(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: -)
الحق المبين في معرفة الملائكة المقربين   (محمد علي محمد إمام)

القسم: العقيدة


الكتاب: الحق المبين في معرفة الملائكة المقربين

المؤلف: محمد علي محمد إمام

الناشر: مطبعة السلام، ميت غمر - مصر

الطبعة: الأولي، 2007 م

عدد الصفحات: 133

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1433

নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণের পরিচিতিতে সুস্পষ্ট সত্য   (মুহাম্মদ আলী মুহাম্মদ ইমাম)

বিভাগ: আকিদা


গ্রন্থ: নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণের পরিচিতিতে সুস্পষ্ট সত্য

লেখক: মুহাম্মদ আলী মুহাম্মদ ইমাম

প্রকাশক: আস-সালাম প্রেস، মিত গামর - মিশর

সংস্করণ: প্রথম، ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৩

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৭ মহররম ১৪৩৩ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ১)
الحق المبين

 

فى

 

معرفة الملائكة المقربين

 

إعداد

 

محمد على محمد إمام
সুস্পষ্ট সত্য

 

প্রসঙ্গে

 

নৈকট্যশীল ফেরেশতাগণের পরিচিতি

 

সংকলনে

 

মুহাম্মদ আলী মুহাম্মদ ইমাম
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ২)
دار الكتب والوثائق القومية

بطاقة فهرسة

فهرسة أثناء النشر إعداد الهيئة العامة لدار الكتب المصرية إدارة الشئون الفنية

إمام / محمد علي محمد

الحق المبين في معرفة الملائكة المقربين

إعداد /

محمد علي محمد إمام - ميت غمر

الطبعة الأولي 2007م

عدد الصفحات (134)

المقاس (14 سم × 20 سم)

العقيدة.

العنوان … 143

رقم الإيداع

25036

تاريخ الإيداع

26/ 11/2007
জাতীয় গ্রন্থাগার ও জাতীয় আরকাইভস

ক্যাটালগ কার্ড

প্রকাশনা-পূর্ব ক্যাটালগকরণ, মিশরের জাতীয় গ্রন্থাগার জেনারেল অথরিটি, কারিগরি বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত

ইমাম / মুহাম্মাদ আলী মুহাম্মাদ

নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের পরিচিতিতে সুস্পষ্ট সত্য

উপস্থাপনায় /

মুহাম্মাদ আলী মুহাম্মাদ ইমাম - মিত গামর

প্রথম প্রকাশ ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা (১৩৪)

আকার (১৪ সেমি × ২০ সেমি)

আকীদা।

শিরোনাম … ১৪৩

জমাদান নম্বর

২৫০৩৬

জমাদানের তারিখ

২৬/ ১১/২০০৭
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[مقدمة]

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله حق حمده والصلاة والسلام علي من لا نبي بعده … أما بعد:

إخواني وأحبابي في الله عز وجل، لما كان الإيمان بالله عز وجل هو سبب سعادة البشرية كلها في الدنيا والآخرة، فوجب علي كل مكلف أن يتعرف علي خالقه، حتى يترسخ في قلبه معرفة الله عز وجل، ويزداد في قلبه الإيمان واليقين.

ولما كان الإيمان بالملائكة هو الركن الثاني من أركان الإيمان ولا يتم الإيمان إلا به، كما سيأتي في الحديث … فلذا أقدم لكم هذه الرسالة القيمة في أخبار الملائكة وقد سميتها الحق المبين في معرفة الملائكة المقربين .. والله عز وجل أسأل أن ينفع بها كل من قرأها، إنه جواد كريم.

أخوكم في الله

أبو علي

محمد بن علي بن محمد بن إمام
[ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যেমনটি তাঁর প্রশংসার দাবি এবং সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই … অতঃপর:

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমার প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ, যেহেতু মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানই হলো ইহকাল ও পরকালে সমগ্র মানবজাতির সৌভাগ্যের মূল চাবিকাঠি, তাই প্রত্যেক মুকাল্লাফের (শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) ওপর আবশ্যিক হলো তার স্রষ্টাকে চিনে নেওয়া, যাতে তার অন্তরে মহান আল্লাহর পরিচয় সুদৃঢ় হয় এবং তার অন্তরে ঈমান ও ইয়াকীন বৃদ্ধি পায়।

আর যেহেতু ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনা ঈমানের রুকনসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় রুকন এবং এটি ছাড়া ঈমান পূর্ণ হয় না, যেমনটি হাদীসে সামনে আসবে … তাই আমি আপনাদের নিকট ফেরেশতাদের সংবাদ সম্বলিত এই মূল্যবান পুস্তিকা পেশ করছি এবং আমি এর নামকরণ করেছি 'আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা'রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন' (নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের পরিচয়ে সুস্পষ্ট সত্য)। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর দ্বারা প্রত্যেক পাঠককে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দানশীল ও দয়ালু।

আল্লাহর পথে আপনাদের ভাই

আবু আলী

মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন ইমাম
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌الإيمان

بعالم الملائكة الأبرار

قال تعالى: {آمَنَ الرّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِن رّبّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلّ آمَنَ بِاللهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مّن رّسُلِهِ وَقَالُواْ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ} (1).

وفي الحديث عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: " بينما نحن جلوس عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب، شديد سواد الشعر، لا يري عليه أثر السفر ، ولا يعرفه منا أحد حتى جلس إلي النبي صلى الله عليه وسلم فأسند ركبتيه إلي ركبتيه ، ووضع كفيه علي فخذيه ، وقال: يا محمد أخبرني عن الإسلام؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، وتقيم الصلاة ،وتؤتي الزكاة ، وتصوم رمضان ، وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلا " قال: صدقت ، فعجبنا له يسأله ويصدقه، قال: فأخبرني عن الإيمان؟ قال: " أن تؤمن بالله ، وملائكته ، وكتبه ، ورسله ، واليوم الأخر ، وتؤمن بالقدر خيره وشره" قال: صدقت ......... الخ الحديث " رواه مسلم (2).

--------------------------------------------

(1) سورة: البقرة - الآية: 285.

(2) مشكاة المصابيح ـ كتاب الإيمان ـ 1/ 9 ـ ورياض الصالحين ـ باب المراقبة.
পুণ্যবান ফেরেশতাগণের জগতের ওপর ঈমান

মহান আল্লাহ বলেন: {রাসূল তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাঁর নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। তারা সকলে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাগণের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান এনেছে। (তারা বলে:) আমরা তাঁর রাসূলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আর তারা বলেছে: আমরা শুনেছি এবং আনুগত্য করেছি। হে আমাদের রব! আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।} (১)।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: "একদিন আমরা যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটে বসা ছিলাম, এমন সময় আমাদের সামনে এক ব্যক্তি আবির্ভূত হলেন যার পোশাক ছিল ধবধবে সাদা এবং চুল ছিল কুচকুচে কালো। তাঁর ওপর সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্যে কেউ তাঁকে চিনত না। শেষ পর্যন্ত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বসলেন এবং নিজের দুই হাঁটু তাঁর দুই হাঁটুর সাথে ঠেকিয়ে দিলেন এবং নিজের দুই হাতের তালু নিজের দুই উরুর ওপর রাখলেন। এরপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহর হজ করা। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। আমরা তাঁর বিষয়ে আশ্চর্যান্বিত হলাম যে, তিনি প্রশ্নও করছেন আবার তাঁর সত্যায়নও করছেন। তিনি বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: ঈমান হলো এই যে, আপনি বিশ্বাস করবেন আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাগণের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর, তাঁর রাসূলগণের ওপর, পরকালের ওপর এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন... (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।" মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২)।

--------------------------------------------

(১) সূরা: আল-বাকারাহ - আয়াত: ২৮৫।

(২) মিশকাতুল মাসাবিহ - কিতাবুল ঈমান - ১/৯ - এবং রিয়াদুস সালিহীন - বাবুল মুরাকাবা।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ৫)
فالإيمان بالملائكة ركن من أركان الإيمان بالغيب ، ومن صفات المتقين الذين وصفهم الله عز وجل في كتابه، {الَمَ* ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لّلْمُتّقِينَ*الّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصّلاةَ وَممّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ} (1)

وقال الإمام البيهقي في شعب الإيمان: والإيمان بالملائكة ينظم في معان:

- أحدها: التصديق بوجودهم.

- الثاني: إنزالهم منازلهم ، وإثبات أنهم عباد الله وخلقه كالإنسان والجان مأمورون مكلفون ، لا يقدرون إلا علي ما قدرهم الله عليه، والموت عليهم جائز، ولكن الله تعالي جعل لهم أمداً بعيدًا ، فلا يتوفاهم حتى يبلغوه ، ولا يوصفون بشيء يؤدي وصفهم به إلي إشراكهم بالله تعالي جده ، ولا يدعون آلهة كما دعتهم الأوائل.

- الثالث: الاعتراف بأن منهم رسل الله قال تعالي: {اللهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلَائِكَةِ رُسُلاً وَمِنَ النّاسِ إِنّ اللهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ} (2)

 

**‌‌ مم خلقوا؟

خُلقت الملائكة من نور ، ففي الحديث عن عائشة رضي الله عنها، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " خُلقت الملائكة من نور ، وخُلق الجان من مارج من نار ،وخُلق آدم مما وصف لكم ".رواه مسلم. (3)

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة: الآيات من 1: 3.

(2) سورة: الحج - الآية: 75.

(3) مشكاة المصابيح - كتاب أحوال القيامة وبدء الخلق 3/ 589.
সুতরাং ফেরেশতাদের ওপর ঈমান আনা অদৃশ্যের ওপর ঈমান আনার অন্যতম একটি রুকন এবং এটি মুত্তাকীদের গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত যাদের বর্ণনা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর কিতাবে দিয়েছেন: "আলিফ-লাম-মীম। এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত। যারা অদৃশ্যের ওপর ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।" (১)

এবং ইমাম বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ বলেছেন: ফেরেশতাদের ওপর ঈমান আনা কয়েকটি বিষয়ের ওপর বিন্যস্ত:

- প্রথমত: তাঁদের অস্তিত্বকে সত্য বলে বিশ্বাস করা।

- দ্বিতীয়ত: তাঁদেরকে তাঁদের যথাযথ মর্যাদায় রাখা এবং এটি সাব্যস্ত করা যে তাঁরা আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর সৃষ্টি, যেমন মানুষ ও জিন; তাঁরা আদেশপ্রাপ্ত ও দায়িত্বশীল, আল্লাহ তাঁদের যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন তার বাইরে তাঁরা কোনো কিছু করতে সক্ষম নন। তাঁদের মৃত্যু হওয়া সম্ভব, তবে আল্লাহ তাআলা তাঁদের জন্য দীর্ঘ আয়ু নির্ধারণ করেছেন, ফলে সেই সময় না আসা পর্যন্ত তিনি তাঁদের মৃত্যু দেন না। তাঁদের এমন কোনো গুণে গুণান্বিত করা যাবে না যার ফলে তাঁদের মহান আল্লাহর সাথে শরিক করা সাব্যস্ত হয়, এবং তাঁদের ইলাহ বা উপাস্য হিসেবে ডাকা যাবে না যেমনটি পূর্ববর্তী যুগের লোকেরা ডেকেছে।

- তৃতীয়ত: এটি স্বীকার করা যে তাঁদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল বা সংবাদবাহক রয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।" (২)

 

**‌‌ তাঁরা কী থেকে সৃষ্টি?

ফেরেশতাদের নূর বা আলো থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "ফেরেশতাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নূর থেকে, জিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে আগুনের শিখা থেকে এবং আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বস্তু থেকে যার বর্ণনা তোমাদের নিকট দেওয়া হয়েছে।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। (৩)

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা: আয়াত ১ থেকে ৩।

(২) সূরা: আল-হাজ্জ - আয়াত: ৭৫।

(৩) মিশকাতুল মাসাবীহ - কিয়ামতের অবস্থা ও সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ৩/ ৫৮৯।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ৬)
**‌‌ متى خلقوا؟

خلقت الملائكة قبل أدم عليه السلام والدليل علي ذلك أن الله عز وجل ، أمرهم بالسجود لآدم عليه السلام فسجادوا قال تعالي: {وَإِذْ قَالَ رَبّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنّي جَاعِلٌ فِي الأرْضِ خَلِيفَةً قَالُواْ أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدّمَآءَ وَنَحْنُ نُسَبّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدّسُ لَكَ قَالَ إِنّيَ أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُون} (1)

وقال تعالي: {وَإِذْ قَالَ رَبّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنّي خَالِقٌ بَشَراً مّن صَلْصَالٍ مّنْ حَمَإٍ مّسْنُونٍ * فَإِذَا سَوّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رّوحِي فَقَعُواْ لَهُ سَاجِدِينَ} (2)

ولكن بكم؟ .... لا يعلمه إلا الله عز وجل، فعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: أخرج الله أدم من الجنة قبل أن يدخلها أحد، قال تعالي: {إِنّي جَاعِلٌ فِي الأرْضِ خَلِيفَةً قَالُواْ أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدّمَآءَ وَنَحْنُ نُسَبّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدّسُ لَكَ قَالَ إِنّيَ أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُون} وقد كان فيها قبل أن يخلق بألفي عام الجن بنو الجان فأفسدوا في الأرض وسفكوا الدماء ، فلما قال الله

{إِنّي جَاعِلٌ فِي الأرْضِ خَلِيفَةً قَالُواْ أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدّمَآءَ} يعنون الجن بنى الجان، فلما أفسدوا في الأرض بعث عليهم جنودًا من الملائكة فضربوهم حتى ألحقوهم بجزائر

--------------------------------------------

(1) سورة: البقرة ـ الآية: 30.

(2) سورة الحجر: الآيتان 28، 29.
তারা কখন সৃষ্টি হয়েছেন?

ফেরেশতাদেরকে আদম আলাইহিস সালাম-এর পূর্বে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর দলিল হলো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল তাদেরকে আদম আলাইহিস সালাম-কে সিজদা করার আদেশ দিয়েছিলেন, ফলে তারা সিজদা করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেশতাদের বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা (প্রতিনিধি) নিয়োগ করতে যাচ্ছি’, তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ঘটাবে এবং রক্তপাত করবে? অথচ আমরা আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার মহিমা কীর্তন করছি।’ তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।’} (১)

এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেশতাদের বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি পচা কাদা থেকে তৈরি শুষ্ক মাটি দিয়ে একজন মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি। অতঃপর যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার পক্ষ থেকে রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ে যেয়ো।’} (২)

কিন্তু কত সময় আগে? .... তা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল ছাড়া কেউ জানেন না। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ আদমকে জান্নাত থেকে বের করেছিলেন সেখানে অন্য কেউ প্রবেশের আগে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা নিয়োগ করতে যাচ্ছি, তারা বলল, আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ঘটাবে এবং রক্তপাত করবে? অথচ আমরা আপনার প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করছি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।} আর আদমকে সৃষ্টি করার দুই হাজার বছর আগে পৃথিবীতে জিনদের বংশধররা ছিল। তারা জমিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল এবং রক্তপাত ঘটিয়েছিল। অতঃপর যখন আল্লাহ বললেন:

{নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা নিয়োগ করতে যাচ্ছি, তারা বলল, আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ঘটাবে এবং রক্তপাত করবে?}—এর দ্বারা তারা জিনদের বংশধরদের উদ্দেশ্য করেছিল। যখন তারা জমিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল, তখন আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে ফেরেশতাদের একটি বাহিনী পাঠিয়েছিলেন এবং তারা তাদের প্রহার করে দ্বীপসমূহে তাড়িয়ে দিয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) সূরা: আল-বাকারাহ — আয়াত: ৩০।

(২) সূরা আল-হিজর: আয়াত ২৮, ২৯।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ৭)
البحور، قال: فقالت الملائكة: أتجعل فيها من يفسد فيها كما فعل أولئك الجن بنو الجان، قال: فقال الله {إِنّيَ أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُون} رواه الحاكم (1).

وهم أول من خلق الله عز وجل ....... وجعل الله عز وجل لهم أعمار طويلة جداً، وآخر من يموت من خلق الله عز وجل جبريل ثم ميكائيل ثم إسرافيل ثم ملك الموت.

 

- - - -

--------------------------------------------

(1) رواه الحاكم في مستدركه (كتاب التفسير 2/ 261).
সমুদ্রসমূহ। তিনি বলেন: তখন ফেরেশতারা বলল: আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যারা সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে, যেমনটি সেই জিন ও জানের বংশধরেরা করেছিল? তিনি বলেন: তখন আল্লাহ বললেন {নিশ্চয়ই আমি যা জানি তোমরা তা জানো না} এটি হাকেম বর্ণনা করেছেন (১)।

আর তাঁরাই হলেন মহান আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি ....... এবং মহান আল্লাহ তাঁদের জন্য অত্যন্ত দীর্ঘ আয়ু নির্ধারণ করেছেন। আর আল্লাহর সৃষ্টিজীবের মধ্যে সর্বশেষ যারা মৃত্যুবরণ করবেন তাঁরা হলেন জিবরাঈল, অতঃপর মিকাইল, অতঃপর ইসরাফিল এবং সবশেষে মালাকুল মাউত (মৃত্যুর ফেরেশতা)।

 

- - - -

--------------------------------------------

(১) হাকেম তাঁর মুসতাদরাক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (তাফসীর অধ্যায় ২/২৬১)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌صفات الملائكة

** أولا:‌‌ الصفات الخُلقية:

الملائكة أجسام نورانية – قد طهرهم الله عز وجل من الشهوات الحيوانية .. ولا يتصفون بأوصاف البشر من الذكورة والأنوثة .. ولا يتناكحون، ولا يتناسلون، ولا ينامون .. فقد أبطل الله عز وجل زعم الكفار أن الملائكة بنات الله، قال تعالي {وَجَعَلُواْ الْمَلَائِكَةَ الّذِينَ هُمْ عِبَادُ الرّحْمََنِ إِنَاثاً أَشَهِدُواْ خَلْقَهُمْ سَتُكْتَبُ شَهَادَتُهُمْ وَيُسْأَلُونَ وَقَالُواْ لَوْ شَآءَ الرّحْمََنُ مَا عَبَدْنَاهُمْ مّا لَهُم بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلاّ يَخْرُصُونَ} (1)

وقال تعالى: {أَلَكُمُ الذّكَرُ وَلَهُ الأُنْثَىَ تِلْكَ إِذاً قِسْمَةٌ ضِيزَى}. (2)

وقال تعالى: {فَاسْتَفْتِهِمْ أَهُمْ أَشَدّ خَلْقاً أَم مّنْ خَلَقْنَآ إِنّا خَلَقْنَاهُم مّن طِينٍ لاّزِبٍ} (3)

وقال تعالى: {فَاسْتَفْتِهِمْ أَلِرَبّكَ الْبَنَاتُ وَلَهُمُ الْبَنُونَ * أَمْ خَلَقْنَا الْمَلَائِكَةَ إِنَاثاً وَهُمْ شَاهِدُونَ * أَلَا إِنّهُم مّنْ إِفْكِهِمْ لَيَقُولُون * وَلَدَ اللهُ وَإِنّهُمْ لَكَاذِبُونَ} (4)

 

**‌‌ لا يأكلون ولا يشربون:

--------------------------------------------

(1) سورة الزخرف ـ الآيتان 19، 20.

(2) سورة النجم ـ الآيتان 21، 22.

(3) سورة الصافات ـ الآية 11.

(4) سورة الصافات ـ الآيات من 149: 152.
ফিরিশতাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ

** প্রথমত: সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ:

ফিরিশতারা নূরের তৈরি শরীরবিশিষ্ট—আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁদেরকে পাশবিক কামনা-বাসনা থেকে পবিত্র করেছেন... তাঁরা পুরুষত্ব বা নারীত্বের মতো মানুষের কোনো বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত নন... তাঁরা বিবাহ করেন না, বংশবৃদ্ধি করেন না এবং নিদ্রা যান না... আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা কাফিরদের এই দাবিকে অসার করে দিয়েছেন যে ফিরিশতারা আল্লাহর কন্যা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর তারা দয়াময় আল্লাহর বান্দা ফিরিশতাদের নারী সাব্যস্ত করেছে। তাদের সৃষ্টির সময় কি তারা উপস্থিত ছিল? তাদের এই সাক্ষ্য লিখে রাখা হবে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারা বলে, 'দয়াময় আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমরা তাদের ইবাদত করতাম না।' এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই; তারা কেবল মিথ্যাই বলছে।} (১)

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের জন্য কি পুত্রসন্তান আর আল্লাহর জন্য কন্যাসন্তান? তবে তো এটি একটি অন্যায় বণ্টন।} (২)

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {কাজেই আপনি তাদের জিজ্ঞেস করুন, সৃষ্টি হিসেবে তারাই কি বেশি শক্তিশালী নাকি আমি অন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছি? আমিই তাদের সৃষ্টি করেছি আঠালো কাদা থেকে।} (৩)

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {সুতরাং আপনি তাদের জিজ্ঞেস করুন, আপনার রবের জন্য কি কন্যাসন্তানসমূহ এবং তাদের জন্য পুত্রসন্তানসমূহ? নাকি আমি ফিরিশতাদের নারী হিসেবে সৃষ্টি করেছি আর তারা তা প্রত্যক্ষ করছিল? জেনে রেখো, তারা তাদের মিথ্যাচারের বশবর্তী হয়েই বলে যে, আল্লাহ সন্তান জন্ম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই তারা চরম মিথ্যাবাদী।} (৪)

 

** তাঁরা আহার করেন না এবং পান করেন না:

--------------------------------------------

(১) সূরা আয-যুখরুফ — আয়াত ১৯, ২০।

(২) সূরা আন-নাজম — আয়াত ২১, ২২।

(৩) সূরা আস-সাফফাত — আয়াত ১১।

(৪) সূরা আস-সাফফাত — আয়াত ১৪৯ হতে ১৫২।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ৯)
فعن جابر رضي الله عنهم أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " لما خلق الله آدم وذريته قالت الملائكة يا رب! خلقتهم يأكلون ويشربون وينكحون ويركبون، فاجعل لهم الدنيا ولنا الآخرة قال الله تعالي: لا أجعل من خلقته بيدي ونفخت فيه من روحي كمن قلت له كن فكان " رواه البيهقي في شعب الإيمان. (1)

 

وفي قصة إبراهيم عليه السلام عندما جاءته الملائكة في صورة بشر وهو لا يعرفهم فقدم لهم الطعام، قال تعالى: {هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ ضَيْفِ إِبْرَاهِيمَ الْمُكْرَمِينَ * إِذْ دَخَلُواْ عَلَيْهِ فَقَالُواْ سَلَاماً قَالَ سَلَامٌ قَوْمٌ مّنكَرُونَ * فَرَاغَ إِلَىَ أَهْلِهِ فَجَآءَ بِعِجْلٍ سَمِينٍ * فَقَرّبَهُ إِلَيْهِمْ قَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ * فَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً قَالُواْ لَا تَخَفْ وَبَشّرُوهُ بِغُلَامٍ عَلَيمٍ} (2)

 

وقال تعالى: {وَلَقَدْ جَآءَتْ رُسُلُنَآ إِبْرَاهِيمَ بِالْبُشْرَىَ قَالُواْ سَلَاماً قَالَ سَلَامٌ فَمَا لَبِثَ أَن جَآءَ بِعِجْلٍ حَنِيذٍ * فَلَمّا رَأَى أَيْدِيَهُمْ لَا تَصِلُ إِلَيْهِ نَكِرَهُمْ وَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً قَالُواْ لَا تَخَفْ إِنّا أُرْسِلْنَا إِلَىَ قَوْمِ لُوطٍ} (3)

--------------------------------------------

(1) مشكاة المصابيح ـ كتاب أحوال القيامة وبدء الخلق 3/ 1597.

(2) سورة الذاريات ـ الآيات من 24: 28.

(3) سورة هود ـ الآيتان 69، 70.
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যখন আল্লাহ আদম ও তাঁর বংশধরদের সৃষ্টি করলেন, তখন ফেরেশতারা বললেন, 'হে রব! আপনি তাদের সৃষ্টি করেছেন এমনভাবে যে তারা আহার করে, পান করে, বিবাহ করে এবং আরোহণ করে; সুতরাং আপনি তাদের জন্য দুনিয়া নির্ধারণ করুন আর আমাদের জন্য আখিরাত।' আল্লাহ তাআলা বললেন: 'যাকে আমি আমার হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি এবং যার মধ্যে আমার রূহ থেকে ফুঁক দিয়েছি, তাকে আমি তার মতো করব না যাকে আমি বলেছি 'হও', ফলে সে হয়ে গেছে'।" বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ এটি বর্ণনা করেছেন। (১)

 

আর ইব্রাহিম (আ.)-এর কাহিনীতে যখন তাঁর কাছে মানুষের বেশে ফেরেশতারা আসলেন এবং তিনি তাদের চিনতে পারলেন না, তখন তিনি তাদের সামনে খাবার পেশ করলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনার কাছে কি ইব্রাহিমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? যখন তারা তাঁর নিকট প্রবেশ করল এবং বলল, ‘সালাম’। তিনিও বললেন, ‘সালাম, এরা তো অপরিচিত লোক’। এরপর তিনি দ্রুত তাঁর পরিবারের কাছে গেলেন এবং একটি হৃষ্টপুষ্ট বাছুর (ভাজা) নিয়ে আসলেন। অতঃপর তিনি তা তাদের সামনে পেশ করলেন এবং বললেন, ‘আপনারা কি খাবেন না?’ এতে তিনি মনে মনে তাদের সম্পর্কে ভীত হলেন। তারা বলল, ‘ভয় পাবেন না’ এবং তারা তাঁকে এক জ্ঞানী পুত্রসন্তানের সুসংবাদ দিল।} (২)

 

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {অবশ্যই আমার প্রেরিত ফেরেশতারা সুসংবাদ নিয়ে ইব্রাহিমের কাছে এসেছিল। তারা বলল, ‘সালাম’। তিনিও বললেন, ‘সালাম’। এরপর তিনি কালবিলম্ব না করে একটি ভুনা করা বাছুর নিয়ে আসলেন। অতঃপর যখন তিনি দেখলেন যে তাদের হাত সেদিকে প্রসারিত হচ্ছে না, তখন তিনি তাদের অপছন্দ করলেন এবং মনে মনে তাদের সম্পর্কে ভীত হলেন। তারা বলল, ‘ভয় পাবেন না, আমরা তো লুতের কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছি’} (৩)

--------------------------------------------

(১) মিশকাতুল মাসাবিহ — কিয়ামতের অবস্থা ও সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ৩/ ১৫৯৭।

(২) সূরা আয-যারিয়াত — আয়াত ২৪ থেকে ২৮।

(৩) সূরা হুদ — আয়াত ৬৯, ৭০।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ১০)
وقد ذكر ابن كثير عن السُدى قال: لما بعث الله الملائكة لقوم لوط أقبلت تمشي في صورة شبان حتى نزلوا علي إبراهيم فتضيفوا، فلما رآهم أجلهم {فَرَاغَ إِلَىَ أَهْلِهِ فَجَآءَ بِعِجْلٍ سَمِينٍ} (1) فذبحه فشواه في الرضف وأتاهم به فقعد معهم، وقامت سارة تخدمهم، فذلك حين يقول " وامرأته قائمة " وهو جالس، فلما قربه إليهم قال: " ألا تأكلون "؟ قالوا: أنا لا نأكل طعاما إلا بثمن، قال فإن لهذا ثمنًا، قالوا: وما ثمنه؟ قال: تذكرون اسم الله علي أوله وتحمدونه علي آخره، فنظر جبريل إلى ميكائيل فقال: حق لهذا أن يتخذه ربه خليلا {فَلَمّا رَأَى أَيْدِيَهُمْ لَا تَصِلُ إِلَيْهِ نَكِرَهُمْ وَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً قَالُواْ لَا تَخَفْ إِنّا أُرْسِلْنَا إِلَىَ قَوْمِ لُوطٍ} (2) يقول: فلما رآهم لا يأكلون فزع وأوجس منهم خيفة، وقالت سارة

عجبًا لأضيافنا نخدمهم بأنفسنا كرامة لهم وهم لا يأكلون طعامنا؟! {قالوا لا تخف} أي قالوا لا تخف منا إنا ملائكة أرسلنا إلى

قوم لوط لنهلكهم، فضحكت سارة استبشارًا بهلاكهم لكثرة فسادهم وغلظ كفرهم وعنادهم. (3)

 

**‌‌ طعام الملائكة:

طعامهم التسبيح والتهليل والتقديس فعن عبد الله بن عمر رضي الله عنه

--------------------------------------------

(1) سورة الذاريات ـ الآية 26.

(2) سورة هود ـ الآية 70.

(3) مختصر تفسير ابن كثير 2/ 225.
ইবনে কাসীর আস-সুদ্দী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: যখন আল্লাহ ফেরেশতাদের লুতের কওমের কাছে পাঠালেন, তারা যুবকদের বেশে হাঁটতে হাঁটতে ইব্রাহিমের নিকট আসলেন এবং মেহমান হলেন। যখন তিনি তাদের দেখলেন, তখন তাদের সম্মান করলেন {অতঃপর তিনি দ্রুত তার পরিবারের কাছে গেলেন এবং একটি হৃষ্টপুষ্ট বাছুর নিয়ে আসলেন} (১) তিনি সেটি জবাই করে উত্তপ্ত পাথরে ঝলসে তাদের সামনে নিয়ে আসলেন এবং তাদের সাথে বসলেন। সারা দাঁড়িয়ে তাদের সেবা করছিলেন, এটি সেই সময়ের কথা যখন বলা হয়েছে "এবং তার স্ত্রী দাঁড়িয়ে ছিল" আর তিনি বসা ছিলেন। যখন তিনি খাবার তাদের নিকটবর্তী করলেন, বললেন: "আপনারা কি খাবেন না?" তারা বলল: আমরা মূল্য পরিশোধ ছাড়া খাবার খাই না। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই এর একটি মূল্য আছে। তারা বলল: এর মূল্য কী? তিনি বললেন: শুরুতে আল্লাহর নাম স্মরণ করা এবং শেষে তাঁর প্রশংসা করা। তখন জিবরাঈল মিকাঈলের দিকে তাকিয়ে বললেন: সঙ্গত কারণেই তাঁর রব তাঁকে খলিল (বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। {অতঃপর যখন তিনি দেখলেন যে তাদের হাত খাবারের দিকে পৌঁছাচ্ছে না, তখন তিনি তাদের অপছন্দ করলেন (সন্দিহান হলেন) এবং মনে মনে তাদের থেকে ভয় পেলেন। তারা বলল: ভয় পাবেন না, আমরা লুতের কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছি} (২) তিনি বলছেন: যখন তিনি দেখলেন তারা খাচ্ছে না, তখন তিনি আতঙ্কিত হলেন এবং মনে মনে ভয় পেলেন। সারা বললেন

আশ্চর্য আমাদের মেহমানদের প্রতি, তাদের সম্মানে আমরা নিজেরা তাদের সেবা করছি অথচ তারা আমাদের খাবার খাচ্ছে না?! {তারা বলল: ভয় পাবেন না} অর্থাৎ তারা বলল আমাদের থেকে ভয় পাবেন না, আমরা ফেরেশতা, লুতের কওমকে ধ্বংস করার জন্য তাদের কাছে প্রেরিত হয়েছি। তখন সারা তাদের ধ্বংসের সুসংবাদে হেসে দিলেন, কারণ তাদের পাপাচার ছিল অত্যধিক এবং তাদের কুফরি ও হঠকারিতা ছিল চরম। (৩)

 

**‌‌ ফেরেশতাদের খাদ্য:

তাদের খাদ্য হলো তাসবিহ (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা), তাহলিল (আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা) এবং তাকদিস (আল্লাহর মহিমা বর্ণনা)। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত

--------------------------------------------

(১) সূরা আয-যারিয়াত — আয়াত ২৬।

(২) সূরা হুদ — আয়াত ৭০।

(৩) মুখতাসার তাফসীর ইবনে কাসীর ২/ ২২৫।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ১১)
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن طعام المؤمنين في زمن الدجال، قال: " طعام الملائكة " قالوا: وما طعام الملائكة؟ قال: " طعامهم منطقهم بالتسبيح والتقديس، فمن كان منطقه يومئذ التسبيح والتقديس، أذهب الله عنه الجوع، فلم يخش جوعا " رواه الحاكم. (1)

عن عبد الله بن الحارث بن نوفل قال: قلت لكعب: أرأيت قول الله تعالي {يُسَبّحُونَ الْلّيْلَ وَالنّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ} (2) ثم قال: {جَاعِلِ الْمَلَائِكَةِ رُسُلاً} (3) أفلا تكون الرسالة مانعة لهم عن هذا التسبيح؟ وأيضا قال {أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلآئِكَةِ وَالنّاسِ أَجْمَعِينَ} (4) فكيف يكونون متشاغلين باللعنة حال اشتغالهم بالتسبيح؟ أجاب كعب الأحبار فقال: التسبيح لهم كالتنفس لنا كما أن اشتغالنا بالتنفس لا يمنعنا من الكلام فكذلك اشتغالهم بالتسبيح لا يمنعهم من سائر الأعمال. رواه البيهقي في شعب الإيمان.

 

**‌‌ والله عز وجل أعطاهم القدرة علي التصور في صور بشرية:

كما حدث مع إبراهيم عليه السلام في الآيات السابقة، وكذلك عندما ذهبوا إلى لوط عليه السلام في صوره شبان حسان الوجوه – وخشي أن يضيفهم أحد من قومه وينالهم سوء، قال تعالى: {وَلَمّا جَآءَتْ

--------------------------------------------

(1) في المستدرك ـ كتاب الملاحم والفتن 4/ 511.

(2) سورة الأنبياء ـ الآية 20.

(3) سورة فاطر ـ الآية 1.

(4) سورة البقرة ـ الآية 161.
নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাজ্জালের যুগে মুমিনদের খাদ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বললেন: "ফেরেশতাদের খাদ্য।" তারা বলল: ফেরেশতাদের খাদ্য কী? তিনি বললেন: "তাদের খাদ্য হলো তাদের তাসবীহ (আল্লাহর মহিমা ঘোষণা) ও তাকদীস (আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা) করা। সুতরাং সেদিন যার কথা হবে তাসবীহ ও তাকদীস, আল্লাহ তার থেকে ক্ষুধা দূর করে দেবেন, ফলে সে ক্ষুধার ভয় করবে না।" হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন। (১)

আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে নাওফাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি কাবকে বললাম: আপনি কি মহান আল্লাহর এই বাণীটি লক্ষ্য করেছেন— {তারা দিন-রাত তাসবীহ পাঠ করে, তারা কোনো শৈথিল্য করে না} (২) অতঃপর তিনি বলেছেন: {যিনি ফেরেশতাদেরকে বার্তাবাহক করেছেন} (৩) তবে কি রিসালাতের দায়িত্ব পালন তাদের এই তাসবীহ পাঠে বাধা সৃষ্টি করে না? আবার তিনি বলেছেন: {তাদের ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের অভিশাপ} (৪) তবে তারা তাসবীহ পাঠে লিপ্ত থাকা অবস্থায় অভিশাপ দানে কীভাবে নিমগ্ন হতে পারেন? কাব আহবার উত্তর দিয়ে বললেন: তাসবীহ পাঠ তাদের জন্য আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো। যেমন আমাদের শ্বাস গ্রহণ আমাদের কথা বলায় বাধা প্রদান করে না, ঠিক তেমনি তাদের তাসবীহ পাঠও অন্যান্য কর্ম সম্পাদনে তাদের জন্য কোনো বাধার সৃষ্টি করে না। বায়হাকী এটি শুয়াবুল ঈমানে বর্ণনা করেছেন।

 

**‌‌ এবং মহান আল্লাহ তাদেরকে মানবাকৃতি ধারণ করার ক্ষমতা দান করেছেন:

যেমনটি পূর্ববর্তী আয়াতসমূহে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সাথে ঘটেছিল এবং একইভাবে যখন তারা সুশ্রী চেহারার যুবকদের বেশে লুত আলাইহিস সালামের নিকট গিয়েছিলেন— তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে তাঁর সম্প্রদায়ের কেউ তাদের নিকট পৌঁছাবে এবং তাদের কোনো ক্ষতি হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং যখন আগমন করল...

--------------------------------------------

(১) মুসতাদরাক-এ — কিতাবুল মালাহিম ওয়াল ফিতান ৪/ ৫১১।

(২) সূরা আল-আম্বিয়া — আয়াত ২০।

(৩) সূরা ফাতির — আয়াত ১।

(৪) সূরা আল-বাকারা — আয়াত ১৬১।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ১২)
رُسُلُنَا لُوطاً سِيَءَ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعاً وَقَالَ هََذَا يَوْمٌ عَصِيبٌ * وَجَآءَهُ قَوْمُهُ يُهْرَعُونَ إِلَيْهِ وَمِن قَبْلُ كَانُواْ يَعْمَلُونَ السّيّئَاتِ قَالَ يَقَوْمِ هََؤُلآءِ بَنَاتِي هُنّ أَطْهَرُ لَكُمْ فَاتّقُواْ اللهَ وَلَا تُخْزُونِ فِي ضَيْفِي أَلَيْسَ مِنْكُمْ رَجُلٌ رّشِيدٌ * قَالُواْ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا لَنَا فِي بَنَاتِكَ مِنْ حَقّ وَإِنّكَ لَتَعْلَمُ مَا نُرِيدُ * قَالَ لَوْ أَنّ لِي بِكُمْ قُوّةً أَوْ آوِيَ إِلَىَ رُكْنٍ شَدِيدٍ * قَالُواْ يَلُوطُ إِنّا رُسُلُ رَبّكَ لَن يَصِلُوَاْ إِلَيْكَ فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مّنَ الْلّيْلِ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنكُمْ أَحَدٌ إِلاّ امْرَأَتَكَ إِنّهُ مُصِيبُهَا مَآ أَصَابَهُمْ إِنّ مَوْعِدَهُمُ الصّبْحُ أَلَيْسَ الصّبْحُ بِقَرِيبٍ} (1)

وجاء جبريل عليه السلام للسيدة العذراء البتول مريم عليها السلام في صورة بشر ليبشرها بعيسى عليه السلام قال تعالى: {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ إِذِ انتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَاناً شَرْقِيا * فَاتّخَذَتْ مِن دُونِهِم حِجَاباً فَأَرْسَلْنَآ إِلَيْهَآ رُوحَنَا فَتَمَثّلَ لَهَا بَشَراً سَوِيّاً * قَالَتْ إِنّيَ أَعُوذُ بِالرّحْمََنِ مِنكَ إِن كُنتَ تَقِيّاً * قَالَ إِنّمَآ أَنَاْ رَسُولُ رَبّكِ لَاِهَبَ لَكِ غُلَاماً زَكِيّاً}. (2)

وكان يأتي النبي صلى الله عليه وسلم كثيرًا في صورة دحية الكلبي، كما حدث بعد غزوة الخندق وقد رجع النبي صلى الله عليه وسلم والمسلمون وقد عضهم الحصار، فرجعوا مجهدين، فوضعوا السلاح – ووضعه رسول الله صلى الله عليه وسلم ودخل بيت عائشة ودعا بماء فأخذ يغسل رأسه قد رجل أحد

--------------------------------------------

(1) سورة هود ـ الآيات من 77: 81.

(2) سورة مريم ـ الآيات من 16: 19.
যখন আমাদের রাসূলগণ লূতের কাছে আসলেন, তখন তাদের কারণে তিনি বিষণ্ণ হলেন এবং তাদের রক্ষায় নিজেকে অপদার্থ ও সংকীর্ণ বোধ করলেন। তিনি বললেন, ‘এটি এক অত্যন্ত কঠিন দিন।’ আর তার সম্প্রদায় তার কাছে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসল; ইতিপূর্বেও তারা মন্দ কাজে লিপ্ত ছিল। তিনি বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! এই যে আমার কন্যারা, তারা তোমাদের জন্য অধিক পবিত্র। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার মেহমানদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কোনো সুবোধ ব্যক্তি নেই?’ তারা বলল, ‘তুমি তো অবশ্যই জানো যে, তোমার কন্যাদের ওপর আমাদের কোনো অধিকার (আগ্রহ) নেই। আর আমরা কী চাই, তা তুমি অবশ্যই জানো।’ তিনি বললেন, ‘হায়! তোমাদের বিরুদ্ধে যদি আমার কোনো শক্তি থাকত অথবা আমি কোনো সুদৃঢ় আশ্রয় গ্রহণ করতে পারতাম!’ তারা বলল, ‘হে লূত! আমরা তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত রাসূল। তারা কখনোই তোমার নাগাল পাবে না। সুতরাং তুমি রাতের কোনো এক ভাগে তোমার পরিবারসহ বেরিয়ে পড়ো এবং তোমাদের কেউ যেন পেছন ফিরে না তাকায়; তবে তোমার স্ত্রী ব্যতীত। তাদের ওপর যা আপতিত হবে, তার ওপরও তা আপতিত হবে। নিশ্চয় তাদের জন্য নির্ধারিত সময় হলো প্রভাত। প্রভাত কি অতি নিকটবর্তী নয়?’ (১)

এবং জিবরাঈল আলাইহিস সালাম কুমারী ও সতী-সাধ্বী মারইয়াম আলাইহাস সালামের কাছে মানুষের আকৃতিতে আসলেন তাকে ঈসা আলাইহিস সালামের সুসংবাদ দিতে। মহান আল্লাহ বলেন: ‘আর এই কিতাবে মারইয়ামের কথা স্মরণ করো, যখন সে তার পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকের এক স্থানে আশ্রয় নিল। অতঃপর সে তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য পর্দা গ্রহণ করল। তখন আমি তার কাছে আমার রূহকে (জিবরাঈলকে) পাঠালাম, সে তার সামনে পূর্ণ মানবরূপে আত্মপ্রকাশ করল। মারইয়াম বলল, ‘আমি তোমার থেকে দয়াময় আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি, যদি তুমি আল্লাহভীরু হও।’ সে বলল, ‘আমি তো কেবল তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত দূত, যেন তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করি।’ (২)

এবং তিনি (জিবরাঈল) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রায়ই দিহইয়া আল-কালবীর আকৃতিতে আসতেন। যেমনটি খন্দক যুদ্ধের পর ঘটেছিল, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুসলিমগণ ফিরে এসেছিলেন এবং অবরোধ তাদেরকে পরিশ্রান্ত করে দিয়েছিল। তারা অত্যন্ত ক্লান্ত অবস্থায় ফিরে আসলেন এবং অস্ত্র নামিয়ে রাখলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তা নামিয়ে রাখলেন এবং আয়েশার ঘরে প্রবেশ করে পানি চাইলেন। অতঃপর তিনি তাঁর মাথা ধৌত করতে শুরু করলেন এবং চুল আঁচড়ে দিচ্ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) সূরা হুদ — আয়াত ৭৭: ৮১।

(২) সূরা মারইয়াম — আয়াত ১৬: ১৯।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
شقيه – وفي رواية: ففل رأسه واغتسل ودعا بالمجمرة ليتبخر وقد صلي الظهر قالت عائشة: فسلم علينا رجل ونحن في البيت – وقف موضع الجنائز – فنادي عذيرك من محارب – فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فزعًا فوثب وثبةً شديدةً فخرج إليه وقمت في أثره انظر من خلل الباب فإذا هو دحية الكلبي فيما كنت أري وهو ينفض الغبار عن وجهه وهو معمم بعمامة سوداء من إستبرق مرخ من عمامته بين كتفيه علي بغلة شهباء، وفي لفظ: فرس عليها رحالة، وعليها قطيفة من ديباج علي ثنياه أثر الغبار، فقال: يا رسول الله! ما أسرعتم ما حللتم، عذيرك من محارب! عفا الله عنك، وفي لفظ: غفر الله لك، أوقد وضعتم السلاح قبل أن نضعه؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " نعم " قال: فو الله ما وضعناه. وفي لفظ: " ما وضعت الملائكة السلاح منذ نزل بك العدو، وما رجعنا الآن إلا من طلب القوم حتى بلغنا حمراء الأسد – يعني الأحزاب – وقد هزمهم الله تعالي، إن الله تعالي يأمرك بقتال بني قريظة، وأنا عامد إليهم بمن معي لأزلزل بهم الحصون فاخرج بالناس.

قال حميد بن هلال، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فِإن في أصحابي جهدًا فلو أنظرتهم أياما، قال جبريل: انهض إليهم، فوالله لأدقنهم كدق البيض علي الصفا لأضعضعنها، فأدبر جبريل ومن معه من الملائكة حتى سطع الغبار في زقاق بني غنم من الأنصار.

قالت عائشة: فرجعت، فلما دخل قلت: يا رسول الله – من
তাঁর দুই পার্শ্ব - অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: তিনি তাঁর মাথা আঁচড়ালেন, গোসল করলেন এবং সুগন্ধি গ্রহণের জন্য ধূপদানি চাইলেন, আর তখন যোহরের সালাত আদায় করা হয়ে গিয়েছিল। আয়েশা (রা.) বলেন: এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি আমাদের সালাম দিলেন যখন আমরা ঘরের ভেতরে ছিলাম - তিনি জানাযার স্থানে দাঁড়িয়েছিলেন - এরপর তিনি উচ্চস্বরে বললেন: হে যোদ্ধা! আল্লাহ আপনার সহায় হোন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত শঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং দ্রুতবেগে তাঁর দিকে বেরিয়ে গেলেন। আমি তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে দরজার ছিদ্র দিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম। দেখলাম তিনি দাহইয়া আল-কালবী (যেমনটা আমার মনে হলো), তিনি তাঁর মুখমণ্ডল থেকে ধূলি ঝাড়ছেন। তিনি ইস্তাবরাক (রেশম) কাপড়ের কালো পাগড়ি পরিহিত ছিলেন যার প্রান্ত তাঁর দুই কাঁধের মাঝে ঝুলছিল। তিনি একটি ধূসর বর্ণের খচ্চরের ওপর আসীন ছিলেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে: জিনযুক্ত একটি ঘোড়া, যার ওপর ছিল রেশমী মখমলের চাদর এবং ঘোড়াটির অগ্রভাগের দাঁতের ওপর ধুলার চিহ্ন ছিল। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনারা কত দ্রুতই না অস্ত্র ত্যাগ করলেন! হে যোদ্ধা, আল্লাহ আপনার সহায় হোন। আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। অন্য বর্ণনায় এসেছে: আল্লাহ আপনাকে মাগফিরাত দান করুন। আমরা অস্ত্র রাখার আগেই কি আপনারা অস্ত্র রেখে দিয়েছেন? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হ্যাঁ"। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, আমরা তো এখনো অস্ত্র রাখিনি। অন্য বর্ণনায় এসেছে: "শত্রুরা আপনার ওপর চড়াও হওয়ার পর থেকে ফেরেশতারা অস্ত্র রাখেনি। আমরা কেবল সেই কওমের পিছু ধাওয়া করে হামরাউল আসাদ পর্যন্ত পৌঁছে এখনই ফিরে আসলাম - অর্থাৎ আহযাব (সম্মিলিত) বাহিনী - আল্লাহ তাআলা তাদের পরাজিত করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আপনাকে বনু কুরাইজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। আর আমি আমার সঙ্গীদের নিয়ে তাদের দিকেই অগ্রসর হচ্ছি যাতে তাদের দুর্গগুলো প্রকম্পিত করে দেই। সুতরাং আপনি লোকদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন।"

হুমাইদ ইবনে হিলাল বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমার সাহাবীদের মাঝে তো ক্লান্তি ও কষ্ট রয়েছে, যদি আপনি তাদের কয়েকদিন সময় দিতেন।" জিবরাঈল বললেন: "আপনি তাদের দিকে অগ্রসর হোন। আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই তাদের পাথরের ওপর ডিম চূর্ণ করার ন্যায় চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেব যাতে তারা বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে।" অতঃপর জিবরাঈল ও তাঁর সঙ্গের ফেরেশতারা প্রস্থান করলেন, এমনকি আনসারদের বনু গানাম গোত্রের গলিপথে ধূলি উড়তে দেখা গেল।

আয়েশা (রা.) বলেন: অতঃপর আমি ফিরে এলাম। যখন তিনি (রাসুলুল্লাহ) ঘরে প্রবেশ করলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল - কে...
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
ذاك الرجل الذي كنت تكلمه؟ قال: " ورأيتيه ". قالت: نعم، قال: " لمن تشبهت ". قلت: بدحية بن خليفة الكلبي، قال: " ذاك جبريل أمرني أن أمضي إلى بني قريظة

ومر النبي صلى الله عليه وسلم بنفر من بني النجار بالصورين فيهم حارثة بن النعمان، قد صفوا عليهم السلاح فقال: " هل مر بكم أحد؟ " قالوا: نعم دحية، الكلبي مر علي بغلة عليها رحالة عليها قطيفة من إستبرق وقد أمرنا بحمل السلاح فأخذنا سلاحنا وصففنا، وقال لنا: هذا رسول الله – صلى الله عليه وسلم يطلع عليكم الآن فقال صلى الله عليه وسلم: ذاك جبريل بعث إلى بني قريظة ليزلزل بهم حصونهم ويقذف الرعب في قلوبهم " (1)

وكان يأتي النبي صلى الله عليه وسلم وهو جالس بين أصحابه فيسأل النبي صلى الله عليه وسلم والنبي يجيب حتى يتعلم الصحابة رضي الله عنهم كما في الحديث الذي رواه الإمام مسلم عن عمر رضي الله عنه بينما نحن جلوس عند رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب ...... وفي نهاية الحديث ثم قال: يا عمر، أتدرى من السائل؟ " قلت: الله ورسوله أعلم. قال: فإنه جبريل أتاكم يعلمكم دينكم " (2)

 

وفي الأحزاب عندما ذهب حذيفة رضي الله عنه ليأتي بخبر القوم وعندما انتهت مهمته وفي أثناء عودته قال: فلما انتصفت بي الطريق – أو

--------------------------------------------

(1) سبل الهدي والرشاد في سيرة خير العباد 5/ 7.

(2) انظر إلى الحديث في كتاب رياض الصالحين باب المراقبة، وكتاب مشكاة المصابيح - كتاب الإيمان 1/ 9.
সেই ব্যক্তি যার সাথে আপনি কথা বলছিলেন? তিনি বললেন: "তুমি কি তাকে দেখেছ?" তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "সে কার সদৃশ ছিল?" আমি বললাম: দিহইয়াহ ইবনে খলিফা আল-কালবীর মতো। তিনি বললেন: "তিনি জিবরাঈল ছিলেন, তিনি আমাকে বনু কুরাইজার অভিমুখে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।"

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরীন নামক স্থানে বনু নাজ্জারের একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যাদের মধ্যে হারিসাহ ইবনে নুমান ছিলেন। তারা অস্ত্র সজ্জিত হয়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বললেন: "তোমাদের পাশ দিয়ে কি কেউ অতিক্রম করেছে?" তারা বলল: হ্যাঁ, দিহইয়াহ আল-কালবী একটি খচ্চরের পিঠে চড়ে আমাদের পাশ দিয়ে গিয়েছেন যার ওপর জিন এবং ইস্তাবরাকের (রেশমি বস্ত্র) চাদর ছিল। তিনি আমাদের অস্ত্র ধারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাই আমরা আমাদের অস্ত্র নিয়েছি এবং সারিবদ্ধ হয়েছি। তিনি আমাদের বলেছিলেন: এই যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এখন তোমাদের সামনে উপস্থিত হচ্ছেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তিনি জিবরাঈল ছিলেন, তাকে বনু কুরাইজার নিকট পাঠানো হয়েছে যেন তিনি তাদের দুর্গগুলোকে প্রকম্পিত করেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করেন।" (১)

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসতেন যখন তিনি তাঁর সাহাবীদের মাঝে বসা থাকতেন। তখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করতেন এবং নবী উত্তর দিতেন যাতে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) শিখতে পারেন, যেমনটি ইমাম মুসলিম ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন: একদা আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় আমাদের সামনে অত্যন্ত সাদা পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি উপস্থিত হলেন... এবং হাদিসের শেষে তিনি বললেন: "হে ওমর! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন?" আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: "তিনি জিবরাঈল ছিলেন, তিনি তোমাদের নিকট তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।" (২)

 

আর আহজাবের যুদ্ধে যখন হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শত্রুপক্ষের সংবাদ নিয়ে আসার জন্য গিয়েছিলেন এবং যখন তার দায়িত্ব শেষ হলো এবং ফেরার পথে তিনি বললেন: যখন আমি পথের মাঝামাঝি পৌঁছালাম – অথবা

--------------------------------------------

(১) সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফী সীরাত খাইরিল ইবাদ ৫/ ৭।

(২) রিয়াদুস সালিহীন গ্রন্থের মুরাকাবাহ অধ্যায় এবং মিশকাতুল মাসাবিহ—ঈমান অধ্যায় ১/ ৯-এর হাদিসটি দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
نحو من ذلك – إذا أنا بنحو من عشرين فارسا – أو نحو ذلك – معممين. فقالوا: أخبر صاحبك أن الله قد كفاه (1)

 

وقد رأي كثير من الصحابة رضي الله عنهم الملائكة في صور بشرية فلو أردت المزيد فعليك بمطالعة كتاب حياه الصحابة باب كيفية التأييدات الغيبية – رؤيتهم الملائكة.

 

ذوات أجنحة .. فمنهم من له جناحين ومنهم من له أكثر من جناح قال تعالى: {الْحَمْدُ للهِ فَاطِرِ السّمَاوَاتِ وَالأرْضِ جَاعِلِ الْمَلَائِكَةِ رُسُلاً أُوْلِيَ أَجْنِحَةٍ مّثْنَىَ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَآءُ إِنّ اللهَ عَلَىَ كُلّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} (2)

ومنهم من له ستمائة جناح مثل جبريل عليه السلام.

 

**‌‌ عدد الملائكة:

لا يعلمه إلا الله قال تعالى: {وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبّكَ إِلاّ هُوَ وَمَا هِيَ إِلاّ ذِكْرَىَ لِلْبَشَرِ} (3)

 

وكثير من الأحاديث يدل علي كثرة الملائكة منها:

1) عن أبى ذر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إني أري مالا

--------------------------------------------

(1) انظر القصة بتمامها في كتاب حياه الصحابة باب تحمل شدة الخوف في الدعوة إلى الله 1/ 312

(2) سورة فاطر ـ الآية 1.

(3) سورة المدثر ـ الآية 31.
অনুরূপ কিছু - হঠাৎ আমি প্রায় বিশ জন অশ্বারোহী - বা এই জাতীয় - যারা পাগড়ি পরিহিত ছিল, তাদের দেখতে পেলাম। তারা বলল: তোমার সঙ্গীকে সংবাদ দাও যে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হয়েছেন (১)

 

অনেক সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ফেরেশতাদের মানুষের আকৃতিতে দেখেছেন। আপনি যদি আরও বিস্তারিত জানতে চান, তবে 'হায়াতুস সাহাবা' কিতাবের 'গায়েবি সাহায্যের ধরণ - ফেরেশতাদের দর্শন' অধ্যায়টি অধ্যয়ন করুন।

 

ডানা বিশিষ্ট... তাদের মধ্যে কারো কারো দুটি ডানা রয়েছে এবং কারো কারো তার চেয়ে বেশি। আল্লাহ তাআলা বলেন: "সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা এবং ফেরেশতাদের করেছেন বার্তাবাহক—যারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার ডানা বিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।" (২)

তাদের মধ্যে এমনও আছেন যার ছয়শ ডানা রয়েছে, যেমন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)।

 

**‌‌ ফেরেশতাদের সংখ্যা:

আল্লাহ ছাড়া কেউ তা জানে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আপনার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানে না। আর এটি মানুষের জন্য উপদেশ ছাড়া আর কিছু নয়।" (৩)

 

অনেক হাদিস ফেরেশতাদের আধিক্যের প্রমাণ দেয়, যার মধ্যে রয়েছে:

১) আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি যা দেখি তোমরা তা..."

--------------------------------------------

(১) সম্পূর্ণ কাহিনীটি দেখুন 'হায়াতুস সাহাবা' কিতাবের 'আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে চরম ভীতি সহ্য করা' অধ্যায়ে, ১/৩১২।

(২) সূরা ফাতির — আয়াত ১।

(৩) সূরা আল-মুদ্দাসসির — আয়াত ৩১।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
ترون، وأسمع مالا تسمعون أطت (1) السماء، وحق لها أن تئط، والذي نفسي بيده، ما فيها موضع أربعة أصابع إلا وملك واضع جبهته ساجدُ لله، والله لو تعلمون ما أعلم لضحكتم قليلا ولبكيتم كثيرًا، وما تلذذتم بالنساء علي الفرشات ولخرجتم إلى الصعدات (2) تجأرون إلى الله تعالي "رواه أحمد والترمذي وابن ماجة (3).

2) وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " يؤتي بجهنم لها سبعون ألف زمام مع كل زمام سبعون ألف ملك يجرونها " رواه مسلم (4)

3) وعن أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " البيت المعمور (5) في السماء السابعة يدخله كل يوم سبعون ألف ملك لا يعودون إليه حتى تقوم الساعة " رواه الحاكم وقال حديث صحيح الإسناد علي شرط الشيخين ووافقه الذهبي. (6)

4) وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: " إن الله جزأ الخلق عشرة أجزاء فجعل تسعة أجزاء الملائكة، وجزءًا سائر الخلق، وجزأ الملائكة عشرة أجزاء فجعل تسعة أجزاء

--------------------------------------------

(1) أي: صوتت.

(2) أي: الصحاري.

(3) مشكاة المصابيح ـ كتاب الرقاق ـ باب البكاء والخوف 3/ 1469.

(4) رياض الصالحين باب الخوف ص 200

(5) وسمي بالبيت المعمور لأنه معمور بالملائكة.

(6) في مستدركه – كتاب التفسير – 2/ 468.
আমি যা দেখি তোমরা তা দেখ না, আর আমি যা শুনি তোমরা তা শোন না। আসমান শব্দ করেছে (১) এবং তার জন্য শব্দ করা সমীচীন। যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! আসমানে চার আঙ্গুল পরিমাণ এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেজদাবনত হয়ে কপাল ঠেকিয়ে নেই। আল্লাহর কসম! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তবে তোমরা অল্প হাসতে এবং অধিক কাঁদতে, আর বিছানায় নারীদের সঙ্গ উপভোগ করতে না বরং তোমরা আল্লাহর কাছে আর্তনাদ করতে করতে খোলা রাস্তায় (২) বেরিয়ে পড়তে। আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন (৩)।

২) ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে, যার সত্তর হাজার লাগাম থাকবে এবং প্রতিটি লাগামের সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা থাকবে যারা তা টেনে আনবে।" মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৪)।

৩) আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "বায়তুল মামুর (৫) সপ্তম আকাশে অবস্থিত, যেখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করে, কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আগে তারা আর সেখানে ফিরে আসে না।" হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে হাদীসটির সনদ শাইখাইনের (বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহীহ এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন (৬)।

৪) আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে দশ ভাগে বিভক্ত করেছেন। এর মধ্যে নয় ভাগ ফেরেশতা এবং এক ভাগ অন্যান্য সকল সৃষ্টি। পুনরায় ফেরেশতাদের দশ ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং নয় ভাগ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: শব্দ করল।

(২) অর্থাৎ: মরুপ্রান্তর।

(৩) মিশকাতুল মাসাবীহ — কিতাবুর রিকাক — অনুচ্ছেদ: ক্রন্দন ও ভয় ৩/১৪৬৯।

(৪) রিয়াদুস সালিহীন, অনুচ্ছেদ: ভয়, পৃ. ২০০।

(৫) একে বায়তুল মামুর বলা হয় কারণ এটি ফেরেশতাদের দ্বারা আবাদ বা জনাকীর্ণ থাকে।

(৬) তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে — কিতাবুত তাফসীর — ২/৪৬৮।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
يسبحون الليل والنهار لا يفترون، وجزءًا لرسالته، وجزأ الخلق عشرة أجزاء فجعل تسعة أجزاء الجن، وجزءًا بني آدم، وجزء بني آدم عشرة أجزاء فجعل تسعة أجزاء يأجوج ومأجوج وجزءًا لسائر الناس، والسماء ذات الحبك قال: السماء السابعة، والحرم بحياله العرش " (1).

5) وعن خارجه بن إبراهيم عن أبيه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لجبريل: " من القائل يوم بدر من " الملائكة أقدم حيزوم " فقال جبريل: ما كل أهل السماء أعرف " رواه البيهقي (2)

6) انظر حديث ابن عباس في تفسير قوله تعالي" يوم تشقق السماء بالغمام ونزل الملائكة تنزيلا.

 

**‌‌ أين تسكن الملائكة؟

لكل سماء سكان من الملائكة ومنهم من ينزل إلى الأرض ليؤدي مهمة معينة ثم يصعد إلى السماء مثل الملك الذي نزل من السماء الرابعة لينقذ أبا معلق من قاطع الطريق، والملك الذي نزل من السماء السابعة لينقذ زيد بن حارثة رضي الله عنه من الرجل الذي أراد قتله، ومثل الملائكة اللذين نزلوا ليشهدوا جنازة سعد بن معاذ رضي الله عنه.

والملائكة اللذين نزلوا لشهود غزوة بدر.

--------------------------------------------

(1) رواه الحاكم وقال صحيح الإسناد ووافقه الذهبي

(2) سبل الهدي والرشاد في سيرة خير العباد 4/ 63.
তারা রাত-দিন তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, তারা ক্লান্ত হয় না; এবং একটি অংশ তাঁর রিসালাতের জন্য। তিনি সৃষ্টিজগতকে দশ ভাগে বিভক্ত করেছেন, তার নয় ভাগ করেছেন জিন এবং এক ভাগ আদম সন্তান। আর আদম সন্তানকে দশ ভাগে বিভক্ত করেছেন, তার নয় ভাগ করেছেন ইয়াজুজ ও মাজুজ এবং এক ভাগ অবশিষ্ট মানুষ। "পথবিশিষ্ট আকাশ" সম্পর্কে তিনি বলেন: তা হলো সপ্তম আকাশ। আর পবিত্র স্থান (হারাম) আরশের সমান্তরালে অবস্থিত। (১)

৫) খারিজাহ বিন ইবরাহিম তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিবরাঈলকে জিজ্ঞেস করলেন: "বদর যুদ্ধের দিন ফেরেশতাদের মধ্যে কে সেই ব্যক্তি যে বলেছিল: 'হায়জুম, সামনে অগ্রসর হও'?" জিবরাঈল বললেন: "আসমানের সকল অধিবাসীকে আমি চিনি না।" বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন (২)

৬) মহান আল্লাহর বাণী "যেদিন মেঘমালার সাথে আকাশ বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাদের নামিয়ে আনা হবে" এর তাফসীরে ইবনে আব্বাসের হাদীসটি দেখুন।

 

‌‌ ফেরেশতারা কোথায় বাস করেন?

প্রতিটি আসমানেই ফেরেশতাদের মধ্য থেকে অধিবাসী রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নির্দিষ্ট কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং এরপর আসমানে আরোহণ করেন। যেমন সেই ফেরেশতা যিনি আবু মুআল্লাককে ডাকাত থেকে রক্ষা করার জন্য চতুর্থ আসমান থেকে নেমেছিলেন, এবং সেই ফেরেশতা যিনি জায়েদ ইবনে হারিসাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে সেই লোকটির হাত থেকে বাঁচাতে সপ্তম আসমান থেকে নেমেছিলেন যে তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আর সেই ফেরেশতাদের মতো যারা সাদ ইবনে মুআয (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জানাযায় উপস্থিত হওয়ার জন্য নেমেছিলেন।

এবং সেই ফেরেশতারা যারা বদর যুদ্ধে উপস্থিত হওয়ার জন্য অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এর সনদ সহীহ এবং আয-যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

(২) সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফী সিরাতি খাইরিল ইবাদ ৪/ ৬৩।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
والملائكة اللذين نزلوا لشهود غزوة أحد.

والملائكة اللذين نزلوا لشهود غزوة الأحزاب وبني قريظة.

قال تعالى: {يُنَزّلُ الْمَلآئِكَةَ بِالْرّوحِ مِنْ أَمْرِهِ عَلَىَ مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِ أَنْ أَنْذِرُوَاْ أَنّهُ لَا إِلََهَ إِلاّ أَنَاْ فَاتّقُونِ} (1)

وقال تعالى: {تَنَزّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبّهِم مّن كُلّ أَمْر} (2)

وفي الحديث عن ابن عباس رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لجبريل " ما يمنعك أن تزورنا أكثر مما تزورنا؟ " قال: فنزلت " {وَمَا نَتَنَزّلُ إِلاّ بِأَمْرِ رَبّكَ لَهُ مَا بَيْنَ أَيْدِينَا وَمَا خَلْفَنَا وَمَا بَيْنَ ذَلِكَ وَمَا كَانَ رَبّكَ نَسِيّاً} (3) (4).

وعن ابن سابط قال: يدبر أمر الدنيا أربعة: جبريل، وميكائيل، وملك الموت، وإسرافيل، فأما جبريل: فموكل بالرياح والجنود، وأما ميكائيل فموكل بالقطر والنبات، وأما ملك الموت فموكل بقبض الأرواح، وأما إسرافيل فهو ينزل بالأمر عليهم. (5)

 

وعنه قال: في أم الكتاب كل شئ هو كائن إلى يوم القيامة، ووكل ثلاثة من الملائكة أن يحفظوه فوكل جبريل بالكتاب أن ينزل به

--------------------------------------------

(1) سورة النحل ـ الآية 2.

(2) سورة القدر ـ الآية 4.

(3) سورة مريم ـ الآية 64.

(4) رواه أحمد والبخاري.

(5) رواه ابن أبى شيبة وابن أبى حاتم وأبو الشيخ في العظمة.
এবং ঐ সকল ফেরেশতা যারা উহুদ যুদ্ধে উপস্থিত হওয়ার জন্য অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

এবং ঐ সকল ফেরেশতা যারা আহযাব ও বনু কুরাইজা যুদ্ধে উপস্থিত হওয়ার জন্য অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

মহান আল্লাহ বলেন: "তিনি তাঁর নির্দেশে তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার নিকট ইচ্ছা ওহীসহ ফেরেশতা অবতীর্ণ করেন এই মর্মে যে, তোমরা সতর্ক করো, আমি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় করো।" (১)

এবং মহান আল্লাহ বলেন: "সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিবরীল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজের জন্য অবতীর্ণ হন।" (২)

এবং ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরীলকে বললেন: "আপনি আমাদের কাছে যতটুকু আসেন, তার চেয়ে বেশি আসতে কিসে আপনাকে বাধা দেয়?" তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেন: তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়: "আমরা আপনার রবের নির্দেশ ছাড়া অবতীর্ণ হই না। যা আমাদের সামনে আছে, যা আমাদের পেছনে আছে এবং যা এ দুইয়ের মাঝে আছে, সবই তাঁর; আর আপনার রব বিস্মৃত হন না।" (৩) (৪)।

এবং ইবনে সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: দুনিয়ার বিষয়াদি চারজন পরিচালনা করেন: জিবরীল, মিকাইল, মালাকুল মাউত এবং ইসরাফিল। জিবরীল বাতাস ও সৈন্যবাহিনীর দায়িত্বে নিয়োজিত, মিকাইল বৃষ্টি ও উদ্ভিদের দায়িত্বে নিয়োজিত, মালাকুল মাউত প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত এবং ইসরাফিল তাদের নিকট নির্দেশ নিয়ে অবতীর্ণ হন। (৫)

 

এবং তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: মূল কিতাবে (উম্মুল কিতাব) কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তার সবকিছু রয়েছে। আর তিনজন ফেরেশতাকে তা সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; অতঃপর জিবরীলকে কিতাব অবতীর্ণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নাহল — আয়াত ২।

(২) সূরা আল-কদর — আয়াত ৪।

(৩) সূরা মারইয়াম — আয়াত ৬৪।

(৪) আহমদ ও বুখারী বর্ণনা করেছেন।

(৫) ইবনে আবী শাইবা, ইবনে আবী হাতিম এবং আবুশ শাইখ আল-আজমাহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
إلى الرسل، ووكل جبريل أيضا بالهلكات إذا أراد الله أن يهلك قوما، ووكله بالنصر عند القتال، ووكل ميكائيل بالحفظ والقطر ونبات الأرض، ووكل ملك الموت بقبض الأنفس، فإذا ذهبت الدنيا جمع من حفظهم وقابل أم الكتاب فيجدونه سواء. (1)

ومنهم من يسكن الأرض لتدبير شئون الحياة علي وجه الأرض بأمر ربهم.

 

**‌‌ مقامات الملائكة:

قال تعالى: {وَمَا مِنّآ إِلاّ لَهُ مَقَامٌ مّعْلُومٌ} (2)

فسادات الملائكة أربعة:

1) جبريل عليه السلام. 2) ميكائيل عليه السلام.

3) إسرافيل عليه السلام. 4) ملك الموت عليه السلام.

فعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا قام من الليل افتتح صلاته فقال: " اللهم رب جبريل وميكائيل وإسرافيل، فاطر السماوات والأرض، عالم الغيب والشهادة، أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون، اهدني لما اختلف فيه من الحق بإذنك، إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم " رواه مسلم (3)

--------------------------------------------

(1) رواه ابن أبى شيبة ـ (الحبائك في أخبار الملائك).

(2) سورة الصافات ـ الآية 164.

(3) مشكاة المصابيح – كتاب الصلاة باب ما يقول إذا قام في الليل 1/ 382.
রাসুলগণের নিকট [আগমনের জন্য], এবং জিবরীলকে ধ্বংসাত্মক কাজের জন্যও নিযুক্ত করা হয়েছে যখন আল্লাহ কোনো কওমকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করেন, এবং যুদ্ধের সময় সাহায্যের জন্যও তাকে নিযুক্ত করা হয়েছে। আর মীকাঈলকে রক্ষণাবেক্ষণ, বৃষ্টিবর্ষণ এবং জমিনের উদ্ভিদরাজির জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে। আর মৃত্যুর ফেরেশতাকে প্রাণ হরণের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে। অতঃপর যখন দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে, তিনি যাদের রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন তাদের [আমলনামা] একত্র করবেন এবং মূল কিতাবের মুখোমুখি করবেন, অতঃপর তারা তা হুবহু এক ও অভিন্ন পাবে। (১)

এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ পৃথিবীতে বসবাস করেন তাদের রবের নির্দেশে ভূপৃষ্ঠের জীবন পরিচালনার কার্যাদি আঞ্জাম দেওয়ার জন্য।

 

**‌‌ ফেরেশতাগণের মর্তবা:

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমাদের প্রত্যেকেরই একটি নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে।" (২)

ফেরেশতাদের প্রধানগণ হলেন চারজন:

১) জিবরীল আলাইহিস সালাম। ২) মীকাঈল আলাইহিস সালাম।

৩) ইসরাফীল আলাইহিস সালাম। ৪) মালাকুল মাউত আলাইহিস সালাম।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে সালাতের জন্য উঠতেন, তখন এই বলে সালাত শুরু করতেন: "হে আল্লাহ! জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন সে বিষয়ে যাতে তারা মতবিরোধ করত। আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে সেই সত্যের পথ দেখান যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিশা দান করেন।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (৩)

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবি শায়বা এটি বর্ণনা করেছেন — (আল-হাবাইক ফি আখবারিল মালাইক)।

(২) সূরা আস-সাফফাত — আয়াত ১৬৪।

(৩) মিশকাতুল মাসাবিহ – সালাত অধ্যায়, 'রাতে দাঁড়িয়ে যা বলতে হয়' অনুচ্ছেদ, ১/ ৩৮২।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ২০)
وعن أبى المليح بن أسامة عن أبيه عن جده أسامة بن عمير، أنه صلي مع النبي صلى الله عليه وسلم ركعتى الفجر، فصلى قريبا منه فصلى النبى ركعتين خفيفتين فسمعته يقول: اللهم رب جبريل وميكائيل وإسرافيل ومحمد صلى الله عليه وسلم، أعوذ بك من النار ثلاث مرات 0 أخرجه الحاكم (1)

وكذلك الملائكة الكروبيون الذين هم حول العرش، وهم مع حملة العرش من أشرف الملائكة وهم المقربون قال تعالى: {لّن يَسْتَنكِفَ الْمَسِيحُ أَن يَكُونَ عَبْداً للهِ وَلَا الْمَلآئِكَةُ الْمُقَرّبُونَ وَمَن يَسْتَنْكِفْ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيَسْتَكْبِرْ فَسَيَحْشُرُهُمْ إِلَيهِ جَمِيعاً} (2)

 

**‌‌ شرفهم وفضلهم:

قال تعالى: {بَلْ عِبَادٌ مّكْرَمُونَ*لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُمْ بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ} (3)

وقال تعالى: {بِأَيْدِي سَفَرَةٍ * كِرَامٍ بَرَرَةٍ} (4)

وقال تعالى: {إِنّ الّذِينَ عِندَ رَبّكَ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيُسَبّحُونَهُ

وَلَهُ يَسْجُدُون َ} (5)

--------------------------------------------

(1) في المستدرك 3/ 622 0

(2) سورة النساء ـ الآية 172.

(3) سورة الأنبياء ـ الآيتان 26، 27.

(4) سورة عبس ـ الآيتان 15، 16.

(5) سورة الأعراف ـ الآية 206.
আবু মালিহ ইবন উসামা তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা উসামা ইবন উমাইর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ফজরের দুই রাকাত সালাত আদায় করেছেন। তিনি তাঁর খুব কাছেই সালাত আদায় করছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংক্ষিপ্তভাবে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল, ইসরাফীল ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পালনকর্তা, আমি আপনার কাছে জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাই—তিনবার। এটি আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন (১)

অনুরূপভাবে কারূবিয়্যুন ফেরেশতারাও, যারা আরশের চারপাশে থাকেন এবং তাঁরা আরশ বহনকারীদের সাথে ফেরেশতাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ও নৈকট্যপ্রাপ্ত। মহান আল্লাহ বলেন: {মসীহ আল্লাহর বান্দা হতে কখনোই কুণ্ঠাবোধ করেন না এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারাও নয়। আর যারা তাঁর ইবাদতে কুণ্ঠাবোধ করে এবং অহংকার করে, তিনি অচিরেই তাদের সকলকে নিজের কাছে সমবেত করবেন} (২)

 

‌‌ তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা:

মহান আল্লাহ বলেন: {বরং তাঁরা তো সম্মানিত বান্দা। তাঁরা কথা বলার ক্ষেত্রে তাঁকে অতিক্রম করে না এবং তাঁরা তাঁর আদেশ অনুযায়ী কাজ করে} (৩)

মহান আল্লাহ বলেন: {লেখকদের হাতে, যাঁরা সম্মানিত ও পুণ্যবান} (৪)

মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় যাঁরা তোমার রবের সান্নিধ্যে রয়েছে, তাঁরা তাঁর ইবাদত করতে অহংকার করে না এবং তাঁরা তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে আর তাঁরই প্রতি সিজদাবনত হয়} (৫)

--------------------------------------------

(১) আল-মুস্তাদরাক ৩/৬২২ ০

(২) সূরা আন-নিসা — আয়াত ১৭২।

(৩) সূরা আল-আম্বিয়া — আয়াত ২৬, ২৭।

(৪) সূরা আবাসা — আয়াত ১৫, ১৬।

(৫) সূরা আল-আ’রাফ — আয়াত ২০৬।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ২১)
وقال تعالى: {وَلَهُ مَن فِي السّمَاوَاتِ وَالأرْضِ وَمَنْ عِنْدَهُ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ} (1)

وقال تعالى: {لاّ يَعْصُونَ اللهَ مَآ أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} (2)

وقال تعالى: {لّن يَسْتَنكِفَ الْمَسِيحُ أَن يَكُونَ عَبْداً للهِ وَلَا الْمَلآئِكَةُ الْمُقَرّبُونَ وَمَن يَسْتَنْكِفْ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيَسْتَكْبِرْ فَسَيَحْشُرُهُمْ إِلَيهِ جَمِيعاً} (3)

 

**‌‌ وقد ذكرهم الله عز وجل بعد نفسه في الشهادة والإيمان:

قال تعالى: {شَهِدَ اللهُ أَنّهُ لَا إِلََهَ إِلاّ هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُوْلُواْ الْعِلْمِ قَآئِمَاً بِالْقِسْطِ لَا إِلََهَ إِلاّ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} (4)

وقال تعالى: {لَّكِنِ اللهُ يَشْهَدُ بِمَآ أَنزَلَ إِلَيْكَ أَنزَلَهُ بِعِلْمِهِ وَالْمَلآئِكَةُ يَشْهَدُونَ وَكَفَىَ بِاللهِ شَهِيداً} (5)

وقال تعالى: {آمَنَ الرّسُولُ بِمَآ أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِن رّبّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلّ آمَنَ بِاللهِ وَمَلآئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مّن رّسُلِهِ وَقَالُواْ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ} (6)

--------------------------------------------

(1) سورة الأنبياء ـ الآية 19.

(2) سورة التحريم ـ الآية 6.

(3) سورة النساء ـ الآية 172.

(4) سورة آل عمران ـ الآية 18.

(5) سورة النساء ـ الآية 166.

(6) سورة البقرة ـ الآية 285.
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আসমানসমূহ ও যমীনে যারা আছে তারা তাঁরই এবং যারা তাঁর সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তাঁর ইবাদতে অহংকার করে না এবং ক্লান্তিও বোধ করে না।} (১)

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ তাঁদের যা আদেশ করেছেন তাঁরা সে বিষয়ে তাঁর অবাধ্য হয় না এবং তাঁদের যা আদেশ করা হয় তাঁরা তা-ই পালন করে।} (২)

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মসীহ আল্লাহর বান্দা হতে কখনো অবজ্ঞা বোধ করেন না এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারাও নয়; আর যে ব্যক্তি তাঁর ইবাদতে অবজ্ঞা বোধ করে এবং অহংকার করে, তবে শীঘ্রই তিনি তাদের সকলকে নিজের কাছে সমবেত করবেন।} (৩)

 

**‌‌ এবং মহান আল্লাহ সাক্ষ্যদান ও ঈমানের বর্ণনায় নিজের পরেই তাদের কথা উল্লেখ করেছেন:

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং ফেরেশতারা ও জ্ঞানীরাও; তিনি ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} (৪)

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যা তিনি আপনার প্রতি নাযিল করেছেন তা তিনি স্বীয় জ্ঞানেই নাযিল করেছেন এবং ফেরেশতারাও সাক্ষ্য দিচ্ছে; আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।} (৫)

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {রাসূল ঈমান এনেছেন যা তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। (তারা বলে:) আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না এবং তারা বলে: "আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।" } (৬)

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আম্বিয়া - আয়াত ১৯।

(২) সূরা আত-তাহরীম - আয়াত ৬।

(৩) সূরা আন-নিসা - আয়াত ১৭২।

(৪) সূরা আলে ইমরান - আয়াত ১৮।

(৫) সূরা আন-নিসা - আয়াত ১৬৬।

(৬) সূরা আল-বাকারা - আয়াত ২৮৫।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ২২)
وقيل: أنهم أقرب الخلق إلى الله عز وجل، وأول من خلقهم الله عز وجل، وآخر من يميتهم، وأول من يحيهم، وهم المدبرات أمرا والمقسمات أمرا.

 

**‌‌ قوتهم:

يتمتع الملائكة بقوة عظيمة جدًا فمن عظم قوتهم أن العرش يحمله أربعة وستأتي أوصافهم عند ذكر حملة العرش، وإسرافيل عليه السلام بنفخة واحدة يصعق من في السماوات والأرض وبنفخة أخري يخرجون من القبور قال تعالي: {وَنُفِخَ فِي الصّورِ فَصَعِقَ مَن فِي السّمَاوَاتِ وَمَن فِي الأرْضِ إِلاّ مَن شَآءَ اللهُ ثُمّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَىَ فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنظُرُونَ} (1)

وبلغ من قوه جبريل عليه السلام أنه اقتلع جبال آل لوط وبلادهم دفعة واحدة.

 

** س:‌‌ كيف تعرج الملائكة إلى السماء، وكيف تنزل؟

ج: قال تعالى: {تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ} (2)

وفي الحديث " ما نزل من السماء ملك، ولا صعد إلى السماء ملك حتى يقول: لا حول ولا قوة إلا بالله " رواه الديلمي (3)

--------------------------------------------

(1) سورة الزمر ـ الآية 68.

(2) سورة المعراج ـ الآية 4.

(3) جمع الجوامع للسيوطي تحت رقم 19571.
বলা হয়েছে যে, তারা মহান আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী সৃষ্টি এবং আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম তাদের সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি সর্বশেষ তাদের মৃত্যু দেবেন এবং সর্বপ্রথম তাদের জীবিত করবেন। তারা হলো কর্ম নির্বাহকারী এবং বিষয়াদি বণ্টনকারী ফেরেশতামণ্ডলী।

 

**‌‌তাদের শক্তি:

ফেরেশতারা অত্যন্ত সুমহান শক্তির অধিকারী। তাদের শক্তির মাহাত্ম্য এই যে, মাত্র চারজন ফেরেশতা আরশ বহন করছেন এবং আরশ বহনকারীদের বর্ণনার সময় তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ সামনে আসবে। আর ইসরাফিল আলাইহিস সালামের একটি মাত্র ফুৎকারে আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা মূর্ছিত হয়ে পড়বে এবং অন্য একটি ফুৎকারে তারা কবর থেকে বেরিয়ে আসবে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর শিঙায় ফুঁক দেওয়া হবে, ফলে আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা সবাই মূর্ছিত হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদের ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত। তারপর আবার তাতে ফুঁক দেওয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দণ্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে।" (১)

জিবরাঈল আলাইহিস সালামের শক্তি এই পর্যায়ে ছিল যে, তিনি লূত আলাইহিস সালামের কওমের পাহাড় ও তাদের জনপদসমূহকে একসাথেই উপড়ে ফেলেছিলেন।

 

** প্রশ্ন:‌‌ ফেরেশতারা কীভাবে আসমানে আরোহণ করেন এবং কীভাবে অবতরণ করেন?

উত্তর: মহান আল্লাহ বলেন: "ফেরেশতারা এবং রূহ (জিবরাঈল) তাঁর দিকে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ হলো পঞ্চাশ হাজার বছর।" (২)

এবং হাদিসে এসেছে: "কোনো ফেরেশতা আসমান থেকে অবতরণ করেন না এবং কোনো ফেরেশতা আসমানে আরোহণ করেন না যতক্ষণ না তিনি বলেন: আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই।" দায়লামি এটি বর্ণনা করেছেন (৩)

--------------------------------------------

(১) সূরা আয-যুমার — আয়াত ৬৮।

(২) সূরা আল-মাআরিজ — আয়াত ৪।

(৩) সুয়ুতির জামউল জাওয়ামে, হাদিস নং ১৯৫৭১।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
**‌‌ عبادتهم:

- الملائكة يشتركون مع الجن ولإنس في العبادة:

قال تعالى: {وَمَنْ عِنْدَهُ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ * يُسَبّحُونَ الْلّيْلَ وَالنّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ} (1)

وقال تعالى: {وَإِنّا لَنَحْنُ الصّآفّونَ * وَإِنّا لَنَحْنُ الْمُسَبّحُونَ} (2)

وفي الحديث عن أبى ذر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إني أري ما لا ترون، وأسمع ما لا تسمعون أطت السماء وحق لها أن تئط، والذي نفسي بيده، ما فيها موضع أربعة أصابع إلا وملك واضع جبهته ساجد لله، والله لو تعلمون ما أعلم لضحكتم قليلا ولبكيتم كثيرًا، وما تلذذتم بالنساء علي الفرشات ولخرجتم إلى الصعدات تجأرون إلى الله " رواه أحمد والترمذي وابن ماجة والحاكم (3)

وعن جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " ما في السماوات السبع، موضع قدم، ولا شبر ولا كف إلا وفيه ملك قائم، أو ملك راكع، أو ملك ساجد، فإذا كان يوم القيامة قالوا جميعا: " سبحانك ما عبدناك حق عبادتك، إلا أنا لم نشرك بك شيئا " رواه الطبراني وأبو نعيم (4)

--------------------------------------------

(1) سورة الأنبياء الآيتان 19، 20.

(2) سورة الصافات الآيتان 165، 166.

(3) مشكاة المصابيح كتاب الرقاق – باب البكاء والخوف 3/ 1469.

(4) جمع الجوامع للسيوطي برقم 18927.
তাদের ইবাদত:

- ফেরেশতারা ইবাদতের ক্ষেত্রে জিন ও মানুষের সাথে অংশীদার:

মহান আল্লাহ বলেন: {যারা তাঁর সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তাঁর ইবাদতে অহংকার করে না এবং ক্লান্তিও বোধ করে না। তারা দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, তারা ক্লান্ত হয় না।} (১)

মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমরা অবশ্যই সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান এবং আমরা অবশ্যই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণাকারী।} (২)

আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয় আমি তা দেখি যা তোমরা দেখ না এবং আমি তা শুনি যা তোমরা শোন না। আকাশ মড়মড় শব্দ করছে এবং তার জন্য মড়মড় শব্দ করাটাই স্বাভাবিক। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আকাশের মধ্যে চার আঙুল পরিমাণ জায়গাও নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে নিজের কপাল ঠেকিয়ে রাখেনি। আল্লাহর কসম, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে তোমরা হাসতে কম এবং কাঁদতে বেশি; আর তোমরা বিছানায় নারীদের নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে পারতে না, বরং তোমরা আল্লাহর কাছে আর্তনাদ করতে করতে উঁচু রাস্তার দিকে বেরিয়ে পড়তে।" এটি আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও হাকেম বর্ণনা করেছেন (৩)

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সাত আসমানের মধ্যে এক পা রাখার জায়গা, এক বিঘত অথবা এক হাতের তালু পরিমাণ স্থানও নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা দণ্ডায়মান, রুকুকারী অথবা সিজদাবনত অবস্থায় নেই। অতঃপর যখন কিয়ামত দিবস আসবে, তারা সকলে বলবে: আপনি পবিত্র! আমরা আপনার ইবাদতের হক যথাযথভাবে আদায় করতে পারিনি; তবে আমরা আপনার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করিনি।" এটি তাবারানী ও আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন (৪)

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ১৯, ২০।

(২) সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ১৬৫, ১৬৬।

(৩) মিশকাতুল মাসাবিহ, কিতাবুর রিকাক – পরিচ্ছেদ: কান্না ও ভয়, ৩/ ১৪৬৯।

(৪) সুয়ূতী সংকলিত জামিউল জাওয়ামি, হাদিস নং ১৮৯২৭।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
* *‌‌ خوفهم:

قال تعالي: {يَخَافُونَ رَبّهُمْ مّن فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} (1)

وقال تعالي: {وَهُمْ مّنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ} (2)

وقال تعالي: {حَتّىَ إِذَا فُزّعَ عَن قُلُوبِهِمْ قَالُواْ مَاذَا قَالَ رَبّكُمْ قَالُواْ الْحَقّ وَهُوَ الْعَلِيّ الْكَبِيرُ} (3)

 

**‌‌ هل يحجون؟

نعم تحج الملائكة البيت المعمور في السماء السابعة وهو بحيال الكعبة المشرفة وسمي بالمعمور لأنه معمور بالملائكة، وهو كعبة أهل السماوات يحجون إليه ففي الحديث عن أنس رضي الله عنه قال: " البيت المعمور في السماء السابعة يدخله كل يوم سبعون ألف ملك لا يعودون إليه حتى تقوم الساعة " رواه الحاكم وقال حديث صحيح علي شرط الشيخين ووافقه الذهبي (4)

 

أما البيت الحرام الذي ببكة فقد روي الأزرقي في كتابه أخبار مكة عن عثمان بن ساج رحمه الله تعالي قال: أخبرني سعيد أن آدم لما فرغ من حجته لقيته الملائكة بالمأزمين (5) فقالوا: برَّ حجك يا

--------------------------------------------

(1) سورة النحل ـ الآية 50.

(2) سورة الأنبياء ـ الآية 28.

(3) سورة سبأ ـ الآية 23.

(4) في مستدركه _ كتاب التفسير – 2/ 468.

(5) المضيق من الجبل 0
তাদের ভীতি:

মহান আল্লাহ বলেন: {তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে যিনি তাদের উপরে আছেন এবং তারা যা আদিষ্ট হয় তা-ই পালন করে} (১)

মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তারা তাঁর ভয়ে শঙ্কিত} (২)

মহান আল্লাহ বলেন: {এমনকি যখন তাদের অন্তর থেকে আতঙ্ক দূর করা হয়, তখন তারা বলে, তোমাদের প্রতিপালক কী বললেন? তারা বলে, সত্য বললেন; আর তিনি সমুন্নত, সুমহান} (৩)

 

**তারা কি হজ্জ করেন?

হ্যাঁ, ফেরেশতারা সপ্তম আকাশে অবস্থিত বাইতুল মামুরে হজ্জ করেন, যা সম্মানিত কাবার ঠিক সমান্তরালে অবস্থিত। একে 'মামুর' নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি ফেরেশতাদের দ্বারা আবাদ বা জনাকীর্ণ থাকে। এটি আসমানবাসীদের কাবা যেখানে তারা হজ্জ পালন করেন। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: "সপ্তম আকাশে অবস্থিত বাইতুল মামুরে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন, যারা কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত সেখানে আর দ্বিতীয়বার ফিরে আসার সুযোগ পান না।" এটি হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন হাদীসটি শায়খাইনের শর্তানুসারে সহীহ, আর যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন (৪)

 

পক্ষান্তরে বাক্কাহর (মক্কার) বাইতুল হারাম সম্পর্কে আযরকী তাঁর 'আখবারু মক্কা' গ্রন্থে উসমান ইবনে সাজ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ আমাকে জানিয়েছেন যে, আদম (আলাইহিস সালাম) যখন তাঁর হজ্জ সম্পন্ন করলেন, তখন মাযিমাইন (৫) নামক স্থানে ফেরেশতাদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। তারা বললেন: হে আদম! আপনার হজ্জ কবুল হোক!

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নাহল — আয়াত ৫০।

(২) সূরা আল-আম্বিয়া — আয়াত ২৮।

(৩) সূরা সাবা — আয়াত ২৩।

(৪) তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে — কিতাবুত তাফসীর — ২/ ৪৬৮।

(৫) পাহাড়ের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ পথ ০।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
آدم فلقد حججنا هذا البيت قبلك بألف عام. (1)

 

وروي الأزرقي عن أبي هريرة – رضي الله عنه – أن آدم صلى الله عليه وسلم لما فرغ من حجة لقيته الملائكة بالردم (2) فقالوا: برَّ حججك يا آدم، أنا قد حججنا هذا البيت قبلك بألفي عام، قال: فما كنتم تقولون حوله؟ فقالوا: كنا نقول سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله، والله أكبر، فكان آدم إذا طاف قال هذه الكلمات. (3)

 

وروي الأزرقي عن عمرو بن يسار المكي – رحمه الله – قال: بلغني أن الله تعالي إذا أراد أن يبعث ملكاً من الملائكة لبعض أموره استأذنه ذلك الملك في الطواف، فهبط الملك مهلا ً (4)

 

وروي الأزرقي عن وهب بن منبه – رحمه الله تعالي – قال قرأت في كتاب من الكتب الأولي – ذكر فيها أمر الكعبة وأنه ليس من ملك بعثه الله تعالي إلى الأرض إلا أمره الله بزيارة البيت فينقٌٌٌٌٌٌٌٌٌض من عند العرش محرماً ملبياً حتى يستلم الحجر، ثم يطوف سبعاً بالبيت ويصلي في جوفه ركعتين. (5)

--------------------------------------------

(1) سبل الهدي والرشاد في سيرة خير العباد 1/ 241.

(2) موضع بمكة.

(3) المرجع السابق.

(4) المرجع السابق.

(5) المرجع السابق.
আদম! আমরা আপনার এক হাজার বছর পূর্বে এই ঘরের হজ করেছি। (১)

 

আর আযরুকি আবু হুরাইরা – রাদিয়াল্লাহু আনহু – থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আদম আলাইহিস সালাম যখন হজ সম্পন্ন করলেন, তখন ‘রাদম’ নামক স্থানে ফেরেশতাগণ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন (২)। তাঁরা বললেন: হে আদম! আপনার হজ কবুল ও বরকতময় হোক, আমরা আপনার দুই হাজার বছর পূর্বেই এই ঘরের হজ করেছি। তিনি বললেন: আপনারা এর চারপাশে (তাওয়াফের সময়) কী পাঠ করতেন? তাঁরা বললেন: আমরা বলতাম—সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার। এরপর থেকে আদম যখন তাওয়াফ করতেন, তখন এই কালিমাগুলো পাঠ করতেন। (৩)

 

আর আযরুকি আমর বিন ইয়াসার মক্কি – রাহিমাহুল্লাহ – থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর কোনো কাজের প্রয়োজনে কোনো ফেরেশতাকে প্রেরণ করতে চান, তখন সেই ফেরেশতা আল্লাহর নিকট (কাবা শরিফ) তাওয়াফ করার অনুমতি প্রার্থনা করেন। এরপর সেই ফেরেশতা ধীরস্থিরভাবে অবতরণ করেন। (৪)

 

আর আযরুকি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ – রাহিমাহুল্লাহু তাআলা – থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের একটিতে পড়েছি—যেখানে কাবার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে—যে, আল্লাহ তাআলা জমিনে এমন কোনো ফেরেশতাকে প্রেরণ করেন না যাকে তিনি এই ঘর যিয়ারত করার নির্দেশ প্রদান করেন না। ফলে সেই ফেরেশতা আল্লাহর আরশের নিকট থেকে ইহরাম পরিহিত অবস্থায় এবং তালবিয়া পাঠ করতে করতে নিচে নেমে আসেন, যতক্ষণ না তিনি হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করেন। এরপর তিনি সাতবার ঘরটি তাওয়াফ করেন এবং এর অভ্যন্তরে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন। (৫)

--------------------------------------------

(১) সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফী সিরাতি খাইরিল ইবাদ ১/২৪১।

(২) মক্কার একটি স্থান।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
وروي الأزرقي عن ابن عباس رضي الله عنه: أن جبريل عليه السلام وقف علي رسول الله صلى الله عليه وسلم وعليه عصابة خضراء قد علاها الغبار، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " ما هذا الغبار الذي أرى عليك؟ " قال: إني زرت البيت فازدحمت الملائكة علي الركن فهذا الغبار الذي تري مما تثير بأجنحتها (1).

 

**‌‌ كيف يقومون أمام الله عز وجل -:

قال تعالى: {وَالصّافّاتِ صَفّا} (2)

وقال تعالى: {وَإِنّا لَنَحْنُ الصّآفّونَ} (3)

وعن ابن مسعود في قوله تعالي: {وَالصّافّاتِ صَفّا} قال: هم الملائكة تصف في السماء في العبادة والذكر صفوفاً " (4)

وفي الحديث عن جابر بن سمره رضي الله عنه، قال: خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فرآنا حلقاً فقال: " مالي أراكم عزين (5)؟ " ثم خرج علينا فقال: " ألا تصفون كما تصف الملائكة عند ربها؟ قال: " يتمون الصفوف الأولي، ويتراصون في الصف " رواه مسلم (6).

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق.

(2) سورة الصافات ـ الآية 1.

(3) سورة الصافات ـ الآية 165.

(4) صفوة التفاسير للصابوني تفسير سورة الصافات 3/ 28.

(5) أي جماعات متفرقين.

(6) مشكاة المصابيح – كتاب الصلاة – باب تسوية الصفوف 1/ 341.
আল-আযরাকি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলেন, তখন তাঁর মাথায় একটি সবুজ পাগড়ি ছিল যা ধুলোবালি দ্বারা আচ্ছন্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আমি তোমার উপরে এই যে ধুলোবালি দেখছি তা কীসের?" তিনি বললেন: "আমি বাইতুল্লাহ যিয়ারত করেছি, আর ফেরেশতারা রুকন (হাজরে আসওয়াদ)-এর নিকট ভিড় জমিয়েছিল; আপনি যে ধুলো দেখছেন তা তাদের ডানার ঝাপটায় উড়া ধুলো।" (১)

 

**‌‌ তারা মহান আল্লাহর সামনে কীভাবে দাঁড়ায় -:

মহান আল্লাহ বলেন: "শপথ তাদের যারা সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান।" (২)

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর আমরা অবশ্যই সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান।" (৩)

ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মহান আল্লাহর বাণী "শপথ তাদের যারা সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান" প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: "তারা হলো ফেরেশতা যারা আসমানে ইবাদত ও যিকিরের জন্য সারিবদ্ধভাবে কাতারবন্দী হয়।" (৪)

জাবির ইবনে সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং আমাদের পৃথক পৃথক দলে বসা দেখে বললেন: "কী ব্যাপার, আমি তোমাদের কেন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখছি?" (৫) এরপর তিনি পুনরায় আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: "ফেরেশতারা তাদের রবের নিকট যেভাবে কাতারবদ্ধ হয়, তোমরা কি সেভাবে কাতারবদ্ধ হবে না?" তিনি বললেন: "তারা প্রথম কাতারগুলো পূর্ণ করে এবং কাতারে একে অপরের সাথে মিশে দাঁড়ায়।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (৬)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস।

(২) সূরা আস-সাফফাত — আয়াত ১।

(৩) সূরা আস-সাফফাত — আয়াত ১৬৫।

(৪) সাবুনীর সাফওয়াতুত তাফাসীর, সূরা আস-সাফফাতের তাফসীর ৩/ ২৮।

(৫) অর্থাৎ পৃথক পৃথক বিচ্ছিন্ন দল।

(৬) মিশকাতুল মাসাবীহ – সালাত অধ্যায় – কাতার সোজা করার পরিচ্ছেদ ১/ ৩৪১।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
**‌‌ حال الملائكة عندما يقضي الله أمراً:

عن عائشة رضي الله عنها، قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: " إن الملائكة تنزل في العنان – وهو السحاب – فتذكر الأمر قضي في السماء، فتسترق الشياطين السمع، فتوحيه إلى الكهان، فيكذبون مائة كذبة من عند أنفسهم ". رواه البخاري (1)

وعن أبى هريرة رضي الله عنه، أن نبي الله صلى الله عليه وسلم قال: إذا قضي الله الأمر في السماء ضربت الملائكة بأجنحتها خضعاناً (2) لقوله، كأنه سلسلة علي صفوان (3) فإذا فُزَّعَ عن قلوبهم قالوا: ماذا قال ربكم؟، قالوا للذي قال الحق وهو العلي الكبير، فسمعها مسترقوا السمع، ومسترقوا السمع هكذا بعضه فوق بعض ".

ووصف سفيان بكفه فحركها بين أصابعه فيسمع الكلمة فيلقيها إلى من تحته، ثم يلقيها الآخر إلى من تحته، حتى يلقيها علي لسان الساحر أو الكاهن، فربما أدرك الشهاب قبل أن يلقيها، وربما ألقاها قبل أن يدركه، فيكذب معها مائة كذبة 0 فيقال: أليس قد قال لنا يوم كذا وكذا: كذا وكذا، فيصدق بتلك الكلمة التي سمعت من السماء " رواه البخاري (4).

وعن ابن عباس رضي الله عنهما، قال: أخبرني رجل من

--------------------------------------------

(1) مشكاة المصابيح – كتاب الطب والرقي – باب الكهانة 2/ 1293.

(2) أي تواضعاً وتخاشعاً وانقياداً لحكمه.

(3) أي حجراً ملس.

(4) المرجع السابق.
যখন আল্লাহ কোনো নির্দেশ প্রদান করেন তখন ফেরেশতাদের অবস্থা:

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "ফেরেশতারা 'আনান' - যা হলো মেঘমালা - সেখানে অবতরণ করেন, অতঃপর আসমানে ফয়সালা হওয়া বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তখন শয়তানরা গোপনে তা শুনে নেয় এবং গণকদের নিকট পৌঁছে দেয়। অতঃপর তারা নিজেদের পক্ষ থেকে তার সাথে একশত মিথ্যা মিশ্রিত করে।" বুখারী কর্তৃক বর্ণিত (১)

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন আল্লাহ আসমানে কোনো নির্দেশ প্রদান করেন, তখন ফেরেশতারা তাঁর বাণীর প্রতি অনুগত হয়ে তাদের ডানাগুলো নাড়াতে থাকেন, যেন কোনো মসৃণ পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শিকলের আওয়াজ। অতঃপর যখন তাদের অন্তর থেকে ভয় দূর করা হয়, তখন তারা বলেন: তোমাদের প্রতিপালক কী বলেছেন? তারা (উচ্চপর্যায়ের ফেরেশতারা) বলেন: তিনি যা বলেছেন তা সত্য এবং তিনি সমুন্নত, সুমহান। অতঃপর শ্রবণকারীরা (শয়তানরা) তা চুপিচুপি শুনে নেয়। আর গোপনে শ্রবণকারীরা এভাবে একে অপরের ওপর অবস্থান করে।"

এবং সুফিয়ান তাঁর হাতের তালু দিয়ে এর বর্ণনা দিলেন এবং তাঁর আঙুলগুলো ফাঁক করে নড়াচড়া করলেন। ফলে তারা একটি কথা শুনতে পায় এবং তা তার নিচের জনকে পৌঁছে দেয়, তারপর সে তার নিচের জনকে পৌঁছে দেয়। এভাবে শেষ পর্যন্ত তা জাদুকর অথবা গণকের জিহ্বায় পৌঁছায়। কখনো কখনো কথাটি পৌঁছানোর পূর্বেই জ্বলন্ত উল্কা তাকে আঘাত করে, আবার কখনো কখনো আঘাত করার পূর্বেই সে তা পৌঁছে দেয়। আর তারা তার সাথে একশত মিথ্যা যোগ করে। তখন বলা হয়: অমুক অমুক দিন কি সে আমাদের এই এই কথা বলেনি? ফলে আসমান থেকে শোনা সেই একটি সত্য কথার কারণে তাকে সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করা হয়।" বুখারী কর্তৃক বর্ণিত (৪)।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাকে একজন লোক সংবাদ দিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) মিশকাতুল মাসাবীহ – চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁক কিতাব – গণকবিদ্যা পরিচ্ছেদ ২/ ১২৯৩।

(২) অর্থাৎ তাঁর নির্দেশের প্রতি বিনয়, নম্রতা ও আনুগত্য প্রদর্শনস্বরূপ।

(৩) অর্থাৎ মসৃণ পাথর।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم من الأنصار: أنهم بينا هم جلوس ليلة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم رمى بنجم واستنار، فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: " ما كنتم تقولون في الجاهلية، إذا رمي بمثل هذا؟ " قالوا: الله ورسوله أعلم، كنا نقول: ولد الليلة رجل عظيم، ومات رجل عظيم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " فإنها لا يرمي بها لموت أحد ولا لحياته، ولكن ربنا تبارك اسمه إذا قضي أمرا سبح حمله العرش، ثم سبح أهل السماء الذين يلونهم، حتى يبلغ التسبيح أهل هذه السماء الدنيا، ثم قال الذين يحملون العرش لحمله العرش: ماذا قال ربكم؟ فيخبرونهم ما قال، فيستخبر بعض أهل السماوات بعضاً حتى يبلغ هذه السماء الدنيا، فيخطف الجن السمع، فيقذفون إلى أوليائهم ويرمون، فما جاءوا به علي وجهه فهو حق، ولكنهم يقرفون (1) فيه ويزيدون " روه مسلم (2)

 

** س:‌‌ ماذا يحبون، وماذا يبغضون؟

جـ: يحبون من أحبه الله عز وجل، ويبغضون ما أبغضه الله عز وجل ففي الحديث عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إن الله إذا أحب عبداً دعا جبريل فقال: إني أحب فلاناً فأحبه، قال: فيحبه جبريل، ثم ينادي في السماء فيقول: إن الله يحب فلاناً فأحبوه، فيحبه أهل السماء ثم يوضع له القبول في الأرض 0 وإذا أبغض

--------------------------------------------

(1) أي يوقعون الكذب في المسموع الصادق ويخلطونه ولا يتركونه علي وجهه (مشكاة).

(2) المرجع السابق 2/ 1296.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনসার সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত: একদা রাতে তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় একটি নক্ষত্র নিক্ষিপ্ত হয়ে আলোকিত হয়ে উঠল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন: "জাহিলিয়াতের যুগে যখন এরূপ নক্ষত্র নিক্ষেপ করা হতো, তখন তোমরা কী বলতে?" তাঁরা বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসুল অধিক ভালো জানেন। আমরা বলতাম: আজ রাতে কোনো মহান ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করেছেন অথবা কোনো মহান ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন।" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই এটি কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে নিক্ষেপ করা হয় না। বরং আমাদের রব—যাঁঁর নাম বরকতময়—যখন কোনো বিষয়ের ফয়সালা করেন, তখন আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণ তাসবিহ পাঠ করেন। এরপর তাঁদের নিকটবর্তী আসমানের অধিবাসীরা তাসবিহ পাঠ করেন, এভাবে তাসবিহ এই দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এরপর আরশের নিকটবর্তী ফেরেশতাগণ আরশ বহনকারীদের জিজ্ঞেস করেন: 'তোমাদের রব কী বলেছেন?' তখন তাঁরা যা বলা হয়েছে তা তাঁদের অবহিত করেন। এভাবে আসমানবাসীরা একে অপরের নিকট থেকে সংবাদ জানতে চান, শেষ পর্যন্ত তা এই দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত পৌঁছায়। তখন জিনেরা কান পেতে তা চুরি করে শোনার চেষ্টা করে এবং তা তাদের বন্ধুদের কাছে পৌঁছে দেয়, আর তাদের লক্ষ্য করে উল্কা নিক্ষেপ করা হয়। তারা যা অবিকল নিয়ে আসে তা সত্য, কিন্তু তারা তাতে মিথ্যা মিশ্রিত করে (১) এবং বাড়িয়ে বলে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২)।

 

** প্রশ্ন:‌‌ তাঁরা কাকে ভালোবাসেন এবং কাকে ঘৃণা করেন?

উত্তর: তাঁরা তাকেই ভালোবাসেন যাকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ভালোবাসেন এবং তাকেই ঘৃণা করেন যাকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ঘৃণা করেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাঈলকে ডেকে বলেন: 'আমি অমুককে ভালোবাসি, অতএব তুমিও তাকে ভালোবাসো।' রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: 'তখন জিবরাঈল তাকে ভালোবাসেন। এরপর তিনি আসমানে ঘোষণা করে দেন যে: নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ভালোবাসো।' তখন আসমানবাসীরা তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। এরপর জমিনে তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা স্থাপন করা হয়। আর যখন তিনি ঘৃণা করেন...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ শোনা সত্য কথার মধ্যে তারা মিথ্যা আরোপ করে এবং তা মিশ্রিত করে ফেলে, বিষয়টিকে তার আসল রূপে ছাড়ে না (মিশকাত)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস ২/ ১২৯৬।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল মুবীন ফী মা-রিফাতিল মালাইকাতিল মুকাররাবীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
عبداً دعا جبريل إني أبغض فلاناً فأبغضه، فيبغضه جبريل، ثم ينادي في أهل السماء إن الله يبغض فلاناً فأبغضوه، قال: فيبغضونه، ثم يوضع له البغضاء في الأرض. رواه مسلم (1)

يحبون الرائحة الطيبة ويكرهون الرائحة الخبيثة، فعن جابر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من أكل من هذه الشجرة المنتنة (2) فلا يقربن مسجدنا، فإن الملائكة تتأذي مما يتأذي منه الإنس 0 متفق عليه (3).

وفي رواية مسلم عن جابر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من أكل البصل، والثوم، والكراث، فلا يقربن مسجدنا، فإن الملائكة تتأذي مما يتأذي منه بنو آدم ". رواه مسلم (4).

 

**‌‌ الملائكة يلعنون أهل المعاصي:

•‌‌ تلعن المرأة التي أبت من فراش زوجها:

فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إذا دعا الرجل إمرأته إلي فراشه فأبت، فبات غضبان، لعنتها

--------------------------------------------

(1) مشكاة المصابيح – كتاب الحب في الله 3/ 1394.

(2) أي البصل.

(3) المرجع السابق – كتاب الصلاة – باب المساجد مواضع الصلاة 1/ 222.

(4) رياض الصالحين – باب النهي من أكل ثوماً أو بصلاً أو كراثاً، أو غيره مما له رائحةً كريهةً عن دخول المسجد.
যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে ঘৃণা করেন, তখন তিনি জিবরীলকে ডেকে বলেন, "আমি অমুককে ঘৃণা করি, সুতরাং তুমিও তাকে ঘৃণা করো।" তখন জিবরীল তাকে ঘৃণা করেন। এরপর তিনি আসমানবাসীদের মাঝে ঘোষণা দেন যে, "নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুককে ঘৃণা করেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ঘৃণা করো।" তখন আসমানবাসীরা তাকে ঘৃণা করে। এরপর যমীনে তার প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)

তারা সুগন্ধি পছন্দ করেন এবং দুর্গন্ধ অপছন্দ করেন। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই দুর্গন্ধযুক্ত গাছ (২) থেকে আহার করেছে, সে যেন আমাদের মসজিদের কাছে না আসে। কেননা মানুষ যা দ্বারা কষ্ট পায়, ফেরেশতারাও তা দ্বারা কষ্ট পায়।" মুত্তাফাকুন আলাইহি (৩)।

মুসলিমের এক বর্ণনায় জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি পিঁয়াজ, রসুন ও কুরাছ (এক প্রকার পেঁয়াজ জাতীয় উদ্ভিদ) আহার করেছে, সে যেন আমাদের মসজিদের কাছে না আসে। কেননা বনী আদম যা দ্বারা কষ্ট পায়, ফেরেশতারাও তা দ্বারা কষ্ট পায়।" মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৪)।

 

**‌‌ ফেরেশতারা পাপীদের ওপর অভিশাপ দেন:

•‌‌ সেই মহিলার প্রতি অভিশাপ, যে তার স্বামীর বিছানা অস্বীকার করে:

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে তার বিছানায় ডাকে এবং সে অস্বীকার করে, ফলে সে রাগান্বিত অবস্থায় রাত অতিবাহিত করে, তখন ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দিতে থাকে..."

--------------------------------------------

(১) মিশকাতুল মাসাবীহ – আল্লাহর জন্য ভালোবাসা অধ্যায় ৩/ ১৩৯৪।

(২) অর্থাৎ পিঁয়াজ।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস – সালাত অধ্যায় – মসজিদসমূহ সালাত আদায়ের স্থান অনুচ্ছেদ ১/ ২২২।

(৪) রিয়াদুস সলেহীন – রসুন, পিঁয়াজ, কুরাছ অথবা দুর্গন্ধযুক্ত অন্য কিছু খেয়ে মসজিদে প্রবেশ নিষেধ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ।