(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: -)
كلمات مضيئة في الدعوة إلي الله القسم: كتب عامة
الكتاب: كلمات مضيئة في الدعوة إلي الله
المؤلف: محمد علي محمد إمام
تقديم: الشيخ علي سعد أبو الخير
الناشر: مطبعة السلام، ميت غمر - مصر
الطبعة: الأولي، 2005 م
عدد الصفحات: 553
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1433
আল্লাহর পথে আহ্বানে কিছু উজ্জ্বল বাণী বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: আল্লাহর পথে আহ্বানে কিছু উজ্জ্বল বাণী
লেখক: মুহাম্মদ আলী মুহাম্মদ ইমাম
উপস্থাপনা: শাইখ আলী সাদ আবু আল-খাইর
প্রকাশক: আস-সালাম প্রেস، মিত গামর - মিসর
সংস্করণ: প্রথম، ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহররম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
كلمات مضيئة
في الدعوة إلي الله
بقلم
محمد على محمد إمام
مراجعة
الشيخ / على سعد أبو الخير
طبعة مزيدة ومنقحة
আলোকোজ্জ্বল বাণী
আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে
লেখনীতে
মুহাম্মদ আলী মুহাম্মদ ইমাম
পর্যবেক্ষণে
শাইখ আলী সা'দ আবু আল-খাইর
পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
دار الكتب والوثائق القومية
بطاقة فهرسة
فهرسة أثناء النشر إعداد الهيئة العامة لدار الكتب المصرية
إدارة الشئون الفنية
كلمات مضيئة في الدعوة إلي الله
إعداد / محمد على محمد إمام
… ميت غمر
الطبعة الأولي 2005
عدد الصفحات (566 صفحة)
المقاس (18 × 21 سم)
رقم الإيداع: 17991/ 2002
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
জাতীয় গ্রন্থাগার ও আর্কাইভস
সূচক কার্ড
প্রকাশনা কালীন সূচিপত্র প্রণয়ন: মিশরীয় জাতীয় গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ
কারিগরি বিভাগ
আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে আলোকোজ্জ্বল বাণীসমূহ
প্রস্তুতকারক / মুহাম্মদ আলী মুহাম্মদ ইমাম
… মিত গামর
প্রথম সংস্করণ ২০০৫
পৃষ্ঠা সংখ্যা (৫৬৬ পৃষ্ঠা)
আকার (১৮ × ২১ সে.মি.)
ডিপোজিট নম্বর: ১৭৯৯১/ ২০০২
সর্বস্বত্ব গ্রন্থকার কর্তৃক সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
تقديمالحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبى بعده ..
بالدعوة إليه سبحانه وتعالى نتعرف عليه، ونحبه أكثر من أنفسنا وأولادنا حينما نبذل نعمه التى أعطانا إياها فى النفير فى سبيله ندعو الناس إلى حبه والعمل بما أنزل وبذلك نكون أتباعاً بحق للأنبياء نحيي ملة أبيهم إبراهيم عليه السلام ونقيم دين خاتمهم محمد صلى الله عليه وسلم الذى حملنا المسئولية من بعده ولا نبى بعده ولكن أهل الإسلام يريدون العمل بالحلال والبعد عن الحرام وتجنب البدع والشركيات دون تحمل أعباء وتكاليف هذه الدعوة التى تحقق لك التوحيد الكامل وليس بدايات التوحيد بل كماله فنمشى على ضوء القرآن:
1) زيارات مثنى .. مثنى .. مثل موسى وهارون عليهما السلام إلى الطالح والصالح.
2) بعوث دعوية جماعية على غرار سورة يس {وَاضْرِبْ لَهُمْ مَثَلاً أَصْحَابَ الْقَرْيَةِ إِذْ جَاءَهَا الْمُرْسَلُونَ * إِذْ أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ
উপস্থাপনাসমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই...
একমাত্র তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) দিকে আহ্বানের (الدعوة) মাধ্যমেই আমরা তাঁকে চিনতে পারি এবং তাঁকে আমাদের নিজেদের ও সন্তানদের চেয়েও বেশি ভালোবাসতে পারি, যখন আমরা তাঁর দেওয়া নেয়ামতসমূহ তাঁরই পথে বের হওয়ার (النفير) ক্ষেত্রে ব্যয় করি এবং মানুষকে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী আমল করার দিকে আহ্বান জানাই। এর মাধ্যমেই আমরা নবীদের প্রকৃত অনুসারী হতে পারব, তাঁদের পিতা ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আদর্শ বা মিল্লাত (ملة) পুনর্জীবিত করতে পারব এবং তাঁদের শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীন প্রতিষ্ঠিত করতে পারব, যিনি আমাদের ওপর তাঁর পরবর্তী দায়িত্ব অর্পণ করেছেন—যদিও তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। কিন্তু মুসলিম উম্মাহ এই দাওয়াতের কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার না করেই হালাল (حلال) অনুযায়ী আমল করতে, হারাম (حرام) থেকে দূরে থাকতে এবং বিদআত (بدعة) ও শিরক (شرك) বর্জন করতে চায়; অথচ এই দাওয়াতই আপনার জন্য পূর্ণাঙ্গ তাওহিদ (توحيد) নিশ্চিত করে—এটি কেবল তাওহিদের সূচনা নয় বরং এর পূর্ণতা। সুতরাং আমরা কুরআনের আলোকেই পথ চলব:
১) জোড়ায় জোড়ায়... জোড়ায় জোড়ায়... সাক্ষাৎ; যেমনটি মুসা ও হারুন আলাইহিমাস সালাম পাপাচারী ও পুণ্যবান উভয়ের নিকট করেছিলেন।
২) সূরা ইয়াসিনের আদলে দলগত দাওয়াতি প্রতিনিধি দল (بعث): {আর আপনি তাদের নিকট সেই জনপদবাসীদের উদাহরণ বর্ণনা করুন, যখন সেখানে প্রেরিতগণ (المرسلون) এসেছিলেন। যখন আমি তাদের নিকট দুজনকে পাঠিয়েছিলাম...}
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
فَكَذَّبُوهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوا إِنَّا إِلَيْكُمْ مُرْسَلُون} (1) جاءوا دون طلب من أهل القرية وهذا هو الجهد الأعلى التى تبذل فيه ماء الوجوه وتتنازلون فيه عن أعراضكم إذا قابلكم الناس كما قابلوا الأوائل بقولهم
… {قَالُوا مَا أَنْتُمْ إِلا بَشَرٌ مِثْلُنَا وَمَا أَنْزَلَ الرَّحْمَنُ مِنْ شَيْءٍ إِنْ أَنْتُمْ إِلا تَكْذِبُونَ} (2) فصبروا وتحملوا وواصلوا الدعوة رغم التهديد هذا هو التوحيد (العملى) تثق بأسماء الله وصفاته (عملياً) الكلام عنها والكتابة والإجابة أسهل ألف مرة من الاستفادة منها على أرض الواقع وبذلك نصبح من أهل القرآن وأهل العلم وأهل السنة وتكون حياتنا وقراراتنا على طريق الأنبياء عليهم السلام، أمر الله أعظم من كل أمر.
فواحزناه على شباب صالح يحمل دراسات كثيرة ولكن لا يشارك فى إحياء هذه البعوث التى نطالب مساجد المسلمين بإقامتها كما كانت فى العهد النبوى علماً وعملاً، وهذا هو ما يرجى من الأمة المسلمة الآن وهذا ما يستطيعه الجميع حتى يزداد الإيمان فإن كنت تعلم أن الإيمان يزيد وينقص ولا تعمل على زيادته حتى يرضى عنك الله سبحانه وتعالى فمتى تستفيد من هذه
--------------------------------------------
{অতঃপর তারা তাদের উভয়কে অস্বীকার করল, তখন আমি তৃতীয় একজনের মাধ্যমে শক্তিশালী করলাম। তারা বলল, নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের কাছে প্রেরিত (مرسلون)} (১) তারা জনপদের অধিবাসীদের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার আহ্বান ছাড়াই এসেছিল এবং এটিই হলো সেই সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা যাতে নিজের সম্মান বিলিয়ে দিতে হয় এবং আপনারা আপনাদের মর্যাদা বিসর্জন দেন যখন মানুষ আপনাদের সাথে তেমন আচরণ করে যেমনটি তারা পূর্ববর্তীদের সাথে এই বলে করেছিল
... {তারা বলল, তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ বৈ নও, আর পরম করুণাময় কোনো কিছুই অবতীর্ণ করেননি; তোমরা কেবল মিথ্যাই বলছ} (২) অতঃপর হুমকি সত্ত্বেও তারা ধৈর্য ধারণ করলেন, কষ্ট সহ্য করলেন এবং দাওয়াহ অব্যাহত রাখলেন। এটিই হলো (ব্যবহারিক) তাওহিদ; আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ওপর (ব্যবহারিকভাবে) আস্থা রাখা। এ নিয়ে কথা বলা, লেখালেখি করা এবং উত্তর দেওয়া বাস্তব ময়দানে তা থেকে উপকৃত হওয়ার চেয়ে হাজার গুণ সহজ। এর মাধ্যমেই আমরা আল-কুরআনের অনুসারী, ইলমের অধিকারী এবং সুন্নাহর অনুসারী (أهل السنة) হতে পারব এবং আমাদের জীবন ও সিদ্ধান্তগুলো নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) পথে পরিচালিত হবে; আল্লাহর নির্দেশ অন্য যেকোনো নির্দেশের চেয়ে মহান।
সেই নেককার যুবকদের জন্য বড়ই আক্ষেপ যারা অনেক জ্ঞান অর্জন করেছে কিন্তু এই দাওয়াতি মিশনগুলোর পুনরুজ্জীবনে অংশগ্রহণ করে না, যা আমরা মুসলিমদের মসজিদগুলোতে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাই, যেমনটি নবুওয়াতের যুগে জ্ঞান ও আমলের দিক থেকে বিদ্যমান ছিল। বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর নিকট এটিই প্রত্যাশিত এবং এটিই সকলের পক্ষে সম্ভব যাতে ঈমান বৃদ্ধি পায়। কেননা আপনি যদি জানেন যে ঈমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায় এবং আপনি তা বৃদ্ধির জন্য কাজ না করেন যাতে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হন, তবে আপনি কখন এগুলো থেকে উপকৃত হবেন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المعلومة البديهية؟ التى هى بمثابة المدرس الذى يعلم التلاميذ أن 2 × 2 = 4 ويحفظون جدول الضرب ولا يمارسون بقية الرياضيات.
الله عز وجل يريد منا توحيداً باللسان يؤثر فى القلب وتتحرك به الجوارح {ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّه} (1) ولئن عجز المسلمون الآن عن مقدمة سورة الصف فلا يعجزون عن آخرها {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا أَنْصَارَ اللَّهِ كَمَا قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ لِلْحَوَارِيِّينَ} (2) وانطلق المسيح وحواريوه يدعون بنى إسرائيل - الذين كانوا مسلمين وانحرفوا عن طريق الأنبياء - كما هو المطلوب الآن وهذه قاعدة عند أهل السنة: إن عجزت عن أمرٍ فجاوزه إلى ما تستطيع (3).
وإن من تلبيس إبليس أن يزعم بعضنا أن الدعوة للكفار وليس للمسلمين، بل للنوعين معاً. وبسبب هذا الكلام المخالف للحق تكاسل المسلمون عن دعوة بعضهم فكثر بينهم الشر وضعف إيمان المتحدثين عن الإسلام لأنهم اكتفوا بالفكرة (الطباعة والإذاعة) وتركوا السنة (الحوار المباشر وعرض النفس وبذل المال والوقت وماء الوجه وكل النعم فى إرضاء المنعم الذى لا يرضى إلا باتباع السابقين الأولين).
--------------------------------------------
স্বতঃসিদ্ধ তথ্য? যা এমন একজন শিক্ষকের মতো যিনি শিক্ষার্থীদের শেখান যে ২ × ২ = ৪ এবং তারা নামতা মুখস্থ করে কিন্তু গণিতের বাকি অংশ চর্চা করে না।
মহান আল্লাহ আমাদের নিকট এমন এক মৌখিক তাওহিদ প্রত্যাশা করেন যা হৃদয়ে প্রভাব ফেলে এবং যার দ্বারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরিচালিত হয়: {অতঃপর তাদের চামড়া ও হৃদয় আল্লাহর স্মরণে কোমল হয়} (১)। আর মুসলমানরা যদি এখন সূরা আস-সাফ-এর শুরুর দিকের নির্দেশ পালনে অক্ষম হয়, তবে তারা যেন এর শেষের নির্দেশে অক্ষম না হয়: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও, যেমন ঈসা ইবনে মারইয়াম হাওয়ারীদের বলেছিলেন} (২)। আর মসীহ ও তাঁর হাওয়ারীগণ বনী ইসরায়েলদের—যারা মূলত মুসলিম ছিল এবং নবীদের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল—দাওয়াত দিতে শুরু করেছিলেন, ঠিক যেমনটি এখন প্রয়োজন। আর এটি আহলুস সুন্নাহর নিকট একটি মূলনীতি: যদি তুমি কোনো বিষয়ে অক্ষম হও, তবে তা অতিক্রম করে যা তুমি করতে সক্ষম সেই দিকে অগ্রসর হও (৩)।
আর ইবলিসের প্রবঞ্চনার একটি দিক হলো আমাদের কেউ কেউ দাবি করে যে, দাওয়াত কেবল কাফেরদের জন্য, মুসলিমদের জন্য নয়; বরং দাওয়াত উভয় শ্রেণির জন্যই। সত্যের পরিপন্থী এই কথার কারণে মুসলমানরা একে অপরকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে অলস হয়ে পড়েছে, ফলে তাদের মধ্যে অনিষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইসলাম সম্পর্কে আলোচনাকারীদের ঈমান দুর্বল হয়ে পড়েছে; কারণ তারা কেবল তাত্ত্বিক বিষয়ের (মুদ্রণ ও সম্প্রচার) ওপর সন্তুষ্ট থেকেছে এবং সুন্নাহ (সরাসরি সংলাপ, আত্মনিবেদন এবং সেই মহান দাতার সন্তুষ্টির জন্য অর্থ, সময়, মর্যাদা ও সকল নিয়ামত ব্যয় করা, যিনি পূর্ববর্তী অগ্রগামীদের অনুসরণ ব্যতীত সন্তুষ্ট হন না) বর্জন করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
{وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَداً ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} (1) ليس لنا فى مجال الدعوة والصبر عليها سلف سواهم أما سلفنا فى علوم العقيدة والأحكام والفتوى طابور طويل من الأئمة الثقات الذين قاوموا البدع الشركية والفرق الضالة أما فى مجالات الجهد والزهد فلا نقتدى إلا بالصحابة فقط لأن رضاء الله عز وجل يرتبط باتباعهم بإحسان أى على أحسن ما كانوا يعملون وهذا من القول الفصل قرآناً وسنة.
وسيكون العلم النافع متدفقاً حينما نعود إلى المدرستين:
1) دار الأرقم فى مكة
2) ومسجد الرسول صلى الله عليه وسلم فى المدينة
فما بالنا انشغلنا عن القرون الفاضلة الثلاثة الأولى بالقرن الخامس والسابع .... والثانى عشر والرابع عشر؟ نحترم كل العلماء الثقات ونأخذ عنهم ونحبهم ولكن نضعهم فى رتبة أقل من الصحابة عند الدعوة والبذل لله فيصبح قدوتنا التى لا تتغير منحصرة فى: إبراهيم وآل إبراهيم، محمد وآل محمد .. وآل إبراهيم هم جميع الأنبياء وخاتمهم محمد صلى الله عليه وسلم وآل محمد هم
--------------------------------------------
{আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে; আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে ঝরনাধারা প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য।} (১) দাওয়াহ এবং তাতে ধৈর্যের ক্ষেত্রে তারা ব্যতীত আমাদের অন্য কোনো পূর্বসূরি (سلف) নেই। তবে আকিদা, আহকাম ও ফতোয়ার ইলমে আমাদের পূর্বসূরি হলেন নির্ভরযোগ্য (ثقات) ইমামগণের এক দীর্ঘ কাফেলা, যারা শিরকি বিদআত এবং পথভ্রষ্ট দলসমূহের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। আর প্রচেষ্টা ও যুহদ (زهد)-এর ক্ষেত্রে আমরা কেবলমাত্র সাহাবায়ে কেরামকেই অনুসরণ করি; কারণ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণের সাথে সম্পৃক্ত, অর্থাৎ তারা যা করতেন তার সর্বোত্তম পন্থায় অনুসরণ। আর কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
যখন আমরা এই দুটি শিক্ষা নিকেতনের দিকে ফিরে যাব, তখন উপকারী ইলম প্রবহমান হবে:
১) মক্কার দারুল আরকাম
২) এবং মদিনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদ
আমাদের কী হলো যে, আমরা প্রথম তিন শ্রেষ্ঠ যুগ (القرون الفاضلة) ছেড়ে পঞ্চম, সপ্তম.... এবং দ্বাদশ ও চতুর্দশ শতাব্দী নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম? আমরা সকল নির্ভরযোগ্য (ثقات) আলেমদের শ্রদ্ধা করি, তাঁদের থেকে ইলম গ্রহণ করি এবং তাঁদের ভালোবাসি; কিন্তু দাওয়াহ এবং আল্লাহর পথে ত্যাগের ক্ষেত্রে আমরা তাঁদেরকে সাহাবায়ে কেরামের চেয়ে নিম্নস্তরে স্থান দিই। ফলে আমাদের অপরিবর্তনীয় আদর্শ কেবল এঁদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়: ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবার, মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবার.. আর ইব্রাহিমের পরিবার হলেন সকল নবী এবং তাঁদের সর্বশেষ হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আর মুহাম্মদের পরিবার হলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الصحابة ومن سار على نهجهم نأخذ العلم الموثق عن فلان ولا ننظر إلى حياته بل ننظر إلى الصحابة الذين رضى الله عنهم.
ولا ندعو الناس إلى إمام واحد غير النبى وخلفائه ولا ندعو الناس إلى جمعية خيرية بعينها بل نحب كل جمعية خيرية تخدم المسلمين وليس فى عقيدتها دخن ونتعاون معهم على قدر النور الذى يحملونه، ونصحح لبعض الأخطاء .. نتكامل ولا نتفاضل .. نتساند ولا نتعاند .. ولا نعقد الولاء والبراء إلا للشريعة الغراء والسنة المشرفة ونعتبر المسلمين الذين يهتمون بأمر الإسلام ويجعلونه مقصد حياتهم عملةً نادرة لابد من المحافظة عليها مع التصحيح المستمر بنية النصيحة لا الفضيحة .. تصحيحاً لا تجريحاً .. لأنهم أبناء الإسلام - الذى لا شرك ولا بدعة فيها - وهم أفضل بكثير من المسلمين المستهترين بالدين والمستهزئين بأهله والذى لم يشارك فى دعوة الجماهير لا يعرف ذلك والذى يكتفى بالحديث إلى الصالحين ولا يدعو الظالمين لا يدرك ذلك.
فكل من رضى بالله رباً لم يطلب من غيره العون والمدد ورضى بمحمدٍ رسولاً فلم يجعل قدوته شيخاً أو إماماً، ورضى بالإسلام ديناً يشعر بالغيرة عليه فهو من جماعة المسلمين وإن شرب الخمر، ندعوه إلى التوبة ثم ندعو جميع من تخلص من الكبائر والمعاصى أن يتوبوا من الانشغال بالحلال
সাহাবীগণ এবং যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন, আমরা তাঁদের নিকট থেকেই নির্ভরযোগ্য (موثق) জ্ঞান গ্রহণ করি। আমরা বিশেষ কোনো ব্যক্তির জীবনের প্রতি তাকাই না, বরং সেই সাহাবীগণের প্রতি দৃষ্টিপাত করি যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন।
আমরা নবী এবং তাঁর খলিফাগণ ব্যতীত অন্য কোনো একক ইমামের দিকে মানুষকে আহ্বান করি না এবং নির্দিষ্ট কোনো চ্যারিটেবল সংস্থার দিকেও মানুষকে ডাকি না; বরং আমরা এমন প্রতিটি চ্যারিটেবল সংস্থাকে ভালোবাসি যারা মুসলিমদের সেবা করে এবং যাদের আকিদায় (عقيدة) কোনো কালিমা নেই। তারা যে পরিমাণ আলো বহন করে, সেই অনুপাতে আমরা তাদের সাথে সহযোগিতা করি এবং কিছু ভুল সংশোধন করি। আমরা একে অপরের পরিপূরক হই, শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করি না; একে অপরকে সমর্থন করি, শত্রুতা করি না। আমরা সমুজ্জ্বল শরীয়ত এবং মহিমান্বিত সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কিছুর ভিত্তিতে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা (الولاء والبراء) স্থাপন করি না। আমরা সেই সব মুসলিমকে—যারা ইসলামের বিষয়াবলীতে গুরুত্বারোপ করে এবং একে জীবনের লক্ষ্য বানায়—একটি বিরল সম্পদ হিসেবে গণ্য করি যাদের অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। এই রক্ষা হবে দোষ অন্বেষণের নিয়তে নয় বরং সদুপদেশের (نصيحة) নিয়তে নিরন্তর সংশোধনের (تصحيح) মাধ্যমে; এটি হবে সংশোধন (تصحيح), কোনো জরাহ বা মানহানি (تجريح) নয়। কারণ তারা ইসলামেরই সন্তান—যে ইসলামে কোনো শিরক (شرك) বা বিদআত (بدعة) নেই। তারা সেই সব মুসলিমদের চেয়ে অনেক উত্তম যারা দ্বীনের প্রতি উদাসীন এবং দ্বীনদারদের নিয়ে উপহাস করে। যারা সাধারণ মানুষের মাঝে দাওয়াতি কাজে অংশ নেয়নি তারা এটি উপলব্ধি করতে পারবে না, আর যারা কেবল নেককারদের সাথে কথা বলে তৃপ্ত থাকে এবং যালিমদের দাওয়াত দেয় না, তারাও এটি বুঝতে পারবে না।
সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছে, সে অন্য কারো কাছে সাহায্য ও মদদ প্রার্থনা করে না; যে মুহাম্মদ (সা.)-কে রাসূল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছে, সে কোনো শায়খ বা ইমামকে তার আদর্শ বানায় না; এবং যে ইসলামকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে তার প্রতি মমত্ববোধ অনুভব করে, সে মুসলিম জামাতের অন্তর্ভুক্ত—যদিও সে মদ্যপান করে থাকে। আমরা তাকে তাওবার (توبة) দিকে আহ্বান করি, অতঃপর যারা কবিরা গুনাহ (كبائر) ও পাপাচার (معاصي) থেকে মুক্ত হয়েছে, তাদের সকলকে আমরা হালাল বিষয় নিয়ে অধিক মগ্ন থাকা থেকেও তাওবা (توبة) করার আহ্বান জানাই।
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
فإنه ذنب يحتاج إلى توبة {سَيَقُولُ لَكَ الْمُخَلَّفُونَ مِنَ الأَعْرَابِ شَغَلَتْنَا أَمْوَالُنَا وَأَهْلُونَا فَاسْتَغْفِرْ لَنَا} (1).
الانشغال بالمال (الوظيفة والورشة والمزرعة) والأهل (زوجه - أولاده) عن الدعوة ذنب يحتاج إلى مغفرة وبذلك يكتمل تعريف التوبة وتعريف الفقه وتعريف التوحيد الخالص.
ولابد من إحياء كل عمل جماعى - فى مقدورنا - كان فى العهد النبوى وإلا سنحاسب عن ذلك وبذلك يتحول الدعاء إلى عمل {فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي} (2) فلنستجب لله حتى يستجيب لنا.
{وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ} (3) يرشدون باستجابتهم لله واتباعهم للخلفاء الراشدين الذين هداهم الله لأرشد أمورهم لأنهم كانوا يتشاورون كيف ينصرون هذا الدين وينشروه بين الناس يبتغون بذلك وجه الكبير المتعال الحى القيوم.
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই এটি এমন এক পাপ যার জন্য তওবা (توبة) প্রয়োজন; {মরুবাসী আরবদের মধ্যে যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল তারা শীঘ্রই তোমাকে বলবে, ‘আমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজন আমাদের ব্যস্ত রেখেছিল, তাই আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন’} (১)।
দাওয়াতের কাজ থেকে বিমুখ হয়ে সম্পদ (চাকরি, কারখানা ও খামার) এবং পরিবার-পরিজন (স্ত্রী ও সন্তানাদি) নিয়ে ব্যস্ত থাকা এমন এক পাপ যার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা আবশ্যক। আর এর মাধ্যমেই তওবা (توبة)-র সংজ্ঞা, ফিকহ (فقه)-র সংজ্ঞা এবং বিশুদ্ধ তাওহীদ (توحيد)-এর সংজ্ঞা পূর্ণতা পায়।
আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকা নবুওয়াতী যুগের প্রতিটি সামষ্টিক আমলকে পুনরুজ্জীবিত করা অপরিহার্য; অন্যথায় আমাদের এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। এর মাধ্যমেই দুয়া কর্মে রূপান্তরিত হয় {সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয়} (২); অতএব আসুন আমরা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিই যাতে তিনি আমাদের ডাকে সাড়া দেন।
{আর যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, নিশ্চয়ই আমি নিকটেই। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই যখন সে আমাকে আহ্বান করে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়} (৩)। তারা আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের অনুসরণের মাধ্যমে সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়, যাদেরকে আল্লাহ তাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন; কারণ তারা এই দ্বীনকে সাহায্য করতে এবং মানুষের মাঝে তা প্রচার করতে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করতেন। এর মাধ্যমে তারা মহান, সুউচ্চ, চিরঞ্জীব ও সর্বসত্তার ধারক আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
اللهم ردنا وجميع المسلمين المريدين للحق إلى الإسلام المحمدى الأصيل الذى كان فى المدرستين: (دار الأرقم بمكة. . مسجد الرسول صلى الله عليه وسلم بالمدينة).
وهذا الإسلام يسر لا عسر ومادته العلمية فى متناول كل مسلم حتى لو كان أمياً ولكنه يحمل قلباً شغوفاً بالتلقى عن الوحى ويتحمل مسئولية هذا الإرث ويبلغ ما سمع ووعى حتى لو كان قليل البضاعة فإنها بذلك ستزيد {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْماً} (1) العلم الذى ينبغى تبليغه للناس أى القرآن والسنة وليس الآراء والخلافات التى ليس فيها نص قاطع.
" رب حامل فقه إلى من هو أفقه منه " لو كان الأفقه منه منكسراً لله مفتقراً إليه " ورب حامل فقه ليس بفقيه " لو عادت الأمة إلى صفات الصحابة تشجع كل ناصح ولا تعنفه بقولة فرعون {أَمْ أَنَا خَيْرٌ مِنْ هَذَا الَّذِي هُوَ مَهِينٌ وَلا يَكَادُ يُبِينُ} (2) وشتان بين المذيعين وبين صانعى الحدث، فالصحابة بذلوا ونحن نتحدث عنهم فهلا نجيد العمل الصالح مثلهم وأعظم الأعمال الصالحة استمالة قلوب العباد إلى رب العباد وهذا يأخذ جهداً أكثر من مجرد النهى عن المنكر والأمر بالمعروف والكل مطلوب، ولكن على منهج السابقين الأولين.
--------------------------------------------
হে আল্লাহ, আমাদের এবং সত্যসন্ধানী সকল মুসলিমকে সেই প্রকৃত মুহাম্মাদী ইসলামের দিকে ফিরিয়ে দিন, যা বিদ্যমান ছিল এই দুই শিক্ষালয়ে: (মক্কার দারুল আরকাম এবং মদীনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদ)।
আর এই ইসলাম সহজ, কঠিন নয়। এর ইলমী বিষয়বস্তু প্রত্যেক মুসলিমের নাগালে, এমনকি সে নিরক্ষর হলেও; যদি সে ওহী থেকে শিক্ষা গ্রহণের ব্যাকুল হৃদয়ের অধিকারী হয়, এই উত্তরাধিকারের দায়িত্বভার গ্রহণ করে এবং যা কিছু শুনেছে ও অনুধাবন করেছে তা অন্যের নিকট পৌঁছে দেয়। এমনকি যদি তার পুঁজি সামান্যও হয়, তবুও এর ফলে তা বৃদ্ধি পাবে— {এবং আপনি বলুন, ‘হে আমার পালনকর্তা! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন’} (১)। যে জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত তা হলো কুরআন ও সুন্নাহ; মানুষের সেই সকল রায় বা মতামত ও মতপার্থক্য নয় যাতে কোনো অকাট্য দলীল (نص قاطع) নেই।
“অনেক ফিকহ (فقه) বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা নিয়ে যান যিনি তার চেয়েও অধিক ফকিহ (فقيه)”—যদি সেই অধিক ফকিহ ব্যক্তি আল্লাহর সমীপে বিগলিত ও তাঁর মুখাপেক্ষী হন। “এবং অনেক ফিকহ (فقه) বহনকারী নিজে ফকিহ (فقيه) নন।” যদি এই উম্মত সাহাবীগণের গুণাবলীতে ফিরে আসত, তবে তারা প্রতিটি নসিহতকারীকে উৎসাহিত করত এবং ফেরাউনের ন্যায় উক্তির মাধ্যমে তাদের প্রতি রূঢ়তা প্রদর্শন করত না— {আমি কি এই ব্যক্তি অপেক্ষা উত্তম নই, যে তুচ্ছ এবং যে কথা পরিষ্কার করতে পারে না?} (২)। প্রচারক এবং ইতিহাস-নির্মাতাদের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। সাহাবীগণ আত্মত্যাগ করেছেন আর আমরা কেবল তাঁদের নিয়ে আলোচনা করি। কেন আমরা তাঁদের মতো নেক আমল করছি না? আর বান্দাদের অন্তরসমূহকে রবের প্রতি আকৃষ্ট করাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ নেক আমল। এটি কেবল মন্দ কাজের নিষেধ (نهي عن المنكر) ও ভালো কাজের আদেশের (أمر بالمعروف) চেয়েও অধিক প্রচেষ্টার দাবি রাখে; যদিও সবকটিই আবশ্যক, তবে তা হতে হবে অগ্রবর্তী সালাফগণের মানহাজ (منهج) অনুযায়ী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
انظر إلى المحدث العظيم الصحابى الجليل جابر بن عبد الله فى الصحيحين يخرج مع النبى وقد تزوج حديثاً والنبى لا يعلم بذلك وترك له أبوه سبعة من البنات وليس معهم رجل وترك له ديوناً أليس مثل هذا الرجل يجز له أن يعتذر عن ذلك العمل الثقيل على النفس، فهؤلاء سلفنا فى البذل والعطاء: الله أكبر من كل شئ، وصلوا إلى كمال التوحيد: اليقين بوعد الله فلما أنفقوا من راحتهم وأخروا ديناهم من أجل دينهم مكن الله لهم وهذه هى الكرامة {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} (1)، {يَا لَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ * بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ} (2) رغم أن هذا الرجل استهزئ به وضرب حتى الموت فى بلده ووسط أهله.
ولقد تشبه أبو بكر بمؤمن آل فرعون وتشبه عروة بن مسعود بمؤمن سورة يس.
هكذا كان الصحابة أهلاً للقرآن يعملون به، كانوا قرآناً يمشى على الأرض، وأثبتوا لنا أن قصص القرآن لابد أن يتكرر فى كل زمان ومكان وبالدعوة ستكرر الكرامة وستكون العزة خلف سيدنا محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم الذى كان يعرض نفسه على القبائل ولم يكتف بدعوة عشيرته الأقربين كما يريد المرجئة الجدد بل كان يخرج فى نفر من أصحابه إلى سوق عكاظ الذى
--------------------------------------------
মহান হাদিস বিশারদ (المحدث) এবং মহান সাহাবি (الصحابى) জাবির বিন আবদুল্লাহর দিকে লক্ষ্য করুন, যা সহিহাইন গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে; তিনি নবীজির সাথে অভিযানে বের হতেন অথচ তিনি তখন মাত্র বিয়ে করেছিলেন এবং নবীজি সে সম্পর্কে জানতেন না। তাঁর পিতা তাঁর জন্য সাতজন কন্যাসন্তান রেখে গিয়েছিলেন যাদের দেখাশোনার জন্য কোনো পুরুষ ছিল না এবং রেখে গিয়েছিলেন অনেক ঋণ। এ ধরনের ব্যক্তির জন্য কি আত্মার ওপর কষ্টসাধ্য সেই কাজ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার অজুহাত পেশ করা বৈধ ছিল না? এই সাহাবায়ে কিরামই ছিলেন দান ও ত্যাগের ক্ষেত্রে আমাদের পূর্বসূরি (سلف): তাঁদের কাছে আল্লাহ ছিলেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তাঁরা তাওহিদের পূর্ণতায় পৌঁছেছিলেন, যা হলো আল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর দৃঢ় বিশ্বাস (اليقين)। যখন তাঁরা নিজেদের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিলেন এবং দ্বীনের খাতিরে দুনিয়াকে পেছনে ঠেলে দিলেন, তখন আল্লাহ তাঁদের প্রতিষ্ঠিত করলেন; আর এটাই হলো অলৌকিক সম্মান (الكرامة)। {নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই সর্বাধিক মর্যাদাবান, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি} (১), {হায়! আমার সম্প্রদায় যদি জানত—কীভাবে আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন} (২)। যদিও এই ব্যক্তিকে বিদ্রূপ করা হয়েছিল এবং নিজ জনপদে নিজ স্বজনদের মাঝেই মৃত্যু পর্যন্ত প্রহার করা হয়েছিল।
আবু বকর (রা.) ফেরাউন বংশের মুমিন ব্যক্তির সদৃশ হয়েছিলেন এবং উরওয়াহ বিন মাসউদ (রা.) সূরা ইয়াসিনের মুমিন ব্যক্তির সদৃশ হয়েছিলেন।
সাহাবায়ে কিরাম এভাবেই কুরআনের যোগ্য অনুসারী ছিলেন এবং সে অনুযায়ী আমল করতেন; তাঁরা যেন ছিলেন জমিনে বিচরণকারী কুরআন। তাঁরা আমাদের নিকট প্রমাণ করেছেন যে, কুরআনের কাহিনীগুলো অবশ্যই প্রতি যুগে ও প্রতি স্থানে পুনরাবৃত্ত হবে। দাওয়াতের মাধ্যমেই অলৌকিক সম্মান (الكرامة) ফিরে আসবে এবং আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই মর্যাদা অর্জিত হবে, যিনি বিভিন্ন গোত্রের নিকট নিজেকে পেশ করতেন। তিনি কেবল তাঁর নিকটাত্মীয়দের নিকট দাওয়াত পৌঁছে দিয়েই ক্ষান্ত হননি, যেমনটি নব্য মুরজিআরা (المرجئة) চায়; বরং তিনি তাঁর একদল সাহাবির সাথে উকাজের বাজারে বের হতেন যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
كان ينعقد مرة كل عام ثم يتلوه سوقان آخران وذلك فى شهور الحج شوال - ذو القعدة - ذو الحجة، وقد روى البخارى عن ابن عباس أنه لما كان فى عكاظ يصلى الفجر بأصحابه آمن أول طائفة من الجن ودعوا إخوانهم إلى الإسلام دون أن يأخذوا إجازة من النبى صلى الله عليه وسلم لأن الإجازة فى الفتوى ليست فى الدعوة {وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَراً مِنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنْصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِمْ مُنْذِرِينَ} (1) إذا كان الإنس لا يستجيب، فقد يهتدى الجن بإخلاصك، وأنت لا تدرى.
السؤال: لماذا كان النبى صلى الله عليه وسلم يذهب إلى سوق عكاظ ومعه أصحابه؟
لعلهم يجدون من يقف معهم ويحمل الأمانة وكان المستجيب يتعلم قيام الليل والقيام بالدعوة نهارا {قُمِ اللَّيْلَ} (2) {قُمْ فَأَنْذِرْ} (3) مما حدا بكل مسلم جديد أن يصبح داعية فى قومه ثم انتظم الجميع بعد الهجرة فى جيوش تدعو وتقاتل وفى بعوث تدعو ولا تقاتل، هذه سنة وهذه سنة فإن عجز المسلمون عن الأولى فلا يعجزون عن الثانية.
ولله الحمد وحده: نجح المسلمون فى العصر الحديث فى موادٍ كثيرة .. مثل اللحية والنقاب وصلاة العيد فى الخلاء والاعتكاف فى العشر الأواخر ..
--------------------------------------------
এটি বছরে একবার অনুষ্ঠিত হতো, তারপর আরও দুটি মেলা বসত, এবং তা ছিল হজের মাসসমূহে—শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজ মাসে। ইমাম বুখারি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, তিনি যখন উকায মেলায় তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন, তখন জিনের প্রথম দলটি ঈমান আনল এবং তারা তাদের ভাইদের ইসলামের দিকে আহ্বান করল নবি (সা.)-এর কাছ থেকে কোনো অনুমতি বা ইজাজাহ (إجازة) গ্রহণ ছাড়াই; কারণ ফতোয়ার ক্ষেত্রে অনুমতি বা ইজাজাহ (إجازة) প্রয়োজন হলেও দাওয়াতের ক্ষেত্রে তা আবশ্যক নয়। {স্মরণ করো, যখন আমি তোমার দিকে জিনের একটি দলকে আকৃষ্ট করেছিলাম যারা কুরআন পাঠ শুনছিল। যখন তারা তার নিকট উপস্থিত হলো, তারা বলল, ‘চুপ থাকো।’ যখন পাঠ সমাপ্ত হলো, তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল} (১)। যদি মানুষ সাড়া না দেয়, তবে তোমার ইখলাসের কারণে জিনরা হিদায়াত পেতে পারে, যা তুমি জানো না।
প্রশ্ন: কেন নবি (সা.) তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে উকায মেলায় যেতেন?
সম্ভবত তাঁরা এমন কাউকে খুঁজে পেতেন যারা তাঁদের পাশে দাঁড়াবে এবং এই আমানত বহন করবে। যারা সাড়া দিত তারা রাতে ইবাদত এবং দিনে দাওয়াত প্রদানের কাজ শিখত: {রাতে দণ্ডায়মান হও} (২) {দাঁড়াও এবং সতর্ক করো} (৩)। এটি প্রত্যেক নতুন মুসলিমকে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন দাঈ হতে অনুপ্রাণিত করত। হিজরতের পর সবাই এমন বাহিনীতে সুসংগঠিত হয়েছিল যারা দাওয়াত দিত ও যুদ্ধ করত, আবার এমন প্রতিনিধি দলেও ছিল যারা কেবল দাওয়াত দিত কিন্তু যুদ্ধ করত না। এটিও একটি সুন্নাহ (سنة) এবং ওটিও একটি সুন্নাহ (سنة); যদি মুসলিমরা প্রথমটি পালনে অক্ষম হয়, তবে যেন দ্বিতীয়টি পালনে অক্ষম না হয়।
সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য: আধুনিক যুগে মুসলিমরা অনেক বিষয়ে সফল হয়েছে... যেমন দাড়ি, নেকাব, খোলা ময়দানে ঈদের সালাত এবং শেষ দশ দিনের ইতিকাফ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وغيرها من الخيرات وبقيت المادة الأولى التى تعلمها الصحابة فى أول يوم .. وهى الدعوة إلى الله سبحانه وتعالى .. عليها تربوا ونزل كل القرآن فى مكة والمدينة يؤكدها ويحكى عن الأنبياء وأقوامهم.
- س: فماذا كانت مادة الدعوة التى تقال وتعرض؟
ج: انظر كتاب الله سبحانه وتعالى ستجد ما قاله كل نبى لقومه .. نعم الله لا تحصى وأولها أنه خالقهم ورازقهم ولكن الناس لا يبصرون ولا يعرفون ربهم حقاً فيا من نزل عليه القرآن ويا من تقرأ القرآن بيَّن للناس عظمة ربك وكبره تكبيرا {وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ} (1) ولا تسب أصنامهم واذهب إليهم بنفسك وجهاً لوجه وتحمل وستجد المعرضين مثل أبى جهل وستجد المقبلين مثل أبى بكر.
- يا علماء الأمة أحيوا هذه السنة .. وابذلوا من أوقاتكم لإحيائها وتصحيح الأخطاء فتعود المساجد إلى رسالتها الأولى دعوة للمعرضين وتعليماً للمقبلين .. خطان متوازيان وكذلك يا كل مسلم: احرص على مجالس تفسير القرآن وقصص الأنبياء وشرح البخارى ومسلم، على العلم الذى ينفع للدعوة واحرص أيضاً على نوبتك فى بعوث الدعوة فى خطين متوازيين .. الدروس مع البعوث والدعوة الانفرادية لا تغنى عن الدعوة الجماعية متعاونين كما لا تغنى صلاة النافلة عن صلاة الجماعة.
--------------------------------------------
অন্যান্য কল্যাণকর বিষয়াবলি এবং সেই প্রাথমিক বিষয় যা সাহাবীগণ প্রথম দিন থেকেই শিখেছিলেন তা অবশিষ্ট রইল... আর তা হলো মহান আল্লাহর পথে দাওয়াত। এর ওপর ভিত্তি করেই তাঁরা লালিত-পালিত হয়েছিলেন এবং মক্কা ও মদিনায় অবতীর্ণ সমগ্র কুরআন একেই সুনিশ্চিত করে এবং নবীগণ ও তাঁদের জাতিসমূহের কথা বর্ণনা করে।
- প্রশ্ন: দাওয়াতের বিষয়বস্তু কী ছিল যা বলা ও উপস্থাপন করা হতো?
উত্তর: আল্লাহর কিতাবের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন, সেখানে প্রত্যেক নবী তাঁর জাতির প্রতি যা বলেছিলেন তা পাবেন। আল্লাহর নেয়ামতসমূহ অগণিত, যার মধ্যে প্রথমটি হলো তিনিই তাঁদের স্রষ্টা ও রিযিকদাতা। কিন্তু মানুষ তা দেখে না এবং তাঁদের প্রতিপালককে যথাযথভাবে চেনে না। হে সেই সত্তা যাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং হে কুরআন পাঠক, মানুষের কাছে আপনার প্রতিপালকের মহিমা বর্ণনা করুন এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব যথাযথভাবে ঘোষণা করুন {আর আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন} (১) আর তাঁদের প্রতিমাগুলোকে গালি দেবেন না এবং সশরীরে মুখোমুখি তাঁদের কাছে যান ও ধৈর্য ধারণ করুন; আপনি আবু জেহেলের মতো বিমুখকারী লোকও পাবেন এবং আবু বকরের মতো অগ্রসরমান লোকও পাবেন।
- হে উম্মাহর আলেমগণ, এই সুন্নাহ (سنة) পুনরুজ্জীবিত করুন... এবং এটি পুনরুজ্জীবিত করতে ও ভুলসমূহ সংশোধন করতে আপনাদের সময়ের কিছু অংশ ব্যয় করুন, যেন মসজিদসমূহ তার প্রাথমিক মিশনে ফিরে আসে—বিমুখকারীদের জন্য দাওয়াত এবং আগ্রহীদের জন্য শিক্ষা। এগুলো দুটি সমান্তরাল ধারা। একইভাবে, হে প্রত্যেক মুসলিম: কুরআন তাফসীর, নবীদের কাহিনী এবং বুখারী ও মুসলিমের ব্যাখ্যার মজলিসসমূহ তথা সেই জ্ঞানের প্রতি যত্নবান হোন যা দাওয়াতের ক্ষেত্রে উপকারে আসে। দাওয়াতের প্রতিনিধি দলের ক্ষেত্রেও আপনার পালার ব্যাপারে সচেষ্ট হোন দুটি সমান্তরাল ধারায়... জ্ঞানগর্ভ পাঠের পাশাপাশি প্রতিনিধি দলের কাজ; এবং ব্যক্তিগত দাওয়াত কখনো পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সামষ্টিক দাওয়াতের বিকল্প হয় না, ঠিক যেমন নফল সালাত কখনো জামাতের সালাতের বিকল্প হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
- وهذا الكتاب الذى بين أيدينا .. يلقى المزيد من الضوء على هذا العلم المهمل المظلوم - علم الدعوة - وهو علم لا ينسخ نأخذه من قصص الأنبياء جميعاً. فالكتاب والشريط من وسائل الدعوة الجميلة ولكن تبقى الطريقة النبوية هى الطريقة المثلى للدعوة إلى الله سبحانه وتعالى وتحمل أذى الناس رغم أننا ضيوف عليهم ذهبنا إليهم بأنفسنا ونتحين الفرصة المناسبة {فَذَكِّرْ إِنْ نَفَعَتِ الذِّكْرَى} (1) ولا نسألهم أجراً .. فإن شتمونا أو احتقرونا بجهلهم نعذرهم كما فعل النبى صلى الله عليه وسلم ونرجوا لهم الهداية وهذه سنة نبوية قلبية لا ينالها إلا المخلصون.
- وهذا العلم العظيم العريق .. علم الدعوة .. يفهم عملياً بالبعوث ونظرياً بالبحوث والدروس .. فشكر الله لأخينا محمد على إمام الذى صنف هذا الكتاب ورزقه حسن النية حتى ينفع الله المسلمين به بفضل الله وكرمه على المفتقرين إليه
… آمين .. آمين
الشيخ / على سعد أبو الخير
* * * *
--------------------------------------------
- এবং আমাদের সামনে বিদ্যমান এই বইটি... অবহেলিত ও উপেক্ষিত এই শাস্ত্র—দাওয়াতের ইলম—এর ওপর আরও আলোকপাত করে। এটি এমন এক ইলম যা রহিত (منسوخ) হয় না; আমরা এটি সমস্ত নবীদের কাহিনী থেকে গ্রহণ করি। বই এবং ক্যাসেট দাওয়াতের চমৎকার মাধ্যমগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং মানুষের কষ্ট সহ্য করার ক্ষেত্রে নববী পদ্ধতিই হলো সর্বোত্তম আদর্শ, যদিও আমরা তাদের মেহমান এবং নিজেরাই তাদের কাছে গিয়েছি। আমরা উপযুক্ত সুযোগের অন্বেষণ করি— "অতএব, আপনি উপদেশ দিন, যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয়" (১)— এবং আমরা তাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না... তারা যদি তাদের অজ্ঞতাবশত আমাদের গালি দেয় বা তুচ্ছজ্ঞান করে, তবে আমরা তাদের ক্ষমা করে দেই যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন। আমরা তাদের হেদায়েতের প্রত্যাশা করি; এটি একটি নববী আত্মিক সুন্নত (سنة), যা কেবল একনিষ্ঠ (مخلصون) ব্যক্তিরাই লাভ করেন।
- এই মহান ও প্রাচীন শাস্ত্র... দাওয়াতের ইলম... যা ব্যবহারিকভাবে দাওয়াতী সফরের মাধ্যমে এবং তাত্ত্বিকভাবে গবেষণা ও পাঠের মাধ্যমে অনুধাবন করা যায়... আল্লাহ আমাদের ভাই মুহাম্মদ আলী ইমামকে উত্তম প্রতিদান দিন যিনি এই কিতাবটি সংকলন করেছেন এবং তাকে উত্তম নিয়ত (نية) দান করুন, যাতে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও অভাবীদের প্রতি করুণার মাধ্যমে এর দ্বারা মুসলিমদের উপকৃত করেন … আমীন .. আমীন
শায়খ / আলী সাদ আবু আল-খায়ের
* * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مقدمةالحمد لله الذى أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون
… وأشهد أن لا إله إلا الله الملك الحق المبين .. وأشهد أن محمداً عبده ورسوله .. أفضل من بعث بالرسالة واشتكت إليه الغزالة وكلمه الحجر وآمن به المدر وانشق له القمر ولبى دعوته الشجر واستجار به الجمل وشكا إليه شدة العمل وحن إليه الجذع ودر عليه يابس الضرع وسبحت فى كفه الحصباء ونبع من بين أصابعه الماء.
،
… أما بعد
… ،
أكتب هذه الرسالة من منطلق قول ربنا عز وجل {وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ} (1).
لمن؟
إلى كل نفس مؤمنة تتطلع شوقاً إلى رؤية راية الإسلام خفاقة على
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসুলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে
… আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি সার্বভৌম অধিপতি, পরম সত্য ও সুস্পষ্ট। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল। তিনি রিসালাতসহ প্রেরিতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; হরিণী তাঁর কাছে ফরিয়াদ করেছিল, পাথর তাঁর সাথে কথা বলেছিল, মাটির ঢিলা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিল, তাঁর জন্য চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল, বৃক্ষরাজি তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল, উট তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছিল এবং শ্রমের তীব্রতা নিয়ে অভিযোগ করেছিল, খেজুর বৃক্ষের কাণ্ড তাঁর বিরহে রোদন করেছিল, শুষ্ক ওলান তাঁর বরকতে দুগ্ধবতী হয়েছিল এবং তাঁর হাতের তালুতে কঙ্করসমূহ তসবিহ পাঠ করেছিল ও তাঁর আঙুলের মধ্যভাগ থেকে পানি উৎসারিত হয়েছিল।
،
… অতঃপর
… ،
আমাদের মহান রবের এই বাণীর আলোকে আমি এই পুস্তিকাটি লিখছি: {আর আপনি উপদেশ দিন, কেননা উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে} (১)।
কার জন্য?
সেই প্রতিটি মুমিন আত্মার জন্য, যারা ইসলামের পতাকাকে উড্ডীন দেখার ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষায় প্রতীক্ষারত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ربوع العالم.
إلى كل نفس مؤمنة تتطلع شوقاً إلى رؤية شمس الإسلام تشرق من جديد تأخذ بيد البشرية الضالة المتحيرة ببعدها عن منهج الله ويتجه بها: من .. الظلمات إلى النور .. ومن الجهل إلى المعرفة .. ومن الباطل إلى الحق .. ومن الشر إلى الخير .. ومن الشقاء إلى السعادة .. ومن الضلالة إلى الهداية .. ومن الخوف والقلق والحيرة إلى الأمن والطمأنينة .. ومن الأثرة والأنانية إلى الإيثار والتضحية .. ومن التناكر والتخالف إلى التعارف والتآلف .. إلى كل نفس تريد حمل أمانة الدعوة إلى الله عز وجل وتحمل أعباء الجهد والتضحية، لإعلاء كلمة التوحيد.
فى هذه الآونة التى التبس فيها الحق بالباطل .. والمعروف بالمنكر .. والخير بالشر .. وكل يوم تعرض الفتن على القلوب، فما يفيق المسلمون من فتنة حتى يقعوا فى غيرها، فأصبح المسلم تائهاً لا يدرى ماذا يفعل .. ؟ ولا يدرى ما وظيفته .. ؟ وما مقصده فى هذه الحياة .. ؟
وللأسف مالت الأمة عن طريق الحق والنور الذى أراده الله عز وجل للبشرية كما قال الله عز وجل: {يُرِيدُ اللَّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَيَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ * وَاللَّهُ يُرِيدُ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَيُرِيدُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الشَّهَوَاتِ أَنْ تَمِيلُوا مَيْلاً عَظِيماً} (1)
--------------------------------------------
বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে।
সেই প্রতিটি মুমিন আত্মার প্রতি, যারা ইসলামের সূর্যকে পুনরায় উদিত হতে দেখার প্রতীক্ষায় অধীর হয়ে আছে; যা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত মানবতাকে হাত ধরে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, অজ্ঞতা থেকে জ্ঞানের দিকে, মিথ্যা থেকে সত্যের দিকে, অমঙ্গল থেকে মঙ্গলের দিকে, দুর্গতি থেকে সৌভাগ্যের দিকে, পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েতের দিকে, ভয় ও উদ্বেগ থেকে নিরাপত্তা ও প্রশান্তির দিকে, স্বার্থপরতা থেকে ত্যাগ ও কুরবানির দিকে এবং পারস্পরিক অনৈক্য ও বৈরিতা থেকে পরিচিতি ও সম্প্রীতির দিকে পরিচালিত করবে। সেই প্রতিটি প্রাণের প্রতি, যারা মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের আমানত বহন করতে এবং তাওহীদের বাণী সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে শ্রম ও ত্যাগের বোঝা বইতে আগ্রহী।
এমন এক সময়ে, যখন সত্যের সাথে মিথ্যার এবং সুপরিচিত প্রসঙ্গের সাথে অস্বীকৃত মন্দ (منكر) বিষয়ের সংমিশ্রণ ঘটেছে। প্রতিদিন অন্তরের ওপর ফিতনা আছড়ে পড়ছে; মুসলিমরা এক ফিতনা থেকে জেগে ওঠার আগেই অন্যটিতে পতিত হচ্ছে। ফলে মুসলিম আজ দিশেহারা—সে জানে না তার কী করা উচিত, জানে না তার দায়িত্ব কী এবং এই জীবনে তার উদ্দেশ্যই বা কী!
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, উম্মাহ আজ সত্য ও আলোর সেই পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে যা মহান আল্লাহ মানবতার জন্য পছন্দ করেছিলেন; যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ চান তোমাদের কাছে বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে, তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ প্রদর্শন করতে এবং তোমাদের ক্ষমা করতে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। আল্লাহ তো তোমাদের ক্ষমা করতে চান; কিন্তু যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় যেন তোমরা সুপথ থেকে অনেক দূরে ছিটকে পড়ো।} (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فأخذت الأمة طريق اليهود والنصارى وتركت طريق الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم وتمزقت وأصبحت الأمة ليست أمة لأن كل واحد فى الأمة أصبح له مقصد مختلف.
فهذا مقصده المال .. وهذا مقصده الجاه .. وهذا مقصده المنصب .. وهذا مقصده الأولاد .. وهذا مقصده الزراعة .. وهذا مقصده التجارة .. وهذا مقصده الصناعة .. وكثير جعل الدنيا مقصده وهى لا تغنى من الله شيئا.
ولكن الأمة .. هى التى مقصدها واحد وفكرها واحد ومنهجها واحد.
فلنقف ولنتساءل: ماالعلاج؟!
العلاج فى التعرف على الله عز وجل .. العلاج فى رجوع الأمة إلى دينها وجهد نبيها عليه أفضل الصلاة وأتم التسليم .. العلاج فى خروج الأمة فى سبيل ربها لحمل أمانة دينها .. والتعرف على ذلك يتم من خلال قراءتك لهذه الرسالة، راجياً الله سبحانه وتعالى أن ينفع بها كل من وعى حقيقتها .. وتكون شمعة نحو إضاءة طريق الحق والخير والسلام .. آمين .. آمين .. آمين ..
محمد على محمد إمام
* * * * *
এরপর উম্মাহ ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের পথ বেছে নিল এবং সম্মানিত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথ বর্জন করল। ফলে তারা খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে পড়ল এবং এই উম্মাহ আর একক জাতি হিসেবে রইল না; কারণ উম্মাহর প্রত্যেকের উদ্দেশ্য ভিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল।
কারো উদ্দেশ্য হলো সম্পদ, কারো উদ্দেশ্য প্রতিপত্তি, কারো উদ্দেশ্য পদমর্যাদা, কারো উদ্দেশ্য সন্তান-সন্ততি, কারো উদ্দেশ্য কৃষি, কারো উদ্দেশ্য ব্যবসা এবং কারো উদ্দেশ্য শিল্প-কারখানা। আর অনেকেই দুনিয়াকে তাদের মূল লক্ষ্যে পরিণত করেছে, অথচ তা আল্লাহর দরবারে কোনো কাজে আসবে না।
কিন্তু প্রকৃত উম্মাহ হলো তারা, যাদের উদ্দেশ্য এক, চিন্তা-চেতনা এক এবং পদ্ধতি (منهج) এক।
আসুন আমরা একটু থামি এবং প্রশ্ন করি: এর সমাধান কী?!
এর সমাধান নিহিত রয়েছে মহান আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লাকে চেনার মাঝে... সমাধান রয়েছে উম্মাহর নিজ দ্বীনে প্রত্যাবর্তন এবং তাদের নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) মেহনতে আত্মনিয়োগ করার মাঝে... সমাধান নিহিত রয়েছে উম্মাহর নিজ রবের পথে বেরিয়ে পড়ে দ্বীনের আমানত বহন করার মাঝে... আর আপনার এই পুস্তিকাটি পাঠের মাধ্যমেই তা অবগত হওয়া সম্ভব। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন এর মাধ্যমে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে উপকৃত করেন যে এর প্রকৃত বাস্তবতা উপলব্ধি করবে... এবং এটি যেন সত্য, কল্যাণ ও শান্তির পথকে আলোকিত করার ক্ষেত্রে একটি প্রদীপ শিখা হয়... আমিন... আমিন... আমিন...
মুহাম্মদ আলী মুহাম্মদ ইমাম
* * * * *
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
البشارة بالرسول الخاتم صلى الله عليه وسلموأمته فى الكتب المتقدمةعن عطاء بن يسار قال، لقيت عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما فقلت أخبرني عن صفة رسول الله - صلى الله عليه وسلم فى التوراة قال: أجل والله إنه لموصوف فى التوراة ببعض صفته فى القرآن {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِداً وَمُبَشِّراً وَنَذِيراً} (1) وحرزاً للأميين أنت عبدى ورسولى سميتك المتوكل ليس بفظ ولا غليظ ولا سخَّاب (2) فى الأسواق، ولا يدفع السيئة بالسيئة ولكن يعفو ويصفح ويغفر، ولن يقبضه الله حتى يقيم به الملة العوجاء بأن يقولوا لا إله إلا الله فيفتح بها أعيناً عُميا وآذاناً صُما وقلوباً غُلفا" (أخرجه البخارى والإمام أحمد) (3).
--------------------------------------------
পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে শেষ রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এবং তাঁর উম্মত সম্পর্কে সুসংবাদআতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম, আমাকে তাওরাতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! তাওরাতে তাঁর কিছু বৈশিষ্ট্য ঠিক সেভাবেই বর্ণিত হয়েছে যেমনটি কুরআনে রয়েছে: {হে নবী! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসেবে} (১) এবং নিরক্ষরদের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে। আপনি আমার বান্দা এবং রাসুল; আমি আপনার নাম রেখেছি 'আল-মুতাওয়াক্কিল' (ভরসাকারী)। তিনি কঠোর স্বভাবের বা রুক্ষ মেজাজের নন এবং বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের মোকাবিলা মন্দ দিয়ে করেন না, বরং তিনি ক্ষমা ও মার্জনা করেন। আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু দেবেন না, যতক্ষণ না তাঁর মাধ্যমে বক্র আদর্শকে সোজা করে দেন এবং তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে। এর মাধ্যমে তিনি অন্ধ চোখসমূহ, বধির কানসমূহ এবং মোহরাঙ্কিত অন্তরসমূহ উন্মুক্ত করবেন।" (এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি এবং ইমাম আহমাদ) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال وهب ابن منبه: إن الله تعالى أوحى إلى نبى من أنبياء بنى إسرائيل يقال له (شعياء) أن قم فى قومك بنى إسرائيل فإنى منطق لسانك بوحى وأبعث أمياً من الأميين أبعثه ليس بفظ ولا غليظ، ولا صخاب فى الأسواق، لو يمر إلى جنب سراج لم يطفئه من سكينته، ولو يمشى على القصب لم يسمع من تحت قدميه، أبعثه مبشراً ونذيراً لا يقول الخنا، أفتح به أعيناً كمهاً وآذاناً صماً وقلوباً غلفاً، أسدده لكل أمر جميل وأهب له كل خلقٍ كريم وأجعل السكينة لباسه، والبر شعاره، والتقوى ضميره، والحكمة منطقه، والصدق والوفاء طبيعته، والعفو والمعروف خُلقه، والحق شريعته، والعدل سيرته، والهدى إمامه، والإسلام ملته، وأحمد اسمه، أهدى به بعد الضلال، وأعلَّم به بعد الجهالة، وأرفع به بعد الخمالة، وأُعرف به بعد النكرة، وأكثر به بعد القلة، وأغنى به بعد العيلة، وأجمع به بعد الفرقة، وأؤلف به بين أمم متفرقة، وقلوب مختلفة وأهواء متشتتة، وأستنقذ به فئاماً من الناس عظيمة من الهلكة، وأجعل أمته خير أمه أُخرجت للناس يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر موحدين مؤمنين مخلصين مصدقين لما جاءت به رسلى، ألهمهم التسبيح والتحميد والثناء والتكبير والتوحيد فى مساجدهم ومجالسهم ومضاجعهم ومنقلبهم ومثواهم، يصلون لى قياماً وقعوداً، ويقاتلون فى سبيل الله صفوفاً وزحوفاً، ويخرجون من ديارهم ابتغاء مرضاتى ألوفاً يطهرون الوجوه والأطراف، ويشدون الثياب فى
ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলের একজন নবীর প্রতি ওহি প্রেরণ করেন, যাঁকে ইশাইয়া বলা হয় যে, আপনি আপনার সম্প্রদায় বনী ইসরাঈলের মাঝে দণ্ডায়মান হোন, কেননা আমি ওহির মাধ্যমে আপনার জবানকে বাকস্ফূর্ত করব। আমি উম্মীদের মধ্য হতে একজন উম্মী নবী প্রেরণ করব, যিনি রূঢ় বা কঠোর মেজাজের হবেন না এবং হাটে-বাজারে উচ্চস্বরে চিৎকারকারী হবেন না। তিনি যদি তাঁর ধীরস্থিরতার কারণে কোনো প্রদীপের পাশ দিয়েও অতিক্রম করেন, তবে তা নিভে যাবে না। আর যদি তিনি নলখাগড়ার ওপর দিয়েও পদচারণা করেন, তবে তাঁর পায়ের নিচ থেকে কোনো শব্দ শোনা যাবে না। আমি তাঁকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করব, তিনি কোনো অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করবেন না। তাঁর মাধ্যমে আমি অন্ধ চক্ষুসমূহ, বধির কর্ণসমূহ এবং আবরণযুক্ত হৃদয়সমূহ উন্মুক্ত করব। আমি তাঁকে প্রতিটি নেক কাজের জন্য সুদৃঢ় করব এবং তাঁকে প্রতিটি মহান চরিত্র দান করব। আমি প্রশান্তিকে তাঁর পরিচ্ছদ, পুণ্যকে তাঁর বৈশিষ্ট্য, তাকওয়াকে তাঁর বিবেক, প্রজ্ঞাকে তাঁর কথা, সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততাকে তাঁর প্রকৃতি, ক্ষমা ও সদাচারকে তাঁর স্বভাব, সত্যকে তাঁর শরিয়ত, ন্যায়বিচারকে তাঁর জীবনাচার, হেদায়েতকে তাঁর ইমাম এবং ইসলামকে তাঁর ধর্মাদর্শ করব। আহমদ তাঁর নাম; তাঁর মাধ্যমে আমি পথভ্রষ্টতার পর সুপথ প্রদর্শন করব, অজ্ঞতার পর শিক্ষা দান করব, অখ্যাত থাকার পর তাঁকে উন্নত করব, অপরিচিত হওয়ার পর সুপরিচিত করব, অল্পতার পর সংখ্যাধিক্য দান করব, দারিদ্র্যের পর সচ্ছলতা দান করব এবং বিচ্ছিন্নতার পর একতাবদ্ধ করব। তাঁর মাধ্যমে আমি বিভিন্ন জাতি, ভিন্ন ভিন্ন অন্তর এবং বিক্ষিপ্ত প্রবৃত্তিগুলোকে একতাবদ্ধ করব। তাঁর মাধ্যমে আমি মানুষের এক বিশাল দলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করব। আমি তাঁর উম্মতকে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত করব যাদের মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে; তারা সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অন্যায় কাজে বাধা দেবে। তারা একত্ববাদী, মুমিন, একনিষ্ঠ এবং আমার রাসুলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার সত্যায়নকারী হবে। আমি তাদের তাদের মসজিদে, মজলিসে, শয্যাসমূহে এবং তাদের যাতায়াত ও অবস্থানের স্থানে তাসবিহ, তাহমিদ, প্রশংসা, তাকবির ও তাওহিদের প্রেরণা দান করব। তারা আমার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে ও বসে নামাজ আদায় করবে, তারা আল্লাহর পথে সারিবদ্ধ ও সুশৃঙ্খলভাবে লড়াই করবে এবং আমার সন্তুষ্টির তালাশে হাজার হাজার সংখ্যায় নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বের হবে। তারা তাদের মুখমণ্ডল ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ পবিত্র করবে এবং তাদের পরিধেয় বস্ত্র মজবুতভাবে...
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الأنصاف (1)، قربانهم دماؤهم، وأناجيلهم فى صدورهم، رهبان بالليل، ليوث بالنهار، وأجعل فى أهل بيته وذريته السابقين والصديقين والشهداء والصالحين أمته من بعده، يهدون بالحق وبه يعدلون، وأعز من نصرهم، وأؤيد من دعا لهم، وأجعل دائرة السوء على من خالفهم أو بغى عليهم أو أراد أن ينتزع شيئاً مما فى أيديهم، أجعلهم ورثة لنبيهم، والداعية إلى ربهم، يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر ويقيمون الصلاة ويؤتون الزكاة ويوفون بعهدهم، أختم بهم الخير الذى بدأته بأولهم ذلك فضلى أوتيه من أشاء وأنا ذو الفضل العظيم ". (أخرجه ابن أبى حاتم عن وهب) (2).
وذكر وهب بن منبه فى قصة داود عليه السلام وما أوتى إليه فى الزبور:
يا داود: " إنه سيأتى من بعدك نبى اسمه أحمد ومحمد صادقاً سيداً، لا أغضب عليه أبداً، ولا يغضبنى أبداً، وقد غفرت له قبل أن يعصينى ما تقدم من ذنبه وما تأخر، أمته مرحومة أعطيتهم من النوافل مثل ما أعطيت الأنبياء وافترضت عليهم الفرائض التى افترضت على الأنبياء والرسل حتى يأتونى يوم القيامة ونورهم مثل نور الأنبياء، وذلك أنى افترضت عليهم أن
--------------------------------------------
অর্ধেক পর্যন্ত (১), তাদের কোরবানি হলো তাদের রক্ত, আর তাদের ইঞ্জিল (আসমানী কিতাব) তাদের বক্ষে (স্মৃতিতে সংরক্ষিত), তারা রাতে ইবাদতকারী এবং দিনে সিংহের ন্যায় সাহসী। আমি তার পরিবারবর্গ ও বংশধরদের মধ্য থেকে অগ্রগামী, সত্যনিষ্ঠ, শহীদ ও পুণ্যবানদের তার পরবর্তী উম্মত হিসেবে সাব্যস্ত করব; তারা সত্যের পথে পরিচালিত করবে এবং সে অনুযায়ী ইনসাফ করবে। যারা তাদের সাহায্য করবে আমি তাদের সম্মানিত করব এবং যারা তাদের জন্য দোয়া করবে আমি তাদের সমর্থন দেব। আর যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করবে কিংবা তাদের অধিকারভুক্ত কোনো কিছু ছিনিয়ে নিতে চাইবে, আমি তাদের ওপর অমঙ্গল আপতিত করব। আমি তাদের নবীর উত্তরাধিকারী এবং তাদের রবের দিকে আহ্বানকারী হিসেবে নিযুক্ত করব। তারা সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে, নামাজ কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করবে। তাদের মাধ্যমেই আমি সেই কল্যাণের পরিসমাপ্তি ঘটাব যা তাদের প্রথমজনের মাধ্যমে শুরু করেছিলাম। এটি আমার বিশেষ অনুগ্রহ, আমি যাকে ইচ্ছা তা দান করি এবং আমি মহা অনুগ্রহশীল।" (ইবনে আবি হাতিম ওহাবের সূত্রে এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه)) (২)।
ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনী এবং জবুর কিতাবে তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল সে সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন:
হে দাউদ: "নিশ্চয়ই তোমার পরে একজন নবী আসবেন যার নাম আহমদ ও মুহাম্মদ; তিনি সত্যবাদী ও নেতা। আমি কখনোই তাঁর ওপর রাগান্বিত হব না এবং তিনি কখনোই আমাকে রাগান্বিত করবেন না। তিনি অবাধ্য হওয়ার আগেই আমি তাঁর পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছি। তাঁর উম্মত হবে রহমতপ্রাপ্ত। আমি তাদের এমন নফল ইবাদত দান করেছি যা কেবল নবীদের দান করেছিলাম এবং তাদের ওপর এমন সব বিধান ফরজ করেছি যা নবী ও রাসুলদের ওপর ফরজ করেছিলাম। এমনকি কিয়ামতের দিন তারা যখন আমার নিকট আসবে, তখন তাদের নূর হবে নবীদের নূরের মতো। আর তা এজন্য যে, আমি তাদের ওপর ফরজ করেছি যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
يتطهروا إلى كل صلاة كما افترضت على الأنبياء قبلهم، وأمرتهم بالغسل من الجنابة كما أمرت الأنبياء قبلهم، وأمرتهم بالحج كما أمرت الأنبياء قبلهم، وأمرتهم بالجهاد كما أمرت الرسل قبلهم.
يا داود: إنى فضلت محمداً وأمته على الأمم كلها، أعطيتهم ست خصال لم أعطها غيرهم من الأمم:
- لا آخذهم بالخطأ والنسيان.
- وكل ذنب ارتكبوه على غير عمد إن استغفرونى منه غفرته لهم.
- وما قدموا لآخرتهم من شئ طيبة به أنفسهم جعلته لهم أضعافاً مضاعفة وأفضل من ذلك.
- وأعطيهم على المصائب فى البلايا إذا صبروا وقالوا: إنا لله وإنا إليه راجعون، الصلاة والرحمة والهدى إلى جنات النعيم، فإن دعونى استجبت لهم فإما أن يروه عاجلاً وإما أن أصرف عنهم سوءاً وإما أن أدخره لهم فى الآخرة.
يا داود: من لقينى من أمة محمد يشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له صادقاً بها فهو معى فى جنتى وكرامتى، ومن لقينى وقد كذب محمداً أو كذب بما جاء به واستهزأ بكتابى صببت عليه فى قبره العذاب صبا، وضربت
তারা যেন প্রত্যেক সালাতের পূর্বে পবিত্রতা অর্জন করে যেমনটি আমি তাদের পূর্ববর্তী নবীদের ওপর ফরজ করেছিলাম; এবং আমি তাদের জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসলের নির্দেশ দিয়েছি যেমনটি তাদের পূর্ববর্তী নবীদের নির্দেশ দিয়েছিলাম; আমি তাদের হজের নির্দেশ দিয়েছি যেমনটি তাদের পূর্ববর্তী নবীদের নির্দেশ দিয়েছিলাম; এবং আমি তাদের জিহাদের নির্দেশ দিয়েছি যেমনটি তাদের পূর্ববর্তী রাসুলদের নির্দেশ দিয়েছিলাম।
হে দাউদ! নিশ্চয়ই আমি মুহাম্মদ ও তাঁর উম্মতকে সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। আমি তাদের এমন ছয়টি বৈশিষ্ট্য দান করেছি যা আমি অন্য কোনো উম্মতকে দান করিনি:
- ভুলবশত এবং বিস্মৃতিবশত কৃত কর্মের জন্য আমি তাদের পাকড়াও করব না।
- অনিচ্ছাকৃতভাবে তারা যে কোনো পাপে লিপ্ত হবে, এরপর যদি তারা আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে তবে আমি তাদের ক্ষমা করে দেব।
- তারা তাদের আখিরাতের জন্য সন্তুষ্ট চিত্তে যা কিছু অগ্রিম পাঠাবে, আমি তা তাদের জন্য বহুগুণে বৃদ্ধি করব এবং তার চাইতেও উত্তম প্রতিদান দান করব।
- আর বিপদ-আপদ ও মুসিবতের সময় তারা যদি ধৈর্য ধারণ করে এবং বলে: 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন', তবে আমি তাদের নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতের দিকে বিশেষ রহমত, দয়া ও হেদায়াত দান করব। তারা যদি আমার নিকট দোয়া করে তবে আমি তাদের ডাকে সাড়া দেব; হয় আমি তাদের দুনিয়াতে অবিলম্বে এর ফল দান করব, অথবা তাদের থেকে কোনো অকল্যাণ দূর করে দেব, নতুবা আমি তাদের জন্য তা পরকালের জন্য সঞ্চয় করে রাখব।
হে দাউদ! মুহাম্মদের উম্মতের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি সত্য হৃদয়ে এই সাক্ষ্য দিয়ে আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই, সে আমার জান্নাতে আমার সান্নিধ্যে ও সম্মানে থাকবে। আর যে ব্যক্তি আমার সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে সে মুহাম্মদকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে অথবা তিনি যা নিয়ে এসেছেন তাকে অস্বীকার করেছে এবং আমার কিতাব নিয়ে উপহাস করেছে, আমি তার কবরে কঠিন আজাব ঢেলে দেব এবং তাকে আঘাত করব...
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الملائكة وجهه ودبره عند منشره من قبره ثم أدخله فى الدرك الأسفل من النار " (1).
وعن كعب يحكى عن التوراة قال: " نجد مكتوباً محمدٌ رسول الله عبدى المختار لا فظ ولا غليظ ولا سخاب فى الأسواق ولا يجزى بالسيئة السيئة ولكن يعفو ويغفر مولده فى مكة وهجرته بطيبة وملكه بالشام وأمته الحمادون، يحمدون الله فى السراء والضراء، يحمدون الله فى كل منزلة، ويكبرونه على كل شرف، رعاة الشمس يصلون الصلاة إذا جاء وقتها، يأتزرون على أنصافهم، ويتوضئون على أطرافهم، مناديهم ينادى فى جو السماء، صفهم فى القتال وصفهم فى الصلاة سواء، لهم بالليل دوى كدوى النحل ". (هذا لفظ المصابيح ورواه الدارمى بتغيير يسير) (2).
وروى الحافظ البيهقى بسنده عن وهب بن منبه اليمانى قال: إن الله عز وجل لما قرب موسى نجيا، قال: رب! إنى أجد فى التوراة أمة خير أمة أخرجت للناس، يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر ويؤمنون بالله، فاجعلهم أمتى، قال: تلك أمة أحمد، قال: رب! إنى أجد فى التوراة أمة هم خير الأمم السابقون يوم القيامة فاجعلهم أمتى، قال تلك أمة أحمد، قال: رب! إنى أجد فى التوراة أمة أناجيلهم فى صدورهم
--------------------------------------------
...ফেরেশতাগণ তার মুখমণ্ডল ও পশ্চাদ্দেশে (আঘাত করবেন) যখন সে তার কবর থেকে পুনরুত্থিত হবে, অতঃপর তিনি তাকে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে প্রবিষ্ট করাবেন।" (১)।
এবং কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি তাওরাত থেকে বর্ণনা করে বলেন: "আমরা (তাওরাতে) লিখিত পাই যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আমার মনোনীত বান্দা; তিনি কর্কশভাষী নন, কঠোর স্বভাবের নন এবং বাজারে উচ্চৈঃস্বরে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের বিনিময়ে মন্দ করেন না, বরং মার্জনা ও ক্ষমা করেন। তাঁর জন্ম মক্কায়, তাঁর হিজরত হবে তাইবায় (মদিনায়) এবং তাঁর রাজত্ব হবে শামে। তাঁর উম্মত হবে অধিক প্রশংসাকারী; তারা সুখে ও দুঃখে আল্লাহর প্রশংসা করবে। তারা প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং প্রতিটি উচ্চস্থানে তাঁর মহিমা (তাকবির) ঘোষণা করবে। তারা সূর্যের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী, সালাতের সময় হওয়া মাত্রই তারা সালাত আদায় করবে। তারা তাদের দেহের অর্ধাংশ পর্যন্ত পরিধেয় বস্ত্র (লুঙ্গি) পরিধান করবে এবং তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিধৌত (অজু) করবে। তাদের ঘোষক আকাশের শূন্যমন্ডলে ঘোষণা (আজান) দিবে। যুদ্ধের ময়দানে এবং সালাতে তাদের কাতার হবে সমান। রাতে তাদের (জিকিরের) গুঞ্জন হবে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো।" (এটি মিশকাতুল মাসাবিহ-এর শব্দাবলি এবং দারেমি সামান্য শাব্দিক পরিবর্তনসহ এটি বর্ণনা করেছেন) (২)।
এবং হাফেজ (الحافظ) বায়হাকি তাঁর সনদ (سند) সহকারে ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ আল-ইয়ামানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ যখন মুসা (আ.)-কে তাঁর একান্ত কথোপকথনের জন্য নিকটবর্তী করলেন, তখন মুসা (আ.) বললেন: হে প্রতিপালক! আমি তাওরাতে এমন এক উম্মতের বিবরণ পাচ্ছি যারা মানবজাতির কল্যাণে নির্গত শ্রেষ্ঠ উম্মত; তারা সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। সুতরাং তাদেরকে আমার উম্মত বানিয়ে দিন। আল্লাহ বললেন: তারা হলো আহমদের উম্মত। মুসা (আ.) বললেন: হে প্রতিপালক! আমি তাওরাতে এমন এক উম্মতের কথা পাচ্ছি যারা কিয়ামতের দিন সকল উম্মতের মধ্যে অগ্রগামী হবে; সুতরাং তাদেরকে আমার উম্মত বানিয়ে দিন। আল্লাহ বললেন: তারা হলো আহমদের উম্মত। মুসা (আ.) বললেন: হে প্রতিপালক! আমি তাওরাতে এমন এক উম্মতের বিবরণ পাচ্ছি যাদের কিতাবসমূহ (ঐশী গ্রন্থ) হবে তাদের বক্ষসমূহে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
يقرؤونها وكان من قبلهم يقرءون كتبهم نظراً ولا يحفظونها، فاجعلهم أمتى، قال تلك أمة أحمد، قال: رب! إنى أجد فى التوراة أمة يؤمنون بالكتاب الأول والآخر، ويقاتلون رؤوس الضلالة حتى يقاتلوا الأعور الكذاب فاجعلهم أمتى، قال: تلك أمة أحمد، قال: رب! إنى أجد أمة يأكلون صدقاتهم فى بطونهم وكان من قبلهم إذا أخرج صدقته بعث الله عليها ناراً فأكلتها، فإن لم تقبل لم تقربها النار، فاجعلهم أمتى، قال: تلك أمة أحمد، قال رب! إنى أجد فى التوراة أمة إذا همَّ أحدهم بسيئة لم تكتب عليه فإن عملها كتبت عليه سيئة واحدة، وإذا همَّ بحسنه ولم يعملها كتبت له حسنة كاملة فإن عملها كتبت له عشر حسنات إلى سبعمائة ضعف، فاجعلهم أمتى، قال: تلك أمة أحمد.
قال: رب! إنى أجد فى التوراة أمة هم المستجيبون والمستجاب لهم فاجعلهم أمتى، قال: تلك أمة أحمد " (1).
وعن مقاتل بن حيان قال: أوحى الله عز وجل إلى عيسى ابن مريم .. جد فى أمرى ولا تهزل، واسمع وأطع يابن الطاهر البتول، إنى خلقتك من غير فحل، وجعلتك آية للعالمين، فإياى فاعبد وعلى فتوكل، فبين لأهل سوران أنى أنا الحق القائم الذى لا أزول، صدقوا بالنبى العربى صاحب الجمل والمدرعة والعمامة والنعلين والهراوة، الجعد الرأس، الصلت الجبين، المقرون الحاجبين، الأدعج العينين، الأقنى الأنف، الواضح الخدين، الكث
--------------------------------------------
তারা এটি পাঠ করে, অথচ তাদের পূর্ববর্তীরা তাদের কিতাবগুলো কেবল দেখে দেখে পড়ত এবং তা মুখস্থ করত না। (মূসা আ. প্রার্থনা করলেন,) হে রব! তাদেরকে আমার উম্মত করে দিন। তিনি বললেন: তারা হলো আহমাদ-এর উম্মত। তিনি বললেন: হে রব! আমি তৌরাতে এমন এক উম্মতের বিবরণ পাচ্ছি যারা প্রথম কিতাব (পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ) ও শেষ কিতাবের ওপর ঈমান আনবে এবং তারা ভ্রষ্টতার হোতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, এমনকি তারা একচক্ষুবিশিষ্ট মিথ্যাবাদী (الكذاب)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। অতএব তাদেরকে আমার উম্মত করে দিন। তিনি বললেন: তারা আহমাদ-এর উম্মত। তিনি বললেন: হে রব! আমি এমন এক উম্মতকে পাচ্ছি যারা তাদের সদকা নিজেদের পেটেই গ্রহণ করে (নিজেরাই ভোগ করে), অথচ তাদের পূর্ববর্তীদের নিয়ম ছিল যে, যখন কেউ সদকা প্রদান করত, আল্লাহ তার ওপর আগুন প্রেরণ করতেন এবং সেটি তা গ্রাস করত; আর যদি তা কবুল না হতো তবে আগুন তার নিকটবর্তী হতো না। সুতরাং তাদেরকে আমার উম্মত করে দিন। তিনি বললেন: তারা আহমাদ-এর উম্মত। তিনি বললেন: হে রব! আমি তৌরাতে এমন এক উম্মতের বর্ণনা পাচ্ছি যাদের কেউ কোনো মন্দ কাজের সংকল্প করলে তা তার ওপর লিপিবদ্ধ করা হয় না, আর যদি সে তা সম্পাদন করে তবে কেবল একটি মন্দ কাজ লেখা হয়। পক্ষান্তরে যদি সে কোনো নেক কাজের সংকল্প করে কিন্তু তা পালন না করে, তবে তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি লেখা হয়, আর যদি সে তা পালন করে তবে তার জন্য দশটি নেকি থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত সওয়াব লেখা হয়। অতএব তাদেরকে আমার উম্মত করে দিন। তিনি বললেন: তারা আহমাদ-এর উম্মত।
তিনি বললেন: হে রব! আমি তৌরাতে এমন এক উম্মতকে পাচ্ছি যারা (আল্লাহর আহ্বানে) সাড়াদানকারী এবং যাদের দোয়া কবুল করা হয়। অতএব তাদেরকে আমার উম্মত করে দিন। তিনি বললেন: তারা আহমাদ-এর উম্মত (১)।
মুকাতিল ইবনে হাইয়ান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল ঈসা ইবনে মারিয়ামের প্রতি ওহী প্রেরণ করলেন যে.. আমার আদেশের ব্যাপারে যত্নবান হও এবং খেল-তামাশা করো না। হে পবিত্রা ও কুমারীর সন্তান! শোনো ও আনুগত্য করো। আমি তোমাকে পুরুষ ছাড়াই সৃষ্টি করেছি এবং তোমাকে বিশ্ববাসীর জন্য নিদর্শন স্বরূপ নির্ধারণ করেছি। অতএব কেবল আমারই ইবাদত করো এবং আমার ওপরই ভরসা করো। সুরাবাসীদের নিকট সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করো যে, আমিই সেই চিরস্থায়ী সত্য যা কখনো বিলীন হবে না। তোমরা সেই আরবীয় নবীর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করো যিনি উট, পশমি চাদর, পাগড়ি, জুতা এবং লাঠির অধিকারী; যার মাথার চুল কোঁকড়ানো, ললাট প্রশস্ত, ভ্রুদ্বয় যুগলবদ্ধ, চক্ষুদ্বয় গাঢ় কৃষ্ণবর্ণ, নাসিকা উন্নত, গালদ্বয় মসৃণ এবং ঘন (দাড়িবিশিষ্ট)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
اللحية، عرقه فى وجهه كاللؤلؤ، ريحه المسك ينفح منه، كأن عنقه إبريق فضه، وكأن الذهب يجرى فى تراقيه له شعرات من لبته إلى سرته، تجرى كالقضيب، ليس على صدره ولا بطنه شعر غيره، ششن الكفين والقدم، إذا جامع الناس غمرهم، وإذا مشى كأنما ينقلع من الصخر وينحدر من صبب، ذو النسل القليل (1) (2).
* * * * *
--------------------------------------------
দাড়ি, তাঁর চেহারার ঘাম যেন মুক্তার মতো, তাঁর শরীর থেকে কস্তুরীর সুবাস ছড়িয়ে পড়ত, তাঁর ঘাড় যেন রূপার সুরাহি, আর তাঁর কণ্ঠাস্থিতে যেন স্বর্ণ প্রবাহিত হচ্ছে। তাঁর বুকের উপরিভাগ হতে নাভি পর্যন্ত একটি পশমের রেখা ছিল যা দণ্ডের মতো প্রলম্বিত, তাঁর বুক বা পেটে এটি ব্যতিরেকে অন্য কোনো লোম ছিল না। তাঁর হাত ও পায়ের তালু ছিল মাংসল ও সুদৃঢ়। তিনি যখন মানুষের সাথে সমবেত হতেন তখন তাঁদেরকে ছাপিয়ে যেতেন (অনন্য থাকতেন), এবং যখন তিনি হাঁটতেন তখন মনে হতো যেন তিনি পাথর থেকে পা উপড়ে তুলছেন এবং কোনো ঢালু স্থান হতে অবতরণ করছেন। তিনি স্বল্প সন্তানসন্ততি বিশিষ্ট ছিলেন (১) (২)।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الإعدادلبعثة الرسول الخاتم صلى الله عليه وسلم -
عن ابن عباس رضي الله عنهم قال: كان لنزار (1) أربعة أولاد: مضر وربيعة وإياد وأنمار، فلما حضرته الوفاة وصاهم فقال: يا بنى هذه القبة الحمراء من أدَمَ وما أشبهه من المال لمضر، وهذا الخباء الأسود وما أشبهه لربيعة، وهذه الخادمة وكانت شمطاء وما أشبهها لأياد، وهذه الندوة والمجلس وما أشبهه لأنمار، فإن أشكل عليكم واختلفتم فعليكم بالأفعى الجرهمى بنجران، فلما مات واختلفوا وأشكل عليهم أمر القسمة فتوجهوا إليه فبينما هم يسيرون إذ رأى مضر كلأ قد رُعى فقال: إن البعير الذى رعى هذا الكلأ
--------------------------------------------
শেষ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির প্রস্তুতি-
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিযার (১)-এর চার পুত্র ছিল: মুযার, রাবীআহ, ইয়াদ এবং আনমার। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন তিনি তাদেরকে এই মর্মে অসিয়ত করলেন যে: হে বৎসগণ! চামড়ার তৈরি এই লাল তাঁবু এবং এই জাতীয় সম্পদসমূহ মুযারের জন্য, এই কালো তাঁবু এবং এই জাতীয় সম্পদসমূহ রাবীআহর জন্য, এই সেবিকা—যিনি ছিলেন পাকা চুলের অধিকারিণী—এবং এই জাতীয় সম্পদসমূহ ইয়াদের জন্য, আর এই সভা ও মজলিস এবং এই জাতীয় সম্পদসমূহ আনমারের জন্য। যদি তোমাদের কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয় এবং তোমরা মতভেদে লিপ্ত হও, তবে তোমরা নাজরানের আফআ আল-জুরহুমীর শরণাপন্ন হবে। অতঃপর তাঁর মৃত্যুর পর যখন তারা বন্টনের বিষয়ে মতভেদ ও অস্পষ্টতার সম্মুখীন হলো, তখন তারা তাঁর (আফআ) উদ্দেশ্যে যাত্রা করল। পথিমধ্যে চলাকালীন মুযার এমন একটি চারণভূমি দেখলেন যেখানে ঘাস খাওয়া হয়েছে। তিনি বললেন: যে উটটি এই চারণভূমি ভক্ষণ করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أعور، وقال ربيعة: هو أزور، وقال أياد: هو أبتر، وقال أنمار: هو شرود.
فلم يسيروا قليلاً حتى لقيهم رجل يوضع على راحلته فسألهم عن البعير.
فقال مضر: أهو أعور .. ؟ قال: نعم.
وقال ربيعة: أهو أزور .. ؟ قال: نعم.
وقال أياد: أهو أبتر .. ؟ قال: نعم.
وقال أنمار: أهو شرود .. ؟
قال: نعم، وهذه صفة بعيرى فدلونى عليه، فقالوا: والله ما رأيناه قال: قد وصفتموه بصفته فكيف لم تروه؟ وسار معهم إلى نجران حتى نزلوا بالأفعى الجرهمى فناداه صاحب البعير: هؤلاء أصحاب بعيرى وصفوه لى بصفته وقالوا لم نره، فقال لهم الأفعى الجرهمى: كيف وصفتموه ولم تروه؟
فقال مضر: رأيته يرعى جانباً ويترك جانباً فعرفت أنه أعور.
وقال ربيعة: رأيت إحدى يديه ثابتة الأثر والأخرى فاسدة الأثر فعرفت أنه أزور.
وقال إياد: رأيت بعره مجتمعاً فعرفت أنه أبتر، ولو كان ذيالاً لمصعه بذيله.
وقال أنمار: رأيته يرعى المكان الملتف نبته ثم يجوزه إلى مكان أرق منه وأخبث فعرفت أنه شرود.
একচোখা (أعور); রাবিয়াহ বললেন: সেটি একপেশে হেলে চলা (أزور); ইয়াদ বললেন: সেটি লেজকাটা (أبتر); এবং আনমার বললেন: সেটি অবাধ্য পলায়নপর (شرود)।
তারা অল্প কিছুক্ষণ পথ চলার পর এমন এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলেন যিনি তার উটের পিঠে আরোহণ করেছিলেন। তিনি তাদের কাছে তার হারানো উট সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।
মুদার বললেন: সেটি কি একচোখা (أعور) ছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
রাবিয়াহ বললেন: সেটি কি একপেশে হেলে চলা (أزور) ছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
ইয়াদ বললেন: সেটি কি লেজকাটা (أبتر) ছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
আনমার বললেন: সেটি কি অবাধ্য পলায়নপর (شرود) ছিল?
তিনি বললেন: হ্যাঁ, এগুলোই তো আমার উটের বৈশিষ্ট্য! সুতরাং আমাকে সেটির অবস্থান বলে দিন। তারা বললেন: আল্লাহর কসম, আমরা সেটি দেখিনি। তিনি বললেন: তোমরা হুবহু উটটির বর্ণনা দিলে, অথচ বলছ সেটি দেখনি—তা কীভাবে সম্ভব? এরপর তিনি তাদের সাথে নাজরান পর্যন্ত গেলেন এবং তারা আল-আফআ আল-জুরহুমির নিকট উপস্থিত হলেন। উটের মালিক তাকে ডেকে বললেন: এরা আমার উটের সঠিক বর্ণনা দিয়েছে কিন্তু বলছে তারা সেটি দেখেনি। তখন আল-আফআ আল-জুরহুমি তাদের বললেন: তোমরা সেটি না দেখে বর্ণনা দিলে কীভাবে?
মুদার বললেন: আমি দেখলাম সেটি রাস্তার একদিকের ঘাস খাচ্ছে আর অন্যদিকের ঘাস ছেড়ে দিচ্ছে; তা থেকে আমি বুঝলাম যে সেটি একচোখা (أعور)।
রাবিয়াহ বললেন: আমি দেখলাম উটটির এক পায়ের চিহ্ন স্পষ্ট ও স্থির, কিন্তু অন্যটির চিহ্ন অস্পষ্ট ও দুর্বল; তা থেকে আমি বুঝলাম যে সেটি একপেশে হেলে চলা (أزور) উট।
ইয়াদ বললেন: আমি দেখলাম উটটির বিষ্ঠা এক জায়গায় পুঞ্জীভূত হয়ে আছে; তা থেকে আমি বুঝলাম যে সেটি লেজকাটা (أبتر)। কারণ তার যদি দীর্ঘ লেজ থাকত, তবে লেজ নাড়ানোর মাধ্যমে সে বিষ্ঠাগুলো ছড়িয়ে দিত।
আনমার বললেন: আমি দেখলাম সেটি এমন জায়গায় ঘাস খাচ্ছিল যেখানে উদ্ভিদ ঘন ও সতেজ ছিল, কিন্তু সেটি সেই জায়গা ছেড়ে এমন স্থানে চলে গেল যেখানে ঘাস ছিল অত্যন্ত বিরল ও নিম্নমানের; তা থেকে আমি বুঝলাম যে সেটি অবাধ্য পলায়নপর (شرود)।
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فقال الجرهمى لصاحب البعير: ليسوا أصحاب بعيرك فاطلب من غيرهم ثم سألهم من هم؟
فأخبروه أنهم بنو نزار بن معد بن عدنان.
فقال: أتحتاجون إلىَّ وأنتم كما أرى فى جزالتكم وصحة عقولكم وآرائكم على ما أرى؟
ثم خرج عنهم وأرسل لهم بطعام فأكلوا وبشراب فشربوا.
فقال مضر: لم أر كاليوم خمراً أجود لولا أنها نبتت على قبر.
وقال ربيعة: لم أر كاليوم لحماً أطيب لولا أنه ربى بلبن كلبه.
وقال إياد: لم أر كاليوم رجلاً أسرى لولا أنه يدعى لغير أبيه.
وقال أنمار: لم أر كاليوم كلاماً أنفع فى حاجتنا.
وسمع الجرهمى الكلام .. فتعجب لقولهم وقال ما هؤلاء الشياطين وأتى أمه فسألها فأخبرته أنها كانت تحت ملك لا ولد له فكرهت أن يذهب الملك فأمكنت رجلاً من نفسها كان نزل به فوطئها فحملت منه به.
وسأل القهرمان عن الخمر.؟ فقال: من كرمة غرستها على قبر أبيك.
وسأل الراعى عن اللحم .. ؟ فقال شاه أرضعتها بلبن كلبه لأن الشاه حين ولدت ماتت ولم يكن ولد فى الغنم شاه غيرها.
فقيل لمضر من أين عرفت أن الخمر ونباتها على قبر؟
قال: لأنى أصابنى عليها عطش شديد.
وقيل لربيعة: من أين عرفت أن الشاه ارتفعت على لبن كلبة .. ؟
অতঃপর জুরহুমি ব্যক্তি উষ্ট্রের মালিককে বললেন: এরা আপনার উষ্ট্রের মালিক নয়, সুতরাং আপনি অন্যদের কাছে সন্ধান করুন। এরপর তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তারা কারা?
তারা তাকে অবহিত করলেন যে, তারা নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনানের বংশধর।
তিনি বললেন: আমার কি আপনাদের কোনো প্রয়োজন আছে? অথচ আমি আপনাদের যেমন দেখছি—আপনাদের বাগ্মিতা এবং আপনাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সুস্থতা (صحة) ও সুচিন্তিত মতামতের যে অবস্থা আমি প্রত্যক্ষ করছি, তাতে কি আপনারা আমার মুখাপেক্ষী?
অতঃপর তিনি তাদের নিকট থেকে প্রস্থান করলেন এবং তাদের জন্য খাবার পাঠালেন। তারা তা আহার করলেন এবং পানীয় পাঠালেন, তারা তা পান করলেন।
মুদার বললেন: আমি আজকের মতো এতো উৎকৃষ্ট মদ আর দেখিনি, যদি না এটি কোনো কবরের ওপর উৎপাদিত হতো।
রাবিয়াহ বললেন: আমি আজকের মতো এতো সুস্বাদু গোশত আর দেখিনি, যদি না এটি কোনো কুকুরের দুধে লালিত-পালিত হতো।
ইয়াদ বললেন: আমি আজকের মতো এমন দানশীল ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি আর দেখিনি, যদি না তিনি তার পিতা ছাড়া অন্য কারো দিকে সম্বন্ধিত হতেন।
আনমার বললেন: আমাদের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আজকের মতো এতো উপকারী কথা আমি আর শুনিনি।
জুরহুমি ব্যক্তি এই কথাগুলো শুনলেন এবং তাদের উক্তিতে বিস্মিত হলেন। তিনি বললেন, এরা কেমন শয়তান! এরপর তিনি তার মায়ের কাছে গিয়ে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। মা তাকে জানালেন যে, তিনি জনৈক নিঃসন্তান বাদশাহর স্ত্রী ছিলেন। তিনি অপছন্দ করলেন যে রাজত্ব হাতছাড়া হয়ে যাক, তাই তিনি তার প্রাসাদে অবস্থানরত এক ব্যক্তিকে নিজের ওপর সুযোগ দিলেন। সে তার সাথে সহবাস করল এবং তিনি তার মাধ্যমে গর্ভবতী হলেন (যার ফলে এই জুরহুমি ব্যক্তির জন্ম হয়)।
তিনি মদ্য-তৈরির কারিগরকে মদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল: এটি এমন এক আঙ্গুর গাছ থেকে সংগৃহীত যা আমি আপনার পিতার কবরের ওপর রোপণ করেছিলাম।
তিনি রাখালকে গোশত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল: এটি এমন এক বকরির বাচ্চা যাকে আমি একটি কুকুরের দুধে বড় করেছি; কারণ বকরিটি যখন বাচ্চা প্রসব করে তখনই মারা যায় এবং পুরো পালের মধ্যে এই একটি বাচ্চা ছাড়া আর কোনো বাচ্চা ছিল না।
অতঃপর মুদারকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কীভাবে জানলেন যে এই মদ এবং এর গাছ কবরের ওপর উৎপাদিত?
তিনি বললেন: কারণ এটি পান করার পর আমার তীব্র তৃষ্ণা অনুভূত হয়েছিল।
আর রাবিয়াহকে বলা হলো: আপনি কীভাবে জানলেন যে বকরিটি কুকুরের দুধে বড় হয়েছে...?
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قال: لأننى شممت فيها رائحة الكلب. ولأن لحم الكلب يعلو شحمه بخلاف لحم الشاه فإن شحمها يعلو لحمها.
وقيل لإياد: من أين عرفت أن الرجل يدعى لغير أبيه .. ؟
قال: لأنى رأيته يتكلف ما يعمله. ولأنه وضع الطعام ولم يجلس معنا فيكون أصله دنيئاً. ثم أتاهم الجرهمى وقال: صفوا لى صفتكم فقصوا عليه ما أوصاهم به أبوهم نزار فقضى لمضر: بالقبة الحمراء والدنانير والإبل وهى حُمر فسمى مضر الحمراء.
وقضى لربيعة: وما أشبه الخباء الأسود من دابة ومال فهو لربيعة فصارت إليه الخيل وهى دهم فسمى ربيعة الفرس.
وقضى لإياد: وما أشبه الخادم وكانت شمطاء من مال فيه بلق فهو لإياد فصارت الماشية البلق له فقيل إياد الشمطاء.
وقضى لأنمار: بالأرض والدراهم.
وهذا الذى ظهر فى أولاد نزار من قوة الذكاء وحدة الفطنة، تأسيساً لتميزهم بالفضل، واختصاصهم بوفور العقل، مقدمة لما يراد بهم من بعثة النبى محمد صلى الله عليه وسلم (1).
* * * *
--------------------------------------------
তিনি বললেন: কারণ আমি তাতে কুকুরের গন্ধ পেয়েছিলাম। এছাড়া কুকুরের মাংস তার চর্বির উপরে থাকে, পক্ষান্তরে মেষের মাংসের ক্ষেত্রে তার চর্বি মাংসের উপরে থাকে।
আর ইয়াদকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কীভাবে জানলেন যে এই ব্যক্তিটি তার পিতা ব্যতীত অন্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (অর্থাৎ জারজ)?
তিনি বললেন: কারণ আমি তাকে যা করছে তাতে কৃত্রিমতা করতে দেখেছি। আর সে খাবার পরিবেশন করেছে কিন্তু আমাদের সাথে বসেনি, যা তার হীন বংশজাত হওয়ার পরিচয় দেয়। অতঃপর জুরহুমী তাদের নিকট আসলেন এবং বললেন: তোমরা তোমাদের অবস্থা আমার নিকট বর্ণনা করো। তখন তারা তাদের পিতা নিযার তাদেরকে যা অসিয়ত করেছিলেন তা তার কাছে বর্ণনা করলেন। এরপর তিনি মুদারের জন্য ফয়সালা করলেন: লাল গম্বুজ, দিনারসমূহ এবং উট—যা ছিল লাল বর্ণের। এজন্য তাকে মুদার আল-হামরা বলা হয়।
আর রাবিআহ-এর জন্য ফয়সালা করলেন: কালো তাঁবুর সাথে সদৃশ সকল চতুষ্পদ জন্তু ও সম্পদ রাবিআহ-এর জন্য। ফলে তিনি ঘোড়াগুলো পেলেন যেগুলো ছিল কালো বর্ণের; তাই তাকে রাবিআহ আল-ফারাস বলা হয়।
আর ইয়াদের জন্য ফয়সালা করলেন: যা খাদেমের সদৃশ এবং যা ছিল সাদা-কালো মিশ্রিত রঙের সম্পদ, তা ইয়াদের জন্য। ফলে চিত্রবিচিত্র রঙের পশুগুলো তার ভাগে পড়ল; তাই তাকে ইয়াদ আল-শামতা বলা হয়।
আর আনমারের জন্য ফয়সালা করলেন: জমি এবং দিরহামসমূহ।
নিযারের সন্তানদের মধ্যে প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও মেধার যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল, তা ছিল তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রজ্ঞার আধিক্যের ভিত্তি স্বরূপ। এটি ছিল নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের মাধ্যমে তাদের দ্বারা যা উদ্দেশ্য ছিল তার এক বিশেষ পূর্বাভাস (১)।
* * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
إمام الدعاة صلى الله عليه وسلميتحدث عن نفسه1) عن واثلة بن الأسقع رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إن الله اصطفى كنانة من ولد إسماعيل واصطفى قريشاً من كنانة واصطفى من قريش بنى هاشم واصطفانى من بنى هاشم (رواه مسلم).
2) وعن أبى هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أنا سيد ولد آدم يوم القيامة، وأول من ينشق عنه القبر، وأول شافع، وأول مشفع. (رواه مسلم).
3) وعن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أنا أكثر الأنبياء تبعاً يوم القيامة، وأنا أول من يقرع باب الجنة. (رواه مسلم).
4) وعن أبى هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: مثلى ومثل الأنبياء كمثل قصرٍ أحسن بنيانه وترك منه موضع لبنة، فطاف به النظار يتعجبون من
দাঈদের ইমাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামনিজের সম্পর্কে বলছেন১) ওয়াছিলাহ ইবনুল আসকা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর থেকে কিনানাহ-কে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশ-কে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিম-কে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।" (মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।
২) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানদের সরদার হব, আমিই প্রথম ব্যক্তি যার কবর উন্মোচিত হবে, আমিই প্রথম সুপারিশকারী এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যার সুপারিশ কবুল করা হবে।" (মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।
৩) আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন নবীদের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যা হবে সর্বাধিক এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যে জান্নাতের দরজায় করাঘাত করবে।" (মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।
৪) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার এবং অন্যান্য নবীদের উদাহরণ হলো এমন একটি প্রাসাদের মতো যার নির্মাণশৈলী অত্যন্ত সুন্দর কিন্তু সেখানে একটি ইটের জায়গা খালি রাখা হয়েছে। অতঃপর দর্শনার্থীরা তার চারপাশে ঘুরে দেখছিল এবং তারা বিস্ময়ের সাথে বলছিল..."
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুম মুদীআহ ফী আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
حسن بنيانه، إلا موضع تلك اللبنة، فكنت أنا سددت موضع اللبنة، ختم بى البنيان وختم بى الرسل.
وفى رواية: فأنا اللبنة، وأنا خاتم النبيين. (متفق عليه).
5) وعن جابر رضي الله عنه أن النبى صلى الله عليه وسلم قال: " أنا قائد المرسلين ولا فخر، وأنا خاتم النبيين ولا فخر، وأنا أول شافع وأول مشفع ولا فخر". (رواه الدارمى).
6) وعن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " أنا أول الناس خروجاً إذا بُعثوا، وأنا قائدهم إذا وفدوا، وأنا خطيبهم إذا أنصتوا، وأنا مستشفعهم إذا حُبسوا، وأنا مبشرهم إذا أيسوا الكرامة، والمفاتيح يومئذٍ بيدى ولواء الحمد يومئذٍ بيدى، وأنا أكرمُ ولدُ آدم على ربى يطوفُ علىَّ ألف خادم كأنهن بيضٌ مكنون أو لؤلؤ منثور ". (رواه الترمذى والدارمى)
7) وعن أبى سعيد الخدرى رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " أنا سيد ولد آدم يوم القيامة ولا فخر، وبيدى لواء الحمد ولا فخر، وما من نبى يومئذٍ آدم فمن سواه إلا تحت لوائى، وأنا أول من تنشق عنه الأرض ولا فخر ". (رواه الترمذى).
এর নির্মাণশৈলী অত্যন্ত চমৎকার ছিল, কেবল একটি ইটের স্থান ব্যতিরেকে। আমিই সেই ইটের শূন্যস্থানটি পূর্ণ করেছি। আমার মাধ্যমেই অট্টালিকাটির নির্মাণ সমাপ্ত হয়েছে এবং আমার মাধ্যমেই রাসুলগণের আগমনের ধারা সমাপ্ত হয়েছে।
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "আমিই সেই ইট এবং আমিই শেষ নবী।" (সর্বসম্মত (متفق عليه))।
৫) জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি রাসুলগণের নেতা, এতে কোনো অহংকার নেই। আমি শেষ নবী, এতে কোনো অহংকার নেই। আমিই প্রথম সুপারিশকারী এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যার সুপারিশ কবুল করা হবে, এতে কোনো অহংকার নেই।" (দারিমী বর্ণনা করেছেন)।
৬) আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মানুষ যখন পুনরুত্থিত হবে, আমিই তাদের মধ্যে প্রথম বহির্গত হব। তারা যখন প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হবে, আমিই হব তাদের নেতা। তারা যখন নীরব থাকবে, আমিই হব তাদের মুখপাত্র। তারা যখন অবরুদ্ধ হবে, আমিই হব তাদের সুপারিশকারী। তারা যখন সম্মান প্রাপ্তি থেকে নিরাশ হবে, আমিই হব তাদের সুসংবাদদাতা। সেদিন চাবিকাঠি আমার হাতে থাকবে এবং প্রশংসার পতাকাও সেদিন আমার হাতে থাকবে। আমি আমার রবের নিকট আদম সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত। আমার সেবায় এক হাজার খাদেম নিয়োজিত থাকবে, যারা যেন সুরক্ষিত ডিম অথবা ছড়িয়ে থাকা মুক্তা।" (তিরমিযী ও দারিমী বর্ণনা করেছেন)।
৭) আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন আমি হব আদম সন্তানদের সরদার, এতে কোনো অহংকার নেই। আমার হাতেই থাকবে প্রশংসার পতাকা, এতে কোনো অহংকার নেই। সেদিন আদম (আলাইহিস সালাম) ও অন্যান্য সকল নবী আমার পতাকাতলে থাকবেন। আর আমিই প্রথম ব্যক্তি যার কবর বিদীর্ণ হবে, এতে কোনো অহংকার নেই।" (তিরমিযী বর্ণনা করেছেন)।