(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: -)
نفحات من علوم القرآن القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: نفحات من علوم القرآن
المؤلف: محمد أحمد محمد معبد (ت 1430هـ)
الناشر: دار السلام - القاهرة
الطبعة: الثانية،: 1426 هـ - 2005 م
عدد الصفحات: 142
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 محرم 1433
নাফাহাত মিন উলূমিল কুরআন বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসীর
গ্রন্থ: নাফাহাত মিন উলূমিল কুরআন
গ্রন্থকার: মুহাম্মদ আহমদ মুহাম্মদ মাবাদ (মৃ. ১৪৩০ হি.)
প্রকাশক: দারুস সালাম - কায়রো
সংস্করণ: দ্বিতীয়,: ১৪২৬ হি. - ২০০৫ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ মুহাররম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة المؤلف للطبعة الثانيةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي أنزل القرآن تبيانا لكل شيء وهدى ورحمة لقوم يؤمنون. والصلاة والسلام على خير الأنام. سيدنا ونبينا وحبيبنا محمد- عليه الصلاة والسلام وعلى آله وصحبه الكرام .... أما بعد:
فإن القرآن العظيم هو الكنز الزاخر والبحر الوافر الذي لا تنقضي عجائبه، قد حوى لنا الكثير والكثير من العلوم والمعارف مما لا يمكن حصره مهما ظهر للبشر من علومه فإنه لا يزال به الكثير من المعارف والعلوم والحكم والتشريعات الإلهية، التي يستقيم بها أمر البشرية كلما غاصوا في بحوره واستخلصوا من معانيه. وقد جدّ كثير من أهل العلم في التحصيل من هذا البحر الزاخر قديما وحديثا، ومع هذا كله لم يزل بكرا.
ومن الذين أدلوا بدلوهم في هذا الميدان من المتقدمين. الإمام السيوطي في تأليف كتابه «الإتقان في علوم القرآن»، والإمام الزركشي في كتابه «البرهان في علوم القرآن»، والزرقاني في كتابه «مناهل العرفان» وغيرهم كثير من السابقين الذين ألّفوا في علوم القرآن.
وفي هذا العصر كتب الكثيرون في علوم القرآن ومنهم: فضيلة الشيخ منّاع القطّان، والشيخ الصابوني، والدكتور الذهبي وآخرون. ولم تزل علوم القرآن في حاجة إلى الإيضاح والبيان من أهل العلم والعرفان.
ومع علمي بأنني لست من فرسان هذا الميدان إلّا أنّ حبّي لكتاب الله تعالى وفهم معانيه والوقوف على بعض أسراره، مع رغبتي في تيسير فهم بعض أبواب علوم القرآن، فقد أدليت بدلوي في إيضاح بعض أبواب علوم القرآن بأسلوب سهل ميسور يدور فيه الحوار على شكل سؤال وجواب، حتّى يسهل على القارئ فهم ما بهذا المؤلّف من علوم القرآن العظيم.
ولقد أسميت هذا المؤلّف (نفحات من علوم القرآن) وأوردت فيه بعد كل باب
দ্বিতীয় সংস্করণের জন্য লেখকের ভূমিকাবিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত হিসেবে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা, আমাদের নেতা, নবী ও প্রিয়তম মুহাম্মদ (সা)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সম্মানিত সাহাবীগণের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান কুরআন হলো এক অফুরন্ত ভাণ্ডার এবং সুবিশাল সমুদ্র, যার বিস্ময়কর নিদর্শনাদি কখনো শেষ হয় না। এটি আমাদের জন্য এমন অসংখ্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ধারণ করে আছে যা গণনা করা অসম্ভব। মানুষের কাছে এর যত জ্ঞানই উন্মোচিত হোক না কেন, এতে সর্বদা আরও বহু জ্ঞান, বিজ্ঞান, হিকমত এবং খোদায়ী বিধানাবলি বিদ্যমান থাকে, যার মাধ্যমে মানবজাতির যাবতীয় বিষয়াদি সুসংহত হয় যখনই তারা এর গভীরে অবগাহন করে এবং এর মর্মার্থ আহরণ করে। প্রাচীন ও আধুনিক যুগের বহু আলিম এই সুবিশাল সমুদ্র থেকে জ্ঞান অর্জনে সচেষ্ট হয়েছেন, কিন্তু এতদসত্ত্বেও এটি এখনো চিরনতুন ও অস্পর্শিত রয়ে গেছে।
আর যারা এই ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন সেই পূর্বসূরী উলামাদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম সুয়ুতী তাঁর রচিত ‘আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন’ গ্রন্থে, ইমাম যারকাশী তাঁর রচিত ‘আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন’ গ্রন্থে, এবং যারকানী তাঁর রচিত ‘মানাহিলুল ইরফান’ গ্রন্থে। এ ছাড়াও পূর্ববর্তী আরও অনেকেই উলুমুল কুরআনের ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন।
বর্তমান যুগেও উলুমুল কুরআনের ওপর অনেকেই লিখেছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ফযিলাতুশ শায়খ মান্না আল-কাত্তান, শায়খ সাবুনী, ডক্টর যাহাবী এবং আরও অনেকে। আর উলুমুল কুরআন এখনো ইলম ও প্রজ্ঞাবানদের পক্ষ থেকে অধিকতর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মুখাপেক্ষী।
আমি এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ অশ্বারোহী না হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর কিতাবের প্রতি আমার ভালোবাসা, এর মর্মার্থ অনুধাবন এবং এর রহস্যসমূহ জানার প্রবল আকাঙ্ক্ষা থেকে, আর উলুমুল কুরআনের কিছু পরিচ্ছেদ সহজবোধ্য করার ইচ্ছায় আমি এই জ্ঞান-সাগরে আমার সাধ্যমতো প্রয়াস চালিয়েছি। আমি উলুমুল কুরআনের কিছু অধ্যায় সহজ ও সাবলীল ভাষায় ব্যাখ্যা করেছি যেখানে আলোচনাটি প্রশ্ন ও উত্তর আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে পাঠকদের জন্য এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত উলুমুল কুরআনের বিষয়াবলি অনুধাবন করা সহজ হয়।
আমি এই গ্রন্থটির নামকরণ করেছি ‘নাফাহাতুন মিন উলুমিল কুরআন’ এবং এতে প্রতিটি পরিচ্ছেদের শেষে উল্লেখ করেছি...
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৪)
من أبوابه أسئلة وتمرينات ليتمكن القارئ من فهمه بعد قراءته لاستخلاص الأحكام وتثبيت ما ورد من معان وأفهام.
هذا ولقد بذلت فيه قصارى جهدي ولا أخلي نفسي من التقصير، فإن الإنسان مهما وصل من العلم فهناك من هو أعلم منه، وصدق الله تعالى حيث يقول في كتابه المكنون: وَفَوْقَ كُلِّ ذِي عِلْمٍ عَلِيمٌ.
وإنّني أرجو من أخي القارئ الكريم إن وجد فيه شيئا من التقصير فلينبّهني إليه، وإن وجده تامّا نافعا فليدع لي بخير، وكما قال الإمام الشاطبي رحمه الله تعالى:
وإن كان خرق فادّركه بفضلة
… من الحلم وليصلحه من جاد مقولا
وجزى الله خيرا كل من نظر في هذا الكتيب بعين الرضا، ونأى بنفسه عن الهوى والغرض، وأرشدني إلى الأصلح.
والله أسأل أن ينفع بهذا الكتاب كل قارئ. وأن يجعله خادما للقرآن الكريم مبينا لبعض علومه، كما أسأله تبارك وتعالى أن يتقبله مني وأن يجعله في ميزان حسناتي وأن يتجاوز بهذا العمل المتواضع عن زلّاتي، إنه جواد كريم. ولقد حاولت جاهدا أن يكون ما يحويه هذا المؤلّف متمشيا مع منهج الأزهر الشريف خدمة لطلابه الكرام.
وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا ونبينا وحبيبنا محمد خير خلق الله على الإطلاق، وعلى آله وأصحابه وأحبابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم التلاق.
المؤلف
خادم القرآن الكريم والعلم
محمد أحمد معبد
مدرس القرآن الكريم والتجويد
بالمسجد النبوي الشريف
এর অধ্যায়গুলোতে প্রশ্ন ও অনুশীলনসমূহ যুক্ত করা হয়েছে, যাতে পাঠক এটি পাঠ করার পর তা অনুধাবন করতে এবং বিধানসমূহ (أحكام) আহরণ ও এতে বর্ণিত অর্থ ও উপলব্ধিসমূহ সুদৃঢ় করতে সক্ষম হন।
এতে আমি আমার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি, তবে নিজেকে ত্রুটিমুক্ত মনে করি না। কেননা মানুষ জ্ঞানের যে স্তরেই উপনীত হোক না কেন, তার ঊর্ধ্বে আরও অধিক জ্ঞানী কেউ না কেউ থাকেন। মহান আল্লাহ তাঁর সুরক্ষিত কিতাবে যথার্থই বলেছেন: "আর প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে আছেন একজন মহাজ্ঞানী।"
আমি সম্মানীয় পাঠক ভাইয়ের নিকট আশা রাখি যে, তিনি যদি এতে কোনো ত্রুটি দেখতে পান তবে যেন আমাকে সে বিষয়ে অবহিত করেন। আর যদি একে পূর্ণাঙ্গ ও উপকারী মনে করেন, তবে যেন আমার জন্য কল্যাণের দোয়া করেন। যেমনটি ইমাম শাতবী (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) বলেছেন:
যদি কোনো বিচ্যুতি থাকে তবে অনুগ্রহ ও সহনশীলতার সাথে তা সংশোধন করে নিন; আর যার বাকপটুতা আছে তিনি যেন তা মার্জিত করেন।
… আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যক্তিকে উত্তম প্রতিদান দিন, যিনি এই পুস্তিকাটি সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে দেখবেন, ব্যক্তিগত খেয়াল-খুশি ও হীন উদ্দেশ্য থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন এবং আমাকে অধিকতর সঠিক পথের দিশা দেবেন।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কিতাবের মাধ্যমে প্রত্যেক পাঠককে উপকৃত করেন। একে পবিত্র কুরআনের সেবক এবং এর কতিপয় ইলমের (علوم) বর্ণনাকারী হিসেবে কবুল করেন। মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার নিকট আরও আরজি পেশ করছি যে, তিনি যেন এটি আমার পক্ষ থেকে কবুল করেন, একে আমার নেক আমলের পাল্লায় জমা করেন এবং এই বিনম্র প্রচেষ্টার অসিলায় আমার ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও মহানুভব। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি যাতে এই সংকলনের বিষয়বস্তু আল-আযহার আল-শরীফের পাঠ্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যাতে এর সম্মানিত শিক্ষার্থীদের খিদমত আঞ্জাম দেওয়া যায়।
আমাদের নেতা, নবী ও প্রিয়তম মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক, যিনি সৃষ্টিজগতের নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠ সত্তা। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, প্রিয়ভাজন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর।
লেখক
পবিত্র কুরআন ও ইলমের খাদেম
মুহাম্মদ আহমদ মাবাদ
পবিত্র কুরআন ও তাজবিদ শিক্ষক
মসজিদে নববী শরীফ
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقريظ لكتاب (نفحات من علوم القرآن)للدكتور محمد أحمد رضوان صالح الحمد لله رب العالمين. والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء وإمام المرسلين سيدنا محمد وعلى آله وصحابته والتابعين إلى يوم الدين .. وبعد:
فإن القرآن الكريم هو الكتاب المبارك الذي أنزله الله رحمة للعالمين يهدي به الله من اتبع رضوانه سبل السلام ويخرجهم من الظلمات إلى النور بإذنه ويهديهم إلى صراط مستقيم.
وإن العمل في رحاب هذا الكتاب الكريم لهو شرف لا يعدله شرف، وإن خدمة هذا النور الإلهيّ والهدى الربانيّ لهو من أجلّ ما يتشرف به الإنسان ويعتزّ به حيث شهد له من أنزل عليه هذا الكتاب صلوات الله وتسليماته عليه بالخيرية والأفضلية عند ما قال: (خيركم من تعلّم القرآن وعلّمه) رواه البخاري.
وصدق الله حيث قال: إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحافِظُونَ وكان من دلائل صدق هذه الآية الكريمة أن الله تعالى قد تكفل بحفظ كتابه الكريم إلى يوم الدين أن قيّض له
من أولي العلم والنّهى من بذلوا جهودا مشكورة، وصنّفوا المصنفات، وألّفوا المؤلفات في العلوم التي تتصل بهذا الكتاب الكريم وتشكّل سياجا منيعا للحفاظ عليه، تلك التي عرفت ب «علوم القرآن».
وكان من توفيق الله سبحانه وتعالى للشيخ الفاضل الأستاذ محمد أحمد معبد أن شارك بهذا الجهد الطيب في هذا المضمار.
وقد وهب الرجل حياته لخدمة كتاب الله تعالى حفظا وتلاوة وتعليما، وله في هذا المجال باع طويل، وقد تخرج على يديه جيل من الحفظة لكتاب الله وتلاميذ مجيدون لتلاوته من جنسيات مختلفة. وكانت هذه المسيرة المباركة مع كتاب الله تعالى- والتي أربت على الأربعين عاما- فى بلده وموطنه الأصلي كنانة الله في أرضه- مصر- ثم في قبة الإسلام وأرض الإيمان ودار الهجرة ومثوى الحلال والحرام طيبة الطيبة المدينة النبوية الزاهرة على صاحبها أفضل الصلوات وأزكى التسليمات.
أما هذا السّفر المبارك فقد بذل فيه المؤلف جهدا طيّبا لذا فهو مفيد في بابه نافع في
(নাফাহাতু মিন উলূমিল কুরআন) গ্রন্থের একটি প্রশংসা বাণী (تقريظ)ডক্টর মুহাম্মদ আহমদ রেদওয়ান সালেহ-এর পক্ষ থেকে। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবীগণের সমাপ্তিকারী এবং রাসূলগণের ইমাম আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং বিচার দিবস পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআন হলো সেই বরকতময় কিতাব যা আল্লাহ তাআলা বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ অবতীর্ণ করেছেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যে তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে, এবং তিনি নিজ অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদেরকে সরল ও সঠিক পথের দিশা প্রদান করেন।
আর এই মহাগ্রন্থের সান্নিধ্যে কাজ করা এমন এক সম্মান যার সমতুল্য কোনো সম্মান নেই। এই ঐশ্বরিক নূর এবং রব্বানি হিদায়াতের খেদমত করা মানুষের জন্য অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও গর্বের বিষয়। কারণ, যাঁর ওপর এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে—তাঁর ওপর আল্লাহর অসংখ্য দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—তিনি এই কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার সাক্ষ্য দিয়েছেন যখন তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা শিক্ষা দেয়।" বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ সত্যই বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি উপদেশবাণী (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।" এই মহিমান্বিত আয়াতের সত্যতার অন্যতম নিদর্শন হলো এই যে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পবিত্র কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ লক্ষ্যে তিনি এমন প্রজ্ঞাবান ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের নিয়োজিত করেছেন যারা প্রশংসনীয় শ্রম দিয়েছেন,
এবং তাঁরা এই মহাগ্রন্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কিতাব ও গ্রন্থাদি রচনা করেছেন যা একে সংরক্ষণের জন্য এক মজবুত প্রাচীরস্বরূপ। এই শাস্ত্রসমূহ 'কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহ (علوم القرآن)' হিসেবে পরিচিত।
এটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বিশেষ তাওফিক যে, ফজিলতসম্পন্ন শায়খ উস্তাদ মুহাম্মদ আহমদ মাবাদ এই ময়দানে এই উত্তম প্রচেষ্টার মাধ্যমে শরিক হয়েছেন।
এই ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব মুখস্থকরণ, তিলাওয়াত ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে এর খিদমতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর হাতে আল্লাহর কিতাবের হাফেজদের একটি প্রজন্ম এবং বিভিন্ন দেশের তিলাওয়াতে পারদর্শী ছাত্র তৈরি হয়েছে। আল্লাহর কিতাবের সাথে এই বরকতময় পথচলা—যা চল্লিশ বছরেরও অধিক সময় ধরে চলছে—প্রথমে শুরু হয়েছিল তাঁর নিজের দেশ ও জন্মভূমি মিশরে, যা আল্লাহর যমীনে এক সংরক্ষিত স্থান। অতঃপর ইসলামের গম্বুজ, ঈমানের ভূমি, হিজরতভূমি এবং হালাল ও হারামের আবাসস্থল আলোকোজ্জ্বল মদিনা মুনাওয়ারায়; এর অধিপতির ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক।
আর এই বরকতময় গ্রন্থটির ক্ষেত্রে লেখক অত্যন্ত উত্তম শ্রম দিয়েছেন, যার ফলে এটি নিজ বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও উপকারী...
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৬)
مجاله، وقد أجاد فيه المؤلف وأفاد حيث جاءت المعلومات فيه بأسلوب سهل ميسّر مع التنظيم والترتيب، واشتماله على قدر كبير من الموضوعات التي تفيد المسلم ثقافة ومعرفة بكتاب الله تعالى، وكان من توفيق الله للشيخ المؤلّف أن ساق المعلومات في هذا الكتاب (نفحات من علوم القرآن) على طريقة السؤال والجواب. وهذه الطريقة تفيد في تثبيت المعلومات، وتساعد طلاب العلم على الاستيعاب والتحصيل.
وهذا الكتاب أيضا يعتبر حلقة في سلسلة متصلة من جهاد الرجل وجهوده في خدمة القرآن الكريم فله أيضا كتاب (الملخص المفيد في علم التجويد) أفاد فيه وأجاد أيضا. هذا عدا البرامج الإذاعية والتلفازية التي قدمها وسهر على رعايتها وإعدادها في هذا المجال الطيب الميمون.
جزى الله الشيخ المؤلف خير الجزاء وأوفاه على هذا العمل العلمي النافع المفيد، وجعله خالصا لوجهه الكريم، ونفع به كل قارئ له ومطلع عليه.
كما أسأله جل في علاه أن يزيدنا وإياه في كل يوم علما، وأن يعلّمنا ما ينفعنا وأن ينفعنا بما علمنا. إنه سبحانه وليّ التوفيق. وهو حسبنا ونعم الوكيل.
وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين،
دكتور محمد أحمد رضوان صالح المدرس بكلية أصول الدين جامعة الأزهر والباحث بمركز خدمة السنة والسيرة النبوية بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
নিজ ক্ষেত্রে লেখক এতে অত্যন্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন এবং বিষয়বস্তুকে ফলপ্রসূ করে তুলেছেন। এখানে তথ্যাবলি অত্যন্ত সহজ-সরল পদ্ধতিতে সুসংগঠিত ও সুবিন্যস্তভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। এতে এমন বহুবিধ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে একজন মুসলিমের জ্ঞান ও সংস্কৃতি বিকাশে সহায়ক। শায়খ লেখকের প্রতি এটি আল্লাহর বিশেষ তাওফিক যে, তিনি এই কিতাবে (নাফাহাতু মিন উলূমিল কুরআন) তথ্যাবলি প্রশ্নোত্তর পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেছেন। এই পদ্ধতি তথ্যসমূহ স্মরণে রাখতে অত্যন্ত কার্যকর এবং ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য অনুধাবন ও অর্জনে সহায়ক।
এই কিতাবটিও কুরআনুল কারিমের খিদমতে এই ব্যক্তির নিরবচ্ছিন্ন সাধনা ও প্রচেষ্টার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত। তাজবিদ শাস্ত্রের ওপর তার 'আল-মুলাখখাসুল মুফিদ ফি ইলমিত তাজবিদ' নামক আরও একটি কিতাব রয়েছে, যেখানে তিনি অত্যন্ত চমৎকার ও সারগর্ভ আলোচনা করেছেন। এছাড়া এই বরকতময় ক্ষেত্রে রেডিও ও টেলিভিশনে তার উপস্থাপিত ও সুচারুভাবে প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন অনুষ্ঠান তো রয়েছেই।
আল্লাহ তাআলা শায়খ লেখককে এই উপকারী বৈজ্ঞানিক কর্মের জন্য সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন, এটিকে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করুন এবং প্রত্যেক পাঠক ও পাঠকারীর জন্য একে কল্যাণকর করুন।
পাশাপাশি আমি মহান সুউচ্চ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের ও তাঁর ইলম প্রতিদিন বৃদ্ধি করে দেন, যা আমাদের জন্য উপকারী তা যেন আমাদের শিক্ষা দেন এবং যা আমাদের শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সফলতার মালিক। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
ডক্টর মুহাম্মদ আহমদ রিদওয়ান সালেহ, শিক্ষক—উসুল আদ-দীন (أصول الدين) অনুষদ, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষক—মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্নাহ (السنة) ও সিরাত আন-নববী সেবা কেন্দ্র।
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة عن علوم القرآن الكريمس: ما المقصود بعلوم القرآن؟
ج: المقصود بعلوم القرآن: الأبحاث التي تتعلق بهذا الكتاب العظيم الخالد؛ من حيث نزوله، وجمعه، وتدوينه، وترتيب آياته وسوره، ومعرفة المكي منه والمدني، والناسخ والمنسوخ، والمحكم والمتشابه، وتفسير آياته، ومعرفة أحكامه وغير ذلك من الأبحاث الكثيرة التي تتعلق بالقرآن العظيم أو لها صلة به ..
س: ما هو الغرض من هذه الدراسة؟
ج: الغرض من هذه الدراسة: فهم كلام الله تعالى على ضوء ما جاء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من توضيح وبيان، وما نقل عن الصحابة والتابعين رضوان الله عليهم أجمعين. حول تفسيرهم لآيات القرآن، وأيضا معرفة طرق المفسرين، وأساليبهم في التفسير مع بيان مشاهيرهم، ومعرفة خصائص كلّ منهم، وشروط التفسير وغير ذلك من حقائق هذا العلم المفيد.
ولقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه يعرفون عن القرآن وعلومه ما عرف العلماء وفوق ما عرف العلماء في كل عصر، ولكن معارفهم لم توضع في ذلك العهد كفنون مدونة ولم تجمع في كتب مؤلفة، لأنهم لم تكن لهم حاجة إلى التدوين والتأليف.
- أما الرسول صلوات الله وسلامه عليه، فلأنه كان يتلقى الوحي عن الله وحده لا شريك له. والله تعالى كتب على نفسه الرحمة، ومن رحمته تعالى برسوله الكريم، جمعه القرآن له في صدره، وإطلاق لسانه بقراءته وترتيله، وكشف له عن أسراره ومعانيه. اقرأ قول الله تعالى:
لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ* إِنَّ عَلَيْنا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ* فَإِذا قَرَأْناهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ* ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنا بَيانَهُ (1).
--------------------------------------------
পবিত্র কুরআনের জ্ঞানসমূহ (علوم القرآن) পরিচিতিপ্রশ্ন: কুরআনের জ্ঞানসমূহ (علوم القرآن) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কুরআনের জ্ঞানসমূহ (علوم القرآن) বলতে বোঝায়: এই মহান ও শাশ্বত কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট গবেষণাসমূহ; এর অবতীর্ণ হওয়া (نزول), সংকলন (جمع), লিপিবদ্ধকরণ (تدوين), আয়াত ও সূরার বিন্যাস, এর মক্কী (المكي) ও মাদানি (المدني) অংশ চিহ্নিতকরণ, নাসিখ বা রহিতকারী (الناسخ) ও মানসুখ বা রহিতকৃত (المنسوخ), মুহকাম বা সুষ্পষ্ট (المحكم) ও মুতাশাবিহ বা রূপক (المتشابه) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ, এর আয়াতের তাফসীর (تفسير) বা ব্যাখ্যা এবং এর বিধানসমূহ জানা সহ এই মহান কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট বা সম্পৃক্ত আরও অসংখ্য গবেষণার বিষয়বস্তু ..
প্রশ্ন: এই অধ্যয়নের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: এই অধ্যয়নের উদ্দেশ্য হলো: আল্লাহ তাআলার বাণীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত ব্যাখ্যা ও বিবরণের আলোকে অনুধাবন করা এবং কুরআনের আয়াতের তাফসীর (تفسير) সম্পর্কে সাহাবীগণ (الصحابة) ও তাবেয়ীগণ (التابعين) -তাদের সকলের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকুন- থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার আলোকে তা বোঝা। সেই সাথে মুফাসসিরগণের (المفسرين) কর্মপন্থা, তাফসীরের ক্ষেত্রে তাঁদের শৈলী, তাঁদের মধ্যকার প্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গের পরিচয়, প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য, তাফসীরের শর্তাবলি এবং এই উপকারী শাস্ত্রের অন্যান্য তাত্ত্বিক বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (الصحابة) কুরআন ও এর জ্ঞানসমূহ সম্পর্কে ততটুকুই জানতেন যা পরবর্তী যুগের আলেমগণ জানতে পেরেছেন, বরং তার চেয়েও বেশি জানতেন। কিন্তু তাঁদের যুগে এই জ্ঞানসমূহ সংকলিত শাস্ত্র হিসেবে বিন্যস্ত ছিল না এবং গ্রন্থাকারেও সংগৃহীত ছিল না; কেননা তাঁদের লিপিবদ্ধকরণ (تدوين) ও গ্রন্থ রচনার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল এমন যে, তিনি সরাসরি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহী (الوحي) লাভ করতেন, যাঁর কোনো শরিক নেই। আর আল্লাহ তাআলা নিজের ওপর দয়া অবধারিত করেছেন; তাঁর সেই দয়ারই অংশ হিসেবে তিনি তাঁর সম্মানিত রাসূলের অন্তরে কুরআনকে গেঁথে দিয়েছিলেন এবং তাঁর জিহ্বায় এর তিলাওয়াত ও তারতীল (ترتيل) জারি করে দিয়েছিলেন, আর তাঁর নিকট এর রহস্য ও অর্থসমূহ উন্মোচিত করেছিলেন। আল্লাহ তাআলার বাণী পাঠ করুন:
ওহী আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা দ্রুত নাড়াচাড়া করবেন না। নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠ অনুসরণ করুন। অতঃপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্বও আমাদের। (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৮)
ولقد بلّغ الرسول صلى الله عليه وسلم ما أنزل عليه لأصحابه، ثم شرح لهم القرآن بقوله وبعمله وبتقريره وبخلقه، أي بسنته الجامعة لأقواله وأفعاله، مصداقا لقوله سبحانه وتعالى:
وَأَنْزَلْنا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ ما نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ (1).
- وأمّا الصحابة رضوان الله عليهم فكانوا وقتئذ عربا خلّصا متمتعين بجميع خصائص العروبة ومزاياها الكاملة، من قوة في الحافظة، وذكاء في القريحة، وتذوق للبيان، وتقرير للأساليب، ووزن لما يسمعون بأدق المعايير حتى أدركوا من علوم القرآن، ومن إعجازه بسليقتهم وصفاء فطرتهم، ما لا نستطيع نحن أن ندركه مع زحمة العلوم وكثرة الفنون.
وكان بعض الصحابة رضوان الله عليهم مع هذه الخصائص أمّيّين، وأدوات الكتابة لم تكن ميسرة لديهم. والرسول صلى الله عليه وسلم قد نهاهم عن أن يكتبوا عنه شيئا غير القرآن.
وقال لهم في أول العهد عند نزول القرآن فيما رواه مسلم في صحيحه عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: «لا تكتبوا عنّي ومن كتب عني غير القرآن فليمحه وحدثوا عني ولا حرج ومن كذب عليّ متعمدا فليتبوأ مقعده من النار».
س: ما سبب نهي رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الكتابة لغير القرآن؟
ج: سبب نهي رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الكتابة لغير القرآن: مخافة أن يلتبس القرآن بغيره، أو يختلط بالقرآن ما ليس منه ما دام الوحي نازلا بالقرآن الكريم.
فلتلك الأسباب المتضافرة لم تدون علوم القرآن كما لم يدون الحديث الشريف.
ومضى الرعيل الأول على ذلك في عهد الشيخين الكبيرين أبي بكر وعمر رضي الله تعالى عنهما. ولكن الصحابة كانوا مضرب الأمثال في نشر الإسلام وتعاليمه، والقرآن وعلومه، والسنة وتحريرها. تلقينا لا تدوينا، ومشافهة لا كتابة.
ثم جاءت خلافة عثمان رضي الله عنه وقد اتسعت رقعة الإسلام واختلط العرب الفاتحون بالأمم التي لا تعرف العربية، وخيف أن تذوب خصائص العروبة من هؤلاء العرب الخلّص من جراء هذا الفتح والاختلاط. بل خيف على القرآن نفسه أن
--------------------------------------------
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তাঁর সাহাবী (صحابة)-দের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তাঁর কথা, কাজ, অনুমোদন (تقرير) এবং চরিত্রের মাধ্যমে—অর্থাৎ তাঁর কথা ও কাজের সমন্বিত সুন্নাহ (سنة)-র মাধ্যমে তাঁদের নিকট কুরআন ব্যাখ্যা করেছেন। এটি মহান আল্লাহর বাণীর সত্যতা হিসেবে:
“আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) নাজিল করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে দেন যা তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।” (১)
- আর সাহাবী (صحابة)-গণ সেই সময়ে খাঁটি আরব ছিলেন এবং আরব্য সংস্কৃতির সকল বৈশিষ্ট্য ও পূর্ণাঙ্গ গুণাবলীতে ভূষিত ছিলেন। তাঁদের ছিল প্রখর স্মৃতিশক্তি, মেধার তীক্ষ্ণতা, বাগ্মিতার রুচি এবং ভাষাশৈলী অনুধাবনের ক্ষমতা। তাঁরা যা শুনতেন তা সূক্ষ্মতম মানদণ্ডে বিচার করতেন, এমনকি তাঁদের সহজাত প্রবৃত্তি ও স্বভাবজাত নির্মলতার মাধ্যমে তাঁরা উলুম আল-কুরআন (علوم القرآن) এবং এর অলৌকিকত্বের (إعجاز) এমন সব বিষয় উপলব্ধি করতেন যা বর্তমানের বিজ্ঞানের ভিড় ও বহু শাস্ত্রের আধিক্যে আমরা উপলব্ধি করতে সক্ষম নই।
এসব বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও কিছু সাহাবী (صحابة) নিরক্ষর ছিলেন এবং তাঁদের কাছে লিখন সামগ্রীও সহজলভ্য ছিল না। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে কুরআন ব্যতীত তাঁর কাছ থেকে অন্য কিছু লিখতে নিষেধ করেছিলেন।
তিনি ওহী (وحي) নাজিলের প্রাথমিক যুগে তাঁদের উদ্দেশ্যে যা বলেছিলেন, তা ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: “তোমরা আমার পক্ষ থেকে (কুরআন ছাড়া অন্য কিছু) লিখো না। আর যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে। তোমরা আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা (تحديث) করো, তাতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।”
প্রশ্ন: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখতে কেন নিষেধ করেছিলেন?
উত্তর: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখতে নিষেধ করার কারণ হলো: যতক্ষণ পর্যন্ত পবিত্র কুরআনের ওহী (وحي) নাজিল হচ্ছিল, ততক্ষণ পর্যন্ত কুরআনের সাথে অন্য কিছুর সংমিশ্রণ ঘটার অথবা যা কুরআনের অংশ নয় তা কুরআনের সাথে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা।
এই সমন্বিত কারণগুলোর ফলেই উলুম আল-কুরআন (علوم القرآن) সংকলিত (تدوين) হয়নি, ঠিক যেমন হাদিস শরীফও সংকলিত (تدوين) হয়নি।
প্রথম প্রজন্ম (الرعيل الأول)-এর সময়কাল দুই মহান শায়খ (الشيخين) আবু বকর ও ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর যুগে এভাবেই অতিক্রান্ত হয়েছে। তবে ইসলাম ও এর শিক্ষা, কুরআন ও এর বিভিন্ন জ্ঞান এবং সুন্নাহ (سنة) ও তার সুবিন্যস্তকরণের (تحرير) প্রসারে সাহাবী (صحابة)-গণ ছিলেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এসবই ছিল শ্রবণের মাধ্যমে গ্রহণ (تلقي), সংকলনের (تدوين) মাধ্যমে নয়; এবং মৌখিকভাবে (مشافهة), লিখনের মাধ্যমে নয়।
অতঃপর উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকাল আসে। তখন ইসলামের সীমানা বিস্তৃত হয় এবং বিজয়ী আরবদের সাথে অনারব জাতিগুলোর সংমিশ্রণ ঘটে। এই বিজয় ও সংমিশ্রণের ফলে এই খাঁটি আরবদের মধ্য থেকে আরব্য বৈশিষ্ট্যসমূহ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এমনকি খোদ কুরআনের ওপরও এই আশঙ্কা তৈরি হয় যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৯)
يختلف المسلمون فيه، فأمر عثمان رضي الله عنه بجمع القرآن في مصحف إمام، وأن تنسخ منه مصاحف يبعث بها إلى أقطار الإسلام، وأن يحرق الناس كل ما عداها ولا يعتمدوا شيئا سواها، كما سيأتيك في باب جمع القرآن وتدوينه إن شاء الله تعالى. وبهذا العمل العظيم وضع عثمان- رضي الله عنه الأساس لما نسميه علم (رسم القرآن أو علم الرّسم العثماني).
ولكن هذه الهمّة في النشر يصح أن نعتبرها كتمهيد لتدوينها. وكان على رأس من ضرب بسهم وافر في هذه الرواية: الخلفاء الأربعة، وابن عباس، وابن مسعود، وزيد بن ثابت، وأبو موسى الأشعري، وعبد الله بن الزبير، وكلهم من الصحابة رضوان الله تعالى عليهم أجمعين. وكان على رأس التابعين في تلك الرواية:
مجاهد، وعطاء، وعكرمة، وقتادة، والحسن البصري، ومالك بن أنس من تابعي التابعين رضي الله عنهم أجمعين.
وهؤلاء جميعا يعتبرون أنهم هم واضعوا الأساس لما يسمى علم التفسير، وعلم أسباب النزول، وعلم الناسخ والمنسوخ، وعلم غريب القرآن، ونحو ذلك. وستجد بسطا لهذا الإجمال في بابه إن شاء الله تعالى.
ثم جاء عصر التدوين: فألّفت كتب في أنواع علوم القرآن. واتجهت الهمم قبل كل شيء إلى التفسير باعتباره أصل العلوم القرآنية لما فيه من التعرض لها. ومن أوائل الذين كتبوا في التفسير: شعبة بن الحجاج، ووكيع بن الجراح، وسفيان بن عيينة، وتفاسيرهم جامعة لأقوال الصحابة والتابعين، وهؤلاء من علماء القرن الثاني الهجري، ثم تلاهم ابن جرير الطبري المتوفى سنة (310 هـ) وكتابه من أجلّ التفاسير وأعظمها.
أما علوم القرآن الأخرى ففي مقدمة المؤلفين فيها: علي بن المديني شيخ الإمام البخاري إذ أنه ألّف في أسباب النزول، وأبو عبيد القاسم بن سلام إذ كتب في الناسخ والمنسوخ، وكلاهما من علماء القرن الثالث الهجري.
وفي مقدمة من ألف في غريب القرآن: أبو بكر السجستاني، وهو من علماء القرن الرابع الهجري. وفي طليعة من صنف في إعراب القرآن علي بن سعيد الحوفي،
মুসলমানরা এতে ভিন্নমত পোষণ করছিল, তাই উসমান (রা.) কুরআনকে একটি কেন্দ্রীয় মূল কপিতে (ইমাম মুসহাফ) সংকলন করার নির্দেশ দেন। এবং তা থেকে অনুলিপি তৈরি করে ইসলামের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া তিনি এর বাইরে অন্য সবকিছু পুড়িয়ে ফেলার এবং সেগুলো ছাড়া অন্য কিছুর ওপর নির্ভর না করার নির্দেশ দেন, যেমনটি কুরআন সংকলন ও তা লিপিবদ্ধকরণ অধ্যায়ে ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে। এই মহান কাজের মাধ্যমে উসমান (রা.) সেই শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন যাকে আমরা 'রসমুল কুরআন' বা 'রসমুল উসমানি' (কুরআনের লিখনরীতি) বলি।
কিন্তু প্রচারের ক্ষেত্রে এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকে এর লিপিবদ্ধকরণের ভূমিকা হিসেবে বিবেচনা করা সঠিক। আর এই বর্ণনা (رواية) কার্যে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: চার খলিফা, ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ, জায়েদ বিন সাবিত, আবু মুসা আল-াশআরী এবং আবদুল্লাহ ইবনে আজ-জুবায়ের; তারা সকলেই সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) ছিলেন। আর সেই বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে তাবেয়ীদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন:
মুজাহিদ, আতা, ইকরিমা, কাতাদা এবং হাসান আল-বাসরি; আর তাবে-তাবেয়ীদের মধ্য থেকে মালিক বিন আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)।
তারা সকলেই তাফসির শাস্ত্র (علم التفسير), শানে নুযূল (أسباب النزول), নাসিখ ও মানসুখ (الناسخ والمنسوخ) এবং কুরআনের শব্দার্থ বা কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা (غريب القرآن) ও এই জাতীয় অন্যান্য শাস্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী হিসেবে বিবেচিত। ইনশাআল্লাহ স্ব স্ব অধ্যায়ে এই সারসংক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ পাবেন।
অতঃপর সংকলনের যুগ শুরু হয়: উলূমুল কুরআনের বিভিন্ন বিষয়ে কিতাবসমূহ রচিত হতে থাকে। উলূমুল কুরআনের মূল ভিত্তি হিসেবে সর্বাগ্রে তাফসিরের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করা হয়, কারণ এতে উলূমুল কুরআনের বিষয়াদি আলোচিত হয়। যারা সর্বপ্রথম তাফসির বিষয়ে কিতাব লিখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: শু'বাহ বিন আল-হাজ্জাজ, ওয়াকি বিন আল-জাররাহ এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনা। তাদের তাফসির গ্রন্থসমূহ সাহাবী ও তাবেয়ীদের বক্তব্যের সংকলন। তারা ছিলেন হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর আলেম। এরপর আসেন ইবনে জারীর আত-তাবারী (মৃত্যু: ৩১০ হিজরি); তাঁর কিতাবটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মহান তাফসির গ্রন্থ।
উলূমুল কুরআনের অন্যান্য বিষয়ের লেখকদের মধ্যে অগ্রণী হলেন: ইমাম বুখারীর উস্তাদ আলী বিন আল-মাদীনী, কারণ তিনি শানে নুযূল (أسباب النزول) বিষয়ে কিতাব লিখেছেন এবং আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম, যিনি নাসিখ ও মানসুখ (الناسخ والمنسوخ) বিষয়ে লিখেছেন। তাঁরা উভয়েই হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর আলেম ছিলেন।
কুরআনের শব্দার্থ বা কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা (غريب القرآن) বিষয়ে যারা কিতাব লিখেছেন তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন আবু বকর আল-সিজিস্তানি, তিনি হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর আলেম। আর কুরআনের ব্যাকরণ বা ইরাব (إعراب القرآن) বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছেন আলী বিন সাঈদ আল-হাউফী।
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১০)
وهو من علماء القرن الخامس الهجري. ومن أوائل من كتب في مبهمات القرآن: أبو القاسم عبد الرحمن المعروف بالسبيلي وهو من علماء القرن السادس الهجري. وفي القراءات: علم الدين السخاوي، وهو من علماء القرن السابع الهجري. وهكذا قويت العزائم وتبارت الهمم، ونشأت علوم جديدة للقرآن وظهرت مؤلفات في كل نوع منها، سواء كان ذلك في أقسام القرآن أو أمثال القرآن أو حجج القرآن أو بدائع القرآن أو رسم القرآن، وما أشبه ذلك. ثم لا يزال المؤلفون إلى عصرنا هذا يزيدون، وعلوم القرآن ومؤلفاته تنمو وتزدهر وتزيد. أليس هذا إعجازا آخر للقرآن الكريم؟
يريك إلى أي حدّ بلغ علماء الإسلام في خدمة التنزيل، ويريك أنه كتاب لا تفنى عجائبه، ولا تنقضي معارفه. ولن يستطيع أحد أن يحيط بأسراره إلا صاحبه ومنزله.
جل جلاله .. والله تعالى أعلم.
أسئلة وتطبيقاتس 1: اذكر الحديث الشريف الذي نهى فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم عن كتابة شيء سوى القرآن في حياته.
س 2: من الذي وضع الأساس لما نسميه علم رسم القرآن أو علم الرسم العثماني؟
س 3: اذكر أسماء أربعة من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين مهدوا لتدوين علوم القرآن الكريم.
س 4: اذكر أسماء العلوم القرآنية التي ألف فيها هؤلاء العلماء الأفاضل:
1 - علي بن المديني شيخ الإمام البخاري.
2 - أبو عبيد القاسم بن سلام.
3 - علم الدين السخاوي.
س 5: من هو أول من كتب في علم التفسير؟
তিনি পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর আলেমদের (علماء) অন্তর্ভুক্ত। আর কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়াবলি (مبهمات القرآن) সম্পর্কে যারা সর্বপ্রথম লিখেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: আবুল কাসিম আবদুর রহমান, যিনি আস-সুহাইলি নামে পরিচিত এবং তিনি ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর আলেমদের (علماء) অন্তর্ভুক্ত। আর কিরাত (القراءات) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে: ইলমুদ্দীন আস-সাখাভী, যিনি সপ্তম হিজরি শতাব্দীর আলেমদের (علماء) অন্তর্ভুক্ত। এভাবে সংকল্প সুদৃঢ় হয়েছে এবং উৎসাহ-উদ্দীপনা বৃদ্ধি পেয়েছে; ফলে কুরআনের নতুন নতুন শাস্ত্র (علوم) উদ্ভূত হয়েছে এবং এগুলোর প্রতিটি শাখায় গ্রন্থ রচিত হয়েছে। চাই তা কুরআনের শপথ (أقسام القرآن), কুরআনের উপমা (أمثال القرآن), কুরআনের দলিলসমূহ (حجج القرآن), কুরআনের চমৎকারিত্ব (بدائع القرآن) কিংবা কুরআনের লিখনরীতি (رسم القرآن) সংক্রান্ত হোক অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু। এরপর বর্তমান যুগ পর্যন্ত গ্রন্থকাররা নিরন্তর অবদান রেখে চলেছেন এবং উলূমুল কুরআন (علوم القرآن) ও এর ওপর রচিত গ্রন্থাবলি বিকশিত, সমৃদ্ধ ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা কি পবিত্র কুরআনের আরেকটি অলৌকিকত্ব (إعجاز) নয়?
এটি আপনাকে দেখিয়ে দেয় যে ইসলামের আলেমগণ (علماء) ওহী নাযিলের (التنزيل) খিদমতে কতটুকু উচ্চ শিখরে পৌঁছেছেন, এবং আপনাকে এটিও দেখায় যে এটি এমন একটি কিতাব যার বিস্ময়কর বিষয়গুলো কখনো শেষ হবে না এবং এর জ্ঞানভাণ্ডার কখনো সমাপ্ত হবে না। এর স্রষ্টা ও অবতীর্ণকারী ব্যতীত আর কেউ এর রহস্যসমূহ পুরোপুরি আয়ত্ত করতে সক্ষম হবে না।
তাঁর মর্যাদা সুমহান... এবং আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
প্রশ্ন ও অনুশীলনপ্রশ্ন ১: সেই হাদিসটি উল্লেখ করুন যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জীবদ্দশায় কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখতে নিষেধ করেছিলেন।
প্রশ্ন ২: আমরা যাকে ইলমে রাসমুল কুরআন (رسم القرآن) বা উসমানী লিখনরীতি (الرسم العثماني) বলি, তার ভিত্তি কে স্থাপন করেছেন?
প্রশ্ন ৩: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এমন চারজন সাহাবীর (صحابة) নাম উল্লেখ করুন যারা উলূমুল কুরআনের সংকলনের পথ প্রশস্ত করেছিলেন।
প্রশ্ন ৪: এই সম্মানিত আলেমগণ (علماء) কুরআনের যেসব শাস্ত্রে (العلوم القرآنية) গ্রন্থ রচনা করেছেন সেগুলোর নাম উল্লেখ করুন:
১ - আলী ইবনুল মাদীনী, যিনি ইমাম বুখারীর উস্তাদ (شيخ)।
২ - আবু উবাইদ কাসিম বিন সাল্লাম।
৩ - ইলমুদ্দীন আস-সাখাভী।
প্রশ্ন ৫: ইলমে তাফসীর (علم التفسير) বিষয়ে সর্বপ্রথম কে গ্রন্থ রচনা করেছেন?
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১১)
تعريف القرآن الكريمس: ما هو القرآن الكريم؟
ج: القرآن الكريم: هو كلام الله تعالى المعجز المنزّل على خاتم الأنبياء والمرسلين سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم بواسطة أمين الوحي جبريل عليه السلام المنقول إلينا بالتواتر، المتعبد بتلاوته، المبدوء بسورة الفاتحة والمختتم بسورة الناس، والمتحدى بأقصر سورة منه.
(فالكلام) جنس في التعريف يشمل كل كلام. وإضافته إلى الله تعالى تخرج كلام غيره من الإنس والجن والملائكة. (والمنزّل) تخرج كلام الله تعالى الذي استأثر به سبحانه وتعالى، كما قال تعالى: قُلْ لَوْ كانَ الْبَحْرُ مِداداً لِكَلِماتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَنْ تَنْفَدَ كَلِماتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنا بِمِثْلِهِ مَدَداً (1).
وقوله تعالى: وَلَوْ أَنَّما فِي الْأَرْضِ مِنْ شَجَرَةٍ أَقْلامٌ وَالْبَحْرُ يَمُدُّهُ مِنْ بَعْدِهِ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ ما نَفِدَتْ كَلِماتُ اللَّهِ (2).
وبقولنا المنزل على محمد صلى الله عليه وسلم يخرج ما أنزل على الأنبياء من قبله مثل التوراة والإنجيل وغيرهما. وجملة (المتعبد بتلاوته) تخرج قراءات الآحاد والأحاديث القدسية، إذا صح أنها منزلة من عند الله بألفاظها، لأن التعبد بتلاوته معناه الأمر بقراءته في الصلاة وغيرها، على وجه العبادة، وليست قراءة الآحاد والأحاديث القدسية كذلك (3) .. والله تعالى أعلم.
أسئلة وتطبيقاتس 1: اذكر تعريف القرآن الكريم.
س 2:ماذا يستفاد من كلمة (المنزّل)؟
س 3:ماذا تخرج عبارة (المتعبد بتلاوته)؟
--------------------------------------------
পবিত্র কুরআনের সংজ্ঞাপ্রশ্ন: পবিত্র কুরআন কী?
উত্তর: পবিত্র কুরআন হলো মহান আল্লাহর মুজিযাপূর্ণ বাণী, যা সর্বশেষ নবী ও রাসূল আমাদের সরদার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ওহীর আমানতদার জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়েছে, যা আমাদের নিকট নিরবচ্ছিন্ন (بالتواتر) ধারায় বর্ণিত হয়ে পৌঁছেছে, যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য, যা সূরা আল-ফাতিহা দিয়ে শুরু এবং সূরা আন-নাস দিয়ে শেষ হয়েছে এবং যার ক্ষুদ্রতম সূরার মাধ্যমেও (অনুরূপ কালাম পেশ করার) চ্যালেঞ্জ প্রদান করা হয়েছে।
(বাণী) শব্দটি সংজ্ঞার মধ্যে একটি সাধারণ বর্গ যা সকল কথাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এর সাথে মহান আল্লাহর সম্বন্ধ জুড়ে দেওয়ার ফলে মানুষ, জিন ও ফেরেশতাদের কথা এর বহির্ভূত হয়ে যায়। (অবতীর্ণ) শব্দটি মহান আল্লাহর সেই সব বাণীকে বাদ দেয় যা মহান আল্লাহ কেবল নিজের কাছেই রেখেছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: "বলুন, যদি আমার প্রতিপালকের বাণী লিপিবদ্ধ করার জন্য সমুদ্র কালি হয়ে যায়, তবে আমার প্রতিপালকের বাণী শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে; যদিও আমি এর সাহায্যার্থে অনুরূপ আরও সমুদ্র নিয়ে আসি।" (১)।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর পৃথিবীতে যত গাছ আছে তা যদি কলম হয় এবং সমুদ্র (কালি হয়), তার সাথে আরও সাত সমুদ্র যুক্ত হয়, তবুও আল্লাহর বাণী শেষ হবে না।" (২)।
আর আমাদের 'মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ' কথাটির মাধ্যমে তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা বাদ পড়ে যায়, যেমন তাওরাত, ইনজিল এবং অন্যান্য কিতাব। আর 'যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য' বাক্যাংশটি একক সূত্রের (آحاد) কিরাতসমূহ এবং হাদিসে কুদসিকে বহির্ভূত করে—যদি সেগুলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে শাব্দিকভাবে অবতীর্ণ হওয়া প্রমাণিতও হয়। কারণ 'যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য' কথাটির অর্থ হলো সালাত ও সালাতের বাইরে ইবাদতের উদ্দেশ্যে তা পাঠ করার নির্দেশ থাকা; আর একক সূত্রের (آحاد) কিরাতসমূহ এবং হাদিসে কুদসির বিষয়টি তেমন নয় (৩)... আর মহান আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
প্রশ্নাবলি ও প্রয়োগপ্রশ্ন ১: পবিত্র কুরআনের সংজ্ঞা উল্লেখ করুন।
প্রশ্ন ২: 'অবতীর্ণ' (المنزل) শব্দটি থেকে কী উপকারিতা পাওয়া যায়?
প্রশ্ন ৩: 'যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য' (المتعبد بتلاوته) বাক্যাংশটি কী কী বিষয়কে বাদ দেয়?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفرق بين القرآن والحديث النبوي والحديث القدسيس: سبق أن ذكرنا تعريف القرآن فما هو تعريف الحديث النبوي والحديث القدسي؟
ج: أولا: الحديث النبوي:
الحديث في اللغة ضد القديم، ويطلق ويراد به كل كلام يتحدث به وينقل ويبلغ الإنسان من جهة السمع أو الوحي، في يقظته أو في منامه. وبهذا المعنى سمّي القرآن حديثا. مصداق ذلك قوله تعالى: وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثاً (1).
وأما الحديث في الاصطلاح: فهو ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة.
س: ما هو مثال القول؟
ج: مثال القول: كقوله صلى الله عليه وسلم: «إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى» (2). رواه البخاري.
س: ما هو مثال الفعل؟
ج: مثال الفعل: كالذي ثبت من تعليمه صلى الله عليه وسلم لأصحابه كيفية الصلاة ثم قال صلى الله عليه وسلم لهم: «صلوا كما رأيتموني أصلي» (3). وما ثبت أيضا من حجه صلى الله عليه وسلم، وقد قال حينئذ: «خذوا عني مناسككم» (4).
س: ما هو مثال الإقرار؟
ج: مثال التقرير أو الإقرار كأن يقرّ أمرا علمه عن أحد من الصحابة من قول أو فعل. سواء أكان ذلك في حضرته صلى الله عليه وسلم أم في غيبته ثم بلغه ذلك. ومن أمثلة ذلك:
--------------------------------------------
কুরআন, হাদিসে নববী এবং হাদিসে কুদসির মধ্যে পার্থক্যপ্রশ্ন: আমরা ইতিপূর্বে কুরআনের সংজ্ঞা উল্লেখ করেছি, এখন হাদিসে নববী এবং হাদিসে কুদসির সংজ্ঞা কী?
উত্তর: প্রথমত: হাদিসে নববী:
আভিধানিক (لغة) অর্থে হাদিস হলো সুপ্রাচীন (قديم)-এর বিপরীত। এটি এমন প্রতিটি কথাকে বোঝায় যা বলা হয়, বর্ণনা করা হয় এবং যা কোনো ব্যক্তি শ্রবণ বা ওহি (وحي)-এর মাধ্যমে জাগ্রত অবস্থায় অথবা নিদ্রাবস্থায় প্রাপ্ত হয়। এই অর্থেই কুরআনকে হাদিস হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এর সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী কথা আর কার হতে পারে?" (১)।
আর পরিভাষায় (اصطلاح) হাদিস হলো: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, চাই তা কথা (قول), কাজ (فعل), মৌনসম্মতি (تقرير) অথবা বৈশিষ্ট্য (صفة) সংক্রান্ত হোক।
প্রশ্ন: কথার উদাহরণ কী?
উত্তর: কথার উদাহরণ: যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করবে» (২)। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।
প্রশ্ন: কাজের উদাহরণ কী?
উত্তর: কাজের উদাহরণ: যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর সাহাবীদের সালাত আদায়ের পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি যা প্রমাণিত, এরপর তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: «তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ» (৩)। আরও প্রমাণিত রয়েছে তাঁর হজ পালনের বিষয়টি, সে সময় তিনি বলেছিলেন: «তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলি (مناسك) গ্রহণ করো» (৪)।
প্রশ্ন: মৌনসম্মতির উদাহরণ কী?
উত্তর: মৌনসম্মতি (تقرير) বা সমর্থনের (إقرار) উদাহরণ হলো: সাহাবীদের কারও কোনো কথা বা কাজ সম্পর্কে অবগত হয়ে তিনি তা অনুমোদন করা। সেটি তাঁর উপস্থিতিতে হোক কিংবা তাঁর অনুপস্থিতিতে ঘটার পর তিনি তা অবগত হওয়ার মাধ্যমে হোক। এর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أولا:- أكل الضّبّ على مائدته صلوات الله وسلامه عليه (رغم أنه لم يأكل منه). فهذا يعتبر إقرارا منه صلى الله عليه وسلم بإباحة أكله. كما في الصحيحين.
ثانيا:- ما روي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث رجلا على سرّية. وكان هذا الرجل يقرأ في صلاته فيختم قراءته بقراءة سورة قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ. فلما رجعوا ذكروا ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال صلى الله عليه وسلم: «سلوه لأي شيء يصنع ذلك» فلما سألوه قال: لأنها صفة الرحمن وأنا أحب أن أقرأ بها. فقال النبي عليه الصلاة والسلام: «أخبروه أن الله يحبه» (1) هكذا في باب فضائل القرآن للبخاري.
س: ما هو مثال الصفة؟
ج: مثال الصفة كما روي من أنه صلى الله عليه وسلم كان دائم البشر، سهل الخلق، لين الجانب، ليس بفظ ولا غليظ ولا صخّاب ولا فحّاش ولا عيّاب. بل كان صلوات الله وسلامه عليه كامل الصفات الحميدة كلها.
ثانيا:- الحديث القدسي س: عرفنا فيما سبق تعريف القرآن وتعريف الحديث النبوي فما هو تعريف الحديث القدسي حتى نعرف الفرق بينهم؟
ج: عرفنا فيما سبق تعريف كلمة الحديث في اللغة. وأما كلمة القدسي، فنسبة إلى التقديس وهي نسبة تدل على التشريف والتعظيم لأن مادة هذه الكلمة تدل على التنزيه والتطهير في اللغة. فالتقديس هو تنزيه الله تعالى. والتقديس هو التطهير.
وتقدس: أي تطهر، وقد قال الله تعالى حكاية عن ملائكته: وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ (2) أي نعظمك ونكبرك. وأما تعريف الحديث القدسي في الاصطلاح: هو ما يضيفه النبي صلى الله عليه وسلم من الكلام إلى الله تعالى. أي أن النبي صلى الله عليه وسلم يرويه على أنه من كلام الله تعالى. فالرسول راو لكلام الله تعالى بلفظ من عنده صلى الله عليه وسلم، وإذا رواه أحد يكون قد رواه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم مسندا إلى الله عز وجل، فيقول مثلا:- قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه عز وجل. أو يقول: قال
--------------------------------------------
প্রথমত:- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দস্তরখানে গুইসাপ ভক্ষণ করা (যদিও তিনি নিজে তা থেকে আহার করেননি)। এটি তাঁর পক্ষ থেকে তা ভক্ষণ করার বৈধতার একটি মৌখিক সমর্থন (إقرار) হিসেবে গণ্য। যেমনটি সহীহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত:- বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটি ক্ষুদ্র অভিযানে (سرية) প্রেরণ করেছিলেন। সেই ব্যক্তি তার সালাতে তিলাওয়াত করতেন এবং তিলাওয়াতের শেষে সূরা ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করে শেষ করতেন। যখন তারা ফিরে আসলেন, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তাকে জিজ্ঞেস কর সে কেন এমনটি করে?» তারা তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলল: «কারণ এটি রহমানের (পরম দয়াময় আল্লাহর) গুণ এবং আমি এটি তিলাওয়াত করতে ভালোবাসি।» তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তাকে জানিয়ে দাও যে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন» (১) বুখারীর ‘ফাযাইলুল কুরআন’ অধ্যায়ে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
প্রশ্ন: গুণবাচক বৈশিষ্ট্যের (الصفة) উদাহরণ কী?
উত্তর: গুণবাচক বৈশিষ্ট্যের (الصفة) উদাহরণ হলো যেমন বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন, উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, কোমল হৃদয়ের ছিলেন; তিনি কঠোর বা রূঢ় মেজাজের ছিলেন না, উচ্চস্বরে চিৎকারকারী ছিলেন না, অশ্লীল ভাষী ছিলেন না এবং ছিদ্রান্বেষী ছিলেন না। বরং তিনি (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সকল প্রশংসনীয় গুণের পূর্ণতার অধিকারী ছিলেন।
দ্বিতীয়ত:- হাদিসে কুদসি। প্রশ্ন: আমরা ইতিপূর্বে কুরআনের সংজ্ঞা এবং হাদিসে নববীর সংজ্ঞা জেনেছি, তবে হাদিসে কুদসির সংজ্ঞা কী, যাতে আমরা এগুলোর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারি?
উত্তর: আমরা ইতিপূর্বে আভিধানিক অর্থে ‘হাদিস’ শব্দের সংজ্ঞা জেনেছি। আর ‘কুদসি’ শব্দটি ‘তাকদিস’ (التقديس)-এর সাথে সম্পর্কিত, যা সম্মান ও মহত্ত্ব নির্দেশ করে। কারণ আভিধানিক অর্থে এই শব্দের মূল ধাতু পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধি অর্থ প্রদান করে। সুতরাং ‘তাকদিস’ অর্থ হলো আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা বর্ণনা করা। আর ‘তাকদিস’ অর্থ হলো পবিত্রকরণ।
এবং ‘তাকাদ্দাসা’ অর্থ: পবিত্র হওয়া। আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের উক্তি বর্ণনা করে বলেছেন: «আমরা আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করি এবং আপনার মহিমা বর্ণনা (ونقدس لك) করি» (২) অর্থাৎ আমরা আপনার মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করি। আর পারিভাষিক (الاصطلاح) অর্থে হাদিসে কুদসির সংজ্ঞা হলো: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বক্তব্য হিসেবে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (يضيفه) করেন। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি আল্লাহর কালাম হিসেবে বর্ণনা করেন। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে আল্লাহর কালামের বর্ণনাকারী। আর যখন কেউ এটি বর্ণনা করে, তখন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে সূত্রবদ্ধ (مسندا) অবস্থায় বর্ণনা করে। উদাহরণস্বরূপ সে বলে:— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান রব থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে বলেছেন... অথবা সে বলে: বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
رسول الله صلى الله عليه وسلم: قال الله تعالى. أو يقول الله تعالى.
فمثال الأول: عن أبي هريرة رضي الله عنه، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه عز وجل: «يد الله ملأى لا (1) يفيضها نفقة (2) سحّاء الليل والنهار» (3) ومعنى لا يفيضها: أي لا ينقصها- والسحّ: هو الصبّ الدائم، نفقه: أي ما أنفق.
ومثال الثاني: عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: يقول الله تعالى: «أنا عند ظن عبدي بي وأنا معه إذا ذكرني، فإن ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي، وإن ذكرني في ملأ ذكرته في ملأ خير منهم» (4). فالرسول صلى الله عليه وسلم إذا تحدث بالحديث النبوي لم ينسبه إلى ربه جل وعلا، وإذا تحدث بالحديث القدسي نسبه إلى الله عز وجل. والله تعالى أعلم.
أسئلة وتطبيقاتس 1: عرّف الحديث النبوي في الاصطلاح؟
س 2: ما مثال القول؟ وما مثال الفعل؟ وما مثال الإقرار؟
س 3: اذكر تعريف الحديث القدسي في الاصطلاح.
س 4: اذكر مثالا على إسناد الحديث القدسي إلى الله تعالى عن لسان رسول الله صلى الله عليه وسلم.
س 5: ما معنى الحديث في اللغة؟
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: আল্লাহ তাআলা বলেছেন। অথবা আল্লাহ তাআলা বলছেন।
প্রথমটির উদাহরণ: আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লা হতে যা বর্ণনা করেন সে সম্পর্কে তিনি বলেন: "আল্লাহর হাত পরিপূর্ণ, দিন-রাতের অবিরাম দান তা কমাতে (১) পারে না।" এবং 'লা ইফিদ্বুহা' (لا يفيضها)-এর অর্থ হলো: অর্থাৎ তা হ্রাস করে না। আর 'আস-সাহ' (السحّ) হলো: নিরবচ্ছিন্ন বর্ষণ, 'নাফাকাহ' (نفقه): অর্থাৎ যা ব্যয় করা হয়েছে।
দ্বিতীয়টির উদাহরণ: আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা পোষণ করে আমি তেমনই, আর সে যখন আমাকে স্মরণ করে আমি তার সাথেই থাকি। সে যদি আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, তবে আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি; আর সে যদি কোনো মজলিসে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাদের চেয়েও উত্তম মজলিসে তাকে স্মরণ করি" (৪)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো হাদিসে নববী (الحديث النبوي) বর্ণনা করতেন, তখন তিনি তা তাঁর রবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতেন না; আর যখন তিনি কোনো হাদিসে কুদসি (الحديث القدسي) বর্ণনা করতেন, তখন তিনি তা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতেন। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
প্রশ্নাবলী ও অনুশীলনপ্রশ্ন ১: পরিভাষা (الاصطلاح) অনুযায়ী হাদিসে নববী (الحديث النبوي)-এর সংজ্ঞা দাও।
প্রশ্ন ২: কথা বা উক্তি (القول)-এর উদাহরণ কী? কাজ বা কর্ম (الفعل)-এর উদাহরণ কী? এবং মৌনসম্মতি (الإقرار)-এর উদাহরণ কী?
প্রশ্ন ৩: পরিভাষা (الاصطلاح) অনুযায়ী হাদিসে কুদসি (الحديث القدسي)-এর সংজ্ঞা উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ৪: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানে হাদিসে কুদসি (الحديث القدسي)-কে আল্লাহ তাআলার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার একটি উদাহরণ দাও।
প্রশ্ন ৫: শাব্দিক (اللغة) অর্থে হাদিস বলতে কী বোঝায়?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الفرق بين القرآن الكريم والحديث القدسيس: ما الفرق بين القرآن الكريم والحديث القدسي؟
ج: هناك عدة فروق بين القرآن الكريم والحديث القدسي نذكر أهمها فيما يلي:
أولا: أن القرآن الكريم كلام الله تعالى أوحى الله به إلى رسوله محمد صلى الله عليه وسلم بلفظه وتحدى به- أي بالقرآن- العرب جميعا فعجزوا عن أن يأتوا بمثله، أو بعشر سور من مثله أو بسورة واحدة من مثله، ولا يزال التحدي به قائما إلى يوم القيامة، فهو معجزة خالدة إلى يوم الدين. وهذا بخلاف الحديث القدسي فلا يتحدى بتلاوته.
ثانيا: القرآن الكريم لا ينسب إلّا إلى الله تعالى فيقال: قال الله تعالى. والحديث القدسي- كما سبق- قد يروى مضافا إلى الله تعالى وتكون النسبة إليه حينئذ نسبة إنشاء. فيقال: قال الله أو يقول الله تعالى. وقد يروى مضافا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وتكون النسبة حينئذ نسبة إخبار لأنه صلى الله عليه وسلم هو المخبر به عن الله عز وجل فيقال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه عز وجل.
ثالثا: القرآن الكريم كله منقول بطريق التواتر، فهو قطعي الثبوت. والأحاديث القدسية أكثرها أخبار آحاد، فهي ظنية الثبوت. وقد يكون الحديث القدسي صحيحا وقد يكون حسنا، وقد يكون ضعيفا.
أما القرآن فلا تعتريه هذه الأحوال، لأنه كله صحيح من عند الله.
رابعا: القرآن الكريم من عند الله تعالى لفظه ومعناه. فهو وحي باللفظ والمعنى.
والحديث القدسي معناه من عند الله تعالى ولفظه من عند رسول الله صلى الله عليه وسلم على القول الصحيح فهو وحي بالمعنى دون اللفظ ولذا تجوز روايته بالمعنى عند جمهور المحدثين (1).
خامسا: القرآن الكريم متعبد بتلاوته فهو الذي تتعين القراءة به في الصلوات لقوله تعالى: فَاقْرَؤُا ما تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ (2). فقراءته في الصلاة وفي غير الصلاة
--------------------------------------------
পবিত্র কুরআন এবং হাদিসে কুদসির মধ্যে পার্থক্যপ্রশ্ন: পবিত্র কুরআন এবং হাদিসে কুদসির মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: পবিত্র কুরআন এবং হাদিসে কুদসির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে, যার মধ্যে প্রধানগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
প্রথমত: পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহ তাআলার বাণী যা তিনি তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তাঁর নিজস্ব শব্দে ও ভাষায় ওহি করেছেন এবং এর মাধ্যমে—অর্থাৎ কুরআনের মাধ্যমে—সমগ্র আরব জাতিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ফলে তারা এর অনুরূপ কিছু, অথবা এর মতো দশটি সূরা, এমনকি এর মতো একটি সূরা আনতেও অক্ষম হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে, তাই এটি শেষ বিচার দিবস পর্যন্ত এক চিরন্তন মুজিজা। পক্ষান্তরে হাদিসে কুদসির বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এর তিলাওয়াতের মাধ্যমে কোনো চ্যালেঞ্জ প্রদান করা হয়নি।
দ্বিতীয়ত: পবিত্র কুরআন শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার দিকেই সম্পর্কিত করা হয়, তাই বলা হয়: 'মহান আল্লাহ বলেছেন'। কিন্তু হাদিসে কুদসি—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—কখনো মহান আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করে বর্ণিত হয়, আর তখন সেই সম্পৃক্ততা হয় রচনার (তথা মূল বক্তব্যের) দিক থেকে। এমতাবস্থায় বলা হয়: 'আল্লাহ বলেছেন' অথবা 'মহান আল্লাহ বলেন'। আবার কখনো এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্পৃক্ত করে বর্ণিত হয়, আর তখন সেই সম্পৃক্ততা হয় সংবাদ প্রদানের (তথা তথ্য বর্ণনার) দিক থেকে। কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এর সংবাদ দানকারী। তাই বলা হয়: 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বরকতময় প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করে বলেছেন'।
তৃতীয়ত: সমগ্র পবিত্র কুরআন মুতাওয়াতির (التواتر) পদ্ধতিতে বর্ণিত, তাই এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত (قطعي الثبوت)। পক্ষান্তরে অধিকাংশ হাদিসে কুদসি হলো আহাদ (أخبار آحاد) সংবাদ, তাই এগুলো প্রমাণের দিক থেকে নির্ভরযোগ্যতার স্তরে ধারণাপ্রসূত (ظني الثبوت)। কোনো হাদিসে কুদসি বিশুদ্ধ (صحيح) হতে পারে, কোনোটি হাসান (حسن) হতে পারে, আবার কোনোটি দুর্বল (ضعيف) হতে পারে। পক্ষান্তরে কুরআনের ক্ষেত্রে এই অবস্থাগুলো প্রযোজ্য নয়, কারণ এর পুরোটাই আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত বিশুদ্ধ (صحيح)।
চতুর্থত: পবিত্র কুরআনের শব্দ এবং অর্থ উভয়ই মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে। সুতরাং এটি শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকেই ওহি। আর বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, হাদিসে কুদসির অর্থ মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এবং শব্দ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে। সুতরাং এটি কেবল অর্থের দিক থেকে ওহি, শব্দের দিক থেকে নয়। এ কারণেই অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট এটি মর্মের ভিত্তিতে বর্ণনা করা (রওয়ায়াত বিল মা’না) বৈধ। (১)
পঞ্চমত: পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা ইবাদত হিসেবে গণ্য, তাই সালাতে কেবল কুরআনই পাঠ করতে হয়। মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ হয় ততটুকু পাঠ করো" (২)। অতএব সালাতে এবং সালাতের বাইরে এর তিলাওয়াত ইবাদত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
عبادة يثيب الله تعالى عليها كما جاء في الحديث الشريف: «من قرأ حرفا من كتاب الله تعالى فله حسنة، والحسنة بعشر أمثالها. لا أقول الم حرف. ولكن ألف حرف.
ولام حرف. وميم حرف» (1).
وبالمقابل لهذا فإن الحديث القدسي لا يجزئ في الصلاة ويثيب الله عليه ثوابا عاما. فلا يتحقق في قراءته الثواب الذي ورد ذكره في الحديث الشريف على قراءة القرآن الكريم بكل حرف عشر حسنات؛ وبهذا يكون قد اتضح الفرق بين القرآن الكريم والحديث القدسي .. والله أعلم.
أسئلة وتطبيقاتس 1: هناك عدة فروق بين القرآن الكريم والحديث القدسي، اذكر ثلاثة منها.
س 2: اذكر الحديث الذي ورد في فضل قراءة القرآن وأجر الثواب على قراءته.
--------------------------------------------
এটি একটি ইবাদত যার জন্য মহান আল্লাহ প্রতিদান দান করেন, যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে: «যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে, আর প্রতিটি নেকি তার দশ গুণ হিসেবে গণ্য হবে। আমি বলছি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর,
লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর» (১)।
এর বিপরীতে, হাদিসে কুদসি সালাতে পাঠ করলে তা যথেষ্ট হয় না এবং আল্লাহ এর ওপর সাধারণ সওয়াব দান করেন। কুরআনে কারিম তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রতিটি অক্ষরে দশটি করে নেকির যে সওয়াবের কথা হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, তা হাদিসে কুদসি তিলাওয়াতের মাধ্যমে অর্জিত হয় না; এর মাধ্যমে কুরআনে কারিম ও হাদিসে কুদসির মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হলো। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
প্রশ্ন ও অনুশীলনপ্রশ্ন ১: কুরআনে কারিম ও হাদিসে কুদসির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে তিনটি উল্লেখ করুন।
প্রশ্ন ২: কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত এবং এর সওয়াব সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفرق بين الحديث القدسي والحديث النبويس: عرفنا فيما سبق الفرق بين القرآن والحديث القدسي، فما هو الفرق بين الحديث القدسي والحديث النبوي؟
ج: الحديث النبوي قسمان: قسم توقيفي وقسم توفيقي.
س: ما هو التوقيفي؟
ج: القسم التوقيفي: هو الذي تلقى الرسول صلوات الله وسلامه عليه مضمونه من الوحي فبيّنه للناس بكلامه صلى الله عليه وسلم. وهذا القسم التوقيفي وإن كان مضمونه منسوبا إلى الله جل وعلا فإنه (من حيث هو كلام) حريّ بأن ينسب إلى الرسول صلى الله عليه وسلم، لأن الكلام إنما ينسب إلى قائله وإن كان ما فيه من المعنى قد تلقاه من غيره.
س: ما هو القسم الثاني (التوفيقي)؟
ج: القسم الثاني التوفيقي: هو الذي استنبطه الرسول صلوات الله وسلامه عليه من فهمه للقرآن بتوفيق من الله تعالى، لأنه صلوات الله وسلامه عليه مبيّن للقرآن، أو استنبطه بالتأمل والاجتهاد، وهذا القسم الاستنباطي الاجتهادي من الرسول صلى الله عليه وسلم يقره الوحي إذا كان صوابا، وإذا وقع فيه خطأ جزئي نزل الوحي بالصواب. ومثال
ذلك ما وقع في أسرى بدر فإن الرسول صلى الله عليه وسلم أخذ برأي أبي بكر وقبل من الأسرى الفداء، فنزل القرآن الكريم بالصواب للنبي صلى الله عليه وسلم. بقوله تعالى: ما كانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ (1).
ويتبيّن من ذلك أن الأحاديث النبوية بقسميها التوقيفي والتوفيقي، يمكن أن يقال عنها أن مردها جميعا بجملتها إلى الوحي، وهذا معنى قوله تعالى في رسولنا الكريم صلى الله عليه وسلم: وَما يَنْطِقُ عَنِ الْهَوى * إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحى (2).
ولكن الحديث القدسي معناه من عند الله عز وجل يلقي المعنى إلى الرسول صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
হাদিস কুদসি এবং হাদিস নববীর মধ্যে পার্থক্যপ্রশ্ন: পূর্বে আমরা কুরআন এবং হাদিস কুদসির মধ্যে পার্থক্য জেনেছি। এখন হাদিস কুদসি এবং হাদিস নববীর মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: হাদিস নববী দুই প্রকার: ওহি-নির্ভর (توقيفي) অংশ এবং ওহি-সমর্থিত (توفيقي) অংশ।
প্রশ্ন: ওহি-নির্ভর (توقيفي) অংশ কী?
জ: ওহি-নির্ভর (توقيفي) অংশ হলো: সেটি যার মূল বিষয়বস্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহি (وحي) এর মাধ্যমে লাভ করেছেন এবং তা মানুষের কাছে তাঁর নিজের ভাষায় বর্ণনা করেছেন। এই ওহি-নির্ভর (توقيفي) অংশের মূল বিষয়বস্তু মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধিত হলেও, ভাষাগত দিক থেকে তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া যুক্তিযুক্ত। কারণ, বক্তব্য সাধারণত বক্তার দিকেই সম্বন্ধিত হয়, যদিও সেই বক্তব্যের অর্থ অন্য কারো কাছ থেকে প্রাপ্ত হয়ে থাকে।
প্রশ্ন: দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ ওহি-সমর্থিত (توفيقي) অংশ কোনটি?
উত্তর: দ্বিতীয় প্রকার তথা ওহি-সমর্থিত (توفيقي) অংশ হলো: এটি সেই বিষয় যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া প্রজ্ঞা বা তাওফিকের মাধ্যমে কুরআন বুঝে উদ্ভাবন করেছেন। কারণ তিনি ছিলেন কুরআনের ব্যাখ্যাকারী। অথবা তিনি গভীর চিন্তা ও ইজতিহাদ (اجتهاد) এর মাধ্যমে তা উদ্ভাবন করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই উদ্ভাবনী ও ইজতিহাদ (اجتهاد) ভিত্তিক অংশটি যদি সঠিক হয় তবে ওহি (وحي) তা বহাল রাখে, আর যদি তাতে কোনো আংশিক ভুল সংঘটিত হয় তবে ওহি (وحي) এর মাধ্যমে সঠিকটি অবতীর্ণ হয়। এর উদাহরণ হলো
বদরের যুদ্ধবন্দীদের ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মত গ্রহণ করেছিলেন এবং বন্দীদের কাছ থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করেছিলেন। তখন পবিত্র কুরআন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য সঠিক বিষয়টি নাযিল করে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: "কোনো নবীর জন্য সংগত নয় যে, তাঁর কাছে যুদ্ধবন্দী থাকবে যতক্ষণ না তিনি জমিনে (শত্রুদের) রক্তপাত ঘটান (অর্থাৎ বিজয় সুসংহত করেন)।" (১)
এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, হাদিস নববীর ওহি-নির্ভর (توقيفي) ও ওহি-সমর্থিত (توفيقي) উভয় প্রকারের মূল উৎসই হলো ওহি (وحي)। আমাদের প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে আল্লাহর এই বাণীর মর্মার্থও এটিই: "আর তিনি নিজের খেয়াল-খুশিমতো কথা বলেন না। এতো কেবল ওহি (وحي) যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।" (২)
তবে হাদিস কুদসির অর্থ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে এবং তিনি সেই অর্থ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হৃদয়ে ঢেলে দেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بأي كيفية من كيفيات الوحي. أما ألفاظه فمن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم على الراجح ونسبته إلى الله تعالى نسبة للمضمون وليست نسبة للألفاظ. ولو كان لفظ الحديث القدسي من عند الله لما كان هناك فرق بينه وبين القرآن ولوقع به التحدي بأسلوبه والتعبد بتلاوته .. ويتضح من هذا أن الحديث النبوي من عند رسول الله صلى الله عليه وسلم قولا ومعنى. ينسب إليه بلفظه ومعناه. ولم ينسبه إلى الله عز وجل.
وأما الحديث القدسي فهو ما يضيفه الرسول صلى الله عليه وسلم من الكلام إلى الله تعالى.
أي أن الرسول صلى الله عليه وسلم يرويه عن ربه على أنه من كلام الله تعالى. والرسول صلى الله عليه وسلم راو له فقط من عنده هو. وإذا ما رواه أحد من الصحابة يكون قد رواه عن الرسول صلى الله عليه وسلم مسندا إلى الله تعالى.
مثال ذلك هذا الحديث (عن أبي هريرة رضي الله تعالى عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: يقول عن ربه. قال الله تعالى: أنا عند ظن عبدي بي. وأنا معه إذا ذكرني، فإن ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي، وإن ذكرني في ملأ ذكرته في ملأ خير منه) الصحيحان، فالرسول إذا تحدث بالحديث النبوي لم ينسبه إلى ربه جل علاه. وإذا تحدث بالحديث القدسي نسبه إلى الله تعالى. هذا وبالله التوفيق.
والله تعالى أعلم.
أسئلة وتطبيقاتس 1 - للحديث النبوي قسمان فما هما مع التوضيح؟
س 2 - مما درست تبيّن لك الفرق بين الحديث القدسي والحديث النبوي فما هو؟
ওহীর যেকোনো পদ্ধতির মাধ্যমে। তবে অধিক গ্রহণযোগ্য (الراجح) মতানুযায়ী, এর শব্দাবলি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে এবং আল্লাহর প্রতি এর নিসবত বা সম্বন্ধ করা হয় এর বিষয়বস্তুর দিক থেকে, শব্দের দিক থেকে নয়। যদি হাদিসে কুদসীর শব্দাবলি আল্লাহর পক্ষ থেকে হতো, তবে এর এবং কুরআনের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকত না এবং এর রচনাশৈলী দ্বারা চ্যালেঞ্জ (التحدي) প্রদান করা সম্ভব হতো এবং এর তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য (التعبد) হতো। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, হাদিসে নববী কথা এবং অর্থ উভয় দিক থেকেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে। এটি তাঁরই শব্দ ও অর্থে তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। তিনি একে মহান আল্লাহর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেননি।
আর হাদিসে কুদসী হলো সেই কথা, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন।
অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি তাঁর রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা (يرويه) করেন এই হিসেবে যে, এটি মহান আল্লাহর কালাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পক্ষ থেকে এর বর্ণনাকারী (راو) মাত্র। আর যখন সাহাবীগণের মধ্য থেকে কেউ এটি বর্ণনা করেন, তখন তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন এমনভাবে যে তা আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مسندا)।
এর উদাহরণ হলো এই হাদিস (আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রব সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা পোষণ করে, আমি তার জন্য তেমনই। সে যখন আমাকে স্মরণ করে, আমি তখন তার সাথেই থাকি। সে যদি আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, তবে আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি। আর সে যদি আমাকে কোনো মজলিসে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের অপেক্ষা উত্তম মজলিসে স্মরণ করি।") সহীহাইন। সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হাদিসে নববী বর্ণনা করেন, তখন তিনি তা তাঁর সুমহান রবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন না। আর যখন তিনি হাদিসে কুদসী বর্ণনা করেন, তখন তিনি তা মহান আল্লাহর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেন। এখানেই সমাপ্ত এবং আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফিক লাভ হয়।
আর মহান আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
প্রশ্ন ও অনুশীলনপ্রশ্ন ১ - হাদিসে নববীর দুইটি প্রকার রয়েছে, ব্যাখ্যাসহ সেগুলো কী কী?
প্রশ্ন ২ - যা অধ্যয়ন করেছেন তা থেকে হাদিসে কুদসী ও হাদিসে নববীর মধ্যকার পার্থক্য যা আপনার নিকট স্পষ্ট হয়েছে, তা কী?
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
نزول القرآن الكريمس: ما هي كيفية نزول القرآن الكريم؟
ج: القرآن الكريم: أنزله الله تبارك وتعالى على رسولنا محمد صلى الله عليه وسلم لهداية البشر أجمعين فكان نزوله حدثا عظيما يشير إلى مكانته لدى أهل السماء وأهل الأرض.
وقد شرّف الله هذا القرآن بأن جعل له تنزلات ثلاث.
س: ما هو التنزل الأول للقرآن الكريم؟
ج: التنزل الأول: إلى اللوح المحفوظ، ودليله قوله تعالى: بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ* فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ (1) ولقد كان هذا التنزل إلى اللوح المحفوظ بطريقة وفي وقت لا يعلمهما إلا الله تعالى ومن أطلعه على غيبه من خلقه. وكان جملة لا مفرقا. وهذا هو الظاهر من اللفظ القرآني عند الإطلاق. ولأن أسرار تنجيم القرآن على النبي صلى الله عليه وسلم لا يعقل تحققها في هذا التنزيل لأن الرسول لم يكن قد بعث بعد.
س: ما هو التنزيل الثاني للقرآن المجيد؟
ج: التنزيل الثاني للقرآن الكريم كان إلى بيت العزة في السماء الدنيا. والدليل عليه قوله سبحانه وتعالى: إِنَّا أَنْزَلْناهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ (2).
وقوله تعالى: إِنَّا أَنْزَلْناهُ فِي لَيْلَةٍ مُبارَكَةٍ (3). وقوله تعالى: شَهْرُ رَمَضانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدىً لِلنَّاسِ وَبَيِّناتٍ مِنَ الْهُدى وَالْفُرْقانِ (4). وقد دلت هذه الآيات الثلاث على أن القرآن أنزل في ليلة واحدة توصف بأنها مباركة أخذا من آية سورة الدخان، وتسمى ليلة القدر أخذا من سورة القدر، وهي من ليالي شهر رمضان أخذا من آية سورة البقرة. وهذا التنزل أيضا كان جملة لا منجما. وهذا التنزل الثاني يعتبره بعض العلماء التنزل الأول (5).
--------------------------------------------
মহাগ্রন্থ কুরআন অবতীর্ণ হওয়াপ্রশ্ন: কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতি কী?
উত্তর: মহাগ্রন্থ কুরআন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা একে আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর সমগ্র মানবজাতির হিদায়াতের জন্য অবতীর্ণ করেছেন। এর অবতরণ ছিল এক মহান ঘটনা, যা আসমান ও জমিনবাসীর নিকট এর সুউচ্চ মর্যাদাকে নির্দেশ করে।
আল্লাহ তাআলা এই কুরআনকে তিন পর্যায়ে অবতীর্ণ করার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন।
প্রশ্ন: কুরআন মাজিদের প্রথম পর্যায়ের অবতরণ কোনটি?
উত্তর: প্রথম অবতরণ: লাওহে মাহফুজে (সংরক্ষিত ফলকে)। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "বরং এটি এক মহিমান্বিত কুরআন, যা সংরক্ষিত ফলকে (লাওহে মাহফুজ) লিপিবদ্ধ।" (১) লাওহে মাহফুজে এই অবতরণ এমন এক পদ্ধতিতে ও এমন এক সময়ে সম্পন্ন হয়েছিল যা আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর সৃষ্টিজগতের মধ্যে যাঁদের তিনি অদৃশ্যের জ্ঞান দান করেছেন তারা ব্যতীত আর কেউ অবগত নয়। এটি ছিল একত্রে (جملة), পৃথক পৃথকভাবে (مفرقا) নয়। কুরআনের শব্দের বাহ্যিক প্রয়োগ থেকে এটাই প্রতীয়মান হয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর কুরআনের পর্যায়ক্রমে (تنجيم) অবতীর্ণ হওয়ার রহস্যসমূহ এই পর্যায়ে কার্যকর হওয়া বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সম্ভব নয়, কারণ তখনো রাসূল প্রেরিত হননি।
প্রশ্ন: কুরআন মাজিদের দ্বিতীয় পর্যায়ের অবতরণ কোনটি?
উত্তর: কুরআন মাজিদের দ্বিতীয় পর্যায়ের অবতরণ ছিল দুনিয়ার আসমানের 'বায়তুল ইজ্জাহ'তে। এর দলিল হলো মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: "নিশ্চয়ই আমি একে কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি।" (২)
এবং আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি একে এক বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি।" (৩)। এবং আল্লাহর বাণী: "রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াত এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট প্রমাণ ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।" (৪)। এই তিনটি আয়াত একযোগে নির্দেশ করে যে, কুরআন এক রাতেই অবতীর্ণ হয়েছে যাকে সূরা আদ-দুখান অনুযায়ী 'বরকতময়' বলা হয়েছে, সূরা আল-কদর অনুযায়ী একে 'লাইলাতুল কদর' বলা হয়েছে এবং সূরা আল-বাকারার আয়াত অনুযায়ী যা রমজান মাসের অন্তর্ভুক্ত। এই দ্বিতীয় পর্যায়ের অবতরণটিও ছিল একত্রে (جملة), পর্যায়ক্রমে (منجما) নয়। কোনো কোনো আলিম এই দ্বিতীয় পর্যায়ের অবতরণকেই প্রথম অবতরণ (৫) হিসেবে গণ্য করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২০)
س: ما هو التنزل الثالث للقرآن الكريم؟
ج: التنزل الثالث للقرآن الكريم كان بواسطة أمين الوحي جبريل عليه السلام حيث نزل به منجما (أي مفرقا) على قلب المصطفى صلى الله عليه وسلم، على مدى ثلاث وعشرين سنة، وهذه هي فترة نزول الوحي من حين البعثة إلى وفاته صلى الله عليه وسلم. ولقد كانت هذه المرحلة الأخيرة للتنزلات الثلاثة هي التي شع منها النور على العالم ووصلت بها هداية الله تعالى إلى الخلق.
ودليل هذا التنزل الأخير قول الله تعالى مخاطبا للرسول عليه الصلاة والسلام: وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعالَمِينَ* نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ* عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ* بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ (1).
ودليل نزول القرآن منجما قول الله تعالى: وَقُرْآناً فَرَقْناهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلى مُكْثٍ وَنَزَّلْناهُ تَنْزِيلًا (2). وقوله تعالى: وَقالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً واحِدَةً كَذلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤادَكَ وَرَتَّلْناهُ تَرْتِيلًا (3). صدق الله العظيم .. والله تعالى أعلم.
أسئلة وتطبيقاتس 1 - اذكر التنزل الثاني للقرآن مع ذكر الدليل.
س 2 - ما هو التنزل الثالث مع ذكر ما يدل عليه من القرآن الكريم؟
س 3 - ما معنى: نزل منجما؟
س 4 - في كم عام نزل القرآن على رسول الله صلى الله عليه وسلم؟
--------------------------------------------
প্রশ্ন: পবিত্র কুরআনের তৃতীয় অবতরণ (التنزل الثالث) কোনটি?
উত্তর: পবিত্র কুরআনের তৃতীয় অবতরণ (التنزل الثالث) ছিল ওহীর আমানতদার জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে, যেখানে তিনি এটি খণ্ড খণ্ড ভাবে (منجماً) — অর্থাৎ পৃথক পৃথক ভাবে (مفرقاً) — মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হৃদয়ে দীর্ঘ তেইশ বছর সময় ধরে অবতীর্ণ করেছিলেন। আর এটাই হলো তাঁর নবুয়ত প্রাপ্তি (البعثة) থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত ওহী অবতরণের সময়কাল। তিনটি অবতরণ পর্যায়ের মধ্যে এটিই ছিল সর্বশেষ পর্যায়, যা থেকে বিশ্বে হেদায়েতের আলো বিচ্ছুরিত হয়েছে এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সৃষ্টির কাছে হেদায়েত পৌঁছেছে।
এই সর্বশেষ অবতরণের দলিল হলো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত আত্মা (الروح الأمين) তা নিয়ে অবতরণ করেছে, আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।" (১)
কুরআন খণ্ড খণ্ড ভাবে (منجماً) অবতীর্ণ হওয়ার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আমি কুরআনকে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করতে পারেন এবং আমি এটি পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ (تنزيلاً) করেছি।" (২) মহান আল্লাহ আরও বলেন: "কাফেররা বলে, তাঁর প্রতি সমগ্র কুরআন এককালীন (جملة واحدة) কেন অবতীর্ণ করা হলো না? আমি এভাবেই অবতীর্ণ করেছি আপনার অন্তরকে এর দ্বারা মজবুত করার জন্য এবং আমি একে স্পষ্টভাবে ক্রমে ক্রমে পাঠ করেছি।" (৩) মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন.. এবং আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞাত।
প্রশ্ন ও অনুশীলনপ্রশ্ন ১ - দলিলসহ কুরআনের দ্বিতীয় অবতরণের কথা উল্লেখ করুন।
প্রশ্ন ২ - তৃতীয় অবতরণ (التنزل الثالث) কোনটি এবং পবিত্র কুরআন থেকে এর প্রমাণ উল্লেখ করুন।
প্রশ্ন ৩ - 'খণ্ড খণ্ড ভাবে অবতীর্ণ' (نزل منجماً)-এর অর্থ কী?
প্রশ্ন ৪ - কত বছর ধরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২১)
مراحل جمع القرآن وتدوينهس: ما هي مراحل جمع القرآن الكريم وتدوينه؟
ج: جمع القرآن الكريم (أي بمعنى كتب) على ثلاث مراحل.
المرحلة الأولى: جمعه في العهد النبوي الشريف.
المرحلة الثانية: جمعه في عهد أبي بكر الصديق رضي الله عنه.
المرحلة الثالثة: جمعه في عهد عثمان بن عفان رضي الله عنه.
س: كيف كانت طريقة كتابته في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم؟
ج: كانت طريقة جمعه في العهد النبوي الشريف عبارة عن كتابة الآيات وترتيبها ووضعها في مكانها الخاص من سورها. فقد كانوا يكتبون القرآن على العسيب (1) واللخاف (2) والرقاع (3) وعظام الأكتاف وغيرها. وذلك لأن صنع الورق لم يكن مشتهرا عند العرب في ذلك الوقت. بل كان عند الفرس والروم. ويصعب الحصول عليه في ذلك الحين.
س: ما هو المقصود من هذا الجمع؟
ج: المقصود من هذا الجمع (أي الذي بمعنى الكتابة): زيادة التحري في ضبط ألفاظ القرآن وحفظ كلماته زيادة على ما في ذلك من تقديس القرآن والتنبيه على رفعة شأنه كما كان الشأن في تقييد الأشياء النفيسة. هذا وإن كان المعمول به في ذلك الوقت هو مجرد الحفظ في الصدور. وكانت صدورهم منشرحة للقرآن تماما حفظا وكتابة وتطبيقا لأحكامه.
س: هذا في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم فكيف جمع في عهد أبي بكر الصديق رضي الله عنه؟
--------------------------------------------
পবিত্র কুরআন সংকলন (جمع) ও লিপিবদ্ধকরণ (تدوين)-এর পর্যায়সমূহপ্রশ্ন: পবিত্র কুরআন সংকলন (جمع) ও লিপিবদ্ধকরণ (تدوين)-এর পর্যায়গুলো কী কী?
উত্তর: পবিত্র কুরআন সংকলন (جمع) (অর্থাৎ লিপিবদ্ধকরণ) তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রথম পর্যায়: নববী যুগে এর সংকলন (جمع)।
দ্বিতীয় পর্যায়: আবু বকর আল-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে এর সংকলন (جمع)।
তৃতীয় পর্যায়: উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে এর সংকলন (جمع)।
প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে এটি লিপিবদ্ধ করার পদ্ধতি কেমন ছিল?
উত্তর: নববী যুগে এর সংকলন (جمع)-এর পদ্ধতি ছিল আয়াতসমূহ লিপিবদ্ধ করা, সেগুলোকে বিন্যস্ত করা এবং সূরাগুলোর নির্দিষ্ট স্থানে তা স্থাপন করা। তাঁরা কুরআন লিপিবদ্ধ করতেন খেজুরের ডাল, পাতলা পাথর, চামড়া বা কাগজের টুকরো, পশুর কাঁধের হাড় ইত্যাদির ওপর। কারণ সেই সময়ে আরবদের নিকট কাগজ তৈরি করা প্রচলিত ছিল না; বরং তা পারস্য ও রোমীয়দের নিকট প্রচলিত ছিল এবং সেই সময়ে তা সংগ্রহ করা কঠিন ছিল।
প্রশ্ন: এই সংকলন (جمع) দ্বারা কী উদ্দেশ্য ছিল?
উত্তর: এই সংকলন (جمع) (অর্থাৎ যা লিপিবদ্ধকরণের অর্থে ব্যবহৃত) দ্বারা উদ্দেশ্য ছিল: কুরআনের শব্দাবলি নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ (ضبط) ও সুরক্ষায় অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করা; এর পাশাপাশি কুরআনের পবিত্রতা রক্ষা এবং এর সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন করা, যেমনটি মূল্যবান বস্তু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে। যদিও সেই সময়ে মূল আমল ছিল কেবল অন্তরে মুখস্থ রাখার ওপর। তাঁদের অন্তর কুরআন মুখস্থকরণ, লিপিবদ্ধকরণ এবং এর বিধানাবলি প্রয়োগের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল।
প্রশ্ন: এটি তো রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগের কথা, তবে আবু বকর আল-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে কীভাবে এটি সংকলিত হয়েছিল?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২২)
ج: أما جمعه في عهد أبي بكر الصديق فكان عبارة عن نقل القرآن جميعه من العسيب واللخاف والرقاع والعظام وكتابته في مكان واحد، وهي الصحف مرتبة الآيات والسور مقتصرة فيه على ما ثبتت قرآنيته بالتواتر.
س: ما هو الغرض من هذا الجمع في عهد أبي بكر الصديق؟ ولماذا؟
ج: كان الغرض من هذا الجمع الاحتياط والمبالغة في حفظ هذا الكتاب خوفا عليه أو على شيء منه من الضياع بسبب موت كثير من حملته وحفّاظه الكبار الذين قتل منهم عدد يزيد على (70) سبعين في معركة اليمامة. وقد روى البخاري في صحيحه عن زيد بن ثابت رضي الله عنه أنه قال: أرسل إليّ أبو بكر رضي الله عنه مقتل أهل اليمامة (أي عقب استشهاد كبار الحفاظ) فإذا عمر جالس عنده، فقال أبو بكر: إن عمر جاءني فقال: (إن القتل قد استحرّ- أي كثر واشتد- يوم اليمامة بقراء القرآن وإني أخشى أن يستحر القتل بالقراء في كل المواطن، فيذهب من القرآن كثير، وإني أرى أن تأمر بجمع القرآن، فقلت: وكيف أفعل ما لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال عمر- رضي الله عنه: هو والله خير، فلم يزل يراجعني في ذلك حتى شرح الله صدري للذي شرح الله له صدر عمر، ورأيت في ذلك الذي رأى.
قال زيد بن ثابت: فقال أبو بكر: إنك شاب عاقل لا نتهمك. وقد كنت تكتب الوحي لرسول الله صلى الله عليه وسلم فتتبع القرآن واجمعه. قال زيد: فو الله لو كلفوني نقل جبل من الجبال ما كان أثقل عليّ مما أمرني به من جمع القرآن. قلت: كيف تفعلان شيئا لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أي أبو بكر) هو والله خير، فلم يزل أبو بكر يراجعني حتى شرح الله صدري للذي شرح الله له صدر أبي بكر وعمر. فتتبعت القرآن أجمعه من العسيب واللخاف وصدور الرجال. ووجدت آخر سورة التوبة مع أبي خزيمة الأنصاري لم أجدها مع غيره لَقَدْ جاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ (1) إلخ.
أي حتى خاتمة سورة براءة. فكانت هذه هي الصحف الأولى للقرآن الكريم التي كانت عند أبي بكر حتى توفاه الله تعالى، ثم عند عمر حياته، ثم عند حفصة بنت
--------------------------------------------
উত্তর: আবু বকর সিদ্দিকের (রা.) যুগে কুরআন সংকলনের বিষয়টি ছিল খেজুরের ডাল, পাতলা পাথর, চামড়ার টুকরো এবং হাড় থেকে সম্পূর্ণ কুরআনের অনুলিপি গ্রহণ করে তা এক স্থানে লিপিবদ্ধ করা। এগুলো ছিল এমন কিছু সহিফা (পত্রক), যেখানে আয়াত এবং সূরাগুলো সুবিন্যস্ত ছিল এবং এতে কেবল সেই অংশগুলোই সীমাবদ্ধ ছিল যার কুরআন হওয়া মুতাওয়াতির (تواتر) পন্থায় প্রমাণিত।
প্রশ্ন: আবু বকর সিদ্দিকের (রা.) যুগে এই সংকলনের উদ্দেশ্য কী ছিল? এবং কেন?
উত্তর: এই সংকলনের উদ্দেশ্য ছিল এই মহান কিতাবটি সংরক্ষণে চূড়ান্ত সতর্কতা ও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা; যাতে এর কোনো অংশ হারিয়ে যাওয়ার ভয় না থাকে। কারণ ইয়ামামার যুদ্ধে অনেক হাফেজ এবং প্রবীণ কুরআন বহনকারী শহীদ হয়েছিলেন, যাদের সংখ্যা ছিল সত্তর (৭০) জনেরও বেশি। ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়ামামার যুদ্ধের পর (অর্থাৎ বিশিষ্ট হাফেজদের শাহাদাতের পর) আবু বকর (রা.) আমাকে ডেকে পাঠান। আমি গিয়ে দেখি তার কাছে উমর (রা.) বসে আছেন। আবু বকর (রা.) বললেন: উমর আমার কাছে এসে বলেছেন, "ইয়ামামার যুদ্ধে ক্বারীগণের (قرّاء) মধ্যে ব্যাপক মৃত্যু ও যুদ্ধ অত্যন্ত তীব্র হয়েছে। আমি আশঙ্কা করছি যে, বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে এভাবে ক্বারীগণ (قرّاء) শহীদ হতে থাকলে কুরআনের অনেক অংশ হারিয়ে যেতে পারে। তাই আমি মনে করি আপনার কুরআন সংকলনের নির্দেশ দেওয়া উচিত।" আমি উমরকে বললাম, "রাসূলুল্লাহ (সা.) যা করেননি, আমি তা কীভাবে করব?" উমর (রা.) বললেন, "আল্লাহর কসম, এটি একটি উত্তম কাজ।" উমর (রা.) বারবার আমাকে এ বিষয়ে বোঝাতে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা উমরের অন্তরকে যে বিষয়ের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, আমার অন্তরকেও সে বিষয়ের জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন এবং উমর যা সঠিক মনে করেছিলেন, আমিও তা-ই সঠিক মনে করলাম।
জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বলেন, আবু বকর (রা.) বললেন: "তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক, তোমার ব্যাপারে আমাদের কোনো সংশয় নেই। তাছাড়া তুমি রাসূলুল্লাহর (সা.) ওহি (وحي) লিখতে। সুতরাং তুমি কুরআন তালাশ করো এবং তা সংকলন করো।" জায়েদ বলেন: আল্লাহর কসম, তারা যদি আমাকে কোনো পাহাড় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দিতেন, তবে কুরআন সংকলনের যে দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন তা অপেক্ষা সেটি আমার কাছে বেশি ভারী মনে হতো না। আমি বললাম, "আপনারা এমন কাজ কীভাবে করছেন যা রাসূলুল্লাহ (সা.) করেননি?" তিনি (আবু বকর) বললেন, "আল্লাহর কসম, এটি একটি উত্তম কাজ।" আবু বকর (রা.) বারবার আমাকে এ কথা বলতে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা আবু বকর ও উমরের অন্তরকে যে কাজের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, আমার অন্তরকেও সে কাজের জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন। এরপর আমি খেজুরের ডাল, পাতলা পাথর এবং মানুষের স্মৃতি থেকে কুরআন তালাশ করে সংকলন করতে শুরু করলাম। আমি সূরা তওবার শেষ অংশ আবু খুজাইমা আনসারির (রা.) কাছে পেলাম, যা অন্য কারও কাছে (লিখিত আকারে) পাইনি— "লাকাদ জাআকুম রাসূলুম মিন আনফুসিকুম (১)..." শেষ পর্যন্ত।
অর্থাৎ সূরা বারাআতের সমাপ্তি পর্যন্ত। এগুলোই ছিল পবিত্র কুরআনের প্রথম সহিফা (পত্রক), যা আবু বকর (রা.)-এর ইনতিকাল পর্যন্ত তাঁর কাছে ছিল। এরপর উমরের জীবদ্দশায় তাঁর কাছে ছিল এবং পরবর্তীতে হাফসা বিনতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عمر رضي الله عنهم أجمعين. رواه البخاري، كتاب فضائل الأعمال (1).
فهذه الرواية دلت على سبب وطريقة جمع القرآن في عهد أبي بكر الصديق رضي الله عنه.
س: عرفنا مما سبق طريقة جمعه في العهد النبوي وفي عهد أبي بكر الصديق رضي الله عنه، فكيف جمع القرآن في عهد عثمان رضي الله عنه؟ ولماذا؟
ج: الجمع في عهد عثمان رضي الله عنه للقرآن كان عبارة عن نقل ما في الصحف السابقة في مصحف هو الإمام. ثم نسخت منه مصاحف أرسلت إلى الأقطار الإسلامية. وكان المقصود من جمع القرآن وكتابته في تلك المصاحف، الاقتصار على ما ورد من القراءات الثابتة المتواترة دون ما لم يكن كذلك من الأوجه التي نزلت أولا للتيسير. ثم نسخت بالعرضة الأخيرة من الرسول صلى الله عليه وسلم على أمين الوحي جبريل عليه السلام.
وفي سبب جمع عثمان للقرآن الكريم روى البخاري (2) بسنده عن أنس بن مالك رضي الله عنه أنه قال: إن حذيفة بن اليمان قدم على عثمان، وكان يغازي أهل الشام في فتح أرمينية وأذربيجان مع أهل العراق، فأفزع حذيفة اختلافهم في القراءة، فقال حذيفة لعثمان: يا أمير المؤمنين أدرك هذه الأمة قبل أن يختلفوا في الكتاب (أي القرآن) اختلاف اليهود والنصارى، فأرسل عثمان إلى حفصة: أن أرسلي إلينا بالصحف ننسخها في مصحف ثم نردها إليك، فأرسلت بها حفصة إلى عثمان.
فأمر زيد بن ثابت وعبد الله بن الزبير وسعيد بن العاص وعبد الرحمن بن الحارث بن هشام فنسخوها في مصحف. وقال عثمان للرهط القرشيين الثلاثة: إذا اختلفتم أنتم وزيد بن ثابت في شيء من القرآن فاكتبوه بلسان قريش فإنما نزل بلسانهم، ففعلوا حتى نسخوا الصحف في المصحف الإمام. ثم نسخوا منه نسخا. وردّ عثمان
--------------------------------------------
উমর (রা.)। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। এটি ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন, কিতাব ফাযায়িলুল আমাল (১)।
এই বর্ণনা (رواية) আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর যুগে কুরআন সংকলনের কারণ ও পদ্ধতির প্রতি নির্দেশ করে।
প্রশ্ন: আমরা পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে নবী (সা.)-এর যুগে এবং আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর যুগে কুরআন সংকলনের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পেরেছি, তবে উসমান (রা.)-এর যুগে কুরআন কীভাবে সংকলন করা হয়েছিল? এবং কেন?
উত্তর: উসমান (রা.)-এর যুগে কুরআন সংকলন ছিল মূলত পূর্ববর্তী পাণ্ডুলিপিগুলোকে একটি 'ইমাম' মুসহাফে (মূল কপি) স্থানান্তরের প্রক্রিয়া। অতঃপর সেখান থেকে আরও কপি তৈরি করে বিভিন্ন মুসলিম জনপদে পাঠানো হয়। এই মুসহাফগুলোতে কুরআন সংকলন ও লিপিবদ্ধ করার উদ্দেশ্য ছিল কেবল সেই সকল প্রমাণিত ও নিরবচ্ছিন্ন (متواترة) কিরাতগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা, যা ব্যতীত অন্য সহজীকরণের পদ্ধতিগুলো রহিত হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সা.) ওহীর আমানতদার জিবরাইল (আ.)-এর নিকট শেষবার যে পাঠ (العرضة الأخيرة) পেশ করেছিলেন, তার মাধ্যমে সেগুলো রহিত হয়ে যায়।
উসমান (রা.) কর্তৃক কুরআন মাজিদ সংকলনের কারণ সম্পর্কে ইমাম বুখারি (২) তাঁর সনদ (سند) সহ আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) উসমান (রা.)-এর নিকট আসলেন। তিনি তখন ইরাকবাসীদের সাথে নিয়ে সিরিয়াবাসীদের পক্ষে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান বিজয়ের যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। কিরাত বা কুরআন পাঠের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যকার মতপার্থক্য হুজাইফাকে আতঙ্কিত করে তুলল। তখন হুজাইফা উসমান (রা.)-কে বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! ইহুদি ও নাসারাদের মতো কিতাব (অর্থাৎ কুরআন) নিয়ে মতভেদে লিপ্ত হওয়ার আগেই এই উম্মতকে রক্ষা করুন। অতঃপর উসমান (রা.) হাফসা (রা.)-এর নিকট সংবাদ পাঠালেন যে, আপনার নিকট রক্ষিত পাণ্ডুলিপিগুলো আমাদের নিকট পাঠিয়ে দিন যাতে আমরা সেগুলো থেকে নতুন কপি তৈরি করতে পারি, এরপর তা আপনার নিকট ফেরত পাঠিয়ে দেব। তখন হাফসা (রা.) সেগুলো উসমান (রা.)-এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন।
অতঃপর তিনি যায়েদ বিন সাবিত, আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর, সাঈদ বিন আস এবং আবদুর রহমান ইবনুল হারিস বিন হিশামকে নির্দেশ দিলেন এবং তাঁরা সেগুলো থেকে একটি মুসহাফ তৈরি করলেন। উসমান (রা.) কুরাইশ বংশীয় তিন ব্যক্তিকে বললেন: যদি তোমরা এবং যায়েদ বিন সাবিত কুরআনের কোনো বিষয়ে একমত হতে না পারো, তবে তা কুরাইশদের ভাষায় লিপিবদ্ধ করো। কেননা তা তাদের ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। তাঁরা তাই করলেন এবং শেষ পর্যন্ত পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে 'ইমাম' মুসহাফ তৈরি করলেন। এরপর সেখান থেকে আরও কপি তৈরি করলেন। অতঃপর উসমান (রা.) ফেরত দিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الصحف إلى حفصة وأرسل إلى كل أفق بمصحف مما نسخوا وأمر بما سواه من القرآن في صحيفة أو مصحف أن يحرق (1).
س: ما الفرق بين جمع أبي بكر وجمع عثمان للقرآن؟
ج: الفرق بين جمع أبي بكر وجمع عثمان نستطيع أن نحدده فيما يأتي:
أولا: الجمع في عهد أبي بكر كان عبارة عن نقل القرآن وكتابته في صحف مرتب الآيات. وكان من العسيب واللخاف والرقاع. وكان سبب الجمع هو (موت كثير من الحفّاظ) في معركة اليمامة.
ثانيا: أما جمع عثمان فكان عبارة عن نسخ عدة نسخ من الصحف التي جمعت في عهد أبي بكر إلى مصاحف لترسل إلى الآفاق الإسلامية. وكان سبب النسخ هو (اختلاف القراء) في قراءات القرآن (2) .. والله تعالى أعلم.
أسئلة وتطبيقاتس 1 - اذكر العهود التي جمع فيها القرآن الكريم.
س 2 - ما هو السبب في جمع القرآن في عهد كل من أبي بكر وعثمان؟
س 3 - ما الفرق بين جمع أبي بكر وعثمان للقرآن؟
--------------------------------------------
সহিফাগুলো হাফসার নিকট ফেরত দেওয়া হলো এবং অনুলিপি করা কপিগুলো থেকে প্রতিটি অঞ্চলের উদ্দেশ্যে একটি করে মুসহাফ পাঠানো হলো। আর এর বাইরে কুরআনের অন্য যা কিছু কোনো সহিফা বা মুসহাফে ছিল, তা পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হলো (১)।
প্রশ্ন: আবু বকর এবং উসমান কর্তৃক কুরআন সংকলনের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: আবু বকর এবং উসমান কর্তৃক সংকলনের পার্থক্য আমরা নিম্নোক্তভাবে নির্ধারণ করতে পারি:
প্রথমত: আবু বকরের আমলের সংকলনটি ছিল মূলত কুরআনের আয়াতসমূহ সুবিন্যস্ত করে সহিফাগুলোতে লিপিবদ্ধ করা। যা খেজুরের ডাল, পাতলা পাথর এবং চামড়ার টুকরো থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই সংকলনের কারণ ছিল ইয়ামামার যুদ্ধে (অনেক হাফেজের (الحفّاظ) শাহাদাত)।
দ্বিতীয়ত: উসমানের সংকলন ছিল আবু বকরের আমলে সংকলিত সহিফাগুলো থেকে কয়েকটি অনুলিপি তৈরি করা, যেন সেগুলো মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো যায়। এই অনুলিপি তৈরির কারণ ছিল কুরআনের কিরাত নিয়ে (কারিদের মধ্যে মতভেদ (اختلاف القراء)) (২) .. আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত।
প্রশ্ন ও অনুশীলনপ্রশ্ন ১ - কুরআনুল কারিম যে যুগগুলোতে সংকলিত হয়েছিল তা উল্লেখ করুন।
প্রশ্ন ২ - আবু বকর এবং উসমান উভয়ের আমলেই কুরআন সংকলনের কারণ কী ছিল?
প্রশ্ন ৩ - আবু বকর এবং উসমানের কুরআন সংকলনের মধ্যে পার্থক্য কী?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ترتيب آيات وسور القرآن وأسمائه وأجزائه وأقسامهس: هل ترتيب الآيات والسور وأسماء القرآن وأجزائه وأقسامه توقيفي أم غير توقيفي؟
ج: الترتيب منه ما هو توقيفي ومنه ما هو غير توقيفي. وإليك بيان ذلك مفصلا:
أولا: ترتيب آيات القرآن:ترتيب الآيات من القرآن الكريم توقيفي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم. وقد حكى بعضهم الإجماع على ذلك: منهم الزركشي في (البرهان في علوم القرآن) وأبو جعفر بن الزبير في مناسباته إذ يقول: (ترتيب الآيات في سورها واقع بتوقيفه صلى الله عليه وسلم وبأمره من غير خلاف بين المسلمين فقد كان جبريل عليه السلام يتنزل بالآيات على رسول الله صلى الله عليه وسلم ويرشده إلى موضعها من السورة أو الآيات التي نزلت قبلها. فيأمر الرسول صلى الله عليه وسلم كتّاب الوحي بكتابتها في موضعها ويقول لهم: (ضعوا هذه الآيات في السورة التي يذكر فيها كذا وكذا). وعن عثمان بن أبي العاص قال: (كنت جالسا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ شخص ببصره ثم صوبه ثم قال: أتاني جبريل فأمرني أن أضع هذه الآية في هذا الموضع في هذه السورة) وهي: إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسانِ وَإِيتاءِ ذِي الْقُرْبى
… (1) إلى آخرها. من هنا يتضح لنا أن ترتيب الآيات توقيفي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ثانيا: ترتيب السور.
ترتيب السور اختلف فيه العلماء. فقيل إنه توقيفي تولاه الرسول صلى الله عليه وسلم كما أخبره جبريل عن أمر ربه، فكان القرآن على عهد النبي صلى الله عليه وسلم مرتب السور كما كان مرتب الآيات على هذا الترتيب الذي لدينا اليوم. وهو ترتيب مصحف عثمان الذي لم يتنازع أحد من الصحابة فيه. مما يدل على عدم المخالفة والإجماع عليه. ويؤيد هذا الرأي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ بعض السور مرتبة في صلاته.
--------------------------------------------
কোরআনের আয়াত, সূরা, নাম, অংশ এবং বিভাজনের বিন্যাসপ্রশ্ন: আয়াত, সূরা, কোরআনের নামসমূহ, এর অংশ এবং বিভাজনগুলোর বিন্যাস কি ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) নাকি ওহী দ্বারা নির্ধারিত নয় (غير توقيفي)?
উত্তর: বিন্যাসের কিছু অংশ ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) এবং কিছু অংশ ওহী দ্বারা নির্ধারিত নয় (غير توقيفي)। নিচে এর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:
প্রথমত: কোরআনের আয়াতের বিন্যাস:কোরআনুল কারীমের আয়াতের বিন্যাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রাপ্ত ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي)। এ বিষয়ে কেউ কেউ সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন: তাদের মধ্যে রয়েছেন যারকাশী তাঁর 'আল-বুরহান ফি উলূমিল কোরআন' গ্রন্থে এবং আবু জাফর ইবনুল জুবাইর তাঁর 'মুনাসাবাত' গ্রন্থে; তিনি বলেন: (সূরার অন্তর্ভুক্ত আয়াতসমূহের বিন্যাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) নির্দেশনা ও আদেশের ভিত্তিতে সংঘটিত হয়েছে, যাতে মুসলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আয়াত নিয়ে অবতীর্ণ হতেন এবং তাঁকে সূরার নির্দিষ্ট স্থানে বা ইতিপূর্বে অবতীর্ণ আয়াতের সাথে মিলিয়ে রাখার নির্দেশনা দিতেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহী লেখকগণকে সেই নির্দিষ্ট স্থানে তা লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দিতেন এবং তাঁদের বলতেন: "তোমরা এই আয়াতগুলোকে সেই সূরায় রাখো যেখানে অমুক অমুক বিষয় আলোচিত হয়েছে")। উসমান বিন আবুল আস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি চোখ তুলে তাকালেন এবং পুনরায় দৃষ্টি নিচু করলেন। অতঃপর বললেন: আমার নিকট জিবরাঈল এসেছিলেন এবং আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি এই আয়াতটি এই সূরার এই স্থানে রাখি)। সেটি হলো: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দিচ্ছেন..."
… (১) শেষ পর্যন্ত। এখান থেকে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, আয়াতের বিন্যাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রাপ্ত ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي)।
দ্বিতীয়ত: সূরার বিন্যাস.
সূরার বিন্যাসের বিষয়ে উলামাগণ মতভেদ করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, এটি ওহী দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিবরাঈলের মাধ্যমে তাঁর রবের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী তদারকি করেছেন। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে সূরার বিন্যাস ঠিক তেমনই ছিল যেমন আয়াতের বিন্যাস ছিল এবং বর্তমানে আমাদের নিকট যে বিন্যাস বিদ্যমান। এটি উসমানী পাণ্ডুলিপির (মুসহাফ) বিন্যাস যার ব্যাপারে সাহাবীদের মাঝে কোনো মতভেদ ছিল না। যা এর পরিপন্থী কোনো অবস্থান না থাকা এবং এ বিষয়ে সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) থাকাকেই প্রমাণ করে। এই মতকে এটিও সমর্থন করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নামাজে কিছু সূরা বিন্যাস অনুযায়ী পাঠ করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
روى ابن أبي شيبة أنه- عليه الصلاة والسلام كان يجمع المفصل في ركعة.
وقيل: إن ترتيب السور باجتهاد الصحابة بدليل اختلاف مصاحفهم في الترتيب.
فمصحف (علي) كرم الله وجهه كان مرتبا على النزول أوله سورة (اقرأ، ثم المدثر، ثم ن والقلم، ثم المزمل) وهكذا إلى آخر المكي والمدني. وكان أول مصحف ابن مسعود سورة (البقرة، ثم النساء، ثم آل عمران). وكان أول مصحف (أبيّ بن كعب) سورة (البقرة، ثم النساء، ثم آل عمران).
والصواب الأول: حيث أن الرأي القائل بترتيب السور باجتهاد الصحابة لم يستند إلى دليل يعتمد عليه (1).
ثالثا: أسماء القرآن الكريم.
أسماء القرآن كثيرة، وقد ذكر في كتاب البرهان في علوم القرآن أن الله تعالى سمى القرآن بخمسة وخمسين اسما. وحيث أن مبدأنا في هذه المذكرة الاختصار فإننا سنقتصر على ذكر بعض أسمائه المشهورة ومنها:
1 - قد سماه الله تعالى (القرآن) فقال تعالى: إِنَّ هذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ (2).
2 - سماه الله تعالى (الكتاب) فقال تعالى: لَقَدْ أَنْزَلْنا إِلَيْكُمْ كِتاباً فِيهِ ذِكْرُكُمْ (3).
3 - سماه الله تعالى (الفرقان) فقال تعالى: تَبارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقانَ عَلى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعالَمِينَ نَذِيراً (4).
4 - سماه الله تعالى (الذّكر) فقال تعالى: إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحافِظُونَ (5).
5 - سماه الله تعالى (التنزيل) فقال تعالى: وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعالَمِينَ (6).
--------------------------------------------
ইবনে আবি শায়বা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ) -সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক- এক রাকাআতে মুফাসসাল (المفصل) সূরাসমূহ একত্র করে পাঠ করতেন।
এবং বলা হয়ে থাকে যে: সূরার বিন্যাস সাহাবীগণের ইজতিহাদ (اجتهاد) বা গবেষণাপ্রসূত ছিল, যার প্রমাণ হলো তাঁদের পাণ্ডুলিপি বা মুসহাফসমূহের বিন্যাসের ভিন্নতা।
(আলী) কাররামান্লাহু ওয়াজহাহু-এর মুসহাফ অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম অনুসারে বিন্যস্ত ছিল, যার শুরুতে ছিল সূরা (ইকরা, এরপর আল-মুদ্দাসসির, এরপর নুন ওয়াল কলম, এরপর আল-মুযযাম্মিল) এবং এভাবে মাক্কী (المكي) ও মাদানী (المدني) সূরার শেষ পর্যন্ত। ইবনে মাসউদের মুসহাফের শুরুতে ছিল সূরা (আল-বাকারাহ, এরপর আন-নিসা, এরপর আলে ইমরান)। উবাই ইবনে কাবের মুসহাফের শুরুতে ছিল সূরা (আল-বাকারাহ, এরপর আন-নিসা, এরপর আলে ইমরান)।
তবে প্রথম মতটিই সঠিক: কেননা সূরার বিন্যাস সাহাবীগণের ইজতিহাদ (اجتهاد) বা গবেষণার ওপর ভিত্তি করে হওয়ার যে অভিমত রয়েছে, তা কোনো নির্ভরযোগ্য দলীলের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয় (১)।
তৃতীয়ত: পবিত্র কুরআনের নামসমূহ.
কুরআনের নাম অনেক; আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা কুরআনকে পঞ্চান্নটি নামে নামকরণ করেছেন। যেহেতু এই স্মারকলিপিতে আমাদের মূলনীতি হলো সংক্ষিপ্তকরণ, তাই আমরা এর কিছু প্রসিদ্ধ নাম উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব, যেমন:
১ - আল্লাহ তাআলা একে কুরআন (القرآن) নামে অভিহিত করেছেন; তিনি ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন এক পথের দিশা দেয় যা সর্বাপেক্ষা সরল" (২)।
২ - আল্লাহ তাআলা একে কিতাব (الكتاب) নামে অভিহিত করেছেন; তিনি ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমাদের মর্যাদা নিহিত রয়েছে" (৩)।
৩ - আল্লাহ তাআলা একে ফুরকান (الفرقان) নামে অভিহিত করেছেন; তিনি ইরশাদ করেছেন: "পরম বরকতময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে" (৪)।
৪ - আল্লাহ তাআলা একে যিকর (الذكر) নামে অভিহিত করেছেন; তিনি ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আমি যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক" (৫)।
৫ - আল্লাহ তাআলা একে তানযীল (التنزيل) নামে অভিহিত করেছেন; তিনি ইরশাদ করেছেন: "এবং নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ হতে অবতীর্ণকৃত" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
إلى غير ذلك مما ورد في القرآن. وقد غلب من أسمائه اسمان (القرآن) و (الكتاب).
رابعا: أقسامه وأجزاؤه.
لقد كانت المصاحف العثمانية خالية من النقط والشكل، كما كانت خالية من التجزئة أيضا. ثم قامت طائفة فقسمت القرآن ثلاثين قسما، وأطلقت على كل قسم منها (الجزء) وقسمت هذا الجزء إلى حزبين. وقسمت الحزب إلى أربعة أرباع.
وأطلقت على كل جزء منها اسم الربع. وكل ذلك معروف لا يكاد يجهله أحد.
ومن كتّاب الوحي في الصدر الأول من كان يضع ثلاث نقط عند آخر كل فاصلة من فواصل الآيات إعلاما بانقضاء الآية. ويكتب لفظ خمس عند انقضاء خمس آيات من السورة ولفظ عشر عند انقضاء عشر آيات منها كذلك. فإذا انقضت خمس آيات أخرى أعاد كتابة لفظ خمس. فإذا صارت عشرا أعاد كتابة عشر. ولا يزال هكذا إلى آخر السورة، ولذا قال قتادة: (بدءوا فنقّطوا ثم خمّسوا ثم عشّروا).
ومنهم من كان يكتب اسم السورة وكونها مكية أو مدنية، ويكتب عدد آياتها في آخرها. وقد اختلف العلماء في ذلك كله. فأجازه قوم مع الكراهة. وآخرون بلا كراهة. وهذا هو الرأي الراجح لما في ذلك من تشويق القارئ وتنشيطه على القراءة.
والله تعالى أعلم.
أسئلة وتطبيقاتس 1 - اذكر القول الصحيح في ترتيب الآيات والسور القرآنية.
س 2 - للقرآن الكريم أسماء كثيرة. اذكر ثلاثة منها مع ذكر الدليل من القرآن.
س 3 - في تقسيم القرآن وتجزئته رأيان. اذكر الرأي الراجح منهما.
এ ছাড়া আরও অনেক নাম পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। তবে এর নামসমূহের মধ্যে দুটি নাম অধিক প্রচলিত: 'আল-কুরআন' ও 'আল-কিতাব'।
চতুর্থ: এর বিভাজন ও অংশসমূহ.
উসমানি মুসহাফসমূহ নুকতা ও হরকত (চিহ্ন) বিহীন ছিল, তেমনি তা কোনো প্রকার বিভাজন থেকেও মুক্ত ছিল। পরবর্তীতে একদল আলিম কুরআনকে ত্রিশটি ভাগে বিভক্ত করেন এবং এর প্রতিটি ভাগকে 'জুয' (পারা) হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁরা প্রতিটি জুযকে আবার দুটি 'হিযবে' এবং প্রতিটি হিযবকে চারটি 'রুবু'তে (চতুর্থাংশ) বিভক্ত করেন।
আর এর প্রতিটি অংশের নাম দেওয়া হয় 'রুবু'। এসব বিষয় সুপরিচিত যা প্রায় কারোরই অজানা নয়।
প্রথম যুগের ওহী লেখকদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা প্রতিটি আয়াতের শেষে আয়াত শেষ হওয়ার চিহ্ন হিসেবে তিনটি নুকতা বা বিন্দু দিতেন। তাঁরা সূরার পাঁচটি আয়াত শেষ হলে 'খামস' (পাঁচ) শব্দটি লিখতেন এবং দশটি আয়াত শেষ হলে একইভাবে 'আশর' (দশ) শব্দটি লিখতেন। যখন পরবর্তী আরও পাঁচটি আয়াত শেষ হতো, তখন পুনরায় 'খামস' শব্দটি লিখতেন। আবার যখন দশটি পূর্ণ হতো, তখন পুনরায় 'আশর' শব্দটি লিখতেন। এভাবে সূরার শেষ পর্যন্ত চলতে থাকত। এই কারণেই কাতাদাহ (র.) বলেছেন: "তারা প্রথমে নুকতা দেওয়া শুরু করেন, এরপর পাঁচের চিহ্ন এবং তারপর দশে চিহ্ন প্রদান করেন।"
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সূরার নাম এবং তা মক্কি নাকি মাদানি তা লিখতেন এবং সূরার শেষে আয়াত সংখ্যা লিখে দিতেন। এ সকল বিষয়ে আলিমদের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে। একদল আলিম অপছন্দনীয় মনে করা সত্ত্বেও এর অনুমতি দিয়েছেন। অন্যেরা অপছন্দনীয়তা ছাড়াই তা বৈধ বলেছেন। আর এটিই হলো অগ্রগণ্য (الراجح) মত, কারণ এতে পাঠকের মনে আগ্রহ তৈরি হয় এবং তিলাওয়াতে উৎসাহ বৃদ্ধি পায়।
আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
প্রশ্নাবলি ও অনুশীলনপ্রশ্ন ১ - কুরআনের আয়াত ও সূরাসমূহের বিন্যাস বা ক্রমবিন্যাস সম্পর্কে সঠিক মতটি উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ২ - পবিত্র কুরআনের অনেক নাম রয়েছে। কুরআন থেকে দলিলসহ এর তিনটি নাম উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ৩ - কুরআনের বিন্যাস ও অংশ নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুটি মত রয়েছে। এ দুটির মধ্যে অগ্রগণ্য (الراجح) মতটি উল্লেখ করো।
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الوحي تعريفه- أنواعه- طرقه
تعريف الوحي لغة واصطلاحا.
س: ما هو الوحي لغة؟
ج: الوحي بمعناه اللغوي فإنه يقع فيما يأتي:
1 - الإلهام الفطري للإنسان: وذلك كالوحي لأم موسى عليه السلام.
قال تعالى: وَأَوْحَيْنا إِلى أُمِّ مُوسى أَنْ أَرْضِعِيهِ (1).
2 - الإلهام الغريزي للحشرات: وذلك كالوحي إلى النحل. قال تعالى:
وَأَوْحى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبالِ بُيُوتاً وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ (2).
3 - الإشارة السريعة على سبيل الإيحاء والرمز. وذلك كإيحاء زكريا عليه السلام فيما حكاه القرآن عنه قال تعالى: فَخَرَجَ عَلى قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرابِ فَأَوْحى إِلَيْهِمْ أَنْ سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا (3).
4 - وسوسة الشيطان وتزيينه الشر في نفس الإنسان. قال تعالى: وَكَذلِكَ جَعَلْنا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَياطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُوراً (4). وكما قال تعالى: وَإِنَّ الشَّياطِينَ لَيُوحُونَ إِلى أَوْلِيائِهِمْ لِيُجادِلُوكُمْ (5).
5 - ما يلقيه الله تعالى إلى ملائكته من أمر ليفعلوه، كما قال تعالى: إِذْ يُوحِي رَبُّكَ إِلَى الْمَلائِكَةِ أَنِّي مَعَكُمْ فَثَبِّتُوا الَّذِينَ آمَنُوا (6).
أما وحي الله لأنبيائه فقد عرّفوه شرعا هكذا: (هو كلام الله تعالى المنزل على نبي من أنبيائه). وهذا تعريف له بمعنى اسم المفعول (الموحي). وقد عرّف الوحي الأستاذ الشيخ محمد عبده في رسالة التوحيد فقال: (هو عرفان يجده الشخص من
--------------------------------------------
ওহী (وحي): এর সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও পদ্ধতি
শাব্দিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحا) অর্থে ওহীর সংজ্ঞা.
প্রশ্ন: শাব্দিক (لغة) অর্থে ওহী কী?
উত্তর: শাব্দিক অর্থে ওহী (وحي) নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে ব্যবহৃত হয়:
১ - মানুষের প্রতি স্বভাবজাত ইলহাম (إلهام): যেমন মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর জননীর প্রতি কৃত ওহী (وحي)।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আমি মুসার জননীকে ওহী (أَوْحَيْنَا) করলাম যে, তাকে দুধ পান করাও।" (১)।
২ - পতঙ্গ বা প্রাণীর প্রতি সহজাত প্রবৃত্তিগত ইলহাম (إلهام): যেমন মৌমাছির প্রতি ওহী (وحي)। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"আর আপনার পালনকর্তা মৌমাছিকে ওহী (أَوْحَىٰ) করলেন: পাহাড়ে, বৃক্ষে এবং তারা যে মাচা তৈরি করে তাতে ঘর বানিয়ে নাও।" (২)।
৩ - ইঙ্গিত ও প্রতীকের মাধ্যমে দ্রুত সংকেত প্রদান করা। যেমন যাকারিয়া (আলাইহিস সালাম)-এর ইশারা যা কুরআন বর্ণনা করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর তিনি মিহরাব থেকে তাঁর সম্প্রদায়ের সামনে বের হয়ে আসলেন এবং তাদের প্রতি ইশারা (أَوْحَىٰ) করলেন যে, তোমরা সকাল-সন্ধ্যায় তাসবিহ পাঠ করো।" (৩)।
৪ - শয়তানের কুমন্ত্রণা (وسوسة) এবং মানুষের মনে মন্দ বিষয়কে সুশোভিত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি; তারা প্রবঞ্চনা করার উদ্দেশ্যে একে অপরকে চমৎকার সব কথার ওহী (يُوحِي) পাঠায়।" (৪)। এবং যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদের প্রতি ওহী (لَيُوحُونَ) পাঠায় যাতে তারা তোমাদের সাথে বিতর্ক করে।" (৫)।
৫ - আল্লাহ তাআলা তাঁর ফেরেশতাদের যে কাজের নির্দেশ প্রদান করেন, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: "যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেশতাদের প্রতি ওহী (يُوحِي) করলেন যে, আমি তোমাদের সাথে আছি, সুতরাং তোমরা মুমিনদের অবিচল রাখো।" (৬)।
তবে নবীদের প্রতি আল্লাহর ওহীর ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরাম শরয়ি (شرعا) সংজ্ঞা এভাবে দিয়েছেন: (এটি হলো আল্লাহর কালাম (كلام الله), যা তাঁর কোনো নবীর ওপর অবতীর্ণ হয়)। এটি ওহীর 'ইসমুল মাফউল' (اسم المفعول) অর্থাৎ অবতীর্ণ বিষয় (الموحي) অর্থে এর সংজ্ঞা। উস্তাদ শেখ মুহাম্মদ আবদুহ 'রিসালাতুত তাওহীদ' গ্রন্থে ওহীর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: (এটি হলো এমন এক বিশেষ জ্ঞান যা কোনো ব্যক্তি নিজের মাঝে লাভ করেন...)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
نفسه مع اليقين بأنه من قبل الله بواسطة أو بغير واسطة) والأول بصوت يتمثل لسمعه أو بغير صوت. ويفرق بينه وبين الإلهام بأن الإلهام (وجدان تستيقنه النفس فتنساق إلى ما يطلب من غير شعور منها من أين يأتي). وهو أشبه بوجدان الجوع والعطش والحزن والسرور (1).
س: ما هو الوحي اصطلاحا؟
ج: الوحي اصطلاحا هو الإشارة السريعة: بأن يعلم الله تعالى من اصطفاه من عباده كل ما أراد اطلاعه عليه من ألوان الهداية والعلم، ولكن بطريقة سرية خفية غير معتادة للبشر.
س: لقد عرفنا مما سبق تعريف الوحي. فما هي أنواعه وطرقه؟
ج: للوحي أنواع شتى وكذلك الطرق. فمنه ما يكون مكالمة بين العبد وربه كما كلم الله موسى تكليما. ومنه ما يكون إلهاما يقذفه الله في قلب مصطفاه من خلقه على وجه من العلم الضروري لا يستطيع له دفعا، ولا يجد فيه شكا، ومنه ما يكون مناما صادقا يجيء في تحققه ووقوعه كما يجيء فلق الصبح في تبلّجه وسطوعه.
ومنه ما يكون بواسطة أمين الوحي جبريل عليه السلام وهو ملك كريم ذو قوة عند ذي العرش مكين، مطاع ثم أمين. وذلك النوع من الوحي هو أشهر الأنواع وأكثرها، ووحي القرآن كله من هذا القبيل. وهو المصطلح عليه (بالوحي الجلي) قال الله تعالى: نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ* عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ* بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ (2).
س: ما هي الصورة التي كان يأتي بها ملك الوحي جبريل عليه السلام؟
ج: إن لملك الوحي جبريل عليه السلام صورا شتى يظهر بها. فتارة يظهر للرسول في صورته الحقيقية الملكية. وتارة يظهر في صورة إنسان يراه الحاضرون ويستمعون إليه. وتارة يهبط على الرسول خفية فلا يرى ولكن يظهر أثر هذا بالتغير على صاحب الرسالة، فيثقل ثقلا شديدا، وقد يتصبب منه الجبين عرقا في اليوم الشديد البرد. وقد
--------------------------------------------
আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো মাধ্যমসহ বা মাধ্যম ব্যতীত অবতীর্ণ হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত বিশ্বাস থাকা। প্রথম প্রকারটি এমন শব্দের মাধ্যমে হয় যা কানে শ্রুত হয় অথবা শব্দহীন হয়। ওহি এবং ইলহামের মধ্যে পার্থক্য এই যে, ইলহাম হলো (এমন এক বোধ যা আত্মা নিশ্চিতভাবে অনুভব করে এবং তা যেখান থেকে আসছে সে সম্পর্কে সচেতন না হয়েই কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়)। এটি ক্ষুধা, তৃষ্ণা, দুঃখ এবং আনন্দের অনুভূতির মতোই (১)।
প্রশ্ন: পারিভাষিক অর্থে ওহি (وحي) কী?
উত্তর: পারিভাষিক অর্থে ওহি (وحي) হলো দ্রুত ইশারা বা ইঙ্গিত: আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাঁকে মনোনীত করেছেন, তাঁকে হেদায়েত ও জ্ঞানের সেই সকল দিক সম্পর্কে অবহিত করা যা তিনি তাঁকে জানাতে চান; তবে তা মানবজাতির সাধারণ নিয়মের বাইরে অত্যন্ত গোপন ও সূক্ষ্ম পন্থায় হয়ে থাকে।
প্রশ্ন: ইতিপূর্বে আমরা ওহির সংজ্ঞা জেনেছি। এখন এর প্রকারভেদ ও পদ্ধতিগুলো কী কী?
উত্তর: ওহির বিভিন্ন প্রকার ও পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে কিছু হলো বান্দা ও তাঁর রবের মধ্যে কথোপকথন, যেমন আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-এর সাথে সরাসরি কথা বলেছিলেন। কিছু হলো ইলহাম (إلهام), যা আল্লাহ তাঁর মনোনীত সৃষ্টির অন্তরে অপরিহার্য জ্ঞান (علم ضروري) হিসেবে ঢেলে দেন, যা তিনি প্রতিরোধ করতে পারেন না এবং তাতে কোনো সন্দেহও পোষণ করেন না। আবার কিছু হলো সত্য স্বপ্ন (منام صادق), যার বাস্তবায়ন ও সার্থকতা সুবহে সাদিকের আলোর মতোই সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল হয়ে প্রকাশ পায়।
আবার কিছু ওহি আসে ওহির আমানতদার জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে। তিনি একজন সম্মানিত ফেরেশতা, আরশের অধিপতির নিকট শক্তিশালী ও উচ্চ মর্যাদাবান, সেখানে তিনি মান্যবর ও বিশ্বস্ত। ওহির এই প্রকারটিই সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও অধিক পরিমাণে সংঘটিত হয়েছে এবং সম্পূর্ণ কুরআনের ওহি এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। পারিভাষিক ভাষায় একে স্পষ্ট ওহি (وحي جلي) বলা হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “আপনার হৃদয়ে তা (কুরআন) নিয়ে অবতরণ করেছেন বিশ্বস্ত রূহ (জিবরাইল), যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন; সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।” (২)
প্রশ্ন: ওহিবাহক ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) কোন কোন আকৃতিতে আসতেন?
উত্তর: ওহিবাহক ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) বিভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করতেন। কখনো তিনি রাসুলের নিকট তাঁর প্রকৃত ফেরেশতাসুলভ আকৃতিতে প্রকাশ পেতেন। কখনো তিনি মানুষের বেশে আসতেন, যাকে উপস্থিত সবাই দেখতে পেতেন এবং তাঁর কথা শুনতে পেতেন। আবার কখনো তিনি অত্যন্ত গোপনে রাসুলের ওপর অবতরণ করতেন, ফলে তাঁকে দেখা যেত না; কিন্তু ওহি গ্রহণকারীর অবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে এর প্রভাব প্রকাশ পেত। তখন তাঁর শরীর অত্যন্ত ভারী হয়ে যেত এবং প্রচণ্ড শীতের দিনেও তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরতে থাকত। আর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
يكون وقع الوحي على الرسول كوقع الجرس إذا صلصل في أذن سامعيه، وذلك أشد أنواع الوحي. وربما يسمعه الحاضرون في مجلس الرسول ولكنهم لا يفقهون شيئا
…أما الرسول صلى الله عليه وسلم فإنه يسمع ويعي ما يوحى إليه تماما. ويعلم علما يقينا أن هذا هو وحي الله تعالى دون لبس ولا خطأ. فإذا انجلى عنه الوحي وجد ما أوحي إليه حاضرا في ذاكرته، وكأنه كتب في قلبه كتابة. وقد قال الله تعالى في القرآن مخاطبا نبيه صلى الله عليه وسلم: لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ* إِنَّ عَلَيْنا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ* فَإِذا قَرَأْناهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ* ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنا بَيانَهُ (1).
وقد قال الله تعالى في حق الرسول صلى الله عليه وسلم: وَما يَنْطِقُ عَنِ الْهَوى * إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحى (2). وقد جاء في الحديث الشريف الذي رواه البخاري في صحيحه عن عائشة أم المؤمنين رضي الله تعالى عنها قالت: (إن الحارث بن هشام سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله كيف يأتيك الوحي؟) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أحيانا يأتيني مثل صلصلة الجرس، وهو أشده عليّ فيفصم عني وقد وعيت عنه ما قال. وأحيانا يتمثل لي الملك رجلا فيكلمني فأعي ما يقول». قالت عائشة: (ولقد رأيته ينزل عليه الوحي في اليوم الشديد البرد فيفصم عنه وإن جبينه ليتفصد عرقا). والله تعالى أعلم.
أسئلة وتطبيقاتس 1 - عرّف الوحي واذكر بعض أنواعه.
س 2 - يظهر ملك الوحي للرسول على صور متعددة. اذكر بعضا منها.
س 3 - اكتب الحديث الشريف الذي يصور فيه الرسول صلى الله عليه وسلم حاله عند نزول الوحي عليه.
س 4 - اذكر ما قاله اللغويون في أنواع الوحي وطرقه.
س 5 - لقد عرّف الأستاذ الشيخ محمد عبده الوحي في رسالة التوحيد. فما هو هذا التعريف؟
--------------------------------------------
রাসুলের ওপর ওহির অবতরণ ঘণ্টার শব্দের মতো হতো যখন তা শ্রবণকারীর কানে বেজে ওঠে, আর এটি ওহির সবচেয়ে কঠিন প্রকার। অনেক সময় রাসুলের মজলিসে উপস্থিত ব্যক্তিরা সেই শব্দ শুনতে পেতেন কিন্তু তারা কিছুই অনুধাবন করতে পারতেন না
…পক্ষান্তরে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা ওহি হিসেবে অবতীর্ণ হতো তা শ্রবণ করতেন এবং পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষণ করতেন। তিনি নিশ্চিতভাবে জানতেন যে, এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহি, যাতে কোনো সংশয় বা ভ্রান্তি নেই। যখন ওহির অবস্থা কেটে যেত, তখন তিনি ওহি হিসেবে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা নিজ স্মৃতিতে এমনভাবে উপস্থিত পেতেন যেন তা তাঁর অন্তরে লিপিবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ কুরআনে তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্বোধন করে বলেছেন: "তাড়াহুড়া করে ওহি আয়ত্ত করার জন্য আপনার জিহ্বা নাড়াচাড়া করবেন না। নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠ অনুসরণ করুন। এরপর এর বিশদ ব্যাখ্যা করার দায়িত্বও আমাদেরই।" (১)।
রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যাপারে মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেছেন: "আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। এটি তো ওহি যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।" (২)। সহিহ বুখারিতে মুমিন জননী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, হারিছ ইবন হিশাম রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আপনার নিকট ওহি কীভাবে আসে?" রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "কখনো তা আমার নিকট ঘণ্টার শব্দের মতো আসে, আর এটি আমার ওপর সবচেয়ে কঠিন হয়। এরপর তা সমাপ্ত হয় এমতাবস্থায় যে, যা বলা হয়েছে আমি তা সংরক্ষণ করে নিয়েছি। আবার কখনো ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার নিকট আসেন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে ফেলি।" আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: "আমি প্রচণ্ড শীতের দিনেও তাঁর ওপর ওহি অবতীর্ণ হতে দেখেছি; ওহি শেষ হওয়ার পর তাঁর ললাট থেকে ঘাম ঝরতে থাকত।" আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
প্রশ্ন ও অনুশীলনপ্রশ্ন ১ - ওহির সংজ্ঞা দাও এবং এর কিছু প্রকার উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ২ - ওহির ফেরেশতা রাসুলের নিকট বিভিন্ন আকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করতেন। তার কয়েকটি উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ৩ - সেই হাদিসটি লেখো যাতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওহি অবতরণের সময় তাঁর অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন।
প্রশ্ন ৪ - ওহির প্রকার ও পদ্ধতি সম্পর্কে ভাষাবিদগণ যা বলেছেন তা উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ৫ - উস্তাদ শেখ মুহাম্মদ আবদুহ ‘রিসালাতুত তাওহিদ’-এ ওহির সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। সেই সংজ্ঞাটি কী?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাফাহাতুম মিন উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المكي والمدني من القرآن الكريمس: نريد أن نعرف المكي والمدني من سور القرآن الكريم. وما هي سمات كل منهما؟
ج: إن الذي يقرأ القرآن العظيم ويتمعن فيه يجد بفطرته لما نزل بمكة خصائص ليست متوفرة فيما نزل بالمدينة المنورة من سور وآيات، وإنه يحس ذلك من وقعها ومعانيها وأسبابها. مع أن الثاني وهو المدني مبني على الأول في الأحكام والتشريع والأوامر والنواهي. فأهل مكة كانوا يعبدون الأوثان، ويشركون بالله، وينكرون الوحي على رسول الله صلى الله عليه وسلم كما كانوا يكذّبون بيوم الدين، ويقولون كما حكى القرآن عنهم: أَإِذا مِتْنا وَكُنَّا تُراباً وَعِظاماً أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ (1) وكانوا يقولون أيضا:
وَقالُوا ما هِيَ إِلَّا حَياتُنَا الدُّنْيا نَمُوتُ وَنَحْيا وَما يُهْلِكُنا إِلَّا الدَّهْرُ (2). وكانوا ألدّاء في الخصومة. أهل مجادلة ولجاجة في القول مع فصاحة وبيان، ولذلك نزل الوحي قوارع زاجرة وشهبا منذرة وحججا قاطعة، يحطم وثنيتهم، ويدعوهم إلى توحيد الإله الواحد الأحد الفرد الصمد الخالق الرازق المبدع لكل الأشياء. وقد جاء القرآن المعجز متحديا لهم على فصاحتهم بأن يأتوا بمثل هذا القرآن، أو بشيء من مثله فلم يقدروا مع فصاحتهم وبلاغتهم وسبقهم في هذا الميدان. وحين تكونت الجماعة المؤمنة بالله تعالى وبملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وبالقدر خيره وشرّه، وامتحنت في عقيدتها بكل أنواع الأذى من المشركين والكافرين والجاحدين، فصبرت وصابرت وهاجرت بدينها مؤثرة ما عند الله تعالى على متاع الحياة الدنيا بأكمله .... حين تكونت هذه الجماعة نرى الآيات القرآنية التي نزلت في المدينة المنورة طويلة المقاطع تتناول أحكام الإسلام وحدوده وتدعو إلى الجهاد في سبيل الله، والاستشهاد والتضحية بكل غال وثمين في سبيل إعلاء كلمة الحق، ونشر دين الإسلام.
كما أن هذه الآيات المدنية جاءت مفصلة لأصول الشريعة الإسلامية. واضعة قواعد المجتمع المسلم الصحيح. كما أنها أيضا كانت تفضح المنافقين وأسرارهم، وتجادل أهل الكتاب وتلجم أفواههم. وهذا هو الطابع العام للقرآن المدني: أي الذي
--------------------------------------------
পবিত্র কুরআনের মাক্কি ও মাদানি বিষয়াবলিপ্রশ্ন: আমরা পবিত্র কুরআনের সুরাসমূহের মাক্কি ও মাদানি প্রকারভেদ সম্পর্কে জানতে চাই। এবং এগুলোর প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য কী কী?
উত্তর: নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মহান কুরআন পাঠ করে এবং এতে গভীরভাবে মনোনিবেশ করে, সে তার স্বভাবজাত প্রবৃত্তি দিয়েই মক্কায় অবতীর্ণ সুরা ও আয়াতসমূহের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে পায় যা মদিনা মুনাওয়ারায় অবতীর্ণ বিষয়াবলির মধ্যে বিদ্যমান নেই। সে এগুলোর প্রভাব, অর্থ ও প্রেক্ষাপট থেকে তা অনুভব করতে পারে। যদিও দ্বিতীয়টি অর্থাৎ মাদানি অংশটি বিধান, শরিয়ত প্রণয়ন, আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে প্রথমটির (মাক্কি) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। মক্কাবাসীরা মূর্তিপূজা করত, আল্লাহর সাথে শরিক করত এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ ওহিকে অস্বীকার করত। তদ্রূপ তারা কিয়ামত দিবসকেও মিথ্যা প্রতিপন্ন করত এবং বলত, যেমনটি কুরআন তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছে: "আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমাদের পুনরায় জীবিত করে তোলা হবে?" (১) তারা আরও বলত:
“তারা বলে, আমাদের এই পার্থিব জীবনই তো একমাত্র জীবন; আমরা মরি ও বাঁচি, আর মহাকাল ছাড়া অন্য কিছুই আমাদের বিনাশ করে না।” (২)। তারা ছিল ঘোর শত্রু এবং বাকবিতণ্ডা ও হঠকারিতায় লিপ্ত এক জাতি, যদিও তাদের ছিল ভাষা-সাবলীলতা ও বাগ্মিতা। তাই ওহি অবতীর্ণ হয়েছে জোরালো সতর্কবাণী, ভীতিপ্রদর্শক অগ্নিশিখা ও অকাট্য দলিল হিসেবে, যা তাদের মূর্তিপূজাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তাদেরকে এক অদ্বিতীয় উপাস্যের তাওহিদের (একত্ববাদের) দিকে আহ্বান করে—যিনি এক, অমুখাপেক্ষী, সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা এবং সকল বস্তুর উদ্ভাবক। আর এই মুজিজাপূর্ণ কুরআন তাদের ভাষা-সাবলীলতা সত্ত্বেও তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল যেন তারা এই কুরআনের মতো কিছু বা এর সদৃশ কিছু নিয়ে আসে। কিন্তু তাদের ভাষা-সাবলীলতা, বাগ্মিতা এবং এ ক্ষেত্রে তাদের অগ্রগামিতা থাকা সত্ত্বেও তারা তা করতে সক্ষম হয়নি। আর যখন আল্লাহ তাআলা, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের ওপর বিশ্বাসী এক মুমিন জামাত গঠিত হলো, এবং মুশরিক, কাফের ও সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের পক্ষ থেকে সকল প্রকার নির্যাতনের মাধ্যমে তাদের আকিদার পরীক্ষা নেওয়া হলো, তখন তারা ধৈর্য ধারণ করল, সহনশীলতা প্রদর্শন করল এবং পার্থিব জীবনের সমস্ত ভোগবিলাসের চেয়ে আল্লাহ তাআলার নিকট যা রয়েছে তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বীয় দ্বীন রক্ষার্থে হিজরত করল... যখন এই জামাত গঠিত হলো, তখন আমরা দেখি মদিনা মুনাওয়ারায় অবতীর্ণ কুরআনের আয়াতসমূহ দীর্ঘ অনুচ্ছেদ বিশিষ্ট, যা ইসলামের বিধান ও দণ্ডবিধি নিয়ে আলোচনা করে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ, শাহাদাত বরণ এবং সত্যের বাণী সমুন্নত করা ও ইসলাম ধর্ম প্রচারের পথে মূল্যবান সবকিছু উৎসর্গ করার আহ্বান জানায়।
তদ্রূপ এই মাদানি আয়াতসমূহ ইসলামি শরিয়তের মূলনীতিসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে এবং একটি সঠিক মুসলিম সমাজের নিয়মকানুন নির্ধারণ করেছে। এটি মুনাফিকদেরকে ও তাদের গোপন রহস্যসমূহকে উন্মোচিত করে দিত এবং আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করত ও তাদের মুখ রুদ্ধ করে দিত। আর এটিই হলো মাদানি কুরআনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য: অর্থাৎ যা...
--------------------------------------------