(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: -)
عودة الصفويين   (عبد العزيز بن صالح المحمود)

القسم: العقيدة


الكتاب: عودَةُ الصَّفويِّينِ

المؤلف: عبد العزيز بن صالح المحمود الشافعي

الناشر: مكتبة الإمام البخاري للنشر والتوزيع، مصر

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 62

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 رمضان 1432

সফবিদের প্রত্যাবর্তন   (আব্দুল আজিজ বিন সালেহ আল-মাহমুদ)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: সফবিদের প্রত্যাবর্তন

লেখক: আব্দুল আজিজ বিন সালেহ আল-মাহমুদ আল-শাফিঈ

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ইমাম আল-বুখারি প্রকাশনা ও বিতরণ, মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২২ রমজান ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: -)
ـ[عودَةُ الصَّفويِّينِ]ـ

العلماء والدعاة والمشايخ وطلبة العلم والمثقفون والسياسيون والحكام ودوائر الأمن وصنّاع القرار كُلُّ هؤلاء مدعوون لقراءة هذه الرسالة لفهم ما يجري على الساحة

المؤلف: عبد العزيز بن صالح المحمود الشافعي

الناشر: مكتبة الإمام البخاري للنشر والتوزيع، مصر

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[সাফাভীদের প্রত্যাবর্তন]

আলেমগণ, দাঈগণ, মাশায়েখগণ, ইলম অন্বেষণকারীগণ, বুদ্ধিজীবীগণ, রাজনীতিবিদগণ, শাসকবর্গ, নিরাপত্তা সংস্থা এবং নীতিনির্ধারক—তারা সকলেই বর্তমানে যা ঘটছে তা বোঝার জন্য এই রিসালাহটি পাঠ করার জন্য আমন্ত্রিত।

লেখক: আব্দুল আজিজ বিন সালিহ আল-মাহমুদ আশ-শাফিয়ী

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ইমাম আল-বুখারী পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَموتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقوا اللهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}.

 

أما بعد:

فبعد سقوط بغداد بيد الأمريكان ، ظهر في بعض وسائل الإعلام المسموعة والمرئية والمقروءة مصطلح (الصفويين، والصفويون الجدد)، والملاحظ أن جُلّ إن لم يكن كل شرائح المجتمع الإسلامي المثقف وغيره يجهل معنى هذه التسمية، حتى تصوّر البعض أن الصفويين هي حزب، أو اسم لميليشيا في العراق، وأنّ إسماعيل الصفوي هو شخص كعبد العزيز الحكيم ومقتدى الصدر.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করো এবং রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সফলতা অর্জন করল।}

 

অতঃপর:

আমেরিকানদের হাতে বাগদাদের পতনের পর, কিছু শ্রবণযোগ্য, দৃশ্যমান ও লিখিত গণমাধ্যমে (সাফাভী এবং নব্য সাফাভী) পরিভাষাটি প্রকাশ পেয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, শিক্ষিত সমাজসহ মুসলিম সমাজের প্রায় অধিকাংশ স্তরই এই নামকরণের তাৎপর্য সম্পর্কে অনবগত; এমনকি কেউ কেউ ধারণা করে বসেছে যে, সাফাভী হলো একটি রাজনৈতিক দল অথবা ইরাকের কোনো মিলিশিয়া বাহিনীর নাম, আর ইসমাইল সাফাভী হলেন আব্দুল আজিজ আল-হাকিম ও মুকতাদা আস-সদরের মতো কোনো এক ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৬)
لذا رأى راقم هذه السطور أن يساهم بمقال يوضح معنى هذه الكلمة، ويعلّق هو في الهامش رابطاً التاريخ بالواقع، مستعيناً بعشرات المصادر العربية والأجنبية والإيرانية والتركية، لتوضيح الحق، وللتنبيه على ما يجري اليوم في العراق ولبنان وبقية المنطقة ،والله من وراء القصد.

অতএব, এই পঙ্‌ক্তিগুলোর লেখক একটি প্রবন্ধের মাধ্যমে অবদান রাখা সমীচীন মনে করেছেন যা এই শব্দের অর্থ স্পষ্ট করবে; এবং তিনি ইতিহাসের সাথে বাস্তবতার যোগসূত্র স্থাপন করে পাদটীকায় মন্তব্য করবেন। সত্যকে উদ্ভাসিত করতে এবং ইরাক, লেবানন ও এই অঞ্চলের অবশিষ্টাংশে বর্তমানে যা ঘটছে সে সম্পর্কে সতর্ক করতে তিনি ডজন ডজন আরবি, বিদেশি, ইরানি ও তুর্কি উৎসের সহায়তা নিয়েছেন। আর আল্লাহই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌نشأة الصفويين

تنتسب الأسرة الصفوية إلى الشيخ صفي الدين الأردبيلي (650هـ - 735هـ)، والذي كان في بداية عهده من مريدي الشيخ (تاج الدين الزاهد الكيلاني). كان واعظاً صوفياً شافعي المذهب في مدينة (أردبيل) (1)، ثم أسس فرقة صوفية تسمى (الإخوان) وقد كثرت هذه الفرقة في إقليم (أذربيجان).

بعد وفاته أخذ مشيخة طريقته (والتي سميت الطريقة الصفوية) ابنه صدر الدين موسى (704هـ - 794هـ)، ولما توفي صدر الدين تولى ابنه "خواجة علي" الذي كانت له لقاءات مع تيمور لنك، وتولى مشيخة الطريقة مدة (36 سنة) ومات في فلسطين سنة (830هـ) وقبره معروف في يافا باسم قبر الشيخ "علي العجمي". وكان للخواجة علي ميل للتشيّع ولم يكن تعصباً بل تشيّعاً خفيفاً.

ثم تولى من بعده ابنه إبراهيم الذي لقب بـ "شيخ شاه"

--------------------------------------------

(1) هي مدينة تابعة لإقليم أذربيجان السابق، وهي الآن في شمال غربي إيران قرب بحر قزوين.
সাফাবীয়দের উদ্ভব

সাফাবীয় বংশ শায়খ সফিউদ্দিন আরদাবিলি (৬৫০ হিজরি - ৭৩৫ হিজরি)-এর সাথে সম্পর্কযুক্ত, যিনি তাঁর প্রাথমিক যুগে শায়খ (তাজউদ্দীন জাহিদ আল-জিলানি)-এর মুরিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি (আরদাবিল) (১) শহরে শাফেয়ী মাযহাবের একজন সূফী ওয়ায়েজ (উপদেশক) ছিলেন, অতঃপর তিনি (আল-ইখওয়ান) নামক একটি সূফী দল গঠন করেন এবং আজারবাইজান প্রদেশে এই দলটির ব্যাপক বিস্তার ঘটে।

তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সদরুদ্দিন মুসা (৭০৪ হিজরি - ৭৯৪ হিজরি) তাঁর তরীকার (যা সাফাবিয়া তরীকা নামে পরিচিত) মাশায়েখত্ব গ্রহণ করেন। যখন সদরুদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর পুত্র "খাজা আলী" দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, যাঁর তৈমুর লঙের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি ৩৬ বছর এই তরীকার শায়খের দায়িত্বে ছিলেন এবং ৮৩০ হিজরিতে ফিলিস্তিনে মৃত্যুবরণ করেন। ইয়াফায় (জাফ্ফা) তাঁর কবর শায়খ "আলী আল-আজামি"-র কবর নামে পরিচিত। খাজা আলীর শিয়া মতবাদের প্রতি ঝোঁক ছিল, তবে তা কোনো গোঁড়ামি ছিল না বরং ছিল সামান্য শিয়াপ্রীতি।

অতঃপর তাঁর পর তাঁর পুত্র ইবরাহিম দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যাঁর উপাধি ছিল "শায়খ শাহ"।

--------------------------------------------

(১) এটি সাবেক আজারবাইজান প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত একটি শহর, যা বর্তমানে কাস্পিয়ান সাগরের নিকটবর্তী উত্তর-পশ্চিম ইরানে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৮)
أي "الشيخ الملك"؛ لأنّ مظاهر الملك ظهرت عليه أكثر من مظاهر الطرقة الصوفية. وتوفي سنة (851هـ) وكان تشيعه واضحاً للإمامية، وأدخل أتباعه بصراعات مع أهل السُنة في داغستان، وخلفه ابنه الأصغر جنيد والذي كثرت فيه عهده المظاهر الملكية؛ ولكثرة اتباعه ونزعته للملك خاف منه ملوك تلك المناطق فضيقوا عليه حتى رحل إلى حلب ثم إلى ديار بكر، وهناك حسنت علاقته بحسن أوزون.

وجنيد كان شيعياً جلداً متعصباً محارباً لأهل السُنة؛ إذ أن طريقته الصوفية هي مزيج من التصوف والتشيع فهم صوفية وأئمتهم هم الأئمة الأثني عشرية عند الشيعة، وقد أعلن جنيد أنه انفصل عن أهل السُنة ،ثم رجع لمحاربة ملوك التركمان ولكنه قُتل في إحدى حروبه في مدينة شيروان سنة (861هـ) وخلفه ابنه حيدر وتزوج من "مارتة" بنت حسن أوزون "الطويل" (1)، وكانت أمها "كاترينا" ابنة "كارلو يوحنا" ملك مملكة طربزون (2) اليونانية النصرانية.

وحيدر أول من لقب بلقب "سلطان" في العائلة الصفوية

--------------------------------------------

(1) هو حسن الطويل مؤسس دولة "آق قونيلو" التي حكمت شمال غرب إيران.

(2) هذه المدينة تقع الان في تركيا على البحر الأسود وكانت مملكة يونانية آنذاك.
অর্থাৎ "বাদশাহ শেখ"; কারণ তাঁর মধ্যে সুফি তরিকার বৈশিষ্ট্যের চেয়ে রাজকীয় বৈশিষ্ট্য বেশি প্রকাশ পেয়েছিল। তিনি (৮৫১ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেন। ইমামিয়া শিয়া মতবাদের প্রতি তাঁর পক্ষালম্বন সুস্পষ্ট ছিল এবং তিনি তাঁর অনুসারীদের দাগেস্তানে আহলে সুন্নাতের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত করেছিলেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র জুনাইদ, যাঁর শাসনামলে রাজকীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তাঁর অনুসারীদের আধিক্য এবং রাজত্বের প্রতি তাঁর ঝোঁকের কারণে ঐ অঞ্চলের রাজারা তাঁকে ভয় পেতে শুরু করেন। ফলে তাঁরা তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তিনি শেষ পর্যন্ত আলেপ্পো এবং পরবর্তীতে দিয়ার বকর-এ চলে যান। সেখানে হাসান উজুন-এর সাথে তাঁর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

জুনাইদ ছিলেন একজন কঠোর ও কট্টর শিয়া এবং আহলে সুন্নাতের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী; কারণ তাঁর সুফি তরিকা ছিল সুফিবাদ ও শিয়া মতবাদের এক সংমিশ্রণ। ফলে তাঁরা সুফি হলেও তাঁদের ইমামগণ ছিলেন শিয়াদের নিকট স্বীকৃত দ্বাদশ ইমাম। জুনাইদ ঘোষণা করেন যে তিনি আহলে সুন্নাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। অতঃপর তিনি তুর্কমেন রাজাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ফিরে আসেন, কিন্তু (৮৬১ হিজরি) সনে শিরওয়ান শহরে একটি যুদ্ধে তিনি নিহত হন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর পুত্র হায়দার এবং তিনি হাসান উজুন "আত-তওয়িল" (১)-এর কন্যা "মার্তা"-কে বিবাহ করেন। মার্তার মা ছিলেন গ্রীক খ্রিস্টান রাজ্য ট্রাবজোন (২)-এর রাজা "কার্লো ইউহানা"-এর কন্যা "ক্যাথরিনা"।

সফভীয় পরিবারে হায়দারই প্রথম ব্যক্তি যিনি "সুলতান" উপাধিতে ভূষিত হন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন হাসান আত-তওয়িল, "আক কয়ুনলু" রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা যা উত্তর-পশ্চিম ইরান শাসন করেছিল।

(২) এই শহরটি বর্তমানে তুরস্কে কৃষ্ণ সাগরের তীরে অবস্থিত এবং তৎকালীন সময়ে এটি একটি গ্রীক রাজ্য ছিল।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৯)
،وأمر أتباعه الدراويش (1) بأن يضعوا على رؤوسهم قلنسوة مخروطية الشكل مصنوعة من الجوخ الأحمر، وتحتوي على اثنتي عشرة طية رمزاً للأئمة الاثني عشر عند الشيعة الإمامية، وسموا بـ "قزلباش"، وهي كلمة تركية تعني "الرأس الأحمر" وكان اتباعهم شديدو التعلق بهم والغلو في مشايخهم، مع قلة عبادة وإنما هي أشعار ومدائح واعتقادات مغالية في تقديس مشايخ الطريقة.

وقد كوّن حيدر جيشاً للانتقام لمقتل والده من ملك شروان، ولكنه قُتل سنة (893هـ)، وكان لحيدر ثلاث أولاد: علي، إبراهيم، وإسماعيل، وقد خاف الأمير يعقوب أميرالدولة التركمانية "آق قونيلو" منهم فسجنهم، ثم أطلق سراحهم بعد وفاة الأمير يعقوب، ولكن علي وإبراهيم قتلا، وذهب إسماعيل إلى مدينة "كيلان" على بحر قزوين جنوب أردبيل، فرعاه السادة الصوفية،، وكان قد تربى منذ صغره على التشيع الشديد ،

--------------------------------------------

(1) حالة الصفويين تمثل العلاقة بين التصوف والتشيع، فقد تحولت الطريقة الصوفية السنية "الشافعية" عند صفي الدين الأردبيلي وابنه صدر الدين بالتدريج إلى تشيع خفيف ثم إلى تشيع غال. وقد كان التصوف-مع الأسف- أكثر من مرة مدخلاً للتشيع، وقد كتب عن ذلك الكاتب الشيعي الدكتور كامل مصطفى الشيبي كتابه "الفكر الشيعي والنزعات الصوفية" و"الصلة بين التصوف والتشيع". وقد أشار إلى ذلك المستشرق براون ( Brown) عندما قال: إن التشيع والتصوف كان من الأسلحة التي حارب بها الفرس العرب: ( Brown: A literary History of Persiavol P.410) .
এবং তিনি তার অনুসারী দরবেশদের (১) নির্দেশ দেন যে তারা যেন তাদের মাথায় লাল পশমী কাপড় দিয়ে তৈরি একটি মোচাকৃতি টুপি পরিধান করে, যাতে বারোজন ইমামি শিয়াদের বারোজন ইমামের প্রতীক হিসেবে বারোটি ভাঁজ ছিল। তাদেরকে "কিজিলবাশ" বলা হতো, যা একটি তুর্কি শব্দ যার অর্থ "লাল মাথা"। তাদের অনুসারীরা তাদের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিল এবং তাদের মাশায়েখদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করত, অথচ তাদের মধ্যে ইবাদতের পরিমাণ ছিল নগণ্য; বরং তাদের কর্মকাণ্ড ছিল মূলত কবিতা, প্রশংসাগীতি এবং তরিকতের মাশায়েখদের পবিত্র জ্ঞান করার ব্যাপারে চরমপন্থী বিশ্বাস।

হায়দার তার পিতার হত্যার প্রতিশোধ নিতে শিরওয়ানের রাজার বিরুদ্ধে একটি সেনাবাহিনী গঠন করেছিলেন, কিন্তু তিনি ৮৯৩ হিজরিতে নিহত হন। হায়দারের তিনজন সন্তান ছিল: আলী, ইব্রাহিম এবং ইসমাইল। তুর্কমেনি রাষ্ট্র "আক কুইউনলু"-এর আমির ইয়াকুব তাদের ব্যাপারে ভীত হয়ে তাদের বন্দি করেন। পরবর্তীতে আমির ইয়াকুবের মৃত্যুর পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। তবে আলী এবং ইব্রাহিম নিহত হন এবং ইসমাইল আরদাবিলের দক্ষিণে কাস্পিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত "গিলান" শহরে চলে যান। সেখানে সুফি সায়্যিদগণ তার তত্ত্বাবধান করেন এবং তিনি শৈশব থেকেই চরম শিয়া মতাদর্শে লালিত-পালিত হয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) সফভীদের অবস্থা তাসাউফ এবং শিয়া মতবাদের মধ্যবর্তী সম্পর্ককে উপস্থাপন করে। সফিউদ্দিন আরদাবিলি এবং তার পুত্র সদরুদ্দিনের সময় সুন্নি "শাফেয়ি" সুফি তরিকতটি ক্রমান্বয়ে প্রথমে সামান্য শিয়া ভাবাপন্ন এবং পরবর্তীতে চরমপন্থী শিয়া মতবাদে রূপান্তরিত হয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, তাসাউফ একাধিকবার শিয়া মতবাদে প্রবেশের সোপান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। শিয়া লেখক ডক্টর কামিল মুস্তফা আল-শাইবি তার "আল-ফিকর আল-শায়ি ওয়া আল-নাজআত আল-সুফিয়্যাহ" (শিয়া চিন্তা ও সুফি প্রবণতাসমূহ) এবং "আল-সিলাহ বাইন আল-তাসাউফ ওয়া আল-তাشাইয়ু" (তাসাউফ ও শিয়া মতবাদের মধ্যকার সম্পর্ক) গ্রন্থে এ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন। প্রাচ্যবিদ ব্রাউন (Brown) এ প্রসঙ্গে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন: শিয়া মতবাদ এবং তাসাউফ ছিল এমন কিছু অস্ত্র যা পারস্যবাসী আরবদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যবহার করত: (ব্রাউন: এ লিটারারি হিস্ট্রি অফ পার্সিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১০)।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১০)
وحاول منذ صغره تجميع الصوفية القزلباشية حوله من أجل الانتقام من قتلة أبيه وجده، وتمّ ذلك وتوجه إلى أمير دولة التركمان "آق قونيلو" سنة (907هـ)، وقتله وجلس على ملكه بعد أن بايعته كل قبائل التركمان؛ لأن القبائل كان لها إعتقاد بالطرق الصوفية، وأعلن دولته الصفوية.

 

الشاة إسماعيل أول ملك للدولة الصفوية (907هـ/1501م)

كما سبق ذكره، قَتل الشاه إسماعيل أمير "الآق قونيلو" وأعلن قيام الدولة الصفوية وعاصمتها في مدينة "تبريز" (1).

وأول ما قام به إعلان أنّ مذهب دولته الصفوية الإمامية الاثنى عشرية ، وأنه سيعممه في جميع بلاد إيران، وعندما نُصح أن مذهب أهل إيران هو مذهب الشافعي قال: "إنني لا أخاف من أحد .. فإن تنطق الرعية بحرف واحد فسوف امتشق الحسام ولن أترك أحداً على قيد الحياة" (2).

--------------------------------------------

(1) هذه المدينة ليومنا هذا بنفس الاسم وهي في إقليم أذربيجان في إيران.

(2) "تاريخ إيران زمين" (ص267)، د. محمد جواد مشكور.
শৈশব থেকেই তিনি তাঁর পিতা ও পিতামহের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে কিজিলবাশ সুফিদের সমবেত করার চেষ্টা করেন। এটি সফল হওয়ার পর তিনি ৯০৭ হিজরি সনে তুর্কমেন রাষ্ট্র ‘আক কয়ুনলু’-এর আমিরের অভিমুখি হন এবং তাঁকে হত্যা করে তাঁর সিংহাসনে আরোহণ করেন। এটি সম্ভব হয় যখন সকল তুর্কমেন গোত্র তাঁর কাছে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করে; কারণ সেই গোত্রগুলোর সুফি তরিকাসমূহের ওপর বিশ্বাস ছিল। এরপর তিনি তাঁর সফবি রাষ্ট্র ঘোষণা করেন।

 

শাহ ইসমাইল: সফবি রাষ্ট্রের প্রথম রাজা (৯০৭ হিজরি/১৫০১ খ্রিস্টাব্দ)

পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে যে, শাহ ইসমাইল ‘আক কয়ুনলু’-এর আমিরকে হত্যা করেন এবং ‘তাবরিজ’ (১) শহরকে রাজধানী হিসেবে নির্ধারণ করে সফবি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করেন।

তাঁর প্রথম পদক্ষেপ ছিল এটি ঘোষণা করা যে, তাঁর সফবি রাষ্ট্রের মাজহাব হবে ইমামিয়া ইতনা আশারিয়া, এবং তিনি সমগ্র ইরান ভূখণ্ডে এটি কার্যকর করবেন। যখন তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হলো যে ইরানের জনগণের মাজহাব হলো শাফেয়ি, তখন তিনি উত্তর দেন: "আমি কাউকে ভয় করি না... প্রজারা যদি একটি শব্দও উচ্চারণ করে তবে আমি তলোয়ার কোষমুক্ত করব এবং কাউকে জীবিত রাখব না" (২)।

--------------------------------------------

(১) এই শহরটি বর্তমান কাল পর্যন্ত একই নামে পরিচিত এবং এটি ইরানের আজারবাইজান অঞ্চলে অবস্থিত।

(২) ‘তারিখে ইরান জামিন’ (পৃ. ২৬৭), ড. মুহাম্মদ জাওয়াদ মাশকুর।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১১)
ثم سكّ عملة للبلاد كاتباً عليها: "لا إله إلا الله، محمد رسول الله، علي ولي الله"، ثم كتب اسمه (1).

وأمر الخطباء في المساجد بسب الخلفاء الراشدين الثلاثة، مع المبالغة في تقديس الأئمة الاثني عشر.

وقد عانى أهل السنة في إيران معاناة هائلة وأجبروا على اعتناق المذهب الأمامي بعد أن قتل الشاه إسماعيل مليون إنسان سني في بضع سنين (2) ،وكان يمتحن الإيرانيين السنة بأن يسمع منهم السب للخلفاء ويطلب من الشخص مزيدا من السب فإن وافق وإلا قطعت عنقه فوراً، وأعلنا السب في الشوارع والأسواق على المنابر منذراً المعاندين بقطع رقابهم (3).

ولرب سائل يسأل: كيف استطاع الشاه إسماعيل أن يسيطر على كل بلاد إيران؟

الجواب: هو أن إيران والعراق كانتا

--------------------------------------------

(1) "الشاه عباس الكبير" (ص10) د. بديع محمد جمعة.

(2) "لمحات اجتماعية من تاريخ العراق" (1/ 43 - 50)، د. علي الوردي، كاتب شيعي.

(3) "الفكر الشيعي" كامل الشيبي (415) ،"لمحات إجتماعية"علي الوردي (1/ 59)
এরপর তিনি দেশের জন্য মুদ্রা তৈরি করেন যাতে খোদাই করা ছিল: "আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল, আলী আল্লাহর ওলি", তারপর তিনি নিজের নাম লেখেন (১)।

এবং তিনি মসজিদের খতিবদের নির্দেশ দেন প্রথম তিনজন খলিফায়ে রাশেদিনকে গালি দিতে, পাশাপাশি বারো ইমামের অতি-পবিত্রতা বর্ণনায় অতিরঞ্জন করতে।

ইরানের আহলে সুন্নাত চরম দুর্দশার শিকার হন এবং শাহ ইসমাইল কয়েক বছরের মধ্যে দশ লক্ষ সুন্নি মানুষকে হত্যা করার পর তাদের ইমামী মাযহাব গ্রহণে বাধ্য করা হয় (২)। তিনি ইরানি সুন্নিদের পরীক্ষা নিতেন তাদের মুখ থেকে খলিফাদের প্রতি গালি শোনার মাধ্যমে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে আরও কঠোর গালমন্দ দাবি করতেন; যদি সে সম্মত হতো (তবে রক্ষা পেত), অন্যথায় তৎক্ষণাৎ তার শিরচ্ছেদ করা হতো। রাস্তাঘাট ও বাজারে মিম্বর থেকে প্রকাশ্যে গালমন্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল এবং অবাধ্যদের গর্দান কাটার হুমকি দেওয়া হয়েছিল (৩)।

হয়তো কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করবেন: শাহ ইসমাইল কীভাবে সমগ্র ইরান ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হলেন?

উত্তর: বিষয়টি হলো এই যে, ইরান এবং ইরাক ছিল...

--------------------------------------------

(১) "আশ-শাহ আব্বাস আল-কাবীর" (পৃষ্ঠা ১০) ড. বদি মুহাম্মদ জুমুআহ।

(২) "লামহাত ইজতিমাঈয়্যাহ মিন তারিখিল ইরাক" (১/ ৪৩ - ৫০), ড. আলী আল-ওয়ারদি, একজন শিয়া লেখক।

(৩) "আল-ফিকরুশ শিয়ী" কামিল আশ-শাইবি (৪১৫), "লামহাত ইজতিমাঈয়্যাহ" আলী আল-ওয়ারদি (১/ ৫৯)
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১২)
تحكم من قبل التركمان "الآق قونيلو"، وكان العراق قد حكم من قِبل قبائل التركمان "القرة قونيلو" ، والشاه إسماعيل كان أتباعه الصوفية والذين سموا فيما بعد بـ "القزلباشية" وهم مجموعة قوية من العشائر التركمانية هم: "شاملو، قاجار، تكلو، ذو قدر، افشار، روملو"، وهؤلاء شكلّوا فيما بعد ميليشيا صوفية متشيّعة، وكان للشاه إسماعيل جيشاً فاتكاً، فتك بأهل السنة الشافعية في بلاد إيران، وكان للصفويين تأثير روحي على أتباعهم؛ وتذكر بعض المصادر الشيعية الفارسية: أنه بينما كان الشاه إسماعيل مع أتباعه الصوفية في الصيد في منطقة "تبريز" إذ مرّ بنهر فعبره لوحده ودخل كهفاً ثم خرج متقلداً بسيف وأخبر رفقاءه: أنه شاهد في الكهف "المهدي" صاحب الزمان، وأنه قال له: "لقد حان وقت الخروج"، وأمسك ظهره ورفعه ثلاث مرات ووضعه على الأرض، وشدّ حزامه بيده ووضع خنجراً في حزامه وقال له: "اذهب فقد رخصتك" (1).

ثم بعد ذلك بقي الشاه إسماعيل متردداً وقلقاً حتى رأى علي بن أبي طالب رضي الله عنه في المنام وقال له:

--------------------------------------------

(1) "تاريخ الشاه إسماعيل" (ص88)، طبع مركز تحقيقات فارس- إيران، وباكستان، إسلام آباد، "عالم آراء صفوي" (ص64).
তুর্কমেন 'আক কয়ুনলু' দ্বারা শাসিত ছিল, এবং ইরাক শাসিত হয়েছিল তুর্কমেন গোত্র 'কারা কয়ুনলু' দ্বারা। শাহ ইসমাইলের অনুসারীরা ছিল সুফি, যাদের পরবর্তীতে 'কাজিলবাশ' নামে অভিহিত করা হয়। তারা ছিল তুর্কমেন গোত্রসমূহের একটি শক্তিশালী দল, যথা: 'শামলু, কাজার, তেকেলু, যুল কদর, আফশার এবং রুমলু'। এরা পরবর্তীতে একটি শিয়া ভাবাপন্ন সুফি মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করে। শাহ ইসমাইলের ছিল এক বিধ্বংসী সেনাবাহিনী, যারা পারস্য ভূখণ্ডে শাফেয়ী সুন্নিদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায়। তাদের অনুসারীদের ওপর সফবীয়দের এক গভীর আধ্যাত্মিক প্রভাব ছিল। কিছু ফারসি শিয়া উৎস উল্লেখ করে যে: শাহ ইসমাইল যখন তার সুফি অনুসারীদের সাথে 'তাবরিজ' অঞ্চলে শিকারে ছিলেন, তখন তিনি একটি নদী অতিক্রম করে একা একটি গুহায় প্রবেশ করেন। এরপর তিনি একটি তলোয়ার ধারণ করে বেরিয়ে আসেন এবং তার সঙ্গীদের জানান যে: তিনি গুহার ভেতরে জামানার ইমাম 'মাহদী'র দেখা পেয়েছেন। তিনি তাকে বলেছেন: "এখনই বের হওয়ার সময় হয়েছে।" তিনি তার পিঠ ধরে তিনবার উপরে তুলে ধরেন এবং ভূমিতে রাখেন, নিজ হাতে তার কোমরবন্ধ বেঁধে দেন এবং তার বেল্টে একটি খঞ্জর গুঁজে দিয়ে বলেন: "যাও, আমি তোমাকে অনুমতি দিলাম" (১)।

এরপর শাহ ইসমাইল দ্বিধাগ্রস্ত ও চিন্তিত অবস্থায় ছিলেন, যতক্ষণ না তিনি স্বপ্নে আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখেন, যিনি তাকে বলেন:

--------------------------------------------

(১) "তারিখুশ শাহ ইসমাইল" (পৃষ্ঠা ৮৮), পারস্য-ইরান ও পাকিস্তান গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক মুদ্রিত, ইসলামাবাদ; "আলম আরায়ে সফভী" (পৃষ্ঠা ৬৪)।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
"ابني .. لا تدع القلق يشوّش أفكارك .. احضر "القزلباشية" مع أسلحتهم الكاملة إلى المسجد في "تبريز" وأمرهم أن يحاصروا الناس .. وإذا أبدى هؤلاء أية معارضة أثناء الخطبة باسم أهل البيت فإن الجنود ينهون الأمر" (1).

وفعل الشاه إسماعيل ما طلب منه في الجمعة مع أتباعه القزلباشية، وحاصر جامع تبريز وأعلن سيادة المذهب الإمامي الأثني عشري بقيادة الدولة الصفوية.

وسبب هذه الدعوى هو التحرر من فكرة "التقية والانتظار" إلى خروج المهدي والتي بقي علماء الشيعة يحملونها كأحد المبادئ الرئيسية في المذهب؛ وهو ترك الجهاد والصراع العسكري إلى ظهور المهدي. ثم لما أرادوا الخروج من هذه الفكرة اخترعوا مجموعة أخرى من الأفكار والخرافات كي يبرروا خروجهم من المذهب.

ويحلل الكاتب "راجرسيوري" ذلك بأنّ الصفويين اعتمدوا على فكرة الحق الإلهي للملوك الإيرانيين قبل الإسلام منذ سبعة آلاف سنة، وذلك بوراثة هذا الحق، وعندما تزوج الحسين بن علي رضي الله عنهما بنت ملك الفرس "يزدجرد" بعد معركة القادسية وأولدها الإمام زين العابدين "علي" اجتمع حقان: حق أهل البيت في الخلافة (حسب نظرية الإمامية)، وحق ملوك إيران

--------------------------------------------

(1) راجر سيوري" "إيران في العصر الصفوي" (ص64).
"হে বৎস.. উদ্বেগকে তোমার চিন্তা আচ্ছন্ন করতে দিও না.. 'কিজিলবাশ'দের তাদের পূর্ণ অস্ত্রশস্ত্রসহ তাবরিজের মসজিদে উপস্থিত কর এবং তাদের আদেশ দাও যেন তারা লোকজনকে ঘিরে রাখে.. আর যদি আহলে বাইতের নামে খুতবা চলাকালে এরা কোনো প্রকার বিরোধিতা প্রদর্শন করে, তবে সৈন্যরা যেন বিষয়টি চুকিয়ে দেয়" (১)।

আর শাহ ইসমাইল তার অনুসারী কিজিলবাশদের নিয়ে জুমার দিনে যা তাকে করতে বলা হয়েছিল তাই করলেন। তিনি তাবরিজ জামে মসজিদ ঘেরাও করলেন এবং সাফাবীয় সাম্রাজ্যের নেতৃত্বে দ্বাদশী ইমামি মাযহাবের সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করলেন।

এই দাবির কারণ ছিল মাহদীর আগমন পর্যন্ত "তাকিয়া ও অপেক্ষার" ধারণা থেকে মুক্তি লাভ করা, যা শিয়া আলেমরা মাযহাবের অন্যতম প্রধান নীতি হিসেবে লালন করে আসছিলেন; আর তা হলো মাহদীর আবির্ভাব পর্যন্ত জিহাদ ও সামরিক সংঘাত ত্যাগ করা। অতঃপর যখন তারা এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলেন, তখন তারা তাদের মাযহাবের (পূর্বতন অবস্থান) থেকে বেরিয়ে আসার যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য একগুচ্ছ নতুন ধারণা ও কুসংস্কার আবিষ্কার করলেন।

লেখক "রজার সেভারি" এটি এভাবে বিশ্লেষণ করেন যে, সাফাবীয়রা সাত হাজার বছর আগে থেকে ইসলাম-পূর্ব ইরানি রাজাদের ঐশ্বরিক অধিকারের ধারণার ওপর নির্ভর করেছিল, যা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অধিকার হিসেবে গণ্য হতো। আর যখন কাদিসিয়ার যুদ্ধের পর হুসাইন ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) পারস্য সম্রাট "ইয়াজদাগার্দ"-এর কন্যাকে বিবাহ করেন এবং তাদের ঘরে ইমাম যয়নুল আবেদিন "আলী" জন্মগ্রহণ করেন, তখন দুটি অধিকারের সম্মিলন ঘটে: খেলাফতের ক্ষেত্রে আহলে বাইতের অধিকার (ইমামি তত্ত্ব অনুযায়ী) এবং ইরানের রাজাদের অধিকার।

--------------------------------------------

(১) রজার সেভারি, "সাফাবীয় যুগে ইরান" (পৃ. ৬৪)।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
(1)، بالإضافة إلى نيابة المهدي. هذا الفكرة من جانب التشيع.

أما الجانب الصوفي فقد زوّد الفكر الصفوي بالمنامات، فيذكر الصفويون أن أحد شيوخ الصوفية وهو الشيخ زاهد الكيلاني، والذي تربى على يده جدهم "صفي الدين الأردبيلي" تنبأ على أثر رؤية لصفي الدين الأردبيلي "أن أولاد هذا الزعيم سيملكون العالم، ويترقون يوماً بعد يوم إلى زمان القائم المهدي المنتظر" (2).

وللرؤى والكشوفات تأثير ساحر في عالم التصوف، لذا فقد أثرت هذه النبوءة على القزلباشية وكانوا يتصورون أن ملك الصفوييون سيستمر حتى ظهور المهدي؛ لذا اهتزت هذه النظرة بعد موقعة "جالديران" بين الشاه إسماعيل والسلطان العثماني سليم سنة (920هـ/1512م)، وهزيمة الشاه إسماعيل، فبدأ الصراع يدب بين القزلياشية، ونشأ تقاتل بينهم بعد اهتزاز هذه العقيدة في عقولهم (3).

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (ص26).

(2) المصدر السابق (ص (29)، بينما يذكر صاحب "عنوان المجد" إبراهيم بن صبغة الله الحيدري (ت:1882م)، وهو من نسل الصفويين الذين بقوا على سنيتهم وهربوا من الصفويين الشيعة، تأويلاً آخر للرؤيا، وإن الرؤيا معناها استمرار خروج العلماء من هذه العائلة إلى قيام الساعة. والحمد لله لا هذا حصل ولا ذاك.

(3) المصدر السابق (ص49).
(১)—এর পাশাপাশি মাহদীর প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও রয়েছে। এটি হলো শিয়া মতাদর্শের দিক থেকে একটি ধারণা।

পক্ষান্তরে সূফিবাদী দিকটি স্বপ্নদর্শনের মাধ্যমে সফভী চিন্তাধারাকে রসদ জুগিয়েছে। সফভীগণ উল্লেখ করেন যে, সূফি শাইখদের মধ্য থেকে অন্যতম একজন হলেন শাইখ জাহিদ আল-কিলানি—যাঁর কাছে তাদের পূর্বপুরুষ "সফি উদ্দিন আল-আরদাবিলি" শিক্ষা লাভ করেছিলেন। তিনি সফি উদ্দিন আল-আরদাবিলির দেখা একটি স্বপ্নের ভিত্তিতে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, "এই নেতার বংশধরেরা পৃথিবীর রাজত্ব লাভ করবে এবং প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদীর সময় পর্যন্ত দিন দিন তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি পেতে থাকবে" (২)।

সূফিবাদের জগতে স্বপ্ন এবং আধ্যাত্মিক উন্মোচনের (কাশফ) এক জাদুকরী প্রভাব রয়েছে। ফলশ্রুতিতে এই ভবিষ্যদ্বাণীটি কিজিলবাশদের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছিল। তারা ধারণা করত যে, সফভীদের রাজত্ব মাহদীর আত্মপ্রকাশ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এ কারণেই শাহ ইসমাইল এবং উসমানীয় সুলতান সেলিমের মধ্যে সংঘটিত "চালদিরান" যুদ্ধের (৯২০ হিজরি/১৫১২ খ্রিস্টাব্দ) পর এবং শাহ ইসমাইলের পরাজয়ের ফলে এই বিশ্বাসটি ধাক্কা খায়। এরপর কিজিলবাশদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখা দেয় এবং তাদের মনে এই আকিদা বা বিশ্বাসের ভিত নড়ে যাওয়ার কারণে তাদের মধ্যে পারস্পরিক লড়াই শুরু হয় (৩)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা ২৬)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা ২৯); অন্যদিকে "উনওয়ানুল মাজদ" গ্রন্থের প্রণেতা ইব্রাহিম বিন সিবগাতুল্লাহ আল-হায়দারি (মৃত্যু: ১৮৮২ খ্রি.), যিনি সফভী বংশের সেই ধারার লোক যারা সুন্নি আকিদাতে অটল ছিলেন এবং শিয়া সফভীদের হাত থেকে পলায়ন করেছিলেন, তিনি এই স্বপ্নের অন্য একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি বলেন, এই স্বপ্নের অর্থ হলো কিয়ামত পর্যন্ত এই পরিবার থেকে আলেমদের আবির্ভাব হতে থাকবে। আলহামদুলিল্লাহ, এর কোনোটিই বাস্তবে ঘটেনি।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা ৪৯)।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
وهناك سبب آخر وهو أن الطريقة الصفوية في إيران والطريقة البكتاشية في تركيا كانتا من الطرق الصوفية التي جمعت بين الغلو في تقديس الأشخاص والباطنية المغالية (1).

والشاه إسماعيل كان يجمع بين التعصب المذهبي والغلو والتكفير وبين الدموية (2)،

--------------------------------------------

(1) "التقريب القرآني في ضوء الصراع الصفوي العثماني"لعلاء الدين المدرس، (9) ،ط، المعروف.

(2) وهذا ما يحصل اليوم في العراق وبغداد على الخصوص حيث خرجت أفكار التشيع المغالي المكفر والتي زرعت بشكل مركز عند الشيعة في التسعينات إبان الحصار الأمريكي على العراق، ثم ظهرت نتائجه بعد سقوط بغداد واحتلال الأمريكان، فتشكلت المليشيات الشيعية فعذبت أهل السنة بأساليب لم تعهد في تاريخ العراق سالفاً، ثم قتلتهم وهجرتهم بحملة تطهير شرسة، ورحل الآلاف بل الملايين من أهل السنة. ويخطئ من يظن أن الشيعة المتطرفين فعلوا ذلك فجأة بعد الاحتلال، بل هي أفكار حملها علماء الشيعة عامة إلا من شاء الله، حتى الذين ظهروا بشكل معتدل للناس، والدليل على ما نقول أن تلاميذ العلم الشيعي المعروف (محمد باقر الصدر) الذي أعدمه صدام حسين، وهو يعد معتدلاً، هم إبراهيم الجعفري وجواد المالكي، أعضاء حزب الدعوة، الأكثر اعتدالاً في نظر بعض السنة، في عهدهم حصلت هذه المجازر.

 

ووالد الصدر "مقتدى" هو (محمد صادق الصدر) والذي يوسم بالأعتدال كذلك، هؤلاء أتباعه، ميليشيا المهدي، والكل يعرف الجرائم التي فعلت، وأي فكر تكفيري دموي حمل هذا الجيل. وقبل ذلك حرس الثورة الإيراني والذين تربوا على أفكار خميني وخامنئي ماذا يفعلون بالعراق من دموية نادرة لم يفعلها حتى اليهود دون مبالغة. وبعد كل هذا يخرج علينا من لا يعرف عن التشيع إلا رسمه ليفتي لنا بغير علم بالتقريب بين المذاهب ،وما ذاك إلا لجهلهم بالتشيع وأفكاره وتاريخ ونشأته، ونخص بالذكر علماء مصر ومفكريها ودعاتها.
এর আরেকটি কারণ হলো, ইরানের সাফাভী তরীকা এবং তুরস্কের বকতাশী তরীকা ছিল সেইসব সূফী তরীকাগুলোর অন্তর্ভুক্ত যারা ব্যক্তিদের পবিত্রকরণের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি (গুলু) এবং চরমপন্থী বাতেনী মতবাদের সমন্বয় ঘটিয়েছিল (১)।

আর শাহ ইসমাইল মাযহাবী গোঁড়ামি, বাড়াবাড়ি (গুলু) এবং তাকফীরের পাশাপাশি রক্তপিপাসু মনোবৃত্তির সংমিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন (২),

--------------------------------------------

(১) আলাউদ্দিন আল-মুদাররিস রচিত ‘সাফাভী-উসমানীয় দ্বন্দ্বের আলোকে কুরআনিক নৈকট্য’, (৯), মারুফ সংস্করণ।

(২) আর এটিই আজ ইরাকে এবং বিশেষ করে বাগদাদে ঘটছে, যেখানে চরমপন্থী ও তাকফীরী শিয়া মতাদর্শের উদ্ভব হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে ইরাকে মার্কিন অবরোধের সময় শিয়াদের মাঝে নিবিড়ভাবে এই চিন্তা রোপণ করা হয়েছিল। অতঃপর বাগদাদের পতন এবং মার্কিন দখলের পর এর ফলাফল প্রকাশ পায়। তখন শিয়া মিলিশিয়া বাহিনী গঠিত হয় এবং তারা আহলে সুন্নাতকে এমন সব পদ্ধতিতে নির্যাতন করে যা ইরাকের ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। এরপর এক নৃশংস নির্মূল অভিযানের মাধ্যমে তাদের হত্যা করা হয় এবং বাস্তুচ্যুত করা হয়, যার ফলে হাজার হাজার বরং লক্ষ লক্ষ সুন্নী লোক হিজরত করতে বাধ্য হয়। যারা মনে করে যে চরমপন্থী শিয়ারা কেবল দখলদারিত্বের পরই হঠাত করে এসব করেছে তারা ভুলের মধ্যে আছে; বরং এগুলো এমন সব ধারণা যা সাধারণ শিয়া আলেমরা লালন করে আসছিলেন (আল্লাহ যাকে রক্ষা করেছেন তিনি ব্যতীত), এমনকি যারা মানুষের কাছে উদারপন্থী হিসেবে প্রকাশ পেয়েছিলেন তারাও এর অন্তর্ভুক্ত। আমাদের এই কথার প্রমাণ হলো, প্রখ্যাত শিয়া আলেম মুহাম্মাদ বাকির আস-সদর (যাকে সাদ্দাম হোসেন মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন এবং যাকে মধ্যপন্থী হিসেবে গণ্য করা হয়) এর ছাত্ররা হলেন ইবরাহীম আল-জাফরী এবং জাওয়াদ আল-মালিকী। তারা দাওয়াহ পার্টির সদস্য, যা কিছু সুন্নীদের দৃষ্টিতে অধিকতর উদারপন্থী ছিল, অথচ তাদের শাসনামলেই এই গণহত্যাগুলো সংঘটিত হয়েছে।

 

আর ‘মুক্তাদা’ সদরের পিতা হলেন (মুহাম্মাদ সাদিক আস-সদর), যাকে একইভাবে উদারপন্থী বলে অভিহিত করা হয়। এই যে তার অনুসারীরা তথা মাহদী মিলিশিয়া—তাদের সংঘটিত অপরাধসমূহ এবং এই প্রজন্ম যে চরম তাকফীরী ও রক্তপিপাসু চিন্তাধারা ধারণ করেছে তা সবারই জানা। এর আগে ছিল ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী, যারা খোমেনী ও খামেনেয়ীর আদর্শে বেড়ে উঠেছে; তারা ইরাকে এমন বিরল রক্তপাত ঘটিয়েছে যা অতিশয়োক্তি ছাড়াই বলা যায় যে ইয়াহূদীরাও করেনি। এত কিছুর পরেও আমাদের সামনে এমন কিছু লোক আবির্ভূত হয় যারা শিয়াতত্ত্ব সম্পর্কে নাম ছাড়া আর কিছুই জানে না, অথচ তারা অজ্ঞতাবশত মাযহাবগুলোর মধ্যে ঐক্যের (তাকরীব) ফতোয়া দেয়। এটি মূলত শিয়াতত্ত্ব, এর চিন্তাধারা, ইতিহাস ও উৎপত্তি সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণেই। আমরা বিশেষভাবে মিসরের আলেম, বুদ্ধিজীবী ও দাঈদের কথা উল্লেখ করছি।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
فقد نقل عنه قريبه إبراهيم صبغة الله الحيدري في "عنوان المجد" (ص119) أنه أكثر القتل حتى قتل ملك (شروان) وأمر أن يوضع في قدر كبير ويطبخ وأمر بأكله ففعلوا (أي القزلباشية) (1)، وكان لا يتوجه لبلاد في إيران إلا فعل أشياء يندى لها الجبين؛ من قتل

--------------------------------------------

(1) فعلت هذه الجرائم اليوم في العراق حرق الشباب السني أحياءً أمام منازلهم، وأشنع حادثة ما فعلته ميليشات بدر وجيش المهدي ،عندما شووا طفلا صغيرا سنياً في فرن وارسلوه إلى أمه، وهذه الحادثة يعرفها أهل بغداد في منطقة الأمين شرق بغداد، وعندما أحرقوا وجه دعاة أهل السُنة بالتيزاب (ماء النار) وثقبوا أجسادهم بالمثقب، وقلعوا أعين الكثير؛ بل إن حادثة (أبو عمر المشهداني) في منطقة الدورة عندما القوه في فرن الخبز وحرقوه معروفة.
তার নিকটাত্মীয় ইব্রাহীম সিবগাতুল্লাহ আল-হায়দারী "উনওয়ানুল মাজদ" (পৃ. ১১৯) গ্রন্থে তার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপকতা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, এমনকি (শিরওয়ান) এর রাজাকে হত্যা করেন এবং নির্দেশ দেন যেন তাকে এক বিশাল ডেকচিতে রেখে রান্না করা হয় এবং তা ভক্ষণ করা হয়; অতঃপর তারা (অর্থাৎ কিজিলবাশরা) তা-ই করল (১)। তিনি ইরানের কোনো জনপদের দিকেই অগ্রসর হতেন না এমন সব কাজ করা ব্যতীত যা ললাটকে লজ্জায় ও ঘৃণায় ঘর্মাক্ত করে দেয়; যার অন্তর্ভুক্ত ছিল হত্যা...

--------------------------------------------

(১) ইরাকে বর্তমান সময়ে সুন্নি যুবকদের তাদের গৃহের সম্মুখে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মাধ্যমে এই অপরাধগুলোই সংঘটিত হয়েছে। সবচেয়ে জঘন্য ঘটনাটি ছিল বদর মিলিশিয়া ও জইশুল মাহদী কর্তৃক সংঘটিত কর্মকাণ্ড, যখন তারা একটি ছোট সুন্নি শিশুকে তন্দুরে ঝলসিয়ে তার জননীর নিকট পাঠিয়েছিল। পূর্ব বাগদাদের আল-আমিন এলাকার অধিবাসীরা এই ঘটনা সম্পর্কে অবগত। এছাড়া যখন তারা আহলে সুন্নাতের দাঈদের মুখমণ্ডল এসিড (দাহ্য জল) দিয়ে দগ্ধ করেছিল এবং ড্রিল মেশিন দিয়ে তাদের দেহ বিদ্ধ করেছিল ও অনেকের চক্ষু উৎপাটন করেছিল। এমনকি দাওরা এলাকার (আবু উমর আল-মাশহাদানী)-র ঘটনাটিও সুপরিচিত, যখন তারা তাকে রুটি সেঁকার তন্দুরে নিক্ষেপ করে ভস্মীভূত করেছিল।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
ونهب حتى قتل من أعاظم علماء العجم "السُنة" وحرّق كتبهم وانهزم كثير من العلماء، منهم جد مؤلف "عنوان المجد" إلى بلاد الأكراد السُنية في بلاد العراق.

ثم أمر الشاه إسماعيل الجنود بالسجود له. وكان من دمويته أن ينبش قبور العلماء والمشايخ "السُنة" ويحرق عظامهم، وكان إذا قتل أميراً من الأمراء أباح زوجته وأمواله لشخص ما من اتباعه.

وكان أتباعه يقدسونه ويعتقدون أنه لا ينكسر ولا يقدر عليه أحد (1).

هذا هو مؤسس الدولة الصفوية (إسماعيل شاه) التي تعد الدولة المؤسسة لكل دول الشيعة الاثني عشرية فيما بعد.

توسع الشاه إسماعيل في أرجاء إيران بعد أن تتبع ملك دولة آق قونيلو، فذهب إلى جنوب تبريز إلى مدينة همدان وهزم (مراد بيك) أمير قبائل آق قونيلو، الذي فر إلى شيراز (2) واستولى عليها، وقضى على دولة التركمان السُنية في إيران وذلك سنة (909هـ) (3)،

--------------------------------------------

(1) "عنوان المجد" للحيدري (119 - 120).

لهذا العالم المتوفي سنة (1882هـ) جهودا قيمة في كتابه هذا في توثيق تاريخ تشيع العشائر العراقية، كما إن للمولف كتابا قيما بعنوان "النكت الشنيعة في بيان الخلاف بين الله تعالى والشيعة"بتحقيق مؤلف هذه الرسالة

(2) مدينة موجودة مقابل دولة الكويت من جهة الخليج العربي.

(3) "إيران دراسة عامة" د. محمد وصفي أبو مغلي، 1985، منشورات مركز دراسات الخليج العربي، جامعة البصرة.
লুটপাট চালানো হলো এমনকি অনারব 'সুন্নি' আলেমদের বড় বড় ব্যক্তিত্বদের হত্যা করা হলো এবং তাদের কিতাবসমূহ পুড়িয়ে দেওয়া হলো। অনেক আলেম পলায়ন করলেন, যাদের মধ্যে 'উনওয়ানুল মাজদ' গ্রন্থের লেখকের দাদাও ছিলেন, যিনি ইরাকের সুন্নি কুর্দি অঞ্চলে চলে গিয়েছিলেন।

এরপর শাহ ইসমাইল সৈন্যদের তাকে সিজদা করার নির্দেশ দিলেন। তার রক্তপিপাসু স্বভাবের অন্যতম উদাহরণ ছিল যে, তিনি 'সুন্নি' আলেম ও মাশায়েখদের কবর খুঁড়ে ফেলতেন এবং তাদের হাড়গোড় পুড়িয়ে দিতেন। যখন তিনি কোনো আমিরকে হত্যা করতেন, তখন তার স্ত্রী ও সম্পদ তার অনুসারীদের মধ্য থেকে কাউকে দান করে দিতেন।

তার অনুসারীরা তাকে পবিত্র জ্ঞান করত এবং বিশ্বাস করত যে, তাকে কখনো পরাজিত করা যাবে না এবং তার ওপর কেউ প্রবল হতে পারবে না (১)।

ইনিই হলেন সফভীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা (ইসমাইল শাহ), যাকে পরবর্তীকালের সকল দ্বাদশ ইমামি শিয়া রাষ্ট্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করা হয়।

শাহ ইসমাইল আক কোয়ুনলু রাষ্ট্রের রাজাকে অনুসরণের পর সমগ্র ইরানে রাজ্য বিস্তার করেন। তিনি তাবরিজের দক্ষিণে হামাদান শহরে যান এবং আক কোয়ুনলু গোত্রের আমির (মুরাদ বেগ)-কে পরাজিত করেন, যিনি শিরাজ (২)-এ পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি তা দখল করে নেন। এভাবে তিনি ৯০৯ হিজরি সালে (৩) ইরানের সুন্নি তুর্কমেন রাষ্ট্রের অবসান ঘটান।

--------------------------------------------

(১) আল-হায়দারী রচিত "উনওয়ানুল মাজদ" (১১৯ - ১২০)।

১৮৮২ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী এই আলেমের এই গ্রন্থে ইরাকি গোত্রগুলোর শিয়া মতবাদ গ্রহণের ইতিহাস নথিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে মূল্যবান প্রচেষ্টা রয়েছে। এছাড়া লেখকের "আন-নুকাতুশ শানিআহ ফি বায়ানিল খিলাফ বাইনাল্লাহি তাআলা ওয়াশ শিয়া" শিরোনামে একটি মূল্যবান গ্রন্থ রয়েছে, যা এই নিবন্ধের লেখকের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে।

(২) এটি আরব উপসাগরের দিক থেকে কুয়েত রাষ্ট্রের বিপরীতে অবস্থিত একটি শহর।

(৩) "ইরান দিরাসাতুন আম্মাহ" ড. মুহাম্মদ ওয়াসফি আবু মাগলি, ১৯৮৫, আরব উপসাগরীয় গবেষণা কেন্দ্র প্রকাশনী, বসরা বিশ্ববিদ্যালয়।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
واستولى على فارس وكرمان وخوزستان "عربستان" ومازندران واستراباد (1).

بعد ذلك توجه الشاه إسماعيل إلى جهة الشرق إلى خراسان واستولى عليها سنة (916هـ) واستولى على مدينة مشهد. وفي نفس السنة توجه إلى مرو شمال شرق إيران وذبح أكثر من عشرة آلاف من سكانها من أهل السنة (2).

ثم حاول أن يمتد إلى بلاد الأوزبك سنة (918هـ) وأرسل أحد قواده ولكنه انهزم وقتل قائده وضعفت جبهته في هذه المنطقة وهجم عليه الأوزبك وكادوا يستردون خراسان ولكن الشاه إسماعيل استردها.

 

‌‌دخول الشاه إسماعيل العراق واستيلاءه على بغداد

من المعلوم للجميع أن بغداد عاصمة الدولة العباسية سقطت بيد المغول سنة (656هـ) وبعدها حكم العراق المغول وسميت دولتهم

--------------------------------------------

(1) فارس: هي المنطقة التي تقابل الخليج العربي من الجهة الثانية، أما كرمان فهي بين باكستان وإقليم فارس المذكور. أما خوزستان فهي عربستان وهي معروفة شمال الخليج العربي مقابل مدينة البصرة العراقية وأشهر مدنها مصفى عابدان، أما مازندران فهي شمال شرقي طهران جنوب شرقي بحر قزوين، وأما استراباد فهي شمال طهران جنوب بحر قزوين غربي مازندران، أي هو سيطر على غربي وجنوب وشمال إيران الحالية، مبتدءاً دولته من اقليم أذربيجان شمال إيران.

(2) "إيران دراسة عامة" د. محمد وصفي أبو مغلي (ص247).
এবং তিনি পারস্য, কেরমান, খুজিস্তান "আরবিস্তান", মাজানদারান এবং আস্তারাবাদ দখল করেন (১)।

এরপর শাহ ইসমাইল পূর্ব দিকে খোরাসানের অভিমুখে অগ্রসর হন এবং ৯১৬ হিজরিতে তা দখল করেন এবং মাশহাদ শহরটি জয় করেন। একই বছর তিনি ইরানের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মার্ভের দিকে অগ্রসর হন এবং সেখানকার দশ হাজারেরও বেশি আহলে সুন্নাত অধিবাসীকে হত্যা করেন (২)।

অতঃপর তিনি ৯১৮ হিজরিতে উজবেক ভূখণ্ডের দিকে রাজ্য বিস্তারের চেষ্টা করেন এবং তার একজন সেনাপতিকে প্রেরণ করেন, কিন্তু তিনি পরাজিত হন এবং তার সেনাপতি নিহত হন। এতে এই অঞ্চলে তার সামরিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে এবং উজবেকরা তাকে আক্রমণ করে। তারা প্রায় খোরাসান পুনরুদ্ধার করে ফেলেছিল, কিন্তু শাহ ইসমাইল পুনরায় তা উদ্ধার করেন।

 

‌‌ইরাকে শাহ ইসমাইলের প্রবেশ এবং বাগদাদ দখল

সবারই জানা আছে যে, আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী বাগদাদ ৬৫৬ হিজরিতে মঙ্গোলদের হাতে পতন ঘটে এবং এরপর মঙ্গোলরা ইরাক শাসন করে এবং তাদের রাষ্ট্রকে বলা হতো

--------------------------------------------

(১) ফারিস: এটি হলো সেই অঞ্চল যা পারস্য উপসাগরের অপর পাশে অবস্থিত। আর কেরমান হলো পাকিস্তান ও উল্লেখিত ফারিস প্রদেশের মধ্যবর্তী স্থান। খুজিস্তান হলো আরবিস্তান, যা পারস্য উপসাগরের উত্তরে ইরাকের বসরা শহরের বিপরীতে অবস্থিত এবং এর সবচেয়ে বিখ্যাত শহর হলো আবাদান শোধনাগার। মাজানদারান তেহরানের উত্তর-পূর্বে এবং কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। আস্তারাবাদ তেহরানের উত্তরে এবং কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণে মাজানদারানের পশ্চিমে অবস্থিত। অর্থাৎ, তিনি বর্তমান ইরানের পশ্চিম, দক্ষিণ ও উত্তর অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন এবং উত্তর ইরানের আজারবাইজান প্রদেশ থেকে তার রাষ্ট্র শুরু করেছিলেন।

(২) "ইরান: একটি সাধারণ অধ্যয়ন" ড. মুহাম্মদ ওয়াসফি আবু মাগলি (পৃষ্ঠা ২৪৭)।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
(الاليخانية) إلى أن تسلّم الجلائريون دويلتهم "قرا قونيلو" ثم "آق قونيلو" التي بدأ حكمها منذ سنة (806هـ) وكان آخر حكامها (سلطان مراد) الذي حكم سنة (903هـ) وفي سنة (914هـ) اراد الشاه إسماعيل احتلال بغداد فأرسل قائده حسين بك لاله، وانهزم والي بغداد "باريك"، وقد استبشر "نقيب النجف" محمد كمونة بعد أن كان والي بغداد "باريك" قد حبسه لأنه كان ينتظر الشاه، ويؤمل أهالي بغداد والعراق بأن الشاه إسماعيل سلطان عادل ،وكان الناس في اضطراب وقلة أمان تبحث عمن يوفر لهم الأمان.

دخل حسين لاله بغداد دون قتال وأخرج أحد كبار الشيعة والذي كان يخبر الناس بعدل الشاه إسماعيل حتى حبسه (باريك) والي بغداد التركمتني والمدعو (محمد كمّونة) من السجن ورحب به وعظمه، وذهبا هو والوالي إلى الشاه إسماعيل ليبشروه بفتح بغداد (1).

دخل الشاه إسماعيل بغداد وكرم (محمد كمونه) وأعلى مقامه ،ثم زار كربلاء والنجف وأكرم أهلها وعمّرها بالذهب والفرش

--------------------------------------------

(1) هكذا كان الشيعة في العراق وبغداد قديماً يستقبلون الفرس والشيعة، وهذا ما حصل عندما كان محمد باقر الصدر يراسل خميني بعد ثورته سنة 1979م، ويخبره أنه ينتظر قدومه في بغداد، وظل عند شيعة العراق ولاء للإيرانيين واضح، واليوم تجد كل شيعة العراق والبحرين ولبنان والسعودية، كل هؤلاء ولاءهم لإيران، هذا الأمر المفضوح أدى بالرئيس المصري حسني مبارك أن يقول: إن ولاء الشيعة في البلاد العربية لإيران. وهو لم يذكر إلا ظاهرة لا يستطيع أحد إنكارها.
(ইলখানি) থেকে শুরু করে জালাইরিরা তাদের রাষ্ট্র 'কারা কোউনলু' এবং এরপর 'আক কোউনলু'র কাছে হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত, যাদের শাসন শুরু হয়েছিল ৮০৬ হিজরি থেকে। তাদের শেষ শাসক ছিলেন (সুলতান মুরাদ), যিনি ৯০৩ হিজরিতে শাসন করেছিলেন। ৯১৪ হিজরিতে শাহ ইসমাইল বাগদাদ দখলের ইচ্ছা পোষণ করেন, ফলে তিনি তাঁর সেনাপতি হুসাইন বেগ লালে-কে প্রেরণ করেন। বাগদাদের ওয়ালি 'বারিক' পরাজিত হন। 'নাজাফের নকীব' মুহাম্মদ কামুনা এতে আনন্দিত হন, কেননা বাগদাদের ওয়ালি 'বারিক' তাঁকে কারারুদ্ধ করেছিলেন, যেহেতু তিনি শাহের অপেক্ষায় ছিলেন এবং বাগদাদ ও ইরাকের অধিবাসীদের এই আশা দিচ্ছিলেন যে শাহ ইসমাইল একজন ন্যায়পরায়ণ সুলতান। তখন জনগণ চরম অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে এমন কাউকে খুঁজছিল যে তাদের নিরাপত্তা প্রদান করবে।

হুসাইন লালে কোনো যুদ্ধ ছাড়াই বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং শিয়াদের অন্যতম এক বড় নেতাকে কারাগার থেকে মুক্ত করেন, যিনি শাহ ইসমাইলের ন্যায়বিচারের কথা মানুষকে শোনাতেন, যার ফলে বাগদাদের তুর্কমেনি ওয়ালি 'বারিক' তাঁকে কারারুদ্ধ করেছিলেন; সেই ব্যক্তির নাম ছিল (মুহাম্মদ কামুনা)। তিনি তাকে স্বাগত জানান ও সম্মান প্রদর্শন করেন। এরপর তিনি এবং সেই ওয়ালি শাহ ইসমাইলের নিকট যান তাকে বাগদাদ বিজয়ের সুসংবাদ দিতে (১)।

শাহ ইসমাইল বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং (মুহাম্মদ কামুনা)-কে সম্মানিত করে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। এরপর তিনি কারবালা ও নাজাফ যিয়ারত করেন এবং সেখানকার অধিবাসীদের পুরস্কৃত করেন এবং স্বর্ণ ও আসবাবপত্র দিয়ে তা সুসজ্জিত করেন।

--------------------------------------------

(১) এভাবেই প্রাচীনকালে ইরাক ও বাগদাদের শিয়ারা পারস্য ও শিয়াদের স্বাগত জানাত। এটিই ঘটেছিল যখন ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর মুহাম্মদ বাকির আস-সদর খোমেনীর সাথে পত্রালাপ করতেন এবং তাকে জানাতেন যে তিনি বাগদাদে তার আগমনের অপেক্ষায় আছেন। ইরাকের শিয়াদের মধ্যে ইরানীদের প্রতি স্পষ্ট আনুগত্য বজায় ছিল। আজ আপনি ইরাক, বাহরাইন, লেবানন ও সৌদি আরবের সমস্ত শিয়াদের দেখতে পাবেন, যাদের সবার আনুগত্য ইরানের প্রতি। এই প্রকাশ্য বিষয়টি মিশরের প্রেসিডেন্ট হুসনি মুবারককে বলতে বাধ্য করেছিল যে: "আরব দেশগুলোতে বসবাসরত শিয়াদের আনুগত্য ইরানের প্রতি।" তিনি কেবল এমন এক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করেছেন যা কেউ অস্বীকার করতে সক্ষম নয়।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২০)
والسجاد الثمين. ثم أدب بعض عشائر الجنوب (1). هذه هي خلاصة أعماله في العراق.

وعودة إلى ما فعله الشاه إسماعيل في بغداد، فأهل بغداد لم يقاوموا الشاه؛ لأن محمد كمونه أخبرهم بعدله وكان لاضطراب الأوضاع في زمن "آق قونيلو" دافعا لإهل بغداد كي يتأملوا

بظهور حاكم جديد ينقذهم مما هم فيه، ولكن الشاه إسماعيل أمر قائده حسين لاله بتهديم مدينة بغداد وقتل أهل السُنة والصلحاء، وتوجه إلى مقابر أهل السُنة ونبش قبور الموتى وأحرق عظامهم.

وبدأ يعذب أهل السُنة سوءالعذاب ثم يقتلهم محاولا أن يغيرهم للتشيع، وهدم مسجد أبي حنيفة النعمان في مدينة الأعظمية ،ونكل بقبر أبي حنيفة ونبش قبره وهدم المدارس العلمية للحنفية وهدموا كثيرا من المساجد (2). وقتل كل

--------------------------------------------

(1) كان أكثر عشائر الجنوب العراقي سُنة إلا أهالي مدينة كربلاء والنجف وبعض مدينة الحلة ومناطق متفرقة، وأكثر عشائر الجنوب العراقي سُنة على مذهب المالكية والحنفية وقليل شوافع، ولنا بحثا نسأل الله أن ييسر نشره في (تاريخ تشيّع العشائر العراقية العربية) والذي واكب ظهور الدولة الصفوية.

(2) انظر" تاريخ الأعظمية" ، وليد الأعظمي (113) ،يكره الشيعة السنة ويكفرونهم ويلعنون بشكل خاص أبي حنيفة النعمان، وما أشبه الليلة بالبارحة فها هم اليوم "جيش المهدي" و"قوات بدر" وبالاستعانة بحكومة الجعفري والمالكي يقصفون مسجد أبي حنيفة في مدينة الأعظمية في بغداد بقنابل الهاون.
এবং মূল্যবান গালিচা। তারপর দক্ষিণাঞ্চলের কিছু গোত্রকে শাসন করলেন (১)। ইরাকে তার কর্মকাণ্ডের সারসংক্ষেপ এটিই।

শাহ ইসমাইল বাগদাদে যা করেছিলেন সে প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক; বাগদাদবাসী শাহর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেননি; কারণ মুহাম্মদ কামুনা তাদের তার ন্যায়বিচার সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছিলেন। এছাড়া "আক কয়ুনলু" যুগের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বাগদাদবাসীদের উদ্বুদ্ধ করেছিল যাতে তারা আশা করতে পারে

এমন একজন নতুন শাসকের আবির্ভাব ঘটবে যিনি তাদের বর্তমান অবস্থা থেকে রক্ষা করবেন। কিন্তু শাহ ইসমাইল তার সেনাপতি হুসাইন লালা-কে বাগদাদ শহর ধ্বংস করার এবং আহলে সুন্নাহ ও নেককার ব্যক্তিদের হত্যার নির্দেশ দিলেন। তিনি আহলে সুন্নাহর কবরস্থানগুলোর দিকে অগ্রসর হলেন এবং মৃতদের কবর খুঁড়ে বের করলেন ও তাদের হাড় পুড়িয়ে দিলেন।

তিনি আহলে সুন্নাহকে কঠোর যাতনা দিতে শুরু করলেন এবং তাদের শিয়া মতে দীক্ষিত করার চেষ্টা করে হত্যা করতে লাগলেন। তিনি আযমিয়া শহরের আবু হানিফা আল-নুমান মসজিদ ধ্বংস করলেন, আবু হানিফার কবরের অবমাননা করলেন ও তার কবর খুঁড়ে ফেললেন। হানাফিদের ইলমি মাদরাসাগুলো গুঁড়িয়ে দিলেন এবং তারা অনেক মসজিদ ধ্বংস করল (২)। এবং হত্যা করলেন প্রত্যেক

--------------------------------------------

(১) ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় অধিকাংশ গোত্রই সুন্নি ছিল, কেবল কারবালা ও নাজাফ শহরের অধিবাসী, হিল্লাহ শহরের কিছু অংশ এবং বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকা ব্যতীত। দক্ষিণাঞ্চলীয় ইরাকি গোত্রগুলোর অধিকাংশই মালিকি ও হানাফি মাযহাবের সুন্নি ছিল এবং অল্প কিছু শাফেয়ি ছিল। আমাদের একটি গবেষণা রয়েছে যা প্রকাশের তাওফিক আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যার বিষয়বস্তু হলো (ইরাকি আরব গোত্রগুলোর শিয়া হওয়ার ইতিহাস), যা সাফাভি রাষ্ট্রের উত্থানের সমসাময়িক ছিল।

(২) দেখুন "তারিখে আযমিয়া", ওয়ালিদ আল-আযমি (১১৩)। শিয়ারা সুন্নিদের ঘৃণা করে, তাদের কাফের সাব্যস্ত করে এবং বিশেষভাবে আবু হানিফা আল-নুমানকে অভিশাপ দেয়। বর্তমান সময় যেন অতীতের হুবহু প্রতিচ্ছবি; এই তো আজ "জাইশ আল-মাহদি" এবং "বদর বাহিনী" জাফরি ও মালিকি সরকারের সহায়তায় বাগদাদের আযমিয়া শহরের আবু হানিফা মসজিদে মর্টারের গোলা নিক্ষেপ করছে।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২১)
من ينتسب لذرية خالد بن الوليد رضي الله عنه في بغداد لمجرد أنهم من نسبه، وقتلهم قِتلة قاسية (1).

وقد أرخ الشيعة في ذلك الزمان لهذه الحادثة حتى قال مؤرخهم ابن شدقم "الشيعي" في كتابه "تحفة الأزهار وزلال الأنهار": "فتح بغداد وفعل بأهلها النواصب ذوي العناد ما لم يسمع بمثله قط في سائر الدهور بأشد أنواع العذاب حتى نبش موتاهم من القبور".

هكذا يسمي أهل السُنة النواصب، بمجرد أنهم لا يؤمنون بعقائد الشيعة، فهم نواصب يستحقون القتل (2).

--------------------------------------------

(1) كتب الشيعة منذ القديم تحمل حقداً خاصاً لخالد بن الوليد، وقد رد ابن تيمية في "منهاج السنة" شبهاتهم حوله، ويبدو أن ثقافة الشاه إسماعيل الشيعية جيده فنفذ كل حقده بقتل كل من ينتسب لهذا الصحابي الجليل والقائد العظيم سيف الله المسلول، وقبل أيام فجروا في البصرة أثرا تاريخيا يعود للزبير بن العوام رضي الله عنه ابن صفية عمة رسول اللهصلى الله عليه وسلم.

(2) للشيعة فن عجيب في تسخير المصطلحات لتأجيج الرأي العام الشيعي ضد أهل السُنة. فانظر هنا إلى قوله "النواصب" فهذا مصطلح أطلقه أهل السُنة إلى فرقة برزت في الشام في القرن الثاني والثالث للهجرة تبغض علي بن أبي طالب رضي الله عنه، وقد انقرضت ولا يوجد مسلم سني يبغض علياً في يومنا هذا، بل حب علي سنة وبغضه فسق وبدعة، هذا هو معتقد كل أهل السُنة. أما الشيعة فيعنون بـ "النواصب" كل من لم يؤمن بأن علياً ولياً منصب من الله بعد رسول الله، وهذا ما لم يؤمن به أهل السُنة، على هذا فأهل السنة كلهم نواصب. والشيعة كتبهم مليئة بتكفير النواصب وأنهم شر من اليهود والنصارى، ويجب قتلهم، وهذا ما حصل قديماً، ويحصل اليوم. وارجع إلى صحف الشيعة في العراق وإلى قنواتهم الفضائية كقناة "الفرات" التابعة للمجلس الأعلى للثورة الإسلامية بقيادة عبد العزيز الحكيم، حيث يوصف أهل السُنة بـ "النواصب" حتى يستحق قتلهم شرعاً "شرع الشيعة".

وقد ألف صديقنا الفاضل عبد الملك بن عبد الرحمن الشافعي كتابا قيما سماه "موقف الشيعة الإمامية من باقي فرق المسلمين" والمنشور في مكتبة الرضوان سنة (2005م) ضمنه فصلا رائعا صفحة307 بعنوان: عرض لأبرز أساليب الإمامية.
বাগদাদে যারা খালিদ বিন ওয়ালিদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর বংশের সাথে সম্পর্কযুক্ত ছিল, স্রেফ তাঁর বংশধর হওয়ার কারণে তিনি তাদের অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেন (১)।

সেই সময়ের শিয়া ঐতিহাসিকরা এই ঘটনার ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন। এমনকি তাদের ঐতিহাসিক ইবনে শাদাকাম "আশ-শিয়ি" তাঁর "তুহফাতুল আজহার ওয়া জুলালুল আনহার" গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি বাগদাদ জয় করেন এবং সেখানকার একগুঁয়ে নাওয়াসিব (শত্রু) বাসিন্দাদের সাথে এমন আচরণ করেন, যার নজির ইতিহাসে আর কখনো শোনা যায়নি; তিনি তাদের ওপর কঠোরতম আযাব নামিয়ে আনেন, এমনকি তাদের মৃতদেহগুলোকে কবর থেকে খুঁড়ে বের করেন।"

এভাবেই তারা আহলুস সুন্নাহকে নাওয়াসিব বলে অভিহিত করে, স্রেফ এই কারণে যে তারা শিয়াদের আকিদাহসমূহে বিশ্বাস করে না। তাই তারা (তাদের দৃষ্টিতে) নাওয়াসিব এবং হত্যার যোগ্য (২)।

--------------------------------------------

(1) শিয়াদের কিতাবসমূহ প্রাচীনকাল থেকেই খালিদ বিন ওয়ালিদের প্রতি বিশেষ বিদ্বেষ পোষণ করে আসছে। ইবনে তাইমিয়া "মিনহাজুস সুন্নাহ" গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে তাদের সংশয়গুলোর জবাব দিয়েছেন। মনে হয় শাহ ইসমাইলের শিয়া সংস্কৃতি বেশ গভীর ছিল, তাই তিনি এই মহান সাহাবী ও মহান সেনাপতি সাইফুল্লাহ আল-মাসলুল (আল্লাহর কোষমুক্ত তলোয়ার)-এর বংশধর প্রত্যেককে হত্যা করে তাঁর সমস্ত বিদ্বেষ চরিতার্থ করেছেন। কয়েকদিন আগে তারা বসরায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ফুফু সাফিয়ার পুত্র জুবায়ের বিন আওয়াম (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে।

(2) আহলুস সুন্নাহর বিরুদ্ধে শিয়া জনমতকে উস্কে দেওয়ার জন্য পরিভাষা ব্যবহারে শিয়াদের এক অদ্ভুত কৌশল রয়েছে। এখানে তাঁর "নাওয়াসিব" শব্দের ব্যবহারটি লক্ষ্য করুন; এটি এমন একটি পরিভাষা যা আহলুস সুন্নাহ হিজরি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে সিরিয়ায় আবির্ভূত একটি দলের জন্য ব্যবহার করতেন যারা আলী বিন আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে ঘৃণা করত। সেই দলটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং বর্তমান যুগে এমন কোনো সুন্নি মুসলিম নেই যে আলীকে ঘৃণা করে; বরং আলীকে ভালোবাসা সুন্নাত এবং তাঁকে ঘৃণা করা ফাসিকি ও বিদআত—এটাই সমস্ত আহলুস সুন্নাহর বিশ্বাস। কিন্তু শিয়াদের নিকট "নাওয়াসিব" অর্থ হলো এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যে বিশ্বাস করে না যে আলী রাসূলুল্লাহর পর আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ওলি (অভিষিক্ত প্রতিনিধি)। আর আহলুস সুন্নাহ যেহেতু এটি বিশ্বাস করে না, তাই তাদের দৃষ্টিতে সকল সুন্নিই নাওয়াসিব। শিয়াদের কিতাবসমূহ নাওয়াসিবদের কাফির ঘোষণা করার বিষয়ে পরিপূর্ণ এবং তাদের মতে তারা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের চেয়েও নিকৃষ্ট এবং তাদের হত্যা করা ওয়াজিব। এটিই অতীতে ঘটেছে এবং বর্তমানেও ঘটছে। আপনি ইরাকের শিয়া সংবাদপত্র এবং তাদের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো দেখতে পারেন, যেমন আব্দুল আজিজ আল-হাকিমের নেতৃত্বাধীন 'মাজলিসুল আ'লা লিস-সাওরাতিল ইসলামিয়া'-র আওতাধীন 'আল-ফুরাত' চ্যানেল, যেখানে আহলুস সুন্নাহকে 'নাওয়াসিব' হিসেবে বর্ণনা করা হয় যাতে তাদের হত্যা করা শরীয়তসম্মত (শিয়া শরীয়ত মতে) হয়।

আমাদের সম্মানিত বন্ধু আব্দুল মালিক বিন আব্দুর রহমান আশ-শাফিয়ি একটি মূল্যবান কিতাব লিখেছেন যার নাম "মাওকিফুশ শিয়াহ আল-ইমামিয়্যাহ মিন বাকি ফিরাকিল মুসলিমিন" (মুসলিমদের অন্যান্য দলের প্রতি ইমামিয়া শিয়াদের অবস্থান), যা ২০০৫ সালে মাকতাবাতুর রিজওয়ান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এতে তিনি ৩০৭ পৃষ্ঠায় একটি চমৎকার অধ্যায় যুক্ত করেছেন যার শিরোনাম: "ইমামিয়াদের প্রধান কৌশলগুলোর উপস্থাপনা"।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২২)
ولم تكن أفكار الشاة إسماعيل من عنده، بل ساعده على ذلك علماء الشيعة لأنه استقطب العلماء من كل مكان من لبنان والنجف وغيره من المناطق، وهم من شارك بتأجيج الحقد الدفين على أهل السنة، بعبارة أصح: أين ما وجدت الطائفية فستجد علماء الشيعة وراءها.

وقد فرّ كثير من سُنة بغداد، وممن هرب الأسرة الكيلانية بعد أن خرّب الشاه إسماعيل قبر عبد القادر، فرّ هؤلاء إلى الشام ومصر وأخبرو العالم الإسلامي ما فعل الصفويون الشيعة ببغداد وأهلها (1).

وصلت أخبار المذبحة العظيمة لأهل السُنة إلى بلاد الدولة العثمانية في تركيا، إضافة إلى أخباره السابقة عن تشييع أهل السُنة

--------------------------------------------

(1) أخبار أفعال الشاه إسماعيل ببغداد منثورة في كتب التاريخ السني والشيعي، وانظر: "العراق بين احتلالين" للمؤرخ عباس العزاوي، و"أربعة قرون من تاريخ العراق الحديث"، ستيفن لونكريك وغيرهما.
শাহ ইসমাইলের চিন্তাধারা কেবল তার নিজস্ব ছিল না, বরং শিয়া আলেমরা তাকে এতে সাহায্য করেছিলেন। কারণ তিনি লেবানন, নাজাফ এবং অন্যান্য অঞ্চল থেকে আলেমদের সমবেত করেছিলেন। তারাই আহলে সুন্নাতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ঘৃণা উসকে দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। সহজ কথায় বলতে গেলে: যেখানেই সাম্প্রদায়িকতা পাওয়া যাবে, সেখানেই শিয়া আলেমদের তার নেপথ্যে পাওয়া যাবে।

বাগদাদের অনেক সুন্নি পলায়ন করেছিলেন; আর যারা পালিয়েছিলেন তাদের মধ্যে কাইলানি (গিলানি) পরিবারও ছিল, যখন শাহ ইসমাইল আব্দুল কাদিরের কবর ধ্বংস করেন। তারা সিরিয়া ও মিশরে পালিয়ে যান এবং মুসলিম বিশ্বকে অবহিত করেন যে শিয়া সফবিরা বাগদাদ ও এর বাসিন্দাদের সাথে কী আচরণ করেছে (১)।

আহলে সুন্নাতের ওপর চালানো সেই ভয়াবহ গণহত্যার সংবাদ তুরস্কের উসমানীয় সাম্রাজ্যের ভূখণ্ডে পৌঁছে যায়, সেইসাথে সুন্নিদের শিয়া মতাদর্শে দীক্ষিত করার পূর্ববর্তী সংবাদগুলোও সেখানে পৌঁছায়।

--------------------------------------------

(১) বাগদাদে শাহ ইসমাইলের কর্মকাণ্ডের বিবরণ সুন্নি ও শিয়া ইতিহাসের বইগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। দেখুন: ইতিহাসবিদ আব্বাস আল-আজ্জাউয়ি রচিত "আল-ইরাক বাইনা ইহতিলালাইন" এবং স্টিফেন লংরিগ রচিত "ফোর সেঞ্চুরিজ অফ মডার্ন হিস্ট্রি অফ ইরাক" এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
بإيران وقَتل الآلاف المؤلفة، أضف إلى ذلك جسارة الشاه إسماعيل إلى إرسال دعوته إلى داخل الدولة العثمانية؛ لذا اجتمع السلطان العثماني سليم الأول في عام (920هـ/1514م)، برجال الدولة وقضاتها وعلماءها ورجال السياسة، وقرروا أن الدولة الصفوية تمثل خطراً على العالم الإسلامي بالعموم؛ وعلى الدولة العثمانية بالخصوص، وقرر السلطان إعلان الجهاد المقدس ضد هذه الدولة، واستبقها بأعمال نلخصها بما يلي:

1 - أرسل السلطان العثماني سليم مراسلات للشاه إسماعيل الصفوي، بلهجة حادة.

2 - طهّر بلاده (تركيا) من الشيعة التابعين للشاه الصفوي؛ لأنهم عملوا طابورا خامسا للشاه.

ولما لم يستجب الشاه إسماعيل لدعوة السلطان سليم الأول بالتسليم قرر السلطان السير بالجيش بقيادته مستعيناً ببقايا أسرة "آق قونيلو"، وأراد الشاه إسماعيل بحيلة لتأخير الحرب لفصل الشتاء؛ كي يهلك الجيش العثماني جوعاً وبرداً.

أحسّ إسماعيل بالخطر فطلب الهدنة ولكن السلطان
ইরানে এবং হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন, এর পাশাপাশি উসমানীয় রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে শাহ ইসমাইলের তার দাওয়াত প্রেরণের দুঃসাহসও ছিল; তাই উসমানীয় সুলতান প্রথম সেলিম (৯২০ হিজরি/১৫১৪ খ্রি.) রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, বিচারকগণ, আলেম সমাজ এবং রাজনীতিবিদদের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন। তারা সিদ্ধান্ত নেন যে, সাফাবীয় রাষ্ট্র সাধারণভাবে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য এবং বিশেষভাবে উসমানীয় রাষ্ট্রের জন্য এক বিপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে; ফলে সুলতান এই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পবিত্র জিহাদ ঘোষণার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং এর আগে তিনি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন যা নিচে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো:

১ - উসমানীয় সুলতান সেলিম শাহ ইসমাইল সাফাবীর কাছে অত্যন্ত কঠোর সুরে পত্র প্রেরণ করেন।

২ - তিনি তার দেশ (তুরস্ক)-কে সাফাবী শাহর অনুসারী শিয়াদের থেকে মুক্ত করেন; কারণ তারা শাহর 'পঞ্চম বাহিনী' হিসেবে কাজ করছিল।

যখন শাহ ইসমাইল সুলতান প্রথম সেলিমের আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দেননি, তখন সুলতান "আক কয়ুনলু" পরিবারের অবশিষ্টাংশের সহায়তায় নিজ নেতৃত্বে সেনাবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শাহ ইসমাইল যুদ্ধের সময়কে শীতকাল পর্যন্ত বিলম্বিত করার জন্য একটি কৌশলের আশ্রয় নিতে চেয়েছিলেন; যাতে উসমানীয় সেনাবাহিনী ক্ষুধা ও ঠান্ডায় ধ্বংস হয়ে যায়।

ইসমাইল বিপদ আঁচ করতে পেরে যুদ্ধবিরতির আবেদন করেন কিন্তু সুলতান
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
استمر في زحفه إلى صحراء جالديران شمال تبريز حتى وصلها سنة (920هـ/1514م)، وسحق الجيش الصفوي الشيعي على أرضه، وفرّ الشاه إسماعيل تاركاً كل أمواله، وأسّرت زوجته، وقتل الخائن "محمد كمونه" السابق ذكره، والذي ذهب مع الشاه إلى تبريز (1) ،هكذا هزم الشاه إسماعيل ولكن بقيت بغداد تحت إحتلال الصفويين

شَعَر الشاه إسماعيل بالضعف وشرع بالبحث عن صديق ليتعاون معه ضد العثمانيين، وكان للبرتغاليين الصولة العظمى في بلاد العرب ،وخاصة طموحهم بواسطة اسطولهم في بحر العرب والخليج العربي واستيلاء قائدهم "البو كريك" على مضيق هرمز.

كلّ هذه الأمور أغرت الشاه إسماعيل لإجراء اتفاقيات وأحلاف مع البرتغاليين، وقد كان … لأمه"مارتا" وجدته لأمه "تيودورا" اليونانية تأثيراً واضحاً في ذلك الحلف (2).

وسننقل نص رسالة أرسلها "البوكيرك" إلى الشاه إسماعيل الصفوي جاء فيها:

--------------------------------------------

(1) هذه أسرة شيعية عريقة تنتسب لآل البيت، وقد مر كيف خان جدهم "محمد كمونة" البلاد، وكيف لاقى مصيره، وليعرف أهل بغداد أصولهم ولا ينخدعوا بأصول عوائل كان أجدادهم خونة للأمة، كما فعل اليوم أحمد الجلبي وغيرهم ممن وقّع على احتلال العراق.

(2) تأثير زواج الخلفاء والقيادات الأسلامية من النصرانيات على الأمة واضح، ، وبهذه المناسبة نذكر أن جدّة محمد باقر الحكيم وأخوه عبد العزيز الحكيم يقال أنها (بولندية أو رومانية)،وقيل يهودية وقيل نصرانية، والمسألة تحتاج إلى تحرير وتحقيق.
তিনি তাবরিজের উত্তরে চালদিরান মরুভূমির দিকে তাঁর অভিযান অব্যাহত রাখেন এবং ৯২০ হিজরি/১৫১৪ খ্রিস্টাব্দে সেখানে পৌঁছান। তিনি নিজ ভূমিতেই শিয়া সাফাভি বাহিনীকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন। শাহ ইসমাইল তাঁর সমস্ত ধনসম্পদ ফেলে পালিয়ে যান, তাঁর স্ত্রী বন্দী হন এবং পূর্বে উল্লিখিত বিশ্বাসঘাতক "মুহাম্মদ কামুনা" নিহত হন, যে শাহের সাথে তাবরিজে গিয়েছিল (১)। এভাবে শাহ ইসমাইল পরাজিত হন, তবে বাগদাদ সাফাভিদের দখলেই থেকে যায়।

শাহ ইসমাইল দুর্বলতা অনুভব করলেন এবং উসমানীয়দের বিরুদ্ধে সহযোগিতা করার জন্য একজন বন্ধুর সন্ধান শুরু করলেন। আরব ভূখণ্ডে তখন পর্তুগিজদের ব্যাপক প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল, বিশেষ করে আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরে তাদের নৌবহরের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং তাদের সেনাপতি "আলবুকার্ক" কর্তৃক হরমুজ প্রণালী দখলের মাধ্যমে তা পরিলক্ষিত হয়।

এই সমস্ত বিষয় শাহ ইসমাইলকে পর্তুগিজদের সাথে চুক্তি ও মৈত্রী স্থাপনে প্রলুব্ধ করেছিল। এই জোটে তাঁর মা "মার্তা" এবং তাঁর মাতামহী গ্রিক বংশোদ্ভূত "থিওডোরা"-এর স্পষ্ট প্রভাব ছিল (২)।

আমরা "আলবুকার্ক" কর্তৃক সাফাভি শাহ ইসমাইলের কাছে পাঠানো একটি চিঠির পাঠ উদ্ধৃত করব, যাতে লেখা ছিল:

--------------------------------------------

(১) এটি একটি প্রাচীন শিয়া পরিবার যারা নিজেদের আহলে বাইতের বংশধর বলে দাবি করে। তাদের পূর্বপুরুষ "মুহাম্মদ কামুনা" কীভাবে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল এবং কীভাবে তার পরিণতি ভোগ করেছিল তা বর্ণিত হয়েছে। বাগদাদবাসীর উচিত তাদের মূল শিকড় সম্পর্কে জানা এবং এমন পরিবারের বংশপরিচয় দ্বারা প্রতারিত না হওয়া যাদের পূর্বপুরুষরা উম্মাহর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, যেমনটি আজ আহমদ চালাবি এবং ইরাক দখলনামায় স্বাক্ষরকারী অন্যরা করেছে।

(২) উম্মাহর ওপর খলিফা ও ইসলামি নেতৃবৃন্দের খ্রিস্টান নারীদের বিবাহের প্রভাব সুস্পষ্ট। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, মুহাম্মদ বাকির আল-হাকিম এবং তাঁর ভাই আব্দুল আজিজ আল-হাকিমের দাদি সম্পর্কে বলা হয় যে তিনি ছিলেন (পোলিশ বা রোমানীয়), আবার কেউ কেউ বলেন ইহুদি এবং কেউ কেউ বলেন খ্রিস্টান। বিষয়টি অধিকতর পর্যালোচনা ও গবেষণার দাবি রাখে।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
"إني أقدّر لك احترامك للمسيحيين في بلادك (1)، وأعرض عليك الأسطول والجند والأسلحة لاستخدامها ضد قلاع الترك في الهند، وإذا أردت أن تنقض على بلاد العرب أو تهاجم مكة فستجدني بجانبك في البحر الأحمر، أمام جدة أو في عدن أو في البحرين أو القطيف أو البصرة، وسيجدني الشاه بجانبه على امتداد الساحل الفارسي وسأنفذ له كل ما يريد" (2).

وفعلاً تم التحالف مع النصارى البرتغاليين وأقرَّهم الشاه إسماعيل باستيلاءهم على هرمز مقابل مساعدة الشاه على احتلال البحرين والقطيف. كما اتفق على مشروع لتقسيم المشرق العربي بأن يحتل الصفويون مصر والبرتغاليون فلسطين (3).

ولكن هذا الحلم لم يتحقق - ولله الحمد - والفضل بعد الله في

--------------------------------------------

(1) نفس ما تفعله جمهورية إيران الإسلامية حيث تحترم غير المسلمين (المجوس، اليهود، النصارى)، وتقيم لهم المعابد إلا أهل السُنة في إيران فهم الأسوأ حالاً والأقل مساجداً.

(2) "قراءة جديدة في تاريخ العثمانيين" (ص63)، د. زكريا إبراهيم بيومي، (1411/ 1991)، عالم المعرفة.

(3) الدولة الصفوية هي أول دولة شيعية إماميةكبيرة النفوذ، إذ أن دول الشيعة السابقة إما شيعة إسماعيلية، كالفاطميين، أو شيعة زيدية وليلاحظ القارئ أن الدولة الصفويةهي أول دولة شيعية فارسية اتفقت على بيع فلسطين.
"আমি আপনার দেশে খ্রিস্টানদের প্রতি আপনার শ্রদ্ধার মূল্যায়ন করছি (১), এবং ভারতের তুর্কি দুর্গগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আমি আপনাকে নৌবহর, সৈন্যদল ও অস্ত্রশস্ত্রের প্রস্তাব দিচ্ছি। আপনি যদি আরব দেশগুলোতে চড়াও হতে চান বা মক্কায় আক্রমণ করতে চান, তবে লোহিত সাগরে জেদ্দার সামনে অথবা এডেন, বাহরাইন, কাতিফ কিংবা বসরায় আপনি আমাকে আপনার পাশেই পাবেন। শাহ আমাকে পারস্য উপকূল জুড়ে তার পাশেই পাবেন এবং তিনি যা চান আমি তা-ই কার্যকর করব" (২)।

বাস্তবিকই পর্তুগিজ নাসারাদের সাথে মৈত্রীর চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল এবং শাহ ইসমাইল বাহরাইন ও কাতিফ দখলে সহযোগিতার বিনিময়ে হরমুজে তাদের কর্তৃত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। তদুপরি আরব প্রাচ্যকে ভাগ করে নেওয়ার একটি প্রকল্পের ব্যাপারেও সমঝোতা হয়েছিল, যার অধীনে সাফাভীরা মিশর দখল করবে এবং পর্তুগিজরা ফিলিস্তিন দখল করবে (৩)।

কিন্তু এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি—সকল প্রশংসা আল্লাহর—আর আল্লাহর পরে এর কৃতিত্ব...

--------------------------------------------

(১) ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বর্তমানে যা করছে এটি ঠিক তারই অনুরূপ, যেখানে তারা অমুসলিমদের (অগ্নিপূজক, ইহুদি, নাসারা) সম্মান করে এবং তাদের জন্য উপাসনালয় নির্মাণ করে; কিন্তু ইরানের আহলে সুন্নাতদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয় এবং তাদের মসজিদের সংখ্যা সবচেয়ে কম।

(২) "কিরাআতুন জাদিদাতুন ফি তারিখিল উসমানিয়্যিন" (পৃ. ৬৩), ড. জাকারিয়া ইব্রাহিম বায়ুমি, (১৪১১/ ১৯৯১), আলমুল মা'রিফাহ।

(৩) সাফাভী রাষ্ট্র হলো অত্যন্ত প্রভাবশালী প্রথম ইমামিয়া শিয়া রাষ্ট্র, কারণ পূর্ববর্তী শিয়া রাষ্ট্রগুলো ছিল হয় ফাতেমিদের মতো ইসমাইলি শিয়া অথবা যায়েদি শিয়া। পাঠক লক্ষ্য করবেন যে, সাফাভী রাষ্ট্রই প্রথম পারস্য শিয়া রাষ্ট্র যারা ফিলিস্তিন বিক্রির বিষয়ে একমত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
ذلك للعثمانيين (1)، لأن الدولة العثمانية كشفت المراسلات بين الدولة الصفوية والمماليك للتآمر لاحتلال مصر، فسارعت باحتلال مصر وقضت على المماليك رغم أن هذا الفتح لمصر هو أحد أسباب تأخير السلطان سليم عن القضاء على الشاه إسماعيل ودولته (2)، كما أن البرتغاليين سيطروا على البحر العربي والخليج العربي.

عاش الشاه إسماعيل في همدان ثم عاد إلى تبريز بعد وفاة السلطان العثماني سنة (926هـ/1520م) ولكنه هلك سنة (930هـ/1524م).

 

‌‌مستحدثات العصر الصفوي

استحدث الشاه إسماعيل بدعاً أصبحت من المسلّمات عند من بعده من الشيعة نذكر منها:

 

‌‌1 - السب المقترن بالاضطهاد الطائفي، فقد اتخذ من سبِّ الخلفاء الراشدين الثلاثة وسيلة لامتحان الإيرانيين، وأمر بأن يعلن السبّ في الشوارع والأسواق وعلى المنابر (3).

والسبّ والقذف

--------------------------------------------

(1) "قراءة جديدة في تاريخ العثمانيين" (ص63).

(2) "الشعوب الإسلامية" د. عبد العزيز سليمان نوار، دار النهضة العربية، 1991م.

(3) كل الشيعة اليوم، سواء في إيران والعراق ولبنان والبحرين والسعودية والكويت وباكستان، وغيرها من البلاد التي يتواجد فيه الشيعة ،كلهم يسبون ويولعون في سب الخلفاء الثلاثة وبقية الصحابة وأمهات المؤمنين. فإذا تمكنوا كما فعلوا في العراق فإنهم يجبرون من يعذبونهم من أهل السنة على السب، وهذا ما يفعل في الدوائر الأمنية في إيران مع سنة إيران، وفي العراق اليوم.

 

اعترف أحد الشيعة العلمانيين أن فيلق بدر من أوائل أيام سقوط بغداد كان يمسك طريق جنوب بغداد ويوقفون الركاب ويأمر ونهم بالبصق على صورة مرسومة لعلي بن أبي طالب ومن يبصق على الصورة يطلقون صراحه ومن يرفض يقتلونه ،حتى يشاعأن أهل السنة يبغضون أهل البيت والحمد كشفهم من هو من جلدتهم ،هذا هو المكر الإيراني الشيعي.
এটি ছিল উসমানীয়দের জন্য (১), কারণ উসমানীয় সালতানাত সফভীয় রাষ্ট্র এবং মামলুকদের মধ্যে মিশর দখলের ষড়যন্ত্রের চিঠিপত্র ফাঁস করে দিয়েছিল। ফলে তারা দ্রুত মিশর জয় করে এবং মামলুকদের নির্মূল করে, যদিও মিশরের এই বিজয় ছিল সুলতান সেলিমের শাহ ইসমাইল ও তার রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে বিলম্ব করার অন্যতম কারণ (২)। তদুপরি, পর্তুগিজরা আরব সাগর এবং আরব উপসাগরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

শাহ ইসমাইল হামাদানে বসবাস করতেন, তারপর উসমানীয় সুলতানের মৃত্যুর পর (৯২৬ হিজরি/১৫২০ খ্রিস্টাব্দ) তিনি তাবরিজে ফিরে আসেন। কিন্তু তিনি ৯৩০ হিজরি/১৫২৪ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

 

‌‌সফভীয় যুগের উদ্ভাবনসমূহ

শাহ ইসমাইল এমন কিছু বিদআত (নতুন রীতি) প্রবর্তন করেন যা তার পরবর্তী শিয়াদের কাছে অবিচ্ছেদ্য বিশ্বাসে পরিণত হয়, যার মধ্যে আমরা উল্লেখ করছি:

 

‌‌১ - সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের সাথে জড়িত গালিগালাজ। তিনি প্রথম তিন খুলাফায়ে রাশিদিনকে গালি দেওয়াকে ইরানিদের পরীক্ষা করার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেন এবং নির্দেশ দেন যেন রাস্তাঘাট, বাজার ও মিম্বরগুলোতে প্রকাশ্যে গালি দেওয়া হয় (৩)।

আর গালিগালাজ ও অপবাদ...

--------------------------------------------

(১) "উসমানীয়দের ইতিহাসে নতুন পাঠ" (পৃষ্ঠা ৬৩)।

(২) "ইসলামী জাতিসমূহ" ড. আব্দুল আজিজ সুলাইমান নাওয়ার, দারুন নাহদাহ আল-আরাবিয়া, ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ।

(৩) বর্তমানের সমস্ত শিয়া, চাই সে ইরান, ইরাক, লেবানন, বাহরাইন, সৌদি আরব, কুয়েত, পাকিস্তান বা অন্য যেকোনো দেশের হোক যেখানে শিয়ারা বিদ্যমান, তারা সবাই তিন খলিফা, অন্যান্য সাহাবী এবং উম্মাহাতুল মুমিনিনদের (মুমিনদের জননীগণ) গালি দেয় এবং গালি দিতে আসক্ত। যখন তারা ক্ষমতা লাভ করে, যেমনটি তারা ইরাকে করেছে, তখন তারা আহলে সুন্নাতের যাদের ওপর নির্যাতন চালায় তাদের গালি দিতে বাধ্য করে। ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোতে ইরানের সুন্নিদের সাথে এবং বর্তমানে ইরাকে এটিই করা হচ্ছে।

 

একজন ধর্মনিরপেক্ষ শিয়া স্বীকার করেছেন যে, বাগদাদের পতনের প্রথম দিনগুলোতে বদর বাহিনী দক্ষিণ বাগদাদের রাস্তা নিয়ন্ত্রণ করছিল। তারা যাত্রীদের থামিয়ে আলী ইবনে আবি তালিবের একটি আঁকা ছবির ওপর থুথু ফেলতে আদেশ করত। যারা ছবির ওপর থুথু ফেলত তাদের ছেড়ে দেওয়া হতো এবং যারা অস্বীকার করত তাদের হত্যা করা হতো, যাতে এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে আহলে সুন্নাতরা আহলে বাইতকে ঘৃণা করে। প্রশংসা আল্লাহর, তাদের নিজেদেরই একজন তাদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন; এটাই ইরানি শিয়াদের চক্রান্ত।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
موجود عند الشيعة قديماً وفي مؤلفاتهم، ولكنه لم يعلن بصورته البشعة وعلى المنابر إلا في العهد الصفوي.

 

‌‌2 - تنظيم الاحتفالات بذكرى مقتل الحسين رضي الله عنه سنوياً، وإظهار التطبير (ضرب الرؤوس حتى التدمية بآلة حادة وسكين كبير تسمى الطُبَر)، وضرب الظهور بالزناجيل (وهو الجنزير) حتى الاحمرار، واللطم على الوجوه والصدور، ولبس الأسود منذ بداية شهر محرم، وتبدأ هذه الفعاليات منذ الأول من محرم إلى اليوم العاشر منه يوم (عاشوراء)، وهو يوم مقتل الحسين، ويمنع الزواج في شهر محرم، وهذا الأمر كان قد استحدث بشكل خفيف في الفترة البويهية، ولكن الشاه إسماعيل طوره بهذا الشكل مع الأشعار البكائية التي تؤثر في النفوس كدعاية للتشيّع. ومنذ سنة (907 - 930هـ) ليومنا هذا والشيعة في إيران والعراق ولبنان وباكستان يعتبرون هذا من صُلب دينهم، وإذا ما أراد حاكم أو مسؤول منعهم قالوا: هذا يعادي التشيع. وهم يعلمون أولاً أن الشاه إسماعيل هو أول من أوجد هذه البدع لنشر التشيع.
এটি শিয়াদের নিকট প্রাচীনকাল থেকেই বিদ্যমান ছিল এবং তাদের রচনাসমূহেও পাওয়া যেত, তবে সাফাভী যুগে ছাড়া এটি তার বীভৎস রূপে এবং মিম্বরসমূহে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হতো না।

 

‌২. হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাতের স্মরণে বাৎসরিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা, এবং 'তাতবীর' (ধারালো অস্ত্র ও 'তুব্বার' নামক বড় ছুড়ি দিয়ে রক্তপাত ঘটানো পর্যন্ত মাথায় আঘাত করা) প্রদর্শন করা, পিঠে 'যানাজিল' (শিকল) দিয়ে লাল না হওয়া পর্যন্ত আঘাত করা, মুখমন্ডল ও বক্ষে চপেটাঘাত করা এবং মহররম মাসের শুরু থেকে কালো পোশাক পরিধান করা। এই কর্মকাণ্ডসমূহ পহেলা মহররম থেকে দশই মহররম পর্যন্ত অর্থাৎ আশুরার দিন পর্যন্ত চলতে থাকে, যা হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাতের দিন। মহররম মাসে বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়। এই বিষয়টি বুওয়াইহী যুগে সীমিত পরিসরে প্রবর্তিত হয়েছিল, কিন্তু শাহ ইসমাইল শিয়াবাদের প্রচার হিসেবে মানুষের হৃদয়ে রেখাপাত করে এমন বিলাপমূলক কবিতার মাধ্যমে একে বর্তমান রূপ দান করেন। ৯০৭-৯৩০ হিজরী থেকে আজ পর্যন্ত ইরান, ইরাক, লেবানন ও পাকিস্তানের শিয়ারা একে তাদের ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করে। যদি কোনো শাসক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি তাদের বাধা দিতে চান, তবে তারা বলে: "এটি শিয়াবাদের শত্রুতা করা"। অথচ তারা ভালো করেই জানে যে, শাহ ইসমাইলই শিয়াবাদ প্রচারের জন্য সর্বপ্রথম এই বিদআতগুলো প্রবর্তন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
ويذكر الدكتور علي الوردي - وهو شيعي -: أن الشاه إسماعيل اقتبس هذه المراسيم من النصارى حيث كانوا يقومون بطقوس دينية عن مصاب المسيح والحواريين، لذلك كان يدعو النصارى لحضور مواكب التعزية (1).

 

‌‌3 - وضع الشهادة الثالثة في الأذان: (أشهد أن علياً ولي الله)، وهذه البدعة وضعتها فرقة شيعية (2) في القرن الرابع للهجرة، ذكرهم عالم شيعي هو ابن بابويه القمي ولعنهم، وكذا حاربها أشهر علمائهم وهو الشيخ الطوسي في كتابه" النهايةفي مجرد الفقه والفتوى"، ولكن الشاه إسماعيل الصفوي أمر به ورفضه في وقته علماء الشيعة. ولم تدخل هذه البدعة في العراق حتى سنة (1870م)، أدخلها ناصر الدين شاه عندما زار النجف في زمن الوالي العثماني مدحت باشا (3)، ومنذ ذلك اليوم وإلى

--------------------------------------------

(1) "لمحات اجتماعية من تاريخ العراق" (1/ 51)، "هكذا تكلم علي شريعتي" لفاضل رسول.

(2) هي فرقة (المفوضة) وهي فرقة منحرفة كانت تقول: إن الله خلق روح علي رضي الله عنه وأولاده، وفوض العالم إليهم فخلقوا الأرض والسماوات. انظر: د. كامل الشيبي "الصلة بين التصوف والتشيع" (ص156)، وهذه الفرقة كانت الإمامية تحاربها افي القرن الرابع للهجرة عنما أضافت (أشهد أن علياً ولي الله)، للأذان فحارب ذلك علماء الشيعة كلهم، وقد كتب أحد الأفاضل علاء الدين البصير كتابا قيما سماه "الشهادة الثالثة في الأذان حقيقة أم افتراء"، مكتبة الرضوان، البحيرة، 2005م.

(3) علي الوردي، "لمحات اجتماعية" (2/ 159).
ডক্টর আলী আল-ওয়ারদি—যিনি একজন শিয়া—উল্লেখ করেছেন যে: শাহ ইসমাইল এই রীতিনীতিগুলো নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) থেকে গ্রহণ করেছেন, যেহেতু তারা মসীহ ও হাওয়ারীদের (শিষ্যদের) দুঃখ-দুর্দশা সম্পর্কে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করত। এ কারণে তিনি নাসারাদের শোক মিছিলে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানাতেন (১)।

 

‌‌৩ - আযানে তৃতীয় সাক্ষ্য সংযোজন: (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী আল্লাহর ওলী), এবং এই বিদআতটি হিজরি চতুর্থ শতাব্দীতে একটি শিয়া দল (২) উদ্ভাবন করেছিল; একজন শিয়া আলেম ইবনে বাবুওয়াইহ আল-কুম্মী তাদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাদের অভিশাপ দিয়েছেন। একইভাবে তাদের সবচেয়ে বিখ্যাত আলেম শেখ আল-তুসি তাঁর "আন-নিহায়া ফি মুজাররাদুল ফিকহ ওয়াল ফাতাওয়া" গ্রন্থে এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। কিন্তু শাহ ইসমাইল সফবি এটি প্রবর্তনের নির্দেশ দেন, যদিও তাঁর সমকালীন শিয়া আলেমরা এটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই বিদআতটি ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইরাকে প্রবেশ করেনি; নাসেরুদ্দিন শাহ যখন উসমানীয় গভর্নর মিদহাত পাশার সময়ে নাজাফ সফর করেন, তখন তিনি এটি সেখানে প্রবর্তন করেন (৩)। সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত...

--------------------------------------------

(১) "লামহাত ইজতিমায়িয়াহ মিন তারিখিল ইরাক" (১/ ৫১), ফাদিল রাসূল রচিত "হাকাজা তাকাল্লামা আলী শরীয়তি"।

(২) এটি হলো (মুফাওয়িদ্বাহ) দল; এটি একটি পথভ্রষ্ট দল যারা দাবি করত যে: আল্লাহ আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর সন্তানদের রূহ সৃষ্টি করেছেন এবং বিশ্বজগতকে তাঁদের কাছে অর্পণ করেছেন, ফলে তাঁরাই আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। দেখুন: ডক্টর কামিল আশ-শাইবি রচিত "আস-সিলাতু বাইনাস তাসাউউফ ওয়াত তাশাইয়ু" (পৃষ্ঠা ১৫৬)। এই দলটি যখন আযানে (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী আল্লাহর ওলী) বাক্যটি যোগ করেছিল, তখন চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে ইমামিয়া সম্প্রদায় তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল এবং শিয়া আলেমদের সকলেই এর বিরোধিতা করেছিলেন। জনৈক গুণী ব্যক্তি আলাউদ্দিন আল-বাসির একটি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম "আযানে তৃতীয় সাক্ষ্য: সত্য নাকি মিথ্যা", মাকতাবাতুর রেদওয়ান, আল-বুহাইরা, ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ।

(৩) আলী আল-ওয়ারদি, "লামহাত ইজতিমায়িয়াহ" (২/ ১৫৯)।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
يومنا هذا أصبح هذا الأذان من مسلّمات الشيعة في إيران والعراق ولبنان وجميع تواجد مساجد الشيعة في العالم، وسكت علماءهم وهم يعلمون حق العلم أن الأوائل لعنوا فاعليه وإنما فعله المفوضة الغلاة، وهكذا أصبحت أفكار الشيعة الغلاة المرفوضة هي شعائر مسلّم بها في عهد الشاه إسماعيل وأصبحت من مسلمات المذهب، وسكت على ذلك جميع المراجع الدينية، وجاءت الثورة الإسلامية في إيران فأحيت كل ما فعله الصفوييون.

 

‌‌4 - السجود على التربة الحسينية وهي قطعة من الطين يسجد عليها الشيعة بدل الأرض تسمّى "التربة الحسينية"، وأصبحت يومنا هذا جزءاً من دين الشيعة، وما هي إلا طريقة لتميّز الشيعة عن غيرهم، وقدأشاعها الشاه إسماعيل فأصبحت من مستلزمات المذهب الدينية.

‌‌5 - ضرورة الدفن في النجف، فقد كان يؤتى بالجثث متعفنة من إيران لبعد الطريق وصعوبة التنقّل من أجل الدفن في النجف، واشتغل لذلك تجار إيرانيين لنقل الجثث بعد تجفيفها وفصل العظام عن اللحم، ومثّل بالإنسان الشيعي ميتاً كي يوصل إلى مقبرة النجف بعد استحداث هذه البدعة، وإلى يومنا هذا سرت هذه البدعة حتى أصبحت من بدهيات شيعة العراق الدفن بالنجف.

‌‌6 - تغيير اتجاه القبلة في مساجد إيران باعتبار أنّ قبلة أهل السُنة
বর্তমানে এই আযান ইরান, ইরাক, লেবানন এবং বিশ্বের যেখানেই শিয়া মসজিদ রয়েছে সেখানে শিয়াদের স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তাদের আলেমগণ এ বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন অথচ তারা নিশ্চিতভাবেই জানেন যে, পূর্ববর্তীগণ এর কর্তাদের অভিশাপ দিয়েছেন এবং কেবল চরমপন্থী মুফাওওয়িযাহরাই এটি করত। এভাবেই শিয়া চরমপন্থীদের প্রত্যাখ্যাত ধ্যান-ধারণাগুলো শাহ ইসমাইলের যুগে স্বীকৃত ধর্মীয় আচারে পরিণত হয় এবং মাযহাবের অবিচ্ছেদ্য বিষয়ে পরিণত হয়। সমস্ত ধর্মীয় মারজা এ ব্যাপারে নীরবতা পালন করেন। অতঃপর ইরানে ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পর তা সাফাভীদের করা সমস্ত কিছুকে পুনরুজ্জীবিত করে।

 

‌‌৪ - তুরবাতুল হুসাইনিয়ার উপর সিজদা করা: এটি মাটির একটি টুকরো যার ওপর শিয়ারা মাটির পরিবর্তে সিজদা করে, একে "তুরবাতুল হুসাইনিয়া" বলা হয়। বর্তমানে এটি শিয়া ধর্মের একটি অংশে পরিণত হয়েছে এবং এটি শিয়াদের অন্যদের থেকে আলাদা করার একটি পদ্ধতি ছাড়া আর কিছুই নয়। শাহ ইসমাইল এটি প্রচার করেছিলেন এবং পরবর্তীতে এটি মাযহাবের ধর্মীয় আবশ্যিকতায় পরিণত হয়।

‌‌৫ - নাজাফে দাফন করার আবশ্যকতা: পথ দীর্ঘ হওয়া এবং যাতায়াত কষ্টসাধ্য হওয়ার কারণে ইরান থেকে মৃতদেহগুলো পচে যাওয়া অবস্থায় নাজাফে দাফন করার জন্য আনা হতো। এ কারণে ইরানি ব্যবসায়ীরা মৃতদেহ শুকিয়ে মাংস থেকে হাড় আলাদা করে পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ছিল। এই বিদআতটি উদ্ভাবনের পর শিয়া ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় বিকৃত করা হতো যাতে তাকে নাজাফের গোরস্থানে পৌঁছানো যায়। আজ পর্যন্ত এই বিদআতটি এমনভাবে প্রচলিত রয়েছে যে ইরাকের শিয়াদের কাছে নাজাফে দাফন করা একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

‌‌৬ - ইরানের মসজিদগুলোতে কিবলার দিক পরিবর্তন: এই বিবেচনায় যে আহলে সুন্নাতের কিবলা...
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
خاطئة، ومن ثم أصبح الشيعة -وإلى يومنا هذا- يصلّون منحرفين عن القبلة الأصلية لأهل السُنة.

 

‌‌7 - أجاز علماءهم السجود للإنسان وهذه ابتدعها الشاه إسماعيل للقزلباشية، فقد كان يسجد له، واليوم يكرّم السادة والعلماء بشكل مغال فيه، وأما السجود فقد انتشر بين شيعة البهرة "الإسماعيلية"، ولكن كل الشيعة يسجدون للقبور ولو بخلاف القبلة، بدعوى أنه سجود تكبير.

‌‌8 - إجراء مرتبات ضخمة لعلماء الدين الشيعة ومنحهم إقطاعات وقرى زراعية وأوقاف خاصة، كي يستطيعوا أن يفتوا للسلطان ما يشاء.

وهكذا برزت فكرة جمع المال للعلماء، وعلماء الحوزة اليوم كلهم من أغنى الناس، فمؤسسة الخوئي في لندن تملك الملايين من الدولارات وقيل أكثر، وهذا الخميني عندما كان بالعراق كانت ثروته هائلة جداً، حتى إنه عندما رحل من العراق إلى فرنسا للإقامة حول مبالغ طائلة، واليوم يمتلك الحكيم "عبد العزيز" ومقتدى وغيرهم الملايين، وهذه بدعة فارسية أشار لها شاعر الشيعة أحمد الصافي النجفي عندما أحس بثراء علماء الدين الشيعة فقال:

عجبت لقوم شحذهم باسم دينهم … ... وكيف يسوغ الشحذ للرجل الشهم

لئن كان تحصيل العلوم مسوِّغاً … ... لذاك فإن الجهل خير من العلم
ভুল, এবং এর ফলে শিয়ারা—আজ অবধি—আহলে সুন্নাতের মূল কিবলার দিক থেকে বিচ্যুত হয়ে সালাত আদায় করে আসছে।

 

‌‌৭ - তাদের আলেমগণ মানুষকে সাজদাহ করা বৈধ করেছেন এবং এটি শাহ ইসমাইল কিজিলবাশদের জন্য উদ্ভাবন করেছিলেন, কারণ তাকে সাজদাহ করা হতো। আজ সৈয়দ এবং আলেমদের অতিমাত্রায় সম্মান করা হয়; আর সাজদাহর বিষয়টি বোহরা শিয়াদের "ইসমাইলিয়াদের" মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, তবে সকল শিয়াই কবরের সামনে সাজদাহ করে, এমনকি কিবলার বিপরীত দিকে হলেও, এই দাবিতে যে এটি 'তাকবিরের সাজদাহ' (সম্মানসূচক সাজদাহ)।

‌‌৮ - শিয়া ধর্মীয় আলেমদের জন্য বিশাল অংকের বেতন নির্ধারণ এবং তাদের জায়গির, কৃষিগ্রাম ও বিশেষ ওয়াকফ প্রদান করা, যাতে তারা সুলতানের ইচ্ছা অনুযায়ী ফতোয়া দিতে পারে।

এভাবেই আলেমদের জন্য অর্থ সংগ্রহের ধারণাটি প্রকাশ পায়, এবং বর্তমান সময়ের হাওজা-এর আলেমগণ সবাই অত্যন্ত ধনী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। লন্ডনের খোয়ী ফাউন্ডেশন লক্ষ লক্ষ ডলারের মালিক এবং বলা হয় এর চেয়েও বেশি। আর এই খোমেনী যখন ইরাকে ছিলেন, তখন তাঁর সম্পদ ছিল বিশাল, এমনকি তিনি যখন ইরাক থেকে ফ্রান্সে বসবাসের জন্য যান, তখন তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করেছিলেন। বর্তমানে আব্দুল আজিজ হাকিম, মুকতাদা এবং অন্যরা লক্ষ লক্ষ ডলারের মালিক। এটি একটি পারস্যীয় বিদআত, যার দিকে শিয়া কবি আহমদ আস-সাফি আন-নাজাফি ইঙ্গিত করেছেন যখন তিনি শিয়া ধর্মীয় আলেমদের অগাধ সম্পদের প্রাচুর্য অনুভব করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন:

আমি সেই সম্প্রদায়ের জন্য বিস্মিত যারা তাদের দ্বীনের নামে ভিক্ষাবৃত্তি করে … ... একজন আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তির জন্য ভিক্ষাবৃত্তি কীভাবে বৈধ হতে পারে?

যদি জ্ঞান অর্জনই এর অজুহাত হয় … ... তবে এমন জ্ঞানের চেয়ে মূর্খতাই শ্রেয়।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
لئن أوجب الله الزكاة فلم تكن … لتعطى بذل بل لتؤخذ بالرغم

أتانا بها أبناء ساسان (1) حرفة … ولم تكن في أبناء يعرب من قدم

 

وهكذا استطاع الشاه إسماعيل جعل إثراء العلماء ديناً بعد أن كنا نقرأ عن زهد علي رضي الله عنه وآل البيت، فاليوم أصبح أغنى الناس السادة (2).

هذه بعض مستجدات ومستحدثات الشاه إسماعيل، وللمزيد راجع بعض المراجع لذلك (3).

وصدق المستشرق دوايت رونلدسن في كتابه المعروف "عقيدة الشيعة" (58) والذي عاش في إيران (16) سنة حين يقول: بتلازم عقائد الغلو والتكفير مع العصر الصفوي

--------------------------------------------

(1) يقصد أبناء الفرس نسبة على الدولة الساسانية، فها هو الشاعر يعرف أنها بدعة فارسية إيرانية صفوية.

(2) مصطلح يطلقه الشيعة على من ينتمي لآل البيت.

(3) انظر: علي الوردي، "لمحات اجتماعية، الجابري، علي حسين: "الفكر السلفي عند الشيعة الاثنى عشرية"، عويدات، 1977. بهرام، جوبينة: "المتآمرون" كتاب إيراني مترجم، 1981. فيشر، مايكل: "إيران من الصراع الديني إلى الثورة"، جامعة هارفارد، أمريكا، 1980. بروكلمان: "تاريخ الشعوب الإسلامية".
আল্লাহ যদি যাকাত ফরয করে থাকেন, তবে তা হীনম্মন্যতার সাথে প্রদানের জন্য নয়, বরং তা অনিচ্ছা সত্ত্বেও আদায়ের জন্য নির্ধারিত হয়েছিল …

সাসানের বংশধরেরা (১) একে একটি পেশা হিসেবে আমাদের নিকট নিয়ে এসেছে … অথচ প্রাচীনকালে ইয়াকরুবের বংশধরদের (আরবদের) মধ্যে এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না।

 

এভাবেই শাহ ইসমাইল আলেমদের ধন-সম্পদে সমৃদ্ধ করাকে একটি ধর্মে পরিণত করতে সক্ষম হন, যেখানে ইতিপূর্বে আমরা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং আহলে বাইতের দুনিয়াবিমুখতা ও কৃচ্ছ্রসাধন সম্পর্কে পড়তাম; অথচ আজ 'সায়্যিদ'রাই (২) সর্বাধিক ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছে।

এগুলো শাহ ইসমাইলের প্রবর্তিত কিছু নতুন বিষয় ও উদ্ভাবন; এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্যসূত্র দেখে নিন (৩)।

প্রাচ্যবিদ ডুইট রোনাল্ডসন তার সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ "আকিদাতুশ শিয়া" (৫৮)-তে সত্যই বলেছেন—যিনি ইরানে ১৬ বছর বসবাস করেছিলেন—তিনি বলেন: চরমপন্থা ও তাকফিরি আকিদার সাথে সফবীয় যুগের এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এর দ্বারা সাসানীয় সাম্রাজ্যের নিসবতে পারস্য সন্তানদের বোঝানো হয়েছে। এখানে কবি স্পষ্ট করছেন যে, এটি একটি পারস্য-ইরানি সফবীয় নবউদ্ভাবন বা বিদআত।

(২) শিয়াদের ব্যবহৃত একটি পরিভাষা, যা তারা আহলে বাইতের বংশধরদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকে।

(৩) দেখুন: আলী আল-ওয়ার্দি, "লামহাত ইজতিমায়িয়া"; আল-জাবেরি, আলী হুসাইন: "আল-ফিকরুস সালাফি ইনদাশ শিয়াতিল ইসনা আশারিয়া", উইদাত, ১৯৭৭; বাহরাম, জুবাইনা: "আল-মুতাআমিরুন" (অনূদিত ইরানি গ্রন্থ), ১৯৮১; ফিশার, মাইকেল: "ইরান ফ্রম রিলিজিয়াস ডিসপিউট টু রেভোল্যুশন", হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, আমেরিকা, ১৯৮০; ব্রোকলম্যান: "তারীখুশ শুউবিল ইসলামিয়া" (ইসলামী জাতিসমূহের ইতিহাস)।
(খণ্ড: ১) আওদাতুস সাফাভিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌عصر ابنه الشاه طهماسب

تولى العرش الصفوي بعد وفاة أبيه وعمره (11سنة) وذلك سنة (930هـ/1524م)، لذلك فإنّ القزلباشية هم من حكم الدولة.

استغل الأوزبكيون "السُنة" ذلك وهجموا على خراسان واستولوا عليها سنة (933هـ) وهزمت قواد طهماسب، ولكنه سنة (935هـ) استطاع أن يعيدها.

وأقام الشاه طهماسب حلفاً (إيرانياً-أوروبياً)، ضد العثمانيين، فأرسل السفراء إلى ملك المجر، وإمبراطور النمسا (شارل السابع)، وهذا الحلف الدافع له هو ظهور السلطان سليمان القانوني سنة (1525م) ويومها ذعر البلاط الإيراني للدولة الصفوية وبدأ بتحريض الشيعة في بلاد تركيا ضد الدولة العثمانية.

وفعلاً تمّ ذلك، ففي سنة (1526م) في منطقة يوزغاد قام الشيعي "بابا ذو النون" بتمرد من (3 - 4) آلاف شيعي ، وسيطر على المنطقة وفرض الجزية وهزم بعض القواد العثمانيين إلى أن قمعها السلطان سليمان ودمر التمرد (1).

وأكبر من ذلك تمرد في منطقة (قونية) "مرعش" جنوب تركيا

--------------------------------------------

(1) مدينة "بوزغاد" وتسمى الآن "بوزغات" شرقي العاصمة أنقرة.
তাঁর পুত্র শাহ তাহমাস্পের যুগ

পিতার মৃত্যুর পর ৯৩০ হিজরি/১৫২৪ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি সফবীয় সিংহাসনে আরোহণ করেন। এই কারণে মূলত কিজিলবাশরাই তখন রাষ্ট্র পরিচালনা করত।

"সুন্নি" উজবেকরা এই পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করে এবং খুরাসান আক্রমণ করে ৯৩৩ হিজরিতে তা দখল করে নেয়। এতে তাহমাস্পের সেনাপতিরা পরাজিত হন, তবে ৯৩৫ হিজরিতে তিনি তা পুনরায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

শাহ তাহমাস্প উসমানীয়দের বিরুদ্ধে একটি (ইরানি-ইউরোপীয়) জোট গঠন করেন। এজন্য তিনি হাঙ্গেরির রাজা এবং অস্ট্রিয়ার সম্রাট (সপ্তম চার্লস)-এর নিকট দূত প্রেরণ করেন। এই জোট গঠনের মূল চালিকাশক্তি ছিল ১৫২৫ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সুলাইমান আল-কানুনির উত্থান। সেই সময় সফবীয় রাষ্ট্রের ইরানি রাজদরবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং তারা তুরস্কের অভ্যন্তরে শিয়াদের উসমানীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উসকে দিতে শুরু করে।

বাস্তবেও তাই হয়েছিল; ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে ইউজগাদ অঞ্চলে শিয়া নেতা "বাবা জুন-নুন" তিন থেকে চার হাজার শিয়া নিয়ে একটি বিদ্রোহ সংঘটিত করেন। তিনি ঐ অঞ্চলটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জিজিয়া কর আরোপ করেন এবং কিছু উসমানীয় সেনাপতিকে পরাজিত করেন। অবশেষে সুলতান সুলাইমান এই বিদ্রোহ দমন ও নির্মূল করেন (১)।

এর চেয়েও বড় আকারের বিদ্রোহ হয়েছিল দক্ষিণ তুরস্কের (কোনিয়া) "মারআশ" অঞ্চলে।

--------------------------------------------

(১) "বুজগাদ" শহর, যা বর্তমানে রাজধানী আঙ্কারার পূর্বে অবস্থিত এবং "ইউজগত" নামে পরিচিত।