(খণ্ড: ১) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: -)
فلسطين حتى لا تكون أندلسا أخرى   (راغب السرجاني)

القسم: التاريخ


الكتاب: فلسطين حتى لا تكون أندلسا أخرى

المؤلف: راغب السرجاني

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

ফিলিস্তিন: যাতে এটি আরেকটি আন্দালুস না হয়   (রাগিব আল-সারজানি)

বিভাগ: ইতিহাস


গ্রন্থ: ফিলিস্তিন: যাতে এটি আরেকটি আন্দালুস না হয়

লেখক: রাগিব আল-সারজানি

গ্রন্থের উৎস: ইসলাম ওয়েব পোর্টাল কর্তৃক অনুলিপিকৃত অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে، এবং খণ্ড সংখ্যাটি হলো পাঠ নম্বর - ১০টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২ হিজরি

(খণ্ড: ١) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ١)
سلسلة فلسطين_‌‌المؤامرة

مؤامرات أعداء الله على الإسلام وأهله كثيرة، وكل مؤامرة لها خطورتها على المسلمين، لكن أشد هذه المؤامرات خطورة على الإسلام وأهله المؤامرة الفكرية ثم المؤامرة الأخلاقية، فإن تأثر المسلمين بأفكار الغرب وأخلاقه أحد أسباب انهزام المسلمين نفسياً واجتماعياً وسياسياً واقتصادياً، فلابد من تصحيح المفهوم الإسلامي وحل قضايانا بسرعة قبل الزيادة في الألم، واستفحال سيطرة الكفر وأهله علينا.
ফিলিস্তিন সিরিজ_‌‌ষড়যন্ত্র

ইসলাম ও এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে আল্লাহর শত্রুদের ষড়যন্ত্র বহুবিধ, এবং প্রতিটি ষড়যন্ত্রই মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর জন্য এসব ষড়যন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্র এবং এরপর নৈতিক ষড়যন্ত্র। কেননা পাশ্চাত্য চিন্তাধারা ও বিজাতীয় চরিত্রের প্রভাবই মুসলমানদের মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরাজয়ের অন্যতম কারণ। অতএব, যাতনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আগে এবং আমাদের ওপর কুফর ও কাফিরদের আধিপত্য চরম রূপ ধারণ করার পূর্বেই ইসলামি ভাবধারা বা ধারণার সংশোধন এবং আমাদের জাতীয় সংকটগুলোর দ্রুত সমাধান করা অপরিহার্য।
(খণ্ড: ١) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٢)
‌‌علاقة احتلال فلسطين باحتلال الأندلس

أعوذ بالله من الشيطان الرجيم.

بسم الله الرحمن الرحيم.

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، إنه من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

اللهم أصلح لنا ديننا الذي هو عصمة أمرنا، وأصلح لنا دنيانا التي فيها معاشنا، وأصلح لنا آخرتنا التي إليها معادنا، واجعل الحياة زيادة لنا في كل خير، واجعل الموت راحة لنا من كل شر، اللهم إنا نسألك الجنة وما قرب إليها من قول أو عمل، ونعوذ بك من النار وما قرب إليها من قول أو عمل.

وصل اللهم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

أما بعد: فإنه في يوم 2/ربيع الأول/ 897هـ الموافق 2/ 1/1492م، وقع أبو عبد الله محمد الصغير آخر ملوك الأندلس من المسلمين معاهدة الاستسلام، وذلك بعد قتل انتفاضة المسلمين التي قامت في ربوع غرناطة آخر معاقل المسلمين في الأندلس، وخرج أبو عبد الله الصغير من مدينة غرناطة، ووقف على تل من التلال القريبة من قصر الحمراء -قصر الحكم في غرناطة- وهو يبكي وينتحب، قالت له أمه عائشة الحرة: أجل! فلتبك كالنساء ملكاً لم تستطع أن تدافع عنه كالرجال.

وخرج المسلمون بذلك خروجاً نهائياً من الأندلس بعد أن حكمت بالإسلام ثمانية قرون، غير أن الأيام تحمل معها مفاجآت كثيرة، فتلك البلاد التي حكمت بالإسلام هذه المدة الطويلة لا يعيش فيها الآن من المسلمين إلا حوالي مائة ألف مسلم فقط، وهي بذلك تكون من أقل دول العالم احتضاناً للمسلمين، وهو درس لا بد أن يفقهه المسلمون.

وكأني ألحظ في وجوه الحاضرين دهشة وتساؤلات، أشعر أن الزملاء يقولون: يا دكتور! أنت نسيت مجموعة المحاضرات الخاصة بفلسطين وإلا ماذا؟ ما هي حكاية الكلام عن الأندلس؟ أبداً والله لم أنس، ولن أنسى قضية فلسطين، ولكن العلاقة وثيقة جداً بين قضية فلسطين الحالية وبين الأندلس الماضية.

من جديد ألحظ دهشة في العيون تظهر -سبحان الله- مع تباعد الزمان، وتباعد المكان، فإن العلاقة وثيقة بين الأندلس وبين فلسطين!! نعم، وثيقة وسنرى الرباط بينهما بعد قليل.

ملحوظة في غاية الأهمية لتاريخ الأندلس، لماذا لم يعد للإسلام ذكر في هذه البلاد إلا من آثار قديمة، وبعض المساجد التي حولت إلى كنائس، بينما احتلت بلاد إسلامية كثيرة غير بلاد الأندلس، ومع ذلك لم يخرج منها الإسلام، احتلت مصر والجزائر وسوريا والسودان وليبيا والعراق، ومعظم بلاد العالم الإسلامي، لكن البلاد ما زالت مسلمة بعد الاحتلال الطويل، أما أسبانيا فالوضع فيها مختلف، لماذا؟ ذلك أن الاحتلال الأسباني للممالك الإسلامية في الأندلس كان احتلالاً استيطانياً إحلالياً سرطانياً، بمعنى: أن الأسبان ما كانوا يدخلون مدينة إسلامية إلا ويقتلون أهلها جميعاً، مذابح جماعية في كل مكان، أو يطردونهم خارج البلاد، وهكذا مع الوقت يتحول سكان البلد المسلمون إلى شهداء أو لاجئين، ثم يأتون بالأسبان من كل مكان يستوطنون هذه البلاد، وهكذا مع مرور الوقت أصبح سكان الأندلس كلهم من الأسبان، وليسوا من المسلمين، واختفى المسلمون بالكلية من ساحة الأندلس.

يا ترى كيف كان حال المسلمين حول بلاد الأندلس في البلاد المجاورة في تونس، في الجزائر، في المغرب، في مصر، في الشام؟ كيف كان حال المسلمين وقت سقوط الأندلس؟ كان المسلمون في فرقة شديدة وضعف، ولاشك أنهم فكروا مع هذا الضعف في استعادة بلاد الأندلس، ولكنهم لم يستطيعوا هذا؛ لضعف قوتهم، ومن المؤكد أن اللاجئين الذين خرجوا من بلاد الأندلس بعد السقوط فكروا يوماً ما في العودة، ولكن لم يستطيعوا؛ لضعف إمكانياتهم وقلة حيلتهم، وهكذا مر شهر وشهران، وعام وعامان، وقرن وقرنان، بل خمسة قرون، وضاعت الأندلس -أسبانيا والبرتغال- من ذاكرة المسلمين.

من من المسلمين الآن يفكر في استعادة بلاد الأندلس؟ الأندلس الآن عبارة عن دولتين، تربطهما مع كل بلاد المسلمين علاقات حميمة، كان المؤرخون قديماً عندما يتحدثون عن الأندلس بعد سقوطها يقولون: أعادها الله للمسلمين، كما يتحدث مؤرخ فيقول: فتح طارق بن زياد رحمه الله بلاد الأندلس -أعادها الله للمسلمين- في سنة 92هـ؛ ذلك لأنها كانت دائماً في الذاكرة، أما مع تقادم العهد فقد اختفت كلمة: أعادها الله للمسلمين، اختفت من أفواه المؤرخين.

انظروا إلى زيارة قام بها سفير مغربي للأندلس بعد سقوطها بأكثر من مائة عام، هذا السفير اسمه الغزال الفاسي رحمه الله، سفير سلطان المغرب إلى ملك أسبانيا كارلوس الثالث، زار في هذه السفارة مسجد قرطبة الجامع العظيم، فقال عنه: وهو من أعظم مساجد الدنيا في الطول والعرض والعلو، ومنذ عبرنا هذا المسجد لم تفتر لنا عبرة مما شهدنا من عظمته، وتذكرنا ما كان عليه في عهد الإسلام، وما قرئ فيه من العلوم وتليت فيه من الآيات، وأقيمت به من الصلوات، وقد تخيل في الفكر أن حيطان
ফিলিস্তিন দখলের সাথে আন্দালুস দখলের সম্পর্ক

আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট হিদায়াত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের দ্বীনকে সংশোধন করে দিন, যা আমাদের যাবতীয় বিষয়ের রক্ষাকবচ। আমাদের জন্য আমাদের দুনিয়াকে সংশোধন করে দিন, যেখানে আমাদের জীবনোপকরণ রয়েছে। আমাদের জন্য আমাদের আখিরাতকে সংশোধন করে দিন, যেখানে আমাদের ফিরে যেতে হবে। আমাদের জীবনকে প্রতিটি কল্যাণে বৃদ্ধির মাধ্যম বানিয়ে দিন এবং মৃত্যুকে আমাদের জন্য সকল অনিষ্ট থেকে বিশ্রামের উপায় করে দিন। হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট জান্নাত এবং এমন কথা ও কাজ প্রার্থনা করছি যা জান্নাতের নিকটবর্তী করে দেয়; আর আমরা জাহান্নাম এবং এমন কথা ও কাজ থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাই যা জাহান্নামের নিকটবর্তী করে দেয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর: ২রা রবিউল আউয়াল ৮৯৭ হিজরি মোতাবেক ২রা জানুয়ারি ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দে, আন্দালুসের মুসলিমদের শেষ সম্রাট আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আস-সাগির আত্মসমর্পণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এটি ছিল আন্দালুসে মুসলিমদের সর্বশেষ দুর্গ গ্রানাডার সর্বত্র গড়ে ওঠা মুসলিম গণঅভ্যুত্থান দমনের পরবর্তী ঘটনা। আবু আবদুল্লাহ আস-সাগির গ্রানাডা শহর থেকে বের হয়ে আল-হামরা প্রাসাদের (গ্রানাডার শাসনকেন্দ্র) নিকটবর্তী একটি পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। তখন তাঁর মা আয়েশা আল-হুররা তাকে বলেছিলেন: "ঠিকই তো! তুমি এখন নারীর মতো সেই রাজত্বের জন্য কাঁদো, যা পুরুষের মতো রক্ষা করতে তুমি সক্ষম হওনি।"

এর মাধ্যমে দীর্ঘ আট শতাব্দীকাল ইসলামি শাসনের পর আন্দালুস থেকে মুসলিমদের চূড়ান্ত বহির্গমন ঘটে। তবে দিনগুলো তার সাথে অনেক বিস্ময় বয়ে আনে; যে ভূখণ্ড এত দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামি শাসনের অধীন ছিল, সেখানে বর্তমানে মাত্র প্রায় এক লক্ষ মুসলিম বসবাস করে। এর মাধ্যমে দেশটি মুসলিমদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। এটি এমন এক শিক্ষা যা মুসলিমদের অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে।

উপস্থিত সুধীবৃন্দের চোখেমুখে আমি বিস্ময় এবং জিজ্ঞাসা লক্ষ্য করছি। আমার মনে হচ্ছে আপনারা বলছেন: "হে ডক্টর! আপনি কি ফিলিস্তিন বিষয়ক বক্তৃতামালার কথা ভুলে গেছেন নাকি অন্য কিছু? আন্দালুসের আলোচনার এখানে কী প্রাসঙ্গিকতা?" আল্লাহর কসম, আমি ফিলিস্তিন ইস্যু ভুলে যাইনি এবং কোনোদিন ভুলবও না; তবে বর্তমান ফিলিস্তিন সংকটের সাথে অতীত আন্দালুসের অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

সুবহানাল্লাহ! সময় এবং স্থানের সুদূর ব্যবধান সত্ত্বেও আমি আপনাদের চোখে পুনরায় বিস্ময় লক্ষ্য করছি। আন্দালুস এবং ফিলিস্তিনের মধ্যে কি সত্যিই নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে? হ্যাঁ, অবশ্যই গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং অল্পক্ষণ পরেই আমরা তাদের মধ্যকার সেই যোগসূত্রটি দেখতে পাব।

আন্দালুসের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো—কেন প্রাচীন স্থাপত্য আর গির্জায় রূপান্তরিত কিছু মসজিদ ছাড়া এই ভূখণ্ডে ইসলামের আর কোনো নামনিশানা অবশিষ্ট থাকল না? অথচ আন্দালুস ছাড়াও আরও অনেক মুসলিম ভূখণ্ড অধিকৃত হয়েছিল, কিন্তু সেখান থেকে ইসলাম বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। মিসর, আলজেরিয়া, সিরিয়া, সুদান, লিবিয়া, ইরাকসহ মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশই অধিকৃত হয়েছিল, কিন্তু দীর্ঘ দখলদারিত্বের পরও দেশগুলো এখনও মুসলিম হিসেবেই টিকে আছে। তবে স্পেনের পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেন? কারণ আন্দালুসের মুসলিম রাজ্যগুলোতে স্প্যানিশদের দখলদারিত্ব ছিল মূলত বসতি স্থাপনকারী, উচ্ছেদকারী এবং ক্যান্সার সদৃশ দখলদারিত্ব। এর অর্থ হলো: স্প্যানিশরা যখনই কোনো মুসলিম শহরে প্রবেশ করত, তারা সেখানকার সকল অধিবাসীকে হত্যা করত—সর্বত্রই গণহত্যাকাণ্ড চালানো হতো অথবা তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করত। এভাবে সময়ের সাথে সাথে মুসলিম জনপদের বাসিন্দারা হয় শহীদ, নয়তো উদ্বাস্তুতে পরিণত হতো। এরপর তারা বিভিন্ন স্থান থেকে স্প্যানিশদের নিয়ে এসে এই ভূখণ্ডে পুনর্বাসন করত। এভাবেই সময়ের পরিক্রমায় আন্দালুসের সমগ্র জনগোষ্ঠী স্প্যানিশে রূপান্তরিত হয় এবং তারা আর মুসলিম থাকে না। ফলে আন্দালুসের দৃশ্যপট থেকে মুসলিমরা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, আন্দালুসের পতনের সময় তার পার্শ্ববর্তী তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, মিসর ও শামের মুসলিমদের অবস্থা কেমন ছিল? সেই সময় মুসলিমরা চরম বিভক্তি ও দুর্বলতার মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। নিঃসন্দেহে এই দুর্বলতা সত্ত্বেও তারা আন্দালুস পুনরুদ্ধারের চিন্তা করেছিল, কিন্তু শক্তির অভাবে তারা তা করতে সক্ষম হয়নি। আর পতনের পর আন্দালুস থেকে যারা উদ্বাস্তু হয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল, তারা নিশ্চয়ই কোনো একদিন ফিরে আসার কথা ভেবেছিল; কিন্তু সামর্থ্য ও কৌশলের অভাবে তারা তা পেরে ওঠেনি। এভাবে এক মাস, দুই মাস, এক বছর, দুই বছর, এক শতাব্দী, দুই শতাব্দী—এমনকি পাঁচ শতাব্দী পেরিয়ে গেল এবং মুসলিমদের স্মৃতিপট থেকে আন্দালুস (স্পেন ও পর্তুগাল) হারিয়ে গেল।

বর্তমান সময়ে কোন মুসলিম আন্দালুস পুনরুদ্ধারের কথা চিন্তা করে? আন্দালুস এখন দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত, যাদের সাথে বর্তমানে সকল মুসলিম দেশের সুসম্পর্ক বিদ্যমান। প্রাচীনকালের ঐতিহাসিকরা যখন পতনের পর আন্দালুস নিয়ে কথা বলতেন, তখন তারা বলতেন: "আল্লাহ যেন এটিকে আবারও মুসলিমদের ফিরিয়ে দেন।" যেমন কোনো ঐতিহাসিক বলতেন: "তারেক বিন জিয়াদ (রহ.) ৯২ হিজরিতে আন্দালুস জয় করেন—আল্লাহ এটিকে মুসলিমদের ফিরিয়ে দিন।" কারণ এটি তখন সবসময় তাদের স্মৃতিতে সজীব ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার ফলে ঐতিহাসিকদের মুখ থেকে "আল্লাহ এটিকে মুসলিমদের ফিরিয়ে দিন" এই বাক্যটি আজ হারিয়ে গেছে।

পতনের একশ বছরেরও বেশি সময় পর এক মরক্কান রাষ্ট্রদূতের আন্দালুস সফরের বিষয়টি লক্ষ্য করুন। এই রাষ্ট্রদূতের নাম ছিল আল-গাজাল আল-ফাসি (রহ.)। তিনি ছিলেন মরক্কোর সুলতানের পক্ষ থেকে স্পেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে প্রেরিত রাষ্ট্রদূত। এই সফরের সময় তিনি কর্ডোভার সেই মহান জামে মসজিদটি পরিদর্শন করেন। তিনি এটি সম্পর্কে বলেছিলেন: "এটি দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতায় পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মসজিদ। যখনই আমরা এই মসজিদে প্রবেশ করলাম, এর মহিমা দেখে আমাদের অশ্রু সংবরণ করা সম্ভব হলো না। আমাদের মনে পড়ে গেল ইসলামি যুগে এর অবস্থা কেমন ছিল, এখানে কীরূপ জ্ঞানচর্চা করা হতো, কোরআনের আয়াত তিলাওয়াত করা হতো এবং সালাত কায়েম করা হতো। আমার মনে তখন এই কল্পনা ভেসে আসছিল যে, মসজিদের দেয়ালগুলো..."
(খণ্ড: ١) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌تباين الآراء في كيفية حل قضية فلسطين

عندما تسأل المفكرين من أبناء الأمة المخلصين، أو تسأل عموم الناس، تكون الإجابات متباينة ومختلفة، وكثير منها جميل ورائع.

هناك من يقول: إن الجهاد هو الحل الوحيد، وعلى الفلسطينيين أن يستمروا في مقاومتهم، وعلى الحكومات الإسلامية في مشارق الأرض ومغاربها أن تفتح الأبواب لجهاد اليهود.

وهناك من يقول: على العرب أن يتحدوا جميعاً في كلمتهم، ويقفوا أمام اليهود وقفة واحدة في مفاوضة واحدة، بدلاً من التشرذم في لقاءات متفرقة.

وهناك من يقول: على السلطة الفلسطينية أن تضع يدها في يد الفصائل المختلفة داخل فلسطين، وأن يتعاونوا على طرد اليهود بدلاً من تركيز السلطة على تحجيم قوة المقاومين للاحتلال.

هناك من يقول: لا بد من وقف التطبيع، وقطع العلاقات مع اليهود سواء كانت علاقات سياسية أو اقتصادية أو أمنية أو ثقافية أو غيرها من العلاقات.

هناك من يقول: لا بد من الضغط على مصالح الدول الغربية، وتوحيد الكلمة في اجتماعات الأمم المتحدة، والمحافل الدولية وغير ذلك.

هناك من يقول: لا بد من تمويل المقاومة الفلسطينية بالسلاح الحقيقي، بدلاً من الحجارة؛ ليستكملوا جهدهم بصورة أكبر وأشد.

هناك من يقول: لا بد من السعي لمحاكمة شارون كمجرم حرب، وفتح ملفات صبرا وشاتيلا، وهذا جميل، ولكن هذا يوحي بأن من كان قبله كانوا من الملائكة، سواء باراك أو نتنياهو أو رابين أو بيجن أو جلدا مائير أو غيرهم، كما نسي الناس أن شارون انتخب من عموم اليهود بأعلى نسبة إجماع من سنوات.

حلول كثيرة جداً يذكرها المفكرون، ويشعر بها عموم الناس، لكن سبحان الله!! جميع هذه الحلول تتفق في شيء واحد، تتفق في أنه ليس في مقدور الشعوب أن تقوم بها، أنا لا أخاطب الحكومات والهيئات الرسمية في هذه المجموعة من المحاضرات، أنا أخاطب عموم المسلمين الغيورين على القضية، أخاطب الدكتور، والمهندس، والمحامي، ورجل الأعمال، أخاطب النجار، والحداد، والسواق، والحلاق، وأستاذ الجامعة، كما أخاطب الرجل البسيط الذي لا يحسن القراءة والكتابة، ولكن يتألم لفلسطين، أخاطب عموم الناس الذين ليس في أيديهم قرار تسيير الجيوش، ولا قطع العلاقات، ولا غلق السفارات، ولا وقف التطبيع، ولا محاكمة شارون، ولا وحدة قادة المسلمين.

الرجل البسيط العادي الذي لا ينتمي إلى حزب من الأحزاب ولا إلى هيئة من الهيئات، ماذا يفعل لفلسطين؟ بمعنى مختصر ما هو دوري ودورك في قضية فلسطين؟ فمن أجل أن تنام في الليل مستريحاً تقول: يا رب! تألمت لما يحدث هناك، ففعلت ما في وسعي، ترى ما هو وسعك؟ وما هي طاقتك؟ هذا ما نحاول الإجابة عليه في هذه السلسلة من المحاضرات إن شاء الله.

مع ملاحظة أن الخطاب لأهل فلسطين سيكون مختلفاً بالكلية هذا الخطاب الذي أتحدث به الآن هو لمن لا يملك أن يجاهد في هذه الأراضي المقدسة، وإلا فلا شيء يعدل الجهاد ضد اليهود.
ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানের পন্থায় মতভেদ

আপনি যখন উম্মাহর একনিষ্ঠ চিন্তাবিদদের অথবা সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞাসা করেন, তখন উত্তরগুলো ভিন্ন ভিন্ন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়; যার অনেকগুলোই চমৎকার ও সুন্দর।

কেউ কেউ বলেন: জিহাদই একমাত্র সমাধান; ফিলিস্তিনিদের উচিত তাদের প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা এবং পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের ইসলামি সরকারগুলোর উচিত ইহুদিদের বিরুদ্ধে জিহাদের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া।

কেউ কেউ বলেন: আরবদের উচিত তাদের বক্তব্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন বৈঠকে মিলিত না হয়ে ইহুদিদের সামনে একক অবস্থানে দাঁড়িয়ে সম্মিলিতভাবে আলোচনার টেবিলে বসা।

কেউ কেউ বলেন: ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের উচিত ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন উপদলের সাথে হাত মেলানো এবং দখলদারিত্বের প্রতিরোধকারীদের শক্তি দমনের দিকে মনোযোগ না দিয়ে বরং ইহুদিদের বিতাড়িত করতে একে অপরকে সহযোগিতা করা।

কেউ কেউ বলেন: আবশ্যিকভাবে স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে এবং ইহুদিদের সাথে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক বা অন্য যেকোনো ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।

কেউ কেউ বলেন: পশ্চিমা দেশগুলোর স্বার্থে আঘাত হানার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে হবে এবং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

কেউ কেউ বলেন: পাথরের পরিবর্তে প্রকৃত অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে; যাতে তারা আরও বৃহত্তর ও কঠোরভাবে তাদের প্রচেষ্টা পূর্ণ করতে পারে।

কেউ কেউ বলেন: শ্যারনকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করতে হবে এবং সাবরা ও শাতিলা ফাইল পুনরায় উন্মুক্ত করতে হবে। এটি চমৎকার প্রস্তাব, তবে এটি এমন ধারণা দেয় যে তার পূর্বসূরিরা—সে বারাক, নেতানিয়াহু, রবিন, বেগিন বা গোল্ডা মেয়ার যাই হোক না কেন—সবাই যেন ফেরেশতা ছিলেন। অথচ মানুষ ভুলে গেছে যে, শ্যারন ইহুদিদের দীর্ঘ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

চিন্তাবিদগণ বহু সমাধানের কথা বলেন এবং সাধারণ মানুষও তা অনুভব করে, কিন্তু মহিমাময় আল্লাহর মহিমা! এই সকল সমাধানের একটি বিষয়ে মিল রয়েছে—তা হলো, সাধারণ জনগণের পক্ষে এগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমি এই ধারাবাহিক আলোচনায় কোনো সরকার বা সরকারি সংস্থাকে সম্বোধন করছি না; আমি সম্বোধন করছি ফিলিস্তিন ইস্যুতে ব্যথিত সাধারণ মুসলমানদের। আমি সম্বোধন করছি ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, সূত্রধর, কামার, চালক, নাপিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সেই সাধারণ মানুষকেও, যিনি পড়তে বা লিখতে জানেন না কিন্তু ফিলিস্তিনের জন্য ব্যথিত হন। আমি সেই সব সাধারণ মানুষকে সম্বোধন করছি, যাদের হাতে সেনাবাহিনী পরিচালনা, সম্পর্কচ্ছেদ, দূতাবাস বন্ধ করা, স্বাভাবিকীকরণ বন্ধ করা বা শ্যারনের বিচারের মতো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নেই।

কোনো রাজনৈতিক দল বা সংস্থার অন্তর্ভুক্ত নয় এমন একজন সাধারণ মানুষ ফিলিস্তিনের জন্য কী করতে পারে? সংক্ষেপে, ফিলিস্তিন ইস্যুতে আমার ও আপনার ভূমিকা কী? যাতে আপনি রাতে শান্তিতে ঘুমানোর সময় বলতে পারেন: হে প্রতিপালক! সেখানে যা ঘটছে তাতে আমি ব্যথিত হয়েছিলাম এবং আমার সাধ্যমতো আমি চেষ্টা করেছি। আপনার সাধ্য কতটুকু? আর আপনার সামর্থ্য কী? এই লেকচার সিরিজে আমরা ইনশাআল্লাহ সেই উত্তরগুলোই দেওয়ার চেষ্টা করব।

উল্লেখ্য যে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সম্বোধন হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমি এখন যাদের সাথে কথা বলছি, তারা হলো সেই সব লোক যাদের পবিত্র ভূমিতে জিহাদ করার সামর্থ্য নেই; অন্যথায় ইহুদিদের বিরুদ্ধে জিহাদের সমতুল্য আর কিছুই নেই।
(খণ্ড: ١) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌دراسة المؤامرة الضخمة على الإسلام وأهله

إذا أردنا أن نتحدث عن دور المسلمين عموماً في حل قضية فلسطين حلاً على سنة الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، فلا بد من دراسة المؤامرة الضخمة الكبيرة المرتبة والخطيرة التي تدبر للإسلام وأهله، وتدبر بالتبعية لفلسطين، مؤامرة ذات جذور قديمة وطرق عديدة، وهي ذات المؤامرة التي حيكت للمسلمين على مدار العصور، منذ بعثة رسول الله صلى الله عليه وسلم وإلى الآن وحتى يوم القيامة، وعلى المسلمين أن ينتبهوا قبل أن أشير إلى هذه المؤامرة، أود فقط أن أشير إلى أنه ليس كل ما يصيب المسلمين يكون ناتجاً بالإجمال عن مؤامرة، فكثيراً ما يصاب المسلمون نتيجة تقصيرهم وإهمالهم لواجباتهم، فهي أشياء تكون مدبرة، لكن لضعف المسلمين تفلح هذه التدبيرات في إتيان مفعولها.

مثلاً رجل يضيع صلاة الفجر كل يوم، نعم هناك جزء من المؤامرة أن يسهر حتى الساعة الثانية أو الثالثة، ثم ينام قرب الفجر فيضيع صلاة الفجر، فهو ولا شك في ذلك مخطئ، وعليه جانب كبير من التقصير، لكن ليست هي المؤامرة وحدها، مع أنني أعتقد أنه من الصعب جداً أن تفلح مؤامرة في دحر المسلمين أو هزيمتهم، إلا إذا كان المسلمون ضعفاء، نعم، لا ينصر الكافرون على المسلمين إلا بضعف المسلمين، وسيأتي إن شاء الله تفصيل لذلك في نهاية المحاضرات، لكن هذا لا يمنع من دراسة المؤامرة التي دبرها أعداء المسلمين بعناية، ولا بد للمسلمين أن يحذروا، هذه المؤامرة متنوعة ومتعددة، مؤامرة في كل المجالات، وهي مع ذلك متزامنة.

مؤامرة على سبيل المثال سياسية عن طريق المفاوضات، والسفارات، والأحلاف، والهيئات، والقرارات، هناك مؤامرة عسكرية عن طريق الجيوش والصواريخ والطائرات والبوارج وإف16 وأباتشي وغيرها، مؤامرة اقتصادية عن طريق الحصار الاقتصادي وفرض القيود الاقتصادية، وتحديد سلع معينة للإنتاج، وتبوير الأراضي، مؤامرة تفريقية يفرقون فيها بين أقطار المسلمين عن طريق مؤامرات بين الشعوب، فلا تجد بلداً إلا وتختلف مع جارتها على الحدود والأفكار، مؤامرة أخلاقية عن طريق تمييع أخلاق المسلمين بالإعلام والدش والإنترنت والتلفزيون والصحف الصفراء والخضراء والبيضاء، كل أنواع الصحف، مؤامرة فكرية عن طريق تغيير أفكار المسلمين، وتبديل المعايير الصحيحة، وقلب الموازين العادلة، كل هذه المؤامرات مجتمعة وتجري في وقت واحد متزامن، وكل هذه المؤامرات خطيرة وقاتلة.
ইসলাম এবং এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত বিশাল ষড়যন্ত্রের পর্যালোচনা

যদি আমরা ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ অনুযায়ী মুসলমানদের সামগ্রিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে চাই, তবে ইসলাম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এবং পর্যায়ক্রমে ফিলিস্তিনকে ঘিরে যে বিশাল, সুশৃঙ্খল ও বিপজ্জনক ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে, তা অধ্যয়ন করা অপরিহার্য। এটি এমন এক ষড়যন্ত্র যার শিকড় অনেক গভীরে এবং যার পথ বিচিত্র। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পর থেকে বর্তমান কাল এবং কিয়ামত পর্যন্ত যুগে যুগে মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই একই ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করার আগে মুসলমানদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন যে, তাদের ওপর আপতিত সকল বিপদই সামগ্রিকভাবে কেবল ষড়যন্ত্রের ফল নয়। অনেক সময় মুসলমানরা তাদের কর্তব্য পালনে অবহেলা ও ত্রুটির কারণেও বিপদে পড়ে। এগুলো সুপরিকল্পিত বিষয় হতে পারে, কিন্তু মুসলমানদের নিজস্ব দুর্বলতার কারণেই এই পরিকল্পনাগুলো কার্যকর হতে সফল হয়।

উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি প্রতিদিন ফজরের নামায নষ্ট করে। হ্যাঁ, এটি ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ যে, সে রাত ২টা বা ৩টা পর্যন্ত জেগে থাকে এবং তারপর ফজরের কাছাকাছি সময়ে ঘুমিয়ে পড়ে, ফলে তার ফজরের নামায ছুটে যায়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সে ভুল করছে এবং এই অবহেলার বড় দায় তার নিজের। তবে কেবল ষড়যন্ত্রই এর একমাত্র কারণ নয়। যদিও আমি বিশ্বাস করি যে, মুসলমানদের দুর্বল না হওয়া পর্যন্ত কোনো ষড়যন্ত্রেরই তাদের পরাজিত বা পরাভূত করা অত্যন্ত কঠিন। হ্যাঁ, মুসলমানদের দুর্বলতা ছাড়া কাফেররা কখনোই তাদের ওপর বিজয়ী হতে পারে না। ইনশাআল্লাহ, এই আলোচনার শেষভাগে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তবে এটি মুসলমানদের শত্রুদের সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রগুলো অধ্যয়ন করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়; বরং মুসলমানদের অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। এই ষড়যন্ত্র বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময়, যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিদ্যমান এবং একই সাথে চলমান।

উদাহরণস্বরূপ, আলোচনা, দূতাবাস, বিভিন্ন জোট, সংস্থা ও প্রস্তাবনার মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে। সেনাবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, এফ-১৬, অ্যাপাচি এবং অন্যান্য মারণাস্ত্রের মাধ্যমে সামরিক ষড়যন্ত্র বিদ্যমান। অর্থনৈতিক অবরোধ, অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপ, নির্দিষ্ট কিছু পণ্য উৎপাদনে বাধ্য করা এবং কৃষিজমি অনাবাদী করার মাধ্যমে চলছে অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্র। বিভাজনমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তারা মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ফাটল ধরাচ্ছে, যার ফলে দেখা যায় প্রতিটি দেশই তার প্রতিবেশী দেশের সাথে সীমানা বা আদর্শ নিয়ে বিরোধে লিপ্ত। গণমাধ্যম, ডিশ অ্যান্টেনা, ইন্টারনেট, টেলিভিশন এবং সকল ধরণের হলুদ সংবাদপত্রের মাধ্যমে মুসলমানদের নৈতিকতা কলুষিত করার এক নৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে। মুসলমানদের চিন্তা-চেতনা পরিবর্তন, সঠিক মানদণ্ড বদলে দেওয়া এবং ন্যায়বিচারের তুলাদণ্ডকে উল্টে দেওয়ার মাধ্যমে চলছে এক বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্র। এই সকল ষড়যন্ত্র একত্রে এবং একই সময়ে পরিচালিত হচ্ছে, এবং এর প্রতিটি ষড়যন্ত্রই অত্যন্ত বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী।
(খণ্ড: ١) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌المؤامرة الأخلاقية والفكرية وخطورتهما على المجتمعات

يا ترى ما هي أخطر مؤامرة في هذه المؤامرات جميعاً؟ الواحد قد يقول: إذا لم يكن كل هذه المؤامرات خطيرة، فلماذا تحديد أي المؤامرات أخطر أو أقل خطورة مادمنا سندافع عنها جميعاً؟ لكن انظر، إذا همشت مؤامرة من المؤامرات، وقللت من قيمتها؛ ضاعت الأولويات عند المسلمين، فيصرفون الأوقات الكثيرة في رد كيد المؤامرات الضعيفة، ويتركون ما هو أشد؛ ولذلك يجب أن يبحث المسلمون عن أخطر المؤامرات، ويوجهوا إليها طاقتهم مع عدم إغفال الرد على المؤامرات الأخرى.

نرجع هكذا مرة أخرى، وكل واحد يحاول أن يختبر نفسه، أي المؤامرات أشد على المسلمين؟ أتراها المؤامرة السياسية، أم العسكرية، أم الاقتصادية، أم التفريقية بين الشعوب والأفراد، أم الأخلاقية، أم الفكرية؟ كثير من الناس من الممكن أن يختار المؤامرة العسكرية؛ لأنها تبيد أعداداً كبيرة من البشر في وقت سريع، كلنا نجعل في بالنا قصف الأباتشي، وقتل العشرات أو المئات رقم يلفت الأنظار.

وبعض الناس قد يختار المؤامرة السياسية التي تضيع الحقوق، وتضحك على الشعوب، وتقنع الشعوب أنها أخذت حقها وقد ضاع منها كل شيء.

وقد يختارون المؤامرة الاقتصادية التي تجوع الأمم وتقتل الأفراد، لكن مع خطورة هذه المؤامرات جميعاً فإن أخطرها على الإطلاق هي المؤامرة الفكرية متبوعة بالمؤامرة الأخلاقية، وأنا أعلم أن الجميع يعلم خطورة المؤامرة الأخلاقية على الأمة الإسلامية، إلا أن المؤامرة الفكرية أشد وأنكى في المسلمين، يا ترى ما هو الفرق بين المؤامرة الفكرية والمؤامرة الأخلاقية؟ وما هو الذي يجعل المؤامرة الفكرية أشد، مع كون المؤامرة الأخلاقية من أبشع الأشياء أو المؤامرات التي يمكن أن توجه إلى قلب الأمة الإسلامية؟ سأعطيكم أمثلة على ذلك: السيدة التي تخرج بلا حجاب، وعلتها في ذلك أنها ترى نفسها أجمل بدون حجاب، أو تسعى للزواج، أو لا تجد القدرة على التغيير، أو مكسوفة من صديقتها، هذه المرأة تعاني من مشكلة أخلاقية، فهي تعلم أين الحق وتتبع غيره لضعف في نفسها، بينما السيدة التي تخرج بلا حجاب؛ لأنها ترى أن الحجاب موضة قديمة كما يقولون، ولباسه رجعية وتخلف وجمود، هذه المرأة تعاني من مشكلة فكرية.

أي المشكلتين أخطر: الرجل الذي يأخذ رشوة، ويقول: آخذها لأن ظروفي صعبة، ولولا الظروف الصعبة لم أفعل ذلك.

اللهم سامحني؟ هذا الرجل يعاني من مشكلة أخلاقية، بينما الرجل الذي يقول: لا، هذه ليست رشوة، هذه إكرامية، أو هذا حق مكتسب نتيجة مجهود معين فعلته، ويبدأ في تقنين الرشوة، هذه مشكلة فكرية.

كذلك في أمور العبادات، الرجل الذي لا يصوم ويقول: والله أنا أجوع بسرعة، أو أنا لا أعرف أن أركز وأنا صائم، أو لا أستطيع أن أترك السجائر، أو أن أصحابي كلهم ليسوا بصائمين؟ فهذا رجل طبعاً عنده مشكلة أخلاقية خطيرة، لكن الرجل الذي يقول: إن الصيام هذا يقلل الإنتاج، أو إن الصيام فعل خطأ قد يؤخرنا إلى الوراء.

تستغربون هذا الكلام، لكن هذا الكلام حصل، وقاله زعيم أمة عربية، زعيم توفاه الله، كان يقول: إن الصيام يقلل الإنتاج، ويضعف من الطاقة؛ ولذلك ينصح شعبه ألا يصوم، إي والله كان يقول ذلك.

أو يقول: إن الصيام شرع لأجل الشعور بالفقراء وأنا أشعر بهم، فلماذا الصيام؟! هذا الرجل وأمثاله يعانون من مشكلة فكرية خطيرة جداً، حتى الفقهاء يقولون: إنه من ترك الصيام وهو يقدر عليه تكاسلاً فهو فاسق، أما من تركه إنكاراً له فهو كافر.

أيضاً في قضية فلسطين قد يقول شخص: أنا أعرف كل الذي يحصل في فلسطين، وبودي أن أساعد، لكنني أرى كذا وكذا من الأمور، فلن أساعدهم، وربنا غفور رحيم، هذا الرجل له دور، لكنه لا يريد أن يقوم بهذا الدور، فهذه مشكلة أخلاقية، فهو رجل لا يوجد فيه نخوة، ولا يوجد فيه شهامة أو حمية لهذا الدين، لكن هناك رجل ثانٍ يقول: ما لنا ولفلسطين، نحن نعيش في بلد وفلسطين بلد ثانٍ، فهذا الرجل الأخير يعاني من مشكلة فكرية.

إذاً المؤامرة الفكرية أعمق وأخطر من المؤامرة الأخلاقية وكلاهما خطير، المؤامرة الفكرية تقلب الباطل حقاً، وتقلب الحق باطلاً، فقد يقاتل المرء حتى الموت من أجل قضية خاطئة، ولو عبث العابثون بفكرك لضاعت حياتك وراء أهداف باطلة لا تساوي في ميزان الله ولا في ميزان الإسلام شيئاً، انظر إلى قول الله سبحانه وتعالى في كتابه الكريم: {قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا * الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا} [الكهف:103 - 104]، سبحان الله! وشخص ينشر فساداً وإباحية وفسقاً ومجوناً ويشجع أفلام العري، ويسمح بظهور النساء شبه عاريات، ثم يظن أنه يقاتل من أجل تنوير الشعوب وتحرير الفكر، ومن أجل توسيع المدارك، بل قد يضحي من أجل ذلك بوقته، وصحته، ومجهوده وماله، هؤلاء هم {الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا} [الكهف:104].

هذه مشك
নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্র এবং সমাজে এগুলোর ভয়াবহতা

আচ্ছা, এই সকল ষড়যন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ষড়যন্ত্র কোনটি হতে পারে? কেউ বলতে পারেন: যদি এই সবগুলো ষড়যন্ত্রই বিপজ্জনক হয়, তবে কোনটি সবচেয়ে বেশি বা কোনটি কম বিপজ্জনক তা চিহ্নিত করার প্রয়োজন কী, যেখানে আমাদের সবগুলোর বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে? কিন্তু লক্ষ্য করুন, আপনি যদি কোনো একটি ষড়যন্ত্রকে তুচ্ছজ্ঞান করেন এবং তার গুরুত্ব কমিয়ে দেন, তবে মুসলিমদের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলো এলোমেলো হয়ে যাবে। ফলে তারা দুর্বল ষড়যন্ত্রগুলো মোকাবিলা করতে অনেক সময় ব্যয় করে ফেলবে এবং যা অত্যন্ত প্রবল ও ভয়াবহ তা উপেক্ষা করে যাবে। তাই মুসলিমদের উচিত সবচেয়ে বিপজ্জনক ষড়যন্ত্রগুলো খুঁজে বের করা এবং সেদিকেই নিজেদের শক্তি নিয়োজিত করা, তবে অন্যান্য ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়ার বিষয়টিও অবহেলা করা যাবে না।

আমরা আবারও ফিরে আসি, এবং প্রত্যেকে নিজেকে পরখ করে দেখি যে, মুসলিমদের জন্য কোন ষড়যন্ত্রটি সবচেয়ে কঠিন? আপনি কি মনে করেন এটি রাজনৈতিক, নাকি সামরিক, নাকি অর্থনৈতিক, নাকি জাতি ও ব্যক্তিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী, নাকি নৈতিক, নাকি বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্র? অনেক মানুষ হয়তো সামরিক ষড়যন্ত্রকে বেছে নেবেন; কারণ এটি খুব দ্রুত বিপুল সংখ্যক মানুষকে বিনাশ করে দেয়। আমাদের সবার মনেই অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের গোলাবর্ষণ এবং দশ বা শত শত মানুষের নিহতের চিত্র ভেসে ওঠে, যা সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আবার কেউ কেউ হয়তো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রকে বেছে নেবেন, যা মানুষের অধিকার হরণ করে, জনগণের সাথে প্রতারণা করে এবং জনগণকে এই বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে তারা তাদের অধিকার পেয়েছে, অথচ বাস্তবে তাদের সবকিছুই হারিয়ে গেছে।

আবার অনেকে অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্রকে বেছে নিতে পারেন যা জাতিসমূহকে ক্ষুধার্ত রাখে এবং ব্যক্তিদের ধ্বংস করে দেয়। তবে এই সকল ষড়যন্ত্রের ভয়াবহতা সত্ত্বেও, সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্র, যার পরেই রয়েছে নৈতিক ষড়যন্ত্রের অবস্থান। আমি জানি যে, মুসলিম উম্মাহর ওপর নৈতিক ষড়যন্ত্রের ভয়াবহতা সম্পর্কে সবাই অবগত, কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্র মুসলিমদের জন্য আরও বেশি কঠিন ও ক্ষতিকারক। বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্র ও নৈতিক ষড়যন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য কী? নৈতিক ষড়যন্ত্র মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আঘাত হানার মতো অত্যন্ত জঘন্য বিষয় হওয়া সত্ত্বেও কেন বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্রকে আরও বেশি ভয়াবহ মনে করা হয়? আমি আপনাদের কিছু উদাহরণ দিচ্ছি: যে নারী হিজাব ছাড়া চলাফেরা করেন এবং তার অজুহাত হলো যে তিনি হিজাব ছাড়াই নিজেকে বেশি সুন্দরী মনে করেন, অথবা তিনি বিয়ের চেষ্টা করছেন, অথবা পরিবর্তনের ক্ষমতা পাচ্ছেন না, কিংবা বান্ধবীদের কাছে লজ্জিত বোধ করেন—এই নারী একটি নৈতিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি জানেন সত্য কোথায়, কিন্তু নিজের মনের দুর্বলতার কারণে অন্য কিছুর অনুসরণ করছেন। অন্যদিকে, যে নারী হিজাব ছাড়াই বের হন কারণ তিনি মনে করেন হিজাব হলো একটি মান্ধাতা আমলের প্রথা, যেমনটি অনেকে বলে থাকে, এবং এটি পরিধান করা পশ্চাৎপদতা, অনুন্নত ও স্থবির মানসিকতার পরিচয়—এই নারী বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যায় ভুগছেন।

এই দুটি সমস্যার মধ্যে কোনটি বেশি বিপজ্জনক? সেই ব্যক্তি যে ঘুষ গ্রহণ করে এবং বলে: 'আমি এটি নিচ্ছি কারণ আমার পরিস্থিতি খুব কঠিন, আর এই কঠিন পরিস্থিতি না থাকলে আমি এমনটা করতাম না। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন।' এই ব্যক্তি নৈতিক সমস্যায় ভুগছেন। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি বলে: 'না, এটি ঘুষ নয়, এটি বকশিশ বা উপহার, অথবা এটি আমার করা নির্দিষ্ট কোনো পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্জিত অধিকার'—এবং সে ঘুষকে বৈধতা দিতে শুরু করে, তবে এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যা।

অনুরূপভাবে ইবাদতের ক্ষেত্রেও; যে ব্যক্তি রোজা রাখে না এবং বলে: 'আল্লাহর কসম, আমি খুব দ্রুত ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ি' অথবা 'রোজা রেখে আমি কাজে মনোযোগ দিতে পারি না' কিংবা 'আমি ধূমপান ছাড়তে পারছি না' অথবা 'আমার সব বন্ধুরাই রোজা রাখে না'—এই ব্যক্তি নিশ্চিতভাবেই একটি ভয়াবহ নৈতিক সমস্যায় আক্রান্ত। কিন্তু যে ব্যক্তি বলে: 'রোজা উৎপাদন কমিয়ে দেয়' অথবা 'রোজা রাখা একটি ভুল কাজ যা আমাদের পিছিয়ে দিতে পারে'—আপনারা হয়তো এই কথায় বিস্মিত হচ্ছেন, কিন্তু এমনটি ঘটেছে এবং একজন আরব দেশের নেতা এমন কথা বলেছিলেন, এমন এক নেতা যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি বলতেন: রোজা উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং কর্মশক্তি হ্রাস করে; তাই তিনি তার জনগণকে রোজা না রাখার পরামর্শ দিতেন। হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, তিনি এমনটাই বলতেন।

অথবা সে বলে: রোজা কেবল দরিদ্রদের কষ্ট অনুভব করার জন্য বিধান করা হয়েছে, আর আমি তো তাদের কষ্ট অনুভব করিই, তবে রোজার কী প্রয়োজন?! এই ব্যক্তি এবং তার মতো যারা আছে তারা অত্যন্ত গুরুতর বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যায় ভুগছেন। এমনকি ফকিহগণ বলেন: যে ব্যক্তি রোজা রাখার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অলসতাবশত তা ত্যাগ করে সে ফাসেক, আর যে ব্যক্তি এর আবশ্যকতা অস্বীকার করে তা ত্যাগ করে সে কাফের।

একইভাবে ফিলিস্তিন ইস্যুতেও কোনো ব্যক্তি হয়তো বলতে পারে: 'ফিলিস্তিনে যা ঘটছে তা আমি জানি এবং আমি সাহায্য করতে চাই, কিন্তু আমি কিছু পারিপার্শ্বিক বিষয় দেখছি, তাই আমি তাদের সাহায্য করব না, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।' এই ব্যক্তির একটি ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল, কিন্তু সে সেই ভূমিকা পালন করতে চাইছে না, এটি একটি নৈতিক সমস্যা। তার মধ্যে কোনো আত্মমর্যাদা বা এই দ্বীনের জন্য কোনো তেজস্বিতা বা বীরত্ব নেই। কিন্তু অন্য এক ব্যক্তি আছে যে বলে: 'ফিলিস্তিনের সাথে আমাদের কী সম্পর্ক? আমরা একটি দেশে বাস করি আর ফিলিস্তিন অন্য আরেকটি দেশ।'—এই দ্বিতীয় ব্যক্তিটি বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যায় ভুগছেন।

সুতরাং, বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্র নৈতিক ষড়যন্ত্রের চেয়েও গভীর এবং বিপজ্জনক, যদিও উভয়ই ক্ষতিকর। বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্র মিথ্যাকে সত্যে এবং সত্যকে মিথ্যায় রূপান্তরিত করে। ফলে একজন ব্যক্তি একটি ভুল উদ্দেশ্যের জন্য মৃত্যু পর্যন্ত লড়াই করে যেতে পারে। যদি ষড়যন্ত্রকারীরা আপনার চিন্তাধারাকে কলুষিত করে ফেলে, তবে আপনার জীবন এমন সব ভ্রান্ত লক্ষ্যের পেছনে নষ্ট হয়ে যাবে যা আল্লাহর পাল্লায় বা ইসলামের মানদণ্ডে কোনো মূল্য রাখে না। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী লক্ষ্য করুন, যা তিনি তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেছেন: 'বলুন, আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দেব নিজেদের কর্মের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের সম্পর্কে? তারা হলো সেই সব লোক, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎকাজই করছে।' [সূরা কাহাফ: ১০৩-১০৪]। সুবহানাল্লাহ! এমন ব্যক্তিও আছে যে ফাসাদ, অশ্লীলতা, পাপাচার এবং বেহায়াপনা ছড়ায়, নগ্ন চলচ্চিত্রের উৎসাহ দেয় এবং নারীদের অর্ধনগ্ন হয়ে চলাফেরা করার সুযোগ করে দেয়, অতঃপর মনে করে যে সে জাতির মধ্যে আলো ছড়ানোর জন্য, চিন্তার স্বাধীনতার জন্য এবং জ্ঞান প্রসারের জন্য লড়াই করছে। এমনকি সে এর জন্য নিজের সময়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও অর্থও উৎসর্গ করতে পারে। এরা তারাই 'যাদের প্রচেষ্টা পার্থিব জীবনে পণ্ড হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎকাজই করছে।' [সূরা কাহাফ: ১০৪]।

এটি একটি সম
(খণ্ড: ١) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٦)
‌‌دور الأمة كأفراد في قضية فلسطين

نطرح هذا الأمر جانباً، ونعرض سؤالاً ذكرناه من قبل: ما هو دور الأمة كأفراد في قضية فلسطين؟ أول شيء يخطر على الذهن هو التبرع بالمال، والحق أن التبرع بالمال هام جداً، وهو يسهم بالقدر الأكبر في مجابهة المؤامرة الاقتصادية والعسكرية، وهذا شيء طيب جداً، لكن الحق أيضاً أن المال على أهميته ليس هو أهم الأشياء التي يحتاجها أهل فلسطين، بل يحتاجون أشياء كثيرة غيره وقبله، والآن سأقول هذه الأشياء مجملة ثم نفصل فيها تدريجياً إن شاء الله.

الأمر الأول: الذي تحتاجه القضية الفلسطينية هو تحريك القضية بالمفاهيم الصحيحة وبسرعة، بمعنى الدفاع ضد المؤامرة الفكرية.

الأمر الثاني: الدعاء لأهل فلسطين بالثبات والنصر، والدعاء على من ظلمهم بالهلكة والاستئصال، طبعاً بعض الناس قد يستغربون لماذا قدمت فهم القضية على الدعاء؟ أليس من الممكن أن تدعو بشيء لا يرضى عنه الله سبحانه وتعالى، أو تدعو بشيء ليس في مصلحة القضية؟ ألم تسمع حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ما على الأرض مسلم يدعو الله تعالى بدعوة إلا آتاه الله إياها أو صرف عنه من السوء مثلها، ما لم يدع بإثم أو قطيعة رحم، فقال رجل من القوم: إذاً: نكثر الدعاء -أي: نكثر من الدعاء- قال صلى الله عليه وسلم: الله أكثر)، هذا الحديث رواه الترمذي وقال: حديث حسن صحيح.

فنحن قد ندعو بشيء فيه إثم يخص قضية فلسطين، مثلاً رجل يذهب ليبيع أرضه فتدعو له بالتوفيق، طبعاً هذا لا يستقيم، رجل يذهب ليقضي على من يجاهد في سبيل الله فتدعو له بالتوفيق، أيضاً هذا لا يستقيم، ذكرني هذا بحديث جاء في الصحيفة مع راقصة تقول: والله أنا بعد كل رقصة أدعو الله أن يوفقني في الرقصة الجديدة، فهي كذا تدعو الله، لكن الله سبحانه وتعالى لا يستجيب لهذا الإثم وهذه المعصية.

أو كالذي يأخذ رشوة ويخاف أن يراه أحد، فيقول: اللهم استر، فهو يدعو الله سبحانه وتعالى أن يستره وهو يأخذ الرشوة ويرتكب المنكر ويفعل الفاحشة، إذاً: لا بد أن نفهم القضية أولاً ثم ندعو بالدعاء المناسب.

إذاً: نرجع نحصي وسائل المساعدة إجمالاً ثم نفصل: أولاً: تحريك القضية بالمفاهيم الصحيحة وبسرعة.

ثانياً: الدعاء لأهل فلسطين، وعلى اليهود ومن عاونهم.

ثالثاً: قتل الانهزامية في نفوس المسلمين.

كثير من المسلمين في مشارق الأرض ومغاربها يعتقدون أنه من المستحيل أن يهزم المسلمون اليهود، أو أن يستطيعوا أن يتحركوا قيد أنملة في القضية في هذه الآونة، فهذا إحباط شديد ويأس عند كثير من المسلمين، فدورنا في هذه الفترة أن نقتل هذه الانهزامية وأن نعلي من همة المسلمين وبأسهم.

رابعاً: التبرع بالمال، وسيأتي حديث طويل عنه إن شاء الله.

خامساً: المقاطعة الاقتصادية لكل ما هو يهودي أو من دولة تساعد اليهود.

سادساً: إصلاح النفس والمجتمع.

فالخمسة الأمور الأولى هي لحل القضية في هذا الوقت الراهن، والأمر السادس إصلاح النفس والمجتمع هو إصلاح القضية على المدى البعيد، إصلاح الأصل الذي بسببه هزم المسلمون، يقول عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأرضاه في وصيته الجامعة لـ سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه وأرضاه: إنكم لا تنصرون على عدوكم بقوة العدة والعتاد، ولكن تنصرون عليه بطاعتكم لربكم، ومعصيتهم له، فإن تساويتم في المعصية كانت لهم الغلبة عليكم بقوة العدة والعتاد.

نعم الأصل الذي أدى إلى كل هذا الانهيار في مقاومة المسلمين، وأدى إلى انتصار ثلاثة ملايين أو أربعة ملايين، أو خمسة ملايين من اليهود في فلسطين على مليار وثلث مليار في أرض واسعة وبقاع مترامية الأطراف هو ضعف العلاقة مع الله سبحانه وتعالى، وبعد الناس عن الطاعة وعن الكتاب الكريم والسنة المطهرة.

فهذه وسائل ستة -وغيرها كثير- نفصل فيها إن شاء الله الواحدة تلو الأخرى في هذه المجموعة من المحاضرات.
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ব্যক্তি হিসেবে উম্মাহর ভূমিকা

আমরা এই বিষয়টি পাশে সরিয়ে রেখে পূর্বে উল্লিখিত একটি প্রশ্ন উত্থাপন করছি: ফিলিস্তিন ইস্যুতে ব্যক্তি হিসেবে উম্মাহর ভূমিকা কী? এই প্রসঙ্গে সর্বপ্রথম যা মনে আসে তা হলো অর্থ দান করা। বাস্তব সত্য হলো, অর্থ দান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি অর্থনৈতিক ও সামরিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় অবদান রাখে। এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ, তবে এটিও সত্য যে, গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও অর্থই ফিলিস্তিনিদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় নয়। বরং এর চেয়েও বেশি এবং এর আগে তাদের আরও অনেক কিছু প্রয়োজন। আমি এখন সেই বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরব এবং ইনশাআল্লাহ ধারাবাহিকভাবে সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনা করব।

প্রথমত: ফিলিস্তিন ইস্যুতে যা প্রয়োজন তা হলো, সঠিক ধারণার মাধ্যমে এবং দ্রুততার সাথে এই আন্দোলনকে বেগবান করা; অর্থাৎ বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

দ্বিতীয়ত: ফিলিস্তিনবাসীর অটলতা ও বিজয়ের জন্য দুআ করা এবং যারা তাদের ওপর জুলুম করেছে তাদের ধ্বংস ও নির্মূলের জন্য বদদুআ করা। অবশ্য কিছু মানুষ অবাক হতে পারেন যে, কেন আমি দুআ করার আগে ইস্যুটি সঠিকভাবে বোঝাকে প্রাধান্য দিলাম? এমন কি হতে পারে না যে, আপনি এমন কিছুর জন্য দুআ করলেন যাতে মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট নন অথবা যা ফিলিস্তিন ইস্যুর স্বার্থের পরিপন্থী? আপনি কি উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীসটি শোনেননি? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "পৃথিবীর বুকে এমন কোনো মুসলিম নেই যে আল্লাহর কাছে কোনো দুআ করে, আর আল্লাহ তাকে তা দান করেন না অথবা তার বিনিময়ে তার থেকে অনুরূপ কোনো অনিষ্ট দূর করেন না; যতক্ষণ না সে কোনো পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার দুআ করে। তখন মজলিসের এক ব্যক্তি বললেন: তাহলে তো আমরা অধিক পরিমাণে দুআ করব। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আল্লাহ তার চেয়েও অধিক (দানকারী)।" এই হাদীসটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে 'হাসান সহীহ' হাদীস বলেছেন।

সুতরাং আমরা ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে এমন কোনো বিষয়ে দুআ করতে পারি যাতে গুনাহ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তি তার জমি বিক্রি করতে যাচ্ছে আর আপনি তার সফলতার জন্য দুআ করছেন; এটি স্পষ্টতই সঠিক নয়। অথবা কোনো ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের নির্মূল করতে যাচ্ছে আর আপনি তার সফলতার জন্য দুআ করছেন; এটিও মোটেও সংগত নয়। এটি আমাকে একটি সংবাদপত্রের রিপোর্টের কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে একজন নর্তকী বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম, আমি প্রতিটি নাচের পর আল্লাহর কাছে দুআ করি যেন তিনি আমাকে পরবর্তী নাচে সফল করেন।" তিনি এভাবেই আল্লাহর কাছে দুআ করছেন, কিন্তু মহান আল্লাহ এমন পাপ ও নাফরমানির কাজে সাড়া দেন না।

অথবা সেই ব্যক্তির মতো যে ঘুষ নিচ্ছে এবং কেউ দেখে ফেলার ভয় পাচ্ছে, তাই বলছে: "হে আল্লাহ, গোপন রাখুন।" সে ঘুষ গ্রহণ, অন্যায় ও অশ্লীলতায় লিপ্ত থাকা অবস্থায় আল্লাহর কাছে তাকে গোপন রাখার দুআ করছে। অতএব, আমাদের প্রথমে বিষয়টি বুঝতে হবে এবং তারপর উপযুক্ত দুআ করতে হবে।

অতএব, আমরা সাহায্য করার উপায়গুলো সংক্ষেপে পুনরায় গণনা করি এবং পরে বিস্তারিত আলোচনা করব: প্রথমত: সঠিক ধারণার মাধ্যমে এবং দ্রুততার সাথে এই আন্দোলনকে বেগবান করা।

দ্বিতীয়ত: ফিলিস্তিনবাসীর জন্য এবং ইহুদি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুআ করা।

তৃতীয়ত: মুসলমানদের মন থেকে পরাজয়বাদী মানসিকতা দূর করা।

পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের অনেক মুসলমানই মনে করেন যে, মুসলমানদের পক্ষে ইহুদিদের পরাজিত করা অসম্ভব, অথবা বর্তমান সময়ে এই ইস্যুতে এক চুল পরিমাণ অগ্রসর হওয়াও তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এটি অনেক মুসলমানের মধ্যে চরম হতাশা ও নিরাশার জন্ম দিয়েছে। তাই বর্তমান সময়ে আমাদের কাজ হলো এই পরাজয়বাদী মানসিকতাকে নির্মূল করা এবং মুসলমানদের মনোবল ও সাহস বৃদ্ধি করা।

চতুর্থত: অর্থ দান করা; এ বিষয়ে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

পঞ্চমত: সমস্ত ইহুদি পণ্য অথবা ইহুদিদের সাহায্যকারী রাষ্ট্রের পণ্য বর্জন (অর্থনৈতিক বয়কট) করা।

ষষ্ঠত: নিজের এবং সমাজের সংশোধন করা।

প্রথম পাঁচটি বিষয় হলো বর্তমান সময়ের সমস্যা সমাধানের জন্য, আর ষষ্ঠ বিষয়টি অর্থাৎ নিজের ও সমাজের সংশোধন হলো দীর্ঘমেয়াদী সমাধান। এটি সেই মূল বিষয়ের সংশোধন যার কারণে মুসলমানরা পরাজিত হয়েছে। হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে প্রদত্ত তার পূর্ণাঙ্গ অসিয়তনামায় বলেন: "তোমরা তোমাদের শত্রুর ওপর রণসম্ভার বা যুদ্ধাস্ত্রের শক্তিতে বিজয়ী হও না; বরং তোমরা তাদের ওপর বিজয়ী হও তোমাদের রবের আনুগত্যের মাধ্যমে এবং তাদের অবাধ্যতার কারণে। যদি তোমরা পাপে তাদের সমান হয়ে যাও, তবে যুদ্ধাস্ত্র ও শক্তির জোরে তারাই তোমাদের ওপর জয়ী হবে।"

হ্যাঁ, মুসলমানদের প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এই চরম বিপর্যয়ের মূল কারণ এবং ফিলিস্তিনের এক বিশাল ভূখণ্ড ও সুবিস্তৃত জনপদে একশ ত্রিশ কোটি মুসলমানের বিপরীতে মাত্র ত্রিশ, চল্লিশ বা পঞ্চাশ লক্ষ ইহুদির বিজয়ী হওয়ার কারণ হলো মহান আল্লাহর সাথে সম্পর্কের দুর্বলতা এবং মানুষের আনুগত্য, পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাওয়া।

এগুলোই হলো সেই ছয়টি মাধ্যম—এছাড়া আরও অনেক রয়েছে—যা আমরা ইনশাআল্লাহ এই ধারাবাহিক আলোচনায় একে একে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব।
(খণ্ড: ١) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌تحريك قضية فلسطين بالمفاهيم الصحيحة وبسرعة

أولاً: تحريك القضية بالمفاهيم الصحيحة وبسرعة.

هذه الجملة تشتمل على ثلاثة مقاطع، تحريك القضية المقطع الأول، بالمفاهيم الصحيحة المقطع الثاني، وبسرعة المقطع الثالث.
সঠিক ধারণাসমূহ এবং দ্রুততার সাথে ফিলিস্তিন ইস্যুকে জাগ্রত করা

প্রথমত: সঠিক ধারণাসমূহ এবং দ্রুততার সাথে ইস্যুটিকে জাগ্রত করা।

এই বাক্যটি তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত; ‘ইস্যুটিকে জাগ্রত করা’ প্রথম অংশ, ‘সঠিক ধারণাসমূহের মাধ্যমে’ দ্বিতীয় অংশ এবং ‘দ্রুততার সাথে’ তৃতীয় অংশ।
(খণ্ড: ١) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌تحريك القضية

تحريك القضية سبحان الله!! الله سبحانه وتعالى حركها لنا، تذكرون أن قضية فلسطين قد خمدت فترة من الزمان بعد معاهدة أوسلو حوالي سبع سنوات كاملة، لكن الله حركها بزيارة شارون للمسجد الأقصى في 28/ 9/2000م، وهو حدث مع عظمه أهون من أحداث سابقة كثيرة، هناك أحداث كثيرة جداً غير زيارة شارون لم يتحرك لها المسلمون هذا التحرك، هناك قتل للمسلمين وتدمير وتشريد، هناك مذابح مثل مذبحة صبرا وشاتيلا لم يتحرك لها المسلمون مثلما تحركوا لزيارة شارون وهي أهون من قتل المسلمين، لما زار شارون المسجد الأقصى، هذه الحركة للقضية فَعَّلها سبحانه وتعالى، ولابد أن نشكر هذه النعمة، نعمة تحريك القضية، وشكر النعمة يكون باستمرار تحريك القضية.

فدورك أنت عندما تقابل شخصاً تكلمه عن قضية فلسطين، تتحدث في كل الدوائر المتاحة: دائرة البيت، دائرة الأهل والأقارب، دائرة الأصدقاء، دائرة العمل، كذلك بعض الدوائر السطحية التي تلتقي بها قدراً دون ترتيب، كأن تكون منتظراً في عيادة الطبيب، أو تكون جالساً فتتحدث مع الناس العاديين عن هذا الموضوع، أو راكباً (تاكسي) وتتحدث مع سائق التاكسي في هذا الموضوع، أو راكباً قطاراً أو حافلة، فتتحدث مع جارك في المقعد في هذا الموضوع.

وبعض الناس لهم دوائر أوسع، فمن الممكن أن تكتب مقالاً في جريدة أو حتى خطاباً إلى بريد إحدى الصحف، أو تكتب مقالاً في مجلة حائط في مدرسة أو جامعة، أو تخطب خطبة في مسجد إن تيسر لك هذا الأمر، أو على الأقل توعز لخطيب بخطبة عن فلسطين، يذكر الناس فيها بالمفاهيم الصحيحة لقضية فلسطين، ومن الممكن أن تنظم ندوة، أو تشكل صالوناً ثقافياً، وتأتي بشخص يتكلم فيه عن القضية.

وقد تكلمنا من قبل في السيرة عن دور أسعد بن زرارة رضي الله عنه وأرضاه لما ذهب إلى مصعب بن عمير رضي الله عنه وأرضاه، وكان ذلك في المدينة، فقد كان مصعب بن عمير هو القارئ الذي يعلم الناس، وأسعد بن زرارة رضي الله عنه كان يتعلم من مصعب بن عمير، ولا يملك القدرة على الخطابة التي يملكها مصعب بن عمير، فكان أسعد بن زرارة يهيئ المجالس لـ مصعب بن عمير ويدله على الرجال الذين يتوسم فيهم الخير، ولو سمعوا الدعوة لآمنوا بها واتبعوها، ولاتبع الدعوة بإيمانهم أفراد كثر، وهكذا كان لـ أسعد بن زرارة دور كبير مع أنه لم يكن يتكلم هو بذاته كما يتكلم مصعب بن عمير رضي الله عنهم أجمعين.

هناك وسائل أخرى لتحريك القضية كالمظاهرات السلمية، إذ تعتبر وسيلة من وسائل التحريك، ولابد أن يكون لها سمت مختلف عن سمت البلاد الغربية الفاسدة التي ليس لها ضوابط من الأخلاق والشرع، فليس من اللائق أن تشكل مظاهرة من أجل تحريك قضية فلسطين، فتقوم بتكسير المحلات والإفساد في الأرض، أو بسباب لا يليق بالمسلم: (ليس المؤمن بالطعان، ولا اللعان، ولا الفاحش، ولا البذيء)، لكن بوسائل متعددة في إطار الأخلاق الإسلامية الشريفة لتحريك قضية فلسطين.

المقطع الثاني في الجملة: هو المفاهيم الصحيحة، أؤجله لأنه سيطول بنا.
ইস্যুটিকে সচল রাখা

ইস্যুটিকে সচল রাখা, সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একে আমাদের জন্য সচল করে দিয়েছেন। আপনাদের স্মরণে থাকতে পারে যে, ওসলো চুক্তির পর ফিলিস্তিন ইস্যুটি প্রায় দীর্ঘ সাত বছর স্থবির হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ২৮/৯/২০০০ খ্রিস্টাব্দে মসজিদুল আকসায় শারোনের উসকানিমূলক সফরের মাধ্যমে আল্লাহ একে পুনরায় সচল করে দেন। এই ঘটনাটি তার গুরুত্বের দিক থেকে আগের অনেক ঘটনার চেয়েও কম গুরুতর ছিল। ইতিপূর্বে শারোনের সফরের চেয়েও বড় বড় অনেক ঘটনা ঘটেছে যাতে মুসলিমরা এভাবে জেগে ওঠেনি। মুসলিমদের হত্যা, বিনাশ ও বাস্তুচ্যুত করার অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। সাবরা ও শাতিলা হত্যাকাণ্ডের মতো বড় বড় গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু মুসলিমরা শারোনের সফরের প্রতিবাদে যেভাবে গর্জে উঠেছিল, পূর্বের সেই সব ঘটনায় তেমনটি ঘটেনি। অথচ শারোনের সফরের তুলনায় মুসলিম নিধন ছিল অধিকতর গুরুতর বিষয়। যখন শারোন মসজিদুল আকসা সফর করল, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই আন্দোলনের গতিপ্রবাহকে সক্রিয় করে দিলেন। আমাদের উচিত এই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। আর ইস্যুটিকে সচল রাখার এই নেয়ামতের শুকরিয়া হলো একে ক্রমাগত জাগিয়ে রাখা।

আপনার ভূমিকা হলো, যখনই কারও সাথে দেখা হবে, তখনই তার সাথে ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে কথা বলা। আপনার হাতের নাগালে থাকা সব পর্যায়েই কথা বলুন: পারিবারিক ক্ষেত্র, আত্মীয়স্বজন ও নিকটাত্মীয়দের পরিমণ্ডল, বন্ধুদের আড্ডা, কর্মক্ষেত্র। এমনকি কিছু আকস্মিক বা অনির্ধারিত ক্ষেত্র যেমন—ডাক্তারের চেম্বারে অপেক্ষারত অবস্থায়, সাধারণ মানুষের সাথে আলাপে, অথবা ট্যাক্সি চালকের সাথে, কিংবা ট্রেন বা বাসে আপনার পাশের সিটের যাত্রীর সাথেও এই বিষয়ে কথা বলতে পারেন।

আবার কিছু মানুষের কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত। আপনি সংবাদপত্রে প্রবন্ধ লিখতে পারেন, এমনকি কোনো পত্রিকার চিঠিপত্র কলামে চিঠি পাঠাতে পারেন। স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়াল পত্রিকায় নিবন্ধ লিখতে পারেন। সুযোগ থাকলে মসজিদে খুতবা প্রদান করতে পারেন, অথবা অন্তত কোনো খতিবকে ফিলিস্তিন বিষয়ে খুতবা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারেন, যাতে তিনি মানুষকে ফিলিস্তিন ইস্যুর সঠিক ধারণাগুলো মনে করিয়ে দেন। আপনি একটি সেমিনার বা সাংস্কৃতিক আলোচনার আয়োজন করতে পারেন এবং এমন কাউকে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন যিনি এই বিষয়ে আলোচনা করবেন।

আমরা ইতিপূর্বে সিরাত আলোচনায় আসআদ ইবনে যুরারাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ভূমিকা সম্পর্কে জেনেছি। যখন তিনি মদিনায় মুসআব ইবনে উমায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে যেতেন, তখন মুসআব ইবনে উমায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন সেই পাঠক যিনি মানুষকে শিক্ষা দিতেন। আসআদ ইবনে যুরারাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর কাছে শিখতেন। মুসআব ইবনে উমায়েরের মতো সাবলীল বক্তৃতার ক্ষমতা আসআদ ইবনে যুরারাহর ছিল না। তাই আসআদ ইবনে যুরারাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মুসআব ইবনে উমায়েরের জন্য মজলিস বা সভার আয়োজন করতেন এবং তাঁকে এমন ব্যক্তিদের সন্ধান দিতেন যাদের মাঝে তিনি কল্যাণের সম্ভাবনা দেখতেন। তারা যদি এই দাওয়াত শুনত, তবে ঈমান আনত এবং অনুসরণ করত। আর তাদের ঈমান আনার ফলে আরও বহু মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসত। এভাবেই আসআদ ইবনে যুরারাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এক বিশাল ভূমিকা পালন করেছিলেন, যদিও তিনি স্বয়ং মুসআব ইবনে উমায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মতো করে কথা বলতেন না। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

ইস্যুটিকে সচল রাখার আরও কিছু মাধ্যম রয়েছে, যেমন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ। এটিও আন্দোলনের একটি অন্যতম মাধ্যম। তবে এর রূপরেখা পশ্চিমা কলুষিত দেশগুলোর চেয়ে ভিন্ন হতে হবে, যাদের নৈতিকতা ও শরীয়তের কোনো বালাই নেই। ফিলিস্তিন ইস্যুকে সচল করার দোহাই দিয়ে দোকানপাট ভাঙচুর করা বা জমিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা শোভনীয় নয়। তেমনি একজন মুসলিমের জন্য অশোভন গালিগালাজ করাও অনুচিত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'মুমিন ব্যক্তি কখনও খোঁটা দানকারী, লানতকারী, অশ্লীল ভাষাভাষী বা কটুভাষী হয় না।' বরং মহৎ ইসলামী নৈতিকতার কাঠামোর ভেতর থেকেই ফিলিস্তিন ইস্যুকে সচল রাখার নানাবিধ পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাক্যের দ্বিতীয় অংশটি হলো: সঠিক ধারণা। এই বিষয়টি আমি পরে আলোচনা করব কারণ এতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।
(খণ্ড: ١) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌ضرورة استغلال الوقت في تحريك القضية

المقطع الثالث: وبسرعة.

نقول: تحريك القضية بالمفاهيم الصحيحة وبسرعة، ماذا نقصد بقولنا: بسرعة؟ هناك أناس اشتهرت على ألسنتهم كلمة فيها نوع من الهروب.

يقولون: الزمن جزء من العلاج، يعني: مع مرور الوقت ستحل القضية، وهذا يا إخوة! مخالف تماماً للواقع، فالوقت ليس في صالحنا كأفراد في الكيان الإسلامي الواسع المترامي الأطراف، وليس في صالح القضية الفلسطينية.

هو ليس في مصلحة القضية الفلسطينية؛ لأنه مع مرور الوقت يزداد الألم الفلسطيني، وتزداد القوة اليهودية، ويزداد التبجح اليهودي، ومع مرور الوقت يزيد عدد الشهداء وهذا في حد ذاته ليس خسارة حقيقة، كما سيأتي الحديث بالتفصيل إن شاء الله، لأنهم فازوا بالشهادة، ولكن الخسارة الحقيقة هي استمرار الظلم دون رادع، استمرار قتل الأبرياء دون رادع، ومع مرور الوقت تهدم المنازل الواحد تلو الآخر، وتجرف الأراضي، ويتزايد عدد من لا مأوى لهم، وبذلك تزيد أوراق الضغط اليهودية.

مع مرور الوقت يزداد تعذيب الأفراد بل الأطفال، واقرءوا مقالاً في جريدة الحياة اللندنية بتاريخ 19/ 7/2001م عن التقرير الذي أعدته المحامية السويدية برجيتا عن حجم الإرهاب الفظيع الذي تمارسه المحاكم الإسرائيلية بحق الأطفال الفلسطينيين، وعن الأعمال الوحشية التي لا تصدق في السجون الإسرائيلية، وبحكم القانون للضغط على أهالي الطفل، وذلك يشمل السجن لفترات طويلة، والجلد، والصعق بالكهرباء، والتقييد للأطفال، وما خفي كان أعظم.

مع مرور الوقت تزداد المستوطنات، وتزداد الهجرة اليهودية للأراضي الفلسطينية، ويزداد الإحلال اليهودي للشعب الفلسطيني.

مع مرور الوقت يتناقص الغذاء والدواء والكساء لغلق كل المعابر والحدود، وبذلك يموت الشعب جوعاً ومرضاً.

مع مرور الوقت يزداد عدد اللاجئين والمشردين والفاقدين للمأوى.

مع مرور الوقت يزداد التجرؤ اليهودي على المسلمين، فنسمع عن أشياء جديدة ما كنا نسمع عنها في القضية من قبل، نسمع عن حركات اغتيال متكررة لقادة بعينهم، نسمع عن عمليات اختطاف لأفراد بعينهم من عقر دارهم، نسمع عن ضرب للبيوت بالمروحيات والطائرات الأباتشي والأف16، بل نسمع عن حديث على الملأ يناقش: هل نقتل زعماء السلطة أم نتركهم هكذا؟ تبجح يهودي صارخ، ورعاية أمريكية وعالمية لهذا الإجرام، حتى إن نائب الرئيس الأمريكي شين يصرح بمنتهى الوقاحة بأنه لا يرى بأساً في عمليات الاغتيال ما دام هؤلاء الأفراد قنابل بشرية موقوتة.

مع مرور الوقت يحدث شيء خطير اسمه إلف المأساة.

يتعود المسلمون على منظر دماء الشهداء، ومنظر الجرحى بالمئات والآلاف، ومنظر الأمهات الثكالى، ومنظر الأطفال الباكية المشردة، يتعودون على منظر الهدم والتجريف والظلم والإبادة، فلا تتحرك القلوب كما كانت تتحرك، ولا تذرف الدموع كما كانت تذرف، ولا تتأثر المشاعر كما كانت تتأثر، الناس لا تشعر بقيمة الشمس؛ لأنها ألفت أن تراها كل يوم، الناس لا تشعر بجريمة ترك الصلاة؛ لأنها ألفت تركها كل يوم وهكذا، نحن نريد للقضية أن تحل قبل أن تحدث كل هذه الأمور، وقبل أن نألف مأساة فلسطين.

إذاً: الوقت ليس علاجاً وليس مصلحة لقضية فلسطين، كما أن مرور الوقت ليس في صالحنا كأفراد، فالموت يا إخوة! يأتي بغتة، ومن مات قامت قيامته، وسيأتي والله يوم عسير نسأل فيه جميعاً ماذا فعلنا لفلسطين؟ يوم تقترب فيه الشمس من الرءوس، ويشتد فيه الزحام وتزل فيه الأقدام، ولا ينفعنا إلا العمل الصالح، سنسأل: ماذا فعلنا لهؤلاء الذين يقتلون صباح مساء على بعد أميال منك؟ ماذا فعلنا لأرض تغتصب، ودماء تراق، وحرمات تنتهك؟ ماذا فعلنا لتلك المساجد الطاهرة التي تشكو إلى ربها؟ يا ترى! ماذا سنعمل لو متنا في هذا الوقت، وسئلنا عن هذه الأشياء؟ أليس الأفضل أن نجهز إجابة لهذا الوقت وبسرعة؟ يا ترى! لو عرفت أن عصابة تدبر لقتل وسرقة جارك ألا تفعل شيئاً، ألا تتحرك، ألا تأخذك حمية؟ فما بالك لو كان تدبيراً لقتل أمة وسرقة شعب؟ يا ترى! إذا كنت ماشياً في الشارع، ومعك ابنك عمره 8 سنوات أو 10 سنوات، فجاء يهودي وأطلق رصاصة استقرت في قلبه أو في رأسه، فسقط بين يديك وسالت دماؤه وأنت لا تملك علاجاً حتى مات أمام عينيك، فترفع رأسك فتجد أكثر من مليار مسلم يشاهدون ولا يتحركون، ألا ترفع يدك إلى السماء تدعو على من شاهد ولم يتحرك، وتدعو على من سمع ولم يعقل، وتدعو على من قرأ ولم يفقه؟ يا ترى! لو وضعت أموالك كلها في بيت أثثته بتعب وكد وعرق وجهد، ثم جاءت دبابة فأضاعت جهد السنين، وهدمت أحلام المستقبل، فخرجت تحمل من بقي من أولادك مهرولاً؛ هرباً من حطام بيتك وقد اشتعلت به النيران، فإذا بك تعلم أن أكثر من مليار مسلم يشاهدون ولا يتحركون، ألا ترفع يدك إلى لسماء تشكو إلى خالقك ظلم القريب والبعيد، وتشكو ظلم العدو والصديق؟ يا أخي! ضع نفسك في مكانهم، أليس هؤلاء من المسلمين المشتركين معك في عقيدة واحدة؟ أليسوا من البشر الذين لهم أحلام كأحلامك، وآمال كآمالك، وآلام كآلامك، أم أننا لنو
সমস্যার সমাধানে সময়ের সঠিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এবং দ্রুতগতিতে।

আমরা বলছি: সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এবং দ্রুতগতিতে সমস্যার সমাধান ত্বরান্বিত করা। 'দ্রুতগতিতে' বলতে আমরা কী বোঝাতে চাচ্ছি? কিছু মানুষের মুখে একটি কথা প্রচলিত হয়ে গেছে যা মূলত এক প্রকার পলায়নবাদ।

তারা বলে: সময় হলো চিকিৎসার অংশ। অর্থাৎ সময়ের সাথে সাথে সমস্যাটি সমাধান হয়ে যাবে। হে ভাইয়েরা! এটি বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ বিশাল ও বিস্তৃত ইসলামী ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি হিসেবে সময় আমাদের অনুকূলে নেই এবং ফিলিস্তিন ইস্যুটির পক্ষেও সময় নেই।

এটি ফিলিস্তিনি স্বার্থের অনুকূলে নয়; কারণ সময়ের সাথে সাথে ফিলিস্তিনিদের দুঃখ-কষ্ট বৃদ্ধি পাচ্ছে, ইহুদিদের শক্তি বাড়ছে এবং তাদের দম্ভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে শহীদদের সংখ্যাও বাড়ছে। ইনশাআল্লাহ বিস্তারিত আলোচনা আসবে—শহীদ হওয়া নিজের মধ্যে কোনো প্রকৃত ক্ষতি নয়, কারণ তারা শাহাদাত লাভ করে সফল হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত ক্ষতি হলো কোনো প্রকার প্রতিরোধ ছাড়াই অবিরাম এই জুলুম চলতে থাকা, কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই নিরপরাধদের হত্যা অব্যাহত থাকা। সময়ের সাথে সাথে একের পর এক ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে, ভূমি দখল করা হচ্ছে এবং গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এর মাধ্যমে ইহুদিদের চাপের ক্ষেত্রগুলো আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

সময়ের সাথে সাথে ব্যক্তি এমনকি শিশুদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়ছে। ২০০১ সালের ১৯শে জুলাই লন্ডনের আল-হায়াত পত্রিকায় সুইডিশ আইনজীবী ব্রিজিটার একটি নিবন্ধ পড়ুন। সেখানে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর ইসরায়েলি আদালতের ভয়াবহ সন্ত্রাস এবং কারাগারের অবিশ্বাস্য বর্বরতা সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে। শিশুদের ওপর দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড, চাবুক মারা, বৈদ্যুতিক শক এবং হাত-পা বেঁধে রাখার মতো আইনি চাপ প্রয়োগ করা হয়। যা প্রকাশ পেয়েছে তা তো সামান্যই, আর যা গোপন আছে তা আরও ভয়ংকর।

সময়ের সাথে সাথে বসতি বাড়ছে, ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইহুদিদের অভিবাসন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ফিলিস্তিনিদের হটিয়ে সেখানে ইহুদিদের আধিপত্য জেঁকে বসছে।

সব সীমান্ত ও পথ বন্ধ থাকায় সময়ের সাথে সাথে খাদ্য, ওষুধ ও পোশাকের সংকট বাড়ছে, ফলে মানুষ ক্ষুধা ও রোগে মারা যাচ্ছে।

সময়ের সাথে সাথে শরণার্থী এবং আশ্রয়হীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সময়ের সাথে সাথে মুসলমানদের ওপর ইহুদিদের স্পর্ধা বাড়ছে। আমরা এখন এমন সব ঘটনা শুনছি যা আগে কখনো শোনা যেত না। আমরা নির্দিষ্ট নেতাদের বারবার গুপ্তহত্যার কথা শুনি, নিজ গৃহ থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা শুনি। হেলিকপ্টার, অ্যাপাচি এবং এফ-১৬ বিমান দিয়ে ঘরবাড়িতে হামলার কথা শুনি। এমনকি প্রকাশ্যে এই আলোচনাও শুনি যে: আমরা কি কর্তৃপক্ষের নেতাদের হত্যা করব নাকি এভাবেই ছেড়ে দেব? ইহুদিদের এই চরম ঔদ্ধত্য এবং এই অপরাধের পেছনে আমেরিকান ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন রয়েছে। এমনকি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট চেনি অত্যন্ত নির্লজ্জের মতো ঘোষণা দেন যে, তিনি গুপ্তহত্যায় কোনো দোষ দেখেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত এই ব্যক্তিরা 'জীবন্ত বোমা' হিসেবে বিবেচিত হয়।

সময়ের সাথে সাথে একটি ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যাকে বলা হয় 'ট্র্যাজেডিতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া'।

মুসলমানরা শহীদদের রক্ত, শত শত এবং হাজার হাজার আহতদের দৃশ্য, সন্তানহারা মায়েদের করুণ দৃশ্য এবং গৃহহীন শিশুদের কান্নার দৃশ্যে অভ্যস্ত হয়ে যায়। তারা ধ্বংসলীলা, উচ্ছেদ, জুলুম এবং গণহত্যার দৃশ্যে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে যায় যে, তাদের হৃদয় আর আগের মতো স্পন্দিত হয় না, চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে না এবং অনুভূতিগুলো আর নাড়া দেয় না। মানুষ যেমন সূর্যের গুরুত্ব অনুভব করে না কারণ তারা প্রতিদিন তা দেখতে অভ্যস্ত; যেমন মানুষ নামাজ ত্যাগের অপরাধবোধ অনুভব করে না কারণ তারা প্রতিদিন তা ছাড়তে অভ্যস্ত—তেমনি। আমরা চাই এই সব ঘটনার আগেই এবং ফিলিস্তিনের এই বিয়োগান্তক ঘটনায় অভ্যস্ত হওয়ার আগেই সমস্যার সমাধান হোক।

সুতরাং সময় ফিলিস্তিন ইস্যুর জন্য কোনো চিকিৎসা বা কল্যাণ নয়। একইভাবে সময় অতিবাহিত হওয়া আমাদের ব্যক্তিগত স্বার্থেও নয়। হে ভাইয়েরা! মৃত্যু হঠাৎ আসে। যার মৃত্যু হয়েছে তার কিয়ামত শুরু হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম! একদিন এমন কঠিন দিন আসবে যখন আমাদের সবাইকে জিজ্ঞেস করা হবে—আমরা ফিলিস্তিনের জন্য কী করেছি? সেদিন সূর্য মাথার খুব কাছে থাকবে, ভিড় তীব্র হবে এবং মানুষের পা পিছলে যাবে। নেক আমল ছাড়া সেদিন আর কিছুই উপকারে আসবে না। আমাদের প্রশ্ন করা হবে: তোমার থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে দিনরাত যাদের হত্যা করা হচ্ছে, তাদের জন্য তুমি কী করেছ? যে জমি দখল করা হচ্ছে, যে রক্ত ঝরছে এবং যে সম্মানহানি করা হচ্ছে—তার বিরুদ্ধে তুমি কী করেছ? আল্লাহর কাছে ফরিয়াদরত সেই পবিত্র মসজিদগুলোর জন্য তুমি কী করেছ? ভেবে দেখুন! আমরা যদি এই অবস্থায় মারা যাই এবং আমাদের এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় তবে আমরা কী করব? এর চেয়ে কি ভালো নয় যে আমরা দ্রুত এই সময়ের জন্য একটি উত্তর প্রস্তুত করি? ভেবে দেখুন! আপনি যদি জানতে পারেন কোনো এক দল আপনার প্রতিবেশীকে হত্যা ও লুণ্ঠনের পরিকল্পনা করছে, আপনি কি কিছুই করবেন না? আপনার মধ্যে কি কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে না? তাহলে একটি জাতিকে হত্যা এবং একটি জনগোষ্ঠীর সবকিছু কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে আপনার অবস্থা কী হওয়া উচিত? ভেবে দেখুন! আপনি যদি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যান এবং আপনার ৮ বা ১০ বছরের সন্তান আপনার সাথে থাকে, আর কোনো ইহুদি এসে তার বুকে বা মাথায় গুলি চালায়, ফলে সে আপনার হাতের ওপর লুটিয়ে পড়ে এবং রক্তক্ষরণে আপনার চোখের সামনে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই মারা যায়। তখন আপনি মাথা তুলে দেখলেন যে শত কোটিরও বেশি মুসলমান দেখছে কিন্তু কেউ নড়াচড়া করছে না; তখন কি আপনি আকাশের দিকে হাত তুলে তাদের বিরুদ্ধে দোয়া করবেন না যারা দেখল কিন্তু এগিয়ে এল না, যারা শুনল কিন্তু উপলব্ধি করল না, যারা পড়ল কিন্তু বুঝল না? ভেবে দেখুন! আপনি যদি আপনার সমস্ত অর্থ দিয়ে পরিশ্রম আর ঘামের বিনিময়ে একটি বাড়ি সাজান, আর একটি ট্যাঙ্ক এসে আপনার বছরের পর বছর করা সব পরিশ্রম ধুলোয় মিশিয়ে দেয়, ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলো ধ্বংস করে দেয়, আর আপনি আপনার অবশিষ্ট সন্তানদের নিয়ে জ্বলন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসেন; তখন যদি জানতে পারেন শত কোটিরও বেশি মুসলমান তাকিয়ে দেখছে কিন্তু কিছু করছে না—তখন কি আপনি হাত তুলে আপনার স্রষ্টার কাছে আপন এবং পর উভয়ের জুলুমের বিরুদ্ধে ফরিয়াদ করবেন না? আপনি কি শত্রু এবং বন্ধু উভয়ের অন্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন না? হে ভাই! নিজেকে তাদের জায়গায় বসিয়ে দেখুন। তারা কি আপনার সাথে একই আকিদায় বিশ্বাসী মুসলিম নয়? তারা কি এমন মানুষ নয় যাদের আপনার মতোই স্বপ্ন আছে, আপনার মতোই আশা আছে এবং আপনার মতোই কষ্ট আছে? নাকি আমরা এমন পর্যায়ে...‌
(খণ্ড: ١) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌مفهوم الأمة الإسلامية

أنا أريد يا إخوة! في هذه المحاضرات أن أرسخ في الذهن مفهوم الأمة الإسلامية، فالأمة الإسلامية ليست مجموعة من الدول، تربطها علاقات سياسية واقتصادية وثقافية طيبة، لا، الأمة الإسلامية شيء آخر، الأمة الإسلامية كيان واحد وجسد واحد وروح واحدة: (مثل المسلمين في توادهم، وتعاطفهم وتراحمهم كمثل الجسد الواحد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الأعضاء بالسهر والحمى).

تدبر قوله صلى الله عليه وسلم، يقول: (مثل المسلمين في توادهم) يقول: المسلمين لا يقول: المصريين، ولا السوريين، ولا الباكستانيين أبداً، الرابطة التي تجمعنا جميعاً هي الإسلام وليس محل الميلاد، هذا هو الرباط الحقيقي، هذا هو الرباط الاختياري، المرء يختار عقيدته ودينه، لا يختار محل ميلاده، فالأفغاني المسلم الملتزم بدينه وقواعد الإسلام والذي يعيش على بعد آلاف الأميال مني أقرب إلي من الجار في نفس المنزل إذا كان على غير المنهج الصحيح.

أترانا لو ربطنا علاقتنا على كوننا فقط ولدنا على أرض واحدة، أيكون هذا رباطاً صحيحاً؟ ألمجرد أنه ولد على أرض مجاورة أصبح أخاً لي تقياً كان أو عربيداً، مؤمناً كان أو فاسقاً، مسلماً كان أو يهودياً؟ المسلمون يا إخوة جسد واحد، جسد يده في السودان ومصر والجزائر والمغرب، ورجله في سوريا ونيجيريا وباكستان والعراق، كبده في السنغال ومالي واليمن وقطر، عينه في الشيشان وكشمير والأردن وأندونيسيا، أذنه في البوسنة وتركيا والكويت والنيجر، قلبه في مكة والمدينة والقدس، (حسد واحد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالسهر والحمى)، ليس معقولاً أن يكون القلب مريضاً، وتكون العينان مشغولتين برؤية الأفلام والمسلسلات والمسرحيات، وفي لهو كامل عن القلب، ليس معقولاً أن يكون الكبد متهالكاً، وتكون الأذن مشغولة بسماع النكات والألحان والمباريات والمشاكل التافهة، ليس معقولاً أن تكون الرجل مقطوعة، وتكون اليدان مشغولتين بعد الأموال وكنز الذهب والفضة، (المؤمن للمؤمن كالبنيان يشد بعضه بعضاً).

أعداء المسلمين يريدون أن يرسخوا في أذهاننا حدوداً ليست بين الأراضي فقط، ولكن بين القلوب والعقول أيضاً، سياسة استعمارية مشهورة جداً، فرق تسد، وهذه المؤامرة التفريقية التي تكلمنا عليها في بداية الدروس، فقد أدخلوا في روع المسلمين أن يعتز كل بلد بقوميته، حتى يعتز الجزائري بنفسه، ويعتبر نفسه غريباً عن المصري، ويعتز الأردني بنفسه ويعتبر نفسه غريباً عن التركي وهكذا.

أدخلوا الفرقة في قلوب المسلمين حتى أصبح المسلم في بلد إذا ساعد مسلماًَ في بلد آخر يعتبر ذلك تفضلاً منه ومنةً على الآخرين، أبداً يا إخوة! هذه والله حقوق وليست فضائل، كالذي يدفع زكاته للفقير هذا لا يجب أن يمن على الفقير بزكاته، فالزكاة حق مكتسب وشرعي للفقير، والله قسم الأرزاق، فجعل الناس بين غني يعطي، وبين فقير يأخذ، كذلك قسم الله الابتلاءات على بلاد المسلمين، هذا بلد ابتلي باليهودي فعليه أن يقاوم، وهذا بلد ابتلي بالأمن والمال والرخاء فعليه أن يساعد لا تفضلاً منه بل واجباً عليه وامتحاناً له.

وبهذا المفهوم مفهوم الجسد الواحد تستطيع أن تفهم حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي رواه الطبراني: (لا يقفن أحدكم موقفاً يضرب فيه رجل ظلماً، فإن اللعنة على من حضره، حين لم يدفعوا عنه)، ونحن والله في هذا الوقت لا توجد عندنا حجة، نرى ضرب الفلسطينيين بالرصاص والصواريخ والقنابل على شاشات التلفاز والإنترنت والصحف، نراه حال وقوعه فلا عذر لنا، الوقت يا أخي! ليس في صالحنا، الموت يأتي بغتة: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلا أَوْلادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ * وَأَنْفِقُوا مِنْ مَا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَيَقُولَ رَبِّ لَوْلا أَخَّرْتَنِي إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُنْ مِنَ الصَّالِحِينَ * وَلَنْ يُؤَخِّرَ اللَّهُ نَفْسًا إِذَا جَاءَ أَجَلُهَا وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ} [المنافقون:9 - 11].

ثم يا أخي! أنت لا تنصر إخوانك في فلسطين بدافع المسئولية فقط، إنه والله لأجر عظيم وثوابٌ جزيل، ولا أقول: جنة بل جنان: (من كان في حاجة أخيه كان الله في حاجته، ومن فرج عن مسلم كربة فرج الله عنه بها كربة من كرب يوم القيامة، ومن ستر مسلماً ستره الله يوم القيامة).

إذاً: على كل المسلمين عرباً كانوا أو غير عرب، قريبين من فلسطين أو بعيدين عنها، في بلد إسلامي أو في غيره من بلاد العالم غير المسلمة، عليهم جميعاً أن يحركوا قضية فلسطين وبسرعة، ولكن عليهم أن يحرصوا أن يحركوها بالمفاهيم الصحيحة، على كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.

ترى ما هي هذه المفاهيم الصحيحة التي نريد أن ترسخ في أذهان المسلمين؟ هذا
ইসলামী উম্মাহর ধারণা

হে ভ্রাতৃবৃন্দ! আমি এই আলোচনার মাধ্যমে আপনাদের হৃদয়ে ইসলামী উম্মাহর ধারণাটি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। ইসলামী উম্মাহ বলতে কেবল কতগুলো রাষ্ট্রের সমষ্টিকে বোঝায় না, যাদের মধ্যে ভালো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। না, ইসলামী উম্মাহ অন্য কিছু; এটি একটি একক সত্তা, একটি দেহ এবং একটি প্রাণ: (পারস্পরিক ভালোবাসা, মমতা ও দয়ার ক্ষেত্রে মুমিনদের উদাহরণ একটি দেহের ন্যায়; যখন তার কোনো অঙ্গ পীড়িত হয়, তখন শরীরের বাকি অংশও অনিদ্রা ও জ্বরের মাধ্যমে তাতে সাড়া দেয়।)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর দিকে লক্ষ্য করুন; তিনি বলেছেন: (পারস্পরিক ভালোবাসায় মুসলমানদের উদাহরণ)। তিনি 'মুসলমান' বলেছেন; কখনোই মিশরীয়, সিরীয় বা পাকিস্তানি বলেননি। আমাদের সকলকে যা ঐক্যবদ্ধ করে তা হলো ইসলাম, জন্মভূমি নয়। এটিই প্রকৃত বন্ধন, এটিই স্বেচ্ছায় গৃহীত বন্ধন। মানুষ তার আকিদা ও ধর্ম বেছে নেয়, কিন্তু তার জন্মস্থান বেছে নিতে পারে না। তাই নিজের ধর্মে ও ইসলামের বিধানে অবিচল একজন আফগান মুসলিম, যিনি আমার থেকে হাজার মাইল দূরে বাস করেন, তিনি আমার সেই প্রতিবেশীর চেয়েও অধিক নিকটবর্তী, যে একই বাড়িতে বাস করা সত্ত্বেও সঠিক পথের অনুসারী নয়।

আপনারা কি মনে করেন আমাদের সম্পর্ক যদি কেবল একই ভূমিতে জন্মানোর ভিত্তিতে হতো, তবে তা কি সঠিক বন্ধন হতো? শুধুমাত্র পার্শ্ববর্তী ভূমিতে জন্মানোর কারণেই কি সে আমার ভাই হয়ে যাবে—চাই সে পরহেযগার হোক বা পাপাচারী, মুমিন হোক বা ফাসিক, মুসলিম হোক বা ইয়াহুদি? হে ভ্রাতৃবৃন্দ! মুসলমানরা হলো একটি দেহ; যে দেহের হাত রয়েছে সুদান, মিশর, আলজেরিয়া ও মরক্কোতে; তার পা রয়েছে সিরিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও ইরাকে; তার কলিজা সেনেগাল, মালি, ইয়েমেন ও কাতারে; তার চোখ চেচনিয়া, কাশ্মীর, জর্ডান ও ইন্দোনেশিয়ায়; তার কান বসনিয়া, তুরস্ক, কুয়েত ও নাইজারে; আর তার হৃদয় হলো মক্কা, মদিনা ও কুদস (জেরুজালেম)-এ। (এটি এমন এক দেহ, যার কোনো অঙ্গ যদি ব্যথিত হয়, তবে পুরো শরীর অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তাতে সাড়া দেয়)। এটা কি যুক্তিযুক্ত যে হৃদয় অসুস্থ থাকবে, আর চোখ দুটি সিনেমা, সিরিয়াল ও নাটক দেখায় মগ্ন থেকে হৃদয়ের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকবে? এটা কি সম্ভব যে কলিজা বিধ্বস্ত হয়ে পড়বে, আর কান কৌতুক, গান-বাজনা, খেলাধুলা এবং তুচ্ছ সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে? এটা কি কল্পনা করা যায় যে পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, আর হাত দুটি অর্থ গণনা এবং সোনা-রুপা সঞ্চয়ে ব্যস্ত থাকবে? (এক মুমিন অন্য মুমিনের জন্য ইমারত বা প্রাসাদের ন্যায়, যার এক অংশ অন্য অংশকে সুদৃঢ় করে)।

মুসলিমদের শত্রুরা আমাদের মনে কেবল ভূমির সীমারেখাই নয়, বরং হৃদয়ের ও চিন্তার বিভাজনও গেঁথে দিতে চায়। এটি অত্যন্ত সুপরিচিত একটি ঔপনিবেশিক নীতি—'ভাগ করো এবং শাসন করো'। এই বিভাজনমূলক ষড়যন্ত্র নিয়ে আমরা আলোচনার শুরুতে কথা বলেছিলাম। তারা মুসলিমদের মনে এই ধারণা ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, প্রতিটি দেশের উচিত তাদের স্বজাতীয়তাবোধ নিয়ে গর্ব করা। ফলে একজন আলজেরীয় নিজেকে নিয়ে গর্ব করে এবং একজন মিশরীয়কে নিজের থেকে আলাদা মনে করে; একজন জর্ডানীয় নিজেকে নিয়ে গর্ব করে এবং একজন তুর্কিকে নিজের কাছে অপরিচিত মনে করে—এভাবেই চলছে।

তারা মুসলিমদের হৃদয়ে এমন বিভেদ সৃষ্টি করেছে যে, আজ এক দেশের মুসলিম অন্য দেশের মুসলিমকে সাহায্য করলে তাকে দয়া বা করুণা হিসেবে গণ্য করা হয়। হে ভাইয়েরা! আল্লাহর কসম, এগুলো দয়া নয় বরং অধিকার। যেমন একজন ব্যক্তি যখন দরিদ্রকে যাকাত প্রদান করে, তখন তার ওপর করুণা করা উচিত নয়; কারণ যাকাত দরিদ্রের একটি অর্জিত ও শরয়ী অধিকার। আল্লাহ তায়ালা রিযিক বণ্টন করেছেন; তিনি কাউকে দাতা হিসেবে ধনী বানিয়েছেন এবং কাউকে গ্রহীতা হিসেবে দরিদ্র বানিয়েছেন। একইভাবে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম দেশগুলোর ওপর বিভিন্ন পরীক্ষা বণ্টন করেছেন। কোনো দেশ ইয়াহুদিদের দ্বারা পরীক্ষিত, তাই তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। আবার কোনো দেশ নিরাপত্তা, সম্পদ ও সচ্ছলতা দিয়ে পরীক্ষিত, তাই তাদের কর্তব্য হলো সাহায্য করা—এটি কোনো করুণা নয়, বরং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব এবং তাদের জন্য পরীক্ষা।

একক দেহের এই ধারণার মাধ্যমেই আপনারা তাবারানিতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদিসটি বুঝতে পারবেন: (তোমাদের কেউ যেন এমন জায়গায় অবস্থান না করে যেখানে কোনো ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে প্রহার করা হচ্ছে; কারণ যারা সেখানে উপস্থিত থেকে তাকে রক্ষা করবে না, তাদের ওপর অভিশাপ নেমে আসে)। আল্লাহর কসম! বর্তমানে আমাদের কাছে কোনো ওজর বা অজুহাত নেই। আমরা টেলিভিশনের পর্দায়, ইন্টারনেট ও সংবাদপত্রে ফিলিস্তিনিদের ওপর বুলেট, রকেট ও বোমা বর্ষণ করতে দেখছি। আমরা তা ঘটার সাথে সাথেই দেখতে পাচ্ছি, তাই আমাদের কোনো ক্ষমা নেই। হে ভাই! সময় আমাদের অনুকূলে নেই। মৃত্যু হঠাৎ উপস্থিত হয়: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এমনটি করবে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বেই তোমরা তা থেকে ব্যয় করো। অন্যথায় সে বলবে: হে আমার রব! আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে আমি দান-সদকা করতাম এবং নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। কিন্তু যখন কারো নির্ধারিত সময় চলে আসবে, আল্লাহ তাকে কিছুতেই অবকাশ দেবেন না। তোমরা যা করো, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।} [সূরা আল-মুনাফিকুন: ৯-১১]

অতঃপর হে আমার ভাই! আপনি ফিলিস্তিনি ভাইদের কেবল দায়িত্ববোধ থেকে সাহায্য করছেন না; আল্লাহর কসম, এতে রয়েছে মহান প্রতিদান ও অঢেল সওয়াব। আমি শুধু জান্নাত নয়, বরং জান্নাতসমূহের কথা বলছি: (যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ায়, আল্লাহ তার প্রয়োজনে পাশে থাকেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের বিপদ দূর করে দেয়, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহের মধ্য থেকে একটি বড় বিপদ দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।)

অতএব: সকল মুসলিম—তারা আরব হোক বা অনারব, ফিলিস্তিনের নিকটবর্তী হোক বা দূরবর্তী, কোনো মুসলিম দেশে থাকুক বা অমুসলিম বিশ্বে—তাদের সকলের ওপর কর্তব্য হলো ফিলিস্তিন ইস্যুটিকে দ্রুত জাগ্রত করা। তবে তাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন তারা এটিকে সঠিক ধারণার ভিত্তিতে, অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী পরিচালিত করে।

তাহলে সেই সঠিক ধারণাগুলো কী যা আমরা মুসলিমদের হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই? এটি—
(খণ্ড: ১) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: -)
فلسطين حتى لا تكون أندلسا أخرى   (راغب السرجاني)

القسم: التاريخ


الكتاب: فلسطين حتى لا تكون أندلسا أخرى

المؤلف: راغب السرجاني

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

ফিলিস্তিন: যেন অন্য কোনো আন্দালুস না হয়   (রাঘিব আল-সারজানি)

বিভাগ: ইতিহাস


বই: ফিলিস্তিন: যেন অন্য কোনো আন্দালুস না হয়

লেখক: রাঘিব আল-সারজানি

বইয়ের উৎস: ইসলামওয়েব ওয়েবসাইট কর্তৃক শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে সংকলিত অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ১০টি পাঠ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ٢) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ١)
سلسلة فلسطين_‌‌فلسطين إسلامية

فلسطين أرض إسلامية، وهي تشكل بقعة مقدسة للأمة الإسلامية، فقد ميزها الله بمميزات على سائر البقاع، لكن هذه المميزات ليست سبباً رئيسياً لتحريرها من أيدي اليهود، إذ إن السبب الرئيسي لتحريرها هو أنها إسلامية، وهذه المميزات التي أعطاها الله لها حوافز تزيد محبة المسلمين لها.
ফিলিস্তিন ধারাবাহিক—‌‌ফিলিস্তিন ইসলামি

ফিলিস্তিন একটি ইসলামি ভূখণ্ড, এবং এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি পবিত্র স্থান হিসেবে গণ্য। আল্লাহ তাআলা একে অন্যান্য সকল ভূখণ্ডের ওপর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে অনন্য করেছেন। তবে এই বৈশিষ্ট্যসমূহ ইহুদিদের হাত থেকে একে মুক্ত করার প্রধান কারণ নয়; বরং এর মুক্তির প্রধান কারণ হলো এটি একটি ইসলামি ভূখণ্ড। আর আল্লাহ তাআলা একে যে সকল বৈশিষ্ট্য দান করেছেন, তা মূলত এমন কিছু উদ্দীপক যা এর প্রতি মুসলিমদের মহব্বত ও ভালোবাসা আরও বৃদ্ধি করে।
(খণ্ড: ٢) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٢)
‌‌إحساس المسلم بفلسطين إحساس نابع من القلب

أعوذ بالله السميع العليم من الشيطان الرجيم.

بسم الله الرحمن الرحيم.

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، إنه من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، اللهم اجعلنا من الذين حفظوا للقرآن حرمته، وممن عظموا منزلته، وممن تأدبوا بآدابه، وممن التزموا بأحكامه، وممن حللوا حلاله، وممن حرموا حرامه، وممن عمل بمحكمه، وممن آمن بمتشابهه.

اللهم إنا نسألك إيماناً دائماً، ويقيناً صادقاً، وقلباً خاشعاً، وعلماً نافعاً، ولساناً ذاكراً، وبدناً على البلاء صابراً.

آمين آمين، وصل اللهم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم، والحمد لله رب العالمين.

أما بعد: مع الحلقة الثانية من حلقات قضية فلسطين، تحدثنا في الحلقة الأولى عن ربط قضية فلسطين بالأندلس، وعن خطورة قضية فلسطين، وعن المؤامرات الكثيرة التي تحاك لأمة المسلمين، وبالتبعية لفلسطين، وعن دور الأمة إجمالاً في حل قضية فلسطين، وعن المؤامرة الفكرية التي ذكرنا خطورتها على الأمة الإسلامية، وتحدثنا أيضاً عن مفهوم الأمة الإسلامية، وعن الدور الأول تجاه قضية فلسطين، وهو تحريك القضية بالمفاهيم الصحيحة وبسرعة.

قبل الحديث عن هذا الدور الكبير، دور تحريك القضية بالمفاهيم وبسرعة، أجيب عن سؤال جاء من أخ بخصوص الحلقة السابقة.

أخ يسأل ويقول: تعليقاً على أن المسلمين كالجسد الواحد، وأنه ليس من المعقول أن يشتكي القلب أو اليد، وتظل العين لاهية برؤية المباريات والمشاكل التافهة والمسلسلات وما إلى ذلك هل تطلب منا أن نعيش في كآبة مستمرة تضامناً مع أهل فلسطين؟

 

‌‌الجواب

الحق أنا لم أقل: أنك ستعيش في كآبة تضامناً مع أهل فلسطين، أنا لا أطلب منك تمثيل الحزن أو تعمد البعد عن أماكن الفرح إمعاناً في الكآبة، لكن ما ذكرته هو أن هذا شعور ذاتي لا يحتاج من الإنسان أن يبذل له مجهوداً، شعور الجسد الواحد، إذا أصيب قلبك فهل تدعي العين الألم؟ أو تدعي القدم الألم؟ أم أنها فعلاً تشعر بالألم دون ادعاء؟ لو مات إنسان عزيز عليك، هل تحتاج إلى بذل مجهود لفصل نفسك عن أماكن اللهو، أم أن هذا شعور ذاتي تلقائي نتيجة الحزن الحقيقي؟! ما أريده هو أن تحس بالقضية إحساساً صادقاً، وساعتها سيأتي الحزن بشكل طبيعي، بل سيتبع الحزن عمل إيجابي، يبغي التغيير والإصلاح، وأضرب مثالاً يوضح الصورة: موقف مشهور جداً في التاريخ، موقف صلاح الدين الأيوبي رحمه الله، عندما روي أمامه حديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان في هذا الحديث: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم يضحك، فكان الرواة لهذا الحديث يضحكون عندما يذكرون ضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما روي هذا الحديث أمام صلاح الدين الأيوبي لم يضحك، فسألوا عن ذلك فقال: كيف أضحك والأقصى أسير في أيدي الصليبيين؟ هو لا يستطيع أن يضحك؛ لأنه يحس فعلاً بالقضية، هو لا يفتعل الحزن تضامناً مع المشردين من أهل فلسطين، ولا يدعي الألم احتراماً لمشاعر الآخرين، ولكنه بالفعل يعاني كما يعانون، ويتألم كما يتألمون، هو جزء لا يتجزأ من الجسد الواحد، ولا بد أن يشعر بشعوره، ويتألم لآلامه، ويحزن لأحزانه، ويفرح لأفراحه دون تكلف ولا افتعال، فأنت إن أدركت القضية على حقيقتها، وأن لك دوراً فيها دخل الحزن في قلبك مؤكداً لا افتعال فيه ولا تكلف، هذا ما أريده، ولا أريد منك أن تفتعل الحزن لقضية فلسطين.
ফিলিস্তিনের প্রতি মুসলিমের অনুভূতি হলো অন্তর থেকে উৎসারিত অনুভূতি

আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছে হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা কুরআনের পবিত্রতা রক্ষা করেছে, যারা এর মর্যাদাকে মহান করেছে, যারা এর আদব মেনে চলেছে, যারা এর বিধান মেনে চলেছে, যারা এর হালালকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করেছে, যারা এর হারামকে হারাম বলে জেনেছে, যারা এর অকাট্য বিধানাবলি অনুযায়ী আমল করেছে এবং যারা এর রূপক আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান এনেছে।

হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে চিরস্থায়ী ঈমান, সত্যনিষ্ঠ ইয়াকিন, বিনীত অন্তর, উপকারী জ্ঞান, জিকিরকারী জিহ্বা এবং বিপদে ধৈর্যশীল শরীর প্রার্থনা করছি।

আমীন, আমীন। হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও বরকত নাজিল করুন। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

অতঃপর: ফিলিস্তিন ইস্যু সম্পর্কিত আলোচনার আজ দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্বে আমরা ফিলিস্তিন ইস্যুর সাথে আন্দালুসের সম্পর্ক, ফিলিস্তিন সমস্যার গুরুত্ব, মুসলিম উম্মাহ এবং ফলশ্রুতিতে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে চলমান নানাবিধ ষড়যন্ত্র এবং ফিলিস্তিন ইস্যু সমাধানে সামগ্রিকভাবে উম্মাহর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়াও আমরা মুসলিম উম্মাহর ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্রের ভয়াবহতা, মুসলিম উম্মাহর ধারণা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে প্রথম করণীয়—অর্থাৎ সঠিক ধারণার ভিত্তিতে এবং দ্রুততার সাথে এই ইস্যুটিকে গতিশীল করা সম্পর্কে কথা বলেছি।

এই মহান ভূমিকা অর্থাৎ সঠিক ধারণার মাধ্যমে এবং দ্রুততার সাথে ইস্যুটিকে গতিশীল করার বিষয়ে কথা বলার আগে, আমি বিগত পর্বের পরিপ্রেক্ষিতে এক ভাইয়ের করা একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই।

একজন ভাই প্রশ্ন করে বলেছেন: "মুসলিমরা একটি দেহের মতো" - এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে হৃৎপিণ্ড বা হাত ব্যথায় কাতরাবে অথচ চোখ খেলাধুলা, তুচ্ছ সমস্যা এবং ধারাবাহিক নাটক ইত্যাদিতে মগ্ন থাকবে তা যুক্তিসঙ্গত নয়; এমতাবস্থায় আপনি কি আমাদের কাছে ফিলিস্তিনের জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশার্থে নিরবচ্ছিন্ন বিষণ্নতায় ডুবে থাকাকে দাবি করছেন?

 

‌‌উত্তর

সত্য বলতে আমি এটি বলিনি যে, আপনি ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি জানাতে বিষণ্নতায় জীবন কাটাবেন। আমি আপনাকে দুঃখের ভান করতে কিংবা বিষণ্নতা বাড়ানোর জন্য আনন্দপূর্ণ স্থানগুলো এড়িয়ে চলতে বলছি না। তবে আমি যা বলেছি তা হলো এটি একটি সহজাত অনুভূতি, যার জন্য মানুষের কোনো বাড়তি প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয় না। এটি একটি দেহের অনুভূতি। আপনার হৃৎপিণ্ড যদি আক্রান্ত হয়, তবে চোখ কি ব্যথার অভিনয় করে? নাকি পা ব্যথার ভান করে? নাকি তারা কোনো ভান ছাড়াই প্রকৃতপক্ষে ব্যথা অনুভব করে? আপনার প্রিয় কোনো মানুষ যদি মারা যায়, তবে আমোদ-প্রমোদের স্থান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে কি আপনার বিশেষ প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়, নাকি এটি প্রকৃত শোকের ফলে সৃষ্ট একটি স্বয়ংক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতি? আমি যা চাই তা হলো, আপনি এই ইস্যুটিকে আপনার অন্তরে সত্যনিষ্ঠভাবে অনুভব করুন, তখন দুঃখ এমনিতেই স্বাভাবিকভাবে আসবে। শুধু তাই নয়, সেই দুঃখের পথ ধরে একটি ইতিবাচক কর্মতৎপরতা শুরু হবে, যা পরিবর্তন ও সংস্কারের পথ খুঁজবে। আমি বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য একটি উদাহরণ দিচ্ছি: ইতিহাসের একটি অত্যন্ত বিখ্যাত ঘটনা, যা রাহিমাহুল্লাহ সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর সাথে সম্পর্কিত। তাঁর সামনে যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস বর্ণনা করা হচ্ছিল এবং সেই হাদিসে উল্লেখ ছিল যে রাসূলুল্লাহ (সা.) হাসছেন, তখন হাদিস বর্ণনাকারীরাও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাসির কথা উল্লেখ করার সময় হাসছিলেন। কিন্তু যখন সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর সামনে এই হাদিসটি বর্ণনা করা হলো, তিনি হাসলেন না। এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: "আমি কীভাবে হাসব যখন আল-আকসা ক্রুসেডারদের হাতে বন্দি?" তিনি হাসতে পারছেন না কারণ তিনি প্রকৃতপক্ষে এই ইস্যুটিকে হৃদয়ে অনুভব করছেন। তিনি ফিলিস্তিনের বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রতি সংহতি দেখানোর জন্য কৃত্রিম দুঃখ করছেন না, কিংবা অন্যদের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার জন্য ব্যথার ভান করছেন না। বরং তিনি প্রকৃতপক্ষে সেই যন্ত্রণায় ভুগছেন যা তারা ভোগ করছে, এবং সেই ব্যথায় ব্যথিত হচ্ছেন যা তারা অনুভব করছে। তিনি সেই এক দেহের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং স্বাভাবিকভাবেই তিনি তাদের অনুভূতি অনুভব করবেন, তাদের কষ্টে কষ্ট পাবেন, তাদের দুঃখে দুঃখিত হবেন এবং তাদের সুখে কোনো কৃত্রিমতা বা ভান ছাড়াই সুখী হবেন। আপনি যদি এই সমস্যার প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করেন এবং এতে আপনার যে ভূমিকা রয়েছে তা বুঝতে পারেন, তবে আপনার অন্তরে অবশ্যই দুঃখ প্রবেশ করবে—যাতে কোনো লৌকিকতা বা কৃত্রিমতা থাকবে না। আমি এটাই চাই। আমি ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে আপনার কাছে কোনো কৃত্রিম দুঃখের অভিনয় চাই না।
(খণ্ড: ٢) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌تحديد هدف ما لا بد أن يكون وفق منهجية صحيحة

في المحاضرة السابقة تحدثنا عن الدور الأول عن أهمية تحريك القضية وبسرعة، ووقفنا عند ذكر المفاهيم الصحيحة لقضية فلسطين، اليوم نبدأ في الحديث عن بعض هذه المفاهيم الهامة، الحق أن سوء الفهم لهذه المعاني أو المفاهيم قد يؤدي بنا إلى انحراف خطير بعيد تماماً عن جادة الطريق، سوء الفهم لهذه المعاني يعني انسياقاً وراء المؤامرة الفكرية.

المفهوم الأول الذي نريد أن نناقشه في هذه المحاضرة هو تحديد الهدف، هل يستقيم أن تكون مسافراً فتعد العدة للسفر من سيارة ومتاع وأموال وميعاد وتجهيز وترتيب، ثم تأتي يوم السفر وتكتشف أنك لا تدري إلى أين تسافر، ما هي الوجهة! ما هو الهدف! هذا بالطبع لا يستقيم؛ لأن إعدادك لمدينة مجاورة غير الإعداد لمدينة بعيدة، فسفرك إلى الإسكندرية ليس مثل سفرك إلى أسوان، وليس مثل سفرك إلى مكة، وليس مثل سفرك إلى لندن، أو سفرك إلى أي مكان، كل مكان يتطلب إعداداً خاصاً، تحديد الهدف، وتحديد الوجهة.

أترجم هذا الكلام إلى

 

‌‌السؤال

لماذا نحرر فلسطين؟ وهذا سؤال في غاية الأهمية.

ما هي الدوافع وراء الحركة، وبذل الجهد والعرق والمال والنفس؟ مهم جداً أن نجيب باستفاضة عن هذا السؤال، وأن نفرغ له وقتاً وجهداً؛ لأن المؤامرة الفكرية التي تحدثنا عنها في الحلقة السابقة أول ما تضرب ستضرب الأهداف والدوافع، وهذا قد يحبط العمل.

لماذا نحرر فلسطين؟ سأعرض لكم إجابات أعرف أنها تخطر في بال كثير من المسلمين، إجابات كثيرة متعددة، ولكني أشعر أن إجابة واحدة في هذه الإجابات تعد هي الإجابة الصحيحة.

سأعرض هذه الإجابات الواحدة تلو الأخرى، وعلى المستمعين أن يحاولوا أن يلتقطوا من بينها إجابة يعتقدون أنها هي الإجابة الصحيحة.

الإجابة الأولى: هل لأنها عربية ونحن عرب؟ الإجابة الثانية: هل لأنها القدس المدينة المقدسة المباركة؟ الإجابة الثالثة: هل لأن بها المسجد الأقصى مسرى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأولى القبلتين وثالث الحرمين؟ الإجابة الرابعة: هل لحل مشكلة اللاجئين المشردين في بقاع العالم المختلفة؟ الإجابة الخامسة: هل لوقف نزيف دماء الفلسطينيين؟ الإجابة السادسة: هل لأنها فتحت بالإسلام وحكمت بالإسلام قديماً في عهد عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأرضاه؟ هذه ستة اختيارات، اختر من بينها واحدة، فكل الإجابات قد يصلح للإجابة، لكن ما هي أصح الإجابات على سؤال خطير: لماذا نحرر فلسطين؟ أنا أريد من الذي يسمع يحاول التفكير معي، نحن نعمل دراسة عن الدور الذي من الممكن أن نؤديه نحو قضية فلسطين، إن لم نفهم فعلاً لماذا نحرر فلسطين، سنخسر معظم الطريق، وسنتكسر، وستضعف الشوكة لا محالة.

أعود وأذكركم مرة أخرى، هل لأنها عربية؟ هل لأن بها القدس؟ هل لأن بها المسجد الأقصى؟ هل لحل مشكلة اللاجئين؟ هل لوقف نزيف الدماء؟ أم هل لأنها فتحت بالإسلام وحكمت بالإسلام قديماً في عهد عمر بن الخطاب رضي الله عنه؟ أشعر أن قسماً كبيراً من الحضور مع كل إجابة من الإجابات، الجميع مقسمون بين هذه الإجابات، الاختلاف كبير؛ لأن الإعلان يشرح لنا في كل يوم هدفاً لتحرير فلسطين، مرة بالحديث عن كونها عربية، مرة من أجل القدس، مرة من أجل المسجد الأقصى، مرة من أجل إسلامية البلاد، وهكذا اختلف المسلمون كثيراً في الهدف الذي من أجله نحرر فلسطين، الحقيقة أنا من كل هذه الإجابات أختار الإجابة الأخيرة؛ لأنها فتحت بالإسلام وحكمت بالإسلام قديماً في عهد عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأرضاه.
কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ অবশ্যই একটি সঠিক পদ্ধতির অনুসরণে হতে হবে

পূর্ববর্তী আলোচনায় আমরা বিষয়টি দ্রুত গতিশীল করার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছিলাম এবং ফিলিস্তিন ইস্যু সম্পর্কে সঠিক ধারণাগুলো উল্লেখ করার পর্যায়ে থেমেছিলাম। আজ আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলোর কিছু নিয়ে আলোচনা শুরু করব। সত্য কথা হলো, এই অর্থ বা ধারণাগুলোর ভুল বোঝাবুঝি আমাদের সঠিক পথ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত করে এক বিপজ্জনক মোড়ে নিয়ে যেতে পারে। এই অর্থগুলো ভুলভাবে বোঝার অর্থ হলো বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্রের জালে আটকা পড়া।

এই বক্তৃতায় আমরা প্রথম যে ধারণাটি নিয়ে আলোচনা করতে চাই তা হলো লক্ষ্য নির্ধারণ। এটি কি যুক্তিসঙ্গত যে আপনি ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন—গাড়ি, আসবাবপত্র, অর্থ, সময় ও সব আয়োজন সম্পন্ন করলেন—অথচ যাত্রার দিন আবিষ্কৃত হলো যে আপনি জানেনই না কোথায় ভ্রমণ করছেন! গন্তব্য কী! লক্ষ্য কী! এটি অবশ্যই সমীচীন নয়; কারণ নিকটবর্তী কোনো শহরের প্রস্তুতি আর দূরবর্তী কোনো শহরের প্রস্তুতি এক নয়। আলেকজান্দ্রিয়ায় আপনার ভ্রমণ আর আসোয়ানে আপনার ভ্রমণ এক নয়, আবার মক্কায় আপনার ভ্রমণ বা লন্ডনে বা অন্য যেকোনো স্থানে আপনার ভ্রমণের প্রস্তুতিও এক নয়। প্রতিটি স্থানের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং গন্তব্য স্থির করা প্রয়োজন।

আমি এই কথাগুলোকে একটি প্রশ্নে রূপান্তরিত করছি

 

প্রশ্নটি হলো

কেন আমরা ফিলিস্তিনকে মুক্ত করব? এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন।

এই আন্দোলনের পেছনে, শ্রম, ঘাম, অর্থ ও জীবন উৎসর্গের পেছনে মূল প্রেরণা বা চালিকাশক্তি কী? এই প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেওয়া এবং এর জন্য সময় ও শ্রম ব্যয় করা অত্যন্ত জরুরি; কারণ পূর্ববর্তী পর্বে আমরা যে বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্রের কথা বলেছি, তা সবার আগে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলোর ওপর আঘাত হানে, আর এটি কাজকে ব্যর্থ করে দিতে পারে।

কেন আমরা ফিলিস্তিনকে মুক্ত করব? আমি আপনাদের সামনে এমন কিছু উত্তর উপস্থাপন করব যা আমি জানি অনেক মুসলমানের মনেই উদয় হয়; অনেক বৈচিত্র্যময় উত্তর। কিন্তু আমি অনুভব করি যে এই উত্তরগুলোর মধ্যে একটি মাত্র উত্তরই সঠিক উত্তর হিসেবে গণ্য।

আমি এই উত্তরগুলো একে একে উপস্থাপন করব, আর শ্রোতাদের উচিত হবে এর মধ্য থেকে এমন একটি উত্তর বেছে নেওয়া যেটিকে তারা সঠিক বলে মনে করেন।

প্রথম উত্তর: কারণ এটি একটি আরব ভূখণ্ড এবং আমরা আরব? দ্বিতীয় উত্তর: কারণ এটি জেরুজালেম বা কুদস, যা একটি পবিত্র ও বরকতময় শহর? তৃতীয় উত্তর: কারণ সেখানে মসজিদুল আকসা রয়েছে যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেরাজের স্থান, প্রথম কিবলা এবং তৃতীয় পবিত্র হারাম? চতুর্থ উত্তর: বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের সমস্যা সমাধানের জন্য? পঞ্চম উত্তর: ফিলিস্তিনিদের রক্তপাত বন্ধ করার জন্য? ষষ্ঠ উত্তর: কারণ এটি ইসলামের মাধ্যমে বিজিত হয়েছিল এবং প্রাচীনকালে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর যুগে ইসলামের শাসনাধীন ছিল? এই হলো ছয়টি বিকল্প, এর মধ্য থেকে একটি বেছে নিন। সব উত্তরই হয়তো উত্তরের যোগ্য হতে পারে, কিন্তু একটি গুরুতর প্রশ্নের সবচেয়ে সঠিক উত্তর কোনটি: কেন আমরা ফিলিস্তিনকে মুক্ত করব? আমি চাই যারা শুনছেন তারা আমার সাথে চিন্তা করার চেষ্টা করুন। আমরা ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে আমাদের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে একটি গবেষণা করছি। যদি আমরা প্রকৃতপক্ষে না বুঝি যে কেন আমরা ফিলিস্তিনকে মুক্ত করব, তবে আমরা পথের বেশির ভাগ অংশই হারাব, আমরা ভেঙে পড়ব এবং আমাদের শক্তি অনিবার্যভাবে দুর্বল হয়ে যাবে।

আমি পুনরায় আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, এটি কি আরব ভূখণ্ড হওয়ার কারণে? সেখানে কুদস থাকার কারণে? সেখানে মসজিদুল আকসা থাকার কারণে? শরণার্থী সমস্যার সমাধানের জন্য? রক্তপাত বন্ধের জন্য? নাকি এটি ইসলামের মাধ্যমে বিজিত হয়েছিল এবং প্রাচীনকালে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর যুগে ইসলামের মাধ্যমে শাসিত হয়েছিল বলে? আমি অনুভব করছি যে উপস্থিতদের এক বড় অংশ প্রতিটি উত্তরের সাথেই রয়েছেন; সবাই এই উত্তরগুলোর মধ্যে বিভক্ত। মতভেদ অনেক গভীর; কারণ প্রচারমাধ্যম প্রতিদিন আমাদের ফিলিস্তিন মুক্তির একেকটি লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে—কখনও এর আরব সত্তার কথা বলে, কখনও কুদসের জন্য, কখনও মসজিদুল আকসার জন্য, কখনও দেশটির ইসলামি পরিচয়ের জন্য। এভাবেই মুসলমানরা ফিলিস্তিন মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে অনেক দ্বিধাবিভক্ত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, এই সমস্ত উত্তরের মধ্যে আমি শেষ উত্তরটি বেছে নিচ্ছি; কারণ এটি ইসলামের মাধ্যমে বিজিত হয়েছিল এবং প্রাচীনকালে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর যুগে ইসলামের মাধ্যমেই শাসিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ٢) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌موقف الشرع الإسلامي من فتح بلاد فلسطين وغيرها

تذكرون عندما تحدثنا عن فتح بلاد الشام فتحت بلاد فلسطين في سنة 13هـ وأتم الفتح في سنة 18هـ، ومنذ ذلك الحين أصبحت فلسطين قطراً إسلامياً.

يعني: أنا أحرر فلسطين ببساطة؛ لأنها إسلامية في المقام الأول، هذا بلا شك عليه تعليقات كثيرة: أولاً: ما موقف الشرع الإسلامي؟ نحن الآن مختلفون، أعلم أن الكثير يقولون: نحررها؛ لأنها عربية، وآخرين: لأن بها القدس، وآخرين: لأن بها المسجد الأقصى وهكذا اختلفنا، نرجع إلى حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي ذكرناه في المحاضرة السابقة، يقول صلى الله عليه وسلم: (إنه من يعش منكم فسيرى اختلافاً كثيراً، فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي، عضوا عليها بالنواجذ).

فالآن نحن اختلفنا ما بين إسلامية وعربية ووقف لنزيف الدماء وقضية القدس وغيرها، تعالوا نرجع إلى سنة نبينا صلى الله عليه وسلم، وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، تعالوا نرجع إلى الشرع الإسلامي وإلى الفقه الإسلامي، هناك باب كبير جداً في الفقه اسمه باب الأرض المغنومة، الأرض التي دخلها المسلمون بالفتح الإسلامي، ما هو موقفنا من هذه الأرض كأرض فلسطين أو كغيرها من الأراضي التي دخلها المسلمون فاتحين؟ فالأرض التي دخلها المسلمون فتحاً أو صلحاً وقف إسلامي، وعلى هذا اجتماع فقهاء المسلمين، لكن اختلفوا اختلافاً يسيراً في كيفية تصرف الحاكم المسلم في هذه الأرض المغنومة، فـ أبو حنيفة والشافعي وابن حنبل رحمهم الله جميعاً اتفقوا على أنه يجوز أن يفعل في الأرض المفتوحة أحد أمرين: إما أن يوزع أربعة أخماسها على الفاتحين ويضم الخمس الباقي إلى خزانة الدولة، كما قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم بعض أراضي خيبر.

والرأي الثاني: أن يضمها كلها إلى بيت مال المسلمين، ولا يوزع منها شيئاً على الفاتحين، وذلك ليستفيد منها المسلمون إلى يوم القيامة، ولا تبقى حكراً على مجموعة الفاتحين الأوائل، ومرجعهم في هذا الأمر الأخير إلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه، روى البخاري عن أسلم مولى عمر قال: قال عمر رضي الله عنه: أما والذي نفسي بيده! لولا أن أترك آخر الناس بياناً -أي: فقراء- ليس لهم من شيء ما فتحت علي قرية إلا قسمتها كما قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم خيبر، ولكن أتركها خزانة لهم يقتسمونها.

فالإمام مالك لا يرى إلا هذا الرأي الأخير فقط، رأي عمر بن الخطاب بأن الأرض تكون لبيت مال المسلمين، ولا تقسم على الفاتحين.

إذاً: الأرض التي فتحت بالإسلام، أصبحت ملكاً للمسلمين، ملكاً أبدياً لا تغيير له ولا تبديل، هذه الحقيقة الفقهية سيترتب عليها أشياء كثيرة هامة: أولاً: هل فتح المسلمون أرض فلسطين كلها، أم فتحوا جزءاً منها؟ فتحوها كلها.

هذا معلوم.

إذاً: أصبحت أرض فلسطين أرضاً إسلامية خالصة منذ أن فتحت ابتداءً من سنة 13هـ إلى سنة 18هـ، فكل أرض فلسطين من البحر إلى النهر كما يقولون، أي: من البحر الأبيض المتوسط إلى نهر الأردن، ومن لبنان في الشمال إلى رفح وخليج العقبة في الجنوب، أعلم أن هذا في نظر الكثيرين كلام عجيب، وأنه أحلام وأوهام، لكنه شرع الله سبحانه وتعالى، وأبداً ما كان شرع الله أوهاماً ولا أحلاماً.

ثانياً: يزداد العجب مع هذا الفقه عندما تنظر حولك في بلاد العالم بحثاً عن البلاد التي فتحت بالإسلام، فأصبحت بحكم الشرع الإسلامي بلاداً إسلامية.

على سبيل المثال: بلاد الأندلس -إسبانيا والبرتغال- ونحن تكلمنا كثيراً في محاضرات سابقة عن فتح أسبانيا والبرتغال، هذه البلاد حكمت بالإسلام، ثم دارت الدورة وجاءت الدولة لغير المسلمين وانتزعت من أيدي المسلمين بالنصارى، وضاع الحكم الإسلامي هناك، لكن هذا الضياع للحكم الإسلامي في هذه البلاد لم يلغ إسلامية هذه البلاد، بل ستظل إسلامية إلى يوم القيامة.

فمن شرع الله أنه إذا دخل الإسلام بلداً فلا يجب أن يخرج منها أبداً، بل وعليه أن يسعى للدخول إلى غيرها، هذه هي الرسالة الخاتمة، والمسلمون هم جند الله الناشرون لها، والمدافعون عنها، والشهداء في سبيلها؛ حتى لا تكون فتنة، ويكون الدين كله لله.

إن الله سبحانه وتعالى خلق العباد لغاية، قال سبحانه وتعالى في كتابه الكريم: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات:56]، فهؤلاء الذين يعيشون في بلاد أخرى غير بلاد المسلمين لا يعبدون الله سبحانه وتعالى، ولا يؤدون ما خلقهم الله لأجله، وبذلك وجب على المسلمين أن ينطلقوا إليهم يعلمونهم هذا الدين، ويدخلونه في بلادهم، ويزيلون الطغمة الحاكمة التي تبعدهم عن شرع الله سبحانه وتعالى، وعن رسالته الخاتمة للبشرية، رسالة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

كنت أقول هذه المعلومات أمام رجل صديق فقال: يا أخي! وما شأنك أنت؟ اتركه يعبد ما يشاء، ويسجد لمن يشاء.

لا حول ولا قوة إلا بالله العل
ফিলিস্তিন এবং অন্যান্য দেশ বিজয়ের বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের অবস্থান

স্মরণ করুন, যখন আমরা শাম দেশ বিজয়ের বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম। ফিলিস্তিন হিজরি ১৩ সনে বিজিত হয়েছিল এবং হিজরি ১৮ সনে এই বিজয় পূর্ণতা লাভ করে। সেই সময় থেকেই ফিলিস্তিন একটি ইসলামি ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে।

অর্থাৎ, আমি খুব সহজভাবেই ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে চাই; কারণ এটি প্রথমত ও প্রধানত ইসলামি ভূখণ্ড। নিঃসন্দেহে এর ওপর অনেক মন্তব্য রয়েছে। প্রথমত: ইসলামি শরিয়তের অবস্থান কী? বর্তমানে আমাদের মাঝে মতভেদ তৈরি হয়েছে। আমি জানি অনেকেই বলেন: আমরা এটি মুক্ত করব কারণ এটি একটি আরব ভূখণ্ড; অন্যরা বলেন: কারণ সেখানে কুদস (জেরুজালেম) অবস্থিত; আবার কেউ বলেন: কারণ সেখানে মসজিদুল আকসা রয়েছে। এভাবে আমাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় আমাদের আল্লাহর রাসুলের সেই হাদিসের দিকে ফিরে যেতে হবে যা আমরা পূর্ববর্তী আলোচনায় উল্লেখ করেছি। তিনি বলেছেন: (তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের ওপর আবশ্যক হলো আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নাহ অনুসরণ করা; তোমরা একে দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে)।

বর্তমানে আমাদের মাঝে এটি ইসলামি ভূখণ্ড না কি আরব ভূখণ্ড, রক্তক্ষয় বন্ধের বিষয় না কি কুদস সমস্যা—তা নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে। আসুন, আমরা আমাদের নবীর সুন্নাহ এবং হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নাহর দিকে ফিরে যাই। আসুন, আমরা ইসলামি শরিয়ত ও ফিকহ শাস্ত্রের শরণাপন্ন হই। ফিকহ শাস্ত্রে 'গনিমতের জমি' নামক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রয়েছে। যে ভূখণ্ডে মুসলমানরা বিজয়ী হিসেবে প্রবেশ করেছে, সেই ভূখণ্ডের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান কী হবে—তা ফিলিস্তিন হোক বা অন্য কোনো বিজিত অঞ্চল? যে ভূমি মুসলমানরা যুদ্ধের মাধ্যমে বা সন্ধির মাধ্যমে বিজয় করেছে, তা ইসলামি ওয়াকফ হিসেবে গণ্য। এ বিষয়ে মুসলিম ফকিহগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তবে এই বিজিত ভূমিতে মুসলিম শাসক কীভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে তাঁদের মধ্যে সামান্য মতভেদ রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) সবাই এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, বিজিত ভূমির ক্ষেত্রে দুটি ব্যবস্থার যেকোনোটি গ্রহণ করা বৈধ: হয় এর চার-পঞ্চমাংশ বিজয়ীদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া এবং বাকি এক-পঞ্চমাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা রাখা, যেমনটি আল্লাহর রাসুল খায়বারের কিছু জমির ক্ষেত্রে করেছিলেন।

আর দ্বিতীয় মতটি হলো: সম্পূর্ণ ভূমি মুসলিমদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিজয়ীদের মধ্যে কিছুই বণ্টন না করা। এর উদ্দেশ্য হলো, যেন কেয়ামত পর্যন্ত মুসলমানরা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে এবং এটি কেবল প্রথম বিজয়ী দলটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। এই শেষোক্ত মতের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রধান ভিত্তি হলো ওমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)। ইমাম বুখারি ওমরের মুক্তদাস আসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ওমর বলেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি পরবর্তী প্রজন্মের মানুষ নিঃস্ব ও সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা না থাকত, তবে যে জনপদই আমি বিজয় করতাম, তা আল্লাহর রাসুলের খায়বার বণ্টনের মতো বণ্টন করে দিতাম। কিন্তু আমি একে তাদের জন্য ভাণ্ডার হিসেবে রেখে যাচ্ছি যাতে তারা এটি ভাগ করে নিতে পারে।"

ইমাম মালিক কেবল এই শেষোক্ত মতটিই পোষণ করেন, যা ওমর ইবনুল খাত্তাবের মত; অর্থাৎ ভূমি মুসলিমদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তা বিজয়ীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে না।

সুতরাং, ইসলামের মাধ্যমে যে ভূমি বিজিত হয়েছে, তা মুসলমানদের সম্পদে পরিণত হয়েছে—এটি একটি চিরস্থায়ী মালিকানা যা পরিবর্তন বা রূপান্তরযোগ্য নয়। এই ফিকহি বাস্তবতার ওপর অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ভর করে। প্রথমত: মুসলমানরা কি সমগ্র ফিলিস্তিন বিজয় করেছিলেন, না কি এর অংশবিশেষ? তাঁরা এর পুরোটাই বিজয় করেছিলেন।

এটি সর্বজনবিদিত।

সুতরাং, হিজরি ১৩ থেকে ১৮ সনের প্রাথমিক বিজয়ের সময় থেকেই সমগ্র ফিলিস্তিন ভূখণ্ড একটি বিশুদ্ধ ইসলামি ভূমিতে পরিণত হয়েছে। প্রচলিত কথায় যাকে বলা হয় 'সাগর থেকে নদী পর্যন্ত', অর্থাৎ ভূমধ্যসাগর থেকে জর্ডান নদী পর্যন্ত এবং উত্তরে লেবানন থেকে দক্ষিণে রাফাহ ও আকাবা উপসাগর পর্যন্ত সমস্ত অঞ্চল ফিলিস্তিনের অন্তর্ভুক্ত। আমি জানি যে, অনেকের কাছেই এটি একটি বিস্ময়কর কথা এবং তারা একে অলীক স্বপ্ন বা কল্পনা মনে করেন। কিন্তু এটি মহান আল্লাহর শরিয়ত, আর আল্লাহর শরিয়ত কখনো কল্পনা বা অলীক স্বপ্ন হতে পারে না।

দ্বিতীয়ত: এই ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বের অন্যান্য বিজিত দেশগুলোর দিকে তাকালে বিস্ময় আরও বেড়ে যায়, যা ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী ইসলামি ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ: আন্দালুস—স্পেন ও পর্তুগাল। আমরা পূর্ববর্তী আলোচনায় স্পেন ও পর্তুগাল বিজয়ের বিষয়ে অনেক কথা বলেছি। এই দেশগুলো একসময় ইসলামের অধীনে শাসিত হতো। এরপর সময়ের পরিক্রমায় রাষ্ট্রক্ষমতা অমুসলিমদের হাতে চলে যায় এবং খ্রিস্টানরা এটি মুসলমানদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়। সেখানে ইসলামি শাসন বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু এই দেশগুলোতে ইসলামি শাসনের অবসান ঘটলেও তা এই দেশগুলোর 'ইসলামি পরিচিতি' মুছে দেয়নি; বরং কেয়ামত পর্যন্ত এগুলো ইসলামি ভূখণ্ড হিসেবেই গণ্য হবে।

ইসলামি শরিয়তের বিধান হলো, ইসলাম যদি কোনো দেশে প্রবেশ করে, তবে সেখান থেকে তা কখনোই বেরিয়ে যাওয়া উচিত নয়। বরং মুসলিমদের উচিত অন্য দেশেও ইসলামের প্রবেশের জন্য সচেষ্ট হওয়া। এটিই হলো শেষ ঐশী বাণী, আর মুসলমানরা হলো আল্লাহর সেই বাহিনী যারা একে প্রচার করে, এর প্রতিরক্ষা করে এবং এর পথে জীবন উৎসর্গ করে; যাতে কোনো ফিতনা অবশিষ্ট না থাকে এবং দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।

মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের এক বিশেষ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাঁর পবিত্র কিতাবে ইরশাদ করেছেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি} [সূরা যারিয়াত: ৫৬]। অতএব, যারা মুসলিম দেশগুলোর বাইরে অন্য দেশে বসবাস করছে এবং মহান আল্লাহর ইবাদত করছে না, তারা তাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য পূর্ণ করছে না। এ কারণে মুসলমানদের দায়িত্ব হলো তাদের কাছে গিয়ে এই দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, তাদের দেশে এর প্রসার ঘটানো এবং সেই শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতাচ্যুত করা যারা তাদের মহান আল্লাহর শরিয়ত এবং মানবতার জন্য আল্লাহর রাসুলের আনীত শেষ ঐশী বাণী থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে।

আমি আমার এক বন্ধুর সামনে এই তথ্যগুলো বলছিলাম, তখন তিনি বললেন: "ভাই! আপনার কাজ কী? তাদের যা খুশি উপাসনা করতে দিন, যার কাছে খুশি সিজদা করতে দিন।"

সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আর কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।
(খণ্ড: ٢) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌موقف الشرع الإسلامي من أرض إسلامية احتلها الكفار

لو احتل جزء من الأرض الإسلامية ماذا يكون الوضع؟ اجتمع فقهاء المسلمين على أنه يتعين الجهاد في سبيل الله لتحرير أي جزء محتل من بلاد المسلمين، ولو كان شبراً واحداً، يتعين الجهاد يا إخوة! أي: يصبح فرض عين كالصلاة والصيام في رمضان والزكاة.

والفروض بصفة عامة إما فرض عين وإما فرض كفاية، ومعنى فرض عين: يتعين على الفرد المسلم أن يقوم به بنفسه، ولا يسقط بإقامة البعض له مثل الصلاة المفروضة، فلا يصح أن يصلي أحد بالنيابة عن الآخر، وكذلك الزكاة إن كان يمتلك الزكاة الذي وجب عليه نصاب وحال عليه الحول، وإذا لم يقم به الفرد المسلم أثم واستحق عقاباً من الله سبحانه وتعالى.

أما فرض الكفاية: فهي الفروض التي تجب على بعض الناس دون البعض الآخر، ولو فعلوها وسدوا العجز لسقط الإثم عن الجميع، ولو لم يفعلها أحد أثم جميع المسلمين، كالأذان مثلاً، فإنه لا يجب على كل المسلمين أن يقوموا عند وقت الأذان ويؤذنون، وإنما يكفي المسلمين أن يقوم رجل ويؤذن للصلاة.

كذلك صلاة الجنازة، ورد الشبهات عن الإسلام مثلاً، ومثل بعض الأمور التي تتصل بإصلاح النظام المعيشي، مثل الزراعة والطب والصناعة والهندسة، كثير من الأمور يكفي أن يكون فيها بعض المسلمين يقومون بها حتى يسقط الإثم عن بقية المسلمين.

وبالنسبة للجهاد هو في الأصل فرض كفاية، إذا قام به بعض المسلمين وحصلت بهم الكفاية سقط الإثم عن بقية المسلمين؛ لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي رواه الإمام مسلم عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: (بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم بعثاً إلى بني لحيان فقال: لينبعث من كل رجلين أحدهما، والأجر بينهما).

إذاً: الجهاد في الأصل فرض كفاية، لكنه يتعين فيصبح مثل الصلاة المفروضة وصيام رمضان في أمور ثلاثة: أولاً: أن يحضر المكلف صف القتال، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلا تُوَلُّوهُمُ الأَدْبَارَ} [الأنفال:15].

ثانياً: إذا استنفر الحاكم أحداً من المكلفين، فمثلاً لو كان هناك خلافة إسلامية وكان هناك جهاد في بلاد الشام والحاكم استنفر رجالاً من اليمن تعين عليهم أن يتحركوا وللجهاد؛ لما رواه البخاري عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: (لا هجرة بعد الفتح ولكن جهاد ونية، وإذا استنفرتم فانفروا).

ثالثاًً: إذا احتل العدو جزءاً من أرض المسلمين، -وهذا شبيه جداً بالموقف الذي نحن بصدده الآن في فلسطين- فإنه يتعين على أهل البلد المحتل أن يخرجوا جميعاً للقتال إن كان دفع العدو لا يتحقق إلا بخروجهم جميعاً، فإن لم يكفوا عاونهم الأقرب فالأقرب من بلاد المسلمين، ولو أتى ذلك على مسلمي الأرض جميعاً.

يقول أبو حنيفة رحمه الله: فإن غلب العدو على بلد من بلاد المسلمين أو ناحية من نواحيها ففرض عين -أي: الجهاد- فتخرج المرأة بغير إذن زوجها، والعبد بغير إذن مولاه، وكذا يخرج الولد من غير إذن والديه، والغريم بغير إذن دائنه.

ثم يقول: امرأة سبيت من الشرق وجب على أهل المغرب تخليصها.

فسبحان الله! نفس الكلمات يا إخوة! تتكرر، ولكن بصيغ مختلفة في فقه المالكية والشافعية والحنابلة، فهذا أمر مجمع عليه، أنه إذا احتل جزء من أرض المسلمين ولو جزء يسير؛ وجب على المسلمين وتعين عليهم أن يحرروه.

إذا: ً أي بلد فتح بالإسلام قتالاً أو صلحاً أصبح بلداً إسلامياً، وتعين على المسلمين تحريره إن احتل شبر منه، فلسطين أو غير فلسطين من البلاد الإسلامية المحتلة.

لكن هناك أولويات، فليس من المعقول أن يكون الموقف ساخناً جداً في فلسطين والشيشان وكشمير، ونحن نقوم بتجميع الجيوش، ونذهب لتحرير إسبانيا مثلاً أو فرنسا أو اليونان، فلا بد أن يكون هناك أولويات عند المسلمين في القضايا الحادة الساخنة، مثل قضية فلسطين أو الشيشان أو كشمير أو البوسنة والهرسك أو كوسوفا، توجه إليها الجيوش وتوجه إليها الطاقات، ويوجه إليها الجهد.

فقد يقول قائل: هذا كلام جميل، لكن ينافي الحلول الواقعية التي ذكرتها في البداية، ونحن قلنا في البداية: إننا نتحدث مع الطبيب والمهندس والنجار والسباك والحداد، ونتحدث مع عموم الأمة، ولا نتحدث مع من بيده أن يخرج الجيوش ويجهز الطاقات للحروب، فهل هذا فيه تعارض مع ما ذكرناه في بداية المحاضرات؟

 

‌‌الجواب

أولاً: نحن نتحدث عن مفاهيم أساسية: حتى تعمل لا بد أن تفهم أولاً، ولا بد أن تعرف حقوقك حتى تستطيع أن تقاتل من أجلها، وهذه المحاضرات يا إخوة! سيسمعها أحد رجلين، إما في داخل فلسطين وإما في خارج فلسطين، فلو كان السامع في داخل فلسطين ولديه الفرصة للجهاد لا بد أن يعلم أنه قد تعين عليه الجهاد، ولا بد أن يعلم حدود حقوقه التي لا يجوز له التنازل عنها، ولو كان السامع لهذه المحاضرات خارج بلاد فلسطين فعليه أن يعين على هذا الجهاد.

روى البخاري و
কাফেরদের দ্বারা দখলকৃত মুসলিম ভূখণ্ডের ব্যাপারে ইসলামী শরীয়তের অবস্থান

যদি মুসলিম ভূখণ্ডের কোনো অংশ দখল করা হয়, তবে তার হুকুম কী হবে? মুসলিম ফকীহগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মুসলিম দেশগুলোর কোনো দখলকৃত অংশ মুক্ত করার জন্য আল্লাহর পথে জিহাদ করা অপরিহার্য, তা যদি এক বিঘত জমিও হয়। হে ভাইয়েরা! জিহাদ তখন অবধারিত হয়ে যায়; অর্থাৎ এটি রমজানের নামাজ, রোজা এবং জাকাতের মতো ‘ফরজে আইন’ হয়ে যায়।

সাধারণভাবে ফরজসমূহ দুই প্রকার: ফরজে আইন এবং ফরজে কিফায়া। ফরজে আইনের অর্থ হলো: প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির ওপর এটি নিজে পালন করা আবশ্যক, এবং কিছু লোক পালন করলে অন্যদের ওপর থেকে এর দায়িত্ব রহিত হয় না, যেমন নির্ধারিত সালাত। একজনের পক্ষ থেকে অন্যজন সালাত আদায় করা বৈধ নয়। তদ্রূপ জাকাতও, যদি কারো কাছে জাকাতের নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে এবং তার ওপর এক বছর অতিবাহিত হয়। যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তি তা পালন না করে, তবে সে গুনাহগার হবে এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তির যোগ্য হবে।

আর ফরজে কিফায়া হলো: এমন কিছু ফরজ যা সমাজের কিছু মানুষের ওপর ওয়াজিব হয়, সবার ওপর নয়। যদি তারা তা পালন করে এবং প্রয়োজন পূরণ করে দেয়, তবে সবার ওপর থেকে গুনাহ মাফ হয়ে যায়। আর যদি কেউ তা পালন না করে, তবে সমস্ত মুসলিম গুনাহগার হবে। যেমন আযান; আযানের সময় সকল মুসলিমের দাঁড়িয়ে আযান দেওয়া ওয়াজিব নয়, বরং একজন দাঁড়িয়ে আযান দিলেই সকল মুসলিমের জন্য তা যথেষ্ট হয়।

তদ্রূপ জানাজার নামাজ, ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সংশয় নিরসন করা এবং জীবন ব্যবস্থার উন্নতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ—যেমন কৃষি, চিকিৎসা, শিল্প ও প্রকৌশল। এমন অনেক বিষয় আছে যেখানে কিছু মুসলিম তা পালন করলে বাকি মুসলিমদের ওপর থেকে গুনাহ রহিত হয়ে যায়।

আর জিহাদের ক্ষেত্রে তা মূলত ফরজে কিফায়া। যদি কিছু মুসলিম তা পালন করে এবং তাদের মাধ্যমে উদ্দেশ্য সফল হয়, তবে বাকিদের ওপর থেকে গুনাহ মাফ হয়ে যায়; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই হাদিসের কারণে যা ইমাম মুসলিম আবু সাইদ আল-খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু লিহয়ানের উদ্দেশ্যে একটি বাহিনী প্রেরণ করেন এবং বলেন: 'প্রতি দুইজনের মধ্য থেকে একজন করে বের হবে এবং সওয়াব উভয়ের মধ্যে সমান হবে')।

সুতরাং: জিহাদ মূলত ফরজে কিফায়া, কিন্তু তিনটি ক্ষেত্রে তা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং ফরজ নামাজ ও রমজানের রোজার মতো হয়ে যায়: প্রথমত: যখন কোনো মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) যুদ্ধের সারিতে উপস্থিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যখন কাফেরদের মুখোমুখি হবে যুদ্ধের ময়দানে, তখন তাদের থেকে পিছু হটে যেও না} [আল-আনফাল: ১৫]।

দ্বিতীয়ত: যদি শাসক কোনো মুকাল্লাফ ব্যক্তিকে যুদ্ধের ডাক দেন। যেমন ধরুন, যদি ইসলামী খিলাফত থাকত এবং সিরিয়া ভূখণ্ডে জিহাদ চলত আর শাসক যদি ইয়ামেনের লোকদের যুদ্ধের ডাক দিতেন, তবে তাদের জন্য জিহাদে অংশগ্রহণ করা অবধারিত হয়ে যেত। বুখারি শরীফে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: (মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত অবশিষ্ট আছে। আর যখন তোমাদেরকে যুদ্ধের ডাক দেওয়া হবে, তখন তোমরা বেরিয়ে পড়ো)।

তৃতীয়ত: যখন শত্রু মুসলিম ভূখণ্ডের কোনো অংশ দখল করে নেয়—আর ফিলিস্তিনে আমরা এখন যে পরিস্থিতির সম্মুখীন এটি ঠিক সেরকম—তখন অধিকৃত ভূখণ্ডের অধিবাসীদের জন্য যুদ্ধে বের হওয়া অবধারিত হয়ে যায়, যদি শত্রু বিতাড়ন তাদের সবার অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব না হয়। যদি তারা যথেষ্ট না হয়, তবে নিকটবর্তী দেশগুলো ক্রমান্বয়ে তাদের সাহায্য করবে, এমনকি তা যদি পৃথিবীর সমস্ত মুসলিমকে অন্তর্ভুক্ত করে তবুও।

ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: যদি শত্রু কোনো মুসলিম দেশ বা তার কোনো অঞ্চলের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে, তবে জিহাদ ফরজে আইন হয়ে যায়। তখন স্ত্রী তার স্বামীর অনুমতি ছাড়া এবং দাস তার মুনীবের অনুমতি ছাড়াই বের হবে। অনুরূপভাবে সন্তান তার বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়া এবং ঋণগ্রহীতা তার ঋণদাতার অনুমতি ছাড়া বের হবে।

এরপর তিনি বলেন: যদি পূর্ব দিগন্তে কোনো নারী বন্দি হয়, তবে পশ্চিম দিগন্তের অধিবাসীদের ওপর তাকে উদ্ধার করা ওয়াজিব।

সুবহানাল্লাহ! হে ভাইয়েরা, একই কথা মালিকি, শাফেয়ি এবং হাম্বলি ফিকহে বিভিন্ন আঙ্গিকে পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এটি একটি সর্বসম্মত বিষয় যে, যদি মুসলিম ভূখণ্ডের কোনো অংশ, এমনকি সামান্য অংশও দখল করা হয়, তবে তা মুক্ত করা মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব এবং অবধারিত হয়ে যায়।

সুতরাং, যে কোনো দেশ যা যুদ্ধের মাধ্যমে বা সন্ধির মাধ্যমে ইসলামের অধীনে বিজিত হয়েছে, তা ইসলামী ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। আর যদি তার এক বিঘত জমিও দখল করা হয়, তবে তা মুক্ত করা মুসলিমদের ওপর অবধারিত—তা ফিলিস্তিন হোক বা দখলকৃত অন্যান্য মুসলিম ভূখণ্ড।

তবে এখানে অগ্রাধিকারের বিষয় রয়েছে। ফিলিস্তিন, চেচনিয়া ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত উত্তপ্ত, তখন আমরা সেনাবাহিনী সংগ্রহ করে স্পেন, ফ্রান্স বা গ্রিস জয় করতে যাব—এমনটা যুক্তিযুক্ত নয়। মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উত্তপ্ত বিষয়গুলোতে—যেমন ফিলিস্তিন, চেচনিয়া, কাশ্মীর, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা বা কসোভোর বিষয়ে অবশ্যই অগ্রাধিকার থাকতে হবে। সেখানেই সেনাবাহিনী, সামর্থ্য এবং প্রচেষ্টা নিয়োজিত করতে হবে।

এখন কেউ হয়তো বলতে পারেন: এটি চমৎকার কথা, কিন্তু আমি শুরুতে যে বাস্তবসম্মত সমাধানের কথা বলেছি তার সাথে এটি সাংঘর্ষিক। আমরা শুরুতে বলেছিলাম যে, আমরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কাঠমিস্ত্রি, প্লাম্বার এবং কামারদের সাথে কথা বলছি, অর্থাৎ উম্মাহর সাধারণ মানুষের সাথে। আমরা তাদের সাথে কথা বলছি না যাদের হাতে সেনাবাহিনী পরিচালনা এবং যুদ্ধের সামর্থ্য প্রস্তুত করার ক্ষমতা রয়েছে। তাহলে কি আলোচনার শুরুতে আমরা যা বলেছি তার সাথে এর কোনো বিরোধ রয়েছে?

 

উত্তর

প্রথমত: আমরা মৌলিক ধারণাগুলো নিয়ে আলোচনা করছি। কাজ করার আগে আপনাকে প্রথমে বিষয়টি বুঝতে হবে এবং আপনার অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে যাতে আপনি সেটির জন্য লড়াই করতে পারেন। হে ভাইয়েরা! এই আলোচনাটি দুই ধরনের মানুষ শুনবে: হয় সে ফিলিস্তিনের ভেতরে আছে অথবা ফিলিস্তিনের বাইরে। শ্রোতা যদি ফিলিস্তিনের ভেতরে থাকে এবং তার জিহাদের সুযোগ থাকে, তবে তাকে জানতে হবে যে তার ওপর জিহাদ অবধারিত হয়ে গেছে এবং তাকে তার অধিকারের সীমা সম্পর্কেও জানতে হবে যা বর্জন করা তার জন্য বৈধ নয়। আর যদি এই আলোচনার শ্রোতা ফিলিস্তিনের বাইরে থাকেন, তবে তার কর্তব্য হলো এই জিহাদে সাহায্য করা।

বুখারি শরীফ ও...
(খণ্ড: ٢) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٦)
‌‌بيان أهداف شريعة الحق وأهداف شريعة الباطل

سؤال قد يطرح: هذا المنطلق للأراضي الإسلامية المحتلة بهذا الإدراك الشامل والمفهوم الواسع يتعارض مع ما يسمى بالشرعية الدولة، فإن الشرعية الدولية الآن فرضت حدوداً في كل دولة، فلا يجوز أن تعبر حسب قولهم.

 

‌‌الجواب

هناك نوعان من الشرعية في العالم، هناك شريعة الحق، وشريعة الباطل، واصطلح المبطلون في هذا العصر على تسمية شريعة الباطل بالشرعية الدولية، فالشرعية الدولية هي شريعة الغاب القوي فيها يأكل الضعيف، ولا فرق في الشرعية الدولية بين صاحب الحق وبين مغتصب الحق، المهم من هو الأقوى، ولا فرق في الشرعية الدولية بين الظلم والعدل، المهم من الأقوى، ولا فرق في الشرعية الدولية بين الرحمة والقسوة، المهم من الأقوى.

فالشرعية الدولية منعت دخول التطعيمات ولبن الأطفال للعراق إلى أن مات عشرات الألوف من الأطفال، الشرعية الدولية أجازت ضرب المدنيين في العراق والبنية التحتية غير العسكرية: محطات الكهرباء، المصانع، المدارس، المستشفيات، الشرعية الدولية أجازت ضرب مصنع الأدوية الوحيد في السودان؛ لأنها أعلنت تطبيق شرع الله ولو جزئياً في بعض الولايات، الشرعية الدولية أعطت كشمير للهند مع علمهم بغالبيتها المسلمة، الشرعية الدولية تركت الصين تأكل المسلمين في تركمانستان الشرقية، ولعلكم سمعتم بعشرات المسلمين الذين أعدموا قريباً، وأذاعت الخبر الـ BBC، وجاء الخبر في الديلي تلغراف البريطانية، أنه أعدم عشرات من المسلمين بعد أن أجبروا على أن يحتسوا الخمر في وجبتهم الأخيرة، وداروا بهم في كل بلاد تركمانستان حتى يكونوا عبرة لغيرهم، فالشرعية الدولية تركت الصين تأكل المسلمين ولم تحرك صاروخاً في اتجاه الصين، الشرعية الدولية تركت الصرب تذبح وتغتصب بالبوسنة والهرسك وكوسوفا، وبعد ذلك بتسع سنين يحاكمون ميلوسوفيتش، وكأنه انتصار كبير للعدالة الدولية! فالشرعية الدولية يا إخوة! ما هي إلا اصطلاح اجتمع عليه مجرمو الحرب في العالم؛ لتنفيذ رغبات الدول القوية.

قل لي بالله عليك! لماذا هذا الشكل المتباين بين موقف أمريكا تجاه الكويت عند احتلال العراق لها، وبين موقف أمريكا من اليهود في فلسطين، والذين ظلموا في الكويت هم مسلمون، والذين ظلموا في فلسطين مسلمون أيضاً، فهذا احتلال ظالم وهذا احتلال ظالم.

فلماذا تحركت الشرعية الدولية ولم يستطع بوش الأب أن ينام حزناً على مصائب المسلمين في الكويت، إلا عندما جمع أهل الأرض جميعاً بما فيهم المسلمين لتحرير الكويت، وهنا تحرك غالب المسلمين بشهامة لتحرير الكويت، وأخرج المصحف وقرأ العلماء: {وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ} [الحجرات:9].

لماذا ينام بوش الأب وكلينتون ثم بوش الابن ملء جفونهم! واحتلال إسرائيل لفلسطين مستمر بصورة أبشع بكثير من احتلال العراق للكويت؟! ثم أين شهامة المسلمين الذين تحركوا لنجدة الكويت؟ أين شهامتهم وجيوشهم في قضية فلسطين؟ لماذا لم يخرجوا المصحف، ولماذا سكت العلماء الذين روجوا لتحرير الكويت؟! أليس في المصحف آيات تحض على نجدة أهل فلسطين وعلى قتال اليهود؟! لماذا فرضت الشرعية الدولية في الكويت تحرك نصف مليون جندي وآلة عسكرية ضخمة جداً؟! ولماذا لم تفرض الشرعية الدولية في فلسطين إلا طاولة مفاوضة وأربعة أو خمسة كراسي حولها؟! فالشرعية الدولية اصطلاح لا يعرف حقاً ولا باطلاً، لا يعرف إلا القوة.

أما شريعة الحق -شريعة الله- فهي أمر مختلف تماماً، هي شرعية تقوم في الأساس على احترام خالق هذا الكون، شرعية تعرف الحق كما عرفه مالك الملك ذو الجلال والإكرام، وتعرف الباطل كذلك كما عرفه مالك الملك ذو الجلال والإكرام، شرعية تقوم على أساس نشر العدل المطلق والرحمة المطلقة بين الخلق، شرعية تريد الخير للعالمين والرحمة لهم، قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء:107].

والصراع قديم جداً بين الشرعية الدولية لأهل الباطل وبين الشرعية الإسلامية لأهل الحق، فقد اصطلح أهل مكة من الأشراف الكافرين على أن يعبدوا أصناماً من دون الله، يعني: قرار الأمم المتحدة في مكة زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يعبدوا اللات والعزى ومناة الثالثة الأخرى، فهل هذا الاجتماع يعطي هذه العبادة صورة الحق؟ اصطلح أهل مكة من الأشراف الكافرين على أن يعذبوا المسلمين ويصادروا أموالهم وديارهم، وهي عملية تجميد أموال كما نسمع، اصطلحوا على أن يفرضوا آراءهم بسلاحهم، فهل هذا التعذيب حق؟ اصطلح أهل مكة من الأشراف الكافرين على أن يحاصروا المسلمين في شعب أبي طالب ثلاث سنوات كاملة، فهل كان هذا الحصار حقاً؟ اصطلح أهل مكة من الأشراف الكافرين على أن يقتلوا رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل حادثة الهجرة ل
সত্যের বিধান ও মিথ্যার বিধানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বর্ণনা

একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে: অধিকৃত মুসলিম ভূখণ্ডসমূহের ব্যাপারে এই ব্যাপক উপলব্ধি এবং বিস্তৃত ধারণা তথাকথিত আন্তর্জাতিক বৈধতার সাথে সাংঘর্ষিক। কারণ, আন্তর্জাতিক বৈধতা বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে, ফলে তাদের দাবি অনুযায়ী সেই সীমানা অতিক্রম করা জায়েজ নয়।

 

‌‌উত্তর

পৃথিবীতে দুই ধরনের বৈধতা বিদ্যমান: সত্যের বিধান এবং মিথ্যার বিধান। বর্তমান যুগে বাতিলপন্থীরা মিথ্যার বিধানের নাম দিয়েছে 'আন্তর্জাতিক বৈধতা'। মূলত আন্তর্জাতিক বৈধতা হলো জঙ্গলের আইনের মতো, যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্র দুর্বলের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। আন্তর্জাতিক বৈধতার নিকট প্রকৃত অধিকারধারী এবং অধিকার হরণকারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; সেখানে মূল বিষয় হলো কে বেশি শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক বৈধতার মানদণ্ডে জুলুম ও ন্যায়বিচারের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই; শক্তিই সেখানে মুখ্য। একইভাবে দয়া ও নিষ্ঠুরতার মাঝেও আন্তর্জাতিক বৈধতার কাছে কোনো পার্থক্য নেই; শক্তিই সেখানে চূড়ান্ত।

আন্তর্জাতিক বৈধতা ইরাকে শিশুদের টিকা এবং দুধ প্রবেশে বাধা দিয়েছিল, যার ফলে হাজার হাজার শিশু মৃত্যুবরণ করেছিল। আন্তর্জাতিক বৈধতা ইরাকের বেসামরিক নাগরিক এবং অ-সামরিক অবকাঠামো—যেমন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কলকারখানা, বিদ্যালয় ও হাসপাতাল—আক্রমণ করার অনুমতি দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বৈধতা সুদানের একমাত্র ওষুধ কারখানায় হামলার বৈধতা দিয়েছিল, কারণ তারা কিছু প্রদেশে আংশিকভাবে হলেও আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বৈধতা কাশ্মীরকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে, যদিও তারা সেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা জানত। আন্তর্জাতিক বৈধতা চীনকে পূর্ব তুর্কিস্তানের মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার সুযোগ করে দিয়েছে। আপনারা সম্ভবত সম্প্রতি কয়েক ডজন মুসলমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খবর শুনেছেন, যা বিবিসি এবং ব্রিটিশ পত্রিকা 'ডেইলি টেলিগ্রাফ'-এ প্রকাশিত হয়েছিল; সেখানে বলা হয়েছে যে, তাদের শেষ খাবারের সাথে জোরপূর্বক মদ পান করানোর পর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এরপর তাদের পুরো তুর্কিস্তান ঘুরানো হয়েছে যাতে অন্যরা এটি দেখে ভীত হয়। আন্তর্জাতিক বৈধতা চীনকে মুসলমানদের ওপর এহেন নিপীড়নের সুযোগ দিয়েছে এবং চীনের বিরুদ্ধে একটি ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করেনি। আন্তর্জাতিক বৈধতা সার্বদের বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ও কসোভোতে হত্যা ও গণধর্ষণের সুযোগ করে দিয়েছিল, আর তার নয় বছর পর তারা মিলোসেভিচের বিচার করছে—যেন এটি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের এক বিশাল বিজয়! হে ভাইসব! আন্তর্জাতিক বৈধতা হলো বিশ্বের যুদ্ধাপরাধীদের দ্বারা একমত হওয়া একটি পরিভাষা, যা কেবল শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহৃত হয়।

আল্লাহর কসম, আমাকে বলুন তো! ইরাক কর্তৃক কুয়েত দখলের সময় আমেরিকার অবস্থান এবং ফিলিস্তিনে ইহুদিদের ব্যাপারে আমেরিকার অবস্থানের মধ্যে কেন এই আকাশ-পাতাল পার্থক্য? কুয়েতে যারা নির্যাতিত হয়েছিল তারা মুসলিম, আবার ফিলিস্তিনে যারা নির্যাতিত হচ্ছে তারাও মুসলিম। কুয়েত দখলও ছিল এক জালেম দখলদারি, আর ফিলিস্তিন দখলও একটি জালেম দখলদারি।

তাহলে কেন আন্তর্জাতিক বৈধতা সেদিন নড়েচড়ে বসেছিল? কেন সিনিয়র বুশ কুয়েতের মুসলমানদের বিপদে দুঃখে ঘুমাতে পারেননি যতক্ষণ না তিনি মুসলিম বিশ্বসহ পৃথিবীর সকলকে কুয়েত উদ্ধারে একত্রিত করেছিলেন? সেদিন অধিকাংশ মুসলিম বীরত্বের সাথে কুয়েত উদ্ধারে এগিয়ে গিয়েছিল এবং ওলামায়ে কেরাম কুরআন বের করে এই আয়াত পাঠ করেছিলেন: "যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের একদল অন্যদলের ওপর চড়াও হয়, তবে তোমরা সেই আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করো যতক্ষণ না তারা আল্লাহর আদেশের দিকে ফিরে আসে" [সূরা আল-হুজুরাত: ৯]।

কেন সিনিয়র বুশ, ক্লিনটন এবং এরপর জুনিয়র বুশ শান্তিতে ঘুমান, অথচ ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ইরাকের কুয়েত দখলের চেয়েও বহুগুণ জঘন্যভাবে অব্যাহত রয়েছে?! তাছাড়া কুয়েতকে সাহায্য করতে আসা মুসলমানদের সেই বীরত্ব আজ কোথায়? ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের বীরত্ব ও সেনাবাহিনী আজ কোথায়? কেন তারা কুরআন বের করছে না? আর কুয়েত উদ্ধারে যারা প্রচারণা চালিয়েছিলেন, সেই আলেমরা কেন আজ নীরব?! কুরআনে কি ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করার এবং ইহুদিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার কোনো আয়াত নেই?! কেন কুয়েতের জন্য আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্ধ-মিলিয়ন সৈন্য এবং বিশাল সামরিক বহর পাঠালো, আর ফিলিস্তিনের জন্য আন্তর্জাতিক বৈধতা কেবল একটি আলোচনার টেবিল আর তার চারপাশে কয়েকটি চেয়ার ছাড়া আর কিছুই নির্ধারণ করেনি?! সুতরাং আন্তর্জাতিক বৈধতা এমন এক পরিভাষা যা সত্য বা মিথ্যা চেনে না, তা কেবল শক্তি চেনে।

পক্ষান্তরে সত্যের বিধান—অর্থাৎ আল্লাহর বিধান—এক সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এটি মূলত এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য ও সম্মানের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি বিধান। এই বিধান সত্যকে সেভাবেই চেনে যেভাবে রাজাধিরাজ, মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ তাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন; তেমনিভাবে মিথ্যাকেও সেভাবেই চেনে যেভাবে মহান আল্লাহ তাকে চিহ্নিত করেছেন। এটি সৃষ্টির মাঝে পরম ন্যায়বিচার ও পরম দয়া প্রতিষ্ঠার ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি বিধান। এই বিধান বিশ্ববাসীর কল্যাণ ও রহমত চায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আমি তো আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি" [সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭]।

বাতিলপন্থীদের আন্তর্জাতিক বৈধতা এবং সত্যপন্থীদের ইসলামী বিধানের মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব অতি প্রাচীন। মক্কার কাফের নেতৃবৃন্দ আল্লাহকে বাদ দিয়ে মূর্তিপূজা করার ব্যাপারে একমত হয়েছিল; অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে মক্কার সেই সময়ের 'জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত' ছিল লাত, উজ্জা ও মানাত-এর ইবাদত করা। তবে কি তাদের সেই ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত এই মূর্তিপূজাকে সত্যের রূপ দিয়েছিল? মক্কার কাফের নেতৃবৃন্দ মুসলমানদের নির্যাতন করার এবং তাদের ধন-সম্পদ ও ঘরবাড়ি বাজেয়াপ্ত করার ব্যাপারে একমত হয়েছিল—যাকে বর্তমানে আমরা সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ বলে শুনি। তারা অস্ত্রের জোরে নিজেদের মতামত চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এই নির্যাতন কি কখনো সত্য হতে পারে? মক্কার কাফের নেতৃবৃন্দ তিন বছর যাবত আবু তালিবের গিরি সংকটে মুসলমানদের অবরুদ্ধ রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছিল। তবে কি সেই অবরোধ ন্যায়সঙ্গত ছিল? মক্কার কাফের নেতৃবৃন্দ হিজরতের প্রাক্কালে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল...
(খণ্ড: ٢) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌تصحيح المفهوم حول السبب الدافع لتحرير فلسطين

نراجع الاختيارات التي كنا قد طرحناها تحت

 

‌‌السؤال

لماذا نحرر فلسطين؟ الاختيار الأول: هل لأنها عربية؟ الاختيار الثاني: هل لأن بها القدس؟ الاختيار الثالث: هل لأن بها المسجد الأقصى؟ الاختيار الرابع: هل لحل مشكلة اللاجئين؟ الاختيار الخامس: هل لوقف نزيف الدماء؟ الاختيار السادس: هل لأنها فتحت بالإسلام فأصبحت أرضاً إسلامية؟! واخترنا الإجابة الأخيرة، واستنتجنا من ذلك بأن بلاد فلسطين بكاملها إسلامية، ولذلك نحررها، ولكن ما عيوب الإجابات الأخرى أم أنها صحيحة؟ تعالوا بنا نفصلها واحدة واحدة ونرى هل الإجابة سليمة أم غير سليمة؟
ফিলিস্তিন মুক্তির মূল কারণ সংক্রান্ত ধারণা সংশোধন

আমরা নিচে যে বিকল্পসমূহ পেশ করেছিলাম তা পুনরায় পর্যালোচনা করছি

 

প্রশ্ন

কেন আমরা ফিলিস্তিনকে মুক্ত করব? প্রথম বিকল্প: এটি কি আরবীয় ভূখণ্ড বলে? দ্বিতীয় বিকল্প: এতে কি কুদস অবস্থিত বলে? তৃতীয় বিকল্প: এতে কি মসজিদুল আকসা রয়েছে বলে? চতুর্থ বিকল্প: শরণার্থী সমস্যার সমাধানের নিমিত্তে? পঞ্চম বিকল্প: রক্তপাত বন্ধ করার জন্য? ষষ্ঠ বিকল্প: কারণ কি এই যে, এটি ইসলামের মাধ্যমে বিজিত হয়েছিল এবং একটি ইসলামি ভূমিতে পরিণত হয়েছিল?! আমরা সর্বশেষ উত্তরটিই গ্রহণ করেছি এবং এর মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, সমগ্র ফিলিস্তিন ভূখণ্ডই ইসলামি ভূমি, আর এই কারণেই আমরা একে মুক্ত করব। কিন্তু অন্য উত্তরগুলোর মধ্যে ত্রুটি কোথায়, নাকি সেগুলোও সঠিক? আসুন আমরা প্রতিটি বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করি এবং দেখি উত্তরটি সঠিক কি না।
(খণ্ড: ٢) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌تحرير فلسطين لكون القدس فيها

نأخذ مثلاً إجابة أن بها القدس، هل نحرر فلسطين لأن بها القدس؟ القدس طبعاً مدينة شريفة ومباركة، وذات قيمة هامة جداً عند المسلمين، تأخذ موقعها المتميز مباشرة بعد مكة المكرمة والمدينة المنورة، وفوق القيمة الدينية العالية فهي ثغر قديم من ثغور الإسلام، وأرض جهاد دائم، وأهلها في رباط إلى يوم القيامة، لكن الحقيقة أن شيئاً خطيراً سيحدث إذا قلنا: إننا نحرر فلسطين من أجل القدس، فإنه سيأتي العدو عند لحظة من لحظات المساومة ويقول لك: خذ القدس واترك كذا وكذا من أرض فلسطين؛ ولذلك فالعدو نفسه سيعلي جداً من قيمة القدس في إعلامه وسفاراته ومفاوضاته حتى إذا سمح لك بأخذها فتح لك الطريق لتسلم غيرها بسهولة، والأمم المتحدة من شدة خبثها أنها لما قامت بمؤامرة تقسيم فلسطين عام 1947م فصلت القدس لوحدها وجعلتها تحت رعاية دولية، وبذلك رفعت من قيمتها جداً عند المساومة، فيأتي الفلسطيني المفاوض ويقول: لا بد أن آخذ القدس، سأقيم دولة فلسطينية عاصمتها القدس، فيوافقونه بعد جدال، ثم يكتشف وكأنه قد فقد بصره ساعة المفاوضات أنه لم يأخذ إلا 22% فقط من الأرض فيها القدس، وسلم 78% من الأرض خالصة لليهود، ثم يكتشف أيضاً كارثة أخرى بعد أيام أو شهور أن 60% من الضفة الغربية فيها مستوطنات يهودية، وفي النهاية يجد نفسه لا يملك إلا 10% أو أقل مهلهلة تماماً، لكن الحمد لله معه القدس!! ونحن متفقون أن أرض فلسطين بأكملها إسلامية محتلة واجبة التحرير، وهذا الذي كان المفاوضون ينادون به من قبل، نأخذ أرض فلسطين بأكملها، لكن سبحان الله! إنها المؤامرة، فهناك أناس يدبرون، وأناس لا يمانعون في الوقوع في المؤامرة، ثم هناك مرحلة أخطر في المساومات، فإنه عندما يشاهد ضعفاً أكبر في صف المفاوضين يبدأ بالمفاوضة في تقسيم القدس فتصبح هناك قدس شرقية وقدس غربية.

والله أذكر عنواناً رئيساً في صحيفة عربية مشهورة يقول: لا تفريط في القدس الشرقية.

والغربية؟ هل الغربية أصبحت ملك اليهود؟! وبقية فلسطين يجوز فيها التفريط؟! ثم بعد ذلك مرحلة أخطر وأخطر في المفاوضات، وهو ما تم في أوسلو في المفاوضات السرية، والتي ظهرت في الصحف بعدها بشهور، أن اليهود اتفقوا مع أبي مازن المفاوض الفلسطيني البارز على إنشاء أحياء جديدة في شرق مدينة القدس يطلقون عليها اسم القدس، ويأخذ اليهود مدينة القدس الأصلية، ويسمونها أورشليم، بينما يأخذ الفلسطينيون الأحياء الجديدة ويسمونها القدس، وحينذاك الحمد لله إسرائيل أخذت أورشليم، وفلسطين صارت عاصمتها القدس، والحمد لله سيأخذ الفلسطينيون مدينة في شرق القدس، وشيء طيب أنهم لم يعملوها في بلد أخرى، في الأردن أو في لبنان ويسمونها القدس.

إذاً: شيء خطير جداً أن أقول: أنا أحرر فلسطين من أجل القدس، لكن أنا أحرر فلسطين من أجل فلسطين؛ لذلك أنادي أن تظهر دائماً الدعاية لفلسطين تحت عنوان فلسطين وليس القدس، مثلاً تقول: فلسطين إسلامية، ولا تقول: القدس إسلامية، تقول: فلسطين لنا، ولا تقول: القدس لنا، تقول: لا تفريط في فلسطين، ولا تقول: لا تفريط في القدس، وهكذا.
কুদস বিদ্যমান থাকার কারণে ফিলিস্তিন স্বাধীন করা

উদাহরণস্বরূপ আমরা এই উত্তরটি গ্রহণ করি যে, সেখানে কুদস রয়েছে; কিন্তু আমরা কি ফিলিস্তিনকে কেবল এই কারণে স্বাধীন করব যে সেখানে কুদস রয়েছে? কুদস অবশ্যই একটি সম্মানিত ও বরকতময় শহর এবং মুসলমানদের নিকট এর গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম। মক্কা মোকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারার ঠিক পরেই এর অবস্থান অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এই উচ্চতর ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এটি ইসলামের প্রাচীন সীমান্ত এলাকাগুলোর অন্যতম এবং এটি নিরবচ্ছিন্ন জিহাদের ভূমি; এর অধিবাসীরা কিয়ামত পর্যন্ত পাহারায় নিয়োজিত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা যদি বলি যে আমরা কুদসের খাতিরে ফিলিস্তিন স্বাধীন করছি, তবে একটি ভয়াবহ পরিণতির সৃষ্টি হবে। শত্রুপক্ষ কোনো এক আপস-আলোচনার মুহূর্তে এসে আপনাকে বলবে: "আপনি কুদস গ্রহণ করুন আর ফিলিস্তিনের অমুক অমুক ভূমি ছেড়ে দিন।" এই কারণেই শত্রু পক্ষ স্বয়ং তাদের গণমাধ্যম, দূতাবাস এবং আলোচনাগুলোতে কুদসের গুরুত্বকে অত্যন্ত বাড়িয়ে তুলে ধরবে, যাতে আপনাকে এটি দেওয়ার নাম করে ফিলিস্তিনের অন্যান্য ভূমি সহজেই দখল করে নেওয়ার পথ প্রশস্ত করতে পারে। জাতিসংঘ তার চরম ধূর্ততার পরিচয় দিয়ে যখন ১৯৪৭ সালে ফিলিস্তিন বিভক্তির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তখন তারা কুদসকে পৃথক করে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে রাখার ব্যবস্থা করেছিল। এর মাধ্যমে তারা দর কষাকষির সময় এর গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। এমতাবস্থায় ফিলিস্তিনি আলোচক এসে বলেন: "আমাকে অবশ্যই কুদস পেতে হবে, আমি একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করব যার রাজধানী হবে কুদস।" দীর্ঘ বাদানুবাদের পর তারা এতে সম্মত হয়। এরপর সেই আলোচক আবিষ্কার করেন—যেন আলোচনার সময় তার দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছিল—যে তিনি কুদসসহ ভূমির মাত্র ২২ শতাংশ পেয়েছেন এবং অবশিষ্ট ৭৮ শতাংশ ভূমি সম্পূর্ণরূপে ইহুদিদের হাতে তুলে দিয়েছেন। কয়েক দিন বা মাস পরে তিনি আরও একটি বিপর্যয় দেখতে পান যে, পশ্চিম তীরের ৬০ শতাংশ এলাকা ইহুদি বসতি দ্বারা পূর্ণ। পরিশেষে তিনি নিজেকে এমন এক অবস্থায় পান যে, তার হাতে মাত্র ১০ শতাংশ বা তারও কম বিচ্ছিন্ন ভূমি অবশিষ্ট আছে, কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ তার কাছে কুদস আছে!! অথচ আমরা সকলে এ বিষয়ে একমত যে, সমগ্র ফিলিস্তিন ভূখণ্ড একটি অধিকৃত ইসলামি ভূমি যা মুক্ত করা ওয়াজিব। পূর্বের আলোচকরাও এটিই দাবি করতেন যে, আমরা পুরো ফিলিস্তিন ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করব। কিন্তু সুবহানাল্লাহ! এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র। সেখানে এমন কিছু মানুষ আছে যারা ষড়যন্ত্রের জাল বুনে, আবার কিছু মানুষ আছে যারা সেই ষড়যন্ত্রে পা দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। এরপর আপস-আলোচনার আরও বিপজ্জনক পর্যায় আসে; যখন তারা আলোচক দলের মধ্যে চরম দুর্বলতা লক্ষ্য করে, তখন তারা কুদস বিভক্তির প্রস্তাব দেয়, ফলে তখন "পূর্ব কুদস" ও "পশ্চিম কুদস" এর উৎপত্তি ঘটে।

আল্লাহর কসম, একটি বিখ্যাত আরব সংবাদপত্রের প্রধান শিরোনাম আমার মনে পড়ছে যেখানে বলা হয়েছিল: "পূর্ব কুদস নিয়ে কোনো ছাড় নয়।"

তাহলে পশ্চিম কুদসের কী হবে? পশ্চিম কুদস কি ইহুদিদের মালিকানাধীন হয়ে গেল?! আর বাকি ফিলিস্তিনের ব্যাপারে কি ছাড় দেওয়া জায়েজ হয়ে গেল?! এরপর আলোচনার আরও ভয়াবহ থেকে ভয়াবহতর পর্যায় আসে, যা অসলোর গোপন বৈঠকে ঘটেছিল এবং কয়েক মাস পর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল। ইহুদিরা ফিলিস্তিনের বিশিষ্ট আলোচক আবু মাজেনের সাথে এই মর্মে একমত হয়েছিল যে, কুদস শহরের পূর্ব দিকে নতুন কিছু এলাকা গড়ে তোলা হবে যেগুলোকে তারা "কুদস" নামে অভিহিত করবে। আর ইহুদিরা মূল কুদস শহরটি দখল করে নেবে এবং তার নাম দেবে "উরশালিম", পক্ষান্তরে ফিলিস্তিনিরা সেই নতুন এলাকাগুলো পাবে এবং সেগুলোর নাম রাখবে "কুদস"। তখন আলহামদুলিল্লাহ ইসরায়েল উরশালিম গ্রহণ করল আর ফিলিস্তিনের রাজধানী হলো কুদস। ফিলিস্তিনিরা কুদসের পূর্ব দিকের একটি জনপদ পাবে; এটা তো ভাগ্য ভালো যে তারা জর্ডান বা লেবাননের কোনো এক এলাকাকে কুদস নাম দিয়ে তাদের হাতে ধরিয়ে দেয়নি।

অতএব, এটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বিষয় যে আমি বলব: "আমি কুদসের জন্য ফিলিস্তিন স্বাধীন করছি।" বরং আমাকে বলতে হবে: "আমি ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করছি ফিলিস্তিনের খাতিরে।" তাই আমি আহ্বান জানাই যেন ফিলিস্তিনের স্বপক্ষে প্রচারণা সর্বদা "ফিলিস্তিন" শিরোনামেই হয়, কেবল "কুদস" শিরোনামে নয়। উদাহরণস্বরূপ বলুন: "ফিলিস্তিন ইসলামি ভূমি", বলবেন না: "কুদস ইসলামি"। বলুন: "ফিলিস্তিন আমাদের", বলবেন না: "কুদস আমাদের"। বলুন: "ফিলিস্তিন নিয়ে কোনো আপস নয়", বলবেন না: "কুদস নিয়ে কোনো আপস নয়"। এভাবেই প্রতিটি ক্ষেত্রে বলতে হবে।
(খণ্ড: ٢) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌تحرير فلسطين لكون المسجد الأقصى فيها

الأخطر والأخطر والأخطر، أن نقول: إننا نحرر فلسطين من أجل الأقصى، وهذا كلام سيستغرب منه الكثيرون، لكن لنحلل هذا المنطلق: أولاً: ستتطور المساومة والفصال إلى حد خطير، سيقولون: لا مساس بالمقدسات الإسلامية، الأقصى وقبة الصخرة؛ ولذلك نعطيك الأقصى وقبة الصخرة ونأخذ فلسطين والقدس، ثم مرحلة أخرى من المساومات، يقولون: لضمان الأمان أكثر نجعل الأقصى تحت حماية دولية وليس تحت حماية المسلمين، فيفقد المسلمون ملكيتهم للأقصى ويصبحون زواراً له، نعم يزورونه بحرية كما يزورون مسجد قرطبة في إسبانيا اليوم، ثم مرحلة جديدة بعد ذلك، هكذا خطوة خطوة، وهي إعطاء الأقصى ولكن بدون جدار واحد فقط من جدرانه، يدعون أن هذا الجدار هو حائط المبكى وبقايا هيكل سليمان عليه السلام، ثم خطوة أخرى خطيرة جداً عندما يلاحظون موت الشارع الإسلامي، وهي هدم الأقصى وإقامة هيكل سليمان عليه السلام، ولكن من الممكن أن تحدث ثورة في العالم الإسلامي، فيقولون لهم: لماذا تثورون؟ سنعطيكم قبة الصخرة.

وقبة الصخرة يا إخوة! أقل شرفاً من الأقصى، فيقولون: لماذا لا نقنع المسلمين أن المسجد الأقصى هو قبة الصخرة؟ فينشرون دعاية فيها أن قبة الصخرة الصفراء المشهورة وكأنها المسجد الأقصى، وكثير جداً من المسلمين كانوا يظنون أن هذه القبة الصفراء الذهبية المشهورة هي قبة الأقصى إلى وقت قريب، لكن الحمد لله مؤخراً بدأ بعض المسلمين يعلم أن الأقصى الحقيقي غير قبة الصخرة الصفراء المشهورة.

إذاً: عندما نقول: نحن نحرر فلسطين لأن فيها الأقصى، فإنهم سيساومون على الأقصى الذي تريده، ويأخذون بقية البلاد، وليس هذا فقط، بل هناك أمور أخرى لا تقل خطورةً بالنسبة لفهم القضية، نحن قلنا: إنهم سيساوموننا على كل شيء ويعطوننا الأقصى، هذا لو أعطونا.

ثانياً: هل الأقصى كبناء أغلى في القيمة، أم دماء المسلمين الذين يعيشون في مدن قد تبعد كثيراً عن الأقصى، في رام الله والخليل وغزة ونابلس وغيرها، حتى في غير فلسطين؟ أنا لن أتطوع بالإجابة ولكن أترك الإجابة إلى معلمي ومعلم الأجيال ومرشدي ومرشد العالمين رسول الله صلى الله عليه وسلم.

روى ابن ماجه عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: (رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يطوف بالكعبة ويقول: ما أطيبك وأطيب ريحك، ما أعظمك وأعظم حرمتك، والذي نفس محمد بيده! لحرمة المؤمن أعظم عند الله منك، ماله ودمه وإن نظن به إلا خيراً).

وروى الترمذي عن عبد الله بن عمر رضي الله عنه أنه نظر يوماً إلى الكعبة، فقال: ما أعظمك وأعظم حرمتك، والمؤمن أعظم حرمة عند الله منك.

سبحان الله! المؤمن أعظم حرمة عند الله من الكعبة، والكعبة بلا شك أعظم شرفاً من الأقصى.

إذاً: خطأ كبير في الفهم ألا يتحرك المسلمون لقتل الأبرياء من الفلسطينيين بينما ينتفضون لزيارة شارون إلى الأقصى.

أقول: جميل ولا شك أن ينتفض المسلمون لدخول شارون الأقصى، ولكن لا بد أن يكون رد الفعل أشد وأعنف عند المسلمين إذا قتل مسلم من مسلمي فلسطين، فما بالك بالمئات من أهل فلسطين؟! خطأ كبير في الفهم أن يهتم المسلمون وينتفضوا لحفر نفق تحت الأقصى، ولا يهتمون ولا ينتفضون لذبح ثلاثة آلاف من المسلمين في صبرا وشاتيلا، وما تحركوا إلا على استحياء بعد أن فتحت الموضوع إذاعة الـ BBC البريطانية بعد 19 عاماً من الحديث، ساعتها بدأنا نتكلم ونرفع قضايا في بلجيكا وغيرها، لكي نرجع حق المسلمين الذين ذبحوا منذ 19 عاماً.

فدماء المسلمين غالية جداً، وإن هدم الأقصى فسيتجدد بناؤه إن شاء الله، لكن لو أريق دم المسلم من يعيده إلى أسرته في الدنيا، حرمة كبيرة وذنب عظيم أن يقتل المسلم ولا ينتفض المسلمون، بل إن الرسول صلى الله عليه وسلم يسمو بدم المسلم سمواً أعلى من الكعبة والأقصى، بل والدنيا جميعاً، فيقول في الحديث الشريف الذي رواه أبو داود عن البراء بن عازب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لزوال الدنيا أهون على الله من قتل مؤمن بغير حق)، هذا الحديث رواه أيضاً النسائي والترمذي من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما.

فلا بد من ترتيب الأولويات، دماء المسلمين تأتي قبل مقدسات المباني.

إذاً: اعتقاد المسلمين أننا نحرر فلسطين فقط لكونها تحتوي على المسجد الأقصى ينطوي عليه خطران كما ذكرنا: الخطر الأول: المساومة على الأقصى في مقابل بقية فلسطين.

والخطر الثاني: تعظيم قيمة الأقصى أكثر من دماء المسلمين.

والخطر الثالث: هو هل يلزم وجود مكان مقدس في البلد كالأقصى أو الكعبة حتى يتحرك المسلمون لتحريرها؟ هل تضعف حمية المسلمين عن مساعدة أهل الشيشان؛ لأنهم لا يمتلكون أقصى في بلادهم؟ هل لا تتفطر قلوب المسلمين على نساء البوسنة المغتصبات؛ لأنهن لا يمتلكن كعبة في بلادهن؟ هل لا تغلي
ফিলিস্তিন মুক্ত করার উদ্দেশ্য কেবল সেখানে মসজিদুল আকসা বিদ্যমান থাকা প্রসঙ্গে

সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং অতি গুরুতর বিষয় হলো আমাদের এই কথা বলা যে, আমরা কেবল আকসার জন্যই ফিলিস্তিন স্বাধীন করছি। এই কথাটি অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে, তবে আসুন আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গিটি বিশ্লেষণ করি: প্রথমত, এতে আপস-মীমাংসা ও দরকষাকষি এক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাবে। তারা বলবে: ইসলামি পবিত্র স্থানসমূহ অর্থাৎ আকসা ও কুব্বাতুস সাখরার কোনো ক্ষতি করা হবে না; তাই আমরা তোমাদের আকসা ও কুব্বাতুস সাখরা দিয়ে দিচ্ছি, আর তার বিনিময়ে আমরা পুরো ফিলিস্তিন ও জেরুজালেম নিয়ে নিচ্ছি। এরপর আপসের আরেকটি পর্যায় আসবে, তারা বলবে: অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আকসাকে মুসলমানদের অধীনে না রেখে আন্তর্জাতিক সংরক্ষণে রাখছি। ফলে মুসলমানরা আকসার মালিকানা হারাবে এবং সেখানে কেবল দর্শনার্থী হিসেবে যাবে; হ্যাঁ, তারা সেখানে স্বাধীনভাবে বিচরণ করবে ঠিক যেমন আজ তারা স্পেনের কর্ডোভা মসজিদে যায়। এরপর আসবে নতুন এক ধাপ, এভাবে ধাপে ধাপে তারা বলবে আকসা দিয়ে দেওয়া হবে ঠিকই কিন্তু তার একটি দেয়াল ছাড়া। তারা দাবি করবে যে এই দেয়ালটি হলো 'বিলাপ প্রাচীর' এবং এটি সুলাইমান আলাইহিস সালামের নির্মিত হাইকলের অবশিষ্টাংশ। এরপর আরেকটি অতি বিপজ্জনক ধাপ আসবে যখন তারা দেখবে যে মুসলিম জনতা নিস্তেজ হয়ে গেছে, আর তা হলো আকসা ধ্বংস করে সেখানে হাইকালে সুলাইমান নির্মাণ করা। তবে সেই সময় মুসলিম বিশ্বে বিপ্লব ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে, তখন তারা বলবে: তোমরা কেন উত্তেজিত হচ্ছ? আমরা তো তোমাদের কুব্বাতুস সাখরা দিয়ে দিচ্ছি।

হে ভাইয়েরা! কুব্বাতুস সাখরার মর্যাদা আকসার চেয়ে কম। তারা তখন বলবে: আমরা কেন মুসলমানদের এই বিশ্বাসে প্রলুব্ধ করছি না যে কুব্বাতুস সাখরাই হলো মসজিদুল আকসা? এরপর তারা প্রচারণা চালাবে যে ওই বিখ্যাত সোনালী গম্বুজবিশিষ্ট কুব্বাতুস সাখরাই যেন মসজিদুল আকসা। নিকট অতীত পর্যন্ত অনেক মুসলমানই মনে করতেন যে এই বিখ্যাত সোনালী গম্বুজটিই হলো আকসার গম্বুজ। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, সম্প্রতি কিছু মুসলমান জানতে পেরেছেন যে প্রকৃত আকসা এবং এই বিখ্যাত সোনালী কুব্বাতুস সাখরা এক নয়।

সুতরাং: আমরা যখন বলি যে ফিলিস্তিন স্বাধীন করছি কারণ সেখানে আকসা আছে, তখন তারা আমাদের দাবিকৃত সেই আকসা নিয়ে দরকষাকষি করবে এবং দেশের বাকি অংশ দখল করে নেবে। শুধু তাই নয়, এই সমস্যাটি বোঝার ক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয় রয়েছে যা সমানভাবে বিপজ্জনক। আমরা বলেছি যে, তারা সবকিছুর বিনিময়ে আমাদের আকসা দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে দরকষাকষি করবে—যদি তারা তা দেয়ও।

দ্বিতীয়ত: একটি স্থাপনা হিসেবে আকসার মূল্য কি বেশি, নাকি রামাল্লাহ, খলিল, গাজা, নাবলুস এবং এমনকি ফিলিস্তিনের বাইরের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত মুসলমানদের প্রাণের মূল্য বেশি? আমি নিজ থেকে এর উত্তর দেব না, বরং এর উত্তর আমি ছেড়ে দিচ্ছি আমার শিক্ষক, যুগের শিক্ষক এবং বিশ্ববাসীর দিশারি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর।

ইবনে মাজাহ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাবার চারপাশ তাওয়াফ করতে দেখেছি এবং তিনি বলছিলেন: তুমি কতই না পবিত্র এবং তোমার ঘ্রাণ কতই না স্নিগ্ধ! তুমি কতই না মহান এবং তোমার মর্যাদা কতই না উচ্চে! কিন্তু সেই সত্তার কসম যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আল্লাহর নিকট একজন মুমিনের মর্যাদা তোমার চেয়েও অধিক—তার সম্পদ ও তার রক্ত; আর আমরা যেন তার সম্পর্কে কেবল সুধারণাই পোষণ করি।"

তিরমিযী আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একদিন কাবার দিকে তাকিয়ে বললেন: তুমি কতই না মহান এবং তোমার মর্যাদা কতই না উচ্চে! অথচ আল্লাহর নিকট মুমিনের মর্যাদা তোমার চেয়েও অনেক বেশি।

সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান-মালের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা কাবার চেয়েও বেশি, আর কাবা নিঃসন্দেহে আকসার চেয়েও অধিক মর্যাদাবান।

সুতরাং: এটি উপলব্ধির এক বিরাট ভুল যে ফিলিস্তিনি নিরীহ মানুষদের হত্যার বিরুদ্ধে মুসলমানরা সক্রিয় হবে না, অথচ শারোনের আকসা পরিদর্শনের ঘটনায় তারা ফুঁসে উঠবে।

আমি বলছি: শারোনের আকসায় প্রবেশের প্রতিবাদে মুসলমানদের ফুঁসে ওঠা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, কিন্তু ফিলিস্তিনের কোনো মুসলমানকে হত্যা করা হলে মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র ও কঠোর হওয়া উচিত ছিল। সেখানে তো শত শত ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হচ্ছে! এটি উপলব্ধির এক চরম ভ্রান্তি যে মুসলমানরা আকসার নিচে সুড়ঙ্গ খননের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ফুঁসে ওঠে, কিন্তু সাবরা ও শাতিলায় তিন হাজার মুসলমানকে জবাই করার ঘটনায় তারা বিচলিত বা প্রতিবাদী হয় না। ১৯ বছর পর যখন ব্রিটিশ রেডিও বিবিসি বিষয়টি তুলে ধরে, তখন তারা অত্যন্ত কুণ্ঠিতভাবে কিছুটা নড়চড় করে; সেই সময়ে আমরা কথা বলতে শুরু করি এবং বেলজিয়ামসহ অন্যান্য দেশে মামলা দায়ের করি যাতে ১৯ বছর আগে নিহত মুসলমানদের অধিকার ফিরিয়ে আনা যায়।

মুসলমানদের রক্তের মূল্য অত্যন্ত বেশি। যদি আকসা ধ্বংস করা হয় তবে ইনশাআল্লাহ তা পুনরায় নির্মাণ করা সম্ভব হবে। কিন্তু যদি কোনো মুসলমানের রক্ত ঝরানো হয়, তবে দুনিয়াতে কে তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেবে? একজন মুসলিমকে হত্যা করা হবে আর মুসলমানরা ফুঁসে উঠবে না—এটি অত্যন্ত বড় অন্যায় এবং মহাপাপ। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মুসলমানের রক্তকে কাবা, আকসা এমনকি সমগ্র দুনিয়ার চেয়েও ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। আবু দাউদ কর্তৃক বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর নিকট সমগ্র পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়া একজন মুমিনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার চেয়েও লঘুতর।" এই হাদীসটি নাসাঈ ও তিরমিযীও আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাই আমাদের অগ্রাধিকারের ক্রম ঠিক করতে হবে; স্থাপনার পবিত্রতার চেয়ে মুসলমানদের প্রাণের সুরক্ষা আগে।

অতএব, মুসলমানদের এই বিশ্বাস যে আমরা ফিলিস্তিন কেবল মসজিদুল আকসার কারণে স্বাধীন করছি—এর মধ্যে দুটি বিপদ নিহিত রয়েছে যা আমরা উল্লেখ করেছি: প্রথম বিপদ: ফিলিস্তিনের অবশিষ্টাংশের বিনিময়ে আকসা নিয়ে দরকষাকষি করা।

দ্বিতীয় বিপদ: মুসলমানদের রক্তের চেয়ে আকসার স্থাপনার মূল্যকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া।

তৃতীয় বিপদ হলো: কোনো দেশ স্বাধীন করার জন্য কি সেখানে আকসা বা কাবার মতো কোনো পবিত্র স্থানের উপস্থিতি কি অপরিহার্য? চেচনিয়ার মানুষের সাহায্যে কি মুসলমানদের আবেগ কমে যাবে কারণ তাদের দেশে কোনো 'আকসা' নেই? বসনিয়ার ধর্ষিতা নারীদের জন্য কি মুসলমানদের অন্তর বিদীর্ণ হবে না কারণ তাদের দেশে কোনো 'কাবা' নেই? আমাদের রক্ত কি টগবগ করে ফুটবে না...
(খণ্ড: ٢) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌تحرير فلسطين لأنها مسرى رسول الله صلى الله عليه وسلم

من الأشياء التي خص الله بها فلسطين كونها مسرى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلا بد أن نسأل أنفسنا: لماذا ذهب رسول الله صلى الله عليه وسلم في رحلته العظيمة إلى السماء إلى القدس أولاً، كان من الممكن أن يأتي الله له بالأنبياء يصلون معه في مكة وهي أشرف بلا شك، أو يصلي بهم في السماء، ولكن سبحان الله! في ذلك إيحاءات كثيرة: أولاً: تسلم الرسول صلى الله عليه وسلم لقيادة البشرية من مركز القيادة القديم وآخر عهده أنبياء اليهود.

ثانياً: إلقاء حب هذا المكان بصورة أكبر في قلوب المؤمنين.

ثالثاً: جعل الله الأقصى القبلة الأولى للمسلمين، وظلت كذلك ستة عشر أو سبعة عشر شهراً في المدينة المنورة، كما جاء في رواية البخاري، ثم حولت القبلة بعد ذلك إلى الكعبة، فكان الأقصى هو أولى القبلتين، وبذلك يضاف شيء جديد بالإضافة إلى كونه مسرى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فيزداد المسلمون حباً له ولمحله القدس وفلسطين، والعلاقة بين القدس والكعبة وثيقة، فغير المسرى والقبلة هو التالي مباشرة في البناء على الأرض للكعبة.

أخرج الإمام مسلم رحمه الله عن أبي ذر رضي الله عنه قال: (سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن أول مسجد وضع على الأرض؟ قال: المسجد الحرام.

قلت: ثم أي؟ قال: المسجد الأقصى.

قلت: كم بينهما؟ قال: أربعون عاماً، ثم الأرض لك مسجد فحيثما أدركت الصلاة فصل).

ولهذه الميزات العظيمة جعل الله له مزية رابعة خاصة جداً، فالمسلم قد يشد الرحال من بعيد ليأتي ويصلي في المسجد الأقصى، فهذه مزية خاصة ليست إلا لثلاثة مساجد: المسجد الحرام، ومسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم، والمسجد الأقصى، وذلك كما جاء في البخاري: (لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام ومسجدي هذا والمسجد الأقصى)، فلا يجوز لأحد أن يسافر من بلد إلى بلد -حتى ولو كان في نفس القطر- ليذهب ويصلي في مسجد ما، إلا في هذه المساجد الثلاثة.

المزية الخامسة: يخبر صلى الله عليه وسلم أن أجر الصلاة فيه إلى خمسمائة صلاة، وهذه أيضاً مزية بالنسبة لغيره من المساجد.

المزية السادسة: يبارك الله سبحانه وتعالى في الأرض التي تحيط بالأقصى، وهي أرض فلسطين، وأرض الشام بصفة عامة: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا} [الإسراء:1] {وَنَجَّيْنَاهُ وَلُوطًا إِلَى الأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء:71].

ويقول رسول الله صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي رواه الطبراني وصححه الألباني: (الشام أرض المحشر والمنشر).

المزية السابعة: أكثر من ذلك أن الله لا يبارك فقط في الأرض إلى يوم القيامة، بل يبارك في ساكني فلسطين أيضاً إلى يوم القيامة، روى الطبراني وصححه الألباني: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (عليكم بالشام، فإنها صفوة بلاد الله يسكنها خيرته من خلقه).

وروى الإمام أحمد عن أبي أمامة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا تزال طائفة من أمتي على الحق ظاهرين، على من يغزوهم قاهرين، لا يضرهم من ناوءهم، حتى يأتي أمر الله وهم كذلك.

قيل: يا رسول الله! وأين هم؟ قال: ببيت المقدس وأكناف بيت المقدس).

كل هذه الأمور ترفع جداً من قيمة فلسطين، لكن كما ذكرنا ليست هي المبرر الأول لتحرير فلسطين، بل المبرر الأول كون الأرض إسلامية، وهذه الميزات حوافز زائدة على المبرر الأول، وذلك كما تنقذ طفلاً من الموت فهذا واجب، لكن أن يكون الطفل ولدك هذا يضاف إلى كونه واجباً، فهو شيء فطري لا يستطيع الإنسان أن يتخلى عنه إلا أصحاب النفوس الخبيثة جداً.

سؤال مهم: لماذا يعطي الله كل هذه المزايا لهذه الأرض، فيزيد حب المسلمين لها ويتحركون إليها أسرع مما يتحركون إلى غيرها، لماذا لم يجعل مثلاً المسجد الأقصى في الجزائر، فيسارع المسلمون إلى الجزائر إذا احتلت، أو في مصر فيبادر المسلمون إليها، أو في غيرها من البلاد، لماذا فلسطين بالذات؟

 

‌‌الجواب

لا أعتقد أن السبب فقط في كونها أرض ديانات سابقة ورسالات عديدة، ولكن أعتقد أن الله سبحانه وتعالى لما كان يعلم بسابق علمه للأحداث أن هذه البقعة من الأرض ستظل مكاناً لصراع دائم مستمر بين قوى الأرض المختلفة وبين المسلمين أراد أن يزيدها محبة في القلب؛ لأنه سوف يتكرر القتال فيها مرات ومرات، فقد أتاها الصليبيون من أبعد النقاط عنها في العالم المعمور وقت ذاك، واحتلوها 200 سنة كاملة، وكان من الممكن أن ينسى المسلمون القضية لتقادم الزمان، لكن أبداً ما نسيها المسلمون، ثم جاء اليهود من الشتات والتيه الحديث من كل بلاد العال
ফিলিস্তিন মুক্ত করা কারণ এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসরা বা নৈশ ভ্রমণের স্থান

আল্লাহ তাআলা ফিলিস্তিনকে যে সকল বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসরা বা নৈশ ভ্রমণের স্থান। আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করা উচিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আসমান পানে মহান সফরের প্রাক্কালে কেন প্রথমে কুদস অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন? আল্লাহ তাআলা তো নবীগণকে মক্কায় তাঁর কাছে নিয়ে আসতে পারতেন যাতে তাঁরা সেখানে তাঁর সাথে সালাত আদায় করতেন—আর মক্কা নিঃসন্দেহে অধিকতর মর্যাদাবান—অথবা তিনি আসমানে তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করতে পারতেন। কিন্তু সুবহানাল্লাহ! এর পেছনে অনেক গূঢ় রহস্য রয়েছে। প্রথমত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেতৃত্বের প্রাচীন কেন্দ্র থেকে মানবজাতির নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন, যার শেষ পর্যায়ে ছিলেন বনী ইসরায়েলের নবীগণ।

দ্বিতীয়ত: মুমিনদের হৃদয়ে এই স্থানের প্রতি ভালোবাসাকে আরও গভীরতর করে তোলা।

তৃতীয়ত: আল্লাহ তাআলা আল-আকসাকে মুসলমানদের প্রথম কিবলা বানিয়েছেন এবং মদিনা মুনাওয়ারায় এটি ষোল বা সতেরো মাস কিবলা হিসেবে বহাল ছিল, যেমনটি বুখারীর বর্ণনায় এসেছে। এরপর কিবলা কাবা অভিমুখে পরিবর্তন করা হয়। সুতরাং আল-আকসা হলো প্রথম কিবলা। এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসরার স্থান হওয়ার পাশাপাশি এখানে একটি নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ হয়েছে। ফলে মুসলমানদের নিকট এই পবিত্র ভূমি কুদস ও ফিলিস্তিনের প্রতি ভালোবাসা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কুদস ও কাবার মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়; ইসরা ও কিবলা হওয়া ছাড়াও পৃথিবীতে কাবার পর এটিই পরবর্তী নির্মিত ঘর।

ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদ নির্মিত হয়েছে? তিনি বললেন: মসজিদে হারাম।

আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: মসজিদে আকসা।

আমি বললাম: উভয়ের মধ্যে ব্যবধান কতটুকু? তিনি বললেন: চল্লিশ বছর। তারপর যেখানেই সালাতের সময় হবে সেখানেই সালাত আদায় করে নিও, কারণ পুরো জমিনই তোমার জন্য মসজিদ।)

এই সকল মহান বৈশিষ্ট্যের কারণে আল্লাহ তাআলা একে চতুর্থ একটি বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। একজন মুসলিম সুদূর পথ অতিক্রম করে মসজিদে আকসায় সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে সফর করতে পারে। এই বিশেষ মর্যাদা কেবল তিনটি মসজিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: মসজিদে হারাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ (মসজিদে নববী) এবং মসজিদে আকসা। বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে: (তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানের উদ্দেশ্যে ইবাদতের নিয়তে সফর করা যাবে না: মসজিদে হারাম, আমার এই মসজিদ এবং মসজিদে আকসা)। সুতরাং কারো জন্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে—এমনকি একই দেশের ভেতরেও—বিশেষ কোনো মসজিদে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েজ নয়, এই তিনটি মসজিদ ব্যতীত।

পঞ্চম বৈশিষ্ট্য: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, সেখানে এক সালাতের সওয়াব অন্য মসজিদে পাঁচশ সালাতের সমান। অন্য মসজিদের তুলনায় এটিও একটি বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব।

ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্য: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আল-আকসার চারপাশের ভূমি তথা ফিলিস্তিন এবং সামগ্রিকভাবে শাম বা সিরিয়া ভূখণ্ডকে বরকতময় করেছেন: {পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে রাতের বেলা মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছেন, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, যাতে আমি তাঁকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি} [সূরা আল-ইসরা: ১]। {এবং আমি তাঁকে ও লুতকে উদ্ধার করে সেই ভূখণ্ডের দিকে নিয়ে গেলাম যেখানে আমি বিশ্ববাসীর জন্য বরকত রেখেছি} [সূরা আল-আম্বিয়া: ৭১]।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবারানী বর্ণিত এবং আলবানী কর্তৃক সহীহ আখ্যায়িত হাদীসে বলেন: (শাম হলো হাশর ও নশর অর্থাৎ পুনরুত্থান ও সমাবেশের ময়দান)।

সপ্তম বৈশিষ্ট্য: এর চেয়েও বড় কথা হলো, আল্লাহ তাআলা কেয়ামত পর্যন্ত কেবল এই ভূমিতেই বরকত দেননি, বরং ফিলিস্তিনের অধিবাসীদের মাঝেও বরকত দান করেছেন। তাবারানী বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমরা শামের পবিত্র ভূমিকে আঁকড়ে ধরো, কারণ এটি আল্লাহর জমিনের মধ্যে সর্বোত্তম অংশ, যেখানে তাঁর সর্বোত্তম সৃষ্টিরা বসবাস করে।)

ইমাম আহমাদ আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর অটল থাকবে, তাদের শত্রুদের ওপর বিজয়ী থাকবে। যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ (কেয়ামত) আসবে এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে।

জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কোথায় থাকবে? তিনি বললেন: বাইতুল মাকদিসে এবং বাইতুল মাকদিসের আশপাশে।)

এই সকল বিষয় ফিলিস্তিনের মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি করে। তবে আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি, ফিলিস্তিন মুক্ত করার পেছনে এটিই একমাত্র বা প্রধান কারণ নয়; বরং প্রধান কারণ হলো এই ভূমিটি একটি ইসলামি ভূখণ্ড। আর এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রধান কারণের সাথে অতিরিক্ত অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। যেমন, কোনো শিশুকে মৃত্যু থেকে বাঁচানো একটি সাধারণ মানবিক কর্তব্য; কিন্তু সেই শিশুটি যদি আপনার নিজের সন্তান হয়, তবে তা কেবল কর্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি একটি মজ্জাগত বিষয় হয়ে দাঁড়ায় যা কোনো সুস্থ বিবেকবান মানুষ ত্যাগ করতে পারে না, কেবল অত্যন্ত কলুষিত আত্মার অধিকারী ব্যক্তি ছাড়া।

একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: কেন আল্লাহ তাআলা এই ভূখণ্ডকে এতসব বৈশিষ্ট্য দান করেছেন, যার ফলে মুমিনদের অন্তরে এর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং তারা অন্য সবকিছুর চেয়ে দ্রুত এর দিকে ধাবিত হয়? কেন তিনি মসজিদে আকসাকে আলজেরিয়াতে রাখলেন না, যাতে সেটি আক্রান্ত হলে মুসলমানরা আলজেরিয়ার দিকে ছুটে যেত? কিংবা কেন মিশরে বা অন্য কোনো দেশে রাখলেন না? কেন ফিলিস্তিনকেই নির্দিষ্ট করলেন?

 

‌‌উত্তর

আমি মনে করি না যে এর একমাত্র কারণ এটি পূর্ববর্তী ধর্মসমূহ ও বহু ঐশী বার্তার কেন্দ্রভূমি হওয়া। বরং আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর অনাদি জ্ঞান দ্বারা জানতেন যে, ভূখণ্ডের এই অংশটি পৃথিবীর বিভিন্ন শক্তি এবং মুসলমানদের মধ্যে চিরস্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের কেন্দ্রস্থল হয়ে থাকবে। তাই তিনি মানুষের হৃদয়ে এর প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে দিতে চেয়েছেন; কারণ এখানে বারবার যুদ্ধ সংঘটিত হবে। ক্রুসেডাররা সেই সময়ের পরিচিত বিশ্বের দূরতম প্রান্ত থেকে এখানে এসেছিল এবং পূর্ণ ২০০ বছর এটি দখল করে রেখেছিল। সময়ের ব্যবধানে মুসলমানরা হয়তো এই বিষয়টি ভুলে যেতে পারত, কিন্তু তারা কখনোই তা ভোলেনি। এরপর ইহুদিরা আধুনিক যুগের যাযাবর জীবন ও বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে এসে বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে...
(খণ্ড: ১) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: -)
فلسطين حتى لا تكون أندلسا أخرى   (راغب السرجاني)

القسم: التاريخ


الكتاب: فلسطين حتى لا تكون أندلسا أخرى

المؤلف: راغب السرجاني

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

ফিলিস্তিন: যেন তা দ্বিতীয় কোনো আন্দালুস না হয়ে যায়   (রাগিব আল-সারজানি)

বিভাগ: ইতিহাস


বই: ফিলিস্তিন: যেন তা দ্বিতীয় কোনো আন্দালুস না হয়ে যায়

লেখক: রাগিব আল-সারজানি

বইয়ের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা অডিও দরসসমূহ

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বরটি হলো দরস নম্বর - ১০টি দরস]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ٣) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ١)
سلسلة فلسطين_‌‌مفاهيم خاطئة

تحرير فلسطين ليس واجباً علينا لأنها أرض عربية، ولا نحررها من أجل إيقاف نزيف الدماء، أو من أجل حل مشكلة اللاجئين، إنما نحررها لأنها أرض إسلامية فتحت بالإسلام وحكمت بالإسلام، وفيها المسجد الأقصى، وهذا هو المعيار الصحيح الذي ينتصر به المسلمون على اليهود.
ফিলিস্তিন সিরিজ_‌‌ভুল ধারণাসমূহ

ফিলিস্তিন স্বাধীন করা আমাদের জন্য কেবল এই কারণে আবশ্যক নয় যে তা একটি আরব ভূমি, আর না আমরা তা রক্তপাত বন্ধ করতে কিংবা শরণার্থী সমস্যার সমাধানের জন্য স্বাধীন করছি; বরং আমরা তা স্বাধীন করছি কারণ এটি একটি ইসলামি ভূমি যা ইসলামের মাধ্যমে বিজিত ও শাসিত হয়েছে এবং সেখানে রয়েছে মসজিদুল আকসা। আর এটিই হলো সেই সঠিক মানদণ্ড যার মাধ্যমে মুসলমানরা ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করবে।
(খণ্ড: ٣) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٢)
‌‌السعي إلى تحرير فلسطين من منطلق العروبة

أعوذ بالله السميع العليم من الشيطان الرجيم بسم الله الرحمن الرحيم إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، إنه من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، اللهم اجعلنا لا نؤمن إلا بك، ولا نعبد إلا أنت، ولا نخلص إلا لك، ولا نتوكل إلا عليك، ولا نتوجه إلا إليك، ولا نجاهد إلا فيك، {رَبَّنَا لا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلا تُحَمِّلْنَا مَا لا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ} [البقرة:286].

آمين آمين.

وصل اللهم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم، والحمد لله رب العالمين.

أما بعد: فمع المحاضرة الثالثة من المحاضرات الخاصة بقضية فلسطين وعرضنا في المحاضرة السابقة سؤالاً هاماً هو: لماذا نحرر فلسطين؟ في محاولة لتحديد الهدف الذي من أجله تتحرك الطاقات والعقول والأيادي، لماذا نحرر فلسطين؟ ما هي الدوافع وما هي النيات وما هي الحقوق وما هو الطريق؟ وتحدثنا عن ستة اختيارات أو محاور يعتقد في صحة كل منها مجموعة من المسلمين، فصلنا في ثلاثة اختيارات في المرة السابقة الاختيار الأول: هل لأنها إسلامية؟ وقد اخترنا هذا التوجه، ووضحنا أسباب اختياره.

الاختيار الثاني: نحررها لأن فيها القدس، وتحدثنا عن سلبيات هذا الاختيار وعن إيجابياته، وخلصنا أنه مع أهمية القدس إلا أننا لا نحرر فلسطين فقط من أجل القدس، ولكن من أجل كل فلسطين، بل إن الحديث عن القدس فقط قد يؤثر سلباً على قضية فلسطين.

الاختيار الثالث: نحررها لأن بها الأقصى الشريف، وتحدثنا أيضاً عن السلبيات والإيجابيات في هذا الاختيار بتفصيل كبير يرجع له في مكانه، وبقيت لنا ثلاثة اختيارات لم نتحدث عنها ويعتقد في صحتها طائفة كبيرة من المسلمين.

في محاضرة اليوم نتحدث عن هذه الاختيارات الثلاثة الباقية، الاختيار الأول الذي نتحدث عنه اليوم هو الاختيار الرابع من الاختيارات المطروحة في المحاضرة السابقة، وهو: هل نحرر فلسطين لكونها عربية ونحن عرب.

ولعل هذا الاختيار هو الأكثر شيوعاً عند عموم المقاتلين من أجل القضية الفلسطينية، وهو الاختيار الذي تتولاه معظم دوائر الإعلام العربية، ومعظم الهيئات الرسمية في مختلف بلاد العالم العربي.

والحق أني أرى أن هذا الاختيار هو منطلق خطير يغير كثيراً من الفهم الصحيح للقضية، ويضعف كثيراً من أوراق الضغط عندنا، بل ويتمشى تماماً مع المؤامرة الفكرية التي يتولاها الغرب والشرق ومن خدع بقولهم من المسلمين حتى لو كان هؤلاء المطالبون يطالبون بكامل فلسطين، ولكن من منطلق أنها عربية فهذا شيء غريب، مع أنه يمكن أن نأخذ كل فلسطين تحت هذا المنطلق، إلا أن هذا الأمر سيؤدي إلى كارثة كبيرة بأرض فلسطين، ونتذكر هنا ما قلناه في المحاضرة الأولى من أن بعض أخطاء الفهم قد تسقط الأمم.

تعالوا بنا نرى ما هي عيوب الاختيار الذي نحن بصدده الآن.
আরব জাতীয়তাবাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ফিলিস্তিন মুক্ত করার প্রচেষ্টা

পরম দয়ালু ও অসীম দয়াময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই, তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট হিদায়াত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের এমন করুন যেন আমরা কেবল আপনার প্রতিই ঈমান আনি, কেবল আপনারই ইবাদত করি, কেবল আপনারই জন্য একনিষ্ঠ হই, কেবল আপনার ওপরই ভরসা করি, কেবল আপনার দিকেই ধাবিত হই এবং কেবল আপনার পথেই জিহাদ করি। {হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর এমন ভার অর্পণ করবেন না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আপনি আমাদের মার্জনা করুন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক; সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।} [আল-বাকারা: ২৮৬]।

আমীন, আমীন।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সহচরদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও বরকত বর্ষিত হোক। যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

অতঃপর: ফিলিস্তিন ইস্যু সম্পর্কিত ধারাবাহিক আলোচনার আজ তৃতীয় লেকচার। গত লেকচারে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলাম: কেন আমরা ফিলিস্তিন মুক্ত করব? মূলত কোন লক্ষ্যে আমাদের শক্তি, মেধা ও কর্মতৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে তা নির্ধারণের প্রয়াসেই এই প্রশ্ন। কেন আমরা ফিলিস্তিন মুক্ত করব? এর প্রেরণা কী, নিয়ত কী, অধিকারগুলো কী এবং এর পথই বা কোনটি? আমরা ছয়টি পছন্দ বা অক্ষ নিয়ে আলোচনা করেছিলাম, যার প্রত্যেকটিকে মুসলিমদের একেকটি গোষ্ঠী সঠিক বলে মনে করে। গত পর্বে আমরা তিনটি পছন্দের বিস্তারিত আলোচনা করেছি। প্রথম পছন্দটি ছিল: আমরা কি ফিলিস্তিনকে এজন্য মুক্ত করব যে এটি একটি ইসলামি ভূমি? আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গিটিই গ্রহণ করেছি এবং এর কারণসমূহ ব্যাখ্যা করেছি।

দ্বিতীয় পছন্দ: আমরা এটি মুক্ত করব কারণ এখানে কুদস (জেরুজালেম) অবস্থিত। আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো আলোচনা করেছি এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, কুদসের গুরুত্ব অনস্বীকার্য হওয়া সত্ত্বেও আমরা কেবল কুদসের জন্য ফিলিস্তিন মুক্ত করছি না, বরং সমগ্র ফিলিস্তিনের জন্য করছি। এমনকি কেবল কুদস নিয়ে আলোচনা ফিলিস্তিন ইস্যুতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তৃতীয় পছন্দ: আমরা এটি মুক্ত করব কারণ এখানে সম্মানিত আল-আকসা মসজিদ রয়েছে। এ বিষয়েও আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি যা যথাযথ স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন আমাদের সামনে আরও তিনটি পছন্দ বাকি রয়েছে যা নিয়ে আলোচনা হয়নি, কিন্তু মুসলিমদের একটি বিশাল অংশ এগুলোকে সঠিক বলে বিশ্বাস করে।

আজকের লেকচারে আমরা বাকি তিনটি পছন্দ নিয়ে আলোচনা করব। আজ প্রথম যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব সেটি হলো গত লেকচারে উপস্থাপিত আলোচনার চতুর্থ পছন্দ, তা হলো: আমরা কি ফিলিস্তিনকে আরব ভূখণ্ড হওয়ার কারণে এবং আমরা আরব জাতি হওয়ার কারণে মুক্ত করব?

সম্ভবত ফিলিস্তিন ইস্যুর সাধারণ যোদ্ধাদের মধ্যে এই দৃষ্টিভঙ্গিটিই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। অধিকাংশ আরব মিডিয়া এবং আরব বিশ্বের বিভিন্ন সরকারি সংস্থাগুলো এই অবস্থানটিই গ্রহণ করে থাকে।

সত্য কথা বলতে কি, আমি মনে করি এই দৃষ্টিভঙ্গিটি একটি বিপজ্জনক প্রারম্ভবিন্দু, যা এই ইস্যুর সঠিক বোঝাপড়াকে অনেকাংশেই বদলে দেয় এবং আমাদের চাপের সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। এমনকি এটি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্র এবং তাদের কথায় বিভ্রান্ত মুসলিমদের চিন্তাধারার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। এমনকি যদি এই দাবিদাররা সমগ্র ফিলিস্তিনও দাবি করে, তবুও 'আরব ভূখণ্ড' হিসেবে দাবি করা একটি অদ্ভুত বিষয়। যদিও এই দৃষ্টিভঙ্গির অধীনেও আমরা সমগ্র ফিলিস্তিন ফিরে পাওয়ার দাবি করতে পারি, তবে এই বিষয়টি ফিলিস্তিনের ভূমিতে একটি বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। এখানে আমাদের প্রথম লেকচারের কথাটি মনে রাখা প্রয়োজন: উপলব্ধির কিছু ভুল জাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

আসুন দেখি আমরা এখন যে পছন্দটি নিয়ে আলোচনা করছি তার ত্রুটিগুলো কী কী।
(খণ্ড: ٣) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌القتال تحت راية العروبة بدلاً من راية الإسلام

أولاً: يقولون: إن فلسطين عربية؛ لأنه كان يعيش فيها قبل دخول اليهود فلسطين قبائل كنعان العربية؛ ولذا فهي عربية؛ ومن أجل ذلك ندافع عنها، وهم بذلك يربطون ملكية البلد بمن عاش فيها أولاً، وهذا مبدأ غير إسلامي كما ذكرنا في الدرس السابق، فإننا ذكرنا أن البلاد تصبح ملكاً للمسلمين بفتحهم إياها سواء كان ساكنوها من قبل عرباً أو غير عرب، مصر الآن دولة عربية، هل سكنها العرب أولاً ولذا فهي عربية، أم من الممكن أن يقوم القبط الآن ويقولوا: هذه بلادنا وعشنا فيها قبل المسلمين؟ وهذا صحيح، نعم.

عاشوا فيها قبل المسلمين، لكن منذ أن فتحت بالإسلام أصبحت البلاد الإسلامية.

الجزائر الآن دولة عربية، هل سكنها العرب أولاً، أم أنها كانت مسكونة بالبربر وهم ليسوا من العرب، هل فتح المسلمون بلاد فارس؛ لأنه كانت لهم جذور عربية في فارس؟ هل فتحوا بلاد الأندلس؛ لأنه كانت لهم جذور عربية في الأندلس؟ إذاً: لا يجب أن يجرنا اليهود إلى جدالات جانبية لإخراجنا عن المنهج السليم، فيأتي اليهود ويزورون التاريخ، ونظل في جدال كبير ورجوع للحفريات، فمن آخر ما سمعت أن شارون أعلن أنهم وجدوا آثاراً في الجولان تدل على أن اليهود سكنوا هذه البلاد قبل العرب، طبعاً هم يكتبون الكتاب بأيديهم ثم يقولون: هذا من عند الله، وتعالوا إذاً ندخل في جدل عقيم وطويل وحفريات مزورة وخروج عن شرع الله سبحانه وتعالى.

لأننا نجر مع اليهود إلى جدالات خارج المنهج، فلو كان الأمر بهذه الطريقة فلنأت لنخرج الاستراليين من أستراليا مثلاً، ومن المعروف أن أهل أستراليا الحاليين ليسوا هم الأهل الأصليين، وأيضاً نخرج روسيا من الشيشان، فالجميع يعترف أن أهل الشيشان سكنوا في بلاد الشيشان قبل روسيا، بل فلنخرج الأمريكان أنفسهم من بلاد أمريكا، ونعطيها للهنود الحمر الذين لا ينكر الأمريكان أنهم سكنوا البلاد قبلهم.

إذاً: ليس هناك داعٍ لأن نمشي مع اليهود في هذا الطريق، فهم قوم تمرسوا على الجدال وعلى تغييب الحق، وتمرسوا على إنكار الحقيقة ولو كانت مثل ضوء الشمس.
ইসলামের পতাকার পরিবর্তে আরব জাতীয়তাবাদের পতাকার অধীনে লড়াই

প্রথমত: তারা বলে থাকে যে, ফিলিস্তিন একটি আরব ভূখণ্ড; কারণ ইয়াহুদিরা ফিলিস্তিনে প্রবেশের পূর্বে সেখানে আরব কেনানিয় গোত্রসমূহ বসবাস করত; আর এ কারণেই এটি আরব দেশ এবং আমরা এর প্রতিরক্ষা করি। এর মাধ্যমে তারা কোনো ভূখণ্ডের মালিকানাকে সেখানে সর্বপ্রথম বসবাসকারীদের ইতিহাসের সাথে সংশ্লিষ্ট করে। আর এটি একটি অনৈসলামিক মূলনীতি, যা আমরা পূর্ববর্তী পাঠে উল্লেখ করেছি। আমরা আলোচনা করেছি যে, কোনো দেশ মুসলমানদের বিজয়ের (ফাতহ) মাধ্যমে মুসলমানদের মালিকানাধীন হয়ে যায়, চাই তার পূর্ববর্তী অধিবাসীরা আরব হোক বা অনারব। বর্তমানে মিশর একটি আরব রাষ্ট্র। আরবরা কি সেখানে সর্বপ্রথম বসবাস করেছিল বলেই কি তা আরব রাষ্ট্র? নাকি বর্তমানে কিবতিরা (কপ্টিক) দাঁড়িয়ে বলতে পারে যে: ‘এটি আমাদের দেশ এবং আমরা সেখানে মুসলমানদের আগে থেকে বসবাস করছি’? আর এটি তো বাস্তব সত্য। হ্যাঁ।

তারা মুসলমানদের আগে সেখানে বসবাস করত, কিন্তু যখনই তা ইসলামের মাধ্যমে বিজিত হয়েছে, তখন থেকে তা ইসলামি ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে।

আলজেরিয়া বর্তমানে একটি আরব রাষ্ট্র। আরবরা কি সেখানে সর্বপ্রথম বসবাস করেছিল, নাকি সেখানে বার্বাররা বসবাস করত যারা আরব ছিল না? মুসলমানরা কি পারস্য বিজয় করেছিল কারণ সেখানে তাদের আরব বংশোদ্ভূত কোনো শিকড় ছিল? তারা কি আন্দালুস বিজয় করেছিল কারণ সেখানে তাদের আরব বংশোদ্ভূত কোনো শিকড় ছিল? সুতরাং, ইয়াহুদিরা যেন আমাদের সঠিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত করার জন্য কোনো পার্শ্ব-বিতর্কে টেনে নিয়ে যেতে না পারে। ইয়াহুদিরা আসবে এবং ইতিহাস বিকৃত করবে, আর আমরা এক বিশাল বিতর্ক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের খোঁজে লিপ্ত থাকব। আমি সর্বশেষ যা শুনেছি তা হলো, শ্যারন ঘোষণা করেছে যে তারা গোলানে এমন কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পেয়েছে যা প্রমাণ করে যে আরবদের পূর্বে ইয়াহুদিরা এই ভূখণ্ডে বসবাস করত। অবশ্যই তারা নিজেদের হাতে কিতাব লেখে এবং তারপর বলে: ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’। আর আসুন, এরপর আমরা এক নিষ্ফল ও দীর্ঘ বিতর্ক, জাল প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান এবং মহান আল্লাহর শরিয়ত থেকে বিচ্যুত হওয়ার পথে পা বাড়াই।

কারণ আমরা ইয়াহুদিদের সাথে এমন বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছি যা মূল আদর্শের বহির্ভূত। যদি বিষয়টি এই পদ্ধতিতেই হয়, তবে চলুন আমরা উদাহরণস্বরূপ অস্ট্রেলিয়া থেকে অস্ট্রেলীয়দের বের করে দেই, কারণ এটি সর্বজনবিদিত যে বর্তমান অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসীরা সেখানকার আদি অধিবাসী নয়। একইভাবে আমরা চেচনিয়া থেকে রাশিয়াকে বের করে দেই, কারণ সবাই স্বীকার করে যে রাশিয়ার পূর্বে চেচনিয়ার অধিবাসীরা সেখানে বসবাস করত। বরং আমরা খোদ আমেরিকা থেকে আমেরিকানদের বের করে দেই এবং তা রেড ইন্ডিয়ানদের দিয়ে দেই, যাদের ব্যাপারে আমেরিকানরা নিজেরাও অস্বীকার করে না যে তারা তাদের পূর্বে সেখানে বসবাস করত।

সুতরাং, ইয়াহুদিদের দেখানো এই পথে হাঁটার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ তারা এমন এক জাতি যারা বিতর্ক করা এবং সত্যকে আড়াল করায় অত্যন্ত পারদর্শী। তারা সত্যকে অস্বীকার করতে অভ্যস্ত, যদিও তা মধ্যাহ্নের সূর্যের আলোর মতো দেদীপ্যমান হয়।
(খণ্ড: ٣) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌عدم تشرفنا بالانتماء إلى كنعان الوثني العربي

ثانياً: هل يحرر المسلمون فلسطين لأن كنعان كان يسكن فيها أولاً؟ تعالوا بنا نفكر بهدوء، هل نتشرف بانتمائنا إلى كنعان؟ إن قبائل كنعان هذه كانت قبائل وثنية عربية تعيش في أرض فلسطين منذ قديم الزمان، وهم -أي: اليهود- يقولون: إن داود وسليمان عليهما السلام كانا يعيشان في هذه البلاد، ومن قبلهما يعقوب وإسحاق وإبراهيم عليهم جميعهاً أفضل الصلاة والتسليم، والحق أقول: نعم.

كان كنعان يعيش قبل هؤلاء الأنبياء في فلسطين، لكن ألا يشرفني الانتماء إلى هؤلاء الأنبياء المرسلين عن الانتماء إلى كنعان، فإن بيننا وبين هؤلاء الأنبياء أخوة العقيدة والإيمان بالله، بينما بيني وبين كنعان كره في الله، أكرهه لأنه كان يسجد لصنم من دون الله.

وهكذا يكون الأساس الذي يبني عليه المسلم علاقاته، الحب في الله والبغض في الله أوثق عرى الإيمان: {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ} [البقرة:285]، لا نفعل مثلما فعل كاتب مصري مشهور، يكتب عموداً ثابتاً في صحيفة مشهورة من أن اليهود من طبعهم الغدر وإنكار الجميل، حتى إن موسى عليه الصلاة والسلام -والكلام للمؤلف- قد قتل المصري وهرب، ولم يراع حق المصريين الذين ربوه وأطعموه وحملوه فوق رءوسهم.

يعني: هذا المؤلف يطعن طعناً مباشراً في نبي من أنبياء الله لأنه إسرائيلي.

سبحان الله! هذا النبي من أولي العزم من الرسل، ولا يجوز أبداً أبداً أن يدفعنا كرهنا لليهود أن نكره أنبياءهم الذين هم رسل الله، هذا خطأ كبير جداً في الفهم، وأقل ما يوصف به فعل هذا المفكر أن هذا سوء أدب مع الأنبياء، ونسأل الله أن يكون قد ارتكبه عن جهل، وإلا فالعواقب خطيرة، بل خطيرة جداً.

وسؤال يهمس في أذنك: أيهما أشرف لك أن تنتمي إلى أبي جهل العربي القرشي الكافر أم إلى بلال الحبشي المؤمن وليس بعربي؟ أيهما أشرف لك أن تنتمي إلى أبي لهب العربي القرشي الكافر، أم إلى طارق بن زياد البربري المؤمن وليس بعربي؟ أيهما أشرف لك أن تنتمي إلى الوليد بن المغيرة العربي القرشي الكافر، أم إلى صلاح الدين الأيوبي الكردي المؤمن وليس بعربي؟ طبعاً نحن لدينا خلفية أن صلاح الدين عربي؛ لأن الفيلم المشهور الذي عرضوه ويتكلم عن صلاح الدين الأيوبي جاءوا به وفيه كلمة مزورة على لسان صلاح الدين الأيوبي، أنه يقول: نحن العرب فعلنا كذا وكذا.

والأصل أننا نحن المسلمون.

أيهما أشرف لك أن تنتمي إلى أمية بن خلف العربي القرشي الكافر، أم إلى محمد الفاتح التركي فاتح القسطنطينية المؤمن وليس بعربي؟ أيهما أشرف لك أن تنتمي إلى النضر بن الحارث العربي القرشي الكافر أم إلى قطز المملوكي الشركسي المؤمن وليس بعربي؟ نعم، الآن اكتشفنا أن كثيراً من رموزنا الإسلامية العظيمة ليست بعربية، فنحن يا إخوة! لا نحرر فلسطين لكونها سكنت بـ كنعان الوثني أولاً، نحن نحررها لأنها بكاملها قطر إسلامي فتح بالإسلام كما ذكرنا.
মূর্তিপূজারি আরব কেনানীয়দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া আমাদের জন্য গৌরবের নয়

দ্বিতীয়ত: মুসলিমরা কি ফিলিস্তিনকে এজন্য স্বাধীন করে যে কেনানীয়রা সেখানে প্রথম বসবাস করত? আসুন আমরা শান্তভাবে চিন্তা করি, কেনানীয়দের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করায় কি আমাদের কোনো গৌরব আছে? এই কেনানীয় গোত্রগুলো ছিল মূর্তিপূজারি আরব গোত্র যারা প্রাচীনকাল থেকে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে বসবাস করত। আর তারা—অর্থাৎ ইহুদিরা—বলে যে: দাউদ ও সুলাইমান (আলাইহিমাস সালাম) এই জনপদে বাস করতেন এবং তাঁদের পূর্বে ইয়াকুব, ইসহাক ও ইব্রাহিম (আলাইহিমুস সালাম) সেখানে ছিলেন। সত্য বলতে আমি বলব: হ্যাঁ।

কেনানীয়রা এই নবীদের পূর্ব থেকেই ফিলিস্তিনে বসবাস করত, কিন্তু কেনানীয়দের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার চেয়ে এই প্রেরিত নবীদের সাথে সম্পর্কিত হওয়া কি আমার জন্য বেশি সম্মানজনক নয়? কারণ আমাদের এবং এই নবীদের মাঝে আকিদা ও আল্লাহর প্রতি ঈমানের ভ্রাতৃত্ব বিদ্যমান, অন্যদিকে কেনানীয়দের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমার ঘৃণা রয়েছে; আমি তাকে ঘৃণা করি কারণ সে আল্লাহকে বাদ দিয়ে মূর্তিকে সেজদা করত।

এভাবেই একজন মুসলিম তার সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করে; আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ঘৃণা পোষণ করা ঈমানের মজবুত হাতল: {রাসূল তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছেন এবং মুমিনগণও। তারা সবাই আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে। তারা বলে: আমরা তাঁর রাসূলদের মধ্যে কাউকে পার্থক্য করি না। তারা আরও বলে: আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আপনার ক্ষমা চাই এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।} [আল-বাকারাহ: ২৮৫]। আমরা সেই বিখ্যাত মিশরীয় লেখকের মতো করব না, যিনি একটি বিখ্যাত সংবাদপত্রে তার নিয়মিত কলামে লিখতেন যে—ইহুদিদের প্রকৃতিই হলো বিশ্বাসঘাতকতা এবং অকৃতজ্ঞতা, এমনকি মূসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)ও—লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী—একজন মিশরীয়কে হত্যা করে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেই মিশরীয়দের অধিকারের প্রতি লক্ষ্য রাখেননি যারা তাঁকে লালন-পালন করেছে, খাইয়েছেন এবং নিজেদের মাথার উপরে স্থান দিয়েছেন।

অর্থাৎ: এই লেখক আল্লাহর একজন নবীর ওপর সরাসরি আক্রমণ করছেন শুধুমাত্র এজন্য যে তিনি একজন ইসরাইলি ছিলেন।

সুবহানাল্লাহ! এই নবী হলেন 'উলুল আজম' বা দৃঢ়সংকল্প রাসূলদের একজন। ইহুদিদের প্রতি আমাদের ঘৃণা যেন কোনোভাবেই আমাদের তাঁদের নবীদের ঘৃণা করতে প্ররোচিত না করে, যারা আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। এটি উপলব্ধির ক্ষেত্রে এক বিশাল ভুল। এই চিন্তাবিদের কাজকে অন্তত নবীদের প্রতি বেয়াদবি হিসেবে বর্ণনা করা যায়। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এটি অজ্ঞতাবশত করে থাকেন, নতুবা এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ, বরং অতি ভয়াবহ।

আপনার কানে কানে একটি প্রশ্ন করি: আপনার জন্য কোনটি বেশি সম্মানের—আরব কুরাইশ কাফের আবু জাহেলের বংশধর হওয়া, নাকি অনারব মুমিন হাবশী বিলালের অনুসারী হওয়া? আপনার জন্য কোনটি বেশি সম্মানের—আরব কুরাইশ কাফের আবু লাহাবের বংশধর হওয়া, নাকি অনারব মুমিন বারবারি তারিক বিন যিয়াদের অনুসারী হওয়া? আপনার জন্য কোনটি বেশি সম্মানের—আরব কুরাইশ কাফের ওয়ালিদ বিন মুগিরার বংশধর হওয়া, নাকি অনারব মুমিন কুর্দি সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর অনুসারী হওয়া? অবশ্যই আমাদের অনেকের মনে এমন ধারণা রয়েছে যে সালাহউদ্দীন একজন আরব ছিলেন; কারণ তাঁকে নিয়ে যে বিখ্যাত চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে, সেখানে সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর মুখে একটি বিকৃত বাক্য বসিয়ে দেওয়া হয়েছে যেখানে তিনি বলেন: "আমরা আরবরা এমন এমন করেছি।"

অথচ প্রকৃত বিষয় হলো আমরা হলাম মুসলিম।

আপনার জন্য কোনটি বেশি সম্মানের—আরব কুরাইশ কাফের উমাইয়া বিন খালাফের বংশধর হওয়া, নাকি কনস্ট্যান্টিনোপল বিজয়ী অনারব তুর্কি মুমিন মুহাম্মদ আল-ফাতিহ-এর অনুসারী হওয়া? আপনার জন্য কোনটি বেশি সম্মানের—আরব কুরাইশ কাফের নজর বিন হারিসের বংশধর হওয়া, নাকি অনারব চেরকাসিয়ান মুমিন মামলুক কুতুযের অনুসারী হওয়া? হ্যাঁ, এখন আমরা উপলব্ধি করতে পারছি যে আমাদের অনেক মহান ইসলামী আদর্শ ব্যক্তিত্বই আরব ছিলেন না। হে প্রিয় ভাইয়েরা! তাই আমরা ফিলিস্তিনকে এজন্য স্বাধীন করছি না যে সেখানে প্রথমে মূর্তিপূজারি কেনানীয়রা বাস করত; বরং আমরা একে স্বাধীন করছি কারণ এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ভূখণ্ড যা ইসলামের মাধ্যমে বিজিত হয়েছে, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ٣) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌نسيان المسلمين البلاد الإسلامية المحتلة غير العربية

ثالثاً: من خطورة تكرار أن فلسطين عربية نسيان المسلمين البلاد الإسلامية المحتلة غير العربية، ونسيانهم هموم المسلمين غير العرب حتى وإن كانوا في بلاد غير محتلة، فالمسلمون في جمهوريات الإتحاد السوفييتي المحررة يحتاجون إلى عون المسلمين من العرب وغيرهم، مع العلم أن إسرائيل هي أول دولة ذهبت وأقامت علاقات وثيقة مع هذه الدول الإسلامية، والمسلمون في غياب عظيم عن هذا الدور الكبير، تخيلوا إسرائيل أول بلد يقيم علاقات مع تركمانستان وكازاخستان وأوزبكستان وطاجاكستان وكل هذه البلاد، ثروات ضخمة جداً في هذه البلاد وطاقات بشرية كبيرة جداً فيها؛ ولهذا أقامت معها إسرائيل هذه العلاقات ولم يتحرك لها المسلمون.

كذلك المسلمون في بلاد أفريقيا يحتاجون إلى المسلمين في بلاد العرب، والمسلمون الأمريكيون والأوربيون يحتاجون إلى المسلمين في بلاد العرب، فالذي يجمعنا بهم هو رباط العقيدة وليس رباط العنصر والعرق.
অনারব অধিকৃত মুসলিম ভূখণ্ডগুলোর কথা মুসলিমদের ভুলে যাওয়া

তৃতীয়ত: ফিলিস্তিন কেবল একটি আরব ভূখণ্ড—একথাটি বারংবার পুনরাবৃত্তি করার অন্যতম ঝুঁকি হলো, অনারব অধিকৃত মুসলিম দেশগুলোর কথা মুসলিমদের বিস্মৃত হয়ে যাওয়া এবং অনারব মুসলিমদের দুঃখ-দুর্দশা ও সমস্যার কথা ভুলে যাওয়া, যদিও তারা অনধিকৃত কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করে থাকে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের স্বাধীন প্রজাতন্ত্রগুলোর মুসলিমদের জন্য আরব ও অন্যান্য মুসলিমদের সাহায্যের প্রয়োজন। অথচ এটি লক্ষণীয় যে, ইসরায়েলই প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে এসব মুসলিম দেশের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেছে, যেখানে মুসলিমরা এই গুরুদায়িত্ব পালনে চরম উদাসীন। ভেবে দেখুন, তুর্কমেনিস্তান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান এবং এ জাতীয় সকল দেশের সাথে ইসরায়েলই প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এসব দেশে বিপুল ধন-সম্পদ এবং বিশাল জনশক্তি বিদ্যমান; আর এ কারণেই ইসরায়েল তাদের সাথে এই সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছে, অথচ মুসলিমরা এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

অনুরূপভাবে আফ্রিকার মুসলিমদের জন্য আরব বিশ্বের মুসলিমদের প্রয়োজন রয়েছে। এমনকি আমেরিকা ও ইউরোপের মুসলিমদেরও আরব ভূখণ্ডের মুসলিমদের সাহায্য-সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ, আমাদের মধ্যকার সুদৃঢ় বন্ধনের ভিত্তি হলো আকিদাহ বা বিশ্বাসের বন্ধন, কোনো বংশীয় বা জাতিগত সম্পর্ক নয়।
(খণ্ড: ٣) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٦)
‌‌فقدان الوحدة مع مليار مسلم غير عربي

رابعاً: بمناداتنا بعروبة فلسطين تحذف ببساطة قوة مليار مسلم مساعد ومعين، فهو شيء شديد الحساسية يدخل في قلوب غير العرب عندما تتحدث عن عروبتك وكأنهم مسلمون من الدرجة الثانية، نلاحظ في بلاد العالم الغربي حيث تعيش جاليات مسلمة من شتى البقاع أموراً عجباً، تجد المسلمين مقسمين إلى مجموعات منفصلة بحسب العنصر، بل وقد يتنافسون فيما بينهم تنافساً يخل بالعلاقة بينهم، بل وقد يتصارعون في هذه الغربة، تجد على سبيل المثال تجمعاً عربياً ومجموعة باكستانية ومجموعة تركية، وهكذا بحسب العرق والعنصر.

والله أذكر حديثاً مع باكستاني قال: إن في قلبه ألماً شديداً لإحساسه أن العرب ينظرون إليهم نظرة دونية، مع شدة العاطفة الإسلامية في قلوب الباكستانيين وفي قلوب الهنود وفي قلوب الأندونيسيين وفي قلوب الماليزيين، يقول: في قلوبنا عاطفة إسلامية شديدة، ويقول: ومع أنه قد خرج منا وممن حولنا من البلاد غير العربية البخاري ومسلم والنسائي والترمذي وابن ماجه والبيهقي والغزالي والسرخسي والنيسابوري، كل هؤلاء وغيرهم كثير خرجوا من هذه البلاد غير العربية إلا أن العرب ينظرون إلينا نظرة دونية، ففي قلبه ألم شديد جداً.

ولو نظرت في صلاة الفجر فإنك تجد نسبة الحضور في صلاة الفجر في هذه البلاد الغربية أكثر من 70% أو 75% من الجاليات الباكستانية والهندية والماليزية وغير العربية بصفة عامة.

فهذه عاطفة كبيرة جداً، ونحن ببساطة حين نقول: نحن عرب ونحرر فلسطين لكونها عربية -نحذف كل هؤلاء من صف المسلمين ومن صف القوة المواجهة لإسرائيل ببساطة، بهذه الكلمة تحذف مائتي مليون أندونيسي، وتحذف مائة مليون باكستاني ومائة مليون بنغلاديشي ومائة مليون نيجيري وثمانين مليون تركي ومائة مليون هندي وغيرهم كثير.

يا أخي! وسع مداركك وانظر ماذا أراد الله لك وتبتغي غيره، انظر إلى الأمر من منظور سياسي وعسكري واقتصادي، انظر إليه من باب المصالح؛ هل من المصلحة أن تواجه إسرائيل وأنت تبلغ من العدد مائتي مليون، أم من المصلحة أن تواجهها وأنت تبلغ من العدد مليار مسلم ومائتين أو ثلاثمائة مليون؟ فرق ضخم جداً، تخيل معي بدلاً من الجامعة العربية كيان آخر اسمه الجامعة الإسلامية، كما كان يريد السلطان عبد الحميد الثاني رحمه الله، آخر السلاطين المحترمين في الخلافة العثمانية.

تخيل معي جامعة تكون قراراتها ليست لمجرد التنفيس عن الشعوب الإسلامية، ولكن أخذ قرارات واقعية مؤثرة تغير من مسار الشعوب تبعاً لمصلحة الشعوب، جامعة إسلامية موحدة تجمع بين طياتها طاقة بشرية هائلة وفيها تكنولوجيا ماليزيا وأندونيسيا، وفيها بترول الخليج والقوقاز، وفيها مزارع السودان والعراق، وفيها مناجم أفريقيا وفيها وصواريخ إيران، وفيها نووية باكستان ويورانيوم كازاخستان، وفيها قناة السويس وباب المندب ومضيق البسفور في تركيا.

يا أخي! اعرف إمكانيات الأمة الإسلامية، ولا داعي لعنجهية العنصر والقومية والقبلية.
একশ কোটি অনারব মুসলিমের সাথে ঐক্যের অভাব

চতুর্থত: ফিলিস্তিনের আরব্য পরিচয় বা ‘আরবত্ব’ দাবি করার মাধ্যমে আমরা মূলত একশ কোটি সাহায্যকারী ও সহযোগী মুসলিমের শক্তিকে খুব সহজেই বাদ দিয়ে দিচ্ছি। এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয় যা অনারবদের হৃদয়ে আঘাত করে; যখন আপনি আপনার আরবত্বের কথা বলেন, তখন মনে হয় যেন তারা দ্বিতীয় শ্রেণির মুসলিম। পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতে যেখানে বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম সম্প্রদায় বসবাস করে, সেখানে আমরা এক আশ্চর্য বিষয় লক্ষ্য করি। আপনি দেখবেন যে মুসলিমরা জাতিগত ভিত্তিতে পৃথক পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, এমনকি তাদের মধ্যে এমন প্রতিযোগিতা তৈরি হয় যা পারস্পরিক সম্পর্ককে নষ্ট করে দেয়। প্রবাস জীবনে তারা একে অপরের সাথে দ্বন্দ্বেও লিপ্ত হয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি আরবের একটি জামাত, পাকিস্তানের একটি দল এবং তুরস্কের একটি দল খুঁজে পাবেন। এভাবে বংশ ও জাতিগত ভিত্তিতে তারা বিভক্ত হয়ে আছে।

আল্লাহর কসম, আমার একজন পাকিস্তানির সাথে কথোপকথনের কথা মনে পড়ছে। তিনি বলেছিলেন যে, তার হৃদয়ে প্রবল কষ্ট অনুভূত হয় কারণ তার মনে হয় আরবরা তাদের নিচু চোখে দেখে। অথচ পাকিস্তানি, ভারতীয়, ইন্দোনেশীয় এবং মালয়েশীয়দের হৃদয়ে রয়েছে সুতীব্র ইসলামী আবেগ। তিনি বলেন: আমাদের হৃদয়ে গভীর ইসলামী চেতনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন: যদিও আমাদের মধ্য থেকে এবং আমাদের আশপাশের অনারব দেশগুলো থেকে বুখারী, মুসলিম, নাসায়ী, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, বায়হাকী, গাজালী, সারাখসী এবং নিসাবুরীর মতো মনীষীগণ বের হয়েছেন—এই সমস্ত এবং আরও বহু বরেণ্য ব্যক্তিত্ব এই অনারব দেশগুলো থেকেই এসেছেন—তবুও আরবরা আমাদের নিচু চোখে দেখে। এ কারণে তার হৃদয়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণা ছিল।

আপনি যদি ফজর নামাজের দিকে তাকান, তবে দেখবেন যে এই পশ্চিমা দেশগুলোতে ফজর নামাজে উপস্থিতির হারের ৭০% বা ৭৫% এরও বেশি হলো পাকিস্তানি, ভারতীয়, মালয়েশীয় এবং সাধারণভাবে অনারব মুসলিমরা।

এটি একটি বিশাল আবেগ। আর আমরা খুব সহজেই যখন বলি: আমরা আরব এবং আমরা ফিলিস্তিনকে মুক্ত করব যেহেতু তা আরব ভূখণ্ড—তখন আমরা এই বিশাল মুসলিম জনশক্তিকে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শক্তি থেকে তাদের অবলীলায় বাদ দিয়ে দিই। এই একটি কথার মাধ্যমে আপনি বিশ কোটি ইন্দোনেশীয়কে বাদ দিচ্ছেন, দশ কোটি পাকিস্তানি, দশ কোটি বাংলাদেশি, দশ কোটি নাইজেরীয়, আট কোটি তুর্কি, দশ কোটি ভারতীয় এবং আরও অসংখ্য মুসলিমকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন।

হে আমার ভাই! আপনার জ্ঞান ও চিন্তার পরিধিকে বিস্তৃত করুন। দেখুন আল্লাহ আপনার জন্য কী চেয়েছেন আর আপনি কী চাচ্ছেন। বিষয়টি রাজনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখুন। স্বার্থ ও উপকারের দিক থেকে বিবেচনা করুন; এটা কি অধিকতর কল্যাণকর যে আপনি ২০ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে ইসরায়েলের মোকাবিলা করবেন, নাকি ১২০ বা ১৩০ কোটি মুসলিম নিয়ে তাদের মুখোমুখি হওয়া অধিকতর কল্যাণকর? এর মধ্যে এক বিশাল পার্থক্য রয়েছে। আরব লীগের পরিবর্তে আপনি আমার সাথে কল্পনা করুন ‘ইসলামী লীগ’ নামক অন্য এক সত্তার কথা, যেমনটি উসমানীয় খিলাফতের সর্বশেষ শ্রদ্ধেয় সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ (রাহিমাহুল্লাহ) চেয়েছিলেন।

আমার সাথে কল্পনা করুন এমন এক লীগের কথা, যার সিদ্ধান্তগুলো কেবল মুসলিম জনগণের ক্ষোভ প্রশমনের জন্য হবে না, বরং তা হবে বাস্তবধর্মী ও প্রভাবশালী সিদ্ধান্ত যা জনস্বার্থে উম্মাহর ভাগ্য বদলে দেবে। একটি ঐক্যবদ্ধ ইসলামী লীগ যা নিজের মধ্যে ধারণ করবে বিশাল মানবশক্তি; যেখানে থাকবে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার প্রযুক্তি, থাকবে পারস্য উপসাগর ও ককেশাসের খনিজ তেল, থাকবে সুদান ও ইরাকের শস্যক্ষেত্র, আফ্রিকার খনিসমূহ, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি ও কাজাখস্তানের ইউরেনিয়াম। আরও থাকবে সুয়েজ খাল, বাব আল-মানদাব এবং তুরস্কের বসফরাস প্রণালী।

হে ভাই! এই মুসলিম উম্মাহর সক্ষমতা সম্পর্কে জানুন। জাতিগত আভিজাত্য, জাতীয়তাবাদ কিংবা গোত্রপ্রীতির অহমিকার কোনো প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ٣) ফিলিস্তিন হাত্তা লা তাকুনা আন্দালুসান উখরা (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌فقدان عنصر قوة العقيدة الإسلامية

خامساً: إن أخطر الآثار على المناداة بعروبة فلسطين هي تغير الغاية من القتال، وفقدان العنصر الحقيقي للنصر وهو قوة العقيدة الإسلامية، وطبق هذا الكلام معي على قضية فلسطين، فالسلطة العلمانية لا تربط منهجها بالله سبحانه وتعالى وبرسوله الكريم صلى الله عليه وسلم، بل تربطه فقط بالآباء والأجداد وكأن لسان حالهم يقول: {إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُهْتَدُونَ} [الزخرف:22]، هذه السلطة العلمانية تشعر أن قوتها قوة ذاتية في أفرادها، وليس في كونها تعمل لله عز وجل، بينما السلطة الإسلامية تشعر أن قوتها مستمدة من الله الخالق وليس من غيره من المخلوقات، وإن شعرت السلطة العلمانية بضعف وذل تلجأ إلى عموم البشر الأقوياء في نظرها، ولا تنظر إلى الدستور الصحيح الذي يحدد طريقة السير وطريقة الحياة، تلجأ إلى غيرها ممن يعتزون بآبائهم مثلما تعتز هي بآبائها، بل وقد تحارب من ينادون بإسلامية المنهج وإسلامية الطريق، قد تلجأ السلطة العلمانية إلى روسيا باعتبارها صديقاً قديماً، وتنسى أنهم لا يرقبون في مؤمن إلاً ولا ذمة، وتنسى أن روسيا لما واجهت مشكلة مع إخوان الفلسطينيين في الشيشان ما كان لها حل إلا القتل والإبادة، فكيف ترجو منها تأييداً في فلسطين لذات القوم الذين تقاتلهم في الشيشان؟! وقد تلجأ إلى بريطانيا وفرنسا، وتنسى أن بريطانيا هي التي زرعت إسرائيل في فلسطين بتأييد فرنسي كما سيأتي في تاريخ فلسطين، وتنسى أن طائرات بريطانيا ما زالت تقصف إخوانهم في العراق، بل وقد تلجأ وفي سفه شديد إلى أمريكا، مع علمها أنها المؤيد الأول والداعم والمستمر لكل ما تفعله إسرائيل، فإذا بحكام هذه السلطة يرسلون الرسائل إلى رؤساء أمريكا يطلبون منهم أن يوقفوا عنف إسرائيل، سبحان الله! بل والعجب العجاب أنهم قد يلجئون إلى إسرائيل ذاتها بتنسيقات أمنية وترتيبات عجيبة يدفع ثمنها الإسلاميون من أهل فلسطين، وهكذا يبحثون عن عزتهم في مناهج كثيرة وقوى متعددة، ولا يفكرون ما داموا ينطلقون من مبدأ عنصري وهو العروبة فقط في الذهاب إلى المنهج الإسلامي: {أَيَبْتَغُونَ عِنْدَهُمُ الْعِزَّةَ فَإِنَّ الْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا} [النساء:139]، ولو ذهبوا أحياناً إلى المنهج الإسلامي فإنه يكون على سبيل الاضطرار لا الرغبة، أحياناً يطلقون الإسلاميين لإرهاب العدو لا اقتناعاً بمنهجهم، أحياناً يزورون باكستان أو إيران لعلها تفعل ما لم يفعله أبناء العمومة من العرب اضطراراً غير مقصود لا يغني عند الله شيئاً.

فإلى هؤلاء الذين يعتزون بعروبتهم بديلاً عن إسلاميتهم أنقل إليهم قولاً لـ عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأرضاه وهو قول مشهور: نحن قوم أعزنا الله بالإسلام، وإن ابتغينا العزة في غيره أذلنا الله، إن كنتم تشعرون بذل فاعلموا أنكم قد ابتغيتم العزة في غير موضعها، فنصر المسلمين يا إخوة! يستمد من نصر الله لهم، ونصر الله لهم يستمد من نصرهم لله: {إِنْ تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} [محمد:7]، وكيف ننصر الله؟ ننصره بتطبيق شرعه، نصره بطاعة أوامره، ننصره باجتناب نواهيه، ننصره بالالتزام بطريق نبيه صلى الله عليه وسلم، ننصره بالبعد عن العنصرية والفرقة.

خبر قرأته في صحيفة أمريكية والله ظننته خبراً كيدياً وما ظننت أنه خبر صحيح حتى تيقنت من بعض الفلسطينيين هناك، تهنئة أمريكية للسلطة هناك في فلسطين بإنشاء أكبر مصدر من مصادر الاقتصاد الفلسطيني هناك، يا ترى! ما هو أكبر مصدر سيمد الدولة الفلسطينية الناشئة؟ ما هو المصدر الذي سيمدها بالمال والطاقة؟ المصدر هو إنشاء أكبر نادٍ للقمار في الشرق الأوسط في أريحا، نعم، والله يا إخوة! ولا حول ولا قوة إلا بالله، أكبر نادٍ للقمار، ولما سئلوا عن ذلك قالوا: إن القمار محرم في إسرائيل، لا يوجد نوادي قمار هناك في إسرائيل؛ ولذلك أنشئوا هذا النادي في أريحا، حتى يخدعوا اليهود، يجعلونهم يأتون إلى أريحا ليصرفوا نقودهم هناك، ويصبح المصدر الرئيسي للدخل الفلسطيني من القمار.

فهذا منهج علماني بعيد تماماً عن أسباب النصر الحقيقية للمسلمين، كما أن معظم المطلوبين من قبل إسرائيل بتهمة أنهم يرهبون إسرائيل عاشوا شهوراً وسنوات في سجون السلطة العربية في فلسطين.

شيء خطير جداً إلغاء إسلامية القضية وجعلها قضية عربية عنصرية فقط، والله شاهدت ملصقاً يوزع في المكتبات الإسلامية وهو عجيب جداً حيث إنه مكتوب عليه: القدس عربية، القدس عربية، يعني: أولاً: تكلمنا في الدرس السابق عن قضية القدس وفلسطين والفرق بينهما فهو يعني: صغر القضية جداً وجعلها القدس، ثم لم يقل إسلامية أيضاً، ضيع الوجهة أصبحت القدس عربية، وأشد من هذا أنك عندما تنظر إلى هذا الملصق تجد أنه قد رسم عليه قبة الصخرة ولم يرسم عليه المسجد الأقصى.
ইসলামি আকিদার শক্তি হারিয়ে ফেলা

পঞ্চমতঃ ফিলিস্তিনের 'আরবত্ব' বা আরব জাতীয়তাবাদের আহ্বানের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব হলো যুদ্ধের লক্ষ্য পরিবর্তন হয়ে যাওয়া এবং বিজয়ের প্রকৃত উপাদান অর্থাৎ ইসলামি আকিদার শক্তি হারিয়ে ফেলা। আমার এই কথাগুলো ফিলিস্তিন সংকটের ওপর প্রয়োগ করে দেখুন। ধর্মনিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষ তাদের কর্মপন্থাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এবং তাঁর সম্মানিত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে যুক্ত করে না; বরং তারা একে কেবল পিতৃপুরুষ ও পূর্বপুরুষদের সাথে যুক্ত করে। যেন তাদের অবস্থা এই আয়াতের প্রতিচ্ছবি: {আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে সুপথপ্রাপ্ত} [আয-যুখরুফ: ২২]। এই ধর্মনিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষ মনে করে যে, তাদের শক্তি তাদের সদস্যদের নিজস্ব শক্তি, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করার মধ্যে নয়। পক্ষান্তরে, ইসলামি কর্তৃপক্ষ মনে করে যে তাদের শক্তি আল্লাহ খালিক বা স্রষ্টার পক্ষ থেকে আগত, অন্য কোনো মাখলুক বা সৃষ্টির পক্ষ থেকে নয়। যদি এই ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি কোনো দুর্বলতা বা লাঞ্ছনা অনুভব করে, তবে তারা তাদের দৃষ্টিতে শক্তিশালী সাধারণ মানুষের শরণাপন্ন হয়। তারা সেই সঠিক সংবিধানের দিকে তাকায় না যা চলার পথ এবং জীবনধারা নির্ধারণ করে দেয়। তারা অন্যদের কাছে আশ্রয় চায় যারা তাদের পিতৃপুরুষদের নিয়ে গর্ব করে, ঠিক যেমন তারা নিজেরাও করে। এমনকি তারা সেইসব লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধও করতে পারে যারা ইসলামি আদর্শ ও ইসলামি পথের আহ্বান জানায়। ধর্মনিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষ রাশিয়ার কাছে সাহায্য চাইতে পারে এই বিবেচনায় যে তারা পুরনো বন্ধু; কিন্তু তারা ভুলে যায় যে এই রুশরা মুমিনদের ব্যাপারে কোনো আত্মীয়তা বা চুক্তির পরোয়া করে না। তারা ভুলে যায় যে চেচনিয়ায় যখন ফিলিস্তিনিদের ভাইদের সাথে রাশিয়ার সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তখন হত্যা ও নির্মূল করা ছাড়া তাদের কাছে অন্য কোনো সমাধান ছিল না। তবে ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে আপনি তাদের কাছে কীভাবে সমর্থন আশা করতে পারেন, যেখানে তারা চেচনিয়ায় সেই একই জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে?! তারা ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সাহায্য চাইতে পারে, অথচ ভুলে যায় যে ফিলিস্তিনের ইতিহাসে যেমনটি আসবে—ফ্রান্সের সহায়তায় ব্রিটেনই ফিলিস্তিনে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। তারা ভুলে যায় যে ব্রিটেনের বিমানগুলো এখনও ইরাকে তাদের ভাইদের ওপর বোমা বর্ষণ করছে। এমনকি চরম নির্বুদ্ধিতাবশত তারা আমেরিকার কাছেও ধর্না দিতে পারে, অথচ তারা জানে যে ইসরায়েল যা কিছু করছে তার প্রধান, প্রথম এবং স্থায়ী সমর্থক ও সাহায্যকারী হলো আমেরিকা। এমতাবস্থায় এই কর্তৃপক্ষের শাসকরা আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের কাছে বার্তা পাঠায় যেন তারা ইসরায়েলের সহিংসতা বন্ধ করে। সুবহানাল্লাহ! আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা স্বয়ং ইসরায়েলের সাথেই এমন সব নিরাপত্তা সমন্বয় ও অদ্ভুত বন্দোবস্তের মাধ্যমে আপস করে যার মাশুল দিতে হয় ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থীদের। এভাবে তারা বহু পথ ও বিবিধ শক্তির মাঝে নিজেদের সম্মান খোঁজে। যতক্ষণ তারা 'আরবত্ব' নামক কেবল একটি বর্ণবাদী মূলনীতি থেকে যাত্রা করবে, ততক্ষণ তারা ইসলামি আদর্শের দিকে ফেরার চিন্তা করবে না: {তারা কি তাদের কাছে সম্মান খুঁজে? অথচ সমস্ত সম্মান তো আল্লাহরই জন্য} [আন-নিসা: ১৩৯]। মাঝে মাঝে যদি তারা ইসলামি আদর্শের দিকে ফিরেও যায়, তবে তা হয় নেহায়েত বাধ্য হয়ে, আন্তরিক ইচ্ছা থেকে নয়। কখনও তারা শত্রুকে আতঙ্কিত করার জন্য ইসলামপন্থীদের ছেড়ে দেয়, তাদের আদর্শের প্রতি বিশ্বাস থেকে নয়। কখনও তারা পাকিস্তান বা ইরান সফর করে এই আশায় যে, হয়তো তারা এমন কিছু করবে যা তাদের আরব চাচাতো ভাইয়েরা করতে পারেনি; এটি নেহায়েত উদ্দেশ্যহীন বাধ্যবাধকতা যা আল্লাহর কাছে কোনো কাজে আসবে না।

অতএব যারা ইসলামের পরিবর্তে আরবত্বের গৌরব করতে চায়, তাদের কাছে আমি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সেই বিখ্যাত উক্তিটি পৌঁছে দিচ্ছি: 'আমরা এমন এক জাতি যাদের আল্লাহ ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। তাই আমরা যদি ইসলাম ছাড়া অন্য কিছুর মাঝে সম্মান খুঁজি, তবে আল্লাহ আমাদের লাঞ্ছিত করবেন।' ভাইয়েরা, আপনারা যদি লাঞ্ছনা অনুভব করেন তবে জেনে রাখুন যে আপনারা ভুল জায়গায় সম্মান খুঁজছেন। হে ভাইয়েরা! মুসলিমদের বিজয় আসে আল্লাহর সাহায্য থেকে। আর আল্লাহর সাহায্য আসে আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করার মাধ্যমে: {যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো (অর্থাৎ তাঁর দ্বীনকে), তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদযুগল সুদৃঢ় করবেন} [মুহাম্মদ: ৭]। আর আমরা কীভাবে আল্লাহকে সাহায্য করব? আমরা তাঁর শরয়ি বিধান বাস্তবায়ন করে তাঁকে সাহায্য করব, তাঁর আদেশ পালনের মাধ্যমে তাঁকে সাহায্য করব, তাঁর নিষেধসমূহ থেকে দূরে থেকে তাঁকে সাহায্য করব, তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পথ অনুসরণের মাধ্যমে তাঁকে সাহায্য করব এবং বর্ণবাদ ও বিভেদ থেকে দূরে থেকে তাঁকে সাহায্য করব।

আমি একটি আমেরিকান সংবাদপত্রে একটি খবর পড়েছিলাম। আল্লাহর কসম, আমি ভেবেছিলাম এটি কোনো ষড়যন্ত্রমূলক বানোয়াট খবর। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি যে এটি সত্য সংবাদ, যতক্ষণ না ফিলিস্তিনের কিছু মানুষের কাছ থেকে আমি তা নিশ্চিত হয়েছি। খবরটি ছিল—সেখানকার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ফিলিস্তিনের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় উৎস গড়ে তোলার জন্য আমেরিকার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। বলুন তো কী সেই বড় উৎস যা উদীয়মান ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে শক্তি জোগাবে? কোন উৎসটি তাদের অর্থ ও শক্তি সরবরাহ করবে? উৎসটি হলো—জেরিকোতে (আরিহা) মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর বা ক্যাসিনো গড়ে তোলা! হ্যাঁ, আল্লাহর কসম ভাইয়েরা! লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ! সবচেয়ে বড় ক্যাসিনো। যখন তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো, তারা বলল: ইসরায়েলে জুয়া খেলা নিষিদ্ধ, সেখানে কোনো ক্যাসিনো নেই; তাই তারা জেরিকোতে এই ক্লাবটি স্থাপন করেছে যেন ইহুদিদের ধোঁকা দেওয়া যায়! তারা ইহুদিদের জেরিকোতে আসার প্রলোভন দেখাবে যাতে তারা সেখানে তাদের অর্থ ব্যয় করে এবং এভাবে ফিলিস্তিনিদের আয়ের প্রধান উৎস হবে জুয়া।

এটি এমন এক ধর্মনিরপেক্ষ কর্মপন্থা যা মুসলিমদের বিজয়ের প্রকৃত কারণগুলো থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছন্ন। এছাড়া ইসরায়েলকে আতঙ্কিত করার অভিযোগে ইসরায়েলের কাছে ওয়ান্টেড বা কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের অধিকাংশই ফিলিস্তিনের সেই আরব কর্তৃপক্ষের কারাগারে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কাটিয়েছেন।

এই সমস্যার ইসলামি রূপকে বিলুপ্ত করে একে কেবল একটি আরব বর্ণবাদী সংকটে রূপান্তর করা অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়। আল্লাহর কসম, আমি ইসলামি লাইব্রেরিগুলোতে বিতরণ করা একটি পোস্টার দেখেছি যা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ছিল। তাতে লেখা ছিল: জেরুজালেম আরবীয়, জেরুজালেম আরবীয়। অর্থাৎ প্রথমত: গত পাঠে আমরা জেরুজালেম ও ফিলিস্তিন সংকটের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। এর অর্থ দাঁড়ায় সমস্যাটিকে অতি ক্ষুদ্র করে কেবল জেরুজালেম কেন্দ্রিক করে ফেলা। তদুপরি তারা একে 'ইসলামি'ও বলেনি। তারা সঠিক লক্ষ্য হারিয়ে ফেলেছে, ফলে জেরুজালেম এখন কেবল 'আরবীয়' হয়ে গেছে। এর চেয়েও বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো—আপনি যখন এই পোস্টারটির দিকে তাকাবেন, দেখবেন সেখানে কুব্বাতুস সাখরা বা সোনালি গম্বুজের ছবি আঁকা হয়েছে, কিন্তু মাসজিদুল আকসার কোনো ছবি সেখানে নেই।