(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: -)
الجامع الكبير في صناعة المنظوم من الكلام والمنثور القسم: البلاغة
الكتاب: الجامع الكبير في صناعة المنظوم من الكلام والمنثور
المؤلف: نصر الله بن محمد بن محمد بن عبد الكريم الشيباني، الجزري، أبو الفتح، ضياء الدين، المعروف بابن الأثير الكاتب (ت 637هـ)
المحقق: مصطفى جواد
الناشر: مطبعة المجمع العلمي
عام النشر: 1375هـ
عدد الصفحات: 274
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432
পদ্য ও গদ্য রচনার শিল্পকলা বিষয়ক বৃহৎ সংকলন বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র
বই: পদ্য ও গদ্য রচনার শিল্পকলা বিষয়ক বৃহৎ সংকলন
লেখক: নাসরুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কারীম আশ-শায়বানী, আল-জাযারি, আবুল ফাতহ, জিয়াউদ্দীন, ইবনুল আসীর আল-কাতিব হিসেবে পরিচিত (মৃত্যু ৬৩৭ হিজরী)
সম্পাদক: মুস্তফা জাওয়াদ
প্রকাশক: আল-মাজমাউল ইলমি ছাপাখানা
প্রকাশকাল: ১৩৭৫ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله مبدي النعم، أولاً وآخراً، مسدي الولاء باطنا وظاهراً، الذي فطر الإنسان بحكمته ولطفه، وركب فيه آلة النطق فبلغ به كمال وصفه، فكان ذلك عليه من أتم الإحسان، الذي تميز به عن جميع أصناف الحيوان، ولولا فضله لما ورد في القرآن المجيد، مقرونا بالإخراج من العدم إلى الوجود، فقال تعالى: (الرحمن علم القرآن، خلق الإنسان، علمه البيان) نحمده على ترادف آلائه وتهاديها، والتحاق رائحها بغاديها، حمداً يكون بالزيارة ضميناً، وبإيلاء الخيرات قميناً، ونصلي على رسوله محمد الصادع بأمره، القائم بدينه في سره وجهره، وعلى آله مصابيح الإيمان وزهره، وأصحابه ملاذ الإسلام وذخره.
أما بعد فلما كان تأليف الكلام، مما لا يوقف على غوره، ولا يعرف كنه أمره، إلا بالاطلاع على علم البيان، الذي هو لهذه الصناعة بمنزلة الميزان، احتجت حين شدنت نبذة. من الكلام المنثور، إلى معرفة هذا المذكور، فشرعت عند ذلك في تطلبه، والبحث عن تصانيفه وكتبه، فلم أترك في تحصيله سبيلاً إلا نهجته، ولا غادرت في إدراكه باباً إلا ولجته،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আদিতে ও অন্তে নিআমত প্রদানকারী, গোপনে ও প্রকাশ্যে অনুগ্রহ বর্ষণকারী; যিনি স্বীয় প্রজ্ঞা ও কৃপায় মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার মধ্যে বাকশক্তি স্থাপন করেছেন যার মাধ্যমে সে তার পূর্ণতা ও বৈশিষ্ট্যে পৌঁছেছে। এটি তার প্রতি ছিল এক শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ, যার মাধ্যমে সে সমস্ত প্রাণীকুল থেকে পৃথক হয়েছে। তাঁর অনুগ্রহ না থাকলে পবিত্র কুরআনে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আনয়নের বিষয়ের সাথে একে যুক্ত করে উল্লেখ করা হতো না। মহান আল্লাহ বলেন: (পরম করুণাময়, তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাকে বর্ণনা শিখিয়েছেন)। আমরা তাঁর প্রশংসা করি তাঁর নিআমতসমূহের ধারাবাহিকতা ও নিরবচ্ছিন্ন আগমনের জন্য এবং দিনরাত্রির আবর্তনে সেগুলোর সুসংবদ্ধ প্রাপ্তির জন্য; এমন প্রশংসা যা নিআমত বৃদ্ধির নিশ্চয়তা দেয় এবং কল্যাণ লাভের যোগ্য করে। আমরা দরূদ পাঠ করছি তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের ওপর, যিনি আল্লাহর নির্দেশ দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণাকারী এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে তাঁর দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত; আর তাঁর পরিবারবর্গের ওপর যারা ঈমানের প্রদীপ ও জ্যোতিস্বরূপ এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর যারা ইসলামের আশ্রয় ও সম্পদ।
অতঃপর, যেহেতু শব্দ বিন্যাস ও সাহিত্য রচনার গভীরতা উপলব্ধি করা এবং এর স্বরূপ অনুধাবন করা ইলমে বায়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) ব্যতিরেকে সম্ভব নয়—যা এই শিল্পের জন্য মানদণ্ড স্বরূপ—তাই যখন আমি গদ্য রচনার সামান্য জ্ঞান অর্জন করলাম, তখন এই উল্লিখিত বিষয়টি জানার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম। তৎক্ষণাৎ আমি তা অন্বেষণে এবং এর বিভিন্ন গ্রন্থ ও রচনার অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হলাম। এটি অর্জনের কোনো পথই আমি অননুসৃত রাখিনি এবং তা অনুধাবনের কোনো দুয়ারেই প্রবেশ করতে বাকি রাখিনি।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ২)
حتى اتضح عندي بأدبه وخافيه، وانكشفت لي أقوال الأئمة المشهورين فيه، كأبي الحسن علي بن عيسى الرماني، وأبي القاسم الحسن بن بشر الآمدي، وأبي عثمان الجاحظ، وقدامة بن جعفر الكاتب، وأبي هلال العسكري، وأبي العلاء محمد بن غانم المعروف بالغانمي، وأبي
অবশেষে এর প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়গুলো আমার নিকট স্পষ্ট হয়ে উঠল এবং এই বিষয়ে প্রখ্যাত ইমামগণের বক্তব্যসমূহ আমার নিকট উন্মোচিত হলো, যেমন—আবুল হাসান আলী বিন ঈসা আল-রুমমানি, আবুল কাসিম আল-হাসান বিন বিশর আল-আমিদি, আবু উসমান আল-জাহিয, কুদামা বিন জাফর আল-কাতিব, আবু হিলাল আল-আসকারি, আল-গানমি হিসেবে সুপরিচিত আবু আল-আলা মুহাম্মদ বিন গানিম এবং আবু
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ৩)
محمد عبد الله بن سنان الخفاجي، وغيرهم ممن له كتاب يشار إليه، وقول تعقد الخناصر عليه، ثم لما مضى على ذلك ملاوة من الدهر، وانقضى دونه برهة من العمر، لمحت في أثناء القرآن الكريم، من هذا النحو أشياء طريقة، ووجدت في مطاويه من هذا النوع نكتاً دقيقة لطيفة، فعرضتها عند ذلك، على الأقسام التي ذكرها هؤلاء العلماء وشرحوها، والأصناف التي بينوها في تصانيفهم وأوضحوها، فألفيتهم قد غفلوا عنها، ولم ينبهوا على شيء منها، وكان ذلك باعثاً لي على
تصفح آيات القرآن العزيز، والكشف عن سره المكنون، فاستخرجت منه حينئذ ثلاثين ضرباً من علم البيان، لم يأت بها أحد من أولئك العلماء الأعيان، وكان ما ظفرت به أصل هذا الفن وعمدته، وخلاصة هذا العلم وزبدته، فحيث أحرزت هذه الفضيلة، وحصلت عندي هذه العقيلة، أحببت أن أفرد لها كتاباً، وأفصلها فيه أقساماً وأبواباً، ليكون مقصوراً على شوارد هذا العلم وغرائبه، ورموزه الخفية وعجائبه، وليجعله مؤلف الكلام رأس بضاعته، ويعلم به مواقع الصواب في صناعته، فلما شرعت في تلفيقه، وبدأت بإيضاح القول فيه وتحقيقه، عاودت النظر في تصانيف العلماء المذكورين، والتبصر في أقوال أئمة هذه الصناعة المشهورين، فسنح لي عند ذلك لطائف رائعة، ونوادر حسنة فائقة، هي كالشاهدة لما بينوه، والمشيدة لما نصوا عليه وعينوه، وقلما تركت قولاً من أقوالهم بحاله، من غير زيارة أودعها في خلاله.
فصار هذا الكتاب لغوامض علم البيان مبيناً، ولما ذكره أرباب هذه الصناعة، وما لم
মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে সিনান আল-খাফাজি এবং তাঁদের মতো অন্যান্যরা, যাঁদের এমন কিতাব রয়েছে যার দিকে ইঙ্গিত করা হয় এবং যাঁদের বক্তব্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। অতঃপর যখন দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো এবং জীবনের একটি বড় অংশ পার হয়ে গেল, তখন আমি পবিত্র কুরআনের মাঝে এই শাস্ত্রের এমন কিছু নতুন বিষয় প্রত্যক্ষ করলাম এবং এর ভাঁজে ভাঁজে এই প্রকারের কিছু সূক্ষ্ম ও চমৎকার গূঢ় রহস্য খুঁজে পেলাম। তখন আমি এগুলোকে সেই সব শ্রেণির নিরিখে যাচাই করলাম যা এই আলিমগণ উল্লেখ ও ব্যাখ্যা করেছেন এবং সেই সব প্রকারভেদের সাথে মেলালাম যা তাঁরা তাঁদের কিতাবসমূহে বর্ণনা ও স্পষ্ট করেছেন। কিন্তু আমি দেখলাম যে তাঁরা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিমুখ ছিলেন এবং এগুলোর কোনোটি সম্পর্কেই তাঁরা আলোকপাত করেননি। এটিই আমাকে উদ্বুদ্ধ করল
মহাগ্রন্থ কুরআনের আয়াতসমূহ গভীরভাবে পাঠ করতে এবং এর গুপ্ত রহস্য উন্মোচন করতে। তখন আমি তা থেকে ইলমে বয়ানের এমন ত্রিশটি প্রকার বের করলাম, যা সেই বিশিষ্ট আলিমদের কেউ উপস্থাপন করেননি। আমি যা অর্জন করেছি তা ছিল এই শিল্পের মূল ভিত্তি ও স্তম্ভ এবং এই ইলমের নির্যাস ও সারবস্তু। যখন আমি এই বিশেষ জ্ঞান অর্জন করলাম এবং আমার নিকট এই অমূল্য সম্পদ অর্জিত হলো, তখন আমি এর জন্য একটি স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করতে এবং তাতে বিভিন্ন পরিচ্ছেদ ও অধ্যায়ে তা বিন্যস্ত করতে আগ্রহী হলাম; যাতে কিতাবটি এই ইলমের দুর্লভ ও বিস্ময়কর বিষয়সমূহ এবং এর নিগূঢ় সংকেত ও চমৎকারিত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আর যেন কোনো সাহিত্যিক একে তাঁর রচনার প্রধান পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর শিল্পকর্মের সঠিক প্রয়োগস্থলসমূহ অনুধাবন করতে পারেন। অতঃপর যখন আমি এটি সংকলন করতে শুরু করলাম এবং এতে বক্তব্য স্পষ্ট ও সুসংহত করতে আরম্ভ করলাম, তখন আমি পুনরায় উল্লিখিত আলিমদের রচনাগুলো পর্যালোচনা করলাম এবং এই শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ ইমামদের বক্তব্যসমূহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম। তখন আমার নিকট এমন কিছু চমৎকার সূক্ষ্ম বিষয় এবং অত্যন্ত সুন্দর ও অনন্য তথ্য উদ্ভাসিত হলো, যা তাঁদের বর্ণিত বিষয়গুলোর স্বপক্ষে প্রমাণস্বরূপ এবং তাঁদের নির্ধারিত ও নির্দিষ্টকৃত বিষয়গুলোর জন্য সুদৃঢ়কারী। আমি তাঁদের বক্তব্যের খুব কমই অপরিবর্তিত অবস্থায় রেখেছি, বরং তার মাঝে নতুন কিছু সংযোজন করে তবেই তাতে স্থান দিয়েছি।
ফলে এই কিতাবটি ইলমে বয়ানের জটিল বিষয়সমূহের ব্যাখ্যাকারী হয়ে উঠল, এবং এই শিল্পের পণ্ডিতগণ যা উল্লেখ করেছেন তার জন্য এবং যা তাঁরা করেননি- এ সবের জন্য একটি দিগন্ত উন্মোচনকারী হিসেবে পরিগণিত হলো।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ৪)
يذكروه متضمناً، فأوردت في صدره ما يجب على مؤلف الكلام علمه، وينبغي له معرفته وفهمه. ثم شفعت ذلك بذكر الفصاحة والبلاغة، وصغت الكلام فيهما أحسن الصياغة، فأوضحت ما أشكل من طريقتهما، وبينت أقوال العلماء في حقيقتهما، مع ما أضفته إلى ذلك من زيادات مناسبة، واحترازات واجبة.
ثم شرحت بعد ذلك جميع أنواع علم البيان، وشفيت القول فيهما بحسب الإمكان، وسميته بكتاب: (الجامع الكبير، في صناعة المنظوم من الكلام والمنثور). وجعلت مدار الكتاب على قطبين: (القطب الأول) في الأشياء العامة. (القطب الثاني) في الأشياء الخاصة.
وينقسم القطب الأول إلى فنين: الفن الأول فيما يجب على مؤلف الكلام الابتداء به، وهو أربعة أبواب: (الباب الأول) في آلات التأليف (الباب الثاني) في أدواته
(الباب الثالث) في الطريق إلى صناعة النثر والنظم (الباب الرابع) في الحقيقة والمجاز.
الفن الثاني في الكلام على الألفاظ والمعاني، وتفضيل الكلام المنثور على المنظوم، وهو ثلاثة أبواب: (الباب الأول) في الألفاظ المفردة والمركبة وهو قسمان (الباب الثاني) في الكلام على المعاني. (الباب الثالث) في تفضيل الكلام المنثور على المنظوم.
(القطب الثاني) وفيه فنان: (الفن الأول) في الفصاحة والبلاغة. (الفن الثاني) في ذكر أصناف البيان وانقساماتها، وهو بابان: (الباب الأول) في الصناعة المعنوية. (الباب الثاني) في الصناعة اللفظية.
وينقسم الباب الأول إلى تسعة وعشرين نوعاً: (الأول) في الاستعارة. (الثاني) في التشبيه. (الثالث) في شجاعة العربية، وهو أربعة أقسام. (الرابع) في الإيجاز وهو قسمان. (الخامس) في الإطناب. (السادس) في توكيد الضمير المتصل بالمنفصل. (السابع) في الكناية والتعريض (الثامن) في استعمال العام في النفي، والخاص في الإثبات. (التاسع) في التفسير بعد الإبهام. (العاشر) في التعقيب المصدري. (الحادي عشر) في التقديم والتأخير. (الثاني عشر) في عطف المظهر على ضميره. (الثالث عشر) في التخلص
তারা এটিকে অন্তর্নিহিতভাবে উল্লেখ করেন, তাই আমি এর শুরুতে এমন বিষয়গুলো বর্ণনা করেছি যা একজন রচয়িতার জন্য জানা আবশ্যক এবং যা জানা ও বোঝা তার জন্য বাঞ্ছনীয়। এরপর আমি এর সাথে বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের আলোচনা যুক্ত করেছি এবং এই দুই বিষয়ে সর্বোত্তমভাবে শব্দ বিন্যাস করেছি। ফলে এ দুটির পদ্ধতির মধ্যে যা কিছু অস্পষ্ট ছিল তা আমি স্পষ্ট করেছি এবং এগুলোর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে আলেমদের মতামত ব্যাখ্যা করেছি। সেই সাথে আমি এতে প্রাসঙ্গিক সংযোজন এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতাও যুক্ত করেছি।
এরপর আমি প্রকাশভঙ্গি বিজ্ঞানের সকল প্রকার ব্যাখ্যা করেছি এবং এ বিষয়ে যথাসম্ভব বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমি এই গ্রন্থের নাম রেখেছি: ‘গদ্য ও পদ্য রচনার শিল্পকলা বিষয়ক বৃহৎ সংকলন’। আমি বইটির বিষয়বস্তুকে দুটি মূল স্তম্ভের ওপর আবর্তিত করেছি: (প্রথম স্তম্ভ) সাধারণ বিষয়াবলি সম্পর্কে। (দ্বিতীয় স্তম্ভ) বিশেষ বিষয়াবলি সম্পর্কে।
প্রথম স্তম্ভটি দুটি শিল্পে বিভক্ত: প্রথম শিল্পটি হলো সেই বিষয়সমূহ যা দিয়ে একজন রচয়িতার লেখা শুরু করা উচিত, আর এটি চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত: (প্রথম অধ্যায়) রচনার উপকরণসমূহ সম্পর্কে। (দ্বিতীয় অধ্যায়) রচনার সরঞ্জামাদি সম্পর্কে।
(তৃতীয় অধ্যায়) গদ্য ও পদ্য রচনার পদ্ধতি সম্পর্কে। (চতুর্থ অধ্যায়) প্রকৃত ও রূপক অর্থ সম্পর্কে।
দ্বিতীয় শিল্পটি শব্দ ও অর্থের আলোচনা এবং পদ্যের ওপর গদ্যের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে, যা তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত: (প্রথম অধ্যায়) একক ও যৌগিক শব্দসমূহ সম্পর্কে যা দুই ভাগে বিভক্ত। (দ্বিতীয় অধ্যায়) অর্থ বিষয়ক আলোচনা। (তৃতীয় অধ্যায়) পদ্যের ওপর গদ্যের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান প্রসঙ্গে।
(দ্বিতীয় স্তম্ভ) এতে দুটি শিল্প রয়েছে: (প্রথম শিল্প) বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্র সম্পর্কে। (দ্বিতীয় শিল্প) প্রকাশভঙ্গি বিজ্ঞানের প্রকারভেদ ও এর বিভাজন সম্পর্কে, যা দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত: (প্রথম অধ্যায়) অর্থগত শিল্পকর্ম সম্পর্কে। (দ্বিতীয় অধ্যায়) শব্দগত শিল্পকর্ম সম্পর্কে।
প্রথম অধ্যায়টি ঊনত্রিশটি প্রকারে বিভক্ত: (প্রথম) রূপক অলঙ্কার সম্পর্কে। (দ্বিতীয়) উপমা সম্পর্কে। (তৃতীয়) আরবি ভাষার ভাষাগত সাহসিকতা সম্পর্কে, যা চার ভাগে বিভক্ত। (চতুর্থ) সংক্ষিপ্তকরণ সম্পর্কে, যা দুই প্রকার। (পঞ্চম) শব্দবাহুল্য বা দীর্ঘায়ন সম্পর্কে। (ষষ্ঠ) সংলগ্ন সর্বনামকে বিচ্ছিন্ন সর্বনাম দ্বারা দৃঢ় করা প্রসঙ্গে। (সপ্তম) পরোক্ষ ইঙ্গিত ও ইশারা সম্পর্কে। (অষ্টম) না-বোধক বাক্যে সাধারণ শব্দের ব্যবহার এবং হ্যা-বোধক বাক্যে বিশেষ শব্দের ব্যবহার সম্পর্কে। (নবম) অস্পষ্টতার পর ব্যাখ্যা প্রদান প্রসঙ্গে। (দশম) ক্রিয়ামূলজাত অনুসৃতি প্রসঙ্গে। (একাদশ) শব্দের আগে-পিছে বিন্যাস প্রসঙ্গে। (দ্বাদশ) সর্বনামের ওপর প্রকাশ্য বিশেষ্যের অন্বয় প্রসঙ্গে। (ত্রয়োদশ) বিষয় থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ৫)
والاقتضاب. (الرابع عشر) في المبادئ والافتتاحات. (الخامس عشر) في قوة اللفظ لقوة المعنى. (السادس عشر) في خذلان المخاطب. (السابع عشر) (في الاشتقاق. النوع (الثامن عشر) في الحروف العاطفة والجارة. النوع (التاسع عشر) في التكرير. (العشرون) في تناسب المعاني من المقابلة والتقسيم والتفسير. (الحادي والعشرون) في الخطاب بالجملة الفعلية والخطاب بالجملة الاسمية. (الثاني والعشرون) في لام التأكيد. (الثالث والعشرون) في الاقتصاد والإفراط والتفريط. (الرابع والعشرون) في المعاظلة. (الخامس
والعشرون) في التضمين. (السادس والعشرون) في الاستدراج. (السابع والعشرون) في الأرصاد. (الثامن والعشرون) في التوشيح. (التاسع والعشرون) في الأخذ والسرقة.
وينقسم الباب الثاني إلى سبعة أنواع: (الأول) في السجع والازدواج. (الثاني) في التجنيس (الثالث) في الترصيع. (الرابع) في لزوم ما لا يلزم. (الخامس) في الموازنة. (السادس) في اختلاف صيغ الألفاظ. (السابع) في تكرير الحروف. وستذكر ترجمة الأبواب والأنواع عند ذكرها إن شاء الله تعالى.
এবং সংক্ষেপণ। (চতুর্দশ) প্রারম্ভ ও সূচনা প্রসঙ্গে। (পঞ্চদশ) অর্থের বলিষ্ঠতার কারণে শব্দের বলিষ্ঠতা প্রসঙ্গে। (ষোড়শ) সম্বোধিত ব্যক্তির আশাভঙ্গ প্রসঙ্গে। (সপ্তদশ) শব্দমূল প্রতিপাদন প্রসঙ্গে। (অষ্টাদশ) প্রকার: সংযোজক ও অব্যয় বর্ণ প্রসঙ্গে। (ঊনবিংশ) প্রকার: পুনরাবৃত্তি প্রসঙ্গে। (বিংশ) বৈপরীত্য, বিভাজন ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে অর্থের সামঞ্জস্য প্রসঙ্গে। (একবিংশ) ক্রিয়াধর্মী বাক্য ও বিশেষ্যধর্মী বাক্যের মাধ্যমে সম্বোধন প্রসঙ্গে। (দ্বাবিংশ) গুরুত্বপ্রদানকারী 'লাম' প্রসঙ্গে। (ত্রয়োবিংশ) পরিমিতিবোধ, আতিশয্য ও শিথিলতা প্রসঙ্গে। (চতুবিংশ) বাক্যালঙ্কারের জটিলতা প্রসঙ্গে। (পঞ্চ
বিংশ) কাব্যালঙ্কারে অন্যের পঙ্ক্তি ব্যবহার প্রসঙ্গে। (ষড়বিংশ) পর্যায়ক্রমিক প্ররোচনা প্রসঙ্গে। (সপ্তবিংশ) অন্ত্যমিলের পূর্বাভাস প্রসঙ্গে। (অষ্টাবিংশ) অলঙ্করণ প্রসঙ্গে। (ঊনত্রিশতম) ভাব গ্রহণ ও তস্করবৃত্তি প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি সাতটি প্রকারে বিভক্ত: (প্রথম) অনুপ্রাস ও শব্দজোড় প্রসঙ্গে। (দ্বিতীয়) শব্দের সমরূপতা প্রসঙ্গে। (তৃতীয়) ছন্দোময় শব্দবিন্যাস প্রসঙ্গে। (চতুর্থ) যা অনাবশ্যক তা আবশ্যক করা প্রসঙ্গে। (পঞ্চম) শব্দ ও ছন্দের ভারসাম্য প্রসঙ্গে। (ষষ্ঠ) শব্দের রূপগত বৈচিত্র্য প্রসঙ্গে। (সপ্তম) বর্ণের পুনরাবৃত্তি প্রসঙ্গে। আর পরিচ্ছেদ ও প্রকারসমূহের শিরোনামগুলো যথাস্থানে উল্লেখ করা হবে ইনশাআল্লাহ তাআলা।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ৬)
القطب الأول في الأشياء العامة
الفن الأول في ما يجب على مؤلف الكلام الابتداء به
الباب الأول من الفن الأول من القطب الأولآلات التأليفاعلم أن صناعة تأليف الكلام، من المنثور والمنظوم، تحتاج إلى أسباب كثيرة، وآلات جمة، وذلك بعد أن يركب الله تعالى في الإنسان الطبع القابل لذلك، المجيب إليه، فإنه متى لم يكن ثم طبع لم تفد تلك الآلات شيئاً البتة. فمثل الطبع كمثل النار الكامنة في الزناد، ومثل الآلات كمثل الحراق والحديدة التي يقدح بها، ألا ترى إنه إذا لم يكن في الزناد نار لا يفيد ذلك الحراق ولا تلك الحديدة شيئاً، إلا أن الطباع القابلة للعلوم مختلفة الأنحاء؛ فمنها ما يكون قابلاً لعلم الأدب كالنحو والتصريف وغيرهما، ومنها ما يكون قابلا للعلوم الدينية كأصول الفقه وأصول الدين وما جرى هذا المجرى، ومنها ما يكون قابلا لغير ذلك كالعلم الرياضي؛ كالحساب والهندسة، ومنها ما يكون قابلا لغير ذلك، كالصنائع والحرف. وقد يوجد في الطباع ما يكون قابلا لجميع العلوم. ومن أدل دليل على اختلاف الطباع وتباينها أنا نرى مؤلف الكلام يكون تارة مؤلفاً مطلقاً، ونعني بالمطلق أن يكون عارفا بصناعة المنظوم من الكلام والمنثور؛ ويكون مؤلفاً غبر مطلق، ونعني بغير المطلق إنه يكون عارفاً بأحد هذين القسمين دون الآخر، وهو مع ذلك عالم بجميع آلات التأليف نظماً ونثراً، كما هو المؤلف المطلق ولا فرق. فإذا ركب الله في
الإنسان الطبع القابل لمعرفة تأليف الكلام على الإطلاق فيحتاج حينئذ إلى تحصيل الآلات التي يخرج بها ما في القوة إلى الفعل. وتنحصر آلات التأليف في قسمين:
সাধারণ বিষয়াবলি বিষয়ক প্রথম স্তম্ভ
বাক্য রচয়িতার জন্য যা দিয়ে শুরু করা আবশ্যক সে বিষয়ক প্রথম কলা
প্রথম স্তম্ভের প্রথম কলার প্রথম পরিচ্ছেদরচনার উপকরণসমূহজেনে রাখুন যে, গদ্য ও পদ্যের সমন্বয়ে গঠিত শব্দ বা বাক্য রচনার শিল্পটির জন্য অনেক কারণ এবং বহু উপকরণের প্রয়োজন হয়। আর এটি তখনই কার্যকর হয় যখন মহান আল্লাহ মানুষের মধ্যে এর প্রতি গ্রহণক্ষম ও আগ্রহী স্বভাব সৃষ্টি করে দেন। কারণ, যখন সেখানে স্বভাবজাত যোগ্যতা থাকে না, তখন সেই উপকরণসমূহ মোটেও কোনো উপকারে আসে না। স্বভাবের উদাহরণ হলো চকমকি পাথরের মধ্যে সুপ্ত থাকা আগুনের মতো, আর উপকরণগুলোর উদাহরণ হলো সেই শোলা এবং লোহার মতো যা দিয়ে চকমকি ঠুকে আগুন জ্বালানো হয়। আপনি কি দেখেন না যে, যদি চকমকি পাথরে আগুন না থাকে, তবে সেই শোলা বা সেই লোহা কোনো কাজে আসে না? তবে জ্ঞান অর্জনে সক্ষম স্বভাবগুলো বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। এর মধ্যে কোনোটি সাহিত্য বিষয়ক জ্ঞান অর্জনে সক্ষম, যেমন নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (রূপতত্ত্ব) এবং অন্যান্য। আবার কোনোটি ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনে সক্ষম, যেমন উসূলুল ফিকহ, উসূলুদ্দীন এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ। আবার কোনোটি এ ছাড়া অন্য বিষয়ের যোগ্য হয়, যেমন গাণিতিক বিদ্যা—হিসাব ও জ্যামিতি। আবার কোনোটি অন্যান্য বিষয়ের যোগ্য হয়, যেমন কারুশিল্প ও পেশাসমূহ। কখনও এমন স্বভাবও পাওয়া যায় যা সকল জ্ঞান অর্জনে সক্ষম। স্বভাবের এই ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো এই যে, আমরা দেখি একজন রচয়িতা কখনো 'মুতলাক' বা নিরঙ্কুশ রচয়িতা হন। আর 'নিরঙ্কুশ' বলতে আমরা তাকেই বুঝাই যিনি পদ্য ও গদ্য উভয় প্রকারের রচনাশিল্প সম্পর্কে অবগত। আবার কখনো তিনি 'অ-নিরঙ্কুশ' রচয়িতা হন; আর 'অ-নিরঙ্কুশ' বলতে আমরা তাকেই বুঝাই যিনি এই দুই প্রকারের মধ্যে কেবল একটি জানেন, অন্যটি নয়। অথচ তিনি পদ্য ও গদ্য উভয় রচনার সকল উপকরণ সম্পর্কে একইভাবে অবগত থাকেন, যেমনটি একজন নিরঙ্কুশ রচয়িতা অবগত থাকেন, এ ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই। যখন আল্লাহ মানুষের মধ্যে
নিরঙ্কুশভাবে রচনাশৈলী জানার মতো যোগ্য স্বভাব স্থাপন করেন, তখন তার এমন কিছু উপকরণ অর্জনের প্রয়োজন পড়ে যার মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভা বাস্তবে রূপান্তরিত হয়। আর রচনার উপকরণসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত:
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ৭)
(الأول) يشترك فيه النظم والنثر. وهو سبعة أنواع: (الأول) معرفة علم العربية من النحو والتصريف والإدغام. (الثاني) معرفة ما يحتاج إليه من اللغة. (الثالث) معرفة أمثال العرب وأيامهم. (الرابع) الاطلاع على تأليفات من تقدمه من أرباب هذه الصناعة، المنظوم منها والمنثور، والتحفظ للكثير من ذلك. (الخامس) معرفة الأحكام السلطانية في الإمامة والإمارة والفضاء وغير ذلك. (السادس) حفظ القرآن الكريم والممارسة لغرائبه، والخوض في بحور عجائبه. (السابع) حفظ ما يحتاج إليه من الأخبار الواردة عن الرسول صلى الله عليه وسلم.
وأما القسم الثاني فإنه يخص النظم دون النثر، وذلك علم العروض والقوافي، الذي يقام به ميزان الشعر. ولنذكر بعد ذلك فائدة كل نوع من هذه الأنواع فتقول:
أما (علم النحو) فهو الذي يستقيم به معاني الكلام، وتصان عرى تأليفه عن الانحلال والانفصام، ولولا ذلك لفسدت معانيه واختلت مبانيه. ولنضرب لهذا مثالاً يوضحه فتقول: لو قال لنا قائل: (ما أحسن زيد). ولم يبين الإعراب لما فهمنا غرضه من هذا القول، إذ يحتمل أن يريد به التعجب من حسنه، ويحتمل أن يريد به الاستفهام عن أي شيء فيه أحسن، ويحتمل أن يريد الأخبار بنفي الإحسان عنه. ولو بين الإعراب في ذلك فقال: ما أحسن زيداً! وما أحسن زيد؟ وما أحسن زيد، علمنا غرضه وفهمنا مغزى كلامه، لانفراد كل قسم من هذه الأقسام الثلاثة بما يعرف به من الإعراب، فوجب حينئذ على المؤلف، بهذا الدليل، معرفة النحو إذ كان ضابطاً لمعاني كلامه، حافظاً لها من الاختلالات. فإن قبل: أما علم النحو فمسلم إليك إنه يجب على مؤلف الكلام معرفته، لكن التصريف والإدغام
(প্রথম) যাতে কাব্য ও গদ্য উভয়ই অংশীদার। আর তা সাত প্রকার: (প্রথম) নাহু (ব্যাকরণ), তাসরিফ (রূপান্তর) ও ইদগাম (লীনকরণ) সম্বলিত আরবি ভাষার জ্ঞান। (দ্বিতীয়) আভিধানিক শব্দের প্রয়োজনীয় জ্ঞান। (তৃতীয়) আরবদের প্রবাদ-প্রবচন ও তাদের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান। (চতুর্থ) এই শিল্পের পূর্বসূরি পণ্ডিতদের কাব্য ও গদ্য রচনার অবগতি এবং এর একটি বড় অংশ মুখস্থ রাখা। (পঞ্চম) ইমামত (নেতৃত্ব), ইমারত (শাসন), বিচার ব্যবস্থা এবং এই জাতীয় অন্যান্য রাজকীয় বিধানাবলির জ্ঞান। (ষষ্ঠ) পবিত্র কুরআন মুখস্থ করা, এর বিরল শব্দাবলি নিয়ে চর্চা করা এবং এর বিস্ময়কর রহস্যের সাগরে অবগাহন করা। (সপ্তম) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রয়োজনীয় হাদিসসমূহ মুখস্থ করা।
আর দ্বিতীয় ভাগটি গদ্য বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কাব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো ছন্দশাস্ত্র ও অন্ত্যমিল সংক্রান্ত জ্ঞান, যার মাধ্যমে কবিতার মানদণ্ড নিরূপিত হয়। এরপর আমরা এই প্রকারগুলোর প্রত্যেকটির উপযোগিতা উল্লেখ করব, তবে শুনুন:
নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের বিষয়ে বলতে গেলে, এর মাধ্যমেই বাক্যের অর্থসমূহ সঠিক ও সুসংহত হয় এবং রচনার বন্ধনসমূহ শিথিল হওয়া ও ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। এটি না থাকলে বাক্যের অর্থ বিকৃত হয়ে যেত এবং এর গাঠনিক ভিত্তি ভেঙে পড়ত। বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আমরা একটি উদাহরণ দিচ্ছি, যেমন কেউ যদি আমাদের বলে—(মা আহসান জাইদ) এবং ই’রাব (স্বরচিহ্ন) স্পষ্ট না করে, তবে এই বক্তব্যের মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য আমরা বুঝতে পারব না। কারণ এতে সম্ভাবনা থাকে যে, সে তার সৌন্দর্যে বিস্ময় প্রকাশ করতে চাইছে; অথবা সম্ভাবনা থাকে যে, সে তার কোন বিষয়টি সবচেয়ে সুন্দর তা নিয়ে প্রশ্ন করছে; আবার এমন সম্ভাবনাও থাকে যে, সে তার ভালো কাজ করাকে অস্বীকার করার সংবাদ দিচ্ছে। কিন্তু সে যদি ই’রাব স্পষ্ট করে বলত—(মা আহসানা জাইদান!), (মা আহসানু জাইদিন?) এবং (মা আহসানা জাইদুন), তবে আমরা তার উদ্দেশ্য জানতে পারতাম এবং তার কথার মর্মার্থ বুঝতে পারতাম। কারণ এই তিনটি প্রকারের প্রত্যেকটি তার স্বতন্ত্র ই’রাবের মাধ্যমেই পরিচিত হয়। সুতরাং এই দলিলের ভিত্তিতে লেখকের জন্য নাহু শাস্ত্রের জ্ঞান রাখা আবশ্যক, যেহেতু এটি তার বাক্যের অর্থের নিয়ন্ত্রক এবং বাক্যকে বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষাকারী। যদি বলা হয়: নাহু শাস্ত্রের বিষয়টি তো মেনে নেওয়া হলো যে রচয়িতার জন্য তা জানা আবশ্যক, কিন্তু তাসরিফ ও ইদগাম...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ৮)
لا حاجة به إليهما، لأن التصريف إنما هو معرفة أصل الكلمة وزيادتها. وهذا لا يضر
مؤلف الكلام جهلة، ولا ينفعه معرفته. ولنضرب لذلك مثالاً كيف اتفق، فتقول: إذا قال القائل: رأيت سرداحاً، لا يلزمه أن يعرف أن الألف في هذه اللفظة زائدة هي أم أصل، لأن العرب لم تنطق بها إلا كذلك، ولو قالت (سردح) بغير ألف، لما جاز لأحد أن يزيد الألف من عنده، فيقول (سرداح) فعلم بهذا أن مؤلف الكلام إنما ينطق بالألفاظ كما سمعها عن العرب، من غير زيادة فيها، ولا نقصان، وليس عليه بعد ذلك أن يعرف أصلها، ولا زيادتها، لأن ذلك أمر خارج عما تقتضيه صناعته. وكذلك الإدغام، فإنه إذا قال القائل (مررت برجل ضف الحال) لا يلزمه أن يعلم أن الأصل في (ضف) ضفف وأن لا يجب عليه علمه، ولا يضطر إلى معرفته البتة، وذلك إنه إنما ينقل هذا وأمثاله عن العرب. فالذي يسمع أنهم قد تكلموا به يحذو حذوهم فيه، غير أن يتصرف بشيء من عنده، فإن (كان) مؤلف الكلام لم يسمع أن العرب قالوا (رجل ضف الحال) فقال هو (ضفف الحال) ولا سمع أنهم قالوا: (ضفف الحال) فقال هو (ضفف الحال فإنما تكلم بما سمعه عن العرب من غير زيادة فيه ولا نقصان منه. الجواب عن ذلك إنا نقول: أعلم أنا لم نجعل معرفة التصريف والإدغام، ضرورة على مؤلف الكلام، كمعرفة النحو. لأن المؤلف إذا كان عارفاً بالمعاني، مختاراً لها، قادراً على الألفاظ، مجيداً فيها، ولم يكن عارفاً بعلم النحو فإنه يفسد ما يصوغه من الكلام، ويختل عليه ما يقصده من المعاني، كما أريناك في ذلك المثال المتقدم. وأما التصريف والإدغام فإن المؤلف إذا لم يكن عارفاً بهما لم يفسد عليه معاني كلامه، وإنما تفسد على الأوضاع، كانت المعاني صحيحة مفهومة. وسيأتي بيان ذلك في تحرير الجواب. فنقول:
তার এই দুইটির প্রতি কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ শব্দতত্ত্ব (তাসরিফ) হলো শব্দের মূল এবং অতিরিক্ত অংশ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আর এটি এমন এক বিষয় যার অজ্ঞতা
বাক্য রচয়িতার কোনো ক্ষতি করে না এবং এর জ্ঞান তার কোনো উপকারে আসে না। এর জন্য আমরা একটি উদাহরণ পেশ করি যেভাবে তা ঘটে থাকে; আপনি বলবেন: যখন কোনো বক্তা বলে: 'আমি একটি দীর্ঘকায় উট (সিরদাহ) দেখেছি', তখন তার জন্য এটি জানা জরুরি নয় যে এই শব্দটির 'আলিফ' বর্ণটি অতিরিক্ত নাকি মূল বর্ণ; কারণ আরবরা এটি এভাবেই উচ্চারণ করেছে। আর তারা যদি আলিফ ছাড়াই 'সিরদাহ' বলত, তবে কারো জন্য নিজের পক্ষ থেকে আলিফ বৃদ্ধি করে 'সিরদাহ' বলা বৈধ হতো না। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, বাক্য রচয়িতা শব্দসমূহকে সেভাবেই উচ্চারণ করেন যেভাবে তিনি আরবদের নিকট থেকে শুনেছেন, তাতে কোনো বৃদ্ধি বা হ্রাস ছাড়াই। এরপর শব্দটির মূল বা অতিরিক্ত অংশ চেনা তার দায়িত্ব নয়, কারণ এটি এমন এক বিষয় যা তার শাস্ত্রীয় চাহিদার বহির্ভূত। একইভাবে সন্ধির (ইদগাম) ক্ষেত্রেও; যখন কোনো বক্তা বলে 'আমি একজন সংকটাপন্ন ব্যক্তির (দাফ্ফুল হাল) পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি', তখন তার জন্য এটি জানা আবশ্যক নয় যে 'দাফ্ফ্' এর মূল হলো 'দাফাফ' এবং এটি জানা তার জন্য অপরিহার্য নয়, এমনকি এটি জানার কোনো আবশ্যকতাও তার নেই। এর কারণ হলো সে এটি এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো আরবদের থেকেই বর্ণনা করছে। সুতরাং সে তাদেরকে যেভাবে কথা বলতে শুনবে, সেভাবেই তাদের অনুসরণ করবে, নিজের পক্ষ থেকে কোনো পরিবর্তন করা ছাড়াই। যদি কোনো বাক্য রচয়িতা আরবদের নিকট থেকে 'দাফ্ফ্ আল-হাল' না শুনে থাকেন এবং তিনি 'দাফাফ আল-হাল' বলেন, কিংবা তারা 'দাফাফ' বলেছে এমনটি না শুনেও তিনি 'দাফাফ' বলেন, তবে তিনি আরবদের নিকট থেকে যা শুনেছেন তাই বলেছেন, তাতে কোনো বৃদ্ধি বা হ্রাস করেননি। এর উত্তর হলো, আমরা বলছি: জেনে রাখুন যে, আমরা শব্দতত্ত্ব (তাসরিফ) এবং সন্ধি (ইদগাম) জানাকে বাক্য রচয়িতার জন্য ব্যকরণ (নাহু) জানার মতো অপরিহার্য করিনি। কেননা রচয়িতা যদি অর্থের ব্যাপারে অবগত হন, শব্দ চয়নে সক্ষম ও পারদর্শী হন, কিন্তু নাহু শাস্ত্র সম্পর্কে অবগত না হন, তবে তিনি যা রচনা করবেন তা ত্রুটিপূর্ণ হবে এবং তার উদ্দিষ্ট অর্থ ব্যাহত হবে, যেমনটি আমি আপনাকে পূর্বের উদাহরণে দেখিয়েছি। আর তাসরিফ ও ইদগামের বিষয়টি হলো, রচয়িতা যদি এই দুই বিষয়ে অজ্ঞও থাকেন, তবুও তার বক্তব্যের অর্থ নষ্ট হয় না; বরং কেবল শব্দের কাঠামোর ওপর প্রভাব পড়ে, যদিও অর্থ সঠিক ও বোধগম্য থাকে। উত্তরের বিশ্লেষণে এর বিশদ বিবরণ আসবে। আমরা বলছি:
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ৯)
أما قولك أيها المترخص أن التصريف والإدغام لا حاجة لمؤلف الكلام اليهما، واستدلالك على هذا بما ذكرته من هذين المثالين اللذين ضربتهما، فإن ذلك لا يستمر لك الكلام فيه البتة أما التصريف وتمثيلك إياه بلفظة (سرداح) وقولك إن
المؤلف لا يحتاج إلى معرفة أن الألف التي فيها زائدة هي أم أصل؛ لأنه ينقلها عن العرب على ما هي عليه من غير زيادة ولا نقصان، فإن ذلك لا يطرد إلا فيما هذا سبيله من نقل الألفاظ على هيئتها، من غير تصرف فيها، يحال من الأحوال، فأما إذا أراد المؤلف تصغيرها، أو جمعها، أو النسبة إليها، فإنه إذا لم يعرف الأصل في حروف الكلمة وزيادتها وحذفها وإبدالها، يضل عن السبيل ويصير عليه مجال للطاعن والغائب ألا ترى إنه إذا قيل للنحوي، وكان جاهلاً بعلم التصريف: كيف تصغر (اضطراب)؟ فإنه يقول (ضطيريب) لا يلام على جهله بذلك لأن الذي تقتضيه صناعة النحو قد أتى به، وذلك أن النحاة يقولون في كتبهم (إذا كانت الكلمة على خمسة أحرف، وفيها حرف زائد، ولم تكن حذفته (حذفتة) نحو قولهم في منطلق (مطيلق) وفي جحْمرش (جحيمر) فلفظه منطلق على خمسة أحرف، وفيها حرفان زائدان، هما الميم والنون، إلا أن الميم زيدت فيها لمعنى، فلذلك لم تحذف، وحذفت النون.
وأما لفظة (جحمرش) فخماسية لا زيادة فيها، وحذف منها حرف أيضاً، ولم يعلم النحوي أن علماء النحو إنما قالوا ذلك مهملاً، اتكالاً منهم على تحقيقه من علم التصريف، لأنه لا يلزمهم أن يقولوا، في كتب النحو، أكثر مما قالوا، وليس عليهم أن يذكروا في باب من أبواب النحو شيئاً من التصريف، لأن كلاً من النحو والتصريف علم منفرد برأسه، غير أن أحدهما مرتبط بالآخر، ويحتاج إليه. وإنما قلت: إن النحوي، إذا سئل عن تصغير (اضطراب) يقول (ضطيريب) لأنه لا يخلو: إما أن يحذف من لفظة (اضطراب) الألف، أو الضاد، أو
হে সুবিধাভোগী, আপনার এই দাবি যে শব্দরূপান্তর (তাসরীফ) ও বর্ণের মিলন (ইদগাম) এর জ্ঞান লেখকের জন্য নিষ্প্রয়োজন, এবং আপনি যে দুটি উদাহরণের মাধ্যমে এর সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন—সে বিষয়ে আপনার কথা মোটেও টেকে না। শব্দরূপান্তরের বিষয়ে আপনার বক্তব্য এবং ‘সারদাহ’ শব্দের উদাহরণ দিয়ে আপনার এই দাবি যে
লেখকের এটি জানার প্রয়োজন নেই যে এতে থাকা আলিফ বর্ণটি অতিরিক্ত নাকি মূল; কারণ তিনি এটি আরবদের থেকে কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়াই শব্দগুলো যেভাবে আছে সেভাবেই বর্ণনা করেন—আপনার এই যুক্তি কেবল তখনই খাটে যখন শব্দগুলোকে কোনো অবস্থাতেই পরিবর্তন না করে হুবহু নকল করা হয়। কিন্তু লেখক যখন শব্দটিকে ক্ষুদ্রতাবাচক (তাসগীর), বহুবচন (জম‘) কিংবা সম্বন্ধবাচক (নিসবাহ) করতে চাইবেন, তখন যদি তিনি শব্দের মূল বর্ণ, অতিরিক্ত বর্ণ, বিলোপ কিংবা পরিবর্তনের নিয়ম না জানেন, তবে তিনি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হবেন এবং নিন্দুক ও সমালোচকদের আক্রমণের শিকার হবেন। আপনি কি দেখেন না যে, যদি কোনো ব্যাকরণবিদকে—যিনি শব্দরূপান্তর বিদ্যা সম্পর্কে অজ্ঞ—জিজ্ঞাসা করা হয়: ‘ইদতিরাব’ শব্দের তাসগীর বা ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ কী হবে? তবে তিনি বলবেন ‘দুতাইরীব’। এই ভুলের জন্য তাকে দোষ দেওয়া যাবে না, কারণ ব্যাকরণ শাস্ত্রের দাবি অনুযায়ী তিনি তার সাধ্যমতো উত্তর দিয়েছেন। কেননা ব্যাকরণবিদগণ তাদের কিতাবসমূহে বলেন: ‘যখন কোনো শব্দ পাঁচ বর্ণের হয় এবং তাতে কোনো অতিরিক্ত বর্ণ থাকে এবং আপনি তা বিলুপ্ত না করেন’—যেমন তারা ‘মুনতালিক’ এর ক্ষেত্রে বলেন ‘মুতাইলিক’ এবং ‘জাহমারিশ’ এর ক্ষেত্রে বলেন ‘জুহাইমির’। এখানে ‘মুনতালিক’ শব্দটি পাঁচ বর্ণের এবং এতে মীম ও নুন নামে দুটি অতিরিক্ত বর্ণ রয়েছে; তবে যেহেতু মীম বর্ণটি একটি বিশেষ অর্থের প্রয়োজনে যুক্ত হয়েছে, তাই সেটি বিলুপ্ত করা হয়নি, বরং নুন বর্ণটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে ‘জাহমারিশ’ শব্দটি পঞ্চবর্ণ বিশিষ্ট মূল শব্দ যাতে কোনো অতিরিক্ত বর্ণ নেই, তবুও সেখান থেকেও একটি বর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে। সেই ব্যাকরণবিদ জানতেন না যে, ব্যাকরণ বিশেষজ্ঞগণ এই বিষয়টি উহ্য রেখেছেন এই বিশ্বাসে যে, পাঠক শব্দরূপান্তর বিদ্যা (তাসরীফ) থেকে এর প্রকৃত স্বরূপ যাচাই করে নেবে। কেননা ব্যাকরণ শাস্ত্রের কিতাবগুলোতে তাদের যতটুকু বলার প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি বলা জরুরি নয়, এবং নাহু বা ব্যাকরণের কোনো অধ্যায়ে তাসরীফ বা শব্দরূপান্তরের কোনো বিষয় উল্লেখ করাও তাদের দায়িত্ব নয়। কারণ নাহু এবং তাসরীফ—উভয়ই স্বতন্ত্র জ্ঞান শাখা, যদিও একটি অন্যটির সাথে সংশ্লিষ্ট এবং একটি অন্যটির মুখাপেক্ষী। আর আমি যে বলেছি, কোনো ব্যাকরণবিদকে যখন ‘ইদতিরাব’ এর তাসগীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে তিনি ‘দুতাইরীব’ বলবেন, এর কারণ হলো: হয় তাকে ‘ইদতিরাব’ শব্দ থেকে আলিফ অথবা দোয়াদ অথবা...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ১০)
الطاء، أو الراء، أو الباء، هذه الحروف المذكورة غير الألف ليست من حروف الزيادة، فلا تحذف، بل الأولى أن يحذف الحرف الزائد، ويترك الحرف الذي ليس بزائد، فلا جل ذلك قلنا: إن النحوي يصغر لفظة (اضطراب) على (ضطيريب) فيحذف
الألف، التي هي حرف زائد دون غيرها، مما ليس من حرف الزيادة. وأما أن يعلم النحوي أن الطاء في (اضطراب) مبدلة من تاء، وأنه إذا أريد تصغيرها يعاد إلى الأصل الذي كانت عليه، وهو التاء، فيقول (ضتيريب) فإن هذا لا يعلمه إلا التصريفي. وتكليف النحوي الجاهل بعلم التصريف معرفة ذلك كتكليفه معرفة علم الغيب، فثبت بهذا الدليل، الذي ذكرناه، أن مؤلف الكلام يحتاج إلى علم التصريف، لئلا يغلط في مثل هذه الأماكن، فيستوجب عند ذلك المذمة والعيب.
ومن العجب أن يقال إن مؤلف الكلام لا يحتاج إلى التصريف. ألم تعلم أن نافع بن أبي نعيم، وهو أكبر القراء السبعة قدراً، وأفخمهم شأناً، قال في (معايش) (معائش) بالهمز، ولم يعلم بالأصل في ذلك، فأخذ عليه وعيب من أجله. ومن جملة من عابه على ذلك أبو عثمان المازني، فقال في كتابه في التصريف (أن نافعاً لم يدر ما العربية). وكثيراً ما يقع أولو العلم في مثل هذه المواضع، فكيف الجهال الأغمار، الذين لا خبرة لهم بها، ولا اطلاع لهم عليها؟
وإذا كان المؤلف عارفاً بحقيقة الأمر في ذلك لا يقع في ورطة تؤخذ عليه، وهذه لفظة معايش لا يجوز همزها البتة بإجماع من علماء العربية، لأن الياء فيها ليست مبدلة من
ত্বা, অথবা রা, অথবা বা—আলিফ ব্যতীত উল্লিখিত এই বর্ণগুলো অতিরিক্ত বর্ণসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই এগুলো বিলুপ্ত হবে না। বরং অতিরিক্ত বর্ণটিকে বিলুপ্ত করা এবং যা অতিরিক্ত নয় তাকে রেখে দেওয়াই শ্রেয়। এ কারণেই আমরা বলেছি: একজন নাহুবিদ ‘ইদতিরাব’ শব্দটিকে ‘দুতায়রীব’ রূপে তাসগীর বা ক্ষুদ্রতাবাচক করার সময় বিলুপ্ত করেন
আলিফকে, যা অন্যগুলোর বিপরীতে একটি অতিরিক্ত বর্ণ এবং তা অতিরিক্ত বর্ণমালার অন্তর্ভুক্ত নয়। আর নাহুবিদের পক্ষে এটা জানা যে, ‘ইদতিরাব’ শব্দের ‘ত্বা’ বর্ণটি ‘তা’ থেকে রূপান্তরিত হয়েছে, এবং যখন এর ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ দেওয়ার ইচ্ছা করা হয় তখন একে তার আদি মূল অর্থাৎ ‘তা’-তে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, ফলে সে বলে ‘দুতায়রীব’—এটি কেবল একজন সারফবিদই জানেন। সারফশাস্ত্রে অজ্ঞ একজন নাহুবিদকে এগুলো জানার দায়িত্ব দেওয়া তাকে অদৃশ্যের জ্ঞান জানার দায়িত্ব দেওয়ার মতোই। সুতরাং আমরা যে দলিল উল্লেখ করেছি তা দ্বারা এটি প্রমাণিত হলো যে, রচয়িতার জন্য সারফশাস্ত্রের জ্ঞান প্রয়োজন, যাতে সে এই ধরনের স্থানগুলোতে ভুল না করে এবং এর ফলে নিন্দা ও দোষের পাত্র না হয়।
এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় যখন বলা হয় যে, রচয়িতার জন্য সারফ বা রূপতত্ত্বের প্রয়োজন নেই। আপনি কি জানেন না যে, মর্যাদায় সাত ক্বারীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সম্মানে সুমহান নাফে বিন আবি নুআইম ‘মাআইশ’ শব্দটিকে হামযাহ যোগে ‘মাআইশ’ পাঠ করেছেন, অথচ তিনি এর মূল বিষয়টি জানতেন না? ফলে এ কারণে তাকে সমালোচনা ও দোষারোপ করা হয়েছে। যারা এ ব্যাপারে তাকে দোষারোপ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু উসমান আল-মাযিনী; তিনি তার সারফশাস্ত্রীয় গ্রন্থে বলেছেন, “নাফে জানতেন না আরবী ভাষা কী।” বিজ্ঞ ব্যক্তিরাই যেখানে প্রায়শই এমন সব স্থানে হোঁচট খান, সেখানে সেই সাধারণ অজ্ঞদের কী অবস্থা হবে যাদের এ বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই এবং এ সম্পর্কে কোনো জানাশোনাও নেই?
যদি রচয়িতা এই বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকেন, তবে তিনি এমন কোনো সংকটে পড়বেন না যার জন্য তাকে অভিযুক্ত হতে হয়। আর এই ‘মাআইশ’ শব্দটিতে হামযাহ যোগ করা আরবী ভাষাবিদদের সর্বসম্মতিক্রমে একেবারেই বৈধ নয়, কারণ এর ‘ইয়া’ বর্ণটি কোনো বর্ণ থেকে রূপান্তরিত নয়...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ১১)
همزة، وإنما الياء التي تبدل من الهمزة، في هذه المواضع، تكون بعد ألف الجمع المانع من الصرف، ويكون بعدها حرف واحد، لا يكون عيناً نحو سفائن. ولم ينظر إلى أن الأصل في معيشة (معيشة) على وزن مفعلة. وذلك لأن أصل هذه الكلمة من عاش التي أصلها عيش. على وزن (فعل) ويلزم مضارع فعل المعتل العين بالياء (يفعل) لتصح الياء نحو (يعيش) ثم تنقل حركة العين إلى الفاء، فيصير (يعيش) ثم يبنى من (يعيش) مفعول فيقال (معيوش به) كما يقال (مسيور به) ثم يخفف ذلك يحذف الواو فيقال (معيش) (به) كما يقال (مسير به) ثم تؤنث هذه اللفظة فتصير (معيشة) فأعرف ذلك وقس عليه.
وهاهنا نكتة أخرى، وهي من أعظم الأسباب الموجبة لمعرفة علم التصريف، وذلك أن المعتل من الكلام إذا بني من ماضيه مستقبل، يجهل مواقع الصواب فيه إذا لم
হামযাহ, বরং এই স্থানগুলোতে যে ইয়া বর্ণটি হামযাহ থেকে পরিবর্তিত হয়, তা মূলত মামনু' মিনাস সারফ (রূপান্তরহীন) বহুবচনের আলিফ-এর পরে অবস্থিত হয় এবং এরপর একটি মাত্র বর্ণ থাকে, যা 'আইন' বর্ণ হয় না; যেমন: 'সাফাইন'। আর 'মাঈশাহ' এর মূল যে 'মাফ'আলাহ' ওজনের ওপর ভিত্তি করে, সেটির প্রতি লক্ষ্য করা হয়নি। এর কারণ হলো, এই শব্দটির উৎপত্তি 'আশা' থেকে যার মূল রূপ হলো 'আয়াশা' (ফায়ালা ওজনে)। আর 'আইন' বর্ণে 'ইয়া' যুক্ত মো'তাল বা দুর্বল বর্ণের ক্রিয়ার মুযারি বা বর্তমান কালে 'ইয়াফ'ইলু' ওজন হওয়া আবশ্যক যাতে 'ইয়া' বর্ণটি সঠিক থাকে, যেমন: 'ইয়াঈশু'। এরপর 'আইন' বর্ণের হরকত বা স্বরচিহ্নটি 'ফা' বর্ণের দিকে স্থানান্তরিত হয়, ফলে তা 'ইয়াঈশু' রূপ ধারণ করে। এরপর 'ইয়াঈশু' থেকে 'মাফউল' (কর্মবাচ্য) গঠন করা হয় এবং বলা হয় 'মাঈউশুন বিহি', যেমন বলা হয় 'মাসইউরুন বিহি'। অতঃপর একে সহজ করার জন্য 'ওয়াও' বর্ণটি বিলুপ্ত করা হয় এবং 'মাঈশুন বিহি' বলা হয়, যেমন বলা হয় 'মাসীরুন বিহি'। এরপর এই শব্দটিকে স্ত্রীলিঙ্গ করা হয় এবং তা 'মাঈশাহ' তে পরিণত হয়। সুতরাং বিষয়টি জেনে নিন এবং এর ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য শব্দের অনুমান করুন।
আর এখানে আরেকটি সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে, যা ইলমুত তাসরীফ বা শব্দরূপান্তর বিদ্যা জানার অন্যতম প্রধান কারণ। আর তা হলো, বাক্যের মো'তাল বা দুর্বল বর্ণযুক্ত শব্দকে যখন তার অতীত কাল থেকে ভবিষ্যৎ কালে রূপান্তর করা হয়, তখন সঠিক প্রয়োগের স্থানগুলো অজানা থেকে যায় যদি না
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ১২)
يكن المؤلف عارفاً بعلم التصريف. مثال ذلك إذا أراد المؤلف أن يبني من وزن (فعل) المعتل فاؤه بالواو مستقبلا. فإن كان جاهلاً بذلك قال في وعد (يوعد) قياساً على الصحيح في ضرب (يضرب) وإن كان عالماً به حذف الواو، لوقوعها بين ياء وكسره، فقال وعد (يعد). وكذلك إذا أراد أن يبني من وزن (فعل) أو وزن (فعل) المعتلي الفاء بالواو مستقبلا. فإنه إن كان جاهلاً ذلك، وكان قد سمع بعض العلماء، يقول في وعد (يعد) حمل (فعل وفعل) على ذلك الأسلوب فقال (وجل يجل) وفي (وضوء يضوء). وإذا كان عارفاً بمعني الأمر في ذلك لم يحذف الفاء في مستقبل (فعل وفعل) بل يقول (وجل يوجل) و (وضوء يوضؤ). وكثيراً ما يقع الخطأ في تصريف الكلام المعتل، من الماضي إلى المستقبل، وهو موضوع من العربية وعر المسلك، فينبغي لمؤلف الكلام مراعاته والاعتناء به، وأمثال هذا كثير فاعرفها.
وأما الإدغام وقولك: إن المؤلف لا يحتاج إلى معرفته، واستدلالك عليه بما ذكرته من المثال، وهو قولك: (مررت برجل ضف الحال). فإن ذلك لا يسلم إلا في هذه الصورة، وما يجري مجراها، في نقل الألفاظ على هيأتها، ومن شرط الأمثلة أن تكون شائعة في جنسها. ولنضرب لذلك مثالاً، كيف اتفق، فنقول: إذا قال النحوي في تعريف الحال (إنها هيأة الفاعل أو المفعول وهي نكرة منصوبة مشتقة، أو في تقدير المشتقة، تأتي بعد معرفة، ويحسن تقدير (في) معها وسؤال (كيف) ثم مثل ذلك بقولة: (جاء زيد راكباً). فلا يجوز أن يكون هذا المثال غير مطرد في جنسه، لأنه لو لم يكن مطرداً في جنسه لما جاز أن يجعل مثالاً لما تقدمه من هذه المصادر، وكذلك هذا المثال الذي مثلت به ما ادعيته في الإدغام فإنه ليس بشائع
في جنسه. وبيان ذلك أنا نقول: قد ورد عن بعضهم هذان البيتان وهما:
اذهبي في كلاءة الرحمن
… أنت مني في ذمةٍ وأمان
ترْهبيني والجيدُ منك لليلى
… والحشا والبُغامُ والعينان
লেখককে সরফ শাস্ত্র বা রূপতত্ত্ব সম্পর্কে অবগত হতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, লেখক যদি (ফা'আলা) ওজনের এমন কোনো শব্দ গঠন করতে চান যার প্রথম বর্ণ বা 'ফা' বর্ণটি 'ওয়াও' (দুর্বল বর্ণ) যুক্ত। এমতাবস্থায় তিনি যদি এ বিষয়ে অজ্ঞ হন, তবে তিনি 'দারাবা-ইয়াদরিবু'-এর মতো সহীহ শব্দের সাথে কিয়াস বা তুলনা করে 'ওয়া'আদা' এর ক্ষেত্রে (ইউ'ইদু) বলবেন। আর যদি তিনি এ বিষয়ে বিজ্ঞ হন, তবে 'ইয়া' এবং 'কাসরা'-এর মাঝে পড়ার কারণে 'ওয়াও' বর্ণটিকে বিলুপ্ত করে দেবেন এবং বলবেন 'ওয়া'আদা' থেকে (ইয়া'ইদু)। অনুরূপভাবে, তিনি যদি (ফা'উলা) অথবা (ফা'ইলা) ওজনের এমন শব্দের ভবিষ্যৎকাল গঠন করতে চান যার 'ফা' বর্ণটি 'ওয়াও' যুক্ত; তবে তিনি যদি এ বিষয়ে অজ্ঞ হন এবং কোনো কোনো আলিমকে 'ওয়া'আদা' থেকে (ইয়া'ইদু) বলতে শুনে থাকেন, তবে তিনি (ফা'উলা) এবং (ফা'ইলা) ওজনের শব্দকেও সেই ধারায় পরিচালনা করবেন এবং বলবেন (ওয়াজিলা-ইয়াজিলু) এবং (ওয়াদু'আ-ইয়াদু'উ)। কিন্তু তিনি যদি এ বিষয়ের গূঢ় রহস্য সম্পর্কে অবগত থাকেন, তবে তিনি (ফা'উলা) এবং (ফা'ইলা) ওজনের শব্দের ভবিষ্যৎকাল গঠনে 'ফা' বর্ণটি বিলোপ করবেন না, বরং বলবেন (ওয়াজিলা-ইয়াওজালু) এবং (ওয়াদু'আ-ইয়াওদু'উ)। দুর্বল বর্ণযুক্ত শব্দের রূপান্তরের ক্ষেত্রে অতীতকাল থেকে ভবিষ্যৎকাল করার সময় প্রায়ই ভুল হয়ে থাকে। এটি আরবী ভাষার একটি অত্যন্ত দুর্গম পথ, তাই রচয়িতার উচিত এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখা এবং যত্নশীল হওয়া। এ জাতীয় উদাহরণ অনেক রয়েছে, তাই সেগুলো চিনে নিন।
আর ইদগাম (বর্ণের সন্ধি) এবং আপনার এই বক্তব্য যে: লেখকের এটি জানার প্রয়োজন নেই, এবং এর সপক্ষে আপনার পেশকৃত উদাহরণ—যেমন আপনার উক্তি: (মারারতু বি-রাজুলিন দাফ্ফাল হাল)—এর মাধ্যমে আপনার দলিল প্রদান; এটি কেবল এই নির্দিষ্ট রূপ এবং এর সমপর্যায়ের রূপগুলোর ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যেখানে শব্দগুলো তাদের মূল আকৃতিতেই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু উদাহরণের শর্ত হলো সেটি নিজ শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রচলিত বা নিয়মমাফিক হতে হবে। আমরা এর জন্য একটি উদাহরণ দিই, যেভাবে যুক্তি সঙ্গত হয়: যদি কোনো নাহুবিদ (ব্যাকরণবিদ) 'হাল' (অবস্থা)-এর সংজ্ঞায় বলেন যে, "এটি হলো কর্তা বা কর্মের অবস্থা বর্ণনাকারী শব্দ যা একটি অনির্দিষ্ট, যবরযুক্ত এবং কোনো মূল শব্দ থেকে উৎপন্ন শব্দ, অথবা উৎপন্ন শব্দের স্থলাভিষিক্ত শব্দ, যা নির্দিষ্ট বিশেষ্যের পরে আসে এবং যার সাথে 'ফী' (মধ্যে) শব্দটি উহ্য ধরা যায় এবং 'কাইফা' (কেমন) দিয়ে প্রশ্ন করা যায়।" এরপর তিনি এর উদাহরণ হিসেবে পেশ করেন: "যায়েদ আরোহী অবস্থায় এল"। এখন এই উদাহরণটি যদি তার স্বগোত্রীয় শব্দাবলির ক্ষেত্রে নিয়মমাফিক না হয়, তবে তা জায়েজ হবে না। কারণ এটি যদি স্বগোত্রীয় ক্ষেত্রে নিয়মমাফিক না হতো, তবে একে পূর্বোল্লিখিত সংজ্ঞাগুলোর উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ হতো না। তেমনিভাবে, ইদগামের বিষয়ে আপনি যে উদাহরণটি দিয়েছেন, সেটি তার নিজ শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রচলিত নয়।
এর ব্যাখ্যায় আমরা বলতে পারি যে, কোনো কোনো কবির পক্ষ থেকে এই দুটি পঙক্তি বর্ণিত হয়েছে, যা হলো:
তুমি পরম দয়ালু আল্লাহর হেফাজতে চলে যাও
… তুমি আমার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের ছায়াতলে রয়েছ
তুমি আমাকে ভয় পাচ্ছ, অথচ তোমার গ্রীবা যেন লায়লার গ্রীবার মতো
… আর উদর, অস্ফুট স্বর এবং দুই চোখ।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فماذا يقول هذا الشاعر إذا سئل عن قوله (ترهبيني) وقيل: إن الأصل في ذلك (ترهبينني) يحذف إحدى النونين؟ فلا أجده يستطيع الجواب عن ذلك، إلا أن يكون عارفاً بالإدغام، وهو: إذا كان المثلان في كلمتين وقبلهما ساكن، وهو حرف مداولين، يجوز إدغام أحدهما في الآخر، ولما وجد هذا السبب في (ترهبينني) أدغمت إحدى النونين في الأخرى، ثم خفف الإدغام فصارت (ترهبيني) فيجب حينئذ على مؤلف الكلام، بهذا الدليل، معرفة الإدغام، ليسلم من اعتراض متعرض أو تعنت متعنت.
وأما النوع الثاني: وهو قولنا إن المؤلف يحتاج إلى معرفة اللغة فلسنا نعني بذلك إلا ما كان مألوفاً، متداولاً بين أرباب هذه الصناعة. وسيأتي ذكر ذلك في كتابنا هذا.
ويفتقر المؤلف أيضاً إلى معرفة عدة أسماء لما يقع استعماله في النظم والنثر، ليجد إذا ضاق به موضع في كلامه، بإيراد بعض الألفاظ فيه، العدول عنه إلى غيره، مما هو في معناه.
وكذلك يحتاج إلى معرفة الأسماء المشتركة، ليستعين بها على استعمال التجنيس في كلامه، علم أن هذا الموضع ينبغي أن يذكر فيه الأسماء البتة، وانقسام دلالتها على المعاني، فإن المؤلف إذا كان عالماً بذلك، فهو مما لا يستغني عنه فتقول:
الألفاظ تنقسم دلالتها على المعاني ستة أقسام: مترادفة، ومشتركة، ومتباينة، ومتواطئة، ومشككة، ومتشابهة، فأما الثلاثة الأولى التي هي: المترادفة والمشتركة والمتباينة فيحتاج مؤلف الكلام إلى معرفتها. وإنما أوجبنا عليه معرفة الأسماء
المتباينة، لأن منها ما يوهم إنه من المترادفة، وليس كذلك، وأما الثلاثة الأخر التي هي: المتواطئة والمشككة
এই কবিকে যদি তার উক্তি 'তারহাবিনি' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় এবং বলা হয়: এর মূল রূপ ছিল 'তারহাবিনানি', এখান থেকে কি একটি নুন বিলুপ্ত করা হয়েছে? তবে আমি তাকে এর উত্তর দিতে সক্ষম পাব না, যদি না সে ইদগাম সম্পর্কে অবগত থাকে। আর ইদগাম হলো: যখন দুটি সমজাতীয় বর্ণ পাশাপাশি আসে এবং তাদের পূর্বে একটি সাকিনযুক্ত বর্ণ থাকে যা একটি দীর্ঘ স্বরবর্ণ, তখন একটিকে অপরটির সাথে ইদগাম করা বা মিলিয়ে দেওয়া বৈধ। যখন 'তারহাবিনানি' শব্দে এই কারণটি পাওয়া গেল, তখন একটি নুনকে অপরটির সাথে ইদগাম করা হলো, অতঃপর ইদগামকে সহজ করা হলো, ফলে তা 'তারহাবিনি'তে পরিণত হলো। অতএব, এই প্রমাণের ভিত্তিতে একজন রচয়িতার জন্য ইদগাম সম্পর্কে জ্ঞান রাখা আবশ্যক, যাতে তিনি কোনো আপত্তিকারীর আপত্তি বা কোনো হঠকারীর কুতর্ক থেকে নিরাপদ থাকতে পারেন।
আর দ্বিতীয় প্রকার হলো: আমাদের এই কথা যে, রচয়িতার ভাষা বিষয়ক জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে। এর দ্বারা আমরা কেবল সেই শব্দাবলিকেই বুঝিয়েছি যা এই শিল্পের পণ্ডিতদের নিকট পরিচিত ও প্রচলিত। আমাদের এই কিতাবে সামনে তার উল্লেখ আসবে।
তদুপরি, গদ্য ও পদ্যে ব্যবহৃত বিষয়াবলির একাধিক নাম বা সমার্থক শব্দ সম্পর্কেও রচয়িতার জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। যাতে করে তার রচনায় কোনো শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংকীর্ণতা তৈরি হলে, তিনি সেই শব্দ পরিহার করে একই অর্থবোধক অন্য কোনো শব্দের দিকে ফিরে যেতে পারেন।
অনুরূপভাবে তার জন্য বহুমুখী অর্থবোধক শব্দাবলি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন, যাতে তিনি তার বক্তব্যে অলঙ্কার ব্যবহারে সহায়তা লাভ করতে পারেন। এটি জানা থাকা উচিত যে, এই স্থানে শব্দসমূহ এবং অর্থের ওপর তাদের নির্দেশনার প্রকারভেদ উল্লেখ করা প্রয়োজন। কারণ রচয়িতা যখন এই বিষয়ে জ্ঞানী হবেন, তখন এটি এমন একটি বিষয়ে পরিণত হবে যা থেকে তিনি বিমুখ হতে পারেন না। সুতরাং আপনি বলবেন:
অর্থের ওপর শব্দের নির্দেশনার ধরন অনুযায়ী শব্দাবলি ছয় ভাগে বিভক্ত: সমার্থক, বহুমুখী অর্থবোধক, বৈসাদৃশ্যপূর্ণ, অনুবর্তী, সংশয়পূর্ণ এবং সদৃশ। প্রথম তিনটি অর্থাৎ: সমার্থক, বহুমুখী অর্থবোধক এবং বৈসাদৃশ্যপূর্ণ শব্দসমূহ সম্পর্কে একজন রচয়িতার জ্ঞান থাকা আবশ্যক। আমরা তার জন্য বৈসাদৃশ্যপূর্ণ শব্দাবলির পরিচয় জানাকে কেবল এই জন্যই আবশ্যক করেছি
কারণ এগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা সমার্থক শব্দ বলে ভ্রম সৃষ্টি করে, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। আর বাকি তিনটি অর্থাৎ: অনুবর্তী এবং সংশয়পূর্ণ শব্দসমূহ...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والمتشابهة فإنه لا يحتاج مؤلف الكلام إلى معرفتها، لأن ورودها في التأليف لا ينتج فائدة تذكر، كالمترادفة والمشتركة، وما شابه المترادفة من المتباينة، وإنما ذكرنا هذه الثلاثة الأخر ههنا، لنكون قد استوفينا جميع أقسام الأسماء في كتابنا هذا، فاعرفه.
فأما الأسماء المترادفة: فهي المختلفة الدالة على معنى يتدرج تحت حقيقة واحدة، كالخمر والراح، والعقار، فإن المسمى بهذه الأسماء شيء واحد، وهو الشراب المسكر المعتصر من العنب. وأما الأسماء المشتركة: فهي اللفظ الواحد المطلق على موجودات مختلفة بالحد والحقيقة، إطلاقاً متساوياً، كالعين، فإنها تطلق على العين الباصرة، وعلى ينبوع الماء، وعلى المطر. وكل من هذه الثلاثة مختلف بالحد والحقيقة وأما المتباينة: فهي الأسماء المختلفة الدالة على معان مختلفة، كالفرس، والحمار، والجدار. وغير ذلك. وقد يوجد من المتباينة ما يوهم إنه من المترادفة، وليس كذلك، وهو أن يتحد الموضوع، ويتعد الاسم، بحسب تباين اعتبارات، فمن ذلك أن يكود أحد الاسمين له من حيث هو موضوعه، والآخر من حيث هو صفة له، كقولنا السيف، والصارم. فإن الصارم دل على موضوع بصفة الحدة، وذلك بخلاف ما دل عليه السيف، لأنه موضوع بازاء هذه الآلة، كيف كانت. ومن ذلك أن يكون أحد الاسمين له بسبب وصف، والآخر بسبب وصف للوصف، كقولنا الناطق، والفصيح. فإن الفصيح وصف للناطق، الذي هو وصف الإنسان.
وأما الأسماء المتواطئة: فهي الدالة على أعيان متعددة بمعنى واحد مشترك بينها كدلالة اسم الحيوان على الإنسان، والفرس، والحمار، لأنها مشتركة في الحيوانية، والاسم موضوع بازاء ذلك المعنى المشترك المتعاطي.
আর অস্পষ্ট শব্দাবলি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা গ্রন্থকারের জন্য আবশ্যক নয়; কারণ রচনায় এগুলোর প্রয়োগে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সুফল পাওয়া যায় না, যেমন সমার্থক, অনেকার্থক এবং ভিন্নার্থক হওয়া সত্ত্বেও সমার্থকের সদৃশ শব্দাবলি। আমরা এখানে এই শেষোক্ত তিনটি বিষয় উল্লেখ করেছি যাতে আমাদের এই গ্রন্থে বিশেষ্যের সকল প্রকারের আলোচনা পূর্ণতা পায়; অতএব এটি অনুধাবন করুন।
আর সমার্থক বিশেষ্যসমূহ হলো: সেই ভিন্ন ভিন্ন শব্দ যা এমন একটি অর্থের ওপর নির্দেশ করে যা একক বাস্তবতার অন্তর্ভুক্ত, যেমন খামর, রাহ এবং আকার। কেননা এই নামগুলোর দ্বারা যা নির্দেশ করা হয় তা একটিই বস্তু, আর তা হলো আঙুর থেকে নিংড়ানো নেশাজাতীয় পানীয়। আর অনেকার্থক বিশেষ্যসমূহ হলো: সেই একক শব্দ যা সংজ্ঞা ও বাস্তবতার দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন অস্তিত্বের ক্ষেত্রে সমভাবে ব্যবহৃত হয়, যেমন 'আইন' শব্দটি; কেননা এটি দর্শনেন্দ্রিয় (চোখ), পানির ঝরনা এবং বৃষ্টির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আর এই তিনটির প্রত্যেকটিই সংজ্ঞা ও বাস্তবতার দিক থেকে ভিন্ন। আর ভিন্নার্থক বিশেষ্যসমূহ হলো: সেই ভিন্ন ভিন্ন নাম যা ভিন্ন ভিন্ন অর্থের ওপর নির্দেশ করে, যেমন ঘোড়া, গাধা এবং দেয়াল ইত্যাদি। ভিন্নার্থক শব্দগুলোর মধ্যে এমন কিছু পাওয়া যায় যা সমার্থক বলে ভ্রম সৃষ্টি করে, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। আর তা হলো মূল বিষয় এক হওয়া কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারণে নাম একাধিক হওয়া। এর একটি উদাহরণ হলো, একটি নাম তার মূল সত্তার প্রেক্ষিতে হওয়া এবং অন্যটি তার গুণের প্রেক্ষিতে হওয়া; যেমন আমাদের বলা: তরবারি ও তীক্ষ্ণ। কেননা 'তীক্ষ্ণ' শব্দটি ধারালো হওয়ার গুণসহ একটি বস্তুকে বোঝায়, যা 'তরবারি' শব্দটি যা বোঝায় তার থেকে ভিন্ন; কারণ 'তরবারি' শব্দটি এই যন্ত্রটির জন্যই নির্ধারিত, তা যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন। আরেকটি উদাহরণ হলো, একটি নাম কোনো গুণের কারণে হওয়া এবং অন্যটি সেই গুণের গুণের কারণে হওয়া; যেমন আমাদের বলা: বাকশক্তি সম্পন্ন ও সাবলীল ভাষী। কেননা 'সাবলীল ভাষী' হলো 'বাকশক্তি সম্পন্ন' সত্তার একটি গুণ, আর 'বাকশক্তি সম্পন্ন' হওয়া হলো মানুষের একটি গুণ।
আর সমজাতীয় বিশেষ্যসমূহ হলো: যা তাদের মধ্যে বিদ্যমান একটি সাধারণ অর্থের ভিত্তিতে একাধিক সত্তাকে নির্দেশ করে; যেমন মানুষ, ঘোড়া এবং গাধার ক্ষেত্রে 'প্রাণী' নামের ব্যবহার। কারণ তারা 'প্রাণিত্বের' গুণে অংশীদার এবং নামটি সেই সাধারণ ও অংশীদারী অর্থের বিপরীতেই গঠন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأما المشككة فهي كل اسم دل على شيئين فصاعداً، بمعنى هو واحد في نفسه، لكن يختلف ذلك المعنى فيها من جهة أخرى، كالتقدم، والتأخر، والأشد والأضعف. أما التقدم والتأخر فكالوجود للجوهر قبل العرض وأما الأشد والأضعف فكالبياض الواقع على الثلج والعاج، فإن الثلج أشد بياضاً من العاج.
وأما المتشابهة فهي الأسماء التي لا يجمعها معنى واحد، لكن بينها تشابه ما، من حيث ذاتها، كالطين المصور على صورة الانسان، اذ يطلق لفظ الإنسان عليه، وعلى الإنسان الحقيقي، بطريق المشابهة لا بطريق التواطؤ، لأنهما مختلفان في الحد والحقيقة. هذا ما ينبغي ذكره في الأسماء وانقسامها في الدلالة على المعاني، فاعرفه.
وأما النوع الثالث: فهو معرفة أمثال العرب وأيامهم فإن مؤلف الكلام شديد الحاجة إلى ذلك، وذلك أن العرب لم تضع الأمثال إلا لأسباب أوجبتها، وحوادث اقتضتها، فصار المثل المضروب لأمر من الأمور عندهم كالعلامة، التي يعرف بها الشيء. وليس في كلامهم أوجز منها، ولا أشد اختصاراً. وسبب ذلك ما أذكره لك، لتكون من معرفته على يقين. فأقول: قد جاء عن العرب من جملة أمثالهم (أن يبغ عليك قومك لا يبغ عليك القمر). وهو مثل يضرب للأمر الظاهر المشهور، والأصل فيه:
قال المفضل بن محمد: إنه بلغنا أن بني ثعلبة بن سعد بن ضبة في الجاهلية تراهنوا على
আর মুশাক্কাকাহ (আনুপাতিক) হলো সেই সব নাম যা দুই বা ততোধিক বিষয়ের ওপর নির্দেশ করে, যার মূল অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক, কিন্তু তা অন্য দিক থেকে ভিন্ন হয়; যেমন—অগ্রগামিতা ও পশ্চাৎগামিতা এবং অধিকতর তীব্রতা ও দুর্বলতা। অগ্রগামিতা ও পশ্চাৎগামিতার উদাহরণ হলো যেমন আরজের (আকস্মিক গুণ) পূর্বে জওহরের (মৌলিক সত্তা) বিদ্যমান থাকা। আর অধিকতর তীব্রতা ও দুর্বলতার উদাহরণ হলো বরফ ও হাতির দাঁতের শুভ্রতা; কেননা বরফের শুভ্রতা হাতির দাঁতের শুভ্রতার চেয়ে অধিক তীব্র।
আর মুতাশাবিহাহ (সদৃশ) হলো সেই সব নাম যার কোনো একক অর্থ নেই, তবে তাদের সত্তাগত দিক থেকে কোনো এক প্রকার সাদৃশ্য বিদ্যমান; যেমন মানুষের আকৃতিতে তৈরি করা কাদা, কারণ এর ওপর এবং প্রকৃত মানুষের ওপর ‘মানুষ’ শব্দটি প্রয়োগ করা হয় সাদৃশ্যের ভিত্তিতে, সমার্থবোধকতার (তাওয়াতু) ভিত্তিতে নয়। কেননা সংজ্ঞা ও হাকীকত (বাস্তবতা) উভয় দিক থেকে তারা ভিন্ন। নামের প্রকারভেদ এবং অর্থের ওপর তাদের নির্দেশনার বিষয়ে যা উল্লেখ করা প্রয়োজন ছিল তা এই, সুতরাং এটি অনুধাবন করো।
আর তৃতীয় প্রকার হলো: আরবদের প্রবাদ-প্রবচন ও তাদের যুদ্ধবিগ্রহের দিনগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা; কেননা রচয়িতাদের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আর তা এই জন্য যে, আরবরা কোনো কারণ বা জরুরি ঘটনা ব্যতিরেকে প্রবাদ তৈরি করেনি। ফলে কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে তাদের বর্ণিত প্রবাদটি একটি চিহ্নের ন্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার মাধ্যমে বিষয়টি চেনা যায়। তাদের ভাষায় এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত ও সংক্ষেপিত আর কিছু নেই। এর কারণ আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি, যাতে তুমি এ বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করতে পারো। আমি বলছি: আরবদের প্রবাদসমূহের মধ্যে একটি হলো—‘যদি তোমার কওম তোমার ওপর সীমালঙ্ঘন করে, তবে চাঁদ তোমার ওপর সীমালঙ্ঘন করবে না।’ এটি এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় যা অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ। এর মূল উৎস হলো:
মুফাদ্দাল ইবনে মুহাম্মদ বলেন: আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, জাহেলী যুগে বনু সা’লাবা ইবনে সাদ ইবনে দাব্বা নিজেদের মধ্যে বাজি ধরেছিল যে-
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الشمس والقمر ليلة أربع عشرة من الشهر، فقالت طائفة: تطلع الشمس والقمر يرى. وقالت طائفة: يغيب القمر قبل أن تطلع الشمس. فتراضوا برجل جعلوه بينهم حكماً، فقال واحد منهم: أن قومي يبغون علي، فقال له الحكم: (أن يبغ عليك قومك لا يبغ عليك القمر) فذهبت مثلا. ومن المعلوم أن قول القائل (أن يبغ عليك قومك لا يبغ عليك القمر) إذا أخذ على حقيقته من غير نظر إلى
القرائن المنوطة به، والأسباب التي قيل لأجلها، لا يعطي من المعنى ما قد إعطاء المثل؛ وذلك لأن المثل له مقدمات وأسباب، قد عرفت، وصارت مشهورة بين الناس معلمة عندهم، وحيث كان الأمر كذلك جاز إيراد هذه اللفظات في التعبير عن المعنى المراد. ولولا تلك المقدمات المعلومة، والأسباب المعروفة لما فهم من قول القائل (أن يبغ عليك قومك لا يبغ عليك القمر) ما ذكرناه في المعنى المقصود، بل ما كان يفهم من هذا القول معنى مفيد البتة، لأن البغي هو الظلم، والقمر ليس من شأنه أن يظلم أحداً، فكان يصير معنى المثل (أن كان يظلمك قومك لا يظلمك القمر) وهذا كلام مختل ليس بمستقيم.
فلما كانت الأمثال كالرموز والإشارات، التي يلوح بها على المعاني تلويحا، صار من أوجز الكلام وأكثره اختصاراً وحيث هي بهذه المثابة فلا ينبغي لمؤلف الكلام أن يخل بها.
وأما أيام العرب فإنها تتنوع وتتشعب، فمنها أيام فخار، ومنها أيام محاربة، ومنها أيام مذمة وعار، ومنها غير ذلك. ولا يخلو المؤلف من الانتصاب لوصف يوم يمر به، في بعض الأوقات، مشبهاً بذلك مماثلا له، فإذا جاء بذكر بعض تلك الأيام المناسبة لمراده، الموافقة له، وقاس عليه يومه، فقال: (أشهر من يوم كذا) أو (أسير)؛ أو ما جرى هذا المجرى،
মাসের চৌদ্দতম রাতে সূর্য ও চাঁদ প্রসঙ্গে একদল লোক বলল: সূর্য উদিত হবে যখন চাঁদ তখনও দেখা যাবে। অন্য একদল বলল: সূর্য উদিত হওয়ার আগেই চাঁদ অদৃশ্য হয়ে যাবে। তারা তাদের মধ্যে একজনকে বিচারক হিসেবে মেনে নিতে সম্মত হলো। তাদের একজন বলল: "আমার গোত্র আমার ওপর অন্যায় করছে।" তখন বিচারক তাকে বললেন: "তোমার গোত্র তোমার ওপর অন্যায় করলেও চাঁদ তোমার ওপর অন্যায় করবে না।" পরবর্তীতে এটি একটি প্রবাদে পরিণত হয়। এটা স্পষ্ট যে, কোনো বক্তার কথা—"তোমার গোত্র তোমার ওপর অন্যায় করলেও চাঁদ তোমার ওপর অন্যায় করবে না"—যদি তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুষঙ্গসমূহ এবং যে প্রেক্ষাপটে এটি বলা হয়েছে তা বিবেচনা না করে কেবল বাহ্যিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে গ্রহণ করা হয়, তবে তা প্রবাদের সেই গূঢ় অর্থ প্রদান করবে না।
কারণ প্রতিটি প্রবাদেরই কিছু পটভূমি ও কারণ থাকে যা মানুষের কাছে সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ হয়ে যায়। যখন বিষয়টি এমন হয়, তখন উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে এই শব্দগুলো ব্যবহার করা বৈধ হয়। যদি সেই সুপরিচিত পটভূমি ও কারণগুলো না থাকত, তবে বক্তার এই উক্তি থেকে আমাদের উল্লিখিত উদ্দেশ্যমূলক অর্থটি অনুধাবন করা যেত না; বরং এই উক্তি থেকে আদৌ কোনো অর্থবহ বিষয়ই বোঝা যেত না। কারণ 'বিদ্রোহ' বা 'অন্যায়' হলো এক প্রকার জুলুম, আর জুলুম করা চাঁদের কাজ নয়। সেক্ষেত্রে প্রবাদের অর্থ দাঁড়াত—"যদি তোমার গোত্র তোমার প্রতি জুলুম করে তবে চাঁদ তোমার প্রতি জুলুম করবে না"—যা একটি অসংলগ্ন ও অর্থহীন কথা।
যেহেতু প্রবাদসমূহ হলো প্রতীক ও ইশারার মতো, যার মাধ্যমে অর্থের দিকে ইঙ্গিত করা হয়, তাই এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ বাক্যে পরিণত হয়েছে। যেহেতু এটি এই পর্যায়ের গুরুত্ব বহন করে, তাই কোনো লেখকের পক্ষে এর প্রয়োগে ত্রুটি করা সমীচীন নয়।
আর আরবদের ঐতিহাসিক দিবসগুলোর (আইয়ামুল আরব) বিষয়টি বৈচিত্র্যময় ও বহু শাখায় বিভক্ত। এর মধ্যে কিছু হলো গৌরবের দিন, কিছু যুদ্ধের দিন, কিছু নিন্দা ও অপমানের দিন এবং কিছু অন্য কোনো বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। একজন লেখক যখন কোনো বিশেষ দিনের বর্ণনা দেন, তখন তিনি একে অনুরূপ অন্য কোনো দিনের সাথে তুলনা করেন। ফলে যখন তিনি তার উদ্দেশের সাথে সংগতিপূর্ণ কোনো দিনের কথা উল্লেখ করেন এবং তার সাথে বর্তমান দিনটির তুলনা করেন, তখন তিনি বলেন: "অমুক দিনের চেয়েও অধিক প্রসিদ্ধ" অথবা "অধিক বিস্তৃত"; অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فإنه يكون في غاية الحسن والرونق، وهذا لا خفاء به.
وأما النوع الرابع وهو الاطلاع على كلام المتقدمين من المنظوم والمنثور، فإن فيه للمؤلف فوائد جمة؛ وذلك أن يعلم منه أغراض الناس ونتائج أفكارهم، ويعرف مقاصد كل فريق منهم، والى أين ترامت به صنعته في ذلك، فإن هذه الأشياء مما تشحذ القريحة، وتذكي الفطنة. وإذا كان المؤلف عارفاً بها تصير المعاني، التي ذكرها أرباب هذه الصناعة، وتعبوا في استخراجها كالشيء الملقى بين يديه، يأخذ
منه ما أراد، ويترك ما أراد. وأيضاً فإنه إذا كان مطلعاً على المعاني المسبوق إليها، فقد ينقدح له من بينها معنى غريب، لم يسبق (إليه). ومن المعلوم أن خواطر المؤلفين وإن كانت متفاوتة في الجودة والرداءة، فإن بعضها قد يكون عالياً على بعض، أو منحطاً عنه بشيء يسير. وكثيراً ما تتساوى القرائح والأفكار، في الإتيان بالمعاني، حتى إن بعض المؤلفين قد يأتي بمعنى من المعاني مصوغاً بلفظه، ثم يأتي الآخر بعده، بذلك المعنى واللفظ، بعينهما، من غير علم منه بما جاء به المؤلف الأول، وهذا هو الذي تسميه أرباب هذه الصناعة (وقع الحافر على الحافر) كقول امرئ القيس:
وقوفاً بها صحبي عليّ مطيُّهم
… يقولون لا تَهْلِكْ أسىً وتَجمَّلِ
وقول طرفة بن العبد البكري بعده:
وقوفاً بها صحبي علي مطيُّهم
… يقولون لا تَهْلِكْ أسىً وتَجلَّدِ
وسيأتي لذلك باب مفرد في كتابنا هذا.
وأما النوع الخامس، وهو معرفة الأحكام السلطانية من الإمامة والإمارة، وغير ذلك،
নিশ্চয়ই তা চরম সৌন্দর্য ও জৌলুসপূর্ণ হবে, আর এ বিষয়টি স্পষ্ট।
আর চতুর্থ প্রকারটি হলো পূর্ববর্তীদের পদ্য ও গদ্যের রচনারাজির পর্যালোচনা করা; কেননা এতে লেখকের জন্য প্রচুর উপকারিতা রয়েছে। আর তা হলো, এর মাধ্যমে মানুষের উদ্দেশ্যসমূহ এবং তাদের চিন্তা-চেতনার ফলাফল সম্পর্কে জানা যায়, এবং তাদের প্রতিটি দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়, আর এ ক্ষেত্রে তাদের নৈপুণ্য তাদের কতদূর নিয়ে গিয়েছে তাও জানা যায়। কেননা এসব বিষয় মেধা ও প্রতিভাকে শাণিত করে এবং বুদ্ধিকে প্রখর করে। লেখক যদি এ বিষয়ে অবগত থাকেন, তবে এই শিল্পের পণ্ডিতগণ যেসকল অর্থ উল্লেখ করেছেন এবং যেগুলো আহরণ করতে তারা পরিশ্রম করেছেন, তা তাঁর সামনে উপস্থাপিত বস্তুর মতো হয়ে যায়; সেখান থেকে তিনি যা ইচ্ছে গ্রহণ করেন এবং যা ইচ্ছে বর্জন করেন। এছাড়া, তিনি যদি পূর্বে আলোচিত অর্থসমূহ সম্পর্কে অবহিত থাকেন, তবে অনেক সময় সেগুলোর মধ্য থেকে তাঁর কাছে এমন এক নতুন ও বিচিত্র অর্থ উদিত হতে পারে, যার দিকে ইতিপূর্বে কেউ অগ্রসর হয়নি। এটি সর্বজনবিদিত যে, লেখকদের চিন্তাধারা মান ও গুণের দিক থেকে ভিন্নতর হলেও, কোনো কোনোটি অন্যের চেয়ে উচ্চমানের হতে পারে, আবার কোনোটি সামান্য নিম্নমানেরও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অর্থ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে মেধা ও চিন্তা অভিন্ন হয়ে যায়, এমনকি কোনো লেখক একটি অর্থকে বিশেষ শব্দে উপস্থাপন করার পর অন্য একজন লেখকও প্রথম লেখকের কাজ সম্পর্কে অজ্ঞাত থেকেই হুবহু সেই একই অর্থ ও শব্দ নিয়ে আসেন। এই শিল্পের পণ্ডিতগণ একেই 'খুরের ওপর খুর পড়া' (হুবহু মিলে যাওয়া) বলে অভিহিত করেন; যেমন ইমরুল কায়েসের উক্তি:
আমার সাথীরা সেখানে তাদের সওয়ারী নিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায়
… তারা বলছিল, তুমি দুঃখে ধ্বংস হয়ে যেয়ো না বরং ধৈর্য ধারণ করো।
এবং তার পরে তরফা বিন আল-আবদ আল-বকরীর উক্তি:
আমার সাথীরা সেখানে তাদের সওয়ারী নিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায়
… তারা বলছিল, তুমি দুঃখে ধ্বংস হয়ে যেয়ো না বরং দৃঢ়তা অবলম্বন করো।
আমাদের এই গ্রন্থে এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ সামনে আসবে।
আর পঞ্চম প্রকারটি হলো ইমামত (নেতৃত্ব), ইমারত (শাসনক্ষমতা) এবং এ জাতীয় অন্যান্য রাষ্ট্রীয় বিধি-বিধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা,
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فإنما أوجبنا على مؤلف الكلام معرفتها، والإحاطة بها؛ لأنه قد يحدث في الإمامة حادث، في بعض الأوقات، أو يجري فيها أمر من الأمور؛ بأن يكون الإمام القائم من المسلمين، ثم يتولى من بعده من لم تتكامل فيه شرائط الامامة؛ أو يكون كامل الشرائط، غير أن الإمام الذي كان قبله عهد بها إلى آخر غيره، وهو ناقص الشرائط، أو يكون قد تنازع الإمامة شخصان، أو يكون أرباب الحل والعقد قد اختاروا إماماً، وهم غير كاملي الشرائط التي يجب أن توجد فيهم، أو يكون أمر غير ما ذكرنا، فتختلف الأطراف في ذلك، وينتصب ملك من ملوك الأرض له عناية بالإمام الذي قام للمسلمين، فيتقدم إلى كاتبه بكتبه كتاباً في معناه إلى الأطراف المخالفة له. وإذا لم يكن الكاتب عند ذلك عارفاً بالحكم، في هذه
الحوادث، واختلاف أقوال العلماء فيها، وما هو رخصة في ذلك، وما ليس برخصة، فإنه لا يكتب كتاباً ينتفع به البتة. ولسنا نعني بهذا القول أن يكون الكتاب مقصوراً على فقه محض فقط؛ لأنا لو أردنا ذلك لما كنا نحتاج فيه إلى كتبه كتاباً، بل كنا نقتصر على إنفاذ مصنف من مصنفات الفقه، عوضاً عن الكتاب، الذي نريد أن نكتبه، وإنما قصدنا بذلك أن يكون الكتاب الذي يكتب في هذا المعنى مشتملاً على التغيب والترهيب، والتسامح في موضع، والمحاقة في موضع، مشحوناً كذلك بالنكت الشرعية، التي تليق به وتناسبه، كما فعل الصابي في الكتاب الذي كتبه عن عز الدولة بن بويه إلى الطائع، لما مات المطيع،
আমরা এই কথা রচয়িতার জন্য এই বিষয়গুলো জানা এবং এ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করাকে আবশ্যিক করেছি; কারণ কখনও কখনও ইমামতের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ঘটনা ঘটতে পারে বা কোনো বিষয়ের উদ্ভব হতে পারে; যেমন মুসলমানদের বর্তমান ইমামের স্থলাভিষিক্ত এমন কেউ হলেন যার মধ্যে ইমামতের শর্তাবলি পূর্ণ নেই; অথবা তিনি পূর্ণ শর্ত সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও তার পূর্ববর্তী ইমাম তার পরিবর্তে অন্য কাউকে স্থলাভিষিক্ত করার অঙ্গীকার করেছিলেন, অথচ সেই ব্যক্তি শর্তের দিক থেকে অযোগ্য; অথবা ইমামত নিয়ে দুইজন ব্যক্তির মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হতে পারে; অথবা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ও কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিবর্গ কোনো ইমামকে নির্বাচন করেছেন অথচ তাদের নিজেদের মধ্যেই সেই শর্তাবলি নেই যা থাকা আবশ্যক; অথবা উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়া অন্য কিছু ঘটতে পারে, যার ফলে বিভিন্ন পক্ষ এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করতে পারে। এমতাবস্থায় পৃথিবীর শাসকদের মধ্য থেকে এমন কোনো শাসক, যিনি মুসলমানদের বর্তমান ইমামের প্রতি অনুরাগী, তিনি তার সচিবকে এই মর্মে আদেশ দেন যেন তিনি বিরোধী পক্ষগুলোর নিকট এই বিষয়ের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে একটি পত্র রচনা করেন। এমতাবস্থায় লেখক যদি এই সকল বিধান সম্পর্কে এই
ঘটনাপ্রবাহে আলেমদের মতবিরোধ এবং কোনটি শিথিলযোগ্য আর কোনটি নয় সে সম্পর্কে অবগত না হন, তবে তিনি এমন কোনো পত্র রচনা করতে পারবেন না যা বিন্দুমাত্র ফলপ্রসূ হবে। আমাদের এই কথার উদ্দেশ্য এই নয় যে, পত্রটি কেবল বিশুদ্ধ ফিকহ বা আইনশাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে; কারণ আমরা যদি তাই চাইতাম, তবে আমাদের কোনো পত্র লেখার প্রয়োজন পড়ত না, বরং আমরা যে পত্রটি লিখতে চাচ্ছি তার পরিবর্তে ফিকহের কোনো একটি গ্রন্থ পাঠিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট মনে করতাম। বরং আমাদের লক্ষ্য হলো এই যে, এই প্রেক্ষাপটে লিখিত পত্রটি উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন, কোনো স্থানে নমনীয়তা এবং কোনো স্থানে কঠোরতার সংমিশ্রণ হবে এবং এটি এমন সব শারয়ী সূক্ষ্ম তথ্যে সমৃদ্ধ থাকবে যা এর জন্য শোভনীয় ও উপযুক্ত। যেমনটি আস-সাবি করেছিলেন সেই পত্রে যা তিনি ইযযুদ্দৌলা বিন বুওয়াইহ-এর পক্ষ থেকে আত-তাঈ-এর নিকট লিখেছিলেন যখন আল-মুতি' মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فإنه من محاسن الكتب، التي يكتب بها في هذا الفن.
وأما النوع السادس وهو حفظ القرآن الكريم، والاطلاع على غرابته وعجائبه، فإن مؤلف الكلام ينبغي له أن يكون عارفاً بذلك، لأن فيه فوائد كثيرة، ومنافع زائدة، منها أن يضمن كلامه الآيات في أما كنها اللائقة بها، ومواضعها المناسبة لها، ولا شبهة فيما يصير للكلام بذلك، من الفخامة والجزالة والرونق، كما فعل الشيخ عبد الرحيم بن نباتة في خطبة فإنه أبدع في تضمين الآيات فيها، وسيأتي بيان ذلك في باب التضمين. ومنها أن المؤلف إذا عرف واقع البلاغة وأسرار صناعة الكلام، في تأليف القرآن الكريم، اتخذه بحراً، يستخرج منه الدرر والجواهر، ويودعها في مطاوي كلامه. وكفى بالقرآن الكريم وحده آلة لمؤلف الكلام. فعليك أيها المترشح لهذه الصناعة بحفظه، والفحص عن سره الخفي، وغامض علمه المستور، فإنها تجارة للمؤلف لا تبور، ومنبع لا يغور، وكنز يرجع إليه، وذخر يعول في جميع كلامه عليه.
وأما النوع السابع، وهو تحفظ أخبار الرسول صلى الله عليه وسلم مما يحتاج مؤلف الكلام إلى استعماله، فإن الأمر يجري في ذلك مجرى القرآن الكريم، وقد
تقدم القول فيه، فاعرفه.
নিশ্চয়ই এটি সেই সুন্দর কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা এই শিল্পে রচিত হয়েছে।
আর ষষ্ঠ প্রকারটি হলো পবিত্র কুরআন মুখস্থ করা এবং এর বিরল ও বিস্ময়কর বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া। কেননা বাক্য রচয়িতার জন্য এ বিষয়ে জ্ঞান রাখা আবশ্যক, কারণ এতে প্রচুর উপকারিতা ও অতিরিক্ত সুফল রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো—নিজের বক্তব্যের উপযুক্ত ও যথাযথ স্থানে আয়াতের সমন্বয় ঘটানো। এতে বাক্যের যে গাম্ভীর্য, দৃঢ়তা ও সৌন্দর্য সৃষ্টি হয় সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, যেমনটি শায়খ আব্দুর রহিম ইবনে নুবাতা তাঁর খুতবাসমূহে করেছেন। তিনি এতে আয়াত সংযোজনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন এবং 'উদ্ধৃতি অধ্যায়ে' (বাবুত তাযমিন) এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে। অন্যটি হলো—লেখক যখন পবিত্র কুরআনের বিন্যাসে অলঙ্কারশাস্ত্রের বাস্তবতা ও বাক্যশৈলীর রহস্যসমূহ বুঝতে পারবেন, তখন তিনি একে একটি সমুদ্র হিসেবে গ্রহণ করবেন, যা থেকে তিনি মুক্তা ও মণিমাণিক্য আহরণ করবেন এবং তা নিজের রচনার ভাঁজে ভাঁজে নিহিত রাখবেন। বাক্য রচয়িতার উপকরণ হিসেবে কেবল পবিত্র কুরআনই যথেষ্ট। সুতরাং হে এই শিল্পের শিক্ষার্থী, তোমার কর্তব্য হলো এটি মুখস্থ করা এবং এর প্রচ্ছন্ন রহস্য ও আবৃত ইলমের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনুসন্ধান করা। কেননা এটি লেখকের জন্য এমন এক ব্যবসা যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, এমন এক ঝরণাধারা যা কখনো শুকিয়ে যায় না, এমন এক ভাণ্ডার যার দিকে সর্বদা ফিরে আসা হয় এবং এমন এক পাথেয় যার ওপর তিনি তাঁর সকল বক্তব্যে নির্ভর করেন।
আর সপ্তম প্রকারটি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ মুখস্থ রাখা, যা একজন লেখক তাঁর রচনায় ব্যবহারের প্রয়োজন বোধ করেন। এ বিষয়টিও পবিত্র কুরআনের ন্যায় একই নিয়ম মেনে চলে এবং
এ বিষয়ে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে, সুতরাং তা জেনে নাও।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ২০)
القسم الثانيوهو ما يخص الناظم دون الناثروذلك معرفة العروض، وما يجوز فيه من الزحاف، وما لا يجوز، فإن الشاعر محتاج إليه. ولسنا نوجب عليه المعرفة بذلك لينظم بعلمه، فإن النظم مبني على الذوق، ولو نظم بتقطيع التفاعيل لجاء شعره متكلفاً غير مرضي، وإنما أريد للشاعر معرفة العروض لأن الذوق قد ينبو عن بعض الزحافات، ويكون ذلك جائزاً في العروض. وقد ورد للعرب مثله. فإذا كان الشاعر غير عالم به لم يفرق بين ما يجوز من ذلك وبين ما لا يجوز.
وكذلك أيضاً يحتاج الشاعر إلى العلم بالقوافي والحركات، ليعلم الروي والردف وما لا يصح من ذلك، فإذا أكمل مؤلف الكلام معرفة هذه الآلات، وكان ذا طبع مجيب وقريحة مؤاتية، فعليه بالنظر في كتابنا هذا، والتدبر لمشكلاته، والتصفح لما أود عناه من حقائق علم البيان، ونبهنا عليه من أصول ذلك وفروعه.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদআর এটি ছন্দোকার বা পদকর্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, গদ্যকারের সাথে নয়আর তা হলো ছন্দবিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং তাতে কোন্ ধরণের ছন্দবিচ্যুতি (জিহাফ) বৈধ আর কোনটি অবৈধ তা জানা; কেননা কবি এর মুখাপেক্ষী। আর আমরা তার জন্য এই জ্ঞান অর্জন করাকে এ জন্য আবশ্যক করছি না যে সে তার এই অর্জিত জ্ঞান দিয়ে কাব্য রচনা করবে; কারণ কাব্য রচনা রুচিবোধের ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। আর যদি সে ছন্দমাত্রা বিভাজন করে কাব্য রচনা করে, তবে তার কবিতা কৃত্রিম ও অসন্তোষজনক হবে। কবির জন্য ছন্দবিদ্যার জ্ঞান এ জন্যই কাম্য যে, অনেক সময় রুচিবোধ কিছু ছন্দবিচ্যুতিকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে, অথচ ছন্দবিদ্যায় তা বৈধ। আর আরবদের নিকটও অনুরূপ উদাহরণ পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় কবি যদি এ সম্পর্কে জ্ঞানী না হন, তবে তিনি বৈধ ও অবৈধের মাঝে পার্থক্য করতে পারবেন না।
অনুরূপভাবে কবি অন্ত্যমিল ও স্বরচিহ্ন সম্পর্কেও জ্ঞানের মুখাপেক্ষী, যাতে তিনি অন্ত্যবর্ণের মূল অক্ষর (রবী), অন্ত্যমিলের দীর্ঘ স্বর (রিদফ) এবং এগুলোর মধ্যে যা অশুদ্ধ তা জানতে পারেন। অতঃপর যখন কোনো বাক্য রচয়িতা এসব উপকরণের জ্ঞান পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জন করবেন এবং তিনি অনুকূল স্বভাব ও সৃজনশীল প্রতিভার অধিকারী হবেন, তখন তার উচিত আমাদের এই গ্রন্থটি নিবিড়ভাবে দেখা, এর জটিল বিষয়াবলি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের (বয়ান শাস্ত্র) যে সকল নিগূঢ় তত্ত্ব আমরা এতে সন্নিবেশিত করেছি এবং এর যে সকল মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা সম্পর্কে আমরা দিকনির্দেশনা দিয়েছি, তা পর্যবেক্ষণ করা।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ২১)
الباب الثاني من الفن الأول من القطب الأولفي أدوات التأليفاعلم أيها المنتصب لهذه الصناعة، إنه يجب عليك إذا أردت تؤلف شيئاً من الكلام، منثوراً كان أو منظوماً، أن تأخذ من نفسك، ساعة نشاطك وفراغ بالك، وإجابتها لك، فإن قليل تلك الساعة أجدى عليك بما يعطيك يومك بالكد والمطاولة. وإياك والتوعر فإنه يسلمك إلى التعقيد هو الذي يستهلك معانيك، ويشين ألفاظك، وسنبين لك فيما يأتي من هذا الكتاب ما تتوقي به ذلك؛ فإذا حاولت أمراً بديعاً فالتمس له لفظا يناسبه، فإنه جدير بالمعنى الشريف أن يكون لفظه شريفاً. وإذا وجدت ذلك فهو الدرجة التي لا أمد وراءها، والمنزلة التي لا مطلع فوقها. وعليك بتنقيح الألفاظ وتحسينها، فإن الخطب الرائقة والأشعار البارعة، لم تعمل لا فهام المعاني فقط، لأنه لو قصد بها الإفهام فقط لكان الرديء من الألفاظ يقوم مقام الجيد في الأفهام، وإنما عملت الخطب والأشعار لأجل الإتيان ببداعة اللفظ، وأحكام صنعته. ولسنا نعني بذلك أن يجعل المؤلف همته مقصورة على تجويد الألفاظ، ويهمل المعاني المنوطة تحتها، وإنما المعني به أن تكون المعاني المقصودة ذات ألفاظ حسنة رائقة، وسنذكر معرفة اللفظ الجيد من الرديء، والفرق بينهما، فيما، يأتي من كتابنا هذا.
واعلم أن المعنى هو عماد اللفظ، واللفظ هو زينة المعنى. والمعاني بمنزلة الأرواح، والألفاظ بمنزلة الأجساد، فأول ما يجب على المتكلم أن لا يؤلف كلامه من ألفاظ رديئة. ثم إن ألفه من
প্রথম স্তম্ভের প্রথম শিল্পের দ্বিতীয় অধ্যায়রচনার উপকরণসমূহ প্রসঙ্গেহে এই শিল্পে নিবিষ্ট ব্যক্তি, জেনে রেখো যে, তুমি যখন গদ্য বা পদ্য কোনো কিছু রচনা করতে চাইবে, তখন তোমার নিজের থেকে সেই সময়টি গ্রহণ করা উচিত যা তোমার উদ্যম ও মানসিক প্রশান্তির সময় এবং যখন তোমার মন স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দেয়। কারণ সেই সময়ের সামান্য অংশটুকু তোমার জন্য সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি ও দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টার চেয়েও অধিক ফলদায়ক হবে। আর তুমি কর্কশ ও দুর্ভেদ্য শৈলী থেকে বেঁচে থেকো; কারণ এটি তোমাকে এমন জটিলতার দিকে ঠেলে দেবে যা তোমার ভাবকে গ্রাস করবে এবং তোমার শব্দমালাকে কলঙ্কিত করবে। আমরা এই কিতাবের পরবর্তী অংশে বর্ণনা করব যে কীভাবে তুমি তা থেকে আত্মরক্ষা করবে। সুতরাং যখন তুমি কোনো অভিনব বিষয় সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তখন তার জন্য উপযুক্ত শব্দ তালাশ করো; কেননা মহৎ ভাবের জন্য শব্দও মহৎ হওয়া বাঞ্ছনীয়। আর যখন তুমি তা লাভ করবে, তবে সেটিই হবে সেই স্তর যার উর্ধ্বে কোনো সীমা নেই এবং সেই মর্যাদা যার ওপরে কোনো উত্তরণ নেই। তোমার উচিত শব্দসমূহকে পরিমার্জিত ও সুন্দর করা। কারণ আকর্ষণীয় ভাষণ এবং নিপুণ কবিতা কেবল ভাব বা অর্থ বোঝানোর জন্যই রচিত হয়নি। কেননা যদি কেবল অর্থ বোঝানোই উদ্দেশ্য হতো, তবে অর্থ উপলব্ধির ক্ষেত্রে মন্দ শব্দসমূহও উৎকৃষ্ট শব্দের স্থলাভিষিক্ত হতে পারত। বরং ভাষণ ও কবিতা রচিত হয়েছে শব্দের চমৎকারিত্ব ফুটিয়ে তোলা এবং এর শৈল্পিক কারুকার্যকে সুদৃঢ় করার জন্য। আমরা এর মাধ্যমে এটি বোঝাচ্ছি না যে, লেখক তার সমস্ত মনোযোগ কেবল শব্দের উৎকর্ষ সাধনেই সীমাবদ্ধ রাখবেন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অর্থগুলোকে অবহেলা করবেন। বরং এর উদ্দেশ্য হলো উদ্দিষ্ট ভাবগুলো যেন সুন্দর ও মনোরম শব্দের ভূষণে সজ্জিত হয়। আমরা আমাদের এই কিতাবের পরবর্তী অংশে ভালো ও মন্দ শব্দের পরিচয় এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য উল্লেখ করব।
জেনে রেখো, অর্থ হলো শব্দের ভিত্তি, আর শব্দ হলো অর্থের অলংকার। ভাব বা অর্থসমূহ হলো আত্মার সমতুল্য এবং শব্দসমূহ হলো দেহের সমতুল্য। অতএব একজন বক্তার ওপর সর্বপ্রথম কর্তব্য হলো তার বক্তব্যকে মন্দ শব্দ দিয়ে গঠন না করা। তারপর যদি সে তা
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ২২)
ألفاظ جيدة حسنة، فإنه لا يكون لها مزية ورونق إلا بإيداعها معنى شريفاً واضحاً؛ لأن الألفاظ لا تراد لنفسها، وإنما تجعل أدلة على المعاني، فإذا عد مت الذي يراد منها لم يعتد لها بالأوصاف التي تكون لها. ألا ترى أن قولك (فعولن مفاعلين. . .) ليس له من الحلاوة والرونق ما لقولك:
تَضَوَّعَ مِسكاَ بَطْنُ نَعْمانَ إذ مشتْ
… به زَيْنَبٌ في نِسْوةٍ خَفِراتِ
وذلك لخلوه من المعنى المفهوم؟ وهذا مما لا يحتاج فيه إلى زيادة في القول، لبيانه ووضوحه. ومن المعلوم أن جماعة العقلاء من الخاصة والعامة يعرفون المعاني، ويصيبون فيها، إلا أنهم لا يقدرون على إبرازها في لباس أنيق مناسب لها، لعدم الطبع المجيب إلى ذلك. ألا ترى إنه حكي عن المبرد، وهو من أكبر علماء العربية وأفخمهم شأناً، وصاحب قول ومذهب، إنه قال: لا أحتاج إلى وصف نفسي لعلم الناس بي، إنه ليس أحد يختلج في قلبه مسألة مشكلة إلا لقيني بها، وأعدني لها؛ فأنا عالم ومتعلم، وحافظ ودارس، لا يخفي علي مشتبه من الشعر والنحو، والكلام المنثور، من الخطب والرسائل، ولربما احتجت إلى اعتذار من قلة إلى بعض الأصدقاء، أو التماس لحاجة، فاجعل المعنى الذي أقصده نصب عيني، ثم لا أجد سبيلاً إلى التعبير عنه بما أرتضيه. ولقد بلغني أن عبيد الله بن سليمان ذكرني بجميل، فحاولت أن
উত্তম ও সুন্দর শব্দাবলি; এগুলোর কোনো বৈশিষ্ট্য বা সৌন্দর্য থাকে না যতক্ষণ না এগুলোর মাঝে কোনো মর্যাদাপূর্ণ ও সুস্পষ্ট অর্থ নিহিত থাকে। কারণ শব্দসমূহ স্বয়ং উদ্দেশ্য নয়, বরং এগুলোকে অর্থের নির্দেশক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। সুতরাং যখন উদ্দিষ্ট অর্থ বিলুপ্ত হয়, তখন শব্দের গুণাগুণের কোনো গুরুত্ব থাকে না। আপনি কি দেখেন না যে, আপনার বলা (ফাউলুন মাফাই্লুন...) এর মাঝে তেমন কোনো মাধুর্য ও সৌন্দর্য নেই যা আপনার এই বাণীতে রয়েছে:
নামান উপত্যকার অভ্যন্তরে মিশকের সুবাস ছড়িয়ে পড়ল যখন যয়নব একদল লজ্জাবতী নারীর সাথে সেখানে পদচারণা করল
… আর এটি (ছন্দের মিটারসমূহ) বোধগম্য অর্থশূন্য হওয়ার কারণে। এটি এমন একটি বিষয় যা এর স্পষ্টতা ও প্রাঞ্জলতার কারণে অধিক আলোচনার প্রয়োজন রাখে না। এটি সুপরিচিত যে, সাধারণ ও বিশিষ্ট নির্বিশেষে সকল বুদ্ধিমান ব্যক্তিই অর্থসমূহ বুঝতে পারেন এবং সঠিক অর্থ অনুধাবনে সক্ষম হন; তবে তারা সেগুলোকে একটি মার্জিত ও উপযুক্ত পোশাকে (শব্দশৈলীতে) ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হন না, কারণ তাদের স্বভাবজাত দক্ষতা এ ক্ষেত্রে সহায়ক হয় না। আপনি কি দেখেন না যে, আল-মুবররাদ—যিনি আরবি ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী বিশেষজ্ঞ এবং একটি সুনির্দিষ্ট মত ও আদর্শের প্রবক্তা—তার সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: মানুষের কাছে আমার সুখ্যাতির কারণে নিজের গুণ বর্ণনা করার প্রয়োজন আমার নেই। এমন কেউ নেই যার অন্তরে কোনো জটিল সমস্যা উদয় হয়েছে অথচ সে সেটি নিয়ে আমার কাছে আসেনি এবং আমাকে তার জন্য প্রস্তুত পায়নি। আমি একাধারে আলিম ও শিক্ষার্থী, হাফিজ ও গবেষক; কবিতা, ব্যাকরণ এবং গদ্যের অন্তর্ভুক্ত ভাষণ ও পত্রাবলির কোনো অস্পষ্ট বিষয়ই আমার নিকট অগোচর থাকে না। কিন্তু অনেক সময় কোনো বন্ধুর কাছে সামান্য ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনার প্রয়োজন হয় অথবা কোনো বিশেষ প্রয়োজনে অনুরোধ করার দরকার পড়ে, তখন আমি যে অর্থটি প্রকাশ করতে চাই তা আমার চোখের সামনে স্থির করি, অথচ আমি তা এমনভাবে ব্যক্ত করার কোনো পথ খুঁজে পাই না যা আমার পছন্দসই হয়। আর আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, উবায়দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আমার কথা অত্যন্ত সম্মানের সাথে উল্লেখ করেছেন, তাই আমি চেষ্টা করলাম যে...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أكتب إليه رقعة أشكره فيها، وأعرض ببعض أموري، فأتعبت نفسي يوماً في ذلك، فلم أقدر على ما أرتضيه، فكنت أحاول الإفصاح عما في ضميري فينحرف لساني إلى غيره.
فإذا كان هذا قول المبرد - مع علو منزلته، وارتفاع قدره -، فما ظنك بمن لم يستنشق رائحة هذه الصناعة؟ ولذلك قيل: زيادة المنطق على الأدب خير وزيادة الأدب على المنطق هجنة. فاعرف ذلك وقس عليه.
ولأجل تجويد الألفاظ وتهذيبها كان الكاتب في الرسالة، والخطيب في الخطية، والشاعر في القصيدة، بعد الفراغ من معانيها يشتغل بتنقيح ألفاظها، والتأنق في تجويدها، ليدل بذلك على براعته والتقدم في صناعته. ولو كان قصد هؤلاء القوم إفهام المعاني فقط اطرحوها، وربحوا كداً كبيراً، وأسقطوا عن أنفسهم تعباً زائداً. فينبغي لمؤلف الكلام حينئذ أن تكون ألفاظه رشيقة لائقة، متصفة بالصفات التي
يرد ذكرها في هذا الكتاب. ويكون معناه صواباً فيما قصد له. وإذا كان حسن التأليف لا يواتيك، ولا تصل قدرتك إليه وتجد اللفظة لا تقع موقعها، ولا تصير إلى مركزها، ولا تتصل بسلكها، وكانت قلقة في مكانها، نافرة عن موضعها، فلا تكرهها على اغتصاب الأماكن، والنزول في غير مواطنها، فإنك إن لم تتعاط صناعة التأليف من المنظوم والمنثور لم يعبك على ذلك أحد. ولو تكلفت ذلك ولم تكن حاذفاً به، ولا محكماً له استحققت عند ذلك العيب، واستوجبت الذم وجعلت نفسك غرضاً لسهام الملام. وإن كانت قريحتك لا تسمح لك، وتعصي عليك، بعد إجالة الفكر، وإطالة النظر فلا تعجل واترك نفسك في تلك الحالة، ثم عاود أمرك عند نشاطك وفراغ بالك؛ فانك لا تعدم حالة الإجابة من خاطرك، والمواتاة، إن كان لك قلب مجيب. وأعلم إنه ينبغي أن تستعمل في كتابك، إن كنت كاتباً، مخاطبة كل فريق من الناس، على قدر طبقاتهم في الفهم. والدليل على ذلك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم -
আমি তাকে একটি পত্র লিখলাম যেখানে আমি তাকে কৃতজ্ঞতা জানালাম এবং আমার কিছু বিষয় উপস্থাপন করলাম। আমি একটি পূর্ণ দিন এতে নিজেকে নিয়োজিত রেখে ক্লান্ত হলাম, কিন্তু আমি যা পছন্দ করি তেমন কিছু করতে সক্ষম হলাম না। আমি আমার অন্তরের কথাগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে চাইছিলাম, কিন্তু আমার ভাষা অন্যদিকে চলে যাচ্ছিল।
আল-মুবররাদ—তার উচ্চ মর্যাদা এবং সুমহান শান থাকা সত্ত্বেও—যদি এমন কথা বলেন, তবে আপনার সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী ধারণা হতে পারে যে এই শিল্পের সুবাসও কখনো গ্রহণ করেনি? এই কারণেই বলা হয়ে থাকে: সাহিত্যের চেয়ে যুক্তির আধিক্য উত্তম, কিন্তু যুক্তির চেয়ে সাহিত্যের আধিক্য হলো ত্রুটি। সুতরাং এটি জানুন এবং এর ওপর ভিত্তি করে তুলনা করুন।
শব্দের উৎকর্ষ সাধন ও তা মার্জিত করার জন্য পত্র লেখক তার পত্রে, বাগ্মী তার ভাষণে এবং কবি তার কবিতায়—ভাব ও অর্থ গুছিয়ে নেওয়ার পর—শব্দগুলোকে পরিমার্জন করতে এবং সেগুলো সুন্দরভাবে বিন্যস্ত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, যাতে এর মাধ্যমে তিনি তার নৈপুণ্য এবং এই শিল্পে তার পারদর্শিতা প্রমাণ করতে পারেন। এই ব্যক্তিবর্গের উদ্দেশ্য যদি কেবল অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হতো, তবে তারা এই অলঙ্করণ বর্জন করতেন এবং নিজেদের অনেক পরিশ্রম সাশ্রয় করতেন এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতেন। অতএব, বাক্য রচয়িতার জন্য আবশ্যক হলো তার ব্যবহৃত শব্দগুলো যেন মার্জিত ও উপযুক্ত হয় এবং সেই গুণাবলীতে গুণান্বিত হয় যা
এই কিতাবে উল্লেখ করা হবে। আর তার অর্থ যেন উদ্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে সঠিক হয়। যখন উত্তম রচনাশৈলী আপনার আয়ত্তে আসবে না এবং আপনার সামর্থ্য সেখানে পৌঁছাবে না, আর আপনি দেখতে পাবেন যে শব্দটি তার সঠিক স্থানে বসছে না, তার কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে না এবং তার মূল সূত্রের সাথে যুক্ত হচ্ছে না, বরং নিজ স্থানে তা অস্থির ও অবস্থান থেকে বিচ্যুত হচ্ছে, তখন আপনি তাকে জোরপূর্বক কোনো স্থানে বসাবেন না এবং তার অনুপযুক্ত জায়গায় তাকে স্থাপন করবেন না। কারণ আপনি যদি পদ্য বা গদ্য রচনার এই শিল্পের চর্চা না করেন, তবে সেজন্য কেউ আপনাকে দোষারোপ করবে না। কিন্তু আপনি যদি পারদর্শী বা দক্ষ না হওয়া সত্ত্বেও জোর করে তা করতে যান, তবে আপনি দোষী সাব্যস্ত হবেন, নিন্দার যোগ্য হবেন এবং নিজেকে তিরস্কারের তীরের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবেন। যদি গভীর চিন্তা ও দীর্ঘ পর্যালোচনার পরেও আপনার মেধা আপনাকে সাড়া না দেয় এবং আপনার অবাধ্য হয়, তবে তাড়াহুড়ো করবেন না এবং নিজেকে সেই অবস্থায় ছেড়ে দিন। অতঃপর আপনার কর্মস্পৃহা ও মন যখন প্রফুল্ল হবে, তখন পুনরায় কাজে ফিরে আসুন; কারণ আপনি আপনার অন্তর থেকে সাড়া পেতে এবং অনুকূল অবস্থা লাভে ব্যর্থ হবেন না, যদি আপনার একটি সংবেদনশীল হৃদয় থাকে। জেনে রাখুন যে, আপনি যদি লেখক হয়ে থাকেন, তবে আপনার লেখায় প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের সাথে তাদের বোধগম্যতার স্তর অনুযায়ী সম্বোধন ব্যবহার করা উচিত। এর প্রমাণ হলো এই যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لما أراد أن يكب إلى أهل فارس، كتب إليهم ما يمكنهم ترجمته، وهو (من رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى كسرى أبرويز عظيم فارس، سلام على من اتبع الهدى، وآمن بالله ورسوله، وشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وإن محمداً عبده ورسوله، وأني رسول الله إلى الناس كافة، لينذر من كان حياً ويحق القول على الكافرين. فأسلم تسلم. وإن أبيت فإثم المجوس عليك). ألا ترى كيف سهل الألفاظ غاية التسهيل، بحيث إنها لا تخفى على من له أدنى تشبث باللغة العربية؟ ولما أراد أن يكتب إلى قوم من العرب خاطبهم على قدر قوتهم وعادتهم لسماع مثله، فكتب لوائل بن حجر (من محمد رسول الله إلى الأقيال العباهلة أهل حضر موت بإقام الصلاة وإيتاء الزكاة؛ على التبعة شاة
যখন তিনি পারস্যবাসীদের নিকট পত্র প্রেরণের ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি তাদের প্রতি এমন বিষয় লিখলেন যা তারা অনুবাদ করতে সক্ষম হয়। আর তা হলো: (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে পারস্যের মহান সম্রাট কিসরা আবরুইজের প্রতি; শান্তি তার ওপর যে হিদায়াত অনুসরণ করে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনে এবং সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আমি সকল মানুষের নিকট আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, যেন জীবিতদের সতর্ক করা যায় এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে দণ্ড সাব্যস্ত হয়। সুতরাং ইসলাম গ্রহণ করুন, নিরাপদ থাকবেন। আর যদি আপনি অস্বীকার করেন, তবে সকল অগ্নিপূজকের পাপ আপনার ওপর বর্তাবে)। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন না তিনি শব্দগুলোকে কতটা সহজ করেছেন, যাতে আরবি ভাষার নূন্যতম জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির নিকটও তা অস্পষ্ট না থাকে? পক্ষান্তরে যখন তিনি একদল আরবের নিকট লিখতে চাইলেন, তখন তাদের ভাষাগত শক্তি ও এই ধরণের বাণীতে তাদের অভ্যস্ততা অনুযায়ী সম্বোধন করলেন। তিনি ওয়ায়েল বিন হুজরকে লিখলেন: (মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে হাদরামাউতের অনুগত ও স্বাধীন রাজন্যবর্গের প্রতি; সালাত কায়েম ও জাকাত প্রদানের নির্দেশের সাথে; জাকাতযোগ্য গবাদি পশুর জন্য একটি ছাগল...)
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والتيمة لصاحبها، وفي السيوب الخمس لا خلاط ولا وراط ولا شناق ولا شغار ومن أجبى فقد أربى وكل مسكر حرام).
فانظر أيها المتأمل لهذا الكلام، كيف خاطب هؤلاء القوم بالضد مما خاطب أهل فارس. وليس سبب ذلك إلا ما ذكرناه من مخاطبة كل فريق من الناس على قدر معرفتهم. فاعرف ذلك وقس عليه.
এবং বাড়িতে পালিত পশু তার মালিকেরই থাকবে; আর খনিজ বা গুপ্ত সম্পদে (সিয়ুব) এক-পঞ্চমাংশ (যাকাত) দিতে হবে। (যাকাত আদায়ে) কোনো সংমিশ্রণ করা যাবে না, কোনো প্রতারণা বা জালিয়াতি করা যাবে না, শিনাক্ব (যাকাতের অতিরিক্ত অংশ) নেওয়া যাবে না এবং শিগার (বিনিময় বিবাহ) করা যাবে না। যে ব্যক্তি শস্য পরিপক্ক হওয়ার পূর্বেই তা বিক্রয় করল, সে মূলত সুদী কারবারে লিপ্ত হলো। আর প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই হারাম।)
হে এই বক্তব্যের প্রতি মনোযোগী পাঠক! আপনি লক্ষ্য করুন, তিনি এই সম্প্রদায়ের সাথে পারস্যবাসীদের তুলনায় ঠিক বিপরীতভাবে সম্বোধন করেছেন। এর কারণ আর কিছুই নয়, যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, প্রতিটি জনসমষ্টির সাথে তাদের প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের স্তর অনুযায়ী কথা বলা হয়েছে। সুতরাং এটি অনুধাবন করুন এবং এর ওপর ভিত্তি করেই অন্যান্য বিষয়কে বিচার করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الباب الثالث من الفن الأول من القطب الأولفي الطريق إلى صناعة النظم والنثراعلم أيها المتأمل لكتابنا هذا، أنا مارسنا هذه الصناعة، وبيناها من طرف كثيرة، وأبواب متعددة، وخبرنا ما ينفع المتدرب من ذلك، وما يكون أعون له، وأجدى عليه وأقرب إلى تعليمه وإفادته، فلم نجد ما هو أسهل مأخذاً، وأقرب متناولاً، سوى طريق واحد نحن ذاكروه في هذا الكتاب، فنقول:
يجب على المبتدئ في هذا الفن والمترشح له إذا آتاه الله عز وجل طبعاً مجيباً، وقريحة مواتية، وكان مستكملاً لمعرفة ما يجب على المؤلف معرفته، مما أشرنا إليه في صدر هذا الكتاب، أن يأخذ رسالة من الرسائل، أو قصيدة من الشعر، يقف على معانيها، ويتدبر أوائلها وأواخرها، ويقرر ذلك في قلبه. ثم يكلف نفسه عمل مثلها، مما هو في معناها، ويأخذ تلك الألفاظ التي فيها، ويقيم عوض كل لفظه لفظة من عنده، تسد مسدها، وتؤدي المعنى المندرج تحتها، ولا يزال كذلك، حتى يأتي على آخرها. ثم بعد فراغه منها يشتغل بتنقيح ألفاظها وتجويدها. وارتباط بعضها ببعض، فإذا استتم عمله انتقل منه إلى غيره، وفعل فيه فعله أولاً، ولا يزال
প্রথম মূলনীতির প্রথম শাস্ত্রের তৃতীয় অধ্যায়পদ্য ও গদ্য রচনার পদ্ধতির বর্ণনায়হে আমাদের এই কিতাবের মনোযোগী পাঠক, জেনে রাখুন যে, আমরা এই শিল্পটি চর্চা করেছি এবং একে বহু দিক ও বহু অধ্যায়ে ব্যাখ্যা করেছি। আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি যে এর মধ্যে প্রশিক্ষণার্থীর জন্য কোনটি উপকারী এবং কোনটি তার জন্য অধিক সহায়ক, অধিক কার্যকর এবং তাকে শিক্ষা দান ও উপকৃত করার ক্ষেত্রে অধিকতর নিকটবর্তী। ফলে আমরা একটি মাত্র পদ্ধতি ছাড়া অধিক সহজবোধ্য এবং সহজে আয়ত্তযোগ্য অন্য কোনো পথ পাইনি, যা আমরা এই কিতাবে উল্লেখ করছি। সুতরাং আমরা বলছি:
এই শিল্পে নবীন এবং এতে পদার্পণকারীর জন্য কর্তব্য হলো—যদি মহান আল্লাহ তাকে অনুকূল স্বভাব এবং সহায়ক মেধা দান করে থাকেন এবং একজন লেখকের জন্য যা জানা আবশ্যক সে বিষয়ে তার জ্ঞান যদি পূর্ণাঙ্গ হয়, যেমনটি আমরা এই কিতাবের শুরুতে ইঙ্গিত করেছি—সে যেন কোনো একটি পত্র বা কোনো একটি কবিতা গ্রহণ করে, তার অর্থগুলোর ওপর সম্যক অবগত হয়, তার শুরু ও শেষ নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করে এবং তা নিজ অন্তরে গেঁথে নেয়। এরপর সেটির মূল অর্থের অনুরূপ কিছু নিজে রচনা করার প্রয়াস চালাবে এবং তাতে বিদ্যমান শব্দগুলো গ্রহণ করবে। অতঃপর প্রতিটি শব্দের পরিবর্তে নিজের পক্ষ থেকে এমন একটি শব্দ স্থাপন করবে যা সেই শব্দের স্থলাভিষিক্ত হয় এবং তার অন্তর্নিহিত অর্থটি যথাযথভাবে প্রকাশ করে। সে এভাবেই কাজ চালিয়ে যাবে যতক্ষণ না সেটির শেষ পর্যন্ত পৌঁছে। তারপর তা সম্পন্ন করার পর সে এর শব্দগুলোর পরিমার্জন ও উৎকর্ষ সাধনে এবং শব্দগুলোর পারস্পরিক যোগসূত্র স্থাপনে আত্মনিয়োগ করবে। যখন তার এই কাজটি পূর্ণাঙ্গ হবে, তখন সে তা থেকে অন্যটির দিকে অগ্রসর হবে এবং তাতেও আগের মতো আমল করবে। আর সে এভাবেই অব্যহত রাখবে...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
على هذه القدم، يد من في معارضة الرسائل، أن كان كاتباً، أو في معارضة القصائد، ان كان شاعراً، حتى يحصل له بذلك الدربة الوافرة، وتتمرن قريحته عليه أو يعتاد خاطره هذا الأمر اعتياداً زائداً، ولا ينبغي له أن يكون قانعاً من ذلك بالقليل، ولا راضياً بمعرفة الطريق، دون سلوكه إياه، مراراً كثيرة،
وخبر ته بسهله وحزنه، وقريبه وبعيده، فإذا تدرب واعتاد، وصار ذلك له خليقه وطبعاً، تفرعت عنده المعاني وانقدحت في خاطره، فتسهل عليه حينئذ صياغتها، وإبرازها فيما يليق بها من اللباس. وهذا انفع الطرق وأكثرها فائدة، لمن يروم الدخول في زمرة الكتاب والشعراء، لا تجد أيها المنتصب لهذه الصناعة طريقاً يجدي عليك من النفع ما يجديه هذا الطريق، فاعرفه.
এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই সেই ব্যক্তি অবিচল থাকবে যে পত্র রচনার অনুশীলনে লিপ্ত হয়—যদি সে লেখক হয়, অথবা কবিতার অনুশীলনে লিপ্ত হয়—যদি সে কবি হয়; যাতে এর মাধ্যমে সে পর্যাপ্ত পারদর্শিতা অর্জন করতে পারে এবং তার প্রতিভা এতে পরিশীলিত হয় কিংবা তার চিত্ত এই বিষয়ে গভীর অভ্যস্ততা লাভ করে। তার পক্ষে সামান্যতেই সন্তুষ্ট হওয়া সমীচীন নয়, আর সেই পথ বারবার অতিক্রম না করে কেবল পথের পরিচয় জেনেই তুষ্ট থাকা ঠিক নয়।
পরন্তু তাকে এর সহজ ও বন্ধুর ভূমি এবং নিকট ও দূরবর্তী স্থানসমূহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে। যখন সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অভ্যস্ত হয়ে উঠবে এবং এটি তার স্বভাবে পরিণত হবে, তখন তার কাছে অর্থের নানাবিধ দিক উন্মোচিত হবে এবং তার হৃদয়ে ভাবনার উদয় হবে। তখন সেগুলোকে শব্দে রূপান্তর করা এবং উপযুক্ত অবয়বে উপস্থাপন করা তার জন্য সহজতর হবে। যারা লেখক ও কবিদের সোপানে আরোহণ করতে চায়, তাদের জন্য এটিই সর্বাপেক্ষা হিতকর ও ফলপ্রসূ পন্থা। হে এই শিল্পের অভিলাষী! তুমি এমন কোনো পথ পাবে না যা তোমার জন্য এই পথের ন্যায় উপকারী হবে; সুতরাং একে অনুধাবন করো।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الباب الرابع من الفن الأول من القطب الأولفي الحقيقة والمجازاعلم أن الحقيقة: هي (اللفظ) الدال على موضوعة الأصلي. وقيل: هي اسم مشترك، يراد به ذات الشيء وحده، ويراد به ما استعمل بازاء موضوعة اللغوي. وأما المجاز: فهو ما أريد به غير المعنى الموضوع له في أصل اللغة، اتساعاً، وقيل: هو ما نقل عن موضوعه الأصلي إلى غيره، بسبب مشابهة بين محل الحقيقة ومحله، في أمر مشهور.
واعلم أن المجاز ينقسم إلى أقسام، وقد أودعنا كتابنا هذا منها ما سنح لنا، وهو أربعة عشر قسماً: (الأول) ما جعل للشيء بسبب المشاركة في خاصة، كما يقال للبليد حمار، وللشجاع أسد (الثاني) الزيادة في الكلام لغير فائدة كقوله تعالى (فبما رحمة من الله لنت لهم) فما هاهنا زائدة لا معنى لها أي (فبرحمة من الله لنت لهم) (الثالث) النقصان الذي لا يبطل به معنى الكلام، لحذف الموصوف وإقامة الصفة مقامه، كقوله تعالى (ومن يكسب خطيئة أو إثماً ثم يرم به بريئاً) يريد شخصاً بريئاً. وكحذف المضاف وإقامة المضاف إليه مقامه كقوله تعالى (واسئل القرية) أي أهل القرية. وللنحاة في ذلك اختلاف. قال سيبويه: إن القياس ممتنع في حذف
প্রথম কুতুবের প্রথম ফনের চতুর্থ অধ্যায়হাকিকত (প্রকৃতার্থ) ও মাজায (রূপকার্থ) প্রসঙ্গেজেনে রাখুন যে, হাকিকত (প্রকৃতার্থ) হলো: সেই (শব্দ) যা তার মৌলিক প্রয়োগকৃত অর্থের ওপর নির্দেশ করে। বলা হয়ে থাকে যে: এটি এমন এক সাধারণ বিশেষ্য, যা দ্বারা কেবল বস্তুর নিজস্ব সত্তাকে উদ্দেশ্য করা হয়, আবার যা তার আভিধানিক প্রয়োগের সমান্তরালে ব্যবহৃত হয় তাকেও উদ্দেশ্য করা হয়। আর মাজায (রূপকার্থ) হলো: ভাষার মূলে যে অর্থের জন্য শব্দটিকে রাখা হয়েছিল, প্রসারের খাতিরে তা ছাড়া অন্য কোনো অর্থ উদ্দেশ্য করা। বলা হয়ে থাকে যে: কোনো প্রসিদ্ধ বিষয়ে হাকিকতের স্থান ও তার (মাজাযের) স্থানের মধ্যে সাদৃশ্য থাকার কারণে যা তার আদি প্রয়োগস্থল থেকে অন্য দিকে স্থানান্তরিত হয়।
জেনে রাখুন যে, মাজায কয়েক ভাগে বিভক্ত, আমরা আমাদের এই কিতাবে সেগুলোর মধ্য থেকে আমাদের নিকট যা প্রতিভাত হয়েছে তা সন্নিবেশিত করেছি, আর তা চৌদ্দ প্রকার: (প্রথম) কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যে অংশীদার হওয়ার কারণে যা কোনো বস্তুর জন্য নির্ধারণ করা হয়, যেমন নির্বোধ ব্যক্তিকে গাধা এবং সাহসী ব্যক্তিকে সিংহ বলা হয়। (দ্বিতীয়) কোনো ফায়দা ছাড়াই বাক্যে শব্দের আধিক্য, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের কারণে আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন), এখানে 'মা' শব্দটি অতিরিক্ত যার আলাদা কোনো অর্থ নেই, অর্থাৎ (অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের কারণে আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন)। (তৃতীয়) এমন বিয়োজন যার ফলে বাক্যের অর্থ নষ্ট হয় না, যেমন বিশেষিত শব্দকে (মাওসুফ) বিলোপ করে তার স্থলে বিশেষণকে (সিফাত) স্থলাভিষিক্ত করা; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আর যে ব্যক্তি কোনো ত্রুটি বা পাপ অর্জন করে, অতঃপর তা কোনো নির্দোষের প্রতি নিক্ষেপ করে), এখানে নির্দোষ ব্যক্তি উদ্দেশ্য। আবার যেমন সম্বন্ধপদ (মুদাফ) বিলোপ করে তার স্থলে সম্বন্ধী পদকে (মুদাফ ইলাইহি) স্থলাভিষিক্ত করা; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আর গ্রামকে জিজ্ঞাসা করুন), অর্থাৎ গ্রামের অধিবাসীদের। এ বিষয়ে ব্যাকরণবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সিবওয়াইহ বলেছেন: বিলোপ বা উহ্য করার ক্ষেত্রে কিয়াস (নিয়মতান্ত্রিক অনুমান) অচল...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি’উল কাবীর ফী সিনায়া’তিল মানযূমি মিনাল কালামি ওয়াল মানসূর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الموصوف وإقامة الصفة مقامه، فلا يجوز في جاءني رجل طويل (جاءني
طويل) وقال الفارسي وغيره من علماء العربية: القياس جائز في حذف المضاف إليه مقامه. وسيبويه لم ينص في ذلك بشيء. وقال أبو الحسن الأخفش تارة إنه ممتنع، وتارة إنه جائز. والقوي عنده أن لا يقاس، وغيره لا يمنع القياس، (الرابع) تسمية الشيء باسم ما يؤول إليه كقوله تعالى (إني أراني أعصر خمراً). وإنما كان يعصر عنباً. (الخامس) تسمية الشيء باسم مجاوره كقوله للمزادة (راوية) وإنما الراوية الجمل الذي يحملها. (السادس) تسمية الشيء بكله كقولك في جواب (ما فعل زيد): القيام. والقيام إنما هو جنس يتناول جميع أنواعه. (السابع) تسمية الشيء بجزئه كقولك لمن تبغضه: (أنعد الله وجهة عني) تريد بذلك عامة جسده. (الثامن) تسمية الشيء بدواعيه كتسميتهم الاعتقاد قولاً نحو قولك (هذا يقول بقول الشافعي) أي يعتقد اعتقاده. (التاسع) تسمية الشيء باسم أصله كقولك للآدمي (مضغة). (العاشر) تسمية الشيء باسم فرعه كقول الشاعر:
وما العَيْشُ إلا نَومةٌ وتَشرُّق
… وتمر على رأس النخيل وماءُ
فسمى الرطب (تمراً). (الحادي عشر): تسمية الشيء باسم ضده كقولهم للأسود والأبيض (جون). (الثاني عشر) تسمية الشيء بمكانه كقولهم للمطر (سماء) لأنه ينزل منها. (الثالث عشر) تسمية الشيء بفعله كتسمية الخمر مسكراً. (الرابع عشر). تسمية الشيء بحكمه كقوله تعالى (وامرأة مؤمنة إن وهبت نفسها للنبي إن أراد النبي. . .) الآية.
মাওসুফ বা গুণান্বিত সত্তাকে বাদ দিয়ে সিফাত বা গুণকে তার স্থলাভিষিক্ত করা। যেমন 'আমার কাছে একজন দীর্ঘকায় ব্যক্তি এসেছে' এই বাক্যের পরিবর্তে (আমার কাছে এসেছে
দীর্ঘকায়) বলা জায়েজ নেই। আল-ফারিসি এবং অন্যান্য আরবি ভাষাবিদগণ বলেছেন: মুদাফ ইলাইহি (সম্বন্ধ পদ) বিলুপ্ত করে তার স্থানে অন্যটি রাখা বা কিয়াস করা জায়েজ। সিবাওয়াইহ এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে কিছু উল্লেখ করেননি। আবু আল-হাসান আল-আখফাশ কখনো বলেছেন এটি নিষিদ্ধ, আবার কখনো বলেছেন এটি জায়েজ। তার নিকট শক্তিশালী মত হলো কিয়াস না করা, যদিও অন্যরা কিয়াস করতে বাধা দেন না। (চতুর্থ) কোনো বস্তুকে তার পরিণত অবস্থার নামে নামকরণ করা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি মদ নিংড়াচ্ছি)। অথচ তিনি মূলত আঙ্গুর নিংড়াচ্ছিলেন। (পঞ্চম) কোনো বস্তুকে তার পার্শ্ববর্তী বস্তুর নামে নামকরণ করা, যেমন পানির থলিকে (রাবিয়াহ) বলা। অথচ রাবিয়াহ হলো মূলত সেই উট যা ওই পাত্র বহন করে। (ষষ্ঠ) কোনো বস্তুকে তার পূর্ণ রূপের নামে নামকরণ করা, যেমন 'যায়েদ কী করেছে?' এর উত্তরে বলা: 'দাঁড়ানো'। অথচ 'দাঁড়ানো' হলো একটি সাধারণ বিষয় যা এর সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। (সপ্তম) কোনো বস্তুকে তার আংশিক অঙ্গের নামে নামকরণ করা, যেমন আপনি যাকে অপছন্দ করেন তাকে বলা: (আল্লাহ তোমার মুখমণ্ডলকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দিন)। এখানে আপনার উদ্দেশ্য হলো তার পুরো শরীর। (অষ্টম) কোনো বস্তুকে তার কারণ বা দাবির নামে নামকরণ করা, যেমন বিশ্বাস বা আকিদাকে 'কথা' বলা। যেমন আপনি বলেন: (এ ব্যক্তি শাফেয়ীর কথা অনুযায়ী কথা বলে), অর্থাৎ সে তার আকিদা পোষণ করে। (নবম) কোনো বস্তুকে তার উৎসের নামে নামকরণ করা, যেমন মানুষকে (মাংসপিণ্ড) বলা। (দশম) কোনো বস্তুকে তার শাখার নামে নামকরণ করা যেমন কবির উক্তি:
জীবন তো কেবল নিদ্রা আর রৌদ্রপোহানো
… আর খেজুর গাছের শীর্ষে শুষ্ক খেজুর ও পানি।
এখানে তিনি কাঁচা খেজুরকে (শুকনো খেজুর) নামে অভিহিত করেছেন। (একাদশ): কোনো বস্তুকে তার বিপরীত নামে নামকরণ করা, যেমন কালো এবং সাদা উভয় রঙের জন্য (জাওন) শব্দ ব্যবহার করা। (দ্বাদশ) কোনো বস্তুকে তার স্থানের নামে নামকরণ করা, যেমন বৃষ্টিকে (আকাশ) বলা, কারণ এটি আকাশ থেকে পতিত হয়। (ত্রয়োদশ) কোনো বস্তুকে তার ক্রিয়ার নামে নামকরণ করা, যেমন মদকে নেশাদ্রব্য বলা। (চতুর্দশ) কোনো বস্তুকে তার বিধানের নামে নামকরণ করা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (এবং কোনো মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর জন্য হেবা করে, যদি নবী চান...) আয়াতাংশ।