(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: -)
السيرة النبوية - راغب السرجاني   (راغب السرجاني)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: السيرة النبوية

المؤلف: راغب الحنفي راغب السرجاني

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 46درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

সীরাতুন নবী - রাগিব আল-সারজানী   (রাগিব আল-সারজানী)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


বই: সীরাতুন নবী

লেখক: রাগিব আল-হানাফী রাগিব আল-সারজানী

বইয়ের উৎস: ইসলামওয়েব নেটওয়ার্ক সাইট কর্তৃক অনুলিখনকৃত অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ৪৬টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ১)
سلسلة السيرة النبوية_‌‌السيرة وبناء الأمة

أعظم مخلوق وطئ الثرى هو محمد صلى الله عليه وسلم، وقد جعل الله عز وجل في حياته من العبر والعظات ما يجعل كل ناظر فيها يتعجب منها، ويأخذ من حياته عليه الصلاة والسلام نبراساً يستضيء به، فهو شخصية عظيمة جداً، كيف لا وهو خاتم الأنبياء والمرسلين عليه الصلاة والسلام، وكل حركة من حركاته مؤيدة بالوحي.
সীরাতুন্নবী সিরিজ_‌‌সীরাত ও জাতি গঠন

এই ধরণীর বুকে পদার্পণকারী সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর জীবনের মধ্যে এমন সব শিক্ষা ও উপদেশ নিহিত রেখেছেন যা প্রত্যেক পর্যবেক্ষককে বিস্মিত করে, এবং প্রত্যেকেই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবন থেকে এমন এক আলোকবর্তিকা গ্রহণ করে যা দ্বারা সে আলো লাভ করে। তিনি অত্যন্ত মহান এক ব্যক্তিত্ব; কেনই বা হবে না, অথচ তিনি হলেন সর্বশেষ নবী ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এবং তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ওহী দ্বারা সমর্থিত।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌عظم مكانة النبي صلى الله عليه وسلم وكبير مقامه بين الخلق

إن الحمد لله؛ نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، إنه من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

أما بعد: فها نحن اليوم مع موضوع من أهم الموضوعات في حياة المسلمين، بل في حياة الأرض بأكملها، نحن مع سيرة رجل هو أعظم رجل خلقه الله عز وجل منذ خلق آدم وإلى يوم القيامة.

الناس عادة يتفوقون في مجال ويتأخرون في آخر، لكن هذا الرجل تفوق في كل مجال، تفوق في عبادته، في معاملاته، في شجاعته، في كرمه، في حلمه، في زهده، في حكمته، في ذكائه، في تواضعه، في كل شيء، إن هذا الرجل بحق قد سبق غيره! فمع سيرة الإنسان الذي خاطبه الله عز وجل وقال له: {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم:4].

بل قد أقسم الله جل وعلا بحياة هذا الرجل فقال: {لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ} [الحجر:72].

مع سيرة الرجل الذي لن يحاسب الله عز وجل الخلائق يوم القيامة إلا عندما يشفع لهم، وكل نبي في الموقف لن يشفع حتى لأتباعه المؤمنين به إلا بعد أن يشفع هذا الرجل.

مع سيرة الرجل الذي لن ندخل الجنة إلا خلفه، ولن نروى يوم القيامة إلا من حوضه وكوثره، وهذا متوقف على معرفتنا بسيرته ونهجه، واتباعنا له فيهما، فإن صنعنا ذلك كانت لنا النجاة في الدنيا والآخرة، وإن جهلنا طريقته أو خالفناها قيل لنا: سحقاً سحقاً.

نحن أمام سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم، الماحي الذي محا الله عز وجل به الكفر، وأول من يبعث من الخلائق يوم القيامة، وحامل لواء الحمد يوم القيامة، وصاحب المقام المحمود والحوض المورود صلى الله عليه وسلم.

أمام سيرة الرجل الذي فتحت له أبواب السماء ليخترقها بجسده إلى ما بعدها، لما صعد رسول الله صلى الله عليه وسلم مع جبريل في رحلة المعراج إلى السماء وطرق الباب أجاب الملك فقال: (من؟ قال: جبريل.

قال: ومن معك؟ قال: محمد.

قال: أو أرسل إليه؟ قال: نعم) ففتح باب السماء، ودخل رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى مكان لم يدخله بشر قبل ذلك وهو حي.

نعم، هذا هو الرجل الذي وصل إلى مكان لم يصل إليه بشر، ولم يتجاوزه حتى جبريل الملك العظيم، ويصل إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم.

إنه الرجل الذي شاهد الجنة والنار بعينه لا بعقله.

ونحن هنا لا نقارن عظمة هذا الرجل صلى الله عليه وسلم بعظمة بوذا وكونفوشيوس وهتلر ولينين وستالين كما فعل صاحب كتاب الخالدون المائة، وإن كان قد جعل أعظمهم محمداً، والعجيب أنك تجد الناس فرحين بذلك الكتاب.

إن مقام هذا الرجل لا يسمح إلا بأن نضعه في مصافِّ الأنبياء عليهم الصلاة والسلام؛ في رتبة أعلى من نوح وإبراهيم وموسى وعيسى وكل أنبياء الله عز وجل عليهم الصلاة والسلام أجمعين، في مقام ضخم جداً نقارنه بالملائكة أجمعين، بملك الأرزاق، بملك البحار، بملك الجبال، بحملة العرش، بل وبجبريل عليه السلام، جبريل لما وصل إلى سدرة المنتهى لم يستطع أن يتقدم، وقال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: (لو تقدمت خطوة لاحترقت)، ولكن الرسول صلى الله عليه وسلم مكنه الله عز وجل أن يتقدم، فتقدم للقاء الله عز وجل.

إن عظم مقام هذا الرجل جعل له ذكراً خالداً، وعلى قدر هذه العظمة يجب أن يكون اهتمامنا بسيرته وحياته، وبكل دقيقة مرت من حياته الشريفة صلى الله عليه وسلم.
সৃষ্টির মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুমহান মর্যাদা ও সুউচ্চ অবস্থান

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছে হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

অতঃপর: আজ আমরা মুসলিমদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বরং সমগ্র পৃথিবীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। আমরা এমন এক মহাপুরুষের সীরাত নিয়ে আলোচনা করব, যিনি আদম সৃষ্টির সূচনা থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কর্তৃক সৃষ্ট সকল মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।

সাধারণ মানুষ সাধারণত কোনো একটি ক্ষেত্রে পারদর্শী হয় এবং অন্য ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকে, কিন্তু এই মহামানব প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তিনি তাঁর ইবাদতে, লেনদেনে, বীরত্বে, বদান্যতায়, সহনশীলতায়, দুনিয়াবিমুখতায়, প্রজ্ঞায়, বুদ্ধিমত্তায়, নম্রতায় তথা সব কিছুতেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এই মহাপুরুষ অন্য সকলকে ছাড়িয়ে গেছেন! আমরা আজ সেই মানুষের সীরাত নিয়ে আলোচনা করছি যাকে সম্বোধন করে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "আর নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।" [আল-কলম: ৪]।

এমনকি মহান আল্লাহ এই ব্যক্তির জীবনের কসম খেয়ে বলেছেন: "আপনার জীবনের শপথ, নিশ্চয়ই তারা তাদের নেশায় অন্ধ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।" [আল-হিজর: ৭২]।

আমরা সেই ব্যক্তির সীরাত নিয়ে আলোচনা করছি, কিয়ামতের দিন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ততক্ষণ পর্যন্ত সৃষ্টিজগতকে হিসাবের সম্মুখীন করবেন না যতক্ষণ না তিনি তাদের জন্য সুপারিশ করবেন। কিয়ামতের ময়দানে প্রতিটি নবী, এমনকি তাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী অনুসারীদের জন্যও সুপারিশ করবেন না যতক্ষণ না এই মহাপুরুষ সুপারিশ করবেন।

আমরা সেই ব্যক্তির সীরাত নিয়ে আলোচনা করছি যার পেছনে চলা ছাড়া আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব না এবং কিয়ামতের দিন তাঁর হাউজ ও কাউসার ছাড়া আমাদের তৃষ্ণা মিটবে না। আর এটি নির্ভর করছে তাঁর সীরাত ও আদর্শ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এবং উভয় ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণের ওপর। যদি আমরা তা করতে পারি তবেই ইহকাল ও পরকালে আমাদের মুক্তি মিলবে। আর যদি আমরা তাঁর পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকি বা তাঁর বিরোধিতা করি, তবে আমাদের বলা হবে: "দূর হও, দূর হও।"

আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের সামনে দাঁড়িয়েছি, যিনি 'আল-মাহি' (মিটিয়ে দেওয়া ব্যক্তি), যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কুফরকে মিটিয়ে দিয়েছেন। কিয়ামতের দিন সৃষ্টিজগতের মধ্যে তিনিই প্রথম পুনরুত্থিত হবেন এবং কিয়ামতের দিন তিনিই প্রশংসার পতাকাবাহী হবেন। তিনি মাকামে মাহমুদ এবং হাউজে মাওরুদে সিক্ত হওয়ার অধিকারী, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

সেই মহাপুরুষের সীরাতের সামনে, যাঁর জন্য আকাশের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করা হয়েছিল যাতে তিনি তাঁর দেহ নিয়ে এর ঊর্ধ্বে আরোহণ করতে পারেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈলের সাথে মেরাজের সফরে আকাশে আরোহণ করলেন এবং দরজায় করাঘাত করলেন, তখন ফেরেশতা উত্তর দিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: (কে? তিনি বললেন: জিবরাঈল।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মদ।

তিনি বললেন: তাঁকে কি তলব করা হয়েছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ)। তখন আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হলো এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক স্থানে প্রবেশ করলেন যেখানে ইতিপূর্বে কোনো মানুষ জীবিত অবস্থায় প্রবেশ করেনি।

হ্যাঁ, তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি এমন স্থানে পৌঁছেছেন যেখানে কোনো মানুষ পৌঁছেনি এবং এমনকি মহান ফেরেশতা জিবরাঈলও যে সীমানা অতিক্রম করতে পারেননি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে পৌঁছেছেন।

তিনি সেই ব্যক্তি যিনি নিজের চোখ দিয়ে জান্নাত ও জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করেছেন, কেবল বুদ্ধি দিয়ে নয়।

আমরা এখানে এই মহান ব্যক্তির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাহাত্ম্যকে বুদ্ধ, কনফুসিয়াস, হিটলার, লেনিন এবং স্ট্যালিনের মাহাত্ম্যের সাথে তুলনা করছি না, যেমনটি 'দ্য হান্ড্রেড' (একশ জন কালজয়ী ব্যক্তি) বইয়ের লেখক করেছেন; যদিও তিনি মুহাম্মদকে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করেছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আপনি দেখতে পাবেন মানুষ সেই বইটি নিয়ে আনন্দিত।

এই ব্যক্তির মর্যাদা কেবল নবীগণের আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম সারিতে রাখারই দাবি রাখে; বরং নূহ, ইবরাহিম, মুসা, ঈসা এবং আল্লাহর সকল নবী আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালামের চেয়ে উচ্চ স্তরে। এমন এক বিশাল মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আমরা তাঁকে তুলনা করতে পারি সকল ফেরেশতাদের সাথে, রিজিকের দায়িত্বে থাকা ফেরেশতা, সমুদ্রের দায়িত্বে থাকা ফেরেশতা, পাহাড়ের দায়িত্বে থাকা ফেরেশতা, আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণ, এমনকি জিবরাঈল আলাইহিস সালামের সাথেও। জিবরাঈল যখন সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছলেন তখন তিনি আর সামনে এগোতে পারলেন না এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: (আমি যদি এক কদমও সামনে অগ্রসর হই তবে পুড়ে ছাই হয়ে যাব), কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সামনে অগ্রসর হওয়ার সামর্থ্য দিলেন, ফলে তিনি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার সাথে সাক্ষাতের জন্য সামনে এগিয়ে গেলেন।

এই ব্যক্তির সুমহান মর্যাদা তাঁর নামকে অমর করে রেখেছে। আর এই মহানুভবতার দাবি অনুযায়ী তাঁর সীরাত ও জীবনীর প্রতি, এবং তাঁর সম্মানিত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের প্রতি আমাদের গভীর গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌حال أمة الإسلام في الوقت الحاضر

إخواني في الله! إن دراسة السيرة النبوية مهمة في كل زمان، وهي ولا شك في زماننا أهم، فحال الأمة وما أصيبت به من تصدع وتفكك وانهيار في أجزاء، وانحلال في أجزاء أخرى، ما هو إلا أزمة خطيرة تمر بها أمة الإسلام، ونجد تبايناً كبيراً بين ما وصف الله عز وجل به هذه الأمة في كتابه الكريم وبين حال الأمة الواقع الذي نراه بأعيننا، فالله عز وجل يقول في كتابه مثلاً: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} [آل عمران:110].

ويقول: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [البقرة:143].

ثم تأتي بعد ذلك لتنظر إلى واقع المسلمين وحالهم، فتجد التأخر في كل المجالات التي يجب أن تنافس أمتنا غيرها فيه، فمثلاً على الصعيد العسكري انظر إلى أي دولة إسلامية، وضع في الحسبان أن على مساحة الأمة الإسلامية أكثر من ستين دولة، تجد أن معظم الدول الإسلامية تسليحها أقل من تسليح الدول المحاربة لها.

ولأول مرة في التاريخ نسمع عن دولة تؤمر بتدمير أسلحتها بنفسها وإلا عوقبت، والدول المحيطة من دول العرب والمسلمين اعتقدت أن هذا هو الطريق الأمثل للنجاة، ثم تتتابع إليها الخطابات الحادة، والكلمات اللاذعة: ما زال هناك سلاح لم يدمر، ما زال هناك سلاح مداه طويل، ما زال هناك سلاح عند عدوك مثله ويصبح الأصل أن تدمر الدولة أسلحتها بنفسها، وإلا عوقبت.

لأول مرة في التاريخ نسمع عن دول توقع على نفسها أنها لا تنتج سلاحاً يمتلكه عدوها، بل ونفتخر بهذا الأمر، ويعلن بصيغة الفخر، وأننا نشارك في هذه المعاهدات، مع أن معظم دول الأرض عندها نفس السلاح، وتصبح منتهى أحلام المسلمين أن ينزع السلاح من إسرائيل فقط، مع أنهم يعلمون أن فرنسا وإنجلترا وأمريكا وروسيا وحتى كوريا تمتلك نفس السلاح، لكن لا ينزع السلاح من هؤلاء.

وما هذا في الحقيقة إلا تأخر عسكري رهيب لم يسبق في تاريخ المسلمين.

أما الجانب الاقتصادي فإن التأخر فيه غير مفهوم مع إمكانيات الأمة الضخمة، فأمة الإسلام مشتهرة بالبترول والمعادن والكميات الهائلة من منتجات المواد الخام، ومن سيطرتها على ممرات بحرية، ولا أحد يعرف ما سبب هذا التخلف الضخم مع كل هذه الأمور؟! كذلك يوجد تأخر علمي، بل فجوة هائلة بيننا وبين غيرنا تقدر بمئات السنين، لا أقول بعشرات السنين أو بآحاد السنين.

تأخر حتى في الوحدة، فلا تجد دولتين مسلمتين إلا وبينهما صراع ونزاع على الحدود.

وهذا أمر يشق كثيراً على النفس.

حتى في المجال الأخلاقي، نحن دائماً نقول: إن الحضارة ليست هي الأشياء المادية فقط، ليست السلاح أو المعمار أو الأموال، بل الحضارة أشياء كثيرة مجتمعة مع بعضها، ومن أهمها الأخلاق، ثم انظر إلى الأمور الأخلاقية في العالم الإسلامي، لا تسأل عن كيفية التعامل بين الجيران في البلاد الإسلامية، أو كيف يعامل الموظفون الجمهور، أو ما هي أخبار الرشوة والفساد، وأخبار الإعلام وشاشات الأفلام، والإباحية المفرطة في الأغاني والإعلانات والشوارع وفي كل مكان، حتى في أماكن العلم كالجامعات والمدارس نرى أموراً كنا نتخيل أنها لا توجد إلا في ملهى ليلي، ثم وجدناها في الجامعة، في مكان العلم، في المكان الذي يفترض أن تركز الناس فيه أكثر تركيز على رفعة هذه الأمة.
‌বর্তমান সময়ে মুসলিম উম্মাহর অবস্থা

আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে আমার ভাইয়েরা! সিরাত-উন-নবী বা নববী জীবনচরিত অধ্যয়ন করা সব সময়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, আর আমাদের বর্তমান সময়ে এটি নিঃসন্দেহে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উম্মাহর বর্তমান অবস্থা এবং এর বিভিন্ন অংশে যে অনৈক্য, বিভক্তি ও বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং অন্যান্য অংশে যে অবক্ষয় সৃষ্টি হয়েছে, তা মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি ভয়াবহ সংকট ছাড়া আর কিছুই নয়। মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র গ্রন্থে এই উম্মাহর যে বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন, তার সাথে আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান উম্মাহর বাস্তব পরিস্থিতির এক বিশাল ব্যবধান আমরা দেখতে পাই। উদাহরণস্বরূপ, মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেন: "তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো।" [আলে ইমরান: ১১০]।

তিনি আরও বলেন: "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হও এবং রসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন।" [আল-বাকারা: ১৪৩]।

অতঃপর আপনি যখন মুসলমানদের বাস্তব অবস্থা ও পরিস্থিতির দিকে তাকাবেন, তখন দেখবেন যে সমস্ত ক্ষেত্রে আমাদের উম্মাহর অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতা করা উচিত ছিল, সে সব ক্ষেত্রেই আমরা পিছিয়ে আছি। উদাহরণস্বরূপ, সামরিক ক্ষেত্রে যেকোনো মুসলিম রাষ্ট্রের দিকে তাকান—আর মনে রাখবেন যে মুসলিম উম্মাহর ভৌগোলিক পরিসরে ষাটেরও বেশি রাষ্ট্র রয়েছে—আপনি দেখতে পাবেন যে অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্রের সমরাস্ত্র তাদের প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রগুলোর তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা এমন এক রাষ্ট্রের কথা শুনছি যাকে নিজের অস্ত্র নিজেই ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়, নতুবা তাকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়। আর পার্শ্ববর্তী আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলো মনে করেছিল যে এটিই হয়তো পরিত্রাণের সর্বোত্তম পথ। এরপর তাদের প্রতি একে একে কঠোর বার্তা ও তীক্ষ্ণ বাক্যবাণ বর্ষিত হতে থাকে: 'এখনও এমন কিছু অস্ত্র আছে যা ধ্বংস করা হয়নি', 'এখনও কিছু দূরপাল্লার অস্ত্র রয়ে গেছে', 'তোমার শত্রুর কাছে যেমন অস্ত্র আছে তোমার কাছেও তেমন অস্ত্র রয়ে গেছে'। আর শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে রাষ্ট্র নিজেই নিজের অস্ত্র ধ্বংস করবে, অন্যথায় তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে—এটাই যেন এক নিয়মে পরিণত হয়েছে।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা এমন রাষ্ট্রগুলোর কথা শুনছি যারা নিজেদের ওপর এই শর্তারোপ করে স্বাক্ষর করছে যে, তারা এমন কোনো অস্ত্র তৈরি করবে না যা তাদের শত্রুর কাছে রয়েছে। এমনকি আমরা এই বিষয়টি নিয়ে গর্ব করি এবং গর্বের সাথে ঘোষণা করি যে আমরা এই সকল চুক্তিতে অংশ নিচ্ছি। অথচ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের কাছে সেই একই অস্ত্র রয়েছে। আর মুসলমানদের স্বপ্নের শেষ সীমা হয়ে দাঁড়িয়েছে কেবল ইসরায়েলকে নিরস্ত্রীকরণ করা, যদিও তারা জানে যে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, রাশিয়া এমনকি কোরিয়ার কাছেও একই ধরনের অস্ত্র রয়েছে, কিন্তু তাদের থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হয় না।

বাস্তবিক অর্থে এটি একটি ভয়াবহ সামরিক পশ্চাৎপদতা, যা মুসলমানদের ইতিহাসে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

অর্থনৈতিক দিক থেকে বিচার করলে, উম্মাহর বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই অনগ্রসরতা কোনোভাবেই বোধগম্য নয়। মুসলিম উম্মাহ পেট্রোলিয়াম, খনিজ সম্পদ, বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণের জন্য সুপরিচিত। এতসব উপাদান থাকা সত্ত্বেও এই বিশাল পশ্চাৎপদতার কারণ কী তা কেউ জানে না! একইভাবে বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রেও চরম অনগ্রসরতা রয়েছে, এমনকি আমাদের এবং অন্যদের মধ্যে কয়েক শত বছরের এক বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে; আমি কয়েক দশক বা কয়েক বছরের কথা বলছি না।

ঐক্যের ক্ষেত্রেও আমরা পিছিয়ে আছি; আপনি এমন দুটি মুসলিম রাষ্ট্র পাবেন না যাদের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে কোনো বিরোধ বা দ্বন্দ্ব নেই।

এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি বিষয়।

এমনকি নৈতিক ক্ষেত্রেও; আমরা সর্বদা বলি যে সভ্যতা কেবল বস্তুগত বিষয় নয়, এটি কেবল অস্ত্র, স্থাপত্য বা অর্থ নয়; বরং সভ্যতা হলো অনেকগুলো বিষয়ের সমষ্টি, যার মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো নৈতিকতা। অতঃপর মুসলিম বিশ্বের নৈতিক অবস্থার দিকে তাকান; মুসলিম দেশগুলোতে প্রতিবেশীদের সাথে আচরণ কেমন, কিংবা সরকারি কর্মচারীরা জনগণের সাথে কেমন ব্যবহার করে, অথবা ঘুষ ও দুর্নীতির খবর কী—তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সংবাদমাধ্যম, চলচ্চিত্র, গান, বিজ্ঞাপন ও রাস্তাঘাটে চরম অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আমরা এমন সব বিষয় দেখতে পাচ্ছি যা আমরা একসময় কেবল নাইট ক্লাবেই কল্পনা করতে পারতাম। অথচ আজ তা আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে খুঁজে পাচ্ছি—এমন এক স্থানে যেখানে জ্ঞানচর্চা হওয়ার কথা ছিল এবং যেখানকার মানুষের এই উম্মাহর উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য সবচেয়ে বেশি সচেষ্ট থাকার কথা ছিল।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌عوامل بناء الأمة وتحقيق النصر

من المؤكد أن القرآن حق لا باطل فيه، وصدق لا كذب فيه، فالقرآن يقول: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} [آل عمران:110]، ويقول: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} [البقرة:143].

فإذا كان القرآن صادقاً وحقاً، فالخلل والعيب فينا نحن عندما لم نطبق تعاليمه، ولم نطبق سنة نبينا صلى الله عليه وسلم جيداً، لذلك حصل فينا ما حصل.

وأنا مع هذا كله لا أدعوكم إلى الإحباط، ولكن أدعوكم إلى إعادة بناء الأمة الإسلامية، وترميم الصدع الكبير الذي حدث، فيها، وأقول لكم: هناك أمل كبير في إعادة البناء، بل هناك يقين في إعادة البناء، ووالله لسوف تقوم الأمة من جديد وتنهض؛ لأن هذا ما وعد الله عز وجل به، والله لا يخلف الميعاد، إن الله عز وجل يقول في كتابه: {إِنَّا لَنَنصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الأَشْهَادُ} [غافر:51]، ليس فقط يوم القيامة، بل في الحياة الدنيا أيضاً.

يقول الرسول صلى الله عليه وسلم في الحديث الشريف: (إن الله زوى لي الأرض مشارقها ومغاربها، وإن ملك أمتي سيبلغ ما زوي لي منها) فسيبلغ ملك أمة المسلمين حتماً مشارق الأرض ومغاربها، فهذا وعد ملك الملوك على لسان الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم.

لكن في مسألة اليقين لا بد من الحديث عن نقطتين عليهما محور هذه المسألة.
উম্মাহ বিনির্মাণের অনুষঙ্গ এবং বিজয় অর্জন

এটি নিশ্চিত যে কুরআন সত্য, এতে কোনো বাতিলের সংমিশ্রণ নেই; এবং এটি চিরন্তন সত্য, এতে কোনো মিথ্যা নেই। সুতরাং কুরআন বলছে: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের (কল্যাণের) জন্য বের করা হয়েছে} [আলে ইমরান: ১১০]। এবং বলছে: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি} [আল-বাকারাহ: ১৪৩]।

অতএব কুরআন যদি চিরন্তন সত্য ও হক হয়, তবে ত্রুটি ও বিচ্যুতি আমাদের মধ্যেই রয়েছে—যখন আমরা এর শিক্ষাগুলো বাস্তবায়ন করিনি এবং আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে যথাযথভাবে অনুসরণ করিনি। এই কারণেই আমাদের ভাগ্যে যা ঘটার তা ঘটেছে।

আর এই সবকিছুর সাথে আমি আপনাদের হতাশার দিকে ডাকছি না, বরং আমি আপনাদেরকে ইসলামি উম্মাহকে নতুন করে গড়ে তোলার এবং এতে যে বিশাল ফাটল সৃষ্টি হয়েছে তা মেরামতের আহ্বান জানাচ্ছি। আমি আপনাদের বলছি: পুনর্গঠনের ব্যাপারে বড় আশা রয়েছে, বরং পুনর্গঠনের বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। আল্লাহর কসম! এই উম্মাহ আবারও নতুন করে জেগে উঠবে এবং পুনরুত্থিত হবে; কারণ মহান আল্লাহ এরই ওয়াদা করেছেন, আর আল্লাহ ওয়াদা খেলাফ করেন না। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলছেন: {নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদের এবং মুমিনদেরকে দুনিয়ার জীবনে সাহায্য করব এবং সেদিনও যেদিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে} [গাফির: ৫১]। এটি শুধু কিয়ামতের দিনেই নয়, বরং দুনিয়ার জীবনেও।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীস শরীফে এরশাদ করেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার জন্য জমিনকে সংকুচিত করেছেন, ফলে আমি এর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তগুলো দেখেছি। আর আমার উম্মতের শাসন অচিরেই সেখানে পৌঁছাবে, যে পর্যন্ত আমার জন্য জমিনকে সংকুচিত করা হয়েছিল)। সুতরাং মুসলিম উম্মাহর শাসন অবশ্যই পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাবে। এটি হলো সত্যবাদী ও সত্যপ্রত্যায়িত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখে রাজাধিরাজের ওয়াদা।

তবে দৃঢ় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এমন দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা জরুরি, যা এই বিষয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌اليقين الجازم بوعد الله بالنصر

النقطة الأولى: أننا نريد يقيناً مثل يقين الصحابة رضي الله عنهم أجمعين خاصة في غزوة الأحزاب، والأحزاب متجمعة حول المدينة المنورة في عشرة آلاف رجل، وهذا رقم ضخم جداً في زمان الجزيرة العربية وقت رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ضائقة شديدة جداً، والرسول صلى الله عليه وسلم في وسط هذه الضائقة يضرب الحجر الضخم الذي استعصى على الصحابة ويقول: (الله أكبر! أعطيت مفاتيح الشام، والله! إني لأرى قصورها الحمراء الساعة، ثم ضرب الثانية وقال: الله أكبر! أعطيت مفاتيح فارس، والله! إني لأرى قصر المدائن الأبيض، ثم ضرب الثالثة وقال: الله أكبر! أعطيت مفاتيح اليمن، والله! إني لأرى قصور صنعاء من مكاني).

تخيل حال الصحابة وهم يسمعون بشرى رسول الله صلى الله عليه وسلم بفتح فارس والشام واليمن وهم في هذه الضائقة ماذا كان حالهم؟! أما المؤمنون فقد قالوا كما حكى الله عز وجل عنهم في كتابه الكريم: {وَلَمَّا رَأَى الْمُؤْمِنُونَ الأَحْزَابَ قَالُوا هَذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَمَا زَادَهُمْ إِلَّا إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا} [الأحزاب:22].

في هذه الضائقة علموا أن نصر الله عز وجل قريب؛ لأن نصر الله عز وجل يأتي بعد اشتداد الأزمات، لكن المنافقون لما شاهدوا الفجوة الواسعة بين إمكانيات المسلمين في المدينة المنورة، وبين إمكانيات الأحزاب، قالوا كما حكى الله عز وجل عنهم في كتابه الكريم: {وَإِذْ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا غُرُورًا} [الأحزاب:12]، هكذا قال المنافقون لما اعتمدوا في تقييمهم على رؤية الفجوة الواسعة الضخمة بين حال المؤمنين في هذه اللحظة وبين حال الكافرين، لم يقدروا قدر الله عز وجل، لم يقدروا عظمة الله عز وجل، لم يقدروا قوة الله عز وجل، ولما كان المنافقون لا يؤمنون كان هذا هو التقييم اللائق بهم، أما المؤمنون الصادقون الذين يعلمون قدر الله عز وجل وعظمته فقد علموا أن النصر قريب؛ لأن الأزمة اشتدت.

وها هي الأزمة قد اشتدت على الأمة الإسلامية واستحكمت حلقاتها، وسيأتي النصر إن شاء الله رب العالمين.
আল্লাহর সাহায্যের ওয়াদার ওপর সুদৃঢ় ইয়াকিন

প্রথম বিষয়: আমরা সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন)-এর ইয়াকিনের মতো ইয়াকিন চাই, বিশেষ করে আহযাব যুদ্ধের সময়কার। তখন মদিনা মুনাওয়ারার চারপাশ ঘিরে দশ হাজার সৈন্যের এক সম্মিলিত বাহিনী সমবেত হয়েছিল; যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে আরব উপদ্বীপের প্রেক্ষাপটে এক বিশাল সংখ্যা ছিল।

অত্যন্ত কঠিন এক সংকটের সময়। এই চরম সংকটের মুহূর্তে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই বিশাল পাথরে আঘাত করছিলেন যা সাহাবীগণের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল এবং তিনি বলছিলেন: (আল্লাহু আকবার! আমাকে সিরিয়ার চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর কসম! আমি এই মুহূর্তে সেখানকার লাল প্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি। এরপর তিনি দ্বিতীয়বার আঘাত করলেন এবং বললেন: আল্লাহু আকবার! আমাকে পারস্যের চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর কসম! আমি মাদায়েনের শ্বেত প্রাসাদ দেখতে পাচ্ছি। এরপর তিনি তৃতীয়বার আঘাত করলেন এবং বললেন: আল্লাহু আকবার! আমাকে ইয়েমেনের চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর কসম! আমি আমার এই স্থান থেকেই সানআর প্রাসাদসমূহ দেখতে পাচ্ছি)।

কল্পনা করুন সেই সাহাবীগণের অবস্থা, যখন তাঁরা এই চরম সংকটের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে পারস্য, সিরিয়া ও ইয়েমেন বিজয়ের সুসংবাদ শুনছিলেন! তখন তাঁদের অবস্থা কেমন ছিল? মুমিনদের ব্যাপারে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাঁর সম্মানিত কিতাবে যেমনটি বর্ণনা করেছেন, তাঁরা ঠিক তেমনই বলেছিলেন: {আর মুমিনরা যখন সম্মিলিত বাহিনীকে দেখল, তখন তারা বলে উঠল—এটিই তো তা, যার ওয়াদা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল আমাদের দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সত্য বলেছেন। আর এটি তাদের কেবল ঈমান ও আনুগত্যই বৃদ্ধি করল।} [আল-আহযাব: ২২]।

এই সংকটের মধ্যেই তাঁরা জানতেন যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জালের সাহায্য অতি নিকটে; কেননা আল্লাহর সাহায্য সংকট চরমে পৌঁছানোর পরেই আসে। কিন্তু মুনাফিকরা যখন মদিনা মুনাওয়ারায় মুসলিমদের সক্ষমতা এবং সম্মিলিত বাহিনীর সক্ষমতার মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান দেখল, তখন তারা তেমনটিই বলল যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাঁর সম্মানিত কিতাবে তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {আর যখন মুনাফিকরা ও যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা বলছিল—আল্লাহ ও তাঁর রাসুল আমাদের যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।} [আল-আহযাব: ১২]। মুনাফিকরা এমনটিই বলেছিল, কারণ তারা তাদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সেই মুহূর্তে মুমিনদের অবস্থা এবং কাফিরদের অবস্থার মধ্যকার বিশাল ব্যবধানের ওপর নির্ভর করেছিল। তারা আল্লাহ আযযা ওয়া জালের যথাযথ মর্যাদা উপলব্ধি করেনি, তারা আল্লাহর মহিমা অনুধাবন করেনি, তারা আল্লাহর শক্তি সম্পর্কে ধারণা রাখেনি। যেহেতু মুনাফিকরা বিশ্বাসী ছিল না, তাই তাদের পক্ষ থেকে এমন মূল্যায়নই ছিল স্বাভাবিক। পক্ষান্তরে সত্যবাদী মুমিনরা, যারা আল্লাহ আযযা ওয়া জালের মর্যাদা ও মহিমা সম্পর্কে অবগত ছিল, তারা জানত যে সাহায্য নিকটবর্তী; কারণ সংকট ঘনীভূত হয়েছে।

আজ ইসলামি উম্মাহর ওপরও সংকট ঘনীভূত হয়েছে এবং এর শৃঙ্খল চারপাশ থেকে শক্ত হয়ে চেপে বসেছে; ইনশাআল্লাহ রাব্বুল আলামিন, অচিরেই সাহায্য আসবে।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌الدور المنوط بكل فرد وجماعة في بناء الأمة وفق المنهج الشرعي

النقطة الثانية: ما هو دورك في بناء هذه الأمة الإسلامية؟! نحن دائماً ننتظر أناساً من الخارج تأتي لتعيد بناء الأمة الإسلامية من جديد، لكن أين الدور الذي كلفك الله عز وجل به لإعادة إعمار الأمة الإسلامية، أو لإعادة ترميم الأمة الإسلامية لكي تعود إلى الصدارة كما وصفها الله عز وجل بقوله: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} [آل عمران:110] {كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ} [المدثر:38] {وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} [الأنعام:164].

إن قصر كل الناس في أعمالهم فلن يحاسبك الله عز وجل إلا على تقصيرك أنت فقط، وهذا من عدل الله عز وجل.

كل واحد منا يريد أن يعيد بناء الأمة على طريقته، وعلى منهجه، فهناك من يقول: إن كنا نريد أن نعيد بناء الأمة الإسلامية لا بد وأن نأخذ المنهج الاشتراكي، ورغم ما استفاض من أنه منهج خطأ، إلا أن بعض الدول ما زالت مستمرة في النفاح عنه، مع أن الدول التي اخترعته قد تخلت عنه.

ثم جماعة أخرى تقول: نأخذ المنهج الرأسمالي.

وأخرى تقول: نجرب القانون الفرنسي، وأخرى الإنجليزي، وأخرى الإيطالي وهكذا نلملم من الشرق ومن الغرب، ونختلف ونتصارع ونتشاحن؛ لأننا مختلفون على المناهج، فعندما يأتي وقت الاختلاف من نحكم؟ اسمع لنصيحة رسول الله صلى الله عليه وسلم في مثل هذا الموقف، يقول صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي رواه أبو داود والترمذي وصححه عن العرباض بن سارية رضي الله عنه وأرضاه، قال: (وعظنا رسول الله صلى الله عليه وسلم موعظة بليغة، وجلت منها القلوب، وذرفت منها العيون، فقلنا: يا رسول الله! كأنها موعظة مودع، فأوصنا، قال: أوصيكم بتقوى الله، والسمع والطاعة وإن تأمر عليكم عبد، وإنه من يعش منكم فسيرى اختلافاً كثيراً)، وهذه هي المشكلة التي نحن واقعون فيها الآن، يا ترى بمنهج من نأخذ؟ نأخذ بمنهج الشرق أو الغرب!! ثم قال: (فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، عضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور؛ فإن كل بدعة ضلالة).

من هنا كانت دراسة حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ودراسة حياة الخلفاء الراشدين المهديين أمراً حتمياً لمن أراد أن يهتدي إلى الطريق الصحيح لبناء الأمة الإسلامية، ولن ينفع أن نبنيها على غير منهج رسول الله صلى الله عليه وسلم.
শরয়ী মানহাজ অনুযায়ী উম্মাহ গঠনে প্রতিটি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর অর্পিত দায়িত্ব

দ্বিতীয় পয়েন্ট: এই ইসলামী উম্মাহর পুনর্গঠনে আপনার ভূমিকা কী?! আমরা সর্বদা বাইরে থেকে আসা এমন মানুষের জন্য অপেক্ষা করি যারা এসে নতুন করে ইসলামী উম্মাহকে পুনর্গঠন করবে, কিন্তু ইসলামী উম্মাহর পুনঃনির্মাণের জন্য অথবা উম্মাহর সংস্কারের জন্য মহান আল্লাহ আপনাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা কোথায়? যাতে করে এই উম্মাহ পুনরায় শ্রেষ্ঠত্বের আসনে ফিরে যেতে পারে, যেমনটি মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে।" [আলে ইমরান: ১১০]। "প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ।" [আল-মুদ্দাসসির: ৩৮]। "আর কোনো বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।" [আল-আনআম: ১৬৪]।

যদি সকল মানুষ তাদের কর্মে অবহেলা করে, তবুও মহান আল্লাহ কেবল আপনার অবহেলার জন্যই আপনার হিসাব গ্রহণ করবেন; আর এটিই মহান আল্লাহর ইনসাফ।

আমাদের প্রত্যেকেই নিজের পদ্ধতিতে ও নিজের মানহাজ অনুযায়ী উম্মাহকে পুনর্গঠন করতে চায়। যেমন কেউ বলে: যদি আমরা ইসলামী উম্মাহকে পুনর্গঠন করতে চাই, তবে আমাদের অবশ্যই সমাজতান্ত্রিক মানহাজ গ্রহণ করতে হবে। যদিও এটি যে একটি ভুল মানহাজ তা সুপ্রতিষ্ঠিত, তবুও কিছু দেশ এখনও এর স্বপক্ষে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ যে দেশগুলো এটি উদ্ভাবন করেছিল তারাই একে বর্জন করেছে।

অতঃপর অন্য একটি দল বলে: আমরা পুঁজিবাদী মানহাজ গ্রহণ করব।

অন্য দল বলে: আমরা ফরাসি আইন পরীক্ষা করে দেখি, আবার কেউ বলে ইংরেজি, কেউ বলে ইতালীয়—এভাবে আমরা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য থেকে ধার করে জড়ো করছি। আর আমরা মতভেদ করছি, দ্বন্দ্বে লিপ্ত হচ্ছি এবং একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছি; কারণ আমরা মানহাজের ব্যাপারে মতভিন্নতায় লিপ্ত। সুতরাং যখন মতভেদের সময় উপস্থিত হয়, তখন আমরা কাকে বিচারক মানবো? এই রূপ পরিস্থিতিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নসিহত শুনুন। আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণিত এবং সহিহ হিসেবে সাব্যস্ত ইরবাজ ইবনে সারিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে এক মর্মস্পর্শী বক্তব্য প্রদান করলেন, যাতে অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো এবং চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হলো। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে এটি কোনো বিদায়কালীন নসিহত, অতএব আমাদের উপদেশ দিন। তিনি বললেন: আমি তোমাদের আল্লাহর তাকওয়া অর্জন করার এবং শোনা ও আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি, যদিও কোনো দাস তোমাদের উপর আমির নিযুক্ত হয়। আর তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে।" আর এটিই সেই সমস্যা যার মধ্যে আমরা বর্তমানে নিমজ্জিত আছি। আসলে আমরা কার মানহাজ গ্রহণ করব? আমরা কি প্রাচ্যের মানহাজ নিব নাকি পাশ্চাত্যের!! অতঃপর তিনি বললেন: "সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো, তা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়াদি থেকে বেঁচে থাকো; কেননা প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা।"

এ কারণেই যারা ইসলামী উম্মাহ পুনর্গঠনের সঠিক পথের দিশা পেতে চায়, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনী এবং হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদিনের জীবনী অধ্যয়ন করা অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মানহাজ ব্যতিরেকে অন্য কোনোভাবে উম্মাহ গঠন করা ফলপ্রসূ হবে না।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌سبب الاقتصار على ذكر بعض جوانب العهد المكي في حياة النبي صلى الله عليه وسلم

في هذه المجموعة من الدروس نتحدث عن جانب من حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو العهد المكي من السيرة النبوية، وليس الغرض من وراء هذا المجموعة استقصاء كل واقعة حدثت في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم في مكة، فهذا أمر يطول شرحه، ويعجز البيان عن وصفه لأمور:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের মক্কী যুগের কেবল কিছু দিক আলোচনার সীমাবদ্ধতার কারণ

এই পাঠমালার সিরিজে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের একটি দিক নিয়ে আলোচনা করছি, আর তা হলো সীরাতে নববীর মক্কী যুগ। এই সিরিজের উদ্দেশ্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কী জীবনের প্রতিটি ঘটনা বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান করা নয়; কারণ এটি দীর্ঘ আলোচনার বিষয় এবং বেশ কিছু কারণে এর বর্ণনা দেওয়া ভাষার সামর্থ্যের বাইরে:
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌كثرة الوقائع والتفاصيل المسجلة في حياته عليه الصلاة والسلام

الأمر الأول: أن الفترة المكية قد سجلت كل وقائعها بدقة، وبالذات منذ مبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى أن مات، كل لحظة في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم منذ أن بعث وإلى أن مات سجلت، ولم تسجل حياة إنسان على وجه الأرض بهذه الدقة، حتى دخل التسجيل إلى أدق تفاصيل حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، ولعل من حِكَمِ زواجه صلى الله عليه وسلم من عدد كبير من النساء: أن ينقلن الحكمة التي تعلمنها من حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم الشخصية الداخلية التي لا يراها غيرهن، وما هذا التسجيل الضخم الدقيق إلا لأنه صلى الله عليه وسلم قدوة كاملة، وليس بعده نبي إلى يوم القيامة، {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} [الأحزاب:21].

إذاً: نحن مطالبون باتباع رسول الله صلى الله عليه وسلم في كل خطوة من خطوات حياتنا، في رضاه وغضبه صلى الله عليه وسلم، في حزنه وسروره، وفي حله وترحاله، إذا رضي فهذا هو الموضع الذي يجب أن نرضى فيه، وإذا غضب فهذا هو الموضع الذي يجب أن نغضب فيه.
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনে নথিবদ্ধ ঘটনাবলি ও খুঁটিনাটি বিষয়ের আধিক্য

প্রথম বিষয়: মক্কী জীবনের সকল ঘটনাবলি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তি থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হওয়ার পর থেকে তাঁর ওফাত পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। পৃথিবীর বুকে অন্য কোনো মানুষের জীবন এত সূক্ষ্মভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়নি; এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়াদিও এই নথিবদ্ধকরণের আওতায় এসেছে। সম্ভবত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিক সংখ্যক নারী বিবাহের অন্যতম হিকমত বা প্রজ্ঞা ছিল এই যে, তাঁরা যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরোয়া ও অভ্যন্তরীণ জীবনের সেই শিক্ষাগুলো পৌঁছে দিতে পারেন যা তাঁরা ছাড়া অন্য কেউ দেখতে পেত না। আর এই বিশাল ও সূক্ষ্ম নথিবদ্ধকরণের কারণ হলো, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন পূর্ণাঙ্গ আদর্শ, এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। "তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে এক উত্তম আদর্শ।" [আল-আহযাব: ২১]।

সুতরাং: আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করতে আমরা আদিষ্ট; তাঁর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টিতে, তাঁর দুঃখ ও সুখে এবং তাঁর অবস্থান ও ভ্রমণে। তিনি যদি কোনো বিষয়ে সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন, তবে সেটিই সেই ক্ষেত্র যেখানে আমাদের সন্তুষ্ট হওয়া উচিত; আর তিনি যদি কোনো বিষয়ে রাগান্বিত হয়ে থাকেন, তবে সেটিই সেই ক্ষেত্র যেখানে আমাদের রাগান্বিত হওয়া উচিত।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌التنوع في حياته عليه الصلاة والسلام

الأمر الثاني الذي جعل إحصاء كل أمر في حياة الرسول صلى الله عليه وسلم أمر صعب: التنوع العجيب في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فتارة يكون مطارداً معرضاً للأذى والاضطهاد كما في حادث الهجرة، يخرج الرسول صلى الله عليه وسلم هو وأبو بكر الصديق رضي الله عنه وأرضاه فارين من أهل مكة، ورسول الله صلى الله عليه وسلم في ذلك مطلوب الرأس، وكذلك أبو بكر الصديق رضي الله عنه وأرضاه، إلى أن يصلا إلى المدينة المنورة بعد أيام من الفرار، وفي نفس سيرة هذا الرجل العظيم صلى الله عليه وسلم تجد أنه ممكنّ في الأرض، يرسل الرسائل إلى كل عظماء الأرض: من محمد صلى الله عليه وسلم إلى كسرى عظيم فارس.

من محمد صلى الله عليه وسلم إلى قيصر عظيم الروم.

إلى المقوقس عظيم مصر.

انظروا الفرق الضخم الهائل بين حالة كان يعيشها صلى الله عليه وسلم، وبين حالة أخرى عاشها ذاته، تارة تجد أنه صلى الله عليه وسلم يعاهد قوماً، وتارة يحاربهم، تارة يكون فقيراً معدماً يربط على بطنه حجرين من الجوع، ولا يوقد في بيته النار ثلاثة أهلة في شهرين، وفي وقت آخر من السيرة تجد أن هذا الرجل ذاته قد أصبح غنياً تأتيه الأموال من كل بقاع الجزيرة العربية، وينفق الأموال في سبيل الله إنفاقاً غير مسبوق، يعطي هذا مائة من الإبل، وهذا مائة من الإبل، وهذا أكثر، وهذا أقل ينفق إنفاقاً عجيباً! هذا هو نفس الرجل الذي كان يتعامل مع المشركين واليهود والنصارى والمنافقين والمؤمنين، فتارة ينتصر عليهم، وتارة يهزم.

كل تنوع ممكن يحصل في حياة أمة قد حدث في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

إذاً: هذا أمر يجعل إحصاء كل مواقف السيرة أمر صعب جداً، خصوصاً وأنت تريد أن تلاحظ كل هذه المتغيرات في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم ضمن مجموعة واحدة من الدروس.
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের বৈচিত্র্য

দ্বিতীয় যে বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের প্রতিটি ঘটনা সংকলন করা কঠিন করে তুলেছে, তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের বিস্ময়কর বৈচিত্র্য। কখনো দেখা যায় তিনি পশ্চাদ্ধাবিত হচ্ছেন এবং নির্যাতন ও নিপীড়নের সম্মুখীন হচ্ছেন, যেমনটি ঘটেছিল হিজরতের সময়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু মক্কাবাসীদের হাত থেকে বাঁচতে পলায়ন করছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ধরার জন্য পুরস্কার ঘোষিত ছিল, ঠিক তেমনি আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর ক্ষেত্রেও। বেশ কয়েক দিন পলায়নরত থাকার পর তারা মদিনা মুনাওয়ারায় পৌঁছান। আবার এই মহান ব্যক্তির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনীতেই আপনি দেখতে পাবেন যে, তিনি জমিনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি পৃথিবীর সকল প্রতাপশালী শাসকদের কাছে পত্র পাঠাচ্ছেন: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে পারস্যের সম্রাট কিসরার প্রতি।

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে রোম সম্রাট কায়সারের প্রতি।

মিশরের অধিপতি মুকাউকিসের প্রতি।

লক্ষ্য করুন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একসময় যে অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করতেন এবং পরবর্তীতে যে অবস্থায় উপনীত হয়েছেন, তার মধ্যকার বিশাল ব্যবধান। কখনো দেখা যায় তিনি কোনো জাতির সাথে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন, আবার কখনো তাদের সাথে যুদ্ধ করছেন। কখনো তিনি চরম দরিদ্র ও রিক্তহস্ত, ক্ষুধার তাড়নায় পেটে দুটি পাথর বাঁধছেন এবং দুই মাসে তিনটি চাঁদ অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও তাঁর ঘরে আগুন জ্বলেনি। আবার সীরাতের অন্য সময়ে দেখা যায় যে, সেই একই ব্যক্তি অভাবমুক্ত হয়েছেন; আরব উপদ্বীপের সব প্রান্ত থেকে তাঁর কাছে সম্পদ আসছে এবং তিনি আল্লাহর পথে নজিরবিহীনভাবে তা ব্যয় করছেন। কাউকে তিনি একশত উট দিচ্ছেন, কাউকে একশত উট দিচ্ছেন, কাউকে আরও বেশি বা কম—তিনি এক বিস্ময়করভাবে দান করছেন! ইনি সেই একই ব্যক্তি যিনি মুশরিক, ইহুদি, খ্রিস্টান, মুনাফিক এবং মুমিনদের সাথে লেনদেন ও মুয়ামালা করেছেন। কখনো তিনি তাদের ওপর বিজয়ী হয়েছেন, আবার কখনো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন।

একটি জাতির জীবনে সম্ভাব্য সকল প্রকার বৈচিত্র্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে সংঘটিত হয়েছে।

সুতরাং, এটি এমন একটি বিষয় যা সীরাতের প্রতিটি ঘটনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা অত্যন্ত কঠিন করে তোলে, বিশেষ করে যখন আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের এই সমস্ত পরিবর্তনগুলো একটি সুনির্দিষ্ট পাঠমালার অধীনে পর্যবেক্ষণ করতে চান।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌أثره صلى الله عليه وسلم في بناء الجيل الفريد الذي غير مجرى التاريخ

الأمر الثالث: أن هناك جيلاً رائعاً عظيماً عاش مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، هذا الجيل العظيم خلق أحداثاً لا نهاية لها، تعجز عشرات المجلدات عن حملها.

وهكذا الإنسان العظيم إذا عاش في مجتمع من الناس ليست لهم قيمة يضيع بينهم، لكن الرجل العظيم هو من يعيش في وسط عظماء يتفاعلون معه بصورة إيجابية في كل لحظة من لحظات الحياة، يتحركون بحمية، يفكرون بجدية، يتناقشون بفهم ووعي وإدراك، يفكرون بذكاء، وكل واحد من هؤلاء الصحابة قصة ضخمة في حد ذاته، فهذا أبو بكر مثلاً يحتاج إلى عشرات المجلدات لوصف مواقفه مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، كذلك عمر وعثمان وعلي وعائشة وحفصة وصفية، وكل المهاجرين والأنصار، آلاف من الكتب والمراجع كتبت عن هؤلاء الصحابة، وكل هذا في النهاية هو جزء من سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনকারী সেই অনন্য প্রজন্ম গঠনে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রভাব

তৃতীয় বিষয়: আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে এক চমৎকার ও মহান প্রজন্ম বসবাস করতেন; এই মহান প্রজন্ম এমন অগণিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন যা ধারণ করতে দশ দশটি খণ্ডও অক্ষম।

একজন মহান মানুষ যদি এমন এক মূল্যহীন জনসমাজে বাস করেন তবে তিনি তাদের মাঝে হারিয়ে যান; কিন্তু প্রকৃত মহান ব্যক্তি তো তিনিই, যিনি এমন সব মহৎ ব্যক্তিদের মাঝে বসবাস করেন যারা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর সাথে ইতিবাচকভাবে সাড়া দেন। তাঁরা উদ্দীপনার সাথে অগ্রসর হন, গুরুত্বের সাথে চিন্তা করেন, প্রজ্ঞা ও সচেতনতার সাথে আলোচনা করেন এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে চিন্তা করেন। এই সাহাবায়ে কেরামের প্রত্যেকেই স্বীয় সত্তায় এক একটি বিশাল ইতিহাস। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে আবু বকরের অবস্থানসমূহ বর্ণনা করতে দশ দশটি খণ্ডের প্রয়োজন। একইভাবে উমর, উসমান, আলী, আয়েশা, হাফসা ও সাফিয়া এবং সমস্ত মুহাজির ও আনসারদের কথা বলা যায়। এই সাহাবীদের সম্পর্কে হাজার হাজার কিতাব ও তথ্যসূত্র রচিত হয়েছে, আর এ সব কিছুই পরিশেষে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাতেরই অংশ।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌حياة النبي صلى الله عليه وسلم كلها أحداث عظيمة

الأمر الرابع: الأحداث العظيمة التي تحدث في حياة الناس، كلما عظم الحدث احتاج إلى دراسة وتحليل ووصف وشرح، أحياناً تمر على حياة الناس عشرات السنين دون حدث عظيم يؤثر في حياة مجموع البشر، لكن الأحداث المؤثرة تحتاج إلى تفصيل ودراسة، ممكن تجد دولة تعيش عشرات السنين دون أن تجد في حياتها حدثاً ضخماً مؤثراً.

فمثلاً عندما حدث في مصر حرب رمضان المباركة، نسأل الله عز وجل أن يعيد للمسلمين أمثالها، كم جرى لها من تحليل ودراسة رغم أنها وقعت من عقود، وإلى الآن نكتب عنها، وسيظل يكتب عنها المحللون والمؤرخون؛ لأنها حدث كبير.

كيف وحياة الرسول صلى الله عليه وسلم كلها أحداث ووقائع؟ ففي سنة (92) حدثت موقعة حربية ضخمة هي غزوة بدر، وفي (3هـ) غزوة أحد وبنو قينقاع، وفي (4هـ) بنو النضير، وفي (5هـ) الأحزاب وبنو قريظة وبنو المصطلق وهكذا هي حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وانظر كم نحتاج إلى تحاليل ودراسات.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমগ্র জীবনই মহান ঘটনাবলীতে পরিপূর্ণ

চতুর্থ বিষয়: মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া মহান ঘটনাসমূহ; ঘটনাটি যত বেশি মহান হয়, তার তত বেশি পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ, বর্ণনা ও ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে। কখনো কখনো মানুষের জীবনে কোনো বড় প্রভাববিস্তারকারী ঘটনা ছাড়াই কয়েক দশক অতিবাহিত হয়ে যায় যা মানবজাতির সামগ্রিক জীবনে কোনো প্রভাব ফেলে না, কিন্তু প্রভাববিস্তারকারী ঘটনাসমূহের বিস্তারিত বিবরণ ও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। সম্ভবত আপনি এমন একটি রাষ্ট্র খুঁজে পাবেন যেটি কোনো বড় প্রভাববিস্তারকারী ঘটনা ছাড়াই কয়েক দশক পার করে দিয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, যখন মিসরে বরকতময় রমজানের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল—আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল-এর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন মুসলিমদেরকে এর অনুরূপ বিজয় পুনরায় দান করেন—কয়েক দশক আগে সংঘটিত হওয়া সত্ত্বেও এর কতই না বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করা হয়েছে, এবং এখন পর্যন্ত আমরা এ নিয়ে লিখছি। বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদরা এ নিয়ে লিখে চলবেন; কারণ এটি একটি বিশাল ঘটনা।

তাহলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের ব্যাপারে কী বলা যায় যার পুরোটাই ছিল অসংখ্য মহান ঘটনা ও বাস্তবতায় পরিপূর্ণ? যেমন ২ হিজরিতে একটি বিশাল যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল যা ছিল বদরের যুদ্ধ, ৩ হিজরিতে উহুদের যুদ্ধ ও বনু কাইনুকা অভিযান, ৪ হিজরিতে বনু নাযীর অভিযান, ৫ হিজরিতে আহযাব (খন্দক), বনু কুরাইজা ও বনু মুসতালিক যুদ্ধ—এভাবেই অতিবাহিত হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্মচঞ্চল জীবন। সুতরাং লক্ষ্য করুন, আমাদের কত বেশি বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌قواعد في دراسة السيرة النبوية

السيرة معين لا ينضب، وفي كل زمن ينظر المفكرون في هذه السيرة يستخرجون منها الجديد، مع أن الحدث نفسه قد فكر فيه من قبل آلاف من المفكرين والمحللين، إلا أن هناك أثراً ملحوظاً من أحداث السيرة النبوية، وهدفاً كبيراً نحن نفكر فيه، وهو إعادة بناء الأمة الإسلامية بدراسة السيرة النبوية المطهرة المشرفة، وأي دراسة للسيرة سنخرج منها بفوائد، لكن نحن نريد أن نضع بعض القواعد التي لو جعلناها نصب أعيننا أثناء دراسة كل حدث سنستفيد استفادة أكبر وأعمق، وسنضع لهذا الأمر أربع قواعد، فكل حدث حاول أن تلاحظ فيه هذه القواعد، وكل موقف يمر عليك جرب أن تطبق عليه هذه القواعد.
সীরাতুন নবী অধ্যয়নের মূলনীতিসমূহ

সীরাত হলো এক অফুরন্ত প্রস্রবণ। প্রতিটি যুগে চিন্তাবিদগণ এই সীরাতের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন এবং তা থেকে নতুন নতুন তত্ত্ব আহরণ করেন। যদিও একই ঘটনা নিয়ে ইতিপূর্বে হাজারো চিন্তাবিদ ও বিশ্লেষক চিন্তা-গবেষণা করেছেন, তবুও সীরাতুন নবীর ঘটনাবলির মাঝে এক লক্ষণীয় প্রভাব বিদ্যমান এবং আমাদের সামনে একটি মহৎ লক্ষ্য রয়েছে; আর তা হলো পবিত্র ও মহিমান্বিত সীরাত অধ্যয়নের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর পুনর্গঠন। সীরাতের যেকোনো অধ্যয়ন থেকেই আমরা উপকৃত হব, তবে আমরা এমন কিছু মূলনীতি নির্ধারণ করতে চাই যা প্রতিটি ঘটনা অধ্যয়নের সময় আমাদের দৃষ্টির সামনে থাকলে আমরা আরও ব্যাপকভাবে ও গভীরভাবে উপকৃত হতে পারব। এ লক্ষ্যে আমরা চারটি মূলনীতি পেশ করব। সুতরাং প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে এই মূলনীতিগুলো লক্ষ করার চেষ্টা করুন এবং আপনার সামনে আসা প্রতিটি পরিস্থিতির ওপর এই মূলনীতিগুলো প্রয়োগ করার চেষ্টা করুন।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌السيرة النبوية المصدر الثاني للتشريع في دين الإسلام

القاعدة الأولى: أن السنة هي المصدر الثاني للتشريع في الدين الإسلامي؛ إذ المصدر الأول بلا جدال هو القرآن الكريم، والمصدر الثاني هو السنة المطهرة.

والسنة: هي كل قول أو فعل أو تقرير لرسول الله صلى الله عليه وسلم.

بمعنى: أن أي فعل فعله أحد الصحابة وأقره عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم بأن سكت عنه أو استحسنه فهو من السنة المطهرة، وليس من الممكن أن تعرف السنة من غير دراسة السيرة النبوية.

إذاً: مصادر التشريع الرئيسية هي القرآن والسنة، وهناك مصادر أخرى كثيرة، مثل: الإجماع والقياس والاستحسان والمصالح المرسلة والاستصحاب والعرف إلى مصادر كثيرة اختلف الفقهاء في ترتيبها، لكن لم يختلف أحد في أن القرآن هو المصدر الأول والسنة هي المصدر الثاني، وليس عنهما بديل.

السنة في غاية الأهمية في التشريع الإسلامي، وكذلك السيرة لا بد منها لفهم السنة في التشريع الإسلامي، يقول الله عز وجل في كتابه الكريم: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل:44]، من غير السيرة ومن غير السنة لن تستطيع أن تفهم القرآن الكريم.

عندما نمر على حدث من أحداث حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فنحن نمر على أمر من الأمور التشريعية في الدين الإسلامي لحياة المسلمين؛ لأننا ندرس في السيرة الدين، فليست دراسة السيرة مجرد شيء لطيف نقرؤه، أو نتسلى بقراءته، أو مجرد سيرة رجل عظيم، هذا هو دينك، هذا هو الذي ستقابل به الله سبحانه وتعالى وسيسألك عنه، ولو فهمت السيرة بشكل صحيح وطبقتها ستقابل ربك بوجه حسن، وبعمل صالح.

ثم أحذركم من طائفة بعضهم من المسلمين تشك في أمر السيرة النبوية، وتزعم أنها تكتفي بالقرآن الكريم، وقد تنبأ الرسول صلى الله عليه وسلم بهذه الطائفة في الحديث الذي رواه أبو داود والترمذي، يقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: (يوشك رجل منكم متكئ على أريكته يُحدث بحديث عني فيقول: بيننا وبينكم كتاب الله، فما وجدنا فيه من حلال استحللناه، وما وجدنا فيه من حرام حرمناه، ألا وإن ما حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل الذي حرم الله).

ونحن أيضاً نقول لهم: استمعوا إلى كلام الله عز وجل في القرآن الكريم الذي تؤمنون به، يقول الله عز وجل في كتابه: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء:80].

ويقول: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ} [النساء:65] أي: يحكموك أنت يا محمد {فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء:65].

ويقول سبحانه وتعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر:7].

والصحابة رضي الله عنهم ما كانوا يفرقون بين قرآن وسنة، أما لو كان أحد لا يؤمن بالقرآن أصلاً وبأوامر القرآن فلا داعي للكلام معه، إذ الأمر معه منقطع.

إذاً: فكل حدث في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم قد يكون أمراً تشريعياً، حتى وإن كان جزئياً من الدين، لا بد أن تنتبه له لكي تطبقه، وإذا لم تطبقه فلعلك أن تضل وتبعد، ثم يقال لك: سحقاً سحقاً.
সীরাতে নববী হলো ইসলাম ধর্মে বিধান প্রণয়নের দ্বিতীয় উৎস

প্রথম মূলনীতি: ইসলাম ধর্মে সুন্নাহ হলো বিধান প্রণয়নের দ্বিতীয় উৎস; কেননা কোনো বিতর্ক ছাড়াই প্রথম উৎস হলো পবিত্র কুরআন, এবং দ্বিতীয় উৎস হলো পবিত্র সুন্নাহ।

আর সুন্নাহ হলো: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিটি কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি।

অর্থাৎ: সাহাবীদের মধ্যে কেউ কোনো কাজ করলে এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ওপর চুপ থেকে অথবা সেটি পছন্দ করে সম্মতি প্রদান করলে তা পবিত্র সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত অধ্যয়ন করা ছাড়া সুন্নাহ সম্পর্কে জানা সম্ভব নয়।

সুতরাং: বিধান প্রণয়নের প্রধান উৎসসমূহ হলো কুরআন ও সুন্নাহ, এবং আরও অনেক উৎস রয়েছে যেমন: ইজমা, কিয়াস, ইস্তিহসান, মাসালিহে মুরসালা, ইস্তিসহাব এবং উরফ থেকে শুরু করে আরও অনেক উৎস যেগুলোর ক্রমবিন্যাসের ব্যাপারে ফকীহগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন, তবে কুরআন যে প্রথম উৎস এবং সুন্নাহ যে দ্বিতীয় উৎস এবং এই দুটির কোনো বিকল্প নেই—এ ব্যাপারে কেউ দ্বিমত করেননি।

ইসলামি শরীয়তে সুন্নাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ইসলামি শরীয়তে সুন্নাহকে বোঝার জন্য সীরাত অপরিহার্য। মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র গ্রন্থে বলেছেন: {আর আমি আপনার কাছে যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে} [আন-নাহল: ৪৪]। সীরাত এবং সুন্নাহ ব্যতীত আপনি পবিত্র কুরআন বুঝতে সক্ষম হবেন না।

আমরা যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের কোনো ঘটনার মধ্য দিয়ে যাই, তখন আমরা মুসলিমদের জীবনের জন্য ইসলাম ধর্মের বিধানগত বিষয়গুলোর কোনো একটির মধ্য দিয়েই অতিবাহিত হই; কারণ আমরা সীরাতের মধ্যে দ্বীনই অধ্যয়ন করি। সীরাত অধ্যয়ন করা কেবল পড়ার মতো কোনো সুন্দর জিনিস নয়, অথবা কেবল পড়ার মাধ্যমে আনন্দ পাওয়ার বিষয় নয়, কিংবা নিছক একজন মহান ব্যক্তির জীবনীও নয়; বরং এটি আপনার দ্বীন বা ধর্ম, এটি নিয়েই আপনি মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবেন এবং তিনি আপনাকে এ সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করবেন। আপনি যদি সীরাত সঠিকভাবে বুঝতে পারেন এবং তা অনুসরণ করেন, তবে আপনি আপনার রবের সাথে সুন্দর চেহারা ও সৎ আমল নিয়ে সাক্ষাৎ করবেন।

অতঃপর আমি আপনাদের এমন একটি দল সম্পর্কে সতর্ক করছি যাদের কেউ কেউ নিজেদের মুসলিম দাবি করলেও সীরাতে নববী সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে এবং দাবি করে যে তাদের জন্য কেবল পবিত্র কুরআনই যথেষ্ট। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু দাউদ ও তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে এই দলটি সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: (শীঘ্রই তোমাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে, যে তার আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, তার কাছে আমার কোনো হাদীস বর্ণনা করা হলে সে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট, তাতে যা আমরা হালাল হিসেবে পাব তা-ই হালাল মানব এবং যা হারাম হিসেবে পাব তা-ই হারাম মানব। জেনে রেখো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হারাম করেছেন তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারই সমতুল্য)।

আমরাও তাদের বলি: আপনারা পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহর বাণী শ্রবণ করুন যেটির প্রতি আপনারা বিশ্বাস রাখেন। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} [আন-নিসা: ৮০]।

তিনি আরও বলেন: {না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের ক্ষেত্রে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেবে} অর্থাৎ: হে মুহাম্মদ, তারা আপনাকে বিচারক মানবে {অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে ব্যাপারে তারা নিজেদের মনে কোনো কুণ্ঠা বোধ করবে না এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে নেবে} [আন-নিসা: ৬৫]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭]।

আর সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না। তবে কেউ যদি আদতেই কুরআন ও কুরআনের আদেশের ওপর বিশ্বাস না রাখে, তবে তার সাথে কথা বলার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ তার সাথে দ্বীনি আলোচনার পথ রুদ্ধ।

সুতরাং: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতের প্রতিটি ঘটনাই বিধানগত বিষয় হতে পারে, এমনকি তা দ্বীনের আংশিক কোনো বিষয় হলেও। আপনাকে অবশ্যই সেটির প্রতি মনোযোগী হতে হবে যাতে আপনি তা আমল করতে পারেন; আর আপনি যদি তা অনুসরণ না করেন তবে সম্ভবত আপনি পথভ্রষ্ট ও দূরে সরে যাবেন এবং তখন আপনাকে বলা হবে: ধ্বংস হও, ধ্বংস হও।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌التعرف الصحيح على شخصية النبي صلى الله عليه وسلم

القاعدة الثانية: هي التعرف على شخصية رسول الله صلى الله عليه وسلم، نريد أن نعرف من هو رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ هو خير البشر أجمعين، وخاتم المرسلين، وسيد الأولين والآخرين هو أعظم شخصية سارت على هذه الأرض منذ بدء الخلق وإلى يوم القيامة، فهو شخصية جديرة بالدراسة، وهناك أشياء كثيرة نريد أن نعرفها عن شخصية رسول الله صلى الله عليه وسلم، ونضعها في أذهاننا بوضوح عند كل موقف من مواقفه صلى الله عليه وسلم.

أهم شيء في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم: هو أنه رسول من عند رب العالمين.

لقد شاء الله عز وجل ألا يكلم عباده في الدنيا كفاحاً، وأبقى ذلك نعيماً لمن دخل الجنة، وشاء كذلك أن يخاطب عباده عن طريق رسول من البشر، ومن كل الخلق اختار محمداً صلى الله عليه وسلم ليبلغ الناس الرسالة العالمية عنه سبحانه وتعالى.

إذاً: رسول الله صلى الله عليه وسلم في حقيقته ما هو إلا ناقل عن رب العزة سبحانه وتعالى، {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى * إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:3 - 4]، وعلى هذا القدر من الأهمية يجب أن يؤخذ حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وعلى هذا القدر من العظمة يجب أن تؤخذ سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم، هذه السيرة هي النموذج العملي التطبيقي الذي رسمه الله عز وجل لخلقه كي يقتدوا به ويقلدوه.

والسيرة هي المنهج الذي نمشي عليه، وهي الدليل في الصحراء، ومن غير الدليل سوف نهلك لا محالة.

فلو ثبت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم فعل فعلاً ما، فهو ما أراده الله عز وجل منا، حتى لو كان هذا الفعل من النوافل! فهي ليست من اختراع الرسول صلى الله عليه وسلم، فهناك من يظن أن الظهر فرضه ربنا سبحانه وتعالى علينا أربع ركعات، ثم اجتهد الرسول عليه الصلاة والسلام وقال: أربع ركعات قبلها وأربع ركعات بعدها، الأمر ليس كذلك، فالله عز وجل قد شرع للفرائض رواتب من السنن جاءت قبله وبعده، وجعل هذه فرضاً وجعل هذه نافلة، وكل شيء في الأخير مرده إلى الله سبحانه وتعالى.

حتى لو اختار رسول الله صلى الله عليه وسلم في أمر ما خلاف الأولى، حيث كان من المفروض أن يختار كذا، ولكنه اختار رأياً آخر أقل منه درجة، فإن الوحي يأتي ليعدل المسار ويختار لرسول الله صلى الله عليه وسلم الاختيار الأكمل، الذي يصلح لهذه الأمة في زمانه وإلى يوم القيامة.

إذاً: دراسة السيرة من هذا المنظور تعطي لها قدراً عظيماً جداً من الأهمية، نحن لا ندرس أي شخصية، نحن ندرس شخصية رسول من رب العالمين، وليس فقط أي رسول! بل خير الرسل وخاتم النبيين.

هذه القاعدة الثانية من القواعد التي من المفروض أن نضعها في أذهاننا عند كل حدث من أحداث السيرة النبوية؛ لأننا نتعامل مع وحي من رب العالمين.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিত্বের সঠিক পরিচয়

দ্বিতীয় মূলনীতি: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে পরিচিত হওয়া। আমরা জানতে চাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে? তিনি সমগ্র মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ, রাসূলগণের পরিসমাপ্তিকারী এবং পূর্বাপর সকলের সরদার। সৃষ্টির শুরু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত এই জমিনে বিচরণকারী সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হলেন তিনি। তাই তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব যিনি অধ্যয়নের যোগ্য। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে এমন অনেক কিছু রয়েছে যা আমরা জানতে চাই এবং তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপের সময় সেগুলো আমাদের মস্তিষ্কে স্পষ্টভাবে গেঁথে রাখতে চাই।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: তিনি রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূল।

আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা ইচ্ছা করেছেন যে, তিনি দুনিয়াতে তাঁর বান্দাদের সাথে সরাসরি কথা বলবেন না; বরং জান্নাতে প্রবেশকারীদের জন্য এটিকে একটি নেয়ামত হিসেবে তুলে রেখেছেন। তিনি আরও ইচ্ছা করেছেন যে, তিনি মানবজাতির মধ্য থেকে একজন রাসূলের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের সম্বোধন করবেন। আর সমগ্র সৃষ্টির মধ্য থেকে তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মনোনীত করেছেন তাঁর পক্ষ থেকে বিশ্বজনীন পয়গাম মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

সুতরাং: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাস্তবে রাব্বুল ইজ্জাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে একজন বার্তাবাহক মাত্র। "আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর কাছে পাঠানো হয়।" [আন-নাজম: ৩-৪]। অতএব, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসকে এই গুরুত্বের সাথেই গ্রহণ করতে হবে এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতকে এই মহানুভবতার সাথেই গ্রহণ করতে হবে। এই সীরাত হলো সেই ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক নমুনা যা আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা তাঁর সৃষ্টির জন্য নির্ধারণ করেছেন, যাতে তারা তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণ করতে পারে।

আর সীরাত হলো সেই পথ ও কর্মপদ্ধতি যার ওপর আমরা চলি। এটি মরুভূমির দিকনির্দেশকের মতো; আর দিকনির্দেশক ছাড়া আমরা অনিবার্যভাবে ধ্বংস হয়ে যাব।

সুতরাং যদি প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কাজ করেছেন, তবে সেটিই আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা আমাদের কাছে চেয়েছেন, এমনকি সেই কাজটি যদি নফল ইবাদতের অন্তর্ভুক্তও হয়! এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজস্ব উদ্ভাবন নয়। অনেকে মনে করেন যে, আমাদের রব সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের ওপর জোহরের চার রাকাত ফরজ করেছেন, এরপর রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম ইজতিহাদ করে বলেছেন: এর আগে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত (সুন্নত)। বিষয়টি এমন নয়। বরং আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা ফরজের আগে ও পরে নির্দিষ্ট সুন্নাতে রাতেবা বিধিবদ্ধ করেছেন; তিনি এটাকে ফরজ করেছেন আর ওটাকে নফল করেছেন। পরিশেষে সবকিছুর প্রত্যাবর্তনস্থল তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দিকেই।

এমনকি যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো বিষয়ে 'উত্তম' এর বিপরীতে অন্য কিছু পছন্দ করতেন—যেখানে অন্য কিছু পছন্দ করা সমীচীন ছিল, কিন্তু তিনি এর চেয়ে নিম্নতর পর্যায়ের অন্য একটি মত গ্রহণ করেছেন—তখন ওহী এসে সেই পথকে সংশোধন করে দেয় এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য এমন পূর্ণাঙ্গ পছন্দ নির্বাচন করে দেয়, যা তাঁর সময়ে এবং কিয়ামত পর্যন্ত এই উম্মতের জন্য কল্যাণকর।

সুতরাং: এই দৃষ্টিকোণ থেকে সীরাত অধ্যয়ন একে অত্যন্ত উচ্চমর্যাদার গুরুত্ব প্রদান করে। আমরা কেবল সাধারণ কোনো ব্যক্তিত্বকে নিয়ে অধ্যয়ন করছি না, বরং আমরা রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূলের ব্যক্তিত্ব নিয়ে অধ্যয়ন করছি। আর তিনি কেবল সাধারণ কোনো রাসূলই নন, বরং তিনি শ্রেষ্ঠ রাসূল এবং নবীগণের পরিসমাপ্তিকারী।

এটি হলো সেই সব মূলনীতির মধ্যে দ্বিতীয় মূলনীতি, যা সীরাতুন্নবীর প্রতিটি ঘটনার সময় আমাদের স্মরণে রাখা উচিত; কারণ আমরা এখানে রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে আসা ওহীর সাথে সংশ্লিষ্ট হচ্ছি।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌كيفية محبة الرسول صلى الله عليه وسلم

القاعدة الثالثة: هي أن نتعلم كيف نحب الرسول صلى الله عليه وسلم؟ حب الرسول صلى الله عليه وسلم يجب أن يفوق كل حب، إن لم يحدث هذا الحب فهناك خلل في الإيمان، يقول الرسول صلى الله عليه وسلم في الحديث الشريف: (لا يؤمن أحدكم حتى يكون الله ورسوله أحب إليه مما سواهما).

ويقول: (لا يؤمن العبد حتى أكون أحب إليه من أهله وماله والناس أجمعين)، رواه البخاري ومسلم.

وكلنا نحفظ الحوار اللطيف الذي دار بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين عمر بن الخطاب، فقد جاء في صحيح البخاري أن عمر بن الخطاب قال: (يا رسول الله! لأنت أحب إلي من كل شيء إلا نفسي)، كلنا يحب نفسه، ولكن انتبه وقف وقفة صادقة مثلما وقف عمر مع نفسه، وراجع نفسك: هل أنت تقدم أحكام رسول الله صلى الله عليه وسلم في كل شأن من شئون حياتك، أم أن حبك حب سطحي، تقدم حب أشياء كثيرة فوق حب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟! إن كان سيدنا عمر قال: يا رسول الله! أنا أقدم حبك على كل شيء إلا نفسي، فقال له صلى الله عليه وسلم: (لا والذي نفسي بيده! حتى أكون أحب إليك من نفسك، فقال عمر: فأنت الآن والله! أحب إلي من نفسي، فقال صلى الله عليه وسلم: الآن يا عمر) يعني: الآن اكتمل الإيمان، الآن اكتمل الصدق مع الله عز وجل، لن تكون صادقاً مع الله عز وجل في اتباعه وفي محبته إلا باتباع رسوله صلى الله عليه وسلم، {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [آل عمران:31].

إن دراسة السيرة تعين على حب رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وحب رسول الله صلى الله عليه وسلم قضية محورية في إيمان العبد، والتعرف السطحي على شخصية ما لا يتولد عنه عميق حب، إنما التعرف على دقائق الحياة، واكتشاف مواطن العظمة المختلفة في الشخصية هي التي تولد الحب في قلب الإنسان، ولا أحسب إنساناً صاحب فطرة سليمة يقرأ أو يسمع عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا يحبه، وكلما عرفته أكثر كلما أحببته أكثر، وكلما أحببته أكثر زاد إيمانك، إنها علاقة تفاعلية في غاية الأهمية في حياة المؤمنين.

اقرأ عن أي موقف من مواقف السيرة، ضع إصبعك بصورة عشوائية على أي موقف من مواقف رسول الله صلى الله عليه وسلم في حياته، منذ ولد وإلى أن مات صلى الله عليه وسلم، اقرأ في حياته كلها عن معاملاته: كيف كان يتعامل في بيته مع زوجته، مع بناته؟! كيف كان يتعامل مع أصحابه؟! كيف كان يتعامل مع أعدائه؟! اقرأ عن جهاده، عن أي غزوة قادها صلى الله عليه وسلم، عن صدقه، عن أمانته، عن شجاعته، عن تقواه، عن عبادته، عن قضائه، عن سياسته، عن المعاهدات التي عقدها صلى الله عليه وسلم كالحديبية مثلاً.

اقرأ عن الهجرة، عن بدر، عن أحد، عن فتح مكة، عن أي موقف وستحب رسول الله صلى الله عليه وسلم حباً عميقاً.

لقد عدَّ الله عز وجل محمداً صلى الله عليه وسلم نعمة ومنة منه على الخلق، قال الله عز وجل في كتابه: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ} [آل عمران:164].

إذاً: من القواعد الهامة جداً التي تضعها في تفكيرك وأنت تدرس السيرة: أنك تحب رسول الله صلى الله عليه وسلم بقدر ما تستطيع، ركز في كل حدث من سيرته صلى الله عليه وسلم أن تزرع هذا الحب في قلبك وإلا لن تنجو، قال الله عز وجل في كتابه الكريم: {قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللَّهُ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ} [التوبة:24]، المسألة ليست فقط ارتفاعاً في قدر الإيمان، بل المسألة مسألة تهديد بأن تكون من الفاسقين، كما قال الله عز وجل: {وَاللَّهُ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ} [المائدة:108].
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার স্বরূপ

তৃতীয় মূলনীতি হলো: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কীভাবে ভালোবাসতে হয় তা শিখব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা অবশ্যই অন্য সব ভালোবাসার ঊর্ধ্বে হতে হবে। যদি এই ভালোবাসার সৃষ্টি না হয়, তবে ঈমানে ত্রুটি রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র হাদিসে বলেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হন।"

তিনি আরও বলেন: "কোনো বান্দা ততক্ষণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পরিবার, সম্পদ এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।" (বুখারি ও মুসলিম)।

আমরা সবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মধ্যকার সেই চমৎকার কথোপকথনটি জানি। সহিহ বুখারিতে এসেছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার কাছে নিজের জীবন ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে অধিক প্রিয়।" আমরা সবাই নিজেকে ভালোবাসি, কিন্তু সচেতন হোন এবং উমর যেভাবে নিজের বিবেকের মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেভাবে আপনিও সত্যনিষ্ঠভাবে দাঁড়ান। নিজের হিসাব নিন: আপনি কি আপনার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিধানকে অগ্রাধিকার দেন, নাকি আপনার ভালোবাসা কেবল ভাসাভাসা, যেখানে আপনি অনেক কিছুকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসার ওপর স্থান দেন?! যখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি নিজের জীবন ব্যতীত অন্য সবকিছুর চেয়ে আপনাকে বেশি ভালোবাসি, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: "না, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে তোমার নিজের জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয় হই।" তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "আল্লাহর শপথ! এখন আপনি আমার কাছে আমার নিজের জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয়।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে উমর! এখন (তোমার ঈমান পূর্ণ হলো)।" অর্থাৎ, এখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র প্রতি সত্যনিষ্ঠা পূর্ণ হলো। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র আনুগত্য ও তাঁর প্রতি ভালোবাসায় ততক্ষণ সত্যনিষ্ঠ হওয়া সম্ভব নয়, যতক্ষণ না তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা হয়। "বলুন (হে নবী!), যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।" [আলে ইমরান: ৩১]।

সীরাত (নবীর জীবনী) অধ্যয়ন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা বান্দার ঈমানের একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। কোনো ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ভাসাভাসা জানাশোনা থেকে গভীর ভালোবাসার জন্ম হয় না। বরং জীবনের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো জানা এবং সেই ব্যক্তিত্বের মধ্যে বিদ্যমান মহান গুণাবলির বিভিন্ন দিক আবিষ্কার করার মাধ্যমেই মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসার জন্ম হয়। আমি মনে করি না যে, কোনো সুস্থ স্বভাবের মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে পড়বে বা শুনবে অথচ তাঁকে ভালোবাসবে না। আপনি তাঁকে যত বেশি জানবেন, ততই তাঁকে বেশি ভালোবাসবেন। আর যত বেশি ভালোবাসবেন, আপনার ঈমান তত বৃদ্ধি পাবে। মুমিনদের জীবনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পারস্পরিক ক্রিয়াশীল সম্পর্ক।

সীরাতের যেকোনো ঘটনা পড়ুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যেকোনো ঘটনার ওপর এলোমেলোভাবে আঙুল রাখুন এবং তা পড়ুন। তাঁর সম্পূর্ণ জীবনের আচার-আচরণ সম্পর্কে পড়ুন: তিনি বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও কন্যাদের সাথে কেমন আচরণ করতেন?! সাহাবীদের সাথে কেমন ব্যবহার করতেন?! শত্রুদের সাথে তাঁর আচরণ কেমন ছিল?! তাঁর জিহাদ সম্পর্কে পড়ুন, তাঁর পরিচালিত যেকোনো যুদ্ধ সম্পর্কে, তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারি, সাহসিকতা, তাকওয়া, ইবাদত, বিচারব্যবস্থা, তাঁর রাজনীতি এবং তাঁর সম্পাদিত সন্ধি বা চুক্তিগুলো সম্পর্কে পড়ুন—যেমন হুদায়বিয়ার সন্ধি।

হিজরত, বদর, উহুদ, মক্কা বিজয়—যেকোনো ঘটনা সম্পর্কে পড়ুন, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গভীরভাবে ভালোবাসতে শুরু করবেন।

আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টির ওপর তাঁর পক্ষ থেকে এক মহান নিআমত ও অনুগ্রহ হিসেবে গণ্য করেছেন। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর কিতাবে বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল।" [আলে ইমরান: ১৬৪]।

সুতরাং, সীরাত অধ্যয়নের সময় আপনার চিন্তায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মূলনীতি হলো: আপনি আপনার সাধ্যমতো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসবেন। তাঁর সীরাতের প্রতিটি ঘটনার সময় এই ভালোবাসা নিজের অন্তরে রোপণ করার দিকে মনোযোগ দিন, অন্যথায় আপনি নাজাত পাবেন না। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: "বলুন, তোমাদের কাছে যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় করো এবং তোমাদের প্রিয় বাসস্থান—আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।" [তওবা: ২৪]। বিষয়টি কেবল ঈমানের স্তর বৃদ্ধির বিষয় নয়, বরং এখানে পাপাচারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে ধমকি দেওয়া হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।" [মায়েদা: ১০৮]।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌تعلم الحكمة في التعامل من خلال دراسة سيرة النبي صلى الله عليه وسلم

القاعدة الرابعة والأخيرة التي نضعها في عقولنا أثناء دراسة هذه السيرة الشريفة: أن نتعلم الحكمة من خلال دراستنا لجزئيات حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم بكيفية وضع الأمر في نصابه، كيف تفضل رأياً على رأي آخر؟ حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم هي الحكمة بعينها، إذا اختار رأياً ما، فهذا هو الرأي الحكيم، إذا فعل فعلاً ما، فهذا هو الفعل الحكيم، هكذا دراسة السيرة تعلمنا الحكمة في أرقى صورها.

مثلاً: حكمته صلى الله عليه وسلم في فن امتلاك القلوب، كيف كان الرسول صلى الله عليه وسلم يكسب قلوب الذين يتعامل معهم؟ فهو صلى الله عليه وسلم لم يكن يمتلك قلوب أصدقائه فقط، بل كان يمتلك قلوب أعدائه أيضاً، وهذه حكمة جديرة بالتأمل، والوقوف معها طويلاً.

حكمة أخرى في منتهى الأهمية، وهي حكمة المرحلية، والاعتراف بما يسمى بفقه الواقع؛ فإن الرسول صلى الله عليه وسلم كان في فترة من فترات حياته يطوف بالكعبة، فما رفع معوله ليكسر صنماً، وكان بها ثلاثمائة وستون صنماً، ثم يأتي وقت آخر على الرسول عليه الصلاة والسلام لا يقبل فيه بوجود صنم واحد في جزيرة العرب، وعندما يفتح مكة يبعث خالداً إلى الطائف لكي يكسر الأصنام التي هناك، فهذا وضع وهذا وضع، فلا يصح أن تقول: إن الرسول صلى الله عليه وسلم عمل كذا في يوم كذا أو في سنة كذا دون دراسة الملابسات والظروف التي كانت حول الموقف الذي عمله رسول الله صلى الله عليه وسلم، والكلام هذا لن يستقيم إلا عن طريق دراسة السيرة.

وعاش الرسول صلى الله عليه وسلم في مكة ثلاثة عشر عاماً بعد البعثة وفيها الرايات الحمر المعلقة على خيام الزانيات، فهناك من تعلن عن نفسها أنها تزني، والرسول عليه الصلاة والسلام كان يعيش بينهم، ولم يحطم خيمة من خيام الرايات الحمر في وقت من الأوقات، ولكن يأتي ظرف آخر لا يتنازل رسول الله صلى الله عليه وسلم فيه عن إقامة الحد على امرأة واحدة زنت، فإن الغامدية لما زنت أقام الرسول صلى الله عليه وسلم الحد عليها؛ لأنها زنت، فهذا وقت وهذا وقت.

وكان الرسول صلى الله عليه وسلم في زمن يعاهد اليهود، وفي زمن آخر يحاربهم، فلا يصح أن تقول: أنا أعاهد اليهود كما عاهدهم، من غير دراسة الظروف والملابسات التي كانت حول تلك المعاهدات في زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم، لم يأت هذا وقت الحرب، ولا يجوز أن أحارب في وقت معاهدة، لن نعرف هذا إلا عن طريق دراسة السيرة.

كذلك الحكمة في اختيار القرار المناسب في الوقت المناسب، فقد كان الرسول صلى الله عليه وسلم يكف يده يوماً عن القتال، ويوماً يقاتل من قاتله، ويوماً يقاتل كل الكفار.

كان يمر الرسول صلى الله عليه وسلم على آل ياسر - ياسر وسمية وعمار - وهم يعذبون تعذيباً أليماً شديداً أدى إلى قتل ياسر وسمية رضي الله عنهما، يمر عليهم وهم يعذبون فيكتفي صلى الله عليه وسلم بقوله لهم: (صبراً آل ياسر؛ فإن موعدكم الجنة) لم يرفع صلى الله عليه وسلم سيفاً ليدفع به أبا جهل الذي كان يعذبهما، ولم يأمر أحداً من شبابه أو من أتباعه الأقوياء كـ الزبير بن العوام أو سعد بن أبي وقاص أو فرسان الصحابة الأشداء في ذلك الزمن لقتل أبي جهل، أو أبي سفيان، أو أبي لهب، وعنده مبررات كثيرة تدفعه لذلك، كأن يقول: من أجل أن تسير الدعوة في مكة، ولكن لم يفعل صلى الله عليه وسلم، لكن في يوم آخر من أيام رسول الله صلى الله عليه وسلم سير جيشاً كاملاً لحرب اليهود في بني قينقاع لقتلهم رجلاً مسلماً، بعد كشف عورة امرأة مسلمة واحدة من قبل يهودي.

تخيل الفرق الضخم بين الموقفين! وسير الرسول صلى الله عليه وسلم جيشاً لحرب الروم، وهي دولة في منتهى الضخامة في ذلك الزمان؛ لأنهم قتلوا رجلين من المسلمين، لكن هذا زمن وزمن مكة آخر.

أول العهد في المدينة غير آخر العهد في المدينة، غزوة بدر غير غزوة أحد.

انتبه وأنت تدرس كل موقف إلى الظروف المحيطة بذلك الموقف، فإنك لو فعلت ذلك ستستطيع أن تفهم ما يسمى بفقه الواقع، أو بحكمة المرحلية في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

حكمة أخرى أيضاً في غاية الأهمية في حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، هي التدرج في التربية، والتدرج في تغيير المنكر، مثل: تحريم الخمر حرم بالتدرج، وليس مرة مُنع الناس عن الخمر، كذلك التدرج في تحريم الربا، وفي أمر الناس بالجهاد في سبيل الله، كل هذا أخذ مراحل ومراحل طويلة، وكل مرحلة نصل إليها نبني عليها مرحلة أخرى.

وهناك حكمة أخرى رائعة في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم، هي حكمة الوسطية، {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} [البقرة:143]، لا إفراط ولا تفريط.

ما هو تعريف الإفراط؟ وما هو تعريف التفريط؟ في كل جزئية من جزئيات الحياة أنت لك تعريف، وأنا لي تعريف، وذ
নবী (সা.)-এর সীরাত অধ্যয়নের মাধ্যমে আচার-আচরণে প্রজ্ঞা শিক্ষা করা

এই পবিত্র সীরাত অধ্যয়নের সময় চতুর্থ ও শেষ যে মূলনীতিটি আমরা আমাদের অন্তরে গেঁথে নেব তা হলো: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো অধ্যয়নের মাধ্যমে সঠিক স্থানে সঠিক বিষয় স্থাপন করার প্রজ্ঞা অর্জন করা। আপনি কীভাবে এক মতকে অন্য মতের ওপর প্রাধান্য দেবেন? রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনই হলো প্রজ্ঞার বাস্তব রূপ। যদি তিনি কোনো মতকে বেছে নেন, তবে সেটিই হলো প্রজ্ঞাপূর্ণ মত; তিনি যদি কোনো কাজ করেন, তবে সেটিই হলো প্রজ্ঞাপূর্ণ কাজ। এভাবেই সীরাত অধ্যয়ন আমাদের প্রজ্ঞাকে তার সর্বোচ্চ রূপে শিক্ষা দেয়।

উদাহরণস্বরূপ: হৃদয় জয় করার শিল্পে তাঁর (সা.) প্রজ্ঞা। রাসূলুল্লাহ (সা.) যাদের সাথে লেনদেন করতেন, তাদের অন্তর কীভাবে জয় করতেন? তিনি কেবল তাঁর বন্ধুদের হৃদয়ই জয় করেননি, বরং তিনি তাঁর শত্রুদের অন্তরও জয় করেছিলেন। এটি এমন এক প্রজ্ঞা যা দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনা ও পর্যালোচনার দাবি রাখে।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি প্রজ্ঞা হলো ধারাবাহিকতার প্রজ্ঞা এবং বাস্তবতার ফিকহ (ফিকহুল ওয়াকে')-এর স্বীকৃতি। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনের একটি সময় কাবা তাওয়াফ করতেন অথচ কোনো মূর্তি ভাঙার জন্য কুঠার তুলতেন না, যদিও সেখানে তিনশত ষাটটি মূর্তি ছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে এমন এক সময় আসে যখন তিনি আরব উপদ্বীপে একটি মূর্তির উপস্থিতিও গ্রহণ করেননি। যখন তিনি মক্কা জয় করেন, তখন তিনি সেখানে থাকা মূর্তিগুলো ভাঙার জন্য খালিদ (রা.)-কে তায়েফে পাঠান। এটি একটি ভিন্ন অবস্থা এবং সেটি ছিল ভিন্ন এক অবস্থা। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সা.) যে পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিকতার মধ্যে কোনো কাজ করেছেন, তা অধ্যায়ন না করে কেবল এ কথা বলা সঠিক হবে না যে—রাসূলুল্লাহ (সা.) অমুক দিন বা অমুক বছর এমন কাজ করেছেন। সীরাত অধ্যয়ন ব্যতীত এ বিষয়টি সঠিকভাবে অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) নবুওয়াত পরবর্তী তেরো বছর মক্কায় অতিবাহিত করেছেন। সেখানে ব্যভিচারিণীদের তাঁবুর ওপর লাল পতাকা ঝোলানো থাকত; অর্থাৎ তারা নিজেদের ব্যভিচারিণী হিসেবে ঘোষণা করত। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের মাঝেই বসবাস করতেন, কিন্তু কোনো সময়েই তিনি সেই লাল পতাকাধারী তাঁবুগুলোর একটিও ভেঙে দেননি। কিন্তু পরে এমন পরিস্থিতি আসে যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) ব্যভিচার করা একজন মহিলার ওপর দণ্ডবিধি (হদ) প্রয়োগের বিষয়ে কোনো ছাড় দেননি। গামিদিয়া গোত্রের এক মহিলা যখন ব্যভিচার করল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তার ওপর দণ্ডবিধি প্রয়োগ করেন; কারণ তখন ছিল ভিন্ন সময়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এক সময়ে ইহুদীদের সাথে চুক্তি করেছিলেন, আবার অন্য সময়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে সেই চুক্তিগুলোর পেছনের প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি অধ্যয়ন না করে কেবল এ কথা বলা সঠিক নয় যে—'আমি তাদের সাথে চুক্তি করছি যেমনটি তিনি করেছিলেন'। যুদ্ধের সময় চুক্তির কথা বলা সমীচীন নয়, আবার চুক্তির সময় যুদ্ধ করা জায়েজ নয়। সীরাত অধ্যয়ন ছাড়া আমরা এটি জানতে পারব না।

একইভাবে উপযুক্ত সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রজ্ঞা। রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনোদিন যুদ্ধ থেকে হাত গুটিয়ে রাখতেন, কোনোদিন যারা তাঁর সাথে যুদ্ধ করত তাদের বিরুদ্ধে লড়তেন, আবার কোনোদিন সমস্ত কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইয়াসির পরিবারের পাশ দিয়ে যেতেন—ইয়াসির, সুমাইয়া ও আম্মার—যখন তাদের কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেওয়া হতো, যার ফলে ইয়াসির ও সুমাইয়া (রা.) শহীদ হয়েছিলেন। তারা নির্যাতিত হওয়ার সময় তিনি তাঁদের পাশ দিয়ে যেতেন এবং কেবল এটুকু বলতেন: (হে ইয়াসির পরিবার, ধৈর্য ধরো; জান্নাতই তোমাদের ঠিকানা।) তিনি তাদের নির্যাতনকারী আবু জাহেলের বিরুদ্ধে কোনো তলোয়ার তোলেননি। তিনি তাঁর যুবক অনুসারীদের বা সেই সময়ের শক্তিশালী বীর সাহাবী যেমন জুবায়ের ইবনুল আওয়াম, সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস বা কঠোর অশ্বারোহীদের আবু জাহেল, আবু সুফিয়ান বা আবু লাহাবকে হত্যা করার জন্য নির্দেশ দেননি। অথচ তাঁর কাছে এটি করার অনেক যৌক্তিক কারণ ছিল, যেমন তিনি বলতে পারতেন—মক্কায় দাওয়াহ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে এটি প্রয়োজন। কিন্তু তিনি তা করেননি। অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের অন্য এক দিনে তিনি বনু কাইনুকা-এর ইহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য পুরো একটি সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন কেবল একজন মুসলিম পুরুষকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে, যা ঘটেছিল একজন মুসলিম মহিলার সতর একজন ইহুদী কর্তৃক উন্মোচন করার পর।

এই দুই পরিস্থিতির মধ্যে বিশাল পার্থক্যের কথা চিন্তা করুন! রাসূলুল্লাহ (সা.) রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন—যা ছিল সেই সময়ের এক বিশাল পরাশক্তি—কারণ তারা দুজন মুসলিমকে হত্যা করেছিল। কিন্তু সেই সময় এবং মক্কার সময় ছিল ভিন্ন।

মদিনা জীবনের শুরুর সময়টি মদিনা জীবনের শেষ সময়ের মতো ছিল না; বদর যুদ্ধ উহুদ যুদ্ধের মতো ছিল না।

প্রতিটি ঘটনা পড়ার সময় তার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য রাখুন। আপনি যদি তা করেন, তবে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে 'বাস্তবতার ফিকহ' বা 'ধারাবাহিকতার প্রজ্ঞা' নামে যা পরিচিত তা বুঝতে সক্ষম হবেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি প্রজ্ঞা হলো—তরবিয়ত বা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা এবং মন্দ বিষয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি। যেমন: মদ হারাম করার বিষয়টি পর্যায়ক্রমে হয়েছে, একবারে মানুষকে মদ থেকে নিষেধ করা হয়নি। একইভাবে সুদ হারাম করার ক্ষেত্রে এবং মানুষকে আল্লাহর পথে জিহাদের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে। এই সব কিছুই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর পর্যায়ের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রতিটি পর্যায়ে পৌঁছানোর পর আমরা পরবর্তী পর্যায়ের ভিত্তি স্থাপন করেছি।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে আরেকটি চমৎকার প্রজ্ঞা রয়েছে, তা হলো মধ্যপন্থা (ওয়াসাতিয়্যাহ)-এর প্রজ্ঞা। "এভাবে আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি" [সূরা বাকারা: ১৪৩], এখানে কোনো বাড়াবাড়ি নেই এবং কোনো ছাড়াছাড়ি নেই।

বাড়াবাড়ির সংজ্ঞা কী? আর ছাড়াছাড়ির সংজ্ঞাই বা কী? জীবনের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ে আপনার একটি সংজ্ঞা আছে, আমার একটি সংজ্ঞা আছে, এবং...
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌بعض مراجع السيرة النبوية

مما ينبغي أن يعلم أن السيرة النبوية تؤخذ من عدة كتب، وكثير من الناس يغفلون عن دراسة السيرة من خلالها، وهي كتب الأحاديث وشروح الأحاديث، مثل كتاب البخاري رحمه الله، وفتح الباري في شرح صحيح البخاري لـ ابن حجر العسقلاني رحمهما الله.

كذلك صحيح مسلم وشرح النووي لصحيح مسلم.

كذلك الترمذي وأبو داود والنسائي وابن ماجة ومسند الإمام أحمد بن حنبل رحمهم الله جميعاً.

ومن كتب السيرة الهامة: سيرة ابن هشام، فقد نقل معظم سيرته عن ابن إسحاق، وسيرة ابن إسحاق رحمه الله ليست موجودة، فالذي بقي وهو كتاب سيرة ابن هشام، ولكن هناك أحداث كثيرة غير موثقة في كتاب سيرة ابن هشام، لذلك لا بد أن تدرس كتاباً محققاً، هناك كتاب اسمه صحيح سيرة ابن هشام، للأستاذ مجدي فتحي السيد وهو كتاب طيب.

أيضاً كتاب صحيح السيرة النبوية لـ إبراهيم العلي.

وكتاب زاد المعاد في هدي خير العباد للعلامة ابن القيم رحمه الله.

وكتاب السيرة النبوية لـ ابن كثير رحمه الله.

والرحيق المختوم للمباركفوري.

والسيرة النبوية للصلابي، والأساس في السنة لـ سعيد حوى، هو كتاب كبير يقع في أربع مجلدات.

وفقه السيرة للبوطي.

وفقه السيرة للغزالي.

والمنهج الحركي للسنة النبوية لـ منير الغضبان.

والسيرة النبوية دروس وعبر للدكتور مصطفى السباعي، وهو كتاب صغير لكنه يحتوي على معلومات هامة.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
সীরাতুন্নবীর কতিপয় তথ্যসূত্র

এটি জানা আবশ্যক যে, সীরাতুন্নবী (রাসূলুল্লাহর জীবনী) একাধিক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত হয়। অনেক মানুষ সীরাত অধ্যয়নের ক্ষেত্রে এই উৎসগুলো সম্পর্কে বেখবর থাকেন; আর সেগুলো হলো হাদিসের কিতাব এবং হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ। যেমন: ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ)-এর গ্রন্থ এবং ইবনে হাজার আসকালানী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারী’।

অনুরূপভাবে সহীহ মুসলিম এবং ইমাম নববী রচিত সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

একইভাবে তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ এবং ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)-এর মুসনাদ।

সীরাতের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: সীরাতে ইবনে হিশাম। তিনি তাঁর সীরাতের অধিকাংশ বর্ণনা ইবনে ইসহাক থেকে গ্রহণ করেছেন। ইবনে ইসহাক (রহিমাহুল্লাহ)-এর মূল সীরাত গ্রন্থটি বর্তমানে বিলুপ্ত, ফলে যা অবশিষ্ট আছে তা হলো সীরাতে ইবনে হিশাম। তবে ইবনে হিশামের গ্রন্থে এমন অনেক বর্ণনা রয়েছে যা প্রামাণ্য নয়। তাই অবশ্যই কোনো তাহকীককৃত (যাচাইকৃত) গ্রন্থ পাঠ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে উস্তাদ মাজদী ফাতহী আস-সাইয়্যিদ সম্পাদিত ‘সহীহ সীরাতে ইবনে হিশাম’ নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা অত্যন্ত চমৎকার একটি কিতাব।

আরও রয়েছে ইবরাহীম আল-আলী রচিত ‘সহীহ আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ’।

এবং আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘যাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খাইরিল ইবাদ’।

এবং ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘আস-سীরাতুন নাবাবিয়্যাহ’।

এবং মুবারকপুরী রচিত ‘আর-রাহীকুল মাখতূম’।

এবং ড. সল্লাবী রচিত ‘আস-سীরাতুন নাবাবিয়্যাহ’, এবং সাঈদ হাওয়া রচিত ‘আল-আসাস ফিস সুন্নাহ’; এটি একটি বৃহৎ গ্রন্থ যা চার খণ্ডে সমাপ্ত।

এবং ড. আল-বুতী রচিত ‘ফিকহুস সীরাহ’।

এবং মুহাম্মদ আল-গাযালী রচিত ‘ফিকহুস সীরাহ’।

এবং মুনীর আল-গাযবান রচিত ‘আল-মানহাজুল হারাকী লিস-সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ’।

এবং ডক্টর মুস্তফা আস-সিবাঈ রচিত ‘আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: দুরুস ওয়া ইবার’ (সীরাতুন্নবী: শিক্ষা ও উপদেশ); এটি আকারে ছোট হলেও এতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।

আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: -)
السيرة النبوية - راغب السرجاني   (راغب السرجاني)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: السيرة النبوية

المؤلف: راغب الحنفي راغب السرجاني

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 46درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আল-সারজানি   (রাগিব আল-সারজানি)

বিভাগ: আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ


গ্রন্থ: আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ

লেখক: রাগিব আল-হানাফি রাগিব আল-সারজানি

গ্রন্থের উৎস: ইসলাম ওয়েব নেট ওয়েবসাইট দ্বারা অনুলিখিত অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে، এবং খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠ নম্বর - ৪৬টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ২) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ১)
سلسلة السيرة النبوية_‌‌من الظلمات إلى النور

قبل بعثة النبي صلى الله عليه وسلم كان العالم يعج بصور شتى من الانحرافات العقدية والأخلاقية والطبقية والاستعباد والاغتصاب للحقوق بكل صورها لا يختص ذلك ببلد دون آخر، والفارق هو في ازدياد فئة لنوع من الشر على فئة أخرى، وما ذاق أهل الأرض العدل إلا بالنور الساطع من شمس النبوة على أرجاء العالم.
নবীজীর সীরাত ধারাবাহিক_‌‌অন্ধকার থেকে আলোর পথে

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে পৃথিবী আকিদাগত, চারিত্রিক ও শ্রেণীগত বিচ্যুতি, দাসত্ব এবং সকল প্রকার অধিকার হরণের নানা রূপে পরিপূর্ণ ছিল। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; পার্থক্য ছিল কেবল এই যে, এক এক জনপদে এক এক ধরণের মন্দের আধিক্য ছিল। আর বিশ্ববাসী ইনসাফের স্বাদ কেবল তখনই আস্বাদন করেছে, যখন নবুয়তের সূর্যের প্রদীপ্ত আলো বিশ্বের দিগন্তসমূহে উদ্ভাসিত হয়েছে।
(খণ্ড: ২) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌حال العالم قبل البعثة النبوية

إن الحمد لله؛ نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، إنه من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

أما بعد: فمع الدرس الثاني من سلسلة الدروس الخاصة بالمرحلة المكية من سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

في هذا الدرس نتحدث عن الوضع في العالم قبل بعثة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ولسائل أن يسأل: لماذا الحديث عن الفترة السابقة للإسلام؟ بمعنى: أننا في هذه الدروس نتحدث عن قواعد بناء الأمة الإسلامية، فما الذي يدفعنا للحديث عن فترة سابقة لفترة الإسلام؟ أقول: لن تدرك قيمة النور إلا إذا عرفت الظلام، ويكفي لبيان ذلك ذكر حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم في صحيح مسلم عن عياض بن حمار رضي الله عنه، فإنه عليه الصلاة والسلام في هذا الحديث وضح حال الأرض قبل بعثته صلى الله عليه وسلم، فقال: (إن الله نظر إلى أهل الأرض فمقتهم عربهم وعجمهم، إلا بقايا من أهل الكتاب)، وصل حال الأرض إلى حالة من التردي والضياع الشديد، إلى الدرجة التي يمقتهم فيها الله عز وجل، والمقت هو شدة الكراهية، وكلمة (بقايا) توحي بأنهم مجرد آثار، وليس ثمة أثر مباشر لهم في واقع الناس، وهذه البقايا لم تكن مجتمعات، يعني: ما كانت مثلاًَ مجتمعاً صالحاً في مكان ما على الأرض، بل كانوا أفراداً معدودين، رجل في مدينة، ورجل في مدينة أخرى يبتعد عنه مئات أو آلاف الأميال، وهكذا.

تعالوا نخترق الزمان والمكان، نخترق الزمان بالوصول إلى ما قبل بعثة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ونخترق المكان بالوصول إلى كل بقعة على الأرض كانت تعاصر رسول الله صلى الله عليه وسلم، ونتجول بين الشرق والغرب.

تعالوا نرى حال الناس، والملوك، والأخلاق، والطباع، ونرى ما يسمى بالحضارات في ذلك الزمان.
নবুওয়াত লাভের পূর্বে বিশ্বের অবস্থা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট হিদায়েত কামনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে হিদায়েত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

অতঃপর: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের মক্কী জীবন সংক্রান্ত ধারাবাহিক পাঠের দ্বিতীয় পাঠে আপনাদের স্বাগতম।

এই পাঠে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের পূর্বে বিশ্বের পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করব।

কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতে পারেন: ইসলামের পূর্ববর্তী সময়কাল নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা কী? এর অর্থ হলো: আমরা এই পাঠগুলোতে মুসলিম উম্মাহ গঠনের মূলনীতিসমূহ নিয়ে আলোচনা করছি, তবে ইসলামের পূর্ববর্তী সময়কাল নিয়ে আলোচনা করতে আমাদের কীসে উদ্বুদ্ধ করছে? আমি বলব: অন্ধকারের কথা না জানলে আপনি আলোর মর্যাদা অনুধাবন করতে পারবেন না। এই বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য সহীহ মুসলিমে বর্ণিত ইয়াজ ইবনে হিমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীস উল্লেখ করাই যথেষ্ট। সেখানে তিনি (রাসূলুল্লাহ) তাঁর আগমনের পূর্বে পৃথিবীর অবস্থা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ পৃথিবীর অধিবাসীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন—তাদের আরব ও অনারব সকলের প্রতি—অহলে কিতাবদের গুটি কয়েক অবশিষ্টাংশ ব্যতীত।" পৃথিবীর অবস্থা এমন চরম অবক্ষয় ও বিভ্রান্তির পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, মহান আল্লাহ তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। 'মাকত' শব্দের অর্থ হলো তীব্র ঘৃণা বা ক্রোধ। আর 'অবশিষ্টাংশ' শব্দটি ইঙ্গিত দেয় যে, তারা ছিল কেবল ধ্বংসাবশেষের মতো, মানুষের বাস্তব জীবনে তাদের কোনো প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল না। এই অবশিষ্টাংশ কোনো সুসংগঠিত সমাজ ছিল না; অর্থাৎ পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট স্থানে তারা কোনো সৎ সমাজ হিসেবে বিদ্যমান ছিল না। বরং তারা ছিলেন হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তি—এক শহরে একজন লোক, তো অন্য শহরে আরেকজন, যার থেকে দূরত্ব হয়তো শত বা হাজার মাইল। এভাবেই ছিল তাদের অবস্থা।

আসুন আমরা সময় ও স্থানের সীমানা অতিক্রম করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্ববর্তী সময়ে ফিরে গিয়ে আমরা সময়কে অতিক্রম করব, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমসাময়িক পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে আমরা স্থানকে অতিক্রম করব এবং পূর্ব ও পশ্চিমের সর্বত্র বিচরণ করব।

আসুন আমরা সে সময়ের মানুষের অবস্থা, রাজাবাদশা, চরিত্র ও স্বভাব দেখি এবং সে সময়ের তথাকথিত সভ্যতাগুলো পর্যবেক্ষণ করি।
(খণ্ড: ২) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌حال الدولة الرومانية قبل البعثة النبوية

أول شيء يلفت الأنظار في ذلك الزمن دولة ضخمة جداً تمتلك نصف الأرض تقريباً وهي الدولة الرومانية، ومن ضخامتها سمى الله عز وجل سورة من سور القرآن الكريم بسورة الروم، ذكر فيها قصة الروم مع الفرس، قال الله: {غُلِبَتِ الرُّومُ * فِي أَدْنَى الأَرْضِ وَهُمْ مِنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ * فِي بِضْعِ سِنِينَ} [الروم:2 - 4] إلى آخر الآيات، ولكن ما هي الدولة الرومانية؟ كانت الدولة الرومانية ضخمة جداً، مساحتها ممتدة على ثلاثة أرباع أوروبا مقسمة إلى قسمين رئيسيين، دولة رومانية شرقية وعاصمتها القسطنطينية، كان يحكمها القيصر هرقل في زمن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقيصر هذا لقب للملك الذي يحكم الدولة الرومانية.

وأما الدولة الرومانية الغربية فكانت عاصمتها روما، وهذه سقطت قبل البعثة النبوية ولم تبق إلا الدولة الرومانية الشرقية.

كانت هناك خلافات عقائدية عقيمة بين طوائف النصارى في أطراف الدولة الرومانية الشاسعة، فالدولة الشرقية أرثوذكسية، والغربية كاثوليكية، ودارت بينهما حروب فني فيها الآلاف والآلاف على مدار السنين، وظلت هذه الحروب مشتعلة حتى العهد القريب، وإلى الآن هناك خلافات عقائدية ضخمة، وحروب بين الطوائف المختلفة من النصارى.

أما الجوانب الأخلاقية فقد كانت في انحدار شديد في هذه الدولة، مثل تأخر سن الزواج، أو بمعنى أصح اختفى الزواج، وفضل الجميع العزوبة على الزواج؛ لأن تكاليف الزواج كانت غالية والناس كلها فقراء، الأموال كثيرة جداً في الدولة، ولكنها مجموعة في أيدي قلة قليلة من رجال الدولة الرومانية الواسعة، فأدى ذلك إلى انحلال رهيب بين أوساط الناس، وانتشر الزنا في كل مكان، واختلطت الأنساب.

وأصبحت الرشوة أصلاً في التعامل مع موظفي الدولة، فأي مصلحة تريد أن تقضيها لابد أن تقدم بين يديها رشوة.

والضرائب ضخمة باهظة على كل سكان البلاد، وهي على الفقراء أكثر منهم على الأغنياء.

الوحشية الشديدة في الطباع؛ فمن وسائل التسلية التي كانت في الدولة الرومانية الشرقية: وسيلة صراع العبيد مع الوحوش المفترسة في أقفاص مغلقة، والوزراء والأمراء ينظرون من الخارج، ويستمتعون برؤية الأسد أو النمر وهو يأكل العبد بعد قتال يدوم قليلاً أو كثيراً.

نحن نتعجب من هذه الصورة، ونقول: هذه كانت عادة مجتمعات مظلمة، ولكننا نرى أيضاً في إسبانيا صراع الرجال مع الثيران، وكيف يدمر الثور أو يقتل الرجل والناس تشاهد وتصفق وتهلل، وهي صورة كما يسمونها من صور الحضارة.

أيضاً هناك حروب بربرية همجية وحشية، على سبيل المثال: في عهد اسفسيانوس أحد قياصرة الرومان، حاصر اليهود في أورشليم (القدس) سنة (70 م) خمسة أشهر كاملة، انتهت في سبتمبر سنة (70 م) ثم سقطت المدينة بعد هزيمة مهينة عرفها التاريخ، لماذا نقول: هزيمة مهينة؟ لأن الرومان قتلوا أبناء اليهود ونساءهم بأيديهم، يعني: يجبر كل يهودي أن يمسك بزوجته وأولاده ويقتلهم بنفسه، هكذا أتى الأمر الروماني إلى دولة اليهود المحاصرة داخل مدينة القدس، الغريب أن اليهود أطاعوا ووافقوا على ذلك، وقاموا به من شدة الرعب، وطمعاً منهم في النجاة، وهم أحرص الناس على حياة، وخرجوا يقتلون أبناءهم ونساءهم بسيوفهم، ثم خرجوا للرومان الذين بدءوا بعمل قرعة بين كل اثنين من اليهود، أيهما يقتل أخاه إلى أن صفوا كل اليهود الموجودين في القدس ولم ينج منهم إلا الشريد، أو أولئك الذين كانوا يسكنون في أماكن بعيدة.

إذاً: هذه كانت صورة من صور الحرب الرومانية التي كانت تتميز بالشراسة وأشد أنواع الهمجية المتخيلة.

كان العبيد في المجتمع الروماني ثلاثة أضعاف الأحرار، ومعاملة العبيد كانت في منتهى القسوة، لدرجة أن أفلاطون الفيلسوف صاحب فكرة المدينة الفاضلة (اليوتوبيا) التي ألفها وتخيلها في عقله، هذه المدينة الخيالية المثالية يقول فيها: إنه لا يجب أن يعطى فيها العبيد حق المواطنة.

مع أنهم من أهل البلد، لكن ليست لهم أي قيمة في بلاد الرومان.

كانت هذه لقطات سريعة من حال الدولة الرومانية في العهد السابق لبعثة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
নবুওয়াত পূর্বকালে রোমান সাম্রাজ্যের অবস্থা

সেই যুগে যে বিষয়টি প্রথম দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো একটি বিশাল রাষ্ট্র, যা পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক অংশের অধিপতি ছিল; আর তা হলো রোমান সাম্রাজ্য। এর বিশালতার কারণেই মহান আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা পবিত্র কুরআনের একটি সূরার নাম 'সূরা আর-রুম' রেখেছেন, যাতে পারস্যের সাথে রোমানদের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {রোমানরা পরাজিত হয়েছে। নিকটবর্তী ভূখণ্ডে; এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে। কয়েক বছরের মধ্যে...} [সূরা রুম: ২-৪] আয়াত শেষ হওয়া পর্যন্ত। কিন্তু রোমান সাম্রাজ্য আসলে কী ছিল? রোমান সাম্রাজ্য ছিল অত্যন্ত বিশাল। এর আয়তন ইউরোপের তিন-চতুর্থাংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল এবং এটি প্রধানত দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত ছিল। পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য যার রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কায়সার হিরাক্লিয়াস তা শাসন করতেন। 'কায়সার' ছিল রোমান সাম্রাজ্য শাসনকারী রাজার উপাধি।

আর পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল রোম। এটি নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বেই পতনের শিকার হয়েছিল এবং তখন কেবল পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যই অবশিষ্ট ছিল।

বিশাল রোমান সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে খ্রিস্টান সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে ফলহীন আকিদাগত মতপার্থক্য বিদ্যমান ছিল। পূর্ব সাম্রাজ্য ছিল অর্থোডক্স এবং পশ্চিম সাম্রাজ্য ছিল ক্যাথলিক। বছরের পর বছর ধরে তাদের মধ্যে যুদ্ধ চলে আসছিল যাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই যুদ্ধগুলো নিকট অতীত পর্যন্ত প্রজ্বলিত ছিল এবং এখনো খ্রিস্টানদের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশাল আকিদাগত মতভেদ ও যুদ্ধ বিদ্যমান রয়েছে।

নৈতিক দিক থেকে এই সাম্রাজ্য চরম অবনতির শিকার হয়েছিল। যেমন বিবাহের বয়স পিছিয়ে যাওয়া বা আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে বিবাহ প্রথা একপ্রকার বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। সবাই বিবাহের পরিবর্তে অবিবাহিত থাকাকেই পছন্দ করত; কারণ বিবাহের খরচ ছিল অত্যন্ত বেশি আর সাধারণ মানুষ ছিল দরিদ্র। রাষ্ট্রে প্রচুর সম্পদ থাকলেও তা বিশাল রোমান সাম্রাজ্যের হাতেগোনা অল্প কিছু রাজপুরুষের হাতে পুঞ্জীভূত ছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম চারিত্রিক অবক্ষয় দেখা দেয়। সর্বত্র ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়ে এবং বংশপরিচয় সংকর হয়ে যায়।

সরকারি কর্মচারীদের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে ঘুষ একটি মূলনীতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যেকোনো কাজ হাসিল করতে চাইলে আগে ঘুষ প্রদান করতে হতো।

দেশের সকল বাসিন্দার ওপর বিশাল ও অসহনীয় করের বোঝা ছিল। ধনীদের তুলনায় দরিদ্রদের ওপর করের চাপ ছিল অনেক বেশি।

স্বভাবজাত দিক থেকে তাদের মধ্যে ছিল চরম নিষ্ঠুরতা। পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের বিনোদনের মাধ্যমগুলোর একটি ছিল: বদ্ধ খাঁচার ভেতর বন্য পশুর সাথে ক্রীতদাসদের লড়াই। উজির ও আমিররা বাইরে থেকে সেই দৃশ্য দেখতেন এবং সিংহের বা বাঘের সেই ক্রীতদাসকে ভক্ষণ করার দৃশ্য উপভোগ করতেন, যা অল্প বা দীর্ঘ সময়ের লড়াইয়ের পর শেষ হতো।

আমরা এই চিত্র দেখে অবাক হই এবং বলি: এগুলো ছিল অন্ধকার সমাজের প্রথা। কিন্তু আমরা স্পেনে ষাঁড়ের সাথে মানুষের লড়াইও দেখতে পাই। মানুষ দেখছে, হাততালি দিচ্ছে ও উল্লাস করছে আর ষাঁড়টি কীভাবে একজন মানুষকে পিষে ফেলছে বা হত্যা করছে—যাকে তারা সভ্যতার অন্যতম রূপ বলে আখ্যায়িত করে।

এছাড়াও সেখানে ছিল বর্বর ও পাশবিক যুদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ: রোমান সম্রাটদের একজন ভেস্পাসিয়ানের আমলে ৭০ খ্রিস্টাব্দে জেরুজালেমে (আল-কুদস) ইহুদিদের টানা পাঁচ মাস অবরোধ করে রাখা হয়েছিল। এটি ৭০ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে সমাপ্ত হয় এবং ইতিহাসের এক অবমাননাকর পরাজয়ের মাধ্যমে শহরটির পতন ঘটে। আমরা কেন একে 'অবমাননাকর পরাজয়' বলছি? কারণ রোমানরা ইহুদিদের সন্তান ও নারীদের তাদের নিজেদের হাত দিয়ে হত্যা করতে বাধ্য করেছিল। অর্থাৎ প্রত্যেক ইহুদিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সে যেন নিজ হাতে তার স্ত্রী ও সন্তানদের ধরে হত্যা করে। জেরুজালেম শহরের ভেতরে অবরুদ্ধ ইহুদি রাষ্ট্রের প্রতি রোমানদের পক্ষ থেকে এমনই আদেশ এসেছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইহুদিরা তা মেনে নিয়েছিল এবং প্রাণভয়ে তা সম্পন্ন করেছিল; কারণ প্রাণের প্রতি তাদের লালসা ছিল তীব্র। তারা বেরিয়ে এসে নিজেদের তলোয়ার দিয়ে নিজ সন্তান ও নারীদের হত্যা করতে শুরু করে। এরপর তারা রোমানদের কাছে বের হয়ে এলে রোমানরা প্রতি দুজন ইহুদির মধ্যে লটারি শুরু করে যে, তাদের মধ্যে কে তার ভাইকে হত্যা করবে। এভাবে তারা জেরুজালেমে উপস্থিত সমস্ত ইহুদিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। কেবল তারা ব্যতীত যারা পালিয়ে গিয়েছিল অথবা যারা দূরবর্তী স্থানে বসবাস করত।

সুতরাং এটি ছিল রোমান যুদ্ধের একটি চিত্র, যা হিংস্রতা এবং কল্পনাতীত বর্বরতার জন্য পরিচিত ছিল।

রোমান সমাজে ক্রীতদাসের সংখ্যা ছিল স্বাধীন মানুষের তুলনায় তিন গুণ বেশি। ক্রীতদাসদের সাথে আচরণ ছিল অত্যন্ত কঠোর। এমনকি দার্শনিক প্লেটো—যিনি তার কল্পনাপ্রসূত 'আদর্শ নগরী' (ইউটোপিয়া)-এর ধারণা দিয়েছিলেন—সেই কাল্পনিক ও আদর্শ নগরের বর্ণনায় তিনি বলেছেন: সেখানে ক্রীতদাসদের নাগরিক অধিকার দেওয়া উচিত নয়।

যদিও তারা সেই দেশেরই মানুষ ছিল, কিন্তু রোমানদের দেশে তাদের কোনো মূল্য ছিল না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত লাভের পূর্ববর্তী সময়ে রোমান সাম্রাজ্যের অবস্থার এটি ছিল একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র।
(খণ্ড: ২) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌حال الدولة الفارسية قبل البعثة النبوية

ننتقل إلى جهة الشرق لنرى الدولة الفارسية التي كانت تمتلك نصف العالم الآخر في ذلك الزمن، وكانت تمثل مأساة حضارية بكل المقاييس! انهيار شديد في الأخلاق بلغ إلى ما يسمى بزواج المحارم، وهذا شيء رغم بشاعته إلا أنه كان منتشراً في الدولة الفارسية، فقد كان الرجل يتزوج من ابنته أو أخته أو أمه، كبار القوم وصغارهم في ذلك سواء، فكسرى يمكن أن يتزوج أي واحدة في المجتمع كله، وقد وقع من يزدجرد الثاني كسرى فارس أنه تزوج من ابنته ثم قتلها.

كذلك بهرام جوبين وهو أحد الأكاسرة كان متزوجاً من أخته، وبعضهم كان يتزوج أمه، وهذا الأمر كان مستنكراً في كل بقاع الأرض، وكل الشعوب تعيب على أهل فارس أنهم يتزوجون بالمحارم، ولم يقولوا: إن هذا متعارف عليه في المجتمعات؟ لا، بل كان هذا شيئاً منكراً ضد الفطرة، ولكنهم كانوا يفعلونه.

وسبب ذلك: أنه في عهد قباذ -وهو أحد الأكاسرة الكبار في تاريخ الفرس- ظهر رجل اسمه مزدك، وهناك من يضعه في طائفة الفلاسفة والمفكرين، قال مزدك: إن الناس سواسية في كل شيء! وكانت كلمته ظاهرها جيد، لكن هل هم سواسية في الحقوق، والمعاملة؟ لا، لم يرد هذا فقط، بل أراد سواسية حتى في المال والنساء، فلا يوجد احترام لأي ملكية في البلد، كل شيء مباح للناس كلها، كل شيء مشاع، يمكن لأي أحد أن يدخل إلى بيت الآخر ويأخذ من ماله ونسائه، فبالتبعية استفاد الأقوياء من هذا القانون على حساب الضعفاء، وكان الرجل القوي يدخل على الضعيف يغلبه على ماله وزوجته فلا يستطيع الضعيف أن يتكلم، بينما الضعيف لا يستطيع أن يدخل على القوي، ولا أن يعترض أو يرفع شكواه؛ لأن هذا أصبح جزءاً من الدين في بلاد فارس.

ثم عمت البلاد المشاكل؛ لأن كل الناس لا تريد أن تعمل؛ لأن كل من يعمل لا يملك شيئاً، فلماذا يعمل؟ وعمت السرقات كل مكان، وباركها كسرى قباذ؛ لأن هذا عنده من الدين الذي وضعه مزدك، وفسد الناس كلهم أجمعون.

قارن هذا بالذي سيأتي ويقول: (والذي نفس محمد بيده! لو سرقت فاطمة بنت محمد لقطعت يدها) صلى الله عليك وسلم يا رسول الله.

وتقديس الأكاسرة في بلاد فارس كان أمراً عظيماً جداً عند عامة الناس، فالناس كانت تعتقد أن في دم كسرى هذا دماً إلهياً، وأنهم فوق البشر وفوق القانون، كان الرجل إذا دخل على كسرى ارتمى ساجداً على الأرض، فلا يقوم حتى يؤذن له، وأقرب الناس إلى كسرى وهم طبقة الكهان والأمراء والوزراء كانوا يقفون على بعد (5) أمتار، ومن أدنى منهم درجة على بعد (10) أمتار، والرسل كانوا يقفون على مسافة (15) متراً من كسرى، من أراد أن يدخل على كسرى ليضع على فمه قطعة من القماش الأبيض الرقيق، حتى لا تلوث أنفاسه الحضرة الملكية لكسرى! بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا استقبله رجل فصافحه لا ينزع يده من يده حتى يكون الرجل الذي ينزع، ولا يصرف وجهه عن وجهه حتى يكون الرجل هو الذي يصرفه، ولم ير رسول الله صلى الله عليه وسلم مقدماً ركبتيه بين يدي جليس له، يعني: يتواضع لجليسه حتى إنه لا يمد رجله أمام الجليس، كما روى ذلك الترمذي وابن ماجه عن أنس رضي الله عنه وأرضاه.

كانت هناك طبقية شديدة فيها مهانة كبيرة جداً للإنسانية، فقد قسموا شعب فارس من أوله إلى آخره سبع طبقات: الأولى: طبقة الأكاسرة فوق الجميع.

الثانية: طبقة الأشراف وهؤلاء سبع عائلات، ولا يمكن أن يوجد شريف خارج هذه العائلات السبع.

الثالثة: طبقة رجال الدين.

الرابعة: طبقة رجال الحرب وقواد الجيوش.

الخامسة: طبقة المثقفين، ورجال العلم، والكتاب، والأطباء، والشعراء.

السادسة: طبقة الدهاقين، وهم رؤساء القرى، وجامعو الضرائب.

الطبقة السابعة: وهي طبقة الشعب، وهم أكثر من (90%) من مجموع سكان فارس، وهم: العمال، والفلاحون، والتجار، والجنود، والعبيد.

وهذه الطبقة ليس لها حقوق تذكر.

كانوا يربطون بالسلاسل في المعارك، كما حدث في موقعة الأبلة، وهي أول موقعة إسلامية في فتح فارس، كانت بقيادة خالد بن الوليد رضي الله عنه وأرضاه، كان الفرس يربطون ستين ألفاً من الجنود بالسلاسل، كل عشرة في سلسلة، حتى إن الموقعة سميت بعد ذلك في التاريخ بذات السلاسل، ولك أن تتصور كيف يستطيع هؤلاء المقيدون في السلاسل أن يحاربوا قوماً وصفهم خالد بن الوليد رضي الله عنه بقوله في رسالته إلى زعيم الأبلة في نفس الموقعة: جئتكم برجال يحبون الموت كما تحبون أنتم الحياة.

شيء آخر أيضاً في منتهى البشاعة، كان في بلاد فارس عبادة النار، ظهر رجل اسمه زرادشت في بلاد فارس، يعتبرونه من كبار الفلاسفة ليس فقط لأهل فارس بل للعالم بأسره، حتى إن صاحب (الخالدون المائة) وأعظمهم محمد صلى الله عليه وسلم، عدّه من ضمن الخالدين، وجعل رقمه (89)؛ لأن ديانته محلية، بينما ديانة الرس
নবুওয়াত-পূর্ব পারস্য সাম্রাজ্যের অবস্থা

আমরা এখন পূর্ব দিকে ফিরে তাকাই পারস্য সাম্রাজ্যকে দেখার জন্য, যা সেই যুগে বিশ্বের অর্ধাংশ শাসন করত এবং সব দিক থেকে একটি সভ্যতাগত বিপর্যয়ের প্রতিনিধিত্ব করছিল! সেখানে নৈতিকতার এমন চরম অবক্ষয় ঘটেছিল যাকে 'মাহরাম বিবাহ' (রক্তসম্পর্কীয় নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ) বলা হয়। এটি অত্যন্ত জঘন্য হওয়া সত্ত্বেও পারস্য সাম্রাজ্যে ব্যাপক প্রচলিত ছিল। সেখানে পুরুষরা নিজেদের কন্যা, বোন বা মাকে বিবাহ করত; সমাজের উঁচুতলা থেকে নিচুতলা পর্যন্ত সবাই এতে সমান ছিল। কিসরা (পারস্য সম্রাট) সমাজের যে কোনো নারীকে বিবাহ করতে পারতেন। পারস্য সম্রাট দ্বিতীয় ইয়াজদাগিরদের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছিল যে, তিনি নিজের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন এবং পরে তাকে হত্যা করেছিলেন।

একইভাবে পারস্য সম্রাটদের অন্যতম বাহরাম চোবিন নিজের বোনকে বিবাহ করেছিলেন এবং তাদের কেউ কেউ নিজ জননীকেও বিবাহ করত। এই বিষয়টি পৃথিবীর সব প্রান্তে অত্যন্ত নিন্দিত ছিল এবং সব জাতিই পারস্যবাসীকে ধিক্কার দিত যে তারা মাহরামদের বিয়ে করে। তারা কি বলত যে এটি সমাজে স্বীকৃত প্রথা? না, বরং এটি ছিল মানুষের প্রকৃতিজাত স্বভাব বা ফিতরাতের পরিপন্থী একটি জঘন্য কাজ, কিন্তু তবুও তারা তা করে যেত।

এর কারণ ছিল: পারস্য ইতিহাসের অন্যতম মহান সম্রাট কুবাদের শাসনামলে মাজদাক নামক এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে। কেউ কেউ তাকে দার্শনিক ও চিন্তাবিদদের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। মাজদাক বলেছিল: মানুষ সব কিছুতে সমান! তার কথাটি বাহ্যিকভাবে ভালো মনে হলেও, সে কি কেবল অধিকার ও আচরণের ক্ষেত্রে সমতার কথা বলেছিল? না, বরং সে এমনকি সম্পদ এবং নারীদের ক্ষেত্রেও সমতা চেয়েছিল। ফলে দেশে ব্যক্তিগত মালিকানার কোনো সম্মান অবশিষ্ট ছিল না; সব কিছু সবার জন্য বৈধ ও সর্বজনীন হয়ে পড়েছিল। যে কেউ অন্যের বাড়িতে প্রবেশ করে তার সম্পদ ও স্ত্রী-পরিবার দখল করে নিতে পারত। এর ফলে শক্তিশালীরা দুর্বলদের বিনিময়ে এই আইনের সুযোগ গ্রহণ করত। একজন শক্তিশালী ব্যক্তি কোনো দুর্বলের ওপর চড়াও হয়ে তার সম্পদ ও স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিত, আর সেই দুর্বল ব্যক্তি একটি শব্দ করারও সাহস পেত না। পক্ষান্তরে দুর্বল ব্যক্তি কোনো শক্তিমানের ওপর হস্তক্ষেপ করতে বা কোনো প্রতিবাদ বা অভিযোগ জানাতে পারত না; কারণ এটি তখন পারস্যের ধর্মের অংশ হয়ে গিয়েছিল।

অতঃপর সারা দেশে সমস্যার সৃষ্টি হলো; কারণ মানুষ আর কাজ করতে চাইছিল না। যেহেতু যে পরিশ্রম করে সে কোনো কিছুর মালিক হতে পারে না, তবে সে কেন কাজ করবে? ফলে চারদিকে চুরি-ডাকাতি ছড়িয়ে পড়ল এবং সম্রাট কুবাদ এতে সম্মতি দিলেন; কারণ তার দৃষ্টিতে এটি ছিল মাজদাকের তৈরি করা ধর্মের অংশ। এভাবে সমগ্র সমাজ কলুষিত হয়ে গেল।

এর সাথে তুলনা করুন সেই মহান ব্যক্তির, যিনি এসে বলবেন: (সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে আমি তার হাত কেটে দিতাম)। হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

পারস্যে সম্রাটদের (আকাসিরা) পবিত্র মনে করার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে অত্যন্ত প্রকট ছিল। তারা বিশ্বাস করত যে, কিসরার রক্তে ঐশ্বরিক কোনো উপাদান রয়েছে এবং তারা সাধারণ মানুষ ও আইনের ঊর্ধ্বে। কেউ যখন কিসরার সামনে উপস্থিত হতো, তখন সে মাটিতে সিজদাবনত হয়ে পড়ে থাকত এবং অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত মাথা তুলত না। কিসরার সবচেয়ে নিকটবর্তী যাজক, রাজপুত্র ও উজিরদের স্তরটি ৫ মিটার দূরত্বে দাঁড়াত। তাদের নিম্নবর্তী স্তরের লোকেরা ১০ মিটার দূরত্বে এবং বিদেশি দূতগণ কিসরা থেকে ১৫ মিটার দূরত্বে দাঁড়াতেন। কেউ কিসরার সামনে উপস্থিত হতে চাইলে তাকে মুখে এক টুকরো পাতলা সাদা কাপড় বেঁধে নিতে হতো, যাতে তার নিঃশ্বাস কিসরার রাজকীয় উপস্থিতিকে অপবিত্র করতে না পারে! অথচ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা ছিল এমন যে, যদি কোনো ব্যক্তি তাঁর সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করত, তবে যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি হাত সরিয়ে নিত, ততক্ষণ তিনি নিজের হাত সরাতেন না। এবং যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নিত, ততক্ষণ তিনি তার দিক থেকে মুখ ফিরাতেন না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কখনও তাঁর পাশে উপবিষ্ট ব্যক্তির সামনে নিজের হাঁটু প্রসারিত করে থাকতে দেখা যায়নি; অর্থাৎ তিনি তার সাথীর সাথে এত বিনয়ী ছিলেন যে এমনকি তার সামনে পা-ও বাড়াতেন না। যেমনটি ইমাম তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

সেখানে এক কঠোর শ্রেণিবৈষম্য বিদ্যমান ছিল যাতে মানবতার চরম অবমাননা করা হতো। তারা পারস্যের জনগণকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাতটি স্তরে বিভক্ত করেছিল: প্রথম স্তর: সম্রাটদের স্তর, যারা সবার ঊর্ধ্বে।

দ্বিতীয় স্তর: অভিজাতদের স্তর; তারা ছিল সাতটি বিশেষ পরিবার। এই পরিবারগুলোর বাইরে কেউ অভিজাত হতে পারত না।

তৃতীয় স্তর: ধর্মীয় নেতাদের স্তর।

第四 স্তর: যোদ্ধা ও সেনাপতিদের স্তর।

পঞ্চম স্তর: বুদ্ধিজীবী, জ্ঞানী ব্যক্তি, লেখক, চিকিৎসক এবং কবিদের স্তর।

ষষ্ঠ স্তর: দেহকানদের (জমিদার) স্তর, যারা ছিল গ্রামপ্রধান এবং কর সংগ্রাহক।

সপ্তম স্তর: সাধারণ জনগণের স্তর, যারা ছিল পারস্যের মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশেরও বেশি। তারা হলো: শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী, সাধারণ সৈনিক এবং ক্রীতদাস।

আর এই স্তরের জনগণের উল্লেখ করার মতো কোনো অধিকার ছিল না।

যুদ্ধের ময়দানে তাদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো, যেমনটি ঘটেছিল 'উবুল্লাহর যুদ্ধে'। এটি ছিল পারস্য বিজয়ের প্রথম ইসলামী যুদ্ধ যা খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযিয়াল্লাহু আনহুর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল। পারসিকরা তাদের ষাট হাজার সৈন্যকে শিকলে বেঁধে রেখেছিল, প্রতি দশজনকে একটি শিকলে। এ কারণে ইতিহাসে এই যুদ্ধ 'জাতুস সালাসিল' (শিকলবদ্ধদের যুদ্ধ) নামে অভিহিত হয়। আপনি কি কল্পনা করতে পারেন যে, এই শিকলবন্দি মানুষগুলো কীভাবে এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যাদের সম্পর্কে খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযিয়াল্লাহু আনহু উবুল্লাহর নেতার কাছে প্রেরিত চিঠিতে বলেছিলেন: "আমি তোমাদের কাছে এমন এক দল মানুষ নিয়ে এসেছি যারা মৃত্যুকে ততটাই ভালোবাসে যতটা তোমরা জীবনকে ভালোবাসো।"

আরও একটি অত্যন্ত জঘন্য বিষয় ছিল পারস্যের অগ্নিপূজা। সেখানে জরথুস্ত্র নামক এক ব্যক্তির আবির্ভাব হয়েছিল, যাকে কেবল পারস্যবাসীই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক মনে করা হয়। এমনকি 'দ্য হানড্রেড' (বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০০ ব্যক্তি) গ্রন্থের লেখক—যাঁর তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—জরথুস্ত্রকেও সেই অমর ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাকে ৮৯তম অবস্থানে রেখেছেন; কারণ তার ধর্ম ছিল আঞ্চলিক, যেখানে রাসূলের ধর্ম...
(খণ্ড: ২) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌حال أوروبا الشمالية قبل البعثة النبوية

أوروبا الشمالية، وهي: إنجلترا، والدول الإسكندنافية السويد والدنمارك وفنلندا وألمانيا.

هذه المناطق الشمالية من أوروبا كانت خارج حدود الدولة الرومانية، يقول عنها المؤرخ الفرنسي رينو -وشهد شاهد من أهلها: طفحت أوروبا في ذلك الزمن بالعيوب والآثام، وهربت من النظافة والعناية بالإنسان والمكان، وزخرت بالجهل والفوضى والتأخر وشيوع الظلم والاضطهاد، فشت فيها الأمية، للدرجة التي كان الأمراء يفتخرون بأنهم لا يستطيعون أن يقرءوا، والعلماء كانوا في مهانة شديدة في هذه البلاد، هذا إن وجدوا.

قارن هذا بدين كانت أول كلماته {اقْرَأْ} [العلق:1] كما قال الله عز وجل.

ثم قال: كانت أوروبا مسرحاً للحروب والأعمال الوحشية.

ويقول جوستاف لوبون في كتابه (حضارة العرب) يصف وضع أوروبا: لم يجدوا في أوروبا بعض الميل للعلم إلا في القرن الحادي عشر والثاني عشر من الميلاد.

وهذا موافق للقرن الرابع والخامس الهجري.

ثم يقول جوستاف لوبون: وذلك حين ظهر فيهم أناس أرادوا أن يرفعوا أكفان الجهل، فولوا وجوههم شطر المسلمين الذين كانوا أئمة عصرهم.

وهذا الكلام كان بعد أربعة أو خمسة قرون من نزول الوحي على رسول الله صلى الله عليه وسلم بكلمة (اقرأ).

إذاً: كيف كان الوضع قبل هذا؟ كتب مؤرخ أندلسي اسمه صاعد كتاباً اسمه (طبقات الأمم) وهو كتاب رائع، يصف فيه حال البلاد في زمانه، وقد توفي في القرن الخامس الهجري سنة (462هـ) في طليطلة، يحكي حال البلاد الشمالية في القرن الخامس الهجري فيقول: كانوا قوماً أشبه بالبهائم، وقد يكون ذلك من إفراط بعد الشمس عن رءوسهم فصارت بذلك أمزجتهم باردة، وأخلاقهم فجة رديئة، وقد انسدلت شعورهم على وجوههم، وعدموا دقة الأفهام، وغلب عليهم الجهل والبلادة، وفشت فيهم الغباوة.

وهذا الرحالة الأندلسي إبراهيم الطرطوش يصف أهل جليقية الذين كانوا يعيشون في شمال إسبانيا، قال: هم أهل غدر ودناءة أخلاق، لا يتنظفون ولا يغتسلون في العام إلا مرة أو مرتين بالماء البارد، لا يغسلون ثيابهم منذ يلبسونها إلى أن تتقطع عليهم، ويزعمون أن الوسخ الذي يعلوهم من عرقهم تصح به أبدانهم.

قارن بين هذا وبين دين يأمر بالوضوء خمس مرات في اليوم، والاغتسال من الجنابة، ويوم الجمعة، وفي الأعياد، ويأمر باجتناب صلاة الجماعة -وهي من أشرف العبادات- لمن أكل ثوماً أو بصلاً! انظر إلى احترام الإنسان للإنسان، ومدى تكريم الله عز وجل لعباده المؤمنين! يروي ابن فضلان الرحالة المسلم في القرن الرابع الهجري ما شاهده بنفسه من موت أحد السادة في أوروبا، فجاءوا بجارية له كي تموت معه، فشربت الخمر ورقصت وقامت بطقوس معينة، ثم قيدوها بالحبال من رقبتها، ثم أقبلت امرأة عجوز يسمونها ملك الموت وبيدها خنجر كبير، ثم أخذت تطعنها في صدرها بين الضلوع في أكثر من موضع، والرجال يخنقونها بالحبل حتى ماتت، ثم أحرقوها ووضعوها مع سيدها الميت، وهم بهذا يحترمون إنسانية السيد كما يظنون! قارن هذا بما جاء به الإسلام وتعجب من أجل أن تعرف دينك، جاء في صحيح مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه وأرضاه أن الرسول صلى الله عليه وسلم قال: (من لطم مملوكه أو ضربه فكفارته أن يعتقه) سواء كان هذا العتق على سبيل الوجوب أو الاستحباب.

فهذه نظرة الإسلام لمعاملة الرقيق.
নবুওয়াত লাভের পূর্বে উত্তর ইউরোপের অবস্থা

উত্তর ইউরোপ বলতে বোঝায়: ইংল্যান্ড এবং স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশসমূহ—সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও জার্মানি।

ইউরোপের এই উত্তরের অঞ্চলগুলো রোমান সাম্রাজ্যের সীমানার বাইরে ছিল। ফরাসি ঐতিহাসিক রিনো তাদের সম্পর্কে বলেন—আর তাদের নিজস্ব লোকদের পক্ষ থেকেই একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিল: সেই যুগে ইউরোপ ত্রুটি ও পাপে নিমজ্জিত ছিল; তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মানুষ ও স্থানের যত্ন নেওয়া থেকে বিমুখ ছিল। সেটি মূর্খতা, বিশৃঙ্খলা, অনগ্রসরতা এবং অবিচার ও নিপীড়নের প্রসারে ভরপুর ছিল। সেখানে নিরক্ষরতা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল যে, রাজপুত্ররা লিখতে-পড়তে না পারার জন্য গর্ববোধ করত। আর সেই দেশগুলোতে যদি কোনো আলেম বা জ্ঞানী ব্যক্তি থেকেও থাকতেন, তবে তারা অত্যন্ত লাঞ্ছিত ও অবহেলিত অবস্থায় থাকতেন।

এর সাথে এমন একটি দ্বীনের তুলনা করুন যার প্রথম শব্দই ছিল "পড়ো", যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন।

এরপর তিনি বলেন: ইউরোপ ছিল যুদ্ধ এবং পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের চারণভূমি।

গুস্তাভ লে বোন তাঁর "আরব সভ্যতা" নামক গ্রন্থে ইউরোপের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: একাদশ ও দ্বাদশ খ্রিস্টাব্দের আগে ইউরোপে বিজ্ঞানের প্রতি সামান্যতম আগ্রহও দেখা যায়নি।

এটি হিজরি চতুর্থ ও পঞ্চম শতাব্দীর সমসাময়িক।

এরপর গুস্তাভ লে বোন বলেন: আর তা তখনই হয়েছিল যখন তাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষের আবির্ভাব ঘটে যারা অজ্ঞতার কাফন তুলে ফেলতে চেয়েছিল; ফলে তারা মুসলমানদের দিকে মুখ ফেরালো, যারা ছিল সে সময়ের ইমাম বা পথপ্রদর্শক।

আর এই কথাগুলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর "পড়ো" শব্দের মাধ্যমে ওহী নাযিল হওয়ার চার বা পাঁচ শতাব্দী পরের।

তাহলে এর আগের অবস্থা কেমন ছিল? সা’ইদ নামক জনৈক আন্দালুসিয়ান ঐতিহাসিক "তাবাকাতুল উমাম" (জাতিসমূহের স্তরবিন্যাস) নামে একটি চমৎকার গ্রন্থ লিখেছেন, যেখানে তিনি তাঁর সমসাময়িক দেশগুলোর অবস্থা বর্ণনা করেছেন। তিনি হিজরি পঞ্চম শতাব্দীতে ৪৬২ হিজরিতে টলেডোতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি পঞ্চম হিজরি শতাব্দীতে উত্তরের দেশগুলোর অবস্থা বর্ণনা করে বলেন: তারা ছিল চতুষ্পদ জন্তুর মতো এক জাতি। সম্ভবত তাদের মাথার ওপর থেকে সূর্যের অত্যধিক দূরত্বের কারণে তাদের মেজাজ শীতল হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের চরিত্র হয়ে উঠেছিল রুক্ষ ও মন্দ। তাদের চুল চেহারার ওপর ঝুলে থাকত, তাদের বোধশক্তির সূক্ষ্মতা ছিল না, তাদের ওপর মূর্খতা ও স্থবিরতা জয়ী হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে নির্বুদ্ধিতা ছড়িয়ে পড়েছিল।

আর আন্দালুসিয়ান পর্যটক ইব্রাহিম আত-তোরতুশি উত্তর স্পেনে বসবাসকারী গ্যালিসিয়ার অধিবাসীদের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: তারা বিশ্বাসঘাতকতা ও নীচ চরিত্রের অধিকারী ছিল। তারা বছরে একবার বা দুবারের বেশি ঠান্ডা পানি দিয়েও পরিষ্কার হতো না বা গোসল করত না। তারা পরিহিত কাপড় ছিঁড়ে না যাওয়া পর্যন্ত ধৌত করত না। তাদের ধারণা ছিল যে, ঘাম থেকে তাদের শরীরে যে ময়লা জমে, তাতে তাদের শরীর সুস্থ থাকে।

এর সাথে এমন একটি দ্বীনের তুলনা করুন যা দিনে পাঁচবার ওযু করা, জানাবাত থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করা এবং জুমুআ ও ঈদের দিনে গোসলের নির্দেশ দেয়। এমনকি যে ব্যক্তি রসুন বা পেঁয়াজ খেয়েছে, তাকে জামাআতে সালাত আদায় করা—যা অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত—থেকে বিরত থাকতে আদেশ দেয়! মানুষের প্রতি মানুষের সম্মান এবং মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের কতটা মর্যাদা দান করেছেন তা লক্ষ্য করুন! চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর মুসলিম পর্যটক ইবনে ফাদলান ইউরোপের এক নেতার মৃত্যুর পর যা নিজে প্রত্যক্ষ করেছিলেন তা বর্ণনা করেছেন। তারা তার সাথে মরার জন্য তার এক দাসীকে নিয়ে আসে। সে মদ পান করল, নাচগান করল এবং নির্দিষ্ট কিছু আচার পালন করল। এরপর তারা তার গলায় দড়ি দিয়ে বাঁধল। তারপর "মৃত্যুর ফেরেশতা" নামধারী এক বৃদ্ধা হাতে বড় একটি খঞ্জর নিয়ে এগিয়ে এল এবং মেয়েটির পাঁজরের মাঝখানে বুকের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে লাগল। আর পুরুষরা দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে মেরে ফেলল। এরপর তাকে পুড়িয়ে তার মৃত মনিবের সাথে রাখা হলো। তারা মনে করত যে, এর মাধ্যমে তারা সেই মনিবের মানবিকতাকে সম্মান জানাচ্ছে! এর সাথে ইসলামের শিক্ষার তুলনা করুন এবং নিজের দ্বীনকে চেনার জন্য বিস্মিত হোন। সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার দাসের গালে চড় মারবে অথবা তাকে প্রহার করবে, তার কাফফারা হলো তাকে মুক্ত করে দেওয়া।" চাই এই মুক্তি ওয়াজিব হিসেবে হোক বা মুস্তাহাব হিসেবে।

দাস-দাসীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে এটিই ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি।
(খণ্ড: ২) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌حال مصر قبل البعثة النبوية

كانت مصر محتلة من قبل الرومان منذ هزيمة كليوباترا على يد أوكتافيوس في سنة (31) قبل الميلاد، يعني: أكثر من (5) قرون من الاحتلال الروماني لمصر، حتى سقط في سنة (476م) لما سقطت الدولة الرومانية الغربية، لكن الدولة الرومانية الشرقية سرعان ما استولت على مصر قبل ميلاد الرسول صلى الله عليه وسلم بحوالي (100) سنة.

والدولة الرومانية سواء كانت شرقية أو غربية كانوا يتخذون من مصر مخزناً يمد الإمبراطورية الرومانية باحتياجاتها من الغذاء، وحصل تدهور شديد في الاقتصاد المصري، وتدهور شديد أيضاً في الحالة العلمية والاجتماعية، وفقد المصريون السلطة بكاملها في بلادهم، لكن الرومان حرصوا على أن يتركوا بعض الرموز من أجل أن تبقى صورة من المصريين موجودة في السلطة، فيتجنبوا ثورة الشعوب، لكن الواقع أن كل الحكم والإدارة كانت في يد الرومان.

فرضوا الضرائب الباهظة على الشعب الفقير المعدم، ضرائب عامة على الأفراد والصناعات والأراضي والماشية، وحتى على المبيعات.

وضرائب على المارة، إذا أردت أن تذهب من مكان إلى مكان أو من مدينة إلى مدينة تدفع ضريبة.

وضرائب حتى على زوجات الجنود، الجندي يدفع روحه من أجل البلد وامرأته وهو غائب تدفع ضريبة.

وضرائب على أثاث المنزل، بل تجاوزت ضرائب الأحياء إلى الأموات، فقد كان لا يسمح بدفن الميت إلا بعد أن تدفع ضريبة معينة تشبه ضريبة التركات، ولم يكتفوا بمصيبة الموت فأضافوا إليها ضريبة.

فوق كل هذا كان هناك التعذيب لأجل المخالفة في المعتقد الديني، فالكل لابد أن يكون تحت مظلة النصرانية الأرثوذكسية.
নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে মিশরের অবস্থা

খ্রিষ্টপূর্ব ৩১ অব্দে অক্টাভিয়াসের নিকট ক্লিওপেট্রার পরাজয়ের পর থেকে মিশর রোমানদের দ্বারা অধিকৃত ছিল। অর্থাৎ, মিশরে রোমানদের এই দখলদারিত্ব পাঁচ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়েছিল। ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে যখন পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে, তখনও এর প্রভাব ছিল। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের প্রায় ১০০ বছর আগে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য পুনরায় মিশরের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে।

রোমান সাম্রাজ্য, তা পূর্ব হোক বা পশ্চিম, তারা মিশরকে একটি শস্যভাণ্ডার হিসেবে গণ্য করত যা রোমান সাম্রাজ্যের খাদ্যের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করত। এর ফলে মিশরের অর্থনীতিতে চরম বিপর্যয় নেমে আসে এবং বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক অবস্থারও ব্যাপক অবনতি ঘটে। মিশরীয়রা তাদের দেশের সম্পূর্ণ শাসনক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তবে রোমানরা অত্যন্ত সুকৌশলে কিছু প্রতীকী পদ বজায় রেখেছিল যাতে প্রশাসনে মিশরীয়দের একধরণের উপস্থিতি দেখা যায় এবং জনগণের বিদ্রোহ এড়িয়ে চলা যায়। কিন্তু বাস্তবতা ছিল এই যে, সমস্ত শাসন ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ছিল রোমানদের হাতেই।

তারা নিঃস্ব ও দরিদ্র জনগণের ওপর অত্যধিক করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিল। ব্যক্তি, শিল্প, ভূমি, গবাদি পশু এমনকি ক্রয়-বিক্রয়ের ওপরও সাধারণ কর ধার্য করা হয়েছিল।

পথচারীদের ওপরও কর আরোপ করা হয়েছিল; যদি কেউ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অথবা এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে চাইত, তবে তাকে কর প্রদান করতে হতো।

এমনকি সৈনিকদের স্ত্রীদের ওপরও কর ধার্য ছিল। একজন সৈনিক দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করছে, অথচ তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রীকে কর গুণতে হতো।

গৃহস্থালির আসবাবপত্রের ওপর কর ছিল, এমনকি এই করের পরিধি জীবিতদের ছাড়িয়ে মৃতদের পর্যন্ত পৌঁছেছিল। নির্দিষ্ট পরিমাণ কর পরিশোধ না করা পর্যন্ত মৃতদেহ দাফন করার অনুমতি দেওয়া হতো না, যা ছিল অনেকটা উত্তরাধিকার করের মতো। তারা মৃত্যুর শোক ও বিপদে ক্ষান্ত না হয়ে তার সাথে করের বোঝা যুক্ত করেছিল।

এসবের ঊর্ধ্বে ছিল ধর্মীয় বিশ্বাসে ভিন্নমতের কারণে অমানবিক নির্যাতন; কারণ প্রত্যেককে অবশ্যই অর্থোডক্স খ্রিষ্টধর্মের মতাদর্শের অধীনে থাকা বাধ্যতামূলক ছিল।
(খণ্ড: ২) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌حال الصين قبل البعثة النبوية وبعدها

أما وضع الصين أيام رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقد كان فيها ثلاث ديانات: الأولى: لرجل اسمه لاوتسوا وله ديانة نظرية غير عملية، فيها بعد كامل عن النساء، وزهد كامل في الدنيا، وانعزال كامل عن المجتمع.

الثانية: لـ كنفوشيوس، ويعتبرونه من كبار الفلاسفة الصينيين، وهو صاحب مادية بحتة، وهي ديانة تعنى بقوانين وقواعد وتجارب، وتشير إلى أن الحياة بصفة عامة شيء بائس، ومن ناحية العبادة أنت حر، اعبد ما أردت: شجرة أو نهراً، أو إلخ، فهذا أمر لا يعني كنفوشيوس.

الثالثة: لـ بوذا، وهي تعاليم أخلاقية معينة، ولكن فيها أيضاً الكثير من الانعزال عن المجتمع، والزهد في الحياة، وبعد قليل تحول بوذا من مجرد مشرع إلى معبود رسمي، صنعت له التماثيل، وظل يعبد على مدار السنين.

وإلى الآن هؤلاء الثلاثة موجودون، حتى إن صاحب كتاب (الخالدون المائة) وأعظمهم محمد صلى الله عليه وسلم، وضعهم في الخالدين، بوذا الخامس وكنفوشيوس السادس.

بل إن مؤلف الكتاب لم يتردد أن يقول في وقاحة شديدة: إن بوذا يستحق أن يتصدر قائمة الخالدين ويسبق محمداً صلى الله عليه وسلم وعيسى عليه السلام لولا أن أتباع بوذا الآن أقل من أتباع الرسول صلى الله عليه وسلم وأتباع عيسى عليه السلام، من أجل هذا أخر بوذا إلى المرتبة الخامسة، وهذا يضمر لنا إلى أي حد أصبحت المقاييس مختلة عند أمثال هؤلاء.
নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে ও পরে চীনের অবস্থা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে চীনের পরিস্থিতির কথা বলতে গেলে, সেখানে তিনটি ধর্ম বিদ্যমান ছিল: প্রথমটি: লাওৎজু নামক এক ব্যক্তির, যার ধর্মটি ছিল তাত্ত্বিক ও প্রয়োগহীন; এতে নারীদের থেকে পূর্ণ দূরত্ব, দুনিয়ার প্রতি পূর্ণ অনাসক্তি এবং সমাজ থেকে পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা বিদ্যমান ছিল।

দ্বিতীয়টি: কনফুসিয়াস-এর, যাকে তারা চীনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক মনে করে। তিনি ছিলেন নিছক বস্তুবাদে বিশ্বাসী। এটি এমন একটি ধর্ম যা আইন, কানুন এবং অভিজ্ঞতার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এটি ইঙ্গিত করে যে জীবন সাধারণভাবে একটি দুর্দশাগ্রস্ত বিষয়। ইবাদতের ক্ষেত্রে আপনি স্বাধীন; আপনি যা ইচ্ছা পূজা করতে পারেন—গাছ, নদী বা অন্য কিছু—এটি কনফুসিয়াসের নিকট কোনো বিবেচ্য বিষয় ছিল না।

তৃতীয়টি: বুদ্ধের, যা কিছু সুনির্দিষ্ট নৈতিক শিক্ষা। তবে এতেও সমাজ থেকে বহুলাংশে বিচ্ছিন্নতা এবং জীবনের প্রতি অনাসক্তি রয়েছে। কিছুকাল পরে বুদ্ধ কেবল একজন বিধানদাতা থেকে আনুষ্ঠানিক উপাস্যে পরিণত হন; তার মূর্তি তৈরি করা হয় এবং যুগের পর যুগ তার পূজা চলতে থাকে।

বর্তমান কাল পর্যন্ত এই তিনটির অস্তিত্ব রয়েছে। এমনকি ‘দ্য হান্ড্রেড’ (একশ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি) গ্রন্থের লেখক—যাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—তাদেরকে এই প্রভাবশালীদের তালিকায় স্থান দিয়েছেন। সেখানে বুদ্ধ পঞ্চম এবং কনফুসিয়াস ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন।

এমনকি সেই গ্রন্থের লেখক অত্যন্ত ধৃষ্টতার সাথে এ কথা বলতেও দ্বিধা করেননি যে: বুদ্ধ এই প্রভাবশালীদের তালিকার শীর্ষে থাকার এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ঈসা আলাইহিস সালাম-এর অগ্রবর্তী হওয়ার যোগ্য হতেন, যদি না বর্তমানে বুদ্ধের অনুসারীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ঈসা আলাইহিস সালাম-এর অনুসারীদের তুলনায় সংখ্যায় কম হতো। এই কারণেই তিনি বুদ্ধকে পঞ্চম স্থানে নামিয়ে দিয়েছেন। এটি আমাদের সামনে স্পষ্ট করে যে, এই ধরণের লোকেদের নিকট মানদণ্ড কতটা বিকৃত হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ২) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌حال الهند قبل البعثة النبوية وبعدها

أما الهند فأعجوبة الأعاجيب؛ حيث كثرت فيها المعبودات بشكل مريع، فأي شيء في الهند يعبد، تماثيل لكل شيء، يعبدون الأشخاص والجبال والأنهار، مثل: نهر الكنج فهو مقدس عندهم، حتى المعادن، وأشهر المعادن التي كانت تعبد الذهب والفضة.

وعبدوا آلات الحرب من سيف أو درع، وآلات الكتابة من قلم أو كراسة.

كذلك الأجرام الفلكية تعبد من دون الله عز وجل، والحيوانات، وأكثر حيوان يعبد في بلاد الهند هو البقرة، وللأسف ما زالت تعبد إلى الآن من قبل علماء كمبيوتر وعلماء ذرة وأطباء ومهندسين، وليس فقط البقرة، بل كل الحيوانات عبدت في بلاد الهند، لدرجة أنهم عبدوا الفئران، وحصلت مجاعة ضخمة في بلاد الهند كان سببها ترك الفئران فأكلت كل المزروعات الهندية.

الشهوة الجنسية الجامحة عمت بلاد الهند، الكهان يرتكبون أبشع الفواحش في المعابد، ويعتبرون ذلك من الدين، ويتقربون بذلك إلى الآلهة.

الطبقية البشعة في بلاد الهند قسمت الناس إلى أربع طبقات: طبقة البراهمة الكهنة والحكام.

طبقة شتري وهؤلاء رجال الحرب.

وطبقة ويش وهي طبقة التجار والأغنياء.

طبقة شودر، وهذه طبقة منبوذة، ومعنى كلمة (شودر) المنبوذين، وهذه الطبقة هي أحط عندهم من البهائم، وأذل من الكلاب، حتى إن القانون عندهم ينص: من سعادة شودر أن يقوموا بخدمة البراهمة من دون أن يكون لهم أجر.

قارن هذا بما رواه ابن ماجه عن ابن عمر رضي الله عنهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: (أعطوا الأجير أجره قبل أن يجف عرقه).

ليس لطبقة شودر أن يقتنوا مالاً؛ لأن هذا يؤذي البراهمة، فلا يصح أن تكون عندك ملكية لأي جزء ولو القليل من المال.

وإذا همّ شودري أن يضرب برهمي قطعت يده، وإذا هم بالجلوس إليه كوي استه بالنار، ونفي خارج البلاد، وإذا سبه اقتلع لسانه، وإذا ادعى أنه يعلمه شيئاً سقي زيتاً مغلياً.

يقول القانون الهندي: إن كفارة قتل الكلب والقطة والضفدعة والبومة سواء بسواء مثل كفارة قتل الشودر.

هذا هو وضع بلاد الهند التي يكتب عنها في الكتب عبارة: حضارة، وأنها كذا وكذا.

المرأة في المجتمع الهندي أحياناً يكون لها أكثر من زوج، وهي في منزلة مثل منزلة الأمة، حتى ولو كانت زوجة لشريف.

أحياناً في بلاد الهند يلعب الرجل القمار ويخسر، ثم لا يجد إلا أن يقامر على زوجته، وممكن أن يخسرها في القمار.

قارن هذا بكلام الرسول صلى الله عليه وسلم: (استوصوا بالنساء خيراً) (النساء شقائق الرجال) (خيركم خيركم لأهله) وغير ذلك من الأحاديث.
নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে ও পরে ভারতের অবস্থা

ভারত হলো এক বিস্ময়কর দেশ; সেখানে উপাস্যদের সংখ্যা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। ভারতে প্রায় সব কিছুরই উপাসনা করা হতো; সব কিছুরই মূর্তি ছিল। তারা মানুষ, পাহাড় এবং নদীর উপাসনা করত, যেমন: গঙ্গা নদী তাদের কাছে পবিত্র। এমনকি তারা খনিজ পদার্থেরও উপাসনা করত; উপাসনা করা হতো এমন সবচেয়ে পরিচিত খনিজ ছিল সোনা ও রুপা।

তারা যুদ্ধের সরঞ্জাম যেমন তলোয়ার বা ঢাল এবং লেখার সরঞ্জাম যেমন কলম বা খাতারও উপাসনা করত।

তেমনিভাবে মহান আল্লাহর পরিবর্তে মহাকাশীয় বস্তু এবং পশুপাখির উপাসনা করা হতো। ভারত ভূখণ্ডে সবচেয়ে বেশি যে পশুর উপাসনা করা হয় তা হলো গরু। দুর্ভাগ্যবশত, কম্পিউটার বিজ্ঞানী, পরমাণু বিজ্ঞানী, ডাক্তার ও প্রকৌশলীদের দ্বারা এটি এখনও পর্যন্ত উপাসিত হচ্ছে। শুধু গরুই নয়, ভারত ভূখণ্ডে সব ধরনের পশুর উপাসনা করা হয়েছে, এমনকি তারা ইঁদুরেরও উপাসনা করেছে। ভারতে একবার এক বিশাল দুর্ভিক্ষ হয়েছিল যার কারণ ছিল ইঁদুরকে অবাধে ছেড়ে দেওয়া, ফলে তারা ভারতের সমস্ত ফসল খেয়ে ফেলেছিল।

অবারিত যৌন লালসা ভারত ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছিল। পুরোহিতরা মন্দিরের ভেতরে জঘন্যতম অশ্লীল কাজে লিপ্ত হতো এবং তারা একে ধর্মের অংশ মনে করত এবং এর মাধ্যমে দেবতাদের নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করত।

ভারতের জঘন্য বর্ণপ্রথা মানুষকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছিল: ব্রাহ্মণ শ্রেণি—যারা ছিল পুরোহিত ও শাসক।

ক্ষত্রিয় শ্রেণি—এরা ছিল যোদ্ধা।

বৈশ্য শ্রেণি—এটি ছিল ব্যবসায়ী ও ধনীদের শ্রেণি।

শূদ্র শ্রেণি—এটি ছিল অস্পৃশ্য বা বর্জনীয় শ্রেণি। 'শূদ্র' শব্দের অর্থ হলো অস্পৃশ্য। তাদের কাছে এই শ্রেণিটি পশুর চেয়েও নিচু এবং কুকুরের চেয়েও বেশি লাঞ্ছিত ছিল। এমনকি তাদের আইনে উল্লেখ ছিল: শূদ্রদের সৌভাগ্য হলো কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই ব্রাহ্মণদের সেবা করা।

এর সাথে ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত হাদিসটির তুলনা করুন, যা ইবনে উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "শ্রমিকের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দাও।"

শূদ্র শ্রেণির কোনো সম্পদ সঞ্চয় করার অধিকার ছিল না; কারণ এটি ব্রাহ্মণদের জন্য কষ্টদায়ক। সুতরাং সামান্য পরিমাণ সম্পদের মালিকানা থাকাটাও তোমার জন্য বৈধ নয়।

যদি কোনো শূদ্র কোনো ব্রাহ্মণকে আঘাত করার ইচ্ছা করত, তবে তার হাত কেটে ফেলা হতো। যদি তার পাশে বসার ইচ্ছা করত, তবে তার পশ্চাদ্দেশে গরম লোহা দিয়ে দাগ দেওয়া হতো এবং তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হতো। যদি সে তাকে গালি দিত, তবে তার জিহ্বা উপড়ে ফেলা হতো। আর যদি সে দাবি করত যে সে তাকে কিছু শিক্ষা দিচ্ছে, তবে তাকে ফুটন্ত তেল পান করানো হতো।

ভারতীয় আইন অনুযায়ী: কুকুর, বিড়াল, ব্যাঙ এবং প্যাঁচা হত্যার কাফফারা ঠিক ততটুকুই যতটুকু একজন শূদ্রকে হত্যার কাফফারা।

এটিই হলো ভারতের অবস্থা, যার সম্পর্কে বইপুস্তকে 'সভ্যতা' শব্দাংশ লিখে বর্ণনা করা হয় যে এটি এমন বা তেমন ছিল।

ভারতীয় সমাজে কখনো কখনো একজন নারীর একাধিক স্বামী থাকত এবং তার মর্যাদা ছিল দাসীর মতো, এমনকি সে কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির স্ত্রী হলেও।

কখনো কখনো ভারতে পুরুষরা জুয়া খেলত এবং হেরে যেত। এরপর সে তার স্ত্রীকে বাজি ধরা ছাড়া আর কোনো পথ পেত না এবং জুয়ায় তাকে হারিয়েও ফেলত।

এর সাথে রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর বাণীর তুলনা করুন: "তোমরা নারীদের সাথে উত্তম আচরণের উপদেশ গ্রহণ করো", "নারীরা পুরুষদেরই সহোদরা", "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম যে তার পরিবারের কাছে উত্তম" এবং এ জাতীয় অন্যান্য হাদিসসমূহ।
(খণ্ড: ২) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌موقع اليهود على خارطة الأحداث قبل وبعد البعثة النبوية

في هذه الصورة البشعة للأرض أين كان اليهود؟ عاش اليهود مضطهدين في آسيا وأوروبا وإفريقيا وفي كل بقعة وفي كل زمن، وليس هناك طاقة لأحد من البشر بمعاشرة اليهود، فهم في لحظات الضعف خنوع ونفاق ودس وكيد وكذب، وفي لحظات القوة تجبر وتكبر وظلم ووحشية وربا وفتن ومؤامرات.

اليهود في ذلك الزمن تركزوا في منطقة الشام، وفي سنة (610) ميلادية، بعد حوالي ثلاث سنوات أو سنتين من بعثة الرسول صلى الله عليه وسلم حصلت المعركة الضخمة ما بين الفرس والروم، التي ذكرت في كتاب الله عز وجل: {غُلِبَتِ الرُّومُ} [الروم:2]، وانتصر الفرس على الرومان، واليهود كانوا في بلاد الشام التي تتبع الدولة الرومانية، فلما غلبت الدولة الرومانية تحول اليهود من رعايا الدولة الرومانية إلى قتلة وسفاكي دماء لكل رهبان النصارى الموجودين في بلاد الشام، وصارت لهم شوكة فترة من الزمان، ثم دارت الأيام وانتصر الرومان على الفرس {وَهُمْ مِنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ} [الروم:3]، فجمع اليهود أنفسهم وذهبوا إلى هرقل وقدموا له القرابين وتذللوا له، وأظهروا له الانصياع الكامل والتبعية لحكومته، فقبل منهم هرقل ذلك، وأعطاهم العهد بالأمان، لكن أتى رهبان الشام بعد ذلك فذكروا لـ هرقل ما فعله اليهود في وقت هزيمة الرومان، فغضب وأراد أن يعاقب اليهود، ولكن منعه العهد الذي أعطاه إليهم، فجاء إليه الرهبان النصارى وقالوا لـ هرقل: لا عليك من العهد، اقتلهم وسنصوم عنك جمعة كل سنة أبد الدهر، فقبل كلام هرقل وعذبهم عذاباً شديداً، ولم يفلت إلا الذي هرب من الشام.

ومن حينها اشتد العداء بين النصارى واليهود، علماً بأن النصارى يكرهون اليهود لادعائهم بأنهم قتلوا المسيح عليه السلام، {وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ} [النساء:157]، حتى إن النصارى في عهد سيدنا عمر بن الخطاب لما فتح القدس سنة (16) هجرية اشترطوا ألا يعيش في القدس يهودي، وألا يبقى فيها يوماً وليلة إلا المرور، وأعطاهم عمر بن الخطاب رضي الله عنه العهد بذلك، لكن الآن نرى اتفاق اليهود مع الأمريكان والإنجليز والفرنسيين وغيرهم؛ لأن معركتهم واحدة هي المعركة ضد الإسلام.

اليهود في زمن الرسول صلى الله عليه وسلم كانوا يتمركزون في شمال المدينة المنورة في خيبر، وكانوا كعادتهم قوماً غلاظ الطباع، قساة القلوب، منحرفي الأخلاق، يعيشون على الربا، وإشعال الفتن والحروب والتكسب من بيع السلاح، وإيقاع السادة في الفضائح الأخلاقية وتهديدهم بها، والسيطرة على الجهال بكتبهم المحرفة وأفكارهم الضالة.
‌নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে ও পরে ঘটনাবলির মানচিত্রে ইহুদিদের অবস্থান

পৃথিবীর এই ভয়াবহ চিত্রের মাঝে ইহুদিরা কোথায় ছিল? ইহুদিরা এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং প্রতিটি স্থানে ও প্রতিটি যুগে নির্যাতিত হয়ে জীবন অতিবাহিত করেছে। আর ইহুদিদের সাথে মিলেমিশে বসবাস করার সামর্থ্য কোনো মানুষেরই নেই। কেননা তারা দুর্বলতার মুহূর্তে বশ্যতা স্বীকারকারী, মুনাফিক, ষড়যন্ত্রকারী, প্রতারক ও মিথ্যাবাদী; আর শক্তির মুহূর্তে তারা হয়ে ওঠে উদ্ধত, অহংকারী, জালিম, পাশবিক, সুদখোর, ফিতনা সৃষ্টিকারী ও ষড়যন্ত্রের হোতা।

সেই সময়ে ইহুদিরা শাম (সিরিয়া) অঞ্চলে পুঞ্জীভূত ছিল। এবং ৬১০ খ্রিস্টাব্দে—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির প্রায় দুই বা তিন বছর পর—পারস্য ও রোমানদের মধ্যে এক বিশাল যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যার উল্লেখ আল্লাহর কিতাবে রয়েছে: "রোমকরা পরাজিত হয়েছে" [রূম: ২]। পারসিকরা রোমানদের ওপর জয়লাভ করেছিল। ইহুদিরা তখন শাম ভূখণ্ডে ছিল যা রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। রোমান সাম্রাজ্য যখন পরাজিত হলো, তখন ইহুদিরা রোমান প্রজাসুলভ আচরণ ছেড়ে শামে অবস্থানরত সকল খ্রিস্টান সন্ন্যাসীদের হত্যাকারী ও রক্তপিপাসু ঘাতকে পরিণত হলো। কিছু সময়ের জন্য তাদের দাপট তৈরি হয়েছিল। এরপর দিন আবর্তিত হলো এবং রোমানরা পারসিকদের ওপর বিজয়ী হলো— "এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে" [রূম: ৩]। তখন ইহুদিরা একত্রিত হয়ে হেরাক্লিয়াসের কাছে গেল এবং তাকে নানা উপঢৌকন প্রদান করে নিজেদের হীনতা প্রকাশ করল। তারা তার সরকারের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও বশ্যতা প্রদর্শন করল। হেরাক্লিয়াস তাদের এই প্রস্তাব গ্রহণ করলেন এবং তাদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলেন। কিন্তু এরপর শামের সন্ন্যাসীরা এসে হেরাক্লিয়াসকে স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, রোমানদের পরাজয়ের সময় ইহুদিরা কী আচরণ করেছিল। এতে তিনি ক্রুদ্ধ হলেন এবং ইহুদিদের শাস্তি দিতে চাইলেন, কিন্তু তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি তাকে বাধা দিচ্ছিল। তখন খ্রিস্টান সন্ন্যাসীরা হেরাক্লিয়াসের কাছে এসে বলল: "প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে আপনার কোনো চিন্তা নেই, আপনি তাদের হত্যা করুন; আমরা আপনার পক্ষ থেকে প্রতি বছর চিরকাল এক সপ্তাহ করে রোজা রাখব।" হেরাক্লিয়াস তাদের কথা মেনে নিলেন এবং ইহুদিদের কঠোর শাস্তি প্রদান করলেন। যারা শাম থেকে পালিয়ে গিয়েছিল, তারা ছাড়া আর কেউই রক্ষা পেল না।

তখন থেকেই খ্রিস্টান ও ইহুদিদের মধ্যে শত্রুতা তীব্রতর হয়। উল্লেখ্য যে, খ্রিস্টানরা ইহুদিদের ঘৃণা করত তাদের এই দাবির কারণে যে, তারা ঈসা আলাইহিস সালামকে হত্যা করেছে। "অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের জন্য সদৃশ করা হয়েছিল" [নিসা: ১৫৭]। এমনকি হিজরি ১৬ সনে যখন সাইয়্যিদুনা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু কুদস (জেরুজালেম) জয় করেন, তখন খ্রিস্টানরা শর্ত দিয়েছিল যে, কুদসে কোনো ইহুদি বসবাস করতে পারবে না এবং কেবল অতিক্রম করা ছাড়া সেখানে দিন-রাত অবস্থান করতে পারবে না। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের সেই অঙ্গীকার প্রদান করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে আমরা আমেরিকান, ইংরেজ, ফরাসি এবং অন্যদের সাথে ইহুদিদের যে জোট দেখি, তার কারণ হলো তাদের লড়াই অভিন্ন—আর তা হলো ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ইহুদিরা মদিনা মুনাওয়ারার উত্তরে খায়বারে অবস্থান করত। তারা তাদের চিরচেনা স্বভাব অনুযায়ী ছিল কঠোর মেজাজের, পাষাণ হৃদয়ের এবং চারিত্রিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত এক জাতি। তারা সুদের ওপর বেঁচে থাকত, ফিতনা ও যুদ্ধ বাধিয়ে রাখত এবং অস্ত্র বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করত। এছাড়া তারা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের চারিত্রিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করত এবং তাদের বিকৃত কিতাব ও ভ্রান্ত চিন্তাধারার মাধ্যমে অজ্ঞদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করত।
(খণ্ড: ২) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌حال الحبشة قبل البعثة النبوية وبعدها

كانت الحبشة -أثيوبيا حالياً- على النصرانية المحرفة، وكانوا يتبعون الكرسي الإسكندري في الدين، يعني: مثل الديانة المصرية، ويعتقدون أن المسيح هو الله أو ابن الله، وليس له طبيعة بشرية، كانت حياتهم بدائية إلى حد كبير، وإن كان لهم قوة وجيش وسلاح، لكن في زمن الرسول صلى الله عليه وسلم وبعد البعثة كان يحكمهم رجل لا يظلم عنده أحد، وهو النجاشي أصحمة، والنجاشي لقب وليس اسماً، مثل ملك فارس لقبه كسرى، وملك الروم لقبه قيصر، كذلك ملك الحبشة لقبه النجاشي.

هذا وضع بلاد الحبشة ذكرناه لأهميته في السيرة كما سيأتي بعد ذلك.
নবুওয়াত-পূর্ব ও নবুওয়াত-পরবর্তী সময়ে আবিসিনিয়ার অবস্থা

আবিসিনিয়া — বর্তমান ইথিওপিয়া — বিকৃত খ্রিষ্টধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তারা ধর্মীয় বিষয়ে আলেকজান্দ্রীয় মণ্ডলীর অনুসারী ছিল, অর্থাৎ যা ছিল মিশরীয় ধর্মবিশ্বাসের অনুরূপ। তারা বিশ্বাস করত যে মসিহ স্বয়ং আল্লাহ কিংবা আল্লাহর পুত্র এবং তাঁর কোনো মানবীয় প্রকৃতি নেই। তাদের জীবনযাত্রা ছিল বহুলাংশে আদিম, যদিও তাদের শক্তি, সেনাবাহিনী ও অস্ত্রশস্ত্র ছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমসাময়িক কালে এবং নবুওয়াত পরবর্তী সময়ে তাদের শাসন করতেন এমন এক ব্যক্তি যাঁর সান্নিধ্যে কেউ অত্যাচারিত হতো না; তিনি হলেন নাজাশী আসহামা। নাজাশী কোনো নাম নয় বরং এটি একটি উপাধি; যেমন পারস্য রাজের উপাধি কিসরা এবং রোম সম্রাটের উপাধি কায়সার, তেমনি আবিসিনিয়ার রাজার উপাধি ছিল নাজাশী।

আবিসিনিয়া ভূখণ্ডের এই পরিস্থিতি আমরা সীরাতের ক্ষেত্রে এর গুরুত্বের কারণে উল্লেখ করলাম, যা সামনে আলোচিত হবে।
(খণ্ড: ২) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - রাগিব আস-সারজানী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌حال الأمريكيتين قبل البعثة النبوية

أما الأمريكتان فقد كانتا تعيشان في ذلك الوقت في مرحلة طفولة حضارية، في حياة بدائية تماماً، وقد رأيت آثار السكان الأصليين لأمريكا (الهنود الحمر) وهي آثار في غاية البدائية، وما كان لهم أي دور في حركة الأرض في ذلك الزمن.
নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে দুই আমেরিকার অবস্থা

আর দুই আমেরিকা সম্পর্কে বক্তব্য হলো যে, সে সময়ে তারা সভ্যতার শৈশব পর্যায়ে এক সম্পূর্ণ আদিম জীবন যাপন করছিল। আমি আমেরিকার আদিবাসীদের (রেড ইন্ডিয়ানদের) যেসব নিদর্শন দেখেছি তা অত্যন্ত আদিম প্রকৃতির; তৎকালীন বিশ্বে পৃথিবীর গতিধারায় তাদের কোনো প্রকার ভূমিকা ছিল না।