(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: -)
الحجج الباهرة في إفحام الطائفة الكافرة الفاجرة   (جلال الدين الدواني)

القسم: العقيدة


الكتاب: الحجج الباهرة في إفحام الطائفة الكافرة الفاجرة

المؤلف: محمد بن أسعد الصديقي الدَّوَّاني، جلال الدين (ت 918هـ)

تحقيق ودراسة: د. عبد الله حاج علي منيب

الناشر: مكتبة الإمام البخاري

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 399

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

_________

(تنبيه): النص الإلكتروني والهوامش عن مطبوعة أخرى، انظر مثلا هامش ص 134

تاريخ النشر بالشاملة: 8 شوّال 1432

কাফির ও পাপাচারী গোষ্ঠীকে নিশ্চুপ করার অকাট্য প্রমাণসমূহ   (জালালুদ্দীন আদ-দাওয়ানি)

বিভাগ: আকিদাহ


কিতাব: কাফির ও পাপাচারী গোষ্ঠীকে নিশ্চুপ করার অকাট্য প্রমাণসমূহ

লেখক: মুহাম্মদ বিন আসআদ আস-সিদ্দিকী আদ-দাওয়ানি, জালালুদ্দীন (মৃত্যু ৯১৮ হিজরি)

তাহকিক ও গবেষণা: ড. আবদুল্লাহ হাজ আলী মুনিব

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ইমাম আল-বুখারি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

_________

(সতর্কবার্তা): ইলেকট্রনিক পাঠ্য এবং পাদটীকা অন্য সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে, উদাহরণস্বরূপ ১৩৪ পৃষ্ঠার পাদটীকা দেখুন

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ শাওয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الحجج الباهرة في إفحام الطائفة الكافرة الفاجرة]ـ

المؤلف: جلال الدين محمد بن أسعد الدواني الصديقي المتوفى 928 هـ

تحقيق ودراسة: د. عبد الله حاج علي منيب

الناشر: مكتبة الإمام البخاري

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 2000 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

--------------------------------------------

(تنبيه): النص الإلكتروني والهوامش عن مطبوعة أخرى، انظر مثلا هامش ص 134
[কাফির ও পাপাচারী গোষ্ঠীকে নিস্তব্ধ করার সমুজ্জ্বল প্রমাণসমূহ]

লেখক: জালালুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আসআদ আদ-দাওয়ানী আস-সিদ্দীকী, মৃত্যু ৯২৮ হিজরী

সম্পাদনা ও গবেষণা: ড. আবদুল্লাহ হাজ্জ আলী মুনীব

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ইমাম আল-বুখারী

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরী - ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

--------------------------------------------

(সতর্কীকরণ): এই ইলেকট্রনিক পাঠ্য এবং পাদটীকাগুলো অন্য একটি মুদ্রিত সংস্করণ থেকে সংগৃহীত, উদাহরণস্বরূপ ১৩৪ নং পৃষ্ঠার পাদটীকা দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৬৫)
- بسم الله الرحمن الرحيم -

الحمد لله محكم أحكام الجمهور بمذاهب السنة، رافض حكم بدعة الرفض بأحكام الكتاب والسنة. والصلوات الطيبات على نبيه محمد أشرف المخلوقات من البشر والملك والجن، فصلى الله عليه وعلى آله وأصحابه مصابيح أهل الجنة في الجنة.

أما بعد، فإنه لم ظهر دين الإسلام على الأديان كلها تحقيقا لما وعده الله تعالى بقوله سبحانه: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ} وقوله تعالى: {سَنُرِيهِمْ آَيَاتِنَا فِي الْآَفَاقِ} ونحو ذلك، امتدت إليه الأبصار فأصابته عيون الحساد.
- পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে -

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সুন্নাহর মাযহাবসমূহের মাধ্যমে জুমহুর বা সংখ্যাগুরুদের বিধানসমূহকে সুদৃঢ় করেছেন এবং কিতাব ও সুন্নাহর বিধানের মাধ্যমে রাফযি বিদআতের বিধানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর পবিত্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবী মুহাম্মাদের ওপর, যিনি মানুষ, ফেরেশতা ও জিন—সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যাঁরা জান্নাতে জান্নাতবাসীদের প্রদীপস্বরূপ।

অতঃপর, মহান আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা তাঁর বাণীতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত হয়ে যখন ইসলাম ধর্ম সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী হলো: "তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি একে সমস্ত ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "অচিরেই আমি তাদেরকে দিগন্তসমূহে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব" এবং এই জাতীয় আয়াতের মাধ্যমে যখন ইসলাম প্রকাশিত হলো, তখন এর প্রতি মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো এবং এটি হিংসুকদের কুদৃষ্টির শিকার হলো।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৬৬)
حتى ظهرت هذه الفرقة المعارضة المسماة بالرافضة على رأس المائة الرابعة من خلافة بني العباس، فأحدثت فيه أقوالا. بعضها مبني على الكذب الظاهر. وبعضها مبني على التأويل الفاسد. وبعضها مبني على السخرية والضحك ونحو ذلك. وكان الأولى أن نعاملهم بالإهمال بأن نضرب عنهم الذكر صفحا بعدم الرد عليهم، كمعاملة أعداء الإسلام من أهل الكتاب في بلاد الإسلام، لكون حقيقية الإسلام وبقائه وبطلان اليهودية والنصرانية بقيا قطعيتين. وكذلك مذهب الجمهور ومن خالفه.
অবশেষে আব্বাসীয় খিলাফতের চতুর্থ শতাব্দীর প্রারম্ভে রাফেজি নামক এই বিরোধী দলটির উদ্ভব ঘটে এবং তারা এতে কিছু নতুন মতবাদের অবতারণা করে। যার কিছু স্পষ্ট মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত, কিছু ভ্রান্ত ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে রচিত এবং কিছু উপহাস ও বিদ্রূপ ইত্যাদির ওপর নির্মিত। আর তাদের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে এবং তাদের কোনো উত্তর না দিয়ে উপেক্ষা করাই ছিল অধিকতর সঙ্গত; যেমনটি ইসলামী ভূখণ্ডে আহলে কিতাবধারী ইসলামের শত্রুদের সাথে করা হয়, কারণ ইসলামের সত্যতা ও স্থায়িত্ব এবং ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের অসারতা অকাট্য বিষয় হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে আছে। জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মাযহাব এবং যারা এর বিরোধিতা করে তাদের বিষয়টিও তদ্রূপ।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৬৭)
ولأنهم تجري عليهم أحكامنا، وتحت أيدينا وسلطاننا، بالخصوص في مشهد علي رضي الله عنه وفي الحلة اللذين هما تحت الرفض.
এবং যেহেতু তাদের ওপর আমাদের বিধানসমূহ কার্যকর হয় এবং তারা আমাদের হাতের ও আমাদের কর্তৃত্বের অধীনে, বিশেষ করে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মাশহাদ এবং হিল্লাহ-তে, যে উভয়টিই রাফয-এর অধীনে।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৬৮)
لكن حيث كان لهم في بعض الأماكن من عراق العرب ظهور وجدال، لترخص أهل العراق وسلاطينهم في الدين، احتجنا إلى الرد عليهم بسؤال من لسؤاله حق من الإخوان.

وإني ملتزم أن لا أحتج بالحديث إلا نادرا، لكون متنه مظنونا يجوز للخصم دفع الاحتجاج به بدعواه الكذب له. بل إما أحتج بالقرآن لكونه مقطوع المتن أو بالمعقول المقطوع الدلالة أو بما شاهدته منهم رأي العين، حين ابتليت عندهم بالأسر ومكثت عندهم قريبا من ثماني سنين، وذلك عند سياحتي لطلب العلم.
কিন্তু যেহেতু আরবের ইরাকের কিছু কিছু স্থানে তাদের বহিঃপ্রকাশ ও বিতর্ক বিদ্যমান ছিল—ইরাকবাসী ও তাদের সুলতানদের দ্বীন পালনে শিথিলতার কারণে—তাই আমরা দ্বীনি ভাইদের মধ্যে থেকে যার প্রশ্নের অধিকার রয়েছে তার জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে তাদের খণ্ডন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি।

আর আমি এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, আমি কদাচিৎ ব্যতীত হাদীসের মাধ্যমে দলিল পেশ করব না; কারণ হাদীসের পাঠ (মতন) সুনিশ্চিত না হওয়ায় প্রতিপক্ষের জন্য এর ওপর মিথ্যার অভিযোগ তুলে সেই দলিলকে প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ থেকে যায়। বরং আমি দলিল হিসেবে পেশ করব হয় কুরআনকে—যার পাঠ অকাট্য, অথবা এমন যৌক্তিক প্রমাণকে—যার অর্থ বা মর্ম সুনিশ্চিত, অথবা আমি তাদের মাঝে স্বচক্ষে যা প্রত্যক্ষ করেছি তাকে; যখন আমি তাদের নিকট বন্দী হওয়ার পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছিলাম এবং প্রায় আট বছর তাদের কাছে অবস্থান করেছিলাম, আর এটি ঘটেছিল আমার জ্ঞান অন্বেষণের সফরের সময়।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৬৯)
وعلم الله وكفى به عليما أني لا أستعين في ذلك بكتاب بل بديهة.

وإني معتذر إلى أمير المؤمنين علي رضي الله عنه وإلى مجموع أهل البيت عليهم السلام، بما يوهم التجري به من الحق الذي كان الإغماض عنه أولى، وإن كان الرافضة سببه، وإن كان جائزا كونه حقا. وأهل البيت لا يجزعون من الحق، لأن الله تعالى أجاز بمثله عمن هو أفضل من علي عليه السلام، وهو عيسى عليه السلام حين غالت النصارى به وبأمه: {مَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ كَانَا يَأْكُلَانِ الطَّعَامَ} أي كانا يخرجان لقضاء الحاجة.

ورتبته على مقدمة وسبعة فصول.

 

أما المقدمة ففي خلافة الخلفاء قبل علي رضي الله عنه
আল্লাহ অবগত আছেন এবং পরিজ্ঞাত হিসেবে তিনিই যথেষ্ট যে, আমি এ ক্ষেত্রে কোনো কিতাবের সাহায্য গ্রহণ করছি না, বরং স্বতঃস্ফূর্ত মেধা ও উপস্থিত স্মৃতি থেকে এটি লিখছি।

আমি আমিরুল মুমিনিন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং সামগ্রিকভাবে আহলে বাইতের (আলাইহিমুস সালাম) নিকট সেই সব বিষয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যা এমন সত্য প্রকাশের ধৃষ্টতা বলে মনে হতে পারে যা এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয় ছিল; যদিও রাফেযিরাই ছিল এর কারণ এবং সত্য হিসেবে তা প্রকাশ করা বৈধ ছিল। আর আহলে বাইত সত্যের কারণে বিচলিত হন না, কারণ আল্লাহ তাআলা আলীর (আলাইহিস সালাম) চেয়েও শ্রেষ্ঠ এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে অনুরূপ বিষয়ের অনুমতি দিয়েছেন; আর তিনি হলেন ঈসা (আলাইহিস সালাম), যখন নাসারাগণ তাঁকে এবং তাঁর মাতাকে নিয়ে অতিরঞ্জন করেছিল: {মরিয়ম-তনয় মাসীহ তো কেবল একজন রাসূলই ছিলেন, যাঁর আগে আরও অনেক রাসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। আর তাঁর জননী ছিলেন সত্যনিষ্ঠা; তাঁরা উভয়েই খাদ্য গ্রহণ করতেন।} অর্থাৎ তাঁরা মলমূত্র ত্যাগের প্রয়োজনে বের হতেন।

আমি একে একটি ভূমিকা ও সাতটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি।

 

আর ভূমিকাটি হলো আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পূর্ববর্তী খলিফাগণের খিলাফত প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৭০)
‌‌(إمامة أبي بكر)

أما إمامة أبي بكر رضي الله عنه فالدليل عليها من وجوه.

 

‌‌الأول قوله تعالى: {وَسَيُجَنَّبُهَا الْأَتْقَى} أجمع المفسرون أنها نزلت في أبي بكر رضي الله عنه. وإذا ثبت أنه الأتقى ثبت أنه الأكرم عند الله تعالى لقوله تعالى: {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ}. وحينئذ فيثبت فيه استحقاق التقديم على كل أحد غيره، لكونه دونه بالتقوى والكرامة عند الله تعالى، كما هو مفهوم الآية.

‌‌الثاني: قوله تعالى: {قُلْ لِلْمُخَلَّفِينَ مِنَ الْأَعْرَابِ سَتُدْعَوْنَ إِلَى قَوْمٍ أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ تُقَاتِلُونَهُمْ أَوْ يُسْلِمُونَ فَإِنْ تُطِيعُوا يُؤْتِكُمُ اللَّهُ أَجْرًا حَسَنًا وَإِنْ تَتَوَلَّوْا كَمَا تَوَلَّيْتُمْ مِنْ قَبْلُ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا}
‌(আবু বকরের ইমামত)

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইমামতের (নেতৃত্বের) স্বপক্ষে কয়েক প্রকারের দলিল রয়েছে।

 

‌‌প্রথমত মহান আল্লাহর বাণী: "আর অচিরেই তা থেকে দূরে রাখা হবে পরম মুত্তাকীকে।" মুফাসসিরগণ এ ব্যাপারে একমত যে, এটি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আর যখন এটি সাব্যস্ত হলো যে তিনি পরম মুত্তাকী, তখন এটিও সাব্যস্ত হলো যে তিনি মহান আল্লাহর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই সর্বাধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী।" এমতাবস্থায় অন্য সকলের ওপর তাঁকে অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়টি সাব্যস্ত হয়, কারণ অন্যরা তাকওয়া ও আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক থেকে তাঁর চেয়ে নিম্নস্তরের, যেমনটি আয়াতের মর্মার্থ থেকে বুঝা যায়।

‌‌দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহর বাণী: "পিছনে ফেলে আসা মরুচারীদের বলো—শীঘ্রই তোমাদেরকে এক প্রবল শক্তিশালী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আহ্বান জানানো হবে; তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে অথবা তারা ইসলাম গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমরা যদি আনুগত্য করো, তবে আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করবেন; আর যদি তোমরা বিমুখ হও যেমন ইতিপূর্বে বিমুখ হয়েছিলে, তবে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রদান করবেন।"
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৭১)
وهذا الداعي -هو الموعود على طاعته حسن الثواب وعلى مخالفته أليم العقاب- ليس هو النبي صلى الله عليه وسلم لكونه عليه الصلاة والسلام مأمورا بنهي المخلفين من الأعراب عن اتباعه بقوله تعالى: {قُلْ لَنْ تَتَّبِعُونَا كَذَلِكُمْ قَالَ اللَّهُ مِنْ قَبْلُ} فامتنع أن يكون هو الداعي. وليس هو عليا رضي الله عنه لأنه لم يقاتل في أيام خلافته الكفار وإنما كان حربه مع المسلمين. فتعين أن يكون الداعي هو الصديق رضي الله عنه، لأنه دعاهم إلى قتال بني حنيفة أهل الردة في اليمامة، وهو أولو بأس شديد، كانوا ثمانين ألفا. ولقوة بأسهم
এবং এই আহ্বানকারী—যাঁর আনুগত্যের ওপর উত্তম পুরস্কারের এবং যাঁর অবাধ্যতার ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে—তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নন। কারণ তিনি (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) পেছনে থেকে যাওয়া মরুবাসীদের তাঁর অনুসরণ করতে নিষেধ করার জন্য মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে আদিষ্ট হয়েছিলেন: "বলুন, তোমরা কখনই আমাদের অনুসরণ করবে না; আল্লাহ আগেই এরূপ বলেছেন।" সুতরাং তাঁর পক্ষে আহ্বানকারী হওয়া অসম্ভব। আর তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুও নন, কারণ তিনি তাঁর খিলাফতের দিনগুলোতে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি, বরং তাঁর যুদ্ধ ছিল মুসলিমদের সাথে। অতএব এটি সুনির্দিষ্ট হয়ে যায় যে, আহ্বানকারী হলেন সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু; কারণ তিনি ইয়ামামার মুরতাদ বনূ হানীফাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য তাঁদের আহ্বান করেছিলেন, যারা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী যোদ্ধা এবং তাদের সংখ্যা ছিল আশি হাজার। আর তাদের প্রচণ্ড শক্তির কারণে...
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৭২)
أشار إليه علي رضي الله عنه بالقعود عنهم فقال: هؤلاء أصحاب شوكة، وهذا أول عسكر يخرج لنا بعد موت النبي صلى الله عليه وسلم، نخاف أن ينكسر فلا يقوم لنا بعده قائم. فما وهن الصديق رضي الله عنه ولا ضعف. ثم جهز العسكر وخرج معه مرحلة حتى تسمّع الناس بخروجه، وأمّر عليهم سيف الله خالد بن الوليد رضي الله عنه، فظفر بهم وقتلهم وقتل أميرهم مسيلمة الكذاب
আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে বের হওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন: "এরা প্রচণ্ড রণশক্তির অধিকারী, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের পর এটিই আমাদের পক্ষ থেকে প্রেরিত প্রথম বাহিনী। আমরা আশঙ্কা করছি যে এটি যদি পরাজিত হয়, তবে এর পরে আমাদের জন্য দাঁড়ানোর মতো আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।" কিন্তু সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হীনবল হননি এবং দুর্বলতা প্রকাশ করেননি। অতঃপর তিনি বাহিনী প্রস্তুত করলেন এবং এক মঞ্জিল পর্যন্ত তাদের সাথে অগ্রসর হলেন, যাতে মানুষ তাঁর যাত্রার সংবাদ অবগত হয়। তিনি তাদের ওপর ‘আল্লাহর তরবারি’ খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করলেন। অতঃপর তিনি তাদের ওপর বিজয় লাভ করলেন ও তাদের হত্যা করলেন এবং তাদের নেতা ভণ্ড মুসায়লিমাকেও সংহার করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৭৩)
ورجع بالغنائم والسبي. ومن سبيهم تسرّى علي رضي الله عنه الحنفية أم ولده محمد، واستقر الإسلام في اليمامة. وكانت تلك أسا لبناء الإسلام بعد النبي صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌الثالث قوله تعالى: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ} والنبي صلى الله عليه وسلم لم يأخذ غير جزيرة العرب، وتوفي عليه الصلاة والسلام ولم يظهر دينه على كل الأديان إلا في خلافة الصديق
তিনি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও বন্দীদের নিয়ে ফিরে আসলেন। তাঁদের বন্দীদের মধ্য থেকে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল-হানাফিয়্যাহকে দাসী হিসেবে গ্রহণ করেন, যিনি তাঁর পুত্র মুহাম্মাদের জননী ছিলেন; আর ইয়ামামায় ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত হলো। আর এগুলোই ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরবর্তী সময়ে ইসলামের ইমারত নির্মাণের ভিত্তিসমূহ।

 

‌‌তৃতীয় মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন}। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরব উপদ্বীপ ব্যতিরেকে অন্য কোনো ভূখণ্ড জয় করেননি এবং তিনি (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) ইন্তেকাল করেন এমতাবস্থায় যে, তাঁর দ্বীন সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী হয়নি, কেবল সিদ্দীকের খিলাফতকালেই তা বিজয়ী হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৭৪)
رضي الله عنه وخلافة صاحبيه بعده رضي الله عنهم، لأنهم أجلسوا ملوك الأديان المخالفة لٌلإسلام من اليهود والنصارى والمجوس وغيرهم على التراب وسلبوا ممالكهم وخزائنهم وخلعوا تيجانهم. ومن سلم من سيوفهم ولم يُسلم ضربوا عليه الجزية. واسترقوا الأطفال والنساء، حتى أخذوا شاه زنان -ابنة كسرى الذي كانوا يسمونه الأعاجم شاه شاهان- رقيقة. فتسراها الحسين رضي الله عنه من سبي عمر رضي الله عنه. ولا دليل أظهر من هذا على حقية الخلفاء الثلاثة. إذ الدين الذي سماه الله تعالى بالهدى ودين الحق كان ظهوره على الأديان كلها بإمامتهم.

আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর পরবর্তী তাঁর দুই সঙ্গীর খিলাফত—আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন; কেননা তাঁরা ইসলামের বিরোধী ধর্মাবলম্বী ইহুদি, খ্রিস্টান, অগ্নিউপাসক এবং অন্যান্যদের রাজাদের ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের সাম্রাজ্য ও ধনভাণ্ডার ছিনিয়ে নিয়েছিলেন এবং তাঁদের রাজমুকুট চ্যুত করেছিলেন। আর যারা তাঁদের তলোয়ার থেকে রক্ষা পেয়েছিল কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করেনি, তাঁদের ওপর তাঁরা জিজিয়া কর আরোপ করেছিলেন। তাঁরা নারী ও শিশুদের দাস হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, এমনকি শাহ জানান—পারস্য সম্রাট কিসরার কন্যা, যাকে অনারবরা শাহানশাহ বা রাজাধিরাজ বলে ডাকত—তাকেও দাসী হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। অতঃপর হুসাইন (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) উমর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর সংগৃহীত যুদ্ধবন্দিনীদের মধ্য থেকে তাঁকে নিজের জন্য গ্রহণ করেন। এই তিন খলিফার সত্যতার ওপর এর চেয়ে বড় কোনো প্রমাণ নেই। কেননা মহান আল্লাহ যে দ্বীনকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন হিসেবে নামকরণ করেছেন, তাঁদের ইমামত বা নেতৃত্বের মাধ্যমেই তা সমস্ত ধর্মের ওপর জয়যুক্ত হয়েছিল।

(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৭৫)
‌‌الرابع قوله تعالى: {سَنُرِيهِمْ آَيَاتِنَا فِي الْآَفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ} ومعنى رؤية آيات الله سبحانه في الأفاق، كما نقل صاحب الكشاف، هو انتشار هذا الدين في أقطار. ومعنى رؤيتها في أنفسهم تمليك الضعفاء من المسلمين ممالك الأغنياء من الملوك، وملكوا ممالكهم وهم عرب قرية، يعني أهل مكة. حتى حكم سلمان رضي الله عنه في مملكة كسرى، وهو فارسي غريب مملوك.
চতুর্থ আল্লাহ তাআলার বাণী: {অচিরেই আমি তাদেরকে দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাব।} দিগন্তসমূহে মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহ দেখার অর্থ হলো—যেমনটি আল-কাশশাফ রচয়িতা বর্ণনা করেছেন—বিভিন্ন প্রান্তে এই দ্বীনের বিস্তার। আর তাদের নিজেদের মধ্যে নিদর্শনসমূহ দেখার অর্থ হলো, দুর্বল মুসলিমদেরকে বিত্তবান বাদশাহদের রাজত্বের মালিক বানিয়ে দেওয়া; ফলে তারা তাদের সাম্রাজ্যসমূহের মালিক হয়েছিলেন অথচ তারা ছিলেন একটি জনপদের আরব, অর্থাৎ মক্কাবাসী। এমনকি সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কিসরার সাম্রাজ্যে শাসন করেছিলেন, অথচ তিনি ছিলেন একজন প্রবাসী ও ক্রীতদাস পারসিক।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৭৬)
والمغيرة بن شعبة رضي الله عنه في مملكة النعمان بن المنذر، الحيرة وأعمالها. ومعاوية رضي الله عنه في الشام، مملكة هرقل ملك الروم، وهو من صعاليك العرب.
এবং মুগিরা ইবনে শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন নুমান ইবনে মুনযিরের রাজত্বে—হিরা ও তার সংশ্লিষ্ট অঞ্চলসমূহে। আর মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন শামে—রোম সম্রাট হিরাকলের রাজত্বে, এবং তিনি আরবের নিঃস্বদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৭৭)
وعمرو بن العاص في مصر مملكة فرعون. حتى آل الأمر بعد ذلك إلى أن كان المأمون يقرأ حتى وصل إلى قوله تعالى حكاية عن فرعون: {أَلَيْسَ لِي مُلْكُ مِصْرَ} فصاح بالخصيب، وكان عبدا مولاه علي الوزير أبو المنصاة، فأجابه، قال: وليتك مصرا، استصغارا لما استعظمه عدو الله فرعون. وأمثال ذلك. ولا دليل أبلغ من ذلك على حقية هذا الدين وحقية إمامة الثلاثة، إذ كانوا أصله.

 

‌‌الخامس قوله تعالى: {إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آَمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ
এবং আমর ইবনুল আস ছিলেন ফেরাউনের রাজ্য মিশরে। এমনকি পরবর্তীতে বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছালো যে, মামুন পাঠ করছিলেন এবং একপর্যায়ে তিনি ফেরাউনের উদ্ধৃতি দিয়ে মহান আল্লাহর এই বাণীতে উপনীত হলেন: "মিশরের রাজত্ব কি আমার নয়?" তখন তিনি খাসীবকে ডাকলেন—যিনি ছিলেন তাঁর মাওলা আলী উজির আবু মানসাতের একজন দাস—অতঃপর সে উত্তর দিলে তিনি বললেন: আল্লাহর শত্রু ফেরাউন যে বিষয়টিকে বড় মনে করেছিল, তাকে তুচ্ছ সাব্যস্ত করার জন্য আমি তোমাকে মিশরের শাসক নিযুক্ত করলাম। আর এই জাতীয় আরও উদাহরণ রয়েছে। এই দ্বীনের সত্যতা এবং সেই তিনজনের ইমামতের সত্যতার ওপর এর চেয়ে জোরালো কোনো দলিল নেই, যেহেতু তাঁরাই ছিলেন এর ভিত্তি।

 

‌‌পঞ্চম মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের বন্ধু তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং সেই মুমিনগণ যারা নামাজ কায়েম করে...}
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৭৮)
الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ} والمراد بالركوع هاهنا التواضع والخضوع، من قول الشاعر:

لا تهن الفقير علك أن تر … كع يوما والدهر قد رفعه

وبذلك فسره صاحب الكشاف، فهو قوله تعالى: {خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ}

وفي هذه الآية دليل واضح على إمامة الثلاثة: الصديق وصاحبيه. إذ
{সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে এমতাবস্থায় যে তারা রুকুকারী (অবনত)}। আর এখানে রুকু দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিনয় ও নম্রতা, যেমনটি কবির উক্তিতে রয়েছে:

দরিদ্রকে তুচ্ছজ্ঞান করো না, হতে পারে তুমি একদিন অবনত ... হবে এমতাবস্থায় যে সময় তাকে উচ্চাসীন করেছে।

এবং এভাবেই আল-কাশশাফের রচয়িতা এর ব্যাখ্যা করেছেন। এটি মহান আল্লাহর বাণীর মতো: {তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে, আর তারা অহংকার করে না}।

এবং এই আয়াতে তিনজনের ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে: সিদ্দীক এবং তাঁর দুই সঙ্গী। কারণ
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৭৯)
شروط الولاية في الآية حاصلة وصالحة لهم؛
আয়াতে বর্ণিত বেলায়েতের শর্তাবলি তাদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান এবং প্রযোজ্য;
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৮০)
لوجود الجُمع وإقامة الصلاة وإيتاء الزكاة والخضوع. أما الولاية والجُمع وإقامة الصلاة فظاهر عليهم. وأما إيتاء الزكاة فلا شك أنهم كانوا أصحاب أموال. وأما الخضوع، هو عدم التكبر، فقد ثبت أن الصديق رضي الله عنه كان أرأف الصحابة وألينهم جانبا. وعمر كان يلبس المرقّع، وكان عليه رداء فيه إحدى وعشرون رقعة، واحدة منها قطعة جراب. وكان يحمل الطعام على عاتقه للضعفاء. وكان يعمر القناطر ويحمي القوافل بنفسه وأمثال ذلك. هذا وهو ملك الدنيا ومالك ملوكها بالقهر، وقد طبقت راياته وعساكره الأقطار، وترجف من سطوته ملوك الأرض من غير منازع في إمامته. وعثمان رضي الله عنه كان على مثل ذلك بالسطوة والحكم، وصبر
জুমআসমূহ বিদ্যমান থাকা, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা এবং বিনয় প্রকাশের কারণে। তবে নেতৃত্ব, জুমআ এবং সালাত কায়েমের বিষয়টি তাদের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট। আর জাকাত প্রদানের বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে তারা সম্পদশালী ছিলেন। পক্ষান্তরে বিনয় হলো অহংকার বর্জন করা; এটি প্রমাণিত যে সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাহাবীগণের মাঝে সর্বাধিক দয়ালু ও কোমল স্বভাবের ছিলেন। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তালিযুক্ত পোশাক পরিধান করতেন; তাঁর একটি চাদরে একুশটি তালি ছিল, যার একটি ছিল চামড়ার থলির টুকরো। তিনি অভাবীদের জন্য নিজ কাঁধে খাদ্য বহন করতেন। তিনি সেতু নির্মাণ করতেন এবং নিজে কাফেলা পাহারা দিতেন এবং এই জাতীয় কাজ সম্পাদন করতেন। অথচ তিনি ছিলেন পৃথিবীর অধিপতি এবং প্রতাপের মাধ্যমে রাজাদেরও রাজা; তাঁর পতাকা ও সেনাদল দিগদিগন্ত পরিব্যাপ্ত হয়েছিল এবং তাঁর ইমামতের ব্যাপারে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যতিরেকেই পৃথিবীর রাজন্যবর্গ তাঁর ভয়ে প্রকম্পিত হতো। উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রভাব-প্রতিপত্তি ও শাসনের ক্ষেত্রে অনুরূপ ছিলেন এবং তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন...
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৮১)
لقتله ولم يدم من المسلمين مثل محجمة من دم عند حصاره، وقال: لا أكون أول من خلّف محمدا في أمته بالسيف. وهذا دليل متضح على صحة إمامتهم.

ادعت الرافضة [لعنهم الله] أن هذه الآية في علي رضي الله عنه خاصة دون غيره. واحتجوا بها أنه رضي الله عنه تصدق بخاتمه على سائل وهو راكع.
তাকে হত্যার জন্য, এবং তাঁর অবরোধের সময় মুসলমানদের পক্ষ থেকে এক সিঙা পরিমাণ রক্তও প্রবাহিত হয়নি। তিনি বলেছিলেন: "আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মতের মধ্যে তরবারির মাধ্যমে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়া প্রথম ব্যক্তি হব না।" আর এটি তাদের ইমামতের সঠিকতার ওপর একটি সুস্পষ্ট দলিল।

রাফেজিরা [আল্লাহ তাদের ওপর লানত করুন] দাবি করেছে যে, এই আয়াতটি অন্য কারো জন্য নয়, বরং বিশেষভাবে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট। তারা এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছে যে, তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রুকু অবস্থায় থাকা অবস্থায় এক যাঞ্চাকারীকে নিজের আংটি সদকা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৮২)
ويمتنع ذلك من وجوه:

الأول أن الذين {الَّذِينَ آَمَنُوا} لفظ جمع، ويمتنع حمل الجمع على الواحد في لغة العرب. قالوا: للتعظيم. قلنا: التعظيم هاهنا مدفوع لعلي رضي الله عنه، إذ الله ورسوله ذكرا في الآية من غير مقارنة تعظيم، فكيف يذكر التعظيم له دونهما.
এটি বেশ কিছু দিক থেকে অসম্ভব:

প্রথমত, 'যারা' {যারা ঈমান এনেছে} শব্দটি একটি বহুবচনবাচক শব্দ, আর আরবি ভাষায় বহুবচনকে একবচনের অর্থে ব্যবহার করা অসম্ভব। তারা বলে: এটি সম্মান প্রদর্শনের জন্য। আমরা বলি: এখানে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ক্ষেত্রে সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য, কারণ এই আয়াতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কোনো বিশেষ সম্মানসূচক তুলনা ছাড়াই উল্লেখ করা হয়েছে; এমতাবস্থায় তাঁদের বাদ দিয়ে কেবল তাঁর জন্য কেন সম্মানসূচক শব্দ উল্লেখ করা হবে?
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৮৩)
الثاني أن الرافضة يدّعون أن عليا رضي الله عنه طلق الدنيا وأنه لا مال له، كان يلبس القصير ويأكل الشعير. والآية فيها ذكر الزكاة، والزكاة لا تكون إلا ممن له مال. فتنافيا.

الثالث أن الله مدح الخاشع في الصلاة. وكون إنسان يشغل جوارحه في الصلاة بنزع خاتم وإشارة إلى سائل وقذفه إليه ويشغل قلبه بنية الزكاة ليس من الخشوع. وحاشا أمير المؤمنين من مثل ذلك، إذ هو بحر علم لا يدرك قعره.

الرابع أن الزكاة تطلق على صدقة الفرض ولا تكون إلا من الأنفع للمستحق. وأي نفع في قطعة فضة يجوز عليها احتمال الجهالة في القدر والغش في الجنس عن مال مضروب معلوم خالص. وهل نسبة مثل هذا إلى عالم زمانه إلا سفه من الرافضة.

الخامس أن الله تعالى وصف الحزب الذي يتولاه هذا الإمام بأن يكون
দ্বিতীয়ত, রাফেজিরা দাবি করে যে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) দুনিয়াকে ত্যাগ করেছিলেন এবং তাঁর কোনো সম্পদ ছিল না; তিনি খাটো পোশাক পরতেন এবং যবের রুটি খেতেন। অথচ এই আয়াতে যাকাতের উল্লেখ রয়েছে, আর যাকাত কেবল সম্পদশালীর পক্ষ থেকেই হওয়া সম্ভব। সুতরাং এ দুটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।

তৃতীয়ত, আল্লাহ তাআলা সালাতে একাগ্রতা অবলম্বনকারীদের প্রশংসা করেছেন। সালাত রত অবস্থায় কোনো ব্যক্তির আংটি খোলা, সাহায্যপ্রার্থীর দিকে ইশারা করা ও তার দিকে তা নিক্ষেপ করার মাধ্যমে নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ব্যস্ত রাখা এবং যাকাতের নিয়ত করে অন্তরকে মশগুল রাখা খুশু বা একাগ্রতার অন্তর্ভুক্ত নয়। আমীরুল মুমিনীন এ জাতীয় কাজ থেকে পবিত্র; কেননা তিনি ইলমের এমন এক অতল সমুদ্র যার গভীরতা পরিমাপ করা যায় না।

চতুর্থত, যাকাত শব্দটি ফরজ সদকার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং তা কেবল হকদারের জন্য যা অধিকতর উপকারী তা থেকে প্রদান করতে হয়। একটি সুনির্দিষ্ট ও বিশুদ্ধ মুদ্রার পরিবর্তে এমন এক টুকরো রূপার মধ্যে কী ফায়দা থাকতে পারে, যার পরিমাণ অজানা হওয়ার এবং যার উপাদানে ভেজাল থাকার সম্ভাবনা থাকে? সমকালীন শ্রেষ্ঠ আলেমের প্রতি এমন কাজকে সম্পর্কিত করা রাফেজিদের নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

পঞ্চমত, আল্লাহ তাআলা সেই দলকে—যাদের অভিভাবকত্ব এই ইমাম গ্রহণ করবেন—এভাবে বর্ণনা করেছেন যে...
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৮৪)
غالبا بقوله تعالى: {وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آَمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ} ولم يُر غالبا إلا أهل السنة الذين هم أتباع أبي بكر وعمر وعثمان وعلي رضي الله عنهم. والرافضة الذين يزعمون أنهم أتباع علي منذ ظهروا إلى الآن، بل إلى آخر الزمان، لم يزالوا مغلوبين تحت الحكم والقهر. وهذه أدلة راجحة تمنع اختصاص علي بالإمامة دون أصحابه. والله أعلم.

 

‌‌السادس قوله تعالى {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا} والثلاثة الشروط التي في الآية خطاب للصحابة. وقد حصل للأئمة الثلاث الاستخلاف وتمكين الدين وأبدل الخوف -الذي حصل بموت النبي صلى الله عليه وسلم حين ارتدت أهل اليمامة وتبعت مسيلمة الكذاب- بالأمن. وكان أصل تمكين من تمكن وأمن من أمن فيما بعد خلافتهم.
আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে বিজয় সুনিশ্চিত: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, তবে আল্লাহর দলই বিজয়ী হবে।" আহলে সুন্নাত ছাড়া আর কাউকে সাধারণত বিজয়ী দেখা যায়নি, যারা হলেন আবু বকর, উমর, উসমান এবং আলী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর অনুসারী। আর রাফেজিরা, যারা নিজেদেরকে আলীর অনুসারী বলে দাবি করে, তাদের আবির্ভাবকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত, বরং শেষ জামানা পর্যন্ত তারা সর্বদা শাসন ও শক্তির অধীনে পরাজিত অবস্থায় থেকেছে। আর এগুলো হচ্ছে শক্তিশালী দলিল যা আলীকে তাঁর সাথীদের বাদ দিয়ে কেবল তাঁর জন্য ইমামতকে নির্দিষ্ট করতে বাধা প্রদান করে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

 

‌‌ষষ্ঠত: আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন যেভাবে তাদের পূর্ববর্তীদের দিয়েছিলেন। আর তাদের জন্য তিনি তাদের সেই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ের পর অবশ্যই তাদের অবস্থাকে নিরাপত্তায় বদলে দেবেন।" আর আয়াতে বর্ণিত তিনটি শর্ত সাহাবীদের প্রতি সম্বোধন। এই তিন ইমামের (খলিফার) ক্ষেত্রে খেলাফত লাভ, দ্বীনের প্রতিষ্ঠা এবং ভয়ের বদলে নিরাপত্তা লাভ—যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের পর ইয়ামামাবাসীদের ধর্মত্যাগ এবং মিথ্যাবাদী মুসায়লামার অনুসরণের সময় সৃষ্টি হয়েছিল—তা পূর্ণভাবে অর্জিত হয়েছে। আর পরবর্তীতে যারা দ্বীন প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে এবং যারা নিরাপত্তা লাভ করেছে, তার মূল ভিত্তি ছিল তাঁদেরই খেলাফত আমল।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৮৫)
‌‌السابع قوله تعالى {وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا} الآية. أجمع المفسرون أن بعض الحديث المسر قول النبي صلى الله عليه وسلم لزوجته حفصة بنت عمر: "إن أباك وأبا بكر يليان أمر أمتي من بعدي" وأن البعض المعرض عنه أمر خلافتهما.
সপ্তম মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন নবী তাঁর স্ত্রীদের একজনের কাছে গোপনে একটি কথা বলেছিলেন} আয়াত। মুফাসসিরগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, গোপনে বলা কথার একটি অংশ ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর স্ত্রী হাফসা বিনতে উমরকে বলা এই কথাটি: "নিশ্চয়ই তোমার পিতা এবং আবু বকর আমার পরে আমার উম্মতের শাসনভার গ্রহণ করবেন", এবং যে অংশটি তিনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন তা ছিল তাঁদের খেলাফতের বিষয়টি।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৮৬)
‌‌الثامن أن الله تعالى جعل إثبات الحق بشاهدين عدلين أو بتسليم الخصم. وكلاهما حصل للصديق رضي الله عنه. أما التسليم فعلي رضي الله عنه -على تقدير كونه مدّعي الإمامة- حينئذ لم ينازع. وأما الشهادة فقد شهد للصديق ثمانون ألفا عدول. لأن أولئك صدر
অষ্টম নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সত্য প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন দুইজন ন্যায়নিষ্ঠ সাক্ষী অথবা প্রতিপক্ষের স্বীকৃতির মাধ্যমে। এবং এই উভয় বিষয়ই সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর অনুকূলে অর্জিত হয়েছিল। স্বীকৃতির বিষয়টি হলো, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)—তাঁকে ইমামতের দাবিদার ধরে নেওয়া হলেও—তৎকালে কোনো বিবাদ করেননি। আর সাক্ষ্যের বিষয়টি হলো, আশি হাজার ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। কারণ তাঁরা...
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৮৭)
الأمة. وقد عدّلهم الله تعالى بأن جعلهم شهودا على الناس وجعل النبي صلى الله عليه وسلم مزكيا لهم بقوله سبحانه وتعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} فالطاعن في شهادتهم من الرافضة بدعوى التعصب منهم للصديق، فقد رد قوله الله تعالى. وكفى بذلك كفرا وتجرؤا على الله تعالى. وطعن الخصم أو المتعصب له في الشهود لا يسمع، ولا حاصل له على التعصب غير استهزاء الحكم به.

 

‌‌التاسع أن النبي صلى الله عليه وسلم توفي عن أمته وهم من الآل والأصحاب مائة وعشرون ألفا، والجميع اتفقوا على إمامة أبي بكر رضي الله عنه، ثمانون ألفا حضروا بيعته، أربعون ألفا كانوا متفرقين في البلاد وقد حضروا بعد البيعة ووافقوا.

وصورة الاجتماع أن النبي صلى الله عليه وسلم لما توفي أنكر عمر رضي الله عنه وفاته وقال: ما ينبغي لمحمد أن يموت، والله ليبعثنه والله ليقطعن أيدي رجال وأرجلهم. وكان أبو بكر غائب في حائط له، فجاء ودخل على النبي صلى الله عليه وسلم وكشف
উম্মত। মহান আল্লাহ তাদেরকে মানুষের ওপর সাক্ষী বানিয়ে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের জন্য সত্যায়নকারী হিসেবে সাব্যস্ত করে তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হতে পারেন।} সুতরাং রাফেজিদের মধ্য থেকে যারা সিদ্দীক (আবু বকর)-এর প্রতি সাহাবীগণের পক্ষপাতের অজুহাতে তাঁদের সাক্ষ্যের ওপর অপবাদ দেয়, তারা মূলত মহান আল্লাহর বাণীকেই প্রত্যাখ্যান করল। আর আল্লাহর প্রতি ধৃষ্টতা ও কুফরি হিসেবে এটাই যথেষ্ট। সাক্ষীদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ বা পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তির আপত্তির কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই; বরং এ জাতীয় গোঁড়ামির মাধ্যমে বিচারিক সিদ্ধান্তকে উপহাস করা ছাড়া আর কোনো ফল অর্জিত হয় না।

 

‌‌নবম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে রেখে ইন্তেকাল করেন, যারা তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবী মিলিয়ে এক লক্ষ বিশ হাজার ছিলেন। আর তাঁরা সকলে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইমামতের (নেতৃত্বের) ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন। আশি হাজার লোক তাঁর বায়আতে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং চল্লিশ হাজার লোক বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন, যারা বায়আতের পর উপস্থিত হয়ে তাতে সম্মতি প্রদান করেন।

সেই জমায়েতের প্রেক্ষাপট ছিল এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর ইন্তেকালকে অস্বীকার করেন এবং বলেন: "মুহাম্মাদের মৃত্যু হওয়া সমীচীন নয়, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তাঁকে অবশ্যই পুনরুত্থিত করবেন এবং আল্লাহর কসম! তিনি একদল লোকের হাত ও পা কেটে ফেলবেন।" আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন তাঁর একটি বাগানে থাকায় সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি আসলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রবেশ করে তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরালেন।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৮৮)
عن وجهه فرآه ميتا، فقبله وقال: بأبي طبت حيا وميتا. ثم أنشد شعرا:

كنت السواد لناظري … وعليك يبكي الناظر

من شاء بعدك فليمت … فعليك كنت أحاذر

ثم خرج [إلى] الناس وتلا على عمر قوله تعالى: {إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ} فقال عمر: والله لقد كنت أتلوها، وكأنها الآن لم تمر على قلبي. ثم نادى أبو بكر في الناس: ألا من كان يعبد محمدا فإن محمدا قد مات، ومن كان يعبد الله فإن الله حي لا يموت. ثم باشر غسله علي والعباس
তিনি তাঁর মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেলেন। অতঃপর তাঁকে চুম্বন করলেন এবং বললেন: আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন, আপনি জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থাতেই পবিত্র। এরপর তিনি এই কবিতাটি পাঠ করলেন:

আপনি ছিলেন আমার চোখের মণি … আর আপনার বিরহেই আঁখি রোদন করে

আপনার পরে যার ইচ্ছা মৃত্যু বরণ করুক … কারণ আমি কেবল আপনার বিয়োগব্যথারই আশঙ্কা করতাম

অতঃপর তিনি মানুষের নিকট বেরিয়ে আসলেন এবং উমরের সামনে মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করলেন: {নিশ্চয়ই আপনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে।} উমর বললেন: আল্লাহর শপথ! আমি এটি পাঠ করতাম, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে যেন এটি ইতিপূর্বে কখনো আমার হৃদয়ে প্রবেশ করেনি। এরপর আবু বকর মানুষের মাঝে উচ্চস্বরে ঘোষণা করলেন: শোনো, যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের ইবাদত করত, মুহাম্মদ নিশ্চিতভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করত, নিশ্চয়ই আল্লাহ চিরঞ্জীব, তাঁর কোনো মৃত্যু নেই। অতঃপর আলী ও আব্বাস তাঁর গোসলের কাজ শুরু করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৮৯)
وواحد من الأنصار يفيض الماء عليه. ثم كفن وصلت الناس عليه فرادى.
এবং আনসারদের মধ্য থেকে একজন তাঁর ওপর পানি ঢালছিলেন। অতঃপর তাঁকে কাফন পরানো হলো এবং লোকজন তাঁর ওপর এককভাবে সালাত আদায় করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৯০)
واختلفوا في موضع دفنه. فقال الصديق: ما من نبي مات إلا دفن موضع موته. فاعتمدوا على ذلك. ثم حُول فراشه الذي مات عليه وحفر قبره موضع الفراش ودفن فيه في حجرة زوجته عائشة رضي الله عنها.

ثم بعد دفنه اجتمع الأنصار في سقيفة بني ساعدة ليقيموا سيدهم سعد بن عبادة أميرا على الناس.
তারা তাঁর দাফনের স্থান নিয়ে মতভেদ করলেন। অতঃপর সিদ্দিক বললেন: কোনো নবীই মৃত্যুবরণ করেননি, তবে তাঁর মৃত্যুর স্থানেই তাঁকে দাফন করা হয়েছে। সুতরাং তারা সেই বিষয়ের ওপর নির্ভর করলেন। অতঃপর তাঁর বিছানা, যার উপরে তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন, তা সরানো হলো এবং সেই বিছানার স্থানেই তাঁর কবর খনন করা হলো এবং তাঁর স্ত্রী আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হুজরায় সেখানেই তাঁকে দাফন করা হলো।

অতঃপর তাঁর দাফন পরবর্তী সময়ে আনসারগণ সাকিফাহ বনী সায়েদাহতে একত্রিত হলেন যাতে তারা তাদের নেতা সাদ ইবনে উবাদাহকে মানুষের ওপর আমীর হিসেবে নিযুক্ত করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৯১)
فجاء أبو بكر وعمر إليهم. فقام خطيبهم فحمد الله وأثنى عليه وقال في خطبته: نحن كتيبة (1) الإسلام ونحن آوينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونصرناه، ونحن أحق بالإمامة. قال عمر رضي الله عنه: وكنت هيأت مقالة لأقدمها بين يدي أبي بكر، فلما هممت بالكلام منعني أبو بكر فقال: على رسلك يا عمر. ثم تكلم بديهم أحسن ما كنت لفقته، فقال: ما ذكرتم فيكم من خير فأنتم أهله، ولكن الإمامة لا تصل إليكم. فقالوا: منا أمير ومنكم أمير. قال أبو بكر رضي الله عنه: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «الأئمة من قريش». فلم يقم أبو بكر رضي الله عنه من مجلسه حتى بايعه مجموع الأنصار. فوعك

--------------------------------------------

(1) في الأصل كنانة

অতঃপর আবু বকর ও উমর তাদের নিকট আসলেন। তখন তাদের বক্তা দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন এবং তার ভাষণে বললেন: আমরা ইসলামের সুসংগঠিত বাহিনী (১) এবং আমরাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আশ্রয় দিয়েছি ও তাঁকে সাহায্য করেছি, আর আমরাই ইমামতের (নেতৃত্বের) অধিক হকদার। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমি আবু বকরের সামনে পেশ করার জন্য একটি বক্তব্য প্রস্তুত করে রেখেছিলাম, কিন্তু যখনই আমি কথা বলার ইচ্ছা করলাম, আবু বকর আমাকে বাধা দিলেন এবং বললেন: হে উমর, শান্ত হও। অতঃপর তিনি উপস্থিতভাবে এমন চমৎকার বক্তব্য প্রদান করলেন যা আমার সাজানো বক্তব্যের চেয়েও উত্তম ছিল। তিনি বললেন: তোমরা নিজেদের সম্পর্কে যে সব কল্যাণের কথা উল্লেখ করেছ, তোমরা অবশ্যই তার যোগ্য; কিন্তু ইমামত (নেতৃত্ব) তোমাদের নিকট পৌঁছাবে না। তখন তারা বলল: আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমির থাকবে। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ইমামগণ কুরাইশ বংশ থেকে হবেন।» আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর মজলিস থেকে ততক্ষণ উঠলেন না যতক্ষণ না আনসারদের সমগ্র দল তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করল। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'কিনানাহ' রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাজুল বাহিরা ফী ইফহামিত তয়িফাতিল কাফিরাতিল ফাজিরা (পৃষ্ঠা: ৯২)
سعد، فقال قائل: قتلتم سعدا، قال عمر: قتله الله. فلم تدر عليه سنة حتى بال في جحر من الأرض فخرج منه سهم رمته الجن به فمات به. وسُمع قائل ينشد شعرا:

قد قتلنا سيد الخزرج سعد بن عبادة

ورمينا بسهمين فلم نخطِ فؤاده

ثم بعد بيعة الأنصار هرع مجموع من كان حاضرا من الآل والصحب إلى بيعته، وجاء مجموع من كان غائبا وبايع. والجميع انقادوا
সাদ, তখন জনৈক ব্যক্তি বললেন: তোমরা সাদকে হত্যা করেছ। ওমর বললেন: আল্লাহ তাকে হত্যা করেছেন। অতঃপর এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই তিনি জমিনের একটি গর্তে প্রস্রাব করলেন, তখন সেখান থেকে একটি তীর বের হয়ে আসলো যা জিনেরা তাঁর প্রতি নিক্ষেপ করেছিল এবং তাতেই তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। আর জনৈক ব্যক্তিকে কবিতা আবৃত্তি করতে শোনা গেল:

আমরা খাযরাজ গোত্রের নেতা সাদ ইবনে উবাদাহকে হত্যা করেছি

এবং আমরা দুটি তীর নিক্ষেপ করেছি যা তার হৃদয় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি

অতঃপর আনসারদের বাইয়াতের পর পরিবারের সদস্য ও সাহাবীদের মধ্য থেকে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা সকলে তাঁর বাইয়াতের জন্য দ্রুত ধাবিত হলেন এবং যারা অনুপস্থিত ছিলেন তারাও আসলেন ও বাইয়াত গ্রহণ করলেন। আর সকলেই আনুগত্য স্বীকার করলেন।