(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: -)
شم العوارض في ذم الروافض القسم: الفرق والردود
الكتاب: شَمُّ العَوارِضِ في ذمِّ الرُّوَافِضِ
المؤلف: علي بن (سلطان) محمد، أبو الحسن نور الدين الملا الهروي القاري (ت 1014هـ)
المحقق: د. مجيد الخليفة
الناشر: مركز الفرقان للدراسات الإسلامية
الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 157
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 ذو القعدة 1432
শাম্মুল আওয়ারিদ ফী যাম্মির রাওয়াফিদ বিভাগ: ফিরকা এবং খণ্ডন
গ্রন্থ: শাম্মুল আওয়ারিদ ফী যাম্মির রাওয়াফিদ
লেখক: আলী ইবনে (সুলতান) মুহাম্মদ, আবুল হাসান নূরুদ্দিন মোল্লা আল-হারাওয়ী আল-কারী (মৃত্যু ১০১৪ হি.)
সম্পাদক: ড. মজিদ আল-খলিফা
প্রকাশক: মার্কাজ আল-ফুরকান লিত-দিরাসাত আল-ইসলামিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হি. - ২০০৪ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ জিলকদ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: -)
شَمُّ العَوارِضِ في ذمِّ الرُّوَافِضِ
تصنيف: الملا علي بن سلطان القاري (وفاته سنة 1014هـ)
تقديم وتحقيق: د. مجيد الخليفة
রাফেজিদের নিন্দায় সুগন্ধি বিচ্ছুরণ
রচনা: মোল্লা আলী বিন সুলতান আল-কারী (মৃত্যু: ১০১৪ হিজরি)
উপস্থাপনা ও সম্পাদনা: ড. মাজীদ আল-খলিফা
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة المحققالحمد لله رب العالمين، نحمده حمد الشاكرين، ونستغفره استغفار المذنبين، ونصلي ونسلم على خير الخلق نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد:
فهذه رسالة لطيفة في موضوع مهم من مواضيع العقيدة، ألا وهو موضوع حكم سب السلف الصالح عند بعض طوائف الشيعة الإمامية، وكان هذا الأمر قد انتشر في خراسان بين كثيرٍ من العوام أبان ظهور الدولة الصفوية في بداية القرن العاشر الهجري (1)، فقام الملا علي بن سلطان القاري بتأليف هذه الرسالة وسماها (شم العوارض في ذم الروافض)، وكان السبب في ذلك هو النقاش الذي دار بينه وبين أحد علماء عصره حول الحكم الشرعي لمن سب صحابياً، فكان القاري يعتقد أنه كافر بالدليل الظني - على طريقة الحنفية في الأصول - وكان صاحبه يعتقد بكفره بالدليل القطعي، فكانت بين الرجلين جفوة أشار إليها القاري في صدر رسالته حيث قال: ((فترك صحبتنا واختار غيبتنا وعتبنا)) (2).
--------------------------------------------
গবেষকের ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; আমরা কৃতজ্ঞদের ন্যায় তাঁর প্রশংসা করছি এবং পাপীদের ন্যায় তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর আমরা সালাত ও সালাম পেশ করছি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি।
অতঃপর:
আকিদার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, আর তা হলো শিয়া ইমামীয়াদের কিছু উপদলের নিকট সলফে সালেহীন বা নেককার পূর্বসূরিদের গালি দেওয়ার বিধান। হিজরি দশম শতাব্দীর শুরুতে (১) সাফাবি সাম্রাজ্যের উত্থানকালে খোরাসানের সাধারণ মানুষের মাঝে এই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়েছিল। এমতাবস্থায় মোল্লা আলী বিন সুলতান আল-ক্বারী এই পুস্তিকাটি রচনা করেন এবং এর নামকরণ করেন ‘শাম্মুল আওয়ারিদ ফি যাম্মির রাওয়াফিদ’। এর মূল কারণ ছিল সাহাবীগণকে গালি প্রদানকারীর শরয়ি বিধান নিয়ে তাঁর সমসাময়িক এক আলেমের সাথে তাঁর যে বিতর্ক হয়েছিল। আল-ক্বারী মনে করতেন যে, উসূলের ক্ষেত্রে হানাফি পদ্ধতি অনুযায়ী সে ব্যক্তি ‘দলীল-ই-যন্নী’ (ধারণামূলক প্রমাণ)-এর ভিত্তিতে কাফির; পক্ষান্তরে তাঁর সাথী মনে করতেন যে, সে ব্যক্তি ‘দলীল-ই-কাতয়ী’ (সুনিশ্চিত প্রমাণ)-এর ভিত্তিতে কাফির। ফলে এই দুই ব্যক্তির মাঝে মনোমালিন্য তৈরি হয়, যার প্রতি আল-ক্বারী তাঁর পুস্তিকার শুরুতে ইঙ্গিত করে বলেছেন: “সে আমাদের সাহচর্য ত্যাগ করেছে এবং আমাদের অনুপস্থিতিতে গিবত ও ভর্ৎসনা করাকে বেছে নিয়েছে” (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ৬)
والقاري وإن كان قد عرض هذا الموضوع على مذهب الحنفية الفقهي وطريقتهم في استنباط الحكم الشرعي، إلا أن هذه الرسالة جاءت غنية بمادتها فريدة في بابها، نظراً لما في مسألة التكفير من تردد بين العلماء، فلا يقولون به إلا عند المسلمات والمهمات من أمور الدين.
ولابد في البدء أن نعرف بالمؤلف ثم نسبة وتوثيق المخطوط مع بيان ملاحظاتنا عليها، وأخيراً المنهج الذي سنسير عليه في تحقيق هذه الرسالة.
الملا علي القاري:هو علي بن سلطان محمد القاري (1)، نور الدين الملا الهروي الحنفي، ولد بهراة وتلقى العلم على يد عدد من علمائها وعلماء خراسان منهم: أبو الحسن البكري، والأيجي الصفوي والحفيد التفتازاني وغيرهم (2).
نال الملا علي القاري ثناء عدد من العلماء نظراً لسعة مؤلفاته وتنوعها ما بين الفقه والحديث والأصول والعقائد، قال العصامي: ((الجامع للعلوم النقلية والعقلية والمتضلع من السنة النبوية
… )) ثم قال: ((لكنه امتحن بالاعتراض على الأئمة لا سيما الشافعي وأصحابه، واعترض على الإمام مالك في إرسال يديه)) (3)، ولكن اعتراضه على بعض أصحاب الشافعي أو مالك لا يؤاخذ عليه إن كان يندرج تحت باب الفتوى والاجتهاد.
--------------------------------------------
আল-কারি যদিও এই বিষয়টি হানাফি ফিকহ শাস্ত্রীয় মাযহাব এবং শরয়ি বিধান আহরণের ক্ষেত্রে তাদের অনুসৃত পদ্ধতির আলোকে উপস্থাপন করেছেন, তবুও এই পুস্তিকাটি তার বিষয়বস্তুর সমৃদ্ধি এবং অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র মর্যাদার অধিকারী। বিশেষ করে ‘তাকফির’ বা কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়ে আলিমদের মধ্যকার দ্বিধা-সঙ্কোচের প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কেননা তাঁরা দ্বীনের স্বতঃসিদ্ধ ও মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ব্যতীত এ জাতীয় রায় প্রদান করেন না।
শুরুতে গ্রন্থকারের সাথে পরিচিত হওয়া প্রয়োজন, অতঃপর পাণ্ডুলিপিটির নিসবত এবং সেটির নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি তার উপর আমাদের পর্যবেক্ষণসমূহ তুলে ধরা হবে। সবশেষে এই পুস্তিকাটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমরা যে পদ্ধতি অনুসরণ করব, তা উল্লেখ করা হবে।
মোল্লা আলী আল-কারি:তিনি হলেন আলী বিন সুলতান মুহাম্মদ আল-কারি (১), নূরুদ্দীন আল-মোল্লা আল-হারাবি আল-হানাফি। তিনি হেরাত শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানকার ও খোরাসানের একদল বিদগ্ধ আলিমের নিকট শিক্ষালাভ করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবুল হাসান আল-বাকরি, আল-ইজি আস-সাফাভি, আল-হাফিদ আত-তাফতাজানি প্রমুখ (২)।
মোল্লা আলী আল-কারি তাঁর রচনাবলির ব্যাপকতা এবং ফিকহ, হাদিস, উসুল ও আকাইদসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর লেখনীর বৈচিত্র্যের কারণে বহু আলিমের প্রশংসা অর্জন করেছেন। আল-ইসামি বলেছেন: ((তিনি বর্ণনাভিত্তিক ও যুক্তিভিত্তিক উভয় প্রকার জ্ঞানে পারদর্শী এবং সুন্নাহর গভীর পাণ্ডিত্যসম্পন্ন
… )) এরপর তিনি বলেন: ((তবে তিনি ইমামদের সমালোচনা করার মাধ্যমে পরীক্ষিত হয়েছেন, বিশেষত ইমাম শাফিঈ ও তাঁর অনুসারীদের ক্ষেত্রে। এছাড়া তিনি ইমাম মালিকের হাত ছেড়ে সালাত আদায়ের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন)) (৩)। তবে ইমাম শাফিঈ বা ইমাম মালিকের অনুসারীদের কারো কারো প্রতি তাঁর এই আপত্তি যদি ফতোয়া ও ইজতিহাদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে সেটির জন্য তাঁকে অভিযুক্ত করা যাবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ৭)
أما فيما يخص عقيدة الملا علي القاري، فهو في عداد الماتريدية، وإن كان كثيراً ما يثني على شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم، قال
… : ((لقد دافع القاري - جزاه الله خيراً - دفاعاً كاملاً عن شيخ الإسلام وابن القيم، ورد من رماهما بسوء الاعتقاد والتجسيم والتشبيه والضلال، وأقر عقيدة السلف في الصفات، وأنها لا تستلزم التشبيه كما دافع عن أهل الحديث ورد من يطعن عليهم بالتشبيه والحشو)) (1)، ولكن مؤلفات القاري لم تكن لتخلو مما يعارض عقيدة السلف، مثل قوله في الرسالة التي نحن بصددها - في معرض كلامه على عقيدته -: ((لا عَينَ ولا غَير في تحقيق صفَاتِ الذاتِ)) (2)، ويبدو أن القاري لم يسلم من تأثيرات عصره، خاصة وأنه قد عاش في عصر الدولة العثمانية ذات العقيدة الماتريدية، وصاحبة الفروع الفقهية الحنفية (3).
من المرجح أن عدم الاستقرار الذي شهدته خراسان خلال الحروب التوسعية للدولة الصفوية، قد دفع القاري إلى الخروج من هذه الديار وسكن الديار المقدسة في مكة المكرمة، حيث ألف هذه الرسالة، وقال في توثيق ذلك: ((وَالحمدُ لله عَلى مَا أعطاني مِنْ التوفيق وَالقدرَة عَلى الهجرة مِنْ دَار البدعة إلى خير ديار السّنة، التي هِي مُهِبط الوحي وظهِور النبوة
… )) (4)، حيث ألف هذه الرسالة قبيل وفاته ببضع سنوات (5)، حيث توفى سنة 1014هـ (6).
--------------------------------------------
মোল্লা আলী আল-কারীর আকীদার বিষয়ে বলা যায় যে, তিনি মাতুরিদিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যদিও তিনি প্রায়ই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের প্রশংসা করতেন। জনৈক গবেষক বলেন
… : ((আল-কারী —আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন— শায়খুল ইসলাম এবং ইবনুল কাইয়্যিমের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা করেছেন এবং যারা তাঁদেরকে ভ্রান্ত আকীদা, তাজসিম (অঙ্গসংস্থানবাদ), তাশবিহ (সাদৃশ্যপ্রদান) ও গোমরাহীর অপবাদ দিয়েছে তাদের প্রতিবাদ করেছেন। তিনি গুণাবলির (সিফাত) ক্ষেত্রে সালাফদের আকীদাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, এতে তাশবিহ বা সাদৃশ্যপ্রদান অপরিহার্য হয় না। তেমনিভাবে তিনি আহলে হাদিসদেরও প্রতিরক্ষা করেছেন এবং যারা তাঁদের ওপর তাশবিহ ও হাশবিয়্যাতের অপবাদ দেয় তাদের খণ্ডন করেছেন)) (১)। কিন্তু আল-কারীর রচনাবলি সালাফদের আকীদা-বিরোধী বিষয় থেকে মুক্ত ছিল না, যেমনটি আলোচ্য রিসালাহতে তিনি তাঁর আকীদা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন: ((সত্তাগত গুণাবলির হাকিকত বিচারে তা সত্তার আইন (অভিন্ন) নয় এবং সত্তা বহির্ভূত ভিন্ন কিছুও নয়)) (২)। প্রতীয়মান হয় যে, আল-কারী তাঁর সমসাময়িক যুগের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারেননি, বিশেষ করে যেহেতু তিনি উসমানীয় সাম্রাজ্যের যুগে বসবাস করতেন, যাদের আকীদা ছিল মাতুরিদি এবং ফিকহী মাযহাব ছিল হানাফী (৩)।
সম্ভবত সাফাভী সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণবাদী যুদ্ধের সময় খোরাসানে যে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছিল, তা আল-কারীকে সেই ভূখণ্ড ত্যাগ করে পবিত্র ভূমি মক্কায় হিজরত করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। সেখানেই তিনি এই রিসালাহটি রচনা করেন এবং এর প্রেক্ষাপট বর্ণনায় তিনি বলেন: ((সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে বিদআতের ভূমি থেকে সুন্নাহর সর্বোত্তম ভূমিতে হিজরত করার তৌফিক ও সক্ষমতা দান করেছেন, যা ওহী অবতরণ এবং নবুওয়তের প্রকাশস্থল
… )) (৪)। তিনি তাঁর ইন্তেকালের কয়েক বছর পূর্বে এই রিসালাহটি লিখেছিলেন (৫), এবং তিনি ১০১৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ৮)
لقد ترك لنا الملا علي القاري عدداً كبيراً من المؤلفات في مختلف الفنون، توزعت ما بين التفسير والإقراء والفقه والحديث والأصول، وتجاوزت المائة والعشرين مصنفاً ما بين مجلدات كبيرة، ورسائلٍ صغيرة (1).
اسم الرسالة وتوثيقها:التسمية التي اختارها الملا علي القاري لرسالته هذه هي (شم العوارض في ذم الروافض) هكذا ذكرها المؤلف بخطه في النسخة التي اعتمدناها كأصل في التحقيق، على ما سيأتي بيانه في الفقرة التالية، وقد ذكرها بعده أكثر من مؤلف بهذه التسمية، إذ ذكرها حاجي خليفة بهذا الاسم أيضاً (2) وهي التسمية نفسها التي أثبتها إسماعيل باشا البغدادي في اثنين من مؤلفاته (3)، فهذا يثبت صحة نسبة الرسالة للملا علي القاري، كما يثبت في الوقت نفسه دقة تسميتها.
وقد ذكرت في نسخة دار الكتب المصرية بعنوان (شيم العوارض في ذم الروافض) وهو تصحيف نشأ عن عدم تحقيق التسمية، إذ أن المعنى لا يتناسب مع السياق، لأن العوارض تعني بلسان العرب الشبهة أو الآفة المعترضة في الفؤاد (4)، ويقال: ((العوارض من الإبل اللواتي يأكلن العضاة عرضاً أي تأكله
--------------------------------------------
মোল্লা আলী আল-কারী আমাদের জন্য বিভিন্ন শাস্ত্রে বিপুল সংখ্যক রচনা রেখে গেছেন, যা তাফসির, ক্বিরাত, ফিকহ, হাদিস এবং উসুল (মূলনীতি) শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর রচনার সংখ্যা একশ বিশের অধিক, যার মধ্যে রয়েছে বিশাল আকারের গ্রন্থ এবং ক্ষুদ্র রিসালাসমূহ (১)।
রিসালাটির নাম এবং এর সত্যতা নিরূপণ:মোল্লা আলী আল-কারী তাঁর এই রিসালাটির জন্য যে নামটি নির্বাচন করেছেন তা হলো (শাম্মুল আওয়ারিদ ফি যাম্মির রাওয়াফিজ)। লেখক তাঁর পাণ্ডুলিপিতে নিজ হাতে এভাবেই নামটি উল্লেখ করেছেন, যা আমরা তাহকিকের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি—যেমনটি পরবর্তী অনুচ্ছেদে বর্ণিত হবে। তাঁর পরবর্তী একাধিক লেখকও একে এই নামেই উল্লেখ করেছেন; যেমন হাজী খলিফাও একে এই নামেই অভিহিত করেছেন (২)। একইভাবে ইসমাইল পাশা আল-বাগদাদী তাঁর দুটি গ্রন্থেও এই নামটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন (৩)। এটি একদিকে যেমন মোল্লা আলী আল-কারীর প্রতি রিসালাটির সম্বন্ধের নির্ভুলতা প্রমাণ করে, তেমনি এর নামকরণের যথার্থতাকেও সুনিশ্চিত করে।
মিশরীয় 'দারুল কুতুব'-এর অনুলিপিতে এটি (শিয়মুল আওয়ারিদ ফি যাম্মির রাওয়াফিজ) শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মূলত নামকরণের ক্ষেত্রে সঠিক যাচাই-বাছাই না করার ফলে সৃষ্ট একটি লিপিপ্রমাদ। কেননা এর অর্থ এই প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ আরবি অভিধানে 'আওয়ারিদ' বলতে বোঝায় হৃদয়ে উদিত সংশয় বা আপদ (৪)। আরও বলা হয়: "আল-আওয়ারিদ হলো সেই সব উট যারা আড়াআড়িভাবে কাঁটাগাছ ভক্ষণ করে, অর্থাৎ তারা তা খায়..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ৯)
حيث وجدته)) (1)، وربما استعار المؤلف هذا المعنى كي يجعله عنواناً لرسالته، فجمع ما بين الشبهة المعترضة في القلب، وما بين الإبل التي تشم الكلأ قبل أن تأكله، والله تعالى اعلم.
موضوع الرسالة:لا شك أن موضوع الرد على أهل الأهواء والضلال من الأمور التي شغلت العلماء من أهل السنة والجماعة على اختلاف مذاهبهم، وقد اتخذت هذه الردود أشكالاً متنوعة تبعاً لظروف كتابتها أو مكانة مؤلفها، والرسالة التي نحن بصددها الآن لا يمكن أن نفصلها عن الظروف السياسية لعصر المؤلف، خاصة ظهور الدولة الصفوية في أرض إيران بعقيدتها الإمامية الغالية، وإذا ما علمنا أن هذه الديار كانت حتى القرن العاشر الهجري ذات أغلبية سنية عظيمة، تبين لنا عظم المصيبة التي ألمت بالمسلمين في إيران بظهور دولة الرافض فيها، إذ بدأت أعمال وحشية تبناها رجال هذه الدولة ضد سكان إيران من أهل السنة لتحويلهم قسراً إلى مذهب الشيعة الإمامية، وكان من أشد هؤلاء الشاه إسماعيل الصفوي الذي مارس ضد أهل السنة والجماعة أبشع أنواع القتل والتنكيل، فقد نقل المؤرخون أنه قتل في مجزرة تبريز أكثر من عشرين ألف شخص، ولم يفرق فيها بين رجل أو امرأة وشيخ أو صبي (2).
وكان الملا علي القاري شاهد عيان على هذه الحقبة، حيث كان يعيش في تلك الأثناء في مدينة هراة، وينقل لنا في رسالته هذه كيف دخلت جيوش إسماعيل
--------------------------------------------
যেখানেই তুমি তা পাবে)) (১), এবং সম্ভবত লেখক এই অর্থটি ধার করেছেন তার রিসালার শিরোনাম করার জন্য; ফলে তিনি অন্তরে উদিত সংশয় এবং ঘাস খাওয়ার আগে তা শুঁকে দেখা উটের আচরণের মধ্যে একটি যোগসূত্র স্থাপন করেছেন। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
রিসালার বিষয়বস্তু:এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কুপ্রবৃত্তির অনুসারী ও পথভ্রষ্টদের খণ্ডন করা এমন একটি বিষয় যা বিভিন্ন মাযহাবের আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আলেমদের ব্যতিব্যস্ত রেখেছে। এই খণ্ডনমূলক লেখাগুলো রচনার প্রেক্ষাপট বা লেখকের মর্যাদার ভিত্তিতে বিভিন্ন রূপ লাভ করেছে। বর্তমানে আমরা যে রিসালাটি নিয়ে আলোচনা করছি, সেটিকে লেখকের যুগের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান ভূখণ্ডে চরমপন্থী ইমামি আকিদাসম্পন্ন সফবীয় রাষ্ট্রের উত্থান থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা সম্ভব নয়। আমরা যখন জানতে পারি যে হিজরি দশম শতাব্দী পর্যন্ত এই অঞ্চলগুলো বিশাল সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল, তখন ইরানে রাফেজি রাষ্ট্রের উত্থানের ফলে মুসলমানদের ওপর যে অবর্ণনীয় বিপদ নেমে এসেছিল তা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কেননা, এই রাষ্ট্রের কর্ণধাররা ইরানের সুন্নি অধিবাসীদের জোরপূর্বক শিয়া ইমামি মাযহাবে ধর্মান্তরিত করার জন্য তাদের বিরুদ্ধে নৃশংস কর্মকাণ্ড শুরু করেছিল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর ছিলেন শাহ ইসমাইল সফবীয়, যিনি আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিরুদ্ধে হত্যা ও নির্যাতনের জঘন্যতম রূপ প্রয়োগ করেছিলেন। ঐতিহাসিকরা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাবরিজের গণহত্যায় বিশ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছিলেন এবং সেখানে পুরুষ, নারী, বৃদ্ধ বা শিশুর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি (২)।
মোল্লা আলী আল-কারী এই যুগের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন, কারণ সেই সময়ে তিনি হেরাত শহরে বসবাস করছিলেন। তিনি তার এই রিসালায় আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কীভাবে ইসমাইলের বাহিনী প্রবেশ করেছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ১০)
الصفوي إلى هذه المدينة، وأعلنوا سب الصحابة على المنابر، فامتنع علماء أهل السنة عن ذلك فقتلوا الشيخ معين الدين الأيجي خطيب الجامع الكبير في هراة، ثم قتلوا بعد ذلك حفيد التفتازاني عند دخول الشاه إسماعيل الصفوي إلى هراة، وكلا الشيخين الشهيدين كانا من مشائخ القاري (1).
وهنا دار جدال بين العلماء من أهل السنة في حكم هذه الفرقة التي جاهرت بسب الصحابة على المنابر، وعده من أفضل القربات والطاعات، وهذه الرسالة تبين الحكم الشرعي في هذا الموضوع وفق ما يراه مؤلفها، وقد كان متأثراً بطبيعة الحال بنشأته العلمية وخلفيته المذهبية، إذ سار في طريق العرض والاستدلال في هذه المسألة وفق طريقة الحنفية في التفريق بين الدليل القطعي والظني عند النظر في الأحكام الشرعية، ولم يتطرق إلى أقوال الأئمة الآخرين إلا في النادر، وربما أن يكون السبب في تأليف هذه الرسالة - وقد تقدم ذكره - قد انعكس على أسلوبها ومنهجها.
كما يمكن أن نلاحظ أن الرسالة - على قيمتها العلمية - عرجت إلى مواضيع أخرى بعيدة عن المضمون مثل تناولها لمسألة الاجتهاد وشروط والمفتي وغيرها من المواضيع، كما يمكن أن نلاحظ أن المؤلف أكثر النقل من كتب الفقه الحنفي، في حين كان يمكن له الاستعانة بأقوال الأئمة الواردة في كتب العقيدة.
بقي أن نشير إلى أن الرسالة تفتقر أيضاً إلى النقل عن كتب الشيعة الإمامية التي ورد فيها سب الصحابة منسوباً إلى بعض أئمتهم، وهذا الأمر ليس بمستغرب خاصة إذا ما علمنا أن الشيعة الإمامية يخفون هذه المؤلفات عن أعين الناس لما فيها من فضائح، ولذا افتقرت ردود أهل السنة المبكرة عليهم من النقل من مؤلفاتهم،
--------------------------------------------
সাফাভীয়রা এই শহরে আগমন করে মিম্বরগুলোতে সাহাবায়ে কেরামের প্রতি গালিগালাজ করার ঘোষণা দেয়। আহলে সুন্নতের আলেমগণ এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা হেরাতের জামে মসজিদের খতিব শায়খ মুইন উদ্দিন আল-আইজিকে হত্যা করে। এরপর শাহ ইসমাইল সাফাভীয়র হেরাতে প্রবেশের সময় তারা আল্লামা তাফতাজানির নাতিকে হত্যা করে। এই দুই শহীদ শায়খই ছিলেন মোল্লা আল-কারির উস্তাদ (১)।
মিম্বরগুলোতে প্রকাশ্যভাবে সাহাবায়ে কেরামকে গালিগালাজ করা এবং একে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত ও আনুগত্যের কাজ মনে করা এই দলের বিধান (হুকুম) নিয়ে আহলে সুন্নতের আলেমদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অত্র রিসালাহটি (পুস্তিকা) লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এই বিষয়ের শরয়ী বিধান স্পষ্ট করে। স্বাভাবিকভাবেই তিনি তার ইলমি বেড়ে ওঠা ও মাযহাবী প্রেক্ষাপট দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। কারণ তিনি শরয়ী বিধান পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অকাট্য (কাতঈ) ও ধারণাপ্রসূ (যন্নী) দলিলের মধ্যে পার্থক্য করার হানাফী পদ্ধতি অনুসরণ করে বিষয়টি উপস্থাপন ও দলিলপ্রমাণ পেশ করেছেন। অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্র ব্যতীত তিনি অন্য ইমামদের মতামতের অবতারণা করেননি। সম্ভবত এই রিসালাহটি রচনার যে কারণ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, তা এর রচনাশৈলী ও পদ্ধতির ওপর প্রভাব ফেলেছে।
আরও লক্ষ্য করা যায় যে, রিসালাহটি—তার ইলমি গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও—মূল প্রসঙ্গের বাইরের কিছু বিষয়ের দিকেও মোড় নিয়েছে, যেমন ইজতিহাদের মাসআলা, মুফতির শর্তাবলি এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়। আরও দেখা যায় যে, লেখক হানাফী ফিকহের কিতাবসমূহ থেকে অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, অথচ তিনি আকিদার কিতাবসমূহে বর্ণিত ইমামগণের বক্তব্যের সাহায্য নিতে পারতেন।
পরিশেষে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এই রিসালাহটিতে ইমামিয়া শিয়াদের কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃতির অভাব রয়েছে, যেগুলোতে তাদের কিছু ইমামের নামে সাহাবায়ে কেরামের প্রতি গালিগালাজ করার কথা বর্ণিত হয়েছে। বিষয়টি আশ্চর্যজনক নয়, বিশেষ করে যখন আমরা জানি যে ইমামিয়া শিয়ারা এসব কিতাব মানুষের চোখ থেকে লুকিয়ে রাখত কারণ এতে অনেক কলঙ্কজনক বিষয় বিদ্যমান ছিল। এই কারণেই তাদের বিরুদ্ধে আহলে সুন্নতের প্রাথমিক যুগের খণ্ডনমূলক রচনাগুলোতে তাদের নিজস্ব কিতাবসমূহের উদ্ধৃতির অভাব পরিলক্ষিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ১১)
وكان لعلماء الهند فيما بعد دورٌ كبير في اختطاط هذا المنهج والسير عليه ونقد عقائد الإمامية من خلال كتبهم، ثم انتقل هذا الأسلوب إلى العراق على يد الأسر العلمية التي ظهرت فيه، خاصة الأسرة الحيدرية والآلوسية.
وصف المخطوط:اعتمدت في تحقيق رسالة (شم العوارض في ذم الروافض) على نسختين:
الأولى: نسخة مكتبة الآثار العامة التابعة للمتحف العراقي ببغداد، وهي نسخة بخط المؤلف، وهي الرسالة الثانية في مجموع يحمل الرقم (35194) ويضم خمس رسائل، وتحتل الصفحات (15 - 63) من هذا المجموع وتبلغ لوحاتها (25) لوحة من الحجم المتوسط، ومسطرتها خمسة وعشرون سطراً، في كل سطر حوالي عشر كلمات، وقياساتها: (21 × 15 سم)، وكتبت هذه النسخة بخط واضح قد شكلت معظم حروف كلماته، ولذلك اعتمدتها أصلاً ورمزت لها بالحرف (م).
الثانية: نسخة دار الكتب المصرية بالقاهرة، وتحمل الرقم (63 توحيد)، لا يعرف ناسخها، ويبلغ عدد لوحاتها (31) لوحة من الحجم المتوسط، ومسطرتها إحدى وعشرون سطراً، في كل سطر تسع كلمات، وقياساتها: (19 × 13 سم)، وكتبت هذه النسخة بخط واضح، فيها بعض السقط استدركه الناسخ في حواشي المخطوط، وفي حواشيها أيضاً بعض العناوين التي تشير إلى بعض المواضيع، وقد رمزنا لهذه النسخة بالحرف (د).
وأخيراً نود أن نشير إلى أن صيغة الصلاة في (د) قد جاءت هكذا: (صلى الله تعالى عليه وسلم) في حين أن صيغة الصلاة في (م) قد جاءت هكذا صلى الله عليه وسلم فجعلنا الصلاة كما في نسخة (د)، كما وردت كانت هناك صيغة
পরবর্তীকালে ভারতের আলেমদের এই পদ্ধতি প্রণয়ন, এর অনুসরণ এবং তাদের রচিত গ্রন্থসমূহের মাধ্যমে ইমামিয়া আকীদা সমালোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। অতঃপর এই ধারাটি ইরাকে আবির্ভূত ইলমি পরিবারগুলোর মাধ্যমে সেখানে স্থানান্তরিত হয়, বিশেষ করে হায়দারি ও আলূসি পরিবারের হাত ধরে।
পাণ্ডুলিপির বিবরণ:'শাম্মুল আওয়ায়িদ ফি যাম্মির রাওয়াফিয' রিসালাহটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি:
প্রথমটি: বাগদাদের ইরাকি মিউজিয়ামের অধীনস্থ সাধারণ প্রত্নতাত্ত্বিক গ্রন্থাগারের (মাকতাবাতুল আসার আল-আম্মাহ) কপি। এটি লেখকের নিজ হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি। এটি ৩৫১৯৪ নম্বর সম্বলিত একটি সংকলনের দ্বিতীয় রিসালাহ, যাতে মোট পাঁচটি রিসালাহ রয়েছে। এটি উক্ত সংকলনের ১৫ থেকে ৬৩ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এর পৃষ্ঠাসংখ্যা মাঝারি আকারের ২৫টি। প্রতি পৃষ্ঠায় পঁচিশটি করে লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় দশটি করে শব্দ রয়েছে। এর পরিমাপ ২১ × ১৫ সেমি। এই কপিটি অত্যন্ত স্পষ্ট অক্ষরে লেখা এবং এর অধিকাংশ শব্দই হরকতযুক্ত। এ কারণে আমি এটিকে মূল পাণ্ডুলিপি হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং একে (মিম) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
দ্বিতীয়টি: কায়রোর দারুল কুতুব আল-মিসরিয়ার কপি, যার নম্বর (৬৩ তাওহীদ)। এর অনুলিপিকারীর নাম জানা যায়নি। এর পৃষ্ঠাসংখ্যা মাঝারি আকারের ৩১টি। এর প্রতি পৃষ্ঠায় একুশটি লাইন এবং প্রতি লাইনে নয়টি করে শব্দ রয়েছে। এর পরিমাপ ১৯ × ১৩ সেমি। এই কপিটি স্পষ্ট অক্ষরে লেখা হলেও এতে কিছু অংশ বাদ পড়ে গিয়েছিল, যা অনুলিপিকারি পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় সংশোধন করে দিয়েছেন। এছাড়া এর পার্শ্বটীকায় কিছু শিরোনামও রয়েছে যা বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে। এই কপিটিকে আমরা (দাল) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
পরিশেষে আমরা উল্লেখ করতে চাই যে, (দাল) পাণ্ডুলিপিতে দরুদ পাঠের ভঙ্গি ছিল এরূপ: (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম); পক্ষান্তরে (মিম) পাণ্ডুলিপিতে দরুদ পাঠের ভঙ্গি ছিল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমরা দরুদ পাঠের ক্ষেত্রে (দাল) পাণ্ডুলিপির ভঙ্গিটিই গ্রহণ করেছি, যেভাবে সেখানে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ১২)
أخرى للصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، جاءت في أغلب الأحيان في (م) هكذا عليه السلام في حين أنها كانت في (د) هكذا عليه الصلاة والسلام، فأثبتنا الصيغة الأخيرة، إلا في بعض الحالات التي جاءت الصيغة متوافقة، ولم نشر إلى ذلك عند المقابلة كي لا نثقل الهامش.
منهج التحقيق:يمكن بيان المنهج الذي اعتمدناه في تحقيق هذه الرسالة بالنقاط الآتية:
1. نسخ الرسالة بالاعتماد على النسخة (م) لما فيما من ميزات، تمت الإشارة إليها سابقاً، ثم مقابلتها بالنسخة (د) وإثبات الفروق في هامش الرسالة، فاثبتنا في المتن ما اعتبرناه صحيحاً، كما قمنا بتصحيح بعض الألفاظ التي ترجحت لنا عند المقابلة.
2. عزو الآيات القرآنية إلى مكانها من السور والآيات في المصحف، ووضع الآية بالقوس المشكل ثم تخريج رقم الآية واسم السورة وإلحاقه بالآية بقوسين معقوفين في متن الرسالة.
3. وضع عناوين جانبية للمخطوط بالاستعانة بما هو موجود في نسخة (د)، أو بما رأيناه مناسباً من عندنا، وقد ميزنا عناويننا بقوسين معقوفتين.
4. تخريج الأحاديث والآثار بذكر المصدر الذي يذكره المؤلف بالجزء والصفحة والرقم، واعتمدنا ذكر الكتاب والباب إذا خرج الحديث من الكتب الستة، ثم اتبعنا ذلك بذكر صحة الحديث أو ضعفه حسب قول أئمة الشأن في ذلك، خاصة أحكام الشيخ محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله على الأحاديث.
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের ক্ষেত্রে অন্যান্য উদাহরণও রয়েছে; যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'ম' পাণ্ডুলিপিতে 'আলাইহিস সালাম' হিসেবে এসেছে, যেখানে 'দ' পাণ্ডুলিপিতে তা ছিল 'আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম'। আমরা পরবর্তী রূপটিই সাব্যস্ত করেছি, তবে কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত যেখানে উভয় পাণ্ডুলিপির শব্দরূপ অভিন্ন ছিল। আমরা পাঠ্য-তুলনার সময় পাদটীকার ওপর বোঝা না বাড়াতে এগুলো পৃথকভাবে উল্লেখ করিনি।
সম্পাদনা পদ্ধতি:এই পুস্তিকাটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমরা যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছি, তা নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট করা সম্ভব:
১. 'ম' পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে এই পুস্তিকাটি অনুলিপি করা হয়েছে, কারণ এতে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। অতঃপর একে 'দ' পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং পার্থক্যসমূহ পুস্তিকার পাদটীকায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আমরা মূল পাঠে (মতন) যা সঠিক বলে বিবেচনা করেছি তা-ই সাব্যস্ত করেছি। এছাড়া পাঠ্য-তুলনার সময় যে শব্দগুলো আমাদের কাছে অধিক যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে, আমরা সেগুলো সংশোধন করে দিয়েছি।
২. কুরআনের আয়াতসমূহকে পবিত্র কুরআনের নির্দিষ্ট সূরা ও আয়াতের নম্বরের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আয়াতটিকে কারুকার্যমণ্ডিত বন্ধনীতে রাখা হয়েছে এবং এরপর আয়াতের নম্বর ও সূরার নাম উল্লেখ করে তা মূল পাঠের ভেতরেই চতুষ্কোণ বন্ধনীতে আয়াতের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
৩. 'দ' পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান শিরোনামের সাহায্যে অথবা আমাদের নিজস্ব বিবেচনায় যা উপযুক্ত মনে হয়েছে তার ভিত্তিতে পাণ্ডুলিপিটির জন্য পার্শ্ব-শিরোনাম সংযোজন করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে দেওয়া শিরোনামগুলোকে আমরা চতুষ্কোণ বন্ধনী দ্বারা পৃথক করে দেখিয়েছি।
৪. লেখক যে সকল উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন, তার খণ্ড, পৃষ্ঠা ও নম্বর উল্লেখপূর্বক হাদীস ও আসারসমূহের উৎস নির্দেশ (তাখরীজ) করা হয়েছে। যদি হাদীসটি কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি প্রধান হাদীস গ্রন্থ) থেকে সংকলিত হয়ে থাকে, তবে আমরা কিতাব ও অধ্যায়ের নাম উল্লেখ করার নীতি অনুসরণ করেছি। অতঃপর এই শাস্ত্রের ইমামগণের ভাষ্য অনুযায়ী হাদীসের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ করে হাদীসসমূহের ওপর শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রদত্ত হুকুম বা সিদ্ধান্তসমূহ অনুসরণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
5. تخريج الروايات الواردة عن السلف من الكتب المعتمدة التي خرجت هذه الآثار.
6. ذكر الآراء الفقهية التي أشار إليها المؤلف من كتب الحنفية، وبما أن المؤلف اكتفى في معظم الأحيان بذكر آراء الأحناف، فقد أشرنا في الهامش إلى أراء الأئمة الثلاثة في المسألة التي يذكرها المؤلف من كتب الفقه المعتمدة.
7. التعريف بالأعلام الوارد ذكرهم في الرسالة بترجمة مختصرة مع ذكر مصدرين على الأقل من مصادر ترجمتهم، كما تم التعريف بالكتب التي ذكرها المؤلف في متن الرسالة، حيث ذكرنا اسم مؤلفه ووفاته ومذهبه.
8. تحقيق بعض المسائل التي ذكرت في متن الرسالة مما خالف في المؤلف عقيدة أهل السنة والجماعة، وهي قليلة جداً، ثم أثبتنا في الهامش القول الصائب من كتب أهل السنة والجماعة.
9. إعداد قائمة بمصادر ومراجع التحقيق.
في الختام لا بد من شكر أهل الفضل الذين ساعدونا في ضبط النص وتقويمه، فجزاه الله خيراً.
د. مجيد الخليفة
27 محرم 1425هـ
نسأله تعالى أن يجعل عملنا هذا خالصاً لوجهه الكريم، وأن يتجاوز عن سيئاتنا، ويختم لنا بالحسنى، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
৫. পূর্বসূরিদের (সালাফ) থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো নির্ভরযোগ্য মূলগ্রন্থসমূহ থেকে সংকলন ও উৎস নির্দেশ (তাখরিজ) করা হয়েছে।
৬. হানাফী মাযহাবের কিতাবসমূহ থেকে লেখক যেসব ফিকহী মতামতের ইঙ্গিত দিয়েছেন তা উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু লেখক অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল হানাফীদের মতামত উল্লেখ করার ওপর ক্ষান্ত হয়েছেন, সেহেতু লেখক কর্তৃক আলোচিত মাসআলায় অপর তিন ইমামের মতামতও নির্ভরযোগ্য ফিকহ গ্রন্থাবলি থেকে আমরা পাদটীকায় উল্লেখ করেছি।
৭. এই গবেষণাপত্রে উল্লিখিত বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত জীবনী অন্তত দুটি তথ্যসূত্রের উল্লেখসহ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি মূল পাণ্ডুলিপিতে লেখক যেসব গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেছেন সেগুলোরও পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে গ্রন্থকারের নাম, মৃত্যুসাল এবং তাঁর মাযহাব উল্লেখ করা হয়েছে।
৮. মূল পাণ্ডুলিপিতে আলোচিত এমন কিছু বিষয়ের তাহকীক বা বিশ্লেষণ করা হয়েছে যেখানে লেখক আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন—যা সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য। অতঃপর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের প্রামাণ্য গ্রন্থাবলির আলোকে আমরা পাদটীকায় সঠিক মতটি প্রতিষ্ঠিত করেছি।
৯. সম্পাদনায় ব্যবহৃত তথ্যসূত্র ও গ্রন্থপঞ্জির একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
পরিশেষে, সেই সকল গুণীজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা অপরিহার্য যারা আমাদের এই পাঠ্যলিপি বিন্যাস ও সংশোধনে সহায়তা করেছেন; আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
ড. মাজীদ আল-খলীফা
২৭ মহররম ১৪২৫ হিজরি
আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই কাজকে কেবল তাঁর মহিমান্বিত সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, আমাদের পাপাচারসমূহ মার্জনা করেন এবং আমাদের শেষ পরিণতি যেন কল্যাণের সাথে দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাশালী।
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
شَمُّ العَوارِضِ في ذمِّ الرُّوَافِضِ
রাফেজিদের নিন্দায় আপদসমূহের ঘ্রাণ
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ২১)
بسم الله الرحمن الرحيم
[مقدمة المؤلف]الحمدُ لخالقِ البَرايَا، وَالشكرُ لوَاهبِ العَطايَا، وَالمَدحُ لِدَافعِ (1) البَلايَا، والصَّلاةُ وَالسّلامُ على سَيدِ الأنبيَاءِ وَسَند الأصفيَاءِ، وعَلى آلهِ وأصحَابهِ الأتقِيَاء، رغماً للخَوارجِ والرّوَافِض مِنْ الأغبيَاء.
أمَّا بعدُ:
فيَقولُ الرّاجي برَّ (2) رَبِهِ البارِي عَلي بن سُلطان محمد القارِي: إنَّ أول مَا يجَبُ على العِبَاد تحسِين الاعتِقاد بِطَريقِ الاعتماد؛ ليَنفَعهُم حيَن المعَاد يومَ التنادِ (3)، وَمِنْ المعلُوم عند أربَابِ العُلُوم وَأصحابِ المفهوم أن مبنى العَقائدِ على الأدلةِ القَطِعية، [لَا عَلى] (4) الحجَج الظنِيّة المفيدَة في المسَائلِ الفقِهيةِ الفَرعية، وَذلكَ لقولِهِ تَعالى في ذَمِّ الكفَّار: {إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَاّ الظَّنَّ وَإِنَّ الظَّنَّ لا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئا ً فَأَعْرِضْ عَنْ مَنْ تَوَلَّى عَنْ ذِكْرِنَا وَلَمْ يُرِدْ إِلَاّ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ذَلِكَ مَبْلَغُهُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اهْتَدَى} [النجم: 28 - 30] وَالآيَاتُ في [هذا] (5) المَعْنى كثيَرة،
--------------------------------------------
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
[লেখকের ভূমিকা]যাবতীয় প্রশংসা সৃষ্টিজগতের স্রষ্টার জন্য, সকল কৃতজ্ঞতা নিয়ামতের দাতার জন্য, এবং যাবতীয় স্তুতি বিপদাপদ দূরকারীর (১) জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবীকূলের সরদার ও মনোনীত বান্দাদের আশ্রয়ের ওপর, এবং তাঁর পুণ্যবান পরিবার ও সঙ্গীগণের ওপর; নির্বোধ খারেজি ও রাফেজিদের অপদস্থ করে।
অতঃপর:
তাঁর স্রষ্টা রবের অনুগ্রহ (২) প্রত্যাশী আলী বিন সুলতান মুহাম্মদ আল-কারী বলছেন: নিশ্চয়ই বান্দাদের ওপর সর্বপ্রথম যা ওয়াজিব, তা হলো নির্ভরযোগ্য পন্থায় আকিদা বা বিশ্বাসের সংশোধন করা; যাতে তা হাশরের দিনে বা পুনরুত্থানের সময় (৩) তাদের উপকারে আসে। বিজ্ঞ আলেম ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট এটি সুবিদিত যে, আকিদার ভিত্তি হলো সুনিশ্চিত দলিলের ওপর, শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত ফিকহি মাসআলায় ব্যবহৃত ধারণাপ্রসূত প্রমাণের ওপর [নয়] (৪)। এর কারণ হলো কাফেরদের নিন্দা জ্ঞাপন করে মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কেবল ধারণারই অনুসরণ করে, অথচ সত্যের মোকাবিলায় ধারণার কোনো মূল্য নেই। অতএব আপনি তার থেকে বিমুখ হোন যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হয় এবং কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে। তাদের জ্ঞানের দৌড় এ পর্যন্তই। নিশ্চয় আপনার রব ভালো করেই জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি ভালো করেই জানেন কে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে।} [সূরা আন-নাজম: ২৮-৩০]। এই (৫) অর্থে আয়াত আরও অনেক রয়েছে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ২২)
والأحادِيثُ في المبنى كثيرة (1) شِهيرة، والإجماعُ منعقد عليَه [عند] (2) من يؤخذ مَعِرفة لدَيه.
وإنما الخلاف في أنَّ إيمانَ المقلدِ هَلْ هُوَ صحِيحٌ أم لا؟ [1/ب] فالجمهُور على أنْهُ يَصِحّ إلا أنه مُؤاخذ بتركِ ما يجَبُ علَيهِ، والمحققونَ لا يَميلُونَ إليَهِ، حَتى إمُامنَا الأعظم وَهمامَنا الأفخم (3) أوجَب الإيمان بمجردِ العَقل، وَلو لم يبعثِ الرسُل، ولم يظهر النقل، ويؤيّدُه قَوله تعَالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْأِنْسَ إلَاّ لِيَعْبُدُونِ} [الذريات: 56] أي ليعرفون (4)، كما فسَّرهُ حَبرُ الأمَّةِ ومقتدى الأئَمة (5).
--------------------------------------------
মূল কাঠামোর বিষয়ে হাদিসসমূহ প্রচুর (১) ও সুপ্রসিদ্ধ এবং যাদের নিকট থেকে জ্ঞান আহরণ করা হয় তাদের মতে এ ব্যাপারে ঐকমত্য (ইজমা) প্রতিষ্ঠিত।
বিরোধ কেবল মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারীর ইমান সঠিক কি না তা নিয়ে। [১/খ] অধিকাংশ আলিমের মতে তা সঠিক, তবে আবশ্যকীয় বিষয় (দলিল অন্বেষণ) বর্জনের কারণে সে দায়ী থাকবে। কিন্তু গবেষক (মুহাক্কিক) আলিমগণ এই মতের প্রতি ঝুঁকেননি। এমনকি আমাদের ইমামে আযম ও মহান নেতা (৩) কেবল বিবেকের মাধ্যমেই ইমান আনয়ন করা ওয়াজিব করেছেন, যদিও কোনো রাসুল প্রেরিত না হতো কিংবা কোনো শ্রুত প্রমাণ প্রকাশিত না হতো। আর মহান আল্লাহর এই বাণী একে সমর্থন করে: {আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আয-যারিয়াত: ৫৬], অর্থাৎ যেন তারা আমাকে চিনতে পারে (৪), যেমনটি উম্মতের বিদগ্ধ পন্ডিত ও ইমামগণের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব (৫) ব্যাখ্যা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وأما قوله تعالى (1): {وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولاً} [الإسراء: 15] فالمرادُ بِهِ عَذاب الدنيَا دُونَ عَذابِ الآخِرةِ (2)، أو يجعَل العَقل أيضاً رَسُولاً؛ لأن بِهِ إلى مَعرفةِ الحَقِّ وصُولاً وَبُدونَه، حَتى معَ وجُودِ الرسول لم يكنْ حصُولاً (3).
ثمَّ مِنْ الغِرَيبِ ما وَقعَ في القريب أنه صدر عَني في بعضِ مَجالِسِ درسي وَمجامع أنسِي: أن سَبَّ الصحَابة ليسَ كفراً (4) بالدلِيلِ القطعي بَل بالظني، وَإنَّما يقتلُ السَاب للأصحَاب في مَذهَبنا سَياسَة للِدوَاب عَن قلةِ الآدابِ في هَذا البابِ، فتوشوش خاطر بَعض الحاضِرينَ مِنْ الرجَالِ، مِمنْ يشبه الأعوَر الدَّجال، الذِي لم يفرقْ بَينَ الحَقِّ مِنْ الأقوالِ، وبَينَ البَاطلِ الصادرِ عَنْ أهلِ الضلالِ، وَاغتَر بمنْ (5) قرأ بَعض المقَدمَاتِ الرسميَّةِ مِنْ العلُومِ الغريبةِ الوَهِمية، ولم يُميزْ بَينَ العَقائدِ القَطِعِية وَالفَوائدِ الظنيَّة، حَيْثُ ألتقط عَقيدَته من ألسِنةِ (6) العَوامِ، أو مِنْ آبائِهِ الذِينَ لم يكونُوا مِنْ العُلمَاءِ الأعلامِ، وَقَدْ قالَ تعَالى في ذمِّ هَؤلاءِ الذِينَ كالأنْعَامِ، قالوا: {إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ}
--------------------------------------------
আর মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে (১): {আর আমরা রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকে শাস্তি প্রদান করি না} [আল-ইসরা: ১৫], এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পার্থিব জগতের শাস্তি, পরকালীন শাস্তি নয় (২); অথবা বিবেককেও একজন 'রাসূল' (প্রেরিত সত্তা) হিসেবে গণ্য করা হবে; কারণ বিবেকের মাধ্যমেই সত্যের পরিচয় লাভ করা সম্ভব এবং বিবেক ছাড়া এমনকি রাসূলের উপস্থিতিতেও তা অর্জন করা সম্ভব হতো না (৩)।
অতঃপর অতি সম্প্রতি এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে যে, আমার কোনো এক পাঠদান মজলিসে এবং ঘনিষ্ঠ জনসমাবেশে আমার পক্ষ থেকে এই কথা প্রকাশিত হয়েছে যে: সাহাবায়ে কিরামকে গালি দেওয়া অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে কুফরি নয় (৪), বরং ধারণামূলক (জন্নী) দলিলের ভিত্তিতে। আর আমাদের মাযহাবে সাহাবায়ে কিরামকে গালিদানকারীকে কেবল আদব ও শিষ্টাচারের অভাবজনিত কারণে পশুর ন্যায় দণ্ড প্রদানের (সিয়াসা) উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়। এতে উপস্থিত কিছু ব্যক্তির মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যারা সেই একচক্ষু দাজ্জালের সদৃশ, যে সত্যবাণী এবং ভ্রান্তপথের অনুসারীদের বাতিল কথার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। সে এমন ব্যক্তির দ্বারা প্রলুব্ধ হয়েছে (৫), যে কেবল বাহ্যিক ও কাল্পনিক কিছু শাস্ত্রের প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করেছে কিন্তু অকাট্য আকীদা এবং ধারণামূলক বিষয়াবলির মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। যেহেতু সে তার আকীদা সাধারণ মানুষের মুখে শুনে কিংবা তার পিতৃপুরুষদের থেকে গ্রহণ করেছে, যারা প্রথিতযশা আলেম ছিলেন না। অথচ আল্লাহ তায়ালা এই চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় ব্যক্তিদের নিন্দা করে বলেছেন: {আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
[الزخرف: 23] أي: على أنوارِهِم مُهتَدونَ (1) و: {كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} [المؤمنون: 53] وَمُعتَمدُونَ (2).
فَتركَ صُحبتنا وحَضرتنا، وَاختارَ غيبتنا وَعتبنا (3)، وكانَ الوَاجبُ عليِهِ مِنْ الأدَبِ لدَيِهِ (4) أنْ يُغْمضَ عينه مِنْ بَعضِ عيُوبنا، لَو تحقق شَيْءٌ مِنْ ذنُوبنِا رعايَة لِحفظِ قلوُبنا، إذْ غايَته أنَّه إذَا (5) وقع خطأ مِنا والمجتهد قَدْ يخطئ في مَذهَبنِا، أو انفَردنا بهذا القَوْلِ عَنْ غيرنا أو تبعنا أحداً مِنْ مَشائخِنَا [2/أ] فتَعيَن عَلَيْهِ أنْ يَأتِينا بنقلٍ لدَيه، أو روَايةٍ وَصَلتْ إليَهِ، أو يبحَث معَنَا، ليظهرَ مَا عِنْدَنا فيَقبلهُ مِنا أو يَردهُ عَلينَا، فنَقبلهُ [منه] (6) أو نَدفعهُ عَنا، كما هُو طِريقة العُلَماء وَالطلَبة مِنْ الفُضَلاءِ.
هَذا الإمَام الأعظم وأصحَابه في مَقَامِهِ الأفخمِ، كانوا يتَباحثونَ في المسَائل، ويتَناقشونَ في الدلائلِ، ويتَنافسونَ في الفضائلِ، فإمّا أنْ يَرِجْعَ الإمَامُ في أقِوالهِم، أو يَرجعونَ (7) إلى قولِهِ بتحسِين أحَوالهم، وكذَا كَانَ حَالُ السَّلفِ مِنْ الصَحابةِ والتَابعينَ في مجَالسِهم الجامِعينَ، يتَذاكرونَ في العِلمِ ويتبَاحثونَ بالحِلمِ هنالكَ،
--------------------------------------------
[যুখরুফ: ২৩] অর্থাৎ: তারা তাদের আলোকবর্তিকা দ্বারা সুপথপ্রাপ্ত (১) এবং: {প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত} [মুমিনুন: ৫৩] এবং তার ওপরই নির্ভরশীল (২)।
অতঃপর তিনি আমাদের সান্নিধ্য ও উপস্থিতি ত্যাগ করেছেন এবং আমাদের অনুপস্থিতি ও ভর্ৎসনা বেছে নিয়েছেন (৩), আর তার কাছে শিষ্টাচারের দাবি ছিল এই যে (৪) তিনি যেন আমাদের কিছু দোষের প্রতি দৃষ্টিপাত না করেন, যদি আমাদের কোনো গুনাহ প্রকাশও পেত, তবে আমাদের হৃদয়ের সংহতি রক্ষার খাতিরে তা এড়িয়ে যেতেন; কেননা বিষয়টি বড়জোর এই যে, যদি (৫) আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ভুল হয়েই থাকে—আর আমাদের মাযহাব অনুযায়ী মুজতাহিদও ভুল করতে পারেন—অথবা আমরা যদি অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে এই মত পোষণ করি কিংবা আমাদের শায়খদের কাউকে অনুসরণ করে থাকি [২/ক], তবে তার জন্য আবশ্যক ছিল যে, তিনি আমাদের কাছে তার নিকটস্থ কোনো উদ্ধৃতি পেশ করবেন, অথবা তার কাছে পৌঁছেছে এমন কোনো বর্ণনা নিয়ে আসবেন, কিংবা আমাদের সাথে আলোচনা করবেন, যাতে আমাদের নিকট যা আছে তা প্রকাশ পায় এবং তিনি আমাদের থেকে তা গ্রহণ করতে পারেন অথবা আমাদের ওপর তা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন, অতঃপর আমরাও তা [তার থেকে] (৬) গ্রহণ করতে পারি অথবা তা খণ্ডন করতে পারি; যেমনটি বিদগ্ধ উলামায়ে কেরাম ও জ্ঞানান্বেষীদের পদ্ধতি।
এই ইমামে আজম এবং তাঁর মহান মর্যাদাসম্পন্ন সঙ্গীগণ, তাঁরা মাসআলাসমূহ নিয়ে পরস্পর গবেষণা করতেন, দলীল-প্রমাণ নিয়ে আলোচনা করতেন এবং শ্রেষ্ঠত্বের পথে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতেন; ফলে হয় ইমাম তাঁদের বক্তব্যে প্রত্যাবর্তন করতেন, নতুবা তাঁরা তাঁদের অবস্থার সংশোধনের মাধ্যমে ইমামের বক্তব্যে প্রত্যাবর্তন (৭) করতেন। আর সাহাবী ও তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত সালাফদের অবস্থাও তাদের সমাবেশগুলোতে এমনই ছিল; তাঁরা সেখানে জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতেন এবং সহনশীলতার সাথে গবেষণা করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بخَلافِ الخلف حَيْثُ كانَ خلقُهُم على خَلافِ ذلَكَ.
وكذَا لمَّا منعَ الإمَامُ وَلدَه حَماد (1) عَنْ البَحثِ في علمِ الكلامِ، وأجَابَ عَنْه بأنَّي رَأيتك تَبحَثُ في هَذا المرامِ، فَقَالَ: نَعَمْ إنَّي كُنْتُ في الجنَّةِ مع صَاحِبي وأخَاف عَليِه مِنْ أنْ يخطئ في ذلكَ المقامِ، وأنتم في هذِه الأيامِ تتَباحثونَ، وكلٌّ (2) منكِم يريدُ أنَّ صَاحبَه يقع في الكفرِ والملامِ، بَلْ أنتم بهذَا تَفرحونَ وتَتفاخرونَ، ومِنْ أرَادَ أنْ يذلَّ صَاحِبَه، وَيكفر كَفر قَبْلَ أنْ يكفرَ صَاحِبَه.
ثم أغرب مِنْ هَذَا أنَّه انتقل مِنا إلى بَعضِ إخوانِنا مِمنْ (3) يستعيض مِنْ عَدوِنا، وَيفيض مِنْ مَدَدنا حَيثُ لم يلقَ مِنْهُ مِنْ بَعدنا، فحرم مِن شمة وردنا وَسَابقة وَردنا بَعد اختِيار بُعدنا.
وَمِنْ اللطائفِ في مَراتبِ الظرائف، أنْ بَعضَ طلبَة العِلم الشريف بَحث مع شيخه في مَحفلٍ منيف (4)، وكلما أتَاه الأستَاذ في دَفع مَا أورده عليه من الإيراد نقضه، وأجَابَ بما يُناسِبُهُ (5) مِنْ الأسِتَاذ، فلمَّا عَجزَ عَنه شيخه في الجوَابِ، قالَ لهُ في مَقامِ العتاب: ((مَا أحسَن دأبكم في مُرَاعَاة الآدَاب، أنْه إذَا وَقعَتْ [زلة مِنْ معلمكم] (6) في فصِلِ الخطابِ، تَتعلقونَ بحلقه ولا تتَحملونَ بَعضَ غلطِهِ وزيفِهِ،
--------------------------------------------
পূর্বসূরিদের বিপরীতে ছিল পরবর্তী প্রজন্মের (খালাফ) অবস্থা, যেহেতু তাদের স্বভাব ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত।
অনুরূপভাবে, যখন ইমাম (আবু হানিফা রহ.) তার পুত্র হাম্মাদকে (১) ইলমুল কালাম বা ধর্মতাত্ত্বিক বিতর্ক থেকে নিষেধ করলেন, তখন তিনি (হাম্মাদ) উত্তর দিলেন: আমি তো আপনাকে এই বিষয়েই গবেষণা ও আলোচনা করতে দেখেছি। তিনি (ইমাম) বললেন: হ্যাঁ, আমি যখন আমার সঙ্গীর সাথে (আলোচনায়) থাকতাম, তখন এমনভাবে থাকতাম যেন আমি জান্নাতে আছি এবং এই ভয়ে থাকতাম পাছে সে এই ক্ষেত্রে কোনো ভুল করে বসে। আর তোমরা বর্তমানে বিতর্ক করো এমন অবস্থায় যে, তোমাদের প্রত্যেকেই (২) চায় তার সঙ্গী যেন কুফরি ও নিন্দার মধ্যে নিপতিত হয়। বরং তোমরা এতে আনন্দিত হও এবং গর্ববোধ করো। অথচ যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে লাঞ্ছিত করতে চায় এবং তাকে কাফির সাব্যস্ত করতে চায়, সে তার সঙ্গীকে কাফির বলার আগেই নিজে কুফরিতে লিপ্ত হয়।
এরপর এর চেয়েও আশ্চর্যজনক বিষয় হলো যে, এটি আমাদের থেকে আমাদের এমন কিছু ভাইদের কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে (৩) যারা আমাদের শত্রুর নিকট থেকে বিনিময় গ্রহণ করে এবং আমাদের সাহায্য থেকে বিমুখ হয়, অথচ আমাদের পরে তারা তাদের কাছ থেকে কিছুই পায়নি। ফলে আমাদের থেকে দূরত্ব বেছে নেওয়ার পর তারা আমাদের সান্নিধ্যের সুবাস এবং আমাদের পূর্ববর্তী প্রস্রবণের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
চমকপ্রদ ও সূক্ষ্ম কৌতুকগুলোর মধ্যে একটি হলো যে, এক ইলমে দ্বীনের ছাত্র এক মহান মজলিসে (৪) তার শায়খের সাথে বিতর্ক করছিল। ওস্তাদ তার উত্থাপিত আপত্তির জবাবে যা কিছুই পেশ করতেন, ছাত্রটি তা খণ্ডন করত এবং ওস্তাদের সাথে মানানসই (৫) উত্তর দিত। যখন শায়খ তার উত্তর দিতে অক্ষম হলেন, তখন তাকে তিরস্কারের সুরে বললেন: "তোমাদের আদব বা শিষ্টাচার রক্ষার পদ্ধতি কতই না চমৎকার! যখন তোমাদের শিক্ষকের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কোনো পদস্খলন ঘটে (৬), তখন তোমরা তার কণ্ঠনালী চেপে ধরো এবং তার সামান্য ভুল বা বিচ্যুতিটুকুও সহ্য করো না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فما أحسنَ آدابَ الصَّوفيّة والمريدين، حَيثُ يصَدقونَ [2/ب] مَشائخهم، ولو تَكلمُوا بما يخَالف مِنْ أمُورِ الدينِ، فقالَ (1) التلميذ هكذا دَأبهم وآدابهم، وعلى نَحو هَذَا العُلمَاء وَأصحَابهم (2)، ثُمَّ (3) عَلم كلُّ أُناسٍ مَشربهم، وعَرَف كلُّ طَائفةٍ مذهَبهم.
إن قتل الأنبياء وطعنهم في الأنساب (4) كفر:
ثُمَّ اعلم (5) أنْ مِنْ القَواعِدِ القطعِيَّة في العَقائدِ الشرعيّةِ، أن قتل الأنبياء وَطعنهم في الأنْساب (6) كفر بإجماعِ العُلماء، فمَنْ قتلَ نبياً أو قتَله نبيٌّ فهو مِنْ أشقى الأشقياء (7)، وأمَّا قتل العُلماءِ والأوليَاءِ وسبُّهم على ألسنَةِ الأغبياءِ، فلَيْسَ بكفرٍ إلَاّ إذَا كَانَ [عَلى] (8) وَجه الاستحلالِ أَوْ الاستخفافِ، كما هُوَ ظَاهر عندَ أربَابِ الإنصاَفِ دُونَ أهلِّ التعَصبِ وَالاعتسَافِ (9).
--------------------------------------------
সূফী ও মুরিদদের শিষ্টাচার কতই না চমৎকার! যেখানে তারা তাদের শায়খদের সত্যয়ন করে [২/ব], যদিও তাঁরা দ্বীনি বিষয়ের পরিপন্থী কোনো কথা বলেন। ছাত্রটি (১) বলল, এটাই তাদের অভ্যাস ও শিষ্টাচার; আর আলেমগণ ও তাঁদের অনুসারীদেরও (২) একই অবস্থা। অতঃপর (৩) প্রত্যেক মানুষই তাদের নিজস্ব পানের উৎস সম্পর্কে অবগত হলো এবং প্রতিটি দল তাদের নিজস্ব মতাদর্শ চিনে নিল।
নিশ্চয়ই নবীগণকে হত্যা করা এবং তাঁদের বংশমর্যাদা নিয়ে কটূক্তি করা (৪) কুফরি:
অতঃপর জেনে রাখো (৫) যে, শরয়ি আকিদার অকাট্য মূলনীতিসমূহের মধ্যে এটি অন্যতম যে, নবীগণকে হত্যা করা এবং তাঁদের বংশমর্যাদা নিয়ে কটূক্তি করা (৬) আলেমদের সর্বসম্মত মতে কুফরি। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো নবীকে হত্যা করল অথবা যাকে কোনো নবী হত্যা করলেন, সে সর্বাধিক দুর্ভাগাদের (৭) অন্তর্ভুক্ত। আর নির্বোধদের পক্ষ থেকে আলেম ও ওলিদের হত্যা করা বা তাঁদের গালি দেওয়া কুফরি নয়, যতক্ষণ না তা [বৈধ] (৮) মনে করে কিংবা তুচ্ছজ্ঞান করে করা হয়; যেমনটি ইনসাফপন্থীদের নিকট সুস্পষ্ট, গোঁড়া ও অবিচারকারীদের নিকট নয় (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قذف عائشة رضي الله عنها:فَقاتلُ عثمَان بن عَفَّان وعَلي بن أبي طالب رضي الله عنهما، لم يَقل بكُفْرهِ (1) أحَدٌ مِنْ العُلماء إلَاّ الرّوَافِض في الثاني وَالخَوارج في الأول، وَأما مَنْ قذَفَ عَائشة فكَافرٌ بالإجماعِ؛ لمِخالفَته نص الآياتِ المبرئة (2) لَها مِنْ غَيْرِ النزاع، وكَذا مَنْ أنكر صُحبَة أبي بكرٍ الصديق [رضي الله عنه] (3) كفر؛ لإنكاره مَا أثَبتَ اللهُ بإخبَارِهِ في كتابه حَيثُ قالَ تعالى: {إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا} [التوبة: 40] (4) بخلافِ مَنْ أنكر صُحَبة عُمر أو عَلي لعَدَمِ تضَمنه مُخَالفة الكتاب، وَإنْ كاَنَ صِحَّة صُحبتهما بِطريقِ التوَاتر في هَذا البَابِ، لأن إنكار كل مُتوَاتِر لا يكُون كفراً في معرض الكتاب (5).
ألا ترى أن مَنْ أنكرَ [جود حاتم (6) بل] (7) وجُوده، أو عَدالة نوشروَان (8) وَشهوده لا يصَير كافِراً في هذا الصّورَة؛ لأن إنكار مثل هذا ونحوه ليسَ مِما عُلِمَ
--------------------------------------------
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর প্রতি অপবাদ আরোপ:উসমান ইবন আফফান এবং আলী ইবন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হত্যাকারীদের সম্পর্কে কোনো আলেমই কাফের হওয়ার কথা বলেননি (১), কেবল দ্বিতীয়জনের (আলী) ক্ষেত্রে রাফেযীগণ এবং প্রথমজনের (উসমান) ক্ষেত্রে খারেজীগণ ছাড়া। আর যে ব্যক্তি আয়েশার প্রতি অপবাদ আরোপ করে, সে সর্বসম্মতভাবে (ইজমা অনুযায়ী) কাফের; কারণ সে কোনো দ্বিমত ছাড়াই তাঁকে পবিত্রতা প্রদানকারী কুরআনের আয়াতের সুস্পষ্ট ভাষ্যের বিরোধিতা করেছে (২)। তদ্রূপ যে ব্যক্তি আবু বকর সিদ্দীক [রাযিয়াল্লাহু আনহু]-এর সাহচর্য (৩) অস্বীকার করে, সেও কাফের হবে; কারণ সে আল্লাহর কিতাবে প্রদত্ত সেই সংবাদকে অস্বীকার করছে যা তিনি সুনিশ্চিত করেছেন, যেখানে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {যখন তিনি তাঁর সঙ্গীকে বলছিলেন, ‘চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন’} [আত-তাওবাহ: ৪০] (৪)। তবে উমর বা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাহচর্য অস্বীকারকারী ব্যক্তির বিষয়টি এর থেকে ভিন্ন, কারণ তা কিতাবুল্লাহর (কুরআনের) বিরোধিতার শামিল নয়, যদিও এই বিষয়ে তাঁদের সাহচর্যের বিষয়টি ‘তাওয়াতুর’ (অবিচ্ছিন্ন জনশ্রুতি) পর্যায়ে অকাট্য। কেননা কিতাবুল্লাহর বর্ণনার প্রেক্ষাপটে প্রতিটি মুতাওয়াতির বিষয় অস্বীকার করা কুফরি নয় (৫)।
আপনি কি দেখেন না যে, যে ব্যক্তি [হাতেমের দানশীলতা (৬) বরং] (৭) তাঁর অস্তিত্ব, অথবা নওশেরওয়ানের (৮) ইনসাফ ও তাঁর উপস্থিতিকে অস্বীকার করে, সে এই অবস্থায় কাফের হয় না; কারণ এই জাতীয় বিষয়গুলো অস্বীকার করা এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয় যা অকাট্যভাবে জানা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
مِنْ الدينِ بالضرورَةِ.
مسألة من اعتقد أن سب الصحابة مباح فهو كافر:وَأمَّا مِنْ سبَّ أحَداً مِنْ الصِحَابة، فهوَ فاسِق وَمبتَدع بالإجماع إذَا اعتقد أنه مُبَاح، كَمَا عَليه بَعض الشيعَة وَأصحَابهم، أو يترتب عَلَيه ثَواب كَمَا هوَ دَأبُ كِلامِهم، أو اعتقد كفر الصّحابة وأهل السنةِ في فصلِ خِطابهم فإنه كافر بالإجمَاع، ولا يلتفت إلى خِلَافِ مخالفتهم في مقَامِ النِزاعِ، فإذَا عَرفت ذلك فلا بدَّ مِنْ تفصِيل هُنالك.
[قول] (1) علماؤنا يقتل بالسياسة:
فإذا سَبَّ أحَدٌ (2) أحَداً مِنهُم، فينَظر هَل مَعَهُ قرائن حَالِية أو قالِية (3) [3/أ] عَلى مَا تقدمَ مِن الكفريات أم لا؟ فِفي الأولِ كافر وفي الثاني فَاسِق، وَإِنما يقتلُ عَندَ عُلمائنا بالسيَاسَة لدفعِ فَسَادِهم وَشر عنادهم (4) (5).
لا يحل دم امرئ مسلم إلا بثلاث:وَإلا فَقد قالَ عليه الصلاة والسلام في حَديثٍ صَحَّت (6) طرقه عَندَ الُمحدثيَن الأعلام: ((لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ وَأَن محمداً رَسُولُ اللَّهِ إِلَاّ بِإِحْدَى ثَلاثٍ: الثَّيِّبُ الزَّانِي وَالنَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالتَّارِكُ لِدِينِهِ الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ)) رَوُاه البخاري وَمْسلم وأبوُ دَاود وَالترمذِي وَالنسَائي عَن ابن مَسعُود (7).
--------------------------------------------
দ্বীনের অপরিহার্য বিষয়াবলি।
মাসআলা: যে ব্যক্তি সাহাবায়ে কিরামকে গালি দেওয়া বৈধ মনে করে তার কাফির হওয়ার বর্ণনা:আর যে ব্যক্তি সাহাবায়ে কিরামের কাউকে গালি দেয়, সে ইজমা বা সর্বসম্মতিক্রমে ফাসিক ও বিদআতি—যদি সে একে বৈধ মনে করে, যেমনটি কিছু শিয়া ও তাদের অনুসারীদের মত। অথবা যদি সে মনে করে যে এতে সওয়াব বা পুণ্য রয়েছে, যেমনটি তাদের বক্তব্যের অভ্যাস। অথবা যদি সে সাহাবায়ে কিরাম এবং আহলে সুন্নাতের কুফরির আকিদা পোষণ করে তাদের চূড়ান্ত বক্তব্যে, তবে সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির। এ বিবাদের ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতার কোনো গুরুত্ব দেওয়া হবে না। আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এক্ষেত্রে কিছু বিস্তারিত বর্ণনার প্রয়োজন রয়েছে।
[আমাদের ওলামায়ে কিরামের বক্তব্য] (১) তাকে রাষ্ট্রীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী হত্যা করা হবে:
সুতরাং যদি কেউ (২) তাদের কাউকে গালি দেয়, তবে লক্ষ্য করতে হবে যে, তার মধ্যে বর্তমান অবস্থা বা মৌখিক বক্তব্যের মাধ্যমে (৩) [৩/আ] ইতিপূর্বে বর্ণিত কুফরি বিষয়ের কোনো আলামত আছে কি না। প্রথমটির ক্ষেত্রে সে কাফির হিসেবে গণ্য হবে এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে ফাসিক। আমাদের ওলামায়ে কিরামের নিকট তাকে রাষ্ট্রীয় দণ্ডবিধি অনুসারে হত্যা করা হয় তাদের বিশৃঙ্খলা দূর করতে এবং তাদের একগুঁয়েমির অনিষ্ট রোধ করতে (৪) (৫)।
তিনটি কারণ ব্যতীত কোনো মুসলিমের রক্ত হালাল নয়:নতুবা তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি এমন একটি হাদিসে বলেছেন যা বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের নিকট সহিহ সনদে প্রমাণিত (৬): "যে মুসলিম সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, তার রক্ত প্রবাহিত করা তিনটি কারণ ব্যতীত বৈধ নয়: বিবাহিত ব্যভিচারী, জীবনের বদলে জীবন (কিসাস), এবং যে স্বীয় ধর্ম ত্যাগকারী ও জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন।" এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি এবং নাসায়ি ইবনে মাসউদ থেকে (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَقَد أخرجَهُ الإمَام أحمد في (مسندِهِ) أيضاً لكن عن أبي إمَامَة بن سَهْل قال: ((كُنَّا مَعَ عُثْمَانَ وَهُوَ مَحْصُورٌ فِي الدَّارِ، فَقَالَ: إِنَّهُمْ يَتَوَعَّدُونِني بِالْقَتْلِ، قُلْنَا: يَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: وَلِمَ يَقْتُلُونَنِي؟! سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَاّ بِإِحْدَى ثَلَاثٍ: رَجُلٌ كَفَرَ بَعْدَ إِسْلَامِهِ أَوْ زَنَى بَعْدَ إِحْصَانِهِ أَوْ قَتَلَ نَفْسًا فَيُقْتَلُ بِهَا، فَوَاللَّهِ مَا أَحْبَبْتُ [أَنَّ لِي] بِدِينِي [بَدَلاً] (1) مُنْذُ هَدَانِي اللَّهُ، وَلَا زَنَيْتُ فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلَا إِسْلَامٍ قَطُّ وَلَا قَتَلْتُ نَفْسًا، فَبِمَ يَقْتُلُونَنِي؟!)) (2).
تارك الصلاة يقتل خلافاً للشافعي:فِفي الحَديثِ جَاءَ بصِيغةِ الحَصرِ في العبَارةِ دلَالة بطريقِ الإشَارةِ: لا يقتل أهل البدعَة مِنْ الرّوَافِض والخوَارجِ إلَاّ إذَا صَارُوا مِنْ أهِلِ البِغي، وكَذا تارك الصلاةِ لا يقتل خِلافاً للشافِعي (3)، ولا رأيت سَنَداً عَليه يعول (4).
--------------------------------------------
ইমাম আহমদও এটি তাঁর (মুসনাদ)-এ সংকলন করেছেন, তবে তিনি আবু উমামা ইবনে সাহল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা উসমানের সাথে ছিলাম যখন তিনি প্রাসাদে অবরুদ্ধ ছিলেন। তখন তিনি বললেন: তারা আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমরা বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন! আল্লাহই তাদের বিরুদ্ধে আপনার জন্য যথেষ্ট হবেন। তিনি বললেন: তারা কেন আমাকে হত্যা করতে চায়?! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: তিনটি কারণের কোনো একটি ছাড়া কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত (হত্যা) বৈধ নয়: যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর কুফরি করে, অথবা যে বিবাহের পর ব্যভিচার করে, অথবা যে কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে যার বিনিময়ে তাকে হত্যা করা হবে। আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে হিদায়াত দান করার পর থেকে আমি কখনো আমার দ্বীনের বদলে অন্য কিছু গ্রহণ করতে চাইনি, আর আমি জাহিলিয়াত বা ইসলাম কোনো যুগেই কখনো ব্যভিচার করিনি এবং কখনো কোনো প্রাণীকে (মানুষকে) হত্যা করিনি। তাহলে তারা কেন আমাকে হত্যা করতে চায়?!" (২)।
ইমাম শাফিঈর মতের বিপরীতে সালাত বর্জনকারীকে হত্যা না করার প্রসঙ্গ:কেননা হাদিসে এই বক্তব্যটি সীমাবদ্ধতা জ্ঞাপক শব্দে এসেছে যা ইশারার পদ্ধতিতে ইঙ্গিত দেয় যে: রাফেযী ও খারেজীদের মতো বিদআতিদের হত্যা করা যাবে না যতক্ষণ না তারা বিদ্রোহী হিসেবে গণ্য হয়। অনুরূপভাবে ইমাম শাফিঈর মতের বিপরীতে সালাত বর্জনকারীকেও হত্যা করা হবে না (৩), আর আমি এর সপক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো সনদ দেখিনি (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وأما الحديث فليس على ظاهره:وَأمَّا قوله عليه الصلاة والسلام: ((مَنْ ترك الصَّلاةَ متعَمداً فقد كفر)) (1) فليسَ على ظَاهرِهِ عِندَ أهِل السَّنة مِمن اعتبر، بَل هو (2) مؤول بأن مَعناهُ قرب الكفر، فإن المَعَاصي (3) بريد (4) الكفر، أو جَره إلى كفره في عَاقبةِ أمرِهِ إنْ لم يتدَاركهُ الله بلطفهِ، أو شابه كفر الكافرِ في تركهِ (5)، أو محَمُول على مستحلِهِ فيَدخلُ في حَدِّ المرتد وَنَحوه.
وَأمَّا تفسِير الشافعي للِحَدِيثِ بأنه أستحق عقوبةَ الكفرِ، فلَيْسَ ظاهِراً في المدعى؛ لأنهُ يحتمل استحقَاقَ (6) عُقوبته في الدنيا والآخرة، مع أنه لا يتأول [3/ب] بكفره في العُقبَى ولَا يقتلهُ بناءً عَلى كفرِهِ في الدنيَا.
وَأمَّا مَا ذكر بَعضهم من أنْ المراد بالمرتد في الحَدِيثِ الأول: ((مَنْ بدل دينه)) (7)،
--------------------------------------------
আর হাদিসের ব্যাপারটি হলো, এটি এর বাহ্যিক অর্থে গ্রহণীয় নয়:আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করল, সে কুফরি করল" (১)—এটি নির্ভরযোগ্য আহলুস সুন্নাহর নিকট এর বাহ্যিক অর্থে নয়। বরং এটি (২) ব্যাখ্যাসাপেক্ষ; এর অর্থ হতে পারে কুফরির নিকটবর্তী হওয়া, কারণ পাপসমূহ (৩) হলো কুফরির বার্তাবাহক (৪), অথবা এটি তাকে পরিণামে কুফরির দিকে ধাবিত করবে যদি না আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাকে রক্ষা করেন। কিংবা সালাত ত্যাগ করার ক্ষেত্রে সে কাফেরের সাদৃশ্য অবলম্বন করল (৫), অথবা এটি ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে একে বৈধ (হালাল) মনে করে, ফলে সে মুরতাদ বা এ জাতীয় বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে।
আর হাদিসটির ব্যাপারে ইমাম শাফিঈ-এর ব্যাখ্যা—অর্থাৎ সে কুফরির শাস্তির উপযুক্ত—তা দাবিকৃত বিষয়ের সপক্ষে স্পষ্ট নয়; কারণ এটি দুনিয়া ও আখেরাতে শাস্তির উপযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, অথচ তিনি [৩/খ] তাকে পরকালে কাফের হিসেবে গণ্য করেন না এবং দুনিয়াতেও কাফের হওয়ার ভিত্তিতে তাকে হত্যা করেন না।
আর কেউ কেউ প্রথম হাদিসে ‘মুরতাদ’ দ্বারা যা উদ্দেশ্য করেছেন তা হলো: "যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে" (৭),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَبالمفارق مَنْ غيّر بَعض دينه فَيدخل (1) في الحَدِيث أهل البَغي وَالخَوارج وَالرَوافِض، فيَجبُ المعَاملَة مَعهُم حَتى يَرجعوا إلى الحَقِّ، فِفيه مِنْ المُعَارضَة وَالمقابلَة أن الكلام في القتل لا في المعَاملة، أمَا ترى أن الإجماع عَلى عَدَم جواز قتِل بَاغٍ بانفِراده خَارجي أو رَافضي وَحِده مِنْ غير ظهُور كفر منهُ غَير بدعتِهِ.
وكذَا مَانعُو الزكاةِ يقاتلون، بِخلاف مَنْ تركهَا بغَير قِتالٍ فَإنه لا يقتل (2)، فكَذَا تارك الصَّلاة لا يقتل بَل يحبس وَيُعَزر، وإذَا كَانَ أهل قريَةٍ تركوُهَا، بَل تركُوا الأذان الذي هُوَ سُنة مِنْ شِعَارها (3) لَقوتلُوا، كما صَرحَ بهِ الإمَامُ محمد (4) مِنْ أئمتِنا، فحَصَلت المَوافقة وَالُمطابقة مِنْ هذا الحَدِيث الشريف.
وحديث: ((أُمرتُ أنْ أقاتِلَ النَّاسَ حَتى يَشهَدُوا: أنْ لَا إلَه إلَاّ الله، وأنْ محمداً رَسُول الله، ويقيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤتوا الزكَاةَ، فِإذَا فعَلوُا ذلك عَصَمُوا مِنّي دمَائهم وَأموَالهم إلَاّ بِحَقِّ الإسلَامِ وَحِسَابهم على الله)) رَوَاهُ أصحاب الكتب الستة عَن أبي هُرِيَرة (5).
--------------------------------------------
'দলত্যাগী' দ্বারা তাকে বোঝানো হয়েছে যে তার দ্বীনের কিছু অংশ পরিবর্তন করেছে। ফলে হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হবে বিদ্রোহী (আহলে বাগি), খারেজি এবং রাফেজিরা। তাই তাদের সাথে এমন আচরণ করা আবশ্যক যতক্ষণ না তারা সত্যের পথে ফিরে আসে। তবে এখানে একটি আপত্তি ও প্রতিতর্ক রয়েছে যে, হাদিসের আলোচনাটি হত্যা সংক্রান্ত, সাধারণ আচরণ সংক্রান্ত নয়। আপনি কি দেখেন না যে, কেবল বিদআতের কারণে কোনো বিদ্রোহী, খারেজি বা রাফেজিকে একাকী হত্যা করা বৈধ না হওয়ার ব্যাপারে ইজমা বা ঐকমত্য রয়েছে, যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে কুফর প্রকাশ পায়?
অনুরূপভাবে, যারা জাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জানায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে; তবে যে ব্যক্তি যুদ্ধ ছাড়াই জাকাত ত্যাগ করে তার বিষয়টি ভিন্ন, তাকে হত্যা করা হবে না (২)। তেমনিভাবে নামাজ ত্যাগকারীকেও হত্যা করা হবে না, বরং তাকে বন্দি করা হবে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (তা'যীর) গ্রহণ করা হবে। যদি কোনো জনপদ নামাজ ত্যাগ করে, এমনকি আযানও বর্জন করে—যা ইসলামের অন্যতম নিদর্শন ও সুন্নত (৩)—তবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে, যেমনটি আমাদের ইমামদের মধ্য থেকে ইমাম মুহাম্মদ (৪) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ফলে এই শরিফ হাদিসের সাথে সামঞ্জস্য ও মিল প্রতিষ্ঠিত হলো।
এবং হাদিস: "আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মানুষের সাথে যুদ্ধ করতে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, এবং নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। তারা যখন তা করবে, তখন তারা আমার পক্ষ থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিল, তবে ইসলামের হকের বিষয়টি ভিন্ন, আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর।" এটি ছয়টি কিতাবের সংকলকগণ আবু হুরায়রা (৫) থেকে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وَروَاهُ ابن جرير (1) وَالطبَراني في (الأوسَط) عَن أنَس، وَلفظه: ((أمرتُ أنْ أقاتِل الناس حَتى يشهدوا أنْ لَا إلَه إلَاّ الله، فإذَا قالُوها عَصَمُوا مِنّي دِمَائهم وَأموَالهم إلَاّ بحقها، قيلَ: وَمَا حَقها؟ قالَ: زَنا بَعْدَ إحصَان أو كفرٌ بَعدَ إسلام أو قتلُ نفسٍ فتقتلُ بِها)) (2).
وَأخرجَهُ مُسْلم عَن أنس، وَلَفظهُ (3): ((أُمرتُ أنْ أقاتِلَ المشركِين حَتى يَشهَدُوا أنْ لَا إلَه إلَاّ اللهَ، وأنْ محمداً عبدُهُ ورَسُوله، وأنْ يَسِتقبلُوا قِبلتنَا، وأنْ يَأكلوا ذَبيحتنَا وَأن يُصَلوا صَلاتنا، فإذَا فعَلُوا ذلكَ حرمت عَلْينَا دمَائهم وَأموَالهم
--------------------------------------------
ইবনে জারীর (১) এবং তাবারানী তাঁর 'আল-আওসাত' গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যার শব্দমালা হলো: "আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; অতঃপর যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে এর হকের (শরয়ী অধিকার) ক্ষেত্র ছাড়া।" জিজ্ঞেস করা হলো: "এর হক কী?" তিনি বললেন: "বিবাহিত হওয়ার পর ব্যভিচার করা, ইসলাম গ্রহণের পর কুফরি করা অথবা কাউকে হত্যা করা যার কারণে তাকেও হত্যা করা হবে।" (২)।
এবং এটি ইমাম মুসলিম আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দমালা হলো (৩): "আমাকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, আর তারা যেন আমাদের কিবলার অভিমুখী হয়, আমাদের জবাই করা পশু আহার করে এবং আমাদের মতো সালাত আদায় করে; যখন তারা তা করবে, তখন আমাদের জন্য তাদের রক্ত ও সম্পদ হারাম (নিষিদ্ধ) হয়ে যাবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
إلَاّ بِحقهَا، لَهُم مَا للمُسلِميَن وعلَيهم مَا عَلى المُسلِمينَ)) (1).
إثبات كفر من سب الصحابة عموماً أو الشيخين خصوصاً:فلنَرجع إلى مَا نَحن بصِددِهِ [4/أ] مِنْ إثباتِ كفر مَنْ سَب الصّحابة عمُوماً أو سَب الشيخَين خصُوصاً، فَلا شك في أنَّ أصول الأدِلةِ ثلاثة هَي: الكِتاب وَالسُنة وَإجمَاع الأمةِ، فأمَّا الكتاب فَهوَ خالٍ عَن هَذا الخطَاب، وكَذَا الإجماع مَفقود في هَذَا الباب، فبَقي الأحَاديث وَهَي آحَاد الإسناد، ظني الدَلالَة في مِقَام الأستِناد، وَلهَذا لم يذكرها الفقهاء كفر الرافضي في كلماتِ (2) الكفر وَلا في بَابِ الارتدَاد، فإنْ كانَ عِندَ أحدٍ (3) نقلَ قائلٍ (4) للاعتِماد، فعَليَه بالبيَان في معرض مِيدَان الاعتِقاد.
وإمَّا ما اشتهرَ عَلى ألسنة العَوَام من أنْ سبَّ الشيخَين كفر، فلم أرَ نقَلهُ صَريحاً ولا روَايته ضعيِفاً وَلا حَسَناً وَلا صحيحاً، وعلى تقدير ثبُوتِهِ وَتَسليم صِحتِهِ، فَلَا ينبَغي أن يحمل عَلى ظاهرِهِ؛ لاحِتمالِ مَا تقدمَ مِنْ التأويلَاتِ في كفْرِ تارِكِ الصَّلاةِ، إذ لو حملَ الأحَادِيث كلهَا على الظَواهِر، لأشكل ضبط القواعِد وَحِفظ النوادر، وَحَيثُ يَدخل مِنهُ الاحتمال لَا يَصلح الاستدلَال، لَا سيما في
--------------------------------------------
...তবে এর হকের সাথে; তাদের জন্য তা-ই (অধিকার) যা মুসলমানদের জন্য এবং তাদের উপর তা-ই (কর্তব্য) যা মুসলমানদের উপর অর্পিত।)) (১)।
সাধারণভাবে সাহাবায়ে কেরাম অথবা বিশেষভাবে শায়খাইনকে (আবু বকর ও উমর রা.) গালি প্রদানকারীর কুফরি সাব্যস্তকরণ:এখন আমরা আমাদের মূল আলোচনার দিকে ফিরে যাই [৪/ক], যা হলো সাধারণভাবে সাহাবীগণকে অথবা বিশেষভাবে শায়খাইনকে গালি প্রদানকারীর কুফরি সাব্যস্ত করা প্রসঙ্গে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রমাণের মূল উৎস তিনটি: কিতাবুল্লাহ (কুরআন), সুন্নাহ এবং উম্মতের ইজমা। তবে কুরআনে এ সংক্রান্ত কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই, তেমনি এই বিষয়ে ইজমাও অনুপস্থিত। এখন অবশিষ্ট থাকে কেবল হাদিসসমূহ, যা ইসনাদের দিক থেকে 'আহাদ' (একক বর্ণনা) এবং প্রমাণের ক্ষেত্রে 'যান্নি' (ধারণাপ্রসূত)। এ কারণেই ফকিহগণ রাফেজিদের কুফরির বিষয়টি 'কুফরি কালিমাত' (২) বা 'মুরতাদ হওয়া' সংক্রান্ত অধ্যায়ে উল্লেখ করেননি। যদি কারো কাছে (৩) নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনাকারীর (৪) উদ্ধৃতি থেকে থাকে, তবে তার উচিত আকিদাহর ময়দানে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।
আর সাধারণ মানুষের মুখে যে কথাটি প্রসিদ্ধ যে, শায়খাইনকে গালি দেওয়া কুফরি; আমি এর কোনো সুস্পষ্ট উদ্ধৃতি দেখিনি এবং এর কোনো বর্ণনাও দেখিনি—না দুর্বল, না হাসান, আর না সহিহ। আর যদি এর প্রমাণ সাব্যস্ত হয় এবং এর বিশুদ্ধতা মেনেও নেওয়া হয়, তবুও একে এর বাহ্যিক অর্থের ওপর রাখা সমীচীন হবে না; কারণ ইতিপূর্বে বেনামাজির কুফরির ক্ষেত্রে যে সকল ব্যাখ্যার সম্ভাবনা বর্ণিত হয়েছে, এখানেও তা প্রযোজ্য হতে পারে। কেননা যদি সমস্ত হাদিসকে কেবল বাহ্যিক অর্থের ওপর রাখা হয়, তবে মূলনীতিসমূহ সুশৃঙ্খল রাখা এবং বিরল মাসআলাসমূহ সংরক্ষণ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। আর যেখানে একাধিক সম্ভাবনার অবকাশ থাকে, সেখানে তা দলিল হিসেবে গ্রহণের উপযোগী থাকে না, বিশেষ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
قتل المُسلم وَتكفِيره، وَقد قِيل: لو كان تسعَة وتسعَونَ دَليلاً عَلى كفر أحَد، وَدليل وَاحد عَلى إسلَامه، ينبَغي للِمفتي أنْ يَعمل بذلكَ الدليل الوَاحِد؛ لأن خطأه في خلَاصِه خيرٌ مِنْ خَطئه في حَدّهِ وَقصَاصِهِ.
لا يقال كيف نسبت قول سَبّ الشيخين كفر إلى العَوام، مَع أنهُ مُذكوُر في بَعض كتب الفتَاوى لبَعض الأعلام، فإنِّا نقول: لم أرَ نقله إلَاّ مِنْ المجهُولينَ الذينَ هم في طريق التحقيق غَير مَقبُوليَن، فلَا يعتبر في بَابِ الاعِتقاد الذي مَدَاره عَلى مَا يَصِح بِهِ الاعتماد.
[حكم سب الصحابة عند الحنفية:]والحاصل: أنه ليس (1) بمنقولٍ عَن أحدٍ مِنْ أئمتنا المتقدمين كأبي حَنِيفة وأصحابه، وَأمَّا غَيرهم فَهم رجَال وَنحنُ رجَال، فلَا نُقلد قَولهم مِنْ غَير دَليل عقلي وَنقلي، يؤتى به مِنْ طَرِيق ظنّي أو قطعي، مَع أنهُ مُخالف للأدلة القطعية والظنية المأخوذة مِنْ الكتاب وَالسنة المروية [4/ب] التي تفيد في العَقائد الدينية أو تفيد (2) في القَواعدِ الفقهية، فإن ما وَردَ فيها إمَّا ضَعِيف في سندِهِ أو مُؤول في مسَتندِهِ، لئلا يعَارض القَواعِد الشرعية، فإن القولَ بالتكفير مُعارض لمَّا نص عليه أبُو حَنِيفة في (الفِقه الأكبَر)، مُوافقٌ لمَّا عَليه جَمع المتكلِميَن مِنْ أهل القبِلة لا يكفر، وعليه الأئمة الثلاثة مِنْ مَالِك وَالشافِعي وَأحمد، وَسَائر أهل العِلم المعتَمد في المعتقد.
--------------------------------------------
কোনো মুসলিমকে হত্যা করা এবং তাকে কাফির সাব্যস্ত করা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: যদি কারো কুফরির পক্ষে নিরানব্বইটি প্রমাণ থাকে আর তার ইসলামের পক্ষে মাত্র একটি প্রমাণ থাকে, তবে মুফতির জন্য সেই একটি প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই সংগত। কেননা, কাউকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল করা তাকে দণ্ড প্রদান বা তার ওপর কিসাস কার্যকর করার ক্ষেত্রে ভুল করার চেয়ে উত্তম।
এ কথা বলা যাবে না যে, শায়খাইন (আবু বকর ও উমর রা.)-কে গালি দেওয়াকে কুফরি বলা তো কতিপয় বিশিষ্ট আলিমের ফতোয়া গ্রন্থেও উল্লেখ রয়েছে, তবে কেন আপনি একে সাধারণ মানুষের বক্তব্য হিসেবে অভিহিত করলেন? এর উত্তরে আমরা বলব: আমি কেবল অজ্ঞাত ব্যক্তিদের মাধ্যমেই এর বর্ণনা হতে দেখেছি, যারা নির্ভরযোগ্য গবেষণার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নন। সুতরাং আকিদার ক্ষেত্রে এর কোনো গুরুত্ব নেই, কারণ আকিদা নির্ভর করে এমন বিষয়ের ওপর যার ওপর আস্থা রাখা সঠিক।
[হানাফি মাজহাব অনুযায়ী সাহাবায়ে কিরামকে গালি দেওয়ার বিধান:]সারকথা হলো: এটি আমাদের পূর্ববর্তী ইমামদের মধ্য থেকে কারো—যেমন ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর অনুসারীবৃন্দ—থেকে বর্ণিত নয়। আর অন্যরা যা বলেছেন, তারাও মানুষ এবং আমরাও মানুষ; তাই বুদ্ধিভিত্তিক বা দলিলভিত্তিক প্রমাণ ছাড়া আমরা তাঁদের বক্তব্য অনুসরণ করি না, হোক সেই দলিল ধারণাপ্রসূত কিংবা নিশ্চিত উপায়ে প্রাপ্ত। তাছাড়া এটি কুরআন ও বর্ণিত সুন্নাহ থেকে গৃহীত সেই সকল অকাট্য ও প্রবল ধারণাপ্রসূত দলিলের পরিপন্থী [৪/খ], যা ধর্মীয় আকিদা কিংবা ফিকহশাস্ত্রীয় মূলনীতির ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ। কেননা এই বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা হয় সনদের দিক থেকে দুর্বল অথবা তার ভিত্তি ব্যাখ্যাসাপেক্ষ, যাতে তা শরিয়তের মূলনীতিসমূহের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়। বস্তুত কাফির সাব্যস্ত করার এই দাবি ইমাম আবু হানিফা কর্তৃক 'আল-ফিকহুল আকবার'-এ বর্ণিত ভাষ্যের পরিপন্থী। এটি আহলে কিবলার সেই সকল কালামশাস্ত্রবিদের মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যারা কাফির না বলার পক্ষে, এবং ইমাম মালিক, শাফিয়ি ও আহমাদ—এই তিন ইমামসহ আকিদা শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য সকল আলিমের অভিমতও এটিই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَقد صرحَ العلامة (1) التفتازَاني (2) في (شرح العَقائد) (3) بأن سَب الصَحابة بدعَة وفسق (4)، وكذا
صَرح أبُو الشكور السالمي (5) في (تمهيده) (6): أنَّ سَبَّ الصَّحابة ليسَ بكفر، وَقد وَردَ عَنهُ صلى الله عليه وسلم: ((أن مَنْ سَب الأنبيَاء قتل، ومَنْ سَب أصحَابي جلد)) رَواهُ الطبَراني عن علي كرمَ الله وَجهَهُ (7)، رَواه أيضاً عَن ابن عَباس: ((مَنْ سَبّ أصحَابي فعَلَيه لعَنةُ اللهِ وَالملائكة وَالنَّاسِ أجَمعِينَ)) (8).
--------------------------------------------
আল্লামা (১) তাফতাজানি (২) (শারহুল আকায়িদ) (৩) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সাহাবায়ে কেরামকে গালি দেওয়া বিদআত ও ফাসেকী (৪), এবং অনুরূপভাবে
আবু শাকূর আস-সালিমী (৫) তাঁর (তামহীদ) (৬) গ্রন্থে স্পষ্ট করেছেন যে: সাহাবায়ে কেরামকে গালি দেওয়া কুফর নয়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি নবীদের গালি দেবে তাকে হত্যা করা হবে, আর যে আমার সাহাবীদের গালি দেবে তাকে দোররা মারা হবে।" এটি তাবারানি আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু (৭) থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি ইবনে আব্বাস থেকেও বর্ণিত হয়েছে: "যে আমার সাহাবীদের গালি দেয়, তার ওপর আল্লাহর লানত, ফেরেশতাদের লানত এবং সকল মানুষের লানত।" (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
ثم لا وَجه لتخصِيص الشيخَين فيما ذكر، فإن حكم الحسَنين كذلك، بَل سائر الصحَابة هنالك، كما يُستفَاد مِنْ (1) عُموم الأحَاديثِ وَخُصوصها، فَقد ورَدَ عَنه عليه الصلاة والسلام: ((مَنْ سَبّ عَليَّاً فَقَد سَبني، وَمَنْ سَبني فَقَد سَبَّ الله)) رَواهُ أحَمد وَالحاكم عَن أمِّ سَلَمة (2).
بَل وَقد بالغَ صلى الله عليه وسلم وَقال: ((مَنْ سَب العَرب فأولئكَ هُم المشركونَ)) روَاهُ البيهَقي عَن عُمر رضي الله عنه (3).
إلا أنه يَجبُ حَمله على أنه أراد باللام الاستغراق، أو الجنس الشامِل للنبي الصَّلاة وَالسَّلام بالاتفاق، فَهذا تحقيق هذِهِ المَسألةَ المشكلة عَلى مَا ذكرَ في (الموَاقف) (4).
--------------------------------------------
এরপর উল্লিখিত বিষয়ে শায়খাইনকে (আবু বকর ও উমর রা.) সুনির্দিষ্ট করার কোনো অবকাশ নেই, কেননা হাসনাইন (হাসান ও হুসাইন রা.)-এর বিধানও তদ্রূপ; বরং সেখানে সকল সাহাবীর বিধানও একই, যা সাধারণ ও বিশেষ হাদীসসমূহ (১) থেকে প্রতীয়মান হয়। কেননা তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত হয়েছে: "যে আলীকে গালি দিল, সে আমাকেই গালি দিল; আর যে আমাকে গালি দিল, সে আল্লাহকেই গালি দিল।" এটি আহমাদ ও হাকেম উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (২)।
বরং সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও জোরালোভাবে বলেছেন: "যারা আরবদের গালি দেয়, তারাই হলো মুশরিক।" এটি বায়হাকী উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (৩)।
তবে এটিকে অবশ্যই এই অর্থে গ্রহণ করতে হবে যে, তিনি ‘লাম’ (ال) দ্বারা পূর্ণ ব্যাপকতা অথবা এমন এক শ্রেণি বুঝিয়েছেন যা সর্বসম্মতিক্রমে নবীকেও (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং ‘আল-মাওয়াকিফ’ (৪) গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে, সেই অনুযায়ী এই জটিল মাসআলাটির সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এটাই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শাম্মুল আওয়ারিদ্ব ফী যাম্মির রাওয়াফিদ্ব
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وأمَّا مَا في كتب (1) العَقائد، فمَنْ اعتقد غَير هذاَ فليَحذر (2) عقيَدته، وَليَتب عَن تعَصّبه وَحمَاقتِهِ، وَيترك حمية جاهليته، وإلَاّ فيلهث (3) غِيَظاً على حقدِهِ وحسَدِهِ وَطغيتهِ، وَيُدفن في تربة خباثته وَنجاسُته ظنيته إلى أن يتَبينَ بُطلان مَظنته في سَاعَة قيامتهِ [5/أ] {يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ} [الطارق: 9]، فَيظهر ضمائر وَيتمَيز الكفر مِنْ الإسلام وَالكبائر مِنْ الصغَائر.
ثم [مَنْ] (4) ادعى بطلان هَذا البيان، فعَليَه أن يظهر في ميدان البَرهان، إمَّا بتقرير اللسَان هو، وَإمَّا بتحرير البَيان والله المستعان، وَالحِق يَعلو ولا يعلى إلا (5) البطلان، وَقد ثبت عنه عليه الصلاة والسلام: ((أن الله يَبِعَث لِهَذِهِ الأمة على رأس مائة سَنة مَنْ يجدد لها دِينها)) وَرَوَاه أبو دَاود وَالحاكم وَالبيهَقي في (المَعرفة) عَن أبي هريرة (6).
فوالله العَظيم، وربَّ النبي الكَريم، أني لَو عَرفت أحَداً أعلم مِنّي بالكِتَاب وَالسّنة، مِنْ جهة مَبناها أو مِنْ طريق مَعناها (7)، لَقصَدت إلَيه ولو حبواً بالوقوف
--------------------------------------------
আর আকিদার কিতাবসমূহে যা রয়েছে, যে ব্যক্তি এর বিপরীতে বিশ্বাস পোষণ করে সে যেন তার আকিদা সম্পর্কে সতর্ক হয়, এবং তার গোঁড়ামি ও মূর্খতা থেকে তাওবা করে এবং জাহেলিয়াতের পক্ষাবলম্বন বর্জন করে। অন্যথায় সে তার ক্ষোভ, হিংসা ও অবাধ্যতার কারণে রাগে হাঁপাতে থাকবে এবং তার অপবিত্রতা ও ধারণাপ্রসূত কদর্যতায় সমাহিত হবে, যতক্ষণ না কিয়ামতের মুহূর্তে তার ধারণার অসারতা স্পষ্ট হয় [৫/ক] {যেদিন গোপন রহস্যসমূহ পরীক্ষা করা হবে} [আত-তারিক: ৯]। তখন অন্তরের বিষয়সমূহ প্রকাশ পাবে এবং কুফর থেকে ইসলাম ও কবিরা গুনাহ থেকে সগিরা গুনাহ পৃথক হয়ে যাবে।
অতঃপর যে ব্যক্তি এই বর্ণনার অসারতা দাবি করে, তার উচিত প্রমাণের ময়দানে অবতীর্ণ হওয়া; হয় জবানবন্দির মাধ্যমে অথবা লেখনীর মাধ্যমে। আর আল্লাহই সাহায্যকারী। সত্য সর্বদা বিজয়ী হয় এবং সত্যের ওপর অন্য কিছু বিজয়ী হতে পারে না, কেবল মিথ্যা ছাড়া। আর নবী (সা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে: “নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি একশত বছরের শিরোভাগে এমন ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে সংস্কার (পুনরুজ্জীবিত) করবেন।” এটি আবু দাউদ, হাকীম এবং বায়হাকী ‘আল-মারেফাহ’ গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।
মহান আল্লাহর শপথ এবং সম্মানিত নবীর রবের কসম, আমি যদি কিতাব ও সুন্নাহর শব্দ কিংবা অর্থের বিচারে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে জানতাম, তবে আমি হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তার কাছে উপস্থিত হতাম
--------------------------------------------