(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الطحاوية - ناصر العقل   (ناصر العقل)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح الطحاوية

المؤلف: ناصر بن عبد الكريم العلي العقل

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 110 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

শারহুল আকিদাহ আত-তহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল   (নাসের আল-আকল)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: শারহুত তহাবিয়্যাহ

লেখক: নাসের বিন আব্দুল কারীম আল-আলী আল-আকল

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলামওয়েব ওয়েবসাইট দ্বারা অনুলিখন করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠ নম্বর - ১১০টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح العقيدة الطحاوية [1]

عند تناول قضايا العقيدة لابد من مراعاة عدد من القواعد والأسس التي تعد منطلقاً في تقرير ذلك، ومن جملة تلك القواعد إدراك تأثير الأسباب في المسببات بإذن الله تعالى، وكون التحسين والتقبيح في الأفعال عقليين والثواب والعقاب شرعيين، والاعتداد بخبر الواحد المتلقى بالقبول، واعتبار موافقة صحيح النقل لصريح العقل، وغيرها من القواعد المهمة التي لا يستقيم إغفالها حال التعرض لتقرير قضايا الاعتقاد.
শারহুল আকিদা আত-তাহাবিয়া [১]

আকিদাগত বিষয়সমূহ আলোচনার সময় এমন কিছু নিয়ম ও মূলনীতির প্রতি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক যা আকিদা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয়। এই নিয়মাবলীর অন্তর্ভুক্ত হলো—আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে ফলাফলের ওপর কারণসমূহের প্রভাব অনুধাবন করা, কার্যাবলীর ভালো ও মন্দ দিক বুদ্ধিভিত্তিক হওয়া এবং সওয়াব ও আজাব শরয়ি বিধান দ্বারা নির্ধারিত হওয়া, গ্রহণযোগ্যতা প্রাপ্ত খবর-ই-ওয়াহিদকে (একক বর্ণনা) প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা এবং সহিহ বর্ণনার সাথে সুস্পষ্ট যুক্তির সামঞ্জস্য বিবেচনা করা। এছাড়াও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে যা আকিদার বিষয়সমূহ উপস্থাপনের সময় উপেক্ষা করা সমীচীন নয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌قواعد وأسس في تناول مسائل العقيدة
আকিদার মাসআলাসমূহ আলোচনার নিয়ম ও মূলভিত্তি
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌اعتقاد تأثير الأسباب في مسبباتها بإذن الله

بسم الله الرحمن الرحيم.

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد: فيقول محقق شرح العقيدة الطحاوية في مقدمته: [تأثير الأسباب الطبيعية في مسبباتها بإذن الله]: هذا النوع من الكلام يلحق بالكلام في القدر، فهو تبع للكلام في القدر، وكأن المقدم هنا اختار هذه المسألة لأنها من أبرز المسائل أو من أهمها عنده، وإلا فهناك بعض مسائل القدر المهمة، وإن كان سيذكر الحسن والقبح في الأفعال، وهو أيضاً موضوع اختياره جيد، لكن مسألة الأسباب ليست أهم قضايا القدر التي خالفت فيها الفرق، لكنها تصلح كنموذج، وقد ضرب مثلاً بعد العنوان، فقال: [إن الله يخلق السحاب بالرياح]، وكان الأولى أن يقول: مثل أن يقال: إن الله يخلق السحاب بالرياح، فهذا مثل للأسباب، وليس هو أهم الأسباب أو أبرز الأسباب.

قال: [إن الله يخلق السحاب بالرياح، وينزل الماء بالسحاب، وينبت النبات بالماء، ونحو ذلك، والقول بأن الله يفعل عند الأسباب لا بها يفضي إلى إبطال حكمة الله في خلقه].

هذه المقولة لبعض أهل البدع، وهي أن الله يفعل عند الأسباب، وهي مقولة المتكلمين من الجهمية والمعتزلة، ثم صارت مقولة بعد ذلك لها قواعد، وهي مقولة خاطئة، بل هي من مقولات العقلانيين الذين يقولون: إن فعل الله وإرادته تصاحب الفعل ولا تسبقه، وهذه المسألة ملحقة بمقولة سابقة سبق أن ذكرتها حينما تكلمت عن أول بدع القول في القدر، ومنشأ هذه البدعة: هو القول بإنكار القدر السابق والعلم السابق لله سبحانه وتعالى، الذي قال به غيلان ثم الجعد بن درهم، ونسب إلى معبد الجهني، وهو القول بأنه لا قدر، ومعنى: (لا قدر) أن الله لم يقدر الأمور قبل حدوثها، وإنما يقدرها عندما تحدث، وأن الله لا يعلم الأمور قبل حدوثها، وإنما يعلمها عندما تحدث، وهذا مبني على فلسفة عقلية موروثة عن الفلسفة اليونانية، فليست فلسفة حدثت في الإسلام، إنما هي موروثة عن طوائف متفلسفة من أهل الكتاب، وأهل الكتاب منهم طوائف وفرق كانت على الفلسفة اليونانية الخالصة، ومن هنا وسوسوا لبعض المسلمين بهذه المقولات، فنشأت عنها هذه المسائل.

إذاً: فالقول بأن الله يفعل عند الأسباب يعني أنهم يقولون: إن فعل الله يصاحب الفعل ولا يسبقه، بمعنى: أن علمه تعالى بالشيء لا يسبقه، وأن إرادة الله -أيضاً- تصاحب الفعل ولا تسبقه، وهذا يعني إلغاء حكمة الله سبحانه وتعالى وعلمه السابق وتدبيره الذي هو عن علم وحكمة.

قال: [وأنه لم يجعل في العين قوة تمتاز بها عن الخد تبصر بها، ولا في النار قوة تمتاز بها عن التراب تحرق بها، فضلاً عما في هذا القول من مخالفة للكتاب والسنة؛ فإن الله تعالى يقول: {فَأَنزَلْنَا بِهِ الْمَاءَ فَأَخْرَجْنَا بِهِ مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ} [الأعراف:57]، ويقول: {وَمَا أَنزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ مَاءٍ فَأَحْيَا بِهِ الأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا} [البقرة:164]، ويقول: {قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ} [التوبة:14]، ويقول: {وَنَحْنُ نَتَرَبَّصُ بِكُمْ أَنْ يُصِيبَكُمُ اللَّهُ بِعَذَابٍ مِنْ عِنْدِهِ أَوْ بِأَيْدِينَا} [التوبة:52]، ويقول: {وَنَزَّلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً مُبَارَكًا فَأَنْبَتْنَا بِهِ جَنَّاتٍ وَحَبَّ الْحَصِيدِ} [ق:9]، ويقول: {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ * يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلامِ} [المائدة:15 - 16] ومثل هذا في القرآن كثير.

وكذلك في الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم، كقوله: (لا يموتن أحد منكم إلا آذنتموني حتى أصلي عليه، فإن الله فإن الله جاعل بصلاتي عليه بركة ورحمة).

وقال صلى الله عليه وسلم: (إن هذه القبور مملوءة على أهلها ظلمة، وإن الله جاعل بصلاتي عليهم نوراً)].

يعني هنا أن صلاة النبي صلى الله عليه وسلم تكون سبباً في رحمة الله لمن يصلي عليه.

قال: [فالله سبحانه خلق الأسباب والمسببات، وجعل هذا سبباً لهذا، فإذا قال القائل: إن كان مقدوراً حصل بدون السبب، وإلا لم يحصل] وجه الشبهة: أنه قد يسأل أمثال هؤلاء المتكلمين من الجهمية والمعتزلة ومن سار على نهجهم فيقول: لماذا جعل الله سبحانه وتعالى للأسباب تأثيراً، مع أن له قدرة مطلقة؟! قد ترد هذه الشبهة، فيقول قائل: لماذا جعل الله الأسباب هي المؤثرة، مع أن الله قادر على أن يستغني عنها؛ فإنه يقول للشيء: (كن) فيكون؟ وقد أجاب المحقق عن ذلك.

قال: [فإذا قال القائل: إن كان مقدوراً حصل بدون السبب وإلا لم يحصل؟ جوابه أنه مقدور بالسبب وليس مقدوراً بدون السبب].

يعني: أن الله قدر أن تكون الأسباب هي الوسيلة لهذه الأمور، فهذه أمور داخلة في قدرة الله، ولا تعني أن الله سبحانه وتعالى جعل هذه الأسباب هي م
‌‌আল্লাহর অনুমতিক্রমে কারণসমূহের (আসবাব) কার্যকারিতার ওপর বিশ্বাস

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর: 'শরহুল আকিদাহ আত-তহাবিইয়াহ'-এর গবেষক (মুহাক্কিক) তাঁর ভূমিকায় বলেন: [আল্লাহর অনুমতিক্রমে প্রাকৃতিক কারণসমূহের তাদের ফলাফলের ওপর প্রভাব]: এই জাতীয় আলোচনা তাকদির সংক্রান্ত আলোচনার অন্তর্ভুক্ত, এটি তাকদিরের আলোচনারই একটি অনুসঙ্গ। মনে হচ্ছে এখানে ভূমিকা লেখক এই মাসআলাটি নির্বাচন করেছেন কারণ এটি তাঁর নিকট সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। অন্যথায় তাকদিরের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা রয়েছে। যদিও তিনি কর্মের ভালো ও মন্দের (হুসন ও কুবহ) বিষয়টি উল্লেখ করবেন, যা নির্বাচন করাও একটি ভালো বিষয় ছিল। তবে কারণসমূহের (আসবাব) মাসআলাটি তাকদিরের সেই সব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত নয় যাতে বিভিন্ন দলগুলো মতবিরোধ করেছে, তবে এটি একটি নমুনা হিসেবে উপযুক্ত। তিনি শিরোনামের পর একটি উদাহরণ পেশ করেছেন, তিনি বলেছেন: [নিশ্চয়ই আল্লাহ বাতাসের মাধ্যমে মেঘ সৃষ্টি করেন]। তবে উত্তম হতো যদি তিনি বলতেন: যেমন বলা হয় যে, আল্লাহ বাতাসের মাধ্যমে মেঘ সৃষ্টি করেন। এটি কারণসমূহের (আসবাব) একটি উদাহরণ মাত্র, এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা সবচেয়ে প্রধান কারণ নয়।

তিনি বলেন: [নিশ্চয়ই আল্লাহ বাতাসের মাধ্যমে মেঘ সৃষ্টি করেন, মেঘের মাধ্যমে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, পানির মাধ্যমে উদ্ভিদ জন্মান এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। আর এই কথা বলা যে, আল্লাহ কারণসমূহের 'নিকট' কাজ করেন, কারণসমূহের 'দ্বারা' নয়—এটি সৃষ্টির ক্ষেত্রে আল্লাহর হিকমতকে বাতিল করার দিকে পরিচালিত করে।]

এটি কিছু বিদআতি গোষ্ঠীর বক্তব্য, আর তা হলো—আল্লাহ কারণসমূহের 'নিকট' (পাশে) কাজ করেন। এটি জাহমিয়া ও মুতাজিলা মতাবলম্বী ইলমুল কালামবিদদের কথা। পরবর্তীতে এটি এমন একটি কথায় পরিণত হয়েছে যার নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি হয়েছে। এটি একটি ভুল বক্তব্য, বরং এটি সেই সব যুক্তিবাদীদের বক্তব্য যারা বলে: আল্লাহর কাজ এবং তাঁর ইচ্ছা কাজের সাথে সাথে ঘটে, কাজের আগে নয়। এই মাসআলাটি পূর্ববর্তী একটি বক্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট যা আমি আগে উল্লেখ করেছি যখন আমি তাকদির সম্পর্কে প্রথম বিদআতি বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করেছি। এই বিদআতের উৎস হলো: মহান আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত তাকদির এবং আল্লাহর পূর্ববর্তী জ্ঞানকে অস্বীকার করা, যা গায়লান এবং এরপর জা’দ ইবনে দিরহাম বলেছিল এবং যা মাবাদ আল-জুহানির দিকে নিসবত করা হয়। আর তা হলো এই কথা বলা যে, 'কোনো তাকদির নেই'। (কোনো তাকদির নেই)-এর অর্থ হলো—আল্লাহ বিষয়গুলো ঘটার আগে তা নির্ধারণ করেননি, বরং যখন তা ঘটে তখন তিনি তা নির্ধারণ করেন; এবং আল্লাহ বিষয়গুলো ঘটার আগে তা জানেন না, বরং যখন তা ঘটে তখন তিনি তা জানেন। এটি গ্রিক দর্শন থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত একটি যৌক্তিক দর্শনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সুতরাং এটি এমন কোনো দর্শন নয় যা ইসলামের ভেতরে উদ্ভূত হয়েছে, বরং এটি আহলে কিতাবদের দর্শন চর্চাকারী দলগুলোর থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত। আর আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন কিছু দল ও উপদল ছিল যারা বিশুদ্ধ গ্রিক দর্শনের ওপর ছিল। এখান থেকেই তারা কিছু মুসলিমের মনে এই সব বক্তব্যের কুমন্ত্রণা দিয়েছে এবং তা থেকে এই মাসআলাগুলোর উৎপত্তি হয়েছে।

সুতরাং, আল্লাহ কারণসমূহের 'নিকট' কাজ করেন—একথার মানে হলো তারা বলতে চায়: আল্লাহর কাজ কাজের সাথে সাথে ঘটে এবং কাজের আগে নয়; অর্থাৎ কোনো বস্তু সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান আগে থেকে থাকে না এবং আল্লাহর ইচ্ছাও কাজের সাথে সাথে হয়, আগে নয়। আর এর অর্থ হলো মহান আল্লাহর হিকমত, তাঁর পূর্ববর্তী জ্ঞান এবং তাঁর সেই পরিচালনাকে অস্বীকার করা যা জ্ঞান ও হিকমতের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

তিনি বলেন: [এবং (তাদের মতে) আল্লাহ চোখের মধ্যে এমন কোনো শক্তি রাখেননি যার কারণে এটি গালের চেয়ে আলাদা হয়ে দেখতে পায়, কিংবা আগুনের মধ্যে এমন কোনো শক্তি দেননি যার কারণে এটি মাটির চেয়ে আলাদা হয়ে পোড়াতে পারে। এই কথাটি কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী হওয়ার পাশাপাশি আরও অনেক ত্রুটিযুক্ত। কারণ মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর আমি তার মাধ্যমে পানি বর্ষণ করলাম এবং তার মাধ্যমে সব রকমের ফল বের করলাম} [আ’রাফ: ৫৭]। তিনি আরও বলেন: {এবং আল্লাহ আকাশ থেকে যে পানি বর্ষণ করেছেন, যা দ্বারা তিনি ভূমিকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেছেন} [বাকারা: ১৬৪]। তিনি আরও বলেন: {তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো, আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদের শাস্তি দেবেন} [তাওবাহ: ১৪]। তিনি আরও বলেন: {আর আমরা তোমাদের সম্পর্কে প্রতীক্ষা করছি যে, আল্লাহ তোমাদের নিকট তাঁর নিজের পক্ষ থেকে কোনো শাস্তি পাঠাবেন অথবা আমাদের হাতে (শাস্তি দেবেন)} [তাওবাহ: ৫২]। তিনি আরও বলেন: {আর আমি আকাশ থেকে বরকতময় পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর তার দ্বারা আমি বাগানসমূহ ও শস্যদানা উৎপন্ন করেছি} [ক্বাফ: ৯]। তিনি আরও বলেন: {তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আলো ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। যার মাধ্যমে আল্লাহ সেই ব্যক্তিদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে} [মায়েদাহ: ১৫ - ১৬]। কুরআনে এ জাতীয় আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে।

ঠিক একইভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রেও, যেমন তাঁর বাণী: (তোমাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে আমাকে সংবাদ না দিয়ে যেন দাফন না করা হয় যাতে আমি তার জানাজা পড়তে পারি, কেননা আল্লাহ আমার জানাজা পড়ার কারণে তার জন্য বরকত ও রহমত দান করবেন)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: (নিশ্চয়ই এই কবরগুলো এর বাসিন্দাদের জন্য অন্ধকারে পরিপূর্ণ, আর আল্লাহ তাদের ওপর আমার জানাজা পড়ার মাধ্যমে একে আলোকিত করবেন)]।

এর অর্থ হলো এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানাজা পড়া আল্লাহর রহমত লাভের একটি কারণ (সবব) হিসেবে গণ্য হবে যার জন্য তিনি জানাজা পড়বেন।

তিনি বলেন: [সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কারণসমূহ এবং ফলাফলসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং একটিকে অন্যটির কারণ বানিয়েছেন। এখন যদি কেউ প্রশ্ন করে: যদি এটি তাকদিরে থাকে তবে কারণ ছাড়াই ঘটবে, অন্যথায় ঘটবে না?] এই সংশয়ের দিকটি হলো: জাহমিয়া ও মুতাজিলা এবং তাদের পথে যারা চলেছেন তাদের মতো ইলমুল কালামবিদরা প্রশ্ন করতে পারেন যে: আল্লাহ কেন কারণসমূহের প্রভাব সৃষ্টি করলেন, অথচ তাঁর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রয়েছে? এই সংশয়টি আসতে পারে যে, কেউ বলতে পারে: আল্লাহ কেন কারণসমূহকে প্রভাব বিস্তারকারী বানালেন, অথচ আল্লাহ সেগুলোর মুখাপেক্ষী না হয়েও সবকিছু করতে সক্ষম? কেননা তিনি কোনো কিছুকে বলেন: 'হও', অমনি তা হয়ে যায়। মুহাক্কিক এর উত্তর দিয়েছেন।

তিনি বলেন: [যদি প্রশ্নকারী বলে: যদি তা নির্ধারিত হয়ে থাকে তবে কারণ ছাড়াই ঘটবে, অন্যথায় ঘটবে না? এর উত্তর হলো—তা কারণের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়েছে এবং কারণ ছাড়া নির্ধারিত হয়নি]।

অর্থাৎ: আল্লাহ ফয়সালা করেছেন যে, এই বিষয়গুলোর জন্য কারণগুলোই হবে মাধ্যম, সুতরাং এই বিষয়গুলো আল্লাহর কুদরতের অন্তর্ভুক্ত। এর অর্থ এই নয় যে আল্লাহ এই কারণগুলোকে এমনভাবে স্বাধীন করেছেন যে ওগুলোই সব করে ফেলে, বরং আল্লাহ এগুলোকে মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌الحسن والقبح والثواب والعقاب

قال: [الثالث عشر: الحسن والقبح في الأفعال عقليان، والثواب والعقاب شرعيان: وقد ذهبوا في هذه المسألة مذهباً وسطاً، وهو أن الأفعال في نفسها حسنة وقبيحة، كما أنها نافعة وضارة، وأن العقل يدرك الحسن والقبح في الأشياء، والله قد فطر عباده على استحسان الصدق والعدل والعفة والإحسان ومقابلة المنعم بالشكر، وفطرهم على استقباح أضدادها، لكن الثواب والعقاب شرعيان يتوقفان على أمر الشارع ونهيه، ولا يجبان عن طريق العقل].

مقصوده بذلك: أن الفلاسفة والمتكلمين من المعتزلة والجهمية ومن جاء بعدهم ممن اقتدى بهم يقولون: إن مسلك الحسن، يعني: حسن الأشياء أو استحسانها لدى البشر واستقباحها لدى البشر أمور تدرك بالعقل جملة وتفصيلاً، حتى لو لم يأت الشرع بذلك، وأهل السنة والجماعة لم ينكروا هذه القاعدة، لكنهم قالوا بأنه ليس الأصل في الأمور هو التحسين والتقبيح العقلي؛ لأن العقل لا يدرك كل شيء فيما يحسن وما يقبح، قد يدرك بعض الأشياء وتخفى عليه أشياء كثيرة، لاسيما أن كثيراً من الأمور معلقة بالغيب، إما الغيب الماضي وإما الغيب المستقبل، فلو استقبح العقل شيئاً فلربما كان في علم الله في الغيب أن يكون هذا الشيء المستقبح في العقل حسنا فيما يأتي، والعكس كذلك، فربما استحسن شيئاً وهو في علم الله فيما سيقع قبيح، هذا أمر.

والأمر الآخر: أن التحسين والتقبيح العقليين مجملان ولا يدركان التفصيل، أي: تفصيل الشرائع وتفصيل ما يستحسن، فالواجب شرعاً والمستحب شرعاً أمور تفصيلية لا يدركها العقل مستقلاً، حتى وإن استحسنها كلها فإن استحسانه لها تبع للشرع؛ لأن الشرع لا يأتي إلا بما يوافق الفطرة، وكذلك العكس، فلو افترضنا أن الله لم ينزل الشرائع؛ فهل تدرك العقول لو اجتمعت كلها بجميع قواها تفصيلات ما يصلح للناس وما لا يصلح لهم في كل جزئيات السلوك وأمور الغيب والشهادة؟! لا يمكن.

إذاً: فالشرع لابد منه، والعقل يستحسن المستحسنات في الجملة، لكن لا على وجه التفصيل، ويستقبح المستقبحات في الجملة، لكن لا على وجه التفصيل؛ لأن العقل آلة تعتريها المؤثرات من الهوى والشبهات والشهوات، وأهم ذلك كله الفناء، فالعقل يفنى، والشرع لا يفنى، إلا إذا انقضت الدنيا وانتهى وقت الاختبار والابتلاء وبقيت الأمور للحساب، فإن الناس يحاسبون على هذه الأمور بمقتضى الشرع لا بمقتضى العقل.

فالمقصود أن أهل السنة والجماعة يوافقون على أن للعقل تحسيناً وتقبيحاً، لكن لا على وجه التفصيل، ولا يستغني البشر عن الشرع بالعقل، وليس كل ما يستحسنه العقل حسناً، وليس كل ما يستقبحه العقل قبيحاً؛ لأن العقل آلة تعتريها الأمور التي ذكرتها من الهوى والسهو والنسيان والخطأ والضعف والمحدودية وغير ذلك.
সৌন্দর্য ও কদর্যতা এবং প্রতিদান ও শাস্তি

তিনি বলেন: [ত্রয়োদশ: কর্মের ভালো ও মন্দ হওয়া বুদ্ধিপ্রসূত, আর প্রতিদান ও শাস্তি শরয়ি: তাঁরা এই বিষয়ে একটি মধ্যপন্থী মত গ্রহণ করেছেন, আর তা হলো—কাজসমূহ আপন সত্তাগতভাবেই ভালো বা মন্দ, যেমন সেগুলো উপকারী বা ক্ষতিকারক। বুদ্ধি বস্তুর মধ্যে ভালো ও মন্দ বুঝতে পারে। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার, পবিত্রতা ও ইহসান এবং নিয়ামতদাতার শুকরিয়া আদায় করার প্রশংসাবোধের ওপর সৃষ্টি করেছেন এবং এগুলোর বিপরীত বিষয়গুলোকে অপছন্দ করার স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু প্রতিদান ও শাস্তি শরয়ি বিষয়, যা বিধানদাতার আদেশ ও নিষেধের ওপর নির্ভরশীল এবং বুদ্ধির মাধ্যমে তা সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক নয়]।

এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো: মুতাজিলা ও জাহমিয়া সম্প্রদায়ের দার্শনিক ও কালাম শাস্ত্রবিদগণ এবং যারা পরবর্তীতে তাদের অনুসরণ করেছে তারা বলে যে: সুন্দরের পথ, অর্থাৎ মানুষের কাছে কোনো বিষয়ের ভালো লাগা বা মন্দ লাগা এমন বিষয় যা বুদ্ধির মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে এবং বিস্তারিতভাবে অনুধাবন করা যায়, এমনকি যদি শরয়ি বিধান নাও আসত তবুও। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এই মূলনীতিটি অস্বীকার করেননি, তবে তাঁরা বলেছেন যে, বিষয়ের মূল ভিত্তি কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক ভালো-মন্দের ওপর নয়; কারণ বুদ্ধি কোনো বিষয়ের ভালো-মন্দের সবকিছু অনুধাবন করতে পারে না। সে হয়তো কিছু বিষয় বুঝতে পারে কিন্তু অনেক বিষয় তার কাছে অস্পষ্ট থেকে যায়। বিশেষ করে অনেক বিষয় অদৃশ্যের সাথে সম্পৃক্ত, তা চাই অতীত অদৃশ্য হোক বা ভবিষ্যৎ অদৃশ্য। সুতরাং বুদ্ধি যদি কোনো বিষয়কে মন্দ মনে করে, তবে হয়তো আল্লাহর জ্ঞানে অদৃশ্যে এই বিষয়টি যা বুদ্ধিতে মন্দ মনে হচ্ছে তা ভবিষ্যতে ভালো হতে পারে, আবার এর উল্টোটাও হতে পারে। হয়তো সে কোনো বিষয়কে ভালো মনে করল অথচ আল্লাহর জ্ঞানে যা সংঘটিত হবে তাতে তা মন্দ—এটি একটি বিষয়।

আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: বুদ্ধিবৃত্তিক ভালো ও মন্দ লাগা হলো সামগ্রিক, যা বিস্তারিত বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারে না। অর্থাৎ, শরয়ি বিধানের বিস্তারিত বিবরণ এবং যা ভালো মনে করা হয় তার বিস্তারিত রূপ। সুতরাং শরয়ি ওয়াজিব ও মুস্তাহাবসমূহ হলো বিস্তারিত বিষয় যা বুদ্ধি স্বতন্ত্রভাবে অনুধাবন করতে পারে না। এমনকি যদি সে তার সবটুকুকে ভালোও মনে করে, তবে তার সেই ভালো মনে করাটা শরয়ি বিধানের অনুগামী হওয়া উচিত; কারণ শরয়ি বিধান কেবল তা-ই নিয়ে আসে যা স্বভাবজাত প্রকৃতির অনুকূল। অনুরূপভাবে এর উল্টোটাও। সুতরাং আমরা যদি ধরে নিই যে আল্লাহ যদি কোনো শরয়ি বিধান নাজিল না করতেন, তবে সমস্ত মানুষের বুদ্ধি তাদের সকল শক্তি দিয়ে একত্রিত হয়েও কি মানুষের জন্য কোনটি কল্যাণকর আর কোনটি অকল্যাণকর তার বিস্তারিত বিবরণ—আচরণ ও অদৃশ্য এবং দৃশ্যমান জগতের সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়ে—কি অনুধাবন করতে পারত?! তা সম্ভব নয়।

অতএব: শরয়ি বিধান অপরিহার্য। বুদ্ধি সামগ্রিকভাবে ভালো বিষয়গুলোকে ভালো মনে করে, কিন্তু বিস্তারিতভাবে নয়। আর সামগ্রিকভাবে মন্দ বিষয়গুলোকে মন্দ মনে করে, কিন্তু বিস্তারিতভাবে নয়। কারণ বুদ্ধি হলো এমন একটি যন্ত্র যাতে প্রবৃত্তি, সংশয় ও লালসার প্রভাব পড়ে। আর এই সবকিছুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিনাশ; বুদ্ধি বিনাশশীল কিন্তু শরয়ি বিধান অবিনাশী। তবে যখন দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে এবং পরীক্ষা ও পরীক্ষার সময় শেষ হবে এবং বিষয়গুলো হিসাবের জন্য অবশিষ্ট থাকবে, তখন মানুষকে শরয়ি বিধানের ভিত্তিতেই হিসাব করা হবে, বুদ্ধির ভিত্তিতে নয়।

মূল কথা হলো, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত একমত যে বুদ্ধির ভালো-মন্দ বিচারের ক্ষমতা আছে, কিন্তু তা বিস্তারিতভাবে নয়। আর মানুষ বুদ্ধি দিয়ে শরয়ি বিধান থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না। বুদ্ধি যা ভালো মনে করে তার সবকিছুই ভালো নয়, আর যা মন্দ মনে করে তার সবকিছুই মন্দ নয়; কারণ বুদ্ধি হলো এমন একটি যন্ত্র যাতে আমি যা উল্লেখ করেছি সেই প্রবৃত্তি, ভুল, বিস্মৃতি, ত্রুটি, দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি বিষয়সমূহ আপতিত হয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌ثبوت فروع العقيدة بخبر الواحد المتلقى بالقبول

قال: [الرابع عشر: إثبات فروع العقيدة بخبر الواحد المتلقى بالقبول عملاً وتصديقاً: فقد احتجوا بخبر الواحد المتلقى بالقبول في مسائل الصفات والقدر، وعذاب القبر ونعيمه، وسؤال الملكين، وأشراط الساعة، والشفاعة لأهل الكبائر، والميزان، والصراط، والحوض، وكثير من المعجزات، وما جاء في صفة القيامة والحشر والنشر، والجزم بعدم خلود أهل الكبائر في النار].
গ্রহণযোগ্যতা প্রাপ্ত একক সংবাদের মাধ্যমে আকিদার শাখা-প্রশাখা সাব্যস্ত হওয়া

তিনি বলেন: [চতুর্দশ: আমল ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা প্রাপ্ত একক সংবাদের মাধ্যমে আকিদার শাখা-প্রশাখা সাব্যস্ত করা: নিশ্চয়ই তাঁরা আল্লাহর গুণাবলি ও তাকদিরের মাসআলাসমূহ, কবরের আজাব ও তার সুখ-শান্তি, দুই ফেরেশতার জিজ্ঞাসাবাদ, কিয়ামতের আলামতসমূহ, কাবিরা গুনাহগারদের জন্য শাফায়াত, মিজান, সিরাত, হাউজ এবং অনেক মুজেজা, এছাড়া কিয়ামত, হাশর ও পুনরুত্থানের বিবরণ এবং কাবিরা গুনাহগাররা জাহান্নামে চিরস্থায়ী না হওয়ার বিষয়ে সুনিশ্চিত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা প্রাপ্ত একক সংবাদ দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।]
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌توافق صحيح المنقول مع صريح المعقول

قال: [الخامس عشر: موافقة صحيح المنقول لصريح المعقول: فكل ما ثبت من مسائل العقيدة في الكتاب والسنة والوحي والنبوة يصدقها العقل الكامل الصحيح الذي يستخدم بدقة وإمعان؛ لأن العقل الصريح في دلالته على المراد لا يمكن أن يخالف المنقول الصحيح الثابت؛ لأن العقل والنقل وسيلتان لغاية واحدة: هي الوصول إلى الله، والوسائل التي تؤدي إلى غاية واحدة لا يمكن لها أن تتعارض].

أظن أن هذه المسألة واضحة، ولكن أحب أن أبين أمراً فيها قد لا يكون المتكلم عرج عليه هنا، وهو مسألة: المقصود بصحيح المنقول، والمقصود بصريح المعقول.

فأما صحيح المنقول فأظنه واضحاً، وهو النص الصحيح الذي هو في كتاب الله تعالى، وما صح من السنة، سواء ما يتعلق بالعقيدة وبالأحكام، وسواء ما يتعلق بأمور الغيب والشهادة، وسواء ما يتعلق بالتكييفات وما يتعلق بعلل وحكم الشرع، كل ذلك إن ورد فيه قاطع في الشرع فلابد حتماً من أن يوافق العقل السليم، لكن تبقى المشكلة في تحديد معنى العقل السليم الذي يحكم في هذا الأمر، وهذه مسألة نسبية، فلا يستطيع أحد من البشر على الإطلاق أن يحدد لنا أن فلاناً من الناس عقله سليم مطلقاً، فالعقل سلامته نسبية، كسلوك الأفراد وصلاحهم، فلا توجد عصمة العقل إلا للأنبياء، وغير الأنبياء عقولهم تتفاوت وإدراكاتهم تتفاوت، ومهما بلغت العقول فإن سلامتها سلامة نسبية.

إذاً: فسلامة العقل أمر مفترض في جملة العقول الصحيحة وليس في أفرادها، وهذا دفع لشبهة ظهرت في المتكلمين، وهي أن يدعي إنسان من المفكرين العباقرة بأنه يستطيع أن يضع موازين للدين يزن بها الشرع، كما فعل الرازي، فقد ذكر في كتابه: (تأسيس التأسيس) موازين عقلية، وجعلها هي الموازين التي توزن بها أمور الدين، وفي جملة ذلك نصوص الشرع، حتى إنه رد خبر الواحد ورد الأحاديث الصحيحة، وأول صفات الله وأول أخبار السمعيات؛ لأنه حينما حكم قواعده العقلية فيها تنافت معها بزعمه.

إذاً: فالعقل السليم لا يملكه شخص، بل هو عند جملة أهل الحق بمجموعهم، وضابط العقل السليم ضابط واضح، وهو أنه إن وافق الشرع فهو سليم، وإن خالف الشرع فإن فيه قصوراً أو خللاً، فإذا كان صاحبه صاحب بدعة وهوى ففيه خلل، وإذا كان العقل لا يوافق عقول أصحاب الهدى والاستقامة فإن فيه قصوراً عن إدراك مراد الشرع، فمن هنا اعتبر العقل مؤيداً لا مصدراً، فهو يعتبر رافداً ولا يعتبر أساساً.

قال: [يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: المنقول الصحيح لا يعارضه معقول صريح قط، وقد تأملت ما تنازع فيه الناس، فوجدت ما خالف النصوص الصريحة شبهات فاسدة يعلم بالعقل بطلانها، بل يعلم بالعقل ثبوت نقيضها الموافق للشرع، وهذا تأملته في مسائل الأصول الكبار، كمسائل التوحيد والصفات، ومسائل القدر، والنبوات، والمعاد وغير ذلك، ووجدت ما يعلم بصريح المعقول لم يخالفه السمع، الذي يقال: إنه يخالفه إما حديث موضوع أو دلالة ضعيفة، فلا يصلح أن يكون دليلاً لو تجرد عن معارضة العقل الصريح، فكيف إذا خالفه صريح المعقول؟! ونحن نعلم أن الرسل لا يخبرون بمحالات العقول، بل بمحارات العقول، فلا يخبرون بما يعلم العقل انتفاءه، بل يخبرون بما يعجز العقل عن معرفته].

هذا صحيح؛ فإن الذين حكموا عقولهم في أمور الغيب لو أردنا منهم أن يثبتوا أن العقل استطاع أن يأتي بشيء تفصيلي غير ما جاء به الشرع لما استطاعوا، فالعقل لا يستطيع أن يدرك أمور الغيب، مهما بلغ من القوة والذكاء والحدة، فالمتكلمون الذين حكموا العقول وقعوا في معضلات لا يستطيعون التخلص منها، أول هذه المعضلات أن عقولهم لا تتفق، فعقل من نصدق، إنهم لم يتفقوا على أمر قطعي على الإطلاق، أي: أمر قطعي يثبت في أمر الغيب أنه كما هو في الغيب؛ لأنا لم نطلع على الغيب، هذا أمر.

الأمر الآخر: أن ما نفوه ليس لديهم برهان على نفيه إلا في مدركات العقل العامة، مثل نفي النقائص عن الله سبحانه وتعالى، فهذا أمر قطعي على جهة الإجمال والتفصيل لا يحتاج إلى أن تعمل فيه العقول، لكن تبقى الدلالة على أن هذا اللفظ منفي معناه عن الله سبحانه وتعالى على مراد الله، كنفيهم الاستواء بالعقل، فهم نفوا ما في أذهانهم، ولم يستطيعوا نفي الاستواء الحقيقي؛ لأن الاستواء الحقيقي الذي يليق بجلال الله تعالى لا نعلمه، أليس كذلك؟! وهل يستطيع عاقل مهما أوتي من القوة والذكاء أن يبين لنا كيف يكون استواء الله؟! إذاً: الذي نفوه هو وهمٌ في أذهانهم، فهم لما سمعوا قول الرحمن سبحانه وتعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه:5] توهموا أن الاستواء كاستواء المخلوق على المخلوق، كاستواء الإنسان على الكرسي، فهل هذا الوهم حق؟! وهل هو قريب من الحق؟! وهل هو محتمل أن يكون حقاً؟! إذاً: هم نفوا ما في أذهانهم من الوهم؛ لأنهم حينما أثبتوا الأوهام التي في أذهانهم أثبتوها بغير دليل، وحينما نفوها نفوها بغير دليل، وأقحموا العقل المسكين في هذا، وهذه أعظم جناية على العقل، قالوا: إن العقل يحيل
স্পষ্ট যুক্তির সাথে সঠিক শ্রুত জ্ঞানের সংগতি

তিনি বলেছেন: [পঞ্চদশ: স্পষ্ট যুক্তির সাথে সঠিক শ্রুত জ্ঞানের সংগতি: সুতরাং আকীদার যে সকল বিষয় কুরআন, সুন্নাহ, ওহী এবং নবুওয়াতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, তা সেই পূর্ণ ও সঠিক বিবেক সত্যায়ন করে যা নির্ভুলভাবে ও গভীরভাবে ব্যবহৃত হয়; কারণ উদ্দিষ্ট অর্থের ওপর স্পষ্ট যুক্তি কখনো সঠিক ও সাব্যস্ত শ্রুত জ্ঞানের (নকল) পরিপন্থী হওয়া অসম্ভব; কেননা যুক্তি এবং শ্রুত জ্ঞান উভয়ই একটি লক্ষ্যের মাধ্যম: তা হলো আল্লাহর কাছে পৌঁছানো, আর যে মাধ্যমগুলো একই লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যায়, তাদের মধ্যে পরস্পর বিরোধিতা থাকা অসম্ভব।]

আমি মনে করি এই বিষয়টি স্পষ্ট, কিন্তু আমি এখানে এমন একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই যা বক্তা হয়তো এখানে উল্লেখ করেননি, আর তা হলো: সঠিক শ্রুত জ্ঞান (সহীহ মানকুল) এবং স্পষ্ট যৌক্তিক জ্ঞান (সারিহ মা’কুল) দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে।

সঠিক শ্রুত জ্ঞানের বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট বলেই মনে হয়, আর তা হলো সেই সঠিক নস (শরীয়তের পাঠ) যা আল্লাহর কিতাবে রয়েছে এবং সুন্নাহর যা কিছু সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে, চাই তা আকীদা বা বিধিবিধান সংক্রান্ত হোক, কিংবা গায়েব ও দৃশ্যমান জগত সংক্রান্ত হোক, অথবা আল্লাহর গুণাবলির ধরন (তাকয়ীফ) বা শরীয়তের কারণ ও হেকমত সংক্রান্ত হোক। এই সবকিছুর ব্যাপারে যদি শরীয়তে কোনো অকাট্য দলিল এসে থাকে, তবে তা অবশ্যই সুস্থ বিবেকের সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে। কিন্তু সমস্যাটি রয়ে যায় 'সুস্থ বিবেক' নির্ধারণের ক্ষেত্রে যা এই বিষয়ে ফয়সালা করবে। আর এটি একটি আপেক্ষিক বিষয়; কোনো মানুষই পরমভাবে এটি নির্ধারণ করতে পারে না যে অমুক ব্যক্তির বিবেক নিরঙ্কুশভাবে সুস্থ। বিবেকের সুস্থতা হলো আপেক্ষিক, যেমনটা ব্যক্তিদের আচরণ ও চারিত্রিক শুদ্ধতার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম ব্যতীত আর কারো বিবেকের জন্য 'মাসুম' বা ভুলত্রুটিমুক্ত হওয়ার গুণ নেই। নবিগণ ছাড়া অন্যদের বিবেক ও উপলব্ধির ক্ষমতায় তারতম্য ঘটে। বিবেক যত উন্নতই হোক না কেন, তার সুস্থতা আপেক্ষিক।

সুতরাং, বিবেকের সুস্থতা এমন একটি বিষয় যা সামগ্রিক সঠিক বিবেকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, নির্দিষ্ট কোনো একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে নয়। এটি মুতাকাল্লিমদের মাঝে উদ্ভূত একটি সংশয়কে খণ্ডন করে; আর তা হলো—কোনো প্রতিভাবান চিন্তাবিদ দাবি করেন যে তিনি দ্বীনের জন্য এমন কিছু মানদণ্ড তৈরি করতে পারেন যার মাধ্যমে শরীয়তকে ওজন করা যাবে, যেমনটা রাযী করেছেন। তিনি তাঁর ‘তাসিসুত তাসিস’ কিতাবে কিছু যৌক্তিক মানদণ্ড উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোকে দ্বীনি বিষয়াদি পরিমাপের মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যার মধ্যে শরীয়তের নসসমূহও অন্তর্ভুক্ত। এমনকি তিনি ‘খবরে ওয়াহিদ’ ও সহীহ হাদিসসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আল্লাহর গুণাবলি ও আখেরাত সংক্রান্ত সংবাদসমূহের অপব্যাখ্যা করেছেন; কারণ যখন তিনি তাঁর যৌক্তিক নিয়মগুলো সেগুলোর ওপর প্রয়োগ করেছেন, তখন তাঁর দাবি অনুযায়ী সেগুলো সাংঘর্ষিক মনে হয়েছে।

সুতরাং, সুস্থ বিবেক কোনো একক ব্যক্তির হাতে নেই, বরং তা হকপন্থীদের সামগ্রিক জামাতের কাছে বিদ্যমান। সুস্থ বিবেকের মানদণ্ড স্পষ্ট: যদি তা শরীয়তের অনুকূলে হয় তবে তা সুস্থ, আর যদি শরীয়তের প্রতিকূলে হয় তবে তাতে অসম্পূর্ণতা বা ত্রুটি রয়েছে। যদি বিবেকের অধিকারী ব্যক্তি বিদআত ও প্রবৃত্তির অনুসারী হয় তবে তাতে ত্রুটি রয়েছে। আর যদি সেই বিবেক হেদায়েত ও ইস্তেকামাতপ্রাপ্তদের বিবেকের সাথে সংগতিপূর্ণ না হয়, তবে শরীয়তের উদ্দেশ্য অনুধাবনে তাতে ঘাটতি রয়েছে। এখান থেকেই বিবেককে একটি সমর্থক হিসেবে গণ্য করা হয়, উৎস হিসেবে নয়; একে একটি সহায়িকা মনে করা হয়, ভিত্তি নয়।

তিনি বলেন: [শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: সঠিক শ্রুত জ্ঞান কখনোই স্পষ্ট যুক্তির বিরোধী হয় না। মানুষ যেসব বিষয়ে মতভেদ করেছে তা আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং দেখেছি যে, স্পষ্ট নস-এর বিরোধী বিষয়গুলো আসলে ভ্রান্ত সংশয় মাত্র, যার অসারতা যুক্তি দিয়েই বোঝা যায়। বরং যুক্তির মাধ্যমেই তার বিপরীতে শরীয়তসম্মত সত্যের প্রমাণ পাওয়া যায়। আমি এটি বড় বড় মৌলিক বিষয়গুলোতে পর্যবেক্ষণ করেছি, যেমন তাওহীদ, আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত), তাকদীর, নবুওয়াত এবং পরকাল সংক্রান্ত বিষয়াদিতে। আমি দেখেছি যে, স্পষ্ট যুক্তির মাধ্যমে যা জানা যায়, শ্রুত জ্ঞান তার বিরোধিতা করে না। যে বর্ণনার ক্ষেত্রে বলা হয় যে তা যুক্তির পরিপন্থী, সেটি হয়তো জাল হাদিস অথবা তার মর্মার্থ দুর্বল। ফলে স্পষ্ট যুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক হওয়া তো দূরের কথা, এটি দলিল হওয়ারই যোগ্য নয়। তাহলে স্পষ্ট যুক্তির পরিপন্থী হলে তার অবস্থা কী হবে?! আমরা জানি যে, রাসূলগণ এমন কিছু সংবাদ দেন না যা বিবেকের বিচারে অসম্ভব, বরং তারা এমন সংবাদ দেন যা শুনে বিবেক হয়রান বা বিস্মিত হয়ে যায়। তারা এমন কিছু বলেন না যার অস্তিত্বহীনতা যুক্তি দ্বারা প্রমাণিত, বরং তারা এমন কিছু সংবাদ দেন যা জানতে বিবেক অক্ষম।]

এটি সঠিক; কারণ যারা গায়েবি বিষয়ে নিজেদের বিবেককে বিচারক বানিয়েছে, আমরা যদি তাদের কাছে দাবি করি যে শরীয়ত যা এনেছে তার বাইরে বিবেক কি বিস্তারিত কোনো কিছু সাব্যস্ত করতে পেরেছে? তবে তারা তা পারবে না। বিবেক যত শক্তিশালী, মেধাবী ও তীক্ষ্ণই হোক না কেন, তা গায়েবি বিষয়সমূহ উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়। সুতরাং যে সকল মুতাকাল্লিম বিবেককে বিচারক বানিয়েছে, তারা এমন সব জটিলতায় নিপতিত হয়েছে যেখান থেকে তারা নিষ্কৃতি পাচ্ছে না। এই জটিলতার প্রথমটি হলো—তাদের বিবেকগুলো একমত নয়। তাহলে আমরা কার বিবেককে সত্য বলে মানবো? তারা কোনো অকাট্য বিষয়ে মোটেও একমত হতে পারেনি; অর্থাৎ গায়েবি বিষয়ে কোনো অকাট্য সত্য যেভাবে আছে সেভাবেই সাব্যস্ত করতে পারেনি, কারণ আমরা তো গায়েব প্রত্যক্ষ করিনি। এটি একটি বিষয়।

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: তারা যা অস্বীকার করেছে, তা অস্বীকার করার পেছনে তাদের কাছে সাধারণ যৌক্তিক উপলব্ধি ছাড়া অন্য কোনো প্রমাণ নেই, যেমন আল্লাহর পবিত্র সত্তা থেকে দোষত্রুটি অস্বীকার করা। এটি সামগ্রিকভাবে একটি অকাট্য বিষয় এবং বিস্তারিতভাবেও এতে বিবেক খাটানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় যে, এই শব্দটির অর্থ আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুযায়ী তাঁর থেকে অস্বীকার করা হয়েছে কি না—যেমন তারা যুক্তি দেখিয়ে আরশে উঠাকে অস্বীকার করেছে। তারা আসলে তাদের নিজেদের মস্তিষ্কের কল্পনাকে অস্বীকার করেছে, কিন্তু তারা প্রকৃত আরশে উঠাকে (ইস্তিওয়া) অস্বীকার করতে পারেনি; কারণ আল্লাহর মহিমার উপযুক্ত প্রকৃত আরশে উঠা সম্পর্কে তো আমরা জানিই না। তাই নয় কি? আর কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি—সে যত শক্তিশালী ও মেধাবীই হোক না কেন—কি আমাদের ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিতে পারবে যে আল্লাহর আরশে উঠা কেমন? সুতরাং তারা যা অস্বীকার করেছে তা তাদের মস্তিষ্কের এক অবাস্তব কল্পনা। তারা যখন আল্লাহ তাআলার এই বাণী শুনেছে: {রাহমান আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫], তখন তারা কল্পনা করে নিয়েছে যে এই আরশে উঠা যেন মাখলুকের ওপর মাখলুকের উঠার মতো, যেমন মানুষের চেয়ারের ওপর বসা। এখন কথা হলো—এই কল্পনা কি সত্য? এটি কি সত্যের কাছাকাছি কিছু? এটি কি সত্য হওয়ার সম্ভাবনা রাখে? সুতরাং তারা আসলে তাদের মস্তিষ্কের সেই কল্পনাকেই অস্বীকার করেছে; কারণ তারা যখন তাদের মস্তিষ্কের এই কল্পনাগুলোকে সাব্যস্ত করেছিল, তখন কোনো দলিল ছাড়াই করেছিল, আবার যখন সেগুলো অস্বীকার করল, তখনও কোনো দলিল ছাড়াই করল। আর তারা এই বেচারা বিবেককে এর মধ্যে টেনে এনেছে, যা বিবেকের ওপর করা সবচেয়ে বড় অপরাধ। তারা বলেছে: বিবেক একে অসম্ভব বলে মনে করে...
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌حرمة تكفير المسلم بذنب أو خطأ

قال: [السادس عشر: عدم جواز تكفير المسلم بذنب فعله ولا بخطأ أخطأ فيه.

يقول شيخ الإسلام في مجموعة الرسائل والمسائل وهو بصدد الحديث عن قاعدة أهل السنة والجماعة في أهل الأهواء والبدع: ولا يجوز تكفير المسلم بذنب فعله، ولا بخطأ أخطأ فيه، كالمسائل التي تنازع فيها أهل القبلة، فإن الله تعالى قال: {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ} [البقرة:285]، وقد ثبت في الصحيح أن الله تعالى أجاب هذا الدعاء، وغفر للمؤمنين خطأهم، والخوارج المارقون الذين أمر النبي صلى الله عليه وسلم بقتالهم قاتلهم أمير المؤمنين علي بن أبي طالب أحد الخلفاء الراشدين، واتفق على قتالهم أئمة الدين من الصحابة والتابعين من بعدهم، ولم يكفرهم علي بن أبي طالب وسعد بن أبي وقاص وغيرهما من الصحابة، بل جعلوهم مسلمين مع قتالهم، ولم يقاتلهم علي رضي الله عنه حتى سفكوا الدم الحرام، وأغاروا على أموال المسلمين، فقاتلهم لدفع ظلمهم وبغيهم لا لأنهم كفار، ولهذا لم يسب حريمهم ولم يغنم أموالهم.

وإذا كان هؤلاء الذين ثبت ضلالهم بالنص والإجماع لم يكفروا مع أمر الله ورسوله صلى الله عليه وسلم بقتالهم؛ فكيف بالطوائف المختلفين الذين اشتبه عليهم الحق في مسائل غلط فيها من هو أعلم منهم؟! فلا يحل لإحدى هذه الطوائف أن تكفر الأخرى ولا تستحل دمها ومالها، وإن كانت فيها بدعة محققة، فيكف إذا كانت المكفرة لها مبتدعة أيضاً؟! وقد تكون بدعة هؤلاء أغلظ، والغالب أنهم جميعاً جهال بحقائق ما يختلفون فيه].

هنا ينبغي التنبيه على أمر، ولعله سيأتي -إن شاء الله- مستقبلاً بشكل واف في شرح الطحاوية إذا دخلنا فيه، لكن بالمناسبة أحب أن أنبه إليه؛ لأنه قد يعالج بعض المظاهر التي ظهرت لدى طائفة من طلاب العلم المستعجلين هداهم الله، وهذه المسألة هي مسألة التكفير باللوازم والتكفير بالبدعة المكفرة، أو التكفير بالقول المكفر أو التكفير بالأصل المكفر، وأقصد بذلك: أنَّه ليس كل من ارتكب مكفراً يكفر بشخصه، فضلاً عن الطوائف، وليست كل طائفة ارتكبت مكفراً نحكم بكفرها، وسأضرب لكم مثلاً بعدما ضرب المحقق هنا مثلاً بالخوارج، فهناك مثل آخر في المتكلمين من الأشاعرة والماتريدية، فغلاة المتكلمين منهم خالفوا السلف في قضايا كثيرة، ومع ذلك لم يقل أحد بكفرهم، إلا بعض المستعجلين من المتأخرين هداهم الله، فما قالوه -أي: الأشاعرة وغيرهم- لا يستدعي تكفيرهم، حتى ولو وصل الحال ببعضهم إلى أن يقول بمقولة كفر، فإن تكفيره بعينه أمر يجب أن يتثبت فيه.

وأريد بهذا أن أصل إلى النتيجة الخطيرة التي أردت التنبيه عليها، وهي أن مسألة التكفير لمن لم يستحق الكفر أشد خطأً من ارتكاب صاحب الكفر لما كفر به؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم حذر من هذا وقال: (من قال لأخيه: يا كافر فقد باء بها أحدهما)، يعني: إذا خرج التكفير من شخص مع الاعتقاد؛ فلابد من أن يقع هذا التكفير على أحد الشخصين، فإن كان من أطلق عليه الكفر كافراً -وهذا في علم الله- وقعت عليه، وإذا لم يكن كافراً في علم الله رجعت إلى صاحبها فكفر نفسه من حيث لا يشعر، فيجب التنبه لهذا الأمر.

وهناك أمر آخر متفرع عن هذا، وهو أننا لم نتعبد بالتكفير أصلاً، صحيح أن هناك ما يسمى بالولاء والبراء، لكن هذه قاعدة إجمالية، ليس كل من واليناه لابد فيه من أن يكون على الاستقامة الكاملة، وليس كل من عاديناه لابد فيه من أن يكون على الضلالة الكاملة، بل قد يجتمع الولاء والبراء في شخص واحد، قد يجتمع الولاء والبراء في غالب المسلمين الذين خلطوا عملاً صالحاً وآخر سيئاً.

إذاً: فمسألة التكفير من أشد المسائل خطورة، وأرى الناس بدءوا يلوكونها وكأنها مجرد أحكام عادية ينتزعها الإنسان متى شاء ويلبسها من يشاء، مع أن هذه مسألة خطيرة لم يتعبد بها أولاً، إنما تعبدنا بالتكفير بالجملة لا بالتعيين، فالتكفير بالجملة معروف وأمر سهل ويعرفه أهل العلم، فاليهود كلهم كفار بالجملة، والنصارى كفار بالجملة، والمشركون كفار بالجملة، ومن خالف قطعياً من قطعيات الدين فهو كافر بالجملة، ومن أخل بركن من أركان الدين فهو كافر بالجملة، لكن تعيين أفراد أو جماعات أو فرق مسألة خطيرة لم نتعبد بها، وأهل العلم كانوا يتورعون فيها أشد التورع، ثم إن أكثر الناس يفهم التكفير دائماً على أنه التكفير المخرج من الملة، ومن هنا ينتزع أقوال أهل العلم في بعض المقولات أو في بعض الأشخاص فيكفر بها، مع أن أهل العلم قديماً إذا أطلقوا التكفير في مسائل أهل القبلة؛ فأغلب ما يطلقونه على التكفير الذي لا يخرج عن الملة، الذي هو كفر دون كفر، ويتورعون كل التورع عن التكفير الذي يخرج عن الملة.

قال: [
কোনো গুনাহ বা ভুলের কারণে মুসলমানকে কাফের সাব্যস্ত করার নিষিদ্ধতা

তিনি বলেন: [ষোড়শ: কোনো মুসলমানকে তার কৃত কোনো গুনাহ বা ভুলের কারণে কাফের বলা বৈধ নয়।

শায়খুল ইসলাম মাজমুউ আর-রাসায়িল ওয়াল মাসায়িল-এ প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতিদের সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মূলনীতি আলোচনার সময় বলেন: কোনো মুসলমানকে তার কৃত কোনো গুনাহ বা ভুলের কারণে কাফের বলা জায়েজ নয়, যেমন কিবলাপন্থীদের (মুসলমানদের) মধ্যকার মতভেদপূর্ণ মাসআলাসমূহ। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: {রাসূল তার রবের পক্ষ থেকে যা তার কাছে অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। তারা সবাই আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাগণের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান এনেছে। (তারা বলে:) ‘আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না।’ আর তারা বলে: ‘আমরা শুনেছি এবং আনুগত্য করেছি। হে আমাদের রব! আমরা আপনার কাছে ক্ষমা চাই এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।’} [আল-বাকারাহ: ২৮৫]। সহীহ হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা এই দুআ কবুল করেছেন এবং মুমিনদের ভুল ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর বিদআতি খারেজীরা, যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে খুলাফায়ে রাশেদীনের অন্যতম আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব যুদ্ধ করেছিলেন। সাহাবী ও পরবর্তী তাবেয়ীগণের মধ্য থেকে দ্বীনের ইমামগণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়ে একমত ছিলেন। তা সত্ত্বেও আলী ইবনে আবি তালিব, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এবং অন্যান্য সাহাবীগণ তাদের কাফের বলেননি, বরং যুদ্ধ করা সত্ত্বেও তাদের মুসলমান হিসেবেই গণ্য করেছেন। আলী (রাযিআল্লাহু আনহু) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি যতক্ষণ না তারা হারাম রক্তপাত করেছে এবং মুসলমানদের ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করেছে। তিনি তাদের যুলুম ও অবাধ্যতা দমনের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন, তারা কাফের হওয়ার কারণে নয়। এ কারণেই তিনি তাদের নারী-শিশুদের বন্দী করেননি এবং তাদের সম্পদকে গনীমত হিসেবে গ্রহণ করেননি।

সুতরাং যাদের পথভ্রষ্টতা কুরআন-সুন্নাহর নস এবং ইজমার দ্বারা প্রমাণিত, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও যদি তাদের কাফের সাব্যস্ত না করা হয়, তবে ঐসব মতভেদকারী দলগুলোর অবস্থা কেমন হবে যাদের কাছে সত্য অস্পষ্ট রয়ে গেছে এমন সব মাসআলায় যাতে তাদের চেয়ে বড় আলেমগণও ভুল করেছেন?! সুতরাং এই দলগুলোর একটির জন্য অন্যটিকে কাফের বলা কিংবা তাদের রক্ত ও সম্পদকে হালাল মনে করা বৈধ নয়, যদিও তাদের মধ্যে সুনিশ্চিত বিদআত বিদ্যমান থাকে। আর যদি সেই কাফের ফতোয়া প্রদানকারী দলটি নিজেই বিদআতি হয়, তবে তো আরও মারাত্মক কথা! এমনকি এসব ফতোয়াবাজদের বিদআত হয়তো আরও গুরুতর হতে পারে। আর সাধারণত তারা সবাই যে বিষয়ে মতভেদ করে, তার হাকীকত বা প্রকৃত বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে]।

এখানে একটি বিষয়ে সতর্ক করা প্রয়োজন, যা ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে তাহাবিয়ার শারহে বিস্তারিত আসবে যদি আমরা তা শুরু করি। তবে প্রাসঙ্গিকভাবে আমি এ বিষয়ে সতর্ক করতে চাই; কারণ এটি একদল তড়িঘড়ি করা ইলম অন্বেষণকারীদের (আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করুন) মধ্যে পরিলক্ষিত কিছু সমস্যার সমাধান হতে পারে। এই বিষয়টি হলো—কারো বক্তব্যের আবশ্যিক অর্থ ধরে কাফের বলা (তাকফির বিল-লাওয়াযিম), বিদআতের কারণে কাফের বলা, কোনো কুফরি কথা বা কুফরি মূলনীতির কারণে কাফের বলা। আমার উদ্দেশ্য হলো: কুফরি কাজে লিপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকেই ব্যক্তিগতভাবে কাফের বলা যায় না, দলগুলোর কথা তো বাদই দিলাম। এমনকি কোনো দল কুফরি কাজে লিপ্ত হলেও আমরা ঢালাওভাবে তাদের কাফের হওয়ার ফয়সালা দিই না। মুহাক্কিক এখানে খারেজীদের উদাহরণ দেওয়ার পর আমি আপনাদের সামনে আরেকটি উদাহরণ দেব। আর তা হলো আশআরি ও মাতুরিদিদের মধ্যকার কালামশাস্ত্রবিদগণ। তাদের চরমপন্থীরা অনেক বিষয়ে সালাফদের বিরোধিতা করেছেন, তবুও তড়িঘড়ি করা কিছু পরবর্তী লোক ছাড়া আর কেউ তাদের কাফের বলেননি। তারা যা বলেছেন—অর্থাৎ আশআরি ও অন্যরা—তা তাদের কাফের সাব্যস্ত করার দাবি রাখে না। এমনকি তাদের কেউ যদি কুফরি বক্তব্যও প্রদান করে, তবে নির্দিষ্টভাবে তাকে কাফের বলার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন ও সত্যতা যাচাই করতে হবে।

এর মাধ্যমে আমি একটি ভয়াবহ পরিণতির কথা বলতে চাই যার দিকে আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি। আর তা হলো—যে কুফরি পাওয়ার যোগ্য নয় তাকে কাফের বলা, কুফরিতে লিপ্ত ব্যক্তির সেই কুফরিতে লিপ্ত হওয়ার চেয়েও বড় ভুল। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার কোনো ভাইকে 'হে কাফের' বলে সম্বোধন করল, তবে তা তাদের দুইজনের যেকোনো একজনের ওপর বর্তাবে।" অর্থাৎ যদি কোনো ব্যক্তি আকিদাগত বিশ্বাসের সাথে কাউকে কাফের বলে, তবে সেই অপবাদ দুইজনের একজনের ওপর অবশ্যই পড়বে। যদি যাকে কাফের বলা হয়েছে সে আল্লাহর জ্ঞানে কাফের হয়ে থাকে—তবে তার ওপর তা আপতিত হবে। আর যদি আল্লাহর জ্ঞানে সে কাফের না হয়, তবে তা প্রবক্তার দিকেই ফিরে আসবে এবং সে অবচেতনভাবেই নিজেকে কাফের বানিয়ে ফেলবে। তাই এ বিষয়ে সচেতন হওয়া আবশ্যক।

এখান থেকে উদ্ভূত আরেকটি বিষয় হলো—মূলত কাফের সাব্যস্ত করা আমাদের ইবাদতের অংশ নয়। এটা সত্য যে 'ওয়ালা ও বারা' (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা ও ঘৃণা) নামে একটি বিষয় রয়েছে, কিন্তু এটি একটি সামগ্রিক মূলনীতি। আমরা যাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করব তাকে যে পূর্ণাঙ্গভাবে সঠিক পথে থাকতে হবে তা নয়, আবার যার সাথে আমরা শত্রুতা পোষণ করব তাকেও যে পুরোপুরি পথভ্রষ্ট হতে হবে তা নয়। বরং একই ব্যক্তির মধ্যে ভালোবাসা ও ঘৃণা উভয়ই থাকতে পারে। অধিকাংশ মুসলমানদের ক্ষেত্রে ভালোবাসা ও ঘৃণা উভয়টিই বিদ্যমান থাকতে পারে যারা সৎ ও অসৎ উভয় কাজের মিশ্রণ ঘটায়।

অতএব, কাউকে কাফের সাব্যস্ত করার বিষয়টি অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমি দেখছি মানুষ এই বিষয়টিকে নিয়ে এমনভাবে চিবানো শুরু করেছে যেন এটি খুব সাধারণ কোনো হুকুম, যা মানুষ যখন ইচ্ছা বের করবে এবং যাকে ইচ্ছা পরিয়ে দেবে। অথচ এটি একটি ভয়ংকর বিষয় যা প্রথমত আমাদের ইবাদতের কোনো আমল নয়। আমাদের তো সাধারণভাবে কাফের বলার ইবাদত দেওয়া হয়েছে, নির্দিষ্ট করে কাউকে নয়। সাধারণভাবে কাফের বলা (তাকফির বিল জুমলা) একটি পরিচিত ও সহজ বিষয় এবং আলেমগণ তা জানেন। যেমন: সকল ইহুদি সাধারণভাবে কাফের, খ্রিস্টানরা সাধারণভাবে কাফের, মুশরিকরা সাধারণভাবে কাফের। যারা দ্বীনের অকাট্য বিষয়গুলোর কোনো একটির বিরোধিতা করবে তারা সাধারণভাবে কাফের। যারা দ্বীনের কোনো রোকন বা স্তম্ভ লঙ্ঘন করবে তারা সাধারণভাবে কাফের। কিন্তু নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলকে কাফের বলা একটি ভয়ংকর বিষয় যা আমাদের ইবাদতের অংশ করা হয়নি। আলেমগণ এ বিষয়ে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতেন। তা ছাড়া অধিকাংশ মানুষ তাকফির বলতে সবসময় 'মিল্লাত থেকে বের করে দেওয়া কুফর' বুঝে থাকে। এ কারণে তারা কোনো বক্তব্য বা ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলেমদের কোনো উক্তি গ্রহণ করে কাফের ফতোয়া দিয়ে দেয়। অথচ প্রাচীন আলেমগণ যখন কিবলাপন্থীদের (মুসলমানদের) বিভিন্ন বিষয়ে তাকফির শব্দ ব্যবহার করতেন, তখন তাদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য থাকত এমন কুফর যা মিল্লাত থেকে বের করে দেয় না (অর্থাৎ কুফর দুনাল কুফর বা ছোট কুফর)। আর তারা মিল্লাত থেকে বের করে দেওয়া কুফরের (বড় কুফর) ফতোয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতেন।

তিনি বলেন: [
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌تنبيه على إصدار أحكام التخطئة في فتن المسلمين

أحب أن أنبه على أمر من النوازل التي حدثت للمسلمين في الآونة الأخيرة، وهو ما يتعلق ببعض الفتن التي ظهرت في أرض الجهاد في أفغانستان، ولن أتكلم عن هذا الأمر بالتفصيل، وأرجو ألا يفهم كما يفعل كثير من المستعجلين، وألا ينتزع مني ما لم أقله، لكني أحب أن أعلق على هذه المسألة بمناسبة الكلام عن مسألة التكفير والتعادي والموالاة والمعاداة ونحو ذلك من أحكام الشرع.

أقول: لقد بدرت من بعض الناس -هداهم الله- بعض الألفاظ والأحكام والمواقف تجاه ما حدث بين الأفغان تخالف منهج السلف، حتى من بعض الذين عقائدهم صحيحة ولديهم شيء من العلم بالسنة، فأرى أنهم تجاوزوا منهج السلف في علاج هذه الأمور، أي: في أثناء الفتن؛ لأن للفتن فقهاً يخالف فقه سائر الأيام والأحوال، ولأن للفتن أحكاماً تخصها، خاصة إذا حدثت الفتن بين فرقتين من المسلمين عملهم واحد في جبهة واحدة وفي مكان واحد كما هو حال المجاهدين، والخلل الذي حصل يتمثل في نظري فيما يتعلق بالمسألة التي ذكرتها في أمور: أولها: سرعة الحكم بالتكفير أو التفسيق أو التخطئة قبل التثبت.

وثانيها: الخلل في مسألة التفريق بين ما تجوز الموالاة فيه والمعاداة وما لا تنبغي الموالاة فيه والمعاداة.

والأمر الثالث: الحكم على الأشخاص باللوازم التي لا تلزم، فقد سمعنا حكماً على أشخاص من خلال تصرفات أتباعهم، وحكماً على الأتباع من خلال عقائد رءوسهم، وحكماً على الغائبين قبل اللقيا بهم والأخذ عنهم، وحكماً على المجاهدين من الأفغان -خاصة القيادات منهم- بمجرد أمور تخرج إما في جرائدهم وإما في كتب يعلمونها أتباعهم أو نحو ذلك، وهذا تكفير باللوازم.

نعم التخطئة ترد، ووزن الأمور بالموازين الشرعية أمر مطلوب، بمعنى: من هو الأفضل والأقرب للسنة، ومن هو الأبعد والأكثر بدعة، فهذا أمر ليس على المسلم حرج في أن يقوله، لكن الإلزام بما لا يلزم أمر خطير قد ترتبت عليه مواقف خطيرة، هذا أمر.

الأمر الآخر: إدراك المصالح العامة ودرء المفاسد، وهذا أمر غاب عن كثير ممن خاضوا في هذا الأمر، حتى بلغ الحد ببعضهم إلى أن يعتبر الجهاد في أفغانستان كله خطأ، وبعضهم ألغى راية الجهاد في سبيل الله وفسرها بتفسيرات بدعية أو بتفسيرات أهواء أو بتفسيرات شبهات أو شهوات عند أصحاب تلك الراية، وبعضهم -أيضاً- تكلم في المجاهدين بما يمنع دعم المسلمين عنهم، وهذه مسألة خطيرة، فأنا أقول: حتى لو اقتنع واحد منا بأنه ينبغي أو يحسن ألا يدفع التبرع لفلان من الناس من رءوس المجاهدين، فهل هذا من المصلحة العامة المترتبة على موقفه هذا فيما يتعلق بأحوال المسلمين عامة؟! يجب ألا نبخل على المسلمين عامة، ويجب ألا نبخل على الأفغان من حيث الخصوص، فهناك الشيوعية الملحدة تحارب الله ورسوله، وهناك أناس يجاهدون في سبيل الله على مختلف نزعاتهم وعلى مختلف اتجاهاتهم ومشاربهم، فلو أن المسلمين اضطروا يوماً من الأيام -كما حدث في فترات التاريخ- إلى أن يجتمعوا بفرقهم الضالة والمستقيمة ضد الكفار الخلص فهل يمنع هذا؟ أترك الجواب لكم، فتأملوا واسألوا أهل العلم وارجعوا إلى قواعد الشرع.

وأعود فأقول: إن نصوص الوعيد الواردة في الكتاب والسنة لابد من أن تجمع مع سائر النصوص الأخرى، كتلك النصوص السابق ذكرها وغيرها، ومثال ذلك قوله تعالى: {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا} [النساء:93]، فهذه الآية من نصوص الوعيد؛ إذ فيها إشارة إلى خلود القاتل عمداً في النار، ونصوص الوعيد ترد إلى نصوص الوعد، فيرد بعضها إلى بعض، ولا تؤخذ على ظاهرها، بمعنى: أنه لا نأخذ بنص واحد ونجعل الحكم القاطع مبنياً عليه، فالنصوص لابد من أن ننظر إليها بمجملها، كقوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء:48]، فهذا من النصوص التي تبين ما يغفر وما لا يغفر، وهذا من نصوص الوعد والوعيد في وقت واحد، فنصوص الوعيد -أي: نصوص التخويف والنصوص التي تتعلق بدخول النار وغيرها- ترد إلى نصوص الوعد بمجموعها، وهذا هو النظر المتكامل الذي ينظره أهل السنة والجماعة، لا يأخذون بنص دون آخر، لذلك قالوا: من أخذ بنصوص الوعد دون نصوص الوعيد فهو مرجئ، ومن أخذ بنصوص الوعيد دون نصوص الوعد فهو حروري، خارجي.
মুসলিমদের মধ্যকার ফিতনাসমূহে ভুল সাব্যস্ত করার বিধান প্রদানের ব্যাপারে সতর্কবার্তা

সম্প্রতি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঘটে যাওয়া কিছু নতুন সংকট সম্পর্কে আমি সতর্ক করতে চাই। এটি আফগানিস্তানের জিহাদের ময়দানে উদ্ভূত কিছু ফিতনার সাথে সম্পর্কিত। আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলব না এবং আশা করি তড়িঘড়ি করা ব্যক্তিদের মতো বিষয়টি ভিন্নভাবে বোঝা হবে না। আমি যা বলিনি, তা যেন আমার নামে চালিয়ে দেওয়া না হয়। তবে আমি তাকফির (কাফের সাব্যস্ত করা), শত্রুতা-মিত্রতা এবং শরীয়তের এ জাতীয় অন্যান্য বিধানের আলোচনার প্রেক্ষিতে এই বিষয়ের ওপর কিছু মন্তব্য করতে চাই।

আমি বলব: আফগানদের মধ্যে যা ঘটেছে সে সম্পর্কে কিছু মানুষের কাছ থেকে—আল্লাহ তাদের হেদায়েত দিন—এমন কিছু শব্দ, বিধান ও অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে যা সালাফদের মানহাজের পরিপন্থী। এমনকি যাদের আকিদা সহিহ এবং সুন্নাহ সম্পর্কে যাদের কিছুটা ইলম আছে, তাদের কারো কারো পক্ষ থেকেও এমনটি ঘটেছে। আমার দৃষ্টিতে তারা এই বিষয়গুলোর সমাধানের ক্ষেত্রে—অর্থাৎ ফিতনার সময়—সালাফদের মানহাজ অতিক্রম করেছেন। কারণ ফিতনার সময়কার বুঝ (ফিকহ) অন্যান্য সাধারণ দিন ও অবস্থার বুঝ থেকে ভিন্ন। ফিতনার জন্য রয়েছে বিশেষ কিছু বিধান, বিশেষ করে যখন সেই ফিতনা মুসলিমদের এমন দুটি দলের মধ্যে ঘটে যাদের কাজ অভিন্ন, তারা একই রণাঙ্গনে এবং একই স্থানে অবস্থান করছে, যেমনটি মুজাহিদদের অবস্থা। আমার দৃষ্টিতে আমি যে বিষয়টি উল্লেখ করেছি সে ক্ষেত্রে বিচ্যুতিটি কয়েকটি বিষয়ে প্রকাশ পেয়েছে: প্রথমত: সত্যতা যাচাইয়ের পূর্বেই কাফের বা ফাসেক সাব্যস্ত করার কিংবা ভুল বলার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা।

দ্বিতীয়ত: যে বিষয়গুলোতে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা করা জায়েজ এবং যেগুলোতে তা সমীচীন নয়, সেই পার্থক্য নিরূপণের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি।

তৃতীয়ত: ব্যক্তিদের ওপর এমন সব অনিবাৰ্য শর্ত (লাজিম) চাপিয়ে বিধান দেওয়া যা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আমরা শুনেছি যে, অনুসারীদের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে ব্যক্তিদের ওপর হুকুম লাগানো হচ্ছে, আবার নেতাদের আকিদার ভিত্তিতে অনুসারীদের ওপর হুকুম লাগানো হচ্ছে। আবার কারো সাথে সাক্ষাৎ না করে বা তাদের কাছ থেকে সরাসরি না শুনেই অনুপস্থিত ব্যক্তিদের ওপর বিধান চাপানো হচ্ছে। এছাড়া আফগান মুজাহিদদের সম্পর্কে—বিশেষ করে তাদের নেতাদের সম্পর্কে—শুধুমাত্র তাদের পত্রিকা বা তাদের অনুসারীদের পাঠদানকৃত বই বা এ জাতীয় বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বিধান দেওয়া হচ্ছে। এটি হলো অনিবাৰ্য ফলাফলের ভিত্তিতে তাকফির করা (তাকফির বিল লাজিম)।

হ্যাঁ, ভুল ধরিয়ে দেওয়া হবে এবং শরয়ি মানদণ্ড দিয়ে বিষয়গুলো পরিমাপ করা কাম্য বিষয়। অর্থাৎ কে শ্রেষ্ঠ এবং সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী, আর কে দূরবর্তী ও অধিক বিদআতী—একজন মুসলিমের জন্য তা বলায় কোনো দোষ নেই। কিন্তু কোনো বিষয়কে এমনভাবে অপরিহার্য করে ফেলা যা আসলে অপরিহার্য নয়, তা একটি বিপজ্জনক বিষয় যার ফলে অনেক ভয়াবহ অবস্থান তৈরি হয়েছে। এটি একটি দিক।

অন্য বিষয়টি হলো: জনকল্যাণ উপলব্ধি করা এবং অনিষ্ট দূর করা। এ বিষয়টি নিয়ে যারা মেতেছেন তাদের অনেকের কাছেই এটি অনুপস্থিত ছিল। এমনকি তাদের কারো কারো অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা আফগানিস্তানের জিহাদকেই আগাগোড়া ভুল মনে করতে শুরু করেছে। কেউ কেউ আল্লাহর পথে জিহাদের ঝাণ্ডাকেই বাতিল করে দিয়েছে এবং বিদআতি ব্যাখ্যা বা প্রবৃত্তিপ্রসূত ব্যাখ্যা অথবা সেই ঝাণ্ডার অধিকারীদের সন্দেহ ও লালসার মাধ্যমে তার ব্যাখ্যা করেছে। আবার কেউ কেউ মুজাহিদদের সম্পর্কে এমন সব কথা বলেছে যা মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা প্রদানে বাধা সৃষ্টি করে। এটি একটি গুরুতর বিষয়। আমি বলি: আমাদের মধ্যে কেউ যদি এই মর্মে নিশ্চিতও হয় যে মুজাহিদ নেতাদের অমুক ব্যক্তিকে অনুদান না দেওয়াই উচিত বা ভালো, তবুও মুসলিমদের সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে তার এই অবস্থানের পেছনে কোনো জনকল্যাণ কি নিহিত আছে? আমাদের সাধারণ মুসলিমদের প্রতি কৃপণতা করা উচিত নয় এবং বিশেষভাবে আফগানদের ক্ষেত্রেও কৃপণতা করা উচিত নয়। সেখানে নাস্তিক কমিউনিজম আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, আর সেখানে আল্লাহর পথে বিভিন্ন ঝোঁক, চিন্তাধারা ও মতাদর্শের মানুষ জিহাদ করছে। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে যেমনটি ঘটেছে—যদি কোনোদিন মুসলিমরা খাঁটি কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাদের মধ্যে বিদ্যমান গোমরাহ দল এবং সঠিক পথের অনুসারী দলসহ ঐক্যবদ্ধ হতে বাধ্য হয়, তবে কি তা বাধাগ্রস্ত হবে? আমি এর উত্তর আপনাদের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। আপনারা গভীরভাবে চিন্তা করুন, আলেমদের জিজ্ঞেস করুন এবং শরীয়তের মূলনীতির দিকে ফিরে যান।

আমি পুনরায় বলছি: কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত শাস্তির ধমক সম্বলিত দলিলগুলোকে (নুসুসুল ওয়াঈদ) অবশ্যই অন্যান্য সকল দলিলের সাথে একত্রে মিলিয়ে দেখতে হবে, যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ আল্লাহর বাণী: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল থাকবে। আর আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন, তাকে অভিশপ্ত করেছেন এবং তার জন্য মহা শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।" [নিসা: ৯৩]। এই আয়াতটি শাস্তির ধমক সম্বলিত দলিলগুলোর অন্তর্ভুক্ত; কারণ এতে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকারীর চিরকাল জাহান্নামে থাকার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। শাস্তির ধমক সম্বলিত দলিলগুলোকে আশার বাণী সম্বলিত (ওয়াদ) দলিলের আলোকে বুঝতে হয় এবং একটিকে অন্যটির সাথে সমন্বয় করতে হয়। এগুলোকে কেবল বাহ্যিক অর্থের ওপর গ্রহণ করা হয় না। অর্থাৎ, আমরা কেবল একটি দলিল নিয়ে তার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত ফয়সালা দিতে পারি না। বরং দলিলগুলোর দিকে সামগ্রিকভাবে তাকাতে হবে। যেমন আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না, কিন্তু এছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" [নিসা: ৪৮]। এটি এমন একটি দলিল যা স্পষ্ট করে যে কোনটি ক্ষমা করা হবে আর কোনটি হবে না। এটি একই সাথে আশা ও শাস্তির ধমক সম্বলিত দলিল। সুতরাং শাস্তির ধমক সম্বলিত দলিলগুলো—অর্থাৎ ভীতিপ্রদর্শন এবং জাহান্নামে প্রবেশ ইত্যাদি সংক্রান্ত দলিলগুলোকে—সামগ্রিকভাবে আশার বাণী সম্বলিত দলিলের আলোকে বিশ্লেষণ করতে হয়। এটিই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সুসংহত দৃষ্টিভঙ্গি। তারা একটি দলিল গ্রহণ করে অন্যটি ছেড়ে দেয় না। একারণেই তারা বলেছেন: যে ব্যক্তি শাস্তির ধমক সম্বলিত দলিলগুলো বাদ দিয়ে কেবল আশার দলিলগুলো গ্রহণ করে সে মুরজিয়া; আর যে ব্যক্তি আশার দলিলগুলো বাদ দিয়ে কেবল শাস্তির ধমক সম্বলিত দলিলগুলো গ্রহণ করে সে হারুরি অর্থাৎ খারেজি।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الطحاوية - ناصر العقل   (ناصر العقل)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح الطحاوية

المؤلف: ناصر بن عبد الكريم العلي العقل

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 110 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432

শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - নাসির আল-আকল   (নাসির আল-আকল)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: শারহুত তাহাবিয়্যাহ

লেখক: নাসির বিন আব্দুল কারীম আল-আলী আল-আকল

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলামওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিপন করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ১১০টি পাঠ ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২ হিজরী

(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح العقيدة الطحاوية [2]

لقد كانت مراحل القرون الثلاثة الأولى في جملتها مراحل غلبة لهدي السلف في الاعتقاد، مع حصول النزاع في القرن الثالث، ثم هيمنت أقاويل أهل الكلام بعد ذلك وانحسر منهج السلف إلى عصر شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، فانبرى لإبراز منهج السلف بالنقل والعقل، وخط بذلك معلماً بارزاً وشيد مدرسة علمية كان من آثارها تلامذته النجباء كابن القيم رحمه الله تعالى وغيره.
শরহে আকিদাহ আত-তহাবিয়্যাহ [২]

সামগ্রিকভাবে প্রথম তিন শতাব্দীর পর্যায়গুলো ছিল আকিদার ক্ষেত্রে সালাফদের নির্দেশনার প্রাধান্যের সময়কাল, যদিও তৃতীয় শতাব্দীতে মতভেদ দেখা দিয়েছিল। অতঃপর এর পরবর্তী সময়ে ইলমুল কালামের অনুসারীদের বক্তব্যগুলো প্রভাব বিস্তার করে এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর যুগ পর্যন্ত সালাফদের মানহাজ সংকুচিত হয়ে পড়ে। অতঃপর তিনি উদ্ধৃতি ও যুক্তির আলোকে সালাফদের মানহাজ ফুটিয়ে তুলতে সচেষ্ট হন এবং এর মাধ্যমে তিনি একটি সুস্পষ্ট পথরেখা অঙ্কন করেন ও একটি ইলমি ধারা প্রতিষ্ঠা করেন, যার অন্যতম সুফল ছিল ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) এবং তাঁর মতো অন্যান্য মেধাবী ছাত্ররা।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌المراحل التي مرت بها مناهج السلف في تقرير العقيدة إلى زمن ابن تيمية
ইবনে তাইমিয়্যাহর সময়কাল পর্যন্ত আকিদাহ নির্ধারণে সালাফদের মানহাজসমূহ যেসব পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مرحلة تنزل القرآن إلى نهاية القرن الأول

قال: [امتداد مدرسة ابن تيمية: لقد جمع الإمام ابن تيمية رحمه الله منهج أهل السنة والجماعة في العلم والاعتقاد والفهم والعمل والسلوك، وأحياه وحرره تحريراً بديعاً اتسم بسعة العلم وقوة الأمانة وحسن العرض ودقة الضبط، ولكن ابن تيمية سبق ولحق في هذا الميدان بجهاد علمي صادق ومتصل].

أحب أن أشير إلى مسألة أرى أنها مهمة فيما يتعلق بجهود شيخ الإسلام ابن تيمية في خدمة عقيدة السلف، وأقدم لهذا بالتنبيه على المراحل التي مرت بها مناهج السلف في تقرير العقيدة، بمعنى: تقريرها على شكل مؤلفات ومصنفات وتبيينها للناس.

المرحلة الأولى: هي مرحلة تنزل القرآن وإلى نهاية القرن الأول، فهذه الأساس فيها ما جاء في كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان الناس يستمدون كل شيء في الدين من القرآن والسنة، ويرجعون فيما لم يدركوه إلى أهل العلم، حتى الصحابة كانوا يأخذون الدين مباشرة عن القرآن والسنة، هذا في الجملة، لكن عامتهم كانوا لا يستطيعون استنباط كل شيء في الدين، فكانوا يرجعون إلى أهل الاختصاص من الصحابة، لذلك برز من الصحابة من برز في اختصاصات شرعية تتعلق ببيان الدين للناس بعد الرسول صلى الله عليه وسلم، كبروز علي في القضاء وزيد في الفرائض، وبروز غيرهما من الصحابة في بعض الجوانب، وهناك من كانوا مرجعاً علمياً شاملاً كـ ابن عباس وابن مسعود وأبي موسى الأشعري وغيرهم من أئمة الصحابة، فكانوا أئمة في الدين يرجع إليهم، وكان منهجهم في تقرير العقيدة لا يعدو إظهار النص والاستنباط من القرآن والسنة ثم التعليق على النص لإيضاحه دون بسط في الشرح أو تصنيف أو مؤلفات؛ لأن الناس كانوا أقرب إلى الفطرة وأفهم للغة وأبعد عن البدع والخرافات، ولم تتشعب بهم السبل ولم تظهر الفرق، فكان الناس على هدي واحد، العقيدة عقيدة الجميع والمنهج منهج الجميع والسنة عليها الجميع، ومن شذ برز شذوذه عند العامة والخاصة، هذا في القرن الأول، فلذلك لم توجد مؤلفات، وما كان الناس بحاجة إلى مؤلفات، إنما كانوا بحاجة إلى تعليم، وقام الصحابة بذلك حق القيام، وبرزت في عهدهم بعض الطوائف، وكان شذوذها ظاهراً كالخوارج والشيعة كما هو معلوم، وسبب بروزها هو أنها تركت تلقي الدين عن العلماء، هذا هو السبب الرئيس الأول، ولا ننسى جهود ابن سبأ، لكن ابن سبأ دخل على هذه الطائفة من الناس لأنهم لم يتلقوا دينهم عن الصحابة، والذين تلقوا دينهم عن الصحابة عصمهم الله.

المهم أنه في القرن الأول كانت العقيدة هي السائدة، وما كانت تحتاج إلى مؤلفات ولا تحتاج إلى مصنفات ولا تحتاج إلى شيء من تقرير الأصول والمناهج الزائدة على ما في النصوص.
কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পর্যায় থেকে প্রথম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত

তিনি বলেছেন: [ইবনে তাইমিয়া র.-এর মাদরাসার বিস্তার: ইমাম ইবনে তাইমিয়া (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ইলম, আকিদা, বুঝ, আমল এবং আচরণের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজকে একত্রিত করেছেন। তিনি একে পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং চমৎকারভাবে সম্পাদনা করেছেন যা ইলমের প্রশস্ততা, আমানতদারির দৃঢ়তা, উপস্থাপনার সৌন্দর্য এবং নিখুঁত যাচাই-বাছাই দ্বারা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। তবে ইবনে তাইমিয়ার পূর্বেও এই ময়দানে সত্যনিষ্ঠ ও নিরবচ্ছিন্ন ইলমি জিহাদ বিদ্যমান ছিল এবং পরেও তা অব্যাহত ছিল।]

সলফে সালেহীনের আকিদার খিদমতে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার প্রচেষ্টার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ের প্রতি আমি ইঙ্গিত করতে চাই যা আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। এর ভূমিকা হিসেবে আমি আকিদা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সলফদের মানহাজ বা পদ্ধতিসমূহ যেসব স্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে সেগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অর্থাৎ, গ্রন্থ ও রচনার আকারে তা সংকলন করা এবং মানুষের নিকট তা বর্ণনা করার পর্যায়সমূহ।

প্রথম পর্যায়: এটি হলো কুরআন অবতীর্ণ হওয়া থেকে শুরু করে প্রথম হিজরি শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত সময়কাল। এই পর্যায়ের মূল ভিত্তি ছিল আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর মধ্যে যা এসেছে। মানুষ দ্বীনের যাবতীয় বিষয় কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গ্রহণ করত এবং যা তারা বুঝতে পারত না সে বিষয়ে ইলমের অধিকারীদের (আহলুল ইলম) শরণাপন্ন হতো। এমনকি সাহাবীগণ সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দ্বীন গ্রহণ করতেন। এটি ছিল সাধারণ অবস্থা, তবে তাদের সাধারণ স্তরের লোকেরা দ্বীনের সবকিছু ইস্তিম্বাত (উদ্ঘাটন) করতে পারত না, ফলে তারা সাহাবীদের মধ্য থেকে বিশেষজ্ঞগণের নিকট ফিরে যেতেন। একারণেই সাহাবীদের মধ্য থেকে এমন কিছু ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব ঘটেছিল যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরে মানুষের নিকট দ্বীন বর্ণনার ক্ষেত্রে শারয়ী বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। যেমন বিচারকার্যে আলীর প্রসিদ্ধি, ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে যায়েদের বিশেষত্ব এবং অন্যান্য সাহাবীদের বিভিন্ন দিকের পারদর্শিতা। আবার এমন কিছু ব্যক্তিত্ব ছিলেন যারা সামগ্রিক ইলমি নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল ছিলেন, যেমন ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ, আবু মুসা আল-আশআরী এবং সাহাবীদের অন্যান্য ইমামগণ। তাঁরা ছিলেন দ্বীনের ইমাম যাঁদের দিকে মানুষ প্রত্যাবর্তন করত। আকিদা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাঁদের পদ্ধতি কুরআন ও সুন্নাহর নস বা পাঠ্যসমূহ প্রকাশ করা এবং তা থেকে ইস্তিম্বাত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এরপর নসটি স্পষ্ট করার জন্য এর ওপর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করা হতো, বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান বা গ্রন্থ আকারে কোনো সংকলন করা হতো না। কারণ মানুষ তখন স্বভাবজাত ফিতরাতের নিকটবর্তী ছিল, ভাষা অধিক বুঝত এবং বিদআত ও কুসংস্কার থেকে দূরে ছিল। তাদের পথগুলো বহুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েনি এবং কোনো ফিরকা বা উপদলের সৃষ্টি হয়নি। ফলে মানুষ একটি অভিন্ন হিদায়াতের ওপর ছিল। আকিদা ছিল সবার অভিন্ন আকিদা, মানহাজ ছিল সবার অভিন্ন মানহাজ এবং সুন্নাহর ওপর সবাই প্রতিষ্ঠিত ছিল। কেউ বিচ্যুত হলে সাধারণ ও বিশেষ সবার নিকটই তার বিচ্যুতি প্রকাশ হয়ে পড়ত। এটি ছিল প্রথম শতাব্দীর অবস্থা, তাই কোনো গ্রন্থ সংকলন বিদ্যমান ছিল না এবং মানুষেরও গ্রন্থ সংকলনের প্রয়োজন ছিল না। তাদের কেবল শিক্ষার প্রয়োজন ছিল এবং সাহাবীগণ যথাযথভাবে তা সম্পাদন করেছেন। তাঁদের যুগে কিছু উপদলের আবির্ভাব ঘটেছিল এবং তাদের বিচ্যুতি ছিল সুস্পষ্ট, যেমন খাওয়ারিজ ও শিয়াদের কথা সবার জানা। তাদের আবির্ভাবের প্রধান কারণ ছিল তারা আলিমদের থেকে দ্বীন গ্রহণ করা ছেড়ে দিয়েছিল। এটিই ছিল প্রথম ও প্রধান কারণ। আমরা ইবনে সাবার প্রচেষ্টার কথা বিস্মৃত হই না, তবে ইবনে সাবা এই একদল মানুষের মধ্যে প্রবেশ করতে পেরেছিল কারণ তারা সাহাবীদের থেকে দ্বীন গ্রহণ করেনি। আর যারা সাহাবীদের থেকে দ্বীন গ্রহণ করেছিল আল্লাহ তাদের হিফাযত করেছেন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম শতাব্দীতে আকিদাই ছিল প্রভাবশালী এবং এর জন্য কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থ বা সংকলনের প্রয়োজন ছিল না। নস বা কুরআন-সুন্নাহর ভাষ্যসমূহে যা বিদ্যমান ছিল তার অতিরিক্ত কোনো উসুল (মূলনীতি) এবং মানহাজ সাব্যস্ত করার প্রয়োজনও ছিল না।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌مرحلة القرن الثاني

المرحلة الثانية: مرحلة ما ظهر في القرن الثاني، وقد استجد فيها على أئمة المسلمين أمر، وهو الرد على أهل البدع، وصاحب هذا الرد ضرورة وضع الموازين والأصول الأولى في مهمات العقيدة، كالإيمان تعريفه ومسماه وزيادته ونقصانه، والقدر ومفهومه، والرؤية، وكلام الله وأسمائه وصفاته، فهذه الأمور كانت في القرن الأول تفهم جملة، وما كان الناس يتحدثون عن جزئياتها؛ لأنهم يفقهونها في الجملة.

وأما في القرن الثاني فظهرت المرحلة الثانية، وهي ضرورة الدفاع عن هذه الأصول وإبرازها كأصول مستقلة لها حدود تعرف بها وتفهم عند الناس، ووضعت لها ضوابط معينة، وظهرت مسألة الاستدلال الشامل على هذه المسائل، بمعنى أنه اضطر أئمة الدين إلى أن يأخذوا الأدلة من الكتاب والسنة، ويبرزوها مستقلة إما على شكل كتب أو مصنفات، وإما على شكل مناظرات أو مجالس علمية في موضوع ما، كما في الرؤية، حيث استقيت نصوص الرؤية وظهرت في هذا الوقت جلية؛ لأنه ظهر من أنكر الرؤية وتكلم بذلك، وكذلك كلام الله، والقرآن، ومسألة أسماء الله وصفاته، فأبرزت النصوص المستقلة في هذا الأمر، وكذلك الوعد والوعيد، فاضطر السلف إلى أن يأخذوا نصوص الوعد ويبرزوها، ثم نصوص الوعيد ويبرزوها، وأخذوا منهجاً وسطاً -وهو منهج الحق- بين الوعد والوعيد، وهكذا بين منكري القدر والجبرية وغيرهم.

وفي المرحلة الثانية أيضاً ظهرت المصنفات الصغيرة في جزئيات العقيدة، في الرد على فرق بعينها، وفي كتابة المسائل المحدودة المعينة، لكنها مصنفات قليلة.
দ্বিতীয় শতাব্দীর পর্যায়

দ্বিতীয় পর্যায়: এটি হলো দ্বিতীয় শতাব্দীতে যা প্রকাশ পেয়েছে সেই পর্যায়। এই সময়ে মুসলিম ইমামগণের সামনে একটি নতুন বিষয় উপস্থিত হয়, আর তা হলো বিদআতিদের খণ্ডন করা। এই খণ্ডন প্রক্রিয়ার সাথে আকিদার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহে মানদণ্ড ও প্রাথমিক মূলনীতিসমূহ নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়; যেমন ইমানের সংজ্ঞা, এর নামকরণ এবং এর বৃদ্ধি ও হ্রাস; তকদির ও এর ধারণা; আল্লাহর দর্শন; এবং আল্লাহর কালাম ও আল্লাহর নাম ও গুণাবলি। এই বিষয়গুলো প্রথম শতাব্দীতে সামগ্রিকভাবে বোঝা হতো এবং মানুষ এগুলোর খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করত না; কারণ তারা তা সাধারণভাবে উপলব্ধি করতেন।

আর দ্বিতীয় শতাব্দীতে দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা হয়, যা হলো এই মূলনীতিসমূহকে রক্ষা করা এবং সেগুলোকে স্বতন্ত্র মূলনীতি হিসেবে উপস্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা, যাতে সেগুলোর এমন সুনির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে যার মাধ্যমে সেগুলো পরিচিত হয় এবং মানুষের কাছে বোধগম্য হয়। এগুলোর জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হয় এবং এই বিষয়গুলোতে সামগ্রিক দলীল উপস্থাপনের বিষয়টি সামনে আসে। এর অর্থ হলো, দ্বীনের ইমামগণ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দলীলসমূহ গ্রহণ করতে এবং সেগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ করতে বাধ্য হন; তা কিতাব বা রচনার আকারে হোক অথবা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর মুনাজারা বা ইলমি মজলিসের আকারে হোক। যেমনটি আল্লাহর দর্শনের ক্ষেত্রে হয়েছে, যেখানে দর্শন সংক্রান্ত নصوص (টেক্সট) সমূহ সংগ্রহ করা হয় এবং এই সময়ে তা সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়; কারণ যারা আল্লাহর দর্শনকে অস্বীকার করত তাদের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল এবং তারা এ বিষয়ে কথা বলতে শুরু করেছিল। অনুরূপভাবে আল্লাহর কালাম, কুরআন এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলির বিষয়সমূহ; ফলে এই বিষয়ে স্বতন্ত্র নصوص (টেক্সট) সমূহকে সামনে আনা হয়। তেমনিভাবে ওয়াদ (পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি) ও ওয়াইদ (শাস্তির ধমক) এর বিষয়টিও। ফলে সালাফগণ ওয়াদ-এর নصوصসমূহ গ্রহণ করে তা উপস্থাপন করতে এবং পুনরায় ওয়াইদ-এর নصوصসমূহ গ্রহণ করে তা প্রকাশ করতে বাধ্য হন। তারা ওয়াদ ও ওয়াইদ-এর মাঝে এবং তকদির অস্বীকারকারী ও জাবরিয়া এবং অন্যদের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেন—যা সত্যের পথ।

দ্বিতীয় পর্যায়ে আকিদার খুঁটিনাটি বিষয়ে ছোট ছোট রচনাও প্রকাশিত হয়, যা নির্দিষ্ট ফেরকাগুলোর খণ্ডনে এবং সুনির্দিষ্ট কিছু মাসআলা বর্ণনায় লিখিত হয়েছিল, তবে এ জাতীয় রচনার সংখ্যা ছিল অল্প।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مرحلة القرن الثالث

المرحلة الثالثة: القرن الثالث، وقد ظهر فيه اتجاه أشمل من الاتجاهات السابقة، وهو ضرورة، فحينما ظهرت البدع وظهرت لها أصول في الاعتقاد، وظهرت لها مصنفات وكتب شاملة؛ اضطر السلف إلى الكتابة في العقيدة في كتب الشاملة تجمع بين الأصول وبين النصوص المستدل بها، وبين الآثار المنقولة عن أئمة الدين الذين سبقوا في القرن الثاني والأول، وهذه المصنفات هي المصنفات الشاملة في أصول الدين في العقيدة، وهي المسماة بكتب السنن، أي: الآثار، وأغلبها في العقيدة، لا أقصد كتب الحديث، وإن كانت كتب الحديث اهتمت فعلاً بالعقيدة وبوبت لها، وهذا اتجاه جديد لم يكن يوجد في القرن الأول والثاني، والتبويب للعقائد في كتب الحديث هو -أيضاً- من سمات هذه المرحلة الثالثة، لكن من أبرز سماتها وجود المصنفات الشاملة التي تجمع بين النصوص والقواعد والمناهج والمفاهيم والتعريفات بمسائل أصول الدين والرد والمناقشة في وقت واحد، فكتب السنة الكبيرة بدأت في هذه المرحلة، مثل السنة للإمام أحمد، والسنة لـ عبد الله بن الإمام أحمد، وكذلك مؤلفات ابن سلام وابن أبي شيبة والدارمي وغيرهم من الأئمة الذين عاشوا في ذلك العصر.
তৃতীয় শতাব্দীর পর্যায়

তৃতীয় পর্যায়: তৃতীয় শতাব্দী, এতে পূর্ববর্তী ধারাগুলোর তুলনায় অধিকতর ব্যাপক একটি ধারার আবির্ভাব ঘটে এবং এটি ছিল সময়ের আবশ্যিক প্রয়োজন। কেননা যখন নবউদ্ভাবিত ভ্রষ্টতা বা বিদআত প্রকাশ পেল এবং আকিদার ক্ষেত্রে সেগুলোর মূলনীতিসমূহ সাব্যস্ত হলো এবং সেগুলোর সমর্থনে ব্যাপকভিত্তিক গ্রন্থাদি রচিত হলো; তখন সালাফগণ আকিদার বিষয়ে এমন সব পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনা করতে বাধ্য হলেন যেখানে দ্বীনের মৌলিক নীতিসমূহ, দলীল হিসেবে ব্যবহৃত মূল পাঠসমূহ এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীর পূর্বসূরি ইমামদের থেকে বর্ণিত আছার বা ঐতিহ্যের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। আর এই গ্রন্থগুলোই হলো আকিদার ক্ষেত্রে দ্বীনের মূলনীতি বিষয়ক সেই সব পূর্ণাঙ্গ সংকলন, যেগুলোকে 'সুনান' বা 'আছার' এর গ্রন্থ বলা হয় এবং এগুলোর অধিকাংশ বিষয়ই আকিদা বিষয়ক। আমি এখানে হাদিসের কিতাব বুঝাচ্ছি না, যদিও হাদিসের কিতাবগুলোও প্রকৃতপক্ষে আকিদার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে এবং এর জন্য স্বতন্ত্র অধ্যায় বিন্যাস করেছে। এটি ছিল একটি নতুন ধারা যা প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে ছিল না। হাদিসের কিতাবসমূহে আকিদা বিষয়ক অধ্যায় বিন্যাস করাও এই তৃতীয় পর্যায়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তবে এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এমন সব পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থের উপস্থিতি যা একই সাথে মূল পাঠ, নিয়মাবলী, পদ্ধতি, আকিদার মৌলিক বিষয়গুলোর ধারণা ও সংজ্ঞা এবং বিভ্রান্তি খণ্ডন ও পর্যালোচনার সমন্বয় ঘটায়। মূলত সুন্নাহর বৃহৎ গ্রন্থসমূহ এই পর্যায়েই শুরু হয়েছে, যেমন ইমাম আহমদের আস-সুন্নাহ, ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহর আস-সুন্নাহ, তদ্রূপ ইবনে সালাম, ইবনে আবি শায়বাহ, আদ-দারিমি এবং ঐ যুগে বসবাসকারী অন্যান্য ইমামগণের রচনাবলি।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌مرحلة القرن الرابع وما بعده

وبعد القرن الثالث جاءت المرحلة الرابعة، وهي مرحلة هيمنة كتب الكلام والمسائل الكلامية على الاتجاه العلمي في أغلب بلاد المسلمين، وهذا لا يعني أن عقيدة السلف اندثرت، بل كانت موجودة ولها رجالها ولها مصنفاتها ولها كتبها، لكن الذي ساد بين الناس في القرن الرابع وما بعده إلى عصر شيخ الإسلام ابن تيمية هو الاتجاهات الكلامية، اتجاهات الأشاعرة والماتريدية وغيرهم، حتى اتجاهات فرق الرافضة والباطنية ظهرت في تلك الفترة، وهيمنت جميعها على كثير من بلاد المسلمين، وسبب ظهور هذه الاتجاهات يرجع إلى أمور: منها ظهور دويلات الطوائف العقيدية، كدويلات العبيديين الفاطميين، ودويلات القرامطة والبويهية، ودويلات الخوارج كالرستمية، وما جاء بعدها فهذه الطوائف هيمنت على كثير من بلاد المسلمين، إذا لم نقل: إنه في هذه الفترة من القرن الرابع وما بعده كادت أن تهيمن على كل بلاد المسلمين، وهذه الهيمنة السياسية هي التي مكنت لهيمنة المذاهب الكلامية على المدارس والاتجاهات والصبغة العلمية العامة، حتى صار مذهب السلف لا يوجد إلا في رجاله، بمعنى أنه لا يتبنى سياسياً، وإلا فهو موجود في مدارسه واتجاهاته، وأهله ينافحون عنه وهم ظاهرون، بل هم المعتبرون عند الأمة في العموم، لكن مع ذلك هيمنت على أكثر المؤلفات والاتجاه العلمي المذاهب الكلامية إلى عصر شيخ الإسلام ابن تيمية.
চতুর্থ শতাব্দী ও তার পরবর্তী পর্যায়

তৃতীয় শতাব্দীর পর চতুর্থ পর্যায় শুরু হয়, আর এটি হলো অধিকাংশ মুসলিম ভূখণ্ডে ইলমী ধারার ওপর ইলমে কালামের কিতাবসমূহ এবং কালামী মাসআলাগুলোর আধিপত্যের পর্যায়। এর অর্থ এই নয় যে, সালাফদের আকিদা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল; বরং তা বিদ্যমান ছিল এবং এর নির্দিষ্ট ধারক-বাহক ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁদের রচিত গ্রন্থ ও কিতাবসমূহ বর্তমান ছিল। তবে চতুর্থ শতাব্দী থেকে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর যুগ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে যা প্রাধান্য পেয়েছিল তা হলো কালামী ধারাগুলো—অর্থাৎ আশায়েরা, মাতুরিদি এবং অন্যদের চিন্তাধারা। এমনকি সেই সময়ে রাফেজি এবং বাতিনি ফিরকাগুলোর চিন্তাধারাও প্রকাশ পেয়েছিল এবং এই সবগুলোই অনেক মুসলিম ভূখণ্ডের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল। এই ধারাগুলোর আবির্ভাবের কারণ বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল: এর মধ্যে অন্যতম হলো আকিদাগত বিভিন্ন উপদলীয় ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের উত্থান, যেমন উবাইদি ফাতেমি রাষ্ট্র, কারামিতা ও বুওয়াইহি রাষ্ট্র এবং রুস্তমীয়দের মতো খারিজি রাষ্ট্রসমূহ এবং তাদের পরবর্তী রাষ্ট্রগুলো। এই উপদলগুলো অনেক মুসলিম ভূখণ্ডের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল; যদি আমরা এ কথা না-ও বলি যে, চতুর্থ শতাব্দী এবং তার পরবর্তী এই সময়ে তারা প্রায় সমস্ত মুসলিম ভূখণ্ডের ওপর আধিপত্য কায়েম করে ফেলেছিল। মূলত এই রাজনৈতিক আধিপত্যই মাদ্রাসা, বুদ্ধিবৃত্তিক ধারা এবং সাধারণ ইলমী বৈশিষ্ট্যের ওপর কালামী মাযহাবগুলোর আধিপত্যকে সম্ভবপর করে তুলেছিল। এমনকি অবস্থা এমন হয়েছিল যে, সালাফদের মাযহাব কেবল এর অনুসারী ব্যক্তিবর্গের মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল—অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবে এটি গৃহীত ছিল না; নতুবা এটি তার মাদ্রাসা ও চিন্তাচেতনায় বিদ্যমান ছিল এবং এর অনুসারীরা এর সপক্ষে প্রতিরক্ষা করে যাচ্ছিলেন এবং তারা সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান ছিলেন। বরং সাধারণ উম্মতের কাছে তারাই নির্ভরযোগ্য ছিলেন। তবে তা সত্ত্বেও শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর যুগ পর্যন্ত অধিকাংশ রচনা এবং ইলমী ধারার ওপর কালামী মাযহাবগুলোই প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌جهود شيخ الإسلام في إظهار مذهب السلف

لقد انبرى شيخ الإسلام ابن تيمية لإظهار مذهب السلف إظهاراً علمياً قوياً بما آتاه الله من مواهب، فكانت جهوده تتلخص في أمور: الأمر الأول: استقراء أقوال السلف وإظهارها بارزة نقية واضحة ليس فيها لبس وليس فيها غبش؛ لأن آثار السلف كانت موجودة في وقته، ولكن كل يستدل بها على منهجه، حتى المتكلمون كانوا يستدلون بأقوال السلف على مناهجهم بأسلوبهم في الاستدلال، فكان هناك شيء من الغبش عند كثير من الناس، فجاء شيخ الإسلام ابن تيمية، فكان من أعظم أعماله أنه أبرز مناهج السلف وأقوالهم وعقائدهم وما هم عليه في كل فروع الدين ومسائله وأصوله إبرازاً واضحاً جلياً.

والأمر الثاني: أنه دافع دفاعاً لم يقم به أحد مثله، أعني: في العقيدة، فدافع دفاع المتمكن، واستعمل جميع وسائل الدفاع المباحة، ومن ذلك وسائل المتكلمين أنفسهم، والتزام مناهج السلف في اعتماد الاستدلال بالكتاب والسنة، والاستدلال بالآثار، واعتماد الإنصاف والعدل في القول، وتحري الحق، واعتماد استعمال البرهان العقلي وقلب الحجة على المنازع، وهذا مما برع فيه شيخ الإسلام ابن تيمية؛ حيث استعمل مناهج المنازعين لأهل السنة والجماعة ضدهم، كما في درء التعارض، وفي نقض التأسيس وفي غيرهما من كثير من الكتب؛ جعل وسائلهم في تأويل مسائل الدين وفي مجانبة أقوال السلف هي الحجة عليهم، لأنهم في الغالب قلبوا الاستدلالات، وسأضرب لكم مثالاً على قلب الاستدلال عند المتكلمين ليتضح منهج شيخ الإسلام ابن تيمية في إبراز هذه المسألة، فقاعدة المتكلمين -خاصة المتأخرين منهم- في وضع أصولهم التي تقوم على التأويل والمجاز والتعطيل أنهم يعتبرون النص ظنياً والعقل قطعياً، فما رأيكم في هذه القاعدة؟! أليست مقلوبة؟! ومع ذلك انطلت على صغار طلاب العلم وعلى بعض المتكلمين مدة طويلة، أي أن الأصل في النصوص الشرعية الظني والأصل في العقل القطعي، وهذا مصادم للفطرة والعقل السليم، لكن مع ذلك ساد، حتى صار هو القاعدة الكبرى التي يعتمد عليها المتكلمون، فـ شيخ الإسلام قلب عليهم هذا الاستدلال وأقر فيه الحق، وقال: العكس هو الصحيح، فالأدلة الشرعية هي القطعية؛ لأنها معصومة ولأنها صادرة عن المعصوم، والصادر عن المعصوم معصوم، وهو القطعي، وأدلتكم العقلية ظنية؛ لأنها صادرة عن البشر، والبشر ناقص، والصادر عن ناقص ناقص.

إذاً: أتقيسون الكامل -وهو وحي الله- بالناقص؟! بل ليس الأمر كذلك، أتجعلون الناقص هو الحاكم على الكامل؟! أيجوز هذا؟! فقلب عليهم مناهجهم.

إذاً: فشيخ الإسلام ابن تيمية أبرز مناهج السلف وعقيدتهم على هذا الشكل، ولم يأت بجديد، ومدرسته ليست مدرسة مستقلة، ومذهبه ليس بمذهب مستقل، وقد حماه الله تعالى من أن يبتدع أتباعه له مذهباً ينسبونه إليه، وهذه كرامة له، مع أنه أتى بشيء عجيب، وقام بجهد لم يقم به مثله في وقته ولا بعده، مع ذلك لم يكن لأتباعه تعصب، ولم تكن لهم ميزة تميزهم عن أهل السنة والجماعة، بل أتباعه هم أهل السنة والجماعة، أما لمز الخصوم فهذا لا يعتد به.

وأمر آخر أيضاً في عمل شيخ الإسلام ابن تيمية: هو أنه جمع بين التقرير والدفاع، بين تقرير العقيدة ببيانها وإيضاحها وشرحها وتفصيلها ولم يبتدع شيئاً، فكل ما قاله يستند فيه على الآثار بعد النصوص.

والأمر الثاني: أنه دافع دفاعاً قوياً، بمعنى أنه جلَّى مذاهب السلف وبينها ونقحها مما دخلها بسبب عبث المتكلمين.

وأمر آخر: هو أنه دافع عن كل اتهام لرجال السلف، وعن كل اتهام لرجال العقيدة، ثم فند أقوال الخصوم، فصار تراثه وعمله هو تراث أهل السنة والجماعة، ونسبته إليه إنما هي لأنه إمام من أئمة أهل السنة، لا لأنه انفرد بجهد أو جاء بجديد، أو نهج منهجاً غير منهج السلف، بل كل أصوله مبنية على مناهج السلف، لذلك لما خاصمه بعض المتكلمين في وقته فيما يتعلق ببعض التأويلات وبعض البدع تحداهم بتحد لم يجيبوا عليه إلى الآن، حيث قال: إن أصولكم لا يوجد ما يدل عليها عند السلف في القرون الثلاثة الفاضلة، وقال: أنا أمهلكم ثلاث سنين، فهاتوا لي إماماً واحداً من أئمة الدين المعتد بهم قال بقولكم الذي قلتم به في مسائل التأويل والإيمان ومسائل القدر وغيرها التي خالفتم فيها السلف، فوقفوا ثلاث سنين ولم يجيبوه، فبعد ذلك انتصرت السنة بحمد الله، ولا يزال منهج شيخ الإسلام ابن تيمية هو منهج السلف، ونسبته إليه ليست لأنه ابتدع شيئاً، إنما هي لأنه حرر مناهج السلف وبينها واستقرأها وكتب فيها ودافع عنها، فكان منهجه يتمثل في منهج أهل السنة والجماعة.
‌‌সালাফদের মাজহাব প্রকাশে শাইখুল ইসলামের প্রচেষ্টা

আল্লাহ প্রদত্ত মেধার মাধ্যমে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ সালাফদের মাজহাবকে বলিষ্ঠ জ্ঞানতাত্ত্বিক রূপে ফুটিয়ে তোলার জন্য সচেষ্ট হয়েছিলেন। তাঁর প্রচেষ্টাগুলো মূলত কিছু বিষয়ে সারসংক্ষেপ করা যায়: প্রথমত: সালাফদের বাণীসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান এবং সেগুলোকে কোনো প্রকার অস্পষ্টতা ও জটিলতা ছাড়াই সুস্পষ্ট ও বিশুদ্ধরূপে প্রকাশ করা; কারণ সালাফদের আসসার (চিহ্ন বা বর্ণনা) তাঁর সময়েও বিদ্যমান ছিল, কিন্তু প্রত্যেকেই সেগুলোকে নিজ নিজ মানহাজের পক্ষে দলিল হিসেবে ব্যবহার করত। এমনকি মুতাকাল্লিমগণও তাদের নিজস্ব দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতিতে সালাফদের বাণী দ্বারা নিজেদের মতাদর্শের স্বপক্ষে দলিল পেশ করত। ফলে অনেকের কাছেই বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল। এমতাবস্থায় শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আসলেন এবং তাঁর মহান কাজগুলোর অন্যতম ছিল দ্বীনের সকল শাখা-প্রশাখা, মাসআলা ও মূলনীতিতে সালাফদের মানহাজ, বক্তব্য ও আকীদাসমূহকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা।

দ্বিতীয়ত: তিনি এমনভাবে প্রতিরক্ষা করেছেন যা তাঁর মতো আর কেউ করতে পারেনি, অর্থাৎ আকীদার ক্ষেত্রে। তিনি অত্যন্ত দক্ষভাবে প্রতিরক্ষা করেছেন এবং সকল বৈধ প্রতিরক্ষামূলক মাধ্যম ব্যবহার করেছেন, যার মধ্যে মুতাকাল্লিমদের নিজস্ব পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি কুরআন, সুন্নাহ এবং আসসারের ওপর ভিত্তি করে দলিল প্রদানের ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজের প্রতি দায়বদ্ধ ছিলেন। বক্তব্যের ক্ষেত্রে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার এবং সত্য অনুসন্ধানে অবিচল থাকা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ ব্যবহার ও প্রতিপক্ষের যুক্তি তাদের বিরুদ্ধেই ঘুরিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন। এটি এমন একটি বিষয় যাতে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ পারদর্শী ছিলেন; কারণ তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিরোধীদের মানহাজগুলো তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করেছিলেন, যেমনটি 'দারউত তাআরুদ' এবং 'নাকদুত তাসিস' সহ তাঁর অন্যান্য অনেক কিতাবে দেখা যায়। তিনি দ্বীনি বিষয়াবলির ব্যাখ্যায় এবং সালাফদের বক্তব্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মাধ্যমগুলোকেই তাদের বিরুদ্ধে হুজ্জাত বা প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন। কারণ তারা সাধারণত দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতিকে উল্টে দিয়েছিল। মুতাকাল্লিমদের দলিল উল্টে দেওয়ার একটি উদাহরণ আমি আপনাদের দেব যাতে এই বিষয়টি ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মানহাজ স্পষ্ট হয়। মুতাকাল্লিমদের—বিশেষ করে পরবর্তীকালের মুতাকাল্লিমদের—মূলনীতি হলো তাদের উসুল বা মূলনীতি প্রণয়নে তারা তাবিল (ব্যাখ্যা), মাজায (রূপক) এবং তা'তীল (নিষ্ক্রিয়করণ)-এর ওপর নির্ভর করে। তারা টেক্সট বা নস-কে 'জন্নি' (ধারণামূলক) এবং আকল বা বুদ্ধিকে 'কাতয়ি' (অকাট্য) বলে গণ্য করে। এই মূলনীতি সম্পর্কে আপনাদের মতামত কী?! এটি কি উল্টো নয়?! তা সত্ত্বেও এটি দীর্ঘকাল ধরে ইলমে দীনের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং কিছু মুতাকাল্লিমদের বিভ্রান্ত করেছিল। অর্থাৎ শরয়ি নস বা পাঠ্যসমূহ মূলগতভাবে ধারণামূলক এবং বুদ্ধি মূলগতভাবে অকাট্য—এটি ফিতরাত বা সহজাত প্রবৃত্তি এবং সুস্থ বিবেকের বিরোধী। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি প্রাধান্য বিস্তার করেছিল, এমনকি এটিই মুতাকাল্লিমদের প্রধান অবলম্বনযোগ্য মূলনীতিতে পরিণত হয়েছিল। অতঃপর শাইখুল ইসলাম এই দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতিটি তাদের বিরুদ্ধেই ঘুরিয়ে দিলেন এবং সত্য প্রতিষ্ঠিত করলেন। তিনি বললেন: এর বিপরীতটাই সঠিক। শরয়ি দলিলসমূহ হলো অকাট্য; কারণ সেগুলো নির্ভুল এবং নিষ্পাপ সত্তা থেকে আগত। আর যা নিষ্পাপ সত্তা থেকে আসে তা নির্ভুল এবং অকাট্য। আর তোমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলসমূহ হলো ধারণামূলক; কারণ তা মানুষের পক্ষ থেকে আসা, আর মানুষ অপূর্ণাঙ্গ, তাই অপূর্ণাঙ্গের পক্ষ থেকে যা আসে তা অপূর্ণাঙ্গই হয়।

তবে কি আপনারা পূর্ণাঙ্গকে—যা আল্লাহর ওহী—অপূর্ণাঙ্গের সাথে তুলনা করছেন?! বরং বিষয়টি এমন নয়, আপনারা কি অপূর্ণাঙ্গকে পূর্ণাঙ্গের ওপর বিচারক বানাচ্ছেন?! এটি কি বৈধ?! এভাবে তিনি তাদের মানহাজগুলোকে তাদের বিরুদ্ধেই উল্টে দিয়েছিলেন।

সুতরাং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ সালাফদের মানহাজ ও আকীদাকে এই রূপেই ফুটিয়ে তুলেছেন এবং তিনি নতুন কিছু নিয়ে আসেননি। তাঁর পাঠশালা কোনো স্বতন্ত্র মতবাদ নয় এবং তাঁর মাজহাবও কোনো স্বতন্ত্র মাজহাব নয়। মহান আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করেছেন যেন তাঁর অনুসারীরা তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত কোনো নতুন মাজহাব উদ্ভাবন না করে। এটি তাঁর জন্য একটি কারামত, যদিও তিনি বিস্ময়কর কাজ করেছেন এবং এমন প্রচেষ্টা চালিয়েছেন যার নজির তাঁর সময়ে বা তাঁর পরে আর কেউ করতে পারেনি। তা সত্ত্বেও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে কোনো গোঁড়ামি ছিল না এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত থেকে আলাদা করার মতো কোনো বৈশিষ্ট্য তাদের ছিল না। বরং তাঁর অনুসারীরাই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত। আর বিরোধীদের অপবাদ বা বিদ্রূপের কোনো গুরুত্ব নেই।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর কাজের আরও একটি দিক হলো: তিনি আকীদা সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং প্রতিরক্ষা করার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছেন। আকীদাকে বর্ণনা, স্পষ্টীকরণ, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি নতুন কিছু উদ্ভাবন করেননি। তিনি যা কিছু বলেছেন তার সবই নস বা অহি-র পর আসসারের (সালাফদের বর্ণনা) ওপর ভিত্তি করে ছিল।

দ্বিতীয়ত: তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিরক্ষা করেছেন, যার অর্থ হলো তিনি সালাফদের মাজহাবসমূহকে উজ্জ্বল করেছেন, সেগুলো বর্ণনা করেছেন এবং মুতাকাল্লিমদের অনর্থক হস্তক্ষেপের কারণে তাতে যা কিছু অনুপ্রবেশ করেছিল তা থেকে সেগুলোকে পরিমার্জন করেছেন।

আরেকটি বিষয় হলো: তিনি সালাফে সালেহীন এবং আকীদার ইমামদের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগের প্রতিরক্ষা করেছেন। এরপর তিনি প্রতিপক্ষের বক্তব্যগুলোকে খণ্ডন করেছেন। ফলে তাঁর উত্তরাধিকার ও কাজ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। তাঁর দিকে এর সম্পৃক্ততা কেবল এজন্য যে তিনি আহলুস সুন্নাহর ইমামদের মধ্যে একজন ইমাম ছিলেন, এজন্য নয় যে তিনি একক কোনো নতুন প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন বা নতুন কিছু নিয়ে এসেছিলেন অথবা সালাফদের মানহাজ ছাড়া অন্য কোনো মানহাজ অনুসরণ করেছিলেন। বরং তাঁর সকল মূলনীতি সালাফদের মানহাজের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এজন্যই তাঁর সময়ের কিছু মুতাকাল্লিম যখন কিছু অপব্যাখ্যা এবং বিদআতের বিষয়ে তাঁর সাথে তর্কে লিপ্ত হয়েছিল, তখন তিনি তাদের এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন যার উত্তর তারা আজ পর্যন্ত দিতে পারেনি। তিনি বলেছিলেন: তোমাদের এই মূলনীতিগুলোর সপক্ষে প্রথম তিন শ্রেষ্ঠ যুগের সালাফদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বলেছিলেন: আমি তোমাদের তিন বছর সময় দিচ্ছি, দ্বীনের গ্রহণযোগ্য ইমামদের মধ্য থেকে এমন একজন ইমামের নাম দেখাও যিনি তাবিল (ব্যাখ্যা), ঈমান এবং তাকদিরের মাসআলাগুলোতে তোমাদের মতো কথা বলেছেন যেখানে তোমরা সালাফদের বিরোধিতা করেছ। তারা তিন বছর পার করে দিল কিন্তু কোনো উত্তর দিতে পারল না। এরপর আল্লাহর প্রশংসায় সুন্নাহ বিজয়ী হলো। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মানহাজ আজও সালাফদের মানহাজ হিসেবেই স্বীকৃত। তাঁর প্রতি এর সম্পৃক্ততা একারণে নয় যে তিনি নতুন কিছু উদ্ভাবন করেছেন, বরং একারণে যে তিনি সালাফদের মানহাজকে সুবিন্যস্ত করেছেন, স্পষ্ট করেছেন, অনুসন্ধান করেছেন, সে বিষয়ে লিখেছেন এবং তার প্রতিরক্ষা করেছেন। ফলে তাঁর মানহাজ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজেরই প্রতিফলন।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌حقيقتان في منهج أهل السنة
আহলুস সুন্নাহর মানহাজে দু’টি বাস্তবতা
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تقرير أهل السنة للاعتقاد العاصم في مسائل زلات الفرق

قال: [وخليق بنا أن نذكر هنا حقيقتين كبيرتين: الأولى: أن أهل السنة والجماعة وهم يبينون العقيدة المنجية في توحيد الله تعالى وما يلحق بها من شعب الإيمان الأخرى، يُجْلُون في الوقت نفسه ووفق المنهج المعتمد وفي ذات السياق الاعتقاد العاصم في مسائل عدالة الصحابة وتفضيل الخلفاء الأربعة الراشدين: أبي بكر وعمر وعثمان وعلي، وخيرية القرون الأولى، والإمامة، وعدم منازعة الأمر أهله، ومضي الجهاد، والكف عن تكفير المسلمين بالمعاصي والذنوب التي هي دون الشرك الأكبر وهي مما اختلف فيه، ووحدة الجماعة، والتزام المنهج الصحيح في فهم الدين.

إن هذا الترابط الموضوعي والمنهجي بين التوحيد وبين هذه المسائل يدل على: أ- أن التوحيد هو المنهج الحاكم الذي يجب أن تفهم كل مسألة في هداه.

ب- أن الانحراف في هذه المسائل ذريعة إلى جرح التوحيد وإمراضه.

مثال ذلك: عدالة الصحابة، فإن القدح في هذه العدالة ذريعة إلى رد آيات قرآنية أخبرت بفضل الصحابة وعدالتهم، ورد القرآن إلحاد من الإلحاد.

جـ- أن الذين جادلوا في الباطل في القديم والحديث في هذه المسائل لم يعرفوا بصحة العقيدة].

فيما يتعلق بعدالة الصحابة أحب أن أشير إلى ظاهرة ظهرت كثيراً في الكتاب المحدثين، وهي: التجرؤ على بعض الصحابة، على جملة منهم أو واحد أو اثنين أو أكثر باختلاف نزعات هؤلاء الكتاب، لكن أحب أن أشير إلى أمر مقرر عند السلف، وهو أن القدح في صحابي واحد -أياً كان- في دينه وعدالته هو ابتداع وعلامة نفاق، ومن قدح فهو مبتدع، بل من علامات أهل البدع القدح في بعض الصحابة، وهي من علامات الزيغ نسأل الله العافية، ولا يعني ذلك أن الصحابة معصومون، لكن الصحابة أجمعت الأمة على عدالتهم في الجملة، وعلى أن القدح في أحدهم إنما هو زيغ ونفاق، فإذا كان كذلك فهذا يعني أن هذه الظاهرة إنما هي علامة ابتداع في هذا العصر، وقد كثرت حتى بين كتاب ينتمون إلى الدعوات الإسلامية والفكر الإسلامي، ولا يتورعون عن القدح في صحابي ما أو نسبة بعض البدع إليه، كمن ينسبون بعض الأمور إلى عثمان رضي الله عنه، أو بعض الأمور إلى أبي ذر رضي الله عنه، أو إلى أبي الدرداء، أو إلى ابن مسعود أو إلى غيرهم، وبعضهم يتهم بعض الصحابة ببعض الأهواء، حتى لو لم ينسب إليه بدعة معينة، فربما قدح فيه ليطعن في قوله أو في روايته، حتى ظهر فيمن ينتسبون إلى المتكلمين في العصر الحديث من يقول بأن الأحاديث التي رواها متأخرو الصحابة في الصفات لا تؤخذ، وهذا قدح مبطن.

أقول هذا لأن هذه المقولات كثرت في الكتب التي بين أيدينا، وأنا أقول: الذي أعرفه من منهج السلف وأئمة الدين أن القدح في الصحابي ابتداع، وهو علامة الزيغ نسأل الله العافية.
‌ফিরকাসমূহের বিচ্যুতিপূর্ণ মাসআলাগুলোতে আহলুস সুন্নাহর সুরক্ষিত আকিদার বিবরণ

তিনি বলেন: [এখানে আমাদের জন্য দুটি বড় সত্য উল্লেখ করা সমীচীন: প্রথমটি হলো: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত যখন মহান আল্লাহর তাওহীদ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ঈমানের অন্যান্য শাখাগুলোর ক্ষেত্রে মুক্তিদানকারী আকিদা বর্ণনা করেন, তখন তারা একই সাথে অনুমোদিত মানহাজ অনুযায়ী এবং একই প্রেক্ষাপটে সাহাবায়ে কিরামের ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত), চার খলীফায়ে রাশেদীন: আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীর শ্রেষ্ঠত্ব, প্রথম যুগের শ্রেষ্ঠত্ব, ইমামত, যোগ্য কর্তৃপক্ষের সাথে বিবাদে লিপ্ত না হওয়া, জিহাদ অব্যাহত থাকা, এবং কবীরা গুনাহ যা শিরকে আকবর নয় এবং যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে তার কারণে মুসলিমদের কাফির বলা থেকে বিরত থাকা, জামাআতের ঐক্য এবং দ্বীন বোঝার ক্ষেত্রে সঠিক মানহাজ অনুসরণের মতো বিষয়গুলোতেও সুরক্ষিত আকিদা সুস্পষ্ট করেন।

নিশ্চয়ই তাওহীদ এবং এই মাসআলাগুলোর মধ্যে এই বিষয়গত ও পদ্ধতিগত সম্পর্ক প্রমাণ করে যে: ক- তাওহীদ হলো এমন এক পরিচালনাগত মানহাজ, যার আলোকে প্রতিটি মাসআলা বুঝতে হবে।

খ- এই মাসআলাগুলোতে বিচ্যুতি তাওহীদকে আঘাত ও কলুষিত করার মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়।

উদাহরণস্বরূপ: সাহাবায়ে কিরামের ন্যায়পরায়ণতা; কেননা এই ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে কটাক্ষ করা সেই সমস্ত কুরআনের আয়াত প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় যা সাহাবায়ে কিরামের মর্যাদা ও ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছে; আর কুরআন প্রত্যাখ্যান করা এক প্রকার নাস্তিক্য।

গ- এই মাসআলাগুলো নিয়ে যারা প্রাচীন ও বর্তমানকালে বাতিল তর্কে লিপ্ত হয়েছে, তারা আকিদার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে অবগত ছিল না]।

সাহাবায়ে কিরামের ন্যায়পরায়ণতার বিষয়ে আমি আধুনিক লেখকদের মধ্যে বহুল প্রচলিত একটি প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করতে চাই, তা হলো: সাহাবায়ে কিরামের কারো কারো ওপর দুঃসাহস দেখানো—তাদের একটি দল বা একজন কিংবা দুইজন বা তারও বেশির ওপর, এই লেখকদের ঝোঁক ও প্রবণতার ভিন্নতা অনুযায়ী। কিন্তু আমি সালাফদের নিকট প্রতিষ্ঠিত একটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করতে চাই, তা হলো: একজন সাহাবীর দ্বীনদারি ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে কটাক্ষ করা—তিনি যেই হোন না কেন—তা বিদাআত এবং নিফাকের লক্ষণ। আর যে কটাক্ষ করে সে বিদাআতী; বরং আহলে বিদআতের অন্যতম আলামত হলো সাহাবায়ে কিরামের কারো কারো সমালোচনা করা, এবং এটি বক্রতার অন্যতম লক্ষণ, আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাই। এর অর্থ এই নয় যে সাহাবায়ে কিরাম মাসুম বা নিষ্পাপ, তবে উম্মত সর্বসম্মতিক্রমে তাদের সামগ্রিক ন্যায়পরায়ণতার ওপর একমত হয়েছে এবং এটিও যে, তাদের কারো সমালোচনা করা পথভ্রষ্টতা ও নিফাক। যদি বিষয়টি তাই হয়, তবে এর অর্থ হলো এই প্রবণতা বর্তমান যুগে একটি বিদাআতী আলামত। এটি এমনকি ইসলামী দাওয়াত ও ইসলামী চিন্তাধারার সাথে সম্পৃক্ত লেখকদের মাঝেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা কোনো সাহাবীর সমালোচনা করতে বা তার দিকে কোনো বিদাআত সম্বন্ধ করতে দ্বিধাবোধ করে না, যেমন কেউ কেউ উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু), আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু), আবু দারদা, ইবনে মাসউদ বা অন্যদের দিকে কিছু বিষয় সম্বন্ধ করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাহাবায়ে কিরামের কারো কারো বিরুদ্ধে প্রবৃত্তির অনুসরণের অভিযোগ আনে, যদিও সরাসরি তার দিকে কোনো নির্দিষ্ট বিদাআত সম্বন্ধ না করে, তবুও হয়তো তার বক্তব্য বা বর্ণনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য তার সমালোচনা করে। এমনকি আধুনিক যুগে মুতাকাল্লিমদের সাথে সম্পৃক্তদের মধ্যে এমন লোকও প্রকাশ পেয়েছে যারা বলে যে, পরবর্তী সময়ের সাহাবীদের বর্ণিত আল্লাহর গুণাবলী সংক্রান্ত হাদিসগুলো গ্রহণ করা হবে না; এটি মূলত একটি প্রচ্ছন্ন আক্রমণ।

আমি এই কথাগুলো বলছি কারণ আমাদের হাতের নাগালে থাকা বইগুলোতে এই বক্তব্যগুলো অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি বলছি: সালাফ এবং দ্বীনের ইমামগণের মানহাজ থেকে আমি যা জানি তা হলো, সাহাবীর সমালোচনা করা বিদাআত এবং এটি বক্রতার লক্ষণ, আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাই।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌عقيدة أهل السنة عقيدة أئمة الدين

قال: [الثانية: أن جمهور علماء أهل السنة والجماعة وأئمتهم من المذاهب الأربعة المشهورة وغيرها على عقيدة واحدة، وإن اختلفت في الفروع الاجتهادية، وقد كتب في ذلك علماء مشهورون من مختلف المذاهب، كالإمام الطحاوي الحنفي في عقيدته هذه، وكالإمام أحمد رحمه الله فيما نقل عنه من رسائل وإجابات في العقائد، وكالإمام البخاري، وكـ ابن زيد القيرواني المالكي في رسالته المشهورة، وكالإمام عبد القهار بن طاهر البغدادي في كتابه (الفرق بين الفرق) وغيرهم].
আহলুস সুন্নাহর আকিদা হলো দ্বীনের ইমামগণের আকিদা

তিনি বলেন: [দ্বিতীয়ত: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের জুমহুর আলেম এবং চার প্রসিদ্ধ মাযহাব ও অন্যান্য মাযহাবের ইমামগণ একটিমাত্র আকিদার ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত, যদিও ইজতিহাদি শাখা-প্রশাখায় তাঁদের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। আর এ বিষয়ে বিভিন্ন মাযহাবের প্রসিদ্ধ আলেমগণ লিখেছেন, যেমন ইমাম তহাবি হানাফি তাঁর এই আকিদা গ্রন্থে, ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) আকিদা বিষয়ক তাঁর থেকে বর্ণিত বিভিন্ন রিসালা ও উত্তরসমূহে, ইমাম বুখারি, ইবনে যায়েদ আল-কাইরাওয়ানি মালিকি তাঁর প্রসিদ্ধ রিসালাতে, ইমাম আব্দুল কাহির বিন তাহির আল-বাগদাদি তাঁর ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’ গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা]।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌آثار شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى

قال: [لقد بارك الله في جهاد ابن تيمية رحمه الله، فجعل له أثراً صالحاً باقياً ماثلاً في مدرسة علمية وفكرية متكاملة لها منهجها وأسلوبها وطابعها.

فمن هذا الأثر تلاميذه وفي مقدمتهم شيخ الإسلام ابن قيم الجوزية.

قال الحافظ ابن حجر العسقلاني: فالواجب على من تلبس بالعلم وكان له عقل أن يتأمل كلام الرجل من تصانيفه المشهورة، أو من ألسنة من يوثق به من أهل النقل، ولو لم يكن للشيخ تقي الدين إلا تلميذه الشيخ شمس الدين ابن قيم الجوزية صاحب التصانيف النافعة السائرة التي انتفع بها الموافق والمخالف؛ لكان غاية في الدلالة على عظم منزلته.

وقال شيخ الإسلام التفهني الحنفي: والإنسان إذا لم يخالط ولم يعاشر يستدل على أحواله وأوصافه بآثاره، ولو لم يكن من آثاره -أي: ابن تيمية - إلا ما اتصف به تلميذه ابن قيم الجوزية من العلم لكفى ذلك دليلاً على ما قلناه.

ومن هذا الأثر كتبه الكثيرة العدد النفيسة القيمة الواسعة الانتشار.

ومن هذا الأثر ثناء المؤمنين عليه في كل زمان ومكان].

مما هو معروف عند أئمة السلف أن الطعن في أئمة الدين الكبار إنما هو من علامات أهل البدع، ولا يعني ذلك أن أئمة الدين الكبار معصومون كل العصمة، لكنهم يمثلون القدوة للأمة، والطعن فيهم على سبيل اللمز أو على سبيل الطعن فيما جاء عنهم أو التهكم إنما هو طعن في مذاهب السلف وفي سبيل الأمة أو الجماعة، فمثلاً: الطعن في الإمام أحمد رحمه الله من علامات أهل البدع أياً كان هذا الطعن، ولا يتصور أن يكون الطعن طعناً مباشراً، فأغلب الذين يتعرضون للأئمة الكبار يتعرضون لهم بتلبيس من الكلم، بمعنى أنا نجد أن أحدهم قد يثني على مثل الإمام أحمد فيقول: وهو إمام في الدين، وله كذا وكذا، لكنه في قوله بالصفات ذهب إلى مذهب الحشوية أو إلى مذهب كذا، فيثني ثم يلمز، وهذه من علامات أهل البدع، لا يجرئون على الطعن في الجملة في أئمة الدين أو في الإمام الواحد، إنما يثنون ثم يلمزون، ومثله الإمام البخاري والإمام مسلم أو ابن تيمية أو ابن القيم أو غيرهم من الأئمة الذين رضي أهل السنة والجماعة في الجملة هديهم وما جاءوا به وما هم عليه، وكونهم يخطئون في بعض الأمور أمر يجب أن نقول به، بمعنى أنهم قد يخطئون في بعض الأمور؛ لأنه لا يمكن أن يكونوا معصومين، إلا أن ما يقع منهم من خطأ لا يوصل إلى الطعن فيهم، هذا أمر.

والأمر الآخر: أنهم بإمامتهم وجلالتهم قدوة المسلمين، واستهداف أشخاصهم إنما هو استهداف للقدوة، ثم هو استهداف للدين.

والأمر الثالث: أن هناك فرقاً بين الطعن وبين النقاش، فيجوز لمن آتاه الله علماً أن يقول: أرى أن فلاناً من الأئمة لم يقصد كذا، أو: عذره في الأمر الفلاني كذا، أو: إن الدليل هو كذا، ولا يطعن في الشخص، أما إذا طعن في إمام من الأئمة فهذا علامة ابتداع، ولا يزال من أبرز علامات المبتدعة الطعن في مثل شيخ الإسلام ابن تيمية والإمام أحمد وغيرهما، وكذلك اللمز والطعن غير المباشر، كما هو موجود في بعض الاتجاهات الحديثة عند المتكلمين.
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহু তাআলার কর্মসমূহ

তিনি বলেন: [নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহর জিহাদে বরকত দান করেছেন, ফলে তিনি তাঁর জন্য একটি নেক প্রভাব রেখে গেছেন যা একটি পূর্ণাঙ্গ ইলমি ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিদ্যাপীঠ হিসেবে অবশিষ্ট এবং বিদ্যমান রয়েছে, যার নিজস্ব মানহাজ, শৈলী ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

এই প্রভাবের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর ছাত্রবৃন্দ, যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন শাইখুল ইসলাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ।

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী বলেন: সুতরাং যার ইলমের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং যার বিচারবুদ্ধি আছে, তার ওপর আবশ্যক হলো এই ব্যক্তির বক্তব্য সম্পর্কে তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ থেকে অথবা রেওয়ায়েতকারীদের মধ্যে যাদের ওপর আস্থা রাখা যায় তাদের মাধ্যমে গভীর চিন্তা করা। শাইখ তাকীউদ্দীন (ইবনে তাইমিয়্যাহ)-এর যদি তাঁর ছাত্র শাইখ শামসুদ্দীন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ ছাড়া অন্য কেউ না থাকত—যিনি এমন সব উপকারী ও সুপ্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের রচয়িতা যা থেকে অনুসারী ও বিরোধী সকলেই উপকৃত হয়েছে—তবে তাঁর মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য এটিই যথেষ্ট হতো।

শাইখুল ইসলাম আত-তাফহানী আল-হানাফী বলেন: মানুষ যখন কারও সাথে মেলামেশা বা বসবাস করে না, তখন তার অবস্থা ও গুণাবলী সম্পর্কে তার কর্মসমূহ (আসার) দ্বারা প্রমাণ পাওয়া যায়। যদি ইবনে তাইমিয়্যাহর কর্মসমূহের মধ্যে তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর অর্জিত ইলম ছাড়া আর কিছুই না থাকত, তবে আমরা যা বলেছি তার প্রমাণ হিসেবে সেটিই যথেষ্ট হতো।

এই প্রভাবের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর অসংখ্য মূল্যবান, মর্যাদাপূর্ণ এবং ব্যাপকভাবে প্রচলিত কিতাবসমূহ।

এই প্রভাবের আরও একটি হলো প্রতিটি যুগে এবং প্রতিটি স্থানে মুমিনদের তাঁর প্রতি প্রশংসা।]

সালাফ আইম্মায়ে কেরামের নিকট এটি সুপরিচিত যে, দ্বীনের মহান ইমামদের সমালোচনা করা বিদআতিদের লক্ষণ। এর অর্থ এই নয় যে, দ্বীনের এই মহান ইমামগণ সম্পূর্ণরূপে ভুলত্রুটিমুক্ত (মাসুম), বরং তাঁরা উম্মাহর জন্য আদর্শ। তাঁদের সম্পর্কে বিদ্রূপাত্মক উক্তি করা বা তাঁদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সে বিষয়ে অপবাদ দেওয়া অথবা উপহাস করা আসলে সালাফদের মাযহাব এবং উম্মাহ বা জামাআতের পথের ওপরই আক্রমণ। উদাহরণস্বরূপ: ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহর সমালোচনা করা বিদআতিদের একটি লক্ষণ, সেই সমালোচনা যেমনই হোক না কেন। এমনটি ভাবা যায় না যে সেই সমালোচনা সবসময় সরাসরি হবে, বরং যারা মহান ইমামদের ওপর আক্রমণ করে, তাদের অধিকাংশই শব্দের মারপ্যাঁচ বা অস্পষ্টতা তৈরি করে তা করে। যেমন আমরা দেখতে পাই যে, তাদের কেউ হয়তো ইমাম আহমাদের প্রশংসা করে বলে: তিনি দ্বীনের একজন ইমাম, তাঁর এই এই অবদান রয়েছে, কিন্তু সিফাত (গুণাবলি) সংক্রান্ত বক্তব্যের ক্ষেত্রে তিনি হাশাবিয়্যাহ মাযহাব বা অমুক মাযহাবের দিকে গেছেন। এভাবে সে প্রথমে প্রশংসা করে, পরে বিদ্রূপ করে। এটি বিদআতিদের অন্যতম লক্ষণ; তারা সাধারণভাবে দ্বীনের ইমামদের বা কোনো নির্দিষ্ট ইমামের সরাসরি সমালোচনা করার সাহস পায় না, বরং প্রথমে প্রশংসা করে তারপর বিদ্রূপ করে। একই কথা ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়্যিম অথবা অন্যান্য ইমামদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত সাধারণভাবে যাদের আদর্শ ও শিক্ষা এবং তাঁরা যে পথের ওপর ছিলেন তার ওপর সন্তুষ্ট হয়েছে। তাঁরা কোনো কোনো বিষয়ে ভুল করতে পারেন—এটি আমাদের বলতেই হবে, অর্থাৎ কিছু বিষয়ে তাঁদের ভুল হওয়া সম্ভব; কারণ তাঁদের মাসুম হওয়া অসম্ভব। তবে তাঁদের থেকে যে ভুল প্রকাশ পায়, তা তাঁদের সমালোচনার পর্যায়ে নিয়ে যায় না—এটি একটি বিষয়।

দ্বিতীয় বিষয় হলো: তাঁরা তাঁদের ইমামত এবং শ্রেষ্ঠত্বের কারণে মুসলিমদের আদর্শ; তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো মানে হলো আদর্শকে লক্ষ্যবস্তু বানানো, যা প্রকারান্তরে দ্বীনকেই লক্ষ্যবস্তু বানানো।

তৃতীয় বিষয় হলো: সমালোচনা এবং আলোচনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আল্লাহ যাকে ইলম দান করেছেন তার জন্য এটি বৈধ যে সে বলবে: আমি মনে করি অমুক ইমাম এটি উদ্দেশ্য করেননি, অথবা: অমুক বিষয়ে তাঁর ওজর ছিল এই, অথবা: দলীল হলো এটি—এক্ষেত্রে সে ব্যক্তির সমালোচনা করবে না। কিন্তু যদি সে কোনো ইমামের নিন্দা বা সমালোচনা করে, তবে তা বিদআতের লক্ষণ। বিদআতিদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইমাম আহমাদ এবং তাঁদের মতো অন্যদের সমালোচনা করা। তেমনিভাবে পরোক্ষ বিদ্রূপ ও সমালোচনাও বিদআতের লক্ষণ, যা বর্তমানে মুতাকাল্লিমদের (কালামশাস্ত্রবিদ) কিছু আধুনিক ধারার মধ্যে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌مدرسة ابن تيمية في العصر الحديث
আধুনিক যুগে ইবনে তাইমিয়্যার চিন্তাধারা
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌جهود الملك عبد العزيز في نشر عقيدة أهل السنة

قال: [مدرسة ابن تيمية في العصر الحديث.

مضى على عصر ابن تيمية أربعة قرون تقريباً، ولم تخل هذه القرون الأربعة من داعية للحق قائم بعقيدة أهل السنة والجماعة، ولكن حدثاً وقع في النصف الثاني من القرن الثاني عشر الهجري كان له الأثر الكبير في انتشار عقيدة أهل السنة والجماعة والالتزام بمنهجهم في الفهم والتطبيق، ذلكم هو قيام الدولة السعودية في جزيرة العرب مناصرة للدعوة الإصلاحية التي نادى بها الإمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله، والتي تدعو الناس إلى العودة إلى كتاب الله عز وجل وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم والالتزام بما كان عليه سلف الأمة الصالح وتطبيق شريعة الله جل وعلا.

لقد تهيأ لهذه الدعوة من أسباب التمكين ما لم يتهيأ لدعوات كثيرة قبلها وبعدها، وهذا من فضل الله، تهيأ لها سبب الدولة أو السلطة، وبهذا السبب الذي هيأه الله تعالى قويت الدعوة وتمكنت وانتصرت في عهد مؤسس الدولة السعودية الأولى الإمام المجاهد محمد بن سعود رحمه الله، ومن جاء بعده من بنيه وأحفاده حتى مطلع القرن الرابع عشر الهجري، حيث قام الملك عبد العزيز بن عبد الرحمن آل سعود رحمه الله بما يجب القيام به تجاه عقيدة أهل السنة والجماعة وإلزام الناس بتطبيق شريعة الله والحكم بينهم بموجبها.

يقول المشايخ محمد بن عبد اللطيف وسعد بن حمد بن عتيق وعبد الله بن عبد العزيز العنقري وعمر بن محمد بن سليم ومحمد بن إبراهيم بن عبد اللطيف رحمهم الله: ثم لما وقع الخلل من كثير من الناس من عدم القيام بشكر هذه النعمة ورعايتها ابتلوا بوقوع التفرق والاختلاف وتسلط الأعداء والرجوع إلى كثير من عوائدهم، حتى مَنَّ الله في آخر هذا الزمان بظهور الإِمام عبد العزيز بن عبد الرحمن آل فيصل أيده الله ووفقه، وما مَنَّ الله به في ولايته من انتشار هذه الدعوة الإسلامية والملة الحنيفية، وقمع من خالفها وإقبال كثير من البادية والحاضرة على هذا الدين، وترك عوائدهم الباطلة، وكذلك ما حصل بسببه من هدم القباب ومحو معاهد الشرك والبدع وردع أهل المعاصي والمخالفات، وإقامة دين الله في الحرمين الشريفين زادهما الله تعالى تشريفاً وتكريماً].
আহলুস সুন্নাহর আকিদা প্রসারে বাদশাহ আব্দুল আজিজের প্রচেষ্টা

তিনি বলেন: [আধুনিক যুগে ইবনে তাইমিয়ার চিন্তাধারার ধারা (মাদরাসা)।

ইবনে তাইমিয়ার যুগের পর প্রায় চার শতাব্দী অতিবাহিত হয়েছে, এবং এই চার শতাব্দী আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং সত্যের দিকে আহ্বানকারী কোনো না কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি থেকে শূন্য ছিল না। তবে হিজরি দ্বাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল যার আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা প্রচার এবং তাদের বুঝ ও প্রয়োগের পদ্ধতির (মানহাজ) প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল। আর তা হলো আরব উপদ্বীপে সৌদি রাষ্ট্রের উত্থান, যা ইমাম শেখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) কর্তৃক সূচিত সংস্কারমূলক দাওয়াতের সমর্থনে সংঘটিত হয়েছিল। এই দাওয়াত মানুষকে মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর দিকে ফিরে আসার, উম্মতের সৎকর্মশীল পূর্বসূরিদের (সালাফ) আদর্শ অনুসরণ করার এবং মহান আল্লাহর শরিয়ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়।

এই দাওয়াতের জন্য ক্ষমতায়ন ও প্রতিষ্ঠার এমন সব উপকরণ ও কারণ অনুকূল হয়েছিল যা এর পূর্বের বা পরের অনেক দাওয়াতের ক্ষেত্রে হয়নি। এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। এর জন্য রাষ্ট্রীয় শক্তি বা কর্তৃত্বের মাধ্যম সুগম হয়েছিল। মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত এই কারণের মাধ্যমেই দাওয়াত শক্তিশালী হয়, সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মুজাহিদ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সউদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এবং তাঁর পরবর্তী বংশধরদের যুগে চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত বিজয়ী থাকে। অতঃপর বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুর রহমান আল সউদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদার প্রসারে তাঁর যা পালনীয় ছিল তা পালন করেন এবং মানুষকে আল্লাহর শরিয়ত বাস্তবায়ন ও সে অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করতে বাধ্য করেন।

শেখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল লতিফ, সাদ ইবনে হামাদ ইবনে আতিক, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-আনকারি, উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সুলিম এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল লতিফ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) বলেন: অতঃপর যখন অনেক মানুষের পক্ষ থেকে এই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় ও তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়, তখন তারা অনৈক্য, মতভেদ, শত্রুদের আধিপত্য এবং তাদের পূর্বতন বহু কুসংস্কারে ফিরে যাওয়ার পরীক্ষায় নিপতিত হয়। অবশেষে আল্লাহ তাআলা এই শেষ যুগে ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুর রহমান আল ফয়সালের (আল্লাহ তাঁকে সাহায্য ও তাওফিক দান করুন) আবির্ভাবের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেন। তাঁর শাসনামলে আল্লাহ এই ইসলামি দাওয়াত ও একনিষ্ঠ মিল্লাতকে ছড়িয়ে দেন এবং এর বিরোধিতাকারীদের দমন করেন। এর ফলে বহু মরুচারী বেদুঈন ও শহরবাসী এই দ্বীনের প্রতি ধাবিত হয় এবং তাদের বাতিল প্রথাগুলো বর্জন করে। অনুরূপভাবে তাঁর মাধ্যমে গম্বুজসমূহ ধ্বংস করা, শিরক ও বিদআতের আস্তানাগুলো মিটিয়ে ফেলা, পাপাচারী ও অবাধ্যদের দমন করা এবং দুই পবিত্র হারামে (আল্লাহ এ দুটির সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করুন) আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার যে মহান কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তাও আল্লাহরই অনুগ্রহ]।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌ركائز قيام الدولة السعودية

بمناسبة الكلام عن جهود الملك عبد العزيز رحمه الله أحب أن أشير إلى أمر هو معروف، لكن التذكير به من باب الأمانة والنصيحة.

فنحن نعرف جميعاً أن الدولة السعودية منذ قيامها ونصرها لدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب قامت على ركائز: الركيزة الأولى: نصر الدعوة في الجملة، بمعنى أنها قامت أساساً بعهد شرعي عليه البيعة على نصر دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب التي هي دعوة أهل السنة والجماعة دعوة الحق، هذه الركيزة الأولى.

الركيزة الثانية: قامت على نشر التوحيد، وهذا من أهم الركائز التي قامت عليها الدولة السعودية.

الركيزة الثالثة: محاربة البدع المخالفة للدين أياً كان نوعها، كل ما يخل بالدين ويخل بعقيدة الأمة هو أمر مرفوض، فقامت الدولة على حماية عقيدة المسلمين وعباداتهم في هذا البلد من ذلك.

الركيزة الرابعة: تطبيق شرع الله، والذي يتمثل في أمور: أولها: تحكيم شرع الله في كل شيء، وثانيها: إقامة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وثالثها: نشر الدين بنشر العلم الشرعي الصحيح وحماية الأمة من أي علم يخل بعقيدتها ودينها.

الركيزة الخامسة: المحافظة على الحرمين، يعني: العناية بالحرمين على مقتضى الدين الصحيح، وحمايتهما من البدع وحماية المناسك من كل ما يطرأ من جهالات المسلمين وغيرها.

وهذه الركائز هي عهد بين الدولة السعودية وبين هذه الأمة التي رضيتها ورضيت بإمامتها وبايعتها على الكتاب والسنة، وهذا العهد باق إن شاء الله وسيبقى، وأي إخلال بهذا العهد إنما هو علامة إدبار وعلامة تفرق وعلامة شر وفتنة، نسأل الله أن يعصمنا ويعصم ولاة الأمر من ذلك.
সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তিগুলো

বাদশাহ আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রচেষ্টাসমূহ সম্পর্কে আলোচনার প্রেক্ষিতে আমি একটি সুপরিচিত বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করতে চাই, তবে আমানতদারি ও নসিহতের খাতিরে তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

আমরা সকলেই জানি যে, সৌদি রাষ্ট্র তার সূচনালগ্ন থেকে এবং শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতকে সাহায্য করার পর থেকে কিছু মূল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: প্রথম ভিত্তি: সাধারণভাবে দাওয়াতকে সাহায্য করা। এর অর্থ হলো, এটি মূলত একটি শরয়ী চুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতকে সাহায্য করার বাইআত (অঙ্গীকার) গ্রহণ করা হয়েছে, যা মূলত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের দাওয়াত তথা হকের দাওয়াত; এটিই হলো প্রথম ভিত্তি।

দ্বিতীয় ভিত্তি: তাওহীদ প্রচারের ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত। এটি সেই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি যার ওপর সৌদি রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে আছে।

তৃতীয় ভিত্তি: দ্বীন-পরিপন্থী বিদআতসমূহ যে প্রকারেরই হোক না কেন, সেগুলোর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা। দ্বীন এবং উম্মতের আকিদার ক্ষতি করে এমন সবকিছুই প্রত্যাখ্যাত। তাই রাষ্ট্রটি এই দেশের মুসলিমদের আকিদা ও ইবাদতকে সেসব থেকে রক্ষা করার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

চতুর্থ ভিত্তি: আল্লাহর শরীয়ত বাস্তবায়ন করা, যা কয়েকটি বিষয়ে প্রতিফলিত হয়: প্রথমত—সবকিছুতে আল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করা; দ্বিতীয়ত—সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ প্রতিষ্ঠা করা; এবং তৃতীয়ত—সঠিক শরয়ী ইলম প্রচারের মাধ্যমে দ্বীনকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং উম্মতকে এমন যেকোনো ইলম থেকে রক্ষা করা যা তাদের আকিদা ও দ্বীনের ক্ষতিসাধন করে।

পঞ্চম ভিত্তি: হারামাইন শরিফাইনের রক্ষণাবেক্ষণ করা। অর্থাৎ, সঠিক দ্বীনের দাবি অনুযায়ী হারামাইন শরিফাইনের যত্ন নেওয়া এবং সেগুলোকে বিদআত থেকে মুক্ত রাখা, আর হজের কার্যাবলীকে মুসলিমদের অজ্ঞতাপ্রসূত কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় থেকে রক্ষা করা।

আর এই ভিত্তিগুলোই হলো সৌদি রাষ্ট্র এবং এই উম্মতের মাঝে একটি অঙ্গীকার, যারা একে পছন্দ করেছে, এর ইমামতকে মেনে নিয়েছে এবং কিতাব ও সুন্নাহর ওপর এর বাইআত গ্রহণ করেছে। ইনশাআল্লাহ এই অঙ্গীকার বিদ্যমান আছে এবং থাকবে। এই অঙ্গীকারের যেকোনো ব্যত্যয় হবে ধ্বংসের লক্ষণ, বিভক্তির চিহ্ন এবং মন্দ ও ফিতনার আলামত। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এবং আমাদের শাসকগোষ্ঠীকে তা থেকে রক্ষা করেন।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌تصنيف دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب

وقد يقول سائل: هل الإمام محمد بن عبد الوهاب إمام المرحلة الثالثة؟ فنقول: السلف جماعة واحدة، لا يفرق بينهم الزمان، والمراحل أمور اصطلاحية فنية، فيجوز أن نقسم المراحل إلى المئات والآلاف والعشرات، ويجوز أن نلغي المراحل ونقول: مذهب أهل السنة والجماعة مرحلة واحدة من عهد الرسول صلى الله عليه وسلم إلى قيام الساعة، فهذه أمور اصطلاحية، أما أن يقال: إن دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب في أكثر وجوهها العلمية والاعتقادية هي امتداد لدعوة ابن تيمية فهذا صحيح، لكن لا يعني أن الشيخ محمد بن عبد الوهاب انفرد بشيء، اللهم إلا بأمور تقتضيها ظروف الزمان والمكان، فـ محمد بن عبد الوهاب أتيح له بنصر الدولة السعودية وبنصر الجماعة من أهل التوحيد ما لم يتح لشيخ الإسلام ابن تيمية، هذا هو وجه الفرق، أما ما عدا ذلك فالاتجاه فيه واحد، وكل في اتجاه السلف، ولا ننسى أنه قامت دعوات إصلاحية على مذهب أهل السنة والجماعة في بلاد المسلمين الأخرى غير دعوة الشيخ، لكن لم يكن لها أثر كأثر دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب.

قال: [وكان أمر العقيدة جلياً لدى الملك عبد العزيز؛ إذ يقول رحمه الله: يسموننا بالوهابيين ويسمون مذهبنا بالوهابي باعتبار أنه مذهب خاص، وهذا خطأ فاحش نشأ عن الدعايات الكاذبة التي كان يبثها أهل الأغراض، نحن لسنا أهل مذهب جديد وعقيدة جديدة، فعقيدتنا هي عقيدة السلف الصالح، ونحن نحترم الأئمة الأربعة، ولا فرق عندنا بين مالك والشافعي وأحمد وأبي حنيفة وكلهم محترمون في نظرنا.

هذه هي العقيدة التي قام شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب يدعو إليها، وهذه هي عقيدتنا، وهي عقيدة مبنية على توحيد الله عز وجل خالصة من كل شائبة منزهة عن كل بدعة].

ذكرني هذا ببعض الركائز، وقد نوه بها الملك عبد العزيز رحمه الله مرات عديدة، بل هي تعتبر من أعظم الأسس التي كان يعتمد عليها عملياً ويقول بها نظرياً، وقد التزمها في سائر حياته، وهي: اعتبار أهل العلم أئمة الدين، اعتبارهم بكل معاني الاعتبار، ليس اعتبار المجاملة ولا مجرد اعتبار التقدير والاحترام، إنما اعتبار العمل والتطبيق، فكانوا هم الشيوخ، وكان كل أمر ذي بال يتعلق بالأمة يصدر عنهم، وكانت المصالح الكبرى للأمة تصدر عنهم، وهذا هو العهد الذي كان بينهم وبين الملك عبد العزيز رحمه الله، وهو عهد قد التزمه وتعهد به وتوعد من يخالفه.

ومن الركائز التي كان كثيراً ما يحرص عليها الملك عبد العزيز تطبيق الحدود، وهذه هي التي تعتمد عليها الدولة الإسلامية أياً كانت في ترسيخ أمرها وفي حماية دينها وفي مصداقية تطبيقها لشرع الله، فأعظم مصداقية لتطبيق الشرع هي تطبيق الحدود وحماية الدين من الردة ومن انتهاك الحرمات ونهب الأموال، وغير ذلك مما يستوجب الحدود.

فهذه من الركائز المعلومة البدهية عند عامة أهل العلم، بل وعامة أهل البلاد، فكلهم يعلم أن هذه الدولة -بحمد الله- قامت عليها، ونرجو أن تستمر عليها بإذن الله.
শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের শ্রেণিবিভাগ

জনৈক প্রশ্নকারী বলতে পারেন: ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব কি তৃতীয় পর্যায়ের ইমাম? আমরা বলি: সালাফগণ একটিই দল, সময় তাদের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে না। পর্যায়গুলো হলো পারিভাষিক ও প্রায়োগিক বিষয়; তাই পর্যায়গুলোকে শয়ে শয়ে, হাজারে হাজারে বা দশে দশে ভাগ করা সম্ভব। আবার পর্যায়গুলোকে বাতিল করে আমরা এও বলতে পারি: আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ বা আদর্শ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত একটিই পর্যায়। এগুলো নিছক পারিভাষিক বিষয়। তবে যদি বলা হয় যে, শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত তার জ্ঞানতাত্ত্বিক ও আকিদাগত অধিকাংশ দিক থেকে ইবনে তাইমিয়্যাহর দাওয়াতেরই একটি সম্প্রসারণ, তবে তা সঠিক। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব স্বতন্ত্র কোনো নতুন কিছু এনেছেন; তবে সময় ও স্থানের চাহিদানুযায়ী কিছু অনিবার্য বিষয় ছাড়া। মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব সৌদি রাষ্ট্রের সাহায্য এবং তাওহীদপন্থী জামাআতের যে সমর্থন লাভ করেছিলেন, যা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ভাগ্যে জোটেনি; পার্থক্যের দিক মূলত এটাই। এ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে তাদের গতিপথ অভিন্ন এবং প্রত্যেকেই সালাফদের আদর্শের ওপর অটল। আমরা যেন ভুলে না যাই যে, শেখের দাওয়াত ছাড়াও মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আদর্শে আরও কিছু সংস্কারমূলক দাওয়াত পরিচালিত হয়েছিল, কিন্তু শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের মতো সেগুলোর প্রভাব ছিল না।

তিনি বলেন: [বাদশাহ আব্দুল আজিজের নিকট আকিদার বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলতেন: তারা আমাদের ওয়াহহাবী বলে ডাকে এবং আমাদের মাযহাবকে ওয়াহহাবী মাযহাব মনে করে এই বিশ্বাসে যে এটি একটি বিশেষ বা ভিন্ন মাযহাব। এটি একটি মারাত্মক ভুল, যা স্বার্থান্বেষী মহলের মিথ্যা অপপ্রচারের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। আমরা কোনো নতুন মাযহাব বা নতুন আকিদার অনুসারী নই। আমাদের আকিদা হলো সালাফে সালেহীনের আকিদা। আমরা চার ইমামকে শ্রদ্ধা করি; আমাদের নিকট ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও আবু হানিফার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং আমাদের দৃষ্টিতে তারা সকলেই পরম শ্রদ্ধেয়।

এটিই সেই আকিদা যার দিকে শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দাওয়াত দিতে দাঁড়িয়েছিলেন এবং এটিই আমাদের আকিদা। এই আকিদা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার খাঁটি তাওহীদের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা সকল প্রকার পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত এবং সকল বিদআত থেকে পবিত্র।]

এটি আমাকে কিছু স্তম্ভের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা বাদশাহ আব্দুল আজিজ রহিমাহুল্লাহ অনেকবার উল্লেখ করেছেন। বরং এগুলোকে সেই মহান ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয় যার ওপর তিনি ব্যবহারিকভাবে নির্ভর করতেন এবং তাত্ত্বিকভাবে প্রচার করতেন। তিনি সারা জীবন এগুলো মেনে চলেছেন, আর তা হলো: আলেম সমাজকে দ্বীনের ইমাম হিসেবে গণ্য করা; সকল অর্থেই তাঁদের মূল্যায়ন করা—কেবল সৌজন্য বা নিছক শ্রদ্ধা ও সম্মানের খাতিরে নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের দিক থেকেও। তাঁরাই ছিলেন শেখ বা পথপ্রদর্শক। উম্মাহর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাঁদের মাধ্যমেই সম্পাদিত হতো এবং উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো তাঁদের মাধ্যমেই আসত। এটিই ছিল সেই অঙ্গীকার যা তাঁদের এবং বাদশাহ আব্দুল আজিজ রহিমাহুল্লাহর মধ্যে বিদ্যমান ছিল; তিনি এই অঙ্গীকার মেনে চলেছেন, এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং যারা এর বিরোধিতা করে তাদের সতর্ক করেছেন।

বাদশাহ আব্দুল আজিজ যে সকল স্তম্ভের ব্যাপারে সর্বদা যত্নশীল ছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো হুদুদ (শরীয়তের দণ্ডবিধি) কার্যকর করা। এর ওপরই যেকোনো ইসলামী রাষ্ট্র তার শাসন সুদৃঢ় করতে, দ্বীন রক্ষা করতে এবং আল্লাহর শরীয়ত বাস্তবায়নের বিশ্বস্ততা অর্জনে নির্ভর করে। শরীয়ত বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো হুদুদ কার্যকর করা এবং ধর্মত্যাগ (মুরতাদ হওয়া), পবিত্রতা লঙ্ঘন, সম্পদ লুণ্ঠন এবং অন্যান্য যেসব অপরাধের জন্য হুদুদ আবশ্যক, সেগুলো থেকে দ্বীনকে রক্ষা করা।

এগুলো বিজ্ঞ আলেমদের নিকট এবং এমনকি সাধারণ জনগণের নিকটও স্বতঃসিদ্ধ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত। তারা সকলেই জানে যে, এই রাষ্ট্র—আল্লাহর প্রশংসায়—এগুলোর ওপরই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা আশা করি আল্লাহর ইচ্ছায় এটি এর ওপরই অবিচল থাকবে।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌جهود الملك عبد العزيز في نشر العقيدة خارج بلاده

قال: [وإذ يستعمل الملك عبد العزيز سلطانه في التمكين للتوحيد والعقيدة المنجية في بلاده، فإنه ينشرها خارج بلاده بوسيلتين اثنتين: الأولى بعث الدعاة، والثانية نشر كتب التوحيد الخالص، وعقيدة أهل السنة والجماعة.

ومما أمر بنشره من كتب العقائد: العقيدة الواسطية، والتوسل والوسيلة، ومنهاج السنة، والعبودية، لشيخ الإسلام ابن تيمية، ومجموعة التوحيد، وهي مجموعة رسائل لشيخ الإسلام ابن تيمية والشيخ محمد بن عبد الوهاب والشيخ عبد الرحمن بن حسن والشيخ سليمان آل الشيخ حفيد الشيخ محمد بن عبد الوهاب والشيخ عبد الله العنقري والشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن والشيخ سليمان بن سحمان، ولمعة الاعتقاد لـ ابن قدامة، وغير ذلك من الكتب المبينة لعقيدة أهل السنة والجماعة؛ ولهذا السبب -سبب تسخير سلطة الدولة في نصرة الإسلام- وجدت الدعوة من الانتشار والتمكن ما لم تجده دعوات أخرى كثيرة فردية وجماعية، وبرز هذا الانتشار في العالم الإسلامي كله في مدارس فكرية ونشاط دعوي وجهود متصلة لإحياء تراث أهل السنة والجماعة.

إن لانتشار الدعوة الإسلامية في تاريخ المسلمين الحديث وحياتهم المعاصرة سبباً أو أسباباً، ويأتي في مقدمة هذه الأسباب دعوة الإحياء العامة لمنهج أهل السنة والجماعة التي نهض بها شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب والتي نصرها آل سعود دولة بعد دولة وإماماً بعد إمام، منذ محمد بن سعود إلى يوم الناس هذا، فلا يزال المنهج الإسلامي يحكم حياة المملكة العربية السعودية في الاعتقاد والاجتهاد والسلوك.
নিজ দেশের বাইরে আকিদাহ প্রসারে বাদশাহ আব্দুল আজিজের প্রচেষ্টা

তিনি বলেন: [বাদশাহ আব্দুল আজিজ যখন তার নিজ দেশে তাওহিদ এবং নাজাতপ্রাপ্ত আকিদাহর ক্ষমতায়নের জন্য তার কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেন, তখন তিনি এটি তার দেশের বাইরে দুটি মাধ্যমে প্রচার করেন: প্রথমটি হলো দায়ীদের প্রেরণ এবং দ্বিতীয়টি হলো বিশুদ্ধ তাওহিদের কিতাবসমূহ এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহর কিতাবসমূহ প্রকাশ করা।

আকিদাহর যেসকল কিতাব প্রকাশের জন্য তিনি আদেশ দিয়েছিলেন তার মধ্যে রয়েছে: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর 'আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ', 'আত-তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ', 'মিনহাজুস সুন্নাহ', এবং 'আল-উবুদিয়্যাহ'; 'মাজমুআতুত তাওহিদ', যা হলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান, শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের নাতি শাইখ সুলাইমান আলুশ শাইখ, শাইখ আব্দুল্লাহ আল-আনকারি, শাইখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান এবং শাইখ সুলাইমান বিন সাহমানের বিভিন্ন রিসালার সংকলন; ইবনে কুদামার 'লুমআতিল ইতিকাদ' এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ স্পষ্টকারী আরও অন্যান্য কিতাব। এই কারণে—অর্থাৎ ইসলামের সাহায্যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহারের কারণে—এই দাওয়াত এমন প্রচার এবং মজবুতি লাভ করেছে যা অন্য অনেক ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত দাওয়াত পায়নি। এই প্রচার পুরো মুসলিম বিশ্বে বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক ঘরানা, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার নিরন্তর প্রচেষ্টার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আধুনিক মুসলিম ইতিহাস এবং তাদের সমসাময়িক জীবনে ইসলামি দাওয়াত প্রসারের একটি বা একাধিক কারণ রয়েছে। এই কারণগুলোর শীর্ষে রয়েছে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজের সাধারণ পুনর্জাগরণমূলক দাওয়াত, যা শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব শুরু করেছিলেন এবং যাকে আল-সাউদ পরিবার এক রাষ্ট্রের পর রাষ্ট্র এবং এক ইমামের পর ইমামের মাধ্যমে সাহায্য করেছে, মুহাম্মদ বিন সাউদ থেকে আজ পর্যন্ত। ফলস্বরূপ, আকিদাহ, ইজতিহাদ এবং আচরণের ক্ষেত্রে আজও সৌদি আরব রাজ্যের জীবনধারা ইসলামি মানহাজ দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌أسباب الاهتمام بالعقيدة
আকিদার প্রতি গুরুত্ব প্রদানের কারণসমূহ
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌اجتماع الناس على أصول الحق

قال: [العقيدة التوقيفية الجامعة.

لماذا هذا الاهتمام بالعقيدة والبحث في مصادرها العلمية ومسارها التاريخي في القرون الأولى، ثم القرون: الرابع والخامس والسادس، ثم عصر ابن تيمية، ثم ما بعد ابن تيمية إلى يوم الناس هذا؟ والجواب عن ذلك: أولاً: أن أصول الحق هي التي تجمع الناس مهما تعددت أمكنتهم ومهما باعدت بينهم الأزمنة، ومهما اختلفوا في فروع الفقه.

إن النصوص التي أشرنا إليها والتي تتكلم عن مفهوم العقيدة لدى الحنفية والحنبلية والمالكية والشافعية وعند ابن تيمية ومحمد بن عبد الوهاب والملك عبد العزيز وغيرهم من أئمة الهدى، هذه النصوص لم تتطابق في المفهوم فحسب، وإنما تطابقت في اللفظ كذلك].

قبل أن نتجاوز الكلام عن المذاهب أحب أن أشير إلى أمر من الأمور التي قد تخفى على كثير من الذين لم يتأملوا مسار العقيدة في القرون الثلاثة الفاضلة، ويتضح هذا بخطأ ساد عند كثير من الباحثين وطلاب العلم، وهو اعتقادهم أن بعض المذاهب أو الفرق لها ارتباط بالمذاهب الأربعة على وجه ما من الارتباط.

أقول: هذا أمر حادث بعد القرون الثلاثة الفاضلة، أما في القرون الثلاثة الفاضلة التي هي القدوة والتي زكاها النبي صلى الله عليه وسلم؛ فلم يكن للمذاهب أي ارتباط بالفرق، بل كانت المذاهب الأربعة كلها -مذهب أبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد - على السنة، وأئمتها جملتهم كانوا على السنة، وكانت هذه المذاهب بأتباعها -سواء العلماء وطلاب العلم والعامة- على السنة، وإن كان قد يوجد من أتباع الفرق من ينتمي إلى المذاهب، كبعض الشيعة قبل أن يكون لهم فقه مستقل، وكبعض المعتزلة والجهمية، لكن هذا أمر لا دخل له في صبغة المذاهب نفسها، فالصبغة الشرعية هي صبغة المذاهب، فكانت كلها على السنة، وهذا بإجماع، بل هو واضح جداً لا لبس فيه، فالإمام أبو حنيفة كان على السنة، وتلاميذه الأوائل كانوا على السنة، والإمام مالك كان من أئمة السنة المنافحين عنها المقررين لها، وتلاميذه الأوائل في القرون الثلاثة الفاضلة كانوا على السنة، والإمام الشافعي كذلك، والإمام أحمد لا نحتاج إلى أن نبين ذلك عنه، إذاً: اللبس إنما حدث بعد القرون الفاضلة، ففي القرن الرابع بدأ التمشعر على يد الأشاعرة، وكانوا من أتباع المذاهب، ثم في الآونة الأخيرة بعد القرن الرابع اقترنت تبعية المذاهب بتبعية الفرق بناء على حال الحكومات والسلاطين، فإذا كان السلطان -مثلاً- حنفياً وأشعرياً ربط الأحناف بالأشاعرة، وإذا كان حنفياً ماتريدياً ربط الأحناف بالماتريدية، وهكذا حتى صار الآن المفهوم عن كثير من المذاهب أنها مرتبطة بالفرق، وهذا ارتباط كله حادث، ولم يكن في العصور الأولى للمذاهب حينما كانت المذاهب مذاهب اجتهادية يقع فيها الخلاف ويرضاها المسلمون جميعاً، وبعدما تحولت إلى التعصب تحولت إلى الافتراق.

قال: [وهذا برهان مبني على: أ - الصدور عن الأصلين المعصومين: الكتاب والسنة.

ب - صحة المنهج العلمي في الاعتقاد والفهم.

ت - دقة الالتزام بالمنهج.

فالحق هو الحق في كل زمان ومكان، فإذا صح منهج التلقي ومنهج الفهم وحصل الصدق في الالتزام اجتمع الناس على الحق، وإن فصلت بينهم التخوم والقرون، فالأنبياء والمرسلون صلى الله عليهم وسلم اجتمعوا على أصل الديانة وإن لم ير بعضهم بعضاً، وإن ظهروا في عصور تطاولت بينها الآماد، قال تعالى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} [الشورى:13]، والمسلمون مأمورون بالاقتداء بالأنبياء في الاجتماع على الأصول].
হকের মূলনীতিসমূহের ওপর মানুষের ঐক্য

তিনি বললেন: [তাওকিফী (অহি-নির্ভর) ও সমন্বিত আকিদাহ।

কেন আকিদাহর প্রতি এই গুরুত্বারোপ এবং এর ইলমি উৎসসমূহ ও এর ঐতিহাসিক পথপরিক্রমা নিয়ে অনুসন্ধান—প্রথম তিন শতাব্দী, এরপর চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দী, এরপর ইবনে তাইমিয়্যার যুগ, অতঃপর ইবনে তাইমিয়্যার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত? এর উত্তর হলো: প্রথমত: হকের মূলনীতিগুলোই মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, তাদের স্থান ভিন্ন হলেও, তাদের মধ্যকার সময়ের ব্যবধান অনেক হলেও এবং ফিকহের শাখাগত মাসআলায় তারা ভিন্নমত পোষণ করলেও।

আমরা যেসব উদ্ধৃতির দিকে ইঙ্গিত করেছি যা হানাফি, হাম্বলি, মালিকি এবং শাফিয়ি মাযহাবের নিকট এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, বাদশাহ আব্দুল আজিজ ও হিদায়াতের অন্যান্য ইমামগণের নিকট আকিদাহর ধারণা সম্পর্কে আলোচনা করে; সেই উদ্ধৃতিগুলো কেবল অর্থগতভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং শব্দগতভাবেও হুবহু মিলে যায়]।

মাযহাবগুলো সম্পর্কে আলোচনা অতিক্রম করার পূর্বে আমি এমন একটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করতে চাই যা সেই সকল ব্যক্তিদের নিকট অস্পষ্ট থেকে যেতে পারে যারা প্রথম তিন শ্রেষ্ঠ শতাব্দীর আকিদাহর পরিক্রমা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেননি। এটি অনেক গবেষক ও ইলম অন্বেষীর মাঝে প্রচলিত একটি ভুল ধারণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়; আর তা হলো তাদের এই বিশ্বাস যে, কিছু মাযহাব বা ফিরকার সাথে চার মাযহাবের কোনো না কোনো পর্যায়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

আমি বলছি: এটি প্রথম তিন শ্রেষ্ঠ শতাব্দীর পরের একটি নবতর বিষয়। অথচ প্রথম তিন শ্রেষ্ঠ শতাব্দীতে—যা হলো অনুসরণের আদর্শ এবং যার প্রশংসা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন—সেখানে মাযহাবগুলোর সাথে এই ফিরকাগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। বরং চার মাযহাবের সকলেই—আবু হানিফা, মালিক, শাফিয়ি ও আহমদের মাযহাব—সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তাঁদের ইমামগণ সকলেই সুন্নাহর ওপর ছিলেন এবং অনুসারী হিসেবে এই মাযহাবের আলেম, ইলম অন্বেষী ও সাধারণ মানুষ—সকলেই সুন্নাহর ওপর ছিলেন। যদিও মাযহাবগুলোর অনুসারীদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি থাকতে পারে যারা কোনো ফিরকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেমন স্বতন্ত্র ফিকহ গড়ে ওঠার আগে কিছু শিয়া এবং কিছু মুতাজিলা ও জাহমিয়া; কিন্তু মাযহাবের মৌলিক রূপরেখার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ শরয়ী রূপরেখা হলো মাযহাবের রূপরেখা, আর সেগুলো সর্বসম্মতিক্রমে সুন্নাহর ওপরই ছিল। বরং বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট ও এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। ইমাম আবু হানিফা সুন্নাহর ওপর ছিলেন এবং তাঁর প্রথম সারির ছাত্রগণও সুন্নাহর ওপর ছিলেন। ইমাম মালিক ছিলেন সুন্নাহর অন্যতম ইমাম, সুন্নাহর রক্ষক ও বর্ণনাকারী এবং প্রথম তিন শ্রেষ্ঠ শতাব্দীতে তাঁর প্রথম সারির ছাত্রগণও সুন্নাহর ওপর ছিলেন। ইমাম শাফিয়িও তদ্রূপ এবং ইমাম আহমদ সম্পর্কে তো আমাদের নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। সুতরাং বিভ্রান্তিটি মূলত শ্রেষ্ঠ শতাব্দীগুলোর পরেই ঘটেছে। চতুর্থ শতাব্দীতে আশআরিদের মাধ্যমে আশআরি মতবাদ গ্রহণ শুরু হয় এবং তারা মাযহাবগুলোর অনুসারী ছিল। অতঃপর সাম্প্রতিক কালে, চতুর্থ শতাব্দীর পরে, সরকার ও সুলতানদের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে মাযহাবের অনুসরণকে বিভিন্ন ফিরকার অনুসরণের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সুলতান যদি হানাফি ও আশআরি হতেন, তবে তিনি হানাফিদের আশআরিদের সাথে সম্পৃক্ত করতেন। আর যদি হানাফি ও মাতুরিদি হতেন, তবে তিনি হানাফিদের মাতুরিদিদের সাথে সম্পৃক্ত করতেন। এভাবে চলতে চলতে বর্তমানে অনেক মাযহাব সম্পর্কে ধারণা জন্মেছে যে এগুলো বিভিন্ন ফিরকার সাথে সম্পৃক্ত; অথচ এই সম্পৃক্ততা পুরোটাই নবতর বিষয়। মাযহাবগুলোর প্রাথমিক যুগে এমনটি ছিল না, যখন মাযহাবগুলো ছিল ইজতিহাদী মাযহাব যেখানে মতভেদ হতো এবং সকল মুসলিম তা সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করতেন। পরবর্তীতে যখন এটি গোঁড়ামিতে রূপ নিলো, তখন তা বিচ্ছিন্নতায় পর্যবসিত হলো।

তিনি বললেন: [আর এটি এমন এক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থেকে উৎসারিত: ক- দুটি নির্ভুল উৎস: কিতাব ও সুন্নাহ থেকে আহরণ।

খ- বিশ্বাস ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে ইলমি মানহাজের বিশুদ্ধতা।

গ- এই মানহাজের অনুসরণে সূক্ষ্ম অবিচলতা।

সুতরাং হক বা সত্য প্রতিটি সময়ে ও স্থানে সর্বদা সত্যই থাকে। যখন গ্রহণ করার মানহাজ ও বোঝার মানহাজ সঠিক হয় এবং অনুসরণের ক্ষেত্রে সততা বজায় থাকে, তখন মানুষ হকের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়, যদিও তাদের মাঝে ভৌগোলিক সীমানা ও শতাব্দীকালের ব্যবধান থাকে। নবী ও রাসূলগণ (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) দ্বীনের মূলনীতির ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন যদিও তাঁরা একে অপরকে দেখেননি এবং যদিও তাঁরা সুদীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে আবির্ভূত হয়েছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমি আপনার প্রতি ওহি করেছি, আর যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মুসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে—তোমরা দ্বীন কায়েম করো এবং এতে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না} [শুরা: ১৩]। আর মুসলিমদের আদেশ দেওয়া হয়েছে মূলনীতিসমূহে ঐক্যের ক্ষেত্রে নবীদের অনুসরণ করতে]।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌العقيدة ميزان توقيفي لا يضطرب

قال: [الثاني: أن العقيدة ليست مذهباً اجتهادياً، بل هي الميزان الثابت الذي لا يضطرب ولا يطيش، إن العقيدة هي معرفة مراد الله تعالى من الديانة، ومن بعث الرسل وإنزال الكتب، وخلق الجن والإنس، ثم الاستقامة على هذا والعمل بمقتضاه، والرسول صلى الله عليه وسلم هو القدوة في العلم بمراد الله وفي العمل بمقتضاه، ولقد اقتدى الصحابة ثم سائر القرون المشهود لها بالخيرية بالرسول صلى الله عليه وسلم في الاعتقاد الحق، وندب الله الأئمة في كل عصر لتبيين الاعتقاد الصحيح الذي هو العقيدة التوقيفية الجامعة، ومن القول الفصل الدال على أن الاعتقاد الصحيح هو الفرقان بين الحق والباطل: أن الذين التزموا هذه العقيدة استقاموا على الطريقة وصلحوا وأصلحوا في العلم والدعوة والحكم والعمل والجهاد، وأن الذين شذوا عن هذه العقيدة تفرقت بهم السبل وعظم فهمهم واضطربت أقوالهم وأفعالهم، وفسدوا وأفسدوا، قال تعالى: {فَمَاذَا بَعْدَ الْحَقِّ إِلَّا الضَّلالُ} [يونس:32].

يقول ابن تيمية رحمه الله: وطريقتهم - أي: أهل السنة والجماعة - هي دين الإسلام الذي بعث الله به محمداً صلى الله عليه وسلم لكن لما أخبر النبي صلى الله عليه وسلم أن الأمة ستفترق على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة وهي الجماعة، وفي حديث عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: (هم من كان على مثل ما أنا عليه اليوم وأصحابي)؛ صار المتمسكون بالإسلام المحض الخالص عن الشوب هم أهل السنة والجماعة، وفيهم الصديقون والشهداء والصالحون، ومنهم أعلام الهدى ومصابيح الدجى أولو المناقب المأثورة والفضائل المذكورة، وفيهم الأبدال الأئمة الذين أجمع المسلمون على هدايتهم ودرايتهم، وهم الطائفة المنصورة الذين قال فيهم النبي صلى الله عليه وسلم: (لا تزال طائفة من أمتي على الحق ظاهرين، لا يضرهم من خذلهم ولا من خالفهم حتى تقوم الساعة).

ويقول: ثم سأل نائب السلطان عن الاعتقاد، فقال - أي: ابن تيمية -: ليس الاعتقاد لي ولا لمن هو أكبر مني، بل الاعتقاد يؤخذ عن الله سبحانه وتعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم، وما أجمع عليه سلف الأمة، يؤخذ من كتاب الله ومن أحاديث البخاري ومسلم وغيرهما من الأحاديث المعروفة، وما ثبت عن سلف الأمة.

ويقول: فقلت لا والله ليس لـ أحمد بن حنبل في هذا اختصاص، وإنما هذا اعتقاد سلف الأمة وأئمة الحديث، وقلت أيضاً: هذا اعتقاد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكل لفظ ذكرته فأنا أذكر به آية أو حديثاً أو إجماعاً سلفياً، وأذكر من ينقل الإجماع عن السلف من جميع طوائف المسلمين والفقهاء الأربعة والمتكلمين، وأهل الحديث والصوفية].
আকিদাহ হলো একটি তাওকিফি (ওহী নির্ভর) মানদণ্ড যা বিচ্যুত হয় না

তিনি বলেন: [দ্বিতীয়ত: আকিদাহ কোনো ইজতিহাদী (গবেষণামূলক) মাযহাব নয়, বরং এটি একটি অবিচল মানদণ্ড যা বিচ্যুত হয় না এবং নড়বড়ে হয় না। আকিদাহ হলো দ্বীনের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যকে জানা, আর কেন রাসূলদের পাঠানো হয়েছে, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং জিন ও ইনসানকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা অবগত হওয়া; অতঃপর এর ওপর অবিচল থাকা এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর উদ্দেশ্য জানা এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে আদর্শ। সাহাবীগণ এবং পরবর্তী স্বর্ণযুগের প্রজন্মসমূহ সঠিক আকিদাহর ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা প্রতিটি যুগে ইমামদের মনোনীত করেছেন সঠিক আকিদাহর বর্ণনার জন্য, যা হলো একটি সামগ্রিক তাওকিফি আকিদাহ। হক ও বাতিলের মধ্যে সঠিক আকিদাহই যে মীমাংসাকারী বিষয়, তার চূড়ান্ত প্রমাণ হলো: যারা এই আকিদাহকে আঁকড়ে ধরেছেন তারা সঠিক পথে অবিচল থেকেছেন এবং ইলম, দাওয়াত, শাসন, আমল ও জিহাদের ক্ষেত্রে সংশোধন হয়েছেন ও সংশোধন করেছেন। আর যারা এই আকিদাহ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তাদের পথগুলো ভিন্ন হয়ে গেছে, তাদের মূর্খতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তাদের কথা ও কাজে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তারা নিজেরা কলুষিত হয়েছে এবং অন্যদেরও কলুষিত করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হকের পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী থাকে?} [ইউনুস: ৩২]।

ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন: তাদের পথ—অর্থাৎ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পথ—হলো ইসলাম ধর্ম, যা নিয়ে আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠিয়েছেন। কিন্তু যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিলেন যে, উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যাদের মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সবাই জাহান্নামী হবে, আর সেই দলটি হলো জামাআত। তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে আছে যে তিনি বলেছেন: (তারা হলো সেই সব লোক, যারা আজ আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর আছি তার ওপর থাকবে)। ফলে ভেজালমুক্ত বিশুদ্ধ ইসলামের ওপর অটল থাকা ব্যক্তিরাই হলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সিদ্দীকগণ, শহীদগণ এবং নেককারগণ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হিদায়াতের আলোকবর্তিকা এবং অন্ধকারের প্রদীপসমূহ, যাদের রয়েছে বর্ণিত মর্যাদা ও গুণাবলি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবদাল ইমামগণ, যাদের হিদায়াত ও প্রজ্ঞার ব্যাপারে মুসলিমগণ একমত হয়েছেন। তারাই হলো সেই সাহায্যপ্রাপ্ত দল যাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় বা তাদের বিরোধিতা করে তারা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না)।

তিনি বলেন: অতঃপর সুলতানের প্রতিনিধি আকিদাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি—অর্থাৎ ইবনে তাইমিয়্যাহ—বললেন: আকিদাহ আমার পক্ষ থেকে নয়, আর আমার চেয়ে বড় কারও পক্ষ থেকেও নয়। বরং আকিদাহ গ্রহণ করা হবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে, আর উম্মতের সালাফগণ যে বিষয়ের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন তার থেকে। এটি গ্রহণ করা হবে আল্লাহর কিতাব, বুখারী ও মুসলিমের হাদিসসমূহ এবং অন্যান্য সুপরিচিত হাদিসসমূহ থেকে, এবং উম্মতের সালাফদের থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে তা থেকে।

তিনি বলেন: আমি বললাম, না আল্লাহর কসম, এতে আহমাদ বিন হাম্বলের কোনো একক বিশেষত্ব নেই। বরং এটি উম্মতের সালাফ এবং হাদিসের ইমামগণের আকিদাহ। আমি আরও বলেছি: এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আকিদাহ। আমি যে শব্দই উল্লেখ করেছি, তার সপক্ষে আমি কোনো আয়াত অথবা হাদিস অথবা সালাফদের ইজমা উল্লেখ করেছি। আর আমি মুসলিমদের সকল দল, চার ইমাম, কালাম শাস্ত্রবিদ, আহলে হাদিস এবং সূফীদের মধ্য থেকে যারা সালাফদের থেকে ইজমা বর্ণনা করেছেন তাদের কথাও উল্লেখ করি।]
(খণ্ড: ২) শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - নাসের আল-আকল (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الاستدلال بما وافق الحق من قول المخالف منهج سلفي

لعلنا نقف وقفة تأمل عند كلام شيخ الإسلام، وهذا الكلام الذي سأقوله كثيراً ما يردده هو وغيره من أئمة السلف الأقدمين، وذلك في مسألة الاستدلال بقول المخالف فيما يوافق فيه مما عنده من حق، وأقصد بذلك أن أئمة السلف لا يمنعون من الاستدلال بقول الصوفية فيما وافقوا فيه أهل الحق، أو تقوية الحق بأقوال المتكلمين فيما وافقوا فيه الحق، أو الاستدلال بالحق الذي عند أي فرقة أخرى إذا كان يعزز قول أهل السنة والجماعة ومنهجهم، بل هو من باب إقامة الحجة على المخالفين فيما خالفوا فيه إذا أيدناهم فيما وافقوا فيه، أقصد أن المخالف إذا أخذت عنه ما وافق فيه ألفت قلبه ليأخذ عنك فيما خالف فيه، هذا من ناحية، والناحية الأخرى هي قاعدة في الإنصاف والعدل، ليست مجرد سياسة أو مجرد منهج للتقريب والترغيب، إنما هي قاعدة شرعية تقوم على العدل والإنصاف، وأقصد بها أنه إذا كان مع الخصم أو المخالف ما يوافق الحق فيجب الاعتراف له به، سواء أكان دليلاً أم قولاً أم خلقاً أم فضيلة من الفضائل، فإذا كان مع المخالف لك والمخالف لأهل السنة والجماعة دليل صحيح أو قول صحيح أو سلوك صحيح أو فضيلة من الفضائل فلا بد من الاعتراف به إنصافاً وإحقاقاً للحق، وهذا هو الذي يقرب الناس إلى الخير ويؤلفهم.

إذاً: هذا منهج لأئمة السلف، ولم يتفرد به شيخ الإسلام ابن تيمية وإن كان كثيراً ما يعول على هذا الأمر، حتى إن بعض طلاب العلم يعجب ويظن أن شيخ الإسلام إذا ذكر أقوال الصوفية وذكر أقوال المتكلمين فكأنه بهذا أقرهم على جملة مقولاتهم الأخرى، وأقول: هذا خلل في تصورنا وليس خللاً في منهج السلف، فـ شيخ الإسلام وغيره من الأئمة يأخذون ما يوافق الحق من الآخرين، وينصفونهم إذا تكلموا عنهم، ينصفونهم في القول عنهم وينصفونهم في الحكم لهم، والإنصاف لا يعد خضوعاً ولا يعد خنوعاً ولا يعد ترويجاً للمخالف، كما يظن كثير من صغار العقول، يظنون أنه إذا أنصف الخصم أو أنصف المبتدع أو اعترف بما لديه من فضيلة؛ فكأنه بذلك يهزم الحق أو أن في ذلك عليه أو على أهل الحق غضاضة، وهذا غلط مجانب للصواب وليس عليه أئمة السلف، إلا في حالات يقدرها أهل العلم إذا خشوا فتنة العامة بإنصاف المبتدع أو خشوا أموراً أخرى يقدرونها لا يقدرها الفرد ولا تكون ميزاناً ولا تكون قاعدة ولا تكون منهجاً، إنما هي أحكام شاذة قليلة قد يرد فيها أن يتغاضى صاحب الحق عما عند خصمه إذا تبين أن الفتنة بذلك تكبر وتكثر، وهذا نادر جداً ولا يصح أن نعول عليه ولا أن نجعله قاعدة.

إذاً: أنبه على منهج أئمة الدين في هذا الأمر، ويتلخص في أمور آخذ منها ثلاثة: الأمر الأول: الاعتراف بما لدى الخصم من الحق، وإعلان ذلك.

وبعض الناس يضيق، ولا تتحمل أعصابه أن يعترف بفضيلة الخصم، وهذا خلل، وهو أمر يجب أن نتجاوزه.

الأمر الثاني: الإشادة بجوانب الفضل عند المخالف، من مبتدع أو متكلم أو متصوف أو جماعة من الجماعات في القول أو السلوك، لا كما يحصل الآن من التراشق والنبز بالألقاب بين الجماعات والدعاة مع الأسف، حيث نجدهم لا ينصفون، فإذا تكلم المخالف عن جماعة تخالفه تجده كأنه لا يعرف إلا السيئات، مع أنه يعرف حسناتهم ويعرف فضائلهم، بل بعضهم لبس عليه الشيطان إلى حد أن يقول: الفضائل هي الأصل، فأنا يهمني أن أنقد ويهمني أن أبين.

ويدعي أن هذا هو النصح، وهذا منهج خطير، والمحكم في هذا الأمر هو الكتاب والسنة، فالله سبحانه وتعالى عندما ذكر اليهود والنصارى أنصفهم، وذكر أن منهم من يؤمن ومنهم من لا يؤمن، وذكر أن من اليهود الأمين ومنهم الخائن، وذكر أن في طوائف من النصارى رقة قلوب، وأخبر أن النصارى أقرب إلى الحق مع أنهم من المشركين، وكذلك منهج النبي صلى الله عليه وسلم، كان ينصف إذا تكلم، وإذا تكلم عن أهل الديانات أنصفهم وذكر ما عندهم من المحاسن ثم ذكر باطلهم، وكذلك أئمة السلف كانوا ينصفون الخصوم، بل إن الإنصاف أمر لا بد من التنويه به؛ لأن بعض الناس قد يقول: في ذهني هذه الفضائل ولا أنكرها، ونقول له: ليس المقصود أن الأمر في ذهنك، المقصود أنه إذا تكلمت فاعدل، إذا تكلمت فأنصف، وإذا قلت فاعدل، وإلا فاسكت فالسكوت خير لك، وأنا أقول: أن التنويه بأخطاء الآخرين الذين ينتسبون إلى الإسلام -حتى وإن كانوا من الضلال- دون الإشارة إلى ما فيهم من حسنات هو الظلم نفسه.

الأمر الثالث: لا بد عند الكلام عن الخصوم -كما فعل السلف- من ذكر موافقة المخالف فيما هو حق لتقوية الحق بالاتفاق عليه، وأقصد بذلك أن أئمة الدين إذا ذكروا قولاً من الأقوال في الفقه أو في العقيدة قالوا مثلاً: وهذا هو قول أهل السنة والجماعة، وهو قول المعتزلة والجهمية، وهو قول الأشاعرة إلى آخره، ويذكرون أئمة الضلالة لأنهم وافقوا في هذا الحق، وليس في هذا على المسلم ضير؛ لأن الحق ثابت بهم وبغيرهم، لكن كونك تقيم الحجة على أتباعهم بمثل هذا فيه تقوية للحق، فأنا إذا قلت في أي مسألة من مسائل أصول الدين: أنها قول أهل ا
বিরোধীদের বক্তব্যের মধ্যে যা সত্যের অনুকূল তা দিয়ে দলিল গ্রহণ করা একটি সালাফি মানহাজ

হয়তো শাইখুল ইসলামের বক্তব্যের প্রতি আমাদের একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করা উচিত। আমি যে কথাটি বলব তা তিনি এবং পূর্ববর্তী সালাফ ইমামগণ প্রায়ই পুনরাবৃত্তি করেছেন; আর তা হলো, বিরোধীদের বক্তব্যে যা সত্যের অনুকূল, তা দিয়ে দলিল পেশ করা। আমার উদ্দেশ্য হলো, সালাফ ইমামগণ সূফীদের সেই সব বক্তব্য দ্বারা দলিল গ্রহণে নিষেধ করেন না যা সত্যপন্থীদের সাথে মিলে যায়। তেমনি ইলমুল কালামবিদদের (মুতাকাল্লিমুন) বক্তব্যের মাধ্যমে সত্যকে শক্তিশালী করতে বাধা দেন না যেখানে তারা সত্যের অনুসারী হয়েছে। অথবা অন্য যেকোনো ফিরকার কাছে বিদ্যমান সত্য দ্বারা দলিল পেশ করতে বারণ করেন না যদি তা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বক্তব্য ও মানহাজকে শক্তিশালী করে। বরং এটি বিরোধীদের বিরুদ্ধে হুজ্জত বা প্রমাণ কায়েমের একটি মাধ্যম যখন তারা সত্যের বিপরীত কোনো পথে যায়, আর আমরা তাদের সেই সব বিষয়ে সমর্থন করি যেগুলোতে তারা সত্যের অনুকূলে থাকে। আমার উদ্দেশ্য হলো, বিরোধী পক্ষ যখন দেখবে যে তাদের সঠিক কথাগুলো আপনি গ্রহণ করছেন, তখন তাদের অন্তর আপনার প্রতি নরম হবে এবং আপনার যেসব কথার সাথে তারা দ্বিমত পোষণ করে সেগুলো গ্রহণ করতে তারা আগ্রহী হবে। এটি একটি দিক। অন্য দিকটি হলো ইনসাফ ও ন্যায়ের একটি মূলনীতি। এটি কেবল কোনো কৌশল বা মানুষকে কাছে টানা ও উৎসাহিত করার কোনো পদ্ধতি মাত্র নয়; বরং এটি ন্যায় ও ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি শরয়ি মূলনীতি। আমার উদ্দেশ্য হলো, প্রতিপক্ষ বা বিরোধীদের কাছে যদি সত্যের অনুকূল কিছু থাকে তবে তা স্বীকার করা ওয়াজিব; চাই সেটি কোনো দলিল হোক, কোনো কথা হোক, কোনো চরিত্র হোক বা কোনো গুণাবলি হোক। সুতরাং আপনার বা আহলুস সুন্নাহর বিরোধীদের কাছে যদি কোনো সঠিক দলিল, সঠিক কথা, সঠিক আচরণ বা কোনো গুণাবলি থাকে, তবে ইনসাফ এবং সত্য প্রতিষ্ঠার খাতিরে তা স্বীকার করা অপরিহার্য। আর এটিই মানুষকে কল্যাণের দিকে নিয়ে আসে এবং তাদের মধ্যে হৃদ্যতা তৈরি করে।

অতএব, এটি সালাফ ইমামগণের একটি মানহাজ বা কর্মপদ্ধতি। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এতে একা নন, যদিও তিনি এই বিষয়ের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করতেন। এমনকি কোনো কোনো তালিবে ইলম (শিক্ষার্থী) বিস্মিত হয়ে মনে করে যে, শাইখুল ইসলাম যখন সূফী বা মুতাকাল্লিমুনদের বক্তব্য উল্লেখ করেন, তখন তিনি বুঝি তাদের অন্যান্য সব বক্তব্যকেও সঠিক বলে মেনে নিয়েছেন। আমি বলব: এটি আমাদের উপলব্ধির ত্রুটি, সালাফদের মানহাজের ত্রুটি নয়। শাইখুল ইসলাম এবং অন্যান্য ইমামগণ অন্যদের কাছ থেকে কেবল তা-ই গ্রহণ করেন যা সত্যের সাথে মিলে যায়। আর যখন তারা অন্যদের সম্পর্কে আলোচনা করেন তখন ইনসাফ করেন; তাদের সম্পর্কে কথা বলার সময় এবং তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় তারা ন্যায়পরায়ণ থাকেন। ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতাকে আত্মসমর্পণ, হীনম্মন্যতা বা বিরোধীদের প্রচার-প্রসার মনে করা যাবে না, যেমনটি অনেক অল্পবুদ্ধি সম্পন্ন লোক মনে করে থাকে। তারা মনে করে যে, যদি প্রতিপক্ষ বা বিদআতির প্রতি ইনসাফ করা হয় অথবা তার কোনো গুণের কথা স্বীকার করা হয়, তবে এর মাধ্যমে যেন সত্যের পরাজয় ঘটে অথবা এর ফলে সত্যপন্থীদের ওপর কোনো অপবাদ বা অমর্যাদা নেমে আসে। এটি একটি ভুল ধারণা যা সত্য থেকে অনেক দূরে এবং সালাফ ইমামগণ এই পথের ওপর ছিলেন না। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে আহলুল ইলম বা আলেমগণ বিষয়টিকে বিবেচনা করেন, যদি তারা আশঙ্কা করেন যে বিদআতির প্রতি ইনসাফ করলে সাধারণ মানুষ ফিতনায় পড়বে অথবা অন্য কোনো বিষয় যা আলেমগণই নির্ধারণ করেন। এটি কোনো ব্যক্তি নির্ধারণ করবে না এবং এটি কোনো মানদণ্ড, মূলনীতি বা সাধারণ মানহাজ হবে না। বরং এগুলো অত্যন্ত বিরল কিছু বিধান হতে পারে যেখানে সত্যের অনুসারী ব্যক্তি তার প্রতিপক্ষের সত্য দিকগুলো থেকে চোখ ফিরিয়ে নিতে পারে যদি দেখা যায় যে এর ফলে ফিতনা অনেক বড় ও ব্যাপক রূপ ধারণ করবে। তবে এটি অত্যন্ত বিরল এবং এর ওপর নির্ভর করা বা একে মূলনীতি বানানো সঠিক নয়।

সুতরাং, আমি এই বিষয়ে দ্বীনের ইমামগণের মানহাজ বা পদ্ধতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যা তিনটি বিষয়ে সংক্ষিপ্ত করা যায়: প্রথম বিষয়টি হলো: প্রতিপক্ষের কাছে যে সত্যটুকু আছে তা স্বীকার করা এবং তা ঘোষণা করা।

কিছু মানুষ এতে সংকীর্ণতা বোধ করে, প্রতিপক্ষের কোনো গুণের কথা স্বীকার করার মতো ধৈর্য তাদের নেই। এটি একটি ত্রুটি এবং এই অবস্থা আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে।

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: বিরোধীদের—চাই সে বিদআতি হোক, মুতাকাল্লিমুন হোক, সূফী হোক বা কোনো দল হোক—তাদের কথার বা আচরণের প্রশংসনীয় দিকগুলোর প্রশংসা করা। বর্তমানে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিভিন্ন দল ও দাঈদের মধ্যে একে অপরের প্রতি কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি এবং মন্দ উপাধিতে ভূষিত করার যে সংস্কৃতি চলছে, তেমনটি হওয়া উচিত নয়। আমরা দেখি যে তারা ইনসাফ করে না; যখন কোনো ব্যক্তি তার বিরোধী কোনো দল সম্পর্কে কথা বলে, তখন দেখা যায় সে কেবল তাদের মন্দ দিকগুলোই জানে, যদিও সে তাদের ভালো কাজ ও গুণাবলি সম্পর্কে অবগত। এমনকি তাদের কারো কারো ওপর শয়তান এমনভাবে চড়াও হয়েছে যে তারা বলে থাকে: "ভালো দিকগুলো তো জানাই আছে, আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের সমালোচনা করা এবং ভুলগুলো স্পষ্ট করা।"

তারা দাবি করে যে এটিই হলো নসিহত বা সদুপদেশ। অথচ এটি একটি বিপজ্জনক মানহাজ। এই বিষয়ে চূড়ান্ত মানদণ্ড হলো কুরআন ও সুন্নাহ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন ইয়াহুদি ও নাসারাদের কথা উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি তাদের প্রতি ইনসাফ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে তাদের মধ্যে কেউ ঈমান আনে আবার কেউ আনে না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ইয়াহুদিদের মধ্যে কেউ আমানতদার আবার কেউ খেয়ানতকারী। তিনি উল্লেখ করেছেন যে নাসারাদের বিভিন্ন দলের মধ্যে কোমলতা রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন যে মুশরিক হওয়া সত্ত্বেও নাসারারা সত্যের অধিক নিকটবর্তী। অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মানহাজও ছিল এমন; তিনি যখন কথা বলতেন তখন ইনসাফ করতেন। যখন তিনি আহলে কিতাব বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কে কথা বলতেন, তখন ইনসাফ করতেন এবং তাদের ভালো দিকগুলো উল্লেখ করার পর তাদের বাতিল আকিদাগুলো তুলে ধরতেন। তেমনিভাবে সালাফ ইমামগণও প্রতিপক্ষের প্রতি ইনসাফ করতেন। বরং ইনসাফ এমন একটি বিষয় যা বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন; কারণ কিছু মানুষ বলতে পারে: "আমার মনে তো এই ভালো গুণগুলোর কথা আছেই, আমি তো সেগুলো অস্বীকার করছি না।" আমরা তাকে বলব: এটি আপনার মনে থাকাটা মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো আপনি যখন কথা বলবেন তখন যেন ন্যায়বিচার করেন, যখন কথা বলবেন তখন যেন ইনসাফ করেন। আর যদি কথা বলেন তবে ইনসাফের সাথেই বলুন, অন্যথায় চুপ থাকুন, সেটাই আপনার জন্য উত্তম। আমি বলব: যারা ইসলামের দিকে সম্পৃক্ত—এমনকি তারা পথভ্রষ্ট হলেও—তাদের ভালো গুণগুলোর কথা উল্লেখ না করে কেবল ভুলত্রুটির কথা বলাটা স্বয়ং একটি জুলুম।

তৃতীয় বিষয়টি হলো: প্রতিপক্ষ সম্পর্কে আলোচনার সময়—যেমনটি সালাফগণ করেছেন—বিরোধীদের সত্য কথার সাথে ঐকমত্যের বিষয়টি উল্লেখ করা প্রয়োজন যাতে সত্যটি সর্বসম্মত হওয়ার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়। আমার উদ্দেশ্য হলো, দ্বীনের ইমামগণ যখন ফিকহ বা আকিদার কোনো বিষয়ে কোনো বক্তব্য উল্লেখ করতেন, তখন তারা বলতেন: "এটিই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বক্তব্য, এবং এটিই মুতাজিলা ও জাহমিয়াদের বক্তব্য, এটিই আশআরিদের বক্তব্য..." ইত্যাদি। তারা পথভ্রষ্ট ইমামদের নামও উল্লেখ করতেন যেহেতু তারা এই সত্য বিষয়টিতে একমত হয়েছে। এতে কোনো মুসলিমের কোনো ক্ষতি নেই; কারণ সত্য তাদের দ্বারা বা অন্য কারো দ্বারা এমনিতেই প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু তাদের অনুসারীদের ওপর আপনি যখন এইভাবে দলিল পেশ করবেন, তখন তা সত্যকেই শক্তিশালী করবে। সুতরাং আমি যদি উসুলুদ্দীন বা দ্বীনের মৌলিক কোনো বিষয়ে বলি যে, এটি হলো আহলে...