুখবন্ধসহ প্রকাশিত হয়েছে, তা এক কুতর্কপূর্ণ (سفسطائي) যুক্তির ওপর ভিত্তি করে রচিত এবং এই ধারার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এর লেখক, যিনি মুখবন্ধ লেখকের একজন মরক্কান ছাত্র, তিনি সেই বৃক্ষেরই শাখা যার অন্তর্ভুক্ত আমরা প্রাচ্যবিদদের (مستشرقين) সেই সমস্ত ছাত্রদেরও করতে পারি যারা অবচেতনভাবে পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি এমনকি তাদের রাজনীতিতেও নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছে এবং মুসলিম বিশ্বের প্রধান সমস্যা হিসেবে বিবেচিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ‘অর্ধ-সমাধান’ নিয়ে হাজির হয়, যদিও তারা একে অপরের থেকে ভিন্ন।
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৪)
بحسن نواياهم عن الآخرين أولئك الآلات المسخرة بين أيدي اختصاصيي الصراع الفكري، السائرين على اثر أساتذتهم الغربيين، لا يختلفون معهم الا في مهارة الأسلوب والتزويق في الصيغة، ويلتقون مع أساتذتهم في الانتقاص من سوابق الفكر الاسلامي، ولكن يمتازون في احاطة مستقبله بالريبة والابهام بتلك الثرثرة التقدمية مثل صاحب كتاب ((الايديولوجيات العربية في حضر

الغرب)) الذي أشرنا اليه.

وهكذا يبقى الضمير الاسلامي في دوامة صراعه الباطن يسكنه أحياناً ما يكتب المادحون ويثيره أحياناً أخرى ما ينتجه المفندون، وقد استمر هذا الصراع منذ قرن في حلقة مغلقة، مستهلكاً أجدى الطاقات الفكرية في العالم الاسلامي من دون جدوى، من دون أي تأثير حقيقي على تطور العقلية الاسلامية، لم ينتج الا بعض الصواريخ الأدبية الخلابة في تلك المؤلفات الجميلة التي لم يبق لها أي أثر مثل كتاب ((روح الاسلام)) للسيد أمير علي.

بحيث لو أننا حاولنا اليوم أن نجعل تقويماً لهذا الانتاج نراه يعبر أحسن تعبير على تبذير طاقات فكرية ثمينة لم يحسن استخدامها، واذا أردنا أن نعطي هذا التقويم كل معناه يجب أن نقارن هذا الانتاج بما أنتجه لوثر وكلفان
অন্যদের প্রতি সুধারণার বশবর্তী হয়ে তারা বুদ্ধিবৃত্তিক সংঘাতের বিশেষজ্ঞদের হাতের ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যারা তাদের পশ্চিমা শিক্ষকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলে। শৈল্পিক দক্ষতা এবং উপস্থাপনার কারুকার্য ছাড়া তাদের সাথে এদের কোনো পার্থক্য নেই। তারা ইসলামি চিন্তাধারার অতীত ঐতিহ্যকে খাটো করে দেখার ক্ষেত্রে তাদের শিক্ষকদের সাথে একমত; তবে তারা ইসলামি চিন্তাধারার ভবিষ্যৎকে সংশয় ও অস্পষ্টতার আবরণে আবৃত করার মাধ্যমে স্বকীয়তা জাহির করে। তারা এটি করে থাকে সেই তথাকথিত প্রগতিশীল প্রলাপের মাধ্যমে, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে ‘পাশ্চাত্যের সান্নিধ্যে আরব

মতাদর্শ’ নামক গ্রন্থের লেখকের ক্ষেত্রে ইঙ্গিত দিয়েছি।

এভাবেই মুসলিম বিবেক তার অভ্যন্তরীণ সংঘাতের আবর্তে নিমজ্জিত থাকে; কখনো স্তুতিবাদীদের রচনা একে প্রশমিত করে, আবার কখনো খণ্ডনকারীদের সৃষ্টি একে আন্দোলিত করে। বিগত এক শতাব্দী ধরে এই সংঘাত একটি রুদ্ধ বলয়ে আবর্তিত হচ্ছে, যা মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিকে কোনো সুফল ছাড়াই নিংড়ে নিচ্ছে এবং মুসলিম মননশীলতার বিবর্তনে কোনো প্রকৃত প্রভাব ফেলছে না। এটি কেবল সেই সৌন্দর্যমণ্ডিত গ্রন্থাবলীতে কিছু চমৎকার ‘সাহিত্যিক ক্ষেপণাস্ত্র’ উপহার দিয়েছে যার কোনো স্থায়ী চিহ্ন অবশিষ্ট নেই, যেমন সৈয়দ আমীর আলীর ‘স্পিরিট অব ইসলাম’ গ্রন্থটি।

আজ যদি আমরা এই বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মপ্রয়াসের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি, তবে দেখব এটি মূল্যবান চিন্তাশক্তির নিছক অপচয়কেই সর্বোত্তমভাবে প্রকাশ করে, যার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আমরা যদি এই মূল্যায়নকে পূর্ণ তাৎপর্য দান করতে চাই, তবে আমাদের অবশ্যই এই কর্মপ্রয়াসকে লুথার ও ক্যালভিনের কাজের সাথে তুলনা করতে হবে।
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৫)
إبان حركة الاصلاح في أوروبا، وانتاج ديكارت الذي وضع أقدام أوروبا على طريق التطور التكنولوجي أو انتاج ماركس وأنجلس ولينين الذين وضعوا على أقدامه مجتمعاً جديداً يغزو اليوم الفضاء.

وبالتالي يتبين لنا أن الانتاج الاستشراقي، بكلا نوعيه، كان شراً على المجتمع الاسلامي، لأنه ركب في تطوره العقلي عقدة حرمان سواء في صورة المديح والاطراء التي حولت تأملاتنا عن واقعنا في الحاضر وأغمستنا في النعيم الوهمي الذي نجده في ماضينا، أو في صورة التفنيد والاقلال من شأننا بحيث صيرتنا حماة الضيم عن مجتمع منهار، مجتمع ما بعد الموحدين، بينما كان من واجبنا أن نقف منه عن بصيرة طبعاً ولكن دون هوادة، لا نراعي في كل ذلك سوى مراعاة الحقيقة الاسلامية غير المستسلمة لأي ظرف في التاريخ، دون أن نسلم لغيرنا حق الاصداع بها والدفاع عنها لحاجة في نفس يعقوب.

وعلى كل، فان أمكننا أن نصرح بأننا نجد على كل وجه جانباً إيجابياً في هذا الاستشراق، فاننا لا نجده في صورة المديح، بل في صورة التفنيد.

فعندما يعلن الاستشراق أنه لا نصيب للعرب في تشييد صرح العلوم، وربما يؤدي بنا هذا الموقف المتطرف
ইউরোপের সংস্কার আন্দোলনের সময়কাল এবং দেকার্তের সেই কর্মতৎপরতা যা ইউরোপকে প্রযুক্তিগত উন্নতির পথে ধাবিত করেছিল, অথবা মার্কস, এঙ্গেলস ও লেলিনের সেই অবদান যা একটি নতুন সমাজের ভিত্তি স্থাপন করেছিল, যা আজ মহাকাশ জয় করছে।

ফলস্বরূপ আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, প্রাচ্যবিদ্যার (Orientalism) উৎপাদন তার উভয় প্রকারেই মুসলিম সমাজের জন্য ক্ষতিকর ছিল। কারণ এটি মুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিবর্তনে একটি হীনম্মন্যতা তৈরি করেছিল। এটি হয় প্রশংসার ছদ্মবেশে এসেছে—যা বর্তমানের বাস্তবতা থেকে আমাদের দৃষ্টিকে ফিরিয়ে নিয়ে অতীতের এক কাল্পনিক সুখের সাগরে নিমজ্জিত করেছে; অথবা তা এসেছে আমাদের অবমূল্যায়ন ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যের রূপে—যা আমাদের একটি ধ্বংসোন্মুখ সমাজ তথা 'মুওয়াহহিদুন' পরবর্তী সমাজের অন্যায়ের রক্ষক বানিয়ে দিয়েছে। অথচ আমাদের কর্তব্য ছিল অবশ্যই অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) সাথে এর মোকাবিলা করা, তবে কোনো শিথিলতা ছাড়াই। সেক্ষেত্রে ইতিহাসের কোনো পরিস্থিতির কাছে মাথানত না করা ইসলামী সত্যের (الحقيقة الإسلامية) রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি লক্ষ্য রাখা আমাদের উচিত ছিল না; অন্য কারো হাতে সেই সত্য প্রচার ও তার প্রতিরক্ষার অধিকার ছেড়ে দেওয়াও সংগত ছিল না—যাতে তারা কোনো হীন উদ্দেশ্য হাসিল করতে না পারে।

যাহোক, আমরা যদি কোনোভাবে এই প্রাচ্যবিদ্যার প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দিক খুঁজে পাওয়ার ঘোষণা দিতে চাই, তবে তা প্রশংসার রূপে নয়, বরং সমালোচনার রূপেই আমরা খুঁজে পাই।

যখন প্রাচ্যবিদ্যা ঘোষণা করে যে, বিজ্ঞানের সৌধ নির্মাণে আরবদের কোনো অবদান নেই, তখন সম্ভবত এই চরমপন্থী অবস্থান আমাদের এমন এক দিকে নিয়ে যায়...
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৬)
إلى تلافيه بعلمانية سطحية نشاهد أثرها حتى في انتاج بعض المفسرين مثل طنطاوي جوهري، ولكن، هذا الموقف يضطرنا، بما فيه من افراط في الجحود، إلى طرح مشكلة الاسلام والعلم في صورة جديدة تتماشى أكثر مع سمو الدين ومنطق العلم، بحيث لا نصبح نبحث في الآيات الكريمة هل ذكر فيها شيء عن غزو الفضاء أو تحليل الذرة، وانما نتساءل هل في روحها مما يعطل حركة العلم، أو على العكس ما يشجعها وينميها.

يجب على وجه الخصوص أن نتساءل اذا ما كان يستطيع القرآن أن يخلق في مجتمع ما المناخ المناسب للروح العلمي، وأن يطلق فيه الأجهزة النفسية الضرورية لتقبل العلم من ناحية، ولتبليغه من أخرى.

هذه صورة المشكلة اذا ما طرحناها كما يجب طرحها، نعني من الجانب النفسي الاجتماعي، لا من جانب تاريخ تطور العلم، ولو كان علينا أن نبرر الفكر الاسلامي من هذه الناحية بالذات، لكفانا أن نضع في حسابه ابتكارين لولاهما لم يكن التقدم التكنولوجي في القرن العشرين شيئاً يتصوره العقل، أجل ان التقدم التكنولوجي يشمخ اليوم في فصل العلم النووي الذي لا يمكن للباحثين في هذا الفصل من علوم الطبيعة أن يحصلوا فيه على طائل لولا ما يجدونه مهيئاً تحت أيديهم من طرق حساب سرعتها
একে একটি ভাসাভাসা ইহজাগতিকতার মাধ্যমে এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যার প্রভাব আমরা এমনকি তান্তাবি জাওহারির মতো কিছু ব্যাখ্যাকারক (مفسرين)-এর রচনায় লক্ষ্য করি। কিন্তু এই অবস্থান—তার চরম অস্বীকৃতির প্রবণতাসহ—আমাদের বাধ্য করে ইসলাম ও বিজ্ঞানের সমস্যাটিকে এমন এক নতুন রূপে উপস্থাপন করতে যা ধর্মের মাহাত্ম্য এবং বিজ্ঞানের যুক্তির সাথে অধিকতর সংগতিপূর্ণ। ফলে আমরা পবিত্র আয়াতসমূহে মহাকাশ অভিযান বা পরমাণু বিশ্লেষণ সংক্রান্ত কোনো বর্ণনা আছে কি না তা না খুঁজে বরং এই প্রশ্ন করি যে, কুরআনের মর্মসত্তায় এমন কিছু আছে কি না যা বিজ্ঞানের গতিশীলতাকে রুদ্ধ করে, অথবা বিপরীতে এমন কিছু আছে কি না যা একে উৎসাহিত ও সমৃদ্ধ করে।

বিশেষভাবে আমাদের এই প্রশ্ন করা প্রয়োজন যে, কুরআন কি কোনো সমাজে বৈজ্ঞানিক মানসিকতার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম এবং একদিকে বিজ্ঞান গ্রহণ এবং অন্যদিকে তা পৌঁছানোর (تبليغ) জন্য প্রয়োজনীয় মনস্তাত্ত্বিক উপাদানসমূহ জাগ্রত করতে পারে কি না।

এটিই হলো সমস্যাটির প্রকৃত চিত্র যদি আমরা একে যথাযথভাবে উপস্থাপন করি, অর্থাৎ একে ঐতিহাসিক বিবর্তনের দিক থেকে নয় বরং মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে বিবেচনা করি। যদি আমাদের এই বিশেষ দিক থেকে ইসলামি চিন্তাধারাকে মূল্যায়ন করতে হয়, তবে আমাদের জন্য এটিই যথেষ্ট হবে যে আমরা ইসলামের কৃতিত্বে এমন দুটি উদ্ভাবনকে গণ্য করব, যা না থাকলে বিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মানুষের কল্পনাতীত হতো। বস্তুত আজ পারমাণবিক বিজ্ঞানের যুগে প্রযুক্তিগত যে অগ্রগতি দৃশ্যমান, প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের এই শাখার গবেষকগণ সেখানে কোনো ফলপ্রসূ অবস্থানে পৌঁছাতে পারতেন না যদি না তাদের নিকট এর গতি পরিমাপের হিসাব পদ্ধতিগুলো প্রস্তুত থাকত।
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৭)
فوق كل سرعة، يمكن تصورها في عمليات الآلات الحاسبة الألكترونية.

فهل يمكن لهذه الآلات أن تقوم بعملياتها لو لم يهيئ من قبل ذلك النظام العشري الذي نستطيع به كتابة رقم أفوجدرو، على سبيل المثال، بخمسة رموز فقط، أو سبعة اذا تحرينا دقة أكثر؟

والآن نتساءل: ألسنا ندين بوضع هذا النظام العبقري لذلك المناخ العقلي الذي كونته القيمة القرآنية في المجتمع الاسلامي؟

كما أننا لو تساءلنا عن دور الجبر، في تطوير علم الحساب، بحيث يتحول من علم الأرقام المحسوسة إلى علم الرموز المجردة، لأدركنا بعد الأخذ في حسابنا أن اسم الجبر نفسه عربي من ناحية الصيغة والاشتقاق، لأدركنا ما يدين به العقل الانساني إلى العقل الاسلامى من وسيلة لا يستطيع بدونها السير والتقدم في ميدان علوم التقدير والضبط.

ولا يضيرنا أن يعزى الجبر، من طرف متطفلين من تلامذة المستشرقين مثل فريد وجدي الذي عزاه إلى اليونان ديوفانت بلا دليل ولا أي حجة، لا يضيرنا ذلك: أن الجبر أتى الى الوجود في المناخ الذي خلقه القرآن.
ইলেকট্রনিক ক্যালকুলেটরের কার্যপ্রক্রিয়ায় কল্পনা করা যায় এমন যেকোনো গতির ঊর্ধ্বে।

এই যন্ত্রগুলো কি তাদের কার্যাবলী সম্পাদন করতে পারত, যদি আগে থেকেই সেই দশমিক পদ্ধতি প্রস্তুত না থাকত যার মাধ্যমে আমরা উদাহরণস্বরূপ অ্যাভোগাড্রো সংখ্যাকে মাত্র পাঁচটি চিহ্নের সাহায্যে লিখতে পারি, কিংবা অধিকতর সূক্ষ্মতা চাইলে সাতটি চিহ্নের সাহায্যে?

এখন আমরা প্রশ্ন করতে পারি: এই মেধাঋদ্ধ পদ্ধতিটি উদ্ভাবনের জন্য কি আমরা সেই বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশের কাছে ঋণী নই, যা ইসলামি সমাজে কুরআনিক মূল্যবোধের মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল?

অনুরূপভাবে আমরা যদি পাটীগণিতের উন্নয়নে বীজগণিতের ভূমিকার কথা বিবেচনা করি—যেটি পাটীগণিতকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সংখ্যার বিজ্ঞান থেকে বিমূর্ত প্রতীকের বিজ্ঞানে রূপান্তরিত করেছে—তবে আমরা উপলব্ধি করতে পারব (বীজগণিত বা 'আল-জাবর' নামটি শব্দরূপ (صيغة) ও ব্যুৎপত্তির দিক থেকে আরবি হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে), পরিমাপ ও নির্ভুলতা (ضبط) বিষয়ক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মানব মস্তিস্ক ইসলামি চিন্তাধারার কাছে কতটা ঋণী; এমন এক উপায় বা মাধ্যমের জন্য যা ছাড়া এই ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া ও উন্নতি করা সম্ভব ছিল না।

প্রাচ্যবিদদের অনুসারী কতিপয় অনধিকারপ্রবেশকারী, যেমন ফরিদ ওয়াজদি—যিনি কোনো প্রমাণ বা কোনো দলিল (حجة) ছাড়াই বীজগণিতকে গ্রিক ডিওফ্যান্টাসের অবদান বলে দাবি করেছেন—তাদের এই কর্মকাণ্ডে আমাদের কোনো ক্ষতি নেই; বরং বাস্তবতা হলো বীজগণিত অস্তিত্ব লাভ করেছে কুরআনের সৃষ্টি করা সেই উপযুক্ত পরিবেশেই।
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৮)
ولقد يكون من العبث الصبياني أن نربط الصلة هنا، بين الآيات المنزهة وبين النظام العشري أو الجبر، عن طريقة ما يسمى تاريخ تطور العلوم.

ان القرآن الكريم لم يأت قطعاً، وبصورة مباشرة، لا بالحساب العشري ولا بالجبر، ولكنه أتى بالمناخ العقلي الجديد الذي يتيح للعلم أن يتطور كما تطور بالنسبة إلى مرحلته السابقة في العهد الاغريقي والروماني، والأمر الجدير بالملاحظة هو أن تطور العلم لا يناط بالمعطيات العلمية فحسب، بل بكل الظروف النفسية الاجتماعية التي تتكون في مناخ معين، والأمر الجدير بالملاحظة أيضاً هو أن مراكز الاهتمام للعقل تتغير من عصر إلى آخر، من حضارة إلى غيرها، حسب التغيرات التي تحدث في المناخ العقلي بالذات.

اننا نستطيع قطعاً ربط العلاقة، من الناحية التاريخية، بين عهد الصناعة والتصنيع واكتشاف دونيس بيبان الذي كان ينظر إلى غلاية ماء فوق النار، فلاحظ أن مغلقها يرتفع وينزل بالتوالي، فاكتشف هذا طاقة البخار بالصدفة.

ولكننا نلاحظ أن هذه الصدفة كانت تتكرر عبر الأجيال منذ اكتشاف النار، فلم تؤد الى اكتشاف الطاقة البخارية إلى عهد بيبان.
বিজ্ঞানের বিবর্তনের ইতিহাস নামক পদ্ধতির মাধ্যমে এখানে পবিত্র আয়াতসমূহ এবং দশমিক পদ্ধতি বা বীজগণিতের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা শিশুসুলভ নিরর্থকতা হতে পারে।

নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআন অকাট্যভাবে (قطعاً) এবং সরাসরি দশমিক গণনা কিংবা বীজগণিত নিয়ে আসেনি; বরং এটি এমন এক নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ তৈরি করেছে যা বিজ্ঞানের বিকাশের পথ প্রশস্ত করে, যেমনটি গ্রিক ও রোমান যুগের পূর্ববর্তী পর্যায়ের তুলনায় বিজ্ঞানের বিবর্তন ঘটেছিল। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, বিজ্ঞানের বিবর্তন কেবল বৈজ্ঞানিক উপাত্তের ওপরই নির্ভরশীল নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে তৈরি হওয়া সকল মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপরও নির্ভরশীল। আরও একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুগুলো খোদ বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশে ঘটা পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে এক যুগ থেকে অন্য যুগে এবং এক সভ্যতা থেকে অন্য সভ্যতায় পরিবর্তিত হয়।

আমরা ঐতিহাসিক দিক থেকে শিল্পায়ন ও শিল্প বিপ্লবের যুগের সাথে ডেনিস পাপিনের আবিষ্কারের একটি অকাট্য (قطعاً) সম্পর্ক স্থাপন করতে পারি। তিনি আগুনের ওপর রাখা একটি পানির কেটলির দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য করেছিলেন যে, সেটির ঢাকনাটি ক্রমাগত উপরে উঠছে ও নিচে নামছে; এভাবেই তিনি দৈবক্রমে বাষ্পীয় শক্তি আবিষ্কার করেন।

কিন্তু আমরা লক্ষ্য করি যে, আগুন আবিষ্কারের পর থেকে যুগ যুগ ধরে এই ধরণের দৈব ঘটনা বারবার ঘটলেও ডেনিস পাপিনের যুগের আগে তা বাষ্পীয় শক্তি আবিষ্কারের পথে ধাবিত করেনি।
(খণ্ড: ১) ইনতাযুল মুসতাশরীক্বীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিক্বরিল ইসলামী আল-হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৯)
لماذا؟ السبب في ذلك هو أن دونيس بيبان أو نظيره الانجليزي واط كان يمارس ملاحظاته ويتفهمها ويفسرها في مناخ عقلي جديد، تكون في أوربا منذ قرنين من قبل، لما كتب ديكارت ((خطابه)) المشهور في المنهج وقال فيه هذه العبارات المتنبئة الموجهة:

((انه لمن الممكن الوصول إلى معرفة تطبق تطبيقاً نافعاً في الحياة، بحيث تترك مدارس التعليم تلك الفلسفة السكولاستية، وتعلم فلسفة تقبل التطبيق، وتتيح لنا، بعد معرفة تأثير النار والهواء والأجرام الفلكية، والسماوات وكل الأجرام التي تحيطنا، ان نستخدمها تحت قانونها بالذات لمصلحتنا الخاصة بحيث نتمكن من امتلاك الطبيعة والهيمنة عليها)).

ان هذه العبارات ناصة فعلاً، متنبئة بما سيحدث بعد ديكارت من انقلابات علمية وتكنولوجية، فهي تدل بكل وضوح على المنحدر الذي سيتبعه الفكر الأوربي في بحثه عن الحقيقة العلمية ذات النفع المباشر، وكان لزاماً أن يلتقي الفكر الأوروبي على هذا المنحدر مع الطاقة البخارية سواء كان دونيس بيبان هو المكتشف أو غيره.

وبالتالي فان منهج ديكارت هو الذي كون، بصورة أعم، المناخ العقلي الجديد الذي ستترعرع فيه العبقرية المصلحية التي تتميز بها الحضارة الجديدة.
কেন? এর কারণ হলো দেনিস পাপাঁ অথবা তাঁর ইংরেজ প্রতিপক্ষ ওয়াট এমন এক নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক আবহে নিজের পর্যবেক্ষণগুলো পরিচালনা, অনুধাবন এবং ব্যাখ্যা করছিলেন, যা দুই শতাব্দী আগেই ইউরোপে গড়ে উঠেছিল; যখন ডেসকার্টেস তাঁর পদ্ধতি বিষয়ক বিখ্যাত ‘ডিসকোর্স’ রচনা করেন এবং সেখানে এই দূরদর্শী ও নির্দেশনামূলক উক্তিগুলো ব্যক্ত করেন:

“এমন এক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব যা জীবনে ফলপ্রসূভাবে প্রয়োগ করা যায়, যার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সেই তাত্ত্বিক দর্শন ত্যাগ করে এমন এক দর্শন শিক্ষা দেবে যা প্রয়োগযোগ্য। এটি আমাদের আগুন, বাতাস, জ্যোতিষ্ক, আকাশমন্ডলী এবং আমাদের চারপাশের সকল বস্তুর প্রভাব সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভের পর সেগুলোকে তাদের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী আমাদের নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে, যাতে আমরা প্রকৃতির ওপর অধিকার ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারি।”

এই উক্তিগুলো প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং ডেসকার্টেস-পরবর্তী বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত বিপ্লবসমূহের পূর্বাভাসস্বরূপ। এগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সেই গতিপথকে নির্দেশ করে যা ইউরোপীয় চিন্তাধারা সরাসরি ফলপ্রসূ বৈজ্ঞানিক সত্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছিল। আর এই পথেই ইউরোপীয় চিন্তাধারার সাথে বাষ্পীয় শক্তির মিলন ঘটা অনিবার্য ছিল, চাই দেনিস পাপাঁ এর আবিষ্কারক হোন বা অন্য কেউ।

ফলত, ডেসকার্টেসের পদ্ধতিই সামগ্রিকভাবে সেই নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে সেই উপযোগবাদী প্রতিভা বিকশিত হয়েছে যা আধুনিক সভ্যতার এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।