(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: -)
القول المعتبر في بيان الإعجاز للحروف المقطعة من فواتح السور القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: القول المعتبر في بيان الإعجاز للحروف المقطعة من فواتح السور
المؤلف: إياس محمد حرب آل خطاب
الناشر: مطابع برنتك للطباعة والتغليف - السودان - الخرطوم
الطبعة: الأولى، 2011
عدد الصفحات: 252
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
(وقد أهداه المؤلف للمكتبة الشاملة)
تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432
সূরার প্রারম্ভিক বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহের (الحروف المقطعة) অলৌকিকত্ব (إعجاز) বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য বক্তব্য (القول المعتبر) বিভাগ: কুরআনুল কারীমের জ্ঞান (علوم القرآن) এবং তাফসীরের মূলনীতি (أصول التفسير)
কিতাব: সূরার প্রারম্ভিক বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহের (الحروف المقطعة) অলৌকিকত্ব (إعجاز) বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য বক্তব্য (القول المعتبر)
লেখক: ইয়াস মুহাম্মদ হারব আল-খাত্তাব
প্রকাশক: প্রিনটেক প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রেস - সুদান - খার্তুম
সংস্করণ: প্রথম, ২০১১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(লেখক এটি মাকতাবাতুশ শামেলা-কে উপহার হিসেবে প্রদান করেছেন)
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১)
القول المعتبر في بيان الإعجاز للحروف المقطّعة من فواتح السوردراسة في الإعجاز اللغوي والبياني للقرآن الكريم
تأليف: إياس محمد حرب آل خطاب
الطبعة الأولى 2011
সূরার প্রারম্ভিক বিচ্ছিন্ন বর্ণমালার (الحروف المقطعة) অলৌকিকত্ব (إعجاز) উপস্থাপনায় নির্ভরযোগ্য (المعتبر) বক্তব্যপবিত্র কুরআনের ভাষাগত ও আলঙ্কারিক অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ক একটি গবেষণা
রচনা: ইয়াস মুহাম্মদ হারব আল খাত্তাব
প্রথম সংস্করণ ২০১১
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২)
دعاءأللهمَّ إنْ كنتَ تعلم أن ما ذهبتُ إليه في هذا الكتاب من تأويلٍ لآياتِ كتابك فيه الخير للمسلمين ولطالبي هذا العلم الشريف فيسّره للظهور واكتب له القبول وإنْ كنتَ تعلم أنني انتصرتُ فيه لقولٍ أو لرأيٍ يخالف شرعك وصحيح فهم كتابك أو يوافق بدعةً في دينك فاصرفه عن الظهور واجعله نسياً منسياً.
দোয়াহে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে, আপনার কিতাবের আয়াতসমূহের যে ব্যাখ্যা (تأويل) আমি এই গ্রন্থে অবলম্বন করেছি, তাতে মুসলিম উম্মাহর জন্য এবং এই মহান ইলমের শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে, তবে আপনি এর প্রচার ও প্রকাশকে সুগম করে দিন এবং এর জন্য গ্রহণযোগ্যতা লিখে দিন। পক্ষান্তরে, আপনি যদি জানেন যে, আমি এতে এমন কোনো বক্তব্য বা মতামতের সমর্থন করেছি যা আপনার শরিয়ত (شرع) এবং আপনার কিতাবের সঠিক (صحيح) উপলব্ধির পরিপন্থী, অথবা যা আপনার দ্বীনের মধ্যে কোনো বিদআতের (بدعة) অনুগামী, তবে আপনি একে প্রকাশ হওয়া থেকে ফিরিয়ে রাখুন এবং একে বিস্মৃতির অতলে বিলীন করে দিন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১)
بين يدي الكتابالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسوله الأمين، الذي اشترط النصح لكل المسلمين، وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعدُ:
فما من قارئ لكتاب الله - مسلم أو غير مسلم - إلا وتستوقفه تلك الحروف المقطّعة في بداية بعض السور، وما من باحث في تأويلها بين أقوال المفسرين وغيرهم من أصحاب الآراء والأقوال والادعاءات إلا ويستوقفه مطلق الظن بعلمها ومعرفة مقاصد الله جلَّ في علاه منها، فقد اختلف المفسرون قديمهم وحديثهم في تأويل هذه الحروف على مرِّ العصور، بل لقد كانت أقوالهم وآراؤهم متباينة أشدّ البَوْن بين أصل الحروف اللغوي كالقول بأنها حروف دلت على ذاتها، وبين منتهى العجز في فهمها كالقول بأنها من الأسرار وأنّ الله وحده هو العالم بمراده فيها.
وهذا الكتاب سيغني الباحث - إن شاء الله - عن عناء البحث والاستقصاء لجمع تلك الآراء لمجرد الاطلاع عليها ومعرفة الصحيح من السقيم منها، أو لمعرفة تفسير الحروف وتأويلها على الوجه الصحيح، وبيان أوجه الإعجاز فيها، فقد ذكرت فيه - بحمد الله - ما يقنع الباحث عن هذا العلم، وشرحت فيه من حال التأويل المستحب للحروف، وما يَحسن فيه وما يقبح، وبيّنت فيه مسالك المتحدثين فيها على اختلاف أفهامهم وغاياتهم، وبيّنت الكثير من أوجه الإعجاز وما جاءت به الحروف من دلالات وإشارات ومضامين يعجز البشر عن مجرد التفكير بمثلها، وقد اعتمدت في تلخيصها وإيضاحها على الأقوال المعتبرة وما قارب الصواب منها بحسب الأصول والقواعد المتبعة في علوم القرآن وعلوم الحديث وإقرارات أهل العربية، وما يَحدّها من البلاغة وبيان الإفصاح في كتاب الله، بالإضافة لما تحصل عندي من معرفة بعلم التاريخ والآثار وما
গ্রন্থের প্রাককথনসমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত রাসূলের ওপর, যিনি সকল মুসলমানের জন্য কল্যাণকামিতাকে অপরিহার্য করেছেন, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
আল্লাহর কিতাবের এমন কোনো পাঠক নেই—মুসলিম হোক বা অমুসলিম—যাকে কিছু সূরার শুরুতে অবস্থিত সেই বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহ (الحروف المقطعة) থমকে দেয় না। আর এগুলোর ব্যাখ্যা (تأويل) অনুসন্ধানে মুফাসসিরগণের বক্তব্য এবং অন্যান্য মতাদর্শী ও দাবিদারদের বক্তব্যের মাঝে বিচরণকারী এমন কোনো গবেষক নেই, যাকে এগুলোর জ্ঞান এবং এগুলোর মাধ্যমে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা লাভের বিষয়টি ভাবিয়ে তোলে না। যুগ যুগ ধরে প্রাচীন ও আধুনিক মুফাসসিরগণ এই অক্ষরগুলোর ব্যাখ্যার (تأويل) ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন। বরং তাদের বক্তব্য ও অভিমতগুলোর মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান রয়েছে; যা এগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক মূল—যেমন এগুলো এমন অক্ষর যা কেবল নিজেদেরই নির্দেশ করে—থেকে শুরু করে এগুলো বোঝার ক্ষেত্রে চরম অক্ষমতা—যেমন এগুলো রহস্যের অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলোর ব্যাপারে আল্লাহর উদ্দেশ্য কেবল তিনিই জানেন—পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই গ্রন্থটি ইনশাআল্লাহ একজন গবেষককে কেবল জানার জন্য বা সেগুলোর মধ্য থেকে সহিহ (صحيح) ও সাকিম (سقيم) বর্ণনাগুলো পৃথক করার জন্য, অথবা অক্ষরগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা (تأويل) এবং এগুলোর অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলো স্পষ্ট করার জন্য সেইসব মতামত অনুসন্ধানের কষ্ট থেকে মুক্তি দেবে। আল্লাহর প্রশংসায়, আমি এতে এমন বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি যা এই জ্ঞান অন্বেষণকারীকে আশ্বস্ত করবে। আমি এতে অক্ষরগুলোর পছন্দনীয় ব্যাখ্যার (تأويل) অবস্থা এবং এর ভালো ও মন্দ দিকগুলো বর্ণনা করেছি। বিভিন্ন জনের ভিন্ন ভিন্ন প্রজ্ঞা ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী তাদের আলোচনার পথগুলো বিশ্লেষণ করেছি। আমি এগুলোর অলৌকিকত্বের (إعجاز) অনেক দিক এবং এই অক্ষরগুলো যে সকল অর্থ, ইঙ্গিত ও বিষয়বস্তু বহন করে তা বর্ণনা করেছি, যা চিন্তা করতেও মানুষ অক্ষম। আমি এগুলোর সারসংক্ষেপ ও স্পষ্টীকরণের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (معتبرة) বক্তব্যসমূহ এবং উলূমুল কুরআন ও উলূমুল হাদিসের প্রচলিত মূলনীতি (أصول) ও নিয়মাবলি, ভাষাবিদদের স্বীকৃত বর্ণনা এবং আল্লাহর কিতাবে অলঙ্কারশাস্ত্র ও প্রাঞ্জল বর্ণনার মানদণ্ড অনুযায়ী যা সত্যের কাছাকাছি তা গ্রহণ করেছি। এছাড়া ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে আমার লব্ধ জ্ঞান এবং যা কিছু...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২)
يخص منها اللغات ومقارنتها، واتخذته مقروناً في بيان الوجوه الصحيحة من كل الآراء، مع إغفال الوجوه السقيمة منها بما تحصل عندي من استقراء وتأمل في غايات الذكر الحكيم، غير مُرجّح لرأي دون آخر ولا مُتّبع لمسلك دون سواه، إلّا ما دلّت عليه إشارة أو دلالة في كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم أو ما وافق فهماً صحيحاً لأثرٍ عن السلف من دون أي التباس.
ولست أدعي فيما أكتب علماً لم يبلغه أحد، إنما هو بيان لوقفات مضيئة على ما ورد ذكره في القرآن من حروف، وما فيها من دلالات وإشارات تُبهر العقول وتُغذّي الروح، رغم أنها كانت على مر العصور موطن تأويل وبحث واختلاف، وكان مَبلغ علم المتبحر في غاياتها ودلالاتها أن يقول: هي من علم الله، أو هي من المتشابه في القرآن. وقد كانت بحق وما زالت كما قيل بأنها تلك الفواتح العظيمة التي تقرع آذان السامعين لتنقلهم من مراتب السمع الخالص إلى أفق التأمل بما تعجز القلوب عن إدراكه من أسرارٍ للبيان الإلهي.
وقد بيّنت في هذا الكتاب أنها أتت للرد على مسالك المتكلمين فيها وفي القرآن بغير علم، وأنها ردت عن نفسها بأعجب ما يكون في الرد من إيجاز، وأدقه معرفة لكمائن النفوس، وأنها جمعت أقوال المفسرين بتكامل عجيب بما جاء فيها من أسرارٍ للنظم الإلهي الأوحد. ولم أغفل بحمد الله عن البيان والتفصيل والتأصيل لأسباب الخلاف الظاهر بين أقوال العلماء والمفسرين، قبل الحديث عن بيانها وتفصيل الأقوال فيها، وقبل بيان بعض دلالاتها وإشارات الإعجاز فيها. على أنني لم أرجع فيما بسطته من أسباب للخلاف والاتفاق في التأويل إلى كتابٍ مُؤلَّف أو قولٍ يروى، ولا وجدت ما ذكرته مجموعاً في مكان، وإنما عرفته بالاستقراء وتأمل كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، وما نبّه أهل العلم على إثباته وما حذّروا من إتباعه. وهذا البيان وهذا التفصيل رأيته ضرورة حتمية، تلزمنا نحن المسلمين لتصفية ما علق في أذهاننا من الفهم السقيم لبعض الحقائق الناصعة، وما شابها من تغيير وتبديل؛ لننير بذلك طريق الفهم السليم لمكنونات الذكر الحكيم.
এসবের মধ্য থেকে ভাষাতত্ত্ব ও এর তুলনামূলক পর্যালোচনার প্রতি আমি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। কুরআনুল কারীমের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমার লব্ধ গভীর পর্যবেক্ষণ ও অনুধাবনের ভিত্তিতে আমি সকল মতামতের মধ্য থেকে শুদ্ধ (الصحيحة) দিকগুলো গ্রহণ করেছি এবং ত্রুটিযুক্ত (السقيمة) দিকগুলো বর্জন করেছি। আমি কোনো বিশেষ মতকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দিইনি কিংবা সুনির্দিষ্ট কোনো পথের অনুসরণ করিনি, কেবল আল্লাহ তাআলার কিতাব ও তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর ইঙ্গিত ও প্রমাণ কিংবা সালাফদের কোনো বর্ণনা (أثر) থেকে প্রাপ্ত এমন সঠিক উপলব্ধি যা কোনো প্রকার অস্পষ্টতামুক্ত, তার ভিত্তিতেই আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
আমি যা লিখছি সে বিষয়ে এমন কোনো জ্ঞানের দাবি করছি না যা অন্য কেউ অর্জন করতে পারেনি। বরং এটি কুরআনে বর্ণিত হরফসমূহ এবং এর মধ্যকার তাৎপর্য ও ইঙ্গিতসমূহ সম্পর্কে কিছু আলোকপাত মাত্র, যা জ্ঞানকে বিমোহিত করে এবং আত্মাকে খোরাক যোগায়। যদিও যুগ যুগ ধরে এগুলো ব্যাখ্যা, গবেষণা ও মতভেদের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এবং এসবের লক্ষ্য ও তাৎপর্য সম্পর্কে অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পন্ন ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ জ্ঞান ছিল কেবল এই বলা যে— 'এগুলো আল্লাহর ইলমের অন্তর্ভুক্ত' অথবা 'এগুলো কুরআনের অস্পষ্ট (المتشابه) আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত'। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সেই মহান প্রারম্ভিকা, যা শ্রোতার কানে করাঘাত করে তাকে নিছক শ্রবণের স্তর থেকে চিন্তাশীলতার দিগন্তে নিয়ে যায়, যেখানে অন্তরসমূহ ঐশী অলঙ্কারের এমন গূঢ় রহস্য উপলব্ধিতে অক্ষম হয়ে পড়ে যা বর্ণনার অতীত।
আমি এই কিতাবে স্পষ্ট করেছি যে, এই হরফগুলো ঐ সকল কালামশাস্ত্রবিদদের অনুসৃত পথের খণ্ডনস্বরূপ এসেছে যারা না বুঝে এগুলো এবং কুরআন সম্পর্কে কথা বলে। এই হরফগুলো অত্যন্ত চমৎকার ও সংক্ষিপ্তভাবে নিজের সত্যতা প্রমাণ করেছে এবং মানুষের মনের অন্তঃস্থল সম্পর্কে সূক্ষ্মতম জ্ঞান প্রকাশ করেছে। এগুলো এক বিস্ময়কর সমন্বয়ের মাধ্যমে মুফাসসিরদের অভিমতগুলোকে একত্রিত করেছে, কারণ এর ভেতরে এক ও অদ্বিতীয় ঐশী বিন্যাসের রহস্য নিহিত রয়েছে। আল্লাহর প্রশংসায়, আমি আলেম ও মুফাসসিরদের মতভেদের প্রকাশ্য কারণগুলোর ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ও মূলনীতি নির্ধারণ (التأصيل) করার বিষয়টি উপেক্ষা করিনি; যা এই হরফগুলোর ব্যাখ্যা, বিভিন্ন অভিমতের বিস্তারিত বিবরণ এবং এর মধ্যকার কিছু তাৎপর্য ও অলৌকিক নিদর্শনের বর্ণনার পূর্বেই উল্লেখ করেছি। তবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আমি ঐক্য ও অনৈক্যের যে কারণগুলো বিস্তারিত আলোচনা করেছি, সেজন্য কোনো নির্দিষ্ট রচিত কিতাব বা বর্ণিত (يروى) কোনো উক্তির মুখাপেক্ষী হইনি। আমি যা কিছু উল্লেখ করেছি তা একক কোনো স্থানে সংকলিত অবস্থায় পাইনি, বরং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর গভীর পর্যবেক্ষণ ও অনুধাবন এবং বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম যা সাব্যস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ও যা অনুসরণ করা থেকে সতর্ক করেছেন, তার মাধ্যমেই আমি এগুলো অবগত হয়েছি। আমি মনে করি, এই বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত বর্ণনা আমাদের মুসলিমদের জন্য একটি অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা। যেন আমরা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকা কিছু দুর্বল উপলব্ধির ভুলগুলো দূর করতে পারি এবং তাতে যে বিকৃতি ও পরিবর্তন ঘটেছে তা সংশোধন করতে পারি; আর এর মাধ্যমে কুরআনুল কারীমের গূঢ় রহস্যসমূহ অনুধাবনের সঠিক পথটি উদ্ভাসিত করতে পারি।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩)
وقد اتبعت طريقاً في سرد الحقائق والشبه، اعتمدت فيه على تفصيلها أولاً، ثم بالرد على المبتدعين والحاقدين من غير احتجاج بما جاء في فواتح السور من دلالات ثانياً، وذلك ليأتي الرد من بابين: أولاهما الرد بكلام البشر على البشر، كما هو ردي عليهم، وثانيهما بفهم الدلالات وردّها عن نفسها بما نعجز نحن البشر عن مثله، ليُفرّق القارئ بين إعجاز البيان وما يقوله البشر من كلام، فلا يستعجلن أحد في الحكم على شيء قبل المقارنة بما يوافقه من دلالات وإشارات في كلام الله.
هذا وأسأل من يقرأ في كتابي هذا العذر والصفح؛ إن رآني أقل منه منزلة في علم له علاقة أو منهج مُتَّبع هو فيه إمام، أو رأى ما لعله يثيره عليّ، لأنني سلكت في تأليف هذا الكتاب درباً لم أجد لي فيه مرشداً إلا ما زكّته النفس عن إيمان ويقين بعد البحث والاستقراء، ولست أدعي فيه السلامة من الخطأ، ولا العصمة من الزلل وأعترف بالتقصير. فقد كان أساس البحث فيه ما انقدح في نفسي من فهمٍ للحروف، فبحثت عنه بما آتاني الله من قوة في كتب السابقين وما سطّر المعاصرون، فلم أجد لما ذهبت إليه فيها قرين، ولم أجد كذلك أن ما ذهبت إليه قد خالف أصلاً من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم أو أصلاً من أصول أهل العلم في فهم النصوص، فعلمت أنه لا يحق لي كتمانه، كما لا يحق لي إطفاء شعلة من نور في طريق العلم، وأنني إن فعلت كنت مستحقّاً للجام لا أقوى على احتماله.
ولما كان هذا المسلك من التأليف فيه ما فيه من سعة المطالب، ولا يكون إلا بشحذ الفكر وإعياء النظر، فيجب على المنصف إن كان من أهل العلم الصادقين، أن يعرض عما يجدني أشير إليه باختصار، أو أسهب فيما يدعوه للملل والانتظار، ولْيسارع في التجاوز عنه وعني، وليتذكر بأن الدين النصيحة، ولينتهي إن شاء بالذي ابتدأت به النصيحة فكانت لله أولاً ولْيكتب ما هو خير منه، أو ليأخذ منه ولْيَزد عليه ما شاء، لأكون ابتداءً سبباً في دفع العلماء
আমি তথ্যাদি এবং সংশয়সমূহ বর্ণনায় একটি পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, যেখানে আমি প্রথমে সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণের ওপর নির্ভর করেছি, অতঃপর দ্বিতীয়ত সূরাসমূহের প্রারম্ভিক অক্ষরসমূহের নির্দেশনাবলি থেকে কোনো যুক্তি গ্রহণ ব্যতিরেকেই বিদআতি (مبتدعين) ও বিদ্বেষপরায়ণদের খণ্ডন করেছি। এটি এজন্য যে, যেন খণ্ডনটি দুটি দিক থেকে আসে: প্রথমটি হলো মানুষের বক্তব্যের বিপরীতে মানুষের বক্তব্যের মাধ্যমে জবাব প্রদান, যেমনটি আমি তাদের প্রতি করেছি; আর দ্বিতীয়টি হলো নির্দেশনাবলি অনুধাবন করা এবং সেগুলোর সাহায্যেই তাদের জবাব প্রদান করা যা আমাদের মতো মানুষের পক্ষে অসম্ভব। যাতে পাঠক অলঙ্কারিক অলৌকিকত্ব (إعجاز) এবং মানুষের সাধারণ কথার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। সুতরাং আল্লাহর কালামে বিদ্যমান নিদর্শন ও ইঙ্গিতগুলোর সাথে তুলনা করার আগে কারোই কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়।
অতঃপর আমি এই কিতাব পাঠকারীর নিকট ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি; যদি তিনি সংশ্লিষ্ট কোনো বিদ্যায় আমাকে তার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের মনে করেন অথবা এমন কোনো অনুসৃত পদ্ধতিতে যেখানে তিনি একজন ইমাম (إمام), অথবা এমন কিছু দেখেন যা হয়তো আমার প্রতি তার সমালোচনাকে উস্কে দিতে পারে। কারণ আমি এই কিতাবটি রচনায় এমন এক পথ অবলম্বন করেছি যেখানে অনুসন্ধান ও আবেশন (استقراء) এর পর ঈমান ও ইয়াকিনের সাথে আমার মন যা সমর্থন করেছে তা ছাড়া অন্য কোনো পথপ্রদর্শক আমি পাইনি। আমি এতে ভুল থেকে মুক্ত থাকার দাবি করছি না, কিংবা পদস্খলন থেকে নিষ্পাপ (عصمة) হওয়ার দাবিও করছি না এবং আমি আমার সীমাবদ্ধতা স্বীকার করছি। এই গবেষণার ভিত্তি ছিল হরফসমূহের মর্ম সম্পর্কে আমার অন্তরে উদিত হওয়া একটি উপলব্ধি। অতঃপর আল্লাহ আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন তা দিয়ে আমি পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহ এবং সমসাময়িকদের লেখনীতে এর অনুসন্ধান করেছি। কিন্তু আমি যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি তার কোনো সমতুল্য কিছু সেখানে পাইনি। আমি আরও দেখেছি যে, আমি যে মত গ্রহণ করেছি তা আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ কিংবা মূল পাঠ (نصوص) অনুধাবনের ক্ষেত্রে জ্ঞানীদের কোনো মূলনীতির (أصول) পরিপন্থী নয়। ফলে আমি অনুধাবন করলাম যে, এটি গোপন রাখা আমার জন্য সমীচীন হবে না, ঠিক যেমন জ্ঞানের পথে প্রজ্জ্বলিত কোনো আলোর শিখা নিভিয়ে ফেলা আমার জন্য বৈধ নয়। আমি যদি তা করতাম, তবে আমি লাগামের উপযুক্ত হতাম যা সহ্য করার শক্তি আমার নেই।
যেহেতু রচনার এই পদ্ধতিতে নানাবিধ বিষয়ের ব্যাপ্তি রয়েছে এবং এটি গভীর চিন্তা ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ব্যতিরেকে সম্ভব নয়, তাই কোনো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি যদি সত্যনিষ্ঠ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হন, তবে তার উচিত হবে আমি যেখানে সংক্ষেপে ইঙ্গিত করেছি অথবা যেখানে দীর্ঘ আলোচনার কারণে বিরক্তি বা অপেক্ষার সৃষ্টি হয়েছে তা এড়িয়ে যাওয়া। তিনি যেন দ্রুত তা এবং আমাকে ক্ষমা করেন এবং স্মরণ করেন যে 'দীন হলো কল্যাণকামিতা' (النصيحة)। তিনি যেন ইচ্ছা করলে সেই কল্যাণকামিতার মাধ্যমেই শেষ করেন যা দিয়ে আমি শুরু করেছিলাম, যা ছিল প্রথমত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। তিনি যেন এর চেয়ে উত্তম কিছু লেখেন অথবা এখান থেকে গ্রহণ করে ইচ্ছামতো সংযোজন করেন, যাতে আমি প্রাথমিকভাবে ওলামায়ে কেরামকে উৎসাহিত করার কারণ হতে পারি।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ৪)
الصادقين لطلب المزيد، وأكون انتهاءً بحال تمنى الشافعي أن يكون فيه عندما قال: "بودي أن جميع الخلق تعلموا هذا الكتاب - يعني كتبه - على ألا ينسب إليّ منه شيء" (1). ولْيُعلَم أنني ما كتبت هذا الكتاب إلا لوجه الله تعالى أولاً، ثم ليعلم الناس قارؤهم وكاتبهم أن تأويل القرآن للتوسع في بيان مقاصده بالتدبر والاستقراء ليس تاريخاً يحذو فيه المسلمون حذو أسلافهم الأولين، مرجحين لقول ولغيره منكرين، أو فنّاً يتساوى فيه المبتدعة مع أهل الحق وأهل السنة، ثم ليعلم الناس أن العلم ما هو إلّا "نور يقذفه الله في القلب، وشرطه الإتباع، والفرار من الهوى والابتداع، وفّقنا الله وإياكم لطاعته." (2)
--------------------------------------------
সত্যনিষ্ঠ অন্বেষণকারীদের জন্য আরও বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষায় এবং অবশেষে আমি যেন সেই স্তরে পৌঁছাতে পারি যেমনটি ইমাম শাফিঈ কামনা করেছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন: "আমার একান্ত ইচ্ছা যে, সমস্ত সৃষ্টি এই কিতাবটি—অর্থাৎ তাঁর রচনাবলি—শিখুক, কিন্তু এর কোনো কিছু যেন আমার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা না হয়" (১)। আর জেনে রাখা উচিত যে, আমি এই কিতাবটি সর্বপ্রথম কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই লিখেছি; অতঃপর পাঠক এবং লেখক যেন অবগত হন যে, চিন্তা-গবেষণা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে কুরআনের উদ্দেশ্যসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনার লক্ষ্যে আল-কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করা কেবল এমন কোনো ইতিহাস নয় যেখানে মুসলমানরা কেবল তাদের পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে—কোনো একটি মতকে প্রাধান্য দানকারী (مرجحين) হয়ে এবং অন্যটিকে প্রত্যাখ্যানকারী (منكرين) হয়ে—অথবা এটি এমন কোনো শিল্প নয় যেখানে বিদআতিরা (المبتدعة) সত্যপন্থী (أهل الحق) ও আহলে সুন্নাতের (أهل السنة) সমকক্ষ হয়ে যাবে। পরিশেষে মানুষ যেন জানতে পারে যে, জ্ঞান (ইলম) হলো কেবল "একটি নূর যা আল্লাহ হৃদয়ে নিক্ষেপ করেন এবং এর শর্ত হলো অনুসরণ (الإتباع) এবং প্রবৃত্তি ও বিদআত (الابتداع) থেকে পলায়ন। আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের তাঁর আনুগত্যের তাওফীক দান করুন।" (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ৫)
الفصل الأول: تصفية الأذهان مما شاب تأويل الحروف من أوهامنعلم جميعاً نحن المسلمين بأن كتاب الله قد نزل بحروف عربية وكلمات عربية ونظم عربيّ، ومع ذلك فهو إلهيّ النسب إلهيّ المبدأ وإلهي المنهج، ولا يُحيط بأسرار إعجازه أحد، لا من العرب ولا من سواهم، إلّا ما شاء الله أن يعلموه (وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ)، لأنّ الله قد تعالى بهذا الكتاب - كما تعالى بكل صفاته - عما ينشأ في الأرض من كتب وغايات مبدئها إنساني ومنتهاها إنساني. وإن كان القرآن قد نزل بلغة العرب، فليس لأنها قادرة على استيعاب الوحي الإلهي دون غيرها من اللغات وقد نزل بسواها سابقاً، ولم تُكتبْ آياته بحروفها لكونها أشرف الحروف وأبدعها في البيان قبل التنزيل، بل نزل بلغة العرب لإتمام الرسالة كما أراد الله لها أن تكون عربية، وبما قدّر الله للبيان بأن يكون على لسان العرب. وقد كانت حروف البيان لمن نزل فيهم من أبسط الحروف وأقلها استعمالاً بين حروف البشر، بل وكان استعمالها عزيزاً بينهم، فأعزّها الله بعزّة قوله، وشرّفها بموافقتها منطوق وحيه، فلا فخر للعربية على سواها إلّا بهذا الكتاب وما سار على دربه ووافق شرعه من كِتابةٍ وانتهاجٍ. فكل نبي أُرسل بلغة قومه ليبيّن لهم تشريع العزيز الحكيم، كما أُنزل القرآن بلسانٍ عربيٍّ مبين، على النبي العربي الأمي الأمين صلى الله عليه وسلم، وميّزهُ ربّ العِزّة عن غيره بأن كان آخر الكتب السماوية، ويحمل خاتمة الرسالات الإلهية، فكان للعربية من ذلك حسن الخاتمة، وشرف الإفصاح عن المرجع الأخير، بتقديرٍ من خالق البشر العالم الخبير بمواطن اختلاف ألسنة البشر والتقاء أفهامهم على آياته، فلا فضل لعربي على أعجمي ولو كان فخراً بلغته - وقد كُتبت بحروفها آيات القرآن - إلّا بالتقوى، وما في القرآن من تفضيل حسب دعوة الإتباع، لأن معاني القرآن واضحة بيّنة، ويتساوى في فهمها العربي مع غيره بعد ترجمتها، كما أن تدبر القرآن ليس مقصوراً على العرب دون سواهم، أما التأويل وفهم المقاصد بعد التدبر والتحقق والتأمل فهو العلم والحكمة، ويؤتيه الله من يشاء من عباده.
প্রথম পরিচ্ছেদ: অক্ষরের ব্যাখ্যার (تأويل) সাথে সংমিশ্রিত ভ্রান্ত ধারণা থেকে মনকে পরিচ্ছন্ন করাআমরা সকল মুসলিম জানি যে, আল্লাহর কিতাব আরবি অক্ষর, আরবি শব্দ এবং আরবি শৈলীতে অবতীর্ণ হয়েছে। তা সত্ত্বেও এটি ঐশ্বরিক উৎস, ঐশ্বরিক মূলনীতি এবং ঐশ্বরিক পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর অলৌকিকত্বের রহস্য কেউ পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারে না, আরবরাও নয় এবং অন্য কেউও নয়; কেবল আল্লাহ যা শিখাতে চেয়েছেন তা ব্যতীত (আর আল্লাহ ছাড়া এর ব্যাখ্যা (تأويل) কেউ জানে না)। কারণ আল্লাহ এই কিতাবকে—যেমন তিনি তাঁর সকল গুণাবলিতে সমুন্নত—জমিনে সৃষ্টি হওয়া সেই সকল কিতাব ও লক্ষ্য থেকে অনেক উচ্চে রেখেছেন, যার শুরু ও শেষ কেবল মানবিক। কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হলেও, এর কারণ এটি নয় যে কেবল এই ভাষাই ঐশ্বরিক ওহি ধারণ করতে সক্ষম, অন্য ভাষা নয়; কারণ ইতিপূর্বে অন্যান্য ভাষায়ও ওহি নাযিল হয়েছে। এর আয়াতগুলো এই অক্ষরের মাধ্যমে এজন্য লিপিবদ্ধ করা হয়নি যে নাযিলের পূর্বে এগুলোই ছিল সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ বা বর্ণনায় সবচেয়ে চমৎকার। বরং রিসালাতের পূর্ণতা দান করার জন্য এটি আরবি ভাষায় নাযিল হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ চেয়েছিলেন যে এটি আরবি হোক এবং যেভাবে আল্লাহ নির্ধারণ করেছিলেন যে এর বর্ণনা হবে আরবদের ভাষায়। যাদের ওপর এটি নাযিল হয়েছে, তাদের কাছে বর্ণনার এই অক্ষরগুলো ছিল মানবজাতির ব্যবহৃত অন্যান্য অক্ষরের তুলনায় অত্যন্ত সহজ এবং কম প্রচলিত। বরং এর ব্যবহার তাদের মধ্যে ছিল বিরল; আল্লাহ স্বীয় বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে একে সম্মানিত করেছেন এবং তাঁর ওহির উচ্চারণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করে একে মহিমান্বিত করেছেন। সুতরাং এই কিতাব এবং যা এর পথ অনুসরণ করে ও এর শরয়ি বিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ লেখা বা পদ্ধতি অবলম্বন করে, তা ছাড়া অন্য কোনো কারণে অন্য ভাষার ওপর আরবির শ্রেষ্ঠত্ব নেই। প্রত্যেক নবীকেই তাঁর কওমের ভাষায় প্রেরণ করা হয়েছে যাতে তিনি তাদের কাছে মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর বিধান বর্ণনা করতে পারেন। যেমনভাবে কুরআন সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় উম্মি ও আমানতদার আরবি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর নাযিল হয়েছে। ইজ্জতের মালিক রব একে অন্যান্য কিতাব থেকে এই বৈশিষ্ট্যে পৃথক করেছেন যে এটি আসমানি কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বশেষ এবং এটি ঐশ্বরিক বার্তাগুলোর পরিসমাপ্তি বহন করে। ফলে আরবির জন্য এটি ছিল এক সুন্দর সমাপ্তি এবং সর্বশেষ মানদণ্ডকে স্পষ্টভাবে প্রকাশের এক অনন্য সম্মান; যা মানুষের স্রষ্টা, মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সুনির্ধারিত বিষয়, যিনি মানুষের ভাষার ভিন্নতা এবং তাঁর আয়াতের ওপর তাদের বোধশক্তির মিলনের ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে সম্যক অবগত। সুতরাং অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই—যদিও সে তার ভাষা নিয়ে গর্ব করে এবং কুরআনের আয়াতগুলো এই অক্ষরের মাধ্যমেই লিখিত—কেবল তাকওয়া ছাড়া। কুরআনে যে শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে তা অনুসরণের আহ্বানের ভিত্তিতে, কারণ কুরআনের অর্থসমূহ অত্যন্ত স্পষ্ট। অনুবাদের পর এটি বোঝার ক্ষেত্রে আরবরা অন্য সবার সমান। একইভাবে কুরআনের গভীর চিন্তা (تدبر) কেবল আরবদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আর গভীর চিন্তা (تدبر), যাচাই-বাছাই ও উপলব্ধির পর এর গূঢ় ব্যাখ্যা (تأويل) এবং উদ্দেশ্যসমূহ অনুধাবন করা হলো ইলম ও হিকমত; আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এটি দান করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ৬)
وهذه الحروف (ن، ق، ص، الم، كهيعص
… ) نزلت من مجمل القرآن، وتلذذنا نحن المسلمين بقراءتها وإن لم نعلم ما حملته من مقاصد على وجه اليقين، وليس مِنّا أحد إلّا ويعلم معناها على الأصل، وهو علم من لا يعلم إلا قراءتها، فنحن نعلم بأنها "حروف مقطّعة تنطق بأسماء الحروف لا مسمياتها، ونعلم أن لكل حرف اسماً، وله مسمى؛ فحين نقول أو نكتب كلمة "كتب"؛ فنحن نضع حروفاً هي الكاف والباء والتاء بجانب بعضها البعض، لتكون الكلمة كما ننطقها أو نقرؤها. ويقال عن ذلك إنها مسميات الحروف، أما أسماء الحروف؛ فهي "كاف" و"باء" و"تاء"." (1) أما البحث في تأويلها وبيان مقاصدها فنتفاوت فيه كما يتفاوت الناس في الفهم، ويختلف عليه العلماء كما تختلف آراؤهم على غيره من مواطن الخلاف، وكل رأي اتسق مع غاية الوحي وسبيله في الإفصاح كان على حق وكل ما خالفهما كان شاذاً وباطلاً.
وقبل الخوض في بيان آراء العلماء في تأويل الحروف وتفصيلها، يجب الوقوف على ثلاثة أمور، لنعلم موطن الخلاف في تأويلها وبيان غاياتها، وهي:
الأول: ذكر مسالك المتحدثين فيها، لنميز الخبيث من الطيب، ولنعطي كل ذي حق حقه، كل حسب غايته.
الثاني: ذكر بعض الأسباب التي تدعوا لفهم القرآن، من غير النظر للخلاف القائم على تأويلها.
الثالث: ذكر سبب الخلاف في تأويل الحروف، وبيان مسببات الخلاف على بيان المقاصد من كلام الله.
--------------------------------------------
এই অক্ষরগুলো (নুন, ক্বফ, সদ, আলিফ লাম মিম, কাফ হা ইয়া আইন সদ
… ) কোরআনের সামগ্রিক বাণীর অংশ হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা মুসলিমরা এগুলো তিলাওয়াত করে আনন্দ লাভ করি, যদিও এগুলোর মাধ্যমে ঠিক কী উদ্দেশ্য প্রকাশ করা হয়েছে তা আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না। আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে এর মূল অর্থ সম্পর্কে জানে না; আর তা হলো সেই ব্যক্তির জ্ঞান যে কেবল এর তিলাওয়াত সম্পর্কেই অবগত। আমরা জানি যে এগুলো হলো "বিচ্ছিন্ন অক্ষর (حروف مقطعة)", যা অক্ষরের নাম দ্বারা উচ্চারিত হয়, এদের দ্বারা নির্দেশিত সত্তা বা ধ্বনিগত রূপ (মুসাম্মায়াত) দ্বারা নয়। আমরা জানি যে প্রতিটি অক্ষরের একটি নাম রয়েছে এবং সেই নামের একটি সত্তা (মুসাম্মা) রয়েছে। যখন আমরা "কাতাবা" (লিখেছে) শব্দটি বলি বা লিখি, তখন আমরা কাফ, বা এবং তা—এই অক্ষরগুলোকে একটির পাশে অন্যটি স্থাপন করি, যাতে শব্দটি আমাদের উচ্চারণ বা পাঠ অনুযায়ী গঠিত হয়। একে বলা হয় অক্ষরের সত্তা বা রূপ (মুসাম্মায়াত), আর অক্ষরের নামগুলো হলো "কাফ", "বা" এবং "তা"।" (১) তবে এর ব্যাখ্যা (তাউয়িল) এবং উদ্দেশ্য বর্ণনার বিষয়টি আমাদের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, যেমনটি মানুষের বোধশক্তিতে পার্থক্য হয়ে থাকে। আর এ বিষয়ে আলেমগণও মতভেদ করেছেন যেভাবে অন্যান্য ইখতিলাফপূর্ণ বিষয়ে তাদের মতামতের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। ওহির উদ্দেশ্য এবং এর প্রাঞ্জলতার পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিটি মতামতই সঠিক, আর যা কিছু এই দুটির পরিপন্থী তা বিচ্যুত (شاذ) এবং বাতিল (باطل)।
অক্ষরসমূহের ব্যাখ্যা এবং বিস্তারিত বর্ণনায় আলেমদের মতামতগুলো নিয়ে আলোচনার পূর্বে তিনটি বিষয় অনুধাবন করা আবশ্যক, যাতে আমরা এগুলোর ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্য বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদের জায়গাগুলো জানতে পারি; সেগুলো হলো:
প্রথম: এই বিষয়ে আলোচকদের কর্মপন্থা উল্লেখ করা, যাতে মন্দ থেকে ভালোকে পৃথক করা যায় এবং প্রত্যেকের লক্ষ্য অনুযায়ী তাকে তার প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করা যায়।
দ্বিতীয়: কোরআন বোঝার জন্য উদ্বুদ্ধকারী এমন কিছু কারণ উল্লেখ করা, যা এর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিদ্যমান মতভেদের ঊর্ধ্বে।
তৃতীয়: অক্ষরসমূহের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মতভেদের কারণ উল্লেখ করা এবং আল্লাহর কালামের উদ্দেশ্য বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদের কারণসমূহ স্পষ্ট করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ৭)
الباب الأول: مسالك المتحدثين في فواتح السورالمسلك الأول: الذين داروا في فلك التأويل، فكانوا ممن لهم أجر أو أجران، وهم المفسرون بالأثر وأقوال أهل اللغة، وأوَّلوها على أكثر من عشرين قولاً بحسب ما أحصيتها، وبحسب من أحصاها من العلماء (1)، فقالوا عنها مثلاً: هي اسم من أسماء القرآن أو أسماء للسور، وقالوا: هي فواتح يفتتح الله بها القرآن، أو جُعلت فصلاً بين السور، وقالوا: هي حروف مقطّعة من أسماء أو أفعال، وهي قَسَم، وهي من حروف الهجاء لأسماء الله الحسنى، أو فيها اسم الله الأعظم، وهي حروف هجاء موضوع، وهي حروف تحمل في كل منها معنى مختلف، وهي سر القرآن ومما استأثر الله بعلمه، وهي حروف تدل على أصلها كحروف، وجُعلت فواتح لقرع الأسماع، أو هي من حروف المعجم أساس نظم القرآن، وهي إعجازٌ للعرب عن صياغة مثل القرآن بها، وهي إعجازٌ في النظم لكونها تُمثّل أنصاف صفات الحروف، وهي تنبيه لمغايرتها عُرف العرب، وهي ذات دلالة مباشرة على معنى، كتفسير (ألم) بـ (أنا الله أعلم)، وسآتي على ذكر هذه الأقوال لاحقاً بالتفصيل (في الفصل الثاني) من خلال بيان موافقتها أو مخالفتها لأصول التفسير والتأويل. هذا وإن تعددت الأقوال إلّا أنها تدور في فلك التأويل المستحب، والخلاف فيها كان من تعدد الآثار والروايات، وكثرة الضعيف منها عن الصحابة رضي الله عنهم، وابن عباس تحديداً، وقد احتجّ أصحاب تلك الآراء بهذه الروايات كلٌّ حسب ما يؤيد رأيه من روايات وإن كان فيها اضطراب واضح، وظنّوا بأنّ وقوفها على التابعين يعضدها في كثير من الأحيان وإن لم تصح عن الصحابة رضي الله عنهم أجمعين.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সূরার প্রারম্ভিক বর্ণমালার বিষয়ে আলোচকদের কর্মপন্থাপ্রথম পন্থা: যারা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের (تأويل) আবর্তে ছিলেন, তারা এমন এক দল যাদের জন্য একটি বা দুটি সওয়াব রয়েছে। তারা হলেন বর্ণনার ভিত্তিতে ব্যাখ্যাকারী (مفسرون بالأثر) এবং ভাষাবিদদের মতামতের অনুসারী। তারা এগুলোকে বিশটিরও বেশি মতে ব্যাখ্যা (تأويل) করেছেন, যা আমি এবং আমার পূর্বেকার আলেমগণ গণনা করেছেন (১)। তারা এ সম্পর্কে উদাহরণস্বরূপ বলেছেন: এগুলো পবিত্র কুরআনের নামসমূহের মধ্য থেকে কোনো নাম অথবা সূরাসমূহের নাম। তারা আরও বলেছেন: এগুলো এমন প্রারম্ভিকা যা দ্বারা আল্লাহ তাআলা কুরআন শুরু করেছেন, অথবা এগুলোকে সূরাসমূহের মাঝে বিভাজক হিসেবে রাখা হয়েছে। তারা বলেছেন: এগুলো নাম বা ক্রিয়া থেকে সংক্ষিপ্তকৃত বিচ্ছিন্ন অক্ষর (حروف مقطعة), এগুলো শপথ (قَسَم), এগুলো আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত বর্ণমালা, অথবা এতে আল্লাহর সুমহান নাম (اسم الله الأعظم) নিহিত রয়েছে। এগুলো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বর্ণমালা, এগুলো এমন বর্ণ যার প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে, এগুলো কুরআনের রহস্য এবং আল্লাহ তাআলা এর জ্ঞান নিজের জন্য নির্দিষ্ট রেখেছেন। এগুলো এমন বর্ণ যা অক্ষর হিসেবেই এর মূল সত্তাকে নির্দেশ করে। এগুলো শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য প্রারম্ভিকা হিসেবে রাখা হয়েছে, অথবা এগুলো কুরআনের শব্দ বিন্যাসের ভিত্তি হিসেবে অভিধানের বর্ণমালা। এগুলো কুরআনের মতো বাণী তৈরিতে আরবদের অক্ষমতা প্রমাণকারী অলৌকিকত্ব (إعجاز), এগুলো শব্দ বিন্যাসের দিক থেকে অলৌকিকত্ব (إعجاز) কারণ এগুলো বর্ণের গুণাবলির অর্ধেকের প্রতিনিধিত্ব করে। এগুলো আরবদের প্রচলিত রীতির ভিন্নতার কারণে তাদের জন্য সতর্ককারী। এগুলোর অর্থের সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে, যেমন ‘আলিফ-লাম-মীম’ (ألم) এর ব্যাখ্যা ‘আমি আল্লাহ অধিক জ্ঞাত’ হিসেবে করা। আমি পরবর্তীতে এই মতগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব (দ্বিতীয় অধ্যায়ে), তাফসীর ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের (تأويل) মূলনীতির সাথে এগুলোর সঙ্গতি বা বৈপরিত্যের বর্ণনার মাধ্যমে। যদি এ মতগুলো অসংখ্যও হয়, তবুও সেগুলো পছন্দনীয় ব্যাখ্যার (تأويل) পরিধির মধ্যেই আবর্তিত হয়। এগুলোর মধ্যকার মতভেদ মূলত বর্ণনা (آثار) ও রেওয়ায়েত (روايات) সমূহের আধিক্যের কারণে হয়েছে। বিশেষ করে সাহাবীগণ (صحابة) — আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন — এবং বিশেষভাবে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাসমূহের আধিক্যের কারণে। উক্ত মতামতের প্রবক্তাগণ এই বর্ণনাগুলো (روايات) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ মতের সমর্থনে রেওয়ায়েত (روايات) পেশ করেছেন যদিও সেগুলোর মধ্যে স্পষ্ট অসংলগ্নতা (اضطراب) বিদ্যমান। অনেক ক্ষেত্রে তারা মনে করেছেন যে, তাবিঈদের (تابعين) পর্যায়ে এগুলোর অবস্থান সেগুলোকে শক্তিশালী করে, যদিও সেগুলো সাহাবীগণ (صحابة) — আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন — থেকে বিশুদ্ধভাবে (صحيح) প্রমাণিত না হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ৮)
ويجب التنبيه هنا بأنّ الكثير من علماء الحديث وأهل التفسير قد تساهلوا في نقل الكثير من روايات التفسير في الآثار، كما تساهلوا في نسبة أقوال المتكلمين وأهل اللغة لمعرفة المصدر لكل قول، وذلك لما اقتضاه واقع الحال في التفسير، وجاء هذا التساهل لاعتبارات كثيرة، ذَكر منها أهل الحديث بأنه قد يُستأنس بهذه الأقوال لفهم المعاني، وهذا أمرٌ حاصل، ولكن الاحتجاج به باطل، فالتساهل له أسباب حميده وليس منها تفسير معاني القرآن بمجرد الخبر، والتساهل ليس بدليل على حجية ما نقلوه إن كان ضعيفاً أو فيه شبهة، وقد يُستأنس بهذه الأحاديث لبيان فهم قائليها، ولا يُحتج بها في التوقيع عن رب العالمين، ونقل مقاصد الشارع في آياته عن ظاهر اللفظ بدليل ظنيّ الثبوت أو ظنيّ التأويل، ونقول: "لا يجوز العدول عن ظاهر النص إلا لدليل يجب الرجوع إليه، ولأن النَّبي صلى الله عليه وسلم يقول: «دع ما يريبك إلى ما لا يريبك» " (1). هذا إن كانت الروايات من المسند الضعيف أو ما فيه علة لم تبلغ به رد الحديث، وقد نقلها علماء التفسير والمحدثون وقالوا: العهدة على الراوي، أما أقوال العلماء والتابعين المشكوك في نسبتها إليهم فهي أولى بالتمحيص والتدقيق والردّ، لأنها الأكثر والأغلب، فما كان منها جميعاً من المسند الموضوع فهو داخل في قول الرسول صلى الله عليه وسلم "من كذب عليَّ متعمداً فليتبوأ مقعده من النَّار" (2)، والكذب على القرآن هو كذب على مُبلّغه وقائله، فلا نقول العهدة على الراوي، بل العهدة علينا إن أخذنا بها، وعلم الجرح والتعديل قادر على بيان الحكم الواجب اتباعه فيها. وقد كان هذا القول من أهم أسباب الخلاف في تفسير فواتح السور، وسبباً في تنازع الآراء عليها،
--------------------------------------------
ويجب التنبيه هنا بأنّ الكثير من علماء الحديث وأهل التفسير قد تساهلوا في نقل الكثير من روايات التفسير في الآثار، كما تساهلوا في نسبة أقوال المتكلمين وأهل اللغة لمعرفة المصدر لكل قول، وذلك لما اقتضاه واقع الحال في التفسير، وجاء هذا التساهل لاعتبارات كثيرة، ذَكر منها أهل الحديث بأنه قد يُستأنس بهذه الأقوال لفهم المعاني، وهذا أمرٌ حاصل، ولكن الاحتجاج به باطل، فالتساهل له أسباب حميده وليس منها تفسير معاني القرآن بمجرد الخبر، والتساهل ليس بدليل على حجية ما نقلوه إن كان ضعيفاً أو فيه شبهة، وقد يُستأنس بهذه الأحاديث لبيان فهم قائليها، ولا يُحتج بها في التوقيع عن رب العالمين، ونقل مقاصد الشارع في آياته عن ظاهر اللفظ بدليل ظنيّ الثبوت أو ظنيّ التأويل، ونقول: "لا يجوز العدول عن ظاهر النص إلا لدليل يجب الرجوع إليه، ولأن النَّبي صلى الله عليه وسلم يقول: «دع ما يريبك إلى ما لا يريبك» " (1). هذا إن كانت الروايات من المسند الضعيف أو ما فيه علة لم تبلغ به رد الحديث، وقد نقلها علماء التفسير والمحدثون وقالوا: العهدة على الراوي، أما أقوال العلماء والتابعين المشكوك في نسبتها إليهم فهي أولى بالتمحيص والتدقيق والردّ، لأنها الأكثر والأغلب، فما كان منها جميعاً من المسند الموضوع فهو داخل في قول الرسول صلى الله عليه وسلم "من كذب عليَّ متعمداً فليتبوأ مقعده من النَّار" (2)، والكذب على القرآن هو كذب على مُبلّغه وقائله، فلا نقول العهدة على الراوي، بل العهدة علينا إن أخذنا بها، وعلم الجرح والتعديل قادر على بيان الحكم الواجب اتباعه فيها. وقد كان هذا القول من أهم أسباب الخلاف في تفسير فواتح السور، وسبباً في تنازع الآراء عليها،
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقد حاول بعض العلماء الجمع بين تلك الأقوال ولم يستطيعوا، لأنهم وجدوا في بعض الآثار تناقضاً في نفس الرواية أحياناً، فالأَولى أن يتم تنقيح الصحيح من الضعيف عند الحديث عن الشُبَه وما خفي تفسيره، ولا نكتفي بهذا بل نجتهد لمعرفة أصل المتن وما هو الحق فيه، لكي لا نرمي ما جاءنا من علم التابعين ومن تبعهم من رواة الحديث وأهل التفسير من العصور المفضلة، فهم أعلم وأتقى من أن نرد كلامهم بمجرد كلامنا. ولو تتبعنا أقوال الأئمة من المفسرين - أمثال ابن جرير الطبري - لوجدنا أكثرها من الروايات عن التابعين، وهؤلاء العلماء هم قدوتنا وطريقهم سبيلنا لفهم القرآن لا سواه، ولو وصلنا من العلم ما وصلنا ونقّحنا لهم ما نقّحنا وكان بيننا وبينهم من فضل لما كان إلا كفضل الرضيع على أمه، لأنهم ورّثونا المنهج في ابتغاء العلم وبيّنوا لنا طريق الحق، لذلك سنسير على دربهم في هذه الفواتح لنجد ما قيل فيها من أحاديث وآثار وآراء، فما كان منها صحيحاً عن الرسول صلى الله عليه وسلم وضعناه موطن اليقين، وما كان منها عن الصحابة والتابعين وضعنا ضعيفه موطن الشك وصحيحه موطن الظن - لأسباب سأبينها - كما نضع الموضوع منه على رف النسيان. ولا ننسى ما لأهل العربية وفرسان الكلام من علم أتحفونا به، وما جاء في أقوالهم ومؤلفاتهم من بيان وإفهام، فلا نكتفي بإيراد كلامهم، بل نجتهد في معرفة الأصل فيه ونسبته لقائله، فمعرفة الإسناد في اللغة لا تقل أهمية عن معرفته في الأثر، لأن كلام العرب هو الشاهد على فهم كلام الله.
المسلك الثاني: الذين شذّوا وأنزلوا كتاب الله منزلة العلم بالتجريب ولو بحسن نية، كمن جعل من هذه الحروف خبيئة في علم الحساب، أو من قال هي حروف من حساب الجمَّل؛ وهذا عليه الوزر، وهو كما قال الشوكاني: "وإذا تقرر لك أنه لا يمكن استفادة ما ادّعوه من لغة العرب وعلومها لم يبق حينئذٍ إلا أحد أمرين: الأوّل التفسير بمحض الرأي الذي ورد النهي عنه، والوعيد عليه، وأهل العلم أحق الناس بتجنبه، والصدّ عنه، والتنكُّب عن طريقه، وهم أتقى لله سبحانه من أن يجعلوا كتاب الله سبحانه ملعبةً لهم يتلاعبون به، ويضعون حماقات
কতিপয় আলেম এই উক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু তারা সক্ষম হননি, কারণ তারা কিছু বর্ণনার (الآثار) ক্ষেত্রে কখনও কখনও একই বর্ণনার (الرواية) মধ্যে বৈপরীত্য খুঁজে পেয়েছেন। তাই সংশয় ও অস্পষ্ট ব্যাখ্যা সম্পর্কিত আলোচনার ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف) থেকে সহিহ (صحيح) হাদিসকে পৃথক বা পরিমার্জন করাই শ্রেয়; শুধু এটুকুই যথেষ্ট নয়, বরং আমরা মূল পাঠের (المتن) মূল উৎস এবং তাতে সত্য কী তা জানার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করব, যাতে আমরা তাবেয়িগণের ইলম এবং শ্রেষ্ঠ যুগসমূহের হাদিস বর্ণনাকারী (رواة الحديث) ও তাফসিরবিদগণের কাছ থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা ছুড়ে না ফেলি; কারণ তাঁরা আমাদের নিছক কথা দিয়ে তাঁদের কথা প্রত্যাখ্যান করার চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী ও আল্লাহভীরু ছিলেন। আমরা যদি মুফাসসির ইমামদের—যেমন ইবনে জারির তাবারী—উক্তিগুলো অনুসরণ করি, তবে আমরা সেগুলোর অধিকাংশই তাবেয়িগণের বর্ণনা (الروايات) থেকে পাব; আর এই আলেমগণই আমাদের আদর্শ এবং তাঁদের পথই কুরআন বোঝার একমাত্র পথ। আমরা ইলমের যে পর্যায়েই পৌঁছাই না কেন এবং তাঁদের জন্য যা-ই পরিমার্জন করি না কেন, আমাদের ও তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের ব্যবধান হবে মায়ের ওপর দুগ্ধপোষ্য শিশুর শ্রেষ্ঠত্বের মতো; কেননা তাঁরা জ্ঞান অন্বেষণের পদ্ধতি বা মানহাজ (المنهج) আমাদের উত্তরাধিকার হিসেবে দিয়ে গেছেন এবং আমাদের সত্যের পথ দেখিয়েছেন। তাই আমরা এই প্রারম্ভিক অক্ষরগুলোর ক্ষেত্রে তাঁদের পথ অনুসরণ করব, যাতে এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস, বর্ণনা (آثار) ও মতামতগুলো খুঁজে পাই। অতঃপর এর মধ্যে যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহিহ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত, তাকে আমরা সুনিশ্চিত অবস্থানে রাখব। আর সাহাবি ও তাবেয়িগণের পক্ষ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্য থেকে দুর্বল (ضعيف) অংশকে সন্দেহের স্থানে এবং সহিহ (صحيح) অংশকে প্রবল ধারণার স্থানে রাখব—এমন কিছু কারণে যা আমি বর্ণনা করব—যেমনটি আমরা জাল (الموضوع) বর্ণনাকে বিস্মৃতির তাকে ছুড়ে ফেলি। আমরা ভাষাবিদ ও অলঙ্কারশাস্ত্র বিশারদগণ আমাদের যে জ্ঞান উপহার দিয়েছেন এবং তাঁদের কথা ও রচনায় যে বর্ণনা ও বোধগম্যতা ফুটে উঠেছে, তা ভুলে যাব না। আমরা শুধু তাঁদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেই ক্ষান্ত হব না, বরং এর মূল উৎস এবং বক্তার সাথে এর সম্পৃক্ততা জানার চেষ্টা করব; কেননা ভাষাতত্ত্বের ক্ষেত্রে সনদ (الإسناد) জানার গুরুত্ব হাদিস বা বর্ণনার (الأثر) ক্ষেত্রে তা জানার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়; কারণ আরবি ভাষা হলো আল্লাহর কালাম বোঝার প্রধান সাক্ষী।
দ্বিতীয় পথ: যারা বিচ্যুত (شذّوا) হয়েছে এবং আল্লাহর কিতাবকে পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের স্তরে নামিয়ে এনেছে—যদিও তা সদিচ্ছা থেকেই হোক না কেন। যেমন যারা এই অক্ষরগুলোকে সংখ্যাতত্ত্বের কোনো গুপ্ত বিষয় বানিয়েছে অথবা যারা বলেছে যে এগুলো হলো হিসাবুল জুমাল-এর অক্ষর; এর দায়ভার তাদের ওপরই বর্তাবে। এটি ঠিক যেমনটি শাওকানী বলেছেন: "যখন আপনার কাছে এটি সাব্যস্ত হলো যে, তারা যা দাবি করছে তা আরবি ভাষা ও তার জ্ঞান থেকে লাভ করা সম্ভব নয়, তখন দুটি বিষয়ের একটি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না: প্রথমটি হলো নিছক নিজস্ব মতামতের (الرأي) ভিত্তিতে তাফসির করা, যা করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং যার ওপর কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে। আর আলেমগণই একে পরিহার করা, এটি থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখা এবং এর পথ থেকে দূরে থাকার সবচেয়ে বেশি হকদার। তাঁরা মহান আল্লাহর প্রতি এতটাই তাকওয়াবান যে, তাঁরা আল্লাহর কিতাবকে নিজেদের খেলার বস্তু বানাবেন না যাতে তারা তা নিয়ে খেলাধুলা করবে এবং মূর্খতা প্রসূত কথাবার্তা জুড়ে দেবে।"
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১০)
أنظارهم، وخُزَعْبَلات أفكارهم عليه. الثاني التفسير بتوقيف عن صاحب الشرع، وهذا هو المهيع الواضح، والسبيل القويم، بل الجادة التي ما سواها مردوم، والطريقة العامرة التي ما عداها معدوم، فمن وجد شيئاً من هذا، فغير ملوم أن يقول بملء فيه، ويتكلم بما وصل إليه علمه، ومن لم يبلغه شيء من ذلك فليقل لا أدري، أو الله أعلم بمراده." (1) وقد اعتمد بعض الذين تحدثوا فيها برأيهم هذا، على بعض الآثار التي ذَكرت محاولات اليهود لفهم هذه الحروف زمن التنزيل، وكلها آثارٌ ضعيفة (2)، ولا يحتج بها حتى لو كانت صحيحة، فكيف نقتدي باليهود لفهم كلام الله؟! وقد كفروا بكلامه قبل التنزيل وبعده بناءً على فهمهم وتأويلهم، فهؤلاء ليسوا معذورين، إذ الجهل بأصول الحديث لا يُعتبر مُسوغاً للخوض في القرآن. ولنا كل العبرة في حديث الرسول صلى الله عليه وسلم حين أتاه عمر، فقال: إنا نسمع أحاديث من يهود تعجبنا، أفترى أن نكتب بعضها؟ فقال: "أمتهوكون أنتم كما تهوكت اليهود والنصارى؟ أما والذي نفس محمد بيده لقد جئتكم بها بيضاء نقية، ولو كان موسى حيّاً ما وسعه إلا إتّباعي" (3)، وفي رواية "ولكني أعطيت جوامع الكلم، واختصر لي الحديث اختصاراً." (4)
المسلك الثالث: الذين أرادوا إعطاء تفسير لها بغض النظر عن الوسيلة، إما طلباً للشهرة أو دفاعاً عن القرآن، وكأنها نقيصة في كتاب الله، فرموا القرآن من حيث لا يعلمون بالنقص والتحريف، فكان منهم من إدّعى وجود أمثال للحروف المقطّعة في بعض ألسنة العرب، وأنها كانت معروفة لديهم، وأنها من باب الاختصار للكلام، وأن أصحاب هذا اللسان قد اندثروا واندثرت معهم معاني الحروف، وهذا ما لا دليل عليه من التاريخ والآثار، ولا حتى من
--------------------------------------------
...তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের চিন্তাপ্রসূত অসার কল্পনা দ্বারা। দ্বিতীয়টি হলো, শরিয়ত প্রবর্তকের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার (توقيف) ভিত্তিতে তাফসির করা; আর এটিই হলো সুস্পষ্ট পথ এবং সঠিক পন্থা, বরং এটিই সেই মূল সড়ক যা ছাড়া অন্য সব পথই রুদ্ধ এবং এটিই সেই আবাদকৃত পথ যা ছাড়া বাকি সব অস্তিত্বহীন। সুতরাং কেউ যদি এর স্বপক্ষে কিছু পায়, তবে সে দ্বিধাহীন চিত্তে তা প্রকাশ করতে পারে এবং তার অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কথা বলতে পারে। আর যার কাছে এ সংক্রান্ত কিছু পৌঁছেনি, তার বলা উচিত—'আমি জানি না' অথবা 'আল্লাহই তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভালো জানেন'।" (১) আর যারা নিজেদের মতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে কথা বলেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন কিছু বর্ণনার (أثر) ওপর নির্ভর করেছেন যাতে ওহী নাযিলের সময় এই অক্ষরগুলো বোঝার ক্ষেত্রে ইহুদিদের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ রয়েছে। এর প্রতিটি বর্ণনাই দুর্বল (ضعيف) (২), এবং এগুলো এমনকি বিশুদ্ধ (صحيح) হলেও তা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার (احتجاج) যোগ্য নয়। তবে আমরা আল্লাহর কালাম বোঝার জন্য কীভাবে ইহুদিদের অনুসরণ করতে পারি?! অথচ তারা ওহী নাযিলের আগে ও পরে তাদের নিজস্ব বুঝ ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে তাঁর কালামকে অস্বীকার করেছে। সুতরাং তারা ক্ষমার যোগ্য নয়; কেননা হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث) সম্পর্কে অজ্ঞতা কুরআনের বিষয়ে অনধিকার চর্চার কোনো বৈধ কারণ হতে পারে না। আমাদের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসে পূর্ণ শিক্ষা রয়েছে, যখন উমর (রা.) তাঁর কাছে এসে বললেন: "আমরা ইহুদিদের কাছ থেকে এমন কিছু কথা শুনি যা আমাদের ভালো লাগে, আপনি কি মনে করেন আমরা তার কিছু লিখে রাখব?" তখন তিনি বললেন: "ইহুদি ও নাসারারা যেমন বিভ্রান্ত হয়েছিল, তোমরাও কি তেমনি বিভ্রান্ত হতে চাও? সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আমি তোমাদের কাছে এক উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন দ্বীন নিয়ে এসেছি। এমনকি মুসা (আ.) যদি জীবিত থাকতেন, তবে আমার অনুসরণ করা ছাড়া তাঁর কোনো উপায় থাকত না।" (৩) অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "বরং আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ (جوامع الكلم) দান করা হয়েছে এবং আমার জন্য বক্তব্যকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া হয়েছে।" (৪)
তৃতীয় পথ: যারা যে কোনো উপায়ে এর একটি ব্যাখ্যা দিতে চেয়েছেন, তা খ্যাতির আশায় হোক কিংবা কুরআনের পক্ষাবলম্বন করতে গিয়েই হোক—যেন মনে হয় (ব্যাখ্যা না থাকাটা) আল্লাহর কিতাবের একটি ত্রুটি। ফলে তারা অজান্তেই কুরআনকে অসম্পূর্ণতা ও বিকৃতির দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে এমনও কেউ কেউ ছিলেন যারা দাবি করেছেন যে, আরবের কোনো কোনো উপভাষায় এই বিচ্ছিন্ন অক্ষরগুলোর (الحروف المقطعة) উদাহরণ বিদ্যমান এবং এটি তাদের কাছে পরিচিত ছিল। তারা মনে করেন এগুলো কথার সংক্ষিপ্ত রূপমাত্র, আর সেই ভাষার লোকেরা বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং তাদের সাথে এই অক্ষরগুলোর অর্থও হারিয়ে গেছে। ইতিহাস বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মাধ্যমে এর কোনো প্রমাণ নেই, এমনকি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১১)
قصص الإخباريين، فضلاً عن أنه رمْيٌ لكتاب الله بما لا يليق من دعوى عدم الحفظ. كما أن منهم من إدّعى وجود تفسير لها في لغات الأمم المندثرة من غير العرب، وأنها نزلت كرموز، ولها معاني في اللغات الأخرى، كما قام أحدهم بنقل الحروف إلى اللغة الهيروغليفية (1)، وقام بابتداع تفسير لها، وكأنه لم يقرأ {بِلِسَانٍ عَرَبِىّ مَبِينٍ} فجعلها (بخط مصريّ مُبهم ومُشفّر). وهؤلاء كلهم سائرون في درب مظلم، لا مرشد لهم فيه ولا مُعين، وكلامهم لا يرقى لمراتب النقد العلمي، فالهيروغليفية نوع من خطوط المصريين القدماء وليست بلغة يقوم على فهمها واستدراك معانيها علماء اللغات واللسانيات، والقائلون بهذا القول مُدَّعون لعلمٍ وهو منهم براء، {إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ} وكأن الناس قبلهم لم يفقهوا أصول هذا العلم، فقد كان العرب والمسلمون على دراية بهذا العلم قبل قرابة ألف سنة، وقد فعلوا بلغات العالم القديمة المندثرة ما فعله علماء العصر الحديث، بمحاولة فك رموز اللغات المندثرة، وتفسير معانيها، بل وإيجاد ألفاظها. (2) ولو كان عند الناس شكٌ فضلاً عن العلماء بأن في هذه الرموز تشابهاً، لوَصَلَنا منهم خبر، بل لما كانت هذه اللغات قد اندثرت أصلاً لمجرد ذكر بعض رموزها في
--------------------------------------------
ইতিবৃত্তকারদের (إخباريين) কাহিনীসমূহ, এছাড়া এটি আল্লাহর কিতাবের প্রতি এমন এক অনুচিত অপবাদ যা একে সংরক্ষিত না থাকার দাবির দিকে নিয়ে যায়। তেমনিভাবে তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যারা দাবি করেছে যে, আরব ব্যতীত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া অন্যান্য জাতিসমূহের ভাষায় এর তাফসির বিদ্যমান রয়েছে এবং এগুলো প্রতীক হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে এবং অন্যান্য ভাষায় এর অর্থ রয়েছে। এমনকি তাদের একজন এই অক্ষরগুলোকে হায়ারোগ্লিফিক ভাষায় (১) রূপান্তর করেছে এবং এর একটি নব উদ্ভাবিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছে; মনে হয় যেন সে 'সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়' অবতীর্ণ হওয়ার আয়াতটি পড়েনি, ফলে সে একে (এক অস্পষ্ট ও সঙ্কেতবদ্ধ মিশরীয় লিপিতে) পরিণত করেছে। এরা সবাই এক অন্ধকার পথে চলছে, সেখানে তাদের কোনো পথপ্রদর্শক বা সাহায্যকারী নেই। তাদের কথাবার্তা বৈজ্ঞানিক সমালোচনার স্তরে পৌঁছায় না। হায়ারোগ্লিফিক হলো প্রাচীন মিশরীয়দের এক প্রকার লিপি মাত্র, এটি কোনো ভাষা নয় যার অর্থ অনুধাবন ও উপলব্ধির জন্য ভাষাবিদ ও ভাষাতাত্ত্বিকগণ কাজ করবেন। যারা এই কথা বলে তারা এমন জ্ঞানের দাবিদার যার সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই; 'তারা কেবল ধারণার অনুসরণ করে এবং তারা কেবল অনুমান ভিত্তিক কথা বলে'। মনে হয় যেন তাদের পূর্ববর্তী মানুষ এই শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول) সম্পর্কে অবগত ছিলেন না; অথচ আরব ও মুসলিমগণ প্রায় এক হাজার বছর আগেই এই শাস্ত্র সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তারা প্রাচীন বিশ্বের বিলুপ্ত ভাষাগুলো নিয়ে তা-ই করেছেন যা আধুনিক যুগের বিজ্ঞানীরা করেছেন; অর্থাৎ বিলুপ্ত ভাষাগুলোর সংকেত উন্মোচন, সেগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা, এমনকি সেগুলোর শব্দাবলী খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। (২) সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি আলেমদের নিকটও যদি এই প্রতীকগুলোর মধ্যে কোনো সাদৃশ্যের ব্যাপারে সামান্যতম সন্দেহ থাকত, তবে তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কোনো সংবাদ (خبر) পৌঁছাত। বরং এই ভাষাগুলো কেবল এর কিছু প্রতীকের উল্লেখের কারণে বিলুপ্ত হতো না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১২)
القرآن. فهؤلاء إذن هم الطبقة الأدنى من المتقولين على القرآن، لاشتغالهم بالحروف فقط، وقولهم ساقط يميزه الساذج، ولو أن أحدهم قد رأى في الآثار الضعيفة والموضوعة مسوّغاً لفعله فهو آثم، فالجهل بأصول الحديث لا يُعتبر مسوغاً للطعن في القرآن، وقد صدق فيهم قول الإمام أبي حنيفة: "من طلب المال بالكيمياء أفلس، ومن طلب الدين بالجدال تزندق، ومن طلب غريب الحديث كُذّب." (1) لأن علامة الكذب غرابة المذهب، حتى لو كان سائغاً في عقل صاحبه وله وجهٌ صحيحٌ برأيه، "والفرق بعيد بين علم يُورِد منه المؤلف إشباعاً لكتاب، وبين كتاب يُفرده إشباعاً للعلم نفسه." (2)
المسلك الرابع: الذين أنزلوا القرآن مراتب كتب التاريخ، وقاسوه بغيره من إرث الأمم، وكأنه حجر رشيد (3) واعتبروا هذه الحروف كأي رموز غريبة لا تُفهم إلا بفهم اللغات الدارجة أيام التنزيل، وأنّ هذا الكتاب الأوحد خاضع لأبجدياتها، وهذا هو التحريف، وهو كفر بالإجماع، (4) "ولا خلاف بين المسلمين في أن من جحد من القرآن سورة أو آية أو كلمة أو حرفاً متفقاً عليه أنه كافر" (5)، وهؤلاء هم الطبقة الأعلى من المتقولين على القرآن، وهم العدو المبين، لاشتغالهم به كله وحجتهم كانت هذه الحروف. فكان منهم مثلاً من عمد إلى قراءة الرسم القرآني دون أي تغيير قراءة سريانية، وزاد عليه بتغيير نقاط الحروف، لإيجاد كلمات
--------------------------------------------
কুরআন। সুতরাং এরাই হলো কুরআনের ওপর মিথ্যাচারকারীদের মধ্যে নিম্নস্তরীয়, কারণ তারা কেবল অক্ষর নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদের বক্তব্য অসার ও অগ্রহণযোগ্য (ساقط), যা একজন সাধারণ মানুষও বুঝতে পারে। যদি তাদের কেউ দুর্বল (ضعيف) এবং জাল (موضوع) বর্ণনাগুলোর (আছার) মধ্যে নিজের কাজের কোনো বৈধতা খুঁজে পায়, তবে সে পাপিষ্ঠ। কেননা উসুল আল-হাদিস সম্পর্কে অজ্ঞতা কুরআনের সমালোচনা করার কোনো বৈধ অজুহাত হতে পারে না। তাদের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফার এই উক্তিটি যথার্থ: "যে ব্যক্তি কিমিয়ার (তথা কৃত্রিম স্বর্ণ তৈরির বিদ্যা) মাধ্যমে সম্পদ অনুসন্ধান করবে সে দেউলিয়া হবে, যে তর্কের মাধ্যমে দ্বীন তালাশ করবে সে ধর্মদ্রোহী (زنديق) হবে, আর যে গরিব (غريب) হাদিস অনুসন্ধান করবে তাকে মিথ্যাবাদী (كذاب) সাব্যস্ত করা হবে।" (১) কারণ মিথ্যার (كذب) লক্ষণ হলো মতাদর্শের অদ্ভুত বা গরিব (غرابة) হওয়া, এমনকি তা যদি প্রবক্তার যুক্তিতে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় কিংবা তার মতে তার কোনো সঠিক দিকও থাকে। "একটি কিতাবকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে তার মধ্যে কোনো জ্ঞান বা তথ্য ব্যবহারের সাথে, স্বয়ং ওই জ্ঞান বা বিদ্যাকে সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যে কোনো একক কিতাব রচনার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে।" (২)
চতুর্থ পথ: যারা কুরআনকে ইতিহাসের বইয়ের স্তরে নামিয়ে এনেছে এবং একে অন্য জাতির উত্তরাধিকারের সাথে তুলনা করেছে, যেন এটি কোনো রোসেটা স্টোন (৩)। তারা এই অক্ষরগুলোকে কেবল এমন অদ্ভুত সংকেত হিসেবে বিবেচনা করেছে যা নাযিলের সময়কার প্রচলিত ভাষাগুলো বোঝা ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়; এবং এই অনন্য কিতাবটি সেই সব ভাষার বর্ণমালার অনুগত। আর এটাই হলো বিকৃতি (تحريف), যা সর্বসম্মতভাবে (إجماع) কুফর। (৪) "মুসলমানদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, কুরআনের কোনো সুরা, আয়াত, শব্দ কিংবা সর্বসম্মত কোনো অক্ষর যে অস্বীকার করবে সে কাফির।" (৫) এরাই কুরআনের ওপর অপবাদদানকারীদের উচ্চস্তর এবং এরাই প্রকাশ্য শত্রু। কারণ তারা পূর্ণ কুরআন নিয়েই ব্যস্ত হয়েছে এবং তাদের মূল ভিত্তি ছিল এই অক্ষরগুলো। উদাহরণস্বরূপ, তাদের মধ্যে কেউ কেউ কুরআনের মূল লিপির (রসম) কোনো পরিবর্তন ছাড়াই তা সুরিয়ানি (সিরিয়াক) পদ্ধতিতে পড়ার চেষ্টা করেছে এবং অক্ষরের নুকতা (বিন্দু) পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরির অপচেষ্টা করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مشابهة بعد التغيير في اللغة السريانية! (1) ظلمات بعضها فوق بعض، وكأن ألسنة العرب ولغتهم قد انقرضت لعدة قرون، حتى أتوا هم وأحيوها، أو كأنهم وجدوا هذا الكتاب وسور القرآن في بعض الحفائر والكهوف، ولم تتناقله الأجيال تباعاً رسماً ولفظاً، وهم يعلمون بأن القرآن كان وما زال التلقي له قراءةً وكتابةً ولفظاً بسلاسل هي أشدّ من الحديد، فأسانيد القراءات وطبقات القراء وتراجمهم موثّقة في مئات الكتب، كما هو رسم القرآن وكتابة حروفه، ولا يسعهم قياسه على أي كتاب آخر؛ لأن التلقي لهذا الكتاب أيضاً لم يقتصر على القراءة والكتابة واللفظ، بل زاد عليه بنقل مواضع السكون والسكوت بين الكلمات، وأحكامها في آخر الآيات أيضاً، حتى أن علماء المسلمين من المتخصصين في القراءات قد ألّفوا أكثر من خمسين كتاباً في الوقف والابتداء فقط قبل نهاية القرن الرابع الهجري، ولم يقف النقل للقرآن عند حركة الشفاه في سياق اللفظ، بل تعداه لما هو أعجب وأعظم من أن يفهمه الحاقدون، وهو نقل حركة الفم من غير كلام، كما ثبت من حديث سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما في قوله تعالى {لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ .. الآيات} [القيامة: 19 - 16] "قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعالج من التنزيل شدة وكان مما يحرك شفتيه فقال ابن عباس: فأنا أحركهما لكم كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحركهما وقال سعيد: أنا أحركهما كما رأيت ابن عباس يحركهما فحرك شفتيه فأنزل الله تعالى {لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ} قال: جمعه لك في
--------------------------------------------
সিরীয় ভাষায় পরিবর্তনের পর সাদৃশ্য! (১) একের পর এক অন্ধকার, যেন কয়েক শতাব্দী ধরে আরবদের জিহ্বা ও ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, যতক্ষণ না তারা এসে একে পুনরুজ্জীবিত করেছে; অথবা যেন তারা এই কিতাব এবং কুরআনের সূরাগুলো কিছু খননকৃত স্থান ও গুহায় খুঁজে পেয়েছে, এবং এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে লিপি ও উচ্চারণের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে হস্তান্তরিত হয়নি। অথচ তারা জানে যে, কুরআনের পঠন, লিখন এবং উচ্চারণ লোহার চেয়েও মজবুত পরম্পরা বা শিকল (سلاسل) এর মাধ্যমে গৃহীত হয়ে আসছে। কিরাআতের বর্ণনাধারা (أسانيد), কারীদের স্তর (طبقات) এবং তাঁদের জীবনীসমূহ (تراجم) শত শত গ্রন্থে নির্ভরযোগ্যভাবে নথিবদ্ধ (موثّقة) রয়েছে, ঠিক যেমন কুরআনের লিপি ও এর হরফসমূহের লিখন পদ্ধতি সংরক্ষিত। তারা অন্য কোনো গ্রন্থের সাথে একে তুলনা করতে পারে না; কারণ এই কিতাবের জ্ঞান অর্জন কেবল পঠন, লিখন ও উচ্চারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তার চেয়েও বেশি শব্দের মাঝখানে স্থিরতা ও বিরতির স্থান এবং আয়াতের শেষে এর বিধানসমূহও বর্ণিত হয়েছে। এমনকি চতুর্থ হিজরী শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই কিরাআত বিশেষজ্ঞ মুসলিম আলেমগণ কেবল 'ওয়াকফ ও ইবতিদা' (থামা ও শুরু করা) বিষয়েই পঞ্চাশটিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। কুরআনের এই বর্ণনা কেবল উচ্চারণের সময় ঠোঁটের সঞ্চালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি এমন কিছু আশ্চর্যজনক ও মহান স্তরে পৌঁছেছে যা বিদ্বেষীদের বুঝার ক্ষমতার বাইরে, আর তা হলো কথা বলা ব্যতীতই মুখভঙ্গির নড়াচড়া স্থানান্তর করা। যেমনটি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এর হাদিস থেকে প্রমাণিত (ثبت), মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে: {আপনি ওহী দ্রুত মুখস্থ করার জন্য জিহ্বা নাড়াচাড়া করবেন না... আয়াতসমূহ} [কিয়ামাহ: ১৬ - ১৯] "তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহী নাযিলের সময় প্রচণ্ড কষ্ট সহ্য করতেন এবং প্রায়ই তাঁর ঠোঁট নাড়াতেন। ইবনে আব্বাস বলেন: আমি তোমাদের সামনে আমার ঠোঁট দুটি নাড়ছি ঠিক যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাড়াতেন। সাঈদ বলেন: আমি আমার ঠোঁট নাড়াচ্ছি যেভাবে আমি ইবনে আব্বাসকে নাড়াতে দেখেছি। এরপর তিনি তাঁর ঠোঁট নাড়ালেন। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: {আপনি দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য ওহী নিয়ে আপনার জিহ্বা নাড়াচাড়া করবেন না। এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই।} তিনি বললেন: এটি আপনার হৃদয়ে জমা করা এবং আপনার দ্বারা পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
صدرك وتقرأه {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} قال: فاستمع له وأنصت، {ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} علينا أن نبينه بلسانك، قال: فكان إذا أتاه جبريل أطرق فإذا ذهب قرأه كما وعده الله عز وجل". (1)
فمجال بحثهم هذا بعيد عن القرآن من وجوه عدّة، أيسرها في الذكر: أنه نزل بلسان عربي وصوت عربي، وهو القرآن قبل الكتابة {لِسَانُ الذي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وهذا لِسَانٌ عَرَبِيٌّ مَبِينٌ} [النحل: 103] وكل ما سوى لسانهم وصوتهم وما لا يفهموه كان أعجمياً بعرفهم، قال الشنقيطي: "واعلم أن كل صوت غير عربي تسميه العرب أعجم، ولو من غير عاقل ومنه قول حميد بن ثور يذكر صوت حمامة:
فلم أر مثلي شاقه صوت مثلها
… ولا عربياً شاقه صوت أعجما" (2)
ولم نسمع أن العرب قالوا فيما سمعوه من القرآن «ما معنى هذا؟» وبناءً عليه فإن أصحاب هذا الرأي جاهلون تماماً بما لدينا من علوم خاصة، هي من أعجب العلوم وأشرفها لتلقي القرآن وتجويده ورسمه، وذِكْر أصول اللفظ فيه، وتنوع قراءاته على ألسنة العرب. وإن قال قائل: هم معذورون لجهلهم بعلوم المسلمين الخاصة، قلت: بل إنّ هذا القول لا يقوله إلا مدلس على البشر، وكاذب على التاريخ مزور للآثار، واستغلالهم لعلم مقارنة اللغات مفضوح غير مستور، لأن هذه العلوم حيادية تجريدية، وهي قادرة على إظهار الزيف بنفسها، ومن يقرأ في هذه العلوم وينتهج فيها المبادئ الأساسية من المنهج العلمي، لن يجد دليلاً واحداً على أن أصل الكتابة العربية كان من لغة شقيقة. وهنا تفصيل لم يتنبه إليه الكثيرون، بأنّ هناك فرقاً بين اللغة (نظام
--------------------------------------------
(আপনার) বক্ষ এবং আপনি তা পাঠ করবেন {অতঃপর যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন}। তিনি বললেন: সুতরাং তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করুন এবং নীরব থাকুন, {অতঃপর তার বর্ণনা প্রদান করা আমারই দায়িত্ব} অর্থাৎ আপনার জিহ্বা দ্বারা তা ব্যক্ত করা আমার দায়িত্ব। তিনি বলেন: যখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট আসতেন, তখন তিনি মস্তক অবনত করতেন; আর যখন তিনি চলে যেতেন, তখন আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী এর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি তা পাঠ করতেন।" (১)
তাদের গবেষণার এই ক্ষেত্রটি বিভিন্ন দিক থেকে কুরআন থেকে অনেক দূরে, যার মধ্যে উল্লেখ করার মতো সহজতম বিষয়টি হলো: এটি আরবি ভাষা ও আরবি স্বরে অবতীর্ণ হয়েছে, আর এটি হলো লিপিবদ্ধ হওয়ার পূর্বের কুরআন {তারা যার দিকে ইঙ্গিত করে তার ভাষা তো অনারব, অথচ এটি হলো সুস্পষ্ট আরবি ভাষা} [আন-নাহল: ১০৩]। তাদের ভাষা ও স্বরের বাইরে যা কিছু ছিল এবং যা তারা বুঝত না, তা-ই তাদের পরিভাষায় অনারব ছিল। আশ-শানকীতি বলেছেন: "জেনে রাখুন যে, প্রতিটি অনারবি শব্দ বা স্বরকে আরবরা 'আ’জাম' বলে অভিহিত করে, এমনকি তা যদি বিবেকহীন কোনো প্রাণীর শব্দও হয়। এর মধ্য থেকে হুমাইদ ইবনে সাওরের উক্তি উল্লেখযোগ্য, যেখানে তিনি একটি ঘুঘুর ডাকের কথা উল্লেখ করেছেন:
আমি আমার মতো কাউকে দেখিনি যার নিকট এর ডাকের মতো কোনো শব্দ এত ব্যাকুলতা সৃষ্টি করেছে... আর না কোনো আরবের নিকট কোনো অনারব শব্দ ব্যাকুলতা তৈরি করেছে।" (২)
আমরা কখনো শুনিনি যে আরবরা কুরআন থেকে যা শুনেছে সে সম্পর্কে বলেছে, «এর অর্থ কী?» এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, এই মতামতের প্রবক্তারা আমাদের বিশেষ জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। এই বিজ্ঞানগুলো কুরআন গ্রহণ, এর তাজবিদ, লিখনশৈলী (রাসম), শব্দের মূল উচ্চারণ এবং আরবদের কণ্ঠে এর কিরাতের বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিস্ময়কর ও মহিমান্বিত বিদ্যা। যদি কেউ বলে: মুসলিমদের বিশেষ জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণে তারা ওজরপ্রাপ্ত, তবে আমি বলব: বরং এমন কথা কেবল মানুষের সাথে প্রতারণাকারী (مدلس), ইতিহাসের ওপর মিথ্যাবাদী (كاذب) এবং পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনে জালিয়াতকারীরাই বলতে পারে। তুলনামূলক ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাদের অপব্যবহার অত্যন্ত প্রকাশ্য, কারণ এই বিজ্ঞানসমূহ নিরপেক্ষ ও তাত্ত্বিক এবং এগুলো নিজ থেকেই জালিয়াতি প্রকাশ করতে সক্ষম। যারা এই বিজ্ঞানগুলো অধ্যয়ন করেন এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মৌলিক নীতিসমূহ অনুসরণ করেন, তারা এমন একটি প্রমাণও পাবেন না যা নির্দেশ করে যে আরবি লিখনশৈলীর উৎস কোনো সমগোত্রীয় ভাষা থেকে এসেছে। এখানে একটি বিস্তারিত বিষয় রয়েছে যা অনেকেরই দৃষ্টিগোচর হয়নি যে, ভাষা (পদ্ধতি) এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يتحقق به الكلام) والكتابة (نظام تتحقق به الحروف) والخط (نظام يتحقق به رسم الحروف)، وعليه فجلُّ ما يجد الباحث وما يستقر عليه من رأي، أن اللغة العربية لغة سامية، كالأكادية والآرامية والعبرية، وكانت الكتابة فيها عربية جنوبية وعربية شمالية، نسبة إلى جزيرة العرب، وأن الكتابة بالحروف العربية الشمالية النبطية للغة العربية هو أقرب الاحتمالات لأصل الحروف المستعملة في الكتابة زمن الرسول صلى الله عليه وسلم وقبل بعثته بفترة طويلة، وهو ما أثبته علم الآثار باكتشاف (نقش النمارة) (1) وغيره من النقوش، "وعلى الرغم من أن العربية الشمالية آخر اللغات السامية تدويناً إلا أنها احتفظت بجل خصائص اللغة السامية الأم، كالإعراب الذي اختفى من كل اللغات السامية باستثناء الأكادية. واللغة السامية الأم هي لغة فرضية تُوُصل إليها بعلم اللغة المقارن (أي مقارنة الساميات ببعضها). ويُعلل ذلك بسبب العزلة النسبية التي عاشتها القبائل العربية التي بقيت في الجزيرة العربية بينما تأثرت لغة القبائل السامية المهاجرة باللغات الأخرى غير السامية التي اتصلت بها وأخذت منها وأعطتها، الشيء الذي أدى إلى حدوث تغيرات لغوية أبعدتها من الأصل السامي وهذا ما وقع للأكادية والعبرية والحبشية وغيرها." (2) فهذه اللغات السامية ومنها الآرامية - وهي اللغة الأم للسريانية والكلدانية - كانت نشيطة قبل الإسلام، "وظلت الآرامية نشيطة حتى جاء الفتح الإسلامي فأخذ يسري إليها الضعف لاتصال أهلها بالعرب، وهكذا تغلبت عليها العربية في القرن العاشر وبقيت الآرامية لغة دينية مقرها الكنيسة تقام بها الصلوات .. وما زالت مستعملة في كنائس السريان والكلدان والموارنة إلى اليوم" (3)، والأعجب من هذا أنه كان عند السريان كتابة تدعى بالقلم الكرشوني، وهي كتابة العربية بالأحرف السريانية (4)، وهي معروفة إلى الآن، فكأن هؤلاء قد نسبوا الجد إلى أحفاد أحفاده بزعمهم. أما الخطوط العربية وغيرها فهي من الفنون، وليست حكراً على أحد، وقد يستعمل العرب خطوط السريان أو العكس، كما يستعمل العرب الخطوط الفارسية والعكس، وهو حاصل ومتَّبع إلى الآن من تشارك الكتابات في الخطوط، ومن الحق أن يقال بأن العلم ليس فيه انحياز لمذهب أو دين، وهو واقع ملموس، ولكنّ ما قالوه لا يكون إلا إتباعاً لآراء الرهبان والأحبار، وَانْحِيَازاً للطعن في القرآن والإسلام فقط، وبما أن أساس هذا العلم هو المقارنة بين الشبيهين، فأين قرآنهم السرياني؟ وأين نسختهم النقدية؟ حتى لو كانت هذه النسخة سورة واحدة من القرآن من أصغرها لأكبرها، (فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا) فأعطونا دليلاً تاريخياً واحداً ولو أصغر من حجر رشيد، على إيجاد المترادفات والاقتباسات، (فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا) فأعلمونا بكيفية المعالجة لما خالف لفظه رسمه في كلام العرب وأين ستجدونه؟ هيهات، فهم داخلون في قوله تعالى: {وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا أَعْجَمِيًّا لَقَالُوا لَوْلَا فُصِّلَتْ آيَاتُهُ أَأَعْجَمِيٌّ وَعَرَبِيٌّ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِي آذَانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى أُولَئِكَ يُنَادَوْنَ مِنْ مَكَانٍ بَعِيدٍ (44) وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ فَاخْتُلِفَ فِيهِ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَبِّكَ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ وَإِنَّهُمْ لَفِي شَكٍّ مِنْهُ مُرِيبٍ (45) فصلت}. أي أقرآن أعجمي، ورسول عربي؟ (5) وعليه فهذا المسلك باطل لما سبق و"لقوله تعالى: {بِلِسَانٍ عَرَبِىّ مَبِينٍ} فلا يحمل على ما ليس
--------------------------------------------
(যার মাধ্যমে কথা বাস্তবায়িত হয়) এবং লিখন (এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে বর্ণমালা বাস্তবায়িত হয়) এবং হস্তলিপি (এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে বর্ণসমূহের চিত্ররূপ বাস্তবায়িত হয়), এর ওপর ভিত্তি করে একজন গবেষক যা খুঁজে পান এবং যে মতের ওপর স্থির হন তা হলো—আরবি ভাষা একটি সেমিটিক ভাষা, যেমন আক্কাদীয়, আরামীয় ও হিব্রু। আর আরব উপদ্বীপের সাথে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে এর লিখন পদ্ধতি ছিল দক্ষিণ আরবি এবং উত্তর আরবি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ এবং তাঁর নবুওয়াত লাভের দীর্ঘকাল আগে উত্তর আরবি নবতীয় বর্ণমালার মাধ্যমে আরবি ভাষা লেখার বিষয়টিই প্রচলিত বর্ণমালার মূল উৎস হওয়ার ক্ষেত্রে অধিকতর শক্তিশালী সম্ভাবনা। এটি প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞান দ্বারা 'নামারা শিলালিপি' (১) এবং অন্যান্য শিলালিপি আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। "যদ্যপি উত্তর আরবি সেমিটিক ভাষাগুলোর মধ্যে সবশেষে লিখিত রূপ লাভ করেছে, তবুও এটি আদি সেমিটিক ভাষার অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখেছে, যেমন: ব্যাকরণিক বিভক্তি (ইরাব), যা আক্কাদীয় ব্যতীত অন্য সকল সেমিটিক ভাষা থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আদি সেমিটিক ভাষা হলো একটি তাত্ত্বিক ভাষা যা তুলনামূলক ভাষাবিজ্ঞানের (অর্থাৎ সেমিটিক ভাষাগুলোর পারস্পরিক তুলনার) মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় আরব গোত্রগুলোর আপেক্ষিক বিচ্ছিন্নতা যারা আরব উপদ্বীপে অবস্থান করত; পক্ষান্তরে অভিবাসী সেমিটিক গোত্রগুলোর ভাষা অন্যান্য অ-সেমিটিক ভাষা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল যাদের সংস্পর্শে তারা এসেছিল এবং তাদের থেকে গ্রহণ করেছিল ও প্রদান করেছিল। যার ফলে এমন কিছু ভাষাগত পরিবর্তন সাধিত হয় যা সেগুলোকে মূল সেমিটিক উৎস থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আর এটিই আক্কাদীয়, হিব্রু, আবিসিনীয় এবং অন্যান্য ভাষার ক্ষেত্রে ঘটেছে।" (২) এই সেমিটিক ভাষাগুলো—যার মধ্যে আরামীয়ও অন্তর্ভুক্ত, যা সুরইয়ানি ও ক্যালডীয় ভাষার মূল উৎস—ইসলামের আগমনের পূর্বে বেশ সক্রিয় ছিল। "আরামীয় ভাষা ইসলামি বিজয় পর্যন্ত সক্রিয় ছিল, এরপর আরবদের সাথে আরামীয় ভাষাভাষীদের মেলামেশার কারণে তাতে দুর্বলতা (ضعف) আসতে শুরু করে। এভাবে দশম শতাব্দীতে আরবি ভাষা এর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে এবং আরামীয় ভাষা কেবল গির্জাভিত্তিক একটি ধর্মীয় ভাষা হিসেবে টিকে থাকে যার মাধ্যমে প্রার্থনা পরিচালিত হয়... এটি আজ অবধি সুরইয়ানি, ক্যালডীয় এবং ম্যারোনাইট গির্জাগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে।" (৩) এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো, সুরইয়ানিদের কাছে 'কারশুনি লিপি' নামে একটি লিখন পদ্ধতি ছিল, যা সুরইয়ানি বর্ণমালার মাধ্যমে আরবি লেখার একটি পদ্ধতি (৪)। এটি এখন পর্যন্ত পরিচিত। যেন তারা তাদের দাবির মাধ্যমে পূর্বপুরুষকে তার অধস্তন বংশধরদের উত্তরসূরি বানিয়ে দিয়েছে। আর আরবি বা অন্যান্য হস্তলিপি তো একটি শিল্প মাত্র, এটি কারও একচেটিয়া অধিকার নয়। আরবরা সুরইয়ানি হস্তলিপি ব্যবহার করতে পারে বা এর বিপরীতটিও হতে পারে, যেমন আরবরা ফারসি হস্তলিপি ব্যবহার করে এবং এর বিপরীতটিও ঘটে। হস্তলিপির এই অংশীদারিত্ব এখন পর্যন্ত বিদ্যমান ও অনুসৃত। সত্য কথা তো এটাই যে, জ্ঞান কোনো নির্দিষ্ট মতবাদ বা ধর্মের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট নয়, যা একটি বাস্তব সত্য। তবে তারা যা বলেছে তা কেবল যাজক ও পন্ডিতদের মতামতের অনুসরণ এবং কেবল কুরআন ও ইসলামের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই। যেহেতু এই বিজ্ঞানের ভিত্তি হলো দুটি সদৃশ বিষয়ের মধ্যে তুলনা করা, তবে তাদের সুরইয়ানি কুরআন কোথায়? তাদের সমালোচনামূলক পাণ্ডুলিপিই বা কোথায়? এমনকি সেই পাণ্ডুলিপি যদি কুরআনের ছোট থেকে বড় কোনো একটি সূরাও হয় (তবে নিয়ে আসুক)। (অতঃপর তোমরা যদি তা না করো এবং কখনোই তা করতে পারবে না) তবে আমাদের অন্তত একটি ঐতিহাসিক প্রমাণ দাও, যা রোসেটা স্টোনের চেয়েও ক্ষুদ্রতর হলেও চলবে, যাতে সমার্থক শব্দ ও উদ্ধৃতির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। (অতঃপর তোমরা যদি তা না করো এবং কখনোই তা করতে পারবে না) তবে আমাদের জানিয়ে দাও যে, আরবদের কথায় যার উচ্চারণের সাথে লিখন পদ্ধতির পার্থক্য রয়েছে, তার সমাধান কীভাবে হবে এবং তোমরা তা কোথায় পাবে? অসম্ভব! তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: {আর আমি যদি একে অনারবি ভাষায় কুরআন বানাতাম, তবে তারা অবশ্যই বলত, ‘এর আয়াতগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি কেন? ভাষা অনারবি অথচ রাসূল আরবি?’ বলুন, ‘এটি মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও নিরাময়। আর যারা ঈমান আনে না তাদের কানে রয়েছে বধিরতা এবং এটি তাদের জন্য অন্ধত্ব। তাদের যেন দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে ডাকা হচ্ছে।’ (৪৪) আর অবশ্যই আমি মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতে মতভেদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। আর আপনার রবের পক্ষ থেকে পূর্বঘোষিত একটি সিদ্ধান্ত না থাকলে তাদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত। আর নিশ্চয় তারা এ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সন্দেহে লিপ্ত। (৪৫) সূরা ফুসসিলাত}। অর্থাৎ অনারবি কুরআন এবং আরবি রাসূল? (৫) সুতরাং এই পথটি ভ্রান্ত, যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে এবং "মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়}। সুতরাং একে অন্য কিছুর ওপর প্রয়োগ করা যাবে না..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
في لغتهم." (1) لا من كلامٍ ولا من حروف، وهم يعلمون هذا علم اليقين، ولكن الغاية الباطنة هي تسفيه المسلمين وتحقيرهم؛ ليُخفوا ما في عقائدهم ودياناتهم من خزعبلات وتخريف يعلمه الجاهل بأيٍّ من هذه العلوم، وكلامهم ما هو إلا هروب من حسرتهم على فقر دياناتهم وضيق معتقداتهم وضعف وسائل التنصير لديهم.
المسلك الخامس: من كذّب القرآن من قبل أن يقرأها، وتحدث بها على أساس النقص بالقرآن لا الحديث عنها، وهم جهلة الكفرة، والغاية من كلامهم واضحة ولا تخفى على الأطفال، وهي كغاية التوفير مع العدم، فلا نقول لهم إلا ما قاله تعالى للرد على المشركين في ذات المسألة {وَلَتَعْلَمُنَّ نَبَأَهُ بَعْدَ حِينٍ} [ص:88].
الباب الثاني: أسباب تدعوا لفهم القرآنوهما سببان، الأول: سبب خفي ظننت أنه ما من أحد تنبه إليه، وسأقوم بتفصيله لبيان فائدته، والثاني: سبب ظاهر تنبه إليه الكثيرون، وقامت عليه تفاسير، وسأقوم بذكره وتفصيله للإشارة على أهميته في تأويل حروف الفواتح.
السبب الأول: تفصيل القرآن في الذكر لفهم الآيات مع عدم تقييد القرآن به
وتفصيل القرآن في الذكر هو تقسيم ما فيه من سرد للآيات على ثلاثة أقسام: ذكر ما كان، وذكر ما سيكون، وذكر ما يجب أن يكون، أو بمعنىً آخر: ذكر أخبار من سبق، وذكر الغيبيات، وتشريع الأحكام، وكلها لغاية واحدة وهي التوحيد، وهو تقسيم دل عليه العقل
--------------------------------------------
তাদের ভাষায়।" (১) না কোনো বক্তব্য থেকে, না কোনো অক্ষর থেকে; তারা এটি নিশ্চিত জ্ঞানের (علم اليقين) সাথে জানে। কিন্তু তাদের গূঢ় লক্ষ্য হলো মুসলিমদের মূর্খ প্রতিপন্ন করা এবং তাদের অবজ্ঞা করা; যাতে তারা তাদের আকিদা ও ধর্মবিশ্বাসের মধ্যকার সেই আষাঢ়ে গল্প ও রূপকথাগুলো আড়াল করতে পারে যা এই শাস্ত্রসমূহের যেকোনো বিষয়ে সামান্যতম অজ্ঞ ব্যক্তিও জানে। তাদের কথাগুলো মূলত তাদের ধর্মের দৈন্যতা, বিশ্বাসের সংকীর্ণতা এবং তাদের খ্রিস্টধর্ম প্রচারের পন্থাসমূহের দুর্বলতাজনিত আক্ষেপ থেকে পলায়ন বৈ কিছু নয়।
পঞ্চম পন্থা: যারা কুরআন পাঠ করার পূর্বেই একে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে কুরআনের ত্রুটি অন্বেষণের ভিত্তিতে কথা বলেছে। তারা হলো অজ্ঞ কাফির সম্প্রদায়। তাদের কথার উদ্দেশ্য স্পষ্ট এবং এটি শিশুদের কাছেও অস্পষ্ট নয়; এটি মূলত অনস্তিত্বের মাঝে প্রাচুর্য খোঁজার চেষ্টার মতো। তাই তাদের প্রতি আমরা কেবল তা-ই বলব যা মহান আল্লাহ মুশরিকদের জবাব দিতে একই প্রসঙ্গে বলেছেন: {আর তোমরা অবশ্যই এক সময় এর সংবাদ জানতে পারবে} [সোয়াদ: ৮৮]।
দ্বিতীয় অধ্যায়: কুরআন অনুধাবনের প্রতি আহ্বানকারী কারণসমূহকারণ দুটি; প্রথমটি: একটি প্রচ্ছন্ন কারণ যা আমি মনে করি কেউ লক্ষ্য করেনি, এর উপকারিতা বর্ণনায় আমি এটি বিস্তারিত আলোচনা করব। দ্বিতীয়টি: একটি প্রকাশ্য কারণ যা অনেকেই লক্ষ্য করেছেন এবং যার ওপর ভিত্তি করে তাফসিরসমূহ রচিত হয়েছে; প্রারম্ভিক অক্ষরসমূহের (فواتح) ব্যাখ্যায় এর গুরুত্ব নির্দেশ করার জন্য আমি এটি উল্লেখ ও বিস্তারিত আলোচনা করব।
প্রথম কারণ: আয়াতসমূহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে বর্ণনায় কুরআনের বিস্তারিত বিশ্লেষণ এবং এর মাধ্যমে কুরআনকে সীমাবদ্ধ না করা
বর্ণনার ক্ষেত্রে কুরআনের বিস্তারিত বিশ্লেষণ হলো এতে বিদ্যমান আয়াতসমূহের প্রবাহকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা: যা অতিবাহিত হয়েছে তার উল্লেখ, যা ভবিষ্যতে ঘটবে তার উল্লেখ এবং যা হওয়া আবশ্যক তার উল্লেখ। অন্য কথায়: পূর্ববর্তীদের সংবাদ (أخبار) উল্লেখ করা, অদৃশ্যের বিষয়সমূহ (غيبيات) উল্লেখ করা এবং বিধিবিধান প্রণয়ন করা। এ সবকিছুর লক্ষ্য একটিই, আর তা হলো তাওহিদ। এটি এমন এক বিভাজন যা যুক্তি দ্বারা সমর্থিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والنقل؛ فالزمن له ماض وحاضر ومستقبل، كذلك الكلام له ماض وحاضر ومستقبل، وهذا التفصيل هو الأساس لنشأة اللغات، - بحسب علم البشر التجريبي - وهذا التقسيم ظاهر في القرآن بالاستقراء، وظاهر بصورة خاصة في أول سورة نزلت من سور الفواتح، وهي سورة القلم. ولكن هل يكون كلام الله مشابها لغيره من الكلام في أصله وتفصيله؟ ولم يأت بما هو أصيل لا تفصيل له! فلنقرأ سورة القلم لنعلم الحق، فهذه السورة قد ابتدأت بالقسم بحرف النون أداة الكلام، وبالقلم أداة الكتابة، وبما يسطرون وهو النظم المعجز، أقسم الله بها جميعاً على نفي صفة الجنون عن الرسول صلى الله عليه وسلم، ورفعت من قدر الرسول صلى الله عليه وسلم بوصفه أحسن الأوصاف، وبعدها يُظْهر الله الذنب العظيم لمن رد كلام الخالق، ووصف القرآن بأنه من أساطير الأولين، وأن ما ورد فيه ما هو إلا روايات، وهذا الوصف بدوره ينفي التشريع وبيان الحق بحكم الله الظاهر في كتابه العزيز، وينفي أن ذكر الغيب بما فيه من حديث عن الآخرة والبعث والجنة والنار ضرورة عقدية، والإيمان به هو طريق السلامة. فكان رد القرآن صريحاً بوصف القائل بما يستحق من صفات، وتوعده الله بعدها بأن (سَنَسِمُهُ عَلَى الْخُرْطُومِ)، وهنا إشارة وتأكيد بأن في القرآن قصص وذكر لأخبار الأولين، ولكنها ليست مأخوذة مما سطر الأولون، وليست أقاويل على أي اعتبار، بل هي من كلام الله في كتابه العزيز إخباراً لنا، إما بما لم تذكره الكتب السابقة فيكون من الغيبيات المستحيلة على البشر، أو ذكرته الكتب السابقة على وجه غير صحيح بعد تحريفها وجاء القرآن ببيانه على الوجه الأمثل، فقد تتشابه القصص، ولكن الله يميز كلامه عن غيره بطرق كثيرة، لتكون عبرة لمن يعتبر. وبعد هذا تدور الآيات في السورة على هذا الهدف العظيم، وهو التأكيد على هذا التفصيل والتقريع على من أنكره، فبعد الوعد والوعيد يشبِّه الله حال الكافرين بأصحاب الجنة، {إِنَّا بَلَوْنَاهُمْ كَمَا بَلَوْنَا أَصْحَابَ الْجَنَّةِ إِذْ أَقْسَمُوا لَيَصْرِمُنَّهَا مُصْبِحِينَ (17) وَلَا يَسْتَثْنُونَ (18) فَطَافَ عَلَيْهَا طَائِفٌ مِنْ رَبِّكَ وَهُمْ نَائِمُونَ (19) فَأَصْبَحَتْ
এবং বর্ণনা; সময়ের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রয়েছে, তেমনি কথারও অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রয়েছে। মানুষের অভিজ্ঞতামূলক জ্ঞান অনুযায়ী—ভাষার উদ্ভবের মূল ভিত্তিই হলো এই বিস্তারিত বিভাজন। আর এই বিভাজনটি আরোহ পদ্ধতি (استقراء) অনুযায়ী কুরআনে স্পষ্ট এবং বিশেষভাবে 'ফাওয়তিহ' বা প্রারম্ভিক হরফযুক্ত সূরাগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হওয়া সূরা আল-কলামে তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তবে আল্লাহর বাণী কি তার মূল বা বিস্তারিত কাঠামোর দিক থেকে অন্যান্য সাধারণ কথার অনুরূপ হতে পারে? তিনি কি এমন কোনো মৌলিক বিষয় আনয়ন করেননি যার কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই? আসুন সত্য জানার জন্য আমরা সূরা আল-কলাম পাঠ করি। কেননা এই সূরাটি কথা বা বাণীর উপকরণ 'নুন' বর্ণ দ্বারা শপথের মাধ্যমে শুরু হয়েছে, এবং কলম যা লেখার উপকরণ তার শপথ করা হয়েছে, এবং যা তারা লিখে থাকে অর্থাৎ সেই মুজিজাপূর্ণ বিন্যাস (نظم معجز) এর শপথ করা হয়েছে। আল্লাহ এই সবগুলোর শপথ করেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর থেকে উন্মাদনার বৈশিষ্ট্য নাকচ করার জন্য এবং তাকে সর্বোত্তম গুণাবলীতে ভূষিত করার মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদাকে উচ্চকিত করেছেন। এরপর আল্লাহ সেই মহান অপরাধকে প্রকাশ করেছেন যে ব্যক্তি স্রষ্টার বাণীকে প্রত্যাখ্যান করে এবং কুরআনকে প্রাচীনদের উপকথা (أساطير الأولين) বলে অভিহিত করে এবং দাবি করে যে এতে যা বর্ণিত হয়েছে তা কেবল বর্ণনা (روايات) মাত্র। আর এই দাবি বা বর্ণনাটি প্রকারান্তরে আল্লাহর মহান কিতাবে সুস্পষ্ট হুকুমের মাধ্যমে যে বিধান (تشريع) এবং সত্যের বর্ণনা রয়েছে তাকে অস্বীকার করে; এবং পরকাল, পুনরুত্থান, জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কিত অদৃশ্যের (غيب) বিবরণের মাধ্যমে যে আকিদাগত প্রয়োজনীয়তা (ضرورة عقدية) রয়েছে তাও অস্বীকার করে; অথচ এর ওপর ঈমান আনয়ন করাই হলো মুক্তির একমাত্র পথ। কুরআনের উত্তর ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট, যেখানে এমন কথা বলনেওয়ালার উপযুক্ত বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে এবং আল্লাহ পরবর্তীতে তাকে সতর্কবাণী দিয়েছেন যে: {শীঘ্রই আমি তার নাসিকার ওপর দাগ বসিয়ে দেব}। আর এখানে ইঙ্গিত ও নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে যে, কুরআনে পূর্ববর্তীদের কাহিনী ও সংবাদ রয়েছে, কিন্তু তা পূর্ববর্তীদের লিখিত কোনো বিষয় থেকে নেওয়া হয়নি এবং এগুলো কোনোভাবেই অলীক কথা (أقاويل) নয়। বরং এগুলো আল্লাহর মহান কিতাবে তাঁরই পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সংবাদ—হয় এগুলো এমন সংবাদ যা পূর্ববর্তী কিতাবগুলোতে উল্লেখ করা হয়নি, ফলে তা মানুষের জন্য অসম্ভব অদৃশ্যের (غيبيات) অন্তর্ভুক্ত; অথবা পূর্ববর্তী কিতাবগুলোতে বিকৃতির (تحريف) কারণে ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল এবং কুরআন তা সর্বোত্তম ও নিখুঁত পন্থায় বিবরণের জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। ফলে কাহিনীগুলোর মধ্যে বাহ্যিক সাদৃশ্য থাকতে পারে, কিন্তু আল্লাহ তাঁর বাণীকে অন্যান্য কথা থেকে বিভিন্নভাবে পৃথক ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেন যাতে তা উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকে। এরপর এই সূরার আয়াতগুলো এই মহান লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়, আর তা হলো এই বিস্তারিত বর্ণনার ওপর গুরুত্বারোপ করা এবং যারা একে অস্বীকার করে তাদের কঠোর তিরস্কার করা। সুসংবাদ ও সতর্কবাণীর পর আল্লাহ কাফেরদের অবস্থাকে বাগানের মালিকদের সাথে তুলনা করেছেন: {আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি যেমনিভাবে পরীক্ষা করেছিলাম বাগানের মালিকদের, যখন তারা কসম করেছিল যে অবশ্যই সকালবেলা তারা বাগানের ফল সংগ্রহ করবে (১৭) এবং তারা ইনশাআল্লাহ বলেনি (১৮) অতঃপর তোমার রবের পক্ষ থেকে এক পরিভ্রমণকারী বিপর্যয় তার ওপর দিয়ে বয়ে গেল যখন তারা ঘুমন্ত ছিল (১৯) ফলে তা হয়ে গেল...}
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كَالصَّرِيمِ (20) فَتَنَادَوْا مُصْبِحِينَ (21) أَنِ اغْدُوا عَلَى حَرْثِكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَارِمِينَ (22) فَانْطَلَقُوا وَهُمْ يَتَخَافَتُونَ (23) أَنْ لَا يَدْخُلَنَّهَا الْيَوْمَ عَلَيْكُمْ مِسْكِينٌ (24) وَغَدَوْا عَلَى حَرْدٍ قَادِرِينَ (25) فَلَمَّا رَأَوْهَا قَالُوا إِنَّا لَضَالُّونَ (26) بَلْ نَحْنُ مَحْرُومُونَ (27) قَالَ أَوْسَطُهُمْ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ لَوْلَا تُسَبِّحُونَ (28) قَالُوا سُبْحَانَ رَبِّنَا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ (29) فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَلَاوَمُونَ (30) قَالُوا يَا وَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا طَاغِينَ (31) عَسَى رَبُّنَا أَنْ يُبْدِلَنَا خَيْرًا مِنْهَا إِنَّا إِلَى رَبِّنَا رَاغِبُونَ (32) كَذَلِكَ الْعَذَابُ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ (33)} والقارئ في التفاسير، يلتبس عليه الحال في التشبيه بين الكافرين وأصحاب الجنة، وهو الرابط لمعرفة هدف السورة، وهو الرد على من قال عن الرسول صلى الله عليه وسلم بأنه مجنون وأن القرآن من أساطير الأولين، فنفى بذلك التشريع وعلم الغيب عنه، وفهم الرد سيأتي من فهم وجه الشبه بينهم بناءً على ما يلي:
أولاً: تم ذكر التشبيه في سياق الرد على من وصف القرآن بأنه من أساطير الأولين لما احتواه من قصصهم.
ثانياً: تم التأكيد على أن القرآن فيه ذكرٌ للأولين، وهذا لاستخلاص العبر، وليس لمجرد الذكر كما في كتب القصص، وجاء التأكيد بإيراد قصه أهل الجنة وتشبيه حال بلواهم بحال بلوى الكافرين.
ثالثاً: ذكر واقع الكافرين وأنهم اعتبروا القرآن ذكراً لقصصٍ ليس فيها الأمر بأحكام الله وشرعه ووجوب إتباعه، وأصرّوا واستكبروا، وأصحاب الجنة أخذوا فعل أبيهم من توزيع الصدقة على الفقراء والمساكين وقسمة الحق فيما رزقه الله لا لمصلحة دنيوية، بل لنيل رضا الله في الآخرة ولتطهير نفسه؛ أخذوا هذا كله كرواية وقصة لمن سبقهم، وأنْ ليس فيها من حكم بالحق ولا
(২০) ফলে তা বিদীর্ণ বা কর্তিত ফসলের ন্যায় কালো হয়ে গেল। (২১) অতঃপর তারা প্রত্যুষে একে অপরকে ডেকে বলল, (২২) “তোমরা যদি ফল কাটতে চাও, তবে ভোরে তোমাদের বাগানে চলো।” (২৩) এরপর তারা রওনা হলো এবং একে অপরের সাথে চুপি চুপি বলছিল— (২৪) “আজ যেন তোমাদের কাছে কোনো অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করতে না পারে।” (২৫) তারা ফসল আটকানোর সংকল্প নিয়ে খুব ভোরে বের হলো। (২৬) কিন্তু যখন তারা বাগানটি দেখল, তখন বলল, “নিশ্চয়ই আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি।” (২৭) “বরং আমরা তো বঞ্চিত হয়েছি।” (২৮) তাদের মধ্যে যে মধ্যপন্থী ছিল, সে বলল, “আমি কি তোমাদের বলিনি, কেন তোমরা আল্লাহর তাসবিহ বা পবিত্রতা ঘোষণা করছ না?” (২৯) তারা বলল, “পবিত্র আমাদের প্রতিপালক! অবশ্যই আমরা সীমালঙ্ঘনকারী ছিলাম।” (৩০) তখন তারা একে অপরের অভিমুখী হয়ে একে অন্যকে তিরস্কার করতে লাগল। (৩১) তারা বলল, “হায়, আমাদের দুর্ভোগ! আমরা তো ছিলাম অবাধ্য।” (৩২) “হয়তো আমাদের প্রতিপালক আমাদের এর চেয়ে উত্তম বিনিময় দেবেন; আমরা তো আমাদের প্রতিপালকের দিকেই রুজু হচ্ছি।” (৩৩) শাস্তি এমনই হয়ে থাকে, আর পরকালের আজাব তো আরও বড়, যদি তারা জানত!
তফসীর পাঠকারীর কাছে কাফির এবং বাগানের মালিকদের মধ্যকার উপমার বিষয়টি অস্পষ্ট মনে হতে পারে, যা এই সূরার উদ্দেশ্য অনুধাবনের মূল যোগসূত্র। আর তা হলো সেই ব্যক্তিদের প্রত্যুত্তর দেওয়া যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উন্মাদ এবং কুরআনকে আদিমকালের উপকথা বলেছিল; এর মাধ্যমে তারা শরীয়ত এবং অদৃশ্যের জ্ঞানকে অস্বীকার করেছিল। তাদের এই আপত্তির জবাবটি অনুধাবন করা সম্ভব হবে নিচের বিষয়গুলোর আলোকে তাদের মধ্যকার সাদৃশ্যের দিকটি বোঝার মাধ্যমে:
প্রথমত: এই সাদৃশ্য বা তুলনাটি এমন এক প্রেক্ষাপটে বর্ণনা করা হয়েছে যেখানে কুরআনকে প্রাচীনদের উপকথা হিসেবে আখ্যায়িতকারীদের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে, কারণ এতে তাদের কাহিনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দ্বিতীয়ত: এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যে, কুরআনে পূর্ববর্তীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে উপদেশ গ্রহণের নিমিত্তে, নিছক গল্পের বইয়ের মতো বর্ণনার উদ্দেশ্যে নয়। বাগানের মালিকদের কাহিনী উপস্থাপনের মাধ্যমে এবং তাদের পরীক্ষার অবস্থাকে কাফিরদের পরীক্ষার অবস্থার সাথে তুলনা করে এই বিষয়টি সুদৃঢ় করা হয়েছে।
তৃতীয়ত: কাফিরদের প্রকৃত অবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা কুরআনকে এমন কিছু কাহিনীর সংকলন মনে করত যেখানে আল্লাহর বিধান, শরীয়ত এবং তাঁর অনুসরণের আবশ্যকতা নেই। তারা এ ব্যাপারে হঠকারিতা ও দম্ভ প্রদর্শন করেছে। অন্যদিকে, জান্নাতের মালিকরা তাদের পিতার দরিদ্র-মিসকিনদের দান-সদকা করা এবং আল্লাহর দেওয়া রিযিকের হক বন্টন করার কাজটিকে—যা কোনো পার্থিব স্বার্থে নয় বরং পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আত্মশুদ্ধির নিমিত্তে ছিল—পূর্ববর্তীদের কেবল একটি বর্ণনা (رواية) ও কাহিনী হিসেবে গ্রহণ করেছিল। তারা মনে করেছিল এতে সত্যের কোনো বিধান বা...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২০)
تشريع من الله، وما كانت في نظرهم إلا خسارة في المنتج طمعاً بما هو في علم الغيب، فكلهم قد أنكروا تشريع الله وحكمه بقولهم، وكلهم أنكروا الغيب بفعلهم.
رابعاً: كلا الطرفين عذبه الله بنوع من عذاب الدنيا، فأصحاب الجنة كان عذابهم بخسارة المال وانعدام الربح، وليس هذا من عذاب الآخرة بشيء، والكافر ذو المال والبنين المدّعي بأن القرآن من أساطير الأولين قال فيه تعالى {سَنَسِمُهُ عَلَى الْخُرْطُومِ} قال ابن جرير: "سنبين أمره بياناً واضحاً حتى يعرفوه، فلا يخفى عليهم، كما لا تخفي السمة على الخرطوم." (1) ورغم اختلاف التأويل في معناها إلا أنها ليست من عذاب الآخرة بشيء. {كَذَلِكَ الْعَذَابُ وَلًعَذَابُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ (33)} هذا لأصحاب الجنة، أما عذاب المشركين فهو {يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ (42) خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ وَقَدْ كَانُوا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ وَهُمْ سَالِمُونَ (43) فَذَرْنِي وَمَنْ يُكَذِّبُ بِهَذَا الْحَدِيثِ سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِنْ حَيْثُ لَا يَعْلَمُونَ (44) وَأُمْلِي لَهُمْ إِنَّ كَيْدِي مَتِينٌ (45)} هذا عذاب الكافرين ومن كذّب بالقرآن.
خامساً: كلاهما تم تذكيره بالله وبحكمه من قِبَل أفضلهم وأوسطهم، فرسول الله صلى الله عليه وسلم كان منذر القوم ومذكرهم بالله، وهو أوسط القوم على الإطلاق - وكان القسم ببداية السورة على صدقه وخلقه العظيم - وأصحاب الجنة {قَالَ أَوْسَطُهُمْ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ لَوْلَا تُسَبِّحُونَ (28)}.
سادساً: كلاهما أقسم على باطل، فأصحاب الجنة أقسموا على معصية الله بقطف الثمر وحرمان المساكين من نصيبهم، كما أن الكافر المهين قد تم وصفه بـ (حلّافٍ مهين)، "وذلك أن
--------------------------------------------
আল্লাহর পক্ষ থেকে বিধান, যা তাদের দৃষ্টিতে অদৃশ্যের জ্ঞানের আশায় উৎপাদনের নিছক ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তারা সবাই তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে আল্লাহর বিধান ও তাঁর হুকুমকে অস্বীকার করেছিল এবং তারা সবাই তাদের কর্মের মাধ্যমে অদৃশ্যকে অস্বীকার করেছিল।
চতুর্থত: উভয় পক্ষকেই আল্লাহ দুনিয়াবী কোনো এক প্রকার শাস্তির মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছেন। উদ্যান অধিপতিদের শাস্তি ছিল সম্পদের ক্ষতি এবং মুনাফার অনুপস্থিতি, যা পরকালীন শাস্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। আর ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির অধিকারী সেই কাফের, যে দাবি করত কুরআন পূর্ববর্তীদের রূপকথা মাত্র, তার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {আমি তার শুঁড়ের (নাকের) ওপর দাগ লাগিয়ে দেব}। ইবনে জারীর বলেন: "আমি তার বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে দেব যাতে তারা তাকে চিনতে পারে, ফলে তাদের কাছে বিষয়টি গোপন থাকবে না, যেমন শুঁড়ের ওপর চিহ্ন গোপন থাকে না।" (১) যদিও এর অর্থের ব্যাখ্যার (تأويل) ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে, তবুও এটি পরকালীন শাস্তির কোনো অংশ নয়। {শাস্তি এমনই হয়ে থাকে; আর পরকালের শাস্তি তো আরও বড়, যদি তারা জানত (৩৩)}। এটি উদ্যান অধিপতিদের জন্য। পক্ষান্তরে মুশরিকদের শাস্তি হলো {যেদিন পায়ের নলা উন্মোচিত করা হবে এবং তাদেরকে সিজদাহ করার জন্য ডাকা হবে, তখন তারা সক্ষম হবে না (৪২) তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে, লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। অথচ যখন তারা সুস্থ ছিল, তখন তাদেরকে সিজদাহ করার জন্য আহ্বান করা হতো (৪৩) সুতরাং যে ব্যক্তি এই হাদিস অস্বীকার করে তাকে আমার হাতে ছেড়ে দিন; আমি তাদেরকে এমনভাবে ক্রমে ক্রমে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাব যে, তারা জানবেও না (৪৪) আর আমি তাদেরকে সময় দিয়ে থাকি; নিশ্চয়ই আমার কৌশল অত্যন্ত শক্তিশালী (৪৫)}। এটি কাফেরদের এবং যারা কুরআনকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে তাদের জন্য শাস্তি।
পঞ্চমত: উভয় পক্ষকেই তাদের মধ্যকার সর্বোত্তম ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির মাধ্যমে আল্লাহ এবং তাঁর হুকুম সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন কওমের সতর্ককারী এবং আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দানকারী, আর তিনি ছিলেন সর্বজনস্বীকৃতভাবে কওমের মধ্যে সর্বোত্তম —এবং সূরার শুরুতে তাঁর সততা ও মহান চরিত্রের শপথ করা হয়েছে— আর উদ্যান অধিপতিদের ক্ষেত্রে {তাদের মধ্যকার সর্বোত্তম ব্যক্তি বলল, আমি কি তোমাদের বলিনি কেন তোমরা তাসবিহ পাঠ করছ না (২৮)}।
ষষ্ঠত: উভয় পক্ষই বাতিলের ওপর শপথ করেছিল। উদ্যান অধিপতিরা ফল আহরণ করার এবং মিসকিনদের তাদের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে আল্লাহর অবাধ্যতার ওপর শপথ করেছিল। যেমন লাঞ্ছিত কাফেরকে (অধিক শপথকারী লাঞ্ছিত) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। "আর তা এজন্য যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২১)
الكاذب لضعفه ومهانته إنما يتقي بأيمانه الكاذبة التي يجترئ بها على أسماء الله تعالى، واستعمالها في كل وقت في غير محلها." (1) وهذا القسم مخالف لشرع الله، ولذلك وجبت عليهم العقوبة، ولو لم يكن من تشريع أو عقوبة، فلن يضيرهم هذا الفعل العظيم.
وبعد هذا كله تم التأكيد على ذكر التشريع في الكتاب الإلهي {مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ (36) أَمْ لَكُمْ كِتَابٌ فِيهِ تَدْرُسُونَ (37)} وهو سؤال تحقير لهم، بكيفية حكمهم على الأمور من جهة وسؤال تنبيه وإشارة على أن التشريع لا يُترك لأمثالهم، فقد وُجد التحكيم والتشريع في القرآن وجاء القرآن لبيانه، إضافة لذكر الأولين، وبعدها خوّفهم الله من الآخرة ومن الحساب، بوصف دقيق لبعض وقفات الآخرة بقوله تعالى {أَمْ عِنْدَهُمُ الْغَيْبُ فَهُمْ يَكْتُبُونَ (47)} وهي إشارة بأن هذا القرآن يذكر الآخرة، ويتحدث عن الغيب مما لا يعقلون، ولن يجدوه في كتاب آخر، أي بالمحصلة هذا كتاب الله المعجز فيه ذكر القصص وفيه التشريع وفيه علم الغيب، وليس كمثله كتاب قط، ولذلك نجد في آخر آية من السورة قوله تعالى {وَمَا هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ (52)} أي لزاماً عليكم التصديق بأنه يحوي أقسام الذكر الثلاثة، وأن من أنكر إحداها سيكون حاله كحال طرفي التشبيه، أصحاب الجنة والكافرين، وله من الوعيد ما لهم.
فهذا التفصيل فيه الحق، بل والإيمان به ضمنيّاً ضرورة، وقد جاء في القرآن واضحاً في بعض سوره وآياته، ومنها ما جاء بالإشارة في آية واحدة كما في سورة آل عمران بقوله تعالى {ذَلِكَ مِنْ أَنْبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهِ إِلَيْكَ وَمَا كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يُلْقُونَ أَقْلَامَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ وَمَا كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يَخْتَصِمُونَ (44)} وقبل ذكر قصة مريم البتول، وكلام الملائكة لها، وذكر قصة زكريا، ودعائه لله وكفالته لمريم، وذكر قصة امرأة عمران ونذرها لما في بطنها لله، واصطفاء الله
--------------------------------------------
"মিথ্যাবাদী (كذاب) তার দুর্বলতা (ضعف) ও হীনতার কারণে কেবল তার মিথ্যা শপথের মাধ্যমেই নিজেকে রক্ষা করতে চায়, যার দ্বারা সে মহান আল্লাহর নামের ওপর ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে এবং সব সময় অপ্রাসঙ্গিকভাবে তা ব্যবহার করে।" (১) আর এই শ্রেণীটি আল্লাহর শরীয়তের পরিপন্থী, তাই তাদের ওপর শাস্তি অবধারিত হয়েছে। যদি কোনো বিধান বা শাস্তি নাও থাকত, তবুও এই গুরুতর অপরাধটি তাদের কোনো ক্ষতি করতে ছাড়ত না।
এর সব কিছুর পর ঐশী গ্রন্থে বিধান বর্ণনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে: {তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কীভাবে ফয়সালা করছ? (৩৬) নাকি তোমাদের কোনো কিতাব আছে যাতে তোমরা পাঠ করছ? (৩৭)}। এটি এক দিকে তাদের বিষয়াদির ফয়সালা করার পদ্ধতির প্রতি একটি অবজ্ঞাসূচক প্রশ্ন, আর অন্য দিকে একটি সতর্কবার্তা ও ইঙ্গিত যে, বিধান প্রণয়নের বিষয়টি তাদের মতো লোকেদের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। নিশ্চিতভাবেই ফয়সালা ও বিধান কোরআনে বিদ্যমান এবং কোরআন তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে এসেছে। এর পাশাপাশি পূর্ববর্তীদের কথা আলোচনা করা হয়েছে। এরপর আল্লাহ তাদেরকে পরকাল ও হিসাব-নিকাশ সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করেছেন পরকালের কিছু পরিস্থিতির সূক্ষ্ম বর্ণনার মাধ্যমে, মহান আল্লাহ বলেন: {নাকি তাদের কাছে অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে তারা তা লিখে রাখছে? (৪৭)}। এটি একটি ইঙ্গিত যে, এই কোরআন পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং অদৃশ্যের এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে যা তাদের বোধগম্য নয় এবং তারা অন্য কোনো কিতাবে তা পাবে না। অর্থাৎ সারকথা হলো, এটি আল্লাহর অলৌকিক কিতাব যাতে কাহিনী, বিধান ও অদৃশ্যের জ্ঞান রয়েছে এবং এর সমতুল্য কোনো কিতাব কক্ষনো হতে পারে না। এ কারণেই আমরা সূরার শেষ আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী দেখতে পাই: {আর এটি তো বিশ্বজগতের জন্য কেবল উপদেশ ছাড়া আর কিছু নয় (৫২)}। অর্থাৎ তোমাদের জন্য এটি বিশ্বাস করা অপরিহার্য যে, এটি উপদেশের তিনটি প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর যে ব্যক্তি এর কোনো একটিকে অস্বীকার করবে, তার অবস্থা হবে উপমায় বর্ণিত জান্নাতবাসী এবং কাফেরদের মতো; এবং তাদের জন্য যে শাস্তির হুঁশিয়ারি রয়েছে, তার জন্যও তাই প্রযোজ্য হবে।
এই বিস্তারিত বর্ণনার মধ্যে সত্য নিহিত রয়েছে, বরং এর ওপর অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য। এটি কোরআনের কোনো কোনো সূরা ও আয়াতে স্পষ্টভাবে এসেছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি আয়াতে ইঙ্গিতের মাধ্যমে এসেছে, যেমন সূরা আলে ইমরানে মহান আল্লাহ বলেছেন: {এটি অদৃশ্যের সংবাদ যা আমি আপনার প্রতি ওহী হিসেবে প্রেরণ করছি। আর আপনি তাদের কাছে ছিলেন না যখন তারা তাদের কলমগুলো নিক্ষেপ করছিল যে কে মারইয়ামের অভিভাবক হবে এবং আপনি তাদের কাছে ছিলেন না যখন তারা বিবাদে লিপ্ত ছিল (৪৪)}। আর এটি কুমারী মারইয়ামের কাহিনী, তাঁর সাথে ফেরেশতাদের কথোপকথন, যাকারিয়ার কাহিনী, আল্লাহর কাছে তাঁর দুআ ও মারইয়ামের দায়িত্বভার গ্রহণ এবং ইমরানের স্ত্রীর কাহিনী ও তাঁর গর্ভস্থ সন্তানকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত করার বর্ণনার পূর্বেই আলোচিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২২)
للصالحين من عباده آدم ونوح وإبراهيم وآل عمران، قبل ذلك كله جاء الأمر بإتباع الرسول صلى الله عليه وسلم بقوله تعالى {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ (32)} وقبله قول الله تعالى: {قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (26)} وكان قبله أيضاً إشارة للإيمان بما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم من ذكر الجزاء والعقاب والحساب يوم القيامة، وكل هذا من ذكر الغيب، كما في قوله تعالى {فَكَيْفَ إِذَا جَمَعْنَاهُمْ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ (25)} وكله يدور في فلك القصص والغيب والتشريع، فالرسول صلى الله عليه وسلم لا يعلم الغيب {قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [الأعراف: 188] والرسول صلى الله عليه وسلم لم يرو قصص الأوّلين وأخبارهم من عند نفسه أو مما سمعه من كلام السابقين، فقد جاء بالحق من قصصهم بتتابع بليغ، وجاء بما لا باطل فيه، ولم يكن بين الأوّلين ليعرف أخبارهم جميعاً، ولم يكن كذلك بينهم ليعلم أحكامهم، ويتعلم منها شرع الله بما يختصمون ويحكمون به، بل أخبر بما كان من أحوالهم والغاية من اصطفاء الله لهم بالنبوة، وهي عبادة الله ونشر الشرائع السماوية، فأحياها الله على لسانه، وهذا دليل على أنه لا يقص القصص لأجل القصص، وما شرع محمد صلى الله عليه وسلم إلا كشرع الأنبياء قبله، وما نزلت جميعاً إلا لذات الغاية (وما خلقت الجن والإنس إلا ليعبدون). وهنا إشارة على إعجاز المتكلمين في نبوته "وذلك من الله عز وجل، وإن كان خطاباً لنبيه صلى الله عليه وسلم، فتوبيخٌ منه عز وجل للمكذبين به من أهل الكتابين؛ يقول: كيف يشكّ أهل الكفر بك منهم وأنت تنبئهم هذه الأنباءَ ولم تشهدْها، ولم تكن معهم
তাঁর বান্দাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল—আদম, নূহ, ইব্রাহিম ও আল-ইমরান; এসবের পূর্বে আল্লাহ তাআলার বাণীর মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণের নির্দেশ এসেছে: {বলুন, ‘তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করো। তারপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে আল্লাহ তো কাফিরদের ভালোবাসেন না’ (৩২)}। এবং এর পূর্বে আল্লাহ তাআলার বাণী রয়েছে: {বলুন, ‘হে আল্লাহ, আপনিই সার্বভৌম শক্তির মালিক। আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন; যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন। আপনার হাতেই কল্যাণ। নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান’ (২৬)}। এর পূর্বে কিয়ামতের দিনের পুরস্কার, শাস্তি ও হিসাব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন, তার প্রতি ঈমান আনার ইঙ্গিতও ছিল। আর এ সবই অদৃশ্যের (الغيب) সংবাদ; যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে এসেছে: {তখন কেমন হবে, যখন আমরা তাদের এমন এক দিনে একত্রিত করব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার অর্জিত কর্মের পূর্ণ প্রতিফল প্রদান করা হবে এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না? (২৫)}। এ সবকিছুই কাহিনী, অদৃশ্য (الغيب) ও শরয়ি বিধানের পরিমণ্ডলে আবর্তিত। কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অদৃশ্য (الغيب) জানেন না: {বলুন, ‘আমি আমার নিজের কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণ করার ক্ষমতা রাখি না, তবে আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। যদি আমি অদৃশ্য (الغيب) জানতাম তবে আমি অনেক কল্যাণ লাভ করতাম এবং কোনো মন্দ আমাকে স্পর্শ করত না। আমি তো কেবল মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা’} [আল-আরাফ: ১৮৮]। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পূর্ববর্তীদের কাহিনী ও সংবাদসমূহ নিজের পক্ষ থেকে কিংবা পূর্বসূরিদের নিকট থেকে যা শুনেছেন তা থেকে বর্ণনা (روى) করেননি; বরং তিনি অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও ধারাবাহিকভাবে তাদের কাহিনীর সত্যতা নিয়ে এসেছেন এবং এমন বিষয় নিয়ে এসেছেন যাতে কোনো বাতিল বা মিথ্যা নেই। তিনি পূর্ববর্তীদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন না যে তাদের সকল সংবাদ জানবেন, আবার তাদের মধ্যে এমনভাবেও ছিলেন না যে তাদের বিধানসমূহ জানবেন এবং তা থেকে আল্লাহর সেই শরয়ি বিধান শিখবেন যা দিয়ে তারা বিবাদ ও ফয়সালা করত। বরং তিনি তাদের অবস্থা এবং নবুওয়াতের জন্য আল্লাহ কর্তৃক তাদের মনোনীত করার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন; আর তা হলো আল্লাহর ইবাদত এবং আসমানি শরিয়তসমূহ প্রচার করা। অতঃপর আল্লাহ তাঁর যবানের মাধ্যমে তা পুনরুজ্জীবিত করেছেন। এটিই প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল কাহিনীর খাতিরে কাহিনী বর্ণনা করেন না। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে শরিয়ত প্রবর্তন করেছেন তা কেবল তাঁর পূর্ববর্তী নবীদের শরিয়তেরই অনুরূপ এবং এ সকলই একই উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ হয়েছে: (আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি)। আর এখানে তাঁর নবুওয়াতের অলৌকিকত্বের (إعجاز) ব্যাপারে বিরোধিতাকারীদের প্রতি এক ইঙ্গিত রয়েছে— "আর তা মহান আল্লাহর (আজ্জা ওয়া জাল্লা) পক্ষ থেকে; যদিও এটি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি সম্বোধন, তথাপি তা আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা তাঁকে অস্বীকার করে তাদের জন্য মহান আল্লাহর (আজ্জা ওয়া জাল্লা) পক্ষ থেকে তিরস্কার। তিনি বলছেন: তাদের মধ্যে যারা কুফরি করে তারা কীভাবে আপনাকে নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে অথচ আপনি তাদের এই সব সংবাদ দিচ্ছেন যা আপনি প্রত্যক্ষ করেননি এবং আপনি তাদের সাথে উপস্থিতও ছিলেন না।"
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يوم فعلوا هذه الأمورَ، ولست ممن قرأ الكتب فعَلِم نبأهم، ولا جالَس أهلها فسمع خبَرَهم؟ " (1) ولو جالس أحدهم وسمع منه لادّعى النبوة من سمع منه، ولو كان ما يتلوا مما عرفوا أو قالوا، لأحيوه هم ولم يكتموه، وأماتوا بكتمانهم ذكر الأنبياء وشرعهم، أما رسول الله صلى الله عليه وسلم فخاطبه الله بأن "لا وجه لك إلى علم ذلك إلا بالكون معهم إذ ذاك، أو أخذ ذلك عن أهل الكتاب، أو بوحي منا؛ ومن الواضح الجلي أن بعد نسبتك إلى التعلم من البشر كبعد نسبتك إلى الحضور بينهم في ذلك الوقت، لشهرتك بالنشأة أمياً مباعداً للعلم والعلماء حتى ما يتفاخر به قومك من السجع ومعاناة الصوغ لفنون الكلام على الوجوه الفائقة، فانحصر إخبارك بذلك في الوحي منا" (2)، ولذلك جاء بعد هذه الآية ذكر عيسى عليه السلام وقوله تعالى {وَيُعَلِّمُهُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ (48)} فكلها جاءت للغاية ذاتها، وكلها جاءت بشرع الله أو لإحياء شرع الله وتطبيق حكم الله في الناس.
ولكن بناءً على هذا التفصيل، أين نضع الآيات التي قامت الحجة بها على المشركين وأعداء الدين برد شبهاتهم؟ وأين نضع الآيات المشتملة على ضرب الأمثال، والتي دعت للتدبر في خلق الله؟ ونحن نعلم بأن الحروف المقطّعة لم تأت كخبر، ولم تأت كأمر ظاهر، ولم تأت بشيء من الغيب! فما هي بحسب هذا التفصيل؟ أهي سر من أسرار التشريع وما لا نستطيع تطبيقه لعدم فهمنا إياه؟ أم خبيئة في علم الغيب لن نعرفها إلا بعد البعث؟ أم فيها خبر عن الأمم السابقة وجاءت بلغاتهم وما اندثر من علومهم؟
--------------------------------------------
"যেদিন তারা এই কাজগুলো করছিল, আর আপনি তো তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যারা কিতাব পাঠ করে তাদের সংবাদ জেনেছে, কিংবা তাদের (কিতাবধারীদের) সাহচর্যে বসে তাদের খবর শুনেছে?" (১) যদি তিনি তাদের কারো সাথে বসতেন এবং তার থেকে কিছু শুনতেন, তবে যে ব্যক্তি তার থেকে শুনতেন তিনিই নবুয়তের দাবি করতেন। আর তিনি যা তিলাওয়াত করেন তা যদি তাদের পরিচিত বা প্রচলিত কথার অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে তারাই তা জীবিত রাখত এবং তা গোপন করত না; বরং তারা তাদের গোপনীয়তার মাধ্যমে নবীদের আলোচনা ও তাদের শরিয়তকে বিলুপ্ত করে দিয়েছিল। পক্ষান্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আল্লাহ এই বলে সম্বোধন করেছেন যে, "সেই সময়ের বিষয়াবলি জানার কোনো পথই আপনার কাছে নেই; একমাত্র সেই সময় তাদের সাথে উপস্থিত থাকা, অথবা আহলে কিতাবদের থেকে তা গ্রহণ করা, কিংবা আমাদের পক্ষ থেকে ওহির মাধ্যম ছাড়া। এটা অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, মানুষের নিকট থেকে আপনার শিক্ষা গ্রহণের সম্ভাবনা ঠিক তেমনই অসম্ভব যেমনটি সেই সময় তাদের মাঝে আপনার উপস্থিত থাকা অসম্ভব ছিল। কারণ আপনি একজন নিরক্ষর হিসেবে বেড়ে ওঠার জন্য সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন, যিনি জ্ঞান ও আলিমদের থেকে বিমুখ ছিলেন; এমনকি আপনার কওম অলংকারপূর্ণ গদ্য ও উন্নত মানের বাকশিল্প নিয়ে যে গর্ব করত, তা থেকেও আপনি দূরে ছিলেন। ফলে আপনার এই সংবাদ প্রদান করাটি কেবল আমাদের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহির মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে।" (২) আর এ কারণেই এই আয়াতের পর ঈসা আলাইহিস সালামের আলোচনা এবং মহান আল্লাহর এই বাণী এসেছে: {আর তিনি তাকে শিক্ষা দেবেন কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইঞ্জিল (৪৮)}। সুতরাং এই সবই একই উদ্দেশ্যে এসেছে এবং এই সবই আল্লাহর শরিয়ত নিয়ে অথবা আল্লাহর শরিয়তকে পুনর্জীবিত করতে এবং মানুষের মাঝে আল্লাহর বিধান কার্যকর করার জন্য এসেছে।
কিন্তু এই বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে আমরা সেই আয়াতগুলোকে কোথায় স্থান দেব যার মাধ্যমে মুশরিক ও দ্বীনের শত্রুদের সংশয় নিরসনের মধ্য দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপিত হয়েছে? আর সেই আয়াতগুলোকেই বা কোথায় গণ্য করব যেগুলোতে উদাহরণ পেশ করা হয়েছে এবং আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে গবেষণার আহ্বান জানানো হয়েছে? আমরা জানি যে, হুরুফে মুকাত্তাআত কোনো সংবাদ (خبر) হিসেবে আসেনি, কোনো স্পষ্ট নির্দেশ হিসেবেও আসেনি এবং অদৃশ্যের (الغيب) কোনো বিষয় নিয়েও আসেনি! তাহলে এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী এগুলো কী? এগুলো কি শরিয়ত প্রণয়নের কোনো রহস্য যা আমরা বুঝতে না পারার কারণে প্রয়োগ করতে পারছি না? নাকি এগুলো ইলমে গায়েবের (علم الغيب) কোনো নিভৃত ভাণ্ডার যা আমরা কিয়ামতের পুনরুত্থানের আগে জানতে পারব না? নাকি এতে পূর্ববর্তী জাতিদের কোনো সংবাদ (خبر) রয়েছে যা তাদের ভাষা ও বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জ্ঞানসমূহ থেকে সংগৃহীত হয়েছে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والجواب هو: أن هذا التفصيل فيه الحق والبيان، ولكن تقييد القرآن به باطل، ومن أخذ به واكتفى حكم على القرآن بمشابهة كلام البشر، وحكم على نفسه بعدم فهم القرآن كما ينبغي، وما هذا التقييد إلا نتاج حديث ضعيف آمن به بعض كبار المفسرين فضلاً عن طلبة العلم، وهو ما ذكره القرطبي في تفسيره "عن علي رضي الله عنه وخرجه الترمذي قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "ستكون فتن كقطع الليل المظلم. قلت يا رسول الله وما المخرج منها؟ قال: كتاب الله تبارك وتعالى فيه نبأ من قبلكم وخبر ما بعدكم وحكم ما بينكم هو الفصل ليس بالهزل من تركه من جبار قصمه الله
… (إلى آخر الحديث) " (1) فهذا تقييد للقرآن، فإن كان الحق كله في هذا التفصيل، فأين نفصل الردود على شبه المشركين في القرآن؟ والتي جاءت في أغلب السور المبتدئة بالفواتح (ومعظمها مكيّ كما نعلم) وهي مما إمتاز به القرآن عن غيره من الكتب، فهل من كتاب في الدنيا يدعو صاحبه لإيجاد نقص فيه ويتحدى الناس جَمِيعًا بإقامة الحجج والبراهين؟ ولو كان بشرياً لاقتصر على هذا التفصيل فقط! فهذا التفصيل وإن كان فيه حق، واتباعه طريق سليم لفهم الآيات، إلا أن تقييد القرآن به كان سبباً لبعد الناس عن فهم القرآن، والأخذ به سبب لفهم القرآن إن أخذنا التفصيل كما فعلنا فيما هو ظاهر في سورة القلم. ولهذا
--------------------------------------------
উত্তর হলো: এই বিশ্লেষণে সত্যতা ও স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে, কিন্তু কুরআনকে এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা বাতিল। যে ব্যক্তি এটি গ্রহণ করবে এবং এর ওপরই তুষ্ট থাকবে, সে কুরআনকে মানুষের বাণীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার হুকুম দিল এবং নিজের ব্যাপারে কুরআনকে যথাযথভাবে না বোঝার রায় দিল। এই সীমাবদ্ধকরণ কেবল একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসেরই ফলশ্রুতি, যা ইলম অন্বেষী ছাত্ররা তো বটেই, এমনকি কিছু বড় মাপের মুফাসসিরও বিশ্বাস করেছেন। এটি কুরতুবি তার তাফসিরে উল্লেখ করেছেন: "আলী (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত এবং তিরমিজি তা বের করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: 'অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় ফিতনা দেখা দেবে।' আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, তা থেকে উত্তরণের পথ কী? তিনি বললেন: মহান বরকতময় আল্লাহর কিতাব; এতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের পারস্পরিক বিষয়ের ফয়সালা রয়েছে। এটিই চূড়ান্ত ফয়সালা, এটি কোনো কৌতুক নয়। কোনো অহংকারী ব্যক্তি একে ত্যাগ করলে আল্লাহ তাকে চূর্ণ করে দেবেন … (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)" (১)। এটি কুরআনের জন্য একটি সীমাবদ্ধকরণ। যদি সমস্ত সত্য কেবল এই বিশ্লেষণের মধ্যেই থাকে, তবে কুরআনে মুশরিকদের সংশয়ের খণ্ডনগুলো আমরা কোথায় পাব? যা মূলত 'ফাওয়তিহ' বা রহস্যময় বর্ণমালা দিয়ে শুরু হওয়া অধিকাংশ সূরাতেই এসেছে (এবং আমরা যেমন জানি যে তার অধিকাংশই মক্কি)। এটিই সেই বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে কুরআন অন্য সব কিতাব থেকে স্বতন্ত্র। পৃথিবীর এমন কোনো কিতাব আছে কি যার লেখক এতে কোনো ত্রুটি খুঁজে বের করার আহ্বান জানান এবং দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে সমগ্র মানবজাতিকে চ্যালেঞ্জ করেন? যদি এটি মানুষের তৈরি হতো তবে কেবল এই বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত! সুতরাং এই বিশ্লেষণে সত্যতা থাকলেও এবং আয়াতের মর্ম উপলব্ধির জন্য এটি একটি সঠিক পথ হলেও, কুরআনকে এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা মানুষের কুরআন অনুধাবন থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণ হয়েছে। আমরা সূরা আল-কলমে যা স্পষ্টভাবে করেছি, সেই বিশ্লেষণের মতো করে গ্রহণ করলে তা কুরআন বোঝার সহায়ক হবে। আর এই কারণেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تجد من علماء اللغة وأهل البلاغة من يفصّل القرآن بهذا التفصيل من غير تقييد فيقول: "إن استقراء القرآن وهو شريعة وأخبار وآداب، هو بعض أدلة إعجازه، بل أقواها، بل دليل الزمن المنسحب على الزمن" (1)، فجمع القائل آيات الردود والإعجاز وضرب الأمثال مع الغيبيات، وسماها آداب القرآن لأن غايتها تأديب البشر، وهذا هو الحق الأبلج.
ولكن ما وجه الدلالة على فهم الفواتح إن أخذنا بهذا التفصيل أم لا؟ أقول وجه الدلالة هو معرفة السبب لعدم رد المشركين على هذه الفواتح، فقد ردوا على ما جاء فيه من قصص كما في قوله تعالى {وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا قَالُوا قَدْ سَمِعْنَا لَوْ نَشَاءُ لَقُلْنَا مِثْلَ هَذَا إِنْ هَذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ} [الأنفال: 31] "نزلت في النضر بن الحارث، كان خرج إلى الحيرة في التجارة فاشترى أحاديث كليلة ودمنة، وكسرى وقيصر، فلما قص رسول الله صلى الله عليه وسلم أخبار من مضى قال النضر: لو شئت لقلت مثل هذا. وكان هذا وقاحة وكذباً." (2) وقاموا بالرد على التشريع، كما سبق في سورة القلم، وما في أحكامهم على بني هاشم وغيرها من الأحكام كثير، وردّوا على الغيب بتكذيب البعث وغيره، ولكنهم لم يردوا بشيء على الإعجاز في نظم القرآن وما جاء فيه من حجج عليهم، وهذه الحروف ما هي إلا ردّ على شبهة، وإعجاز بإقامة الحجة، كما في سياق سورها وما تضمنته أوائل السور المفتتحة بها، وأغلب الأقوال في هذه الفواتح تفيد بأنها من باب إقامة الحجة، ولو اختلفت الآراء لعدم معرفة الشبهة، فليس لأحد أن يسقط حقيقة القول بأن الغاية في ضرب الأمثال وما فيها من أسرار للنظم الإلهي هو الدلالة على إبطال الحجة، فإعجاز
--------------------------------------------
আপনি ভাষাবিদ এবং অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের মধ্যে এমন কাউকে পাবেন যারা কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই কুরআনকে এভাবে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। তারা বলেন: "কুরআন পাঠ—যা শরিয়ত, সংবাদ ও শিষ্টাচারের সমষ্টি—তা হলো এর অলৌকিকত্বের অন্যতম প্রমাণ, বরং এর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ এবং সময়ের আবর্তনে নিরবচ্ছিন্ন এক প্রমাণ" (১)। বক্তা এখানে খণ্ডনমূলক আয়াত, অলৌকিকত্ব এবং দৃষ্টান্ত পেশ করার পাশাপাশি অদৃশ্য বিষয়াদিকে (গায়বিয়াত) একত্রিত করেছেন এবং সেগুলোকে 'কুরআনের শিষ্টাচার' বলে অভিহিত করেছেন; কারণ এগুলোর লক্ষ্য হলো মানবজাতিকে শিষ্টাচার শেখানো। আর এটিই হলো সুস্পষ্ট সত্য।
কিন্তু আমরা যদি এই বিস্তারিত ব্যাখ্যা গ্রহণ করি বা না করি, তবে সূরার প্রারম্ভিক অক্ষরগুলোর (ফাওয়াদিহ) মর্মার্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রে প্রমাণের দিকটি কী হবে? আমি বলব, প্রমাণের দিকটি হলো মুশরিকদের এই প্রারম্ভিক অক্ষরগুলোর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিক্রিয়া বা উত্তর দিতে না পারার কারণটি অনুধাবন করা। তারা কুরআনে বর্ণিত কাহিনীগুলোর বিরোধিতা করেছিল, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণীতে এসেছে: {আর যখন তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে: আমরা তো শুনেছি, আমরা ইচ্ছা করলে এর অনুরূপ বলতে পারতাম; এ তো কেবল পূর্ববর্তীদের উপকথা বৈ নয়।} [আনফাল: ৩১]। "এটি নযর ইবনুল হারিস সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। সে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে হীরায় গিয়েছিল এবং সেখান থেকে 'কালিলা ও দিমনা' এবং 'কিসরা ও কায়সারে'র কাহিনীসমূহ কিনে এনেছিল। যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পূর্ববর্তীদের সংবাদ বর্ণনা করতেন, তখন নযর বলত: আমি চাইলে এর মতো বলতে পারতাম। আর এটি ছিল চরম ধৃষ্টতা ও মিথ্যাচার।" (২)। তারা বিধানসমূহের বিরোধিতা করেছিল, যেমনটি সূরা আল-কলমে ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। বনু হাশেমের ওপর তাদের আরোপিত ফয়সালা এবং অন্যান্য অসংখ্য বিধানের ক্ষেত্রেও তা পরিলক্ষিত হয়। তারা পুনরুত্থান ইত্যাদি অস্বীকার করার মাধ্যমে অদৃশ্য বিষয়ের (গাইব) বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু কুরআনের অলৌকিক বাচনভঙ্গি এবং তাদের বিরুদ্ধে পেশকৃত দলিলাদির অলৌকিকত্বের ব্যাপারে তারা কোনো জবাব দিতে পারেনি। আর এই অক্ষরগুলো মূলত সংশয় নিরসন এবং অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে অলৌকিকত্ব প্রদর্শন ছাড়া আর কিছুই নয়, যা এই সূরাগুলোর প্রেক্ষাপট এবং এই অক্ষরগুলো দ্বারা সূচিত সূরাগুলোর প্রারম্ভিক আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়। এই প্রারম্ভিক অক্ষরগুলো সম্পর্কে অধিকাংশ অভিমত এটাই নির্দেশ করে যে, এগুলো অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনের অন্তর্ভুক্ত। যদিও সংশয়ের প্রকৃত স্বরূপ জানা না থাকায় মতভেদ রয়েছে, তবুও কারও পক্ষে এই সত্যকে অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দৃষ্টান্ত পেশ করা এবং এর মধ্যে নিহিত ঐশ্বরিক বাচনভঙ্গির রহস্যের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষের যুক্তিকে অসার প্রমাণ করা। সুতরাং অলৌকিকত্ব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
القرآن في نظمه واختيار كلماته ومعانيه جاء لإقامة الحجة، ولإخراس المشركين ومن سار على دربهم إلى أبد الآبدين، كما هو الحال في إعجاز الفواتح وغيرها من آيات بالنظم الإلهي.
السبب الثاني: معرفة المقصود من التأويل وتمييزه عن التفسير
نعلم جَمِيعًا علم اليقين بأن القرآن نزل منجّماً على فترات، وكان ذو شقين عظيمين بحسب الفترات، فمنه مكّي ومنه مدني، ولا خلاف على هذا بين أهل الإسلام، ومن باب آخر نعلم علم اليقين أن المكي نزل في أهل قريش، ولم يكونوا بحاجة لتفسير المعاني وقد نزل بلغتهم، ولولا هذه الحقيقة لما اعتبر نظم القرآن معجزاً وقد نزل بلسانهم، ولكنهم بنص القرآن لم يؤمنوا {بَلْ كَذَّبُوا بِمَا لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ وَلَمَّا يَأْتِهِمْ تَأْوِيلُهُ كَذَلِكَ كَذَّبَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الظَّالِمِينَ} [يونس: 39] (1) أي لم يؤمنوا بالغيب وما فيه من إلزام للبعث، وما يليه من جزاء وعقاب ورحمة، ولم يفعلوا بالتالي ما أمر الله من تشريع وما فيه من الهدى، ولم يعتبروا بما جاء في القرآن من أخبار السابقين وما فيه من الموعظة، وهذا هو ما لم يحيطوا بعلمه، وكذبوه ولم يروا بعدُ ما يؤول إليه أمر القرآن من نصر للمؤمنين وخسران للكافرين، كما هي سنة الله في الذين خلوا من قبل. وجاء التأويل هنا بالمعنى اللغوي له (من آل الشيءُ يَؤُول إِلى كذا أَي رَجَع وصار إِليه) (2)، ومعناها كقوله تعالى (ولتعلمن نبأه بعد حين) ولم يأت التأويل هنا بمعنى
--------------------------------------------
কুরআন তার শব্দবিন্যাস, শব্দচয়ন এবং অর্থের দিক থেকে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠার জন্য এবং মুশরিক ও তাদের অনুসারীদের চিরতরে নিশ্চুপ করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে, যেমনটি সূরাসমূহের প্রারম্ভিক অক্ষরসমূহ (الفواتح) এবং ঐশ্বরিক শব্দবিন্যাসের অন্যান্য অলৌকিক নিদর্শনের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
দ্বিতীয় কারণ: তাবিল (تأويل)-এর উদ্দেশ্য অনুধাবন এবং তাফসির (تفسير) থেকে তার পার্থক্য নিরূপণ।
আমরা সকলেই সুনিশ্চিত জ্ঞানের (علم اليقين) মাধ্যমে অবগত যে, কুরআন বিভিন্ন সময়ে পর্যায়ক্রমে (منجماً) অবতীর্ণ হয়েছে এবং সময়কাল হিসেবে এর দুটি মহিমান্বিত ভাগ রয়েছে; যার কিছু মক্কি (مكي) এবং কিছু মাদানি (مدني)। এ বিষয়ে ইসলামের পণ্ডিতগণের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। অন্য এক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা সুনিশ্চিতভাবে জানি যে, মক্কি আয়াতসমূহ কুরাইশদের মাঝে অবতীর্ণ হয়েছিল এবং তারা যেহেতু নিজ ভাষায় অবতীর্ণ আয়াতসমূহ বুঝতে সক্ষম ছিল, তাই তাদের জন্য তাফসির (تفسير)-এর প্রয়োজন ছিল না। যদি এই বাস্তবতা না থাকত, তবে তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হওয়ার পরও কুরআনের শব্দবিন্যাসকে অলৌকিক (معجز) গণ্য করা হতো না। কিন্তু কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী তারা ঈমান আনেনি: {বরং তারা এমন বিষয়কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, যার জ্ঞান তারা আয়ত্ত করতে পারেনি এবং যার পরিণতি (تأويل) এখনও তাদের কাছে আসেনি। এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। সুতরাং দেখুন জালিমদের পরিণাম কেমন হয়েছিল} [ইউনুস: ৩৯] (১)। অর্থাৎ তারা অদৃশ্য (الغيب), পুনরুত্থান (البعث)-এর আবশ্যকতা এবং তার পরবর্তী প্রতিদান, শাস্তি ও রহমতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেনি। ফলে তারা আল্লাহ প্রদত্ত শরিয়ত (تشريع) ও হেদায়েত (الهدى) অনুযায়ী আমল করেনি। তারা কুরআনে বর্ণিত পূর্ববর্তীদের সংবাদ এবং উপদেশ (الموعظة) থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেনি। আর এটিই সেই বিষয় যার জ্ঞান তারা আয়ত্ত করতে পারেনি এবং তারা তা অস্বীকার করেছে। কুরআনের পরিণতি (تأويل) হিসেবে মুমিনদের বিজয় এবং কাফিরদের যে বিপর্যয় আসার কথা, তা তারা তখনও প্রত্যক্ষ করেনি, যেমনটি পূর্ববর্তী অতিবাহিত জাতিগুলোর ক্ষেত্রে আল্লাহর রীতি (سنة الله) ছিল। এখানে 'তাবিল' শব্দটি তার আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে (যা কোনো কিছুর প্রত্যাবর্তন বা পরিণত হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়) (২), এবং এর অর্থ মহান আল্লাহর বাণীর অনুরূপ: "আর তোমরা অবশ্যই কিছুকাল পরে এর সংবাদ জানতে পারবে।" এখানে 'তাবিল' শব্দটি নিম্নোক্ত অর্থে আসেনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
التفسير، ولو كان كذلك لما كان القرآن حجة على الكافرين إن لم يفهموه ولم يسألوا عن معانيه، بل هم أقدر الناس على فهم المعاني وتمييز البليغ من القول، وقد وصفوه بأروع الوصف كما جاء ذلك في كتب السيرة والسنة، من ذلك ما قاله ابن عباس: "إن الوليد بن المغيرة جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقرأ عليه القرآن فكأنه رقّ له، فبلغ ذلك أبا جهل فأتاه فقال: يا عم إن قومك يرون أن يجمعوا لك مالاً! قال: لم؟ قال: ليعطوكه فإنك أتيت محمداً تتعرض لما قبله، قال: قد علمت قريش أني من أكثرها مالاً، قال: فقل فيه قولاً يبلغ قومك أنك منكر له أو أنك كاره له، قال: وماذا أقول؟! فوالله ما فيكم من رجل أعلم بالأشعار مني ولا أعلم برجزه ولا بقصيده ولا بأشعار الجن مني، والله ما يشبه الذي يقول شيئاً من هذا، والله إن لقوله الذي يقول حلاوة وإن عليه لطلاوة وإنه لمثمر أعلاه مغدق أسفله وإنه ليعلو وما يعلى، وإنه ليحطم ما تحته، قال: لا يرضى عنك قومك حتى تقول فيه! قال: فدعني حتى أفكر، فلما فكر قال: هذا سحر (يؤثر يأثره عن غيره)، فنزلت: {ذَرْنِي وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيدًا}." (1) وزاد البيهقي "عن عكرمة قال: جاء الوليد بن المغيرة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال له: اقرأ عليّ، فقرأ عليه {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} [النحل: 90] قال: أعد، فأعاد النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: والله، إن له لحلاوة، وإن عليه لطلاوة، وإن أعلاه لمثمر، وإن أسفله لمغدق وما يقول هذا بشر." (2) فلا يعقل أن يأتي معنى التأويل هنا
--------------------------------------------
তাফসীর (ব্যাখ্যা), যদি বিষয়টি এমনই হতো, তবে কুরআন কাফিরদের জন্য প্রমাণ (حجة) হতে পারত না যদি তারা তা না বুঝত এবং তার অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা না করত। বরং তারা ছিল অর্থের মর্ম অনুধাবনে এবং বাগ্মিতাপূর্ণ বাক্যের পার্থক্য নিরূপণে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে পারদর্শী। তারা একে চমৎকার বিশেষণে বিশেষিত করেছে, যেমনটি সীরাত ও সুন্নাহর কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো ইবনে আব্বাসের বর্ণনা: "ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলো। তিনি তার সামনে কুরআন পাঠ করলেন, এতে তার মন নরম হলো। আবু জাহল তা জানতে পেরে তার কাছে এসে বলল: হে চাচা! আপনার কওম মনে করছে যে তারা আপনার জন্য কিছু সম্পদ জমা করবে! তিনি বললেন: কেন? সে বলল: আপনাকে দেওয়ার জন্য, কারণ আপনি মুহাম্মাদের কাছে গিয়েছিলেন তার কাছে যা আছে তা পাওয়ার আশায়। তিনি বললেন: কুরাইশরা জানে যে আমি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী। সে বলল: তাহলে আপনি এমন কিছু বলুন যা আপনার কওমের কাছে পৌঁছালে তারা বুঝবে যে আপনি একে অস্বীকার করেন অথবা আপনি একে অপছন্দ করেন। তিনি বললেন: আমি কী বলব?! আল্লাহর শপথ, তোমাদের মধ্যে কবিতার বিষয়ে আমার চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ কোনো লোক নেই, আর না রাজায (ছন্দ) বা কাসীদাহ সম্পর্কে, এমনকি জিনের কবিতা সম্পর্কেও নয়। আল্লাহর শপথ, তিনি যা বলেন তার কোনোটিই এদের সদৃশ নয়। আল্লাহর শপথ, তিনি যে কথা বলেন তাতে মিষ্টতা রয়েছে, তাতে লাবণ্য রয়েছে, তার উপরিভাগ ফলপ্রসূ এবং নিম্নদেশ অত্যন্ত উর্বর; নিশ্চয়ই তা জয়ী হয় এবং এর ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারে না, আর তা যা কিছুর নিচে থাকে তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। আবু জাহল বলল: আপনার কওম ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ আপনি তার সম্পর্কে কোনো (সমালোচনামূলক) কথা না বলবেন। তিনি বললেন: তাহলে আমাকে ভাবার সময় দিন। যখন তিনি চিন্তা করলেন, তখন বললেন: এটি একটি জাদু (যা অন্যের কাছ থেকে শিখে বর্ণনা করা হয়েছে)। তখন নাযিল হলো: {ছাড়ো আমাকে এবং তাকে যাকে আমি সৃষ্টি করেছি একাকী}।" (১) ইমাম বায়হাকী এতে আরও যোগ করেছেন, "ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল: আমার কাছে পাঠ করুন। তিনি তার কাছে পাঠ করলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফ, ইহসান এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করছেন; তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারো} [নাহল: ৯০]। সে বলল: পুনরায় পাঠ করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় পাঠ করলেন। তখন সে বলল: আল্লাহর শপথ, এতে অবশ্যই মিষ্টতা রয়েছে, এতে লাবণ্য রয়েছে, এর উপরিভাগ ফলপ্রসূ এবং এর নিম্নদেশ উর্বর, আর কোনো মানুষ এমন কথা বলতে পারে না।" (২) সুতরাং এখানে তা’বীল (ব্যাখ্যা)-এর অর্থ আসা যুক্তিযুক্ত নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল মু-তাবার ফী বায়ানিল ই-জাযি লিল হুরূফিল মুকাত্তাআতি মিন ফাওয়াতিহিস সুওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بالتفسير وإعطاء المعاني «ولما يأتهم تأويله» أي لم يعلموا بعد بما يؤول إليه ما نزل من الكتاب عليهم.
أما المدني فنزل على الرسول صلى الله عليه وسلم ومن تبعه من أصحاب في عصر بناء المجتمع الإسلامي بالتشريع الإلهي، لتنظيم العلاقات بين البشر وخالقهم من جهة، وبين البشر أنفسهم من جهة أخرى. فكان التأويل بينهم كما جاء في الآثار: "عن عائشة رضي الله عنها قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم يكثر أن يقول في ركوعه وسجوده: "سبحانك اللهم ربنا وبحمدك اللهم اغفر لي"يتأوّل القرآن" (1)، قال صاحب اللسان عن بيان الحديث: "تعني أَنه مأْخوذ من قوله تعالى: فسبح بحمد ربك واستغفره" (2)، وعنها رضي الله عنها: "أن الصلاة أول ما فرضت ركعتين فأقرت صلاة السفر وأتمت صلاة الحضر. قال الزهري: فقلت لعروة: ما بال عائشة تتم في السفر؟ قال إنها تأولت كما تأول عثمان" (3)، قال في اللسان: "قوله «قال تأولت إلخ» كذا بالأصل. وفي الأساس: وتأملته فتأولت فيه الخير أي توسعته وتحرَّيته كما تأَوَّل عثمانُ؛ أَراد بتأْويل عثمان ما روي عنه أَنه أَتَمَّ الصلاة بمكة في الحج، وذلك أَنه نوى الإِقامة بها." (4) فالتأويل عندهم كان ما دل عليه القرآن، وبعرفهم هو التطبيق والتوسع في فهم المقاصد، وهو ما أتى الأمر به على الوجوب بقوله تعالى {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} أي اتبع ما يقوله القرآن، وجاء في هذا المعنى: "عن محمد بن سيرين قال: سألت عبيدة عن آية من القرآن فقال: إتق الله وقل سداداً، ذهب الذين يعملون
--------------------------------------------
ব্যাখ্যার মাধ্যমে এবং অর্থের পরিস্ফুটন ঘটিয়ে "এবং এখনও তাদের কাছে তার ব্যাখ্যা (تأويل) পৌঁছেনি", অর্থাৎ কিতাব থেকে তাদের উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার পরিণাম বা ব্যাখ্যা (تأويل) সম্পর্কে তারা তখনও অবগত হয়নি।
পক্ষান্তরে মাদানি (مدني) আয়াতসমূহ ঐশ্বরিক বিধানের মাধ্যমে ইসলামি সমাজ বিনির্মাণের যুগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর অনুসারী সাহাবিগণের উপর অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে একদিকে মানুষ ও তাদের স্রষ্টার মধ্যকার সম্পর্ক এবং অন্যদিকে খোদ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে সুসংগঠিত করা যায়। ফলে তাদের মধ্যে ব্যাখ্যা (تأويل) ছিল তা-ই যা বিভিন্ন বর্ণনা (آثار) সমূহে এসেছে: "আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রুকু ও সিজদাহয় অধিক পরিমাণে বলতেন: 'সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফির লি', তিনি কুরআনের ব্যাখ্যা (تأويل) অর্থাৎ প্রয়োগ করতেন" (১)। লিসানুল আরব-এর লেখক হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, এটি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত: 'সুতরাং আপনি আপনার পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন'" (২)। তাঁর (আয়েশা রা.) থেকেই বর্ণিত: "সালাত যখন প্রথম ফরজ (فرض) করা হয়েছিল তখন তা ছিল দুই রাকাত; পরবর্তীতে সফরের সালাতকে সেই অবস্থায় বহাল রাখা হয় এবং আবাসকালীন সালাতকে পূর্ণাঙ্গ করা হয়। যুহরি বলেন: আমি উরওয়াহকে বললাম: আয়েশা (রা.) কেন সফরে পূর্ণ সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন: তিনি এর ব্যাখ্যা (تأويل) করেছিলেন ঠিক যেভাবে উসমান (রা.) ব্যাখ্যা (تأويل) করেছিলেন" (৩)। লিসান-এ বলা হয়েছে: "তাঁর উক্তি 'তিনি ব্যাখ্যা করেছেন' ইত্যাদি মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে। আর আসাস-এ আছে: আমি এটি নিয়ে চিন্তা করেছি এবং এতে কল্যাণের ব্যাখ্যা (تأويل) অর্থাৎ প্রশস্ততা ও সঠিকটি অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছি যেমনটি উসমান (রা.) করেছিলেন; উসমানের ব্যাখ্যা (تأويل) বলতে উদ্দেশ্য হলো তাঁর থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি হজের সময় মক্কায় পূর্ণ সালাত আদায় করেছিলেন, আর তা ছিল একারণে যে তিনি সেখানে অবস্থানের নিয়ত করেছিলেন।" (৪) সুতরাং তাদের নিকট ব্যাখ্যা (تأويل) ছিল তা-ই যার প্রতি কুরআন নির্দেশ করেছে, এবং তাদের পরিভাষায় এটি হলো প্রয়োগ এবং উদ্দেশ্যাবলি অনুধাবনের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা। আর এটিই সেই বিষয় যার নির্দেশ আল্লাহ তাআলা আবশ্যকতা (وجوب) হিসেবে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে দিয়েছেন: {সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি, আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন} অর্থাৎ কুরআন যা বলছে তার অনুসরণ করুন। এই অর্থেই এসেছে: "মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উবাইদাহকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো, যারা আমল করতেন তারা চলে গেছেন।"
--------------------------------------------