(খণ্ড: ১) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: -)
من أعلام السلف   (أحمد فريد)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: من أعلام السلف

المؤلف: أحمد فريد

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 21 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

সালাফদের বরেণ্য ব্যক্তিত্বগণ   (আহমাদ ফরিদ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: সালাফদের বরেণ্য ব্যক্তিত্বগণ

লেখক: আহমাদ ফরিদ

বইয়ের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলামওয়েব (ইসলামিক নেটওয়ার্ক) ওয়েবসাইট কর্তৃক অনুলিখন করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ২১টি পাঠ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ই রজব ১৪৩২ হিজরী

(খণ্ড: ١) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ١)
سلسلة من أعلام السلف_‌‌الإمام الأعمش

من أعلام السلف وعلمائهم وأئمتهم الإمام الأعمش رحمه الله الذي رفعه الله بالعلم، حتى لقد كان السلاطين أحقر الناس في مجلسه، وقد عرف عنه الدعابة، ومع ذلك كان من أعبد الناس.
সলফদের বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের একটি ধারাবাহিক—‌‌ইমাম আ'মাশ

সলফদের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, আলেম ও ইমামগণের অন্যতম হলেন ইমাম আ'মাশ (রহিমাহুল্লাহ), আল্লাহ যাঁকে ইলমের মাধ্যমে এমন উচ্চমর্যাদা দান করেছিলেন যে, তাঁর মজলিসে সুলতানরা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে তুচ্ছ হিসেবে গণ্য হতেন। তিনি তাঁর রসিকতাপূর্ণ স্বভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন, তবে তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ١) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٢)
‌‌بين يدي ترجمة الأعمش رحمه الله

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً.

أما بعد: فمع علم جديد من أعلام السلف، وهو من علماء الكوفة ومن صغار التابعين، اسمه سليمان بن مهران الملقب بـ الأعمش، له علم وفضل وملح ونوادر، إمام في القرآن والحديث، لقب بالمصحف لصدقه، وكانوا يصححون مصاحفهم من حفظه، فقد كانت المصاحف تكتب باليد، لكنهم كانوا يصححون مصاحفهم المكتوبة من قراءته.

كان فقيراً من الدنيا ولكنه كان مليئاً من العلم.

قال عيسى بن يونس: ما رأينا الأغنياء والسلاطين في مجلس قط أحقر منهم في مجلس الأعمش، وهو محتاج إلى درهم.

قال أبو نعيم في وصفه: ومنهم الإمام المقرئ الراوي المفتي، كان كثير العمل قصير الأمل، مع ربه راهباً ناسكاً، ومع عباده داعباً ضاحكاً، يعني: إشارة إلى كثرة مزاحه.

سليمان بن مهران الأعمش تتلمذ عليه الأكابر، كـ شعبة وسفيان الثوري وسفيان بن عيينة، وكان أعلم الناس بحديث عبد الله بن مسعود.

فهو من صغار التابعين، وتتلمذ عليه أئمة كبار أتباع التابعين.

وكان أعلم الناس بحديث عبد الله بن مسعود، رأى أنس بن مالك، ولكنه لم يرو عنه إلا بواسطة، وكانت له عجائب ونوادر وملح سنذكر شيئاً منها في غضون الترجمة، فرحمه الله وسائر الأئمة الأعلام والعلماء الكرام.
আ'মাশ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর জীবনীর উপক্রমণিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর অগণিত শান্তি ও কল্যাণ বর্ষণ করুন।

অতঃপর: এখন আমরা সালাফদের একজন প্রখ্যাত মণীষীকে নিয়ে আলোচনা করব, যিনি কুফার আলেমদের অন্তর্ভুক্ত এবং ছোট তাবিঈদের অন্যতম। তাঁর নাম সুলাইমান ইবনে মিহরান, যিনি 'আল-আ'মাশ' উপাধিতে পরিচিত। তাঁর অগাধ জ্ঞান, মর্যাদা এবং সরস ও বিরল ঘটনার সমাহার রয়েছে। তিনি কুরআন ও হাদিসের একজন ইমাম। তাঁর সত্যবাদিতার কারণে তাঁকে 'আল-মুসহাফ' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। লোকেরা তাঁর মুখস্থ তিলাওয়াত থেকে নিজেদের লিখিত পাণ্ডুলিপিগুলো সংশোধন করে নিত। কারণ তখন পাণ্ডুলিপিগুলো হাতে লেখা হতো, ফলে তারা তাঁর পাঠের সাথে মিলিয়ে তাদের লিখিত পাণ্ডুলিপিগুলো সংশোধন করত।

তিনি পার্থিব সম্পদে দরিদ্র ছিলেন কিন্তু জ্ঞানে ছিলেন সমৃদ্ধ।

ঈসা ইবনে ইউনুস বলেন: আমরা আ'মাশের মজলিসের চেয়ে অন্য কোনো মজলিসে ধনী এবং সুলতানদের এতটা তুচ্ছ ও হীন অবস্থায় দেখিনি, অথচ তিনি নিজে এক দিরহামের অভাবী ছিলেন।

আবু নুআইম তাঁর বর্ণনায় বলেন: তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এই ইমাম, ক্বারী, বর্ণনাকারী ও মুফতি। তিনি অধিক আমলকারী এবং দুনিয়ার ব্যাপারে স্বল্প আশাপোষণকারী ছিলেন। তিনি তাঁর রবের ইবাদতে ছিলেন একান্ত নিবিষ্ট সাধক, আর মানুষের সাথে ছিলেন কৌতুকপ্রিয় ও হাস্যোজ্জ্বল। অর্থাৎ, এটি তাঁর অধিক রসিকতা করার প্রতি ইঙ্গিত।

সুলাইমান ইবনে মিহরান আল-আ'মাশের কাছে বড় বড় মণীষীরা শিক্ষা লাভ করেছেন, যেমন—শু’বাহ, সুফিয়ান আস-সাওরি এবং সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন।

তিনি ছোট তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, আর বড় বড় আতবাউত তাবিঈন ইমামগণ তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।

তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের হাদিস সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ছিলেন। তিনি আনাস ইবনে মালিককে দেখেছিলেন, তবে তাঁর থেকে কোনো মাধ্যম ছাড়া সরাসরি হাদিস বর্ণনা করেননি। তাঁর অনেক চমৎকার ও বিরল হাস্যরসের ঘটনা রয়েছে যা আমরা জীবনীর বর্ণনার মাঝে উল্লেখ করব। আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং অন্যান্য প্রখ্যাত ইমাম ও সম্মানিত আলেমদের প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ١) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌نسب الأعمش رحمه الله ومولده وصفته

اسمه: سليمان بن مهران الأسدي الكاهلي مولاهم أبو محمد الكوفي الأعمش، وكاهل هو: ابن أسد بن خزيمة، أصله من نواحي الري.

فقيل: ولد بقرية أمه من أعمال طبرستان في إحدى وستين، وقدموا به إلى الكوفة طفلاً، وقيل: حملاً.

صفته: عن ابن عيينة قال: رأيت الأعمش لبس فرواً مقلوباً، وثياباً تسيل خيوطه على رجليه، ثم قال: أرأيتم لولا أني تعلمت العلم من كان يأتيني؟ لو كنت بقالاً كان يقذرني الناس أن يشتروا مني.

فانظروا إلى شرف العلم، وكيف أن العلم يرفع العبد المملوك حتى يجلسه مجالس الملوك، كما ورد في الصحيح: أن عمر بن الخطاب لقى نافع بن الحارث بعسفان، وعسفان ما بين مكة والمدينة، وهي أقرب إلى مكة، وكان قد استخلفه عمر على أهل الوادي، فلما لقيه قال: (من استخلفت على أهل الوادي؟ قال: ابن أبزى.

قال: من ابن أبزى؟ قال: رجل من موالينا -والمولى يطلق على العبد، ويطلق على العبد الذي أعتق - فقال: رجل من موالينا، فقال عمر رضي الله عنه: استخلفت عليهم مولى؟ قال: إنه قارئ لكتاب الله عالم بالفرائض، فقال عمر رضي الله عنه: ألا إن نبيكم صلى الله عليه وسلم قد قال: إن الله ليرفع بهذا الكتاب أقواماً ويضع به آخرين).

وعن أبي بكر بن عياش قال: رأيت الأعمش يلبس قميصاً مقلوباً فيقول: الناس مجانين، يلبسون الخشن مقابل جلودهم.

وعن أبي هشام قال: سمعت عمي يقول: قال عيسى بن موسى لـ ابن أبي ليلى: اجمع الفقهاء.

كان عيسى بن موسى أميراً، فأمر ابن أبي ليلى أن يجمع الفقهاء فجمعهم، فجاء الأعمش في جبة فرو وقد ربط وسطه بشريط فأبطئوا، فقام الأعمش فقال: إن أردتم أن تعطونا شيئاً وإلا فخلوا سبيلنا، فقال: يا ابن أبي ليلى! قلت لك تأتي بالفقهاء تجيء بهذا؟ قال: هذا سيدنا الأعمش.
আমাশ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বংশপরিচয়, জন্ম এবং বৈশিষ্ট্য

তাঁর নাম: সুলাইমান বিন মিহরান আল-আসাদী আল-কাহিলী (তাদের মুক্তদাস), আবু মুহাম্মাদ আল-কুফী আল-আমাশ। আর কাহিল হলো: আসাদ বিন খুযাইমাহ-এর পুত্র; তাঁর আদি নিবাস ছিল রাই অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী এলাকা।

বলা হয়ে থাকে: তিনি হিজরি ৬১ সনে তাবারিস্থানের অন্তর্গত তাঁর মায়ের গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিশু অবস্থায় তাঁকে কুফায় নিয়ে আসা হয়; আবার কেউ কেউ বলেন, তিনি যখন মাতৃগর্ভে ছিলেন তখনই তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছিল।

তাঁর বৈশিষ্ট্য: ইবনে উয়ায়নাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমাশকে উল্টো করে একটি পশমের পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখেছি, যার কাপড়ের সুতোগুলো তাঁর পায়ের ওপর ঝুলে পড়ছিল। এরপর তিনি বললেন: তোমরা কি দেখছো? আমি যদি জ্ঞান অর্জন না করতাম, তবে কে আমার কাছে আসত? আমি যদি একজন সাধারণ মুদি দোকানি হতাম, তবে মানুষ আমার কাছ থেকে সওদা কিনতেও ঘৃণা বোধ করত।

সুতরাং ইলমের (জ্ঞানের) উচ্চমর্যাদার দিকে লক্ষ্য করুন যে, ইলম কীভাবে একজন ক্রীতদাসকে উন্নত করে রাজাদের মজলিসে বসিয়ে দেয়। যেমনটি সহীহ বর্ণনায় এসেছে: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিআল্লাহু আনহু) ‘উসফান’ নামক স্থানে নাফে' বিন হারিসের সাথে সাক্ষাৎ করেন। উসফান মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী একটি স্থান, যা মক্কার অধিক নিকটবর্তী। উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) তাঁকে উপত্যকাবাসীদের (মক্কাবাসীদের) ওপর প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন। যখন তাঁর সাথে দেখা হলো, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: (আপনি উপত্যকাবাসীদের ওপর কাকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন? তিনি বললেন: ইবনে আবযাকে।

তিনি বললেন: ইবনে আবযা কে? তিনি বললেন: আমাদের মুক্তদাসদের একজন—মাওলা শব্দটি ক্রীতদাসের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, আবার যাকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে তার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়—তিনি বললেন: আমাদের একজন মুক্তদাস। তখন উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) বললেন: আপনি তাদের ওপর একজন মুক্তদাসকে প্রতিনিধি বানিয়েছেন? তিনি বললেন: তিনি আল্লাহর কিতাবের একজন ক্বারী এবং ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে পারদর্শী। তখন উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) বললেন: জেনে রেখো, তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা এই কিতাব (কুরআন) দ্বারা কিছু জাতিকে উন্নত করেন এবং এর দ্বারাই অন্য কিছু জাতিকে অবনত করেন)।

আবু বকর বিন আইয়াশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমাশকে উল্টো করে জামা পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। তিনি বলছিলেন: মানুষজন পাগল, তারা পোশাকের খসখসে অংশটি তাদের শরীরের চামড়ার দিকে রেখে পরিধান করে।

আবু হিশাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার চাচাকে বলতে শুনেছি, ঈসা বিন মূসা ইবনে আবী লায়লাকে বললেন: ফকীহদের (ইসলামী আইনজ্ঞদের) একত্রিত করুন।

ঈসা বিন মূসা ছিলেন একজন আমীর (গভর্নর)। তিনি ইবনে আবী লায়লাকে ফকীহদের একত্রিত করার নির্দেশ দিলে তিনি তাদের একত্রিত করেন। তখন আমাশ একটি পশমী জুব্বা পরিহিত অবস্থায় আসলেন যার কোমর একটি ফিতা দিয়ে বাঁধা ছিল। তাঁরা উপস্থিত হতে দেরি করেছিলেন। তখন আমাশ দাঁড়িয়ে বললেন: যদি আপনারা আমাদের কিছু দিতে চান তবে দিন, অন্যথায় আমাদের পথ ছাড়ুন। তিনি (আমীর) বললেন: হে ইবনে আবী লায়লা! আমি আপনাকে বললাম ফকীহদের নিয়ে আসতে, আর আপনি একে নিয়ে এসেছেন? তিনি বললেন: ইনিই আমাদের সরদার আমাশ।
(খণ্ড: ١) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌ثناء العلماء على الأعمش رحمه الله

قال أحمد بن عبد الله العجلي: الأعمش ثبت، وكان محدث الكوفة في زمانه.

ويقال: إنه كان له أربعة آلاف حديث، ولم يكن له كتاب، أي: كان ضبطه ضبط صدر وليس ضبط كتاب.

قال: وكان يقرأ القرآن وهو رأس فيه، وكان فصيحاً.

وقال عيسى بن يونس: لم نر نحن مثل الأعمش، وما رأيت الأغنياء عند أحد أحقر منهم عنده مع فقره وحاجته.

قال الذهبي: كان عزيز النفس قنوعاً، وله رزق على بيت المال في الشهر خمسة دنانير، قررت له في آخر عمره.

وعن ابن عيينة قال: سبق الأعمش الناس بأربع: كأن أقرأهم للقرآن، وأحفظهم للحديث، وأعلمهم بالفرائض، وذكر خصلة أخرى.

وقال أحمد: أبو إسحاق والأعمش رجلا أهل الكوفة، يعني: في زمنهم.

وأبو إسحاق هو السبيعي.

وقال محمد بن سعد: وكان الأعمش صاحب قرآن وفرائض وعلم بالحديث، قرأ عليه طلحة بن مصرف القرآن، وكان يقرئ الناس، ثم ترك ذاك في آخر عمره، وكان يقرأ القرآن في كل شعبان على الناس في كل يوم شيئاً معلوماً حين كبر وضعف، ويحضرون مصاحفهم فيعرضونها ويصلحونها على قراءته.

وعن عيسى بن يونس قال: ما رأينا في زماننا مثل الأعمش، ولا الطبقة الذين كانوا قبلنا، وما رأينا الأغنياء والسلاطين في مجلس قط أحقر منهم في مجلس الأعمش، وهو محتاج إلى درهم.

وكان القاسم بن عبد الرحمن يقول: ليس أحد أعلم بحديث عبد الله من الأعمش.

وذلك لأن عبد الله بن مسعود سكن الكوفة، وكان الأعمش من علماء الكوفة، فكان أعلم الناس بحديث عبد الله بن مسعود.

وعن ضرار بن صرد قال: ما كان هذا العلم إلا في العرب وأشراف الملوك.

فقال له رجل من جلسائه: وأي نبل كان في الأعمش؟ قال شريك: أما لو رأيت الأعمش ومعه لحم يحمله وسفيان الثوري عن يمينه وشريك عن يساره، وكلاهما ينازعه حمل اللحم لعلمت أن ثم نبلاً كثيراً.

وعن إسحاق بن راشد قال: قال لي الزهري: وبالعراق أحد يحدث؟ قلت: نعم.

قلت له: هل لك أن آتيك بحديث بعضهم؟ فقال لي: نعم.

فجئته بحديث سليمان الأعمش، فجعل ينظر فيها ويقول: ما ظننت أن بالعراق من يحدث مثل هذا؟ قال: قلت: وأزيدك؟ هو من مواليهم.

وقال علي بن المديني: حفظ العلم على أمة محمد صلى الله عليه وسلم ستة، فلأهل مكة عمرو بن دينار، ولأهل المدينة ابن شهاب الزهري، ولأهل الكوفة أبو إسحاق السبيعي وسليمان بن مهران، ولأهل البصرة يحيى بن أبي كثير وقتادة.

وقال شعبة: ما شفاني أحد في الحديث ما شفاني الأعمش.

وقال عبد الله بن داود الخريبي: سمعت شعبة إذا ذكر الأعمش قال: المصحف، المصحف.

وقال عمر بن علي: كان الأعمش يسمى المصحف من صدقه.

وقال محمد بن عمار الموصلي: ليس في المحدثين أثبت من الأعمش ومنصور بن المعتمر، ومنصور أفضل من الأعمش إلا أن الأعمش أعرف بالمسند وأكثر مسنداً منه.
আল-আ’মাশ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি ওলামায়ে কিরামের প্রশংসা

আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ইজলি বলেন: আল-আ’মাশ ছিলেন নির্ভরযোগ্য এবং তিনি তাঁর সময়ে কুফার মুহাদ্দিস ছিলেন।

বলা হয় যে, তাঁর চার হাজার হাদিস মুখস্থ ছিল কিন্তু তাঁর কোনো লিখিত কিতাব ছিল না; অর্থাৎ, তাঁর হিফয ছিল স্মৃতিভিত্তিক বা হৃদস্থ, কোনো কিতাবের ওপর নির্ভরশীল নয়।

তিনি বলেন: তিনি কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং এ বিষয়ে তিনি ছিলেন একজন পথিকৃৎ ইমাম, আর তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাষী।

ঈসা ইবনে ইউনুস বলেন: আমরা আল-আ’মাশের মতো কাউকে দেখিনি। তাঁর চরম দারিদ্র্য ও অভাব থাকা সত্ত্বেও তাঁর মজলিসে ধনী ব্যক্তিদের যতটা তুচ্ছ মনে হতো, অন্য কারো কাছে ততটা মনে হতো না।

ইমাম আয-যাহাবি বলেন: তিনি ছিলেন অত্যন্ত আত্মমর্যাদাবান ও অল্পে তুষ্ট। জীবনের শেষভাগে বায়তুল মাল থেকে তাঁর জন্য প্রতি মাসে পাঁচ দিনার বরাদ্দ করা হয়েছিল।

ইবনে উয়াইনাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল-আ’মাশ চারটি বিষয়ে মানুষকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন—তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে কুরআনের শ্রেষ্ঠ কারী, হাদিসের সর্বশ্রেষ্ঠ হাফেজ, মিরাস বা ফারায়েজ শাস্ত্রে সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং তিনি আরও একটি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন।

ইমাম আহমদ বলেন: আবু ইসহাক ও আল-আ’মাশ ছিলেন কুফাবাসীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দুই ব্যক্তিত্ব, অর্থাৎ তাঁদের সময়ে।

আর আবু ইসহাক হলেন আস-সাবি’ঈ।

মুহাম্মদ ইবনে সা’দ বলেন: আল-আ’মাশ ছিলেন কুরআন, ফারায়েজ ও হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিত। তালহা ইবনে মুসাররিফ তাঁর কাছে কুরআন পাঠ করেছিলেন। তিনি মানুষকে কুরআন তিলাওয়াত শেখাতেন, তবে জীবনের শেষভাগে তা ছেড়ে দিয়েছিলেন। বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে পড়ার পর তিনি প্রতি বছর শাবান মাসে মানুষের সামনে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত করতেন; মানুষ তাদের মুসহাফ বা কুরআনের কপিগুলো নিয়ে আসত এবং তাঁর পাঠের সাথে মিলিয়ে সেগুলো সংশোধন করে নিত।

ঈসা ইবনে ইউনুস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আমাদের সময়ে আল-আ’মাশের মতো কাউকে দেখিনি, এমনকি আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মেও নয়। আমরা কোনো মজলিসে ধনী ও সুলতানদের এত বেশি তুচ্ছ হতে দেখিনি যতটা আল-আ’মাশের মজলিসে দেখতাম, অথচ তিনি এক দিরহামের জন্য মুখাপেক্ষী ছিলেন।

কাসিম ইবনে আবদুর রহমান বলতেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের হাদিস সম্পর্কে আল-আ’মাশের চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কেউ নেই।

এর কারণ হলো আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ কুফায় বসবাস করতেন এবং আল-আ’মাশ ছিলেন কুফার অন্যতম আলেম; ফলে তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের হাদিস সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত ছিলেন।

দ্বিরার ইবনে সুরাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এই জ্ঞান তো কেবল আরব ও সম্ভ্রান্ত রাজবংশীয়দের মধ্যেই ছিল।

তাঁর মজলিসের এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল: আল-আ’মাশের মাঝে কী এমন আভিজাত্য ছিল? শারিক বললেন: তুমি যদি আল-আ’মাশকে দেখতে যে তিনি হাতে গোশত বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন আর সুফিয়ান আস-সাওরি তাঁর ডানে এবং শারিক তাঁর বামে থেকে তাঁর হাত থেকে গোশত বহন করার জন্য কাড়াকাড়ি করছেন, তবে তুমি বুঝতে পারতে যে সেখানে কত বড় আভিজাত্য বিদ্যমান ছিল।

ইসহাক ইবনে রাশিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম যুহরি আমাকে বললেন: ইরাকে কি এমন কেউ আছে যে হাদিস বর্ণনা করে? আমি বললাম: হ্যাঁ।

আমি তাঁকে বললাম: আমি কি আপনার কাছে তাঁদের কারো হাদিস নিয়ে আসব? তিনি বললেন: হ্যাঁ।

এরপর আমি তাঁর কাছে সুলাইমান আল-আ’মাশের হাদিসগুলো নিয়ে এলাম। তিনি সেগুলো খুঁটিয়ে দেখতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন: আমি কল্পনাও করিনি যে ইরাকে কেউ এমন উচ্চমানের হাদিস বর্ণনা করতে পারে। আমি বললাম: আমি কি আপনাকে আরও তথ্য দেব? তিনি তো তাঁদেরই বংশের মুক্ত করা দাস।

আলী ইবনুল মাদিনি বলেন: উম্মতে মুহাম্মাদীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইলম বা জ্ঞানকে ছয়জন ব্যক্তি সংরক্ষণ করেছেন—মক্কাবাসীদের জন্য আমর ইবনে দিনার, মদিনাবাসীদের জন্য ইবনে শিহাব আয-যুহরি, কুফাবাসীদের জন্য আবু ইসহাক আস-সাবি’ঈ ও সুলাইমান ইবনে মিহরান (আল-আ’মাশ), আর বসরার অধিবাসীদের জন্য ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির ও কাতাদাহ।

শু’বাহ বলেন: হাদিসের ক্ষেত্রে আল-আ’মাশ আমাকে যতটুকু তৃপ্ত করেছেন, অন্য কেউ তা পারেনি।

আবদুল্লাহ ইবনে দাউদ আল-খুরায়বি বলেন: আমি শু’বাহকে বলতে শুনেছি, যখনই তিনি আল-আ’মাশের কথা উল্লেখ করতেন তখনই বলতেন: তিনি তো মুসহাফ, তিনি তো মুসহাফ (নির্ভুলতার প্রতীক)।

উমর ইবনে আলী বলেন: আল-আ’মাশকে তাঁর সত্যবাদিতার কারণে 'আল-মুসহাফ' (কুরআনের কপির মতো অকাট্য) বলা হতো।

মুহাম্মদ ইবনে আম্মার আল-মাওসিলি বলেন: মুহাদ্দিসদের মধ্যে আল-আ’মাশ ও মানসুর ইবনুল মু’তামিরের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য কেউ নেই। মানসুর আল-আ’মাশের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন সত্য, কিন্তু আল-আ’মাশ মুসনাদ (হাদিসের সূত্র ও সংকলন) সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ ছিলেন এবং তাঁর মুসনাদ ভিত্তিক হাদিস বর্ণনাও ছিল বেশি।
(খণ্ড: ١) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌الأعمش والتدليس

قال الذهبي: الأعمش أبو محمد أحد الأئمة الثقات، عداده في صغار التابعين، ما نقموا عليه إلا التدليس.

والتدليس يعني: إخفاء عيب في الحديث، والتدليس على أقسام.

تدليس الشيوخ: وهو أن المشهور بالاسم يذكر بالكنية أو ينسب إلى اسم غير مشهور به حتى يوعر الطريق إلى معرفته.

وهناك تدليس الإسناد وهو: أن يسقط شيخاً ضعيفاً بين ثقتين ويكون هذا الشيخ الذي أسقط هو شيخه الأقرب.

وهناك تدليس آخر يسمى تدليس التسوية وهو: أن يسقط ضعيفاً بين ثقتين ولا يكون هذا الضعيف شيخه الأقرب.

وتدليس التسوية أسوأ أنواع التدليس؛ لأنه يصرح بالتحديث من شيخه فيقول: حدثنا فلان فيكون فلان ثقة، ثم يسقط ضعيفاً في بقية السند فيقول: عن فلان، فيكون الذي أسقط ضعيفاً، والعنعنة أو الأنأنة صيغة توهم السماع وليس فيها تصريح بالسماع؛ ولذلك كان شعبة يقول: كفيتكم تدليس الأعمش، يعني: كان ينظر إلى فمه فإذا قال: حدثنا كتب، وإذا قال عن فلان لم يكتب.

فالحاصل: أن التدليس ليس كذباً، وإنما المدلس يسقط ضعيفاً في السند فيخفي عيباً فيه، ولا يكون الدافع للتدليس هنا دائماً هو الغش أو توعير الطريق إلى معرفة السند، ولكن أحياناً يكون للتجمل، كأن يروي شخص عن شيخ أحاديث كثيرة جداً، فيذكره مرة بالاسم ومرة بالكنية من أجل أن يجمل الحديث، ويكون هذا الشيخ ثقة ليس ضعيفاً، أو أنه يريد أن يوهم أن السند مرتفع، فيسقط شيخه لتقليل عدد الرواة، وعلى هذا لا يكون الدافع للتدليس هو الغش، وقد وقع في التدليس جماعة من كبار الأئمة؛ كـ الأعمش وكـ سفيان الثوري، إذ كان يدلس عن الضعفاء، وكذلك سفيان بن عيينة، ولكن لم يكن يدلس إلا عن ثقة.

قال الإمام الشافعي في الرسالة: من دلس لنا مرة فقد كشف عن عورته في الرواية، فلا نقبل منه إلا التصريح بالسماع.

يعني: الذي ثبت تدليسه لا يقبل منه شيء إلا أن يقول: حدثنا أو أخبرنا، فإذا عنعن أو أنأن في الحديث، كأن يقول: أن فلان أو عن فلان قال كذا، فلا يقبل منه.

قال الذهبي: قال جرير بن عبد الحميد: سمعت مغيرة يقول: أهلك أهل الكوفة أبو إسحاق وأعيمشكم هذا.

كأنه عنى الرواية عمن جاء، وإلا فـ الأعمش عدل صادق ثبت صاحب سنة وقرآن، ويحسن الظن بمن يحدثه ويروي عنه، ولا يمكننا أن نقطع عليه بأنه علم ضعف ذلك الذي يدلسه، فإن هذا حرام.

وقال الذهبي في خاتمة ترجمته في الميزان: وهو يدلس، وربما دلس عن ضعيف ولا يدري به، فمتى قال: (حدثنا) فلا كلام، ومتى قال: (عن) تطرق إليه احتمال التدليس، إلا في شيوخ له أكثر عنهم، كـ إبراهيم -يعني: النخعي - وابن أبي وائل وأبي صالح السمان، فإن روايته عن هذا الصنف محمولة على الاتصال.

وقال ابن المديني: الأعمش كان كثير الوهم في أحاديث هؤلاء الضعفاء.
আল-আমাশ ও তাদলীস

ইমাম যাহাবী বলেন: আল-আমাশ আবু মুহাম্মদ নির্ভরযোগ্য ইমামগণের অন্যতম, তিনি ছোট পর্যায়ের তাবেঈগণের অন্তর্ভুক্ত; তারা তাঁর তাদলীস করা ব্যতিরেকে তাঁর প্রতি অন্য কোনো বিষয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন না।

তাদলীস অর্থ হলো: হাদীসের কোনো ত্রুটি গোপন করা, আর তাদলীস কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে।

তাদলীস আল-শুয়ূখ: এটি হলো কোনো প্রসিদ্ধ ব্যক্তিকে তাঁর নামের পরিবর্তে তাঁর উপনামে (কুনিয়াত) উল্লেখ করা অথবা তাঁর এমন কোনো নামের দিকে সম্বন্ধ করা যার মাধ্যমে তিনি সুপরিচিত নন, যাতে তাঁকে চেনার পথটি কঠিন হয়ে যায়।

এছাড়া রয়েছে তাদলীস আল-ইসনাদ: তা হলো দুইজন নির্ভরযোগ্য রাবীর মধ্য থেকে একজন দুর্বল উস্তাদকে বাদ দিয়ে দেওয়া, আর এই বাদ দেওয়া উস্তাদটি তাঁর নিকটবর্তী উস্তাদ হয়ে থাকেন।

এছাড়া তাদলীস আল-তাসউইয়া নামক আরও এক প্রকার তাদলীস রয়েছে: তা হলো দুইজন নির্ভরযোগ্য রাবীর মধ্য থেকে একজন দুর্বল ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া, যেখানে ঐ দুর্বল ব্যক্তিটি তাঁর সরাসরি উস্তাদ নন।

তাদলীস আল-তাসউইয়া হলো তাদলীসের নিকৃষ্টতম প্রকার; কারণ এতে বর্ণনাকারী তাঁর উস্তাদের কাছ থেকে হাদীস শোনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন এবং বলেন: 'অমুক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন', যেখানে ঐ ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য হন; অতঃপর তিনি সনদের বাকি অংশে একজন দুর্বল ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে বলেন: 'অমুক হতে', ফলে যাকে বাদ দেওয়া হয়েছে সে ছিল দুর্বল। 'আনআনা' বা 'আনাআনা' এমন শব্দ যা শোনার ধারণা দেয় কিন্তু তাতে সরাসরি শোনার বিষয়টি স্পষ্ট থাকে না। এ কারণেই শু’বাহ বলতেন: 'আমি তোমাদের জন্য আল-আমাশের তাদলীসের ব্যাপারে যথেষ্ট হয়েছি।' অর্থাৎ তিনি তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতেন; যখন তিনি বলতেন 'আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন', তখন তিনি তা লিখে নিতেন, আর যখন তিনি 'অমুক হতে' বলতেন তখন তিনি তা লিখতেন না।

সারকথা হলো: তাদলীস কোনো মিথ্যাচার নয়, বরং মুদাল্লিস (তাদলীসকারী) সনদের একজন দুর্বল ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে তার ত্রুটি গোপন করেন। এখানে তাদলীসের উদ্দেশ্য সবসময় প্রতারণা বা সনদ চেনার পথ কঠিন করা হয় না, বরং কখনো কখনো তা সৌন্দর্যের জন্য হয়। যেমন কোনো ব্যক্তি একজন উস্তাদ থেকে অনেক হাদীস বর্ণনা করেন, তাই হাদীসটিকে সুন্দর করার জন্য কখনো তাঁকে নামে আবার কখনো উপনামে উল্লেখ করেন, অথচ ঐ উস্তাদ নির্ভরযোগ্যই হয়ে থাকেন, দুর্বল নন। অথবা তিনি হয়তো বুঝাতে চান যে সনদটি উচ্চ পর্যায়ের, তাই রাবীর সংখ্যা কমানোর জন্য নিজের উস্তাদকে বাদ দেন। এই হিসেবে তাদলীসের উদ্দেশ্য প্রতারণা নয়। বড় বড় একদল ইমামের ক্ষেত্রে তাদলীস ঘটেছে; যেমন আল-আমাশ ও সুফিয়ান আস-সাওরী, কেননা তিনি দুর্বলদের থেকে তাদলীস করতেন। তেমনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহও, তবে তিনি কেবল নির্ভরযোগ্যদের থেকেই তাদলীস করতেন।

ইমাম শাফেয়ী 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে বলেছেন: যে ব্যক্তি আমাদের নিকট একবার তাদলীস করেছে, সে বর্ণনার ক্ষেত্রে তার দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছে, তাই সরাসরি শোনার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা ছাড়া আমরা তার বর্ণনা গ্রহণ করি না।

অর্থাৎ, যার তাদলীস প্রমাণিত হয়েছে, তার কোনো বর্ণনা ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হবে না যতক্ষণ না সে বলে: 'আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন' বা 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন'। সুতরাং সে যদি হাদীসে 'আনআনা' বা 'আনাআনা' শব্দ ব্যবহার করে, যেমন: 'অমুক হতে' বা 'যে অমুক বলেছেন', তবে তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না।

ইমাম যাহাবী বলেন: জারীর ইবনে আব্দুল হামীদ বলেছেন: আমি মুগীরাকে বলতে শুনেছি: আবু ইসহাক এবং তোমাদের এই ছোট্ট আমাশ কূফাবাসীদের ধ্বংস করেছে।

ধারণা করা হয় তিনি যে কারো নিকট থেকে বর্ণনা করার বিষয়টি বুঝিয়েছেন; অন্যথায় আল-আমাশ তো ন্যায়নিষ্ঠ, সত্যবাদী, নির্ভরযোগ্য এবং সুন্নাহ ও কুরআনের অনুসারী ছিলেন। তিনি যার কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন তার সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করতেন। আমরা নিশ্চিতভাবে এটি বলতে পারি না যে, তিনি যার ব্যাপারে তাদলীস করেছেন তার দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন; কারণ এটি হারাম।

ইমাম যাহাবী 'আল-মিযান' গ্রন্থে তাঁর জীবনী শেষে বলেছেন: তিনি তাদলীস করতেন, এবং সম্ভবত কখনো দুর্বল ব্যক্তির থেকে তাদলীস করেছেন যা তিনি জানতেন না। অতএব যখন তিনি বলবেন: 'আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন', তখন আর কোনো কথা নেই। আর যখন তিনি বলবেন: 'অমুক হতে', তখন তাদলীসের সম্ভাবনা তৈরি হয়; তবে তাঁর এমন কিছু উস্তাদ রয়েছেন যাঁদের থেকে তিনি প্রচুর বর্ণনা করেছেন, যেমন: ইবরাহীম - অর্থাৎ আল-নাখঈ - এবং ইবনে আবু ওয়ায়েল ও আবু সালিহ আস-সাম্মান; এই শ্রেণির রাবীদের থেকে তাঁর বর্ণনা নিরবচ্ছিন্ন হিসেবে গণ্য হবে।

ইবনে আল-মাদীনী বলেছেন: এই সকল দুর্বলদের হাদীসের ক্ষেত্রে আল-আমাশের অনেক ভুল হতো।
(খণ্ড: ١) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٦)
‌‌عبادة الأعمش رحمه الله تعالى

قال وكيع بن الجراح: كان الأعمش قريباً من سبعين سنة لم تفته التكبيرة الأولى.

وعندما تسمعون عن مزاحه تتعجبون كيف حرصه على العبادة بهذه الطريقة.

وقال عبد الله الخريبي: ما خلف الأعمش أعبد منه.

وعن عبد الرزاق قال: أخبرني بعض أصحابنا: أن الأعمش قام من النوم لحاجة فلم يصب ماءً، فوضع يده على الجدار فتيمم ثم نام، فقيل له في ذلك؟ قال: أخاف أن أموت على غير وضوء.

وعن إبراهيم بن عرعرة قال: سمعت يحيى القطان إذا ذكر الأعمش قال: كان من النساك، وكان محافظاً على الصلاة في الجماعة وعلى الصف الأول، وهو علامة الإسلام، وكان يحيى - يعني: القطان - يلتمس الحائط حتى يقوم في الصف الأول.

وعن أبي نعيم قال: قال عبد السلام: كان الأعمش إذا حدث يتخشع ويعظم العلم.
আল-আ'মাশ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইবাদত

ওকী' ইবনুল জাররাহ বলেন: আল-আ'মাশ প্রায় সত্তর বছর যাবৎ (জামায়াতের) প্রথম তকবির হারাননি।

যখন আপনারা তাঁর রসবোধের কথা শোনেন, তখন ইবাদতের প্রতি তাঁর এই পর্যায়ের একাগ্রতা দেখে আপনারা বিস্মিত হবেন।

আবদুল্লাহ আল-খুরাইবী বলেন: আল-আ'মাশ তাঁর পেছনে তাঁর চেয়ে বড় কোনো ইবাদতগুজার রেখে যাননি।

আবদুর রাজ্জাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের কিছু সঙ্গী আমাকে জানিয়েছেন যে, আল-আ'মাশ এক রাতে প্রয়োজনে ঘুম থেকে উঠলেন কিন্তু পানি পেলেন না। তখন তিনি দেয়ালে হাত রেখে তায়াম্মুম করলেন এবং পুনরায় ঘুমিয়ে পড়লেন। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: আমি ভয় করি যে, অজুহীন অবস্থায় আমার মৃত্যু না হয়ে যায়।

ইবরাহিম ইবনে আরআরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া আল-কাত্তানকে শুনেছি, যখন তিনি আল-আ'মাশের কথা উল্লেখ করতেন তখন বলতেন: তিনি ছিলেন বড় ইবাদতগুজারদের একজন। তিনি জামায়াতে সালাত এবং প্রথম কাতারের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন, যা ইসলামের অন্যতম নিদর্শন। আর ইয়াহইয়া—অর্থাৎ আল-কাত্তান—দেয়াল ধরে ধরে চলতেন যাতে তিনি প্রথম কাতারে দাঁড়াতে পারেন।

আবু নুয়াইম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুস সালাম বলেছেন: আল-আ'মাশ যখন হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন তিনি বিনয়াবনত হতেন এবং ইলমকে অত্যন্ত সম্মান করতেন।
(খণ্ড: ١) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌شيوخ الأعمش رحمه الله وتلاميذه

شيوخه: قال الحافظ: روى عن أنس ولم يثبت له منه سماع.

يعني: أنه رآه، ولكنه لم يسمع منه، وإنما روى عنه بواسطة، وعبد الله بن أوفى يقال: مرسل، وزيد بن وهب وأبي وائل وأبي عمرو الشيباني وقيس بن أبي حازم وإسماعيل بن رجاء وأبي صخرة جامع بن شداد وأبي ظبيان بن جندب وخيثمة بن عبد الرحمن الجعفي وسعيد بن عبيدة وأبي حازم الأشجعي وسليمان بن مسهر وطلحة بن مصرف وأبي سفيان طلحة بن نافع وعامر الشعبي وإبراهيم النخعي وعبد الله بن مرة وعبد العزيز بن رفيع وعبد الملك بن عمير وعدي بن ثابت وعمارة بن عمير وعمارة بن القعقاع ومجاهد بن جبر وأبي الضحى ومنذر الثوري وهلال بن يساف وخلق كثير.

قال الحافظ: وعنه -أي: روى عنه- الحكم بن عتيبة وزبيد اليامي وأبو إسحاق السبيعي وهو من شيوخه، وسليمان التيمي وسهيل بن أبي صالح وهو من أقرانه، ومحمد بن واسع وشعبة والسفيانان وإبراهيم بن طهمان وجرير بن حازم وأبو إسحاق الفزاري وإسرائيل وزائدة وأبو بكر بن عياش وشيبان النحوي وعبد الله بن إدريس وابن المبارك وابن نمير والخريبي وعيسى بن يونس وفضيل بن عياض ومحمد بن عبد الرحمن الطفاوي وهشيم وأبو شهاب الحناط وخلائق من أواخرهم أبو نعيم وعبيد الله بن موسى.
আ’মাশ (রহিমাহুল্লাহ)-এর উস্তাদ ও ছাত্রগণ

তাঁর উস্তাদগণ: হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন: তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণ করা প্রমাণিত নয়।

এর অর্থ হলো: তিনি তাঁকে দেখেছেন, কিন্তু তাঁর থেকে শোনেননি; বরং তিনি তাঁর থেকে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আর আব্দুল্লাহ বিন আউফা (থেকে বর্ণনা)-কে বলা হয় যে, সেটি ‘মুরসাল’। এছাড়া জায়েদ বিন ওয়াহাব, আবু ওয়ায়েল, আবু আমর আশ-শাইবানি, কায়স বিন আবি হাজিম, ইসমাইল বিন রাজা, আবু সাখরা জামি' বিন শাদ্দাদ, আবু জিবইয়ান বিন জুনদুব, খাইসামা বিন আব্দুর রহমান আল-জু’ফি, সাঈদ বিন উবাইদাহ, আবু হাজিম আল-আশজায়ি, সুলাইমান বিন মুসাহির, তালহা বিন মুসাররিফ, আবু সুফিয়ান তালহা বিন নাফি, আমির আশ-শা’বি, ইব্রাহিম আন-নাখায়ি, আব্দুল্লাহ বিন মুররাহ, আব্দুল আজিজ বিন রুফাই, আব্দুল মালিক বিন উমাইর, আদি বিন সাবিত, উমারা বিন উমাইর, উমারা বিন আল-কাক্কা, মুজাহিদ বিন জাবর, আবুল দুহা, মুনজির আস-সাওরি, হিলাল বিন ইয়াসাফ এবং আরও অনেকে।

হাফিজ বলেন: এবং তাঁর থেকে—অর্থাৎ যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন—আল-হাকাম বিন উতাইবা, জুবাইদ আল- ইয়ামি, আবু ইসহাক আস-সাবি’ই—যিনি তাঁর উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত—সুলাইমান আত-তাইমি, সুহাইল বিন আবি সালিহ—যিনি তাঁর সমসাময়িকদের অন্তর্ভুক্ত—মুহাম্মাদ বিন ওয়াসি’, শু’বা, দুই সুফিয়ান, ইব্রাহিম বিন তাহমান, জারির বিন হাজিম, আবু ইসহাক আল-ফাযারি, ইসরাইল, যায়িদাহ, আবু বকর বিন আইয়াশ, শাইবান আন-নাহবি, আব্দুল্লাহ বিন ইদরিস, ইবনুল মুবারক, ইবনু নুমাইর, আল-খুরাইবি, ঈসা বিন ইউনুস, ফুদাইল বিন ইয়াদ, মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আত-তাফাউয়ি, হুশাইম, আবু শিহাব আল-হান্নাত এবং এক বিশাল জামাত, যাদের মধ্যে সর্বশেষ পর্যায়ের হলেন আবু নুয়াইম এবং উবাইদুল্লাহ বিন মুসা।
(খণ্ড: ١) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌ملح من أخبار الأعمش رحمه الله

قال الذهبي: وكان مع جلالته في العلم والفضل صاحب مزاح.

قيل: إنه جاءه أصحاب الحديث يوماً فخرج فقال: لولا أن في منزلي من هو أبغض إلي منكم ما خرجت إليكم.

وسأله داود الحائك: ما تقول يا أبا محمد! في الصلاة خلف الحائك؟ فقال: لا بأس بها على غير وضوء.

قيل: فما تقول في شهادة الحائك؟ قال: تقبل مع عدلين.

وقيل: إن الأعمش كان له ولد مغفل، فقال: اذهب فاشتر لنا حبلاً للغسيل.

فقال: يا أبت! طول كم؟ قال: عشرة أذرع، قال: في عرض كم؟ قال: في عرض مصيبتي فيك.
ইমাম আল-আ'মাশ (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনের কিছু সরস ঘটনা

ইমাম আয-যাহাবী বলেন: তিনি ইলম ও ফযীলতের ক্ষেত্রে সুমহান মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত রসবোধসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন।

বর্ণিত আছে যে, একদিন তাঁর কাছে একদল হাদীস অন্বেষণকারী আসলেন। তিনি বেরিয়ে এসে তাঁদের বললেন: যদি আমার ঘরে এমন কেউ না থাকত যে আমার কাছে তোমাদের চেয়েও বেশি অপ্রিয়, তবে আমি তোমাদের উদ্দেশ্যে বের হতাম না।

দাউদ আল-হাইয়াক (তাঁতি) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: হে আবু মুহাম্মদ! একজন তাঁতির পেছনে সালাত আদায়ের ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? তিনি উত্তর দিলেন: ওযু ছাড়াই তা আদায় করাতে কোনো সমস্যা নেই।

জিজ্ঞেস করা হলো: তাঁতির সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: আরও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতিতে তা গ্রহণ করা হবে।

বর্ণিত আছে যে, আল-আ'মাশের এক নির্বোধ পুত্র ছিল। তিনি তাকে বললেন: যাও, আমাদের কাপড় শুকানোর জন্য একটি দড়ি কিনে আনো।

সে বলল: হে আব্বাজান! তার দৈর্ঘ্য কতটুকু হবে? তিনি বললেন: দশ হাত। সে পুনরায় প্রশ্ন করল: তার প্রস্থ কতটুকু হবে? তিনি উত্তর দিলেন: তোমাকে নিয়ে আমার বিপদের বিস্তৃতি যতটুকু (ততটুকু চওড়া)!
(খণ্ড: ١) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌درر من أقوال الأعمش رحمه الله

عن حفص بن غياث قال: سمعت الأعمش يقول: يوشك إن احتبس علي الموت إن وجدته بالثمن اشتريته.

وعن الحسن بن صالح عن الأعمش قال: إنا كنا لنشهد الجنازة فلا ندري من نعزي من حزن القوم.

يعني: من حزن الجميع لا يعرف أهل الميت.

وعن منصور بن أبي الأسود قال: سألت الأعمش عن قوله تعالى: {وَكَذَلِكَ نُوَلِّي بَعْضَ الظَّالِمِينَ بَعْضًا بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ} [الأنعام:129] ما سمعتهم يقولون فيه؟ قال: سمعتهم يقولون: إذا فسد الناس أمر عليهم شرارهم.

قال حميد: سمعت أبي يقول: سمعت الأعمش يقول: لا تنثروا اللؤلؤ تحت أظلاف الخنازير، يعني: لا تبذلوا العلم لمن لا يستحقه.

وقيل لـ حفص بن أبي حفص الأبار: رأيت الأعمش؟ قال: نعم، وسمعته يقول: إن الله يرفع بالعلم أو بالقرآن أقواماً ويضع به آخرين، وأنا ممن يرفعني الله به، لولا ذلك لكان على عنقي دم صحن أطوف به في سكك الكوفة.

ومر أنه كان يقول: لو كنت بقالاً لقذرني الناس -يعني: ما أتوه- ومع ذلك كان يذهب إليه الأكابر؛ لما عنده من العلم، وكان الأغنياء أحقر الناس حين يكونون في مجلسه، وهو محتاج إلى درهم.
আল-আ'মাশ (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিছু মূল্যবান বাণী

হাফস ইবনে গিয়াস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল-আ'মাশকে বলতে শুনেছি: যদি মৃত্যু আমার জন্য বিলম্বিত হয় এবং আমি তা মূল্যের বিনিময়ে কিনতে পেতাম, তবে আমি তা অবশ্যই কিনে নিতাম।

হাসান ইবনে সালিহ থেকে বর্ণিত, আল-আ'মাশ বলেন: আমরা জানাজায় উপস্থিত হতাম, তখন উপস্থিত সকলের শোকের আধিক্য দেখে আমরা বুঝতে পারতাম না যে কাকে সান্ত্বনা দেব।

অর্থাৎ: সকলের শোকাতুর অবস্থার কারণে মৃতের প্রকৃত পরিবারকে চেনা যেত না।

মানসুর ইবনে আবিল আসওয়াদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল-আ'মাশকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম: {আর এভাবেই আমি জালিমদের একদলকে অন্যদলের বন্ধু বানিয়ে দেই তাদের কৃতকর্মের কারণে} [আল-আন'আম: ১২৯]। মানুষ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় কী বলে আপনি শুনেছেন? তিনি বললেন: আমি তাদের বলতে শুনেছি: যখন মানুষ কলুষিত হয়ে যায়, তখন তাদের ওপর তাদের মধ্যকার নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের শাসক হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়।

হুমাইদ বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি আল-আ'মাশকে বলতে শুনেছেন: শুকরের খুরের নিচে মুক্তা ছিটিয়ে দিও না। অর্থাৎ: যে ইলমের যোগ্য নয়, তাকে ইলম প্রদান করো না।

হাফস ইবনে আবি হাফস আল-আব্বারকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আপনি কি আল-আ'মাশকে দেখেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এবং আমি তাকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই আল্লাহ ইলম বা কুরআনের মাধ্যমে কোনো কোনো জাতিকে উচ্চমর্যাদা দান করেন এবং এর মাধ্যমে অন্যদের অবনমিত করেন। আর আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের আল্লাহ এর মাধ্যমে উচ্চমর্যাদা দিয়েছেন। যদি তা না হতো, তবে আমার ঘাড়ে থাকতো পশুর রক্ত বহনকারী পাত্র, যা নিয়ে আমি কুফার অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতাম।

বর্ণিত আছে যে তিনি বলতেন: আমি যদি একজন সাধারণ দোকানদার হতাম তবে মানুষ আমাকে তুচ্ছজ্ঞান করত—অর্থাৎ তারা আমার কাছে আসত না—তা সত্ত্বেও বড় বড় মর্যাদাবান ব্যক্তিরা তার কাছে ছুটে যেতেন তার কাছে থাকা ইলমের কারণে। আর ধনীরা যখন তার মজলিসে উপস্থিত হতো তখন তারা সবচেয়ে নগণ্য ব্যক্তিতে পরিণত হতো, অথচ তখন তিনি নিজে একটি দিরহামের মুখাপেক্ষী থাকতেন।
(খণ্ড: ١) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌وفاة الأعمش رحمه الله

عن أبي بكر بن عياش قال: دخلت على الأعمش في مرضه الذي توفي فيه، فقلت: أدعو لك الطبيب؟ قال: ما أصنع به؟ لو كانت نفسي معي لطرحتها في الحش، إذا أنا مت فلا تؤذنن بي أحداً، واذهب بي واطرحني في لحدي.

قال الذهبي: يقال: مات الأعمش في ربيع الأول سنة (148هـ) بالكوفة.
আল-আ'মাশ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মৃত্যু

আবু বকর বিন আইয়াশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল-আ'মাশের নিকট তাঁর সেই অসুস্থাবস্থায় প্রবেশ করলাম যাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তখন আমি বললাম: আমি কি আপনার জন্য চিকিৎসক ডাকব? তিনি বললেন: আমি তাকে দিয়ে কী করব? যদি আমার প্রাণ আমার বশে থাকত, তবে আমি তাকে শৌচাগারে নিক্ষেপ করতাম। আমি যখন মারা যাব, তখন কাউকে আমার (মৃত্যুর) সংবাদ দিও না; বরং আমাকে নিয়ে গিয়ে আমার কবরে শায়িত করে দিও।

আয-যাহাবী বলেন: বলা হয় যে, আল-আ'মাশ ১৪৮ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে কুফায় মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: -)
من أعلام السلف   (أحمد فريد)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: من أعلام السلف

المؤلف: أحمد فريد

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 21 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

সালাফদের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব   (আহমদ ফরিদ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: সালাফদের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব

লেখক: আহমদ ফরিদ

বইয়ের উৎস: ইসলামওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপিকৃত অডিও লেকচারসমূহ

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠ নম্বর - ২১টি পাঠ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ٢) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ١)
سلسلة من أعلام السلف_‌‌الإمام الشافعي

الإمام الشافعي أحد أئمة المذاهب المتبعة، ناصر الحق وسنة المصطفى صلى الله عليه وسلم، طلب العلم منذ نعومة أظفاره، ونبغ فيه وفاق أقرانه، كان عابداً ورعاً تقياً لا يخاف في الله لومة لائم، له المصنفات الكثيرة والنادرة، وهو أول من صنف في أصول الفقه وأحكام القرآن، أخذ عن جملة من العلماء وأخذ عنه كذلك مشاهير العلماء كأحمد بن حنبل وغيره، وأثنى عليه العلماء ثناء عطراً، فرحمنا الله وإياه رحمة الأبرار.
পূর্বসূরি মনীষীদের ধারাবাহিকতা_‌‌ইমাম শাফেঈ

ইমাম শাফেঈ অনুসরণীয় মাযহাবসমূহের ইমামদের মধ্যে অন্যতম, সত্য এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর সাহায্যকারী। তিনি শৈশব থেকেই জ্ঞান অন্বেষণ করেছেন এবং এতে পারদর্শী হয়ে সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি ছিলেন একজন ইবাদতকারী, পরহেজগার ও মুত্তাকী, যিনি আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করতেন না। তাঁর অসংখ্য ও বিরল গ্রন্থ রয়েছে; তিনি উসূলে ফিকহ এবং আহকামুল কুরআন বিষয়ে প্রথম গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি একদল আলেমের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকেও আহমদ বিন হাম্বল ও অন্যান্য প্রখ্যাত আলেমগণ ইলম অর্জন করেছেন। উলামায়ে কেরাম তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ আমাদের এবং তাঁর প্রতি পুণ্যবানদের ন্যায় রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ٢) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٢)
‌‌التعريف بالإمام الشافعي

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً.

أما بعد: فما زلنا مع علماء السلف رضي الله عنهم، ونحن اليوم مع إمام من أئمة المذاهب المتبعة، ناصر الحق والسنة محمد بن إدريس الشافعي، نتعرف على اسمه ونسبه ومولده ونشأته وصفته رحمه الله.

اسمه: محمد بن إدريس بن العباس بن عثمان بن شافع بن السائب بن عبيد بن يزيد بن هاشم بن المطلب بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب.

كنيته: أبو عبد الله، وهو ابن عم رسول الله صلى الله عليه وسلم، يلتقي معه في جده عبد مناف، فرسول الله صلى الله عليه وسلم من بني هاشم بن عبد مناف، وإمامنا الشافعي من بني المطلب بن عبد مناف، قال النبي صلى الله عليه وسلم: (إنما بنو المطلب وبنو هاشم شيء واحد).

قال الإمام النووي: اعلم أنه رضي الله عنه كان من أنواع المحاسن بالمحل الأعلى والمقام الأسنى؛ لما جمعه الله له من أنواع المكرمات، فمن ذلك شرف النسب الطاهر، والعنصر الباهر، واجتماعه هو ورسول الله صلى الله عليه وسلم في النسب، وذلك غاية الشرف ونهاية الحسب.

ومن ذلك: شرف المولد والمنشأ؛ فإنه ولد بالأرض المقدسة ونشأ بمكة.

مولده ونشأته: قال الذهبي رحمه الله: اتفق مولد الإمام رحمه الله بغزة، ومات أبوه إدريس شاباً فنشأ محمد يتيماً في حجر أمه فخافت عليه الضيعة، فتحولت إلى محتده وهو ابن عامين -يعني: انتقلت به من غزة إلى مكة وهو ابن عامين- فنشأ بمكة وأقبل على الرمي حتى فاق الأقران، وصار يصيب من عشرة أسهم تسعة، ثم أقبل على العربية والشعر فبرع في ذلك وتقدم، ثم حبب إليه الفقه فساد أهل زمانه.

والإمام الشافعي يعتبر من أذكياء العالم.

قال العليمي: أبو عبد الله الشافعي الإمام الأعظم والحبر المكرم أحد الأئمة المجتهدين الأعلام، إمام أهل السنة وركن الإسلام، لقي جده شافع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مترعرع، وكان أبوه السائب -والد شافع- صاحب راية بني هاشم يوم بدر، فأسر وفدى نفسه ثم أسلم، فقيل له: لم لم تسلم قبل أن تفدي نفسك؟ فقال: ما كنت أحرم المسلمين طعماً لهم في، فأراد أن يكون سبباً في الرزق للمسلمين، ففدى نفسه ثم أسلم.

ولد الإمام الشافعي بغزة من بلاد الشام على الأصح في سنة (150هـ) وهي السنة التي مات فيها أبو حنيفة النعمان، فقد ولد الإمام أبو حنيفة سنة (80هـ)، ومات سنة (150هـ)، أما الإمام الشافعي فإنه ولد سنة (150هـ)، ومات سنة (204هـ)، فعاش (54) سنة رحمه الله، وقيل: إن الشافعي ولد في اليوم الذي مات فيه أبو حنيفة.

وقيل: كان مولده بعسقلان وقيل: باليمن، ونشأ بمكة وكتب العلم بها وبمدينة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقدم بغداد مرتين، وخرج إلى مصر فنزلها وكان وصوله إليها في سنة (199هـ)، ومكث في مصر خمس سنين وأفتى بها، وعندما يقولون: قال الشافعي في الجديد، فيقصدون ما كتبه وهو في مصر، وهي الخمس السنين الأخيرة من عمره؛ فإنه مكث في مكة فترة وفي بغداد فترة، ومر على بلاد كثيرة، وقيل: دخل مصر سنة (201هـ) ولم يزل بها إلى حين وفاته.

صفته رحمه الله: روى أبو نعيم بسنده عن إبراهيم بن برانة قال: وكان الشافعي طويلاً نبيلاً جسيماً.

وقال الزعفراني: كان الشافعي يخضب بالحناء، خفيف العارضين.

يعني: خفيف شعر اللحية في العارضين.

وقال المزني: ما رأيت أحسن وجهاً من الشافعي، وكان ربما قبض على لحيته فلا تفضل على قبضته.
ইমাম শাফেঈ-এর পরিচিতি

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সঙ্গীদের ওপর অজস্র শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।

অতঃপর: আমরা সালাফদের (পূর্বসূরী আলেমদের) জীবনী আলোচনা অব্যাহত রেখেছি—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। আজ আমরা অনুসৃত মাযহাবসমূহের ইমামদের মধ্যে অন্যতম একজন ইমামকে নিয়ে আলোচনা করব, যিনি সত্য ও সুন্নাহর সাহায্যকারী মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফেঈ। আমরা তাঁর নাম, বংশপরিচয়, জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্য (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) সম্পর্কে জানব।

তাঁর নাম: মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস বিন আল-আব্বাস বিন উসমান বিন শাফে বিন আস-সাইব বিন উবাইদ বিন ইয়াজিদ বিন হাশিম বিন আল-মুত্তালিব বিন আবদু মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব।

তাঁর উপনাম (কুনিয়াত): আবু আব্দুল্লাহ। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশীয় ভাই; তাঁর ঊর্ধ্বতন পুরুষ আবদু মানাফের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশধারার সাথে তাঁর বংশধারা মিলিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন বনু হাশিম বিন আবদু মানাফ গোত্রের, আর আমাদের ইমাম শাফেঈ ছিলেন বনু মুত্তালিব বিন আবদু মানাফ গোত্রের। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই বনু মুত্তালিব ও বনু হাশিম একই সূত্রে গাঁথা)।

ইমাম নববী বলেন: জেনে রাখুন যে, তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সকল প্রকার প্রশংসনীয় গুণের উচ্চশিখরে এবং সুউচ্চ মর্যাদায় আসীন ছিলেন। কারণ আল্লাহ তাঁর মধ্যে সকল প্রকার মহত্ত্বকে একত্রিত করেছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর পবিত্র বংশমর্যাদা, উজ্জ্বল আভিজাত্য এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাঁর বংশধারার মিলন; যা আভিজাত্যের চূড়ান্ত পর্যায় এবং মর্যাদার শেষ সীমা।

আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠার স্থানের মর্যাদা; কেননা তিনি পবিত্র ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং মক্কায় বেড়ে উঠেছেন।

তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা: ইমাম যাহাবী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: ইমাম শাফেঈর জন্ম গাজা অঞ্চলে হয়েছে বলে সর্বসম্মত মত পাওয়া যায়। তাঁর পিতা ইদ্রিস অল্প বয়সেই মারা যান, ফলে মুহাম্মদ তাঁর মায়ের কোলে ইয়াতীম হিসেবে বড় হন। তাঁর মা তাঁর ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার ভয় করলেন, তাই যখন তাঁর বয়স দুই বছর হলো, তখন তিনি তাঁকে তাঁর পৈতৃক নিবাসে নিয়ে আসলেন—অর্থাৎ দুই বছর বয়সে তাঁকে গাজা থেকে মক্কায় নিয়ে আসা হয়। তিনি মক্কায় বেড়ে ওঠেন এবং তীরন্দাজিতে মনোনিবেশ করেন, এমনকি তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান। তিনি দশটি তীরের মধ্যে নয়টিই লক্ষ্যে ভেদ করতেন। এরপর তিনি আরবি ভাষা ও কবিতার প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং তাতে পারদর্শিতা ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। অতঃপর তাঁর অন্তরে ফিকহ শাস্ত্রের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি হয় এবং তিনি তাঁর সময়ের মানুষের নেতা হিসেবে সমাদৃত হন।

ইমাম শাফেঈ পৃথিবীর অন্যতম মেধাবী ব্যক্তিদের একজন হিসেবে পরিগণিত।

আল-উলাইমি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ শাফেঈ হলেন মহান ইমাম এবং সম্মানিত মহাজ্ঞানী, প্রখ্যাত মুজতাহিদ ইমামদের অন্যতম, আহলুস সুন্নাহর ইমাম এবং ইসলামের স্তম্ভ। তাঁর ঊর্ধ্বতন পুরুষ 'শাফে' কিশোর বয়সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দেখা পেয়েছিলেন। আর শাফে-এর পিতা আস-সাইব বদরের যুদ্ধের দিন বনু হাশিমের পতাকাবাহী ছিলেন। তিনি বন্দি হন এবং মুক্তিপণ দিয়ে নিজেকে মুক্ত করেন, এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁকে বলা হয়েছিল: আপনি মুক্তিপণ দেওয়ার আগে কেন ইসলাম গ্রহণ করলেন না? তিনি উত্তরে বলেছিলেন: আমি চেয়েছিলাম মুসলমানরা আমার থেকে কিছু (মুক্তিপণ) লাভ করুক। অর্থাৎ তিনি মুসলিমদের উপার্জনের উৎস হতে চেয়েছিলেন; তাই মুক্তিপণ দিয়ে নিজেকে মুক্ত করার পর ইসলাম গ্রহণ করেন।

বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী ইমাম শাফেঈ সিরিয়া অঞ্চলের গাজায় ১৫০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। এটি সেই বছর যে বছর ইমাম আবু হানিফা নুমান মারা যান। ইমাম আবু হানিফা ৮০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ১৫০ হিজরিতে মারা যান। আর ইমাম শাফেঈ ১৫০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তিনি ৫৪ বছর বেঁচে ছিলেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)। কেউ কেউ বলেন, শাফেঈ সেই দিনেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন যেদিন আবু হানিফা মারা যান।

কেউ কেউ বলেন তাঁর জন্ম আসকালানে, আবার কেউ বলেন ইয়েমেনে। তবে তিনি মক্কায় বেড়ে ওঠেন এবং সেখানেই এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শহর মদীনায় ইলম হাসিল করেন। তিনি দুইবার বাগদাদে যান এবং পরবর্তীতে মিশরে গমন করে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। সেখানে তাঁর আগমন ছিল ১৯৯ হিজরিতে। তিনি মিশরে পাঁচ বছর অবস্থান করেন এবং সেখানে ফতোয়া প্রদান করেন। যখন আলেমগণ বলেন: 'শাফেঈ তাঁর নতুন মতে (আল-জাদিদ) বলেছেন', তখন উদ্দেশ্য হয় সেই ইলম যা তিনি মিশরে থাকাকালীন লিখেছিলেন, যা ছিল তাঁর জীবনের শেষ পাঁচ বছর। তিনি মক্কায় কিছুকাল এবং বাগদাদে কিছুকাল অবস্থান করেছিলেন এবং অনেক দেশ ভ্রমণ করেছিলেন। বলা হয়, তিনি ২০১ হিজরিতে মিশরে প্রবেশ করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন।

তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্য (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন): আবু নুআইম তাঁর সনদে ইব্রাহিম বিন বারানাহ থেকে বর্ণনা করেন: শাফেঈ ছিলেন দীর্ঘকায়, অভিজাত ও বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী।

যা'ফরানি বলেন: শাফেঈ মেহেদি দিয়ে খেজাব লাগাতেন এবং তাঁর দুই গালের দাড়ি ছিল হালকা।

অর্থাৎ গালের দুই পাশে দাড়ির চুল কম ছিল।

মুযানী বলেন: আমি শাফেঈর চেয়ে সুন্দর চেহারার কাউকে দেখিনি। মাঝে মাঝে তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টিবদ্ধ করে ধরতেন, কিন্তু তা তাঁর মুঠোর অতিরিক্ত হতো না।
(খণ্ড: ٢) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌طلب الإمام الشافعي للعلم ونبوغه فيه

ابتداء طلبه للعلم ونبوغه فيه: روى أبو نعيم بسنده عن أبي بكر بن إدريس وراق الحميدي -أي: الذي كان يحمل أوراقه التي يكتب فيها الحديث- عن الشافعي قال: كنت يتيماً في حجر أمي ولم يكن معها ما تعطي المعلم، وكان المعلم قد رضي مني أن أخلفه إذا قام، فلما ختمت القرآن دخلت المسجد، فكنت أجالس العلماء فأحفظ الحديث أو المسألة، وكان منزلنا بمكة في شعب الخيف، فكنت أنظر إلى العظم يلوح فأكتب فيه الحديث والمسألة، وكانت لنا جرة قديمة فإذا امتلأ العظم طرحته في الجرة.

وروى البيهقي بسنده عن مصعب بن عبد الله الزبيري قال: كان الشافعي في ابتداء أمره يطلب الشعر وأيام الناس والأدب، ثم أخذ في الفقه بعد.

قال: وكان سبب أخذه في الفقه أنه كان يوماً يسير على دابة له، خلفه كاتب أبي، فتمثل الشافعي ببيت من الشعر فقرعه كاتب أبي بسوط ثم قال له: مثلك تذهب مروءته في مثل هذا، أين أنت عن الفقه؟ قال: فهزه ذلك فقصد مجالسة مسلم بن خالد الزنجي وكان مفتي مكة، ثم قدم علينا فلزم مالك بن أنس.

وروى البيهقي كذلك عن أبي بكر الحميدي قال: قال الشافعي: خرجت أطلب النحو والأدب فلقيني مسلم بن خالد فقال: يا فتى من أين أنت؟ قلت: من أهل مكة؟ قال: وأين منزلك بها؟ قلت: بشعب الخيف، قال: من أي قبيلة أنت؟ قلت: من ولد عبد مناف قال: بخ بخ! لقد شرفك الله في الدنيا والآخرة، ألا جعلت فهمك هذا في الفقه كان أحسن بك؟! قال الذهبي: وعن الشافعي قال: أتيت مالكاً وأنا ابن ثلاث عشرة سنة -كذا قال، والظاهر أنه كان ابن ثلاث وعشرين سنة- فأتيت ابن عم لي والي المدينة فكلم مالكاً فقال: اطلب من يقرأ لك.

قلت: أنا أقرأ، فقرأت عليه، فكان ربما قال لي لشيء قد مر: أعده فأعيده حفظاً، فكأنه أعجبه، ثم سألته عن مسألة فأجابني، ثم أخرى فقال: أنت تحب أن تكون قاضياً، وفي بعض النسخ: يجب أن تكون قاضياً.

وقال النووي رحمه الله: أخذ الشافعي رحمه الله في الفقه، وحصل منه على مسلم بن خالد الزنجي وغيره من أئمة مكة ما حصل، ورحل إلى المدينة قاصداً الأخذ عن أبي عبد الله مالك بن أنس، وأكرمه مالك رحمه الله وعامله لنسبه وعلمه وفهمه وعقله وأدبه بما هو اللائق بها، وقرأ الموطأ على مالك حفظاً فأعجبته قراءته، فكان مالك يستزيده من القراءة لإعجابه بقراءته، ولازم مالكاً فقال له: اتق الله! فإنه سيكون لك شأن.

وفي رواية أنه قال له: إن الله تعالى قد ألقى على قلبك نوراً فلا تطفئه بالمعصية.

ثم ولى اليمن -صار والياً أو حاكماً عليها- واشتهر من حسن سيرته وحمله الناس على السنة والطرائق الجميلة أشياء كثيرة معروفة، ثم رحل إلى العراق للاشتغال بالعلم، وناظر محمد بن الحسن -صاحب أبي حنيفة - وغيره، ونشر علم الحديث، وأقام مذهب أهله، ونصر السنة، وشاع ذكره وفضله، وتزايد تزايداً ملأ البقاع، وأذعن بفضله الموافقون والمخالفون، واعترف به العلماء أجمعون، وعظمت عند الخلائق وولاة الأمور مرتبته، وظهر من فضله في مناظرات أهل العراق وغيرهم ما لم يظهر لسواه.

عكف على الاستفادة منه الصغار والكبار والأئمة الأخيار من أهل الحديث والفقه وغيرهم، ورجع كثير منهم عن مذاهب كانوا عليها إلى مذهبه، وتمسكوا بطريقته، وصنف في العراق كتابه القديم المسمى (كتاب الحجة)، ثم خرج إلى مصر سنة (199هـ)، وصنف كتبه الجديدة كلها بمصر، وسار ذكره في البلدان، وقصده الناس في الشام واليمن والعراق.

لذلك فإن أكثر أهل مصر شافعية.
ইমাম শাফেঈর ইলম অন্বেষণ এবং তাতে তাঁর পারদর্শিতা

ইলম অন্বেষণের সূচনা এবং এতে তাঁর পারদর্শিতা: আবু নুআইম তাঁর সনদে আবু বকর ইবন ইদরিস ওয়াররাক আল-হুমায়দী (অর্থাৎ, যিনি তাঁর সেই সব কাগজ বহন করতেন যাতে তিনি হাদিস লিখতেন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইমাম শাফেঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আমার মায়ের তত্ত্বাবধানে একজন এতিম ছিলাম এবং শিক্ষকের পারিশ্রমিক দেওয়ার মতো কোনো অর্থ তাঁর কাছে ছিল না। শিক্ষক আমার ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন যে তিনি যখন উঠে যেতেন, তখন আমি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতাম। যখন আমি কুরআন খতম করলাম, তখন মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং উলামায়ে কিরামের মজলিসে বসতাম, ফলে আমি হাদিস বা মাসআলা মুখস্থ করতাম। মক্কায় আমাদের ঘর ছিল শি'বে খায়েফে। আমি সাদা হাড়ের দিকে লক্ষ্য করতাম এবং তাতে হাদিস ও মাসআলা লিখে রাখতাম। আমাদের একটি পুরোনো কলস ছিল, যখন হাড়গুলো (মাসআলা লিখে) পূর্ণ হয়ে যেত, তখন আমি সেগুলো সেই কলসে রেখে দিতাম।"

বায়হাকী তাঁর সনদে মুসআব ইবন আব্দুল্লাহ আল-জুবায়রী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইমাম শাফেঈ তাঁর শুরুর দিকে কবিতা, ইতিহাস এবং আদব (সাহিত্য) চর্চা করতেন। এরপর তিনি ফিকহ শাস্ত্র গ্রহণ করেন।"

তিনি বলেন: তাঁর ফিকহ চর্চা শুরু করার কারণ ছিল এই যে, একদিন তিনি তাঁর একটি সওয়ারিতে চড়ে যাচ্ছিলেন, তাঁর পেছনে আমার পিতার লেখক ছিলেন। শাফেঈ একটি কাব্য পঙ্ক্তি আবৃত্তি করলেন, তখন আমার পিতার লেখক তাঁকে চাবুক দিয়ে আঘাত করলেন এবং বললেন: "আপনার মতো ব্যক্তির মুরুয়াত (মর্যাদা) তো এ ধরনের কাজেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! আপনি ফিকহ থেকে কোথায় দূরে সরে আছেন?" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: এটি তাঁকে নাড়া দিল, তাই তিনি মুসলিম ইবন খালিদ আজ-জাঞ্জীর মজলিসে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, যিনি মক্কার মুফতি ছিলেন। এরপর তিনি আমাদের কাছে আসলেন এবং মালেক ইবন আনাসের সাহচর্য গ্রহণ করলেন।

বায়হাকী একইভাবে আবু বকর আল-হুমায়দী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শাফেঈ বলেছেন: "আমি নাহু (ব্যাকরণ) এবং আদব (সাহিত্য) অন্বেষণে বের হয়েছিলাম, তখন মুসলিম ইবন খালিদের সাথে আমার দেখা হলো। তিনি বললেন: 'হে যুবক, তুমি কোথা থেকে এসেছ?' আমি বললাম: 'মক্কাবাসীদের মধ্য থেকে।' তিনি বললেন: 'সেখানে তোমার ঘর কোথায়?' আমি বললাম: 'শি'বে খায়েফে।' তিনি বললেন: 'তুমি কোন গোত্রের?' আমি বললাম: 'আবদে মানাফের বংশধর।' তিনি বললেন: 'সাবাশ! আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তোমাকে সম্মানিত করেছেন। তুমি যদি তোমার এই মেধা ফিকহ শাস্ত্রে প্রয়োগ করতে, তবে তা তোমার জন্য অধিক উত্তম হতো!'" যাহাবী বলেন: ইমাম শাফেঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি যখন ইমাম মালেকের কাছে আসি তখন আমার বয়স তেরো বছর—তিনি এমনই বলেছেন, তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় তাঁর বয়স তেইশ বছর ছিল। আমি আমার এক চাচাতো ভাইয়ের কাছে গেলাম যিনি মদীনার গভর্নর ছিলেন। তিনি ইমাম মালেকের সাথে কথা বললেন। তখন তিনি (মালেক) বললেন: 'এমন কাউকে খুঁজে নাও যে তোমার হয়ে (কিতাব) পড়বে।' আমি বললাম: 'আমিই পড়ব।' এরপর আমি তাঁর সামনে পাঠ করলাম। কখনো কখনো তিনি আমাকে বিগত কোনো বিষয়ে বলতেন: 'এটি পুনরায় পড়ো।' তখন আমি তা মুখস্থ শুনিয়ে দিতাম। যেন এটি তাঁকে মুগ্ধ করল। এরপর আমি তাঁকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং তিনি আমাকে উত্তর দিলেন। এরপর অন্য একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: 'তুমি কাজী (বিচারক) হতে পছন্দ করবে।' আর কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে আছে: 'তোমার কাজী হওয়া উচিত'।"

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ইমাম শাফেঈ (রহিমাহুল্লাহ) ফিকহ চর্চা শুরু করেন এবং মুসলিম ইবন খালিদ আজ-জাঞ্জী ও মক্কার অন্যান্য ইমামদের থেকে যা অর্জন করার ছিল তা অর্জন করেন। এরপর তিনি আবু আব্দুল্লাহ মালেক ইবন আনাসের নিকট থেকে ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে মদীনা অভিমুখে সফর করেন। ইমাম মালেক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর বংশমর্যাদা, ইলম, প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও শিষ্টাচারের কারণে তাঁকে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন ও ব্যবহার করেন। তিনি ইমাম মালেকের সামনে মুখস্থ থেকে মুয়াত্তা পাঠ করেন, যা তাঁর পাঠশৈলীকে মুগ্ধ করেছিল। ইমাম মালেক তাঁর পাঠে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে আরও পাঠ করতে বলতেন। তিনি ইমাম মালেকের সাহচর্যে রইলেন এবং তিনি (মালেক) তাঁকে বলেছিলেন: "আল্লাহকে ভয় করো! কেননা অচিরেই তোমার এক মহান মর্যাদা তৈরি হবে।"

অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমার অন্তরে একটি নূর (আলো) নিক্ষেপ করেছেন, সুতরাং পাপাচার দিয়ে তাকে নিভিয়ে দিও না।"

এরপর তিনি ইয়েমেনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন—অর্থাৎ সেখানকার ওয়ালী বা শাসক হন। তাঁর সুন্দর কর্মপন্থা এবং মানুষকে সুন্নাহ ও সুন্দর পথের ওপর পরিচালিত করার অনেক প্রসিদ্ধ ঘটনা রয়েছে। এরপর তিনি ইলম চর্চায় মনোনিবেশ করার জন্য ইরাক সফর করেন এবং আবু হানিফার সাথী মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ও অন্যদের সাথে মুনাযারা (বিতর্ক) করেন। তিনি ইলমে হাদিস প্রচার করেন, তাঁর অনুসারীদের মাজহাব প্রতিষ্ঠা করেন এবং সুন্নাহকে বিজয়ী করেন। তাঁর আলোচনা ও মর্যাদা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা দিগন্তজুড়ে বিস্তৃতি লাভ করে। তাঁর অনুসারী ও বিরোধী সকলেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কাছে নতি স্বীকার করে এবং সমস্ত উলামায়ে কিরাম তাঁর শ্রেষ্ঠত্বকে স্বীকৃতি দেন। সৃষ্টিজগত ও রাষ্ট্রপ্রধানদের নিকট তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ হয় এবং ইরাকবাসীদের সাথে মুনাযারায় তাঁর এমন ফযিলত প্রকাশ পায় যা অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়নি।

ছোট-বড় এবং হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ ইমামগণ তাঁর থেকে ইলম অর্জনে একনিষ্ঠভাবে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই তাঁদের পূর্ববর্তী মাজহাব ত্যাগ করে তাঁর মাজহাবের দিকে ফিরে আসেন এবং তাঁর পথ অনুসরণ করেন। তিনি ইরাকে তাঁর প্রাচীন কিতাব 'কিতাবুল হুজ্জাহ' রচনা করেন। এরপর তিনি ১৯৯ হিজরিতে মিশরে গমন করেন এবং মিশরেই তাঁর নতুন কিতাবসমূহ রচনা করেন। বিভিন্ন দেশে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরাকের মানুষ তাঁর কাছে আসতে শুরু করে।

একারণেই মিশরের অধিকাংশ মানুষ শাফেঈ মাজহাবের অনুসারী।
(খণ্ড: ٢) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌ثناء العلماء على الإمام الشافعي

ثناء العلماء عليه: قال الحافظ أبو نعيم: ومنهم الإمام الكامل العالم العامل، ذو الشرف المنيف، والخلق الظريف، له السخاء والكرم، وهو الضياء في الظلم، أوضح المشكلات، وأفصح عن المعضلات، المنتشر علمه شرقاً وغرباً، المستفيض مذهبه براً وبحراً، المتبع للسنن والآثار، المقتدي بما اجتمع عليه المهاجرون والأنصار.

اقتبس عن الأئمة الأخيار فحدث عنه الأئمة الأحبار، الحجازي المطلبي أبو عبد الله محمد بن إدريس الشافعي رضي الله عنه وأرضاه، حاز المرتبة العالية، وفاز بالمنقبة السامية، إذ المناقب والمراتب يستحقها من له الدين والحسب، وقد ظفر الشافعي بهما جميعاً.

شرف العلم والعمل به، وشرف الحسب قربه من رسول الله صلى الله عليه وسلم، فشرفه في العلم ما خصه الله من تصرفه في وجوه العلم، وتبسطه في فنون الحكم، فاستنبط خفيات المعاني، وشرح بفهم الأصول والمباني، ونال ذلك بما يخص الله تعالى به قريشاً من نبل الرأي.

وروى الخطيب بسنده إلى إسحاق بن راهويه قال: أخذ أحمد بن حنبل بيدي وقال: تعال حتى أذهب بك إلى من لم تر عيناك مثله، فذهب به إلى الشافعي.

فالإمام الشافعي يعتبر شيخ الإمام أحمد.

وبسنده أيضاً إلى عبد الله بن أحمد بن حنبل قال: قلت لأبي: يا أبت أي شيء كان الشافعي فإني سمعتك تكثر من الدعاء له؟ فقال: يا بني الشافعي كالشمس للدنيا، وكالعافية للناس، انظر هل لهذين من خلف أو منهما عوض؟ وعن أيوب بن سويد قال: ما ظننت أني أعيش حتى أرى مثل الشافعي.

وقال صالح بن أحمد بن حنبل: ركب الشافعي حماره فجعل أبي يمشي والشافعي راكب وهو يذاكره، فبلغ ذلك يحيى بن معين فبعث إلى أبي في ذلك؛ فبعث إليه الإمام أحمد فقال: إنك لو كنت في الجانب الآخر من الحمار كان خيراً لك.

وعن حميد بن زنجويه قال: سمعت أحمد بن حنبل يقول وهو يروي الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم: (إن الله يمن على أهل دينه في رأس كل مائة سنة برجل من أهل بيتي يبين لهم أمر دينهم)، وإني نظرت في سنة مائة فإذا رجل من آل رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو عمر بن عبد العزيز -توفي سنة (101هـ) - ونظرت في المائة الثانية فإذا هو رجل من آل رسول الله صلى الله عليه وسلم محمد بن إدريس، توفي سنة (204هـ).

وعن محمد بن الفضل البزار قال: سمعت أبي يقول: حججت مع أحمد بن حنبل فنزلنا عند أحد الناس بمكة، وخرج أبو عبد الله -يعني: أحمد بن حنبل - باكراً وخرجت أنا معه، فلما صلينا الصبح بدأت المجالس، فجئت مجلس سفيان بن عيينة، وكنت أبحث مجلساً مجلساً طلباً لـ أبي عبد الله حتى وجدته عند شاب أعرابي وعليه ثياب مصبوغة وعلى رأسه جمة فزاحمته حتى قعدت عند أحمد بن حنبل.

فقلت: يا أبا عبد الله! تركت ابن عيينة وعنده الزهري يعني: محمد بن مسلم بن شهاب وعمرو بن دينار وزياد بن علاقة ومن التابعين ما الله بهم عليم؟ فقال: اسكت فإن فاتك حديث بعلو تجده بنزول فلا يضرك في دينك ولا في عقلك أو فقهك، وإن فاتك عقل هذا الفتى أخاف ألا تجده إلى يوم القيامة، ما رأيت أحداً أفقه في كتاب الله تعالى من هذا الفتى القرشي، قلت: من هذا؟ قال: محمد بن إدريس الشافعي.

وعن سويد بن سعيد قال: كنا عند سفيان بن عيينة فجاء محمد بن إدريس فجلس، فروى ابن عيينة حديثاً رقيقاً فغشي على الشافعي فقيل: يا أبا محمد مات محمد بن إدريس، فقال ابن عيينة: إن كان قد مات محمد بن إدريس فقد مات أفضل أهل زمانه.

قال الرازي رحمه الله: إن ثناء العلماء على الإمام الشافعي أكثر من أن يحيط به الحصر، ونحن نذكر السبب في محبتهم له وثنائهم عليه، فنقول: الناس كلهم كانوا قبل زمان الشافعي فريقين: أصحاب الحديث وأصحاب الرأي، أما أصحاب الحديث فكانوا حافظين لأخبار رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا أنهم كانوا عاجزين عن النظر والجدل، وكلما أورد عليهم أصحاب الرأي سؤالاً أو إشكالاً بقوا على ما في أيديهم عاجزين متحيرين.

وأما أصحاب الرأي فكانوا أصحاب الجدل والنظر إلا أنهم كانوا فارغين من معرفة الآثار والسنن، وهي مدرسة الكوفة، وأما الشافعي فإنه كان عارفاً بسنة النبي صلى الل
ইমাম শাফিঈর প্রতি উলামায়ে কেরামের প্রশংসা

তাঁর প্রতি উলামায়ে কেরামের প্রশংসা: হাফিজ আবু নুআইম বলেন: তাদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ইমাম, আমলকারী আলিম, সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং সুরুচিশীল চরিত্রের অধিকারী হলেন তিনি। তিনি দানশীল ও উদার, অন্ধকারের মাঝে আলো স্বরূপ। তিনি জটিল বিষয়াবলিকে স্পষ্ট করেছেন এবং কঠিন সমস্যাগুলোকে উন্মোচন করেছেন। তাঁর জ্ঞান পূর্ব ও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়েছে, তাঁর মাযহাব জল ও স্থলে বিস্তৃত হয়েছে। তিনি সুন্নাহ ও আসার (সাহাবীদের বাণী) অনুসারী এবং মুহাজির ও আনসারগণ যে বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন তার ইত্তিবা রক্ষাকারী।

তিনি সৎকর্মশীল ইমামদের থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন এবং বড় বড় আলিমগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি হলেন হিজাযী, মুত্তালিবী, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। তিনি উচ্চ মাকাম লাভ করেছেন এবং মহান গুণাবলি অর্জন করেছেন। কেননা উচ্চ গুণ ও মর্যাদা সেই ব্যক্তির প্রাপ্য যার দ্বীনদারি ও বংশীয় মর্যাদা রয়েছে; আর শাফিঈ এই দুটিরই অধিকারী ছিলেন।

ইলমের মর্যাদা ও সেই অনুযায়ী আমল এবং বংশীয় মর্যাদা যা তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটবর্তী করেছে। ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর মর্যাদা হলো—আল্লাহ তাআলা তাঁকে ইলমের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ ও প্রজ্ঞার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যুৎপত্তি দান করেছেন। তিনি গভীর অর্থসমূহ উদ্ঘাটন করেছেন এবং মূলনীতি ও কাঠামোগুলো নিজ প্রজ্ঞার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। আর তিনি তা লাভ করেছেন সেই উচ্চতর ধীশক্তি বা মত প্রদানের ক্ষমতার মাধ্যমে, যা আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে কুরাইশদের দান করেছেন।

খতিব বাগদাদী তাঁর সনদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আহমাদ বিন হাম্বল আমার হাত ধরলেন এবং বললেন: আসুন, আমি আপনাকে এমন এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যাই যার মতো আপনার চোখ আর কাউকে দেখেনি। এরপর তিনি তাঁকে শাফিঈর কাছে নিয়ে গেলেন।

সুতরাং ইমাম শাফিঈ ইমাম আহমাদের উস্তাদ হিসেবে গণ্য হন।

এছাড়াও তাঁর সনদে আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বললাম: হে আব্বা! শাফিঈ কেমন ব্যক্তি ছিলেন যে আমি আপনাকে তাঁর জন্য এতো বেশি দুআ করতে শুনি? তিনি বললেন: হে বৎস! শাফিঈ ছিলেন পৃথিবীর জন্য সূর্যের মতো এবং মানুষের জন্য সুস্থতার মতো। তুমিই বলো, এই দুটির কি কোনো বিকল্প বা স্থলাভিষিক্ত আছে? আর আইয়ুব বিন সুওয়াইদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ভাবিনি যে শাফিঈর মতো কাউকে না দেখে আমি বেঁচে থাকব।

সালিহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল বলেন: শাফিঈ তাঁর গাধার ওপর চড়ে যাচ্ছিলেন আর আমার পিতা পায়ে হেঁটে তাঁর সাথে আলোচনা করতে করতে পথ চলছিলেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈনের কাছে এই সংবাদ পৌঁছালে তিনি আমার পিতার কাছে এ ব্যাপারে লোক পাঠালেন। তখন ইমাম আহমাদ উত্তর পাঠালেন: তুমি যদি গাধার অন্য পাশে থাকতে তবে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হতো।

হুমাইদ বিন জানজুওয়াইহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আহমাদ বিন হাম্বলকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি যে: (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রতি একশ বছরের মাথায় তাঁর দ্বীনদারদের জন্য আমার আহলে বাইতের এমন একজন ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি তাদের কাছে দ্বীনের বিষয়াবলি স্পষ্ট করবেন)। আমি প্রথম শতকের শেষে তাকিয়ে দেখলাম তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশের এক ব্যক্তি—উমর বিন আব্দুল আজিজ (ওফাত ১০১ হিজরি)। আর দ্বিতীয় শতকের শেষে তাকিয়ে দেখলাম তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশের এক ব্যক্তি—মুহাম্মদ বিন ইদরিস (ওফাত ২০৪ হিজরি)।

মুহাম্মদ বিন ফাযল আল-বাযযার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে: আমি আহমাদ বিন হাম্বলের সাথে হজ পালন করলাম। আমরা মক্কায় এক ব্যক্তির কাছে অবস্থান করলাম। আবু আব্দুল্লাহ অর্থাৎ আহমাদ বিন হাম্বল খুব ভোরে বের হলেন এবং আমিও তাঁর সাথে বের হলাম। যখন আমরা ফজরের নামায পড়লাম, তখন মজলিসগুলো শুরু হলো। আমি সুফিয়ান বিন উয়াইনার মজলিসে গেলাম। আমি আবু আব্দুল্লাহর সন্ধানে প্রতিটি মজলিসে ঘুরতে লাগলাম, শেষ পর্যন্ত তাঁকে একজন বেদুইন যুবকের কাছে পেলাম যার পরিধানে রঙ করা কাপড় ছিল এবং মাথায় প্রচুর চুল ছিল। আমি ভিড় ঠেলে এগিয়ে গিয়ে আহমাদ বিন হাম্বলের পাশে বসলাম।

আমি বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ! আপনি ইবনে উয়াইনাকে ছেড়ে এলেন অথচ তাঁর কাছে যুহরি অর্থাৎ মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন শিহাব, আমর বিন দীনার, যিয়াদ বিন ইলাকা এবং আরও অনেক তাবিঈর বর্ণনা রয়েছে যাদের সংখ্যা আল্লাহই ভালো জানেন? তিনি বললেন: চুপ থাকো। যদি তোমার উচ্চ সনদের হাদিস ছুটে যায়, তবে তুমি তা নিম্ন সনদে পেয়ে যাবে, যা তোমার দ্বীন, বুদ্ধি বা ফিকহের কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু যদি এই যুবকের বিবেক বা প্রজ্ঞা তোমার হাতছাড়া হয়, তবে কিয়ামত পর্যন্ত তুমি তা পাবে না বলে আমার আশঙ্কা হয়। আমি কুরাইশ বংশীয় এই যুবকের চেয়ে আল্লাহর কিতাবের গভীর সমঝদার আর কাউকে দেখিনি। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইনি কে? তিনি বললেন: মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিঈ।

সুওয়াইদ বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা সুফিয়ান বিন উয়াইনার নিকট ছিলাম, তখন মুহাম্মদ বিন ইদরিস এলেন এবং বসলেন। ইবনে উয়াইনা একটি হৃদয়স্পর্শী হাদিস বর্ণনা করলেন যাতে শাফিঈ মূর্ছা গেলেন। তখন বলা হলো: হে আবু মুহাম্মদ! মুহাম্মদ বিন ইদরিস তো মারা গেছেন। তখন ইবনে উয়াইনা বললেন: যদি মুহাম্মদ বিন ইদরিস মারা গিয়ে থাকেন, তবে তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিই মারা গেছেন।

রাযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ইমাম শাফিঈর প্রতি উলামায়ে কেরামের প্রশংসা গণনা করে শেষ করার চেয়েও অনেক বেশি। আমরা তাঁর প্রতি তাঁদের মহব্বত ও প্রশংসার কারণ উল্লেখ করছি। আমরা বলি: ইমাম শাফিঈর সময়ের আগে সমস্ত মানুষ দুটি দলে বিভক্ত ছিল: আহলে হাদিস এবং আহলে রায়। আহলে হাদিসরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসগুলো মুখস্থ রাখতেন ঠিকই, কিন্তু তাঁরা সূক্ষ্ম চিন্তাভাবনা ও যুক্তিতর্কে পারদর্শী ছিলেন না। আহলে রায় বা যুক্তিপন্থীরা যখনই তাঁদের কাছে কোনো প্রশ্ন বা জটিলতা উপস্থাপন করতেন, তাঁরা হতবাক হয়ে যেতেন।

অন্যদিকে আহলে রায় বা যুক্তিপন্থীরা বিতর্ক ও সূক্ষ্ম বিচারে পারদর্শী ছিলেন, কিন্তু তাঁরা আসার (সাহাবীদের বাণী) এবং সুন্নাহর জ্ঞান থেকে রিক্ত ছিলেন। আর এটি ছিল কুফার ঘরানা। কিন্তু শাফিঈর ক্ষেত্রে কথা হলো, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন...
(খণ্ড: ٢) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌عبادة الإمام الشافعي وزهده وورعه

عبادته وزهده وورعه.

قال بحر بن نصر: ما رأيت ولا سمعت أتقى لله ولا أورع من الشافعي، ولا أحسن صوتاً منه بالقرآن.

وعن الحسين الكرابيسي قال: بت مع الشافعي ثمانين ليلة فكان يصلي نحو ثلث الليل، وما رأيته يزيد على خمسين آية فإذا أكثر فمائة، وكان لا يمر بآية رحمة إلا سأل الله لنفسه وللمؤمنين أجمعين، ولا يمر بآية عذاب إلا تعوذ بالله منها، وسأل النجاة لنفسه ولجميع المؤمنين، فكأنما جمع له الرجاء والرحمة معاً.

وعن بحر بن نصر قال: كنا إذا أردنا أن نبكي قال بعضنا لبعض: قوموا بنا إلى هذا الفتى المطلبي نقرأ القرآن، فإذا أتيناه استفتح القرآن حتى تتساقط الناس بين يديه، ويكثر عجيجهم بالبكاء، فإذا رأى ذلك أمسك عن القراءة من حسن صوته.

وعن الربيع بن سليمان قال: كان الشافعي قد جزأ الليل ثلاثة أجزاء: الثلث الأول يكتب، يعني: الحديث، والثلث الثاني: يصلي، والثلث الثالث: ينام.

وعن حرملة قال: قال الشافعي: ما حلفت لله صادقاً ولا كاذباً.

وقال الحارث بن مسكين: أراد الشافعي الخروج إلى مكة فأسلم إلى قصارٍ -يعني: خياطاً- ثياباً بغدادية مرتفعة، فوقع الحريق فاحترق دكان القصار والثياب، فجاء القصار ومعه قوم، فتحمل بهم على الشافعي في تأخيره ليدفع إليه قيمة الثياب.

فقال له الشافعي: قد اختلف أهل العلم في تضمين القصار -يعني: هل يضمن ثمن ما ضاع عنده- ولم أتبين أن الضمان يجب، فلست أضمنك شيئاً.

وعن الحارث بن شريح قال: دخلت مع الشافعي على خادم للرشيد وهو في بيت قد فرش بالديباج يعني: بالحرير، فلما وضع الشافعي رجله على العتبة أبصره فرجع، ولم يدخل، فقال له الخادم: ادخل، فقال: لا يحل افتراش هذا، فقام الخادم فتبسم حتى دخل بيتاً قد فرش بالأرض، فدخل الشافعي، ثم أقبل عليه فقال: هذا حلال وهذا حرام، وهذا أحسن من ذلك وأكثر ثمناً، فتبسم الخادم وسكت.

وعن الربيع قال: قال عبد الله بن عبد الحكم للشافعي: إن عزمت أن تسكن البلد -يعني: مصر- فليكن لك قوت سنة، ومجلس من السلطان تتعزز به.

فقال له الشافعي: يا أبا محمد من لم تعزه التقوى فلا عز له، ولقد ولدت بغزة، وربيت بالحجاز، وما عندنا قوت ليلة وما بتنا جياعاً.

وقيل للشافعي: ما لك تدمن إمساك العصا ولست بضعيف؟ قال: لأذكر أني مسافر، يعني: في الدنيا.

وعن يونس بن عبد الأعلى قال: قال لي الشافعي: يا أبا موسى! أنست بالفقر حتى صرت لا أستوحش منه.

وعن الربيع بن سليمان قال: قال لي الشافعي يا ربيع! عليك بالزهد، فللزهد على الزاهد أحسن من الحلي على المرأة الناهد.

وعن عبد الله بن محمد البلوي قال: جلسنا ذات يوم نتذاكر الزهاد والعباد والعلماء وما بلغ من زهدهم وفصاحتهم وعلمهم، فبينما نحن كذلك إذ دخل علينا عمر بن نباته فقال: بماذا تتحاورون؟ قلنا: نتذاكر الزهاد والعباد والعلماء وما بلغ من فصاحتهم.

فقال عمر بن نباته: والله ما رأيت رجلاً قط أورع ولا أخشع ولا أفصح ولا أسمح ولا أعلم ولا أكرم ولا أجمل ولا أنبل ولا أفضل من محمد بن إدريس الشافعي.
ইমাম শাফিঈর ইবাদত, তাঁর দুনিয়াবিমুখতা ও তাঁর আল্লাহভীতি

তাঁর ইবাদত, দুনিয়াবিমুখতা (যুহদ) ও আল্লাহভীতি (ওয়ারা)।

বাহর বিন নাসর বলেন: আমি শাফিঈর চেয়ে অধিক আল্লাহভীরু এবং অধিক পরহেযগার কাউকে দেখিনি এবং শুনিনি। আর কুরআন তিলাওয়াতে তাঁর চেয়ে সুন্দর কণ্ঠস্বর আমি আর দেখিনি।

হুসাইন আল-কারাবীসি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইমাম শাফিঈর সাথে আশি রাত অতিবাহিত করেছি। তিনি রাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময় নামায পড়তেন। আমি তাঁকে পঞ্চাশটির বেশি আয়াত তিলাওয়াত করতে দেখিনি, আর যখন বেশি করতেন তখন তা একশত আয়াত হতো। তিনি যখনই কোনো রহমতের আয়াতের পাশ দিয়ে যেতেন, তখন নিজের জন্য এবং সমস্ত মুমিনদের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। আর যখনই কোনো আযাবের আয়াতের পাশ দিয়ে যেতেন, তখন তা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন এবং নিজের জন্য ও সমস্ত মুমিনদের জন্য মুক্তি প্রার্থনা করতেন। যেন তাঁর মধ্যে আশা ও রহমত একই সাথে পুঞ্জীভূত হয়েছিল।

বাহর বিন নাসর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা যখন কাঁদতে চাইতাম, তখন একে অপরকে বলতাম, চলো আমরা এই মুত্তালিবী যুবকের কাছে যাই এবং কুরআন তিলাওয়াত করি। যখন আমরা তাঁর কাছে আসতাম এবং তিনি কুরআন তিলাওয়াত শুরু করতেন, তখন তাঁর সামনে থাকা মানুষগুলো কান্নায় লুটিয়ে পড়ত এবং তাদের ক্রন্দনধ্বনি বৃদ্ধি পেত। যখন তিনি এটি দেখতেন, তখন তাঁর কণ্ঠের মাধুর্যের কারণে তিলাওয়াত বন্ধ করে দিতেন।

রাবী বিন সুলাইমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: শাফিঈ রাতকে তিন ভাগে ভাগ করেছিলেন: প্রথম তৃতীয়াংশ তিনি লিখতেন—অর্থাৎ হাদীস, দ্বিতীয় তৃতীয়াংশ তিনি নামায পড়তেন এবং শেষ তৃতীয়াংশ তিনি ঘুমাতেন।

হারমালাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: শাফিঈ বলেছেন: আমি আল্লাহর নামে কখনো শপথ করিনি, তা সত্যই হোক কিংবা মিথ্যা।

হারিস বিন মিসকীন বলেন: শাফিঈ মক্কায় যাওয়ার ইচ্ছা করলেন। তিনি একজন কাসসার—অর্থাৎ দর্জি—এর কাছে বাগদাদী দামী কাপড় দিলেন। এরপর সেখানে আগুন লাগলে দর্জির দোকান ও কাপড়গুলো পুড়ে যায়। দর্জি একদল লোককে সাথে নিয়ে শাফিঈর কাছে এল, যাতে তারা শাফিঈর কাছে কাপড়ের মূল্যের জন্য তাকে অবকাশ দিতে সুপারিশ করে।

শাফিঈ তাকে বললেন: আলেমগণ দর্জির ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে—অর্থাৎ তার কাছে কিছু নষ্ট হলে তার মূল্য পরিশোধ করা কি আবশ্যক—মতভেদ করেছেন। তবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যে আবশ্যক, তা আমার কাছে স্পষ্ট হয়নি। তাই আমি তোমার থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ নেব না।

হারিস বিন শুরাইহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি শাফিঈর সাথে হারুনুর রশীদের এক খাদেমের কাছে গেলাম। সে এমন এক ঘরে ছিল যা দীবাজ—অর্থাৎ রেশম—দিয়ে বিছানো ছিল। যখন শাফিঈ তাঁর পা চৌকাঠে রাখলেন, তখন সেটি লক্ষ্য করে ফিরে আসলেন এবং প্রবেশ করলেন না। খাদেম তাঁকে বলল: প্রবেশ করুন। তিনি বললেন: এটি বিছানো হালাল নয়। তখন খাদেম উঠে গিয়ে মুচকি হাসল এবং একটি সাধারণ বিছানো ঘরে প্রবেশ করল। তখন শাফিঈ প্রবেশ করলেন এবং তার দিকে তাকিয়ে বললেন: এটি হালাল এবং ওটি হারাম, আর এটি সেটির চেয়ে সুন্দর এবং অধিক মূল্যবান। খাদেম মুচকি হাসল এবং চুপ থাকল।

রাবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম শাফিঈকে বললেন: আপনি যদি এই শহরে—অর্থাৎ মিশরে—বসবাস করার সংকল্প করেন, তবে আপনার কাছে যেন এক বছরের খাদ্য মজুদ থাকে এবং সুলতানের দরবারে আপনার একটি আসন থাকে যার মাধ্যমে আপনি সম্মানিত হবেন।

শাফিঈ তাকে বললেন: হে আবু মুহাম্মদ! যাকে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি সম্মান দান করে না, তার কোনো সম্মান নেই। আমি গাজায় জন্মগ্রহণ করেছি এবং হিজাজে লালিত-পালিত হয়েছি। আমাদের কাছে এক রাতের খাবারও থাকত না, কিন্তু আমরা কখনো ক্ষুধার্ত রাত কাটাইনি।

শাফিঈকে বলা হলো: আপনি দুর্বল না হওয়া সত্ত্বেও কেন সর্বদা লাঠি হাতে রাখেন? তিনি বললেন: যেন আমি মনে রাখতে পারি যে আমি একজন মুসাফির—অর্থাৎ এই দুনিয়াতে।

ইউনুস বিন আব্দুল আ’লা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: শাফিঈ আমাকে বললেন: হে আবু মূসা! দারিদ্র্যের সাথে আমি এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে, এখন আমি আর তাতে বিচলিত হই না।

রাবী বিন সুলাইমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: শাফিঈ আমাকে বললেন: হে রাবী! তুমি দুনিয়াবিমুখতা (যুহদ) অবলম্বন করো। কেননা দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তির জন্য যুহদ একজন যুবতী নারীর অলংকারের চেয়েও অধিক সৌন্দর্যমণ্ডিত।

আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বালাউয়ী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আমরা বসে দুনিয়াবিমুখ (যাহিদ), ইবাদতকারী (আবিদ) এবং আলেমদের নিয়ে আলোচনা করছিলাম এবং তাঁদের দুনিয়াবিমুখতা, বাকপটুতা ও ইলমের স্তর নিয়ে কথা বলছিলাম। এমতাবস্থায় উমর বিন নুবাতাহ আমাদের কাছে প্রবেশ করে বললেন: তোমরা কী বিষয়ে আলোচনা করছ? আমরা বললাম: আমরা যাহিদ, আবিদ ও আলেমদের বাকপটুতা নিয়ে আলোচনা করছি।

তখন উমর বিন নুবাতাহ বললেন: আল্লাহর কসম! আমি মুহাম্মদ বিন ইদরীস আশ-শাফিঈর চেয়ে অধিক পরহেযগার, অধিক বিনয়ী, অধিক বাকপটু, অধিক উদার, অধিক জ্ঞানী, অধিক দয়ালু, অধিক সুন্দর, অধিক মহৎ এবং অধিক শ্রেষ্ঠ আর কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি।
(খণ্ড: ٢) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٦)
‌‌سخاء الشافعي وجوده

أما سخاؤه وجوده رحمه الله: فعن الحميدي قال: قدم الشافعي رحمه الله من صنعاء إلى مكة بعشرة آلاف دينار في منديل، فضرب خباءه في موضع خارجاً من مكة، فكان الناس يأتونه، فما برح حتى ذهبت كلها.

وعن الربيع بن سليمان قال: كان الشافعي راكباً حماراً فمر على سوق الحذائين، فسقط سوطه من يده، فوثب غلام من الحذائين فأخذ السوط ومسحه بكمه وناوله إياه، فقال الشافعي لغلامه: ادفع الدنانير التي معك إلى هذا الفتى.

قال الربيع: فلست أدري كانت تسعة دنانير أو ستة.

وعن الربيع بن سليمان قال: تزوجت فسألني الشافعي: كم أصدقتها؟ فقلت: ثلاثين ديناراً، قال: كم أعطيتها؟ فقلت: ستة دنانير، فصعد داره وأرسل إلي بصرة فيها أربعة وعشرون ديناراً.

كان ابن عبد الحكم مالكياً ثم رجع عن مذهبه وصار شافعياً، ولما أوصى الإمام الشافعي بحلقته إلى البويطي رجع ابن عبد الحكم إلى المذهب المالكي مرة ثانية، قال رحمه الله: كان الشافعي أسخى الناس بما يجد، وكان يمر بنا، فإن وجدني وإلا قال: قولوا لـ محمد إذا جاء يأتي المنزل فإني لا أتغدى حتى يجيء، فربما جئته، فإذا قعدت معه على الغداء قال: يا جارية أنضجي لنا فالوذجاً -يعني: فطيراً- فلا تزال المائدة بين يديه حتى يفرغ منها ويتغدى.

وعن الربيع قال: أخذ رجل بركاب الشافعي فقال: يا ربيع أعطه أربعة دنانير واعذرني عنده.

وعن الربيع قال: كنا مع الشافعي رحمه وقد خرج من مسجد مصر، فانقطع شسع نعله -وهو رباط النعل- فأصلح له رجل شسعه ودفعه إليه، فقال: يا ربيع معك من نفقتنا شيء؟ قلت: نعم، قال: كم؟ قلت: سبعة دنانير، قال: ادفعها إليه.

ولعل النعل كله لا يساوي هذا المبلغ.

وقال محمد بن عبد الله بن عبد الحكم: جاءنا الشافعي إلى منزلنا قال: فقال لي: اركب دابتي هذه قال: فركبتها، قال: فقال لي: أقبل بها وأدبر ففعلت، فقال: إني أراك بها لبقاً فخذها فهي لك.

قال: وكان من أسخى الناس ثم ذكر قصة التمر.

وقصة التمر رواها البيهقي عن محمد بن عبد الله بن عبد الحكم قال: كان الشافعي رحمه الله من أسخى الناس قال: وكنت آكل مع الشافعي تمراً ملوزاً -وهو التمر الذي ينزع منه النوى ويوضع فيه اللوز، فجاء رجل فقعد وأكل وكان يجلس إليه، فلما فرغ من الأكل، قال الرجل للشافعي: ما تقول في أكل الفجأة؟ قال: فلوى الشافعي عنقه إلي وقال: هلا كان سؤاله قبل أن يأكل.

لأنه لو قال له: لا يجوز كان كف عن الأكل.

وقال الشافعي رحمه الله: السخاء والكرم يغطيان عيوب الدنيا والآخرة بعد ألا يلحقهما بدعة.

وعن إبراهيم بن محمد قال: كنت في مجلس أحمد بن يوسف النقلي صاحب أبي عبيد القاسم بن سلام فجرى ذكر الشافعي وأخلاقه وفقهه وسماحته فقالوا: ما شبهناه إلا بأبيات أنشدها حفص بن عمر الأزدي المقرعي لبعض الأعراب: إن زرت ساحته ترجو سماحته بلتك راحته بالجود والكرم أخلاقه كرم وقوله نعم يقولها بفم بحبحت فاحتكم ما ضر زائره يرجو أنامله إن كان ذا رحم أو غير ذا رحم الجود غرته والنجم غايته يقولها بفم قد لج في نعم وعن الربيع بن سليمان قال: دفع إلي الشافعي دراهم لأشتري له حملاً -وهو الكبش أو الخروف- وأمرني أن أشوي ذلك، قال: فنسيت واشتريت سمكتين وشويتهما فأتيته بهما، فنظر فقال: يا أبا محمد! كلهما فقد اشتهيتهما.
ইমাম শাফিঈর বদান্যতা ও দানশীলতা

ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বদান্যতা ও দানশীলতা প্রসঙ্গে আল-হুমাইদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) সানআ থেকে মক্কায় দশ হাজার দিনার একটি রুমালের মধ্যে নিয়ে আসলেন। এরপর তিনি মক্কার বাইরে এক স্থানে তাঁর তাঁবু স্থাপন করলেন। মানুষ তাঁর কাছে আসতে শুরু করল, আর তিনি সেখান থেকে সরলেন না যতক্ষণ না সব দিনার শেষ হয়ে গেল।

আর-রবী বিন সুলাইমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম শাফিঈ একটি গাধার পিঠে আরোহণ করেছিলেন এবং জুতা বিক্রেতাদের বাজারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় তাঁর হাত থেকে চাবুকটি পড়ে গেল। জুতা বিক্রেতাদের মধ্য থেকে এক কিশোর যুবক দ্রুত এগিয়ে এসে চাবুকটি তুলল এবং নিজ আস্তিন দিয়ে মুছে সেটি তাঁকে ফেরত দিল। তখন ইমাম শাফিঈ তাঁর ভৃত্যকে বললেন: তোমার কাছে যে দিনারগুলো আছে তা এই যুবককে দিয়ে দাও।

রবী বলেন: আমার জানা নেই সেটি নয় দিনার ছিল নাকি ছয় দিনার।

আর-রবী বিন সুলাইমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বিবাহ করলাম, তখন ইমাম শাফিঈ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি মোহরানা কত ধার্য করেছ? আমি বললাম: ত্রিশ দিনার। তিনি বললেন: কতটুকু প্রদান করেছ? আমি বললাম: ছয় দিনার। এরপর তিনি নিজের ঘরে উঠলেন এবং চব্বিশ দিনার ভর্তি একটি থলি আমার কাছে পাঠিয়ে দিলেন।

ইবনুল হাকাম প্রথমে মালিকী ছিলেন, পরে তিনি নিজের মাযহাব পরিবর্তন করে শাফিঈ হয়েছিলেন। যখন ইমাম শাফিঈ তাঁর জ্ঞানচর্চার আসর পরিচালনার জন্য আল-বুওয়াইতীকে অসিয়ত করে গেলেন, তখন ইবনুল হাকাম পুনরায় মালিকী মাযহাবে ফিরে যান। তিনি (ইবনুল হাকাম) বলেন: ইমাম শাফিঈ তাঁর কাছে যা থাকত সে ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। তিনি আমাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে না পেলে বলতেন: মুহাম্মাদ আসলে তাকে বলো সে যেন বাড়িতে আসে, কারণ সে না আসা পর্যন্ত আমি দুপুরের খাবার খাই না। কখনো আমি তাঁর কাছে যেতাম, যখন আমি তাঁর সাথে দুপুরের খাবারের জন্য বসতাম, তিনি পরিচারিকাকে বলতেন: আমাদের জন্য ফালুযাজ (এক প্রকার মিষ্টান্ন) তৈরি করো—অর্থাৎ পিঠা—অতঃপর খাবার শেষ না হওয়া এবং দুপুরের আহার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দস্তরখান তাঁর সামনেই থাকত।

রবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি ইমাম শাফিঈর সওয়ারির রেকাব ধরলেন। তখন তিনি বললেন: হে রবী! তাকে চার দিনার দিয়ে দাও এবং আমার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে দুঃখ প্রকাশ করো।

রবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা ইমাম শাফিঈর (রহিমাহুল্লাহ) সাথে ছিলাম, তিনি তখন মিসরের মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় তাঁর জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেল। জনৈক ব্যক্তি তাঁর জুতার ফিতাটি মেরামত করে তাঁকে দিলেন। তিনি বললেন: হে রবী! আমাদের খরচের টাকা থেকে তোমার কাছে কিছু আছে কি? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: কত? আমি বললাম: সাত দিনার। তিনি বললেন: তাকে ওটা দিয়ে দাও।

অথচ সম্ভবত পুরো জুতাটির মূল্যই এই পরিমাণ ছিল না।

মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম বলেন: ইমাম শাফিঈ আমাদের বাড়িতে আসলেন এবং আমাকে বললেন: তুমি আমার এই বাহনটির উপর আরোহণ করো। তিনি বলেন: আমি আরোহণ করলাম। তিনি বললেন: এটি নিয়ে সামনে যাও এবং পেছনে আসো। আমি তা-ই করলাম। তিনি বললেন: আমি দেখছি তুমি বাহন চালনায় বেশ দক্ষ, সুতরাং এটি নিয়ে নাও, এটি তোমার।

তিনি বলেন: তিনি মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা দানশীল ছিলেন। অতঃপর তিনি খেজুরের কাহিনীটি বর্ণনা করেন।

খেজুরের কাহিনীটি বায়হাকী মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল ছিলেন। তিনি বলেন: আমি ইমাম শাফিঈর সাথে বাদাম মিশ্রিত খেজুর খাচ্ছিলাম—এটি এমন খেজুর যা থেকে আঁটি ফেলে দিয়ে ভেতরে বাদাম রাখা হয়। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে বসল এবং খাওয়া শুরু করল, সে তাঁর মজলিসে বসত। খাওয়া শেষ করার পর লোকটি ইমাম শাফিঈকে জিজ্ঞেস করল: বিনা আমন্ত্রণে কারও খাবারে শরীক হওয়া সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তখন ইমাম শাফিঈ আমার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে বললেন: তার প্রশ্নটি কি খাওয়ার আগেই করা উচিত ছিল না?

কারণ তিনি যদি বলতেন যে এটি জায়েয নয়, তবে লোকটি খাওয়া থেকে বিরত থাকত।

ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলতেন: দানশীলতা ও মহানুভবতা দুনিয়া ও আখিরাতের দোষত্রুটিগুলোকে ঢেকে দেয়, যদি তার সাথে কোনো বিদআত যুক্ত না হয়।

ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু উবাইদ কাসিম বিন সালামের সাথী আহমাদ বিন ইউসুফ আন-নাকলীর মজলিসে ছিলাম। সেখানে ইমাম শাফিঈর গুণাবলী, ফিকহ এবং উদারতা নিয়ে আলোচনা শুরু হলো। তাঁরা বললেন: আমরা তাঁকে হাফস বিন উমর আল-আযদী আল-মুকরায়ী কর্তৃক কিছু বেদুইনের উদ্দেশ্যে আবৃত্তি করা কবিতার পংক্তিগুলোর সাথেই কেবল তুলনা করতে পারি: যদি তুমি তাঁর আঙিনায় আসো তাঁর উদারতার আশায়, তবে তাঁর হাতের তালু তোমাকে দান ও মহানুভবতায় সিক্ত করবে। তাঁর স্বভাবই হলো মহত্ত্ব আর তাঁর মুখের বুলি হলো 'হ্যাঁ', তিনি অত্যন্ত আনন্দের সাথে তা মুখে উচ্চারণ করেন এবং সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। তাঁর আঙুলের দানপ্রত্যাশী যিয়ারতকারীর কোনো ক্ষতি হয় না, চাই সে আত্মীয় হোক বা অনাত্মীয়। দানশীলতা তাঁর ললাটের জ্যোতি আর নক্ষত্রই তাঁর লক্ষ্যস্থল; তিনি প্রশস্ত মুখে তা বলেন এবং সর্বদা কল্যাণে লিপ্ত থাকেন। আর-রবী বিন সুলাইমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম শাফিঈ আমাকে একটি ভেড়া বা খাসি কেনার জন্য কিছু দিরহাম দিলেন এবং সেটি ঝলসানোর নির্দেশ দিলেন। তিনি বলেন: আমি ভুলে গেলাম এবং দুটি মাছ কিনে সেগুলো ঝলসিয়ে তাঁর কাছে নিয়ে আসলাম। তিনি সেগুলোর দিকে তাকালেন এবং বললেন: হে আবু মুহাম্মাদ! এ দুটিই খেয়ে নাও, কারণ আমি এগুলোই পছন্দ করছিলাম।
(খণ্ড: ٢) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌اتباع الشافعي للسنة وذمه لأهل الأهواء

اتباعه للسنة رحمه الله وذمه لأهل الأهواء.

عن ميمون بن مهران قال: قال لي أحمد بن حنبل: ما لك لا تنظر في كتب الشافعي؟ فما من أحد وضع الكتب أتبع للسنة من الشافعي.

وعن أبي جعفر الترمذي قال: أردت أن أكتب كتب الرأي، فرأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام فقلت: يا رسول الله! فأكتب رأي الشافعي فقال النبي صلى الله عليه وسلم: إنه ليس برأي، إنه رد على من خالف سنتي.

وعن أحمد بن حنبل قال: قدم علينا نعيم بن حماد وحثنا على طلب المسند -يعني: الحديث بالإسناد- فلما قدم علينا الشافعي وضعنا على المحجة البيضاء.

قال الربيع: سمعت الشافعي يقول: إذا وجدتم في كتابي خلاف سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقولوا بها ودعوا ما قلته.

قال: وقال له رجل: يا أبا عبد الله نأخذ بهذا الحديث؟ فقال: متى رويت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثاً ولم آخذ به فأشهدكم أن عقلي قد ذهب.

وقال الحميدي: روى الشافعي يوماً حديثاً فقلت: أتأخذ به؟ فقال: رأيتني خرجت من كنيسة أو علي زناراً -وهو الحبل الذي يربط في الوسط علامة لأهل الكتاب-، حتى إذا سمعت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثاً لا أقول به.

وقال الشافعي: إذا صح الحديث فهو مذهبي.

وقال: إذا صح الحديث فاضربوا بقولي الحائط.

إلى غير ذلك من الأقوال التي ثبتت عن الإمام الشافعي.
সুন্নাহর প্রতি শাফিঈর অনুসরণ এবং প্রবৃত্তির অনুসারীদের প্রতি তাঁর নিন্দা

সুন্নাহর প্রতি তাঁর অনুসরণ (রহিমাহুল্লাহ) এবং প্রবৃত্তির অনুসারীদের প্রতি তাঁর নিন্দা।

মাইমুন ইবনে মাহরান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাকে বলেছেন: আপনার কী হয়েছে যে আপনি শাফিঈর কিতাবসমূহ দেখেন না? কেননা গ্রন্থকারদের মধ্যে শাফিঈর চেয়ে সুন্নাহর অধিক অনুসারী আর কেউ নেই।

আবু জাফর আত-তিরমিযী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রায়-নির্ভর (নিজস্ব অভিমত) কিতাবসমূহ লিখতে চেয়েছিলাম। অতঃপর আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি শাফিঈর রায় লিখব? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: নিশ্চয়ই তা রায় নয়, বরং তা আমার সুন্নাহর বিরোধিতাকারীদের খণ্ডন।

আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নুআইম ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট আসলেন এবং আমাদের মুসনাদ—অর্থাৎ সনদসহ হাদিস—অন্বেষণে উৎসাহিত করলেন। অতঃপর যখন শাফিঈ আমাদের নিকট আসলেন, তিনি আমাদের শুভ্র উজ্জ্বল পথের দিশা দিলেন।

রাবি' বলেন: আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি: যদি তোমরা আমার কিতাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর পরিপন্থী কিছু পাও, তবে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করো এবং আমার কথা বর্জন করো।

তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: হে আবু আব্দুল্লাহ! আমরা কি এই হাদিসটি গ্রহণ করব? তিনি বললেন: আমি যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করি এবং সেটি গ্রহণ করি না, তখন তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে আমার বুদ্ধি লোপ পেয়েছে।

হুমাইদী বলেন: শাফিঈ একদিন একটি হাদিস বর্ণনা করলেন, আমি বললাম: আপনি কি এটি গ্রহণ করবেন? তিনি বললেন: তুমি কি আমাকে গির্জা থেকে বের হতে দেখেছ অথবা আমার কোমরে 'যুননার'—যা আহলে কিতাবদের চিহ্ন হিসেবে কোমরে বাঁধা রশি—দেখেছ? যে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদিস শুনব অথচ সে অনুযায়ী কথা বলব না!

শাফিঈ বলেছেন: যখন হাদিস সহিহ প্রমাণিত হবে, সেটিই আমার মাযহাব।

তিনি আরও বলেছেন: যখন হাদিস সহিহ হবে, তখন আমার কথাকে দেয়ালে ছুড়ে মারো।

এ ছাড়াও ইমাম শাফিঈ থেকে এ জাতীয় আরও অনেক বক্তব্য প্রমাণিত রয়েছে।
(খণ্ড: ٢) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌فقه الإمام الشافعي

فقهه رحمه الله: قال عبيد بن محمد بن خلف البزاز: سئل أبو ثور فقيل له: أيهما أفقه الشافعي أو محمد بن الحسن -صاحب أبي حنيفة؟ فقال أبو ثور: الشافعي أفقه من محمد وأبي يوسف وأبي حنيفة وحماد بن أبي سليمان شيخ أبي حنيفة وإبراهيم يعني: النخعي وعلقمة والأسود، يعني: أن كلهم من مدرسة الرأي في الكوفة.

وعن أحمد بن يحيى قال: سمعت الحميدي يقول: سمعت سيد الفقهاء محمد بن إدريس الشافعي.

وعن الربيع قال: سمعت الحميدي يقول: عن مسلم بن خالد أنه قال للشافعي: أفت يا أبا عبد الله فقد والله آن لك أن تفتي، وكان ابن خمس عشرة سنة.

وهذه بعض الأشياء التي تدل على فقهه وفهمه.

وعن حرملة بن يحيى قال: سمعت الشافعي يقول في رجل قال لامرأته وفي فيها تمرة: إن أكلتيها فأنت طالق، قال: طرحتيها فأنت طالق، بأن تأكل نصفها وتطرح نصفها.

فكما يقولون: ليس الفقه بالتشدد، بل الفقه أن تأتيك الرخصة من العالم الذي يجد المخرج الموافق للشرع.

وعن المزني قال: سئل الشافعي عن نعامة ابتلعت جوهرة لرجل آخر فقال: لست آمره بشيء، ولكن إن كان صاحب الجوهرة كيساً عدا على النعامة فذبحها واستخرج جوهرته ثم ضمن لصاحب النعامة ما بين قيمتها حية ومذبوحة.

وعن معمر بن شبيب قال: سمعت المأمون يقول لـ محمد بن إدريس الشافعي: يا محمد لأي علة خلق الله الذباب؟ قال: فأطرق ثم قال: مذلة للملوك يا أمير المؤمنين، قال: فضحك المأمون، وقال: يا محمد رأيت الذباب قد سقط على خدي؟ قال: نعم يا أمير المؤمنين ولقد سألتني وما عندي جواب، فلما رأيت الذباب قد سقط بموضع لا يناله أحد انفتق في ذهني الجواب.

فقال: لله درك يا محمد.

وقال إبراهيم بن أبي طالب الحافظ: سألت أبا قدامة السرخسي عن الشافعي وأحمد وأبي عبيد وابن راهويه فقال: الشافعي أفقههم.

وعن الربيع قال: كنت يوماً عند الشافعي فجاءه رجل فقال: أيها العالم! ما تقول في رجل حلف إن كان في كمي دراهم أكثر من ثلاثة فعبدي حر، وكان في كمه أربعة دراهم، فقال: لم يعتق عبده، قال: لم؟ قال: لأنه استثنى من جملة ما في كمه دراهم، والدرهم لا يكون دراهم.

فقال: آمنت بالذي فوهك هذا العلم.
ইমাম শাফিঈর ফিকহ

তাঁর ফিকহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন): উবাইদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালাফ আল-বাযযায বলেন: আবু সাওরকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "শাফিঈ এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসান—যিনি আবু হানিফার সাথী—তাদের মধ্যে কে বেশি ফকীহ?" আবু সাওর বললেন, "শাফিঈ মুহাম্মদ, আবু ইউসুফ, আবু হানিফা, আবু হানিফার উস্তাদ হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান, ইব্রাহিম—অর্থাৎ আন-নাখয়ী, আলকামা এবং আসওয়াদ—সবার চেয়ে বেশি ফকীহ।" অর্থাৎ, তাঁরা সবাই কুফার রায় (যুক্তি-নির্ভর) মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি হুমাইদীকে বলতে শুনেছি, "আমি ফকীহদের সরদার মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈকে বলতে শুনেছি।"

রাবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি হুমাইদীকে মুসলিম ইবনে খালিদ সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, তিনি শাফিঈকে বলেছিলেন, "হে আবু আব্দুল্লাহ, ফতোয়া দিন। আল্লাহর কসম, আপনার ফতোয়া দেওয়ার সময় হয়েছে।" তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র পনেরো বছর।

এগুলো এমন কিছু বিষয় যা তাঁর ফিকহ ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়।

হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি শাফিঈকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে তার স্ত্রীকে বলেছিল—আর তখন স্ত্রীর মুখে একটি খেজুর ছিল: "যদি তুমি এটি খেয়ে ফেলো তবে তোমার তালাক, আর যদি এটি ফেলে দাও তবেও তোমার তালাক।" তিনি (শাফিঈ) সমাধান দিলেন যে, স্ত্রী যেন অর্ধেক খায় এবং অর্ধেক ফেলে দেয়।

যেমনটি বলা হয়: ফিকহ মানে কঠোরতা নয়, বরং ফিকহ হলো এমন একজন আলিমের পক্ষ থেকে শরীয়তসম্মত সহজ সমাধান (রূখসত) পাওয়া যিনি সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পান।

মুযানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: শাফিঈকে এমন এক উটপাখি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যা অন্য এক ব্যক্তির রত্ন গিলে ফেলেছে। তিনি বললেন, "আমি তাকে কোনো নির্দেশ দিচ্ছি না। তবে রত্নের মালিক যদি বুদ্ধিমান হয়, তবে সে উটপাখিটির ওপর চড়াও হবে, সেটি যবেহ করবে এবং নিজের রত্ন বের করে আনবে। এরপর সে উটপাখির মালিককে জীবিত অবস্থা ও যবেহ করা অবস্থার মূল্যের পার্থক্যের জন্য ক্ষতিপূরণ দেবে।"

মুয়াম্মার ইবনে শাবিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মামুনকে মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈকে বলতে শুনেছি, "হে মুহাম্মদ, আল্লাহ মাছি কেন সৃষ্টি করেছেন?" তিনি কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে থাকলেন, তারপর বললেন, "হে আমিরুল মুমিনীন, রাজাদের লাঞ্ছিত করার জন্য।" মামুন হেসে ফেললেন এবং বললেন, "হে মুহাম্মদ, আপনি কি দেখেছেন যে মাছিটি আমার গালে এসে বসেছিল?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ হে আমিরুল মুমিনীন। আপনি যখন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তখন আমার কাছে উত্তর ছিল না। কিন্তু যখন দেখলাম মাছিটি এমন এক জায়গায় বসেছে যেখানে কেউ পৌঁছাতে পারে না, তখন আমার মস্তিষ্কে এই উত্তরটি উদ্ভাসিত হলো।"

তখন তিনি (মামুন) বললেন, "সাবাশ মুহাম্মদ!"

হাফেজ ইব্রাহিম ইবনে আবু তালিব বলেন: আমি আবু কুদামা আস-সারখাসীকে শাফিঈ, আহমাদ, আবু উবাইদ এবং ইবনে রাহওয়াই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বললেন, "শাফিঈ তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ফকীহ।"

রাবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আমি শাফিঈর কাছে ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি এসে বলল, "হে আলিম! আপনি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যে শপথ করেছে—'যদি আমার আস্তিনে তিনটির বেশি দিরহাম থাকে তবে আমার গোলাম মুক্ত।' অথচ তার আস্তিনে চারটি দিরহাম ছিল।" তিনি বললেন, "তার গোলাম মুক্ত হবে না।" লোকটি জিজ্ঞেস করল, "কেন?" তিনি বললেন, "কারণ সে তার আস্তিনে থাকা দিরহামগুলোর (বহুবচন) মধ্য থেকে তিনটির অতিরিক্ত অংশটি বাদ দিয়েছে, অথচ অবশিষ্ট একটি দিরহাম তো আর দিরহামস (বহুবচন) হতে পারে না।"

তখন লোকটি বলল, "আমি তাঁর প্রতি ঈমান আনলাম যিনি আপনাকে এই জ্ঞান দান করেছেন।"
(খণ্ড: ٢) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌براعة الإمام الشافعي في التصنيف وبركة مصنفاته

براعته في التصنيف وبركة مصنفاته: الشافعي رحمه الله أول من صنف في أصول الفقه وأحكام القرآن، وقد تسابق العلماء والأكابر على اقتناء مصنفاته والاستفادة منها، وأعظم كتبه كتاب (الرسالة) وهي موجودة الآن بتحقيق أحمد شاكر، وأسلوب الرسالة في غاية السهولة واليسر والفصاحة، فهي على سهولة لفظها كثيرة المعاني عظيمة المباني، شاهدة برجاحة عقله وكمال بصيرته.

وعن أبي ثور قال: كتب عبد الرحمن بن مهدي إلى الشافعي وهو شاب أن يضع له كتاباً فيه معاني القرآن والأخبار وحجة الإجماع والناسخ والمنسوخ من القرآن والسنة، فوضع له كتاب (الرسالة).

قال عبد الرحمن بن مهدي: ما أصلي صلاة إلا وأدعو للشافعي فيها.

وعن المزني قال: قرأت كتاب الرسالة للشافعي (500) مرة، ما من مرة منها إلا واستفدت منها فائدة جديدة لم أستفدها في الأخرى.

والمفروض أن طالب العلم يقرأ كتب العلم في كل فترة من أجل أن يستفيد أكثر وأكثر.

وعن محمد بن مسلم بن واره قال: قدمت من مصر فأتيت أبا عبد الله أحمد بن حنبل أسلم عليه فقال: كتبت كتب الشافعي قلت: لا، قال: فرطت، ما علمنا المجمل من المفصل، ولا ناسخ حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم من منسوخه حتى جالسنا الشافعي قال: فحملني ذلك إلى أن رجعت إلى مصر وكتبتها ثم قدمت.

وعن أحمد بن مسلمة النيسابوري قال: تزوج إسحاق بن راهويه بمرو بامرأة رجل بعد وفاته عنده كتب الشافعي من أجل كتب الشافعي؛ لأن الكتب لم تكن متوفرة كما هو الآن، فوضع جامعه الكبير على كتاب الشافعي، ووضع جامعه الصغير على جامع الثوري الصغير.

وقال أبو بكر الصومعي: سمعت أحمد بن حنبل يقول: صاحب الحديث لا يشبع من كتب الشافعي.

وقال الجاحظ: نظرت في كتب هؤلاء النبغة الذين نبغوا في العلم فلم أر أحسن تأليفاً من المطلبي، كأن لسانه ينظم الدرر.

قال العلامة أحمد شاكر: فكتبه كلها مثل رائعة من الأدب العربي النقي، في الذروة العليا من البلاغة، يكتب على سجيته وعلى فطرته ولا يتكلف ولا يتصنع، أفصح نثر تقرؤه بعد القرآن والحديث، لا يساميه قائل، ولا يدانيه كاتب.

وعن الربيع قال: سمعت الشافعي يقول: أريت في المنام كأن آتياً أتاني فحمل كتبي وبثها في الهواء فتطايرت، فاستعبرت بعض المعبرين فقال: إن صدقت رؤياك لم يبق بلد من بلاد الإسلام إلا ودخله علمك.
ইমাম শাফেয়ীর গ্রন্থ রচনার নিপুণতা ও তাঁর রচনাবলির বরকত

গ্রন্থ রচনায় তাঁর নিপুণতা ও তাঁর রচনাবলির বরকত: শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি উসুলুল ফিকহ এবং আহকামুল কুরআন বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। আলেম এবং মনিষীরা তাঁর রচনাবলি সংগ্রহ করতে এবং তা থেকে উপকৃত হতে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হলো 'আর-রিসালাহ', যা বর্তমানে আহমাদ শাকিরের সম্পাদনায় বিদ্যমান। 'আর-রিসালাহ'-এর শৈলী অত্যন্ত সহজ, সাবলীল ও প্রাঞ্জল। এটি শব্দের দিক থেকে সহজ হওয়া সত্ত্বেও অর্থে ভরপুর এবং গঠনে সুমহান, যা তাঁর উন্নত বুদ্ধি ও পূর্ণ অন্তর্দৃষ্টির সাক্ষ্য দেয়।

আবু সাওর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী যুবক থাকাকালীন শাফেয়ীর কাছে লিখেছিলেন যেন তিনি তাঁর জন্য এমন একটি কিতাব রচনা করেন যাতে কুরআনের অর্থ, হাদীস, ইজমার দলিল এবং কুরআন ও সুন্নাহর নাসিখ ও মানসুখ (রহিত ও রহিতকারী) বিষয়গুলো থাকে। তখন তিনি তাঁর জন্য 'আর-রিসালাহ' কিতাবটি রচনা করেন।

আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী বলেন: আমি এমন কোনো সালাত আদায় করি না যাতে শাফেয়ীর জন্য দোয়া করি না।

মুযানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি শাফেয়ীর 'আর-রিসালাহ' কিতাবটি ৫০০ বার পড়েছি। প্রত্যেকবারই আমি তা থেকে এমন নতুন ফায়দা বা শিক্ষা লাভ করেছি যা অন্যবার লাভ করিনি।

আর ইলম অন্বেষণকারীর উচিত নির্দিষ্ট সময় অন্তর ইলমি কিতাবসমূহ পাঠ করা, যাতে সে আরও বেশি উপকৃত হতে পারে।

মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে ওয়ারা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মিসর থেকে ফিরে আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বলের কাছে তাঁকে সালাম দিতে গেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি শাফেয়ীর কিতাবগুলো লিখেছ? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তুমি অবহেলা করেছ; শাফেয়ীর মজলিসে বসার আগ পর্যন্ত আমরা 'মুজমাল' (সংক্ষিপ্ত) ও 'মুফাসসাল' (বিস্তারিত) এর পার্থক্য বুঝতাম না, আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসের নাসিখ ও মানসুখ চিনতাম না। বর্ণনাকারী বলেন: তাঁর এই কথা আমাকে পুনরায় মিসরে ফিরে যেতে উদ্বুদ্ধ করল এবং আমি সেগুলো লিখে নিয়ে ফিরে এলাম।

আহমাদ ইবনে মাসলামা নিশাপুরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে রাহওয়াই মার্ভ শহরে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলেন শুধু সেই ব্যক্তির কাছে থাকা শাফেয়ীর কিতাবগুলোর খাতিরে। কারণ তখন কিতাব এখনকার মতো সহজলভ্য ছিল না। এরপর তিনি তাঁর 'জামে কাবীর' শাফেয়ীর কিতাবের ওপর ভিত্তি করে এবং তাঁর 'জামে সাগীর' সাওরির 'জামে সাগীর'-এর ওপর ভিত্তি করে বিন্যাস করেছিলেন।

আবু বকর সাওমায়ী বলেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: হাদীস অন্বেষণকারী শাফেয়ীর কিতাব পড়ে কখনো তৃপ্ত হয় না।

জাহিজ বলেন: আমি ঐ সকল প্রতিভাবানদের কিতাব দেখেছি যারা ইলমের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, কিন্তু আমি মুত্তালিবী (শাফেয়ী)-এর চেয়ে উত্তম রচনা দেখিনি; মনে হয় যেন তাঁর জবান মুক্তো গাঁথছে।

আল্লামা আহমাদ শাকির বলেন: তাঁর কিতাবগুলোর সবগুলোই বিশুদ্ধ আরবি সাহিত্যের চমৎকার উদাহরণ, যা অলঙ্কারশাস্ত্রের সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থিত। তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং প্রকৃতিগতভাবে লিখতেন, কোনো প্রকার কৃত্রিমতা বা কষ্টকল্পনা করতেন না। কুরআন ও হাদীসের পর এটিই সবচেয়ে প্রাঞ্জল গদ্য যা আপনি পাঠ করবেন। কোনো বক্তাই তাঁর সমকক্ষ হতে পারে না এবং কোনো লেখকই তাঁর ধারেকাছে পৌঁছাতে পারে না।

রবী' থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি: আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন এক ব্যক্তি আমার কাছে এল এবং আমার কিতাবগুলো নিয়ে বাতাসে ছড়িয়ে দিল, ফলে সেগুলো উড়ে ছড়িয়ে পড়ল। আমি একজন স্বপ্ন বিশারদকে এর ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: যদি আপনার স্বপ্ন সত্য হয়, তবে ইসলামের এমন কোনো দেশ বাকি থাকবে না যেখানে আপনার ইলম প্রবেশ করবে না।
(খণ্ড: ٢) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌شيوخ وتلاميذ الإمام الشافعي

شيوخه وتلامذته: قال الحافظ: روى عن مسلم بن خالد الزنجي ومالك بن أنس وإبراهيم بن سعد وسعيد بن سلمة القداح والدراوردي وعبد الوهاب الثقفي وابن علية إسماعيل بن إبراهيم -وعلية اسم أمه- وابن عيينة وأبي ضمرة وحاتم بن إسماعيل وإبراهيم بن محمد بن أبي يحيى وإسماعيل بن جعفر وغيرهم.

وروى عنه سليمان بن داود الهاشمي وأبو بكر عبد الله بن الزبير الحميدي وإبراهيم بن المنذر الحزامي وأبو ثور إبراهيم بن خالد وأحمد بن حنبل وأبو يعقوب يوسف بن يحيى البويطي وحرملة وأبو طالب وغيرهم.

وله كتب كثيرة منها كتاب (الأم) وكتاب السنن المأثورة، وكتاب الرسالة، ومسند يضم الأحاديث التي جمعها، و (اختلاف الحديث) وغير ذلك من الكتب.
ইমাম শাফিঈর শিক্ষক ও ছাত্রগণ

তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রগণ: আল-হাফিয বলেন: তিনি বর্ণনা করেছেন মুসলিম বিন খালিদ আয-যানজি, মালিক বিন আনাস, ইবরাহীম বিন সা’দ, সা’ঈদ বিন সালামাহ আল-কাদ্দাহ, আদ-দারাওয়ারদী, আবদুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী, ইবনে উলাইয়্যাহ ইসমাঈল বিন ইবরাহীম —এবং উলাইয়্যাহ তাঁর মায়ের নাম— ইবনে উয়াইনাহ, আবু দামরাহ, হাতিম বিন ইসমাঈল, ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন আবু ইয়াহইয়া, ইসমাঈল বিন জা’ফর এবং অন্যদের থেকে।

আর তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন দাউদ আল-হাশিমী, আবু বকর আবদুল্লাহ বিন আয-যুবাইর আল-হুমাইদী, ইবরাহীম বিন আল-মুনযির আল-হিযামী, আবু সাওর ইবরাহীম বিন খালিদ, আহমাদ বিন হাম্বল, আবু ইয়াকুব ইউসুফ বিন ইয়াহইয়া আল-বুওয়াইতী, হারমালাহ, আবু তালিব এবং অন্যরা।

তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কিতাবুল ‘উম্ম’, কিতাবুস সুনানিল মা’সূরাহ, কিতাবুর রিসালাহ, একটি মুসনাদ যাতে তাঁর সংগৃহীত হাদীসসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, এবং ‘ইখতিলাফুল হাদীস’ সহ অন্যান্য গ্রন্থসমূহ।
(খণ্ড: ٢) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌درر من أقوال الشافعي ونتف من أشعاره

درر من أقواله، ونتف من أشعاره: قال الشافعي: طلب العلم أفضل من صلاة النافلة.

وقال: زينة العلم الورع والحلم.

وقال: لا عيب في العلماء أقبح من رغبتهم فيما زهدهم الله فيه، وزهدهم فيما رغبهم فيه، وقال: ليس العلم ما حفظ، العلم ما نفع.

وقال: من غلبته الشهوة للدنيا لزمته العبودية لأهلها، وقال: من رضي بالقنوع زال عنه الخضوع.

وقال: لو علمت أن شرب الماء البارد ينقص مروءتي لما شربته، ولو كنت اليوم ممن يقول الشعر لرثيت المروءة.

وقال: للمروءة أربعة أركان: حسن الخلق، والسخاء، والتواضع، والنسك.

وقال: المروءة عفة الجوارح عما لا يعنيها.

وقال: ليس بأخيك من احتجت إلى مداراته.

وقال: من صدق في أخوة أخيه قبل علله، وسد خلله، وغفر زلله.

وقال: ليس سرور يعدل صحبة الإخوان، ولا غم يعدل فراقهم.

وقال: الشفاعات زكاة المروءات.

وقال: من صدق الله نجا، ومن أشفق على دينه سلم من الردى، ومن زهد في الدنيا قرت عيناه لما يراه من ثواب الله غداً.

وقال لأخ له في الله يعظه ويخوفه: يا أخي! إن الدنيا دحض مزلة، ودار مذلة، عمرانها إلى الخراب صائر، وساكنها للقبور زائر، شملها على الفرقة موقوف، وغناها إلى الفقر مصروف، والإكثار فيها إعسار، والإعسار فيها يسار، فافرغ إلى الله، وارض برزق الله تعالى، ولا تستلف من دار بقائك في دار فنائك، فإن عيشك فيء زائل، وجدار مائل، أكثر من عملك، وقصر من أملك.

وقال: الشعر حسنه كحسن الكلام، وقبيحه كقبيح الكلام، غير أنه كلام باق سائر، فذلك فضله على سائر الكلام.

ودخل رجل عليه وهو مستلق على ظهره فقال: إن أصحاب أبي حنيفة الفصحاء، فأنشد فقال: ولولا الشعر بالعلماء يزري لكنت اليوم أشعر من لبيد وأشجع في الوغى من كل ليث وآل مهلب وأبي يزيد وله أشعار أخرى منها: أمت مطامعي فأرحت نفسي فإن النفس ما طمعت تهون وأحييت القنوع وكان ميتاً ففي إحيائه عرضي مصون وقال: إن الطبيب بطبه ودوائه لا يستطيع دفاع مقدور القضا ما للطبيب يموت بالداء الذي قد كان يبري مثله فيما مضى هلك المداوى والمداوي والذي جلب الدواء وباعه ومن اشترى
ইমাম শাফিঈর মুক্তাতুল্য কিছু বাণী ও তাঁর কবিতার কিছু অংশ

তাঁর মুক্তাতুল্য কিছু বাণী ও কবিতার অংশবিশেষ: ইমাম শাফিঈ বলেন: ইলম অর্জন করা নফল নামাজের চেয়ে উত্তম।

তিনি বলেন: ইলমের অলঙ্কার হলো তাকওয়া ও ধৈর্য।

তিনি বলেন: আলেমদের মধ্যে এমন কোনো ত্রুটি নেই যা ওই বিষয়ের প্রতি তাদের আসক্তির চেয়েও কুরুচিপূর্ণ যেখান থেকে আল্লাহ তাঁদের বিমুখ হতে বলেছেন, আর ওই বিষয়ের প্রতি বিমুখতা যে বিষয়ে আল্লাহ তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি আরও বলেন: যা মুখস্থ করা হয় কেবল তা-ই ইলম নয়, বরং ইলম তা-ই যা উপকারে আসে।

তিনি বলেন: যাকে দুনিয়ার লালসা পরাজিত করে, তার ওপর দুনিয়াদারদের দাসত্ব আবশ্যক হয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন: যে অল্পে তুষ্টিতে সন্তুষ্ট থাকে, তার থেকে হীনম্মন্যতা দূর হয়ে যায়।

তিনি বলেন: আমি যদি জানতাম যে ঠান্ডা পানি পান করলে আমার ব্যক্তিত্ব ক্ষুণ্ণ হবে, তবে আমি তা পান করতাম না। আর আজ যদি আমি কবিতা বলতাম, তবে ব্যক্তিত্বের বিলুপ্তির ওপর শোকগাথা রচনা করতাম।

তিনি বলেন: ব্যক্তিত্বের চারটি স্তম্ভ রয়েছে: উত্তম চরিত্র, দানশীলতা, বিনয় এবং ইবাদত-বন্দেগি।

তিনি বলেন: অনর্থক কাজ থেকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে বাঁচিয়ে রাখাই হলো ব্যক্তিত্ব।

তিনি বলেন: সে তোমার প্রকৃত ভাই নয় যার সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তোমাকে লৌকিকতা বা কৃত্রিম আচরণ করতে হয়।

তিনি বলেন: যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের ভ্রাতৃত্বের ক্ষেত্রে সত্যবাদী হয়, সে তার ওজর কবুল করে, তার অভাব পূরণ করে এবং তার ভুল ক্ষমা করে।

তিনি বলেন: ভাইদের সান্নিধ্যের সমান কোনো আনন্দ নেই এবং তাদের বিচ্ছেদের সমান কোনো দুঃখ নেই।

তিনি বলেন: অন্যের জন্য সুপারিশ করা হলো ব্যক্তিত্বের জাকাত।

তিনি বলেন: যে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ থাকে সে মুক্তি পায়, যে তার দ্বীনের ব্যাপারে যত্নশীল হয় সে ধ্বংস থেকে রক্ষা পায় এবং যে দুনিয়ার প্রতি অনাগ্রহী হয় পরকালে আল্লাহর পুরস্কার দেখে তার চক্ষু শীতল হবে।

তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর এক ভাইকে নসিহত করে ও সতর্ক করে বলেন: হে আমার ভাই! নিশ্চয়ই দুনিয়া হলো স্খলন ও পদপিষ্ট হওয়ার স্থান এবং লাঞ্ছনার ঘর। এর আবাদ ধ্বংসের দিকে ধাবিত এবং এর বাসিন্দা কবরের যাত্রী। এর একত্র হওয়া বিচ্ছিন্নতার অধীন এবং এর সচ্ছলতা দারিদ্র্যের দিকে প্রত্যাবর্তিত। এতে প্রাচুর্য হলো অসচ্ছলতা এবং এর অভাব হলো সচ্ছলতা। সুতরাং তুমি আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট হও এবং মহান আল্লাহর দেওয়া রিজিকের ওপর সন্তুষ্ট থাকো। আর তোমার চিরস্থায়ী জীবনের জন্য নশ্বর দুনিয়া থেকে ঋণ নিও না। কারণ তোমার জীবন হলো বিলীন হয়ে যাওয়া ছায়া এবং হেলে পড়া প্রাচীর। সুতরাং আমল বৃদ্ধি করো এবং দুনিয়াবি প্রত্যাশা সংকুচিত করো।

তিনি বলেন: কবিতার ভালো দিক সাধারণ কথার ভালো দিকের মতোই, আর এর মন্দ দিক সাধারণ কথার মন্দ দিকের মতোই; তবে কবিতা হলো এমন এক বাণী যা স্থায়ী হয় ও সর্বত্র ছড়িয়ে যায়, আর এখানেই অন্যান্য বাণীর ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব।

জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে প্রবেশ করল যখন তিনি পিঠ ঠেকিয়ে শুয়ে ছিলেন। লোকটি বলল: ইমাম আবু হানিফার অনুসারীরা অত্যন্ত বাগ্মী। তখন তিনি আবৃত্তি করে বললেন: যদি কবিতা আলেমদের মর্যাদাহানি না করত, তবে আজ আমি লবীদ অপেক্ষা বড় কবি হতাম। আর রণাঙ্গনে আমি সকল সিংহ, মুহাল্লাব পরিবার এবং আবু ইয়াজিদ অপেক্ষা বেশি সাহসী হতাম। তাঁর আরও কিছু কবিতা হলো: আমি আমার লোভকে মিটিয়ে দিয়েছি ফলে আমার নফসকে প্রশান্তি দিয়েছি, কেননা নফস যখন লোভ করে তখন তা লাঞ্ছিত হয়। আমি অল্পে তুষ্টিকে পুনরুজ্জীবিত করেছি যখন তা মৃত ছিল, আর এর পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে আমার সম্মান সংরক্ষিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন: চিকিৎসক তার চিকিৎসা ও ঔষধ দিয়ে তাকদীরের অমোঘ সিদ্ধান্ত প্রতিরোধ করতে পারে না। চিকিৎসকের কী হলো যে, সে সেই রোগেই মারা যায় যা সে ইতিপূর্বে অন্যের ক্ষেত্রে আরোগ্য করত? রোগী মৃত্যুবরণ করেছে, চিকিৎসকও মারা গেছে, আর যে ঔষধ তৈরি করেছে, যে তা বিক্রি করেছে এবং যে তা ক্রয় করেছে—সবাই বিলীন হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ٢) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌مرض الإمام الشافعي ووفاته

مرضه رحمه الله ووفاته: قال الربيع بن سليمان: أقام الشافعي هاهنا أربع سنوات، فأملى (1500) ورقة، وخرج كتاب (الأم) (2000) ورقة، وكتاب (السنة) وأشياء كثيرة كلها في أربع سنين، وكان عليلاً شديد العلة، يكاد ربما يخرج الدم منه وهو راكب، حتى تمتلئ سراويله ومركبه وخفه.

كان عنده بواسير رحمه الله، والبواسير عندما تنزف دماً تكون متقدمة.

وعن يونس بن عبد الأعلى قال: ما رأيت أحداً لقي من السقم ما لقي الشافعي، فدخلت عليه يوماً فقال لي: يا أبا موسى! اقرأ علي ما بعد العشرين والمائة من آل عمران: {وَإِذْ غَدَوْتَ مِنْ أَهْلِكَ تُبَوِّئُ الْمُؤْمِنِينَ مَقَاعِدَ لِلْقِتَالِ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [آل عمران:121] إلى آخر السورة، وأخف القراءة، ولا تثقل.

فقرأت عليه، فلما أردت القيام قال: لا تغفل عني، فإني مكروب.

قال يونس عنى الشافعي بقراءتي بعد العشرين والمائة ما لقى النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه أو نحوه؛ ليتأسى بهم، والإنسان يتصبر بما حدث للنبي صلى الله عليه وسلم والصحابة الكرام في غزوة أحد.

وعن الربيع قال: دخل المزني على الشافعي في مرضه الذي مات فيه، فقال له: كيف أصبحت يا أستاذ؟ فقال: أصبحت من الدنيا راحلاً، ولإخواني مفارقاً، ولكأس المنية شارباً، وعلى الله تعالى وارداً، ولسوء عملي ملاقياً، ثم رمى بطرفه نحو السماء واستعبر، ثم أنشأ يقول: إليك إله الخلق أرفع رغبتي وإن كنت يا ذا المن والجود مجرما ولما قسا قلبي وضاقت مذاهبي جعلت الرجا مني لعفوك سلما تعاظمني ذنبي فلما قرنته بعفوك ربي كان عفوك أعظما ما زلت ذا عفو عن الذنب لم تزل تجود وتعفو منة وتكرما ولولاك لا يقوى بإبليس عابد فكيف وقد أغوى صفيك آدما فإن تعف عني تعف عن ذي إساءة ظلوم غشوم قاسي القلب مجرما وإن تنتقم مني فلست بآيس ولو دخلت نفسي بجرمي جهنما فجرمي عظيم من قديم وحادث وعفوك يا ذا العفو أعلى وأجسما قال الربيع بن سليمان: لما كان مع المغرب ليلة مات الشافعي قال له ابن عمه ابن يعقوب: ننزل نصلي؟ قال: تجلسون تنتظرون خروج نفسي؟ قال: فنزلنا ثم صعدنا فقلنا: صلينا أصلحك الله.

قال: نعم.

فاستسقى وكان شتاء، فقال له ابن عمه: أمزجه بالماء المسخن فقال الشافعي: لا، بل بلب السفرجل، وتوفي مع العشاء الآخرة رحمه الله.

قال الربيع بن سليمان: توفي الشافعي رحمه الله ورضي عنه ليلة الجمعة بعد المغرب وأنا عنده، ودفن يوم الجمعة بعد العصر آخر يوم من رجب، فانصرفنا من جنازته ورأينا هلال شعبان سنة (204)، وهو ابن أربع وخمسين سنة.

وعن أبي زكريا يعني: الأعرج قال: سمعت الربيع يقول: رأيت في المنام أن آدم مات، ويريدون أن يخرجوا بجنازته، فلما أصبحت سألت بعض أهل العلم عن ذلك فقال: هذا موت أعلم أهل الأرض، إن الله عز وجل علم آدم الأسماء كلها، فما كان إلا يسيراً حتى مات الشافعي رحمه الله، وغربت بذلك شمس حياته، ولكن محبة هذا الإمام وبركة علمه ومصنفاته تملأ طباق الأرض، فما من صاحب محبرة إلا وللشافعي عليه منة.

فنسأل الله تعالى أن يغفر لنا وله، وأن يمن علينا وعليه بأعلى الدرجات، والله عز وجل يغفر لنا تقصيرنا في ترجمته، وأن يمتعنا في الآخرة بصحبته، ويدخلنا وإياه فسيح جنته.

وهذا أوان ترك القلم في ترجمة هذا العلم، فالقلوب تشتاق إلى صحبته والتمتع بكمال عقله ووفور فطنته وبركة كلماته.

وصل اللهم وسلم وبارك على المبعوث رحمة للعالمين، وآل بيته الطيبين، وأصحابه الغر الميامين.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
ইমাম শাফিঈর অসুস্থতা ও মৃত্যু

তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) অসুস্থতা ও মৃত্যু: রাবী ইবনে সুলাইমান বলেন: শাফিঈ এখানে চার বছর অবস্থান করেছেন। এই সময়ে তিনি ১৫০০ পৃষ্ঠা শ্রুতিলিপি দিয়েছেন এবং ২০০০ পৃষ্ঠার 'কিতাবুল উম্ম' ও 'কিতাবুস সুন্নাহ' সহ আরও অনেক কিছু প্রকাশ করেছেন; এই সবকিছুই মাত্র চার বছরের মধ্যে। তিনি অত্যন্ত কঠিন অসুস্থতায় আক্রান্ত ছিলেন। এমনকি তিনি সওয়ারিতে থাকা অবস্থায় অনেক সময় তাঁর শরীর থেকে রক্ত ঝরত, যা তাঁর পায়জামা, সওয়ারি ও মোজা পূর্ণ করে দিত।

তাঁর অর্শ (পাইলস) রোগ ছিল, রহিমাহুল্লাহ। আর অর্শ রোগ থেকে যখন রক্তক্ষরণ হয়, তখন তা প্রকট আকার ধারণ করে।

ইউনুস ইবনে আবদিল আলা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি শাফিঈর মতো এত কষ্টদায়ক ব্যাধিতে আর কাউকে আক্রান্ত হতে দেখিনি। একদিন আমি তাঁর কাছে প্রবেশ করলে তিনি আমাকে বললেন: হে আবু মুসা! আমাকে আল-ইমরান সূরার ১২০ আয়াতের পরবর্তী অংশ থেকে পড়ে শোনাও: "আর স্মরণ করুন, যখন আপনি আপনার পরিবার-পরিজন থেকে অতি প্রত্যুষে বের হয়েছিলেন মুমিনদের যুদ্ধের অবস্থানে বিন্যস্ত করার জন্য; আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ" [আল-ইমরান: ১২১] থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত। কিরাত হালকাভাবে পড়বে, দীর্ঘ করবে না।

আমি তাঁকে পড়ে শোনালাম। যখন আমি চলে যাওয়ার জন্য দাঁড়ালাম, তিনি বললেন: আমাকে একা ছেড়ে দিও না, আমি অত্যন্ত ব্যথিত ও সংকটাপন্ন অবস্থায় আছি।

ইউনুস বলেন, শাফিঈ আমার কিরাত থেকে ১২০ আয়াতের পরবর্তী বিষয়াবলি দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের কষ্টের কথা উদ্দেশ্য করেছেন, যাতে তিনি তাঁদের কষ্টের কথা স্মরণ করে ধৈর্য ধারণ করতে পারেন। মানুষ উহুদ যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সম্মানিত সাহাবীদের সাথে যা ঘটেছিল, তা দ্বারা সান্ত্বনা লাভ করে।

রাবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুযানী শাফিঈর সেই অসুস্থতার সময় তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন যাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: হে উস্তাদ! আপনার সকাল কেমন হয়েছে? তিনি বললেন: আমি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে, ভাইদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, মৃত্যুর পেয়ালা পান করে, মহান আল্লাহর কাছে উপস্থিত হয়ে এবং আমার মন্দ আমলের মুখোমুখি হয়ে সকাল অতিবাহিত করছি। এরপর তিনি আকাশের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন এবং অশ্রু বিসর্জন দিলেন। অতঃপর আবৃত্তি করলেন: সৃষ্টি জগতের মাবুদ! আপনার কাছেই আমি আমার আকাঙ্ক্ষা পেশ করছি, যদিও আমি—হে পরম অনুগ্রহশীল ও দাতা—একজন অপরাধী। যখন আমার অন্তর কঠিন হয়ে গেল এবং আমার পথগুলো সংকীর্ণ হয়ে পড়ল, তখন আপনার ক্ষমাকে আমি আমার নাজাতের সোপান বানালাম। আমার গুনাহ আমার কাছে অনেক বড় মনে হলো, কিন্তু যখন আমি তা আপনার ক্ষমার সাথে তুলনা করলাম, তখন আপনার ক্ষমাকেই আমি অধিক মহান পেলাম। আপনি সর্বদাই পাপ ক্ষমাশীল এবং অবিরত দয়া ও মহানুভবতার মাধ্যমে অনুগ্রহ ও ক্ষমা করে যাচ্ছেন। আপনি না থাকলে কোনো ইবাদতকারী ইবলিসের সাথে পেরে উঠত না; অথচ সে তো আপনার মনোনীত বান্দা আদমকেও পথভ্রষ্ট করেছিল। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা করেন, তবে আপনি একজন অবিচারকারী, চরম অত্যাচারী, পাষাণ হৃদয় অপরাধীকে ক্ষমা করবেন। আর আপনি যদি আমার থেকে প্রতিশোধ নেন, তবে আমি নিরাশ হব না, যদিও আমার অপরাধের কারণে আমার আত্মা জাহান্নামে প্রবেশ করে। প্রাচীন ও নতুন মিলিয়ে আমার অপরাধ বিশাল, কিন্তু হে পরম ক্ষমাশীল! আপনার ক্ষমা সুউচ্চ ও মহীয়ান। রাবী ইবনে সুলাইমান বলেন: শাফিঈ যে রাতে ইন্তেকাল করেন, মাগরিবের সময় তাঁর চাচাতো ভাই ইবনে ইয়াকুব তাঁকে বললেন: আমরা কি নিচে গিয়ে সালাত আদায় করব? তিনি বললেন: তোমরা কি আমার রূহ বের হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছ? রাবী বলেন: আমরা নিচে নেমে সালাত পড়লাম, তারপর উপরে উঠে বললাম: আমরা সালাত আদায় করেছি, আল্লাহ আপনাকে সুস্থ করুন।

তিনি বললেন: হ্যাঁ।

অতঃপর তিনি পানি পান করতে চাইলেন, আর তখন ছিল শীতকাল। তাঁর চাচাতো ভাই তাঁকে বললেন: আমি কি এতে কুসুম গরম পানি মিশিয়ে দেব? শাফিঈ বললেন: না, বরং সফেদ বেদানার রস দাও। তিনি এশার ওয়াক্তে ইন্তেকাল করেন, রহিমাহুল্লাহ।

রাবী ইবনে সুলাইমান বলেন: শাফিঈ রহিমাহুল্লাহ ওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু জুমআর রাতে মাগরিবের পর ইন্তেকাল করেন এবং আমি তখন তাঁর কাছেই ছিলাম। তাঁকে জুমআর দিন আসরের পর রজব মাসের শেষ দিনে দাফন করা হয়। আমরা যখন তাঁর জানাজা থেকে ফিরছিলাম, তখন ২০৪ হিজরির শাবান মাসের চাঁদ দেখলাম। তখন তাঁর বয়স ছিল চুয়ান্ন বছর।

আবু যাকারিয়া অর্থাৎ আল-আরাজ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাবীকে বলতে শুনেছি: আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আদম মৃত্যুবরণ করেছেন এবং লোকেরা তাঁর জানাজা নিয়ে বের হতে চাচ্ছে। যখন সকাল হলো, আমি এ বিষয়ে জনৈক আলিমকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: এর অর্থ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলিমের মৃত্যু হবে; কারণ আল্লাহ তাআলা আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিয়েছিলেন। এর অল্প কিছুদিন পরেই ইমাম শাফিঈ রহিমাহুল্লাহ ইন্তেকাল করেন এবং এর মাধ্যমেই তাঁর জীবনের সূর্য অস্তমিত হয়। কিন্তু এই ইমামের ভালোবাসা এবং তাঁর ইলম ও রচনাবলীর বরকত পৃথিবীর পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে। এমন কোনো কলমধারী ব্যক্তি নেই যার ওপর শাফিঈর কোনো অনুগ্রহ নেই।

আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করেন, এবং আমাদের ও তাঁকে উচ্চ মাকাম দান করেন। মহান আল্লাহ যেন এই জীবনী আলোচনায় আমাদের ত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন, পরকালে তাঁর সান্নিধ্য দ্বারা আমাদের ধন্য করেন এবং আমাদের ও তাঁকে জান্নাতের বিশালতায় প্রবেশ করান।

আর এটাই এই মহান ব্যক্তিত্বের জীবনী থেকে কলম গুটিয়ে নেওয়ার সময়। অন্তরসমূহ তাঁর সান্নিধ্য পেতে এবং তাঁর পরিপূর্ণ বুদ্ধি, প্রখর মেধা ও তাঁর বাণীর বরকত উপভোগ করতে ব্যাকুল হয়ে থাকে।

হে আল্লাহ! বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত রাসূলের ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও সম্মানিত সাহাবীদের ওপর দুরুদ, সালাম ও বরকত নাযিল করুন।

আমাদের শেষ আহ্বান হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: -)
من أعلام السلف   (أحمد فريد)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: من أعلام السلف

المؤلف: أحمد فريد

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 21 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

সালাফদের কিছু বরেণ্য ব্যক্তিত্ব   (আহমদ ফরিদ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: সালাফদের কিছু বরেণ্য ব্যক্তিত্ব

লেখক: আহমদ ফরিদ

গ্রন্থের উৎস: ইসলামওয়েব (IslamWeb) সাইট কর্তৃক অনুলিখিত অডিও দরসসমূহ

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে، খণ্ড নম্বরটি হলো দরস নম্বর - ২১টি দরস]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ٣) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ١)
سلسلة من أعلام السلف_‌‌الإمام أبو حنيفة

الإمام أبو حنيفة من أئمة المذاهب الأربعة المتبعة، أخذ العلم عن شيوخ التابعين، وأخذ عنه جملة من علماء المسلمين الأعلام، كان ورعاً فقيهاً متبعاً للسنة المطهرة، وقد أثنى عليه علماء عصره، ابتلي بمحنة تولية القضاء من قبل المنصور فأبى، فسجن حتى مات رحمه الله تعالى.
সালাফ মনীষীদের জীবনীধারা_‌‌ইমাম আবু হানিফা

ইমাম আবু হানিফা হলেন অনুসরণীয় চার মাযহাবের ইমামদের অন্যতম। তিনি তাবিঈদের প্রখ্যাত শায়খগণের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে বহু প্রথিতযশা মুসলিম আলেম ইলম হাসিল করেছেন। তিনি অত্যন্ত পরহেযগার, বিজ্ঞ ফকিহ এবং পবিত্র সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। তাঁর সমসাময়িক যুগের উলামায়ে কেরাম তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। খলিফা আল-মনসুর কর্তৃক তাঁকে বিচারপতির পদ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়ে পরীক্ষায় ফেলা হলে তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এর ফলে তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয় এবং মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানেই বন্দী ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ٣) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٢)
‌‌بين يدي ترجمة الإمام أبي حنيفة

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً.

أما بعد: فهذه الجولة في السلسلة المباركة (من أعلام السلف) مع إمام من الأئمة الأربعة أصحاب المذاهب المتبعة، وكلهم فاضل كريم، وإنما تأخرت في إنجاز ترجمته لأمور: أولها: أن الأمور تجري بالمقادير، والذي يملك مفاتيح خزائن السماوات والأرض هو الذي يملك قلوب العباد.

ثانيها: همة البحث والتوفيق بيد الله عز وجل، نسأل الله تعالى أن يوفقنا لطاعته وأن يعرضنا لأسباب رحمته وجنته.

ثالثها: أن هذا الإمام تباينت أقوال الناس فيه تبايناً بالغاً، فمن معظم له أشد التعظيم، فمقدم له على جميع العلماء، وهم متعصبة الأحناف، وفي مقابلهم من انتقصه وطعن في حفظه وفضله.

وقد ساق الخطيب رحمه الله في ترجمته أقوال الفريقين، إلا أن أسانيد من طعن فيه الغالب عليها الضعف الشديد، وبعد تتبع سيرته، وانتقاء أبعد الروايات عن الغلو اتضحت لنا بفضل الله عز وجل الأمور، وظهر ما أخبر به الخريبي: لا يقع في أبي حنيفة إلا جاهل أو حاسد.

وإذا كان الأصل في المسلم حسن الظن، فكيف بمن شهد له علماء عصره الأثبات بالعدالة والفقه والشرف والفضل؟! وكيف بمن امتلأت قلوب المسلمين بمحبته، وشغلت الألسن بالثناء عليه، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: (تلك عاجل بشرى المؤمن)؟! فالإمام أبو حنيفة تباينت فيه أقوال الناس، فبعض الناس يرفعه فوق كل الأئمة أصحاب المذاهب الأربعة وغيرهم، وبعضهم يطعن فيه، ومع تتبع الأخبار وجد أن الذين مدحوا هذا الإمام هم الذين معهم الحق، وكما سنرى في خاتمته وفي ترجمته كيف أنه إمام عظيم من الأئمة الأربعة أصحاب المذاهب المتبعة لهم فضل وشرف، ونظن أن لهم نية حسنة؛ لأن المذاهب كانت كثيرة جداً، والعلماء كانوا كثيرين، فقد يوجد في القرية الواحدة ما يزيد على مائة عالم، ولكن الذين بقي علمهم وبقيت مذاهبهم ونقلت أخبارهم هم هؤلاء الأئمة أصحاب المذاهب الأربعة المتبعة.

قال التاج السبكي: ينبغي لك أيها المسترشد أن تسلك سبيل الأدب مع الأئمة الماضين، وألا تنظر إلى كلام بعضهم في بعض إلا إذا أتى ببرهان واضح، ثم إن قدرت على التأويل وحسن الظن فدونك، وإلا فاضرب صفحاً عما جرى بينهم؛ فإنك لم تخلق لهذا، فاشتغل بما يعنيك ودع ما لا يعنيك، ولا يزال طالب العلم عندي نبيلاً حتى يخوض فيما جرى بين السلف الماضين ويقضي لبعضهم على بعض، فإياك ثم إياك أن تصغى إلى ما اتفق بين أبي حنيفة وسفيان الثوري، أو بين مالك وابن أبي ذئب، أو بين أحمد بن صالح والنسائي أو بين أحمد والحارث بن أسد المحاسبي.

ففي كل زمن هناك شيء من تغاير العلم، ومن طبيعة البشر بين بعض العلماء، ولكنهم نسور في الفضاء ونحن أفراخ على الأرض.

وهلم جراً إلى زمن العز بن عبد السلام، والتقي ابن الصلاح؛ فإنك إذا اشتغلت بذلك خشيت عليك الهلاك، فالقوم أئمة أعلام، ولأقوالهم محامل، وربما لم تفهم بعضها، فليس لك إلا الترضي عنهم، والسكوت عما جرى بينهم، كما نقول فيما جرى بين الصحابة رضي الله عنهم.

أي: نقول بقوله تعالى: {تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُمْ مَا كَسَبْتُمْ وَلا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [البقرة:134].

وعن يحيى بن معين قال: سمعت يحيى القطان يقول: جالسنا والله أبا حنيفة وسمعنا منه، وكنت والله إذا نظرت إليه عرفت في وجهه أنه يتقي الله عز وجل.

ويحيى بن معين، هو إمام الجرح والتعديل.

وقال سفيان بن عيينة: ما قدم مكة رجل في وقتنا أكثر صلاة من أبي حنيفة.

وروى الخطيب بسنده أبياتاً مدح فيها ابن المبارك مدح فيها أبا حنيفة رحمه الله فقال: رأيت أبا حنيفة كل يوم يزيد نبالة ويزيد خيراً وينطق بالصواب ويصطفيه إذا ما قال أهل الجور جوراً يقايس ما يقايسه بلب فمن ذا يجعلون له نظيراً كفانا فقد حماد وكانت مصيبتنا به أمراً كبيراً وهو حماد بن أبي سليمان شيخ أبي حنيفة.

فرد شماتة الأعداء عنا وأبدى بعده علماً كثيراً رأيت أبا حنيفة حين يؤتى ويطلب علمه بحراً غزيراً إذا ما المشكلات تدافعتها رجال العلم كان بها بصيراً فهذا من مدح عبد الله بن المبارك إمام المسلمين لـ أبي حنيفة رحمه الله.

وبعد! فلسنا مع متعصبة الأح
ইমাম আবু হানিফার জীবনীর প্রারম্ভিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ হেদায়েত দিতে পারে না।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অত:পর: ‘সালাফদের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব’ নামক এই বরকতময় ধারাবাহিকের এই পর্বটি চার মাজহাবের অনুসরিত ইমামদের মধ্য হতে একজন ইমামকে নিয়ে। তাঁরা প্রত্যেকেই শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান। তাঁর জীবনী সম্পন্ন করতে আমার বিলম্ব হওয়ার পেছনে কিছু কারণ রয়েছে: প্রথমত, যাবতীয় বিষয় তাকদির অনুযায়ী পরিচালিত হয়। আর আসমান ও জমিনের ভাণ্ডারের চাবিকাঠি যাঁর হাতে, বান্দাদের অন্তরও তাঁরই নিয়ন্ত্রণে।

দ্বিতীয়ত: গবেষণার স্পৃহা ও তাওফিক মহান আল্লাহর হাতে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের তাঁর আনুগত্যের তাওফিক দান করেন এবং তাঁর রহমত ও জান্নাতের অছিলাসমূহ আমাদের নসিব করেন।

তৃতীয়ত: এই ইমামের ব্যাপারে মানুষের মতামতের চরম বৈচিত্র্য ও পার্থক্য রয়েছে। কেউ কেউ তাঁর প্রতি অতিশয় সম্মান প্রদর্শন করেন এবং তাঁকে সমস্ত আলেমের ঊর্ধ্বে স্থান দেন—তারা হলেন গোঁড়া হানাফী। অপরদিকে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা তাঁকে তুচ্ছজ্ঞান করে এবং তাঁর মুখস্থশক্তি ও শ্রেষ্ঠত্বের ওপর অপবাদ দেয়।

খতিব রহিমাহুল্লাহ তাঁর জীবনীতে উভয় পক্ষের বক্তব্যই উল্লেখ করেছেন। তবে যারা তাঁর সমালোচনা করেছেন, তাদের বর্ণনাসূত্রগুলোর অধিকাংশই অত্যন্ত দুর্বল। তাঁর জীবনী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করার পর এবং অতিরঞ্জন থেকে মুক্ত বর্ণনাগুলো বাছাই করার পর মহান আল্লাহর অনুগ্রহে বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে এবং আল-খুরাইবী যা বলেছিলেন তা প্রকাশিত হয়েছে যে: ‘মূর্খ অথবা হিংসুক ছাড়া কেউ আবু হানিফার সমালোচনা করে না।’

যদি একজন মুসলিমের প্রতি সুধারণা রাখাই মূল নীতি হয়ে থাকে, তবে সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে কী বলা যায়, যাঁর ন্যায়পরায়ণতা, ফিকহ, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য তাঁর যুগের নির্ভরযোগ্য আলেমগণ দিয়েছেন?! আর সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেই বা কী বলা যায়, যাঁর ভালোবাসায় মুমিনদের অন্তর পরিপূর্ণ এবং যাঁর প্রশংসায় মানুষের জিহ্বা মুখরিত? অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (তা মুমিনের জন্য দুনিয়াতে নগদ সুসংবাদ)। সুতরাং ইমাম আবু হানিফার ক্ষেত্রে মানুষের বক্তব্য ভিন্ন ভিন্ন। কেউ কেউ তাঁকে চার মাজহাবের সমস্ত ইমাম ও অন্যদের ঊর্ধ্বে তুলে ধরেন, আবার কেউ তাঁর সমালোচনা করেন। তবে খবরাখবর পর্যালোচনার পর দেখা গেছে যে, যারা এই ইমামের প্রশংসা করেছেন তারাই হকের ওপর আছেন। তাঁর জীবনের শেষাংশ এবং জীবনী থেকে আমরা দেখতে পাব যে, তিনি চার মাজহাবের অনুসরিত ইমামদের মধ্যে একজন মহান ইমাম, যাঁদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আমরা মনে করি যে তাঁদের নিয়ত ছিল নেক; কারণ তখন অনেক মাজহাব ও অসংখ্য আলেম ছিলেন। এমনকি একই গ্রামে একশ’র বেশি আলেম থাকতেন। কিন্তু যাদের ইলম ও মাজহাব টিকে আছে এবং যাদের সংবাদগুলো সংরক্ষিত হয়েছে, তারা হলেন চার মাজহাবের এই অনুসরিত ইমামগণ।

তাজ সুবকী বলেছেন: হে সত্যের সন্ধানী! তোমার উচিত পূর্ববর্তী ইমামদের প্রতি আদব বজায় রাখা। তাঁদের একজনের বিরুদ্ধে অন্যজনের মন্তব্যকে গ্রাহ্য করবে না, যতক্ষণ না তা কোনো স্পষ্ট দলিলের ভিত্তিতে হয়। এরপর যদি তুমি ব্যাখ্যার মাধ্যমে সুধারণা করতে সক্ষম হও তবে তা-ই করো। অন্যথায় তাঁদের মধ্যে যা ঘটে গেছে তা এড়িয়ে চলো; কেননা তুমি এর জন্য সৃষ্টি হওনি। তাই যা তোমার উপকারে আসবে তা নিয়ে ব্যস্ত থাকো এবং যা উপকারে আসবে না তা ত্যাগ করো। আমার দৃষ্টিতে একজন ইলম অন্বেষণকারী ততক্ষণ পর্যন্ত মর্যাদাবান থাকে, যতক্ষণ সে সালাফদের মধ্যকার বিবাদসমূহে লিপ্ত না হয় এবং একজনের ওপর অন্যজনের রায় প্রদান না করে। অতএব, আবু হানিফা ও সুফিয়ান সাওরী, অথবা মালেক ও ইবনে আবি জিব, অথবা আহমদ বিন সালেহ ও নাসায়ী, কিংবা আহমদ ও হারিস বিন আসাদ মুহাসিবীর মধ্যে যা ঘটেছিল সেদিকে কান দেওয়া থেকে সাবধান থাকো।

প্রত্যেক যুগেই আলেমদের মধ্যে জ্ঞানগত ভিন্নতা এবং মানুষের প্রকৃতিগত কিছু বিষয় থাকে। কিন্তু তাঁরা হলেন আকাশের ঈগল সদৃশ আর আমরা হচ্ছি জমিনের শাবক।

এভাবেই ইজ্জ বিন আব্দুস সালাম এবং তাকি ইবনুস সালাহ-এর যুগ পর্যন্ত। যদি তুমি এসব নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ো, তবে তোমার ধ্বংসের আশঙ্কা করি। এই ব্যক্তিবর্গ হলেন প্রখ্যাত ইমাম, আর তাঁদের বক্তব্যের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট রয়েছে, যা সম্ভবত তুমি বুঝতে পারোনি। সুতরাং তাঁদের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা এবং তাঁদের মাঝে যা ঘটেছিল সে বিষয়ে নিশ্চুপ থাকা ছাড়া তোমার আর কিছু করার নেই, যেমনটি আমরা সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের মধ্যকার ঘটনার ক্ষেত্রে বলে থাকি।

অর্থাৎ, আমরা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে বলি: {তারা একটি উম্মত যারা গত হয়ে গেছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্য, আর তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্য। তারা কী করত সে সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে না} [বাকারা: ১৩৪]।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া আল-কাত্তানকে বলতে শুনেছি: আল্লাহর কসম, আমরা আবু হানিফার মজলিসে বসেছি এবং তাঁর থেকে শুনেছি। আল্লাহর কসম, আমি যখনই তাঁর দিকে তাকাতাম, তাঁর চেহারায় বুঝতে পারতাম যে তিনি মহান আল্লাহকে ভয় করেন।

আর ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন হলেন জারহ ও তাদিলের ইমাম।

সুফিয়ান বিন উয়াইনা বলেন: আমাদের সময়ে মক্কায় আবু হানিফার চেয়ে বেশি নামাজ আদায়কারী আর কোনো ব্যক্তি আসেননি।

খতিব তাঁর বর্ণনাসূত্রে কিছু কবিতা বর্ণনা করেছেন যাতে ইবনুল মোবারক আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ-এর প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন: আমি আবু হানিফাকে দেখেছি, প্রতিদিন তাঁর মর্যাদা ও কল্যাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি সঠিক কথা বলেন এবং সত্যকে গ্রহণ করেন। যখন অন্যায়ের অনুসারীরা অন্যায় কথা বলে, তিনি তা থেকে বিমুখ থাকেন। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেন। তাঁর সমকক্ষ আর কাকে ধরা যায়? হাম্মাদের মৃত্যু আমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল এবং তাঁর বিয়োগ আমাদের জন্য বড় মুসিবত ছিল—তিনি হলেন আবু হানিফার শিক্ষক হাম্মাদ বিন আবি সুলাইমান।

তিনি শত্রুদের উপহাস আমাদের থেকে দূর করে দিয়েছেন এবং হাম্মাদের পরে প্রচুর ইলম প্রকাশ করেছেন। আমি যখনই আবু হানিফাকে দেখেছি, তাঁর কাছে ইলম অন্বেষণ করা হতো, আমি তাঁকে এক বিশাল সমুদ্র হিসেবে পেয়েছি। যখন জটিল সমস্যাগুলো আলেমদের কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিত, তখন তিনি সে বিষয়ে গভীর অন্তর্দৃষ্টি রাখতেন। এটি ছিল মুসলিমদের ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মোবারকের পক্ষ হতে আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ-এর প্রশংসা।

অত:পর! আমরা গোঁড়া হানাফী-
(খণ্ড: ٣) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌التعريف بالإمام أبي حنيفة

اسمه ومولده وصفته: اسمه: النعمان بن ثابت بن زوطي التيمي الكوفي مولى بني تيم بن ثعلبة، وقيل: سبب تكنيته بـ أبي حنيفة ملازمته للدواة المسماة حنيفة بلغة العراق ولاجتهاده في طلب العلم، فـ أبو حنيفة كنية وليست اسماً.

مولده: ولد سنة (80) بالكوفة في خلافة عبد الملك بن مروان، في حياة صغار الصحابة، ورأى أنس بن مالك لما قدم عليهم الكوفة، ولم يثبت له حرف عن أحد من الصحابة.

فـ أبو حنيفة يعتبر من صغار التابعين، وهو في طبقة الأعمش، ولذلك يقول أبو حنيفة: إذا جاء الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فعلى العين والرأس، وإن جاء عن الصحابة فعلى العين والرأس، وإن جاء عن التابعين فنحن رجال وهم رجال.

صفته: قال أبو يوسف رحمه الله: كان ربعة -يعني: ليس طويلاً ولا قصيراً- من أحسن الناس صورة، وأبلغهم نطقاً، وأكملهم إيراداً، وأحلاهم نغمة، وأبينهم حجة على من يريد.

وقال حماد ولده: كان طويلاً -يعني: يميل إلى الطول أكثر منه إلى القصر- يعلوه سمرة، جميلاً حسن الوجه، هيوباً لا يتكلم إلا جواباً، ولا يخوض فيما لا يعنيه.

وقال أحمد بن حجر الهيتمي: ولا تنافي بين كونه ربعة وبين كونه طويلاً؛ لأنه قد يكون مع كونه ربعة أقرب إلى الطول.

وقال ابن المبارك: كان حسن الوجه، حسن الثياب.

وكان تاجراً فهو كثير المال.

وقال عبد الرحمن بن محمد بن المغيرة: رأيت أبا حنيفة شيخاً يفتي الناس بمسجد الكوفة على رأسه قلنسوة سوداء طويلة.
ইমাম আবু হানিফার পরিচিতি

তাঁর নাম, জন্ম ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য: নাম: নুমান ইবনে সাবিত ইবনে জুতি আত-তাইমি আল-কুফি, তিনি বনু তাইম ইবনে সালাবার আযাদকৃত দাস ছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর উপনাম আবু হানিফা হওয়ার কারণ হলো ইরাকি ভাষায় 'হানিফা' নামক দোয়াতের প্রতি তাঁর সার্বক্ষণিক আসক্তি এবং ইলম অন্বেষণে তাঁর কঠোর সাধনা। সুতরাং আবু হানিফা একটি উপনাম মাত্র, এটি কোনো নাম নয়।

জন্ম: তিনি ৮০ হিজরি সনে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের খিলাফতকালে কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। তখন কনিষ্ঠ সাহাবীগণ জীবিত ছিলেন। আনাস ইবনে মালিক যখন কুফায় আসতেন, তখন তিনি তাঁকে দেখেছিলেন। তবে কোনো সাহাবী থেকে তাঁর কোনো একটি শব্দও বর্ণনা হিসেবে প্রমাণিত নয়।

আবু হানিফাকে কনিষ্ঠ তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় এবং তিনি আল-আ’মাশ-এর সমপর্যায়ের। এজন্যই আবু হানিফা বলতেন: যখন রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে কোনো হাদিস আসে, তখন তা শিরোধার্য। আর যখন সাহাবীগণ থেকে কোনো বর্ণনা আসে, তখনও তা শিরোধার্য। কিন্তু যখন তাবেয়ীদের থেকে কোনো বর্ণনা আসে, তখন তাঁরাও পুরুষ (পণ্ডিত) আর আমরাও পুরুষ (পণ্ডিত)।

শারীরিক বৈশিষ্ট্য: আবু ইউসুফ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: তিনি ছিলেন মাঝারি গড়নের—অর্থাৎ তিনি দীর্ঘকায়ও ছিলেন না, আবার খাটোও ছিলেন না—মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর আকৃতির অধিকারী, সবচেয়ে সাবলীল ভাষী, উপস্থাপনায় পূর্ণাঙ্গতম, সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর সম্পন্ন এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সবচেয়ে স্পষ্ট দলীল পেশকারী।

তাঁর পুত্র হাম্মাদ বলেন: তিনি দীর্ঘকায় ছিলেন—অর্থাৎ খাটোর চেয়ে দীর্ঘ হওয়ার দিকেই তাঁর শারীরিক গঠন বেশি ঝোঁকা ছিল— গাত্রবর্ণ ছিল কিছুটা শ্যামলা, তিনি ছিলেন সুন্দর ও সুশ্রী চেহারার অধিকারী, অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ ও মর্যাদাবান। উত্তর দেওয়া ছাড়া কথা বলতেন না এবং অনর্থক কোনো বিষয়ে লিপ্ত হতেন না।

আহমদ ইবনে হাজার আল-হাইতামী বলেন: তাঁর মাঝারি গড়ন হওয়া এবং দীর্ঘকায় হওয়ার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই; কারণ তিনি মাঝারি গড়নের হওয়া সত্ত্বেও উচ্চতার কাছাকাছি হতে পারেন।

ইবনুল মুবারক বলেন: তিনি সুন্দর চেহারার ও সুন্দর পোশাকের অধিকারী ছিলেন।

তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, ফলে তিনি প্রচুর সম্পদের মালিক ছিলেন।

আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল মুগীরা বলেন: আমি আবু হানিফাকে একজন প্রবীণ হিসেবে কুফার মসজিদে মানুষকে ফতোয়া দিতে দেখেছি, তাঁর মাথায় ছিল একটি লম্বা কালো টুপি।
(খণ্ড: ٣) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌ثناء العلماء على أبي حنيفة والرد على من طعن فيه

قال الفضيل بن عياض: كان أبو حنيفة رجلاً فقيهاً معروفاً بالفقه مشهوراً بالورع، واسع المال، معروفاً بالإفضال على من يطيف به، صبوراً على تعليم العلم بالليل والنهار، حسن الليل، كثير الصمت، قليل الكلام، حتى ترد مسألة في حلال أو حرام، فكان يحسن أن يدل على الحق، هارباً من مال السلطان.

وزاد ابن الصباح: وكان إذا وردت عليه مسألة فيها حديث صحيح اتبعه، وإن كان عن الصحابة والتابعين وإلا قاس وأحسن القياس.

وعن أبي بكر بن عياش قال: مات عمر بن سعيد أخو سفيان بن سعيد الثوري فأتينا نعزيه فإذا المجلس غاص بأهله، وفيهم عبد الله بن إدريس إذ أقبل أبو حنيفة في جماعة معه فلما رآه سفيان تحرك من مجلسه ثم قام فاعتنقه وأجلسه في موضعه وقعد بين يديه.

قال أبو بكر: فاغتظت عليه، يعني: كأنه كره أن يفعل سفيان ذلك بـ أبي حنيفة.

وقال ابن إدريس: ويحك ألا ترى؟ فجلسنا حتى تفرق الناس، فقلت لـ عبد الله بن إدريس: لا تقم حتى نعلم ما عنده في هذا.

يعني: أرادوا أن يسألوا سفيان الثوري عما فعله مع أبي حنيفة.

فقلت: يا أبا عبد الله! رأيتك اليوم فعلت شيئاً أنكرته وأنكره أصحابنا عليك، قال: وما هو؟ قلت: جاءك أبو حنيفة فقمت إليه وأجلسته في مجلسك وصنعت له صنيعاً بليغاً، وهذا عند أصحابنا منكر، فقال: وما أنكرت من ذاك؟ هذا رجل من العلم بمكان، فإن لم أقم لعلمه قمت لسنه، وإن لم أقم لسنه قمت لفقهه، وإن لم أقم لفقهه قمت لورعه، فأحجمني فلم يكن عندي جواب.

فالصراع كان بين مدرسة الرأي مع مدرسة الحديث.

وعن أبي وهب محمد بن مزاحم قال: سمعت عبد الله بن المبارك يقول: رأيت أعبد الناس، ورأيت أورع الناس، ورأيت أعلم الناس، ورأيت أفقه الناس، فأما أعبد الناس فـ عبد العزيز بن أبي رواد، وأما أورع الناس فـ الفضيل بن عياض، وأما أعلم الناس فـ سفيان الثوري، وأما أفقه الناس فـ أبو حنيفة، فيقصد بالفقه هنا القدرة على القياس واستنباطه للأحكام، ثم قال: ما رأيت في الفقه مثله.

وعن يحيى بن معين قال: كان أبو حنيفة ثقة لا يحدث بالحديث إلا بما يحفظه، ولا يحدث بما لا يحفظ.

وبعض الناس ضعفوه في الحديث.

وعن أبي وهب محمد بن مزاحم قال: سمعت عبد الله بن المبارك يقول: لولا أن الله أعانني بـ أبي حنيفة وسفيان لكنت كسائر الناس.

وعن الشافعي قال: قيل لـ مالك: هل رأيت أبا حنيفة؟ قال: نعم، رأيت رجلاً لو كلمك في هذه السارية أن يجعلها ذهباً لقام بحجته.

وعن قيس بن ربيع قال: كان أبو حنيفة ورعاً تقياً مفضلاً على إخوانه.

وعن شريك قال: كان أبو حنيفة طويل الصمت، كثير العقل.

وقال يزيد بن هارون: ما رأيت أحداً أحلم من أبي حنيفة.

وعن أبي معاوية الضرير قال: حب أبي حنيفة من السنة.

وقال الشافعي: الناس في الفقه عيال على أبي حنيفة.

وقال الذهبي: وكان من أذكياء بني آدم، جمع الفقه والعبادة والورع والسخاء، وكان لا يقبل جوائز الدولة.

فهذا كلام العلماء الذين مدحوا أبا حنيفة وأثنوا على علمه وفقهه وورعه وعبادته.

وقال ضرار بن صرد: سئل يزيد بن هارون أيهما أفقه الثوري أو أبو حنيفة؟ فقال: أبو حنيفة أفقه وسفيان أحفظ للحديث، فـ سفيان الثوري كان واسع العلم جداً بالحديث، فهو أمير المؤمنين في الحديث، أما الذي يستنبط ويقيس فـ أبو حنيفة فهو أفقه.

قال في هامش السير: وأما ما يؤثر عن النسائي وابن عدي من تضعيفهم لـ أبي حنيفة من جهة حفظه فهو مردود لا يعتد به في جنب توثيق أئمة الجرح والتعديل، من أمثال علي بن المديني ويحيى بن معين وشعبة وإسرائيل بن يونس ويحيى بن آدم وعبد الله بن داود الخريبي والحسن بن صالح وغيرهم، فهؤلاء كلهم معاصرون لـ أبي حنيفة أو قريبو العهد به، وهم أعلم الناس به، وأعلم من النسائي وابن عدي.

فـ النسائي متأخر عنه فقد مات سنة (303) هـ
আবু হানিফার প্রতি আলেমদের প্রশংসা এবং যারা তাঁর সমালোচনা করেছেন তাদের খণ্ডন

ফুযাইল ইবনে আইয়ায বলেন: আবু হানিফা ছিলেন একজন ফকীহ ব্যক্তি, যিনি ফিকহ শাস্ত্রের জন্য সুপরিচিত ছিলেন, তাকওয়ার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন, প্রচুর সম্পদের অধিকারী ছিলেন, তাঁর সান্নিধ্যে আসা ব্যক্তিদের প্রতি অনুগ্রহের জন্য সুপরিচিত ছিলেন, দিন-রাত ইলম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ধৈর্যশীল ছিলেন, তাঁর রাতগুলো ছিল সুন্দর, তিনি অধিক নীরব থাকতেন, কথাবার্তা কম বলতেন, যতক্ষণ না হালাল বা হারাম সংক্রান্ত কোনো মাসআলা আসত। তখন তিনি হকের পথ দেখাতে পারঙ্গম হতেন এবং সুলতানের সম্পদ থেকে দূরে থাকতেন।

ইবনুস সাব্বাহ আরও যোগ করেন: যখন তাঁর কাছে কোনো মাসআলা আসত যাতে সহীহ হাদীস বিদ্যমান, তিনি সেটি অনুসরণ করতেন। যদি সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে কোনো বর্ণনা থাকত (তবে তাও অনুসরণ করতেন), অন্যথায় তিনি কিয়াস করতেন এবং অত্যন্ত চমৎকার কিয়াস করতেন।

আবু বকর ইবনে আইয়াশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরীর ভাই উমর ইবনে সাঈদ ইন্তেকাল করলেন। আমরা তাঁকে সান্ত্বনা দিতে গেলাম। তখন মজলিস লোকে লোকারণ্য ছিল এবং সেখানে আব্দুল্লাহ ইবনে ইদরীসও উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় আবু হানিফা একদল সাথীসহ উপস্থিত হলেন। সুফিয়ান তাঁকে দেখে নিজের স্থান থেকে নড়ে উঠলেন, এরপর দাঁড়িয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করলেন এবং তাঁকে নিজের জায়গায় বসালেন ও নিজে তাঁর সামনে বসলেন।

আবু বকর বলেন: এতে আমি তাঁর (সুফিয়ানের) ওপর রাগান্বিত হলাম। অর্থাৎ: সুফিয়ান আবু হানিফার সাথে এমন আচরণ করাকে তিনি অপছন্দ করেছিলেন।

ইবনে ইদরীস বললেন: তোমার প্রতি ধিক্কার! তুমি কি দেখতে পাচ্ছ না? এরপর মানুষ চলে যাওয়া পর্যন্ত আমরা বসে রইলাম। আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ইদরীসকে বললাম: এই বিষয়ে তাঁর কাছে কী উত্তর আছে তা না জানা পর্যন্ত উঠো না।

অর্থাৎ: তারা সুফিয়ান সাওরীকে আবু হানিফার সাথে তাঁর কৃত আচরণের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাইলেন।

আমি বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ! আজ আমি আপনাকে এমন কিছু করতে দেখলাম যা আমি অপছন্দ করেছি এবং আমাদের সাথীরাও আপনার প্রতি তা অপছন্দ করেছে। তিনি বললেন: সেটি কী? আমি বললাম: আবু হানিফা আপনার কাছে এলেন, আর আপনি তাঁর জন্য উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁকে আপনার জায়গায় বসালেন ও তাঁর সাথে অত্যন্ত সম্মানজনক আচরণ করলেন, অথচ আমাদের সাথীদের কাছে এটি একটি অপছন্দনীয় বিষয়। তখন তিনি বললেন: তুমি এতে কী অপছন্দ করলে? এই ব্যক্তি ইলমের এক সুউচ্চ মাকামে আছেন। যদি আমি তাঁর ইলমের সম্মানে না দাঁড়াতাম, তবে তাঁর বয়সের সম্মানে দাঁড়াতাম; যদি বয়সের সম্মানে না দাঁড়াতাম, তবে তাঁর ফিকহের সম্মানে দাঁড়াতাম; আর যদি ফিকহের সম্মানে না দাঁড়াতাম, তবে তাঁর তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) সম্মানে দাঁড়াতাম। তাঁর এই উত্তর আমাকে স্তব্ধ করে দিল এবং আমার কাছে কোনো জবাব ছিল না।

সুতরাং এই দ্বন্দ্ব ছিল রায়পন্থী (যৌক্তিক মতামত অনুসারী) এবং হাদীসপন্থী ঘরানার মধ্যে।

আবু ওয়াহাব মুহাম্মদ ইবনে মুযাহিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি: আমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইবাদতগুজার দেখেছি, সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী দেখেছি, সবচেয়ে বড় আলেম দেখেছি এবং সবচেয়ে বড় ফকীহ দেখেছি। সবচেয়ে বড় ইবাদতগুজার হলেন আব্দুল আযীয ইবনে আবি রাওয়াদ; সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী হলেন ফুযাইল ইবনে আইয়ায; সবচেয়ে বড় আলেম হলেন সুফিয়ান সাওরী; আর সবচেয়ে বড় ফকীহ হলেন আবু হানিফা। এখানে ফিকহ বলতে তিনি কিয়াসের সক্ষমতা এবং আহকাম বা বিধান উদ্ভাবনের দক্ষতা বুঝিয়েছেন। এরপর তিনি বললেন: ফিকহ শাস্ত্রে আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হানিফা নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ছিলেন। তিনি কেবল মুখস্থ হাদীস বর্ণনা করতেন এবং যা মুখস্থ থাকত না তা বর্ণনা করতেন না।

যদিও কিছু মানুষ হাদীসের ক্ষেত্রে তাঁকে দুর্বল বলেছেন।

আবু ওয়াহাব মুহাম্মদ ইবনে মুযাহিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি: আল্লাহ যদি আবু হানিফা ও সুফিয়ানের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য না করতেন, তবে আমি সাধারণ মানুষের মতোই থাকতাম।

ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম মালেককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আপনি কি আবু হানিফাকে দেখেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি, তিনি যদি আপনাকে এই খাম্বাটি স্বর্ণের বলে প্রমাণ করতে চান, তবে তিনি তাঁর দলীল দিয়ে তা সাব্যস্ত করে ফেলবেন।

কায়েস ইবনে রাবী' থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হানিফা ছিলেন পরহেজগার, মুত্তাকী এবং তাঁর ভাইদের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল।

শারীক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হানিফা দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকতেন এবং প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন ছিলেন।

ইয়াযীদ ইবনে হারুন বলেন: আমি আবু হানিফার চেয়ে অধিক ধৈর্যশীল কাউকে দেখিনি।

আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর বলেন: আবু হানিফাকে ভালোবাসা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।

ইমাম শাফিঈ বলেন: ফিকহ শাস্ত্রে সকল মানুষ আবু হানিফার মুখাপেক্ষী।

ইমাম আয-যাহাবী বলেন: তিনি ছিলেন মানবজাতির অন্যতম মেধাবী ব্যক্তি। তিনি ফিকহ, ইবাদত, তাকওয়া ও দানশীলতার সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন এবং তিনি রাষ্ট্রীয় কোনো পুরস্কার গ্রহণ করতেন না।

এই হলো সেই সব আলেমদের বক্তব্য যারা আবু হানিফার প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর ইলম, ফিকহ, তাকওয়া ও ইবাদতের গুণগান গেয়েছেন।

যিরার ইবনে সুরদ বলেন: ইয়াযীদ ইবনে হারুনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—সুফিয়ান সাওরী এবং আবু হানিফার মধ্যে কে বড় ফকীহ? তিনি বললেন: আবু হানিফা বড় ফকীহ আর সুফিয়ান সাওরী হাদীস সংরক্ষণে অগ্রগামী। সুফিয়ান সাওরী হাদীসের ক্ষেত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন, তিনি হাদীস শাস্ত্রে 'আমীরুল মুমিনীন'। কিন্তু মাসআলা উদ্ভাবন (ইস্তিনবাত) এবং কিয়াসের ক্ষেত্রে আবু হানিফা অগ্রগামী, তাই তিনি শ্রেষ্ঠ ফকীহ।

'সিয়ার'-এর টীকায় বলা হয়েছে: নাসাঈ এবং ইবনে আদি আবু হানিফাকে তাঁর মুখস্থ রাখার ক্ষমতার দিক থেকে যে দুর্বল বলেছেন, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। কারণ ইমামুল জারহ ওয়াত তা'দীল যেমন—আলী ইবনুল মাদীনী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, শু'বা, ইসরাঈল ইবনে ইউনুস, ইয়াহইয়া ইবনে আদম, আব্দুল্লাহ ইবনে দাউদ আল-খুরাইবী, হাসান ইবনে সালিহ এবং অন্যদের দেওয়া নির্ভরযোগ্যতার (তাওসীক) সামনে এর কোনো গুরুত্ব নেই। তাঁরা সবাই আবু হানিফার সমসাময়িক বা তাঁর সমকালের নিকটবর্তী ছিলেন এবং তাঁরা তাঁর সম্পর্কে নাসাঈ ও ইবনে আদির চেয়ে অধিক অবগত ছিলেন।

কেননা নাসাঈ তাঁর অনেক পরের ব্যক্তি ছিলেন, তিনি ৩০৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ٣) মিন আ-লামিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌عبادة الإمام أبي حنيفة

عن أسد بن عمرو أن أبا حنيفة رحمه الله صلى العشاء والصبح بوضوءٍ أربعين سنة.

وعن بشر بن الوليد عن القاضي أبي يوسف قال: بينما أنا أمشي مع أبي حنيفة إذ سمعت رجلاً يقول لآخر: هذا أبو حنيفة لا ينام الليل، فقال أبو حنيفة: والله لا يتحدث عني بما لم أفعله، فكان يحيي الليل صلاة وتضرعاً ودعاءً.

وعن المثنى بن رجاء قال: جعل أبو حنيفة على نفسه إن حلف بالله صادقاً أن يتصدق بدينار، وكان إذا أنفق على عياله نفقة تصدق بمثلها.

وقال أبو عاصم النبيل: كان أبو حنيفة يسمى الوتد، لكثرة صلاته.

وعن يحيى بن عبد الحميد الحماني عن أبيه أنه صحب أبا حنيفة ستة أشهر قال: فما رأيته صلى الغداة -أي: الصبح- إلا بوضوء عشاء الآخرة، وكان يختم كل ليلة عند السحر.

وعن القاسم بن معن: أن أبا حنيفة قام ليلة يردد قوله تعالى: {بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُّ} [القمر:46] ويبكي ويتضرع إلى الفجر.

وقال الفضل بن دكين وكنيته أبو نعيم: رأيت جماعة من التابعين وغيرهم فما رأيت أحسن صلاة من أبي حنيفة، ولقد كان قبل الدخول في الصلاة يبكي ويدعو.

وقالت أم ولد لـ أبي حنيفة، وأم الولد: أمة وطأها فأنجبت له، فالولد يكون تبعاً لأبيه فيكون سيداً لا عبداً، فلو مات سيدها عتقت، وقد نهي عن بيع أمهات الأولاد.

وقالت أم ولد لـ أبي حنيفة: ما توسد فراشاً بليل منذ عرفته، وإنما كان نومه بين الظهر والعصر بالصيف، وأول الليل بمسجده في الشتاء.

وقال ابن أبي رواد: ما رأيت أصبر على الطواف والفتيا بمكة منه، إنما كان كل الليل والنهار في طلب الآخرة والنجاة، ولقد شاهدته عشر ليال فما رأيته نام بالليل ولا هدأ ساعة من نهار من طواف وصلاة أو تعليم.

وعن سفيان بن عيينة قال: ما قدم مكة رجل في وقتنا أكثر صلاة من أبي حنيفة.
ইমাম আবু হানিফার ইবাদত

আসাদ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত যে, আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) চল্লিশ বছর পর্যন্ত এশার অজু দিয়ে ফজরের নামাজ পড়েছেন।

বিশর ইবনে ওয়ালিদ থেকে বর্ণিত, তিনি কাজী আবু ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদিন আমি আবু হানিফার সাথে হাঁটছিলাম, এমতাবস্থায় আমি এক ব্যক্তিকে অন্য একজনকে বলতে শুনলাম: "ইনি আবু হানিফা, যিনি রাতে ঘুমান না।" তখন আবু হানিফা বললেন: "আল্লাহর কসম, আমার সম্পর্কে এমন কিছু বলা হবে না যা আমি করিনি।" এরপর থেকে তিনি সালাত, রোনাজারি এবং দোয়ার মাধ্যমে রাত জাগ্রত রাখতেন।

মুসান্না ইবনে রাজা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হানিফা নিজের ওপর ওয়াজিব করে নিয়েছিলেন যে, যদি তিনি আল্লাহর নামে সত্য কসমও করেন, তবে তিনি এক দিনার সদকা করবেন। আর তিনি যখন নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য কোনো অর্থ ব্যয় করতেন, তখন সমপরিমাণ অর্থ সদকাও করতেন।

আবু আসিম আন-নাবিল বলেন: অধিক সালাত আদায়ের কারণে আবু হানিফাকে 'আল-ওয়াতাদ' (খুঁটি) বলা হতো।

ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল হামিদ আল-হিমানি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ছয় মাস আবু হানিফার সাহচর্যে ছিলেন। তিনি বলেন: আমি তাকে এশার অজু ছাড়া ফজরের (অর্থাৎ সকালের) নামাজ পড়তে দেখিনি। আর তিনি প্রতি রাতে সেহরির সময় কুরআন খতম করতেন।

কাসেম ইবনে মা'ন থেকে বর্ণিত: আবু হানিফা এক রাতে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর এই বাণীটি বারবার পড়ছিলেন: {বরং কেয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময়, আর কেয়ামত হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও তিক্ত} [সূরা আল-কামার: ৪৬]। তিনি ফজর পর্যন্ত কাঁদছিলেন এবং রোনাজারি করছিলেন।

ফজল ইবনে দুকাইন—যাঁর উপনাম আবু নুয়াইম—বলেন: আমি একদল তাবেয়ী এবং অন্যান্যদের দেখেছি, তবে আবু হানিফার চেয়ে সুন্দর সালাত আর কারো দেখিনি। তিনি সালাতে প্রবেশের আগেই কাঁদতেন এবং দোয়া করতেন।

আবু হানিফার একজন উম্মু ওয়ালাদ বলেন—আর উম্মু ওয়ালাদ হলো এমন দাসী যার সাথে তার মালিক সহবাস করেছে এবং সে সন্তান প্রসব করেছে, ফলে সন্তানটি তার পিতার অনুগামী হয়ে স্বাধীন হয়, দাস থাকে না; আর যদি তার মালিক মারা যায় তবে সে মুক্ত হয়ে যায়, এবং উম্মু ওয়ালাদদের বিক্রি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে—

আবু হানিফার সেই উম্মু ওয়ালাদ বলেন: আমি তাকে চেনার পর থেকে তিনি কখনও রাতে বিছানায় পিঠ ঠেকাননি। গ্রীষ্মকালে জোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে তাঁর ঘুম হতো, আর শীতকালে রাতের প্রথম ভাগে মসজিদে তাঁর ঘুম হতো।

ইবনে আবি রাওয়াদ বলেন: মক্কায় তাওয়াফ এবং ফতোয়া প্রদানের কাজে আমি তাঁর চেয়ে ধৈর্যশীল কাউকে দেখিনি। তাঁর দিন ও রাতের পুরোটা সময় পরকাল অন্বেষণ এবং মুক্তির প্রচেষ্টায় অতিবাহিত হতো। আমি টানা দশ রাত তাঁকে পর্যবেক্ষণ করেছি; আমি দেখিনি যে তিনি রাতে ঘুমান, কিংবা দিনের কোনো মুহূর্তে তাওয়াফ, সালাত অথবা শিক্ষা দান থেকে বিরত থেকে বিশ্রাম নেন।

সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের সময়ে আবু হানিফার চেয়ে বেশি সালাত আদায়কারী অন্য কোনো ব্যক্তি মক্কায় আসেননি।