(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: -)
شرح رسالة محمد بن عبد الوهاب في شروط الصلاة وأركانها وواجباتها القسم: الفقه العام
الكتاب: شرح رسالة شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب في شروط الصلاة وأركانها وواجباتها
المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن باز (ت 1420هـ)
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها والاعتناء بها (أبو القاسم المحمادي).
[الكتاب مرقم آليا]
عدد الصفحات: 36
تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432
সালাতের শর্ত, রুকন ও ওয়াজিবসমূহ বিষয়ে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের রিসালার ব্যাখ্যা বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
বই: শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সালাতের শর্ত, রুকন ও ওয়াজিবসমূহ সংক্রান্ত রিসালার ব্যাখ্যা
লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (মৃত্যু ১৪২০ হি.)
বইয়ের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা প্রতিলিপি ও বিন্যাস করেছেন (আবুল কাসিম আল-মুহম্মাদি)।
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح رسالة
شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب
في شروط الصلاة وأركانها وواجباتها.
لسماحة الشيخ الإمام العَلاّمة:
عبد العزيز بن عبد الله بن باز
قدَّس الله روحه، وجزاه عنا وعن المسلمين أفضل الجزاء.
اعتنى به الفقير إلى عفو ربه:
أبو القاسم المحمادي
سامحه الله، وغفر له، ولوالديه، ولجميع المسلمين.
রিসালাহ-এর ব্যাখ্যা
শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
সালাতের শর্তাবলি (شروط), আরকান (أركان) এবং ওয়াজিবসমূহের (واجبات) বর্ণনায়।
মহামান্য শাইখ, ইমাম, আল্লামা:
আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন এবং আমাদের পক্ষ থেকে ও সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
তাঁর রবের ক্ষমার ভিখারি যার তত্ত্বাবধানে এটি প্রস্তুত হয়েছে:
আবুল কাসিম আল-মাহমাদী
আল্লাহ তাঁকে মার্জনা করুন এবং তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে ও সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ২)
مقدمة المعتني:الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، والصلاة والسلام على عبده ورسوله وخليله وأمينه على وحيه وصفوته من خلقه، نبينا وإمامنا وسيدنا محمد بن عبد الله، وعلى آله، وأصحابه، ومن سلك سبيله واهتدى بهداه إلى يوم الدين.
أمَّا بعد: فهذا شرح رسالة شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله في شروط الصلاة وأركانها وواجباتها، لسماحة الإمام العَلاّمة، المحدِّث الفقيه، الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز-رحمه الله، وهو شرح تميز بالعناية بالدليل، فقد كان رحمه الله عالماً كبيراً بالحديث والفقه، وأقواله رحمه الله من أعدل الأقوال؛ لأنها نابعة من نصوص الكتاب والسنة.
وكذلك تميز هذا الشرح المبارك بالاختصار مع الإيضاح فصار يستفيد منه كل أحد: العامي، وطالب العلم المبتدي؛ لأن ليس فيه غموض ولا استطراد، ولا استعمال للاصطلاحات البعيدة، ولا يستغني عنه من بلغ في العلم القمة؛ لأن فيه اختيارات الشيخ وتوجيهاته.
ولما رأيت قلة ما نشر للشيخ من شروح فقهية سواء من قبل مؤسسة الشيخ أو طلابه، رغبت في المساهمة في إخراج بعض إرث الشيخ رحمه الله العلمي للأمة، فحرصت على نشر هذا الشرح والعناية به وترتيبه؛ لتعم الفائدة به وليستفيد منه من لم يتيسر له سماعه، وحتى يبقى النفع به ما شاء الله تعالى.
وقد بذلت فيه وسعي، فما وجد فيه من صواب وفائدة فالفضل فيه راجع إلى الله وحده، وما وجد فيه من خطأ فمن نفسي والشيطان، واستغفر الله وأتوب إليه.
مصدر هذا الشرح المبارك:شريط صوتي واحد (كاسيت) من إصدار تسجيلات البردين الإسلامية - الرياض - الدائري الجنوبي - مخرج 24 - شارع الترمذي.
منهجي الذي سلكته في إخراج هذا الشرح:- قابلت المتن المشروح على مطبوعة وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد.
- وضعت عناوين للمتن، تُعرِّف بالبحث الذي يتناوله الماتن والشارح، وجعلتها بين قوسين معكوفين هكذا [ ..... ].
- كتبت الشرح، وقابلته على أصله -وهو المادة الصوتية- أكثر من مرة.
- جعلت شرح الشيخ كالحاشية على المتن، تسهيلاً على القارئ الكريم في تسلسل أفكاره.
- عزوت الآيات إلى أماكانها من المصحف.
- ولما كان يعتري الشرح بالتقرير ما يعتريه من النقص أو الزيادة أو التكرار أو التقديم أو التأخير، اجتهدت في إخراج الشرح بألفاظ الشيخ ما أمكن ولم أغير فيه إلا ما ندر، مثل ما يكرره الشيخ من معلومات سبق أن ذكرها ويضيف أمراً جديداً لم يذكره فأحذف المكرر وأضم الجديد إلى ما سبق، ونحو ذلك وهو قليل.
- كان الحضور من طلبة العلم يسألون الشيخ أسئلة مهمة، فما رأيته متصلاً بالموضوع ألحقته بالشرح وعنونت عليه بـ (مسألة)، وقد لا أفعل ذلك لصلة السؤال القوية بما قاله الشيخ في الشرح فأحذف السؤال وأضع جواب الشيخ في مكانه المناسب من الشرح وهذا قليل، وما لم يكن من الأسئلة متصلاً بالشرح جعلته في ملحق خاص في آخر هذا الشرح المبارك، وليعلم القارئ الكريم أن المنتج للشرح الصوتي كان يحذف الكثير من أسئلة الحضور حتى يصدر الشرح في شريط واحد، ذكرت هذا حتى لا يستغرب القارئ قلة هذه الأسئلة.
وأرجو من كل أخ يطلع على هذا الشرح، أن ينشره بين الناس بوسائل نشر العلم المختلفة، على قدر استطاعته وحسب مقدرته، حتى ينتشر العلم ويعم الخير ويكثر، وحتى يقل الجهل والشر أو يزول، وأرجو من تكون له ملاحظة أو توجيه أن يفيدني به، وله مني الدعاء بالتوفيق والصلاح والرشاد.
والله المسؤول أن يعلي منزلة الشيخ، وأن يجمعنا وإياه ووالدينا في جنات النعيم، وأن يعمم النفع بهذا الشرح، وأن يجعل السعي فيه خالصاً لوجهه الكريم، وسبباً للفوز لديه بجنات النعيم، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وصلى الله وسلم على عبده ورسوله محمد، وعلى آله، وأصحابه، ومن سلك سبيله واهتدى بهديه إلى يوم الدين.
المعتني:
أبو القاسم المحمادي
Almehmadi0862548@gmail.com
সংকলকের ভূমিকা:সকল প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, খলীল (অকৃত্রিম বন্ধু), তাঁর ওহীর আমানতদার এবং তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিত্ব—আমাদের নবী, আমাদের ইমাম এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথ অনুসরণ করবে ও তাঁর হেদায়েত দ্বারা পরিচালিত হবে তাদের ওপর।
অতঃপর: এটি হলো শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর নামাযের শর্তাবলি, রুকনসমূহ এবং ওয়াজিবসমূহ শীর্ষক রিসালার একটি ব্যাখ্যা, যা প্রদান করেছেন মহামান্য ইমাম, আল্লামা, মুহাদ্দিস (محدث) ও ফকিহ (فقيه) শায়খ আব্দুল আজীজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ)। এটি এমন একটি ব্যাখ্যা যা দলিলের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে। কেননা তিনি (রহিমাহুল্লাহ) হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে একজন অগাধ পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর বক্তব্যসমূহ অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ; কারণ সেগুলো কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য দলিল (نصوص) থেকে উৎসারিত।
অনুরূপভাবে, এই বরকতময় ব্যাখ্যাটি সংক্ষিপ্ততা ও প্রাঞ্জলতার জন্য অনন্য, যার ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষানবিশ জ্ঞান অন্বেষী (طالب العلم) পর্যন্ত সকলে এর দ্বারা উপকৃত হতে পারেন। কারণ এতে কোনো অস্পষ্টতা, অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘসূত্রিতা কিংবা জটিল পরিভাষার ব্যবহার নেই। এমনকি যারা ইলমের শিখরে পৌঁছেছেন তারাও এটি থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারবেন না; যেহেতু এতে শায়খের নিজস্ব পছন্দ ও দিকনির্দেশনা বিদ্যমান।
আমি যখন লক্ষ্য করলাম যে, শায়খের প্রতিষ্ঠান কিংবা তাঁর ছাত্রদের পক্ষ থেকে তাঁর ফিকহি ব্যাখ্যাগুলো খুব সামান্যই প্রকাশিত হয়েছে, তখন আমি উম্মতের নিকট শায়খের এই ইলমি উত্তরাধিকারের কিছু অংশ পৌঁছে দিতে অবদান রাখার আগ্রহ বোধ করি। তাই আমি এই ব্যাখ্যাটি প্রকাশ, এর যত্ন নেওয়া এবং একে সুবিন্যস্ত করতে সচেষ্ট হই; যাতে এর উপকারিতা ব্যাপক হয় এবং যারা সরাসরি এটি শোনার সুযোগ পাননি তারা যেন উপকৃত হতে পারেন, আর আল্লাহর ইচ্ছায় এর সওয়াব যেন জারি থাকে।
আমি এতে আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক ও কল্যাণকর রয়েছে তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল-ত্রুটি রয়েছে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই নিকট তওবা করছি।
এই বরকতময় ব্যাখ্যার উৎস:একটি অডিও ক্যাসেট; যা রিয়াদের 'তাসজিলাতুল বারদাইন আল-ইসলামিয়্যাহ' (আল-দা ইরি আল-জানুবী, এক্সিট ২৪, তিরমিজি স্ট্রিট) থেকে প্রকাশিত।
এই ব্যাখ্যাটি উপস্থাপনায় আমার অনুসৃত পদ্ধতি:- আমি ব্যাখ্যাত মূল পাঠ (متن)-টি 'ইসলামী বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়' কর্তৃক মুদ্রিত কপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি।
- আমি মূল পাঠ (متن)-এর জন্য বিভিন্ন শিরোনাম নির্ধারণ করেছি, যা মূল লেখক ও ব্যাখ্যাকারকের আলোচিত বিষয়বস্তুকে চিহ্নিত করে; এবং আমি শিরোনামগুলোকে এই প্রকারের থার্ড ব্র্যাকেট [ ..... ]-এর মধ্যে রেখেছি।
- আমি ব্যাখ্যাটি প্রতিলিপি করেছি এবং একে এর মূল অডিও রেকর্ডিংয়ের সাথে একাধিকবার মিলিয়ে দেখেছি।
- সম্মানিত পাঠকের চিন্তার ধারাবাহিকতা সহজ করতে আমি শায়খের ব্যাখ্যাকে মূল পাঠ (متن)-এর ওপর টীকা হিসেবে বিন্যস্ত করেছি।
- আমি কুরআন মাজীদের আয়াতসমূহকে সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে নির্দেশ করেছি।
- যেহেতু মৌখিক আলোচনায় কিছু ঘাটতি, আধিক্য, পুনরাবৃত্তি কিংবা অগ্র-পশ্চাৎ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই আমি শায়খের মূল শব্দাবলি যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখে ব্যাখ্যাটি উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। আমি এতে খুব সামান্যই পরিবর্তন করেছি; যেমন শায়খ হয়তো কোনো তথ্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন যা তিনি আগেই উল্লেখ করেছেন, কিন্তু পরে নতুন কিছু যোগ করেছেন, সেক্ষেত্রে আমি পুনরাবৃত্তিটুকু বাদ দিয়ে নতুন অংশটি আগের প্রসঙ্গের সাথে যুক্ত করে দিয়েছি। এ ধরণের পরিবর্তন খুবই নগণ্য।
- উপস্থিত জ্ঞান অন্বেষী (طالب العلم) বৃন্দ শায়খকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করতেন। যে প্রশ্নগুলো বিষয়ের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট মনে হয়েছে, আমি সেগুলো ব্যাখ্যার সাথে যুক্ত করে দিয়েছি এবং (মাসআলা/مسألة) হিসেবে শিরোনাম দিয়েছি। কখনো প্রশ্নের সাথে শায়খের উত্তরের গভীর সম্পর্ক থাকায় আমি প্রশ্নটি বাদ দিয়ে উত্তরটি ব্যাখ্যার উপযুক্ত স্থানে বসিয়ে দিয়েছি (তবে এমনটি খুব কমই হয়েছে)। আর যে প্রশ্নগুলো ব্যাখ্যার সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিল না, সেগুলোকে আমি এই ব্যাখ্যার শেষে একটি বিশেষ পরিশিষ্টে যুক্ত করেছি। সম্মানিত পাঠক যেন অবগত থাকেন যে, অডিওটি প্রস্তুতকারী ব্যক্তি অনেক প্রশ্ন বাদ দিয়েছিলেন যাতে পুরো ব্যাখ্যাটি একটি ক্যাসেটে প্রকাশ করা সম্ভব হয়; আমি এটি উল্লেখ করলাম যেন পাঠক প্রশ্নের স্বল্পতা দেখে বিভ্রান্ত না হন।
আমি এই ব্যাখ্যাটি পাঠকারী প্রত্যেক ভাইয়ের নিকট অনুরোধ করি, তারা যেন নিজ নিজ সামর্থ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী ইলম প্রচারের বিভিন্ন মাধ্যমে এটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেন; যাতে ইলমের প্রসার ঘটে এবং কল্যাণ বৃদ্ধি পায়, আর অজ্ঞতা ও অনিষ্ট হ্রাস পায় বা দূর হয়ে যায়। কারো কোনো পর্যবেক্ষণ বা পরামর্শ থাকলে আমাকে জানানোর অনুরোধ রইল; তাঁর জন্য আমার পক্ষ থেকে তাওফিক, কল্যাণ ও সঠিক পথের দিশার দোয়া রইল।
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন শায়খের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন, এবং আমাদের ও আমাদের পিতা-মাতাকে তাঁর সাথে জান্নাতুন নাঈমে একত্রিত করেন। তিনি যেন এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে উপকারিতাকে ব্যাপক করেন এবং এই প্রচেষ্টাকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন ও জান্নাতুন নাঈম লাভের অসিলা বানান। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথ অনুসরণ করবে ও তাঁর হেদায়েত আঁকড়ে ধরবে তাদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
সংকলক:
আবু আল-কাসিম আল-মুহাম্মাদী
Almehmadi0862548@gmail.com
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
قال شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب -رحمه الله تعالى-: (بسم الله الرحمن الرحيم، ............................................
[شروط الصلاة:]شروط الصلاة تسعة (1): الإسلام، والعقل، والتمييز، ورفع الحدث، وإزالة النجاسة، وستر العورة، ودخول الوقت، واستقبال القبلة، والنية.
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহু তা’আলা) বলেছেন: (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে, ............................................
[নামাজের শর্তাবলি:]নামাজের শর্ত (الشرط) নয়টি (১): ইসলাম (الإسلام), আকল (العقل) বা বিচারবুদ্ধি, তামিইজ (التمييز) বা ভালো-মন্দের পার্থক্য করার বয়স হওয়া, অপবিত্রতা দূরীকরণ (رفع الحدث), নাপাকি দূর করা (إزالة النجاسة), সতর ঢাকা (ستر العورة), ওয়াক্ত হওয়া (دخول الوقت), কিবলামুখী হওয়া (استقبال القبلة) এবং নিয়ত (النية)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
و
الشرط الأول: الإسلام (1)، وضده الكفر، والكافر عمله مردود ولو عمل أي عمل، والدليل قوله تعالى: {مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِينَ أَن يَعْمُرُواْ مَسَاجِدَ الله شَاهِدِينَ عَلَى أَنفُسِهِمْ بِالْكُفْرِ أُوْلَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ وَفِي النَّارِ هُمْ خَالِدُونَ} [التوبة:17]، وقوله تعالى: {وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاء مَّنثُورًا} [الفرقان: 23].
الشرط الثاني: العقل (2)، وضده الجنون، والمجنون مرفوع عنه القلم حتى يفيق، والدليل حديث: «رفع القلم عن ثلاثة: النائم حتى يستيقظ، والمجنون حتى يفيق، والصغير حتى يبلغ».
--------------------------------------------
এবং
প্রথম শর্ত (الشرط): ইসলাম (الإسلام) (১), এবং এর বিপরীত হলো কুফর (الكفر)। আর কাফিরের আমল প্রত্যাখ্যাত (مردود), সে যে আমলই করুক না কেন। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {মুশরিকদের জন্য আল্লাহর মসজিদ আবাদ করা সংগত নয়, যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফরীর সাক্ষ্য দিচ্ছে। এদের আমলগুলোই বরবাদ হয়েছে এবং তারা আগুনেই চিরকাল বসবাস করবে} [আত-তওবা: ১৭], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা যে আমল করেছিল আমি সেদিকে অগ্রসর হব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেব} [আল-ফুরকান: ২৩]।
দ্বিতীয় শর্ত (الشرط): আকল (العقل) বা বিচারবুদ্ধি (২), এবং এর বিপরীত হলো উন্মাদনা। আর উন্মাদের ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না সে সচেতন হয়। এর প্রমাণ হলো হাদিস: «তিন ব্যক্তি হতে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, উন্মাদ যতক্ষণ না সে সুস্থ হয় এবং শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
الشرط الثالث: التمييز (1)، وضده الصغر، وحده سبع سنين، ثم يؤمر بالصلاة؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: «مروا أبناءكم بالصلاة لسبع، واضربوهم عليها لعشر، وفرقوا بينهم في المضاجع».
الشرط الرابع: رفع الحدث (2)، وهو الوضوء المعروف، وموجبه الحدث.
--------------------------------------------
তৃতীয় শর্ত: বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়া (التمييز) (১), এবং এর বিপরীত হলো শিশু হওয়া, আর এর বয়সসীমা হলো সাত বছর। এরপর তাকে সালাতের নির্দেশ দেওয়া হবে; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: «তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের আদেশ দাও, দশ বছর বয়সে তার জন্য (সালাত ছেড়ে দিলে) প্রহার করো এবং তাদের শোয়ার স্থান পৃথক করে দাও।»
চতুর্থ শর্ত: অপবিত্রতা দূরীকরণ (رفع الحدث) (২), আর তা হলো সুপরিচিত অজু, এবং এর কারণ হলো অপবিত্রতা (الحدث)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
[شروط الوضوء:]وشروطه عشرة (1):
الإسلام، والعقل، والتمييز (2)، والنية (3)، واستصحاب حكمها (4) بأن لا ينوي قطعها حتى تتم الطهارة، وانقطاع موجب (5)، واستنجاء أو استجمار قبله (6)، وطهورية ماء (7)، وإباحته (8)، وإزالة ما يمنع وصوله إلى البشرة (9)، ودخول وقت على من حدثه دائم لفرضه (10).
--------------------------------------------
[অজুর শর্তাবলি:]আর এর (অজুর) শর্ত দশটি (১):
ইসলাম, বিবেক-বুদ্ধি (العقل), ভালো-মন্দ পার্থক্যের জ্ঞান (التمييز) (২), নিয়ত (النية) (৩), এবং নিয়তের হুকুমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা (استصحاب) (৪) এভাবে যে, পবিত্রতা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তা ছিন্ন করার নিয়ত করবে না; অজুর কারণ বন্ধ হওয়া (৫), তার পূর্বে ইস্তিঞ্জা (استنجاء) বা ইস্তিঝমার (استجمار) করা (৬), পানির পবিত্রতা (طهورية) (৭), পানির বৈধতা (৮), ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন বস্তু দূর করা (৯), এবং যার স্থায়ী অপবিত্রতা (الحدث الدائم) রয়েছে, তার ওপর নির্ধারিত ইবাদতের জন্য ওয়াক্ত প্রবেশ করা (১০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
[فروض الوضوء:]وأما فروضه، فستة: غسل الوجه، ومنه المضمضة والاستنشاق، وحده طولاً من منابت الشعر إلى الذقن، وعرضاً إلى فروع الأذنين، وغسل اليدين إلى المرفقين، ومسح جميع الرأس، ومنه الأذنان، وغسل الرجلين إلى الكعبين، والترتيب (1)، والمولاة (2)، والدليل قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فاغْسِلُواْ وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُواْ بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَينِ} الآية [المائدة:6]، ودليل الترتيب حديث: «ابدأوا بما بدأ الله به»، ودليل الموالاة حديث صاحب اللمعة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه لما رأى رجلاً في قدمه لمعة قدر الدرهم لم يصبها الماء فأمره بالإعادة.
--------------------------------------------
[ওজুর ফরজসমূহ:]আর এর ফরজসমূহ ছয়টি: মুখমণ্ডল ধৌত করা, আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া; এর সীমানা দৈর্ঘ্যে ললাটের চুলের উপরিভাগ থেকে চিবুক পর্যন্ত এবং প্রস্থে এক কানের লতি থেকে অন্য কানের লতি পর্যন্ত। কনুই পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করা, সম্পূর্ণ মাথা মাসেহ করা, আর কান দুটিও এর অন্তর্ভুক্ত। টাখনু পর্যন্ত উভয় পা ধৌত করা, ধারাবাহিকতা (الترتيب) (১) এবং অবিরত করা (الموالاة) (২)। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো} [সুরা আল-মায়িদাহ: ৬]। ধারাবাহিকতার (الترتيب) দলিল হলো হাদিস: "তোমরা তা দিয়েই শুরু করো যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন।" আর অবিরত করার (الموالاة) দলিল হলো সেই ব্যক্তির হাদিস যার পায়ে শুকনো স্থান ছিল; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি যখন এক ব্যক্তির পায়ে দিরহাম পরিমাণ একটি শুকনো স্থান দেখলেন যেখানে পানি পৌঁছেনি, তখন তিনি তাকে পুনরায় ওজু করার আদেশ দিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
[حكم التسمية في الوضوء:]وواجبه التسمية مع الذكر (1).
--------------------------------------------
[অজুর ক্ষেত্রে তাসমিয়ার (বিসমিল্লাহ বলার) বিধান:]আর এর ওয়াজিব (واجب) কাজ হলো স্মরণ থাকা অবস্থায় তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ) পাঠ করা (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
[نواقض الوضوء:]ونواقضه ثمانية (1): الخارج من السبيلين (2)، والخارج الفاحش النجس من الجسد (3)، وزوال العقل (4)، ومس المرأة بشهوة (5)، ومس الفرج باليد قُبُلاً كان أو دُبُراً (6)، وأكل لحم الجزور (7)، وتغسيل الميت (8)، والردة عن الإسلام (9) أعاذنا الله من ذلك.
--------------------------------------------
[অজু ভঙ্গের কারণসমূহ:]অজু ভঙ্গের কারণ আটটি (১): দুই রাস্তা দিয়ে যা বের হয় (২), শরীরের অন্য কোনো স্থান দিয়ে নির্গত অধিক পরিমাণ অপবিত্র বস্তু (৩), জ্ঞান হারানো (৪), কামভাবের সাথে নারীকে স্পর্শ করা (৫), হাত দিয়ে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা—তা সামনের দিক হোক বা পেছনের দিক (৬), উটের গোশত খাওয়া (৭), মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া (৮), এবং ইসলাম থেকে মুরতাদ হওয়া (৯)—আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
[بقية شروط الصلاة:]
الشرط الخامس: إزالة النجاسة من ثلاث: من البدن والثوب والبقعة (1)، والدليل قوله تعالى: {وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ}.
الشرط السادس: ستر العورة (2)، أجمع أهل العلم على فساد صلاة من صلى عرياناً وهو يقدر، وحد عورة الرجل من السرة إلى الركبة، والأمة كذلك، والحرة كلها عورة إلا وجهها، والدليل قوله تعالى: {يَا بَنِي آدَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ} [الأعراف: 31]، أي: عند كل صلاة.
الشرط السابع: دخول الوقت (3)، والدليل من السنة حديث جبريل عليه السلام أنه أمَّ النبي صلى الله عليه وسلم في أول الوقت وفي آخره، فقال: «يا محمد الصلاة بين هذين الوقتين»، وقوله تعالى: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا} [النساء:103]، أي: مفروضاً في الأوقات، ودليل الأوقات قوله تعالى: {أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا} [الإسراء: 78].
الشرط الثامن: استقبال القبلة (4)، والدليل قوله تعالى: {قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاء فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّواْ وُجُوِهَكُمْ شَطْرَهُ} [البقرة:144].
الشرط التاسع: النية (5)، ومحلها القلب والتلفظ بها بدعة، والدليل حديث: «إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرىء ما نوى».
--------------------------------------------
[নামাজের অবশিষ্ট শর্তাবলি:]
পঞ্চম শর্ত: তিন স্থান থেকে অপবিত্রতা (نجاسة) দূর করা: শরীর, পোশাক এবং নামাজের স্থান (১), আর এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ} অর্থাৎ: "আর আপনার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র (طاهر) করুন।"
ষষ্ঠ শর্ত: সতর (عورة) ঢাকা (২), আলেমগণ এই মর্মে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও যে ব্যক্তি উলঙ্গ অবস্থায় নামাজ আদায় করে তার নামাজ বাতিল। পুরুষের সতরের (عورة) সীমানা হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত, দাসীর ক্ষেত্রেও তাই। আর স্বাধীন নারী মুখমণ্ডল ব্যতীত আপাদমস্তক সতর (عورة)। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {يَا بَنِي آدَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ} [আল-আরাফ: ৩১], অর্থাৎ: প্রত্যেক নামাজের সময়।
সপ্তম শর্ত: ওয়াক্ত শুরু হওয়া (৩), সুন্নাহ থেকে এর প্রমাণ হলো জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর হাদিস যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ওয়াক্তের শুরুতে এবং শেষে নামাজ পড়িয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "হে মুহাম্মদ! নামাজ হলো এই দুই সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে।" আর মহান আল্লাহর বাণী: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوقُوتًا} [আন-নিসা: ১০৩], অর্থাৎ: নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ (مفروض) করা হয়েছে। ওয়াক্তসমূহের প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا} [আল-ইসরা: ৭৮]।
অষ্টম শর্ত: কিবলামুখী হওয়া (استقبال القبلة) (৪), এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاء فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّواْ وُجُوِهَكُمْ شَطْرَهُ} [আল-বাকারাহ: ১৪৪]।
নবম শর্ত: নিয়ত (نية) (৫), এর স্থান হলো অন্তর এবং মুখে এর উচ্চারণ করা বিদআত (بدعة)। এর প্রমাণ হাদিস: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের (نية) ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত (نية) করেছে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
[أركان الصلاة:]وأركان الصلاة أربعة عشر (1):
القيام مع القدرة، وتكبيرة الإحرام، وقراءة الفاتحة، والركوع، والرفع منه، والسجود على الأعضاء السبعة، والاعتدال منه، والجلسة بين السجدتين، والطمأنينة في جميع الأركان، والترتيب، والتشهد الأخير، والجلوس له، والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، والتسليمتان.
الركن الأول: القيام مع القدرة (2)، والدليل قوله تعالى: {حَافِظُواْ عَلَى الصَّلَوَاتِ والصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُواْ لِلّهِِ قَانِتِينَ} [البقرة:238].
--------------------------------------------
[নামাজের রকনসমূহ (أركان):]নামাজের রকনসমূহ (أركان) চৌদ্দটি (১):
সামর্থ্য থাকা অবস্থায় দণ্ডায়মান হওয়া (قيام), তাকবীরে তাহরীমা (تكبيرة الإحرام), সূরা ফাতিহা পাঠ করা, রুকু (ركوع) করা, রুকু হতে মাথা উঠানো, সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদাহ (سجود) করা, সিজদাহ হতে সোজা হওয়া (اعتدال), দুই সিজদার মাঝখানে বসা, সমস্ত রকনসমূহের (أركان) মধ্যে স্থিরতা (طمأنينة) অবলম্বন করা, ধারাবাহিকতা (ترتيب) রক্ষা করা, শেষ তাশাহহুদ (تشهد), তাশাহহুদের জন্য বসা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পাঠ করা এবং দুই দিকে সালাম (تسليم) ফেরানো।
প্রথম রকন (ركن): সামর্থ্য থাকা অবস্থায় দণ্ডায়মান হওয়া (قيام) (২), এর দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা নামাজসমূহের এবং বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাজের হিফাযত করো এবং আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দণ্ডায়মান হও} [সূরা আল-বাকারা: ২৩৮]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الثاني: تكبيرة الإحرام (1)، والدليل حديث: «تحريمها التكبير، وتحليلها التسليم»، وبعدها الاستفتاح (2)، وهو سنة، قول: «سبحانك اللهم وبحمدك، وتبارك اسمك، وتعالى جدك، ولا إله غيرك».
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: তাকবীরে তাহরীমা (১), আর এর দলিল হলো হাদিস: "নামাজের শুরু (নিষিদ্ধতা) হলো তাকবীর এবং এর সমাপ্তি (বৈধতা) হলো সালাম।" এর পরেই হলো ইস্তিফতাহ (প্রারম্ভিক দুয়া) (২), যা একটি সুন্নাহ। তা হলো এই বলা: "সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা" (হে আল্লাহ! আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মহিমা অতি উচ্চ এবং আপনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
[شرح ألفاظ الاستفتاح:]ومعنى «سبحانك اللهم»: أي: أنزهك التنزيه اللائق بجلالك، «وبحمدك»: أي: ثناء عليك. «وتبارك اسمك»: أي: البركة تنال بذكرك. «وتعالى جدك»: أي: جلت عظمتك. «ولا إله غيرك»: أي: لا معبود في الأرض ولا في السماء بحق سواك يا الله (1).
«أعوذ بالله من الشيطان الرجيم» (2): معنى «أعوذ»: ألوذ وألتجىء وأعتصم بك يا الله من الشيطان الرجيم، المطرود، المبعد عن رحمة الله؛ لا يضرني في ديني، ولا في دنياي.
--------------------------------------------
[ইফতিতাহ বা ছানা-এর শব্দাবলির ব্যাখ্যা:]‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা’-এর অর্থ হলো: হে আল্লাহ! আমি আপনার সুউচ্চ মর্যাদার উপযুক্ত পবিত্রীকরণ ঘোষণা করছি। ‘ওয়া বিহামদিকা’: অর্থাৎ, আপনার প্রশংসা জ্ঞাপন করছি। ‘ওয়া তাবারাকাসমুকা’: অর্থাৎ, আপনার স্মরণের মাধ্যমেই বরকত লাভ হয়। ‘ওয়া তাআলা জাদ্দুকা’: অর্থাৎ, আপনার শ্রেষ্ঠত্ব সুউচ্চ। ‘ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা’: অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি ব্যতীত আসমান ও জমিনে ইবাদতের যোগ্য কোনো সত্য মাবুদ নেই (১)।
‘আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ (২): ‘আউজু’ শব্দের অর্থ: হে আল্লাহ! বিতাড়িত এবং আল্লাহর রহমত থেকে দূরীকৃত শয়তান থেকে আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আপনার শরণাপন্ন হচ্ছি এবং আপনার মাধ্যমে সুরক্ষা কামনা করছি; যেন সে আমার দ্বীন ও দুনিয়ার কোনো ক্ষতিসাধন করতে না পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقراءة الفاتحة ركن في كل ركعة (1)، كما في حديث: «لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب»، وهي أم القرآن.
[تفسير سورة الفاتحة:]{بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} (2):
--------------------------------------------
এবং সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করা প্রত্যেক রাকাতে একটি রুকন (ركن) (১), যেমনটি হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি কিতাবের মহোদ্বোধনকারী (সূরা আল-ফাতিহা) পাঠ করে না, তার সালাত নেই"; আর এটি হলো উম্মুল কুরআন।
[সূরা আল-ফাতিহার তাফসির:]{পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে} (২):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بركة واستعانة، {الْحَمْدُ للهِ}: الحمد ثناء (1)، والألف واللام لاستغراق جميع المحامد، وأما الجميل الذي لا صنع له فيه مثل الجمال ونحوه فالثناء به يسمى مدحاً لا حمداً، {رَبِّ الْعَالَمِينَ} (2) الرب: هو المعبود، الخالق، الرازق، المالك، المتصرف، مربي جميع الخلق بالنعم. {الْعَالَمِينَ}: كل ما سوى الله عالم، وهو رب الجميع، {الرَّحْمنِ} (3): رحمة عامة جميع المخلوقات، {الرَّحِيمِ} (4): رحمة خاصة بالمؤمنين، والدليل قوله تعالى: {وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيمًا} [الأحزاب:43]، {مَلِكِ يَوْمِ الدِّينِ} (5): يوم الجزاء والحساب، يوم كل يجازى بعمله إن خيراً فخير وإن شراً فشر، والدليل قوله تعالى: {وَمَا أَدْرَاكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ (17) ثُمَّ مَا أَدْرَاكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ (18) يَوْمَ لا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِّنَفْسٍ شَيْئًا وَالأَمْرُ يَوْمَئِذٍ لِلَّهِ} [الانفطار:19]، والحديث عنه صلى الله عليه وسلم «الكيس من دان نفسه وعمل لما بعد الموت والعاجز من أتبع نفسه هواها وتمنى على الله الأماني»،
--------------------------------------------
বরকত ও সাহায্য কামনায়, {আলহামদু লিল্লাহ}: 'হামদ' হলো প্রশংসা (১), আর আলিফ এবং লাম যুক্ত হয়েছে সমস্ত প্রশংসাকে শামিল করার জন্য। অন্যদিকে এমন সৌন্দর্য যা অর্জনে মানুষের কোনো হাত নেই, যেমন শারীরিক সৌন্দর্য ও অনুরূপ বিষয়সমূহ—সেগুলোর প্রশংসা করাকে 'মাদহ' (গুণগান) বলা হয়, 'হামদ' নয়। {রব্বিল আলামীন} (২): 'রব' হলেন উপাস্য, স্রষ্টা, রিযিকদাতা, মালিক, পরিচালক এবং সকল সৃষ্টিকে নেয়ামত দিয়ে লালনপালনকারী। {আল-আলামীন}: আল্লাহ ব্যতীত সবকিছুই জগত, আর তিনি সকলের প্রতিপালক। {আর-রাহমান} (৩): যাঁর করুণা সকল সৃষ্টির জন্য ব্যাপক। {আর-রাহীম} (৪): যাঁর করুণা কেবল মুমিনদের জন্য বিশেষ। এর দলীল মহান আল্লাহর বাণী: "আর তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু।" [আল-আহযাব: ৪৩]। {মালিকি ইয়াওমিদ্দীন} (৫): প্রতিদান ও হিসাবের দিন। যেদিন প্রত্যেককে তার আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেওয়া হবে; যদি ভালো হয় তবে ভালো প্রতিদান, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ। এর দলীল মহান আল্লাহর বাণী: "আর আপনি কি জানেন প্রতিদান দিবস কী? তারপর আবার বলি, আপনি কি জানেন প্রতিদান দিবস কী? যেদিন কেউ কারোর জন্য কোনো উপকার করার ক্ষমতা রাখবে না এবং সেদিন সকল বিষয় হবে আল্লাহর ইচ্ছাধীন।" [আল-ইনফিতার: ১৭-১৯]। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিস: "বিচক্ষণ সে-ই যে নিজের আত্মার হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে; আর অক্ষম সে-ই যে নিজের প্রবৃত্তিকে কুপ্রবৃত্তির অনুসারী করে এবং আল্লাহর কাছে অলীক আশা পোষণ করে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
{إِيَّاكَ نَعْبُدُ} (1): أي لا نعبد غيرك، عهد بين العبد وبين ربه ألا يعبد إلا إياه. {وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ}: عهد بين العبد وبين ربه ألا يستعين بأحد غير الله، {اهدِنَا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ} (2): معنى {اهدِنَا}: دلنا وأرشدنا وثبتنا، و {الصِّرَاطَ}: الإسلام، وقيل: الرسول، وقيل: القرآن، والكل حق، و {المُستَقِيمَ}: الذي لا عوج فيه، {صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ} (3): طريق المنعم عليهم، والدليل قوله تعالى: {وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُوْلَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاء وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا} [النساء:69]،
--------------------------------------------
{আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি} (১): অর্থাৎ আমরা আপনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করি না। এটি বান্দা ও তার রবের মাঝে এক অঙ্গীকার যে, সে কেবল তাঁরই ইবাদত করবে। {এবং আমরা কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি}: এটি বান্দা ও তার রবের মাঝে এক অঙ্গীকার যে, সে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে না। {আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন} (২): {আমাদের পথ প্রদর্শন করুন}-এর অর্থ হলো: আমাদের পথ দেখান, আমাদের পরিচালিত করুন এবং আমাদের অবিচল রাখুন। আর {পথ} হলো: ইসলাম। কেউ বলেছেন: এটি দ্বারা রাসূল (رسول) বোঝানো হয়েছে, আবার কেউ বলেছেন: কুরআন। এর প্রতিটিই সত্য। আর {সরল}: যাতে কোনো বক্রতা নেই। {তাদের পথ যাদের আপনি নিয়ামত দান করেছেন} (৩): অর্থাৎ অনুগ্রহপ্রাপ্তদের পথ। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের (رسول) আনুগত্য করে, তারা তাদের সঙ্গী হবে যাদের আল্লাহ নিয়ামত দান করেছেন; অর্থাৎ নবীগণ (نبيين), সত্যবাদীগণ (صديقين), শহীদগণ (شهداء) এবং সৎকর্মশীলগণ (صالحين)। আর তারা কতই না উত্তম সঙ্গী} [আন-নিসা: ৬৯],
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
{غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيهِمْ}: وهم: اليهود معهم علم ولم يعملوا به، نسأل الله أن يجنبك طريقهم، {وَلَا الضَّالِّينَ} (1): وهم: النصارى؛ يعبدون الله على جهل وضلال، نسأل الله أن يجنبك طريقهم، ودليل الضالين قوله تعالى: {قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالأَخْسَرِينَ أَعْمَالاً (103) الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا} [الكهف:104]، والحديث عنه صلى الله عليه وسلم: «لتتبعن سنن من قبلكم حذو القذة بالقذة، حتى لو دخلوا جحر ضب لدخلتموه»، قالوا: (يا رسول الله اليهود والنصارى؟)، قال: «فمن» أخرجاه، والحديث الثاني: «افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة، وافترقت النصارى على اثنتين وسبعين فرقة، وستفترق هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة، كلها في النار إلا واحدة»، قلنا: (من هي يا رسول الله؟)، قال: «من كان على مثل ما أنا عليه وأصحابي».
--------------------------------------------
{যাঁদের ওপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয়নি}: তারা হলো ইয়াহুদি; তাদের কাছে জ্ঞান ছিল কিন্তু তারা সেই অনুযায়ী আমল করেনি। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আপনাকে তাদের পথ থেকে দূরে রাখেন। {এবং পথভ্রষ্টদেরও (পথ) নয়} (১): তারা হলো নাসারা; তারা অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতার ওপর ভিত্তি করে আল্লাহর ইবাদত করে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আপনাকে তাদের পথ থেকে দূরে রাখেন। পথভ্রষ্টদের (পরিচয়ের) দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দেব নিজেদের আমলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের সম্পর্কে? (১০৩) তারা সেই সব লোক, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়েছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা অতি উত্তম কাজ করছে।} [সুরা কাহফ: ১০৪]। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিস: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতি-নীতি পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তীরের এক পালক যেভাবে অন্য পালকের সমান হয় ঠিক সেভাবে (একেবারে হুবহু), এমনকি তারা যদি কোনো গুঁইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে।" সাহাবীগণ বললেন: (হে আল্লাহর রাসুল! তারা কি ইয়াহুদি ও নাসারা?) তিনি বললেন: "তবে আর কে?" তাঁরা উভয় ইমাম এটি সংকলন (أخرجاه) করেছেন। দ্বিতীয় হাদিস: "ইয়াহুদিরা একাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে এবং নাসারা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে। অচিরেই এই উম্মত তেয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে, যার একটি ব্যতীত সবকটিই জাহান্নামে যাবে।" আমরা বললাম: (হে আল্লাহর রাসুল! সেই দলটি কারা?) তিনি বললেন: "যারা সেই আদর্শের ওপর থাকবে যার ওপর আজ আমি ও আমার সাহাবীগণ আছি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والركوع والرفع منه، والسجود على الأعضاء السبعة، والاعتدال منه، والجلسة بين السجدتين، والدليل قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا} [الحج:77]، والحديث عنه صلى الله عليه وسلم: «أمرت أن أسجد على سبعة أعظم»، والطمأنينة في جميع الأفعال، والترتيب بين الأركان (1)، والدليل حديث المسيء صلاته عن أبي هريرة قال: بينما نحن جلوس عند النبي صلى الله عليه وسلم إذ دخل رجل فصلى فسلم على النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «ارجع فصل فإنك لم تصل» فعلها ثلاثاً، ثم قال: والذي بعثك بالحق نبياً، لا أحسن غير هذا، فعلمني، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: «إذا قمت إلى الصلاة فكبر، ثم اقرأ ما تيسر معك من القرآن، ثم اركع حتى تطمئن راكعاً، ثم ارفع حتى تعتدل قائماً، ثم اسجد حتى تطمئن ساجداً، ثم ارفع حتى تطمئن جالساً، ثم افعل ذلك في صلاتك كلها».
--------------------------------------------
রুকু করা, রুকু থেকে ওঠা, সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদাহ করা, সিজদাহ থেকে সোজা হয়ে ওঠা এবং দুই সিজদাহর মাঝে বসা। এর দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা রুকু করো এবং সিজদাহ করো} [আল-হাজ: ৭৭]। আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে হাদিস হলো: «আমি সাতটি হাড়ের (অঙ্গের) ওপর সিজদাহ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি», আর সমস্ত কাজে স্থিরতা (طمأنينة) অবলম্বন করা এবং রুকনগুলোর (الأركان) মধ্যে ধারাবাহিকতা (الترتيب) বজায় রাখা (১), এর দলিল হলো আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নামাজে ভুলকারী ব্যক্তির হাদিস; তিনি বলেন: আমরা যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি প্রবেশ করল এবং নামাজ আদায় করল। এরপর সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সালাম দিলে তিনি বললেন: «ফিরে যাও এবং নামাজ পড়ো, কারণ তুমি নামাজ পড়োনি»। তিনি এভাবে তিনবার করলেন, এরপর লোকটি বলল: সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন, আমি এর চেয়ে উত্তম নামাজ পড়তে জানি না, অতএব আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: «যখন তুমি নামাজের জন্য দাঁড়াবে তখন তাকবির বলবে, এরপর কোরআন থেকে তোমার যা সহজসাধ্য হয় তা পাঠ করবে, এরপর রুকু করবে যতক্ষণ না রুকুতে স্থির (طمأنينة) হও, তারপর মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াবে, তারপর সিজদাহ করবে যতক্ষণ না সিজদায় স্থির (طمأنينة) হও, তারপর মাথা উঠিয়ে স্থিরভাবে (طمأنينة) বসবে, এরপর তোমার পুরো নামাজে এভাবেই করবে»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والتشهد الأخير ركن مفروض (1)، كما في الحديث عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: كنا نقول قبل أن يفرض علينا التشهد: (السلام على الله من عباده، السلام على جبريل وميكائيل)، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا تقولوا: السلام على الله من عباده، فإن الله هو السلام، ولكن قولوا: التحيات لله، والصلوات والطيبات، السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته، السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله».
--------------------------------------------
এবং শেষ তাশাহহুদ একটি আবশ্যকীয় স্তম্ভ (ركن مفروض) (১), যেমনটি হাদিসে ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমাদের ওপর তাশাহহুদ আবশ্যক (مفروض) করার আগে আমরা বলতাম: (বান্দাদের পক্ষ থেকে আল্লাহর ওপর সালাম, জিবরাঈল ও মিকাইল-এর ওপর সালাম)। তখন নবী (সা.) বললেন: «তোমরা ‘আল্লাহর ওপর সালাম’ বলো না, কেননা আল্লাহ নিজেই সালাম (শান্তিদাতা)। বরং তোমরা বলো: সকল মৌখিক ইবাদত, শারীরিক ইবাদত ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার ওপর সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
[شرح ألفاظ التشهد]:ومعنى «التحيات» (1): جميع التعظيمات لله ملكاً واستحقاقاً، مثل: الانحناء والركوع، والسجود، والبقاء والدوام، وجميع ما يعظم به رب العالمين فهو لله، فمن صرف منه شيئاً لغير الله فهو مشرك كافر، و «الصلوات» (2) معناها: جميع الدعوات، وقيل: الصلوات الخمس، و «الطيبات لله» (3): الله طيب، ولا يقبل من الأقوال والأعمال إلا طيبها، «السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته» (4): تدعو للنبي صلى الله عليه وسلم بالسلامة والرحمة والبركة، والذي يدعى له ما يدعى مع الله، «السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين» (5)، تسلم على نفسك، وعلى كل عبد صالح في السماء والأرض، والسلام دعاء، والصالحون يدعى لهم ولا يدعون مع الله، «أشهد أن لا إله إلا الله» (6) وحده لا شريك له، تشهد شهادة اليقين أن لا يعبد في الأرض ولا في السماء بحق إلا الله، وشهادة «أن محمداً رسول الله» (7): بأنه عبد لا يعبد، ورسول لا يكذب، بل يطاع ويتبع، شرفه الله بالعبودية، والدليل قوله تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} [الفرقان:1].
--------------------------------------------
[তাশাহহুদের শব্দাবলির ব্যাখ্যা]:‘আত-তাহিয়্যাত’ (১)-এর অর্থ হলো: রাজত্ব ও প্রাপ্যতার বিচারে আল্লাহর জন্য যাবতীয় মহিমা ও গুণকীর্তন। যেমন: মস্তক অবনত করা, রুকু করা, সিজদাহ করা এবং স্থায়িত্ব ও চিরস্থায়িত্ব। বিশ্বজগতের প্রতিপালককে যা কিছুর মাধ্যমে মহিমান্বিত করা হয়, তার সবকিছুই আল্লাহর জন্য নিবেদিত। সুতরাং কেউ যদি এর কোনো অংশ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে নিবেদন করে, তবে সে মুশরিক (مشرك) কাফির (كافر)। ‘আস-সালাওয়াত’ (২)-এর অর্থ হলো: যাবতীয় দোয়া। কেউ কেউ বলেছেন: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। ‘আত-তাইয়্যিবাতু লিল্লাহ’ (৩) অর্থ: আল্লাহ পবিত্র। তিনি কথা ও কাজের মধ্যে কেবল পবিত্রটুকুই কবুল করেন। ‘আস-সালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’ (৪): আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নিরাপত্তা, রহমত ও বরকতের দোয়া করছেন। আর যাঁর জন্য দোয়া করা হয়, তাঁকে আল্লাহর সমকক্ষ হিসেবে ডাকা হয় না। ‘আস-সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন’ (৫): আপনি নিজের ওপর এবং আসমান ও জমিনের প্রত্যেক নেককার (صالح) বান্দার ওপর সালাম পেশ করছেন। সালাম হলো একটি দোয়া, আর নেককারদের জন্য দোয়া করা হয়, তাঁদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করে ডাকা হয় না। ‘আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (৬): তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আপনি নিশ্চিত বিশ্বাসে (يقين) সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই। আর ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল’ (৭) হওয়ার সাক্ষ্যের অর্থ হলো: তিনি একজন বান্দা (عبد) যাঁর ইবাদত করা হয় না, এবং একজন রাসুল (رسول) যাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয় না; বরং তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ করা হয়। আল্লাহ তাঁকে দাসত্বের (عبودية) মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। এর দলিল মহান আল্লাহর বাণী: {পরম কল্যাণময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে।} [সূরা আল-ফুরকান: ১]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
«اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم إنك حميد مجيد» (1): الصلاة من الله ثناؤه على عبده في الملأ الأعلى، كما حكى البخاري في صحيحه عن أبي العالية قال: (صلاة الله ثناؤه على عبده في الملأ الأعلى)، وقيل: الرحمة، والصواب الأول. ومن الملائكة: الاستغفار، ومن الآدميين: الدعاء، «وبارك» وما بعدها: سنن أقوال وأفعال.
--------------------------------------------
«হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহীমের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত» (১): আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘সালাত’ (দরুদ) হলো ঊর্ধ্বলোকে (আল-মালাউল আলা) তাঁর বান্দার প্রতি তাঁর প্রশংসা করা, যেমনটি ইমাম বুখারি তাঁর সাহিহ-তে আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: (আল্লাহর সালাত হলো ঊর্ধ্বলোকে তাঁর বান্দার প্রতি তাঁর প্রশংসা)। কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ রহমত, তবে প্রথম মতটিই সঠিক। আর ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে সালাত হলো ক্ষমা প্রার্থনা, এবং মানুষের পক্ষ থেকে হলো দুআ। আর «ও বারিক» (এবং বরকত দান করুন) ও এর পরবর্তী অংশগুলো হলো কথা ও কাজের সুন্নাহসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
[واجبات الصلاة:]والواجبات ثمانية (1): جميع التكبيرات غير تكبيرة الإحرام (2)، وقول: «سبحان ربي العظيم» في الركوع، وقول: «سمع الله لمن حمده» للإمام والمنفرد، وقول: «ربنا ولك الحمد» للكل، وقول: «سبحان ربي الأعلى» في السجود، وقول: «رب اغفر لي» بين السجدتين، والتشهد الأول، والجلوس له (3).
--------------------------------------------
[নামাজের ওয়াজিবসমূহ (واجبات):]ওয়াজিবসমূহ (واجبات) আটটি (১): তাকবীরে তাহরিমা (تكبيرة الإحرام) ব্যতীত সকল তাকবীর (২), রুকুতে «সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম» বলা, ইমাম ও একাকী নামাজ আদায়কারীর জন্য «সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ» বলা, সকলের জন্য «রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ» বলা, সিজদাতে «সুবহানা রাব্বিয়াল আলা» বলা, দুই সিজদার মাঝে «রাব্বিগফির লি» বলা, প্রথম তাশাহহুদ এবং তার জন্য বসা (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فالأركان: ما سقط منها سهواً أو عمداً بطلت الصلاة بتركه (1)، والواجبات: ما سقط منها عمداً بطلت الصلاة بتركه، وسهواً جبره السجود للسهو (2)، والله أعلم).
--------------------------------------------
রুকনসমূহ (الأركان): এর মধ্য থেকে যা ভুলবশত (سهواً) বা ইচ্ছাকৃতভাবে (عمداً) বাদ পড়ে যায়, তা ত্যাগের কারণে সালাত বাতিল হয়ে যায় (১)। আর ওয়াজিবসমূহ (الواجبات): এর মধ্য থেকে যা ইচ্ছাকৃতভাবে (عمداً) বাদ পড়ে যায়, তা ত্যাগের কারণে সালাত বাতিল হয়ে যায়, আর ভুলবশত (سهواً) বাদ পড়লে সাহু সিজদা (سجود السهو) দ্বারা তা সংশোধন করা হয় (২), আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ملحق المسائل التي أجاب عليها الشيخ ابن باز -رحمه الله تعالى-:
- مسألة (1): شخص نوى قطع الوضوء بالنوم ثم لم ينم، هل يعيد الوضوء؟.
الجواب: النوم لا يرتبط بالنية، وإنما يرتبط بالحدث، فلو نوى النوم ثم لم ينم فهو على طهارته ولا ينتقض وضوءه، ولم تتغير طهارته حتى يستأنف النوم، وكذا لو نوى أن يحدث ثم لم يحدث لا ينتقض وضوءه.
- مسألة (2): طفل عمره سبع سنين يفهم ولا يؤذي ويرغب في الذهاب إلى المسجد، فهل يمنع؟.
الجواب: إن كان لا يؤذي فلا بأس الحمد لله؛ لأن المقصود العقل، وسبع سنين هي وقت العقل غالباً، وإن كان قد يوجد من يبلغ السبع وما يعقل بعد، المهم العقل وعدم إيذاء الناس.
- مسألة (3): من بدأ بيده اليسرى قبل اليمنى في الوضوء، فهل يصح وضوءه؟.
الجواب: فيه خلاف بين العلماء، والأحوط والخروج من الخلاف أنه يعيد غسل اليسرى بعد اليمنى إذا بدأ بها من اليدين أو الرجلين؛ لأن الرسول صلى الله عليه وسلم قال: «إذا توضأتم فابدءوا بميامنكم»، وكان صلى الله عليه وسلم يبدأ باليمين، وحتى يسلم وضوءه من الخلاف.
- مسألة (4): الأثر عن علي رضي الله عنه أنه بدأ في الوضوء بغسل يسراه قبل اليمنى، هل يصح؟.
الجواب: ما أعرف صحته، ولا أعلمه.
- مسألة (5): ما حكم المسح على الجوارب، وخاصة وقت البرد؟.
الجواب: يمسح عليه ولا بأس، سواء كان جورباً أو خفاً، وسواء في الشتاء أو الصيف، إذا لبسها على طهارة، وإذا كان ساتراً، يمسح عليه المدة المعينة يوم وليلة للمقيم، وثلاثة أيام بلياليها للمسافر.
- مسألة (6): ما حكم ستر أعلى الجسم كالصدر والعاتقين؟.
الجواب: لا بُدَّ، كما دل عليه الحديث: «لا يصلي أحدكم في الثوب الواحد ليس على عاتقه منه شيء»، فيجعل الرداء على كتفيه، أو يصلي في قميص، إلا إذا لم يجد -الحمد لله- يصلي على حاله.
- مسألة (7): تأخير الصلاة عن وقتها، هل حكمها حكم الترك؟.
الجواب: لا، فيه تفصيل: إن كان عن نوم أو نسيان فلا، أما إن تعمد فحكمه حكم الترك على الصحيح، فيكفر بذلك إن تعمد تركها حتى يخرج وقتها وهي لا تجمع إلى ما قبلها وما بعدها، فإن كانت تجمع ففيه شبهة، والجمهور يرون ليس حكمه حكم الترك، لكن يأثم.
শায়খ ইবনে বাজ -রাহিমাহুল্লাহ- কর্তৃক উত্তর প্রদানকৃত মাসআলাসমূহের পরিশিষ্ট-:
- মাসআলা (১): কোনো ব্যক্তি ঘুমের মাধ্যমে ওযু ভঙ্গের নিয়াত করল কিন্তু পরবর্তীতে সে আর ঘুমাল না, সে কি পুনরায় ওযু করবে?
উত্তর: ঘুম নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং তা অপবিত্রতা অর্জিত হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। অতএব, কেউ যদি ঘুমানোর নিয়াত করে কিন্তু না ঘুমায়, তবে সে তার পবিত্রতা অবস্থার ওপরই বহাল থাকবে এবং তার ওযু ভঙ্গ হবে না। যতক্ষণ না সে বাস্তবে ঘুমাবে, ততক্ষণ তার পবিত্রতা পরিবর্তিত হবে না। একইভাবে, যদি কেউ অপবিত্র হওয়ার নিয়াত করে কিন্তু বাস্তবে অপবিত্র না হয়, তবে তার ওযু ভঙ্গ হবে না।
- মাসআলা (২): সাত বছর বয়সী একটি শিশু যে বিষয়সমূহ বোঝে, কাউকে কষ্ট দেয় না এবং মসজিদে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে; তাকে কি বাধা দেওয়া হবে?
উত্তর: যদি সে কাউকে কষ্ট না দেয় তবে কোনো সমস্যা নেই, আলহামদুলিল্লাহ। কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো বিবেক বা বুদ্ধি; আর সাত বছর বয়স সাধারণত বুদ্ধি হওয়ার সময়। যদিও এমন কেউ থাকতে পারে যে সাত বছর বয়সে উপনীত হয়েও বুদ্ধিমান হয়নি। মূল বিষয় হলো বুদ্ধি থাকা এবং মানুষকে কষ্ট না দেওয়া।
- মাসআলা (৩): ওযু করার সময় ডান হাতের আগে বাম হাত ধোয়ার মাধ্যমে শুরু করলে কি ওযু সঠিক হবে?
উত্তর: এ বিষয়ে উলামাগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অধিকতর সতর্কতামূলক এবং মতভেদ থেকে বেঁচে থাকার উপায় হলো—যদি হাত বা পায়ের ক্ষেত্রে বামটি দিয়ে শুরু করে থাকে, তবে ডানের পরে পুনরায় বামটি ধৌত করবে। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন তোমরা ওযু করবে, তখন তোমাদের ডান দিক থেকে শুরু করো», আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদাই ডান দিক থেকে শুরু করতেন; যাতে তার ওযু মতভেদ থেকে মুক্ত ও নিরাপদ হয়।
- মাসআলা (৪): আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এই বর্ণনা (أثر) যে, তিনি ওযুতে ডান হাতের আগে বাম হাত ধৌত করা শুরু করেছিলেন—এটি কি সহীহ (صحيح)?
উত্তর: এর শুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে আমার জানা নেই এবং আমি এটি জানি না।
- মাসআলা (৫): মোজার ওপর মাসাহ করার বিধান কী, বিশেষ করে শীতকালে?
উত্তর: এর ওপর মাসাহ করা যাবে এবং এতে কোনো দোষ নেই, তা সুতি বা পশমি মোজা হোক কিংবা চামড়ার মোজা হোক, আর তা শীতকালে হোক বা গ্রীষ্মকালে। তবে শর্ত হলো তা পবিত্র অবস্থায় পরিধান করতে হবে এবং তা যদি টাখনু পর্যন্ত ঢাকা থাকে। মাসাহ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা হলো মুকিমের জন্য এক দিন ও এক রাত এবং মুসাফিরের জন্য তিন দিন ও তিন রাত।
- মাসআলা (৬): শরীরের উপরিভাগ যেমন বুক ও দুই কাঁধ আবৃত রাখার বিধান কী?
উত্তর: এটি আবশ্যক, যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: «তোমাদের কেউ যেন এক কাপড়ে এমনভাবে সালাত আদায় না করে যে তার কাঁধের ওপর কিছু নেই», সুতরাং সে তার কাঁধের ওপর চাদর রাখবে অথবা কামিজ পরে সালাত আদায় করবে। তবে যদি সে কাপড় না পায়—আলহামদুলিল্লাহ—সে যে অবস্থায় আছে সেভাবেই সালাত আদায় করবে।
- মাসআলা (৭): সালাত তার নির্দিষ্ট সময়ের পরে আদায় করা, এর হুকুম কি সালাত বর্জনের হুকুমের মতো?
উত্তর: না, এতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে: যদি তা ঘুম বা বিস্মৃতির কারণে হয় তবে নয়। কিন্তু যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করে, তবে বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে তা সালাত ত্যাগের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে। সে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করে যতক্ষণ না তার ওয়াক্ত পার হয়ে যায়—অথচ সেই সালাতটি তার আগের বা পরের সালাতের সাথে মিলিয়ে পড়ার সুযোগ নেই—তবে সে এর মাধ্যমে কাফির হয়ে যাবে। আর যদি এমন সালাত হয় যা অন্য সালাতের সাথে মিলিয়ে পড়া যায়, তবে সেখানে কিছুটা সন্দেহের অবকাশ আছে; তবে জমহুর উলামাগণ মনে করেন এটি বর্জনের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে না, তবে সে গুনাহগার হবে।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
- مسألة (8): ما حكم تغيير النية في الصلاة النافلة، كأن يصلي تحية المسجد فيغير النية وينوي أنها سنة قبلية؟.
الجواب: لا يغير النية، وعلى الإنسان أن يتم ما نوى، إلا إذا أراد أن يصلي نافلة وأقيمت الصلاة قبل أن ينتهي من الركعة الثانية وقبل الركوع الثاني فإنه يقطعها ويبطلها؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: «إذا أقيمت الصلاة فلا صلاة إلا المكتوبة»، أما أنه يغير فينوي تحية المسجد ثم ينويها الراتبة وهو في أثناء الصلاة فلا، أما ابتداء النية بأن نوى من أول الصلاة بالتحية الراتبة سدت عن التحية، أما أنه ما نواها من أول الصلاة ودخل فيها بنية التحية ما ينفعه التجديد في أثناء الصلاة، إلا إذا قطعها ونواها من جديد.
- مسألة (9): قول من يقول: (ثلاث حركات تبطل الصلاة)، هل عليه دليل؟، وهل يستدل لذلك بحديث أمامة، وفيه: أنه صلى الله عليه وسلم صلى ذات يوم بالناس، وهو حامل أمامة بنت ابنته زينب، فكان إذا سجد وضعها وإذا قام حملها؟.
الجواب: ما عليه دليل، والمسلم مستفتى فإذا توالت الحركات الكثيرة واستفحشها الإنسان في نفسه تبطل صلاته، وأما حديث أمامة فهذه حركات متباعدة ومتفرقة وليست متتابعة، فحملها ووضعها شيء متباعد.
- مسألة (10): هل المقصود بالصلاة الوسطى في قوله تعالى: {حَافِظُواْ عَلَى الصَّلَوَاتِ والصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُواْ لِلّهِ قَانِتِينَ} [البقرة:238]، صلاة العصر، وهل هي أفضل الصلوات؟.
الجواب: الأصح فيها أنها صلاة العصر، وهي أفضل الصلوات.
- مسألة (11): هل يجوز شرب البيرة التي كتب عليها خالية من الكحول؟.
الجواب: نعم، إذا سلمت فلا بأس، وهذا المشهور المعروف، أما إن علم أنها تسكر فلا يشربها.
- মাসআলা (৮): নফল (نافلة) নামাজে নিয়ত (نية) পরিবর্তনের হুকুম (حكم) কী? যেমন কেউ তাহিয়্যাতুল মাসজিদ (تحية المسجد) পড়ার সময় নিয়ত (نية) পরিবর্তন করে সেটিকে জোহরের পূর্ববর্তী সুন্নাহ (سنة قبلية) হিসেবে আদায়ের নিয়ত (نية) করে?
উত্তর: নিয়ত (نية) পরিবর্তন করা যাবে না। মানুষের উচিত সে যা নিয়ত (نية) করেছে তা পূর্ণ করা। তবে যদি কেউ নফল (نافلة) নামাজ পড়তে থাকে এবং দ্বিতীয় রাকাত শেষ করার ও দ্বিতীয় রুকুর পূর্বে নামাজের ইকামত শুরু হয়ে যায়, তবে সে নামাজটি বিচ্ছিন্ন ও বাতিল করে দেবে; কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন নামাজের ইকামত দেওয়া হয়, তখন ফরজ (المكتوبة) নামাজ ব্যতীত আর কোনো নামাজ নেই।» আর নামাজের মাঝখানে তাহিয়্যাতুল মাসজিদ (تحية المسجد) থেকে নিয়ত (نية) পরিবর্তন করে সুন্নাহ রাতিবাহ (الراتبة) করা যাবে না। তবে নামাজের শুরু থেকেই যদি সুন্নাহ রাতিবাহ (الراتبة) এর নিয়ত (نية) করা হয়, তবে তা তাহিয়্যাতুল মাসজিদ (تحية المسجد) এর স্থলাভিষিক্ত হবে। কিন্তু নামাজের শুরুতে সেই নিয়ত (نية) না থাকলে এবং তাহিয়্যাতুল মাসজিদ (تحية المسجد) এর নিয়তে নামাজে প্রবেশ করলে, নামাজের মাঝখানে নিয়ত নবায়ন করা কোনো কাজে আসবে না; যতক্ষণ না সে নামাজটি ছেড়ে দিয়ে নতুন করে নিয়ত (نية) করে।
- মাসআলা (৯): যারা বলেন, ‘তিনটি নড়াচড়া নামাজ বাতিল করে দেয়’, তাদের এই কথার কি কোনো দলিল আছে? আর এর সপক্ষে কি উমামাহ এর হাদিসটি পেশ করা যাবে? যাতে বর্ণিত হয়েছে যে: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মানুষকে নামাজ পড়াচ্ছিলেন এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর নাতনী (জয়নাবের কন্যা) উমামাহকে বহন করছিলেন; যখন তিনি সিজদায় যেতেন তখন তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং যখন দাঁড়াতেন তখন তাকে কোলে নিতেন?
উত্তর: এর কোনো দলিল নেই। আর মুসলিম ব্যক্তি এ ক্ষেত্রে নিজের বিবেক অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন; যদি নড়াচড়া অনেক বেশি হয় এবং মানুষ সেটিকে মাত্রাতিরিক্ত মনে করে, তবে তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। আর উমামাহ এর হাদিসের বিষয়টি হলো, এই নড়াচড়াগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন ও আলাদা আলাদা এবং তা একাধারে ছিল না। ফলে তাকে কোলে নেওয়া ও নামিয়ে রাখা ছিল সময়ের ব্যবধানে ঘটা কাজ।
- মাসআলা (১০): মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা নামাজসমূহের প্রতি এবং মধ্যবর্তী নামাজের প্রতি যত্নবান হও এবং আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দাঁড়াও} [বাকারা:২৩৮]—এখানে ‘মধ্যবর্তী নামাজ’ বলতে কি আসরের নামাজ বোঝানো হয়েছে? আর এটি কি শ্রেষ্ঠ নামাজ?
উত্তর: এ ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতম (الأصح) মত হলো এটি আসরের নামাজ এবং এটিই নামাজের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
- মাসআলা (১১): যে বিয়ারের ওপর ‘অ্যালকোহলমুক্ত’ লেখা থাকে তা পান করা কি জায়েজ?
উত্তর: হ্যাঁ, যদি তা ক্ষতিকর উপাদান থেকে মুক্ত থাকে তবে কোনো সমস্যা নেই, আর এটিই সর্বজনবিদিত। তবে যদি জানা যায় যে এটি নেশা উদ্রেক করে, তবে তা পান করা যাবে না।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
- مسألة (12): إذا دخلت جماعة المسجد، وقد فاتتهم صلاة الجماعة، ووجدوا رجلاً يصلي منفرداً، فهل يجوز لهم أن يأتموا به؟.
الجواب: الأظهر أنهم يصلون وحدهم، ويقدمون أقرأهم؛ لأنهم أكثر منه، وهو بالخيار إن شاء قطع الصلاة وصلى معهم، وإن شاء أتم صلاته، ويكفي أن يتصدق عليه واحد، وإن أتموا بالمنفرد فلا بأس وصحت صلاتهم، ولو لم يكن نوى الإمامة، لقوله صلى الله عليه وسلم: «من يتصدق على هذا فيصلي معه»، لما دخل الرجل وقد فاتته الصلاة.
- مسألة (13): هل يجوز لمن أفرد بالحج أن يفسخ إلى عمرة، وذلك بعد مغادرته الميقات؟.
الجواب: نعم، إذا أحرم بالحج السنة أن يجعلها عمرة، إذا لم يكن معه هدي، أما إن كان معه هدي إبل أو بقر أو غنم يستمر.
- مسألة (14): ما حكم الانحناء بما يشبه الركوع في بعض الألعاب للمدرب أو الخصم كلعبة الكاراتيه، وذلك قبل البدء في اللعبة يستقبله ويقف مستوياً ثم ينحني تحية له؟.
الجواب: ما يجوز ذلك، هذا منكر عظيم -أعوذ بالله- يتقرب إليه بهذا تعظيماً له هذا شرك أكبر، يُعَلَّم، نسأل الله العافية.
- مسألة (15): هل ثبت أن الشيطان يقول إذا سجد ابن آدم: (يا ويلي أمر ابن آدم بالسجود فسجد فله الجنة، وأمرت بالسجود فأبيت فلي النار)؟.
الجواب: هذا ورد، ولكن ما اتذكر الآن حال إسناده، يراجع، الشيطان يدعو بالويل والثبور بأن ابن آدم سجد وله الجنة، وأنا أبيت فلي النار، إشارة إلى سجود الملائكة لآدم وكونه امتنع.
- مسألة (16): ما حكم شخص قال لأهله: (لا توقظوني للصلاة)، وهو يعلم أنه سوف يؤذن للصلاة بعد قليل، وتعمد هذا الشيء؟.
الجواب: الواجب عصيانه، يوقظونه وينصحونه ويوجهونه إلى الخير، (اتقي الله، قم إلى الصلاة)، ما يطيعونه في المعصية، لو قال لك أبوك أو أمك: (لا تذكر الله)، تطيعه؟!.
وإذا ترك الصلاة تعمداً حتى خرج الوقت كفر على الراجح، مثلما قال صلى الله عليه وسلم: «بين الرجل وبين الكفر والشرك ترك الصلاة»، أما عند الجمهور فلا يكفر إذا كان يعتقد الوجوب، ولكنه يتكاسل.
- মসআলা (১২): যদি একদল লোক মসজিদে প্রবেশ করে এবং তাদের জামাতে নামাজ ছুটে যায়, আর তারা কোনো ব্যক্তিকে একাকী নামাজ পড়তে দেখে, তবে তাদের জন্য কি তার পেছনে ইকতিদা করা জায়েজ হবে?
উত্তর: অধিক স্পষ্ট মত হলো তারা নিজেরা পৃথকভাবে নামাজ পড়বে এবং তাদের মধ্যে যিনি কুরআন পাঠে অধিক পারদর্শী তাকে সামনে এগিয়ে দেবে; কারণ তারা তার চেয়ে সংখ্যায় বেশি। আর ওই একাকী নামাজ পড়া ব্যক্তির এখতিয়ার রয়েছে, তিনি চাইলে নামাজ ভেঙে তাদের সাথে নামাজ পড়তে পারেন, আর চাইলে নিজের নামাজ পূর্ণ করতে পারেন। তার প্রতি সদকা হিসেবে একজনের নামাজ পড়াই যথেষ্ট। তবে তারা যদি একাকী নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির পেছনে ইকতিদা করে তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই এবং তাদের নামাজ শুদ্ধ (صحيح) হবে, যদিও তিনি ইমামতির নিয়ত না করে থাকেন। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কে আছে যে এই ব্যক্তির ওপর সদকা করবে এবং তার সাথে নামাজ পড়বে?», যখন এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে তার জামাতে নামাজ ছুটে গিয়েছিল।
- মসআলা (১৩): ইফরাদ হজ পালনকারী ব্যক্তির জন্য কি মিকাত অতিক্রম করার পর তা পরিবর্তন করে ওমরায় রূপান্তর করা জায়েজ?
উত্তর: হ্যাঁ, যদি কেউ হজের ইহরাম বাঁধে তবে সুন্নাহ হলো সেটিকে ওমরায় রূপান্তর করা, যদি তার সাথে কুরবানির পশু না থাকে। তবে যদি তার সাথে উট, গরু বা ছাগলের কোনো কুরবানির পশু থাকে, তবে সে পূর্বের অবস্থায় বহাল থাকবে।
- মসআলা (১৪): কারাতের মতো কিছু খেলায় প্রশিক্ষক বা প্রতিপক্ষের প্রতি রুকুর মতো মাথা নত করার বিধান কী, যা খেলা শুরুর আগে তার সামনে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে অভিবাদন হিসেবে মাথা নত করে করা হয়?
উত্তর: তা জায়েজ নয়। এটি চরম অপছন্দনীয় (منكر) কাজ - আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি - তার সম্মানে এভাবে তার নৈকট্য লাভ করা বড় শিরক (شرك أكبر)। তাকে এ বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।
- মসআলা (১৫): আদম সন্তান যখন সিজদাহ করে তখন শয়তান এই কথা বলে—এটি কি প্রমাণিত (ثبت)? "হায় দুর্ভোগ! আদম সন্তানকে সিজদাহর নির্দেশ দেওয়া হলো আর সে সিজদাহ করল, তাই তার জন্য জান্নাত। আর আমাকে সিজদাহর নির্দেশ দেওয়া হলো এবং আমি অস্বীকার করলাম, তাই আমার জন্য জাহান্নাম।"
উত্তর: এটি বর্ণিত হয়েছে, তবে বর্তমানে এর সূত্র (إسناد)-এর অবস্থা আমার স্মরণ নেই, এটি যাচাই করা প্রয়োজন। শয়তান নিজের ধ্বংস ও আক্ষেপের কথা বলে যে, আদম সন্তান সিজদাহ করেছে ফলে তার জান্নাত নিশ্চিত হয়েছে, আর আমি অস্বীকার করেছি তাই আমার জন্য জাহান্নাম। এটি মূলত ফেরেশতাদের আদমকে সিজদাহ করার নির্দেশ এবং শয়তানের তা অমান্য করার প্রতি ইঙ্গিত।
- মসআলা (১৬): এমন ব্যক্তির বিধান কী যে তার পরিবারকে বলে: (আমাকে নামাজের জন্য জাগাবে না), অথচ সে জানে যে কিছুক্ষণ পরেই নামাজের আজান দেওয়া হবে এবং সে ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করে?
উত্তর: এক্ষেত্রে তার অবাধ্য হওয়া ওয়াজিব। তারা তাকে জাগাবে, নসিহত করবে এবং কল্যাণের দিকে পরিচালিত করবে (বলবে: আল্লাহকে ভয় করো, নামাজের জন্য ওঠো)। পাপাচারের কাজে তারা তার আনুগত্য করবে না। যদি তোমার পিতা বা মাতা তোমাকে বলে: (আল্লাহর জিকর করো না), তুমি কি তাদের আনুগত্য করবে?!
আর যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ বর্জন করে এমনকি নামাজের সময় পার হয়ে যায়, তবে অগ্রগণ্য মত (الراجح) অনুযায়ী সে কাফের হয়ে যাবে। যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «ব্যক্তি এবং কুফর ও শিরকের মাঝে ব্যবধান হলো নামাজ বর্জন করা।» তবে জমহুর (الجمهور) বা সংখ্যাধিক্য আলিমের মতে, সে কাফের হবে না যদি সে নামাজ ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে বিশ্বাস রাখে কিন্তু অলসতাবশত তা বর্জন করে।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
- مسألة (17): هل ثبت حديث عقبة بن عامر رضي الله عنه قال: لما نزلت {فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ} [الواقعة:74]، قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اجعلوها في ركوعكم»؟.
الجواب: لا بأس بإسناده، حسن.
مسألة (18): حديث: «لا تزال الجنة تفضل حتى ينشئ الله لها خلقاً فيسكنهم فضل الجنة»، أليس نصاً في مسألة تارك الصلاة أنه لا يكفر؟.
الجواب: هذا صرح به أهل السنة، ينشئ لها أقواماً فيدخلهم الجنة فضلاً منه ورحمة، أي: بفضل رحمته، كما ذكر شيخ الإسلام في العقيدة الواسطية.
وقد غلط بعض الرواة فقال: (ويبقى في النار فضلٌ عمن دخلها، فينشئ الله لها أقواماً فيدخلهم النار)، وهذا غلط، وإنما الصواب: يبقى في الجنة فضلٌ -يعني: سعة-، فينشئ الله لها أقواماً فيدخلهم الجنة سبحانه وتعالى، فضلاً منه لم يعملوا خيراً قط.
وليس الحديث نصاً في المسألة، لأن هذا شيء وهذا شيء، ينشئ أقواماً ما عملوا شيئاً أبداً، هذا فضل منه، ما كلفوا.
- مسألة (19): ما رأيكم في قول الفقهاء في عدد التسبيحات: (الواجب واحد)، وما الحد الأعلى للتسبيح؟.
الجواب: أقل الواجب واحد هذا هو الأصل؛ لأنه إن أتى بواحد قد امتثل التسبيح، وما له حد أعلى، ولكن أنس رضي الله عنه كان يعد للنبي صلى الله عليه وسلم عشر تسبيحات، فإذا سبح خمساً، أو سبعاً فالأمر واسع، والأفضل ألا ينقص عن ثلاث.
- مسألة (20): ما حال حديث: «لو كنت آمراً أحداً أن يسجد لأحد، لأمرت المرأة أن تسجد لزوجها»؟.
الجواب: لا بأس به، جاء من حديث معاذ رضي الله عنه.
- مسألة (21): ما حكم تكبيرات الجنازة؟.
الجواب: ركن فيها، فلو صلى بدون تكبير ما صحت صلاة الجنازة.
- مسألة (22): ما حكم تكبيرات العيد؟.
الجواب: مستحبة إلا الأولى.
- মাসআলা (১৭): উকবাহ ইবনে আমির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি কি প্রমাণিত (ثابت)? তিনি বলেন: যখন "{অতএব আপনি আপনার মহান রবের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন}" [আল-ওয়াকিয়াহ: ৭৪] আয়াতটি নাজিল হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের বললেন: "তোমরা এটি তোমাদের রুকুতে নির্ধারণ করো।"
উত্তর: এর সনদের (إسناد) ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা নেই, এটি হাসান (حسن)।
মাসআলা (১৮): হাদিস: "জান্নাতে অতিরিক্ত স্থান অবশিষ্ট থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ তার জন্য নতুন মাখলুক সৃষ্টি করবেন এবং তাদেরকে জান্নাতের সেই অতিরিক্ত স্থানে বসবাস করাবেন", এটি কি সালাত পরিত্যাগকারীর বিষয়ে কোনো অকাট্য পাঠ (نص) নয় যে সে কাফির হবে না?
উত্তর: আহলুস সুন্নাহ এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, আল্লাহ জান্নাতের জন্য এমন কিছু সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন যাদেরকে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও রহমতস্বরূপ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন; অর্থাৎ তাঁর রহমতের অনুগ্রহে, যেমনটি শাইখুল ইসলাম আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-তে উল্লেখ করেছেন।
কোনো কোনো বর্ণনাকারী (رواة) ভুল করেছেন এবং বলেছেন: (জাহান্নামে অতিরিক্ত স্থান অবশিষ্ট থাকবে, ফলে আল্লাহ তার জন্য নতুন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন এবং তাদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন)। এটি ভুল। বরং সঠিক (صواب) হলো: জান্নাতে অতিরিক্ত স্থান—অর্থাৎ প্রশস্ততা—অবশিষ্ট থাকবে, ফলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহস্বরূপ এমন কিছু সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন যাদের তিনি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, অথচ তারা কখনোই কোনো নেক আমল করেনি।
এই হাদিসটি আলোচ্য মাসআলার ক্ষেত্রে কোনো অকাট্য পাঠ (نص) নয়; কারণ এটি একটি ভিন্ন বিষয় এবং সেটি অন্য বিষয়। তিনি এমন কিছু সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন যারা কখনোই কিছু করেনি, এটি তাঁর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ; তাদের তো কোনো দায়িত্বই (তাকলিফ) দেওয়া হয়নি।
- মাসআলা (১৯): তাসবিহ পাঠের সংখ্যার বিষয়ে ফকিহদের এই বক্তব্যের ব্যাপারে আপনার অভিমত কী যে: (ওয়াজিব মাত্র একটি), আর তাসবিহ এর সর্বোচ্চ সীমা কত?
উত্তর: নূন্যতম ওয়াজিব (واجب) হলো একটি, এটিই মূল ভিত্তি; কারণ সে যদি একবার এটি পাঠ করে তবে তাসবিহ এর নির্দেশ পালিত হয়ে যায়। এর কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা নেই। তবে আনাস (রা.) নবী (সা.)-এর জন্য দশটি তাসবিহ গণনা করতেন। সুতরাং কেউ যদি পাঁচটি বা সাতটি তাসবিহ পড়ে তবে তাতে প্রশস্ততা রয়েছে। আর উত্তম হলো তিনটির কম না করা।
- মাসআলা (২০): এই হাদিসটির অবস্থা (حال) কী: "আমি যদি কাউকে নির্দেশ দিতাম অন্য কাউকে সেজদা করার জন্য, তবে অবশ্যই স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সেজদা করতে"?
উত্তর: এতে কোনো অসুবিধা নেই (لا بأس به), এটি মুআয (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে।
- মাসআলা (২১): জানাজার তাকবিরগুলোর বিধান কী?
উত্তর: এটি জানাজার সালাতের একটি রুকন (ركن), সুতরাং যদি কেউ তাকবির ছাড়া সালাত আদায় করে তবে জানাজার সালাত শুদ্ধ হবে না।
- মাসআলা (২২): ঈদের তাকবিরগুলোর বিধান কী?
উত্তর: প্রথমটি ব্যতীত বাকিগুলো মুস্তাহাব (مستحب)।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতীহা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
- مسألة (23): بعض الناس ينام عن الصلاة متعمداً، ويستدل بقوله صلى الله عليه وسلم: «النائم حتى يستيقظ»، ما توجيهكم؟.
الجواب: هذا إذا ما فرط، أما إن فرط لا يضبط الساعة ولا يُعلَّم أهله ليوقظونه يأثم؛ لأنه فرط في أداء ما أوجب الله عليه.
- مسألة (24): ما حكم جلسة الاستراحة؟.
الجواب: مستحبة؛ لأن الرسول صلى الله عليه وسلم فعلها، وبعض أهل العلم قالوا: أنها لا تستحب؛ لأنها محتملة لأجل ثقله أو تعبه، ولكن الأرجح والأقرب أنها مستحبة، ولكنها غير واجبة؛ لأنه قد يتركها عليه الصلاة والسلام.
- مسألة (25): جلسة الاستراحة إذا لم يجلسها الإمام، هل يجلسها المأموم؟.
الجواب: المأموم يجلسها إذا لم يجلسها إمامه، مثلما يرفع يديه لو لم يرفع الإمام يديه في الإحرام أو الركوع أو القيام من التشهد الأول.
- مسألة (26): ما معنى حديث: «من ترك صلاة العصر فقد حبط عمله»؟.
الجواب: رواه البخاري في الصحيح، هذا يدل على كفره؛ لأن الأعمال تحبط بالكفر، لقول الله عز وجل: {وَلَوْ أَشْرَكُواْ لَحَبِطَ عَنْهُم مَّا كَانُواْ يَعْمَلُونَ} [الأنعام:88]، وهذا من أدلة من قال بتكفير تارك الصلاة، وهكذا قوله صلى الله عليه وسلم فيما صح في صحيح مسلم: «بين الرجل وبين الشرك والكفر ترك الصلاة»، وقوله صلى الله عليه وسلم: «العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة فمن تركها فقد كفر»، هذه من أدلة تكفيره الكفر الأكبر.
- مسألة (27): ما معنى حديث: «من فاتته العصر فكأنما وتر أهله وماله»؟.
الجواب: «من فاتته العصر» أي: ما أداها في الوقت، شُغِلَ عنها، أو نام عنها وما أشبه ذلك، «فكأنما وتر أهله وماله» يعني: سُلِبَ أهله وماله، يعني: مصيبة عظيمة إذا فاتته في وقتها وما تعمد تركها.
- مسألة (28): ما الحالات التي يكون فيها سجود السهو قبل السلام وبعده؟.
الجواب: سجود السهو قبل السلام في جميع الأحوال إلا في حالتين:
1) إذا سلم عن نقص ركعة فأكثر، فالأفضل بعد السلام؛ لحديث ذي اليدين رضي الله عنه.
2) إذا بنى على غالب ظنه؛ لقوله صلى الله عليه وسلم في حديث ابن مسعود رضي الله عنه: «إذا شك أحدكم في صلاته فليتحر الصواب فليتم عمله، ثم ليسلم، ثم ليسجد سجدتين»، فجعل السجود بعد السلام، هذا هو الأفضل، وما عداها قبل السلام.
- مسألة (29): عند الانحطاط للسجود أيهما يقدم اليدين أم الرجلين؟.
الجواب: المقدَّمَة الرجلين والركبتين هذا الأفضل، وهذه السنة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا يبرك أحدكم كما يبرك البعير»، والبعير يقدم يديه، إلا إذا كان عاجزاً -مثلي وأشباهي- فيقدم اليدين، والله جل وعلا يقول: {فَاتَّقُوا اللهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16].
- مسألة (30): إذا ترك المأموم شيئاً من الواجبات سهواً، فما الحكم؟.
الجواب: إذا كان مع الإمام من أول الصلاة فهو تبع لإمامه ما عليه شيء، وإذا سهى مع إمامه إذا كان مسبوقاً، أو سهى في قضاءه يسجد للسهو إذا قضى ما عليه.
মাসআলা (২৩): কিছু লোক ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ছেড়ে ঘুমিয়ে থাকে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করে যে: «ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত», এ বিষয়ে আপনার নির্দেশনা কী?
উত্তর: এটি তখন প্রযোজ্য যখন সে অবহেলা না করে। আর যদি সে অবহেলা করে, যেমন ঘড়ি ঠিক না করে কিংবা তার পরিবারকে তাকে জাগিয়ে দেওয়ার জন্য বলে না রাখে, তবে সে পাপিষ্ঠ হবে; কারণ সে আল্লাহ তার ওপর যা ওয়াজিব (واجب) করেছেন তা পালনে অবহেলা করেছে।
- মাসআলা (২৪): জলসায়ে ইস্তিরাহাত বা বিরতির বৈঠকের বিধান কী?
উত্তর: এটি মুস্তাহাব (مستحبة); কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি করেছেন। তবে কোনো কোনো আলিম বলেছেন যে, এটি মুস্তাহাব (مস্তحبة) নয়; কারণ সম্ভবত তিনি শরীরের ভার বা ক্লান্তির কারণে এটি করেছিলেন। কিন্তু অধিকতর সঠিক ও নিকটতর মত হলো এটি মুস্তাহাব (مستحبة), তবে এটি ওয়াজিব (واجبة) নয়; কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কখনো এটি ছেড়েও দিতেন।
- মাসআলা (২৫): ইমাম যদি বিরতির বৈঠক না করেন, তবে কি মুক্তাদি তা করবেন?
উত্তর: মুক্তাদি বিরতির বৈঠক করবেন যদিও তার ইমাম তা না করেন। এটি ঠিক তেমনই যেমন সে হাত উত্তোলন করে যদিও ইমাম ইহরামের সময়, রুকুতে যাওয়ার সময় কিংবা প্রথম তাশাহহুদ থেকে দাঁড়ানোর সময় হাত উত্তোলন না করেন।
- মাসআলা (২৬): এই হাদিসের অর্থ কী: «যে ব্যক্তি আসরের সালাত ছেড়ে দিল, তার আমল বিনষ্ট হয়ে গেল»?
উত্তর: এটি বুখারি তার সহিহ-তে বর্ণনা করেছেন। এটি তার কুফর (كفر)-এর ওপর প্রমাণ বহন করে; কারণ কুফর (كفر)-এর মাধ্যমেই আমলসমূহ বিনষ্ট হয়। যেমন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-এর বাণী: {আর তারা যদি শিরক করত, তবে তারা যা আমল করত তা অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যেত} [সূরা আল-আনআম: ৮৮]। যারা সালাত ত্যাগকারীকে কাফির বলার পক্ষপাতি এটি তাদের অন্যতম দলিল। একইভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী যা সহিহ মুসলিম-এ সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে: «ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফর (كفر)-এর মাঝে পার্থক্য হলো সালাত ত্যাগ করা», এবং তাঁর অন্য বাণী: «আমাদের ও তাদের মাঝে যে অঙ্গীকার রয়েছে তা হলো সালাত, সুতরাং যে ব্যক্তি তা ত্যাগ করল সে কুফর (كفر) করল»; এগুলো তাকে বড় কুফর (الكفر الأكبر)-এর অন্তর্ভুক্ত করার দলিল।
- মাসআলা (২৭): এই হাদিসের অর্থ কী: «যার আসরের সালাত ফউত হয়ে গেল, সে যেন তার পরিবার ও ধন-সম্পদ হারিয়ে ফেলল»?
উত্তর: «যার আসরের সালাত ফউত হয়ে গেল» অর্থাৎ: যে ব্যক্তি তা ওয়াক্তের মধ্যে আদায় করল না, অন্য কাজে ব্যস্ত থাকল অথবা ঘুমিয়ে থাকল বা এই জাতীয় কিছু। «সে যেন তার পরিবার ও ধন-সম্পদ হারিয়ে ফেলল» অর্থাৎ: সে যেন তার পরিবার ও ধন-সম্পদ থেকে বঞ্চিত হলো। এর অর্থ হলো, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ না করা সত্ত্বেও ওয়াক্তের মধ্যে সালাত আদায় করতে না পারে, তবে সেটি একটি মহা বিপদ।
- মাসআলা (২৮): কোন কোন অবস্থায় সালামের আগে ও পরে সহু (سهو) সিজদা দিতে হয়?
উত্তর: দুই অবস্থা ব্যতীত বাকি সব ক্ষেত্রে সালামের আগে সহু (سهو) সিজদা দিতে হয়:
১) যদি এক রাকাত বা তার বেশি কম করে সালাম ফিরিয়ে দেয়, তবে সালামের পরে সিজদা দেওয়া উত্তম; যুুল ইয়াদাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসের কারণে।
২) যদি প্রবল ধারণার ওপর ভিত্তি করে সালাত শেষ করে; কারণ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন তার সালাতে সন্দেহে পতিত হয়, সে যেন সঠিকটা অনুসন্ধান করে তার ওপর ভিত্তি করে সালাত পূর্ণ করে, এরপর সালাম ফেরায় এবং তারপর দুটি সিজদা দেয়»; এখানে তিনি সালামের পরে সিজদা নির্ধারণ করেছেন, এটিই উত্তম। আর এগুলো ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে সালামের আগে সিজদা দিতে হয়।
- মাসআলা (২৯): সিজদায় যাওয়ার সময় হাত নাকি পা—কোনটি আগে রাখতে হবে?
উত্তর: পা ও হাঁটু আগে রাখা উত্তম এবং এটিই সুন্নাহ (سنة); কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন উটের মতো না বসে», আর উট তার সামনের পা আগে রাখে। তবে যদি কেউ অক্ষম হয়—যেমন আমি বা আমার মতো ব্যক্তিবর্গ—তবে সে হাত আগে রাখবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো} [সূরা আত-তাগাবুন: ১৬]।
- মাসআলা (৩০): যদি মুক্তাদি ভুলবশত কোনো ওয়াজিব (واجب) কাজ ছেড়ে দেয়, তবে তার বিধান কী?
উত্তর: যদি সে সালাতের শুরু থেকে ইমামের সাথে থাকে, তবে সে তার ইমামের অনুগামী হবে এবং তার ওপর কিছু নেই। আর যদি সে মাসবুক হওয়া অবস্থায় ইমামের সাথে ভুল করে, অথবা নিজের বাকি সালাত আদায়ের সময় ভুল করে, তবে সে তার সালাত পূর্ণ করার পর সহু (سهو) সিজদা দেবে।