(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: -)
طرق الاستدلال بالسنة والاستنباط منها القسم: علوم الحديث
الكتاب: طرق الاستدلال بالسنة والاستنباط منها
المؤلف: عبد العزيز بن عزت بن الشيخ مصطفى بن الحاج أسعد الخياط
الناشر: دار السلام للطباعة والنشر والتوزيع والترجمة، القاهرة - حلب - بيروت.
الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1986 م
عدد الصفحات: 56
أَعَدَّهُ للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع].
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432
সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন ও তা থেকে বিধিবিধান আহরণের পদ্ধতি বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
বই: সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন ও তা থেকে বিধিবিধান আহরণের পদ্ধতি
লেখক: আবদুল আজিজ বিন ইজ্জত বিন শেখ মোস্তফা বিন আল-হাজ আসাদ আল-খাইয়াত
প্রকাশক: দারুস সালাম মুদ্রণ, প্রকাশনা, বিতরণ ও অনুবাদ, কায়রো - আলেপ্পো - বৈরুত।
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬
আল-মাকতাবা আল-শামিলার জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন / তৌফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাকে ও তার মা-বাবাকে ক্ষমা করুন
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ].
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ১)
سلسلة [صُوَى عَلَى الطَرِيقِ: 5]
طرق الاستدلال بالسنة والاستنباط منها
الدكتور عبد العزيز الخياط
دار السلام للطباعة والنشر والتوزيع والترجمة
القاهرة - حلب - بيروت.
عدد الأجزاء: 1.
أَعَدَّهُ للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
--------------------------------------------
সিরিজ [সুওয়া আলাত ত্বরিক: ৫]
সুন্নাহ (السنة) থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি (طرق الاستدلال) এবং তা থেকে বিধান উদ্ভাবন (الاستنباط)
ডক্টর আব্দুল আজিজ আল-খাইয়াত
দারুস সালাম মুদ্রণ, প্রকাশনা, বিতরণ ও অনুবাদ বিভাগ
কায়রো - আলেপ্পো - বৈরুত।
খণ্ড সংখ্যা: ১।
মাকতাবা শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তৌফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন।
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এতে পাদটীকা (الحواشي) সংযোজন করা হয়েছে]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ২)
دار السلام للطباعة والنشر والتوزيع والترجمة
القاهرة - حلب - بيروت
الطبعة الأولى: 1406 هـ - 1986 م
দারুস সালাম মুদ্রণ, প্রকাশনা, বিতরণ ও অনুবাদ
কায়রো - আলেপ্পো - বৈরুত
প্রথম সংস্করণ: ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة:الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وبعد:
فقد آن الأوان لكي ندرس السُنَّةَ دراسة واعية للعظة والاعتبار، والعمل والاتباع، والقدوة والأسوة، وأن ندرسها دراسة واعية أيضاً؛ لاستنباط الأحكام الشرعية؛ وفاء ببيان حاجات العصر الاجتماعية، ومشكلاته المتعددة، عن طريق الاستدلال بها استدلالاً قائما على الاجتهاد، مِمَّنْ توافرت فيهم عناصر الاجتهاد وشروطه من علماء المسلمين، والاجتهاد - كما تعلم - ضرورة مُلِحَّةً، وبابه مفتوح للعلماء لا للجهلاء، وواجب على علماء المسلمين أن يتصدوا لاستنباط الأحكام الشرعية من مصادرها، وأن لا ينتظروا أن يكون الاجتهاد جَمَاعِياً، فهذا جَيِّدٌ إن أمكن وقوعه، واجتماع علماء المسلمين عليه، ولكنه متعذر إن لم يكن مستحيلاً، فإنه من باب إجماع العلماء، وإجماع العلماء متعذر بعد عهد صحابة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনা:সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। অতঃপর:
শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ, আমল ও অনুসরণ এবং আদর্শ ও অনুকরণীয় নমুনা হিসেবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে সুন্নাহ (سنة)-কে সচেতনভাবে অধ্যয়ন করার সময় এখন সমাগত। সেই সাথে শারয়ী বিধান (أحكام شرعية) আহরণের জন্যও একে সচেতনভাবে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন; যাতে মুসলিম আলিমদের মধ্য থেকে যাদের মাঝে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর উপাদান ও শর্তাবলি বিদ্যমান, তাদের ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর ওপর ভিত্তি করে দালিলিক প্রমাণের (استدلال) মাধ্যমে সমকালীন সামাজিক প্রয়োজন ও বিবিধ সমস্যাবলীর সমাধান প্রদান করা সম্ভব হয়। আর ইজতিহাদ (اجتهاد) — আপনি যেমনটি জানেন — একটি অপরিহার্য প্রয়োজন এবং এর দ্বার আলিমদের জন্য উন্মুক্ত, মূর্খদের জন্য নয়। মুসলিম আলিমদের ওপর এটি আবশ্যক (واجب) যে, তারা মূল উৎসসমূহ থেকে শারয়ী বিধান (أحكام شرعية) উদ্ভাবনে সচেষ্ট হবেন এবং সমষ্টিগত ইজতিহাদ (اجتهاد جماعي)-এর জন্য অপেক্ষা করবেন না। কারণ এটি যদি সম্ভব হতো এবং মুসলিম আলিমগণ এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হতেন তবে তা অত্যন্ত ভালো হতো, কিন্তু এটি অত্যন্ত দুরূহ, যদি অসম্ভব না-ও হয়। কেননা এটি আলিমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع)-এর অন্তর্ভুক্ত, আর সাহাবী (صحابة)গণের যুগের পর আলিমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) হওয়া অত্যন্ত দুষ্কর।
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
رسول الله صلى الله عليه وسلم على حكم شرعي واحد، لاختلاف مناحي التفكير، واختلاف البلدان والأحوال الاجتماعية من جهة، ولاختلاف العلماء في أصول الاجتهاد، وهذا يحتاج إلى تفصيل وبيان ليس هنا موضعه، ولكنني أبادر فأقرِّرُ أنَّ من رحمة الله بهذه الأُمَّةِ أنْ لا تلتزم مَذْهَباً مُعَيَّناً في الاجتهاد، ولا مدرسة مُعَيَّنَةً، ولا طريقة واحدة في التفكير، ولا تجمد على رأي واحد، لا تغيره ولا تُبَدِّلُهُ، بل دعا الإسلامُ إلى التفكير والتدبر، وترك لكل مجتهد أن يُعْمِلَ رأيه، ويبذل وسعه، لاستنباط الحكم الشرعي ضمن الإطار الإسلامي، والقيود والشروط التي تمنع الفوضى والاضطراب، ولا تجعله يخالف النص من الكتاب وَالسُنَّةِ، وإنما يجتهد في استنباط الحكم الشرعي من النص.
والدعوة إلى التَحَلُّلِ من مدارس الاجتهاد الإسلامية كلية، وَأَنْ لا تلتزم كل طائفة من الناس - غير قادرة على الاجتهاد - مذهباً أو مدرسة مُعَيَّنَةً، دعوة باطلة في زمننا هذا، لأنَّ شرط هذا أن يكون كل الناس علماء مجتهدين كعهد الصحابة، وأنْ يكون كُلٌّ منهم قادراً على أن يستنبط لنفسه ولغيره حكم الله من كتابه وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ، وهذا مُتَعذِّرٌ بل يكاد يكون في حكم
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটিমাত্র শরয়ী বিধানের উপর উম্মতকে সীমাবদ্ধ করেননি, কারণ একেকজনের চিন্তাধারা ভিন্ন, দেশ ও সামাজিক অবস্থা ভিন্ন এবং অন্যদিকে ইজতিহাদের (الاجتهاد) মূলনীতিসমূহে আলেমদের মাঝে মতভিন্নতা রয়েছে। আর এটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বর্ণনার দাবি রাখে যা এখানে আলোচনার বিষয় নয়। তবে আমি দ্রুত এটি স্পষ্ট করতে চাই যে, এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর অন্যতম রহমত হলো তারা ইজতিহাদের (الاجتهاد) ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মাজহাব বা নির্দিষ্ট মতাদর্শ অথবা চিন্তার কোনো একটি পদ্ধতির ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য নয়; আর কোনো একটি মতামতের ওপর তারা স্থবির হয়ে থাকবে না যা পরিবর্তন বা রূপান্তর করা যায় না। বরং ইসলাম চিন্তা ও গবেষণার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد)-এর ওপর ছেড়ে দিয়েছে যেন সে তার মেধা প্রয়োগ করে এবং ইসলামি কাঠামোর ভেতর থেকে শরয়ী বিধান আহরণের জন্য তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করে। এক্ষেত্রে এমন কিছু বিধি-নিষেধ ও শর্তাবলি রয়েছে যা বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি রোধ করে এবং তাকে কুরআন ও সুন্নাহর নস (النص)-এর বিরোধিতা করতে দেয় না। মূলত সে নস (النص) থেকেই শরয়ী বিধান উদ্ভাবনের জন্য ইজতিহাদ (الاجتهاد) করে।
আর ইসলামি ইজতিহাদের (الاجتهاد) মাযহাবগুলো থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে যাওয়ার দাওয়াত এবং ইজতিহাদে (الاجتهاد) অক্ষম সাধারণ মানুষের কোনো নির্দিষ্ট মাযহাব বা মতাদর্শ অনুসরণ না করার আহ্বান বর্তমান সময়ে একটি অসার (باطل) আহ্বান। কারণ এর পূর্বশর্ত হলো সমস্ত মানুষকে সাহাবী যুগের মতো আলেম ও মুজতাহিদ (مجتهد) হতে হবে এবং তাদের প্রত্যেককে কিতাবুল্লাহ ও তাঁর নবীর সুন্নাহ থেকে নিজের ও অন্যের জন্য আল্লাহর বিধান উদ্ভাবন করতে সক্ষম হতে হবে। আর এটি বর্তমানে অসম্ভব, বরং এটি প্রায় অসম্ভব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
المستحيل في أيامنا هذه، لِبُعْدِ المجتمع عن تطبيق أحكام الله، وَبُعْدِ الناس عن الدراسات الشرعية وتعمقهم فيها، وانتشار الثقافات غير الإسلامية بين المسلمين مع تَعَدُّدِهَا، واختلاف أصولها ومناحيها، وتأثر كثير من المسلمين بأفكار غير إسلامية، وَتَعَوُّدِهِمْ عادات غير إسلامية، ودراساتهم دراسات غير إسلامية، يضاف إلى ذلك عجمة معظمهم، وعدم معرفتهم باللغة العربية، فكيف يكون الناس إذن مجتهدين؟ وكيف ندعو إذن إلى إسلام بلا مذاهب وبلا مدارس فكرية؟!.
فهي دعوة إلى التَحَلُّلِ والفوضى وإنْ يترك لكل مسلم أنْ يجتهد في استنباط حكم الله من الكتاب وَالسُنَّةِ على غير هُدًى ولا بصيرة ولا معرفة، فتخرج الأحكام عن حدود الشرع، ويقع المسلمون في التخبط والفوضى والانحلال والعياذ بالله تعالى.
غير أَنَّ هذا لا يمنع التوسعة في تَعَدُّدِ المجتهدين في الإسلام، واعتبار كل مجتهد مُصِيباً في رأي نفسه، ولو اعتبره غيره مُخْطِئاً
বর্তমান সময়ে এটি অসম্ভব; কারণ সমাজ আল্লাহর বিধানসমূহ (أحكام) বাস্তবায়নের থেকে দূরে সরে গেছে এবং মানুষ শরয়ি জ্ঞানচর্চা ও তাতে গভীরতা অর্জন থেকে বিমুখ হয়েছে। মুসলিমদের মাঝে বিভিন্ন উৎস ও ধারার অনৈসলামিক সংস্কৃতির ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। অনেক মুসলিম অনৈসলামিক চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত, অনৈসলামিক অভ্যাসে অভ্যস্ত এবং তাদের শিক্ষা-দীক্ষাও অনৈসলামিক। এর সাথে যুক্ত হয়েছে অধিকাংশের অনারবীয়তা (عجمة) এবং আরবি ভাষা সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা। এমতাবস্থায় মানুষ কীভাবে মুজতাহিদ (مجتهد) হবে? আর কীভাবে আমরা মাযহাব (مذهب) ও বিভিন্ন চিন্তাধারা ভিত্তিক তাত্ত্বিক ঘরানা (مدارس فكرية) বিহীন ইসলামের দিকে আহ্বান জানাব?!
মূলত এটি চারিত্রিক শিথিলতা ও বিশৃঙ্খলার দিকে একটি আহ্বান; যদি প্রত্যেক মুসলিমকে কোনো প্রকার হিদায়াত, অন্তর্দৃষ্টি ও জ্ঞান ছাড়াই কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আল্লাহর বিধান (حكم) উদ্ঘাটন বা ইস্তিম্বাত (استنباط) করার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) করার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে বিধানসমূহ (أحكام) শরয়ি সীমারেখা অতিক্রম করে যাবে এবং মুসলিমরা বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা ও অবক্ষয়ের মধ্যে নিপতিত হবে—আল্লাহ তাআলার কাছে এ থেকে পানাহ চাই।
তবে এটি ইসলামে মুজতাহিদদের (مجتهد) সংখ্যার ব্যাপ্তি বৃদ্ধিতে এবং প্রত্যেক মুজতাহিদকে (مجتهد) নিজের মতামতের ক্ষেত্রে সঠিক (مصيب) বলে গণ্য করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়, যদিও অন্য কেউ তাকে ভুলকারী (مخطئ) হিসেবে বিবেচনা করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
بحكم كونه مُخَالِفاً، ولقد كان لهذه التوسعة أثرها في تَعَدُّدِ مدارس الاجتهاد، وطرائق المجتهدين، وكانت من محاسن هذا الدين، فلا تحجير على العقول، ولا جمود على رأي واحد، وقد وردت النصوص بأنَّ هذا الاختلاف رحمة، جاء عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَهْمَا أُوتِيتُمْ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَالْعَمَلُ بِهِ، لَا عُذْرَ لأَحَدٍ فِي تَرْكِهِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي كِتَابِ اللَّهِ، فَسُنَّةٌ مِنِّي مَاضِيَةٌ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ سُنَّتِي، فَمَا قَالَ أَصْحَابِي، إِنَّ أَصْحَابِي بِمَنْزِلَةِ النُّجُومِ فِي السَّمَاءِ فَأَيُّمَا أَخَذْتُمْ بِهِ اهْتَدَيْتُمْ، وَاخْتِلَافُ أَصْحَابِي لَكُمْ رَحْمَةٌ» (1).
وفي هذا الحديث فوائد أهمها:
1 - إخباره صلى الله عليه وسلم باختلاف المذاهب من بعده في فروع المسائل ورضاه بذلك.
2 - تقريره بِأَنَّ هذا الاختلاف رحمة بالأُمَّة.
--------------------------------------------
ভিন্নমত পোষণকারী (مخالف) হওয়ার কারণে এবং এই প্রশস্ততার প্রভাব ইজতিহাদের বহুবিধ মাযহাব ও মুজতাহিদগণের কর্মপদ্ধতির ওপর পরিলক্ষিত হয়; যা এই দ্বীনের অন্যতম সৌন্দর্য। এর ফলে চিন্তাশক্তির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপিত হয়নি এবং কোনো একটি মতের ওপর স্থবিরতাও আসেনি। বিভিন্ন নস বা দলীল থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, এই মতভেদ একটি রহমত। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কাছে আল্লাহর কিতাবের যা কিছু এসেছে তা অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক, তা বর্জন করার ক্ষেত্রে কারো কোনো ওজর গ্রহণযোগ্য নয়। যদি তা আল্লাহর কিতাবে না থাকে, তবে আমার প্রচলিত সুন্নাহ অনুসরণীয়। আর যদি তা আমার সুন্নাহতে না থাকে, তবে আমার সাহাবীগণ যা বলেছেন তা অনুসরণীয়। নিশ্চয়ই আমার সাহাবীগণ আসমানের নক্ষত্ররাজির ন্যায়; তাদের মধ্যে যাকেই তোমরা গ্রহণ করবে, তোমরা সঠিক পথ পাবে। আর আমার সাহাবীগণের মতভেদ তোমাদের জন্য রহমত স্বরূপ» (১)।
এই হাদিস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
১ - শাখা-প্রশাখার মাসআলাসমূহে তাঁর পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মাযহাবের সৃষ্টি হওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সংবাদ প্রদান এবং এর প্রতি তাঁর সন্তুষ্টি।
২ - তিনি সাব্যস্ত করেছেন যে এই মতভেদ উম্মতের জন্য রহমত স্বরূপ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
3 - تخيير المكلَّف بأن يأخذ بأي رأي شاء من آراء الصحابة من غير تعيين لأحدهم فيما لا نص فيه.
وقد كانت لصحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم مدارس لهم فيها أتباع كمدرسة عمر وَعَلِيٍّ وعثمان وابن عباس.
4 - يؤخذ منه أيضاً أَنَّ كُلاًّ من المُجْتَهِدِينِ على هُدًى وَفِقْهٍ، فلا ينسب إلى أحد منهم تخطئة (1).
وقد روي عن عمر بن عبد العزيز رحمه الله أنه قال: «مَا سَرَّنِي بِاخْتِلَافِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حُمُرُ النَّعَمِ» ورواه البيهقي بلفظ: «ما سَرَّنِي لو أنَّ أصحابي لم يختلفوا، لأنهم لو لم يختلفوا لم تكن رخصة» كما رُوي عن القاسم بن محمد قوله: «كَانَ اخْتِلَافُ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ رَحْمَةً لِلْنَّاسِ» (2).
وقد أراد الخليفة العباسي أبو جعفر المنصور أنْ يحمل الناس على " موطأ مالك " فأبى رحمه الله ذلك، وعاود الكرَّةَ الرشيدُ، فامتنع عليه وقال: «إِنَّ اخْتِلَافَ العُلَمِاءِ رَحْمَةٌ مِنَ
--------------------------------------------
৩ - যে বিষয়ে কোনো অকাট্য দলিল (نص) নেই, সে বিষয়ে সাহাবীগণের মতামতের মধ্য থেকে কোনো একজনকে নির্দিষ্ট না করে নিজের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো একটি গ্রহণ করার ব্যাপারে মুকাল্লাফ (المكلف) বা শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিকে ইখতিয়ার প্রদান করা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের এমন কিছু মাযহাব বা চিন্তাধারা ছিল যাতে তাঁদের অনুসারী ছিল, যেমন: উমর, আলী, উসমান ও ইবনে আব্বাসের মাদ্রাসা বা জ্ঞানতাত্ত্বিক ধারা।
৪ - এখান থেকে আরও প্রতীয়মান হয় যে, মুজতাহিদগণের (المجتهدين) প্রত্যেকেই হিদায়াত ও ফিকহ বা গভীর প্রজ্ঞার (فقه) ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, তাই তাঁদের কাউকেই ভুলকারী (تخطئة) বলে অভিহিত করা যাবে না (১)।
উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহিমানুল্লাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মতভেদ না হওয়াটা আমার নিকট মূল্যবান লাল উট পাওয়ার চেয়েও বেশি প্রিয় ছিল না।" ইমাম বায়হাকি এটি এই শব্দে বর্ণনা (رواه) করেছেন: "আমার সাহাবীগণ যদি মতভেদ না করতেন তবে আমি খুশি হতাম না, কারণ তাঁরা যদি মতভেদ না করতেন তবে কোনো প্রশস্ততা বা অবকাশ (رخصة) থাকতো না।" যেমন কাসিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মতভেদ মানুষের জন্য রহমতস্বরূপ ছিল" (২)।
আব্বাসীয় খলিফা আবু জাফর আল-মনসুর চেয়েছিলেন যেন মানুষকে "মুয়াত্তা মালিক" অনুসরণে বাধ্য করা হয়, কিন্তু তিনি (ইমাম মালিক রহ.) তা অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে হারুনুর রশীদ পুনরায় একই চেষ্টা করলে তিনি তাঁর প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন: "নিশ্চয়ই আলিমগণের মতভেদ আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
اللهِ عَلَى الأُمَّةِ كُلٌّ يَتَّبِِعُ مَا صَحَّ عِنْدَهُ، وَكُلٌّ عَلَى هُدًى، وَكُلٌّ يُرِيدُ اللهَ» (1).
والعلم باختلاف آراء المجتهدين يُؤَدِّي إلى معرفة مسالك الأئمة في استنباط الأحكام، ومعرفة طرائقهم في الاجتهاد، ويُبيِّنُ تفاوت أقدارهم في استخراج الأحكام، وَرَدِّ الفروع إلى الأصول، ويعلم طالب العلم القدرة على التدقيق، والبصر في القواعد، وَالتَمَكُّنِ من التمييز بين الفروق الدقيقة، ولذلك عَدَّ العلماء المعرفة في الاختلاف علماً غَزِيراً، روى ابن عبد البر في كتابه " جامع بيان العلم " أنَّ سَعِيدَ بْنَ أَبِي عَرُوبَةَ قَالَ: «مَنْ لَمْ يَسْمَعِ الاخْتِلَافَ فَلَا تَعُدُّوهُ عَالِمًا» وَرَوَى [عُثْمَانَ بْنِ عَطَاءٍ]، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «لَا يَنْبَغِي لأَحَدٍ أَنْ يُفْتِيَ النَّاسَ، حَتَّى يَكُونَ عَالِمًا بِاخْتِلَافِ النَّاسِ؛ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ كَذَلِكَ رَدَّ مِنَ الْعِلْمِ مَا هُوَ أَوْثَقُ مِنَ الَّذِي فِي [يَدِهِ]» (2).
ومن الجميل هنا أَنْ نُورِدَ قول ابن تيمية: «وَلِهَذَا قَالَ [العُلَمَاءُ]
--------------------------------------------
উম্মাহর ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ এই যে, প্রত্যেকেই তার নিকট যা সহিহ (صحيح) বলে প্রমাণিত হয়েছে তা অনুসরণ করে, এবং প্রত্যেকেই হিদায়াতের ওপর রয়েছে, এবং প্রত্যেকেই আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে» (১)।
মুজতাহিদগণের মতপার্থক্য সংক্রান্ত জ্ঞান ইমামগণের বিধান (আহকাম) উদ্ঘাটনের পদ্ধতি এবং ইজতিহাদের ক্ষেত্রে তাদের কর্মপন্থা সম্পর্কে অবগতি প্রদান করে। এটি বিধানসমূহ আহরণ এবং শাখা বিষয়গুলোকে মূলনীতির (উসুল) দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতার পার্থক্য স্পষ্ট করে। এটি ইলম অন্বেষণকারীকে সূক্ষ্ম পর্যালোচনা ও মূলনীতির গভীর অন্তর্দৃষ্টির সক্ষমতা এবং সূক্ষ্ম বৈসাদৃশ্যসমূহের মধ্যে পার্থক্য করার পারদর্শিতা দান করে। এজন্যই আলেমগণ মতভেদ বিষয়ক জ্ঞানকে এক সমৃদ্ধ ইলম হিসেবে গণ্য করেছেন। ইবনে আব্দুল বার তার গ্রন্থ "জামে বয়ানিল ইলম"-এ বর্ণনা করেছেন যে, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ বলেছেন: «যে ব্যক্তি মতভেদ শোনেনি, তাকে তোমরা আলেম হিসেবে গণ্য করো না»। এবং [উসমান ইবনে আতা] তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «কারো জন্য মানুষকে ফতোয়া দেওয়া সংগত নয়, যতক্ষণ না সে মানুষের মতভেদ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে; কেননা সে যদি এমনটি না হয়, তবে সে ইলমের এমন বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করবে যা তার কাছে থাকা ইলমের চেয়েও অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق)» (২)।
এখানে ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর একটি উক্তি উল্লেখ করা চমৎকার হবে: «এজন্যই [উলামায়ে কেরাম] বলেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
المُصَنِّفُونَ فِي الأَمْرِ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيِ عَنْ الْمُنْكَرِ مِنْ أَصْحَابِ الشَّافِعِيِّ وَغَيْرِهِ: إنَّ مِثْلَ هَذِهِ الْمَسَائِلِ الاجْتِهَادِيَّةِ لَا تُنْكَرُ بِاليَدِ، وَلَيْسَ لأَحَدِ أَنْ يُلْزِمَ النَّاسَ بِاتِّبَاعِهِ فِيهَا؛ وَلَكِنْ يَتَكَلَّمُ فِيهَا بِالْحُجَجِ الْعِلْمِيَّةِ، فَمَنْ تَبَيَّنَ لَهُ صِحَّةُ أَحَدِ الْقَوْلَيْنِ تَبِعَهُ وَمَنْ قَلَّدَ أَهْلَ الْقَوْلِ الآخَرِ فَلَا إنْكَارَ عَلَيْهِ» (1).
وبهذا كان التوسع في الاجتهاد، ومعرفة الخلاف، وَتَعَدُّدِ وجوه الرأي في المسائل خصيصة من خصائص هذه الأُمَّة، تستطيع أنْ تجد لكل مشكلة حَلاًّ، ولكل نازلة رأياً، وَأَنْ تستنبط لما يَجِدُّ وما يتطور من شؤون الناس حكم الله فيه، رَفْعاً للحرج، وتيسيراً على الناس، قال تعالى: {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} (2) وقال: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} (3).
وقد صنَّفَ رجل كتاباً في الاختلاف، فقال أحمد بن حنبل - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -: «لَا تُسَمِّهِ " كِتَابَ الاِخْتِلَافِ " وَلَكِنْ
--------------------------------------------
ইমাম শাফিঈর অনুসারী এবং অন্যদের মধ্য থেকে যারা ‘সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ’ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন তারা বলেন: এজাতীয় ইজতিহাদি (اجتهادية) মাসআলাসমূহে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে আপত্তি করা যাবে না। কারো জন্য এটি বৈধ নয় যে, সে মানুষকে এ বিষয়ে নিজের অনুসরণে বাধ্য করবে; বরং এই বিষয়গুলোতে ইলমি দলীল (الحجج العلمية) দিয়ে আলোচনা করতে হবে। ফলে যার কাছে দুটি মতের মধ্যে কোনো একটির শুদ্ধতা (صحة) স্পষ্ট হবে, সে তা অনুসরণ করবে; আর যে ব্যক্তি অন্য মতের অনুসারীদের তাকলিদ (قلد) করবে, তার ওপর কোনো আপত্তি থাকবে না। (১)
এ কারণেই ইজতিহাদের (اجتهاد) বিস্তৃতি, মতভেদ (خلاف) সম্পর্কে জ্ঞান এবং মাসআলাসমূহে দৃষ্টিভঙ্গির বহুত্ব এই উম্মতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর মাধ্যমে আপনি প্রতিটি সমস্যার সমাধান এবং প্রতিটি উদ্ভূত পরিস্থিতির (نازلة) জন্য একটি মতামত খুঁজে পেতে পারেন। আর মানুষের জীবনযাত্রায় যা কিছু নতুন ও পরিবর্তিত রূপ নিয়ে সামনে আসে, তা থেকে আল্লাহর বিধান ইস্তিম্বাত (تستنبط) করতে পারেন—যাতে সংকীর্ণতা দূর হয় এবং মানুষের জন্য সহজ হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কঠিনতা চান না} (২) এবং তিনি আরও বলেন: {তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা আরোপ করেননি} (৩)।
জনৈক ব্যক্তি মতভেদ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করলেন। তখন আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) বললেন: «এর নাম "কিতাবুল ইখতিলাফ" রেখো না, বরং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
سَمِّهِ " كتاب السُنَّةِ "».
ومن هنا وجب معرفة هذه السُنَّة، وبيان طرق الاستدلال بها، واختلاف العلماء في طرق الاستدلال بها رحمة وتوسعة، والإسلام نزل رحمة للعالمين.
ويجب أنْ نُؤكِّدَ بداهة أنه لا فرق بين القرآن والسُنَّة في استنباط الأحكام، وأنَّها كالقرآن في تحليل الحلال وتحريم الحرام، وقد ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «أَلَا إِنِّى أُوتِيتُ القُرْآنَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ» أي السُنَّةَ، قال سبحانه: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (1)، وذلك إمَّا على سبيل تفصيل ما أجمله القرآن (2)، أو تقرير ما ذكره (3)، أو توكيد ما بَيَّنَهُ (4)، أو تخصيص العام منه (5)، أو تفسير المطلق منه (6). أو دلالتها على حكم سكت عنه القرآن (7).
--------------------------------------------
এর নামকরণ করো "কিতাবুস সুন্নাহ"।’
আর এখান থেকেই এই সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা, এর দ্বারা দলীল পেশ করার পদ্ধতিসমূহ (طرق الاستدلال) বর্ণনা করা এবং দলীল গ্রহণের পদ্ধতির ক্ষেত্রে আলেমদের মতপার্থক্য যে রহমত ও প্রশস্ততা স্বরূপ, তা জানা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। আর ইসলাম বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে।
আমাদের অবশ্যই দৃঢ়ভাবে অনুধাবন করা উচিত যে, বিধান আহরণ করার (استنباط الأحكام) ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। হালালকে বৈধ করা এবং হারামকে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে এটি কুরআনের মতোই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «জেনে রেখো, আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে এবং এর সাথে এর অনুরূপ আরও একটি জিনিস দেওয়া হয়েছে» অর্থাৎ সুন্নাহ। মহান আল্লাহ বলেন: {রাসুল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (১)। আর এটি (সুন্নাহর বিধান) হয় হয় কুরআনের সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা (تفصيل) হিসেবে (২), অথবা যা বর্ণিত হয়েছে তার সমর্থন (تقرير) হিসেবে (৩), অথবা যা স্পষ্ট করা হয়েছে তার তাকিদ (توكيد) হিসেবে (৪), অথবা এর সাধারণ (عام) বিধানকে বিশেষিত করার (تخصيص) জন্য (৫), অথবা এর শর্তহীন (مطلق) বিষয়ের ব্যাখ্যা (تفسير) হিসেবে (৬)। অথবা কুরআন যে বিধানের ব্যাপারে নীরব থেকেছে সেটির ওপর দালীলিক নির্দেশনার (دلالة) জন্য (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
غير أنَّ هذا يحتاج إلى بعض التفصيل الضروري فيما يؤخذ من السُنّةِ في التشريع، وما يستنبط منها من أحكام.
فمن أفعاله عليه الصلاة والسلام ما يؤخذ في التشريع، ومنها ما لا يؤخذ، فالهواجس النفسية، والحركات البشرية، وما لا يتعلق بالعبادات من الأمور الجِبِلِيَّةِ، كالقيام والقعود ونحوهما فليس في هذه تَأَسٍّ ولا اقتداء، ولا يتعلق بها أمر باتباع، ولا نهي عن مخالفة (1)، وكذلك ما نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن اتباعه فيه كالوصال في الصوم.
وما خرج عن الجِبِلََِّّة إلى التشريع بمواظبة النبي صلى الله عليه وسلم عليه على وجه معروف، وهيئة مخصوصة كالأكل والشرب واللبس والنوم، فالراجح أنه يرجع إلى التشريع، وكل فعل ورد بياناً كقوله صلى الله عليه وسلم «صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِى أُصَلِّى»، «خُذُوا عَنِّي مَنَاسِكَكُمْ» وكالقطع في الكوع في السرقة، فهو دليل واجب الأخذ به بلا خلاف.
--------------------------------------------
তবে শরিয়ত প্রণয়নের (التشريع) ক্ষেত্রে সুন্নাহ থেকে যা গ্রহণ করা হয় এবং তা থেকে যে সকল বিধিবিধান (أحكام) উদ্ভাবন করা হয়, সে বিষয়ে কিছু প্রয়োজনীয় বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কার্যাবলীর মধ্যে কিছু শরিয়ত প্রণয়নের (التشريع) জন্য গৃহীত হয়, আবার কিছু গৃহীত হয় না। যেমন—মানসিক চিন্তা-ভাবনা, মানুষের স্বাভাবিক নড়াচড়া এবং ইবাদতের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন সহজাত প্রবৃত্তিগত (الجِبِلِيَّةِ) বিষয়াদি; যেমন: দাঁড়ানো, বসা এবং এ জাতীয় কার্যাবলী। এগুলোর ক্ষেত্রে কোনো অনুসরণ (تَأَسٍّ) বা অনুকরণ (اقتداء) নেই এবং এগুলোর অনুকরণের ব্যাপারে কোনো আদেশ কিংবা এর অন্যথা করার ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা (১) নেই। অনুরূপভাবে সেই সকল বিষয়ও যেগুলোতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন, যেমন: সওমে বিসাল (الوصال) বা বিরতিহীন রোজা।
আর যা কেবল সহজাত প্রবৃত্তিগত (الجِبِلِيَّةِ) বিষয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শরিয়ত প্রণয়নের (التشريع) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক একটি পরিচিত পদ্ধতিতে এবং সুনির্দিষ্ট পন্থায় তা নিয়মিত পালনের মাধ্যমে; যেমন: আহার করা, পান করা, পোশাক পরিধান এবং নিদ্রা যাপন—তবে বিশুদ্ধতর মতানুসারে (الراجح) তা শরিয়ত প্রণয়নের (التشريع) অন্তর্ভুক্ত হবে। আর প্রতিটি কাজ যা ব্যাখ্যাস্বরূপ (بياناً) এসেছে, যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: «তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ», «তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের বিধানাবলী (مناسك) গ্রহণ করো» এবং চুরির অপরাধে কবজি থেকে হাত কাটার বিষয়টি; তবে তা কোনো মতভেদ ছাড়াই গ্রহণ করা অত্যাবশ্যকীয় (واجب) প্রমাণ (دليل) হিসেবে গণ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
وإنْ ورد بَيَاناً لِمُجْمَلٍ، فحكمه حكم ذلك المُجْمَلِ، من وجوب أو نسب أو تحريم أو كراهية أو إباحة كأفعال الحج، والعمرة والصلاة، والزكاة وغيرها.
وإنْ ورد ابتداء وعلمت صفته من الأحكام ففيه أقوال أربعة:
أ - إِنَّ أُمَّتَهُ مثله في ذلك، إلَاّ أَنْ يدل دليل على اختصاصه به، مثل زواجه صلى الله عليه وسلم أكثر من أربع نسوة، وهو أرجح الأقوال.
ب - إِنَّ أُمَّتَهُ مثله في العبادات دون غيرها.
ج - الوقف.
د - لا يكون شَرْعًا لنا إلَاّ بدليل، مثل الطواف حول البيت سَبْعاً، فإنه كان شَرْعًا لمن كان قبلنا، ولكنه شَرْعٌ لنا بِالسُنَّةِ.
وإنْ لم تعلم صفته في حقه، وظهر فيه قصد القربة ففيه أقوال:
যদি এটি কোনো সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট (مجمل) বিষয়ের ব্যাখ্যা হিসেবে বর্ণিত হয়, তবে তার বিধান হবে সেই সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট (مجمل) বিষয়ের বিধানের অনুরূপ; চাই তা আবশ্যকতা (وجوب), মুস্তাহাব (ندب), হারাম (تحريم), অপছন্দনীয়তা (كراهية) কিংবা বৈধতা (إباحة) যাই হোক না কেন। যেমন: হজ, উমরা, সালাত, জাকাত এবং অন্যান্য বিষয়ের কার্যাবলি।
আর যদি এটি প্রাথমিকভাবে (ابتداء) বর্ণিত হয় এবং আহকামের দিক থেকে এর প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য জানা থাকে, তবে সেক্ষেত্রে চারটি অভিমত রয়েছে:
ক - তাঁর উম্মত এই বিষয়ে তাঁরই সমপর্যায়ভুক্ত হবে, যদি না তা কেবল তাঁর সাথে নির্দিষ্ট (اختصاص) হওয়ার কোনো দলিল বিদ্যমান থাকে। যেমন: নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চারের অধিক স্ত্রী গ্রহণ করা; আর এটিই হলো অধিক গ্রহণযোগ্য (أرجح) মত।
খ - তাঁর উম্মত কেবল ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর অনুরূপ হবে, অন্য বিষয়ে নয়।
গ - কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান না করে স্থগিত রাখা (وقف)।
ঘ - কোনো দলিল ব্যতীত তা আমাদের জন্য বিধিবদ্ধ শরিয়ত (شرع) হিসেবে গণ্য হবে না। যেমন: বায়তুল্লাহর চারপাশে সাতবার তওয়াফ করা; কারণ এটি আমাদের পূর্ববর্তীদের জন্যও শরিয়ত (شرع) ছিল, তবে আমাদের জন্য তা সুন্নাহর (سنة) মাধ্যমে শরিয়ত (شرع) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
আর যদি তাঁর ক্ষেত্রে কাজের প্রকৃতি জানা না থাকে, তবে যদি তাতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য (قصد القربة) প্রকাশ পায়, তবে সেক্ষেত্রে কয়েকটি অভিমত রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أ - الوُجُوبُ (وَهُو رَأْي الْمُعْتَزِلَة وَعَدَد مَن الْعُلَمَاء كَأَبِي سَعِيْد الإِصْطَخْرِي).
ب - النَّدْبُ. وَحَكَاهُ الْجُوَيْنِي فِي " البُرْهَان " وَالرَّازِي فِي " المَحْصُول " عَن الشََّافِعِي، وَهُو رَأْي الْقَفََّال وَأَبِي حَامِد الْمَرْوَزِي، وَهُو أَرْجَح الأَقْوَال.
جـ - الإِبَاحَةُ. وَهُو قَوْل مَالِكٍ.
د - الْوَقْفُ. وَهُو قََوْلُ أَكْثَر أَصْحَاب الْشََّافِعِي وَالْمُتَكَلِّمِيْن.
وَيَرَى الْشَّوْكَانِي أَنَّه لَا مَعْنَى لِلْوَقْف فِي الْفِعْل الَّذِي ظَهَرَ فِيهِ قََصْدَ الْقُرْبَة.
وَإِن لَم تَظْهَر فِيْه الْقُرْبَة فَقَوِّم قَالُوْا بِالْوُجُوْب، وَهُو ظَاهِر مَذْهَب الْشََّافِعِي، وَرَأْي الْمَالِكِيَّة وَأَكْثَر أَهْل الْعِرَاق. وَأَكْثَر الْحَنَفِيََّةِ قََالُوا: النَّدْب وَتَبِعَهُم الْمُعْتَزِلَةُ وَالقَفََّال الكَبِير. وَرَجََّحَ قَوْلُهُم الشََّوْكَانِي.
وَقََوْمٌ قَالُوا بِالإِبَاحَة، وَهُم الحَنَابِلَةُ، وَالجُوَيْنِي مِن
ক - আবশ্যকতা (وجوب) (এটি মুতাজিলা এবং আবু সাঈদ আল-ইস্তাখরির মতো বেশ কিছু আলেমের অভিমত)।
খ - মুস্তাহাব (ندب)। আল-জুওয়াইনি "আল-বুরহান" গ্রন্থে এবং আল-রাজি "আল-মাহসুল" গ্রন্থে এটি ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন; এটি আল-কাফফাল এবং আবু হামিদ আল-মারওয়াজির অভিমত এবং এটিই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত।
গ - বৈধতা (إباحة)। এটি ইমাম মালিকের অভিমত।
ঘ - বিরত থাকা (وقف)। এটি অধিকাংশ শাফিঈ অনুসারী এবং কালামশাস্ত্রবিদদের অভিমত।
আশ-শাওকানি মনে করেন যে, যে কার্যে নৈকট্য লাভের (قربة) উদ্দেশ্য প্রকাশ পায়, সেখানে বিরত থাকা (وقف)-এর কোনো অর্থ হয় না।
আর যদি তাতে নৈকট্য লাভের (قربة) উদ্দেশ্য প্রকাশ না পায়, তবে একদল একে আবশ্যকতা (وجوب) হওয়ার কথা বলেছেন; এটি ইমাম শাফিঈর মাযহাবের বাহ্যিক রূপ এবং মালিকি ও অধিকাংশ ইরাকবাসীর অভিমত। অধিকাংশ হানাফি একে মুস্তাহাব (ندب) বলেছেন এবং মুতাজিলা ও আল-কাফফাল আল-কাবির তাদের অনুসরণ করেছেন। আশ-শাওকানি তাদের এই অভিমতকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
আবার একদল একে বৈধতা (إباحة) বলেছেন, তারা হলেন হাম্বলিগণ এবং আল-জুওয়াইনি...
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الشافعية، والغزالي والرازي قالوا بالوقف (1).
…--------------------------------------------
শাফিঈগণ, আল-গাযালী এবং আর-রাযী সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার (الوقف) মত পোষণ করেছেন (১)।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
درجة الاستدلال بالحديث:درجة الاستدلال بالحديث تَتَعلَّقُ بِحُجِيَّةِ الحديث سواء أكان متواتراً أو آحاداً:
أما المتواتر فلا شك في حُجِيَّتِهِ، والأخذ به، سواء أكان لفظياً أو معنوياً؛ واللفظي هو ما اتفقت الجماعة عليه في اللفظ والمعنى، والمعنوي ما اختلفت روايته في اللفظ والمعنى، مع وجود معنى كلي متفق عليه في روايته (1)، وإنما الخلاف في حجية خبر الآحاد، فالجمهور من العلماء على وجوب العمل بخبر الواحد؛ مستدلين بالكتاب والسُنَّةِ، وعمل الصحابة، والتابعين، ومن بعدهم. والآحاد خبر لا يفيد العلم بنفسه عند الجمهور، وقال ابن حزم وأبو داود الظاهري: إنه يفيد العلم بنفسه.
…--------------------------------------------
হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণের পর্যায়:হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণের পর্যায়টি হাদিসের প্রামাণিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট, চাই তা মুতাওয়াতির (متواتر) হোক অথবা আহাদ (آحاد) হোক:
পক্ষান্তরে মুতাওয়াতির (المتواتر) এর প্রামাণিকতা এবং তা গ্রহণের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, চাই তা শাব্দিক (لفظياً) হোক বা অর্থগত (معنوياً) হোক; শাব্দিক মুতাওয়াতির হলো যার শব্দ ও অর্থের ব্যাপারে একটি বিশাল দল ঐক্যমত পোষণ করেছেন, আর অর্থগত মুতাওয়াতির হলো যার বর্ণনার শব্দ ও অর্থে ভিন্নতা থাকলেও বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি সর্বজনীন অর্থের ওপর ঐক্যমত্য রয়েছে (১)। মূলত মতভেদ রয়েছে খবরুল আহাদ (خبر الآحاد) এর প্রামাণিকতা নিয়ে। অধিকাংশ (الجمهور) আলেম একক সংবাদ (خبر الواحد) অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন; তারা কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবী, তাবিঈ ও তাদের পরবর্তীগণের কর্মপন্থা দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। অধিকাংশের (الجمهور) নিকট আহাদ (الآحاد) এমন সংবাদ যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত জ্ঞান (العلم بنفسه) প্রদান করে না, তবে ইবনে হাজম এবং আবু দাউদ আজ-জহিরী বলেছেন: এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত জ্ঞান (العلم بنفسه) প্রদান করে।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
شروط الاستدلال بحديث الآحاد:يشترط للاستدلال بحديث الآحاد شروط من أهمها في الراوي: أَنْ يكون الراوي مسلماً من أهل التكليف، فلا تقبل رواية الكافر، أو الصغير أو المجنون، وَأَنْ يكون عدلاً ضابطاً، ومن أهمها في مدلول الخبر: أَنْ لا يكون مستحيل الوجود في العقل، وأنْ لا يكون مخالفاً لنص مقطوع به على وجه لا يمكن الجمع بينهما، وأنْ لا يكون مخالفاً لإجماع الأُمَّة، وأما إذا خالف القياس القطعي فالجمهور يقول: بأنه مقدَّم على القياس وهو الحق.
كما يشترط في لفظ الخبر أَنْ يرويه بلفظه كقوله صلى الله عليه وسلم: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ» (1)، وكقوله صلى الله عليه وسلم: «الْحَرْب خُدْعَة» (2).
ويجوز روايته بالمعنى لمن كان عارفاً بمعاني الألفاظ، أو
--------------------------------------------
একক সূত্রের (آحاد) হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করার শর্তাবলি:একক সূত্রের (آحاد) হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে, যার মধ্যে বর্ণনাকারীর (راوٍ) ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: বর্ণনাকারীকে মুসলিম এবং শরয়ি দায়িত্ব পালনের যোগ্য হতে হবে। সুতরাং কোনো কাফিরের বর্ণনা, কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু বা উন্মাদ ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হবে না। এছাড়াও তাকে ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) হতে হবে। আর খবরের (خبر) মর্মার্থের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্তসমূহ হলো: এটি বিবেকের দৃষ্টিতে অস্তিত্বহীন হওয়া অসম্ভব হতে পারবে না, এমন কোনো অকাট্য দলিলের (نص) পরিপন্থী হতে পারবে না যার ফলে উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং উম্মতের ঐকমত্যের (إجماع) পরিপন্থী হতে পারবে না। তবে যদি এটি কোনো অকাট্য কিয়াসের (قياس قطعي) পরিপন্থী হয়, তবে জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমের মতে হাদিসটি কিয়াসের ওপর অগ্রাধিকার পাবে এবং এটিই সঠিক মত।
অনুরূপভাবে খবরের (خبر) শব্দের ক্ষেত্রে শর্ত হলো, তা হুবহু শব্দেই বর্ণনা করতে হবে। যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল" (১) এবং তাঁর বাণী: "যুদ্ধ হলো একটি কৌশল" (২)।
আর যে ব্যক্তি শব্দের অর্থ সম্পর্কে সম্যক অবগত, তার জন্য মর্মার্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (رواية بالمعنى) করা জায়েজ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
جاء بمرادفها، إلَاّ إذا كان من جوامع الكلم (وهذا عند الجمهور) وقد قال مالك والجويني وعدد من العلماء بمنع نقل الحديث بمعناه، والأصح الأول لما فيه من الحرج، وللعلماء في ذلك أقوال كثيرة، كما يشترط في لفظ الخبر أنْ لا يحذف بعضه حذفاً مُخلاًّ، كحذف الاستثناء أو الشرط، وأنْ لا يزيد زيادة في غير بيان الحديث أو السبب.
***
তিনি এর সমার্থবোধক শব্দ ব্যবহার করেছেন, যদি না সেটি সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী (جوامع الكلم) হয়ে থাকে (এবং এটি অধিকাংশ আলেমের (جمهور) অভিমত)। ইমাম মালিক, জুওয়াইনি এবং বহু আলেম অর্থগতভাবে হাদিস বর্ণনা (نقل الحديث بمعناه) নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন; তবে প্রথম মতটিই অধিকতর সঠিক (أصح), কারণ (অর্থগত বর্ণনা নিষিদ্ধ করলে) কঠোরতা বা সংকীর্ণতা সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়ে আলেমদের বহু বক্তব্য রয়েছে। একইভাবে বর্ণনার (خبر) শব্দের ক্ষেত্রে শর্তারোপ করা হয়েছে যে, এর কোনো অংশ যেন এমনভাবে বাদ না দেওয়া হয় যা অর্থকে বিকৃত করে, যেমন—ব্যতিক্রম (استثناء) বা শর্ত (شرط) বাদ দেওয়া। এবং হাদিসের ব্যাখ্যা বা প্রেক্ষাপট বর্ণনা করা ব্যতিরেকে যেন কোনো অতিরিক্ত অংশ এতে বৃদ্ধি না করা হয়।
***
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أنواع طريق الاستدلال:من المعلوم أنَّ طرق الاستدلال بألفاظ السُنّة هي طرق الاستدلال بألفاظ القرآن، وهي تشمل المدلولات اللغوية، والفهم العربي لنصوص السُنَّةِ، كما تشمل بيان الرسول صلى الله عليه وسلم لما ورد من أحكام حسب ما ذكرنا.
وطرق الاستدلال أنواع:
أولاً: طرق استدلال الأحكام من الألفاظ:ويكون ذلك بأحد طرق ثلاثة:
1 - النقل المتواتر وهو ما رواه جمع يؤمن تواطؤهم على الكذب، مثل ألفاظ الأرض والنار والهواء والحر والبرد والسماء والنور والموت كقوله صلى الله عليه وسلم: «عَادِيُّ الأَرْضِ للَّهِ وَرَسُولِهِ» (1) أو قوله: «مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيِّتَةً فَهِيَ لَهُ» (2) فكلمتا «الأَرْضَ»
--------------------------------------------
দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতির প্রকারভেদ:এটি সুপরিজ্ঞাত যে, সুন্নাহর শব্দমালার মাধ্যমে দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতিসমূহ হলো কুরআনের শব্দমালার মাধ্যমে দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতিসমূহ। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ভাষাগত অর্থসমূহ, সুন্নাহর ভাষ্যসমূহের আরবী অনুধাবন এবং আমাদের উল্লেখানুযায়ী বর্ণিত বিধানসমূহের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাখ্যা।
দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতিসমূহ কয়েক প্রকার:
প্রথমত: শব্দমালা থেকে বিধান উদ্ভাবনের পদ্ধতিসমূহ:এটি তিনটি পদ্ধতির কোনো একটির মাধ্যমে হয়ে থাকে:
1 - মুতাওয়াতির বর্ণনা (النقل المتواتر), যা এমন এক জনসমষ্টি বর্ণনা করেছেন যাদের মিথ্যা বলার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব বলে মনে করা হয়। যেমন: ভূমি, অগ্নি, বায়ু, উত্তাপ, শৈত্য, আকাশ, আলো এবং মৃত্যু—এই শব্দগুলো। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «প্রাচীন ভূমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য» (১) অথবা তাঁর বাণী: «যে ব্যক্তি কোনো মৃত ভূমিকে আবাদ করবে, তা তার জন্য» (২)। সুতরাং «ভূমি» শব্দ দুটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
و «مَيِّتَةً»، معروف معناهما بالتواتر اللغوي لا يختلف فيه اثنان (1).
2 - نقل الآحاد كنقل غريب الألفاظ كقوله صلى الله عليه وسلم: «القَتْلُ فِي سَبِيلِ اللهِ مُمَصْمِصَةٌ» أي مُطهِّرَةٌ مِنء دَنَسِ الخَطَأِ (2). وقوله صلى الله عليه وسلم: «إِذَا عَرَّسْتُمْ فَاجْتَنِبُوا هَزْمَ الأَرْضِ فَإِنَّهَا مَأْوَى الهَوَامِّ» و" الهَزْمُ ": مَا تَشَقَّقَ مِنَ الأَرْضِ (3).
ويدخل في النوعين الأولين ما يشتق من اللغة كقوله صلى الله عليه وسلم: «تُنْكَحُ المَرْأَةُ لِمَيْسَمِهَا وَمَالِهَا وَحَسَبِهَا» (4) فـ " المَيْسَمُ ": مفعل الوسامة وهي الجمال.
3 - العقل من النقل كما إذا نقل إلينا أَنَّ الجمع المعرف يدخله الاستثناء، مثل الرجال، فهو متناول لجميع أنواع
--------------------------------------------
এবং "মৃত জন্তু" (ميتة), এই শব্দদ্বয়ের অর্থ ভাষাগত মুতাওয়াতির (متواتر) সূত্রের মাধ্যমে সুপরিচিত, যার ব্যাপারে দুইজন ব্যক্তিও দ্বিমত পোষণ করেন না (১)।
২ - সংবাদ একক (آحاد) এর বর্ণনা যেমন বিরল শব্দের (غريب الألفاظ) বর্ণনা। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করা হলো 'মুমাসমিসাহ' (ممصمصة)" অর্থাৎ এটি গুনাহের পঙ্কিলতা থেকে পবিত্রকারী (২)। এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "তোমরা যখন রাতের শেষ ভাগে বিশ্রাম নিতে অবতরণ করবে, তখন ভূমির নিম্নভাগ বা ফাটল (হাজম) পরিহার করবে; কেননা তা বিষাক্ত কীটপতঙ্গের আশ্রয়স্থল।" আর "হাজম" (الهزم) হলো: ভূমির সেই অংশ যা ফেটে গিয়েছে (৩)।
আর প্রথম দুই প্রকারের মধ্যে ঐ সকল শব্দও অন্তর্ভুক্ত যা ভাষা থেকে ব্যুৎপন্ন হয়। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "নারীকে বিবাহ করা হয় তার সৌন্দর্য (মাইসাম), সম্পদ ও বংশমর্যাদার ভিত্তিতে" (৪)। এখানে "মাইসাম" (الميسم) শব্দটি 'ওয়াসামাহ' (وسامة) এর ওজনে গঠিত যার অর্থ সৌন্দর্য।
৩ - বর্ণনা থেকে উদ্ভূত যুক্তি; যেমন আমাদের কাছে যখন বর্ণনা (نقل) করা হয় যে, আলিফ-লাম যুক্ত বহুবচন শব্দের মধ্যে ব্যতিক্রম (إستثناء) প্রবেশ করতে পারে, যেমন 'আর-রিজাল' (পুরুষরা), ফলে এটি সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্তকারী
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
الرجال، ولكن يمكن إخراج بعض ما ينتظمه اللفظ فتقول: الرجال خير من النساء، فلا يمنع أنْ يكون بعض النساء خير من الرجال.
4 - وهناك مسألة تنازع فيها الأصوليون، وهي ثبوت اللغة بالقياس، كَأَنْ يُسَمَّى شيءٌ باسم له معنى ينظر في التسمية، ويوجد له معنى في غير المُسَمَّى الذي ثبت وضع اللفظ له. فالنبي صلى الله عليه وسلم يقول: «لَعَنَ اللَّهُ شَارِبَ الْخَمْرِ» (1) فالخمر لفظ وضع لغة للتي من ماء العنب أو التمر إذا اشْتَدَّ وغلا وقذف بالزبد. ولكن فيه معنى آخر وهو ستر العقل، فيعتبر هذا علَّة التسمية، فيشمل كل شراب - من غير هذين - يستر العقل، وهذا ما ذهب إليه الجمهور.
والأصوليون أول ما اتَّجَهُوا في طرق الاستنباط إلى بيان الطرق اللفظية:
فقسّموا اللفظ باعتبار ما وضع له إلى ثلاثة أقسام:
--------------------------------------------
পুরুষগণ; তবে শব্দের আওতাভুক্ত কিছু বিষয়কে এর বাইরে রাখা সম্ভব, যেমন আপনি বলতে পারেন: পুরুষরা নারীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তবে এটি কোনো কোনো নারী কোনো কোনো পুরুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ার বিষয়টিকে বাধাগ্রস্ত করে না।
৪ - এখানে এমন একটি মাসআলা রয়েছে যা নিয়ে মূলনীতিবিদগণ (الأصوليون) মতপার্থক্য করেছেন। সেটি হলো তুলনা বা কিয়াসের (القياس) মাধ্যমে ভাষা সাব্যস্ত হওয়া। যেমন কোনো বস্তুকে এমন একটি নামে নামকরণ করা যার একটি বিশেষ অর্থ রয়েছে যা নামকরণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়, এবং সেই অর্থটি এমন একটি বিষয়বস্তুর মাঝেও বিদ্যমান থাকে যার জন্য শব্দটি মূলত আভিধানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা মদ্যপানকারীকে অভিশাপ দিয়েছেন।" এখানে 'খামর' (মদ) শব্দটি ভাষাগতভাবে এমন পানীয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে যা আঙুরের রস বা খেজুর থেকে তৈরি এবং যা তীব্র হয়ে ফেনা ছড়ায়। কিন্তু এতে অন্য একটি অর্থও রয়েছে, আর তা হলো বুদ্ধিবৃত্তিকে আচ্ছন্ন করে ফেলা। আর এটিই নামকরণের মূল কারণ (العلة) হিসেবে গণ্য হয়। ফলে এই দুটি উৎস ব্যতীত অন্য যেকোনো পানীয় যা বুদ্ধিবৃত্তিকে আচ্ছন্ন করে, তা এর অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এটিই সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) আলিমদের অভিমত।
আর মূলনীতিবিদগণ (الأصوليون) মাসআলা উদ্ভাবনের (الاستنباط) ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম শাব্দিক বা ভাষাগত পদ্ধতিগুলোর বর্ণনার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন:
তারা শব্দকে এর প্রয়োগ বা সংজ্ঞায়নের প্রেক্ষাপটে তিন ভাগে ভাগ করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
1 - مشترك: وهو ما وضع لِمُتَعَدِّدِ المعاني، كالعين للجاسوس، والماء، والذهب، وعين الإنسان، والوجه. وقد اختار جمهور الأصوليين عدم جواز إطلاق المشترك وإرادة جميع معانيه، وإنما تدل القرينة على المراد منه، ورأى بعضهم جواز ذلك.
2 - عام: وهو ما وضع بلفظ واحد لكثيرين يستغرقهم اللفظ، ويشمل كلمات العموم، وجميع صيغ العموم مثل: أسماء الشرط، والموصول، والاستفهام، والمُحَلَّى بأل الجنسية، والنكرة المنفية، والجمع المُحَلَّى باللام، والإضافة، ومثاله قوله صلى الله عليه وسلم: «الإنسان مجزي بعمله إنْ شرّاً فشرٌّ وإنْ خيراً فخيرٌ» (*). فالعموم في الإنسان يشمل جميع بني البشر.
وقوله صلى الله عليه وسلم: «الْجُمُعَةُ عَلَى مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ» (1) ففهم منها وجوب الصلاة على العموم من سمع النداء. ومثل قوله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الصَّدَقَةَ لَا تَنْبَغِي لآلِ مُحَمَّدٍ» (2) فهي عام في كل صدقة،
--------------------------------------------
১ - বহুমুখী অর্থবোধক (مشترك): এটি এমন শব্দ যা একাধিক অর্থের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, যেমন ‘আইন’ (عين) শব্দটি গুপ্তচর, পানি, স্বর্ণ, মানুষের চোখ এবং দিকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। জুমহুর উসুলবিদগণ বহুমুখী অর্থবোধক (مشترك) শব্দ প্রয়োগ করে তার সকল অর্থ একসাথে গ্রহণ করা বৈধ নয় বলে অভিমত দিয়েছেন; বরং প্রাসঙ্গিক আলামত (قرينة) দ্বারাই উদ্দিষ্ট অর্থ নির্ধারিত হবে। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর বৈধতা দিয়েছেন।
২ - ব্যাপক (عام): এটি এমন শব্দ যা একটিমাত্র শব্দরূপের মাধ্যমে এমন বহু সত্তার ওপর প্রযুক্ত হয় যাদেরকে শব্দটি শামিল করে। এটি ব্যাপকতা (العموم) প্রকাশক শব্দাবলি এবং ব্যাপকতার (العموم) সকল শব্দরূপকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন: শর্তবোধক বিশেষ্য, সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য, প্রশ্নবোধক বিশেষ্য, জাতিবাচক ‘আলিফ-লাম’ যুক্ত বিশেষ্য, না-বোধক বাক্যে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য, ‘লাম’ যুক্ত বহুবচন এবং সম্বন্ধযুক্ত পদ (إضافة)। এর উদাহরণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "মানুষকে তার কর্মের প্রতিদান দেওয়া হবে; যদি তা মন্দ হয় তবে মন্দ, আর যদি ভালো হয় তবে ভালো।" (*)। এখানে ‘মানুষ’ শব্দের ব্যাপকতা (العموم) সকল আদম সন্তানকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি আজান শুনতে পায় তার ওপর জুমার নামাজ আবশ্যিক।" (১) এখান থেকে আজান শ্রবণকারী প্রত্যেকের ওপর ব্যাপকভাবে নামাজের আবশ্যকতা (وجوب) বোঝা যায়। অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই সদকা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশধরদের জন্য শোভনীয় নয়।" (২) এটি সকল প্রকার সদকার ক্ষেত্রে ব্যাপক (عام)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
زكاة أو تَبَرُّعاً. وقوله صلى الله عليه وسلم: «لَا يَرِثُ الْقَاتِلُ» (1)، وقوله صلى الله عليه وسلم: «أيُّمَا إِهَابٍ دُبِغَ فَقَدْ طَهُرَ» (2) عام في كل قاتل وفي كل إهاب.
ويستدل بالعام ما لم يرد عليه التخصيص، وقد نقل الإجماع على عدم العمل بالعام ما لم يبحث عن المخصص. قال الغزالي: «لَا يَجُوزُ الْمُبَادَرَةُ إلَى الْحُكْمِ بِالْعُمُومِ قَبْلَ الْبَحْثِ عَنْ [الأَدِلَّةِ الْعَشَرَةِ الَّتِي أَوْرَدْنَاهَا فِي الْمُخَصِّصَاتِ]؛ لأَنَّ الْعُمُومَ دَلِيلٌ بِشَرْطِ انْتِفَاءِ [الْمُخَصِّصِِ]» (3). والصحيح أنَّ هذا رأي الجمهور (4).
ودلالة العام على كل أفراده قطعية عند الحنفية، ما لم يتبع بالقرينة الدالة على بعض أفراده، ويرى المالكية والشافعية والحنابلة أنَّ دلالة العام على كل أفراده ظنية.
3 - خاص: وهو كل لفظ وضع لواحد أو لعدد محصور، كمحمد، أو قوم، فهي للرجال دون النساء. ومن الأحاديث
--------------------------------------------
যাকাত অথবা অনুদান (تبرعا)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "হত্যাকারী উত্তরাধিকারী হবে না" (১), এবং তাঁর বাণী: "যে চামড়াই পাকা করা হয়, তাই পবিত্র" (২)—এগুলো প্রত্যেক হত্যাকারী এবং প্রত্যেক চামড়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক (عام)।
ব্যাপক (عام) শব্দ দ্বারা দলিল গ্রহণ করা হয় যতক্ষণ না তা বিশেষীকরণের (تخصيص) সম্মুখীন হয়। আর বিশেষকারী (مخصص) অনুসন্ধান করার আগে ব্যাপক (عام) শব্দের ওপর আমল না করার বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) বর্ণিত হয়েছে। ইমাম গাযালী (রহ.) বলেছেন: "বিশেষকারী (مخصصات) সংক্রান্ত অধ্যায়ে আমরা যে দশটি দলিলের কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলো অনুসন্ধান করার আগে ব্যাপকতা (عموم) দ্বারা হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করা বৈধ নয়; কারণ ব্যাপকতা (عموم) তখনই দলিল হিসেবে গণ্য হয় যখন বিশেষকারীর (مخصص) অনুপস্থিতি নিশ্চিত হয়" (৩)। আর সঠিক (صحيح) মত হলো এটিই জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমের অভিমত (৪)।
হানাফিদের মতে ব্যাপক (عام) শব্দের তার অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি এককের উপর নির্দেশিকা হলো অকাট্য (قطعية), যতক্ষণ না এর সাথে এমন কোনো আলামত (قرينة) যুক্ত হয় যা এর কিছু এককের উপর প্রয়োগের নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে মালিকি, শাফিঈ এবং হাম্বলিদের মতে ব্যাপক (عام) শব্দের তার অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি এককের উপর নির্দেশিকা হলো ধারণামূলক (ظنية)।
৩ - বিশেষ (خاص): এটি এমন শব্দ যা কোনো একক সত্তা বা নির্দিষ্ট সংখ্যার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমন: 'মুহাম্মদ' অথবা 'কওম' (সম্প্রদায়)—যা কেবল পুরুষদের জন্য ব্যবহৃত হয়, নারীদের জন্য নয়। এবং হাদিসসমূহের মধ্যে রয়েছে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
التي يستنبط فيه موجب الخاص قوله صلى الله عليه وسلم للمرأة: «دَعِي الصَّلَاةَ أَيَّامَ أَقْرَائِكِ» (1)، ففهم من الخاص معنى الحيض، وأخذ من اللفظ حكم النهي عن الصلاة وقت الحيض.
وقوله صلى الله عليه وسلم: «لَا صَلَاةَ إِلَاّ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ» (2) فلفظ (بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ) لفظ خاص بسورة الفاتحة، فاستدل الشافعية بالحديث على وجوب قراءة سورة الفاتحة.
والخاص أنواع:
1 - مطلق: وهو ما دلَّ على فرد أو أفراد، شائعة بدون قيد مستقل لفظاً، أو ما أريد به فرد غير مقيد، أي ما كان شائعاً في جنسه، والاستدلال به من السُنَّة مثل قوله صلى الله عليه وسلم في صدقة الفطر: «أَدُّوا
… عَنْ كُلِّ حُرٍّ وَعَبْدٍ
… » (3) فالأداء عن مطلق الحر والعبد من غير تقييد، لأنَّ دلالة المطلق غير مقيدة، ويحمل المطلق على إطلاقه.
--------------------------------------------
যে ক্ষেত্রে বিশেষ (خاص) শব্দের বিধান উদঘাটন করা হয়, তার উদাহরণ হলো নারীর প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «তোমার ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে নামাজ বর্জন করো» (১), এখানে বিশেষ (خاص) শব্দ থেকে ঋতুস্রাবের অর্থ অনুধাবন করা হয়েছে এবং শব্দবিন্যাস থেকে ঋতুস্রাবকালীন সময়ে নামাজ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান গ্রহণ করা হয়েছে।
এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «ফাতিহাতুল কিতাব (সূরা আল-ফাতিহা) ব্যতীত কোনো নামাজ নেই» (২), এখানে (ফাতিহাতুল কিতাব) শব্দটি সূরা আল-ফাতিহার জন্য একটি বিশেষ (خاص) শব্দ। শাফেয়ি মাযহাবের ইমামগণ এই হাদিস দ্বারা সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন।
বিশেষ (خاص) এর প্রকারভেদ:
১ - অনির্ধারিত (مطلق): এটি এমন শব্দ যা কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের ওপর কোনো স্বতন্ত্র শাব্দিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই সাধারণভাবে নির্দেশ করে, অথবা যা দ্বারা কোনো শর্তহীন সত্তা উদ্দেশ্য হয়, অর্থাৎ যা নিজ শ্রেণিভুক্ত সত্তার মধ্যে অনির্ধারিত। সুন্নাহ থেকে এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের উদাহরণ হলো সদকাতুল ফিতর সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «তোমরা আদায় করো … প্রত্যেক স্বাধীন ও দাসের পক্ষ থেকে … » (৩)। এখানে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই অনির্ধারিত (مطلق) স্বাধীন ও দাসের পক্ষ থেকে সদকা আদায়ের কথা বলা হয়েছে; কারণ অনির্ধারিত (مطلق) শব্দের অর্থ কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই হয়ে থাকে এবং অনির্ধারিত (مطلق) শব্দকে তার সাধারণ অর্থেই গ্রহণ করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
2 - مقيَّد: وهو ما دلَّ على فرد، أو أفراد شائعة بقيد مستقل لفظاً يُقَلِّلُ من شيوعه، ومثاله من السُنَّة قوله صلى الله عليه وسلم: «أَدُّوا
… عَنْ كُلِّ حُرٍّ وَعَبْدٍ مُسْلِمَيْنِ» (1) وقوله صلى الله عليه وسلم لأبي ذر: «إِذَا صُمْتَ مِنَ الشَّهْرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ، فَصُمْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ، وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ، وَخَمْسَ عَشْرَةَ» (2)، فقد قيد المطلق في الحديث الأول بقوله (مُسْلِمَيْنِ) وقيده الأيام الثلاثة بأنها ثلاث عشرة وأربع عشرة وخمس عشرة، ومثله التيمم ضربتان: ضربة للوجه، وضربة لليدين إلى المرفقين.
وقد يحمل المطلق على المُقَيَّدِ إذا ورد في نص مطلقاً، وفي آخر مُقيَّداً، فإذا مَرَّ حديث مطلق فينبغي أنْ ننظر إنْ كان قد ورد مُقيَّداً أم لا، فلا يؤخذ الحكم الشرعي منه حتى نحمل المُقيَّدَ عليه، وذلك إذا اتحد في النصين الحكم والسبب، ومثاله قوله صلى الله عليه وسلم: «لَا عَقْرَ فِى الإِسْلَامِ» (3) فهو مطلق، قيَّدَهُ ما رواه أبو داود عن عبد الرزاق أنهم كانوا يعقرون عند القبر بقرة
--------------------------------------------
২ - সীমাবদ্ধ (مقيد): এটি এমন বিষয় যা কোনো একটি একক সত্তা বা সাধারণ একাধিক সত্তার ওপর এমন কোনো স্বতন্ত্র শব্দগত শর্তের দ্বারা নির্দেশ করে যা তার ব্যাপকতাকে কমিয়ে দেয়। সুন্নাহ থেকে এর উদাহরণ হলো আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «তোমরা
… প্রত্যেক মুসলিম স্বাধীন ও দাসের পক্ষ থেকে (সাদাকাতুল ফিতর) আদায় করো» (১) এবং আবু যার-এর প্রতি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «তুমি যখন মাস থেকে তিনটি রোজা রাখবে, তখন তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখে রোজা রাখো» (২)। এখানে প্রথম হাদিসে ‘মুসলিম’ শব্দের মাধ্যমে অনির্ধারিত (مطلق) বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ (مقيد) করা হয়েছে এবং তিন দিনকে তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ (مقيد) করা হয়েছে। অনুরূপ উদাহরণ হলো তায়াম্মুমের দুই আঘাত: এক আঘাত চেহারার জন্য এবং এক আঘাত কনুই পর্যন্ত দুই হাতের জন্য।
অনির্ধারিত (مطلق) বিষয়কে অনেক সময় সীমাবদ্ধের (مقيد) ওপর প্রয়োগ করা হয় যখন একটি নস বা দলিলে তা অনির্ধারিত (مطلق) হিসেবে আসে এবং অন্যটিতে সীমাবদ্ধ (مقيد) হিসেবে। সুতরাং যখন কোনো অনির্ধারিত (مطلق) হাদিস পরিলক্ষিত হয়, তখন আমাদের দেখা উচিত তা অন্য কোথাও সীমাবদ্ধ (مقيد) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে কি না। ততক্ষণ পর্যন্ত তা থেকে শরয়ি বিধান গ্রহণ করা উচিত নয়, যতক্ষণ না আমরা সীমাবদ্ধকে (مقيد) অনির্ধারিতের ওপর প্রয়োগ করছি। আর এটি তখনই হয় যখন উভয় দলিলে বিধান এবং কারণ একই থাকে। এর উদাহরণ হলো আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «ইসলামে (কবরের পাশে পশু) জবেহ করার প্রথা নেই» (৩)। এটি একটি অনির্ধারিত (مطلق) বক্তব্য। একে সীমাবদ্ধ (مقيد) করেছে আবু দাউদ কর্তৃক আব্দুর রাজ্জাকের সূত্রে বর্ণিত সেই হাদিসটি যে, তারা কবরের পাশে গরু জবেহ করত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أو شاة في الجاهلية، وإلَاّ فالذبائح من سنن الإسلام.
وأما إذا لم يتحد الحكم والسبب في النصين فلا يحمل أحد النصين على الآخر باتفاق الفقهاء، بل يعمل بالمطلق على إطلاقه، والمُقيَّد على تقييده، ومثاله ما روي عن عائشة رضي الله عنها قالت: «كَانَ النَبِيُّ يُصَلِّيَ الضُّحَى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ» (1) وهو مطلق في ركعات أربع فَصَّلَ كيفية أدائها ما أخرجه الطبراني في " الكبير " عن ابن عباس قال: «كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَوَى النَّهَارُ خَرَجَ إِلَى بَعْضِ حِيطَانِ الْمَدِينَةِ» (2)، وفيه: «قَامَ فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، وَلَمْ [يَتَشَهَّدْ] بَيْنَهُنَّ وَ [سَلَّمَ] فِي آخِرِ الأَرْبَعِ» وروي عَنْ أُمِّ هَانِئٍ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى يَوْمَ الْفَتْحِ سُبْحَةَ الضُّحَى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ، يُسَلِّمُ مِنْ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ» (3).
وجمهور الفقهاء على أنهم يحملون المطلق على المقيَّد؛ رفعاً للتعارض بين النصوص، ومثاله: ما صحَّ أنه صلى الله عليه وسلم قضى بالشُفعة للجار، وهو مطلق قيَّدَهُ قوله صلى الله عليه وسلم: «اَلْجَارُ أَحَقُّ
--------------------------------------------
অথবা জাহেলি আমলের ছাগল, অন্যথায় জবেহকৃত পশুসমূহ ইসলামের সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।
পক্ষান্তরে যখন দুটি দলিলের (নাস) ক্ষেত্রে বিধান (হুকুম) ও কারণ (সবব) অভিন্ন না হয়, তখন ফকিহগণের ঐকমত্যে একটি দলিলকে অন্যটির ওপর প্রয়োগ করা হবে না; বরং সাধারণ (مطلق) দলিলকে তার সাধারণত্বের ওপর এবং শর্তযুক্ত (مقيد) দলিলকে তার শর্তযুক্ত অবস্থার ওপর আমল করা হবে। এর উদাহরণ হলো যা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাশতের নামাজ চার রাকাত পড়তেন» (১)। এটি চার রাকাতের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ (مطلق) বর্ণনা। এর আদায়ের পদ্ধতি বিস্তারিত বর্ণনা করেছে যা তাবারানি 'আল-কাবীর'-এ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দিন দ্বিপ্রহর হতো তখন মদিনার কোনো কোনো বাগানের দিকে বের হতেন» (২)। এতে আরও আছে: «তিনি দাঁড়িয়ে চার রাকাত নামাজ পড়লেন এবং এগুলোর মাঝে কোনো [তাশাহহুদ পড়েননি] এবং চার রাকাতের শেষে [সালাম ফিরিয়েছেন]»। আবার উম্মে হানি রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন চাশতের নামাজ আট রাকাত পড়েছেন, তিনি প্রতি দুই রাকাতে সালাম ফিরাতেন» (৩)।
অধিকাংশ (জমহুর) ফকিহগণের মত হলো তারা দলিলসমূহের মধ্যকার বৈপরীত্য নিরসনের লক্ষ্যে সাধারণ (مطلق) দলিলকে শর্তযুক্ত (مقيد) দলিলের ওপর প্রয়োগ করেন। এর উদাহরণ: যা সহিহ (صح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবেশীর জন্য অগ্রক্রয়াধিকার (শুফআ)-এর ফয়সালা দিয়েছেন। এটি একটি সাধারণ (مطلق) বিধান যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী শর্তযুক্ত (قيَّدَهُ) করেছে: «প্রতিবেশী অধিক হকদার...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بِشُفْعَةِ جَارِهِ ، يُنْتَظَرُ بِهَا - وَإِنْ كَانَ غَائِبًا - إِذَا كَانَ طَرِيقُهُمَا وَاحِدًا» (1) والحنفية هنا لا يحملون هذا المطلق على المُقيَّدِ: لأنهم لا يحتجون بمفهوم المخالفة، ولهذا تثبت الشفعة للجار الشريك في الطريق، والجار غير الشريك في الطريق.
3 - قد يأتي الخاص على صيغة الأمر: وهي الصيغة المعلومة افعل وما يجري مجراها مقتضى بها الفعل حتماً مع استعلاء، وهي تأتي لمعانٍ مختلفة قد تبلغ ستة عشر معنى، من أههمها: الإيجاب كقوله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِالله وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَسْعَ إِلَى الجُمُعَةِ» (2)، «لَا يَشْرَبُ الْخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ» (3)، وقوله: «اِسْتَنْزِهُوا مِنْ اَلْبَوْلِ، فَإِنَّ عَامَّةَ عَذَابِ اَلْقَبْرِ مِنْهُ» (4).
والندب كقوله صلى الله عليه وسلم: «أَسْبِغِ الْوُضُوءَ وَخَلِّلْ بَيْنَ الأَصَابِعِ» (5)، وقوله: «إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا فِي الصَّلَاةِ، فَإِنَّ
--------------------------------------------
"প্রতিবেশীর অগ্রক্রয়াধিকার (شفعة) বিষয়ে; তার জন্য অপেক্ষা করা হবে—যদিও সে অনুপস্থিত থাকে—যদি তাদের পথ এক হয়।" (১) এবং হানাফীগণ এখানে এই সাধারণ (مطلق) নির্দেশকে সীমাবদ্ধ (مقيد) নির্দেশের ওপর প্রয়োগ করেন না; কারণ তারা বিপরীত অর্থবোধকতা (مفهوم المخالفة)-এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন না। আর এ কারণেই সেই প্রতিবেশীর জন্য অগ্রক্রয়াধিকার (شفعة) সাব্যস্ত হয় যে পথে অংশীদার, আবার সেই প্রতিবেশীর জন্যও যে পথে অংশীদার নয়।
৩ - বিশেষ (خاص) নির্দেশ কখনো আদেশবাচক শব্দ (صيغة الأمر)-এর আকারে আসতে পারে: আর এটি হলো সুপরিচিত 'افعل' (তুমি করো) ছাঁদ এবং এর সমগোত্রীয় শব্দাবলি, যার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের সাথে আবশ্যিকভাবে কোনো কাজ সম্পন্ন করার দাবি করা হয়। এটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয় যা ষোলটি অর্থ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম হলো: আবশ্যকতা (إيجاب), যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন জুমার দিকে ধাবিত হয়" (২), "মদ পানকারী যখন মদ পান করে তখন সে মুমিন অবস্থায় থাকে না" (৩), এবং তাঁর বাণী: "তোমরা প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করো, কেননা কবরের অধিকাংশ আজাব এ কারণেই হয়ে থাকে" (৪)।
এবং পছন্দনীয় (ندب) হিসেবে, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "পরিপূর্ণভাবে ওজু করো এবং আঙুলগুলোর মাঝে খিলাল করো" (৫), এবং তাঁর বাণী: "যখন গরম প্রচণ্ড হয়, তখন তোমরা সালাতকে শীতল করো (দেরি করে আদায় করো), কেননা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ» (1).
والأباحة مثل قوله صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَرْسَلْتَ كَلْبَك فَاذْكُر اسْمَ الْلَّه تَعَالَى، فَإِنْ أَمْسَك عَلَيْك فَأَدْرَكْتَهُ حَيّاً فَاذْبَحْه، وَإِن أَدْرَكْتَه قَد قَُتَل وَلَم يَأْكُل مِنْه فَكُلْه، وَإِنْ وَجَدْتَ مَع كَلْبِك كَلْباً غَيْرَهُ وَقَد قُتِل فَلَا تَأْكُل، فَإِنَّك لَا تَدْرِي أَيَّهُمَا قَتَلَه، وَإِنْ رَمَيْت بِسَهْمِك فَاذْكُر اسْمَ الْلَّه تَعَالَى فَإِن غَابَ عَنْكَ فَلَمْ تَجِدْ فِيهِ إِلَاّ أَثَر سَهْمِكَ فَكُلْ إِِنْ شِئْتَ، وَإِنْ وَجَدْتَهُ غَرِيْقْا فِي الْمَاءِ فَلَا تَأْكُل» متفق عليه واللفظ لمسلم.
ومثل: «وَذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ فَكُلُوا مَا لَمْ يَكُنْ سِنًّا أَوْ ظُفْرًا» (2) أخرجه الجماعة.
ومنها: الإرشاد كقوله صلى الله عليه وسلم: «كُنْت نَهَيْتُكُمْ عَن ادِّخَار لُحُوْم الأَضَاحِي أَلَا فَادَّخِرُوْا» (3).
ومنها الدعاء: «اللهمَّ اغْفِرْ لِي».
--------------------------------------------
"প্রচণ্ড উত্তাপ জাহান্নামের নিশ্বাস থেকে আগত" (১)।
এবং বৈধতা (الإباحة) নির্দেশ করার উদাহরণ, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যখন তুমি তোমার (শিকারি) কুকুর পাঠাবে, তখন আল্লাহর নাম স্মরণ করো। যদি সে তোমার জন্য শিকার ধরে রাখে এবং তুমি তা জীবিত পাও, তবে তা জবেহ করো। আর যদি দেখ যে সে তা মেরে ফেলেছে কিন্তু তা থেকে কিছুই খায়নি, তবে তা খাও। কিন্তু যদি তোমার কুকুরের সাথে অন্য কোনো কুকুর পাও এবং শিকারটি মৃত পাও, তবে তা খেও না; কারণ তুমি জানো না তাদের মধ্যে কোনটি তা শিকার করেছে। আর যদি তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করো, তবে আল্লাহর নাম স্মরণ করো। এরপর যদি শিকারটি তোমার দৃষ্টির আড়ালে চলে যায় এবং পরে তুমি তাতে কেবল তোমার তীরের চিহ্নই পাও, তবে চাইলে তা খাও। কিন্তু যদি তা পানির মধ্যে ডুবন্ত অবস্থায় পাও, তবে তা খেও না।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) এবং এর শব্দশৈলী মুসলিম-এর।
অনুরূপভাবে: "যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে তা খাও, যতক্ষণ না তা দাঁত বা নখ হয়" (২)। এটি জামাআহ (الجماعة) বর্ণনা করেছেন।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: দিকনির্দেশনা (الإرشاد) প্রদান, যেমন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "আমি তোমাদের কোরবানির গোশত জমা করে রাখতে নিষেধ করেছিলাম; শোনো, এখন তোমরা তা জমা করে রাখতে পারো" (৩)।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো দোয়া: "হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وطريقة الاستدلال بالأمر تختلف بحسب القرائن، فالنصوص الآمرة قد تدل على الوجوب أو الإباحة، أو الندب، أو الإرشاد، أو الدعاء، ومن هنا نجد جانباً من اختلاف العلماء في ذلك. وَأَنَّ الأصل في الأمر الوجوب ولكن قد تصرفه القرائن إلى سواه.
4 - وقد يأتي الخاص على صيغة النهي، والنهي: هو طلب الكف عن الفعل على جهة الاستعلاء.
فهل هذه الصيغة للتحريم أو للكراهة؟ إنها تفيد التحريم أو الكراهة، وإنَّ الأصل في النهي هنا التحريم، لكن قد يصرفه عن التحريم صارف إلى الكراهة.
فمن أمثلة نهي التحريم قوله صلى الله عليه وسلم «لَا تُجْمَعُ الْمَرْأَةُ عَلَى عَمَّتِهَا أَوْ خَالَتِهَا» (1). فقد أفاد النهي عن التحريم، ومثله قوله صلى الله عليه وسلم: «لَا تَبِيعُوا الدِّينَارَ بِالدِّينَارَيْنِ، وَلَا الدِّرْهَمَ بِالدِّرْهَمَيْنِ، وَلَا الصَّاعَ بِالصَّاعَيْنِ» (2)، وقوله: «لَا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ
--------------------------------------------
নির্দেশের (الأمر) মাধ্যমে দলীল পেশ করার পদ্ধতি পারিপার্শ্বিক অবস্থার (القرائن) ভিত্তিতে ভিন্ন হয়ে থাকে। কেননা আদেশসূচক শব্দসমূহ কখনো আবশ্যকতা (الوجوب), কখনো বৈধতা (الإباحة), কখনো সুপারিশযোগ্য (الندب), কখনো দিকনির্দেশনা (الإرشاد) অথবা প্রার্থনার (الدعاء) অর্থ প্রদান করতে পারে। আর এখান থেকেই এ বিষয়ে আলেমদের মতপার্থক্যের একটি দিক আমরা খুঁজে পাই। নির্দেশের (الأمر) ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো আবশ্যকতা (الوجوب), তবে পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি (القرائن) একে অন্য অর্থেও পরিবর্তন করতে পারে।
৪ - কখনো ‘খাস’ বা নির্দিষ্ট (الخاص) বিধানটি নিষেধের (النهي) আকারে আসতে পারে। আর নিষেধ (النهي) হলো: উচ্চতর অবস্থান (الاستعلاء) থেকে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার দাবি জানানো।
এখন প্রশ্ন হলো, এই শব্দটি কি হারামের (التحريم) জন্য নাকি মাকরূহের (الكراهة) জন্য? এটি হারাম (التحريم) বা মাকরূহ (الكراهة) হওয়ার অর্থ প্রদান করে। নিষেধের (النهي) ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো হারাম (التحريم) হওয়া, তবে কোনো দলিল একে হারাম (التحريم) থেকে মাকরূহের (الكراهة) দিকে ফিরিয়ে নিতে পারে।
হারাম (التحريم) হওয়ার জন্য যে নিষেধ এসেছে তার উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "কোনো নারীকে তার ফুফু বা খালার সাথে (একই সাথে বিবাহে) একত্রিত করা যাবে না" (১)। এখানে নিষেধটি হারাম (التحريم) হওয়ার অর্থ প্রকাশ করেছে। অনুরূপভাবে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা এক দিনারের বিনিময়ে দুই দিনার, এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম এবং এক সা'-এর বিনিময়ে দুই সা' বিক্রি করো না" (২)। এবং তাঁর বাণী: "তোমাদের কেউ যেন অপর ভাইয়ের কেনাবেচার উপর কেনাবেচা না করে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুরুকুল ইস্তিদলাল বিস সুন্নাতি ওয়াল ইস্তিনবাতি মিনহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بَعْضٍ» (1).
ومن أمثلة الكراهة ما روته السيدة عائشة رضي الله عنها: «أَنَّهُ كَانَ يَنْهَى أَنْ يَفْتَرِشَ الرَجُلُ ذِرَاعَيْهِ افْتِرَاشَ السَّبُعِ» (2) أي في الصلاة، وقوله صلى الله عليه وسلم: «لَا تَأْكُلُوا بِالشِّمَالِ، فَإِنَّ اَلشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِالشِّمَالِ» (3) ذهب الجمهور إلى أنه مكروه لا غير.
ومثله قوله صلى الله عليه وسلم: «إِذَا شَرِبَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَتَنَفَّسْ فِي الإِنَاءِ [ثَلَاثاً] (4)» متفق عليه.
ومقتضى النهي شرعاً قبح النهي عنه، كما أنَّ مقتضى الأمر حسن المأمور به، لأنَّ الحكيم العليم - جَلَّ شَأْنُهُ - لا ينهى عباده عن فعل إِلَاّ لِقُبْحِهِ، ولا يأمرهم بشيء إِلَاّ لِحُسْنِهِ، قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ} (5).
--------------------------------------------
কিছু" (১)।
অপছন্দনীয় (مكروه) হওয়ার উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে যা সায়্যিদাহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজে কোনো ব্যক্তি তার দুই বাহুকে হিংস্র প্রাণীর মতো বিছিয়ে দিতে নিষেধ করেছেন" (২)। অর্থাৎ সালাতের মধ্যে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "তোমরা বাম হাতে আহার করো না, কারণ শয়তান বাম হাতে আহার করে" (৩)। জমহুর বা অধিকাংশ আলেম (الجمهور) এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, এটি কেবল অপছন্দনীয় (مكروه) হিসেবে গণ্য, অন্য কিছু নয়।
অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "তোমাদের কেউ যখন পান করে, সে যেন পাত্রের মধ্যে [তিনবার] নিঃশ্বাস না ছাড়ে" (৪)। এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।
শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো কাজের নিষেধের দাবি হলো সেই নিষিদ্ধ বিষয়টি মন্দ হওয়া, যেমনটি কোনো আদেশের দাবি হলো আদিষ্ট বিষয়টি উত্তম হওয়া। কেননা প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ—তাঁর শান সমুন্নত হোক—তাঁর বান্দাদের কোনো কাজ থেকে নিষেধ করেন না তা মন্দ হওয়ার কারণ ছাড়া, আর কোনো বিষয়ের আদেশ করেন না তা উত্তম হওয়ার কারণ ছাড়া। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, মন্দ কাজ (المنكر) ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন} (৫)।
--------------------------------------------