(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
العلمانية - الليبرالية - الديمقراطية - الدولة المدنية في ميزان الإسلام   (مجموعة من المؤلفين)

القسم: كتب عامة


الكتاب: العلمانية، الليبرالية، الديمقراطية، الدولة المدنية في ميزان الإسلام

جمع وترتيب: اللجنة العلمية بجمعية الترتيل

تحت إشراف: الشيخ محمد عبد العزيز أبو النجا، الخبير بمجمع فقهاء الشريعة وعضو الاتحاد العلمي لعلماء المسلمين بالمجلس الإسلامي العالمي للدعوة والإغاثة

قدم له: الأستاذ الدكتور محمد نعيم محمد هاني الساعي، أستاذ الفقه وأصوله وعضو مجمع فقهاء الشريعة وعضو لجنته الدائمة للإفتاء

الطبعة: الثالثة

عدد الصفحات: 52

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 30 جُمادَى الآخرة 1432

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ - উদারতাবাদ - গণতন্ত্র - ইসলামের মানদণ্ডে নাগরিক রাষ্ট্র   (একদল লেখক)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, উদারতাবাদ, গণতন্ত্র, ইসলামের মানদণ্ডে নাগরিক রাষ্ট্র

সংকলন ও বিন্যাস: আত-তারতীল অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা কমিটি

তত্ত্বাবধানে: শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ আবু আল-নাজা, শরিয়াহ ফকিহ পরিষদের বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক ইসলামি দাওয়াহ ও ত্রাণ কাউন্সিলের অন্তর্ভুক্ত মুসলিম আলেমদের ইলমি ইউনিয়নের সদস্য

উপস্থাপনায়: অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ নাঈম মুহাম্মদ হানি আস-সাঈ, ফিকহ ও এর উসুল (أصول) শাস্ত্রের অধ্যাপক এবং শরিয়াহ ফকিহ পরিষদের সদস্য ও এর স্থায়ী ফতোয়া কমিটির সদস্য

সংস্করণ: তৃতীয়

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৩০ জুমাদিউস সানি ১৪৩২ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌جمعية الترتيل للخدمات الثقافية والدينية

نشاط التوعية الدينية

إصدار رقم 2

العلمانية، الليبرالية، الديمقراطية، الدولة المدنية في ميزان الإسلام

الطبعة الثالثة

جمع وترتيب اللجنة العلمية بجمعية الترتيل

تحت إشراف الشيخ / محمد عبد العزيز أبو النجا

الخبير بمجمع فقهاء الشريعة وعضو الاتحاد العلمي لعلماء المسلمين بالمجلس الإسلامي العالمي للدعوة والإغاثة

قدم له الأستاذ الدكتور / محمد نعيم محمد هاني الساعي

أستاذ الفقه وأصوله وعضو مجمع فقهاء الشريعة وعضو لجنته الدائمة للإفتاء
জামিয়াতুত তারতীল সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সেবা সংস্থা

ধর্মীয় সচেতনতামূলক কার্যক্রম

প্রকাশনা নম্বর ২

ইসলামের মানদণ্ডে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, উদারতাবাদ, গণতন্ত্র এবং নাগরিক রাষ্ট্র

তৃতীয় সংস্করণ

জামিয়াতুত তারতীলের বৈজ্ঞানিক কমিটি কর্তৃক সংগৃহীত ও বিন্যস্ত

শায়খ মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ আবু আন-নাজা-এর তত্ত্বাবধানে

শারী'আহ বিশেষজ্ঞ পরিষদের বিশেষজ্ঞ এবং ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক কাউন্সিল ফর দাওয়াহ অ্যান্ড রিলিফের অন্তর্গত মুসলিম উলামাদের বৈজ্ঞানিক ইউনিয়নের সদস্য

উপস্থাপনায়: প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মাদ নাঈম মুহাম্মাদ হানি আস-সায়ি

ফিকহ ও তার মূলনীতি (أصول)-এর অধ্যাপক এবং শারী'আহ বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য ও এর স্থায়ী ফতোয়া কমিটির সদস্য
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تقديم فضيلة الأستاذ الدكتور / محمد نعيم محمد هاني الساعي

الحمد لله رب العلمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين؛ وبعد فإن الشيخ الفاضل الأستاذ العزيز محمد أبو النجا أطلعنا على رسالة لطيفة لجمعية الترتيل الكريمة، قام - حفظه الله تعالى - مشكورا بالإشراف على إخراجها فجاءت على صغر حجمها كبيرة في قدرها غنية بمعانيها، أتت على بعض أهم ما التبس على العامة من مفاهيم ومصطلحات تداعى إليها وعليها أكثر التيارات السياسية المعاصرة في البلدان الإسلامية تتنافى حقائقها وما تأصل وتقعد في فقه الإسلام وشرعه العظيم، وقد ازدادت خطورة تلك التصورات والاصطلاحات الوافدة عندما أصبحت هي البديل الأوفى والأنجع للشعوب المسلمة التي تتصارع لإسقاط الأنظمة الفاسدة التي جثمت على صدورها عقودًا من الزمان، فبدأت تتنسم رياحين التحرر واستعادة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌পরম শ্রদ্ধেয় প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ নাঈম মুহাম্মদ হানি আস-সায়ীর ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর: নিশ্চয়ই সম্মানিত শায়খ ও প্রিয় উস্তাদ মুহাম্মদ আবু আন-নাজা আমাদের সামনে 'জামঈয়াতুত তারতীল'-এর একটি চমৎকার পুস্তিকা উপস্থাপন করেছেন। তিনি —আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাযত করুন— কৃতজ্ঞতার সাথে এটি প্রকাশের তত্ত্বাবধান করেছেন; ফলে এটি ক্ষুদ্র অবয়ব হওয়া সত্ত্বেও মর্যাদায় অত্যন্ত উচ্চ এবং অর্থে সমৃদ্ধ হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের নিকট অস্পষ্ট ও সংশয়যুক্ত এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ও পরিভাষা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা মুসলিম দেশগুলোর অধিকাংশ সমসাময়িক রাজনৈতিক ধারাগুলোর মাঝে ব্যাপকভাবে আবর্তিত হচ্ছে। এগুলোর বাস্তবতা ইসলামের ফিকহ এবং মহান শরিয়তে প্রতিষ্ঠিত ও সুবিন্যস্ত মূলনীতিসমূহের পরিপন্থী। এই আমদানিকৃত ধারণা ও পরিভাষাগুলোর ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে যখন এগুলো সেই মুসলিম জাতিগুলোর নিকট সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যারা কয়েক দশক ধরে তাদের বুকের ওপর চেপে বসা দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনব্যবস্থা উৎখাতের সংগ্রামে লিপ্ত; ফলে তারা স্বাধীনতার সুবাস পেতে শুরু করেছে এবং পুনরুদ্ধার...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩)
معالم القيمة الإنسانية وكأنها لم تجد ما يشبع نهمتها ويسد حاجتها ويحقق آمالها ويفتح أبواب المستقبل الزاهر أمام أجيال من الشباب المتعطش للبذل والعطاء إلا بعيدا عن شرع السماء وهذي المصطفى – صلى الله عليه وسلم – ممسكة بتلابيب ما تشرق وتغرب وتخلق واهترأ من التجارب والتصورات والدساتير الأرضية الوافدة المصنوعة بيد المخلوق الضعيف القاصر.

فكان واجب أهل العلم التسابق لبيان زيف تلك التصورات الوافدة الغريبة عن قوانين الإسلام وتاريخ الأمة وماضيها التليد وذلك بلاغًا عن الله ورسوله – صلى الله عليه وسلم – وأداء لواجب البيان والنصح للأمة، فجزى الله القائمين عليها خير الجزاء ونفع بهم العباد والبلاد وتقبل منا ومنهم وألهمنا وإياهم السداد والرشاد وجعلنا وسائر المسلمين العاملين من المجددين لدينه والمحبين لنهج نبيه وحبيبه – صلى الله عليه وسلم –، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

وكتبه

محمد نعيم محمد هاني الساعي

ليلة الأربعاء – القاهرة المحروسة

22/ 3 / 2011
মানবিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যসমূহ যেন তাদের প্রবল আকাঙ্ক্ষা পূরণ, প্রয়োজন মেটানো, আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং উৎসর্গ ও ত্যাগের জন্য তৃষ্ণার্থ যুব প্রজন্মের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দ্বার উন্মোচনের কোনো পথই খুঁজে পাচ্ছিল না—আসমানি শরিয়ত এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হেদায়াত থেকে দূরে সরে গিয়ে। তারা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেসব জরাজীর্ণ ও সেকেলে অভিজ্ঞতা, ধারণা এবং মানবসৃষ্ট পার্থিব সংবিধানগুলোকে আঁকড়ে ধরেছিল, যা কি না দুর্বল (ضعيف) ও অপূর্ণ সৃষ্টির হাত দ্বারা নির্মিত।

এমতাবস্থায় আলেমদের কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল ইসলামের আইন, উম্মাহর ইতিহাস ও এর গৌরবোজ্জ্বল অতীতের সাথে সংগতিহীন সেই বিজাতীয় ও আগন্তুক ধারণাগুলোর অসারতা প্রমাণে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়া। আর এটি মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছে দেওয়া এবং উম্মাহর প্রতি সত্য প্রকাশ ও উপদেশের দায়িত্ব পালনেরই নামান্তর। আল্লাহ তাআলা এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁদের মাধ্যমে বান্দা ও ভূখণ্ডের কল্যাণ সাধন করুন, আমাদের ও তাঁদের আমল কবুল করুন এবং আমাদের ও তাঁদেরকে সঠিক পথ ও সুবুদ্ধি দান করুন। আল্লাহ আমাদের এবং সকল কর্মনিষ্ঠ মুসলিমকে তাঁর দ্বীনের সংস্কারক এবং তাঁর প্রিয় নবী ও হাবিব (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শের অনুরাগী হিসেবে কবুল করুন। আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো—সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

এটি লিখেছেন

মুহাম্মদ নাঈম মুহাম্মদ হানি আল-সায়ি

বুধবার রাত – সুরক্ষিত কায়রো

২২/ ০৩ / ২০১১
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌مقدمة اللجنة العلمية

الحمد لله العلي الكبير، وأشهد أن لا إله إلا هو وحده لا شريك له الحكيم الخبير، أنزل القرآن، وأمر بالإيمان، وجعل الإسلام الدين الثابت الأركان، وفرض الدخول فيه كافة على الكافة من الإنس والجان، وحكم على كل منهج يعارضه أنه ضرب من الشرك والعصيان، وتخليط من الهذيان، واتباع للشيطان، وسبيل إلى الضلال والخسران.

وأشهد أن محمدا - صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم - عبد الله ورسوله، أرسله بالمحجة البيضاء، والملة السمحاء، فأتى بأوضح البراهين لأقوم دين، وأبان محجة السالكين، وحكم على كل من عصاه وخالف منهجه أنه من لاضالين الخاسرين.
ইলমি কমিটির ভূমিকা

সকল প্রশংসা মহীয়ান ও গরীয়ান আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি পরম প্রজ্ঞাময় ও সম্যক পরিজ্ঞাত। তিনি কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, ঈমানের আদেশ দিয়েছেন এবং ইসলামকে সুদৃঢ় স্তম্ভবিশিষ্ট দ্বীন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি সমস্ত মানুষ ও জিনের ওপর এতে সর্বতোভাবে প্রবেশ করা ফরজ করেছেন এবং এর বিরোধিতাকারী প্রতিটি মতাদর্শকে শিরক ও অবাধ্যতার পর্যায়ভুক্ত, প্রলাপের সংমিশ্রণ, শয়তানের অনুসরণ এবং বিভ্রান্তি ও ক্ষতির পথ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম—আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁকে আলোকোজ্জ্বল পথ ও সহজ-সরল আদর্শসহ প্রেরণ করেছেন। তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের সপক্ষে অত্যন্ত স্পষ্ট প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন এবং সত্যপথের অভিযাত্রীদের জন্য রাজপথ স্পষ্ট করেছেন। আর তিনি তাঁর অবাধ্য ও তাঁর আদর্শের পরিপন্থী প্রত্যেকের ব্যাপারে এই ফায়সালা দিয়েছেন যে, তারা পথভ্রষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
وبعد:

قد كثر في هذه الأيام العصيبة ترديد كلمة (الدولة المدنية)، (الديمقراطية)، (الليبرالية، العلمانية)؛ ذلك لأن فساد البلاد في السنين الماضية أدَّى إلى أن يعتلي منابر الدولة من إعلام ومؤسسات ثقافية ثلة من العلمانيين الذين ابتعدوا عن نهج رب العالمين، ولهم دعوة واضحة يريدون أن يجعلوها الآن على أرض الواقع ويغيروا هوية مصر الإسلامية.

دعوتهم ترك الاحتكام إلى الشريعة الإلهية، وإلغاء المادة الثانية من الدستور التي تنص على أن الإسلام دين الدولة واللغة العربية لغتها الرسمية ومبادئ الشريعة الإسلامية المصدر الرئيسي للتشريع، دعوتهم الهبوط من سمو الأخلاق الإسلامية إلى حضيض الرذائل البهيمية تحت شعار الحرية الشخصية، دعوتهم حصر الدين في المسجد وإلغاؤه
অতঃপর:

বর্তমান এই সংকটময় দিনগুলোতে ‘নাগরিক রাষ্ট্র’, ‘গণতন্ত্র’, ‘উদারতাবাদ’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’ শব্দগুলোর পুনরাবৃত্তি অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে; এর কারণ হলো, বিগত বছরগুলোতে দেশের বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে যে, রাষ্ট্রের গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মঞ্চে এমন একদল ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী আরোহণ করেছে যারা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তাদের একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে যা তারা এখন বাস্তবে রূপদান করতে চায় এবং মিসরের ইসলামি পরিচয় পরিবর্তন করতে চায়।

তাদের আহ্বান হলো ঐশী শরিয়াহর (الشريعة) শাসন বর্জন করা এবং সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটি বাতিল করা—যেখানে স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে যে, ইসলাম রাষ্ট্রের ধর্ম, আরবি তার রাষ্ট্রভাষা এবং ইসলামি শরিয়াহর মূলনীতিসমূহ হলো আইন প্রণয়নের (التشريع) প্রধান উৎস। তাদের আহ্বান হলো ব্যক্তিগত স্বাধীনতার আড়ালে ইসলামি নৈতিকতার সুউচ্চ শিখর থেকে পাশবিক পাপাচারের অতল গহ্বরে পতন ঘটানো। তাদের আহ্বান হলো ধর্মকে কেবল মসজিদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখা এবং সমাজ থেকে তা বিলুপ্ত করা।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৬)
من حياة الناس، يصفون أحكام رب البرية بالتخلف والرجعية، فلما كان الأمر كذلك؛ رأينا أن نكتب هذه الرسالة الموجزة بعبارة قريبة من القارئ العاادي مبينين حقيقة هذه المذاهب الضالة ومواطن السم القاتل في هذه المذاهب، واضعين بين يدي القارئ ما الذي سيؤدي إليه انجراف المسلمين وراء هذه المذاهب في هذه الأيام العصيبة؛ وذلك لتستبين سبيل المجرمين، وليهلك من هلك عن بينة، ولإقامة الحجة وبيان المحجة، وليقذف الله بإذنه بالحق على الباطل فيدمغه فإذا هو زاهق، وبين يديك أخي الكريم الطبعة الثالثة التي تتميز بوضع فصل في محاسن الشريعة الإسلامية وبعض الزيادات النافعة بإذن الله، ولله الحمد فهو الموفق وهو المستعان يقبل القليل ويبارك عليه.

اللجنة العلمية بجمعية الترتيل.
মানুষের জীবন থেকে, তারা সৃষ্টিজগতের রবের বিধানসমূহকে অনগ্রসরতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতা হিসেবে অভিহিত করে। বিষয়টি যখন এমন রূপ ধারণ করেছে, তখন আমরা সাধারণ পাঠকের জন্য সহজবোধ্য ভাষায় এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকাটি রচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি; যেখানে এই বিভ্রান্ত মতবাদগুলোর (المذاهب الضالة) প্রকৃত স্বরূপ এবং এই মতাদর্শগুলোর মধ্যে নিহিত প্রাণঘাতী বিষের স্থানসমূহ স্পষ্ট করা হয়েছে। সেই সাথে এই কঠিন সময়ে মুসলিমদের এই সকল মতবাদের স্রোতে ভেসে যাওয়ার পরিণাম কী হতে পারে, তা আমরা পাঠকের সম্মুখে উপস্থাপন করেছি; আর তা করা হয়েছে যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে যায়, এবং যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের (بينة) ভিত্তিতেই ধ্বংস হয়, আর যেন দলিল (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হয় ও সত্য পথ (المحجة) প্রকাশিত হয়। এছাড়া আল্লাহ যেন তাঁর ইচ্ছায় মিথ্যার ওপর সত্যকে নিক্ষেপ করেন, যা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। হে সম্মানিত ভাই, আপনার সম্মুখে এটি গ্রন্থটির তৃতীয় সংস্করণ, যা ইসলামী শরীয়তের সৌন্দর্যের ওপর একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় এবং আল্লাহর ইচ্ছায় কিছু উপকারী বিষয় সংযোজনের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে। সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য, তিনিই তাওফিকদাতা (الموفق) এবং সাহায্যকারী (المستعان); তিনি সামান্য আমল কবুল করেন এবং তাতে বরকত দান করেন।

জামঈয়াতুত তারতীলের ইলমী কমিটি।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌العلمانية

يطلق هذا الفكر في اللغة الإنجليزية ( Secularism) وتعني اللادينية أو الدنيوية، غير أنها اشتهرت باسم العلمانية ولعل ذلك كان مقصودًا بغية إظهارها بمظهر يجعلها مقبولة بين المسلمين؛ لأن العلم في اللغة الإنجليزية ( Science) والمذهب العلمي ( Scientism) وهذا تلبيس شديد حتى يفهم الناس أن هذا المذهب المقصود به العلم والانفتاح العلمي، وليس هذا هو المراد.

والعلمانية في قاموس (أكسفورد): مفهوم يرى ضرورة أن تقوم الأخلاق والتعليم على أساس غير ديني.

وترجع جذور هذا الفكر الذي نشأ في أوروبا نتيجة الظلم حيث طغى رجال الكنيسة بدينهم المحرف
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (العلمانية)

ইংরেজি ভাষায় এই মতবাদকে (Secularism) বলা হয়, যার অর্থ হলো ধর্মহীনতা বা জাগতিকতা। তবে এটি 'ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (العلمانية)' নামেই সমধিক পরিচিতি লাভ করেছে। সম্ভবত এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই করা হয়েছে যাতে মুসলমানদের নিকট একে এমন এক অবয়বে উপস্থাপন করা যায় যা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়; কারণ ইংরেজি ভাষায় বিজ্ঞান হলো (Science) এবং বিজ্ঞানবাদ হলো (Scientism)। এটি একটি চরম বিভ্রান্তি (تلبيس), যাতে মানুষ ধারণা করে যে এই মতবাদের মূল লক্ষ্য হলো বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক উন্মুক্ততা, অথচ প্রকৃত উদ্দেশ্য এটি নয়।

অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুযায়ী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (العلمانية) হলো: এমন একটি ধারণা যা নৈতিকতা ও শিক্ষাকে ধর্মহীন ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করা আবশ্যক বলে মনে করে।

ইউরোপে উদ্ভূত এই মতবাদের শেকড় প্রোথিত রয়েছে তৎকালীন জুলুম বা অন্যায়ের মধ্যে, যেখানে গির্জার যাজকগণ তাদের বিকৃত (محرف) ধর্মের মাধ্যমে সীমালঙ্ঘন করেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
وسيطروا على الحكام والمجتمعات وأرادوا السيطرة على حقائق العلم فنفوا من هذه الحقائق ما خالف تصوراتهم، وأقيمت على الشعوب هناك مذابح دموية وسميت بمحاكم التفتيش قتل فيها النساء والرجال بالآلاف، ومما يذكر من آلات التعذيب آلات كسر العظام وتقطيع الأطراف وانتزاع أثداء النساء وخلع الأظفار وكلاليب التعليق وقطع الألسنة وألوان شتى من ألوان التعذيب.

وقد صاحب هذا فساد في أحوالهم الدينية، فصكوا صكوك الغفران وزعموا أنه لا تقبل عبادة العباد إلا من خلال رجال الكنائس.

ورويدا رويدا بدأ التململ والتذمر الذي انتهى بالثورة والتي من أبرزها الثورة الفرنسية التي آلت على نفسها محاربة الملكية وتسلط القساوسة معا
তারা শাসকগোষ্ঠী ও সমাজের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং বৈজ্ঞানিক সত্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল; ফলে তারা সেই সকল সত্যকে অস্বীকার করেছিল যা তাদের মনগড়া ধারণার পরিপন্থী ছিল। সেখানে জনগণের ওপর রক্তক্ষয়ী হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল যা 'তদন্ত আদালত' (ইনকুইজিশন) নামে অভিহিত ছিল; সেখানে হাজার হাজার নারী ও পুরুষকে হত্যা করা হয়। নির্যাতনের যেসব যন্ত্রপাতির কথা উল্লেখ করা হয় তার মধ্যে ছিল হাড় চূর্ণ করার যন্ত্র, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিচ্ছেদ করার সরঞ্জাম, নারীদের স্তন উপড়ে ফেলার যন্ত্র, নখ উপড়ে ফেলা, ঝুলিয়ে রাখার আঁকশি, জিহ্বা কর্তন এবং বিবিধ প্রকারের যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতি।

এর পাশাপাশি তাদের ধর্মীয় ব্যবস্থায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। তারা 'পাপমুক্তির সনদ' প্রবর্তন করেছিল এবং দাবি করেছিল যে, গির্জার যাজকদের মধ্যস্থতা ব্যতীত বান্দাদের ইবাদত কবুল হবে না।

ধীরে ধীরে জনমনে অস্থিরতা ও অসন্তোষ ঘনীভূত হতে শুরু করে যা শেষ পর্যন্ত বিপ্লবে রূপ নেয়। এগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিল ফরাসি বিপ্লব, যা রাজতন্ত্র এবং পাদ্রিদের আধিপত্য—উভয়কেই সমূলে উচ্ছেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
بتطرف يلخصه شعارها (اشنقوا آخر ملك بأمعاء آخر قسيس) أي تخلصوا من كل الملوك ورجال الدين.

ثم قامت الثورة بحصار على الدين في شعائر تعبدية فقط لا علاقة لها بالحياة، وأقامت حضارتها على المادية المحضة وفي اعتقادها أن العلم ضد الدين.

وللعلمانية أركان ثلاثة:

1 - قصر الاهتمام الإنساني على الدنيا فقط وتأخير منزلة الدين في الحياة، فلا يصح أن يتدخل الدين في الحياة العامة بل هو محصور في المسجد فقط.

2 - فصل العلم والأخلاق والفكر والثقافة عن الالتزام بتعاليم الدين - أي دين كان – فالأخلاق والمبادئ عندهم من الأمور النسبية، بينما هي في الإسلام من الأمور الثابتة التي لا تتغير ولا تتبدل، فالزنا مثلا في الإسلام حرام ومناف للأخلاق من عهد النبي – صلى الله عليه وسلم –
চরমপন্থার সাথে যার মূলমন্ত্রে ফুটে ওঠে (শেষ রাজাকে শেষ পাদ্রীর নাড়িভুঁড়ি দিয়ে ফাঁসি দাও), অর্থাৎ সকল রাজা ও ধর্মযাজকদের হাত থেকে নিষ্কৃতি লাভ করো।

অতঃপর এই বিপ্লব ধর্মকে কেবল ইবাদত-বন্দেগির আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলে যার সাথে বাস্তব জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই, এবং এটি নিরেট বস্তুবাদের ওপর স্বীয় সভ্যতা গড়ে তোলে এবং তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী বিজ্ঞান ধর্মের পরিপন্থী।

আর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের তিনটি মূল স্তম্ভ রয়েছে:

1 - মানুষের যাবতীয় মনোযোগ কেবল পার্থিব জগতের ওপর সীমাবদ্ধ করা এবং জীবনে ধর্মের মর্যাদাকে পশ্চাৎপদ করা; ফলে জনজীবনে ধর্মের হস্তক্ষেপ করা সমীচীন নয়, বরং তা কেবল মসজিদের ভেতরই সীমাবদ্ধ।

2 - বিজ্ঞান, নৈতিকতা, চিন্তা ও সংস্কৃতিকে ধর্মীয় শিক্ষার অনুসরণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা—তা যে কোনো ধর্মই হোক না কেন—তাদের নিকট নৈতিকতা ও আদর্শসমূহ আপেক্ষিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, অথচ ইসলামে এগুলো সুদৃঢ় ও অপরিবর্তনীয় (ثابتة) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা কখনো পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হয় না। উদাহরণস্বরূপ, ব্যভিচার ইসলামে নিষিদ্ধ (حرام) এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ থেকেই তা নৈতিকতা পরিপন্থী—
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
إلى يوم القيامة، أما في العلمانية فالأمر نسبي فلا حرج طالما أن الاثنين متفقان على هذا.

3 - إقامة دولة ذات مؤسسات سياسية على أساس غير ديني.

آراء العلمانيين في مذهبهم:

فإذا سألت العلماني: هل أنزل الله تعالى دين الإسلام ليكون هاديًا لنا في كل أمور حياتنا فلا يجوز لنا أن نرفض شيئًا منه؟ فإن جوابه لا يخرج عن ثلاثة احتمالات:

1 - أن يفر من الجواب.

2 - أو يقول بوضوح وصراحة: إن الدين يجب أن نعزله عن السياسة والثقافة والفكر وعن حياتنا الاجتماعية، وقد يكون لطيفًا فيقول: إن الدين علاقة بين الإنسان وربه ولا يخرج عن أن يكون مسألة شخصية.
কিয়ামত দিবস পর্যন্ত; তবে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আপেক্ষিক, তাই যতক্ষণ পর্যন্ত উভয় পক্ষ এতে একমত থাকে, ততক্ষণ এতে কোনো অসুবিধা নেই।

৩ - ধর্মহীন ভিত্তিতে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সমৃদ্ধ একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

তাদের মতাদর্শ সম্পর্কে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের মতামত:

যদি আপনি কোনো ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীকে জিজ্ঞাসা করেন: আল্লাহ তাআলা কি ইসলাম ধর্মকে আমাদের জীবনের সকল বিষয়ে পথপ্রদর্শক হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন, যার কোনো অংশ প্রত্যাখ্যান করা আমাদের জন্য বৈধ নয়? তবে তার উত্তর তিনটি সম্ভাবনার বাইরে যাবে না:

১ - সে উত্তর প্রদান থেকে এড়িয়ে যাবে।

২ - অথবা সে স্পষ্ট ও খোলাখুলিভাবে বলবে: ধর্মকে অবশ্যই রাজনীতি, সংস্কৃতি, চিন্তা ও আমাদের সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। সে হয়তো কিছুটা নম্রভাবে বলবে: ধর্ম হলো মানুষ ও তার রবের মধ্যকার একটি সম্পর্ক এবং এটি একটি ব্যক্তিগত বিষয়ের বাইরে অন্য কিছু নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
يقول يوسف القعيد: "إن مفهومي الشخصي للدين هو المسجد أو الكنيسة أو المعبد". وتقول منى مكرم عبيد رئيسة لجنة العلاقات الخارجية بحزب الوفد: "لابد أن تتصدى الدولة لدعاة الدولة الدينية". أما مصطفى الفقي عضو مجلس الشورى فيريد أن يضع الدين في مكانه المقدس كما يقول: "دون الهبوط به إلى صراعات السياسة". وهذا معناه كما يقولون: لا سياسة في الدين، ولا دين في السياسة، فأحكام الله تعالى التي في قرآنه أو سنة نبيه صلى الله عليه وسلم – نضرب بها عرض الحائط ولا نأخذ منها إلا أحكام الوضوء والصلاة والعبادة!!!

3 - أو يقول العلماني: إن الدين كله حق والاحتكام إليه واجب ولكن أين الذين يطبقونه كما أنزل، ثم يأخذ بعد ذلك في الطعن في حَمَلَةِ الدين ويسمونهم بالمتاجرين بالدين … إلخ، وهو يقصد الطعن في
ইউসুফ আল-কাঈদ বলেন: "ধর্ম সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত ধারণা হলো মসজিদ, গির্জা বা উপাসনালয়।" ওয়াফদ পার্টির বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির প্রধান মুনা মাকরাম উবাইদ বলেন: "রাষ্ট্রকে অবশ্যই ধর্মীয় রাষ্ট্রের প্রবক্তাদের প্রতিহত করতে হবে।" আর শুরা কাউন্সিলের সদস্য মুস্তফা আল-ফিকি ধর্মকে তার পবিত্র স্থানে রাখতে চান, যেমনটি তিনি বলেন: "একে রাজনীতির সংঘাতের স্তরে নামিয়ে আনা ছাড়া।" এর অর্থ হলো, যেমনটি তারা বলে থাকেন: ধর্মে কোনো রাজনীতি নেই, আর রাজনীতিতে কোনো ধর্ম নেই। ফলে মহান আল্লাহর যেসকল বিধান তাঁর কুরআন কিংবা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ (سنة)-এ রয়েছে—সেগুলোকে আমরা অগ্রাহ্য করব এবং তা থেকে কেবল অজু, নামাজ ও ইবাদতের বিধানসমূহ ব্যতীত আর কিছুই গ্রহণ করব না!!!

৩ - অথবা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী বলে: ধর্ম পুরোপুরিই সত্য এবং এর বিধান মেনে চলা আবশ্যক, কিন্তু তারা কোথায় যারা এটিকে যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে সেভাবে প্রয়োগ করবে? এরপর সে দ্বীনের বাহকদের (حملة) প্রতি অপবাদ (طعن) আরোপ করতে শুরু করে এবং তাদেরকে ধর্ম-ব্যবসায়ী হিসেবে অভিহিত করে... ইত্যাদি। আর এর মাধ্যমে সে মূলত অপবাদ (طعن) দিতে চায়...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
الدين نفسه، فإذن النتيجة واحدة وهي أنه لا يمكن للناس بحال من الأحوال تحكيم الشريعة الإسلامية في شئون حياتهم.

التقليد الأعمى:

إذن أيها المسلمون هؤلاء العلمانيون يقلدون الغرب تقليدًا أعمى عاريًا عن الفهم والعقل فضلًا عن الدين، فالكنيسة في أوروبا كانت هي الحاكمة على الشعب وعلى السلطة بدين محرف يعذبون ويقتلون، فقامت الثورة على الكنيسة وحجمت الدين في الكنيسة وواجهت الدنيا بهذا الفكر العلماني.

أما في بلاد الإسلام فالمسجد لم يسيطر لا على الحكام ولا على الشعب، بل كان مضطهدًا في كثير من الأحيان، ثم إن شرع الإسلام عظيم فيه صلاح الدنيا والآخرة، فنقول للعلمانيين: هذا تقليد أعمى يؤدي بكم إلى التهلكة إن لم تدرككم رحمة الله.
ধর্ম নিজেই। সুতরাং ফলাফল একই, আর তা হলো—মানুষের পক্ষে কোনো অবস্থাতেই তাদের জীবনযাত্রার বিষয়ে ইসলামি শরিয়তকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

অন্ধ অনুকরণ:

সুতরাং হে মুসলিমগণ! এই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা কোনো প্রকার বোধশক্তি ও বিবেক-বুদ্ধি ছাড়াই অন্ধভাবে পশ্চিমাদের অনুকরণ করছে, এমনকি তারা ধর্মের তোয়াক্কাই করছে না। ইউরোপে গির্জা একটি বিকৃত ধর্মের মাধ্যমে জনগণ ও রাষ্ট্রক্ষমতার ওপর কর্তৃত্ব করত, যেখানে তারা মানুষকে নির্যাতন ও হত্যা করত। অতঃপর গির্জার বিরুদ্ধে বিপ্লব সংগঠিত হয় এবং ধর্মকে গির্জার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়; আর তারা এই ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারা নিয়ে পৃথিবীর মুখোমুখি হয়।

পক্ষান্তরে মুসলিম দেশগুলোতে মসজিদ কখনো শাসক কিংবা জনগণের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেনি, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা ছিল নিগৃহীত। তদুপরি, ইসলামের বিধান অত্যন্ত মহান, যাতে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তাই আমরা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের বলি: এটি এমন এক অন্ধ অনুকরণ যা তোমাদেরকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে, যদি না আল্লাহর রহমত তোমাদের ওপর বর্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
ضلال العلمانيين:

فالعلماني قد يكون ذلك الشخص الذي يطعن في الدين جهارًا أو يسب القرآن والسنة أو يستهزئ بهما، وقد لا يكون كذلك ولكن يعتقد أنه غير ملزم بإتباع جميع ما جاء عن الرسول صلى الله عليه وسلم –، أو يعتقد أنه مخير بين أن يرفض بعض أحكام دين الإسلام، أو يعتقد أن الدين ليس شاملًا لكل لكل الحياة.

فقد يقول لك على سبيل المثال: إن المرأة غير ملزمة بالحجاب الشرعي؛ لأنه لا يصلح لهذا الزمان، أو أن الحدود الشرعية لا تصلح للتطبيق في هذا الزمان؛ لأنها وحشية، أو يقول إن النظام الاقتصادي لابد أن يقوم على الربا.

ونسي هؤلاء المساكين أن الله تعالى قال: (إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ) (الأنعام:57)، (كُلٌّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ) (النساء:78)، (أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ভ্রষ্টতা:

একজন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী হতে পারে সেই ব্যক্তি যে প্রকাশ্যে দ্বীনের প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথবা কুরআন ও সুন্নাহকে (السنة) গালি দেয় কিংবা এগুলো নিয়ে উপহাস করে। আবার সে এমনও নাও হতে পারে, তবে সে বিশ্বাস করে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে আগত সবকিছুর অনুসরণ করা তার জন্য আবশ্যক নয়; অথবা সে মনে করে যে ইসলামি দ্বীনের কিছু বিধান (أحكام) বর্জন করার ব্যাপারে তার স্বাধীনতা রয়েছে, অথবা সে বিশ্বাস করে যে দ্বীন জীবনের প্রতিটি বিষয়ের জন্য সামগ্রিক নয়।

উদাহরণস্বরূপ সে আপনাকে বলতে পারে: নারী শরীয়াহসম্মত হিজাব (الحجاب الشرعي) পরিধানে বাধ্য নয়; কারণ এটি বর্তমান যুগের জন্য উপযোগী নয়। অথবা বর্তমান যুগে শরীয়াহ নির্ধারিত দণ্ডবিধি (الحدود الشرعية) প্রয়োগের যোগ্যতা রাখে না; কারণ তা নিষ্ঠুরতাপূর্ণ। অথবা সে বলে যে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অবশ্যই সুদের (الربا) ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে।

এই হতভাগ্যরা ভুলে গিয়েছে যে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "বিধান (الحكم) দেওয়ার নিরঙ্কুশ অধিকার কেবল আল্লাহরই" (আল-আনআম: ৫৭), "সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে" (আন-নিসা: ৭৮), "তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো আর কিছু অংশ অস্বীকার করো..."
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
بِبَعْضٍ) (البقرة:85)، (وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ) (المائدة: 50)، (وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ) (المائدة: 44)، (وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ) (المائدة: 45)، (وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ) (المائدة: 47)، (فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا) (النساء:65).

نسي هؤلاء أنهم خالفوا مفهوم الربوبية؛ لأن من معاني كلمة (رب): السيادة والملك، ومن تمام الملك أن ينفذ حكم الملك فيما يملك.

فكما أن لله الخلق فله كذلك الأمر: (أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ) (الأعراف: 54)، فلله الأمر أي الحكم، كما في قوله تعالى:
...অংশের প্রতি) (আল-বাকারাহ: ৮৫), (আর নিশ্চিত বিশ্বাসী কওমের জন্য বিধান দানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম?) (আল-মায়িদাহ: ৫০), (আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির) (আল-মায়িদাহ: ৪৪), (আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই জালিম) (আল-মায়িদাহ: ৪৫), (আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই ফাসিক) (আল-মায়িদাহ: ৪৭), (বস্তুত তোমার রবের কসম! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তোমাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে, অতঃপর তোমার প্রদানকৃত ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো প্রকার কুণ্ঠা বোধ না করে এবং তারা তা পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে মেনে নেয়।) (আন-নিসা: ৬৫)।

এরা ভুলে গেছে যে তারা রুবুবিয়্যাতের (الربوبية) ধারণার বিরোধিতা করেছে; কারণ ‘রব’ (رب) শব্দের অন্যতম অর্থ হলো: সার্বভৌমত্ব ও মালিকানা। আর মালিকানার পূর্ণতা হলো মালিকের মালিকানাধীন বিষয়ে তাঁর বিধান কার্যকর হওয়া।

যেহেতু সৃষ্টি আল্লাহর, তাই নির্দেশ প্রদানের অধিকারও তাঁরই: (জেনে রেখো, সৃষ্টি এবং নির্দেশ কেবল তাঁরই। বিশ্বজগতের রব আল্লাহ অত্যন্ত বরকতময়) (আল-আরাফ: ৫৪)। অতএব, নির্দেশ তথা বিধান (الحكم) দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে এসেছে:
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
(فَعَقَرُوا النَّاقَةَ وَعَتَوْا عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ) (الأعراف:77) أي حكم ربهم.

ونسي هؤلاء العلمانيون أنهم خالفوا مفهوم الألوهية، فالإله هو المعبود والألوهية والعبودية، فالعبادة هي حق الله على خلقه والمطلوب أن يؤدي العبد ما أمره به الله: (اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ) (الأعراف:59)، فيفرد الله بكمال الخضوع لأمره ونهيه واتباعه فيما أحل وحرم.
(অতঃপর তারা উষ্ট্রীটিকে হত্যা করল এবং তাদের রবের নির্দেশের অবাধ্য হলো) (আরাফ: ৭৭) অর্থাৎ তাদের রবের বিধান (حكم)।

আর এই ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা ভুলে গেছে যে তারা উলুহিয়্যাতের (ألوهية) ধারণার বিরোধিতা করেছে; কারণ ইলাহ (إله) তিনিই যিনি একমাত্র উপাস্য (معبود), আর উলুহিয়্যাত (ألوهية) ও দাসত্ব (عبودية) [এরই অন্তর্ভুক্ত]। সুতরাং ইবাদত (عبادة) হলো তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর প্রাপ্য অধিকার এবং বান্দার কাছে যা কাম্য তা হলো সে পালন করবে আল্লাহ তাকে যা নির্দেশ (أمر) দিয়েছেন: (তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই) (আরাফ: ৫৯)। অতএব, আল্লাহর আদেশ (أمر) ও নিষেধ (نهي) এবং তিনি যা বৈধ (حلال) ও নিষিদ্ধ (حرام) করেছেন তার অনুসরণে পূর্ণ আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর একত্ব বজায় রাখা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الليبرالية

هي وجه آخر من وجوه العلمانية، وهي تعني في الأصل الحرية، غير أن معتنقيها يقصدون بها أن يكون الإنسان حرًا في أن يفعل ما يشاء ويقول ما يشاء ويعتقد ما يشاء ويحكم بما يشاء، فالإنسان عند الليبراليين إله نفسه، وعابد هواه، غير محكوم بشريعة من الله تعالى الذي قال: (قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (162) لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ) (الأنعام: 162، 163)؛ ولهذا فإن الليبرالية لا تعطيك إجابات حاسمة على الأسئلة التالية مثلًا: النظام الإسلامي حق أم لا؟ وهل الربا حرام أم حلال؟ وهل القمار حرام أم حلال؟ وهل نسمح بالخمر أم نمنعها؟، وهل للمرأة أن تتبرج أم عليها أن تتحجب؟، وهل تساوي الرجل في كل
উদারতাবাদ

এটি ধর্মনিপেক্ষতাবাদের একটি ভিন্ন রূপ, আর এর মূল অর্থ হলো স্বাধীনতা। তবে এর অনুসারীরা এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেন যে, মানুষ যা ইচ্ছা তা করতে, যা ইচ্ছা তা বলতে, যা ইচ্ছা তা বিশ্বাস করতে এবং যা ইচ্ছা তা দ্বারা বিচার করতে স্বাধীন হবে। সুতরাং উদারতাবাদীদের নিকট মানুষ নিজেই নিজের উপাস্য এবং সে তার কুপ্রবৃত্তির পূজারি; সে মহান আল্লাহর শরিয়ত (شريعة) দ্বারা শাসিত বা নিয়ন্ত্রিত নয়, যিনি বলেছেন: (বলুন: 'নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। (১৬২) তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম।') (আল-আনআম: ১৬২, ১৬৩); আর এ কারণেই উদারতাবাদ আপনাকে নিচের প্রশ্নগুলোর ক্ষেত্রে কোনো চূড়ান্ত উত্তর প্রদান করে না, যেমন: ইসলামি ব্যবস্থা কি সত্য নাকি নয়? সুদ কি নিষিদ্ধ (حرام) নাকি বৈধ (حلال)? জুয়া কি নিষিদ্ধ (حرام) নাকি বৈধ (حلال)? আমরা কি মদ পানের অনুমতি দেব নাকি তা নিষিদ্ধ করব? নারীর জন্য কি সৌন্দর্য প্রদর্শন (تبرج) করা বৈধ নাকি তার ওপর পর্দা (حجاب) করা আবশ্যক? এবং নারী কি সকল ক্ষেত্রে পুরুষের সমান...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
شيء أم تختلف معه في بعض الأمور؟، وهل الزنا جريمة أم علاقة شخصية وإشباع لغريزة طبيعية إذا وقعت برضا الطرفين؟، وما هي القيم التي تحكم المجتمع؟، وهل الإجهاض مسموح أم ممنوع؟، وهل الشذوذ الجنسي حق أم باطل؟، وهل نسمح بحرية نشر أي شيء أم نمنع نشر الإلحاد والإباحية؟.

مبدأ الليبرالية:

فالليبرالية ليس عندها جواب تعطيه للناس على هذه الأسئلة، ومبدؤها العام هو: دعوا الناس كل إله لنفسه وعابد لهواه، فهم أحرار في الإجابة على هذه الأسئلة كما يشتهون ويشاءون، وأما ما يجب أن يسود المجتمع من القوانين والأحكام، فليس هناك سبيل إلا التصويت الديمقراطي، وبه وحده تعرف القوانين التي تحكم الحياة العامة، وهو شريعة الناس لا شريعة لهم سواها.
...কোনো বিষয় নাকি আপনি এর কিছু বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন? আর ব্যভিচার কি কোনো অপরাধ নাকি তা একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং উভয়ের সম্মতিতে সংঘটিত প্রাকৃতিক প্রবৃত্তির পরিতৃপ্তি? সমাজ নিয়ন্ত্রণকারী মূল্যবোধগুলো কী কী? গর্ভপাত কি অনুমোদিত নাকি নিষিদ্ধ? সমকামিতা কি কোনো অধিকার নাকি বাতিল (باطل)? আর আমরা কি যেকোনো কিছু প্রকাশের স্বাধীনতা দেব নাকি নাস্তিকতা ও অশ্লীলতা প্রচার নিষিদ্ধ করব?

উদারতাবাদের মূলনীতি:

উদারতাবাদের কাছে এসব প্রশ্নের ব্যাপারে মানুষকে দেওয়ার মতো কোনো উত্তর নেই। এর সাধারণ মূলনীতি হলো: মানুষকে তাদের অবস্থায় ছেড়ে দাও, প্রত্যেকেই নিজের ইলাহ এবং নিজ প্রবৃত্তির উপাসক; ফলে তারা তাদের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে স্বাধীন। আর সমাজে কোন ধরনের আইন ও বিধানসমূহ প্রচলিত হওয়া উচিত, সে ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক ভোটদান ছাড়া আর কোনো পথ নেই। কেবল এর মাধ্যমেই জনজীবন পরিচালনকারী আইনসমূহ জানা যায়; আর এটিই মানুষের জন্য শরিয়ত, এছাড়া তাদের জন্য অন্য কোনো শরিয়ত নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
ولا يقيم الليبراليون أي وزن لشريعة الله تعالى، إذا ناقض التصويت الديمقراطي أحكامها المحكمة المنزلة من الله تعالى، ولا يبالون أن يضربوا بأحكامها عرض الحائط، حتى لو كان الحكم النهائي الناتج من التصويت هو عدم تجريم الزنا، أو عدم تجريم شرب الخمر، أو كان تحليلًا للربا، أو كان السماح بتبرج النساء، أو التعري والشذوذ الجنسي والإجهاض، أو نشر الإلحاد تحت ذريعة حرية الرأي، وكل شيء في المذهب الليبرالي متغير، وقابل للجدل والأخذ والرد حتى أحكام القرآن المحكمة القطعية.

فإذن إله الليبرالية الحاكم على كل شيء بالصواب أو الخطأ حرية الإنسان وهواه وعقله وفكره، وحكم الأغلبية من الأصوات هو القول الفصل في كل شئون حياة الناس العامة، سواء عندهم عارض
উদারপন্থীরা মহান আল্লাহর শরিয়তের কোনো গুরুত্ব প্রদান করে না, যদি গণতান্ত্রিক ভোটাভুটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সুষ্পষ্ট ও অকাট্য (محكمة) বিধানের পরিপন্থী হয়। তারা আল্লাহর বিধানকে উপেক্ষা করতেও দ্বিধা বোধ করে না, এমনকি যদি ভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি ব্যভিচারকে অপরাধমুক্ত করা, মদ্যপানকে বৈধতা দেওয়া, সুদকে হালাল করা, কিংবা নারীদের বেপর্দাপনা, নগ্নতা, সমকামিতা ও গর্ভপাতের অনুমতি প্রদান করা হয়, অথবা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অজুহাতে নাস্তিকতা প্রচার করা হয়। উদারপন্থী মতবাদে সবকিছুই পরিবর্তনশীল এবং বিতর্ক, গ্রহণ ও বর্জনের যোগ্য—এমনকি কুরআনের সুষ্পষ্ট (محكمة) ও অকাট্য (قطعية) বিধানসমূহও।

সুতরাং, উদারপন্থার ইলাহ বা উপাস্য, যা ভুল বা সঠিকের মানদণ্ডে সবকিছুর উপর বিচারক, তা হলো মানুষের স্বাধীনতা, প্রবৃত্তি, বুদ্ধি ও চিন্তা। আর সংখ্যাধিক্যের ভোটই মানুষের জনজীবনের সকল ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফয়সালা, চাই তা তাদের নিকট বিরোধপূর্ণ (عارض) হোক...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
الشريعة الإلهية أم وافقها، غير أن العجب كل العجب أنه لو صار حكم الأغلبية هو الدين، واختار عامة الشعب الحكم بالإسلام، واتباع منهج الله تعالى فإن الليبرالية هنا تنزعج انزعاجًا شديدًا، وتشن على هذا الاختيار الشعبي حرب شعواء، فيتشبهون بهؤلاء الذين قال عنهم الله: (وَإِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَحْدَهُ اشْمَأَزَّتْ قُلُوبُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَإِذَا ذُكِرَ الَّذِينَ مِنْ دُونِهِ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ) (الزمر:45).

فالليبرالية إذاُ عندما تقول للناس دعوا عبادة الله تعالى واتباع شريعته إلى طاعة وعبادة الهوى والشيطان؛ فهي تدعو إلى الشرك والكفر وفعل الفحشاء والمنكر، وهي عندما تزعم أنه لا يوجد حق مطلق إلا الحرية والتغير؛ فإنها تكفر بثوابت القرآن والسنة وبأحكام الشريعة المحكمة التي أنزلها الله تعالى، والليبرالية عندما تسوي بين دين الله الحق
ঐশ্বরিক শরিয়ত কিংবা তার অনুকূল হওয়া; তবে আশ্চর্যের চরম বিষয় হলো এই যে, যদি সংখ্যাধিক্যের শাসনই দ্বীন হয়ে দাঁড়ায় এবং সাধারণ জনগণ ইসলামের শাসন ও মহান আল্লাহর মানহাজ (পথ) অনুসরণের পথ বেছে নেয়, তবে লিবারেলিজম এখানে চরমভাবে বিচলিত হয়ে পড়ে এবং এই জনমতের বিরুদ্ধে এক বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু করে। ফলে তারা তাদের সদৃশ হয়ে যায় যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: "যখন কেবল এক আল্লাহর কথা উল্লেখ করা হয়, তখন যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে যায়; আর যখন আল্লাহ ব্যতীত অন্য উপাস্যদের কথা উল্লেখ করা হয়, তখন তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়" (আয-যুমার: ৪৫)।

সুতরাং লিবারেলিজম যখন মানুষকে মহান আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর শরিয়ত অনুসরণ বর্জন করে প্রবৃত্তি ও শয়তানের আনুগত্য ও ইবাদতের দিকে আহ্বান করে, তখন তা মূলত শিরক, কুফর এবং অশ্লীলতা ও মন্দ (منكر) কাজের দিকেই আহ্বান জানায়। আর যখন তারা দাবি করে যে, স্বাধীনতা ও পরিবর্তন ছাড়া আর কোনো ধ্রুব সত্য নেই, তখন মূলত তা কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য বিষয়াবলি এবং মহান আল্লাহর অবতীর্ণ শরিয়তের সুপ্রতিষ্ঠিত (محكمة) বিধানাবলিকে অস্বীকার করে। আর লিবারেলিজম যখন আল্লাহর সত্য দ্বীনের মাঝে সমতা বিধান করে
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২০)
وغيره من الأهواء الباطلة، وعندما تسوي بين المؤمنين بالله تعالى المتبعين لدينه والكافرين به بزعم أن الجميع سواء في مبدأ الحرية، فهي بذلك تشرع شريعة تناقض شريعة الله تعالى القائل: (أَفَمَنْ كَانَ مُؤْمِنًا كَمَنْ كَانَ فَاسِقًا لَا يَسْتَوُونَ) (السجدة: 18)
এবং অন্যান্য বাতিল (باطل) প্রবৃত্তিসমূহ; আর যখন এটি স্বাধীনতার মূলনীতির অজুহাতে মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী ও তাঁর দ্বীনের অনুসারী এবং তাঁর প্রতি অবিশ্বাসীদের মধ্যে সমতা বিধান করে, তখন এটি মূলত এমন এক বিধান প্রণয়ন করে যা মহান আল্লাহ তাআলার বিধানের পরিপন্থী, যিনি ইরশাদ করেছেন: (তবে কি মুমিন ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো যে ফাসিক (فاسق)? তারা সমান নয়) (আস-সাজদাহ: ১৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الديمقراطية

هي في الأصل كلمة لاتينية مكونة من شقين وهما Demos وتعني الحكم أو السلطة، و Kratos وتعني الشعب، وبذلك فإن الديمقراطية هي حكم أو سلطة الشعب، ويقصد بها حكم الشعب بواسطة الشعب أو من خلال اختيار الشعب لمن ينوب عنه في الحكم، ويمكن القول بأن تداول كلمة الديمقراطية في أوروبا ازداد منذ القرن السابع عشر وخاصة في القرن الثامن عشر وذلك من خلال ازدهار الليبرالية السياسية، أما بالنسبة للعرب فلم تدخل كلمة الديمقراطية اللغة العربية إلا من خلال الغرب في أواخر القرن التاسع عشر.

عناصر الديمقراطية:

فقد أجمع العديد من المفكرين الغربيين على ضرورة وجود عناصر أساسية لاعتبار النظام القائم
গণতন্ত্র

এটি মূলত একটি লাতিন শব্দ যা দুটি অংশ নিয়ে গঠিত; যথা: Demos যার অর্থ শাসন বা ক্ষমতা, এবং Kratos যার অর্থ জনগণ। সেই অনুযায়ী, গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন বা কর্তৃত্ব। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জনগণের দ্বারা জনগণের শাসন অথবা শাসনের জন্য জনগণের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা। বলা যেতে পারে যে, ইউরোপে গণতন্ত্র শব্দের ব্যবহার সপ্তদশ শতাব্দী থেকে বৃদ্ধি পায় এবং বিশেষ করে আঠারোশ শতাব্দীতে রাজনৈতিক উদারতাবাদের প্রসারের মাধ্যমে তা ব্যাপকতা লাভ করে। আর আরবদের ক্ষেত্রে গণতন্ত্র শব্দটি উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের আগে পশ্চিমা বিশ্বের মাধ্যমেই কেবল আরবি ভাষায় প্রবেশ করেছে।

গণতন্ত্রের উপাদানসমূহ:

অনেক পশ্চিমা চিন্তাবিদ কোনো বিদ্যমান ব্যবস্থাকে [গণতান্ত্রিক] হিসেবে গণ্য করার জন্য কিছু মৌলিক উপাদানের উপস্থিতিকে আবশ্যক বলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২২)
ديمقراطيًا، ومن بين هؤلاء المفكرين (روبرت دال)، ويمكن دمج هذه العناصر مع بعضها البعض في عناصر خمسة أساسية وهي:

1 - توافر الحريات الأساسية مثل حرية التعبير عن الرأي، حرية الصحافة، حرية إنشاء جمعيات سياسية، وكذلك الحرية الدينية.

2 - وجود انتخابات حرة ونزيهة تعقد بشكل دوري كل سنتين أو مرة كل أربع سنوات.

3 - التعددية السياسية بمعنى وجود حزبين سياسيين أو أكثر تتنافس للوصول إلى السلطة.

4 - فصل السلطات، وهو فصل السلطة التشريعية عن السلطة التنفيذية، وكذلك فصلهما عن السلطة القضائية مع تحديد وظيفة كل من هذه السلطات.

5 - مبدأ سيادة القانون، وهو أن الجميع متساوون أمام القانون حتى ولو كان رئيسًا للدولة أو أعلى
গণতান্ত্রিকভাবে, এবং এই চিন্তাবিদদের মধ্যে রয়েছেন (রবার্ট ডাল), এবং এই উপাদানগুলোকে একত্রে পাঁচটি মৌলিক উপাদানে একীভূত করা যেতে পারে, সেগুলো হলো:

১ - মৌলিক স্বাধীনতার সহজলভ্যতা যেমন মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সংগঠন তৈরির স্বাধীনতা এবং সেইসাথে ধর্মীয় স্বাধীনতা।

২ - অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের উপস্থিতি যা প্রতি দুই বছর অন্তর বা প্রতি চার বছরে একবার পর্যায়ক্রমিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

৩ - রাজনৈতিক বহুদলীয় ব্যবস্থা যার অর্থ হলো দুই বা ততোধিক রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব যারা ক্ষমতা লাভের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

৪ - ক্ষমতার পৃথকীকরণ, যা হলো নির্বাহী বিভাগ থেকে আইন বিভাগের পৃথকীকরণ এবং সেইসাথে বিচার বিভাগ থেকে এই দুই বিভাগের পৃথকীকরণ এবং প্রতিটি বিভাগের কার্যাবলী নির্ধারণ।

৫ - আইনের শাসনের নীতি, যা হলো আইনের চোখে সবাই সমান, এমনকি তিনি যদি রাষ্ট্রপ্রধান বা উচ্চতর কোনো পদে আসীন হন তবুও।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
منصب سياسي في الدولة، فمن يخالف القانون يجب أن يحاكم ويعاقب.

هذا عن الوجه الحسن للديمقراطية، أما الوجه الآخر القبيح الذي لا يفصح عنه الكثير فهو ما يلي:

إن أهم عناصر الديمقراطية عنصران:

الأول: سيادة الشعب.

الثاني: الحقوق والحريات مكفولة.

فمعنى السيادة للشعب: أي هو سيد السلطات الثلاثة التشريعية والقضائية والتنفيذية، فالسلطة التشريعية فيها يشرع الشعب ما يريد ولو خالف حكم الله، والسلطة القضائية فيها يقضي الشعب بما شرعه، والسلطة التنفيذية فيها ينفذ الشعب ما قضى به.

إذن أين الله ورسوله من هذه الأحكام؟!! غير موجودين، مع أن الله تعالى قال: (إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ)، فالسلطة التشريعية من الله تعالى من كتابه
রাষ্ট্রের একটি রাজনৈতিক পদ; সুতরাং যে ব্যক্তি আইন লঙ্ঘন করবে, তাকে অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন ও দণ্ডিত হতে হবে।

এটি হলো গণতন্ত্রের উজ্জ্বল দিক সম্পর্কে; তবে অপর একটি কুৎসিত দিক রয়েছে যা অনেকেই প্রকাশ করেন না, তা হলো নিম্নরূপ:

নিশ্চয়ই গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো দুটি:

প্রথমত: জনগণের সার্বভৌমত্ব।

দ্বিতীয়ত: অধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা।

জনগণের সার্বভৌমত্বের অর্থ হলো: জনগণই আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং শাসন বিভাগ—এই তিন ক্ষমতার মূল অধিপতি। আইন বিভাগে জনগণ তাদের ইচ্ছানুসারে আইন প্রণয়ন করে, যদিও তা আল্লাহর বিধানের (حكم) পরিপন্থী হয়। বিচার বিভাগে তারা নিজেদের প্রণীত আইন অনুযায়ী ফয়সালা প্রদান করে এবং শাসন বিভাগে তারা যা ফয়সালা করে তা কার্যকর করে।

তাহলে এই সকল বিধানের (أحكام) ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবস্থান কোথায়?!! তারা সেখানে অনুপস্থিত, যদিও মহান আল্লাহ বলেছেন: (বিধান (حكم) প্রদানের অধিকার একমাত্র আল্লাহরই), সুতরাং আইন প্রণয়ন ক্ষমতা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, তাঁর কিতাবের মাধ্যমে
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
وسنة نبيه – صلى الله عليه وسلم، والسلطة القضائية والتنفيذية من الشعب على مراد الله تعالى.

أما معنى الحقوق والحريات مكفولة:

فكل واحد حر، ففي النظام الديمقراطي حرية الردة مكفولة، يتنقل بين الأديان كيف شاء ويسب ويلعن القرآن والسنة كيف شاء تحت مظلة القانون الديمقراطي، وفي النظام الديمقراطي تحمل المرأة من سفاح فحريتها مكفولة، وفي النظام الديمقراطي لا دين ولا رجولة ولا أنوثة لا مسلم لا كافر لا بوذي لا شيء يمس الدين، كلهم سواسية.

إن الديمقراطية هي حكم الشعب للشعب، إن الديمقراطية تعني أن نحتكم إلى الشعب ولا نحتكم إلى شريعة ربنا، إن الديمقراطية تعني أن نحكم المجالس التشريعية حتى ولو خالفت شريعة ربنا،
এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ —সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম— আর জনগণের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর অভিপ্রায় অনুযায়ী বিচার বিভাগীয় ও নির্বাহী কর্তৃত্ব।

আর অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হওয়ার অর্থ হলো:

প্রত্যেকেই স্বাধীন; কেননা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ধর্মত্যাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, সেখানে একজন ব্যক্তি নিজ ইচ্ছানুযায়ী বিভিন্ন ধর্মের মাঝে পরিবর্তন করতে পারে এবং গণতান্ত্রিক আইনের ছত্রছায়ায় থেকে যেভাবে ইচ্ছা কুরআন ও সুন্নাহকে গালিগালাজ ও অভিশাপ দিতে পারে। এমনকি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো নারী ব্যভিচারের মাধ্যমে গর্ভবতী হলেও তার সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। আর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দ্বীন, পৌরুষ কিংবা নারীত্বের কোনো বাছবিচার নেই; সেখানে মুসলিম, কাফির বা বৌদ্ধের কোনো স্বতন্ত্র পরিচয় নেই এবং ধর্মের ওপর আঘাত হানে এমন কোনো কিছুর তোয়াক্কা করা হয় না, বরং সকলেই সমান।

নিশ্চয়ই গণতন্ত্র হলো জনগণের জন্য জনগণের শাসন। গণতন্ত্রের মর্মার্থ হলো আমরা জনগণের ফয়সালার দিকে প্রত্যাবর্তন করব এবং আমাদের রবের শরীয়তের ফয়সালা গ্রহণ করব না। গণতন্ত্রের অর্থ হলো আমরা আইনসভাগুলোর বিধান মেনে চলব, যদিও তা আমাদের রবের শরীয়ত পরিপন্থী হয়,
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
إن الديمقراطية تعني أن نطبق ما وافق عليه غالبية أعضاء المجلس ولو كان مخالفًا لشريعة ربنا.

وهذه أيها الأفاضل مخالفة صريحة لما أمرنا به الله عز وجل من الاحتكام إلى شريعته ونبذ قوانين البشر؛ حيث يقول: (إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ) (يوسف: 40)، وقال تعالى: (وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ) (الأحزاب: 36)، إن الديمقراطية من وضع وتأصيل أعداء الإسلام، واجهوا بها علماء ضلال ووثنية، وكهنة شر وفساد، أما نحن المسلمين فلسنا بحاجة إلى الديمقراطية، وإنما أبدلنا الله بها شريعته الإسلامية، فإذا كانوا يتحاكمون إلى قوانين البشر، فنحن نتحاكم إلى قوانين رب البشر: (وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ) (المائدة: 50).
গণতন্ত্রের অর্থ হলো পরিষদের অধিকাংশ সদস্য যা সমর্থন করেন তা বাস্তবায়ন করা, যদিও তা আমাদের রবের শরিয়ত বিরোধী হয়।

হে সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ, এটি মহান আল্লাহর নির্দেশের এক সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে তিনি তাঁর শরিয়ত অনুযায়ী ফয়সালা করতে এবং মানবীয় আইন বর্জন করতে নির্দেশ দিয়েছেন; যেমনটি তিনি বলেছেন: (কর্তৃত্ব কেবল আল্লাহরই; তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত করবে না) (ইউসুফ: ৪০), এবং মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: (আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর সে বিষয়ে নিজেদের পক্ষ থেকে অন্য কোনো সিদ্ধান্তের ইখতিয়ার থাকে না) (আল-আহজাব: ৩৬)। প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র হলো ইসলামবিদ্বেষীদের উদ্ভাবন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা একটি ব্যবস্থা, যা দিয়ে তারা পথভ্রষ্ট ও পৌত্তলিক আলিম এবং অনিষ্ট ও দুর্নীতির পুরোহিতদের মোকাবিলা করেছে। আমরা মুসলিমরা গণতন্ত্রের মুখাপেক্ষী নই, বরং আল্লাহ এর পরিবর্তে আমাদের তাঁর ইসলামি শরিয়ত দান করেছেন। সুতরাং তারা যদি মানুষের তৈরি আইনের মাধ্যমে বিচারকার্য পরিচালনা করে, তবে আমরা মানুষের রবের আইনের মাধ্যমেই ফয়সালা করি: (দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য ফয়সালাকারী হিসেবে আল্লাহর চেয়ে কে উত্তম?) (আল-মায়েদাহ: ৫০)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
الشورى ليست الديمقراطية:

وأما ما يتعلق بالشورى – كما يُلَبِّسُ البعض أي أنهم يلبسون على الناس ويقولون إن الديمقراطية مثل الشورى في الإسلام – فالشورى في الإسلام في الأمور التي لا نص فيها قطعيًّا، وفي تنفيذ الشرع، فإذا نزلت بنا نازلة، كيف نقيم حكم الله في هذه النازلة؟ أي نص ينطبق على هذه النازلة؟ هنا تكون الشورى، إما بالنص إذا كان النص آية أو حديثًا، وإما بالاستنباط، (وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ) (النساء: 83)، فنستنبط ونجتمع ونأخذ الرأي من أهله، ‘ذا كانت مشكلة أو نازلة حربية مثلًا، يجمع العسكريون مع العلماء مع من يكون فيهم الثقة،
শুরা গণতন্ত্র নয়:

আর শুরার বিষয়ের সাথে যা সংশ্লিষ্ট—যেমনটি কেউ কেউ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, অর্থাৎ তারা মানুষের মাঝে সংশয় তৈরি করে এবং বলে যে, ইসলামে গণতন্ত্র আর শুরা একই বিষয়—প্রকৃতপক্ষে ইসলামে শুরা হলো এমন সব বিষয়ে যেগুলোতে কোনো সুনিশ্চিত (قطعي) দলিল বা পাঠ (نص) নেই এবং শরয়ি বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। সুতরাং যদি আমাদের ওপর কোনো নতুন সমস্যা (نازلة) আপতিত হয়, তবে সেই সমস্যার ক্ষেত্রে আমরা আল্লাহর বিধান কীভাবে কার্যকর করব? কোন দলিল বা পাঠ (نص) এই সমস্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে? এখানেই শুরার অবকাশ রয়েছে; তা হতে পারে দলিলের (نص) মাধ্যমে—যদি দলিলটি কোনো আয়াত বা হাদিস হয়, অথবা তা হতে পারে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (استنباط) মাধ্যমে। "আর যখন তাদের কাছে শান্তি বা ভয়ের কোনো সংবাদ আসে, তারা তা প্রচার করে দেয়। অথচ তারা যদি তা রাসুলের এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিবর্গের) নিকট পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম (يستنبطونه), তারা অবশ্যই সেটির প্রকৃত রহস্য অনুধাবন করতে পারত।" (আন-নিসা: ৮৩)। সুতরাং আমরা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (استنباط) গ্রহণ করব, একত্রিত হব এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করব। যদি কোনো যুদ্ধকালীন সমস্যা বা পরিস্থিতি (نازلة) তৈরি হয়, তবে সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে আলেম সমাজ এবং সেইসব ব্যক্তিদের সমবেত করা হবে যারা নির্ভরযোগ্য (ثقة)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
ويقال لهم: ما رأيكم في هذا؟ كيف نواجههم؟ كيف نقاومهم؟

أما الآيات والأحاديث نحن ما اجتمعنا إلا لنعمل بها ولنقيمها، ولا نقاش في ذلك، لكن أهل الديمقراطية يجتمعون يقولون: نحرم الخمر أو لا نحرم؟، بل وصل الأمر والعياذ بالله إلى أن بعض مجالسهم الديمقراطية أباحت اللواط زواجًا أي يعقد الرجل على الرجل والعياذ بالله، هذه هي الديمقراطية نسأل الله العفو والعافية.

إذن فالشورى في الإسلام نقاش: في كيف نطبق شرع الله على مراد الله؟، وما هي الأدلة التي توافق المسائل؟، أما الديمقراطية: النقاش في كيف نشرع الشرائع؟ ولو خالفت حكم الله.
এবং তাদের বলা হয়: এই বিষয়ে তোমাদের অভিমত কী? কীভাবে আমরা তাদের মোকাবিলা করব? কীভাবে তাদের প্রতিরোধ করব?

আর আয়াত এবং হাদিসসমূহের বিষয়ে কথা হলো, আমরা তো কেবল এগুলোর ওপর আমল করতে এবং এগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করতেই সমবেত হয়েছি, এ ব্যাপারে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। কিন্তু গণতন্ত্রপন্থীরা একত্রিত হয়ে বলে: আমরা কি মদ নিষিদ্ধ করব নাকি করব না? বরং বিষয়টি—আল্লাহর নিকট পানাহ চাই—এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাদের কোনো কোনো গণতান্ত্রিক পরিষদ সমকামিতাকে বিবাহ হিসেবে বৈধতা দিয়েছে, অর্থাৎ এক পুরুষ অন্য পুরুষকে বিবাহ করবে—আল্লাহর নিকট পানাহ চাই—এটাই হলো গণতন্ত্র। আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।

অতএব, ইসলামের শূরা হলো এমন এক আলোচনা: কীভাবে আমরা আল্লাহর অভিপ্রায় অনুযায়ী তাঁর শরিয়তকে বাস্তবায়ন করব? এবং মাসআলাগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দলিলসমূহ কী কী? পক্ষান্তরে গণতন্ত্র হলো: কীভাবে আমরা বিধান প্রবর্তন করব সে বিষয়ে আলোচনা করা, যদিও তা আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الدولة المدنية

مفهوم الدولة المدنية:

لا يقوم النظام الديمقراطي بداية إلا في دولة مدنية أو نستطيع أن نقول بعبارة أخرى: إن الدولة الديمقراطية هي بالضرورة دولة مدنية.

فما هي الدولة المدنية؟ الدولة المدنية هي دولة تقوم على أساس المواطنة المتساوية، بمعنى أن كل مواطن في الدولة يتساوى مع كل مواطن آخر فيها.

المواطنون في الدولة المدنية سواء في الحقوق والواجبات لا تفرقة بينهم لأي سبب من الأسباب طالما كانوا يحملون جنسية الدولة أي طالما كانوا مواطنين في الدولة، والدولة المدنية على هذا النحو لا يمكن أن تكون دولة دينية أو دولة بوليسية، لأن الدولة الدينية تفرق بين المواطنين على أساس الانتماء الديني، أما الدولة البوليسية فهي لا تعرف
সিভিল স্টেট (الدولة المدنية)

সিভিল স্টেটের (الدولة المدنية) ধারণা:

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রারম্ভিকভাবে কেবল একটি সিভিল স্টেটেই (دولة مدنية) প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, অথবা আমরা অন্য কথায় বলতে পারি: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র মাত্রই অনিবার্যভাবে একটি সিভিল স্টেট (دولة مدنية)।

তাহলে সিভিল স্টেট (الدولة المدنية) কী? সিভিল স্টেট (الدولة المدنية) হলো এমন এক রাষ্ট্র যা সমান নাগরিকত্বের (المواطنة المتساوية) ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত; অর্থাৎ, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক সেখানে অন্য সকল নাগরিকের সমান গণ্য হয়।

সিভিল স্টেটে (الدولة المدنية) নাগরিকরা অধিকার ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে সমান, তাদের মধ্যে কোনো কারণেই কোনো প্রকার ভেদাভেদ করা হয় না যতক্ষণ তারা রাষ্ট্রের জাতীয়তা (جنسية الدولة) বহন করেন, অর্থাৎ যতক্ষণ তারা রাষ্ট্রের নাগরিক থাকেন। আর এই বৈশিষ্ট্যের সিভিল স্টেট (الدولة المدنية) কোনো ধর্মীয় রাষ্ট্র (دولة دينية) বা পুলিশি রাষ্ট্র (دولة بوليسية) হতে পারে না; কারণ ধর্মীয় রাষ্ট্র (دولة دينية) নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের (الانتماء الديني) ভিত্তিতে বিভাজন তৈরি করে, পক্ষান্তরে পুলিশি রাষ্ট্র (دولة بوليسية) তো চেনে না...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ - আল-লিবেরালিয়্যাহ - আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ - আদ-দাওলাতুল মাদানিইয়্যাহ ফী মীযানিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
الحق في المساواة، ومن ثم لا تعرف المعنى الصحيح للمواطنة.

ومما قالوه أيضًا إن الدولة المدنية ليست معادية للدين، فالدين ضرورة اجتماعية وضرورة أخلاقية، ولكن الدين يجب أن يظل بعيدًا عن السياسة والسياسة يجب أن تظل بعيدة عن الدين.

يقول دكتور/ أحمد كمال أبو المجد وزير الإعلام السابق: فالدولة المدنية يمكن أن توضع في سياقين أحدهما هو الدولة المدنية المقابلة لمفهوم الدولة العسكرية والآخر يعني الدولة المدنية في مقابل الدولة الدينية.

والحاصل أن الدولة المدنية ترتكز على دعائم ثلاثة وهي:

* العلمانية أو اللادينية Secularism .

* القومية أو الوطنية Nationalism .

* الديمقراطية أو حكم الشعب Democracy .
সমতার অধিকার, আর এ কারণেই নাগরিকত্বের সঠিক অর্থ উপলব্ধি করা সম্ভব হয় না।

তারা এও বলেছেন যে, নাগরিক রাষ্ট্র (الدولة المدنية) ধর্মের পরিপন্থী নয়; কারণ ধর্ম একটি সামাজিক ও নৈতিক প্রয়োজনীয়তা। তবে ধর্মকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে এবং রাজনীতিকেও ধর্ম থেকে দূরে থাকতে হবে।

সাবেক তথ্যমন্ত্রী ডক্টর আহমদ কামাল আবুল মাজদ বলেন: নাগরিক রাষ্ট্রকে (الدولة المدنية) দুটি প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা যেতে পারে; যার একটি হলো সামরিক রাষ্ট্র (الدولة العسكرية) ধারণার বিপরীতে নাগরিক রাষ্ট্র এবং অন্যটি হলো ধর্মীয় রাষ্ট্রের (الدولة الدينية) বিপরীতে নাগরিক রাষ্ট্র।

সারকথা হলো, নাগরিক রাষ্ট্র (الدولة المدنية) তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, সেগুলো হলো:

* ধর্মনিরপেক্ষতা (العلمانية) বা ইহজাগতিকতা (اللادينية) Secularism।

* জাতীয়তাবাদ (القومية) বা দেশপ্রেম (الوطنية) Nationalism।

* গণতন্ত্র (الديمقراطية) বা জনগণের শাসন Democracy।