(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: -)
الحسام الممدود في الرد على اليهود   (عبد الحق الإسلامي)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الحسام الممدود في الرد على اليهود (وهو مطبوع ضمن كتاب رسالتين في الرد على اليهود)

المؤلف: أبو محمد عبد الحق الإسلامي المغربي السبتي (ت ق 8 هـ)

دراسة وتحقيق: عبد المجيد خيالي

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م

عدد الصفحات: 64

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 شوّال 1432

ইহুদিদের খণ্ডনে প্রসারিত তরবারি   (আব্দুল হক আল-ইসলামী)

বিভাগ: দল ও খণ্ডনসমূহ


গ্রন্থ: ইহুদিদের খণ্ডনে প্রসারিত তরবারি (এটি ‘ইহুদিদের খণ্ডনে দুই রিসালা’ নামক গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত)

লেখক: আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক আল-ইসলামী আল-মাগরিবি আস-সাবতি (মৃত্যু: আনুমানিক ৮ম হিজরি শতাব্দী)

গবেষণা ও সম্পাদনা: আব্দুল মাজিদ খিয়ালি

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ শাওয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على سيدنا محمد وآله

 

‌‌[مقدمة الكتاب]

الحمد لله المحمود بكل لسان، المعبود في كل زمان، الذي سدد فأرشد إلى الإيمان والإسلام، وأطلق بتوحيده وتمجيده الأنام وأضراب الأعلام.

والصلاة والسلام التامان الأكملان على سيدنا ونبينا ومولانا محمد الآتي بالهدى والإيمان، والآيات الواضحات البيان، الناسخ بدينه القويم كل الأديان، والرضى عن آله وأصحابه الأبرار وعن التابعين لهم بإحسان.

أما بعد، بعد حمد الله تعالى وترديد الصلاة على سيدنا ومولانا محمد يتكرر ويتوالى. فيقول العبد المعترف بما آتاه المغترف من فيض نعماه ورحماه، عبد الحق الإسلامي، وفقه الله وسدده وهداه وأرشده الله تعالى وله الحكمة فيما قدر وقضى: كان أطلعني منذ ستة عشر سنة على الحق الذي لا يشك فيه عاقل ولا يرتاب فيه إلا أهل الباطل، وهو الإيمان بسيدنا ونبينا ومولانا محمد صلى الله عليه وسلم والاقتداء به في جميع الأحكام، وكان من
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ও তাঁর বংশধরদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

 

‌‌[গ্রন্থের ভূমিকা]

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রতিটি ভাষায় প্রশংসিত এবং সর্বকালে উপাসিত; যিনি সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন এবং ঈমান ও ইসলামের দিকে পরিচালিত করেছেন; এবং যিনি স্বীয় একত্ববাদ ও মহিমা ঘোষণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে বাকশক্তি দান করেছেন।

এবং পূর্ণাঙ্গ ও সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা, নবী ও অভিভাবক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি হিদায়াত, ঈমান ও সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আগমন করেছেন এবং যিনি স্বীয় সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল ধর্ম রহিত করেছেন; এবং তাঁর পুণ্যবান পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীনদের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক।

অতঃপর, মহান আল্লাহর প্রশংসা এবং আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদের ওপর নিরন্তর ও ধারাবাহিকভাবে দরুদ পাঠের পর। আল্লাহর প্রদত্ত নিআমতসমূহ স্বীকারকারী এবং তাঁর অশেষ রহমত ও করুণাধারা থেকে গ্রহণকারী বান্দা—আবদুল হক আল-ইসলামী (আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন, সুদৃঢ় রাখুন এবং হিদায়াত ও সঠিক পথ প্রদর্শন করুন)—বলছেন: আল্লাহ তাআলা প্রজ্ঞাময় এবং তিনি যা কিছু নির্ধারণ ও ফয়সালা করেন তাতে নিহিত রয়েছে গূঢ় রহস্য। আজ থেকে ষোল বছর পূর্বে তিনি আমাকে এমন এক ধ্রুব সত্যের সন্ধান দান করেছিলেন, যাতে কোনো বিবেকবান ব্যক্তি সন্দেহ পোষণ করতে পারে না এবং কেবল বিভ্রান্তরাই তাতে সংশয় প্রকাশ করে; আর তা হলো আমাদের নেতা, নবী ও অভিভাবক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনয়ন এবং সমস্ত বিধি-বিধানে তাঁর আনুগত্য করা। এবং বিষয়টি ছিল...
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
حكمته أن قدر علي بكتمانه وإخفائه وعدم إفشائه وإبدائه إلى أن وفقني الله وألهمني (ونبهني وأفهمني) أن هذا القدر لا يكفيني ولا يخلصني، بل الواجب علي (في ذلك) إذاعة توحيده والنطق بتنزيهه وتحميده وإشاعة الإيمان برسوله سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم. فبادرت إلى [ما] يجيرني من العذاب الأليم ويقربني من جنات النعيم، فقلت معلنا بكلمة التوحيد ناطقا بالتنزيه والتمجيد:

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

ثم أسلم على يدي بحمد الله تعالى جميع أهلي وولدي وكل من سبقت له السعادة ممن كان يلازمني، وكل ذلك ألطاف من الله سبقت، ورحمة منه قد عمت وشملت، ورأفة سددت عبيده إلى طريق هداه (وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله). فله الحمد والشكر، وله الخلق والأمر، وبيده الخير والشر (والنفع والعز)، يضل من يشاء ويهدي من يشاء. لا يسئل عما يفعل وهم يسئلون.

ولما قدر الله سبحانه وتعالى بما قضى به علي من الإسلام والدخول في دين خير خلقه عليه السلام، أشار علي بعض طلبة مدينة سبتة أعزهم الله تعالى وحرسها أن أؤلف جزءا في بيان ما هم عليه اليهود لعنهم الله تعالى من الضلالة والكفر الشنيع والشرك بالله البشيع، وما هم يعتقدونه من الكذب المحض في إنكار نبوة سيدنا ومولانا محمد صلى الله عليه وسلم، فيكون إن شاء
তাঁর প্রজ্ঞা ছিল এই যে, তিনি আমার জন্য এটি গোপন রাখা ও অপ্রকাশিত রাখার ফয়সালা করেছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ আমাকে তাওফিক দান করলেন এবং অনুপ্রাণিত করলেন (সতর্ক করলেন ও বোঝালেন) যে, এই গোপনীয়তা আমার জন্য যথেষ্ট নয় এবং আমাকে মুক্তি দেবে না; বরং আমার ওপর ওয়াজিব হলো তাঁর তাওহিদ প্রচার করা, তাঁর পবিত্রতা ও প্রশংসার বাণী উচ্চারণ করা এবং তাঁর রাসুল আমাদের সরদার মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান প্রচার করা। অতঃপর আমি দ্রুত সেই বিষয়ের দিকে অগ্রসর হলাম যা আমাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে এবং নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতের নিকটবর্তী করবে। সুতরাং আমি তাওহিদের কালিমা ঘোষণা করে এবং আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে বললাম:

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

অতঃপর আল্লাহর প্রশংসায় আমার হাতে আমার পরিবারের সকল সদস্য, সন্তানসন্ততি এবং আমার সান্নিধ্যে থাকা সেই সকল ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলেন যাদের জন্য পূর্বেই সৌভাগ্য নির্ধারিত ছিল। এই সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বনির্ধারিত অনুগ্রহ এবং তাঁর এমন রহমত যা ব্যাপক ও বিস্তৃত ছিল; আর এটি ছিল তাঁর এমন দয়া যা তাঁর বান্দাদের হিদায়াতের পথে পরিচালিত করেছে (আল্লাহ যদি আমাদের হিদায়াত না দিতেন, তবে আমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হতাম না)। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁরই প্রাপ্য, সৃষ্টি ও আদেশ তাঁরই এখতিয়ারাধীন, তাঁরই হাতে কল্যাণ ও অকল্যাণ (উপকার ও সম্মান), তিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে।

অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন আমার জন্য ইসলাম গ্রহণ এবং তাঁর সর্বোত্তম সৃষ্টির (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) দ্বীনে প্রবেশের ফয়সালা পূর্ণ করলেন, তখন সেউতা নগরীর—আল্লাহ তাদের সম্মানিত করুন ও নগরীটিকে রক্ষা করুন—কিছু তালিবে ইলম আমাকে পরামর্শ দিলেন যেন আমি ইহুদিদের (আল্লাহর লানত তাদের ওপর) পথভ্রষ্টতা, জঘন্য কুফর ও আল্লাহর সাথে নিকৃষ্ট শিরকের স্বরূপ এবং আমাদের সরদার ও অভিভাবক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তাদের চরম মিথ্যা বিশ্বাসের বর্ণনায় একটি পুস্তিকা রচনা করি। যাতে তা ইনশাআল্লাহ...
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الله تعالى ماحيا لاعتقادهم محوا لآثار فسادهم، وانا استعنت بالله تعالى الذي لا إله إلا هو على ما أشير به علي مع قصد التقرب إلى الله تعالى، مستدلا عليهم بالأدلة الساطعة والبراهين القاطعة مما يدل على فساد عقولهم ويؤذن بجرأتهم وعدم أدبهم (في مقولهم) واقتصرت على ما في كتبهم المبدلة مما لا يسعهم إنكاره ولا النزاع فيه بوجه ولا حال، فيكون أنكد الهم وأبلغ في الحجة عليهم وأحرى في الاستدلال. وجعلت ما هو في التوراة بزعمهم أو في غيرها من كتبهم وتواليفهم من النصوص بالعبرانية مكتوبا بالأحمر، وشرحها بالمداد الأكحل، على حسب تفسير قدمائهم وشرح علمائهم، واني لأستغفر الله من حكاية كفرهم وبشاعة نظرهم وبينته على الإيجاز والاختصار من غير بسط ولا إكثار. وسميته "الحسام الممدود في الرد على اليهود"، وها أنا قد شرعت فيما به وعدت، وبالله أستعين وهو الموفق المعين، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

فنقول إن الكلام ينحصر معهم في خمسة أبواب:

• الباب الأول: في تقرير المواضع التي في كتبهم الدالة على ثبوت نبوة سيدنا ونبيا ومولانا محمد صلى الله عليه وسلم، وأنه مرسل لكافة الخلق.

• الباب الثاني: في نسخ شريعته لجميع الشرائع.

• الباب الثالث: في وقوعهم في الأنبياء والمرسلين عليهم السلام وملوكهم ومن ليس منهم.
মহান আল্লাহ তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের চিহ্নসমূহ মুছে ফেলার মাধ্যমে তাদের বিকৃতি ও দুর্নীতির প্রভাব বিলুপ্তকারী। আমি সেই মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তাঁর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এই কাজে অগ্রসর হয়েছি। আমি তাদের বিরুদ্ধে উজ্জ্বল প্রমাণাদি ও অকাট্য যুক্তি উপস্থাপন করেছি, যা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ভ্রষ্টতা প্রকাশ করে এবং তাদের দুঃসাহস ও শিষ্টাচারহীনতার (তাদের বক্তব্যের ক্ষেত্রে) পরিচয় দেয়। আমি নিজেকে তাদের সেই সকল বিকৃত কিতাবের উদ্ধৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছি যা অস্বীকার করা বা কোনোভাবে তাতে বিতর্ক করার সুযোগ তাদের নেই; যাতে এটি তাদের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক এবং তাদের বিরুদ্ধে অধিকতর জোরালো প্রমাণ ও শক্তিশালী যুক্তি হিসেবে গণ্য হয়। তাদের দাবি অনুযায়ী তাওরাত বা তাদের অন্যান্য কিতাব ও সংকলন থেকে হিব্রু ভাষায় উদ্ধৃত মূল পাঠ্যসমূহ আমি লাল কালিতে লিখেছি এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা তাদের প্রাচীন ব্যাখ্যাদাতা ও পণ্ডিতদের ভাষ্য অনুযায়ী কালো কালিতে প্রদান করেছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট তাদের কুফরি বর্ণনা এবং তাদের কদর্য দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখ করার কারণে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি এই আলোচনাকে দীর্ঘ না করে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ আকারে সাজিয়েছি। আমি গ্রন্থটির নামকরণ করেছি "আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ" (ইহুদিদের খণ্ডনে প্রসারিত তরবারি)। আমি এখন আমার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শুরু করছি। আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তিনিই তাওফিকদাতা ও সর্বোত্তম সাহায্যকারী। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।

আমরা বলছি যে, তাদের সাথে আলোচনা পাঁচটি অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ:

• প্রথম অধ্যায়: তাদের কিতাবসমূহে আমাদের নেতা, আমাদের নবী এবং আমাদের অভিভাবক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত সাব্যস্ত হওয়ার স্বপক্ষে বিদ্যমান প্রমাণাদি এবং তিনি যে সমগ্র সৃষ্টির নিকট প্রেরিত হয়েছেন তার বর্ণনা।

• দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর শরীয়ত কর্তৃক পূর্ববর্তী সকল শরীয়ত রহিত হওয়া প্রসঙ্গে।

• তৃতীয় অধ্যায়: নবী ও রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম), তাঁদের রাজন্যবর্গ এবং তাঁদের বহির্ভূত ব্যক্তিবর্গের প্রতি তাদের অসম্মান ও কুরুচিপূর্ণ আচরণের বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
• الباب الرابع: فيما في توراتهم المبدلة من الشرك والتجسيم والتبديل والتغيير مما تغلق منه الآذان وينزه عنه الواحد الأحد الفرد الصمد الرحيم الرحمن.

• الباب الخامس: فيما في كتبهم من تعظيم النبي صلى الله عليه وسلم في صلواتهم ومن أسراره ومعجزاته وآياته وأمرائه.
• চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাদের বিকৃত তাওরাতের অন্তর্ভুক্ত শিরক, আল্লাহর সদৃশকল্পনা (তাজসিম), পরিবর্তন ও পরিমার্জন প্রসঙ্গে; যা শ্রবণ করা কর্ণবিবরের জন্য পীড়াদায়ক এবং যা থেকে অদ্বিতীয়, একক, অমুখাপেক্ষী, পরম দয়াময় ও অতিশয় মেহেরবান সত্তা পবিত্র ও মুক্ত।

• পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাদের কিতাবসমূহে তাদের প্রার্থনাসমূহের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর নিগূঢ় রহস্য, মুজিজা, নিদর্শন ও সেনাপতিদের বর্ণনা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الباب الأول: في تقرير المواضع الدالة على صحة نبوءة سيدنا ومولانا محمد صلى الله عليه وسلم وثبوتها

اعلم وفقني الله وإياك أن اليهود لعنهم الله أنكروا نبوءة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم وبالغوا في ذلك كل المبالغة جحدا منهم وطغيانا وكفرا، وأنه صلى الله عليه وسلم لثابت عندهم في كتبهم راسخ في دواوينهم. (ومن يضلل الله فما له من هاد). ونحن نستعين بالله في الرد عليهم وبطلان ما يوافقون عليه ولا ينكرونه، بل ولا يقد رون على إنكاره. وانما أرميهم بأحجارهم وآخذهم بإقرارهم وأستخرج ذلك من كتبهم المنزلة بزعمهم، وعددها أربعة وعشرون كتابا.

فأول ذلك ما في الكتاب المسمى ملاخم الذين ينسبونه لليسع عليه السلام في قصة سلطان بني إسرائيل المسمى عندهم أحأب، وكان من كبار ملوك بني إسرائيل، وكان معتقدا لدين محمد صلى الله عليه وسلم، وكان اليهود يكفرونه حينثذ واستمروا على ذلك حتى الآن. وحكي أنه جاءه ملك من ملوك الروم اسمه ابن هدد بجيوش لا يعلم عددها إلا الله الذي خلقها، ومعه اثنان وثلاثون سلطانا وحصروه بمدينة سمرون، وبعث إليه إرسالا وطلب منه أن يعطيه جميع ما
প্রথম পরিচ্ছেদ: আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের সত্যতা ও এর সুদৃঢ় প্রমাণাদি উপস্থাপন প্রসঙ্গে

জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে তাওফিক দান করুন—যে, ইহুদিরা (আল্লাহ তাদের লানত করুন) আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতকে অস্বীকার করেছে এবং তাদের হঠকারিতা, অবাধ্যতা ও কুফুরির কারণে এ ক্ষেত্রে চরম সীমালঙ্ঘন করেছে। অথচ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিষয়টি তাদের কিতাবসমূহে সুনিশ্চিতভাবে বিদ্যমান এবং তাদের দপ্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত। (আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই)। আমরা তাদের প্রতিত্তোর দিতে এবং তারা যা স্বীকার করে ও অস্বীকার করে না—বরং অস্বীকার করার ক্ষমতাও রাখে না—তার অসারতা প্রমাণের জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি। বস্তুত আমি তাদের পাথর দিয়েই তাদের আঘাত করব এবং তাদের স্বীকৃতি দ্বারাই তাদের পাকড়াও করব। আমি এসব প্রমাণ তাদের দাবি অনুযায়ী অবতীর্ণ চব্বিশটি কিতাব থেকেই উদ্ধৃত করব।

এর প্রথমটি হলো 'মলাখিম' নামক কিতাবে বর্ণিত বিষয়, যা তারা আল-ইয়াসা আলাইহিস সালামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করে। সেখানে বনী ইসরাঈলের জনৈক সুলতানের কাহিনী রয়েছে যাকে তারা 'আহআব' নামে অভিহিত করে। সে বনী ইসরাঈলের মহান রাজাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীনের প্রতি বিশ্বাসী ছিল। ইহুদিরা সেই সময় তাকে কাফের গণ্য করত এবং অদ্যাবধি তারা সেই বিশ্বাসের ওপর অটল রয়েছে। বর্ণিত আছে যে, রোমান সম্রাটদের মধ্য থেকে জনৈক সম্রাট, যার নাম ইবনে হাদাদ, এমন এক বিশাল বাহিনী নিয়ে তার কাছে উপস্থিত হলো যার সংখ্যা কেবল তাদের স্রষ্টা আল্লাহই জানেন। তার সাথে বত্রিশজন সুলতান ছিল এবং তারা তাকে সামরুন শহরে অবরুদ্ধ করল। সে তার নিকট দূত প্রেরণ করল এবং তার কাছে যা কিছু ছিল তার সবটুকুই দাবি করল...
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
لديه من الذهب والفضة وأولاده ونسائه رهنا، وطلب منه العلم الذي كان يقاتل به وكان مكتوب فيه: لا إله إلا الله محمد رسول الله، وكان يغلب به في الحروب كلها فأجاب إلى كل ما دعاه إليه من المال والأولاد إلا العلم المذكور. ونص ما في كتاب ملاخم:

«كِي إِمْ كعثْ مَحَرْ اشْلٍحْ إثْ عَبْدَيْ إِلْيخَ وَحبْشوا إثْ بشِيخَ وَإِثْ يَتِي عَبْجَ َيَسخْ وَهَيَا محمد عَيَنَيخَ يَسِيمُوْا بِيدَمْ وَلَقَاضْواْ.» (1)

 

‌‌شرحه:

إذا كان غدا أرسل إليك عبيدي يفتشون بيتك وبيوت عبيدك، وحيث ما كان محمد عنايتك يجعلوه في أيديهم ويأخذونه منهم. يعني العلم الذي فيه اسم محمد صلى الله عليه وسلم يأخذوه عبيدي من أيديكم ويزيلوا انتصاركم به، فلما قرأ الملك أحأب الرسالة اجتمع مع أشياخ اليهود وأحبارهم وقرأ عليهم الرسالة واستشارهم في أمرها، فأجمعوا قاطبة على أن يعطوا ما بأيديهم من الذهب والفضة والأولاد رهنا. ولم يوافق أحد منهم على إعطاء العلم المذكور واخراجه من أيديهم، فبعث الملك أحأب إلى ملك الروم بما اتفقوا عليه فغضب وأبى إلا العلم وحلف ليخربن ديارهم ويغصب أموالهم ويسبي أولادهم وعيالهم ويقتل رجالهم، فتشفع له أحأب بالنبي محمد صلى الله عليه وسلم فلم يقبل الشفاعة وصمم على يمينه وبنى على هلاك أحأب وكل من معه. فجاءه نبي من أنبياء ذلك العصر وقال له لا تخف توكل على الله سبحانه وعلى نبيه محمد صلى الله عليه وسلم،

--------------------------------------------

(1) 1 الملوك 20: 6
তার কাছে সোনা, রূপা এবং তার সন্তান ও স্ত্রীদের বন্ধক হিসেবে চাওয়া হলো। এছাড়াও তার কাছে সেই পতাকাটি দাবি করা হলো যা নিয়ে তিনি যুদ্ধ করতেন এবং যাতে লিখিত ছিল: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল'। তিনি এই পতাকার অসিলায় সমস্ত যুদ্ধে জয়লাভ করতেন। তিনি সম্পদ এবং সন্তানদের বিষয়ে তাদের সমস্ত দাবিতে সম্মত হলেন, কেবল উল্লিখিত পতাকাটি বাদে। 'মালাখিম' (রাজাবলি) কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে তার পাঠ নিম্নরূপ:

«আগামীকাল এই সময়ে আমি আমার দাসদের তোমার কাছে পাঠাব, তারা তোমার বাড়ি এবং তোমার দাসদের বাড়ি তল্লাশি করবে। আর তোমার চোখের যা কিছু প্রীতিকর (মুহাম্মদ), তা তারা হস্তগত করবে এবং নিয়ে যাবে।» (১)

 

‌‌এর ব্যাখ্যা:

আগামীকাল আমি আমার দাসদের তোমার কাছে পাঠাব, তারা তোমার এবং তোমার দাসদের গৃহসমূহ তল্লাশি করবে। আর তোমার চোখের যা কিছু মূল্যবান (মুহাম্মদ), তারা তা হস্তগত করে নিয়ে যাবে। অর্থাৎ, যে পতাকায় মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নাম রয়েছে, তা আমার দাসরা তোমাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেবে এবং এর মাধ্যমে তোমাদের বিজয় লাভের পথ রুদ্ধ করে দেবে। যখন রাজা আহাব এই বার্তা পাঠ করলেন, তখন তিনি ইহুদিদের প্রবীণ ও পণ্ডিতদের সাথে একত্রিত হলেন এবং তাদের সামনে এই বার্তা পাঠ করে এ বিষয়ে পরামর্শ চাইলেন। তারা সকলে একমত হলেন যে, তাদের কাছে থাকা সোনা, রূপা ও সন্তানদের বন্ধক হিসেবে দিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু উল্লিখিত পতাকাটি হস্তান্তর বা তাদের হাত থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়ে কেউ সম্মত হলেন না। অতঃপর রাজা আহাব রোম অধিপতির কাছে তাদের ঐকমত্যের বিষয়টি পাঠিয়ে দিলেন। এতে তিনি ক্রুদ্ধ হলেন এবং পতাকাটি ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালেন। তিনি শপথ করলেন যে, তিনি তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দেবেন, সম্পদ লুণ্ঠন করবেন, তাদের সন্তানদের বন্দী করবেন এবং পুরুষদের হত্যা করবেন। তখন আহাব নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উসিলায় সুপারিশ প্রার্থনা করলেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করলেন না এবং তার শপথে অটল থেকে আহাব ও তার সঙ্গীদের ধ্বংস করার সংকল্প করলেন। তখন সেই যুগের নবীদের মধ্য থেকে একজন নবী তার কাছে এসে বললেন, 'ভয় পেয়ো না, মহান আল্লাহ এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর ভরসা করো।'

--------------------------------------------

(১) ১ রাজাবলি ২০:৬
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ينصرك على هؤلاء الملوك ويعينك على هزمهم فإن الله تعالى لا يضيع من آمن بمحمد واعتقد دينه ومذهبه. فخرج إليهم أحأب وقاتلهم فأعانه الله عليهم فغلبهم وفروا بين يديه هاربين وانقلبوا في صفقتهم خاسرين، واشتهرت هذه الحكاية عند أهل ذلك العصر، فآمن منهم بالله من سبقت له السعادة عند الله. وهذا الملك أخأب عند اليهود لعنهم الله من أعظم الكفار لكونه آمن بمحمد صلى الله عليه وسلم واعتقد دينه ومذهبه. قال الله تعالى: (لتجدن أشد الناس عداوة للذين آمنوا اليهود والذين أشركوا).

وهذا الملك أحأب مات مسلما حسبما شهدت بذلك نصوصهم. «وهملِيخٍ هَيَّا محمد بَمرٍ كَبَا نَخَحْ أَرَمْ»

 

‌‌شرحه:

والملك كان يذكر محمدا ويقاتل الروم. فتأمل هذا الذي ذكرت لك فإن فيه أدلة شافية على كذبهم:

* منها: أن النبي صلى الله عليه وسلم مذكور في كتبهم وهم ينكرونه جحدا منهم للحق الذي لا شك فيه.

• ومنها: أنهم يعلمون ويتحققون أن نصرة أحأب على ملك الروم إنما كانت بسبب إيمانه بالنبي صلى الله عليه وسلم وبوسيلة المشفع به إلى الله تعالى.
তিনি আপনাকে এই রাজাদের বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন এবং তাদের পরাজিত করতে সহায়তা করবেন; কারণ আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তিকে বিফল করেন না যে মুহাম্মাদের প্রতি ঈমান আনে এবং তাঁর দ্বীন ও মতাদর্শকে সত্য বলে বিশ্বাস করে। অতঃপর আহআব তাদের বিরুদ্ধে বের হলেন এবং তাদের সাথে যুদ্ধ করলেন। আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করলেন, ফলে তিনি তাদের ওপর বিজয়ী হলেন এবং তারা তার সম্মুখ থেকে পলায়ন করল ও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফিরে গেল। তৎকালীন যুগের মানুষের নিকট এই কাহিনীটি প্রসিদ্ধ হয়ে যায়, ফলে তাদের মধ্য থেকে যাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বেই সৌভাগ্য নির্ধারিত ছিল, তারা ঈমান আনয়ন করল। আর এই রাজা আহআব ইহুদিদের—আল্লাহ তাদের লানত করুন—নিকট বড় কাফেরদের একজন, কারণ তিনি মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি ঈমান এনেছিলেন এবং তাঁর দ্বীন ও মাযহাব গ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: (মুমিনদের প্রতি শত্রুতার ক্ষেত্রে আপনি ইহুদি ও মুশরিকদেরই মানুষের মধ্যে প্রবলতর পাবেন)।

আর এই রাজা আহআব মুসলিম হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন, যেমনটি তাদের নিজেদের ধর্মগ্রন্থের পাঠ্যসমূহ সাক্ষ্য দেয়। "এবং রাজা মুহাম্মাদের নাম স্মরণ করে অ্যারামীয়দের পরাজিত করলেন।"

 

‌‌এর ব্যাখ্যা:

রাজা মুহাম্মাদ (সা.)-কে স্মরণ করতেন এবং রোমকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন। আমি আপনার নিকট যা উল্লেখ করলাম তা নিয়ে চিন্তা করুন, কারণ এতে তাদের মিথ্যাচারের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে:

* তার মধ্যে একটি হলো: নবী (সা.)-এর কথা তাদের কিতাবসমূহে উল্লেখ রয়েছে, অথচ তারা সেই নিঃসন্দিগ্ধ সত্যকে কেবল বিদ্বেষবশত অস্বীকার করে।

• এবং অন্যটি হলো: তারা নিশ্চিতভাবে জানে এবং উপলব্ধি করে যে, রোমরাজার বিরুদ্ধে আহআবের বিজয় কেবল নবী (সা.)-এর প্রতি তাঁর ঈমান এবং আল্লাহর দরবারে তাঁর মহান শাফায়াতের উসিলা গ্রহণের কারণেই সম্ভব হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
• ومنها: أن هذا الملك أحأب كان عظيمهم وسيدهم فلما آمن بمحمد صلى الله عليه وسلم كفروه، فناهيك من قوم يصممون على الكفر ويتبعون أهواءهم (ومن أضل ممن اتبع هواه بغير هدى من الله).

وهذا الذى ذكرنا عنهم يشبه بالنظر ما يأتي من اعتقادهم الفاسد.

 

‌‌فصل

يتضمن ذكر محمد صلى الله عليه وسلم باسمه الذي لا ريب فيه. من ذلك نص ما في كتاب هويشع وهو:

«مَا تعَسُواْ لِيُومْ مُوعِدْ وَلِيَوْمِ حَغْ أُذْنَيْ كِي هِنِّي هلخُواْ مِشَوَدْ مِض لايَمْ تَقِيمِيمْ مُود تغيرم محمد كَخْسِيم كِؤُس جِيرَسِم حُوِح، بِأهْلِيِهم.» (1)

 

‌‌شرحه:

أي شيء تعملون، أم كيف يكون حالكم في اليوم الموعود وفي اليوم المشهود، ما زلتم تسلكون وتنتقلون من نحس إلى نحس. المصريون أسروكم والروم قتلوكم ومحمد يسبي أموالكم والكؤس يطردونكم والشوك في أخبيتكم.

ومصدق هذا الكلام: التقرير والتوبيخ وتعداد ما نزل بهم من المكروهات وكأنه يقول لهم: لا بد لهم أن يذهب رسمهم وآثارهم حتى لا يبقى منهم أحد، ومحمد صلى الله عليه وسلم وأمته هم المسلطون عليهم، بسبب كفرهم وانتقالهم من فساد إلى أفسد منه، وهذا معنى قوله: إنهم يسلكون من نحس إلى نحس، و"محمد كخسيم" معناه: أن النبي صلى الله عليه وسلم يأمر بتغريمهم المال. والكؤس قبيلة من العرب. وحوح

--------------------------------------------

(1) هوشع 9: 5 - 6
এর মধ্যে একটি হলো: এই রাজা আহআব ছিলেন তাদের মহান নেতা এবং সরদার; কিন্তু তিনি যখন মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর ঈমান আনলেন, তখন তারা তাকে অস্বীকার করল। সেই জাতির অবস্থা সম্পর্কে আর কী-ই বা বলার আছে যারা কুফরির ওপর অটল থাকে এবং নিজ কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে? (আর আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হেদায়েত ছাড়াই যে ব্যক্তি নিজ কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে?)।

আমরা তাদের সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছি, তা আপাতদৃষ্টিতে তাদের সেই ভ্রান্ত বিশ্বাসের সদৃশ যা পরবর্তী আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হবে।

 

‌‌অনুচ্ছেদ

এতে মুহাম্মদ (সা.)-এর সেই নামের উল্লেখ রয়েছে যাতে কোনো সন্দেহ নেই। এরই একটি প্রমাণ হলো হোশেয়-এর কিতাবের পাঠ, যা নিম্নরূপ:

«তোমরা প্রতিশ্রুত দিনে এবং উৎসবের দিনে কী করবে? দেখ, তারা ধ্বংসের কারণে চলে গেছে। মিসরীয়রা তাদের একত্রিত করবে এবং মেমফিস তাদের কবরস্থ করবে। মুহাম্মদ তাদের মূল্যবান রূপার সম্পদের অধিকারী হবেন এবং তাদের তাঁবুতে কাঁটা জন্মাবে।» (১)

 

‌‌এর ব্যাখ্যা:

তোমরা কী করবে অথবা প্রতিশ্রুত দিনে ও সেই প্রত্যক্ষদর্শনের দিনে তোমাদের অবস্থা কেমন হবে? তোমরা ক্রমাগত দুর্ভাগ্যের এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে স্থানান্তরিত হতে থাকবে। মিসরীয়রা তোমাদের বন্দি করবে, রোমানরা তোমাদের হত্যা করবে, মুহাম্মদ (সা.) তোমাদের ধন-সম্পদ করায়ত্ত করবেন, কুস গোত্র তোমাদের তাড়িয়ে দেবে এবং তোমাদের তাঁবুতে কাঁটা জন্মাবে।

এই বক্তব্যের প্রতিপাদ্য হলো: স্বীকৃতি আদায়, তিরস্কার এবং তাদের ওপর আপতিত বিপদ-আপদসমূহের গণনা। যেন বলা হচ্ছে: তাদের চিহ্ন ও অস্তিত্ব বিলুপ্ত হওয়া অনিবার্য, যেন তাদের কেউ অবশিষ্ট না থাকে। মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর উম্মতকেই তাদের ওপর কর্তৃত্বশীল করা হয়েছে তাদের কুফরি এবং এক বিপর্যয় থেকে চরমতর বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হওয়ার কারণে। এটাই তাঁর এই কথার অর্থ যে, তারা দুর্ভাগ্যের এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উপনীত হবে। আর "মুহাম্মদ কাখসিম" এর অর্থ হলো: নবী (সা.) তাদের ওপর জরিমানাস্বরূপ অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেবেন। "আল-কুস" হলো আরবদের একটি গোত্র। আর "হূহ" মানে কাঁটা।

--------------------------------------------

(১) হোশেয় ৯: ৫ - ৬
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
معناه: الشوك، أي أن أمة محمد صلى الله عليه وسلم يزيلونهم ويمحون آثارهم لأنهم عندهم بمنزلة الشوك لا منفعة فيه ويبعد المرء عنه، كذلك هم لا منفعة فيهم لأمة محمد صلى الله عليه وسلم بل إنهم مضرة مجردة من النفع. وهذا الذي قرر يؤيده ما بعده من النص وهو:

«بأويمي هغوه بأويمي هشلوم إويل هني مشجع إش هروح عَل رَوبِ عُونَن وَرَبَّهُ مسطِينمَه».

 

‌‌شرحه:

وصلت ليلة المطالبة، وصلت ايام الانتصاف بسبب وقوعكم في النبي صلى الله عليه وسلم، قلتم إنه جاهل، وقلتم إنه أحمق مَرياح، وهذا أعظم ذنوبكم وبه كثر الحقد عليكم ووجب بغضكم وعداوتكم. وفى هذه الجملة أدلة عليهم:

أحدها: أن النبي صلى الله عليه وسلم موجود فى كتبهم كما فى النص الذي قبل هذا.

الثاني: أن نصهم أخبر أنه لا بد لأمة محمد صلى الله عليه وسلم من أخذ أموالهم بسبب كفرهم، وهذا النص مما لا يبدلونه، والله أعلم، لأن ذلك موجود وما زال المسلمون يضربون عليهم الجزية ويأخذونها منهم عن يد وهم صاغرون.

الثالث: أن كتبهم مبدلة لا محالة، ولا ينبغي لعاقل أن يشك في ذلك لأنه يستحيل أن يكون فى كتاب الله المنزل سب رسول الله صلى الله عليه وسلم.

الرابع: أن هويشيع المذكور كان قبل النبي صلى الله عليه وسلم مع أنه أخبر به وصرح باسمه وأنه محمد، والإخبار بالشيء قول كونه قاطع بصحة ذلك
এর অর্থ হলো: কাঁটা। অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত তাদের নির্মূল করবে এবং তাদের চিহ্ন মুছে দেবে; কারণ তাদের কাছে তারা কাঁটার সমতুল্য যাতে কোনো উপকার নেই এবং যা থেকে মানুষ দূরে থাকে। একইভাবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতের জন্য তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, বরং তারা কেবল নিছক অনিষ্টকারী। আর এই সিদ্ধান্তটি পরবর্তী পাঠ দ্বারা সমর্থিত, যা হলো:

«শাস্তির দিন ঘনিয়ে এসেছে, প্রতিফল প্রদানের দিন সমাগত; তোমাদের অপরাধের আধিক্য ও চরম শত্রুতার কারণে নবীকে নির্বোধ এবং রূহানি ব্যক্তিকে উন্মাদ বলা হয়েছে।»

 

‌‌এর ব্যাখ্যা:

দাবির রাত উপস্থিত হয়েছে, ইনসাফ ও প্রতিশোধের দিনগুলো সমাগত হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি তোমাদের কটূক্তির কারণে। তোমরা বলেছ যে তিনি অজ্ঞ, এবং তোমরা বলেছ যে তিনি একজন বাচাল উন্মাদ; আর এটিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ পাপ, যার কারণে তোমাদের প্রতি ঘৃণা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তোমাদের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। এই বাক্যাংশের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি প্রমাণ রয়েছে:

প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উল্লেখ তাদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান, যেমনটি পূর্ববর্তী পাঠে বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: তাদের নিজস্ব পাঠ্যই সংবাদ দিচ্ছে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত কর্তৃক তাদের কুফরির কারণে তাদের ধন-সম্পদ গ্রহণ করা অবধারিত। আর আল্লাহই ভালো জানেন, এই পাঠটি তারা পরিবর্তন করেনি; কারণ এটি বাস্তবতা হিসেবে বিদ্যমান এবং মুসলমানরা নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের ওপর জিজিয়া ধার্য করে আসছে এবং তাদের থেকে তা হীনাবস্থায় স্বহস্তে গ্রহণ করছে।

তৃতীয়ত: তাদের কিতাবসমূহ নিঃসন্দেহে পরিবর্তিত ও বিকৃত; কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করা উচিত নয়। কেননা আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ কিতাবে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালি দেওয়া অসম্ভব।

চতুর্থত: উল্লেখিত হোশিয়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের পূর্ববর্তী ছিলেন, তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর নাম যে মুহাম্মদ, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। কোনো বিষয় ঘটার পূর্বেই সে সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা উক্ত বিষয়ের সত্যতার অকাট্য প্রমাণ।
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الشيء لأنه إخبار بما سيكون، والإخبار بما سيكون إنما يكون بإذن الله عز وجل، إذ لا يعلم ما في السموات وما في الأرض الغيب إلا الله،. وما أخبر به تبارك وتعالى حق لا يرتاب فيه مؤمن بالله، فالنبي محمد صلى الله عليه وسلم حق والتصديق به واجب. وهذه أدلة كافية في الرد عليهم، كيف وقد وقعوا فيما هو أمر وأدهى، وسياتي ذكر كله مفسرا إن شاء الله تعالى.

 

‌‌فصل

يتبين فيه ذكر النبي صلى الله عليه وسلم في التوراة والزبوز وغيرهما من كتبهم، تارة باسم أحمد وتارة باسم محمد مستخرجا ذلك من كتبهم بحروف أبجد حسبما هو اصطلاحهم في ذلك. فمنه: ما وقع في أول سورة من التوراة ونصه:

«وياعس ألوهيم إث تنبيه هيروت هجر وليم».

 

‌‌شرحه:

وخلق الله النورين العظيمين. وقوله: "هجر وليم": عدده ثمانية وتسعون، يختص منها اسم محمد صلى الله عليه وسلم باثنين وتسعين، والستة الباقية من العدد ليوم الجمعة سادس الأيام. فتفهم أرشدنا الله تعالى وإياك أن هذا بدل من نص أخر كان في موضعه، وبدل منه بعد
সেই বিষয়টি সম্পর্কে, কারণ এটি ভবিষ্যতে যা ঘটবে সে সম্পর্কে সংবাদ প্রদান। আর ভবিষ্যতে যা ঘটবে সে সম্পর্কে সংবাদ প্রদান কেবল মহান আল্লাহর অনুমতিক্রমেই সম্ভব, যেহেতু আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউই অদৃশ্যের সংবাদ জানে না। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা যা সংবাদ দিয়েছেন তা এমন ধ্রুব সত্য যাতে কোনো মুমিন ব্যক্তির মনে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই। সুতরাং নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা বা তাঁর সত্যতা স্বীকার করা ওয়াজিব। তাদের প্রতিবাদ ও খণ্ডনের জন্য এ দলিলগুলোই যথেষ্ট; বিশেষ করে তারা যখন আরও ভয়াবহ ও শোচনীয় বিষয়ে লিপ্ত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ তাআলা, এই সবকিছুর বিস্তারিত বর্ণনা শীঘ্রই সামনে আসবে।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

এতে তাওরাত, যাবুর ও তাদের অন্যান্য কিতাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উল্লেখ স্পষ্টভাবে বর্ণিত হবে; কখনো 'আহমাদ' নামে আবার কখনো 'মুহাম্মদ' নামে, যা তাদের কিতাবসমূহ হতে তাদের পরিভাষা অনুযায়ী আবজাদ বা সংখ্যাতাত্ত্বিক পদ্ধতিতে বের করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো তাওরাতের প্রথম অধ্যায়ে যা বর্ণিত হয়েছে, তার পাঠ্য নিম্নরূপ:

«ওয়া ইয়া'আসা এলোহিম ইথ তানিবিহ হিরুত হাজরা ওয়ালিম»।

 

‌‌এর ব্যাখ্যা:

"আর আল্লাহ দুটি মহান জ্যোতি সৃষ্টি করলেন।" তাঁর উক্তি: "হাজরা ওয়ালিম": এর সংখ্যাগত মান হলো আটানব্বই, যার মধ্যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামের জন্য বিরানব্বই নির্দিষ্ট, আর অবশিষ্ট ছয় সংখ্যাটি ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ জুমুআর দিনের প্রতীক। অতএব আপনি অনুধাবন করুন—আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন—যে এটি অন্য একটি পাঠ্যের স্থলাভিষিক্ত যা পূর্বে সেই স্থানে বিদ্যমান ছিল, এবং পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
بعث الرسول صلى الله عليه وسلم، وإنما كان النص الاول يشير إلى أن الله تبارك وتعالى لم يخلق النورين العظيمين، وهما: الشمس والقمر، إلا من نور سيدنا ومولانا محمد صلى الله عليه وسلم، وأنه الذي نسخ يوم السبت بيوم الجمعة، فبدل حينئذ النص الحاسدون الظالمون من علمائهم لعنهم الله، وجعلوا في هذا النص المبدل لفظة تدل على ذلك وهي: "هجر وليم" بزعمهم أن محمدا يكون منهم، هكذا هو مفسر في كتاب مضمون عندهم لعنهم الله. وسيأتي مثل هذا كثير إن شاء الله تعالى.

واعلم أرشدك الله أن حساب أبجد قاعدة من قواعدهم وعليها مدار دينهم في فرائضهم وسننهم، وهذا مما لا ينكرونه قط، لا بوجه ولا بحال.

 

‌‌فصل

يتبين فيه أن في توراتهم في الحزب الأول منها أن الله تعالى أخبر أن أحمد يدخل الجنة قبل الخلق، ونص ذلك:

«ويصلع أدني أبوهيم جن بعيدن مقدم». (1)

 

‌‌شرحه:

ويدخل السيد أحمد الجنة قبل الخلق. يدل على ذلك لفظة: جن، إذ عدده ثلاثة وخمسون كما هو أحمد، فإذا قالوا: مدلول جن إنما هو جنة، قلنا لهم: هذا يؤول إلى أن يكون معنى الكلام: يدخل الله الجنة في الجنة قبل الخلق، وهذا تفسير غير معقول ينزه كلام الله تعالى [عنه]. فأحد

--------------------------------------------

(1) التكوين 2: 8
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রেরণ; বরং মূল পাঠটি নির্দেশ করছিল যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা সূর্য ও চন্দ্র নামক এই দুটি মহান জ্যোতিকে কেবল আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নূর থেকেই সৃষ্টি করেছেন। আর তিনিই শনিবারকে জুমার দিন দ্বারা রহিত করেছেন। তখন তাদের মধ্যকার ঈর্ষান্বিত জালেম আলেমগণ—আল্লাহ তাদের প্রতি লানত বর্ষণ করুন—মূল পাঠটি পরিবর্তন করে ফেলে এবং এই পরিবর্তিত পাঠে এমন একটি শব্দ যুক্ত করে যা তাদের দাবির সপক্ষে যায়, আর তা হলো: "হাজর ওয়ালিম"; তাদের ধারণা মতে মুহাম্মদ তাদের মধ্য থেকেই হবেন। তাদের কাছে সংরক্ষিত একটি কিতাবে বিষয়টি এভাবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের প্রতি লানত বর্ষণ করুন। ইনশাআল্লাহ তায়ালা সামনে এমন আরও অনেক উদাহরণ আসবে।

জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন—নিশ্চয়ই আবজাদ হিসাব (সংখ্যাতাত্ত্বিক পদ্ধতি) তাদের অন্যতম একটি মূলনীতি এবং তাদের ধর্মের ফরজ ও সুন্নাহসমূহ এর ওপরই আবর্তিত। এটি এমন এক বিষয় যা তারা কোনোভাবেই এবং কোনো অবস্থাতেই অস্বীকার করে না।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

এতে স্পষ্ট হয় যে, তাদের তাওরাতের প্রথম অংশে (হিযবে) বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তায়ালা সংবাদ দিয়েছেন যে আহমদ সৃষ্টির পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। এর মূল পাঠটি হলো:

«ওয়েইসলা আদনি আবুহিম জান বায়দিন মুকাদ্দাম»। (১)

 

‌‌এর ব্যাখ্যা:

এবং নেতা আহমদ সৃষ্টির পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। 'জান' শব্দটি এর প্রমাণ দেয়, কারণ এর সংখ্যাতাত্ত্বিক মান হলো তিপ্পান্ন, যা 'আহমদ' শব্দের মানের সমান। তারা যদি বলে: 'জান' শব্দের অর্থ হলো বাগান বা জান্নাত, তবে আমরা তাদের বলব: এতে বাক্যের অর্থ দাঁড়াবে: আল্লাহ সৃষ্টির পূর্বে জান্নাতের মধ্যে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। এটি একটি অযৌক্তিক ব্যাখ্যা, যা থেকে আল্লাহ তায়ালার কালাম পবিত্র। সুতরাং...

--------------------------------------------

(১) আদিপুস্তক ২: ৮
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
الأمرين لازم: إما أنه ليس من كلام الله تعالى، وإما ثبوت أن النبي صلى الله عليه وسلم في كتبهم. وأيهما كان فهو المطلوب.

 

‌‌‌‌فصل

يتبين فيه أن الله سبحانه وتعالى بشر أبانا إبراهيم عليه السلام بأن من ابن هاجر، وهو إسماعيل، يخرج محمد صلى الله عليه وسلم. والنص عندهم في ذلك:

«وليشيمعيل شمغثيخ ببني رحمتي أوثو ومريثسي أثو بماد ماد هينيم علسر نسيم يولذ وننثين تجوي جدول.» (1)

 

‌‌‌‌شرحه:

ودعوتك لإسماعيل مقبولة فأبارك فيه وأكبره وأنميه وأخرج منه محمدا. ويدل على اسم محمد صلى الله عليه وسلم قوله: «بماد ماد» لأن عدده اثنان وتسعون، ومحمد كذلك، وهذا مما يدل أنه صلى الله عليه وسلم موجود في كتبهم، وهم ينكرونه.

 

فصل

يتبين فيه أن آدم عليه السلام إنما خلقه الله سبحانه بسبب محمد. ونص ما ورد من ذلك في الحزب الأول من التوراة:

«ويأمر أذني ألوهيم هن هادم هيه كاحد ممنوا.»

 

شرحه:

وقال الله: إنني أخلق آدم ليخرج من ظهره أحمد ويكون كأحدكم. قال علماؤهم: يعني في الرتبة وأعلى. يدل على أحمد "هيه كاحد"

--------------------------------------------

(1) التكوين 17: 20
দুটি বিষয়ের একটি অনিবার্য: হয় এটি মহান আল্লাহর বাণী নয়, অথবা তাদের কিতাবসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতির বিষয়টি প্রমাণিত। আর এর যেকোনো একটিই কাম্য।

 

‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের পিতা ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে সুসংবাদ দিয়েছিলেন যে, হাজেরার সন্তান অর্থাৎ ইসমাইলের বংশ থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব ঘটবে। তাদের নিকট এ সংক্রান্ত পাঠটি হলো:

«আর ইসমাইলের ব্যাপারে আমি তোমার দোয়া কবুল করেছি; আমি তাকে বরকত দান করব, তাকে ফলবান করব এবং তাকে অত্যন্ত বৃদ্ধি করব; তার থেকে বারোজন রাজপুত্র জন্মগ্রহণ করবে এবং আমি তাকে একটি মহান জাতিতে পরিণত করব।» (১)

 

‌‌‌‌এর ব্যাখ্যা:

ইসমাইলের জন্য তোমার প্রার্থনা কবুল হয়েছে, সুতরাং আমি তাকে বরকত দান করব, তাকে বড় করব, তাকে সমৃদ্ধ করব এবং তার মধ্য থেকে মুহাম্মদকে বের করব। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের প্রতি নির্দেশ করে তাদের বক্তব্য: «বি-মাদ মাদ» (অত্যন্ত বৃদ্ধি করব); কারণ এর সংখ্যাতাত্ত্বিক মান বিরানব্বই, আর মুহাম্মদ নামের মানও তদ্রূপ। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান আছেন, অথচ তারা তা অস্বীকার করে।

 

পরিচ্ছেদ

এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আদম আলাইহিস সালামকে মুহাম্মদের কারণেই সৃষ্টি করেছেন। তাওরাতের প্রথম খণ্ডে এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার পাঠ হলো:

«এবং প্রভু ঈশ্বর বললেন, দেখ, মানুষ (আদম) আমাদের মতো একজনে পরিণত হয়েছে।»

 

এর ব্যাখ্যা:

আর আল্লাহ বললেন: আমি আদমকে সৃষ্টি করছি যেন তার বংশধারা থেকে আহমাদ আবির্ভূত হয় এবং সে তোমাদের মতো একজন হয়। তাদের পণ্ডিতগণ বলেন: অর্থাৎ মর্যাদার দিক থেকে এবং এর চেয়েও ঊর্ধ্বে। «হায়া কা-আহাদ» (একজনের মতো হওয়া) শব্দসমষ্টি আহমাদ নামের প্রতি নির্দেশ করে।

--------------------------------------------

(১) আদিপুস্তক ১৭: ২০
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
عدده ثلاثة وخمسون، وأحمد كذلك. وهذه القاعدة قد قررنا أنها من قواعدهم وأصولهم مما يبنون عليها فرائضهم في أكثر مسائل دينهم، وأنهم بدلوا ما كان من النصوص في هذا المعنى حسدا منهم لعنهم الله وأذلهم. وإن أرادوا نقض هذه القاعدة؛ قالوا: لا تستعمل في هذا المحل. قلنا لهم: تخصيصهم هذا المحل وما أشبهه بعد الاستعمال تخصيص من غير مخصص وهو باطل، وهم دائرون بين شيئين: إما رفض جميع ما بنوا على هذه القاعدة أو استعمالها فيما ذكرنا، وأيهما كان فهو مقو لمطلوبنا ومنتج لدليلنا. ثم نولد عليهم سؤالا ونقول لهم: أنتم مقلدون لعلمائكم، متبعون لهم في أقوالهم وأفعالهم فأتونا بنص من موضوعاتهم ينبئ بأن هذه القاعدة لا تستعمل في هذا المحل. فما لهم جواب عن هذا أصلا إذ لم ينص أحد من أحبارهم على ما راموه. واذا علم النص وجب الرجوع إلى القاعدة الأولى والانقياد إليها، وهو واضح لا ينازع فيه إلا مكابر جاهل. والتوفيق بيد الله.

 

‌‌فصل

يذكر فيه أن محمدا صلى الله عليه وسلم خير خير من كل ما خلق الله، وصلواته خير من كل الصلوات، ونص ما في التوراة من ذلك في الحزب الأول منها:

«اوير ألوهيم إث كل أشر جسا وهته طوب ماد.» (1)

 

‌‌شرحه:

وعلم الله كل ما خلق، وأن خيرهم أحمد، والخمس صلوات والجمعة والعيدان. ويؤخذ ذلك من قوله: وهته. لأن عدده ستة وستون

--------------------------------------------

(1) التكوين 1: 31
এর সংখ্যা হলো তিপ্পান্ন, আর আহমাদ শব্দটিও তদ্রূপ। আর আমরা ইতিপূর্বেই সিদ্ধান্ত দিয়েছি যে, এই মূলনীতিটি তাদের এমন সব কায়দা ও উসূলের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর ভিত্তি করে তারা তাদের ধর্মের অধিকাংশ বিষয়ের বিধিবিধান প্রণয়ন করে। তারা এই সংক্রান্ত বিদ্যমান পাঠ্যসমূহকে তাদের বিদ্বেষবশত পরিবর্তন করে ফেলেছে; আল্লাহ তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করুন এবং তাদের লাঞ্ছিত করুন। যদি তারা এই নিয়মটি ভঙ্গ করতে চায়, তবে তারা বলে: এই স্থানে এটি প্রযোজ্য নয়। আমরা তাদের বলি: ব্যবহারের পর কোনো প্রকার নির্দিষ্টকারী ছাড়াই এই স্থান বা অনুরূপ স্থানসমূহকে নির্দিষ্ট করা একটি ভিত্তিহীন কাজ এবং তা বাতিল। তারা এখন দুটি বিষয়ের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে: হয় তাদের এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে যা কিছু গড়ে উঠেছে তা বর্জন করতে হবে, অথবা আমরা যা উল্লেখ করেছি তাতে এটি প্রয়োগ করতে হবে। আর এর যে কোনোটিই আমাদের দাবির পক্ষে শক্তি জোগাবে এবং আমাদের প্রমাণের অনুকূলে ফলাফল প্রদান করবে। অতঃপর আমরা তাদের প্রতি একটি প্রশ্ন উত্থাপন করি এবং তাদের বলি: তোমরা তোমাদের আলেমদের অনুসারী, তাদের কথা ও কাজে তোমরা তাদের অনুসরণ করে থাকো; সুতরাং তোমরা তাদের রচিত গ্রন্থাদি থেকে এমন কোনো উদ্ধৃতি নিয়ে এসো যা সংবাদ দেয় যে, এই মূলনীতিটি এই ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে না। আসলে এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো জবাব নেই, কারণ তাদের কোনো পণ্ডিতই তাদের এই উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি। আর যখন বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেল, তখন প্রথম মূলনীতির দিকে ফিরে যাওয়া এবং তার আনুগত্য করা আবশ্যক হয়ে পড়ল। বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, কোনো অহংকারী মূর্খ ছাড়া আর কেউ এতে বিতর্ক করবে না। আর তাওফিক তো আল্লাহরই হাতে।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টির চেয়ে উত্তম এবং তাঁর সালাতসমূহ সকল সালাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তাওরাতের প্রথম ভাগে এ সংক্রান্ত যে পাঠ রয়েছে তা নিম্নরূপ:

«আর আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা দেখলেন এবং দেখুন, তা অত্যন্ত উত্তম ছিল।» (১)

 

‌‌এর ব্যাখ্যা:

আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজগত সম্পর্কে সম্যক অবগত, এবং তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন আহমাদ, আর শ্রেষ্ঠ হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, জুমা ও দুই ঈদ। এটি তাঁর বাণী ‘ওয়াহিন্নেহ’ (এবং দেখুন) থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ এর সংখ্যা হলো ছেষট্টি।

--------------------------------------------

(১) আদিপুস্তক ১: ৩১
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
منها لأحمد ثلاثة وخمسون، وللجمعة ستة لأنها سادس الأيام، وخمس للخمس صلوات، واثنان للعيدان. وهذا‌‌ فصل حسن مظهر لما فيه من العهد لإنكار محمد صلى الله عليه وسلم وما جاء به. ولو أنهم نظروا لأنفسهم بعين البصيرة وتبصروا في لفظه: "وهته" التي في توراتهم وبحثوا عن تفسيره وكيف كان النص قبل تبديله وأجروه الآن على عادتهم فيهتدون إلى الحق المستقيم ويتعبدون بالدين القويم. وما زلت أتكلم معهم قبل إسلامي وأبين لهم ما قررته الآن فيخرسون ولا يجيبون بشيء. فإذا قيل هذا الفصل لا يتضمن اتباع شريعته صلى الله عليه وسلم ولا أنها ناسخة لكل الأديان. قلنا: نعم ولكن المقصود الأعظم من هذا الفصل إنما هو الإقرار بمحمد صلى الله عليه وسلم مذكور في كتبهم، وأما كون شريعته ناسخة لجميع الشرائع فيأتي ذلك إن شاء الله تعالى. واذا سألت عن هذا فلا بد من البحث معك فيه. فنقول:

إن قولهم في النص: خيرهم أحمد يقتضي أنه أفضل الخلق، ولكن هذه الصيغة لا تدل على عدم فضيلة المفضول بل تدل على فضيلته، ونحن نقول بفضيلة الأنبياء عليهم السلام وأن محمدا هو أفضلهم، وما جاء به أفضل مما جاء به غيره.

 

فصل

يذكر فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنه من ذرية إبراهيم عليه السلام، والنص في ذلك من التوراة:

«ويومر أدني إل إبرم لخ لخ مئوصخ ومئمرار تخ ومبت أبيخ إل هارص أشر إرايك وإيمسخ لجوي جدول، وأبارصخ واعدالاه شميخ وهي
এর মধ্যে 'আহমাদ' শব্দের জন্য তিপ্পান্ন, জুমার জন্য ছয়—কেননা এটি ষষ্ঠ দিন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য পাঁচ, এবং দুই ঈদের জন্য দুই। এটি একটি চমৎকার পরিচ্ছেদ যা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা অস্বীকার করার ব্যাপারে তাদের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা স্পষ্ট করে। তারা যদি নিজেদের জন্য অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে লক্ষ্য করত এবং তাদের তাওরাতে বিদ্যমান "ওয়াহেতে" শব্দটির ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা করত, আর এর ব্যাখ্যা এবং পরিবর্তনের পূর্বে মূল পাঠটি কেমন ছিল তা অনুসন্ধান করত এবং বর্তমানে তাদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এটি প্রয়োগ করত, তবে তারা সঠিক পথের দিশা পেত এবং সুদৃঢ় দ্বীনের ইবাদত করত। আমার ইসলাম গ্রহণের পূর্বেও আমি তাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতাম এবং এখন যা সাব্যস্ত করেছি তা তাদের নিকট স্পষ্ট করতাম, ফলে তারা নির্বাক হয়ে যেত এবং কোনো উত্তর দিতে পারত না। যদি বলা হয় যে, এই পরিচ্ছেদটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শরিয়ত অনুসরণ করাকে অন্তর্ভুক্ত করে না এবং এটি যে সমস্ত ধর্মকে রহিতকারী তাও প্রমাণ করে না—তবে আমরা বলব: হ্যাঁ, কিন্তু এই পরিচ্ছেদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাদের কিতাবসমূহে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উল্লেখ থাকার বিষয়টি স্বীকার করা। আর তাঁর শরিয়ত যে সমস্ত শরিয়তের রহিতকারী, তা ইনশাআল্লাহ সামনে আলোচিত হবে। আর আপনি যখন এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন, তখন আপনার সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করা আবশ্যক। আমরা বলি:

মূল পাঠে তাদের উক্তি: "তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন আহমাদ" এটি দাবি করে যে তিনি সৃষ্টির সেরা। তবে এই শব্দবিন্যাসটি অন্য কারো শ্রেষ্ঠত্ব না থাকাকে বুঝায় না, বরং তাদেরও শ্রেষ্ঠত্ব নির্দেশ করে। আর আমরা নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস করি এবং বিশ্বাস করি যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, আর তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা অন্যদের আনীত বিষয়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

 

পরিচ্ছেদ

এতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা এবং তিনি যে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর তা উল্লেখ করা হয়েছে। তাওরাতে এ সংক্রান্ত পাঠ হলো:

«আর প্রভু ইব্রাহিমকে বললেন: তুমি তোমার দেশ থেকে, তোমার জন্মভূমি থেকে এবং তোমার পিতার ঘর থেকে সেই দেশে বেরিয়ে যাও যা আমি তোমাকে দেখাব। আমি তোমাকে এক মহান জাতিতে পরিণত করব, তোমাকে বরকত দান করব এবং তোমার নামকে মহিমান্বিত করব এবং তুমি হবে...»
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
براخه، وأبرخس مبار خبخه وممللخ أوور وثبار فخه كل مشجيوت هادما.» (1)

 

‌‌شرحه:

وقال الله لإبراهيم: امض من بلادك وبيت أبيك إلى الأرض التي أريك، وأخلق من ذريتك محمدا، وأبارك فيه وأعظم اسمه. وسيكون بركه وأبارك فيمن يتبرك به، وألعن من سبه. (ويعظمه الأكثر من مخلوقات العالم).

 

وهذا‌‌ فصل بديع باتر لحججهم، لأن هذه الأوصاف لم توجد إلا في النبي صلى الله عليه وسلم، والبركة والحمد ظاهرة في أمته. وما من اسم أعظم من اسمه صلى الله عليه وسلم. وهؤلاء اليهود لعنهم الله الطاعنون عليه قد ضربت عليهم الذلة والمسكنة وباؤوا بغضب من الله ولعنوا أين ما كانوا. وهذا الموضع من النص لا يصلح أن يكون فيه إلا محمد صلى الله عليه وسلم ولا يليق بهذا المحل غيره. ولا يمكن لفظ يعني بعدد "لجوي جدول" إلا محمد صلى الله عليه وسلم. وقد بينا أن هذه قاعدة من قواعدهم بما يغني عن التكرار.

فصل

من نوع ما تقدم، ويذكر فيه قضية إبراهيم مع الخمسة ملوك الذين سبوا لوطا، وأن الله تعالى أوحى إليه بأنه لا يخاف لأن محمدا عضده وترسه. والنص في ذلك في السفر الأول من التوراة:

«هيا دبر أدني إل ابرم بامجديني ليموز أن تيرا أبرم أنوخي مجن لخ صخار خاصر بي ماد.» (2)

--------------------------------------------

(1) التكوين 12: 1 - 3

(2) التكوين 15: 1
আমি তোমাকে আশীর্বাদ করব, যারা তোমাকে আশীর্বাদ করে আমি তাদের আশীর্বাদ করব এবং যে তোমাকে অভিশাপ দেয় আমি তাকে অভিশাপ দেব; আর পৃথিবীর সমস্ত জাতি তোমার মাধ্যমে বরকতপ্রাপ্ত হবে। (১)

 

‌‌এর ব্যাখ্যা:

আল্লাহ ইব্রাহিমকে বললেন: তুমি তোমার দেশ ও তোমার পিতার গৃহ হতে সেই ভূমির দিকে যাত্রা করো যা আমি তোমাকে দেখাব; আমি তোমার বংশধরদের মধ্য হতে মুহাম্মদকে সৃষ্টি করব, তাঁকে বরকতময় করব এবং তাঁর নামকে মহান করব। তিনি হবেন আশিসস্বরূপ; যে তাঁর মাধ্যমে বরকত কামনা করবে আমি তাকে বরকত দান করব, আর যে তাঁকে গালি দেবে আমি তাকে অভিশাপ দেব। (এবং জগতের অধিকাংশ সৃষ্টিই তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা করবে)।

 

এটি একটি চমৎকার পরিচ্ছেদ যা তাদের সমস্ত যুক্তি খণ্ডন করে দেয়; কারণ এই বৈশিষ্ট্যগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত আর কারো মধ্যে পরিলক্ষিত হয় না। তাঁর উম্মতের মাঝে বরকত ও প্রশংসা সুস্পষ্ট। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামের চেয়ে মহান আর কোনো নাম নেই। আর এই ইয়াহুদিরা—আল্লাহ তাদের প্রতি লানত বর্ষণ করুন—যারা তাঁর সমালোচনা করে, তাদের ওপর লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্য আপতিত হয়েছে, তারা আল্লাহর ক্রোধের শিকার হয়েছে এবং যেখানেই তারা থাকুক অভিশপ্ত হয়েছে। উদ্ধৃতির এই স্থানটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো জন্য প্রযোজ্য হতে পারে না এবং এই পদের জন্য তিনি ছাড়া অন্য কেউ উপযুক্ত নয়। এমনকি 'লগোই গাদোল' (একটি মহান জাতি) শব্দটির সংখ্যাতাত্ত্বিক মান অনুযায়ীও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত অন্য কাউকে বোঝানো অসম্ভব। আমরা ইতোমধ্যেই বর্ণনা করেছি যে, এটি তাদের একটি মূলনীতি, যা পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।

পরিচ্ছেদ

এটি পূর্ববর্তী বিষয়েরই অনুরূপ, যেখানে লূতকে বন্দিকারী পাঁচ রাজার সাথে ইব্রাহিমের ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে; সেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁর নিকট ওহি প্রেরণ করেছিলেন যে, তিনি যেন ভয় না পান, কারণ মুহাম্মদ তাঁর সাহায্যকারী ও ঢালস্বরূপ। তাওরাতের প্রথম খণ্ডে (আদিপুস্তক) এই সংক্রান্ত উদ্ধৃতিটি হলো:

«এই সকল ঘটনার পর ইব্রাহিমের নিকট মহান আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হলো এবং তিনি বললেন: হে ইব্রাহিম, ভয় পেয়ো না; আমিই তোমার ঢাল এবং তোমার পুরস্কার হবে অত্যন্ত মহান।» (২)

--------------------------------------------

(১) আদিপুস্তক ১২: ১-৩

(২) আদিপুস্তক ১৫: ১
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌شرحه:

كان خطاب الله لإبراهيم في الوحي أن قال له: لا تخف يا إبراهيم، أنا ومحمد ترس لك. ويدل على ذلك لفظ مَجَن الذي في النص لأن عدده ثلاثة وتسعون، لاسم محمد اثنان وتسعون والواحد الباقي من العدد للواحد الباقي سبحانه الفرد الصمد، ويدل أيضا أنه صلى الله عليه وسلم أشرف الخلق وأفضلهم وأعلاهم لأن الله تعالى هدن روعته، أعني إبراهيم عليه السلام، بأنه هو ومحمد صلى الله عليه وسلم ترس له، لا سيما وهو لم يكن في الوجود، فمن رزقه الله شيئا من العقل ونظر في مثل هذا وتأمله لا شك أنه يرجع إلى الحق وينقاد إلى الطريقة المثلى، ومن سبق له الشقاء والعياذ بالله فلا ينفعه عقله بشيء، بل يضره كل الضرر ويزين له سوء عمله فيراه حسنا. نعوذ بالله من الخذلان ونسأله العفو والغفران وهو حسبنا ونعم الوكيل.

 

‌‌فصل

يذكر فيه لما خلق الله سبحانه وتعالى إسحاق عليه السلام أخذت سارة غيرة، فما زالت تحاول على إبراهيم حتى انتقل بهاجر إلى مكة مع ولدها إسماعيل. وكان ذلك سابقا في علم الله أن إسماعيل يتربى في مكة ليخلق هناك محمد صلى الله عليه وسلم، فلما صرفها إلى مكة تاهت في الطريق وعطش إسماعيل فبعث الله إليها ملكا وأراها ماء زمزم وقال لها: قومي ارفعي ابنك إسماعيل وسيخرج منه محمد صلى الله عليه وسلم. والنص في ذلك من التوراة:

«قومي سات إث هنعر يحيى لجوي جدول اسمي.» (1)

--------------------------------------------

(1) التكوين 21: 18
এর ব্যাখ্যা:

ওহীর মাধ্যমে ইব্রাহীমের প্রতি আল্লাহর বাণী ছিল এই যে, তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "হে ইব্রাহীম, তুমি ভয় পেয়ো না, আমি এবং মুহাম্মদ তোমার জন্য ঢালস্বরূপ।" উক্ত পাঠ্যে ব্যবহৃত 'মাজান' (ঢাল) শব্দটি একথারই প্রমাণ দেয়, কারণ এর সংখ্যামান হলো তিরানব্বই। 'মুহাম্মদ' নামের সংখ্যামান বিরানব্বই এবং অবশিষ্ট এক হলো সেই অবিনশ্বর সত্তার জন্য, যিনি মহান, একক ও অমুখাপেক্ষী। এটি আরও প্রমাণ করে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সৃষ্টির মাঝে সর্বাধিক সম্মানিত, শ্রেষ্ঠ ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন; কারণ আল্লাহ তাআলা ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর উদ্বেগ প্রশমিত করেছিলেন এই বলে যে, তিনি এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য ঢাল হবেন, বিশেষ করে যখন তিনি (মুহাম্মদ) তখনও পৃথিবীতে সশরীরে বিদ্যমান ছিলেন না। সুতরাং যাকে আল্লাহ তাআলা সামান্যতম বিচারবুদ্ধি দান করেছেন এবং সে যদি এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করে, তবে কোনো সন্দেহ নেই যে সে সত্যের দিকে ফিরে আসবে এবং সর্বোত্তম পথের অনুসারী হবে। আর যার ভাগ্যে পূর্ব থেকেই দুর্ভাগ্য নির্ধারিত রয়েছে—আমরা আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই—তার বিবেক-বুদ্ধি তার কোনো উপকারে আসবে না, বরং তা তার চরম ক্ষতির কারণ হবে এবং তার নিকট তার মন্দ কাজগুলোকে সুশোভিত করবে, ফলে সে সেগুলোকে উত্তম মনে করবে। আমরা আল্লাহর কাছে লাঞ্ছনা থেকে আশ্রয় চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করি। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।

 

পরিচ্ছেদ

এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইসহাক (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করলেন, তখন সারার মনে ঈর্ষা জাগ্রত হলো। তিনি ইব্রাহীমের নিকট ক্রমাগত দাবি জানাতে থাকেন, অবশেষে তিনি হাজেরাকে তাঁর পুত্র ইসমাইলসহ মক্কায় নিয়ে গেলেন। আল্লাহর জ্ঞানে এটি পূর্বনির্ধারিত ছিল যে, ইসমাইল মক্কায় লালিত-পালিত হবেন যেন সেখানে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মগ্রহণ করেন। যখন তিনি তাঁকে মক্কায় নিয়ে গেলেন, তখন হাজেরা পথ হারিয়ে ফেললেন এবং ইসমাইল তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লেন। তখন আল্লাহ তাঁর নিকট একজন ফেরেশতা পাঠালেন এবং তাঁকে জমজমের পানি দেখালেন। ফেরেশতা তাঁকে বললেন: "উঠুন, আপনার পুত্র ইসমাইলকে তুলে নিন, অচিরেই তাঁর বংশ হতে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবির্ভূত হবেন।" তওরাত শরিফে এ সম্পর্কিত পাঠ্যটি হলো:

«উঠুন, বালকটিকে তুলে ধরুন; আমি তাকে এক মহান জাতিতে পরিণত করব।’» (১)

--------------------------------------------

(১) আদিপুস্তক ২১: ১৮
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌‌‌شرحه:

ارفع الغلام إن محمدا يخرج منه. يدل على ذلك قوله لجوي جدول. وهذا أيضا دليل واضح عليهم لا يفتقر إلى بيان لوضوحه فافهمه.

 

‌‌فصل

يذكر فيه أن إبراهيم عليه السلام أنه كان يصلي بمكة حسبما شهدت بذلك نصوصهم فمن ذلك:

«ويسع أبرم هلوخ ونسوع هنجبه.»

 

شرحه:

وكان إبراهيم عليه السلام في أكثر رحيله إنما يرحل إلى مكة، وقوله في النص "هنجبه": عدده مكة، فإن قيل ما الدليل في هذا النص؟ فالجواب أن اليهود لعنهم الله يزعمون أنهم على ملة إبراهيم وأنهم أولى بها من غيرهم. وإبراهيم عليه السلام كان يصلي بمكة ويرحل إليها، وهؤلاء اليهود لعنهم الله تعالى ودمرهم لا يذكرون مكة بشفة ولا بلسان، فقد تناقض قولهم مع حالهم واختلوا، وصارت دعاويهم مجردة لا يوافقها عملهم. وقد دل النص أنهم إذا غير متبعين لإبراهيم. والمسلمون وفرهم الله تعالى متبعون له، وما من أمة تسير إلى مكة وتعمل الرحلة إليها وتعتني بها إلا أمة محمد صلى الله عليه وسلم (فهم المتبعون لإبراهيم وعلى ملته حقيقة والله ولي التوفيق).
‌‌‌এর ব্যাখ্যা:

বালকটিকে উত্তোলন করো, কেননা মুহাম্মদ তাঁর থেকেই নির্গত হবেন। ‘গুই গাদল’ (এক মহান জাতি) সম্পর্কিত তাঁর উক্তি এর প্রমাণ বহন করে। এটি তাদের বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট দলিল যা এর স্বচ্ছতার কারণে কোনো ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়, তাই এটি অনুধাবন করো।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম মক্কায় সালাত আদায় করতেন, যেমনটি তাদের ধর্মগ্রন্থসমূহের পাঠ্যসমূহ সাক্ষ্য দেয়। তার মধ্যে একটি হলো:

«অতঃপর আব্রাম যাত্রা করলেন এবং ক্রমশ দক্ষিণ অভিমুখে (মক্কার দিকে) অগ্রসর হলেন।’»

 

এর ব্যাখ্যা:

ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাঁর অধিকাংশ সফরে মক্কার দিকেই যাত্রা করতেন। আর মূল পাঠের "হানাজবাহ" (দক্ষিণ দিক) শব্দটির দ্বারা মক্কাকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, এই পাঠে প্রমাণ কী? তবে উত্তর হলো: ইহুদিরা—আল্লাহর অভিশাপ তাদের ওপর বর্ষিত হোক—দাবি করে যে তারা ইব্রাহিমের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং অন্যদের তুলনায় তারাই এর অধিক হকদার। অথচ ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম মক্কায় সালাত আদায় করতেন এবং সেখানে সফর করতেন। কিন্তু এই ইহুদিরা—আল্লাহ তাআলা তাদের অভিশাপ দিন ও ধ্বংস করুন—তাদের মুখে বা জিহ্বায় মক্কার কথা উল্লেখও করে না। ফলে তাদের দাবি তাদের অবস্থার সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়েছে এবং তারা লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে। তাদের দাবিগুলো নিছক অন্তঃসারশূন্য উক্তিতে পরিণত হয়েছে, যার সাথে তাদের কর্মের কোনো মিল নেই। এই পাঠ এটিই প্রমাণ করে যে, তারা ইব্রাহিমের অনুসারী নয়। পক্ষান্তরে মুসলিমরা—আল্লাহ তাআলা তাদের সমৃদ্ধ করুন—তাঁরই অনুসারী। উম্মতে মুহাম্মাদি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত এমন কোনো জাতি নেই যারা মক্কার দিকে যাত্রা করে, সেখানে সফর করে এবং এর প্রতি বিশেষ যত্নশীল হয়। (কাজেই প্রকৃতার্থে তারাই ইব্রাহিমের অনুসারী এবং তাঁর আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর আল্লাহই সঠিক পথের দিশারি)।
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌الباب الثاني: في نسخ دينه عليه الصلاة والسلام لجميع الأديان

يتبين فيه أن الله سبحانه وتعالى قال لموسى عليه السلام سأبعث نبيا من قرابة بني إسرائيل واسمه محمد وأنسخ بشريعته شرائعهم وننسخ السبت بيوم الجمعة والنص في ذلك:

«نبيء أقيم لهم مقرب أخيهم كموخ ونتتي دبري يفح ودبر إليهم إث كل ابشرا موض بنؤا.»

شرحه: سيقوم نبي (من قرابة إخوان بني إسرائيل وهو نبي) مثلي وأجعل خطابي فيه ويتكلم بجميع ما آمره به.

ويدل على اسم محمد قوله في النص: "يفح" إذ عدده ثمانية وتسعون يختص منها اسم محمد صلى الله عليه وسلم باثنين وتسعين والباقي يدل على الجمعة، لأنها في سادس الأيام. وهذه الجملة تدل أن دينه عليه السلام ناسخ لجميع الأديان ولذلك أتينا بهذا الباب عقب الباب الأول على أنه صلى الله عليه وسلم موجود في كتبهم، لأنه ربما قالوا في الباب الأول إنا نسلم أنه موجود في كتبنا ولا نسلم أن دينه ناسخ لجميع الأديان،
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ধর্ম কর্তৃক পূর্ববর্তী সকল ধর্ম রহিতকরণ প্রসঙ্গে

এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে বলেছেন, "আমি বনী ইসরাঈলের নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে একজন নবী প্রেরণ করব, তাঁর নাম হবে মুহাম্মদ। আমি তাঁর শরীয়ত দ্বারা তাদের পূর্ববর্তী সকল শরীয়ত রহিত করব এবং শনিবারের পরিবর্তে জুমার দিনকে নির্ধারণ করব।" এ সংক্রান্ত মূল পাঠ্যটি হলো:

«আমি তাদের জন্য তাদের ভাইদের মধ্য থেকে তোমার মতো একজন নবী উত্থিত করব, তাঁর মুখে আমি আমার বাণী স্থাপন করব এবং আমি তাঁকে যা আদেশ করব তিনি তাদের কাছে তা-ই ব্যক্ত করবেন।’»

এর ব্যাখ্যা: অচিরেই একজন নবীর আবির্ভাব ঘটবে (যিনি বনী ইসরাঈলের ভাইদের মধ্য থেকে আমার মতো একজন নবী হবেন) এবং আমি তাঁর মধ্যে আমার প্রত্যাদেশ অর্পণ করব, আর আমি তাঁকে যা নির্দেশ দেব তিনি তার সবই ব্যক্ত করবেন।

আর উক্ত পাঠ্যে উল্লেখিত "ইয়াফাহ" শব্দটি 'মুহাম্মদ' নামের প্রতি ইঙ্গিত করে; কেননা এর গাণিতিক মান হলো আটানব্বই। এর মধ্যে "মুহাম্মদ" (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামের জন্য নির্ধারিত মান হলো বিরানব্বই এবং অবশিষ্ট (ছয়) জুমার দিনের প্রতি নির্দেশ করে, কারণ এটি সপ্তাহের ষষ্ঠ দিন। এই বাক্যটি প্রমাণ করে যে, তাঁর (আলাইহিস সালাম) ধর্ম সকল ধর্মের রহিতকারী। এই কারণেই আমরা প্রথম পরিচ্ছেদে তাঁদের কিতাবসমূহে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপস্থিতির বিবরণের পরপরই এই পরিচ্ছেদটি এনেছি। কারণ, প্রথম পরিচ্ছেদের প্রেক্ষিতে তাঁরা হয়তো বলতে পারত যে, "আমরা স্বীকার করি যে তিনি আমাদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান আছেন, কিন্তু আমরা এটা স্বীকার করি না যে তাঁর ধর্ম সকল ধর্মকে রহিতকারী।"
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
فيستدل عليهم بهذا الباب. وقوله في النص هو نبيء مثلك يصح باعتبار أن كل نبي منهم كريم على الله تعالى وكون النبي محمد صلى الله عليه وسلم أفضل الأنبياء فمعلوم مقرر ولا يحتاج إلى شيء. وقوله: وأجعل خطابي في فيه إشارة إلى أنه كان أميا لا يقرأ ولا يكتب وهو أكبر معجزاته صلى الله عليه وسلم، وهذا يدل على تصديق استدلالنا وصحته لأنه لا نبيء بعده ولا نبيء على هذه الصفة سواه. وفيه أيضا دلالة على فضيلته صلى الله عليه وسلم إذ ظهرت على يديه الآيات والمعجزات الخارقات للعادات، لم يظهر على يد نبي من أنبياء الله تعالى ولم يأت بها أحد منهم، مع أنه ليس من الكاتبين ولا من الحاسبين.

 

‌‌فصل

يتبين فيه أن موسى عليه السلام قال لبني إسرائيل: احضروا بالكمر سيأتي في آخر الزمان نبي اسمه مقارن لاسم ربه فاتبعوه واسمعوا منه وأطيعوه والنص في ذلك:

«نبيء مقر وبيخ مياميخ كمويني يقيم لمخ أذني آلوهيخ إلو تسمعون.» (1)

 

‌‌شرحه:

نبيء من قرابة إخوانكم مثلي يبعثه الله ربكم، منه تسمعون.

وهذا أيضا يرد عليهم لأنهم يزعمون أنهم متبعون لموسى عليه السلام، وقد أمرهم باتباع محمد صلى الله عليه وسلم، فلم يتبعوه، بل كفروا وضلوا عما أمرهم به، وعصوا الجميع لكونهم لم يتبعوا موسى عليه السلام فيما أمرهم به ولا محمدا صلى الله عليه وسلم فيما أخبرهم به ودعاهم إليه.

--------------------------------------------

(1) التثنية 18: 18
অতএব, এই পরিচ্ছেদের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করা যায়। এবং মূল পাঠ্যে তাঁর এই বাণী— "তিনি তোমার মতো একজন নবী"—এই হিসেবে সঠিক যে, তাদের প্রত্যেক নবীই মহান আল্লাহর নিকট সম্মানিত। আর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে সকল নবীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, তা একটি সুবিদিত ও প্রতিষ্ঠিত সত্য এবং এর জন্য নতুন কোনো প্রমাণের প্রয়োজন নেই। আর তাঁর বাণী: "আমি আমার কালাম তাঁর মুখে অর্পণ করব"—এটি এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে যে, তিনি উম্মি (নিরক্ষর) ছিলেন, যিনি পড়তে বা লিখতে পারতেন না; আর এটিই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা। এটি আমাদের উপস্থাপিত দলিলের সত্যতা ও সঠিকতা প্রমাণ করে, কারণ তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই এবং এই গুণাবলি সম্পন্ন তিনি ব্যতীত আর কেউ নেই। এতে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শ্রেষ্ঠত্বেরও প্রমাণ রয়েছে, কেননা তাঁর হস্ত মোবারকে এমন সব অলৌকিক নিদর্শন ও অভ্যাস বহির্ভূত মুজিজা প্রকাশ পেয়েছে, যা মহান আল্লাহর অন্য কোনো নবীর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি এবং তাঁদের কেউ তা নিয়ে আসেননি; অথচ তিনি লেখক বা গণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

এতে স্পষ্ট হয় যে, মুসা (আলাইহিস সালাম) বনী ইসরাঈলকে বলেছিলেন: তোমরা মনোযোগী হও, শেষ জামানায় এমন একজন নবীর আগমন ঘটবে যাঁর নাম তাঁর রবের নামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে; সুতরাং তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, তাঁর কথা শ্রবণ করো এবং তাঁর আনুগত্য করো। এ সম্পর্কিত মূল পাঠ্যটি হলো:

«নাবিউন মাক্বার বিখ মায়ামিখ কামুইনি ইউক্বিমু লাখু আদানি আলুহিখ ইলু তাসমাউন।» (১)

 

‌‌এর ব্যাখ্যা:

তোমাদের ভাইদের বংশধরদের মধ্য থেকে আমার মতো একজন নবীকে তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ প্রেরণ করবেন, তোমরা তাঁর কথা শ্রবণ করবে।

এটিও তাদের দাবিকে খণ্ডন করে, কারণ তারা দাবি করে যে তারা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর অনুসারী; অথচ তিনি তাদের মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা তাঁর অনুসরণ করেনি, বরং কুফরি করেছে এবং যা নির্দেশিত হয়েছিল তা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তারা প্রত্যেকেরই অবাধ্য হয়েছে, কেননা তারা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর নির্দেশিত বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করেনি এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা সংবাদ দিয়েছেন ও যার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তাতেও তাঁর অনুসরণ করেনি।

--------------------------------------------

(১) দ্বিতীয় বিবরণ ১৮: ১৮
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌‌‌فصل

يذكر فيه أن في التوراة مذكور أن من لم يؤمن ويسمع من النبي صلى الله عليه وسلم أن الله خصيمه والنص في ذلك:

«وهيامايش أشر أو بشمع إل دبر وأيشر يعبر بشمي أنوخي إدروش معمو.»

 

‌‌‌‌شرحه:

ويكون الشخص الذي لا يسمع من هذا النبي الذي يتكلم باسمي إني أعاقبه.

ومعنى ما وقع في الشرح أنه يتكلم باسمي، أي أنه في جميع كلامه وفي أوائل السور: بسم الله الرحمن الرحيم، ولم يوجد في سائر الكتب المنزلة على الأنبياء عليهم السلام: بسم الرحمن الرحيم إلا فيما نزل على الرسول المصطفى صلى الله عليه وسلم.

 

فصل

يتبين فيه أن أشعياء النبي عليه السلام ذكر في كتابه المنزل عليه بزعمهم نبوءة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم وأن دينه ناسخ لجميع الأديان، ونص ما في كتاب أشعياء من ذلك:

«من عبدي إثموخ، بو نحي، وحشا نفشي لو يروص بخيهي ولو يروص عن بسيم بأرض مشبط، وكثورثر اسم ينجلو.» (1)

 

شرحه:

هذا عبدي اسمك فيه مصطفاي ومختاري أجبلته لجلالي لا يتقلق ولا يجري حتى يجعل في الأرض دينا ولشريعته الأمم ينتظرون.

وبيانه أن هذا النبي الذي أمر أشعياء أن يمسك فيه إنما هو محمد صلى الله عليه وسلم لا غيره لأنه

--------------------------------------------

(1) أشعياء 42: 1
‌‌‌পরিচ্ছেদ

এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তওরাতে বর্ণিত আছে যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনবে না এবং তাঁর কথা শুনবে না, আল্লাহ স্বয়ং তার প্রতিপক্ষ হবেন। এ সংক্রান্ত মূল পাঠ্যটি হলো:

«যে ব্যক্তি আমার সেই নবীর কথা শুনবে না, যে আমার নামে কথা বলবে, আমি স্বয়ং তার থেকে এর হিসাব নেব বা তাকে শাস্তি দেব (হিতোপদেশ ১৮:১৯)»

 

‌‌‌‌এর ব্যাখ্যা:

আর যে ব্যক্তি এই নবীর কথা শুনবে না, যে আমার নামে কথা বলবে, আমি তাকে শাস্তি দেব।

ব্যাখ্যার মধ্যে যে কথাটি এসেছে—'তিনি আমার নামে কথা বলবেন'—এর অর্থ হলো তাঁর সমস্ত বক্তব্যে এবং সূরার শুরুতে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' (পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে) থাকা। রাসুল মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা ব্যতিরেকে অন্য কোনো নবীর ওপর অবতীর্ণ কিতাবসমূহে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' পাওয়া যায় না।

 

পরিচ্ছেদ

এতে সুস্পষ্ট করা হয়েছে যে, নবী ইশাইয়া (আলাইহিস সালাম) তাঁর ওপর অবতীর্ণ কিতাবে—তাদের দাবিমতে—আমাদের সরদার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর দ্বীন পূর্ববর্তী সকল ধর্মকে রহিতকারী। ইশাইয়ার কিতাবে এর পাঠ্য নিম্নরূপ:

«এই তো আমার বান্দা, যাকে আমি সমর্থন করি; আমার মনোনীত, যার ওপর আমার আত্মা সন্তুষ্ট। সে পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত নিস্তেজ হবে না এবং ভগ্নোৎসাহ হবে না; আর তাঁর শরীয়তের জন্য দ্বীপপুঞ্জ বা জাতিসমূহ অপেক্ষা করবে।» (১)

 

এর ব্যাখ্যা:

ইনি আমার বান্দা, তাঁর মধ্যে তোমার নাম রয়েছে; তিনি আমার মুস্তফা ও মনোনীত। আমি তাঁকে আমার মহিমার জন্য সৃষ্টি করেছি। তিনি অস্থির হবেন না এবং ক্ষান্ত হবেন না যতক্ষণ না পৃথিবীতে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁর শরীয়তের জন্য জাতিসমূহ প্রতীক্ষায় থাকবে।

এর বর্ণনা এই যে, ইশাইয়া যাকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতিরেকে অন্য কেউ নন; কারণ তিনি

--------------------------------------------

(১) ইশাইয়া ৪২: ১
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
هو المصطفى وهو المختار واليه كانت الأمم تنتظر، وبشر به الأنبياء قبل وجوده ولم يأت بعد أشعياء نبي ولا دين بهذا الوصف إلا دين محمد صلى الله عليه وسلم، ودليل هذا في النص: ينجلو. إذ هو في العدد أحمد والخمس صلوات، ويوم الجمعة سادس الأيام. وعلى هذا يقع عدد اللفظة المذكورة والله الموفق.

 

‌‌فصل

يذكر فيه أن موسى عليه السلام أوصى بني إسرائيل أن لا يزيدوا في شريعته ولا ينقصوا منها والنص غير ذلك:

«اث كل هز بر أشر أنخي مصور إثغم اؤثو تشمرون لعوث لوثوسيف علو ولو تعرم مصنوا.» (1)

 

‌‌شرحه:

جميع الأمر الذي نأمركم به تحفظونه لا تزيدوا عليه ولا تنقصوا منه.

فإن قيل ما وجه مساق هذا النص في نسخ الأديان: قلنا إن موسى عليه السلام أمرهم أن لا يزيدوا في شريعته ولا ينقصوا منها، ومن الذي أمر به في شريعته ألا يقربوا قربانا إلا بموضع القدس. ثم إن إليسع عليه السلام قرب قربانا بشمرون، وكان أهلها إذ ذاك يعبدون عجول الذهب من دون الله تعالى، فتقبل منه قربانه وبين بيت المقدس وشمرون مدة طويلة. واليهود لعنهم الله لم يزالوا يقربون قربانهم بشمرون، ورفضوا ما أمرهم به موسى عليه السلام من تقريبها بالقدس فربما احتجوا وقالوا أمرنا أن لا نزيد ولا ننقص مما أمرنا به. فيقال لهم: قد زدتم ونقصتم، ويحتج عليهم بما قررنا. فإما أن يلتزموا ذلك أو لا يلتزموه، فإن التزموه لزمهم نسخ دينهم،

--------------------------------------------

(1) التثنية 12: 32
তিনিই সেই মনোনীত (আল-মুস্তফা) এবং তিনিই নির্বাচিত (আল-মুখতার), আর জাতিসমূহ তাঁরই প্রতীক্ষায় ছিল। তাঁর অস্তিত্বের পূর্বেই নবীগণ তাঁর সম্পর্কে সুসংবাদ প্রদান করেছিলেন। ইশাইয়া (আঃ)-এর পর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ধর্ম ব্যতীত অন্য কোনো নবী বা ধর্ম এই বর্ণনায় আসেনি। আর এই পাঠে এর প্রমাণ হলো: ‘ইয়াঞ্জালো’ (Yanjalo)। কেননা সংখ্যাতাত্ত্বিক মানে এটি ‘আহমদ’, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এবং ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ জুমুআর দিনের সাথে মিলে যায়। উল্লেখিত শব্দের সংখ্যাগত মান এভাবেই বিন্যস্ত। আল্লাহই তাওফীকদাতা।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

এতে বর্ণিত হয়েছে যে, মূসা (আলাইহিস সালাম) বনী ইসরাঈলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তারা তাঁর শরীয়তে কোনো কিছু বৃদ্ধি না করে এবং তা থেকে কোনো কিছু হ্রাস না করে, কিন্তু পাঠ্যটি এর ভিন্নতা নির্দেশ করে:

«তোমাদেরকে আমি যা কিছু আদেশ করছি, তোমরা তা পালনে যত্নবান হও; তোমরা এর সাথে কোনো কিছু যোগ করবে না এবং তা থেকে কোনো কিছু বিয়োগ করবে না।’ (১)

 

‌‌এর ব্যাখ্যা:

আমি তোমাদেরকে যে সমস্ত নির্দেশ দিচ্ছি তা তোমরা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবে; এর ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করবে না এবং তা থেকে কোনো কিছু কমাবে না।

যদি প্রশ্ন করা হয় যে, ধর্ম রহিতকরণের (নাসখ) ক্ষেত্রে এই পাঠের উপস্থাপনার প্রেক্ষিত কী? তবে আমরা বলব: মূসা (আলাইহিস সালাম) তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তারা তাঁর শরীয়তে কোনো কিছু বৃদ্ধি না করে এবং তা থেকে কোনো কিছু হ্রাস না করে। অথচ তাঁর শরীয়তে যে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তা হলো—পবিত্র স্থান (বায়তুল মাকদিস) ব্যতীত অন্য কোথাও যেন তারা কুরবানি পেশ না করে। অতঃপর ইলীশা (আলাইহিস সালাম) সামারিয়ায় কুরবানি পেশ করেন, অথচ তখন সেখানকার অধিবাসীরা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত স্বর্ণের গোবৎস পূজা করত। এমতাবস্থায় তাঁর কুরবানি কবুল করা হয়েছিল, যদিও বায়তুল মাকদিস ও সামারিয়ার মধ্যে দীর্ঘ ব্যবধান ছিল। আর ইহুদিরা—আল্লাহ তাদের লানত করুন—সর্বদাই সামারিয়ায় কুরবানি করে আসছিল এবং বায়তুল মাকদিসে কুরবানি করার ব্যাপারে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নির্দেশকে তারা বর্জন করেছিল। তারা হয়তো এই বলে অজুহাত দেখাবে যে, ‘আমাদের যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাতে হ্রাস-বৃদ্ধি না করতে আমাদের আদেশ করা হয়েছে।’ তখন তাদের বলা হবে: তোমরা তো ইতিপূর্বেই এতে হ্রাস ও বৃদ্ধি ঘটিয়েছ; এবং আমাদের প্রতিষ্ঠিত প্রমাণের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তি খণ্ডন করা হবে। এখন তারা হয় এটি মেনে নেবে নতুবা অস্বীকার করবে। যদি তারা এটি মেনে নেয়, তবে তাদের ধর্ম রহিত হওয়া তাদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়বে।

--------------------------------------------

(১) দ্বিতীয় বিবরণ ১২: ৩২
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
وإن لم يلتزموه لزمهم عدم العمل بقضية إليسع، ومما يوضح ذلك أنهم كانوا يعرضون علي أعيادا ليست في شريعة موسى عليه السلام ولا في التوراة التي اأنزلت عليه، فزادوا عيدها، فإن المسمى عندهم توريم وقراءة سورة هامان وهي الآن من الفروض الواجبة عليهم. ونص ما هم يصلون به في هذا العيد المذكور:

«بروخ أنه إلوهيتو ملخ هنولم أشر قدح أنو بمصوثو، وحدنوا على مغر أمقيله.»

 

‌‌شرحه:

تبارك الله ربنا ملك العالم الذي خصنا بفرائضه وفرض علينا قراءة سورة هامان.

وبين هامان وزير أردشير، وبين موسى عليه السلام أزيد من الف سنة، فانظر هذا الذي حكيناه فإنه يناقض نصهم الذي أمروا فيه أن لا يزيدوا ولا ينقصوا منه. وانظر هؤلاء الكفار هل لهم عقل أو لا عقل لهم يتبعون أقوال الأغبياء ويتركون الحق الواضح. وهذا ومثله يدل على ان كل ما يعتقدونه فاسد، وكذلك جميع ما في توراتهم أنهم لا يؤمنون على شيء وقد تناقضوا أيضا في محل آخر وذلك في توراتهم أنهم أمروا بأن لا يخرج أحد منهم يوم السبت ولا يتحرك من مكانه، وما عندهم في ذلك إباحة، ثم إن علماءهم أباحوا لهم أن يجعلوا خشبة في دورهم لتبيح لهم الخروج ويعتقدون أن ذلك فرض عليهم، وهذا تناقض أعظم من الأول. وكون الخشبة تبيح لهم الخروج هذا غير معقول المعنى بل يعبثون ويعتقدون اعتقادا فاسدا ويتبعون أهواءهم ويقولون نحن متبعون لموسى عليه السلام، وهم كاذبون. وكذلك أمروا بأن لا يشعلوا نارا يوم السبت
যদি তারা এটি মেনে না নেয়, তবে আল-ইয়াসা'র বিষয় অনুযায়ী আমল না করা তাদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে। যা এই বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে তা হলো, তারা আমার সামনে এমন কিছু উৎসব তুলে ধরত যা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর শরিয়তে নেই এবং তাঁর ওপর অবতীর্ণ তাওরাতেও নেই। তারা এতে নতুন উৎসব যুক্ত করেছে; তাদের কাছে যা 'পুরিম' নামে পরিচিত এবং হামানের সূরা পাঠ করা বর্তমানে তাদের ওপর আবশ্যকীয় বিধানের অন্তর্ভুক্ত। উক্ত উৎসবে তারা যে প্রার্থনা পাঠ করে তার মূল পাঠ হলো:

«বরকতময় আমাদের উপাস্য, বিশ্বজগতের অধিপতি, যিনি আমাদের তাঁর বিধিনিষেধ দ্বারা পবিত্র করেছেন এবং আমাদের ওপর মেগিলাহ (হামানের সূরা) পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন।»

 

‌‌এর ব্যাখ্যা:

আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ বরকতময়, যিনি বিশ্বজগতের অধিপতি, যিনি আমাদের তাঁর ফরয বিধানাবলি দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং আমাদের ওপর হামানের সূরা পাঠ করা ফরজ করেছেন।

অথচ আরদাশিরের উজির হামান এবং মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সময়ের ব্যবধান এক হাজার বছরেরও বেশি। সুতরাং আমরা যা বর্ণনা করলাম তা লক্ষ করুন, এটি তাদের সেই মূল পাঠ্যের পরিপন্থী যাতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা এতে কোনো কিছু বৃদ্ধি না করে এবং কোনো কিছু হ্রাস না করে। এই কাফিরদের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তাদের কি বিবেক আছে নাকি তারা বিবেকহীন? তারা নির্বোধদের কথা অনুসরণ করে এবং সুস্পষ্ট সত্য বর্জন করে। এটি এবং এর সদৃশ বিষয়গুলো প্রমাণ করে যে, তাদের সকল বিশ্বাসই ভ্রান্ত। তেমনি তাদের তাওরাতের কোনো বিষয়ের ওপরই আস্থা রাখা যায় না। তারা অন্য স্থানেও পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়েছে; আর তা হলো তাদের তাওরাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, শনিবার তাদের কেউ যেন ঘর থেকে বের না হয় এবং নিজের স্থান থেকে নড়াচড়া না করে, আর তাদের ধর্মে এ বিষয়ে কোনো বৈধতা বা শিথিলতা নেই। অতঃপর তাদের আলেমগণ তাদের জন্য ঘরবাড়িতে একটি কাঠ স্থাপন করাকে বৈধ করেছেন যাতে তাদের জন্য বের হওয়া জায়েজ হয় এবং তারা বিশ্বাস করে যে এটি তাদের ওপর একটি অপরিহার্য বিধান। এটি প্রথমটির চেয়েও বড় বৈপরীত্য। কেবল একটি কাঠের কারণে তাদের জন্য বাইরে বের হওয়া বৈধ হওয়াটা কোনো যুক্তিসঙ্গত বিষয় নয়, বরং তারা ধর্ম নিয়ে তামাশা করছে এবং ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণ করছে। তারা নিজেদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করছে এবং বলছে যে তারা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর অনুসারী, অথচ তারা মিথ্যাবাদী। অনুরূপভাবে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তারা শনিবার আগুন না জ্বালায়।
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
فأباح لهم علماؤهم أن يشعلوا القناديل، ولا أدري من أين جاءهم هذا. وكذلك يجعلون بعض السنين أزيد من بعض، فيجعلون العام من ثلاثة عشر شهرا لتجيء أعيادهم في الأوقات الحسنة الموافقة لأغراضهم، فيعيدون في غير محل، فهذه مثلة وضحكة وليست من دينهم في شيء، وقد سبق عليهم قول أرمياء عليه السلام حيث قال ما نصه:

«أبرهاء يمونا واتحرتا مبيهما.»

 

‌‌شرحه:

قد دمر إيمانهم وانقطع من بينهم.

فنعوذ بالله من قوم تقبل عقولهم هذا ومثله، وينسخون ما في توراتهم بهذه المضحكات ولا يوافقون على نسخ دينهم. فنسأله جل وعلا أن يمحو رسمهم وأن يذهب عمرهم إذ لم يتبعوا الطريقة المثلى والمحجة المستقيمة. فلله الحمد دائما متواليا، والشكر مستمرا رائحا وغاديا، حيث أرشدنا إلله الحق المستقيم والدين القويم، وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله.
তাদের আলিমগণ তাদের জন্য প্রদীপ প্রজ্বলন করাকে বৈধ করে দিয়েছেন, আর আমি জানি না এটি তাদের কাছে কোথা থেকে এসেছে। তদ্রূপ তারা কোনো কোনো বছরকে অন্য বছরের চেয়ে দীর্ঘ করে ফেলে; তারা বছরকে তেরো মাস বিশিষ্ট করে দেয় যাতে তাদের উৎসবগুলো তাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী অনুকূল ও মনোরম সময়ে পড়ে। ফলে তারা অসময়ে উৎসব পালন করে। এটি একটি বিকৃতি ও উপহাসের বিষয় এবং তাদের ধর্মের অন্তর্ভুক্ত কোনো বিষয়ই নয়। আর তাদের ব্যাপারে ইয়ারমিয়া আলাইহিস সালামের বাণী পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে, যেখানে তিনি হুবহু যা বলেছেন তা হলো:

«তাদের বিশ্বাস সমূলে বিনষ্ট হয়েছে এবং তাদের মধ্য থেকে তা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।»

 

‌‌এর ব্যাখ্যা:

তাদের ঈমান ধ্বংস হয়েছে এবং তাদের মধ্য থেকে তা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

অতএব আমরা আল্লাহর কাছে এমন জাতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যাদের বুদ্ধি এগুলো এবং এর অনুরূপ বিষয় গ্রহণ করে নেয়, এবং তারা তাদের তাওরাতে যা আছে তাকে এসব হাস্যকর বিষয়ের মাধ্যমে রহিত করে দেয় অথচ তারা তাদের দ্বীন রহিত হওয়ার বিষয়টি মেনে নেয় না। আমরা মহামহিম আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাদের চিহ্ন মুছে দেন এবং তাদের আয়ু নিঃশেষ করেন, যেহেতু তারা সর্বোত্তম পন্থা ও সরল পথ অনুসরণ করেনি। সুতরাং সকল প্রশংসা সর্বদা ও নিরন্তর আল্লাহর জন্য, এবং কৃতজ্ঞতা সকাল-সন্ধ্যায় অব্যাহতভাবে তাঁরই প্রাপ্য; যেহেতু তিনি আমাদের সত্য ও সঠিক পথ এবং সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের দিকে পরিচালিত করেছেন। আর আমরা কখনো হিদায়াত পেতাম না যদি আল্লাহ আমাদের হিদায়াত না দিতেন।
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
‌‌الباب الثالث: في بيان تجسيم اليهود لعنهم الله وشركهم بالله تعالى

اعلم وفقنا الله واياك أن في توراتهم ما نصه: «نفس أدم بطلميق كدموا ثينو.» (1)

 

‌‌شرحه:

وقال الله: أصنع بني آدم كصورتنا كشبهنا.

وفي هذا تجسيم لا يحتاج إلى دليل لأنهم جعلوا الله صورة وشبها، والله عز وجل منزه عن النظائر والأشباه سبحانه وتعالى عما يقول الظالمون علوا كبيرا. وهذا أقرب ما عندهم من الكفر لأنهم ربما قالوا: إن الإضافة في ذلك إضافة ملك كقوله هذا عمل الله وهذا خلق الله، وفي هذا من التكليف على ما لا يخفى على ذي عقل، لا سيما في قولهم: كشبهنا، فإن التأويل فيه بعيد جدا. ولكن سيأتي ما هو أبشع وأقبح وأفظع، وهذا يدل على أن توراتهم التي بأيديهم مبدلة دمرهم الله تعالى ولعنهم.

ومما في توراتهم المبدلة نسبتهم الندم إلى الله تعالى، ونصهم في ذلك:

«ويناحح أذني كيشى عسى إث لهادم بأرص وينعصب إل لبو.» (2)

--------------------------------------------

(1) التكوين 1: 26

(2) التكوين 6:6
‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইহুদিদের (আল্লাহ তাদের লানত করুন) দেহবাদ এবং মহান আল্লাহর সাথে তাদের শিরক বর্ণনায়

জেনে রাখুন, আল্লাহ আমাদের এবং আপনাকে তাওফিক দান করুন যে, তাদের তাওরাতের পাঠ্য নিম্নরূপ: "আমরা আমাদের প্রতিচ্ছবিতে ও আমাদের সাদৃশ্যে মানুষ তৈরি করি।" (১)

 

‌এর ব্যাখ্যা:

এবং ঈশ্বর বললেন: আমি আদম সন্তানকে আমাদের অবয়বে ও আমাদের সদৃশ হিসেবে সৃষ্টি করব।

এর মধ্যে এমন দেহবাদ (তাজসিম) রয়েছে যা কোনো প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না, কারণ তারা আল্লাহর জন্য অবয়ব ও সাদৃশ্য সাব্যস্ত করেছে; অথচ মহান আল্লাহ যে কোনো সমকক্ষ ও সাদৃশ্য থেকে পবিত্র, জালিমরা যা বলে তা থেকে তিনি অতি উচ্চ ও সুমহান। এটি তাদের কুফরির অত্যন্ত নিকটবর্তী বিষয়, কারণ তারা হয়তো বলতে পারে: এই সম্বন্ধটি মালিকানাসূচক সম্বন্ধ, যেমন বলা হয়—এটি আল্লাহর কাজ এবং এটি আল্লাহর সৃষ্টি; কিন্তু এতে যে কষ্টকল্পনা রয়েছে তা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে গোপন নয়, বিশেষ করে তাদের "আমাদের সদৃশ" উক্তির ক্ষেত্রে, কারণ এর রূপক ব্যাখ্যা (তাবিল) অত্যন্ত সুদূরপরাহত। তবে সামনে এমন বিষয় আসবে যা এর চেয়েও জঘন্য, কুৎসিত ও ভয়াবহ; এটিই প্রমাণ করে যে, তাদের হাতে থাকা বর্তমান তাওরাত বিকৃত; আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন এবং তাদের লানত করুন।

তাদের বিকৃত তাওরাতের আরও একটি বিষয় হলো আল্লাহর দিকে অনুশোচনা বা অনুতাপের সম্বন্ধ করা, এবং এ ক্ষেত্রে তাদের ভাষ্য হলো:

«আর সদাপ্রভু পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করার কারণে অনুতপ্ত হলেন এবং মনে অত্যন্ত দুঃখ পেলেন।» (২)

--------------------------------------------

(১) আদিপুস্তক ১: ২৬

(২) আদিপুস্তক ৬: ৬
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌‌‌شرحه:

وندم الله الذي خلق الآدميين في الأرض وتغير في قلبه.

وهذا نص قطع باب التأويل وسد المخارج، وضلوا وكفروا لعنهم الله من وجوه:

• أحدها: نسبوا إليه تبارك وتعالى الندم والتغيير وذلك من صفة المحدثات.

• الثاني: نفي العلم عنه سبحانه وتعالى. والله عز وجل عالم بالأشياء قبل كونها وقبل تصورها، لا يعزب عنه مثقال ذرة في الأرض ولا في السماء. فكيف ينسب إليه الندم وهو سبحانه وتعالى بيده ملكوت كل شيء ولا يكون في السموات والأرض شيء إلا بقضائه وقدره.

 

• الثالث: أنهم جعلوا لله قلبا تعالى الله عز وجل عن ذلك.‌‌ فصل

يتبين فيه أنهم نسبوا إليه تعالى شم الرائحة، ونصهم في ذلك في قصة نوح عليه السلام حين قرب القربان:

«وبارح أذني إث ريح هنيجوخ.» (1)

 

شرحه:

وشم الله الرائحة المهداة.

ويعتقدون لعنهم الله تعالى أن ذلك بحاسة، وهو كفر صراح تعالى الله عن ذلك.

ومنها أنهم يزعمون أن الله تعالى هبط إلى الأرض، ونصهم في ذلك في قوم لوط عليه السلام:

«إيرزدن وإزاي هد ضعفته هباه إلى عسوكلا وإم لو إداعه.» (2)

--------------------------------------------

(1) التكوين 8: 21

(2) التكوين 18: 21
‌‌‌এর ব্যাখ্যা:

আর আল্লাহ অনুতপ্ত হলেন যিনি পৃথিবীতে মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর অন্তরে পরিবর্তন সাধিত হলো।

এটি এমন একটি পাঠ যা অপব্যাখ্যার পথ রুদ্ধ করে দেয় এবং নিষ্কৃতির সকল পথ বন্ধ করে দেয়। তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং কুফরি করেছে—আল্লাহ তাদের ওপর লানত বর্ষণ করুন—কয়েকটি কারণে:

• প্রথমত: তারা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার দিকে অনুতাপ ও পরিবর্তনকে সম্বন্ধযুক্ত করেছে, অথচ এগুলো সৃষ্টবস্তুর বৈশিষ্ট্য।

• দ্বিতীয়ত: তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) থেকে জ্ঞানকে অস্বীকার করা। অথচ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সকল বস্তু অস্তিত্বে আসার এবং কল্পনায় আসার পূর্বেই সে সম্পর্কে পরিজ্ঞাত। আসমান ও জমিনের অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নয়। সুতরাং কীভাবে তাঁর দিকে অনুতাপের সম্বন্ধ করা যেতে পারে, অথচ সমস্ত কিছুর সার্বভৌমত্ব তাঁরই হাতে এবং আসমান ও জমিনে তাঁর ফয়সালা ও তকদীর ব্যতীত কিছুই সংঘটিত হয় না।

 

• তৃতীয়ত: তারা আল্লাহর জন্য অন্তর সাব্যস্ত করেছে; আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এ থেকে বহু ঊর্ধ্বে।‌‌ পরিচ্ছেদ

এতে স্পষ্ট হবে যে, তারা আল্লাহ তাআলার দিকে ঘ্রাণ নেওয়ার বিষয়টি সম্বন্ধযুক্ত করেছে। এ বিষয়ে তাদের পাঠ হলো নূহ আলায়হিস সালামের কাহিনীতে, যখন তিনি কোরবানি পেশ করেছিলেন:

«আর প্রভু সুগন্ধি আঘ্রাণ করলেন।» (১)

 

এর ব্যাখ্যা:

আর আল্লাহ উৎসর্গকৃত ঘ্রাণ গ্রহণ করলেন।

তারা বিশ্বাস করে—আল্লাহ তাআলা তাদের লানত করুন—যে এটি কোনো ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, যা স্পষ্ট কুফরি। আল্লাহ এ থেকে বহু ঊর্ধ্বে।

এর মধ্যে আরও রয়েছে যে, তারা দাবি করে আল্লাহ তাআলা জমিনে অবতরণ করেছেন। লুত আলায়হিস সালামের কওমের ঘটনায় এ সংক্রান্ত তাদের পাঠ হলো:

«আমি এখন নিচে নামব এবং দেখব যে তারা তেমন কি না...» (২)

--------------------------------------------

(১) আদিপুস্তক ৮: ২১

(২) আদিপুস্তক ১৮: ২১
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৫০)
‌‌‌‌‌‌‌‌شرحه:

يهبط إلى الأرض وترى هذا المزاح هل عملوه بأفنيتهم.

وإلا فاعلم الحق، وهذا كفر بألفاظ خبيثة تنبئ بنفي العلم عن الله تبارك وتعالى من أنه لا يدري الحق حتى يهبط إلى الأرض ويستخبرهم، فنعوذ بالله من أقوالهم وأفعالهم واعتقاداتهم وأعمالهم الخبيثة التي لا تليق إلا بالكفرة أمثالهم.

 

‌‌فصل

يذكر فيه أنهم ينسبون للجليل جل جلاله أبناء وبنين وزوجة، تعالى الله مولانا عن ذلك. ونصهم فى البنين:

«بنيتم أثم لاذ نبي إلوهيج.» (1)

 

شرحه:

بنون أنتم لله ربكم.

ومنه نص آخر: «وأمرت إل فرعون كه أمر أذني بخوري إسرائيل.» (2)

 

شرحه:

وتقولون هكذا قال الله ابني بكر إسرائيل.

يعنون أن الله سبحانه وتعالى له بنون جملة وأن إسرائيل أكبرهم وأفضلهم، يدل عليه البكر في النص الثاني.

ونص الزوجة في كتاب أشعياء حيث يقول:

«كو أمو أذني أزي سيفر كرتثوث أمخع أشر شلحتها.» (3)

 

شرحه:

هكذا قال الله أين عقد طلاق أمكم التي طلقتها.

وكأن هذا الكلام

--------------------------------------------

(1) التثنية 14: 1

(2) الخروج 4: 22

(3) أشعياء 50: 1
‌‌‌‌‌‌‌এর ব্যাখ্যা:

তিনি পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং আপনি এই পরিহাসটি দেখুন—তারা কি তাদের প্রাঙ্গণে এটি করেছে?

অন্যথায় সত্যকে জানুন; এটি অত্যন্ত জঘন্য শব্দে ব্যক্ত কুফরি, যা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার জ্ঞানকে অস্বীকার করার নামান্তর—অর্থাৎ তিনি পৃথিবীতে অবতরণ করে তাদের নিকট থেকে সংবাদ না নেওয়া পর্যন্ত সত্য জানেন না। আমরা তাদের বক্তব্য, কর্ম, বিশ্বাস এবং মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যা তাদের মতো কাফির ছাড়া আর কারো জন্য শোভনীয় নয়।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা মহান প্রতিপালক (জল্লা জালালুহু)-এর প্রতি পুত্র, সন্তান-সন্ততি ও পত্নী আরোপ করে; আমাদের মওলা আল্লাহ তাআলা তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। পুত্রদের বিষয়ে তাদের পাঠ্য হলো:

«তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর সন্তানসমূহ।» (১)

 

এর ব্যাখ্যা:

তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য সন্তানস্বরূপ।

এর আরেকটি পাঠ্য হলো: «এবং তুমি ফেরাউনকে বলবে, প্রভু এরূপ বলেছেন: ইসরাইল আমার প্রথমজাত পুত্র।» (২)

 

এর ব্যাখ্যা:

আর তোমরা বলো—আল্লাহ এরূপ বলেছেন: ইসরাইল আমার প্রথমজাত পুত্র।

তারা এর দ্বারা বোঝাতে চায় যে, সামগ্রিকভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সন্তান রয়েছে এবং ইসরাইল তাদের মধ্যে সর্বজ্যেষ্ঠ ও শ্রেষ্ঠ; দ্বিতীয় পাঠ্যের ‘প্রথমজাত’ শব্দ দ্বারা তাই নির্দেশিত হয়।

আর পত্নী সংক্রান্ত পাঠ্যটি যিশাইয় কিতাবে রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে:

«প্রভু এরূপ বলেছেন: তোমাদের মাতার তালাকনামা কোথায়, যা দিয়ে আমি তাকে বিদায় করেছি?» (৩)

 

এর ব্যাখ্যা:

আল্লাহ এরূপ বলেছেন—তোমাদের সেই মাতার তালাকনামা কোথায় যাকে আমি তালাক দিয়েছি।

যেন এই কথাটি

--------------------------------------------

(১) দ্বিতীয় বিবরণ ১৪: ১

(২) যাত্রাপুস্তক ৪: ২২

(৩) যিশাইয় ৫০: ১
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৫১)
مراده استفهام الطلاق وأنه يقول تعالى عن قولهم علوا كبيرا: إن صدقتم في طلاقي إياها فأتوني بصك طلاقها، أو أنه طلقها واستفهم عن رسم طلاقها.

وفي موضع آخر أنه طلقها وأبغضها، والنص في ذلك:

«سنيتها وإثر إن سيفر كريثوثيها إليها.» (1)

 

‌‌شرحه:

بغضتها وطلقتها وأعطيتها عند طلاقها.

فانظر هذا الكفر الفاحش الذي لا يقبل التأويل وهو من أعظم العظائم وأجرم الجرائم، ولولا الضرورة الداعية إلى تقرير اعتقاداتهم وكشف سرائرهم ليعلم ما هم عليه وأن هذا مما تضرب به الجزية عليهم وأن المسلمين وفرهم الله يرون أنهم لا يبالغون في الكفر هذه المبالغة، لا ينبغي أن تذكر بلسان ولا يحكيه إنسان، لأنه لا يحتاج إلى الزوجة والابن إلا الفقير المحتاج الملتجىء لغيره. والله تعالى غني على الإطلاق لم يتخذ صاحبة ولا ولدا (إن كل من في السموات والأرض إلا ءاتي الرحمن عبدا)

 

‌‌فصل

يذكر فيه أنهم زعموا أن موسى وهارون عليهما السلام ونادب واليهود أولاد هارون وسبعون من أشياخ بني إسرائيل رأوا الله تعالى وهو جالس وتحت ساقه موضع مفروش بآجر من ياقوت وهم بالجبل. ونصهم في ذلك:

«وبرابت ألوهي إسرائيل وماحث رعلو كمعسي كتبث هسيز رخوهم هشمائم لطوهر.» (2)

--------------------------------------------

(1) أرمياء 3: 8

(2) الخروج 24: 10
এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো তালাক (বিচ্ছেদ) বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ। আল্লাহ তাআলা তাদের বর্ণনা থেকে অত্যন্ত ঊর্ধ্বে—তারা বলে: "যদি তোমরা আমার তাকে (উম্মতকে) তালাক দেওয়ার বিষয়ে সত্যবাদী হও, তবে তার তালাকনামা নিয়ে এসো।" অথবা এর অর্থ হলো তিনি তাকে তালাক দিয়েছেন এবং তার তালাকের দলিলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছেন।

অন্য এক স্থানে রয়েছে যে, তিনি তাকে তালাক দিয়েছেন এবং ঘৃণা করেছেন। এ বিষয়ে পাঠ্যটি হলো:

«আমি তাকে ঘৃণা করেছি এবং তার তালাকনামা তার হাতে তুলে দিয়েছি।’ (১)

 

‌‌এর ব্যাখ্যা:

আমি তাকে ঘৃণা করেছি, তালাক দিয়েছি এবং তালাকের সময় তাকে তার প্রাপ্য প্রদান করেছি।

অতএব, এই জঘন্য কুফরি লক্ষ্য করুন যা কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না। এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং চরম অপরাধ। তাদের বিশ্বাস নির্ধারণ এবং তাদের গোপন অভিসন্ধি উন্মোচনের আবশ্যকতা না থাকলে—যাতে মানুষ জানতে পারে তারা কোন পথে রয়েছে এবং এ কারণেই যে তাদের ওপর জিযিয়া ধার্য করা হয় এবং মুসলিমগণ (আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন) যেন অনুধাবন করতে পারেন যে তারা কুফরির কতটা চরম সীমায় পৌঁছেছে—তবে এ ধরনের কথা মুখে আনা বা কোনো মানুষের পক্ষে তা বর্ণনা করাও উচিত ছিল না। কারণ, স্ত্রী ও সন্তানের প্রয়োজন কেবল তারই হয় যে অভাবী, মুখাপেক্ষী এবং অন্যের আশ্রয়প্রার্থী। অথচ মহান আল্লাহ নিরঙ্কুশভাবে অভাবমুক্ত; তিনি কোনো সঙ্গিনী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। (আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে এমন কেউ নেই যে পরম দয়াময় আল্লাহর নিকট বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে না)।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা দাবি করে যে মূসা ও হারুন (আলাইহিমাস সালাম), নাদাব এবং হারুনের ইহুদি সন্তানগণ এবং বনী ইসরাঈলের সত্তর জন প্রবীণ ব্যক্তি মহান আল্লাহকে উপবিষ্ট অবস্থায় দেখেছেন এবং তাঁর পায়ের নিচে ইয়াকুত পাথরের ইটের বিছানা সদৃশ স্থান ছিল, যখন তারা পাহাড়ের ওপর ছিল। এ বিষয়ে তাদের পাঠ্য হলো:

«এবং তারা ইসরাঈলের উপাস্যকে দেখল। তাঁর পায়ের নিচে নীলকান্তমণির মেঝের মতো কাজ করা ছিল, যা ছিল আকাশের মতো স্বচ্ছ।’ (২)

--------------------------------------------

(১) ইয়ারমিয়াহ ৩: ৮

(২) হিজরত (যাত্রাপুস্তক) ২৪: ১০
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৫২)
‌‌‌‌شرحه:

ورأوا الله بنو إسرائيل وتحت ساقيه موضع مفروش بآجر من ياقوت، وكنفاذ السماء للمطر.

وهذا الفحش أشنع من الذي قبل، ولا شك أن من رزقه الله عقلا يميز به أدنى تمييز يعلم أن هذا باطل محض وكفر صريح.

 

‌‌‌‌فصل

يذكر فيه أن اليهود لعنهم الله زعموا أن الله سبحانه وتعالى أمرهم أن يصنعوا له قبة ليسكن معهم فيها. ونصهم في ذلك:

«وعسولي مقرش وشاخنتي بثوخم.» (1)

 

شرحه:

اصنعوا لي قبة لأسكن معكم فيها.

فانظروا إلى أقوال هؤلاه الكفرة، هل يقبلها عقل أو يمكن أن ينطق بها لسان أو تختلج في صدر إنسان؟ وما أعلم أحدا ولا أعلمه من الطوائف يكني بهذا النوع لعنهم الله تعالى وأخزاهم.

 

فصل

يذكر فيه أنهم يعتقدون أن الله سبحانه وتعالى أوصى موسى عليه السلام أن يعمل له في القبة صورتين من ذهب على صورة ولدين صغيرين سماهما كروبيم، يعني صبيانا. وفي توراتهم التي هي الآن بأيديهم وحاشى لله

--------------------------------------------

(1) الخروج 25: 8
‌‌‌‌এর ব্যাখ্যা:

বনী ইসরাঈল আল্লাহকে দেখেছিল এবং তাঁর চরণের নিচে ছিল নীলকান্তমণি সদৃশ ইটের নির্মিত এক স্থান, যা বৃষ্টির পর নির্মল আকাশের ন্যায় স্বচ্ছ।

এই ধৃষ্টতা পূর্বেরটির চেয়েও অধিক জঘন্য। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ যাকে নূন্যতম বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন বিবেক দান করেছেন, সে অবগত আছে যে এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং প্রকাশ্য কুফর।

 

‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইয়াহুদীরা—আল্লাহ তাদের লানত করুন—দাবি করে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর জন্য একটি গম্বুজ বা মণ্ডপ নির্মাণ করতে যেন তিনি সেখানে তাদের সাথে বসবাস করতে পারেন। এ বিষয়ে তাদের উদ্ধৃতি হলো:

«ওয়াআসুলী মাকরাশ ওয়া শাখানতী বাছুখাম।» (১)

 

এর ব্যাখ্যা:

আমার জন্য একটি মণ্ডপ তৈরি করো যাতে আমি তোমাদের সাথে সেখানে বসবাস করতে পারি।

এই কাফিরদের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন, কোনো বিবেক কি তা গ্রহণ করতে পারে? কোনো জিহ্বা কি তা উচ্চারণ করতে পারে অথবা কোনো মানুষের অন্তরে কি তা দানা বাঁধতে পারে? আমার জানামতে কোনো সম্প্রদায়ই এই ধরণের রূপক ব্যবহার করে না; আল্লাহ তা‘আলা তাদের লানত করুন এবং লাঞ্ছিত করুন।

 

পরিচ্ছেদ

এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা বিশ্বাস করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা মূসা আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সেই মণ্ডপে তাঁর জন্য স্বর্ণের দুটি মূর্তি তৈরি করতে, যা হবে দুটি ছোট বালকের অবয়বে; তিনি সেগুলোর নামকরণ করেছিলেন ‘কারুবীম’, যার অর্থ বালক। এবং তাদের সেই তাওরাতে যা বর্তমানে তাদের নিকট বিদ্যমান—আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি...

--------------------------------------------

(১) যাত্রাপুস্তক ২৫: ৮
(খণ্ড: ১) আল-হুসামুল মামদুদ ফির রাদ্দি আলাল ইয়াহুদ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
أن يكون في التوراة، أن الوحي كان يأتي موسى من بين الصورتين وأنه كان يخاطبه من هنالك. ونصهم في ذلك:

«ونوعدتي لخم شم ودبرتي إتخ معل هكبواريث مبين شني هكروبيم إث كل أشر أصوبي لاوتخ آل بني إسرائيل.» (1)

 

‌‌‌‌شرحه:

وقال الله لموسى سأحضر معك فى القبة وأخاطبك من أعلى الغشاء من بين الصورتين اللتين على صنوف الشهادة فالذي آمرك به لبني إسرائيل.

وفى الثاني من العشر كلمات ما نصه:

«لو تعسى لخ بيصل وخذثمونا أشر بشمائم بما عل وأشر بأرض متاحت.» (2)

 

شرحه:

لا تصنع شكلا ولا شبها مما في السماء وما في الأرض.

فانظر هذا النص مع الذي قبله فيهما تناقض مفرط وضلال واضح، وهو قولهم اصنعوا، ثم قال لا تصنعوا. وهذا الذي قررناه مبني على فساد دينهم وسوء معتقدهم. ويدل أيضا على أن توراتهم التي بأيديهم ليست من كلام الله وإنما هي وضع كذاب مفتر على الله، وضع فاسق مجترىء على الله لا يؤمن بيوم الحساب، ولو علم أنه مخلد في النار أبدا لما اجترأ على الله هذا الاجتراء العظيم الذي يقطع عليه فيه بالخسران العظيم والعذاب الأليم. ولتعلم أن هذا التناقض الذي ألزمناهم والرهط الذي أرهطناهم لا محيد لهم عنه بوجه ولا بحال، وقصارى ما يجاب به في هذا المحل أن يقال أحد النصين إما يخصص الآخر وإما ينتسخه، إلا أنهم لا يرون نسخا ولا تخصيصا فانسدت

--------------------------------------------

(1) الخروج 25: 22

(2) الخروج 20: 4
তওরাতে বর্ণিত হয়েছে যে, মূসা (আ.)-এর কাছে দুই প্রতিকৃতির মধ্যস্থল থেকে ওহী আসত এবং তিনি সেখান থেকেই তাঁর সাথে কথা বলতেন। এ বিষয়ে তাদের পাঠ্যটি নিম্নরূপ:

“সেখানে আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব এবং আবরণীর উপর থেকে, অর্থাৎ সাক্ষ্য সিন্দুকের উপরে অবস্থিত দুই করূবের (ফিরিশতা আকৃতির প্রতিকৃতি) মধ্যস্থল থেকে তোমার সাথে কথা বলব এবং বনী ইসরাঈলদের জন্য তোমাকে যা যা আদেশ করার তা প্রদান করব।” (১)

 

‌‌‌‌এর ব্যাখ্যা:

আল্লাহ মূসাকে বললেন, আমি তাঁবুতে তোমার কাছে উপস্থিত হব এবং আবরণের উপর থেকে, সাক্ষ্য সিন্দুকের উপরস্থ দুই প্রতিকৃতির মধ্যস্থল থেকে তোমার সাথে কথা বলব। অতঃপর আমি তোমাকে বনী ইসরাঈলদের জন্য যা আদেশ করি (তা তাদের জানাবে)।

দশ আজ্ঞার দ্বিতীয়টিতে যা বর্ণিত হয়েছে তা নিম্নরূপ:

“তুমি নিজের জন্য কোনো খোদাই করা মূর্তি তৈরি করবে না, যা উপরে আকাশে বা নিচে পৃথিবীতে আছে তার কোনো সদৃশ তৈরি করবে না।” (২)

 

এর ব্যাখ্যা:

আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তার কোনো রূপ বা আকৃতি তৈরি করো না।

সুতরাং পূর্ববর্তী পাঠ্যের সাথে এই পাঠ্যটি লক্ষ্য করুন; এই দুটির মধ্যে চরম বৈপরীত্য ও সুস্পষ্ট বিভ্রান্তি বিদ্যমান। কারণ তাদের বক্তব্য অনুযায়ী প্রথমে বলা হয়েছে ‘তৈরি করো’, অতঃপর বলা হয়েছে ‘তৈরি করো না’। আমরা যা প্রতিষ্ঠিত করলাম তা তাদের ধর্মের অসারতা এবং ভ্রান্ত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে। এটি আরও প্রমাণ করে যে, বর্তমানে তাদের হাতে বিদ্যমান তওরাত আল্লাহর কালাম নয়, বরং এটি আল্লাহর প্রতি অপবাদকারী এক মিথ্যাবাদীর রচনা। এটি আল্লাহর বিরুদ্ধে স্পর্ধাকারী এমন এক পাপাচারীর সৃষ্টি যে বিচার দিবসে বিশ্বাস করে না। সে যদি জানত যে তাকে চিরকাল জাহান্নামে থাকতে হবে, তবে সে আল্লাহর বিরুদ্ধে এমন ভয়াবহ স্পর্ধা দেখাত না, যা তার জন্য মহা ক্ষতি ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি সুনিশ্চিত করে। আপনার জেনে রাখা উচিত যে, আমরা তাদের যে বৈপরীত্যের সম্মুখীন করেছি এবং যে যুক্তি দ্বারা তাদের কোণঠাসা করেছি, তা থেকে পালানোর কোনো পথ বা উপায় তাদের নেই। এই ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ উত্তর হতে পারে এই যে—বলা হবে একটি পাঠ্য অপরটিকে নির্দিষ্ট (তাকসিস) করছে অথবা রহিত (মানসুখ) করছে; কিন্তু তারা তো রহিতকরণ বা নির্দিষ্টকরণ কোনোটিই স্বীকার করে না। ফলে (তাদের উত্তরের পথ) রুদ্ধ হয়ে গেল।

--------------------------------------------

(১) যাত্রাপুস্তক ২৫: ২২

(২) যাত্রাপুস্তক ২০: ৪