(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: -)
الرد على النحاة القسم: النحو والصرف
الكتاب: الرّد عَلى النّحاة
المؤلف: أحمد بن عبد الرحمن بن محمد، ابن مَضَاء، ابن عمير اللخمي القرطبي، أبو العباس (ت 592هـ)
دراسة وتحقيق: الدكتور محمد إبراهيم البنا
الناشر: دار الاعتصام
الطبعة: الأولى، 1399 هـ - 1979 م
عدد الصفحات: 139
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432
ব্যাকরণবিদদের খণ্ডন (আর-রাদ্দ আলা আন-নুহাত) বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: আর-রাদ্দ আলা আন-নুহাত
লেখক: আহমাদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ, ইবনে মাদা, ইবনে উমাইর আল-লাখমি আল-কুরতুবি, আবু আল-আব্বাস (মৃ. ৫৯২ হি.)
গবেষণা ও সম্পাদনা (تحقيق): ডক্টর মুহাম্মাদ ইব্রাহিম আল-বান্না
প্রকাশক: দারুল ইতিসাম
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯৯ হি. - ১৯৭৯ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৬১)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال الشيخ الفقيه القاضي الأعدل، العالم الناصر المحقِّق الأحفل، أبو العباس احمد بن عبد الرحمن بن مَضاء اللخمي، أدام الله بركته، ونوَّر بنور الإيمان خَلَده، وفسح أجله، ونفعه بالعلم الذي حمله:
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।
সুবিজ্ঞ শায়খ, ফকিহ, পরম ন্যায়পরায়ণ বিচারক, বিদগ্ধ আলেম, সত্যের সাহায্যকারী, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক ও মহৎ ব্যক্তিত্ব আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মাদা আল-লাখমি (আল্লাহ তাঁর বরকত দীর্ঘস্থায়ী করুন, তাঁর অন্তরকে ঈমানের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত করুন, তাঁর আয়ু বৃদ্ধি করুন এবং তিনি যে জ্ঞান বহন করেছেন তা দ্বারা তাঁকে উপকৃত করুন) বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
الحمد لله على ما منَّ به من الإيمان، والعلم باللسان، الذي نزل به القرآن، والصلاة على نبيه الداعي إلى دار الرضوان، وعلى اله وصحبه والتابعين له بإحسان. وأسأل الله الرضا عن الإمام المعصوم، المهديّ المعلوم، وعن خليفتيه: سيدَيْنا أميرَي المؤمنين، الوارثَيْن مقامه العظيم. وأَصِلُ الدعاء لسيدنا أمير المؤمنين ابن أمير المؤمنين، مبُلْغِ مقاصدهم العليَّة إلى غاية التكميل والتَّتميم.
أما بعد فإنه حملني على هذا المكتوب قولُ الرسول صلى الله عليه وسلم: الدين النصيحة، وقوله: من قال في كتاب الله برأيه فأصاب، فقد أخطأ، وقوله: من قال في كتاب الله بغير علم فليتبوَّأ مقعده من النار، وقوله: من رأى منكم منكراً فلْيُغَيِّره بيده، فإن لم
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তিনি যে ঈমান এবং সেই ভাষার জ্ঞান দান করেছেন যার মাধ্যমে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবীর প্রতি, যিনি জান্নাতের দিকে আহ্বানকারী; এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের (التابعين) প্রতি। আমি মহান আল্লাহর কাছে সেই নিষ্পাপ ইমাম ও সুপরিচিত মাহদীর জন্য এবং তাঁর পরবর্তী দুই খলিফার জন্য সন্তুষ্টি প্রার্থনা করছি; যাঁরা আমাদের দুই নেতা ও আমীরুল মুমিনীন এবং তাঁর মহান মর্যাদার উত্তরাধিকারী। আমি আমার দোয়াকে আমাদের নেতা ও আমীরুল মুমিনীন ইবনুল আমীরুল মুমিনীনের জন্যও সম্প্রসারিত করছি, যিনি তাঁদের সুউচ্চ লক্ষ্যসমূহকে পরিপূর্ণতা ও পূর্ণাঙ্গতার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন।
অতঃপর, এই লেখাটি প্রস্তুত করতে আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটি উদ্বুদ্ধ করেছে: "দ্বীন হলো নসিহত।" এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে নিজের মতামত অনুযায়ী কিছু বলল এবং তা সঠিকও হলো, তবুও সে ভুল করল।" এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি জ্ঞান ছাড়া আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে কোনো কথা বলল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এবং তাঁর বাণী: "তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো মন্দ কাজ (منكر) দেখবে, সে যেন তা নিজ হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়; আর যদি...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
يستطع فبلسانه، فإن لم يستطع فبقلبه.
وعلى الناظر في هذا الكتاب من أهل هذا الشأن إن كان ممن يَحتاطُ لدينه، ويجعل العلمَ مُزْلفاً له من ربه، أنْ ينظر، فإن تبيَّن له ما نُبيَّنه رجع إليه، وشكر الله عليه، وان لم يتبين له فليتوقف توقُّف الورع عند الأشكال، وان ظهر له خلافة فليبيَّنْ ما ظهر له بقولٍ أو بكتابة.
واني رأيت النحويين - رحمة الله عليهم - قد وضعوا صناعة النحو لحفظ كلام العرب من اللحن، وصيانته عن التغيير، فبلغوا من ذلك إلى الغاية التي أمُّوا، وانتهوا إلى المطلوب الذي ابتغوا، إلا أنهم التزموا ما لا يلزمهم، وتجاوزوا فيها القدر الكافي فيما أوردوه منها، فتوعَّرت مسالكُها، ووهَنَتْ مبانيها، وانحطَّت عن رُتْبَة الإقناع حججُها، حتى قال شاعر فيها:
ترنو بطرفٍ ساحرٍ فاترٍ
… اضعفَ من حُجَّةِ نحويّ
على أنها إذا أخذت المأخذ المبرَّأ من الفضول، المجرَّد عن المحاكاة والتخييل، كانت من أوضح العلوم برهاناً، وأرجح المعارف عند الامتحان ميزاناً، ولم تشتمل إلا على يقين أو ما قاربه من الظنون.
ومثل هذا المكتوب وكتب النحويين، كمَثَل رجال، ذوي أموال، عندهم الياقوت الرائق، والزبرجد الفائق، والذهب الإبريز، والورق
(যদি না পারে) তবে তার জিহ্বা দ্বারা, আর যদি তাও না পারে তবে তার অন্তর দ্বারা।
আর এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের মধ্য থেকে যিনি এই কিতাবটি পাঠ করবেন, তিনি যদি এমন ব্যক্তি হন যিনি নিজের দীনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং ইলমকে তার রবের নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম মনে করেন, তবে তার কর্তব্য হলো বিষয়টি লক্ষ্য করা। অতঃপর আমরা যা স্পষ্ট করেছি তা যদি তার নিকট প্রতীয়মান হয়, তবে যেন তিনি তা গ্রহণ করেন এবং এর জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। আর যদি তা তার নিকট স্পষ্ট না হয়, তবে সংশয়ের ক্ষেত্রে যেন তিনি পরহেজগার ব্যক্তির ন্যায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকেন (توقف)। আর যদি এর বিপরীত কিছু তার নিকট প্রকাশ পায়, তবে তার নিকট যা প্রতিভাত হয়েছে তা যেন তিনি বক্তব্য বা লেখনীর মাধ্যমে স্পষ্ট করেন।
আমি লক্ষ্য করেছি যে নাহুবিদগণ—আল্লাহ তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—আরবি ভাষাকে ভুল (لحن) থেকে রক্ষা করতে এবং একে পরিবর্তন থেকে হিফাজত করতে নাহু শাস্ত্রটি প্রণয়ন করেছেন। তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছেছেন এবং উদ্দিষ্ট গন্তব্যে উপনীত হয়েছেন। তবে তারা এমন কিছু বিষয়ের বাধ্যবাধকতাারোপ করেছেন যা আবশ্যক ছিল না এবং তারা তাদের উপস্থাপনায় পর্যাপ্ত সীমার অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করেছেন। ফলে এর পথগুলো দুর্গম হয়ে পড়েছে, এর ভিত্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এর দলিল-প্রমাণগুলো সন্তোষজনক পর্যায় থেকে নিচে নেমে গেছে। এমনকি জনৈক কবি এ সম্পর্কে বলেছেন:
সে এক মায়াবী ও অলস দৃষ্টিতে তাকায়
… যা একজন নাহুবিদের দলিলের চেয়েও দুর্বল।
অথচ এই শাস্ত্রটিকে যদি অনর্থক বিষয়াদি হতে মুক্ত এবং নিছক অনুকরণ ও কল্পনা বিবর্জিত পন্থায় গ্রহণ করা হতো, তবে এটি অকাট্য প্রমাণের দিক থেকে স্পষ্টতম জ্ঞান এবং পরীক্ষার মানদণ্ডে সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যায় পরিণত হতো। আর এটি সুনিশ্চিত জ্ঞান (يقين) অথবা এর নিকটবর্তী প্রবল ধারণা (ظن) ব্যতীত অন্য কিছুর অন্তর্ভুক্ত হতো না।
আর এই লেখনী এবং ব্যাকরণবিদদের কিতাবসমূহের উদাহরণ হলো এমন কিছু বিত্তশালী ব্যক্তির মতো, যাদের নিকট রয়েছে স্বচ্ছ ইয়াকুত পাথর, উৎকৃষ্ট জাবারজাদ, বিশুদ্ধ স্বর্ণ এবং রৌপ্য।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
التي برَّزت في الخلوص كل التبريز، وقد خالطها من الزجاج الذي صُفِّى حتى ظُنَّ زَبرجداً، والنحاس الذي عولج حتى حُسِبَ عسجداً، ما هو أبهى منظراً، وأعظم من مرأى العين خطراً، وأكثر عِدَّة، واجدّ جِدَّة، حتى صاروا بها ألْهَج، وظنُّوا أنهم إليها أَحْوَج، فأتاح الله لهم رجلاً ناصحاً، وناقداً بصيراً، فأظهروه على ما لديهم من تلك الذخائر النفيسة المونقة، فقال لهم: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الدين النصيحة، وأنا أنصحكم لا للاقتناء ولا للاكتساب، ولكن لابتغاء الأجر من الله والثواب، هذا الذي اتخذتموه عُدَّة الدهر، وظننتموه أماناً من الفقر، بعضه مال، وبعضه لَمْعُ آل، والياقوت يُختبَر بالنار، فيزيد حُسناً بالاختبار، والزجاج لا يثبُت للنار ولا يصبر عليها، والزبرجد يُذيب أعيُن الأفاعي إذ أُدْنِيَ إليها. وطَفِقَ يأخذ معهم في هذه الأساليب، ويأتيهم فيها باذلاً جهده، ومستنفراً جنده، بالغرائب والأعاجيب، ليوقع لهم اليقين، بما يصدق منها لدى الابتلاء وما يمين، فبعضهم أثنى وشكر، وأْتَمَرَ لما أمر، واستبدل بما يَعُرّ ويضُرّ ما ينفع لدى اللَّزَيات ويسرّ، وبعضهم تهاون بمقاله، واستمر على حاله، فعجمهم الزمان عَجْمة، وضَغَمتهم الحوادث ضَغْمة، وأصابت مدينتهم أزمة، فمن حزم، وعمل منهم بما علم، تخلص منها تخلُّص الشهاب من الظلماء، ومن أعرض عنه، وأنف منه، هلك هلاك العَجْماء في الفَيْفاء، عند عدم الرعْي والماء.
যা বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত উৎকর্ষ অর্জন করেছে; অথচ তার সাথে মিশে আছে এমন সব কাঁচ, যা এতোটাই পরিশোধিত যে একে পান্না বলে ভ্রম হয়, আর এমন তামা যা এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে যে একে খাঁটি সোনা মনে করা হয়। এগুলো দেখতে অত্যন্ত মনোরম, চোখের দৃষ্টিতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়, সংখ্যায় অধিক এবং অভিনবত্বে ভরপুর। এমনকি মানুষ এসবে আসক্ত হয়ে পড়েছে এবং ধারণা করেছে যে এগুলোর প্রতিই তারা অধিক মুখাপেক্ষী। অতঃপর আল্লাহ তাদের জন্য একজন হিতাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি এবং একজন দূরদর্শী সমালোচক (ناقد) প্রদান করলেন। তারা তাদের কাছে গচ্ছিত সেই সব বহুমূল্য ও মনোরম সম্পদরাজি তাঁর সম্মুখে পেশ করল। তিনি তাদের বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা (النصيحة)"। আমি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি কোনো সংগ্রহ বা উপার্জনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং আল্লাহর নিকট থেকে সওয়াব ও প্রতিদান প্রত্যাশার নিমিত্তে। তোমরা যাকে দীর্ঘকালের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং দারিদ্র্য থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে গণ্য করেছ, তার কিছু অংশ সম্পদ আর কিছু অংশ মরীচিকা মাত্র। ইয়াকুত পাথর আগুনের মাধ্যমে পরীক্ষিত হয়, ফলে পরীক্ষার দ্বারা এর সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পায়; কিন্তু কাঁচ আগুনের সামনে টিকতে পারে না এবং তার তাপ সহ্য করতে পারে না। আর জাবরজাদ সাপের চোখের সামনে আনা হলে তা বিগলিত হয়ে যায়। তিনি তাদের সাথে এ সকল পদ্ধতি অবলম্বন করতে লাগলেন এবং তাদের কাছে অদ্ভুত ও বিস্ময়কর সব দৃষ্টান্ত নিয়ে আসলেন, যেন পরীক্ষার সময় কোনগুলো সত্য এবং কোনগুলো মিথ্যা, সে বিষয়ে তাদের মনে দৃঢ় বিশ্বাস (يقين) জন্মে। ফলে তাদের কেউ কেউ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল এবং তাঁর নির্দেশ মেনে নিল। তারা সংকটের সময় যা ক্ষতিকর, তার পরিবর্তে কল্যাণকর ও আনন্দদায়ক বিষয়কে গ্রহণ করল। আর কেউ কেউ তাঁর কথাকে অবজ্ঞা করল এবং নিজেদের পূর্বাবস্থায় অটল থাকল। ফলে কালচক্র তাদের কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করল এবং বিপদাপদ তাদের গ্রাস করল। তাদের জনপদ সংকটের কবলে পড়ল। অতঃপর তাদের মধ্যে যারা বিচক্ষণ ছিল এবং যা জেনেছিল সে অনুযায়ী আমল করেছিল, তারা অন্ধকার থেকে উল্কাপিন্ডের মতো বেরিয়ে এসে মুক্তি পেল। আর যারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল এবং অহংকার করেছিল, তারা তৃণলতা ও পানিশূন্য প্রান্তরে চতুষ্পদ জন্তুর মতো ধ্বংস হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
وكذلك من أخذ من علم النحو ما يوصله إلى الغاية المطلوبة منه، واستعاض من
تلك الظنون - التي ليست كظنون الفقه، التي نصبها الشارع صلى الله عليه وسلم إمارةً للأحكام، ولا كظنون الطب التي جُرِّبت، وهي في الغالب نافعة، في الأمراض والآلام - العلوم الدينية، السمعيَّة منها والنظريَّة، التي هي الجُنَّة، والهادية إلى الجَنَّة، فقد نفعه الله بالتعليم، وهداه إلى صراط مستقيم. وأما من اقتصر كل الاقتصار على المعارف التي لا تدعو إلى جنة، ولا تزجر عن نار، كاللغات والأشعار، ودقائق عِلَل النحو ومسلِّيات الإخبار، فقد أساء الاختيار، واستحبَّ العمى على الإبصار:
وما انتفاعُ أخي الدنيا بناظره
… إذا استوت عندهُ الأنوارُ والظُّلَمُ
ولعل قائلا يقول: أيها الأندلسي المسرور بالإجراء بالخلاء، المضاهي بنفسه الحَفِيَّ ذكاءً وأيّ ذكاء، أتزاحم بغير عَوْد وتكاثر بِرَذاذك الجَوْد:
একইভাবে, যে ব্যক্তি ব্যাকরণ শাস্ত্র থেকে ততটুকুই গ্রহণ করে যা তাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয় এবং ঐ সকল ধারণার পরিবর্তে—যা ফিকহ-এর ধারণার মতো নয় যেগুলোকে শরীয়ত প্রণেতা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিধানের নির্দেশক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, আর না চিকিৎসার ধারণার মতো যা পরীক্ষিত এবং রোগ ও ব্যথার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়েই উপকারী—দ্বীনী ইলমসমূহ অর্জন করে, যার মধ্যে শ্রুতিনির্ভর (سمعية) এবং বুদ্ধিনির্ভর (نظرية) উভয় প্রকার জ্ঞান রয়েছে এবং যা মূলত একটি ঢাল ও জান্নাতের পথপ্রদর্শক, আল্লাহ তাকে শিক্ষার মাধ্যমে উপকৃত করেছেন এবং তাকে সরল পথের দিশা দিয়েছেন।
পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি নিজেকে কেবল সেই সকল জ্ঞানের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখে যা জান্নাতের দিকে আহ্বান করে না এবং জাহান্নাম থেকে সতর্ক করে না, যেমন ভাষাতত্ত্ব, কাব্য সাহিত্য, ব্যাকরণের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل) এবং চিত্তবিনোদনের খবরসমূহ; তবে সে ভুল পথ বেছে নিয়েছে এবং দর্শনের পরিবর্তে অন্ধত্বকেই পছন্দ করে নিয়েছে:
দুনিয়াদার ব্যক্তির চোখের দৃষ্টির কী উপযোগিতা … যখন তার কাছে আলো ও অন্ধকার সমান হয়ে যায়?
হয়তো কোনো বক্তা বলতে পারেন: হে আন্দালুসী! জনশূন্য প্রান্তরে অবাধ বিচরণে আনন্দিত ব্যক্তি, যে কি না বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতায় নিজেকে তীক্ষ্ণধী ব্যক্তিদের সমতুল্য মনে করে—আর তা কতই না অদ্ভুত বুদ্ধি! তুমি কি কোনো শক্তিশালী ভিত্তি ছাড়াই বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছ এবং তোমার সামান্য জলকণা দিয়ে প্রবল বর্ষণের সাথে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই করছ?
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
وابنُ اللَّبونِِ إذا مالُزَّ في قَرَنٍ
… لم يستطع صَوْلَةَ الُبزْلِ القناعيس
هل أنت إلا كما قيل:
كناطحٍ صخرةً يوماً ليفلقَها
… فلمْ يضرْها وأوهى قرنَهُ الوعِلُ
أتُزرِي بنحويِّ العراق، وفضل العراق على الأفاق، كفضل الشمس في الإشراق، على الهلال في المَحاق؟ وإنك أخْمَل من بَقَّة في شَقَّة، وأخْفَي من تبنه في لَبِنَة:
لو كان يَخْفَى على الرحمن خافيةٌ
… من خَلقِه خفيت عنه بنو أسدِ
فيقال له: إن كنت أعمي لا تنهض إلا بقائد، ولا تعر الزائف من الخالص إلا بناقد، فليس هذا بعشِّك فادرجي:
আর দুই বছর বয়সী উটকে (ইবনুল লাবুন) যখন শক্তিশালী উটগুলোর সাথে একই রশিতে বাঁধা হয়
… তখন সে বড় ও শক্তিশালী উটগুলোর আক্রমণ বা শক্তিমত্তার মোকাবিলা করতে পারে না।
আপনার অবস্থা কি ঠিক তেমনই নয় যা বলা হয়েছে:
সেদিনকার সেই পাহাড়ী ছাগলের মতো, যে কোনো এক পাহাড়ের গায়ে মাথা দিয়ে আঘাত করেছিল তা চূর্ণ করার জন্য
… কিন্তু সে পাহাড়ের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি, বরং নিজের শিংটিকেই দুর্বল করে ফেলেছে।
আপনি কি ইরাকের ব্যাকরণবিদের নিন্দা করছেন? অথচ দিগন্ত জুড়ে ইরাকের শ্রেষ্ঠত্ব হলো উদীয়মান সূর্যের শ্রেষ্ঠত্বের ন্যায়, যা অমাবস্যার ম্লান চাঁদের ওপর প্রতিফলিত হয়। আর আপনি তো কাপড়ের ভাঁজে থাকা মশার চেয়েও তুচ্ছ এবং মাটির ইঁটের ভেতরে থাকা খড়কুটোর চেয়েও বেশি প্রচ্ছন্ন:
পরম করুণাময়ের কাছে যদি তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছু গোপন থাকত
… তবে বনু আসাদ গোত্রটি অবশ্যই তাঁর দৃষ্টি থেকে গোপন থাকত।
তাই তাকে বলা হয়: আপনি যদি অন্ধ হন এবং পথপ্রদর্শক ছাড়া চলতে না পারেন, আর যদি কোনো সমালোচকের (ناقد) সাহায্য ছাড়া অগ্রহণযোগ্য (زائف) ও বিশুদ্ধ (خالص) বিষয়ের মাঝে পার্থক্য করতে না পারেন, তবে এটি আপনার বিচরণক্ষেত্র নয়, এখান থেকে প্রস্থান করুন:
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
خلِّ الطريقَ لمن يبني المنارَ به
… وابرُزْ بِبَرْزَةَ حيث اضطرَّك القَدَرُ
وإن كنت من ذوي الاستبراء، في محل الاستبراء، والاستناد، حيث يجب الاستناد، فانظر، فتستبين لك الرَّغوة من الصريح، ويتبين لك السقيمُ من الصحيح.
যারা এর মাধ্যমে আলোকস্তম্ভ নির্মাণ করেন তাদের জন্য পথ ছেড়ে দিন
… এবং নিয়তি যেখানে আপনাকে বাধ্য করে সেখানে আপনি জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ করুন।
আর আপনি যদি সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের (استبراء) অধিকারী হন, তবে যাচাই-বাছাই ও সূত্রের অনুসন্ধানের (استناد) স্থানে—যেখানে সূত্রের ওপর নির্ভর করা আবশ্যক—দৃষ্টিপাত করুন; তবেই আপনার নিকট ফেনা থেকে খাঁটি নির্যাস স্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং আপনার কাছে ত্রুটিযুক্ত (سقيم) ও বিশুদ্ধ (صحيح) বিষয়ের পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
فصل
قصدي في هذا الكتاب أن احذف من النحو ما يستغني النحويُّ عنه، وأنبه على ما اجمعوا على الخطأ فيه.
فمن ذلك ادعاؤهم أن النصب والخفض والجزم لا يكون إلا بعامل لفظي، وأن الرفع منها يكون بعامل لفظي وبعامل معنوي، وعبروا عن ذلك بعبارات توهم في قولنا (ضرب زيدٌ عمراً) أن الرفع الذي في زيد والنصب الذي في عمرو إنما أحدثه ضرب. ألا ترى سيبويه رحمه الله قال في صدر كتابه: وإنما ذكرت ثمانية مجارٍ، لا فرق بين ما يدخله ضرب من هذه الأربعة لما يحدثه فيه العامل، وليس شيء منها إلا وهو يزول عنه، وبين ما يبنى عليه الحرف بناء لا يزول عنه لغير شيء احدث ذلك فيه؟ فظاهر هذا أن العامل أحدث الإعراب، وذلك بيَّن الفساد.
وقد صرح بخلاف ذلك أبو الفتح بن جنى وغيره قال أبو الفتح في خصائصه، بعد كلام في العوامل اللفظية والعوامل المعنوية: وإما في الحقيقة ومحصول الحديث فالعمل من النصب والرفع والجر والجزْم، إنما هو للمتكلم نفسه لا لشيء غيره فأكد المتكلم بنفسه ليرفع الاحتمال، ثم زاد تأكيداً بقوله: لا لشيء غيره. وهذا قول المعتزلة. وأما مذهب أهل الحق فإن هذه الأصوات إنما هي من فعل الله تعالى، وإنما تنسب إلى
পরিচ্ছেদ
এই গ্রন্থে আমার উদ্দেশ্য হলো নাহু শাস্ত্র থেকে সেই বিষয়গুলো বর্জন করা যা একজন ব্যাকরণবিদের জন্য নিষ্প্রয়োজন এবং সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে সতর্ক করা যাতে তারা ভুলের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাদের এই দাবি যে, নসব (النصب), খাফদ (الخفض) এবং জজম (الجزم) কেবল শাব্দিক আমেল (عامل لفظي) দ্বারা সম্পন্ন হয় এবং রফ’ (الرفع) শাব্দিক আমেল ও অর্থগত আমেল (عامل معنوي) দ্বারা সম্পন্ন হয়। তারা এ বিষয়ে এমন শব্দ চয়ন করেছেন যা আমাদের এই কথা—(যায়েদ আমরকে প্রহার করেছে)—এর ক্ষেত্রে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যে, যায়দ-এর রফ’ (الرفع) এবং আমরের নসব (النصب) মূলত ‘প্রহার’ ক্রিয়াটিই সৃষ্টি করেছে। আপনি কি দেখেননি যে সিবওয়াইহ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাবের শুরুতে বলেছেন: "আমি কেবল আটটি প্রকারের কথা উল্লেখ করেছি; আমেল (العامل) যা সৃষ্টি করে তার প্রভাবে এই চারটির মধ্যে যা প্রবেশ করে এবং যা কোনো বাহ্যিক প্রভাবক ছাড়াই নির্দিষ্ট কাঠামোর ওপর গঠিত হয় তার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই; অথচ এগুলোর প্রতিটিই অপসৃত হয়।" সুতরাং এর বাহ্যিক অর্থ হলো আমেল (العامل) ই’রাব (الإعراب) সৃষ্টি করে, যা স্পষ্টতই ভুল।
আবুল ফাতহ ইবনে জিন্নি এবং অন্যরা এর বিপরীতে স্পষ্ট মত ব্যক্ত করেছেন। আবুল ফাতহ তাঁর খাসায়েস গ্রন্থে শাব্দিক আমেলসমূহ (العوامل اللفظية) ও অর্থগত আমেলসমূহ (العوامل المعنوية) সংক্রান্ত আলোচনার পর বলেন: "প্রকৃতপক্ষে এবং হাদিসের নির্যাস হলো—নসব (النصب), রফ’ (الرفع), জর (الجر) এবং জজম (الجزم)-এর আমল মূলত স্বয়ং বক্তার মাধ্যমেই সম্পাদিত হয়, অন্য কোনো কিছুর দ্বারা নয়।" এখানে বক্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যাতে কোনো প্রকার অস্পষ্টতা না থাকে, অতঃপর তিনি এই বলে আরও তাকিদ দিয়েছেন যে: "অন্য কোনো কিছুর দ্বারা নয়।" এটি মুতাজিলাদের অভিমত। আর আহলে হকের মাযহাব হলো, এই ধ্বনিসমূহ মূলত মহান আল্লাহর সৃষ্টি এবং এগুলো কেবল সম্পৃক্ত করা হয়...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৭০)
الإنسان كما ينسب إليه سائر أفعاله الاختيارية.
وإما القول بان الألفاظ يحدث بعضها بعضا فباطل عقلاً وشرعاً، لا يقول به أحداً من العقلاء لمعانٍ يطول ذكرها فيما المقصد إيجازه: منها أن شرط الفاعل أن يكون موجوداً حينما يفعل فعله، ولا يحدث الإعراب فيما يحدث فيه إلا بعد عدم العامل، فلا ينصب زيد بعد أن في قولنا (إن زيداً) إلا بعد عدم إن.
فان قيل بِمَ يُرَدُّ على من يعتقد أن معاني هذه الألفاظ هي العاملة؟ قيل: الفاعل عند القائلين به إما أن يفعل بإرادة كالحيوان، وإما أن يفعل بالطبع كما تحرق النار
ويبرد الماء، ولا فاعل إلا الله عند أهل الحق، وفعل الإنسان وسائر الحيوان فعل الله تعالى، كذلك الماء والنار وسائر ما يفعل، وقد تبين هذا في موضعه. وإما العوامل النحوية فلم يقل بعملها عاقل، لا ألفاظها ولا معانيها، لأنها لا تفعل بإرادة ولا بطبع.
فإن قيل: إن ما قالوه من ذلك إنما هو على وجه التشبيه والتقريب، وذلك أن هذه الألفاظ التي نسبوا العمل إليها إذا زالت زال الإعراب المنسوب إليها، وإذا وجدت وجد الإعراب، وكذلك العلل الفاعلة عند القائلين بها. قيل: لو لم يسقهم جعلها عوامل إلى تغيير كلام العرب، وحطَّه عن رتبة البلاغة إلى هُجْنَه العيّ، وادعاء النقصان فيما هو كامل وتحريف
মানুষের প্রতি যেমন তার অন্যান্য ঐচ্ছিক কাজসমূহকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।
আর শব্দসমূহ একে অপরকে সৃষ্টি করে—এই কথাটি বুদ্ধি ও শররিয়ত উভয় দিক থেকেই বাতিল (باطل); কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিই এমন কথা বলেন না। এর কারণসমূহ দীর্ঘ, যা সংক্ষেপে বর্ণনা করাই এখানে উদ্দেশ্য। তার মধ্যে একটি হলো: কর্তা (فاعل)-র জন্য শর্ত হলো যখন সে কাজ সম্পাদন করবে তখন তাকে বিদ্যমান থাকতে হবে। অথচ যে শব্দে ইরাব (إعراب) বা রূপান্তর ঘটে, সেখানে আমিল (عامل) বা প্রভাবক বিলুপ্ত হওয়ার পরেই তা ঘটে। যেমন—আমাদের বক্তব্য 'ইন্না জাইদান' (إن زيداً)-এ 'ইন্না' (إن) শব্দটি শেষ হওয়ার পরই 'জাইদ' শব্দটি নসব (نصب) প্রাপ্ত হয়।
যদি প্রশ্ন করা হয় যে, যারা মনে করেন এই শব্দগুলোর অর্থসমূহ হলো আমিল (عامل), তাদের কীভাবে উত্তর দেওয়া হবে? বলা হবে: যারা কর্তার (فاعل) অস্তিত্বে বিশ্বাসী, তাদের মতে কর্তা হয় ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করে কাজ করে যেমন জীবজন্তু, অথবা সে স্বভাবজাতভাবে কাজ করে যেমন আগুন পুড়িয়ে দেয়।
এবং পানি শীতল করে। সত্যপন্থীদের (أهل الحق) নিকট আল্লাহ ছাড়া কোনো প্রকৃত কর্তা (فاعل) নেই। মানুষের কাজ এবং অন্যান্য প্রাণীর কাজ প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহরই সৃষ্টি; ঠিক তেমনি পানি, আগুন এবং অন্য যা কিছু কাজ করে তাও আল্লাহর সৃষ্টি। এটি যথাস্থানে সুস্পষ্ট করা হয়েছে। আর নাহু শাস্ত্রীয় আমিল (عامل) বা প্রভাবকগুলোর ক্ষেত্রে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিই সেগুলোর কার্যকারিতার কথা বলেননি—না তাদের শব্দের ক্ষেত্রে, না তাদের অর্থের ক্ষেত্রে; কারণ সেগুলো ইচ্ছাশক্তি বা স্বভাবজাত কোনো পদ্ধতিতেই কাজ করে না।
যদি বলা হয়: তারা যা বলেছেন তা মূলত উপমা ও সহজবোধ্য করার খাতিরে বলেছেন। বিষয়টি হলো, তারা যেসব শব্দের দিকে আমল বা প্রভাব বিস্তার করার সম্বন্ধ করেছেন, সেগুলো বিলুপ্ত হলে তার সাথে সংশ্লিষ্ট ইরাব (إعراب)-ও বিলুপ্ত হয়, আর সেগুলো উপস্থিত থাকলে ইরাব (إعراب)-ও উপস্থিত থাকে; যারা সক্রিয় কারণ (العلل الفاعلة)-সমূহের তত্ত্বে বিশ্বাসী তাদের নিকটও বিষয়টি তদ্রূপ। উত্তরে বলা হবে: যদি এই শব্দগুলোকে আমিল (عامل) হিসেবে গণ্য করা তাদের আরবদের ভাষাকে পরিবর্তন করার দিকে ধাবিত না করত, এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের উচ্চস্তর থেকে একে অসার অস্পষ্টতায় নামিয়ে না আনত, এবং যা পূর্ণাঙ্গ তাতে অপূর্ণতার দাবি ও বিকৃতি (تحريف) ঘটানোর দিকে নিয়ে না যেত...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৭১)
المعاني عن المقصود بها لسومحوا في ذلك، وإما مع إفضاء اعتقاد كون الألفاظ عوامل إلى ما أفضت إليه فلا يجوز إتباعهم في ذلك.
واعلم أن المحذوفات في صناعتهم على ثلاثة أقسام: محذوف لا يتم الكلام إلا به، حُذف لعلم المخاطب به، كقولك لمن رأيته يعطي الناس: (زيداً) أي أعط زيداً فتحذفه وهو مراد وان أظهر تم الكلام به ومنه قول الله تعالى: {وَقِيلَ لِلَّذِينَ اتَّقَوْاْ مَاذَا أَنزَلَ رَبُّكُمْ قَالُواْ خَيْراً} وقوله تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ، قُلِ الْعَفْوَ} على قراءة من نصب وكذلك من رفع وقوله عز وجل: {نَاقَةَ اللَّهِ وَسُقْيَاهَا}.
উদ্দেশ্য থেকে অর্থগুলো বিচ্যুত হয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁরা শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন; তবে যদি তা শব্দগুলোকেই মূল প্রভাবক মনে করার বিশ্বাসের দিকে ধাবিত করে, তবে সে ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসরণ করা বৈধ হবে না।
জেনে রাখুন যে, তাঁদের শাস্ত্রীয় কর্মপদ্ধতিতে (صناعتهم) বিলুপ্ত বা উহ্য বিষয়সমূহ (محذوفات) তিন প্রকার: প্রথম প্রকার হলো এমন বিলোপ যা ছাড়া বাক্য পূর্ণ হয় না, তবে সম্বোধিত ব্যক্তি তা অবগত থাকায় তা বিলোপ (حذف) করা হয়েছে। যেমন—আপনি কাউকে লোকদের দান করতে দেখে বললেন: "(দিন) জায়েদকে", অর্থাৎ "জায়েদকে দান করুন।" এখানে শব্দটি আপনি বিলোপ করেছেন অথচ সেটিই উদ্দেশ্য, আর যদি তা প্রকাশ করা হতো তবে তার মাধ্যমেই বাক্য পূর্ণ হতো। এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: "আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে তাদের বলা হলো: তোমাদের রব কী নাজিল করেছেন? তারা বলল: কল্যাণ।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে তারা কী ব্যয় করবে? বলুন: যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত।" এটি নসব (نصب) প্রদানকারী পাঠরীতি (قراءة) অনুযায়ী, আর রাফা (رفع) প্রদানকারীদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ। এবং মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: "আল্লাহর উষ্ট্রী এবং তার পানি পানের পালা।"
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৭২)
والمحذوفات في كتاب الله تعالى لعلم المخاطبين بها كثيرة جدَّاً، وهي إذا أظهرت تمَّ بها الكلام، وحذفها أوجز وابلغ.
والثاني محذوف لا حاجة بالقول إليه، بل هو تامٌّ دونه، وإن ظهر كان عيباً كقولك: (أزيداً ضربته) قالوا إنه مفعول بفعل مضمر تقديره أضربت زيداً. وهذه دعوى لا دليل عليها إلا ما زعموا من أن (ضربت) من الأفعال المتعدية إلى مفعول واحد، وقد تعدى إلى الضمير، ولا بد لزيد من ناصب إن لم يكن ظاهراً
فمقدر، ولا ظاهر، فلم يبقى إلا الإضمار. وهذا بناء على أن كل منصوب فلا بد له من ناصب! ويا ليت شعري ما الذي يضمرونه في قولهم: (أزيداً مررت بغلامه) وقد يقول القائل منا ولا يتحصَّل له ما يضمر! والقول تام مفهوم، ولا يدعو إلى هذا التكلف إلا وضع: كل منصوب فلا بد له من ناصب. فهذا القسم الثاني.
وأما القسم الثالث فهو مضمر، إذا أُظهر تغير الكلام عما كان عليه قبل إظهاره، كقولنا: (يا عبد الله)، وحكم سائر المناديات المضافة والنكرات حكم عبد الله، وعبد الله عندهم منصوب بفعل مضمر تقديره أدعو أو أنادي. وهذا إذا أُظهر تغير المعنى وصار النداء خبراً. وكذلك النصب بالفاء والواو: ينصبون الأفعال الواقعة بعد هذه الحروف بأنْ، ويقدرون أنْ مع الفعل بالمصدر، ويصرفون الأفعال الواقعة قبل هذه الحروف إلى مصادرها، ويعطفون المصادر على المصادر بهذه الحروف. وإذا فعلوا ذلك كله لم يُرَدْ معنى اللفظ الأول! ألا ترى انك إذا
আল্লাহ তাআলার কিতাবে শ্রোতাদের তা জানা থাকার কারণে বিলুপ্ত (محذوف) বিষয়ের সংখ্যা অনেক বেশি। যখন এগুলো প্রকাশ করা হয়, তখন বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়, তবে এগুলোর বিলোপ (حذف) অধিকতর সংক্ষিপ্ত ও অলঙ্কারপূর্ণ।
দ্বিতীয় প্রকারটি হলো এমন বিলুপ্ত (محذوف) বিষয়, যা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই; বরং তা ছাড়াই বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ। আর যদি তা প্রকাশ করা হয় তবে তা ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে, যেমন আপনার কথা: (আ-জাইদান দরাবতুহু - তুমি কি জায়েদকে প্রহার করেছ?)। তারা বলেন যে, এটি একটি ঊহ্য (مضمر) ক্রিয়ার কর্ম (مفعول), যার প্রাক্কলিত রূপ হলো 'আ-দরাবতু জাইদান'। এটি এমন একটি দাবি যার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, কেবল তাদের এই ধারণা ছাড়া যে, (দরাবতু) হলো এমন একটি সকর্মক ক্রিয়া (فعل متعدي) যা কেবল একটি কর্মের দিকে ধাবিত হয়, এবং এখানে এটি সর্বনামের (ضمير) দিকে ধাবিত হয়েছে। সুতরাং জায়েদের জন্য অবশ্যই একজন নসব প্রদানকারী (ناصب) থাকতে হবে, যদি তা প্রকাশ্য (ظاهر) না হয়
তবে তা প্রাক্কলিত (مقدر); আর যেহেতু তা প্রকাশ্য নয়, তাই ঊহ্য (إضمار) রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। আর এটি এই নীতির ওপর ভিত্তি করে যে, প্রতিটি মানসুব (منصوب) পদের জন্য অবশ্যই একজন নসব প্রদানকারী (ناصب) থাকতে হবে! হায়! আমি যদি জানতাম তারা তাদের এই কথায় কী ঊহ্য (يضمرونه) রাখে: (আ-জাইদান মারারতু বিগুলামিহি - আমি কি জায়েদের দাসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি?)। অথচ আমাদের মধ্যে কেউ যখন কথা বলে, তখন তার মনে কোনো কিছু ঊহ্য রাখার বিষয়টি উদয়ই হয় না! বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ ও বোধগম্য, এবং এই কৃত্রিম কষ্টকল্পনার কোনো প্রয়োজন নেই, কেবল এই নিয়মটি ছাড়া যে: প্রতিটি মানসুব (منصوب) পদের জন্য একজন নসব প্রদানকারী (ناصب) আবশ্যক। এটি হলো দ্বিতীয় প্রকার।
আর তৃতীয় প্রকারটি হলো ঊহ্য (مضمر), যা প্রকাশ করা হলে বাক্যটি প্রকাশের পূর্বের অবস্থা থেকে পরিবর্তিত হয়ে যায়। যেমন আমাদের কথা: (ইয়া আব্দুল্লাহ - হে আব্দুল্লাহ)। অন্যান্য সম্বন্ধযুক্ত (مضافة) এবং অনির্দিষ্ট (نكرات) সম্বোধিত (مناديات) শব্দগুলোর বিধান আব্দুল্লাহ-এর বিধানের মতোই। তাদের মতে, আব্দুল্লাহ শব্দটি একটি ঊহ্য (مضمر) ক্রিয়া দ্বারা মানসুব (منصوب), যার প্রাক্কলিত রূপ হলো 'আদ'উ' বা 'উনাদি'। এটি যদি প্রকাশ করা হয় তবে অর্থের পরিবর্তন ঘটে এবং সম্বোধনটি (نداء) একটি সংবাদে (خبر) পরিণত হয়। একইভাবে ফা (فاء) এবং ওয়াও (واو) এর মাধ্যমে নসব প্রদান: তারা এই বর্ণগুলোর পরে আসা ক্রিয়াগুলোকে 'আন' (أن) দ্বারা নসব প্রদান করে এবং ক্রিয়ার সাথে 'আন'-কে মাসদার (مصدر) হিসেবে প্রাক্কলন (يقدرون) করে। তারা এই বর্ণগুলোর পূর্বে অবস্থিত ক্রিয়াগুলোকে সেগুলোর মাসদারে (مصادر) রূপান্তরিত করে এবং এই বর্ণগুলোর মাধ্যমে মাসদারকে মাসদারের ওপর আতফ (عطف) করে। আর তারা যখন এসব কিছু করে, তখন মূল শব্দের অর্থ আর অবশিষ্ট থাকে না! আপনি কি দেখেন না যে যখন আপনি...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
قلت: (ما تأتينا فتحدثنا) كان لها معنيان: أحدهما (ما تأتينا فكيف تحدثنا) أي أن الحديث لا يكون إلا مع الإتيان، وإذا لم يكن الحديث، كما يقال: (ما تدرس فتحفظ) أي أن الحفظ إنما سببه الدرس، فلا حفظ. والوجه الآخر (ما تأتينا محدثاً) أي انك تأتي ولا تحدِّث، وهم يقدرون الوجهين: (ما يكون منك إتيان فحديث) وهذا اللفظ لا يعطى معنى من هذين المعنيين.
وهذه المضمرات التي لا يجوز إظهارها لا تخلو من أن تكون معدومة في اللفظ، موجودة معانيها في نفس القائل، أو تكون معدومة النفس، كما أن الألفاظ الدالة عليها معدومة في اللفظ. فإن كانت لا وجود لها في النفس ولا للألفاظ الدالة عليها وجودٌ في القول، فما الذي ينصب إذن؟ وما الذي يُضمر؟ ونسبة العمل إلى معدوم على الإطلاق محال. فإن قيل أن معاني هذه الألفاظ المحذوفة موجودة في نفس
القائل، وإن الكلام بها يتمّ، وإنها جزء من الكلام القائم بالنفس، المدلول عليها بالألفاظ، إلا إنها حذفت الألفاظ الدالة عليها إيجازاً، كما حذفت مما يجوز إظهاره إيجازاً لزم أن يكون الكلام ناقصاً، وأن لا يتمّ إلا بها، لأنها جزء منه، وزدنا في كلام القائلين ما لم يلفظوا به، ولا دلنا عليه دليل إلا دعاء أن كل منصوب فلا بد له من ناصب لفظي. وقد فُرغَ من إبطال هذا الظن بيقين، وادعاء الزيادة في كلام المتكلمين من غير دليل يدل عليها خطأٌ بيِّنٌ، لكنه لا يتعلق بذلك عقاب، وأما طرد ذلك في كتاب الله تعالى الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، وادعاء زيادة معان فيه من غير حجة ولا دليل إلا القول بان كل ما ينصب إنما ينصب بناصب، والناصب لا يكون إلا لفظاً يدل على معنى أما منطوقاً به، وإما محذوفاً مراداً، ومعناه قائم بالنفس، فالقول بذلك حرام على من تبين له ذلك، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قال في القرآن برأيه فأصاب
আমি বলেছি: "তুমি আমাদের কাছে আসো না যে তুমি আমাদের সাথে কথা বলবে (হাদিস বর্ণনা করবে)"-এর দুটি অর্থ হতে পারে: প্রথমটি হলো "তুমি আমাদের কাছে আসো না, তাহলে তুমি কীভাবে আমাদের সাথে কথা বলবে?", অর্থাৎ আসা ছাড়া কথা বলা সম্ভব নয়। আর যদি কথা বলা না থাকে—যেমন বলা হয়: "তুমি পড়াশোনা করো না যে তুমি মুখস্থ করবে"—এর অর্থ হলো মুখস্থ করার কারণ হলো পড়াশোনা, আর পড়াশোনা না থাকলে মুখস্থও নেই। অন্য দিকটি হলো "তুমি আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনাকারী (محدث) হিসেবে আসো না", অর্থাৎ তুমি আসো ঠিকই কিন্তু হাদিস বর্ণনা করো না। তারা উভয় দিকই অনুমান করেন: "তোমার পক্ষ থেকে আসা নেই তাই হাদিস বর্ণনাও নেই"। এই শব্দটি এই দুটি অর্থের কোনোটিই প্রদান করে না।
আর এই উহ্য বিষয়গুলো (المضمرات) যা প্রকাশ করা বৈধ নয়, সেগুলো হয় উচ্চারিত শব্দে অনুপস্থিত থাকে তবে বক্তার অন্তরে তার অর্থ বিদ্যমান থাকে, অথবা সেগুলো অন্তরেও অনুপস্থিত থাকে, যেমনটি সেগুলোর নির্দেশক শব্দসমূহ উচ্চারণে অনুপস্থিত থাকে। যদি অন্তরেও তার কোনো অস্তিত্ব না থাকে এবং কথাতেও সেগুলোর নির্দেশক শব্দের অস্তিত্ব না থাকে, তবে কিসে নসব (نصب) প্রদান করে? আর কিসের উহ্যতা (إضمار) ধরা হয়? কোনো অস্তিত্বহীন বিষয়ের দিকে আমল বা ক্রিয়ার সম্পৃক্ততা করা সম্পূর্ণ অসম্ভব। যদি বলা হয় যে, এই বিলুপ্ত (محذوفة) শব্দগুলোর অর্থ বক্তার অন্তরে
বিদ্যমান থাকে, এবং তার মাধ্যমেই বক্তব্য পূর্ণ হয়, আর সেগুলো হলো অন্তরে অবস্থিত মূল বক্তব্যের অংশ যা শব্দগুলোর দ্বারা নির্দেশিত হয়, তবে সংক্ষেপকরণের (إيجاز) লক্ষ্যে নির্দেশক শব্দগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে—যেভাবে প্রকাশযোগ্য স্থান থেকেও সংক্ষেপ করার জন্য বিলুপ্ত করা হয়—তবে বক্তব্যটি অসম্পূর্ণ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে এবং সেগুলো ছাড়া বক্তব্য পূর্ণ হয় না, কারণ সেগুলো বক্তব্যেরই অংশ। আর এর মাধ্যমে আমরা বক্তাদের বক্তব্যে এমন কিছু বৃদ্ধি করলাম যা তারা উচ্চারণ করেননি এবং কোনো দলিলও আমাদের এর প্রতি নির্দেশ করেনি; কেবল এই দাবি ছাড়া যে, প্রতিটি মানসুব (منصوب) পদের জন্য অবশ্যই একজন শাব্দিক নাসিব (ناصب) থাকতে হবে। এই ধারণাটি যে ভ্রান্ত তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। কোনো প্রমাণ ছাড়া বক্তাদের বক্তব্যে আধিক্যের দাবি করা একটি সুস্পষ্ট ভুল, তবে এর সাথে কোনো শাস্তি সংশ্লিষ্ট নয়। কিন্তু মহান আল্লাহর কিতাবের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা—যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো বাতিল আসতে পারে না—এবং কোনো প্রমাণ বা দলিল ছাড়া এতে অতিরিক্ত অর্থের দাবি করা—কেবল এই কথার ওপর ভিত্তি করে যে নসব (نصب) যুক্ত প্রতিটি পদ কেবল কোনো নাসিব (ناصب) দ্বারাই নসবপ্রাপ্ত হয়, আর নাসিব (ناصب) কেবল এমন শব্দই হতে পারে যা কোনো অর্থের ওপর নির্দেশ করে, তা উচ্চারিত হোক বা উদ্দেশ্যকৃত ও বিলুপ্ত (محذوفة) হোক যার অর্থ অন্তরে বিদ্যমান—এমন কথা বলা ওই ব্যক্তির জন্য হারাম যার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআনের ব্যাপারে নিজের মতানুসারে কথা বলল এবং তা সঠিকও হলো (সে ভুল করল)।"
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
فقد أخطأ. ومقتضى هذا الخبر النهي. وما نُهِى عنه فهو حرام، إلا أن يدل دليل. والرأي ما لم يستند إلى دليل حرام. وقال صلى الله عليه وسلم: من قال في القرآن بغير علم فليتبوَّأ مقعده من النار. وهذا وعيد شديد، وما توعَّد رسول الله على فعله فهو حرام. ومن بني الزيادة في القرآن بلفظ أو معنى على ظن باطل، قد تبين بطلانه، فقد قال في القرآن بغير علم، وتوجَّه الوعيد إليه. ومما يدل على انه حرام الإجماع على انه لا يزاد في القرآن لفظٌ غير المجمع على إثباته، وزيادة المعنى كزيادة اللفظ، بل هي أحرى، لأن المعاني هي المقصودة، والألفاظ دلالات عليها، ومن اجلها.
فان قيل فقد اجمع النحويين - على بكرة أبيهم - على القول بالعوامل، وإن اختلفوا، فبعضهم يقول: العامل في كذا وكذا، وبعضهم يقول: العامل فيه ليس كذا، إنما هو كذا، على ما نفسره بعد إن شاء الله. قيل: إجماع النحويين ليس بحجة
على من خالفهم، وقد قال كبير من حذاقهم، ومقدَّم في الصناعة من مقدَّميهم، وهو أبو الفتح بن جنى في خصائصه: أعلم أن إجماع أهل البلدين (يعني البصرة والكوفة) إنما يكون حجة إذا أعطاك خصمك يده أن لا يخالف المنصوص والمقيس
ফলে তিনি ভুল করেছেন। আর এই বর্ণনা (خبر)-এর দাবি হলো নিষেধ। যে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে তা হারাম (حرام), যতক্ষণ না কোনো দলিল (دليل) তা ভিন্নভাবে প্রমাণ করে। আর দলিল (دليل) বিহীন কোনো ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশ করা হারাম (حرام)। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞান ব্যতীত কুরআন সম্পর্কে কোনো কথা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এটি একটি কঠোর সতর্কবাণী। আর যে কার্যের ওপর রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো কঠোর সতর্কবাণী প্রদান করেছেন, তা হারাম (حرام)। যে ব্যক্তি কোনো বাতিল ধারণার ওপর ভিত্তি করে কুরআনের শব্দ বা অর্থে কোনো কিছু সংযোজন করল, যার অসারতা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে, সে মূলত জ্ঞান ছাড়াই কুরআন সম্পর্কে কথা বলল এবং এই সতর্কবাণী তার ওপর আপতিত হলো। এটি হারাম (حرام) হওয়ার আরেকটি প্রমাণ হলো এই বিষয়ে ইজমা (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, যা সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত নেই এমন কোনো শব্দ কুরআনে বৃদ্ধি করা যাবে না; আর অর্থের ক্ষেত্রে কোনো কিছু সংযোজন করা শব্দের সংযোজনের মতোই, বরং তা আরও বেশি গুরুতর। কারণ অর্থই হলো মূল উদ্দেশ্য, আর শব্দাবলি হলো সেই অর্থের পরিচায়ক ও মাধ্যম।
যদি বলা হয় যে, ব্যাকরণবিদগণ তাদের পূর্বাপর সকলেই আমেল (عامل)-এর বিষয়ে একমত হয়েছেন, যদিও তারা এর ধরনে মতভেদ করেছেন। যেমন কেউ বলেন: অমুক বিষয়ের আমেল (عامل) হলো এটি, আবার কেউ বলেন: এর আমেল (عامل) এটি নয় বরং ওটি—যা আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে ব্যাখ্যা করব। এর উত্তরে বলা হবে: ব্যাকরণবিদদের ইজমা (إجماع) কোনো অকাট্য প্রমাণ (حجة) নয়
যারা তাদের বিরোধিতা করেন তাদের ওপর। তাদের মধ্যকার একজন অত্যন্ত বিচক্ষণ এবং এই শাস্ত্রের অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব আবু আল-ফাতহ ইবনে জিন্নি তাঁর খাসাইস গ্রন্থে বলেছেন: "জেনে রাখুন যে, দুই শহরের (অর্থাৎ বসরা ও কুফা) ইমামদের ইজমা (إجماع) কেবল তখনই প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হবে, যখন আপনার প্রতিপক্ষ আপনার সাথে একমত হবে যে সে নস (منصوص) এবং কিয়াস (مقيس)-এর বিরোধিতা করবে না।"
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
على المنصوص، فإذا لم يعط يده بذلك يكون إجماعهم حجة عليه، وذلك انه لم يرد ممن يطاع أمره في قرآن ولا سنة، أنهم لا يجتمعون على الخطأ، كما جاء النص عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من قوله: أمتي لا تجتمع على ضلالة، وإنما هو علم منتزع من استقراء هذه اللغة، فكل من فرق له عن علة صحيحة، وطريق نهجهٍ، كان خليل نفسه وأبا عمرو فكره إلا أنا مع هذا الذي رأيناه، وسوَّغنا مرتكبه، لا نسمح له بالإقدام على مخالفة الجماعة - التي قد طال بحثها، وتقدَّم نظرها وتتالت أواخر على أوائل، وإعجازاً على كلاكل - والقوم الذين لا يُشك في أن الله، سبحانه وتقدست أسماؤه، قد هداهم لهذا العلم الكريم، وأراهم وجه الحكمة في الترحيب له والتعظيم، وجعله ببركاتهم، وعلى أيدي طاعتهم، خادماً لكتابه المنزل، وكلام نبيه المرسل، وعوناً على فهمها، ومعرفة ما أمر به، أو نُهي عنه الثقلان منهما إلا بعد أن يناهضه إتقانًا ويثابته عرفاناً، ولا يخلد إلى سانح خاطره، ولا إلى أول نزوة من نزوات تفكره، فإذا هو حذا على هذا المثال، وباشر بإنعام تصفحه أحناء الحال، امضي الرأي فيما يريه الله منه غير معازٍّ به
সুস্পষ্ট বক্তব্যের (المنصوص) ভিত্তিতে, যদি সে এতে বশ্যতা স্বীকার না করে, তবে তাদের ঐক্যমত্য (إجماع) তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে। আর তা এই কারণে যে, যাঁর আদেশ আনুগত্যযোগ্য—কুরআন বা সুন্নাহ (سنة)—কোথাও এমনটি বর্ণিত হয়নি যে তাঁরা ভুলের ওপর ঐক্যবদ্ধ হবেন না, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যে: "আমার উম্মত ভ্রষ্টতার (ضلالة) ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না।" বরং এটি এমন এক ইলম যা এই ভাষার আরোহ (استقراء) থেকে আহরিত। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের জন্য কোনো সঠিক কারণ (علة صحيحة) এবং সঠিক পদ্ধতির পথ উদ্ভাবন করতে পারে, সে নিজেই নিজের খলীল এবং তার চিন্তা হবে তার আবু আমর সদৃশ। তবে আমরা যা দেখলাম এবং এর চর্চাকারীর জন্য যা বৈধ করলাম, তা সত্ত্বেও আমরা তাকে সেই জামাত (الجماعة) বিরোধী কোনো পদক্ষেপ নিতে দেব না—যাদের গবেষণা সুদীর্ঘ, যাদের পর্যবেক্ষণ সুগভীর এবং যাদের পরবর্তীরা একের পর এক পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করে এসেছেন—এবং সেই ব্যক্তিবর্গ, যাঁদের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁদের এই মহৎ ইলমের দিকে হিদায়াত দান করেছেন, এবং তাঁদের প্রতি সম্মান ও গুরুত্ব প্রদর্শনের মাঝে হিকমতের পথ দেখিয়েছেন। আর তিনি তাঁদের বরকতে এবং তাঁদের আনুগত্যের মাধ্যমে এটিকে তাঁর অবতীর্ণ কিতাব এবং প্রেরিত নবীর বাণীর সেবক এবং তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে সহায়ক করেছেন; যার মাধ্যমে মানব ও জিন জাতি কী আদিষ্ট হয়েছে এবং কী থেকে নিষিদ্ধ হয়েছে তা জানা যায়। তবে এটি কেবলমাত্র তখনই সম্ভব হবে যখন সে নিপুণতা (إتقان) দিয়ে এর মোকাবিলা করবে এবং অভিজ্ঞান (عرفان) দিয়ে এতে সুদৃঢ় হবে; এবং নিজের মনের হুট করে জেগে ওঠা কোনো খেয়াল বা চিন্তার প্রথম কোনো আবেগের ওপর নির্ভর করবে না। অতঃপর সে যদি এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে এবং অবস্থার সকল দিক গভীর অভিনিবেশের সাথে পর্যবেক্ষণ করে, তবে আল্লাহ তাকে যা দেখান সে বিষয়ে সে তার অভিমত বাস্তবায়ন করবে, কিন্তু তাতে অহংকারবশত একগুঁয়েমি করবে না।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
ولا غاضٍّ من السلف رحمهم الله في شيء منه، فإنه إذا فعل ذلك سُدِّد رأيه، وشُيِّع بالتوفيق خاطره، وكان للصواب مِئَنّة، ومن التوفيق مَظِنّة. وقد قال أبو عثمان عمرو بن بحر الجاحظ: ما على الناس شيء أضر من قولهم: ما ترك الأول للآخر شيئاً. وقد قال أبو عثمان المازني: وإذ قال العالم قولاً متقدماً فللمتعلم الاقتداء به والانتصار له، والاحتجاج لخلافه ان وجد إلى ذلك سبيلاً، وقال الطائي الكبير:
يقولُ مَنْ تقرعُ أسماعَهُ
… كم ترك الأولُ للآخر!
فمما جاز خلاف الإجماع الواقع فيه منذ بدئ هذا العلم، وإلى آخر هذا الوقت، ما رأيته أنا في قولهم (هذا حُجْر ضبٍّ خربٍ)، فهذا يتناوله آخر عن أول، وتالٍ عن ماضٍ، على انه غلط من العرب، لا يختلفون فيه ولا يتوقفون عنه، وأنه من الشاذ الذي لا يُحمل عليه. ولا يجوز ردُّ غيره إليه. وأما أنا فعندي أن في القرآن من مثل هذا الموضع نيفاً على ألف موضع.
قال المؤلف رضي الله عنه هنا قطعت نص كلامه، لأني
আর পূর্বসূরীদের (سلف) - আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন - কোনো বিষয়েই অবজ্ঞা করা যাবে না। কেননা, তিনি যদি তা করেন তবে তাঁর মতামত সঠিক পথে পরিচালিত হবে, তাঁর চিন্তা আল্লাহর তাওফিকে ধন্য হবে এবং তা সত্যের নিদর্শন ও সফলতার ক্ষেত্র হয়ে উঠবে। আবু উসমান আমর বিন বাহর আল-জাহিজ বলেছেন: মানুষের জন্য তাঁদের এই উক্তির চেয়ে ক্ষতিকর আর কিছুই নেই যে, 'পূর্ববর্তীগণ পরবর্তীদের জন্য কিছুই বাকি রাখেননি।' আবু উসমান আল-মাজিনি বলেছেন: যখন কোনো আলিম কোনো পূর্ববর্তী বক্তব্য প্রদান করেন, তখন শিক্ষার্থীর জন্য যেমন তাঁর অনুসরণ করা ও সমর্থন করা সম্ভব, তেমনি তাঁর বিপরীতে যুক্তি উপস্থাপন করাও সম্ভব যদি সে তার কোনো পথ খুঁজে পায়। আর আত-তায়ি আল-কাবীর বলেছেন:
যার কানে পৌঁছে সে বলে
… পূর্ববর্তীগণ পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন!
এই শাস্ত্রের সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিদ্যমান সর্বসম্মত ঐক্যের (إجماع) পরিপন্থী যা অনুমোদিত হয়েছে, তার মধ্যে আমি যা দেখেছি তা হলো তাঁদের এই উক্তি: "এটি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত গোসাপের গর্ত" (হাজা হুজরু দাব্বিন খারিবিন)। এটি পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে এবং পরবর্তী প্রজন্ম গত হওয়া প্রজন্মের কাছ থেকে গ্রহণ করে আসছে এই ভিত্তিতে যে, এটি আরবদের একটি ভাষাগত ত্রুটি; এ বিষয়ে তাঁদের মাঝে কোনো দ্বিমত নেই এবং তাঁরা এ থেকে বিরতও থাকেন না। আর এটি সেই ব্যতিক্রমী (شاذ) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা অন্য কিছুর জন্য ভিত্তি হতে পারে না এবং অন্য কিছুকে এর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া (তুলনা করা) বৈধ নয়। আর আমার মতে, কুরআনে এই ধরনের এক হাজারের বেশি স্থান রয়েছে।
গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: এখানে আমি তাঁর বক্তব্যের উদ্ধৃতি সমাপ্ত করেছি, কারণ আমি...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
أوردته وقصدي الإيجاز، وإنما سقت قوله المتقدم إتباعا لمن ألف الإتباع، فمذهب الجماعة في قول العرب (هذا حجر ضب خرب) ما ذكره. واختار أبو الفتح أن يكون على حذف المضاف وإقامة المضاف إليه مقامه، وقال إن في القرآن نيفاً على ألف موضع، وتقديره عنده (هذا جحر ضبٍّ خربٍ جحره) فخرب نعت لضب، كما يقال (هذا فرسٌ عربيٌّ قارح فرسه) فقارح نعت لعربي وُصف به، وإن كان للفرس، لأنه من سببه، فحذف الجحر الذي هو المضاف، وهو فاعل مرفوع، ولقيم المضاف إليه مقامه، وهو الضمير العائد على الضب مقام الجحر، فارتفع بخرب عنده. والضمير إذا كان فاعلاً باسم الفاعل، أو بالصفة المشبهه باسم الفاعل، استكنّ فيهما على مذهبهم، وحذفُ المضاف وإقامة المضاف إليه مقامه مطرد، واستكنانُ الضمير في الصفة مطرد. لكن لقائل أن يقول لأبي الفتح: إن الحذف للمضاف لا يجوز إلا في المواضع التي يسبق إلى فهم المخاطب المقصود من اللفظ فيها كقوله تعالى: {وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ الَّتِي كُنَّا فِيهَا وَالْعِيْرَ الَّتِي أَقْبَلْنَا فِيهَا}. وأما في المواضع التي يُحتاج في معرفة المحذوف منها تأمل كثير، وفكر طويل، فلا يجوز حذفه لما فيه من اللَّبْس على السامعين. وهذا من المواضع البعيدة، والدليل على ذلك انه قد مر هذا القول على إسماع قوم فهماء عارفين بالنحو واللغة. فلم يهتدوا إلى هذا
المحذوف، لأنه لو ظهر لكان قبيحاً، لو قالت
আমি এটি সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে উল্লেখ করেছি। আর আমি তাঁর পূর্বোক্ত উক্তিটি বর্ণনা করেছি তাদের অনুসরণে যারা অনুসরণ করতে অভ্যস্ত। আরবদের উক্তি "এটি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত গোসাপের গর্ত" (হাদা জুহরু দাব্বিন খারিবিন) এর ব্যাপারে জুমহুর বা অধিকাংশের (الجماعة) অভিমত তাই যা তিনি উল্লেখ করেছেন। আবু আল-ফাতহ পছন্দ করেছেন যে, এটি মুদাফ বা সম্বন্ধ পদ বিলুপ্তিকরণ (حذف المضاف) এবং তার স্থলে মুদাফ ইলাইহ-কে (مضاف إليه) স্থলাভিষিক্ত করার অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি বলেছেন যে, কুরআনে এরূপ এক হাজারের বেশি স্থান রয়েছে। তাঁর মতে এর প্রচ্ছন্ন রূপ (تقدير) হলো—"এটি একটি গোসাপের গর্ত যার গর্তটি ধ্বংসপ্রাপ্ত"। এখানে 'ধ্বংসপ্রাপ্ত' শব্দটি 'গোসাপ' এর বিশেষণ (نعت) হিসেবে এসেছে, যেমন বলা হয় "এটি একটি আরবি ঘোড়া যার ঘোড়াটি পূর্ণ বয়স্ক"। এখানে 'পূর্ণ বয়স্ক' শব্দটি 'আরবি' এর বিশেষণ (نعت) যা দ্বারা তাকে বিশেষিত করা হয়েছে, যদিও তা মূলত ঘোড়ার বৈশিষ্ট্য; কারণ এটি তার সাথে সংশ্লিষ্ট। অতঃপর তিনি 'গর্ত' শব্দটিকে বিলুপ্ত করেছেন যা মুদাফ (مضاف) ছিল এবং তা মারফু (مرفوع) ফায়েল বা কর্তা ছিল। আর মুদাফ ইলাইহ-কে (مضاف إليه) তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, যা হলো গোসাপের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী জমির বা সর্বনাম (ضمير), যা 'গর্ত' শব্দের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। ফলে এটি তাঁর মতে 'ধ্বংসপ্রাপ্ত' শব্দের প্রভাবে মারফু (مرفوع) হয়েছে। আর জমির (ضمير) যখন ইসমুল ফায়েল (اسم الفاعل) বা সিফাতে মুশাব্বাহ-এর (الصفة المشبهة) ফায়েল (কর্তা) হয়, তখন তাদের মাযহাব অনুযায়ী তা সেখানে উহ্য থাকে। মুদাফ (مضاف) বিলুপ্ত করা এবং মুদাফ ইলাইহ-কে (مضاف إليه) তার স্থলাভিষিক্ত করা একটি নিয়মিত নিয়ম এবং বিশেষণের মধ্যে জমির (ضمير) উহ্য থাকাও একটি নিয়মিত ব্যাকরণিক নিয়ম। তবে আবু আল-ফাতহ-এর উদ্দেশ্যে কেউ বলতে পারেন যে: মুদাফ (مضاف) বিলুপ্ত করা কেবল সেই স্থানগুলোতেই জায়েজ (يجوز), যেখানে শব্দ থেকে সম্বোধিত ব্যক্তির নিকট উদ্দেশ্যটি দ্রুত বোধগম্য হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর আপনি সেই জনপদকে জিজ্ঞাসা করুন যেখানে আমরা ছিলাম এবং সেই কাফেলাকেও যাতে আমরা এসেছিলাম।" কিন্তু যে সকল স্থানে বিলুপ্ত অংশটি চেনার জন্য গভীর অভিনিবেশ ও দীর্ঘ চিন্তার প্রয়োজন হয়, সেখানে তা বিলুপ্ত করা জায়েজ (يجوز) নয়; কারণ এতে শ্রোতাদের মাঝে অস্পষ্টতা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। আর এটি একটি অস্পষ্ট ও জটিল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। এর প্রমাণ হলো, এই উক্তিটি অনেক বুদ্ধিমান এবং নাহু (ব্যাকরণ) ও ভাষাবিদগণের কর্ণগোচর হয়েছে, তবুও তারা এই বিলুপ্ত অংশটির দিশা পাননি। কারণ এটি প্রকাশ করা হলে তা শ্রুতিকটু হতো, যদি বলা হতো...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
العرب: هذا جحر ضبٍّ خربٍ جحره، قَبُح، لأنه عيٌّ من القول، تغني عنه ضمة الباء، ويكون الكلام وجيزاً فصيحاً، فلما كان أصله هكذا، ثم تُكلِّف فيه ما تُكلِّف من الحذف لما لا يسبق حذفه إلى الفهم بعُدَ. ثم إنه لو كان المضاف إليه ظاهراً لكان أبين، ولكنه حُذِف المضاف، واستكن المضاف إليه، فعزب عن الفهم، وصار فهمه مع هذا الحذف والإضمار من تكليف ما لا يستطاع. واستنجاز أبو الفتح الرد على كل من تقدم بظن ليس بالقوي، فكيف بنا ونحن نرد عليهم الظنون الضعيفة بالأدلة الواضحة التي لا امتراء فيها لمنصف.
فإن زعم النحويين أنهم لم يريدوا بقولهم في (أزيداً أكرمته) وما أشبه أن (أكرمت) الذي انتصب به زيدٌ مراد للمتكلم، ولا أن الكلام ناقص دونه، وإنما هو شيء موضوع مصطلح عليه، يُتوصَّل به إلى النطق بكلام العرب، كما فعل المهندسون حين وضعوا خطوطاً مصنوعة - هي في الحقيقة أجسام - مواضعَ الخطوط التي هي أطوال لا أعراض لها ولا أعماق، ونقطاً - هي أيضاً أجسام - مواضعَ النقط التي هي نهايات الخطوط، والتي لا أطوال لها ولا أعراض ولا أعماق، وقدروا في الفلك دوائر ونقطاً، وتوصلوا بذلك إلى البرهان على ما أرادوا أن يبرهنوا عليه، ولم يخلّ إيقاع هذه مواضع تلك بما قصدوا، بل حصل اليقين للمتعلمين تلك الصنعة، مع معرفتهم بوضع هذه موضع هذه. قيل للنحويين ليسوا بهؤلاء، لأنهم قالوا: إن كل منصوب فلا بد له من ناصب لفظي، فإن جعلوا هذه المحذوفات التي لا يجوز إظهارها معدومة على الإطلاق في اللفظ وفي الإدارة، والكلام تام دونها، فقد أبطلوا ما ادعوه من أن كل منصوب فلا بد له من ناصب، وأيضاً فإن وضع الأجسام مواضع الخطوط والنقد الهندسية تقريبٌ وعونٌ للمتعلم، ووضع هذه العوامل لا شيء فيه من ذلك، بل تقدير وتخييل.
আরবদের ভাষ্যমতে: "এটি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত গুইসাপের গর্ত, যার গর্তটি ধ্বংসপ্রাপ্ত।" এটি একটি শ্রুতিকটু বাক্য, কারণ এটি ভাষাগত জড়তা। এখানে 'বা' (ب) বর্ণের পেশ (ধম্মাহ)-এর মাধ্যমেই এর প্রয়োজনীয়তা পূর্ণ হয়ে যেত এবং বাক্যটি সংক্ষিপ্ত ও সাবলীল হতো। যেহেতু এর মূলরূপটি এমনই ছিল, অতঃপর এতে বিলোপের (حذف) ক্ষেত্রে এমন কৃত্রিমতা আরোপ করা হয়েছে যার ফলে বিলুপ্ত অংশটি সহজে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। উপরন্তু, যদি মুদাফ ইলাইহি স্পষ্ট হতো তবে তা অধিকতর প্রাঞ্জল হতো; কিন্তু এখানে মুদাফকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং মুদাফ ইলাইহি উহ্য রয়ে গেছে, ফলে তা বোধগম্যতার বাইরে চলে গেছে। এই বিলোপ ও উহ্যকরণের কারণে বিষয়টি অনুধাবন করা সাধ্যাতীত কষ্টের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আবু আল-ফাতহ পূর্ববর্তী সকলের খণ্ডন করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন এমন এক ধারণার ওপর ভিত্তি করে যা শক্তিশালী (قوي) নয়। এমতাবস্থায় আমাদের অবস্থা কী হবে যখন আমরা তাদের দুর্বল (ضعيف) ধারণাগুলোকে এমন সুস্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে খণ্ডন করছি, যাতে কোনো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির মনে কোনো সংশয় থাকতে পারে না।
যদি ব্যাকরণবিদগণ দাবি করেন যে, "(আমি কি জায়েদকে সম্মান করেছি?)" কিংবা এই জাতীয় বাক্যের ক্ষেত্রে 'জায়েদ' শব্দটিকে নসব প্রদানকারী যে 'আকরাকতু' (সম্মান করেছি) ক্রিয়াটি উহ্য ধরা হয়, তা বক্তার উদ্দেশ্য নয় এবং এটি ছাড়াও বাক্যটি অপূর্ণ নয়; বরং এটি কেবল একটি পারিভাষিক প্রথা যা আরবদের ভাষা উচ্চারণের পথ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে—ঠিক যেমন জ্যামিতিবিদগণ কৃত্রিম রেখা অঙ্কন করেন (যা প্রকৃতপক্ষে বস্তুগত অবয়ব) এমন রেখার স্থানে যার দৈর্ঘ্য আছে কিন্তু কোনো প্রস্থ বা গভীরতা নেই; এবং তারা বিন্দু স্থাপন করেন (যা প্রকৃতপক্ষে বস্তুগত অবয়ব) এমন বিন্দুর স্থানে যা রেখার প্রান্তবিন্দু এবং যার কোনো দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা গভীরতা নেই। তারা মহাকাশ গোলকেও বিভিন্ন বৃত্ত ও বিন্দুর কল্পনা করেছেন এবং এর মাধ্যমে তারা যা প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন তার প্রমাণে উপনীত হয়েছেন। তাদের এই কাল্পনিক স্থাপন উদ্দেশ্য অর্জনে কোনো ব্যাঘাত ঘটায়নি, বরং শিক্ষার্থীরা সেই বিদ্যা সম্পর্কে সুনিশ্চিত জ্ঞান লাভ করেছে, যদিও তারা জানত যে একটির স্থলে অন্যটি কল্পনা করা হয়েছে। তবে ব্যাকরণবিদদের উদ্দেশ্যে বলা হবে যে, তারা জ্যামিতিবিদদের মতো নন। কারণ তারা (ব্যাকরণবিদরা) বলেন: প্রতিটি মানসুব পদের জন্য একজন শাব্দিক নাসিব থাকা আবশ্যক। এখন তারা যদি এই বিলুপ্ত শব্দগুলোকে—যাদের প্রকাশ করা বৈধ নয়—উচ্চারণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন গণ্য করেন এবং বাক্যকে এগুলো ছাড়াই পূর্ণ মনে করেন, তবে তারা তাদের নিজেদের দাবিকেই বাতিল করে দিলেন যে, প্রতিটি মানসুবের জন্য একজন নাসিব থাকা প্রয়োজন। এছাড়া জ্যামিতিক রেখা ও বিন্দুর স্থলে বস্তুগত অবয়ব কল্পনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য সহজতর ও সহায়ক হয়; কিন্তু এই ব্যাকরণিক আমেলগুলোর প্রাক্কলন বা উহ্য মানার ক্ষেত্রে তেমন কোনো উপকার নেই, বরং এটি কেবল অনুমান ও কল্পনা মাত্র।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
ومما يجري هذا المجرى من المضمرات التي لا يجوز إظهارها، ما يدعونه في المجرورات التي هي إخبار أو صلات أو صفات أو أحوال مثل (زيد في الدار، ورأيت الذي في الدار، ومررت برجل من قريش، ورأى زيد في الدار الهلال في السماء) فيزعم النحويون أن قولنا في الدار متعلق بمحذوف تقديره (زيد مستقر في الدار) والداعي لهم إلى ذلك ما وضعوه من أن المجرورات إذا لم تكن حروف الجر الداخلة عليها زائدة فلا بد لها من عامل يعمل فيها ان لم يكن ظاهراً كقولنا (زيد قائم في الدار) كان مضمرا كقولنا (زيد في الدار). ولا شك أن هذا كله كلام تام مركب من اسمين دالين على معنيين بينهما نسبة وتلك النسبة دلت عليها (في) ولا حاجة بنا إلى غير ذلك. وكذلك يقولون في (رأيت الذي في الدار) تقديره (رأيت الذي استقر في الدار) وكذلك (مررت برجل من قريش) تقديره (كائن من قريش) وكذلك (رأيت في الدار الهلال في السماء) تقديره (كائناً في السماء). وهذا كله كلام تام لا يفتقر السامع له إلى الزيادة (كائن ولا مستقر) وإذا بطل العامل والعمل فلا شبهة تبقر لمن يدعي هذا الإضمار.
ومما يجري هذا المجرى ما يدعونه من أن في أسماء الفاعلين والمفعولين والأسماء المعدولة عن أسماء الفاعلين والمشبهة بها، وما يجري مجري مجراها ضمائر مرتفعة بها، وذلك إذا لم ترتفع بها هذه الصفات أسماء ظاهرة مثل (ضارب ومضروب وضراب وحسن) وما جرى مجراها، وقالوا: أنها ترفع الظاهر في مثل قولنا (زيد ضارب أبوه عمراً) فإذا رفعت الظاهر. فالمضمر أولى أن ترفعه، وقد بطل ببطلان العامل أنها ترفع الظاهر. وإذا كان ضارب
অনুরূপভাবে উহ্য (مضمر) বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত যা প্রকাশ করা বৈধ নয় বলে তারা দাবি করে, তা হলো সেই মাজরুর (مجرور) শব্দগুলো যা সংবাদ (خبر), সম্বন্ধসূচক বাক্য (صلة), বিশেষণ (صفة) অথবা অবস্থা (حال) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন: (যায়েদ ঘরের মধ্যে আছে, আমি তাকে দেখেছি যে ঘরের মধ্যে আছে, আমি কুরাইশ বংশীয় এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি, এবং যায়েদ ঘরের মধ্যে থাকা অবস্থায় আকাশের চাঁদ দেখেছে)। ব্যাকরণবিদরা দাবি করেন যে, 'ঘরের মধ্যে' (في الدار) আমাদের এই উক্তিটি একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট যার অনুমিত রূপ হলো: 'যায়েদ ঘরের মধ্যে অবস্থানরত (مستقر)'। তাদের এই দাবির পেছনে কারণ হলো তাদের আবিষ্কৃত সেই নীতি—যদি হারফে জারসমূহ অতিরিক্ত না হয়, তবে অবশ্যই তার জন্য একজন আমিল (عامل) থাকতে হবে যা তাতে আমল করবে; যদি সেই আমিল প্রকাশ্য না থাকে—যেমন আমাদের কথা: (যায়েদ ঘরের মধ্যে দণ্ডায়মান)—তবে তা উহ্য (مضمر) থাকবে—যেমন আমাদের কথা: (যায়েদ ঘরের মধ্যে আছে)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই সবকটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য যা দুটি বিশেষ্যের সমন্বয়ে গঠিত এবং তারা এমন দুটি অর্থ প্রকাশ করে যাদের মধ্যে একটি সম্পর্ক বিদ্যমান। আর 'মধ্যে' (في) অব্যয়টি সেই সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত করে, তাই আমাদের এর বাইরে অন্য কিছুর প্রয়োজন নেই। একইভাবে তারা 'আমি তাকে দেখেছি যে ঘরের মধ্যে আছে' বাক্যটির ক্ষেত্রে বলে যে এর অনুমিত রূপ হলো 'আমি তাকে দেখেছি যে ঘরের মধ্যে অবস্থান করছে (استقر)'। তদ্রূপ 'আমি কুরাইশ বংশীয় এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি' এর ক্ষেত্রে অনুমিত রূপ 'বিদ্যমান (كائن)' এবং 'আকাশের চাঁদ দেখেছি' এর ক্ষেত্রে 'বিদ্যমান থাকা অবস্থায় (كائنا)'। এই সবগুলোই পূর্ণাঙ্গ বাক্য, যেখানে শ্রোতার জন্য অতিরিক্ত কোনো শব্দের (বিদ্যমান বা অবস্থানরত) প্রয়োজন পড়ে না। সুতরাং যখন আমিল (عامل) এবং আমল বা ক্রিয়াশীলতার বিষয়টি বাতিল হয়ে যায়, তখন যারা এই উহ্যতার (إضمار) দাবি করে তাদের কাছে আর কোনো সংশয় অবশিষ্ট থাকে না।
অনুরূপ এই ধারার অন্তর্ভুক্ত হলো তাদের সেই দাবি, যেখানে তারা বলে যে ইসম ফায়েল (اسم فاعل), ইসম মাফউল (اسم مفعول), ইসম ফায়েলের অর্থ প্রদানকারী বিশেষ্যসমূহ এবং এর সদৃশ শব্দগুলোর মধ্যে মারফু (مرفوع) উহ্য সর্বনাম (ضمير) থাকে। এটি তখন হয় যখন এই বিশেষণগুলো কোনো প্রকাশ্য বিশেষ্যকে রফ (رفع) প্রদান করে না, যেমন: (প্রহারকারী, প্রহৃত, অত্যধিক প্রহারকারী ও সুন্দর) এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। তারা বলে: এগুলো প্রকাশ্য বিশেষ্যকে রফ (رفع) প্রদান করে যেমন আমাদের কথা: 'যায়েদ এমন ব্যক্তি যার পিতা আমরকে প্রহারকারী'। যখন এটি প্রকাশ্য বিশেষ্যকে রফ (رفع) প্রদান করছে, তখন উহ্য সর্বনামকে রফ (رفع) প্রদান করা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। অথচ আমিল (عامل) হওয়ার বিষয়টি বাতিল হওয়ার সাথে সাথেই এই দাবিও বাতিল হয়ে গেছে যে এগুলো প্রকাশ্য বিশেষ্যকে রফ (رفع) প্রদান করে। আর যখন 'প্রহারকারী' (ضارب)...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৮০)
موضوعاً لمعنيين: ليدل على الضرب، وعلى فاعل الضرب، غير مصرّح به (فإذا قلنا زيد ضارب عمراً) فضارب يدل على الفاعل غير مصرح باسمه، وزيد يدل على اسمه. فيا ليت شعري ما الداعي إلى تقدير زائد، لو ظهر لكان فضلاً؟ فإن قيل:
الدليل عليه ظهوره في بعض المواضع، وذلك عند العطف عليه في قولنا (زيد ضارب هو وبكر عمراً) وكذلك سمع من العرب (مررت بقوم عرب أجمعون) فلولا أن في عرب ضميراً مرفوعاً لما جاز رفع أجمعين. قيل: النحويون يقولون: إن هذا الضمير الذي برز ليس هو فاعلاً بضارب، ففاعل ضارب مضمر، وهذا المنطوق به توكيد له، وبكر معطوف على الضمير المقدر لا على البارز.
ولو سُلِّم ما قاله النحويون من أن هذا البارز تأكيد لمضمر آخر مراد، لم يُدَلَّ عليه بلفظ، وأن بكراً معطوف على ذلك المراد، قيل: إن هذا الضمير يضمر في حال العطف لا غير، وإذا لم يكن عطفٌ لم يكن ثم ضمير، ومن أين قِسْت حال غير العطف، وجعلت حال العطف مع قلتها أصلا لغيرها على كثرتها، والمتكلم لا ينوي الضمير إلا إذا عطف عليه، وإذا لم يعطف عليه لم يَنْوه، وهل قياس هذا على هذا إلا ظنّ، وكيف يثبت الظن شيئاً مُستُغنَى عنه لا فائدة للسامع فيه، ولا داعي إلى المتكلم إلى إثباته، وإثباته عيٌّ، لأن اسم الصفة المشتق وضع على الصفة وذي الصفة غير مصرح به، والضمير المدَّعى هو ذلك، لأنه صاحب الصفة غير مصرح به!. ويُسقِط ظنَّ قياس العطف أن هذه الصفات لم يظهر لها ضمير في حال التثنية والجمع كا ظهر في الفعل فيقابل هذا الظن في الإسقاط ذلك الظن في الإثبات، فعلى هذا يكون الإثبات لا دليل عليه قطعي ولا ظني، وإثباته في كلام الناس بغير دليل قطعي لا يجوز. فكيف بكتاب الله تعالى وادعاء زائد فيه بظنٍّ، والظن
এটি দুটি অর্থের জন্য নির্ধারিত: প্রহারের কাজ বোঝাতে এবং প্রহারের কর্তা (فاعل) বোঝাতে, যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। (যেমন আমরা যদি বলি যায়েদ আমরের প্রহারকারী), তবে 'প্রহারকারী' শব্দটি এমন এক কর্তা (فاعل)-কে নির্দেশ করে যার নাম স্পষ্টভাবে উল্লিখিত নেই, আর যায়েদ তার নামকে নির্দেশ করে। হায়! আমি যদি জানতাম, একটি অতিরিক্ত ঊহ্য মান (تقدير) ধরার প্রয়োজনীয়তা কী, যা প্রকাশ পেলে বাহুল্য মাত্র হতো? যদি বলা হয়:
এর প্রমাণ হলো কিছু ক্ষেত্রে এর প্রকাশ পাওয়া, যেমনটি ঘটে যখন এর ওপর সংযোজন (عطف) করা হয়। যেমন আমাদের কথা: (যায়েদ হলো এমন যে সে এবং বকর আমরকে প্রহারকারী)। অনুরূপভাবে আরবদের থেকে শোনা গেছে: (আমি এমন এক কওমের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি যারা সবাই আরব), যদি 'আরব' শব্দের মধ্যে কোনো রাফা-যুক্ত সর্বনাম (ضمير مرفوع) না থাকত, তবে 'সবাই' শব্দটিকে রাফা (رفع) প্রদান করা বৈধ হতো না। উত্তরে বলা হয়: ব্যাকরণবিদগণ (النحويون) বলেন যে, এই যে সর্বনাম (ضمير) প্রকাশ পেয়েছে তা 'প্রহারকারী' শব্দের কর্তা (فاعل) নয়; বরং 'প্রহারকারী'-র কর্তা (فاعل) হলো প্রচ্ছন্ন (مضمر), আর এই উচ্চারিত শব্দটি তার জন্য তাকিদ (توكيد) বা দৃঢ়তাস্বরূপ, এবং 'বকর' শব্দটি ঊহ্য সর্বনামের সাথে সংযুক্ত (معطوف), প্রকাশিত সর্বনামের সাথে নয়।
ব্যাকরণবিদদের এই দাবি যদি মেনেও নেওয়া হয় যে, এই প্রকাশিত রূপটি অন্য একটি কাঙ্ক্ষিত প্রচ্ছন্ন (مضمر) বিষয়ের তাকিদ (تأكيد), যার কোনো শব্দগত প্রমাণ নেই, এবং 'বকর' সেই কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের ওপর সংযোজিত (معطوف), তবে বলা হবে: এই সর্বনাম (ضمير) কেবল সংযোজনের (عطف) অবস্থাতেই প্রচ্ছন্ন থাকে, অন্যথায় নয়। আর যখন সংযোজন থাকে না, তখন সেখানে কোনো সর্বনামও (ضمير) থাকে না। আপনি সংযোজনহীন অবস্থাকে কোথা থেকে পরিমাপ বা কিয়াস (قست) করলেন? কেন আপনি স্বল্পব্যবহৃত সংযোজনের অবস্থাকে অধিকব্যবহৃত অন্য অবস্থার মূল হিসেবে গণ্য করলেন? বক্তা কেবল তখনই সর্বনামের (ضمير) নিয়ত করেন যখন তার ওপর কোনো কিছু সংযোজন (عطف) করেন; আর যখন সংযোজন করেন না, তখন তার নিয়তও করেন না। এর ওপর ওর এই তুলনা বা কিয়াস (قياس) কি ধারণা (ظن) ব্যতীত অন্য কিছু? আর এই ধারণা (ظن) কীভাবে এমন একটি অনাবশ্যক বিষয়কে সাব্যস্ত করতে পারে যাতে শ্রোতার কোনো ফায়দা নেই এবং বক্তারও তা সাব্যস্ত করার কোনো প্রয়োজন নেই? এটি সাব্যস্ত করা একটি ভাষাগত অসারতা; কারণ ব্যুৎপন্ন গুণবাচক বিশেষ্য (اسم الصفة المشتق) গুণ এবং গুণী—উভয়ের জন্যই গঠিত হয়েছে যেখানে গুণীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। আর যে সর্বনামের (ضمير) দাবি করা হচ্ছে তা-ই তো সেই গুণী ব্যক্তি যার নাম স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি! সংযোজনের কিয়াসের (قياس) এই ধারণাকে (ظن) যা বাতিল করে দেয় তা হলো—এই গুণবাচক শব্দগুলোতে দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে কোনো সর্বনাম (ضمير) প্রকাশ পায় না, যেমনটি ক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়। সুতরাং সাব্যস্ত করার এই ধারণা (ظن) এবং বাতিলের এই ধারণা (ظن) পরস্পর মুখোমুখি হয়। এমতাবস্থায়, এটি সাব্যস্ত করার স্বপক্ষে কোনো অকাট্য (قطعي) বা ধারণাপ্রসূত (ظني) দলিল অবশিষ্ট থাকে না। সাধারণ মানুষের কথায় কোনো অকাট্য (قطعي) দলিল ছাড়া এমন কিছু সাব্যস্ত করা জায়েজ নয়; তাহলে আল্লাহ তাআলার কিতাবের ক্ষেত্রে কীভাবে ধারণার (ظن) বশবর্তী হয়ে এতে অতিরিক্ত কিছুর দাবি করা সম্ভব, অথচ ধারণা (ظن) -
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৮১)
ليس بعلم. على أن الظن قد قابلة ظن آخر، وقد تقدم الحديث في الوعيد على ذلك. وكذلك ما استدلوا به من قولهم (مررت بقوم عرب أجمعون، ومررت بقاع عرفج كلُّه) فمعلوم أن عرباً اسم مرفوع لمعنى يتميز به عن العجم، وإذا قلت (مرت بقوم عرب) فقد تم الكلام إذ قد أتيت بصفة وموصوف، وإذا أضمرت فيه ضميراً لم يفد معنى زائداً، وإما قولهم (أجمعون) فشاذ، فانم سلمنا
انه توكيد لمضمر، فمن أين يُحكم بان هذا المضمر مرادٌ مع التوكيد، ومع عدم التوكيد، وإذ لم يكن توكيد فلا حاجة للمتكلم إليه. وقياس على هذا ظنَّ، لا يثبت به مثل هذا، لا سيما في كتاب الله تعالى. فإن قيل: فعلى هذا لا يثبت شيء في اللسان بالظن، قيل له: أما ما لا حاجة تدعو إليه فلا يثبت إلا بدليل قطعي، وأما ما يحتاج إليه مثل ألفاظ اللغة فإنها إذا نقلها السقاة قُبِلت وان كانت مظنونة، وكذلك غيرها مما تدعو الحاجة إليه.
فان قيل: فما تقول في مثل (زيد قام) إذ قالوا: في قام ضميراً فاعلاً؟ وليس داعي يدعو إلى ذلك غير قول النحويين: الفاعل لا يتقدم، ولا بد للفعل من فاعل. وقولهم هذا لا يخلو من أن يكون
এটি নিশ্চিত জ্ঞান (علم) নয়। কারণ, একটি ধারণার (الظن) বিপরীতে অন্য একটি ধারণা (الظন) থাকতে পারে এবং এই বিষয়ে সতর্কবাণী (الوعيد) সম্বলিত হাদিস পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে। অনুরূপভাবে তারা যা দ্বারা দলিল পেশ করে—যেমন তাদের এই কথা: (আমি একদল আরবের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি যারা সকলেই সেখানে ছিল, এবং আমি আরফাজ উদ্ভিদপূর্ণ এক সমতল ভূমির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি যার পুরোটাই ছিল)—এটি সর্বজনবিদিত যে, 'আরব' শব্দটি একটি মারফু বিশেষ্য (اسم مرفوع), যা অনারবদের থেকে পৃথক হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। আপনি যখন বলেন: (আমি একদল আরবের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি), তখন বাক্যটি পূর্ণ হয়ে যায়, যেহেতু আপনি সিফাত (صفة) ও মাউসুফ (موصوف) নিয়ে এসেছেন। আর আপনি যদি এর মধ্যে কোনো জমির (ضمير) উহ্য রাখেন, তবে তা অতিরিক্ত কোনো অর্থ প্রদান করে না। আর তাদের (আজমাউন) বলাটি হলো শায বা বিরল (شاذ)। যদি আমরা মেনেও নিই
যে এটি একটি উহ্য পদের তাকিদ (توكيد), তবে কোথা থেকে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে যে, এই উহ্য বিষয়টি তাকিদসহ এবং তাকিদ বিহীন—উভয় অবস্থায়ই উদ্দেশ্য? আর যখন তাকিদ (توكيد) থাকে না, তখন বক্তার এর কোনো প্রয়োজনও থাকে না। এ ধরনের ধারণার (الظن) ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (قياس) করলে এ জাতীয় বিষয় সাব্যস্ত হয় না, বিশেষ করে মহান আল্লাহর কিতাবের ক্ষেত্রে। যদি বলা হয়: তবে তো এই নিয়ম অনুযায়ী ভাষার কোনো কিছুই ধারণার (الظن) ওপর ভিত্তি করে সাব্যস্ত হবে না; উত্তরে বলা হবে: যে বিষয়ের কোনো আবশ্যকতা নেই, তা অকাট্য দলিল (دليل قطعي) ছাড়া সাব্যস্ত হয় না। কিন্তু যা প্রয়োজনীয়, যেমন ভাষার শব্দাবলী, সেগুলো যখন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীরা (السقاة) বর্ণনা করেন, তখন তা গ্রহণ করা হয়, যদিও তা ধারণাপ্রসূত (مظنونة) হয়। অনুরূপভাবে অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও একই বিধান।
যদি প্রশ্ন করা হয়: (জায়েদ দাঁড়িয়েছে) এর মতো উদাহরণের ক্ষেত্রে আপনার বক্তব্য কী, যেখানে তারা বলে: 'দাঁড়িয়েছে' ক্রিয়ার মধ্যে একটি ফায়েল (فاعل) জমির (ضمير) রয়েছে? অথচ ব্যাকরণবিদদের (النحويين) এই উক্তি ছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই যে—ফায়েল (فاعل) আগে আসতে পারে না এবং প্রতিটি ফেল (فعل) বা ক্রিয়ার জন্য একজন ফায়েল (فاعل) থাকা অপরিহার্য। তাদের এই বক্তব্য নিম্নোক্ত বিষয়ের বাইরে নয় যে
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৮২)
مقطوعاً به أو مظنوناً، فإن كان مظنوناً فأمره أمر الضمير المدَّعي في اسم الفاعل، وان كان مقطوعاً به صح هذا الإضمار. ولا بد أن يتقدم قبل الكلام في هذا الموضع مقدمات تعين الناظر فيه على ما قصد تبيينه، وهي أن الدلالة على ضربين: دلالة لفظيه مقصودة للواضع، كدلالة الاسم على مسماه، ودلالة الفعل على الحدث والزمان، ودلالة لزوم، كدلالة السقف على الحائط، ودلالة الفعل المتعدي على المفعول به وعلى المكان. ودلالته على الفاعل فيها خلاف بين الناس، منهم من يجعل دلالته عليه كدلالته على الحدث والزمان، ومنهم من يجعل دلالته عليه كدلالته على المفعول به فإذا قيل (زيد قام) ودل لفظ (قام) على الفاعل دلالة قصد فلا يُحتاج إلى أن يضمر شيء، لأنه زيادة لا فائدة فيها، كما كان ذلك في اسم الفاعل، إذ كان اسم الفاعل موضوعاً للدلالة على الفاعل والفعل، فالفعل على هذا دال على ثلاثة، وإن كانت دلالة الفعل عليه دلالة لزوم وتبع.
وهنا احتمالان: أحدهما في نفس المتكلم ضميراً كما في قولنا (زيداً ضربته) لكنه لم يُدَلّ عليه بلفظ، لعلم المخاطب به، والدليل على ذلك قولهم في التسلية (قاما
ويقومان) وفي الجمع (قاموا ويقومون) فهذه ضمائر دُلَّ عليها بألفاظ. والثاني أن تكون هذه الألف والواو علامتين للتثنية والجمع، كما قيل (أكلوني البراغيث) جعلها بعض العرب مع التقديم والتأخير. وجعلها أكثرهم مع تأخير الفعل عن الفاعل، كما لزمت تاء التأنيث مع التأخير للفعل، إذ كان الفاعل تأنيثه غير حقيقي، ولم تلزم مع التقديم، ولم تحذف مع تأخير الفعل إلا في الشعر، كقول القائل:
এটি সুনিশ্চিত (مقطوع به) কিংবা ধারণাপ্রসূত (مظنون); যদি তা ধারণাপ্রসূত (مظنون) হয়, তবে এর বিষয়টি হবে কর্তৃবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে দাবিকৃত উহ্য সর্বনামের (ضمير) মতো। আর যদি তা সুনিশ্চিত (مقطوع به) হয়, তবে এই উহ্যকরণ সঠিক হবে। এ বিষয়ে আলোচনার পূর্বে এখানে কিছু ভূমিকা পেশ করা আবশ্যক, যা অনুসন্ধানকারীকে উদ্দিষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যা বুঝতে সাহায্য করবে। আর তা হলো—নির্দেশনা (دلالة) দুই প্রকার: প্রথমত, শাব্দিক নির্দেশনা (دلالة لفظية), যা শব্দ প্রয়োগকারীর পক্ষ থেকে উদ্দেশ্য থাকে, যেমন কোনো সংজ্ঞার্থের (নামের) নির্দেশনা তার সংজ্ঞায়িত সত্তার ওপর, অথবা ক্রিয়ার নির্দেশনা কাজ ও কালের ওপর। দ্বিতীয়ত, আবশ্যিক নির্দেশনা (دلالة لزوم), যেমন ছাদের নির্দেশনা দেয়ালের ওপর এবং সকর্মক ক্রিয়ার নির্দেশনা কর্ম ও স্থানের ওপর। কর্তার ওপর ক্রিয়ার নির্দেশনা প্রদানের বিষয়ে আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন কর্তার ওপর ক্রিয়ার নির্দেশনা কাজ ও কালের ওপর নির্দেশনার মতোই। আবার কেউ কেউ একে কর্মের ওপর নির্দেশনার মতো গণ্য করেন। সুতরাং যখন বলা হয় (জায়েদ দাঁড়িয়েছে) এবং ‘দাঁড়িয়েছে’ শব্দটি যদি কর্তার ওপর উদ্দেশ্যমূলক নির্দেশনা (دلالة) প্রদান করে, তবে সেখানে কোনো কিছু উহ্য রাখার প্রয়োজন নেই। কারণ এটি একটি অনর্থক অতিরিক্ত বিষয়, যেমনটি কর্তৃবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কেননা কর্তৃবাচক বিশেষ্যটি কর্তা ও ক্রিয়ার ওপর নির্দেশনা প্রদানের জন্যই গঠিত হয়েছে। এমতাবস্থায় ক্রিয়াটি তিনটি বিষয়ের নির্দেশক, যদিও কর্তার ওপর ক্রিয়াটির নির্দেশনা হচ্ছে আবশ্যিক নির্দেশনা (دلالة لزوم) ও অনুগামী হিসেবে।
এখানে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে: প্রথমটি হলো, বক্তার মনে একটি উহ্য সর্বনাম (ضمير) থাকা, যেমন আমাদের উক্তি: (জায়েদকে আমি তাকে মেরেছি), কিন্তু শ্রোতার নিকট বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কারণে তা শব্দে প্রকাশ করা হয়নি। এর প্রমাণ হলো দ্বিবচনের ক্ষেত্রে তাদের উক্তি (তারা দুজন দাঁড়িয়েছে
ও তারা দুজন দাঁড়াচ্ছে) এবং বহুবচনের ক্ষেত্রে (তারা সকলে দাঁড়িয়েছে ও তারা সকলে দাঁড়াচ্ছে)। এগুলো হচ্ছে সেই সর্বনাম (ضمير) যা শব্দের মাধ্যমে নির্দেশ করা হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো, এই আলিফ ও ওয়াও দ্বিবচন ও বহুবচনের চিহ্ন হওয়া, যেমনটি বলা হয়েছে (আমাকে মাছিগুলো খেয়েছে)। কোনো কোনো আরব গোত্র শব্দ আগে-পিছে করার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করেছেন। তবে তাদের অধিকাংশ একে কর্তার পরে ক্রিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করেছেন, যেমনটি কর্তার নারীবাচকতা প্রকৃত না হলে ক্রিয়ার শেষে স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’ যুক্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। শব্দের শুরুতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি আবশ্যক হয় না এবং ক্রিয়া পরে আসার ক্ষেত্রে তা কাব্য ব্যতিরেকে বিলুপ্ত হয় না, যেমন জনৈক কবির উক্তি:
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
فلا مُزنةٌ وَدَقَتْ وَدْقَها
… ولا أرضَ أبْقَل إبقالها
فان قيل: فما تصنع بقولهم (أنت قمت وأنا قمت) لم يُغنِهم تقديم الفاعل عن إعادته أخيراً؟ قيل: هذا دليل، ولكن قياس الغائب عن المخاطب والمتكلم ليس بقطعي، ولعله يُكتَفَي في الغائب بالظاهر المتقدم ولكن يكتفي به في غيره.
فإن قيل: فما الصحيح في دلالة الفعل على الفاعل؟ قيل: الأظهر أن دلالة الفعل على الفاعل لفظية. ألا ترى انك تعرف من الياء التي في (يعلم) أن الفاعل غائب مذكر، ومن الألف في (أعلم) من أنه متكلم، ومن النون في نعلم أنه متكلمون ومن التاء في تعلم أنه مخاطب أو غائبه، ووقع الاشتراك هنا، كما وقع في (يعلم) وما أشبهه، بين الحال والمستقبل. وتعرف من لفظ (علم) أن الفاعل غائب مذكر. وعلى هذا فلا ضمير لأن الفعل يدل بلفظه عليه، كما يدل على الزمان، فلا حاجة بنا إلى إضمار. وإما على الرأي الآخر، فالأظهر أنه إضمار لما تقدم.
والنحويين يفرقون بين الإضمار والحذف ويقولون (أعني حُذَّافهم) أن الفاعل يضمر ولا يحذف، فإن كانوا يعنون في المضمر مالا بد منه، وبالمحذوف ما قد يستغنى عنه، فهم يقولون: هذا انتصب بفعل مضمر،
ফলে কোনো মেঘই তার বারিপাত করেনি
… আর কোনো জমিনই তার উদ্ভিদ উৎপাদন করেনি।
যদি বলা হয়: তবে তাদের কথা ‘তুমি দাঁড়িয়েছ এবং আমি দাঁড়িয়েছি’ সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী? যেখানে কর্তাকে (الفاعل) পূর্বে উল্লেখ করা শেষে তার পুনরাবৃত্তি করা থেকে তাদের অমুখাপেক্ষী করেনি? উত্তরে বলা হয়: এটি একটি প্রমাণ, কিন্তু অনুপস্থিতের (غائب) কিয়াস বা তুলনা উপস্থিত (مخاطب) ও বক্তার (متكلم) ওপর করা অকাট্য (قطعي) নয়। সম্ভবত অনুপস্থিতের ক্ষেত্রে পূর্বোল্লিখিত প্রকাশ্য (ظاهر) বিশেষ্যটিই যথেষ্ট হয়, কিন্তু অন্য ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট হয় না।
যদি প্রশ্ন করা হয়: ক্রিয়া (الفعل) কর্তৃক কর্তার (الفاعل) ওপর নির্দেশনার ক্ষেত্রে সঠিক বিষয়টি কী? উত্তরে বলা হয়: অধিকতর স্পষ্ট অভিমত হলো যে, ক্রিয়া কর্তৃক কর্তার নির্দেশনা হচ্ছে শাব্দিক (لفظية)। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, ‘ইয়া’ যা ‘সে জানে’ (يعلم) শব্দে রয়েছে, তা থেকে আপনি বুঝতে পারছেন যে কর্তা (الفاعل) হলো নাম পুরুষ (غائب مذكر)? এবং ‘আলিফ’ যা ‘আমি জানি’ (أعلم) শব্দে রয়েছে, তা নির্দেশ করে যে সে বক্তা (متكلم); এবং ‘নুন’ যা ‘আমরা জানি’ (نعلم) শব্দে রয়েছে, তা নির্দেশ করে যে তারা বক্তাবৃন্দ (متكلمون); এবং ‘তা’ যা ‘তুমি জানো’ (تعلم) শব্দে রয়েছে, তা নির্দেশ করে যে সে উপস্থিত (مخاطب) অথবা অনুপস্থিত স্ত্রীলিঙ্গ। এখানে বর্তমান কাল (الحال) ও ভবিষ্যৎ কাল (المستقبل)-এর মধ্যে একটি সাধারণ অবস্থা তৈরি হয়েছে, যেমনটি ‘সে জানে’ (يعلم) ও এর সদৃশ শব্দগুলোর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। এবং আপনি ‘সে জেনেছে’ (علم) শব্দ থেকে বুঝতে পারেন যে কর্তা (الفاعل) হলো নাম পুরুষ (غائب مذكر)। এর ভিত্তিতে এখানে কোনো সর্বনাম (ضمير) নেই, কারণ ক্রিয়া (الفعل) তার নিজস্ব শব্দের মাধ্যমেই তাকে নির্দেশ করে, যেমনটি তা সময়ের (الزمان) ওপর নির্দেশ করে। সুতরাং আমাদের উহ্য রাখার (إضمار) কোনো প্রয়োজন নেই। আর অন্য মতানুসারে, অধিকতর স্পষ্ট হলো যে এটি পূর্বোল্লিখিত বিষয়ের কারণে উহ্যকরণ (إضمار)।
আর ব্যাকরণবিদগণ উহ্য রাখা (إضمار) ও বিলোপ সাধনের (الحذف) মধ্যে পার্থক্য করেন এবং তারা বলেন (আমি তাদের দক্ষদের উদ্দেশ্য করছি) যে, কর্তাকে (الفاعل) উহ্য রাখা (يضمر) হয় কিন্তু বিলোপ (يحذف) করা হয় না। সুতরাং তারা যদি উহ্য (مضمر) বলতে এমন কিছু বোঝান যা অপরিহার্য, আর বিলোপকৃত (محذوف) বলতে এমন কিছু বোঝান যা থেকে বিমুখ হওয়া সম্ভব, তবে তারা বলেন: এটি একটি উহ্য (مضمر) ক্রিয়ার (الفعل) কারণে নসব প্রাপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
لا يجوز إظهاره. والفعل الذي بهذه الصفة لابد منه، ولا يتمّ الكلام إلا به، وهو الناصب، فلا يوجد منصوب إلا بناصب. وإن كانوا يعنون بالمضمر الأسماء، ويعنون بالمحذوف
الأفعال، ولا يقع الحذف إلا في الأفعال أو الجمل لا في الأسماء، فهم يقولون في قولنا (الذي ضربت زيد) إن المفعول محذوف تقديره ضربته. فإن فُرِّقَ بينهما بما هو مقطوع بأن المتكلم أراده، وبما يظن أن المتكلم أراده ويجوز أن لا يريده، فهو فرق، لكن إطلاق النحويين لهذين اللفظين لا يأتي موافقاً لهذا الفرق.
والذي يجيء أن يعتقد في مثل (زيد قام) أنه يجوز أن يريد المتكلم إعادة الفاعل، ويجوز أن يكتفي بما تقدم، والأظهر أن يكتفي بما تقدم. هذا إذا كان في كلام الناس، وإما في كلام البارئ سبحانه، فالإضراب عن إثباته ونفيه واجب، لأنه لا يوجد فيه دليل قطعي، ولا حاجة بنا إلى القول بالإثبات والإبطال فيه.
এটি প্রকাশ করা বৈধ নয়। আর এই বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ক্রিয়াটি অপরিহার্য, এবং এটি ব্যতীত বক্তব্য পূর্ণ হয় না; আর তা হলো কারক প্রদানকারী (ناصب), কারণ কারক প্রদানকারী ব্যতীত কোনো কর্মকারকীয় পদ (منصوب) থাকতে পারে না। যদি তারা উহ্য (مضمر) দ্বারা বিশেষ্যসমূহ এবং বিলুপ্ত (محذوف) দ্বারা
ক্রিয়াগুলো বুঝিয়ে থাকেন, তবে জেনে রাখা উচিত যে, বিলোপন কেবল ক্রিয়া বা বাক্যের ক্ষেত্রেই ঘটে, বিশেষ্যের ক্ষেত্রে নয়। তাই তারা আমাদের উক্তি 'যাকে আমি প্রহার করেছি সে যাইদ' এর ক্ষেত্রে বলেন যে, কর্মপদটি এখানে বিলুপ্ত (محذوف), যার প্রাক্কলিত রূপ হলো 'আমি তাকে প্রহার করেছি'। যদি এই দুটির মধ্যে এমন কোনো বিষয়ের মাধ্যমে পার্থক্য করা হয় যা বক্তার উদ্দেশ্য হিসেবে অকাট্য (مقطوع), এবং যা বক্তার উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হয় অথচ তিনি তা উদ্দেশ্য না-ও করতে পারেন—তবে তা একটি পার্থক্য হিসেবে গণ্য হতে পারে। কিন্তু বৈয়াকরণদের এই দুটি শব্দের সাধারণ প্রয়োগ এই পার্থক্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আর যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, 'যাইদ দাঁড়িয়েছে' এর মতো উদাহরণে এই বিশ্বাস রাখা যেতে পারে যে, বক্তা সম্ভবত কর্তার পুনরাবৃত্তি করার ইচ্ছা করেছেন, অথবা পূর্ববর্তী বর্ণনার ওপরই তুষ্ট থেকেছেন; তবে পূর্ববর্তী বর্ণনার ওপর তুষ্ট থাকাই অধিকতর স্পষ্ট। এটি মানুষের কথার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু মহান স্রষ্টার বাণীর ক্ষেত্রে, তা প্রমাণ করা বা অস্বীকার করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক (واجب), কারণ এতে কোনো অকাট্য (قطعي) দলিল নেই, এবং আমাদের জন্য এতে কোনো কিছুর সাব্যস্ত করা বা বাতিল করার উক্তি করার প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
فصل
فإن قيل: أنت قد أبطلت أن يكون في الكلام عامل ومعمول، فأرنا كيف يتأنى ذلك مع الوصول إلى غاية النحو، قلت: أورد هذا في أبواب تدل على ما سواها بالأحرى، وقد شرعت في كتاب يشتمل على أبواب النحو كلها، فإن قضى الله تعالى بإكماله انتفع به من لم يعقه عند التقليد، وإلا فيستدل بهذه الأبواب على غيرها.
فمن هذه الأبواب: باب الفاعلَيْن والمفعولَيْن الذين كل واحد منهما يفعل بفاعله مثلما يفعل به الآخر وما كان نحو ذلك. هذه ترجمة سيبويه رحمة الله. وأنا في هذا الباب لا أخالف النحويين إلا في أن أقول: علَّقت ولا أقول: أعملت، والتعليق يستعمله النحويون في المجرورات، وأنا استعمله في المجرورات والفاعلين والمفعولين، تقول (قام وقعد زيد) فإن علقت زيداً بالفعل الثاني، فبين النحويين في ذلك اختلاف: الفراء لا يجزيه، والكسالة يجزيه على
পরিচ্ছেদ
যদি প্রশ্ন করা হয়: আপনি তো বাক্যের মধ্যে আমিল (প্রভাবক) ও মামুল (প্রভাবিত শব্দ) থাকার বিষয়টি বাতিল করে দিয়েছেন, তবে আমাদের দেখান কীভাবে ব্যাকরণশাস্ত্রের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর সাথে সাথে এটি সম্ভব হয়? আমি উত্তরে বলব: আমি এটি এমন কিছু অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি যা অন্যান্য বিষয়ের প্রতি অধিকতর স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত প্রদান করে। আমি এমন একটি গ্রন্থ রচনা শুরু করেছি যা ব্যাকরণশাস্ত্রের (নাহু) সকল অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে। যদি আল্লাহ তাআলা এটি সম্পন্ন করার ফয়সালা করেন, তবে যারা অন্ধ অনুকরণের কারণে সত্য বিমুখ নয়, তারা এর দ্বারা উপকৃত হবে; অন্যথায়, এই অধ্যায়গুলোর মাধ্যমেই অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যাবে।
এই অধ্যায়গুলোর মধ্যে একটি হলো: এমন দুই কর্তা এবং দুই কর্মের অধ্যায়, যাদের প্রত্যেকেই তার কর্তার সাথে তেমন আচরণ করে যেমনটি অন্যজন তার সাথে করে থাকে এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এটি সিবওয়াইহ (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর শিরোনাম বিন্যাস। আমি এই অধ্যায়ে বৈয়াকরণদের সাথে কেবল এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করি যে, আমি বলি: 'সংযুক্ত করেছি', কিন্তু আমি বলি না: 'আমল করিয়েছি'। বৈয়াকরণগণ 'তালিক' (সংযুক্তি) শব্দটি কেবল মাজরুর বা যার-বিশিষ্ট শব্দসমূহের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন; আর আমি এটি মাজরুর, কর্তা এবং কর্ম—সকলের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করি। যেমন আপনি বলেন, 'যায়িদ দাঁড়াল এবং বসল'; এখন আপনি যদি 'যায়িদ' শব্দটিকে দ্বিতীয় ক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত করেন, তবে এ বিষয়ে বৈয়াকরণদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে: আল-ফাররা একে বৈধ মনে করেন না, আর আল-কিসালা একে বৈধ মনে করেন...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
حذف الفاعل، وغيره يجزيه على الإضمار، الذي يفسره ما بعده، والدليل على حذفه ما بعده والدليل على حذفه قول الشاعر:
وكُمْتاً مدمَّاةً كأنَّ متونه
… جرى فوقها واستشعرتْ لونَ مُذْهَب
فجرى لا فاعل له ظاهراً، فإما أن يكون محذوفاً، وأما أن يكون مضمراً، ومن الدليل عليه قوله تعالى
কর্তার বিলোপ (حذف الفاعل), আবার অন্যরা একে উহ্য রাখার (الإضمار) ভিত্তিতে বৈধ গণ্য করেন, যা তার পরবর্তী অংশ দ্বারা ব্যাখ্যায়িত হয়। এর বিলোপের প্রমাণ হলো পরবর্তী অংশ এবং এর বিলোপের প্রমাণ কবির এই উক্তি:
এবং গাঢ় লাল বর্ণের ঘোড়া যার পিঠগুলো যেন
… তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং স্বর্ণালি রঙ ধারণ করেছে।
এখানে 'জারা' (প্রবাহিত হওয়া) ক্রিয়াটির কোনো প্রকাশ্য কর্তা (فاعل) নেই; সুতরাং এটি হয় বিলুপ্ত (محذوف) অবস্থায় আছে অথবা উহ্য (مضمر) অবস্থায় রয়েছে। এর সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী হলো:
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
{حَتَّى تَوَارَتْ بِالْحِجَابِ} وقوله {عَبَسَ وَتَوَلَّى، أَن جَاءهُ الأَعْمَى {. فهذه الأفعال لا فاعل لها ظاهراً. وأما أي الرأيين أحق، فرأى الكسالى لأنه غيره يقول: حذفُ الفاعل لا يجوز، لأن الفاعل والفعل كالشيء الواحد، فمهما متلازمان، فعلى هذا لا يجوز حذف الفعل وإبقاء الفاعل، وهم يجيزونه!. ومن الدليل على صحة مذهب الكسالى قول علقمة:
تعفَّقَ بالأرطي لها وأرادها
… رجالٌ فبذَّت نَبْلَهُم وكَلِيبُ
وإن علَّقت زيداً بالفعل الأول قلت في التثنية (قام وقعد الزيدان) وفي الجمع (قام
وقعدوا الزيدون). وتقول (مررت ومر بي زيد) على تعليق زيد بقولك: مرَّ،
{যতক্ষণ না তা পর্দার আড়ালে সমাচ্ছন্ন হলো} এবং তাঁর বাণী {তিনি ভ্রুকুটি করলেন ও মুখ ফিরিয়ে নিলেন, কারণ তাঁর নিকট অন্ধ ব্যক্তিটি এলো}। এই ক্রিয়াগুলোর (افعال) কোনো প্রকাশ্য কর্তা (فاعل) নেই। আর এই দুই মতের মধ্যে কোনটি অধিক গ্রহণযোগ্য, তা হলো কিসায়ি-এর (الكسائي) মত; কারণ অন্যরা বলেন: কর্তা (فاعل) বিলুপ্ত করা জায়েয নয়, যেহেতু কর্তা (فاعل) ও ক্রিয়া (فعل) একটি অবিচ্ছেদ্য বিষয়ের ন্যায় এবং তারা পরস্পর অপরিহার্য। সুতরাং এই নিয়মানুসারে, ক্রিয়া (فعل) বিলুপ্ত করে কর্তা (فاعل) অবশিষ্ট রাখা বৈধ নয়, অথচ তারা এটিকে বৈধ মনে করেন! কিসায়ি-এর মাযহাবের (مذهب) বিশুদ্ধতার স্বপক্ষে আলক্বামাহ-এর উক্তিটি একটি দলিল:
সে আরতি বৃক্ষের আড়ালে আত্মগোপন করল এবং তাকে শিকার করার ইচ্ছা পোষণ করল
… একদল লোক, কিন্তু সে তাদের তীর ও শিকারি কুকুরকে ব্যর্থ করে দিল
আর আপনি যদি 'যায়েদ' শব্দটিকে প্রথম ক্রিয়ার (فعل) সাথে সংশ্লিষ্ট করেন, তবে দ্বিবচনের ক্ষেত্রে বলবেন (قام وقعد الزيدان - দুই যায়েদ দাঁড়িয়েছিল ও বসেছিল) এবং বহুবচনের ক্ষেত্রে বলবেন (قام
وقعدوا الزيدون - যায়েদগণ দাঁড়িয়েছিল ও তারা বসেছিল)। এবং আপনি বলেন (مررت ومر بي زيد - আমি অতিক্রম করলাম এবং যায়েদ আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করল), এখানে আপনার উক্তি 'مرَّ' (অতিক্রম করল)-এর সাথে যায়েদকে সংশ্লিষ্ট করার ভিত্তিতে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
وإن علقته بمررت قلت (مررت ومر بي بزيد) تقديره مررت بزيد ومرَّ بي، وفي التثنية (مررت ومرَّا بى بالزيدَين) وفي الجمع (مررت ومروا بي بالزيدين). وتقول (مرَّ بي ومررت بزيد) على التعليق بالثاني، وفيه من الاختلاف ما في المسالة قبلها. وعلى التعليق بالأول (مرَّ بي ومررت به زيد) تقديره مرَّ بي زيد ومررت به، وتقول (ضربت وضربني زيد) على التعليق بالثاني، وفي التثنية (ضربت وضربني الزيدان) وفي الجمع (ضربت وضربني الزيدون). وعلى التعليق بالأول (ضربت وضربني زيداً) وفي التثنية (ضربت وضرباني الزيدين) وفي الجمع (ضربت وضربوني الزيدين) قال الله تعالى في التعليق بالثاني {آتُونِي أُفْرِغْ عَلَيْهِ قِطْراً} فقطراً مفعول بأفرغ. وقال الشاعر في التعليق بالأول:
এবং যদি আপনি একে 'মারারতু' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করেন তবে বলবেন (মারারতু ওয়া মাররা বী বি-জাইদিন), এর উহ্যরূপ হলো: 'মারারতু বি-জাইদিন ওয়া মাররা বী'। দ্বিবচনের ক্ষেত্রে বলবেন (মারারতু ওয়া মাররা বী বিজ-জাইদাইনি) এবং বহুবচনের ক্ষেত্রে (মারারতু ওয়া মাররূ বী বিজ-জাইদীনা)। আর দ্বিতীয় ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করার ভিত্তিতে আপনি বলবেন (মাররা বী ওয়া মারারতু বি-জাইদিন); এই ক্ষেত্রেও ঐ একই মতভেদ বিদ্যমান যা এর পূর্ববর্তী মাসআলায় বর্ণিত হয়েছে। আর প্রথম ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করার ভিত্তিতে বলবেন (মাররা বী ওয়া মারারতু বিহি জাইদুন), এর উহ্যরূপ হলো: জাইদ আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছে এবং আমি তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি। এবং আপনি দ্বিতীয় ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করার ভিত্তিতে বলবেন (দারাবতু ওয়া দারাবানী জাইদুন), দ্বিবচনের ক্ষেত্রে (দারাবতু ওয়া দারাবানী আল-জাইদানি) এবং বহুবচনের ক্ষেত্রে (দারাবতু ওয়া দারাবানী আল-জাইদূনা)। আর প্রথম ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করার ভিত্তিতে বলবেন (দারাবতু ওয়া দারাবানী জাইদান), দ্বিবচনের ক্ষেত্রে (দারাবতু ওয়া দারাবানী আল-জাইদাইনি) এবং বহুবচনের ক্ষেত্রে (দারাবতু ওয়া দারাবানী আল-জাইদাইনি)। আল্লাহ তাআলা দ্বিতীয় ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করার বিষয়ে ইরশাদ করেছেন: {তোমরা আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি এর ওপর গলিত তামা ঢেলে দেব}, এখানে 'কিতরান' শব্দটি 'উফরিগ' ক্রিয়ার কর্ম। আর কবি প্রথম ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করার বিষয়ে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
فردَّ على الفؤادِ هَوىً عميداً
… وسُوئِلَ لو يُبينُ لنا السؤالا
وقد نَعْنَي بها ونرى عُصوراً
… بها يَقْتَدْنَنَا الخُرُدَ الخِدَالا
وقال الفرزدق في التعليق بالثاني:
ولكنَّ نِصْفاً لو سببت وسبَّني
… بنو عبد شمسٍ من منافٍ وهاشم
وقال طفيل الغنوى في ذلك:
وكُمْتاً مدمَّاةً كأنَّ متونه
… جرى فوقها واستشعرتْ لونَ مُذْهَب
وقال عمر بن أبي ربيعة في التعليق الأول:
إذا هي لم تَسْتَكْ بعود أَرَاكَةٍ
… تُنُخِّلَ فاستاكتْ به عودُ إِسْحِل
এটি হৃদয়ে এক গভীর ও ব্যথাতুর অনুরাগ ফিরিয়ে আনল
… আর যদি তাকে জিজ্ঞাসা করা হতো, তবে সে আমাদের নিকট সেই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট করত।
আমরা এর দ্বারা সেসকল যুগকে উদ্দেশ্য করতে পারি এবং তা প্রত্যক্ষ করি
… যখন লাজুক ও সুন্দরী রমণীরা আমাদের পরিচালিত করত।
এবং আল-ফারাজদাক দ্বিতীয় ঝুলন্ত বর্ণনায় (التعليق الثاني) বলেছেন:
কিন্তু এটি তো ইনসাফ হতো যদি আমি গালি দিতাম এবং আমাকে গালি দিত
… মানাফ ও হাশিম বংশের আবদু শামসের সন্তানেরা।
তুফাইল আল-গানাবি এই বিষয়ে বলেছেন:
এবং রক্তিম বর্ণের ঘোড়াগুলো, যাদের পৃষ্ঠদেশ (متون) যেন
… তরল সোনা দ্বারা প্লাবিত হয়েছে এবং স্বর্ণালি আভা ধারণ করেছে।
উমর ইবনে আবি রাবিআহ প্রথম ঝুলন্ত বর্ণনায় (التعليق الأول) বলেছেন:
সে যদি আরাক গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক না করত
… তবে সে ইশহিল গাছের উৎকৃষ্ট ডাল বেছে নিয়ে তা দিয়ে মেসওয়াক করত।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলান নুহাত
(পৃষ্ঠা: ৯০)
وتقول (أعطيت وأعطاني زيد درهماً) وعلى التعليق بالأول (أعطيت وأعطانيه زيد درهماً) وتقول (ظننت وظنني زيد شاخصاً) وعلى التعليق بالأول (ظننت وظننيه زيداً شاخصاً) وفي التثنيه (ظننت وظناني شاخصاً الزيدَين شاخصين) وفي الجمع (ظننت وظنوني شاخصاً الزيدين شاخصين). تقديره (ظننت الزيدين
شاخصين وظنوني شاخصاً) فلم تجمع شاخصاً، لأن المفعول الثاني في هذه الأفعال يطابق الأول، ولم تضمره، لأن ضمير الواحد لا يعود على الاثنين، فلو قلت (ظننت وظنناني) وثنيت شاخصاً، وأضمرته، لقلت: (ظننت وظنناني إياهما الزيدين شاخصين)، وفي الجمع (ظننت وظنوني إياهم الزيدين شاخصين)! وتقول (أعلمت وأعلمني زيد عمراً منطلقاً) على التعليق بالثاني، وعلى التعليق بالأول (أعلمت وأعلمنيه إياه زيداً عمراً منطلقاً)، وفي التثنيه (أعلمت وأعلمانيهما إياهما الزيدين العمرين منطلقين)، وفي الجمع (أعلمت وأعلمونيهم إياهم الزيدين العمرين منطلقين). تقدير الكلام: أعلمت الزيدين العمرين منطلقين وأعلمونيهم إياهم. ورأيي في هذه المسالة وما شاكلها أنها لا تجوز، لأنه لم يأتي لها نظر في كلام العرب، وقياسها على الأفعال الدالة على مفعول به واحد قياسٌ بعيد، لما فيه من الإشكال من الضمائر والتأخير والتقديم.
وفروع هذا الباب كثيرة، منها أن جميع الأفعال من متصرف وغير متصرف هل تدخل في هذا الباب أولاً، ومنها أن الأسماء والحروف
আপনি বলবেন (আমি দান করেছি এবং জায়েদ আমাকে একটি দিরহাম দান করেছে) এবং প্রথমটির সাথে সংশ্লিষ্ট করার ক্ষেত্রে বলবেন (আমি তাকে দান করেছি এবং জায়েদ আমাকে তা দান করেছে একটি দিরহাম)। আপনি বলবেন (আমি ধারণা করেছি এবং জায়েদ আমাকে উপস্থিত হিসেবে ধারণা করেছে), এবং প্রথমটির সাথে সংশ্লিষ্ট করার ক্ষেত্রে বলবেন (আমি তাকে ধারণা করেছি এবং জায়েদ আমাকে তাকে উপস্থিত হিসেবে ধারণা করেছে জায়েদকে)। দ্বিবচনের ক্ষেত্রে (আমি ধারণা করেছি এবং তারা দুজন আমাকে উপস্থিত হিসেবে ধারণা করেছে দুই জায়েদকে উপস্থিত হিসেবে) এবং বহুবচনের ক্ষেত্রে (আমি ধারণা করেছি এবং তারা সকলে আমাকে উপস্থিত হিসেবে ধারণা করেছে সকল জায়েদকে উপস্থিত হিসেবে)। এর বিশ্লেষণ হলো (আমি দুই জায়েদকে
উপস্থিত হিসেবে ধারণা করেছি এবং তারা সকলে আমাকে উপস্থিত হিসেবে ধারণা করেছে), সুতরাং আপনি 'উপস্থিত' শব্দটিকে বহুবচন করেননি, কারণ এই ক্রিয়াগুলোতে দ্বিতীয় কর্মটি প্রথমটির সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। এবং আপনি একে সর্বনামযুক্ত করেননি, কারণ একবচনের সর্বনাম দ্বিবচনের দিকে প্রত্যাবর্তন করে না। যদি আপনি বলতেন (আমি ধারণা করেছি এবং তারা দুজন আমাকে ধারণা করেছে) এবং 'উপস্থিত' শব্দটিকে দ্বিবচন করতেন এবং সর্বনামযুক্ত করতেন, তবে বলতেন: (আমি ধারণা করেছি এবং তারা দুজন আমাকে তাদের সম্পর্কে ধারণা করেছে দুই জায়েদকে উপস্থিত হিসেবে), আর বহুবচনের ক্ষেত্রে (আমি ধারণা করেছি এবং তারা সকলে আমাকে তাদের সম্পর্কে ধারণা করেছে সকল জায়েদকে উপস্থিত হিসেবে)! আপনি বলবেন (আমি জানিয়েছি এবং জায়েদ আমাকে আমরের প্রস্থানের সংবাদ দিয়েছে) দ্বিতীয়টির সাথে সংশ্লিষ্ট করার ক্ষেত্রে, এবং প্রথমটির সাথে সংশ্লিষ্ট করার ক্ষেত্রে বলবেন (আমি তাকে তা জানিয়েছি জায়েদকে আমরের প্রস্থানের কথা)। দ্বিবচনের ক্ষেত্রে (আমি তাদের দুজনকে তা জানিয়েছি দুই জায়েদকে দুই আমরের প্রস্থানের কথা), এবং বহুবচনের ক্ষেত্রে (আমি তাদের সকলকে তা জানিয়েছি সকল জায়েদকে সকল আমরের প্রস্থানের কথা)। বাক্যের বিশ্লেষণ হলো: আমি দুই জায়েদকে দুই আমরের প্রস্থানের কথা জানিয়েছি এবং তারা আমাকে তাদের সম্পর্কে জানিয়েছে। এই মাসআলা (مسألة) এবং এর সদৃশ বিষয়গুলোতে আমার অভিমত হলো এটি বৈধ (جائز) নয়, কারণ আরবদের বক্তব্যে এর কোনো নজির পাওয়া যায় না। আর একটি মাত্র কর্ম নির্দেশক ক্রিয়ার ওপর এর অনুমান (قياس) করা একটি দূরবর্তী অনুমান (قياس), যেহেতু এতে সর্বনামের জটিলতা এবং শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ হওয়ার অস্পষ্টতা বিদ্যমান।
এই অধ্যায়ের শাখা-প্রশাখা অনেক; তার মধ্যে একটি হলো—রূপান্তরযোগ্য (متصرف) এবং রূপান্তর অযোগ্য (غير متصرف) সকল ক্রিয়া এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, এবং অন্যটি হলো বিশেষ্য ও অব্যয় সংক্রান্ত।