(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: -)
الاستشراق والمستشرقون ما لهم وما عليهم القسم: علوم الحديث
الكتاب: الاستشراق والمُسْتَشْرِقُونَ ما لهم وما عليهم
المؤلف: مصطفى بن حسني السباعي (ت 1384هـ)
الناشر: دار الوراق للنشر والتوزيع - المكتب الإسلامي.
عدد الصفحات: 88
أَعَدَّهُ للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع].
تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432
প্রাচ্যতত্ত্ব ও প্রাচ্যতত্ত্ববিদগণ: তাঁদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকসমূহ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
বই: প্রাচ্যতত্ত্ব ও প্রাচ্যতত্ত্ববিদগণ: তাঁদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকসমূহ
লেখক: মোস্তফা বিন হুসনি আস-সিবাঈ (ওফাত ১৩৮৪ হি.)
প্রকাশক: দারুল ওয়াররাক পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - আল-মাকতাব আল-ইসলামি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৮
আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন / তৌফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন.
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ].
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ১)
الاستشراق والمُسْتَشْرِقُونَ ما لهم وما عليهم
الدكتور مصطفى السباعي
دار الوراق للنشر والتوزيع - المكتب الإسلامي.
عدد الأجزاء: 1.
أَعَدَّهُ للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
প্রাচ্যতত্ত্ব এবং প্রাচ্যতত্ত্ববিদগণ: তাদের সবল ও দুর্বল দিকসমূহ
ড. মুস্তফা আস-সিবাঈ
দারুল ওয়াররাক প্রকাশনা ও বিতরণ - আল-মাকতাব আল-ইসলামি।
খণ্ড সংখ্যা: ১।
আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন।
[গ্রন্থটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি টীকা সংবলিত]।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ৪)
الاستشراق والمُسْتَشْرِقُونَ
(ما لهم وما عليهم)
الدكتور مصطفى السباعي
دار الوراق للنشر والتوزيع - المكتب الإسلامي
প্রাচ্যতত্ত্ব ও প্রাচ্যতত্ত্ববিদগণ
(তাদের অবদান ও সীমাবদ্ধতা)
ড. মুস্তফা আস-সিবাঈ
দারুল ওয়াররাক পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - আল-মাকতাবুল ইসলামি
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديم:الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه.
أما بعد: فإنَّ لمن المؤسف حقًّا أنْ يقف المسلم أمام تاريخه العظيم خجلاً، مُطأطئ الرأس، لا يدري كيف يوفِّقُ بين ما يعرفه عن تمسُّك الصحابة - رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِمْ - والتابعين وتابعيهم بهذا الدين، وتفانيهم في خدمته على كافة المستويات، وبين هذه الصورة القاتمة المظلمة في صفحات هذا التاريخ، فيقف هذا الموقف الذي لا يليق برجل العقيدة في حال من الأحوال.
والسبب في هذا - كما هو معلوم - أنه عبثت بتاريخنا أَيْدٍ خبيثة، ودوَّنتهُ أخرى غير أمينة، ولا يُراد من ذلك إلَاّ تشويه حقيقة تاريخ هذه الأُمَّة.
উপস্থাপনা:যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবী (صحابة)-গণের ওপর।
অতঃপর: এটি প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একজন মুসলিমকে তার মহান ইতিহাসের সামনে লজ্জিত ও নতশির হয়ে দাঁড়াতে হয়। সে সাহাবী (صحابة) —আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—, তাবিঈ (تابعين) এবং তাঁদের অনুসারীদের (أتباع التابعين) এই দ্বীনের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা এবং সকল স্তরে এর খিদমতে তাঁদের আত্মোৎসর্গ সম্পর্কে যা জানে, তার সাথে এই ইতিহাসের পাতায় অঙ্কিত অন্ধকারাচ্ছন্ন ও কলঙ্কিত চিত্রের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় সাধন করবে, তা সে বুঝতে পারে না। ফলে সে এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায়, যা কোনো অবস্থাতেই একজন আকিদা (عقيدة) সচেতন ব্যক্তির জন্য শোভনীয় নয়।
এর কারণ—যেমনটি সুপরিজ্ঞাত—আমাদের ইতিহাস নিয়ে কতিপয় অশুভ হাত খেলা করেছে এবং একদল অবিশ্বস্ত (غير أمين) লোক তা লিপিবদ্ধ করেছে। এই উম্মাহর ইতিহাসের প্রকৃত সত্যকে বিকৃত করা ছাড়া এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ৬)
وتشكيكها في قدرتها على تأدية رسالتها، وحملها إلى البشر كلهم.
إننا حين نقرأ التاريخ الذي يتعلَّمه أبناؤنا، ويدرسونه في المدارس والجامعات، نرى - بوضوح - أثر هذه الحملة المسعورة ضد أمَّتنا المسلمة وتاريخها المُشرق، والذي رباهم المُسْتَشْرِقُونَ، وأرضعوهم من ألبانها، ونفثوا السموم في عقولهم حتى أصبحوا أدوات طَيِّعَةً في أيدي أسيادهم، يقولون بألسنتهم ما يشاءون، ويُنَفِّذون عن طريقهم كل ما يحلو لهم، ويمليه عليهم حقدهم الدفين.
ولنأخذ مثلاً على ذلك فترة الحُكم العثماني للوطن العربي، فنجد فيما يُحكَى عن هذه الفترة العجب العُجاب، فليس الأتراك المسلمون في نظر هؤلاء إلَاّ مُستعمرين لبلادنا مُمْتَصِّينَ لخيراتنا، وليست رابطة العقيدة التي حملوا لواءها إلَاّ قِناعاً، نَفَّذُوا من خلاله مآربهم وأطماعهم الاستعمارية.
وقد صوَّر لنا هؤلاء الحضارة الإسلامية تصويراً كاذباً مبايناً للواقع كل التباين، وما ذلك إلَاّ
এবং স্বীয় লক্ষ্য অর্জনে এবং সমগ্র মানবজাতির নিকট তা পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করা।
আমাদের সন্তানরা স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ইতিহাস শেখে এবং অধ্যয়ন করে, তা যখন আমরা পাঠ করি, তখন আমাদের মুসলিম উম্মাহ এবং এর উজ্জ্বল ইতিহাসের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই উন্মত্ত প্রচারণার প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখতে পাই। প্রাচ্যবিদরা তাদের লালন-পালন করেছে এবং তাদের চিন্তাধারার বিষে পুষ্ট করেছে; তারা তাদের মগজে বিষ ঢুকিয়ে দিয়েছে, যার ফলে তারা তাদের প্রভুদের হাতের এক অনুগত হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তারা তাদের প্রভুদের মর্জিমতো কথা বলে এবং তাদের অন্তরে প্রোথিত বিদ্বেষপ্রসূত সমস্ত পরিকল্পনা এদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে।
উদাহরণস্বরূপ, আরব বিশ্বে উসমানীয় শাসনের সময়কালের কথা ধরা যাক। এই সময়কাল সম্পর্কে যা বর্ণনা করা হয়, তাতে আমরা চরম বিস্ময়কর সব বিষয় দেখতে পাই। এদের দৃষ্টিতে তুর্কি মুসলমানরা আমাদের দেশের সম্পদ লুণ্ঠনকারী ও উপনিবেশ স্থাপনকারী ছাড়া আর কিছুই নয়। আর আকিদা (العقيدة)-র যে বন্ধন তারা ধারণ করেছিল, তা ছিল কেবলই একটি মুখোশ, যার আড়ালে তারা তাদের উপনিবেশবাদী হীন উদ্দেশ্য ও লালসা চরিতার্থ করেছে।
তারা আমাদের সামনে ইসলামী সভ্যতাকে এমন এক মিথ্যা রূপে চিত্রায়িত করেছে যা বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত; আর এটি কেবল...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ৭)
ليُهَوِّنُوا من شأنها، ولِيَحْتَقِرُوا مُنجزاتها التي قدَّمتها للبشرية، ليهُون بعد ذلك الإسلام في نفوس أتباعه، وليحتقره أيضاً.
هذا ولم يقتصر اهتمام المُسْتَشْرِقِينَ والمستغربين على دراسة التاريخ الإسلامي وتشويهه، بل تعدَّاهُ إلى الدراسات الإسلامية من تفسير وحديث وفقه، فحرَّفُوا النصوص حيناً، وأساؤوا فهمها حين لم يجدوا المجال لتحريفها.
وإنه لمن المؤسف أيضاً أنْ تكون كتبهم قد بحثت في كل ما يتَّصل بالإسلام والمسليمن من تفسير وحديث وفقه وأدب وحضارة وسكان و
… ، فأصبحت كُتُبُهُمْ هذه المراجع الأولى لطلبة العلم المتخصصين في المعاهد والجامعات العالمية، وأصبح هؤلاء هم حملة آراء وأفكار أسيادهم كما تقدم.
لهذا كله - وغيره كثير - تصدَّى بعض علماء المسلمين الذين يغارون على هذا الدين وأُمَّة القرآن العظيم: تصدَّوْا لمحاولات المُسْتَشْرِقِينَ وفضحها وكشفها للناس على حقيقتها. هذه الرسالة - الصغيرة
তারা যেন এর গুরুত্বকে খাটো করতে পারে এবং মানবতার কল্যাণে এর মহান অবদানসমূহকে তুচ্ছজ্ঞান করতে পারে; ফলে ইসলামের অনুসারীদের হৃদয়েও ইসলাম গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে এবং তারাও একে তুচ্ছ মনে করতে শুরু করে।
প্রাচ্যবিদ এবং পাশ্চাত্যপন্থীদের আগ্রহ কেবল ইসলামের ইতিহাস অধ্যয়ন ও তা বিকৃত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা তাফসির, হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রসহ ইসলামি গবেষণার ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ফলে তারা কখনও মূল পাঠসমূহকে বিকৃত করেছে, আবার কখনও বিকৃত করার সুযোগ না পেয়ে সেগুলোর ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।
এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, তাফসির, হাদিস, ফিকহ, সাহিত্য, সভ্যতা ও জনসংখ্যাসহ ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়েই তাদের গ্রন্থাদি আলোচনা ও গবেষণা পরিচালনা করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইন্সটিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের এই বইগুলোই প্রধান রেফারেন্স বা উৎস হিসেবে গণ্য হতে শুরু করেছে। আর এর ফলে এই শিক্ষার্থীরা তাদের সেই প্রভুদের চিন্তা ও মতাদর্শের ধারক-বাহক হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সব কারণে—এবং আরও অনেক কারণে—ইসলাম ধর্ম এবং মহান কুরআনের উম্মাহর প্রতি একনিষ্ঠ ও দরদী একদল মুসলিম আলেম প্রাচ্যবিদদের এসব হীন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন এবং মানুষের সামনে তাদের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন ও প্রকাশ করে দিয়েছেন। এই ক্ষুদ্র পুস্তিকাটি
…
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ৮)
في حجمها، العظيمة في معانيها - هي بعض ما كتبه والدي الشيخ مصطفى السباعي - طيَّب الله ثراه - حول هذا الموضوع، وكان ينوي توسيعه والزيادة فيه، لما لهذا البحث من أهمية بالغة وخطورة كبيرة.
وقد سبق أنْ نشرت بعض محتويات هذه الرسالة (1) في مجلة " حضارة الإسلام " وكتاب " السُنَّة ومكانتها في التشريع الإسلامي "، وقد وافته المنية قبل أنْ يُحقِّق ما كان يأمله، فأصبحت أمانة في عنق العاملين في حقل الدعوة الإسلامية، والغيورين عليها.
فرحمه الله رحمة واسعة، وأمطره سحائب الرحمة والرضوان، وجزاه الله عن الإسلام والمسلمين خير الجزاء، وآخر دعوانا أنْ الحمد لله رب العالمين.
حسان مصطفى السباعي
--------------------------------------------
এর কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও অর্থে সুমহান—এটি আমার পিতা শায়খ মুস্তফা আস-সিবায়ি—আল্লাহ তাঁর কবরকে সুগন্ধিময় করুন—কর্তৃক এই বিষয়ে লিখিত রচনার কিয়দাংশ। তিনি এটি সম্প্রসারণ এবং এতে আরও কিছু সংযোজনের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, কেননা এই গবেষণার গুরুত্ব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
ইতিপূর্বে এই পুস্তিকার (১) কিছু বিষয়বস্তু "হাদারাতুল ইসলাম" সাময়িকী এবং "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরি'ইল ইসলামি" নামক গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেন, ফলে এটি ইসলামি দাওয়াতের ময়দানে কর্মীদের এবং ইসলামের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষীদের স্কন্ধে একটি আমানত হিসেবে অর্পিত হয়েছে।
আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমত দান করুন, তাঁর ওপর রহমত ও সন্তুষ্টির মেঘমালা বর্ষণ করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আমাদের শেষ প্রার্থনা এই যে, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
হাসসান মুস্তফা আস-সিবায়ি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
الاستشراق والمُسْتَشْرِقُونَ بحث لم يعن أحد من الكاتبين بأمرهما عناية علمية واسعة تبحث عن تاريخ الاستشراق وأهدافه ومراميه وحسناته وسيِّئاته، وعن المُسْتَشْرِقِينَ وطوائفهم وأعمالهم وما أصابوا وما أخطأوا فيه من أبحاث ومؤلفات، وكل ما كتب في هذا الموضوع لا يخلو عن أنْ يكون تمجيداً لهم مثل كتاب " المُسْتَشْرِقُونَ " للأستاذ نجيب العقيقي، أو أنْ يكون كشفاً موجزاً عن أهدافهم التبشيرية والاستعمارية، وأهم بحث في هذا الشأن محاضرة قيِّمة للأستاذ محمد البهي المدير العام للثقافة الإسلامية في الجامع الأزهر ألقاها في قاعة المحاضرات الكبرى الأزهرية.
وقد أفرط منا أناس في الثقة بهم والاعتماد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রাচ্যতত্ত্ব এবং প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের বিষয়টি এমন একটি গবেষণার বিষয়, যা নিয়ে লেখকদের মধ্যে কেউ এর ইতিহাস, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং এর ভালো ও মন্দ দিকগুলো নিয়ে ব্যাপক বৈজ্ঞানিক গুরুত্বারোপ করেননি; কিংবা প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের বিভিন্ন গোষ্ঠী, তাদের কার্যাবলি এবং তাদের গবেষণা ও রচনায় তারা যা সঠিক করেছেন বা ভুল করেছেন, সেসব বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেননি। এই বিষয়ে যা কিছু লেখা হয়েছে, তা উস্তাদ নাজীব আল-আকিকির 'আল-মুস্তাশরিকুন' গ্রন্থের মতো তাদের গুণকীর্তন থেকে মুক্ত নয়, অথবা তা তাদের মিশনারি ও সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্যগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত উন্মোচন মাত্র। এ প্রসঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হলো আল-আজহারের ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগের মহাপরিচালক উস্তাদ মুহাম্মদ আল-বাহীর একটি মূল্যবান বক্তৃতা, যা তিনি আজহারের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রদান করেছিলেন।
আমাদের মধ্যকার কিছু লোক তাদের ওপর আস্থা (الثقة) এবং নির্ভরতার বিষয়ে বাড়াবাড়ি করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ১০)
عليهم والثناء المطلق على جهودهم ويُمَثِّلُ هؤلاء المعجبين بهم الدكتور طه حسين من أوائل تلاميذ المُسْتَشْرِقِينَ في تاريخنا الأدبي المعاصر، حيث يقول في مقدمة كتابه " الأدب الجاهلي ":
«وكيف تتصوَّر أستاذاً للأدب العربي لا يلم ولا ينتظر أنْ يُلِمَّ بما انتهى إليه الفرنج (المُسْتَشْرِقُونَ) من النتائج العلمية المختلفة حين درسوا تاريخ الشرق وأدبه ولغاته المختلفة، وإنما يلتمس العلم الآن عند هؤلاء الناس، ولا بُدَّ من التماسه عندهم؛ حتى يتاح لنا نحن أنْ ننهض على أقدامنا، ونطير بأجنحتنا، ونسترِدَّ ما غلبنا عليه هؤلاء الناس من علومنا وتاريخنا وآدابنا».
ولا ريب في أنَّ هذا الكلام يمثِّل دوراً من أدوار العبودية الفكرية التي مررنا بها في مطلق نهضتنا العلميَّة والفكريَّة الحديثة، وهذا العبودية تتمثَّل في كتاب الدكتور طه حسين نفسه " الأدب الجاهلي " الذي كان ترديداً مخلصاً لآراء غُلاة المُسْتَشْرِقِينَ المُتعصِّبين ضد العرب والإسلام أمثال «مارجليوث» الذي نقل آراء كلها في كتابه " الأدب
তাদের প্রতি এবং তাদের প্রচেষ্টার প্রতি নিরঙ্কুশ প্রশংসা করা হয়েছে। আমাদের সমসাময়িক সাহিত্য ইতিহাসে প্রাচ্যবিদদের প্রথম দিককার শিষ্যদের মাঝে এই মুগ্ধ ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করছেন ড. তোহা হোসেন। তিনি তাঁর ‘আল-আদাবুল জাহেলি’ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন:
«আপনি কীভাবে আরবি সাহিত্যের একজন অধ্যাপকের কথা কল্পনা করতে পারেন, যিনি ইউরোপীয়রা (প্রাচ্যবিদরা) প্রাচ্যের ইতিহাস, সাহিত্য এবং বিভিন্ন ভাষা অধ্যয়ন করে যে সকল বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে সে সম্পর্কে অবগত নন এবং তা জানার অপেক্ষাও রাখেন না? বরং বর্তমানে এই লোকদের কাছেই জ্ঞান অন্বেষণ করা হয় এবং তাদের কাছেই তা অন্বেষণ করা অপরিহার্য; যাতে আমাদের পক্ষে এটা সম্ভব হয় যে, আমরা আমাদের নিজেদের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াই, আমাদের ডানা মেলে উড়ি এবং আমাদের বিজ্ঞান, ইতিহাস ও সাহিত্যের যা কিছু এই লোকেরা আমাদের থেকে কেড়ে নিয়েছে তা পুনরুদ্ধার করি।»
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই কথাগুলো আমাদের আধুনিক বৈজ্ঞানিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের সার্বিক বিকাশের পথে আমরা যে বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্বের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছি, তারই একটি রূপকে তুলে ধরে। আর এই দাসত্ব ড. তোহা হোসেনের নিজের বই ‘আল-আদাবুল জাহেলি’-তেই প্রতিফলিত হয়েছে, যা ছিল আরব ও ইসলামের বিরুদ্ধে চরমপন্থী কট্টর প্রাচ্যবিদদের মতামতের একনিষ্ঠ প্রতিধ্বনি; যেমন ‘মারগোলিউথ’, যিনি তাঁর ‘আল-আদাব’ গ্রন্থে তাঁর সকল মতামত ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ১১)
الجاهلي " ونسبها إلى نفسه وليس له في الكتاب رأي جديد نتيجة بحث عِلْمِيٍّ قام به أو تعب في سبيله.
ويمثِّل هؤلاء أيضاً الأستاذ أحمد أمين في كتابيه " فجر الإسلام " و " ضُحى الإسلام " وقد بيَّنتُ ما في فصل «الحديث» من كتاب " فجر الإسلام " من سرقة لآراء المُسْتَشْرِقِينَ دون أنْ ينسبها إليهم في كتابي الذي صدر حديثاً " السُنَّة ومكانتها في التشريع الإسلامي ".
ومن هؤلاء أيضاً الدكتور علي حسن عبد القادر في كتابه " نظرة عامة في تاريخ الفقه الإسلامي " وهو ترجمة حرفية لما كتبه جولدتسيهر في كتابيه " دراسات إسلامية " و " العقيدة والشريعة في الإسلام " وكذلك كان كسابقيه غير أمين حين نسب هذه الآراء إلى نفسه ولم ينسبها إلى أساتيذه المُسْتَشْرِقِينَ.
والدكتور علي حسن عبد القادر يشغل الآن منصب - مدير المركز الثقافي الإسلامي بلندن على ما بلغني ولقد كانت لي معه قصة أجد من الخير ذكرها هنا، لما فيها من العبرة .. وهي التي كانت سبباً في تأليفي لكتاب " السُنَّة ومكانتها في التشريع
"জাহেলি" এবং তিনি সেগুলোকে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন, অথচ কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার ফলস্বরূপ কিংবা সে পথে কোনো কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে এই গ্রন্থে তাঁর নিজস্ব কোনো নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নেই।
অধ্যাপক আহমদ আমিনও তাঁর ‘ফজরুল ইসলাম’ এবং ‘জুহাল ইসলাম’ গ্রন্থদ্বয়ে এদেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন। আমি আমার সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রন্থ ‘আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরি’ আল-ইসলামি’-তে এটি স্পষ্ট করেছি যে, তিনি ‘ফজরুল ইসলাম’ গ্রন্থের ‘হাদিস’ পরিচ্ছেদে প্রাচ্যবিদদের মতাদর্শগুলো তাদের প্রতি নিসবত করা ছাড়াই নিজের নামে চালিয়ে দিয়ে কুম্ভীলকবৃত্তির আশ্রয় নিয়েছেন।
এদের মধ্যে ডক্টর আলী حسن আব্দুল কাদিরও রয়েছেন তাঁর ‘নাজরাহ আম্মাহ ফি তারিখিল ফিকহিল ইসলামি’ গ্রন্থে, যা মূলত গোল্ডজিহারের ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ এবং ‘ইসলামে আকিদা ও শরিয়াহ’ গ্রন্থদ্বয়ের আক্ষরিক অনুবাদ মাত্র। পূর্ববর্তীদের মতোই তিনিও আমানতদারির পরিচয় দেননি যখন তিনি এই মতাদর্শগুলো নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর প্রাচ্যবিদ শিক্ষকদের কথা উল্লেখ করেননি।
আমার জানামতে, ডক্টর আলী হাসান আব্দুল কাদির বর্তমানে লন্ডনের ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালকের পদে আসীন আছেন। তাঁর সাথে আমার একটি ঘটনা রয়েছে যা আমি এখানে উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি, কারণ তাতে শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত রয়েছে... আর এই ঘটনাই ছিল আমার ‘আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরি’...’ গ্রন্থটি রচনার মূল কারণ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ১২)
الإسلامي ". وقبل أنْ أروي قصَّتي معه أحب أنْ أعترف بفضله ودماثة خلقه واعترافه بالحق حين يظهر له ..
لما كنا طلابا في السَنَةِ الثانية والثالثة في قسم تخصص المادة في الفقه والأصول وتاريخ التشريع «العالمية من درجة أستاذ» في كلية الشريعة، وكان ذلك عام 1939، عيَّنت مشيخة الأزهر في عهد الشيخ المراغي رحمه الله، الدكتور علي حسن عبد القادر أستاذاً لنا يدرّس تاريخ التشريع الإسلامي، وكان قد أنهى دراسته في ألمانيا حديثاً، وهو مُجازٌ من كلية أصول الدين في قسم التاريخ، ومكث في ألمانيا أربع سنوات حتى أخذ شهادة الدكتوراه في قسم الفلسفة على ما أذكر.
كان أول درس تلقَّيناه عنه أنْ بدأه بمثل هذا الكلام:
«إني سأدرِّسُ لكم تاريخ التشريع الإسلامي، ولكن على طريقة علمية لا عهد للأزهر بها، وإني أعترف لكم بأني تعلمت في الأزهر قرابة أربعة عشر عاماً فلم أفهم الإسلام، ولكني فهمت الإسلام حين دراستي في ألمانيا»، فعجبنا - نحن الطلاب - من مثل
ইসলামী।" এবং তাঁর সাথে আমার কাহিনী বর্ণনা করার পূর্বে আমি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, চরিত্রের মাধুর্য এবং সত্য যখন তাঁর কাছে স্পষ্ট হয় তখন তা স্বীকার করে নেওয়ার গুণের কথা স্বীকার করতে চাই...
যখন আমরা ১৯৩৯ সালে শরীয়াহ অনুষদে ফিকহ (فقه), উসুল (أصول) এবং আইন প্রণয়নের ইতিহাস (تاريخ التشريع) বিষয়ের বিশেষজ্ঞ বিভাগে—যা 'উস্তাদ' পদমর্যাদার 'আলামিয়্যাহ' ডিগ্রি—দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলাম, তখন শায়খ আল-মারাগী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর যুগে আল-আযহার কর্তৃপক্ষ ডক্টর আলী হাসান আব্দুল কাদিরকে আমাদের উস্তাদ হিসেবে নিযুক্ত করেন, যাতে তিনি ইসলামী আইন প্রণয়নের ইতিহাস (تاريخ التشريع الإسلامي) পড়ান। তিনি তখন মাত্র জার্মানি থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে এসেছিলেন। তিনি উসুলুদ দীন (أصول الدين) অনুষদের ইতিহাস বিভাগ থেকে সনদপ্রাপ্ত (مجاز) ছিলেন এবং আমার যতটুকু মনে পড়ে, তিনি জার্মানিতে চার বছর অবস্থান করে দর্শন বিভাগে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
তাঁর থেকে প্রাপ্ত প্রথম পাঠটি তিনি এভাবে শুরু করেছিলেন:
«আমি তোমাদের ইসলামী আইন প্রণয়নের ইতিহাস (تاريخ التشريع الإسلامي) পড়াবো, তবে এমন এক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যার সাথে আল-আযহারের কোনো পরিচয় নেই। আমি তোমাদের কাছে স্বীকার করছি যে, আমি আল-আযহারে প্রায় চৌদ্দ বছর পড়াশোনা করেছি কিন্তু ইসলাম বুঝতে পারিনি; বরং আমি জার্মানিতে পড়াশোনার সময় ইসলাম বুঝতে পেরেছি।» ফলে ছাত্র হিসেবে আমরা এমন বক্তব্যে বিস্মিত হলাম-
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
هذا القول وقلنا فيما بيننا: لنستمع إلى أستاذنا لعلَّه حقاً قد علم شيئاً جديراً بأنْ نعلمه عن الإسلام مِمَّا لا عهد للأزهر به، وابتدأ درسه عن تاريخ السُنَّة النبوية ترجمة حرفية عن كتاب ضَخْمٍ بين يديه، علمنا فيما بعد أنه كتاب جولدتسيهر «دراسات إسلامية» وكان أستاذنا ينقل عبارته ويتبنَّاها على أنها حقيقة علميَّة، واستمر في دروسه نناقشه فيما يبدو لنا - نحن الطلاب - أنه غير صحيح، فكان يَأْبَى أنْ يخالف جولدتسيهر بشيء مِمَّا ورد في هذا الكتاب، حتى إذا وصل في دروسه إلى الحديث عن الزُهْرِي، واتِّهامه بوضع الأحاديث للأمويين، ناقشتُهُ في ذلك - بحسب معلوماتي المُجْمَلَة عن الزُهْرِي من أنه إمام في السُنَّة، وموضع ثقة العلماء جميعاً - فلم يرجع عن رأيه، مِمَّا حملني على أنْ أطلب منه ترجمة ما قاله جولدتسيهر عن الزُهْرِي تماماً، فترجمه لي في ورقتين بخط يده، وبدأت أرجع إلى المكتبات العامَّة للتحقيق في سيرة الزُهْرِي وفي حقيقة ما اتَّهَمَهُ به هذا المستشرق. ولم أترك كتاباً مخطوطاً في مكتبة الأزهر وفي دار الكتب المصريَّة من كتب التراجم إلَاّ رجعت إليها ونقلت منها ما
এই কথাটি এবং আমরা নিজেদের মধ্যে বললাম: চলুন আমাদের উস্তাদের কথা শুনি, সম্ভবত তিনি ইসলাম সম্পর্কে সত্যিই এমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু জেনেছেন যা আমাদের জানা প্রয়োজন এবং যার সাথে আল-আজহারের কোনো পরিচয় ছিল না। তিনি তাঁর সামনে থাকা একটি বিশাল গ্রন্থ থেকে আক্ষরিক অনুবাদের মাধ্যমে সুন্নাহর ইতিহাস বিষয়ক পাঠদান শুরু করলেন। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারলাম যে, সেটি ছিল গোল্ডজিহারের ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ নামক গ্রন্থ। আমাদের উস্তাদ গোল্ডজিহারের বক্তব্যগুলো উদ্ধৃত করতেন এবং সেগুলোকে বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করতেন। তাঁর পাঠদান চলাকালে আমরা ছাত্ররা যা আমাদের কাছে সঠিক মনে হতো না, তা নিয়ে তাঁর সাথে আলোচনা করতাম। কিন্তু তিনি এই গ্রন্থে বর্ণিত কোনো বিষয়েই গোল্ডজিহারের বিরোধিতা করতে অস্বীকৃতি জানাতেন। এক পর্যায়ে যখন তিনি ইমাম যুহরী সম্পর্কে আলোচনায় পৌঁছালেন এবং উমাইয়্যাদের স্বপক্ষে তাঁর হাদিস জালকরণের (وضع) অভিযোগ তুললেন, তখন আমি যুহরী সম্পর্কে আমার অর্জিত সাধারণ জ্ঞানের ভিত্তিতে তাঁর সাথে তর্কে লিপ্ত হলাম—যেহেতু তিনি সুন্নাহর একজন ইমাম এবং সকল আলিমের নিকট নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু তিনি তাঁর মত পরিবর্তন করলেন না, যা আমাকে বাধ্য করল গোল্ডজিহার যুহরী সম্পর্কে ঠিক কী লিখেছেন তার পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ তাঁর কাছে দাবি করতে। তিনি নিজ হাতে লিখে দুই পৃষ্ঠায় তা আমাকে অনুবাদ করে দিলেন। এরপর আমি যুহরীর জীবনী এবং এই প্রাচ্যবিদ তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন তার প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানে পাবলিক লাইব্রেরিগুলোতে যাতায়াত শুরু করলাম। আমি আল-আজহার লাইব্রেরি এবং দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে বিদ্যমান জীবনীগ্রন্থগুলোর (التراجم) এমন কোনো পাণ্ডুলিপি (مخطوط) বাদ দিইনি যা আমি পর্যালোচনা করিনি এবং তা থেকে যা
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يتعلق بالزُهْرِي، واستغرق ذلك ثلاثة أشهر كنت أشتغل فيها منذ مغادرتي كلية الشريعة بعد الدرس حتى أواخر الليل، فلما تجمَّعت لدي المعلومات الصحيحة، قلت لأستاذنا الدكتور عبد القادر: لقد تبيَّن لي أنَّ جولدتسيهر قدر حَرََّفَ نصوص الأقدمين فيما يتعلق بالزُهْرِي، فأجابني بقوله: لا يمكن هذا؛ لأنَّ المُسْتَشْرِقِينَ - وخاصة جولدتسيهر - قوم علماء منصفون لا يحرّفون النصوص ولا الحقائق! ..
عندئذٍ أزمعت على إلقاء محاضرة في الموضوع في دار جمعية الهداية الإسلامية - قرب سراي عابدين قديماً - وأرسلتْ إدارة الجمعية بطاقات الدعوة لهذه المحاضرة إلى علماء الأزهر وطلَاّبه، فاجتمع يومئذ عدد كبير منهم ما بين أساتذة وطلاب، ومن بينهم أستاذنا الدكتور عبد القادر - الذي رجوته حضور هذه المحاضرة، وإبداء رأيه فيما أقول، فتفضل مشكوراً بالحضور، وأصغى إلى المحاضرة كلها التي كانت تدور حول ما كتبه جولدتسيهر عن الإمام الزُهْرِي، وختمتها بقولي: هذا هو ما أراه في هذا الموضوع، وهذا هو رأي علمائنا في
এটি ইমাম জুহরি সংশ্লিষ্ট বিষয় ছিল, এবং এতে দীর্ঘ তিন মাস সময় ব্যয় হয়েছিল যাতে আমি শরিয়াহ ফ্যাকাল্টি থেকে পাঠদান শেষে বের হওয়ার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গবেষণার কাজে লিপ্ত থাকতাম। যখন আমার নিকট সঠিক (صحيح) তথ্যাদি সংগৃহীত হলো, তখন আমি আমাদের উস্তাদ ডক্টর আব্দুল কাদিরকে বললাম: আমার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, গোল্ডজিহার ইমাম জুহরি সংশ্লিষ্ট প্রাচীন মণীষীদের মূল পাঠসমূহ (نصوص) বিকৃত করেছেন। তদুত্তরে তিনি আমাকে বললেন: এটি সম্ভব নয়; কারণ প্রাচ্যবিদগণ—বিশেষ করে গোল্ডজিহার—হলেন একদল ন্যায়নিষ্ঠ গবেষক যারা মূল পাঠ (نصوص) কিংবা সত্যকে বিকৃত করেন না! ..
তখন আমি প্রাচীন আবিদিন প্রাসাদের নিকটস্থ দারু জামিয়াতিল হিদায়াতিল ইসলামিয়্যাহ-তে এই বিষয়ে একটি বক্তৃতা প্রদানের সংকল্প করলাম। সমিতির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই বক্তৃতার আমন্ত্রণপত্র আল-আযহারের আলেম ও ছাত্রদের নিকট প্রেরণ করল। সেদিন সেখানে শিক্ষক ও ছাত্র মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক ব্যক্তি সমবেত হলেন। তাদের মাঝে আমাদের উস্তাদ ডক্টর আব্দুল কাদিরও ছিলেন—যাকে আমি এই বক্তৃতায় উপস্থিত থাকতে এবং আমার বক্তব্যের ওপর মতামত ব্যক্ত করতে অনুরোধ করেছিলাম। তিনি অত্যন্ত সদয় হয়ে উপস্থিত হলেন এবং ইমাম জুহরি সম্পর্কে গোল্ডজিহার যা লিখেছিলেন সেই কেন্দ্রিক পুরো বক্তৃতাটি মনোযোগ সহকারে শুনলেন। পরিশেষে আমি এই বলে তা সমাপ্ত করলাম: এই বিষয়ে এটিই আমার অভিমত, আর এটিই আমাদের আলেমদের রায়...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الزُهْرِي، فإنْ كان لأستاذنا الدكتور عبد القادر مناقشة حول الموضوع إنْ لم يقتنع بما ذكرته، فأرجو أن يتفضل بالكلام، فنهض الدكتور - حَفِظَهُ اللهُ -، وقال بصوت سمعه الحاضرون جميعاً: إني أعترف بأني لم أكن أعرف من هو الزُهْرِي حتى عرفته الآن، وليس لي اعتراض على كل ما ذكرته، وانفضَّ الاجتماع، ثم دخلنا غرفة الأستاذ السيد محمد الخضر حسين رحمه الله رئيس الجمعية الأستاذ الأكبر للجامع الأزهر فيما بعد - فكان مِمَّا قاله أستاذنا الدكتور - حَفِظَهُ اللهُ -، - وكان ذلك بحضور السيد الخضر حسين رحمه الله: إنَّ بحثك هذا فتح جديد في بحوث المُسْتَشْرِقِينَ، وأرجو أنْ تعطيني نسخة من هذه المحاضرة لأبعث بها إلى المجلَاّت العلميَّة التي تُعْنَى ببحوث المُسْتَشْرِقِينَ في ألمانيا، وإني أعتقد أنها ستحدث دَوِيًّا في أوساط المُسْتَشْرِقِينَ، فشكرته على ذلك واعتبرته تشجيع أستاذٍ لتلميذه.
وبعد أيام دعاني لزيارته في البيت، فكان مِمَّا اتفقنا عليه أنْ نتفرغ معاً في الصيف لترجمة كتاب
জুহরী; এই বিষয়ে আমাদের উস্তাদ ডক্টর আব্দুল কাদিরের যদি কোনো আলোচনা থাকে—যদি তিনি আমার বর্ণিত বিষয়ে আশ্বস্ত না হয়ে থাকেন—তবে আমি আশা করি তিনি কথা বলে আমাদের ধন্য করবেন। অতঃপর ডক্টর —আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন— উঠে দাঁড়ালেন এবং এমন উচ্চস্বরে বললেন যা উপস্থিত সকলে শুনতে পেল: আমি স্বীকার করছি যে, জুহরী কে ছিলেন তা আমি জানতাম না, যতক্ষণ না এখন তাঁকে চিনলাম। আপনি যা উল্লেখ করেছেন তার কোনো কিছুর ওপরই আমার কোনো আপত্তি নেই। এরপর সভা সমাপ্ত হলো। অতঃপর আমরা উস্তাদ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আল-খিজির হুসাইন —আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন— এর কক্ষে প্রবেশ করলাম, যিনি সেই সমিতির সভাপতি এবং পরবর্তীকালে জামে আজহারের প্রধান ইমাম (শায়খুল আজহার) হয়েছিলেন। আমাদের উস্তাদ ডক্টর —আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন— সেখানে যা বলেছিলেন—এবং তা সাইয়্যেদ আল-খিজির হুসাইন —আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন— এর উপস্থিতিতেই ছিল—তা হলো: তোমার এই গবেষণাটি প্রাচ্যবিদদের গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত। আমি আশা করি তুমি আমাকে এই আলোচনার একটি অনুলিপি প্রদান করবে যাতে আমি এটি জার্মানিতে প্রাচ্যবিদদের গবেষণা বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সাময়িকীগুলোতে পাঠাতে পারি। আমি বিশ্বাস করি এটি প্রাচ্যবিদ মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করবে। আমি এর জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানালাম এবং একে একজন উস্তাদের পক্ষ থেকে তাঁর ছাত্রের প্রতি উৎসাহ প্রদান হিসেবে গণ্য করলাম।
কয়েক দিন পর তিনি আমাকে তাঁর বাড়িতে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানালেন। আমাদের মধ্যে যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলো তা ছিল এই যে, আমরা গ্রীষ্মকালে একটি বই অনুবাদের জন্য একত্রে নিবিষ্ট হব...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
جولدتسيهر والرَدِّ عليه، ولكني اعتقلت بعد ذلك من قبل السلطات العسكرية الإنجليزية في القاهرة في بدء قيام الحرب العالمية الثانية وأقصيت عنها سبع سنوات، وفي خلال هذه الفترة أصدر الدكتور عبد القادر كتابه " نظرة عامة في تاريخ الفقه الإسلامي " ولم يتح لي الاطلاع عليه إلَاّ بعد ثلاث سنوات حين أفرج عنِّي في أواسط الحرب الأخيرة.
هذه قصتي مع الدكتور علي حسن عبد القادر وهي التي كانت سبباً في تأليف هذا الكتاب. لم أجد مانعاً من ذكرها لما فيها من العبرة، وأظن أن الدكتور عدل عن رأيه السابق في المُسْتَشْرِقِينَ وخاصة جولدتسيهر، وبدَّلَ رأيه في أمانته وإخلاصه للحق وعدم تحريفه للنصوص.
ويقابل هذا الاتجاه المفرط في الثقة ببحوث المُسْتَشْرِقِينَ اتجاه يحمل على المُسْتَشْرِقِينَ واتجاهاتهم المغرضة المفرطة في التعصُّب، ويُمَثِّلُهُ قول أحمد فارس الشدياق في كتابه " ذيل الفارياق ": «إنَّ هؤلاء الأساتيذ (المُسْتَشْرِقِينَ) لم يأخذوا العلم عن شيوخه، وإنما تطفَّلُوا عليه تطفُّلاً، وتوثَّبُوا فيه توثُّباً، ومن تَخَرَّجَ فيه بشيء فإنما تَخَرَّجَ على القسس، ثم أدخل رأسه في أضغاث أحلام، أو
গোল্ডজিহার এবং তার খণ্ডন প্রসঙ্গে; কিন্তু এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে কায়রোতে ব্রিটিশ সামরিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আমি গ্রেফতার হই এবং সেখান থেকে সাত বছর দূরে থাকতে বাধ্য হই। এই সময়ের মধ্যে ডক্টর আব্দুল কাদির তাঁর "ইসলামি ফিকহের ইতিহাসের ওপর একটি সাধারণ দৃষ্টি" শীর্ষক গ্রন্থটি প্রকাশ করেন এবং শেষ যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে যখন আমি মুক্তি পাই, তার তিন বছর পর পর্যন্ত সেটি দেখার সুযোগ আমার হয়নি।
ডক্টর আলী হাসান আব্দুল কাদিরের সাথে এটিই ছিল আমার কাহিনী এবং এটিই এই গ্রন্থটি রচনার কারণ। এতে শিক্ষা রয়েছে বিধায় আমি এটি উল্লেখ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা দেখিনি। আমার ধারণা ডক্টর প্রাচ্যবিদদের সম্পর্কে তাঁর পূর্ববর্তী মত থেকে ফিরে এসেছেন—বিশেষ করে গোল্ডজিহার সম্পর্কে—এবং তাদের আমানতদারি, সত্যের প্রতি নিষ্ঠা ও পাঠ বিকৃতি না করার বিষয়ে তাঁর অভিমত পরিবর্তন করেছেন।
প্রাচ্যবিদদের গবেষণার ওপর এই অতিমাত্রায় আস্থার বিপরীতে এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যা প্রাচ্যবিদদের এবং তাদের চরম গোঁড়ামি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রবণতার সমালোচনা করে। আহমাদ ফারিস আশ-শিদইয়াক তাঁর "যাইল আল-ফারইয়াক" গ্রন্থে এর প্রতিনিধিত্ব করে বলেছেন: «নিশ্চয়ই এই অধ্যাপকরা (প্রাচ্যবিদগণ (المُسْتَشْرِقِينَ)) যোগ্য উস্তাদদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেননি, বরং তারা এতে অনধিকার প্রবেশ করেছেন এবং এর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। আর তাদের মধ্যে যারা কোনো কিছু অর্জন করেছেন, তারা মূলত যাজকদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। এরপর তারা তাদের মাথাকে অলীক স্বপ্নের মাঝে ডুবিয়ে দিয়েছেন, অথবা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أدخل أضغاث أحلام في رأسه، وتوهَّمَ أنه يعرف شيئاً وهو يجهله، وكل منهم إذا درس في أحدى لغات الشرق أو ترجم شيئاً منها تراه يخبط فيها خبط عشواء، فما اشتبه عليه منها رقعه من عنده بما شاء، وما كان بين الشبهة واليقين حدس فيه وخَمَّنَ فرجَّح منه المرجوح، وفضَّل المفضول».
وفي الحق أنَّ كلاً من الثناء المطلق والتحامل المطلق يتنافى مع الحقيقة التاريخية التي سجَّلها هؤلاء المُسْتَشْرِقُونَ فيما قاموا به من أعمال، وما تطرَّقوا إليه من أبحاث، ونحن من قوم يأمرهم دينهم بالعدل حتى مع أعدائهم {وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} (1).
تاريخ الاستشراق:لا يعرف بالضبط من هو أول غربي عني بالدراسات الشرقية ولا في أي وقت كان ذلك ولكن المؤكَّد أنَّ بعض الرهبان الغربيِّين قصدوا الأندلس في إبَّان عظمتها ومجدها، وتثقَّفُوا في مدراسها، وترجموا القرآن والكتب العربية إلى لغاتهم، وتتلمذوا على علماء المسلمين في مختلف
--------------------------------------------
সে তার মস্তিষ্কে অলীক কল্পনার জাল বুনেছে এবং ধারণা করেছে যে সে কিছু জানে, অথচ সে আসলে অজ্ঞ। তাদের মধ্যে কেউ যখন প্রাচ্যের কোনো ভাষা অধ্যয়ন করে অথবা তার কোনো কিছু অনুবাদ করে, তখন তাকে সেখানে লক্ষ্যহীনভাবে হাতড়াতে দেখা যায়। এমতাবস্থায় যা কিছু তার নিকট অস্পষ্ট ঠেকেছে, সে নিজের খেয়ালখুশি মতো তালি দিয়ে তা পূরণ করেছে। আর যা কিছু সন্দেহ ও ধ্রুব সত্যের মাঝামাঝি ছিল, সে বিষয়ে সে কেবল অনুমান ও ধারণা করেছে, ফলে সে অগ্রহণযোগ্যকে (المرجوح) প্রাধান্য দিয়েছে এবং নিম্নতরকে (المفضول) অগ্রাধিকার প্রদান করেছে।
বস্তুত নিরঙ্কুশ প্রশংসা এবং নিরঙ্কুশ বিদ্বেষ—উভয়ই সেই ঐতিহাসিক সত্যের পরিপন্থী যা এই প্রাচ্যবিদগণ তাদের সম্পাদিত কাজ ও গবেষণায় লিপিবদ্ধ করেছেন। আর আমরা এমন এক জাতির অন্তর্ভুক্ত যাদের ধর্ম তাদের শত্রুদের সাথেও ন্যায়বিচারের নির্দেশ দেয়: "কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে এমনভাবে প্ররোচিত না করে যে তোমরা ইনসাফ করবে না। তোমরা ইনসাফ করো, এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী" (১)।
প্রাচ্যতত্ত্বের ইতিহাস:প্রাচ্য বিদ্যায় আগ্রহী প্রথম পশ্চিমা ব্যক্তি কে ছিলেন বা সেটি কোন সময়ে ছিল তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। তবে এটি নিশ্চিত যে, কিছু পশ্চিমা সন্ন্যাসী আন্দালুসের শৌর্য ও গৌরবের স্বর্ণযুগে সেখানে গমন করেছিলেন, সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করেছিলেন, কুরআন ও আরবি গ্রন্থসমূহ তাদের নিজ নিজ ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন এবং মুসলিম পণ্ডিতদের নিকট বিভিন্ন বিষয়ে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
العلوم وبخاصة في الفلسفة والطب والرياضيات ..
ومن أوائل هؤلاء الرُهبان، الراهب الفرنسي «جربرت» Jerbert الذي انتخب بَابَا لكنيسة روما عام 999 م بعد تعلُّمه في معاهد الأندلس وعودته إلى بلاده، و «بطرس المحترم» 1092 - 1156 Pierre Aénéré و «جيرار دي كريمون» 1114 - 1187 Gérard de Grémone .
وبعد أنْ عاد هؤلاء الرهبان إلى بلادهم نشروا ثقافة العرب ومؤلَّفات أشهر علمائهم، ثم أسست المعاهد للدراسات العربية أمثال مدرسة «بادوي» العربية، وأخذت الأديرة والمدارس العربية تدرس مؤلفات العرب المترجمة إلى اللاتينية - وهي لغة العلم في جميع بلاد أوروبا يومئذٍ - واستمرَّت الجامعات العربية تعتمد على كتب العرب وتعتبرها المراجع الأصلية للدراسة قرابة ستة قرون.
ولم ينقطع منذ ذلك الوقت وجود أفراد درسوا الإسلام واللغة العربية، وترجموا القرآن وبعض الكتب العربية العلميَّة والأدبية، جتى جاء القرن الثامن عشر - وهو العصر الذي بدأ فيه الغرب في استعمار
বিজ্ঞান এবং বিশেষভাবে দর্শন, চিকিৎসা ও গণিতশাস্ত্রে...
এই সন্ন্যাসীদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন ফরাসি সন্ন্যাসী ‘জারবার্ট’ (Jerbert), যিনি আন্দালুসিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জ্ঞানার্জন শেষে নিজ দেশে ফিরে ৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে রোম গির্জার পোপ নির্বাচিত হন। আরও ছিলেন ‘পিটার দ্য ভেনারেবল’ (১০৯২ - ১১৫৬) এবং ‘জেরার্ড অব ক্রেমোনা’ (১১১৪ - ১১৮৭)।
এই সন্ন্যাসীরা যখন নিজ দেশে ফিরে যান, তখন তারা আরব সংস্কৃতি এবং তাদের প্রখ্যাত পণ্ডিতদের রচনাবলি প্রচার করেন। এরপর আরবি অধ্যয়নের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়, যেমন আরবি ‘পাদুয়া’ স্কুল। মঠ এবং বিদ্যালয়গুলো ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত আরবদের রচনাবলি পড়ানো শুরু করে—যা তৎকালীন ইউরোপের সকল দেশে বিজ্ঞানের ভাষা ছিল। প্রায় ছয় শতাব্দী ধরে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আরবদের বইয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং সেগুলোকে পড়াশোনার মূল রেফারেন্স হিসেবে গণ্য করত।
সেই সময় থেকে এমন ব্যক্তিদের উপস্থিতি কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি যারা ইসলাম ও আরবি ভাষা নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন এবং কুরআন ও আরবদের কিছু বৈজ্ঞানিক ও সাহিত্যবিষয়ক গ্রন্থ অনুবাদ করেছেন। এভাবে আঠারো শতক পর্যন্ত চলে—এটি সেই যুগ যখন পশ্চিমারা উপনিবেশবাদ শুরু করে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
العالم الإسلامي والاستيلاء على ممتلكاته فإذا بعدد من علماء الغرب ينبغون في الاستشراق، ويصدرون لذلك المجلَاّت في جميع الممالك الغربية، ويغيرون على المخطوطات العربية في البلاد العربية والإسلامية، فيشترونها من أصحابها الجهلة، أو يسرقونها من المكتبات العامة التي كانت في نهاية الفوضى، وينقلونها إلى بلادهم ومكتباتهم، وإذا بأعداد هائلة من نوادر المخطوطات العربية تنتقل إلى مكتبات أوروبا، وقد بلغت في أوائل القرن التاسع عشر مائتين وخمسين ألف مجلداً، وما زال هذا العدد يتزايد حتى اليوم.
وفي الربع الأخير من القرن التاسع عشر عقد أول مؤتمر للمستشرقين في باريس عام 1873، وتتالى عقد المؤتمرات التي تلقى فيها الدراسات عن الشرق وأديانه وحضارته وما تزال تعقد حتى هذه الأيام.
ميدان الاستشراق:بدأ الاستششراق كما رأينا بدراسة اللغة العربية والإسلام، وانتهى - بعد التوسع الاستعمارري الغربي
মুসলিম বিশ্ব এবং এর সম্পদ দখল; এমতাবস্থায় দেখা যায় যে, একদল পশ্চিমা পণ্ডিত প্রাচ্যতত্ত্বের গবেষণায় পারদর্শিতা অর্জন করছেন এবং এর জন্য সমস্ত পশ্চিমা রাজ্যে সাময়িকী প্রকাশ করছেন। তারা আরব ও ইসলামি দেশগুলোর আরবি পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর হস্তক্ষেপ করেন; হয় তারা সেগুলো তাদের অজ্ঞ মালিকদের কাছ থেকে ক্রয় করেন অথবা চরম বিশৃঙ্খলার শেষ পর্যায়ে থাকা গণগ্রন্থাগারগুলো থেকে সেগুলো চুরি করে নিজ দেশে ও গ্রন্থাগারগুলোতে নিয়ে যান। এভাবে বিপুল সংখ্যক বিরল আরবি পাণ্ডুলিপি ইউরোপের গ্রন্থাগারগুলোতে স্থানান্তরিত হয়। উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এর সংখ্যা দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার খণ্ডে পৌঁছেছিল এবং আজ অবধি এই সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উনবিংশ শতাব্দীর শেষ চতুর্থাংশে ১৮৭৩ সালে প্যারিসে প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও অনেক সম্মেলন আয়োজিত হতে থাকে যেখানে প্রাচ্য, এর ধর্মসমূহ এবং সভ্যতা নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হয়, যা বর্তমান সময় পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রাচ্যতত্ত্বের ক্ষেত্র:আমরা যেমনটি দেখেছি, প্রাচ্যতত্ত্ব মূলত আরবি ভাষা ও ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এবং পশ্চিমা ঔপনিবেশিক সম্প্রসারণের পর তা পর্যবসিত হয়—
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ২০)
في الشرق - إلى دراسة جميع ديانات الشرق وعاداته وحضارته وجغرافيته وتقاليده وأشهر لغاته، وإنْ كانت العناية بالإسلام والآداب العربية والحضارة الإسلامية هي أهم ما يعنى به المُسْتَشْرِقُونَ حتى اليوم؛ نظراً للدوافع الدِّينِيَّةِ والسياسية التي شجعت على الدراسات الشرقية كما سنذكره فيما بعد.
دوافع الاستشراق:
1 - الدافع الديني:لا نحتاج إلى استنتاج وجهد في البحث لنتعرف إلى الدافع الأول للاستشراق عند الغربيِّين وهو الدافع الديني. فقد بدأ بالرهبان - كما رأينا - واستمر كذلك حتى عصرنا الحاضر - كما سنرى - وهؤلاء كان يهُمُّهُمْ أنْ يطعنوا في الإسلام ويُشَوِّهُوا محاسنة ويُحَرِّفُوا حقائقه ليثبتوا لجماهيرهم التي تخضع لزعامتهم الدِّينِيَّةِ أنَّ الإسلام - وقد كان يومئذٍ الخصم الوحيد للمسيحية في نظر الغربيِّين - دين لا يستحق الانتشار، وأنَّ المسلمين قوم هُمَّجٌ لصوص وسفَّاكُو دماء، يحثهم دينهم على الملذات الجسدية، ويبعدهم عن كل سمو روحي وخلقي. ثم اشتدَّتْ حاجتهم إلى هذا الهجوم في
প্রাচ্যে - প্রাচ্যের সকল ধর্ম, আচার-আচরণ, সভ্যতা, ভূগোল, ঐতিহ্য এবং এর প্রসিদ্ধ ভাষাগুলোর অধ্যয়ন পর্যন্ত; যদিও ইসলাম, আরবি সাহিত্য এবং ইসলামি সভ্যতার প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়াই প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের কাছে আজ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে; এর কারণ হলো সেই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা যা প্রাচ্য বিষয়ক অধ্যয়নকে উৎসাহিত করেছে, যেমনটি আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব।
প্রাচ্যতত্ত্বের উদ্দেশ্যসমূহ:
১ - ধর্মীয় উদ্দেশ্য:পশ্চিমাদের নিকট প্রাচ্যতত্ত্বের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য যে ধর্মীয় ছিল, তা জানার জন্য আমাদের কোনো বিশেষ গবেষণা বা পরিশ্রমের প্রয়োজন নেই। যেমনটি আমরা দেখেছি যে, এটি যাজকদের মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল এবং বর্তমান যুগ পর্যন্ত সেভাবেই অব্যাহত রয়েছে - যা আমরা সামনে দেখতে পাব। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসলামের নিন্দা করা, এর সৌন্দর্যকে বিকৃত করা এবং এর সত্যতাকে অপলাপ করা; যাতে তারা তাদের ধর্মীয় নেতৃত্বের অনুসারী জনসাধারণের কাছে এটি প্রমাণ করতে পারে যে, ইসলাম - যা সে সময় পশ্চিমাদের দৃষ্টিতে খ্রিস্টধর্মের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল - এমন একটি ধর্ম যা প্রসারের যোগ্য নয়। আর মুসলিমরা হলো একদল অসভ্য, চোর ও রক্তপিপাসু জাতি, যাদের ধর্ম তাদের কেবল শারীরিক ভোগবিলাসে প্ররোচিত করে এবং যাবতীয় আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উচ্চতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। অতঃপর এই আক্রমণের প্রয়োজনীয়তা আরও তীব্র হয়ে ওঠে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ২১)
العصر الحاضر بعد أنْ رأوا الحضارة الحديثة قد زعزعت أسس العقيدة عند الغربيِّين، وأخذت تشكُّكَهُم بكل التعاليم التي كانوا يتلقونها عن رجال الدين عندهم فيما مضى، فلم يجدوا خيراً من تشديد الهجوم على الإسلام لصرف أنظار الغربيِّين عن نقد ما عندهم من عقيدة وكتب مقدسة، وهم يعلمون ما تركته الفتوحات الإسلامية الأولى ثم الحروب الصليبية ثم الفتوحات العثمانية في أوروبا بعد ذلك في نفوس الغربيِّين من خوف من قوة الإسلام وكرهٍ لأهله، فاستغلُّوا هذا الجو النفسي، وازدادوا نشاطاً في الدراسات الإسلامية.
وهناك الهدف التبشيري الذي لم يتناسوه في دراساتهم العلميَّة، وهم قبل كل شيء رجال دين، فأخذوا يهدفون إلى تشويه سُمعة الإسلام في نفوس رُواد ثقافتهم من المسلمين؛ لإدخل الوهن إلى العقيدة الإسلامية، والتشكيك في التراث الإسلامي والحضارة الإسلامية وكل ما يتَّصل بالإسلام من علم وأدب وتراث.
2 - الدافع الاستعماري:لما انتهت الحروب
বর্তমান যুগে তারা যখন লক্ষ্য করল যে আধুনিক সভ্যতা পশ্চিমাদের আকিদা (عقيدة)-র ভিত্তিমূলকে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং অতীতে তারা তাদের ধর্মীয় যাজকদের কাছ থেকে যে সকল শিক্ষা লাভ করত, সেগুলোর প্রতি তাদের মনে সংশয় সৃষ্টি করতে শুরু করেছে, তখন তারা ইসলামের ওপর আক্রমণ জোরদার করা ছাড়া পশ্চিমাদের দৃষ্টিকে তাদের নিজস্ব আকিদা (عقيدة) ও পবিত্র গ্রন্থসমূহের সমালোচনা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আর কোনো উত্তম উপায় খুঁজে পায়নি। তারা জানত যে প্রাথমিক ইসলামী বিজয়সমূহ, এরপর ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ এবং পরবর্তীতে ইউরোপে উসমানীয় বিজয়সমূহ পশ্চিমাদের মনে ইসলামের শক্তি সম্পর্কে যে ভীতি এবং মুসলিমদের প্রতি যে ঘৃণা সৃষ্টি করে রেখেছিল; তারা এই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে কাজে লাগাল এবং ইসলামী গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দিল।
আর সেখানে মিশনারি উদ্দেশ্যও বিদ্যমান ছিল যা তারা তাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণায় বিস্মৃত হয়নি; তারা মূলত সর্বাগ্রে ধর্মবেত্তা। ফলে তারা মুসলিম সংস্কৃতিমনাদের মানসপটে ইসলামের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করল; যেন ইসলামী আকিদা (عقيدة)-র মধ্যে দুর্বলতা (وهن) প্রবেশ করানো যায় এবং ইসলামী ঐতিহ্য (تراث), ইসলামী সভ্যতা এবং ইসলাম সংশ্লিষ্ট প্রতিটি জ্ঞান, সাহিত্য ও ঐতিহ্য (تراث)-এর ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করা যায়।
২ - ঔপনিবেশিক প্রেরণা:যখন যুদ্ধসমূহ সমাপ্ত হলো
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ২২)
الصليبية بهزيمة الصليبيِّين وهي في ظاهرها حروب دينية وفي حقيقتها حروب استعمارية، لم ييأس الغَرْبِيُّونَ من العودة إلى احتلال بلاد العرب فبلاد الإسلام، فاتَّجهوا إلى دراسة هذه البلاد في كل شؤونها من عقيدة وعادات وأخلاق وثروات؛ ليتعرَّفوا إلى مواطن القوة فيها فيضعفوها، وإلى مواطن الضعف فيغتنموه، ولما تمَّ لهم الاستيلاء العسكري والسيطرة السياسية كان من دوافع تشجيع الاستشراق إضعاف المقاومة الروحية والمعنوية في نفوسنا، وبث الوهن والارتباك في تفكيرنا وذلك عن طريق التشكيك بفائدة ما في أيدينا من تراث، وما عندنا من عقيدة وقِيَمٍ إنسانية، فنفقد الثقة بأنفسنا، ونرتمي في أحضان الغرب نستجدي منه المقاييس الأخلاقية والمبادئ العقائدية، وبذلك يتم لهم ما يريدون من خضوعنا لحضارتهم وثقافتهم خضوعاً لا تقوم لنا من بعده قائمة.
انظر إليهم كيف يُشَجِّعُون في بلادنا القوميات التاريخية التي عفى عليها الزمن، واندثرت منذ حمل العرب رسالة الإسلام، فتوحَّدتْ لغتهم وعقيدتهم
ক্রুসেডারদের পরাজয়ের মাধ্যমে ক্রুসেড যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলেও—যা বাহ্যিকভাবে ছিল ধর্মীয় যুদ্ধ কিন্তু বাস্তবে ছিল ঔপনিবেশিক যুদ্ধ—পশ্চিমারা আরব ভূখণ্ড তথা ইসলামি দেশসমূহ পুনরায় দখলের আশা ত্যাগ করেনি। তাই তারা এই দেশগুলোর আকিদা (عقيدة), রীতিনীতি, নৈতিকতা ও সম্পদসহ যাবতীয় বিষয়াদি অধ্যয়নে মনোনিবেশ করল; যাতে তারা এগুলোর শক্তির উৎসগুলো চিহ্নিত করে তা দুর্বল করতে পারে এবং দুর্বলতার দিকগুলো শনাক্ত করে তার সুযোগ নিতে পারে। যখন তাদের সামরিক বিজয় ও রাজনৈতিক আধিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন প্রাচ্যতত্ত্বকে উৎসাহিত করার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আমাদের অন্তরে আধ্যাত্মিক ও মানসিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করা এবং আমাদের চিন্তাধারায় দুর্বলতা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়া। আর তা করা হয়েছিল আমাদের কাছে থাকা ঐতিহ্য এবং আকিদা (عقيدة) ও মানবিক মূল্যবোধের উপযোগিতা সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টির মাধ্যমে। ফলে আমরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি এবং পশ্চিমাদের আশ্রয়ে গিয়ে তাদের কাছে নৈতিক মানদণ্ড ও আকিদাগত (عقيدة) মূলনীতি ভিক্ষা করি। এর মাধ্যমে তাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রতি আমাদের এমন এক বশ্যতা নিশ্চিত হয়, যা থেকে আমরা আর কখনোই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব না।
তাদের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তারা কীভাবে আমাদের দেশগুলোতে সেই সব সেকেলে ঐতিহাসিক জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করছে যা কালস্রোতে বিলীন হয়ে গিয়েছিল এবং আরবরা ইসলামের বার্তা (رسالة) বহন করার পর থেকেই যা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল; যার ফলে তাদের ভাষা ও আকিদা (عقيدة) একীভূত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وبلادهم، وحملوا هذه الرسالة إلى العالم فأقاموا بينهم وبين الشعوب روابط إنسانية وتاريخية وثقافية ازدادوا بها قوة، وازدادت الشعوب بها رِفْعَةً وهداية، إنهم ما برحوا منذ نصف قرن يحاولون إحياء الفرعونية في مصر، والفينيقية في سوريا ولبنان وفلسطين، والآشورية في العراق وهكذا، ليتسنَّى لهم تشتيت شملنا كأُمَّةٍ واحدة،، وَلِيَعُوقُوا قوة الاندفاع التحررية عن عملها في قوتنا وتحرُّرنا وسيادتنا على أرضنا وثرواتنا وعودتنا من جديد إلى قيادة ركب الحضارة، والتقائنا مع إخوتنا في العقيدة والمُثُل العليا والتاريخ المشترك والمصالح المشتركة.
3 - الدافع التجاري:ومن الدوافع التي كان لها أثرها في تنشيط الاستشراق، رغبة الغربيِّين في التعامل معنا لترويج بضائعهم وشراء مواردنا الطبيعية الخام بأبخس الأثمان ولقتل صناعتنا المحلية التي كانت لها مصانع قائمة مزدهرة في مختلف بلاد العرب والمسلمين.
4 - الدافع السياسي:وهنالك دافع آخر أخذ يتجلَّى في عصرنا الحاضر بعد استقلال أكثر الدول
এবং তাদের ভূখণ্ড। তারা এই বার্তাকে বিশ্বের নিকট পৌঁছে দিয়েছিলেন, ফলে তারা নিজেদের ও বিভিন্ন জাতির মধ্যে মানবিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন তৈরি করেছিলেন; যার মাধ্যমে তারা উত্তরোত্তর শক্তিশালী হয়েছিলেন এবং জাতিসমূহ লাভ করেছিল মর্যাদা ও হিদায়াত। তারা গত অর্ধ শতাব্দী ধরে মিশরে ফেরাউনবাদ, সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিনে ফিনিকীয়বাদ এবং ইরাকে আসিরীয়বাদ ইত্যাদি পুনরুজ্জীবিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে তারা একটি একক উম্মাহ হিসেবে আমাদের ঐক্যকে খণ্ডিত করতে পারে। আর যেন তারা আমাদের শক্তি, মুক্তি, আমাদের ভূখণ্ড ও সম্পদের ওপর আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং পুনরায় বিশ্বসভ্যতার কাফেলার নেতৃত্বদানে আমাদের মুক্তি আন্দোলনের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে এবং আকিদাহ, উচ্চতর আদর্শ, অভিন্ন ইতিহাস ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে আমাদের ভাইদের সাথে আমাদের পুনর্মিলনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
৩ - বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য:প্রাচ্যতত্ত্ব চর্চাকে বেগবান করার পেছনে অন্যতম একটি কারণ ছিল আমাদের সাথে লেনদেন করার ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের আকাঙ্ক্ষা; যেন তারা তাদের পণ্যসামগ্রী বাজারজাত করতে পারে এবং আমাদের প্রাকৃতিক কাঁচামাল অত্যন্ত সস্তা মূল্যে ক্রয় করতে পারে। সেই সাথে আমাদের স্থানীয় শিল্পকে ধ্বংস করাও ছিল তাদের লক্ষ্য, যা আরব ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একসময় সমৃদ্ধ কারখানা হিসেবে বিদ্যমান ছিল।
৪ - রাজনৈতিক উদ্দেশ্য:বর্তমান যুগে অধিকাংশ রাষ্ট্র স্বাধীন হওয়ার পর আরও একটি উদ্দেশ্য সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
العربية والإسلامية، ففي كل سفارة من سفارات الدول الغربية لدى هذه الدول سكرتير أو ملحق ثقافي يحسن اللغة العربية، ليتمكَّن من الاتصال برجال الفكر والصحافة والسياسة فيتعرَّف إلى أفكارهم، ويبث فيهم من الاتجاهات السياسية ما تريده دولته، وكثيراً ما كان لهذا الاتصال أثره الخطير في الماضي حين كان السفراء الغَرْبِيُّونَ - ولا يزالون في بعض البلاد العربية والإسلامية - يبُثُّون الدسائس للتفرقة بين الدول العربية بعضها مع بعض، وبين الدول العربية والدول الإسلامية بحُجَّة توجيه النصح وإسداء المعونة بعد أنْ درسوا تماماً نفسيَّة كثيرين من المسؤولين في تلك البلاد، وعرفوا نواحي الضعف في سياستهم العامة، كما عرفوا الاتجاهات الشعبية الخطيرة على مصالحهم واستعمارهم.
5 - الدافع العِلْمِيّ:ومن المُسْتَشْرِقِينَ نفر قليل جِدًّا أقبلوا على الاستشراق بدافع من حب الإطلاع على حضارات الأمم وأديانها وثقافاتها ولغاتها، وهؤلاء كانوا أقل من غيرهم خطأً في فهم الإسلام
আরব ও ইসলামি রাষ্ট্রসমূহে অবস্থিত পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিটি দূতাবাসে এমন একজন সচিব বা সাংস্কৃতিক অ্যাটাশে থাকেন যিনি আরবি ভাষায় দক্ষ, যাতে তিনি বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে তাদের চিন্তাধারা সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে পারেন এবং তাদের মাঝে নিজ রাষ্ট্রের অভিপ্রায় অনুযায়ী রাজনৈতিক মতাদর্শ ছড়িয়ে দিতে পারেন। অতীতকালে এই যোগাযোগের প্রভাব ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ, যখন পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতগণ—যারা আজও কোনো কোনো আরব ও ইসলামি রাষ্ট্রে বিদ্যমান—উপদেশ প্রদান ও সহযোগিতার অজুহাতে আরব রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কে এবং আরব ও ইসলামি রাষ্ট্রগুলোর মাঝে বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করতেন। তারা ওইসব দেশের বহু নীতি-নির্ধারকের মনস্তত্ত্ব গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছেন এবং তাদের সাধারণ রাজনীতির দুর্বল দিকগুলো সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। সেই সঙ্গে তারা তাদের স্বার্থ ও সাম্রাজ্যবাদের জন্য হুমকিস্বরূপ জনমতের গতিধারাও চিহ্নিত করেছেন।
৫ - জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রেরণা:প্রাচ্যবিদদের মধ্যে অতি নগণ্য সংখ্যক এমন ছিলেন যারা বিভিন্ন জাতির সভ্যতা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভাষা সম্পর্কে জানার কৌতূহল ও আগ্রহ থেকে প্রাচ্যতত্ত্বের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। ইসলাম অনুধাবনের ক্ষেত্রে তাদের ভ্রান্তির মাত্রা অন্যদের তুলনায় কম ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وتراثه؛ لأنهم لم يكونوا يتعمَّدون الدَسَّ والتحريف، فجاءت أبحاثهم أقوب إلى الحق وإلى المنهج العملي السليم من أبحاث الجمهرة الغالبة إلى المُسْتَشْرِقِينَ، بل إنَّ منهم من اهتدى إلى الإسلام وآمن برسالته. على أنَّ هؤلاء لا يوجدون إلَاّ حين يكون لهم من الموارد المالية الخاصة ما يمكنهم من الانصراف إلى الاستشراق بأمانة وإخلاص؛ لأنَّ أبحاثهم المُجَرَّدة عن الهوى، لا تلقى رواجاً، لا عند رجال الدين، ولا عند رجال السياسة، ولا عند عامة الباحثين، ومن ثمة فهي لا تَدُرُّ عليهم ربحاً ولا مالاً؛ ولهذا ندر وجود هذه الفئة في أوساط المُسْتَشْرِقِينَ.
أهداف الاستشراق ووسائله:تنقسم أهداف المُسْتَشْرِقِينَ في جُملتهم من الدراسات الاستشراقية إلى ثلاثة أقسام:
[أ]- هدف عِلْمِيٍّ مشبوه، ويهدف إلى:
1 - التشكيك بصحَّة رسالة النبي صلى الله عليه وسلم -:
ومصدرها الإلهي، فجُمهُورُهم ينكر أنْ يكون
এবং তার ঐতিহ্য; কারণ তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মিথ্যা তথ্য অনুপ্রবেশ করানো এবং বিকৃতির আশ্রয় নিতেন না। ফলে তাদের গবেষণাগুলো অধিকাংশ প্রাচ্যবিদদের গবেষণার তুলনায় সত্য এবং সঠিক ও বাস্তবসম্মত কর্মপদ্ধতির অধিকতর নিকটবর্তী হয়েছে। এমনকি তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যিনি ইসলামের হেদায়েত লাভ করেছেন এবং এর রিসালাতের ওপর ঈমান এনেছেন। তবে এ ধরনের গবেষকদের অস্তিত্ব কেবল তখনই পাওয়া যায়, যখন তাদের নিজস্ব এমন আর্থিক সংস্থান থাকে যা তাদের সততা ও একনিষ্ঠতার সাথে প্রাচ্যতত্ত্বে মনোনিবেশ করতে সক্ষম করে; কারণ প্রবৃত্তি বা পক্ষপাতমুক্ত তাদের এই গবেষণাগুলো ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিক কিংবা সাধারণ গবেষক—কারোর কাছেই তেমন জনপ্রিয়তা পায় না। ফলে তা থেকে তাদের কোনো মুনাফা বা অর্থ অর্জিত হয় না; এই কারণেই প্রাচ্যবিদদের মাঝে এ শ্রেণীর মানুষের উপস্থিতি বিরল।
প্রাচ্যতত্ত্বের উদ্দেশ্য ও মাধ্যমসমূহ:সামগ্রিকভাবে প্রাচ্যতাত্ত্বিক অধ্যয়নে প্রাচ্যবিদদের উদ্দেশ্যসমূহ তিনটি ভাগে বিভক্ত:
[ক] একটি সন্দেহজনক বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্য, যার লক্ষ্য হলো:
১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করা-:
এবং এর ঐশ্বরিক উৎস সম্পর্কে; কারণ তাদের অধিকাংশ এটি অস্বীকার করে যে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الرسول نبيًّا موحى إليه من عند الله - جَلَّ شَأْنُهُ - ويتخبَّطون في تفسير مظاهر الوحي التي كان يراها أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أحياناً، وبخاصة عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها، فمن المُسْتَشْرِقِينَ من يرجع ذلك إلى «صَرْعٍ» كان ينتاب النبي صلى الله عليه وسلم حيناً بعد حين، ومنهم من يرجعه إلى تخيُّلات كانت تملأ ذهن النبي صلى الله عليه وسلم، ومنهم من يُفَسِّرُها بمرض نفسي، وهكذا، كأنَّ الله لم يرسل نبيًّا قبله حتى يصعب عليهم تفسير ظاهرة الوحي، ولما كانوا كلهم ما بين يهود ومسيحيِّين يعترفون بأنبياء التوراة، وهم كانوا أقل شأناً من محمد صلى الله عليه وسلم في التاريخ والتأثير والمبادئ التي نادى بها، كان إنكارهم لنبوَّة النبي صلى الله عليه وسلم تَعَنُّتاً مبعثه التعصُّبُ الديني الذي يملأ نفوس أكثرهم كرُهبان وقسس ومُبَشِّرِين.
ويتبع ذلك إنكارهم أنْ يكون القرآن كتاباً مُنَزَّلاً عليه من عند الله عز وجل، وحين يفحمهم ما ورد فيه من حقائق تاريخية عن الأمم الماضية مِمَّا يستحيل صدوره عن أُمِيٍّ مثل محمد صلى الله عليه وسلم، يزعمون ما زعمه المُشركون الجاهليون في عهد الرسول من
রাসূল (সা.) হলেন আল্লাহর—তাঁর শান সুমহান—পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহীপ্রাপ্ত নবী। নবী (সা.)-এর সাহাবীগণ মাঝেমধ্যে ওহীর যে সকল বহিঃপ্রকাশ প্রত্যক্ষ করতেন—বিশেষ করে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)—সেগুলোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রাচ্যবিদরা বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়। প্রাচ্যবিদদের মধ্যে কেউ কেউ একে ‘মৃগী রোগ’ হিসেবে অভিহিত করে যা মাঝেমধ্যে নবী (সা.)-কে আক্রান্ত করত। তাদের কেউ কেউ একে এমন সব কল্পনাপ্রসূত বিষয় বলে মনে করে যা নবী (সা.)-এর মনকে আচ্ছন্ন করে রাখত; আবার কেউ কেউ একে মানসিক রোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করে। এভাবে তারা এমন আচরণ করে যেন আল্লাহ ইতিপূর্বে আর কোনো নবীই প্রেরণ করেননি, যার ফলে তাদের নিকট ওহীর এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। যেহেতু তারা সকলেই ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অন্তর্ভুক্ত ছিল যারা তাওরাতের নবীদের স্বীকার করে—অথচ ইতিহাসের প্রেক্ষাপট, প্রভাব এবং প্রচারিত আদর্শের দিক থেকে তাঁরা মুহাম্মদ (সা.)-এর তুলনায় অনেক সীমিত পর্যায়ের ছিলেন—তাই নবী (সা.)-এর নবুওয়াত অস্বীকার করা ছিল মূলত একটি হঠকারিতা। এর মূল কারণ ছিল সেই ধর্মীয় গোঁড়ামি যা তাদের অধিকাংশের—যেমন সন্ন্যাসী, যাজক ও ধর্মপ্রচারকদের—অন্তরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় তারা কুরআন যে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর অবতীর্ণ একটি কিতাব, তা অস্বীকার করে। আর যখন কুরআনে বর্ণিত অতীত জাতিসমূহ সম্পর্কে এমন সব ঐতিহাসিক সত্যের মুখোমুখি হয়ে তারা নিরুত্তর হয়ে যায়—যা মুহাম্মদ (সা.)-এর মতো একজন নিরক্ষর (أمي) ব্যক্তির পক্ষ থেকে আসা অসম্ভব—তখন তারা সেই একই ভিত্তিহীন দাবি করে যা রাসূলের যুগে জাহেলি মুশরিকরা করেছিল যে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أنه استمدَّ هذه المعلومات من أناس كانوا يخبرونه بها، ويتخبَّطون في ذلك تخبُّطاً عجيباً، وحين يفحمهم ما جاء في القرآن من حقائق علمية لم تعرف وتكتشف إلَاّ في هذا العصر، يرجعون ذلك إلى ذكاء النبي صلى الله عليه وسلم فيقعُون في تخبُّطٍ أشدَّ غرابة من سابقه.
2 - [إنكارهم أنْ يكون الإسلام ديناً من عند الله]:ويتبع إنكارهم لنبوَّة الرسول وسماوية القرآن، إنكارهم أن يكون الإسلام ديناً من عند الله وإنما هو مُلَفَّقٌ - عندهم - من الديانتين اليهودية والمسيحية، وليس لهم في ذلك مُستند يؤيِّدُهُ البحث العِلْمِيّ، وإنما هي ادِّعاءات تستند على بعض نقاط الالتقاء بين الإسلام والدينين السابقين.
ويلاحظ أنَّ المُسْتَشْرِقِينَ اليهود - أمثال جولدتسيهر وشاخت - هو أشدُّ حرصاً على ادِّعاء استمداد الإسلام من اليهودية وتأثيرها فيه، أما المُسْتَشْرِقُونَ المسيحيون فيجرون وراءهم في هذه الدعوى؛ إذ ليس في المسيحية تشريع يستطيعون أنْ يزعموا تأثُّر الإسلام به وأخذه، منه، وإنما فيه مبادئ أخلاقية زعموا أنها أثرت في الإسلام، ودخلت عليه منها،
তিনি এই তথ্যগুলো এমন কিছু ব্যক্তির কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন যারা তাকে এগুলো জানাত এবং তারা এ বিষয়ে অদ্ভুত বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল। যখন কুরআনে বর্ণিত এমন সব বৈজ্ঞানিক সত্য তাদের নিরুত্তর করে দেয় যা কেবল বর্তমান যুগেই জানা ও আবিষ্কৃত হয়েছে, তখন তারা বিষয়টিকে নবী (সা.)-এর প্রখর মেধার ফসল বলে দাবি করে। ফলে তারা আগের চেয়েও অধিকতর অদ্ভুত বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়।
২ - [ইসলাম আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা কোনো দ্বীন হওয়ার ব্যাপারে তাদের অস্বীকৃতি]:রাসূলের নবুওয়াত এবং কুরআনের ঐশ্বরিক উৎসকে অস্বীকার করার পর্যায়ক্রমিক রূপ হিসেবে তারা ইসলাম আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ একটি দ্বীন হওয়াকেও অস্বীকার করে। বরং তাদের মতে, এটি ইহুদি ও খ্রিস্টধর্ম থেকে সংকলিত; এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সমর্থিত কোনো ভিত্তি তাদের কাছে নেই। বরং এগুলো স্রেফ কিছু দাবি যা ইসলাম ও পূর্ববর্তী দুই ধর্মের মধ্যকার কিছু সাধারণ মিলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
লক্ষ্যণীয় যে, ইহুদি প্রাচ্যবিদগণ—যেমন গোল্ডজিহার ও শ্যাখট—ইসলাম ইহুদিধর্ম থেকে আহরিত এবং এর ওপর ইহুদি প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট। অন্যদিকে খ্রিস্টান প্রাচ্যবিদগণ এই দাবিতে তাদের অনুসরণ করেন; কারণ খ্রিস্টধর্মে এমন কোনো বিধান বা আইন নেই যার মাধ্যমে তারা ইসলাম তাতে প্রভাবিত হয়েছে বলে দাবি করতে পারে। বরং সেখানে কেবল কিছু নৈতিক মূলনীতি রয়েছে যা ইসলামকে প্রভাবিত করেছে এবং সেখান থেকেই ইসলামে প্রবেশ করেছে বলে তারা দাবি করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
كأنَّ المفروض في الديانات الإلهية أنْ تتعارض مبادؤها الأخلاقية، وكأنَّ الذي أوحى بدين هو غير الذي أوحى بدين آخر، فتعالى الله عمَّا يقولون عُلُوًّا كبيراً.
3 - [التشكيك في صِحَّةِ الحديث النبوي]:التشكيك في صحة الحديث النبوي الذي اعتمده علماؤنا المُحَقِّقُون، ويتذرَّعُ هؤلاء المُسْتَشْرِقُونَ بما دخل على الحديث النبوي من وضع ودَسٍّ، متجاهلين تلك الجهود التي بذلها علماؤنا لتنقية الحديث الصحيح من غيره، مُستندين إلى قواعد بالغة الدقَّة في التثبت والتحرِّي، مِمَّا لم يعهد عندهم في ديانتهم عشر معشاره في التأكد من صِحَّة الكتب المقدَّسة عندهم، وقد ناقشتهم في ذلك نقاشاً علميًّا في كتابي " السُنَّة ومكانتها في التشريع الإسلامي " الذي صدر حديثاً.
والذي حملهم على ركوب متن الشطط في دعواهم هذه، ما رَأَوْهُ في الحديث النبوي الذي اعتمده علماؤنا من ثروة فكرية وتشريعية مُدهشة، وهُمْ لا يعتقدون بنبوَّة الرسول، فادَّعَوْا أنَّ هذا لا يعقل أنْ يصدر كله عن محمد الأُمِيِّ بل هو عمل
মনে হয় যেন ঐশী ধর্মসমূহের ক্ষেত্রে এটিই স্বাভাবিক যে তাদের নৈতিক মূলনীতিসমূহ পরস্পরের বিরোধী হবে, আর যেন এক ধর্মের ওহি নাযিলকারী অন্য ধর্মের ওহি নাযিলকারী থেকে ভিন্ন। তারা যা বলে, মহান আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।
৩ - [নবীজি (সা.)-এর হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা]:আমাদের মুহাক্কিক (المحققون) আলেমগণ নবীজি (সা.)-এর যে সকল হাদিস গ্রহণ করেছেন, সেগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা। এই প্রাচ্যবিদরা হাদিসের মধ্যে প্রবেশ করা জালকরণ (وضع) ও অনুপ্রবেশের (دس) অজুহাত পেশ করে; অথচ তারা আমাদের আলেমদের সেই ব্যাপক প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করে, যা তাঁরা সহিহ (صحيح) হাদিসকে অন্যান্য বর্ণনা থেকে পৃথক করার জন্য ব্যয় করেছেন। আমাদের আলেমগণ সত্যতা যাচাই ও অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এমন সব অত্যন্ত সূক্ষ্ম মূলনীতির ওপর নির্ভর করেছেন, যার দশ ভাগের এক ভাগও প্রাচ্যবিদদের নিকট নিজেদের পবিত্র গ্রন্থগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পরিচিত নয়। আমি আমার সম্প্রতি প্রকাশিত "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরি' ইল-ইসলামি" গ্রন্থে এ বিষয়ে তাদের সাথে একটি তাত্ত্বিক আলোচনা করেছি।
তাদের এই ভিত্তিহীন দাবির পথে চরম সীমালঙ্ঘন করতে যা প্ররোচিত করেছে তা হলো, আমাদের আলেমগণ নবীজি (সা.)-এর যে হাদিসসমূহ গ্রহণ করেছেন, তাতে তারা এক বিস্ময়কর বুদ্ধিবৃত্তিক ও আইনি সম্পদের সমাহার দেখতে পেয়েছেন। যেহেতু তারা রাসুলের নবুয়তের প্রতি বিশ্বাস রাখে না, তাই তারা দাবি করেছে যে, উম্মি (নিরক্ষর) মুহাম্মদের পক্ষ থেকে এই সবকিছু প্রকাশিত হওয়া যুক্তিগ্রাহ্য নয়; বরং এটি হলো একটি কাজ...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المسلمين خلال القرون الثلاثة الأولى، فالعقدة النفسية عندهم هي عدم تصديقهم بنبوَّة الرسول، ومنها ينبعث كل تخبُّطاتهم وأوهامهم.
4 - [التشكيك بقيمة الفقه الإسلامي الذاتية]:التشكيك بقيمة الفقه الإسلامي الذاتية، ذلك التشريع الهائل الذي لم يجتمع مثله لجميع الأمم في جميع العصور، لقد سقط في أيديهم حين اطِّلاعهم على عظمته وهم لا يؤمنون بنبوَّة الرسول، فلم يجدوا بُدًّا من الزعم بأنَّ الفقه العظيم مُسْتَمَدٌّ من الفقه الروماني، أي أنه مُسْتَمَدٌّ منهم - الغربيِّين - وقد بيَّن علماؤنا الباحثون تهافت هذه الدعوى، وفيما قَرَّرَهُ مؤتمر القانون المقارن المُنعقد بلاهاي من أنَّ الفقه الإسلامي فقه مُسْتَقِلٌّ بذاته وليس مُسْتَمَدًّا من أي فقه آخر، ما يفحم المُتَعَنِّتِين منهم، ويُقْنِعَ المُنصِفينَ الذين لا يبغون غير الحق سبيلاً.
5 - [التشكيك في قُدْرَةِ اللُّغة العربية على مسايرة التطوُّرَ العِلْمِيّ]:التشكيك في قُدْرَةِ اللُّغة العربية على مسايرة التطوُّرَ العِلْمِيّ؛ لنظلَّ عالة على مصطلحاتهم التي تشعرنا بفضلهم وسُلطانهم الأدبي علينا، وتشكيكهم في غنى الأدب العربي، وإظهاره مُجْدِباً
প্রথম তিন শতাব্দীর মুসলিমগণ; মূলত তাদের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা হলো রাসূলের নবুওয়তের প্রতি তাদের অবিশ্বাস, আর এ থেকেই তাদের সকল বিভ্রান্তি ও অমূলক ধারণার উৎপত্তি।
৪ - [ইসলামি ফিকহের সহজাত মূল্যের ওপর সংশয় সৃষ্টি করা]:ইসলামি ফিকহের সহজাত মূল্যের ওপর সংশয় সৃষ্টি করা; সেই সুবিশাল আইনব্যবস্থা যার নজির সকল যুগে সকল জাতির ইতিহাসে আর দেখা যায় না। যখন তারা এর মহিমা সম্পর্কে অবগত হয়েছে অথচ তারা রাসূলের নবুওয়তের প্রতি বিশ্বাসী নয়, তখন তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে। তাই তারা এই দাবি করতে বাধ্য হয়েছে যে, এই মহান ফিকহ রোমান আইন থেকে সংগৃহীত, অর্থাৎ এটি তাদের (পাশ্চাত্যবাসীদের) থেকেই সংগৃহীত। আমাদের গবেষক আলেমগণ এই দাবির অসারতা প্রমাণ করেছেন। দ্য হেগ-এ অনুষ্ঠিত তুলনামূলক আইন সম্মেলনে যা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে—যে ইসলামি ফিকহ একটি স্বতন্ত্র আইন ব্যবস্থা এবং এটি অন্য কোনো আইন থেকে সংগৃহীত নয়—তা তাদের মধ্যকার একগুঁয়েদের নিরুত্তর করে দেয় এবং সেই ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের আশ্বস্ত করে যারা সত্য ব্যতীত অন্য কোনো পথ অন্বেষণ করে না।
৫ - [বৈজ্ঞানিক বিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে আরবি ভাষার সক্ষমতার ওপর সংশয় সৃষ্টি করা]:বৈজ্ঞানিক বিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে আরবি ভাষার সক্ষমতার ওপর সংশয় সৃষ্টি করা; যাতে আমরা সর্বদা তাদের পরিভাষার ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকি যা আমাদের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও সাহিত্যিক আধিপত্যের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। এছাড়া আরবি সাহিত্যের সমৃদ্ধি নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করা এবং একে অনুর্বর হিসেবে উপস্থাপন করা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসতিশরাকু ওয়াল মুসতাশরিকুনা মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فقيراً لِنَتَّجِهَ إلى آدابهم، وذلك هو الاستعمار الأدبي الذي يبْغُونه مع الاستعمار العسكري الذي يرتكبونه ..
تلك هي الأهداف العلميَّة التي يعمل لها أكثرهم أو جَمْهَرَتُهُمْ الساحقة.
[ب]- الأهداف الدِّينِيَّةِ والسياسية:وتتلخَّص فيما يلي:
1 - تشكيك المسلمين بنبيِّهم وقرآنهم وشريعتهم وفقههم، ففي ذلك هدفان: ديني واستعماري.
2 - تشكيك المسلمين بقيمة تُراثهم الحضاري، يَدَّعُونَ أنَّ الحضارة الإسلامية منقولة عن حضارة الرومان، ولم يكن العرب والمسلمون إلَاّ نَقَلَةْ لفلسفة تلك الحضارة وآثارها، لم يكن لهم إبداع فكري ولا ابتكار حضاري، وكان في حضارتهم كل النقائص، وإذا تحدَّثُوا بشيء عن حسناتها - وقليلاً ما يفعلون - يذكرونها على مضض مع انتقاص كبير.
...দরিদ্র (হিসেবে প্রতিপন্ন করতে চায়) যাতে আমরা তাদের সাহিত্যের দিকে ধাবিত হই; আর এটিই হলো সেই বুদ্ধিবৃত্তিক উপনিবেশবাদ যা তারা তাদের পরিচালিত সামরিক উপনিবেশবাদের পাশাপাশি চরিতার্থ করতে চায়...
এগুলোই হলো সেই জ্ঞানতাত্ত্বিক উদ্দেশ্যসমূহ যার লক্ষ্যে তাদের অধিকাংশ বা তাদের বিশাল এক জনগোষ্ঠী কাজ করে যাচ্ছে।
[খ]- ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসমূহ:যা নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
১ - মুসলমানদের মাঝে তাদের নবী, কুরআন, শরিয়ত ও ফিকহ সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করা; এর পেছনে দুটি লক্ষ্য রয়েছে: ধর্মীয় ও ঔপনিবেশিক।
২ - মুসলমানদের মনে তাদের সভ্যতাগত ঐতিহ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি করা। তারা দাবি করে যে, ইসলামি সভ্যতা রোমান সভ্যতা থেকে গৃহীত এবং আরব ও মুসলমানরা ছিল সেই সভ্যতার দর্শন ও নিদর্শনের নিছক বাহক মাত্র। তাদের কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক সৃজনশীলতা বা সভ্যতাগত উদ্ভাবন ছিল না এবং তাদের সভ্যতায় কেবল ত্রুটিই বিদ্যমান ছিল। আর যদি তারা কখনও এর কোনো গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করে—যা তারা খুব সামান্যই করে থাকে—তবে তা অত্যন্ত অনিচ্ছার সাথে এবং চরম অবজ্ঞার সাথেই উল্লেখ করে থাকে।