(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: -)
الرد على الرافضة أو القضاب المشتهر على رقاب ابن المطهر القسم: الفرق والردود
الكتاب: الرد على الرافضة أو القضاب المشتهر على رقاب ابن المطهر - رسالة في الرد على علامة الشيعة في وقته ابن مطهر الحلي
المؤلف: مجد الدين أبو طاهر محمد بن يعقوب الفيروزآبادى (ت 817هـ)
تحقيق وتعليق: عبد العزيز بن صالح المحمود الشافعي
الناشر: مكتبة الإمام البخاري للنشر والتوزيع، مصر
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م
عدد الصفحات: 81
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 21 شوّال 1432
রাফেজিদের খণ্ডন অথবা ইবনে আল-মুতাহহারের গ্রীবাসমূহ কর্তনকারী সুপ্রসিদ্ধ তলোয়ার বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন
গ্রন্থ: রাফেজিদের খণ্ডন অথবা ইবনে আল-মুতাহহারের গ্রীবাসমূহ কর্তনকারী সুপ্রসিদ্ধ তলোয়ার - তৎকালীন শিয়া পণ্ডিত ইবনে মুতাহহার আল-হিল্লির প্রতিবাদের একটি পুস্তিকা
লেখক: মাজদুদ্দিন আবু তাহির মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদি (মৃত্যু: ৮১৭ হিজরি)
সম্পাদনা ও টীকা: আব্দুল আজিজ বিন সালেহ আল-মাহমুদ আশ-শাফেয়ি
প্রকাশক: মাকতাবাতুল ইমাম আল-বুখারি পাবলিশিং এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন, মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২১ শাওয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
- بسم الله الرحمن الرحيم -
الله أحمد على ما أطلق به لساني وأظهر بنطق بياني من تنزيهه عما نسب إليه الملحدون، وافترى عليه وعلى نبيه الضلال الجاحدون، الذين عجزت أفهامهم عن إدراك الحق بالتحقيق وعزبت عن الوصول إلى علم الكتاب والسنة إلا بالتصديق، وعمي عليهم لفرط ضلالهم الصراط المستقيم وسواء الصراط، وحادوا عن نهج الهدى وواجب التوفيق، ومالوا إلى عصبة العصيان بالعصبية القاتلة إلى الدرك الأسفل اصطلاء الحريق. وأشهد أن لا إله إلا الله لا شريك له، شهادة من علم أن الدواهي استدفع بها الدواهي وأنها من أشرف ما يقال وعثار الإلحاد فيه لا يقال
… وأشهد أن محمدا عبده ورسوله الذي أتم له الأمن، أدرك ما أمله ولا حل مغني اتباعه وقوي به الأمن، عادت عليه عواديه ثواب صلى الله عليه وسلم من جوهر فطر الله، وعلى آله الذين جعلهم الله أطهر آل، وعلى أصحابه الذين إليهم دين الحق.
- পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে -
আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি সেই অনুগ্রহের জন্য যার মাধ্যমে তিনি আমার জিহ্বাকে সচল করেছেন এবং আমার বর্ণনার বাকপটুতার মাধ্যমে তাঁর সেই পবিত্রতা প্রকাশ করেছেন যা থেকে নাস্তিকরা বিচ্যুত হয়েছিল এবং পথভ্রষ্ট অস্বীকারকারীরা তাঁর ও তাঁর নবীর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল। ঐসব ব্যক্তি যাদের বোধশক্তি প্রকৃত সত্য উদঘাটনে অক্ষম হয়েছে এবং কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন থেকে তারা বিমুখ হয়েছে কেবল অন্ধ অনুকরণ ব্যতীত। তাদের চরম বিভ্রান্তির কারণে সরল পথ ও সঠিক পন্থা তাদের দৃষ্টিতে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেছে; তারা হেদায়াতের পথ ও আবশ্যকীয় ঐশী সহায়তা থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং প্রাণঘাতী গোঁড়ামির বশবর্তী হয়ে পাপাচারীদের দলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যা তাদের জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরের অগ্নিদহনের দিকে নিয়ে যায়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি অদ্বিতীয়; এমন এক ব্যক্তির সাক্ষ্য যে জানে যে এই সাক্ষ্যের মাধ্যমে মহাবিপদসমূহ দূরীভূত হয় এবং এটি উচ্চারিত বাক্যসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মর্যাদাপূর্ণ, আর এতে নাস্তিক্যবাদের স্খলনের কোনো স্থান নেই
... আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁর জন্য তিনি নিরাপত্তাকে পূর্ণতা দান করেছেন; তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করেছেন, তাঁর অনুসারীদের আশ্রয়স্থল কখনো বিলুপ্ত হয় না এবং তাঁর মাধ্যমে শান্তি ও নিরাপত্তা সুসংহত হয়েছে। আল্লাহর সৃষ্টিতত্ত্বের সারসত্তা হতে তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর যাদের আল্লাহ পবিত্রতম পরিবার হিসেবে মনোনীত করেছেন এবং তাঁর সাহাবীবৃন্দের ওপর যাঁদের কাছে সত্য দ্বীন ন্যস্ত ছিল।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
أما بعد، يقول أحقر العباد الملتجئ إلى حرم الله تعالى محمد بن يعقوب الفيروآبادي، جعله الله إلى كل خير وحق قائدا، ومن كل سوء وباطل صادا زاهدا، وعلى رضاه فيما يقضي وفيما قضى راقدا:
إني نظرت إلى هذا الكتاب المنسوب إلى بعض غلاة الرافضة المحرومين عن قوى العاصمة والحافظة، قد أتى مما لا يحل من الأحاديث الموضوعة والأخبار المطروحة المفتراة ما لا يرضى بذكره إلا جاهل أو زنديق في أمر الدين، متحامل متساهل في هذه الأحرف، فواجب لاعناق بقبائه باتكه وشوارع لإطباق نفاقه وإحقاق نفاقه هاتكه، وسميته بالقضاب المشتهر على رقاب ابن المطهر. على الله أعتمد وبالله نعتضد في صحة ما إلى الكتاب والسنة نعزو ونستند، وبالله التوفيق.
إن مقالات هذا التأويل ليست صالحة لأن تذكر فصلا فصلا، لأنه لم يوجد لشيء منه إلا الشاذ النادر صحة ولا أصل له، فنذكر أصل مدعاه وما يصح من دلائله، ونعرض عما سواه من القول الفاسد وقابله.
অতঃপর, আল্লাহ তাআলার পবিত্র আশ্রয়ে আশ্রয়প্রার্থী বান্দাদের মধ্যে অধম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদী বলছেন—আল্লাহ তাকে সকল কল্যাণ ও সত্যের দিকে পথপ্রদর্শক করুন, এবং তাকে সকল মন্দ ও মিথ্যা থেকে বিমুখ ও নিবৃত্ত রাখুন, আর তিনি যা ফয়সালা করেছেন এবং করছেন তাতে তাঁর সন্তুষ্টির ওপর তাঁকে অবিচল রাখুন:
আমি চরমপন্থী রাফেজিদের কারো প্রতি নিসবতকৃত এই কিতাবটি পর্যবেক্ষণ করেছি, যারা (সত্যের) হেফাযত ও স্মৃতিশক্তি হতে বঞ্চিত। এতে এমন সব অবৈধ জাল হাদিস এবং পরিত্যক্ত ও বানোয়াট বর্ণনা আনা হয়েছে, যা দ্বীনের বিষয়ে কেবল কোনো মূর্খ অথবা যিন্দিকই উল্লেখ করতে সন্তুষ্ট হতে পারে; যে ব্যক্তি এসব শব্দের ক্ষেত্রে বিদ্বেষপরায়ণ ও শিথিল। সুতরাং এর আবরণের গ্রীবায় আঘাতকারী এবং এর নিফাক উন্মোচনকারী ও এর কপটতা প্রকাশকারী (একটি কিতাব রচনা করা) আবশ্যক হয়ে পড়েছে। আমি এর নাম রেখেছি 'আল-কাদ্দাবুল মুশতাহার আলা রিকাবি ইবনিল মুতাহহার' (ইবনুল মুতাহহারের গ্রীবায় প্রসিদ্ধ ধারালো তলোয়ার)। আমরা কিতাব ও সুন্নাহর দিকে যা কিছু সম্বন্ধযুক্ত ও ন্যস্ত করি, তার বিশুদ্ধতার বিষয়ে আমি আল্লাহর ওপরই ভরসা করছি এবং আল্লাহর মাধ্যমেই শক্তি প্রার্থনা করছি; আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক লাভ হয়।
নিশ্চয়ই এই ব্যাখ্যার বক্তব্যসমূহ প্রতিটি অনুচ্ছেদ ধরে ধরে বর্ণনা করার যোগ্য নয়; কেননা বিরল ও ব্যতিক্রমী কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত এর কোনো কিছুরই বিশুদ্ধতা বা মূল ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তাই আমরা তার দাবির মূল এবং তার দলিলের মধ্য থেকে যা সহিহ কেবল তা-ই উল্লেখ করব, আর তার বাইরে অন্যসব ভ্রান্ত বক্তব্য ও তার প্রবক্তা থেকে বিমুখ থাকব।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ادعى أن عليا رضي الله عنه أفضل الخلق بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم. وذكر على هذا دلائل.
منها أنه كان أكثرهم علما.
قلنا: هذا كذب صريح بحت، لأن علم الصحابي إنما يعلم بأحد وجهين: أحدهما كثرة روايته وفتواه. والثاني كثرة استعمال النبي صلى الله عليه وسلم إياه. فمن المحال أن يستعمل النبي صلى الله عليه وسلم من لا علم له، وهذه أكبر الشهادات وأبينها على العلم وسعته. فنظرنا في ذلك فوجدنا النبي قد ولى أبا بكر للصلاة
তিনি দাবি করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হলেন সৃষ্টির সেরা মানুষ এবং তিনি এ বিষয়ে কিছু প্রমাণাদি পেশ করেছেন।
তন্মধ্যে একটি হলো, তিনি তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক ইলমের অধিকারী ছিলেন।
আমরা বলি: এটি একটি সুস্পষ্ট ও ডাহা মিথ্যা; কারণ কোনো সাহাবীর ইলম কেবল দুটি পন্থার যেকোনো একটির মাধ্যমে জানা যায়: প্রথমটি হলো তাঁর বর্ণিত হাদিস ও ফতোয়ার আধিক্য এবং দ্বিতীয়টি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁকে বিভিন্ন কার্যে নিয়োজিত করার প্রাচুর্য। কারণ কোনো জ্ঞানহীন ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কাজে নিযুক্ত করবেন—এটি অসম্ভব। আর এটিই হলো কারো ইলম ও তার গভীরতার ওপর সবচেয়ে বড় ও সুস্পষ্ট সাক্ষ্য। অতএব, আমরা যখন এ বিষয়টি পর্যালোচনা করলাম, তখন দেখতে পেলাম যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের ইমামতির জন্য আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নিযুক্ত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
بحضرته طول أيام علته، وجميع أكابر الصحابة حضور، كعلي وعمر وابن مسعود وأبي وغيرهم، وآثره بذلك على جميعهم، وهذا خلاف استخلافه صلى الله عليه وسلم في الغزوات، لأن المستخلف في الغزو لم يستخلف إلا على النساء والصبيان وذوي الأعذار فقط، فوجب ضرورة أن يعلم أن أبا بكر أعلم بالصلاة وشرائعها، وأعلم من المذكورين، وهي عمود الدين. ووجدناه صلى الله عليه وسلم استعمله على الصدقات، فوجب أن يكون عنده علم الصدقات كالذي عند غيره من علماء الصحابة لا أقل، وربما كان أكثر. أما ترى الفقهاء قاطبة إنما اعتمدوا في الحديث الذي رواه أبو بكر رضي الله عنه في الزكاة وجعلوه أصلا فيها، ولم يعرجوا على ما رواه علي رضي الله عنه. وأما
তাঁর অসুস্থতার পুরো সময়কালে তাঁর উপস্থিতিতে এবং আলী, উমর, ইবনে মাসউদ, উবাইসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় সাহাবীগণের উপস্থিতিতে তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে (আবু বকরকে) তাঁদের সকলের ওপর প্রাধান্য দিয়েছিলেন। আর এটি যুদ্ধাভিযানসমূহে তাঁর স্থলাভিষিক্ত নিয়োগ করার মতো নয়; কারণ যুদ্ধাভিযানে যাকে স্থলাভিষিক্ত করা হতো, তাকে কেবল নারী, শিশু এবং অক্ষম ব্যক্তিদের ওপরই দায়িত্ব দেওয়া হতো। সুতরাং এটি অনিবার্যভাবে প্রমাণিত হয় যে, আবু বকর (রা.) সালাত এবং এর বিধিবিধান সম্পর্কে তাঁদের সবার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ছিলেন, আর সালাত হলো দ্বীনের স্তম্ভ। আমরা আরও দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে যাকাত সংক্রান্ত কার্যাবলিতে নিয়োগ করেছিলেন; ফলে এটিও আবশ্যক হয় যে, যাকাত বিষয়ক জ্ঞান তাঁর নিকট অন্যান্য বিদগ্ধ সাহাবীদের সমপর্যায়ভুক্ত ছিল, কোনো অংশেই কম ছিল না বরং সম্ভবত অধিকই ছিল। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, ফকীহগণ সামগ্রিকভাবে যাকাত সংক্রান্ত সেই হাদীসের ওপরই নির্ভর করেছেন যা আবু বকর (রা.) বর্ণনা করেছেন এবং সেটিকে এই বিষয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন, অথচ তাঁরা আলী (রা.) বর্ণিত বর্ণনার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি। আর...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الحديث الذي رواه علي رضي الله عنه فأعرضوا عنه بالكلية وطريقه مضطرب وفيه ما لم يقل به أحد من الأئمة، فإن فيه: "في كل خمس وعشرين من الإبل خمس شياه لا غير" هذا مما لا قائل به، فكان أبو بكر رضي الله عنه أعلم بالزكاة التي هي أحد أركان الدين.
وأما الحج، فإنه لما فرض سنة تسع على الصحيح بادر صلى الله عليه وسلم وجهز المسلمين حيث لم يتفرغ بنفسه، لبيان جواز التأخير، وأمّر عليهم أبا بكر رضي الله عنه لتعليم الناس المناسك. ومن المستحيل تقديمه في هذا الأمر الخطير المشتمل على علوم لا يشتمل عليها شيء من قواعد الدين فيه وثمَّ من هو أعلم منه.
ولما كانت سورة براءة مشتملة على كثير من المناسك
আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসটি তারা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করেছেন। এর বর্ণনাসূত্র অসংলগ্ন এবং এতে এমন বক্তব্য রয়েছে যা ইমামগণের কেউ বলেননি। কেননা তাতে রয়েছে: "প্রতি পঁচিশটি উটের বিপরীতে কেবল পাঁচটি বকরি প্রদান করতে হবে"—এটি এমন এক কথা যা কেউ বলেননি। সুতরাং আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জাকাত সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী ছিলেন, যা দ্বীনের অন্যতম স্তম্ভ।
আর হজের বিষয়টি হলো, বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী যখন নবম হিজরি সনে এটি ফরজ হলো, তখন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্রুত পদক্ষেপ নিলেন এবং মুসলিমদের প্রস্তুত করলেন; যেহেতু তিনি সশরীরে তখন উপস্থিত হতে পারেননি—যাতে হজে বিলম্ব করা বৈধ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়—তাই তিনি মানুষকে হজের নিয়মাবলি শিক্ষা দেওয়ার জন্য আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাদের আমির নিযুক্ত করলেন। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে—যা এমন সব জ্ঞানকে ধারণ করে যা দ্বীনের অন্য কোনো মৌলনীতিতে নেই—তাঁকে অগ্রবর্তী করা অসম্ভব হতো যদি সেখানে তাঁর চেয়ে অধিকতর জ্ঞানী অন্য কেউ উপস্থিত থাকত।
আর যখন সূরা বারাআত হজের বহুবিধ বিধান সংবলিত ছিল...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وعلى مناقب أبي بكر، أرسل عليا رضي الله عنه ليقرأها على الناس. فلما قدم قال له أبو بكر: أميرا أو مأمورا؟ فقال: بل مأمور. فقرأها على الناس ليسمع الناس مناقب أبي بكر من لسان علي رضي الله عنه فيكون أوقع في النفوس وأدخل في القلوب والرؤوس ويكون أعلن في إظهار فضل أبي بكر وأدل على علو قدره.
وأما قول المارق إن النبي صلى الله عليه وسلم ربما استعمل أبا بكر لدفع شره والمنع من إذاعة سره، فلا دليل فيه على شرفه؛ فكلام يشم منه رائحة الكفر والعناد، وبرهان على جهل قائله بالأحاديث الصحيحة والمشحونة بها دواوين الإسلام، كما سنبينه
এবং আবু বকরের গুণাবলির প্রেক্ষিতে, তিনি আলী (রা.)-কে পাঠালেন যেন তিনি তা মানুষের সামনে পাঠ করেন। যখন তিনি উপস্থিত হলেন, তখন আবু বকর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: "আপনি কি আমীর (নেতা) হিসেবে এসেছেন নাকি মামুর (অনুসারী) হিসেবে?" তিনি বললেন: "বরং মামুর হিসেবেই এসেছি।" অতঃপর তিনি তা মানুষের সামনে পাঠ করলেন যেন মানুষ আলীর (রা.) মুখ থেকেই আবু বকরের গুণাবলি শুনতে পায়; ফলে তা মানুষের মনে অধিকতর প্রভাব ফেলবে এবং অন্তর ও মস্তিষ্কে গভীরভাবে গেঁথে যাবে। এর মাধ্যমে আবু বকরের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ আরও সুস্পষ্ট হবে এবং তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপিত হবে।
আর সেই পথভ্রষ্ট ব্যক্তির কথা—যে দাবি করে যে নবী (সা.) সম্ভবত আবু বকরের অনিষ্ট প্রতিহত করতে কিংবা গোপন তথ্য ফাঁস হওয়া রোধ করতে তাকে দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন এবং এতে তাঁর কোনো শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ নেই—তা এমন এক বক্তব্য যা থেকে কুফর ও বিদ্বেষের দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। এটি সেই বক্তার চরম মূর্খতার প্রমাণ, যে ইসলামের মূল গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান অগণিত সহীহ হাদিস সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ, যেমনটি আমরা অচিরেই স্পষ্টভাবে বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
قريبا في بابه. ونعوذ بالله من الخذلان.
ثم وجدناه استعمله على البعوث، [فصح أن عنده من علم أحكام الجهاد مثل ما عند سائر من استعمله رسول الله صلى الله عليه وسلم على البعوث] في الجهاد، فعند أبي بكر رضي الله عنه من الجهاد والعلم فيه كالذي عند علي وسائر أمراء البعوث، لا أكثر ولا أقل.
فقد صح التقدم لأبي بكر على علي وسائر الصحابة في علم الصلاة والزكاة والحج، وساواه في الجهاد، فهذه أعمدة العلم.
ثم وجدناه صلى الله عليه وسلم قد ألزم نفسه صلى الله عليه وسلم في جلوسه ومسامرته وظعنه وإقامته أبا بكر، فشاهد أحكامه وفتاويه [أكثر من مشاهدة علي رضي الله عنه، فصح أن أبا بكر أعلم بها. فهل بقيت من العلم بقية إلا وهو المقدم فيها. فبطل دعواهم في العلم.
শীঘ্রই এটি স্বীয় অধ্যায়ে আলোচিত হবে। আমরা আল্লাহর নিকট লাঞ্ছনা ও অসহায়ত্ব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
অতঃপর আমরা দেখতে পাই যে, তিনি তাকে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে আমির নিযুক্ত করেছিলেন, [সুতরাং এটি সাব্যস্ত হলো যে, জিহাদের আহকাম বা বিধানাবলি সংক্রান্ত তাঁর জ্ঞান রাসূলুল্লাহ ﷺ কর্তৃক প্রেরিত অন্যান্য সেনাপতিদের জ্ঞানের মতোই ছিল] জিহাদের ক্ষেত্রে। অতএব, আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট জিহাদ এবং এ বিষয়ক জ্ঞান আলী এবং অন্যান্য সেনাপতিদের ন্যায় ছিল; না বেশি, না কম।
প্রকৃতপক্ষে নামায, যাকাত ও হজ্জের জ্ঞানে আলী ও অন্যান্য সাহাবীদের ওপর আবু বকরের শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগামিতা প্রমাণিত হয়েছে এবং জিহাদের ক্ষেত্রে তিনি তাদের সমকক্ষ ছিলেন; আর এগুলিই হলো ইলমের মূল স্তম্ভসমূহ।
অতঃপর আমরা দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর উঠা-বসা, নৈশকালীন আলাপচারিতা, সফর এবং অবস্থানে সর্বদা আবু বকরকে নিজের সাথে রাখতেন। ফলে তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর) বিচারিক ফয়সালা ও ফাতাওয়াগুলো আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর তুলনায় [অধিক প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছেন। সুতরাং এটি সাব্যস্ত হলো যে, আবু বকর এ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত ছিলেন। এমতাবস্থায় জ্ঞানের এমন কি আর অবশিষ্ট রইল যাতে তিনি অগ্রগামী নন? সুতরাং জ্ঞান বিষয়ে তাদের দাবি অসার প্রতিপন্ন হলো।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وأما الرواية فأمر أوضح من الشمس، وبيانه أظهر من وضح النهار أنه كان أرسخ قدما فيها. وذلك أن أبا بكر لم يعش بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم غير سنتين وستة أشهر، وهو لم يبرح من طيبة إلا لحج أو عمرة، لا غرب ولا طاف البلاد كغيره، والصحابة رضوان الله عليهم أجمعين إذ ذاك متوافرون وقريبو العهد بصحبة النبي صلى الله عليه وسلم، عند كل أحد من العلم والرواية ما يحتاج إليه غالبا. ومع ذلك روي له عن رسول الله صلى الله عليه وسلم مائة وستة وثلاثون حديثا. وعلي رضي الله عنه عاش بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثين سنة، مشرقا ومغربا ظاعنا من بلد إلى بلد ومن قطر إلى
আর হাদিস বর্ণনার (রেওয়ায়েত) বিষয়টি তো সূর্যের চেয়েও সুস্পষ্ট এবং এর ব্যাখ্যা দিবালোকের চেয়েও প্রোজ্জ্বল যে, এই ক্ষেত্রে তাঁর পদচারণা ছিল অত্যন্ত সুদৃঢ়। এর কারণ হলো, আবু বকর (রা.) আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের পর মাত্র দুই বছর ছয় মাস জীবিত ছিলেন। এই সময়ে তিনি হজ বা উমরাহ ব্যতীত পবিত্র মদিনা ত্যাগ করেননি; অন্যদের মতো তিনি দূর-দূরান্তে যাননি কিংবা দেশ-বিদেশে পরিভ্রমণ করেননি। তদুপরি, তৎকালীন সময়ে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) পর্যাপ্ত সংখ্যায় বিদ্যমান ছিলেন এবং নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সান্নিধ্যের সময়কালও ছিল অতি নিকটবর্তী। ফলে প্রত্যেকের কাছেই সচরাচর প্রয়োজনীয় ইলম ও রেওয়ায়েত বিদ্যমান ছিল। তা সত্ত্বেও আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তাঁর সূত্রে একশত ছত্রিশটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। অন্যদিকে আলী (রা.) আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের পর ত্রিশ বছর জীবিত ছিলেন; তিনি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে বিচরণ করেছেন এবং এক শহর থেকে অন্য শহরে ও এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৪১)
قطر، وسكن الكوفة أعواما، وكثر احتياج الناس إلى الأحاديث والعلم وتزاحم عليه السؤال والمقتبسون وتراكم لديه طالبو الرواية والمسترشدون، ولم يرو مع ذلك سوى خمسمائة حديث وستة وثمانون حديثا، يصح منها خمسون حديثا. فإذا نسبت مدته إلى مدته وعدد أحاديثه إلى عدد أحاديثه تبين لك أن أبا بكر أكثر حديثا وأكثر رواية من علي رضي الله عنه بشيء كثير. وهذا ما لا يخفى على أحد. مع هذا عاش علي رضي الله عنه بعد عمر رضي الله عنه مدة سبعة عشر سنة وسبعة أشهر. ومسند عمر خمسمائة حديث وسبعة وثلاثون [حديثا]، يصح منها خمسون حديثا. فالذي يصح من حديث عمر مقدار الذي يصح من حديث علي إلا حديثا أو حديثين. فانظر إلى هذه المدة الطويلة ولقاء الناس إياه وكثرة الحاجة من
অঞ্চল, এবং তিনি বহু বছর কুফায় বসবাস করেছেন। তখন হাদিস ও ইলমের প্রতি মানুষের প্রবল প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল এবং প্রশ্নকারী ও জ্ঞানান্বেষীদের ভিড় তাঁর নিকট ঘনীভূত হয়েছিল, এমনকি হাদিস বর্ণনাকারী ও পথনির্দেশপ্রার্থীরাও তাঁর কাছে সমবেত হতো। তা সত্ত্বেও তিনি মাত্র পাঁচশত ছিয়াশিটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে মাত্র পঞ্চাশটি হাদিস বিশুদ্ধ। সুতরাং আপনি যখন তাঁর সময়কালকে [অন্যদের] সময়কালের সাথে এবং তাঁর হাদিসের সংখ্যাকে [অন্যদের] হাদিসের সংখ্যার সাথে তুলনা করবেন, তখন আপনার নিকট স্পষ্ট হবে যে, আবু বকর (রা.) হাদিস ও বর্ণনার আধিক্যের দিক থেকে আলী (রা.)-এর তুলনায় অনেক বেশি অগ্রগামী ছিলেন। আর এটি এমন এক বিষয় যা কারো কাছেই অস্পষ্ট নয়। তা সত্ত্বেও আলী (রা.) উমর (রা.)-এর ইনতিকালের পর আরও সতেরো বছর সাত মাস জীবিত ছিলেন। উমর (রা.)-এর মুসনাদ হলো পাঁচশত সাইত্রিশটি হাদিস, যার মধ্যে পঞ্চাশটি হাদিস বিশুদ্ধ। সুতরাং উমর (রা.)-এর বর্ণিত যে পরিমাণ হাদিস বিশুদ্ধ, তা আলী (রা.)-এর বিশুদ্ধ হাদিসের পরিমাণেরই অনুরূপ, কেবল একটি বা দুটি হাদিস ছাড়া। অতএব, এই দীর্ঘ সময়কাল, মানুষের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ এবং তাদের প্রবল প্রয়োজনের বিষয়টি লক্ষ করুন...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৪২)
المسلمين إلى الرواية، ولم يزد على عمر إلا حديثا وحدثيين. فعلم أن أن علم عمر كان أضعاف علم علي بذلك.
وبرهان ذلك أن كل من طال عمره من الصحابة نجد الرواية عنه أكثر، ومن قصر عمره قلّت روايته. وعلي مع طول عمر مدته قلت روايته. فعلم أن علم أبي بكر كان أضعاف ما كان عند علي من العلم. والله أعلم.
ومنها أنهم قالوا كان علي أكثر الصحابة جهادا وطعنا في الكفار وضربا في الجهاد، والجهاد أفضل الأعمال، فكان علي أفضل الرجال.
قلنا: هذا خطأ، لأن الجهاد ينقسم أقساما ثلاثة: الأول الدعاء إلى الله تعالى باللسان، والثاني الجهاد بالتدبير والرأي، والثالث الجهاد بالطعن والضرب في المعارك.
فوجدنا القسم الأول هو الجهاد في اللسان لا يلحق فيه سوى أبي
মুসলমানদের নিকট বর্ণনার ক্ষেত্রে উমরের তুলনায় তার বর্ণিত হাদীস মাত্র এক বা দুটি বেশি ছিল। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, এ বিষয়ে উমরের জ্ঞান আলীর জ্ঞানের তুলনায় বহুগুণ বেশি ছিল।
এর প্রমাণ হলো, সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে যারা দীর্ঘায়ু লাভ করেছেন, তাদের থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা আমরা বেশি পাই; আর যাদের জীবনকাল সংক্ষিপ্ত ছিল, তাদের বর্ণনার সংখ্যাও কম। অথচ আলী দীর্ঘ জীবন পাওয়া সত্ত্বেও তার থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা কম। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, আবু বকরের জ্ঞান আলীর জ্ঞানের তুলনায় বহুগুণ বেশি ছিল। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
তাদের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত অন্য একটি যুক্তি হলো—তারা বলে থাকে যে, আলী (রা.) সাহাবীদের মধ্যে জিহাদের ময়দানে কাফিরদেরকে আঘাত ও যুদ্ধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগামী ছিলেন। আর জিহাদ যেহেতু সর্বোত্তম আমল, তাই আলী (রা.)-ই সর্বোত্তম ব্যক্তি।
আমরা বলি: এটি ভুল, কারণ জিহাদ তিন প্রকারে বিভক্ত: প্রথমত, যবানের মাধ্যমে মহান আল্লাহর পথে আহ্বান জানানো; দ্বিতীয়ত, রণকৌশল ও সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে জিহাদ করা; এবং তৃতীয়ত, যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি লড়াই ও আঘাতের মাধ্যমে জিহাদ করা।
আমরা দেখতে পাই যে, প্রথম প্রকার অর্থাৎ যবানের দ্বারা জিহাদের ক্ষেত্রে আবু বকরের সমকক্ষ কেউ হতে পারেনি—
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
بكر، فإنه أسلم على يديه أكابر الصحابة. وليس لعلي من هذا كثير حظ. وأما عمر فإنه من يوم أسلم وجهاد المشركين بعده بمكة عز الإسلام وعبد الله سبحانه جهارا، وهذا أعظم الجهاد. (1)
--------------------------------------------
আবু বকর, কেননা তাঁর হাতেই বরেণ্য সাহাবীগণ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এ ক্ষেত্রে আলীর বিশেষ কোনো অংশ নেই। আর উমরের বিষয়টি হলো, তিনি যেদিন ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং এরপর মক্কায় মুশরিকদের বিরুদ্ধে তাঁর যে জিহাদ ছিল, তার মাধ্যমে ইসলাম শক্তিশালী হয়েছিল এবং মহান আল্লাহর ইবাদত প্রকাশ্যে করা হয়েছিল; আর এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وهذان الرجلان خصا بهذا القسم من الجهاد ولا يشركهما في ذلك أحد وانفردا بذلك، وليس لعلي رضي الله عنه في هذا حظ أبدا.
وأما القسم الثاني، وهو الجهاد بالرأي والتدبير والمشورة، فقد جعله الله خالصا لأبي بكر ثم لعمر.
وأما القسم الثالث، وهو الطعن باليد والمبارزة في القتال، فوجدناه أقل مراتب الجهاد، وبرهان ذلك ضروري، وهو أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يشك مسلم في أنه المخصوص بكل فضيلة، ووجدنا جهاده إنما كان في أكثر أعماله وأحواله بالقسمين الأولين من الدعاء إلى الله عز وجل والتدبير والرأي الصالح، وكان
আর এই দুই ব্যক্তি জিহাদের এই বিশেষ প্রকারের জন্য নির্দিষ্ট ছিলেন এবং এতে তাদের সঙ্গে অন্য কেউ শরীক ছিলেন না, বরং তাঁরা এতে অনন্য ছিলেন; আর আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর এতে কোনো অংশ ছিল না।
আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো প্রজ্ঞা, সুকৌশলী পরিকল্পনা ও পরামর্শের মাধ্যমে জিহাদ; আল্লাহ তাআলা এটি বিশেষভাবে আবু বকর এবং এরপর উমরের জন্য নির্ধারিত করেছেন।
আর তৃতীয় প্রকারটি হলো নিজ হাতে আঘাত ও সম্মুখ যুদ্ধ; আমরা একে জিহাদের সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে পেয়েছি। এর প্রমাণ অকাট্য, আর তা হলো—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে সমস্ত ফযিলতের অধিকারী ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো মুসলিমের মনে সংশয় নেই; অথচ আমরা দেখতে পাই যে, তাঁর অধিকাংশ কর্ম ও অবস্থায় জিহাদ ছিল প্রথম দুই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান এবং সুকৌশলী পরিকল্পনা ও সঠিক পরামর্শের মাধ্যমে। আর তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
أقل عمله الطعن والضرب.
وقد رأيت قول المؤلف رحمه الله في ميسرة الهيئة وأنا معتكف إذ ذاك بالمسجد الأقصى وقلت: يا رسول الله صلى الله عليه وسلم صدقوا يا رسول الله أنك شجاع، فقال صلى الله عليه وسلم: "أنا أشجع الشجعان .. " المنام بطوله.
وهذا مما لا يتردد فيه ذو دين وعقل، ولكنه صلى الله عليه وسلم كان مؤثرا الأفضل فالأفضل فيقدمه ويشتغل به.
তাঁর সাধারণ কাজ ছিল বর্শা নিক্ষেপ ও তলোয়ার চালনা।
আমি তখন মসজিদে আকসায় ইতিকাফে ছিলাম; এমতাবস্থায় 'মাইসারাতুল হাইআ' গ্রন্থে লেখকের (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বক্তব্যটি দেখি এবং আমি আরজ করি: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), হে আল্লাহর রাসূল, তাঁরা সত্যই বলেছেন যে আপনি অত্যন্ত সাহসী। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমি বীরদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বীর..." —স্বপ্নটি পূর্ণরূপে এভাবেই বর্ণিত।
আর এটি এমন এক বিষয় যাতে কোনো ধর্মপ্রাণ ও বিবেকবান ব্যক্তি দ্বিধা করেন না; কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বদা যা অধিকতর উত্তম তাকেই অগ্রাধিকার দিতেন এবং তা সম্পাদনে মগ্ন থাকতেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
ووجدناه صلى الله عليه وسلم يوم بدر كان أبو بكر معه لا يفارقه إيثارا من رسول الله صلى الله عليه وسلم بذلك واستظهارا برأيه في الحرب وأنسا بمكانه. ثم عمر ربما شورك في ذلك.
ومنها أنهم قالوا كان علي أقرأ الصحابة للقرآن، فكان أفضل.
قلنا: هذه فرية بلا مرية لوجوه.
أولها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "يؤم القوم أقرؤهم فإن استووا فأفقههم فإن استووا فأقدمهم هجرة". ثم رأيناه صلى الله عليه وسلم قد قدّم أبا بكر في الصلاة أيام مرضه، فصح أنه رضي الله عنه كان أقرؤهم وأفقههم وأقدمهم هجرة. وقد يكون من لم يحفظ القرآن كله على ظهر قلبه أقرأ وأعلم بالقراءة ممن حفظه كله وجمعه عن ظهر قلب، فيكون حفظه أفصح لفظا
আমরা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বদর যুদ্ধের দিন দেখতে পাই যে, আবু বকর (রা.) তাঁর সঙ্গেই ছিলেন এবং তাঁকে ছেড়ে যাননি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মূলত তাঁকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজের কাছে রেখেছিলেন—যুদ্ধের বিষয়ে তাঁর মতামতের ওপর নির্ভরতা এবং তাঁর সান্নিধ্যে মানসিক প্রশান্তি লাভের উদ্দেশ্যে। পরবর্তীতে ওমর (রা.)-কেও সম্ভবত এই পরামর্শমূলক কাজে শরিক করা হয়েছিল।
তাদের দাবিসমূহের মধ্যে একটি হলো— তারা বলে যে আলী (রা.) সাহাবীদের মধ্যে কুরআনের সবচেয়ে বড় পাঠক (ক্বারী) ছিলেন, তাই তিনিই শ্রেষ্ঠ।
আমরা বলি: এটি কয়েকটি কারণে নিঃসন্দেহে একটি ভিত্তিহীন অপবাদ।
এর মধ্যে প্রথমত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "লোকদের ইমামতি করবে তাদের মধ্যে যে কুরআনের সবচেয়ে বড় পাঠক; যদি তারা এতে সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে ফিকহশাস্ত্রে অধিক পারদর্শী; আর যদি তারা এতেও সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে হিজরতে অগ্রগামী।" অতঃপর আমরা দেখি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর অসুস্থতার দিনগুলোতে আবু বকর (রা.)-কে ইমামতির জন্য সামনে এগিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে এটি সুপ্রমাণিত হয় যে, তিনি (আবু বকর রা.)-ই ছিলেন তাঁদের মধ্যে কুরআনের সবচেয়ে বড় পাঠক, ফিকহশাস্ত্রে সর্বাধিক পারদর্শী এবং হিজরতে অগ্রগামী। তাছাড়া এমন ব্যক্তিও হতে পারেন যিনি সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করেননি, কিন্তু তিনি কিরাআতের জ্ঞান ও পঠনশৈলীর বিচারে ওই ব্যক্তির চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারেন যিনি তা সম্পূর্ণ মুখস্থ ও কণ্ঠস্থ করেছেন; এমতাবস্থায় তাঁর পঠনরীতি শব্দগতভাবে অধিকতর প্রাঞ্জল ও বিশুদ্ধ হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وأحسن ترتيلا وأعرف بمواقف الآي ومبادئها. على أن أبا بكر وعمر وعليا لم يستكمل أحد منهم حفظ القرآن، فعلمنا يقينا أنه كان أقرأ من علي لتقديمه صلى الله عليه وسلم إياه على الصلاة وعلي حاضر. وما كان صلى الله عليه وسلم ليقدم الأقل علما بالقراءة على الأقرأ ولا الأقل فقها على الأفقه. فبطل ما قالوه، وبالله التوفيق.
ومنها أنهم قالوا كان أزهد الصحابة فكان أفضل.
قلنا: هذا بهتان بين. وبرهان ذلك أن الزهد إنما هو عزوف النفس عن حب الصوت وعن المال وعن اللذات وعن الميل إلى الأولاد والحواشي.
فأما عزوف النفس عن المال فقد عُلم أن أبا بكر أسلم وله مال [كثير]. وجاهر بقلة الحياء من أنكر ذلك فقال كان فقيرا
এবং [তিনি ছিলেন] তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে অধিক সুনিপুণ এবং আয়াতের বিরতিস্থল ও প্রারম্ভ সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত। যদিও আবু বকর, উমর ও আলীর মধ্যে কেউই তখন পূর্ণাঙ্গ কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেননি, তবুও আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারি যে তিনি আলীর তুলনায় উত্তম ক্বারী ছিলেন; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলীর উপস্থিতিতেই তাকে নামাজের ইমামতির জন্য অগ্রগণ্য করেছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিলাওয়াতের জ্ঞানে নিম্নতর ব্যক্তিকে উত্তম ক্বারীর ওপর কিংবা ফিকহের জ্ঞানে নিম্নতর ব্যক্তিকে বিজ্ঞতম ফকীহের ওপর কখনোই প্রাধান্য দিতেন না। অতএব তাদের দাবি বাতিল হয়ে গেল; আর আল্লাহর সাহায্যেই যাবতীয় সাফল্য অর্জিত হয়।
তাদের অন্যতম একটি দাবি হলো—তারা বলে থাকে যে তিনি (আলী) সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি দুনিয়াবিমুখ ছিলেন, তাই তিনিই শ্রেষ্ঠ।
আমরা বলি: এটি একটি সুস্পষ্ট অপবাদ। এর প্রমাণ এই যে, যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা হলো মূলত খ্যাতি, অর্থ-সম্পদ, ভোগ-বিলাস এবং সন্তান-সন্ততি ও অনুসারীদের প্রতি আসক্তি থেকে মনের নির্লিপ্ততা।
সম্পদের প্রতি বিরাগের ক্ষেত্রে এটি সর্বজনবিদিত যে, আবু বকর যখন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তখন তার নিকট প্রচুর ধন-সম্পদ ছিল। আর যারা এটি অস্বীকার করে তাকে দরিদ্র বলে দাবি করে, তারা মূলত নির্লজ্জতারই পরিচয় দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
محتاجا وأبوه كان أجيرا لابن جدعان على مدّ يقتات به. بل كان أبو بكر ذا مال جزيل ينيف على أربعين ألف درهم، فأنفقها كلها في الله وأعتق المستضعفين من العبيد المؤمنين المعذبين في ذات الله سبحانه وتعالى، ولم يعتق عبدا ذا معونة بل كل معذب ومعذبة في الله. إلى أن أذن الرسول صلى الله عليه وسلم في الهجرة، وما كان بقي لأبي بكر رضي الله عنه من المال غير ستة آلاف درهم حملها كلها مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولم يبق لأهله منها درهما فردا. ثم أنفقها كلها في سبيل الله حتى لم يبق له شيئا، وصار محلى بعباءة له إذا نزل فرشها وإذا ركب لبسها. وأما غيره من الصحابة فقد تمولوا واقتنوا الضياع والرباع من حلها وطيبها، إلا من آثر في سبيل الله زهدا.
ثم ولي الخلافة فما اتخذ جارية ولا توسع في مال. وعُد عند موته ما أنفق على نفسه وولده من مال الله الذي لم يستوف منه إلا بعض حقه، ثم أمر بصرفه إلى بيت المال من صلب ماله الذي حصل له من سهامه في المغازي والمقاسم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم.
فهذا هو الزهد في اللذات والمال الذي لا يدانيه أحد من
(তিনি) অভাবগ্রস্ত ছিলেন না এবং তাঁর পিতা ইবনে জুদআনের এমন কোনো শ্রমিক ছিলেন না যিনি সামান্য খাদ্যের বিনিময়ে কাজ করতেন। বরং আবু বকর (রা.) ছিলেন প্রচুর সম্পদের মালিক, যা চল্লিশ হাজার দিরহামের অধিক ছিল। তিনি এর সবটুকুই আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ব্যয় করেন এবং আল্লাহর জন্য নির্যাতিত দুর্বল মুমিন দাসদের মুক্ত করেন। তিনি এমন কোনো দাসকে মুক্ত করেননি যে (ভবিষ্যতে) তাঁর কোনো উপকারে আসতে পারে, বরং আল্লাহর পথে নির্যাতিত প্রত্যেক নারী ও পুরুষ দাসকেই তিনি মুক্ত করেছিলেন। পরিশেষে যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরতের অনুমতি দিলেন, তখন আবু বকর (রা.)-এর কাছে মাত্র ছয় হাজার দিরহাম অবশিষ্ট ছিল। তিনি তার সবটুকুই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে নিয়ে নিলেন এবং নিজের পরিবারের জন্য একটি দিরহামও অবশিষ্ট রাখলেন না। অতঃপর তিনি এর সবটুকুই আল্লাহর পথে ব্যয় করে দিলেন, এমনকি তাঁর কাছে কিছুই অবশিষ্ট রইল না। তাঁর অবস্থা এমন হলো যে, তাঁর সম্বল কেবল একটি চাদর ছিল; যখন তিনি কোথাও অবস্থান করতেন তখন সেটি বিছিয়ে নিতেন এবং যখন সওয়ার হতেন তখন সেটি পরিধান করতেন। অন্যদিকে অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম হালাল ও পবিত্র পন্থায় ধন-সম্পদ, জমিজমা ও বসতবাড়ির মালিক হয়েছিলেন, তবে তাঁদের কথা ভিন্ন যারা আল্লাহর পথে কৃচ্ছ্রসাধন বা যুহদকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।
অতঃপর তিনি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখনও তিনি কোনো দাসী গ্রহণ করেননি এবং ধন-সম্পদ অর্জনে সচেষ্ট হননি। তাঁর মৃত্যুর সময় আল্লাহর মাল (বায়তুল মাল) থেকে নিজের ও তাঁর সন্তানদের জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছিল তা গণনা করা হলো—যদিও তিনি তাঁর প্রাপ্য হকের সামান্য অংশই কেবল গ্রহণ করেছিলেন। এরপর তিনি নির্দেশ দিলেন যেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বিভিন্ন যুদ্ধ ও গনিমতের বণ্টন থেকে প্রাপ্ত তাঁর নিজস্ব মূল সম্পদ থেকে সেই সমপরিমাণ অর্থ বায়তুল মালে ফেরত দেওয়া হয়।
বস্তুত এটিই হলো পার্থিব স্বাদ ও ধন-সম্পদের প্রতি এমন এক কৃচ্ছ্রসাধন (যুহদ), যার সমতুল্য কেউ হতে পারে না...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
الصحابة إلا أن يكون أبا ذر وأبا عبيدة من المهاجرين الأولين، فإنهما جريا على هذه الطريقة التي فارقا عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم. وتوسع من سواهم من الصحابة في المباح الذي أحله الله لهم، إلا أن من أثر على نفسه أفضل. ولقد اتبع أبا بكر عمر في هذا الزهد.
وأما علي رضي الله عنه فتوسع في الباب من حله. ومات عن أربع زوجات وتسع عشرة أم ولد، سوى الخدم والعبيد، وتوفي عن أربعة وعشرين ولدا من ذكر وأنثى، وقيل عن أربعين ولدا إلا واحد ما بين ذكر وأنثى، ذكره المزي والذهبي في التهذيب والتذهيب. وترك لهم من العقار والضياع ما كانوا به أغنياء في قومهم. ومن جملة عقاره ينبع التي تصدق بها، كانت تغل ألف وسق تمرا سوى زرعها. فأين هذا من ذاك.
সাহাবীগণের মধ্যে কেবল আবু যার এবং আবু উবাইদাহ (রা.)—যাঁরা প্রথম দিককার মুহাজির ছিলেন—ব্যতীত অন্যরা সেই পথেই অবিচল ছিলেন যার ওপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে রেখে বিদায় নিয়েছিলেন। তাঁদের ব্যতীত অন্যান্য সাহাবীগণ আল্লাহ যা তাঁদের জন্য বৈধ করেছেন সেই মুবাহ বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রশস্ততা অবলম্বন করেছিলেন, তবে যাঁরা কৃচ্ছ্রসাধনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন তাঁরাই উত্তম। আর ওমর (রা.) এই যুহদ বা বিরাগীর ক্ষেত্রে আবু বকর (রা.)-কে অনুসরণ করেছিলেন।
পক্ষান্তরে আলী (রা.)-এর ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তিনি এই বিষয়ে বৈধ পন্থায় প্রশস্ততা অবলম্বন করেছিলেন। তিনি চারজন স্ত্রী এবং উনিশজন উম্মুল ওয়ালাদ (সন্তানবতী দাসী) রেখে ইন্তেকাল করেন; এ ছাড়া তাঁর সেবক ও গোলামও ছিল। তিনি চব্বিশজন পুত্র ও কন্যা সন্তান রেখে মৃত্যুবরণ করেন। আবার বলা হয় যে, তাঁর সন্তানের সংখ্যা ছিল ঊনচল্লিশ জন; ইমাম মিযযী এবং যাহাবী যথাক্রমে 'তাহযীব' এবং 'তাযহীব' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁদের জন্য এমন স্থাবর সম্পত্তি ও জায়গা-জমি রেখে গিয়েছিলেন যার ফলে তাঁরা তাঁদের কওমের মধ্যে সচ্ছল ও ধনাঢ্য ছিলেন। তাঁর ভূ-সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল 'ইয়ানবু', যা তিনি সদকা করে দিয়েছিলেন; সেখান থেকে শস্য উৎপাদন ছাড়াও বছরে এক হাজার ওয়াসাক খেজুর উৎপন্ন হতো। সুতরাং সেই অবস্থার সাথে এই অবস্থার তুলনা কোথায়!
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وأما حب الولد والميل إليهم وإلى الحاشية فالأمر في هذا بين. فقد كان لأبي بكر من ذوي القرابة مثل طلحة بن عبيد الله من المهاجرين الأولين ومثل ابنه عبد الرحمن بن أبي بكر وله مع النبي صلى الله عليه وسلم صحبة قديمة وفضل ظاهر، فما استعمل أحدا منهم على شيء من الجهات، ولو استعملهم لكانوا أهلا لذلك، ولكن خشي المحاباة وتوقع أن يميله إليهم شيء من الهوى.
ثم جرى عمر مجراه في ذلك، فلم يستعمل من بني عدي بن كعب أحدا على سعة البلاد، وقد فتح الشام ومصر ومملكة الفرس وخراسان، إلا النعمان بن عدي على ميسان ثم أسرع إلى عزله، ثم لم يستخلف ابنه عبد الله بن عمر وهو من أفاضل الصحابة، وقد رضي الناس به وكان أهلا لذلك، ولو استخلفه لما اختلف عليه أحد، فما فعل.
ووجدنا عليا رضي الله عنه إذ ولي قد استعمل أقاربه: عبد الله بن عباس على البصرة وعبيد الله بن عباس على اليمن وقثم ومعبد ابني
সন্তান-সন্ততির প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের ও পরিজনদের প্রতি মমত্ববোধের বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। হযরত আবু বকর (রা.)-এর আত্মীয়দের মধ্যে প্রথম সারির মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ এবং তাঁর নিজ পুত্র আবদুর রহমান ইবনে আবু বকরের মতো ব্যক্তিরা ছিলেন। নবী করীম (সা.)-এর সাথে তাঁর দীর্ঘ সাহচর্য এবং সুস্পষ্ট মর্যাদা বিদ্যমান ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি তাদের কাউকেই কোনো অঞ্চলের প্রশাসনিক দায়িত্বে নিযুক্ত করেননি। অথচ তিনি যদি তাদের নিযুক্ত করতেন, তবে তারা অবশ্যই এর যোগ্য ছিলেন। কিন্তু তিনি স্বজনপ্রীতির ভয় করেছিলেন এবং আশঙ্কা করেছিলেন যে, প্রবৃত্তি হয়তো তাঁকে তাদের প্রতি কিছুটা পক্ষপাতদুষ্ট করে তুলতে পারে।
অতঃপর উমর (রা.) এই বিষয়ে তাঁরই পথ অনুসরণ করেছিলেন। সিরিয়া, মিসর, পারস্য সাম্রাজ্য এবং খোরাসান বিজিত হওয়ার ফলে রাজ্যের এই বিশাল বিস্তৃতি সত্ত্বেও তিনি বনু আদি ইবনে কাব গোত্রের কাউকেই কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে নিযুক্ত করেননি। শুধুমাত্র নুমান ইবনে আদি-কে মায়সানের দায়িত্বে নিযুক্ত করেছিলেন, কিন্তু দ্রুতই তাঁকে পদচ্যুত করেন। এরপর তিনি তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে স্থলাভিষিক্ত করেননি, অথচ তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের অন্যতম। জনগণ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট ছিল এবং তিনি এর যোগ্যও ছিলেন। যদি তিনি তাঁকে স্থলাভিষিক্ত করতেন, তবে কেউ তাঁর ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করত না; কিন্তু তিনি তা করেননি।
এবং আমরা দেখতে পাই যে, আলী (রা.) যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন তিনি তাঁর আত্মীয়দের নিযুক্ত করেছিলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে বসরার দায়িত্বে, উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে ইয়েমেনের দায়িত্বে এবং আব্বাসের দুই পুত্র কুতসাম ও মাবাদকে...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৫১)
عباس على مكة والمدينة، وجعدة بن هبيرة وهو ابن أخته أم هانئ بنت أبي طالب على خراسان. وأمر ببيعة الناس للحسن ابنه بالخلافة بعده. ولسنا ننكر لاستحقاق الحسن للخلافة ولا لاستحقاق ابن العباس للخلافة، فكيف إمارة البصرة. لكنا نقول إن من زهد في الخلافة لولد مثل عبد الله بن عمر وعبد الرحمن بن أبي بكر وفي تأمير مثل طلحة وسعيد بن زيد، تم زهده [في الفصل: "فلا شك في أنه أتم زهدا"] ممن أخذ منها ما أبيح له أخذه. فصح بالبرهان الضروري أن أبا بكر أزهد الصحابة كافة ثم بعده عمر.
ومنها قولهم إن عليا رضي الله عنه كان أكثر الصحابة صدقة.
قلنا: هذه قحة وقلة حياء ومجاهرة بالباطل، لأنه لا يعرف لعلي مشاركة ظاهرة في المال. وأمر أبي بكر في إنفاق جميع ماله
আব্বাসকে মক্কা ও মদিনার দায়িত্বে এবং জাদা ইবনে হুবায়রা—যিনি তাঁর বোন উম্মে হানি বিনতে আবি তালিবের পুত্র—তাঁকে খোরাসানের দায়িত্বে নিযুক্ত করেন। তিনি তাঁর পরে তাঁর পুত্র হাসানের খিলাফতের জন্য মানুষের আনুগত্যের শপথ (বায়আত) গ্রহণের নির্দেশ দেন। আমরা খিলাফতের জন্য হাসানের যোগ্যতা কিংবা ইবনে আব্বাসের যোগ্যতা অস্বীকার করি না, এমতাবস্থায় বসরার শাসনভারের বিষয়টি তো বলাই বাহুল্য। তবে আমরা বলি যে, যিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর ও আবদুর রহমান ইবনে আবি বকরের মতো সন্তানের খিলাফতের ব্যাপারে এবং তালহা ও সাঈদ ইবনে যায়েদের মতো ব্যক্তিদের শাসনক্ষমতা প্রদানের ক্ষেত্রে অনাগ্রহ (যুহদ) দেখিয়েছেন, তাঁর এই অনাগ্রহ [আল-ফাসল গ্রন্থে রয়েছে: "নিঃসন্দেহে তিনি অধিকতর দুনিয়াবিমুখ"] সেই ব্যক্তির তুলনায় অনেক বেশি পূর্ণাঙ্গ, যিনি তা থেকে সেই পরিমাণ গ্রহণ করেছেন যা তাঁর জন্য বৈধ ছিল। সুতরাং অকাট্য প্রমাণের দ্বারা এটি প্রমাণিত হলো যে, আবু বকর সকল সাহাবীর মধ্যে সর্বাধিক দুনিয়াবিমুখ ছিলেন এবং তারপরে উমর।
তাদের অন্যতম একটি দাবি হলো এই যে, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাহাবীদের মধ্যে সর্বাধিক সদকাকারী ছিলেন।
আমরা বলি: এটি ধৃষ্টতা, নির্লজ্জতা এবং প্রকাশ্য মিথ্যাচার; কেননা সম্পদের ক্ষেত্রে আলীর এমন কোনো প্রকাশ্য প্রাচুর্য বা অবদানের কথা জানা নেই। আর আবু বকরের নিজের সমস্ত সম্পদ ব্যয় করার বিষয়টি—
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৫২)
أشهر من أن يخفى. ثم لعثمان من تجهيز جيش العسرة ما ليس لغيره. فصح أن أبا بكر أعظم صدقة وأكثر مشاركة وغناء في الإسلام من علي رضي الله عنه.
ومنها قولهم إن عليا كان أسوس الخلق، فكان أحق بالإمامة.
وإن هذا بهتان لائح لا يخفى كذبه على من له أدنى معرفة بالسير وتواريخ السلف. بيانه أنه صلى الله عليه وسلم لما توفي وارتدت العرب الممتنعون عن أداء الزكاة إلى أبي بكر واختل نظام الإسلام وتمزقت الأهواء وركب كل رأسه واختلفت آراء الصحابة في قتالهم وتركهم، ولم يتزلزل رأي أبي بكر وثبت جأشه للتصميم على قتالهم وقال: "والله لو منعوني عقالا لقاتلتهم حتى تنفرد سالفتي أو ينفذن الله أمره". ولم يزل حتى ردهم إلى الإسلام وأعادهم إلى
এটি অত্যন্ত সুপরিচিত বিষয়। তদুপরি, উসমান (রা.)-এর জন্য 'জাইশুল উসরাহ' (সংকটকালীন বাহিনী) প্রস্তুত করার এমন বিশেষ অবদান রয়েছে যা অন্য কারো নেই। সুতরাং এটি সুপ্রমাণিত যে, দান-সদকা এবং ইসলামের পথে অধিক অংশগ্রহণ ও উপযোগিতার ক্ষেত্রে আবু বকর (রা.), আলী (রা.) অপেক্ষা অনেক মহান ছিলেন।
তাদের অন্যতম দাবি হলো—আলী (রা.) ছিলেন সৃষ্টির সেরা দক্ষ প্রশাসক, তাই তিনিই ইমামতের (নেতৃত্বের) জন্য অধিকতর যোগ্য ছিলেন।
এটি এমন এক প্রকাশ্য অপবাদ যার মিথ্যা হওয়া সলফগণের জীবনী ও ইতিহাস সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির কাছেও অস্পষ্ট নয়। এর বিশদ বিবরণ এই যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ইন্তেকাল করলেন এবং জাকাত দানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী আরবরা আবু বকর (রা.)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে গেল, তখন ইসলামের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ল, জনমনে অস্থিরতা দেখা দিল, প্রত্যেকেই নিজের খেয়ালখুশিমতো চলতে লাগল এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বা না করার বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের মাঝে মতভেদ তৈরি হলো। এমন নাজুক পরিস্থিতিতেও আবু বকর (রা.)-এর সিদ্ধান্ত বিন্দুমাত্র টলেনি এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সংকল্পে তিনি অটল থাকলেন। তিনি ঘোষণা করলেন: "আল্লাহর কসম, তারা যদি আমাকে একটি উটের রশি দিতেও অস্বীকার করে যা তারা প্রদান করত, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ লড়ে যাব যতক্ষণ না আমার গর্দান দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় অথবা আল্লাহ তাঁর সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।" তিনি ক্ষান্ত হননি যতক্ষণ না তাদের পুনরায় ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে ফিরিয়ে আনলেন এবং তাদের ফিরিয়ে নিলেন...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
أحسن النظام. ثم إنه لم يزل يسوس أمر الإسلام حتى حكم على رقاب الأكاسرة وملوك الفرس وحلّهم عن سرير ملكهم، فأخضعهم وأذلهم وفتح الله عليه ما فتح من الأمصار والمدن الكبار، وهو بالمدينة [مقيم] لم يبرح منها.
ثم من بعده عمر حذا حذوه وقفا أثره وسار بسيرته وساس بسياسته، مقتديا بآثاره مهتديا بأنواره، إلى أن فتح الممالك وأمّن المسالك واتصل الإسلام من مبتدإ مصر والشام إلى أقصى بلاد الهند. وملكوا بلاد العجم من أذربيجان وخراسان وفارس وكرمان. ثم من بعده عثمان.
ولما صارت الخلافة والولاية لعلي رضي الله عنه كان في أيامه ما كان، وحصل للمسلمين من الاضطراب والاكتراب في كل قطر ومكان، ووقع من الفتن ونصب القتال ما قتل فيها من الصحابة
সর্বোত্তম শৃঙ্খলা স্থাপন করেন। অতঃপর তিনি অব্যাহতভাবে ইসলামের শাসনকার্য পরিচালনা করেন, এমনকি তিনি কিসরাদের গর্দান ও পারস্যের রাজাদের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করেন এবং তাঁদেরকে রাজসিংহাসনচ্যুত করেন। তিনি তাঁদেরকে বশীভূত ও লাঞ্ছিত করেন এবং আল্লাহ তাঁর হাতে বহু দেশ ও বড় বড় নগরী বিজয় দান করেন, অথচ তিনি মদীনাতেই অবস্থান করছিলেন এবং সেখান থেকে বের হননি।
অতঃপর তাঁর পরে উমর তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন এবং তাঁর পদাশ্রয় গ্রহণ করেন; তাঁর আদর্শ অনুযায়ী পথ চলেন এবং তাঁরই নীতি অনুসারে শাসন পরিচালনা করেন। তিনি তাঁর কর্মধারা অনুসরণ করে এবং তাঁর আলোয় পথ চলে বিভিন্ন রাজ্য জয় করেন এবং পথসমূহ নিরাপদ করেন। ফলে মিসর ও শামের প্রারম্ভিক সীমা থেকে হিন্দুস্তানের দূরবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত ইসলাম বিস্তৃত হয়। তাঁরা আযরবাইজান, খুরাসান, পারস্য ও কিরমানসহ অনারব ভূখণ্ডসমূহের মালিক হন। এরপর তাঁর পরে উসমান (এর সময়কাল আসে)।
অতঃপর যখন খিলাফত ও কর্তৃত্ব আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট অর্পিত হলো, তখন তাঁর শাসনামলে সেই সকল ঘটনা ঘটল যা ঘটার ছিল। প্রতিটি প্রান্তে ও স্থানে মুসলমানদের মধ্যে চরম অস্থিরতা ও উৎকণ্ঠা দেখা দিল। এমন সব ফিতনা ও যুদ্ধবিগ্রহ সংঘটিত হলো যাতে বহু সাহাবী শাহাদাতবরণ করলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
والتابعين ما يفيق على مائة ألف أو يزيدون، وشغلهم ذلك الأمر عن أن يفتحوا مدينة بل ولا قرية أو يزيدوا في ممالك الإسلام ضيعة أو مزرعة، وربما ضعف الحال إلى أن استولى الكفار على أماكن استعادوها وجماعات من المسلمين أهلكوها وأبادوها. فأين السياسة من السياسة.
ومنها أنهم قالوا كان علي رضي الله عنه أقرأ الصحابة وأتقاهم.
وبطلان هذه الدعوى ظاهر لمن له أدنى إلمام بمعرفة الصحابة. ونحن نوضحه للجاهل بوجوه. منها أن هذا الكلام والدعوى رد لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم الثابت عنه في جميع الكتب الصحاح من دواوين الإسلام. وقد تقدم مبينا
এবং তাবিঈদের মধ্য হতে এক লক্ষ বা তারও বেশি লোক ছিল। এই বিষয়টি তাদের এমনভাবে মগ্ন রেখেছিল যে, তারা কোনো শহর এমনকি কোনো গ্রামও জয় করতে পারেনি এবং ইসলামী সালতানাতে কোনো ভূসম্পত্তি বা কৃষি খামারও বৃদ্ধি করতে পারেনি। এমনকি পরিস্থিতি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে, কাফেররা এমন কিছু এলাকা দখল করে নিয়েছিল যা ইতিপূর্বে মুসলমানরা জয় করেছিল এবং তারা মুসলিমদের অনেক দলকে ধ্বংস ও সমূলে নির্মূল করেছিল। সুতরাং, সেই রাজনীতির সাথে এই রাজনীতির কতই না ব্যবধান!
এর মধ্যে আরেকটি হলো তাদের এই দাবি যে, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সাহাবীগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কুরআন পাঠকারী এবং তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী ছিলেন।
সাহাবীগণের জীবনী সম্পর্কে যার সামান্যতম জ্ঞান রয়েছে, তার কাছে এই দাবির অসারতা সুস্পষ্ট। আমরা অজ্ঞদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিক থেকে এটি স্পষ্ট করছি। তার মধ্যে একটি হলো, এই দাবি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই বাণীর সরাসরি প্রত্যাখ্যান যা ইসলামের সকল নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থে সাব্যস্ত হয়েছে। আর বিষয়টি ইতিপূর্বেও স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
موضحا، والحمد لله تعالى.
وأما التقوى، فلقد كان علي رضي الله عنه وأرضاه تقيا نقيا، إلا أن الفضائل يتفاضل فيها أهلها، وما كان أتقاهم له إلا أبا بكر. والبرهان على ذلك أنه لم يسؤ قط أبو بكر رسول الله صلى الله عليه وسلم في كلمة، ولا خالف إرادته في شيء قط ولا تأخر عن تصديقه ولا تردد عن الائتمار له يوم الحديبية إذ تردد من تردد. وقد تكلم رسول الله صلى الله عليه وسلم على المنبر إذ أراد علي نكاح ابنة أبي جهل بما عُرف. وما وجدنا قط لأبي بكر توقفا عن شيء أمره به رسول الله صلى الله عليه وسلم[إلا مرة واحدة عذره] فيها وأجاز له فعله، وهي إذ أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم من قباء فوجده يصلي بالناس، فلما رآه أبو بكر تأخر وأشار إليه النبي صلى الله عليه وسلم أن أقم مكانك، فحمد الله أبو بكر على ذلك ثم تأخر فصار في الصف، وتقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى بالناس، فلما أتم قال له النبي صلى الله عليه وسلم: «ما منعك أن تثبت حين أمرتك» فقال أبو بكر: ما كان لابن أبي قحافة أن يتقدم بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم.
فهذا غاية التعظيم والطاعة والخضوع لرسول الله صلى الله عليه وسلم. وما
সুস্পষ্টভাবে বিবৃত হলো, এবং সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য।
আর তাকওয়ার (খোদাভীতি) কথা যদি বলতে হয়, তবে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অবশ্যই অত্যন্ত মুত্তাকী ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ছিলেন; তবে গুণাবলীর ক্ষেত্রে এর অধিকারীদের মাঝে মর্যাদাগত তারতম্য থাকে। আর তাঁদের মধ্যে আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর চেয়ে অধিক মুত্তাকী কেউ ছিলেন না। এর প্রমাণ এই যে, আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একটি বাক্যের মাধ্যমেও কখনো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কষ্ট দেননি, কোনো বিষয়ে কখনো তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধাচরণ করেননি, তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করে নিতে বিন্দুমাত্র বিলম্ব করেননি এবং হুদাইবিয়ার দিনে যখন অনেকে দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছিলেন, তখন তাঁর নির্দেশ পালনে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করেননি। পক্ষান্তরে, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন আবূ জাহলের কন্যাকে বিবাহ করার ইচ্ছা করেছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বরে দাঁড়িয়ে যে সুপরিচিত বক্তব্য প্রদান করেছিলেন তা সবার জানা। আমরা আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষ থেকে এমন কোনো ঘটনার কথা কখনো পাইনি যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে কোনো নির্দেশ দিয়েছেন আর তিনি তা পালনে বিরত থেকেছেন [কেবল একটি ক্ষেত্র ছাড়া যেখানে তাঁকে মার্জনা করা হয়েছে] এবং তাঁর সেই কাজটিকে নবীজী বৈধতা দিয়েছেন। সেটি হলো—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কুবা থেকে ফিরে এলেন, তখন দেখলেন আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) লোকদের সালাত পড়াচ্ছেন। আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি পেছনে সরে আসতে চাইলেন; কিন্তু নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশারায় তাঁকে নিজ স্থানে অবস্থান করতে নির্দেশ দিলেন। আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই নির্দেশের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করলেন, অতঃপর পেছনে সরে এসে কাতারে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনে অগ্রসর হয়ে সালাত আদায় করালেন। সালাত শেষে নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন: "আমি নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কিসে তোমাকে নিজ স্থানে অটল থাকতে বাধা প্রদান করল?" আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আরয করলেন: "আবূ কুহাফার পুত্রের জন্য এটা সমীচীন নয় যে, সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে দাঁড়িয়ে ইমামতি করবে।"
এটিই হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি শ্রদ্ধা, আনুগত্য ও বিনয়ের চরম পরাকাষ্ঠা। আর...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
أنكر صلى الله عليه وسلم ذلك عليه. وإذ قد صح أن أبا بكر أعلم الصحابة فقد وجب أنه أخشاهم لله تعالى. قال الله تعالى: {إنما يخشى الله من عباده العلماء} والتقوى هي الخشية لله.
قالوا: لو كانت إمامة أبي بكر حقا لما تأخر علي عن بيعته ستة أشهر.
قلنا: نعم مثل ذلك، لكن لما ظهر له الحق رجع وتاب واعترف بالخطأ. وبيان ذلك أنه إذا بايع أبا بكر بعد ستة أشهر، تأخره عنه ستة أشهر لا يخلو ضرورة من أحد وجهين: إما أن يكون مصيبا في تأخره فقد أخطأ [إذ بايع]، وإما أن يكون مصيبا ببيعته فقد أخطأ إذ تأخر عنها. وأما الممتنعون عن بيعة علي، وهم جمهور الصحابة، فلم يعترفوا بالخطأ، بل منهم من كان عليه ومنهم من لا له ولا عليه، وما
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওপর সেটি অস্বীকার করেছেন। যেহেতু এটি প্রমাণিত হয়েছে যে আবু বকর সাহাবীদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন, তাই এটি অবধারিত যে তিনি আল্লাহ তাআলাকে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভয় করতেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই আল্লাহকে ভয় করে।" আর তাকওয়া হলো আল্লাহর প্রতি ভয়।
তারা বলে: যদি আবু বকরের ইমামত সত্য হতো, তবে আলী তাঁর আনুগত্যের শপথ (বয়াত) নিতে ছয় মাস বিলম্ব করতেন না।
আমরা বলি: হ্যাঁ, বিষয়টি এমনই ছিল; কিন্তু যখন তাঁর নিকট সত্য স্পষ্ট হলো, তখন তিনি ফিরে আসলেন, তওবা করলেন এবং ভুল স্বীকার করলেন। এর ব্যাখ্যা হলো, যেহেতু তিনি ছয় মাস পর আবু বকরের হাতে বয়াত গ্রহণ করেছেন, তাই তাঁর এই ছয় মাসের বিলম্ব অনিবার্যভাবে দুটি অবস্থার একটির বাইরে হতে পারে না: হয় তিনি বিলম্ব করার ক্ষেত্রে সঠিক ছিলেন, ফলে তিনি (বয়াত গ্রহণের মাধ্যমে) ভুল করেছেন; অথবা তিনি বয়াত গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক ছিলেন, ফলে তিনি বিলম্ব করার কারণে ভুল করেছেন। আর যারা আলীর বয়াত গ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন—যাঁরা ছিলেন সাহাবীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ—তাঁরা ভুল স্বীকার করেননি; বরং তাঁদের মধ্যে কেউ তাঁর বিপক্ষে ছিলেন, আবার কেউ তাঁর পক্ষেও ছিলেন না এবং বিপক্ষেও ছিলেন না। আর যা
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
تابعه منهم إلا الأقل، سوى أزيد من مائتي ألف مسلم بالشام ومصر والعراق والحجاز كلهم امتنع عن بيعته، وحكمهم في ذلك حكم علي رضي الله عنه في مدة تأخره عن بيعة أبي بكر.
وإذا بطل كل ما ادعاه الرافضة والضلال المردة الجهال، صح أن أبا بكر رضي الله عنه هو الذي فاز بالسبق والحظ في العلم والقراءة والجهاد والزهد والتقوى والخشية والصدقة والعتق والطاعة والسياسة. فهذه وجوه الفضل كلها، فهو بلا شك أفضل الصحابة كافة.
ولم نحتج عليهم بالأحاديث، لأنهم لا يصدقون أحاديثنا وإن كانت مما يجب تصديقه لكونه المتواتر متنا والمشهور [أثرا]، فإن صحيحي البخاري ومسلم قد تلقتهما الأمة بالقبول، والأمة معصومة من الإجماع على ضلال وباطل. ونحن لا نصدق أحاديثهم التي انفردوا بها، لأن بطلانها
তাদের মধ্য থেকে অতি সামান্য সংখ্যক মানুষই তার অনুসরণ করেছিল। তদুপরি সিরিয়া, মিসর, ইরাক ও হিজাজের দুই লক্ষাধিক মুসলিমের সকলেই তার আনুগত্যের শপথ বা বায়আত গ্রহণ থেকে বিরত ছিল। এ বিষয়ে তাদের অবস্থান ছিল ঠিক সেই সময়ের আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর অবস্থানের ন্যায়, যখন তিনি আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আনুগত্যের শপথ নিতে বিলম্ব করেছিলেন।
যখন রাফেজি এবং বিভ্রান্ত ও উদ্ধত মূর্খদের সকল দাবি অসার প্রমাণিত হলো, তখন এটিই সত্য বলে সাব্যস্ত হলো যে, আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-ই জ্ঞান, কিরাত, জিহাদ, দুনিয়াবিমুখতা, তাকওয়া, আল্লাহ-ভীতি, সদকা, দাসমুক্তি, আনুগত্য এবং রাষ্ট্রীয় দূরদর্শিতার ক্ষেত্রে অগ্রগামিতা ও শ্রেষ্ঠত্বের সৌভাগ্য লাভ করেছেন। শ্রেষ্ঠত্বের এই সকল দিক বিবেচনায় তিনি নিঃসন্দেহে সমগ্র সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।
আমরা তাদের বিরুদ্ধে হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন করিনি, কারণ তারা আমাদের বর্ণিত হাদীসসমূহ বিশ্বাস করে না—যদিও মূল পাঠের দিক থেকে মুতাওয়াতির এবং বর্ণনার দিক থেকে মাশহুর হওয়ার কারণে সেগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করা আবশ্যক। প্রকৃতপক্ষে বুখারী ও মুসলিমের সহীহ গ্রন্থদ্বয়কে মুসলিম উম্মাহ গ্রহণ করে নিয়েছে, আর এই উম্মত কোনো ভ্রষ্টতা বা মিথ্যার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া থেকে সংরক্ষিত। আর তারা এককভাবে যেসব হাদীস বর্ণনা করে আমরা তা বিশ্বাস করি না, কারণ সেগুলোর অসারতা...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
وفريتها ثابت بشهادة من طعن فيها من الأئمة الثقات والأئمة الأثبات، كالإمام أبي عبد الله محمد بن إدريس وأبي عبد الله أحمد بن حنبل وأبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري وأضرابهم. ونحن اقتصرنا في الرد عليهم على البراهين الضرورية بنقل الكواف عن الكواف.
وإنما يجب أن يحتج الخصوم بعضهم على بعض بما يصدقه الذي تقام عليه الحجة به سواء صدقه المحتج أو لم يصدقه، لأن من صدق بشيء لزمه القول به أو بما يوجبه العلم الضروري، فيصير الخصم يومئذ مكابرا منقطعا إن ثبت على ما كان عليه. إلا أن بعض ما يشغبون به أحاديث صحاح نوافقهم على صحتها. منها قول رسول الله صلى الله عليه وسلم لعلي رضي الله عنه: «أنت مني بمنزلة هارون من موسى إلا أنه لا نبي بعدي».
وإن كانت الإمامة تستحق بالتقدم بالفضائل فأبو بكر أحق بها. فكيف والنص على خلافته صحيح. وإذ قد صحت إمامة أبي بكر فطاعته فرض في استخلافه عمر بما ذكرنا، وبإجماع المسلمين عليها. ثم أجمعت الأمة جميعا بلا خلاف على صحة إمامة عثمان.
وأما خلافة علي فحق لا شك فيه ولا ريب، ولكن لا بنص ولا بإجماع بل ببرهان آخر. وذلك أنه إذا مات الإمام ولم يعهد إلى أحد فبادر رجل مستحق الإمامة ودعا إلى نفسه ولا معارض له ففرض اتباعه والانقياد لبيعته والتزام إمامته وطاعته. وهكذا فعل علي رضي الله عنه فوجب اتباعه. وكذلك فعل ابن الزبير. وقد فعل قبلهما خالد بن الوليد إذ قتل
এবং এর মিথ্যাচারিতা সেই সকল নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত ইমামগণের সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত যারা একে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেমন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস, আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বল, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি এবং তাঁদের সমগোত্রীয় ব্যক্তিবর্গ। আমরা তাঁদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে অকাট্য দলিলের মাধ্যমে এক বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিকট হতে অন্য বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বর্ণনার (তাওয়াতুর) ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি।
বস্তুত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এমন কিছু দ্বারা দলিল পেশ করা উচিত যা ওই ব্যক্তি সত্য বলে স্বীকার করে যার বিরুদ্ধে দলিল পেশ করা হচ্ছে, চাই দলিল পেশকারী তা স্বীকার করুক বা না করুক। কারণ, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়কে সত্য বলে স্বীকার করে নেয়, তার ওপর সেই বিষয়ের দাবি অথবা অকাট্য জ্ঞানের অপরিহার্যতা মেনে নেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় প্রতিপক্ষ যদি নিজের অবস্থানে অনড় থাকে, তবে সে সত্যবিমুখ ও নিরুত্তর বলে গণ্য হবে। তবে তারা যে সকল বিষয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে, তার মধ্যে কিছু সহিহ হাদিসও রয়েছে যেগুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আমরা তাদের সাথে একমত। এর মধ্যে একটি হলো আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি উক্তি: "মুসার নিকট হারুন যেমন ছিলেন, তুমি আমার নিকট তেমন; তবে পার্থক্য হলো আমার পরে কোনো নবী নেই।"
আর যদি শ্রেষ্ঠত্বের অগ্রগণ্যতা অনুযায়ী ইমামত প্রাপ্য হয়, তবে আবু বকরই এর জন্য সর্বাধিক যোগ্য। তাছাড়া তাঁর খিলাফতের সপক্ষে নির্দেশিকাও সঠিক। যেহেতু আবু বকরের ইমামত সঠিক প্রমাণিত হয়েছে, তাই তাঁর পক্ষ হতে ওমরকে স্থলাভিষিক্ত করার সিদ্ধান্তে তাঁর আনুগত্য করা ফরজ, যা আমরা ইতঃপূর্বে উল্লেখ করেছি এবং যার ওপর মুসলমানদের ঐকমত্য (ইজমা) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অতঃপর সমগ্র উম্মত কোনো মতভেদ ছাড়াই ওসমানের ইমামতের বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছে।
পক্ষান্তরে আলির খিলাফত সন্দেহাতীতভাবে সত্য; তবে তা কোনো নির্দিষ্ট টেক্সট বা ইজমার ভিত্তিতে নয়, বরং ভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে। বিষয়টি হলো, যখন কোনো ইমাম ইন্তেকাল করেন এবং কাউকে স্থলাভিষিক্ত করে না যান, আর তখন ইমামতের যোগ্য কোনো ব্যক্তি এগিয়ে আসেন এবং নিজের নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান অথচ তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে না, তখন তাঁর অনুসরণ করা, তাঁর বায়আতের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা এবং তাঁর ইমামত ও আনুগত্য মেনে নেওয়া ফরজ হয়ে যায়। আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু এমনই করেছিলেন, ফলে তাঁর অনুসরণ করা ওয়াজিব হয়েছিল। ইবনে যুবায়েরও অনুরূপ করেছিলেন। আর তাঁদের পূর্বে খালেদ ইবনুল ওয়ালিদও এমনটি করেছিলেন যখন [সেনাপতিগণ] নিহত হলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
الأمراء زيد وجعفر وعبد الله بن رواحة، فأخذ خالد اللواء عن غير إمرة وصوّب ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ بلغه، وساعد خالد في جميع ذلك المسلمون.
ومن فضائل أبي بكر المشهورة قوله عز وجل: {إذ أخرجه الذين كفروا ثاني اثنين إذ هما في الغار إذ يقول لصاحبه لا تحزن إن الله معنا} فهذه فضيلة لا خلاف بين المسلمين في أبي بكر، فأوجب الله تعالى له فضيلة المشاركة في إخراجه معه وفي أنه خصه باسم الصحبة له وبأنه ثانيه في الغار. وأعظم من ذلك كله: أن الله معهما. وهذا ما لا يلحقه فيه أحد.
وقد اعترض على هذا بعض السفهاء فقال: قال الله عز وجل: {فَقَالَ لِصَاحِبِهِ وَهُوَ يُحَاوِرُهُ أَنَا أَكْثَرُ مِنكَ مَالًا} قال: وقد حزن أبو بكر فنهاه صلى الله عليه وسلم عن ذلك، فلو كان حزنه [رضى لله] عز وجل لما نهاه رسول الله صلى الله عليه وسلم.
সেনাপতিগণ ছিলেন যায়েদ, জাফর এবং আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা। অতঃপর খালিদ (ইবনুল ওয়ালিদ) কোনো পূর্বনির্ধারিত নেতৃত্ব ছাড়াই পতাকা গ্রহণ করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এই সংবাদ পৌঁছালে তিনি তা অনুমোদন করেন। আর সকল মুসলমান এই সকল বিষয়ে খালিদকে সহায়তা করেন।
আবু বকরের সুবিদিত মর্যাদাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মহান আল্লাহর বাণী: "যখন কাফিররা তাঁকে বহিষ্কার করেছিল, তিনি ছিলেন দুজনের দ্বিতীয় জন; যখন তাঁরা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন, তখন তিনি তাঁর সঙ্গীকে বলছিলেন, ‘চিন্তিত হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন’।" এটি এমন এক শ্রেষ্ঠত্ব যা নিয়ে আবু বকরের ব্যাপারে মুসলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। মহান আল্লাহ তাঁর (রাসূলের) সাথে হিজরতের সময় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবং তাঁকে তাঁর ‘সঙ্গী’ (সাহাবী) হিসেবে বিশিষ্ট করার মাধ্যমে এবং গুহায় তাঁর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে থাকার মাধ্যমে তাঁর জন্য এ ফজিলত অবধারিত করেছেন। আর এ সবকিছুর চেয়ে বড় বিষয় হলো—নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁদের উভয়ের সাথে ছিলেন। এটি এমন এক মর্যাদা যাতে কেউ তাঁর সমকক্ষ হতে পারবে না।
কিছু নির্বোধ ব্যক্তি এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করে বলেছে: মহান আল্লাহ বলেছেন, "অতঃপর সে কথা প্রসঙ্গে তার সঙ্গীকে বলল, ‘ধন-সম্পদে আমি তোমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ’।" তারা আরও বলেছে যে, আবু বকর দুঃখিত হয়েছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তা থেকে নিষেধ করেছিলেন। সুতরাং তাঁর সেই দুঃখ যদি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ হতো, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তা থেকে নিষেধ করতেন না।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৬০)
وهذه مجاهرة بالباطل. أما قوله عز وجل: {فقال لصاحبه وهو يحاوره} فقد أخبرنا بأن أحدهما مؤمن والآخر كافر به وبأنهما مختلفان، وإنما سماه صاحبه في المجاورة والمجالسة فقط، كما قال تعالى: {وإلى مدين أخاهم شعيبا} فلم يجعله أخاهم في الدين لكن في الدار والنسب. وليس هكذا قوله تعالى: {إذ يقول لصاحبه لا تحزن إن الله معنا} بل جعله صاحبه في الدين والهجرة وفي الإخراج وفي الغار وفي نصرة الله تعالى لهما وفي كونه تعالى معهما. فهذه الصحبة غاية الفضل، وتلك غاية النقص بنص القرآن.
وأما حزن أبي بكر فإنه قبل أن ينهاه رسول الله صلى الله عليه وسلم كان غاية الرضا لله عز وجل، لأنه كان إشفاقا على رسول الله صلى الله عليه وسلم ولذلك كان الله معه، وهو سبحانه لا يكون مع العصاة بل عليهم. وما حزن أبو بكر قط بعد أن نهاه رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الحزن، ولو كان لهذا المعترض حياء أو دين لما أتى بمثل هذا السخف والحماقة في هذا المعرض العظيم، إذ لو كان حزن أبي بكر عيبا عليه لكان ذلك على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى موسى عليه السلام [عيبا] لأن الله عز وجل قال لموسى عليه السلام: {سنشد عضدك بأخيك ونجعل لكما سلطانا فلا يصلون إليكما بآياتنا
এবং এটি মিথ্যার এক প্রকাশ্য আস্ফালন। আর মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর সে তার সঙ্গীকে কথা বলার সময় বলল" এর ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো— আল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তাদের একজন মুমিন এবং অন্যজন তাঁর প্রতি অবিশ্বাসী ছিল এবং তারা উভয়ে ভিন্ন মতাদর্শের অনুসারী ছিল। মূলত আল্লাহ তাকে কেবল সাহচর্য ও একত্রে অবস্থানের কারণেই 'সািহব' বা সঙ্গী বলে অভিহিত করেছেন। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আমি মাদইয়ানবাসীদের কাছে তাদের ভাই শুয়াইবকে প্রেরণ করেছি।" এখানে তাকে দ্বীনি বা ধর্মীয় ভাই বানানো হয়নি, বরং বাসস্থান ও বংশীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে ভাই বলা হয়েছে। কিন্তু মহান আল্লাহর বাণী: "যখন সে তার সঙ্গীকে বলছিল, তুমি বিষণ্ণ হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন" বিষয়টি মোটেও সেরূপ নয়। বরং আল্লাহ তাঁকে দ্বীন, হিজরত, দেশত্যাগ, গুহায় অবস্থান, তাঁদের উভয়ের প্রতি আল্লাহর সাহায্য এবং তাঁদের উভয়ের সাথে আল্লাহর উপস্থিতির ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গী সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং কুরআনের সুস্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী এই সাহচর্য হলো চরম মর্যাদার পরিচায়ক, আর পূর্বোক্তটি হলো চরম অপূর্ণতার নিদর্শন।
আর আবু বকর (রা.)-এর বিষণ্ণতার বিষয়টি হলো— রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে নিষেধ করার আগে তা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। কেননা তা ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি তাঁর মমত্ববোধ ও ব্যাকুলতার বহিঃপ্রকাশ, আর একারণেই আল্লাহ তাঁর সাথে ছিলেন। অথচ তিনি (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) পাপাচারীদের সাথে থাকেন না, বরং তাদের বিরুদ্ধে থাকেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করার পর আবু বকর (রা.) আর কখনোই বিষণ্ণ হননি। এই আপত্তিকারীর যদি ন্যূনতম লজ্জা কিংবা দ্বীনদারি থাকত, তবে সে এই মহান প্রসঙ্গের ক্ষেত্রে এমন অসার ও মূর্খতাসূলভ কথা উত্থাপন করত না। কারণ আবু বকর (রা.)-এর বিষণ্ণ হওয়া যদি তাঁর জন্য দোষের হতো, তবে তা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং মূসা (আ.)-এর জন্যও [ত্রুটি] বলে গণ্য হতো। কেননা মহান আল্লাহ মূসা (আ.)-কে বলেছিলেন: "আমি তোমার ভাইয়ের মাধ্যমে তোমার বাহুকে শক্তিশালী করব এবং তোমাদের উভয়কে এমন আধিপত্য দান করব যে, তারা আমাদের নিদর্শনাবলীর প্রভাবে তোমাদের কাছে পৌঁছাতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রাফিযাহ আও আল-ক্বাদ্বাবুল মুশতাহার আলা রিক্বাব ইবনিল মুত্বাহহির
(পৃষ্ঠা: ৬১)
أنتما ومن اتبعكما الغالبون} ثم قال: {فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِن سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً مُّوسَى قُلْنَا لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنتَ الْأَعْلَى} فهذا موسى عليه السلام رسول الله وكليمه أخبره الله عز وجل بأن فرعون وملأه لا يصلون إليه وأن موسى ومن معه هم الغالبون، ثم أوجس في نفسه خيفة بعد ذلك إذ رأى أمر السحرة حتى أوحى الله عز وجل إليه: {لا تخف} فهذا أشد من أمر أبي بكر. وأما النبي صلى الله عليه وسلم فإنه خوطب من الله تعالى بقوله: {ومن كفر فلا يحزنك كفره} وقوله: {ولا تحزن عليهم} {فلا يحزنك قولهم} وقوله تعالى: {فلا تذهب نفسك عليهم حسرات} وقوله تعالى: [{فلعلك باخع نفسك على آثارهم إن لم يؤمنوا بهذا الحديث أسفا}] وقد أخبرنا الله عز وجل بحزنه وقد نهاه عن ذلك، فلزم في حزن رسول الله كالذي أرادوا في حزن أبي بكر. ثم إن حزن
{তোমরা দুজন এবং তোমাদের অনুসারীরাই বিজয়ী হবে।} অতঃপর তিনি বললেন: {হঠাৎ তাদের জাদুর প্রভাবে তাঁর নিকট মনে হলো যে, তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো ছুটোছুটি করছে। তখন মুসা মনে মনে কিছুটা ভীতি অনুভব করলেন। আমরা বললাম: ভয় পেয়ো না, নিশ্চয়ই তুমিই হবে বিজয়ী।} সুতরাং ইনি হলেন আল্লাহর রাসুল এবং তাঁর সাথে সরাসরি কথোপকথনকারী মুসা আলাইহিস সালাম; মহান আল্লাহ তাঁকে ইতিপূর্বেই অবহিত করেছিলেন যে, ফিরআউন ও তার পারিষদবর্গ তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এবং মুসা ও তাঁর সঙ্গীরাই বিজয়ী হবে। তা সত্ত্বেও জাদুকরদের কর্মকাণ্ড দেখে তিনি মনে মনে শঙ্কা বোধ করেছিলেন, পরিশেষে মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি ওহী নাযিল করলেন: {ভয় পেয়ো না}। এটি আবু বকরের বিষয়ের চেয়েও অধিক গুরুতর ছিল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এভাবে সম্বোধন করা হয়েছে: {আর যে কুফরি করে, তার কুফরি যেন আপনাকে ব্যথিত না করে} এবং তাঁর বাণী: {আপনি তাদের জন্য দুঃখ করবেন না} {তাদের কথা যেন আপনাকে ব্যথিত না করে} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তাদের জন্য আক্ষেপে আপনার প্রাণ যেন ওষ্ঠাগত না হয়} এবং মহান আল্লাহর বাণী: [{তারা যদি এই বাণীর (কুরআনের) প্রতি ঈমান না আনে, তবে আপনি সম্ভবত তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আক্ষেপে নিজের প্রাণ নাশ করবেন।}] মহান আল্লাহ আমাদের তাঁর (নবীর) দুঃখ সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং তাঁকে তা থেকে বারণ করেছেন। সুতরাং রাসুলুল্লাহর দুঃখের বিষয়টি ঠিক তেমনই গণ্য হবে যেমনটি তারা আবু বকরের দুঃখের ক্ষেত্রে দাবি করতে চেয়েছিল। অতঃপর...