(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: -)
أحكام العقيقة   (حسام الدين عفانة)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: أحكام العقيقة

المؤلف: حسام الدين بن موسى محمد بن عفانة

الناشر: أبو ديس / القدس

عدد الصفحات: 79

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 شوّال 1432

আকীকার বিধানসমূহ   (হুসামুদ্দিন আফানা)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: আকীকার বিধানসমূহ

লেখক: হুসামুদ্দিন ইবনে মুসা মুহাম্মদ ইবনে আফানা

প্রকাশক: আবু দিস / আল-কুদস

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশকাল: ২২ শাওয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ১)
أحكام العقيقة

 

د. حسام الدين عفانه
আকিকার বিধানসমূহ

 

ড. হুসামুদ্দীন আফানা
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده وروسوله.

(يَاأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ)

(يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا)

(يَاأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا)

أما بعد فإن أصدق الحديث كتاب الله وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار.

وبعد …

فإن العقيقة من السنن الثابتة عن الرسول صلى الله عليه وسلم ولكنها تكاد تكون من السنن المنسية التي لا يعمل بها إلا قليل من الناس ولذا قمت بإعداد هذا البحث ونشره من أجل إحياء سنة من سنن المصطفى صلى الله عليه وسلم ولتعريف الناس بهذه السنة وبأحكامها وما يتعلق بها حتى تجد طريقها إلى التطبيق العملي وحتى تحل السنن محل العادات الجاهلية التي اعتاد عليها كثير من الناس حتى غدت أحكام الشرع غريبة لدى المسلمين وللأسف الشديد وصارت العادات الجاهلية والبدع المحدثة هي السائدة والغالبة.

وقد عرّفت العقيقة في اللغة والاصطلاح وجمعت كل ما وقفت عليه من الأحاديث الواردة في العقيقة من كتب السنة المشرفة وحاولت اسقصائها بقد الوسع والطاقة،
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথ প্রদর্শনকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।)

(হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা বন্ধন (ছিন্ন করা) থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।)

(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।)

অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য হাদিস আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয় (محدثة), আর প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত (بدعة), প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة), আর প্রতিটি ভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামে।

অতঃপর …

নিশ্চয়ই আকিকা হলো রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত সাব্যস্ত (ثابتة) সুন্নতগুলোর (سنن) অন্যতম। কিন্তু এটি প্রায় এক বিস্মৃত সুন্নতে পরিণত হয়েছে যা খুব সামান্য মানুষ ছাড়া কেউ পালন করে না। তাই আমি এই গবেষণাটি প্রস্তুত ও প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছি যেন মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নতগুলোর (سنن) মধ্য থেকে একটি সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করা যায় এবং মানুষকে এই সুন্নাহ ও এর বিধানসমূহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত করা যায়; যেন তা বাস্তব প্রয়োগের পথ খুঁজে পায় এবং জাহেলি রীতিনীতি—যাতে অনেক মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে—তার পরিবর্তে সুন্নতগুলো (سنن) স্থলাভিষিক্ত হয়। যার ফলে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, শরয়ি বিধানগুলো মুসলমানদের কাছে আজ অচেনা হয়ে গেছে এবং জাহেলি রীতিনীতি ও নবউদ্ভুদ বিদআতগুলো (بدع) সমাজ ও সংস্কৃতিতে প্রাধান্য লাভ করেছে।

আমি আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে আকিকার সংজ্ঞা প্রদান করেছি এবং সুন্নাহর সম্মানিত গ্রন্থসমূহ থেকে আকিকা সংক্রান্ত বর্ণিত (واردة) হাদিসগুলোর যা কিছু পেয়েছি তা সংগ্রহ করেছি এবং সাধ্যানুযায়ী সেগুলো বিস্তারিত অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছি।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
وذكرت كلام العلماء والفقهاء في مسائل العقيقة المختلفة وبيّنت بالتفصيل حكم العقيقة وشروطها وأوجه الانتفاع بها وما يتعلق بذلك وقد بذلت جهدي ووسعي في هذا البحث فإن أصبت فمن الله وحده وإن أخطأت فمن نفسي ومن الشيطان.

وأسال الله العلي العظيم أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم وأن ينفع به عامة المسلمين إنه سميع قريب مجيب.

 

د. حسام الدين عفانه

أبوديس/القدس

في الثالث عشر من رجب 1415 هـ

الموافق، السادس عشر من كانون أول 1994 م
আমি আকীকার বিভিন্ন মাসআলা সম্পর্কে আলেম ও ফকিহগণের বক্তব্য উল্লেখ করেছি এবং আকীকার বিধান (حكم), এর শর্তাবলি (شروط), এর থেকে উপকৃত হওয়ার পদ্ধতিসমূহ এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াবলি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি। আমি এই গবেষণায় আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সক্ষমতা ব্যয় করেছি; সুতরাং যদি আমি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হই তবে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি আমি ভুল করি তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে।

আমি সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই আমলকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মুসলিমদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী এবং প্রার্থনা কবুলকারী (مجيب)।

 

ড. হুসামুদ্দীন আফানা

আবু দিস/আল-কুদস

১৩ই রজব ১৪১৫ হিজরি

১৬ই ডিসেম্বর ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌الفصل الأول

 

ما يتعلق بالعقيقة
প্রথম পরিচ্ছেদ

 

আকীকা সংক্রান্ত বিষয়াদি
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المبحث الأول

تعريف العقيقة لغة واصطلاحاً

‌‌أولاً: تعريف العقيقة لغة:

هي الشَعر الذي يولد به الطفل لأنه يشق الجلد.

قال امرؤ القيس:

يا هند لا تنكحي بوهةً عليه عقيقته أحسَبَا

وهي مأخوذة من عق، يَعِقُ ويعَقُ فنقول عق عن ابنه بمعنى حلق عقيقته أي شعر رأسه أو ذبح الشاة المسماة عقيقة، قال ابن منظور: [وقيل للذبيحة عقيقة لأنها تذبح فيشق حلقومها ومريئها وودجاها قطعاً كما سميت ذبيحة بالذبح وهو الشق] (1) وقال الجوهري: [وشعر كل مولود من الناس والبهائم الذي يولد عليه عقيقة … ومنه سميت الشاة التي تذبح عن المولود يوم أسبوعه عقيقة]. (2)

 

‌‌ثانياً: تعريف العقيقة اصطلاحاً:

هي الذبيحة التي تذبح عن المولود يوم سابعه شكراً لله سبحانه وتعالى على نعمة الولد ذكراً كان أو أنثى. (3)

وقد عرفها د. محمد أبو فارس بقوله: [هي الشاة التي تذبح عن المولود … ]. (4)

--------------------------------------------

(1) لسان العرب 9/ 325.

(2) الصحاح 4/ 1527.

(3) المغني 9/ 458، المجموع 8/ 426، نيل الأوطار 5/ 149، الخرشي 3/ 46، سبل السلام 4/ 179.

(4) أحكام الذبائح ص 168.
প্রথম পরিচ্ছেদ

আকিকার আভিধানিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) সংজ্ঞা

প্রথমত: আকিকার আভিধানিক (لغة) সংজ্ঞা:

এটি হলো সেই চুল, যা নিয়ে শিশু জন্মগ্রহণ করে; কেননা তা চামড়া ভেদ করে উদগত হয়।

ইমরুল কায়েস বলেছেন:

হে হিন্দ! তুমি এমন কোনো স্থূলবুদ্ধি ব্যক্তিকে বিবাহ করো না, যার মাথায় শৈশবের চুল (আকিকা) রয়ে গেছে এবং যে কৃপণ।

এটি 'আক্ক' (عق), 'ইয়া'ইক্কু' (يعق) এবং 'ইয়া'আক্কু' (يعق) শব্দমূল থেকে গৃহীত। আমরা বলি 'সে তার সন্তানের পক্ষ থেকে আকিকা করেছে' (عق عن ابنه), যার অর্থ সে সন্তানের আকিকা অর্থাৎ মাথার চুল মুণ্ডন করেছে অথবা আকিকা নামে অভিহিত বকরিটি জবেহ করেছে। ইবন মানজুর বলেছেন: [জবেহকৃত পশুকে আকিকা বলা হয় কারণ এটি জবেহ করার সময় এর কণ্ঠনালি, অন্ননালি ও ঘাড়ের রগগুলো কেটে ফেলা হয়, যেমন জবেহ (الشق) বা ছিন্ন করার ক্রিয়া থেকে পশুকে 'জবিহা' (ذبيحة) বলা হয়।] (১) আল-জাওহারি বলেছেন: [মানুষ এবং চতুষ্পদ জন্তুর প্রতিটি নবজাতক যে চুল নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, তাকে আকিকা বলা হয় ... এবং এ থেকেই নবজাতকের জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে যে বকরি জবেহ করা হয়, তাকে আকিকা নামকরণ করা হয়েছে।] (২)

 

দ্বিতীয়ত: আকিকার পারিভাষিক (اصطلاحاً) সংজ্ঞা:

এটি এমন এক পশু যা নবজাতকের সপ্তম দিনে মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ জবেহ করা হয়, সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে—এটি আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া। (৩)

ড. মুহাম্মদ আবু ফারিস একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: [এটি সেই বকরি যা নবজাতকের পক্ষ থেকে জবেহ করা হয়...]। (৪)

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব ৯/৩২৫।

(২) আস-সিহাহ ৪/১৫২৭।

(৩) আল-মুগনি ৯/৪৫৮, আল-মাজমু ৮/৪২৬, নাইলুল আওতার ৫/১৪৯, আল-খারশি ৩/৪৬, সুবুলুস সালাম ৪/১৭৯।

(৪) আহকামুজ জাবাইহ, পৃ. ১৬৮।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وهذا التعريف غير جامع لأن فيه قصراً للعقيقة على الشياه فقط وهذا على قول من لا يجيز العقيقة من الإبل والبقر وهو قول مرجوح كما سيأتي بيانه.

فالأولى أن نعبر بقولنا هي الذبيحة فإن ذلك يعم الغنم والبقر والإبل حيث تصح العقيقة من هذه الأنواع كما سيأتي.
আর এই সংজ্ঞাটি অপূর্ণাঙ্গ (غير جامع); কারণ এতে আকিকাকে কেবল বকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এটি তাদের অভিমত যারা উট ও গরু দ্বারা আকিকা করা বৈধ মনে করেন না; অথচ এটি একটি দুর্বল (مرجوح) মত, যা সামনে বিস্তারিত আলোচিত হবে।

সুতরাং আমাদের জন্য ‘আকিকা হলো একটি যবেহকৃত পশু’ বলা অধিকতর উত্তম; কারণ তা মেষ, গরু ও উটকেও অন্তর্ভুক্ত করে। যেহেতু এই সকল প্রকারের পশু দ্বারা আকিকা করা সহিহ (تصح), যা সামনে বর্ণিত হবে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المبحث الثاني

مشروعية العقيقة

ثبتت مشروعية العقيقة بالسنة النبوية من قول النبي صلى الله عليه وسلم ومن فعله كذلك.

فمن السنة القولية وردت أحاديث كثيرة منها:

1. روى الإمام البخاري بسنده عن محمد بن سيرين: حدثنا سلمان بن عامر الضبي قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (مع الغلام عقيقة فأهريقوا عنه دمه وأميطوا عنه الأذى) ورواه أبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجة وأحمد والدارمي والبيهقي. (1)

2. عن سمرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (كل غلام رهينة بعقيقته تذبح عنه يوم سابعه ويحلق ويسمى) رواه أبو داود واللفظ له والترمذي والنسائي وابن ماجة والبيهقي وأحمد والحاكم وصححه ووافقه الذهبي وقال الترمذي: حسن صحيح. وقال الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح. (2)

3. عن أم كرز الكعبية قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة) رواه أبو داود واللفظ له وأحمد والبيهقي. (3)

4. وفي رواية أخرى لحديث أم كرز أنها سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن العقيقة فقال:

--------------------------------------------

(1) فتح الباري 12/ 9، عون المعبود 8/ 30، سنن الترمذي 4/ 98، سنن النسائي 7/ 166، سنن البيهقي 9/ 299، مسند أحمد 7/ 17، سنن ابن ماجة 3165.

(2) عون المعبود 8/ 28، الترمذي 4/ 101، النسائي 7/ 166، ابن ماجة 2/ 1057، المستدرك 4/ 237، سنن البيهقي 9/ 299، صحيح سنن النسائي 3/ 885، إرواء الغليل 4/ 385، مسند أحمد 5/ 7 - 8،12 - 17 - 18.

(3) عون المعبود 8/ 27، المسند 6/ 422، سنن البيهقي 9/ 301.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

আকিকার বৈধতা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী এবং তাঁর কর্ম—উভয় প্রকার সুন্নাহর মাধ্যমেই আকিকার বৈধতা প্রমাণিত হয়েছে।

মৌখিক সুন্নাহ থেকে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১. ইমাম বুখারি তাঁর নিজস্ব সনদের (سند) মাধ্যমে মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন: সালমান ইবনে আমির আদ-দাব্বি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "ছেলের সাথে আকিকা রয়েছে, সুতরাং তোমরা তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো এবং তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করো।" এটি আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, আহমদ, দারিমি এবং বায়হাকি বর্ণনা করেছেন। (১)

২. সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক ছেলে তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক থাকে, যা তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে জবাই করা হয় এবং তার মাথা মুণ্ডন করা হয় ও নাম রাখা হয়।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি (لفظ) তাঁরই, এছাড়া তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, বায়হাকি, আহমদ ও হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন। হাকেম একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন এবং ইমাম দাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেছেন: হাসান বিশুদ্ধ (حسن صحيح)। আর শায়খ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি বলেছেন: বিশুদ্ধ (صحيح)। (২)

৩. উম্মু কুরজ আল-কাবিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "ছেলের পক্ষ থেকে সমমানের দুটি বকরি এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরি।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি (لفظ) তাঁরই, এছাড়া আহমদ ও বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন। (৩)

৪. উম্মু কুরজের হাদিসের অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আকিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারি ১২/৯, আওনুল মাবুদ ৮/৩০, সুনান তিরমিজি ৪/৯৮, সুনান নাসায়ি ৭/১৬৬, সুনান বায়হাকি ৯/২৯৯, মুসনাদ আহমদ ৭/১৭, সুনান ইবনে মাজাহ ৩১৬৫।

(২) আওনুল মাবুদ ৮/২৮, তিরমিজি ৪/১০১, নাসায়ি ৭/১৬৬, ইবনে মাজাহ ২/১০৫৭, আল-মুস্তাদরাক ৪/২৩৭, সুনান বায়হাকি ৯/২৯৯, সহিহ সুনান নাসায়ি ৩/৮৮৫, ইরওয়াউল গালিল ৪/৩৮৫, মুসনাদ আহমদ ৫/৭ - ৮, ১২ - ১৭ - ১৮।

(৩) আওনুল মাবুদ ৮/২৭, মুসনাদ ৬/৪২২, সুনান বায়হাকি ৯/৩০১।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
(نعم عن الغلام شاتان وعن الأنثى واحدة، لا يضركم ذكراناً أم إناثاً) رواه أبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجة وابن حبان والحاكم وأحمد، وقال: الترمذي حديث صحيح. وصححه الحاكم ووافقه الذهبي وقال الألباني: صحيح. وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح. (1)

5. عن يوسف بن ماهك قال: دخلنا على حفصة بنت عبد الرحمن فسألناها عن العقيقة فأخبرتنا أن عائشة أخبرتها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (عن الغلام شاتان وعن الجارية شاة) رواه ابن حبان واللفظ له وأحمد والترمذي وابن ماجة وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح. (2)

6. وفي رواية أخرى للحديث السابق: (أن عائشة أخبرتهم أن الرسول صلى الله عليه وسلم أمرهم عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة) رواه الترمذي، وقال: حسن صحيح. والبيهقي وقال الألباني: صحيح. (3)

7. عن اسماء بنت يزيد أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (العقيقة حق عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة) رواه أحمد والطبراني. قال الهيثمي رواه أحمد والطبراني في الكبير ورجاله محتج بهم. (4)

--------------------------------------------

(1) عون المعبود 8/ 26، سنن الترمذي 4/ 98، سنن النسائي 7/ 165، سنن ابن ماجة 2/ 1056، صحيح سنن النسائي 3/ 885، الإحسان 12/ 128، إرواء الغليل 4/ 391، سنن البيهقي 9/ 200.

(2) الإحسان 12/ 126، سنن الترمذي 1513، سنن ابن ماجة 3163، المسند 6/ 31.

(3) سنن الترمذي 4/ 96، سنن البيهقي 9/ 301، صحيح سنن الترمذي 2/ 92، إرواء الغليل 4/ 389.

(4) مجمع الزوائد 4/ 57، وانظر فتح الباري 12/ 9، الفتح الرباني 13/ 121.
(হ্যাঁ, পুত্রসন্তানের পক্ষ থেকে দুটি বকরি এবং কন্যাসন্তানের পক্ষ থেকে একটি; সেগুলি নর হোক বা মাদী তাতে তোমাদের কোনো ক্ষতি নেই) আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম এবং আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযি বলেছেন: হাদিসটি বিশুদ্ধ (صحيح)। হাকেম এটিকে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন এবং জাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আলবানী বলেছেন: বিশুদ্ধ (صحيح)। শেখ শুআইব আল-আরনাউত বলেছেন: হাদিসটি বিশুদ্ধ (صحيح)। (১)

৫. ইউসুফ ইবনে মাহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা হাফসা বিনতে আব্দুর রহমানের নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে আকিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি আমাদের জানালেন যে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁকে অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (পুত্রসন্তানের পক্ষ থেকে দুটি বকরি এবং কন্যাসন্তানের পক্ষ থেকে একটি বকরি) এটি ইবনে হিব্বান (শব্দবিন্যাস তাঁর), আহমাদ, তিরমিযি এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। শেখ শুআইব আল-আরনাউত বলেছেন: এর সনদ (إسناد) বিশুদ্ধ (صحيح)। (২)

৬. পূর্বোক্ত হাদিসের অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: (আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁদের অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে পুত্রসন্তানের পক্ষ থেকে সমপর্যায়ের দুটি বকরি এবং কন্যাসন্তানের পক্ষ থেকে একটি বকরির নির্দেশ দিয়েছেন) এটি তিরমিযি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: উত্তম (حسن) বিশুদ্ধ (صحيح)। বায়হাকিও এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী বলেছেন: বিশুদ্ধ (صحيح)। (৩)

৭. আসমা বিনতে ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আকিকা একটি হক; পুত্রসন্তানের পক্ষ থেকে সমপর্যায়ের দুটি বকরি এবং কন্যাসন্তানের পক্ষ থেকে একটি বকরি) এটি আহমাদ ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন। হাইসামি বলেছেন: এটি আহমাদ ও তাবারানি আল-কবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীবৃন্দ দলীল হিসেবে গ্রহণীয় (محتج بهم)। (৪)

--------------------------------------------

(১) আউনুল মাবুদ ৮/ ২৬, সুনান তিরমিযি ৪/ ৯৮, সুনান নাসাঈ ৭/ ১৬৫, সুনান ইবনে মাজাহ ২/ ১০৫৬, সহিহ সুনান নাসাঈ ৩/ ৮৮৫, আল-ইহসান ১২/ ১২৮, ইরওয়াউল গালিল ৪/ ৩৯১, সুনান বায়হাকি ৯/ ২০০।

(২) আল-ইহসান ১২/ ১২৬, সুনান তিরমিযি ১৫১৩, সুনান ইবনে মাজাহ ৩১৬৩, আল-মুসনাদ ৬/ ৩১।

(৩) সুনান তিরমিযি ৪/ ৯৬, সুনান বায়হাকি ৯/ ৩০১, সহিহ সুনান তিরমিযি ২/ ৯২, ইরওয়াউল গালিল ৪/ ৩৮৯।

(৪) মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/ ৫৭, এবং দেখুন ফাতহুল বারী ১২/ ৯, আল-ফাতহুর রব্বানী ১৩/ ১২১।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
8. عن أبي هريرة أنه صلى الله عليه وسلم قال: (مع الغلام عقيقة فأهريقوا عنه دماً وأميطوا عنه الأذى) قال الهيثمي رواه البزار ورجاله رجال الصحيح. (1)

9. عن يزيد بن عبد المزني عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (يعق عن الغلام ولا يمس رأسه بدم) رواه الطحاوي والطبراني في الأوسط والكبير وقال الهيثمي: ورجاله ثقات. (2)

10. عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر بتسمية المولود يوم سابعه ووضع الأذى عنه والعق) رواه الترمذي وقال حسن غريب. (3)

11. عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إذا كان يوم سابعه فأهريقوا عنه دماً وأميطوا عنه الأذى وسموه) رواه الطبراني في الأوسط والكبير ورجاله كما قال الهيثمي. (4)

12. عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (للغلام عقيقتان وللجارية عقيقة) قال الهيثمي: رواه البزار والطبراني في الكبير وفيه عمران بن عيينة وثقه ابن معين وابن حبان وفيه ضعف. (5)

وقال الشيخ الألباني أخرجه الطحاوي بسند جيد في الشواهد وذكر أن طريق الطحاوي سالمة من الضعف. (6)

--------------------------------------------

(1) مجمع الزوائد 4/ 58.

(2) إرواء الغليل 4/ 389، مجمع الزوائد 4/ 58.

(3) سنن الترمذي 5/ 132، نيل الأوطار 5/ 152.

(4) مجمع الزوائد 4/ 58.

(5) المصدر السابق.

(6) إرواء الغليل 4/ 392.
৮. আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: (ছেলের সঙ্গে আকিকা রয়েছে, সুতরাং তোমরা তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো এবং তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করো)। আল-হাইসামি বলেছেন, এটি আল-বাজার বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ (رجال) সহিহ (الصحيح)-এর বর্ণনাকারী। (১)

৯. ইয়াযিদ ইবনে আবদ আল-মুযানী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (ছেলের পক্ষ থেকে আকিকা করা হবে এবং তার মাথায় রক্ত মাখানো হবে না)। আল-তহাবি এবং আল-তবারানি এটি আল-আওসাত ও আল-কাবিরে বর্ণনা করেছেন এবং আল-হাইসামি বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ (رجال) নির্ভরযোগ্য (ثقات)। (২)

১০. আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) নবজাতকের সপ্তম দিনে তার নাম রাখা, তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা এবং আকিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান (حسن) গরিব (غريب)। (৩)

১১. ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: (যখন তার সপ্তম দিন হবে, তখন তোমরা তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো, তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করো এবং তার নাম রাখো)। আল-তবারানি এটি আল-আওসাত ও আল-কাবিরে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ (رجال) সম্পর্কে আল-হাইসামি যেমনটি বলেছেন [তেমনই]। (৪)

১২. ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: (ছেলের জন্য দুটি আকিকা এবং মেয়ের জন্য একটি আকিকা)। আল-হাইসামি বলেছেন: এটি আল-বাজার এবং আল-তবারানি আল-কাবিরে বর্ণনা করেছেন, আর এর সনদে ইমরান ইবনে উয়াইনা রয়েছেন; ইবনে মাঈন ও ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন, তবে তার মধ্যে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে। (৫)

এবং শায়খ আলবানি বলেছেন, আল-তহাবি এটি উত্তম (جيد) সনদে (بسند) শাওয়াহিদ তথা সমর্থনমূলক বর্ণনার (شواهد) মধ্যে বের করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, আল-তহাবির সূত্রটি দুর্বলতা (الضعف) থেকে মুক্ত। (৬)

--------------------------------------------

(১) মাজমাউজ যাওয়াইদ ৪/৫৮।

(২) ইরওয়াউল গালীল ৪/৩৮৯, মাজমাউজ যাওয়াইদ ৪/৫৮।

(৩) সুনান তিরমিজি ৫/১৩২, নাইলুল আওতার ৫/১৫২।

(৪) মাজমাউজ যাওয়াইদ ৪/৫৮।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস।

(৬) ইরওয়াউল গালীল ৪/৩৯২।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وأما السنة الفعلية الثابتة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فمنها أحاديث:

1. عن عكرمة عن ابن عباس: (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عق عن الحسن والحسين كبشاً كبشاً) رواه أبو داود (1). وقال النووي: رواه أبو داود بإسناد صحيح (2). وقال الألباني: وهذا إسناد صحيح على شرط البخاري وقد صححه عبد الحق الإشبيلي في الأحكام الكبرى (3). وقال شعيب الأرناؤوط: وأخرجه ابن الجارود والطبراني وإسناده صحيح. (4)

2. وفي رواية أخرى لحديث ابن عباس: (أن الرسول صلى الله عليه وسلم عق عن الحسن والحسين بكبشين كبشين) رواه النسائي وقال الألباني: صحيح. (5)

3. عن بريدة أن الرسول صلى الله عليه وسلم: (عق عن الحسن والحسين) رواه أحمد والنسائي والطبراني (6)، وقال الألباني: صحيح (7). وقال الأرناؤوط: وإسناده صحيح على شرط مسلم. (8)

4. عن أنس بن مالك قال: (عق رسول الله صلى الله عليه وسلم عن حسن وحسين بكبشين) رواه ابن حبان وقال محققه: حديث صحيح.

--------------------------------------------

(1) عون المعبود 8/ 30.

(2) المجموع 8/ 428.

(3) إرواء الغليل 4/ 379.

(4) الإحسان 12/ 130.

(5) صحيح سنن النسائي 3/ 885، إرواء الغليل 4/ 380.

(6) المسند 5/ 355، سنن النسائي 7/ 166 من حديث ابن عباس مرفوعاً.

(7) صحيح سنن النسائي 3/ 884.

(8) الإحسان 12/ 131.
আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত আমলগত সুন্নাহর (السنة الفعلية) মধ্য থেকে কয়েকটি হাদিস হলো:

১. ইকরিমাহ থেকে ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর সূত্রে বর্ণিত: (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে একটি একটি করে ভেড়া দিয়ে আকিকা করেছেন)। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (১)। ইমাম নববী (রহ.) বলেন: আবু দাউদ এটি একটি সহিহ (صحيح) সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন (২)। আলবানী (রহ.) বলেন: এই সনদটি (إسناد) বুখারীর শর্তানুযায়ী (شرط) সহিহ (صحيح) এবং আব্দুল হক আল-ইশবিলি এটি আল-আহকাম আল-কুবরা গ্রন্থে একে সহিহ (صححه/صحيح) হিসেবে গণ্য করেছেন (৩)। শুআইব আল-আরনাউত বলেন: এটি ইবনুল জারুদ এবং তাবারানিও উদ্ধৃত করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)। (৪)

২. ইবনে আব্বাসের হাদিসের অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে দুটি দুটি করে ভেড়া দিয়ে আকিকা করেছেন)। এটি নাসায়ি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (রহ.) একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। (৫)

৩. বুরাইদাহ (রাযি.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম): (হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে আকিকা করেছেন)। এটি আহমদ, নাসায়ি ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন (৬) এবং আলবানী (রহ.) একে সহিহ (صحيح) বলেছেন (৭)। আরনাউত বলেন: এর সনদ (إسناد) মুসলিমের শর্তানুযায়ী (شرط) সহিহ (صحيح)। (৮)

৪. আনাস বিন মালিক (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে দুটি ভেড়া দিয়ে আকিকা করেছেন)। এটি ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন এবং এর গবেষক/সম্পাদক (محقق) বলেছেন: এটি সহিহ (صحيح) হাদিস।

--------------------------------------------

(১) আওনুল মাবুদ ৮/৩০।

(২) আল-মাজমু ৮/৪২৮।

(৩) ইরওয়াউল গালীল ৪/৩৭৯।

(৪) আল-ইহসান ১২/১৩০।

(৫) সহিহ সুনানে নাসায়ি ৩/৮৮৫, ইরওয়াউল গালীল ৪/৩৮০।

(৬) আল-মুসনাদ ৫/৩৫৫, সুনানে নাসায়ি ৭/১৬৬, ইবনে আব্বাসের হাদিস থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত।

(৭) সহিহ সুনানে নাসায়ি ৩/৮৮৪।

(৮) আল-ইহসান ১২/১৩১।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وأخرجه الطحاوي في مشكل الآثار وأبو يعلى والبزار والبيهقي (1)، وصححه عبد الحق في الأحكام الكبرى وقال الهيثمي: ورجاله رجال الصحيح (2). وقال الساعاتي ورجاله ثقات. (3)

5. عن عائشة قال: (عق رسول الله صلى الله عليه وسلم عن حسن وحسين يوم السابع وسماهما وأمر أن يماط عن رأسهما الأذى) رواه ابن حبان وقال محققه: إسناده حسن (4). والبيهقي وقال النووي: بإسناد حسن (5)، ورواه الحاكم ووافقه الذهبي. (6)

6. وعن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم: (عق عن الحسن والحسين وقال: قولوا بسم الله والله أكبر اللهم لك وإليك هذه عقيقة فلان) رواه البيهقي بإسناد حسن كما قال النووي. (7)

7. عن عبد الله بن عمرو: (أن النبي صلى الله عليه وسلم عق عن الحسن والحسين عن كل واحد منهما كبشين اثنين مثلين متكافئين) قال الشيخ الأرناؤوط: أخرجه الحاكم بسند حسن في الشواهد. (8)

8. وعن جابر بن عبد الله: (أن الرسول صلى الله عليه وسلم عق عن الحسن والحسين) رواه أبو يعلى والطبراني، قال الشيخ الألباني: [ورجاله كلهم ثقات رجال مسلم غير المغيرة

--------------------------------------------

(1) الإحسان 12/ 125، وانظر سنن البيهقي 9/ 299.

(2) إرواء الغليل 4/ 382، مجمع الزوائد 4/ 58.

(3) الفتح الرباني 13/ 124.

(4) الإحسان 12/ 127.

(5) المجموع 8/ 428، وانظر سنن البيهقي 9/ 299 - 300.

(6) المستدرك 4/ 237.

(7) المجموع 8/ 428.

(8) الإحسان 12/ 130.
এবং এটি বর্ণনা করেছেন তহাবী 'মুশকিলুল আসার' গ্রন্থে, আবু ইয়ালা, বাজ্জার এবং বায়হাকী (১), আব্দুল হক 'আল-আহকামুল কুবরা' গ্রন্থে এটিকে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন এবং হাইসামি বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ (صحيح) গ্রন্থের বর্ণনাকারী (২)। সাআতি বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات) (৩)।

৫. আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে আকিকা দিয়েছেন, তাদের নামকরণ করেছেন এবং তাদের মাথা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করার নির্দেশ দিয়েছেন)। এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে হিব্বান এবং এর মুহাক্কিক বলেছেন: এর সনদ হাসান (حسن) (৪)। আর বায়হাকী বর্ণনা করেছেন এবং নববী বলেছেন: হাসান (حسن) সনদে (৫), এবং এটি হাকেম বর্ণনা করেছেন ও যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন (৬)।

৬. আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: (হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে আকিকা দিয়েছেন এবং বলেছেন: তোমরা বলো—বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার, হে আল্লাহ! এটি তোমারই জন্য এবং তোমারই নিকট উৎসর্গকৃত, এটি অমুকের আকিকা)। এটি বায়হাকী হাসান (حسن) সনদে বর্ণনা করেছেন যেমনটি নববী বলেছেন (৭)।

৭. আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত: (নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে তাদের প্রত্যেকের জন্য সমান ও সমতুল্য দুটি করে ভেড়া আকিকা দিয়েছেন)। শায়খ আরনাউত বলেছেন: হাকেম এটি সমর্থনমূলক বর্ণনা (الشواهد) হিসেবে হাসান (حسن) সনদে বর্ণনা করেছেন (৮)।

৮. জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত: (নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে আকিকা দিয়েছেন)। এটি বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা ও তবারানি। শায়খ আলবানী বলেছেন: [এবং এর বর্ণনাকারীগণের সকলেই নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং মুগিরা ব্যতীত বাকিরা মুসলিম-এর বর্ণনাকারী...

--------------------------------------------

(১) আল-ইহসান ১২/১২৫, এবং দেখুন সুনানে বায়হাকী ৯/২৯৯।

(২) ইরওয়ায়ুল গালিল ৪/৩৮২, মাজমাউজ যাওয়ায়েদ ৪/৫৮।

(৩) আল-ফাতহুর রব্বানী ১৩/১২৪।

(৪) আল-ইহসান ১২/১২৭।

(৫) আল-মাজমু’ ৮/৪২৮, এবং দেখুন সুনানে বায়হাকী ৯/২৯৯-৩০০।

(৬) আল-মুসতাদরাক ৪/২৩৭।

(৭) আল-মাজমু’ ৮/৪২৮।

(৮) আল-ইহসান ১২/১৩০।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
بن مسلم وهو القسملي وهو ثقة لكن أبا الزبير مدلس وقد عنعنه ولولا ذلك لقلت بصحته وقال الهيثمي: رواه أبو يعلى ورجاله ثقات]. (1)

وقال الساعاتي: رجاله ثقات. (2)

--------------------------------------------

(1) إرواء الغليل 4/ 382 - 383، مجمع الزوائد 4/ 59.

(2) الفتح الرباني 13/ 124.
...ইবনে মুসলিম, আর তিনি হলেন আল-কাসমালি। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), কিন্তু আবু যুবাইর একজন তাদলীসকারী (مدلس) এবং তিনি এটি 'আন'আনা' (عنعنه) করে বর্ণনা করেছেন। যদি এমনটি না হতো, তবে আমি একে সহিহ (صحة) বলতাম। আল-হাইসামি বলেছেন: এটি আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)]। (১)

এবং আস-সাআতি বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। (২)

--------------------------------------------

(১) ইরওয়াউল গালীল ৪/৩৮২-৩৮৩, মাজমাউজ জাওয়াইদ ৪/৫৯।

(২) আল-ফাতহুর রব্বানি ১৩/১২৪।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المبحث الثالث

معنى قول الرسول صلى الله عليه وسلم كل غلام مرتهن بعقيقته

ورد في الحديث عن سمرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (كل غلام رهينة بعقيقته تذبح عنه يوم سابعه ويسمَّى ويحلق رأسه) (1)، وفي رواية عند أحمد والنسائي: (كل غلام رهين بعقيقته) (2)، وفي رواية عند الترمذي وابن ماجة: (كل غلام مرتهن بعقيقته) (3)، وقد اختلف العلماء في تفسير ذلك:

1. قال الخطابي: [قال أحمد: هذا في الشفاعة يريد أنه إن لم يعق عنه فمات طفلاً لم يُشفع في والديه. وقوله رهينة بإثبات الهاء معناه مرهون فعيل بمعنى مفعول والهاء تقع في هذا للمبالغة، يقال فلان كريمة قومه أي محل العقدة الكريمة عندهم]. (4)

وقول أحمد [هذا] روى البيهقي مثله عن عطاء الخراساني حيث روى بسنده عن يحيى بن حمزة قال: [قلت لعطاء الخراساني ما مرتهن بعقيقته؟ قال: يحرم شفاعة ولده]. (5)

2. وقيل أن المعنى أن العقيقة لازمة لا بد منها فشبه المولود في لزومها وعدم انفكاكه منها بالرهن في يد المرتهن وقال النوربشتي أي أنه كالشيء المرهون لا يتم الانتفاع به

--------------------------------------------

(1) سبق تخريجه.

(2) الفتح الرباني 13/ 13، صحيح سنن النسائي 3/ 885.

(3) صحيح سنن الترمذي 2/ 94، صحيح سنن ابن ماجة 2/ 206.

(4) معالم السنن 4/ 264 - 265.

(5) سنن البيهقي 9/ 299.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী "প্রত্যেক শিশু তার আকিকার বিনিময়ে দায়বদ্ধ" এর অর্থ

হাদিসে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (প্রত্যেক শিশু তার আকিকার বিনিময়ে দায়বদ্ধ (رهينة), তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু জবেহ করা হবে, তার নাম রাখা হবে এবং তার মাথা মুণ্ডন করা হবে) (১), আহমাদ ও নাসায়ি-র একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: (প্রত্যেক শিশু তার আকিকার বিনিময়ে দায়বদ্ধ (رهين)) (২), এবং তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ-র একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: (প্রত্যেক শিশু তার আকিকার বিনিময়ে দায়বদ্ধ (مرتهن)) (৩), আলেমগণ এর ব্যাখ্যায় মতভেদ করেছেন:

১. খাত্তাবি বলেছেন: [আহমাদ বলেছেন: এটি সুপারিশ (شفاعة) সংক্রান্ত। তিনি বুঝিয়েছেন যে, যদি তার পক্ষ থেকে আকিকা না করা হয় এবং সে শিশু অবস্থায় মারা যায়, তবে সে তার পিতামাতার জন্য সুপারিশ (يُشفع) করবে না। তাঁর শব্দ "রাহিনাহ" (رهينة) এখানে 'হা' বর্ণটি যুক্ত হওয়া "রাহুন" অর্থাৎ কর্মবাচ্য (مفعول) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; আর এখানে 'হা' বর্ণটি অতিশয়তা (مبالغة) বোঝাতে এসেছে। যেমন বলা হয়, অমুক ব্যক্তি তার সম্প্রদায়ের সম্মানিত (كريمة), অর্থাৎ সে তাদের কাছে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী]। (৪)

আহমাদ-এর এই উক্তি বাইহাকি-ও আতা আল-খুরাসানি থেকে অনুরূপ বর্ণনা (روى) করেছেন। তিনি তাঁর সনদসহ (سنده) ইয়াহইয়া ইবনে হামজাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: [আমি আতা আল-খুরাসানিকে জিজ্ঞেস করলাম, "আকিকার বিনিময়ে দায়বদ্ধ (مرتهن)" বলতে কী বোঝায়? তিনি বললেন: সে তার সন্তানের সুপারিশ (شفاعة) থেকে বঞ্চিত হবে]। (৫)

২. আবার বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো আকিকা একটি অপরিহার্য বিষয়, যা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই শিশুটিকে এই অপরিহার্যতা এবং তা থেকে মুক্ত না হওয়ার দিক থেকে বন্ধকগ্রহীতার নিকট গচ্ছিত বন্ধকের (الرهن) সাথে তুলনা করা হয়েছে। নূরবাশতি বলেছেন, অর্থাৎ শিশুটি বন্ধক রাখা বস্তুর মতো, যার থেকে পূর্ণ উপকার লাভ করা যায় না।

--------------------------------------------

(১) এর তাখরিজ (تخريجه) পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) আল-ফাতহুর রব্বানি ১৩/ ১৩, সহিহ সুনান নাসায়ি ৩/ ৮৮৫।

(৩) সহিহ সুনান তিরমিজি ২/ ৯৪, সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ ২/ ২০৬।

(৪) মাআলিমুস সুনান ৪/ ২৬৪ - ২৬৫।

(৫) সুনান বাইহাকি ৯/ ২৯৯।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
دون فكه، والنعمة إنما تتم على المنعم عليه بقيامه بالشكر ووظيفته والشكر في هذه النعمة ما سنه الرسول صلى الله عليه وسلم وهو أن يعق عن المولود شكراً لله تعالى وطلباً لسلامته. (1)

3. وقيل أن المعنى أن الغلام مرهون بأذى شعره ويدل على ذلك قوله: (فأميطوا عنه الأذى). (2)

4. وقيل أنه مرهون بالعقيقة بمعنى أنه لا يسمى ولا يحلق شعره إلا بعد ذبحها (3)، ولم يرتض ابن القيم هذه التفسيرات للحديث وردها وقال: وفيه نظر لا يخفى فإن شفاعة الولد في الوالد ليست بأولى من العكس وكونه والداً له ليس للشفاعة فيه.

وكذا سائر القرابات والأرحام وقد قال تعالى: (يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ وَاخْشَوْا يَوْمًا لَا يَجْزِي وَالِدٌ عَنْ وَلَدِهِ وَلَا مَوْلُودٌ هُوَ جَازٍ عَنْ وَالِدِهِ شَيْئًا)، وقال تعالى: (وَاتَّقُوا يَوْمًا لَا تَجْزِي نَفْسٌ عَنْ نَفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ)، وقال تعالى: (مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لَا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَاعَةٌ)، فلا يشفع أحد لأحد يوم القيامة إلا من بعد أن يأذن الله لمن يشاء ويرضى، فإذنه سبحانه وتعالى في الشفاعة موقوف على عمل المشفوع له من توحيده وإخلاصه. ومن الشافع من قربه عند الله ومنزلته ليست مستحقة بقرابة ولا بنوة ولا أبوة.

وقد قال سيد الشفعاء وواجههم عند الله لعمه وعمته وابنته: (لا أغني عنكم من الله شيئاً) وفي رواية: (لا أملك لكم من الله شيئاً) وقال في شفاعته العظمى لما يسجد

--------------------------------------------

(1) الإحسان 12/ 131 - 132 الهامش، فتح الباري 12/ 12، نيل الأوطار 5/ 150.

(2) معالم السنن 4/ 265.

(3) نيل الأوطار 5/ 150.
তাকে মুক্ত করা ব্যতীত। আর কোনো নিআমত তখনই পূর্ণ হয় যখন নিআমতপ্রাপ্ত ব্যক্তি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে তার দায়িত্ব পালন করে। এই নিআমতের ক্ষেত্রে কৃতজ্ঞতা হলো তা-ই যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, আর তা হলো নবজাতকের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এবং তার নিরাপত্তার প্রার্থনায় আকিকা করা। (১)

৩. আরও বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো বালকটি তার চুলের কষ্টের সাথে দায়বদ্ধ; আর এর প্রমাণ হলো তাঁর এই বাণী: (তার থেকে কষ্ট দূর করে দাও)। (২)

৪. আবার বলা হয়েছে যে, সে আকিকার সাথে দায়বদ্ধ, অর্থাৎ জবেহ করার আগে তার নাম রাখা হবে না এবং তার চুলও মুণ্ডন করা হবে না। (৩) ইবনুল কাইয়্যিম হাদিসটির এসব ব্যাখ্যা পছন্দ করেননি এবং এগুলো প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন: "এতে এমন সংশয় রয়েছে যা অস্পষ্ট নয়; কেননা পিতার জন্য সন্তানের সুপারিশের বিষয়টি এর বিপরীত হওয়ার চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য নয়, আর সন্তানের পিতা হওয়া সুপারিশের কারণ হতে পারে না।"

তেমনিভাবে অন্যান্য নিকটাত্মীয় ও রক্ত সম্পর্কীয়দের ক্ষেত্রেও একই কথা। মহান আল্লাহ বলেছেন: (হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো এবং ভয় করো সেই দিনকে, যখন কোনো পিতা তার সন্তানের কোনো উপকারে আসবে না এবং কোনো সন্তানও তার পিতার কোনো উপকারে আসবে না)। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: (এবং তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির কোনো উপকারে আসবে না এবং তার থেকে কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না)। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: (সেই দিন আসার আগে যাতে কোনো কেনা-বেচা নেই, কোনো বন্ধুত্ব নেই এবং কোনো সুপারিশও নেই)। সুতরাং কিয়ামতের দিন কেউ কারও জন্য সুপারিশ করতে পারবে না, তবে আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করবেন এবং যার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন তাকে অনুমতি দেওয়ার পর। সুপারিশের ক্ষেত্রে মহান ও পবিত্র আল্লাহর এই অনুমতি সুপারিশপ্রাপ্ত ব্যক্তির তাওহিদ ও ইখলাসের আমলের ওপর নির্ভরশীল। আর সুপারিশকারীর পক্ষ থেকে আল্লাহর নৈকট্য ও মর্যাদা আত্মীয়তা, সন্তান হওয়া বা পিতা হওয়ার কারণে প্রাপ্য হয় না।

সুপারিশকারীদের সরদার এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব তাঁর চাচা, ফুফু ও কন্যার উদ্দেশ্যে বলেছেন: (আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাদের বাঁচাতে আমি কোনো কাজে আসব না)। অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: (আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আমি কোনো কিছুর মালিক নই)। আর তিনি তাঁর মহান সুপারিশের ব্যাপারে বলেছেন যখন তিনি সিজদাবনত হবেন...

--------------------------------------------

(১) আল-ইহসান ১২/ ১৩১ - ১৩২ হাশিয়া, ফাতহুল বারী ১২/ ১২, নাইলুল আওতার ৫/ ১৫০।

(২) মাআলিমুস সুনান ৪/ ২৬৫।

(৩) নাইলুল আওতার ৫/ ১৫০।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
بين يدي ربه ويشفع: (فيحد لي حداً فأدخلهم الجنة) فشفاعته في حد محدود يحدهم الله سبحانه له ولا تجاوزهم شفاعته.

فمن اين يقال أن الولد يشفع لوالده فإذا لم يعق عنه حبس عنه الشفاعة له ولا يقال لمن يشفع لغيره أنه مرتهن ولا في اللفظ ما يدل على ذلك والله سبحانه وتعالى يخبر عن ارتهان العبد بكسبه كما قال تعالى: (كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ) وقال تعالى: (أُولَئِكَ الَّذِينَ أُبْسِلُوا بِمَا كَسَبُوا) فالمرتهن هو المحبوس إما بفعل منه أو فعل من غيره، وأما من لم يشفع لغيره فلا يقال له مرتهن على الإطلاق، بل المرتهن هو المحبوس عن أمر كان بصدد نيله وحصوله ولا يلزم من ذلك أن يكون بسبب منه بل تحصيل ذلك تارة بفعله وتارة بفعل غيره.

وقد جعل الله سبحانه النسيكة عن الولد سبباً لفك رهانه من الشيطان الذي يعلق به من حين خروجه إلى الدنيا وطعن في خاصرته فكانت العقيقة فداء وتخلصاً له من حبس الشيطان له وسجنه في أسره ومنعه له من سعيه في مصالح آخرته التي إليها معاده فكأنه محبوس لذبح الشيطان له بالسكين التي أعدها لأتباعه وأوليائه وأقسم لربه أنه ليستأصلن ذرية آدم إلا قليلاً منهم فهو بالمرصاد للمولود من حين يخرج إلى الدنيا فحين يخرج يبتدره عدوه ويضمه إليه ويحرص على أن يجعله في قبضته وتحت اسره ومن جملة أوليائه وحزبه فهو أحرص شيء على هذا … فكان المولود بصدد هذا الارتهان فشرع الله سبحانه للوالدين أن يفكا رهانه بذبح يكون فداه فإذا لم يذبح عنه بقي مرتهناً به فلهذا قال عليه الصلاة والسلام: (الغلام مرتهن بعقيقته فأريقوا عنه دماً وأميطوا عنه الأذى) فأمر بإراقة الدم عنه الذي يخلص به من الارتهان، ولو كان الارتهان يتعلق بالأبوين لقال فأريقوا عنكم الدم لتخلص إليكم شفاعة أولادكم. فلما أمرنا بإزالة الأذى الظاهر عنه وإراقة الدم الذي يزيل الأذى
তাঁর রবের সামনে এবং তিনি সুপারিশ (شفاعة) করবেন: (অতঃপর আমার জন্য একটি সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে, তখন আমি তাঁদের জান্নাতে প্রবেশ করাব)। সুতরাং তাঁর সুপারিশ (شفاعة) একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর জন্য নির্ধারণ করে দেবেন এবং তাঁর সুপারিশ (شفاعة) সেই সীমা অতিক্রম করবে না।

তবে কোথা থেকে বলা হয় যে, সন্তান তার পিতার জন্য সুপারিশ (شفاعة) করবে, অথচ যদি তার পক্ষ থেকে আকিকা না করা হয় তবে তাকে সুপারিশ (شفاعة) করা থেকে বঞ্চিত রাখা হবে? আর যে ব্যক্তি অন্যের জন্য সুপারিশ (شفاعة) করে তাকে দায়বদ্ধ বা বন্ধক রাখা (مرتهن) বলা হয় না এবং শব্দের মধ্যেও এমন কোনো অর্থ নেই যা এর প্রতি নির্দেশ করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বান্দার নিজ উপার্জনের কারণে দায়বদ্ধ (ارتهان) হওয়ার সংবাদ দিয়ে বলেন: (প্রত্যেক ব্যক্তি তার অর্জিত আমলের কারণে দায়বদ্ধ)। তিনি আরও বলেন: (এরাই তারা যাদেরকে তাদের অর্জিত আমলের কারণে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে)। সুতরাং দায়বদ্ধ বা বন্ধক রাখা (مرتهن) ব্যক্তি হলো সেই যে অবরুদ্ধ, তা তার নিজের কাজের কারণে হোক বা অন্যের কাজের কারণে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি অন্যের জন্য সুপারিশ (شفاعة) করে না তাকে কোনোভাবেই দায়বদ্ধ বা বন্ধক রাখা (مرتهن) বলা হয় না। বরং দায়বদ্ধ বা বন্ধক রাখা (مرتهن) হলো সেই ব্যক্তি যে এমন বিষয় থেকে অবরুদ্ধ যা সে লাভ করার বা পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল। আর এর জন্য এটি আবশ্যক নয় যে তা তার নিজের কোনো কারণেই হতে হবে, বরং সেই প্রাপ্তি কখনো তার নিজের কর্মের দ্বারা হতে পারে, আবার কখনো অন্যের কর্মের দ্বারা।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সন্তানের পক্ষ থেকে পশুর জবেহ বা কোরবানি (نسيكة) করাকে শয়তানের সেই বন্ধন থেকে তার মুক্তির কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যা দুনিয়াতে আসার সময় থেকেই তার সাথে লেগে থাকে এবং তার পাঁজরে আঘাত করে। সুতরাং আকিকা হলো একটি মুক্তিপণ এবং শয়তানের বন্দিদশা ও তার কারাবরণ থেকে মুক্তি পাওয়ার মাধ্যম, যা তাকে তার পরকালীন কল্যাণে সচেষ্ট হতে বাধা প্রদান করে, যেখানে তাকে শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে হবে। সে যেন শয়তানের হাতে জবাই হওয়ার জন্য অবরুদ্ধ হয়ে আছে সেই ছুরি দিয়ে যা সে তার অনুসারী ও বন্ধুদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছে এবং তার রবের নিকট শপথ করেছে যে সে আদমের বংশধরদের সমূলে বিনাশ করবে কেবল অল্প কিছু লোক বাদে। তাই সে নবজাতকের জন্য ওত পেতে থাকে যখন থেকে সে দুনিয়ায় আসে। যখনই শিশু ভূমিষ্ঠ হয়, তার শত্রু তার দিকে দ্রুত ধাবিত হয়, তাকে নিজের সাথে লেপ্টে নেয় এবং তাকে নিজ কব্জায় ও বন্দিত্বের অধীনে রাখতে এবং নিজের দলভুক্ত করতে অত্যন্ত লালায়িত থাকে … যেহেতু নবজাতক এই দায়বদ্ধতা বা বন্ধক রাখা (ارتهان) অবস্থার সম্মুখীন ছিল, তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পিতামাতার জন্য বিধান দিয়েছেন যেন তারা একটি পশু জবেহ করার মাধ্যমে তার মুক্তিপণ স্বরূপ এই বন্ধন থেকে তাকে মুক্ত করেন। যদি তার পক্ষ থেকে জবেহ করা না হয়, তবে সে সেই অবস্থায় দায়বদ্ধ বা বন্ধক রাখা (مرتهن) থেকে যায়। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (প্রতিটি নবজাতক তার আকিকার সাথে দায়বদ্ধ বা বন্ধক রাখা (مرتهن) থাকে, সুতরাং তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো এবং তার থেকে কষ্ট দূর করো)। তিনি তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন যার মাধ্যমে সে দায়বদ্ধতা বা বন্ধক রাখা (ارتهان) অবস্থা থেকে মুক্তি পায়। যদি এই দায়বদ্ধতা (ارتهان) পিতামাতার সাথে সংশ্লিষ্ট হতো, তবে তিনি বলতেন: 'তোমরা তোমাদের পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো যাতে তোমাদের প্রতি তোমাদের সন্তানদের সুপারিশ (شفاعة) নিশ্চিত হয়'। যেহেতু তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তার থেকে দৃশ্যমান কষ্ট দূর করতে এবং রক্ত প্রবাহিত করতে যা কষ্ট দূর করে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الباطن بارتهانه علم أن ذلك تخليص للمولد من الأذى الباطن والظاهر، والله أعلم بمراده ورسوله. (1)

--------------------------------------------

(1) تحفة المودود ص 57 - 59.
তার ‘আবদ্ধ থাকা’ (ارتهان) এর নিগূঢ় রহস্য থেকে জানা যায় যে, এটি নবজাতককে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কষ্ট থেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার একটি মাধ্যম। আর আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই তাঁদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত। (১)

--------------------------------------------

(১) তুহফাতুল মাওদুদ, পৃষ্ঠা ৫৭ - ৫৯।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المبحث الرابع

الحكمة من مشروعية العقيقة

لا شك أن للعقيقة حكماً وفوائد كثيرة منها:

1. الشكر لله سبحانه وتعالى على نعمة الولد فإنها من أعظم النعم، والأولاد من زينة الحياة الدنيا، قال تعالى: (الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا) (1)، وفطر الله الإنسان على السرور والبهجة عند قدوم المولود فكان حرياً بالإنسان أن يشكر الله الخالق الواهب وقد رود في الأثر عن الحسين رضي الله عنه في تهنئة من رزق مولوداً أن يقال له: (بارك الله لك في الموهوب وشكرت الواهب وبلغ أشده ورزقت بره) (2)، فالعقيقة نوع من أنواع الشكر لله تعالى والتقرب إليه.

2. فيها فكاك المولود وفديته كما فدى الله سبحانه إسماعيل الذبيح بالكبش وكان أهل الجاهلية يفعلونها ويلطخون رأس المولود بالدم، فأقرها الإسلام ونهى عن تلطيخ رأس المولود بالدم.

وأخبر النبي صلى الله عليه وسلم أن ما يذبح عن المولود إنما ينبغي أن يكون على سبيل النسك كالأضحية والهدي فقال: (من أحب أن ينسك عن ولده فليفعل) فجعلها على سبيل الأضحية التي جعلها الله نسكاً وفداء لإسماعيل عليه السلام. وغير مستبعد في حكمة الله في شرعه وقدره أن يكون سبباً لحسن إثبات الولد ودوام سلامته طول حياته في حفظه من ضرر الشيطان حتى يكون كل عضو منها فداء كل عضو منه. (3)

--------------------------------------------

(1) الكهف الآية 46.

(2) الأذكار ص 246.

(3) تحفة المودود ص 54 - 55.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ

আকিকার বিধানের হিকমত বা প্রজ্ঞা

নিঃসন্দেহে আকিকার বহু হিকমত ও উপকারিতা রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি হলো:

১. সন্তান লাভের নেয়ামতের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রতি শুকরিয়া আদায় করা। কেননা এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত এবং সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য। মহান আল্লাহ বলেন: "ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য" (১)। আল্লাহ তাআলা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তিতে নবজাতকের আগমনে আনন্দ ও উল্লাস সৃষ্টি করেছেন, তাই স্রষ্টা ও দাতা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মানুষের জন্য একান্ত কর্তব্য। হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় (أثر) নবজাতকের জন্য দোয়া করার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে: "আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তাতে বরকত দিন, তুমি দাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, সন্তানটি পূর্ণ বয়সে পদার্পণ করুক এবং তুমি তার সদ্ব্যবহার লাভ করো" (২)। সুতরাং আকিকা হলো মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ের এবং তাঁর নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম।

২. এতে নবজাতকের মুক্তি ও মুক্তিপণ নিহিত রয়েছে, যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যবেহযোগ্য ইসমাইলকে দুম্বার বিনিময়ে মুক্ত করেছিলেন। জাহেলি যুগের লোকেরা এটি পালন করত এবং নবজাতকের মাথায় রক্ত মাখিয়ে দিত। ইসলাম একে বহাল রেখেছে কিন্তু নবজাতকের মাথায় রক্ত মাখাতে নিষেধ করেছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে, নবজাতকের পক্ষ থেকে যা জবেহ করা হয় তা কোরবানি ও হাদির ন্যায় ইবাদত বা উৎসর্গ হিসেবে হওয়া উচিত। তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার সন্তানের পক্ষ থেকে উৎসর্গ করতে পছন্দ করে, সে যেন তা করে।" তিনি একে সেই কোরবানির সমপর্যায়ভুক্ত করেছেন যা আল্লাহ তাআলা ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য ইবাদত ও মুক্তিপণ হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। আল্লাহর শরয়ি বিধান ও তকদিরের হিকমতের ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব নয় যে, আকিকা সন্তানের সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠা এবং আজীবন শয়তানের অনিষ্ট থেকে তার সুরক্ষার কারণ হবে, এমনকি পশুর প্রতিটি অঙ্গ যেন সন্তানের প্রতিটি অঙ্গের মুক্তিপণ হয়ে যায় (৩)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কাহফ, আয়াত: ৪৬।

(২) আল-আযকার, পৃষ্ঠা: ২৪৬।

(৩) তুহফাতুল মাওদুদ, পৃষ্ঠা: ৫৪ - ৫৫।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
3. الإعلان والأخبار بأن هذا الشخص قد رزق مولوداً وسماه كذا فيظهر ذلك بين الناس من الأهل والجيران والأصدقاء فيقدم هؤلاء لتهنئة وحضور عقيقته مما يؤدي إلى زيادة روابط الألفة بين المسلمين.

4. فيها نوع من أنواع التكافل الاجتماعي في الإسلام حيث أن الذي يعق عن ولده يذبح الذبيحة ويرسل منها للفقراء والأصدقاء والجيران أو يدعوهم إليها ويساهم هذا الأمر في تخفيف معاناة الفقراء والمحتاجين. (1)

--------------------------------------------

(1) انظر أحكام الذبائح ص 169، تربية الأولاد في الإسلام 1/ 99 - 100.
৩. এই ঘোষণা ও সংবাদ প্রদান করা যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একটি সন্তান লাভ করেছেন এবং তার এই নাম রেখেছেন; ফলে পরিবার, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের মাঝে বিষয়টি জানাজানি হয়। অতঃপর তারা মোবারকবাদ জানাতে এবং তার আকিকা (عقيقة) অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উপস্থিত হয়, যা মুসলমানদের মাঝে হৃদ্যতার বন্ধন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৪. এতে ইসলামের এক প্রকার সামাজিক সংহতির (التكافل الاجتماعي) প্রতিফলন ঘটে, যেহেতু যে ব্যক্তি তার সন্তানের পক্ষ থেকে আকিকা (عقيقة) করে, সে পশু জবেহ করে এবং তার অংশবিশেষ দরিদ্র, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের নিকট পাঠিয়ে দেয় অথবা তাদেরকে নিমন্ত্রণ করে। এই বিষয়টি দরিদ্র ও অভাবী মানুষের কষ্ট লাঘবে অবদান রাখে। (১)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আহকামুজ জাবাইহ, পৃষ্ঠা ১৬৯; তারবিয়াতুল আওলাদ ফিল ইসলাম, ১/৯৯-১০০।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المبحث الخامس

هل يكره تسمية العقيقة بهذا الاسم
؟

ذهب بعض أهل العلم إلى كراهة تسمية العقيقة بهذا الإسم وقالوا الأولى أن تسمى نسيكة أو ذبيحة. (1)

احتجوا بحديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال: (سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن العقيقة فقال: لا أحب العقوق، وكأنه كره الإسم. فقالوا: يا رسول الله إنما نسألك عن أحدنا يولد له. قال: من أحب منكم أن ينسك عن ولده فليفعل عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة) رواه أحمد وأبو داود والنسائي والحاكم والبيهقي، وقال الحاكم: صحيح الإسناد ووافقه الذهبي. (2)

وقال الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح. (3)

وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: وهذا سند حسن. (4)

والحديث رواه البيهقي من طريقين الأول طريق عمرو بن شعيب المذكورة أعلاه، والثانية عن زيد بن أسلم عن رجل من بني ضمرة عن أبيه فذكره ثم قال: [وهذا إذا انضم إلى الأول قويا]. (5)

--------------------------------------------

(1) فتح الباري 12/ 4، نهاية المحتاج 8/ 137، المنتقى 3/ 101، تحفة المودود ص 42.

(2) انظر نيل الأوطار 5/ 152، سنن البيهقي 9/ 300، المستدرك 4/ 238، المجموع 8/ 427 - 428.

(3) صحيح سنن النسائي 3/ 884.

(4) الإحسان 12/ 132.

(5) سنن البيهقي 9/ 300.
‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ

আকিকাকে এই নামে অভিহিত করা কি অপছন্দনীয় (كراهة)
?

কোনো কোনো বিজ্ঞ আলিম আকিকাকে এই নামে নামকরণ করা অপছন্দনীয় (كراهة) বলে মনে করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন যে, একে নাসিকাহ (نسيكة) বা জবিহাহ (ذبيحة) বলাই উত্তম। (১)

তাঁরা আমর ইবন শুআইব থেকে তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তিনি বলেন: (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আকিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "আমি অবাধ্যতা (العقوق) পছন্দ করি না।" যেন তিনি এই নামটি অপছন্দ করেছেন। এরপর তাঁরা বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কারো সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে আমরা কী করব, সে সম্পর্কেই আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি।" তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার সন্তানের পক্ষ থেকে কোরবানি (ينسك) করতে পছন্দ করে সে যেন তা করে। ছেলের পক্ষ থেকে সমমানের দুটি ছাগল এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি ছাগল") এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, আবু দাউদ, নাসায়ি, হাকীম ও বায়হাকি। হাকীম বলেছেন: এর সনদটি বিশুদ্ধ (صحيح الإسناد) এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। (২)

শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানি বলেছেন: এটি হাসান সহিহ (حسن صحيح)। (৩)

শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) সনদ। (৪)

হাদিসটি বায়হাকি দুটি সূত্র (طريقين) থেকে বর্ণনা করেছেন। প্রথমটি উপরে উল্লিখিত আমর ইবন শুআইবের সূত্র (طريق), এবং দ্বিতীয়টি যায়েদ ইবন আসলাম থেকে বনু দামরাহ গোত্রের এক ব্যক্তি ও তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। সেটি উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: [এটি যখন প্রথমটির সাথে যুক্ত হয় তখন শক্তিশালী (قويا) হয়]। (৫)

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারি ১২/৪, নিহায়াতুল মুহতাজ ৮/১৩৭, আল-মুনতাকা ৩/১০১, তুহফাতুল মাওদুদ পৃ. ৪২।

(২) দেখুন নায়লুল আওতার ৫/১৫২, সুনান আল-বায়হাকি ৯/৩০০, আল-মুস্তাদরাক ৪/২৩৮, আল-মাজমু ৮/৪২৭ - ৪২৮।

(৩) সহিহ সুনান আন-নাসায়ি ৩/৮৮৪।

(৪) আল-ইহসান ১২/১৩২।

(৫) সুনান আল-বায়হাকি ৯/৩০০।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
قال الإمام الباجي: [قوله صلى الله عليه وسلم لا أحب العقوق ظاهره كراهية الإسم لما فيه من مشابهة لفظ العقوق وآثر أن يسمى نسكاً]. (1)

وقد أجاب التوربشتي عن ذلك بقوله: [هذا الكلام وهو أنه كره الاسم غير سديد إدرج في الحديث من قول بعض الرواة ولا يدري من هو وبالجملة فقد صدر عن ظن يحتمل الخطأ والصواب.

والظاهر أنه ها هنا خطأ لأنه صلى الله عليه وسلم ذكر العقيقة في عدة أحاديث ولو كان يكره الاسم لعدل عنه إلى غيره، ومن سنته تغيير الإسم إذا كرهه والأوجه أن يقال يحتمل أن السائل ظن أن اشتراك العقيقة مع العقوق في الاشتقاق مما يوهن أمرها فأعلم النبي صلى الله عليه وسلم أن الذي كرهه الله تعالى من هذا الباب هو العقوق لا العقيقة]. (2)

وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم استعمال اسم العقيقة في أحاديث منها:

أ. حديث سمرة رضي الله عنه: (كل غلام رهينة بعقيقته … ).

ب. وحديث سلمان بن عامر الضبي رضي الله عنه: (مع الغلام عقيقته).

جـ. وحديث أسماء بنت يزيد رضي الله عنها: (العقيقة عن الغلام شاتان … ).

د. وحديث أبي هريرة رضي الله عنه: (مع الغلام عقيقته … ). (3)

ففي هذه الأحاديث استعمل النبي صلى الله عليه وسلم لفظ العقيقة فدل على الإباحة لا على الكراهة وفقهاؤنا يستعملون هذه اللفظة في كتبهم ولا يستعملون لفظة نسيكة). (4)

--------------------------------------------

(1) المنتقى 3/ 101.

(2) الفتح الرباني 13/ 113.

(3) سبق تخريج هذه الأحاديث.

(4) انظر تحفة المودود ص 42.
ইমাম বাজি বলেছেন: [রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী "আমি অবাধ্যতা পছন্দ করি না" এর বাহ্যিক অর্থ হলো এই নামটি অপছন্দ করা; কারণ এতে 'উক্বুক' শব্দের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। তিনি একে 'নুসুক' (ইবাদত/কুরবানি) নামে অভিহিত করাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।] (১)

আত-তুরবিশতি এর উত্তরে বলেছেন: [এই কথাটি—অর্থাৎ তিনি নামটি অপছন্দ করতেন—সঠিক নয়; এটি কোনো একজন বর্ণনাকারীর (رواة) উক্তি হিসেবে হাদিসের মধ্যে অনুপ্রবিষ্ট (إدراج) হয়েছে, তবে তিনি কে তা জানা যায়নি। মোটকথা, এটি একটি ধারণা থেকে উদ্ভূত হয়েছে যাতে ভুল বা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আর প্রকাশ্যত এখানে ভুল হয়েছে, কারণ তিনি ﷺ একাধিক হাদিসে 'আক্বীক্বাহ' শব্দটি উল্লেখ করেছেন। যদি তিনি নামটি অপছন্দ করতেন তবে তিনি এর পরিবর্তে অন্য কোনো নাম ব্যবহার করতেন। আর কোনো নাম অপছন্দ করলে তা পরিবর্তন করে দেওয়া ছিল তাঁর সুন্নাত। অধিকতর সঠিক মত হলো, সম্ভবত প্রশ্নকারী ধারণা করেছিলেন যে 'আক্বীক্বাহ' ও 'উক্বুক' এর ব্যুৎপত্তিগত মিল বিষয়টিকে দুর্বল করে দেয়। তখন নবী ﷺ তাকে জানালেন যে, মহান আল্লাহ এই ক্ষেত্র থেকে যা অপছন্দ করেন তা হলো পিতামাতার অবাধ্যতা (عقوق), আক্বীক্বাহ নয়।] (২)

নবী ﷺ থেকে বেশ কিছু হাদিসে 'আক্বীক্বাহ' নামের ব্যবহার প্রমাণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

ক. সামুরাহ (রা.) বর্ণিত হাদিস: (প্রত্যেক শিশু তার আক্বীক্বাহর বিনিময়ে বন্ধক থাকে … )।

খ. সালমান ইবনে আমির আদ-দাব্বি (রা.) বর্ণিত হাদিস: (সন্তানের সাথে তার আক্বীক্বাহ রয়েছে)।

গ. আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) বর্ণিত হাদিস: (ছেলের পক্ষ থেকে আক্বীক্বাহ হলো দুটি বকরি … )।

ঘ. আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস: (সন্তানের সাথে তার আক্বীক্বাহ রয়েছে … )। (৩)

এই হাদিসগুলোতে নবী ﷺ 'আক্বীক্বাহ' শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা এর বৈধতা (إباحة) নির্দেশ করে, অপছন্দনীয়তা (كراهة) নয়। আমাদের ফকিহগণও তাঁদের গ্রন্থসমূহে এই শব্দ ব্যবহার করেন এবং তাঁরা 'নাসিকাহ' শব্দ ব্যবহার করেন না। (৪)

--------------------------------------------

(১) আল-মুন্তাকা ৩/১০১।

(২) আল-ফাতহুর রব্বানি ১৩/১১৩।

(৩) এই হাদিসগুলোর উৎস অনুসন্ধান (تخريج) পূর্বে করা হয়েছে।

(৪) দেখুন: তুহফাতুল মাওদুদ, পৃষ্ঠা ৪২।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث السادس

حكم العقيقة

اختلف الفقهاء في حكم العقيقة على ثلاثة أقوال:

القول الأول: أنها سنة مؤكدة وهذا قول جمهور أهل العلم من الصحابة والتابعين والفقهاء وهو قول الشافعية والمالكية والمشهور المعتمد في مذهب الحنابلة وبه قال الجمهور من العترة. (1)

ونقل هذا القول عن ابن عباس وابن عمر وعائشة وفاطمة بنت رسول الله وبريدة الأسلمي والقاسم بن محمد وعروة بن الزبير وعطاء والزهري وأبو الزناد وإسحاق وأبو ثور وغيرهم كثير. (2)

قال ابن القيم: [فأما أهل الحديث قاطبة وفقهاؤهم وجمهور أهل السنة، فقالوا: هي من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم). (3)

القول الثاني: إنها فرض واجب وهذا قول الظاهرية وعلى رأسهم صاحب المذهب وابن حزم ونقل عن الحسن البصري وهو راية عن الإمام أحمد اختارها جماعة من الحنابلة وهو قول الليث بن سعد. (4)

--------------------------------------------

(1) مغني المحتاج 4/ 293، المجموع 8/ 429، بداية المجتهد 1/ 275، الإقناع 2/ 282، كفاية الأخيار ص 534 ،المغني 9/ 459، نيل الأوطار 5/ 150، الفروع 3/ 563، كشاف القناع 3/ 24، تحفة المودود ص 32، أحكام الذبائح ص 170، الفقه الإسلامي وأدلته 3/ 637.

(2) المغني 9/ 459، المجموع 8/ 447.

(3) تحفة المودود ص 32.

(4) المحلى 6/ 234، المجموع 8/ 447، المغني 9/ 459، الإنصاف 4/ 110، زاد المعاد 2/ 326، تحفة المودود ص 43.
‌‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

আক্বীকার বিধান

ফক্বীহগণ আক্বীকার বিধানের ব্যাপারে তিনটি মতে মতভেদ করেছেন:

প্রথম মত: এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة); এটি সাহাবী (صحابة), তাবেয়ী (تابعين) ও ফক্বীহদের অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশ (جمهور) জ্ঞানবান ব্যক্তির অভিমত। এটি শাফেয়ী ও মালেকী মাযহাবের বক্তব্য এবং হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য (معتمد) মত। আহলে বাইতের (العترة) অধিকাংশ সদস্যও এই মত পোষণ করেছেন। (১)

এই অভিমতটি ইবনে আব্বাস, ইবনে ওমর, আয়েশা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা, বুরাইদাহ আল-আসলামী, কাসিম বিন মুহাম্মদ, উরওয়াহ বিন যুবায়ের, আতা, যুহরী, আবু যিনাদ, ইসহাক, আবু সাওর এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণিত হয়েছে। (২)

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: [পক্ষান্তরে আহলুল হাদীস গোষ্ঠীর সকলে, তাঁদের ফক্বীহগণ এবং আহলে সুন্নাতের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত]। (৩)

দ্বিতীয় মত: এটি ফরয ওয়াজিব (فرض واجب); এটি জাহেরী মাযহাবের অনুসারীদের অভিমত এবং তাঁদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় হলেন মাযহাবের প্রবক্তা ও ইবনে হাজম। হাসান বসরী থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে এবং এটি ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা (رواية), যা হাম্বলী মাযহাবের একদল আলেম পছন্দ করেছেন। এটি লাইস বিন সা’দ-এরও অভিমত। (৪)

--------------------------------------------

(১) মুগনী আল-মুহতাজ ৪/২৯৩, আল-মাজমু’ ৮/৪২৯, বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/২৭৫, আল-ইকনা’ ২/২৮২, কিফায়াতুল আখইয়ার পৃ. ৫৩৪, আল-মুগনী ৯/৪৫৯, নাইলুল আওতার ৫/১৫০, আল-ফুরু’ ৩/৫৬৩, কাশশাফুল কিনা’ ৩/২৪, তুহফাতুল মাওদুদ পৃ. ৩২, আহকামুয যাবায়িহ পৃ. ১৭০, আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু ৩/৬৩৭।

(২) আল-মুগনী ৯/৪৫৯, আল-মাজমু’ ৮/৪৪৭।

(৩) তুহফাতুল মাওদুদ পৃ. ৩২।

(৪) আল-মুহাল্লা ৬/২৩৪, আল-মাজমু’ ৮/৪৪৭, আল-মুগনী ৯/৪৫৯, আল-ইনসাফ ৪/১১০, যাদুল মা’আদ ২/৩২৬, তুহফাতুল মাওদুদ পৃ. ৪৩।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
القول الثالث للحنفية وقد اختلفت الروايات في مذهبهم في حكم العقيقة والذي تحصل لي بعد البحث ثلاثة أقوال لهم هي:

أ. أنها تطوع من شاء فعلها ومن شاء تركها، قاله الطحاوي في مختصره وابن عابدين في العقود الدرية (1)، وهذا موافق لقول الجمهور بشكل عام.

ب. أنها مباحة قاله المنبجي ونقله ابن عابدين عن جامع المحبوبي. (2)

جـ. أنها منسوخة يكره فعلها وهو منقول عن محمد بن الحسن صاحب أبي حنيفة حيث قال: [أما العقيقة فبلغنا أنها كانت في الجاهلية وقد فعلت في أول الإسلام ثم نسخ الأضحى كل ذبح كان قبله]. (3)

وقال الخوارزمي الكرلاني: [كان في الجاهلية ذبائح يذبحونها منها العقيقة ومنها الرجيبة … وكلها منسوخ بالأضحية]. (4)

وأما ما نسب لأبي حنيفة من قوله أنها بدعة فهو مردود وباطل، قال العيني: [هذا افتراء فلا يجوز نسبته إلى أبي حنيفة وحاشاه أن يقول مثل هذا] (5)، وقد تطاول ابن حزم على أبي حنيفة وتهجم عليه فقال: [ولم يعرف أبو حنيفة العقيقة فكان ماذا؟ ليت شعري إذا لم يعرفها أبو حنيفة ما هذا بنكرة فطالما لم يعرف السنن]. (6)

وليت ابن حزم رحمه الله التمس عذراً لأبي حنيفة رحمه الله لكان أولى من هذا اللمز.

--------------------------------------------

(1) مختصر الطحاوي ص 299، العقود الدرية في تنقيح الفتاوى الحامدية 2/ 212.

(2) اللباب في الجمع بين السنة والكتاب 2/ 648، حاشية ابن عابدين 6/ 336.

(3) الموطأ برواية محمد ص 226، وانظر بدائع الصنائع 6/ 2968.

(4) الكفاية على الهداية 8/ 428.

(5) الفتح الرباني 13/ 124.

(6) المحلى 6/ 241.
হানাফিদের তৃতীয় মত; তাদের মাযহাবে আকিকার বিধান সম্পর্কে বর্ণনাগুলো ভিন্ন ভিন্ন। গবেষণার পর আমার নিকট তাদের তিনটি অভিমত স্পষ্ট হয়েছে, সেগুলো হলো:

ক. এটি একটি ঐচ্ছিক (تطوع) কাজ; যে চায় সে করবে আর যে চায় সে বর্জন করবে। ইমাম তহাবি তাঁর মুখতাসার-এ এবং ইবনে আবিদিন আল-উকুদ আদ-দুররিয়া-তে (১) এ কথা বলেছেন। এটি সাধারণভাবে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

খ. এটি বৈধ (مباح); আল-মানবিজি এটি বলেছেন এবং ইবনে আবিদিন জামে আল-মাহবুবি থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। (২)

গ. এটি রহিত (منسوخ) এবং এর আমল করা অপছন্দীয় (يكره)। এটি ইমাম আবু হানিফার ছাত্র মুহাম্মদ ইবনুল হাসান থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন: [আকিকার ব্যাপারে আমাদের কাছে পৌঁছেছে যে, এটি জাহেলি যুগে প্রচলিত ছিল এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগেও পালন করা হয়েছে। এরপর ঈদুল আযহার কোরবানি এর পূর্বের সকল জবাইর বিধানকে রহিত (نسخ) করে দিয়েছে]। (৩)

আল-খাওয়ারিজমি আল-কারলানি বলেছেন: [জাহেলি যুগে মানুষ কিছু পশু জবাই করত, যার মধ্যে আকিকা ও রাজিবাহ অন্তর্ভুক্ত ছিল... এ সবগুলোই কোরবানির বিধান দ্বারা রহিত (منسوخ) হয়ে গিয়েছে]। (৪)

আর ইমাম আবু হানিফার দিকে এটি বিদআত (بدعة) হওয়ার যে বক্তব্যটি সম্পৃক্ত করা হয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردود) এবং বাতিল (باطل)। আল-আইনি বলেছেন: [এটি একটি অপবাদ, তাই এটি আবু হানিফার দিকে সম্পৃক্ত করা জায়েজ নেই। তাঁর মতো ব্যক্তিত্ব এমন কথা বলবেন তা কল্পনাও করা যায় না] (৫)। ইবনে হাজম আবু হানিফার ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন করেছেন এবং আক্রমণাত্মকভাবে বলেছেন: [আবু হানিফা আকিকা সম্পর্কে জানতেন না, তাতে কী হয়েছে? আমার আফসোস! আবু হানিফা যদি এটি না-ই জানেন, তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ তিনি তো অনেক সুন্নাহ সম্পর্কেই জানতেন না]। (৬)

ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ) যদি আবু হানিফার (রহিমাহুল্লাহ) জন্য কোনো ওজর খুঁজতেন, তবে তা এই বিদ্রূপাত্মক মন্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি উত্তম হতো।

--------------------------------------------

(১) মুখতাসারুত তহাবি পৃষ্ঠা ২৯৯, আল-উকুদ আদ-দুররিয়া ফি তানকিহিল ফাতাওয়া আল-হামিদীয়া ২/ ২১২।

(২) আল-লুবাব ফিজ জাময়ি বাইনাস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব ২/ ৬৪৮, হাশিয়া ইবনে আবিদিন ৬/ ৩৩৬।

(৩) মুয়াত্তা মুহাম্মদের বর্ণনা অনুযায়ী পৃষ্ঠা ২২৬, এবং দেখুন বাদায়েউস সানায়ে ৬/ ২৯৬৮।

(৪) আল-কিফায়া আলাল হিদায়া ৮/ ৪২৮।

(৫) আল-ফাতহুর রব্বানি ১৩/ ১২৪।

(৬) আল-মুহাল্লা ৬/ ২৪১।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وأحسن الشوكاني إذ قال: [وحكى صاحب البحر عن أبي حنيفة أن العقيقة جاهلية محاها الإسلام وهذا إن صح حمل على أنها لم تبلغه الأحاديث الواردة في ذلك] (1)، وهكذا ينبغي أن نحسن الظن بعلمائنا فهم أتقى وأورع من أن يتعمدوا مخالفة سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

أدلة الجمهور على أن العقيقة سنة:

1. عن سلمان بن عامر الضبي قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (مع الغلام عقيقة فأهريقوا عنه دماً وأميطوا عنه الأذى).

2. عن سمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (كل غلام رهينة بعقيقته تذبح عنه يوم سابعه ويحلق ويسمى).

3. عن أم كرز قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة).

4. عن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عق عن الحسن والحسين.

5. عن عائشة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمرهم عن الغلام شاتان وعن الجارية شاة. (2)

وجه الاحتجاج بهذه الأحاديث:

قال الجمهور أن هذه الأحاديث تدل على أن العقيقة سنة مستحبة أكدها النبي صلى الله عليه وسلم بقوله وفعله، حيث أنه قد عق الحسن والحسين رضي الله عنهما.

وقالوا أيضاً أن الأمر في حديث عائشة مصروف عن الوجوب إلى الندب ويؤيد ذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم جعلها لرغبة المسلم واختياره، وما كان سبيله كذلك لا يكون واجباً، فقد جاء في الحديث عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال: سئل النبي صلى الله عليه وسلم عن

--------------------------------------------

(1) نيل الأوطار 5/ 150.

(2) سبق تخريج هذه الأحاديث.
ইমাম শাওকানি চমৎকার বলেছেন যখন তিনি বলেন: [এবং ‘সাহিবুল বাহর’ ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আকিকা হলো জাহেলি যুগের প্রথা যা ইসলাম মিটিয়ে দিয়েছে। আর যদি এটি সঠিক (صحيح) হয়, তবে তা এভাবেই ব্যাখ্যা করা হবে যে, এ সম্পর্কিত হাদিসগুলো তাঁর কাছে পৌঁছেনি] (১)। আর এভাবেই আমাদের ওলামায়ে কেরামের প্রতি সুধারণা পোষণ করা উচিত। কারণ তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) এর বিরুদ্ধাচরণ করার চেয়ে অনেক বেশি আল্লাহভীরু ও পরহেজগার।

আকিকা সুন্নাহ (سنة) হওয়ার সপক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলেমদের দলিলসমূহ:

১. সালমান বিন আমির আদ-দাব্বি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: (ছেলের জন্মের সাথে আকিকা রয়েছে, সুতরাং তোমরা তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো এবং তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করো)।

২. সামুরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (প্রত্যেক নবজাতক তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক থাকে। তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু জবেহ করা হবে, তার মাথা মুণ্ডন করা হবে এবং তার নামকরণ করা হবে)।

৩. উম্মে কুরয থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: (ছেলের জন্য সমপর্যায়ের দু’টি ছাগল এবং মেয়ের জন্য একটি ছাগল)।

৪. ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে আকিকা করেছেন।

৫. আয়েশা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে ছেলের জন্য দু’টি ছাগল এবং মেয়ের জন্য একটি ছাগল জবাই করার নির্দেশ দিয়েছেন। (২)

এই হাদিসগুলো দ্বারা দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি:

জুমহুর (جمهور) আলেমগণ বলেন যে, এই হাদিসগুলো প্রমাণ করে যে আকিকা হলো একটি পছন্দনীয় (مستحب) সুন্নাহ (سنة), যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণী ও কর্মের মাধ্যমে সুদৃঢ় করেছেন; যেহেতু তিনি হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর পক্ষ থেকে আকিকা করেছেন।

তাঁরা আরও বলেন যে, আয়েশা (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত নির্দেশটি আবশ্যকীয়তা (وجوب) থেকে পছন্দনীয়তার (ندب) দিকে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। এর সমর্থনে বলা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে মুসলিমের ইচ্ছা ও পছন্দের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। আর যে বিষয়টি এই পর্যায়ের হয়, তা আবশ্যক (واجب) হতে পারে না। আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) নাইলুল আওতার ৫/ ১৫০।

(২) ইতিপূর্বে এই হাদিসগুলোর সূত্র নির্দেশ (تخريج) করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
العقيقة فقال: (لا يحب الله العقوق) كأنه كره الاسم وقال: (من ولد له ولد فأحب أن ينسك عنه فلينسك). (1)

وقالوا أيضاً أنها لو كانت واجبة لكان وجوبها معلوماً من الدين لأن ذلك مما تدعو الحاجة إليه، وتعم به البلوى فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يبين وجوبها للأمة بياناً عاماً كافياً تقوم به الحجة، وينقطع معه العذر. (2)

6. واحتجوا أيضاً بالإجماع على أنها سنة قال ابن قدامة: [والإجماع، قال أبو الزناد: العقيقة من أمر الناس كانوا يكرهون تركه] (3)، وقول أبي الزناد من أمر الناس تفيد أن العقيقة متروكة لرغبتهم لم يوجبها الشارع ولو كانت واجبة لما تركوها كما أن ترك الواجب يكون حراماً وليس مكروهاً فقط.

7. وقالوا أنها ذبيحة لسرور حادث فلم تكن واجبة كالوليمة والنقيعة. (4)

8. وقالوا أيضاً فعله صلى الله عليه وسلم لها لا يدل على الوجوب إنما يدل على الاستحباب. (5)

9. وقالوا إنها إراقة دم من غير جناية ولا نذر فلم تجب كالأضحية. (6)

واحتج الظاهرية ومن وافقهم على أنها واجبة بما يلي:

1. حديث سلمان بن عامر الضبي السابق وفيه: (مع الغلام عقيقة فأهريقوا عنه دماً).

2. وحديث أم كرز السابق وفيه: (وعن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة).

--------------------------------------------

(1) سبق تخريجه وانظر نيل الأوطار 5/ 150.

(2) تحفة المودود ص 47.

(3) المغني 9/ 459، وانظر أحكام الذبائح ص 173.

(4) المغني 9/ 459، والنقيعة هي طعام يصنع عند قدوم المسافر.

(5) تحفة المودود ص 48، سبل السلام 4/ 180.

(6) المهذب 8/ 426، مع المجموع.
আকিকা (عقيقة) সম্পর্কে তিনি বলেছেন: (আল্লাহ তাআলা অবাধ্যতা (العقوق) পছন্দ করেন না), যেন তিনি এই নামটিকে অপছন্দ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: (যার কোনো সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় এবং সে তার পক্ষ থেকে জবেহ (ينسك) করতে পছন্দ করে, সে যেন তা করে)। (১)

তারা আরও বলেন যে, যদি তা ওয়াজিব (واجب) হতো, তবে এর আবশ্যকতা দ্বীন থেকে স্পষ্টভাবে জানা যেত। কারণ এটি এমন একটি বিষয় যার প্রয়োজন দেখা দেয় এবং যা সাধারণ সমস্যার (تعم به البلوى) অন্তর্ভুক্ত। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মতের জন্য এর আবশ্যকতা এমন সাধারণ ও পর্যাপ্তভাবে বর্ণনা করতেন যার দ্বারা দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হতো এবং অজুহাত (عذر) ছিন্ন হতো। (২)

৬. তারা ইজমা (إجماع) দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন যে এটি সুন্নাত (سنة)। ইবনে কুদামা বলেন: [এবং ইজমা (إجماع); আবুয যিনাদ বলেছেন: আকিকা (عقيقة) মানুষের প্রচলিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল, তারা এর পরিত্যাগকে অপছন্দ করত] (৩)। আবুয যিনাদের কথা 'মানুষের প্রচলিত বিষয়' নির্দেশ করে যে, আকিকা (عقيقة) তাদের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, শরিয়ত প্রণেতা (الشارع) একে ওয়াজিব (واجب) করেননি। যদি তা ওয়াজিব (واجب) হতো, তবে তারা তা বর্জন করত না। যেমন ওয়াজিব (واجب) ত্যাগ করা হারাম (حرام) হয়ে থাকে, শুধু মাকরুহ (مكروه) নয়।

৭. তারা বলেন যে, এটি আনন্দের সংবাদে জবেহকৃত পশু, তাই এটি ওয়াজিব (واجب) নয়; যেমন ওলিমা (وليمة) এবং নাকিকা (نقيعة)। (৪)

৮. তারা আরও বলেন যে, নবী ﷺ-এর এই আমল ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার প্রমাণ দেয় না, বরং এটি কেবল মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার দলিল। (৫)

৯. তারা বলেন যে, এটি কোনো অপরাধ (جناية) বা মানত (نذر) ছাড়াই রক্ত প্রবাহিত করা, তাই কুরবানির (الأضحية) মতো এটি ওয়াজিব (تجب) নয়। (৬)

যাহেরি (الظاهرية) সম্প্রদায় এবং যারা তাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন, তারা এটি ওয়াজিব (واجب) হওয়ার পক্ষে নিম্নোক্ত দলিলসমূহ পেশ করেছেন:

১. সালমান বিন আমির আদ-দাব্বি (রা.) বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদিস, যাতে রয়েছে: (ছেলের সাথে আকিকা (عقيقة) রয়েছে, সুতরাং তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো)।

২. এবং উম্মে কুরয (রা.) বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদিস, যাতে রয়েছে: (ছেলের পক্ষ থেকে দুটি সমমানের ছাগল এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি ছাগল)।

--------------------------------------------

(১) এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং দেখুন: নীলুল আওতার ৫/১৫০।

(২) তুহফাতুল মাওদুদ পৃষ্ঠা ৪৭।

(৩) আল-মুগনি ৯/৪৫৯ এবং দেখুন: আহকামুজ জাবাইহ পৃষ্ঠা ১৭৩।

(৪) আল-মুগনি ৯/৪৫৯; আর নাকিকা (نقيعة) হলো সেই খাবার যা মুসাফিরের প্রত্যাবর্তনে তৈরি করা হয়।

(৫) তুহফাতুল মাওদুদ পৃষ্ঠা ৪৮, সুবুলুস সালাম ৪/১৮০।

(৬) আল-মুহাজ্জাব ৮/৪২৬, আল-মাজমু'-এর সাথে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
3. وحديث سمرة السابق وفيه: (كل غلام رهينة بعقيقته).

وقد ساق ابن حزم هذه الأحاديث بإسناده بعدة روايات ثم قال: [فهذه الأخبار نص ما قلنا وهو قول جماعة من السلف] (1)، ثم ذكر آثاراً عن جماعة من السلف منهم: حفصة بنت عبد الرحمن بن أبي بكر، وابن عباس، وعطاء، وابن عمر، وبريدة الأسلمي، ثم قال: [أمره عليه الصلاة والسلام بالعققة فرض كما ذكرنا لا يحل لأحد أن يحمل شيئاً من أوامره عليه الصلاة والسلام على جواز تركها إلا بنص آخر وارد بذلك وإلا فالقول بذلك كذب وقفو لما لا علم لهم به، وقد قال عليه الصلاة والسلام: (إذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم) (2)، هذه حجج ابن حزم على الوجوب.

4. واحتج غيره على وجوبها بأن الرسول صلى الله عليه وسلم أمر بها وعمل بها، وقال الغلام مرتهن بعقيقته ومع الغلام عقيقة. (3)

قالوا وهذا يدل على الوجوب من وجهين: أحدهما قوله مع الغلام عقيقة وهذا ليس إخباراً عن الواقع بل عن الواجب ثم أمرهم بأن يخرجوا عنه هذا الذي معه، فقال: أهريقوا عنه دماً. (4)

5. واحتجوا أيضاً بحديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أن: (الرسول صلى الله عليه وسلم امر بتسمية المولود يوم سابعه ووضع الأذى عنه والعق). (5)

--------------------------------------------

(1) المحلى 6/ 336.

(2) المحلى 6/ 337، والحديث الذي ذكره ابن حزم رواه البخاري ومسلم.

(3) انظر تحفة المودود ص 43.

(4) المصدر السابق ص 46.

(5) سبق تخريجه.
৩. সামুরা বর্ণিত ইতিপূর্বে উল্লিখিত হাদিস, যাতে রয়েছে: (প্রত্যেক শিশু তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধকস্বরূপ)।

ইবনে হাজম এই হাদিসসমূহকে তাঁর সনদ (إسناد)-সহ একাধিক বর্ণনার (روايات) মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন: [এই সংবাদগুলো (الأخبار) আমাদের বক্তব্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ (نص) এবং এটি একদল পূর্বসূরি (السلف)-এর অভিমত] (১), অতঃপর তিনি একদল পূর্বসূরি (السلف)-এর নিকট থেকে বেশ কিছু আসার (آثار) উল্লেখ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: হাফসা বিনতে আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর, ইবনে আব্বাস, আতা, ইবনে ওমর এবং বুরাইদাহ আল-আসলামি। এরপর তিনি বলেন: [আকিকা করার ব্যাপারে তাঁর (সা.)-এর নির্দেশ আমাদের বর্ণনানুযায়ী ফরজ (فرض)। কারো জন্যই তাঁর (সা.)-এর কোনো নির্দেশকে বর্জন করার বৈধতা হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়, যদি না এ সম্পর্কিত অন্য কোনো বর্ণিত নস (نص) থাকে। অন্যথায়, এমন কথা বলা হবে মিথ্যাচার এবং না জেনে কোনো বিষয়ের অনুসরণ করা। আর রাসুল (সা.) বলেছেন: (আমি যখন তোমাদের কোনো নির্দেশ দিই, তখন তোমরা সাধ্যানুযায়ী তা পালন করো) (২)। ওয়াজিব (الوجوب) হওয়ার সপক্ষে এগুলো ইবনে হাজমের দলিল (حجج)।

৪. অন্যান্যরা এটি ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার সপক্ষে এই বলে দলিল (احتج) পেশ করেছেন যে, রাসুল (সা.) এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিজে তা আমল করেছেন। তিনি বলেছেন: "শিশু তার আকিকার কাছে বন্ধক এবং শিশুর সাথে আকিকা রয়েছে" (৩)।

তাঁরা বলেন, এটি দুটি দিক থেকে ওয়াজিব (الوجوب) হওয়ার প্রমাণ বহন করে: একটি হলো তাঁর বাণী—"শিশুর সাথে আকিকা রয়েছে", এটি বাস্তবতার কোনো বিবরণ (إخبار) নয় বরং ওয়াজিব (الواجب) হওয়ার সংবাদ। এরপর তিনি তাঁদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা শিশুর পক্ষ থেকে তা আদায় করে। তিনি বলেছেন: "তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো (অর্থাৎ পশু জবেহ করো)" (৪)।

৫. তাঁরা আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারাও দলিল (احتجوا) পেশ করেছেন যে: (রাসুল (সা.) নবজাতকের জন্মের সপ্তম দিনে নাম রাখা, তার কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা এবং আকিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন) (৫)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুহাল্লা ৬/৩৩৬।

(২) আল-মুহাল্লা ৬/৩৩৭, এবং ইবনে হাজম যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তা বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা (رواه) করেছেন।

(৩) দেখুন: তুহফাতুল মাওদুদ, পৃষ্ঠা ৪৩।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৪৬।

(৫) এর তাখরিজ (تخريجه) পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
6. واحتجوا بحديث يوسف بن ماهك وفيه ان عائشة أخبرتهم أن الرسول صلى الله عليه وسلم: (أمرهم عن الغلام شاتان وعن الجارية شاة). (1)

وجه الاستدلال بهذين الحديثين أن فيهما الأمر النبوي بالعقيقة والأصل في الأمر أن يحمل على الوجوب.

7. واحتجوا أيضاً بحديث يزيد ب عبد المزني عن أبيه أن الرسول صلى الله عليه وسلم قال: (يعق عن الغلام ولايمس رأسه بدم) (2)، وقالوا هذا خبر بمعنى الأمر. (3)

واحتج الحنفية بما يلي:

أولاً: بالنسبة للقول الأول عند الحنفية الذي يرى أن العقيقة مستحبة فأدلتهم عليه هي أدلة الجمهور السابقة.

ثانياً: بالنسبة للقول بأنها مباحة فاحتجوا عليه بحديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده السابق، وفيه: (من ولد له ولد فأحب أن ينسك عنه فلينسك … الخ) وهو يفيد الإباحة كما قالوا. (4)

ثالثاً: وأما قولهم بأنها منسوخة فدليلهم ما ذكره الكاساني: [ولنا ما روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: (نسخت الأضحية كل دم كان قبلها، ونسخ صوم رمضان كل صوم كان قبله ونسخت الزكاة كل صدقة كانت قبلها) والعقيقة كانت قبل

--------------------------------------------

(1) سبق تخريجه.

(2) سبق تخريجه.

(3) تحفة المودود ص 47.

(4) اللباب 2/ 648.
6. তাঁরা ইউসুফ ইবনে মাহাক বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যেখানে আয়েশা (রা.) তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.): (তাঁদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, ছেলের পক্ষ থেকে দুটি ছাগল এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি ছাগল)। (1)

এই হাদিসদ্বয় দ্বারা দলিল পেশ করার পদ্ধতি হলো, এতে আকিকার বিষয়ে নববী নির্দেশ (أمر) বিদ্যমান এবং নির্দেশের (أمر) ক্ষেত্রে মূলনীতি (أصل) হলো তা আবশ্যকতা (وجوب) হিসেবে গণ্য হওয়া।

7. তাঁরা ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মুজানি তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (ছেলের পক্ষ থেকে আকিকা করা হবে এবং তার মাথায় রক্ত মাখানো হবে না) (2), এবং তাঁরা বলেছেন এটি নির্দেশের (أمر) অর্থে সংবাদ (خبر)। (3)

হানাফিগণ নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:

প্রথমত: হানাফিদের নিকট প্রথম মতের ক্ষেত্রে, যা মনে করে আকিকা পছন্দনীয় (مستحب), সে বিষয়ে তাঁদের দলিলসমূহ হলো জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠদের (جمهور) পূর্বে বর্ণিত দলিলসমূহ।

দ্বিতীয়ত: এটি বৈধ (مباح) হওয়ার মতের সপক্ষে তাঁরা ইতিপূর্বে উল্লিখিত আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যাতে রয়েছে: (যার সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় এবং সে তার পক্ষ থেকে কোরবানি করতে পছন্দ করে, সে যেন কোরবানি করে … ইত্যাদি) এবং তাঁদের দাবি অনুযায়ী এটি বৈধতা (إباحة) প্রকাশ করে। (4)

তৃতীয়ত: আর তাঁদের এই অভিমত যে এটি রহিত (منسوخ), সে ক্ষেত্রে তাঁদের দলিল হলো যা আল-কাসানি উল্লেখ করেছেন: [আমাদের দলিল হলো যা রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (কোরবানি তার পূর্ববর্তী সকল রক্ত প্রবাহিত করাকে রহিত (نسخت) করেছে, রমজানের রোজা তার পূর্ববর্তী সকল রোজাকে রহিত (نسخ) করেছে এবং জাকাত তার পূর্ববর্তী সকল দান-সদকাকে রহিত (نسخت) করেছে) আর আকিকা ছিল পূর্বে...

--------------------------------------------

(1) ইতিপূর্বে এর উৎস বিশ্লেষণ (تخريج) করা হয়েছে।

(2) ইতিপূর্বে এর উৎস বিশ্লেষণ (تخريج) করা হয়েছে।

(3) তুহফাতুল মাওদুদ, পৃষ্ঠা ৪৭।

(4) আল-লুবাব ২/৬৪৮।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الأضحية فصارت منسوخة بها كالعتيرة، والعقيقة ما كانت قبلها فرضاً بل كانت فضلاً وليس بعد نسخ الفضل إلا الكراهة بخلاف صوم عاشوراء]. (1)

واحتجوا أيضاً بما رواه أبو يوسف في الآثار عن أبي حنيفة عن حماد عن إبراهيم أنه قال: [كانت العقيقة في الجاهلية فلما جاء الإسلام رفضت] وبما رواه أبو يوسف أيضاً عن ابي حنيفة عن رجل عن محمد بن الحنفية: [أن العقيقة كانت في الجاهلية فلما جاء الأضحى رفضت]. (2)

واحتجوا بحديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده السابق وفيه: (سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن العقيقة، فقال: لا يحب الله العقوق).

واحتجوا أيضاً بحديث أبي رافع مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (لما ولدت فاطمة حسناً، قالت: ألا أعق عن ابني بدم؟ قال: لا، ولكن احلقي رأسه وتصدقي بوزن شعره فضة على المساكين والأوفاض. ففعلت ذلك فلما ولد حسيناً فعلت مثل ذلك) وفي رواية أخرى قال عليه السلام: (لا تعقي عنه) رواه الإمام أحمد وقال الهيثمي: رواه أحمد والطبراني في الكبير وهو حديث حسن. (3)

وقال الساعاتي: [وفي إسناده عبد الله بن محمد بن عقيل، فيه لين وله شواهد تعضده ولعل الحافظ الهيثمي حسن لذلك]. (4)

--------------------------------------------

(1) بدائع الصنائع 6/ 2968.

(2) كتاب الآثار ص 238.

(3) مجمع الزوائد 4/ 57.

(4) الفتح الرباني 13/ 126 - 127، والأوفاض أناس من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم محتاجون كانوا في المسجد أو في الصفة. المصدر السابق.
[কুরবানি (الأضحية), তাই এর (কুরবানির) মাধ্যমে এটি রহিত (منسوخة) হয়ে গেছে, যেমনটি আতিরাহ (العتيرة) রহিত হয়েছে। আর আকিকা এর আগে ফরজ (فرضاً) ছিল না, বরং তা ছিল ফযিলত বা অতিরিক্ত (فضلاً)। আর ফযিলত বা অতিরিক্ত বিষয় রহিত (نسخ) হওয়ার পর অপছন্দনীয়তা (الكراهة) ছাড়া আর কিছু থাকে না, আশুরার রোজার বিষয়টি এর বিপরীত।] (১)

তারা আরও দলিল পেশ করেছেন কিতাবুল আসার-এ ইমাম আবু ইউসুফ কর্তৃক ইমাম আবু হানিফা থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে এবং তিনি ইবরাহিম থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েত (رواية) দ্বারা যে, তিনি বলেছেন: [জাহেলি যুগে আকিকার প্রচলন ছিল, ইসলাম আসার পর তা পরিত্যক্ত (رفضت) হয়।] এবং ইমাম আবু ইউসুফ আরও একটি বর্ণনা (رواه) পেশ করেছেন ইমাম আবু হানিফা থেকে, তিনি একজন ব্যক্তি (رجل) থেকে এবং তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: [নিশ্চয়ই জাহেলি যুগে আকিকার প্রচলন ছিল, যখন কুরবানি (الأضحى) এল তখন তা পরিত্যক্ত (رفضت) হয়।] (২)

তারা আমর ইবনে শুয়াইব কর্তৃক তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে পূর্বে বর্ণিত হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন, যাতে রয়েছে: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আকিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: আল্লাহ তাআলা অবাধ্যতা (العقوق) পছন্দ করেন না)।

তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস আবু রাফে বর্ণিত হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন, তিনি বলেন: (যখন ফাতিমা হাসানের জন্ম দিলেন, তখন তিনি বললেন: আমি কি আমার পুত্রের পক্ষ থেকে রক্ত (পশু) দিয়ে আকিকা করব না? তিনি বললেন: না, বরং তার মাথা মুণ্ডন করো এবং তার চুলের ওজন পরিমাণ রূপা মিসকিন ও আওফাদদের দান করো। তিনি তাই করলেন। এরপর যখন হুসাইন জন্মগ্রহণ করলেন, তিনিও অনুরূপ করলেন)। অন্য বর্ণনায় (رواية) নবী কারীম আলাইহিস সালাম বলেছেন: (তার পক্ষ থেকে আকিকা করো না)। এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং হাইসামি বলেছেন: এটি আহমাদ ও মুজামুল কাবির-এ তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস। (৩)

আস-সাআতি বলেছেন: [এর সনদ (إسناد)-এ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আকিল রয়েছেন, যার মধ্যে শিথিলতা (لين) রয়েছে। তবে এর সমর্থনমূলক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে এবং সম্ভবত হাফেজ হাইসামি এ কারণেই একে হাসান (حسن) বলেছেন।] (৪)

--------------------------------------------

(১) বাদায়িউস সানায়ি ৬/ ২৯৬৮।

(২) কিতাবুল আসার পৃষ্ঠা ২৩৮।

(৩) মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৪/ ৫৭।

(৪) আল-ফাতহুর রব্বানি ১৩/ ১২৬ - ১২৭, আর 'আওফাদ' হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল অভাবী সাহাবী যারা মসজিদে বা সুফফায় অবস্থান করতেন। পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
مناقشة وترجيح:

بعد إجالة النظر والفكر في أدلة العلماء في هذه المسألة يتضح لنا رجحان قول جمهور أهل العلم بأن العقيقة سنة مؤكدة وليست فرضاً واجباً كما قال الظاهرية وليست مكروهة أو منسوخة كما قال بعض الحنفية.

ومما يؤكد لنا هذا الترجيح:

إن الأدلة التي ساقها الظاهرية ومن وافقهم على وجوب العقيقة مصروفة عن ظاهرها بالنص وهو قوله عليه الصلاة والسلام: (من ولد له ولد فأحب أن يسنك عنه فلينسك) فعلق ذلك على المحبة والاختيار فهذه قرينة منصوصة صرفت الأمر من الوجوب إلى الندب، وأحاديثهم محمولة على تأكيد الاستحباب جمعاً بين الأخبار.

وأما أدلة الحنفية على كراهيتها أو نسخها فالجواب عنهما بما يأتي:

1. إن الحديث الذي احتج به الحنفية أولاً: (نسخت الأضحية كل دم كان قبلها … ) حديث ضعيف لا يصح الاحتجاح به، وقد روي هذا الحديث من عدة طرق ذكراها الدارقطني في سننه وبين ضعفها كما يلي:

أ. حدثنا ابي أن محمد بن حرب نا أبو كامل نا الحارث بن نبهان نا عتبة بن بقظان عن الشعبي عن علي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (محى ذبح الأضاحي كل ذبح قبله … ) هذا الحديث فيه عتبة بن يقظان وهو متروك كما قال الدارقطني (1)، وقال الحافظ في التقريب: ضعيف. (2)

ب. نا محمد بن يوسف بن سليمان الخلال نا الهيثم بن سهل نا المسيب بن شريك نا عبيد المكتب عن عامر عن مسروق عن علي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (نسخ

--------------------------------------------

(1) سنن الدارقطني 4/ 281، التعليق المغني على الدارقطني 4/ 278.

(2) التقريب ص 232.
আলোচনা ও অগ্রাধিকার প্রদান:

এই বিষয়ে আলেমগণের দলীলসমূহ পর্যালোচনার পর আমাদের নিকট জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণের মতটিই অগ্রগণ্য বলে প্রতীয়মান হয় যে, আকিকা হলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة); এটি জাহেরি মাযহাবের অনুসারীদের ন্যায় আবশ্যিক ফরজ (فرضاً واجباً) নয় এবং কিছু হানাফি আলেমের মতানুসারে অপছন্দনীয় (مكروهة) বা রহিত (منسوخة) নয়।

এই অগ্রাধিকারের বিষয়টি যে সকল কারণ দ্বারা সুদৃঢ় হয়:

জাহেরি এবং তাদের সমমনাগণ আকিকা ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে যে দলীলসমূহ পেশ করেছেন, তা সুস্পষ্ট নস (النص) দ্বারা তার বাহ্যিক অর্থ থেকে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। আর তা হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (যার কোনো সন্তান জন্ম নেয় এবং সে তার পক্ষ থেকে কোরবানি করতে পছন্দ করে, তবে সে যেন তা করে)। এখানে বিষয়টিকে পছন্দ এবং ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে। এটি একটি সুস্পষ্ট নির্দেশক বা কারিনা (قرينة), যা বিষয়টিকে আবশ্যকতা (الوجوب) থেকে পরিবর্তন করে মুস্তাহাব (الندب) পর্যায়ের দিকে ফিরিয়ে নিয়েছে। আর তাদের বর্ণিত হাদিসসমূহকে বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে মুস্তাহাব (الاستحباب) হওয়ার গুরুত্বের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে।

হানাফিগণের পক্ষ থেকে আকিকা অপছন্দনীয় হওয়া বা রহিত হওয়া সংক্রান্ত দলীলসমূহের জবাব নিম্নরূপ:

1. হানাফিগণ প্রথমত যে হাদিসটি দ্বারা দলীল পেশ করেছেন: (কোরবানি তার পূর্বের সকল রক্তপাতকে রহিত করে দিয়েছে … ) এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস, যা দ্বারা দলীল পেশ করা সঠিক নয়। এই হাদিসটি বেশ কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যা দারাকুতনি তার সুনান গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এর দুর্বলতা (ضعف) নিম্নোক্তভাবে স্পষ্ট করেছেন:

ক. আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু কামিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারিস ইবনে নাবহান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উতবাহ ইবনে ইয়াকজান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমের আশ-শা'বি থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (কোরবানির জবেহ তার পূর্বের সকল জবেহকে মিটিয়ে দিয়েছে … ) এই হাদিসের সনদে উতবাহ ইবনে ইয়াকজান রয়েছেন এবং তিনি পরিত্যক্ত (متروك), যেমনটি দারাকুতনি বলেছেন (১), এবং হাফেজ তাকরিব গ্রন্থে বলেছেন: দুর্বল (ضعيف)। (২)

খ. মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে সুলাইমান আল-খাল্লাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাইসাম ইবনে সাহল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসাইয়্যিব ইবনে শারীক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদ আল-মাকতাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমের থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন (রহিত...

--------------------------------------------

(১) সুনান দারাকুতনি ৪/২৮১, আত-তালিকুল মুগনি আলা দারাকুতনি ৪/২৭৮।

(২) তাকরিব পৃষ্ঠা ২৩২।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আক্বীক্বাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الأضحى كل ذبح … ) هذه الرواية فيها المسيب بن شريك قال فيه يحيى بن معين: [ليس بشيء. وقال أحمد: ترك الناس حديثه. وقال مسلم: متروك]. (1)

جـ. نا محمد بن عبد الله الشافعي نا محمد بن تمام بن صالح النهراني بحمص نا المسيب بن واضح نا المسيب بن شريك عن عتبة بن يقظان عن الشعبي عن مسروق عن علي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (نسخت الزكاة كل صدقة في القرآن ونسخ صوم رمضان كل صوم ونسخ غسل الجنابة كل غسل ونسخت الأضاحي كل ذبح) (2)، وفيه أيضاً المسيب بن شريك وعتبة بن يقظان وعرفت ما قيل فيهما فلا يحتج بهما، وقال صاحب التعليق المغني على الدارقطني: [حديث علي مروي من طرق وكلها ضعاف لا يصح الاحتجاج بها] (3)، وقال النووي: [اتفق الحفاظ على ضعفه]. (4)

وأجاب ابن حزم عن احتجاجهم بنسخ الأضحى كل ذبح قبله بقوله: [واحتج من لم يرها واجبة برواية واهية عن أبي جعفر محمد بن علي بن الحسين: (نسخ الأضحى كل ذبح كان قبله) وهذا لا حجة فيه لأنه قول محمد بن علي، ولا يصح دعوى النسخ إلا بنص مسند إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم]. (5)

وقال الإمام أحمد في الأحاديث المعارضة لأحاديث العقيقة: [ليست بشيء ولا يعبأ بها]. (6)

--------------------------------------------

(1) التعليق المغني على الدارقطني 4/ 279.

(2) سننالدار قطي 4/ 281.

(3) التعليق المغني على الدارقطني 4/ 278.

(4) المجموع 8/ 386.

(5) المحلى 6/ 241.

(6) تحفة المودود ص 37.
কুরবানি প্রত্যেক জবেহকে (রহিত করেছে) … ) এই বর্ণনায় মুসাইয়িব বিন শারিক রয়েছেন। তার সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: [সে কিছুই নয় (ليس بشيء)]। ইমাম আহমাদ বলেছেন: [মানুষ তার হাদিস ত্যাগ করেছে]। ইমাম মুসলিম বলেছেন: [পরিত্যক্ত (متروك)]। (১)

গ. মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-শাফিঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন তাম্মাম বিন সালিহ আল-নাহরানি হিমসে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসাইয়িব বিন ওয়াদিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসাইয়িব বিন শারিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উতবাহ বিন ইয়াকজান থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (জাকাত কুরআনে বর্ণিত সকল দানকে রহিত করেছে, রমজানের রোজা সকল রোজাকে রহিত করেছে, জানাবাতের গোসল সকল গোসলকে রহিত করেছে এবং কুরবানি সকল জবেহকে রহিত করেছে) (২)। আর এই বর্ণনায়ও মুসাইয়িব বিন শারিক ও উতবাহ বিন ইয়াকজান রয়েছেন এবং তাদের সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা আপনি জানেন, তাই তাদের মাধ্যমে দলিল পেশ করা যায় না। আল-তালিক আল-মুগনি আলা আল-দারাকুতনি-এর লেখক বলেছেন: [আলী (রা.)-এর হাদিসটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং তার সবগুলোই দুর্বল (ضعاف), যা দ্বারা দলিল পেশ করা শুদ্ধ নয়] (৩)। ইমাম নববী বলেছেন: [হাফিজগণ এর দুর্বলতার (ضعفه) ব্যাপারে একমত হয়েছেন]। (৪)

ইবনে হাজম কুরবানি কর্তৃক তার পূর্ববর্তী সকল জবেহ রহিত করার ব্যাপারে তাদের দলিল পেশের জবাবে বলেছেন: [যারা একে ওয়াজিব মনে করেন না, তারা আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন থেকে বর্ণিত একটি অত্যন্ত দুর্বল (واهية) বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: (কুরবানি তার পূর্ববর্তী সকল জবেহকে রহিত করেছে)। এর মধ্যে কোনো প্রমাণ নেই, কারণ এটি মুহাম্মদ বিন আলীর বক্তব্য। আর রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত কোনো সংযুক্ত (مسند) নস ব্যতীত রহিতকরণের দাবি শুদ্ধ হয় না]। (৫)

ইমাম আহমাদ আকিকার হাদিসসমূহের বিরোধী হাদিসগুলোর ব্যাপারে বলেছেন: [সেগুলো কিছুই নয় এবং সেগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হয় না]। (৬)

--------------------------------------------

(১) আল-তালিক আল-মুগনি আলা আল-দারাকুতনি ৪/ ২৭৯।

(২) সুনান আল-দারাকুতনি ৪/ ২৮১।

(৩) আল-তালিক আল-মুগনি আলা আল-দারাকুতনি ৪/ ২৭৮।

(৪) আল-মাজমু ৮/ ৩৮৬।

(৫) আল-মুহাল্লা ৬/ ২৪১।

(৬) তুহফাতুল মাওদুদ পৃষ্ঠা ৩৭।