ثناء العلماء على أبي حنيفة والرد على من طعن فيهقال الفضيل بن عياض: كان أبو حنيفة رجلاً فقيهاً معروفاً بالفقه مشهوراً بالورع، واسع المال، معروفاً بالإفضال على من يطيف به، صبوراً على تعليم العلم بالليل والنهار، حسن الليل، كثير الصمت، قليل الكلام، حتى ترد مسألة في حلال أو حرام، فكان يحسن أن يدل على الحق، هارباً من مال السلطان.
وزاد ابن الصباح: وكان إذا وردت عليه مسألة فيها حديث صحيح اتبعه، وإن كان عن الصحابة والتابعين وإلا قاس وأحسن القياس.
وعن أبي بكر بن عياش قال: مات عمر بن سعيد أخو سفيان بن سعيد الثوري فأتينا نعزيه فإذا المجلس غاص بأهله، وفيهم عبد الله بن إدريس إذ أقبل أبو حنيفة في جماعة معه فلما رآه سفيان تحرك من مجلسه ثم قام فاعتنقه وأجلسه في موضعه وقعد بين يديه.
قال أبو بكر: فاغتظت عليه، يعني: كأنه كره أن يفعل سفيان ذلك بـ أبي حنيفة.
وقال ابن إدريس: ويحك ألا ترى؟ فجلسنا حتى تفرق الناس، فقلت لـ عبد الله بن إدريس: لا تقم حتى نعلم ما عنده في هذا.
يعني: أرادوا أن يسألوا سفيان الثوري عما فعله مع أبي حنيفة.
فقلت: يا أبا عبد الله! رأيتك اليوم فعلت شيئاً أنكرته وأنكره أصحابنا عليك، قال: وما هو؟ قلت: جاءك أبو حنيفة فقمت إليه وأجلسته في مجلسك وصنعت له صنيعاً بليغاً، وهذا عند أصحابنا منكر، فقال: وما أنكرت من ذاك؟ هذا رجل من العلم بمكان، فإن لم أقم لعلمه قمت لسنه، وإن لم أقم لسنه قمت لفقهه، وإن لم أقم لفقهه قمت لورعه، فأحجمني فلم يكن عندي جواب.
فالصراع كان بين مدرسة الرأي مع مدرسة الحديث.
وعن أبي وهب محمد بن مزاحم قال: سمعت عبد الله بن المبارك يقول: رأيت أعبد الناس، ورأيت أورع الناس، ورأيت أعلم الناس، ورأيت أفقه الناس، فأما أعبد الناس فـ عبد العزيز بن أبي رواد، وأما أورع الناس فـ الفضيل بن عياض، وأما أعلم الناس فـ سفيان الثوري، وأما أفقه الناس فـ أبو حنيفة، فيقصد بالفقه هنا القدرة على القياس واستنباطه للأحكام، ثم قال: ما رأيت في الفقه مثله.
وعن يحيى بن معين قال: كان أبو حنيفة ثقة لا يحدث بالحديث إلا بما يحفظه، ولا يحدث بما لا يحفظ.
وبعض الناس ضعفوه في الحديث.
وعن أبي وهب محمد بن مزاحم قال: سمعت عبد الله بن المبارك يقول: لولا أن الله أعانني بـ أبي حنيفة وسفيان لكنت كسائر الناس.
وعن الشافعي قال: قيل لـ مالك: هل رأيت أبا حنيفة؟ قال: نعم، رأيت رجلاً لو كلمك في هذه السارية أن يجعلها ذهباً لقام بحجته.
وعن قيس بن ربيع قال: كان أبو حنيفة ورعاً تقياً مفضلاً على إخوانه.
وعن شريك قال: كان أبو حنيفة طويل الصمت، كثير العقل.
وقال يزيد بن هارون: ما رأيت أحداً أحلم من أبي حنيفة.
وعن أبي معاوية الضرير قال: حب أبي حنيفة من السنة.
وقال الشافعي: الناس في الفقه عيال على أبي حنيفة.
وقال الذهبي: وكان من أذكياء بني آدم، جمع الفقه والعبادة والورع والسخاء، وكان لا يقبل جوائز الدولة.
فهذا كلام العلماء الذين مدحوا أبا حنيفة وأثنوا على علمه وفقهه وورعه وعبادته.
وقال ضرار بن صرد: سئل يزيد بن هارون أيهما أفقه الثوري أو أبو حنيفة؟ فقال: أبو حنيفة أفقه وسفيان أحفظ للحديث، فـ سفيان الثوري كان واسع العلم جداً بالحديث، فهو أمير المؤمنين في الحديث، أما الذي يستنبط ويقيس فـ أبو حنيفة فهو أفقه.
قال في هامش السير: وأما ما يؤثر عن النسائي وابن عدي من تضعيفهم لـ أبي حنيفة من جهة حفظه فهو مردود لا يعتد به في جنب توثيق أئمة الجرح والتعديل، من أمثال علي بن المديني ويحيى بن معين وشعبة وإسرائيل بن يونس ويحيى بن آدم وعبد الله بن داود الخريبي والحسن بن صالح وغيرهم، فهؤلاء كلهم معاصرون لـ أبي حنيفة أو قريبو العهد به، وهم أعلم الناس به، وأعلم من النسائي وابن عدي.
فـ النسائي متأخر عنه فقد مات سنة (303) هـ
আবু হানিফার প্রতি আলেমদের প্রশংসা এবং যারা তাঁর সমালোচনা করেছেন তাদের খণ্ডনফুযাইল ইবনে আইয়ায বলেন: আবু হানিফা ছিলেন একজন ফকীহ ব্যক্তি, যিনি ফিকহ শাস্ত্রের জন্য সুপরিচিত ছিলেন, তাকওয়ার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন, প্রচুর সম্পদের অধিকারী ছিলেন, তাঁর সান্নিধ্যে আসা ব্যক্তিদের প্রতি অনুগ্রহের জন্য সুপরিচিত ছিলেন, দিন-রাত ইলম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ধৈর্যশীল ছিলেন, তাঁর রাতগুলো ছিল সুন্দর, তিনি অধিক নীরব থাকতেন, কথাবার্তা কম বলতেন, যতক্ষণ না হালাল বা হারাম সংক্রান্ত কোনো মাসআলা আসত। তখন তিনি হকের পথ দেখাতে পারঙ্গম হতেন এবং সুলতানের সম্পদ থেকে দূরে থাকতেন।
ইবনুস সাব্বাহ আরও যোগ করেন: যখন তাঁর কাছে কোনো মাসআলা আসত যাতে সহীহ হাদীস বিদ্যমান, তিনি সেটি অনুসরণ করতেন। যদি সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে কোনো বর্ণনা থাকত (তবে তাও অনুসরণ করতেন), অন্যথায় তিনি কিয়াস করতেন এবং অত্যন্ত চমৎকার কিয়াস করতেন।
আবু বকর ইবনে আইয়াশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরীর ভাই উমর ইবনে সাঈদ ইন্তেকাল করলেন। আমরা তাঁকে সান্ত্বনা দিতে গেলাম। তখন মজলিস লোকে লোকারণ্য ছিল এবং সেখানে আব্দুল্লাহ ইবনে ইদরীসও উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় আবু হানিফা একদল সাথীসহ উপস্থিত হলেন। সুফিয়ান তাঁকে দেখে নিজের স্থান থেকে নড়ে উঠলেন, এরপর দাঁড়িয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করলেন এবং তাঁকে নিজের জায়গায় বসালেন ও নিজে তাঁর সামনে বসলেন।
আবু বকর বলেন: এতে আমি তাঁর (সুফিয়ানের) ওপর রাগান্বিত হলাম। অর্থাৎ: সুফিয়ান আবু হানিফার সাথে এমন আচরণ করাকে তিনি অপছন্দ করেছিলেন।
ইবনে ইদরীস বললেন: তোমার প্রতি ধিক্কার! তুমি কি দেখতে পাচ্ছ না? এরপর মানুষ চলে যাওয়া পর্যন্ত আমরা বসে রইলাম। আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ইদরীসকে বললাম: এই বিষয়ে তাঁর কাছে কী উত্তর আছে তা না জানা পর্যন্ত উঠো না।
অর্থাৎ: তারা সুফিয়ান সাওরীকে আবু হানিফার সাথে তাঁর কৃত আচরণের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাইলেন।
আমি বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ! আজ আমি আপনাকে এমন কিছু করতে দেখলাম যা আমি অপছন্দ করেছি এবং আমাদের সাথীরাও আপনার প্রতি তা অপছন্দ করেছে। তিনি বললেন: সেটি কী? আমি বললাম: আবু হানিফা আপনার কাছে এলেন, আর আপনি তাঁর জন্য উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁকে আপনার জায়গায় বসালেন ও তাঁর সাথে অত্যন্ত সম্মানজনক আচরণ করলেন, অথচ আমাদের সাথীদের কাছে এটি একটি অপছন্দনীয় বিষয়। তখন তিনি বললেন: তুমি এতে কী অপছন্দ করলে? এই ব্যক্তি ইলমের এক সুউচ্চ মাকামে আছেন। যদি আমি তাঁর ইলমের সম্মানে না দাঁড়াতাম, তবে তাঁর বয়সের সম্মানে দাঁড়াতাম; যদি বয়সের সম্মানে না দাঁড়াতাম, তবে তাঁর ফিকহের সম্মানে দাঁড়াতাম; আর যদি ফিকহের সম্মানে না দাঁড়াতাম, তবে তাঁর তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) সম্মানে দাঁড়াতাম। তাঁর এই উত্তর আমাকে স্তব্ধ করে দিল এবং আমার কাছে কোনো জবাব ছিল না।
সুতরাং এই দ্বন্দ্ব ছিল রায়পন্থী (যৌক্তিক মতামত অনুসারী) এবং হাদীসপন্থী ঘরানার মধ্যে।
আবু ওয়াহাব মুহাম্মদ ইবনে মুযাহিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি: আমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইবাদতগুজার দেখেছি, সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী দেখেছি, সবচেয়ে বড় আলেম দেখেছি এবং সবচেয়ে বড় ফকীহ দেখেছি। সবচেয়ে বড় ইবাদতগুজার হলেন আব্দুল আযীয ইবনে আবি রাওয়াদ; সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী হলেন ফুযাইল ইবনে আইয়ায; সবচেয়ে বড় আলেম হলেন সুফিয়ান সাওরী; আর সবচেয়ে বড় ফকীহ হলেন আবু হানিফা। এখানে ফিকহ বলতে তিনি কিয়াসের সক্ষমতা এবং আহকাম বা বিধান উদ্ভাবনের দক্ষতা বুঝিয়েছেন। এরপর তিনি বললেন: ফিকহ শাস্ত্রে আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি।
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হানিফা নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ছিলেন। তিনি কেবল মুখস্থ হাদীস বর্ণনা করতেন এবং যা মুখস্থ থাকত না তা বর্ণনা করতেন না।
যদিও কিছু মানুষ হাদীসের ক্ষেত্রে তাঁকে দুর্বল বলেছেন।
আবু ওয়াহাব মুহাম্মদ ইবনে মুযাহিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি: আল্লাহ যদি আবু হানিফা ও সুফিয়ানের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য না করতেন, তবে আমি সাধারণ মানুষের মতোই থাকতাম।
ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম মালেককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আপনি কি আবু হানিফাকে দেখেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি, তিনি যদি আপনাকে এই খাম্বাটি স্বর্ণের বলে প্রমাণ করতে চান, তবে তিনি তাঁর দলীল দিয়ে তা সাব্যস্ত করে ফেলবেন।
কায়েস ইবনে রাবী' থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হানিফা ছিলেন পরহেজগার, মুত্তাকী এবং তাঁর ভাইদের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল।
শারীক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হানিফা দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকতেন এবং প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন ছিলেন।
ইয়াযীদ ইবনে হারুন বলেন: আমি আবু হানিফার চেয়ে অধিক ধৈর্যশীল কাউকে দেখিনি।
আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর বলেন: আবু হানিফাকে ভালোবাসা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।
ইমাম শাফিঈ বলেন: ফিকহ শাস্ত্রে সকল মানুষ আবু হানিফার মুখাপেক্ষী।
ইমাম আয-যাহাবী বলেন: তিনি ছিলেন মানবজাতির অন্যতম মেধাবী ব্যক্তি। তিনি ফিকহ, ইবাদত, তাকওয়া ও দানশীলতার সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন এবং তিনি রাষ্ট্রীয় কোনো পুরস্কার গ্রহণ করতেন না।
এই হলো সেই সব আলেমদের বক্তব্য যারা আবু হানিফার প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর ইলম, ফিকহ, তাকওয়া ও ইবাদতের গুণগান গেয়েছেন।
যিরার ইবনে সুরদ বলেন: ইয়াযীদ ইবনে হারুনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—সুফিয়ান সাওরী এবং আবু হানিফার মধ্যে কে বড় ফকীহ? তিনি বললেন: আবু হানিফা বড় ফকীহ আর সুফিয়ান সাওরী হাদীস সংরক্ষণে অগ্রগামী। সুফিয়ান সাওরী হাদীসের ক্ষেত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন, তিনি হাদীস শাস্ত্রে 'আমীরুল মুমিনীন'। কিন্তু মাসআলা উদ্ভাবন (ইস্তিনবাত) এবং কিয়াসের ক্ষেত্রে আবু হানিফা অগ্রগামী, তাই তিনি শ্রেষ্ঠ ফকীহ।
'সিয়ার'-এর টীকায় বলা হয়েছে: নাসাঈ এবং ইবনে আদি আবু হানিফাকে তাঁর মুখস্থ রাখার ক্ষমতার দিক থেকে যে দুর্বল বলেছেন, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। কারণ ইমামুল জারহ ওয়াত তা'দীল যেমন—আলী ইবনুল মাদীনী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, শু'বা, ইসরাঈল ইবনে ইউনুস, ইয়াহইয়া ইবনে আদম, আব্দুল্লাহ ইবনে দাউদ আল-খুরাইবী, হাসান ইবনে সালিহ এবং অন্যদের দেওয়া নির্ভরযোগ্যতার (তাওসীক) সামনে এর কোনো গুরুত্ব নেই। তাঁরা সবাই আবু হানিফার সমসাময়িক বা তাঁর সমকালের নিকটবর্তী ছিলেন এবং তাঁরা তাঁর সম্পর্কে নাসাঈ ও ইবনে আদির চেয়ে অধিক অবগত ছিলেন।
কেননা নাসাঈ তাঁর অনেক পরের ব্যক্তি ছিলেন, তিনি ৩০৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।