(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: -)
رحلة الشتاء والصيف   (محمد كبريت)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: رحلة الشتاء والصيف

المؤلف: محمد بن عبد الله بن محمد، من أحفاد شرف الدين بن يحيى الحمزي الحسيني المولوي المعروف بـ كِبْرِيت (ت 1070هـ)

حققها وقدمها وفهرسها: الأستاذ محمَّد سَعيد الطنطاوي

الناشر: المكتب الإسلامي للطباعة والنشر، بيروت

الطبعة: الثانية، 1385 هـ

عدد الصفحات: 249

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

শীত ও গ্রীষ্মের সফর   (মুহাম্মদ কিব্রীত)

বিভাগ: দেশ-বিদেশ ও ভ্রমণকাহিনী


গ্রন্থ: শীত ও গ্রীষ্মের সফর

লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, শরফুদ্দীন বিন ইয়াহইয়া আল-হামযি আল-হুসাইনি আল-মাওলাউয়ি-এর বংশধর, যিনি কিব্রীত নামে পরিচিত (মৃত্যু ১০৭০ হিজরি)

তাহকীক, ভূমিকা ও নির্ঘণ্ট তৈরি করেছেন: উস্তাদ মুহাম্মদ সাঈদ তানতাবি

প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামি মুদ্রণ ও প্রকাশনা, বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৮৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ অনুযায়ী]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌ديباجة المؤلف

الناسُ يُهدون على قدْرِهم … وإنَّني أُهدي على قدْري

يُهدون ما يفنى وأُهدي الذي … يبقى مدى الأيامِ والدَّهْرِ

الحمد لله وحده والصلاة والسلام على مَنْ لا نبي بعده، قل بفضل الله وبرحمته فبذلك فليفرحوا هو خير مما يجمعون. يا من أودع كنوز الأرض أسرار حكمته، يطلع عليها من جاب البلاد بحسن فطنته، وخص كلّ بقعة بخاصة لا توجد إلا فيها، وجعل لهذا رغبة عن هذه فينأى عنها، ولهذا رغبة في هذه فيصطفيها، صلِّ على نبيك ورسولك وحبيبك وخليلك سيدنا وسندنا محمد، الذي شرَّفت به كثيراً من البقاع، وعطرت بآثاره الشريفة الأكم والقاع، وعلى آله وصحبه وشيعته وحزبه أكرم من ساروا في أقطار الأقاليم فعمروها، وأقاموا بالأراضي المجدبة وبهاطل بركاتهم غمروها، ما اهتز بها أغصان الآمال بنسمات الإقبال، وما تذكر مجروح الفؤاد على مر المنازل لذة الوطن والمناهل.

(أما بعد) فإنه لا يخفى على من سبر الدهرَ وخبر أحواله، ورأى تغيراته وشاهد في ذوي الفضل أفعاله، أن من ارتدى بمحامد الخلال وتحلَّى بحلي الفضائل والكمال نصب له الزمان مصايد المصايب، وأوقعه في شرك الهوان متجرعاً غصص النوى والنوائب، وفي وهاد حسراته محترق زفراته:
লেখকের মুখবন্ধ

মানুষ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী উপহার দেয় … আর আমি উপহার দিই আমার সামর্থ্য অনুযায়ী।

তারা এমন কিছু উপহার দেয় যা ধ্বংস হয়ে যায়, আর আমি উপহার দিই যা … দিন ও কালের আবর্তনে অক্ষয় হয়ে থাকে।

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। বলুন, আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায়; সুতরাং এতেই তারা আনন্দিত হোক। তারা যা জমা করে, এটি তার চেয়ে উত্তম। হে সেই সত্তা, যিনি যমিনের ধনভাণ্ডারে তাঁর হিকমতের রহস্যসমূহ গচ্ছিত রেখেছেন; যে ব্যক্তি তার তীক্ষ্ণ মেধা নিয়ে দেশ-বিদেশে বিচরণ করে, তিনি তাকে তা অবগত করান। তিনি প্রতিটি ভূখণ্ডকে এমন বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়ে বিশিষ্ট করেছেন যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তিনি কারো মনে কোনো স্থানের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি করেন, ফলে সে তা থেকে দূরে সরে যায়; আবার কারো মনে কোনো স্থানের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেন, ফলে সে তা নির্বাচন করে নেয়। আপনি সালাত পেশ করুন আপনার নবী, রাসূল, হাবীব ও খলীল, আমাদের নেতা ও অবলম্বন মুহাম্মাদের ওপর, যাঁর মাধ্যমে আপনি বহু ভূখণ্ডকে সম্মানিত করেছেন এবং যাঁর পবিত্র স্মৃতিচিহ্ন দ্বারা পাহাড় ও সমতলকে সুবাসিত করেছেন। এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, অনুসারী ও তাঁর দলের ওপর; যাঁরা বিভিন্ন অঞ্চলের প্রান্তসমূহে পরিভ্রমণকারী এবং তা আবাদকারী ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত। তাঁরা অনুর্বর ভূমিতে অবস্থান করেছেন এবং স্বীয় বরকতের বারিধারায় তা সিক্ত করেছেন; যতক্ষণ পর্যন্ত সৌভাগ্যের মৃদু বাতাসে আশার শাখাগুলো দুলতে থাকবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো ভগ্নহৃদয় ব্যক্তি বিভিন্ন মনযিল অতিক্রমকালে স্বদেশের ও পানের আধারগুলোর স্বাদ স্মরণ করবে।

(অতঃপর) যারা কালকে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং এর অবস্থাসমূহ পরীক্ষা করেছে, এর পরিবর্তনসমূহ দেখেছে এবং গুণীজনদের প্রতি কালের আচরণ প্রত্যক্ষ করেছে, তাদের কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে—যে ব্যক্তি প্রশংসনীয় গুণাবলীতে ভূষিত হয় এবং ফযিলত ও পূর্ণতার অলংকারে সজ্জিত হয়, কাল তার জন্য বিপদের ফাঁদ পেতে রাখে। তাকে লাঞ্ছনার জালে আবদ্ধ করে বিচ্ছেদ ও দুর্ঘটনার তিক্ততা পান করায়, এবং আক্ষেপের গহ্বরে তার দীর্ঘশ্বাসগুলো দগ্ধ হতে থাকে:
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ৪)
وكَمْ للدَّهْرِ من فعلٍ عجيبٍ … بهِ فيهِ أُولو الألبابِ حاروا

وأَعجبُ ما يُرى فيهِ فقيهٌ … مهانٌ والجهولُ هو المشارُ

أمورٌ لا يتمُّ لها قياسٌ … أرانا شأنها الفلكُ المدارُ

وكنت ممن ناواه الزمان، وكرّ عليه بسيف حيفه الحَدَثان، أتقلب من الحسرات على فرش الغضا، وأجد لما بي أضيق ما يكون سعة الفضاء، فأعلل النفس بالأماني، وأتسلَّى بذكر من لم يَصْفُ له التهاني، ولما عيل مني الصبر وأعياني هذا الأمر دعاني داعي الأماني والآمال، وحرَّكني فيه الرجاء والالتجاء إلى الكريم

المتعال، أن أمتطي غارب الاغتراب، حسب فامشوا والبركة في الحركة والله مسبب الأسباب وأنشدني لسان الحال قول من قال:

إنَّ العُلى حدّثتني وهي صادقةٌ … فيما تحدِّث أنَّ العزَّ في النقلِ

لو أنَّ في شرفِ المأوى بلوغَ مُنَى … لم تبرحِ الشَّمْسُ يوماً دارةَ الحملِ

فاقتضى الأمر العزم على السفر، واقتحام مهامه المشقة والخطر، وقصد الأبواب الشريفة السلطانية، والتملِّي برؤية الموالي والأركان بالدولة المنيفة الخاقانية، والوقوف على تلك المنازلِ والمناهلِ والأطلال، وما أبرزته القدرة الإلهية من القوّة
কালে সময়ের কতই না বিস্ময়কর কাজ রয়েছে … যাতে জ্ঞানীরাও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে।

আর এতে দেখা সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো বিজ্ঞ ব্যক্তি লাঞ্ছিত … আর মূর্খ ব্যক্তিই হলো সবার কেন্দ্রবিন্দু।

এমন সব বিষয় যার কোনো যৌক্তিক পরিমাপ চলে না … আবর্তনশীল মহাকাশ আমাদের যার স্বরূপ দেখিয়েছে।

আমিও ছিলাম তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সাথে কাল শত্রুতা করেছে, এবং বিপদ-আপদ তার জুলুমের তরবারি দিয়ে যার ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। আমি দুঃখ-কষ্টের তপ্ত শয্যায় আক্ষেপের সাথে এপাশ-ওপাশ করি, আর আমার ওপর আপতিত মুসিবতের কারণে সুবিশাল প্রশস্ত দিগন্তকেও অত্যন্ত সংকীর্ণ অনুভব করি। তাই আমি বৃথা আকাঙ্ক্ষা দিয়ে মনকে প্রবোধ দেই, আর যাদের আনন্দ কখনো পূর্ণতা পায়নি তাদের কথা স্মরণ করে নিজেকে সান্ত্বনা দেই। অতঃপর যখন আমার ধৈর্য ফুরিয়ে গেল এবং এই পরিস্থিতি আমাকে ক্লান্ত করে ফেলল, তখন আকাঙ্ক্ষা ও আশার আহ্বানকারী আমাকে ডাক দিল, এবং পরম দয়ালু ও সুউচ্চ আল্লাহর নিকট আশা ও আশ্রয় গ্রহণের ব্যাকুলতা আমাকে সজাগ করল

যেন আমি প্রবাসের পিঠে সওয়ার হই, ‘অতএব তোমরা বিচরণ করো’ এই নির্দেশ অনুযায়ী; আর গতিতেই বরকত এবং আল্লাহই হলেন সকল কারণের উদ্দীপক। এমতাবস্থায় আমার বর্তমান অবস্থা যেন কবির এই কথাটিই আওড়াচ্ছিল:

উচ্চমর্যাদা আমাকে বলেছে এবং সে যা বলেছে তাতে সে সত্যবাদী … যে প্রকৃত সম্মান নিহিত রয়েছে দেশান্তরের মাঝে।

যদি নিজ আবাসের শ্রেষ্ঠত্বের মধ্যেই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হতো … তবে সূর্য কোনোদিন মেষ রাশি ত্যাগ করত না।

ফলশ্রুতিতে বিষয়টি সফরের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ, কষ্ট ও বিপদের দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়া, সুলতানি দরবারের উচ্চ সোপানসমূহের দিকে যাত্রা করা, সুমহান খাকানি রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ ও স্তম্ভদের দর্শনে ধন্য হওয়া এবং সেইসব মঞ্জিল, ঝর্ণাধারা ও প্রাচীন কীর্তিসমূহ এবং মহান আল্লাহর কুদরত শক্তির যা কিছু প্রকাশ ঘটিয়েছে তা প্রত্যক্ষ করার দাবি জানাল।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ৫)
إلى الفعل ومن عالم المثال إلى عالم الأشكال.

ومن قبل تركيب الهوى كنت ساكناً … ولكنْ برغمي حرَّكتني العواملُ

وسلَّكني دهري على غيرِ منهجي … ألا في سبيل اللهِ ما الدهرُ فاعلُ

فامتطيت غارب الأمل إلى الغربة، وركبت مراكب المذلة والكربة، قاصداً استعتاب الدهر الكالح، واستعطاف الزمان الغشوم الجامح، اغتراراً بأن في الحركة بركة، وأن الاغتراب داعية الاكتساب.

على المرء أن يسعى لما فيه نفعُه … وليس عليه أن يساعده الدهرُ

فإن نال بالسعي المُنى تمَّ قصدُه … وإن خالف المقدور كان له عذرُ

وهيهات مع حرفة الأدب، بلوغ وطر أو إدراك أرب، أو مع عبوس الحظ، ابتسام الدهر الفظِّ.

فما كُلُّ غادٍ نحو قصدٍ ينالُه … ولا كلُّ من زار الحِمى سمع الندا

وكنتُ مهما وقفتُ عليه من خبر لطيفٍ سطرته، وأيَّما شعر ظريف ظفرت به قيَّدته وحبَّرته، حتى وجدتُ لديَّ جملةً من اللطائف والظرائف، قد جمعتها أيدي الأقلام، وأوقعتني عليها الأيام.

إنَّ الغريبَ إذا ما كان ذا قلمٍ … فليس سلوتُه إلا بقرطاسِ

فيهِ يُقيِّدُ ما يلقاه من نكتٍ … ومن ظرائفَ يُبديها من الراسِ

فخطر لي أن أجعلها رحلةً تعرب بحسن معانيها عن لطيف المعاني، وتفصح عن عذوبة السجع بما يفوق رنَّات المثاني، وأودعها ما أقف عليه في سفري من لطائف الأشعار، وغرائب النكت التي هي لدى طالبها غالية الأسعار، إلى غير ذلك من منثور ومنظوم، إلى حين قدومي من الروم. لتكون نزهةً لي ولأصحابي، وتحفة أخص بها خُلَّص أحبابي، بل عبرة لكلّ طامع في غير مطمع، بل عبرة تعبر عن مكتوم سر طالما تكلم وتوجع.

إن الفؤادَ إذا تكدّر لم يكنْ … يصفو بغير شكايةٍ وعتابِ

فإذا تحصل من ذلك ما تحصل، وصح ما دار وتسلسل، سميّتُه:
কর্মতৎপরতায় এবং আদর্শ জগত থেকে রূপের জগতে।

প্রবৃত্তি সংমিশ্রিত হওয়ার পূর্বে আমি স্থির ছিলাম … কিন্তু অনিচ্ছাসত্ত্বেও নানা ঘটনাপ্রবাহ আমাকে বিচলিত করেছে।

কাল আমাকে আমার নিয়মের বাইরের পথে চালিত করেছে … জেনে রেখো, মহাকালের যাবতীয় কর্মকাণ্ড আল্লাহরই ইচ্ছাধীন।

অতঃপর আমি প্রবাসের উদ্দেশ্যে আশার স্কন্ধে আরোহণ করলাম এবং লাঞ্ছনা ও বিপত্তির যানে সওয়ার হলাম। আমার উদ্দেশ্য ছিল বিমর্ষ কালের তুষ্টি অর্জন এবং উদ্ধত ও জুলুমবাজ সময়ের অনুগ্রহ লাভ। আমি এই ধারণায় প্রলুব্ধ হয়েছিলাম যে, গতিশীলতার মাঝেই বরকত নিহিত এবং প্রবাস হলো জ্ঞান ও সম্পদ অর্জনের উপায়।

মানুষের কর্তব্য হলো নিজের উপকারের জন্য চেষ্টা করা … আর কাল তাকে সাহায্য করবেই—এমন কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

যদি প্রচেষ্টার মাধ্যমে সে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায় তবে তার উদ্দেশ্য সফল হলো … আর যদি ভাগ্য বিরূপ হয় তবে তার পক্ষে ওজর থাকবে।

কিন্তু হায়! সাহিত্যচর্চার পেশার মাধ্যমে কোনো উদ্দেশ্য পূরণ বা লক্ষ্য অর্জন কতই না সুদূরপরাহত; অথবা মন্দভাগ্যের ভ্রুকুটির সামনে রূঢ় কালের মুচকি হাসির আশা করাও বৃথা।

লক্ষ্যের দিকে ধাবমান প্রত্যেকেই তা লাভ করতে পারে না … আর সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশকারী প্রত্যেকেই আহ্বান শুনতে পায় না।

আমি যখনই কোনো সূক্ষ্ম সংবাদের দেখা পেয়েছি তা লিপিবদ্ধ করেছি, এবং যে কোনো চমৎকার কবিতা পেয়েছি তা সংকলিত ও সুশোভিত করেছি। শেষ পর্যন্ত আমি আমার নিকট এমন অনেক সূক্ষ্ম ও কৌতুকপূর্ণ বিষয়ের এক ভাণ্ডার পেলাম যা কলমের হস্তসমূহ একত্রিত করেছে এবং দিনসমূহ আমাকে তার মুখোমুখি করেছে।

নিশ্চয়ই প্রবাসী যদি কলমের অধিকারী হয় … তবে কাগজ ভিন্ন তার কোনো সান্ত্বনা নেই।

তাতে সে লিপিবদ্ধ করে তার লব্ধ সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ … এবং নিজের মস্তিষ্ক থেকে উদ্ভূত নানা চমৎকার বিষয়।

তখন আমার মনে সংকল্প জাগল যে, একে একটি ভ্রমণকাহিনীতে রূপ দেব, যা তার চমৎকার অর্থের মাধ্যমে সূক্ষ্ম ভাব ফুটিয়ে তুলবে এবং ছান্দসিক গদ্যের এমন লালিত্য প্রকাশ করবে যা বাদ্যযন্ত্রের ঝংকারকেও হার মানাবে। এতে আমি আমার সফরে দেখা চমৎকার সব কবিতা এবং অদ্ভুত সব সূক্ষ্ম বিষয় গচ্ছিত রাখব যা অন্বেষণকারীর নিকট অত্যন্ত মূল্যবান। এছাড়া রুম থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত সংগৃহীত আরও অনেক গদ্য ও পদ্য এতে স্থান পাবে। যেন এটি আমার ও আমার বন্ধুদের জন্য চিত্তবিনোদনের উপকরণ হয় এবং আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের জন্য এক বিশেষ উপহার হয়; বরং এটি এমন প্রত্যেক লোভীর জন্য শিক্ষা হবে যে অলীক বস্তুর আশা করে, আর এটি হবে সেই লুকানো রহস্যের বহিঃপ্রকাশ যা দীর্ঘকাল ধরে অব্যক্ত থেকে ব্যথিত হয়েছে।

নিশ্চয়ই অন্তর যখন বিষাদগ্রস্ত হয়, তখন তা … অভিযোগ ও অনুযোগ ব্যতীত স্বচ্ছ হয় না।

অতঃপর যখন তা থেকে যা অর্জিত হওয়ার ছিল তা অর্জিত হলো এবং যা ধারাবাহিকভাবে আসার ছিল তা পূর্ণ হলো, আমি এর নাম রাখলাম:
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ৬)
رحلة الشتاء والصيف وناسبت فيها مناسبة خلت من الخلل والحيف، وما أشبهها بما قال:

رحلةٌ لم يزل يفنِّدني الصَّيْ … فُ إذا ما نويتُها والشتاءُ

يتَّقي حرّ وجهي الحرّ والبرْ … دُ وقد عزَّ من لظى الاتقاءُ

ضقتُ ذرعاً مما جنيت فيوميْ … قمطريرٌ وليلتي درعاءُ

كنتُ في نومةِ الشبابِ فما اِستيْ … قظتُ إلا ولِمّتي شمطاءُ

وإذ أذن فجرها بالصباح، وصاح مناديها بالفلاح، جعلتها خدمة لجناب من أناخت بِفِناه ركائب الأفاضل، ووضعتْ على عَليِّ أعتابه جباهها الأماثل.

حافظُ السُنَّة حفظاً لا ترى … معه أن تُعْمِلَ الناسُ الأسِنَّه

مَركز الدائرِ من أهلِ النُّهى … فإلى ما قد حوى تُثْنَى الأعِنَّه

كيف وهو المولى الذي ارتفع مقداره على فرق الفرقدين، وعلا مقامه على مقام النيّريْن، منهاج وصول الأحكام، معراج حصول المرام، مجموعة الكمالات النفسانية، خريدة السعادات الإنسانية، فاتحة إحياء علوم الدين، ومحكم خاتمة قلوب العارفين، شيخ الإسلام الذي إذا أفتى أفنى المهج وأحيا الأرواح، وإذا أفاد أجاد

وأظهر من الإحسان ما يروق في الغدو والرواح، وإذا فسَّر أحيا مآثر القاضي أو المفتي بحسن سيرته، وحلّ من المشكلات ما يعجز كلّ ماهر عن إبداء خفاياه وموضع نكته.

راضَ العلومَ فسلْه عن دقائِقها … فعنده للخفايا أيُّ إدراكِ

تذلَّلي يا فروع الفقه مثمرةً … لَهُ ليدنوَ منه حلوُ مجناكِ
শীত ও গ্রীষ্মের সফর এবং এতে আমি এমন সামঞ্জস্য বজায় রেখেছি যা ত্রুটি ও অবিচারমুক্ত, আর এটি তার (কবির) কথার সাথে কতটা সাদৃশ্যপূর্ণ:

এমন এক সফর, যখনই আমি এর সংকল্প করেছি, গ্রীষ্ম … ও শীত আমাকে তা থেকে বিরত রাখতে চেয়েছে।

আমার চেহারার উত্তাপ থেকে গ্রীষ্ম ও শীত … উভয়েই আত্মরক্ষা করে, অথচ সেই দহন থেকে আত্মরক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আমি যা অর্জন করেছি তাতে আমি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি, ফলে আমার দিনটি … অত্যন্ত কঠিন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং আমার রাতটিও দুঃসহ।

আমি যৌবনের তন্দ্রায় আচ্ছন্ন ছিলাম, যখনই … জাগ্রত হলাম দেখি আমার কেশরাশি শ্বেতশুভ্র হয়ে গেছে।

আর যখন এর প্রভাত ভোরের ঘোষণা দিল এবং এর আহ্বানকারী কল্যাণের তরে চিৎকার করল, তখন আমি একে সেই মহান সত্তার খিদমতে পেশ করলাম, যাঁর আঙিনায় গুণীজনদের সওয়ারি এসে থামে এবং যাঁর উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন চৌকাঠে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ তাঁদের ললাট অবনত করেন।

তিনি সুন্নাহর এমন এক হাফিজ (সংরক্ষক), যাঁর সংরক্ষণের পর … মানুষের জন্য বর্শা চালানোর আর কোনো প্রয়োজন তুমি দেখবে না।

তিনি প্রজ্ঞাবানদের বলয়ের কেন্দ্রবিন্দু, … আর তাঁর অর্জিত জ্ঞানের দিকেই ঘোড়ার লাগামগুলো ফিরিয়ে নেয়া হয়।

কেন নয়, অথচ তিনি এমন এক অভিভাবক যাঁর মর্যাদা উজ্জ্বল নক্ষত্রদ্বয়ের ঊর্ধ্বে উঠে গেছে এবং যাঁর অবস্থান সূর্য ও চন্দ্রের অবস্থানের ঊর্ধ্বে পৌঁছেছে। তিনি বিধিবিধান প্রাপ্তির পথ, লক্ষ্য অর্জনের সোপান, আত্মিক পূর্ণতার সমষ্টি, মানবিক সৌভাগ্যের মুক্তা, দ্বীনি ইলমের পুনর্জীবনের প্রারম্ভিকা এবং আরিফদের অন্তরের অকাট্য উপসংহার। তিনি শাইখুল ইসলাম, যিনি যখন ফতোয়া দেন তখন তা প্রাণ হরণ করে এবং আত্মাকে পুনর্জীবিত করে, আর যখন তিনি ফায়দা প্রদান করেন তখন তা সর্বোত্তম পন্থায় করেন।

এবং তিনি এমন অনুগ্রহ প্রকাশ করেছেন যা সকাল-সন্ধ্যায় মনোমুগ্ধকর হয়ে থাকে। আর যখন তিনি ব্যাখ্যা করেন, তখন তাঁর সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমে বিচারক বা মুফতির কীর্তিসমূহকে পুনর্জীবিত করেন এবং এমন সব সমস্যার সমাধান করেন যার গোপন রহস্য ও সূক্ষ্ম দিকগুলো উন্মোচন করতে প্রত্যেক দক্ষ ব্যক্তিও অক্ষম হয়ে পড়ে।

তিনি ইলমসমূহকে আয়ত্ত করেছেন, তাই তাঁকে এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো; … কেননা গোপন রহস্যের ব্যাপারে তাঁর রয়েছে অসামান্য উপলব্ধি।

হে ফিকহ শাস্ত্রের শাখাসমূহ! তোমরা ফলপ্রসূ হয়ে … তাঁর সামনে অবনত হও, যাতে তোমাদের মিষ্ট ফল তাঁর নিকটবর্তী হয়।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ৭)
في النَّظم والنثر ما زالت فصاحتُهُ … تقابلُ الدرَّ أسلاكاً بأَسلاكِ

وفاتحُ البابِ في فنِّ البيان فلا … يحتاجُ يوماً إلى مفتاحِ سكَّاكِ

هو سيدنا الذي لا زال مقدارهُ عليّاً، مولانا شيخ الإسلام يحيى بن زكريّا، مَتّع الله المسلمين بطول بقائه ودوام أيامه، وعطّر الأكوان من ذكره الشريف بمسك ختامه، ولا زالت ظلاله على الأيام ممدودة الرواق، وبدور سعادته وسيادته آمنة من الأفول والمحاق، ومناقبه الجميلة سائرة الأمثال في الآفاق.

ولا برحت تزداد عزاً ورفعةً … بمنصبه العالي صدور المجالسِ

فقد قال الإسكندر في حق الحكيم الأول لمَّا دوَّن الحكمة وزين ديباجتها بألقابه: من ذَكَرَني فيما يبقى فقد أبقاني أبداً.

ما تنسجُ الأيدي يبيد وإنَّما … يبقى لنا ما تنسجُ الأقلامُ

وعسى أن يلحظها حظ فتشرف بمطالعته، ويصلني دهري الخؤون من بعد مقاطعته، وإذا كان علو مقامه يمنع من ذلك، وما بي من القصور يقول لست هنالك:

إن الملوك وإن جلَّت مناصبُها … لها مع السُّوْقةِ الأسرارُ والسَّمَرُ

فقصة الأعرابي بإهداء قربة ماء إلى خليفة الزمان، وإهداء رجل جرادة إلى حضرة السيد سليمان، معلومة عند سمو شأنه، وعلو مكانه، ولقد قيل:

لو أنَّ كلَّ يسيرٍ رُدَّ محتقراً … لم يقبلِ اللهُ يوماً للورى عَملا

المرءُ يُهدي على مقدار طاقتِهِ … والنَّملُ يُعذرُ في القدرِ الذي حملا

على أن الهدية ما كانت أقل، فهي أجمل للأجل، كما أن العطية ما كانت أجلّ، فهي أفضل للأقل، وإن كنت في ذلك كمن أهدى الزهر إلى رياضه، والقطر إلى
কবিতা ও গদ্যে তাঁর বাগ্মিতা আজও অব্যাহত … যা মুক্তার মালার সাথে মালার ন্যায় পাল্লা দেয়।

তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের দ্বারের উন্মোচনকারী, তাই তাঁর … কোনোদিন সাক্কাকীর চাবির প্রয়োজন হয় না।

তিনি আমাদের সেই নেতা যাঁর মর্যাদা সর্বদা সুউচ্চ; আমাদের অভিভাবক শাইখুল ইসলাম ইয়াহইয়া বিন জাকারিয়া, আল্লাহ তাঁর দীর্ঘায়ু ও চিরস্থায়ী জীবনের মাধ্যমে মুসলমানদের উপকৃত করুন এবং তাঁর পবিত্র স্মৃতির সুগন্ধি দিয়ে মহাবিশ্বকে সুরভিত করুন। তাঁর ছায়া যেন মহাকালের ওপর সর্বদা প্রসারিত থাকে এবং তাঁর সৌভাগ্য ও নেতৃত্বের পূর্ণিমা যেন অস্ত যাওয়া ও ক্ষয় থেকে নিরাপদ থাকে; আর তাঁর সুন্দর গুণাবলি দিগন্তময় দৃষ্টান্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ুক।

তাঁর উচ্চ পদের কল্যাণে সভার মধ্যমণিগুলো … সর্বদা সম্মান ও উচ্চমর্যাদায় বৃদ্ধি পেতে থাকে।

সিকান্দার প্রথম মহাজ্ঞানীর হকের ব্যাপারে বলেছিলেন, যখন তিনি প্রজ্ঞা লিপিবদ্ধ করেছিলেন এবং তাঁর উপাধি দিয়ে এর ভূমিকা সুশোভিত করেছিলেন: যে আমাকে এমন বিষয়ের মধ্যে স্মরণ করল যা অবশিষ্ট থাকে, সে আমাকে চিরস্থায়ী করে রাখল।

হাত যা বুনে তা ধ্বংস হয়ে যায়, কিন্তু … কলম যা বুনে তা-ই আমাদের জন্য অবশিষ্ট থাকে।

আশা করা যায় যে, এটি সৌভাগ্যের নজরে পড়বে এবং তাঁর পাঠের মাধ্যমে ধন্য হবে; আর আমার এই বিশ্বাসঘাতক কাল বিচ্ছেদের পর পুনরায় আমার সাথে মিলিত হবে। যদিও তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা এতে বাধা দেয় এবং আমার অক্ষমতা বলে যে আমি সেই পর্যায়ের নই:

রাজাদের পদমর্যাদা যত সুউচ্চই হোক না কেন, … সাধারণ প্রজাদের সাথেও তাদের কিছু গোপন কথা ও নৈশকালীন আলাপচারিতা থাকে।

সুতরাং সময়ের খলীফাকে জনৈক গ্রাম্য মরুবাসীর এক মশক পানি উপহার দেওয়ার ঘটনা এবং হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের সমীপে এক ব্যক্তির একটি ফড়িং উপহার দেওয়ার কাহিনী তাঁর সুউচ্চ শান ও উচ্চ মর্যাদার কাছে সুপরিচিত। আর বলা হয়ে থাকে:

যদি তুচ্ছ জ্ঞান করে প্রতিটি সামান্য বিষয়কেই ফিরিয়ে দেওয়া হতো, … তবে আল্লাহ কোনোদিন সৃষ্টির কোনো আমলই কবুল করতেন না।

মানুষ তার সামর্থ্য অনুযায়ী উপহার দেয়, … আর পিঁপড়াকে তার বহনকৃত সামান্য বোঝার পরিমাণের জন্য ক্ষমা করা হয়।

উপহার যত সামান্যই হোক না কেন, মহান ব্যক্তিদের জন্য তা অধিক সুন্দর; যেমন দান যত বড় হয় তা ছোটদের জন্য তত উত্তম হয়। যদিও আমি এক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির মতো যে বাগানে ফুল উপহার দেয় অথবা বৃষ্টির ফোঁটাকে বৃষ্টির কাছে...
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ৮)
حياضه، ولنا القول وهو أدرى بفحواه، وأهدى فيه من القطاه، على أن الغرض من ذلك هو الالتجاء إلى ذلك الظل الظليل، من جَوْر الزمان الظلوم، وظلمة ليالي هذا الدهر الغشوم.

فاللَّيالي من الزمان حُبالى … مُثقلاتٌ تلدن كلَّ عجيبةْ

قال الإمام زين العابدين نفع الله به هَلَكَ من ليس له كريم يعضده، وضَلَّ من ليس له حكيم يرشده.

تعدو الأعادي على من لا خفيرَ له … وتتقي مربضَ المُستأسدِ الحامي

هذا والمرجو من فتوة من وقف على ذلك، ونظر رياض هذه المسالك، أن ينظر بعين الرضا إليها، ولا يتحامل لتفريط أو إفراط عليها، فإن السخط يقلب أعيان المحاسن بالقبايح، ويفتح أبواب السيئات والفضايح، وكان يقال: من رضي عن شيء تنعَّم به، ومن سخط على شيء تعذَّب به.

وعينُ الرضا عن كلّ عيب كليلةٌ … كما أن عينَ السُّخط تُبدي المساويا

يروى أن القاضي عبد الرحيم البيساني، كتب إلى العماد الأصفهاني، يعتذر عن كلام استدركه عليه: وقد وقع لي شيء ولا أدري أوقع لك مثله أم لا؟ وذلك أني رأيت أن لا يكتب إنسان كتاباً في يومه إلا قال في غدٍ لو كان غير هذا لكان أحسن،
তার প্রাঙ্গণসমূহ; আমাদের জন্য রয়েছে বক্তব্য, আর তিনি এর মর্মার্থ সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং এতে তিনি মরু-পাখির (কাতা) চেয়েও অধিক পথপ্রাপ্ত। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এই যালিম যামানার অবিচার এবং এই অত্যাচারী মহাকালের অন্ধকার রজনী থেকে সেই সুনিবিড় ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করা।

যামানার রাতগুলো গর্ভবতী … ভারাক্রান্ত, যা জন্ম দেয় প্রতিটি বিস্ময়ের

ইমাম যয়নুল আবেদীন (আল্লাহ তাঁর দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন) বলেছেন: ধ্বংস হয়ে গেছে সে ব্যক্তি যার কোনো মহানুভব সাহায্যকারী নেই, আর পথভ্রষ্ট হয়েছে সে ব্যক্তি যার কোনো প্রজ্ঞাবান পথপ্রদর্শক নেই।

শত্রুরা তাকেই আক্রমণ করে যার কোনো প্রহরী নেই … আর তারা সেই রক্ষক সিংহের আবাসস্থলকে ভয় করে চলে

আর যারা এই বিষয়ের ওপর অবগত হবেন এবং এই পথের উদ্যানসমূহ অবলোকন করবেন, তাদের উদারতার কাছে প্রত্যাশা এই যে, তারা যেন একে সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে দেখেন এবং কোনো প্রকার ত্রুটি বা আধিক্যের কারণে এর ওপর ক্ষুব্ধ না হন। কেননা অসন্তুষ্টি সুন্দরের স্বরূপকে কুৎসিতে পরিণত করে এবং মন্দ ও অপবাদের দ্বার উন্মোচন করে। প্রবাদে বলা হতো: যে ব্যক্তি কোনো কিছুতে সন্তুষ্ট থাকে সে তা দ্বারা নিআমত লাভ করে, আর যে ব্যক্তি কোনো কিছুর ওপর অসন্তুষ্ট হয় সে তা দ্বারা কষ্ট পায়।

সন্তুষ্টির চোখ প্রতিটি খুঁত দেখতে অক্ষম … ঠিক যেমন অসন্তুষ্টির চোখ দোষগুলোকেই প্রকাশ করে

বর্ণিত আছে যে, কাযী আব্দুর রহীম আল-বায়সানী, ইমাদ আল-আসফাহানীর নিকট তাঁর একটি বক্তব্যের ওপর সংশোধনী দেওয়ার ব্যাপারে ওযরখাহী করে লিখেছিলেন: আমার অন্তরে একটি কথা উদয় হয়েছে, জানি না আপনার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছে কি না? আর তা হলো, আমি দেখেছি যে কোনো মানুষই কোনো দিনে কোনো গ্রন্থ রচনা করে না, পরদিন সে তা দেখে এই কথা বলা ব্যতীত যে—যদি এটি এমন না হয়ে অন্যরকম হতো তবে আরও সুন্দর হতো।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ৯)
ولو زيد هذا المكان يستحسن، ولو قدّم هذا لكان أجمل، ولو ترك هذا لكان أفضل، وهذا من أعظم العبر، ودليل استيلاء النقص على جملة البشر.

ما خطَّ كفُّ امرئ شيئاً وراجعهُ … إلا وعَنَّ له تبديلُ ما فيهِ

وقال ذاك كذا أولى وذاك كذا … وإن يكن هكذا تسمو قوافيهِ

والله تعالى المسؤول، أن يهبَّ نسيمها بالقبول، وأن يُسهِّل لنا القدرة على الإتمام، ويجعل من مسك القبول حسن الختام.

ما زال هذا البَيْنُ يسقي كأسَه … من رقَّ من بين البريَّةِ طبعُهُ

والدَّهْرُ يقضي في الكِرَامِ بجوره … حتَّى خلا من كلِّ حُرٍّ ربعُهُ

هذه الرحلةُ التي قَدْ تسامتْ … وحوتْ نزهةَ الشِّتَا والصَّيْفِ

أوّلُ كأسٍ تجرعته من مرامر البين، فراق المنازل الحرمية الذي كاد يكون من سكرات الحين، بعد أن قضيت الحج ببيت الله الحرام، وتملّيت بالمآثر المحترمة الكرام، وذلك في سابع عشر محرم الحرام، افتتاح عام غلط من هجرة أشرف مرسل عدل وما قسط، صلوات الله عليه وعلى آله الميامين وعلى من قال آمين.

كان رحيلي عن طيبة عجباً … وحادثاً من حوادث الزمنْ

من قبل أن أعرض الفراق على … قلبي وأن أستعد للمِحنْ

فبرزت من المدينة الشريفة، والآثار الوريفة، بروز من ضل رشده، واحترق حشاه بفراقٍ قد بلغ أشدَّه.
যদি এই স্থানটি বৃদ্ধি করা হতো তবে তা প্রশংসনীয় হতো, যদি একে আগে আনা হতো তবে তা আরও সুন্দর হতো, আর যদি এটি বাদ দেওয়া হতো তবে তা আরও উত্তম হতো। এটি এক মহান শিক্ষা এবং মানবজাতির সামগ্রিক অপূর্ণতার প্রমাণ।

কোনো মানুষের হাত যখনই কিছু লিখেছে এবং তা পুনঃনিরীক্ষণ করেছে … তখনই তাতে কোনো কিছু পরিবর্তনের চিন্তা তার মনে উদয় হয়েছে।

আর সে বলেছে যে, ওটি এমন হলে বেশি সমীচীন হতো এবং এটি এমন হলে … এমনকি যদি তা এমন হতো তবে এর কাব্যিক ছন্দসমূহ আরও উচ্চমার্গের হতো।

আর মহান আল্লাহই সেই সত্তা যাঁর নিকট প্রার্থনা করা হয়, তিনি যেন এর ওপর কবুলিয়াতের সুবাতাস প্রবাহিত করেন এবং আমাদের জন্য এটি সম্পন্ন করার সামর্থ্য সহজ করে দেন, আর কবুলিয়াতের মৃগনাভির সুগন্ধির মাধ্যমে এর শুভ সমাপ্তি দান করেন।

এই বিচ্ছেদ সর্বদা তার পেয়ালা পান করিয়ে চলেছে … সৃষ্টির মাঝে যার স্বভাব-প্রকৃতি অত্যন্ত কোমল।

আর কালচক্র সম্মানিত ব্যক্তিদের ওপর তার অবিচার জারি রাখে … যতক্ষণ না প্রতিটি স্বাধীন ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বিচরণভূমি জনশূন্য হয়ে পড়ে।

এটি এমন এক সফর যা সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে … এবং শীত ও গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের আনন্দকে ধারণ করেছে।

বিচ্ছেদের তিক্ততা থেকে আমি প্রথম যে পেয়ালাটি পান করেছি, তা ছিল পবিত্র হারামের আবাসস্থলগুলোর বিচ্ছেদ যা প্রায় মৃত্যুর যন্ত্রণার মতো অনুভূত হচ্ছিল; আল্লাহর পবিত্র ঘরে হজ পালন সম্পন্ন করার এবং সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ নিদর্শনাবলি দ্বারা তৃপ্ত হওয়ার পর। আর তা ছিল হিজরি ১০৩৯ সনের সতেরোই মহররম মাসে, যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল, যিনি ন্যায়পরায়ণ ও ইনসাফকারী—তাঁর হিজরতের পর। আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর বরকতময় বংশধরদের ওপর এবং যে 'আমীন' বলে তার ওপর।

তাইবা (মদিনা) থেকে আমার প্রস্থান ছিল এক বিস্ময়কর বিষয় … এবং মহাকালের ঘটনাবলির মাঝে এক অভাবনীয় ঘটনা।

আমার হৃদয়ের নিকট বিচ্ছেদের প্রস্তাব পেশ করার আগে … এবং বিপদ-আপদের জন্য প্রস্তুত হওয়ার পূর্বেই তা ঘটে গেল।

অতঃপর আমি মদিনা শরিফ এবং এর সুশীতল ছায়াঘেরা নিদর্শনাবলি থেকে বের হলাম এমন একজনের মতো যে তার সঠিক পথ হারিয়ে ফেলেছে এবং বিচ্ছেদের দহনে যার কলিজা ভস্মীভূত হয়েছে, যে বিচ্ছেদ তার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ১০)
وفارقت حتى لا أراع من النوى … وإن غاب جيران عليّ كِرامُ

وقد جعلتُ نفسي على اليأسِ تنطوي … وعيني على هجرِ الصَديق تَنامُ

فواهاً لزمن الاجتماع ما كان أغضّه، وآهاً من انصداع الشمل فما أمضّه، فيا لتلك المنازل التي سمت أن تسامى، ويا لهاتيك المسامرة التي بها هواطل السرور تهامى.

فارقتها لا عن رضى، وهجرتها … لا عن قلى، ورحلت لا متخيرا

أسعى لرزقٍ في البلاد مشتتٍ … ومن العجائبِ أن يكون مقتّرا

وأصون وجه مدائحي متعففاً … وأكفُّ ذيل مطامعي متستّرا

لا عيشتي تصفو ولا رسم الهوى … يعفو، ولا جفني يصافحُه الكرى

فسرت مع بعض الإخوان، من ذوي المروءة والإحسان، صحبة الركب المصري، والعيون بالمدامع تذري، لبعاد تلك المنازل، وفراق هاتيك المناهل.

فمنّي إليها كلَ وقت تحية … وساكنها في كلِ آنٍ له السنا

ثم لم نزل سائرين في المنازل الحرمية الشريفة، والمناهل السعيدة المنيفة، والمقادير تقودنا كيف جرى القلم، وأنا المنقاد إلى حيث المشقة والألم.

أمامي من الحرمان جيشُ عرمرمٍ … ومنه ورائي جحفلٌ حين أركبُ

فلو تهتُ في البيداء والليل مسبلٌ … عليّ جناحيه لما لاحَ كوكبُ

 

ومازلنا كذلك نجوب الفيافي والمسالك، إلى أن وصلنا‌‌ ينبع النخل، وروينا من مياهه التي هي كمُجاج النحل، ولكن بعد أن تجرعنا المرامر، وكادت تنشق منا المرائر، مما قاسيناه في النقب من ضيق الطريق، وازدحم القطر الذي فرق بين الرفيق، إلى غير ذلك من الأوعار، ومصادمة الأحجار، في ليل مظلم، وهول مؤلم، ولسان الحال ينادي في تلك الشعوب والبوادي:

فاصبر لها غير محتال ولا ضجر … في حادث الدهر ما يغنى عن الحيل

 

ينبع النخل

(فائدة) يَنْبُع: بصيغة مضارع نبع الماء، إذا ظهر، من نواحي المدينة المنورة على
আমি বিচ্ছেদ বরণ করেছি যাতে বিরহের ভয়ে ভীত না হই … যদিও আমার সম্মানীয় প্রতিবেশীরা আজ অনুপস্থিত।

আমি আমার নফসকে নিরাশার চাদরে মুড়িয়ে নিয়েছি … আর বন্ধুর বিচ্ছেদে আমার চোখ ঘুমে বিভোর।

হায় মিলনের সেই সময়, কতই না সতেজ ও স্নিগ্ধ ছিল! আর আফসোস সেই বিচ্ছেদের জন্য, তা কতই না হৃদয়বিদারক! আহা সেই সব আবাসস্থল, যা শ্রেষ্ঠত্বে অনন্য ছিল; আর সেই সান্ধ্যকালীন আলাপচারিতা, যেখানে আনন্দের বারিধারা অঝোরে ঝরত।

আমি সন্তুষ্টচিত্তে সেগুলো ত্যাগ করিনি, আর ঘৃণাবশতও সেগুলো ছেড়ে আসিনি … আমি কোনো ইচ্ছা ছাড়াই সফর করেছি।

আমি দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে থাকা রিজিকের সন্ধানে ছুটছি … আর আশ্চর্যের বিষয় হলো সেই রিজিক অত্যন্ত যৎসামান্য।

আমি আত্মমর্যাদার সাথে আমার প্রশংসাবাক্যকে রক্ষা করি … আর প্রচ্ছন্নভাবে আমার লালসার আঁচল গুটিয়ে রাখি।

আমার জীবন স্বচ্ছ ও সাবলীল নয়, আর ভালোবাসার স্মৃতিও মুছে যায় না … এমনকি আমার চোখের পাতাও ঘুমের দেখা পায় না।

আমি কিছু মহানুভব ও সদাশয় ভাইয়ের সাথে মিশরীয় কাফেলার সঙ্গী হয়ে পথ চললাম, অথচ সেই আবাসস্থলের দূরত্ব এবং সেই সুপেয় জলাধারগুলোর বিরহে চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল।

প্রতিক্ষণ আমার পক্ষ থেকে তার প্রতি অভিবাদন … আর সেখানে বসবাসকারীরা সর্বদাই জ্যোতির্ময় প্রভায় উদ্ভাসিত।

অতঃপর আমরা হারামের সম্মানিত মনজিলসমূহ এবং বরকতময় উচ্চমার্গীয় জলাধারগুলোর মধ্য দিয়ে চলতে থাকলাম। ভাগ্যলিপি যেভাবে কলম দ্বারা রচিত হয়েছে, তাকদির আমাদের সেভাবেই চালিত করছিল; আর আমি সেই কষ্ট ও যন্ত্রণার পথে চালিত হচ্ছিলাম।

আমার সামনে বঞ্চনার এক বিশাল বাহিনী … আর যখন আমি সওয়ার হই, তখনও আমার পেছনে এক বিশাল সেনাদল।

যদি আমি মরুপ্রান্তরে পথ হারিয়ে ফেলি আর রাত তার ডানা মেলে দেয় … তবে আমার জন্য কোনো নক্ষত্রই উদিত হবে না।

 

এভাবেই আমরা প্রান্তর ও পথসমূহ পাড়ি দিতে থাকলাম, যতক্ষণ না আমরা ইয়ানবু আন-নাখল-এ পৌঁছলাম। সেখানে আমরা এর পানি পান করে তৃপ্ত হলাম যা ছিল মধুর নির্যাস সদৃশ। কিন্তু তা সম্ভব হয়েছে অনেক তিক্ততা সহ্য করার পর। গিরিপথের সংকীর্ণতায় আমাদের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছিল। কাফেলার ভিড়ে সঙ্গীরা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া ছিল দুর্গম পথ, পাথরের সাথে সংঘাত, অন্ধকার রাত এবং যন্ত্রণাদায়ক আতঙ্ক। সেই জনপদ ও মরুভূমিতে সমসাময়িক অবস্থা যেন চিৎকার করে বলছিল:

সুতরাং কোনো ফন্দি-ফিকির বা বিরক্তি ছাড়াই ধৈর্য ধারণ করো … কারণ কালের আবর্তে যা ঘটে, তাতে কোনো কৌশলী ফন্দি কাজে আসে না।

 

ইয়ানবু আন-নাখল

(টিকা) ইয়ানবু: এটি 'নাবাআ' (পানি নির্গত হওয়া) ক্রিয়ার বর্তমানকালীন রূপ। যখন পানি মাটি থেকে দৃশ্যমান হয় তখন এই শব্দ ব্যবহৃত হয়। এটি মদিনা মুনাওয়ারার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা...
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ১১)
أربعة أيام منها، سميت بذلك لكثرة ينابيعها وعدتها مائة وسبعون عيناً، ولمّا نظر إلى جبالها أمير المؤمنين علي بن أبي طالب كرم الله وجهه قال: لقد وضعت على نقب من الماء عظيم. وأقطعه النبي صلى الله عليه وسلم العشيرة من الينبع، ثم اشترى قطعة أخرى، وكانت بها أمواله عيوناً تصدق بها. ومن محاسن الفيومي:

إن كان قد قضي الفراق وصدّني … عنكم حجاز من نوى لا يرفعُ

فأنا الذي دمعي العقيق وناظري … يا بدر بعد البعد عنكم ينبعُ

والنقب مضيق كثير الأوعار، يسلكه الركب المصري في أيامه، وهو على نصف مرحلة من خيف بني عمرو، وهذا الخيف يشتمل على عيون جارية، ونخيل باسقة، ومنازل عامرة بسكانها. (ولنرجع إلى ما كنا بصدده) فأقمنا بينبع المحروسة، ومرابعها البهية المأنوسة، ثلاثة أيام، نهارنا تحت ظل النخيل، وليلنا في مسامرة الصديق والخليل، وكان ذلك آخر عهدي بالمنازل التي بها كلّ قصدي.

وكان أول عهد العينِ منذ نأت … بالدمعِ آخر عهدِ القلبِ بالجَلَد

ولما كان وقت العصر من اليوم الثالث، الذي هو آخر العهد بأيام الثالث، وأوله بالليالي العوابث، زعق نفير الحاج، وأخذ الركب في الحركة والهياج، فلحق العشاق من ألم النوى لمفارقة الحجاز، ما أجرى دمعهم رملاً على ذلك الصعيد الطيب، وأخرجهم من الحقيقة إلى المجاز، ثم في أقل من نظر محب إلى حبيبه، أو شكوى عليل إلى طبيبه، حَمّل الركب وسار، ولم يبق له أثر في الدار.

كأنَّما حجلٌ كانت بسفح ربى … فرّت كأنَّهم بالسفحِ ما كانوا

فارتحلنا في تلك الساعة البهية، متوجهين إلى نحو الديار المصرية، فقاسينا في السفر ما لا يطاق، واحتملنا من نخع النعم ما لزورته حمل المشتاق:
সেখান থেকে চার দিনের পথ, প্রচুর ঝর্ণা থাকার কারণে এর এই নামকরণ করা হয়েছে এবং এর সংখ্যা একশত সত্তরটি ঝর্ণা। যখন আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন) এর পাহাড়গুলোর দিকে তাকালেন, তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এটি পানির এক বিশাল আধারের ওপর স্থাপিত হয়েছে।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে ইয়ানবু-এর 'আশিরা' নামক ভূখণ্ডটি জায়গীর হিসেবে প্রদান করেছিলেন, এরপর তিনি আরও একটি অংশ ক্রয় করেন এবং সেখানে তাঁর সম্পদ ছিল বিভিন্ন ঝর্ণা, যা তিনি সদকা করে দিয়েছিলেন। আল-ফাইয়ুমীর চমৎকার কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

যদি বিচ্ছেদ নির্ধারিত হয়ে থাকে এবং দূরত্বের কোনো বাধা আমাকে আপনাদের থেকে দূরে সরিয়ে দেয় যা অপসারিত হওয়ার নয় …

তবে আমি সেই ব্যক্তি যার অশ্রু রক্তিম আকীক পাথরের মতো এবং হে পূর্ণিমা! আপনাদের থেকে দূরে যাওয়ার পর আমার চোখ থেকে অশ্রু ঝর্ণার মতো নির্গত হচ্ছে। …

আর 'নাক্বাব' হলো অনেক বন্ধুরতাপূর্ণ একটি সংকীর্ণ পথ, যা মিশরীয় কাফেলা তাদের সফরের দিনগুলোতে অতিক্রম করে। এটি বনু আমরের 'খাইফ' থেকে অর্ধেক মানজিল দূরে অবস্থিত। এই খাইফ এলাকাটি বহমান ঝর্ণা, সুউচ্চ খেজুর গাছ এবং জনাকীর্ণ ঘরবাড়ির সমন্বয়ে গঠিত। (আমরা যে প্রসঙ্গে ছিলাম সেখানে ফিরে আসি) আমরা সুরক্ষিত ইয়ানবু এবং এর মনোমুগ্ধকর সুশোভিত চারণভূমিতে তিন দিন অবস্থান করলাম; আমাদের দিন কাটত খেজুর গাছের ছায়ায় এবং রাত কাটত বন্ধু ও সুহৃদদের সাথে গল্পগুজবে। এটিই ছিল সেই সকল আবাসের সাথে আমার শেষ সাক্ষাৎ, যা ছিল আমার সমস্ত আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।

যখন থেকে বিচ্ছেদ ঘটল, চোখের প্রথম অবস্থা ছিল অশ্রুসিক্ত হওয়া, আর হৃদয়ের শেষ অবস্থা ছিল ধৈর্য হারানো। …

যখন তৃতীয় দিনের আসরের সময় হলো—যা ছিল ভ্রমণের দিনগুলোর সমাপ্তি এবং কঠিন রাতগুলোর শুরু—তখন হাজীদের যাত্রার সঙ্কেত বেজে উঠল। কাফেলা চঞ্চল ও অস্থির হয়ে যাত্রা শুরু করল। হিজাজের বিচ্ছেদে বিরহকাতর প্রেমিকদের মনে দূরত্বের যে তীব্র বেদনা অনুভূত হলো, তা তাদের অশ্রুকে সেই পবিত্র ভূমির ধুলিকণায় প্রবাহিত করল এবং তাদেরকে বাস্তবতা থেকে রূপক জগতে নিয়ে গেল। অতঃপর, প্রেমিকের প্রতি প্রেমাস্পদের এক পলক চাহনির চেয়েও কম সময়ে, কিংবা চিকিৎসকের কাছে রোগীর অভিযোগের চেয়েও দ্রুত সময়ে, কাফেলা বোঝা চাপিয়ে চলতে শুরু করল এবং সেই স্থানে তাদের আর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট রইল না।

যেন তারা ছিল টিলার পাদদেশে থাকা তিতির পাখি, যা উড়ে চলে গেল; যেন তারা কখনোই সেই পাহাড়ের পাদদেশে ছিল না। …

আমরা সেই মনোরম মুহূর্তে যাত্রা শুরু করলাম, মিশরের ভূখণ্ডের দিকে অগ্রসর হয়ে। আমরা সফরে অসহনীয় কষ্ট সহ্য করলাম এবং দীর্ঘ পথ চলায় উটের ক্লান্তিকর যাত্রার সেই ভার সইলাম যা একজন ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষী তার সাক্ষাতের জন্য সয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ১২)
ولما تناءت بالأحبةِ دارهم … وصرنا جميعاً من عيانٍ إلى وهمِ

تمكّن مني الشوق غير مُسامحٍ … كمعتزليٍّ قد تمكن من خصمِ

ثم تمادى بنا السفر من بعد العصر إلى أن أسفر الفجر، ورقَّ جلد ما معنا من الدواب، وتفرق شمل رفاقنا بين تلك الروابي والشعاب، ثم أنخنا الركاب، بقفر خلا من المياه والأعشاب، فقِلْنا به ذلك اليوم، وقُلنا نأخذ فيه راحة ما بالنوم، ومن أين يجد الخاطر به القرار، وهو المعروف بوادي النار.

ما طاب عيشي بروضٍ زاهرٍ خضرٍ … حتى يبيتَ بقفرٍ لا نباتَ به

 

‌‌وادي نبط

ولما هبت الطوارف، نفر الركب متطايراً كالوجل الخائف، فاقتحمنا تلك القفار، وانطوى بنا في السير الليل والنهار، حتى أسفر الفجر ولاح، وتشعشع بضيائه الصباح، فأنخنا بوادٍ يقال له نبط، خال من الأثل والخمط.

 

‌‌فائدة

في كتاب برهان الإعجاز في منازل الحجاز: نَبْط بفتح النون وسكون الموحدة مفازة عرضها الميل وطولها سو، وهي شرقي الجنوب، بها الآبار عذبة المياه، وفيها يقول أبو عبد الله الفيومي:

روِّ من نبط لهيبي … واسقنا ثم توجه
যখন প্রিয়জনদের আবাস দূরে চলে গেল … আর আমরা সবাই চাক্ষুষ বাস্তবতা থেকে কল্পনায় বিলীন হলাম।

আকুল আকাঙ্ক্ষা আমাকে অদম্যভাবে গ্রাস করল … যেন এক মুতাজিলি তার প্রতিপক্ষের ওপর জয়লাভ করেছে।

তারপর আসরের পর থেকে ফজর পর্যন্ত আমাদের সফর দীর্ঘায়িত হলো, আমাদের সঙ্গে থাকা পশুপাল ক্লান্ত ও কৃশ হয়ে পড়ল, আর সেইসব টিলা ও গিরিপথের মাঝে আমাদের সঙ্গীদের দল ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। অতঃপর আমরা পানি ও ঘাসহীন এক জনমানবহীন প্রান্তরে উট থামালাম এবং সেই দিন সেখানে দ্বিপ্রাহরিক বিশ্রাম নিলাম। আমরা ভাবলাম ঘুমের মাধ্যমে কিছুটা আরাম পাব, কিন্তু মন সেখানে স্থিরতা পাবে কোথায়, যা ‘ওয়াদিউন নার’ (অগ্নি উপত্যকা) নামে পরিচিত?

পুষ্পিত সবুজ বাগানে আমার জীবন সুখকর হয়নি … যতক্ষণ না তা উদ্ভিদহীন এক ধূসর মরুপ্রান্তরে রাত যাপন করেছে।

 

‌‌ওয়াদি নাবাত

যখন সকালের ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করল, কাফেলা ভীতসন্ত্রস্ত লোকের মতো দ্রুত বেগে ছুটল। ফলে আমরা সেই মরুপথ পাড়ি দিলাম এবং আমাদের পথচলায় দিন ও রাত বিলীন হয়ে গেল, যতক্ষণ না ফজর উদিত ও দৃশ্যমান হলো এবং সকাল তার আলোয় উদ্ভাসিত হলো। অতঃপর আমরা ‘নাবাত’ নামক এক উপত্যকায় যাত্রা বিরতি করলাম, যা ঝাউ গাছ এবং তেতো ফলদায়ক গাছশূন্য ছিল।

 

‌‌বিশেষ জ্ঞাতব্য

‘বুরহানুল ইজায ফি মানাজিলিল হিজায’ গ্রন্থে রয়েছে: ‘নাবাত’ (নুন অক্ষরে ফাতহা এবং দ্বিতীয় অক্ষরে সুকুন যোগে) হলো এমন একটি মরুপ্রান্তর যার প্রস্থ এক মাইল এবং দৈর্ঘ্য ‘সু’ পরিমাণ। এটি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত, যেখানে মিষ্টি পানির কূপ রয়েছে। এই সম্পর্কে আবু আব্দুল্লাহ আল-ফাইয়ুমি বলেন:

নাবাত থেকে আমার তৃষ্ণা মিটিয়ে দাও … আমাদের পান করাও, তারপর অগ্রসর হও।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ودع الحورا فإني … صرت أشنأها وأكره

 

‌‌الحوراء

ثم لم نزل كذلك، نقطع هاتيك المسالك، غوراً ونجداً، ومفازة ووِرْداً، حتى أنخنا بالحوراء، وهي ساحل خليج القلزم، المعروف ببحر السويس، ومبدؤه من باب المندب إلى أن يتصل بالبحر الهندي، وطوله ألف وأربعمائة ميل كما في الخريدة، وفي الخطط ألف وخمسمائة ميل، وعرضه من أربعمائة إلى ما دونها، وهو بحر كريه المنظر والرائحة، وفيه مصب الدجلة والفرات، وعلى جوانبه السند واليمن، كأنَّها جزيرة أحاط بها الماء من جهاتها الثلاثة، وهو يروع نهر مهران كروع البحر الرومي نهر النيل، وسمي القلزم باسم مدينة كانت بساحله الغربي بشرقي مصر، ويعرف موضعها اليوم بالسويس.

والقُلْزُم بضم القاف وسكون اللام وضم الزايّ، وكانت فرضة مصر والشام، ومنها يحمل إلى الحجاز واليمن، وهذا البحر إنَّما هو خليج يخرج من المحيط، ويعرف ببحر الظلمات لتكاثف البخار الصاعد وضعف الشمس عن حله، ولم يوقف من خبره الأعلى ما عرف من بعض سواحله، وما قرب من جزائره طال الكلام، وخرج عن سلك النظام:

ولربما ساق المحدّث بعض ما … ليس النديم إليه بالمحتاج
হাওরাকে বিদায় দাও, কারণ আমি … একে ঘৃণা ও অপছন্দ করতে শুরু করেছি।

 

‌আল-হাওরা

অতঃপর আমরা একইভাবে চলতে থাকলাম, সেই সকল পথ অতিক্রম করতে লাগলাম—নিচু ভূমি ও উচ্চ ভূমি, মরুপ্রান্তর ও জলাধার—যতক্ষণ না আমরা আল-হাওরাতে যাত্রাবিরতি করলাম। এটি কুলজুম উপসাগরের উপকূল, যা সুয়েজ সাগর নামে পরিচিত। এর শুরু বাব আল-মান্দাব থেকে ভারত মহাসাগরের সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত। 'আল-খারীদা' গ্রন্থে এর দৈর্ঘ্য চৌদ্দশ মাইল এবং 'আল-খিতাত' গ্রন্থে পনেরশ মাইল বর্ণিত হয়েছে। এর প্রস্থ চারশ মাইল থেকে তারও কম। এটি দেখতে ও গন্ধে অপ্রীতিকর একটি সাগর। এতে দজলা ও ফুরাত নদীর মোহনা রয়েছে। এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সিন্ধু ও ইয়ামান অবস্থিত, যেন এটি একটি দ্বীপ যা তিন দিক থেকে পানি দ্বারা বেষ্টিত। এটি মেহরান নদীকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যেমন রোমান সাগর নীল নদকে করে। মিসরের পূর্ব দিকে এর পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত একটি শহরের নামানুসারে একে কুলজুম বলা হয়, যার বর্তমান অবস্থান সুয়েজ নামে পরিচিত।

আর কুলজুম শব্দটি ক্বাফ বর্ণে পেশ, লাম বর্ণে সুকুন এবং যা বর্ণে পেশ সহযোগে উচ্চারিত। এটি মিসর ও সিরিয়ার বন্দর ছিল এবং এখান থেকে হিজাজ ও ইয়ামানে পণ্য বহন করা হতো। এই সাগরটি মূলত মহাসাগর থেকে নির্গত একটি উপসাগর। ঊর্ধ্বগামী বাষ্পের ঘনত্ব এবং তা নিরসনে সূর্যের দুর্বলতার কারণে একে 'অন্ধকার সাগর' বলা হয়। এর উপকূল এবং নিকটবর্তী দ্বীপপুঞ্জ সম্পর্কে যা জানা গেছে, তার বাইরে এর দূরবর্তী সংবাদ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে গেছে এবং তা সুশৃঙ্খল ধারার বাইরে চলে গেছে:

হয়তো বর্ণনাকারী এমন কিছু বর্ণনা করেন … যার কোনো প্রয়োজন সহচরের নেই।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وبالجملة فإن الحديث شجون، والجنون فنون، والأمر كما قال، في تأليف القيل

والقال:

لو لم أقل هذا وهذا وذا … بأي شيء كنت أملي الكتاب؟

والحوراء هذه تشتمل على أشجار ملتفة وبها شجر الأراك، وأطيار متنوعة، إلا أن ماءه في غاية الكدورة، مفرط في الإسهال، وقلت لما ذكرت بها فضيلة العين الزرقاء:

قد أتينا الحوراء في يوم حرٍ … شمسه كالعقيقةِ الحمراء

وشربنا مياهه وحمدنا … إذ عرفنا فضيلة الزرقاء

ويعجبني قول القائل:

مدينةُ خير الخلق تحلو لناظري … فلا تعذلوني إن فُتنتُ بها عشقا

يقولون في زرق العيون شآمة … وعندي أنَّ اليُمْن في عينها الزَرْقا

 

‌‌فائدة

العين الزرقاء منسوبة إلى الأزرق، مروان بن الحكم، لأنَّه أجراها وهو والٍ على المدينة المنورة، وأصلها من غربي مسجد قبا، تجري إلى المصلى، وعليها قبة، الماء منها في وجهين شرقي وشمالي، كذا قيل. ولعل الزرقاء صفة للعين لأن جميع مياه ذلك الوادي تُرى كالنيل الأزرق، ولأنّ ذلك الماء قبل مروان وآبائه، وكانت بالمدينة عيون متنوعة متعددة وقد صارت في خبر كان، إلا أن ذيولها وآثارها تشهد لها، قيل: وكان يُجذّ بالمدينة وأعراصها مائة وخمسون ألف وسق بعير من التمر، ويحصد مائة ألف وسق من الحنطة. ويروى أن بالمدينة من عيون النبع غير الجارية ستة عشر ألف ساقية.

(حكى) السمهودي في الخلاصة أنه لما قدم المدينة تتبع إحصاءها فكانت كذلك، وهذه الخلاصة من أحسن تواريخ المدينة الشريفة، وأنشدني في ذلك إجازة لنفسه الشيخ إبراهيم أبو الحرم:
মোটের ওপর কথা অনেক শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট, আর উম্মাদনার রয়েছে নানা ধরণ; বিষয়টি তেমনই যেমনটি বলা হয়েছে আজেবাজে কথা সংকলন করার ক্ষেত্রে:

আমি যদি এই, ওই এবং সেটা না বলতাম … তবে কী দিয়ে আমি কিতাবটি পূর্ণ করতাম?

আর এই আল-হাওরা এলাকাটি ঘন গাছে ঘেরা, যাতে রয়েছে পীত গাছ (আরাক) এবং বিবিধ পাখি। তবে এর পানি অত্যন্ত ঘোলাটে এবং তা অতিশয় বিরেচক। আমি যখন সেখানে নীল ঝর্ণার (আইন আজ-জারকা) শ্রেষ্ঠত্ব স্মরণ করলাম তখন বললাম:

আমরা এক উত্তপ্ত দিনে আল-হাওরাতে এসেছি … যার সূর্য ছিল লাল আকিকের ন্যায়

আমরা তার পানি পান করলাম এবং আল্লাহর প্রশংসা করলাম … যখন আমরা নীল ঝর্ণার শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করলাম

জনৈক ব্যক্তির এই উক্তিটি আমার বেশ পছন্দ হয়:

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম মানবের শহর আমার দৃষ্টিতে অতি প্রিয় … তাই ভালোবাসায় আমি বিভোর হয়ে গেলে আমাকে তিরস্কার করো না

লোকে বলে নীল চোখের মাঝে রয়েছে অমঙ্গল … কিন্তু আমার নিকট তো তার নীল ঝর্ণার মাঝেই রয়েছে কল্যাণ

 

‌উপকারিতা

নীল ঝর্ণা বা 'আইন আজ-জারকা' নীল অর্থাৎ মারওয়ান ইবনুল হাকামের দিকে সম্বন্ধিত, কেননা তিনি মদিনা মুনাওয়ারার গভর্নর থাকাকালে এটি প্রবাহিত করেছিলেন। এর উৎস কুবা মসজিদের পশ্চিম দিকে, যা ঈদগাহ (মুসাল্লা) পর্যন্ত প্রবাহিত হয় এবং এর ওপর একটি গম্বুজ রয়েছে; এমনটিই বলা হয়েছে। সম্ভবত 'জারকা' বা নীল এই ঝর্ণার একটি বিশেষণ, কারণ সেই উপত্যকার সমস্ত পানিই নীল নদের মতো দেখায়। আর এই পানির অস্তিত্ব মারওয়ান ও তার পূর্বপুরুষদের সময়েরও আগে থেকে ছিল। মদিনায় বিভিন্ন ও বহুসংখ্যক ঝর্ণা ছিল যা এখন বিলীন হয়ে গেছে, তবে সেগুলোর অবশিষ্টাংশ ও চিহ্নসমূহ এর সাক্ষ্য দেয়। বলা হয় যে, মদিনা ও এর আঙিনাসমূহ থেকে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার 'ওয়াসাক' (উটবোঝাই পরিমাণ) খেজুর সংগৃহীত হতো এবং এক লক্ষ 'ওয়াসাক' গম কাটা হতো। বর্ণিত আছে যে, মদিনায় বহমান নয় এমন ঝর্ণার উৎস থেকে নির্গত ষোল হাজার সেচনালা ছিল।

(বর্ণনা করেছেন) সামহুদী তার 'আল-খুলাসা' গ্রন্থে যে, তিনি যখন মদিনায় আসলেন তখন এর পরিসংখ্যান অনুসন্ধান করে সেগুলোকে এমনই পেয়েছিলেন। এই 'আল-খুলাসা' গ্রন্থটি মদিনা শরীফের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইতিহাস গ্রন্থ। এ বিষয়ে শাইখ ইবরাহীম আবু আল-হারাম স্বরচিত পঙ্ক্তি আমাকে পড়ার অনুমতিসহ পাঠ করে শুনিয়েছেন:
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ১৫)
من رام يستقصي معالمَ طيبة … ويشاهدُ المعدومَ كالموجودِ

فعليه باستيفاء تاريخِ الوفا … تأليف عالمِ طيبةَ السمهودي

يقول أبو عبد الله الفيومي المكي:

إني إذا نَزَحتْ ديارُ المصطفى … وازداد شوقي نحوها وحنيني

طالعت في تاريخه السامي لكي … أمشي على آثارهِ بعيوني

وبالجملة فإن في التاريخ مشاهدة ما، فهو كما قيل:

أملياني حديثَ من سكنَ الجز … ع ولا تكتباه إلا بِدمعي

فاتني أن أرى الديارَ بطرفي … فلعلي أرى الدّيارَ بِسمعي

وما أطيب قول النيسابوري:

يا عينُ إنْ بَعُدَ الحبيبُ ودارهُ … ونأت مرابِعُهُ وشطَّ مزارهُ

فلقد ظفرتِ من الحبيبِ بطائل … إن لم تريه فهذهِ آثارهُ

عوداً إلى ما كنا بصدده، وانعطافاً على ما يستعان بمدده، فأقمنا بها يومين لما قاسته الرحال والرجال، ولم تكن دار إقامة.

 

‌‌أكْرَه

 

ثم ارتحلنا قاصدين أكره، متأملين بعين الفكرة، ناظرين إلى الأنفس والآفاق، وما فيها من سرّ تدبير الخلاق، حتى وصلنا إليها، لا أعادنا الله عليها، وأكره بوزن جمرة، مسيل قفر، وماؤه مرٌّ زعاف لا تقبل عليه النفس إلا بالكره، وقد توجد بتلاعه ديم.

وفي البرهان: أكرا بألف مفردة من أعمال الحوراء، وبينهما منزل للركب يعرف بـ الحُرَيْرَة مصغر الحرة، وهي منتهى أحكام الحجاز الشريف.

ثم ارتحلنا سائرين في بوادٍ وقفار، ومفاوز وحِرار، إلى أن واجهنا الوجه
যে ব্যক্তি তাইবার নিদর্শনসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অন্বেষণ করতে চায় … এবং অনুপস্থিতকে উপস্থিতের ন্যায় দেখতে চায়

তবে তার উচিত পূর্ণাঙ্গভাবে ‘তারীখুল ওয়াফা’ পাঠ করা … যা তাইবার আলেম সামহুদীর রচনা

আবু আব্দুল্লাহ আল-ফাইয়ুমি আল-মাক্কি বলেন:

আমি যখন মুস্তফার আবাসভূমি থেকে দূরে চলে যাই … এবং সেটির প্রতি আমার ব্যাকুলতা ও অনুরাগ বৃদ্ধি পায়

তখন আমি তার সুমহান ইতিহাস পাঠ করি যাতে … আমার চোখের সাহায্যে তাঁর স্মৃতিচিহ্নের ওপর দিয়ে চলতে পারি

সারকথা হলো, ইতিহাসের পাতায় এক প্রকার চাক্ষুষ দর্শনের অনুভূতি রয়েছে, যেমনটি বলা হয়েছে:

আমাকে আল-জায্-এ বসবাসকারীদের কাহিনী শোনাও … আর তা কেবল আমার অশ্রু দিয়েই লিখো

চক্ষু দিয়ে সেই আবাসভূমি দেখার সুযোগ আমি হারিয়েছি … তাই সম্ভবত শ্রবণের মাধ্যমেই আমি সেই আবাসভূমি প্রত্যক্ষ করব

নাইসাবুরীর এই উক্তিটি কতই না চমৎকার:

হে চক্ষু! যদি প্রিয়তম ও তাঁর গৃহ দূরে চলে যায় … আর তাঁর চারণভূমি ও যিয়ারতের স্থান সুদূরপ্রসারী হয়

তবে তুমি প্রিয়তমের নিকট হতে এক মহা সম্পদ লাভ করেছ … যদি তুমি তাঁকে দেখতে নাও পাও, তবে এই তো তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতিচিহ্ন

আমরা আমাদের পূর্বালোচিত বিষয়ে ফিরে আসছি এবং যার সাহায্যে সাহায্য প্রার্থনা করা হয় সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছি। সওয়ারি এবং মানুষ যে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিল, তার কারণে আমরা সেখানে দুই দিন অবস্থান করলাম, যদিও তা স্থায়ী বসবাসের স্থান ছিল না।

 

‌‌আকরাহ

 

অতঃপর আমরা আকরাহ অভিমুখে রওয়ানা হলাম, চিন্তাশীল দৃষ্টিতে অনুধাবন করতে লাগলাম এবং মানুষ ও দিগন্তের দিকে তাকিয়ে তাতে মহাপ্রভুর পরিচালনার যে নিগূঢ় রহস্য রয়েছে তা নিয়ে ভাবলাম। অবশেষে আমরা সেখানে পৌঁছলাম—আল্লাহ যেন আমাদের আর সেখানে না ফেরান। ‘আকরাহ’ শব্দটি ‘জামরাহ’-এর ওজনে, এটি একটি জনমানবহীন নির্জন উপত্যকা। এর পানি তীব্র তিক্ত ও বিষতুল্য, যা মন কেবল অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে গ্রহণ করে। তবে এর গিরিপথগুলোতে মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আল-বুরহান গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: আকরা শব্দটি শেষে একক আলিফ যোগে, এটি আল-হাওরার অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল। এই দুইয়ের মাঝে কাফেলার বিরতির একটি স্থান রয়েছে যা ‘আল-হুরায়রা’ নামে পরিচিত (যা হাররাহ শব্দের ক্ষুদ্র রূপ), এবং এটিই হলো শরীফ হিজাজের বিচারিক সীমানার শেষ প্রান্ত।

অতঃপর আমরা মরুভূমি, বিরাণ প্রান্তর, বন্ধুর পথ এবং পাথুরে ভূমির মধ্য দিয়ে পথ চলতে লাগলাম, যতক্ষণ না আমরা আল-ওয়াজহ্-এর মুখোমুখি হলাম।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ১৬)
المبارك بعون الله تعالى وتبارك، ولاقينا فيه الأزالمة بالمبرات، واتصلت بنا أخبار مصر

بالمسرات، ويباع فيه العليق بأقل من سعره في مصر، والوجه هذا شِعْبٌ فيه قلعة لطيفة فيها بئر وخارجها بئران، وكلها مطوية وماؤها من السيول، وربما لا يوجد بها أيام المحل، وهي منتهى أحكام مصر، وسمي بذلك لأن به تكون مواجهة الركب وكانت أوّلاً بالأزلم.

أنشد الحافظ ابن حجر العسقلاني وقد مرّ به فوجده متسنياً:

أتينا إلى الوجهِ المُرجّى نواله … فشحّ ولم يسمح بطيب نداهُ

وأسفر عن وجهِ وما فيه من حيا … فقلتُ دعوهُ ما أقلَّ حياهُ

ولما عاد إليه ممطوراً قد صفت مشاربه، واخضرت جوانبه، وطاب به المقيل فقال، وذلك مقال المستظل في الكلال:

أرانا الجميلَ الوجهِ مُعتذراً لنا … فأَوليتُه شكراً وما زلتُ مُثنيا

وأَطرقتُ نحو الأرضِ رأسي خجلةً … وما اسطعتُ رفعَ الرأسِ من كثرةِ الحيا

قلت: وإذا كان الحياء بمعنى ضد الوقاحة ممدوداً، كما قيل في الحديث الحياء من الإيمان والحيا بمعنى المطر مقصوراً، فما تمت التورية في النظم، اللهم إلا أن يقال ذلك على رأي من يرى قصر الممدود في الشعر، وهو أكثر من مد المقصور، فلا كلام. وفي المعنى لأبي عبد الله الفيومي:

ولما وجدنا الوجه عند ورودهِ … خلياً من الماءِ القُراحِ فَناؤهُ

زممتُ مطيّي ثم قلت ترحّلوا … فلا خيرَ في وجهٍ إذا قلَّ ماؤهُ

وقال آخر:

أقولُ ووادي الوجهِ سالَ من الحيا … وقد طابَ فيه للحجيجِ مقامُ

على ذلك الوجهِ المنيرِ تحيةٌ … مباركةٌ من ربِّنا وسلامُ
আল্লাহ তাআলার রহমতে বরকতময় এই সফরে আমরা আল-আলামাহবাসীদের সাথে সৌজন্যপূর্ণ সাক্ষাৎ লাভ করলাম এবং মিশরের আনন্দদায়ক সংবাদ আমাদের নিকট পৌঁছাল। সেখানে পশুখাদ্য মিশরের তুলনায় কম মূল্যে বিক্রি হয়। আর এই 'ওয়াজহ' হলো একটি গিরিপথ, যেখানে একটি সুন্দর দুর্গ রয়েছে। দুর্গের ভেতরে একটি এবং বাইরে দুটি কূপ রয়েছে। সবগুলোই পাথর দিয়ে বাঁধানো এবং সেগুলোর পানি বৃষ্টির প্রবাহ থেকে আসে। অনাবৃষ্টির দিনগুলোতে হয়তো সেখানে পানি পাওয়া যায় না। এটি মিশরের প্রশাসনিক সীমানার শেষ প্রান্ত। এর নামকরণ করা হয়েছে কারণ এখানে কাফেলার মুখোমুখি হতে হয়; পূর্বে এটি আল-আলামে ছিল।

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি এটি অতিক্রম করার সময় তা শুষ্ক অবস্থায় পেয়ে আবৃত্তি করেছিলেন:

আমরা সেই 'ওয়াজহ' (মুখাবয়ব/স্থান) এর কাছে এসেছি যার অনুগ্রহের প্রত্যাশা ছিল … কিন্তু সে কার্পণ্য করল এবং তার উত্তম বারিবিন্দু দান করল না।

সে এমন এক মুখমণ্ডল উন্মোচিত করল যাতে কোনো 'হায়া' (বৃষ্টি/লজ্জা) নেই … তাই আমি বললাম, একে বর্জন করো, এর 'হায়া' কতই না কম!

যখন তিনি পুনরায় সেখানে ফিরলেন এবং দেখলেন যে বৃষ্টি হয়েছে, পানপাত্রগুলো স্বচ্ছ হয়েছে, চারপাশ সবুজ হয়ে উঠেছে এবং সেখানে অবস্থান আরামদায়ক হয়েছে, তখন তিনি ক্লান্ত অবস্থায় ছায়াশীতল স্থানে বিশ্রামরত ব্যক্তির ন্যায় বললেন:

সুন্দর মুখমন্ডলটি আমাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে ধরা দিল … তাই আমি তাকে কৃতজ্ঞতা জানালাম এবং সর্বদা তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ রইলাম।

লজ্জায় আমি আমার মাথা জমিনের দিকে অবনত করলাম … আর প্রচুর 'হায়া' (বৃষ্টি/লজ্জা) এর কারণে মাথা তুলতে পারলাম না।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: যদি 'হায়া' শব্দটি নির্লজ্জতার বিপরীত অর্থে দীর্ঘস্বর হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি হাদিসে এসেছে 'লজ্জা ইমানের অঙ্গ', আর 'হায়া' শব্দটি বৃষ্টির অর্থে হ্রস্বস্বর হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে কাব্যের এই শব্দালঙ্কারে কিছুটা ত্রুটি থেকে যায়। অবশ্য যদি কেউ কবিতায় দীর্ঘস্বরকে হ্রস্ব করার মতানুসারী হন—যা কি না হ্রস্বকে দীর্ঘ করার চেয়ে অধিক প্রচলিত—তবে কোনো আপত্তি থাকে না। এই একই অর্থে আবু আব্দুল্লাহ আল-ফাইয়ুমি বলেছেন:

যখন আমরা পৌঁছানোর পর 'ওয়াজহ'কে পেলাম যে, তার আঙিনা স্বচ্ছ পানিশূন্য … তখন আমি আমার সওয়ারির লাগাম টেনে ধরলাম এবং বললাম, প্রস্থান করো!

কারণ সেই মুখমণ্ডলের (ওয়াজহ) কোনো কল্যাণ নেই যার পানি (লজ্জা/আদ্রতা) কমে গেছে।

অন্য একজন কবি বলেন:

আমি বলছি, যখন ওয়াজহ উপত্যকা বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হলো … আর সেখানে হাজিদের অবস্থান আনন্দদায়ক হলো।

সেই উজ্জ্বল মুখমণ্ডলের ওপর আমাদের রবের পক্ষ থেকে বরকতময় অভিবাদন ও সালাম।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وما أرجح قول القيراطي:

أتيتُ إلى الحجاز فقلتُ لمّا … تَبدّى وجههُ لي وارتويتُ

وكم في الأرضِ من وجهٍ مليحٍ … ولكن مثلَ وجهكَ ما رأيتُ

 

‌‌الأزلم

ثم ارتحلنا منه ونزحنا عنه، حتى أتينا على الأزلم وتحملنا المشقة والألم، وهو وادٍ فيه قلعة يودع فيها ودائع الحاج للرجعة، وخان خراب كان قد بناه الناصر، فهدمه الغوري، والأمر دائر بيّن هدم وبناء، لا الباني يكل ولا الهادم يمل، يا حيرتي ما أعجب ما قال:

متى يبلغ البنيان يوماً تمامه … إذا كنت تبنيه وغيرك يهدم

وماء هذا الوادي مرّ يكاد يفطر الأكباد، وهو كثير السنا، ونصف الطريق من مكة المشرفة، ومنه إلى الينبع ربع ثالث، وبينه وبين الوجه فضاء بين جبل يقال له اصطبل عنتر، ووادٍ آخر يسمّى السماق والدخاخين وهو كثير الشوك والحطب. ومما قيل في الأزلم:

الأزلم المشهور قُبِّح ذكره … لم تصف عيشة مَن بِواديه ألمّ

ما زال عن قلب مرارة مائه … إلا وأهدى من قساوته ألم

 

‌‌المُوَيْلِح

ثم لم نزل نجوب البوادي، ونقطع الفدافد خلف الدليل والحادي، حتى أتينا على المُوَيْلِح، ولا أدري أهو مشتقٌ من الملاحة أم الملوحة، أم الحال كما قال: ذاتٌ لها في نفسها وجهان. وبالجملة فهو ساحل رَاقَ ماؤه وصفا، وطاب به العيش حتى كأنَّه ما ذاق طعم الجفا، قد اخضرّت جوانب بقاعِه، وتحقق لدى روضه ما نسخه الورد الذكيّ برقاعه، فأقمنا به ثلاثة أيام تحت البواسق، ونَشْرُ تلك الرياض العبيرية عابق، نهارنا على الماء والخضرة والوجه الحسن، وليلنا على ارتشاف كؤوس الآداب ونفي الوسن، حتى انقضت تلك الليالي كأنَّها سِنَةٌ، وقلنا في نفوسنا

هذه أول مسرات هذه السَّنة، فلله هاتيك الأيام، وما اشتملت عليه من الجمع التام، واتفق
আর আল-কিরাতির উক্তিটি কতই না উৎকৃষ্ট:

আমি হিজাজে আসলাম, অতঃপর যখন তাঁর চেহারা আমার নিকট প্রকাশিত হলো এবং আমি তৃপ্ত হলাম তখন বললাম … পৃথিবীতে কতই না সুন্দর চেহারা রয়েছে, কিন্তু আপনার চেহারার মতো কোনো চেহারা আমি দেখিনি।

 

‌‌আল-আযলাম

অতঃপর আমরা সেখান থেকে প্রস্থান করলাম এবং দূরে সরে গেলাম, যতক্ষণ না আমরা আল-আযলামে পৌঁছলাম এবং কষ্ট ও বেদনা সহ্য করলাম। এটি এমন একটি উপত্যকা যেখানে একটি দুর্গ রয়েছে যাতে হাজীদের প্রত্যাবর্তনের জন্য গচ্ছিত সম্পদ রাখা হয়। সেখানে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত সরাইখানা ছিল যা আন-নাসির নির্মাণ করেছিলেন, এরপর আল-গুরি তা ধ্বংস করে দেন। বিষয়টি ধ্বংস ও নির্মাণের চক্রে আবর্তিত হচ্ছে; নির্মাণকারীও ক্লান্ত হয় না, আর ধ্বংসকারীও পরিশ্রান্ত হয় না। আশ্চর্যের বিষয়, কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:

কবে ইমারত তার পূর্ণতায় পৌঁছাবে … যখন আপনি তা নির্মাণ করছেন আর অন্যজন তা ধ্বংস করছে।

এই উপত্যকার পানি অত্যন্ত তিতা যা কলিজা বিদীর্ণ করার উপক্রম হয়। এখানে প্রচুর সানা (ভেষজ উদ্ভিদ) রয়েছে। এটি মক্কা মুশাররাফা থেকে পথের অর্ধেক। এখান থেকে ইয়ানবু পর্যন্ত পথের তিন-চতুর্থাংশ। এর এবং আল-ওয়াজহ-এর মাঝখানে একটি বিস্তীর্ণ ভূমি রয়েছে যা 'ইসতাবলু আনতার' নামক পাহাড় এবং 'আস-সুম্মাক ও আদ-দাখাখিন' নামক অন্য একটি উপত্যকার মাঝে অবস্থিত। সেখানে প্রচুর কাঁটা ও জ্বালানি কাঠ রয়েছে। আল-আযলাম সম্পর্কে যা বলা হয়েছে:

বিখ্যাত আযলাম, যার চর্চা নিন্দনীয় … যে ব্যক্তি এর উপত্যকায় অবস্থান করে তার জীবন সুখকর হয় না।

এর পানির তিক্ততা হৃদয় থেকে দূর হতে না হতেই … এর কঠোরতা নতুন ব্যথার উপহার দেয়।

 

‌‌আল-মুওয়াইলিহ

অতঃপর আমরা মরুভূমি পাড়ি দিতে থাকলাম এবং পথপ্রদর্শক ও উষ্ট্রচালকের পশ্চাতে প্রান্তর অতিক্রম করতে থাকলাম, যতক্ষণ না আমরা আল-মুওয়াইলিহ-এ পৌঁছলাম। আমি জানি না এটি 'মালাহাত' (সৌন্দর্য) থেকে উদ্ভূত নাকি 'মুলুহাত' (লবণাক্ততা) থেকে, নাকি অবস্থাটি তেমন যেমনটি কবি বলেছেন: এমন এক সত্তা যার নিজের মধ্যেই দুই রূপ রয়েছে। মোটের ওপর, এটি এমন এক উপকূল যার পানি স্বচ্ছ ও নির্মল, এবং সেখানে জীবন যাপন এতই আনন্দদায়ক ছিল যেন তা কখনো রূঢ়তার স্বাদ গ্রহণ করেনি। এর ভূখণ্ডের চারপাশ সবুজ হয়ে উঠেছিল এবং এর বাগানে সুগন্ধি গোলাপ তার পত্রপল্লবে যা ফুটিয়ে তুলেছিল তা পূর্ণতা পেয়েছিল। আমরা সেখানে দীর্ঘকায় বৃক্ষরাজির নিচে তিন দিন অবস্থান করলাম। সেই আম্বরতুল্য উদ্যানগুলোর সুবাস ছিল আমোদিত। আমাদের দিন কাটত পানি, সবুজ প্রকৃতি এবং সুন্দর দৃশ্যের মাঝে, আর আমাদের রাত কাটত সাহিত্যের সুধা পান করে এবং নিদ্রা দূর করে। এমনকি সেই রাতগুলো অতিবাহিত হয়ে গেল যেন তা ছিল সামান্য তন্দ্রা। আমরা মনে মনে বললাম

এটিই এই বছরের প্রথম আনন্দ। সুতরাং সেই দিনগুলো আল্লাহর জন্যই নিবেদিত, এবং তাতে যে পূর্ণ সমাবেশ ঘটেছিল তাও। এবং সাব্যস্ত হলো...
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ১৮)
في المُوَيْلِح من الرخاء ما لا تصفه الأقلام، ولا تحويه الأرقام، وفيه السمك الطري، والفواكه المتنوعة، والأراك الكثير، ومما قيل فيه:

سألوا مديح مناهلٍ فأجبتهم … هذي المناهلُ مدحُها لا يصلحُ

وأقول إن ألزمتمُ بمديحها … هذا المويلحُ في المناهلِ أملحُ

وبالجملة فإنه لم يكن في تلك المنازل، أحسن من هذا الساحل، مياهه بالنسبة إلى تلك المنازل مستعذبة، وبساتينه مزهرة طيبة، جوّه فسيح، وهواؤه صحيح، فلا زال كذلك، جنة في تلك المسالك.

(قال في البرهان): المويلح بالتصغير ساحل بالقلزم، يشتمل على أشجار متناسقة؛ ونخيل باسقة؛ ومياه سائغة في الجملة؛ وفيه قلعة حصينة ومنازل وعرب، عرضه كح وطوله عب.

 

‌‌عيون القصب

ولما كان آخر اليوم الثالث، وقد رق ثوب الأصيل، رحلنا منه قاصدين عيون القصب. وهي مقصبة ينتهي إليها ماء من عين جارية من مسافة طويلة، على نخيل باسقة، وأشجار متناسقة، قد يؤتى منها بأثمار فتباع على الركب، وقد انقطع ذلك لانقطاع عوائد العرب من صلات السلطنة، فلذلك ارتفعت العرب، وصار الوادي مخيفاً، وماؤه في غاية العذوبة، يجري من بين القصب الفارسي بين نبت مختلف طيب الطعم والرائحة، ومما قيل فيه:

قصب الوادي هبوا لي ماَءهُ … ففؤادي فيه حرّ الوصبِ

أو قفوا بي برهةً يارِفقتي … أتروّى من عيون القصبِ

وهذا الماء يجري من أعلى صخرة على ظهر الوادي بمقدار ميل، ثم يغور في الرمل. وزعم بعضهم أنه ثقيل، سريع التعفن، يُكْرَه الإكثار منه. قال الحافظ ابن

حجر في كتاب أنباء الغمر: في سنة أربع وثلاثين وثمانمائة حفرت بعيون القصب بئر عظيمة، فعظم النفع بها، وكانت عيون القصب تجري من وادٍ عظيم ينبت فيه القصب الفارسي، ويجري الماء من بين تلك الغابات. وكان للحُجاج به رفق، بحيث يبيتون به ليلة، ثم
মুওয়াইলিহ-তে এমন সচ্ছলতা ও প্রাচুর্য রয়েছে যা কলম বর্ণনা করতে অক্ষম এবং সংখ্যায় তা সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। সেখানে রয়েছে তাজা মাছ, বৈচিত্র্যময় ফলমূল এবং প্রচুর আরাক বৃক্ষ। এই স্থান সম্পর্কে যা বলা হয়েছে:

তারা ঝরনার প্রশংসা চাইল, আমি তাদের উত্তর দিলাম … এই ঝরনাগুলোর প্রশংসা করা যথাযথ নয়

আমি বলি, যদি তোমরা আমাকে এর প্রশংসায় বাধ্য করো … তবে এই মুওয়াইলিহ-ই সকল ঝরনার মাঝে সবচেয়ে চমৎকার

সারকথা এই যে, ঐ সকল মনজিল বা যাত্রাবিরতিগুলোর মধ্যে এই উপকূলের চেয়ে সুন্দর আর কিছু ছিল না। ঐ স্থানগুলোর তুলনায় এখানকার পানি অত্যন্ত সুপেয়, বাগানগুলো পুষ্পশোভিত ও স্নিগ্ধ, এর পরিমণ্ডল সুপ্রশস্ত এবং বায়ু স্বাস্থ্যকর। সুতরাং এটি ঐ সকল পথে জান্নাত স্বরূপ সর্বদা বিদ্যমান থাকুক।

(আল-বুরহান গ্রন্থে বলা হয়েছে): মুওয়াইলিহ হলো কুলজুম সাগরের একটি উপকূল, যা সুবিন্যস্ত বৃক্ষরাজি, সুউচ্চ খেজুর গাছ এবং সাধারণভাবে পানযোগ্য পানির আধার। এতে একটি সুরক্ষিত দুর্গ, বসতি এবং আরবদের বসবাস রয়েছে। এর অক্ষাংশ 'কাহ' এবং দ্রাঘিমাংশ 'আিব'।

 

‌‌উয়ুনুল কাসাব

যখন তৃতীয় দিনের শেষ সময় ঘনিয়ে এল এবং গোধূলির আলো ম্লান হয়ে এল, তখন আমরা সেখান থেকে উয়ুনুল কাসাবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। এটি একটি নলখাগড়া বা বেতবন এলাকা, যেখানে একটি প্রবহমান ঝরনা থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে পানি এসে পৌঁছেছে। এখানে রয়েছে সুউচ্চ খেজুর গাছ এবং সুবিন্যস্ত বৃক্ষরাজি। ইতিপূর্বে এখান থেকে ফলমূল এনে কাফেলার কাছে বিক্রি করা হতো, কিন্তু সুলতানি পক্ষ থেকে আরবদের জন্য নির্ধারিত অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা রহিত হয়ে গেছে। ফলশ্রুতিতে আরবরা সেখান থেকে সরে গেছে এবং উপত্যকাটি ভীতিজনক স্থানে পরিণত হয়েছে। এর পানি অত্যন্ত সুপেয়, যা পারস্যের নলখাগড়া এবং নানাবিধ সুস্বাদু ও সুগন্ধি উদ্ভিদের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই সম্পর্কে যা বলা হয়েছে:

উপত্যকার নলখাগড়ারা, আমাকে এর পানি দাও … কেননা আমার হৃদয়ে রয়েছে ব্যথার দহন

হে আমার সঙ্গীরা, আমাকে এখানে কিছুক্ষণ থামতে দাও … যেন আমি উয়ুনুল কাসাব থেকে তৃষ্ণা মিটাতে পারি

এই পানি উপত্যকার উপরিভাগে একটি পাথরের ওপর দিয়ে প্রায় এক মাইল পর্যন্ত প্রবাহিত হয়, অতঃপর বালির গভীরে হারিয়ে যায়। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে এটি ভারী এবং দ্রুত পচনশীল, তাই এর অধিক পান করা অপছন্দনীয়। হাফেজ ইবনে হাজার তার 'আনবাউল গুমুর' কিতাবে বলেছেন: ৮৩৪ হিজরি সনে উয়ুনুল কাসাবে একটি বিশাল কূপ খনন করা হয়, যার ফলে মানুষের প্রভূত উপকার হয়। উয়ুনুল কাসাব একটি বিশাল উপত্যকা থেকে প্রবাহিত হতো যেখানে পারস্যের নলখাগড়া জন্মাত এবং ঐ বনের মধ্য দিয়েই পানি প্রবাহিত হতো। হাজীদের জন্য সেখানে বিশ্রামের সুযোগ ছিল, তারা সেখানে এক রাত অতিবাহিত করতেন, তারপর...
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ১৯)
غمرت تلك العيون وصاروا يقنعون بالحفائر، فأشار ناظر الجيش لَمَّا حَجّ بحفر البئر فخرج ماؤها عذباً فُراتاً، انتهى كلامه. قلت: وقد أجرى الله تعالى عوائد برّه وعاد الماء إلى مجاريه.

 

‌‌مغاير شعيب

ثم قمنا منه حتى أتينا على مغاير شعيب عليه السلام، وهي حفائر حلوة تحكي النيل فيما قيل، في وادٍ فيه نخل وأثلٍ ومقل، بين جبال متضايقة كثيرة المخاوف، وفيه بئر دارسة وأبنية متهدمة ورسوم يقال إنها مدين.

قال صاحب تقويم البلدان: مدين على شاطئ بحر القلزم، وهي خراب. وأما البئر التي استقى منها موسى عليه السلام فقد بني على أفنيتها بيت من صخر، فيه كهف يسمى كهف شعيب عليه السلام، وكانت تأوي إليها غنمه، وحولها قبور منقورة في الصخر فيها عظام بالية كأمثال عظام الإبل. ولا أثر لذلك الآن غير تلك الساقية التي بيد بني عطيفة، وحفر الماء العذب. وفيها يقول ابن أبي حجلة:

ولما وردنا ماء مَدْيَنَ بُكرةً … وجدتُ عليه الناسَ يسقون بالقِرَبِ

فأطرب حادي الراقصاتِ مسامعي … كما أطربَ التشبيبُ من أعينِ القصبِ

ثم لم نزل نجوب الوهاد، ونقطع هاتيك البواد، حتى أشرفنا على شرفة بني عطيفة. وهي في وادٍ قفر كثير الحطب ممحل، لا يكاد يمرّ به الطير، إتفق أنه لم يكن في الركب إلا من إشتكى الظمأ، إلا من كان في حظيرة إن هو إلا عبدٌ أنعمنا عليه. ومما قيل فيه:

وقد حللنا بواد لا أنيس به … بنو عطيفة قد سموه بالشَََرِفَه

فنالنا منه بعد العيّ أربعةٌ … بردٌ وخوفٌ ظما والريحُ مختلفه

ذكرت بهذه المشقة قول ابن الحاجب:

من ذا الذي تصفو له أوقاته … طراً ويبلغ كلّ ما يختار

والمرء في سفر وأي مسافرٍ … لا يعتريه من الطريق غبار

ثم لم نزل في أسر المسير ومشتاق الأسفار، حتى مررنا بظهر الحمار، وهو محجر صعب، وحفائر الغنم وفيها المياه الكّدرة، والنخل الكثير، والدار الحمرا، وما أدراك ما الحمرا!!

ولقد أرى بين المسمّى واسمه … نسباً قد استغنى عن التبيينِ
সেই ঝর্ণাগুলো ভরাট হয়ে গিয়েছিল এবং তারা গর্তগুলোতে তুষ্ট থাকতে শুরু করল। অতঃপর সেনাপতি হজ্জ পালনকালে একটি কূপ খননের নির্দেশ দিলেন, ফলে তার পানি মিষ্ট ও সুপেয় হয়ে নির্গত হলো। তাঁর কথা এখানেই শেষ। আমি বলছি: আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহের ধারা জারি রেখেছেন এবং পানি পুনরায় তার প্রবাহপথে ফিরে এসেছে।

 

‌শুআইবের গুহাসমূহ

তারপর আমরা সেখান থেকে রওয়ানা হলাম এবং শুআইব আলাইহিস সালামের গুহাসম্মুখে উপস্থিত হলাম। এগুলো সুপেয় পানির আধার যা বর্ণিত আছে যে নীল নদের সাদৃশ্য বহন করে। এটি এমন এক উপত্যকায় অবস্থিত যেখানে খেজুর, ঝাউ ও মুকল গাছ রয়েছে এবং এটি অত্যন্ত বিপদসংকুল সংকীর্ণ পাহাড়গুলোর মাঝে অবস্থিত। সেখানে একটি জীর্ণ কূপ, বিধ্বস্ত দালানকোঠা এবং কিছু ধ্বংসাবশেষ রয়েছে যেগুলোকে মাদইয়ান বলা হয়ে থাকে।

‘তাকউইমুল বুলদান’-এর লেখক বলেন: মাদইয়ান কুলযুম সাগরের তীরে অবস্থিত এবং এটি এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। আর যে কূপ থেকে মূসা আলাইহিস সালাম পানি পান করিয়েছিলেন, তার আঙ্গিনায় পাথরের একটি ঘর নির্মিত হয়েছে, তাতে একটি গুহা রয়েছে যাকে শুআইব আলাইহিস সালামের গুহা বলা হয়। সেখানে তাঁর বকরীগুলো আশ্রয় নিত। এর চারপাশে পাথরে খোদাই করা কিছু কবর রয়েছে যাতে উটের হাড়ের মতো জীর্ণ হাড় পড়ে আছে। বর্তমানে বনী উতাইফার অধিকারে থাকা সেই পানি তোলার চাকা এবং মিষ্ট পানির গর্ত ছাড়া এর আর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই। ইবনে আবি হাজলা এই স্থান সম্পর্কে বলেন:

যখন আমরা ভোরে মাদইয়ানের পানিতে উপস্থিত হলাম … আমি সেখানে মানুষকে মশকের সাহায্যে পানি পান করাতে দেখলাম

অতঃপর উষ্ট্রচালকের গান আমার কর্ণকুহরে আনন্দ ছড়িয়ে দিল … যেমন বংশীবাদকের সুর বাঁশির ছিদ্র থেকে আনন্দ দেয়

তারপর আমরা অবিরাম নিচু ভূমি অতিক্রম করতে থাকলাম এবং সেই মরুপ্রান্তর পাড়ি দিলাম, যতক্ষণ না আমরা বনী উতাইফার উঁচু টিলায় পৌঁছলাম। এটি একটি জনশূন্য উপত্যকা, যাতে প্রচুর জ্বালানি কাঠ থাকলেও তা অত্যন্ত ঊষর, সেখান দিয়ে কোনো পাখিও ওড়ে না। ঘটনাচক্রে কাফেলার সবাই পিপাসার্ত হয়ে পড়েছিল, কেবল তারাই রক্ষা পেয়েছিল যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ দান করেছেন। এ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে:

আমরা এমন এক উপত্যকায় অবতরণ করেছি যেখানে কোনো সঙ্গী নেই … বনী উতাইফা একে 'শুরাফাহ' নামে নামকরণ করেছে

ক্লান্তি শেষে আমরা সেখানে চারটি জিনিস পেলাম … শৈত্য, ভয়, পিপাসা এবং প্রতিকূল বাতাস

এই কষ্টের কথা স্মরণ করে আমি ইবনুল হাজিবের এই পঙক্তিটি উল্লেখ করছি:

কে এমন আছে যার সব সময় সুখে কাটে … আর সে যা চায় তার সবকিছুই লাভ করে?

মানুষ তো সফরে রয়েছে, আর এমন কোন মুসাফির আছে … যার গায়ে পথের ধুলোবালি লাগে না?

এরপর আমরা সফরের বন্দিত্ব ও পথের ব্যাকুলতার মধ্যেই চলতে থাকলাম, এমনকি আমরা 'যাহরুল হিমার' অতিক্রম করলাম। এটি একটি দুর্গম পাথুরে ভূমি। সেখানে বকরীর জন্য পানির গর্ত রয়েছে যাতে ঘোলাটে পানি পাওয়া যায়, আর রয়েছে প্রচুর খেজুর গাছ এবং 'দারুল হামরা' (লাল ঘর)। আর তুমি কি জানো সেই 'হামরা' কী!!

আমি নাম এবং নামধারী বিষয়ের মধ্যে এমন এক সম্পর্ক দেখতে পাচ্ছি … যা কোনো ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الحويطات

إلى أن نزلنا تحت العقبة، في شِعْبٍ فيه نخل كثير للعرب - الحويطات - من بني عقبة، نسبوا إلى الحائط وقلعة محصنة على ساحل فصل من خليج القلزم، ويحفر في ذلك الساحل على نحو ذراع فأكثر فيظهر ماء حلو، بل من موضع المدّ إذا كان الجزر، فسبحان الذي أحسن كلّ شيء خلقه. والظاهر أنّ هذا الموضع مصب نهر غائر في الرمل، داخل في البحر، بدليل أنه يحلو ويمر، كما يرى في النيل المتصل بالبحر أيام الملتن.

 

‌‌فائدة

عقبة أيْلَة نسبة إلى مدينة عظيمة في ساحل البحر عفت معالمها وكانت تسمى أيْلَة قال صاحب الروض المعطار في خبر الأقطار: أيْلَة أول حدّ الحجاز، مدينة بها مجمع حاج مصر والمغرب، وأهلها أخلاط الناس، سميت بأيلة بنت مدين بن إبراهيم عليه السلام، ومنها إلى بيت المقدس مراحل، وإلى طور موسى عليه السلام يوم وليلة، وقد جهل الآن موضعها. وثم قلعة بناها الغوري وبئر ماء عذب

ونخيل للحويطات، وهناك ملاقاة غزة والكرك والقدس وأعمالها، بأنواع الفواكه والمأكول والأغنام. فأقمنا بذلك الوادي يومين من الأيام، والشمل بالأحباب ملتام، ونحن في جمع من الأصحاب، نرشف كؤوس الآداب، أنشدني المولى جمال الدين بن زويته:
আল-হুওয়ায়তাত

অবশেষে আমরা আকাবার নিচে নামলাম, এমন এক উপত্যকায় যেখানে আরবদের—আল-হুওয়ায়তাত গোত্রের, যারা বনু উকবাহ-এর অন্তর্ভুক্ত—প্রচুর খেজুর বাগান রয়েছে। তাদের নামকরণ করা হয়েছে আল-হাইত (প্রাচীর) এবং কুলজুম উপসাগর থেকে বিচ্ছিন্ন উপকূলের একটি সুরক্ষিত দুর্গের নামানুসারে। সেই উপকূলে এক হাত বা তার সামান্য বেশি গভীরতা পর্যন্ত খনন করলে মিষ্টি পানি প্রকাশ পায়, এমনকি জোয়ারের স্থানেও যখন ভাটা হয়। অতএব, সেই সত্তা অত্যন্ত পবিত্র, যিনি তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিকে সর্বোত্তম করেছেন। স্পষ্টত এই স্থানটি বালুর নিচে প্রবহমান একটি নদীর মোহনা, যা সমুদ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে; এর প্রমাণ হলো পানি মিষ্টি হওয়া এবং তার প্রবাহ, যেমনটি জোয়ারের দিনগুলোতে সমুদ্রের সাথে সংযুক্ত নীল নদে দেখা যায়।

 

ফায়েদা (জ্ঞাতব্য)

আকাবা আয়লা মূলত সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত একটি বিশাল শহরের নামানুসারে পরিচিত, যার চিহ্নসমূহ বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে এবং যাকে আয়লা বলা হতো। 'আর-রওদুল মিতার ফি খবরিল আবতার' গ্রন্থের লেখক বলেছেন: আয়লা হলো হিজাজের প্রথম সীমানা, এটি এমন একটি শহর যেখানে মিশর ও মাগরিবের হাজীদের সমাগম ঘটে এবং এর অধিবাসীরা বিভিন্ন জাতির সংমিশ্রণ। এর নামকরণ করা হয়েছে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের পুত্র মাদইয়ানের কন্যা আয়লার নামানুসারে। এখান থেকে বাইতুল মাকদিস পর্যন্ত কয়েক মঞ্জিলের পথ এবং মূসা আলাইহিস সালামের তূর পাহাড় পর্যন্ত এক দিন ও এক রাতের দূরত্ব। বর্তমানে এর সঠিক অবস্থানটি অজ্ঞাত। সেখানে সুলতান আল-গাউরি নির্মিত একটি দুর্গ, মিষ্টি পানির একটি কূপ এবং হুওয়ায়তাতদের খেজুর বাগান রয়েছে। সেখানে গাজা, কারাক, কুদস এবং এর আশপাশের অঞ্চলগুলোর বিভিন্ন প্রকার ফলমূল, খাদ্যসামগ্রী ও গবাদি পশুর সমাহার ঘটে। আমরা সেই উপত্যকায় দুই দিন অবস্থান করলাম এবং প্রিয়জনদের সাথে পুনর্মিলিত হলাম। আমরা একদল বন্ধুর সান্নিধ্যে শিষ্টাচার ও সাহিত্যের সুধা পান করছিলাম। মাওলানা জামালুদ্দিন বিন জুওয়াইতাহ আমাকে আবৃত্তি করে শোনালেন:

(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ২১)
إنّ علمَ الحساب علمٌ جزيلٌ … ومُعينٌ إذ تشتري وتبيعُ

لم يضع قط درهم بحسابٍ … وألوفٌ بلا حسابٍ تضيعُ

وعلى ذكر الحساب فما أوقع ما قال:

لقد قعد الزمان بكل حرٍّ … وأهدى فضله لذوي اليسارِ

كآحاد الحساب على يمينٍ … وآلاف الحساب على اليسارِ

وهذا مبني على القلم الهندي، وخرج عن ذلك حساب أبي جاد، فإن الآحاد على اليسار والألوف على اليمين، وعليه قول الفاضل عبد المعين، حيث كتب إلى بعض أصحابه يذكره بوعد وعَدَهُ به ومَطَلَه، وذلك في قوله:

يا سيداً بالوعد أتحف عبده … فضلاً، ولكن وعده مثل السحابِ

قد كنت أحسب صدقه فإذا به … وعدٌ به انخرمتْ قوانينُ الحسابِ

يريد أن لفظة وعد بطريق حساب أهل الفلك عود، لأن العين بسبعين والواو بستة، والأكثر يقدّم على الأقل كما علمت، وانظر إلى المواطن وأحكامها فإنك لا تجد غير مقتضاها، ذكرت بالمطل والشيء بالشيء يذكر بالاستطراد وبالمناسبة قول الأمير أبي فراس:

يا ابن الكرامِ أعد في الدهر ذكرَ فتىً … له بشطريه تحويلٌ وتقليبُ

لا تعتبنَّ على عرقوب واحدة … فكل من فوقها بالوعد عرقوبُ

ونعود إلى ما كنا بصدده، ولما كان السحر حمل الركب ليقطع العقبة مبكراً، وهي عقبة أيْلَة، بفتح الهمزة وسكون المثناة من تحت وفتح اللام بعدها.

قال في الخريدة: وهي قرية صغيرة على جبل عالٍ صعب المرتقى يكون ارتفاعه والانحدار منه في يوم كامل، ولا يسلك طريقها إلا الواحد بعد الواحد، وعلى جانبيها أودية بعيدة المهوى انتهى. وهي مدن التيه، وهو أرض واسعة ليس بها تل ولا قلعة ولا وهدة ولا رابية، وسعتها خمسة أيام في مثلها، وحكى العبدري أنّ مسافة العقبة خمسة أميال، ولا زالت الملوك قديماً وحديثاً، يمهدونها وتوعرها السيول، ويسهلها التسخير الإلهي. فلم نزل نسير في رمال وأحجار إلى أن أشرق النهار، ثم ارتقينا صراطاً كأنّا نطلب
নিশ্চয়ই গণিতশাস্ত্র এক মহৎ জ্ঞান … এবং এটি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় এক অনন্য সাহায্যকারী।

হিসাব যথাযথ থাকলে কখনোই একটি দিরহামও হারিয়ে যায় না … অথচ হিসাব ছাড়া হাজার হাজার (দিরহাম) নষ্ট হয়ে যায়।

আর হিসাবের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা হয়েছে কতই না চমৎকার এই কথা:

কালচক্র প্রতিটি স্বাধীন ও মর্যাদাবান ব্যক্তিকে নিচে নামিয়ে দিয়েছে … এবং তার সমস্ত অনুগ্রহ ধনীদের উপহার দিয়েছে।

যেমন গণিতের এককের ঘর থাকে ডানে … আর সহস্রের ঘর থাকে বামে।

এটি হিন্দুস্থানি লিখনরীতির (ভারতীয় সংখ্যা পদ্ধতির) ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে। তবে আবজাদ হিসাব এর ব্যতিক্রম, কারণ তাতে এককের ঘর বামে এবং সহস্রের ঘর ডানে থাকে। আর এর ওপর ভিত্তি করেই বিজ্ঞ আব্দুল মুঈন-এর কথাটি বর্ণিত হয়েছে, যখন তিনি তার এক বন্ধুকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন যা তিনি রক্ষা না করে টালবাহানা করছিলেন, তিনি তার কাব্যে বলেছেন:

হে সেই মহোদয়, যিনি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তার দাসের প্রতি অনুগ্রহের উপহার দিয়েছেন … কিন্তু তার সেই প্রতিশ্রুতি (বৃষ্টিহীন) মেঘের মতো।

আমি তার সত্যবাদিতার প্রত্যাশা করেছিলাম, কিন্তু দেখা গেল সেটি এমন এক প্রতিশ্রুতি … যার মাধ্যমে গণিতের সকল নিয়মই ভেঙে পড়েছে।

তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, জ্যোতির্বিদদের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী 'ওয়াদ' (প্রতিশ্রুতি) শব্দটি 'উদ' (ফিরে আসা) শব্দে পরিণত হয়। কারণ 'আইন' অক্ষরের মান সত্তর এবং 'ওয়াও' অক্ষরের মান ছয়; আর আপনি জানেন যে, বড় সংখ্যাকে ছোট সংখ্যার আগে রাখা হয়। আপনি স্থানসমূহ এবং সেগুলোর বিধানের প্রতি লক্ষ করুন, তবে আপনি সেগুলোর দাবি ছাড়া অন্য কিছু পাবেন না। আমি টালবাহানার কথা উল্লেখ করেছি, আর প্রাসঙ্গিকভাবেই একটি প্রসঙ্গের সাথে অন্যটি চলে আসে। এ বিষয়ে আমির আবু ফিরাসের উক্তিটি হলো:

হে মহৎ ব্যক্তিদের সন্তান, মহাকালের বুকে এমন এক যুবকের কথা পুনরুল্লেখ করুন … যার জীবনের দুই ভাগে পরিবর্তন ও বিবর্তন ঘটেছে।

আপনি কেবল একজন উরকুবের (প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী) ওপর অসন্তুষ্ট হবেন না … কারণ জমিনের উপরে থাকা প্রত্যেকেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় একেকজন উরকুব।

আমরা আমাদের মূল আলোচনায় ফিরে আসি। যখন শেষরাত হলো, কাফেলা দ্রুত গিরিপথটি পার হওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করল। এটি হলো আয়লা-এর গিরিপথ, যা হামযাহ-এর ওপর ফাতহা, ইয়া-এর ওপর সুকুন এবং এরপর লাম-এর ওপর ফাতহা যোগে গঠিত।

খারিদাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি একটি উঁচু পাহাড়ের ওপর অবস্থিত ছোট গ্রাম, যা আরোহণ করা অত্যন্ত কঠিন। এর উপরে উঠতে এবং নিচে নামতে পূর্ণ একদিন সময় লাগে। সেখানে একেকজন করে সারিবদ্ধভাবে পথ চলতে হয়। এর দুই পাশে গভীর গিরিখাত রয়েছে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এটি তিহ-এর শহরগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এটি এমন এক বিশাল মরুভূমি যেখানে কোনো টিলা, দুর্গ, গর্ত বা উঁচু ভূমি নেই। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ পাঁচ দিনের পথ। আল-আবদারি বর্ণনা করেছেন যে, এই গিরিপথের দূরত্ব পাঁচ মাইল। প্রাচীন ও আধুনিক কালের শাসকগণ সর্বদা এটি প্রশস্ত ও সমতল করেছেন, যদিও প্রবল বৃষ্টি ও বন্যা একে দুর্গম করে তোলে, তবে আল্লাহর অশেষ কৃপায় তা সহজ হয়ে যায়। আমরা বালু ও পাথরের মধ্য দিয়ে চলতে থাকলাম যতক্ষণ না প্রভাত হলো। এরপর আমরা এমন এক সংকীর্ণ পথে আরোহণ করলাম যেন আমরা প্রার্থনা করছি...
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ২২)
منه السحاب، ولم نزل من العناء والمشقة في وصب واكتئاب، القائم منا قاعد، والقاعد عن قطاره متباعد، والذي جماله ألقت رحلها، ومدّت رجلها، وقع في حيرة بين أن يترك متاعه أو يستغيث رباعه:

وأين الرفيق الشفيق الذي … إذا أقعدتْك الرزايا أقاما

والذي تحرر وتقرر، قضت به العقبة، وحكمت به التجربة، إنه ليس لك من الصديق إلا ما فضل عنه. وقد حكي عن جعفر البرمكي أنه لما أصيب قيل له: لو بعثت إلى صديقك فلان ينظر في حال أهلك. فقال: دعوه يكن صديقاً. ومن أراد تحقيق هذا الموقف فليمعن النظر في كتاب الصداقة والصديق لأبي حيان التوحيدي، ولله در القائل:

إذا أعرضتْ فالأهلُ مني أجانب … وإن أقبلتْ فالأجنبيُّ نسيبُ

وما زال الركب في كرب، حتى قطع العقبة، في يوم ذي مسغبة، ثم أقمنا على سطحها قصداً للراحة، واستطاب كلٌّ مراحه، وقمنا ندك الفيافي من غور إلى نجد، ومن سهل إلى وهد، مع ما لحقنا من البرد الشديد، والجهد الجهيد، حتى وصلنا إلى قلعة نَخِر بفتح النون وكسر الخاء المعجمة بعدها راء، كأنَّه مأخوذ من قولهم ما بالدار ناخر أي أحد، أو من العظام النخرة إذا دخل فيها الرياح لكثرة تهابها، ووادي النخل ولا نخل فيه، لأنَّه لا يخلو من السافي الناعم الذي كأنَّه

منخول، وبه بئر وفسقية تملأ منها، وحصار بناه الغوري زادت فيه العثامنة.
তার থেকে মেঘ সৃষ্টি হলো, এবং আমরা অনবরত ক্লান্তি ও কষ্টের কারণে বেদনা ও বিষণ্ণতায় নিমজ্জিত ছিলাম। আমাদের মধ্যকার দণ্ডায়মান ব্যক্তিরা উপবিষ্ট হয়ে গেল, এবং উপবিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল। যার উটগুলো তাদের পিঠের বোঝা নামিয়ে পা প্রসারিত করল, সে তার মালামাল ত্যাগ করা অথবা তার সঙ্গীদের কাছে সাহায্য চাওয়ার দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেল:

আর সেই মমতাময় বন্ধু কোথায় যে … যখন বিপদ-আপদ তোমাকে বসিয়ে দেয়, সে তখন দাঁড়িয়ে যায় (সাহায্যে এগিয়ে আসে)।

যা কিছু সুস্পষ্ট ও স্থিরীকৃত হয়েছে, দুর্গম পথ যা ফয়সালা করেছে এবং অভিজ্ঞতা যা সাব্যস্ত করেছে, তা হলো— বন্ধুর নিকট থেকে তোমার জন্য ততটুকুই বরাদ্দ থাকে যা তার নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অবশিষ্ট থাকে। জাফর আল-বারমাকি সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন বিপদে পতিত হলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: "আপনি যদি আপনার অমুক বন্ধুর নিকট বার্তা পাঠাতেন যাতে সে আপনার পরিবারের অবস্থার তদারকি করে।" তিনি বললেন: "তাকে ছেড়ে দাও যাতে সে বন্ধুই থাকতে পারে।" যে ব্যক্তি এই অবস্থানটি যাচাই করতে চায়, সে যেন আবু হাইয়ান আত-তাওহিদির 'আস-সাদাকা ওয়া আস-সাদিক' গ্রন্থটি গভীরভাবে পাঠ করে। আর সেই প্রবক্তার কথা কতই না চমৎকার:

যদি (দুনিয়া) বিমুখ হয় তবে আপনজনও আমার কাছে পর হয়ে যায় … আর যদি তা অভিমুখী হয় তবে পরজনও আত্মীয় হয়ে যায়।

কাফেলাটি ক্রমাগত দুর্দশার মধ্যেই ছিল যতক্ষণ না ক্ষুধার দিনে সেই দুর্গম পথটি অতিক্রম করল। তারপর বিশ্রামের উদ্দেশ্যে আমরা তার উপরিভাগে অবস্থান করলাম এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ বিশ্রামস্থলকে আরামদায়ক মনে করল। এরপর আমরা নিম্নভূমি থেকে উচ্চভূমি এবং সমতল থেকে উপত্যকায় মরুপ্রান্তর পাড়ি দিতে লাগলাম। এর সাথে আমাদের ওপর দিয়ে বয়ে গেল তীব্র শীত এবং চরম কষ্ট। অবশেষে আমরা 'নাখির' দুর্গে পৌঁছলাম (যা নুন বর্ণে ফাতহা এবং খায়ে মুজামায় কাসরা ও পরবর্তী রা বর্ণযোগে গঠিত)। মনে হয় শব্দটি তাদের এই কথা থেকে নেওয়া হয়েছে যে "বাড়িতে কোনো নাখির (নাখির বলতে কোনো ব্যক্তি) নেই"। অথবা শব্দটি 'জরাজীর্ণ হাড়' (নাখিরাহ) থেকে উদ্ভূত হতে পারে, যখন তার ছিদ্রসমূহে বাতাস প্রবেশ করে। এরপর পৌঁছলাম খেজুর উপত্যকায় (ওয়াদি আন-নাখল), যদিও সেখানে কোনো খেজুর গাছ নেই। কারণ তা মিহি উড়ন্ত বালুকণা থেকে মুক্ত নয়, যা দেখলে মনে হয় যেন

চালনি দিয়ে চালা হয়েছে। সেখানে একটি কূয়া ও একটি জলাধার রয়েছে যা থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়, এবং একটি দুর্গ রয়েছে যা ঘুরিরা নির্মাণ করেছিল এবং ওসমানীয়রা তাতে পরিবর্ধন করেছিল।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ثم لم نزل في نزول وارتحال، وقطع حِرار ورمال، في ذلك التيه الذي أعيا الرحال والرجال، وهو فضاء واسع عن يمينه جبل الطور وعن يساره العريش، وقدره أربعون فرسخاً في مثلها، شديد البرد أيام الشتاء، شديد الحر أيام الصيف، معدوم الماء، ينتهي إلى بحر فاران مغرق فرعون. وفاران من مدن العمالقة، وفيه تاهت بنو إسرائيل أربعين سنة ينزلون حيث يرحلون، وأكثر ما يرى فيه بصل العنصل ويُسمّى روض الجمل، ما أحسن ما قال:

رعى الله ظبياً بالأرَيْمِلِ إذ بدت … حشاشةُ قلب المستهام رعاها

إذا ما بدا والتيه بيني وبينه … تحجّب عني بالدلال وتاها

ثم انصرفنا من المنصرف على هضاب وجور ورمل كثير، يقال إن الاسكندر أراد أن يخلط بحر السويس ببحر الروم من هذا الطريق، وهذه الحفر آثار ذلك. وقيل بل كان فيها خليج من النيل متصل ببحر السويس فاقتضى الحال أن يُطم فهو هذا.

 

‌‌عجرود

ثم أتينا عجرود ذات الجفا والصدود، متعطشين إلى الما، متألمين من الظما، فشربنا من مائه الذي زاد على الملوحة بالمرار، ومن فقد العين تعلل بالآثار، وهو من أعمال السويس على نصف مرحلة منها، وادٍ فيه قلعة فيها بئر ماؤها كالعلقم، ربما أسهل، ثم قمنا نقطع البوادي، وهي تقطع الأكباد، وقد أنفذ فينا البينُ أمره، وأذاقنا من السفر حلوه ومره:
এরপর আমরা অবিরাম অবতরণ ও প্রস্থানের মধ্যে এবং সেই মরুপ্রান্তরের উত্তপ্ত পাথর ও বালুকা রাশি অতিক্রম করতে থাকলাম, যা কাফেলা ও পুরুষদের পরিশ্রান্ত করে দিয়েছিল। এটি একটি বিস্তীর্ণ প্রান্তর যার ডান দিকে তূর পর্বত এবং বাম দিকে আল-আরীশ অবস্থিত। এর বিস্তৃতি দৈর্ঘ্য-প্রস্থে চল্লিশ ফারসাখ। এটি শীতকালে প্রচণ্ড ঠান্ডা এবং গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম থাকে, এখানে পানি দুষ্প্রাপ্য। এটি ফেরাউনকে ডুবিয়ে দেওয়া ফারান সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। ফারান হলো আমালেকাইটদের অন্যতম শহর। বনী ইসরাঈল এখানেই চল্লিশ বছর পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে, তারা যেখানেই যেত সেখানেই অবস্থান করত। সেখানে সবচেয়ে বেশি যা দেখা যায় তা হলো বন পেঁয়াজ এবং একে 'রওযুল জামাল' (উটের চারণভূমি) বলা হয়। কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:

আল্লাহ আল-উরাইমিলের সেই হরিণকে রক্ষা করুন যখন সে দৃষ্টিগোচর হলো … প্রেমে ব্যাকুল হৃদয়ের অন্তিম স্পন্দনকে তিনি রক্ষা করেছেন

যখন সে আবির্ভূত হলো আর আমার ও তার মাঝে সেই মরুপ্রান্তর ব্যবধান হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল … তখন সে মান-অভিমানে আমার থেকে নিজেকে আড়াল করে নিল এবং হারিয়ে গেল

অতঃপর আমরা আল-মুনসারিফ থেকে পাহাড়, উপত্যকা এবং প্রচুর বালুকাময় পথ ধরে প্রস্থান করলাম। বলা হয়ে থাকে যে, ইস্কান্দার এই পথ দিয়ে সুয়েজ সাগরকে রোম (ভূমধ্যসাগর) সাগরের সাথে যুক্ত করতে চেয়েছিলেন এবং এই গর্তগুলো সেই প্রচেষ্টারই চিহ্ন। আবার কেউ বলেছেন যে, সেখানে নীল নদের একটি খাল ছিল যা সুয়েজ সাগরের সাথে যুক্ত ছিল, কিন্তু পরিস্থিতির প্রয়োজনে তা ভরাট করে দেওয়া হয়েছিল, এটিই সেই স্থান।

 

‌‌আজরুদ

এরপর আমরা রুক্ষতা ও বিমুখতাপূর্ণ আজরুদে পৌঁছালাম। আমরা পানির জন্য তৃষ্ণার্ত এবং পিপাসায় কাতর ছিলাম। আমরা সেখানকার পানি পান করলাম যা লবণাক্ততার সাথে চরম তিক্ততায় পূর্ণ ছিল। আর যে ব্যক্তি মূল উৎস পায় না, সে নিদর্শনেই সান্ত্বনা খোঁজে। এটি সুয়েজ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এবং সেখান থেকে আধা মঞ্জিল দূরে অবস্থিত। এটি একটি উপত্যকা যেখানে একটি দুর্গ রয়েছে এবং তাতে একটি কূপ আছে যার পানি তিক্ত ফলের ন্যায় তিতকুটে, যা সম্ভবত পেট পরিষ্কারকারক। এরপর আমরা মরুপ্রান্তরগুলো পাড়ি দিতে লাগলাম যা কলিজাকে বিদীর্ণ করে দেয়। বিচ্ছেদ আমাদের ওপর তার হুকুম জারি করেছিল এবং সফরের তিক্ত-মধুর স্বাদ আমাদের আস্বাদন করিয়েছিল:
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وكذاك الإنسان ما دام حيا … فهو في لذة وفي آلامِ

ولما أقبل الليل، وقد أوهى القوى والحَيْل، انقطع كثير من الرجال، وتفرّق شمل تلك الرحال، حتى أن كثيراً من الناس ألقى أكثر أسبابه، حيث لم يجد له مساعداً

في حملها من أصحابه، وأخذ الفناء ينحر في الجمال، والعيّ يهدم قوى الرجال، ولم نزل في هذه الشدّة شدة واحدة إلى ما بعد الزوال.

 

‌‌البُوَيْب

فمررنا بصدفة (البُوَيْب) وهو مضيق بين جبلين صغيرين، وله شرفة، وبه تل رمل مستطيل، وفيه يقول ابن أبي حجلة:

ولما اعتنقنا للوداع عشية … على بركة الحجاج والدمعُ يُسْكَبُ

 

فرِحنا وقد جُزنا البويب لأنَّه … إلى وصل من نهواه باب مُجرّبُ

وعلى ذكر الاعتناق فما أحسن قول القائل:

ولما اعتنقنا للوداع عشية … وفي القلب نيرانٌ لفرط غليلهِ

بكيت وهل يغنى البكاء لهائم … إذا غاب عن عينيه وجهُ خليلهِ

ثم بتنا على شاطئ نيل البركة، الذي أحاطت به البركة، وأنخنا بها الركاب، وراق لنا الوقت والزمان وطاب، وقد استقر الخاطر من قلق السفر، وتهلل وجه الزمان وأسفر، وأنشد لسان التمني في هذه المفاوضة، لو سلم من المعارضة:

فألقتْ عصاها واستقرّ بها النوى … كما قرّ عيناً بالإياب المسافرُ

وعلى ذكر البركة فما أبدع هذا التشبيه:

وبركة للعيون تبدو … في غاية الحسن والبهاءِ

كأنَّها إذ صفت وراقت … في الأرض جزء من السماءِ

وقال آخر:

وبركة ما تملك العينُ وصفها … يحف بها نبت من الروض مزهرُ

ويسرح منها في الخمائل جدولٌ … كما سُلّ من غمدٍ حسامٌ مجوهرُ

 

‌‌مصر

ولما أسفر الصباح ثامن عشر صفر الخير، توجهنا إلى مصر المحروسة، وشاهدنا
তেমনি মানুষ যতদিন জীবিত থাকে … সে আনন্দ ও যন্ত্রণার মধ্যেই থাকে।

যখন রাত ঘনিয়ে এলো এবং তা শক্তি ও সামর্থ্যকে দুর্বল করে দিল, তখন অনেক লোক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল এবং সেই কাফেলার ঐক্য ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। এমনকি অনেক মানুষ তাদের অধিকাংশ আসবাবপত্র ফেলে দিল, কারণ সেগুলো বহনে তারা তাদের সঙ্গীদের থেকে কোনো সাহায্যকারী পাচ্ছিল না।

ক্লান্তি উটগুলোকে নুয়ে দিতে লাগল এবং অবসাদ পুরুষদের শক্তি ধসিয়ে দিতে লাগল। আমরা এই কষ্টের মধ্যে অবিরাম নিমজ্জিত ছিলাম যতক্ষণ না দ্বিপ্রহর অতিক্রান্ত হলো।

 

‌‌আল-বুওয়াইব

আমরা ‘বুওয়াইব’ নামক স্থানে পৌঁছলাম, যা দুটি ছোট পাহাড়ের মধ্যবর্তী একটি সংকীর্ণ পথ। সেখানে একটি উঁচু বারান্দার মতো স্থান এবং একটি লম্বা বালিয়াড়ি রয়েছে। এ সম্পর্কে ইবন আবু হাজলা বলেন:

যখন আমরা এক সন্ধ্যায় বিদায়বেলায় আলিঙ্গন করলাম … বরকতুল হাজ্জাজ-এর পাড়ে, আর অশ্রু ঝরছিল।

 

আমরা আনন্দিত হলাম যখন বুওয়াইব অতিক্রম করলাম, কারণ এটি … প্রিয়জনের সাথে মিলনের এক পরীক্ষিত দুয়ার।

আলিঙ্গনের প্রসঙ্গে কবির এই কথাটি কতই না সুন্দর:

যখন আমরা এক সন্ধ্যায় বিদায়বেলায় আলিঙ্গন করলাম … তখন হৃদয়ে তীব্র বিরহের আগুন জ্বলছিল।

আমি কাঁদলাম, কিন্তু বিবাগী প্রেমিকের জন্য কান্নায় কী লাভ … যখন তার চোখের সামনে থেকে প্রিয়জনের মুখটি হারিয়ে যায়?

অতঃপর আমরা নীল নদ সংলগ্ন ‘বারাকাহ’ জলাশয়ের পাড়ে রাত কাটালাম, যা বরকতে ঘেরা ছিল। আমরা সেখানে উটের পিঠ থেকে নামলাম। সময় আমাদের কাছে মনোরম ও সুখকর হয়ে উঠল। সফরের উদ্বেগ থেকে মন শান্ত হলো এবং সময়ের চেহারা উজ্জ্বল ও প্রসন্ন হয়ে উঠল। এই অবস্থায় কামনার রসনা গেয়ে উঠল—যদি তা কোনো বিরোধিতার সম্মুখীন না হয়:

অতঃপর সে তার যাত্রা বিরতি করল এবং তার গন্তব্য স্থির হলো … যেমন বাড়ি ফিরে মুসাফিরের চক্ষু শীতল হয়।

জলাশয়ের প্রসঙ্গে এই উপমাটি কতই না চমৎকার:

এবং একটি জলাশয় যা চোখের সামনে ভেসে ওঠে … পরম সৌন্দর্য ও দীপ্তিতে।

তা যখন নির্মল ও স্বচ্ছ হয়, তখন মনে হয় … সেটি যেন জমিনের বুকে আকাশের এক টুকরো অংশ।

অন্য একজন বলেছেন:

এমন এক জলাশয় যার বর্ণনা চোখ দিতে অক্ষম … তাকে ঘিরে রয়েছে বাগানের প্রস্ফুটিত গাছপালা।

সেখান থেকে ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে একটি নহর প্রবাহিত হয় … যেন খাপ থেকে বের করা কোনো রত্নখচিত তলোয়ার।

 

‌‌মিসর

আঠারোই সফর যখন প্রভাত হলো, তখন আমরা সুরক্ষিত মিসরের দিকে রওনা হলাম এবং প্রত্যক্ষ করলাম...
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
منازلها البهية المأنوسة، ولما دخلتها وجدتها بديعة الأوصاف، مخضرة الجوانب والأكناف، بها الجوامع الجامعة للمحاسن، والمدارس الحافلة بالمكانة والأماكن، ورأيت أهلها أرقّ أخلاقاً من النسيم، وألطف شمائلاً من الشَمول والشميم، إلا ما شاء من الأوغاد وجبابرة العباد، ورأيت لهم الذكاء المتوقد، والذوق المتجدد، مع كمال الجَدِّ في الجِدِّ والإجتهاد، وبذل النفوس النفيسة في تحصيل المراد، فلله دَرَّهم، ولا زال يزداد ويزدان بهم بِرّهم وبَرّهم، فلقد تحقق بهم صدق القائل:

قل للذي سار بلاد الورى … وأظهر القوّة والباسا

مَنْ لا رأى مصراً ولا أهلها … فما رأى الدنيا ولا الناسا

وما أصدق من قال:

ما مصر إلا بلدة ما مثلها … غريبها يرتع في نعيمها

نسيمها ألطف شيءٍ في الورى … وأهلها ألطف من نسيمها

ثم أقمت بها برهة من الأيام، صحبة الأخلاء الكرام، أطوف بأكنافها البهية، وألوي على أعكانها الشهية:

بالسفح حيناً وبالبقعاء آونة … وبالكثيب زماناً والأثيلات

ثم لم أزل أتعهد الجامع الأزهر، وأتردد على كلّ درس فيه أوضح تقريراً من الشمس وأنور، وأحاول النفس على أن استزيد عِلماً، فيعاجلني من مضض الأيام ما يربو على خَطْب الدهر هماً وغماً، وأجد الفهم لذلك كليلاً، والقلب سقيماً عليلاً، والشروط غير متوفرة، والدواعي متعذرة أو متعسرة، كيف لا وقد قيل: لو كلفت بصلة ما حفظت مسألة وأنى يكون ذلك مع اشتغال البال، واشتعال البلبال:
এর চমৎকার ও মনোরম আবাসস্থলসমূহ; আর যখন আমি সেখানে প্রবেশ করলাম, একে পেলাম বর্ণনাতীত সৌন্দর্যের অধিকারী, যার চারপাশ ও দিকসমূহ সবুজে ঘেরা। সেখানে রয়েছে সৌন্দর্যের আধার হিসেবে জামে মসজিদসমূহ এবং মর্যাদা ও অনন্য স্থানের অধিকারী পরিপূর্ণ মাদরাসাসমূহ। আমি সেখানকার অধিবাসীদের দেখেছি মৃদুমন্দ বাতাসের চেয়েও অধিক কোমল চরিত্রের অধিকারী এবং সুগন্ধি ও সুবাসের চেয়েও ললিত স্বভাবের অধিকারী, কেবল নীচ ও অবাধ্য ব্যক্তিদের কথা ভিন্ন। আমি তাদের মাঝে দেখেছি প্রদীপ্ত মেধা এবং সজীব রুচিবোধ, পাশাপাশি প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমে পূর্ণ ঐকান্তিকতা এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে মূল্যবান জীবনের উৎসর্গ। মহান আল্লাহ তাদের কল্যাণ করুন, তাদের পুণ্য ও তাদের ভূখণ্ড যেন তাদের মাধ্যমেই উত্তরোত্তর বৃদ্ধি ও সুশোভিত হতে থাকে। তাদের ক্ষেত্রে কবির উক্তিটিই সত্যে পরিণত হয়েছে:

বল তাকে, যে সৃষ্টিজগতের জনপদসমূহ ভ্রমণ করেছে … এবং শক্তি ও সাহসের প্রকাশ ঘটিয়েছে—

যে মিশর এবং তার অধিবাসীদের দেখেনি … সে যেন দুনিয়া এবং মানুষজনকেই দেখেনি।

আর তার চেয়ে সত্য কে বলেছে যে বলেছে:

মিশর এমন এক শহর যার কোনো তুলনা নেই … সেখানে আসা অপরিচিত ব্যক্তিও এর নিআমত উপভোগ করে।

এর মৃদুমন্দ বাতাস সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে ললিত বস্তু … আর সেখানকার অধিবাসীরা এর বাতাসের চেয়েও অধিক ললিত স্বভাবের।

অতঃপর আমি সেখানে কিছুকাল অবস্থান করলাম সম্মানিত বন্ধুদের সাহচর্যে। আমি তার চমৎকার অঞ্চলগুলোতে ঘুরে বেড়াতাম এবং তার আকর্ষণীয় স্থানগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করতাম:

কখনো পাহাড়ের পাদদেশে, কখনো কোনো জনপদে … আবার কখনো বালিয়াড়িতে ও বৃক্ষরাজির ছায়ায়।

এরপর আমি নিয়মিত জামে আজহারের সাথে সম্পৃক্ত রইলাম এবং সেখানে এমন প্রতিটি পাঠে আসা-যাওয়া করতে থাকলাম যার উপস্থাপন সূর্যের চেয়েও স্পষ্ট ও উজ্জ্বল। আমি নিজের নফসকে আরও ইলম বা জ্ঞান অর্জনে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করতাম, কিন্তু যমানার যাতনা যেন সময়ের মহাবিপদকেও ছাড়িয়ে দুশ্চিন্তা ও বিষাদ হয়ে আমার উপর আপতিত হতো। আমি আমার বোধশক্তিকে দুর্বল এবং হৃদয়কে অসুস্থ ও রুগ্ন দেখতে পেলাম। প্রয়োজনীয় শর্তসমূহ পূরণ হচ্ছিল না এবং প্রেষণাসমূহ অসম্ভব বা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কেনই বা এমন হবে না, অথচ বলা হয়ে থাকে: "আমাকে যদি একটি পেঁয়াজের (সংসারিক তুচ্ছ কাজের) দায়িত্বও দেওয়া হতো, তবে আমি একটি মাসআলাও মুখস্থ করতে পারতাম না।" আর মনের অস্থিরতা এবং দুশ্চিন্তার দহন থাকা অবস্থায় কীভাবে তা সম্ভব হতে পারে?
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ألا لن تنال العلم إلا بستةٍ … سأُنبيكَ عن مجموعها ببيانِ

ذكاءٌ وحرصٌ واجتهادٌ وبُلْغَةٌ … وإسعاد أستاذ وطول زمانِ

ومن مجون بعض الفضلاء:

فرِّق فِرَقَ الدروس واجمع مالاً … فالعمر مضى ولم تنلْ آمالا

لا ينفعُك القياسُ والعكس ولا … إفْعَنْلَلَ يفْعنلِلُ افْعِنْلالا

وقال آخر في جوابه:

بالعلم ينالُ كلُ عبدٍ مالا … فاجهد لتنالَ في الملا آمالا

ما أسوأ رأي من ينادي سفهاً … فرّق فرق الدروس واِجمع مالا

ومن محاسن أحمد الشهاب الرومي:

إلى المال مِلْ واجمعه إن كنت عارفاً … ففي هذه الدنيا له الشيْلْ والحطُ

وفي قبضه عز النفوس وبسطُها … وناهيك ممن قبضهُ في الملا بسطُ

وله أيضاً:

المال أحسن ما ادخرت فلا تكن … سمحاً به وتأن في تفصيلهِ

ما حَصّلوا جمع العلوم بأسرها … إلا ليحتالوا على تحصيلهِ

قلت: وإلى ذلك أشار الشعراني في كتاب الجواهر في معتقد الأكابر. وقال الفخر الرازي: الذي تحرر عندي، أن قدر الإنسان بالعلم وقدر العلم بالمال. ونظم في ذلك من قال:

إن قدر المرء بالعلم كما … أن قدر العلم بالمال سما

فجناحاك هما إن أسعدا … طِرْ كما تَهوى إلى أعلى السما
শোনো, তুমি ছয়টি বস্তু ছাড়া জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না … আমি তোমাকে স্পষ্টভাবে এর সমষ্টি সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছি।

প্রখর মেধা, প্রবল আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম, পর্যাপ্ত পাথেয় … শিক্ষকের সান্নিধ্য এবং দীর্ঘ সময়।

কিছু গুণী ব্যক্তির কৌতুকপূর্ণ উক্তিসমূহ:

পাঠের সমাবেশগুলো ত্যাগ করো এবং সম্পদ জমা করো … কারণ জীবন ফুরিয়ে যাচ্ছে অথচ তুমি তোমার আকাঙ্ক্ষায় পৌঁছাতে পারোনি।

কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা) এবং আকস (বিপরীতকরণ) তোমার কোনো উপকারে আসবে না, আর না আসবে … ‘ইফ‘আনলালা, ইয়াফ‘আনলিলু, ইফ‘ইনলাল’ (ব্যাকরণিক রূপান্তর)।

অন্য একজন এর উত্তরে বলেছেন:

জ্ঞানের মাধ্যমেই প্রত্যেক বান্দা সম্পদ লাভ করে … তাই জনসমক্ষে তোমার আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সাধনা করো।

সেই ব্যক্তির অভিমত কতই না মন্দ যে নির্বুদ্ধিতাবশত ডাক দিয়ে বলে … পাঠের সমাবেশগুলো ত্যাগ করো এবং সম্পদ জমা করো।

আহমদ আল-শিহাব আল-রুমীর চমৎকার পংক্তিমালা থেকে:

তুমি যদি বিজ্ঞ হও তবে সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়ো এবং তা জমা করো … কারণ এই দুনিয়ায় উত্থান ও পতন এর মাধ্যমেই ঘটে।

এর মুষ্টিবদ্ধ হওয়া এবং প্রসারিত হওয়ার মাঝেই প্রাণের সম্মান ও প্রশান্তি নিহিত … আর সেই ব্যক্তির কথা তো বলাই বাহুল্য, যার মুষ্টিবদ্ধ করাও মানুষের মাঝে প্রভাব বিস্তারের কারণ।

তাঁর আরও একটি কবিতা:

সম্পদই তোমার সঞ্চিত শ্রেষ্ঠ বস্তু, তাই এর ব্যাপারে … অতি উদার হয়ো না এবং এর ব্যয়ের ক্ষেত্রে হিসেবি হও।

তারা সকল জ্ঞান অর্জন করেনি … বরং তা অর্জন করেছে কেবল এই (সম্পদ) আহরণের কৌশল হিসেবে।

আমি বলছি: ইমাম আশ-শারানি তাঁর ‘আল-জাওয়াহির ফি মুতাকাদিল আকাবির’ গ্রন্থে এই দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। এবং ফখর আল-রাজি বলেছেন: আমার কাছে যা সুস্পষ্ট হয়েছে তা হলো, মানুষের মর্যাদা জ্ঞানের দ্বারা আর জ্ঞানের মর্যাদা সম্পদের দ্বারা। এ বিষয়ে জনৈক কবি ছন্দবদ্ধভাবে বলেছেন:

মানুষের মর্যাদা যেমন জ্ঞানের মাধ্যমে, তেমনি … জ্ঞানের মর্যাদা সম্পদের মাধ্যমে উচ্চতা লাভ করে।

সুতরাং এই দুটিই তোমার দুটি ডানা, যদি তারা সহায়ক হয় … তবে তুমি যেভাবে চাও আকাশের উচ্চতায় উড়ে চলো।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
حكى الشهاب النهرواني عن بعض الأكابر، أنه كان إذا وقع الدينار في يده يقبله ويضعه على عينه، ثم يقول له: مرحباً بجامع شملي، وحافظ عقلي، وحبيب قلبي، ولب لبي، أنت مرادي وقوتي وعمادي، يا نور عيني ويا ضياء جبيني، قد صرت إلى من يعرف قدرك، ويعظم أمرك، وكيف لا وأنت تعظّم الأقدار، وتفتض الأبكار، وتؤمن من يخاف، وتسمو على الأشراف. ثم يطويه في كيسه وينشد:

بروحيَ محجوباً عن العين شخصهُ … ومن ليس يخلو عن لساني ولا قلبي

ومن قربه قصدي من الكونِ كلّه … وحتى من الخلان والأهل والصحبِ

قلت ولله در ابن المعتز حيث يقول:

إذا كنتَ ذا ثروةٍ في الملا … فأنت المسوّد في العالمِ

وحسبك من نسبٍ صورةٌ … تُخبر أنك من آدمِ

 

‌‌الجامع الأزهر

أول جامع أسس بالقاهرة، أنشأه القائد جوهر الصقلي مولى المعز سنة تسع وخمسين وثلاثمائة، وكان به طلسم فلا يسكنه الطير، ثم جدّده الحاكم وجعل عليه أوقافاً، كذا في المحاضرة.

هويت مصرياً غدا قاهري … بصارمٍ من لحظهِ يُشْهَرُ

أَزْهَرَ وجهاً وغدا جامعاً … للحسن فهو الجامعُ الأزهرُ

 

‌‌فصل

في ذكر شيء من أخبار مصر المحروسة، ونشر محاسنها البهية المأنوسة، وليس الغرض من ذلك إلا ما اشتمل عليه من لطائف النكت، أو من اعتبار واستبصار، وإلا فمن أراد أخبار تلك الديار، فقد تكفل بها كتاب حسن المحاضرة في أخبار مصر والقاهرة للسيوطي، وكتاب كوكب الروضة، وهو القائل فيه:

كتابي الكوكبُ المُفدّى … دقت معانٍ بهِ عزيزه

ألفاظهُ المُشتهاةُ تَحكي … مِن حُسنها رَوضةً وجيزه

وعلى الخصوص قاموس القصص، وهو الخطط، للفاضل تقي الدين المقريزي، وفيه قيل:

من كان يهوى أن يحيط بسمعه … علماً بمصر كاملَ التمييزِ

فعليه بالخطط المحرر نقله … تأليف عالم عصره المقريزي
শিহাব আন-নাহরাওয়ানি জনৈক মহান ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখনই তাঁর হাতে কোনো দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) আসত, তিনি সেটিকে চুম্বন করতেন এবং নিজের চোখের ওপর রাখতেন। অতঃপর তিনি সেটিকে উদ্দেশ্য করে বলতেন: "স্বাগতম হে আমার বিচ্ছিন্নতাকে একত্রকারী, আমার বিবেকের রক্ষক, আমার হৃদয়ের প্রিয়তম এবং আমার অন্তরের নির্যাস। তুমিই আমার লক্ষ্য, আমার শক্তি এবং আমার অবলম্বন। হে আমার নয়নমণি এবং আমার ললাটের জ্যোতি! তুমি এমন একজনের কাছে এসেছ যে তোমার কদর জানে এবং তোমার মর্যাদাকে সম্মান করে। আর কেনই বা তা হবে না, যেখানে তুমিই মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করো, কুমারীদের আবরণ উন্মোচন করো (বিবাহের মাধ্যম হও), ভীত ব্যক্তিকে নিরাপত্তা প্রদান করো এবং অভিজাতদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করো।" অতঃপর তিনি সেটি তাঁর থলিতে ভরে রাখতেন এবং এই কবিতা আবৃত্তি করতেন:

আমার প্রাণের বিনিময়ে সেই সত্তাকে উৎসর্গ করছি যিনি দৃষ্টি থেকে অন্তরালে … কিন্তু যিনি আমার জিহ্বা ও অন্তর থেকে কখনোই বিচ্ছিন্ন হন না।

সমগ্র সৃষ্টিজগত থেকে যাঁর নৈকট্যই আমার একমাত্র অন্বেষা … এমনকি বন্ধু-বান্ধব, পরিবার এবং সঙ্গীদের থেকেও।

আমি বলি, ইবনুল মু'তায কতই না চমৎকার বলেছেন:

জনসমাজে যদি তুমি সম্পদের মালিক হও … তবে এই দুনিয়াতে তুমিই নেতা হিসেবে গণ্য হবে।

বংশ পরিচয়ের জন্য তোমার এই অবয়বটুকুই যথেষ্ট … যা বলে দেয় যে তুমি আদম (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর।

 

‌আল-জামি আল-আযহার

এটি কায়রোতে প্রতিষ্ঠিত প্রথম জামে মসজিদ। আল-মুইয-এর মুক্তদাস সেনাপতি জওহর আস-সিকিল্লি ৩৫৯ হিজরি সালে এটি নির্মাণ করেন। এতে একটি তিলিসম (জাদুকরী বৈশিষ্ট্য) ছিল যার কারণে পাখি সেখানে বাসা বাঁধত না। অতঃপর আল-হাকিম এটি সংস্কার করেন এবং এর জন্য ওয়াকফ সম্পত্তি নির্ধারণ করেন। 'আল-মুহাদারা' গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

আমি এক মিশরীয়র প্রেমে মজেছি যে বিজয়ী (কায়রোবাসী) হয়েছে … তাঁর দৃষ্টির কোষমুক্ত তীক্ষ্ণ তলোয়ার দ্বারা।

তিনি উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী এবং সৌন্দর্যের আধার হয়েছেন … তাই তিনিই হলেন উজ্জ্বলতম একত্রকারী (আল-জামি আল-আযহার)।

 

‌পরিচ্ছেদ

সুরক্ষিত মিশরের কিছু সংবাদ এবং এর মনোরম ও পরিচিত গুণাবলি প্রচার প্রসঙ্গে। এর উদ্দেশ্য কেবল এর অন্তর্ভুক্ত সূক্ষ্ম ও কৌতুকপূর্ণ বিষয়সমূহ অথবা শিক্ষা ও অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করা। অন্যথায়, যারা সেই ভূখণ্ডের বিস্তারিত সংবাদ জানতে চায়, তাদের জন্য সুয়ূতী রহ.-এর 'হুসনুল মুহাদারা ফি আখবারি মিসর ওয়াল কাহিরা' এবং 'কাওকাবুর রওদাহ' গ্রন্থ দুটি যথেষ্ট। তিনি উক্ত কিতাব সম্পর্কে বলেছেন:

আমার কিতাবটি হলো এক জ্যোতির্ময় নক্ষত্র … এতে সূক্ষ্ম ও দুর্লভ অর্থসমূহ নিহিত রয়েছে।

এর কাঙ্ক্ষিত শব্দসমূহ তার সৌন্দর্যের কারণে … একটি সংক্ষিপ্ত উদ্যানের ন্যায় বর্ণনা পেশ করে।

এবং বিশেষভাবে ইতিহাসের পরিভাষাকোষ 'আল-খিতাত', যা গুণী তাকিউদ্দীন আল-মাকরিযী রচনা করেছেন। আর সে সম্পর্কে বলা হয়েছে:

যে ব্যক্তি পূর্ণ স্বাতন্ত্র্যের সাথে মিশরের জ্ঞান … নিজের শ্রবণেন্দ্রিয় দিয়ে আয়ত্ত করতে পছন্দ করে।

তবে তার উচিত পরিমার্জিত বর্ণনাসমৃদ্ধ 'আল-খিতাত' অধ্যয়ন করা … যা তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম আল-মাকরিযীর অনন্য সংকলন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
قال الفاضل القزويني في كتاب: آثار البلاد وأخبار العباد: مصر نا حية مشهورة، أرضها أربعون ليلة، طولها من العريش إلى أسوان، وعرضها من برقة إلى أيْلَة، وسميت بمصر بن مصر بن حام بن نوح عليه السلام، وهي من أطيب الأرض تراباً وأبعدها خراباً، ولا تزال البركة فيها ما دام عليها إنسان.

وفي الخطط: ديار مصر بعضها واقع في الإقليم الثاني وبعضها في الإقليم الثالث، وبناء مصر طبقات بعضها فوق بعض، إلى خمس وست وسبع، وأحسنها القاهرة المعزية.

 

‌‌فائدة

مصر غير منصرف للعلمية والعُجْمَة، أولها وللتأنيث المعنوي باعتبار البقعة، ومصروف لسكون وسطه، وأسماء البلاد تذكر وتؤنث وتصرف وتمنع قاله السيوطي. وفي الخريدة: أرض مصر، وهي غربي جبل طالوت، إقليم العجائب، ومعدن الغرائب، وكانت خمساً وثمانين كورة، منها أسفل الأرض خمس وأربعون، وفوق الأرض أربعون، ونهرها يشقها والمدن على جانبيه ومن أحسن مدنه الروضة، وهي جزيرة يحيط بها النيل من جميع جهاتها، بها المنتزهات والدور والقصور، وتسمّى دار القياس. وفي آثار البلاد: أوّل من قاس النيل يوسف الصدّيق عليه السلام، وبنى مقياسه بمنف، وهي مدينة فرعون موسى. قيل إنها أول مدينة عمرت بعد الطوفان، وهي المراد بقوله تعالى: ودخل المدينة على حين غفلة من أهلها. وكان فيها أربعة أنهار تختلط مياهها في موضع سرير فرعون، ولذا قال: وهذه الأنهار تجري من تحتي. قال العصام نقلاً عن التفتازاني: فِرْعون عَلَم لمن ملك العمالقة، ويشبه أن يكون مثل كسرى وقيصر من علم الجنس، لكن جمعه باعتبار الإفراد مثل الفراعنة والقياصرة والأكاسرة، يدل على أنه علم

شخص سُمي به كلّ من مَلَكَ ذلك ابتداء، وهو غير منصرف للعلمية والعجمة، انتهى، من الأطول. والذي ملك الدنيا بأسرها كافران ومسلمان، فالمسلمان سليمان عليه السلام وذو القرنين، والكافران نمْرود بالدال المهملة، وحكاه العصام بالمعجمة، وبُخْتُ نُصّر وهو من أسماء العجم من قبيل المركبات، فبُخْت بضم الباء الموحدة وسكون المعجمة معناه ابن، ونُصَّر بضم النون وفتح الصاد مشددة اسم للصنم، قيل إنه
ফাযেল কাজভিনি তাঁর 'আসারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ' কিতাবে বলেছেন: মিসর একটি প্রসিদ্ধ অঞ্চল, এর ভূখণ্ড চল্লিশ রাতের পথ প্রশস্ত, এর দৈর্ঘ্য আরিশ থেকে আসওয়ান পর্যন্ত এবং এর প্রস্থ বারকা থেকে আয়লা পর্যন্ত। এর নামকরণ করা হয়েছে নূহ আলাইহিস সালামের পুত্র হামের পুত্র মিসর ইবনে মিসর-এর নামানুসারে। এটি মাটির দিক থেকে সর্বোত্তম এবং ধ্বংসের হাত থেকে সবচেয়ে নিরাপদ এক ভূমি। যতক্ষণ পর্যন্ত সেখানে মানুষ বসবাস করবে, ততক্ষণ সেখানে বরকত অব্যাহত থাকবে।

আর 'খুতাত' গ্রন্থে বর্ণিত আছে: মিসরীয় ভূখণ্ডের কিছু অংশ দ্বিতীয় জলবায়ু অঞ্চলে এবং কিছু অংশ তৃতীয় জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত। মিসরের ইমারতসমূহ একের ওপর এক স্তরবিশিষ্ট, যা পাঁচ, ছয় থেকে সাত তলা পর্যন্ত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর হলো কাহেরা মুইয্যিয়া।

 

‌‌উপকারিতা

মিসর শব্দটি নামবাচকতা (আলামিয়্যাহ) এবং অনারব (উজমাহ) হওয়ার কারণে গায়রে মুনসারিফ। প্রথমত, স্থানের বিবেচনায় পরোক্ষভাবে স্ত্রীলিঙ্গ (তানিছ মানাভী) হওয়ার কারণে এটি গায়রে মুনসারিফ, আবার মধ্যাক্ষর সাকিন হওয়ার কারণে এটি মুনসারিফ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। দেশ ও শহরের নামগুলো পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ই হতে পারে এবং সেগুলো মুনসারিফ ও গায়রে মুনসারিফ উভয়ই হতে পারে—একথা সুয়ূতী বলেছেন। 'খারীদা' গ্রন্থে আছে: মিসর ভূমি তালুত পাহাড়ের পশ্চিমে অবস্থিত, যা আশ্চর্যের এক অঞ্চল এবং অদ্ভুত জিনিসের খনি। এটি পঁচাশিটি প্রশাসনিক অঞ্চলে (কুরাহ) বিভক্ত ছিল, যার মধ্যে নিম্ন মিসরে পঁয়তাল্লিশটি এবং উচ্চ মিসরে চল্লিশটি অবস্থিত। এর নদী একে দ্বিখণ্ডিত করেছে এবং এর দুই তীরে শহরগুলো অবস্থিত। এর অন্যতম সুন্দর শহর হলো রওদাহ, যা একটি দ্বীপ এবং নীল নদ একে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে। সেখানে প্রমোদকানন, ঘরবাড়ি ও রাজপ্রাসাদ রয়েছে এবং একে 'দারুল কিয়াস' বলা হয়। 'আসারুল বিলাদ' গ্রন্থে বর্ণিত: ইউসুফ সিদ্দিক আলাইহিস সালাম সর্বপ্রথম নীল নদের উচ্চতা পরিমাপ করেছিলেন এবং তিনি মানফ শহরে তাঁর পরিমাপ যন্ত্র (মিকইয়াস) নির্মাণ করেন, যা ছিল মূসা আলাইহিস সালামের সময়ের ফেরাউনের শহর। বলা হয় যে, মহাপ্লাবনের পর এটিই প্রথম আবাদকৃত শহর। মহান আল্লাহর এই বাণীতে সেটিই উদ্দেশ্য: "সে শহরে প্রবেশ করল এমন এক সময়ে যখন সেখানকার অধিবাসীরা ছিল অসতর্ক।" সেখানে চারটি নদী ছিল যেগুলোর পানি ফেরাউনের সিংহাসনের স্থানে একত্রিত হতো, আর একারণেই সে বলেছিল: "আর এই নদীগুলো আমার পাদদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয়।" ইসাম (রহ.) তাফতাজানি (রহ.) থেকে উদ্ধৃত করে বলেন: ফেরাউন হলো আমালিকা গোত্রের রাজাদের উপাধি। এটি কিসরা ও কায়সারের মতো শ্রেণিবাচক নাম (আলমে জিনস) হওয়ার সদৃশ। তবে এর বহুবচন যখন একবচনের বিবেচনায় ফারাআনা, কায়াসিরা এবং আকাসিরা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা প্রমাণ করে যে এটি একটি ব্যক্তিবাচক নাম (আলমে শাখস) যা দ্বারা প্রথমত প্রত্যেক রাজাকেই অভিহিত করা হয়েছে। এটি নামবাচকতা (আলামিয়্যাহ) এবং অনারব (উজমাহ) হওয়ার কারণে গায়রে মুনসারিফ। 'আতওয়াল' গ্রন্থ থেকে সমাপ্ত। আর যারা সমগ্র পৃথিবী শাসন করেছেন তারা হলেন চারজন; দুইজন কাফের এবং দুইজন মুসলিম। দুইজন মুসলিম হলেন সুলাইমান আলাইহিস সালাম এবং যুল-কারনাইন। আর দুইজন কাফের হলেন নমরূদ (দাল দিয়ে, তবে ইসাম যাল দিয়েও উল্লেখ করেছেন) এবং বুখতু নসর। এটি অনারব নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা যৌগিক শব্দের (মুরাক্কাবাত) পর্যায়ভুক্ত। 'বুখত' (ব-এর ওপর পেশ এবং খ-এর ওপর সাকিন) এর অর্থ হলো 'পুত্র', আর 'নসর' (ন-এর ওপর পেশ এবং স-এর ওপর তাশদীদ ও জবর) একটি মূর্তির নাম। বলা হয় যে, এটি...
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وجد عنده فقيل له ابن الصنم، فانتشى وملك الدنيا.

وفي الخطط القياس عمود من الرخام الأبيض مثمن، في موضع ينحصر فيه الماء عند انسيابه إليه، وهو مفصل على اثنين وعشرين ذراعاً، كلّ ذراع مفصل على أربعة وعشرين قسماً متساوية تعرف بالأصابع، ما عدا الاثني عشر ذراعاً الأولى، فإنها مفصلة على ثمانية وعشرين إصبعاً، يعني كلّ ذراع.

 

‌‌نهر النيل

وأما النيل وينبوعه من وراء خط الاستواء، من جبل هناك يعرف بجبل القمر، فإنه يبتدئ في المزيد في شهر أبيب وعند ذلك يفسد ماؤه، والسبب في ذلك مروره بنقائع يخالطها فتصحبه، فإذا بلغ الماء خمسة عشر ذراعاً، وزاد السادس عشر إصبعاً واحداً، كسر الخليج واستحق السلطان الخراج، وإذا بلغ ثمانية عشر حدث بمصر وباء عظيم، وإذا بلغ العشرين مات ملك مصر، ولكسره يوم معدود، ومقام مشهود، ومجتمع غاص بحضرة العام والخاص. وحكى صاحب مباهج الفكر أن بعض المفسرين ذكر أنه يوم الزينة الذي وعد فرعون موسى عليه السلام بالاجتماع فيه، ومن محاسن الوزير أبي الحسن:

أرى أبداً قليلاً من كثيرٍ … وبدراً في الحقيقة من هلالِ

زيادة أُصْبعٍ في كلّ يومٍ … زيادة أذرع في حسن حالِ

وقال سبط ابن الفارض:

لقد بسطت في بحر جسمك بسطة … أشار إليها بالوفاءِ الأصابعُ

فيا مشتهاها أنت مقياس قدسها … وأنت الذي في روضة الحسنِ يانعُ

ولابن نباتة:

زادت أصابيع نيلنا … وطفت وطافت في البلادِ

وأتت بكل مسرةٍ … ما ذي أصابع ذي أيادي
তাঁর কাছে পাওয়া গিয়েছিল, তাই তাঁকে মূর্তির পুত্র বলা হতো; তিনি আনন্দিত হলেন এবং পৃথিবী শাসন করলেন।

আর 'আল-খুতাত' গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, পরিমাপক যন্ত্রটি হলো সাদা মার্বেল পাথরের একটি অষ্টভুজাকৃতি স্তম্ভ, যা এমন এক স্থানে অবস্থিত যেখানে পানি প্রবাহিত হওয়ার সময় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এটি বাইশ হাত পর্যন্ত বিভক্ত, প্রতিটি হাত চব্বিশটি সমান অংশে বিভক্ত যেগুলোকে 'আঙুল' বলা হয়; তবে প্রথম বারো হাতের ক্ষেত্রে প্রতিটি হাত আটাশ আঙুলে বিভক্ত।

 

‌‌নীল নদ

আর নীল নদ এবং এর উৎস বিষুবরেখার ওপার থেকে, সেখানে জাবালুল কামার নামে পরিচিত একটি পাহাড় হতে। এটি আবীব মাসে বাড়তে শুরু করে এবং তখন এর পানি দূষিত হয়ে যায়। এর কারণ হলো এটি এমন সব জলাশয়ের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় যা পানির সাথে মিশে যায়। যখন পানির উচ্চতা পনেরো হাতে পৌঁছায় এবং ষোলতম হাতের এক আঙুল পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, তখন খালটি খনন করা হয় এবং সুলতান খাজনা আদায়ের অধিকার লাভ করেন। যখন এটি আঠারো হাতে পৌঁছায়, তখন মিশরে ভয়াবহ মহামারি দেখা দেয়। আর যখন বিশ হাতে পৌঁছায়, তখন মিশরের রাজা মারা যান। খালটি কাটার জন্য একটি নির্দিষ্ট দিন ও জনাকীর্ণ অনুষ্ঠান রয়েছে, যেখানে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ ভিড় জমায়। 'মাবাহিজুল ফিকর' গ্রন্থের লেখক বর্ণনা করেছেন যে, কোনো কোনো মুফাসসির উল্লেখ করেছেন যে এটিই ছিল সেই সজ্জার দিন যে দিনে ফেরাউন মূসা আলাইহিস সালামকে একত্রিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। উজির আবুল হাসানের চমৎকার কিছু পঙক্তি হলো:

আমি সর্বদা প্রভূত থেকে অল্পকে দেখি … আর হিলাল থেকে প্রকৃতপক্ষে পূর্ণিমার চাঁদকে দেখি

প্রতিদিন এক আঙুল পরিমাণ বৃদ্ধি … সুন্দর অবস্থায় কয়েক হাত বৃদ্ধির সমতুল্য

আর সিবত ইবনুল ফারিদ বলেছেন:

তোমার দেহের সমুদ্রে আমি এমন এক বিস্তার লাভ করেছি … যার পূর্ণতার দিকে আঙুলসমূহ ইঙ্গিত করেছে

হে কাঙ্ক্ষিত সত্তা, তুমিই তার পবিত্রতার মানদণ্ড … আর তুমিই সেইজন যে সৌন্দর্যের উদ্যানে প্রস্ফুটিত

আর ইবনু নুবাতার পঙক্তি:

আমাদের নীল নদের আঙুলগুলো বৃদ্ধি পেয়েছে … আমি প্লাবিত হয়েছি এবং সেগুলো দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে

এবং এটি সকল আনন্দ নিয়ে এসেছে … এগুলো আঙুল নয়, এগুলো তো হাত।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ولابن الصاحب:

لله يوم الوفا والناس قد جمعوا … كالروضِ تطفو على نهرٍ أزاهرهُ

وللوفاء عمود من أصابعهِ … مُحلِّق تملأُ الدنيا بشائرهُ

وللبدر البشتكي:

عاتبتُ هذا النيل في ترك الوفا … فأجابني حالاً بغيرِ توقفِ

سأفي وإن خانوا وأصلح بينهم … ما كدت أفسده ومثلي من يفي

وما أحسن ما قيل:

رأيت النيل ذا عقل ولب … لما يبدو لعين الناس منهُ

فيأتي عند حاجتهم إليه … ويذهبُ حين يستغنون عنهُ

وللناس في المقياس، الأشعار الرائقة، والمقاطيع الفائقة، فمن ذلك:

إن مصرا لأحسن الأرض طراً … ليس في حسنها البديع اِلتباسُ

كل من قاسها بأرضٍ سواها … كان بيني وبينه المقياسُ

وللفيومي:

سكان طيبة أبلى الحب صبكم … والشوق باقٍ ليوم العرض في الطولِ

تالله لم يُنْسِه المقياس ساحتكم … ولا تسلى عن الزرقاء بالنيلِ

ولتاج الملك:

أُنظر إلى النيل الذي … ظهرت به آياتُ ربّي

فكأنَّه في فيضهِ … دمعي وفي الخفقانِ قلبي

ولبعضهم في مقدار النيل:

فائدة جليلة مستحسنه … إن شئت أن تعرف كم نيل السنه

فانظر إلى عيد النصارى كم حَكَم … في شهرك القبطي يا حاوي الحِكم
এবং ইবনুস সাহিবের জন্য:

আল্লাহর জন্য বিশ্বস্ততার সেই দিন যখন মানুষকে একত্রিত করা হয়েছে … যেন এক উদ্যান যার ফুলগুলো নদীর ওপর ভেসে বেড়াচ্ছে।

আর বিশ্বস্ততার জন্য রয়েছে তাঁর আঙ্গুলগুলো থেকে একটি স্তম্ভ … যা উড্ডয়নরত এবং যার সুসংবাদসমূহ পৃথিবীকে পূর্ণ করে দেয়।

এবং বদর আল-বাশতাকির জন্য:

আমি এই নীল নদকে বিশ্বস্ততা ত্যাগের কারণে তিরস্কার করেছি … তখন সে কোনো দ্বিধা ছাড়াই তৎক্ষণাৎ আমাকে উত্তর দিল।

আমি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব যদিও তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং আমি তাদের মধ্যে সংশোধন করব … যা আমি প্রায় নষ্ট করে ফেলেছিলাম; আর আমার মতো সত্তাই তো বিশ্বস্ততা রক্ষা করে।

এবং কতই না চমৎকার বলা হয়েছে:

আমি নীল নদকে বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার অধিকারী হিসেবে দেখেছি … মানুষের চোখের সামনে তার থেকে যা প্রকাশ পায় তার কারণে।

কাজেই সে তাদের প্রয়োজনে তাদের কাছে আসে … আর যখন তারা তার থেকে অমুখাপেক্ষী হয় তখন সে চলে যায়।

আর নীল নদের পরিমাপ (মিকইয়াস) নিয়ে মানুষের মাঝে চমৎকার সব কবিতা এবং উৎকৃষ্ট পঙ্ক্তিমালা রয়েছে, যার মধ্য হতে কিছু হলো:

নিশ্চয়ই মিশর সামগ্রিকভাবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভূমি … তার অপূর্ব সৌন্দর্যের মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা নেই।

যে কেউ একে অন্য কোনো ভূমির সাথে তুলনা করবে … আমার ও তার মধ্যে ফয়সালাকারী হবে এই মিকইয়াস।

এবং আল-ফাইয়ুমির জন্য:

হে তাইয়্যেবার অধিবাসী! ভালোবাসা তোমাদের প্রেমিককে জীর্ণ করে দিয়েছে … আর এই দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষা হাশরের দিন পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে।

আল্লাহর শপথ! মিকইয়াস তাকে তোমাদের আঙিনা ভুলিয়ে দেয়নি … আর সে নীল নদের উপস্থিতিতে নীল পানির (যুরকা) কথা ভুলে সান্ত্বনা পায়নি।

এবং তাজুল মুলকের জন্য:

তাকাও সেই নীল নদের দিকে যার মাধ্যমে … আমার রবের নিদর্শনসমূহ প্রকাশিত হয়েছে।

যেন তার প্লাবন হলো আমার অশ্রু … আর তার স্পন্দন হলো আমার হৃদয়।

এবং নীল নদের বৃদ্ধির পরিমাণ সম্পর্কে কারও কারও উক্তি:

একটি মহান ও প্রশংসনীয় উপকারিতা … যদি তুমি জানতে চাও এ বছরে নীল নদের বৃদ্ধির পরিমাণ কত।

তবে হে প্রজ্ঞার অধিকারী! তুমি দেখো তোমার কিবতি মাসে … নাসারাদের উৎসব কত তারিখে নির্ধারিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وما مضى ضفه إلى واوٍ وقافْ … فالسدس منه النيل وقّيتَ المخاف

وما ألطف ما قال:

نيل همومي وما لقيتُ بهِ … لفرطِ وجدي وفيضِ بلوائي

وقفتُ أبكي على سواحلِهِ … فمن دُموعي زيادةُ الماءِ

حكى الجاحظ أن عجائب الدنيا ثلاثون أعجوبة، منها بسائر الأرض عشر، وباقيها بمصر، الهَرَمان، بفتح أوّليه، وهما أطول بناء وأعجبه، من رآهما ظن أنهما جبلان بالجزيرة. قال ابن الوردي في الخريدة: الجزيرة مدينة على ضفة النهر، وهي أربعون قوساً على سطر واحد، وبها الأهرام التي هي من عجائب الدنيا، ولم يبن مثلها، بنيت بصفة الهندسة، وكانوا يثقبون الصخر من طرفه ويجعلون فيه قضيباً من الحديد، ويثقبون الحجر الآخر وينزلونه فيه، ويذيبون الرصاص ويجعلونه في القطب. وهي ثلاثة أهرامات ارتفاع كلّ هرم في الهواء مائة ذراع بالملكي، وهي مهندمة الجوانب، محدودة الأعالي من أواخرها، طولها على ثلاثمائة ذراع. يقال إن داخل الهرم الغربي ثلاثون مخزناً من حجارة الصوان الملوّنة، مملوّة بالجواهر النفيسة والأموال الجمة، والأسلحة الفاخرة المدهونة بأدهان الحكمة فلا تصدأ أبداً، وفيه الزجاج الذي ينطوي ولا ينكسر، وفي الهرم الشرقي الهيئات الفلكية، والكواكب المنقوشة فيها ما كان وما يكون إلى آخر الدهور. يقال إن أحد الهرمين قبر هرمس عليه السلام، والآخر قبر امرأته وقيل قبر أبنه، وهرمس بلسان الحكماء هو إدريس عليه السلام، وهو الجَد الثالث لنوح

عليه السلام، وأبو صاب الذي تنسب إليه الصابئة التي تعظم الكواكب.

ويقال إن أحد الهرمين بني بيتاً لعطارد، والآخر هيكلاً للجوزاء، وسطح الهرم مستوٍ يسع نحو مائة رجل، وقيل إن أرسطاليس مدفون في أحدهما والإسكندر في الآخر، وقيل بني باسمه ولم يدفن فيه، وقيل وقيل. .!
যা অতিবাহিত হয়েছে তাকে ওয়াও এবং কাফের সাথে যুক্ত করো … তার ষষ্ঠাংশ হলো নীল নদ, তুমি ভীতি থেকে সুরক্ষিত হয়েছ।

তিনি কতই না চমৎকার বলেছেন:

আমার দুশ্চিন্তার নীল এবং আমি তাতে যা পেয়েছি … আমার তীব্র আবেগ এবং বিপদের প্রাচুর্যের কারণে।

আমি তার তীরে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলাম … ফলে পানির এই বৃদ্ধি আমার অশ্রু থেকেই।

আল-জাহিজ বর্ণনা করেছেন যে, পৃথিবীর বিস্ময়কর বস্তু মোট ত্রিশটি; তার মধ্যে পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে দশটি এবং বাকিগুলো মিশরে অবস্থিত। আল-হারামান (পিরামিডদ্বয়), যার প্রথম দুই বর্ণে ফাতহা (জবর) যুক্ত; এই দুটি হলো দীর্ঘতম এবং বিস্ময়কর ইমারত। যে ব্যক্তি তা দেখে সে মনে করে যে এগুলো আল-জাজিরার মধ্যে অবস্থিত দুটি পাহাড়। ইবনুল ওয়ারদী তার 'আল-খারীদাহ' গ্রন্থে বলেছেন: আল-জাজিরা হলো নদীর তীরে অবস্থিত একটি শহর, এটি এক লাইনে চল্লিশটি খিলানের ওপর নির্মিত। সেখানে পিরামিডসমূহ রয়েছে যা পৃথিবীর বিস্ময়গুলোর অন্যতম এবং এর মতো আর কিছু নির্মাণ করা হয়নি। এগুলো প্রকৌশলগত নিখুঁত পদ্ধতিতে নির্মিত। তারা পাথরের এক প্রান্তে ছিদ্র করত এবং তাতে লোহার দণ্ড স্থাপন করত, এরপর অন্য পাথরে ছিদ্র করে তাতে তা প্রবেশ করিয়ে নামাত এবং সীসা গলিয়ে সংযোগস্থলে ঢেলে দিত। এগুলো তিনটি পিরামিড, প্রতিটি পিরামিডের উচ্চতা রাজকীয় মাপে একশ হাত। এগুলোর পার্শ্বদেশ সুবিন্যস্ত এবং উপরিভাগ তাদের শেষ প্রান্ত থেকে সুতীক্ষ্ণ; এর দৈর্ঘ্য তিনশ হাত। বলা হয়ে থাকে যে, পশ্চিমের পিরামিডের অভ্যন্তরে রঙিন চকমকি পাথরের ত্রিশটি গুদাম রয়েছে, যা মূল্যবান রত্নরাজি, প্রচুর সম্পদ এবং হিকমতের তেলে মাখানো চমৎকার অস্ত্রে পরিপূর্ণ, ফলে তাতে কখনো মরিচা ধরে না। তাতে এমন কাঁচ রয়েছে যা ভাঁজ করা যায় কিন্তু ভাঙে না। আর পূর্বের পিরামিডে রয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞানের নকশা এবং খোদাইকৃত নক্ষত্ররাজি, যেখানে মহাকালের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছে ও ঘটবে তা বিদ্যমান। বলা হয় যে, পিরামিড দুটির একটি হলো হযরত হারমিস আলাইহিস সালামের কবর এবং অন্যটি তাঁর স্ত্রীর কবর, আবার কেউ বলেন তাঁর পুত্রের কবর। জ্ঞানীদের পরিভাষায় হারমিস হলেন হযরত ইদ্রিস আলাইহিস সালাম। তিনি হযরত নূহ-এর প্রপিতামহ

আলাইহিস সালাম, এবং সাব-এর পিতা যার দিকে সাবী সম্প্রদায়কে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় যারা নক্ষত্রকে মহিমান্বিত করে।

আরও বলা হয় যে, পিরামিড দুটির একটি বুধ গ্রহের (আত্বারিদ) জন্য এবং অন্যটি মিথুন রাশির (আল-জাওযা) মন্দির হিসেবে নির্মিত হয়েছে। পিরামিডের উপরিভাগ সমতল যেখানে প্রায় একশ মানুষ জায়গা নিতে পারে। বলা হয় যে, আরিস্টটল তাদের একটিতে এবং আলেকজান্ডার অন্যটিতে সমাহিত। আবার বলা হয় যে, এটি তার নামে নির্মিত হলেও সেখানে তাকে দাফন করা হয়নি; এভাবে আরও অনেক কথা প্রচলিত আছে...!